আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • লেবাননে যুদ্ধাপরাধ করছে ইসরাইল: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

    লেবাননে যুদ্ধাপরাধ করছে ইসরাইল: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

    যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সতর্ক করে বলেছে, লেবাননে গণহারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির আদেশ দিচ্ছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। সংস্থাটির মতে, এটা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ‘যুদ্ধাপরাধের’ শামিল।

    এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ‘দক্ষিণ লেবাননের কিছু অংশে বেসামরিক নাগরিকদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং তাদের প্রত্যাবর্তনে বাধা দেওয়া অবৈধ স্থানান্তরের শামিল, যা একটি যুদ্ধাপরাধ।’

    বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইসরাইলি সেনাবাহিনী এ ধরনের আদেশের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। ফলে লেবাননজুড়ে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

    অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের উপ-আঞ্চলিক পরিচালক ক্রিস্টিন বেকারলে বলেন, ‘সম্প্রদায়কে উচ্ছেদ করা এবং লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকাকে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য নিষিদ্ধ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা না করে, ইসরাইলি বাহিনীকে অবশ্যই লেবাননের ভূখণ্ড থেকে অবিলম্বে সরে যেতে হবে।’

    সংস্থাটির বিবৃতি অনুসারে, আগের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার একদিন পর, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর ইসরাইলি সামরিক বাহিনী লেবাননের প্রায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ এলাকাকে প্রবেশ-নিষিদ্ধ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে।

    এতে আরো বলা হয়, ২০২৬ সালের ১৭ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র তিন দিন পর, এই সীমাবদ্ধ এলাকাটি দেশের প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয় এবং একে ‘ফরওয়ার্ড ডিফেন্স’ জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এছাড়া, পূর্বে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিকের আবাসস্থল একাধিক গ্রামে বাসিন্দাদের ফিরে না আসার নির্দেশ দেওয়া হয়।

    লেবাননের কর্মকর্তারা বলেন, ২ মার্চ থেকে লেবাননের ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়ে আসছে ইসরাইল। এরপর থেকে ইসরাইলি হামলায় দেশটিকে তিন হাজার ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০লাখের বেশি মানুষ ।

  • ইরান-লেবাননকে সহায়তা দেবে চীন

    ইরান-লেবাননকে সহায়তা দেবে চীন

    যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে ইরান ও লেবাননকে সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহায়তার জন্য বেইজিং মানবিক সহায়তা দেবে।

    চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান রাজধানী বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইরান ও লেবাননের যুদ্ধে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ে চীন গভীরভাবে মর্মাহত।’

    তিনি বলেন, “সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চীন ইরান ও লেবাননকে মানবিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে দেশ দুটির জনগণকে পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহায়তা করার পাশাপাশি অর্থনীতি ও জীবিকার উন্নয়নে সহযোগিতা করা হবে।”

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর এটি দ্বিতীয়বারের মতো তেহরানকে সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিল বেইজিং। এর আগে মার্চ মাসেও চীন ইরানের জন্য মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছিল।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সম্মত হয়েছে। এ চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে বলে জানা গেছে।

    চীনের এই সহায়তা ঘোষণাকে যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় দেশটির সক্রিয় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • ইরান যুদ্ধে আমেরিকা মাস্কের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে

    ইরান যুদ্ধে আমেরিকা মাস্কের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে

    ইরানের ওপর মার্কিন হামলায় ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ‘গ্রক’ ব্যবহার করা হয়েছিল। মার্কিন সরকারের একটি আইনি নথির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

    বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান ‘এক্সএআই’-এর একটি বিশাল ডেটা সেন্টারে ব্যবহৃত গ্যাস টারবাইন নিয়ে পরিবেশগত মামলার জবাবে মার্কিন বিচার বিভাগ এই তথ্য ফাঁস করে।

    যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, পরিবেশবাদী মামলার কারণে এই ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা হলে তা মার্কিন জাতীয়, অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে। কারণ এই এআই উদ্ভাবনটি সরাসরি মার্কিন যুদ্ধ বিভাগের সামরিক অভিযান পরিচালনা ও সহায়তায় ব্যবহৃত হচ্ছে।

    পেন্টাগনের এআই প্রধান ক্যামেরন স্ট্যানলি আদালতে হলফনামা দিয়ে জানিয়েছেন যে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর এআই-সহায়ক লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণী কর্মসূচি ‘প্রজেক্ট মেভেন’-এ ইতিমধ্যেই গ্রক ব্যবহার করা হচ্ছে।

    তিনি আরো জানান, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন এই প্রজেক্টের মেভেন স্মার্ট সিস্টেমের মাধ্যমে মার্কিন বাহিনী মাত্র ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে দুই হাজার আলাদা আলাদা লক্ষ্যবস্তুতে দুই হাজারেরও বেশি গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করতে সক্ষম হয়।

    এই অভিযানের পেছনে মাস্কের প্রযুক্তি ও বিশেষ ‘গ্রক গভ মডেল’ অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে স্বীকার করে পেন্টাগন কর্মকর্তা গ্রকের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

    অবশ্য এই প্রজেক্টটি শুরুতে অ্যানথ্রপিক কোম্পানির ‘ক্লদ’ মডেল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছিল। কিন্তু শতভাগ স্বয়ংক্রিয় হামলা চালাতে এবং মার্কিন নাগরিকদের ওপর ব্যাপক নজরদারিতে নিজেদের প্রযুক্তি ব্যবহারে অস্বীকৃতি জানালে গত ফেব্রুয়ারির শেষে অ্যানথ্রপিকের সাথে চুক্তি বাতিল করে মার্কিন সরকার।

    এরপর পেন্টাগন গুগল, ওপেনএআই ও এক্সএআই-এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলোর দিকে হাত বাড়ায়। যদিও গুগল ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শত শত কর্মী সামরিক বাহিনীর গোপন অভিযানে এআই ব্যবহারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাছাড়া মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই এআই প্রযুক্তিতে রূপান্তর পুরোপুরি সফল হতে সময় লাগছে। ফলে গত মার্চ মাসেও সরকার স্বীকার করতে বাধ্য হয় যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তখনো ‘ক্লদ’ মডেলের ব্যবহার করা হচ্ছিল।

    এদিকে, কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের অধিকার রক্ষা বিষয়ক সংগঠন এনএএসিপি ক্লিন এয়ার অ্যাক্ট লঙ্ঘনের দায়ে মাস্কের এক্সএআই-এর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, কোনো অনুমতি ছাড়াই ডজন খানেক টারবাইন চালিয়ে কৃষ্ণাঙ্গ প্রধান এলাকাগুলোতে ব্যাপক দূষণ ছড়ানো হচ্ছে । তবে এক্সএআই-এর দাবি, এই টারবাইনগুলো অস্থায়ী ও স্থানান্তরযোগ্য হওয়ায় এগুলো নীতিমালার আওতায় পড়ে না।

    উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইলন মাস্ক গত ফেব্রুয়ারিতে এক্সএআইকে তার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের সাথে যুক্ত করেন, যা গত ১২ জুন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও সম্পন্ন করেছে।

    এ/জেড

  • জিম্বাবুয়েতে ট্রেন-বাস সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৯

    জিম্বাবুয়েতে ট্রেন-বাস সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৯

    জিম্বাবুয়ের দক্ষিণে একটি মালবাহী ট্রেনের সাথে বাসের সংঘর্ষে দুই শিশুসহ নয়জন নিহত এবং আরো ২৫ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    ন্যাশনাল রেলওয়েজ অফ জিম্বাবুয়ের মুখপাত্র অ্যান্ড্রু কানাম্বুরা সাংবাদিকদের বলেন, ‘চিরেডজি জেলার ট্রায়াঙ্গেলের এমবিজি রোডে এই সংঘর্ষটি ঘটে।

    জিম্বাবুয়ের জাতীয় পুলিশের মুখপাত্র পল নায়াথি বলেন, নিহতদের মধ্যে সাতজন প্রাপ্তবয়স্ক ও দুইজন শিশু রয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, পুলিশ এখনো তদন্ত করছে। শিগগিরই আরো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।

    এর আগে, মধ্য জিম্বাবুয়েতে স্কুলছাত্র বহনকারী একটি মিনিবাসে আগুন লেগে সাতজন নিহত হয়। এর এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এই দুর্ঘটনা ঘটল।

  • চোট কাটিয়ে অনুশীলনে নেইমার

    চোট কাটিয়ে অনুশীলনে নেইমার

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অনুশীলনে নামলেন নেইমার। গত ১৬ জুন নিউজার্সিতে ব্রাজিলের অনুশীলন মাঠে দৌড়াতে দেখা গেছে তাকে। এটি তার সুস্থতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

    ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড মে মাসের শেষ দিকে ডান পায়ের কাফ মাসলে চোট পান। যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর থেকেই তিনি চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এখনো পূর্ণ অনুশীলনে ফেরেননি তিনি।

    মরক্কোর বিরুদ্ধে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে নেইমার মাঠে নামতে পারেননি। সেই ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে তার অনুপস্থিতি দলের জন্য বড় ধাক্কা ছিল।

    ২০২৩ সালের পর থেকে জাতীয় দলের হয়ে আর কোনো ম্যাচ খেলেননি নেইমার। এবারের বিশ্বকাপ দলে তার জায়গা পাওয়া নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। শেষমেশ সব গুঞ্জনকে সত্যি প্রমাণ করে নেইমার জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্বকাপের স্কোয়াডে।

    ব্রাজিলের পরের ম্যাচ শুক্রবার ফিলাডেলফিয়ায়, হাইতির বিরুদ্ধে। এরপর ২৪ জুন মায়ামিতে গ্রুপ সি-র শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড। নেইমার এর মধ্যে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন কিনা, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

  • চিকেনস নেক নিয়ে ভারতের একাধিক পরিকল্পনা

    চিকেনস নেক নিয়ে ভারতের একাধিক পরিকল্পনা

    প্রতিটি রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে বিলবোর্ডের ভাষাও বদলায়। তাই পশ্চিমবঙ্গের জনপরিসরে এখন শুভেন্দু অধিকারীর বিলবোর্ড ও পোস্টার প্রাধান্য পাবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে এবার আরও গভীর কৌশলগত প্রভাবশালী এক পরিবর্তন ঘটছে—শিলিগুড়ি করিডরকে আরও শক্তিশালী করা এবং সীমান্ত সড়ক ও সীমান্ত বেড়া নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া।

    শুভেন্দু অধিকারীর পশ্চিমবঙ্গ সরকার ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত শিলিগুড়ি করিডরকে শক্তিশালী করার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এই করিডর ভারতের আটটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত করে। সাধারণভাবে একে বলা হয় ‘চিকেনস নেক’। এই সরু ভূখণ্ড বরাবরই ভারতের জন্য একটি বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ।

    এই চিকেনস নেকের দক্ষিণ ও পশ্চিমে বাংলাদেশ এবং উত্তরে চীনের তিব্বত (চীন)। আর মাঝে অবস্থিত শিলিগুড়ি করিডর ভারতকে প্রতিবেশী নেপাল, বাংলাদেশ ও ভুটানের সঙ্গেও সংযুক্ত করেছে। একই সঙ্গে এটি যুক্ত রয়েছে চুম্বি উপত্যকার সঙ্গে, যা ভারত (সিকিম), চীন (তিব্বত) এবং ভুটানের ত্রিসীমানাসংলগ্ন অত্যন্ত কৌশলগত ও বিতর্কিত অঞ্চল। করিডরটির সীমান্ত রয়েছে নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের সঙ্গে এবং এটি চুম্বি উপত্যকা থেকে মাত্র ১৩০ কিলোমিটার দূরে।

    মহাসড়ক, উচ্চগতির রেল ও আসাম পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ রেল সংযোগ

    সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে করিডরটিকে ঘিরে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত মাসে পশ্চিমবঙ্গ সরকার নীতিগতভাবে সাতটি জাতীয় মহাসড়কের অংশ ভারতীয় জাতীয় মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ (এনএইচএআই) এবং ন্যাশনাল হাইওয়েজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন লিমিটেডের (এনএইচআইডিসিএল) কাছে হস্তান্তরের অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর কাজ এগোনোর পথ তৈরি হয়েছে।

    এই সড়ক অংশগুলো আগে রাজ্যের গণপূর্ত দপ্তরের (পিডব্লিউডি) জাতীয় মহাসড়ক শাখার অধীনে ছিল। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রণালয়ের একাধিক অনুরোধ সত্ত্বেও প্রায় এক বছর ধরে হস্তান্তর প্রস্তাবগুলো আটকে ছিল। এসবের মধ্যে রয়েছে—ভারতের বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষে জঙ্গিপুর, ওমরপুর, কৃষ্ণনগর, বনগাঁ ও বসিরহাট হয়ে ঘোজাডাঙ্গা পর্যন্ত ৩২৯ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এনএইচ-৩১২। পাশাপাশি বিহার-পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত থেকে গাজোল পর্যন্ত এনএইচ-৩১ এবং ফরাক্কা পর্যন্ত এনএইচ-৩৩।

    এ ছাড়া নতুন এনএইচ-১০-এর অধীনে সেভক আর্মি ক্যান্টনমেন্ট-করোনেশন ব্রিজ-কালিম্পং-পশ্চিমবঙ্গ-সিকিম সীমান্ত সড়কসহ আরও চারটি অংশ এনএইচআইডিসিএলের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যা কেন্দ্রীয় সরকারের একটি পাবলিক সেক্টর সংস্থা।

    ভারত-ভুটান সীমান্ত পর্যন্ত হাসিমারা-জয়গাঁও অংশ, বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত বারাদিঘি-ময়নাগুড়ি-চ্যাংড়াবান্ধা রুট এবং শিলিগুড়ি-কুর্সিয়ং-দার্জিলিং পাহাড়ি সড়কও এখন সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের তত্ত্বাবধানে থাকবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রেস নোটে বলা হয়েছে, এই সাতটি অংশে অবকাঠামো উন্নয়ন সিকিম, ভুটান ও বাংলাদেশের সঙ্গে সংযোগ আরও জোরদার করবে এবং উত্তরবঙ্গ ও ডুয়ার্স অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি ঘটাবে।

    এদিকে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবও নয়াদিল্লি থেকে নিউ জলপাইগুড়ি (শিলিগুড়ি) পর্যন্ত বুলেট ট্রেন চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। এতে যাত্রাসময় ২০ ঘণ্টা থেকে কমে মাত্র ৬ ঘণ্টায় নেমে আসবে। ফলে ভৌগোলিক দূরত্বের পাশাপাশি মানসিক দূরত্বও কমবে। মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’ বরাবর উত্তর দিনাজপুর জেলার তিন মাইল হাট থেকে রংপানি এবং সেখান থেকে বাগডোগরা পর্যন্ত প্রস্তাবিত ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।

    এই প্রকল্পটি উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের কাটিহার ডিভিশনের আওতায়। এটি পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং ও উত্তর দিনাজপুর এবং বিহারের কিশনগঞ্জ জেলার অংশজুড়ে বিস্তৃত। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো—কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল এই করিডরে নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও নিরবচ্ছিন্ন রেল যোগাযোগ নিশ্চিত করা।

    আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই ভূগর্ভস্থ রেল সংযোগকে একটি বড় কৌশলগত অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এটি উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও ভারতের বাকি অংশের মধ্যে একটি নিরাপদ ও ত্রুটিহীন পরিবহন করিডর তৈরি করবে।

    ভিন্ন বাস্তবতা: নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের সীমান্ত

    এই সীমান্ত অঞ্চলে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের শক্তি ও চ্যালেঞ্জ কোথায়? ভুটান ও নেপালের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বাংলাদেশের তুলনায় ভিন্ন ধরনের। ভারতীয় নাগরিকেরা ভিসা ছাড়াই নেপাল ও ভুটানে ভ্রমণ করতে পারেন এবং বৈধ পাসপোর্ট থাকলেই প্রবেশ সম্ভব। একই সুবিধা ভারতও এই দুই দেশের নাগরিকদের দিয়ে থাকে।

    অন্যদিকে বাংলাদেশে যেতে ভিসা প্রয়োজন হয়। আগে পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর বাসিন্দারা জেলা প্রশাসকের দেওয়া সীমিত পরিসরের ভারত-বাংলাদেশ পাসপোর্ট ব্যবহার করে যাতায়াত করতে পারতেন। তবে ২০১৩ সালে সেই ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

    চিকেন’স নেক কী? বাংলাদেশ-ভারত-চীন ভূরাজনীতিতে এর গুরুত্ব কতটা

    ভারত-নেপাল ও ভারত-ভুটান সীমান্তের তুলনায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত অনেক বেশি কড়াভাবে সুরক্ষিত। এরই মধ্যে ১ হাজার ৬৪৭ দশমিক ৭ কিলোমিটার এলাকায় সীমান্ত বেড়া নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে এবং অধিকারী সরকার অবশিষ্ট অংশের কাজ দ্রুত শেষ করতে জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছে। এনএইচএআইয়ের আরও দুটি উদ্যোগ শিলিগুড়ি করিডরকে কেন্দ্রীয় সরকারের ফ্ল্যাগশিপ মহাসড়ক কর্মসূচি ‘ভারতমালা পরিকল্পনা’র লজিস্টিক কাঠামোর সঙ্গে একীভূত করতে সহায়তা করবে।

    এর একটি হলো গোরখপুর-শিলিগুড়ি এক্সপ্রেসওয়ে। উত্তর প্রদেশের গোরখপুর থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত ৫১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকারযুক্ত গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়েটি ভারত-নেপাল সীমান্তের প্রায় সমান্তরালে নির্মিত হবে।

    শিলিগুড়ি চিকেন’স নেকে ভূগর্ভস্থ রেললাইন বসাচ্ছে ভারত, কিন্তু কেন

    এটি দুই প্রান্তের মধ্যে যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে এবং ভারত-নেপাল সীমান্ত এলাকায় বাণিজ্য ও মানুষের চলাচল বাড়াবে। আরেকটি প্রকল্প হলো ৫০৬ কিলোমিটার দীর্ঘ খড়গপুর-শিলিগুড়ি অর্থনৈতিক করিডর। এটি বর্ধমান, মোরগ্রাম, মালদা ও রায়গঞ্জ হয়ে উত্তরবঙ্গকে বন্দরনগরী খড়গপুরের সঙ্গে যুক্ত করবে।

    এই করিডর পণ্য পরিবহনকে আরও গতিশীল করবে, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগ বাড়াবে এবং পথে থাকা চা, পাট ও কৃষিপণ্যভিত্তিক বাণিজ্যকেন্দ্রগুলোকে লজিস্টিক সহায়তা দেবে।

  • ভারতে বন্ধ টেলিগ্রাম

    ভারতে বন্ধ টেলিগ্রাম

    ভারতের চিকিৎসাবিজ্ঞানভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজি পুনঃপরীক্ষাকে ঘিরে প্রশ্নফাঁসের গুজব ও প্রতারণা ঠেকাতে দেশটিতে টেলিগ্রামের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)।

    ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (১৬ জুন) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীদের প্রতারণার জন্য টেলিগ্রাম ব্যবহার করা হয়েছে। তাই নির্দিষ্ট ও সীমিত সময়ের জন্য ভারতে টেলিগ্রামের ব্যবহার সীমিত করা হয়েছে।

    বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের একটি ধারা মতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই ধারা অনুযায়ী, দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার স্বার্থে সরকার কোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা ওয়েবসাইটে প্রবেশাধিকার বন্ধ রাখতে পারে।

    এদিকে এক বিবৃতিতে এনটিএ জানায়, তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে ভারতের বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (মেইটিওয়াই) ২২ জুন পর্যন্ত দেশটিতে টেলিগ্রাম ব্যবহারে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এছাড়া ৩০ জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রামের বার্তা সম্পাদনা সুবিধাও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এনটিএর দাবি, সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র টেলিগ্রাম ব্যবহার করে প্রশ্নফাঁসের ভুয়া দাবি ছড়িয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। এসব কর্মকাণ্ড ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    এনটিএ জানিয়েছে, টেলিগ্রামের বার্তা সম্পাদনা সুবিধা ব্যবহার করে পরীক্ষার পর ভুয়া প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ তৈরি করা হচ্ছিল।

    তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু চ্যানেলের এডমিন পুরোনো পোস্ট সম্পাদনা করে পরে সেখানে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সংযুক্ত করতেন, অথচ পোস্টের মূল সময় অপরিবর্তিত থাকত। পরে সেই পোস্টকে পরীক্ষার আগে প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ হিসেবে প্রচার করা হতো। এনটিএর মতে, সাময়িকভাবে এই সুবিধা বন্ধ রাখলে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো কঠিন হবে।

    সংস্থাটি জানিয়েছে, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (আইফোরসি) টেলিগ্রামভিত্তিক প্রতারণা ও গুজব মোকাবিলায় সমন্বয় করছে। ইতোমধ্যে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেওয়ার নামে পরিচালিত একাধিক টেলিগ্রাম চ্যানেল ও স্বয়ংক্রিয় অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে।

  • রুশ সেনাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে ভিনদেশিরা, অভিযোগ প্রত্যাখ্যান চীনের

    রুশ সেনাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে ভিনদেশিরা, অভিযোগ প্রত্যাখ্যান চীনের

    ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রুশ সেনাদের চীনা সামরিক সদস্যরা প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

    মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগটিকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, এ দাবির কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই এবং এটি অপবাদ ও মানহানিকর বক্তব্য।

    এর আগে লুক্সেমবার্গে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ সদস্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস দাবি করেন, চীনা সামরিক সদস্যদের দ্বারা রুশ সেনাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ে পাওয়া প্রতিবেদনগুলো ইইউ যাচাই করেছে এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করছে।

    চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, বেইজিং আনুষ্ঠানিকভাবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।

    এদিকে কালাস আরও জানান, বৈঠকে ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম বা নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

    ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার প্রতি চীনের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসলেও বেইজিং বারবার দাবি করে আসছে যে তারা সংঘাতের বিষয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে আবারও পুশইনের চেষ্টা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে আবারও পুশইনের চেষ্টা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলা রাধানগর ইউনিয়নের রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে আবারও এক নারীকে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধায় ওই নারীকে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ।

    সোমবার (১৫ জুন) রাতে নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) রোকনপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ২২৫/৩-আর এর পাশ দিয়ে এ অপচেষ্টা চালায় বিএসএফ।

    ভারতের ৮৮ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের আর কে ওয়াদা ক্যাম্পের সদস্যরা মাছ ধরা জেলেদের সহায়তায় নৌকা যোগে ওই নারীকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম। তিনি জানান, বিজিবি ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে পুশইন প্রতিহত করা হয়। এ সময় ওই মহিলাকে পুশব্যাক করা হয়। তিনি সীমান্তের শূন্য লাইন বরাবর ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছিল। সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

    এর আগে একই সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ ১৩ জুন ভোরে ১৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে। সে চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় বিজিবি সদস্যরা। পরে তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় বিএসএফ।

    এ এম

  • ইরানে হামলা,  বিশ্ব দেখল মার্কিন ক্ষমতা !

