আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • ইসরাইলি হামলায় লেবাননে ৮০০ শিশু নিহত, বাস্তুচ্যুত ৩৬০০০০

    ইসরাইলি হামলায় লেবাননে ৮০০ শিশু নিহত, বাস্তুচ্যুত ৩৬০০০০

    তিন বছর ধরে লেবাননে ইসরাইলি হামলায় প্রায় ৮০০ শিশু নিহত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে আরো প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার শিশু। এ পরিস্থিতিতে লেবাননের সরকারি কর্মকর্তা ও শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায়ও ইসরাইলি হামলায় শিশু হতাহত হয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ জেলার কাফর রুম্মান শহরে একটি বাড়িতে বিমান হামলায় দুই শিশু নিহত ও চারজন আহত হয়েছে। আরবসালিম শহর ও নাবাতিয়েহ শহরে ইসরাইলি হামলায় আরো তিন শিশু আহত হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২৬ জুন স্বাক্ষরিত একটি কাঠামোগত সমঝোতার মধ্যেই এসব হামলা হয়েছে। ওই সমঝোতায় লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি সেনাদের ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। এর বিনিময়ে ওই এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে।

    লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন রোববার এসব হামলাকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    তার ভাষ্য, হামলা বন্ধের চুক্তি ও কাঠামোগত সমঝোতার বারবার লঙ্ঘনের চেয়েও পরিস্থিতি আরো গুরুতর পর্যায়ে গেছে।

    চলমান উত্তেজনার জন্য ইসরাইলকে পুরোপুরি দায়ী করেন আউন। হামলা ও চুক্তি লঙ্ঘন বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনারও দাবি জানান লেবাননের প্রেসিডেন্ট।

    দুই যুদ্ধে প্রায় ৮০০ শিশু নিহত

    লেবাননের পার্লামেন্টের নারী ও শিশুবিষয়ক কমিটির প্রধান ইনায়া এজেদ্দিন শনিবার বলেন, ২০২৪ ও ২০২৬ সালের দুটি ইসরাইলি যুদ্ধে প্রায় ৮০০ শিশু নিহত হয়েছে।

    তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। তাদের অনেককে একাধিকবার অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। কেউ কেউ হাত-পা বা চোখ হারিয়েছে।

    এজেদ্দিন বলেন, এসব শিশুর অনেকেরই বছরের পর বছর চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি তাদের জন্য বিশেষায়িত মানসিক, আবেগীয় ও সামাজিক সহায়তাও দরকার হবে।

    তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি দুই দফা যুদ্ধে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার শিশু বাস্তুচ্যুত হয়েছে। নিজ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হওয়া মোট মানুষের সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ।

    এজেদ্দিন বলেন, আশ্রয় নেওয়া অনেক এলাকায়ও পরে হামলা হয়েছে। ফলে অনেক শিশুকে একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হতে হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, বাস্তুচ্যুত হওয়ার পথে কিংবা জোর করে বাড়িঘর থেকে বের করে দেওয়ার সময়ও কিছু শিশু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হামলার শিকার হয়েছে।

    শিশুদের ওপর এই হামলার প্রভাব শুধু শারীরিক ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলেও সতর্ক করেন এজেদ্দিন। তার মতে, এসব শিশুর অনেকেই এমন কিছু ‘অদৃশ্য ক্ষত’ নিয়ে বড় হবে, যার প্রভাব তাদের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

    তিনি বলেন, প্রিয়জন হারানো, দীর্ঘস্থায়ী আতঙ্ক এবং নিরাপত্তাহীনতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে লাখ লাখ শিশুর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চিকিৎসা এবং আবেগীয় ও সামাজিক সহায়তার প্রয়োজন হবে।

    চলমান হামলায় নিহত ৪৩৬২

    লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ বিস্তারিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে ইসরাইলি হামলায় নিহত ৪ হাজার ৩৬২ জনের মধ্যে ২৫৯ জন শিশু। একই সময়ে আহত হয়েছে ১২ হাজার ৩৭৮ জন। তাদের মধ্যে শিশু ১ হাজার ৫০ জন।

    লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি হামলায় দেশটিতে ১০ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।

    ইউনিসেফের সতর্কতা

    লেবাননে ইসরাইলি হামলার কারণে শিশুদের ওপর ভয়াবহ প্রভাব নিয়ে বারবার সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।

    মে মাসে সংস্থাটি বলেছিল, দীর্ঘস্থায়ী সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও মানসিক আঘাতের কারণে লেবাননের শিশুরা ‘সবচেয়ে বেশি মূল্য’ দিচ্ছে। ১৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও শিশুদের পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে উল্লেখ করেছিল সংস্থাটি।

    ইউনিসেফ সব পক্ষকে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলা এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছে।

    এদিকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনী এখনও কিছু এলাকা দখল করে রেখেছে। এর মধ্যে কিছু এলাকা কয়েক দশক ধরে তাদের দখলে, আর কিছু ২০২৩–২০২৪ সালের যুদ্ধের সময় দখল করা হয়।

    বর্তমান অভিযানে ইসরাইলি বাহিনী লেবাননের ভূখণ্ডের ১০ কিলোমিটারের বেশি ভেতরে অগ্রসর হয়েছে।

  • বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতির পথে তুরস্ক, মক্কা চুক্তি থেকে এসসিও-ন্যাটো

    বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতির পথে তুরস্ক, মক্কা চুক্তি থেকে এসসিও-ন্যাটো

    পশ্চিমা সামরিক জোটে থেকেও সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং চীন-রাশিয়াকেন্দ্রিক সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও)-তে ঘনিষ্ঠতার উদ্যোগ—এরদোয়ান কি তুরস্ককে নতুন ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যের কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছেন? তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বহুমাত্রিক কূটনীতি তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতির একটি ক্রমবর্ধমান বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    দেশটি একদিকে ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে পশ্চিমা নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হয়ে আছে, অন্যদিকে চীন, রাশিয়া, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরো গভীর করছে। ফলে আঙ্কারার কূটনীতিকে এখন আর কেবল পশ্চিমা জোটের অংশ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়ে না। বরং তুরস্ক একই সঙ্গে বিভিন্ন শক্তিকেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে নিজের কৌশলগত পরিসর বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

    এর সবচেয়ে সাম্প্রতিক উদাহরণ মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান এই চুক্তিতে সই করে। চুক্তির মূল ধারণা হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে তিন দেশের কর্মকর্তারা চুক্তির অধীনে গঠিত কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে জোটটির নাম ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসে।

    এই চুক্তিকে অনেকে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হিসেবে অভিহিত করছেন। তবে তুলনাটি রাজনৈতিকভাবে আকর্ষণীয় হলেও বাস্তব কাঠামোর দিক থেকে মক্কা চুক্তি এখনো ন্যাটোর সমতুল্য কোনো সামরিক জোট নয়। এর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি কীভাবে বাস্তবে কার্যকর হবে, কোন পরিস্থিতিতে সামরিক সহায়তা দেওয়া হবে এবং যৌথ কমান্ড বা সামরিক সক্ষমতা কীভাবে পরিচালিত হবে—এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

    তবে চুক্তিটির কৌশলগত গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। সৌদি আরবের রয়েছে বিপুল অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সম্পদ, তুরস্কের রয়েছে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প ও সামরিক সক্ষমতা, আর পাকিস্তানের রয়েছে বড় সামরিক বাহিনী ও পারমাণবিক সক্ষমতা। ফলে তিন দেশের সক্ষমতা পরস্পরকে সম্পূরক করার সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির ওপর উপসাগরীয় দেশগুলোর নতুন করে ভাবার প্রবণতাও এই চুক্তির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে।

    মজার বিষয় হলো, এই নতুন প্রতিরক্ষা কাঠামো তুরস্ককে ন্যাটো থেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছে—এমন দাবি আঙ্কারা প্রত্যাখ্যান করেছে। তুরস্কের যোগাযোগ অধিদপ্তর স্পষ্ট করে বলেছে, মক্কা চুক্তি ন্যাটোর বিকল্প নয়; বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার একটি পরিপূরক ব্যবস্থা। তুরস্কের ভাষায়, আঞ্চলিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার অর্থ ন্যাটো সদস্যপদ থেকে সরে যাওয়া নয়।

    এখানেই তুরস্কের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির মূল বৈশিষ্ট্যটি ধরা পড়ে। আঙ্কারা কোনো একটি শক্তিকেন্দ্রের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হতে চাইছে না। ন্যাটো তার জন্য সামরিক ও নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলেও একই সময়ে তুরস্ক মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া এবং এশিয়ার বৃহৎ শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াচ্ছে। এই নীতিকে ‘বহুমুখী কূটনীতি’ বা ‘কৌশলগত ভারসাম্য’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়।

    সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক এই পরিবর্তনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তুরস্ক বর্তমানে এসসিওর পূর্ণ সদস্য নয়; তার অবস্থান ডায়ালগ পার্টনারের। কিন্তু সেপ্টেম্বরের শুরুতে এসসিও সম্মেলন থেকে ফেরার পথে প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান জানান, তুরস্ক সংস্থাটির পূর্ণ সদস্য হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। তিনি একই সঙ্গে জোর দিয়ে বলেন, পূর্বের শক্তিগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা মানে পশ্চিমা জোট থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া নয়।

    এসসিওর গুরুত্ব এখানেই যে এর কেন্দ্রীয় শক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন ও রাশিয়া। ভারত, ইরান এবং মধ্য এশিয়ার কয়েকটি দেশও এর সঙ্গে যুক্ত। ফলে তুরস্ক যদি ভবিষ্যতে পূর্ণ সদস্যপদের দিকে এগোয়, তাহলে সেটি শুধু একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় যোগ দেওয়ার ঘটনা হবে না; এর মাধ্যমে আঙ্কারা একই সঙ্গে পশ্চিমা ও অ-পশ্চিমা নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে নিজের সম্পর্ক আরও প্রাতিষ্ঠানিক করতে পারবে।

    তবে এই নীতির ঝুঁকিও রয়েছে। ন্যাটোর সদস্য হিসেবে তুরস্কের ওপর পশ্চিমা নিরাপত্তা কাঠামোর কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অন্যদিকে এসসিওর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর হলে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে আঙ্কারার কৌশলগত সহযোগিতা আরো বাড়তে পারে। ফলে দুই ভিন্ন ভূরাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা তুরস্কের জন্য ক্রমেই জটিল হয়ে উঠতে পারে।

    তবে এরদোয়ান সরকারের দৃষ্টিতে এই দ্বৈততা হয়তো সমস্যার চেয়ে সুযোগই বেশি। তুরস্কের ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, কৃষ্ণসাগর, ককেশাস, মধ্য এশিয়া ও ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে তার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এই ভূগোলকে কাজে লাগিয়ে আঙ্কারা নিজেকে কেবল একটি আঞ্চলিক শক্তি নয়, বরং বিভিন্ন শক্তিকেন্দ্রের মধ্যে যোগাযোগের সেতু হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।

    মক্কা চুক্তি সেই নীতির মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক প্রকাশ। এসসিওর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর উদ্যোগ তার এশিয়ামুখী প্রকাশ। আর ন্যাটো সদস্যপদ তার পশ্চিমা নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখার নিশ্চয়তা। তিনটি বিষয়কে পাশাপাশি রাখলে তুরস্কের কৌশলটি অনেকটা পরিষ্কার হয়—কোনো একটি জোট বেছে নেওয়ার পরিবর্তে একাধিক কাঠামোর মধ্যে নিজের প্রভাব ও দর-কষাকষির ক্ষমতা বাড়ানো।

    এই নীতি সফল হলে তুরস্ক ভবিষ্যতের বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘মিডল পাওয়ার’ বা মধ্যম শক্তি হিসেবে আরো শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে। পশ্চিম ও পূর্বের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে আঙ্কারা উভয় পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখার সুবিধা পাবে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, কৃষ্ণসাগরের নিরাপত্তা কিংবা এশিয়ার নতুন অর্থনৈতিক করিডর—বিভিন্ন ক্ষেত্রে তুরস্ক মধ্যস্থতাকারী বা গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে নিজের ভূমিকা বাড়াতে পারে।

    কিন্তু বহুমুখী কূটনীতি সফল করতে হলে ভারসাম্য রক্ষাই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। একই সময়ে ন্যাটো, এসসিও, সৌদি আরব, পাকিস্তান, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার অর্থ হলো পরস্পরবিরোধী স্বার্থের মধ্যেও নিজের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ধরে রাখা। কোনো একটি পক্ষের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা অন্য পক্ষের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

    তাই মক্কা চুক্তি কিংবা এসসিওর দিকে তুরস্কের অগ্রসর হওয়াকে ন্যাটো ত্যাগের প্রস্তুতি হিসেবে দেখার চেয়ে একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা সম্ভব। আঙ্কারা হয়তো বুঝতে পেরেছে, ভবিষ্যতের বিশ্ব আর একক কোনো শক্তির নেতৃত্বে পরিচালিত হবে না। চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, ভারত ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা যত বাড়বে, ততই বিভিন্ন শক্তিকেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার মূল্য বাড়বে।

    তুরস্কের জন্য তাই প্রশ্নটি ‘পশ্চিম না পূর্ব’—এমন সরল দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নয়। বরং প্রশ্ন হলো, একই সময়ে পশ্চিমের নিরাপত্তা জোট, মুসলিম বিশ্বের আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং এশিয়ার উদীয়মান বহুপাক্ষিক কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্ক রেখে কতটা স্বাধীন কৌশলগত অবস্থান তৈরি করা সম্ভব।

    মক্কা চুক্তি, এসসিও ও ন্যাটো—এই তিনটি নাম তাই তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতির তিনটি বিচ্ছিন্ন অধ্যায় নয়। বরং এগুলো এমন একটি বহুমাত্রিক কৌশলের তিনটি দিক, যার লক্ষ্য তুরস্ককে কোনো একটি শক্তিবলয়ের অনুসারী না রেখে নিজেই একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। আগামী কয়েক বছরে এই কৌশল কতটা সফল হয়, তা শুধু তুরস্কের অবস্থান নয়, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরেশিয়ার বৃহত্তর শক্তির ভারসাম্যকেও প্রভাবিত করতে পারে।

  • হরমুজে নিষিদ্ধ অঞ্চল বানাতে চায় ইরান

    হরমুজে নিষিদ্ধ অঞ্চল বানাতে চায় ইরান

    বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত নতুন ঝুঁকির দিকে যাচ্ছে। প্রণালির কাছে নতুন একটি ‘নিষিদ্ধ অঞ্চল’ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। ওই এলাকায় ঢুকলেই জাহাজকে ইরানের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় তোলার হুমকি দিয়েছে দেশটি।

    এর মধ্যেই হরমুজে দুই দেশের হামলা ও পাল্টা হামলা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের মুখে ইরান জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে আরো কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। ফলে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি করিডর ঘিরে সংঘাত আরো ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ পরিস্থিতিকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে দেখছেন।

    ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নতুন নিষিদ্ধ অঞ্চলের ঘোষণা দেওয়া হবে।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, অঞ্চলটি শুরু হবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের সীমারেখা থেকে। এরপর তা হরমুজ প্রণালির দিকে এবং সেখান থেকে পারস্য উপসাগরের কিছু অংশে বিস্তৃত হবে।

    তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নতুন এই অঞ্চলে ঢুকলেই সংশ্লিষ্ট জাহাজকে ইরানের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হবে। তবে অঞ্চলটির সুনির্দিষ্ট সীমানা কী হবে, নিষেধাজ্ঞার অর্থ কী এবং তা কীভাবে কার্যকর করা হবে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানায়নি তেহরান।

    হরমুজ বন্ধের শর্ত দিল ইরান

    নিষিদ্ধ অঞ্চলের ঘোষণার সঙ্গে হরমুজ প্রণালি নিয়েও কঠোর বার্তা দিয়েছেন রেজায়ি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ‘নাশকতা, হুমকি ও হামলা’ বন্ধ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার নিশ্চয়তা দেবে না ইরান।

    একই সঙ্গে ওমানের সঙ্গে মিলে হরমুজের জন্য নতুন একটি আন্তর্জাতিক নৌপথের মানচিত্র তৈরির কথা জানিয়েছেন তিনি।

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান ও ওমানের সমুদ্রসীমার মধ্য দিয়ে যাওয়া এই করিডরে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থাকবে ইরানের। এ বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চুক্তিতে সই হওয়ার কথা।

    এর আগে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছিলেন, হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের জন্য ওমানের সঙ্গে একটি সাময়িক নৌপথে সমঝোতা হয়েছে। ওই পথের প্রবেশ এবং বের হওয়ার একটি অংশ ইরানের সমুদ্রসীমার মধ্য দিয়ে যাবে।

    জাহাজে হামলা, পাল্টা হামলা

    হরমুজ ঘিরে উত্তেজনা এরই মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতে গড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। জবাবে ইরান ট্যাংকারে হামলা করেছে। হরমুজের কাছে টহলরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ছুড়েছে তেহরান।

    ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের একটি জাহাজ তেহরানের নির্ধারিত নিষিদ্ধ এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করেছিল এবং সেটিতে হামলা চালানো হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স এ দাবি ‘পুরোপুরি মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

    হরমুজে কার নৌপথ চলবে?

    হরমুজে জাহাজ চলাচলের পথ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ নতুন নয়। এপ্রিলেই ইরান নিজেদের অনুমোদিত নৌপথের মানচিত্র প্রকাশ করেছিল। ওই পথ আগের তুলনায় ইরানের উপকূলের অনেক কাছ দিয়ে গেছে।

    কিন্তু ইরানের এই নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার পাল্টা উদ্যোগ নেয় ওমান। জুনে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) সঙ্গে কাজ করে ওমান হরমুজের দক্ষিণ অংশে একটি বিকল্প নৌকরিডর নির্ধারণ করে। উদ্দেশ্য ছিল প্রণালিতে নিরাপদে জাহাজ চলাচল ফিরিয়ে আনা।

    লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘স্টোয়িক ওয়ারিয়র’ ওই বিকল্প পথে চলাচল করে। জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানের উপকূল ঘেঁষে মুসান্দাম উপদ্বীপের পাশ দিয়ে যায়।

    এতে ক্ষুব্ধ হয় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) । তাদের ঘোষণা ছিল, ইরানের অনুমোদিত পথই হরমুজের ‘একমাত্র অনুমোদিত নৌপথ’। অনুমতি ছাড়া অন্য পথে যাওয়া জাহাজকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও অত্যন্ত বিপজ্জনক’ পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলে সতর্ক করে তারা।

    সমঝোতা ভাঙতেই ফের অচল হরমুজ

    ১৭ জুন জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছিল। এর পর হরমুজে জাহাজ চলাচল বাড়ে।

    সমঝোতা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ৩০ দিনের মধ্যে নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা ছিল। আর ইরানের দায়িত্ব ছিল হরমুজ থেকে মাইন সরানো এবং ৬০ দিন কোনো মাশুল ছাড়াই জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়া।

    কিন্তু ৬০ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে আবার হামলা শুরু হয়। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে কমে যায়।

    প্রতিদিন ১৩০ জাহাজ থেকে এখন মাত্র ১০

    হরমুজ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। জাহাজ চলাচল অব্যাহত আছে। কিন্তু যুদ্ধের আগের তুলনায় তা অনেক কম।

    সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল হরমুজ দিয়ে যেত। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৯০ লাখের বেশি ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে যাচ্ছে। বিকল্প পাইপলাইনসহ মোট প্রবাহ যুদ্ধের আগের তুলনায় দুই-তৃতীয়াংশ বা তার বেশি বলে তার দাবি।

    যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, রোববার শেষ হওয়া ৪৮ ঘণ্টায় ৫৯টি জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করেছে।

    কিন্তু সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী অন্য প্রতিষ্ঠানের তথ্য আরো সংকটের চিত্র দেখাচ্ছে। গত বুধবার মাত্র ছয়টি, মঙ্গলবার ১১টি এবং সোমবার পাঁচটি জাহাজ প্রণালিটি পার হয়েছে। ১০ দিনের হিসাবে প্রতিদিন গড়ে চলাচল করেছে ১৩টি জাহাজ।

    সামুদ্রিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের হিসাবে, গত ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১০টি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ পার হয়েছে। মে মাসের পর এটিই সর্বনিম্ন।

    যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন ১৩০টির বেশি জাহাজ হরমুজ দিয়ে চলাচল করত। এখন সেই পথ কার্যত যুদ্ধের অন্যতম প্রধান চাপের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

    নিষিদ্ধ অঞ্চল কি সত্যিই কার্যকর করতে পারবে ইরান?

    এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। হরমুজকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলার সক্ষমতা ইরান ইতোমধ্যে দেখিয়েছে। মার্চ থেকে সেখানে অসংখ্য জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। নিহত হয়েছেন অন্তত ১৯ জন নাবিক।

    কিন্তু আরো বিস্তৃত একটি নিষিদ্ধ অঞ্চল সামরিকভাবে কার্যকর করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। বিশেষ করে ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর সুরক্ষায় থাকা জাহাজ প্রবেশ করলে ইরান কতটা প্রতিরোধ গড়তে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডল ইস্টার্ন স্টাডিজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান স্টিফেন জুনস মনে করেন, ইরানের পক্ষে এ ধরনের অঞ্চল কার্যকর করা কঠিন হবে।

    তার মতে, অঞ্চলটি কার্যকর করতে ইরানের যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমানকে মাঠে নামতে হবে। কিন্তু সেগুলো মার্কিন হামলার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে।

    তবে জুনস মনে করেন, এটি হয়তো ইরানের একটি সতর্কবার্তাও হতে পারে। জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বোঝানো হচ্ছে—তেহরানের অনুমতি ছাড়া হরমুজ দিয়ে গেলে পার হতে গিয়ে ঝুঁকিতে পড়তে হবে।

    যুক্তরাষ্ট্রকে আরো বড় সংঘাতে টানতে চায় তেহরান?

    জুনসের মতে, ইরান হয়তো যুক্তরাষ্ট্রকে আরো বড় সামরিক প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দিতে চাইছে। এতে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলো এবং ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার যুক্তি তৈরি হতে পারে।

    এর রাজনৈতিক সুবিধাও পেতে পারে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে জনমত রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের ভেতরে বাড়ছে অর্থনৈতিক সংকট। এমন পরিস্থিতিতে বাইরের সামরিক চাপ জনগণকে সরকারের পক্ষে আরো ঐক্যবদ্ধ করতে পারে।

    তবে হরমুজের নতুন নিষিদ্ধ অঞ্চল শুধু সামরিক হুমকি কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ওমানের সঙ্গে ইরানের নৌপথ নিয়ে চলমান আলোচনার সঙ্গেও এর যোগ থাকতে পারে বলে মনে করেন জুনস।

    ওমানের সঙ্গে সমঝোতা কার্যকর হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র তা মেনে নেয়, তাহলে ইরান নিষিদ্ধ অঞ্চল কার্যকর করা থেকে পিছিয়ে আসতে পারে। আর যুক্তরাষ্ট্র যদি ওই সমঝোতা মেনে না নেয়, তাহলে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়ানোর জন্য তেহরানের হাতে থাকবে নতুন একটি হাতিয়ার।

    ফলে হরমুজ এখন শুধু তেল পরিবহনের পথ নয়। এটি হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সামরিক সংঘাতের অন্যতম প্রধান মঞ্চ। আর ইরানের নতুন নিষিদ্ধ অঞ্চল বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তার ওপর নির্ভর করতে পারে এই সংঘাতের পরবর্তী গতিপথ।

  • ইসরাইলকে আবারও সতর্ক করলেন এরদোয়ান

    ইসরাইলকে আবারও সতর্ক করলেন এরদোয়ান

    তুরস্ককে ঘিরে ইসরাইলের শত্রুতামূলক কোনো তৎপরতা মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান। সোমবার আংকারায় মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে দেওয়া বক্তব্যে এরদোয়ান এ সতর্কবার্তা দেন।

    তিনি বলেন, তুরস্কের শান্ত ও সংযত অবস্থানকে কেউ যেন দুর্বলতা হিসেবে না দেখে। স্বাধীন, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে তুরস্কের অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না।

    এরদোয়ান বলেন, তুরস্ক কোনো দেশ, সমাজ, ধর্ম বা সংস্কৃতির বিরুদ্ধে নয়। তবে যেখান থেকেই অবিচার, নিপীড়ন ও বেআইনি কর্মকাণ্ড আসুক, তুরস্ক তার বিরুদ্ধে থাকবে। আঞ্চলিকভাবে তুরস্ককে ঘিরে ফেলার শত্রুতামূলক পদক্ষেপও তারা মেনে নেবে না।

    ইসরাইলের কর্মকাণ্ড নিয়ে সরাসরি অভিযোগ

    মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের জন্য ইসরাইলকে দায়ী করেন এরদোয়ান। তার অভিযোগ, ইসরাইলের উসকানি ও কর্মকাণ্ডের খেসারত শুধু ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোকে দিতে হচ্ছে না। এর প্রভাব পড়ছে পুরো অঞ্চলের ওপর।

    ইসরাইলের ‘মিথ্যাচার ও নাশকতার’ কারণে ইসলামাবাদ সমঝোতাও কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরদোয়ান বলেন, শান্তির সামান্য সম্ভাবনাকেও যারা হুমকি হিসেবে দেখে, সেই ‘চরমপন্থি মানসিকতা’ না বদলানো পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের ঝড় থামবে না।

    এরদোয়ানের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও উত্তেজনা বাড়ছে। এর আগে তিনি ইসরাইলের হামলার প্রভাব তুরস্কের নিরাপত্তার ওপরও পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন।

    এসসিওর সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করবে তুরস্ক

    আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন এরদোয়ান।

    তিনি বলেন, আঞ্চলিক ঐক্য ও সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি। এসসিওর সঙ্গে সম্পর্ক আরো উন্নত করার পাশাপাশি তুরস্ক আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য কাজ করে যাবে।

    জাহাজডুবিতে উদ্ধার তৎপরতা

    উত্তর সাইপ্রাসের উপকূলে জাহাজডুবির ঘটনায় নিখোঁজদের উদ্ধারে তুরস্কের সহায়তার কথাও জানান এরদোয়ান। তিনি বলেন, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে তুরস্ক ৯টি জাহাজ ও ১১টি বিমান দিয়ে সহায়তা করছে।

    সংকটের মধ্যেও অর্থনীতিতে নজর

    আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও তুরস্কের অর্থনীতিকে প্রবৃদ্ধির পথে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে কিছু সমন্বয় করতে হলেও উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির পথ থেকে তুরস্ক সরে যাবে না।

    দেশটির অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী, প্রতিযোগিতামূলক ও স্থিতিশীল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

    জনগণের কল্যাণ বাড়ানো এবং অর্থনীতির কাঠামোগত সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কাজ করার কথাও বলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট।

    অর্থাৎ, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ যখন তীব্র হচ্ছে, তখন ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তুরস্কের অবস্থান আরো কঠোর করার বার্তাই দিলেন এরদোয়ান। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি।

  • ভেনেজুয়েলার তেল চুক্তি কি গণতন্ত্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা

    ভেনেজুয়েলার তেল চুক্তি কি গণতন্ত্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা

    ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা সাম্প্রতিক চুক্তি দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি করেছে, আবার একই সঙ্গে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন বিতর্কও সৃষ্টি করেছে। এক নিবন্ধে লেখক মিরজানা পেরিচের মূল প্রশ্ন—যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের মধ্যে হওয়া তেল চুক্তি কি অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের বিনিময়ে গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রশ্নকে পেছনে ঠেলে দিচ্ছে?

