আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • ভারতে কোচিং সেন্টারে আগুন, নিহত ১৪

    ভারতে কোচিং সেন্টারে আগুন, নিহত ১৪

    ভারতের উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের আলীগঞ্জ এলাকায় একটি বহুতল ভবনে অবস্থিত কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২২ জুন) বিকালের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ভবনের ভেতরে বহু মানুষ আটকা পড়েন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা গেছে, প্রাণ বাঁচাতে অনেক শিক্ষার্থীকে প্রথম তলা থেকে নিচে লাফিয়ে পড়তে দেখা গেছে। আগুন থেকে বাঁচার মরিয়া চেষ্টার সময় এক ব্যক্তিকে নিচে পড়ে যেতেও দেখা যায়।

    ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত ওই বহুতল ভবনটিতে কোচিং সেন্টারের পাশাপাশি একটি পোষা প্রাণীর দোকান (পেট শপ) এবং বেশ কিছু অন্যান্য দোকানপাট ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার পরপরই পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন।

    প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জ্বলা এই বিধ্বংসী আগুন শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর উদ্ধারকারীরা দুর্ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ১৪টি মরদেহ উদ্ধার করেন।

    এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে প্রত্যেকের পরিবারকে ২ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রশাসন এই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।

  • সাইপ্রাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে খুন

    সাইপ্রাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে খুন

    সাইপ্রাসের লারনাকায় ২২ বছর বয়সী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহমেদ ইমনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সে দেশে চলমান তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে। ৯ দিন ধরে অনুসন্ধানের পর মামলাটি এখন হত্যাকাণ্ডের তদন্তে রূপ নিয়েছে।

    লারনাকা অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কর্মকর্তারা এ ঘটনায় তদন্ত চালাচ্ছেন। তাঁরা বলেছেন, শাহরিয়ার আহমেদ ইমনের অপহরণ মামলার তদন্ত করতে গিয়ে তাঁরা একজন ২২ বছর বয়সী বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি শাহরিয়ারকে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি পুলিশকে কোফিনাউ অভিবাসী অভ্যর্থনাকেন্দ্র এবং স্থানীয় কসাইখানার কাছাকাছি একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যান। সেখান থেকেই মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

    ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গতকাল রোববার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ সোমবার রিমান্ড শুনানির জন্য তাঁকে লারনাকা ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে হাজির করার কথা আছে।

    ফরেনসিক দল মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার স্থানটি ঘিরে রেখেছে। ঘটনার বিস্তারিত আলামত সংগ্রহের জন্য তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

    বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহরিয়ার কয়েক মাস আগে লারনাকা শহরের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তিনি ওরোকলিনি এলাকার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। ১২ জুন শাহরিয়ার তাঁর ফ্ল্যাটমেটদের বলেছিলেন, তিনি কোফিনাউতে একটি কারখানায় কাজে যোগ দিতে যাচ্ছেন। সেটি ছিল তাঁর কাজের প্রথম দিন।

    ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শাহরিয়ার বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। এর পর থেকে তাঁর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। সর্বশেষ ১২ জুন রাতের দিকে শাহরিয়ার এক বন্ধুকে একটি ডিজিটাল লোকেশন পিন পাঠিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পরই তাঁর ফোনের সিগন্যাল বন্ধ হয়ে যায়।

    নো হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

  • বাড়ি বাচাতে বিজেপিতে গেলেন ইউসুফ পাঠান

    বাড়ি বাচাতে বিজেপিতে গেলেন ইউসুফ পাঠান

    ভারতের সাবেক তারকা ক্রিকেটার এবং পশ্চিমবঙ্গের সাবেক ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভা সদস্য (এমপি) ইউসুফ পাঠান একটি জমি নিয়ে বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক সংকটে পড়েছেন। গুজরাটের ভদোদরা শহরে ২০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের একটি সরকারি জমি অবৈধভাবে দখলে রাখার অভিযোগে ওই জমি প্রকাশ্যে নিলামে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্থানীয় পৌরসভা।

    একই সঙ্গে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর নিজের দল তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরেও তীব্র রাজনৈতিক কোন্দল ও কাদা-ছোড়াছুড়ি শুরু হয়েছে।

    ঘটনাটি গুজরাটের ভদোদরা শহরের তানদালজা এলাকার। ২০১২ সালে সাবেক এই অলরাউন্ডার ক্রিকেটার ওই এলাকার ৯৭৮ বর্গমিটারের একটি সরকারি প্লট ৯৯ বছরের জন্য ইজারা (লিজ) নেওয়ার আবেদন করেন। ভদোদরা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (ভিএমসি) সে সময় কোনো প্রকাশ্য নিলাম ছাড়াই প্রতি বর্গমিটার ৫৭ হাজার ২৭০ রুপি দরে জমিটি পাঠানের নামে বরাদ্দ করার প্রস্তাব অনুমোদন করে।

    প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য গুজরাট রাজ্যের নগর উন্নয়ন দপ্তরের কাছে পাঠানো হলে বাধে বিপত্তি। ২০১৪ সালের জুনে দপ্তরটি এই বরাদ্দ বাতিল করে দেয়। তাদের যুক্তি ছিল, প্রকাশ্য নিলাম বা দরপত্র ছাড়া সরকারি জমি এভাবে দেওয়া যাবে না। জমি বরাদ্দ বাতিল হলেও ইউসুফ পাঠান জায়গাটি কাঁটাতারের বেষ্টনী দিয়ে নিজের দখলেই রেখে দেন।

    দীর্ঘ ১০ বছর পর ২০২৪ সালে ইউসুফ পাঠান পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর আসন থেকে তৃণমূলের টিকিটে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন। এর পরপরই বিজেপি-নিয়ন্ত্রিত ভদোদরার পৌরসভা তাঁকে সরকারি জমি অবৈধ দখলের নোটিশ পাঠায়। পাঠান এই নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যান।

    তবে গত বছরের আগস্টে গুজরাট হাইকোর্ট সরকারের আগের বাতিল আদেশই বহাল রাখেন। এরপর চলতি বছরের ১৫ জুন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ পাঠানকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদ কোটায় জমি পাওয়ার আবেদনের জন্য চার সপ্তাহ সময় দিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে আদালত কড়া প্রশ্ন তুলেছেন, ২০১৪ সালে বরাদ্দ বাতিল হওয়ার পরও কোনো অর্থ পরিশোধ না করে তিনি কীভাবে ১২ বছর ধরে এই মূল্যবান সরকারি জমি দখলে রাখলেন।

    আদালত ইঙ্গিত দিয়েছেন, অবৈধ দখলের জন্য পাঠানকে বর্তমান বাজারদরে ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ওই জমির মূল্য প্রায় ৩ গুণ বেড়ে ২০ কোটি ৫০ লাখ রুপিতে দাঁড়িয়েছে। পৌরসভা এখন জমিটি নিলামে তোলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে।

  • শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের অন্তরায়: সংসদে জিএম সিরাজ

    শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের অন্তরায়: সংসদে জিএম সিরাজ

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে থামাতে ভারত সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) সিরাজ। তিনি বলেছেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আপনার মাধ্যমে আমি মোদি সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি—সবিনয়ে একই সঙ্গে আমি বলতে চাই, আমাদের পশ্চিমবঙ্গের যে চিফ মিনিস্টার শুভেন্দু বাবু, তাঁকে থামান। বাংলাদেশ বিরোধী যে সমস্ত বক্তব্য আসছে মাঝেমধ্যে, যে সমস্ত বক্তব্য তিনি দিচ্ছেন, এই বক্তব্য…ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বের অন্তরায় হয়ে গেছে।’

    আজ সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ অনুরোধ জানান।

    জিএম সিরাজ বলেন, ‘আমি আহ্বান করি যে, এখানে শেখ হাসিনা অপ্রাসঙ্গিক। শেখ হাসিনা নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথা নাই। বাংলাদেশে উনি নাই হয়ে গেছে। আউট অফ সিন অ্যান্ড সে কোনো দিনই বাংলাদেশে…।’

    জিএম সিরাজ বলেন, ‘আমরা সবাই চাই, ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব সম্মানজনকভাবে টিকিয়ে রাখি। কারণ আমি বিশ্বাস করি যে, ভারত আমাদের প্রতিবেশী। দুই বন্ধুর বন্ধুত্ব ক্ষণস্থায়ী হয়, আমাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কও ক্ষণস্থায়ী হতে পারে। স্বামী-স্ত্রী ডিভোর্স হতে পারে। কিন্তু ভারত-বাংলাদেশ প্রতিবেশী, এই প্রতিবেশীর কিন্তু সম্পর্কে ডিভোর্স হতে পারে না। প্রতিবেশীকে আমরা কখনোই অস্বীকার করতে পারি না। না ভারত পারবে, না বাংলাদেশ পারবে।’

    জিএম সিরাজ বলেন, ভারতের নতুন হাইকমিশনার ত্রিবেদী এসে বলেছেন ‘আমরা একই আকাশ, একই বাতাসের নিচে’।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্কের ঝড় তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে জিএম সিরাজ বলেন, আমরা বলতে চাই—আসুন মানুষের হৃদয় জয় করুন। ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে হৃদয়ের সম্পর্ক স্থাপন করি। আমরা চাই, ভারত বিরোধিতা অথবা বাংলাদেশ বিরোধিতা যাতে না হয়। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করতে চাই। সে ক্ষেত্রে ভারতের বর্তমান সরকারের প্রতি আমার সবিনয় অনুরোধ, আপনারা দয়া করে পুশ ইন বন্ধ করুন।

    জিএম সিরাজ পুশ ইনের পাশাপাশি ভারত সীমান্তে মাদক তৈরির কারখানাগুলো বন্ধ করারও দাবি জানান।

  • পর্তুগালে অনিশ্চয়তায় অভিবাসী শ্রমিকরা, চলছে চিরুনি অভিযান

    পর্তুগালে অনিশ্চয়তায় অভিবাসী শ্রমিকরা, চলছে চিরুনি অভিযান

    পর্তুগালে অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে দেশজুড়ে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এতে অনেক অভিবাসী শ্রমিকের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    দেশটির ন্যাশনাল রিপাবলিকান গার্ড (এনআরজি) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৩০০ জনের বেশি অনিয়মিত অভিবাসীকে শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১৫০ জনকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্বেচ্ছায় দেশ ত্যাগের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

    সাম্প্রতিক সময়ে কৃষি এলাকা, স্ট্রবেরি খামার, রেলস্টেশন, প্রধান সড়ক ও সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে শ্রমিকনির্ভর কৃষি খাতে এই অভিযান বেশি চালানো হচ্ছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনাক্ত হওয়া অভিবাসীদের বড় একটি অংশ দক্ষিণ এশিয়া ও পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিক। এর মধ্যে ভারত, নেপাল ও গিনি-বিসাউয়ের শ্রমিকের সংখ্যা বেশি।