    ইরানে হামলা, বিশ্ব দেখল মার্কিন ক্ষমতা !

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে অবশেষে অবসান ঘটেছে ২৮ ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী যুদ্ধটির। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় ভুল হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত থাকবে।

    এই সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য ও শত্রুদের দমনের ক্ষমতা যেমন বড় ধাক্কা খেয়েছে, তেমনি মার্কিন সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতাও বিশ্বের সামনে প্রকাশ পেয়ে গেছে। বিশেষ করে ওয়াশিংটন যখন তার সীমিত অস্ত্রভাণ্ডার উজাড় করে দিচ্ছিল, তখন চীন অত্যন্ত গভীরভাবে যুক্তরাষ্ট্রের এই ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা পর্যবেক্ষণ করেছে।

    এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের একটি চরম ভুল হিসাব-নিকাশের ওপর ভিত্তি করে শুরু হয়েছিল। তারা ভেবেছিল তেহরানের শাসনব্যবস্থা দুর্বল এবং এই যুদ্ধ হবে সংক্ষিপ্ত ও সহজেই বিজয়ী হওয়ার মতো। যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইসরাইলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন এবং মার্কিন হামলায় দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি স্কুল ধ্বংস হয়ে ১২০ জনেরও বেশি স্কুলছাত্রীসহ অন্তত ১৫০ জন বেসামরিক মানুষ মারা যান।

    ট্রাম্প ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভিডিও বার্তায় ইরানের সরকার পতনের যে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এই চরম আঘাতের পরও ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি, বরং খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি এবং রেভল্যুশনারি গার্ডসের তরুণ ও আগ্রাসী কমান্ডারদের নেতৃত্বে তারা আরও শক্তিশালী হয়ে আবির্ভূত হয়েছ।

    ইরানের এই প্রতিরোধ ও পালটা কৌশল উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল উৎপাদনকারী আরব রাজতন্ত্রগুলোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্রতায় ফাটল ধরিয়েছে। এত দিন ধরে নিজেদের স্থিতিশীলতার দ্বীপ মনে করা এই দেশগুলোর ব্যবসায়িক মডেল এখন চরম হুমকির মুখে এবং এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বহু বছর লেগে যাবে।

    নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের কর্মকর্তারা এখন আর কেবল যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভরসা না রেখে তাদের মিত্রতা বহুমুখীকরণের কথা ভাবছেন এবং ইরানের সাথে কীভাবে সহাবস্থান করা যায়, সেই পথ খুঁজছেন।

    সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছিল, ঠিক তখনই আকস্মিকভাবে এই যুদ্ধ শুরু করা হয়। যুদ্ধের ফলে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল হরমুজ প্রণালি, যা দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এবং কৃষিকাজের জন্য জরুরি সার ও সেমিকন্ডাক্টরের কাঁচামাল পরিবহন করা হয়। এই দীর্ঘ অচলাবস্থার কারণে বিশ্ব অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ে এবং আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলের মতো দরিদ্র দেশগুলো মারাত্মক খাদ্য সংকটের মুখোমুখি হয়।

    এখন দুই পাতার ১৪ দফার এই সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হচ্ছে, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা হচ্ছে এবং যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও কোটি কোটি সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।

    তবে এই সমঝোতা কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি নয়, বরং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো জটিল বিষয়গুলো ভবিষ্যতের আলোচনার জন্য তোলা রইল। এই চুক্তিতে পূর্ণ অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও ইসরাইলকে সম্পূর্ণ বাইরে রাখা হয়েছে, যা নেতানিয়াহু সরকারকে চরম হতাশায় ফেলেছে।

    নেতানিয়াহু তার পুরো রাজনৈতিক জীবন যে শত্রুকে ধ্বংস করার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই ইরানকে অক্ষত রেখে যুদ্ধ শেষ করায় তিনি এখন নিজ দেশে রাজনৈতিক বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন, যা আগামী অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনে তার জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

    বর্তমানে অন্যতম প্রধান জটিলতা হিসেবে রয়ে গেছে লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক দখলদারিত্বের ঘোষণা। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল দখল করে রাখা এবং বৈরুতে সাম্প্রতিক ইসরাইলি বিমান হামলা মূলত এই শান্তি আলোচনা নস্যাৎ করার একটি চেষ্টা ছিল। কিন্তু তা ব্যর্থ করে আলোচনা আরও গতি পায়। ট্রাম্প ইতোমধ্যেই নেতানিয়াহুর ওপর তার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং ইসরাইল মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আরও আগ্রাসন চালাবে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।

    সব মিলিয়ে, ২৮ ফেব্রুয়ারির যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বেসর্বা ভাবমূর্তি ধূলিসাৎ করে দিয়েছে এবং বিশ্বমঞ্চে মার্কিন পরাশক্তির একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রাখার লড়াইকে এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

  • নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ভয়াবহ সহিংসতা, অর্ধশতাধিক গ্রেফতার

    নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে ভয়াবহ সহিংসতা, অর্ধশতাধিক গ্রেফতার

    দীর্ঘ ৫৩ বছরের খরা কাটিয়ে অবশেষে এনবিএ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে নিউইয়র্ক নিক্স। এই ঐতিহাসিক গৌরব অর্জনের পরপরই পুরো নিউইয়র্ক শহরজুড়ে বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠেন হাজার হাজার ভক্ত। তবে শনিবার (১৩ জুন) রাতের সেই আনন্দঘন উদযাপন মুহূর্তের মধ্যেই রূপ নেয় এক ভয়াবহ সহিংসতায়। বিশেষ করে নিউইয়র্কের প্রাণকেন্দ্র টাইমস স্কয়ারে আকস্মিক গোলাগুলি ও ছুরিকাঘাতের ঘটনায় চারদিকে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং উৎসবে শামিল হওয়া মানুষ দিকবিদিক ছুটতে শুরু করেন।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, টাইমস স্কয়ারের ৪২তম স্ট্রিট এবং ব্রডওয়ের সংযোগস্থলের কাছে আচমকা অন্তত সাতটি গুলির শব্দ শোনা যায়। এই সময় সেখানে উপস্থিত শত শত বাস্কেটবল ভক্ত প্রাণভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন। গোলাগুলির এই ঘটনায় ১৭ বছর বয়সি এক কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়। কিন্তু রাস্তায় মানুষের উপচে পড়া ভিড়ের কারণে ঘটনাস্থলে কোনো অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে পারেনি। পরবর্তীতে পুলিশ তাদের নিজস্ব গাড়িতে করেই গুরুতর আহত ওই কিশোরকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। গোলাগুলির পাশাপাশি সেখানে ছুরিকাঘাতের ঘটনাও ঘটে, যাতে আরও চারজন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিউইয়র্ক পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান শুরু করে। সামাজিক মাধ্যমে পুলিশের শেয়ার করা অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, টাইমস স্কয়ারের বিশাল ভিড়ের মধ্য থেকে এক ব্যক্তিকে জাপটে ধরে তার কোমরের বেল্ট থেকে একটি লোড করা পিস্তল উদ্ধার করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। তবে উৎসবের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুর চরম আকার ধারণ করে। উত্তেজিত জনতার একাংশ পুলিশের গাড়িতে ব্যাট দিয়ে আঘাত করে উইন্ডশিল্ড ভেঙে ফেলে এবং সড়কবাতি ও ট্রাফিক সিগন্যালের খুঁটিতে চড়ে বসেন। এমনকি ভিড়ের মাঝেই বিপজ্জনকভাবে আতশবাজি ফোটানো শুরু হয়।

    এই তাণ্ডবের শিকার হয়েছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর দর্শকদের আনা নেওয়ার কাজে নিয়োজিত বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা। ফুটবল ভক্তদের যাতায়াতের জন্য সিটি গভর্নমেন্টের ভাড়া করা বেশ কিছু স্কুল বাসের ওপর চড়ে বসেন অনেক বাস্কেটবল সমর্থক।

    একপর্যায়ে তারা বাসের ভেতরে ঢুকে চালকের আসনে বসে পড়েন এবং মোট পাঁচটি স্কুল বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। একই সাথে পুলিশের পাঁচটি গাড়িতেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এই ব্যাপক সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে গিয়ে অন্তত ১০ জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজনকে মুখে ঘুষি মারা হয়েছে এবং অন্য একজনের গায়ে কাঁচের বোতল দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।

    নিউইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে এখন পর্যন্ত ৬৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা, বেআইনিভাবে অস্ত্র রাখা এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সত্ত্বেও এই জয়টি নিউইয়র্ক নিক্সের ফ্র্যাঞ্চাইজি ইতিহাসের জন্য একটি স্মরণীয় মাইলফলক।

    ১৯৭৩ সালের পর তারা আর এই ল্যারি ও’ব্রায়েন ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে পারেনি, এমনকি ১৯৯৯ সালের পর তারা ফাইনালেও উঠতে ব্যর্থ হয়েছিল। এবার সান আন্তোনিও স্পার্সকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিক্সের এই গৌরব উদযাপন করতে আগামী বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) একটি বিজয় শোভাযাত্রার (প্যারেড) আয়োজন করা হবে, যার জন্য পুরো শহরজুড়ে ইতোমধ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

  • আমাজনে বাড়ছে পানির স্তর

    আমাজনে বাড়ছে পানির স্তর

    টানা দুই বছরের তীব্র খরার পর ২০২৫ সালে ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলের পানির স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক জানিয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক।

    মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। রিও ডি জেনেইরো থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। স্বাদুপানির বিশ্বের মোট সরবাহের প্রায় ১২ শতাংশ পরিমাণ ব্রাজিলে রয়েছে। এর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই আমাজন অঞ্চলে।

    ভূমির ব্যবহার ও ভূমি আচ্ছাদনের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সংস্থার নেটওয়ার্ক ম্যাপবায়োমাসের তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির কারণে ২০২৫ সালে আমাজনের পানির স্তর ঐতিহাসিক গড়ের চেয়ে ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি ছিল।

    তবে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ভয়াবহ আবহাওয়াজনিত ঘটনা ক্রমেই বেশি ঘটছে। ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক।

    ম্যাপবায়োমাসের আমাজন টিমের সদস্য ব্রুনো ফেরেইরা বলেন, ‘ভয়াবহ আবহাওয়ার ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তনের কারণে জলপ্রবাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতার লক্ষণও দেখা যাচ্ছে।’

    ব্রাজিলের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডে বনাঞ্চল, জলাভূমি ও তৃণভূমিসহ বিভিন্ন ধরণের জীবমণ্ডল রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আমাজন অববাহিকার দক্ষিণে অবস্থিত ব্রাজিলের জলাভূমি অঞ্চল পানতানালে ২০২৫ সালের শেষে পানির স্তর ঐতিহাসিক গড়ের তুলনায় ৫৬ শতাংশ কম ছিল।

    যদিও ২০২৪ সালের তুলনায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ওই বছর অঞ্চলটি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার মুখে পড়েছিল। তবু পানতানাল দেশটির সবচেয়ে বেশি চাপে থাকা প্রতিবেশ ব্যবস্থা হিসেবেই রয়ে গেছে।

    প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা এল নিনোর আগমন সাধারণত আমাজনের বিভিন্ন অংশে খরা সৃষ্টি করে ও পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করে তোলার আশঙ্কা তৈরি করে।

    মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ঘটানো এই জলবায়ুগত ঘটনাটি গত সপ্তাহে শুরু হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) জানিয়েছে, বছরের শেষ নাগাদ এটি রেকর্ডে থাকা সবচেয়ে তীব্র এল নিনোগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে।

  • ভারতের মেশিন গানে ইসরাইলি দূরবিন

    ভারতের মেশিন গানে ইসরাইলি দূরবিন

    ভারত নিজ সামরিক বাহিনীর হালকা মেশিন গানের কার্যকারিতা বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে ইসরাইল থেকে আধুনিক দূরবিন বা দৃষ্টিসহায়ক যন্ত্র কেনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এরই অংশ হিসেবে অন্তত ১০ হাজার দিনকালীন ব্যবহার উপযোগী দূরবিন কেনা হবে।

    সোমবার ইসরাইলের দৈনিক জেরুসালেক পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভারতীয় সেনাবাহিনী তাদের নেগেভ হালকা মেশিনগানের জন্য ইসরাইল ভিত্তিক মেপ্রোলাইট কোম্পানির তৈরি ‘মেপ্রো এক্সসিক্স’ নামের একটি নতুন ডে-টাইম অপটিক বা দিনের বেলার দৃষ্টিসহায়ক যন্ত্র বেছে নিয়েছে। সীমান্ত অঞ্চলের ভারতীয় সেনাদের দূরপাল্লার লক্ষ্যভেদের ক্ষমতা বাড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    এই খবরটির মধ্য দিয়ে ভারত ও ইসরাইলের মধ্যকার গভীর সামরিক সম্পর্কের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। মূলত নব্বইয়ের দশক থেকে ভারত ও ইসরাইলের মধ্যকার অংশীদারিত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি এক সময়ের সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতার সম্পর্ক থেকে এখন ক্ষেপণাস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং ছোট অস্ত্রের উৎপাদনের মতো কৌশলগত সহযোগিতায় রূপ নিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় ইসরাইল ওয়েপনস ইন্ডাস্ট্রিজ বা আইডব্লিউআই-এর তৈরি এবং গাজা ও লেবাননের যুদ্ধে ব্যবহৃত হালকা মেশিন গান পরিবারের আধুনিক সংস্করণ ‘নেগেভ সেভেন’ এখন ভারত সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় ভারতেই তৈরি হচ্ছে।

    এই চুক্তির আওতায় আসা মেপ্রোলাইট মেপ্রো এক্সসিক্স হলো একটি হালকা ওজনের দূরবীন বা দৃষ্টিসহায়ক যন্ত্র, যা ১০০০ মিটার বা প্রায় এক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারে। চওড়া দৃশ্যপট দেখার সুবিধাযুক্ত এই আধুনিক যন্ত্রটি অত্যন্ত শক্তপোক্ত এবং এটি একটি মাত্র সাধারণ ব্যাটারিতে চলে। মেপ্রোলাইটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই দূরবিনগুলো বিশেষ করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে তাদের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। ভারতের স্থানীয়করণের শর্ত পূরণ করার জন্য মেপ্রোলাইট কোম্পানিটি আরআরপি ডিফেন্সের সাথে প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি সই করেছে, যা দেশীয়ভাবে এই যন্ত্র তৈরি করে মূল ঠিকাদার ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড বা বিইএল-এর কাছে সরবরাহ করবে।

  • পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করলে ইরানের ওপর ‘নরক’ নেমে আসবে : ট্রাম্প

    পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করলে ইরানের ওপর ‘নরক’ নেমে আসবে : ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করলে ‘নরক নেমে আসবে’।

    ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

    ট্রাম্প বলেন, ইরান চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তেহরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হবে না। ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে চায়, তবে দেশটির ওপর নরক নেমে আসবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমার কাছে একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হবে না এবং তারা এটি উচ্চস্বরে ও স্পষ্টভাবে বলছে।’

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সাথে এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন।

  • জি-৭ সম্মেলনে বিশ্বনেতারা, আলোচনার কেন্দ্রে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি

    জি-৭ সম্মেলনে বিশ্বনেতারা, আলোচনার কেন্দ্রে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি

    ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এবং ইউক্রেন যুদ্ধ। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিসহ বিশ্বের শীর্ষ নেতারা।

    সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া একটি প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পথ তৈরি হবে বলে জানা গেছে। চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

    জি-৭ সম্মেলনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেন, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একটি “দৃঢ়, কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী” চুক্তি নিশ্চিত করা। তিনি হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্ভাব্য ফ্রাঙ্কো-ব্রিটিশ নেতৃত্বাধীন সামুদ্রিক উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা করেছেন।

    অন্যদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধও সম্মেলনের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জি-৭ নেতাদের সমর্থন ধরে রাখার পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা খুঁজছেন। সম্মেলন শুরুর আগে ম্যাক্রোঁ ও জেলেনস্কির মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

    ইউরোপীয় নেতারা ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখা এবং রাশিয়ার ওপর চাপ বৃদ্ধি করা জরুরি। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন দাবি করেছেন, ইউক্রেন বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে এবং রাশিয়ার অর্থনীতি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপে দুর্বল হয়ে পড়ছে।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্মেলনে পৌঁছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ অবসানেও নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইউক্রেন যুদ্ধ—এই তিনটি বিষয় এবারের জি-৭ সম্মেলনের ফলাফল নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    এ/জডি

  • লেবাননে ‘অতিরিক্ত মানুষ মারা যাচ্ছে’, ইসরাইলের সমালোচনায় ট্রাম্প

    লেবাননে ‘অতিরিক্ত মানুষ মারা যাচ্ছে’, ইসরাইলের সমালোচনায় ট্রাম্প

    লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সে চলমান জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে কাতারের আমিরের সাথে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি বলেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইল ‘দীর্ঘদিন ধরে’ যুদ্ধ করছে এবং এই সংঘাতের ফলে ‘অতিরিক্ত মানুষ মারা যাচ্ছে’।

    তিনি আরও যোগ করেন যে ইসরাইল বাকি সবাইকে না মেরে হিজবুল্লাহ দমনের কাজটি করতে পারছে না। বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, হিজবুল্লাহর কোনো সদস্যকে খোঁজার অজুহাতে পুরো একটি আবাসিক বহুতল ভবন ধ্বংস করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

    একই সাথে এই সংকট সমাধানে ট্রাম্প একটি নতুন কূটনৈতিক প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান যে, হিজবুল্লাহর দমনে ইসরাইলের চেয়ে সিরিয়াকে দায়িত্ব দেওয়া বেশি কার্যকর হতে পারে।

    ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমি ইসরাইলকে পরামর্শ দিয়েছি যেন তারা সিরিয়াকে হিজবুল্লাহর বিষয়টি দেখভাল করতে দেয়। সত্যি বলতে, আমার মনে হয় সিরিয়া এই কাজটি অনেক বেশি নিখুঁত ও ভালোভাবে করতে পারবে।’’

    বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে ইসরাইলের নির্বিচার বিমান হামলার কারণে সৃষ্ট বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে যে এক ধরণের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। তবে ট্রাম্পের এই কড়া বক্তব্যের পরেও তিনি উল্লেখ করেছেন যে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে তাঁর সম্পর্ক এখনও চমৎকার।

  • আমি পাশে না থাকলে ইসরাইলের কোনো অস্তিত্ব থাকত না: ট্রাম্প

    আমি পাশে না থাকলে ইসরাইলের কোনো অস্তিত্ব থাকত না: ট্রাম্প

    ফ্রান্সে চলমান জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দুই নেতাই মার্কিন-ইরান চুক্তি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূ-রাজনীতি নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশেষ করে তিনি নিজে পাশে না থাকলে আজ ইসরাইলের কোনো অস্তিত্ব থাকত না। ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র পেয়ে যেত, তবে ইসরাইল পৃথিবীর বুক থেকে মুছে যেত উল্লেখ করে ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে মাত্র দুই সপ্তাহ দূরে ছিল। তবে চলমান যুদ্ধ ইরানের পূর্ববর্তী নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে দাবি করে ট্রাম্প বলেন, ইরানে এখন একটি যৌক্তিক ও বুদ্ধিমান নেতৃত্ব রয়েছে।

    লেবানন ইস্যুতে নেতানিয়াহুর ভূমিকার সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘লেবাননের ব্যাপারে নেতানিয়াহুকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’ ইরানের সাথে চুক্তি ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে বৈরুতে ইসরাইলি বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বৈরুতে হামলাটি একেবারেই পছন্দ করিনি এবং আমি তাঁদের (ইসরাইল) সেটা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছি।’

    লেবানন পরিস্থিতিকে একটি ‘ছোটখাটো যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প ইসরাইলকে একটি অদ্ভুত পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘আমি ইসরাইলকে পরামর্শ দিয়েছি যেন হিজবুল্লাহর বিষয়টি সিরিয়ার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়, কারণ তারা এই কাজটি আরও ভালোভাবে করতে পারবে।’

    বৈঠকে কাতারের ‘সাহসিকতা’ এবং মধ্যস্থতার ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘কাতার যেভাবে পুরো পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে, তাতে আমরা অত্যন্ত মুগ্ধ। তারা অত্যন্ত শক্ত ও দৃঢ় অবস্থান দেখিয়েছে।’

  • ইরান চুক্তি নেতানিয়াহুর জন্য দুঃস্বপ্ন

    ইরান চুক্তি নেতানিয়াহুর জন্য দুঃস্বপ্ন

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং শিগগিরই এর বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    সোমবার ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁর সঙ্গে আলাপের সময় এ কথা বলেন মি. ট্রাম্প। চুক্তির কিছু বিষয় সামনে এনেছেন মার্কিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন, জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি স্বাক্ষরের দিন অর্থাৎ শুক্রবার থেকেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।

    এদিকে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এ চুক্তি এবং যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য একটি ‘রাজনৈতিক দুঃস্বপ্ন’ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

    এটি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের তিনটি মূল স্তম্ভকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং তাকে এক নতুন নিরাপত্তা সংকটে ফেলেছে। প্রশ্ন উঠেছে, যিনি নিজেকে ওয়াশিংটনের ‘রাজনৈতিক পরামর্শদাতা’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন এবং মার্কিন রাজনীতিবিদদের ওপর যার শক্ত প্রভাব ছিল, কীভাবে তাকে পাশ কাটিয়ে তার প্রধান মার্কিন মিত্রইরান চুক্তি করলেন, এবং কীভাবে তিনি এভাবে প্রকাশ্যে অপমানিত হলেন?