    ৩১ আগস্ট ঘোষিত চুক্তিটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ঐতিহাসিক’ চুক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে এর প্রধান লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন পুনরুজ্জীবিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করা। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে চাপ ও যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদ ওয়াশিংটনের কাছে আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    চুক্তির আওতায় নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্স বা এনএবিইপি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার ১৭টি তেলক্ষেত্র উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে প্রমাণিত মজুদের সম্ভাবনা প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পে বিপুল বিনিয়োগ আসতে পারে এবং উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন সরকার ওই যৌথ উদ্যোগে ৩৫ শতাংশ অংশীদারিত্ব নিয়েছে।

    চুক্তিটির সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয়গুলোর একটি হলো এর মেয়াদ। ওয়াশিংটনের বর্ণনা অনুযায়ী, ১৭টি তেলক্ষেত্রের অধিকার ১০০ বছরের জন্য দেওয়া হয়েছে। ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার অবশ্য চুক্তির মেয়াদ ২৫ বছর বলে দাবি করেছে। এই দুই বর্ণনার পার্থক্যই চুক্তির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন আরও বাড়িয়েছে।

    চুক্তির সমর্থকদের যুক্তি, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট ও অব্যবস্থাপনায় ভেঙে পড়া ভেনেজুয়েলার তেলশিল্প পুনর্গঠনে বিদেশি পুঁজি, প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা জরুরি। দেশটির তেল উৎপাদন ঐতিহাসিক সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ব্যাপকভাবে কমে গেছে। নতুন বিনিয়োগ এলে পরিশোধনাগার, পাইপলাইন ও উৎপাদন অবকাঠামো পুনর্গঠন সম্ভব হবে এবং এর মাধ্যমে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথ খুলতে পারে।

    কিন্তু সমালোচনার জায়গাটিও গুরুতর। অভিযোগ উঠেছে, এত বড় একটি জাতীয় সম্পদ-সম্পর্কিত চুক্তি যথেষ্ট স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকাশ করা হয়নি এবং ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অর্থনীতিবিদ ফ্রান্সিসকো রদ্রিগেজের মতো সমালোচকেরা মনে করেন, দেশটির সংবিধানের ১৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিদেশি রাষ্ট্র বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট চুক্তির ক্ষেত্রে জাতীয় পরিষদের অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে।

    তেল চুক্তির সঙ্গে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্নটি জড়িয়ে আছে নির্বাচন নিয়ে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। ওয়াশিংটন বলেছে, ভেনেজুয়েলায় শেষ পর্যন্ত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। রদ্রিগেজও কোনো নির্দিষ্ট তারিখ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

    এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন যদি গণতান্ত্রিক রূপান্তরের চেয়ে তেল উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো এবং জ্বালানি নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দেয়, তাহলে মাদুরো-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তন শেষ পর্যন্ত একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রূপান্তরে না গিয়ে বিদ্যমান ক্ষমতাকাঠামোর নতুন সংস্করণে পরিণত হতে পারে। অর্থাৎ সরকার বদলালেও প্রতিষ্ঠানগত সংস্কার, স্বাধীন নির্বাচন ও রাজনৈতিক জবাবদিহির প্রশ্ন অমীমাংসিত থেকে যেতে পারে।

    অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য হলো, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া গণতান্ত্রিক রূপান্তর টেকসই হবে না। ওয়াশিংটনের যুক্তি অনুযায়ী, প্রথমে অর্থনীতি ও তেলশিল্পকে পুনরুদ্ধার করতে হবে, এরপর এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেখানে একটি কার্যকর নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্ভব হবে। মার্কিন কর্মকর্তারা তেল চুক্তিকে তাই গণতান্ত্রিক রূপান্তরের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং তার পূর্বশর্ত হিসেবে উপস্থাপন করছেন।

    তবে ভেনেজুয়েলার বিরোধী রাজনীতিকদের একটি অংশ এই যুক্তি মানতে নারাজ। নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো বলেছেন, তেলশিল্পে বিনিয়োগের জন্য একটি ‘গুরুতর ও গণতান্ত্রিক সরকার’ প্রয়োজন। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    এখানে ভেনেজুয়েলার পুরোনো রাজনৈতিক ইতিহাসও গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েক দশকে তেল দেশটির অর্থনীতি যেমন সমৃদ্ধ করেছে, তেমনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রধান হাতিয়ারও হয়েছে। হুগো শাভেজ ও নিকোলাস মাদুরোর শাসনামলে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কেন্দ্রে ছিল। ফলে তেলশিল্পের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ক আসলে শুধু অর্থনীতির প্রশ্ন নয়; এটি রাষ্ট্রক্ষমতার প্রশ্নও।

    নতুন চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশ তাই ভেনেজুয়েলার জন্য একদিকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা, অন্যদিকে সার্বভৌমত্ব ও সম্পদ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এপি জানিয়েছে, কিছু ভেনেজুয়েলান মনে করছেন মার্কিন অংশীদারিত্ব অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিতে পারে; আবার অনেকে এটিকে জাতীয় সম্পদের ওপর বিদেশি নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

    সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—তেল কি গণতন্ত্রের পথ খুলবে, নাকি গণতন্ত্রের জায়গা দখল করবে? যদি নতুন বিনিয়োগ ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করে, কর্মসংস্থান বাড়ায় এবং একই সঙ্গে স্বাধীন নির্বাচন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের শাসন ও রাজনৈতিক জবাবদিহির পথ তৈরি করে, তাহলে চুক্তিটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ভিত্তি হতে পারে। কিন্তু যদি তেল উৎপাদন ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থই অগ্রাধিকার পায় এবং নির্বাচন অনির্দিষ্টকাল পিছিয়ে যায়, তাহলে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের আড়ালে নতুন এক ক্ষমতাকাঠামো স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

    ভেনেজুয়েলার বর্তমান পরিস্থিতি তাই কেবল একটি তেল চুক্তির গল্প নয়। এটি অর্থনীতি, জাতীয় সার্বভৌমত্ব, যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্যকার সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। শেষ পর্যন্ত চুক্তিটির সাফল্য শুধু কত ব্যারেল তেল উৎপাদন হলো তা দিয়ে মাপা হবে না; বরং ভেনেজুয়েলার জনগণ তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণের সুযোগ পেল কি না—সেটিই হবে বড় পরীক্ষা।

  • ইসরাইলের কৌশলগত বলয়ে ঢুকেছে গ্রিস, তুরস্কের সঙ্গে উত্তেজনায় নতুন মাত্রা

    ইসরাইলের কৌশলগত বলয়ে ঢুকেছে গ্রিস, তুরস্কের সঙ্গে উত্তেজনায় নতুন মাত্রা

    গ্রিস ও ইসরাইলের মধ্যে সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা পূর্ব ভূমধ্যসাগরের ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ৩১ আগস্ট দুই দেশ প্রায় ৩ বিলিয়ন ইউরোর একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার আওতায় গ্রিসের জন্য ইসরাইল একটি সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’ নামে পরিচিত এই প্রকল্পে ডেভিডস স্লিং, বারাক এমএক্স, স্পাইডার এবং বহুমুখী রাডারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তিটিকে দুই দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

    লেখক মুরাত আসলান এই চুক্তিকে শুধু অস্ত্র কেনাবেচা হিসেবে দেখেননি। তার মতে, এর মধ্য দিয়ে গ্রিসের নিরাপত্তা কাঠামো ক্রমেই ইসরাইলি প্রযুক্তি ও কৌশলগত সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারে। এমনকি ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’ নামটিকেও তিনি প্রতীকীভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। গ্রিক পুরাণের বীর অ্যাকিলিসের বিপরীতে তিনি হিব্রু ‘আয়িল’ শব্দের উল্লেখ করেছেন, যার অর্থ আব্রাহামের কাহিনিতে বিকল্প হিসেবে উৎসর্গ করা ভেড়া। তার যুক্তি, গ্রিসের কৌশলগত স্বনির্ভরতার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত ‘অ্যাকিলিস’ শেষ পর্যন্ত অন্যের ভূরাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত ‘আয়িল’-এ পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।

    চুক্তিটির সামরিক গুরুত্ব অবশ্য অস্বীকার করার সুযোগ নেই। গ্রিসকে ডেভিডস স্লিং, বারাক এমএক্স, স্পাইডার এবং এমএমআর রাডারসহ একটি বহুস্তরীয় আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কাঠামো তৈরিতে সহায়তা করবে ইসরাইল। গ্রিসের বৃহত্তর ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী বছরগুলোতে দেশটি আরো বিপুল অর্থ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করার পরিকল্পনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সংগ্রহ এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম কেনার পরিকল্পনাও এর সঙ্গে যুক্ত।

    এথেন্সের দৃষ্টিতে এর প্রধান কারণ তুরস্ক। এজিয়ান সাগর ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সমুদ্রসীমা, দ্বীপগুলোর সামরিকীকরণ, মহীসোপান, জ্বালানি সম্পদ এবং সাইপ্রাসকে ঘিরে গ্রিস ও তুরস্কের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোটাকিস সম্প্রতি এজিয়ান সাগরে ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত আঞ্চলিক জলসীমা সম্প্রসারণের অধিকার নিয়ে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, গ্রিস কীভাবে নিজেদের সশস্ত্র করবে সে বিষয়ে কারও অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

    অন্যদিকে তুরস্কের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। আঙ্কারা পূর্ব এজিয়ান দ্বীপগুলোর সামরিকীকরণের বিরোধিতা করে এবং গ্রিসকে ১৯২৩ সালের লওজান চুক্তি ও ১৯৪৭ সালের প্যারিস শান্তি চুক্তির বাধ্যবাধকতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে আসছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, তুরস্ক অন্য দেশের ভূখণ্ড দখল করতে চায় না, কিন্তু নিজেদের অধিকার লঙ্ঘনও মেনে নেবে না।

    এই অবস্থায় গ্রিস-ইসরাইল প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে কী প্রভাব ফেলবে, সেটিই বড় প্রশ্ন। ইসরাইলের দৃষ্টিতে তুরস্ক ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠছে। সিরিয়ায় ইরানের প্রভাব কমে যাওয়া, রাশিয়ার আঞ্চলিক ভূমিকার পরিবর্তন এবং তুরস্কের সামরিক ও কূটনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধির ফলে ইসরাইল পূর্ব ভূমধ্যসাগরে নতুন কৌশলগত সমীকরণ তৈরি করতে চাইছে—এমন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।

    গ্রিস, ইসরাইল ও গ্রিক সাইপ্রিয়ট প্রশাসনের মধ্যে সামরিক, জ্বালানি ও নিরাপত্তা সহযোগিতাও গত এক দশকে বেড়েছে। ফলে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে একটি ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে ওঠার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাইবার নিরাপত্তা, ড্রোন প্রতিরোধ, বিমান প্রতিরক্ষা এবং সামরিক প্রযুক্তির সহযোগিতা। অন্যদিকে তুরস্কও সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’সহ নতুন নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছে। ফলে পূর্ব ভূমধ্যসাগর ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণ ক্রমেই পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে।

    তবে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি মানেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া নয়। গ্রিস যদি তার আকাশ প্রতিরক্ষা, রাডার ও সামরিক কমান্ড কাঠামোর বড় অংশ বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল করে তোলে, তাহলে সংকটের সময়ে সেই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সফটওয়্যার ব্যবস্থাপনা নিয়ে কৌশলগত নির্ভরতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে তুরস্কের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গিয়ে গ্রিস যদি এমন একটি আঞ্চলিক সংঘাতের কাঠামোর অংশ হয়ে যায়, যার সিদ্ধান্ত এথেন্সের হাতে পুরোপুরি নেই, তাহলে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়লেও কৌশলগত স্বাধীনতা কমতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে।

    তবে গ্রিসের অবস্থানও একেবারে ভিন্ন। প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিটসোটাকিস বলেছেন, ইসরাইলের সঙ্গে কৌশলগত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে তিনি সৌদি আরব ও অন্যান্য আরব দেশের সঙ্গে সম্পর্কও বাড়াতে চান। অর্থাৎ এথেন্সের লক্ষ্য শুধু ইসরাইল কেন্দ্রিক জোট তৈরি করা নয়; বরং পূর্ব ভূমধ্যসাগর ও মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে নিজের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করা—এমনটাই গ্রিক সরকারের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়।

    আর এখানেই সামনে আসে ‘অ্যাকিলিস’ নামটির আরেকটি অর্থ। গ্রিসের জন্য প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কোনো রাষ্ট্রের নিরাপত্তা যদি ক্রমাগত অন্য রাষ্ট্রের অস্ত্র, প্রযুক্তি ও কৌশলগত সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে সেই নিরাপত্তার মূল্যও বিবেচনা করতে হয়। সামরিক জোট একদিকে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে, অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রের নিরাপত্তা উদ্বেগও বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে তৈরি হতে পারে অস্ত্র প্রতিযোগিতা ও পাল্টা জোটের একটি চক্র।

    গ্রিস ও তুরস্ক উভয়ই ন্যাটোর সদস্য। ফলে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাত হলে সেটি শুধু দ্বিপক্ষীয় সংকট থাকবে না; ন্যাটো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও চাপ তৈরি করবে। ১৯৯৬ সালের কার্দাক সংকটের সময়ও যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়েছিল। তাই বর্তমান উত্তেজনা যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়, তার প্রভাব পূর্ব ভূমধ্যসাগরের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গ্রিস ও তুরস্কের বিরোধের রাজনৈতিক সমাধান এখনো সামরিক সক্ষমতার বাইরে রয়ে গেছে। এজিয়ান ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরের সমুদ্রসীমা, সাইপ্রাস এবং দ্বীপগুলোর সামরিকীকরণ নিয়ে মতপার্থক্য কেবল নতুন ক্ষেপণাস্ত্র বা রাডার দিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়। বরং সামরিক ভারসাম্যের পাশাপাশি সরাসরি সংলাপ, আস্থা তৈরির ব্যবস্থা এবং বাধ্যতামূলক বিরোধ-নিষ্পত্তির কাঠামো প্রয়োজন।

    অতএব ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’ গ্রিসের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিঃসন্দেহে বাড়াতে পারে। কিন্তু এই ব্যবস্থা একই সঙ্গে গ্রিস-ইসরাইল কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করবে এবং তুরস্কের সঙ্গে নিরাপত্তা প্রতিযোগিতাকেও তীব্র করতে পারে। শেষ পর্যন্ত গ্রিসের সামনে আসল প্রশ্ন হতে পারে—আরও শক্তিশালী অস্ত্রভাণ্ডার গড়া, নাকি এমন একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা, যেখানে তুরস্ক ও গ্রিস পরস্পরকে স্থায়ী শত্রু হিসেবে না দেখে বিরোধগুলো রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কারণ অস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে, কিন্তু রাজনৈতিক বিরোধের সমাধান করতে পারে না।

  • সৌদি সড়ক দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশি নিহত

    সৌদি সড়ক দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশি নিহত

    সৌদি আরবের তায়েফ থেকে জেদ্দার উদ্দেশে যাওয়ার পথে বিমানবন্দরগামী একটি গাড়ি সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে চার বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই জনের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায়।

    সোমবার দুপুর ২টার দিকে তায়েফের আল-খুরমা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত কানাইঘাটের দুই প্রবাসী হলেন আব্দুল করিম ও খালিদ আহমদ। তারা উপজেলার গাছবাড়ী এলাকার লামার তালুক গ্রামের বাসিন্দা।তবে অন্য দুই জনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটানোর পর দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আব্দুল করিম ও খালিদ আহমদ। দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে যাওয়ার পথেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণ হারান তারা।

    দুই প্রবাসীর মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে ভিড় করছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

    দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। খবর পাওয়ার পর তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে তাদের সান্ত্বনা দেন। এ ঘটনাকে পরিবার দুটির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বলে মন্তব্য করেন তিনি।উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুন মাসে কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ প্রবাসী নিহত হন। এরপর জুলাই মাসে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় আরও এক কানাইঘাট প্রবাসীর মৃত্যু হয়। এরই মধ্যে তায়েফে নতুন করে দুই কানাইঘাট প্রবাসীর প্রাণহানির ঘটনায় উপজেলাজুড়ে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

  • বিমানে যাত্রীকে গালাগাল ও হামলার অভিযোগ, সিটে ডাক্ট টেপ দিয়ে আটকালেন যাত্রীরা

    বিমানে যাত্রীকে গালাগাল ও হামলার অভিযোগ, সিটে ডাক্ট টেপ দিয়ে আটকালেন যাত্রীরা

    যুক্তরাষ্ট্রে একটি বিমানে সহযাত্রীকে হামলা এবং এক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে বর্ণবাদী ও সমকামীবিদ্বেষী গালাগাল করার অভিযোগে এক যাত্রীকে সিটের সঙ্গে ডাক্ট টেপ দিয়ে আটকে রাখার ঘটনা ঘটেছে।

    ৬৭ বছর বয়সি আর্থার লুন্ডিন নামের ওই যাত্রী অ্যারিজোনার বাসিন্দা। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) টেক্সাস থেকে নিউ জার্সির নিউয়ার্কগামী আমেরিকান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ফ্লাইটের প্রায় দুই ঘণ্টা পর লুন্ডিন তার পাশে বসা এক যাত্রীর গলা চেপে ধরেন। পরে একজন কৃষ্ণাঙ্গ নারী ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট এবং সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ কয়েকজন যাত্রী তাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি বর্ণবাদী ও সমকামীবিদ্বেষী গালাগাল করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

    ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, লুন্ডিনকে সিটের সঙ্গে ডাক্ট টেপ দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। তার দুই হাত জিপ টাই দিয়ে বাঁধা ছিল।

    সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা হুয়ান মেহিয়া বলেন, সবকিছু একেবারে হঠাৎ করেই বদলে যায়। মুহূর্তের মধ্যে শান্ত পরিবেশ চিৎকার আর বিশৃঙ্খলায় পরিণত হয়। আমি পেছনে ফিরে তাকিয়ে দেখি, পাশের সিটে বসা ওই ব্যক্তি তার গলায় হাত দিয়ে হামলা করছেন।

    মেহিয়ার ভাষ্য, তারা হস্তক্ষেপ করার পর লুন্ডিন ‘বর্ণবাদী গালাগাল, অশালীন ভাষা’ ব্যবহার করেন এবং নারীদের প্রতিও অত্যন্ত আপত্তিকর আচরণ করেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১০টা ১৫ মিনিটে বিমানটি বাল্টিমোর-ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (বিডব্লিউআই) অবতরণের জন্য গতিপথ পরিবর্তন করে। ঘটনাটি তদন্ত করছে এফএএ।

    বিমানটি বাল্টিমোরে অবতরণ করা পর্যন্ত মেহিয়া লুন্ডিনের সঙ্গে ছিলেন। বিমান অবতরণের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিমানে উঠে তাকে হেফাজতে নেন।

    পুলিশ জানিয়েছে, বিডব্লিউআই বিমানবন্দরে বিমানের ভেতরে ঘটে যাওয়া ঘটনায় লুন্ডিনের বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খল আচরণ এবং দ্বিতীয় মাত্রার হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    এফবিআই জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানতে তারা বর্তমানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলছে। এরপর ফেডারেল অভিযোগ আনা হবে কি না, সে বিষয়ে মেরিল্যান্ড জেলার ইউএস অ্যাটর্নির কার্যালয়ের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে।

    এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে বিমানে যাত্রীকে ডাক্ট টেপ দিয়ে আটকে রাখার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালে মিলওয়াকি থেকে ডালাসগামী একটি ফ্লাইটে এক যাত্রী বিমানের দরজা জোর করে খোলার চেষ্টা করেন এবং এক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে আহত করেন। পরে তাকেও সিটের সঙ্গে ডাক্ট টেপ দিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল।

    এফএএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত ১ হাজার ১৬০টির বেশি উচ্ছৃঙ্খল যাত্রীর ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনো যাত্রী যদি বিমানকর্মীদের ‘হামলা, হুমকি, ভয় দেখানো বা কাজে বাধা’ দেন, তাহলে ফৌজদারি শাস্তির পাশাপাশি এফএএ ৪৩ হাজার ডলারের বেশি জরিমানা করতে পারে।

  • নাচের ক্লাশে যাওয়া নিয়ে বিরোধে স্ত্রীকে হত্যা

    নাচের ক্লাশে যাওয়া নিয়ে বিরোধে স্ত্রীকে হত্যা

    ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরে নাচের ক্লাশে যাওয়া নিয়ে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে ৩৮ বছর বয়সি এক নারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। নিহতের নাম ইয়ামিনী কৃষ্ণ লাল যাদব।

    এ ঘটনায় তার ৪১ বছর বয়সি স্বামী কৃষ্ণ লাল যাদবকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দম্পতির দুটি ছোট সন্তান রয়েছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ইয়ামিনীর মৃত্যু হয়। ঘটনার দিন কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরে কৃষ্ণ লাল স্ত্রীকে তার ও সন্তানদের জন্য খাবার তৈরি করতে বলেন। তবে ইয়ামিনী তখন তাদের আবাসিক এলাকার একটি নাচের ক্লাশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিনি রান্না করতে অস্বীকৃতি জানালে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সেই বিরোধ সহিংসতায় রূপ নেয়।

    পুলিশের দাবি, ঘটনার সময় কৃষ্ণ লাল মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। তিনি তাদের দুই সন্তানের সামনেই ইয়ামিনীর ঘাড় ও পেটে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ইয়ামিনী ঘাড় ও পেটে তীব্র ব্যথার কথা জানিয়ে স্বামীকে ব্যথানাশক ওষুধ আনতে বলেন। কৃষ্ণ লাল ওষুধ কিনতে একটি দোকানে গেলেও সেটি বন্ধ থাকায় ওষুধ ছাড়াই বাড়ি ফিরে আসেন।

    এরপর ইয়ামিনীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। গুরুতর অভ্যন্তরীণ আঘাতের কারণে তার পেট ফুলে যায়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    প্রাথমিকভাবে পুলিশ ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করে লাশ ময়নাতদন্তে পাঠায়। কিন্তু ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে ইয়ামিনীর ঘাড়ের হাড় ভেঙে যাওয়া এবং অন্ত্রে গুরুতর ক্ষতির তথ্য উঠে আসে। এছাড়া গলায় চাপ দেওয়ার চিহ্নও পাওয়া যায়।

    নিহতের ভাই জানান, প্রথমে পরিবারটি ইয়ামিনীর মৃত্যুকে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা বলে মনে করেছিল। কিন্তু ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে গুরুতর আঘাত ও শ্বাসরোধের আলামত পাওয়ার পর পুলিশ তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং পরে গ্রেফতার করে।

    তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তাদের বোনের সঙ্গে স্বামীর আগেও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া হতো। ইয়ামিনী মাঝেমধ্যে পরিবারের কাছে এসব বিরোধের কথা জানালেও পরিবারের সদস্যদের হস্তক্ষেপ করতে নিষেধ করতেন। তার আশঙ্কা ছিল, বিষয়টি নিয়ে পরিবার হস্তক্ষেপ করলে পরবর্তীতে তাকে আরও সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে।

    পুলিশ কৃষ্ণ লাল যাদবের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার মামলা করেছে। ঘটনার বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে।

  • নারীদের নিয়ে কটুক্তি সহ্য করা হবে না: বিজয়

    নারীদের নিয়ে কটুক্তি সহ্য করা হবে না: বিজয়

    নারীদের নিয়ে অবমাননাকর বা কুরুচিকর মন্তব্য কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না বলে সতর্ক করেছেন ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়।

    তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক কারণে তীব্র সমালোচনা করা যেতে পারে, তবে নারীদের অসম্মান করে কোনো বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়।

    বিধানসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় বিজয় বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রত্যেকের ব্যক্তিগত অধিকার। তবে সেই স্বাধীনতা কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। রাজনৈতিক সমালোচনার ক্ষেত্রে ব্যক্তি, নারী বা অন্য কাউকে হেয় না করার আহ্বান জানান তিনি।

    বিজয় বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নারীদের নিয়ে অশালীন এবং বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তিনি জানান, ঘরে যেসব নারী মা ও বোনের মর্যাদায় রয়েছেন, তাদের কথা মনে রেখেই জনসমক্ষে কথা বলা উচিত।

    মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আমি আজ যে অবস্থানে পৌঁছেছি, তার পেছনে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পরিবারের নারীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নারীদের নিয়ে অশালীন বা মানহানিকর মন্তব্য করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

    বিজয়ের এই মন্তব্য এসেছে বিরোধীদলীয় নেতা উদয়নিধি স্টালিনের বিরুদ্ধে অভিনেত্রী তৃষাকে নিয়ে কথিত দ্ব্যর্থবোধক মন্তব্যের বিতর্কের কয়েক দিন পর।

    আগস্টে কাবেরী নদী নিয়ে এক প্রতিবাদ সভায় উদয়নিধি এমন একটি মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে, যা তৃষাকে ইঙ্গিত করে করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে ডিএমকে দাবি করেছে, বক্তব্যটি সম্পাদনা করে বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং উদয়নিধি তৃষার নাম উচ্চারণ করেননি।

    ঘটনার পর পুলিশ উদয়নিধিকে হেফাজতে নিলেও মাদ্রাজ হাইকোর্টের নির্দেশে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    বিধানসভায় বিজয় আরও বলেন, অতীতেও একই বিরোধী দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে নারীদের অপমানের অভিযোগ উঠেছিল। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতাকে একই বিধানসভায় অপমান করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    অন্যদিকে, বিধানসভার অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে উদয়নিধি বিজয়ের বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী ডিএমকের বিরুদ্ধে একাধিক ভিত্তিহীন অভিযোগ তুললেও বিরোধী দলকে তার জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

    উদয়নিধি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী প্রায় ১১ মিনিট পুলিশ বিভাগ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় তারা নীরবে শুনেছেন। এরপর তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হলেও কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। তিনি দাবি করেন, অভিযোগ করলেই তা সত্য হয়ে যায় না; যেকোনো অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ থাকতে হবে।

  • হিমালয়ে ট্র্যাজেডি: চোখ কি খুলল মিডিয়ার ?

    হিমালয়ে ট্র্যাজেডি: চোখ কি খুলল মিডিয়ার ?

    নেপালের ভয়াবহ বন্যা কি আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতার মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছে? এ প্রশ্ন এখন শোনা যাচ্ছে।

    হিমালয়কন্যা নেপালে প্রাণঘাতী বন্যায় এ পর্যন্ত ১,১০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে, আর নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৪,০০০ জন। ভবন, রাস্তাঘাট ও সেতু ভাসিয়ে নেয়া এই অভূতপূর্ব দুর্যোগ বিশ্ববাসীকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। তবে কেবল ধ্বংসলীলাই নয়, এই ট্র্যাজেডি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা তুলে ধরার ক্ষেত্রে এক নতুন মোড় উন্মোচন করেছে। দীর্ঘদিন ধরে অলস পদক্ষেপে চলা জলবায়ু বিষয়ক সাংবাদিকতায় অবশেষে দৃষ্টিভঙ্গির বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।

    পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, বিজ্ঞানীদের অকাট্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অতীতে দুর্যোগের খবরে ‘জলবায়ু পরিবর্তন’ শব্দটি ব্যবহার করতে চরম অনীহা দেখাত শীর্ষ মিডিয়াগুলো। ২০২৪ সালে আমেরিকার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানা মারাত্মক সুপার-স্টর্ম ‘হ্যারিকেন হেলেন’, ২০২৫ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস ছারখার করে দেওয়া স্মরণকালের ভয়াবহ দাবানল কিংবা ২০২৬ জুড়ে ইউরোপ ও এশিয়ায় রেকর্ড মাত্রার তীব্র তাপপ্রবাহের খবরেও বিশ্ব উষ্ণায়নের কথা খুব একটা আসেনি। তবে এই সপ্তাহে নেপালের মর্মান্তিক বন্যার ঘটনায় সেই চিত্র বদলে গেছে; চরম রক্ষণশীল মিডিয়াগুলোও নির্দ্বিধায় এই বিপর্যয়কে জলবায়ু পরিবর্তনের ফসল হিসেবে চিহ্নিত করছে।

    জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) গত সপ্তাহেই সতর্ক করেছে যে, অভূতপূর্ব মাত্রায় কার্বন নিঃসরণ কমানো হলেও বিশ্বের তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে অন্তত ১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পাবে। বোল্ডারের ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডোর বিশেষজ্ঞ অল্টন সি বায়ার্স নেপাল বন্যা নিয়ে এক আলোচনায় বলেন, হিমবাহের বরফ যত গলবে, এ ধরনের বিপর্যয়ের মাত্রা ও পুনরাবৃত্তি ততই বাড়বে।

    এখন দ্য গার্ডিয়ান, এএফপি, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, এপি, ব্লুমবার্গ কিংবা ডয়চে ভেলে একা নয়, তাদের পথে হেঁটেছে অন্যরাও। আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরে মার্কিন টিভি নেটওয়ার্কগুলোতে জলবায়ু কভারেজ ৩৫% কমে গিয়েছিল। কিন্তু সেই চিত্র এখন পাল্টেছে। এনবিসি নিউজ সরাসরি হিমবাহ গলনের পরিসংখ্যান দেখিয়ে আন্তর্জাতিক দুর্যোগের যোগসূত্র প্রকাশ করছে।

    এমনকি সিবিএস নিউজের সিইও বারি ওয়াইস—যিনি প্রতিষ্ঠানটির পুরো জলবায়ু বিভাগ ছাঁটাই করেছিলেন এবং জলবায়ু সচেতনতাকে ‘ওক’ (Woke) বা তথাকথিত অতি-উদারপন্থী সস্তা পপুলিজম বলে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতেন—তাঁর নেটওয়ার্কও এখন সুর বদলেছে। সিবিএস ইভনিং নিউজ ও মর্নিং শো বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল সোয়েনকে উদ্ধৃত করে আগস্টের শেষ সপ্তাহে স্পষ্ট জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞদের মতে এই হিমবাহ ধস ও চরম আবহাওয়া মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের সাথেই সম্পর্কিত।

    মূলত সামাজিক ও পরিবেশগত সচেতনতা বোঝাতে ওক’ (Woke) ব্যবহৃত হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থী বা রক্ষণশীল রাজনীতিতে শব্দটি একটি তিরস্কারমূলক অর্থ বহন করে। সেখানে পরিবেশ রক্ষা বা জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈজ্ঞানিক সত্যকে কোনো বাস্তব সমস্যা না ভেবে বামপন্থী বা অতি-উদারপন্থীদের ফ্যাশনেবল এজেন্ডা হিসেবে গণ্য করে ‘ওক’ বলে খোঁচা দেওয়া হয়।

    সাংবাদিকদের এই সাহসী পদক্ষেপে গতি এনে দিয়েছেন নেপালের রাজনৈতিক নেতৃত্ব। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল সরাসরি সংবাদমাধ্যমে বলেন, এই বিপর্যয়ের পেছনে দায়ী বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং কাঠমান্ডু এখন বড় দূষণকারী দেশগুলোর কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। তথ্যটি রয়টার্স, সিএনএন, বিবিসি-সহ বিশ্ব মিডিয়ার প্রধান শিরোনাম হয়।

    অবশ্য প্রথাগত জলবায়ু-অস্বীকারকারীরা চুপ বসে নেই। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যাখ্যা এড়িয়ে পুরো বিষয়টিকে ‘পশ্চিমী মিডিয়ার জল্পনা’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে ইন্টারনেটের ষড়যন্ত্রকারীরা আলাস্কার হাপ নামের একটি গবেষণা প্রকল্পকে নেপাল বন্যার কারণ বলে গুজব ছড়ায়। তবে এএফপির ফ্যাক্ট-চেক ইউনিট দ্রুত ভুয়া বলে প্রমাণ করে বিশ্ব উষ্ণায়নকেই প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে।

    নেপালের এই চরম ট্র্যাজেডি জলবায়ুসংকটের সবচেয়ে নির্মম সত্যটিকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে: যারা সবচেয়ে কম দূষণ ঘটায়, তারাই প্রথম ও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লেখক বিল ম্যাককিবেন যেমনটা হিসাব করে দেখিয়েছেন, একজন আমেরিকান বছরে গড়ে ১৪ টন কার্বন নিঃসরণ করলেও একজন নেপালি করে মাত্র ০.৪ টন!