    অনেক অভিবাসী উন্নত জীবনের আশায় পর্তুগালে এলেও সেখানে গিয়ে নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন। আইনি কাগজপত্র না থাকায় অনেকেই কম মজুরিতে দীর্ঘ সময় কাজ করতে বাধ্য হন। এছাড়া উচ্চ বাড়িভাড়া, অস্বাস্থ্যকর বাসস্থান, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং পরিবারের জন্য টাকা পাঠানোর চাপ তাদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

    মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, ভাষাগত সমস্যা ও আইনি জটিলতার কারণে অনেক অভিবাসী নিজেদের অধিকার সম্পর্কেও সচেতন নন। ফলে তারা সহজেই শোষণের শিকার হচ্ছেন।

    তবে এনআরজির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই অভিযান কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে নয়। মানবপাচার বন্ধ করা এবং অবৈধভাবে বসবাস ও কাজের সুযোগ কমিয়ে আনাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।

    তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে অবৈধ কর্মসংস্থান প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    বর্তমানে আটক অভিবাসীদের কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে। যাদের দেশ ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ না ছাড়লে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে।

  • কে হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী

    কে হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী

    যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে অবশেষে সেই অবধারিত ঘটনাই ঘটল। দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনা, দলের অভ্যন্তরীণ প্রবল চাপ এবং দেশজুড়ে কমতে থাকা জনপ্রিয়তার মুখে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

    তার এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে লেবার পার্টির নেতৃত্বে এবং দেশের শাসনভারে এক বড় ধরনের পালাবদলের পথ প্রশস্ত হলো। আর এই দৌড়ে ডাউনিং স্ট্রিটের পরবর্তী বাসিন্দা হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম, যাকে এখন ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রায় নিশ্চিত ধরে নেওয়া হচ্ছে।

    স্টারমারের এই বিদায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল না। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ক্ষমতায় বসার পর থেকেই তার সরকারের প্রতি জনসমর্থনে ধস নামতে শুরু করে। নির্বাচনী প্রচারণায় এড়িয়ে যাওয়া অর্থনৈতিক সংকটগুলো সামনে এনে বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার যখন কর বৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যয় সংকোচনের মতো অজনপ্রিয় নীতি গ্রহণ করে, তখন থেকেই ভোটাররা ক্ষুব্ধ হতে শুরু করেন।

    তবে তার সরকারের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকা হয় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। জেফরি এপস্টেইনের বিতর্কিত বন্ধু পিটার ম্যান্ডেলসনকে আমেরিকায় ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে গোটা দেশে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে, যেখানে লেবার পার্টি এক ঐতিহাসিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। ফলস্বরূপ, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং-সহ দলের প্রায় ১০০ জন এমপি প্রকাশ্যে স্টারমারের পদত্যাগের দাবি তোলেন।

    স্টারমারের পদত্যাগের ফলে এখন লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। প্রেডিকশন মার্কেট বা বেটিং বাজারগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অ্যান্ডি বার্নহামের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা এখন রেকর্ড ৯৫ শতাংশ। লেবার পার্টির ‘কিং অব দ্য নর্থ’ খ্যাত বার্নহাম সম্প্রতি তার রাজনৈতিক সক্ষমতার এক বিশাল প্রমাণ দিয়েছেন।

    গত ১৮ জুন মেকারফিল্ড উপ-নির্বাচনে তিনি এক দুর্দান্ত জয় ছিনিয়ে আনেন। স্থানীয় নির্বাচনে এই আসনটিতে ডানপন্থী পপুলিস্ট দল ‘রিফর্ম ইউকে’ একচেটিয়া জয় পেলেও, উপ-নির্বাচনে বার্নহাম ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে তাদের সহজেই পরাজিত করেন। এই জয়ের মাধ্যমেই তিনি পার্লামেন্টে প্রবেশ করেন এবং দলের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি যোগ্যতা অর্জন করেন।

    নেতৃত্ব নির্বাচনের এই লড়াইয়ে বার্নহামের পাশাপাশি ওয়েস স্ট্রিটিং বা সাবেক সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী আল কার্নসের মতো নেতারাও মাঠে নামতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, স্ট্রিটিংয়ের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ৩ শতাংশ। নিয়ম অনুযায়ী, নতুন নেতা হতে হলে প্রার্থীদের লেবার পার্টির ৪০৩ জন এমপির মধ্যে অন্তত ৮১ জনের সমর্থন নিশ্চিত করে মনোনয়ন পেতে হবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে দলের সাধারণ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়নগুলোর সদস্যদের সরাসরি ভোটে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপ বলছে, সাধারণ দলের সদস্যদের মাঝে বার্নহাম বিপুল ব্যবধানে জনপ্রিয় এবং তিনি অনায়াসেই এই নির্বাচনে জয়লাভ করবেন।

    তবে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের চাবি হাতে পেলেও অ্যান্ডি বার্নহামের সামনের পথ কুসুমাস্তীর্ণ হবে না। ইউগভের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, মে থেকে জুনের মধ্যে সাধারণ ব্রিটিশ নাগরিকদের কাছে বার্নহামের প্রতি অনীহার হার ৩০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা তার জন্য একটি সতর্কবার্তা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তাকে এক বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।

    একদিকে যেমন দেশের অভ্যন্তরে স্থবির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে চাঙ্গা করার কঠিন কাজ তার কাঁধে পড়বে, তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে—বিশেষ করে একজন খামখেয়ালি আমেরিকান প্রেসিডেন্টের সাথে ব্রিটেনের কূটনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার মতো অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতিও তাকে অত্যন্ত সাবধানে সামলাতে হবে। দেশ পরিচালনার এই নতুন অধ্যায়ে বার্নহাম কতটুকু সফল হবেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে গোটা যুক্তরাজ্য।

  • পাঁচগুন বাড়লো জাপানের ভিসা ফি

    পাঁচগুন বাড়লো জাপানের ভিসা ফি

    বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা ফি এক ধাক্কায় বাড়িয়ে পাঁচ গুণ করেছে জাপান। গত প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে এটিই দেশটিতে ভিসা ফি বাড়ানোর প্রথম ঘটনা। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন এই বর্ধিত ফি কার্যকর হতে যাচ্ছে।

    জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একক প্রবেশাধিকারের (সিঙ্গেল-এন্ট্রি) ভিসা ফি বর্তমানের ৩ হাজার ইয়েন (প্রায় ১৮.৬৯ মার্কিন ডলার) থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার ইয়েন করা হচ্ছে। অন্যদিকে, একাধিক প্রবেশাধিকারের (মাল্টিপল-এন্ট্রি) ভিসা ফি বর্তমানের ৬ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার ইয়েন করা হয়েছে।

    ১৯৭৮ সালের পর এই প্রথম ভিসা ফি সংশোধন করল টোকিও। গত শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি বলেন, ‘মুদ্রাস্ফীতি এবং মুদ্রা বিনিময় হারের ওঠানামাকে প্রতিফলিত করতেই এই ফি সংশোধন করা হয়েছে।’

    তবে এই সিদ্ধান্তের কারণে জাপানের বিকাশমান পর্যটনশিল্পে বড় কোনো ধাক্কা লাগবে না বলে মনে করেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করছি না যে এটি জাপানে আসা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের সংখ্যার ওপর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

    ২০২১ সাল থেকে জাপানি মুদ্রা ‘ইয়েন’-এর মান ক্রমাগত কমছে। বর্তমানে ইয়েনের মান গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।

    ইয়েনের এই দরপতন এবং করোনা মহামারি পরবর্তী ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কারণে জাপানে বিদেশি পর্যটকদের ঢল নেমেছে। কম খরচে ভ্রমণের সুযোগ পাওয়ায় গত বছর দেশটিতে রেকর্ড ৪ কোটি ২৭ লাখ আন্তর্জাতিক পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, পর্যটকদের এই রেকর্ড আগমনও পরোক্ষভাবে এই ফি বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

    কেবল ভিসাই নয়, জাপানে বসবাসরত বা বসবাস করতে ইচ্ছুক বিদেশিদের জন্য অন্যান্য ফি-ও বড় আকারে বৃদ্ধি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত মে মাসে জাপানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে বিদেশিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ফি বৃদ্ধির একটি বিল পাস হয়।

    নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, জাপানে স্থায়ী বসবাসের (পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি) আবেদনের সংবিধিবদ্ধ সর্বোচ্চ ফি বর্তমানের ১০ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ইয়েন পর্যন্ত নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে, যা বর্তমানের ৩০ গুণ।

    এ ছাড়া রেসিডেন্সি স্ট্যাটাসের মেয়াদ বাড়ানোর ফিও বর্তমানের ১০ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১ লাখ ইয়েন পর্যন্ত করার বিধান রাখা হয়েছে।

    জাপানের নীতিনির্ধারকদের দাবি, ভিসা এবং আবাসনসংক্রান্ত ফিগুলো গ্রুপ অব সেভেন (জি৭) ভুক্ত অন্য উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এত দিন অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় জাপানের ভিসা ফি বেশ কম ছিল।

  • রৌমারী সীমান্তে ৯ দিন ধরে পুশইন চেষ্টার শিকার ৫ যুবক

    রৌমারী সীমান্তে ৯ দিন ধরে পুশইন চেষ্টার শিকার ৫ যুবক

    কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় সীমান্তের শূন্যরেখায় দু’টি স্থানে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর পুশইন চেষ্টার শিকার ৫ যুবক টানা ৯ দিন ধরে অবস্থান করছেন। এর মধ্যে গয়টাপাড়া সীমান্তে ২ জন এবং ভন্দুরচর সীমান্তে ৩ জন অবস্থান করছেন। এখন পর্যন্ত ঘটনার কোনো সমাধান না হওয়ায় অনিশ্চতায় রয়েছেন তারা।

    প্রবল বৃষ্টি ও তীব্র রোদের মধ্যে সামান্য প্লাস্টিকের ছাউনির নিচে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। প্রয়োজনীয় খাবার, বিশুদ্ধ পানি, গোসল ও স্যানিটেশন সুবিধার অভাবে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন তারা।
    এ ব্যাপারে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।’
    এদিকে সীমান্তের এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। উভয় বাহিনী নিজ নিজ অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
    গত ১৪ জুন সকালে গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে দুই শিশু ও তাদের বাবা-মাসহ ৬ জন এবং ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে আরও ৩ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি বাধা দিলে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় ভারতের অংশে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়।
    পরে গত বুধবার ভোরে গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে দুই শিশু ও তাদের বাবা-মাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়। তবে এখনও গয়টাপাড়া সীমান্তে ২ জন এবং ভন্দুরচর সীমান্তে ৩ জন আটকে রয়েছেন।