    যিনি ইরানকে মোকাবেলার বিষয়টিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা পরিকল্পনার কেন্দ্রে রেখেছিলেন, তিনি কীভাবে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন – যেখানে ইরানই বরং যুদ্ধের আগের চেয়েও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে?

    তাছাড়া, লেবাননে হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ করার জন্য ওয়াশিংটন ও তেহরানের দাবি এখন ইসরায়েলের ‘মিস্টার সিকিউরিটি’ হিসেবে পরিচিত নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলে দিয়েছে, বিশেষ করে দেশটিতে সাধারণ নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে।

    নেতানিয়াহুর সামনে এখন কোনো ভালো বিকল্প নেই।সোমবার ইসরায়েলের সংসদ নেসেটে, বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বলেন, “তার সামনে এখন কেবল দুটি পথ খোলা – হয় আমাদের সবচেয়ে বড় মিত্রের সঙ্গে সরাসরি ও মারাত্মক সংঘাত, অথবা ইসরায়েলি স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেয়া।”

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন যে, রবিবার বৈরুতে হামলার নির্দেশ দিয়ে নেতানিয়াহু কোনো বিচারবুদ্ধির পরিচয় দেননি।

    ট্রাম্পের এ বক্তব্য ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং গণমাধ্যম ভাষ্যকাররা লুফে নিয়েছেন। অক্টোবর মাসের আগে হতে যাওয়া নির্বাচন সামনে রেখে বিরোধীরা এখন এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছেন।

  • লেবাননের অখণ্ডতাকে সম্মান জানানো মার্কিন চুক্তির শর্ত: ইরান

    লেবাননের অখণ্ডতাকে সম্মান জানানো মার্কিন চুক্তির শর্ত: ইরান

    লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশটির আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান জানানো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে জানিয়েছে ইরান। সোমবার (১৫ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই মন্তব্য করেন।

    তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই সমঝোতা স্মারকের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে রয়েছে লেবানন। তেহরান সেখানকার চলমান পরিস্থিতি ও সব ধরনের ঘটনাপ্রবাহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

    সংবাদ সম্মেলনে ইসমাইল বাঘাই লেবাননের সাধারণ জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে লেবাননে জায়নবাদী শক্তির সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এই আগ্রাসনের পরিপ্রেক্ষিতে ইরান সুনির্দিষ্ট ও কৌশলগত হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতেই নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

    ইরানের পক্ষ থেকে আসা এই বক্তব্যকে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে লেবাননের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের এই কূটনৈতিক সমঝোতা আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।এ/জেড

  • ইসরাইলকে আর ছাড় দেবে না যুক্তরাষ্ট্র

    ইসরাইলকে আর ছাড় দেবে না যুক্তরাষ্ট্র

    ইসরাইলের প্রভাবশালী দৈনিক হারেৎস পত্রিকার প্রখ্যাত লেখক ও কলামিস্ট গিডন লেভি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং ইরানের মধ্যকার বর্তমান পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত বিস্ফোরক ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেন, চলমান এই ভূরাজনৈতিক খেলায় শেষ পর্যন্ত ইসরাইলেরই চরম পরাজয় ঘটেছে।

    গিডন লেভি উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়েও তার প্রশাসনের হোয়াইট হাউস, স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে এমন বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছেন, যারা ইসরাইলের নীতি ও ভূমিকার প্রতি ট্রাম্পের চেয়েও অনেক বেশি সমালোচনামূলক মনোভাব পোষণ করেন।

    তার মতে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যদি এবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সম্পর্ক নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত করেন, তবে ইসরাইল এমন এক নজিরবিহীন ও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে যা অতীতে তারা কখনই দেখেনি। আর এই বৈরিতার মারাত্মক নেতিবাচক ফলাফল খুব অল্প সময়ের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

    এই জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক আরও সতর্ক করে বলেন, সামগ্রিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এবং ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ইসরাইল এখন একটি বড় বাধা বা প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এখন থেকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইসরাইলকে একটি বড় অন্তরায় বা ‘বাধাস্বরূপ’ হিসেবেই বিবেচনা ও আচরণ করা হবে।

  • ধর্ষণের অভিযোগে নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেসের ছেলেকে ৪ বছরের কারাদণ্ড

    ধর্ষণের অভিযোগে নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেসের ছেলেকে ৪ বছরের কারাদণ্ড

    ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস (যুবরাজ্ঞী) মেটে ম্যারিটের ছেলে ম্যারিয়াস বোর্গ হোইবি-কে ৪ বছর কারাবাসের সাজা দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে জরিমানা হিসেবে ৫ লাখ ৮০ হাজার ক্রোনার (৬০ হাজার ৮৪৮ ডলার) প্রদানের নির্দেশও দিয়েছেন।

    গতকাল রোববার রাজধানী অসলোর জেলা আদালত এই রায় দিয়েছেন। এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, হোইবির বিরুদ্ধে মোট চারটি ধর্ষণ, গার্হস্থ্য নির্যাতন, গুরুতর শারীরিক আক্রমণ এবং মাদক গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। এসবের মধ্যে দু’টি ধর্ষণ, গার্হস্থ্য নির্যাতন এবং গুরুতর শারীরিক আক্রমণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। বাকি দুই ধর্ষণের মামলায় তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন; তবে মাদক গ্রহণের মামলা এখনও বিচারাধীন আছে। সেটির বিচারকাজ চলছে।

    মামলায় বাদিপক্ষের আইনজীবীর ভূমিকায় আছেন অসলো জেলা আদালতের স্টেট প্রসিকিউটর স্টার্লা হেনরিক্সবো; গতকাল আদালত রায় ঘোষণার আগে তিনি বিচারকের কাছে আসামিকে ৭ বছর ৭ মাসের সাজার আবেদন করেছিলেন তিনি।

    বিচারক তার আবেদনে সাড়া না দিলেও রায় ঘোষণার সময় বলেছেন, যতদিন বিচার চলবে, ততদিন কারাগারেই থাকতে হবে হোইবি-কে।

    ম্যারিয়াস বোর্গ হোইবির আইনজীবী জানিয়েছেন, জেলা আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন তারা।

  • রাশিয়ার তুলা শহরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, নিহত ৩

    রাশিয়ার তুলা শহরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, নিহত ৩

    রাশিয়ার রাজধানী মস্কো থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত তুলা শহরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। সোমবার (১৫ জুন) এ তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

    অঞ্চলিক গভর্নর দিমিত্রি মিলিয়েভ টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জানান, রাতে তুলা শহরের একটি আবাসিক এলাকায় ড্রোন হামলা চালানো হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী এতে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে এক বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে।

    এর আগে গত শুক্রবার রাশিয়ার ব্রায়ানস্ক অঞ্চলের সুজেমকা এলাকায় ইউক্রেনের গোলাবর্ষণে দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং দুইজন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছিলেন ভারপ্রাপ্ত গভর্নর ইগর কোভালচুক।

    একই দিনে রাশিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় তাতারস্তানে পৃথক ড্রোন হামলায় একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অন্তত তিনজন আহত হন।

    এদিকে ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলার কারণে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ক্রিমিয়া উপদ্বীপে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয়ভাবে কিছু পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি সরবরাহ সীমিত করা হয়েছে এবং কিছু নিত্যপণ্যের ঘাটতির খবরও পাওয়া যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সংকটের কথা স্বীকার করেনি মস্কো।

  • ওয়াশিংটন-তেহরান শান্তিচুক্তিকে স্বাগত জানাল বিশ্বনেতারা

    ওয়াশিংটন-তেহরান শান্তিচুক্তিকে স্বাগত জানাল বিশ্বনেতারা

    ওয়াশিংটন-তেহরান শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানালেন বিশ্বনেতারা

    দীর্ঘ বৈরিতা ও সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। উভয় পক্ষই এই ঐতিহাসিক সমঝোতার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। দুই দেশের এমন আকস্মিক ও ইতিবাচক সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ ও স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘসহ বিশ্বের শীর্ষ প্রভাবশালী দেশের রাষ্ট্রনেতারা।

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় উভয় পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করবে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীও নিশ্চিত করেছেন যে, আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পর শুক্রবার সুইজারল্যান্ডেই পরবর্তী করণীয় নিয়ে আরও উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

    দুই চিরবৈরী দেশের এই সমঝোতাকে বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশ্বনেতারা।

    সফল এই শান্তি আলোচনার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা মধ্যস্থতাকারী দেশ—পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন জাতিসংঘ প্রধান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই চুক্তিকে ‘সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই চুক্তির অগ্রগতিকে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন।

    চুক্তিটিকে স্বাগত জানালেও এর পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছেন ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা।

    ফরাসি প্রেসিডেন্ট এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গভাবে এর শর্তগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি লেবানন সংকটের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি।

    তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এই কাঠামোগত চুক্তিকে স্বাগত জানালেও একটি বিষয়ে গভীর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আগামী শুক্রবার চূড়ান্ত স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে এমন যেকোনো বক্তব্য, উসকানি এবং সম্ভাব্য নাশকতা থেকে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

    প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দুই প্রভাবশালী দেশও এই চুক্তি নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং বিশ্ব সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এই ঐতিহাসিক সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই শান্তির পথে এগিয়ে যেতে হবে। তবে তাঁরা মনে করিয়ে দেন, ইরানকে অবশ্যই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বের দীর্ঘদিনের উদ্বেগগুলো দূর করতে হবে।

    অন্যদিকে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এক্স-এ লিখেছেন, তিনি আশা প্রকাশ করেন এই চুক্তির মাধ্যমে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় ‘নিরাপদ ও অবাধ নৌচলাচল’ নিশ্চিত হবে এবং ইরানের পারমাণবিক ইস্যুসহ অন্যান্য অমীমাংসিত সংকটের দ্রুত সমাধান ঘটবে।

  • ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ফিলিপাইন

    ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ফিলিপাইন

    ফিলিপাইনের দক্ষিণ উপকূলে সোমবার ৬ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এ তথ্য জানিয়েছে।

    এক সপ্তাহ আগে একই এলাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৬৫ জন প্রাণহানি হওয়ার পর নতুন করে এ কম্পন অনুভূত হলো। ম্যানিলা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৮ মিনিটে মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

    ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১১২ কিলোমিটার গভীরে।

  • ট্রাম্পকে পরাজিত বললো ইসরাইলি গণমাধ্যম

    ট্রাম্পকে পরাজিত বললো ইসরাইলি গণমাধ্যম

    ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য চুক্তিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছুই পাননি বরং তিনি পুরোপুরি পরাজিত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরাইলি গণমাধ্যম। সোমবার (১৫ জুন) সকালে আল-মায়াদিন নেটওয়ার্কের বরাতে ইরানের সরকারি বার্তাসংস্থা ইরনা এ তথ্য জানিয়েছে।

    ইসরাইলি গণমাধ্যমগুলোর দাবি, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ হুইটেকার এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার নামে দুই ইহুদিকে বিপুল অর্থের বিনিময়ে কিনে নিয়েছে কাতার। ফলে এই দুই প্রভাবশালী মার্কিন কর্মকর্তা ইসরাইল সরকারের ভাইদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এছাড়া নিজেদের ছায়া দেখে ভয় পেয়ে আরব দেশগুলোও এখন যুদ্ধবিরতিতে উসকানি দিচ্ছে এবং গোটা অঞ্চলে শান্তি ফেরাতে ইরানকে শত কোটি ডলার দিতে চাচ্ছে।

    ইসরাইলি টেলিভিশনের সাংবাদিক সলোমন মাসুদেহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, এই চুক্তিতে পরমাণু বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র—কোনো সমস্যারই সমাধান হয়নি, উল্টো ইরান হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ পেয়ে গেছে।

    ইসরাইলের সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১৪ জানিয়েছে, ট্রাম্প তাদের সাথে যা করেছেন তা এতটাই খারাপ যে ব্যাখ্যা করাই কঠিন। পাশাপাশি চ্যানেল-২৪ বলেছে, ট্রাম্প ইরানকে একের পর এক সুবিধা দিলেও বিনিময়ে কিছুই পাচ্ছেন না।

    ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেটের সদস্যদের বরাতে তারা জানায়, লেবানন থেকে ইরানের ইস্যুকে আলাদা করার চক্রান্ত ব্যর্থ হয়েছে।’ এদিকে, ট্রাম্পের এই চুক্তির গতি থামাতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ব্যর্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল কান।

    ইসরাইলি গণমাধ্যমের মতে, এই চুক্তির ফলে ইরানিরা তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির মতো বড় সাফল্য পেয়েছে, যার কারণে ইসরাইলকে লেবাননেও অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।

  • ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে যেসব প্রশ্ন রয়ে গেল

    ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে যেসব প্রশ্ন রয়ে গেল

    চার মাসের ভয়াবহ যুদ্ধ। কত রক্ত, ধ্বংসলীলা। যুদ্ধ বন্ধে ব্যর্থ নানা প্রচেষ্টা। বহুবার আশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত বিফল হওয়ার পর এবার মনে হচ্ছে, অন্তত একটি বিষয়ে একমত হতে পেরেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। সেটি হলো একটি ‘পারস্পরিক বোঝাপড়া স্মারক’ (এমওইউ) চূড়ান্ত করতে পেরেছে বৈরী এই দুই দেশ। চূড়ান্ত একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে তারা। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আগামী শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে জানিয়েছে উভয় দেশ। শত্রুতা অবসানের এই ঘোষণার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন এ চুক্তিকে স্বাগত জানাচ্ছে; তখনও চুক্তিটির কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন-অনিশ্চয়তা।

    চুক্তিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিকে কেবলই একটি সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এই চুক্তিটি একটি দারুণ মুহূর্ত। রোববার তিনি কেবল তার ৮০তম জন্মদিনই উদযাপন করেননি, বরং একই সাথে একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্যও পেয়েছেন। যদিও দুই দেশের পক্ষ থেকে এই চুক্তির যে বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, তা মূলত যার যার নিজস্ব স্বার্থ এবং রাজনৈতিকভাবে মেনে নেওয়া সহজ এমন অংশগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

    চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, উভয় পক্ষের বর্ণনায় লেবাননের বিষয়টি স্পষ্টভাবে রয়েছে। লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা এসেছে। তবে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ এই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী না হওয়ায় তারা এটি মেনে চলবে কিনা তা নিয়ে বড় ধরনের সন্দেহ রয়ে গেছে। সত্যি বলতে, এই চুক্তিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি কেবলই একটি সূচনা মাত্র। এর মাধ্যমে ৬০ দিনের একটি সময়সীমা শুরু হবে, যার মধ্যে ইরান কীভাবে তার পারমাণবিক উপকরণ ধ্বংস ও অপসারণ করবে- সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে একমত হতে হবে। এই প্রক্রিয়াটি নিজেই যেকোনো সময় ভেস্তে যেতে পারে। হরমুজ প্রণালির সুনির্দিষ্ট অবস্থান ও মর্যাদা নিয়েও উভয়পক্ষের মধ্যে এখনও স্পষ্ট মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে। এছাড়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ সচল করার সময়সূচির খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিয়েও দুই পক্ষের বক্তব্যে মিল নেই।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই চুক্তির ঘোষণা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, হরমুজ প্রণালি এখন বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র তার নৌ-অবরোধ তুলে নেবে। রোববার ট্রাম্প উল্লাস প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো টোল বা বাধা ছাড়াই জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর পূর্ণ অনুমোদন দিচ্ছি এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিচ্ছি। বিশ্বের সব জাহাজ, তোমাদের ইঞ্জিন চালু কর। তেলের প্রবাহ চলতে দাও!’

    তিনি ঘোষণা করেন, অতীতের আমেরিকান প্রেসিডেন্টদের ব্যর্থতার সম্পূর্ণ বিপরীতে তিনি একটি ‘দুর্দান্ত চুক্তি’ নিশ্চিত করেছেন যা ‘সমগ্র অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা’ বয়ে আনবে। অবশ্য ট্রাম্পের জন্য এমন অতিরঞ্জিত কথা নতুন কিছু নয়। গত বছরের গাজা যুদ্ধ অবসানের চুক্তি নিয়ে তার ঘোষণাগুলো- যেমন ‘অনন্তকালের শান্তি’ এবং ‘বিশ্বাস, আশা ও ঈশ্বরের যুগের সূচনা’- একইভাবে ঢালাও ছিল। যদিও বাস্তব পরিস্থিতি তার মন্তব্য থেকে অনেক দূরে রয়ে গেছে।

    উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ কূটনৈতিক চুক্তিগুলোর সাফল্য বা ব্যর্থতা সাধারণত খুঁটিনাটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। আর এই চুক্তির ক্ষেত্রে, সেই খুঁটিনাটি তথ্যের বেশ ঘাটতি রয়েছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ইরান যেন কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে তা ‘এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে’। যুক্তরাষ্ট্র তাদের শর্ত মানার বিষয়টি যাচাই করতে পারবে। তা সত্ত্বেও কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। যেমন- ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ওপর কী ধরনের বিধিনিষেধ থাকবে এবং ইরানের কাছে বর্তমানে থাকা উচ্চসমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদের শেষ পর্যন্ত কী হবে?

    এর কিছু অংশ নিশ্চিতভাবেই বর্তমান যুদ্ধবিরতির ৬০ দিনের বর্ধিত মেয়াদের মধ্যে পরবর্তী আলোচনা এবং ‘প্রযুক্তিগত’ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। কিন্তু ইরানকে তার পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে রাজি করানো এবং বাধ্য করার কয়েক দশকের প্রচেষ্টার পর যদি কোনো একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে থাকে, তবে তা হলো- যুক্তরাষ্ট্র এই ‘পারস্পরিক বোঝাপড়া স্মারক’ এ যা-ই নিশ্চিত হয়েছে বলে বিশ্বাস করুক না কেন, এখানে কোনো কিছুরই শতভাগ নিশ্চয়তা নেই।

    এই বিষয়টিকে আরও জোরালো করতে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ রোববার একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘স্মারকের অধীনে অপর পক্ষের (যুক্তরাষ্ট্র) প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের পরই কেবল চূড়ান্ত আলোচনা শুরু করা হবে।’ সেই প্রতিশ্রুতিগুলো আসলে কী এবং ইরান সেগুলোকে কীভাবে ব্যাখ্যা করছে- তার ওপরই মূলত নির্ভর করবে এই চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত টিকবে কিনা।

    জ্বালানি বাজার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে এখনই যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। ট্যাংকারের বিশাল জট দূর করা, মাইন অপসারণ, নিয়মিত তেল পরিবহন ও উৎপাদন পুনরুজ্জীবিত করতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। চুক্তিটির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের আরও বেশ কয়েক দিন বাকি থাকায় এর সাফল্য নিশ্চিত করতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের হাতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গুছিয়ে নেওয়ার সময় রয়েছে। তবে এটি ভেস্তে যাওয়ার মতো সময়ও কিন্তু রয়েছে।

    এর বাইরে আরেকটি বড় অনিশ্চয়তা হলো ইসরায়েল। এটি শুরু থেকেই মূলত একটি ত্রিপক্ষীয় যুদ্ধ ছিল। রোববার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, এই সপ্তাহ শেষে লেবাননে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিমান হামলার নির্দেশ দেওয়ার কারণে তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। ট্রাম্পের বিশ্বাস, এই হামলার ফলে প্রায় চূড়ান্ত হয়ে যাওয়া ইরান চুক্তিটি ভেস্তে যেতে পারত।

    চুক্তিটি টিকে গেছে- অন্তত জনসমক্ষে ঘোষণা করার মতো যথেষ্ট সময় পর্যন্ত এটি বজায় ছিল। কিন্তু ইসরায়েল যদি লেবাননে পুনরায় নতুন কোনো সামরিক অভিযান শুরু করে, তবে ইরান আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে যা, বৈশ্বিক অর্থনীতিকে নতুন করে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। নিজের মন্তব্যে ভ্যান্সও এটি স্বীকার করেছেন যে, উচ্চ জ্বালানি মূল্য এবং এর ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়ার কারণে এই যুদ্ধ অনেক আমেরিকানকে বেশ ভোগান্তিতে ফেলেছে। তিনি বলেন, আমেরিকান জনগণের প্রতি আমার প্রধান বার্তা হলো ‘ধন্যবাদ।’ সেই সাথে প্রতিশ্রুতি দেন যে, জ্বালানির দাম কমতে শুরু করবে। এটি কত দ্রুত ঘটে এবং আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হওয়া আমেরিকানদের জন্য সামগ্রিক ভোক্তা খরচ কত দ্রুত হ্রাস পায়- তার ওপরই মূলত নির্ভর করছে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের ওপর বাড়তে থাকা রাজনৈতিক চাপ কমবে কিনা।

    সাম্প্রতিক জনমত জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্প ও তার দল রিপাবলিকান ক্রমবর্ধমান অসন্তুষ্ট জনগণের মুখোমুখি হচ্ছে। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, ৬৩ শতাংশ আমেরিকান অর্থনীতি পরিচালনায় সরকারের ভূমিকার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ৫৭ শতাংশ মনে করছেন, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। তবে, ন্যূনতম পক্ষে এই চুক্তিটি চলমান দ্বন্দ্ব থেকে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক চাপের কিছুটা হলেও উপশম করবে, যদিও তা সম্পূর্ণ দূর করতে পারবে না। যদি পেট্রোলের দাম সত্যি সত্যিই কমতে শুরু করে, তবে তা আমেরিকানদের জন্য পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাওয়ার একটি দৃশ্যমান লক্ষণ হতে পারে।

    এটি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। যদিও ট্রাম্পের বৃহত্তর লক্ষ্যগুলো আপাতত অপূর্ণই রয়ে গেছে। দেশের মাটিতে তিনি এখনও রাজনৈতিক ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছেন।

  • ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা -‘হেরে গেল’ ইসরায়েল এরপর কী?

    ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা -‘হেরে গেল’ ইসরায়েল এরপর কী?

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতার মাধ্যমে ইসরায়েলের হার ও ব্যক্তিগতভাবে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পরাজয় হয়েছে। অনেকের মতো ইসরায়েলের রাজনীতি বিশ্লেষক গিডিয়ান লেভিও বিষয়টিকে এভাবে দেখছেন। তাঁর মতে, তেল আবিবের সামনে এখন ইচ্ছাকৃতভাবে নাশকতার পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই।

    আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লেভি বলেন, ইরান ইস্যুটি ছিল বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘লাইফ প্রজেক্ট’। কিন্তু এখন ইসরায়েলকে আলোচনার প্রক্রিয়া থেকে সম্পূর্ণভাবে বাইরে রাখা হয়েছে। তাদের হাতে কার্যত নাশকতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই।

    লেভির ভাষায়, নাশকতামূলক পদক্ষেপের সবশেষ উদাহরণ হলো- রোববার বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে চালানো ‘হাস্যকর ও শিশুসুলভ হামলা’। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, সমঝোতার পুরো প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলই কেবল ক্ষতির মুখে পড়েছে। নেতানিয়াহুর প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, সেটির প্রকৃত পরীক্ষা এখনো বাকি।

    ইসরায়েলের এই রাজনীতি বিশ্লেষক আরও বলেন, তেল আবিবের প্রধান লক্ষ্যগুলো যদি পূরণ না হয়, তাহলে তারা কোনো যুদ্ধবিরতিতেই খুশি হবে না। ফলে নেতানিয়াহু নিজেও যুদ্ধবিরতি নষ্ট করার চেষ্টা করতে পারেন। তাই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন লেবানন পরিস্থিতি।

    ইরানিরা বেশ দক্ষতার সঙ্গে লেবাননের বিষয়টিকে সমঝোতায় যুক্ত করতে পেরেছে বলেও মনে করেন লেভি। কিন্তু সেটি কীভাবে কার্যকর হবে তা বোঝা যাচ্ছে না। কারণ, ইসরায়েলি সেনারা এখনো লেবাননে অবস্থান করছে। সেখান থেকে সরে যাওয়ার কোনো ইচ্ছাও দেখাচ্ছে না।

    লেভির মতে, যতদিন ইসরায়েলি সেনারা সেখানে (লেবানন) থাকবে, ততদিন পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকর সম্ভব হবে না। কারণ লেবাননে ইসরায়েলি দখলের বিরুদ্ধে সবসময়ই প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।

    এ/জেড

  • পুতিন ও জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনে কী কথা হলো

    পুতিন ও জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনে কী কথা হলো

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর জন্মদিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।

    ক্রেমলিনের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গতকাল রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। ফোনে আলাপকালে পুতিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান এবং মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছেন। ট্রাম্প গতকাল ৮১ বছরে পা দিয়েছেন।

    ক্রেমলিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ বলেন, প্রায় এক ঘণ্টার কাছাকাছি সময় ধরে চলা এই আলাপে ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের জন্য আবারও আহ্বান জানান।

    উশাকভ আরও বলেন, তাঁরা এই বিষয়েও একমত হয়েছেন, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার শিগগিরই আবার রাশিয়া সফরে যাবেন। পুতিন ট্রাম্পকে বলেছেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বৈঠক করতে চাইলে তাঁকে মস্কোতে আসতে হবে। তবে পুতিনের এই প্রস্তাব জেলেনস্কি বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছেন।

    ক্রেমলিনের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প পুতিনকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ–সংক্রান্ত একটি চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে।

    এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সিএনএন হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

    ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় গতকাল বলেছে, ট্রাম্প জেলেনস্কির সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

    জেলেনস্কি আরও বলেন, ‘অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আমাদের বেশ বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। যার মধ্যে নিশ্চিতভাবেই শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও ছিল।’

    ফ্রান্সে চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় বিশ্বের শীর্ষ সাতটি দেশের জোট ‘জি-৭’শীর্ষ সম্মেলনের কথা উল্লেখ করে জেলেনস্কি আরও যোগ করেন, ‘আমরা একমত হয়েছি, জি-৭ সম্মেলনে আমাদের বৈঠকের সময় এই বিষয়ে আরও বিশদ আলোচনা করব।’

  • তৃণমূলের বিদ্রোহী লোকসভার ২০ সদস্য যোগ দিলেন অখ্যাত আঞ্চলিক দলে

    তৃণমূলের বিদ্রোহী লোকসভার ২০ সদস্য যোগ দিলেন অখ্যাত আঞ্চলিক দলে

    আর্ন্তজাতিকক ডেস্ক:

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী ২০ সংসদ সদস্য গতকাল রোববার নয়াদিল্লিতে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে জানিয়েছেন, তাঁরা এবার লোকসভায় আলাদা আসন নিয়ে বসতে চান। তবে তৃণমূল বা নতুন তৃণমূলের নাম নিয়ে বসা যে সম্ভব হবে না, সেই ইঙ্গিত পাওয়ার পর বিদ্রোহী এই ২০ সংসদ সদস্য নতুন একটি অখ্যাত আঞ্চলিক দলে যোগ দিয়েছেন। ওই দলটির নাম ভারতের জাতীয়তাবাদী নাগরিক দল বা এনসিপিআই।

    তৃণমূল কংগ্রেসের এই ২০ সংসদ সদস্য অখ্যাত দলটিতে যোগদানের ফলে কার্যত দলটি ভেঙে গেল।

    এই এনসিপিআই দলটি প্রথম গঠন করেন অনিকেত দে ও শিউলি কুন্ডু। হাওড়ার সাকরইল থেকে তাঁরা এই দল গঠন করেন। প্রথম এটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (এনজিও) হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল। পরবর্তী সময় এই এনজিওকে রাজনৈতিক দলে রূপান্তরিত করা হয়।

    দলটির নেতা হন উত্তীয় কুন্ডু ও শিউলি কুন্ডু। ২০২২ সালের ২০ জানুয়ারিতে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসি) এই দলটিকে রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

    ২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে এই দল থেকে সাতজনকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল। তাদের দলীয় প্রতীক হচ্ছে কলম। ওই নির্বাচনে সাত প্রার্থীর কেউ জয়ী হতে পারেননি। জয় পাওয়া তো দূরের কথা, ভোটও পেয়েছেন হাতে গোনা কিছু। ওই সাত প্রার্থীর মধ্যে সর্বাধিক ভোট পেয়েছিলেন কৈলা বিধানসভা আসনের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলী। পেয়েছিলেন ২৮৬ ভোট।

    তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার বিদ্রোহী সংসদ সদস্যরা স্পিকার ওম বিড়লার হাতে আলাদা বসার সুযোগ চেয়ে করা আবেদন তুলে দেন। ১৪ জুন ২০২৬, নয়াদিল্লিছবি: এএনআই

    অবশেষে আইনগত নানা দিক খতিয়ে ও ঝুঁকি এড়াতে তৃণমূলের বিদ্রোহীরা এনসিপিআই দলে নিজেদের অস্তিত্ব বিসর্জন দিয়েছেন। মিশে গেছেন এনসিপিআইয়ের সঙ্গে। আর লোকসভায় ২০ জন সংসদ সদস্য পেয়ে দেশের অখ্যাত এক রাজনৈতিক দল এখন দেশে পঞ্চম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

    এবার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় ধরনের পরাজয় হয়। রাজ্য বিধানসভার ২৯৪ আসনের মধ্যে তৃণমূল জয়ী হয় ৮০ আসনে। অন্যদিকে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি ২০০-এর বেশি আসনে জয়ী হয়। রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হন উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেতা শুভেন্দু অধিকারী।

    বিধানসভায় তৃণমূলের ভরাডুবির পর দলের ভেতরে অস্থিরতা দেখা দেয়। অধিকাংশ বিধায়ক ও সংসদ সদস্যরা এই পরাজয়ের জন্য দায়ী করেন দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। দুর্নীতিরও ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে দলের অনেক বিরুদ্ধে।

    দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী দলের নেতা হিসেবে প্রস্তাব দেন বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম। স্পিকারের কাছে লেখা অভিষেকের চিঠিতে ৮০ বিধায়কের মধ্যে ৭০ জনের স্বাক্ষরসহ আবেদন করা হয় স্পিকারের কাছে। তবে বিদ্রোহী শিবির থেকে বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভার বিরোধী নেতা হিসেবে প্রস্তাব করা হয়। একই সঙ্গে ৭০ জনের স্বাক্ষরসহ স্পিকারের কাছে অভিষেকের করা আবেদনে অনেকের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

  • বৃটেন ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করছে ।

    বৃটেন ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করছে ।

    ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। সোমবার (১৫ জুন) এক ঘোষণায় তিনি শিশুদের জন্য অনলাইন কার্যকলাপ সীমিত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। স্টারমার বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়া শিশুদের অসুখী বানাচ্ছে। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, সোশ্যাল মিডিয়ার পাশাপাশি গেমিং এবং লাইভ-স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা একটি ‘বিশ্ব-নেতৃত্বস্থানীয় পদক্ষেপ’ হবে। এর ফলে অপরিচিত ব্যক্তিরা শিশুদের সাথে।

    দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুদের জন্য দেশটিতে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের সমর্থন ব্যাপকভাবে পেয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতি দেশটির ১০ জন অভিভাবকের মধ্যে নয়জনই সমর্থন জানিয়েছেন। কিয়ার স্টারমার বলেন, দুইজন সন্তানের বাবা হিসেবে আমি ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধকে সঠিক সিদ্ধান্ত হিসেবে মনে করি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের স্প্রিংয়ে বৃটেন কর্তৃপক্ষ দেশটিতে শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করবে।

    যেসব যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে, স্নাপচ্যাট, টিকটক, ইউটিউব, ইন্সটাগ্রাম, ফেসবুক এবং এক্স। তবে এই তালিকায় নেই হোয়াটসঅ্যাপ, সিগন্যাল। এ ছাড়া দেশটিতে এআই চ্যাটবট এবং গেমিং পরিষেবাগুলো সরাসরি নিষিদ্ধ না হলেও, নির্দিষ্ট বয়সীদের জন্য সেগুলোর কার্যকারিতায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে। পাশাপাশি দেশটির সরকার অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য রাতের বেলা ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ ও অবিরাম স্ক্রলিংয়ের অভ্যাস নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলোও বিবেচনা করছে।

    এক বিবৃতিতে স্টারমার বলেন, ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করে এবং শিশুদের তাদের শৈশব ফিরিয়ে দিতে আরও ব্যাপক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে আমরা বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছি। গত বছরের শেষদিকে অস্ট্রেলিয়ায় পাস হওয়া ঐতিহাসিক এক আইনকে মডেল হিসেবে ধরে বৃটেন এ পরিকল্পনা করছে।

  • যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি আয়োজন করবে পাকিস্তান

    যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি আয়োজন করবে পাকিস্তান

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতাকে ‘শান্তির পথে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন। ১৯ জুন জেনেভায় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে। এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে পাকিস্তান।

    পাকিস্তানি আইন প্রণেতাদের তিনি বলেন, ‘শান্তির পথে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ দেখল বিশ্ব। যুদ্ধের অন্ধকারের পর শান্তির সূর্য উঠেছে।’

    শেহবাজ শরিফ আরো বলেন, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বহু প্রতীক্ষিত ইরান-মার্কিন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে পাকিস্তান।

    জাতি ও বিশ্ব সম্প্রদায়কে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি জাতীয় পরিষদকে বলেন, ‘এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠান ১৯ জুন শুক্রবার, এক পবিত্র দিনে জেনেভায় অনুষ্ঠিত হবে এবং পাকিস্তান এর আয়োজক হবে।’

    তিনি আরো বলেন, তেহরান, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে শত্রুতা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে ওয়াশিংটন।

  • হরমুজ প্রণালি খোলাসহ যা থাকছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে

    হরমুজ প্রণালি খোলাসহ যা থাকছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে

    শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই চুক্তিতে যেসব বিষয় থাকছে, তার বিস্তারিত প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। তবে বিষয়গুলো সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আজ সোমবার ভোরে দুই দেশের চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দেন। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা জানান।

    এরপর ইরানের আধা সরকারি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ সমঝোতা স্মারকে থাকা যেসব বিষয় প্রকাশ করে সেগুলো হলো— লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি। ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি। ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার। ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী প্রত্যাহার। ইরানের ব্যবস্থাপনায় ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের পুনর্গঠন পরিকল্পনা দেবে, যাতে ব্যয় হবে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলার। ইরানের তেল ও জ্বালানি পণ্যের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞার অবসান। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বলে ইরানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত। ওই অঞ্চলে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি না করা এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্রের।

    বার্তা সংস্থা মেহরের খবরে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় জব্দ করা ইরানের তহবিলের অর্ধেক না ছাড়া, ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সমঝোতার আলোচনা শুরু হবে না।

    এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত যে চুক্তি হবে, সেটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে অনুমোদিত হবে।

    ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমি হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণভাবে টোলমুক্তভাবে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার অনুমতি দিচ্ছি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর আরোপিত অবরোধও অবিলম্বে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছি।’

    বিশ্বের জাহাজগুলোকে ইঞ্জিন চালু করার আহ্বান জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, তেল পরিবহণ চলবে। পরে আরেকটি পোস্টে তিনি বিষয়টি কিছুটা স্পষ্ট করেছেন। ট্রাম্প লিখেছেন, অন্যরা যেখানে ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে তিনি সফল হয়েছেন।

    ‘এই মহান চুক্তি ওই পুরো অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আসবে,’ ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন ট্রাম্প। তিনি লিখেছেন, ‘অনেক প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন এবং আমার আগে সবাই ব্যর্থ হয়েছেন। ওই অঞ্চলের নেতারা এই প্রথম একজন প্রেসিডেন্ট পেয়েছেন, যিনি প্রকৃত শান্তি অর্জনে তাদের সহায়তা করতে পারেন।’

    এতে বলা হয়, এসব সংবাদমাধ্যম ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অনুগত হিসেবে পরিচিত। হঠাৎ মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমগুলোর এ অবস্থান বেশ অস্বাভাবিক একটি ঘটনা। অল্প কিছুদিন আগেও জনমত জরিপে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বেশি দেখা গেছে।

    বিষয়টিই ইসরাইলের কট্টরপন্থিদের ক্ষোভের মূল কারণ দাঁড়িয়েছে। তারা একে ইসরায়েলের জন্য একটি রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে দেখছেন। তারা বুঝতে পারছেন, এই চুক্তিকে তেহরানে বিজয় হিসেবে দেখা হবে। আর ইরানের সেই বিজয় আসলে ইসরাইলের জন্য একটি ‘কৌশলগত পরাজয়’ হিসেবেই গণ্য হবে।

  • ইথিওপিয়ায় বাস খাদে পড়ে ২৮ জনের মৃত্যু

    ইথিওপিয়ায় বাস খাদে পড়ে ২৮ জনের মৃত্যু

    ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলে সোমবার একটি যাত্রীবাহী বাস গভীর খাদে পড়ে অন্তত ২৮ জন প্রাণ হারিয়েছে। বিপুল সংখ্যক মানুষ এই দুর্ঘটনায় আহত হন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়।

    আফ্রিকার দ্বিতীয় সর্বাধিক জনবহুল দেশটিতে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। দেশটির অনেক সড়কের অবস্থা নাজুক। আদ্দিস আবাবা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। খবর এএফপির।

    স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ফেসবুকে জানায়, আমহারা অঞ্চলের ডেসি শহর থেকে রাজধানী আদ্দিস আবাবাগামী বাসটি প্রায় ১০০ মিটার গভীর একটি খাদে পড়ে যায়।

    কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনায় ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আরও অনেক যাত্রী গুরুতর ও সামান্য আহত হয়েছেন। বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত চলছে।

    এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইথিওপিয়ার দক্ষিণে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যাওয়া যাত্রীবাহী একটি যানবাহন নদীতে পড়ে গেলে ওই দুর্ঘটনা ৭০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারান।

  • প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দিল্লিতে প্রবেশে বাধা, ভারতের হাইকমিশনারকে তলব

    প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দিল্লিতে প্রবেশে বাধা, ভারতের হাইকমিশনারকে তলব

    প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের দিল্লিতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনা‌য় ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান বঢ়েকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    দিল্লিতে সোমবার শুরু হওয়া ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনের বৈঠকে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান রোববার সন্ধ্যায় ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। ওই বৈঠকে তার বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল।

    কূটনৈতিক চিঠি দিয়ে আগে জানানোর পরও রোববার সন্ধ্যায় ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে দিল্লিতে ঢুকতে বাধা দিয়েছে।

    পরে উচ্চ মহলের নির্দেশে অনুমতি দেওয়া হলেও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা দিল্লিতে না গিয়ে কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। পরে তিনি সোমবার দুপু‌রে ঢাকায় ফি‌রে‌ আসেন।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ওই বৈঠকে উপদেষ্টার অংশ নেওয়ার বিষয়টি গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিল।

  • ট্রাম্পের সম্ভাব্য চুক্তি আত্মসমর্পণ দলিল-ডেমোক্র্যাট

    ট্রাম্পের সম্ভাব্য চুক্তি আত্মসমর্পণ দলিল-ডেমোক্র্যাট

    ইরানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পিত সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে তীব্র সংশয় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির শীর্ষ আইনপ্রণেতারা। এই চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় পরাজয় হিসেবে উল্লেখ করে একে কার্যত একটি ‘আত্মসমর্পণ দলিল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তারা।

    ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর অ্যাডাম শিফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ট্রাম্পের এই উদ্যোগের সমালোচনা করে লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট বলছেন যুদ্ধ শেষ। তিনি আশা করেন যে ট্রাম্পের কথাই যেন সত্যি হয়। তবে এর আগেও এমন বহু কথা শোনা গেছে এবং এর সঙ্গে অসংখ্য ভাঙা প্রতিশ্রুতির রেকর্ডও রয়েছে। শিফ আরও অভিযোগ করেন, ট্রাম্প নতুন যুদ্ধ শুরু করলেও তার খরচ কমাতে পারেননি, যা যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

    অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য সেথ মল্টন এই সম্ভাব্য চুক্তিকে মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম একটি বাজে চুক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন। সংবাদমাধ্যম ‘এমএস নাও’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত ভয়াবহ একটি চুক্তি। এটি মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছে জমা দেওয়া একটি আত্মসমর্পণ দলিল ছাড়া আর কিছুই নয়।

    মল্টন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের ১০০ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে এবং ১৪ জন মার্কিন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। অথচ বিনিময়ে এমন একটি চুক্তি করা হচ্ছে যা কেবল একটি সমুদ্র প্রণালিকে পুনরায় উন্মুক্ত করবে, যা কিনা ট্রাম্প এই ‘বোকামি’র যুদ্ধ শুরু করার আগেই উন্মুক্ত ছিল। এত ক্ষয়ক্ষতি ও অর্থ ব্যয়ের পর একে কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের জয় হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না বলে তিনি দাবি করেন।

  • ভারতের আপত্তিতে আটকে গেল নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি

    ভারতের আপত্তিতে আটকে গেল নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি

    নেপাল থেকে বাংলাদেশে আরও ২০ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা আপাতত আটকে গেছে। সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতার ঘাটতির অজুহাত দেখিয়ে ভারত এই অনুমোদনের প্রক্রিয়াটি স্থগিত করেছে। ফলে পূর্বনির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী আগামী ১৫ জুন থেকে বাংলাদেশ কেবল ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাবে।

    রোববার (১৪ জুন) নেপালের জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (সিইএ) সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে এই অনুমোদন আটকে দিয়েছে।

    তারা আরও জানান, এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ আমদানির জন্য নতুন করে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সংশোধন বা স্বাক্ষর করতে হবে। একই সঙ্গে নেপাল-ভারত জ্বালানি সচিব পর্যায়ের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হবে।

    সাধারণত বর্ষা মৌসুমে নেপাল তাদের উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ভারত ও বাংলাদেশে রপ্তানি করে থাকে। তবে শীতকালে তারা নিজেরাই ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে

    ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক জেএসসি বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের পাশাপাশি আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ওই বৈঠকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছিল।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (এনইএ) ভারতের এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেডকে (এনভিভিএন) অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানায়। কিন্তু এনভিভিএন পরে জানায় যে, ভারত-বাংলাদেশ ১,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সঞ্চালন লাইনটিতে এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পরিবহনের আর কোনো সুযোগ বা সক্ষমতা নেই।

    এনইএর বিদ্যুৎ বাণিজ্য বিভাগের পরিচালক তর্ক বাহাদুর থাপা বলেন, এবার বাংলাদেশে কেবল ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎই রপ্তানি করা হবে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াটের জন্য ত্রিপক্ষীয় চুক্তি চূড়ান্ত না হলেও, আগের নিয়মে আমরা ভারতের সিইএ-র কাছে এনভিভিএনের মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম। কিন্তু তারা জানিয়েছে যে সঞ্চালন লাইনে নতুন করে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নেওয়ার ক্ষমতা নেই।

    ত্রিপক্ষীয় চুক্তির জটিলতা

    খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই জটিলতা কাটাতে নেপাল ও ভারতের আসন্ন জেএসসি এবং যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) বৈঠকে নতুন সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হবে। তবে এই বৈঠকগুলোর সময়সূচি এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।

    এর আগে ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি জেএসসি বৈঠকে নেপাল ভারতের সঞ্চালন ব্যবস্থা ব্যবহার করে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির নীতিগত অনুমোদন পায়। পরে ওই বছরের ৩ অক্টোবর এনইএ, এনভিভিএন এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়।

    নেপাল থেকে প্রথম দফায় ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর মাত্র ১২ ঘণ্টার জন্য বাংলাদেশে বিদ্যুৎ এসেছিল। এই বিদ্যুৎ নেপালের ঢালকেবার-মুজাফফরপুর ৪০০ কেভি লাইন দিয়ে ভারতে এবং সেখান থেকে বহরমপুর-ভেড়ামারা ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছায়। বর্তমানে নেপালের ত্রিশূলী ও চিলিম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

    বিদ্যুৎ বাণিজ্য ও আর্থিক হিসাব

    নেপাল প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বাংলাদেশের কাছে ৬ দশমিক ৪০ মার্কিন সেন্টে বিক্রি করছে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াটের দামও একই রাখার কথা ছিল। ভারতের সঙ্গে নেপালের বিদ্যুৎ বাণিজ্য ভারতীয় রুপিতে হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে লেনদেন হচ্ছে মার্কিন ডলারে।

    চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে নেপাল ভারত ও বাংলাদেশে মোট ২০ হাজার ৯৯৫ কোটি রুপির বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৩ হাজার ১০৩ কোটি রুপি। নেপাল এ পর্যন্ত দুই দেশে মোট ১,১৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন পেয়েছে।

  • বাংলাদেশ সীমান্তে এলাকার জনমিতিক পরিবর্তন খতিয়ে দেখবে ভারত

    বাংলাদেশ সীমান্তে এলাকার জনমিতিক পরিবর্তন খতিয়ে দেখবে ভারত

    বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন জেলাসহ ভারতের বিভিন্ন কৌশলগত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে সৃষ্ট জনমিতিক (ডেমোগ্রাফিক) পরিবর্তন খতিয়ে দেখতে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটিকে সব ধরনের প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

    শনিবার (১৩ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন। ভারতের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য মূলত বাংলাদেশ থেকে হওয়া কথিত অবৈধ অভিবাসন ও অনুপ্রবেশের বিষয়টি খতিয়ে দেখা।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘোষণার প্রায় এক বছর পর, গত ২৬ মে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশেষ উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয় এবং গত ২ জুন কমিটি তাদের প্রথম বৈঠক সম্পন্ন করে। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকারের নেতৃত্বে এই প্যানেলটি মূলত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলা, বিভিন্ন মহানগর ও শিল্পাঞ্চল পরিদর্শন করবে। ভারতের সীমান্ত এলাকায় জনসংখ্যার ভারসাম্যে কী ধরনের পরিবর্তন আসছে এবং এর পেছনে অবৈধ অনুপ্রবেশের ভূমিকা কতটুকু, তা সরজমিনে খতিয়ে দেখাই এই প্যানেলের মূল কাজ।

    শনিবারের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (আইবি) প্রধান তপন কুমার ডেকা এবং ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও সেন্সাস কমিশনার মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়ণসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কমিটির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং এর কর্মপরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    এর আগে গত ২ জুন অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে ভারতের ১৩টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিচালিত বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রমের পর ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার বিষয়টিও তারা খতিয়ে দেখবেন। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং নাগরিকত্ব ইস্যু নিয়ে যে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে, কমিটির এই পদক্ষেপের সাথে তার সরাসরি সংযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে এই প্যানেল সরকারের বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র তলব করেছে।

  • পাকিস্তানে ভারতীয় মদদপুষ্ট ২১ জঙ্গি নিহত

    পাকিস্তানে ভারতীয় মদদপুষ্ট ২১ জঙ্গি নিহত

    খাইবার পাখতুনখাওয়ার (কে-পি) উত্তর ওয়াজিরিস্তান জেলার মিরান শাহ এবং এর আশেপাশের এলাকায় এক ধারাবাহিক গোয়েন্দা অভিযানে (আইবিও) আরও ২১ সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) শনিবার (১৩ জুন) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    আইএসপিআর জানিয়েছে, গত ৭২ ঘণ্টায় ওই এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের তীব্র বন্দুকযুদ্ধ হয়। নিহত ২১ সন্ত্রাসীই ভারত-পৃষ্ঠপোষিত ‘ফিতনা-আল-খাওয়ারেজ’ (যা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি নামে পরিচিত) গোষ্ঠীর সদস্য।

    নিহতদের মধ্যে খালিদ রেজা ওরফে সালার, মুফতুন, মুসা এবং ইমরান ওরফে আয়ান নামে চার শীর্ষ সন্ত্রাসী কমান্ডারও রয়েছে। এই চারজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও নিরীহ বেসামরিক নাগরিক হত্যার পাশাপাশি অসংখ্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ছিল। এই সফল অভিযানের ফলে ওই অঞ্চলে সক্রিয় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কটি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অত্যন্ত নিখুঁত ও সুপরিকল্পিত এই অভিযানে এখন পর্যন্ত মোট ৪৮ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। নিহতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনার কেন্দ্রীয় অ্যাপেক্স কমিটির অনুমোদিত ‘আজম-ই-ইস্তেকাম’ ভিশনের আওতায় এই কাউন্টার-টেররিজম অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এলাকা থেকে বাকি সন্ত্রাসীদের সম্পূর্ণরূপে নির্মূল না করা পর্যন্ত এই চিরুনি অভিযান এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টা পুরোদমে অব্যাহত থাকবে।

    এদিকে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এই বড় সাফল্যের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও প্রশংসা জানিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি।

  • ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলেন জামায়াত আমির

    ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলেন জামায়াত আমির

    বাংলাদেশে নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার দুপুর ১২টা ৬ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ ব্যাখ্যা চান।

    ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী শুক্রবার সকালে পেট্রাপোল-বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে সড়কপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়ে জামায়াত আমীর বলেন, “গতকাল বাংলাদেশে নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী পৌঁছানোর পর তার একটি বক্তব্য আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তিনি ‘ভারত-বাংলাদেশের এক হয়ে যাওয়া’ বলতে কী বুঝিয়েছেন, আমাদের সরকারের উচিত হবে তার কাছ থেকে তা জেনে নেয়া। ভারত যেমন একটি স্বাধীন দেশ, বাংলাদেশও তেমনি একটি স্বাধীন দেশ। তার এ বক্তব্য স্পষ্ট না হলে জনমনে অবশ্যই বিভ্রান্তি তৈরি হবে।”তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের সরকারের কাছে এ বিষয়টির সুরাহা চাই। যদি তিনি আক্ষরিক অর্থে এ ধরনের কিছু বুঝিয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই তা নিন্দনীয়। বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া দরকার।”

  • মধ্যপ্রাচ্যে ধূলিসাৎ আমেরিকার ‘পরাশক্তি’ তকমা

    মধ্যপ্রাচ্যে ধূলিসাৎ আমেরিকার ‘পরাশক্তি’ তকমা

    কয়েক দিন আগেই হরমুজ প্রণালির কাছে আমেরিকার একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করে ইরান। এর জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে বিবৃতি দিয়েছেন, তাতে আগের মতো দম্ভ বা আধিপত্যের চেয়ে বরং চরম সতর্কতা ও দুর্বলতাই বেশি প্রকাশ পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বৈরুতে বোমাবর্ষণ অব্যাহত

    এর জবাবে ইরানও মার্কিন হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে ইসরাইলের পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। হোয়াইট হাউসের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যেভাবে ট্রাম্পকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছেন, তাতে মার্কিন ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এখন বিশ্বমঞ্চে স্পষ্ট। আমেরিকার ইতিহাসে ট্রাম্পই প্রথম প্রেসিডেন্ট যিনি ইসরাইলের হয়ে সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ান। অথচ এই যুদ্ধের কারণে দেশের ভেতরে ট্রাম্প তীব্র জনরোষের মুখে পড়েছেন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ অনুযায়ী, ৬০ ভাগ আমেরিকান নাগরিক এখন ইসরাইলের ওপর অসন্তুষ্ট। ফলে ট্রাম্প যুদ্ধটি দ্রুত শেষ করতে মরিয়া। কিন্তু নেতানিয়াহু তার কথা শুনছেন না। কেননা নেতানিয়াহু ভয় পাচ্ছেন যে, ট্রাম্প তেহরানকে অনেক বেশি ছাড় দিয়ে দিচ্ছেন। লেবাননে যুদ্ধবিরতি চলার কথা থাকলেও

    গত মার্চে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি বাহিনী ৩,৬০০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছে, যার বেশিরভাগই শিয়া মুসলমান। একই সঙ্গে লেবাননের এক-পঞ্চমাংশ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করে দেশের বিশাল এলাকা দখল করে নিয়েছে তারা। ইসরাইলের এই কর্মকাণ্ড মূলত আমেরিকার সঙ্গে ইরানের চুক্তিকে নসাৎ করার একটি সুনির্দিষ্ট চক্রান্ত। কিন্তু আমেরিকার রাজনীতিতে ইহুদি লবি বা ‘আইপ্যাক’-এর বিপুল অর্থায়ন এবং প্রভাবের কারণে ট্রাম্প চাইলেও নেতানিয়াহুকে দমাতে পারছেন না। ইসরাইলকে দেয়া প্রতি বছরের ৩৮০ কোটি ডলারের নিয়মিত সহায়তা ছাড়াও ট্রাম্প সম্প্রতি অতিরিক্ত ৮০০ কোটি এবং ৬৫০ কোটি ডলারের সমরাস্ত্র সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। মার্কিন এই বিপুল অস্ত্র ও অর্থ ছাড়া ইসরাইলের পক্ষে যুদ্ধ চালানো অসম্ভব হলেও, ট্রাম্প চাপ প্রয়োগের এই অস্ত্রটি ব্যবহার করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।

    ইরানের সাবেক শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির ‘কৌশলগত ধৈর্য’ নীতির দিন শেষ হয়েছে। তার মৃত্যুর পর নতুন নেতা মোজতবা খামেনির অধীনে ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এখন চরম আক্রমণাত্মক। অন্যদিকে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুসালেমে স্থানান্তর করা, খামেনিকে হত্যার নির্দেশ দেয়া এবং ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা আগেই হারিয়েছিলেন। গাজা যুদ্ধে ৭২ হাজার মানুষের মৃত্যুর পর বিশ্ব আদালত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেও ট্রাম্প তাকে সমর্থন দিয়ে গেছেন।

    কাতার চুক্তির মাধ্যমে গাজা যুদ্ধ থামানোর নাটক করা হলেও এরপরও সেখানে প্রায় ৯০০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে, যা আমেরিকার দ্বিচারিতাকেই সামনে আনে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার মাদুরো সরকারের অপসারণের মাধ্যমে আমেরিকা যে আধিপত্য দেখিয়েছিল, ইরান যুদ্ধের কারণে তা এখন পুরোপুরি ম্লান হয়ে গিয়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্যের এক জরিপে দেখা গেছে, আরবের সাধারণ মানুষ এখন মার্কিন নেতৃত্বের চেয়ে চীন, রাশিয়া ও ইরানকে বেশি ইতিবাচকভাবে দেখছে। এই যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় রাশিয়ার অর্থনীতি শক্তিশালী হয়েছে, যা তারা ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে আমেরিকা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেয়ায় সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছে চীন। উপসাগরীয় দেশগুলো আমেরিকার ওপর আস্থা হারিয়ে এখন চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা চুক্তি বাড়াতে আগ্রহী। ট্রাম্প এক সময় ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (মাগা) স্লোগান দিলেও, মধ্যপ্রাচ্যে তার সব ভুল সিদ্ধান্তের কারণে তিনি মূলত আমেরিকাকে আরও দুর্বল ও হেয় প্রতিপন্ন করে তুলেছেন।

  • দপ্তরে পাওয়া গেল ১২ লাখ ইউরোর অলংকার, আবার তদন্তের মুখে স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

    দপ্তরে পাওয়া গেল ১২ লাখ ইউরোর অলংকার, আবার তদন্তের মুখে স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

    সিন্দুকে বিলাসবহুল ঘড়ি ও অলংকার পাওয়া যাওয়ার পর নতুন করে তদন্তের মুখে পড়তে চলেছেন স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হোসে লুই রদ্রিগেজ জাপাতেরো। দুর্নীতি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আগে থেকেই তদন্ত চলছিল।

    জাপাতেরো একজন সমাজতন্ত্রী নেতা, ২০০৪ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি স্পেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশটিতে এখনো তাঁর দল সোশ্যালিস্ট ওয়ার্কার্স পার্টি ক্ষমতায় এবং দলের ভেতর তিনি এখনো প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হন।

    ২০২১ সালে স্প্যানিশ বিমান সংস্থা প্লাস আলট্রাকে সরকারি আর্থিক সহায়তা (বেইল আউট) দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি প্লাস আলট্রাকে আর্থিক সহায়তা পাইয়ে দিতে প্রভাব খাটিয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে।

    এই তদন্তের অংশ হিসেবে গত মাসে কর্তৃপক্ষ তাঁর দপ্তরে অভিযান চালায়। স্প্যানিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখান থেকে কর্তৃপক্ষ প্রায় ১২ লাখ ইউরো মূল্যের নেকলেস, ব্রেসলেট, আংটি ও কানের দুল উদ্ধার করেছে।

    জাপাতেরোর মুখপাত্র লুই আরোয়ো বলেছেন, অলংকারগুলোর বিষয়ে তিনি (জাপাতেরো) বিচারকের সামনে ব্যাখ্যা দেবেন।

    স্প্যানিশ গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, উদ্ধার অলংকারগুলো সোনা, নীলকান্তমণি ও পান্না দিয়ে তৈরি, যেগুলোর উৎস জাম্বিয়া বা থাইল্যান্ড।

    তদন্তকারীরা বলছেন, জাপাতেরো সেখানে পাওয়া অলংকারগুলোর ওপর শুল্ক পরিশোধের প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। এখন তাঁর বিরুদ্ধে কর ফাঁকি এবং চোরাচালানের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে।

    এএফপির খবরে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সহযোগীরা সে সময় মূল্যবান ওই সব সামগ্রীকে পারিবারিক উত্তরাধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানিয়েছিলেন।

    এ বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে চলতি মাসের শেষের দিকে জাপাতেরোকে আদালতে তলব করা হয়েছে। অতীতে স্পেনের আরও কয়েকজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দুর্নীতির মামলায় সাক্ষ্য দিতে আদালতে তলব করা হয়েছিল, তবে দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক তদন্তের আওতায় আনা হলো।

    প্লাস আলট্রা মামলায় জাপাতেরোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২০২১ সালে বিমান সংস্থাটির জন্য ৫ কোটি ৩০ লাখ ইউরোর সরকারি বেইল আউট নিশ্চিত করতে নিজের প্রভাব খাটিয়েছিলেন এবং এর বিনিময়ে কমিশন গ্রহণ করেছিলেন।

    জাপাতেরো সব সময়ই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, প্লাস আলট্রা থেকে তিনি কখনো কোনো অর্থ গ্রহণ করেননি।

    কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৌশলগত কোম্পানিগুলোকে সহায়তা করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি সরকারি তহবিলের আওতায় এই বেইল আউট অনুমোদন করা হয়েছিল। দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে গত মাসে পুলিশ মাদ্রিদে সোশ্যালিস্ট ওয়ার্কার্স পার্টির সদর দপ্তরে অভিযান চালায় এবং বেশ কয়েকটি নথি জব্দ করে।

    দলের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতার বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে। পাশাপাশি একজন শীর্ষ ব্যবসায়ীর বাড়িতেও অভিযান পরিচালিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের স্ত্রী, ভাইসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁরা সবাই কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

  • আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা ও দাফনের অনুষ্ঠান সূচি জানাল ইরান

    আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা ও দাফনের অনুষ্ঠান সূচি জানাল ইরান

    ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্য ও দাফন প্রক্রিয়া আগামী জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এক যৌথ বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সী এই শীর্ষ নেতা নিহত হন। যুদ্ধের কারণে তখন তার শেষকৃত্য স্থগিত করা হলেও, আগামী জুলাই মাসে ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেষকৃত্য ও দাফন অনুষ্ঠানের সূচি:

    ৪ ও ৫ জুলাই: রাজধানী তেহরানে একটি বিদায়ী (বিদায় সম্ভাষণ) অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

    ৬ জুলাই: তেহরানে মূল জানাজা ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে।

    ৭ জুলাই: পবিত্র শহর কোমে আরেকটি জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

    ৯ জুলাই: উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পবিত্র নগরী মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে আরেকটি জানাজা শেষে তাকে সমাহিত বা দাফন করা হবে।

    প্রয়াত এই নেতার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে দাফন করা হচ্ছে। তেহরানের উপ-মেয়র মোহাম্মদ আমিন তাভাকোলি-জাদেহ জানিয়েছেন, রাজধানী তেহরানের এই শেষকৃত্য অনুষ্ঠানটি অন্তত ২৪ ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে এবং এতে ১৫ থেকে ২০ মিলিয়ন (দেড় থেকে দুই কোটি) মানুষ অংশ নিতে পারেন বলে কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে।

    আলী খামেনির মৃত্যুর পর মার্চ মাসের শুরুতে তার ছেলে মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

  • বিশ্বের ৫৬% বেসামরিক মানুষ মৃত্যুর জন্য দায়ী ইসরায়েল

    বিশ্বের ৫৬% বেসামরিক মানুষ মৃত্যুর জন্য দায়ী ইসরায়েল

    ২০২৫ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বেসামরিক মৃত্যুর একটি বড় অংশ ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে ঘটেছে। ‘এক্সপ্লোসিভ উইপনস মনিটর’ নামের সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ওই বছরে ৬৫টি দেশে মোট ২২ হাজার ৬০০ বেসামরিক মানুষ নিহত হন। এর মধ্যে ৫৬ শতাংশ মৃত্যুর জন্য ইসরায়েলি অভিযানকে দায়ী করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের তুলনায় বেসামরিক মৃত্যুর সংখ্যা ২১ শতাংশ কমেছে। কিছু এলাকায় যুদ্ধবিরতি থাকায় এই কমতি দেখা গেছে। তবে সংস্থাটি বলছে, মোট সংখ্যা এখনো খুবই বেশি এবং উদ্বেগজনক।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিমান থেকে নিক্ষেপ করা অস্ত্র সবচেয়ে বেশি ক্ষতির কারণ হয়েছে। এসব হামলায় বেসামরিক মানুষ ও সাধারণ অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে কঙ্গো, ইথিওপিয়া, ইরান, ইরাক, লেবানন, মিয়ানমার, ফিলিস্তিন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, ইউক্রেন ও ইয়েমেন।

    এ ছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ হামলা করেছে বিভিন্ন দেশের সরকারি সেনাবাহিনী। পাশাপাশি কিছু হামলা করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী। স্কুল, হাসপাতাল এবং মানবিক সহায়তা কেন্দ্রেও বহু হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও ঝুঁকিতে ফেলেছে।

  • বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক কীভাবে এত সম্পদের মালিক হলেন ?

    বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক কীভাবে এত সম্পদের মালিক হলেন ?

    বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার (এক ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক) হলেন ইলন মাস্ক। স্পেসএক্সের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির (আইপিও) পর তিনি কাগজে-কলমে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হন।

    স্পেসএক্স তাদের আইপিওতে প্রতি শেয়ারের মূল্য ১৩৫ ডলার নির্ধারণ করেছে। এর মাধ্যমে ৫৫ কোটি ৫৬ লাখ ক্লাস-এ শেয়ার বিক্রি করে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে, যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    এই মূল্যায়নে স্পেসএক্সের মোট বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার। নাসডাকে ‘SPCX’ টিকার নামে লেনদেন শুরু হলে এটি বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে পরিণত হবে।

    ট্রিলিয়ন ডলার মানে হলো এক হাজার বিলিয়ন ডলার। ১ সংখ্যার পর ১২টি শূন্য বসালে হয় এক ট্রিলিয়ন। যাকে বাংলায় বলা যেতে পারে এক লাখ কোটি।

    বেশ কিছু সময় ধরে মাস্ক বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ছিলেন, অথবা অন্তত সেই অবস্থানের কাছাকাছি ছিলেন। ফোর্বস-এর মতে, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে তিনি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে অর্ধ-ট্রিলিয়ন ডলার (৫০০ বিলিয়ন) নিট সম্পদ অর্জন করেন।

    এক মাস পরে, টেসলার শেয়ারহোল্ডাররা তার জন্য একটি রেকর্ড গড়া পারিশ্রমিক প্যাকেজ অনুমোদন করেন, যার সম্ভাব্য মূল্য এক ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে জানানো হয়েছিল।

    কিন্তু ২০২৬ সালের জুনে, তার রকেট নির্মাতা ও স্যাটেলাইট অপারেটর কোম্পানি স্পেসএক্স- যেটির মালিকানায় এক্স, গ্রক এবং স্টারলিংকও রয়েছে, সেটি পাবলিক হওয়ার পর মাস্কের নিট সম্পদ বিলিয়ন থেকে ট্রিলিয়ন পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

    তবে তিনি শুধু বিপুল সম্পদের জন্যই পরিচিত নন। স্পেসএক্স-এর প্রধান হিসেবে তিনি তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সমসাময়িক নানা বিষয় থেকে মানবজাতির ভবিষ্যৎ পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে মতামত প্রকাশ করেছেন।

    সাম্প্রতিক বছরগুলোয় রাজনীতিতে তার সম্পৃক্ততা বেড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জয়ী হতে সহায়তা করা, যা কিছু বিনিয়োগকারীর অসন্তোষের কারণও হয়েছে।

    তার মতামত এবং এক্স কীভাবে জনমত ও আলোচনাকে প্রভাবিত করছে, তা নিয়ে সরকারপ্রধান ও রাজনীতিবিদদের সমালোচনার মুখেও পড়েন।

    ইলন মাস্কের জন্ম কোথায়?

    দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় জন্ম নেওয়া মাস্ক ছোটবেলা থেকেই ব্যবসায়িক দক্ষতার পরিচয় দেন। তিনি ভাইয়ের সঙ্গে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঘরে তৈরি চকলেট ইস্টার ডিম বিক্রি করতেন এবং ১২ বছর বয়সে নিজের প্রথম কম্পিউটার গেম তৈরি করেন।

    তিনি তার শৈশবকে কঠিন বলে উল্লেখ করেছেন, যা বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ, স্কুলে বুলিং বা হয়রানি এবং অ্যাসপারগার সিনড্রোম-এর কারণে সামাজিক সংকেত বোঝার অসুবিধার কারণে প্রভাবিত ছিল।

    সুযোগ পাওয়ামাত্র তিনি পড়াশোনার জন্য বাড়ি ছাড়েন। প্রথমে কানাডা, তারপর যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান, যেখানে তিনি পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি ও পদার্থবিদ্যায় পড়েন।

    ২০১০ সালে ম্যারি ক্লেয়ার ম্যাগাজিনে লেখা একটি প্রবন্ধে, তার প্রথম স্ত্রী জাস্টিন মাস্ক, যার সঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচিত হন এবং ২০০০ সালে বিয়ে করেন, লিখেছিলেন, বিপুল অর্থ উপার্জনের আগেই মাস্ক ছিলেন ‘না-কে কখনও মেনে না নেওয়া একজন মানুষ’।

    প্রতিযোগিতা এবং আধিপত্য বিস্তারের ইচ্ছা, যা তাকে ব্যবসায় সফল করেছে, ঘরে ফেরার পরও তা থেমে যেত না, বলেছিলেন জাস্টিন। তিনি জানান, বিয়ের নাচের সময় মাস্ক তাকে বলেছিলেন, ‘এই সম্পর্কে আমিই আলফা’, অর্থাৎ ইলন মাস্ক নিজেকেই প্রধান বা প্রভাবশালী মনে করেছেন।

    সম্পদ তৈরি করলেন কীভাবে?

    স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যার স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার পর মাস্ক দ্রুতই তা ছেড়ে দেন এবং ১৯৯০-এর দশকে দুটি প্রযুক্তি স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠা করেন।

    এর মধ্যে ছিল একটি ওয়েব সফটওয়্যার কোম্পানি এবং একটি অনলাইন ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান, যা পরে পেপ্যালে পরিণত হয় এবং ২০০২ সালে ই-বে’র এর কাছে ১.৫ বিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়।

    তিনি সেই অর্থ বিনিয়োগ করেন স্পেসএক্সে যা নাসার তুলনায় কম খরচে বিকল্প তৈরির লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত। একইসঙ্গে তিনি অর্থ বিনিয়োগ করেন টেসলায়, যেখানে তিনি ২০০৮ সালে প্রধান নির্বাহী হন।

    এই দুই কোম্পানি তাদের নিজ নিজ শিল্পে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে, যদিও মাঝে মাঝে এগুলো আর্থিক সংকটের কাছাকাছিও পৌঁছেছিল।

    ইলন মাস্কের অন্যান্য ব্যবসায়িক উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে সামাজিক মাধ্যম টুইটার অধিগ্রহণ।

    তার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো এক্স-কে একটি ‘সবকিছুর অ্যাপ’ হিসেবে গড়ে তোলা যা বিভিন্ন ধরনের সেবা এক জায়গায় এনে দেবে। তবে বিভিন্ন অনুমান অনুযায়ী, মাস্ক যখন কিনছিলেন তখন কোম্পানিটির মূল্য ৪৪ বিলিয়ন ডলার ছিল যা এখন ৯.৪ বিলিয়নে নেমেছে।

    কিছু প্রতিষ্ঠান প্ল্যাটফর্মটি ছেড়ে যায়। বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, মাস্কের নেতৃত্বে এক্স-এ ঘৃণামূলক বক্তব্য বেড়েছে এবং কিছু প্রতিষ্ঠান এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে চায় না।

    তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতেও আগ্রহী। চ্যাটজিপিটি- এর মূল কোম্পানিতে প্রাথমিক বিনিয়োগকারী ছিলেন মাস্ক, তবে ২০১৮ সালে পৃথক হয়ে যান এবং ২০২৩ সালে এক্সএআই প্রতিষ্ঠা করেন, যার লক্ষ্য ‘মহাবিশ্বের প্রকৃত স্বরূপ বোঝা’।

    ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ওপেনএইআই এবং এর প্রধান স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেন, অভিযোগ করেন যে প্রতিষ্ঠানটি তার অলাভজনক ও ওপেন সোর্স ভিত্তি থেকে সরে গেছে। তবে ২০২৬ সালের মে মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার এক জুরি তার মামলা খারিজ করে দেয়।

    সাংবাদিক ক্রিস স্টকেল ওয়াকার বলেন, আমি কখনোই পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারি না যে তিনি আগামীকাল কী করতে চান তা জানেন। তিনি মূলত অন্তর্দৃষ্টির ওপর নির্ভর করে এগিয়ে যান।

    ২০১৫ সালের একটি জীবনীতে লেখক অ্যাশলি ভ্যান্স তাকে ‘বিতর্কপ্রবণ সবজান্তা’ এবং ‘প্রচুর অহংবোধসম্পন্ন’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাকে নাচের ক্ষেত্রে ‘অস্বস্তিকর’ এবং বক্তা হিসেবে ‘অনিশ্চিত’ও বলা হয়েছে।

    গণমাধ্যমে তাকে কখনও ‘উন্মাদ প্রতিভা’, কখনও ‘এক্স-এর বড় ট্রোল’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। তিনবার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে ইলন মস্কের। এর মধ্যে ব্রিটিশ অভিনেত্রী টালুলাহ রাইলির সঙ্গেই বিচ্ছেদ হয়েছে দু’বার। মাস্ক নিজের ত্রুটি সম্পর্কে অবশ্য বেশ খোলামেলা।

    ২০২২ সালে টেড-এ এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যদি আমার পাপগুলো তালিকাভুক্ত করেন, তাহলে আমি পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ মানুষ মনে হব। কিন্তু আমি যা ভালো কাজ করেছি সেগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে, এগুলোকে অনেক বেশি অর্থবহ মনে হয়।

    মাস্কের নিট সম্পদের পরিমাণ কত?

    ব্যক্তিগত নানা বৈপরীত্য ইলন মাস্কের বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে তিনি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে অর্ধ-ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি নিট সম্পদ অর্জন করেন বলে জানিয়েছিল ফোর্বস।

    তিনি সম্পদের দিক থেকে গুগল-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেইজ ও সের্গেই ব্রিন, ওরাকলের ল্যালি এলিসন, অ্যামাজনের জেফ বেজোস এবং ফেসবুকের মার্ক জাকারবার্গের মতো ধনকুবেরদের চেয়েও সামনে এগিয়ে রয়েছেন।

    স্পেসএক্স পাবলিক কোম্পানি হওয়ায় তার সম্পদ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলস্বরূপ, ব্লুমবার্গ এবং ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী মাস্কের নিট সম্পদ এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে।

    ব্লুমবার্গের হিসাবে বর্তমানে তার সম্পদের পরিমাণ এক দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন। তবে তার সম্পদের বড় অংশ স্পেসএক্সের শেয়ারের সঙ্গে যুক্ত, ফলে শেয়ারের দাম কমে গেলে তার ট্রিলিয়নেয়ার মর্যাদা পরিবর্তিত হতে পারে।

    টেসলা থেকেও তিনি বিপুল অর্থ পেতে পারেন, যদি নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করেন, যার মধ্যে রয়েছে কোম্পানির মূল্য আটগুণ বৃদ্ধি, ১০ লাখ এইআই রোবট বিক্রি এবং এক কোটি ২০ লাখ টেসলা গাড়ি বিক্রি।

    ২০২৪ সাল জুড়ে মাস্ক টেসলার কাছ থেকে ৫৬ বিলিয়ন ডলারের একটি পারিশ্রমিক প্যাকেজ নিয়ে আইনি লড়াইয়ে লিপ্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ডেলাওয়্যারের একজন বিচারক দ্বিতীয়বারের মতো তার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন, কিন্তু ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ডেলাওয়্যার সুপ্রিম কোর্ট প্যাকেজটি পুনর্বহাল করে।

    মাস্ক ডিজিটাল মুদ্রারও সমর্থক এবং টানেল নির্মাতা দ্য বোরিং কোম্পানিসহ আরও বেশ কয়েকটি ছোট কোম্পানিতে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।

    তিনি নিজেকে একজন ‘কাজপাগল’ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করেন, প্রায়শই বলেন যে তিনি শুধু অর্থ উপার্জনের জন্য ব্যবসা করেন না।

    তার বন্ধু এবং টেসলার বিনিয়োগকারী রস গার্বার বলেন, “ইলন কেবল তখনই কোনো বিষয়ে জড়িত হন, যখন তিনি মনে করেন যে সেটি কোনো কারণে… সমাজ বা মানবতার স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    মাস্কের রাজনৈতিক মতাদর্শ কী?

    ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া মাস্ক দীর্ঘদিন নিজেকে ‘অর্ধেক ডেমোক্র্যাট, অর্ধেক রিপাবলিকান’, ‘রাজনৈতিকভাবে মধ্যপন্থি’ এবং ‘স্বতন্ত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    তিনি বারাক ওবামা, হিলারি ক্লিনটন এবং অনিচ্ছাসত্ত্বেও জো বাইডেনকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন করেছেন এবং ২০২৪ সালে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দেন।

    তিনি ডেমোক্র্যাটদের বিভিন্ন নীতি, যেমন অর্থনীতি, অভিবাসন এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমালোচনা করেন।

    ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ‘ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট ইমার্জেন্সি’ পরিচালনার দায়িত্ব পান। এই উদ্যোগটি সরকারি ব্যয়ে ব্যাপক কাটছাঁট করে, যা নিয়ে বিতর্ক হয়। তবে পরে কর ও ব্যয় সংক্রান্ত বিরোধ থেকে ট্রাম্প ও মাস্কের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ সৃষ্টি হয়।

    ২০২৫ সালের ২৮ মে মাস্ক হোয়াইট হাউস ছাড়ার ঘোষণা দেন এবং কিছুদিন পর তাদের সম্পর্কের ইতি ঘটে। যদিও পরে কিছুটা সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। সাম্প্রতিক সময়ে মাস্ক যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতেও আগ্রহ দেখিয়েছেন।

    তিনি এক্স-কে ব্যবহার করে বিভিন্ন বিষয়ে স্যার কিয়ের স্টারমারের লেবার সরকারের সমালোচনা করেছেন। আবার ডানপন্থি কিছু নেতার সঙ্গেও নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন। তার নানা মন্তব্য বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যদের সমালোচনার মুখে পড়েছে।

    এদিকে, অতীতে মাস্ক তার ব্যবসাগুলোকে দাতব্য কাজের একটি রূপ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, কারণ এগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের মতো মানবিক সমস্যার সমাধানে কাজ করে। তবে পরে তিনি জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে তার অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করেন।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও তিনি সতর্কতা প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, এটি মানবজাতির ভবিষ্যতের জন্য হুমকি হতে পারে। তিনি বলেন, এআই-এর অগ্রগতি এবং জন্মহার হ্রাস একসঙ্গে ‘মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়ার’ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

    ইলন মাস্কের কতজন সন্তান?

    ইলন মাস্কের ১৪ সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম স্ত্রীর গর্ভে ছয় জন, কানাডিয় সংগীতশিল্পী ক্লেয়ার এলিস বুশে বা গ্রাইমসের সঙ্গে তিন সন্তান, নিউরোলিংক নির্বাহী শিভন জিলিসের সঙ্গে চার সন্তান এবং ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাশলি সেইন্ট ক্লেয়ারের থেকে এক সন্তান। জিলিসের সঙ্গে যমজ সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর তিনি লিখেছিলেন, ‘জনসংখ্যা সংকট মোকাবিলায় আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি’।

    অন্যদিকে সেইন্ট ক্লেয়ার, যিনি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সন্তানের জন্মের কথা জানান, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মাস্কের কোম্পানি এক্সএআই-এর বিরুদ্ধে মামলা করেন, অভিযোগ করেন যে গ্রক ব্যবহার করে তার যৌনতাযুক্ত ডিপফেক তৈরি করা হয়েছে।

  • ভারতের নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ

    ভারতের নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ

    ভারত সরকার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠকে দেশটির পরবর্তী সেনাপ্রধান (চিফ অব আর্মি স্টাফ) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। বর্তমানে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভাইস চিফ অব আর্মি স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    শনিবার (১৩ জুন) ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক ঘোষণায় জানায়, আগামী ৩০ জুন ২০২৬ থেকে এই নিয়োগ কার্যকর হবে। বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর অবসরের পর ধীরাজ শেঠ দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। খবর টাইমস অফ ইন্ডিয়ার।

    দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ন্যাশনাল ডিফেন্স একাডেমির সাবেক শিক্ষার্থী এবং আর্মার্ড কোরের কর্মকর্তা ধীরাজ শেঠ প্রায় চার দশকের সামরিক অভিজ্ঞতা নিয়ে সেনাপ্রধানের দায়িত্বে আসছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও কৌশলগত পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    সামরিক জীবনে তিনি মরুভূমি অঞ্চলে একটি রেজিমেন্ট, পশ্চিমাঞ্চলে একটি ব্রিগেড এবং জম্মু ও কাশ্মীরে একটি সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান স্ট্রাইক ফরমেশন সুদর্শন চক্র কোর এর কমান্ডার ছিলেন। এছাড়া দিল্লি এরিয়ার জেনারেল অফিসার কমান্ডিং হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ধীরাজ সেঠ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ড এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ড উভয়েরই নেতৃত্ব দিয়েছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইতিহাসে খুব কম কর্মকর্তাই দুটি পৃথক অপারেশনাল কমান্ড পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন।

    ভারতীয় সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন কর্মসূচিতেও ধীরাজ শেঠের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে নতুন প্রযুক্তি এবং ভবিষ্যৎ যুদ্ধক্ষেত্রের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সামরিক সক্ষমতার সমন্বয় সাধনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

    পেশাগত সামরিক শিক্ষার ক্ষেত্রেও তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি হায়ার কমান্ড কোর্স ও ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। পাশাপাশি ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কোর্সেও অংশগ্রহণ করেছেন।

  • আমিরাত থেকে হাজার কোটি ডলার পাচ্ছে ইরান

    আমিরাত থেকে হাজার কোটি ডলার পাচ্ছে ইরান

    বিশেষ শর্তে ইরানের জন্য কয়েকশ কোটি ডলারের তহবিল ছাড়তে রাজি হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। যুদ্ধ বন্ধে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যখন সমঝোতা আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, ঠিক তখনই এ খবর সামনে এলো। সংশ্লিষ্ট চারটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে ইরানের তেল বিক্রির হাজার হাজার কোটি ডলার আটকে আছে। কূটনীতিকরা বলছেন, চলমান এই আলোচনার মাধ্যমে আটকে থাকা সেই বিপুল পরিমাণ অর্থও ছাড় করা হতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে কয়েক সপ্তাহজুড়ে চলা যুদ্ধের মধ্যে দফায় দফায় আমিরাতে হামলা চালায় তেহরান। তখন বারবার আহ্বান সত্ত্বেও হামলা থেকে সরে আসেনি ইরান।

    দুটি আঞ্চলিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত মোট ১ হাজার কোটি (১০ বিলিয়ন) ডলার ইরানকে ছাড়তে রাজি হয়েছে। ৩০০ কোটি (৩ বিলিয়ন) ডলারের বেশি অর্থ ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।

    সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের যে অর্থ ছেড়ে দেবে, তার মোট পরিমাণ দুই হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলার হতে পারে। তারা আরও জানায়, ইরান আর হামলা করবে না, এমন শর্তেই এ অর্থ ছাড়বে আরব আমিরাত। ইতোমধ্যে প্রথম কিস্তির ৩০০ কোটি (৩ বিলিয়ন) ডলার ইতোমধ্যে দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

  • ‘জয় শ্রীরাম’ না বলায়

    ‘জয় শ্রীরাম’ না বলায়

    পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম ফেরিওয়ালাকে কুপিয়ে হত্যা

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ায় আকবর নামের এক মুসলিম ফেরিওয়ালাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শুধু দাড়ি থাকার কারণে কিছু লোক তাকে ‘জয় শ্রী রাম’ বলতে বাধ্য করত। এ থেকে ছড়িয়ে পড়ে বিদ্বেষ। বিদ্বেষ থেকে এ ধরনের কাজ ঘটতে পারে বলে আমার আশঙ্কা । তবে পুলিশ এই ঘটনায় ধর্মীয় বিদ্বেষের কোনো ভূমিকা থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

    দ্য ওয়্যার এক প্রতিবেদনে জানায়, গত ৯ জুন ৪৭ বছর বয়সী আকবর মণ্ডলকে হত্যা করা হয়। নিহত আকবরের ২০ বছর বয়সী ছেলে জুলফিকার বলেন,ধর্মীয় রাজনীতির কারণেই আমার বাবাকে খুন হতে হয়েছে।’

    এই এলাকাটি সাধারণত ‘জঙ্গলমহল’ নামে পরিচিত। অতীতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আন্দোলনের কেন্দ্রস্থল ছিল এই অঞ্চল।

    দারিদ্র্যের কারণে জুলফিকার পড়াশোনা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন এবং তার বাবার মতোই পুরুলিয়া জেলার বন্দওয়ান অঞ্চলে হকার হিসেবে কাজ করতেন। তিনি বলেন, এই ঘটনা তার পরিবার ও গ্রামকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

    জুলফিকার জানান, ৯ জুন সকালে আকবর তার ঠেলাগাড়িতে করে স্টিলের বাসনপত্র ফেরি করছিলেন। এমন সময় তাকে হঠাৎ সুপুরদিহি গ্রামের একটি বাড়িতে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আকবরের অপরিচিত এক ব্যক্তি তাকে আক্রমণ করে। জুলফিকার বলেন, লোকটি প্রথমে আকবরকে লাঠি দিয়ে পেটায়। এরপর তিনি আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে কুড়াল দিয়ে আঘাত করা হয়। জুলফিকার আরো জানান, তিনি জানতে পেরেছেন যে আকবরকে ছুরিকাঘাতও করা হয়েছিল।

    জুলফিকার বলেন, ‘ওই দিন দুপুর নাগাদ বান্দওয়ান থানার একজন কর্মকর্তা আমাকে ফোন করে বলেন, আপনার বাবাকে খুন করা হয়েছে। অবিলম্বে বান্দওয়ান হাসপাতালে চলে আসুন।’

    সেই সময় জুলফিকার অন্য একটি গ্রামে গৃহস্থালীর জিনিসপত্র ফেরি করছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি হাসপাতালে গিয়ে আমার বাবার লাশ দেখতে পেলাম। তার মাথা থেতলে দেওয়া হয়েছিল। দৃশ্যটি ছিল ভয়াবহ। তার প্রায় পুরো শরীর রক্তে ভেজা ছিল। চিকিৎসকরা আমাকে বলেছিলেন যে আকবর মণ্ডলকে হাসপাতালে আনার অনেক আগেই তিনি মারা গিয়েছিলেন।’ ঘটনার যথাযথ তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন জুলফিকার।

  • ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১

    ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১

    ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে মিন্দানাও দ্বীপে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১তে পৌঁছেছে।

    শনিবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জিএমএ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনো উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে আহত ১ হাজার ২২১ জনে দাঁড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

    দেশটির সিভিল ডিফেন্স অফিস (ওসিডি) জানায়, ভূমিধস ও ভবনের ধ্বংসাবশেষের নিচে আটকে পড়া মানুষদের খুঁজে বের করতে উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রম চলছে। তবে বারবার আফটারশক, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে আরো কয়েকটি লাশ উদ্ধার হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়েছে।

    দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া ও তথ্য পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (ড্রোমিক) জানিয়েছে, মিন্দানাও অঞ্চলে ভূমিকম্পে প্রায় ৫ লাখ ৫৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে প্রায় ৯ হাজার ৩৯৩ জন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। এ ছাড়া ৫৪ হাজার ২৭৪ জন আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের বাড়িতে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছেন।

    প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, ভূমিকম্পে ৮ হাজার ৮৬৫টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ৩৬ হাজার ৬৯১টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে মিন্দানাও উপকূলের কাছে আঘাত হানে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার এই ভূমিকম্প। এতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বাড়িঘর, স্কুল, হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষতি হয়।

    জেনারেল সান্তোস সিটি ও সারাঙ্গানি প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে। দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এসব এলাকায় দুর্যোগজনিত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

  • যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত: শেহবাজ শরিফ

    যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত: শেহবাজ শরিফ

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনার ভিত্তিতে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই একটি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই ইলেকট্রনিকভাবে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করা হতে পারে। এরপর আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

    শেহবাজ শরিফ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান।

    তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, এই ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে।”

  • ভারতে বিমান বিধ্বস্তে নিহত ৫ সদস্যের পরিচয় প্রকাশ

    ভারতে বিমান বিধ্বস্তে নিহত ৫ সদস্যের পরিচয় প্রকাশ

    ভারতের আসাম রাজ্যের জোরহাট বিমানঘাঁটিতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর (আইএএফ) একটি এএন-৩২ পরিবহন বিমান দুর্ঘটনায় পাঁচ সদস্য নিহত হয়েছেন। শনিবার অবতরণের সময় টুইন-ইঞ্জিনবিশিষ্ট টার্বোপ্রপ বিমানটি বিধ্বস্ত হলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

    ভারতীয় বিমানবাহিনী এক বিবৃতিতে এ ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেছে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন প্রশান্ত সিং, শুভম কুমার, জিতেন্দ্র শর্মা, খেমারাম কুমাওয়াত এবং দানিশ আলম। বিবৃতিতে বলা হয়, তারা কর্তব্যরত অবস্থায় দেশের সেবায় সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন।

    দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে একটি কোর্ট অব ইনকোয়ারি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে ভারতীয় বিমানবাহিনী। তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার পেছনের কারণ নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

    বিমানঘাঁটি থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য ও দৃশ্যে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার পর বিমানটি রানওয়ের ওপর দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। ধ্বংসাবশেষ রানওয়ের আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী ও জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন।

    এএন-৩২ দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় বিমানবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পরিবহন বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দুর্গম ও পার্বত্য অঞ্চলে রসদ সরবরাহ, মালামাল পরিবহন এবং বিভিন্ন ধরনের অপারেশনাল সহায়তা মিশনে বিমানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

  • দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবেশের সময় জাল ভিসাসহ ৯ বাংলাদেশি আটক

    দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবেশের সময় জাল ভিসাসহ ৯ বাংলাদেশি আটক

    জাল ভ্রমণ নথি ও ভিসা ব্যবহার করে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় ৯ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে দক্ষিণ আফ্রিকার কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার দক্ষিণ আফ্রিকার ওআর তাম্বো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁদের আটক করে দেশটির সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (বিএমএ)।

    দক্ষিণ আফ্রিকার সংবাদমাধ্যম আইউইটনেস নিউজ জানিয়েছে, বিএমএ—এর কর্মকর্তারা বলেছেন—কর্মকর্তারা ভ্রমণকারীদের নথিপত্রে অসঙ্গতি শনাক্ত করার পর তাঁদের থামিয়ে দেন। পরে যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, আটক হওয়া ৯ জনের কাছেই দক্ষিণ আফ্রিকার জাল ভিসা রয়েছে। এসব ভিসা ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকমিশন থেকে ইস্যু করা হয়েছে বলে দেখানো হয়েছিল।

    ঘটনার পর ওই নয়জনকে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    বিএমএর মুখপাত্র মেমে মোগোৎসি এক বিবৃতিতে বলেন, আটক হওয়া ৯ জনের মধ্যে তিনজন নারী। তাঁরা সাধারণ বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভ্রমণ করছিলেন। অন্যদিকে ছয়জন পুরুষ প্রথমে জাল ভারতীয় পাসপোর্ট উপস্থাপন করেন। তবে পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদ ও নথি যাচাইয়ের সময় ওই ছয়জন তাঁদের বাংলাদেশি পাসপোর্টও দেখান।

    বিএমএ জানিয়েছে, জাল নথিগুলোর উৎস শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের মতে, ঘটনাটি সীমান্ত নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক জাল নথি চক্রের সম্ভাব্য কার্যক্রম নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে।

  • সন্তান জন্মদানে সক্ষম ‘নারীর সংকট’ ধসিয়ে দিতে পারে চীনের পরাশক্তি হওয়ার স্বপ্ন

    সন্তান জন্মদানে সক্ষম ‘নারীর সংকট’ ধসিয়ে দিতে পারে চীনের পরাশক্তি হওয়ার স্বপ্ন

    দীর্ঘদিন ধরে ধেয়ে আসা জনসংখ্যাগত বিপর্যয় এখন সরাসরি আঘাত হানতে শুরু করেছে চীনের অর্থনীতি ও বাজারে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান মার্টিন ক্যাপিটালের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও রড ডি. মার্টিন সম্প্রতি দাবি করেছেন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিটি এমন এক বিপজ্জনক বিন্দু অতিক্রম করেছে, যেখান থেকে আর ফিরে আসা সম্ভব নয়। তাঁর মতে, চীনের এই জনসংখ্যার সংকট এখন ‘গাণিতিকভাবে অপরিবর্তনশীল’ এবং এটি সময়ের ব্যবধানে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ভোক্তা বাজার এবং বিশ্বমঞ্চে পরাশক্তি হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে ধূলিসাৎ করে দেবে।

    চীনের সরকারি তথ্য বলছে, প্রায় ১৪০ কোটি (১.৪ বিলিয়ন) জনসংখ্যার সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছানোর পর ইতিমধ্যেই দেশটির জনসংখ্যা সংকুচিত বা কমতে শুরু করেছে। এখন প্রতি বছর জন্মের চেয়ে মৃত্যুর হার বেশি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জন্মহার কমে যাওয়ার গতি ছিল ভয়াবহ। ২০১০-এর মাঝামাঝিতেও চীনে প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশু জন্মাত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে এক কোটিরও নিচে। এটি গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের ইতিহাসে সর্বনিম্ন জন্মহার।

    বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, জনসংখ্যা হ্রাসের এই গতি ভবিষ্যতে আরও ত্বরান্বিত হবে। জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড পপুলেশন প্রসপেক্টস-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ হিসাব বজায় থাকলেও ২১০০ সালের মধ্যে চীনের জনসংখ্যা বর্তমানের তুলনায় প্রায় অর্ধেক হয়ে যেতে পারে।

    রড ডি. মার্টিন এই পরিস্থিতিকে সাময়িক কোনো সমস্যা হিসেবে দেখছেন না। তাঁর মতে, এটি একটি স্থায়ী কাঠামোগত ভাঙন। মার্টিনের এই গাণিতিক তত্ত্বের মূলে রয়েছে ১৯৮০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বেইজিংয়ের কঠোরভাবে চাপিয়ে দেওয়া ‘এক সন্তান নীতি’। জনসংখ্যাবিদরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছিলেন, এই নীতি উর্বরতার হারকে নামিয়ে দিয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে সংকুচিত করেছে এবং লিঙ্গ নির্বাচনে গর্ভপাতের কারণে নারী-পুরুষের অনুপাতে বিশাল বৈষম্য তৈরি করেছে। পুত্রসন্তানের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহের কারণে লাখ লাখ কন্যাসন্তান পৃথিবীতে আসতেই পারেনি। এই কৃত্রিম বৈষম্যই এখন সরাসরি আঘাত হানছে চীনের শ্রমবাজার, বিয়ে এবং নতুন পরিবার গঠনের ক্ষেত্রে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্টিন লিখেছেন, বর্তমানে যাঁদের সন্তান জন্মদানের বয়স, তারা নিজেরাই সেই ‘এক সন্তান নীতি’র সময় জন্ম নেওয়া সংকুচিত প্রজন্ম। প্রতিটি প্রজন্ম তার আগের প্রজন্মের ঘাটতিকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। আপনি এমন নারীদের ওপর ভর্তুকি বা প্রণোদনা দিতে পারবেন না, যাদের জন্মই হয়নি।

    বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার প্রতিবেদনে চীনকে এখন পূর্ব এশিয়ার ‘আলট্রা-লো ফার্টিলিটি’ বা অতি-নিম্ন জন্মহারের দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টার ও জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২১০০ সালের মধ্যে চীনের জনসংখ্যা কমে মাত্র ৬৩ কোটি ৩০ লাখে নামতে পারে। আর মার্টিনের মতো অতি-শঙ্কাবাদী বিশ্লেষকদের মতে, এই শতাব্দীর শেষে চীনের জনসংখ্যা মাত্র ৩০ কোটিতে ঠেকবে—যা এর সর্বোচ্চ চূড়ার চেয়ে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ কম।

    বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় চিন্তার বিষয় হলো, এই জনসংখ্যা হ্রাস চীনের প্রবৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ বাজারকে গ্রাস করবে। একসময়ের তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী এবং কম নির্ভরশীল জনসংখ্যার ওপর ভর করে চীন সস্তা উৎপাদন ও অবকাঠামোগত বিপ্লব ঘটিয়েছিল। সেই সোনালি দিন বা ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ এখন শেষ।

    চীনে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ইতিমধ্যেই সর্বোচ্চ চূড়া পার করে এখন ক্রমাগত কমছে। বিপরীতে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী অবসরপ্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে, কর্মক্ষম মানুষের তুলনায় নির্ভরশীল মানুষের অনুপাত চীনে ঊর্ধ্বমুখী।

    এর সামষ্টিক অর্থনৈতিক ফলাফলকে মার্টিন সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে—‘একটি সংকুচিত কর্মীবাহিনী, ধসে পড়া করদাতার সংখ্যা, অবসরপ্রাপ্তদের বোঝা এবং একটি ফাঁকা হয়ে যাওয়া ভোক্তা বাজার। এটি কেবল একটি জনসংখ্যাগত সংকট নয়, এটি আসলে চীনের পরাশক্তি হওয়ার স্বপ্নের সমাধি।’

    এদিকে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেইজিং জন্মনিয়ন্ত্রণের সব বিধি-নিষেধ তুলে নিয়েছে, বড় পরিবার গঠনে উৎসাহিত করছে এবং বাবা-মাকে নানাবিধ সহায়তা দিচ্ছে। সি চিনপিংয়ের সরকার দম্পতিদের নগদ অর্থ বোনাস, আবাসন ও শিক্ষা উপবৃত্তি, মাতৃত্বকালীন ছুটি বৃদ্ধি এবং এমনকি জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর ওপর থেকে কর ছাড়ের সুবিধা বাতিল করার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।

    কিন্তু এত সব সরকারি প্রচারণাও তরুণদের মন গলাতে পারেনি। চীনের শহুরে তরুণদের ওপর করা জরিপ বলছে—অতিরিক্ত আবাসন খরচ, শিক্ষা খাতে তীব্র প্রতিযোগিতা, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং ডে-কেয়ারের অভাবে তারা বিয়ে ও সন্তান নিতে ভয় পাচ্ছে। ফলে এটি এখন আর কোনো নীতিগত বাধা নয়, বরং চীনের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর ভেতরেই এই অনীহা গেঁথে গেছে, যা সহজে সমাধান করা অসম্ভব।

    চীনের এই জনসংখ্যাগত মোড় পরিবর্তন বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড় ধরনের ওলটপালট ঘটাবে। প্রথমত, প্রবৃদ্ধির সীমা। সংকুচিত কর্মীবাহিনীর কারণে চীনের জিডিপি প্রবৃদ্ধি একটি নির্দিষ্ট সীমায় আটকে যাবে, ফলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো চীনের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ইতিমধ্যেই কমিয়ে দিয়েছে।

    দ্বিতীয়ত, ভোগ্যপণ্যের বাজার ধস। নতুন পরিবার গঠন ও জন্মহার কমলে আবাসন খাত, শিক্ষা এবং সাধারণ ভোগ্যপণ্যের বাজারে বড় ধাক্কা লাগবে।

    তৃতীয়ত, সাপ্লাই চেইন স্থানান্তর। শ্রমিকের অভাব ও মজুরি বৃদ্ধির কারণে বিশ্বের বড় বড় কোম্পানিগুলো তাদের উৎপাদন কারখানা চীন থেকে সরিয়ে ভারত, ভিয়েতনাম, মেক্সিকো এবং আফ্রিকার মতো তরুণ জনগোষ্ঠীর দেশগুলোতে নিয়ে যাচ্ছে।

    চতুর্থত, ভূরাজনীতি। সামরিক ও প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টেক্কা দেওয়া চীনের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ, একটি বয়োবৃদ্ধ ও অর্থনৈতিকভাবে চাপে থাকা দেশের পক্ষে বিশাল প্রতিরক্ষা ব্যয় ধরে রাখা এবং আমেরিকার সঙ্গে ব্যবধান ঘোচানোর মতো প্রযুক্তিগত বিনিয়োগ বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। রড মার্টিনের ভাষায়—‘জনমিতিই হলো নিয়তি’।

  • খসড়া চুক্তিতেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়ছে না ইরান

    খসড়া চুক্তিতেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়ছে না ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য খসড়া চুক্তির অধীনেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম শুক্রবার (১২ জুন) এমন তথ্য জানিয়েছে।

    ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, বর্তমানে চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় থাকা খসড়া নথির ‘সামগ্রিক কাঠামো’ অনুযায়ী ইরান হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা অন্য কারও কাছে হস্তান্তরের কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার আগে যে পরিস্থিতি ছিল, তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়েও কোনো অঙ্গীকার করা হয়নি।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইরান খুব সীমিত সংখ্যক জাহাজকে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি জানিয়ে দিয়েছে, প্রণালি অতিক্রম করার আগে সব জাহাজকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর অনুমতি নিতে হবে।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত নতুন হামলা বাতিল করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই স্বাক্ষর হতে পারে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, কোনো চুক্তির বিষয়ে দেশটি এখনো ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি’।

    শুক্রবার (১২ জুন) ইরানের বার্থা সংস্থা মেহের নিউজের আলোচক দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে যে নথি প্রকাশ করেছে, সেটিকে তারা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় থাকা খসড়া চুক্তির পাঠ বলে দাবি করেছে।

    মেহেরের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তি কার্যকর হলে লেবাননসহ সব যুদ্ধক্ষেত্রে সংঘাতের অবসান ঘটবে। পাশাপাশি ইরানের জব্দ হয়ে থাকা ২৪ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ছাড় করা হবে ও তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।

    খসড়ায় ইরানের তেল ও পেট্রোরসায়ন পণ্য বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার বিষয়ও রয়েছে। পাশাপাশি ১৩ এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

    মেহর বার্তা সংস্থা বলেছে, খসড়ায় যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ইরানকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের পুনর্গঠনের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা উপস্থাপনের কথাও বলা হয়েছে।

    সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ইরানের জব্দ অর্থের অন্তত অর্ধেক ছাড় না হওয়া পর্যন্ত, তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত না হওয়া পর্যন্ত এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত আলোচনা শুরু হবে না।

    ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিরোধের অন্যতম প্রধান বিষয়। যুক্তরাষ্ট্র বহুদিন ধরে দাবি করে আসছে, তেহরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা ত্যাগ করতে হবে এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত বিদেশে পাঠাতে হবে।

    অন্য এক প্রতিবেদনে সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, ইরান কেবল তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই আলোচনা করবে এবং তা হবে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের মৌলিক নীতির কাঠামোর মধ্যেই।

    সংস্থাটি আরও বলেছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংরক্ষণের অধিকারকে ইরান অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। চূড়ান্ত চুক্তিতেও এই বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হবে।

  • পশ্চিমাদ নীতি নিয়ে জয়শঙ্করের তোপ, রুশ তেল কেনার পক্ষে সাফাই

    পশ্চিমাদ নীতি নিয়ে জয়শঙ্করের তোপ, রুশ তেল কেনার পক্ষে সাফাই

    আন্তর্জাতিক সংবাদ:

    পশ্চিমা দেশগুলোর ‘দ্বিমুখী নীতি’র কড়া সমালোচনা করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। একই সঙ্গে তিনি রাশিয়া থেকে তেল কেনার সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। খবর এনডিটিভির।

    ফিনল্যান্ড সফরে বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি রাশিয়ার তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বারবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও তা শিথিল করার নীতিকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন।
    ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। ওই পরিস্থিতিতে ভারত রাশিয়ার অন্যতম প্রধান তেল ক্রেতায় পরিণত হয়।
    ফিনল্যান্ডের কুলতারান্তায় অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে জয়শঙ্কর বলেন, সেই সময় জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে যুক্তরাষ্ট্রই ভারতকে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার পরামর্শ দিয়েছিল।
    ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনাকে ‘অতিরিক্ত সহানুভূতি’ হিসেবে দেখানোর অভিযোগ তোলেন এক সাংবাদিক। এর জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, ভারত মূলত মূল্য ও সহজলভ্যতার ভিত্তিতেই তেল আমদানি করে।

    তার ভাষায়, সেই সময় বাজারে রাশিয়ার তেলই সবচেয়ে সহজলভ্য ছিল, কারণ ইউরোপীয় দেশগুলো পশ্চিম এশিয়ার তেল বেশি কিনছিল, যা ভারতের ঐতিহ্যগত সরবরাহ উৎস ছিল। ফলে পরিবর্তিত পরিস্থিতিই ভারতকে নতুন উৎসের দিকে যেতে বাধ্য করে।
    রাশিয়াকে ‘নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী’ হিসেবে উল্লেখ করে জয়শঙ্কর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নীতির ধারাবাহিক পরিবর্তনের সমালোচনা করেন এবং বিষয়টিকে অতিরিক্ত নৈতিকতার চশমায় না দেখার আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, রুশ তেল কেনার কারণে প্রথমে শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, পরে আবার তা শিথিল করা হয়েছে। তাই এখানে কোনো মহৎ নীতি আছে— এমন ভান করার প্রয়োজন নেই।
    গত বছর ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল, যার মধ্যে ২৫ শতাংশ ছিল রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে আরোপিত অতিরিক্ত শাস্তিমূলক শুল্ক। পরে তা কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়।

    এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে যুক্তরাষ্ট্র কিছু ক্ষেত্রে রুশ তেল পরিবহনের ওপর শিথিলতা দেয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
    ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত থাকবে— মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বা ছাড়ের শর্ত যাই হোক না কেন।
    বিদেশনীতি প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর আরও বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিমুখী নীতি অনুসরণ করে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ইউরোপীয় দেশ এমন রাষ্ট্রে অস্ত্র বিক্রি করে, যেগুলো পরে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়, অথচ ভারত কখনোই ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করেনি।

  • বিজিবি-বিএসএফের যৌথ বিবৃতি

    বিজিবি-বিএসএফের যৌথ বিবৃতি

    দিল্লির বৈঠক থেকে শান্তির বার্তা, একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার

    সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও উত্তেজনার ঘটনার মধ্যেও আলোচনার পথেই এগিয়ে চলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও ভারত। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের চার দিনব্যাপী বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।

    গত ৯ জুন শুরু হয়ে ১১ জুন শেষ হওয়া ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং ভারতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার।

    যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশের সীমান্তকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ এবং অপরাধমুক্ত রাখতে উভয় বাহিনী ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাবে। সীমান্তে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কমিয়ে আনা, পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে উদ্ভূত সমস্যার সমাধানে উভয়পক্ষ একমত হয়েছে।

    বৈঠকে সীমান্ত হত্যা, অনিয়মিত অনুপ্রবেশ, মানবপাচার, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উভয়পক্ষই এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতার মনোভাব বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।

    কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতপার্থক্য দেখা দিলেও দুই দেশের শীর্ষ সীমান্তরক্ষী কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে খোলামেলা আলোচনা হওয়া একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। কারণ, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই ধরনের বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক শুধু সীমান্ত নিরাপত্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বহু ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে সীমান্ত সংক্রান্ত যেকোনো বিষয় আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক।

    যৌথ বিবৃতিতে উভয় বাহিনী সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণের বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেও দুই পক্ষ একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে যখন সীমান্ত প্রশ্নে নানা ধরনের উত্তেজনা ও সংঘাত দেখা যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হতে পারে। দিল্লির এই বৈঠক তাই শুধু সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা নয়, বরং দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আস্থা, সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত হলে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আরও সুদৃঢ় হবে এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

  • এপস্টেইনের যৌন কেলেঙ্কোরি

    এপস্টেইনের যৌন কেলেঙ্কোরি

    বৈবাহিক জীবনের টানাপড়েন, পরকীয়ার কথা স্বীকার করেন বিল গেটস

    মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা ও মার্কিন ধনকুবের বিল গেটস জানিয়েছেন, দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল না।

    এপস্টেইন তার দাতব্য তহবিলের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে না পারায় তিনি নিজেই একপর্যায়ে তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। গত বুধবার মার্কিন কংগ্রেসের ‘হাউস ওভারসাইট কমিটি’র মুখোমুখি হয়ে এক রুদ্ধদ্বার শুনানিতে এসব কথা বলেন বিল গেটস।

    এপস্টেইনকাণ্ডের তদন্তের অংশ হিসেবেই স্বেচ্ছায় কমিটিতে হাজির হয়ে নিজের জবানবন্দি দেন তিনি। জবানবন্দিতে বিল গেটস তার বৈবাহিক জীবনের টানাপড়েন ও পরকীয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, এপস্টেইন তার ব্যক্তিগত জীবনের দুর্বলতাকে পুঁজি করে তাকে ব্ল্যাকমেইল বা চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছিল। তবে শুনানিতে অংশ নেয়া কমিটির সদস্যরা মন্তব্য করেছেন, এপস্টেইন মূলত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্য তৈরি করে নিজের ক্ষমতা ও প্রভাব জাহির করতে পছন্দ করত। বিল গেটসও ছিলেন তার সেই ‘বন্ধু সংগ্রহের’

    ‘প্রতিটি মুহূর্তের জন্য আমি অনুতপ্ত’: নিজের প্রারম্ভিক বক্তব্যে বিল গেটস স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কখনোই এপস্টেইনকে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে দেখেননি এবং এমন কোনো আভাসও পাননি।

    গেটস বলেন, আমি কখনোই তার ব্যক্তিগত দ্বীপ, খামারবাড়ি কিংবা ফ্লোরিডার বাসভবনে যাইনি। আমি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নই। সে হয়তো আমার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে চেয়েছিল, কিন্তু আমার তাতে কোনো আগ্রহ ছিল না। তিনি আরও যোগ করেন, এপস্টেইনের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তের জন্য আমি অনুতপ্ত। তার সঙ্গে দেখা করাটা আমার ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।

    তবে মার্কিন আইন মন্ত্রণালয় প্রকাশিত লাখ লাখ পৃষ্ঠার নথিতে বিল গেটসের নাম হাজারো বার এসেছে এবং বেশ কিছু ছবিতেও তাকে এপস্টেইনের সঙ্গে দেখা গেছে। এমনকি এপস্টেইনের ব্যক্তিগত জেটে ভ্রমণ করার কথাও স্বীকার করেছেন গেটস।

    পরকীয়া ও ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা: তদন্ত নথিতে উঠে আসা এপস্টেইনের কিছু খসড়া ইমেইলে বিল গেটসের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চাঞ্চল্যকর কিছু দাবি করা হয়েছে। সেখানে অভিযোগ করা হয়, এপস্টেইন গেটসের জন্য রুশ নারীদের মাধ্যমে বিশেষ সাক্ষাতের ব্যবস্থা করেছিল এবং গেটস একপর্যায়ে যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হলে তাকে ওষুধ জোগাড় করে দিয়েছিল।

    গেটস এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, দুই রুশ নারীর সঙ্গে তার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। গেটস বলেন, এপস্টেইন আমার সেই পরকীয়ার তথ্য এবং এর সঙ্গে আরও কিছু মিথ্যা যোগ করে আমাকে তার ফাঁদে ফেলার জন্য চাপ দিচ্ছিল।

    এপস্টেইনের সঙ্গে পরিচয় যেভাবে: কমিটিকে বিল গেটস জানান, ২০১১ সালে গ্লোবাল হেলথ ইনিশিয়েটিভের জন্য ফান্ড বা তহবিল সংগ্রহের আলোচনার সূত্র ধরে এপস্টেইনের সঙ্গে তার চেনা-জানা শুরু হয়। এর তিন বছর আগেই অবশ্য ফ্লোরিডায় যৌন ব্যবসার অভিযোগে দণ্ডিত হয়েছিল এপস্টেইন।

    গেটস জানান, তিনি শুরুতেই পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন যে তার ফাউন্ডেশনে এপস্টেইনের কোনো ভূমিকা থাকবে না। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে এপস্টেইন সম্ভাব্য দাতাদের একটি দলের সঙ্গে গেটসের বৈঠক করিয়ে দিলেও সেখান থেকে কোনো অর্থ আসেনি। গেটস বলেন, যখন বুঝলাম সে শুধু ফাঁকা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তখন আমি তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ ও দেখা-সাক্ষাৎ বন্ধ করে দিই।

    কমিটির ডেমোক্রেট সদস্য রবার্ট গার্সিয়া সাংবাদিকদের বলেন, বিল গেটস জানতেন যে এপস্টেইন একটি ভয়াবহ অপরাধে দণ্ডিত, তা সত্ত্বেও তিনি নিজের ফাউন্ডেশনের জন্য টাকা তুলতে তার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। অন্যদিকে, রিপাবলিকান সদস্য টিম বারচেট মন্তব্য করেন, বিল গেটসকে শুনানির সময় বেশ বিপর্যস্ত দেখাচ্ছিল।

    শত কোটি ডলারের মালিক হওয়ার পরও তাকে দেখে বেশ ‘নুয়ে পড়া’ মনে হয়েছে। কমিটির সদস্যরা প্রশ্ন তোলেন, তথ্যপ্রযুক্তির দুনিয়ার অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তিত্ব হয়েও বিল গেটস কীভাবে এপস্টেইনের মতো একজন বিতর্কিত মানুষের অতীত ব্যাকগ্রাউন্ড বা অপরাধের ইতিহাস সম্পর্কে এতটা উদাসীন ও কৌতুহলহীন ছিলেন? যা কি না আগে থেকেই সবার জানা ছিল।

  • কি আছে খার্গ দ্বীপে, এত লোভ কেন ট্রাম্পের

    কি আছে খার্গ দ্বীপে, এত লোভ কেন ট্রাম্পের

    ইরানের ওপর পরিকল্পিত হামলা বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, মার্কিন বাহিনী অদূর ভবিষ্যতে খার্গ দ্বীপ দখল করবে।

    কঠোর সামরিক নিয়ন্ত্রণের কারণে ‘নিষিদ্ধ দ্বীপ’ নামে পরিচিত খার্গ দ্বীপটিতে ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত করা হয়।

    বুশেহর বন্দর থেকে ৫৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে ১৫ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থিত খার্গ দ্বীপটি ইরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড।

    গত সপ্তাহে মার্কিন গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, খার্গ মাত্র ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৪-৫ কিলোমিটার প্রস্থের হওয়ায়, খার্গের চারপাশের গভীর জলরাশি একে একটি প্রাকৃতিক ভৌগোলিক সুবিধা প্রদান করে।

    এই গভীরতার কারণে বিশাল সুপারট্যাঙ্কারগুলো এখানে নিরাপদে নোঙর করতে পারে। বিশেষ কেরে এশীয় বাজারের জন্য অপরিশোধিত তেল বোঝাই করা যায়, যার প্রধান আমদানিকারক হলো চীন।

    ক্রমাগত উন্নত হতে থাকা এই ইরানি তেল টার্মিনালগুলোর তেল বোঝাই করার সক্ষমতা দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল বলে জানা গেছে। যদিও বর্তমান জাতীয় রপ্তানি দৈনিক প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেলের মধ্যে ঘোরাফেরা করে।

    খার্গের ওপর যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে উত্তেজনা অনেক বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন হামলা তেহরানকে উপসাগরীয় অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে উস্কে দিতে পারে এবং এতে তেলের দাম আরো বেড়ে যাবে। ইরান যুদ্ধ ইতোমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • চীনের সমুদ্রসীমায় ‘গুপ্তচর কচ্ছপ-মাছ’

    চীনের সমুদ্রসীমায় ‘গুপ্তচর কচ্ছপ-মাছ’

    চীনের সমুদ্রসীমায় বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ‘গুপ্তচর কচ্ছপ’ ও ‘গুপ্তচর মাছ’ ব্যবহার করে নজরদারি চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়। বেইজিংয়ের দাবি, সমুদ্রে চলমান একটি ‘অদৃশ্য গোপন যুদ্ধের’ অংশ হিসেবে এসব প্রাণীর শরীরে বিশেষ সেন্সর সংযুক্ত করে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

    শুক্রবার চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইচ্যাটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, বিদেশি গোয়েন্দা ও তথ্যসংগ্রহকারী সংস্থাগুলো বিভিন্ন ধরনের আধুনিক নজরদারি যন্ত্র ব্যবহার করে চীনের সমুদ্রসীমা থেকে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করছে। এসব তথ্যের মাধ্যমে পানির নিচের মানচিত্র তৈরি করা হচ্ছে, যা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, চীনা জলসীমায় এমন কিছু বড় সামুদ্রিক প্রাণী শনাক্ত করা হয়েছে, যাদের শরীরে সেন্সর সংযুক্ত ছিল। ‘গুপ্তচর কচ্ছপ’ ও ‘গুপ্তচর মাছ’ নামে উল্লেখ করা এসব প্রাণী পানির তাপমাত্রা, লবণাক্ততা এবং সমুদ্রস্রোতের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বিদেশে পাঠাচ্ছিল বলে দাবি করেছে মন্ত্রণালয়। তবে কোথায় এসব প্রাণী পাওয়া গেছে কিংবা কোন দেশ বা সংস্থা এগুলো ব্যবহার করেছে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।

    সামুদ্রিক প্রাণীকে গোয়েন্দা কাজে ব্যবহারের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে ২০২৩ সালে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, রাশিয়া কৃষ্ণসাগরে তাদের সেভাস্তোপোল নৌঘাঁটির নিরাপত্তা জোরদারে প্রশিক্ষিত ডলফিন মোতায়েন করেছে। ওই ডলফিনগুলোকে শত্রুপক্ষের ডুবুরি শনাক্ত ও প্রতিরোধের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় আরও দাবি করেছে, তারা বিদেশি একটি সামুদ্রিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের স্থাপন করা কিছু ভাসমান বয়া শনাক্ত করেছে, যেগুলো আবহাওয়া ও শব্দ-সংক্রান্ত সেন্সর দিয়ে সজ্জিত ছিল। এসব যন্ত্রের মাধ্যমে চীনা সাবমেরিনের শব্দগত স্বাক্ষর (অ্যাকোস্টিক সিগনেচার) তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছিল।

    এ ছাড়া সমুদ্রের ঢেউ ও সৌরশক্তিচালিত নতুন ধরনের ‘ওয়েভ গ্লাইডার’ ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করেছে বেইজিং। তাদের অভিযোগ, এসব যন্ত্র সামরিক কাজে ব্যবহারযোগ্য সামুদ্রিক পরিবেশগত তথ্য এবং জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য বিদেশে পাঠানোর কাজে নিয়োজিত।

    দক্ষিণ চীন সাগর, পূর্ব চীন সাগর এবং তাইওয়ান প্রণালিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই গুপ্তচরবৃত্তি ও সামরিক নজরদারির অভিযোগ তুলে আসছে চীন। বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত ও বিরোধপূর্ণ জলসীমা হিসেবে পরিচিত এসব অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা নিয়ে উত্তেজনা প্রায়ই দেখা যায়।

    গত বছরও চীন দাবি করেছিল, সমুদ্রতলের নিচে এমন কিছু গোপন ‘বাতিঘর’ বা নেভিগেশন ব্যবস্থা শনাক্ত করা হয়েছে, যা বিদেশি সাবমেরিনকে পথনির্দেশ দিতে এবং সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের প্রস্তুতি সহজ করতে ব্যবহৃত হতে পারে।

    চীনা গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশের জলসীমায় সন্দেহজনক নজরদারি যন্ত্র শনাক্ত বা উদ্ধার করতে পারলে জেলেদের ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ ইউয়ান পর্যন্ত আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়।

  • হোয়াইট হাউসকে আরিয়ানার হুঁশিয়ারি, ‘বর্বর কাজে’ আমার গান ব্যবহার করবেন না

    হোয়াইট হাউসকে আরিয়ানার হুঁশিয়ারি, ‘বর্বর কাজে’ আমার গান ব্যবহার করবেন না

    মার্কিন পপ তারকা আরিয়ানা গ্রান্ডে তার গান ব্যবহার করে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি প্রচার না করার জন্য কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

    চলতি সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের অফিশিয়াল টিকটক অ্যাকাউন্ট থেকে দেশের অভিবাসন নীতি নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটিতে ফেডারেল এজেন্টদের মানুষকে গ্রেফতার ও হাতকড়া পরাতে দেখা যায়, যার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসেবে গ্রান্ডের ২০২৪ সালের জনপ্রিয় গান ‘বায়’ ব্যবহার করা হয়েছিল।

    এই ভিডিওর নিচে মন্তব্য করে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন গ্র্যামি বিজয়ী এই গায়িকা। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মন্তব্য ঘরে তিনি লেখেন, ‘অনুগ্রহ করে এই বর্বর, অমানবিক ও জঘন্য ধৃষ্টতার সঙ্গে আমার গান কখনো জড়াবেন না।’

    গায়িকার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, তার লিগ্যাল টিম যত দ্রুত সম্ভব ভিডিওটি থেকে গানটি সরিয়ে ফেলার জন্য আইনি ও প্রযুক্তিগত উপায়গুলো খতিয়ে দেখছে।

    এদিকে আরিয়ানার এমন মন্তব্যের পর হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন বেশ চড়া সুরে পাল্টা জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা শেষবারের মতো একটা কথাই বলব: আসল বর্বর, অমানবিক ও জঘন্য বিষয় হলো সেই সমস্ত অপরাধী অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা, যারা নিরীহ আমেরিকান নাগরিকদের আহত ও হত্যা করেছে।’

    উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আরিয়ানা গ্রান্ডের রাজনৈতিক মতবিরোধ এবারই প্রথম নয়। গত বছরও তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। সে সময় ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট শেয়ার করে তিনি ট্রাম্পের ভোটারদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিলেন—ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর তাদের জীবনের মান আদৌ উন্নত হয়েছে কিনা।

    বর্তমানে নিজের দ্বিতীয় মেয়াদে দেশ পরিচালনা করা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয়। তার কমিউনিকেশন টিমের সদস্যরা প্রায়শই ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চিত্র তুলে ধরতে বিভিন্ন জনপ্রিয় গান ব্যাকগ্রাউন্ডে ব্যবহার করে ছোট ছোট ভিডিও তৈরি করেন।

    এর আগে ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযান, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক তৎপরতা এবং ভেনিজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতারের মতো ঘটনা চিত্রায়িত করা ভিডিওগুলোতেও বিভিন্ন হিট গান ব্যবহার করা হয়েছিল।

  • যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি রোববার সই হতে পারে জেনেভায়

    যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি রোববার সই হতে পারে জেনেভায়

    মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক আগামী রোববারের মধ্যে স্বাক্ষরিত হতে পারে। আজ শুক্রবার একজন পশ্চিমা কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। চুক্তি সইয়ের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে এগিয়ে রয়েছে সুইজারল্যান্ডের জেনেভার নাম।

    ওই কর্মকর্তা জানান, স্মারকের ভাষা চূড়ান্তের কাজ এখনো চলছে। লেবাননে চলমান যুদ্ধকেও এই চুক্তিতে রাখার দাবিতে অনড় রয়েছে ইরান।

    আগামীকাল শনিবারের মধ্যে চুক্তির ভাষা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নিজ নিজ দেশের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ চুক্তিতে সই করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, চুক্তির শর্ত চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ায় ইরানে নতুন হামলা বাতিল করছেন তিনি। তাঁর ভাষ্যমতে, ‘আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের একটি বড় সমাধানে পৌঁছেছি।’

    আজ ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে মনে হচ্ছে, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তেহরান তাদের অধিকাংশ দাবি আদায় করে নিচ্ছে।

    চুক্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব জ্বালানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত থেকে এটাই ট্রাম্পের একমাত্র অর্জন বলে মনে হচ্ছে।

    একজন শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তা আজ রয়টার্সকে জানান, চুক্তির খসড়ায় ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, কোটি কোটি ডলারের আটকে রাখা সম্পদ ছাড় এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে হামলা বন্ধের বিষয় থাকবে।

    প্রাথমিক চুক্তিতে পারমাণবিক ইস্যু থাকবে না। তা পরবর্তী আলোচনার জন্য তোলা থাকবে।

    ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে, সেটি নিশ্চিত করতে চায় ওয়াশিংটন। কিন্তু তেহরান বারবার দাবি করে আসছে, এমন কোনো অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা তাদের নেই।

    নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ সম্পদ ছাড় এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ—এই তিনটি বিষয় ইরানের মূল দাবি। এ সবকিছুর বিনিময়ে তেহরান ওয়াশিংটনকে কী দিতে পারে, সে বিষয়ে ইরানের উল্লিখিত কর্মকর্তা কিছু বলেননি। অন্যদিকে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    ইরানের বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ জানিয়েছে, চুক্তির শর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আরও কিছু বিষয়ে ছাড় দিতে রাজি হয়েছে। যেমন ইরানের চারপাশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং বিধ্বস্ত ইরানি অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করা।

    মেহরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অন্তত ৩০ হাজার কোটি ডলারের পরিকল্পনা জমা দিতে হবে।