    ২০২৩ সালের কোপ২৮ সম্মেলনে গঠিত ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’-এ অনুদান সামান্য হলেও চলতি সপ্তাহে ‘দ্য নেশন’ জানিয়েছে, নেপালকে একটি প্রতীকী ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, ১৯৮১ সালেই এক্সনের মতো শীর্ষ জ্বালানি কোম্পানিগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ গবেষণায় জানত যে কার্বন নিঃসরণ মানবজাতির জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে, কিন্তু তারা গবেষণা ফলাফল গোপন রেখেছিল। সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব যদি হয় পরাশক্তিকে জবাবদিহির মুখোমুখি দাঁড় করানো, তবে বিগ অয়েল বা শীর্ষ খনিজ তেল কোম্পানিগুলোর মুনাফার খেসারত যে নেপালের সাধারণ মানুষ দিচ্ছে, তা স্পষ্ট করার এখনই উপযুক্ত সময়।

  • হতাশা থেকেই ইরানের ওপর মার্কিন হামলা

    হতাশা থেকেই ইরানের ওপর মার্কিন হামলা

    সান ফ্রান্সিসকো বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের একজন অধ্যাপক পারস্য উপসাগরে ওয়াশিংটনের মিত্রদেরকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রধান শিকার বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, ইরানের ওপর মার্কিন হামলা কৌশলগত হিসাবে নয় বরং হতাশা থেকে চালানো হচ্ছে।

    ইরানিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের বরাতে জানা গেছে, সান ফ্রান্সিসকো বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক এবং পশ্চিম এশীয় অধ্যয়ন বিভাগের প্রধান স্টিভেন জোনস এক সাক্ষাৎকারে সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সাথে যুদ্ধ বিভিন্ন স্তরে আমেরিকার সম্পর্ক ও সুনামের ক্ষতি করেছে।

    তিনি উল্লেখ করেন, পারস্য উপসাগরে ওয়াশিংটনের মিত্ররা অসন্তুষ্ট কারণ যুক্তরাষ্ট্র ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন শুরু করার আগে তাদের সাথে পরামর্শ করেনি।

    স্টিভেন জোনস বলেন, ‘এটা বেশ স্পষ্ট ছিল যে এই দেশগুলোই এই যুদ্ধের প্রধান শিকার হবে।’

    তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, অনেক দিক থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলাগুলো এক প্রকার আত্মতৃপ্তি মাত্র।

    স্টিভেন জোনস বলেন, ‘এই হামলাগুলো কৌশলগত হিসাবনিকাশের ভিত্তিতে নয় বরং হতাশা থেকে চালানো হচ্ছে এবং এর ফলে কোনো ফল পাওয়া যাবে না।’

  • মুসলিম নারীকে পুশইন: আসাম সরকারকে জরিমানা করল ভারতীয় হাইকোর্ট

    মুসলিম নারীকে পুশইন: আসাম সরকারকে জরিমানা করল ভারতীয় হাইকোর্ট

    বাংলাভাষী এক মুসলিম নারীকে জোর করে বাংলাদেশে পুশইন করার ঘটনায় ভারতে আসামের রাজ্য সরকারকে দু’লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে গৌহাটি হাইকোর্ট।

    ভারত থেকে কাউকে বাংলাদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে ডিপোর্টেশন সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য কোনো রাজ্য সরকারকে আদালতের খরচ বা ক্ষতিপূরণ দিতে বলার ঘটনা এই প্রথম।

    মুমতাজ বেগমের পরিবার গৌহাটি হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস মামলা দায়ের করার পর জানতে পারে যে তাকে জোর করে ভারত থেকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    এই মামলায় হাইকোর্ট ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও পক্ষভুক্ত করে।

    আদালত আরো জানিয়েছে, এই নারীকে বাংলাদেশ থেকে খুঁজে বের করে তাকে ভারতে ফিরিয়ে আনার জন্য দেশটির সরকারকে ‘চেষ্টা চালাতে’ নির্দেশ দেওয়া হবে।

    মুমতাজ বেগমকে বাংলাদেশে পাঠানোর ঘটনায় আসামের নগাঁও ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের ভূমিকাতেও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট।

    হেবিয়াস কর্পাস মামলার ভিত্তিতে শুনানি করতে গিয়ে বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা এবং বিচারপতি সুস্মিতা ফুকন খাউন্ডের বেঞ্চ বলেছে, ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল যে ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে আদালত মনে করেছে যে আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে বিদ্বেষপ্রসূত পদক্ষেপের বিষয়টি নথি থেকেই স্পষ্ট।

  • যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু করে বিশ্বের ওপর দায় চাপাচ্ছে: ইরান

    যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু করে বিশ্বের ওপর দায় চাপাচ্ছে: ইরান

    ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা যুদ্ধের প্রভাবের দায় যুক্তরাষ্ট্র এখন পুরো বিশ্বের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন।

    বাঘাই বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালানোর আগে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে, ট্যাংকার চলাচল থেমেছে এবং জ্বালানির দাম বেড়েছে।

    তিনি অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন নিজেদের তৈরি সংকটের দায় ইরানের ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু করলেও অর্থনৈতিক মূল্য পুরো বিশ্বকে দিতে হচ্ছে।

    ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু করেছে কিন্তু এখন সেই যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ পুরো বিশ্বকে পরিশোধ করতে হবে-এটা একেবারে অযৌক্তিক।

    হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় সেখানে অস্থিরতা তৈরি হলে তেলের সরবরাহ ও দামসহ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব পড়ে। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

  • ভারতে তীর্থযাত্রীবাহী গাড়ি উল্টে নিহত ১২

    ভারতে তীর্থযাত্রীবাহী গাড়ি উল্টে নিহত ১২

    ভারতের উত্তরপ্রদেশে মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন তীর্থযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৬ জনের বেশি।

    রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে প্রদেশটির বাগপত জেলার পূর্বাঞ্চলীয় পরিধি মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সোমবার পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।

    পুলিশ জানায়, রাজস্থানের বাগাড় ধাম থেকে উত্তরপ্রদেশের বদায়ুঁ ফিরছিলেন তীর্থযাত্রীরা। তাদের বহনকারী গাড়িতে ছিলেন বদায়ুঁর ৩২ জন তীর্থযাত্রী। রাত প্রায় ১টার দিকে বাগপত জেলার খেকড়া কোতওয়ালি এলাকার বাসি ও বড়া গ্রামের মাঝামাঝি স্থানে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দ্রুতগতিতে চলার সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের মাঝের বিভাজকে ধাক্কা মারে। এরপরই গাড়িটি উল্টে যায়। মুহূর্তের মধ্যে গাড়ির ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর অনেকেই সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকেন।

    স্থানীয় বাসিন্দারা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পুলিশ ও জরুরি উদ্ধারকাজে যুক্ত কর্মীরাও পরে সেখানে পৌঁছান। এসময় আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ চলছে।

    দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বদায়ুঁতে নিহত ও আহতদের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনেরা হাসপাতাল ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

    পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে। গাড়িটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন কি না, নাকি অন্য কোনো কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

    বাগপত জেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে এই দুর্ঘটনাস্থল। পূর্বাঞ্চলীয় পরিধি মহাসড়কে রাতের বেলায় যান চলাচল তুলনামূলক দ্রুত হওয়ায় দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজেও কিছুটা সমস্যা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

  • নতুন প্রদেশ গঠনের বিতর্ক, লন্ডন সফর সংক্ষিপ্ত করলেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জারদারি

    নতুন প্রদেশ গঠনের বিতর্ক, লন্ডন সফর সংক্ষিপ্ত করলেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জারদারি

    নির্ধারিত সময়ের আগেই লন্ডন সফর শেষ করে দেশে ফিরছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। নতুন প্রদেশ ও প্রশাসনিক ইউনিট গঠনের বিতর্ক এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সফর সংক্ষিপ্ত করছেন তিনি। ৮ সেপ্টেম্বর তার পাকিস্তানে ফেরার কথা রয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ।

    পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের আরও তিন-চার দিন লন্ডনে থাকার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু, দেশটির পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল পাকিস্তানকে ১২ থেকে ১৫টি প্রদেশে বিভক্ত করার প্রস্তাব দেয়ার পর নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।

    ক্ষমতাসীন পিএমএল-এন-এর অন্যতম মিত্র পিপিপি সিন্ধু প্রদেশ ভাগের তীব্র বিরোধিতা করে জানিয়েছে, সাংবিধানিক প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক ঐকমত্য ও জনসমর্থন ছাড়া কোনো নতুন প্রদেশ তৈরি করা যাবে না। এ কারণেই তড়িঘড়ি করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জারদারি। গত ১ সেপ্টেম্বর অস্ট্রিয়ায় পাঁচ দিনের ব্যক্তিগত সফর শেষে লন্ডনে পৌঁছান প্রেসিডেন্ট জারদারি।

    বিয়ের গুঞ্জন অস্বীকার বিলওয়ালের: এদিকে অস্ট্রিয়ায় বিলাওয়ালের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার যে গুঞ্জন উঠেছিল, তা তিনি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জানান, ‘প্রিন্সেস গ্লোরিয়া’ নামের কাউকে তিনি চেনেন না এবং তার ব্যক্তিগত জীবনের যেকোনো সিদ্ধান্ত তার পরিবারই আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে।

  • ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের’ হুমকি ইসরাইলের

    ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের’ হুমকি ইসরাইলের

    অধিকৃত পশ্চিম তীরে এক ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পর ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) বিরুদ্ধে ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের’ হুমকি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ।

    সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইসরাইলি আর্মি রেডিও জানায়, নাবলুস গভর্নরেটের উসারিন গ্রামের কাছে ১৯ বছর বয়সী ওই বসতি স্থাপনকারী ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। হামলার পর সন্দেহভাজন এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তি গাড়িতে করে পালিয়ে যান। পরে তাকে ধরতে অভিযান চালায় ইসরাইলি বাহিনী।

    ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি, সেনাদের ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করলে ওই ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর পশ্চিম তীরের বেশ কয়েকটি ফিলিস্তিনি গ্রামে লকডাউন জারি করা হয় বলে জানিয়েছেন আল জাজিরার সংবাদদাতা লায়থ জার।

    ইসরাইলি চ্যানেল ১২ জানায়, আহত বসতি স্থাপনকারীর শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের ক্ষত রয়েছে। হেলিকপ্টারে করে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে এবং তার অবস্থা গুরুতর।
    ঘটনার পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ সতর্ক করে বলেন, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বাহিনী ইসরাইলি সেনা ও ইহুদি বসতিগুলোর বিরুদ্ধে ৭ অক্টোবরের হামলার মতো কোনো হামলা চালালে, অথবা এমন হামলার প্রস্তুতির বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর জন্য সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত করা হবে।

    কাটজ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং আমি সামরিক বাহিনীকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছি।

  • ইরানের হামলার ভয়ে নিজেদের মোবাইল–কম্পিউটারের ‘অ্যাড ট্রাকার’ বন্ধ রাখছে মার্কিন বাহিনী

    ইরানের হামলার ভয়ে নিজেদের মোবাইল–কম্পিউটারের ‘অ্যাড ট্রাকার’ বন্ধ রাখছে মার্কিন বাহিনী

    ইরানের হামলার শিকার হতে পারেন—এ আশঙ্কা থেকে নিজেদের মুঠোফোন ও কম্পিউটারে ‘অ্যাড ট্র্যাকার’ (মোবাইল অ্যাডভার্টাইজিং আইডি) নিষ্ক্রিয় করে রাখছেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা। মার্কিন সিনেটর রন ওয়াইডেনের লেখা একটি চিঠিতে বিষয়টি উঠে এসেছে। গত শুক্রবার এ চিঠি প্রকাশ করা হয়েছে।

    কয়েকজন মার্কিন সেনা কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একই কথা জানিয়ে বলেন, তাঁদের বিভিন্ন ধরনের ফোন ও কম্পিউটারে থাকা ‘অ্যাড ট্র্যাকার’ নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

    বাণিজ্যিকভাবে পাওয়া ‘লোকেশন ডেটা’ ব্যবহার করে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু করছে—এমন খবর নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, তার মধ্যেই মার্কিন বাহিনীর এ পদক্ষেপ গ্রহণের খবর প্রকাশ্যে এল।

    ‘অ্যাড ট্র্যাকার’ বলতে এমন একটি প্রযুক্তিকে বোঝায়, যা মুঠোফোন বা কম্পিউটার ব্যবহারকারীর অবস্থান, ব্রাউজিং তথ্য, অ্যাপ ব্যবহার বা অনলাইন কার্যকলাপের তথ্য সংগ্রহ ও অনুসরণ করতে পারে। সাধারণত এসব তথ্য মুঠোফোন বা কম্পিউটার ব্যবহারকারীকে তাঁর লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন দেখাতে ব্যবহার করা হয়।

    মার্কিন বিমানবাহিনী ওয়াইডেনকে জানিয়েছে, দুই মাস আগে তারা তাদের কম্পিউটার ও মুঠোফোনে থাকা ‘অ্যাড ট্র্যাকার’ নিষ্ক্রিয় করেছে।

    অন্য এক চিঠিতে মার্কিন স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড জানিয়েছে, তারা সম্প্রতি তাদের উইন্ডোজচালিত ডিভাইসগুলোয় থাকা এসব শনাক্তকারী ব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় করেছে।

    আর মার্কিন সেনাবাহিনী রয়টার্সকে জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকেই তাদের মুঠোফোনের ‘অ্যাড ট্র্যাকার’ নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে।

    ওরেগন অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট–দলীয় সিনেটর ওয়াইডেন কয়েক মাস ধরে এ বিষয়ে পেন্টাগনের কাছে জবাবদিহি ও পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন।

    মুঠোফোন ও কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের অবস্থান সম্পর্কে বিজ্ঞাপনশিল্পের তথ্য সংগ্রহ এবং সেগুলো ডেটা ব্রোকারদের কাছে বিক্রি ক্রমবর্ধমান জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগকে সামনে এনেছে। এসব তথ্য ব্যবহার করে যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন সামরিক সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত ও তাঁদের লক্ষ্যবস্তু করা সম্ভব।

    ডেটা ব্রোকার হলো এমন প্রতিষ্ঠান, যারা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, সংকলন এবং পরে তা অন্যদের কাছে বিক্রি করে। ওরেগন অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট–দলীয় সিনেটর রন ওয়াইডেন

    মার্কিন বিমানবাহিনী ও স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। ওয়াইডেনকে দেওয়া সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর পৃথক চিঠিতে বলা হয়েছে, সামরিক বাহিনীর ডিভাইসগুলোয় বিজ্ঞাপন আইডি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। তবে ঠিক কবে থেকে এসব বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে, সে বিষয়ে চিঠিতে তথ্য দেওয়া হয়নি।

    সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উইন্ডোজ কম্পিউটারগুলোয় বিজ্ঞাপন আইডি ২০২১ সালের আগে থেকেই বন্ধ রয়েছে। তবে অ্যান্ড্রয়েড ও অ্যাপলের মুঠোফোনে অন্তত ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

    স্মার্টফোন থেকে ব্যবহারকারীর অবস্থান সম্পর্কে যে তথ্য বা লোকেশন ডেটা পাওয়া যায়, তার পরিমাণ কমানোর এ উদ্যোগ এমন সময়ে নেওয়া হলো, যখন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা সামগ্রিকভাবে ফোন ব্যবহারের ওপর আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের বিষয় বিবেচনা করছেন।

    গত জুলাইয়ে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের মধ্যে কাউকে কাউকে তাঁদের ফোন জমা দিতে বলা হতে পারে। কারণ, ইন্টারনেটে তাঁদের পোস্ট করা ভিডিওগুলো ব্যবহার করে ইরান ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু করতে পারছে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    ওয়াইডেন ও নর্থ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান পার্টির প্রতিনিধি প্যাট হ্যারিগান এ নিয়ে গত শুক্রবার পেন্টাগনের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা চিঠিতে সামরিক বাহিনী এবং এর সদস্যদের অবস্থানের তথ্য কেনাবেচার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি যথাযথভাবে মোকাবিলা করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলেছেন।

    রন ওয়াইডেন, মার্কিন সিনেটরচিঠিতে বিভিন্ন সামরিক শাখার দেওয়া তথ্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব তথ্যে সামরিক বাহিনীর মুঠোফোন ও কম্পিউটারে ‘অ্যাড আইডি’ নিষ্ক্রিয় করার বিষয়ে তাদের নেওয়া পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে।

  • বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

    বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

    বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বড় অবকাঠামো প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং বাণিজ্য পরিবেশ আরও সহজ করার প্রত্যয় নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন।

    সোমবার রাজধানীতে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি খাতের অংশীদারত্ব এবং সাম্প্রতিক নীতি সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    বৈঠকে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বড় অবকাঠামো উদ্যোগে একটি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রাখা গেলে বিদেশি উদ্যোক্তাদের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে কাজ করতে অত্যন্ত আগ্রহী উল্লেখ করে তিনি উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

    জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মার্কিন বিনিয়োগকারীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, দ্রুততম সময়ে এফএসআরইউ সরবরাহের সক্ষমতা দেখাতে পারলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। স্বল্প সময়ে কার্যকর সরবরাহ পরিকল্পনা উপস্থাপন তাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

    আমদানি নীতি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, নতুন নীতিতে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, যা প্রশংসনীয়। তবে কিছু ধারা আরও ব্যবসাবান্ধব করা সম্ভব। এর জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, আমদানি নীতি একটি চলমান প্রক্রিয়া। বাজার ও অর্থনীতির বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

    কৌশলগত সরঞ্জাম ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য স্থানীয় এজেন্ট নিয়োগের পুরনো বাধ্যবাধকতা বাতিলের বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, সরাসরি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার পথ তৈরি হওয়ায় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরেছে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হয়েছে।

    জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘গানভর’-এর সঙ্গে চুক্তিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও তা বজায় থাকবে।

    বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মুস্তাফিজুর রহমান এবং মার্কিন দূতাবাসের ইকোনমিক চিফ এঞ্জেলো পালাজ্জেলো উপস্থিত ছিলেন।

    উভয় পক্ষই আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নিয়মিত এমন আলোচনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক আগামী দিনে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

  • সেই ব্লেয়ারই এখন গাজার শান্তি পর্ষদে

    সেই ব্লেয়ারই এখন গাজার শান্তি পর্ষদে

    ইসরায়েলের নৃশংস ও নির্বিচার হামলায় বিধ্বস্ত জনপদ গাজায় ‘শান্তি প্রতিষ্ঠায়’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ (শান্তি পর্ষদ) সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে ফিলিস্তিনে পাঠায়। পাঠ্যবই থেকে ‘প্যালেস্টাইন’ তথা ফিলিস্তিন শব্দটি বাদ দিয়ে সেখানে ইহুদিদের দেওয়া নাম ‘সামারিয়া’ লেখার জন্য তিনি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে (পিএ) প্রস্তাব দেন। মিডল ইস্ট আই (এমইই) এ তথ্য জানতে পেরেছে।

    ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত ছিলেন জেরেমি গ্রিনস্টক। তিনি মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ব্লেয়ার ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেন। তিনি আরও বলেন, গাজায় যুদ্ধ বন্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর সক্ষমতা আছে—পিস বোর্ডের কাছে এমন ভাবমূর্তি তৈরি করতে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ যদি সত্যিই আগ্রহী হয়ে থাকে, তবে পাঠ্যবই থেকে ‘ফিলিস্তিন’ শব্দটি মুছে ফেলা উচিত বলে ব্লেয়ার জানিয়েছিলেন।

    ‘ডেভিড হার্স্ট পডকাস্ট’-এ দেওয়া এক বিস্তারিত সাক্ষাৎকারে গ্রিনস্টক জানান, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এ অন্যায্য দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

    গ্রিনস্টক আরও জানান, পর্ষদের হয়ে যুদ্ধোত্তর গাজা ব্যবস্থাপনার তদারকি করতে গিয়ে তাঁর সাবেক বস টনি ব্লেয়ার এখন বেশ ‘ঝামেলা ও জটিলতায়’ পড়েছেন।

    গ্রিনস্টক বলেন, ‘আমি যতটুকু জেনেছি, শান্তি পর্ষদ সম্প্রতি ব্লেয়ারকে রামাল্লায় পাঠায়। উদ্দেশ্য ছিল, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধ বন্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি করার মতো যোগ্যতা দেখাতে হলে ফিলিস্তিনের পাঠ্যক্রম থেকে প্যালেস্টাইন শব্দ বাদ দিতে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো।’ গ্রিনস্টক জানান, তিনি মন্ত্রী পর্যায়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে এ তথ্য পেয়েছেন।

    গ্রিনস্টক বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস সাফ জানিয়ে দেন, তিনি এমন কাজ কিছুতেই করবেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘শান্তি পর্ষদ ফিলিস্তিনের শিক্ষাক্রম নিয়ে এমন দাবি তুলতে পেরেছে—এটি ভেবেই আমি বিস্মিত। কোন নীতিতে তারা কাজ করছে? ন্যায়বিচার, সততা কিংবা এ সংকটের ইতিহাস সম্পর্কে তাদের আদৌ কোনো ধারণা আছে কি না, তা নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে।’

    তবে টনি ব্লেয়ারের এক মুখপাত্র এ দাবির কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এটি পুরোপুরি অসত্য এবং সম্পূর্ণ বানোয়াট একটি কথা।’

    জানা গেছে, গত আগস্টের মাঝামাঝি ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও গাজাবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলে ম্লাদেনভকে সঙ্গে নিয়ে ইসরায়েল সফর করেন টনি ব্লেয়ার। সেখানে তাঁরা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন। যদিও নেতানিয়াহু গাজাসংক্রান্ত ট্রাম্পের এমন ‘শান্তি পরিকল্পনা’ আগেই প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

    এরপর তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলটি কায়রো যায়। সেখানে তারা গাজার দায়িত্ব নেওয়ার অপেক্ষায় থাকা ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট দলের পাশাপাশি ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে।

    সাক্ষাৎকারে গ্রিনস্টক ইরাক যুদ্ধে ব্লেয়ারের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, ইরাকে হামলার আগে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে জাতিসংঘের অনুমোদন নেওয়ার ব্যাপারে রাজি করান ব্লেয়ার। তবে গাজা পুনর্গঠনে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টের গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ ব্লেয়ারের বর্তমান ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন তিনি।

    গ্রিনস্টক বলেন, উভয় পক্ষকে সমান মর্যাদা দিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার মতো নিরপেক্ষ অবস্থানে ব্লেয়ার নেই। তিনি বলেন, ‘ইরাক যুদ্ধ এবং যুক্তরাজ্যে সরকারি ক্ষমতা ছাড়ার পর ফিলিস্তিন প্রশ্নে ব্লেয়ারের কর্মকাণ্ডের কারণে সবাই তাঁকে পক্ষপাতদুষ্ট ভাববেন। তাই আমি মনে করি, তিনি এ কাজে কঠিন সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন এবং সামনেও হবেন।’

    ২০০৪ সালের মার্চে সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যান গ্রিনস্টক। তিনি বোর্ড অব পিসকে একটি ‘অবাস্তব ও খামখেয়ালি কমিটি’ হিসেবে আখ্যা দেন। তাঁর মতে, এমন কাঠামোর কমিটি ফিলিস্তিন প্রশ্নে ইসরায়েল বা আরব বিশ্ব—কাউকেই মাঠপর্যায়ে প্রভাবিত করতে পারবে না।

    গ্রিনস্টক বলেন, ‘ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যেসব কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সেই গুরুভার বহন করার মতো মজবুত ভিত্তি এ শান্তি পর্ষদের নেই।’

    গত বছরের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ বন্ধে একটি যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করে ওয়াশিংটন। এরপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তথাকথিত এ শান্তি পর্ষদ গঠন করেন। ট্রাম্পের পরিকল্পনা মেনে হামাসসহ অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী তাদের নিরস্ত্রীকরণে সম্মতি জানিয়েছিল। কিন্তু এ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানায় ইসরায়েল।

    যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজাজুড়ে দফায় দফায় বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এসব হামলায় অন্তত ১ হাজার ৩০০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

    গত মঙ্গলবার গাজা সিটির পশ্চিম অংশে মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে অন্তত সাতটি বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এরপর এলাকাটি কোয়াডকপ্টার ড্রোন দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। ড্রোন থেকে চলাচলরত যেকোনো মানুষের ওপর নির্বিচার গুলি চালানো ও বিস্ফোরক ফেলা হয়।

    ফিলিস্তিনের নাম মুছে ফেলার অপচেষ্টা

    ইতিহাসের বই ও জাদুঘর থেকে ‘ফিলিস্তিন’ শব্দটি মুছে ফেলতে বিশ্বজুড়ে তৎপরতা জোরদার করেছে ইসরায়েল ও ইহুদিবাদী রাষ্ট্রটির সমর্থকেরা।

    ইতিমধ্যে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার থেকে সেখানকার সরকারি স্কুলগুলোর ৪৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীর ওপর নিজেদের তৈরি পাঠ্যক্রম চাপিয়ে দেওয়া শুরু করেছে তারা।

    মিডল ইস্ট আই জানতে পেরেছে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে পর্যালোচনার জন্য একটি সংশোধিত পাঠ্যক্রম গোপনে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

    চলতি বছরের শুরুর দিকে লেবাননে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ–এর পাঠ্যক্রম নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। ইসরায়েল সংস্থাটিকে আগেই নিষিদ্ধ করেছে।

    লেবাননে ইউএনআরডব্লিউএ পরিচালিত ষষ্ঠ শ্রেণির আঞ্চলিক ভূগোলের কিছু মানচিত্রে ‘প্যালেস্টাইন’ শব্দের জায়গায় ‘ওয়েস্ট ব্যাংক’ (পশ্চিম তীর) ও ‘গাজা উপত্যকা’ লেখা হয়। এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সেখানে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়।

    ইউএনআরডব্লিউএ কর্মীরা সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত বলে ইসরায়েল যে অভিযোগ তুলেছিল, ফ্রান্সের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাথরিন কোলোনার নেতৃত্বাধীন তদন্ত দল তার সত্যতা পায়নি। তবে সংস্থাটির নিরপেক্ষতা আরও বাড়াতে তদন্ত দল ৫০টি সুপারিশ পেশ করে।

    এদিকে লন্ডনে ব্রিটিশ মিউজিয়ামের প্রদর্শনী থেকে ‘ফিলিস্তিন’ ও ‘ইসরায়েলি দখলদারত্ব’ শব্দগুলো মুছে ফেলার ঘটনা তদন্তের দাবি জানিয়েছে ব্রিটিশ এমপিদের একটি সর্বদলীয় জোট।

    মিডল ইস্ট আইয়ের এক অনুসন্ধানে প্রকাশ পেয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাস থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ইসরায়েলপন্থী লবিস্টদের চাপের মুখে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ এ শব্দগুলো বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

    অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্য বর্জনের দাবি তোলা সাবেক রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে গ্রিনস্টক অন্যতম। সাক্ষাৎকারে তিনি যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামকে সতর্ক করেন এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।

    গ্রিনস্টক বলেন, ‘বার্নহাম সরকার যদি মৌলিক নীতিতে অটল না থাকে, তবে তারা অন্য কোথাও নীতির কথা কীভাবে বলবে?’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘জাতিসংঘের সনদ ভেঙে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের কারণে বার্নহাম কিয়েভে গিয়ে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে সমর্থন দেবেন, আর মধ্যপ্রাচ্যে আরব-ইসরায়েল প্রশ্নে ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়াবেন না—তা কীভাবে হয়?’

    গ্রিনস্টক বলেন, ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি যুক্তরাজ্যকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। নেতানিয়াহু বা সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট ব্রিটেনে এলে তাঁদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা উচিত। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এ দুজনের বিরুদ্ধেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।

    গ্রিনস্টক বলেন, ‘জাতিসংঘের চুক্তি এবং আইসিসির সনদে স্বাক্ষর করার কারণে যুক্তরাজ্য আইনিভাবে দায়বদ্ধ। আইসিসির বিচারকদের জারি করা পরোয়ানা অনুযায়ী অভিযুক্ত যে কাউকেই গ্রেপ্তার করা উচিত।’

    গ্রিনস্টক বিশ্বাস করেন, পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের কর্তৃত্বে আনা নেতানিয়াহুর আকাঙ্ক্ষা। এর মাধ্যমে তিনি ইহুদি ইতিহাসের গবেষক তাঁর বাবা বেনজিয়ন নেতানিয়াহুকে দেওয়া অঙ্গীকার পূরণ করতে চান।

    গ্রিনস্টক বলেন, ‘আমি নিশ্চিত যে পিতার স্বপ্ন পূরণে “জুডিয়া ও সামারিয়া”কে (পশ্চিম তীর) ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের অধীন আনাই নেতানিয়াহুর উদ্দেশ্য। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলাকে তিনি সেই উদ্দেশ্য পূরণের বড় সুযোগ হিসেবে নিয়েছেন।’

    গ্রিনস্টক বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ও প্রযুক্তিগত সমাজ হিসেবে ইসরায়েলের অর্জনের বড় প্রশংসাকারী হতে পারে যুক্তরাজ্য। কিন্তু ফিলিস্তিনে এবং এ অঞ্চলে ইসরায়েল যা করছে, তা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। যুক্তরাজ্যের সিংহভাগ জনগণও তা সমর্থন করেন না। রাজনৈতিক সমাধানের পথে না হেঁটে সামরিক শক্তি ও হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সব শত্রু নিশ্চিহ্ন করার যে নীতি ইসরায়েল নিয়েছে, এমন একটি দেশের সঙ্গে কি আমাদের বাণিজ্য সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়া উচিত?’

    একটি সতর্কবার্তা

    ইসরায়েলের সাধারণ নাগরিকদের জন্যও সতর্কবার্তা দিয়েছেন গ্রিনস্টক। তিনি বলেন, ‘আমি একজন ইসরায়েলি নাগরিক হলে বিশ্বজুড়ে দেশের ভাবমূর্তি হারানোর বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগে থাকতাম। দীর্ঘ মেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য আপসরফা অত্যন্ত জরুরি। লড়াই শেষ হলে আরব দেশগুলো এবং ইরানের সঙ্গে নিরাপত্তার প্রশ্নে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতেই হবে।’

    গ্রিনস্টক আরও বলেন, ‘কোথাও না কোথাও একটি সমাধান বের করতেই হবে। সেনা পাঠিয়ে ইরানে ঢুকে সরকার বদলে দিয়ে চলে আসব আর ইরান পুরোপুরি বদলে যাবে—এমন ভাবা অবাস্তব। এটি কখনোই হবে না। কয়েক লাখ সেনা পাঠিয়ে ৯ কোটির বেশি মানুষের একটি দেশ দখল করা কোনো বাস্তবসম্মত চিন্তা নয়।’

    গ্রিনস্টক মনে করিয়ে দেন, কসোভো যুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্র কোনো যুদ্ধেই জয়ী হতে পারেনি। তিনি বলেন, আফগানিস্তান, ইরাক, ইয়েমেন, লিবিয়া, সিরিয়া এবং এখন ইরানে ধারাবাহিক ব্যর্থতার মূল কারণ হলো সামরিক শক্তির ওপর ওয়াশিংটনের অতিরিক্ত নির্ভরতা। নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার অস্ত্র ব্যবহারের এ মানসিকতা বৈশ্বিক রাজনীতিতে দিন দিন মার্কিন গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।

    গ্রিনস্টক বলেন, ‘আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করছি যেখানে ক্ষমতা বহুভাগে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন ইতিবাচক ভাবমূর্তি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। শক্তি প্রয়োগের চেয়ে বোঝানোর সক্ষমতা অনেক বড়। বিশ্ব এখন অনেক বেশি উন্মুক্ত এবং সরকারের বাইরেও বহুপক্ষ এখন সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখে। বিশ্বমতের কাছে বলপ্রয়োগের বৈধতা এখন অনেক কমেছে।’

    ইরাক যুদ্ধের সময় বুশ প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করার ও ইরাকে গঠিত কোয়ালিশন প্রোভিশনাল অথরিটির প্রতিনিধি পল ব্রেমারের সঙ্গে কাজের সরাসরি অভিজ্ঞতা ছিল গ্রিনস্টকের।

    সেই অভিজ্ঞতার কথা টেনে গ্রিনস্টক বলেন, ‘আমার মনে হয় সে সময় ব্রিটেনের প্রভাব ছিল। ২০০২ সালের শরতে জাতিসংঘকে সঙ্গে নেওয়ার জন্য মার্কিন দলকে রাজি করিয়েছিলেন টনি ব্লেয়ার ও ব্রিটিশ দল। তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েলও এতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন।’

    গ্রিনস্টক আরও বলেন, ‘কিন্তু ২০০৩ সালের মার্চে ইরাকে চূড়ান্ত সামরিক অভিযান শুরুর সময় ব্লেয়ার অভিযানটি পেছাতে চেয়েছিলেন। গণবিধ্বংসী অস্ত্রের স্পষ্ট প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করতে বলেছিলেন। তবে মার্কিনরা তাঁর সে অনুরোধ কালক্ষেপণ বলে উড়িয়ে দেয়।’

    গ্রিনস্টক বলেন, ইরাক যুদ্ধের মতো কঠোর সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ব্রিটেনের প্রভাব ‘প্রথম শ্রেণির’ ছিল না, বরং ছিল ‘দ্বিতীয় শ্রেণির’।

    এ বিষয়ে গ্রিনস্টক আরও বলেন, ‘জর্জ ডব্লিউ বুশের মূল দুই পরামর্শদাতা ছিলেন তৎকালীন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনি ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেল্ড। পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েল বাস্তবতার যে দিকগুলো তুলে ধরেছিলেন, তাঁরা সেটিকে পাত্তাই দেননি। তাঁরা শুধু সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করেছিলেন। এমন বড় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ব্রিটিশদের ভূমিকা ছিল নিতান্তই দ্বিতীয় শ্রেণির।’

    ইরান যুদ্ধ ও ‘মক্কা চুক্তি’

    গ্রিনস্টক বলেন, শুরু থেকেই ইরানের চরিত্র বুঝতে ভুল করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি আরও বলেন, ‘ইরানে হামলার সম্ভাব্য পরিণতি কী হতে পারে, তা নিয়ে ওয়াশিংটন কোনো পূর্বপরিকল্পনা করেছিল বলে আমি মনে করি না।’

    গ্রিনস্টক বলেন, ‘পারস্য উপসাগরের অন্য পাড়ে আঘাত হানার বা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার যে সক্ষমতা ইরানের রয়েছে, ওয়াশিংটন তা সঠিকভাবে হিসাব করেনি। ড্রোন যুদ্ধের অসম শক্তিও তারা বিবেচনায় নেয়নি। ড্রোন শুধু সামরিক শক্তির ওপর আঘাত হানে না, বরং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল, তেল পরিবহন এবং সাধারণ সমুদ্র বাণিজ্যের জন্যও বড় হুমকি তৈরি করে। হরমুজে মাইন পাতার পাশাপাশি জাহাজে ড্রোন হামলার ঝুঁকির বিষয়টি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ওয়াশিংটন ভেবেই দেখেনি।’

    গ্রিনস্টক বলেন, ইরানে হামলার সময় নির্ধারণ শুধু ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করেনি। কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন ফাইল নিয়ে জল্পনা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ যখন তুঙ্গে উঠেছিল, ঠিক তখন ইরানে হামলা চালানো হয়। এটি কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়।

    গ্রিনস্টক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ঘটনাপ্রবাহের নজর সরাতেই হয়তো ইরানে হামলার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল।’

    সম্প্রতি রিয়াদে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা চুক্তি’ মূলত মার্কিন শক্তির ওপর তাদের আস্থা হারানোরই বহিঃপ্রকাশ বলেও মন্তব্য করেন গ্রিনস্টক। বলেছেন, ‘নিজেদের স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করার পরিষ্কার বার্তা এ মক্কা চুক্তি। তবে এটি দিয়ে স্বনির্ভরতার সব প্রয়োজন হয়তো মিটবে না। এ বিষয়ে আরও অনেক কিছু করা বাকি আছে এবং তা করা হবে।’

    মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থা হারানোর পেছনে দুটি প্রধান কারণ তুলে ধরেন গ্রিনস্টক। বলেন, ‘প্রথমত, আরব দেশগুলোর প্রত্যাশা অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে মার্কিন সামরিক শক্তি ব্যর্থ হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র মুখে যা দাবি করে, বাস্তবে তা পূরণ করতে পারছে না।’

    গ্রিনস্টক আরও বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টতই মিত্রদের স্বার্থের চেয়ে নিজের “মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন” নীতি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফলে আরব মিত্রদের চোখে দেশটির গ্রহণযোগ্যতা অনেকটাই কমে গেছে।’

  • ট্রাম্পের ম্যাপে নিউ মেক্সিকো এখন ‘নিউ আমেরিকা’

    ট্রাম্পের ম্যাপে নিউ মেক্সিকো এখন ‘নিউ আমেরিকা’

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের নাম পরিবর্তন করে ‘নিউ আমেরিকা’ রাখা উচিত বলে মনে করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল রোববার তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি ম্যাপ পোস্ট করেন। ওই ম্যাপে মেক্সিকো নামটি লাল দাগ দিয়ে কেটে নিচে ‘আমেরিকা’ লেখা।

    কয়েক দিন আগে ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ রাখার উদ্যোগ নেন।

    ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের পোস্ট করা ম্যাপের ছবিটি পরে হোয়াইট হাউস তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স অ্যাকাউন্টে পুনরায় পোস্ট করে। ছবিটির সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

    হোয়াইট হাউস থেকে নিউ মেক্সিকোর নাম পরিবর্তনসংক্রান্ত কোনো উদ্যোগের ঘোষণাও আসেনি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সিএনএন হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের হাতে জিওগ্রাফিক নেমস ইনফরমেশন সিস্টেমে (জিএনআইএস) থাকা ভৌগোলিক স্থানের নাম পরিবর্তন করার ক্ষমতা আছে। জিএনআইএসের মধ্যে জলাশয়ও পড়ে। কিন্তু আইনিভাবে কোনো অঙ্গরাজ্যের নাম পরিবর্তন করার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে নেই। অঙ্গরাজ্যের নাম পরিবর্তন করতে হলে সেই অঙ্গরাজ্যের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা করতে হবে।

    গত মাসের শেষ দিকে লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করার নির্বাহী আদেশে সই করেন ট্রাম্প। এর আগে তিনি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ রাখার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

    ট্রাম্পের গতকালের পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় নিউ মেক্সিকোর ডেমোক্র্যাট গভর্নর মিশেল লুজান গ্রিশাম অভিযোগ করেন, ট্রাম্প মার্কিন নাগরিকদের মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর চেষ্টা করছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিউ মেক্সিকোর নাম নিয়ে কোনো বিতর্কের সুযোগ নেই।

    গুগল ম্যাপে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা সীমান্তে থাকা লেক অন্টারিও। এখন নাম পরিবর্তন করে লেক আমেরিকা রাখা হয়েছে।

    গতকাল এক্সে এক পোস্টে মিশেল লুজান গ্রিশাম আরও বলেন, ‘যে সময়ে প্রেসিডেন্ট ইরানে তাঁর বিপর্যয়কর যুদ্ধ থেকে মার্কিন নাগরিকদের মনোযোগ সরানোর চেষ্টা করছেন, সে সময়ে গ্যাসের দাম বেড়েই চলেছে। হোয়াইট হাউস যখন মানচিত্রে রং করার কাজে সময় নষ্ট করছে, তখন নিউ মেক্সিকো নিজেদের কাজ করে যাচ্ছে।’

    নিউ মেক্সিকোর ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্টিন হেইনরিখও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওই পোস্টের প্রতিবাদ করেন। এক্সে তিনি বলেন, ‘তিনটি বিষয়কে আমি সব সময় তাদের প্রকৃত নামেই ডাকব—মেক্সিকো উপসাগর, লেক অন্টারিও এবং নিউ মেক্সিকো।’

    নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের নামের ইতিহাস শুরু হয়েছে সেই ষোড়শ শতাব্দী থেকে, দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠারও আগে।

    ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের ক্ষমতা দেখাতে গিয়ে প্রায়ই বিভিন্ন ভৌগোলিক স্থানের নাম পরিবর্তনের ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেন। কানাডার সঙ্গে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যেই তিনি লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছেন।

    ট্রাম্প আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরের নাম পরিবর্তন করার ইচ্ছার কথাও প্রকাশ করেছেন।

  • ককেশাসে তুষারধসে ১১ পর্বতারোহীর মৃত্যু

    ককেশাসে তুষারধসে ১১ পর্বতারোহীর মৃত্যু

    রাশিয়ার দুর্গম ককেশাস পর্বতমালায় তুষারধসে একটি পর্বতারোহী দলের ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ছয়জন। সোমবার উদ্ধারকারী সংস্থা জানায়, ৩৩ জন পর্বতারোহীর একটি দল পাহাড়ধসের কবলে পড়ে।

    রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, রোববার বেজেঙ্গি গিরিখাতে তুষারধসে ‘দুঃখজনকভাবে ১১ জনের মৃত্যু ও ছয়জন আহত হন।’

    মন্ত্রণালয় জানায়, ১০ জন পর্বতারোহী নিরাপদে নিচে নেমে আসতে সক্ষম হয়েছেন। আরো ছয়জন নিখোঁজ রয়েছে।

  • ইসরাইলে ‘৭ অক্টোবরের চেয়েও বড়’ হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান

    ইসরাইলে ‘৭ অক্টোবরের চেয়েও বড়’ হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান

    ইরান তার আঞ্চলিক মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে একযোগে ব্যবহার করে ইসরাইলের ওপর ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার চেয়েও বড় ধরনের বহুমুখী হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে লেবানন, গাজা, ইয়েমেন এবং ইরাক-সিরিয়া থেকে একই সময়ে ইসরাইলের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা হতে পারে। ইসরাইলি গোয়েন্দা মূল্যায়নের বরাত দিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এমন দাবি করেছে এনডিটিভি।

    ইরান তার তথাকথিত ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর বিভিন্ন গোষ্ঠীকে একটি সমন্বিত অভিযানে যুক্ত করার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতিস, হামাস এবং ইরাক ও সিরিয়ায় সক্রিয় ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। লক্ষ্য হলো আগের মতো বিচ্ছিন্নভাবে নয়, একই সময়ে বিভিন্ন দিক থেকে ইসরাইলের ওপর আক্রমণের চাপ তৈরি করা।

    ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলার সময় ইরান ও হিজবুল্লাহ ওই অভিযানের নির্দিষ্ট সময় ও বিস্তারিত পরিকল্পনা সম্পর্কে আগে থেকে অবহিত ছিল না—এমন মার্কিন ও ইসরাইলি মূল্যায়ন রয়েছে। ফলে হামাসের হামলার পর হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরাইলে সীমিত মাত্রায় হামলা চালালেও প্রত্যাশিত সমন্বিত আঞ্চলিক অভিযান দেখা যায়নি। ইসরাইলি গোয়েন্দাদের ধারণা, এবার সেই সমন্বয়ের ঘাটতি দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    ইসরাইলি গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে আরো বলা হয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কুদস ফোর্সের কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহ, হুতিস ও ইরাকের বিভিন্ন মিলিশিয়া কমান্ডারের সঙ্গে বৈঠক ও সম্মেলন করেছেন। এসব আলোচনায় সম্ভাব্য হামলার পরিধি বাড়ানো এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়টি উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে যৌথ প্রশিক্ষণ এবং অপারেশনাল যোগাযোগও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এর পেছনে ২০২৩ সালের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। হামাসের তৎকালীন নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের প্রত্যাশা করেছিলেন বলে গাজা থেকে উদ্ধার করা কিছু নথির ভিত্তিতে মার্কিন ও ইসরাইলি মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে। তার ধারণা ছিল, হামাসের প্রাথমিক সাফল্য ইরান ও হিজবুল্লাহকে সরাসরি বড় আকারের যুদ্ধে যুক্ত করবে। কিন্তু সেই সমন্বয় সেভাবে হয়নি। বর্তমান কথিত পরিকল্পনার লক্ষ্য সেই পরিস্থিতি বদলে দেওয়া।

    ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনীও ইরানের সহায়তায় হামাস ও হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে সমন্বয় বাড়ার কথা জানিয়েছে। এর ফলে ইসরাইলকে একই সময়ে উত্তর ও দক্ষিণ—দুই দিক থেকেই চাপের মুখে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এসব তথ্যের বড় অংশই ইসরাইলি গোয়েন্দা মূল্যায়ন ও সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদননির্ভর; ইরান এ ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছে—এমন স্বাধীন ও প্রকাশ্য প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি।

    এমন এক সময়ে এই সতর্কবার্তা সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি তেলবাহী তিনটি জাহাজে মার্কিন হামলা এবং এর জবাবে ইরানের সামরিক প্রতিক্রিয়ার পর পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়েছে। একই সময়ে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে।

    এই পরিস্থিতিতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে সমন্বিত কোনো বড় হামলা শুরু হলে তা শুধু ইসরাইল-ইরান সংঘাতকে নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আরো বড় যুদ্ধে ঠেলে দিতে পারে। লেবানন, ইয়েমেন, ইরাক, সিরিয়া ও গাজা—একাধিক যুদ্ধক্ষেত্র একই সময়ে সক্রিয় হয়ে উঠলে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তিও সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকবে। ইতোমধ্যেই সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে গেছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছয় সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে।

    তবে কথিত এই হামলার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বা সময়সূচি প্রকাশ্যে জানা যায়নি। ফলে এটিকে আসন্ন হামলার নিশ্চিত ঘোষণা হিসেবে নয়, বরং ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থার একটি সম্ভাব্য হুমকি মূল্যায়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে যদি ইরান-সমর্থিত একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী একই সময়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়, তাহলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটগুলোর একটি তৈরি হতে পারে।

  • নেপালে বন্যায় মৃতদের স্মরণে জাতীয় শোক পালিত

    নেপালে বন্যায় মৃতদের স্মরণে জাতীয় শোক পালিত

    নেপালে ভয়াবহ হিমবাহজনিত বন্যায় মৃতদের স্মরণে সোমবার জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে।

    এদিকে নিখোঁজ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিকদের স্বজনেরা আশা করছেন, গভীর সুড়ঙ্গে আটকে থাকা তাদের প্রিয়জনদের হয়তো এখনো জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব।

    গত ২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্তে হিমবাহ ও পাহাড় ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ১ হাজার ৩৯৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এখনো ৫ হাজার ৫০০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৮০০ জন বিদেশি নাগরিক।

    জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দেশজুড়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। দিনের শেষভাগে বিভিন্ন স্থানে মোমবাতি প্রজ্বলন করে মৃতদের স্মরণ করার কর্মসূচিও রয়েছে।

    হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মৃত্যুর ১৩তম দিনে শোক পালনের অংশ হিসেবেই এসব কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

    নিখোঁজদের মধ্যে শত শত জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিক রয়েছেন। তবে সম্প্রতি গভীর সুড়ঙ্গ থেকে তিন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

    শুক্রবার দুই নেপালি শ্রমিক ও শনিবার একজন চীনা নাগরিককে উদ্ধার করা হয়। তাদের উদ্ধারের ঘটনায় অন্য নিখোঁজ শ্রমিকদেরও জীবিত পাওয়ার আশা বেড়েছে।

    নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেট সোমবার এএফপিকে বলেন, প্রথম দিনের মতো একই গতিতে উদ্ধার অভিযান চলছে।

    তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য তিনভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালানো— স্থলপথে, আকাশপথে এবং সুড়ঙ্গের ভেতরে। আমরা নিশ্চিত করতে চাই, কেউ এখনো কোথাও আটকে থাকলে যেন তাকে উদ্ধার করা যায়।’

    বন্যা ও পাহাড়ধসে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে অনেক জনপদ। ধ্বংস হয়েছে সড়ক, ভেঙে পড়েছে অসংখ্য বাড়িঘর।

    তবে নিখোঁজ শ্রমিকদের কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা সোমবার রাজধানী কাঠমান্ডুতে জড়ো হয়ে অভিযোগ করেন, সরকারকে উদ্ধার অভিযান আরও দ্রুত করতে হবে।

    নিখোঁজ ভাইয়ের সন্ধানে থাকা রীনা আমাত্য শ্রেষ্ঠা বলেন, ‘আমাদের অনেক আশা আছে।’

    তারা বলছে উদ্ধার অভিযান চলছে। যদি সত্যিই উদ্ধার অভিযান চলে, তাহলে তার ফল কোথায়? আমরা ফলাফল দেখতে চাই।’

    নেপালি উদ্ধারকারী দলকে পরামর্শ দেওয়া অস্ট্রেলীয় সুড়ঙ্গ উদ্ধার বিশেষজ্ঞ আর্নল্ড ডিক্স বলেন, এই উদ্ধার অভিযান তার দেখা সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিগুলোর একটি।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, যা আগে কখনো দেখিনি।’

  • ইরানী হামলায় ইসরাইলের পানি শোধনাগার অচল

    ইরানী হামলায় ইসরাইলের পানি শোধনাগার অচল

    ভূমধ্যসাগরে অস্বাভাবিকভাবে মাইক্রো-শৈবালের বিস্তারে বিপাকে পড়েছে ইসরাইলের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা। সমুদ্রের পানির ঘোলাটে ভাব বেড়ে যাওয়ায় দেশটির উপকূলীয় অধিকাংশ বড় সমুদ্রের পানি শোধনাগার বা ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট বন্ধ রাখতে হয়েছে অথবা সীমিত সক্ষমতায় চালাতে হচ্ছে। এতে আপাতত সাধারণ মানুষের পানি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও দীর্ঘমেয়াদি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    ইসরাইলের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের বেশ কয়েকটি ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে শৈবালের বিস্তারের কারণে পানি উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। দেশটির অধিকাংশ উপকূলীয় পানি শোধনাগার এই পরিস্থিতির প্রভাবের মুখে পড়েছে। ইসরাইলের ছয়টি বড় উপকূলীয় ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টের মধ্যে পাঁচটি কোনো এক পর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায় বা উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়। পরে কয়েকটি প্ল্যান্ট সীমিত পরিসরে আবার চালু করা হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ইসরাইলি পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আপাতত গৃহস্থালি পর্যায়ে বড় ধরনের পানি সংকট তৈরি হয়নি। তবে কৃষিতে সেচের পানি সরবরাহ কমানো হয়েছে, বিশেষ করে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের পানিতে অস্বাভাবিক ঘোলাটে ভাবের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ মাইক্রো-শৈবালের উপস্থিতিই এই সংকটের মূল কারণ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শৈবাল নীল নদের বদ্বীপের কাছাকাছি অঞ্চল থেকে ভূমধ্যসাগরের স্রোতের সঙ্গে ইসরাইলি উপকূলের দিকে এসে থাকতে পারে। তবে এর সুনির্দিষ্ট উৎস এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

    এই শৈবাল পানি শোধনাগারের ফিল্টার ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। দীর্ঘ সময় এমন পরিস্থিতিতে প্ল্যান্ট চালু রাখলে পানি শোধনের গুরুত্বপূর্ণ মেমব্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেগুলো প্রতিস্থাপনে বিপুল অর্থ ব্যয় হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

    ইসরাইলের পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ডিস্যালিনেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির পানযোগ্য পানির বড় একটি অংশ সমুদ্রের পানি শোধনের মাধ্যমে আসে। ফলে একসঙ্গে একাধিক প্ল্যান্ট দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বিকল্প উৎসগুলোর ওপর চাপ বাড়বে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্যালিলি সাগর এবং ভূগর্ভস্থ পানির কূপ থেকে অতিরিক্ত পানি তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসরাইলে তাৎক্ষণিক জাতীয় পর্যায়ের তীব্র পানি সংকট তৈরি হয়েছে—এমন দাবি করেনি কর্তৃপক্ষ। পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টগুলো দীর্ঘ সময় স্বাভাবিক সক্ষমতার নিচে থাকলে পানি ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।

    এদিকে এই অস্বাভাবিক শৈবাল বিস্তারের কারণ নিয়েও আলোচনা চলছে। আবহাওয়া, সমুদ্রের স্রোত ও পানিতে জৈব পদার্থের পরিমাণের মতো প্রাকৃতিক কারণ এর পেছনে থাকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে গাজা থেকে সমুদ্রে প্রবাহিত অপরিশোধিত বর্জ্যপানির কোনো ভূমিকা আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

    ইসরাইলের জন্য ঘটনাটি শুধু সাময়িক পরিবেশগত সমস্যা নয়, বরং অতিরিক্ত ডিস্যালিনেশন-নির্ভর পানি ব্যবস্থার ঝুঁকিও সামনে নিয়ে এসেছে। অস্বাভাবিক সামুদ্রিক পরিস্থিতি কয়েক দিন বা তার বেশি সময় স্থায়ী হলে গৃহস্থালি সরবরাহের পাশাপাশি কৃষি ও শিল্প খাতেও এর প্রভাব বাড়তে পারে।

  • উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিরাপত্তায় স্বনির্ভর হতে বলল কাতার

    উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিরাপত্তায় স্বনির্ভর হতে বলল কাতার

    উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক জোটের ওপর নির্ভর করতে পারে না বরং তাদের আরো স্বনির্ভর হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।

    সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে হিলি ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।

    কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বাহিনীর উপস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত জোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিরাপত্তার জন্য এগুলোই যথেষ্ট নয়।

    তিনি বলেন, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হওয়াই সামনে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ। অংশীদার ও মিত্রদের প্রয়োজন রয়েছে, তবে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য শুধু তাদের ওপর নির্ভর করা সম্ভব নয়।

    যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে কাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী এবং দেশটি ইরানের ব্যাপক আক্রমণের শিকারও হয়েছে, বিশেষ করে এর জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর।

    মধ্যপ্রাচ্যে কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ঘাঁটি রয়েছে। যুদ্ধ চলাকালীন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি এবং এই অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে মার্কিন আক্রমণের জবাব দিয়েছে।

    ছয় মাসের সংঘাতের পর শত্রুপক্ষ দুটি একটি অচলাবস্থায় রয়েছে, যেখানে ইরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে যান চলাচল ব্যাহত করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে।

    এর আগে গত মাসে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তেহরান সফর করেন। এর আগে হরমুজ প্রণালির দুই তীরের দেশ ইরান ও ওমান অস্থায়ী নৌপথ চালু এবং সমুদ্র থেকে মাইন অপসারণ নিয়ে আলোচনা করছে বলে জানিয়েছিল।

  • ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে ফের আলোচনায় বসার আহ্বান জাতিসংঘের

    ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে ফের আলোচনায় বসার আহ্বান জাতিসংঘের

    উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। একই সঙ্গে দুই দেশকে অবিলম্বে আলোচনায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    মানবাধিকার কাউন্সিলের এক বৈঠকে তুর্ক বলেন, হামলা পুনরায় শুরু হওয়ায় আমি উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে হামলায় বেসামরিক মানুষের হতাহত হওয়ার খবর তাকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে।

    সম্প্রতি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের কুহেস্তাক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত ও কয়েক ডজন মানুষ আহত হন। হামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের চালানো বলে ইরানি কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সূত্র দাবি করেছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণেও ঘটনাস্থলে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মার্কিন অস্ত্রের আঘাতের সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে।

    তুর্ক বলেন, সম্পূর্ণ এড়ানো সম্ভব ছিল এমন এই সংকটের ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব আবারও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। তার মতে, চলমান সংঘাত শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মানুষের জীবন ও নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং এর প্রভাব পড়ছে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও।

    এদিকে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

  • জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১১%

    জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১১%

    চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বড় গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। জানুয়ারি-জুলাই সময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৪.৬৬ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬.৫০ শতাংশ কম। এছাড়া শুধু জুলাই মাসেই দেশটিকে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে প্রায় ১১ শতাংশ। বাংলাদেশের বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির এই পরিসংখ্যান পোশাকশিল্পের জন্য এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পর একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ পোশাক রপ্তানি মূল্য ছিল ৭.৭৪ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির ২০ শতাংশের বেশি।

    মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) তথ্যমতে, বছরের জানুয়ারি-জুলাই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ কমে ৪১.৮৩ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। একই সময়ে দেশটির আমদানির পরিমাণ কমেছে ৯.৪১ শতাংশ। তবে গড় ইউনিট মূল্য বেড়েছে ০.৮৪ শতাংশ।

    ওটেক্সার তথ্যমতে, বছরের প্রথম সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ৪.৬৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ, যা গত বছরে ছিল ৪.৯৮ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে গত বছরের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশ যেখানে ১.৫৯ বিলিয়ন এসএমই (স্কয়ার মিটার ইকুইভ্যালেন্ট) পোশাক রপ্তানি করেছিল, ২০২৬ সালের একই সময়ে সেটি ৪.৩৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১.৫২ বিলিয়ন এসএমইতে। আর ২০২৫ সালের জানুয়ারি-জুলাই সময়ে প্রতি ইউনিট পোশাকের গড় দাম ছিল ৩.১২ মার্কিন ডলার, যা ২০২৬ সালের একই সময়ে ২.২৬ শতাংশ কমে ৩.০৫ মার্কিন ডলারে নেমেছে।

    এই সময়ে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চীনের রপ্তানি কমেছে ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ এবং ভারতের ২৫.৭৭ শতাংশ। এছাড়া পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের যথাক্রমে ৫.৬০ শতাংশ ও ১.০৩ শতাংশ কমেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার পোশাক রপ্তানি বেড়েছে যথাক্রমে ২.৭৬ শতাংশ ও ১০.৪৮ শতাংশ।

    এই সময়ে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা গেছে পোশাকের ইউনিট মূল্যে। বাংলাদেশের রপ্তানি কমে যাওয়ার পেছনে ইউনিট মূল্য কমারও প্রভাব রয়েছে বলে মনে করেন রপ্তানিকারকরা। চলমান গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে আগামী কয়েক মাসে বাংলাদেশের রপ্তানির গতি কেমন থাকবে সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন তারা। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ক্রেতাদের অর্ডার, পণ্যের মূল্য এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর সরবরাহ সক্ষমতার পরিবর্তন বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    সার্বিক বিষয়ে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আমার দেশকে বলেন, রপ্তানি কম হওয়ার প্রথম কারণ হচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারেই এখন অর্ডার কম, রপ্তানিও কমেছে। বিশেষ করে আমেরিকার বাজারটা আমাদের জন্য প্রায় এক বছর ধরেই একটা অনিশ্চিত অবস্থার মধ্যে ছিল। এর অন্যতম কারণ, ট্রাম্পের ট্যারিফ এবং এরপর নতুন করে যে সিদ্ধান্তগুলো এসেছে সেগুলো। এসব কারণে একটা অননুমেয় ও অনিশ্চিত সময় যাচ্ছিল। এ কারণেই ইউএস মার্কেটে মোট রপ্তানি কমেছে।

    মোহাম্মদ হাতেম আরো বলেন, তবে সামনের দিনগুলোতে রপ্তানি নিয়ে আশার জায়গা হলোÑযুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের যে নতুন চুক্তির সেখানে একটা ক্লজ আছেÑইউএসের মেটারিয়াল দ্বারা তৈরি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ‘ডিউটি ফ্রি এক্সেস’ পাবে। এই সুযোগটা যদি আমরা কাজে লাগাতে পারি তাহলে সেখানে আমাদের রপ্তানিটা বেড়ে যাবে।

  • আমি কাতারে হামলা করেছি, বোমাও মেরেছি’—দম্ভভরে বললেন নেতানিয়াহু

    আমি কাতারে হামলা করেছি, বোমাও মেরেছি’—দম্ভভরে বললেন নেতানিয়াহু

    সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে দম্ভভরে কাতারে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ‘আমি কাতারে হামলা করেছি, বোমা হামলাও চালিয়েছি। (গাজা) যুদ্ধের সময় তাদের ওপর হামলা করেছি। আর তারাও আমার ওপর হামলা করেছে।’

    ইসরায়েলের আই২৪ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এ কথা বলেন। গতকাল শনিবার তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি কাতারকে একটি ‘শত্রুভাবাপন্ন’ রাষ্ট্র বলে বর্ণনা করেন।

    গাজা যুদ্ধের সময় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর জাতিগত নিধনকালে কাতার ইসরায়েলের নীতিনির্ধারণে কোনো প্রভাব খাটাতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু।

    গাজা যুদ্ধের অবসানে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছিল কাতার। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে।

    ২০১২ সাল থেকে কাতার সরকার নিজ দেশে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের রাজনৈতিক কার্যালয়ও পরিচালনা করতে দিচ্ছিল। কাতার কর্তৃপক্ষের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধেই তারা এটা করেছিল।

    হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে দোহায় আবাসিক ভবনে হামলা চালায় ইসরায়েল। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবন দেখা যাচ্ছে।

    ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কাতারের দোহায় হামলা চালিয়ে হামাসের পাঁচ শীর্ষস্থানীয় নেতাকে হত্যা করে ইসরায়েল। হামলায় কাতারের একজন নিরাপত্তাকর্মীও নিহত হন। গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার জন্য হামাসের ওই পাঁচ নেতা সে সময় একটি বৈঠকে বসেছিলেন। বৈঠক চলাকালেই ইসরায়েল তাঁদের ওপর ওই হামলা চালায়।

    দোহা ওই হামলার নিন্দা জানিয়ে একে ‘সব ধরনের আন্তর্জাতিক আইন ও নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করেছিল। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি হামলাটিকে ‘কাপুরুষোচিত’ আখ্যা দিয়েছিলেন।

    ইরান, পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশও কাতারে ওই হামলার নিন্দা জানিয়েছিল। সংহতি প্রকাশের অংশ হিসেবে হামলার পরপরই জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের নেতারা কাতার সফর করেন।

    জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ওই হামলাকে কাতারের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দেন। কাতারে ইসরায়েলের হামলার প্রথম বার্ষিকীর মাত্র কয়েক দিন আগে নেতানিয়াহু নিজের এ সাক্ষাৎকারের ভিডিও প্রকাশ করলেন।

  • ‘রাসুলের জীবনী শুধু পড়লে হবে না, তার আদর্শকে জীবনের অংশ করে তুলুন’

    ‘রাসুলের জীবনী শুধু পড়লে হবে না, তার আদর্শকে জীবনের অংশ করে তুলুন’

    মুসলিম বিশ্বকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন নতুন করে পাঠ করার পাশাপাশি তার শিক্ষা ও আদর্শকে বাস্তব জীবনযাপনের অংশ করে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন আফগানিস্তানে নিযুক্ত ইরানের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা ড. সৈয়দ রুহুল্লাহ হোসেইনি। তিনি বলেছেন, মহানবী (সা.) শুধু একটি নির্দিষ্ট জাতি, ভূখণ্ড বা সময়ের জন্য প্রেরিত নন; তিনি সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমত, নৈতিকতা, মানবিক মর্যাদা ও ঐক্যের বার্তা নিয়ে এসেছেন।

    মাজার-ই-শরিফ শহরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও হজরত ইমাম জাফর সাদিক (আ.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।হোসেইনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর জন্মদিন শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণ নয়; এটি এমন এক আলোর উদয়ের স্মরণ, যা মানবজাতিকে অজ্ঞতা, নিপীড়ন ও অন্ধকার থেকে মুক্ত করে সঠিক পথ দেখানোর জন্য প্রেরিত হয়েছিল। পবিত্র কোরআনের ‘আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি’ আয়াতের উল্লেখ করে তিনি বলেন, নবীজির (সা.) বার্তা রহমত, তাওহিদ ও মানবিক মর্যাদার বার্তা।

    নৈতিকতাই নবীজির শিক্ষার অন্যতম ভিত্তি

    মহানবী (সা.)-এর চরিত্রকে তার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উল্লেখ করে হোসেইনি বলেন, কোরআন তাকে ‘মহান চরিত্রের অধিকারী’ হিসেবে অভিহিত করেছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়, নবীজির (সা.) শিক্ষায় নৈতিকতা কোনো গৌণ বিষয় নয়; বরং তার দাওয়াত ও জীবনাদর্শের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

    সততা, আমানতদারি, ক্ষমাশীলতা, দয়া, ন্যায়বিচার, মানুষের প্রতি সম্মান এবং অসহায়দের প্রতি দায়িত্বশীলতা—এসব নবীজির (সা.) নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকের মুসলিম সমাজের এসব গুণ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, মানুষের অন্তরে যদি মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা থাকে, তাহলে সেই ভালোবাসার প্রতিফলন সামাজিক আচরণেও দেখা যেতে হবে। নবীজির (সা.) সম্পর্কে জ্ঞান শুধু আলোচনা, মাহফিল বা জন্মবার্ষিকী পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা মানুষের নৈতিকতা, আচরণ ও জীবনযাপনে প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।

    বিভেদ নয়, ঐক্য

    মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের কথা তুলে ধরেন হোসেইনি। তার ভাষায়, মহানবী (সা.) এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যার ভিত্তি ছিল তাওহিদ ও ঈমান। পবিত্র কোরআনও মুসলমানদের আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধারণ করতে এবং বিভক্ত না হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

    তিনি বলেন, শিয়া ও সুন্নিদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও তাওহিদ, পবিত্র কোরআন, মহানবী (সা.)-এর নবুয়ত ও কিবলার মতো মৌলিক বিষয়ে তাদের অভিন্নতা রয়েছে। এসব অভিন্ন বিষয় মুসলিম ঐক্য ও সংহতির শক্তিশালী ভিত্তি হতে পারে।

    মতপার্থক্য যেন শত্রুতা ও বিভাজনে পরিণত না হয়—এ আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মতভেদকে সংলাপ, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতার সুযোগে পরিণত করা উচিত।

    জ্ঞান ও সংস্কৃতির মাধ্যমে নতুন সভ্যতা

    মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শে জ্ঞান ও শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে হোসেইনি বলেন, নবীজির (সা.) দাওয়াতের সঙ্গে শিক্ষা, আত্মশুদ্ধি ও মানবিক প্রশিক্ষণও যুক্ত ছিল। কোরআনে নবীজির দায়িত্বের মধ্যে আয়াত পাঠ, মানুষের পরিশুদ্ধি এবং কিতাব ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    তার মতে, মহানবী (সা.) যে সমাজ নির্মাণ করেছিলেন, তা ছিল জ্ঞান, শিক্ষা ও মানবিক প্রশিক্ষণের সমাজ। তাই মুসলিম বিশ্বের স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও গবেষণাকেন্দ্রগুলোর দায়িত্ব হলো অজ্ঞতা, পশ্চাৎপদতা ও সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতার বিরুদ্ধে কাজ করা।

    বিশেষ করে মুসলিম তরুণদের জ্ঞান, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা ও নিজস্ব পরিচয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে ইসলামী মূল্যবোধের সঙ্গে সমন্বয় করে তরুণ প্রজন্ম একটি নতুন ও মানবিক সভ্যতা নির্মাণে ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা

    হোসেইনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষায় মানুষের মর্যাদা সম্পদ, ক্ষমতা, বংশ, জাতি বা সামাজিক অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল ছিল না। ঈমান, তাকওয়া ও মানবিকতাই ছিল মানুষের মর্যাদার মূল ভিত্তি।

    নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াকে মুসলমানদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নিপীড়িত মানুষের দুর্ভোগের কথাও তুলে ধরেন এবং মুসলিম বিশ্বের বিবেক ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার আহ্বান জানান।

    আধুনিক সংকটেও নবীজির আদর্শ প্রাসঙ্গিক

    বর্তমান বিশ্বের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে হোসেইনি বলেন, এত উন্নতির পরও মানুষ যুদ্ধ, সহিংসতা, বৈষম্য, অবিচার, উগ্রবাদ, নৈতিক অবক্ষয় ও আধ্যাত্মিক সংকট থেকে মুক্ত হতে পারেনি। ফলে বর্তমান বিশ্বে মহানবী (সা.)-এর রহমত, নৈতিকতা, মানবিক মর্যাদা ও আধ্যাত্মিকতার বার্তা আগের চেয়ে বেশি প্রয়োজন।

    কোরআনের ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসুলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ’ আয়াতের উল্লেখ করে তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন শুধু ইতিহাস পাঠের বিষয় নয়। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও সাংস্কৃতিক জীবনের নানা ক্ষেত্রে তাঁর জীবন আজও পথনির্দেশ দিতে পারে।

    ভালোবাসার প্রকৃত প্রকাশ অনুসরণে

    বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে হোসেইনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর প্রতি প্রকৃত ভালোবাসার অর্থ তার পথ ও নৈতিকতাকে অনুসরণ করা। তার মতে, মহানবী (সা.)-এর জন্মবার্তার সারকথা এক বাক্যে বলতে হলে বলা যায়—মুহাম্মদ (সা.) রহমত, নৈতিকতা, ঐক্য, জ্ঞান ও ন্যায়বিচারের নবী। তাই এসব মূল্যবোধকে শুধু অনুষ্ঠান ও বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জীবনের বাস্তব পরিসরে নিয়ে যাওয়াই হওয়া উচিত মুসলমানদের দায়িত্ব।

  • ইরান যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের নভেম্বরের নির্বাচন

    ইরান যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের নভেম্বরের নির্বাচন

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে আবার উত্তেজনা বেড়েছে। গত সপ্তাহ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবার পরস্পরের ওপর নতুন করে হামলা শুরু করেছে। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, সংঘাতের ওপর একটি বিশেষ তারিখের প্রভাব ততই স্পষ্ট হচ্ছে।

    এ বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন। ৩ নভেম্বর ভোট গ্রহণ। এ নির্বাচন ইরান যুদ্ধের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হয়ে উঠতে পারে। কারণ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টারা চাইছেন, নির্বাচনের আগে যেন ইরান সংঘাত আবার পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধের রূপ না নেয়।

    মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প-সমর্থক রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষে তাঁদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে চাইছে। বর্তমানে উভয় কক্ষে সামান্য ব্যবধানে রিপাবলিকানরা এগিয়ে।

    এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে ওয়াশিংটন পূর্ণ সামরিক শক্তি ব্যবহার করার পরিবর্তে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের পথে এগোচ্ছে। গত মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করে, বিশেষ করে তাদের তেল কেনে এমন ৬০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। পাশাপাশি অন্যান্য দেশকে হুমকি দিয়ে বলেছে, তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করলে তাদেরও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে।

    একই সময়, হরমুজ প্রণালির আশপাশে ও ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত রয়েছে, যা তেহরানের তেল রপ্তানির ওপর চাপ সৃষ্টি করে চলেছে।

    এদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দেশের সাধারণ মানুষের কাছে ইরান যুদ্ধের গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে এ যুদ্ধের সূচনা হয়। যুদ্ধের জেরে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে, জনগণও যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জনসাধারণের এ বিরোধিতা রিপাবলিকান দলের বিপক্ষে যেতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকে ভ্যান্স বিষয়টিকে কম গুরুত্বপূর্ণ দেখাতে চাইছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    তবে ট্রাম্প প্রশাসন কত দিন নিজেদের সংযম ধরে রাখতে পারবে, তা স্পষ্ট নয়। কয়েক দিন ধরে মার্কিন বাহিনী ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন নেতারা বলছেন, আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা এখনো রয়েছে। ভ্যান্স গত সপ্তাহে বলেছেন, ‘যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে, সবই বিবেচনায় রয়েছে।’

    ভ্যান্সের এই যেকোনো কিছুর মধ্যে অর্থনৈতিক, সামরিক, কূটনৈতিক ও গোপন অভিযানসহ নানা ধরনের চাপ প্রয়োগ অন্তর্ভুক্ত আছে।

    মধ্যবর্তী নির্বাচন আসতে এখনো দুই মাস বাকি। এত দিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি অব্যাহত রেখে পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ এড়িয়ে চলার কৌশল ধরে রাখতে পারবে কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। তা ছাড়া, ইরানের নিজস্ব হিসাব-নিকাশও আছে। তারাও সামরিকভাবে পাল্টা জবাব দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে না চাইলেও যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পূর্ণমাত্রায় সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে হতে পারে।

    কেন মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

    মধ্যবর্তী নির্বাচন নির্ধারণ করবে, রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসে তাদের স্বল্প ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ধরে রাখতে পারবে কি না। যুদ্ধ যদি আবারও তীব্র আকার ধারণ করে, তাহলে আরও বেশি মানুষ ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

    এরই মধ্যে বহু মার্কিন ইরান যুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ফলে দেশে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তলানিতে নেমেছে। এখন যদি নভেম্বর পর্যন্ত পূর্ণ মাত্রায় সংঘাত শুরু হওয়া থামিয়ে রাখা যায়, তবে হয়তো ভোটে মাঠে বিষয়টির প্রধান ইস্যু হয়ে ওঠা আটকানো যাবে।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল

    গত মাসের শেষ দিকে রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন ইরান যুদ্ধকে সমর্থন করেন, যেখানে ৬৩ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন। জরিপ অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর থেকে জনমনে ট্রাম্পের গ্রহণযোগ্যতা ৪০ শতাংশ থেকে কমে ৩৩ শতাংশে নেমেছে।

    পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি এত দূর গড়াবে—এটা ট্রাম্প প্রশাসনের প্রত্যাশিত ছিল না।

    মার্চের শুরুতে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছিলেন, যুদ্ধটি বড়জোর ‘চার বা পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হবে’। কিন্তু বাস্তবে সেটা হয়নি। ইরান যুদ্ধ ছয় মাস পেরিয়ে সাত মাসে গড়িয়েছে, এখনো যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। বরং এ যুদ্ধ কিছু অপ্রত্যাশিত পরিণতি ডেকে এনেছে—যার মধ্যে ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়াও রয়েছে। বাকি বিশ্বের মতো যুদ্ধরাষ্ট্রেও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ইরান যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের কাছে আরও অজনপ্রিয় করে তুলেছে।

    গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। দেশটিতে এর আগে ২০২২ সালে ডিজেলের দামে রেকর্ড হয়েছিল। এবারের দাম ওই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে।

    এটি বিশেষ করে ট্রাম্পের জন্য ক্ষতিকর। কারণ, জ্বালানির খরচ নাটকীয়ভাবে কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছিলেন। পাশাপাশি ‘অপ্রয়োজনীয়’ যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।

    যুদ্ধের প্রভাব শুধু পেট্রলপাম্পেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় নিত্যপণ্যের দামের ওপর এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এটা এমন সময়ে হচ্ছে, যখন বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে জীবনযাত্রার ব্যয়কে এক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছেন।

    আগস্টে পলিটিকোর করা এক জরিপে দেখা গেছে, ৬১ শতাংশ মার্কিন মনে করছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে তাঁদের পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। এক মাস আগের তুলনায় এ হার ৪ শতাংশ বেশি।

    নভেম্বর পর্যন্ত ট্রাম্প কি যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে পারবেন

    ট্রাম্প প্রশাসন যে ঠিক এ চেষ্টাই করছে, তার কিছু ইঙ্গিত এরই মধ্যে দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় ওয়াশিংটন ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা আরও জোরদার করেছে। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখা দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির আশপাশে সামরিক চাপও বজায় রেখেছে।

    চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরানে হামলা চালানোর মাধ্যমে ট্রাম্প এ ইঙ্গিতও দিয়েছেন, তিনি বিচ্ছিন্নভাবে হামলা চালাতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি চেষ্টা করছেন, যেন যুদ্ধ আবারও পূর্ণমাত্রায় শুরু না হয়।

    ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও সামরিক সংঘাতের মাত্রাকে কম গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে ইরান যুদ্ধ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে শেষ হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, তিনি এটিকে ‘যুদ্ধ’ বলবেন না। তাঁর দাবি, ‘এই মুহূর্তে সক্রিয়ভাবে কোনো গোলাগুলি চলছে না।’

    ইরান কবে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স বলেন, ‘আপনাকে এটা ইরানিদেরই জিজ্ঞাসা করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এ সংঘাতের প্রভাব ‘দিন দিন কমছে’।

    যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তারা প্রতিরাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রায় ৩০টি জাহাজ নিরাপদে পার করে দিচ্ছে। গত মঙ্গলবার প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল এ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়েছে বলেও মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন। যদিও জাহাজ চলাচলের আন্তর্জাতিক তথ্য থেকে তাঁদের এ দাবির পক্ষে পূর্ণ সমর্থন পাওয়া যাচ্ছে না।

    বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, বিচ্ছিন্নভাবে হামলা চালিয়ে ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’—এমন কৌশল বজায় রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

    ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির জ্যেষ্ঠ ফেলো নেগার মোর্তাজাভি আল-জাজিরাকে বলেন, ‘তেহরান (অর্থনৈতিক) চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। উভয় পক্ষই হয়তো মনে করতে পারে, তারা সংঘাতের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে। কিন্তু প্রতিবার নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা হলে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।’

    চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো এক হামলা দক্ষিণ ইরানের কুহেস্তাকে একটি বেসামরিক বাড়িতে আঘাত করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। হামলায় শিশুসহ অন্তত চারজন নিহত এবং কয়েকেজন আহত হয়েছেন।

    এ ছাড়া ওয়াশিংটন পোস্ট গত রোববার জানিয়েছে, মার্কিন সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা লিখিত এক মূল্যায়নে পেন্টাগনপ্রধান পিট হেগসেথকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে বর্তমান গতিতে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া টেকসই নয়। এতে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতি সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি আল-জাজিরাকে বলেন, চলতি সপ্তাহের হামলাগুলো থেকে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে এখনো গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

    ত্রিতা পারসি আরও বলেন, সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা এড়ানোর লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। কিন্তু সাত দিন পরই যুক্তরাষ্ট্র আবার ইরানে বোমা হামলা শুরু করেছে। এই বিশেষজ্ঞের মতে, ‘যুক্তরাষ্ট্র যেন এক অবস্থান থেকে আরেক অবস্থানে লাফিয়ে বেড়াচ্ছে।’

    ইরানের হিসাব-নিকাশ

    গত সপ্তাহ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবার পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু করলেও তা যুদ্ধের শুরুর কয়েক সপ্তাহের তুলনায় অনেক কম তীব্র। এমনকি গত জুলাই মাসে দুই দফায় যে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল, এবার তার থেকেও কম হামলা হচ্ছে। কিন্তু এর মানে এ নয় যে ঝুঁকি কম। বরং যেকোনো সময় সংঘাতের তীব্রতা বেড়ে যেতে পারে। ইরানের স্বার্থেই হয়তো সংঘাত তীব্র হতে পারে।

    বিপুল সামরিক শক্তির অধিকারী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অসম যুদ্ধে কৌশলগতভাবে ইরান বেশ দক্ষতা দেখিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত নিঃশেষ করতে সস্তা ও ব্যাপক হারে উৎপাদিত ড্রোন ব্যবহার করা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ওপর হামলা চালিয়ে ওই অঞ্চলে বিভেদ ও অস্থিরতা তৈরি করা।

    বিশেষ করে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত করার কার্যকর সক্ষমতা ইরান দেখিয়েছে। ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও যুদ্ধের বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

    ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ অবাধে চলাচল করতে পারত।

    ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বা আঞ্চলিক সামরিক স্থাপনা, জাহাজ চলাচল কিংবা জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা অব্যাহত রাখে, তবে গত সপ্তাহে চালানো কয়েকটি হামলার চেয়েও আরও কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার চাপ বাড়বে ওয়াশিংটনের ওপর। এতে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার একটি চক্র তৈরি হতে পারে। হোয়াইট হাউসের মধ্যবর্তী নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ যা-ই হোক, এর পরিণতিতে দুদেশ আবারও বৃহৎ পরিসরের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে।

    এ ছাড়া তেহরানকে বিচ্ছিন্ন করতে ওয়াশিংটনের নেওয়া অর্থনৈতিক কৌশল ইরানকে আরও বড় আকারে পাল্টা জবাব দেওয়ার উসকানি দিতে পারে। সরাসরি যুদ্ধ থেকে সরে আসার একটি চেষ্টা হিসেবে ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে।

    ত্রিতা পারসি বলেন, ইরানের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত আরও বড় পরিসরে যুদ্ধ শুরু করতে চান, তিনি শুধু মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার অপেক্ষা করছেন।

    এটি তেহরানের সামনে একটি সম্ভাব্য বিপজ্জনক হিসাব তৈরি করতে পারে। তেহরানের মনে হতে পারে, ট্রাম্প যখন রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছেন, তখনই সংঘাত বাড়ানো তাদের জন্য বেশি সুবিধাজনক হতে পারে।

    পারসি বলেন, ‘এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানিরা হয়তো মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে নিজেরাই দ্রুত যুদ্ধ শুরু করে দিতে পারে, যাতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওপর সর্বোচ্চ মাত্রার চাপ সৃষ্টি করা যায়।’

    নভেম্বরের পর কী হবে

    গত বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এরই মধ্যে ৩ নভেম্বরের ভোটের পর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করা হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা করছেন। তবে পূর্ণমাত্রার সংঘাতে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

    মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জয় হলে এ বিকল্প বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্প আরও বেশি রাজনৈতিক সুযোগ পেতে পারেন। বিশেষ করে প্রশাসন যদি নির্বাচনের ফলকে যুদ্ধের প্রতি জনগণের সমর্থন-অথবা অন্তত ভোটারদের মধ্যে যুদ্ধের প্রতি যথেষ্ট বিরোধিতা না থাকার প্রমাণ হিসেবে দেখে।

    তবে রিপাবলিকানরা হেরে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। কারণ, তখন আরও বেশি অনিশ্চয়তা দেখা দেবে।

    একদিকে, কংগ্রেসের একটি বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষমতা সীমিত হবে; কারণ, সরকারের অর্থায়ন নিয়ন্ত্রণ করে কংগ্রেস। হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস কিংবা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে ট্রাম্পের বিরোধীরা শুনানি আয়োজন, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের তদন্ত ও অতিরিক্ত সামরিক ব্যয়ের জন্য করা অনুরোধে বাধা দেওয়ার আরও বেশি সুযোগ পাবেন।

    আবার ৩ নভেম্বরের পর কংগ্রেস নির্বাচন নিয়ে আর ট্রাম্পকে চাপের মুখে থাকতে হবে না। ফলে যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়োজনীয়তা তিনি কম অনুভব করতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    তাই পারসি সতর্ক করে বলেছেন, নির্বাচনে ট্রাম্পের দলের পরাজয়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে বলে তেহরান আশা করছে, বাস্তবে তার বিপরীতও হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত নই যে এটি ইরানের জন্য শেষ পর্যন্ত লাভজনক হবে কি না। কারণ, নির্বাচনে অপমানজনক পরাজয়ের (সম্ভাব্য) মুখে পড়া একজন ট্রাম্প, যিনি ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত (সম্ভাব্য) প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের মুখোমুখি হবেন—তিনি আরও মরিয়া ও বেপরোয়া প্রেসিডেন্টে পরিণত হতে পারেন।’

  • বিদেশ ভ্রমণে বছরে সর্বোচ্চ ব্যয় করা যাবে ১৮ হাজার ডলার

    বিদেশ ভ্রমণে বছরে সর্বোচ্চ ব্যয় করা যাবে ১৮ হাজার ডলার

    বিদেশ ভ্রমণে বাংলাদেশি নাগরিকদের বার্ষিক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সীমা ১২ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ১৮ হাজার ডলার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে এখন থেকে একজন বাংলাদেশি নাগরিক এক বছরে বিদেশ ভ্রমণের জন্য সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে পারবেন।

    রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রকৃত ভ্রমণসংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা পূরণ এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের পরিবর্তিত প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে ভ্রমণ কোটার সীমা বাড়ানো হয়েছে।

    নির্দেশনা অনুযায়ী, ১২ বছরের কম বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য অনুমোদিত সীমার ৫০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সুবিধা আগের মতোই বহাল থাকবে।

    এদিকে নগদ মার্কিন ডলার নোট নেওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সীমায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ভ্রমণ কোটার আওতায় একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার নগদ নিতে পারবেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে পর্যটন, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা এবং অন্যান্য অনুমোদিত বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারে বাড়তি সুযোগ তৈরি হলো।

  • ইন্দোনেশিয়ার অগ্ন্যুৎপাতে পাঁচ বিমানবন্দরের তিন শতাধিক ফ্লাইট স্থগিত

    ইন্দোনেশিয়ার অগ্ন্যুৎপাতে পাঁচ বিমানবন্দরের তিন শতাধিক ফ্লাইট স্থগিত

    আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে ইন্দোনেশিয়ার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সুকর্ণ-হাত্তাসহ পাঁচটি বিমানবন্দরে ৩০১টি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। দেশটির আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির ছাই জাকার্তার কাছের আকাশসীমায় ছড়িয়ে পড়ায় আজ রোববার ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করা হয়। এতে ২২ হাজারের বেশি মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার সকালে সুকর্ণ-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছের আকাশসীমায় আগ্নেয়গিরির ছাই শনাক্ত হওয়ার পর ফ্লাইটগুলো স্থগিত করা হয়। এর মধ্যে ৫৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট রয়েছে।

    দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় বলেছে, এ ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে সিঙ্গাপুরগামী ও সিঙ্গাপুর থেকে আসা ফ্লাইটে। দোহা, সিডনি, কুয়ালালামপুরসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটও এই স্থগিতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    আনাক ক্রাকাতোয়া থেকে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয় শুক্রবার গভীর রাতে। এরপর সেখানে একটানা ভূকম্পন, লাভার ফোয়ারা ও বিকট শব্দ শোনা যায়। আজ ভোরেও আগ্নেয়গিরিটি থেকে আরও দুটি অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    আনাক ক্রাকাতোয়া জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যবর্তী সুন্দা প্রণালিতে অবস্থিত। সাম্প্রতিক অগ্ন্যুৎপাতের কারণে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

    আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। শ্বাসতন্ত্র, চোখ ও ত্বকের সুরক্ষায় মুখে মাস্ক ব্যবহারের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

    স্থানীয় সংবাদপত্র কমপাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছাইয়ের কারণে চোখে জ্বালাপোড়ার অভিযোগ ওঠার পর গতকাল শনিবার কয়েকটি স্কুল তাদের কার্যক্রম বাতিল করেছে। কয়েকজন জেলেও চোখে ব্যথা ও জ্বালাপোড়ার কথা জানিয়ে সাগরে মাছ ধরার যাত্রা বাতিল করেছেন।

    স্থানীয় বাসিন্দা আলদি চান্দ্রা প্রায়োগি কমপাসকে বলেন, গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে তাঁর মনে হচ্ছিল, যেন চোখের মধ্যে ‘ছোট ছোট বালুর কণা ঢুকে গেছে’। চোখের জ্বালাপোড়া কমাতে তাঁকে চোখের ড্রপ ব্যবহার করতে হচ্ছে।

    ধুলার আস্তরণ এত ঘন যে বাড়ির সামনের উঠান তাঁকে প্রতি পাঁচ মিনিট পরপর ঝাড়ু দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আলদি।

    আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় আটকা পড়া যাত্রীরা টিকিটের অর্থ ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। সুকর্ণ-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, তানগেরাং, ইন্দোনেশিয়া

    ‘ক্রাকাতোয়ার সন্তান’ আনাক ক্রাকাতোয়া

    আনাক ক্রাকাতোয়া নামটির অর্থ ‘ক্রাকাতোয়ার সন্তান’। গত শতকের শুরুর দিকে সমুদ্র থেকে জেগে ওঠার পর আগ্নেয়গিরিটি মাঝেমধ্যে সক্রিয় হয়ে উঠছে। ১৮৮৩ সালের মাউন্ট ক্রাকাতোয়ার অগ্ন্যুৎপাতের পর তৈরি হওয়া আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে এটি গড়ে উঠেছে।

    ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরিটি ধসে পড়ে। এতে সৃষ্ট বিশাল সুনামিতে ৪০০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়। জাভা ও সুমাত্রার কাছাকাছি উপকূলীয় এলাকায় হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত ও আহত হয়।

    বিজ্ঞানীরা পরে দেখতে পান, আগ্নেয়গিরিটি ধসে পড়ার সময় সেখান থেকে সরে যাওয়া কিছু পাথরের খণ্ডের উচ্চতা ছিল প্রায় ৭০ থেকে ৯০ মিটার।

    ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত। এই অঞ্চলে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্পের প্রবণতা বেশি। প্রশান্ত মহাসাগরের প্রায় পুরো প্রান্ত ঘিরে থাকা এই এলাকায় প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।

  • কোণঠাসা বিজেপি আবার কট্টর হিন্দুত্বে ঝুঁকছে

    কোণঠাসা বিজেপি আবার কট্টর হিন্দুত্বে ঝুঁকছে

    টানা আড়াই দশক ক্ষমতায় থেকে নানা কারণে কোণঠাসা ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) আবার কট্টর হিন্দুত্বের দিকে ঝুঁকছে। নানা রাজ্যে নানাভাবে এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

    অযোধ্যার পর উত্তর প্রদেশের কাশী, মথুরা, সম্ভল কিংবা মধ্যপ্রদেশের ভোজশালাসহ বিভিন্ন রাজ্যে মসজিদ প্রাঙ্গণে মন্দিরের নিদর্শন খোঁজা শুরু হয়। সেই প্রচেষ্টা এখনো অব্যাহত। কিন্তু উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরে সম্প্রতি যা ঘটেছে, তা নজিরবিহীন। হরিয়ানা, উত্তরাখন্ড ও হিমাচল প্রদেশের লাগোয়া উত্তর প্রদেশের এই জেলার জেলা শাসকের অফিস লাগোয়া দেড় শ বছরের প্রাচীন এক মসজিদ গত শনিবার বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সরকারি জমিতে মসজিদ থাকার কারণে নিম্ন আদালতের নির্দেশ মেনে জেলা প্রশাসন ওই সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারি জমি দখলের অভিযোগে মসজিদ কর্তৃপক্ষকে ৬ কোটি ৪১ লাখ রুপি জরিমানাও করা হয়েছে।

    ওই মসজিদ সরকারি জমি দখল করে গড়ে উঠেছে অভিযোগ জানিয়ে স্থানীয় কট্টর হিন্দুত্ববাদী বজরং দলের এক নেতা ২০২৫ সালে সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে মামলা ঠুকেন। গত ১৬ জুলাই সিটি ম্যাজিস্ট্রেট নির্মাণটি বেআইনি ঘোষণা করে। সরকারি জমি দখলের জন্য কর্তৃপক্ষকে জরিমানার নির্দেশও দেওয়া হয়।

    মসজিদ কর্তৃপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে জেলা জজ কোর্টে। সেখানেও আবেদনটি খারিজ হয়ে যায়। ২ সেপ্টেম্বর সেই সিদ্ধান্তের পরেই মসজিদ কর্তৃপক্ষকে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার সুযোগ না দিয়ে প্রশাসন গত শুক্রবার রাতে বুলডোজার নিয়ে তৈরি হয়। পরদিন শনিবার ভোর থেকেই শুরু হয় মসজিদ ভাঙা। গোলমাল রুখতে মোতায়েন করা হয় বিপুল পুলিশ। প্রশাসনকে রুখতে তৎপর হয়েছিলেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ইকরা হোসেন। কিন্তু তাঁকে গৃহবন্দী করে রাখা হয় বলে অভিযোগ।

    এমন তৎপরতার সঙ্গে এত দ্রুত কোনো মসজিদ আগে ভাঙা হয়নি। অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভাঙা হয়েছিল দীর্ঘকাল আইনি লড়াই শেষে। কাশী, মথুরা, সম্ভল, ভোজশালাসহ বিভিন্ন মসজিদ নিয়েও আইনি লড়াই অব্যাহত। পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে অবস্থিত প্রাচীন মসজিদটির স্থানান্তকরণ নিয়েও বহু বছর ধরে আলোচনা চলছে। হুট করে কোথাও কিছু করা হচ্ছে না। কিন্তু সাহারানপুর ব্যতিক্রম। সেখানে মসজিদ কর্তৃপক্ষকে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার কোনো সুযোগই দেওয়া হয়নি। বিতর্ক ও প্রশ্ন এ নিয়েই। উত্তেজনাও এই কারণে। হায়দরাবাদের এআইএমআইএম নেতা ও সংসদ সদস্য আসাউদ্দিন ওয়েইসি বলেছেন, এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

    উত্তর প্রদেশ বিধানসভার ভোট আগামী বছরের গোড়ায়। ওই রাজ্যে টানা তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রিত্বের দাবিদার হতে চলেছেন বিজেপির সন্ন্যাসী নেতা যোগী আদিত্যনাথ। ঠাকুর বা ক্ষত্রিয় আদিত্যনাথের শাসনামলে রাজ্যের ব্রাহ্মণসমাজ কোণঠাসা। তারা ক্ষুব্ধ। অযোধ্যায় রামকোষে চুরি নিয়েও হিন্দু মন বিব্রত। বিড়ম্বিত। নিটসহ বিভিন্ন পরীক্ষা, এমনকি চাকরির পরীক্ষায় দুর্নীতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে। অন্যান্য রাজ্যের মতো এই রাজ্যেও মাথাচাড়া দিচ্ছে জেন–জি ও জেন আলফা।

    ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্রো কি গুঞ্জ’ কর্মসূচি বিপুল সাড়া ফেলেছে। উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন শহরে এই কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন রাহুল। বিরোধী দুই দল সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেসও ক্রমেই কাছাকাছি আসছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব নতুন করে উগ্র হিন্দুত্ববাদে উসকানি দিয়ে রাজনৈতিক মেরুকরণের দিকে এগোচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠে গেছে সাহারানপুরের মসজিদ ধ্বংসের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে।

    তবে শুধু সাহারানপুরের ঘটনা নয়, বিভিন্ন রাজ্যে উগ্র হিন্দুত্ববাদী ব্যক্তি ও সংগঠন বেপরোয়াভাবে যা যা করে চলেছে, তাতে এমন মনে করার যথেষ্ট কারণও রয়েছে। বিশেষ করে এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে দেশের ছাত্রসমাজের মধ্যে একধরনের প্রতিবাদী চরিত্র মাথাচাড়া দেওয়ায়।

    দিল্লির যন্তর মন্তরে অংশগ্রহণকারী এক নাবালিকা ছাত্রীর বাবাকে খুনের চেষ্টায় ব্যাপক মারধরের এক ঘটনা সম্প্রতি ঘটেছে। স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ নামের এক যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ঘটনার দায় স্বীকারই শুধু করেননি, রীতিমতো বড়াই করে বলেছেন যে তিনি ওই ব্যক্তিকে খুন করতেই চেয়েছিলেন। বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র, লোকজন শক্তি পার্টির নেতা চিরাগ পাসোয়ান এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও ‘বড় ভাই’ সম্বোধন করে তিনি বলেছিলেন, এরা সবাই তাঁর রক্ষক। কেউ তাঁকে ছুঁতে পারবে না। প্রকাশ্যে গণমাধ্যমে এমন অপরাধের কথা স্বীকার করা সত্ত্বেও পুলিশ ওই যুবককে ধরেনি। তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর পর্যন্ত করেনি। এরপর সিজেপি, কংগ্রেস ও অন্য দলের নেতারা দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানা ঘেরাও করেন। দিল্লি পুলিশকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয় ওই যুবকের বিরুদ্ধে এফআইআর করার। শেষ পর্যন্ত ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনা প্রমাণ করছে, শাসক দলের কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে পুলিশ ও প্রশাসনকে ১০ বার ভাবতে হয়। চাপে না পড়লে পুলিশ প্রশাসন কিছু করতেও চায় না। আরও বোঝা যাচ্ছে, বিজেপির বিরুদ্ধে জন–অসন্তোষ যত বাড়ছে, বিজেপি তত উগ্র হিন্দুত্ববাদকে আঁকড়ে পরিত্রাণের উপায় খুঁজছে।

    সম্প্রতি বিশ্ব হিন্দু পরিষদ জানিয়ে দিয়েছে, ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’, এই স্লোগান অর্থহীন। কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে পরিষদের নেতারা এই প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘এটা এক অর্থহীন স্লোগান। ধর্ম যার উৎসবও তার। এটা সব ধর্মের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। যারা ধর্মের ধারক তারাই তার বাহক। সেই কারণে আগামী দিনের স্লোগান হওয়া উচিত, ধর্ম যার যার, উৎসবও তার তার।’

    এই নতুন স্লোগানের পাশাপাশিই কট্টর হিন্দুত্বাদীরা দাবি করেছেন, দুর্গাপূজার সময় মণ্ডপে মণ্ডপে আমিষ খাবারের স্টল দেওয়া যাবে না। এই ফরমান পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের ক্ষুব্ধ করেছে। প্রতিবাদের ঢেউ বইতে শুরু করেছে। একইভাবে মহারাষ্ট্রে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতারা জানিয়েছেন, প্রতি নবরাত্রিতে রাজ্যে যে গরবা ও ডান্ডিয়া অনুষ্ঠান হয়, তাতে মুসলমানদের ঢুকতে দেওয়া হবে না। তাঁরা বলেছেন, গরবা ও ডান্ডিয়া নাচ একান্তভাবেই হিন্দুদের নাচের অনুষ্ঠান। সেখানে অহিন্দু সম্প্রদায় থাকলে পবিত্রতা নষ্ট হবে। পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক ও মুখপাত্র বলেছেন, ‘নবরাত্রি হিন্দুদের সংস্কৃতি। তার গাম্ভীর্য ও পবিত্রতা নষ্ট হতে দেওয়া যায় না।’ অহিন্দু, বিশেষ করে মুসলমানদের ঠেকাতে বলা হয়েছে, যাঁদের কপালে তিলক থাকবে না তাঁদের ওই অনুষ্ঠানে ঢুকতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে নিরাপত্তারক্ষীরা আধার কার্ডও দেখতে পারে।

    একইভাবে রামনবমীর আসরও মুসলমানমুক্ত করার চেষ্টা চলছে। দুর্গাপূজার সময় গোটা উত্তর ভারতে বসে রামনবমীর আসর। টানা ৯ দিন ধরে রামায়ণের বিভিন্ন অধ্যায়ের নাট্যরূপ শেষে বিজয়া দশমী বা দশেরার দিন হয় রাবণবধ। এই উৎসবে বহু অহিন্দু অভিনেতা–অভিনেত্রী অংশ নিয়ে থাকেন। বিজেপি কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর ক্ষেত্রবিশেষে মুসলমান অভিনেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিশিষ্ট হিন্দি অভিনেতা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি জানিয়েছিলেন, ২০১৬ সালে উত্তর প্রদেশে তাঁর জেলায় রামনবমীর আসরে তাঁকে মারীচের ভূমিকায় অভিনয় করতে দেওয়া হয়নি। ২০২২ সালের পর রাজ্যে এই প্রবণতা বেড়ে যায়। এবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বিভিন্ন রাজ্যে এই বিষয়ে নতুন করে ফরমান জারি করতে চলেছে। ‘ধর্ম যার যার, উৎসব তার তার’ স্লোগান অনুযায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রামনবমীর সময় রামলীলায় অহিন্দু অভিনেতা–অভিনেত্রীদের যেন বাছা না হয়। অনুষ্ঠানেও যেন অহিন্দুদের প্রবেশ না ঘটে।

    বিজেপি এই প্রবণতার বিরুদ্ধে এখনো কোথাও দলীয়ভাবে কিছুই বলেনি। সম্ভবত তারা মনে করছে, নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় কট্টর হিন্দুত্ববাদই সেরা অস্ত্র।

  • ভারতে সার্কিট হাউজে নামাজ পড়ায় রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে মামলা

    ভারতে সার্কিট হাউজে নামাজ পড়ায় রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে মামলা

    ভারতের উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদের সার্কিট হাউসে নামাজ আদায়ের অভিযোগে সমাজবাদী পার্টির জেলা সহসভাপতি হাজি মোহাম্মদ উসমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৮৫ ও ২৯২ ধারায় মামলা করা হয়েছে।

    একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পার্ক করা গাড়ির পেছনে উসমান নামাজ আদায় করছেন। পুলিশের দাবি, এতে সার্কিট হাউসে যানবাহন ও মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়। তবে ভিডিওতে অন্য কোনো ব্যক্তি বা যানবাহনের চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে দেখা যায়নি।

    উসমান সমাজবাদী পার্টির বিধায়ক মোহাম্মদ ফাহিম ইরফানের চাচা। দলীয় নেতাদের সঙ্গে উত্তরপ্রদেশ বিধান পরিষদের বিরোধীদলীয় নেতা লাল বিহারি যাদবের বৈঠকে যোগ দিতে তিনি সার্কিট হাউসে গিয়েছিলেন।

    পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের সহকারী প্রকৌশলী অনিত কুমারের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআরটি করা হয়। এর আগে নামাজের ভিডিওকে কেন্দ্র করে স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর প্রদেশ সরকার সড়কে নামাজ পড়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করলেও সরকারি স্থাপনায় নামাজ পড়া বেআইনি নয়।

  • আসাদের গোপন পরমাণু কেন্দ্রে ৭৩ টন ইউরেনিয়ামের সন্ধান

    আসাদের গোপন পরমাণু কেন্দ্রে ৭৩ টন ইউরেনিয়ামের সন্ধান

    সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারের সময় গোপনে পরমাণু কর্মসূচি পরিচালনার নতুন প্রমাণ পেয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা—আইএইএ। সংস্থাটির সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে নিশ্চিত হয়েছে, পূর্ব সিরিয়ার দেইর আজ-জোর এলাকায় একটি অঘোষিত পরমাণু চুল্লি নির্মাণ করা হচ্ছিল। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে জ্বালানি তৈরি ও সংরক্ষণের কার্যক্রমও চলছিল।

    আইএইএ’র সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেইর আজ-জোরের স্থাপনাটিতে পাওয়া অবকাঠামোর সঙ্গে পরমাণু চুল্লির অবকাঠামোর স্পষ্ট মিল রয়েছে। বিশেষ করে সেখানে পাওয়া একটি শীতলীকরণ কাঠামো পরমাণু চুল্লির জন্য ব্যবহৃত কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সংস্থাটি বলেছে, সিরিয়ার সাবেক সরকার তাদের পরমাণু উপকরণ, স্থাপনা ও কার্যক্রম সম্পর্কে আইএইএকে প্রয়োজনীয় তথ্য দেয়নি।

    দেইর আজ-জোরের এই স্থাপনাটি ২০০৭ সালে ইসরাইলি বিমান হামলায় ধ্বংস হয়। এরপর সিরিয়ার তৎকালীন সরকার এলাকাটি সমতল করে দেয় এবং আইএইএ’র প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ জবাব দেয়নি। তবে ২০২৪ সালে আইএইএ’র পরিদর্শকেরা ওই এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন। পরে সেসব নমুনায় ইউরেনিয়ামের কণা পাওয়া যায়।

    আইএইএ’র তদন্তে দেইর আজ-জোরের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত আরো কয়েকটি স্থাপনার তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে একটি স্থাপনায় পরমাণু জ্বালানি তৈরি বা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম এবং অন্য একটি স্থাপনায় নির্মাণসামগ্রী ও সংশ্লিষ্ট উপকরণ সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ধারণা আরো জোরালো হয়েছে যে চুল্লিটি বিচ্ছিন্ন কোনো প্রকল্প ছিল না; এর সঙ্গে একটি বৃহত্তর পরমাণু অবকাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা ছিল।

    তদন্তে আরো চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া গেছে সিরিয়ার অন্য একটি অঘোষিত স্থাপনায়। সেখানে প্রায় ৭৩ টন প্রাকৃতিক ইউরেনিয়াম ধাতু পাওয়া গেছে। এর মধ্যে প্রায় ৫৫ টন জ্বালানি রডের আকারে ছিল। বর্তমানে এসব পরমাণু উপকরণ আইএইএ’র নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে।

    আইএইএ’র তদন্তে দীর্ঘদিনের একটি সন্দেহও আরো স্পষ্ট হয়েছে। অতীতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন পক্ষের মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, সিরিয়ার গোপন পরমাণু কর্মসূচিতে উত্তর কোরিয়ার সহায়তা ছিল। ২০০৭ সালে ইসরাইল হামলা চালিয়ে দেইর আজ-জোরের অসমাপ্ত চুল্লিটি ধ্বংস করে। ধারণা করা হয়, ওই চুল্লি থেকে ভবিষ্যতে পরমাণু অস্ত্র তৈরির উপযোগী প্লুটোনিয়াম উৎপাদনের লক্ষ্য ছিল।

    তবে বর্তমান সিরীয় সরকার সাবেক সরকারের এই উত্তরাধিকার নিয়ে আইএইএ’র সঙ্গে সহযোগিতার পথ বেছে নিয়েছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নতুন সরকার আন্তর্জাতিক পরমাণু পরিদর্শকদের সন্দেহজনক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশের সুযোগ দেয়। আইএইএ মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি সিরিয়ার এই সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    সিরিয়ার নতুন সরকার জানিয়েছে, দেশটির পরমাণু উপকরণ সিরিয়ার হেফাজতেই থাকবে, তবে তা আইএইএ’র আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অধীনে থাকবে। দামেস্ক একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ কাজে পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহারের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আইএইএও জানিয়েছে, অতীতের অঘোষিত কার্যক্রমের বিষয়টি নিষ্পত্তির পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তিতে সিরিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো যেতে পারে।

    আসাদ সরকারের গোপন পরমাণু কর্মসূচির এই নতুন তথ্য মধ্যপ্রাচ্যের পরমাণু নিরাপত্তা নিয়ে পুরোনো উদ্বেগকে আবারও সামনে এনেছে। তবে বর্তমান সিরিয়া আইএইএ’র সঙ্গে সহযোগিতা করায় বহু বছর ধরে ঝুলে থাকা এই তদন্তের সমাধানের পথ এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি উন্মুক্ত হয়েছে।

  • ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদে অনঢ় ইসরাইল

    ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদে অনঢ় ইসরাইল

    গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পুরোনো পরিকল্পনা আবারও নতুন করে সামনে আনছে ইসরাইল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সম্প্রতি বলেছেন, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের ‘স্বেচ্ছা অভিবাসন’ ছাড়া এই সংকটের কোনো বাস্তব সমাধান নেই। তার বক্তব্যে নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সম্মেলনে কাটজ বলেন, গাজার ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কারণে একসময় ‘স্থগিত’ রাখা হয়েছিল, কিন্তু তা বাতিল হয়নি। তার দাবি, পরিকল্পনাটি এখনো আলোচনায় রয়েছে এবং বাস্তবায়নের জন্য শুধু মার্কিন সমর্থন প্রয়োজন।

    কাটজের বক্তব্য অনুযায়ী, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের অন্য দেশে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা হলে ইসরাইল তাদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। তিনি বলেন, প্রয়োজনে সমুদ্র, আকাশ কিংবা অন্য যেকোনো পথে তাদের বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব। তবে এই পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় বাধা হলো অন্য দেশগুলোর গাজাবাসীকে গ্রহণে অনাগ্রহ।

    গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার ধারণাটি নতুন নয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর গাজা যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং সেখানকার বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে দিয়ে এলাকাটিকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের রিভিয়েরা’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ওই প্রস্তাব বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও গাজার জনগণের যেকোনো ধরনের জোরপূর্বক উচ্ছেদ ঠেকানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।

    এরপর ইসরাইল ‘স্বেচ্ছা অভিবাসন’কে সামনে রেখে একটি বিশেষ দপ্তরও গঠন করে। কাটজের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত ওই দপ্তরের উদ্দেশ্য হিসেবে তৃতীয় কোনো দেশে গাজাবাসীদের ‘নিরাপদ ও তত্ত্বাবধানে’ চলে যাওয়ার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছিল। পরে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা পুনরুজ্জীবিত করার খবরও প্রকাশিত হয়।

    এদিকে গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন শান্তি পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের পরিবর্তে তাদের গাজায় থাকার এবং পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সৌদি আরব, জর্ডান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসরসহ কয়েকটি আরব দেশও ওই পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছিল। তবে বর্তমানে শান্তি পরিকল্পনা ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে মতবিরোধে আটকে আছে। ইসরাইল হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ছাড়া গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারে রাজি নয়; অন্যদিকে হামাস ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের আগে অস্ত্র ছাড়তে রাজি নয়।

    ইসরাইলি ডানপন্থি রাজনীতিকদের মধ্যেও গাজায় ইহুদি বসতি স্থাপনের দাবি জোরালো হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির সম্প্রতি গাজার বিভিন্ন অংশে ইহুদি বসতি পুনঃস্থাপনের কথা বলেছেন এবং ফিলিস্তিনিদের ‘স্বেচ্ছা অভিবাসনে’ উৎসাহিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সময়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণও অব্যাহত রয়েছে।

    ফলে গাজার শান্তি পরিকল্পনা অচল হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে কাটজের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে নিছক নির্বাচনী বক্তব্য হিসেবে দেখছেন না পর্যবেক্ষকেরা। বিশেষ করে ‘পরিকল্পনাটি বাতিল হয়নি’ এবং মার্কিন সমর্থনের প্রয়োজন রয়েছে—এই বক্তব্য গাজাবাসীর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কাটজের বক্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০০ লাশ উদ্ধার, গণদাফনের প্রস্তুতি

    গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০০ লাশ উদ্ধার, গণদাফনের প্রস্তুতি

    গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১০০টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা লাশের অধিকাংশই শিশুদের। এসব লাশ এখন গণদাফনের প্রস্তুতি চলছে।

    জেইতুন এলাকায় তিন বছর ধরে বারবার হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর ওই এলাকার কয়েকটি আবাসিক ভবনে ইসরাইলি বাহিনী বোমা হামলা চালায়। হামলা থেকে বেঁচে যারা পরে এসব ভবনে আশ্রয় নিয়েছিলেন, পরবর্তী কয়েক মাসে তারাও হামলার শিকার হন। এসব হামলায় নিহত ব্যক্তিদের লাশ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ছিল। দীর্ঘ সময় পর সম্প্রতি সেখান থেকে ১০০টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, উদ্ধার করা লাশের বেশির ভাগই শিশুদের। লাশ উদ্ধারের পর জেইতুন এলাকায় এখন গণদাফনের প্রস্তুতি চলছে। নিহত ব্যক্তিদের লাশ নিয়ে শোকযাত্রার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

    ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেইতুনের যে এলাকায় এখন দাফনের প্রস্তুতি চলছে, সেখানে প্রায় তিন বছর ধরে ইসরাইলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে।

  • কুয়েতে ৫২ হাজার ইরানি আতঙ্কে, নতুন অনিশ্চয়তার মুখোমুখি

    কুয়েতে ৫২ হাজার ইরানি আতঙ্কে, নতুন অনিশ্চয়তার মুখোমুখি

    কুয়েতে বসবাসরত ইরানিরা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে ক্রমেই চাপ ও উদ্বেগের মধ্যে পড়ছেন। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর কুয়েতেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে দেশটিতে বসবাসরত প্রায় ৫২ হাজার ইরানির ওপর। অনেকেই বলছেন, তারা দুই দেশের সংঘাতের মাঝখানে পড়ে গেছেন এবং শুধু শান্তিতে বসবাস ও জীবিকা নির্বাহ করতে চান।

    যুদ্ধের প্রভাবের একটি দৃশ্যমান উদাহরণ কুয়েত সিটির একটি পারস্য রেস্তোরাঁ। চলতি বছরের শুরুতে রেস্তোরাঁটির নাম থেকে ‘ইরানিয়ান কুইজিন’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। ব্যবস্থাপনার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুদ্ধের পরিস্থিতিতে বিষয়টি স্পর্শকাতর হয়ে ওঠায় নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে রেস্তোরাঁটির ব্যবসা এখনো যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

    কুয়েতে বসবাসরত ইরানি নাগরিকদের মধ্যে কেউ মাছ ধরার নৌকা, সবজির বাজার ও বেকারিতে তুলনামূলক কম বেতনের কাজ করেন। আবার অনেকে কাপড় ও কার্পেটের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। রাজধানীর ঐতিহাসিক মুবারাকিয়া বাজারেও ইরানি ব্যবসায়ীদের বড় উপস্থিতি রয়েছে। তাদের অনেকের সঙ্গে স্থানীয় কুয়েতিদের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্কও রয়েছে।

    শিরাজের বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী এক ইরানি ব্যবসায়ী, যিনি নিরাপত্তার কারণে ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন, বলেন, তারা বহু বছর ধরে কুয়েতে বসবাস করছেন এবং দুই দেশের মধ্যে কোনো সমস্যা চান না। যুদ্ধের কারণে তিনি ইরানে থাকা মেয়ের কাছে ফিরতেও পারছেন না। ইরান ও কুয়েতের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ২৮ ফেব্রুয়ারি বন্ধ হয়ে যায়।

    যুদ্ধের আগে কুয়েত ও ইরানের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কও বেশ সক্রিয় ছিল। ২০২৪ সালে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০ কোটি ডলার। ইরান থেকে কুয়েতে খাদ্য ও কৃষিপণ্য, মাছ, কার্পেট এবং নির্মাণসামগ্রী রপ্তানি হতো। যুদ্ধের মধ্যেও মুবারাকিয়া বাজারের কয়েকজন ইরানি ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, কুয়েতি ক্রেতাদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এখনো ভালো রয়েছে।

    তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ইরানি সম্প্রদায়ের ওপর চাপ বেড়েছে। কুয়েতি কর্তৃপক্ষ ইরানের বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে যোগাযোগ বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সন্দেহে অভিযান ও গ্রেপ্তার চালাচ্ছে। গত মাসে দেশটির একমাত্র ইরানি স্কুলও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    এক ইরানি নাগরিক বলেন, তারা সরাসরি হয়রানির শিকার না হলেও সবার মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ কাজ করছে। আরেকজনের ভাষায়, ‘আমরা মাঝখানে পড়ে গেছি।’ একই সঙ্গে কুয়েতের স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ বলছেন, ইরানিরা দেশটির ইতিহাস ও সমাজের দীর্ঘদিনের অংশ; তাদের ছাড়া কুয়েতকে কল্পনা করা কঠিন।

    ফলে যুদ্ধের সামরিক অভিঘাতের পাশাপাশি কুয়েতে এর একটি সামাজিক প্রভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। দীর্ঘদিনের প্রতিবেশী ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের মধ্যে বসবাস করা ইরানি সম্প্রদায় এখন নিরাপত্তা, জীবিকা ও নিজেদের সামাজিক পরিচয়—তিন দিক থেকেই নতুন অনিশ্চয়তার মুখোমুখি।

  • অর্থনৈতিক যুদ্ধ টাস্ক ফোর্স গঠন করল ইরান

    অর্থনৈতিক যুদ্ধ টাস্ক ফোর্স গঠন করল ইরান

    চলমান সংঘাতের ফলে সৃষ্ট আর্থিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক যুদ্ধ টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে ইরান । দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম একথা জানিয়েছে।

    অর্থমন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতিষ্ঠিত এই টাস্ক ফোর্সের উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে সমন্বয় ও গতি আনা।

    ইরানে অর্থনীতি উপমন্ত্রী মুর্তজা জামানিয়ান বলেছেন, ব্যবসা, বাণিজ্য, অর্থায়ন এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উদ্ভূত সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত ও সমাধান করতে কাজ করছে মন্ত্রণালয়।

    জামানিয়ান জানান, প্রাথমিকভাবে টাস্কফোর্সটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব দায়িত্ব ও এখতিয়ারভুক্ত বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেবে। যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্য, অর্থায়নসহ অর্থনীতির অন্যান্য খাতে যেসব সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেগুলো দ্রুত মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতার মধ্যে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    তবে কিছু সমস্যা মন্ত্রণালয়ের একক এখতিয়ারের বাইরে চলে যেতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সেসব ক্ষেত্রে সরকারের বৃহত্তর অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণী কাঠামোয় মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা কাজে লাগানো হবে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারের অর্থনৈতিক কমিশন ও অর্থনৈতিক সদর দপ্তর। এসব কাঠামোর মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।

    একাধিক সরকারি সংস্থার সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন—এমন কোনো সমস্যা যাতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে না থাকে, তা নিশ্চিত করাও টাস্কফোর্সটির অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে যুদ্ধকালীন অর্থনৈতিক সংকট দ্রুত মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞা এবং বর্তমান যুদ্ধের কারণে ইরানের অর্থনীতি প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছে। তেহরানকে আরো বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে দেশটির ওপর অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

  • মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে ইসরাইলে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান

    মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে ইসরাইলে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান

    ইসরাইলের বিরুদ্ধে সমন্বিত হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। একই সময়ে একাধিক দিক থেকে হামলা চালাতে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের গাজার হামাস, ইয়েমেনের হুথি এবং ইরাকের ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

    ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট রোববার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

    সংবাদমাধ্যমটির ভাষ্য, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ইরানের এই পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে পেরেছেন ইসরাইলি কর্মকর্তারা।

    জেরুজালেম পোস্ট বলেছে, আরব সংবাদমাধ্যমগুলোর বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইঙ্গিত মিলেছে, ইরান এবার ইসরাইলের বিরুদ্ধে একাধিক ফ্রন্ট খুলতে চাইছে। অর্থাৎ একই সময়ে বিভিন্ন দিক থেকে ইসরাইলে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

    এ লক্ষ্যে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের কুদস ফোর্সের কর্মকর্তারা সম্প্রতি হিজবুল্লাহ, হুথি ও ইরাকের ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে উত্তেজনা বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

    ২০২৩ সালের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা

    ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলের ভূখণ্ডে বড় ধরনের হামলা চালায় হামাস। ওই হামলার আগে ইরান বা হিজবুল্লাহকে বিষয়টি জানানো হয়নি। হামাস একাই ওই হামলা চালিয়েছিল।

    হামাসের ওই হামলার সময় ইরান ও হিজবুল্লাহ একসঙ্গে সমন্বিতভাবে হামলা চালায়নি। এবার সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনায় সেই বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত অভিবাসীদের গ্রহণ করবে গায়ানা

    যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত অভিবাসীদের গ্রহণ করবে গায়ানা

    যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত কিছু অভিবাসীকে গ্রহণ করতে সম্মত হয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ গায়ানা। শনিবার দেশটির সরকার এ বিষয়ে একটি চুক্তির কথা জানিয়েছে।

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় হোয়াইট হাউসে ফেরার পর তার প্রশাসন অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান শুরু করে। এর অংশ হিসেবে নিজ দেশের পরিবর্তে অভিবাসীদের ‘তৃতীয় কোনো দেশে’ পাঠানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

    গায়ানা জানিয়েছে, যেসব বহিষ্কৃত অভিবাসীর কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই, তাদের মধ্যে সীমিতসংখ্যককে তারা গ্রহণ করবে।

    গায়ানার প্রেসিডেন্ট ইরফান আলির কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘সরকার এই ব্যবস্থাকে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে গায়ানার দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারের সম্প্রসারণ হিসেবে দেখছে।’

    মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের আরো কয়েকটি দেশও যুক্তরাষ্ট্রের এই বহিষ্কার কার্যক্রমে সহযোগিতায় সম্মত হয়েছে। এর আওতায় ২৫০ জন ভেনেজুয়েলানকে এল সালভাদরের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারাগার সেকোটে পাঠানো হয়েছে।

    তবে গায়ানা বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই ব্যবস্থা ‘সাময়িক এবং এর মাধ্যমে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না।’

    কর্মকর্তারা আরো জানিয়েছেন, অভিবাসীদের ‘স্বেচ্ছায় গায়ানায় স্থানান্তর করা হবে’ এবং সেখানে অবস্থান করেই তারা নিজেদের অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকবেন।

    সিদ্ধান্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হয় নিজ দেশে ফিরে যাবেন অথবা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী অন্য কোনো দেশে চলে যাবেন।

  • ইরান যুদ্ধ ২০২৭ পর্যন্ত চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন

    ইরান যুদ্ধ ২০২৭ পর্যন্ত চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ইরান যুদ্ধকে স্বল্পমেয়াদি ও দ্রুত শেষ করার কথা বলেছিলেন, সেই যুদ্ধ এখন দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পথে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা সেনাদের অবস্থান ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে । ফলে ট্রাম্পের ঘোষিত দ্রুত বিজয়ের বদলে ইরান সংঘাত দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    এখন মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। তাদের সঙ্গে রয়েছে ১৯টি যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান, বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট এবং প্যারাট্রুপার। এসব বাহিনীর অনেক সদস্য ও সামরিক ইউনিটকে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দীর্ঘ সময় ওই অঞ্চলে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের পরিকল্পনায় এই দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের বিষয়টি সামনে এসেছে। এর ফলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ২০২৭ সাল পর্যন্ত কোনো না কোনোভাবে চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন—এমন ইঙ্গিত মিলছে।

    তবে ট্রাম্প এখনো প্রকাশ্যে যুদ্ধকে দীর্ঘমেয়াদি করার কথা বলছেন না। বরং তিনি ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখে দেশটির সরকারকে ছাড় দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সম্প্রতি সংঘাতকে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করতেও আপত্তি জানিয়েছেন। তবে একই সময়ে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

    দীর্ঘদিন ধরে সেনা মোতায়েন রাখায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপরও চাপ বাড়ছে। যুদ্ধজাহাজের দীর্ঘ মেয়াদের দায়িত্ব, সেনাদের ক্লান্তি, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

    ইরান যুদ্ধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের কারণে এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দামও বেড়েছে।

    গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর সামরিক হামলার পাশাপাশি কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়িয়ে দেশটির সামরিক ও পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা। কিন্তু এখন পর্যন্ত ইরানকে বড় ধরনের ছাড় দিতে বাধ্য করা সম্ভব হয়নি।

    বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত দীর্ঘ হলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ওপর নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে তেল সরবরাহ ও জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

    ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ কতদিন চালিয়ে যাওয়া হবে এবং কীভাবে এই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসা যাবে। দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাত যদি ২০২৭ সাল পর্যন্ত গড়ায়, তাহলে এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক—তিন দিক থেকেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

  • ধসে পড়ল পাঁচতলা ভবন, বহু শিক্ষার্থী আটকে পড়ার আশঙ্কা

    ধসে পড়ল পাঁচতলা ভবন, বহু শিক্ষার্থী আটকে পড়ার আশঙ্কা

    ভারতের রাজধানী দিল্লির সত্য নিকেতনে একটি ছয়তলা ভবন ধসে বেশ কয়েকজনের আটকা পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে অন্তত চারজনকে । ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে।

    ভবনটি পেইং গেস্ট থাকার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় রোববার দুপুর সাড়ে ১টার দিকে ভবনটি ধসে পড়ে।

    এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ভবন ধসের সময় সেখানে অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোববার হওয়ায় তাদের বেশির ভাগই ‘বাড়িতে’ ছিলেন বলে জানান তিনি।

    ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক শিক্ষার্থী বার্তা সংস্থা এএনআইকে জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিনি সাহায্যের জন্য মানুষের চিৎকার শুনতে পেয়েছেন।

    ঘটনাস্থলের ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, ভবনটি ধসে পড়ার পর সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে কাজ করছেন দমকলকর্মীরা। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি কংক্রিটের একটি স্ল্যাবের নিচে আটকে আছেন। তাকে উদ্ধারে আশপাশের কয়েকজন মিলে স্ল্যাবটি সরানোর চেষ্টা করছেন।

    উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে দমকল বাহিনীর অন্তত ১২টি গাড়ি । দমকল বাহিনীর সঙ্গে কাজ করতে দুর্যোগ মোকাবিলা দলের সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে।

    দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে অবস্থিত সত্য নিকেতন এলাকায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর বসবাস। ভবন ধসের খবর পেয়ে বেশ কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধারকারীদের সহায়তা করছেন।

  • গাজা যুদ্ধে ইসরাইলকে ১২৫ মিলিয়ন ডলার  সহায়তা করছে মাইক্রোসফট

    গাজা যুদ্ধে ইসরাইলকে ১২৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তা করছে মাইক্রোসফট

    গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরুর প্রথম বছরেই ইসরাইলের সঙ্গে প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের চুক্তি করেছিল মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইল-হামাস যুদ্ধ শুরুর পর ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে মাইক্রোসফটের ক্লাউড কম্পিউটিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

    মাইক্রোসফটের ‘অ্যাজুর’ ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম ইসরাইলি সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়েছে বলে এর আগে একাধিক অনুসন্ধানেও উঠে এসেছে। বিশেষ করে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং দ্রুত ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

    গাজা যুদ্ধের প্রথম বছরে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মাইক্রোসফটের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরো গভীর হয়। ওই সময় প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ক্লাউড ও এআই-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নেয়।

    মাইক্রোসফটের প্রযুক্তি কীভাবে ইসরাইলি সামরিক অভিযানে ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কোম্পানির কিছু কর্মী ইসরাইলকে প্রযুক্তি সরবরাহ বন্ধের দাবিতে প্রতিবাদ করেছেন। এ নিয়ে কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

    বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, যুদ্ধের সময় ক্লাউড কম্পিউটিং ও এআই প্রযুক্তি শুধু তথ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত হচ্ছে না; বরং সামরিক গোয়েন্দা কার্যক্রম, নজরদারি এবং লক্ষ্য নির্ধারণের মতো কাজেও এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে। এ কারণে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর যুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে।

    ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক ফোনকল ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ব্যবহার করেছে। এসব তথ্য সামরিক অভিযানে কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অধিকারকর্মীরা।

    মাইক্রোসফট অবশ্য তাদের প্রযুক্তি ইসরাইলকে সরবরাহের বিষয়টি অস্বীকার করেনি। তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে বলা হয়েছে, তারা তাদের প্রযুক্তির অপব্যবহারের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। কোনো নির্দিষ্ট সেবা আন্তর্জাতিক আইন বা কোম্পানির নীতিমালা লঙ্ঘন করে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

    এদিকে ইসরাইলের সঙ্গে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক আরো জোরালো হয়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সরাসরি অস্ত্র তৈরি না করলেও তার ক্লাউড, এআই ও তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো যদি সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হয়, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের দায় কতটা—এ বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

    গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি নিহত এবং ব্যাপক অবকাঠামো ধ্বংসের প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তি সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর ভূমিকা নিয়ে এই বিতর্ক আরো তীব্র হয়েছে। ফলে মাইক্রোসফটের ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের চুক্তির তথ্য শুধু একটি ব্যবসায়িক চুক্তির বিষয় নয়; বরং যুদ্ধ, প্রযুক্তি ও করপোরেট দায়বদ্ধতার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

  • ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদে ইসরাইলি প্রচেষ্টার নিন্দা ৮ মুসলিম দেশের

    ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদে ইসরাইলি প্রচেষ্টার নিন্দা ৮ মুসলিম দেশের

    গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার বিষয়ে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তানসহ আটটি মুসলিম দেশ।

    পাকিস্তান, মিসর, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ফিলিস্তিনি জনগণকে যেকোনো অজুহাতে বাস্তুচ্যুত করার লক্ষ্যে নেওয়া সব ধরনের প্রচেষ্টা বা পরিকল্পনা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা জানান। বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর।

    এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, ইসরাইলি মন্ত্রীদের এসব উসকানিমূলক বক্তব্য ও প্রস্তাব আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতিমালা, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনকে সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করে। একই সঙ্গে এসব বক্তব্য ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ ও অবিচ্ছেদ্য অধিকারের জন্য সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরান বলল, সবে শুরু করলাম

    যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরান বলল, সবে শুরু করলাম

    ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, দেশটির ওপর নতুন হামলার জবাব হবে ‘আরও দ্রুত, আরও ভারী ও আরও যন্ত্রণাদায়ক’। রোববার পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। খবর আলজাজিরার।

    গালিবাফ জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব আর ‘সমানুপাতিক’ হবে না। তিনি আরো বলেন, “আমেরিকানরা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছে যে ‘আনুপাতিক প্রতিক্রিয়ার’ যুগ শেষ হয়ে গেছে”।

    তিনি আরো বলেন, “আগ্রাসীদের ঘাঁটির বিরুদ্ধে আমাদের সাম্প্রতিক অভিযানগুলো ছিল কেবল শুরু। তারা যদি এখনও তা বুঝতে না পারে, তবে খুব দেরি হওয়ার আগেই তাদের বুঝতে হবে যে খেলার নিয়ম বদলে গেছে।”

    তিনি বলেন, ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে যেভাবে সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে পরাজিত করেছে, ঠিক সেভাবেই তাদের অর্থনৈতিক অভিযানকেও পরাজিত করবে।

  • ভারতে সার্কিট হাউজে নামাজ পড়ায় পুলিশের মামলা

    ভারতে সার্কিট হাউজে নামাজ পড়ায় পুলিশের মামলা

    ভারতের উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদের সার্কিট হাউসে নামাজ আদায়ের অভিযোগে সমাজবাদী পার্টির জেলা সহসভাপতি হাজি মোহাম্মদ উসমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৮৫ ও ২৯২ ধারায় মামলা করা হয়েছে।

    একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পার্ক করা গাড়ির পেছনে উসমান নামাজ আদায় করছেন। পুলিশের দাবি, এতে সার্কিট হাউসে যানবাহন ও মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়। তবে ভিডিওতে অন্য কোনো ব্যক্তি বা যানবাহনের চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে দেখা যায়নি।

    উসমান সমাজবাদী পার্টির বিধায়ক মোহাম্মদ ফাহিম ইরফানের চাচা। দলীয় নেতাদের সঙ্গে উত্তরপ্রদেশ বিধান পরিষদের বিরোধীদলীয় নেতা লাল বিহারি যাদবের বৈঠকে যোগ দিতে তিনি সার্কিট হাউসে গিয়েছিলেন।

    পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের সহকারী প্রকৌশলী অনিত কুমারের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআরটি করা হয়। এর আগে নামাজের ভিডিওকে কেন্দ্র করে স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর প্রদেশ সরকার সড়কে নামাজ পড়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করলেও সরকারি স্থাপনায় নামাজ পড়া বেআইনি নয়।

    সূত্র: দ্য ওয়্যার

  • গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০০ লাশ উদ্ধার

    গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০০ লাশ উদ্ধার

    গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১০০টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা লাশের অধিকাংশই শিশুদের। এসব লাশ এখন গণদাফনের প্রস্তুতি চলছে।

    জেইতুন এলাকায় তিন বছর ধরে বারবার হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর ওই এলাকার কয়েকটি আবাসিক ভবনে ইসরাইলি বাহিনী বোমা হামলা চালায়। হামলা থেকে বেঁচে যারা পরে এসব ভবনে আশ্রয় নিয়েছিলেন, পরবর্তী কয়েক মাসে তারাও হামলার শিকার হন। এসব হামলায় নিহত ব্যক্তিদের লাশ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ছিল। দীর্ঘ সময় পর সম্প্রতি সেখান থেকে ১০০টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, উদ্ধার করা লাশের বেশির ভাগই শিশুদের।

    লাশ উদ্ধারের পর জেইতুন এলাকায় এখন গণদাফনের প্রস্তুতি চলছে। নিহত ব্যক্তিদের লাশ নিয়ে শোকযাত্রার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

    ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেইতুনের যে এলাকায় এখন দাফনের প্রস্তুতি চলছে, সেখানে প্রায় তিন বছর ধরে ইসরাইলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে।

  • ভারতের বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে  মাদরাসা

    ভারতের বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে মাদরাসা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ভারতের উত্তরাখণ্ডে একের পর এক মাদরাসা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এরইমধ্যে ২০টি মাদরাসা বন্ধ করে দিয়েছে উত্তরাখণ্ড সরকার। অজুহাত হিসেবে প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছে, এসব মাদরাসার অনুমোদন নেই এবং এগুলোতে মানসম্মত শিক্ষা দেওয়া হয় না।

    এরই ধারাবাহিকতায় দেরাদুন ও হালদোয়ানিতে কয়েকটি মাদরাসা সিলগালা করেছে প্রশাসন। উত্তরাখণ্ডের সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের বিশেষ সচিব পরাগ মধুকর ধাকাতে জানিয়েছেন, দেরাদুনে তিনটি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আজাদ কলোনিতে অবস্থিত মাদ্রাসা জামিয়া-তুস-সালাম আল-ইসলামিয়া সিলগালা করা হয়েছে। একই এলাকার মাজরায় অবস্থিত মাদ্রাসা দার-ই-আরকাম এবং মাদ্রাসা দারুল উলুম রহিমিয়ার কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে জানিয়েছে, তারা প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।

    ঢাকাতে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত রাজ্যে ১৭টি মাদ্রাসা সিলগালা করা হয়েছে। আরো তিনটি প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে কার্যক্রম বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ফলে রাজ্যে মোট ২০টি মাদরাসার কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।’

    এদিকে, নৈনিতাল জেলার হালদোয়ানিতেও একই ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে। শহরের গৌজাজালি নর্থের শনি বাজার রোডে অবস্থিত মাদরাসা জামিয়া নূরিয়া বরকাতে আমিনা এবং বানভুলপুরার ইন্দিরা নগরের আরেকটি মাদরাসা সিলগালা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

    হালদোয়ানির সিটি ম্যাজিস্ট্রেট এ বি বাজপেয়ী জানান, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতিসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত নথিপত্র উপস্থাপন করতে না পারায় নিয়ম অনুযায়ী সিলগালার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি নির্দেশ দিয়েছেন, রাজ্যে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেন নির্ধারিত বিধি ও স্বীকৃতির শর্ত পূরণ না করে পরিচালিত না হয়।সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • হোটেল সংকটে কলকাতার রাস্তায় রাত কাটাচ্ছেন বাংলাদেশি রোগীরা

    হোটেল সংকটে কলকাতার রাস্তায় রাত কাটাচ্ছেন বাংলাদেশি রোগীরা

    কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ঘটনার পর পুরো এলাকা এখনো থমথমে। চিকিৎসা ও ব্যবসার কারণে বহু বাংলাদেশি সেখানে আছেন। কিন্তু পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

    উল্টো মানুষের ভোগান্তি আরো বেড়েছে। নিউমার্কেট এলাকায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর বাংলাদেশি রোগী ও তাদের স্বজনরা সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন। অনেক ক্যান্সার রোগীকে নিয়ে তাদের স্বজনরা এখন কলকাতার ফুটপাতেই রাত কাটাচ্ছেন।

    শুধু বাংলাদেশিরাই নন, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষজনও একই সমস্যায় পড়েছেন। তাদেরও বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকতে হচ্ছে।গত ১৮ আগস্ট মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় সাতজন বাংলাদেশি ও দুজন ভারতীয় মারা যান। এরপর প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নেয়। কলকাতা পুরসভা শহরের ৭০০টির বেশি হোটেল ও গেস্টহাউসকে নোটিশ পাঠিয়েছে। নিয়ম না মানায় প্রশাসন এসব হোটেল খালি করার নির্দেশ দিয়েছে। সেখানে নতুন অতিথি রাখাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর ফলে থাকার জায়গা পাচ্ছেন না দুই বাংলার মানুষ। গত কয়েক দিন ধরে ঠাকুরপুকুর ক্যান্সার হাসপাতাল চত্বরে রোগী ও স্বজনদের ভিড় দেখা যাচ্ছে।

    অনেকেই বৃষ্টির মধ্যে লাগেজ নিয়ে রাস্তার পাশে রাত কাটাচ্ছেন।হোটেল না পেয়ে চরম হতাশায় ভুগছেন বাংলাদেশিরা। এই বিপদের সুযোগ নিচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। ঢাকার একজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হোটেলওয়ালারা সুযোগ পেয়ে টাকা লুটে নিচ্ছে, আর কোনোদিন কলকাতায় আসব না। অন্য এক রোগীর স্বজন বলেন, ক্যান্সার একটি জটিল রোগ। কেমোথেরাপি নেওয়া রোগীদের হাসপাতালের কাছে থাকা জরুরি। কিন্তু এখন হোটেল না পেয়ে তারা খুব কষ্টে আছেন। আরেক বাংলাদেশি জানান, তারা সঠিক নিয়ম মেনে ভিসা ও ট্যাক্স দিয়ে এসেছেন। কলকাতায় এমন সমস্যা থাকলে তাদের আগে জানানো উচিত ছিল। এক মহিলা জানান, তার রোগী হাসপাতালে ভর্তি, আর তিনি রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন। এলাকায় কোনো শৌচালয় না থাকায় তাদের কষ্ট আরো বেড়েছে।

    আরেকজন বাংলাদেশি অভিযোগ করেন, তাকে হঠাৎ করেই হোটেল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় থানাকে জানিয়েও কোনো সাহায্য পাওয়া যায়নি। রোগীকে ছেড়ে দেশে ফেরাও সম্ভব নয়। ঠাকুরপুকুর হাসপাতালে তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসা হয়। আশপাশের গেস্টহাউসগুলোতেও খরচ কম। কিন্তু এখন সেখান থেকে বের করে দেওয়ায় রোগীরা বিপাকে পড়েছেন। প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ হাজার রুপি দিয়ে বড় হোটেলে থাকা অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়।

    ঠাকুরপুকুরের এক গেস্টহাউস মালিক জয়ন্ত সাউ জানান, ইচ্ছা থাকলেও মুমূর্ষু রোগীদের তারা জায়গা দিতে পারছেন না। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের সময় যেমন মানুষকে সরিয়ে ত্রাণশিবিরে রাখা হয়, এখানেও সরকারের তেমন অস্থায়ী ব্যবস্থা করা উচিত। এরই মধ্যে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ঠাকুরপুকুর ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টার। তাদের জায়গা সীমিত হলেও, তারা সর্বোচ্চ ৫৫ জনকে হাসপাতালের ভেতরে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। তবে ভারত ও বাংলাদেশের আরো শতাধিক মানুষ এখনো রাস্তায় দিন কাটাচ্ছেন। তারা না পারছেন রোগীকে নিয়ে দেশে ফিরতে, না পাচ্ছেন থাকার মতো কোনো হোটেল। নিউমার্কেটের ঘটনার পর প্রশাসনের পদক্ষেপে চিকিৎসার জন্য আসা এই অসহায় মানুষগুলোর ভোগান্তি এখন চরমে পৌঁছেছে।

  • দিল্লিতে দুই মুসলিম নারী সাংবাদিককে থানায় নিয়ে নির্যাতন

    দিল্লিতে দুই মুসলিম নারী সাংবাদিককে থানায় নিয়ে নির্যাতন

    পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভারতের দিল্লিতে দুই মুসলিম নারী সাংবাদিক পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তাদের থানায় তুলে নিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়েছে। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ড-এর।

    শুধু তা-ই নয়, তারা মুসলিম জানার পর পুলিশ অত্যাচারের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয় বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো ভারতে এখন তীব্র ক্ষোভ ও নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

    ঘটনাটি ঘটে দিল্লির সাকেত এলাকায়। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা সেখানকার একটি হাসপাতালের অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম ‘৪পিএম নিউজ নেটওয়ার্ক’-এর সাংবাদিক শাহীন খান ও নাফিসা খান মুখ্যমন্ত্রীকে কিছু প্রশ্ন করার চেষ্টা করেন। এতেই বিপত্তি ঘটে। পুলিশ তাদের আটকে দেয় এবং ধরে সাকেত থানায় নিয়ে যায়।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা ভিডিওতে দেখা যায়, সাংবাদিক শাহীন খান শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখাচ্ছেন। নাফিসা খান ব্যথায় হাঁটতে পারছিলেন না, অন্যরা তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন।

    ভুক্তভোগীদের দাবি, থানায় তাদের লাঠি দিয়ে পেটানো হয় এবং থাপ্পড় মারা হয়। শাহীন জানান, তার নাম ‘খান’ শুনে পুলিশ ধর্ম জানতে চায়। এরপর ফোনে এক মুসলিম ব্যক্তির কল আসতে দেখে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলে ওঠেন, ও তো মুসলিম, ওকে আরও দুটো লাঠির বাড়ি বেশি মারো।

    তবে দিল্লি পুলিশ এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চলাচলের পথ আটকে দেওয়ার কারণেই তাদের থানায় নেওয়া হয়েছিল। মারধরের তথ্যটি সত্য নয় বলে দাবি করেছে পুলিশ।

    এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়তেই ভারতের সাংবাদিক সমাজ প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে। একাধিক সাংবাদিক সংগঠন দোষী পুলিশ কর্মকর্তাদের শাস্তি এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। ঘটনার বিচার চেয়ে দেশটির রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছেও আবেদন করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোও তোপ দেগেছে সরকারের দিকে। বিরোধী নেতারা বলছেন, দেশে এখন নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা করা এবং মুসলিম হওয়া যেন অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • দিল্লির বিমানবন্দরে ঢুকল পানি, থমকে গেছে বিমান চলাচল

    দিল্লির বিমানবন্দরে ঢুকল পানি, থমকে গেছে বিমান চলাচল

    হঠাৎ নামা মুষলধারে বৃষ্টিতে একদম নাজেহাল অবস্থা ভারতের রাজধানী দিল্লির। বৃষ্টির পানি এতটাই বেশি যে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গেটের সামনে জমে গেছে থইথই পানি। বাধ্য হয়ে যাত্রীরা প্যান্ট গুটিয়ে আর ট্রলি ঠেলে ঠেলে কোনোমতে বিমানবন্দরে ঢোকার চেষ্টা করছেন।

    বৃষ্টির দাপটে চরম বিপাকে পড়েছে বিমান চলাচলও। রানওয়েতে পানি জমে যাওয়া আর চারপাশ ঝাপসা হয়ে আসায় দিল্লিতে নামতে আসা ১১টি বিমানকে অন্য শহরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৫টি বিমান জয়পুরে, ৪টি লখনউতে এবং বাকি দুটি আহমেদাবাদ ও চণ্ডীগড়ে গিয়ে নামতে বাধ্য হয়।

    বিমানবন্দরে আটকে পড়া এক যাত্রী আক্ষেপ করে বলেন, জীবনেও কোনো বিমানবন্দরে এত পানি জমতে দেখিনি! আধা ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি, পানি একটু কমলেই গেটের দিকে যাব।

    শুধু বিমানবন্দরই নয়, দিল্লির বেশ কিছু নিচু রাস্তা ও ফ্লাইওভারের নিচেও পানি জমে গাড়ি চলাচল একদম থমকে গেছে। আবহাওয়া দপ্তর থেকে সবাইকে জরুরি সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। কোনো কাজে বাইরে বের হলে রাস্তার খবর নিয়ে বের হতে এবং ঝড়ের সময় বিদ্যুতের খুঁটির কাছ থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। আজ সারাদিনই শহর জুড়ে হালকা থেকে ভারী বৃষ্টি আর ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

  • জাতিসংঘে নতুন বিশ্ব মানচিত্র অনুমোদন, বদলে যাবে পৃথিবীর চেনা চেহারা

    জাতিসংঘে নতুন বিশ্ব মানচিত্র অনুমোদন, বদলে যাবে পৃথিবীর চেনা চেহারা

    দেশগুলোর প্রকৃত আপেক্ষিক আয়তন আরও সঠিকভাবে তুলে ধরে এমন একটি নতুন বিশ্ব মানচিত্র গ্রহণের পক্ষে ভোট দিয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। আফ্রিকার দেশগুলো শতাব্দীপ্রাচীন একটি বৈষম্য সংশোধনের আহ্বান জানানোর পর শুক্রবার এই ভোট অনুষ্ঠিত হয়। ‘কারেক্ট দ্য ম্যাপ’ নামে প্রস্তাবটি আফ্রিকান ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর পাশাপাশি বাহামা উত্থাপন করে। এতে বিপুল সমর্থন পাওয়া যায়। জাতিসংঘের ১৬৪টি সদস্য রাষ্ট্র প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। একমাত্র যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন।

    প্রস্তাবটির লক্ষ্য বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের একটি ‘ন্যায্য’ চিত্র তুলে ধরা, বিশেষ করে আফ্রিকার ক্ষেত্রে। এতে বলা হয়েছে, প্রচলিত বিশ্ব মানচিত্রের বিকৃত উপস্থাপনার কারণে মানুষের সামষ্টিক কল্পনায় আফ্রিকা ‘প্রতীকীভাবে খাটো’ হয়ে গেছে।
    বর্তমানে বিশ্বের অনেক মানচিত্রই ১৫৬৯ সালে ইউরোপীয় মানচিত্রবিদ জেরার্ডাস মার্কেটর প্রবর্তিত মার্কেটর প্রজেকশনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। নাবিকদের জন্য এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, কারণ এতে উত্তর-দক্ষিণের রেখাগুলো বিষুবরেখার তুলনায় প্রকৃত দিকনির্দেশ বজায় রাখে। তবে পুরো বিশ্বের মানচিত্র হিসেবে মার্কেটর প্রজেকশন কম কার্যকর। কারণ এতে বিভিন্ন দেশের আয়তন বিকৃতভাবে উপস্থাপিত হয়। বিষুবরেখা থেকে যত দূরের দেশ, মানচিত্রে তাদের তত বড় দেখায়।

    আরও পড়ুন:অন্যদিকে বিষুবরেখার কাছাকাছি দেশগুলো তুলনামূলক ছোট দেখায়। উদাহরণ হিসেবে মার্কেটর মানচিত্রে গ্রিনল্যান্ডকে দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের চেয়েও বড় এবং আফ্রিকার কাছাকাছি আয়তনের মনে হয়। বাস্তবে গ্রিনল্যান্ডের আয়তন প্রায় ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর সমান। আর আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড়। মার্কেটর প্রজেকশনের কিছু সমালোচক মনে করেন, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার মতো পশ্চিমা অঞ্চলগুলোকে তুলনামূলক বড় ও মানচিত্রের কেন্দ্রে দেখানোর কারণে এটি এখনো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাদের মতে, এর ফলে ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা টিকে থাকতে পারে।

    জাতিসংঘের প্রস্তাবে উদ্বেগের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে, এই বিকৃতি আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার আয়তন সম্পর্কে মানুষের ধারণাকে খাটো করতে এবং বিশ্ব সম্পর্কে একটি ভারসাম্যহীন দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, এই বিকৃতির কারণে দক্ষিণের দেশ ও অঞ্চলগুলোর আর্থসামাজিক বাস্তবতা, অবকাঠামোগত প্রয়োজন, উন্নয়নের সম্ভাবনা ও সমৃদ্ধির মাত্রাও মানুষের কাছে তুলনামূলকভাবে ছোট বলে মনে হতে পারে। একই সঙ্গে এটি পরিবেশ, ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তা নিয়ে নানা ধরনের পূর্বধারণা উসকে দিতে পারে। জাতিসংঘের প্রস্তাবে মার্কেটর প্রজেকশনের পরিবর্তে ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবে এটিকে জ্ঞানগত ন্যায়বিচার ও ঐতিহাসিক ক্ষতিপূরণের একটি পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশনে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রকৃত আপেক্ষিক আয়তন আরও সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়

    ২০১৮ সালে নর্থ আমেরিকান কার্টোগ্রাফিক ইনফরমেশন সোসাইটির সম্মেলনে ইকুয়াল আর্থ মানচিত্রের পরিচয় দেয়া হয়। এই মানচিত্রে ইউরোপকে তুলনামূলক ছোট দেখায়, ব্রাজিলকে বড় দেখায় এবং গ্রিনল্যান্ডের আয়তন নাটকীয়ভাবে কমে যায়। একই সঙ্গে আফ্রিকাকে তুলনামূলকভাবে অনেক বড় দেখা যায়। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল ব্যারো শুক্রবার ঘোষণা করেছেন, দেশটি ‘মার্কেটর প্রজেকশন পরিত্যাগ করবে’ এবং দেশগুলোর প্রকৃত আয়তন আরও সঠিকভাবে তুলে ধরে এমন মানচিত্র ব্যবহার করবে। ব্যারো বলেন, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা কিংবা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন মানচিত্রে দৃশ্যত অসম মাত্রায় বেশি গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, এই বিকৃতিগুলো ধীরে ধীরে মানুষের ধারণার অংশ হয়ে যায়। এখন সেগুলো সংশোধনের সময় এসেছে।

    আফ্রিকান ইউনিয়ন মার্চে ইকুয়াল আর্থ মানচিত্র গ্রহণ করার পর জাতিসংঘে এই উদ্যোগ আরও গতি পায়। এপ্রিলে আফ্রিকান ইউনিয়নের পক্ষে টোগো জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে একই পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানায়। এরপর প্রস্তাবটির একটি খসড়া তৈরি হয় এবং জুলাইয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এ নিয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করে।

  • জেন জি’র পর ভারতে জেন আলফার উত্থান

    জেন জি’র পর ভারতে জেন আলফার উত্থান

    জেন-জি আন্দোলনের পর এবার আন্দোলনে নেমেছে ভারতের কমপক্ষে ১০টি রাজ্যের স্কুলশিক্ষার্থীরা। মহারাষ্ট্র, বিহার, রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড ও মধ্যপ্রদেশসহ ১০টি রাজ্যে সরকারি স্কুলগুলোর দীর্ঘদিনের অবহেলায় জরাজীর্ণ অবস্থার প্রতিবাদে আন্দোলন করছে তারা।

    এই বিক্ষোভ শুধু ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যই চ্যালেঞ্জ নয়; তরুণদের সমর্থন ধরে রাখতে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারও সংগ্রাম করছে, তখন এগুলো সরকারের সামনে নতুন রাজনৈতিক পরীক্ষার ইঙ্গিতও দিচ্ছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।

    জুনের শুরু থেকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির প্রতিবাদস্থল হিসেবে পরিচিত যন্তর মন্তরে হাজার হাজার জেন জি বিক্ষোভকারী জড়ো হতে শুরু করেন। তাদের প্রধান দাবিগুলোর একটি ছিল একের পর এক আলোচিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা। এসব প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে বহু তরুণ ভারতীয় আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    কিন্তু মোদি সরকার বিক্ষোভকারীদের অভিযোগের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার পরিবর্তে তাদের বিদেশি শক্তির মদদপুষ্ট উগ্রপন্থী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করলে ক্ষমতাসীনদের প্রতি প্রশ্ন আরও বাড়তে থাকে। ভারতের ব্যাপক বেকারত্ব ও অপ্রতুল কর্মসংস্থানের সংকটও তখন বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে ওঠে।

    এই জনপ্রিয় যুব আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি। তারা শিক্ষাসংস্কারের দাবি জানানোয় মারধরের শিকার হয়। ক্ষোভ বাড়তে থাকলে এবং বিক্ষোভকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে মোদি সরকার পিছু হটে। মোদির ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন।

    সামুহি ভাটপুরওয়ার শিক্ষার্থীদের মতো স্কুলপড়ুয়ারা এখন এমন একটি কাজ করছে, যা ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে তুলনামূলকভাবে বিরল। তারা শিক্ষক ও কর্তৃত্বের অধিকারী ব্যক্তিদের প্রশ্ন করছে। জেন জির বিক্ষোভের পরপরই শুরু হওয়া এই নতুন প্রজন্মের আন্দোলনকে ব্যাপকভাবে ‘জেন আলফা আন্দোলনের’ সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ভারতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। দেশটিতে ১৫ লাখ স্কুলে প্রায় ২৪ কোটি ৭০ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। এর প্রায় ৭০ শতাংশ স্কুল কেন্দ্রীয়, রাজ্য বা স্থানীয় সরকার পরিচালনা করে। বাকি স্কুলগুলো পরিচালিত হয় দাতব্য সংস্থা বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দ্বারা। ২০২৫-২৬ সালের সরকারি স্কুল অডিটে শিক্ষার সুযোগ বাড়ার কথা বলা হয়েছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতেরও উন্নতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতি ২৪ শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক।

    একই সঙ্গে স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হারও কমছে বলে সরকারি তথ্য জানিয়েছে। ব্যাঙ্গালোরভিত্তিক শিক্ষা অধিকারকর্মী নাগসিমহা রাও বলেন, শিশুরা তাদের অধিকার দাবি করছে। তারা শিক্ষক, বেঞ্চ, স্কুল ভবন, পানীয় জল, বিদ্যুৎ ও শৌচাগার চায়।

    তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে দীর্ঘদিন ধরে স্কুল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক অবকাঠামো ও জনবল অনুপস্থিত। দেশের অধিকাংশ সরকারি স্কুলের চিত্র এমনই। সরকারি স্কুলগুলোর প্রসঙ্গ টেনে রাও প্রশ্ন করেন, এর কারণ কি এসব স্কুলে দরিদ্র শিশুরা পড়াশোনা করে? সরকারি স্কুলে মূলত অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিশুরাই পড়াশোনা করে।

  • সৌদির কাছে ৫ বিলিয়ন ডলারের বোমা বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

    সৌদির কাছে ৫ বিলিয়ন ডলারের বোমা বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

    ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধের মধ্যেই সৌদি আরবের কাছে সম্ভাব্য ৫ বিলিয়ন ডলারের বোমা, গাইডেন্স কিট ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে ওয়াশিংটন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বার্তা সংস্থা এএফপি’র অনলাইন প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    এনিয়ে শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, প্রস্তাবিত এই অস্ত্র বিক্রির উদ্দেশ্য সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদার করা। একই সঙ্গে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলায় দেশটির সক্ষমতা বাড়ানো এবং মার্কিন বাহিনী ও উপসাগরীয় অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে সমন্বয় উন্নত করাও এর লক্ষ্য।


    এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, এই প্যাকেজ সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য বাস্তবায়নেও সহায়তা করবে। দপ্তরটি সৌদি আরবকে ন্যাটোর সদস্য নয় এমন গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত অস্ত্র প্যাকেজে হাজার হাজার গাইডেন্স কিট ও বোমার পাশাপাশি ফিউজ, টার্গেট ডিটেক্টর, বিভিন্ন ধরনের কনটেইনার, সহায়ক সরঞ্জাম, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং কারিগরি সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।


    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে কংগ্রেসকে অবহিত করেছে। তবে চূড়ান্তভাবে অস্ত্র বিক্রি সম্পন্ন করতে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
    অর্থাৎ, শুক্রবারের এই অনুমোদন কোনো সম্পন্ন অস্ত্র চুক্তি নয়; বরং সৌদি আরবের কাছে সম্ভাব্য অস্ত্র হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার একটি ধাপ।

    চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে ইরানি বাহিনী এবং তেহরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে সৌদি আরব।

  • গ্রেট ব্রিটেন আর ‘গ্রেট’ নয়

    গ্রেট ব্রিটেন আর ‘গ্রেট’ নয়

    রাশিয়ার কর্মকর্তারা ও রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সম্প্রতি ইচ্ছাকৃতভাবে ‘গ্রেট ব্রিটেন’ ও ‘ইউনাইটেড কিংডম’ (যুক্তরাজ্য)-এর পরিবর্তে শুধু ‘ব্রিটেন’ নামটি ব্যবহার করছে।

    মাত্র কয়েক দশক আগেও ‘গ্রেট ব্রিটেন’ সম্পর্কে বলা হতো, ‘ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে সূর্য কখনো অস্ত যায় না।’ এখন এমন একটি দেশকেই কেন রুশ কর্মকর্তারা এভাবে শুধু ‘ব্রিটেন’ ডাকছেন, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে।

    ২০২৫ সালে রাশিয়ার কূটনৈতিক কার্যক্রমের ফলাফল পর্যালোচনা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওই বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ।

    লাভরভ এ ধরনের নতুন শব্দচয়ন (শুধু ব্রিটেন) করা নিয়ে বলেন, ‘কাউকে অপমান করা লক্ষ্য নয়, তবে আমার মনে হয় দেশটিকে এভাবেই ডাকা উচিত। কারণ, কোনো দেশ নিজেই নিজেকে ‘মহান’ বলে অভিহিত করে—এমন একমাত্র উদাহরণ হলো “গ্রেট ব্রিটেন”। আরেকটি উদাহরণ ছিল গ্রেট লিবিয়ান জামাহিরিয়া, কিন্তু সেই দেশ এখন আর নেই।’

    যদিও ‘গ্রেট’ শব্দটির ব্যবহার মূলত কোনো দেশের গুরুত্ব বা মহত্ত্ব বোঝানোর জন্য ছিল না; বরং ভৌগোলিক কারণে এটি গ্রহণ করা হয়েছিল। ফ্রান্সের ব্রিটানি অঞ্চল থেকে ব্রিটেনকে আলাদা করে চিহ্নিত করার জন্য ‘গ্রেট ব্রিটেন’ নাম রাখা হয়েছিল।

    রাশিয়ার শব্দচয়নে এ হঠাৎ পরিবর্তন যে নিছক কূটনৈতিক কৌশল নয়, বরং রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন, তা কিন্তু স্পষ্ট। সেই সঙ্গে এটি রাশিয়ার কাছে দেশটির ভাবমূর্তি ও অবস্থান সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গির একটি মৌলিক পরিবর্তন নির্দেশ করে।

    যুক্তরাজ্যে রুশ রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেই কেলিনের কূটনৈতিক দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে মস্কো আর কাউকে লন্ডনে নিয়োগ দেয়নি। এ নিয়ে দ্য টাইমসের একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর মস্কো-লন্ডন কূটনৈতিক সম্পর্কের মর্যাদা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়েছে।

    রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, লন্ডনের আচরণের কারণে দুই দেশের সম্পর্কের মান এরই মধ্যে সর্বকালের নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।

    অন্যদিকে রাশিয়ায় নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত নাইজেল কেসি দুই দেশের মধ্যকার বর্তমান পরিস্থিতি বা সম্পর্ক স্থিতাবস্থায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। তবে এটা একেবারে স্পষ্ট যে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপ ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।

    কূটনৈতিক সম্পর্কের মর্যাদা কমিয়ে দেওয়া মানে শুধু রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে তাঁর দায়িত্ব ‘চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স’ নামে পরিচিত নিম্নপদস্থ কোনো কূটনীতিকের হাতে তুলে দেওয়া নয়। এর মাধ্যমে অন্য পক্ষের পররাষ্ট্রনীতির প্রতি অসন্তোষের একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হয় এবং দুদেশের সম্পর্ককে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়।

    ভবিষ্যতে এর চেয়েও গুরুতর পরিস্থিতি হলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন হয়ে যেতে পারে, যা সাধারণত সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরুর সময় ঘটে থাকে। এমন কিছু হলে তা বৈশ্বিক রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুতর হতে পারে।

    দোষ কার

    রুশ সাম্রাজ্যের সময় গ্রেট ব্রিটেন ছিল বিশ্বের নেতৃস্থানীয় পরাশক্তি। ক্রিমিয়ার যুদ্ধ (১৮৫৩–১৮৫৫) চলাকালে রাশিয়ার বিরুদ্ধে শত্রুভাবাপন্ন একটি জোট গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ব্রিটেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। একই সঙ্গে মধ্য এশিয়ায় রাশিয়ার প্রভাব দুর্বল করার জন্যও দেশটি ধারাবাহিকভাবে কিছু নীতি অনুসরণ করেছিল। এই ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সূত্র ধরেই ‘দ্য গ্রেট গেম’ নামে ভূরাজনৈতিক পরিভাষারও জন্ম হয়।

    ১৯০৫ ও ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের মধ্যবর্তী সময়ে রাশিয়ার রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর করতে লন্ডন তার সাধ্যের সবটুকুই করেছিল।

    সবশেষে, সোভিয়েত যুগে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল তাঁর বিখ্যাত ‘ফুলটন ভাষণ’ দেন। এ ভাষণকেই শীতল যুদ্ধের সূচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে ধরা হয়। এর আগে তাঁর সরকার ‘অপারেশন আনথিঙ্কেবল’ পরিকল্পনা কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছিল। পরিকল্পনায় সোভিয়েত সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক হামলা চালানোর কথা ভাবা হয়েছিল।

    আর বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ‘কৌশলগত পরাজয়’ ঘটাতে কিয়েভের চেষ্টায় লন্ডন যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। ইউক্রেনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়ে চুক্তি সই করার পাশাপাশি ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর অনানুষ্ঠানিক নেতৃত্ব দিচ্ছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে সমঝোতা ঠেকাতে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তাদের সাধ্যমতো সবকিছুই করছে।

  • থাইল্যান্ডে নেমেই মাতলামি মার্কিন নাবিকদের

    থাইল্যান্ডে নেমেই মাতলামি মার্কিন নাবিকদের

    ইরান যুদ্ধে মোতায়েনসহ টানা ২৮৬ দিন সমুদ্রে কাটানোর পর থাইল্যান্ডের বন্দরে নোঙর করেছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’। তবে সেখানে পৌঁছানোর পরই মাতাল অবস্থায় এক মারামারির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই মার্কিন সেনাকে জাহাজে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

    পরিচয় প্রকাশ না করা ওই দুই সেনাসদস্যকে এখন পাঁচ দিনের পাতায়া অবস্থানের বাকি সময়টুকু জাহাজেই থাকতে হবে। সমুদ্রতীরের অবকাশযাপনকেন্দ্র পাতায়া থাইল্যান্ডের ‘সিন সিটি’ নামে পরিচিত।

    স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম ‘এমএস নাও’ জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার এক থাই নাগরিক জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করে জানান, শহরের একটি পানশালার কাছে রাত দেড়টায় দুই মার্কিন সেনা মারামারিতে জড়িয়েছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরপর ওই দুজনকে শহরের ‘হ্যার্ড রক ক্যাফে’-তে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র-থাইল্যান্ড যৌথ অপারেশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁদের আবার বিমানবাহী রণতরিতে ফেরত পাঠানো হয়।

    গণমাধ্যমটির সঙ্গে আলাপকালে এক থাই কর্মকর্তা এ ঘটনাকে ‘সামান্য’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, ওই দুই সেনা মদ্যপ ছিলেন এবং মারামারি আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করা হয়েছিল।

    এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মার্কিন নৌবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ইনডিপেনডেন্ট। চলমান ইরান যুদ্ধকালীন দায়িত্ব পালন শেষে গত বুধবারই পাতায়ায় নোঙর করে নিমিটজ-শ্রেণির রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন।

    দীর্ঘ প্রায় ৯ মাস সমুদ্রে অবস্থানের পর রণতরিটি বন্দরে ফিরেছে। গত নভেম্বরে শুরু হওয়া রণতরির এ মিশন চলতি বছরের মে মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

    বিশাল যুদ্ধজাহাজটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনামে আসে। জাহাজে থাকা ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সেনার রসদ ঘাটতি এবং মানসিক স্বাস্থ্যের সংকটের খবর প্রকাশ্যে আসার পর শুরু হয় নানা আলোচনা।

    এমনকি কয়েকজন সেনা জাহাজ থেকে সাগরে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টাও করেন বলে ‘দ্য মিলিটারি টাইমস’কে জানিয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। সাগরে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করা এক নাবিকের স্ত্রী বলেন, ‘এভাবেই ওর ১৩ বছরের ক্যারিয়ারটা চোখের সামনে শেষ হয়ে গেল।’ ওই নাবিককে বর্তমানে চিকিৎসার জন্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

    অবশ্য গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ যুদ্ধজাহাজের এমন শোচনীয় অবস্থার খবরকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ওই নাবিকদের প্রতি আমার সর্বোচ্চ সম্মান ও কৃতজ্ঞতা রয়েছে। বন্দরে ভেড়ার সুযোগ না পেয়েও উত্তাল সাগরের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তাঁরা যা করেছেন, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।’

    থাইল্যান্ডের পাতায়ার ওয়াকিং স্ট্রিটে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের এক সেনাসদস্যকে এলইডি ডিসপ্লের সামনে একটি প্যাঁচার সঙ্গে

    ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের সেনারা চলতি সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত পাতায়ায় অবকাশযাপনের সুযোগ পাবেন। শহরটির মূল সড়কজুড়ে রয়েছে অসংখ্য ক্লাব, পানশালা, ট্যাটু শপ ও যৌনকর্মীদের আনাগোনা।

    রিয়ার অ্যাডমিরাল রবার্ট লাফরান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘লেম চাবাংয়ে আমাদের আগমন নাবিক ও মেরিন সেনাদের জন্য বিশ্রাম ও নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করার একটি দারুণ সুযোগ এনে দিয়েছে।’

    দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, বেসামরিক পোশাকে কিছু সেনাকে বিয়ার খেতে, কয়েক ডলার খরচ করে বিদেশি সাপ নিয়ে খেলা করতে এবং নিজ দেশের চেনা স্বাদ নিতে বার্গার কিংয়ের দিকে যেতে দেখা গেছে। রণতরি থেকে নামার সময় এক সেনার অনুভূতি ছিল, ‘দারুণ লাগছে।’

  • গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে মিলল ৫৫ জনের মরদেহ

    গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে মিলল ৫৫ জনের মরদেহ

    গাজা সিটির জয়তুন এলাকায় একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৫৫ জনের মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স। নিহত সবাই মালকা পরিবারের সদস্য।

    ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, ৭২ ঘণ্টা ধরে মালকা পরিবারের ৬০ জনের বেশি সদস্যের মরদেহের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। এর মধ্যে বেশির ভাগের দেহাবশেষের সন্ধান পাওয়া গেছে।

    প্রায় দুই বছর আগে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের সময় মালকা পরিবারের সদস্যরা ওই ভবনটিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধারের পর আগামী সপ্তাহের শুরুতে মালকা পরিবারের সদস্যদের একটি যৌথ জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

  • নেপালে সুড়ঙ্গ থেকে ১০ দিনের মাথায় এক চীনা নাগরিক জীবিত উদ্ধার

    নেপালে সুড়ঙ্গ থেকে ১০ দিনের মাথায় এক চীনা নাগরিক জীবিত উদ্ধার

    হিমবাহধসে নেপালে সৃষ্ট ঢলের দশম দিনের মাথায় আজ শনিবার ত্রিশূলী–১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে এক চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নেপাল সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র এএফপিকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত বলেন, ‘এইমাত্র আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গ থেকে একজন চীনা নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে।’

    এর আগে গতকাল শুক্রবার সকালে ত্রিশূলী–৩–এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে দুই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাঁরা দুজনই নেপালের নাগরিক। তাঁদের একজন সঞ্জয় শাহ, অন্যজন কবির মহারাজন।

    দুজনকে জীবিত উদ্ধারের পর নেপাল বিদ্যুৎ বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সুরেশ রাউত বলেছিলেন, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। সুড়ঙ্গের ভেতরে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁদের উদ্ধারেও অভিযান চলছে।

    নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে গতকাল জানিয়েছে, দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে উদ্ধার হওয়া কবির মহারাজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁকে কাঠমান্ডুর আর্মি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। সঞ্জয় শাহরও একই হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।

    জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গের একদম ভেতর থেকে চীনা নাগরিককে উদ্ধার করে আনা হচ্ছে। ছবিটি নেপালের সেনাবাহিনী প্রকাশ করেছে।

    দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ এক বিবৃতিতে বলেছিলেনন, ‘যতক্ষণ শ্বাস আছে, ততক্ষণ আশা আছে! ক্ষতিগ্রস্ত সব টানেলেই উদ্ধার অভিযান চলছে। সবার প্রচেষ্টা ও প্রার্থনা অব্যাহত থাকুক। আমরা আশা হারাইনি।’

    ২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্তের একটি পাহাড়ে বিশাল হিমবাহ ও পাথরের ধসের পর কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত ওই অঞ্চল দিয়ে বয়ে যায়। এর পর থেকে নিখোঁজ হন শত শত জলবিদ্যুৎকর্মী। তাঁদের মধ্যে গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলো।

    দেশটির জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা বলছে, এই দুর্যোগে এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৩৪৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আর নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ৮৩ জনের বেশি।

    এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দুর্যোগে তিব্বত অংশে ৩১ জন নিহত হয়েছে। ৫৩১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

    এ নিয়ে দুই দেশে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ৩৭৫ জনে এবং নিখোঁজের সংখ্যা সাড়ে ৫ হাজারের বেশি।