আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • প্রযুক্তিনির্ভর টেক্সটাইল শিল্পে  অংশীদারত্ব জোরদারের আহ্বান – বাণিজ্যমন্ত্রীর

    প্রযুক্তিনির্ভর টেক্সটাইল শিল্পে অংশীদারত্ব জোরদারের আহ্বান – বাণিজ্যমন্ত্রীর

    বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পকে আরো টেকসই, পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে চীনের বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ-চীন গ্রিন টেক্সটাইল এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, চীনের শিল্পায়ন, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। তিনি চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে অর্থবহ বিনিয়োগের আহ্বান জানান, যাতে উভয় দেশের জন্য ‘উভয়ের লাভজনক’ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

    খন্দকার মুক্তাদির বলেন, চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চীনা প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি বন্ধ রাষ্ট্রীয় মিল-কারখানা পুনরুজ্জীবন, পাটখাতের আধুনিকায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং সবুজ শিল্পায়নে চীনা বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে বিশ্বের সর্বাধিক সংখ্যক সবুজ সনদপ্রাপ্ত পোশাক কারখানা রয়েছে, যা দেশের উদ্যোক্তাদের পরিবেশ সচেতনতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। পানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করে টেক্সটাইল শিল্পকে আরো প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই করতে হবে।

    মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ-চীন যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ ধরনের প্রদর্শনী প্রযুক্তি বিনিময়, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং টেকসই শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

    এছাড়া বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) পরিচালক শাহ রায়ীদ চৌধুরী, বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, বাংলাদেশ গার্মেন্ট বাইং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিবিএ) সভাপতি আব্দুল হামিদ পিন্টু, সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: ফয়েজুল আলম, চাইনিজ এন্টারপ্রাইজ ইন বাংলাদেশের সভাপতি হান কুন এবং ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশের সহসভাপতি লিসা লু বক্তব্য দেন।

    পরে বাণিজ্যমন্ত্রী এক্সপোর বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

    আয়োজকরা জানান, সবুজ টেক্সটাইল শিল্পের বিশেষায়িত এ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ ও চীনের খ্যাতনামা টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস কোম্পানি, বিনিয়োগকারী, প্রযুক্তিবিদ ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।

    প্রদর্শনীতে পরিবেশবান্ধব ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য টেক্সটাইল প্রযুক্তির প্রদর্শনের পাশাপাশি সেমিনার ও প্যানেল আলোচনায় দুই দেশের শীর্ষ উদ্যোক্তারা অংশ নিচ্ছেন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী আগামী ১৬ মে শেষ হবে। ইউএনবি

  • ইউরোপ বার্তা শুনেছে—ন্যাটো প্রধান

    ইউরোপ বার্তা শুনেছে—ন্যাটো প্রধান

    ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় মিত্রদের সীমিত সমর্থন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে হতাশার কথা বলেছেন, সেটির ব্যাপারে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দ্য নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশনের (ন্যাটো) মহাসচিব মার্ক রুট।

    বুধবার (১৩ মে) রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টে অনুষ্ঠিত নাইন সামিট ও নর্ডিক অ্যালাইজ সামিট শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের হতাশা নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া দেন ন্যাটো প্রধান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আমার বার্তা হলো, ইউরোপ তাদের বার্তাটি শুনেছে এবং এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে। আমরা এ নিয়ে একসঙ্গে কাজ করছি। সংবাদ সম্মেলনে রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুশোর দান এবং পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোৎস্কি উপস্থিত ছিলেন।

    মার্ক রুট বলেন, ইউরোপীয় মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো বাস্তবায়নে দুটি ক্ষেত্রে কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় প্রতিশ্রুতি পূরণ এবং হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য মাইন অপসারণ অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। তিনি আরও বলেন, ন্যাটো ৩.০ মানে আরও শক্তিশালী ইউরোপ ও আরও শক্তিশালী ন্যাটো। আর শক্তিশালী ইউরোপ ও ন্যাটো মানেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বিত শক্তি।

    রুটের বক্তব্যের সমর্থনে রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুসর দান বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো ন্যাটোয় সমানুপাতিক অবদান নিশ্চিত করার পথে এগোচ্ছে। ট্রাম্পের ‘বার্ডেন শেয়ারিং’ বা দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে আপত্তির পর ইউরোপ এ বিষয়ে আরও সচেতন হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ইউরোপ বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। আমরা ইতোমধ্যেই ন্যাটো ৩.০-এর পথে রয়েছি। ৩.৫ প্লাস ১.৫ শতাংশ ব্যয়ের লক্ষ্য ২০৩৫ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে এবং আমরা সে লক্ষ্য পূরণের ধারাবাহিকতায় আছি।

    এর আগে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের আচরণ নিয়ে হতাশ হয়ে ট্রাম্প জার্মানি থেকে পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের পর ইউক্রেনে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত থাকবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। এ অবস্থায় ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সদস্য দেশগুলো নিজেদের ভূখণ্ডে মার্কিন সেনা মোতায়েনের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে তৎপরতা শুরু করেছে।

  • আইনজীবীর পোশাকে হাইকোর্টে মমতা !

    আইনজীবীর পোশাকে হাইকোর্টে মমতা !

    বৃহস্পতিবার সকালে বেলা ১১টার কিছু আগে হঠাৎ হাইকোর্ট চত্বরে যান তৃণমূলনেত্রী। আইনজীবীদের মতো কালো শামলা পরে আদালত চত্বরে হাজির হন তিনি। বৃহস্পতিবার ভোট-পরবর্তী অশান্তির একটি মামলার শুনানি ছিল প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে। সেখানে শুনানি করেন তিনি বলে জানান ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার।

    নির্বাচনের আগে গিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টে। এবার নির্বাচনের পর হাইকোর্টে হাজির হলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবার তাকে দেখা গেল আইনজীবীর বেশে। হাইকোর্ট চত্বরে তিনি পৌঁছালে তাকে ঘিরে উৎসুক সমর্থকদের ভিড় জমে।

    হাইকোর্ট চত্বরের বাইরে মমতার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সঙ্গে লিখেছে, ‘আরও একবার তিনি দেখিয়ে দিলেন, কেন তিনি বাকিদের চেয়ে আলাদা। দরকারের সময়ে কখনো তিনি পশ্চিমবাংলার মানুষকে একা ছেড়ে দেন না। সত্য, ন্যায়বিচার এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের জন্য লড়াই তিনি থামান না। অতুলনীয় সাহস এবং প্রত্যয়কে সঙ্গী করে তিনি বারবার ঘৃণার রাজনীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।’

    এদিকে প্রধান বিচারপতির এজলাসে তৃণমূলনেত্রী মমতা বলেন, “প্রথম বার কলকাতা হাইকোর্টে সওয়াল করছি। ১৯৮৫ সালে বার কাউন্সিলে আমার নাম নথিভুক্ত হয়। তার পর থেকে সদস্যপদ রিনিউ করেছি। ভোটের পরে শিশু, নারী, মুসলিম কাউকে রেয়াত করা হচ্ছে না। বিবাহিত মহিলাদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন এসব অভিযোগ আসছে। ঘর, বাড়ি লুট করছে, আগুন জ্বালাচ্ছে। পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আদালতের অনুমতি পেলে এই অভিযোগগুলো অতিরিক্ত হলফনামায় উল্লেখ করব। রাজ্যের মানুষকে বাঁচান। এটা কোনো বুলডোজার রাজ্য নয়। এটা পশ্চিমবঙ্গ, প্লিজ রাজ্যবাসীকে বাঁচান।”

  • পশ্চিমবঙ্গে  প্রকাশ্য পশু জবাই নিষিদ্ধ

    পশ্চিমবঙ্গে প্রকাশ্য পশু জবাই নিষিদ্ধ

    পশ্চিমবঙ্গে রাস্তাঘাট বা প্রকাশ্য স্থানে পশু জবাই করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুধু সরকার অনুমোদিত কসাইখানাতেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে বলে বুধবার সরকারি এক নির্দেশে বলা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত নিয়ম না মানলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

    এ মর্মে বুধবার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। মূলত গরু, মহিষ, বলদ, বাছুর সহ বিভিন্ন গবাদি পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে একাধিক শর্ত আরোপ করা হয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, পশু জবাই দেয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পুরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির পাশাপাশি সরকারি পশুচিকিৎসকের যৌথ শংসাপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পশুর বয়স, শারীরিক অবস্থা ও সক্ষমতা খতিয়ে দেখেই সেই শংসাপত্র দেয়া হবে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট পশুর বয়স কমপক্ষে ১৪ বছর হতে হবে।

    এছাড়া পশুটি বার্ধক্য, আঘাত, বিকৃতি বা অন্য কোনও দুরারোগ্য রোগে স্থায়ীভাবে অক্ষম কিনা, তাও পরীক্ষা করে দেখতে হবে। সরকারি নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর শাস্তির কথাও বলা হয়েছে।

    দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি এক হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা জেল ও জরিমানা দুই সাজাই একসঙ্গে হতে পারে। ১৯৫০ সালের সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় এই ধরনের অপরাধ আদালত গ্রাহ্য হিসেবেই বিবেচিত হবে বলেও জানানো হয়েছে

  • কূটনৈতিক চাপের মধ্যেই বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু ইরানের

    কূটনৈতিক চাপের মধ্যেই বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু ইরানের

    ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ আসরের পর্দা উঠছে ১১ জুন, যেখানে প্রথমবারের মতো ৪৮ দল অংশ নেবে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই আসরকে সামনে রেখে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল।

    তবে এবারের বিশ্বকাপ অভিযানে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং লজিস্টিক নিরাপত্তা ইস্যু।

    ১৩ মে (বুধবার) তেহরানের ঐতিহাসিক এঙ্গেলাব স্কোয়ারে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে জাতীয় দলকে বিদায় জানানো হয়। হাজারো সমর্থকের উপস্থিতিতে দলের নতুন জার্সি এবং একটি থিম সং উন্মোচন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র আবেগ দেখা যায়। কেউ কেউ এই সফরকে শুধুই ফুটবল হিসেবে দেখলেও, অনেকের কাছে যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের অংশগ্রহণকেই এক ধরনের প্রতীকী সাফল্য হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

    রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ জানায়, বিশ্বকাপের মূল পর্বের আগে কন্ডিশনিং ক্যাম্প করতে ইরান দল আগামী ১৮ মে তুরস্কের আনতালিয়ার উদ্দেশে রওনা দেবে। সেখানে তারা দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে, যার মধ্যে ২৯ মে গাম্বিয়ার বিপক্ষে একটি ম্যাচ চূড়ান্ত হয়েছে। এছাড়া টুর্নামেন্ট শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রেও একটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

    কূটনৈতিক জটিলতার কারণে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তারা ভিসা ও যাতায়াত সংক্রান্ত সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন বলেও জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে ফিফা দুঃখ প্রকাশ করে আলাদা বৈঠকের আশ্বাস দিয়েছে।

    ফেডারেশন প্রধান মেহদি তাজ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো রাজনৈতিক বিরোধ নেই এবং ইরান বিশ্বকাপে যাচ্ছে যোগ্যতা অর্জনের ভিত্তিতে। তিনি আরও বলেন, ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে ও চার্টার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে।

    আসন্ন বিশ্বকাপে ইরানকে গ্রুপ ‘জি’-তে বেলজিয়াম, মিশর ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে দেখা যাবে।

    তাদের প্রথম ম্যাচ ১৬ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, এরপর ২১ জুন বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে দলটি। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক চাপ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, এমন প্রতিকূলতা অনেক সময় ইরান দলের মধ্যে আরও ঐক্যবদ্ধ ও লড়াকু মনোভাব গড়ে তুলবে।

  • ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়িত আমিরাত: আরাগচি

    ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়িত আমিরাত: আরাগচি

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানে “সরাসরি জড়িত” ছিল।

    বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস বৈঠকে এ অভিযোগ তোলেন তিনি। ইরানের আধা-সরকারি মেহর বার্তা সংস্থার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে আমিরাতের প্রতিনিধির বক্তব্যের জবাবে আরাঘচি এই মন্তব্য করেন।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঐক্যের স্বার্থে তিনি প্রথমে নিজের বক্তব্যে আমিরাতের নাম উল্লেখ করেননি। তবে তার দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু হওয়ার পরও আমিরাত কোনো নিন্দা জানায়নি এবং আগ্রাসনের ঘটনায় তারা সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল। তবে আমিরাতের পক্ষ থেকে এ অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

    বেজিংয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠকে ট্রাম্প সম্ভবত ইরানের সাথে এই ব্যয়বহুল ও জনপ্রিয়তাহীন যুদ্ধ বন্ধে চীনের সহায়তা চাইবেন। ২০১৭ সালের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট চীন সফরে গেলেন।

    তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প যেমনটা চাইছেন শির কাছ থেকে তেমন সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম। এক মাস আগে দায়সারা একটা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও কূটনীতিতে তেমন কোনো কাজ হয়নি। এই যুদ্ধ হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ পাল্টে দিয়েছে, যার চড়া মাশুল দিতে হচ্ছে জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজারকে।

    ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোকে একজোট হয়ে নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

  • হরমুজ খুলতে একমত ট্রাম্প-শি

    হরমুজ খুলতে একমত ট্রাম্প-শি

    জ্বালানির অবাধ প্রবাহের জন্য হরমুজ প্রণালি অবশ্যই উন্মুক্ত রাখতে হবে। সেই সঙ্গে এই জলপথে কোনো টোলও আদায় করা যাবে না বলে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্মত হয়েছেন । বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুই ঘণ্টা ধরে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠক শেষে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুই নেতা বৈঠকে এ বিষয়ে একমত হয়েছেন ।

    বৈঠক কেমন হয়েছে- সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প শুধু এক শব্দে বলেছেন, চমৎকার। দ্বিতীয় এক প্রশ্নকারী জানতে চান তিনি তাইওয়ান নিয়ে কথা বলেছেন কি না। এর জবাবে ট্রাম্প তার আগের কথার ধারাবাহিকতায় বলেন, চমৎকার জায়গা, অবিশ্বাস্য, চীন খুব সুন্দর।

    এরপর আবার তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি তাইওয়ান নিয়ে কথা বলেছেন কি না, সেই সময় ট্রাম্প সরাসরি সামনে তাকিয়ে থাকেন, শিও একইভাবে সামনে তাকিয়ে থাকেন।

    দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এই প্রথম চীন সফর করছেন ট্রাম্প। গতকাল বুধবার রাতে তিনি বেইজিং পৌঁছালে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়।এর আগে ২০১৭ সালের নভেম্বরে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেও বেইজিং ঘুরে যান। তার ওই সফরের পর মার্কিন কোনো প্রেসিডেন্ট আর দেশটিতে যাননি।

  • কে হতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী?

    কে হতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী?

    নিজ দলের ভেতর থেকে ওঠা পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। একই সঙ্গে তিনি বিরোধীদের বলেছেন, তারা চাইলে দলের নিয়ম মেনে আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্ব বাছাইয়ের লড়াই শুরু করতে পারেন।

    লেবার পার্টির বিধি অনুযায়ী, নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ শুরু করতে হলে দলের অন্তত এক-পঞ্চমাংশ এমপির (৮১ জন) সমর্থন প্রয়োজন। এক বা একাধিক প্রার্থী এই পরিমাণ সমর্থন সংগ্রহ করতে পারলে স্টারমারের বিরুদ্ধে ভোট হবে।

    স্টারমারকে পদত্যাগের জন্য ইতোমধ্যে ১০০ জন এমপি প্রকাশ্যে আহ্বান জানিয়েছেন। তবে নেতৃত্ব বদলের জন্য কেউ আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেননি। ধারণা করা হচ্ছে, ৮১ জন এমপির স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে পারবেন- এমন লেবার নেতার সংখ্যা খুব কম। এরপরও সম্ভাব্য তিনজনকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। তারা হলেন- ওয়েস স্ট্রিটিং, অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ও অ্যাঞ্জেলা রেনার।

    বর্তমানে লেবার পার্টির ভেতর দুটি পক্ষ আছে। যারা দ্রুত নেতৃত্বের পরিবর্তন চান, তারা স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পক্ষে। অন্যদিকে, যারা সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতার হস্তান্তর দেখতে চান, তাদের পছন্দ গ্রেটার ম্যানচেস্টারের বর্তমান মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তরুণ ভোটারদের পছন্দ বিবেচনায় সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনারকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    এই তিনজনের মধ্যে স্ট্রিটিং লেবার পার্টির ডানপন্থী ঘরানার নেতা হিসেবে পরিচিত। অপরদিকে বার্নহ্যাম বিভিন্ন জনমত জরিপে ব্রিটেনের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদের আখ্যা পেয়েছেন। তিনি ‘ম্যানচেস্টারিজম’ ধারণার প্রবক্তা। এর মূল বার্তায় ব্যবসাবান্ধব নীতি ও সমাজতন্ত্রের আকাঙক্ষার কথা আছে।

    ব্রিটিশ রাজনীতিতে অ্যাঞ্জেলা রেনারের স্পষ্টভাষী ভাবমূর্তি অনেক তরুণ ভোটারকে আকৃষ্ট করেছে। পুরনো ঘরানার সমাজতন্ত্রী কর্মীদের কাছেও তিনি বেশ জনপ্রিয়। রেনার ম্যানচেস্টারের শহরতলিতে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হয়েছেন। তিনি মাত্র ১৬ বছর বয়সে মা হন। তিনি ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। সেখান থেকেই রাজনীতিতে যুক্ত হন।

  • বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা রাশিয়ার

    বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা রাশিয়ার

    রাশিয়া নতুন একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছেন, পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ‘সারমাত’ বিশ্বের ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ ক্ষেপণাস্ত্র। খবর আল-জাজিরার।

    রুশ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, রাশিয়ার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার সের্গেই কারাকায়েভ পুতিনকে সফল উৎক্ষেপণের বিষয়ে অবহিত করছেন। পুতিন জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ সারমাত ক্ষেপণাস্ত্র আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর কার্যক্রমে যুক্ত হবে।

    টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে পুতিন বলেন, এটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র। তার দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেডের ধ্বংসক্ষমতা পশ্চিমা দেশগুলোর সমমানের ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় চার গুণ বেশি। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, সারমাত সাব-অরবিটাল ফ্লাইট সক্ষমতা রাখে এবং এর পাল্লা ৩৫ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। পুতিন আরও বলেন, এটি বর্তমান ও ভবিষ্যতের সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম।

    পশ্চিমা বিশ্বে ‘সাটান টু’ নামে পরিচিত এই ক্ষেপণাস্ত্রটি পুরোনো সোভিয়েত যুগের ভয়েভোদা ক্ষেপণাস্ত্রের পরিবর্তে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হচ্ছে।

    ২০১১ সালে সারমাত প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও এর উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নানা বাধা আসে। মঙ্গলবারের পরীক্ষার আগে ক্ষেপণাস্ত্রটির মাত্র একটি সফল পরীক্ষা হয়েছিল। ২০২৪ সালে আরেকটি পরীক্ষার সময় বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

  • ভারতে গির্জার তিন নেতাকে গুলি করে হত্যা

    ভারতে গির্জার তিন নেতাকে গুলি করে হত্যা

    ভারতের মণিপুর রাজ্যে অজ্ঞাত সশস্ত্র ব্যক্তিদের গুলিতে তিন গির্জা নেতা নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৩ মে) রাজ্যের কাংপোকপি জেলায় এই হামলার ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

    নিহতরা স্থানীয় থাদৌ ব্যাপ্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (টিবিএ) নেতা ছিলেন। তারা হলেন- মণিপুর ব্যাপ্টিস্ট কনভেনশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেভারেন্ড ভি সিটলহাউ। অপর দুজন হলেন-রেভারেন্ড ভি কাইগোলুন এবং যাজক পাওগোউলেন।

    স্থানীয় সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, চুরাচাঁদপুর জেলার লামকায় একটি টিবিএ সম্মেলনে অংশ নিয়ে দুটি গাড়িতে করে কাংপোকপিতে ফিরছিলেন তারা। পথে সশস্ত্র হামলায় ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন।

    হামলায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজন ধর্মীয় নেতা ও দুই চালক রয়েছেন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর কাংপোকপি ও আশপাশের কুকি-জো অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে ২ নম্বর জাতীয় সড়কে অবরোধ শুরু হয়। এই সড়কটি মণিপুরকে নাগাল্যান্ড ও ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করার অন্যতম প্রধান পথ।

    এ ঘটনায় বিভিন্ন সংগঠন সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। #

  • গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করতে চীনে পৌঁছেছেন ট্রাম্প

    গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করতে চীনে পৌঁছেছেন ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বুধবার সন্ধ্যায় চীনে পৌঁছেছেন। দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীন গেলেন ট্রাম্প। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে ট্রাম্পের এই সফর। তিনি আগামী ১৫ মে পর্যন্ত চীনে অবস্থান করবেন। ট্রাম্পের এই সফরে সঙ্গী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বড় টেক কোম্পানিগুলোর বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা জায়গা পেয়েছেন।

    ওয়াশিংটন ছাড়ার আগে ট্রাম্প বলেন, চীন সফরের মূল আলোচ্য বিষয় হবে বাণিজ্য। তবে ইরান যুদ্ধ নিয়ে দীর্ঘ আলাপ হবে এমনটাও জানান তিনি।
    এদিকে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, ট্রাম্পের চীন সফরের আলোচ্যসূচি বেশ জটিল হবে। কারণ দ্বিপাক্ষিক সম্পন্ন উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য, বাড়তি শুল্ক ও প্রযুক্তির পাশাপাশি তাইওয়ান ও ইরান ইস্যু এবারের আলোচনা গুরুত্ব পেতে পারে। এক্ষেত্রে আলোচনা সফল না হলে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

  • গোপনে ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব

    গোপনে ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব

    সৌদি আরব মধ্য মার্চের শেষ দিকে ইরানের ওপর একাধিক গোপন বিমান হামলা চালিয়েছে। ওই সময়ের আঞ্চলিক সংঘাতে সৌদি ভূখণ্ডে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এসব হামলা হয়। একাধিক সূত্র উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলা ছিল প্রথমবারের মতো কোনো নিশ্চিত ঘটনা যেখানে সৌদি আরব সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এটি উপসাগরীয় অঞ্চলে সৌদি নীতির একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে বিমান হামলা চালায়। এরপর কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) ছয়টি দেশের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এসব হামলায় মার্কিন ঘাঁটি, বেসামরিক এলাকা, বিমানবন্দর এবং তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটে।

    এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সামরিক মিত্র সৌদি আরব নিজেকে আক্রমণের ঝুঁকিতে দেখতে পায়। কারণ মার্কিন নিরাপত্তা ছায়া পুরোপুরি কার্যকর ছিল না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এক পশ্চিমা কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, সৌদি বিমান বাহিনীর হামলাগুলো ছিল প্রতিশোধমূলক পাল্টা আঘাত। একই সময়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানে সামরিক হামলা চালিয়েছে। এই দুই উপসাগরীয় দেশের পদক্ষেপে বোঝা যায়, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য দুই স্তরেই ছড়িয়ে পড়ে। তবে সৌদি আরব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি সরকার ইরানকে হামলার বিষয়ে অবহিতও করেছিল। যার ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ে এবং পরবর্তী পাল্টা প্রতিক্রিয়া নিয়ে সতর্কবার্তা দেয়া হয়। এই বিনিময়ের পর ধীরে ধীরে উত্তেজনা কমানোর একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা তৈরি হয়। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্প পরিচালক আলি ভায়েজ বলেন, সৌদি পাল্টা হামলার পর উত্তেজনা কমানো দুই পক্ষেরই বাস্তববাদী সিদ্ধান্তের প্রতিফলন। তার মতে, এটি বিশ্বাসের ভিত্তিতে নয়, বরং সংঘাত নিয়ন্ত্রণের পারস্পরিক স্বার্থের কারণে হয়েছে, যাতে পরিস্থিতি আরও বড় আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিণত না হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৫-৩১ মার্চের সপ্তাহে সৌদি আরবের ওপর ১০৫টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। কিন্তু ১-৬ এপ্রিলের মধ্যে এই সংখ্যা নেমে আসে ২৫-এর কিছু বেশি। এর আগে ১৯ মার্চ রিয়াদে এক সংবাদ সম্মেলনে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বলেন, প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার অধিকার সৌদি আরব সংরক্ষণ করে। পরবর্তীতে সৌদি আরব ইরানের কয়েকজন কূটনীতিককে দেশ থেকে বহিষ্কারও করে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, দেশটি সবসময় উত্তেজনা কমানো, সংযম এবং স্থিতিশীলতার পক্ষে কাজ করে যাবে। যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য জরুরি

  • ইরানে এক রাতে নয় ভূমিকম্প, বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা

    ইরানে এক রাতে নয় ভূমিকম্প, বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা

    ইরানের রাজধানী তেহরানের পূর্বাঞ্চলে এক রাতের মধ্যে টানা ৯টি মৃদু ভূমিকম্পের ঘটনায় নতুন করে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর আশপাশে জমে থাকা ভূত্বকীয় চাপ ভবিষ্যতে ভয়াবহ দুর্যোগ ডেকে আনতে পারে।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ জানিয়েছে, বুধবার (১৩ মে) রাতে তেহরানের পূর্বদিকে পারদিস এলাকায় এসব কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পগুলো সংঘটিত হয়েছে মোশা ফল্টের কাছাকাছি এলাকায়, যা দেশটির অন্যতম সক্রিয় ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।

    প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ফল্ট রাজধানী তেহরান থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অঞ্চলে মাঝেমধ্যে ছোট কম্পন হলেও একই রাতে ধারাবাহিকভাবে এতগুলো ভূমিকম্প হওয়া অস্বাভাবিক ঘটনা।

    মেহের নিউজের তথ্য অনুযায়ী, একটি ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৬। তবে এতে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ভূকম্প বিশেষজ্ঞ মেহদি জারি বলেন, এই কম্পনগুলো ভবিষ্যতের ঝুঁকি কমাতে ভূগর্ভস্থ শক্তি নির্গমনের ইঙ্গিত কি না, নাকি আরও বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস; তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, তেহরানের ঝুঁকি শুধু সক্রিয় ফল্ট লাইনের কারণেই নয়; ঘনবসতি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং দুর্বল প্রস্তুতিও পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

    তার মতে, তুলনামূলক ছোট ভূমিকম্পও রাজধানীতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। কারণ শহরটির অবকাঠামো অনেক জায়গায় দুর্বল এবং অতিরিক্ত যানজট জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমকে জটিল করে তোলে।

    প্রায় দেড় কোটির বেশি মানুষের বসবাস তেহরানে। শহরটি উত্তর তেহরান, মোশা ও রে; এই ৩টি বড় সক্রিয় ফল্ট লাইনের কাছাকাছি অবস্থান করছে। ইরানি বিশেষজ্ঞরা বহুদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, তেহরানের কাছে শক্তিশালী ভূমিকম্প হলে তা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।

    বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ ইরান এখনো ভুলতে পারেনি ২০০৩ সালের বাম ভূমিকম্পের স্মৃতি। সেই দুর্যোগে ৩০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

  • ইরান: ভাগ ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি সচল

    ইরান: ভাগ ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি সচল

    যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বারবার দাবি করেছে যে ইরানের সামরিক শক্তি ‘গুঁড়িয়ে দেওয়া’ হয়েছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের গোপন মূল্যায়ন প্রতিবেদন বলছে ভিন্ন কথা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখনো বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা রয়েছে দেশটির। গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এ–সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

    নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে, চলতি মে মাসের শুরুতে তৈরি করা ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইরান তার অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির কার্যক্ষমতা ফিরে পেয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির পাশে অবস্থিত ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টিই এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে।

    গোপন প্রতিবেদনের তথ্য জানেন এমন ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে গত ৭ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আগের তুলনায় বর্তমানে (সামগ্রিকভাবে) ইরানের প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ও ভ্রাম্যমাণ উৎক্ষেপণ যন্ত্র (মোবাইল লঞ্চার) অক্ষত রয়েছে।

    হরমুজ প্রণালির কাছে ওমান সাগরের উপকূলে ‘ভেলায়াত-৯০’ সামরিক মহড়া চলাকালে ‘নাসর’ নামের একটি দূরপাল্লার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যে আরও বলা হয়, ইরানজুড়ে মাটির নিচে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ও উৎক্ষেপণ ঘাঁটির প্রায় ৯০ শতাংশই এখন ‘আংশিক বা পুরোপুরি সচল’। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস ইরানের সামরিক সক্ষমতা ফিরে পাওয়ার এ দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী ওয়েলস বলেন, ইরান ভালো করেই বোঝে যে তাদের ‘বর্তমান পরিস্থিতি টেকসই নয়’।

    অলিভিয়া ওয়েলস আরও মন্তব্য করেন, যাঁরা ভাবছেন, ইরান তার সামরিক শক্তি পুনর্গঠন করেছে, তাঁরা হয় বিভ্রান্তিতে আছেন, না হয় ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের হয়ে কথা বলছেন। হামলা চলাকালে ট্রাম্প একের পর এক দাবি করেছিলেন যে এই হামলার ব্যাপকতা অনেক বড় এবং তা ইরানের সামরিক শক্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে। তবে যুদ্ধকালে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংবেদনশীল ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুগুলোতে কমপক্ষে ১০০টি ধাপে ধারাবাহিক পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বারবার বিজয় দাবি করা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণ প্রকাশিত হলেও তিনি তাঁর অবস্থানে অনড় রয়েছেন। গত মাসে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ মুসাভি জানিয়েছিলেন, যুদ্ধবিরতির সময় ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ যন্ত্রের সংখ্যা যুদ্ধের আগের চেয়েও বাড়িয়ে নিয়েছে।

    গত শনিবার মুসাভি বলেন, ইরানের আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তু এবং শত্রুজাহাজগুলোর দিকে তাক করা রয়েছে। চূড়ান্ত নির্দেশ পেলেই বাহিনীগুলো আঘাত হানতে প্রস্তুত।


    আরও পড়ুন · নির্ভরযোগ্য সূত্র:

  • ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ব্যাপকভাবে পুনরুদ্ধার করেছে ইরান

    ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ব্যাপকভাবে পুনরুদ্ধার করেছে ইরান

    আন্তর্জাতিকঃ

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন প্রকাশ্যে ইরানের সামরিক শক্তিকে “ধ্বংসপ্রাপ্ত” বলে দাবি করলেও, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর গোপন মূল্যায়নে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। নতুন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান তাদের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, মোবাইল লঞ্চার এবং ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনায় আবারও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে।

    গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির আশপাশে থাকা ইরানের ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টিই আবার কার্যকর অবস্থায় ফিরেছে। এসব ঘাঁটি থেকে ইরান মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও তেলবাহী জাহাজকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনেক স্থানে ইরান এখনো মোবাইল লঞ্চার ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্র স্থানান্তর করতে পারছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি উৎক্ষেপণও সম্ভব হচ্ছে। কেবল তিনটি ঘাঁটি এখনো সম্পূর্ণ অচল রয়েছে।

    ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক অবকাঠামো

    মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, ইরান এখনো তাদের প্রায় ৭০ শতাংশ মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এবং যুদ্ধপূর্ব ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের প্রায় ৭০ শতাংশ ধরে রেখেছে। এর মধ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র—দুই ধরনের অস্ত্রই রয়েছে।

    এছাড়া দেশজুড়ে থাকা ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্র আংশিক বা পুরোপুরি কার্যকর অবস্থায় ফিরেছে বলে মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ট্রাম্প প্রশাসনের দাবির সঙ্গে বিরোধ

    ট্রাম্প ও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা “চূর্ণবিচূর্ণ” হয়ে গেছে।

    মার্চে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি “ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গেছে” এবং দেশটির “সামরিকভাবে আর কিছু অবশিষ্ট নেই”। এপ্রিল মাসে হেগসেথও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ অভিযান ইরানের সামরিক শক্তিকে বহু বছরের জন্য অকার্যকর করে দিয়েছে।তবে নতুন গোয়েন্দা তথ্য এসব বক্তব্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

    অস্ত্র মজুত সংকট ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র, প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য উন্নত অস্ত্র ব্যবহার করেছে। এতে মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে চাপ তৈরি হয়েছে।

    মার্কিন সামরিক বাহিনী যুদ্ধে প্রায় ১,১০০টি দূরপাল্লার স্টেলথ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, এক হাজারের বেশি টমাহক এবং ১,৩০০টিরও বেশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব অস্ত্র পুনরায় মজুত করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

  • ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলের গোপন পরিকল্পনা ফাঁস

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলের গোপন পরিকল্পনা ফাঁস

    আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক

    মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে ইসরায়েলের নীলনকশা ফাঁস করেছেন কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আল থানি। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ কোনো আকস্মিক উত্তেজনার ফল নয়। এটি মধ্যপ্রাচ্যকে নতুনভাবে গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি ইসরায়েলি পরিকল্পনার চূড়ান্ত পরিণতি।

    সোমবার (১১ মে) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আল জাজিরার অনুষ্ঠান ‘আল মুকাবালায়’ সাক্ষাৎকারে শেখ হামাদ বলেন, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে তৈরি হওয়া সংকটই সাম্প্রতিক যুদ্ধের সবচেয়ে বিপজ্জনক ফল। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ গঠনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য একটি যৌথ প্রতিরক্ষা জোট গঠনের আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, আমরা এখন পুরো অঞ্চলের বড় ধরনের পুনর্গঠনের সাক্ষী হচ্ছি। বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন আগামী কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

    শেখ হামাদ জানান, গত বছরই তিনি সম্ভাব্য সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন এবং সামরিক হামলা এড়াতে উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

    তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত উসকে দেওয়ার পেছনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ইসরায়েলের একটি ‘কট্টরপন্থী গোষ্ঠী’ কাজ করেছে। ১৯৯০–এর দশকে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের আমল থেকেই নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুদ্ধে জড়ানোর চেষ্টা করে আসছেন।

    তিনি আরও বলেন, আগের মার্কিন প্রশাসনগুলো পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করতে দ্বিধায় ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনকে একটি ‘ভ্রম’ দেখিয়ে রাজি করাতে সক্ষম হন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝাতে সক্ষম হন যে, যুদ্ধটি হবে খুব দ্রুত ও সংক্ষিপ্ত, আর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানি সরকারের পতন হবে।

    শেখ হামাদ বলেন, এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ‘জোরপূর্বক আঞ্চলিক জোট’ এবং ‘গ্রেটার ইসরায়েলের’ ধারণা প্রচার করছেন। ইসরায়েলের ডানপন্থিদের এই পরিকল্পনায় প্রতিবেশী আরব ভূখণ্ড পর্যন্ত দেশের সীমানা সম্প্রসারণের চিন্তা রয়েছে।

  • কেন বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে চাইছেন শুভেন্দু

    কেন বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে চাইছেন শুভেন্দু

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ আর বাংলাদেশের সীমান্তের যে অঞ্চলে কাঁটাতারের বেড়া নেই, সেখানে বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফকে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যটির নতুন মন্ত্রীসভা।

    মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, এটা না করা গেলে পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা পরিবর্তন ও সুরক্ষা প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।শপথ নেওয়ার পরে সোমবারই বসেছিল নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভাপতিত্বে মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠক। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গে ভারত আর বাংলাদেশের মধ্যে থাকা আন্তর্জাতিক সীমান্তের যেসব অংশে এখনও কাঁটাতারের বেড়া নেই, সেই বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফের কাছে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর করে দেওয়া হবে ৪৫ দিনের মধ্যে।

    মন্ত্রীসভার বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী অধিকারী বলেন, আমাদের দেশের সুরক্ষার প্রশ্ন। পশ্চিমবঙ্গের সুরক্ষার প্রশ্ন এবং যে ভাবে জনবিন্যাস বদলে গেছে, আজ প্রথম দিনেই আমরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতর ও বিএসএফকে সীমান্ত সুরক্ষিত করার জন্য জমি ট্রান্সফার প্রক্রিয়ার অনুমোদন দিলাম। ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হলো। ৪৫ দিনের মধ্যে হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে।

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে জানিয়েছিলেন যে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ২,২১৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। তিনি জানান, এর মধ্যে ১,৬৫৩ কিলোমিটার সীমান্ত কাঁটাতার দেওয়া সম্পূর্ণ হয়েছে। তবে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গে ৫৬৩ কিলোমিটার সীমান্ত কাঁটাতার দেওয়া বাকি রয়েছে।ওই ভাষণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার অনুপ্রবেশকারীদের সুরক্ষা দেওয়ার কাজ করছে।

    নির্বাচনী প্রচারকালে অমিত শাহ-র দফতর থেকে এক্স হ্যান্ডেলে লেখা হয়েছিল যে, পশ্চিমবঙ্গে সীমান্ত সুরক্ষিত করতে ৬০০ একর জমির প্রয়োজন, তা বিএসএফকে দিচ্ছে না মমতা ব্যানার্জী, বিজেপি ক্ষমতায় এলেই সেই জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

    বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই তুলছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও একই অভিযোগ তোলেন।

    অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগের ক্ষেত্রে বলে আসছিল যে, সীমান্ত আমাদের বিষয় নয়, কেন্দ্র সরকারের বিষয়। নির্বাচনের আগে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরে বাদ গিয়েছিল প্রায় ৯১ লাখ নাম। কঙ্গনা রানাওয়াত-সহ বহু বিজেপি সংসদ সদস্য দাবি করেছিলেন এই বাদ যাওয়া সবাই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী।

  • পশ্চিমবঙ্গে চারদিনে ৩৪ মুসলিম সম্পত্তিতে হামলা

    পশ্চিমবঙ্গে চারদিনে ৩৪ মুসলিম সম্পত্তিতে হামলা

    আর্জাতিক নিউজ ডেস্ক

    পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী পরিস্থিতিতে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক সহিংসতার চিত্র উঠে এসেছে। নাগরিক অধিকার সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অফ সিভিল রাইটস’ (এপিসিআর)-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর মাত্র চার দিনে (৪ মে থেকে ৭ মে) রাজ্যের অন্তত ৮টি জেলায় মুসলিম সম্প্রদায়ের ৩৪টি সম্পত্তিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

    প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এই সহিংসতা কেবল একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল না। কোচবিহার থেকে শুরু করে হাওড়া, বারাসাত, মুর্শিদাবাদ, মালদা, বীরভূম এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এমনকি কলকাতা মেট্রো অঞ্চলেও পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় মসজিদ, ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং মুসলিম মালিকানাধীন হোটেলসহ প্রায় ৫৪টি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    এই সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত দুজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কোচবিহারের গোসাইনিমারিতে একটি মসজিদ রক্ষা করতে গিয়ে এক মুসলিম ব্যক্তি নিহত হন। এ সময় হামলাকারীরা উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অনেক এলাকায় সংখ্যালঘুদের এলাকা ছাড়ার হুমকি এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটেছে।

    আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশ্যে মুসলিম মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বারাসাতে দুটি হোটেল পুড়িয়ে দেওয়া ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে মাংসের দোকান বন্ধ রাখতে চাপ সৃষ্টি এবং গবাদি পশুর হাটে হামলার অভিযোগ উঠেছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বুলডোজার মিছিল বের করে আতঙ্ক সৃষ্টির পাশাপাশি বিভিন্ন মুসলিম নামযুক্ত স্থানের নাম পরিবর্তনের চেষ্টাও চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় ও কর্মীদের বাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়।

  • বিশ্ববাজারে আবার বেড়েছে তেলের দাম

    বিশ্ববাজারে আবার বেড়েছে তেলের দাম

    যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটনের দেওয়া প্রস্তাবের বিপরীতে তেহরানের পাঠানো জবাব ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবার বেড়েছে।

    রোববার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে প্রায় ৯৮ দশমিক ৪৮ ডলার।

    জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ‘ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সর্বশেষ প্রস্তাবে একটি ‘অত্যন্ত স্পষ্ট রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সেই প্রস্তাবের জবাব দিলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেটাকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

    সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কোনো শান্তি চুক্তি না হওয়ায় বিশ্বের মোট তেল–গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, যেসব দেশ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করছে, তাদের জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করার সময় ‘সমস্যার সম্মুখীন’ হবে।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর তাদের নৌ অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। গত শুক্রবার অবরোধ অমান্য করার চেষ্টা করা ইরানি পতাকাবাহী তেলবাহী দুটি ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

    বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের দাম যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি প্রায় ২০ ডলার এবং মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০ ডলার বেশি। তেলের এই উচ্চমূল্যের কারণে আমেরিকানদের বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে।

    আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, দেশটিতে প্রতি গ্যালন তেলের গড় দাম এখন ৪ দশমিক ৫২ ডলার। যুদ্ধ শুরুর আগে এটি ৩ ডলারের কম ছিল।

    বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই প্রত্যাখ্যানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি আরো দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্ব তেলের বাজারে। আল-জাজিরা, সিএনএন

  • যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রস্তাবের জবাব দিল ইরান

    যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রস্তাবের জবাব দিল ইরান

    মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধের জন্য প্রস্তাবিত একটি মার্কিন প্রস্তাবের জবাব পাঠিয়েছে ইরান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ।

    রোববার আইআরএনএ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী আলোচনার প্রথম ধাপে সংঘাত বন্ধের ওপর জোর দেওয়া হবে। ইসলামাবাদ থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক কামাল হায়দার বলেছেন, পাকিস্তান ইরানের জবাব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মার্কিন প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের জবাব পাওয়ার বিষয়টি পাকিস্তানিরা নিশ্চিত করছে।

    তিনি আরও বলেন, বার্তা পাওয়ার পর ওয়াশিংটন থেকে কী প্রতিক্রিয়া আসে, তার ওপরই নির্ভর করছে এই সংঘাত নিরসনের ভবিষ্যৎ। যেহেতু পাকিস্তান সফলভাবে ইরানের এই বার্তা বা জবাবটি গ্রহণ করেছে, তাই এখন পরবর্তী পদক্ষেপগুলোর দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।

  • ভিয়েনার সরকারি স্কুলে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে

    ভিয়েনার সরকারি স্কুলে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে

    ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার সরকারি স্কুলগুলোতে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শহরের শিক্ষা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি স্কুলের মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৪২ শতাংশই মুসলিম।

    অস্ট্রিয়ান দৈনিক ‘ডাই প্রেস’ এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিয়েনার সরকারি স্কুলগুলোতে মোট প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে মুসলিম শিক্ষার্থীর হার সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে ধর্মীয় পরিচয়হীন শিক্ষার্থী ২৩ শতাংশ, ক্যাথলিক ১৭ শতাংশ এবং অর্থোডক্স খ্রিস্টান ১৪ শতাংশ।

    বেলজিয়াম ভিত্তিক গণমাধ্যম ব্রুসেলস সিগন্যালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি মাধ্যমিক ও পলিটেকনিক স্কুলগুলোতে মুসলিম শিক্ষার্থীর হার আরও বেশি। ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪৯ শতাংশে পৌঁছেছে। এছাড়া ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মুসলিম শিক্ষার্থীর হার প্রায় ৩৯ শতাংশ।

    একীকরণ বিশেষজ্ঞ কেনান গুঙ্গোর বলেন, ২০১৫ সালের পর সিরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরাকসহ বিভিন্ন মুসলিমপ্রধান দেশ থেকে অস্ট্রিয়ায় বড় আকারের অভিবাসনের কারণে এই পরিবর্তন দ্রুত ঘটেছে। তাঁর মতে, এসব অভিবাসী পরিবারের জন্মহার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় স্কুলের শিক্ষার্থী কাঠামোতেও এর প্রভাব পড়ছে।

    তিনি আরও বলেন, আগে অস্ট্রিয়ার অধিকাংশ মুসলিম ছিল তুর্কি বংশোদ্ভূত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরব দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আরব মুসলিম সমাজে ধর্মীয় অনুশীলন তুলনামূলক বেশি রক্ষণশীল হওয়ায় শিক্ষার্থীদের সামাজিক আচরণ ও মূল্যবোধেও এর প্রভাব পড়ছে।

  • ইরানের ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় সংরক্ষণের প্রস্তাব পুতিনের

    ইরানের ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় সংরক্ষণের প্রস্তাব পুতিনের

    রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত পরিবহন ও সংরক্ষণ করতে মস্কো প্রস্তুত। মস্কোতে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে পুতিন এ কথা বলেন। তিনি বলেন, রাশিয়া ২০১৫ সালে ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম স্থানান্তর করেছিল, মস্কো সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি করতে প্রস্তুত।

    সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধে জড়িত সব পক্ষই তেহরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশটির বাইরে স্থানান্তরের বিষয়ে একমত হয়েছিল বলে জানান পুতিন। তিনি বলেন, ‘কিন্তু পরে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান কঠোর করে এবং দাবি করে যে (ইরানের) ইউরেনিয়াম শুধু মার্কিন ভূখণ্ডেই পরিবহন করতে হবে। এরপর ইরানও কঠোর অবস্থানে চলে যায়।’

    মস্কো ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে জানিয়ে পুতিন আরও বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এ যুদ্ধ শেষ হবে বলে তিনি আশা করছেন। ইরান তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

  • ইউক্রেন যুদ্ধ শেষের পথে, কেন বললেন পুতিন

    ইউক্রেন যুদ্ধ শেষের পথে, কেন বললেন পুতিন

    ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হতে চলেছে, এমনটাই মনে হচ্ছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের। মনের সে কথা মুখেও বলেছেন তিনি। আর এর কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি বলেছিলেন, এই যুদ্ধে রাশিয়া বিজয়ী হবে।

    রাশিয়ার ভিক্টরি ডে বা বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার মস্কোর রেড স্কয়ারে সামরিক কুচকাওয়াজে পুতিন ইউক্রেনে লক্ষ্য অর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানিকে হারানোর জাতীয় গৌরবের কথা স্মরণ করে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ‘জয় সব সময় আমাদেরই হয়েছে, আমাদেরই হবে।’ওই কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পর ক্রেমলিনে এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেন, ‘আমার মনে হয়, বিষয়টি শেষের দিকে এগোচ্ছে।’রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের দিকে ইঙ্গিত করেই এ কথা বলেন পুতিন। তবে কীভাবে তা শেষ হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।

    ক্রেমলিনে বক্তব্য দেওয়ার সময় পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধের কারণ সম্পর্কে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি ‘গ্লোবালিস্ট’ পশ্চিমা নেতাদের দোষারোপ করে বলেন, ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতনের পর তাঁরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে ন্যাটো পূর্ব দিকে আর সম্প্রসারিত হবে না, কিন্তু পরে তাঁরা ইউক্রেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রভাব বলয়ে আনার চেষ্টা করেন।

    চার বছরের বেশি সময় ধরে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। ইউক্রেনের যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটে যোগ দেওয়ার আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রুশ অভিযানের মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের শুরু হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় উদ্‌যাপনে প্রতিবছর ৯ মে বিজয় দিবস পালন করে রাশিয়া। বার্ষিক এ আয়োজনের মাধ্যমে রাশিয়া ওই যুদ্ধে নিহত ২ কোটি ৭০ লাখ সোভিয়েত নাগরিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।

    এই যুদ্ধ রাশিয়া ও পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্ককে এমন এক গুরুতর সংকটে ফেলেছে, যা ১৯৬২ সালের কিউবার মিসাইল সংকটের পর সবচেয়ে ভয়াবহ বলে বিবেচিত হয়। যুদ্ধের শুরুর দিকে অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, বিশ্ব পারমাণবিক যুদ্ধের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে।

    পুতিন এই যুদ্ধকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত বলেও উল্লেখ করেন।ইউরোপের জন্য নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থার বিষয়ে আলোচনায় নিজে প্রস্তুত বলেও জানান পুতিন। এ ক্ষেত্রে তিনি আলোচনার জন্য পছন্দ করছেন জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর গেরহার্ড শ্রোয়েডারকে।

    রাশিয়ার বিজয় দিবস উপলক্ষে এখন তিন দিনের যুদ্ধবিরতি চলছে। ৯ মে শুরু হওয়া এই যুদ্ধবিরতি ১১ মে শেষ হবে। গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন। ক্রেমলিন বলেছে, এ যুদ্ধ অবসানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় যে শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছিল, তা বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।

  • তামিলনাড়ু হবে ধর্মনিরপেক্ষ, আমি হবো ক্ষমতার কেন্দ্র: বিজয়

    তামিলনাড়ু হবে ধর্মনিরপেক্ষ, আমি হবো ক্ষমতার কেন্দ্র: বিজয়

    তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর চেন্নাইয়ে রোববার প্রথমবারের মতো ভাষণ দিয়েছেন থালাপতি বিজয়। এ সময় তিনি নিজেকে ‘কমন ম্যান’ বা সাধারণ মানুষ হিসেবে তুলে ধরেন। নিজের উচ্চ বংশ পরিচয় না থাকার কথা উল্লেখ করে জানান, তৃণমূল থেকে উঠে এসেছেন বলেই মানুষ তাঁকে গ্রহণ করেছে।

    ভাষণে প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষতা, সামাজিক ন্যায়বিচারের নতুন যুগ শুরুর অঙ্গীকার করেন বিজয়। পাশাপাশি বলেন, তিনি মানুষকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধোঁকা দেবেন না। কাজের মূল্যায়নের জন্য জনগণের কাছে থেকে কিছুটা সময়ও চেয়েছেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া ৫১ বছর বয়সী এই মুখ্যমন্ত্রী।

    থালাপতি বিজয় বলেন, ‘আমি ছাড়া ক্ষমতার আর কোনো কেন্দ্র থাকবে না। আমিই হবো ক্ষমতার একমাত্র কেন্দ্র।’ এর মাধ্যমে তিনি বুঝিয়েছেন, তাঁর সরকারের সব নীতির জন্য তিনি নিজে দায়বদ্ধ থাকবেন। ‘ক্ষমতার কেন্দ্র’ এমন বক্তব্যের মাধ্যমে জোট সঙ্গীদের চাপ বা হুকুম তামিল না করার দিকেও ইঙ্গিত দিয়েছেন বিজয়।

    মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় বিজয়কে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের সঙ্গে মিলে কাজ করবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

    বিজয় সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায় টিভিকের বিশ্বস্ত নেতারাই প্রাধান্য পেয়েছেন। তবে রাহুল গান্ধীর কংগ্রেস থেকে কোনো নেতা এই মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। সরকার গঠনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য যখন লড়াই চলছিল, তখন বিজয়ের দলের প্রতি প্রথম সমর্থনের হাত বাড়িয়েছিল কংগ্রেস।

    মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম দিন দুটি নথিতে স্বাক্ষর করেছেন বিজয়। এগুলো হলো সাধারণ মানুষের জন্য ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সুবিধা দেওয়া এবং নারীদের নিরাপত্তার জন্য একটি বিশেষ বাহিনী গঠন করা।

    বিজয় জানিয়েছেন, সরকারের পরবর্তী কাজগুলো শুরু করার আগে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তিনি রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতির ওপর একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের কথা ভাবছেন। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, নতুন মুখ্যমন্ত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ ৬২৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২১৩ কোটি টাকা সেভিংস অ্যাকাউন্টে এবং ১০০ কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (এফডি) হিসেবে বিনিয়োগ করা আছে।

  • কাতার-কুয়েত-আরব আমিরাতে আবারও ড্রোন হামলা

    কাতার-কুয়েত-আরব আমিরাতে আবারও ড্রোন হামলা

    আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক:

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত জোটের মধ্যকার নাজুক যুদ্ধবিরতি নতুন করে উত্তেজনার মুখে পড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, দেশটির দিকে ছোড়া দুটি ইরানি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। এর আগে রাতভর কুয়েতমুখী ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনায় যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

    অন্যদিকে কাতারের উপকূলের কাছে একটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ অজ্ঞাত উৎস থেকে ছোড়া প্রজেক্টাইলে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে আগুন ধরে যায়। এ তথ্য জানিয়েছে ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস। ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে সংস্থাটির বিবৃতি উল্লেখ করা হয়।

    ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর এই সংস্থাটি জানায়, আঘাতের ফলে ছোট আকারের আগুন লাগলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

    গত এক সপ্তাহ ধরে পারস্য উপসাগর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো বারবার হামলার মুখে পড়ছে, যদিও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। পরিস্থিতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক রুটে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এসব হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করা হচ্ছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো স্বীকারোক্তি আসেনি।

  • পাকিস্তানে বোমা হামলায় ১৫ পুলিশ নিহত

    পাকিস্তানে বোমা হামলায় ১৫ পুলিশ নিহত

    পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখওয়া প্রদেশে ভয়াবহ গাড়ি বোমা হামলায় ১৫ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় আছে আরও তিনজন। বিস্ফোরণের পর বন্দুকধারীরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

    বান্নু শহরের উপকণ্ঠে একটি পুলিশ ফাঁড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ কর্মকর্তা সাজ্জাদ খান জানিয়েছেন, বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি দিয়ে হামলা চালানো হলে ফাঁড়ির ছাদ ধসে পড়ে। সে সময় সেখানে থাকা পুলিশ সদস্যরা হতাহত হন।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক কর্মকর্তা জানান, বিস্ফোরণের পর জঙ্গিরা ফাঁড়ির ভেতরে ঢুকে পুলিশ সদস্যদের ওপর গুলি চালায়। পরে সহায়তায় আসা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপরও অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

    পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, হামলায় ড্রোনও ব্যবহার করেছে জঙ্গিরা। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ও অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে নেয়। বান্নুর সরকারি হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছ। ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদীন নামের একটি জোট হামলার দায় স্বীকার করেছে।

    এ হামলার পর পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে জঙ্গিরা পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তবে তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, জঙ্গিবাদ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা।

  • ভিয়েনার সরকারি স্কুলে প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী মুসলিম

    ভিয়েনার সরকারি স্কুলে প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী মুসলিম

    ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার সরকারি স্কুলগুলোতে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শহরের শিক্ষা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি স্কুলের মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৪২ শতাংশই মুসলিম।

    অস্ট্রিয়ান দৈনিক ‘ডাই প্রেস’ এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিয়েনার সরকারি স্কুলগুলোতে মোট প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে মুসলিম শিক্ষার্থীর হার সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে ধর্মীয় পরিচয়হীন শিক্ষার্থী ২৩ শতাংশ, ক্যাথলিক ১৭ শতাংশ এবং অর্থোডক্স খ্রিস্টান ১৪ শতাংশ।

    বেলজিয়াম ভিত্তিক গণমাধ্যম ব্রুসেলস সিগন্যালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি মাধ্যমিক ও পলিটেকনিক স্কুলগুলোতে মুসলিম শিক্ষার্থীর হার আরও বেশি। ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪৯ শতাংশে পৌঁছেছে। এছাড়া ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মুসলিম শিক্ষার্থীর হার প্রায় ৩৯ শতাংশ।

    একীকরণ বিশেষজ্ঞ কেনান গুঙ্গোর বলেন, ২০১৫ সালের পর সিরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরাকসহ বিভিন্ন মুসলিমপ্রধান দেশ থেকে অস্ট্রিয়ায় বড় আকারের অভিবাসনের কারণে এই পরিবর্তন দ্রুত ঘটেছে। তাঁর মতে, এসব অভিবাসী পরিবারের জন্মহার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় স্কুলের শিক্ষার্থী কাঠামোতেও এর প্রভাব পড়ছে।

    তিনি আরও বলেন, আগে অস্ট্রিয়ার অধিকাংশ মুসলিম ছিল তুর্কি বংশোদ্ভূত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরব দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আরব মুসলিম সমাজে ধর্মীয় অনুশীলন তুলনামূলক বেশি রক্ষণশীল হওয়ায় শিক্ষার্থীদের সামাজিক আচরণ ও মূল্যবোধেও এর প্রভাব পড়ছে।

  • আরাকান আর্মির হাত থেকে ১৪ জেলেকে ফিরিয়ে আনলো বিজিবি

    আরাকান আর্মির হাত থেকে ১৪ জেলেকে ফিরিয়ে আনলো বিজিবি

    মিয়ানমারের আরাকান আর্মির হাতে অপহরণের শিকার ১৪ জেলেকে ফিরিয়ে এনেছে বিজিবি। তাদের মধ্যে ১৩ জন বাংলাদেশি ও একজন ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গা।টেকনাফে দায়িত্বরত বিজিবির-২ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, শনিবার বিজিবির একটি প্রতিনিধিদল নাফ নদীর শূন্য লাইনে আরাকান আর্মির কাছ থেকে মোট ১৪ জন জেলেকে গ্রহণ করে টেকনাফ জেটি ঘাটে ফেরত নিয়ে আসে। জেলেদের তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    বিজিবি বলছে, ২০২৫-২০২৬ সালের বিভিন্ন সময়ে বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকজন বাংলাদেশি জেলে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের পানিসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারের পানিসীমায় প্রবেশ করলে তাদেরকে আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে যায়। এরপরে জেলেদের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন ক্যাম্পে স্থানান্তর করা হয় এবং বিভিন্ন মেয়াদে তারা সেখানে আটক অবস্থায় থাকে।

    এ বিষয়ে বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিজিবি সর্বদা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। মানবিক সংকট মোকাবিলায় বিজিবির পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

  • পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে শপথ নিলেন পাঁচ মন্ত্রী।

    পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে শপথ নিলেন পাঁচ মন্ত্রী।

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে একই মঞ্চে শপথ নিয়েছেন রাজ্যের পাঁচজন মন্ত্রীও।

    কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আজ শনিবার বসেছিল শপথ অনুষ্ঠান। স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টার কিছু পর রাজ্যপাল আর এন রবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে শপথ পড়ান। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করল বিজেপি।

    মুখ্যমন্ত্রীর পর একে একে শপথ নেন মন্ত্রীরা। তাঁরা হলেন—বিজেপি বিধায়ক দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক ও ক্ষুদিরাম টুডু

    এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। খড়্গপুর সদর থেকে জয়ী হয়েছেন দিলীপ ঘোষ। এ ছাড়া আসানসোল দক্ষিণ থেকে অগ্নিমিত্রা পাল, বনগাঁ উত্তর থেকে অশোক কীর্তনিয়া, বাঁকুড়ার রানিবাঁধ থেকে ক্ষুদিরাম টুডু ও কোচবিহারের মাথাভাঙা থেকে নিশীথ প্রামাণিক জয়ী হয়েছেন। ক্ষুদিরাম টুডু সাঁওতালি ভাষায় শপথ পড়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীসহ বাকিরা বাংলায় শপথবাক্য পাঠ করেন। এই পাঁচ মন্ত্রীর কে কোন দপ্তর সামলাবেন, তা এখনো জানানো হয়নি।

    পশ্চিমবঙ্গের নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন ভারতের বিজেপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিং, শিবরাজ সিং চৌহান ও জেপি নাড্ডাকে শপথ মঞ্চে দেখা গেছে। শপথ শেষে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অভিবাদন জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে ছিলেন উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ, অন্ধ্রপ্রদেশের চন্দ্রবাবু নাইডু, মহারাষ্ট্রের দেবেন্দ্র ফাডনবীশ, আসামের হিমন্ত বিশ্বশর্মা, ত্রিপুরার মানিক সাহা, দিল্লির রেখা গুপ্ত, বিহারের সম্রাট চৌধুরী, উত্তরাখণ্ডের পুষ্কর সিং ধামি প্রমুখ

    আরও ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি, বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীসহ কেন্দ্র ও রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারা। কলকাতা আর দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অনেকে শপথ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন। রাজ্যের সব জেলা থেকে বিজেপির নেতা-কর্মীরাও এসেছেন।

  • মালয়েশিয়ায় নিখোঁজের পর ময়লার ভাগারে মিলল কুমিল্লার রবিনের লাশ

    মালয়েশিয়ায় নিখোঁজের পর ময়লার ভাগারে মিলল কুমিল্লার রবিনের লাশ

    সোমবার (৪ মে) সকালে কুয়ালালামপুরের বুকিত জলিল এলাকায় একটি চীনা নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গিয়ে নিখোঁজ হন রবিন। পরদিন মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে থাকা একটি ময়লার ড্রাম্পার থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরানোর আশায় মালয়েশিয়ায় পাড়ি দেন কুমিল্লার তিতাস উপজেলার রবিউল হাসান রবিন (৩৮)। কিন্তু তিন বছরের কঠোর পরিশ্রম শেষে তার সেই স্বপ্ন এখন কফিনে বন্দী। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে কর্মস্থল থেকে নিখোঁজের একদিন পর একটি ময়লার ড্রাম্পার থেকে রবিনের লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। নিহত রবিন উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের কালাইগোবিন্দপুর গ্রামের মরহুম আব্দুর রহমানের ছেলে।

    পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৪ মে) সকালে কুয়ালালামপুরের বুকিত জলিল এলাকায় একটি চীনা নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গিয়ে নিখোঁজ হন রবিন। পরদিন মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে থাকা একটি ময়লার ড্রাম্পার থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বর্তমানে তার লাশ মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে।

    রবিনের পরিবারের অভিযোগ, এটি কোনো সাধারণ মৃত্যু নয়; বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। নিহত রবিনের শ্বশুর মো: রশিদ মিয়া জানান, মাত্র ১৫ দিন আগে রবিন শ্রমিকদের বেতনের হিসাব রাখার দায়িত্ব পান। এরপর থেকেই কিছু সহকর্মীর সাথে তার বিরোধ তৈরি হয়। সেই প্রতিহিংসা থেকেই তাকে হত্যা করে লাশ ময়লার ড্রাম্পারে ফেলে রাখা হয়েছে বলে তাদের ধারণা।

    নিহতের বড় ভাই খোকন জানান, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কলিং ভিসায় রবিন মালয়েশিয়ায় যায়। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার। রবিনের ১৫ বছরের ছেলে মিহাদ, পাঁচ বছরের মেয়ে রাইসা ও মাত্র দুই বছরের ছোট ছেলে রোহানের ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকার। স্বামীর শোক সইতে না পেরে বারবার মূর্ছা যাচ্ছে রবিনের স্ত্রী ফেরদৌসী আক্তার।

  • চীনে সাবেক দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ফাঁসির আদেশ

    চীনে সাবেক দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ফাঁসির আদেশ

    চীনের সামরিক আদালত সাবেক দু’জন প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে স্থগিত মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে। সাবেক ওই দুই মন্ত্রী হলেন ওয়েই ফেংহে, লি শ্যাংফু। প্রথমজনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ জন্য তাকে দু’বছর স্থগিতাদেশ সহ মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে লি শ্যাংফুর বিরুদ্ধে ঘুষ দেয়া এবং নেয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ফলে তাকেও একই সাজা দেয়া হয়েছে। চীনে এমন স্থগিত সাজার বেশির ভাগই লঘু করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড করা হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

    প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তার সিনিয়র কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেয়ার যে উদ্যোগ নিয়েছেন এই শাস্তি তারই সর্বশেষ সংযোজন। শি বলেছেন, এক দশকেরও বেশি সময় আগে তার দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। তা চলমান আছে। এতে জানুয়ারিতে চীনের সর্বোচ্চ র‌্যাংকের জেনারেল ও সামরিক নেতৃত্বকে সরিয়ে দেয়া হয়। এক বছর আগেও চীনের শক্তিশালী সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনে ১১ জন সদস্য ছিলেন। এখন প্রেসিডেন্ট শি বাদে এর সদস্য সংখ্যা মাত্র একজন। অভিযানটি দুর্নীতিবিরোধী হলেও রাজনৈতিক অভিজাতদের কাছ থেকে রাজনৈতিক আনুগত্য ও নিয়ন্ত্রণকে সংহত করার একটি উপায় হিসেবে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে ব্যবহার করছেন শি জিনপিং।

    সর্বশেষ বৃহস্পতিবার যে দুই সাবেক মন্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়া হয়েছে তাদের কোনো পলিসি বা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে রাজনৈতিক মতবিরোধ ছিল কিনা তা স্পষ্ট নয়। এর মধ্যে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ওয়েই ফেংহে। এরপর তার স্থলাভিষিক্ত হন লি শ্যাংফু। মাত্র কয়েক মাস দায়িত্ব পালন করার পর তিনি জনগণের চোখের আড়ালে চলে যান। ২০২৩ সালের অক্টোবরে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। লি শ্যাংফু একজন ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ হিসেবে তার ক্যারিয়ারের বেশির ভাগ সময় কাটান। এছাড়া চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি’র ক্রয় শাখায়ও দায়িত্ব পালন করেন। রাশিয়ার কাছ থেকে সামরিক হার্ডওয়্যার কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ ও আর্থিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েন তিনি।

    ২০২৪ সালে তাদের দু’জনকেই কমিউনিস্ট পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর মধ্য দিয়ে তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে রাষ্ট্র। লি শ্যাংফুর স্থলাভিষিক্ত ডং ডুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তাকে শক্তিধর সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন নিয়োগ করেনি। এই কমিটি সামরিক বাহিনী তদারকি করে।

  • পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ভারতের

    পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ভারতের

    পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে ভারত। শুক্রবার সন্ধ্যায় ওডিশা উপকূলে দেশটির প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) এই উৎক্ষেপণের কাজ পরিচালনা করে।

    ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার ওডিশা উপকূলে ডিআরডিও এবং ভারতীয় বিমানবাহিনী যৌথভাবে ‘ট্যাকটিক্যাল অ্যাডভান্সড রেঞ্জ অগমেন্টেশন’ (টিএআরএ) নামে এই সিস্টেমের প্রথম ফ্লাইট ট্রায়াল সম্পন্ন করেছে। এটি ভারতের প্রথম নিজস্ব ‘মডুলার রেঞ্জ এক্সটেনশন কিট’, যা সাধারণ বোমাকে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদী অস্ত্রে পরিণত করতে সক্ষম।

    প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, পরীক্ষা করা ক্ষেপণাস্ত্রটি দেখতে ‘অগ্নি-৬’-এর মতো না হলেও এটি নিশ্চিতভাবেই আইসিবিএম শ্রেণির। তবে ডিআরডিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরীক্ষার ঘোষণা দেয়নি। এর আগে এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, ভারত শিগগির ১০ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার আইসিবিএম পরীক্ষা করতে যাচ্ছে।

    যদি ভারত সত্যিই এ সক্ষমতা অর্জন করতে পারে, তাহলে তারা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের যে কোনো দেশে হামলা করতে পারবে। এখন পর্যন্ত কেবল যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়ারই ভূমি থেকে নিক্ষেপযোগ্য আইসিবিএম আছে বলে জানা যায়, যাদের পাল্লা ১২ হাজার কিলোমিটারের বেশি।

    এই পরীক্ষার কয়েকদিন আগেই ভারতের ডিআরডিও-র চেয়ারম্যান বলেছিলেন, অগ্নি-৬ ক্ষেপণাস্ত্র চূড়ান্ত করার সব প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি রয়েছে, সরকারের অনুমোদন পেলেই তারা এ ক্ষেপণাস্ত্র বানানোর পথে এগিয়ে যাবেন।

    গত বুধবার ক্ষমতাসীন দল বিজেপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ অগ্নি-৬ ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করে বড় ইঙ্গিত দিয়েছিল। সেখানে বলা হয়, ‘১০ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লা এবং এমআইআরভি প্রযুক্তিসহ অগ্নি-৬ ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত। এই ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের নিরাপত্তাকে দুর্ভেদ্য করবে এবং আমাদের বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশগুলোর কাতারে নিয়ে যাবে।’

  • ইরান ইস্যুতে হতাশা, ভেনিজুয়েলার ইউরেনিয়াম লুটে নিলেন ট্রাম্প

    ইরান ইস্যুতে হতাশা, ভেনিজুয়েলার ইউরেনিয়াম লুটে নিলেন ট্রাম্প

    ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা থেকে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

    শুক্রবার (৮ মে) মার্কিন জ্বালানি বিভাগ এক ঘোষণায় জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘চূড়ান্ত নেতৃত্বের’ কারণে কারাকাসের একটি পুরোনো গবেষণা চুল্লি থেকে ১৩.৫ কেজি (প্রায় ৩০ পাউন্ড) ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ভেনেজুয়েলার এই যৌথ অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের জন্য বড় জয় হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন।

    আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, একটি অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল অভিযানের মাধ্যমে এই ইউরেনিয়াম স্থল ও জলপথে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে উত্তর আমেরিকায় পরিবহন করা হয়েছে। কারাকাস থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরের একটি স্থান থেকে সংগৃহীত এই তেজস্ক্রিয় পদার্থটি বর্তমানে দক্ষিণ ক্যারোলিনায় মার্কিন জ্বালানি বিভাগের একটি কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।

    মার্কিন ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রশাসক ব্র্যান্ডন উইলিয়ামস এই পদক্ষেপকে একটি ‘পুনরুদ্ধারকৃত ও নবায়িত’ ভেনেজুয়েলার সংকেত হিসেবে অভিহিত করেছেন।

    উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের বিতর্কিত নির্দেশের পর কারাকাসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের শত্রুতা কাটিয়ে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে হোয়াইট হাউস।

    তাদের মতে, নির্বাসিত বিরোধী নেত্রী ও নোবেলজয়ী মারিয়া করিনা মাচাদোকে পাশ কাটিয়ে রদ্রিগেজের সাথে সমঝোতা করা হতাশাজনক। এছাড়া গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেহরানের হাতে থাকা ৪০৮ কেজি উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করার লক্ষ্য থাকলেও, এখন পর্যন্ত সেই চেষ্টায় ট্রাম্প সফল হতে পারেননি। সেই তুলনায় ভেনেজুয়েলার এই অর্জন নেহাতই নগণ্য বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।

  • খার্গ দ্বীপে ব্যাপক তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

    খার্গ দ্বীপে ব্যাপক তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

    আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক:

    ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের আশপাশের সমুদ্র এলাকায় বড় ধরনের তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য জানিয়েছেন পরিবেশ ও জ্বালানি বিশ্লেষকেরা।

    ইউরোপীয় ইউনিয়নের কপারনিকাস সেন্টিনেল-১, সেন্টিনেল-২ ও সেন্টিনেল-৩ স্যাটেলাইটে ৬ থেকে ৮ মের মধ্যে ধারণ করা ছবিতে খার্গ দ্বীপের পশ্চিমে বিস্তীর্ণ জলরাশিতে ধূসর-সাদা রঙের একটি স্তর দেখা গেছে।

    পরিবেশবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কনফ্লিক্ট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট অবজারভেটরির গবেষক লিওন মোরল্যান্ড জানিয়েছেন, ছবিতে দেখা স্তরটির আকৃতি তেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর বিস্তৃতি প্রায় ৪৫ বর্গকিলোমিটার হতে পারে।

    জলবায়ু ও জ্বালানি বিশ্লেষণ সংস্থা ডাটা ডেস্কের সহ-প্রতিষ্ঠাতা লুই গডার্ডও একই ধরনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধ শুরুর পর এটিই সবচেয়ে বড় তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা হতে পারে।

    তবে কী কারণে এ তেল ছড়িয়ে পড়েছে বা কোথা থেকে এর উৎস, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গবেষকদের মতে, সর্বশেষ স্যাটেলাইট চিত্রে নতুন করে তেল নিঃসরণের কোনো স্পষ্ট চিহ্ন দেখা যায়নি।

    ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ খার্গ দ্বীপের মাধ্যমে হয়ে থাকে। এর বেশিরভাগ তেল চীনে রপ্তানি করা হয়। যুদ্ধ চলাকালে এর আগে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, তারা দ্বীপটিতে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

    চলমান সংঘাতের কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে শত শত জাহাজ আটকা পড়েছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে

  • মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন: আড়ালে থেকে রণকৌশল সাজাচ্ছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা !

    মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন: আড়ালে থেকে রণকৌশল সাজাচ্ছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা !

    মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার পর্যালোচনা অনুযায়ী, ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি যুদ্ধ কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে বিভক্ত ইরানি প্রশাসনে কার হাতে কতটা ক্ষমতা রয়েছে, তা এখনো অস্পষ্ট। তবে একাধিক গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যুদ্ধ অবসানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা কীভাবে পরিচালিত হবে, তা হয়তো নেপথ্যে থেকে ঠিক করে দিচ্ছেন খামেনিই।

    যুদ্ধের শুরুতে এক হামলায় তার বাবা এবং দেশের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক নেতা নিহত হয়েছেন। মোজতবা খামেনি নিজেও গুরুতর আহত হন। যার ফলে তার সুস্থতা এবং ইরানি নেতৃত্বের কাঠামোতে তার ভূমিকা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।

    সূত্রমতে, ট্রাম্প প্রশাসন সংঘাতের একটি কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মতে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বোমাবর্ষণের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে হামলায় ইরানের উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা অক্ষত রয়েছে এবং মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও আরো কয়েক মাস টিকে থাকার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।

    যে হামলায় তিনি আহত হয়েছিলেন, তার কয়েকদিন পরই খামেনিকে তার বাবার স্থলাভিষিক্ত করে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা তার অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

    সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এই অনিশ্চয়তার একটি কারণ হলো খামেনি যোগাযোগের জন্য কোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার করেন না। বরং এর পরিবর্তে তিনি কেবল তাদের সঙ্গেই যোগাযোগ করেন যারা তার সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পারেন অথবা বার্তাবাহকের মাধ্যমে বার্তা পাঠান।

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের প্রোটোকল প্রধান মাজাহের হোসেইনি শুক্রবার বলেছেন, খামেনি তার আঘাত থেকে সেরে উঠছেন এবং সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।

    হোসেইনি ইরানের এক জনসমাবেশে বলেন, ‘শত্রুরা নানা ধরনের গুজব ও মিথ্যা দাবি ছড়াচ্ছে। তারা তাকে দেখতে ও খুঁজে বের করতে চায়, কিন্তু জনগণকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং তাড়াহুড়ো করা উচিত নয়। সঠিক সময়ে তিনি আপনাদের সঙ্গে কথা বলবেন।’


    আরও পড়ুন · নির্ভরযোগ্য সূত্র:

  • ইরানকে মারণাস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে রাশিয়া

    ইরানকে মারণাস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে রাশিয়া

    যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির মোকাবেলায় ইরানকে অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে রাশিয়া। সম্প্রতি এমন কিছু তথ্য সামনে এসেছে যা থেকে বোঝা যায়, মস্কো তেহরানকে বিপুল পরিমাণে নতুন নতুন প্রযুক্তির’ অস্ত্র সরবরাহ করেছে। এসব অস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন ও তাদের মিত্র বাহিনীর ওপর বড় ধরনের আঘাত হানতে সক্ষম।

    গোয়েন্দা রিপোর্ট দাবি করছে, রুশ প্রযুক্তির কারণেই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের রণকৌশলগুলো ব্যর্থ হচ্ছে। জানা গেছে, এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের অবস্থান শনাক্ত করতে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছিল ভ্লাদিমির পুতিনের সরকার। এবার জানা যাচ্ছে, মস্কো ইরানকে এমন কিছু ড্রোন দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে, যা জ্যাম করা বা মাঝপথে আটকে দেয়া প্রায় অসম্ভব। শুধু তাই নয়, এসব অত্যাধুনিক ড্রোন নিখুঁতভাবে চালানোর জন্য ইরানি সেনাদের বিশেষ সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে রাশিয়া।

    একটি গোপন নথির বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট জানিয়েছে, রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ একটি বিশেষ পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এই পরিকল্পনার আওতায় রাশিয়া ইরানকে পাঁচ হাজার ফাইবার-অপটিক ড্রোন দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এই একই ড্রোন বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহার করছে মস্কো।

    এছাড়া, দূরপাল্লার স্যাটেলাইট-নির্ভর বেশ কিছু ড্রোনও তেহরানকে দেয়ার কথা রয়েছে এই প্রস্তাবে। শুধু অস্ত্র দেয়াই নয়, এসব ড্রোন নিখুঁতভাবে চালানোর জন্য ইরানি পেশাদারদের প্রশিক্ষণ দেয়ার দায়িত্বও নিতে চায় রাশিয়া। ১০ পাতার ওই প্রস্তাবনায় বিভিন্ন দ্বীপের মানচিত্র এবং ড্রোন ব্যবহারের ছয়টি রেখাচিত্র যুক্ত করা হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফাইবার-অপটিক ড্রোনগুলো মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। সাধারণত ড্রোন রেডিও সিগন্যালের মাধ্যমে চলে, যা জ্যাম করে দেয়া সম্ভব। কিন্তু এই ড্রোনগুলো সরু তারের মাধ্যমে সরাসরি অপারেটর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে এগুলো কোনো রেডিও সিগন্যাল ছড়ায় না এবং শত্রুপক্ষ অপারেটরের অবস্থানও খুঁজে পায় না। এগুলো ৪০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে পিনপয়েন্ট হামলা চালাতে পারে। সম্প্রতি লেবাননে হিজবুল্লাহর কাছেও এমন ড্রোন দেখা গেছে, যা তারা ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে।ইসরাইলি কর্মকর্তাদের দাবি, এসব ড্রোন ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী থেকে এসেছে। তবে এর উৎস যে রাশিয়া, সেটা এখন জোরালো হচ্ছে।

    নথিটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যুদ্ধের শুরুর দিকে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা খার্গ দ্বীপে স্থল হামলার নির্দেশ দিতে পারেন বলে গুঞ্জন ছিল, ঠিক তখনই রাশিয়ার পক্ষ থেকে এমন প্রস্তাব দেয়া হয়। এছাড়া রাশিয়া তাদের নিজস্ব কারখানায় তৈরি উন্নতমানের শাহেদ ড্রোনও তেহরানকে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এসব ড্রোনে স্টারলিংক টার্মিনাল যুক্ত করা হয়েছে, যাতে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সুদূরপ্রসারী হামলা চালানো যায়।রাশিয়ার গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানকে সামরিকভাবে শক্তিশালী করতে মস্কো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রহী।

  • আন্তর্জাতিক সাইবার হামলায় আক্রান্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

    আন্তর্জাতিক সাইবার হামলায় আক্রান্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

    যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলে সাইবার হামলা হয়েছে। এর ফলে বছরের শেষের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সময়ে এসে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা, বিভ্রান্তি এবং বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে।

    হ্যাকিং গ্রুপ শাইনি হান্টার এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের এই হামলার ফলে হাজার হাজার স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবহৃত একাডেমিক সফটওয়্যার ক্যানভাস এই সপ্তাহে অচল হয়ে পড়ে।

    বৃহস্পতিবার ক্যানভাস-এর মালিক প্রতিষ্ঠান ইন্সট্রাকচার তাদের ওয়েবসাইটে জানায় যে, ‘অধিকাংশ ব্যবহারকারীর জন্য ক্যানভাস আবার চালু হয়েছে’। তবে শুক্রবারও কিছু বিশ্ববিদ্যালয় সেবা বিঘ্নের অভিযোগ জানিয়েছে।

    এই সাইবার হামলা বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল, যার প্রভাবে আনুমানিক নয় হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    মিসিসিপি স্টেট ইউনিভার্সিটি ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের হারিয়ে যাওয়া কাজ পুনরুদ্ধারের সুযোগ দিতে শুক্রবারের ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করার কথা জানিয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়াবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী অবরে পালমার বিবিসিকে জানান, তার স্ক্রিনে যখন মুক্তিপণের বার্তা ভেসে তখন তিনি মাত্রই ২ হাজার ৯০০ শব্দের একটি পরীক্ষার প্রবন্ধ শেষ করেছিলেন।

    বার্তাটিতে লেখা ছিল: ‘শাইনি হান্টারস আবারও ইন্সট্রাকচারের নিরাপত্তা ভেঙে ঢুকেছে’।

    এতে হুমকি দেওয়া হয় যে, ক্যানভাস বা ক্ষতিগ্রস্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিটকয়েনে মুক্তিপণ না দিলে চুরি করা তথ্য প্রকাশ করে দেওয়া হবে।

    পালমার বলেন, “আমি প্রথমে ভেবেছিলাম যে আমাকেই হ্যাক করা হয়েছে, কারণ ব্যাপারটা ঠিক সেরকমই দেখাচ্ছিল। কিন্তু পরে মুক্তিপণের নোটটি পড়ে বুঝলাম ক্যানভাসই হ্যাক হয়েছে।”

    তিনি আরও জানান, তিনি তখন তার অধ্যাপক এবং আরও কয়েক ডজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে ছিলেন। সবাই চারদিকে তাকিয়ে বুঝতে পারেন যে একই বার্তা তারা সবাই পেয়েছেন।

    প্রথমদিকে, তাদের কাজ সেভ হয়েছে কি না তা স্পষ্ট ছিল না। এ সময় খুব দ্রুতই শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়ে এবং পালমার বলেন তিনি ‘আবার পরীক্ষার লেখা লিখতে হতে পারে- এই চিন্তায় খুবই ক্ষুব্ধ’ ছিলেন।

    এরপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি ইমেইলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত আপডেট দিচ্ছে , পরীক্ষার নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করছে এবং এ ধরনের ‘দেশব্যাপী নিরাপত্তা ঘটনার’ জেরে সন্দেহজনক বার্তা উপেক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছে।

    ইউনিভার্সিটি অফ সিডনি শুক্রবার তাদের শিক্ষার্থীদের জানায় যে ‘ক্যানভাস ব্যবহার করা যাচ্ছে না’ এবং তারা শিক্ষার্থীদের লগইন করার চেষ্টা না করতে নির্দেশ দেয়।

    বিশ্ববিদ্যালয়টি তাদের ওয়েবসাইটে লিখেছে, “বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯ হাজার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আমরাও এই বিভ্রাটের শিকার এবং আমরা এখনও ইন্সট্রাকচারের পরামর্শের অপেক্ষায় আছি”।

    বিশ্ববিদ্যালয়টি জানায়, এই বিভ্রাট শিক্ষার্থীদের কোর্সওয়ার্ক ও পরীক্ষায় প্রভাব ফেলেছে এবং তারা ‘সেমিস্টারের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসে এটিকে অত্যন্ত বিঘ্ন সৃষ্টিকারী’ হিসেবে স্বীকার করেছে ।

    বৃহস্পতিবার ইদাহো স্টেট ইউনিভার্সিটি জানায় যে, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার পর নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো বাতিল করা হয়েছে।

    পেন স্টেট ইউনিভার্সিটি বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের পাঠানো এক বার্তায় জানায় যে ‘কেউই ক্যানভাস-এ প্রবেশ করতে পারছে না’ এবং পরবর্তী ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান আসার সম্ভাবনা কম’। বিশ্ববিদ্যালয়টি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের কিছু পরীক্ষা বাতিল করে।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক আপডেটে ইউনিভার্সিটি অফ ব্রিটিশ কলাম্বিয়া শিক্ষার্থীদের জানায় যে, ক্যানভাস এর এর মূল কোম্পানি ইন্সট্রাকচারের ‘সাইবার নিরাপত্তা লঙ্ঘনের কারণে অচল’ এবং তাদের দ্রুত লগ আউট করার পরামর্শ দেয়।

    ইউনিভার্সিটি অফ টরন্টো জানায় যে, তারাও এই সাইবার হামলার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তারা এও জানায় যে “একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় এতে আক্রান্ত হয়েছে”।

    অন্যদিকে ইউনিভার্সিটি ক্যালিফোর্নিয়া লস অ্যাঞ্জেলস এর শিক্ষার্থীরা ক্যানভাস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইনে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে সমস্যায় পড়ে।

    আর ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো জানায়, তাদের ক্যানভাস পেজ লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এমন রিপোর্ট পাওয়ার পর সেটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

    দ্যা শিকাগো ম্যারুন-এর প্রকাশ করা একটি স্ক্রিনশটে দেখা যায় শাইনি হান্টারস মুক্তিপণ দাবি করে একটি বার্তা পাঠিয়েছে।

    বার্তাটিতে বিশ্ববিদ্যালয়কে ব্যক্তিগতভাবে হ্যাকিং গ্রুপটির সঙ্গে যোগাযোগ করে সমঝোতার জন্য আলোচনার আহবান জানানো হয় এবং ‘তাদের তথ্য প্রকাশ’ না করার জন্য সতর্ক করে দেওয়া হয়।

    একই ধরনের বার্তা পেয়েছিলেন নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির মাস্টার্স শিক্ষার্থী জ্যাকুয়াস আবো- রিজক। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রশাসকের পাঠানো বলে মনে হওয়া একটি ইমেইলের লিংকে ক্লিক করার পর তিনি এই বার্তা দেখতে পান।

    আবো-রিজক বলেন, “আমি বুঝতেই পারছিলাম না কী ঘটছে। এমন একটি বার্তা পাওয়া সত্যিই ভয়ের ব্যাপার।”

    তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়টি এ বিষয়ে একটি সাধারণ ইমেইল পাঠায়, যা বিবিসি দেখেছে। সেখানে বলা হয়েছিল, নর্থওয়েস্টার্ন ‘একটি বিষয়ের ওপর নজর রাখছে’।

    ই-মেইলে আরও বলা হয়, ক্যানভাস পুনরায় চালুর নির্দিষ্ট সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের জানা নেই এবং অন্য আইটি অবকাঠামোগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

    আবু-রিজক জানান, শুক্রবারও তিনি ক্যানভাসে প্রবেশ করতে পারেননি এবং এরপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আর কোনো বার্তা পাননি।

    তিনি বলেন, “শুধু আমার নিজের কাজ শেষ করা বা ক্যানভাস এর প্রয়োজনীয় সাইটগুলোতে প্রবেশ করতে না পারা নিয়েই নয়, বরং আসল হুমকিটা কী এবং এটি কীভাবে আমাকে প্রভাবিত করতে পারে—এ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

    “কোন তথ্য প্রকাশ করা হবে আমি জানি না, আর সেটাই আমাকে ভয় পাইয়ে দিচ্ছে।”

    বিবিসি এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

    শাইনি হান্টারস অতীতেও একাধিক আলোচিত সাইবার হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল। এর মধ্যে গত বছর জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার এর ওপর চালানো বড় এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিকর হ্যাকটি ছিল অন্যতম।

    সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এমিসফট- এর বিশ্লেষক লুক কনলি সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, স্ক্রিনশট অনুযায়ী এই গোষ্ঠীর লক্ষ্যভিত্তিক হুমকি রবিবার থেকে শুরু হয় এবং বৃহস্পতিবার ও ১২ মে পর্যন্ত সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল।

    তিনি বলেন, মুক্তিপণ নিয়ে আলোচনা এখনও চলতে পারে। সাম্প্রতিক হামলায় তারা যে তথ্য চুরি করেছে বলে দাবি করছে, তা নিয়ে ভবিষ্যতে কী করবে—সে বিষয়ে গোষ্ঠীটি এখনো কিছু জানায়নি।

    হস্পতিবারের এই সাইবার হামলাগুলো এমন এক সময়ে ঘটে, যেদিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার দ্রুত বিকাশমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে সাইবার ঝুঁকির বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী প্রতিরক্ষার আহবান জানিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে একটি চিঠি পাঠান।

    তিনি লিখেছেন, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে ‘অবিলম্বে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, “আমেরিকানরা এমন বিভ্রাট, বিঘ্ন এবং মানুষের জীবন ও জীবিকাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে- এমন হামলার শিকার হওয়ার আগেই পদক্ষেপ নিতে হবে

  • বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

    বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

    কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পশ্চিম আকাশে রহস্যময় দীর্ঘ আলোর রেখা দেখা যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এটি ভারতের পরীক্ষামূলকভাবে উৎক্ষেপণ করা একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (ICBM) দৃশ্য হতে পারে।

    শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কক্সবাজার সৈকতের লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় এই বিরল আলোর রেখা দেখা যায়। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে আকাশে দীর্ঘ আলোর মতো একটি রেখা স্পষ্ট হয়ে উঠলে সেখানে উপস্থিত পর্যটক ও স্থানীয়রা অবাক হয়ে যান।

    সৈকতে উপস্থিত আব্দুর রহিম বলেন, “হঠাৎ এই দৃশ্য দেখে প্রথমে ভয় পেয়ে যাই। দেখতে অনেকটা ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের মিসাইলের মতো।’’

    অন্য পর্যটক সাইফুর রহিম বলেন, “পরিবার নিয়ে বেড়াতে এসে এমন দৃশ্য দেখব ভাবিনি। তবে বিষয়টি বেশ অদ্ভুত ও আকর্ষণীয় লেগেছে।”

    তবে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের এক আবহাওয়াবিদ জানান, এটি কোনো আবহাওয়াজনিত প্রাকৃতিক ঘটনা নয়।

    এদিকে একটি বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা সূত্র দাবি করেছে, ভারত পূর্বেই বঙ্গোপসাগরে তাদের সম্ভাব্য আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘অগ্নি-৬’ পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়ে জানিয়ে রেখেছিল। সূত্র অনুযায়ী, ৪ থেকে ৯ মে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের আকাশসীমায় বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

    গোয়েন্দা সূত্রটি আরও জানায়, “আমরা বিষয়টি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছি।” তবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরীক্ষার জন্য ‘নোটাম’ (Notice to Airmen) জারি করা হয়েছিল। এতে ওড়িশার ড. এ পি জে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে প্রায় ৩,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত আকাশসীমায় বিধিনিষেধ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়।

    উল্লেখ্য, এই দ্বীপ থেকেই ভারত নিয়মিতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে থাকে বলে জানা গেছে।

  • শুভেন্দুকে হাসিনার শুভেচ্ছা

    শুভেন্দুকে হাসিনার শুভেচ্ছা

    পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ী মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    শুক্রবার নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ শুভেচ্ছা জানানো হয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সকল প্রতিনিধিসহ বিজয়ী সবাইকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বাংলাদেশ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

    বিবৃতিতে শুধু শুভেন্দুর নাম উল্লেখ করা হলেও বিজয়ী সকলের সাফল্য কামনা করেছেন হাসিনা।

  • ইরান যুদ্ধ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় বিভিন্ন কোম্পানির

    ইরান যুদ্ধ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় বিভিন্ন কোম্পানির

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ যখন বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে নাভিশ্বাস তুলছে, তখন কিছু বহুজাতিক কোম্পানি এই অস্থিরতাকে পুঁজি করে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড মুনাফা ঘরে তুলছে।

    বিশেষ করে ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার ফলে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা একদিকে যেমন বাজেট ঘাটতি ও মুদ্রাস্ফীতি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে নির্দিষ্ট কিছু খাতের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের বাণিজ্যিক হিসাব অনুযায়ী, জ্বালানি, ব্যাংক ও প্রতিরক্ষা খাতের কোম্পানিগুলো এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে অভাবনীয় আয় করেছে।

    জ্বালানি খাতে ইউরোপীয় তেল জায়ান্টরা এই সঙ্কটের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে, যার সুযোগ নিয়েছে বিপি এবং শেলের মতো কোম্পানিগুলো।

    বছরের প্রথম তিন মাসে বিপি-র মুনাফা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ৩.২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে শেল ৬.৯২ বিলিয়ন ডলার এবং টোটাল এনার্জি ৫.৪ বিলিয়ন ডলার মুনাফা অর্জন করেছে। সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার কারণে মার্কিন জায়ান্ট এক্সনমোবিল ও শেভরনের আয় গত বছরের তুলনায় কিছুটা কমলেও তারা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে এবং তেলের ক্রমবর্ধমান দামের কারণে ভবিষ্যতে আরও বড় মুনাফার আশা করছে।

    আর্থিক খাতেও এই যুদ্ধের প্রভাব স্পষ্ট। শেয়ার ও বন্ড বাজারে বিনিয়োগকারীদের অস্থিরতা এবং নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝোঁকার প্রবণতা বড় ব্যাংকগুলোর আয় বাড়িয়ে দিয়েছে। জেপি মর্গান ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে ১১.৬ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড রাজস্ব সংগ্রহ করেছে, যা ব্যাংকটির ইতিহাসে অন্যতম সেরা প্রান্তিক আয়।

    গোল্ডম্যান স্যাকস এবং মরগান স্ট্যানলির মতো বড় ছয়টি মার্কিন ব্যাংক সম্মিলিতভাবে বছরের প্রথম প্রান্তিকে ৪৭.৭ বিলিয়ন ডলার মুনাফা করেছে। মূলত বাজারের অস্থিতিশীলতাকে কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনাবেচার ধুম বা ট্রেডিং ভলিউম বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো এই বিশাল অংকের কমিশন ও মুনাফা পেয়েছে।

    প্রতিরক্ষা বা সমরাস্ত্র খাত বরাবরের মতোই এই যুদ্ধে বড় অঙ্কের কাজ পেয়েছে। ইরান যুদ্ধের ফলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন মোকাবিলা প্রযুক্তি এবং সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা আকাশচুম্বী হয়েছে। বিএই সিস্টেমস, লকহিড মার্টিন এবং বোয়িংয়ের মতো বড় ঠিকাদাররা তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্ডার হাতে পাওয়ার কথা জানিয়েছে।

    বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ায় বিভিন্ন দেশের সরকার তাদের অস্ত্রভাণ্ডার নতুন করে পূর্ণ করতে বিপুল বিনিয়োগ করছে। সমরাস্ত্র নির্মাতারা একে তাদের ব্যবসার জন্য একটি সহায়ক প্রেক্ষাপট হিসেবে দেখছে।

    আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই যুদ্ধ নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা রিনিউয়েবল সেক্টরকেও গতিশীল করেছে। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর তাগিদ থেকে বিশ্বজুড়ে সৌরবিদ্যুৎ ও বায়ুবিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে।

    ফ্লোরিডা ভিত্তিক নেক্সটএরা এনার্জি বা ডেনমার্কের ভেস্টাসের মতো কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম ও মুনাফা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাজ্যে সৌর প্যানেলের বিক্রি ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে এবং পেট্রোলের উচ্চমূল্যের কারণে বৈদ্যুতিক যানবাহনের চাহিদাও বেড়েছে ব্যাপক। সব মিলিয়ে যেখানে সাধারণ মানুষ উচ্চমূল্যের বাজারে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে যুদ্ধের উত্তাপ বড় কর্পোরেশনগুলোর সিন্দুকে বিলিয়ন ডলারের জোগান দিচ্ছে।

  • ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত, অনেকে নিখোঁজ

    ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত, অনেকে নিখোঁজ

    ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে। দেশটির হালমাহেরা দ্বীপের মাউন্ট ডুকোনো আগ্নেয়গিরিতে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও অন্তত ২০ পর্বতারোহী নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

    শুক্রবার (৮ মে) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪১ মিনিটে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট ডুকোনোতে অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। ইন্দোনেশিয়ার সেন্টার ফর ভলকানোলজি অ্যান্ড জিওলজিক্যাল হ্যাজার্ড মিটিগেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিস্ফোরণের সময় প্রায় ১০ কিলোমিটার উঁচু পর্যন্ত আগুনের ছাই আকাশে ছড়িয়ে পড়ে। এর সঙ্গে ভয়ংকর গর্জনের শব্দও শোনা গেছে।

    স্থানীয় উদ্ধার সংস্থার প্রধান ইওয়ান রামদানি রয়টার্সকে জানান, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে আটকে পড়া ২০ জন পর্বতারোহীকে খুঁজে বের করতে পুলিশসহ কয়েক ডজন উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, নিখোঁজদের মধ্যে ৯ জন সিঙ্গাপুরের নাগরিক রয়েছেন।

    এএফপির বরাতে উত্তর হালমাহেরার পুলিশ প্রধান এরলিখসন পাসারিবু জানিয়েছেন, নিহত তিনজনের মধ্যে দুজন বিদেশি নাগরিক। বিজ্ঞানীরা আগ্নেয়গিরির তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখার পর গত ১৭ এপ্রিল থেকেই এলাকাটি পর্যটকদের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

    কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মালুপাং ওয়ারিরাং ক্রেটার থেকে অন্তত ৪ কিলোমিটার দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এই ক্রেটারটিকেই আগ্নেয়গিরির প্রধান সক্রিয় কেন্দ্র হিসেবে ধরা হচ্ছে।

    আগুনের ছাই উত্তর দিকে ছড়িয়ে পড়ায় সরকার পরিচালিত আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থা তোবেলো শহরের বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে। তারা জানিয়েছে, আগুনের ছাইয়ের বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি আগ্নেয়গিরি থেকে ছিটকে আসা পাথর এবং লাভার প্রবাহ থেকেও সরাসরি ঝুঁকির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

    মাউন্ট ডুকোনো বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরির একটি। চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে সেখানে প্রায় ২০০ বার অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছে।

  • হরমুজের ধাক্কা : সৌদি বাজেটে সর্বোচ্চ ঘাটতি।

    হরমুজের ধাক্কা : সৌদি বাজেটে সর্বোচ্চ ঘাটতি।

    হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব মোকাবিলা এবং আগাম ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে সৌদি আরব ১২৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন রিয়াল (প্রায় ৩৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার) বাজেট ঘাটতির মুখে পড়েছে, যা ২০১৮ সালের পর দেশটির সর্বোচ্চ ঘাটতি। একই সঙ্গে এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

    সৌদি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক প্রকাশিত তথ্যের বরাতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার অর্থনৈতিক অভিঘাত কমাতে সরকার আগেভাগেই অবকাঠামো উন্নয়ন ও খাদ্য আমদানিসংক্রান্ত কিছু ব্যয় এগিয়ে আনে। এই অতিরিক্ত ও ত্বরান্বিত ব্যয়ই মূলত বাজেট ঘাটতি বাড়ার অন্যতম কারণ।

    সৌদি অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সরবরাহ ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশটি লোহিত সাগর উপকূলীয় বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে। পাশাপাশি পরিবহন ও লজিস্টিক খাতেও নতুন প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়েছে, যাতে বিকল্প বাণিজ্যপথ শক্তিশালী করা যায়।

    বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক উত্তেজনা ও জ্বালানি পরিবহন অনিশ্চয়তার মধ্যে সৌদি আরব অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতির পথ বেছে নিয়েছে, যদিও এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে রাষ্ট্রীয় বাজেটের ওপর।

  • যুদ্ধবিরতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা

    যুদ্ধবিরতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা

    এক মাস ধরে চলা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী একে অপরের ওপর বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। দুই দেশ যখন হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে একটি চুক্তির আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই এই সংঘাতের ঘটনা ঘটল।

    যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌকা দিয়ে হামলা চালায়। এর জবাবে মার্কিন বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, কমান্ড সেন্টার এবং গোয়েন্দা নজরদারি কেন্দ্রগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

    অন্যদিকে, ইরান এই সংঘাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র গত বুধবার হরমুজ প্রণালির দিকে যাওয়া একটি ইরানি তেলের ট্যাঙ্কারে গুলি চালিয়ে প্রথমে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এর প্রতিশোধ নিতেই তারা মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে।

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার হামলার মুখে পড়লেও কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই প্রণালি পার হয়েছে।

    তিনি বলেন, মার্কিন বাহিনী ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো অনায়াসেই ধ্বংস করেছে। ইরানের নেতৃত্বকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, দ্রুত চুক্তিতে সই না করলে আরো কঠোর হামলা চালানো হবে। তবে এত কিছুর পরেও যুদ্ধবিরতি এখনো ‘অক্ষত’ আছে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।

    ইরানের সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের জেরে ইরানের কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস এবং রাজধানী তেহরানে বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। উল্লেখ্য, দুই দেশের কর্মকর্তারা বর্তমানে ৩০ দিনের জন্য শত্রুতা বন্ধ এবং নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়ে একটি এক পৃষ্ঠার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছেন। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে মতবিরোধই এই চুক্তির প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।

  • বৃটেনের স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবির পথে লেবার, বিপাকে স্টারমার

    বৃটেনের স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবির পথে লেবার, বিপাকে স্টারমার

    বৃটেনের ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচনে চমক দেখিয়েছিল দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা লেবার পার্টি। স্থানীয় নির্বাচনে সফলতায় ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের মাধ্যমে সরকার গঠন করে লেবার পার্টি। তবে দেশটিতে লেবার শাসনের মাত্র দুই বছরের মাথায় রাজনীতির মাঠের চিত্র পাল্টে গেলো।লেবার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বৃটেনের জনগণ। ইংল্যান্ডের স্থানীয় নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে লেবার পার্টি। ৭ই মে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হয় স্থানীয় সরকার নির্বাচন। ভোট গণনার প্রাথমিক ফল হতাশ করেছে লেবার পার্টিকে। প্রাথমিক ফলাফলে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়েছে।

    লেবার ঘাঁটি হিসেবে খ্যাত বিভিন্ন কাউন্সিলে লেবারের আসন কমেছ। অন্যদিকে ফলাফলে উল্লেখযোগ্য সফলতার মুখ দেখেছে অভিবাসী বিরোধী নেতা নাইজেল ফারাজের রিফর্ম রিফর্ম ইউকে।
    অনেকেই মনে করছেন, এই ফলাফল প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে রিফর্ম ইউকের উত্থান বৃটিশ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    প্রাপ্ত ফলাফলে প্রথম স্থানে এগিয়ে রয়েছে রিফর্ম ইউকে ও লেবার রয়েছে চতুর্থ স্থানে।
    নির্বাচনে ভরাডুবি নিয়ে স্টারমার বলেন, দেশের অর্থনৈতিক সংকট ও আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে মানুষ পরিবর্তন আশা করলেও সেই পরিবর্তন এখনও অনুভব করছে না।
    স্টারমারের মন্ত্রিসভার পররাষ্ট্র সচিব ইভেট কুপার বলেন, নির্বাচনের ফলাফল সরকার ও লেবার পার্টির জন্য বড় বার্তা বহন করছে।

    তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে। দেশের রাজনীতিতে মেরুকরণ বাড়ছে এবং এটি জাতীয় ঐক্যের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

    এদিকে স্থানীয় নির্বাচনে বড় সাফল্য পাওয়া রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ দাবি করেছেন, এই ফলাফল ব্রিটিশ রাজনীতিতে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা।

  • শুভেন্দু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, শনিবার শপথ

    শুভেন্দু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, শনিবার শপথ

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা দলের নেতা নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুক্রবার বিকেলে বলেন, আমি পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি বিধানসভা দলের নেতা হিসেবে নির্বাচিত শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করছি।

    নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর নাম ঘোষণার পর অমিত শাহ আরও বলেন, নতুন সরকার সোনার বাংলার স্বপ্ন পূরণে সর্বাত্মক চেষ্টা করব ।তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথিত স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ভোট দেয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

    একই সঙ্গে রাজ্যে এই ঐতিহাসিক জনরায় অর্জনের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করা সকল বিজেপি কর্মীকেও ধন্যবাদ জানান অমিত শাহ। এদিন বিশ্বভঙ্গ কনভেনশন সেন্টারে বিজয়ী ২০৭ জন বিধায়ককে নিয়ে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অমিত শাহ। সেই বৈঠকেই শুভেন্দুকে পরিষদীয় দলনেতা মনোনিত করা হয়। নব-নির্বাচিত দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় লোকভবনে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল টি এন রবির সঙ্গে দেখা করবেন। তিনি সমস্ত বিধায়কের স্বাক্ষর করা সম্মতিপত্র দিয়ে মন্ত্রিসভা গঠনের দাবি জানাবেন। আগামীকাল শনিবার সকাল ১১টায় কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ বিজেপির নেতৃত্ব ও ২১ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিকে শুভেন্দু শপথ নেবেন
    এ/জেড

  • মেহেরপুর সীমান্তে বিজিবির সর্বোচ্চ সতর্কতা, টহল জোরদার

    মেহেরপুর সীমান্তে বিজিবির সর্বোচ্চ সতর্কতা, টহল জোরদার

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় সম্ভাব্য অস্থিরতা এড়াতে মেহেরপুর সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তজুড়ে জোরদার করা হয়েছে টহল কার্যক্রম।

    চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান মুঠোফোনে জানান, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মেহেরপুর সীমান্তে আমাদের টহল জোরদার করেছি। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের সন্দেহজনক চলাচল দ্রুত শনাক্ত করা যায়। এছাড়া সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন বিওপি (বর্ডার আউট পোস্ট) থেকে দিন-রাত নিয়মিত টহল দেওয়া হচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান কিংবা সহিংসতার আশঙ্কা এড়াতেই এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।
    সূত্রে জানা গেছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবি সবসময় প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে স্থানীয় জনসাধারণকেও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
    উল্লেখ্য, মেহেরপুর জেলায় মোট ৬৫ কিলোমিটার সীমান্তে বিজিবির বিওপি ক্যাম্প রয়েছে ১৮ টি।

  • সিঙ্গাপুরে বুলিং ঠেকাতে স্কুলে ফিরছে বেত

    সিঙ্গাপুরে বুলিং ঠেকাতে স্কুলে ফিরছে বেত

    সিঙ্গাপুরে চালু হয়েছে নতুন স্কুল শৃঙ্খলাবিধি। এই বিধির আওতায় বুলিংয়ের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে ছেলে শিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাতের শাস্তি দেওয়া হতে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত নতুন নিয়ম নিয়ে চলতি সপ্তাহে দেশটির পার্লামেন্টে আলোচনা হয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী, বুলিং বা সাইবার বুলিংয়ের ঘটনায় দোষী প্রমাণিত হলে স্কুল কর্তৃপক্ষ ছেলে শিক্ষার্থীদের এক থেকে তিনবার পর্যন্ত বেত্রাঘাত করতে পারবে।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের খবরে বলা হয়েছে, সিঙ্গাপুরের শিক্ষামন্ত্রী ডেসমন্ড লী বলেছেন, বেত্রাঘাত হবে ‘শেষ অবলম্বন’ হিসেবে। তিনি বলেন, ‘অসদাচরণের গুরুত্ব বিবেচনায় অন্য সব ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত হলে’ তখনই এই শাস্তি প্রয়োগ করা হবে।

    তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর প্রটোকল অনুসরণ করা হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বেত্রাঘাতের অনুমোদন দিতে হবে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে এবং এটি কার্যকর করতে পারবেন শুধুমাত্র অনুমোদিত শিক্ষকরা।’ তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থীর মানসিক পরিপক্বতা এবং বেত্রাঘাত তাকে নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে ও তার কাজের গুরুত্ব বুঝতে সাহায্য করবে কি না, সেসব বিষয়ও স্কুল বিবেচনায় নেবে।’

    শিক্ষার্থীদের আচরণ নিয়ে এক বছরের পর্যালোচনার পর এই কঠোর নীতি নেওয়া হয়েছে। এর পেছনে সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন স্কুলে ঘটে যাওয়া কয়েকটি বহুল আলোচিত বুলিংয়ের ঘটনাও ভূমিকা রেখেছে, যা দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল।

    মন্ত্রী জানান, এই ব্যবস্থা শুধু উচ্চ প্রাথমিক স্তরের ছেলে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, ৯ থেকে ১২ বছর বয়সী এবং তার চেয়ে বড় ছেলেরা এর আওতায় পড়বে। তিনি আরো বলেন, সিঙ্গাপুরের ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী নারীদের বেত্রাঘাত করা নিষিদ্ধ। শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর ‘কল্যাণ ও অগ্রগতি’ পরবর্তী সময়েও পর্যবেক্ষণে রাখা হবে বলে জানান তিনি। প্রয়োজনে তাদের কাউন্সেলিং ও অন্যান্য সহায়তা সেবাও দেওয়া হবে।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বুলিংয়ের ঘটনায় দোষী প্রমাণিত ছাত্রীদের ক্ষেত্রে ‘আটক রাখা, সাময়িক বহিষ্কার, আচরণগত গ্রেড কমিয়ে দেওয়া এবং স্কুলভিত্তিক অন্যান্য শাস্তি’ প্রয়োগ করা হবে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই সিঙ্গাপুরে স্কুল ও বৃহত্তর বিচারব্যবস্থায় শারীরিক শাস্তি ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছে। তবে সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষের দাবি, গুরুতর অপরাধ ও অসদাচরণ ঠেকাতে বেত্রাঘাত কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে।

    সিঙ্গাপুরে বেত্রাঘাতের প্রচলন শুরু হয়েছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে। যদিও পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য নিজ দেশেই শারীরিক শাস্তি বাতিল করে। অস্ট্রেলিয়াও কয়েক দশক আগে সরকারি স্কুলগুলোতে বেত্রাঘাত বন্ধ করে দেয়। দেশটির কিছু বেসরকারি স্কুলে অবশ্য ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে গিয়ে এই প্রথার অবসান ঘটে।

  • পশ্চিমবঙ্গের ৫৮ শতাংশ বিধায়কের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি মামলা

    পশ্চিমবঙ্গের ৫৮ শতাংশ বিধায়কের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি মামলা

    পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আবারো স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সদ্য প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মসের (এডিআর) রিপোর্টে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের বিপুল সংখ্যক নবনির্বাচিত বিধায়কের বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, বিধায়কদের (সংসদ সদস্য) সম্পত্তির পরিমাণও আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এডিআরের সমীক্ষা অনুযায়ী, বিশ্লেষণ করা ২৯২ জন বিধায়কের মধ্যে প্রায় ৫৮ শতাংশ, অর্থাৎ ১৭০ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধমূলক মামলা বিচারাধীন। ২০২১ সালে এই সংখ্যা ছিল ১১৩। সব মিলিয়ে ১৯০ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে কোনো না কোনো ফৌজদারি মামলা রয়েছে, যা মোটের প্রায় ৬৫ শতাংশ।

    এডিআর জানিয়েছে, গুরুতর ফৌজদারি মামলা বলতে এমন অপরাধ বোঝানো হয়েছে, যার সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছর বা তার বেশি, অথবা যেগুলো অজামিনযোগ্য। এর মধ্যে রয়েছে খুন, খুনের চেষ্টা, অপহরণ, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, দুর্নীতি এবং সরকারি তহবিল সংক্রান্ত অপরাধ।

    রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, ১৪ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রয়েছে। ৫৪ জনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নারী সংক্রান্ত অপরাধে অভিযুক্ত বিধায়কের সংখ্যা ৬৩। এদের মধ্যে দু’জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগও রয়েছে। ২০২৬ সালের দলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিশ্লেষণ করা বিজেপির ২০৬ জন বিধায়কের মধ্যে ১৪১ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা রয়েছে, যা প্রায় ৬৮ শতাংশ। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ২৫ জন, অর্থাৎ প্রায় ৩১ শতাংশের বিরুদ্ধে এমন মামলা রয়েছে।

    এডিআর আরো জানিয়েছে, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী), অল ইন্ডিয়া সেকুলার ফ্রন্ট এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সব জয়ী প্রার্থীর বিরুদ্ধেই গুরুতর মামলা রয়েছে। তবে কংগ্রেসের দুই জয়ী বিধায়কের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক মামলা নেই।

    অপরাধমূলক মামলার পাশাপাশি বিধায়কদের সম্পত্তির পরিমাণও নজর কেড়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৯২ জনের মধ্যে ১৭৮ জন বিধায়কের সম্পত্তির পরিমাণ এক কোটির বেশি। বর্তমানে সব বিধায়কের মোট ঘোষিত সম্পত্তির পরিমাণ ১ হাজার ৯১ কোটি টাকা। গড় সম্পত্তির পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৩ দশমিক ৭ কোটি টাকা, যা ২০২১ সালে ছিল ২ দশমিক ৫ কোটি।

    দল অনুযায়ী সম্পত্তির গড় হিসাবেও পার্থক্য দেখা গেছে। তৃণমূল বিধায়কদের গড় সম্পত্তি ৫ দশমিক ৩ কোটি টাকা, বিজেপির ক্ষেত্রে তা ২ দশমিক ৯ কোটি। অন্যদিকে কংগ্রেসের দুই বিধায়কের গড় সম্পত্তি সবচেয়ে বেশি ১৭ দশমিক ৯ কোটি টাকা।

    রিপোর্টে বিজেপি নেতা দিলিপ সাহার নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ সম্পত্তির ঘোষণা করেছেন, যার পরিমাণ ৪৩ কোটিরও বেশি। এছাড়া, টিএমসির জাকির হোসেনের সম্পত্তির পরিমাণ ১৩৩ কোটিরও বেশি বলে অন্য রিপোর্টে উঠে এসেছে।

    পুনর্নির্বাচিত ১০২ জন বিধায়কের সম্পত্তির হিসাব বিশ্লেষণ করে এডিআর জানিয়েছে, তাদের গড় সম্পত্তি ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সালে যেখানে গড় সম্পত্তি ছিল ২ দশমিক ৩ কোটি টাকা, তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৮ কোটি টাকায়।

    নারী প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও খুব একটা আশাব্যঞ্জক ছবি উঠে আসেনি। ২৯২ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র ৩৭ জন মহিলা, যা মোটের মাত্র ১৩ শতাংশ। আগের বিধানসভায় এই হার ছিল ১৪ শতাংশ।

    শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রেও নানা চিত্র উঠে এসেছে। এডিআর জানিয়েছে, ৬৩ শতাংশ বিধায়কের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা তার বেশি। ৩২ শতাংশের শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির মধ্যে। এছাড়া একজন বিধায়ক নিজেকে নিরক্ষর বলে ঘোষণা করেছেন।

    এডিআরের এই রিপোর্ট রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও জনপ্রতিনিধিদের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। একদিকে যেমন গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত বিধায়কদের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে তেমনই দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে তাদের সম্পত্তির পরিমাণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, গণতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী ও স্বচ্ছ করতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় আরো কড়াকড়ি আনা এবং অপরাধমূলক পটভূমি থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে ভোটারদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

  • ভারত সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী, ওদের কথা কেউ বিশ্বাস করে না: পাকিস্তান সেনাবাহিনী

    ভারত সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী, ওদের কথা কেউ বিশ্বাস করে না: পাকিস্তান সেনাবাহিনী

    ভারতের বিরুদ্ধে আবারও তীব্র ভাষায় বক্তব্য রেখেছেন পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। দেশটির সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী ভারতকে ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী তোমরাই। কেউ তোমাদের কথা শোনে না, কেউ বিশ্বাসও করে না।’

    বৃহস্পতিবার (৭ মে) সংবাদমাধ্যম দ্য ডন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান।

    ‘মারকা-ই-হক’-এর এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী ভারতের বিরুদ্ধে এই কঠোর বক্তব্য দেন। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তান নৌবাহিনীর উপপ্রধান (অপারেশনস) রিয়ার অ্যাডমিরাল শাফাআত আলী এবং বিমানবাহিনীর উপপ্রধান (প্রকল্প) এয়ার ভাইস মার্শাল তারিক গাজী।

    গত বছরের ২২ এপ্রিল পেহেলগাম হামলা থেকে শুরু করে পাকিস্তানের ‘অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুস’ এবং ১০ মে যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে ভারত-পাকিস্তানের সামরিক উত্তেজনার যে অধ্যায় শেষ হয়, পাকিস্তান সেটিকে ‘মারকা-ই-হক’ বা ‘সত্যের যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করে থাকে।

    এদিনের সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই আহমেদ শরিফ চৌধুরী দেশবাসীকে ‘মারকা-ই-হক’-এর এক বছর পূর্তির শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করেছে এবং বহু-মাত্রিক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে শত্রুকে পরাজিত করেছে।

    তিনি বলেন, ‘আজ আমরা কী হয়েছিল তা নিয়ে খুব বেশি কথা বলব না। বরং ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত সময় নিয়ে বেশি আলোচনা করব’।

    তিনি আরও বলেন, এই সংঘাতের ‘কৌশলগত পরিণতি’ তুলে ধরা হবে।

    আইএসপিআর প্রধান বলেন, ‘মারকা-ই-হক’-এর ১০টি কৌশলগত পরিণতি রয়েছে। এর প্রথমটি হলো— পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের উৎস হিসেবে উপস্থাপনের ভারতীয় বয়ান ‘সমাধিস্থ’ হয়েছে। তার ভাষায়, কোনও প্রমাণ ছাড়াই পাকিস্তানকে ভারতে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। পেহেলগাম ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও পাকিস্তানের তোলা প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনও মেলেনি।

    তিনি প্রশ্ন করেন, ‘(পেহেলগাম হামলায় পাকিস্তানের জড়িত থাকার) প্রমাণ কোথায়?’। এরপর তিনি বলেন, ‘কেউ এটা বিশ্বাস করে না। সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী তোমরাই। কেউ তাদের কথা শোনে না, কেউ বিশ্বাসও করে না’। তিনি বলেন, দ্বিতীয় কৌশলগত পরিণতি হলো— পুরো অঞ্চলে পাকিস্তানের ‘নিরাপত্তা স্থিতিশীলতার প্রধান শক্তি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া। তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা দূত হলো পাকিস্তান এবং পাকিস্তানের বর্তমান নেতৃত্ব।’

    তৃতীয় কৌশলগত পরিণতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি ভারতের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, ‘ভারতীয় সামরিক নেতৃত্বের রাজনীতিকরণ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের সামরিকীকরণ’ ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘ওদের সামরিক বাহিনী আগে পেশাদার ছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখন তা রাজনীতিকরণ হয়েছে।’

    আইএসপিআর প্রধান আরও বলেন, ভারতীয় রাজনীতিকদের বক্তব্য দেখে মনে হয় তারা ‘যুদ্ধবাজ’। তার মতে, সামরিক বাহিনীর রাজনীতিকরণ এবং রাজনীতির সামরিকীকরণ ‘বিপজ্জনক’।

    তিনি দাবি করেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ সমস্যার মধ্যে রয়েছে সংখ্যালঘু ও কাশ্মীরিদের দমন-পীড়ন। তার ভাষায়, ‘এটি এক ধরনের ভ্রান্ত শ্রেষ্ঠত্ববোধ ও অহংকার থেকে আসে’। তিনি বলেন, ভারত নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধান করতে চায় না। তাই তারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে যে— দেশটি ভারতে সন্ত্রাসবাদে জড়িত।

    কাশ্মীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কাশ্মীর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বিরোধপূর্ণ অঞ্চল। এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয় যে সেখানে জনসংখ্যার চিত্র বদলে দেয়া হবে’। তিনি আবারও অভিযোগ করেন, ভারত পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মদদ দিচ্ছে। এমনকি নিজেদের দেশেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পর অন্যদের দোষারোপ করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

    তার ভাষায়, ‘মারকা-ই-হক’-এর পর বিশ্ব এখন বুঝতে পেরেছে ভারত কীভাবে এসব ভণ্ডামিপূর্ণ কাজ করে। পঞ্চম কৌশলগত পরিণতি হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘ভারতীয় গণমাধ্যমের আসল চেহারা এবং তাদের তথ্যযুদ্ধের ব্যর্থতা’ প্রকাশ পেয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে তিনি সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের বিভিন্ন পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘মারকা-ই-হক’-এর পর পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা বেড়ে গিয়েছিল। এরপর অক্টোবর মাসে পাকিস্তান প্রতিবেশী আফগানিস্তানে সন্ত্রাসী অবকাঠামোতে হামলা চালায়। এর পর ঘটনাগুলো কমে আসে বলে দাবি করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে ভারতের ভূমিকা রয়েছে এবং আফগানিস্তানকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তার ভাষায়, ‘মারকা-ই-হকে শিক্ষা পাওয়ার পর ভারত কাকে ফোন করেছিল, দেখেছেন? আফগান তালেবান সরকারের তথাকথিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে।’

  • ‘পুশব্যাক’ নিয়ে বাংলাদেশকে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের আহ্বান-ভারতের

    ‘পুশব্যাক’ নিয়ে বাংলাদেশকে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের আহ্বান-ভারতের

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ বা সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক লোক পাঠানোর আশঙ্কা নিয়ে শীর্ষ পর্যায় থেকে যেসব মন্তব্য এসেছে, সে বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। বৃহস্পতিবার (৭ মে) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এসব মন্তব্য দেখা উচিত। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

    জয়সওয়াল জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের কাছে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ২ হাজার ৮৬০টির বেশি মামলা ঝুলে আছে। এর মধ্যে অনেক আবেদন পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন, ‘দ্রুত যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো সহজ ও সুশৃঙ্খলভাবে করা সম্ভব হবে।’

    এর আগে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সীমান্তে সম্ভাব্য পুশব্যাক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বুধবার (৬ মে) সাংবাদিকদের তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর এমন কোনো ঘটনা ঘটবে বলে তিনি আশা করেন না। তবে সীমান্ত পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানও এই বিষয়ে মন্তব্য করেন। বিএনপির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বক্তব্যে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর যদি সীমান্তে ‘পুশ ইন’ বা জোরপূর্বক লোক ঢোকানোর ঘটনা ঘটে, তাহলে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

    এদিকে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অভিন্ন নদীর সংখ্যা ৫৪টি এবং এসব নদী-সংক্রান্ত সব ধরনের ইস্যু নিয়ে আলোচনা করার জন্য দুই দেশের মধ্যে সুসংগঠিত দ্বিপক্ষীয় কাঠামো রয়েছে। বৃহস্পতিবার তিনি জানান, পানিবণ্টন ও নদী ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিদ্যমান যৌথ প্রক্রিয়াগুলো নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে তিস্তা চুক্তি নিয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি বা নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।

  • ‘পুশব্যাক’ নিয়ে বাংলাদেশকে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের আহ্বান-ভারতের

    ‘পুশব্যাক’ নিয়ে বাংলাদেশকে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের আহ্বান-ভারতের

    আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ বা সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক লোক পাঠানোর আশঙ্কা নিয়ে শীর্ষ পর্যায় থেকে যেসব মন্তব্য এসেছে, সে বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। বৃহস্পতিবার (৭ মে) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এসব মন্তব্য দেখা উচিত। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

    জয়সওয়াল জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের কাছে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ২ হাজার ৮৬০টির বেশি মামলা ঝুলে আছে। এর মধ্যে অনেক আবেদন পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন, ‘দ্রুত যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো সহজ ও সুশৃঙ্খলভাবে করা সম্ভব হবে।’

    এর আগে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সীমান্তে সম্ভাব্য পুশব্যাক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বুধবার (৬ মে) সাংবাদিকদের তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর এমন কোনো ঘটনা ঘটবে বলে তিনি আশা করেন না। তবে সীমান্ত পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানও এই বিষয়ে মন্তব্য করেন। বিএনপির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বক্তব্যে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর যদি সীমান্তে ‘পুশ ইন’ বা জোরপূর্বক লোক ঢোকানোর ঘটনা ঘটে, তাহলে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

    এদিকে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অভিন্ন নদীর সংখ্যা ৫৪টি এবং এসব নদী-সংক্রান্ত সব ধরনের ইস্যু নিয়ে আলোচনা করার জন্য দুই দেশের মধ্যে সুসংগঠিত দ্বিপক্ষীয় কাঠামো রয়েছে। বৃহস্পতিবার তিনি জানান, পানিবণ্টন ও নদী ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিদ্যমান যৌথ প্রক্রিয়াগুলো নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে তিস্তা চুক্তি নিয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি বা নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।

  • ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঝুঁকিতে সুইজারল্যান্ড

    ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঝুঁকিতে সুইজারল্যান্ড

    যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধের কারণে আসন্ন শীতে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন তথ্য দিয়ে সতর্ক করেছে সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল ইলেকট্রিসিটি কমিশন। বৃহস্পতিবার আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়।

    সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল ইলেকট্রিসিটি কমিশন জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ইউরোপ ও সুইজারল্যান্ডের বিদ্যুৎ সরবরাহের স্থিতিশীলতাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

    ইউরোপের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। ফলে ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা ইউরোপীয় জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান কার্যত নিজেদের বাইরে অন্য দেশের জন্য হরমুজ প্রণালির তেল ও গ্যাস রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আটকে পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন।

    এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে ইউরোপজুড়ে জ্বালানি মূল্য আরও বাড়তে পারে এবং শীত মৌসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে।

  • ইরানে ফের হামলার সুযোগ খুঁজছে ইসরায়েল

    ইরানে ফের হামলার সুযোগ খুঁজছে ইসরায়েল

    ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান চালাতে সুযোগ খুজছে ইসরায়েল। এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে দেশটি। ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (আইপিবিসি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেল আবিবের সামরিক ও নিরাপত্তা নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা বা সম্ভাব্য সমঝোতা কেবল সময়ক্ষেপণ ছাড়া কিছু নয়।

    পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান উত্তেজনাকে কাজে লাগিয়ে ইরানের ভেতরে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। এ লক্ষ্যে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক কর্মকর্তারা সম্ভাব্য হামলার জন্য নতুন লক্ষ্যবস্তুর তালিকাও প্রস্তুত করেছেন বলে জানা গেছে। তালিকায় ইরানের অপরিশোধিত তেল শোধনাগার, জ্বালানি অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

    আইপিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো সাম্প্রতিক বার্তায় ইসরায়েল স্পষ্ট করেছে যে, তারা যেকোনো উপায়ে ইরানের ওপর আবারও আক্রমণ শুরু করার সুযোগ খুঁজছে।অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে অঞ্চলজুড়ে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।

  • গাজায় রোগ ছড়িয়ে পড়ছে, ভয়াবহ স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা

    গাজায় রোগ ছড়িয়ে পড়ছে, ভয়াবহ স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা

    গাজায় বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে দ্রুত রোগ ছড়িয়ে পড়ায় ভয়াবহ স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

    মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ইসরায়েলি হামলায় সৃষ্ট মানবিক সংকটের কারণে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পরিবেশ পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে অবনতি হয়েছে। দূষিত পানি, ক্ষতিগ্রস্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, জমে থাকা বর্জ্য ও পরিচ্ছন্নতা সামগ্রীর সংকটে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।

    কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ইঁদুর, মশা ও বিভিন্ন পরজীবীর বিস্তারের কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। সম্ভাব্য মহামারি ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা, ওষুধ ও প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

    জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা জানায়, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে চর্মরোগের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। খোসপাঁচড়া, উকুন, পোকামাকড় ও চামড়াজনিত নানা সংক্রমণে হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। সংস্থাটি বলছে, এসব রোগ সাধারণ ওষুধেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী প্রায় নেই বললেই চলে

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, চলতি বছরের শুরু থেকে গাজায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ইঁদুর ও পরজীবীজনিত সংক্রমণের ১৭ হাজারের বেশি ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। সংস্থাটি পরিস্থিতিকে ‘নৈরাশ্যজনক ও অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলে বর্ণনা করেছে।

    এ ছাড়া স্বাস্থ্যখাতে প্রায় ১৪০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়। বড় হাসপাতালসহ এক হাজার ৮০০-র বেশি স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনা আংশিক বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

    যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজার প্রায় ২৪ লাখ মানুষের মানবিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। খাদ্য, চিকিৎসা সহায়তা, ত্রাণ ও আশ্রয় উপকরণ প্রবেশে চলমান বিধিনিষেধের কারণে সংকট আরও তীব্র হচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।

  • মার্কিন ঘাঁটির ২২৮টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত : ওয়াশিংটন পোস্ট

    মার্কিন ঘাঁটির ২২৮টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত : ওয়াশিংটন পোস্ট

    যুক্তরাষ্ট্রের মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্ট বুধবার প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে লিখেছে, পত্রিকাটির স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ অনুযায়ী যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের বিমান হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ‘মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহৃত ঘাঁটি বা স্থাপনাগুলোর অন্তত ২২৮টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে’।

    ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, এসব হামলায় লক্ষ্যবস্তু ছিল মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ‘বিমান সংরক্ষণ কাঠামো, ব্যারাক, জ্বালানি ডিপো, বিমান, এবং গুরুত্বপূর্ণ রাডার, যোগাযোগ ও বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম’। মার্কিন এই সংবাদপত্রটি লিখেছে, ‘ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কখনো স্বীকার বা এর আগে কোনো প্রতিবেদনে উঠে আসা যেকোনো তথ্যের চেয়ে অনেক বেশি।’ কয়েক দিন আগে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন একই ধরনের এক প্রতিবেদনে অঞ্চলের অন্তত ১৬টি মার্কিন ঘাঁটিতে ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির’ কথা জানিয়েছিল।

    এখন ওয়াশিংটন পোস্ট লিখছে, কর্মকর্তাদের মতে বিমান হামলার হুমকি ‘অঞ্চলের কিছু মার্কিন ঘাঁটিকে স্বাভাবিকভাবে সেনা মোতায়েনের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক করে তুলেছে এবং কমান্ডাররা যুদ্ধ শুরুর সময় থেকেই তাদের বাহিনীর একটি বড় অংশকে ইরানি হামলার আওতার বাইরে সরিয়ে নিয়েছেন’।

    তবে এক সামরিক মুখপাত্র ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ‘বিশেষজ্ঞদের বর্ণনাকে ব্যাপক ধ্বংস বা ব্যর্থতার লক্ষণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়’, কারণ ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ জটিল এবং কিছু ক্ষেত্রে ‘ভুল ধারণা সৃষ্টি করতে পারে’।সামরিক মুখপাত্র ওয়াশিংটন পোস্টকে আরো বলেন, যুদ্ধ শেষ হলে সামরিক কমান্ডাররা ইরানের হামলা সম্পর্কে আরো পূর্ণাঙ্গ চিত্র দিতে পারবেন।

    গত সপ্তাহে মার্কিন যুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেট কংগ্রেসে ঘোষণা দেন যে ইরানের সাথে যুদ্ধের ব্যয় হবে ২৫ বিলিয়ন বা ২৫০০ কোটি ডলার। তবে একইসাথে তিনি স্বীকার করেন যে এই যুদ্ধে ব্যবহৃত গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় সংগ্রহ করতে মাস বা বছর লেগে যেতে পারে। এদিকে, ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরুর পর পেন্টাগন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের কাছে ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বাজেট চেয়েছে, যা আগের তুলনায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

  • মোবাইলফোনে মিসাইল হামলার সতর্কবার্তা পাচ্ছি : ‘বাংলার জয়যাত্রা’র প্রধান প্রকৌশলী

    মোবাইলফোনে মিসাইল হামলার সতর্কবার্তা পাচ্ছি : ‘বাংলার জয়যাত্রা’র প্রধান প্রকৌশলী

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে সাগরে আটকে পড়া ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজের প্রধান প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘মোবাইলফোনে মিসাইল হামলার সতর্কবার্তা পাচ্ছি। প্রতিনিয়ত ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কে বিভিন্ন বার্তা দেয়া হচ্ছে। বার্তা পাচ্ছি- কেউ যদি হরমুজ প্রণালী ক্রসের চেষ্টা করো, অ্যাটাক করা হবে।’

    জাহাজটিতে নাবিক, ইঞ্জিনিয়ারসহ মোট ৩১ জন ক্রু রয়েছেন। তাদের কয়েকজন জানান, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর চোখের সামনে মুহুর্মুহু মিসাইল হামলা, কখনো বিধ্বস্ত মিসাইলের ভাঙা অংশ এসে আশপাশের কোনো জাহাজে পড়তে দেখেছেন তারা।

    এমন পরিস্থিতিতে কবে হরমুজ প্রণালী পাড়ি দিয়ে নিরাপদে উপসাগরীয় এলাকা ছাড়তে পারবেন, জানেন না জাহাজটিতে থাকা বাংলাদেশী নাবিকদের কেউ।জাহাজটির ক্যাপ্টেন মো: শফিকুল ইসলাম বুধবার (৬ মে) বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘আমরা এমন একটা জায়গায় আটকে পড়েছি, ধরে নিতে পারেন এটা একটা পুকুর। আমাদের বের হওয়ার রাস্তা একটাই, সেটা হরমুজ প্রণালী। জানি না কবে এখান থেকে বের হতে পারব।’

    জাহাজটির কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে হরমুজ প্রণালী থেকে বের হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানির অন্তত দুই হাজার ২৭৩টি জাহাজ। এর মধ্যে যুক্তরাজ্য-ইসরাইলসহ বিভিন্ন দেশের জাহাজও রয়েছে।এদিকে আটকে পড়া বাংলাদেশী জাহাজটিকে বের করে আনতে কূটনীতিক চ্যানেলে ইরানের সাথে কয়েক দফায় যোগাযোগ করার কথা জানিয়েছে সরকার।

    বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন বা বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘ইরানের সাথে আলোচনা করে বাংলাদেশের জাহাজটিকে যখন বের করে আনার পর্যায়ে নিয়ে এসেছিল, ঠিক তখন আবার সঙ্ঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যে কারণে এটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।’

    এদিকে, বুধবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি’র নৌবাহিনী জানিয়েছে, ‘আগ্রাসীদের হুমকি বন্ধ হলে হরমুজ প্রণালী আবারো খুলে দেয়া হতে পারে।’উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ গত ২৬ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে। এরপর ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেটি কয়েক দফায় চেষ্টা করেছে কিন্তু হরমুজ প্রণালী থেকে বের হতে পারেনি। বরং এরপর থেকে জাহাজটি ঘুরছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জলসীমায়।

  • বিশ্বজুড়ে  তৎপরতা বেড়েছে হান্টাভাইরাস নিয়ে

    বিশ্বজুড়ে তৎপরতা বেড়েছে হান্টাভাইরাস নিয়ে

    ইঁদুরবাহিত প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এখন বিশ্বজুড়ে জরুরি তৎপরতা শুরু হয়েছে। আক্রান্ত একটি বিলাসবহুল ক্রুজ জাহাজ থেকে নেমে যাওয়া যাত্রীরা ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভাইরাসটির সংস্পর্শে শত শত মানুষ এসে থাকতে পারেন বলে উদ্বেগ বাড়ছে। এমভি হন্ডিয়াস নামের ক্রুজ জাহাজটি শনিবার থেকে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য আতঙ্কের কেন্দ্রে রয়েছে। জাহাজটিতে বিরল হান্টাভাইরাস সংক্রমণের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল

    এতে বলা হয়, যদিও সাধারণত ইঁদুরের মূত্র, মল ও লালার মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়, তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) নিশ্চিত করেছে যে, এই সংক্রমণের জন্য দায়ী ভাইরাসটি হলো হান্টাভাইরাসের বিরল ‘অ্যান্ডিস’ ধরন। এটিই একমাত্র পরিচিত হান্টাভাইরাস, যা মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

    ডব্লিউএইচও চেষ্টা করছে কীভাবে হান্টাভাইরাসটি জাহাজে এল, তা নির্ধারণ করতে। প্রথম মৃত ব্যক্তি- ৭০ বছর বয়সী এক ডাচ নাগরিক ৬ এপ্রিল অসুস্থ হন। তিনি ১১ এপ্রিল মারা যান। এ সময় জাহাজটি ট্রিস্টান দা কুনহার দিকে যাচ্ছিল। ওশানওয়াইড এক্সপেডিশনস জানিয়েছে, তার মরদেহ ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত জাহাজেই রাখা হয়েছিল। পরে সেন্ট হেলেনায় নামানো হয় তা। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময় আরও ২৩ জন যাত্রী জাহাজ থেকে নেমেছিলেন এবং পরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ভ্রমণ করেন।

    ডব্লিউএইচও নিশ্চিত করেছে, ওই নারী ২৫ এপ্রিল এয়ারলিংক পরিচালিত একটি বিমানে জোহানেসবার্গে যান। ওই বিমানে ৮২ জন যাত্রী ও ছয়জন ক্রু ছিলেন। তিনি গুরুতর উপসর্গ থাকা অবস্থায় জোহানেসবার্গ থেকে নেদারল্যান্ডসগামী আরেকটি বিমানে ওঠেন। তবে তার শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে কর্মীরা তাকে নামিয়ে দেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এখন অন্তত ৮০ জন যাত্রীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন, যারা ওই নারীর সঙ্গে একই ফ্লাইটে ছিলেন। ২৭ এপ্রিল ক্রুজের এক বৃটিশ যাত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অ্যাসেনশন দ্বীপ থেকে তাকে চিকিৎসার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকায় নেয়া হয়। কয়েক দিন পর আরেক যাত্রী এক জার্মান নাগরিক মারা যান।

    ৩রা মে এমভি হন্ডিয়াস কেপ ভার্দেতে পৌঁছালেও জাহাজটিকে ভিড়তে দেয়া হয়নি। ফলে যাত্রীরা কার্যত সমুদ্রে আটকা পড়েন। এরপর তিনজন রোগীকে নেদারল্যান্ডসের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। সুইজারল্যান্ডে এক যাত্রী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া সেন্ট হেলেনা থেকে দেশে ফেরা দুই বৃটিশ যাত্রী বর্তমানে বৃটেনে স্বেচ্ছানির্বাসনে আছেন। বৃটিশ সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভাইরাসটির উপসর্গ সাধারণত সংস্পর্শে আসার দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে দেখা দেয়। তবে দুই দিন থেকে আট সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে আগামী দিন বা সপ্তাহগুলোতে আরও যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।

    সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের প্রায় ৪০ শতাংশের মৃত্যু হয়। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে আর্জেন্টিনার চুবুত প্রদেশের এপুয়েন শহরে অ্যান্ডিস ভাইরাসের আরেকটি প্রাদুর্ভাবে সংক্রমণের হার ছিল ২ দশমিক ২। অর্থাৎ একজন আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে আরও দুজনের বেশি মানুষকে সংক্রমিত করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে নিশ্চিত করা হয়েছে, জাহাজে থাকা এক অস্ট্রেলীয় নাগরিকও ২১ এপ্রিল সেন্ট হেলেনায় নেমে দেশে ফিরে গেছেন।

  • হামাস নেতার ছেলেকে হত্যা করেছে ইসরাইল

    হামাস নেতার ছেলেকে হত্যা করেছে ইসরাইল

    ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের নির্বাসিত গাজাপ্রধান খলিল আল-হাইয়ার ছেলে আজম আল-হাইয়া বুধবার গাজা সিটিতে ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন। হামাসের কর্মকর্তা বাসিম নাঈম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এই খবর দিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

    এর আগে খবরে বলা হয়, ইসরাইলি হামলায় আল-হাইয়া গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে সর্বশেষ আল-হাইয়ার নিহতের খবর প্রকাশ করেছে হামাস। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আল-হাইয়াকে হত্যার জন্য বহুবার হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। তবে সাত সন্তানের এতদিন বেঁচে থাকলেও ইসরাইলি হামলায় আর তার শেষ রক্ষা হলো না। এর আগে গত বছর দোহায় হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। সেইবারও প্রাণে রক্ষা পেয়েছিলেন আল-হাইয়া।

  • যেভাবে হত্যা করা হয় শুভেন্দুর সহকারীকে

    যেভাবে হত্যা করা হয় শুভেন্দুর সহকারীকে

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) চন্দ্রনাথ রাঠকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের মাত্র দুই দিন পর বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে এই হামলা হয়।

    তদন্তকারীরা জানান, প্রথম ভুয়া নম্বর প্লেটধারী এক গাড়ি চন্দ্রনাথের গাড়ি গতিরোধ করে। এরপর হামলাকারীমোটরসাইকেলে এসে তিনবার চন্দ্রনাথকে গুলি করে।
    দেশটির স্থানীয় সময় বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে। চন্দ্রনাথের গাড়িটি প্রথমে দোলতালার কাছে মধ্যমগ্রামে আটকানো হয়।
    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুয়া নম্বর প্লেট লাগানো গাড়িটি রাস্তার মাঝে চন্দ্রনাথের গাড়ি থামাতে বাধ্য করে। এরপর চন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে অন্তত চারটি গুলি চালায় হামলাকারীরা।

    এরপর ওই ভুয়া নম্বর প্লেট লাগানো গাড়িটি ফেলে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।

    স্থানীয় হাসপাতালের একজন চিকিৎসক পিটিআই’কে বলেন, চন্দ্রনাথকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। তার বুকে এবং হৃদপিন্ডে গুলি লেগেছিল।

    ওই চিকিৎসক আরও বলেন, ভুক্তভোগীকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। চন্দ্রনাথের বুকে দুটি গুলির আঘাত ছিল, যার একটি হৃৎপিণ্ড ভেদ করে এবং আরেকটি গুলি তার পেটে লাগে। তাকে বাঁচানোর কোনো সুযোগ ছিল না।
    একজন প্রতক্ষ্যদর্শী দাবি করেছেন যে হামলাকারীরা পেশাদার ছিলেন।
    ওই ব্যক্তি এনডিটিভিকে বলেন, চন্দ্রনাথের গাড়িটি কেবল আমাকে অতিক্রম করলো, এরপর রাস্তার মাঝে হুট করে থামলো এবং বাইকে আসা এক ব্যক্তি গাড়ির বামপাশে গুলি চালালো। হামলাকারীদের দেখে পেশাদার মনে হয়েছে।

    এ ছাড়া তিনি আরও বলেন, আমি দুই রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছি। রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
    প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা চারটি মোটরসাইকেল এবং একটি গাড়ি এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করেছে।

    পশ্চিমবঙ্গের ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ সিদ্ধ নাথ গুপ্ত বলেন, চন্দ্রনাথের গতিরোধ করা গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। তবে গাড়িতে যে নম্বর প্লেট লাগানো ছিল তা ভুয়া। এ ছাড়া মোটরসাইকেলগুলোর নম্বর প্লেটও ভুয়া ছিল।

    হামলায় অত্যাধুনিক অস্ত্রের ব্যবহার
    পুলিশ ধারণা করছে, এই হামলায় হামলাকারীরা অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে। পুলিশের এক কর্মকর্তা পিটিআইকে বলেছেন, হামলাকারীরা সম্ভবত গ্লোক ৪৭এক্স পিস্তল ব্যবহার করেছে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পশ্চিমবঙ্গের ঊর্ধতন এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এই ধরনের অস্ত্র সাধারণ ক্রিমিনালরা ব্যবহার করে না। আমরা তদন্ত করে দেখছি যে এই হামলায় পেশাদার শুটার জড়িত ছিল কিনা।

    সিদ্ধ নাথ গুপ্ত বলেন, আমরা ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা ও তাজা গুলি উদ্ধার করেছি। এই মুহূর্তে হামলার উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়।

    ৪০ মিনিট ধরে অপেক্ষায় ছিল হামলাকারীরা
    চন্দ্রনাথ শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি মধ্যমগ্রামের দোহারিতে আবাসিক কমপ্লেক্সে থাকতেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, হামলাকারীরা চন্দ্রনাথের জন্য ৪০মিনিট ধরে অপেক্ষায় ছিল। তিনি স্করপিও এসইউভি ব্যবহার করতেন। এই গাড়িতে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার স্টিকার লাগানো ছিল। তাই তার গাড়ি চিনতে হামলাকারীদের কোনো সমস্যা হয়নি।

  • বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

    বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খবরের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে।

    বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতে মার্কিন অপরিশোধিত তেলের ফিউচার মূল্য প্রতি ব্যারেলে প্রায় ১ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচার ৮০ সেন্ট বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৫ দশমিক ৮৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে বুধবার লেনদেন চলাকালীন তেলের দাম সর্বোচ্চ ৯৬ দশমিক ৩৩ ডলারে উঠেছিল।

    বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছানোর খবরের প্রভাবেই বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

    তবে ঝুঁকি বিশ্লেষণী সংস্থা ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফট-এর জ্বালানি ও সম্পদ বিষয়ক প্রধান কাহো ইউ সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে হামলার হুমকি পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত তেলের দাম এবং জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।

    তিনি আরো বলেন, কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও জ্বালানি বাজার এখনই সংকট-পূর্ব অবস্থায় ফিরছে না। চীন ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা উত্তেজনা হ্রাসে ভূমিকা রাখলেও শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হচ্ছে কি-না, বাজার সেদিকেই নজর রাখছে। আগামী মাসগুলোতে তেলের সরবরাহ ও ট্যাংকার চলাচলের প্রকৃত চিত্রই বলে দেবে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা ফিরছে কি-না। সূত্র: আলজাজিরা