  • তারেক রহমানের চীন সফরে কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হবে, আশা বেইজিংয়ের

    তারেক রহমানের চীন সফরে কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হবে, আশা বেইজিংয়ের

    বাংলাদেশে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সঙ্গে কৌশলগত যোগাযোগ আরও জোরদার করা, ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে এগিয়ে নেওয়া, উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বহুপক্ষীয় বিষয়ে সমন্বয় বাড়ানোর প্রত্যাশা করছে চীন। একই সঙ্গে চীন-বাংলাদেশের সামগ্রিক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায় দেশটি।

    চীন সরকারের মুখপত্র হিসেবে পরিচিত গ্লোবাল টাইমস পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, আজ সোমবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফর নিয়ে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঘোষণায় বলা হয়, স্টেট কাউন্সিলের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ থেকে ২৬ জুন চীন সফর করবেন।

    গুও জিয়াকুন বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি হবে তারেক রহমানের প্রথম চীন সফর। সফরকালে চীনের শীর্ষ নেতা তাঁর সঙ্গে বৈঠক ও আলোচনা করবেন। সেখানে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে গভীর মতবিনিময় হবে। একই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে।

    তিনি আরও জানান, সফরকালে তারেক রহমান চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত সামার দাভোস ফোরামেও অংশ নেবেন। এ আয়োজনটি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) নিউ চ্যাম্পিয়নসের ১৭তম বার্ষিক সভা হিসেবে পরিচিত।

    চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী এবং সামগ্রিক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের নেতাদের কৌশলগত দিকনির্দেশনায় চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে এগিয়েছে। রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা আরও গভীর হয়েছে এবং বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতায় ফলপ্রসূ অর্জন এসেছে, যা দুই দেশের জনগণের জন্য বাস্তব সুফল বয়ে এনেছে।

    তিনি বলেন, চীন এই সফরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সব খাতে বিনিময় ও সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা করছে বেইজিং।

  • বিভিন্ন খাতে কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারে সম্মত বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া

    বিভিন্ন খাতে কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারে সম্মত বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া

    বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও আঞ্চলিক বিষয়ে সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া।

    পাশাপাশি আরসিইপিতে (রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ) যোগদান এবং আসিয়ানের সাথে সম্পৃক্ততা জোরদারে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে মালয়েশিয়া।

    আজ সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরকালে দুই নেতার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে এই অঙ্গীকারের কথা জানানো হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেয়ার পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মালয়েশিয়ায় এটি তার প্রথম সফরও।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, সফরকালে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘নতুন উচ্চতায়’ নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একই সাথে সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি দলিল বিনিময় প্রত্যক্ষ করেন।বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

    বাংলাদেশের জন্য এটিকে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির প্রত্যাশার বিষয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলেও অভিহিত করেন তিনি। প্রস্তাবিত মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এমবিএফটিএ) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। দুই দেশ ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তিটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তারা দ্বিমুখী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ানোর গুরুত্বের ওপরও জোর দেন।

    উভয় নেতা উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক সহযোগী বাংলাদেশ। তারা দ্বিমুখী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ানোর গুরুত্বের ওপরও জোর দেন।

  • মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে  আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    বাংলাদেশীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করতে আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    আজ সোমবার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরো বেশি বাংলাদেশী কর্মী নিয়োগ এবং দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেছি। পাশাপাশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটক বাংলাদেশীদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও উত্থাপন করেছি।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একমত হয়েছি যে শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে এবং শ্রমিকদের ব্যয় হ্রাস পায়।’

    দু’দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। প্রথমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম বক্তব্য রাখেন। পরে তারেক রহমান দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।

    সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিমকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারিতে আমি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর প্রথম যে শুভেচ্ছা বার্তা পেয়েছিলাম, তা ছিল প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের। তিনি আমাকে অভিনন্দন এবং মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান।’

    তিনি বলেন, ‘তার (আনোয়ার ইব্রাহিম) আন্তরিক আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বিদেশ সফরে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মালয়েশিয়ায় আসতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।’

    শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯৭৯ সালে মালয়েশিয়া সফরে কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘সেই সফর দু’দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করেছিল। একইসাথে শ্রমবিষয়ক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল।’

    তিনি বলেন, ‘আমি আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯৩ সালের মালয়েশিয়া সফরের কথাও স্মরণ করছি। তার সেই সফর আমাদের বন্ধুত্বকে আরো গভীর এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করেছিল।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার। পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তিতে আমাদের এই বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।’

    মালয়েশিয়ায় তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং আতিথেয়তা জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, মালয়েশিয়ার সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    তিনি বলেন, ‘আরো একবার মালয়েশিয়া সরকার এবং দেশটির জনগণকে তাদের বন্ধুত্ব ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমরা মধুর স্মৃতি নিয়ে দেশে ফিরছি।’

    দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমার ব্যাপক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মতবিনিময় করেছি।’

    তিনি বলেন, ‘আজ আমরা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। যৌথ কমিশন বৈঠক এবং দু’দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ প্রক্রিয়াসহ বিদ্যমান কাঠামোর মাধ্যমে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়েছি এবং বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনাকে এগিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

    বৈঠকে সংস্কৃতি বিষয়ক সমঝোতা স্মারকসহ সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা-সংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগ-সংক্রান্ত একটি দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় হওয়াকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসব উদ্যোগ আমাদের সহযোগিতাকে আরো সুদৃঢ় এবং সম্পর্কের ইতিবাচক গতিধারা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।’

    তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের আলোচনা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। আমরা যৌথ সমৃদ্ধি, আঞ্চলিক শান্তি এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একসাথে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।

    উল্লেখ্য, বৈঠকের পর দু’দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা-সংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় করা হয়। দু’দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দলিল দু’টি বিনিময় করেন।

  • ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

    ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

    সিন্ধু নদীর পানিবণ্টন নিয়ে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সতর্ক করে বলেছেন, দেশের পানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে পাকিস্তান সামরিক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।

    সম্প্রতি টেলিভিশন চ্যানেল এআরওয়াই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি পানি ইস্যুকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, সিন্ধু অববাহিকার পানির ওপর পাকিস্তানের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে ইসলামাবাদ প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া জানাবে। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন হচ্ছে বলে মনে হলে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকবে।

    এই মন্তব্য এসেছে দুই দেশের মধ্যে সিন্ধু পানিচুক্তি নিয়ে চলমান বিরোধের প্রেক্ষাপটে। কয়েক দিন আগে ভারতের জলশক্তিমন্ত্রী সি আর পাতিল একটি বক্তব্যে ইঙ্গিত দেন যে, ২০২৮ সালের মধ্যে পাকিস্তানের দিকে সিন্ধু নদীর পানিপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করার সক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব হতে পারে। তার সেই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

    মূলত ২০২৫ সালের এপ্রিলে পাহেলগামে সংঘটিত প্রাণঘাতী হামলার পর দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ওই ঘটনায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত হামলার জন্য পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের দায়ী করে এবং ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। ভারতের দাবি, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত চুক্তি পুনর্বহাল করা হবে না।

    বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত এই চুক্তি অনুযায়ী সিন্ধু নদী ব্যবস্থার পানির বড় অংশ পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। ফলে দেশটির কৃষি, সেচব্যবস্থা এবং সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য এ পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ভারতের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের দাবি, পানিপ্রবাহে যেকোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে নদীনির্ভর কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর গুরুতর প্রভাব পড়বে। এ অবস্থায় পানি ইস্যু দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা উত্তেজনার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে।

  • কাতারের কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে আহত ৫৪, নিখোঁজ ১৮

    কাতারের কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে আহত ৫৪, নিখোঁজ ১৮

    কাতারের একটি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ৫৪ জন আহত হয়েছেন এবং নিখোঁজ রয়েছেন ১৮ জন। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছে, রাস লাফান শিল্পনগরীর একটি কারখানায় বিস্ফোরণের এ ঘটনা ঘটে। এতে ৫৪ জন আহত হয়েছেন ও ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

    নিখোঁজদের সন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

  • দশ বছরে সাত প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে যুক্তরাজ্য

    দশ বছরে সাত প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে যুক্তরাজ্য

    যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আজ সোমবার তার বিদায়ের সময়সূচি ঘোষণা করতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহামের কাছে সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ সুগম করবেন। এর ফলে এক দশকের মধ্যে যুক্তরাজ্য তাদের সপ্তম নেতা বা প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে।

    ভূমিধস জয়ের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের বিশৃঙ্খল রাজনীতির অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন স্টারমার। কিন্তু এর দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তিনি পদত্যাগ করবেন নাকি নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে নামবেন, তা নিয়ে গত সপ্তাহে চিন্তাভাবনা করেছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার গত কয়েক মাস ধরেই চাপের মধ্যে ছিলেন। গত শুক্রবার গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম একটি সংসদীয় নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ী হওয়ার পর এই চাপ আরো তীব্র হয়। তিনি নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন ‘রিফর্ম ইউকে’ দলের প্রার্থীকে পরাজিত করেন, যে দলটি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে।

    অ্যান্ডি বার্নহামের এই বিজয় লেবার পার্টির আইনপ্রণেতাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দক্ষ যোগাযোগকারী হিসেবে পরিচিত বার্নহাম স্টারমারের অধীনে পিছিয়ে পড়া লেবার পার্টির ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারবেন বলে দলটির সদস্যরা মনে করছেন। উল্লেখ্য, স্টারমারের জনপ্রিয়তার রেটিং বর্তমানে যেকোনো ব্রিটিশ নেতার চেয়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।

    তবে বহুল প্রত্যাশিত এই নেতৃত্ব পরিবর্তন ঝুঁকির বাইরে নয়। দেশের মৌলিক পরিবর্তন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর কথা বললেও বার্নহাম এখনও পররাষ্ট্র, অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেননি। স্টারমারের মতো তিনিও বন্ড মার্কেটের বিনিয়োগকারীদের চাপে পড়তে পারেন, যারা অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার ঘোর বিরোধী। একই সাথে জনসেবার মান ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে ক্ষুব্ধ ভোটারদের মুখোমুখি হতে হবে তাকে।

    উচ্চ ঋণ ও সুদের হার, বছরের পর বছর ধরে ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কারণে জি-সেভেন ভুক্ত ধনী দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের ঋণ নেওয়ার খরচ বর্তমানে সবচেয়ে বেশি।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সাথে আলাপকালে বিনিয়োগকারীরা বার্নহামের বিষয়ে দ্বিধাবিভক্ত মত দিয়েছেন। গত সেপ্টেম্বরে বার্নহাম বলেছিলেন, যুক্তরাজ্যের বন্ড মার্কেটের অধীনতা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।

    তবে পরে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। গত শুক্রবার সিটিব্যাংকের অর্থনীতিবিদেরা বলেছেন, ‘আমাদের দৃষ্টিতে বার্নহাম একটি ঝুঁকিপূর্ণ আর্থিক পরিস্থিতি উত্তরাধিকারসূত্রে পাবেন, যেখানে অর্থপূর্ণ পরিবর্তন আনার মতো খুব বেশি হাতিয়ার থাকবে না।’

    গত শুক্রবার কিয়ার স্টারমার বলেছিলেন, দলের ভেতর নেতৃত্ব পরিবর্তনের যেকোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতায় তিনি লড়াই করবেন। কিন্তু সপ্তাহান্তে সেই অবস্থান বদলে গেছে বলে মনে হচ্ছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘কিয়ার বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবছেন।’ দলের ভেতরে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতা ছাড়া এভাবে নেতৃত্ব পরিবর্তন হলে তা সাধারণ ভোটারদের ক্ষুব্ধ করতে পারে। কারণ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে কে দেশ চালাবেন, তা নির্ধারণে সাধারণ মানুষের কোনো ভূমিকা থাকবে না।

    যুক্তরাজ্যের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং জানিয়েছিলেন, নেতৃত্বের লড়াইয়ে নামার জন্য প্রয়োজনীয় ৮১ জন লেবার আইনপ্রণেতার সমর্থন তার রয়েছে।

    তবে দলের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা মনে করেন, স্ট্রিটিং হয়তো বার্নহামের সাথে কোনো সমঝোতা বা চুক্তি করতে পারেন, যার বিনিময়ে তিনি বার্নহামের অধীনে কোনো জ্যেষ্ঠ পদের প্রতিশ্রুতি পেয়ে প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন।

    স্টারমারের দল মনে করে, ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিশাল জয় ২০২৯ সাল পর্যন্ত তার ক্ষমতায় থাকার ম্যান্ডেট বা অধিকার দেয়। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল গতকাল বোরবার বলেন, প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে তার রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর কথা বিবেচনা করছেন।

    আজ সোমবার ডাউনিং স্ট্রিট থেকে স্টারমার যদি তার বিদায়ের সময়সূচি ঘোষণা করেন, তবে ব্রেক্সিট ভোটের পর গত ১০ বছরের মধ্যে অ্যান্ডি বার্নহাম হবেন যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী। প্রায় দুই শতাব্দীর মধ্যে যুক্তরাজ্যে এটাই সর্বোচ্চ ঘন ঘন নেতা পরিবর্তনের রেকর্ড। জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, গণসেবার মান বাড়ানো এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে একের পর এক সরকারের ব্যর্থতায় ভোটারদের যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, এই রাজনৈতিক অস্থিরতা তারই বহিঃপ্রকাশ।

    রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘ইউরেশিয়া’ জানিয়েছে, সবচেয়ে ভালো সমাধান হতে পারে যদি স্টারমার আগামী সেপ্টেম্বরে পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন। এতে তিনি আগামী জুলাই মাসে যুক্তরাজ্য-ইউরোপীয় ইউনিয়ন শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে পারবেন এবং বার্নহামও সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবেন।

  • ইরান-মার্কিন আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন: পাক প্রধানমন্ত্রী

    ইরান-মার্কিন আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন: পাক প্রধানমন্ত্রী

    সুইজারল্যান্ডে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ইতিবাচক অগ্রগতির কথা নিশ্চিত করেন।

    প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, দুই দেশের মধ্যকার আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচক এবং গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠক থেকে বেশ কিছু উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

    ৬০ দিনের রোডম্যাপ: আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে সম্মত হয়েছে উভয় পক্ষ।

    উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন: রাজনৈতিকভাবে এই পুরো প্রক্রিয়া তদারকি ও দেখভালের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    প্রযুক্তিগত আলোচনা: চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পরবর্তী ধাপে আরও বিস্তারিত প্রযুক্তিগত আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    আলোচনায় পাকিস্তানের ভূমিকা উল্লেখ করে শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সংলাপ এবং কূটনীতিকে এগিয়ে নিতে পাকিস্তান সব সময়ই তার সৎ ও আন্তরিক ভূমিকা পালন করে যাবে।’

    দীর্ঘদিন ধরে চলা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে সুইজারল্যান্ডের এই বৈঠককে একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • পদত্যাগের ঘোষণা যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী

    পদত্যাগের ঘোষণা যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী

    প্রায় দুই বছরেরও কম সময় ক্ষমতায় থাকার পর সোমবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। নীতিগত অবস্থান থেকে একাধিকবার সরে আসা ও জনসমর্থনে বড় ধরনের পতনের মধ্যেই তার এ সিদ্ধান্ত এলো।

    স্টারমারের পদত্যাগের ফলে এক দশকের মধ্যে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে ব্রিটে। ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে আবেগঘন ভাষণে স্টারমার বলেন, ‘আমি যে সিদ্ধান্তই নিয়েছি, সবই ছিল আমার প্রিয় দেশকে সবার আগে রাখার জন্য। সে কারণেই আমি লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

    বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি জানান, মধ্য-বামপন্থী লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া জুলাইয়ে শুরু হবে। উত্তরসূরি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকবেন।

    গ্রীষ্মকালীন বিরতির পর সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্ট অধিবেশনে ফেরার আগেই নতুন নেতা দায়িত্ব নেবেন। স্টারমারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী অভিজ্ঞ রাজনীতিক অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। স্টারমার বলেন, ‘নেতৃত্ব নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকব। ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

    স্টারমারের নেতৃত্বে ২০২৪ সালের নির্বাচনে লেবার বড় জয় পেয়ে ১৪ বছরের কনজারভেটিভ শাসনের অবসান ঘটায়।

    তবে পরে তার সরকার নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। কল্যাণ ভাতা কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা ব্যয় পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনা- এ ধরনে বিভিন্ন কারণে তার মেয়াদ সঙ্কটে পড়ে।

    মার্চ মাসে পরলোকগত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের পরিচিত সহযোগী হিসেবে পরিচিত পিটার ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত নিয়োগের সিদ্ধান্ত তাকে প্রায় ক্ষমতাচ্যুতির মুখে ঠেলে দেয়।

    পদত্যাগের ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমার উত্তরসূরিকেও আমি পূর্ণ ও নিঃশর্ত সমর্থন দেবো। কারণ আমি জানি, তিনি এমন একটি ব্রিটেনের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, যা দু’বছর আগে আমি যে ব্রিটেনের দায়িত্ব নিয়েছিলাম, তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও ন্যায়সঙ্গত।’

  • ভারতে ৪৫ দিনে ২৩টির বেশি মসজিদ-মাদরাসা গুঁড়িয়ে দিল বিজেপি সরকার

    ভারতে ৪৫ দিনে ২৩টির বেশি মসজিদ-মাদরাসা গুঁড়িয়ে দিল বিজেপি সরকার

    ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গত ৪৫ দিনের মধ্যে ২৩টিরও বেশি মসজিদ, মাদরাসা, ঈদগাহ ও দরগাহ ভাঙা বা আংশিকভাবে অপসারণের ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মুসলিম মিররের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এসব ঘটনার অধিকাংশই বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে সংঘটিত হয়েছে।

    প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সরকারি জমি দখল, অনুমোদনহীন স্থাপনা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এসব উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত ও প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় স্থাপনাগুলোকেও একই অভিযানের আওতায় আনা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষতিগ্রস্তদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, কয়েকটি মসজিদ ও দরগাহ বহু বছর ধরে সংশ্লিষ্ট এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। আকস্মিক উচ্ছেদ বা ভাঙচুরের ঘটনায় অনেক এলাকায় উদ্বেগ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

    মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা এসব ঘটনাকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, আইন প্রয়োগ ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার সময় ধর্মীয় স্থাপনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সংবেদনশীলতা দেখানো হয়নি। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

    অন্যদিকে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, এসব পদক্ষেপ কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়নি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অবৈধ দখলমুক্তকরণ, অনুমোদনহীন নির্মাণ অপসারণ এবং নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই অভিযানগুলো পরিচালিত হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত দেড় মাসে বিভিন্ন রাজ্যে ধারাবাহিকভাবে এমন উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় মানবাধিকার সংগঠন ও সংখ্যালঘু অধিকার পর্যবেক্ষক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা ঘটনাগুলোর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

    এসব ঘটনাকে ঘিরে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্নমুখী প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একপক্ষ প্রশাসনের আইন প্রয়োগ ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, অন্যপক্ষ ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার প্রশ্ন তুলছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে জনপরিসরে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম হয়েছে।

  • সুইজারল্যান্ডে শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক

    সুইজারল্যান্ডে শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক

    সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের পক্ষ থেকে বৈঠকটি শুরু হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

    বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটিকে আরও বেগবান ও স্থায়ী রূপ দেওয়ার লক্ষ্যেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। তবে শুরুতেই এই শান্তি প্রক্রিয়া বেশ কিছু জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছে।

    কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও মধ্যস্থতাকারী দুই দেশের উপস্থিতিতে সুইজারল্যান্ডের লেক লুসার্নে উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রথম বৈঠকটি সফলভাবে শুরু হয়েছে।’

    এই মেগা বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ

    এ ছাড়া মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে কাতার ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরাও এই বৈঠকে আছেন। সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই চার দেশের প্রতিনিধি দলই বর্তমানে লেক লুসার্নের একটি লাক্সারি রিসোর্টে অবস্থান করছেন এবং বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।

    এদিকে আলোচনা শুরু হলেও ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। লেবাননে চলমান সামরিক সংঘাত বন্ধ করতে ইসরাইলকে বাধ্য করার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যর্থতার প্রতিবাদেই মূলত তেহরান এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইরান এই জলপথ বন্ধ রাখাকে আলোচনার টেবিলের একটি বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

    বৈঠকের মূল এজেন্ডা বা আলোচ্যসূচিতে শুরুতে তিনটি প্রধান বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল—প্রথমত, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা। দ্বিতীয়ত, ইরানের ওপর থেকে মার্কিন তেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা। তৃতীয়ত, বহির্বিশ্বে আটকে থাকা বা ফ্রিজ হয়ে থাকা ইরানের শত শত কোটি ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করা।

    তবে বর্তমান মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বিবেচনা করে মার্কিন প্রতিনিধি দলের প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, মূল এজেন্ডার সঙ্গে তারা এখন লেবানন সংকট বা লেবাননের যুদ্ধবিরতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে যোগ করেছেন।

    ইরানের প্রতিনিধি দলে স্পিকার গালিবাফের পাশাপাশি দেশটির উপ-তেলমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর সশরীরে উপস্থিত রয়েছেন। ইরানি প্রশাসনের এই শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিতিই প্রমাণ করে যে, তেহরান এই বৈঠক থেকে যেকোনো মূল্যে তাদের ওপর আরোপিত মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহারের শর্ত ও আইনি বাধ্যবাধকতার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিতে চাচ্ছে।

    মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার এই মহাযজ্ঞে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন ও তেহরান কোনো স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

  • কলকাতার রেড রোডে মোদির যোগব্যায়াম ঘিরে সমতার বিতর্ক

    কলকাতার রেড রোডে মোদির যোগব্যায়াম ঘিরে সমতার বিতর্ক

    আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতি ঘিরে যেমন উৎসাহ দেখা গেছে, তেমনি তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্কও।

    রোববার হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে রেড রোডে অনুষ্ঠিত হয় যোগ দিবসের বিশেষ কর্মসূচি। মোদির পাশাপাশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সি. ভি. আনন্দ বোস এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানের জন্য কয়েকদিন ধরে রেড রোডে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয় এবং তৈরি করা হয় বড় মঞ্চ।

    তবে আয়োজনকে ঘিরে মূল বিতর্ক তৈরি হয়েছে রেড রোড ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে। সমালোচকদের একাংশের অভিযোগ, এর আগে মুসলিমদের ঈদের নামাজের জন্য একই জায়গা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়া হলেও এবার আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তা বন্ধ রাখা হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক নীতিতে সমতা বজায় রাখা হচ্ছে কি না।

    সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলের কেউ কেউ দাবি করেছেন, জনসাধারণের ব্যবহারের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ব্যবহারের ক্ষেত্রে সব ধরনের অনুষ্ঠানের জন্য একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন।

    অন্যদিকে, অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদি যোগকে মানবজীবনের সামগ্রিক উন্নয়ন, মানসিক শান্তি এবং সামাজিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নিয়মিত যোগাভ্যাস শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে, মানসিক চাপ কমায় এবং মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে।

    পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি পালিত হয়েছে। তবে কলকাতার রেড রোডের আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত বিতর্কই এদিনের আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।

  • লিবিয়ার উপকূলে ভেসে উঠল ১৫ অভিবাসীর মৃতদেহ

    লিবিয়ার উপকূলে ভেসে উঠল ১৫ অভিবাসীর মৃতদেহ

    লিবিয়ার পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে কমপক্ষে ১৫ জন অভিবাসীর মৃতদেহ ভেসে উঠেছে। নিহতদের মধ্যে একটি মেয়ে শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা, নৌবাহিনী ও চিকিৎসা সূত্র। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের বহনকারী বোট ডুবে যাওয়ার পর এই মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দেয়া এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। নৌবাহিনীর এক সূত্র জানায়, বোটটিতে প্রায় ৬১ জন আরোহী ছিলেন বলে ১০ জন জীবিত বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি জানিয়েছেন। তারা কোন দেশের নাগরিক তা জানা যায়নি। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। মৃতদেহগুলো তোবরুক শহরের বিভিন্ন স্থানে উপকূলে পাওয়া যায়। শহরটি মিশর সীমান্তে কাছাকাছি অবস্থিত।

    নিরাপত্তা বাহিনীর দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মৃতদেহগুলো পচে যাওয়ার মতো অবস্থায় ছিল এবং আরও মৃতদেহ ভেসে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত ছবিতে তোবরুক রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবীদের সাদা সুরক্ষামূলক পোশাক পরে পাথুরে উপকূল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে সাদা ব্যাগে রাখতে দেখা যায়। ২০১১ সালে ন্যাটো সমর্থিত বিদ্রোহে লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া ইউরোপগামী অভিবাসীদের জন্য একটি প্রধান ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে।

    সংঘাত ও দারিদ্র্য থেকে পালিয়ে যাওয়া মানুষরা মরুভূমি ও ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পথে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। তেলনির্ভর লিবিয়ার অর্থনীতি কাজের সন্ধানে আসা দরিদ্র অভিবাসীদের জন্যও একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। এদিকে ত্রিপোলির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করা খুমাস শহরের ইমার্জেন্সি মেডিসিন অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টার জানিয়েছে, উপকূলে নৌকাডুবির পর ১৩ জন অভিবাসীকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

  • ভারতে মুসলিম স্থাপনা ধ্বংস বন্ধের আহ্বান পাকিস্তান প্রেসিডেন্টের

    ভারতে মুসলিম স্থাপনা ধ্বংস বন্ধের আহ্বান পাকিস্তান প্রেসিডেন্টের

    ভারতে প্রায় ১০০০ বছরের পুরোনো মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংসের বিরুদ্ধে আহ্বান জানিয়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির মন্তব্যকে ‘অযৌক্তিক’ এবং ‘বিদ্বেষপ্রসূত পরিকল্পিত রাজনৈতিক আক্রমণ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। নয়াদিল্লি বলেছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনো এখতিয়ার ইসলামাবাদের নেই।

    ভারতের এই প্রতিক্রিয়া এসেছে জারদারির এক্সে শেয়ার করা একটি পোস্টের পর। সেখানে তিনি ভারতের উত্তর প্রদেশের বারাণসীর ঐতিহাসিক মসজিদ-ই গাঞ্জে শাহীদা এবং ভারতের বিভিন্ন মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুরের হুমকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে বলা হয়, ‘ভারতে ঐতিহাসিক মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুর এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে দেওয়া হুমকি উদ্বেগজনক।’ তিনি দাবি করেন, এসব স্থাপনার মধ্যে বারাণসীর এক হাজার বছর পুরোনো মসজিদ-ই গাঞ্জে শাহীদাও রয়েছে।

    পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ভারতকে অবিলম্বে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ভারতকে বিচ্ছিন্নতা ও দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। পাশাপাশি তিনি সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং যৌথ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের আহ্বান জানান।

    জারদারির এই মন্তব্যের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিক্রিয়া জানায়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের করা মন্তব্য ভিত্তিহীন এবং ভারত তা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। তিনি বলেন, ‘যা হোক, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মন্তব্য করার কোনো অবস্থান বা অধিকার তাঁর নেই।’

    জয়সওয়াল আরও বলেন, মানবাধিকার ইস্যুতে পাকিস্তানের নিজস্ব রেকর্ড অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় এ ধরনের মন্তব্য আরও বেশি অযৌক্তিক বলে মনে হয়। তাঁর ভাষ্য, ‘পাকিস্তানের নিজস্ব মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনার বিষয়। বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘুকে দীর্ঘদিন ধরে পদ্ধতিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা ও নিপীড়নের যে ইতিহাস পাকিস্তানের রয়েছে, তা সুপরিচিত।’

    ভারতের বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, গত কয়েক বছরে পাকিস্তানে সক্রিয় বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ও পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো দেশটিতে ধর্মভিত্তিক সহিংসতার ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। বিশেষ করে হিন্দু ও আহমদিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে।

    মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে ভারত বলেছে, ধর্ম অবমাননা-সংক্রান্ত সহিংসতা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হামলা পাকিস্তানে এখনো অব্যাহত রয়েছে। সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সরকারি নিপীড়ন ও বৈষম্যমূলক আইনও এই পরিস্থিতিকে উৎসাহিত করছে।

    রণধীর জয়সওয়াল বলেন, জারদারির মন্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তা পাকিস্তানের বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতানির্ভর রাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন। তিনি বলেন, ‘এই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্টের মন্তব্যকে কেবল একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবেই দেখা যায়, যা পাকিস্তানের বিদ্বেষ ও ঘৃণানির্ভর জাতীয় নীতির দ্বারা পরিচালিত।’ ভারতের অবস্থান হলো, ইসলামাবাদের ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয় এবং এ ধরনের বিষয়ে পাকিস্তানের মন্তব্য দেশটি আগেও একাধিকবার প্রত্যাখ্যান করেছে।

  • ভারতে তদন্তের মুখে টাটার আইফোন কারখানা

    ভারতে তদন্তের মুখে টাটার আইফোন কারখানা

    অ্যাপলের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী ভারতের টাটা গ্রুপ। সম্প্রতি টাটার আইফোন যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানা থেকে নির্গত বর্জ্যের কারণে ফসলি জমিতে দূষণ ও কৃষকদের মধ্যে চর্মরোগ দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর পরপরই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় একটি রাজ্য স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

    তিনজন সরকারি কর্মকর্তা ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পর্যালোচনা করা একটি দাপ্তরিক নথি থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

    সূত্রমতে, গত ২৫ মে তামিলনাড়ু রাজ্যের হোসুরে অবস্থিত টাটা ইলেকট্রনিকসের এই প্ল্যান্টটিতে পার্শ্ববর্তী খামারের ভূগর্ভস্থ পানি দূষিত করার অভিযোগে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড একটি সতর্কীকরণ নোটিশ পাঠিয়েছিল।

    ২০২১ সালে চালু হওয়া এই প্ল্যান্টটিতে আইফোনের ব্যাক কাভার বা পেছনের অংশসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ তৈরি করা হয়। কৃষকদের ধারাবাহিক অভিযোগের পর গত মে মাসের শেষ দিক থেকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এই কারখানাটি নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন।

    প্ল্যান্টটি যে গ্রামে অবস্থিত, সেই উল্লুগুরুক্কাই গ্রামের সরকারি চিকিৎসা কর্মকর্তা অনিশ পারভিন হোসুরের ভেক্টর কন্ট্রোল অ্যান্ড জুনোসেস ইনস্টিটিউটে গত ২৭ মে একটি চিঠি পাঠান। রয়টার্সের হাতে আসা সেই চিঠিতে বলা হয়, টাটার কারখানা থেকে নির্গত বর্জ্যের কারণে এলাকায় ‘তীব্র দুর্গন্ধ’ ছড়াচ্ছে এবং পানি এতটাই দূষিত হয়েছে যে তা ‘পশুদের পানের অযোগ্য’ হয়ে পড়েছে।

    চিঠিতে আরও বলা হয়, টাটা ইলেকট্রনিকস থেকে নির্গত বর্জ্য পানি কাছের কৃষি জমিতে জমেছে এবং আশপাশের কুয়োর পরিষ্কার পানিকে দূষিত করছে। এই দূষণের কারণে মানুষজন চর্মরোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন বলেও জানা গেছে। যদিও চিকিৎসাগতভাবে এখনো কোনো নির্দিষ্ট কেস প্রমাণিত হয়নি, তবে কৃষকদের কাছ থেকে চর্মরোগের বিস্তর অভিযোগ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন অনিশ পারভিন।

    স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা কৃষিজমি থেকে পানির দুটি নমুনা সংগ্রহ করে রাজ্য সরকারের গবেষণাগারে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছিলেন। গত ৩০ মে জনস্বাস্থ্য ল্যাবরেটরির রিপোর্ট অনুযায়ী, সংগৃহীত দুটি নমুনায় ‘ই-কোলাই’ ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতির পাওয়া গেছে, যা মূলত পয়োবর্জ্য বা মলমূত্রজনিত দূষণকে নির্দেশ করে।

    ওই অঞ্চলের জনস্বাস্থ্য তদারককারী জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা রাজেশ কুমার সি জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য দপ্তরের এই তদন্ত এখনো চলছে এবং দ্বিতীয় দফার পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

    এর আগে এপ্রিল মাসে দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড কারখানার কাছের দুটি খোলা কুয়ো থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করেছিল। সেখানে ‘টোটাল ডিজলভড সলিডস’ বা টিডিএসের (পানিতে দ্রবীভূত খনিজ, লবণ ও ধাতুর পরিমাণ) মাত্রা পাওয়া গেছে যথাক্রমে ১,০৮৪ এবং ১,২৮৬ মিলিগ্রাম প্রতি লিটার। অথচ ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (বিআইএস) অনুযায়ী, পানের পানির জন্য এই মাত্রা সর্বোচ্চ ৫০০ মিলিগ্রাম প্রতি লিটার হওয়া গ্রহণযোগ্য। অর্থাৎ, কারখানার আশপাশের কুয়োর পানিতে গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে।

    চলতি সপ্তাহে টাটা ইলেকট্রনিকস এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড তাদের তদন্ত কার্যক্রম তুলে নিয়েছে কারণ কারখানা প্রাঙ্গণের ভেতর থেকে সংগৃহীত সাম্প্রতিক পানির নমুনা পরীক্ষায় কোনো দূষণ মেলেনি। তবে দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড, তামিলনাড়ু সরকার কিংবা মূল প্রতিষ্ঠান অ্যাপল—কেউই এই বিষয়ে রয়টার্সের ইমেইল বা ফোনের আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি।

    কারখানা সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, গত ডিসেম্বর মাসে কারখানার বর্জ্য শোধন কেন্দ্রে একটি পাম্প বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে কিছু পয়োবর্জ্য তাদের বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের পুকুরে চলে যায় এবং পরবর্তীতে তা উপচে বাইরের একটি হ্রদে গিয়ে মেশে। টাটা অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে সেই ওভারফ্লো বন্ধ করে পাম্পটি মেরামত করেছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

    রয়টার্সের প্রতিনিধিরা সরেজমিনে কারখানা এলাকা পরিদর্শন করে দেখেছেন, খোলা কুয়োর পানি সম্পূর্ণ কালো রং ধারণ করেছে এবং কারখানার দেয়াল ঘেঁষে জমে থাকা পানি সবুজ ও শেওলাযুক্ত হয়ে আছে। ৪০ বছর বয়সী স্থানীয় কৃষক গুরুমূর্তি ভি আক্ষেপ করে বলেন, ‘এই পানি দিয়ে বীজ বপন করলে চারা তো গজায়, কিন্তু কিছুদিন পরেই তা শুকিয়ে মরে যায়।’

    এদিকে গত সোমবার স্থানীয় কৃষক দলের একজন সদস্য দূষিত পানি জমে থাকার ছবি তুলতে টাটার সীমানা প্রাচীর পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় কারখানার একজন নিরাপত্তা কর্মী আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে তাঁকে বাধা দেন। তখন উত্তেজিত কৃষকেরা ‘আমাদের গুলি করো’ বলে চিৎকার শুরু করলে পরিস্থিতি থমথমে হয়ে ওঠে। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

    প্রসঙ্গত, চীন থেকে উৎপাদন সরিয়ে অ্যাপল এখন ভারতের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে। বর্তমানে বিশ্বের মোট আইফোনের ২৬ শতাংশই ভারতে উৎপাদিত হচ্ছে। এমন একটি সময়ে গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্প জায়ান্টের বিরুদ্ধে স্থানীয় দরিদ্র কৃষকদের জমি ও স্বাস্থ্য ধ্বংসের এই অভিযোগ বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে ভারতের পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স বা নীতিমালার কার্যকারিতাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

  • নিজের দিকে নজর দিন: ট্রাম্পকে মেলোনি

    নিজের দিকে নজর দিন: ট্রাম্পকে মেলোনি

    ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের বিরুদ্ধে কড়া জবাব দিয়েছেন।

    ট্রাম্প বলেছেন, ইতালিতে মেলোনির জনপ্রিয়তা নড়বড়ে অবস্থায় আছে। জি–৭ সম্মেলনে মেলোনি তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য কাকুতি–মিনতি করছিলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে ইরানকে ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র যে তৎপরতা চালাচ্ছে, তাতে মেলোনি যথেষ্ট সমর্থন দিচ্ছেন না।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের এসব মন্তব্যকে ‘অর্থহীন’ ও ‘অকারণ আক্রমণ’ বলে উল্লেখ করেছেন মেলোনি।

    ইতালির প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার জনপ্রিয়তার বিষয়ে বলতে গেলে, আপনার সঙ্গে বন্ধুত্বের বিষয়টি অবশ্যই এতে ভূমিকা রাখেনি। এটা আপনার সঙ্গে আমার সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না।’ মেলোনি আরও বলেন, ‘আমার জনপ্রিয়তা নিয়ে আপনার না ভাবলেও চলবে। আমি বলব, আপনি নিজের দিকে মনোযোগ দিন।’

    এর আগে গতকাল শনিবার ট্রাম্প দাবি করেছেন, মেলোনি ইতালিতে রাজনৈতিকভাবে ভালো অবস্থায় নেই। ইরানে সামরিক অভিযান চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইতালির বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় সরঞ্জামগত গুরুতর সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

    জবাবে মেলোনি বলেছেন, ইতালির সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে পূর্ববর্তী চুক্তি অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত এবং চুক্তির প্রতি সব সময় সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় এ নীতি ভঙ্গ করা সম্ভব নয়।

    এর আগে গত শুক্রবার মেলোনি বলেছেন, ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি–৭ বৈঠকের সময় ছবি তোলার জন্য তিনি কাকুতি–মিনতি করেছিলেন বলে ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, তা তাঁকে (মেলোনি) বিস্মিত করেছে।

    দুই নেতার মধ্যে চলা এ পাল্টাপাল্টি কথাবার্তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আবারও সামনে এনেছে। বিশেষ করে চলতি বছরের শুরুতে ইরানে ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপের পর থেকে এমন পরিস্থিতি চলছে।

    ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে তাঁর নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফরও বাতিল করেছেন।

    জি–৭ শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প ও মেলোনিকে ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল। পরে মেলোনি সাংবাদিকদের বলেন, তাঁদের সম্পর্ক আগের মতোই আছে এবং কোনো ধরনের বিরোধ হয়নি। তবে এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রাম্প ইতালির এলএ সেভেন টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, মেলোনি নাকি তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য কাকুতি–মিনতি করেছিলেন। এতে মেলোনির জন্য তাঁর মায়া হয়েছিল। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলায় তিনি সম্ভবত খুশি হয়েছেন।’

    এলএ সেভেন টেলিভিশন চ্যানেলটি ট্রাম্পের মূল ইংরেজি বক্তব্য সরাসরি প্রকাশ না করে ইতালির ভাষায় ডাবিং করে প্রচার করেছে। জবাবে মেলোনি ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে বলেন, তিনি ট্রাম্পের এ মন্তব্যে অত্যন্ত হতবাক হয়েছেন।

    মেলোনি বলেন, ‘আমি জানি না, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কেন মিত্রদের প্রতি এভাবে আচরণ করেন। এমন ঘটনা এটাই প্রথম নয়। কিন্তু তাঁকে (ট্রাম্প) একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, আমি বা ইতালি কেউই কখনো মিনতি করি না।’

    মেলোনির এ মন্তব্য ইতালির রাজনৈতিক পরিসরের বিভিন্ন মহল থেকে সমর্থন পেয়েছে।

    চলতি বছরের শুরুর দিকেই ট্রাম্প ও মেলোনির সম্পর্কে ফাটল ধরে। সে সময় পোপ চতুর্দশ লিওর সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প। তখন ট্রাম্পের সে সমালোচনা অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যা দেন মেলোনি।

    একসময় দুই নেতার মধ্যে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল। মেলোনি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া একমাত্র ইউরোপীয় নেতা ছিলেন।

  • ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন মার্কিন অভিনেতা এস্পোসিতো

    ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন মার্কিন অভিনেতা এস্পোসিতো

    মার্কিন টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়ানকার্লো এস্পোসিতো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন । ‘ব্রেকিং ব্যাড’ সিরিজে গাস ফ্রিং চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেতা বর্তমানে সৌদি আরবে একটি চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে অংশ নিচ্ছেন। সেখানেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করেন।

    সৌদি আরবের জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথরিটির প্রধান তুর্কি আল-শেখ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এস্পোসিতো শাহাদাহ পাঠের মাধ্যমে ইসলামে দীক্ষিত হন। শুটিং চলাকালে তিনি একটি মসজিদে সহকর্মীদের সঙ্গে নামাজেও অংশ নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে তাকে মুসল্লিদের সঙ্গে কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে।

    তুর্কি আল-শেখ জানান, সৌদি আরবে অবস্থানকালে স্থানীয় মুসলিম সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরিচয়, তাদের জীবনযাপন ও ইতিবাচক আচরণ এস্পোসিতোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। দেশটির মানুষের আন্তরিকতা, অতিথিপরায়ণতা এবং সামাজিক সম্প্রীতিরও প্রশংসা করেছেন এই হলিউড অভিনেতা।

    দীর্ঘ কয়েক দশকের অভিনয়জীবনে জিয়ানকার্লো এস্পোসিতো টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অঙ্গনে বিশেষ অবস্থান তৈরি করেছেন। ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ তার অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং তাকে একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কারের মনোনয়ন এনে দিয়েছে। এছাড়া ‘বেটার কল সল’ ও ‘দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান’-এর মতো জনপ্রিয় সিরিজেও তার অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের সমানভাবে মুগ্ধ করেছে।

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এস্পোসিতো বর্তমানে ‘সেভেন ডগস’ নামের একটি উচ্চ বাজেটের চলচ্চিত্রের কাজ নিয়ে সৌদি আরবে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র নির্মাতা ও তারকাদের আকৃষ্ট করে দেশটির বিনোদন খাতকে আরও বিকশিত করার যে পরিকল্পনা সৌদি আরব বাস্তবায়ন করছে, এই প্রকল্পকে তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি, সেনা মোতায়েন

    বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি, সেনা মোতায়েন

    সরকারবিরোধী টানা বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ গতকাল শনিবার জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। দেশজুড়ে সড়ক থেকে বিক্ষোভকারীদের বসানো প্রতিবন্ধকতাগুলো অপসারণ করতে সেনা ও বুলডোজার মোতায়েন করা হয়েছে।

    রক্ষণশীল সরকারের বিরুদ্ধে চলা এ বিক্ষোভ এরই মধ্যে ছয় সপ্তাহ পেরিয়েছে। শ্রমিক ইউনিয়ন, আদিবাসী গোষ্ঠী এবং কোকোচাষিরা বলিভিয়ার বিভিন্ন শহরে রাজপথে নেমে মিছিল ও বিক্ষোভ করছেন। বিভিন্ন জায়গায় সড়কে অবরোধ দেওয়া হয়েছে।

    টানা বিক্ষোভের জেরে বলিভিয়ার প্রধান শহরগুলোয় খাবার, ওষুধ ও জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দেশটির অর্থনীতিতে কয়েক শ কোটি ডলারের ক্ষতির ধাক্কা লেগেছে। বিক্ষোভের মুখে বলিভিয়ার গত দুই দশকের মধ্যে প্রথম অ–সমাজতান্ত্রিক সরকার পতনের ঝুঁকিতে পড়েছে।

    চলমান সংকটের অবসান ঘটাতে উদ্যোগী হয়ে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ শনিবার ভোরে টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। সেখানে তিনি বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ার করে বলেন, আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ‘আইনের পূর্ণ কঠোরতা’ প্রয়োগ করা হবে।

    টেলিভিশন ভাষণে দেশজুড়ে ৯০ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ। তিনি জানান, জরুরি অবস্থার সময় যেকোনো ধরনের বিক্ষোভ আইনত নিষিদ্ধ এবং দেশের ভেতরে সামরিক বাহিনী মোতায়েন থাকবে।

    প্রেসিডেন্টের এমন ঘোষণা কয়েক ঘণ্টা পর দেশটির এল আল্টো শহরে সেনা উপস্থিতির খবর দিয়েছেন এএফপির সাংবাদিকেরা। তাঁরা বলেন, সেনা ও সশস্ত্র পুলিশের বহর শহরে টহল দেয়। আর সড়কে থাকা প্রতিবন্ধকতা সরাতে বুলডোজারগুলো কাজ শুরু করেছে।

    সেনা ও পুলিশের টহল দলকে অনেক বাসিন্দা হাততালি দিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেছে এএফপি। এ সময় এল আল্টো শহরে পিকআপে করে টহল দেওয়া এক পুলিশ কর্মকর্তার হাতে রুটি তুলে দেন স্থানীয় একজন। পরে পেশায় দোকানদার কারলা বুটরন (৩৯) নামের ওই ব্যক্তি এএফপিকে বলেন, ‘আমি এতে খুবই খুশি।’ কারলা বলেন, ‘এল আল্টোতে ৫০ দিনের বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভে কাজ, অবাধ চলাচল—সবকিছুই কঠিন হয়ে পড়েছে।’

    রাজধানী লাপাজের পাশেও বিক্ষোভ হয়েছে। সেখানে সামরিক পুলিশ ও নৌবাহিনীর সদস্যদের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ পাহারা দিতে দেখা গেছে। শহরের প্রধান চত্বরগুলোয় পুলিশের কৌশলগত ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ বলেন, ‘বলিভিয়ার মানুষ এমন কোনো অবরোধের কাছে জিম্মি থাকতে পারে না, যেটা তাঁদের কাজ, পড়াশোনা, চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ, এমনকি বাড়িতে খাবার নিয়ে আসার পথও বন্ধ করে দিয়েছে।’

    প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘জরুরি অবস্থার উদ্দেশ্য মানুষের স্বাভাবিক কার্যক্রম কেড়ে নেওয়া নয়, বরং তা পুনরুদ্ধার করা।’ নির্বাচনে জিতে সরকার গঠনের এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন রদ্রিগো পাজ। এখন বিক্ষোভকারীদের দাবি, রদ্রিগো পাজ যেন উদার অর্থনৈতিক সংস্কার ত্যাগ করেন এবং রাষ্ট্রপ্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

    ৫৮ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ ‘আলোচনায় প্রস্তুত থাকার’ ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। এমনকি সপ্তাহের শুরুতে তিনি সংকট নিরসনে দেশের অন্যতম প্রধান একটি শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তিতেও সম্মতি দিয়েছেন।

    রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারি খাতে ছেড়ে না দেওয়া এবং আলোচনার সুযোগ উন্মুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে বলিভিয়ান ওয়ার্কার্স সেন্ট্রাল ইউনিয়ন বিক্ষোভ বন্ধ করতে রাজি হয়েছে।

    তবে আদিবাসী কয়েকটি গোষ্ঠী বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। এখনো ৪০টির বেশি জায়গায় সড়কে কড়া অবরোধ রয়ে গেছে। ৪২ বছর বয়সী আইমারা নেত্রী লিদিয়া ক্যালিসায়া এএফপিকে বলেন, ‘আমরা চাই তিনি (প্রেসিডেন্ট) ক্ষমতা ছেড়ে দিক।’

  • মাদক খুঁজতে গিয়ে উদ্ধার পিকাসোর চিত্রকর্ম

    মাদক খুঁজতে গিয়ে উদ্ধার পিকাসোর চিত্রকর্ম

    প্যারিসের শহরতলির একটি বাড়িতে মাদক খুঁজতে গিয়ে অভিযান চালানোর সময় ফরাসি পুলিশ স্প্যানিশ চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসোর একটি চিত্রকর্ম উদ্ধার করেছে বলে জানা গেছে। শনিবার দেশটির প্রসিকিউটররা এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

    প্যারিসের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ক্রেতেইলের সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় জানায়, ‘মাদক পাচার সংক্রান্ত একটি তদন্তের অংশ হিসেবে পরিচালিত তল্লাশির সময় এই চিত্রকর্মটি পাওয়া যায়।’

    তারা আরও জানায়, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে চুরি ও চোরাই মালামাল কেনাবেচার অভিযোগে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

    সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় জানিয়েছে, শুক্রবার এই মামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চার জনকে তাৎক্ষণিক শুনানির জন্য আদালতে হাজির করা হয়।

    ফরাসি সংবাদপত্র লে প্যারিসিয়েন-এর তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, প্যারিসের পূর্বে অবস্থিত শহর শাম্পিনি-সুর-মার্নে সোমবার তদন্তকারীরা এই তল্লাশি অভিযান চালায়।

    সংবাদপত্রটি জানিয়েছে, পিকাসোর চিত্রকর্মটির পাশাপাশি গাঁজা, দামি পোশাক ও কয়েক হাজার ইউরো জব্দ করেছে পুলিশ ।

    ক্রেতেইলের প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, চিত্রকর্মটি স্প্যানিশ চিত্রশিল্পীর একটি আসল কাজ হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে, তবে এটি কোন নির্দিষ্ট চিত্রকর্ম, তা তারা উল্লেখ করেনি।

  • ৯২ শতাংশ ইসরাইলি মনে করে যুদ্ধে ইরান জয়ী

    ৯২ শতাংশ ইসরাইলি মনে করে যুদ্ধে ইরান জয়ী

    সম্প্রতি প্রকাশিত একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, ইসরাইলের সিংহভাগ মানুষই বিশ্বাস করেন যে যুদ্ধ এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তির পর ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

    জেরুজালেমের হিব্রু ইউনিভার্সিটি এবং আগাম ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে গত ১৭ থেকে ২০ জুনের মধ্যে ৩,৬৪৪ জন উত্তরদাতার ওপর এই জরিপটি চালানো হয়। রোববার প্রকাশিত এই জরিপের ফলাফল মার্কিন-ইরান চুক্তির পর ইসরাইলি জনসাধারণের তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগের এক স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে।

    জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৯২.১ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, এই দ্বন্দ্বে ইরান জয়ী হয়েছে বা বেশি লাভবান হয়েছে। অন্যদিকে, ৮২.৯ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন এর ফলে ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

    জরিপে আরও দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রধান নির্বাচনী ভিত্তি—ডানপন্থী ব্লকের ভোটারদের মধ্যেও ৯৩.১ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন যে ইরানই এই যুদ্ধে জয়লাভ করেছে।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই চুক্তির বিরুদ্ধে ইসরাইলি জনগণের ব্যাপক বিরোধিতা লক্ষ্য করা গেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৩.২ শতাংশ মানুষ এই চুক্তির বিরোধিতা করেছেন, যেখানে মাত্র ১২.১ শতাংশ উত্তরদাতা এর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন।

  • দুবাইয়ে আটকে থাকা ৬ হাজার কোটি টাকা পাচ্ছে ইরান

    দুবাইয়ে আটকে থাকা ৬ হাজার কোটি টাকা পাচ্ছে ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি প্রাথমিক চুক্তির অংশ হিসেবে কাতারে আটকে থাকা ছয় বিলিয়ন ডলার ফেরত পাচ্ছে ইরান। আজ রোববার পাকিস্তানের স্থানীয় পত্রিকা দ্য ডন এই খবর জানিয়েছে।

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, সমঝোতা স্মারকের সব শর্ত তাদের পক্ষেই গেছে। এই আলোচনা ও সমঝোতার বড় সাফল্য খুব দ্রুতই সবার সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

    প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সাম্প্রতিক বক্তৃতায় ইরানকে যে বিষয়গুলো করতে নিষেধ করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেগুলোকে ইরানি জনগণের অধিকার হিসেবেই স্বীকৃতি দিয়েছেন।

    তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান, কাতারে থাকা তাদের ছয় বিলিয়ন ডলার অবশ্যই ফেরত আসছে। এই চুক্তি নিয়ে সুইজারল্যান্ডে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে খোঁচা দিতেও ছাড়েননি তিনি।

    পেজেশকিয়ান বলেন, এই আলোচনায় যদি কেউ সবচেয়ে বেশি অসন্তুষ্ট হয়ে থাকেন, তবে তিনি হলেন নেতানিয়াহু।

    যুক্তরাষ্ট্রের মূল দাবি ছিল, ইরান যেন পারমাণবিক বোমা তৈরি না করে। এই প্রসঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট তাদের শহীদ নেতার দেয়া কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আমাদের শহীদ নেতাই বারবার বলে গেছেন যে আমরা পারমাণবিক বোমা চাই না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুধু বলেছিল এটি লিখে দিয়ে সই করতে, আর আমরা তাতে সই করেছি।

  • তুরস্কের করুণ বিদায়

    তুরস্কের করুণ বিদায়

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইউরোপের অন্যতম ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল তুরস্ককে। ২০০২ সালে সবশেষ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল তুরস্ক। এরপর মাঝে বিশ্বকাপের ৫টি আসর গেলেও খেলার সুযোগ হয়নি দলটির। ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে গ্রুপ পর্বে বাদ পড়াটা তাই বেশ হতাশারই। এর আরেকটা কারণ, তারকাবহুল দল। এই দলে কে ছিলেন না? আর্দা গুলের, কেনান ইয়িলদিজ, হাকান চালহানওগলুদের মতো তারকাদের নিয়ে গড়া দলটির কাছে সমর্থকদের প্রত্যাশাও ছিল আকাশচুম্বী। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে মাত্র দুই ম্যাচেই। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২-০ এবং প্যারাগুয়ের কাছে ১-০ গোলে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে তুরস্কের। কেন এই বিদায়? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা যাক।

    লক্ষ্যহীন আক্রমণ

    একটি দলের মূল শক্তি হলো আক্রমণের নিশানা ঠিক থাকা। একের পর এক আক্রমণ করেও যদি জাল খুঁজে না পাওয়া যায় তাহলে সব মূল্যহীন। তুরস্কের বেলায় মূল কারণ হিসেবে এটাই ধরা যায়, লক্ষ্যহীন আক্রমণ। যার ফলে একের পর এক আক্রমণ করেও জালের দেখা পায়নি আর্দা গুলের, চালহানওগলুরা। পরিসংখ্যানের হিসাবটা বেশ বিস্ময় জাগানিয়া। তুরস্কে দুই ম্যাচে মোট শট নিয়েছে ৬২টি। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো এর মধ্যে একটি শটও তারা প্রতিপক্ষের জালে জড়াতে পারেনি। এর ফলে বিব্রতকর এক রেকর্ডেও নাম লিখিয়েছে ভিনচেঞ্জো মনতেলার দল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা দুই ম্যাচে এতগুলো প্রচেষ্টা নিয়েও গোলশূন্য থাকার বিব্রতকর রেকর্ড গড়েছে তারা।

    ফিনিশিংয়ে ব্যর্থতা

    তুরস্কের বিদায়ের সবচেয়ে বড় কারণ ছিল ভয়াবহ ফিনিশিং। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩০টি এবং প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ৩২টি শট নিয়েও গোলের দেখা পায়নি তারা। অথচ ম্যাচগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়—ম্যাচে আধিপত্য, বল দখল কিংবা আক্রমণের হিসেবে সব দিক দিয়েই এগিয়ে ছিল তুরস্ক। কিন্তু প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে গিয়েই বারবার খেই হারিয়েছেন তুর্কিরা। ফলে যথাযথ ফিনিশিংয়ের অভাবে দুই ম্যাচে একটি গোলও দিতে পারেনি তারা।

    নম্বর নাইনের অভাব

    তুরস্কের ম্যাচগুলোয় মাঝমাঠে বেশ ভালো পজিশনে ছিলেন মিডফিল্ডাররা। তারা তাদের কাজটা ঠিকঠাক করেছেন। আর্দা গুলের কিংবা কেনান ইয়িলদিজ সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগানোর মতো নির্ভরযোগ্য ‘নাম্বার নাইন’ ছিল না দলে। ফলে আক্রমণভাগে প্রকৃত স্ট্রাইকার না থাকার অভাবটা বেশ ভুগিয়েছে দুই ম্যাচে। গোলের সামনে গিয়েও বারবার ভেঙে পড়তে হয়েছে তুর্কিদের। তুর্কি সমর্থক ও বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, দলের স্কোয়াড গঠনের এই দুর্বলতা পুরো টুর্নামেন্টে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ব্যর্থতা আরো বেশি হতাশাজনক। দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় প্রতিপক্ষ ১০ জন নিয়ে খেলেছে। সংখ্যাগত সুবিধা, প্রায় ৮০ শতাংশ বল দখল এবং একের পর এক আক্রমণ—সবকিছুই ছিল তুরস্কের পক্ষে। কিন্তু দুর্ভেদ্য রক্ষণ ভাঙার মতো পরিকল্পনা কিংবা কার্যকর আক্রমণ কোনোটিই দেখা যায়নি। বরং অসংখ্য ক্রস ও দূরপাল্লার শট নষ্ট হয়েছে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে।

    কোচের বেখাপ্পা কৌশল

    কৌশলগত দিক থেকেও প্রশ্ন উঠছে কোচ ভিনচেঞ্জো মনতেলাকে নিয়ে। তার আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা মাঝে মধ্যে রক্ষণভাগকে অরক্ষিত করে ফেলেছে। ফলে একপ্রকার ফাঁকা পোস্টের সুযোগটা কাজে লাগিয়েছে প্রতিপক্ষ। অস্ট্রেলিয়া পাল্টা আক্রমণ থেকে যে দুটি গোল করেছে, সেগুলো কোচের বেখাপ্পা কৌশলের ফল। আর প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের মাত্র ৬৪ সেকেন্ডেই গোল হজম করে নিজের পরিকল্পনা আরো প্রশ্নবিদ্ধ করে দিয়েছেন মনতেলা। এত দ্রুত পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচজুড়ে চাপ তৈরি করেও সমতায় ফিরতে পারেনি তারা।

    অতিরিক্ত নির্ভরতায় ভরাডুবি

    তুরস্কের ভরাডুবির আরেকটি বড় কারণ তারকা খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। দলটি কয়েকজন তারকার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। আর্দা গুলের ও কেনান ইয়িলদিজকে ঘিরেই বেশির ভাগ আক্রমণ গড়ে উঠছিল। এ বিষয়টি প্রতিপক্ষও আঁচ করতে পেরে তাদের কড়া মার্কিংয়ে আটকে দিয়েছে। তখন বিকল্প কোনো পরিকল্পনা দেখা যায়নি তুরস্কের খেলায়। ফলে আক্রমণ হয়ে পড়েছিল একঘেয়ে ও অনুমানযোগ্য। এই সুযোগটাই নিয়েছিল প্রতিপক্ষ।

    বিশ্বকাপে ২৪ বছর পর ফিরে এসে তুরস্কের লক্ষ্য ছিল নকআউট পর্বে যাওয়া। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রতিভাবান প্রজন্ম থাকা সত্ত্বেও গোল করার অক্ষমতা, কৌশলগত দুর্বলতা এবং চাপের মুহূর্তে সিদ্ধান্তহীনতার কারণে তারা পরিণত হয়েছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় হতাশাগুলোর একটিতে। দুই ম্যাচে ৬২ শট, শূন্য গোল এবং শূন্য পয়েন্ট—এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় কেন এত দ্রুত শেষ হয়ে গেল তুরস্কের বিশ্বকাপ যাত্রা।

  • ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি

    ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি

    ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ শুক্রবার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। লেবাননে দু’পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের পর, এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।এদিকে মাত্র দু’দিন আগে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে কেন্দ্র করে গঠিত শান্তি প্রক্রিয়ায় আবারো চাপ সৃষ্টি হয়েছে। লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরাইলি বিমান হামলায় ৪৭ জন নিহত হয়েছেন।

    অন্যদিকে ইসরাইল জানিয়েছে, তাদের চার সেনা নিহত হয়েছেন।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চুক্তির পর এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় যৌথ প্রাণহানির ঘটনা।

    শান্তি চুক্তিটিকে আরো এগিয়ে নিতে এবং এর একটি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নির্ধারিত আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। বৈঠকের নতুন কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

    তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন টেলিফোনে কথা বলেছেন।

    লেবাননের প্রেসিডেন্ট দফতর জানায়, আউন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার জন্য রুবিওকে ধন্যবাদ জানান ও জোর দিয়ে বলেন, ‘লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরাইলি হামলা বন্ধ করতে হবে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে।’

    যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের বরাতে জানানো হয়, এ সময় রুবিও লেবাননের হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার প্রচেষ্টাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

    এক মুখপাত্র বলেন, তারা পরবর্তী দফার আলোচনার বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। বৈঠকটি ২৩ থেকে ২৫ জুন ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে দু’টি সার্বভৌম সরকার দীর্ঘস্থায়ী শান্তির দিকে অগ্রগতি অর্জনের চেষ্টা করবে।

    তিনি আরো বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আবারো জোর দিয়ে বলেছেন যে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র ও পুরো লেবাননের ভূখণ্ডে সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।

    যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জোর দিয়ে বলেছেন, ইসরাইল লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির পক্ষে। তবে এর জন্য হিজবুল্লাহকে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী হামলা বন্ধ করতে হবে।

    এই সপ্তাহে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে হয়।

    এই চুক্তির লক্ষ্য ছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের অবসান ঘটানো।

    যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করা হয়।

    এই চুক্তির আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল লেবাননের যুদ্ধ বন্ধ করা। ইরান সব সময় জোর দিয়ে বলে এসেছে যে এই সঙ্ঘাতকে যে কোনো চুক্তির আওতাভুক্ত করতে হবে।

    সেখানে ইসরাইলের চলমান অভিযান ওয়াশিংটনের জন্য জটিল ও অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে।

    ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার তারা লেবাননে হিজবুল্লাহর ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে ও সংগঠনটির বহু সদস্যকে হত্যা করেছে।

  • নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় ধস, বিদায় চান অধিকাংশ ইসরাইলি

    নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় ধস, বিদায় চান অধিকাংশ ইসরাইলি

    ইসরাইলের বেশির ভাগ মানুষের চাওয়া, নেতানিয়াহু এখন রাজনীতি থেকে বিদায় নেবেন। দেশটির সংবাদমাধ্যম চ্যানেল–১২–এর এক জরিপে এমন মনোভাবের কথা উঠে এসেছে।

    জরিপে অংশ নেওয়া ইসরাইলিদের ৫৯ শতাংশ মনে করছেন, নেতানিয়াহুর রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া উচিত। আসছে শরতে হতে যাওয়া ইসরাইলের পরবর্তী নির্বাচনে তার আর অংশ নেওয়া উচিত হবে না।

    যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র আর ইরান সমঝোতায় পৌঁছানোয় চাপে পড়েছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দেশে–বিদেশে ইসরাইল ও দেশটির সরকারের প্রতি ক্ষোভ বাড়ছে।

    জরিপে অংশ নেওয়া ইসরাইলিদের মাত্র ৩৩ শতাংশ দেশটির পরবর্তী নির্বাচনে লিকুদ পার্টির নেতা নেতানিয়াহুর অংশ নেওয়াকে সমর্থন করেছেন। ৮ শতাংশ ইসরাইলি বিষয়টি নিয়ে কোনো মতামত জানাননি।

    ৭৬ বছর বয়সি নেতানিয়াহু, যিনি বর্তমানে দুর্নীতির মামলায় বিচারের মুখোমুখি, এখন ভোটারদের বোