আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক জিসান প্রধান নিখোঁজ

    ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক জিসান প্রধান নিখোঁজ

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি ও সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জিসান প্রধান নিখোঁজ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দাউদকান্দি মডেল মসজিদে এশার নামাজ আদায়ের পর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

    পরিবার ও সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ২৯ মিনিট পর্যন্ত তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে সর্বশেষ কার্যক্রম দেখা যায়। এর পর থেকে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং দলীয় নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি।

    এই ঘটনায় জিসান প্রধানের বড় ভাই অ্যাডভোকেট রাসেল আহাম্মেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

    অ্যাডভোকেট রাসেল আহাম্মেদ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে তার বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু এশার নামাজের পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টও ডিঅ্যাকটিভ দেখা যাচ্ছে। আমরা থানায় অভিযোগ করেছি। এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।’

    দাউদকান্দি উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান আরিফ বলেন, ‘জিসান বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে দাউদকান্দিতে আসেন এবং মডেল মসজিদে এশার নামাজ আদায় করেন। পরে তাঁর উপজেলার বিরবাগগোয়ালী গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি আর বাড়িতে পৌঁছাননি। আমরা প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছি।’

    দাউদকান্দি মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা (পরিদর্শক) মো. সামছুল আলম প্রধান বলেন, ‘আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তাঁর অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’

    নিখোঁজের ঘটনায় পরিবার ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।

  • ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর কুকুর লেলিয়ে নির্যাতন করেছে ইসরায়েলিরা সেনারা

    ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর কুকুর লেলিয়ে নির্যাতন করেছে ইসরায়েলিরা সেনারা

    গাজায় ইসরায়েলের জাতিগত নিধন নিজের চোখে দেখেছেন মোহাম্মদ জাকি আল-বাকরি। একসময় তিনি গাজার দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় শহর খান ইউনিসে বসবাস করতেন। তিনি প্রায় ২০ মাস ইসরায়েলি কারাগারে বন্দী ছিলেন। এ সময়ে তাঁকে ইসরায়েলের পাঁচটি কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছিল।

    আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আল-বাকরি বলেন, ‘তারা আমাদের কাপড় খুলে নগ্ন করে ফেলেছিল। আমাদের হাতকড়া পরানো ছিল…আমাদের হাত পেছনে বাঁধা ছিল, পা বাঁধা ছিল এবং আমাদের চোখও বেঁধে রাখা হয়েছিল।’

    এরপর আল-বাকরি বর্বর ইসরায়েলি সেনারা তাঁর সঙ্গে করা ভয়াবহ সহিংসতার সেই অভিযোগগুলো করেন, যেগুলো ভাষায় বর্ণনা করা প্রায় অসম্ভব। আল-জাজিরা সেসব বর্ণনার হুবহু প্রকাশ করতে পারেনি।

    আল-বাকরি বলেন, ‘কাপড় খুলে নেওয়ার পর আমাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল একটি বড় কুকুর দিয়ে।’

    সাক্ষাৎকারের অন্য এক অংশে বাকরি আরও বলেন, ‘আমরা সাতজন ওই কুকুরের দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলাম।’

    এ ধরনের যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ কেবল তিনি একাই করেননি। আরও অনেকের কাছ থেকে এমন অভিযোগ এসেছে।

    আল-জাজিরার ডকুমেন্টারি (তথ্যচিত্র) দল মাসের পর মাস অনুসন্ধান চালিয়ে ইসরায়েলি কারাগারে বন্দী ছিলেন—এমন ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে এমন সব বর্ণনা সংগ্রহ করেছে, যেখানে কুকুরকে শুধু ভয় দেখানোর উপায় হিসেবে নয়; বরং যৌন হেনস্তার মাধ্যমে অপমান করার প্রক্রিয়ার একটি অংশ হিসেবেও ব্যবহার করা হয়েছে।

    সেখানে বন্দীদের বিবস্ত্র করা হতো, চোখ বেঁধে দেওয়া হতো, হাতকড়া পরানো হতো, উপুড় হয়ে শুয়ে থাকতে বাধ্য করা হতো, মারধর করা হতো, হুমকি দেওয়া হতো, ভিডিও ধারণ করা হতো এবং তাদের ওপর হামলা চালানো হতো।

    আল-জাজিরার নির্মিত অনুসন্ধানী তথ্যচিত্র ‘বডিজ অব এভিডেন্স: ইসরায়েলস ডার্কেস্ট উইপেন’-এ ইসরায়েলে বন্দী গাজার ফিলিস্তিনি এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসবাস করা ফিলিস্তিনিদের ওপর ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের নিপীড়নের চিত্র উঠে এসেছে।

    ইসরায়েলি কারাগারে বন্দী গাজার আরেক ফিলিস্তিনি তাঁর নাম প্রকাশ করেননি। তথ্যচিত্র তাঁকে ছদ্মনামে ডাকা হয়। তিনি বলেন, তাঁকে ইসরায়েলের আটটি আটক কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছিলেন।

    ওই গাজার বাসিন্দা বর্ণনা করেন, ইসরায়েলের কুখ্যাত সদে তেইমান কারাগারে আটক থাকাকালে একইভাবে পরিকল্পিত পদ্ধতিতে বন্দীদের ওপর কুকুর লেলিয়ে দেওয়া হতো।

    গাজার আরেক ফিলিস্তিনিও বন্দী অবস্থায় কুকুরের হামলার শিকার হওয়ার বর্ণনা দিয়েছেন।

    যৌন নিপীড়নে কুকুর ব্যবহারের বিষয়টি ছাড়াও আরেক সাবেক বন্দী ও অধিকারকর্মী শিরিন (ছদ্মনাম) বারবার বিবস্ত্র করা এবং অপমানজনকভাবে দেহতল্লাশি করার কথা বলেছেন।

    অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিনের বাসিন্দা আদনান হাসানও কিশোর বয়সে বন্দী ছিলেন। তিনি বলেন, তাঁকে গ্রেপ্তারের পর পাঁচ মাস আটকে রাখা হয়েছিল।

    জেরুজালেমের বাসিন্দা মায়স আবু ঘোশ কুখ্যাত সদে তেইমান কারাগারে বন্দী ছিলেন। তিনি কারাগারটিকে এমন একটি স্থান হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখানে অপমান নিত্যদিনের ঘটনা।

    তাঁদের এসব সাক্ষ্যে এ ধরনের ঘটনা একটি কারাগারে, একজন কারারক্ষী দ্বারা বা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে ওঠে আসেনি; বরং তাঁরা এটিকে বন্দী নিপীড়নের একটি পদ্ধতিগত প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    নগ্ন করা, মারধর, ভিডিও ধারণ

    ফিলিস্তিনের সরকারি সূত্রগুলোর হিসাব অনুযায়ী, ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েল ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে। জাতিসংঘের দেওয়া একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৬৭ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে ৮ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি কারাবন্দী হয়েছিলেন।

    ফিলিস্তিনিদের জন্য কারাবন্দী থাকা কোনো বিচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতা নয়; বরং এটি এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ক্রমাগতভাবে চলা এক অভিজ্ঞতা। একজন ফিলিস্তিনি নিজের বাড়িতে, কোনো তল্লাশিচৌকিতে, হাসপাতালের ভেতরে, আশ্রয়কেন্দ্রে বা কোনো সামরিক অভিযানের সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন।

    এরপর সেই ফিলিস্তিনিকে সেনা, গোয়েন্দা কর্মকর্তা, সামরিক আটক কেন্দ্র, পুলিশি হেফাজত, সামরিক আদালত এবং ইসরায়েল প্রিজন সার্ভিস পরিচালিত কারাগারগুলোর এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় স্থানান্তর করা হতে পারে।

    এ ক্ষেত্রে শুধু স্থাপনাগুলোর নাম বদলায়—সদে তেইমান, ওফের, নেগেভ, আশকেলন, জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র, চেকপয়েন্ট ও সামরিক শিবির।

    কিন্তু তাদের অভিজ্ঞতার বিবরণগুলো বারবার একই থাকে, ফিরে ফিরে আসে। একটি নাম হয়ে যায় একটি সংখ্যা—কাপড় খুলে নেওয়া হয়। চোখ বাঁধা হয়। হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়। ঠিকমতো খাবার দেওয়া হয় না, ঘুমাতে দেওয়া হয় না। কুকুর আনা হয়। বন্দীদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়। অনেককে ধর্ষণ করা হয়।

    কেউ কেউ বলেন, নির্যাতনের সময় তাঁদের ভিডিও করা হয়েছে। অনেকেই বলেন, তাঁদের এসব অভিযোগ কোথাও পৌঁছায় না।

    আল-বাকরির বেলায়ও কুকুর শুধু ঘটনার সময় উপস্থিত ছিল, বিষয়টা এমন নয়। তিনি বলেন, ‘এটি হামলারই অংশ ছিল। তারা আমাদের দিকে কুকুর নিয়ে আসে, তারপর লাথি মারতে শুরু করে। তারা আমাদের পেছন থেকে কুকুর দিয়ে আক্রমণ করত…তারা পাগলের মতো কুকুর দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালাত।’

    এই ফিলিস্তিনি তাঁর ওপর নির্যাতনের যে বর্ণনা দিয়েছেন, আল-জাজিরার পক্ষে তার বিস্তারিত প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

    কিন্তু তাঁর সাক্ষ্যে একটি ধারা স্পষ্ট—নগ্নতা, বেঁধে রাখা, যৌন সহিংসতা এবং অপমানজনক আচরণের বর্ণনায় বারবার কুকুরের উপস্থিতির কথা উঠে আসা।

    আল-বাকরি বলেন, ‘আমরা অক্ষম, আমাদের কিছুই করার ক্ষমতা নেই। তারা হাসছে। আর অবশ্যই তারা আমাদের ভিডিও করেছে।’

    দ্বিতীয় আরেক ফিলিস্তিনি জব (ছদ্মনাম)। তিনি বলেন, সেনাদের মুখ থেকে নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কুকুরগুলো আক্রমণ শুরু করে। তাঁর কাছে সেগুলোকে কুকুর নয়, মানুষ মনে হয়েছে।

    জব বলেন, ‘তারা কুকুরগুলোকে ছেড়ে দেয়। এড়ানোর কোনো উপায় নেই, কুকুর আসবেই। সেগুলো হয় ধর্ষণ করবে, অথবা সেগুলোর মুখে থাকা লোহার দণ্ড দিয়ে আপনার মাথায় আঘাত করবে। সেগুলোকে যে নির্দেশ দেওয়া হবে, সেগুলো ঠিক সেটাই করবে।’

    ইসরায়েলি কারাগারে মাহমুদ আবু ফউলের ওপর এতটাই নির্যাতন করা হয় যে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন

    সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর যৌন নির্যাতনের বিষয়ে নতুন প্রতিবেদন প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

    এসব প্রতিবেদনের পর ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এবং তাঁদের সমর্থক কিছু গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব অভিযোগগুলো অস্বীকার করে এগুলোকে ‘ব্লাড লাইবল’ বা ঐতিহাসিকভাবে মিথ্যা অপবাদ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, বিশেষ করে কুকুর ব্যবহারের মাধ্যমে যৌন নির্যাতনের অভিযোগকে।

    কিন্তু ফিলিস্তিনিদের ও বন্দী নির্যাতন নথিভুক্ত করা সংগঠনগুলোর মতে, এসব অভিযোগ হঠাৎ করে একদিনে তৈরি হয়নি।

    অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকার বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজ তথ্যচিত্রে দেওয়া সক্ষাৎকারে বলেন, ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘদিন ধরে ‘কুকুর ব্যবহার করে হামলা চালানো, নির্যাতন করা এবং এমনকি যৌন নির্যাতন করার মতো পরিস্থিতির শিকার হয়ে আসছেন।

    আলবানিজ আরও বলেন, ‘এগুলো এমন বাস্তবতা, যা সবাই জানে।’

    আলবানিজ বন্দীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নির্যাতনের একটি বিস্তৃত ধারা বর্ণনা করেন। নির্যাতনের নমুনা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘রক্তাক্ত হওয়া পর্যন্ত হাত-পা বেঁধে রাখা, মারধর, টেনেহিঁচড়ে নেওয়া, অনাহার, ঠান্ডায় রেখে দেওয়া, চিকিৎসা না দেওয়া, কুকুর দিয়ে আক্রমণ, একাকী কারাবাস, যৌন নির্যাতন, জোর করে পোশাক খুলে ফেলা এবং পরিবারের সদস্যদের ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।’

    ফিলিস্তিনি নারী অধিকার সংস্থা উইমেনস সেন্টার ফর লিগ্যাল এইড অ্যান্ড কাউন্সেলিংয়ের (ডব্লিউসিএলএসি) অ্যাডভোকেসি পার্টনার খরাইম বলেন, যৌন হেনস্তা ও হুমকি দেওয়া হয় মানুষকে চুপ করিয়ে রাখতে। সামাজিক কলঙ্কের কারণে পুরুষ ও ছেলেরা অনেক সময় এ নিয়ে কথা বলেন না। নারীরা সামাজিক শাস্তির ভয়ে থাকেন, আর শিশুরা এমন লজ্জা বহন করে, যা প্রকাশ করার মতো ভাষাই তাদের নেই।

    সদে তেইমান ও নির্যাতনের রূপকাঠামো

    নাকাব/নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত ইসরায়েলি সামরিক আটক কেন্দ্র সদে তেইমান। কুখ্যাত এই আটক কেন্দ্রটি ৭ অক্টোবরের (২০২৩ সালে) পর ইসরায়েলের বন্দী নির্যাতনের একটি প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

    সেখানে ফিলিস্তিনি বন্দীদের চোখ বেঁধে রাখা, হাত-পা বেঁধে রাখা, চিকিৎসায় অবহেলা, নির্যাতনের অভিযোগ এবং যৌন নিপীড়নের অভিযোগ–সম্পর্কিত নানা প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে।

    এর আগে সদে তেইমানে পাঁচজন ইসরায়েলি সেনার বিরুদ্ধে এক ফিলিস্তিনি বন্দীর ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। ২০২৬ সালের মার্চে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সেসব অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয়।

    ফিলিস্তিনি বন্দীদের ইসরায়েলি বিভিন্ন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে। যেমন সামরিক আটকব্যবস্থা, গোয়েন্দা সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদ, পুলিশি হেফাজত, সামরিক আদালত ও নিয়মিত কারাগার।

    ইসরায়েল প্রিজন সার্ভিস ও পুলিশ জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে। এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন উগ্রবাদী ইহুদি ও বর্বর সব মন্তব্যের জন্য বিতর্কিত ইতামার বেন-গভির।

    সদে তেইমানের মতো সামরিক আটক কেন্দ্রগুলো ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কমান্ড কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়।

    শিন বেৎ ও ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়। আর বিচার মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রীয় আইননীতি, মামলা পরিচালনা এবং সরকারের আইনি প্রতিরক্ষা তদারকি করে। এভাবে দায়িত্বগুলো ছড়িয়ে–ছিটিয়ে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।

    একজন বন্দীকে হয়তো ইসরায়েলি সেনারা গ্রেপ্তার করেন, গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন, কারারক্ষীরা তাঁকে আটক রাখেন, সামরিক আদালতে হাজির করা হয় এবং নাগরিক আইনি ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বিচার করা হয়।

    সে ক্ষেত্রে যদি বন্দীর প্রতি আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই দায় অন্য অংশের ওপর চাপাতে পারে। যদিও এ সবকিছুই ইসরায়েলি রাষ্ট্রের আটক ব্যবস্থার অংশ।

    এ কারণেই ফিলিস্তিনি মানবাধিকার কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক রাজি সুরানি বলেছেন, সমস্যা কোনো একটি কারাগারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

    সুরানি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে অপরাধের প্রমাণ আছে। আমাদের কাছে সাক্ষ্যপ্রমাণ আছে। সদে তেইমানে যা ঘটেছে, তা প্রকৃত বাস্তবতার খুব সামান্য অংশমাত্র।’

    যৌন সহিংসতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার

    বন্দী থাকা অবস্থায় যৌন সহিংসতার মধ্যে ধর্ষণ, ধর্ষণের হুমকি, জোর করে নগ্ন করা, শরীর তল্লাশি এবং যৌন হেনস্তা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

    আন্তর্জাতিক আইনে পরিস্থিতি ও উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভর করে এটি যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ অথবা জাতিগত নিধন হিসেবে গণ্য হতে পারে।

    তথ্যচিত্রে যাঁরা সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, তাঁদের বর্ণনায় এ ধরনের সহিংসতার ভিন্ন ভিন্ন রূপ উঠে এসেছে। উত্তর গাজার জব (ছদ্মনাম) বলেন, তাঁকে ইসরায়েলি সেনারা দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেছে এবং সেই ঘটনা ভিডিও করা হয়েছে।

    জব বলেন, এমনকি একজন নারী সেনা একটি কৃত্রিম যন্ত্র ব্যবহার করে তাঁকে যৌন নির্যাতন করেন, অন্যরা তখন হাততালি দিচ্ছিলেন।

    নিরাপত্তার কারণে পরিচয় গোপন রাখা এক নারী বলেন, তাঁকে বারবার জোর করে নগ্ন করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ‘তারা আমাকে একটি ঘরে নিয়ে যায়। তারা আমাকে পোশাক খুলে ফেলতে বলে।’

    এরপর কীভাবে আক্রমণাত্মক ও ভয়াবহভাবে তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছিল, তিনি তার বর্ণনা দেন। সে সব ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।

    আদনান ( ছদ্মনাম) নামের ১৭ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি স্কুলছাত্র বলেছে, সে স্কুলে যাওয়ার পথে ইসরায়েলের একটি সামরিক অভিযানের মধ্যে পড়ে যায়। সেনারা তার দিকে একটি বিস্ফোরক নিক্ষেপ করে। বিস্ফোরণে তার ডান হাত মারাত্মকভাবে জখম হয়, যার কারণে তার হাতে একটা অংশ পরে কেটে ফেলতে হয়।

    প্রায় এক সপ্তাহ পরে তখনো সে অসুস্থ। সেই একই সেনাবাহিনী আবার ফিরে এসে তাকে গ্রেপ্তার করে। তাকে পাঁচ মাস আটকে রাখা হয়।

    সে জানায়, সে সময় তার শরীরের সংবেদনশীল অংশে মারধর করা হয়েছে এবং বারবার জোর করে নগ্ন করে তল্লাশি করা হয়েছে। তার কেটে ফেলা হাতের ক্ষত তখনো শুকায়নি।

    অধিকৃত পশ্চিম তীরের আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ আবু কাবাশ প্রথমে কুকুরের আওয়াজ শুনতে পান। দিনটি ছিল শুক্রবার, রাত প্রায় ১টা, অধিকৃত পশ্চিম তীরের জর্ডান ভ্যালির খিরবেত হামসা আল-ফাওকাইন এলাকায় তাঁর পরিবার তখন ঘুমিয়ে ছিল।

    কী হচ্ছে, সেটা দেখতে কাবাশ একটি টর্চলাইট নিয়ে বাইরে বের হন। তিনি বলেন, তিনি পাহাড়ের দিকে টর্চের আলো ফেলে অবাক হয়ে দেখেন, একদল লোক বিভিন্ন দিক থেকে পাহাড়ের পাশে হাঁটছে।

    কাবাশ নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘ভয় আর আতঙ্ক আমাকে পুরোপুরি গ্রাস করে ফেলেছিল, আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু পারিনি।’

    কিছুক্ষণের মধ্যে অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা (সেটলাররা) তাঁর ওপর হামলা চালায়। সন্ত্রাসী ইহুদি বসতি স্থাপনাকারীদের হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘চারজন সন্ত্রাসী আমার ওপর আক্রমণ করে। দুর্বৃত্ত অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারী আমাকে ধরে আমার হাত বেঁধে ফেলে। আমার হাতে ছুরিকাঘাত করে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে মারধর করা হয়।’

    তাঁর ভাই সোহাইব আবু কাবাশ বলেন, ‘অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা যখন ক্যাম্পের ভেতর দিয়ে ঘোরাঘুরি করছিল, তখনো সবাই ঘুমিয়ে ছিল। তারা এখানকার প্রতিটি ঘরে ঢুকে পড়ে, প্রতি ঘরে প্রায় ২০ জন সেটলার। একজন আমাদের হাতকড়া পরাচ্ছিল, আরেকজন আমাদের মারছিল।’

    অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর সব ভেড়া নিয়ে নেয়, শিশুদের মারধর করে, তাঁকে হাতকড়া পরায়, জোর করে নগ্ন করে এবং তাঁর যৌনাঙ্গ বেঁধে রাখে বলেও অভিযোগ করেন সোয়াইব।

    সোহাইব বলেন, ‘তারা আমাকে প্রায় ১০০ মিটার টেনে নিয়ে যায় এবং আমার ওপর পানি ও মাটি ছিটিয়ে দেয়।’

    সোহাইব বলেন, তিনি দেখতে পান, কয়েকজন অবৈধ বসতি স্থাপনকারী তাঁর ভাইকে ঘিরে ফেলেছে।

    সোহাইব আরও বলেন, তারা অনেকেই তাঁকে আক্রমণ করে। ‘আমি ঠিক জানি না কতজন ছিল—১০ জন, ৯ জন বা ৮ জন…অনেক মানুষ। তাঁরা তাঁকে নগ্ন করে মারধর করেছিল।’

    এরপর সোহাইব কিছুক্ষণ চুপ করে থাকেন। তাঁকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল তিনি কিছু একটা বলতে চান, কিন্তু কীভাবে বলবেন তা বুঝে উঠতে পারছেন না।

    সোহাইব জিজ্ঞাসা করেন, ‘আমি কি এটা বলতে পারি?..’ তারা একটি প্লাস্টিকের জিপ টাই নিয়ে এসে তাঁর লিঙ্গে বেঁধে দেয়।

    পরে সোহাইব তাঁর শরীরে সেই প্লাস্টিকের জিপ টাইয়ের বাঁধনের দাগগুলো দেখান, সেগুলো এখনো স্পষ্ট।আবু কাবাশ বলেন, ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা চলে যাওয়ার পর সোহাইব তাঁর কাছে আসেন।

    আবু কাবাশ আরও বলেন, ‘তাঁর এমন অবস্থায় হয়েছিল, সে হাঁটতেও পারছিল না। আমি বুঝতে পারছিলাম না, আমি কী করবে। আমি খুবই বিভ্রান্ত ছিলাম। এমন পরিস্থিতিতে আমার কী করা উচিত। এটা খুবই সংবেদনশীল জায়গা, আমি কীভাবে এটা সামলাব?’

    চারদিকে অন্ধকার। তিনি কাবাশ সোহাইবের স্ত্রীকে ডেকে আনেন এবং একটি ফ্লাসলাইট ধরতে বলেন। এরপর একটি ছুরি দিয়ে মোহাম্মদ ভাইয়ের শরীরে বাঁধা প্লাস্টিকের জিপগুলো কাটতে শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘তাঁর শরীর থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছিল।’

    দুভাই আল-জাজিরাকে বলেন, হামলা শুধু সোহাইবের ওপরই হয়নি।

    অন্য সাক্ষাৎকারে সোহাইব বলেছেন, ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা নারীদের ঘর থেকে বের করে দেয়, লোকজনকে একটি তাঁবুতে জড়ো করে এবং হুমকি দেয়-যদি তারা এলাকা ছেড়ে না যায়, তাহলে নারীদের ধর্ষণ করা হবে এবং শিশুদের নিয়ে যাওয়া হবে।

    আল-জাজিরার সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ আবু কাবাশ বলেন, তাঁদের ৪০০টি ভেড়া ছিল। সব তারা নিয়ে গেছে। সেগুলো ছিল তাঁদের পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস।কাবাশ আরও বলেন, ‘এখন আমাদের শুধু আকাশটাই আছে। আমাদের পরিবারের ৫০ বছরের পরিশ্রম মাত্র ৪০ মিনিটে শেষ হয়ে গেছে।’

    সোহাইব বলেন, তাঁরা সাহায্যের জন্য ফোন করেছিলেন, কিন্তু সেই সাহায্য অনেক দেরিতে এসেছিল।সোহাইব বলেন, ‘আমরা পুলিশকে ফোন করেছিলাম.. তারপর সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি আসে। কিন্তু অনেক দেরিতে, ততক্ষণে আমরা মারধরের শিকার হয়ে গেছি।’

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও পুলিশ বলেছে, তারা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে। এখন পর্যন্ত কাউকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে মনে হয় না।আল-জাজিরার সঙ্গে কথা বলা কোনো ভুক্তভোগীকেই এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি।

    ইসরায়েল বরাবরের মতো এই পদ্ধতিগত নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী ইসরায়েল প্রিজন সার্ভিস বলেছে, এটি একটি নিরাপত্তা সংস্থা, যারা ‘আইন অনুযায়ী’ এবং ‘কঠোর নজরদারির অধীনে’ কাজ করে। বন্দীদের ‘মৌলিক অধিকার রক্ষা করেই’ তাদের কারাবন্দী রাখা হয়।

    যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লেইতার সাম্প্রতিক যৌন নির্যাতনের অভিযোগসংক্রান্ত প্রতিবেদনের পর একই ধরনের মন্তব্য করেছেন।

    লেইতার বলেন, ‘ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বেআইনি আচরণের কোনো অভিযোগ থাকলে, তা তদন্তকারী সংস্থার কাছে জমা দিতে হবে এবং সেই অভিযোগগুলো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে। একটি গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় এটাই স্বাভাবিক।’

  • পিয়ংইয়ংয়ে ড্রোন পাঠিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টর ৩০ বছর জেল

    পিয়ংইয়ংয়ে ড্রোন পাঠিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টর ৩০ বছর জেল

    সিউলে বিশেষ প্রসিকিউটরদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিজের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পর্যালোচনার শুনানিতে অংশ নিতে আদালতে পৌঁছান দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল। ৯ জুলাই, ২০২৫ছবি: রয়টার্স

    দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে সামরিক ড্রোন পাঠানোর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আজ শুক্রবার তাঁকে এ সাজা দেওয়া হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ এ তথ্য জানিয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইউন সুক-ইওল দেশে সামরিক শাসন জারির চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। সেই সামরিক শাসন জারির একটি অজুহাত তৈরি করতেই তিনি পিয়ংইয়ংয়ে ড্রোন পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগ আনা হয়।

    সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ইউন সুক-ইওলকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও শত্রুকে সহায়তার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। আদালত বলেছেন, ২০২৪ সালের অক্টোবরে উত্তর কোরিয়ার আকাশসীমায় ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনার শুরু থেকেই ইউন এ ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন।

    তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউন। তাঁর আইনজীবীরা দাবি করেন, তিনি এই ড্রোন অভিযানের আদেশ এবং পরে এর অনুমোদনও দেননি। এটি সামরিক শাসন জারির চেষ্টার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল না। বরং উত্তর কোরিয়া থেকে মাসের পর মাস ময়লা-আবর্জনাভর্তি বেলুন পাঠিয়ে যে উসকানি দেওয়া হচ্ছিল, এটি ছিল তারই একটি জবাব।

    এর আগে গত এপ্রিলে সরকারি কৌঁসুলিরা ইউনের জন্য ৩০ বছরের কারাদণ্ডের আর্জি জানিয়েছিলেন। দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক এ রক্ষণশীল নেতা একসময় দেশটির প্রধান সরকারি কৌঁসুলি ছিলেন। তাঁর জারি করা সামরিক শাসনের আদেশ এশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি দক্ষিণ কোরিয়াকে দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকটে ফেলে দেয়। অভিশংসনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ইউনের বিরুদ্ধে একের পর এক আদালতের রায় আসছে। সর্বশেষ রায়টি সেই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হলো। সামরিক শাসন জারির চেষ্টার মাধ্যমে রাষ্ট্রদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত ইউন সুক-ইওলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন।

    গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবিধানিক আদালত ইউনের অভিশংসন আদেশ বহাল রাখলে তিনি প্রেসিডেন্টের পদ হারান। ফলে দেশে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তাতে জয়ী হন উদারপন্থী বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ুং। বর্তমানে কারাগারে থাকা ইউন সুক-ইওল নিম্ন আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন।এ/জেড

  • বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হলেন ইলন মাস্ক

    বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হলেন ইলন মাস্ক

    বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হলেন শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। তার মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স প্রাথমিক শেয়ার বিক্রির (আইপিও) মাধ্যমে রেকর্ড ৭৫ বিলিয়ন বা ৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে। যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    স্পেসএক্স প্রতি শেয়ার ১৩৫ ডলার দরে ৫৫ কোটি ৫৬ লাখ ক্লাস-এ শেয়ার বিক্রি করে এই অর্থ সংগ্রহ করেছে। এই মূল্য নির্ধারণের ফলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার।

    ‘এসপিসিএক্স’ প্রতীকে নাসডাকে লেনদেন শুরু হলে স্পেসএক্স বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর একটি হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইপিও-সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, তালিকাভুক্তির পর মাস্কের কাছে প্রায় ৮৪ কোটি ৯৫ লাখ ক্লাস-এ শেয়ার এবং ৫৫৭ কোটি ক্লাস-বি শেয়ার থাকবে। এর মাধ্যমে তিনি কোম্পানির মোট ভোটিং ক্ষমতার ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করবেন। আইপিও মূল্যে, কাগজে-কলমে মাস্কের ঘোষিত স্পেসএক্স হোল্ডিংয়ের মূল্য প্রায় ৮৬৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।

  • ৯৬ বছর পর বিশ্বমঞ্চে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ে

    ৯৬ বছর পর বিশ্বমঞ্চে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ে

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৬ বিশ্বকাপের ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে বাংলাদেশ সময় শনিবার সকাল ৭টায় লস অ্যাঞ্জেলেসে দক্ষিণ আমেরিকার দল প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে মৌরিসিও পোচেত্তিনোর শিষ্যরা। আর তাতে ৯৬ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুদল। সবশেষ ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে একমাত্র সাক্ষাতে ৩-০ গোলের জয় পেয়েছিল মার্কিনিরা। একই গ্রুপে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও তুরস্ক। নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করতে হলে দুদলের জন্যই ইতিবাচক শুরু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    তিন আয়োজক দেশের একটি যুক্তরাষ্ট্র এবার ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখছে। বাছাইপর্ব খেলতে না হওয়ায় বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য প্রায় দুই বছর সময় পেয়েছেন কোচ মৌরিসিও পোচেত্তিনো। তবে প্রস্তুতির সময় শেষ, এখন প্রতিটি ম্যাচই পরীক্ষার। বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে জার্মানির কাছে ২-১ গোলে হারলেও তার আগে সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী বার্তা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ফিফা র‌্যাংকিংয়ের ১৬ নম্বরে থাকা দলটি এবার খেলছে নিজেদের ১২তম বিশ্বকাপ। ২০০২ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠাই বিশ্বকাপে তাদের সেরা সাফল্য, যদিও সর্বশেষ তিন আসরেই তারা নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে।অন্যদিকে, দীর্ঘ বিরতির পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে ফিরেছে প্যারাগুয়ে। ২০১০ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে তারা। কনমেবল বাছাইপর্বে ষষ্ঠ হয়ে টিকিট নিশ্চিত করে গুস্তাভো আলফারোর দল। বিশ্বকাপের আগে দারুণ ছন্দে রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। সর্বশেষ চার ম্যাচের তিনটিতে জয় পেয়েছে তারা, যার মধ্যে নিকারাগুয়ার বিপক্ষে ৪-০ গোলের বড় জয়ও রয়েছে। আলফারোর অধীনে আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলে হারানোও তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে ইতিহাস প্যারাগুয়ের পক্ষে নয়। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আটবারের মধ্যে মাত্র একবার জয়ের দেখা পেয়েছে তারা। এছাড়া আয়োজক দেশের বিপক্ষে খেলা আগের দুই ম্যাচের কোনোটিতেই জয় পায়নি লা আলবিরোজারা।দলীয় শক্তির দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভরসা ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ, ফোলারিন বালোগুন, ওয়েস্টন ম্যাককেনি ও টাইলার অ্যাডামসদের ওপর। প্রথম ম্যাচে তিন ডিফেন্ডারের রক্ষণভাগ নিয়ে মাঠে নামতে পারেন যুক্তরাষ্ট্র কোচ পোচেত্তিনো। অভিজ্ঞ অধিনায়ক টিম রিম থাকবেন রক্ষণভাগের নেতৃত্বে। গোড়ালির চোট কাটিয়ে সদ্য অনুশীলনে ফেরা ক্রিস রিচার্ডসের খেলা এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে মাইলস রবিনসন কিংবা মার্ক ম্যাকেঞ্জির একজন শুরুর একাদশে থাকতে পারেন। মাঝমাঠে টাইলার অ্যাডামস, ওয়েস্টন ম্যাককেনি ও মালিক টিলম্যানের ওপর থাকবে বড় দায়িত্ব। আক্রমণে ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনকে সহায়তা করবেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ। গত মৌসুমে মোনাকোর হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৯ গোল করেছেন বালোগুন।অন্যদিকে, প্যারাগুয়ের প্রধান অস্ত্র হতে পারেন মিগেল আলমিরন, হুলিও এনসিসো ও টনি সানাব্রিয়া। বিশেষ করে বাছাইপর্বে চার গোল করে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন সানাব্রিয়া। সান্ডারল্যান্ডের সেন্টার-ব্যাক ওমর আলদেরেতে এবং অধিনায়ক গুস্তাভো গোমেজের নেতৃত্বে শক্তিশালী ব্যাকফোর নিয়ে মাঠে নামবে তারা। দলের সেরা ফুটবলার হুলিও এনসিসো নিকারাগুয়ার বিপক্ষে ম্যাচে হালকা চোট পেলেও এই ম্যাচে খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। আক্রমণভাগে মিগেল আলমিরন ও দিয়েগো গোমেজের সঙ্গে একক স্ট্রাইকার হিসেবে খেলবেন টনি সানাব্রিয়া। রক্ষণভাগের দৃঢ়তা এবং সেট-পিস নির্ভর ফুটবলের জন্য পরিচিত প্যারাগুয়ে স্বাগতিকদের চমকে দিতে চাইবে। আর যুক্তরাষ্ট্র চাইবে নিজেদের সমর্থকদের সামনে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশনের শুভ সূচনা করতে।
    সব মিলিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে দুই ভিন্ন ধারার ফুটবল দর্শনের লড়াই, যেখানে প্রথম ম্যাচের তিন পয়েন্টই দুদলের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।

  • ইউরোপে দশজনের একজন যুক্তরাষ্ট্রকে বন্ধু হিসেবে দেখে

    ইউরোপে দশজনের একজন যুক্তরাষ্ট্রকে বন্ধু হিসেবে দেখে

    যুক্তরাষ্ট্রের ‘নিরাপত্তা নিশ্চয়তা’র ওপর ইউরোপীয়দের আস্থা সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইউরোপের ১৫টি দেশের প্রতি ১০ জনের মধ্যে মাত্র একজন যুক্তরাষ্ট্রকে মিত্র হিসেবে দেখে। সেই সঙ্গে আক্রান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান এসব দেশের বেশির ভাগ মানুষ। ইউরোপীয় কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের এক জরিপে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

    জরিপের প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেক ইউরোপীয় মনে করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা ছাড়ার পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি হবে। তবে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করার মাধ্যমে নিজেদের রক্ষা করতে ক্রমশ প্রস্তুত হচ্ছেন তারা ।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যপ্রাচ্যে আগ্রাসন, গ্রিনল্যান্ডের বিরুদ্ধে হুমকি, ইউরোপীয় ঘাঁটি থেকে সেনা প্রত্যাহারের অঙ্গীকার এবং ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে ইউরোপকে উৎসাহিত করেছে।

    সমীক্ষা প্রতিবেদনের সহলেখক এবং ইসিএফআরের সিনিয়র পলিসি ফেলো জানা কোবজোভা বলেন, ‘মহাদেশজুড়ে ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমানোর ব্যাপারে সুস্পষ্ট সমর্থন রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ইউরোপ প্রতিরক্ষা খাতে উচ্চতর ব্যয়ের ব্যাপারে ক্রমশ আগ্রহী হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তারা এ ব্যাপারে এক অসাধারণ আস্থা দেখাচ্ছে যে সংকটের সময় প্রতিবেশী দেশগুলো তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসবে।’

    মে মাসে অস্ট্রিয়া, বুলগেরিয়া, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, হাঙ্গেরি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যে এই জরিপ চালানো হয়। এতে দেখা যায়, এসব দেশজুড়ে গড়ে মাত্র ১১ শতাংশ উত্তরদাতা যুক্তরাষ্ট্রকে মিত্র হিসেবে দেখছেন।

    প্রায় প্রতিটি দেশেই অধিকাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তাদের দেশের উচিত মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের ওপর কৌশলগত নির্ভরতা কমানো। ‘ইউরোপীয় পণ্য কিনুন’ নীতির সমর্থকদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ডেনমার্ক (৭৫ শতাংশ), নেদারল্যান্ডস (৭২ শতাংশ), সুইডেন (৭০ শতাংশ), পর্তুগাল (৬৯ শতাংশ), ফ্রান্স (৬৬ শতাংশ), সুইজারল্যান্ড (৬৪ শতাংশ), যুক্তরাজ্য এবং স্পেনে (উভয়ই ৬২ শতাংশ)।

  • ইরান যুদ্ধের প্রভাব: তীব্র ক্ষুধার ঝুঁকিতে লাখ লাখ মানুষ

    ইরান যুদ্ধের প্রভাব: তীব্র ক্ষুধার ঝুঁকিতে লাখ লাখ মানুষ

    ইরানের যুদ্ধের প্রভাবে তীব্র ক্ষুধার ঝুঁকিতে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কো সিএনএনকে এ কথা বলেন। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানির দাম বহুগুণে বেড়ে গেছে, যা জাতিসংঘের এই সংস্থার কার্যক্রমকে অনেক বেশি ব্যয়বহুল করে তুলেছে। জ্বালানির এই ক্রমবর্ধমান দাম বিশ্বজুড়ে খাদ্যের দামও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অস্থিরতার কারণে সুদানের মতো জায়গায় ফসল লাগানোর জন্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

    ডব্লিউএফপি বিভিন্ন সরকারের অনুদানের ওপর নির্ভরশীল। এর শীর্ষ দাতা যুক্তরাষ্ট্রসহ সব ক্ষেত্রেই তহবিলে ব্যাপক ঘাটতি দেখা গেছে। সোমবার পর্যন্ত ২০২৬ সালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান ছিল প্রায় ৭৩১ মিলিয়ন ডলার। ২০২৪ সালে এর পরিমাণ ছিল ৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

    স্কো বলেন, বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোতে যখন খাদ্যের দাম ২০-৩০ শতাংশ বেড়ে যায়, তখন তারা ২০-৩০ শতাংশ কম খাবার খায়।

    মার্চ মাসে ডব্লিউএফপি সতর্ক করে বলেছিল, যদি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের ওপরে থাকে, তাহলে জুলাই মাসের মধ্যে আরো ৪৫ মিলিয়ন মানুষ তীব্র ক্ষুধার সম্মুখীন হবে। স্কো বলেন, যদি আগামীকালই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়, তার পরও দীর্ঘদিন এর প্রভাব থাকবে।

  • বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবে না ইরান, ম্যাচের আগের দিন প্রবেশের অনুমতি

    বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবে না ইরান, ম্যাচের আগের দিন প্রবেশের অনুমতি

    ইরানের জাতীয় ফুটবল দল আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য এরই মধ্যে মেক্সিকো পৌঁছেছে। বর্তমানে ইরানি দলটি মেক্সিকোর তিজুয়ানায় অনুশীলনরত। ইরানের তিনটি ম্যাচের সবগুলোই যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তারা এখন থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবে না। বরং, প্রতিটি ম্যাচের আগের দিন ইরানি দল যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে বলে জানিয়েছে মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহান্তে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ইরানের মেক্সিকোতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসানদিদেহর উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করা হয়েছিল, ইরান দলকে কেবল ম্যাচের দিনেই যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে হবে এবং একই দিনে আবার দেশটি ত্যাগ করতে হবে। এতে দলটির লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা, যাতায়াত পরিকল্পনা এবং মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে।

    তবে ডিএইচএসের এক মুখপাত্র সেই দাবি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, ইরানকে ম্যাচের দিনই এসে আবার একই দিনে চলে যেতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এক বিবৃতিতে মুখপাত্র বলেন, ‘এই বক্তব্যগুলো সঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের (ডোনাল্ড ট্রাম্প) উদারতার কারণে ইরানের দল তাদের ম্যাচের আগের দিনই পৌঁছাতে পারবে।’

    অন্যদিকে, রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসানদিদেহ গত সোমবার তিজুয়ানায় রয়টার্সকে দোভাষীর মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেন। তিনি জানান, ইরান ফুটবল ফেডারেশনের কিছু স্টাফের ভিসা দেওয়া হয়নি। তবে যেসব ভিসা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো রাতভর অবস্থানে কোনো বাধা সৃষ্টি করে না। তিনি বলেন, ‘তাদের ভিসায় নির্দিষ্ট করে কোনো সময় উল্লেখ নেই যে তাদের কখন বেরিয়ে যেতে হবে।’

    দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ইরান দলের সব খেলোয়াড়কে ভিসা প্রদান করে। প্রথম ম্যাচ শুরুর মাত্র ১০ দিন আগে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের তথ্যমতে, দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ভিসা পাননি। এর মধ্যে আছেন ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক সদস্যরা।’ ইরানের মেক্সিকো দূতাবাস জানিয়েছে, এই তালিকায় রয়েছেন দলের ম্যানেজার, দুজন বিশ্লেষক, মিডিয়া পরিচালক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিনিধি।

    ইরান বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ২১ জুন আবার লস অ্যাঞ্জেলেসেই বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা। তৃতীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২৬ জুন সিয়াটলে, যেখানে প্রতিপক্ষ মিসর।

    প্রাথমিকভাবে ইরান দলের অনুশীলন ক্যাম্প অ্যারিজোনায় নির্ধারিত ছিল। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়। এর আগে মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান বিশ্বকাপে অংশ নিতে স্বাগত জানাই। তবে তিনি একই সঙ্গে মন্তব্য করেন, ইরান দলের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান তাদের ‘নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য উপযুক্ত নয়।’

  • দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ বন্দুক হামলা, নিহত ১২

    দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ বন্দুক হামলা, নিহত ১২

    দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের একটি অনানুষ্ঠানিক বসতিতে বন্দুকধারীদের অতর্কিত গণগুলিবর্ষণে অন্তত ১২ জন নিহত এবং আরও ৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১০ জুন) গভীর রাতে ক্লিভল্যান্ড শহরতলির ‘জাম্পার্স ইনফরমাল সেটেলমেন্ট’-এ এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।

    ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকা জুড়ে ব্যাপক তল্লাশি ও খুনিদের ধরতে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

    পুলিশের জানায়, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে ভারী রাইফেলে সজ্জিত অন্তত ১০ জন সশস্ত্র অপরাধী একটি সাদা রঙের টয়োটা কোয়ান্টাম গাড়িতে করে ক্লিভল্যান্ডের একটি পেট্রোল পাম্পের সামনে এসে নামে। এরপর তারা দুই দিক থেকে ওই অনানুষ্ঠানিক বসতিটিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে।

    হামলা শেষে তারা একই গাড়িতে করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুলিবর্ষণের ঘটনায় ৮ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এছাড়া গুলিবিদ্ধ আরও ৯ জনকে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    পুলিশ এই ঘটনাকে ‘হৃদয়হীন’ এবং ‘বর্বর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া না গেলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, ওই এলাকায় বসবাসকারী অবৈধ খনি শ্রমিকদের দলগত কোন্দল বা আধিপত্য বিস্তারের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

    জোহানেসবার্গের প্রাদেশিক পুলিশ কমিশনার লেফটেন্যান্ট জেনারেল টমি মথোমবেনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের জানান, হামলার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। তবে এই বসতিটি একটি অবৈধ খনি অঞ্চলের পাশে অবস্থিত হওয়ায় অবৈধ খনির সঙ্গে এর সংযোগ থাকার বিষয়টি তদন্তকারীরা উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলতি বছরের শুরুর দিকে দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা কিছু এলাকায় অবৈধ খনির কার্যক্রম বন্ধ করতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছিলেন। বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ হত্যাকাণ্ডের হারের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় বৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি লাখ লাখ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ছড়িয়ে পড়া এই ধরনের সহিংসতাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

  • এপস্টেইনের কাছে তরুণীদের পাঠাতেন মডেলিং এজেন্ট

    এপস্টেইনের কাছে তরুণীদের পাঠাতেন মডেলিং এজেন্ট

    আর্ন্তেজাতিক ডেস্ক:

    কুখ্যাত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের চক্রের কাছে তরুণী ও মডেলদের পাঠানোর পেছনে ফরাসি মডেলিং এজেন্ট জঁ-লুক ব্রুনেলের ভূমিকা নিয়ে এক নতুন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

    এক সময়ের নামকরা মডেলিং এজেন্সি ‘এমসি২ মডেলস’-এর প্রতিষ্ঠাতা ব্রুনেল কেন এবং কীভাবে উঠতি মডেল ও অল্পবয়সি তরুণীদের এপস্টিনের মতো একজন অপরাধীর ব্যক্তিগত লালসার শিকার হতে পাঠাতেন, তা নিয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধান চালিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

    দীর্ঘদিন আইনি লড়াই ও জনসম্মুখের আড়ালে থাকার পর এখন ব্রুনেল এবং তার সহযোগীরা সেই অন্ধকার অধ্যায়ের ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, যা এই প্রতিবেদনে বিশদভাবে উঠে এসেছে।

    দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের অনুসন্ধানে জানা যায়, মডেলিং শিল্পে নিজের প্রভাব খাটিয়ে ব্রুনেল মূলত ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখা তরুণীদের প্রলোভন দেখাতেন। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন জগতে প্রতিষ্ঠিত করার টোপ দিয়ে তিনি এই মেয়েদের জেফরি এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমান, বিলাসবহুল দ্বীপ এবং ম্যানহাটনের ম্যানশনে পাঠাতেন। এপস্টেইন এই মডেলিং এজেন্সিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন, যার সুবাদে ব্রুনেল তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে তরুণীদের এক প্রকার পণ্য হিসেবে এপস্টেইনের কাছে সরবরাহ করতেন বলে তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে। ভুক্তভোগী বেশ কয়েকজন মডেল জানিয়েছেন, তারা ভাবতেও পারেননি যে একটি নামী এজেন্সির মাধ্যমে এসে তারা এমন ভয়াবহ যৌন নিপীড়নের ফাঁদে পড়বেন।

    দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগ অস্বীকার করার পর, বর্তমান আইনি চাপ ও নতুন প্রমাণের মুখে ব্রুনেল ও তার আইনজীবীরা এই কাজের পক্ষে নতুন যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের দাবি, এপস্টেইনের আসল অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক বা তার অন্ধকার জগত সম্পর্কে ব্রুনেল সম্পূর্ণ অন্ধকারেই ছিলেন। তিনি কেবল একজন ধনী বিনিয়োগকারীকে খুশি রাখতে এবং মডেলদের স্পনসরশিপের ব্যবস্থা করতেই তাদের এপস্টিনের সাথে দেখা করতে পাঠিয়েছিলেন।

    তবে ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে আসা বিভিন্ন গোপন নথি, চিঠি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি ব্রুনেলের এই নির্দোষ সাজার দাবিকে নাকচ করে দিচ্ছে। নথিপত্রে দেখা গেছে, তরুণীদের ওপর এপস্টেইনের আচরণের ধরন সম্পর্কে ব্রুনেল শুধু অবগতই ছিলেন না, বরং অনেক ক্ষেত্রে তিনি নিজেই এই প্রক্রিয়ার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন।

    জেফরি এপস্টেইনের মৃত্যুর পরও তার তৈরি সেই আন্তর্জাতিক যৌন পাচার ও শোষণ চক্রের পেছনে কারা মূল মদদদাতা হিসেবে কাজ করেছিল, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তদন্ত চলছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এই প্রতিবেদনটি প্রমাণ করে যে ফ্যাশন ও মডেলিং জগতের ভেতরের কিছু প্রভাবশালী মানুষ কীভাবে ক্ষমতা ও অর্থের লোভে তরুণীদের জীবন ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিল।

    এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁসের পর মডেলিং এজেন্সির আড়ালে চলা এই অনৈতিক চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য অপরাধীদেরও বিচারের আওতায় আনার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।

  • পাকিস্থানের হামলায় আফগানিস্তানে নিহত ২৬

    পাকিস্থানের হামলায় আফগানিস্তানে নিহত ২৬

    আন্তজাতিক ডেস্ক:

    আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে বুধবার (১০ জুন) অতর্কিত বিমান হামলা চালানোর তথ্য নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান। দেশটি দাবি করেছে, হামলায় ২৬ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে এর আগে আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের হামলায় ১৩ জন বেসামরিক নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। খবর খামা প্রেস নিউজ এজেন্সির।

    পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে চালানো বিমান হামলায় নিষিদ্ধঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ২৬ জন সদস্য নিহত হয়েছে। দেশটি দাবি করেছে, জঙ্গিদের স্থাপনা লক্ষ্য করে সীমান্তের কাছে গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান চালানো হয়েছে।

    পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার বলেছেন, ইসলামাবাদের ভিতরে সিরিজ হামলার জবাবে আফগানিস্তানে এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেছেন, এই অভিযানে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, গোপন আস্তানা, গোলাবারুদের ডিপো এবং টিটিপির দুই কমান্ডারের সঙ্গে সম্পৃক্ত স্থাপনাসহ চারটি স্থানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

    এর আগে তালেবানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে কুনার, খোস্ত এবং পাকতিকা প্রদেশে বোমা হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানি বাহিনী। তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, পাকিস্তানের এসব হামলায় ১৩ জন বেসামরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১১ জনই শিশু, একজন নারী এবং আরেকজন বৃদ্ধ। এ ছাড়া হামলায় আরও ১৪ জন আহত হয়েছে।

    আফগানিস্তানে হামলার তথ্য নিশ্চিত করলেও বেসামরিক হতাহতের তথ্য সম্পর্কে তালেবানের দাবি নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি পাকিস্তান।তালেবান কর্মকর্তারা এই হামলাকে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা করেছেন এবং আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর জন্য পাকিস্তানকে অভিযুক্ত করেছেন।

    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। এতে দেশ দুইটির সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ এই হামলার ঘটনায় ইসলামাবাদ ও কাবুল প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা ফের চরমে পৌঁছেছে।

  • পাকিস্তানে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, সকল আরোহী নিহত

    পাকিস্তানে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, সকল আরোহী নিহত

    পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এভিয়েশন শাখার একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে ওই হেলিকপ্টারে থাকা সকল আরোহী নিহত হয়েছেন। দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ অধিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর ডনের।
    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বুধবার উড্ডয়নের সময় কারিগরি ত্রুটির কারণে মুজাফফরাবাদের কাছে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। এরপর ঘটনাস্থলে দ্রুত উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছান। হেলিকপ্টারে থাকা সকল আরোহী নিহত হয়েছেন।

    তবে হেলিকপ্টারে মোট কতজন আরোহী ছিলেন এবং তারা কারা ছিলেন- সেই সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়নি আইএসপিআর।

    আইএসপিআর জানায়, এই দুর্ঘটনাটির সঠিক কারণ জানতে তদন্ত বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
    বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান (সিডিএফ) ও সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং সেনাবাহিনীর সকল পদমর্যাদার সদস্য এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সেই সঙ্গে তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন

  • নিঃসঙ্গ মমতা ছুটলেন সোনিয়ার কাছে

    নিঃসঙ্গ মমতা ছুটলেন সোনিয়ার কাছে

    পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর বিধানসভা এবং সংসদে ব্যাপক বিদ্রোহের মুখে পড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের একচ্ছত্র নেত্রী এবং পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ নিঙয় মমতা কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর কাছে গিয়েছেন। তবে মঙ্গলবার সংবাদ বৈঠকে বিদ্রোহীদের আক্রমণ করে মুখ খুলেছেন মমতা অনুগত সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন সাংসদ কীর্তি আজাদ।

    দলের মধ্যে বিদ্রোহ প্রসঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার বলেন, “ওরা (বিদ্রোহী সাংসদরা) ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে গিয়েছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সেখানে গিয়েছিলেন, এর মানে হলো ওরা বিজেপিতে যোগ দিয়েছে। ওরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে নরেন্দ্র মোদিকে নেতা বানিয়েছে।” কল্যাণের আক্রমণের জবাব দিয়েছেন বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম ‘মুখ’ কাকলি ঘোষ দস্তিদারও।

    বিদ্রোহী নেতাদের এনডিএ-তে যোগ দেয়ার পদক্ষেপে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতীয় জনতা পার্টিকে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, “আপনাদের (বিজেপি) কাছে মুখ্যমন্ত্রী, ইডি, সিবিআই এবং অন্যান্য ক্ষমতা আছে, কিন্তু আমার আছে ‘মা, মাটি, মানুষ’, আমার দল, আমার দলের কর্মীরা এবং পশ্চিমবঙ্গের মানুষ।” বিদ্রোহী হওয়া তারকা সাংসদদেরও নিশানা করে তিনি বলেন, “ফিল্মস্টাররা সব ভিনদেশি তারা। এদের ধারণা হলো, যেহেতু পাবলিক আমাদের দেখে দৌড়ে আসে, সংসদে সবাই আমাদের পেছন পেছন দৌড়ে যাবে।

    এদিকে বিদ্রোহী তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের দাবি- দুর্নীতি থেকে শুরু করে দলনেত্রীর নাগাল না পাওয়া পর্যন্ত, বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য সমস্যা জমে উঠেছিল এবং এমন এক অসন্তোষ তৈরি করেছিল যা এখন মমতার নেতৃত্বাধীন দলটিকে তাড়া করে ফিরছে।

    চারবারের সাংসদ ও বিদ্রোহীদের অন্যতম মুখ শতাব্দী রায়, যিনি ২০০৯ সাল থেকে মমতার পাশে রয়েছেন, দাবি করেছেন, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী- যিনি ‘দিদি’ নামে জনপ্রিয়-সমপ্রতি “বদলে গেছেন”, এই পরিবর্তনটি তিনি ভালোভাবে নেননি। রায় আরও বলেন যে, মানুষ প্রায়ই জিজ্ঞাসা করে কেন তারা আগে এই বিষয়গুলোতে চুপ ছিলেন এবং কেবল যখন দল সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় আছে, তখনই কেন বিষয়টি উত্থাপন করছেন। তিনি বলেন, “এর কারণ হলো, এখন সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন কী হয়েছিল তা আমরা দেখেছি। আমি এখনকার পরিস্থিতি বুঝতে পারছি, কিন্তু আমাকে এটা আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য করতে হবে।”

    এ.জেড

  • ইরানকে এখন চরম মূল্য দিতে হবে-ট্রাম্প

    ইরানকে এখন চরম মূল্য দিতে হবে-ট্রাম্প

    ইরানকে নিয়ে নতুন করে কড়া হুঁশিয়ার বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের জন্য দারুণ হতে পারতো এমন একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে তারা অনেক বেশি সময় নিয়েছে, এখন তাদের মূল্য দিতে হবে।

    তবে কী মূল্য দিতে হবে- তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
    তিনি দাবি করেছেন যে, ইরানের সামরিক বাহিনী পুরোপুরি বিশৃঙ্খল অবস্থায় এবং দেশটির নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর মতো এই বাহিনীর এখন আর কোনো অস্তিত্ব নেই।

    বুধবার নিজের মালিকাধীন ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প এসব বার্তা লিখেছেন। তিনি আরও বলেন, তারা পুরোপুরি পরাজিত হয়েছে। ইরান শুধু কথার বুলি ছাড়ে, কাজ করে না। মধ্যপ্রাচ্যে তাদের গুণ্ডামি শেষ।#

  • আপনি গুলি করলে আমি বসে থাকবো? বিএসএফকে বিজিবি

    আপনি গুলি করলে আমি বসে থাকবো? বিএসএফকে বিজিবি

    জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার রামরামপুর সীমান্তে এক বৃদ্ধকে পুশইনের চেষ্টা করাকে কেন্দ্র করে সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিএসএফের গুলির নির্দেশে বিজিবির পাল্টা হুঁশিয়ারি ‘আমাদেরও গুলি আছে, আমরা বসে থাকবো নাকি।’

    বুধবার সকাল ৫টার দিকে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার রামরামপুর সীমান্তে এক বৃদ্ধকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় ভারতের নন্দীরচর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা।

    বিষয়টি টের পেয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবির সদস্য ও স্থানীয়রা প্রতিরোধ করে। বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে নো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান নেয় ৬০ বছর বয়সি ওই ব্যক্তি।

    এরপর ৩০মিনিট বিজিবি ও বিএসএফের মধ্য পতাকা বৈঠক করেও নাগরিকত্বহীন ওই ব্যক্তিকে ফিরিয়ে না নেওয়ায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্য শুরু হয় বাকবিতণ্ডা। এক পর্যায়ে ওই বৃদ্ধকে বিএসএফ ধাক্কা দিয়ে বাংলাদেশর দিকে দিলে বিজিবি পাল্টা ধাক্কা দিয়ে ভারত সীমান্তে পাঠিয়ে দেয়। এসময় বিএসএফের সুবেদার গুলি করতে বললে বিজিবি সদস্যরা পাল্টা গুলি করার হুশিয়ারি দেয় যে ‘আমাদেরও গুলি আছে আমরা বসে থাকবনা, গুলি করবেন মানে? গুলি করতে বললেন কেন? একই সময়ে বিজিবির সাথে স্থানীয় এলাকাবাসীও চিৎকার দিয়ে লাঠি নিয়ে হুঁশিয়ারি দেয় বিএসএফকে। বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পেরে নো ম্যান্স ল্যান্ডে এখনো অবস্থান করছে ওই ব্যক্তি। এনিয়ে সীমান্তে বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে উত্তেজনা চলমান রয়েছে।

    জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল হাসানুর রহমান জানান, সকালে এক ব্যক্তিকে ভারত থেকে শুন্য রেখায় ঠেলে পাঠায় বিএসএফ। কিন্তু বিজিবি এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিরোধ করে। বিষয়টি সমাধানে বৈঠকের মাধ্যমে চেষ্টা করা হলেও এখনো সমাধান হয়নি। তবে পুশইন ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

  • ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালানো বেআইনি ও অন্যায়: গোলাম পরওয়ার

    ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালানো বেআইনি ও অন্যায়: গোলাম পরওয়ার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালাচ্ছে, যা বেআইনি, অন্যায় এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ভারত সরকার তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালিয়ে ভারতের সংবিধান, আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদের লঙ্ঘন করছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনও এ ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানালেও ভারত সরকার তা আমলে নিচ্ছে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    বিবৃতিতে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্ত দিয়ে ১১ জন ভারতীয় নারী-পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি তা প্রতিহত করে। তাদের মধ্যে ৯ মাসের গর্ভবতী নারী ও একজন প্রতিবন্ধী শিশুও রয়েছে। বর্তমানে তারা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছে।

    এছাড়া পঞ্চগড়ের হাড়িভাসা সীমান্ত দিয়ে ১০ জন ভারতীয়কে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে কুড়িগ্রাম, মেহেরপুর ও শেরপুরসহ প্রায় ১১টি জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ৩২০ জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পাঠানোর অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি এবং স্থানীয় জনগণের সতর্ক অবস্থানের কারণে একাধিকবার পুশ-ইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা যতদূর জেনেছি এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার ভারতের কাছে চিঠি পাঠালেও এখন পর্যন্ত কোনো জবাব পায়নি।

    জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বাংলাদেশের জনগণ কোনো অবস্থাতেই বিদেশি চাপের কাছে নতিস্বীকার করবে না। সীমান্তে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে প্রতিবেশীসুলভ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ভারতীয় আগ্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে আমরা বাংলাদেশ সরকারকে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।

  • ইসরাইলি কারাগারে ফিলিস্তিনিদের ভয়াবহ নির্যাতন

    ইসরাইলি কারাগারে ফিলিস্তিনিদের ভয়াবহ নির্যাতন

    আর্ন্তজাতকি ডেস্ক:

    ইসরাইলের বিভিন্ন কারাগারে আটক ফিলিস্তিনিদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার অনুসন্ধানে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

    ইসরাইলি কারাগারে এমন নির্যাতনের শিকার হওয়া মুহাম্মদ আল-বাকরি তেমনি একজন। তাকে যে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছিল সেই দিনটির কথা তিনি কোনোভাবেই ভুলতে পারছেন না। দিনটি ছিল ২০২৪ সালের ১০ এপ্রিল, রমজান মাসের শেষে ঈদুল ফিতরের ছুটির সময়।

    বাকরি জানান, এই ঘটনার এক মাস আগে ইসরায়েলি সেনাদের হাতে তিনি গ্রেপ্তার হন। এরপর থেকে গাজার এই সরকারি কর্মকর্তাকে মারধর, নির্যাতন, হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছিল।

    আল-বাকরি বলেন, তাকে আরও সাতজন বন্দির সঙ্গে রাখা হয়েছিল। তাদের সবাইকে বিবস্ত্র করে, চোখে পট্টি বেঁধে ও হাতে হাতকড়া পরানো হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, আমাদের কাপড় খুলে ফেলার পর ধর্ষণ করা হয়েছিল। আমরা আল্লাহ বলে চিৎকার করছিলাম, কিন্তু তারা শুধু হাসছিল আর আমাদের ভিডিও করছিল।

    গাজার এই সরকারি কর্মকর্তা বলেন, বন্দিদের যৌন নির্যাতনের সময় ইসরাইলি রক্ষীরা কুকুরও ব্যবহার করত। তিনি বলেন, কুকুরগুলো কর্মকর্তাদের নির্দেশেই আমাদের আক্রমণ করছিল।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-বাকরি তাদের মধ্যে একজন, যারা আল জাজিরার অনুসন্ধানী প্রামাণ্যচিত্র ‘বডিস অব এভিডেন্স: ইসরাইল’স ডার্কেস্ট ওয়েপন’ এর জন্য নিজেদের বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন।
    এই প্রামাণ্যচিত্রে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দ্বারা সংঘটিত বলে অভিযোগ ওঠা ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ঘটনাগুলো তদন্ত করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিচারকদের পর্যবেক্ষণ, জাতিসংঘের বিভিন্ন অনুসন্ধান এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনের জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেস্কা আলবানেজের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি বাহিনীর যৌন সহিংসতা ও যৌন নির্যাতন ব্যাপক ও পদ্ধতিগত আকার ধারণ করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

    মানবাধিকার সংস্থা প্যালেস্টিনিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস এবং ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটরসহ বিভিন্ন সংস্থা ফিলিস্তিনি বন্দিদের সাক্ষ্য নথিভুক্ত করেছে, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে ইসরাইলি সেনারা কুকুর ব্যবহার করে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো সহিংসতা চালিয়েছে।

    ইসরাইলি কারাগারে ফিলিস্তিনিদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়- এগুলো কয়েক দশক পুরোনো। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের হামলার পর গাজায় গণহত্যা যুদ্ধ শুরু করে ইসরাইল যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ধর্ষণের ব্যবহার বাড়িয়ে দিয়েছে।

    ২০২৫ সালের মার্চে প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরাইল কর্তৃক যৌন সহিংসতা, প্রজনন-সংক্রান্ত সহিংসতা এবং অন্যান্য লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ‘পদ্ধতিগত’ ব্যবহার সম্পর্কে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

  • প্রথমবার ১২ পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েন করল ভারত

    প্রথমবার ১২ পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েন করল ভারত

    ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র পর্যবেক্ষণ সংস্থা স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউট। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারত প্রথমবারের মতো ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড ‘মোতায়েন’ করেছে। এ সূত্র ধরে মঙ্গলবার সংবাদ প্রকাশ করেছে এনডিটিভি।

    ইনস্টিটিউটটির মতে, এত দিন ভারত তার পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং সেগুলো বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্যান্য ডেলিভারি সিস্টেম আলাদা স্থানে সংরক্ষণ করত। কিন্তু এবার প্রথমবারের মতো ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারকে শুধু মজুত নয়, বরং ‘অপারেশনালি ডিপ্লয়েড’ বা কার্যকরভাবে মোতায়েন অবস্থায় শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের এই ১২টি নতুন মোতায়েনকৃত ওয়ারহেড সম্ভবত সংশ্লিষ্ট ডেলিভারি সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে অথবা এমন সামরিক ঘাঁটিতে রাখা হয়েছে, যেখানে সেগুলো প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবহার করা সম্ভব। এছাড়া ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো এবং নতুন পারমাণবিক সাবমেরিনে প্রস্তুত অবস্থায় অস্ত্র মোতায়েন করা ভারতের পারমাণবিক প্রস্তুতি বৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করে।

    ইনস্টিটিউটটি আরও জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত প্রায় ১৯০টিতে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি। এসব অস্ত্র বিমান, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী পারমাণবিক সাবমেরিন নিয়ে গঠিত ভারতের ক্রমবিকাশমান ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’-এর অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ভারত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী পারমাণবিক সাবমেরিনে সীমিত সংখ্যক ওয়ারহেড মোতায়েন করেছে এবং পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে টহল কার্যক্রমও পরিচালনা করেছে

  • আয়াতুল্লাহ খামেনির দাফনের সময় জানাল ইরান

    আয়াতুল্লাহ খামেনির দাফনের সময় জানাল ইরান

    যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের সময় জানিয়েছে ইরান। খামেনির স্বরণসভায় গঠিত কমিটি জানিয়েছে, মহররমের প্রথম দশ দিন পার হলে জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

    ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ বলেছে, কমিটির সদর দপ্তর মঙ্গলবার (০৯ জুন) খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের জানাজা এবং স্মরণসভা নিয়ে দ্বিতীয় বিবৃতি দিয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, সাবেক সর্বোচ্চ নেতার স্বরণ, জানাজা এবং দাফন অনুষ্ঠান মর্যাদাপূর্ণভাবে আয়োজনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। বিবৃতিতে দেশি ও বিদেশি গণমাধ্যমে এই আয়োজনের সময় ও বিবরণ নিয়ে জল্পনা এবং যাচাইবিহীন প্রতিবেদন প্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক করা হয়েছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইমাম হুসাইনের শোকানুষ্ঠান পালনের বিষয়ে শহীদ নেতার দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে, আশুরার পর মহররম মাসের প্রথম দশ দিন শেষে জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

    কমিটি বলছে, শোকাহতদের যথাযথ পরিষেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রিয় সংগঠনগুলো চূড়ান্ত সময়সূচি ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয় করছে। অনুষ্ঠান সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সদর দপ্তর থেকে পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে।

    আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি টানা ৩৬ বছর ছয় মাস এ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

    এ.জেড

  • রাশিয়ার শ্রমবাজারে ১ লাখ কর্মী পাঠাতে চায় বাংলাদেশ

    রাশিয়ার শ্রমবাজারে ১ লাখ কর্মী পাঠাতে চায় বাংলাদেশ

    বাংলাদেশ ও রাশিয়া জনশক্তিখাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে ব্যাপকভাবে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে রাশিয়ায় বর্তমানে কর্মরত প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশী কর্মীর সংখ্যা আগামী এক বছরের মধ্যে এক লাখে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা।

    আজ মঙ্গলবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাশিয়ায় চলমান তিন দিনের সরকারি সফরে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এই প্রস্তাব দেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, রুশ কর্তৃপক্ষ এই প্রস্তাবের ওপর দ্রুততার সাথে কাজ করতে সম্মত হয়েছে এবং উভয়পক্ষই শিগগিরই প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। দুই দেশের আলোচনায় বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ায় জনশক্তি রফতানি দশগুণ বাড়ানোর বিষয়টি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উঠে এসেছে।

    জনশক্তি খাতে সহযোগিতার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ও রাশিয়া একমত হয়েছে যে বর্তমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম এবং তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো উচিত।

    রাশিয়ায় বাংলাদেশের রফতানিপণ্য বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও ওষুধ সামগ্রীর বাজার বাড়ানোর সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন ড. খলিলুর রহমান। বাণিজ্যের নতুন সুযোগ সন্ধান ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একটি বাংলাদেশী ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল রাশিয়ায় পাঠানোর প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে রুশ পক্ষ।

    এছাড়া দুই দেশের আলোচনায় প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংক্রান্ত সহযোগিতা বেশ গুরুত্ব পেয়েছে।

    কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য একটি রুশ প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের প্রস্তাব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এই প্রস্তাবেও তাৎক্ষণিকভাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে রাশিয়া।

    পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নীতিমালা প্রণয়ন এবং এই খাতে ‘সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ বা উৎকর্ষ কেন্দ্র স্থাপনে সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে মস্কো।

    ড. খলিলুর রহমান ৭ জুন থেকে রাশিয়া সফরে রয়েছেন। এই সফরে তার সাথে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

  • নাহিদ ইসলামের সঙ্গে ইইউ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বৈঠক

    নাহিদ ইসলামের সঙ্গে ইইউ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বৈঠক

    ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেছে।

    প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। মঙ্গলবার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় এনসিপির দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। বৈঠকে সাম্প্রতিক গণভোটে অনুমোদিত গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে ইইউ ইলেকশন অবজারভেশন টিমের নির্দেশনা পর্যালোচনা করা হয়। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নিয়েও দুই পক্ষ মতবিনিময় করে।আলোচনার শেষে উভয় পক্ষই চলমান সংলাপ অব্যাহত রাখা এবং গঠনমূলক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।বৈঠক শেষে এনসিপি নেতারা ইইউ প্রতিনিধি দলকে ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের গ্রাফিতি পরিদর্শন করান। সেখানে বিপ্লবের সময় তরুণদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও চেতনার প্রতিফলন তুলে ধরা হয়।বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন—এনসিপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আলাউদ্দিন মোহাম্মদ এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। ইইউ প্রতিনিধি দলে ছিলেন ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন বাইবা জারিনা এবং ফার্স্ট সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল) সেবাস্তিয়ান রিগার ব্রাউন।

  • কিউবায় দেড়শ বছরের মধ্যে শক্তিশালী ভূমিকম্প

    কিউবায় দেড়শ বছরের মধ্যে শক্তিশালী ভূমিকম্প

    কিউবার উত্তর-পশ্চিম উপকূলের কাছে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় সোমবারের কম্পন দেশটির পাশাপাশি মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কিছু অংশেও অনুভূত হয়েছে। সাধারণত ভূমিকম্পপ্রবণ নয় এমন এলাকাগুলোতে কম্পন অনুভূত হওয়ায় ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬.১ এবং এর গভীরতা ছিল প্রায় ২৬ কিলোমিটার (১৬ মাইল)। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল কিউবার মান্টুয়া শহরের পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ১০৪ কিলোমিটার দূরে। এটি রাজধানী হাভানা থেকে কয়েক ঘণ্টার পথ।

    ইউএসজিএসের ভূকম্পবিদ পল আর্ল বলেন, ক্যারিবীয় অঞ্চলের এই অংশে এত শক্তিশালী ভূমিকম্প খুবই অস্বাভাবিক। কারণ এটি দুটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে নয়, বরং একটি প্লেটের অভ্যন্তরে সংঘটিত হয়েছে, যেখানে সাধারণত ভূমিকম্পের ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম ঘটে।

    তিনি আরও জানান, সোমবারের ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে ৩২২ কিলোমিটার (২০০ মাইল) ব্যাসার্ধের মধ্যে সর্বশেষ এত শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিল ১৮৮০ সালে, যখন কিউবার সান ক্রিস্টোবাল এলাকার কাছে ৬.০ মাত্রার একটি কম্পন রেকর্ড করা হয়েছিল।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র জানতে আরও কিছু সময় প্রয়োজন হতে পারে।

  • বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপির সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর মি. এরিক গিলান এবং রাজনৈতিক কর্মকর্তা হারমানোশি বার্নার্ড। অত্যন্ত আন্তরিক, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে সাক্ষাৎ হয়েছে।বৈঠকে নির্বাচন-পরবর্তী দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় বাজেট, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বিভিন্ন দিকসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।

    এছাড়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের বিকাশ, সুশাসন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

    বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা টিমের সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।

  • যৌন অসদাচরণের অভিযোগে আইসিসি প্রসিকিউটর করিম খান বরখাস্ত

    যৌন অসদাচরণের অভিযোগে আইসিসি প্রসিকিউটর করিম খান বরখাস্ত

    যৌন অসদাচরণের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটর করিম খানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (৯ জুন) আইসিসির পরিচালনাকারী সংস্থা এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।

    সংস্থাটি জানায়, করিম খানকে যৌন অসদাচরণের অভিযোগের তদন্ত চলাকালে দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ তদারকি পরিসেবা কার্যালয় পরিচালিত তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাকে ১২৫ সদস্য রাষ্ট্রের সামনে শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রমের জন্য উপস্থাপন করা হবে। তবে তদন্তের ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করা হচ্ছে না।

    এক বিবৃতিতে ব্যুরো জানায়, তদন্ত প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট প্রমাণ, বিচারিক বিশেষজ্ঞদের একটি অ্যাড হক প্যানেলের পরামর্শ এবং লিখিত উপস্থাপনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ব্যুরো আরও বলেছে, সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত নথিপত্র গোপন রাখা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের গোপনীয়তা, অধিকার ও চলমান প্রক্রিয়ার অখণ্ডতা রক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    এ/জড

    এ বিষয়ে আলোচনা ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য ১২৫ সদস্য রাষ্ট্রকে নিয়ে একটি বিশেষ অধিবেশন যত দ্রুত সম্ভব আহ্বান করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

  • সব ‘ককরোচ’ একহলে কি হবে ভারতে?

    সব ‘ককরোচ’ একহলে কি হবে ভারতে?

    ভারতের তরুণদের প্রতি আহ্বানটি ছিল সহজ, ‘শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে দিল্লির রাস্তায় নামতে প্রস্তুত হও’। সেই আহ্বানে বেরিয়ে আসেন হাজার হাজার তরুণ।

    শনিবার অনুষ্ঠিত হলো ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রথম প্রকাশ্য বিক্ষোভ। মূলত ঠাট্টা-বিদ্রু প আর ব্যঙ্গের মধ্য দিয়ে দলটির জন্ম। ব্যঙ্গাত্মক এই উদ্যোগ দ্রুতই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

    সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, যিনি এই প্রাণবন্ত বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিতে শনিবার সকালেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়ে এসেছিলেন। তিনি বলেন, ‘এ দেশের তরুণেরা আর ভয় পাবে না, তারা লড়াই করবে।’

    দীপকে বলেন, ‘সরকারের কাছে আমরা হয়তো নিছক পোকামাকড়, কিন্তু আমরা জীবিত এবং আমাদের অধিকারের জন্য লড়াই করতে সক্ষম।’

    কড়া পুলিশি পাহারার মধ্যে সমবেত হওয়া জেন-জি ও মিলেনিয়াল প্রজন্মের অনেকেই আশা প্রকাশ করছেন যে, প্রতিবেশী দেশ নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় সরকার পতনকারী আন্দোলনের মতো একটি যুব নেতৃত্বাধীন আন্দোলন ভারতেও গতি পেতে পারে।

    সিজেপির পেছনের এই জোয়ার অনেককেই অবাক করেছে। বিশেষ করে দীপকে, যিনি মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও বোস্টন ইউনিভার্সিটির একজন ভারতীয় স্নাতক হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক শান্ত জীবনযাপন করছিলেন।

    সুপ্রিম কোর্টের এক শুনানিতে ভারতের প্রধান বিচারপতি ভারতের বেকার যুবকদের ‘পরজীবী’ এবং ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। তার এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েই দীপকে হঠাৎ করে সামাজিক মাধ্যমে মজা করে একটি আহ্বান জানান, ‘সব তেলাপোকা একজোট হলে কেমন হয়?’

    এ/জেড

    ।

  • হামলা বন্ধের ঘোষণা ইরানের, তবে ইসরায়েল হামলা চালালে কঠোর জবাব

    হামলা বন্ধের ঘোষণা ইরানের, তবে ইসরায়েল হামলা চালালে কঠোর জবাব

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    হামলা বন্ধের ঘোষণা ইরানের, তবে ইসরায়েল হামলা চালালে কঠোর জবাব দেওয়া হবে । আপাতত হামলা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তবে ইসরায়েল যদি আবার ইরানে বা লেবাননে হামলা চালায়, তাহলে এর জবাব দেওয়া হবে।

    ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সশস্ত্র বাহিনীর চলমান অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা দেওয়া হলো।’ পাশাপাশি বিবৃতিতে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছে, ইসরায়েল যদি ইরান ও লেবাননে হামলা চালাতে থাকে তেহরান ‘আগের চেয়ে আরও কঠোর এবং শক্তিশালী’ জবাব দেবে।

  • ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ১৯

    ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ১৯

    ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলে গতকাল সোমবার আঘাত হানে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প। এতে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। রিখটার স্কেলে তীব্র মাত্রার এই ভূমিকম্পের পর ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়।

    বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে এই শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের তীব্রতায় বেশ কিছু ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে বিখ্যাত ফাস্টফুড চেইন শপ ‘জলিবি’র একটি রেস্তোরাঁ সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার ভিডিও সামনে এসেছে।

    স্থানীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে দক্ষিণ কোটাবাতো, সুলতান কুদরাত, সারাঙ্গানি প্রদেশ এবং জেনারেল সান্তোস শহরে অন্তত ১৩৪ জন আহত হয়েছেন।

    ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল বা উপকেন্দ্রের কাছাকাছি থাকা জেনারেল সান্তোস শহরটি ফিলিপাইনের ‘টুনা মাছের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত এবং এটি বিশ্বখ্যাত বক্সার ও রাজনীতিবিদ ম্যানি প্যাকিয়াও-এর দেশের বাড়ি। ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় সারাঙ্গানি প্রদেশে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল, যা পরবর্তীতে সচল করা হয়। মূল ভূমিকম্পের পর ১ দশমিক ৩ থেকে ৬ দশমিক ৭ মাত্রার ১৩০টিরও বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে।

    ফিলিপাইনের নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগটি আঘাত হানে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাভাও অক্সিডেন্টাল প্রদেশের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, সকালের প্রাত্যহিক সমাবেশের (পিটি) সময় তীব্র কম্পনে আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা মাটিতে বসে চিৎকার করছে।

    ভূমিকম্পের পরপরই প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে সর্বোচ্চ ৩ মিটার উচ্চতার ঢেউয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিল। জাপানের কর্তৃপক্ষও তাদের উপকূলে এক মিটার উঁচু ঢেউয়ের আঘাতের সতর্কতা জারি করে।

  • ভাইয়ের করা মামলায় তুরিন আফরোজকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ

    ভাইয়ের করা মামলায় তুরিন আফরোজকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ

    পৈতৃক সম্পত্তির দখল ও জালিয়াতির অভিযোগে ভাইয়ের করা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

    সোমবার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

    মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর উত্তরা এলাকায় পারিবারিক সম্পত্তির দখল ও জালিয়াতিকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। বাদী শাহ নেওয়াজ আহাম্মদের অভিযোগ, অভিযুক্ত তুরিন আফরোজ প্রভাব খাটিয়ে এবং জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি আত্মসাৎ করার চেষ্টা করেছেন।

    অভিযোগে বলা হয়, তাদের বাবা মারা যাওয়ার পর তুরিন আফরোজ জালিয়াতির মাধ্যমে একটি ভুয়া হলফনামা তৈরি করে সম্পত্তির মালিকানা দাবি করেন। এ ছাড়া তিনি প্রভাব খাটিয়ে বাদীর মায়ের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও দলিলপত্র নিয়ে যান বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, তুরিন আফরোজ বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন, যার ফলে তারা দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থানের কারণে বাদীর মামলা দায়ের করতে বিলম্ব হয়েছে। তদন্ত শেষে পিবিআই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে।

    বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কফিল মাহমুদ রায়হান জানান, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালতে তুরিন আফরোজকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে তাকে মামলাটিতে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

  • ‘ইসরাইলের শাসনব্যবস্থার দিন ফুরিয়ে আসছে’

    ‘ইসরাইলের শাসনব্যবস্থার দিন ফুরিয়ে আসছে’

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ত: তেহরান ও তেল আবিবের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনা ও একের পর এক সামরিক সংঘাতের মধ্যেই ইসরাইলকে নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।

    সোমবার (৮ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, ভঙ্গুর জায়নবাদী শাসনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি আছে।

    মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের এক চরম সংকটময় মুহূর্তে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পক্ষ থেকে এই মন্তব্য এলো। লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে ইসরাইলি বিমান হামলার জবাবে রোববার (৭ জুন) রাতে উত্তর ইসরাইল অভিমুখে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান।

    ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরপরই পাল্টা জবাব দেয় তেল আবিব। ইসরাইলি বাহিনী পশ্চিম ও মধ্য ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে জোরালো বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এই সময় রাজধানী তেহরান, ইসফাহান এবং তাবরিজসহ ইরানের বেশ কয়েকটি প্রধান শহরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

    উভয় পক্ষের এই ব্যাপক হামলা ও পাল্টা হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মোজতবা খামেনির এই হুঙ্কার ইসরাইলের প্রতি ইরানের কঠোর অবস্থান এবং সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

  • পবিত্র কোরআনে চুমু দিয়ে বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করল ইরান

    পবিত্র কোরআনে চুমু দিয়ে বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করল ইরান

    আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে মেক্সিকোতে পৌঁছেছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। চলতি মাসের শেষের দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ খেলার আগে নিজেদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও অনুশীলনের জন্য দলটি মেক্সিকোতে অবস্থান করছে। যাত্রা শুরুর আগে দলটি তাদের দীর্ঘ দিনের ঐতিহ্য ধরে রাখতে কোরআন শরীফে চুমু খেয়ে, তার নিচ দিয়ে হেঁটে গিয়ে যাত্রা শুরু করে।

    মেক্সিকোর উদ্দেশে যাত্রার আগে তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত বিদায়ি অনুষ্ঠানে দেখা যায়, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা পবিত্র কোরআনে চুম্বন দিচ্ছেন এবং কোরআনের নিচ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    ইরানি সংস্কৃতিতে এই রীতি দীর্ঘদিনের। গুরুত্বপূর্ণ কোনো সফর বা অভিযানের আগে কোরআন চুম্বন ও তার নিচ দিয়ে অতিক্রম করাকে আল্লাহর সুরক্ষা, দিকনির্দেশনা ও সফলতার আশীর্বাদ কামনার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এটি ধর্মীয় আচারের পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য, বিশ্বাস ও গর্বেরও বহিঃপ্রকাশ।

    যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে শুরু থেকেই নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। যার মূল কারণ ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং তাতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা। ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সমস্যার কারণে ইরানকে তাদের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের টুকসন থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর টিজুয়ানাতে স্থানান্তর করতে হয়, যা ক্যালিফোর্নিয়া সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত। এর আগে দলটি তুরস্কের ভূমধ্যসাগরীয় শহর আন্টালিয়াতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল এবং সেখান থেকে একটি ব্যক্তিগত বিমানে করে সরাসরি মেক্সিকোতে এসে পৌঁছায়।

    চলতি বছরের মার্চ মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে এই টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়ার জন্য নিরুৎসাহিত করেছিলেন। খেলোয়াড়দের ‘জীবন ও নিরাপত্তা’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেছিলেন এই পরিস্থিতিতে ইরানের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ‘উপযুক্ত’ বলে তিনি মনে করেন না।

    তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরদিনই ইরানের জাতীয় দলের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। তারা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, ইরানকে বিশ্বকাপ খেলা থেকে বাদ দেওয়ার বা ‘বর্জন করার ক্ষমতা কারো নেই’। সব বাধা পেরিয়ে ইরানি দল এখন মাঠের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।

  • ইসরাইল-ইরানকে অবিলম্বে পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধ করতে হবে: ট্রাম্প

    ইসরাইল-ইরানকে অবিলম্বে পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধ করতে হবে: ট্রাম্প

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার চলমান নতুন সংঘাত দ্রুত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

    সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ইসরাইল ও ইরানকে অবিলম্বে পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা চালানো বন্ধ করতে হবে।

    একই পোস্টে তিনি জানান, চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান অবরোধ ব্যবস্থা বহাল থাকবে। ট্রাম্প বলেন, “চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ সম্পূর্ণ কার্যকর থাকবে। তবে বিষয়গুলো দ্রুত এগোবে বলে আশা করছি।

    ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে আবারও হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে।

  • তুরস্কের সহযোগিতায় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে আলোচনা

    তুরস্কের সহযোগিতায় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে আলোচনা

    বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, কারিকুলাম আধুনিকায়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    সোমবার (৮ জুন) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের দপ্তরে তার্কিশ কো-অপারেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন এজেন্সির (টিকা) ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. আলি এরজানের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

    সাক্ষাৎকালে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, তুরস্ক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি অর্জন করেছে, বাংলাদেশও সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে চায়। এজন্য প্রাথমিক স্তর থেকেই বিজ্ঞান, গণিত, প্রযুক্তি ও সমস্যা সমাধান দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, সরকার শিক্ষক প্রশিক্ষণ, নতুন শিক্ষাক্রম, অবকাঠামো উন্নয়ন ও ডিজিটাল শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মসূচিও চলমান রয়েছে।

    ড. আলি এরজান বলেন, প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নের পরিকল্পনা প্রশংসনীয়। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে এই উদ্যোগ বাংলাদেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষ শিক্ষা খাতে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা, মডেল স্কুল উন্নয়ন, শিক্ষক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পেডাগজিক্যাল পদ্ধতি নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়ে একমত হন।

  • সেীদিতে হাজার হাজার অবৈধ বাসিন্দা গ্রেপ্তার

    সেীদিতে হাজার হাজার অবৈধ বাসিন্দা গ্রেপ্তার

    সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনী গত এক সপ্তাহে ৭ হাজার ৭৬০ জন অবৈধ বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে সৌদি গেজেটের মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সৌদি মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে শনিবার জানানো হয়, গত ২৮ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত অভিযানে এসবব্যক্তিকেগ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৪ হাজার ৬০ জন আবাসিক আইন, ২ হাজার ৫৭৪ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন এবং ১ হাজার ১২৬ জন শ্রম আইন লঙ্ঘনকারী। বিবৃতিতে বলা হয়, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় ১ হাজার ১৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ২৮ শতাংশ ইয়েমেনি নাগরিক, ৭০ শতাংশ ইথিওপীয় এবং বাকি ২ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক।

    এ ছাড়া অবৈধভাবে দেশ ত্যাগের চেষ্টা করার সময় আরও ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ৪ হাজার ৬৯০ জন অবৈধ বাসিন্দাকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ১৪ হাজার ৪৯৫ জনকে তাদের ভ্রমণ নথি সংগ্রহের জন্য কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে এবং ৮৫০ জনকে ভ্রমণ ব্যবস্থা সম্পন্ন করার প্রক্রিয়ায় রাখা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের পরিবহন, আশ্রয় বা কর্মসংস্থান দেয়ার সঙ্গে জড়িত ১৬ জনকেও আটক করা হয়েছে।

    বর্তমানে মোট ২১ হাজার ৭৭৪ জন প্রবাসী আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে ২০ হাজার ৪৫৫ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৩১৯ জন নারী। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, অবৈধ প্রবেশে সহায়তা, পরিবহন, আশ্রয় বা যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করলে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

  • মালয়েশিয়ায় অবৈধ ব্যবসা ও ভিসাধারীর বিরুদ্ধে বার্তা

    মালয়েশিয়ায় অবৈধ ব্যবসা ও ভিসাধারীর বিরুদ্ধে বার্তা

    মালয়েশিয়ায় স্থানীয় ব্যবসার লাইসেন্স ব্যবহার করে বিদেশিদের অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা, বিভিন্ন ধরনের ভিসার অপব্যবহার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার।

    প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাম্প্রতিক নির্দেশনাকে ঘিরে দেশটির ব্যবসায়ী মহল ও প্রবাসী কমিউনিটিতে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের নামে লাইসেন্স নিয়ে বিদেশিদের ব্যবসা পরিচালনা, প্রক্সি কোম্পানি গঠন এবং ভিসার শর্ত ভঙ্গ করে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ থাকলেও এবার সরকার বিষয়টিকে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

    সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, স্থানীয় কিংবা বিদেশি—যে-ই হোক না কেন, ব্যবসায়িক লাইসেন্স, ভিসা বা ব্যবসায়িক সুবিধার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

    সরকারের মুখপাত্র ও যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল সাংবাদিকদের বলেন, আইন লঙ্ঘন করে ব্যবসা পরিচালনা, লাইসেন্সের অপব্যবহার বা ভিসার শর্ত ভঙ্গের ঘটনায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে স্থানীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তার এ বক্তব্যকে অনেকেই সরকারের পক্ষ থেকে একটি ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তা হিসেবে দেখছেন।

    মালয়েশিয়ায় বহু বছর ধরে আলোচিত একটি বিষয় হলো ‘আলী বাবা’ ব্যবসা। স্থানীয়ভাবে এর অর্থ হলো—কোনো মালয়েশীয় নাগরিক তার ব্যবসায়িক লাইসেন্স বা কোম্পানির নিবন্ধন ব্যবহার করে বিদেশিদের ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ করে দেন। কাগজে-কলমে ব্যবসার মালিক স্থানীয় ব্যক্তি হলেও বাস্তবে ব্যবসা পরিচালনা করেন বিদেশিরা।

    মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থী, সামাজিক ভিজিট, ডিপেনডেন্ট কিংবা অন্যান্য ভিসায় প্রবেশ করে অনুমোদন ছাড়া ব্যবসা বা চাকরিতে যুক্ত হওয়ার ঘটনা ধরা পড়েছে।

    স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, কিছু ক্ষেত্রে বিদেশিরা স্থানীয়দের নামে ব্যবসা পরিচালনা করে বাজারে প্রভাব বিস্তার করছেন। এতে কর পরিশোধ, শ্রমনীতি এবং লাইসেন্স সংক্রান্ত নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ হচ্ছে না।

  • উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্র ছাড়বেনা -কিমের বোন

    উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্র ছাড়বেনা -কিমের বোন

    উত্তর কোরিয়া কখনোই তাদের পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করবে না । বরং নিজেদের পারমাণবিক শক্তি ক্রমাগত বাড়াতেই থাকবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের ক্ষমতাধর বোন কিম ইয়ো জং। সোমবার (৮ জুন) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফরের ঠিক আগে এক বিবৃতিতে তিনি এই ঘোষণা দেন।

    দুই দেশের ঐতিহাসিক শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্কালে কিম ইয়ো জং স্পষ্ট করেন, উত্তর কোরিয়া কোনো ধরনের হুমকি বরদাশত করবে না এবং পিয়ংইয়ংকে পরমাণুমুক্ত করার মার্কিন প্রচেষ্টাকে তিনি একটি ‘সেকেলে স্বপ্ন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ-র বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।

    কিম জং উনের সরকারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন থাকা কিম ইয়ো জং যুক্তরাষ্ট্রের দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এর আগে গত মে মাসে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যকার এক শীর্ষ সম্মেলনে উত্তর কোরিয়াকে পরমাণুমুক্ত করার বিষয়ে বেইজিং ও ওয়াশিংটন একমত হয়েছে বলে দাবি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

    এই প্রসঙ্গে কিম ইয়ো জং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবিটি অসত্য এবং এ বিষয়ে তাদের কাছে সবচেয়ে সঠিক তথ্য রয়েছে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে রাষ্ট্রপ্রধানের ঘোষণা অনুযায়ী আত্মরক্ষামূলক পারমাণবিক যুদ্ধের সক্ষমতা ক্রমাগত শক্তিশালী করার নীতি একটি চূড়ান্ত এবং অপরিবর্তনীয় সিদ্ধান্ত, যা কোনো শর্ত ছাড়াই বাস্তবায়ন করা হবে। মার্কিন কিছু কর্মকর্তা এখনও অবাস্তব ও সেকেলে স্বপ্ন থেকে জেগে উঠতে পারেননি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    কিম ইয়ো জংয়ের এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এলো, যখন উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি তাদের একটি নতুন পারমাণবিক উপাদান উৎপাদন কারখানা জনসমক্ষে এনেছে। সেখানে পরিদর্শনের সময় কিম জং উন দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডার ‘জ্যামিতিক হারে’ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

    দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ-জানায়, কিম জং উন একটি প্রধান গোলাবারুদ কারখানা পরিদর্শন করেছেন এবং আগামী পাঁচ বছরে দেশের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ক্ষমতা আড়াই গুণ বাড়ানোর আদেশ দিয়েছেন।

  • তৃণমূল নেতাকে জুতার মালা পরিয়ে ঘোরালেন এলাকাবাসী

    তৃণমূল নেতাকে জুতার মালা পরিয়ে ঘোরালেন এলাকাবাসী

    সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগে স্থানীয় এক তৃণমূল নেতাকে জুতার মালা পরিয়ে গ্রাম ঘোরালেন। পরে তার মাথার চুল কেটে দেয় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা।

    অভিযুক্ত নেতার নাম সন্ন্যাসী মান্না। তিনি শ্যামপুরের আমড়দহ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একশো দিনের কাজ, আবাসন প্রকল্পসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ছিল সন্ন্যাসী মান্নার বিরুদ্ধে।

    তবে সন্ন্যাসী মান্না নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেননি। তার দাবি, এলাকার উন্নয়নমূলক কিছু কাজের জন্য কয়েকজনের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি সেই অর্থ ফেরত দিতে প্রস্তুত রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন।

    ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সন্ন্যাসী মান্নাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ, জনরোষের কারণ এবং আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনার বিষয়েও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

  • বিএসএফ’র পুশইন চেষ্টা ১১ জনের মানবতার জীবনযাপন

    বিএসএফ’র পুশইন চেষ্টা ১১ জনের মানবতার জীবনযাপন

    ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক ‘পুশইন’-এর শিকার ১১ জনের প্রায় ৪০ ঘণ্টা ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
    শনিবার ভোরে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ওই ১১ জনকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রতিহত করলে তারা দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়। এরপর থেকেই তারা সীমান্ত এলাকায় আটকে রয়েছেন।

    আটকে পড়াদের মধ্যে রয়েছেন ৩ জন পুরুষ, ৪ জন নারী ও ৪ জন শিশু। তাদের মধ্যে একজন ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং একজন প্রতিবন্ধী শিশু রয়েছে বলে জানা গেছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই দফা পতাকা বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হয়নি। ফলে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

    ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রোজিনা আক্তার জানান, তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গে ভারতের কলকাতায় বসবাস করছিলেন। পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের আটক করে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ঘোরানোর পর ঠাকুরগাঁও সীমান্তে এনে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, খোলা মাঠে পড়ে থাকা নারী ও শিশুদের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। মানবিক কারণে গ্রামবাসীরা খাবার ও পানি দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

    ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে অবৈধ পুশইনের বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। আইন ও নিয়ম অনুযায়ী যাচাই–বাছাই শেষে বাংলাদেশি নাগরিকদের গ্রহণ করা হবে, তবে অবৈধভাবে ঠেলে দেওয়া কাউকে গ্রহণ করা হবে না।

    এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে শূন্যরেখায় আটকে থাকা নারী, শিশু ও অসহায় মানুষের মানবিক সংকট নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

  • ইরানের অর্থ উপসাগরীয় মিত্রদের দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

    ইরানের অর্থ উপসাগরীয় মিত্রদের দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

    যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছে, তারা ইরানের সম্পদ গালফ দেশগুলোর ক্ষয়ক্ষতি পুনর্গঠন ও মেরামতের কাজে ব্যবহারের জন্য দেওয়ার চেষ্টা করবে। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে। ইরান কুয়েত ও বাহরাইনের ওপর একাধিক হামলা চালানোর পর এবং নতুন করে ড্রোন উৎক্ষেপণ করার ধারাবাহিকতার মধ্যেই এই সিদ্ধান্তের কথা সামনে আসে।

    সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট একটি দলকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে ইরানের হামলায় গালফ মিত্রদের ইতোমধ্যে হওয়া ক্ষতির আর্থিক মূল্যায়ন করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য ধ্বংসযজ্ঞের ক্ষেত্রেও ইরানি সম্পদ ব্যবহার করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

    এই তথ্য এমন সময় প্রকাশিত হলো, যখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই সিএনএনকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তিন মাসের যুদ্ধ শেষ করতে শান্তিচুক্তির অন্যতম শর্ত হলো যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা ২৪ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্ত করা।

    এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ আবারও বেড়েছে। শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের একজন মন্ত্রী শনিবার তেহরান সফর করেন এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির কাছে চিঠি পৌঁছে দেন।

    এর আগে শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় হামলা চালায়। এর মধ্যে গোরুক ও কেশম দ্বীপের লক্ষ্যবস্তু ছিল, যা হরমুজ প্রণালির ভেতরে অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, তারা ইরান থেকে উৎক্ষেপিত একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করেছে, যেগুলো সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছিল। পরে আরও দুটি ইরানি আক্রমণাত্মক ড্রোনও গুলি করে ভূপাতিত করা হয়।

    পরে ইরান জানায়, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দাবি করে, ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে এবং সপ্তমটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেনি।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসেন নাকভি গতকাল শনিবার তেহরানে পৌঁছান এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। নাকভি জানান, তিনি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ‘বিশেষ একটি চিঠি’ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইর কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে রয়েছেন।

  • শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ককরোচ পার্টির আন্দোলন চলবে

    শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ককরোচ পার্টির আন্দোলন চলবে

    ভারতে বিভিন্ন জাতীয় পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে শুরু হয়েছে তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।

    রোববার (০৭ জুন) মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগর জেলার এমআইডিসি ওয়ালুজ এলাকায় নিজ বাসভবনে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন অভিজিৎ। খবর ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য হিন্দুর।

    দীপকে দাবি করেন, নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি সফল হয়েছে। এতে প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন থেকে এক পা-ও পিছিয়ে যাব না।’তিনি আরও জানান, আন্দোলনকে এখন সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই এ বিষয়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    শনিবার ককরোচ জনতা পার্টির ব্যানারে শত শত বিক্ষোভকারী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে জড়ো হয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন। এ সময় আন্দোলনকারীদের ভয় না পাওয়ার আহ্বান জানান দীপকে।

    পরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখপাত্ররা জানান, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ অথবা তার স্বেচ্ছা পদত্যাগের জন্য তারা কেন্দ্রীয় সরকারকে এক সপ্তাহ সময় দেবেন। এর মধ্যে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া হলে দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করা হবে।

  • “ইনকিলাব জিন্দাবাদ ”শ্লোগানে মুখরিত

    “ইনকিলাব জিন্দাবাদ ”শ্লোগানে মুখরিত

    ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বিক্ষোভস্থলে পৌঁছালে উপস্থিত জনতা ‘ভারত মাতা কি জয়’, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ এবং ‘জয় ভীম’ স্লোগানে তাকে স্বাগত জানায়।

    ককরোচ জনতা পার্টি অভিযোগ করে জানায়, দেশের বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ধর্মেন্দ্র প্রধান ‘সরাসরি দায়ী’। খবর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।

    যুক্তরাষ্ট্র থেকে শনিবার ভোরে দিল্লিতে পৌঁছান সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। দিল্লি পুলিশ তাকে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের অনুমতি দিয়েছে।

    বিক্ষোভকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বাসভবনের বাইরেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এসময় বিক্ষোভকারীদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের নাম উল্লেখ করা হয়।

    উল্লেখ্য, ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যের পর অনলাইনে ব্যঙ্গধর্মী আন্দোলন হিসেবে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ যাত্রা শুরু হয়। এক শুনানিতে প্রধান বিচারপতি এক শ্রেণির তরুণকে তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে এই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন।

    সময়ের সঙ্গে আন্দোলনটি বিভিন্ন পরিচিত ব্যক্তির সমর্থন পেয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন দেশটির শিক্ষা সংস্কারক ও জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক, চলচ্চিত্র নির্মাতা অনুরাগ কাশ্যপ, অভিনেত্রী সোনাক্ষি সিনহা, দিয়া মির্জা, ফাতিমা সানা শেখ সহ অনেকেই।

  • জম্মু ও কাশ্মির কখনোই ভারতের অংশ ছিল না কখনো হবেও না জাতিসংঘে পাকিস্তান

    জম্মু ও কাশ্মির কখনোই ভারতের অংশ ছিল না কখনো হবেও না জাতিসংঘে পাকিস্তান

    ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :জম্মু ও কাশ্মীর ‘কখনোই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল না, নয় এবং কখনো হবেও না’ বলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সাফ জানিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। বিতর্কিত এ অঞ্চলটি নিয়ে বিশ্বমঞ্চে নতুন করে শুরু হওয়া এক কূটনৈতিক দ্বন্দ্বে নয়াদিল্লির দাবি প্রত্যাখ্যান করে ইসলামাবাদ এ মন্তব্য করেছে।জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পার্বথানেনি হরিশ কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করার পর পাকিস্তানের পক্ষে জবাব দেওয়ার অধিকার (রাইট অব রিপ্লাই) প্রয়োগ করে এ মন্তব্য করেন পাকিস্তানি কূটনীতিক গুল কায়সার সারওয়ানি।১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে সারওয়ানি বলেন, ভারত অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর যে একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিরোধপূর্ণ অঞ্চল, তা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এজেন্ডায় এখনো রয়েছে।তিনি বলেন, কোনো ধরনের বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এ বিরোধের ঐতিহাসিক, আইনি ও আন্তর্জাতিক চরিত্রকে বদলে দেওয়া যাবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর কখনোই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল না, নয় এবং কখনো হবেও না।

    এর আগে জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমেদ বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের বার্ষিক প্রতিবেদনে জম্মু-কাশ্মীর ও ফিলিস্তিন—উভয় সংকটেরই ধারাবাহিক প্রাসঙ্গিকতার বিষয়টি উঠে এসেছে। জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব অনুযায়ী এ দুই সংকটের সমাধান হওয়া জরুরি। তার এই বক্তব্যের পরই দুদেশের মধ্যে এ কূটনৈতিক বাকযুদ্ধ শুরু হয়।

    সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত আসিম উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালীন নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিবেদনে ‘ভারত-পাকিস্তান প্রশ্ন’ সংক্রান্ত ২০টিরও বেশি চিঠি বা যোগাযোগ নিরাপত্তা পরিষদের নজরে আনা হয়েছে।

    তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের মে মাসে নিরাপত্তা পরিষদ এই ইস্যুতে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকও করেছে। এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হয় যে, এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সাত দশকেরও বেশি সময় পরও কাশ্মীর বিরোধটি এখনো নিরাপত্তা পরিষদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

    আসিম আহমেদ বলেন, পাকিস্তান বিশ্বাস করে যে দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই শান্তি বজায় রাখতে হলে নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব এবং কাশ্মীরি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী কাশ্মীর বিরোধের একটি ন্যায়সংগত নিষ্পত্তি প্রয়োজন। কাশ্মীরি জনগণকে অবশ্যই তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিতে হবে।

    পাকিস্তানি এই দূত আরও বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের বার্ষিক প্রতিবেদনে ফিলিস্তিন ও কাশ্মীর সংকটের মতো দীর্ঘস্থায়ী বিরোধগুলোর প্রাসঙ্গিকতা বারবার ফুটে উঠছে, যা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত এবং এগুলোর সমাধান হওয়া আবশ্যক।

    ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে পাকিস্তানি প্রতিনিধি বলেন, ফিলিস্তিনের চলমান ট্র্যাজেডি, বিশেষ করে গাজার পরিস্থিতি নিরাপত্তা পরিষদের এজেন্ডায় শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে রয়েছে। রক্তপাত বন্ধে বারবার ব্যর্থ হওয়ার পর, নিরাপত্তা পরিষদ অবশেষে গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে সমর্থন করে ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, যা আশার আলো দেখাচ্ছে।

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবটি পুরোপুরি এবং বিশ্বস্ততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য।

    আসিম আহমেদ আরও যোগ করেন, ১৯৬৭ সালের পূর্বের সীমানার ভিত্তিতে জেরুজালেমকে (আল-কুদস আল-শরিফ) রাজধানী করে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন এবং ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের প্রতি পাকিস্তানের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে ইসলামাবাদ।

    জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং বিশেষ রাজনৈতিক মিশনগুলোর অপরিহার্য ভূমিকার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত আসিম আহমেদ। তিনি বলেন, পাকিস্তান শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে এবং এ মিশনগুলো যেন কার্যকর, পর্যাপ্ত সম্পদসমৃদ্ধ ও উদীয়মান চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলা করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো একটি অধিকতর গণতান্ত্রিক, প্রতিনিধিত্বশীল এবং জবাবদিহিমূলক বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাকে নির্দেশ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদে ‘ভেটো’ ক্ষমতার ব্যবহার সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এখনো একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।

    তাই এটি স্পষ্ট যে, নিরাপত্তা পরিষদে একক স্থায়ী সদস্য পদের সম্প্রসারণ এবং ভেটো ক্ষমতার ব্যবহার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অভিন্ন লক্ষ্যের পরিপন্থি।

  • দিনাজপুর সীমান্তে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের, প্রতিহত বিজিবির

    দিনাজপুর সীমান্তে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের, প্রতিহত বিজিবির

    দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) মশালগাঁও বিওপির (ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলা) দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী- বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি।

    শনিবার (৬ জুন) ভোররাতে ১১ জনকে (৩ জন পুরুষ, ৪ জন নারী ও ৪ জন শিশু) পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ।

    বর্তমানে তারা ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছে। বিজিবি সতর্ক অবস্থায় আছে।

    দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও সীমান্তে সম্ভাব্য পুশইন প্রতিরোধে দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) কঠোর নজরদারি, পুশইন প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে কাজ করছে বিজিবি।

    দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, ‘অবৈধ পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় আপসহীন। সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে সচেতন করতে আমি ব্যক্তিগতভাবে জনসচেতনতামূলক সভায় অংশগ্রহণ করেছি। কোম্পানি ও বিওপি কমান্ডারগণও নিয়মিতভাবে স্থানীয় জনগণের সাথে মতবিনিময় ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের সদস্যরা সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে।’

    তিনি সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘পুশইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ কিংবা যেকোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য পাওয়া মাত্রই বিজিবিকে অবহিত করতে হবে। সীমান্ত সুরক্ষায় জনগণ ও বিজিবির সমন্বিত উদ্যোগই সবচেয়ে বড় শক্তি।’

    বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং পুশইন প্রতিরোধে বাহিনী সর্বদা সজাগ ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

  • বাংলাদেশের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করতে চায় তুরস্ক

    বাংলাদেশের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করতে চায় তুরস্ক

    বাংলাদেশের সাথে তুরস্ক বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, মানবিক কার্যক্রম ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি রোহিঙ্গা সঙ্কট ও বৈশ্বিক শান্তি উদ্যোগে ঢাকার প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়ে সম্পর্ক আরো গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান শুক্রবার (৫ জুন) ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাথে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরা দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরো বিস্তৃত পরিসরে গভীর করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং একে দৃঢ় ভিত্তির ওপর আরো শক্তিশালী ও দূরদর্শী পর্যায়ে উন্নীত করতে চাই।

    ড. খলিলুর রহমানকে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়ে ফিদান বলেন, এটি বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার প্রতিফলন। জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা এবং ড. খলিলুর রহমানের অভিজ্ঞতার কারণে তিনি দায়িত্ব সফলভাবে পালন করবেন বলে তুরস্কের মন্ত্রী আশ্বাস দেন।

    ফিদান স্মরণ করিয়ে দেন, সম্প্রতি ড. খলিলুর রহমান তুরস্ক সফর করেছেন এবং দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় সফরে সম্পর্ক গভীর করার অভিন্ন সংকল্পকেই তুলে ধরে।

    তিনি জানান, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সংস্থায় সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে ফিদান বলেন, দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে দুই বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার উদ্যোগ নিচ্ছে। প্রতিরক্ষা শিল্পকেও সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    সফরের অংশ হিসেবে তুরস্ক ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়।

    বাংলাদেশকে ‘গ্লোবাল সাউথের শক্তিশালী কণ্ঠস্বর’ আখ্যা দিয়ে ফিদান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    রোহিঙ্গা সঙ্কট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১১ লাখেরও বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবতার পক্ষ থেকে ঐতিহাসিক ত্যাগ স্বীকার করেছে। তিনি আশ্বাস দেন, তুরস্ক রোহিঙ্গা ইস্যুকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয় রাখতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে এবং তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনকে সমর্থন করবে।

    ফিদান কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন এবং তুরস্কের বিভিন্ন সংস্থা- টিকা, এএফএডি, তুর্কি রেড ক্রিসেন্ট ও দিয়ানেত ফাউন্ডেনের মানবিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।

    আঞ্চলিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান সঙ্ঘাত ও অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক গতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অগ্রগতিকে স্বাগত জানান এবং স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

    হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং যুদ্ধ-পূর্বাবস্থায় ফিরে যাওয়া বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    গাজা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ফিদান ইসরাইলকে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা ব্যাহত করার অভিযোগ এনে বিশ্ব সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায়ের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ইসরাইলের আগ্রাসন বন্ধ করা এবং ওই অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি দূর করা।

    ফিদান আরো বলেন, বাংলাদেশকে তুরস্ক সাথে নিয়ে নতুন উদ্যোগ ও প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করবে এবং দক্ষিণ এশিয়া ও এর বাইরেও শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বাড়াতে কাজ করবে।

  • পঞ্চগড়ে পুশ-ইন ঠেকাল বিজিবি

    পঞ্চগড়ে পুশ-ইন ঠেকাল বিজিবি

    পঞ্চগড় সদর উপজেলার সীমান্তপথে নারী-শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা চালায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে ভারত সীমান্ত অতিক্রমের আগেই তাদের আটকে দেয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এমন অবস্থায় মানুষগুলো আটকে পড়ে দুই দেশের শূন্যরেখায়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে তারা সেখানেই অবস্থান করছে।

    বিজিবি জানিয়েছে, ওই ১০ জন শূন্যরেখার বাংলাদেশ অংশ থেকে প্রায় ২০ গজ দূরে ভারতের অংশে অবস্থান করছে।

    আজ শুক্রবার ভোরের দিকে সদর উপজেলার হাঁড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ী সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ ১০ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। এলাকাটি নীলফামারী ব্যাটালিয়নের ৫৬ বিজিবির বড়বাড়ী বিওপির আওতাধীন সীমান্ত পিলার ৭৫৮/৫ এবং এর বিপরীত দিক ভারতের প্রধানপাড়া এলাকায় বিএসএফের ৯৩ টিয়াপাড়া ক্যাম্পের আওতাধীন।

    বিজিবি জানায়, ভোরে ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতারের গেট খুলে দিয়ে তাদের বাংলাদেশের উদ্দেশে ঠেলে দেয় বিএসএফ। এ সময় বিজিবির একটি টহল দল তাদের বাধা দিলে বিএসএফের সদস্যরা ওই ব্যক্তিদের নিয়ে ভারতের ভেতরে সরে যান। বর্তমানে তারা সীমান্তের ভারতীয় অংশে শূন্যরেখা থেকে প্রায় ২০ গজ দূরে অবস্থান করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সীমান্তের উভয় পাশে বিজিবি ও বিএসএফের টহল দল সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

    এ বিষয়ে ৫৬ বিজিবির নীলফামারী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বড়বাড়ী ক্যাম্পের বিপরীতে ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। বিষয়টি নিয়ে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিএসএফ তাদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়। বর্তমানে তারা ভারতের অভ্যন্তরে ভারতীয় ভূখণ্ডেই অবস্থান করছে।’

    বিজিবির এই অধিনায়ক আরও বলেন, বৈঠকে বিএসএফ ওই ১০ জনকে বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করেছে। তবে তারা বাংলাদেশি কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ জন্য তাদের নেওয়া হয়নি। তা ছাড়া সীমান্ত দিয়ে এভাবে ঠেলে পাঠানো নিয়মবহির্ভূত পদক্ষেপ।

    সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশ ইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন বিজিবির এ কর্মকর্তা।

    এ দিকে ভারত সীমান্তের ভেতরে প্রায় ৫০ গজ অভ্যন্তরে সরিয়ে নিয়েছে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)।ৎ

    উপজেলার বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের ঘুঘিয়া আনারপুর এলাকায় এসব লোকজনকে জড়ো করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

    শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ১৬ বিজিবি (নওগাঁ ব্যাটালিয়ন)–এর সহকারী পরিচালক রবিউল ইসলাম।

    তিনি বলেন, শুক্রবার সকালে ওই সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠক কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়। বিএসএফ জানায়, বিষয়টি নিয়ে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

    এদিকে উপজেলার পাঁচটি সীমান্ত এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে বিজিবি স্থানীয় জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্ত পাহারার কার্যক্রম চালায়। তারা পুশ-ইন প্রতিরোধে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে।

    এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে একই সীমান্ত দিয়ে ২৮ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

  • ইরান যুদ্ধে আজারবাইজানে গোপন সেনা ঘাঁটি ছিল ইসরাইলের

    ইরান যুদ্ধে আজারবাইজানে গোপন সেনা ঘাঁটি ছিল ইসরাইলের

    ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধ চলাকালে আজারবাইজানে গোপনে সেনা ও গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন করেছিল ইসরাইল। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিস্তৃত এক গোপন সামরিক নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে এসব বাহিনী পরিচালিত হয়েছিল বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের উত্তর সীমান্তঘেঁষা দক্ষিণ আজারবাইজানের কয়েকটি স্থানে ইসরাইলের বিশেষ বাহিনী ও গোয়েন্দা সদস্যরা অবস্থান নেয়। এসব স্থানের কিছু ইরানের তাবরিজ শহর থেকে মাত্র ৬০ মাইল দূরে অবস্থিত। যুদ্ধ চলাকালে তারা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, ড্রোন পরিচালনা এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনার কাজে যুক্ত ছিল।

    সূত্রগুলোর দাবি, আজারবাইজানে মোতায়েন করা বাহিনীর মধ্যে ইসরাইলের বিশেষ অভিযান ইউনিট, এলিট হেলিবোর্ন কমব্যাট ও রেসকিউ ফোর্স এবং মোসাদের সদস্যরা ছিলেন। প্রথমদিকে জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পরিকল্পনা করা হলেও পরবর্তীতে এসব অবস্থান গোয়েন্দা ও সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত হয়।

    সিএনএনের তথ্যানুযায়ী, আজারবাইজান ছাড়াও ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সোমালিল্যান্ডে গোপন সামরিক অবস্থান গড়ে তুলেছিল ইসরাইল। এসব ঘাঁটি ইরানের উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ প্রান্তে ইসরাইলি উপস্থিতি নিশ্চিত করে, যার ফলে দেশটির ভেতরে দূরপাল্লার অভিযান ও ধারাবাহিক হামলা পরিচালনা সহজ হয়।

    তবে যুক্তরাষ্ট্রে আজারবাইজান দূতাবাস সিএনএনকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দেশটির ভূখণ্ড তৃতীয় কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহারের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

    প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী ভূখণ্ড সোমালিল্যান্ডও ইসরাইলকে একটি সামরিক অবস্থান ব্যবহারের সুযোগ দেয়। এটি ইরানমুখী দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইটে সম্ভাব্য যাত্রাবিরতির স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। এছাড়া যুদ্ধের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি আয়রন ডোম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং তা পরিচালনার জন্য সেনা মোতায়েন করেছিল ইসরাইল।

    সিএনএনের প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, যুদ্ধ শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে ইরান-আজারবাইজান সীমান্তে নজরদারি সরঞ্জাম ও শ্রবণযন্ত্র স্থাপনের মাধ্যমে ইসরাইল একটি গোপন অভিযান চালায়। এর উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সামরিক তৎপরতা পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের আগাম তথ্য সংগ্রহ।

  • পুতিনকে জেলেনস্কির খোলাচিঠি, মুখোমুখি আলোচনায় বসার প্রস্তাব

    পুতিনকে জেলেনস্কির খোলাচিঠি, মুখোমুখি আলোচনায় বসার প্রস্তাব

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের জন্য প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সরাসরি বা মুখোমুখি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

    রুশ প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো একটি খোলাচিঠিতে ইউক্রেনীয় নেতা বলেছেন, ইউরোপের এই যুদ্ধে আবারো যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ ফিরে আসা পর্যন্ত ‘অপেক্ষা করাটা ভুল হবে’। কেবল ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে ‘সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই’ শান্তি আসতে পারে।

    ক্রেমলিন নিশ্চিত করেছে যে তারা চিঠিটি পেয়েছে এবং পুতিনকে এর বিষয়বস্তু জানানো হবে। অবশ্য জেলেনস্কির পাঠানো ওই চিঠিটি বিদ্রোহী ও ব্যঙ্গাত্মক সুরেই লেখা হয়েছে, যেখানে সম্প্রতি রুশ ভূখণ্ডে ইউক্রেনের চালানো হামলাগুলোর দিকেও ইঙ্গিত রয়েছে বলে জানা গেছে।

    জেলেনস্কি উল্লেখ করেছেন যে, ‘২৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পর বয়স এখন পুতিনের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।’ ‘ইউক্রেন আমাদের অর্থাৎ আপনার ও আমার- সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে এই যুদ্ধ শেষ করার প্রস্তাব দিচ্ছে। আমি একটি বৈঠকের প্রস্তাব করছি।’

    এদিকে সেন্ট পিটার্সবার্গে বিদেশী সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় পুতিন জানিয়েছেন যে, তিনি ‘নিশ্চিতভাবেই ইউক্রেনের সাথে চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রস্তুত ও ইচ্ছুক’, তবে তিনি এ-ও যোগ করেছেন যে, উভয় পক্ষকেই ছাড় দিতে হবে।

    পুতিন ইঙ্গিত দেন, ট্রাম্প যেহেতু ইরান নিয়ে ব্যস্ত, তাই ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ জেলেনস্কিকে ভূখণ্ড সমর্পণের জন্য রাজি করাতে পারে।

    পুতিনের দীর্ঘদিনের অবস্থান হলো, ইউক্রেনকে অবশ্যই রাশিয়ার আংশিক দখলে থাকা চারটি অঞ্চল- দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া- থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে এবং নেটোতে যোগদানের প্রচেষ্টা ত্যাগ করতে হবে।

    ভূখণ্ড ছেড়ে দেয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেন। তাদের যুক্তি, এটি রাশিয়াকে আবার আক্রমণ করার সাহস জোগাবে, যেমনটা তারা ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের আট বছর পর ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর সময় করেছিল।

    ১৮০০ শব্দেরও বেশি দীর্ঘ এই চিঠিতে জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘এমন নয় যে ইউক্রেনে আমরা রুশ সৈন্যদের ভাগ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন, বিশেষ করে আপনার যুদ্ধ আমাদের দেশে যা কিছু নিয়ে এসেছে তার পর। তবে আমি ইউক্রেনীয়দের নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা আমাদের মানুষদের হারাচ্ছি এবং প্রতিটি ক্ষতি আমাদের কাছে বেদনাদায়ক।’

    জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনীয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, জ্বালানি সঙ্কট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার সাধারণ মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।

    তিনি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথে পা বাড়াতে ভয় পাবেন না। এখন আপনার কাছে প্রধানত এটাই চাওয়া হচ্ছে।’

    সুইজারল্যান্ড বা তুরস্কের মতো কোনো দেশে এই মুখোমুখি আলোচনা হতে পারে বলেও প্রস্তাব দিয়েছেন জেলেনস্কি।

    ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের এই চিঠিটি এমন এক দিনে এসেছে যেদিন পুতিন সেন্ট পিটার্সবার্গে একটি বড় অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দিচ্ছেন।

    এর আগের দিনই রাশিয়ার একটি শহরে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল কিয়েভ, যে ঘটনাকে জেলেনস্কি তার বার্তায় ‘পরিদর্শন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    এছাড়া, অধিকৃত ক্রিমিয়ার সিমফেরোপোল এলাকায় চারজনের মৃত্যুর জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছে রুশ-সমর্থিত কর্তৃপক্ষ। যদিও ইউক্রেন জানিয়েছে যে, তারা একটি জ্বালানি ডিপোতে আঘাত করেছিল।

    বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে পুতিন তাৎক্ষণিকভাবে একটি বৈঠক বা চুক্তি হওয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেছেন, ‘জেলেনস্কি ইউক্রেনের বৈধ প্রতিনিধি কি-না, তা আইনজ্ঞদের এবং আইনি বিশ্লেষণের বিষয়।’

    এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দুই দেশকে শান্তি আলোচনার জন্য কাছাকাছি নিয়ে আসার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

  • অরুণাচলে সিলগালা করা হলো ১৫টি মসজিদ

    অরুণাচলে সিলগালা করা হলো ১৫টি মসজিদ

    যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে নির্মাণের অভিযোগে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচলের রাজধানী ইটানগরে ১৫টি মসজিদ সিলগালা করে দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। গতকাল বৃহস্পতিবার মসজিদগুলো সিলগালা করা হয়।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুসারে, বিনা অনুমতিতে নির্মিত এই মসজিদগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারাভিযানে নেমেছিল অরুণাচল প্রদেশ ইন্ডিজেনাস ইউথ অর্গানাইজেশন (এপিওয়াইও) নামের একটি সংস্থা। এপিও’র অভিযোগ, অবৈধ এসব মসজিদ স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয় জনবিন্যাস পরিবর্তন করার চেষ্টা করছে মুসলিমদের একাংশ।

    সম্প্রতি এ ইস্যুতে রাজধানী ইটানগরে লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দেয় এপিওয়াইও, সেই সঙ্গে হুমকি দেয়-যদি প্রশাসন শিগগিরই ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে এ ইস্যুতে বৃহত্তর গণ আন্দোলনে নামবে সংস্থাটি। তারপরই বৃহস্পতিবার মসজিদগুলো সিলগালা করে রাজ্য প্রশাসন।

    গতকাল রাজ্য সরকারের মুখপাত্র এবং শিক্ষামন্ত্রী পি. ডি. সোনা বলেন, চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এপিওয়াইও প্রতিনিধি এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডুর মধ্যে একটি বৈঠকে বিষয়টি প্রথম সরকারের নজরে আনা হয়েছিল। বৈঠকের পর, সরকার জেলা কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া নির্মিত স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করার নির্দেশ দেয়। পরবর্তীকালে একটি সরকারি সমীক্ষায় ইটানগরে ১৫টি অননুমোদিত মসজিদ চিহ্নিত করা হয়।

    তিনি জানান, রাজধানী কর্তৃপক্ষ চিহ্নিত স্থাপনাগুলোর মধ্যে ১২টি সিল বা খালি করা সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া আগেই শেষ করেছিল। বাকি তিনটি মসজিদের ব্যাপারে ১ জুন মুখ্যমন্ত্রী এবং এপিআইওয়াইও নেতাদের মধ্যে আরেকটি বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়, পরে সেই মসজিদগুলোও সিলগালা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    পিডি সোনা বলেন, যে উদ্বেগের কারণে এপিওয়াইও ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল, আইনসম্মত প্রশাসনিক পদক্ষেপের তার সমাধান করা হয়েছে। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ধর্মঘটের ডাক দেওয়ার আগে এআইওয়াইও তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে।

  • ক্রমাগত একঘরে হয়ে পড়ছে ইসরাইল

    ক্রমাগত একঘরে হয়ে পড়ছে ইসরাইল

    বিশ্বব্যাপী ইসরাইলের ভাবমূর্তী ক্রমাগত নিচের দিকে নামছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের সবশেষ সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমন তথ্য। বাংলাদেশসহ ৩৬টি দেশের ওপর জরিপ চালায় পিউ রিসার্চ। জরিপে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ মানুষ ইসরাইল সম্পর্ক নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে।

    ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মে পর্যন্ত পরিচালিত এই সমীক্ষায় দেখা গেছে, জরিপকৃত দেশগুলোর প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে গড়ে ৬৭ শতাংশ ইসরাইল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন, যেখানে মাত্র ২৫ শতাংশ দেশটিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন।

    পিউ জানিয়েছে, বেশিরভাগ সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর। এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক সংকট বাড়িয়ে দিয়েছে।

    জরিপে অন্তর্ভুক্ত মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে—যেমন বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্ক, সেইসাথে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে—ইসরাইলের প্রতি বৈরিতা বিশেষভাবে প্রকট ছিল। পিউ জানিয়েছে, তারা গাজায় জরিপ পরিচালনা করতে পারেনি।

    ইউরোপীয় জনগণও কম বৈরী মনোভাব পোষণ করেনি। ইতালি, নেদারল্যান্ডস এবং স্পেনে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বা তার চেয়ে বেশি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি বলেছেন, ইসরাইল সম্পর্কে তাদের অত্যন্ত নেতিবাচক ধারণা রয়েছে।

    এই গবেষণার ফলাফল থেকে বোঝা যায় যে, গাজা গণহত্যার কারণে ইতোমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত ইসরাইলের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পর থেকে আরো খারাপ হয়েছে। পিউ জানিয়েছে, ২৪টি দেশের মধ্যে ১৩টি দেশে ইসরাইলের প্রতি নেতিবাচক প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

    উদাহরণস্বরূপ, আর্জেন্টিনায় ২০২৫ সালে ৪৬ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ইসরাইল সম্পর্কে প্রতিকূল ধারণা পোষণ করতেন। সেই সংখ্যা এখন বেড়ে ৫৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

    অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, নাইজেরিয়া, পোল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যেও অত্যন্ত প্রতিকূল ধারণা পোষণকারী মানুষের সংখ্যা বেড়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্র চাইলেই ইরানের ইউরেনিয়াম দখলে নিতে পারে: ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্র চাইলেই ইরানের ইউরেনিয়াম দখলে নিতে পারে: ট্রাম্প

    ইরানের কাছে যে ইউরেনিয়ামের মজুত আছে, যুক্তরাষ্ট্র তা চাইলেই দখল করতে পারে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ ব্যাপরটি ‘অযৌক্তিক’ হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

    গতকাল ৪ জুন ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুত দখল করা কঠিন কিছু নয়। আমরা চাইলেই তা দখল করতে পারি। যদি আমরা সেই মজুত নিতে অগ্রসর হই, আমার মনে হয় না তারা আটকাতে পারবে। কিন্তু সেটা অযৌক্তিক হবে। আমার মনে হয়, এমন পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো প্রয়োজন আমাদের নেই।’

    উল্লেখ্য, তেহরান ও ওয়াশিংটন মধ্যে উত্তেজনার প্রধান কারণ ইরানের ইউরেনিয়াম। জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণ পরিষদ ইন্টান্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি অথরিটি (আইএইএ)-এর তথ্য অনুসারে, ইরানের কাছে ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম আছে। এই ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ বা পরিশুদ্ধ। বিশুদ্ধতার মান ৯০ শতাংশে উন্নীত করা হলেই এই ইউরেনিয়াম দিয়ে একের পর এক পরমাণু বোমা তৈরি করতে পারবে ইরান।

    যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, বোমা তৈরির জন্য পরমাণু প্রকল্পের আড়ালে ইরান তার ইউরেনিয়াম বিশুদ্ধকরণ অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে ইরান এ অভিযোগ বার বার প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ইরানের পরমাণু প্রকল্পের উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ।

    ইরানের এই ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোথায় আছে তা এখনও রহস্য। যুক্তরাষ্ট্র চায় এই পরমাণু তেহরান ওয়াশিংটনকে হস্তান্তর করুক। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যে সামরিক অভিযান শুরু করেছে তার একটি বড় কারণ এই ইউরেনিয়াম হস্তগত করা।

    হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকরা তাকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যাপারেও প্রশ্ন করেন। তারা জানতে চান, মোজতবা খামেনির সঙ্গে সাক্ষাতে তার কোনো আপত্তি আছে কি-না।

    জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি নিজে যেচে দেখা করতে আগ্রহী নই, কিন্তু কখনও সাক্ষাৎ ঘটে আমি সম্মানিত বোধ করব।

    ট্রাম্প বলেন,যদি আমরা ইরানের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তিতে আসতে পারি, তাহলে তার সঙ্গে আমার সাক্ষাতের সম্ভাবনা আছে। সেক্ষেত্রে আমি রাজি আছি, অন্তত আমার তরফ থেকে কোনো আপত্তি নেই।

  • সাহারায় ট্রাক নষ্ট, পিপাসায় ৪৯ মৃত্যু।

    সাহারায় ট্রাক নষ্ট, পিপাসায় ৪৯ মৃত্যু।

    নাইজারের সাহারা মরুভূমিতে একটি ট্রাক বিকল হওয়ার পর পিপাসায় ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফেসবুকে করা পোস্টে একথা জানিয়েছে আগাদেজ গভর্নরেট।

    বিবৃতিতে বলা হয়, মুসলমানদের একটি উৎসবে যোগ দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। পথে তাদের বহনকারী ট্রাক বিকল হয়ে যায়। তাদের কাছে থাকা পানি শেষ হয়ে গিয়েছিল। এক পর্যায়ে আসামাকা থেকে ৮০ কিলোমিটারেরও (৫০ মাইল) বেশি পশ্চিমে একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে পানি পিপাসায় ৪৯ জনের মৃত্যু হয়। আসামাকা নাইজার ও আলজেরিয়ার মধ্যে একটি প্রধান সংযোগস্থল এবং এটি মালি সীমান্তেরও কাছাকাছি।

    গভর্নরেট জানায়, ‘ট্রাকের চালক, তার সহকারী এবং যাত্রীরা গাড়িটি মেরামতের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু যানবাহনটি মেরামত করতে পারেননি। যাত্রীরা এক প্রতিকূল পরিবেশে আটকা পড়েন। সেখানে চরম তাপদাহ ও পানির অভাবে তাদের বেঁচে থাকাকে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।’

    তবে দুজন ব্যক্তি পায়ে হেঁটে ৫০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে নিকটবর্তী একটি পানির উৎসের কাছে পৌঁছাতে পেরেছিলেন। সেখান থেকে আসামাকায় গিয়ে তারা কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহতদের গণকবরে দাফন করা হয়েছে।

  • দুই দায়িত্ব একসঙ্গে পালনের নজির আছে: খলিলুর রহমান

    দুই দায়িত্ব একসঙ্গে পালনের নজির আছে: খলিলুর রহমান

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা নিয়ে কোনো জটিলতা দেখছেন না পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব একসঙ্গে পালনের নজির অতীতেও রয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, ‘চাকরি ছাড়ব কি না, ছুটি নেব কি না, এটাই তো প্রশ্ন? এত ব্যস্ত হবেন না, এটার প্রিসিডেন্স আছে।’

    চার দশক আগের একটি উদাহরণ টেনে খলিলুর রহমান বলেন, ‘আজ থেকে ৪০ বছর আগে আমাদের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। আমি তখন তাঁর ব্যক্তিগত সচিব ছিলাম। তিনি দুই দায়িত্বই সফলভাবে পালন করেছিলেন। তখন ছিল ইন্টারনেটপূর্ব যুগ। এখন প্রযুক্তির এই সময়ে দুটো কাজ একসঙ্গে করা আরও সহজ।’

    প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচনে সাইপ্রাসের প্রার্থীকে পরাজিত করে বিজয়ী হন খলিলুর রহমান। তবে নির্বাচনের পর থেকে আলোচনা শুরু হয়—তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে বহাল থাকবেন, নাকি সভাপতির দায়িত্ব পালনের জন্য পদত্যাগ বা ছুটিতে যাবেন।

    তবে গত ১৩ মে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভায় খলিলুর রহমান বলেছিলেন, নির্বাচিত হলে তিনি সবার জন্য নিরপেক্ষ ও পূর্ণকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, প্রয়োজন হলে এক বছরের জন্য ছুটিতে যেতে পারেন।

    সে সময় খলিলুর রহমান বলেছিলেন, ‘আমি কি পদত্যাগ করব? না। আমার প্রধানমন্ত্রী (তারেক রহমান) আমাকে স্পষ্টভাবে বলেছেন, পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি আমাকে এক বছরের সময় দেবেন। পদত্যাগই একমাত্র পথ নয়, আমি ছুটিও নিতে পারি।’

    আজ আবারও সেই বক্তব্য উল্লেখ করে খলিলুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে আগেই পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

    অনেকেই জার্মানির উদাহরণ টানছেন উল্লেখ করে খলিলুর রহমান বলেন, জার্মানির যিনি সাধারণ পরিষদের সভাপতি হয়েছেন, তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর দল নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় তিনি মন্ত্রী পদে থাকতে পারেননি। বিষয়টি ভিন্ন ছিল।

  • যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে বাধা জব্দকৃত সম্পদ ইস্যু

    যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে বাধা জব্দকৃত সম্পদ ইস্যু

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে ইরানের জব্দকৃত (ফ্রোজেন) সম্পদের একটি অংশ মুক্ত করা ইস্যুতে দুদেশের মতপার্থক্য এখনও বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র সৌদি সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়াকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার শেষ ধাপে ইরানের ফ্রোজেন তহবিলের ব্যবস্থাপনা অন্যতম প্রধান বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    সূত্রটির দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছেন, কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের আগে তিনি ইরানের জন্য কোনো অর্থ ছাড় করতে রাজি নন।

    আলোচনায় থাকা প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানের জব্দকৃত সম্পদ রাখার জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হতে পারে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর ওই তহবিলের মাধ্যমে অর্থ ছাড় ও ব্যবস্থাপনা করা হবে।

    কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং চুক্তির কাঠামো প্রায় চূড়ান্ত। তবে ফ্রোজেন সম্পদ মুক্তির শর্ত ও সময়সূচি নিয়ে এখনও সমঝোতা হয়নি।

    চুক্তির এই সময়ে জব্দকৃত অর্থের বিষয়টি সমাধান হলে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে। তবে অর্থ ছাড়ের বিষয়ে ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থান চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পথে শেষ বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • ইসরাইলের গোপন গোয়েন্দা ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছিল ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র

    ইসরাইলের গোপন গোয়েন্দা ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছিল ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র

    তেল আবিবের এক আবাসিক এলাকায় আছড়ে পড়া ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরাইলের একটি অতিগোপন সামরিক গোয়েন্দা দফতর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মার্কিন-ইসরাইল যৌথ বাহিনীর সাথে ইরানের যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই এই হামলা চালিয়েছে তেহরান।

    স্পাইটকের বরাত দিয়ে ইসরাইলের টেকনিক্যাল ওয়েবসাইট ক্যালক্যালিস্টেক ডটকম সম্প্রতি এই তথ্য জানিয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সে সময় ঘটনাটি একটি আবাসিক এলাকায় সাধারণ বিস্ফোরণ হিসেবে ব্যাপকভাবে আলোচিত হলেও এর আসল লক্ষ্যবস্তু যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক গোয়েন্দা কেন্দ্র ছিল, তা এতদিন সম্পূর্ণ ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল!

    ইরানের একটি মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের তথাকথিত অভেদ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ফাঁকি দিয়ে তেল আবিবের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ওই গোপন জিওস্পেশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা জিওইন্ট ঘাঁটিতে সরাসরি আঘাত হানে। অত্যন্ত সুরক্ষিত ও গোপন এই জাতীয় ভূ-স্থানিক তথ্য-প্রযুক্তি কেন্দ্রটি একটি সাধারণ আবাসিক এলাকার ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, যা এই হামলায় কেঁপে ওঠে।

    তবে নতুন এই প্রতিবেদনে যে তথ্যটি ফাঁসের মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে তা হলো, দুর্ঘটনাস্থল এবং মূল বিস্ফোরণের প্রভাববলয় থেকে মাত্র ৫০ ফুট দূরত্বের মধ্যে থাকা ইসরাইলের ন্যাশনাল জিওডেটিক ইনস্টিটিউট বা জাতীয় ভূ-স্থানিক প্রতিষ্ঠানটি এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মূল শিকার ছিল এবং বিস্ফোরণের প্রচণ্ড ধাক্কায় কেন্দ্রটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    এটি সাদামাটা কোনো বেসামরিক দফতর নয়, মূলত ইসরাইলি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার অতিগোপন ‘ইউনিট ৯৯০০’ এর প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। সহজ কথায়, ‘ইউনিট ৯৯০০’ হলো যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল জিওস্পেশিয়াল অ্যাজেন্সির সমকক্ষ সংস্থা। এই প্রতিষ্ঠানের মূল কাজ উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট, যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তিগত উপায়ে ভৌগোলিক ও অবস্থানভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা। যুদ্ধক্ষেত্রে কোন কোন ঘাঁটিতে হামলা চালাতে হবে, কোথায় বোমা ফেলতে হবে, শত্রুপক্ষের সামরিক যাতায়াত কেমন এবং ভূখণ্ড বা মাটির গঠন কেমন- এই সমস্ত জটিল সামরিক গোপন তথ্য ও নিখুঁত মানচিত্র তৈরি করে ইসরাইলি পাইলট এবং পদাতিক বাহিনীকে সরবরাহ করে এই ইউনিট।

    সহজভাবে বলতে গেলে, এ ইউনিটটি যুদ্ধক্ষেত্রের ‘চোখ’ হিসেবে কাজ করে এবং সেনাবাহিনীকে কোথায় কী ঘটছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করে। গাজা এবং লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর চলমান সমস্ত বিমান ও স্থল অভিযানের পেছনের মূল চালিকাশক্তি হলো এই দফতর থেকে পাঠানো ত্রিমাত্রিক বা থ্রিডি মানচিত্র এবং ড্রোনের রিয়েল-টাইম তথ্য। এমনকি ‘ইউনিট ৯৯০০’ একটি বিশেষ নিম্ন-উড্ডয়ন ড্রোন ইউনিটও পরিচালনা করে, যা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরাসরি তাৎক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে।

    স্পাইটকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে ঘটনার পরপরই ইসরাইলের কঠোর সামরিক সেন্সরশিপ কর্তৃপক্ষ এই স্পর্শকাতর গোয়েন্দা ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতি বা বিস্ফোরণের স্থান থেকে এর দূরত্বের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ফলে সে সময় প্রকাশিত কোনো সংবাদেই সামরিক অবকাঠামোর ক্ষতি বা কোনো সেনা কর্মকর্তা হতাহত হয়েছে কিনা তা বিন্দুমাত্র উল্লেখ করা হয়নি।

    তেল আবিবের ঘনবসতিপূর্ণ নগর এলাকার ঠিক মাঝখানে এমন একটি অতিসংবেদনশীল সামরিক গোয়েন্দা ঘাঁটি লুকিয়ে রাখার বিষয়টি এখন ইসরাইলের সাধারণ নাগরিক ও বেসামরিক মানুষের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

    ক্ষয়ক্ষতির ধরন এবং নিখুঁত নিশানা বিশ্লেষণ করে স্পাইটকের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরানি এই হামলায় লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না, বরং তেল আবিবের বুকে লুকিয়ে থাকা ইসরাইলের এই অন্যতম প্রধান ও সংবেদনশীল গোয়েন্দা কেন্দ্রটিই ছিল ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের প্রকৃত লক্ষ্যবস্তু।

  • ইরান যুদ্ধ শেষ হয়েছে: মার্কো রুবিও

    ইরান যুদ্ধ শেষ হয়েছে: মার্কো রুবিও

    যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ‘এপিক ফিউরি’ শেষ হয়েছে এবং এখন আর ইরানের ভেতরে ধারাবাহিক হামলা চালানো হচ্ছে না।

    মার্কিন কংগ্রেসের হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটিকে রুবিও বলেন, ‘আমরা এখন আর ইরানের ভেতরে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছি না, কারণ এপিক ফিউরি শেষ হয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযানে ‘বিজয় অর্জন করেছে’।

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধ শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথ অভিযানের মাধ্যমে, যা পরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

    রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প অবকাঠামো ধ্বংস করা, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের সংখ্যা কমানো এবং ড্রোন মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো। তার দাবি, এসব লক্ষ্য পূরণ হয়েছে, পাশাপাশি ইরানের বাকি থাকা বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর সক্ষমতাও ধ্বংস করা হয়েছে।

    তবে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। তাদের দাবি, সংঘাত এখনো চলমান। তাদের মতে, বুধবার কুয়েতের একটি বিমানবন্দরে ইরানের হামলায় একজন নিহত এবং ৬৩ জন আহত হয়েছে, যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।

    এছাড়া বাহরাইনেও রাতের বেলায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক উপস্থিতি রয়েছে।

    ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি সারা জ্যাকবস বলেন, নাম পরিবর্তন করলেও বাস্তবতা বদলায় না। তার ভাষায়, ‘স্ট্রেইট অব হরমুজ এখনো বন্ধ, আর আমাদের সেনারা এখনো ঝুঁকির মধ্যে আছে।’

    রুবিও কংগ্রেসকে আরও জানান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে, বিশেষ করে দেশটির উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি হয়নি।

    যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অনুযায়ী, শান্তি চুক্তির জন্য ইরানকে তাদের প্রায় অস্ত্র-যোগ্য ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে হবে, পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে হবে।

    অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, আলোচনায় বসার আগে তাদের ১২ বিলিয়ন ডলার অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই মন্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেছে, যেখানে বলা হয়েছিল ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত ধ্বংস করা হবে।


    আরও পড়ুন · নির্ভরযোগ্য সূত্র:

  • বাজেট সংকটের মুখে পেন্টাগন

    বাজেট সংকটের মুখে পেন্টাগন

    ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বাড়ায় ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপের সম্মুখীন হচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সামরিক বাহিনীর পরিশোধিত গড় জ্বালানির দাম অক্টোবরে ছিল ব্যারেল প্রতি ১৫৪ দশমিক ১৪ ডলার। এপ্রিলে তা বেড়ে ১৯৫ দশমিক ৭২ ডলারে উন্নীত হয়েছে।

    ইরান যুদ্ধের সময় জ্বালানির দাম বেড়েছে। যার ফলে সামরিক বিমান, ট্যাঙ্ক এবং অন্যান্য সরঞ্জাম পরিচালনার জন্য এই বছর সম্ভাব্য এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অপ্রত্যাশিত বাড়তি খরচ হতে পারে। প্রতিরক্ষা বিভাগ বছরে প্রায় ৮০ মিলিয়ন ব্যারেল জ্বালানি ব্যবহার করে বলে জানা গেছে।

    সামরিক নেতারা ক্রমবর্ধমান বেসামরিক জ্বালানি এবং বাণিজ্যিক বিমান ভাড়ার খরচ নিয়েও লড়াই করছেন। যেহেতু সেনারা প্রায়শই প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য কার্যক্রমের জন্য বাণিজ্যিক ফ্লাইট, ভাড়া করা গাড়ি এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের ওপর নির্ভর করেন, তাই জ্বালানির দাম বৃদ্ধি বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

    এর ফলে, ভ্রমণ ব্যয় তীব্র পর্যালোচনার আওতায় এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, অন্তত এপ্রিল মাস থেকে কিছু ইউনিট খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানের ভ্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে বা বাতিল করেছে।

  • বাংলাদেশের হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্য, মমতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

    বাংলাদেশের হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্য, মমতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

    বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যা প্রসঙ্গে করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতাসহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের আইনজীবী রিংকু চ্যাটার্জি সিং শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন।

    অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনমনে বিভ্রান্তি ও বিদ্বেষ সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভারত সরকার ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জড়িয়ে দেওয়া তাঁর বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

    অভিযোগকারীর দাবি, মমতার মন্তব্য প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং দুই দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

    এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ১৫২, ১৫৩, ১৫৩(এ), ১৯১, ১৯২, ১৯৬, ৩৫১, ৩৫২ ও ৩৫৩ ধারাসহ একাধিক ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এসব ধারার মধ্যে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, সম্প্রীতি ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার মতো অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের প্রায় এক মাস পর একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওসমান হাদি হত্যা প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের আলোচিত ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত কয়েকজনকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) গ্রেপ্তার করেছিল। পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁকে ফোন করে বিষয়টি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    মমতা আরও দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মেঘালয় সীমান্ত হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছিলেন এবং পরে এসটিএফ তাদের আটক করে। তবে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করেননি। তাঁর ভাষ্য, ওই নাম প্রকাশ করা হলে বাংলাদেশে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।

  • মোদি আর এক বছরও প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না: রাহুল গান্ধী

    মোদি আর এক বছরও প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না: রাহুল গান্ধী

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আর এক বছরেরও বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারছেন না বলে দাবি করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, যে প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর ভর করে সরকার পরিচালিত হচ্ছিল, তা এখন ভেতর থেকেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে প্রধানমন্ত্রী জরুরি অবস্থার মতো কঠোর পদক্ষেপও নিতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

    নয়াদিল্লিতে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বাড়ছে এবং সেখানকার অনেকেই বিরোধী শিবিরের সঙ্গে তথ্য ভাগাভাগি করছেন। তাঁর ভাষায়, “দেশে সিস্টেমের মধ্যে একটি সংঘবদ্ধ বিক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। যে সিস্টেম একসময় নরেন্দ্র মোদি নিয়ন্ত্রণ করতেন, সেই সিস্টেমই এখন আমাকে তাঁর সম্পর্কে তথ্য দিচ্ছে। গোটা ব্যবস্থার ভেতর থেকে একটি বড় ঝাঁকুনি আসতে চলেছে।”

    তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য নিয়মিতভাবে তাঁর কাছে পৌঁছাচ্ছে। এসব ঘটনার ভিত্তিতে রাহুল গান্ধীর মন্তব্য, “আমার হিসাবে নরেন্দ্র মোদি আর এক বছরও প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না।”

    এখানেই থেমে থাকেননি রাহুল গান্ধী। তিনি আরও দাবি করেন, “যে নির্বাচন কমিশনকে মোদি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন বলে মনে করা হয়, সেই নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় থেকেও আমার কাছে বার্তা আসে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও তদন্তকারী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও নিয়মিত তথ্য পাঠান।”

    রাহুলের বক্তব্য, মোদি এখন চরম অস্বস্তির মধ্যে রয়েছেন, কারণ তিনি বুঝতে পারছেন যে দীর্ঘদিন ধরে যে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামো তাঁর নিয়ন্ত্রণে ছিল, সেটি ভেঙে পড়তে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে জনঅসন্তোষ মোকাবিলায় সরকার জরুরি অবস্থার মতো কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

    উল্লেখ্য, ভারতে সর্বশেষ জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ২৬ জুন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

  • মাধ্যমিক পরীক্ষায় ফল কেলেঙ্কারি

    মাধ্যমিক পরীক্ষায় ফল কেলেঙ্কারি

    শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে মোদি

    ডেস্ক নিউজ:

    ভারতের অন্যতম বৃহত্তম স্কুল সমাপনী পরীক্ষার বোর্ড ‘সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন’ (সিবিএসই)-এর ফল প্রকাশের পর দেশজুড়ে তীব্র শিক্ষার্থী অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পরীক্ষার ফল গত ১৩ মে প্রকাশের পর থেকে একের পর এক জালিয়াতি ও অব্যবস্থাপনার তথ্য সামনে আসায় এই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ডিজিটাল খাতা মূল্যায়ন প্রক্রিয়া তাড়াহুড়ো করে চালুর জেরে ১৭ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জোরালো হচ্ছে।

    ৩০ হাজারেরও বেশি স্কুল অনুমোদিত সিবিএসই বোর্ড এ বছর কোটি কোটি উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য ‘অন-স্ক্রিন মার্কিং’ (ওএসএম) পদ্ধতি চালু করে। এই পদ্ধতিতে পরীক্ষার খাতা স্ক্যান করে ডিজিটাল ইমেজে রূপান্তর করে একটি প্ল্যাটফর্মে আপলোড করা হয় এবং পরীক্ষকেরা কম্পিউটারে তা মূল্যায়ন করেন। তবে ঝাপসা স্ক্যান, প্রযুক্তিগত ত্রুটি, সার্ভার ডাউন এবং সময়মতো সমস্যার সমাধান না হওয়ায় পুরো ফলাফল ব্যবস্থার ওপর সন্দেহের ছায়া নেমে এসেছে।

    পরীক্ষার মাত্র ছয় মাস আগে সিবিএসই নিয়ম শিথিল করে হায়দরাবাদভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘কোয়েম্পট এদু তেক’-কে এই কাজের দায়িত্ব দেয়। এই প্রতিষ্ঠানটির পূর্ব ইতিহাস বেশ বিতর্কিত। ২০১৯ সালের এপ্রিলে তেলেঙ্গানা রাজ্যে এক পরীক্ষার খাতা ডিজিটালাইজেশনের দায়িত্বে ছিল ‘গ্লোবারেনা টেকনোলজিস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে ত্রুটিপূর্ণ ফলের কারণে ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী ফেল করে এবং অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে। পরবর্তীতে এই প্রতিষ্ঠানটিই নাম পরিবর্তন করে ‘কোয়েম্পট এদু তেক’ রাখা হয় এবং তারা সিবিএসই-এর এই কাজের কাজ পায়।

    একাডেমিক ও শিক্ষকেরা ওএসএম পদ্ধতি নিয়ে আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তবে এবার শিক্ষার্থীরা নিজেরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই জালিয়াতি ও অবহেলা প্রকাশ্যে এনেছে।

    বেদান্ত শ্রীবাস্তব নামে এক শিক্ষার্থী পরীক্ষার খাতা পর্যালোচনার আবেদন করার পর দেখতে পান, সিবিএসই তাকে যে স্ক্যান কপি পাঠিয়েছে তা আসলে তার খাতাই নয়, হস্তাক্ষর সম্পূর্ণ ভিন্ন। এক্সে (সাবেক টুইটার) তার এই পোস্ট ১৩ হাজারের বেশি বার শেয়ার হওয়ার পর সিবিএসই ভুল স্বীকার করে এবং ম্যানুয়ালি খাতা দেখে তার ফল সংশোধন করে।

    রাঁচির ১৮ বছর বয়সি তরুণ শিক্ষার্থী সার্থাক সিদ্ধান্ত তার ব্লগে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে দেখান যে, কীভাবে একটি বড় সরকারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব নিয়মাবলী পরিবর্তন করে একটি কালো তালিকাভুক্ত বা বিতর্কিত সংস্থাকে জাতীয় স্তরের পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।বেঙ্গালুরুর ১৯ বছর বয়সি তরুণ নিসর্গ অধিকারী সিবিএসই-এর অন-স্ক্রিন মার্কিং পোর্টালের নিরাপত্তা ত্রুটি বা দুর্বলতা উন্মোচন করেন। তিনি দেখান যে কীভাবে মাস্টার পাসওয়ার্ড ভেঙে পরীক্ষক হিসেবে সিস্টেমে প্রবেশ করে নম্বর পরিবর্তন করা সম্ভব। গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি সিবিএসই-কে বিষয়টি জানালেও ফল প্রকাশের পর পর্যন্ত তার সমাধান করা হয়নি।

    ইন্টারনেট অ্যান্ড সোসাইটি কেন্দ্রের সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রণেশ প্রকাশ আল জাজিরাকে জানান, ভারতের সিস্টেমে প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা নিরাপত্তা দুর্বলতা ধরিয়ে দেওয়ার জন্য গবেষকদের উৎসাহিত করার কোনো ব্যবস্থা নেই।

    দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অপূর্বানন্দ বলেন, ‘এই বিপর্যয় কোনো একক ঘটনা নয়। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ‘ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি’ (এনটিএ) জাতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ও প্রশ্ন ফাঁসের কারণে আগে থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে।’তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা হারিয়েছে এবং যেকোনো ধরণের ভিন্নমতের প্রকাশকে এখানে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এমনকি এক শিক্ষার্থী খাতার অমিল নিয়ে সরব হলে সরকারি চ্যানেল দূরদর্শনের এক সঞ্চালক তাকে ‘পাকিস্তানি’ বলে আখ্যা দেন, যদিও পরবর্তীতে সিবিএসই ভুল স্বীকার করার পর তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

    এই তীব্র বিতর্কের মুখে সরকার গত মঙ্গলবার সিবিএসই-এর চেয়ারম্যান ও সচিবকে অন্য দপ্তরে বদলি করেছে। তবে বিরোধী দলগুলো একে ‘আসল অপরাধী’ শিক্ষামন্ত্রীকে বাঁচানোর এবং আমলাদের বলির পাঁঠা বানিয়ে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা বলে তীব্র সমালোচনা করেছে।

    লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘আমাদের দাবি এখনো একই, শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করা হোক এবং একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক।’

    আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, এই বদলি কোটি কোটি শিশু ও তাদের অভিভাবকদের ক্ষতে নুনের ছিটা দেওয়ার মতো এবং এর মাধ্যমে সরকার বার্তা দিচ্ছে যে তারা শিক্ষামন্ত্রীকে পরিবর্তন করবে না।

    এদিকে ফল প্রকাশের পর থেকে সিবিএসই-এর খাতা পুনঃমূল্যায়নের ওয়েবসাইটটি ডাউন থাকায় অনেক অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থী আবেদনও করতে পারছে না, যার ফলে তাদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

    সূত্র: আলজাজিরা

  • বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর নতুন শুল্কের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

    বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর নতুন শুল্কের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

    বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে, যা মার্কিন বাণিজ্য ও শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিকর। খবর রয়টার্সের।

    মঙ্গলবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর জানায়, তাদের পরিচালিত সেকশন ৩০১ তদন্তে এ ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, মেক্সিকো, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, কম্বোডিয়া, গুয়াতেমালা, এল সালভাদর, আর্জেন্টিনা, ইন্দোনেশিয়াসহ ১৫টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। বাকি ৪৫টি দেশের ক্ষেত্রে শুল্কের হার হবে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।

    এক বিবৃতিতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি বন্ধে ব্যর্থতা গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে মার্কিন শ্রমিকদের বৈশ্বিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। তবে প্রস্তাবিত শুল্ক থেকে জ্বালানি, বিরল খনিজ, কিছু ধাতু, গরুর মাংস, কফি, নির্দিষ্ট ফল ও সবজি, ওষুধ, জৈব রাসায়নিক এবং বিমানযন্ত্রাংশকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    এছাড়া পোশাক ও বস্ত্র খাতের জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থা প্রস্তাব করা হয়েছে, যার আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ আমদানি কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

    মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর জানিয়েছে, প্রস্তাবিত শুল্ক নিয়ে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত জনমত গ্রহণ করা হবে এবং ৭ জুলাই একটি প্রকাশ্য শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপ বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব ফেলতে পারে।

  • তৃণমূল কংগ্রেসের সব কমিটি বাতিল

    তৃণমূল কংগ্রেসের সব কমিটি বাতিল

    পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় সংকট ও অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা নিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে সংগঠনকে নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে কর্মমূল্যায় ও সাংগঠনিক পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    বুধবার দলীয় নেতৃত্ব জানায়, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সব স্তরের কমিটি এবং এর সহযোগী ও শাখা সংগঠনগুলোর কমিটি অবিলম্বে বিলুপ্ত করা হচ্ছে। পর্যালোচনা কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর নতুন সাংগঠনিক কাঠামো ঘোষণা করা হবে।

    এ সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন দলের কয়েকজন বিধায়ক প্রকাশ্যে নেতৃত্বের সমালোচনা করছেন। বিদ্রোহী বিধায়কদের একটি অংশ ইতোমধ্যে বিধানসভার স্পিকারের কাছে পৃথক পরিষদীয় দল হিসেবে স্বীকৃতির আবেদন জানিয়েছে। এতে দলের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও প্রকট হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

    গত মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলের ভেতরে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। একাধিক নেতা ও বিধায়ক নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত, প্রার্থী নির্বাচন এবং নির্বাচনী কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর ফলে সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে দলীয় অঙ্গনেই আলোচনা শুরু হয়।

    দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, জেলা থেকে বুথ পর্যায় পর্যন্ত পুরো সংগঠন নতুনভাবে পুনর্গঠন করা হবে। মাঠপর্যায়ে কারা সক্রিয় ছিলেন, কারা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন এবং কোথায় কোথায় সাংগঠনিক ঘাটতি রয়েছে—সেসব বিষয় বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন করা হবে।

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অতীতেও সাংগঠনিক পরিবর্তনের মাধ্যমে দল ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তবে এবার পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি জটিল। নির্বাচনী পরাজয়, বিধায়কদের বিদ্রোহ এবং নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন—সব মিলিয়ে তৃণমূল বর্তমানে কঠিন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

    রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এখন সবার নজর থাকবে পুনর্গঠনের পর তৃণমূল কতটা ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারে এবং বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে নেতৃত্বের সম্পর্ক কোন দিকে গড়ায়।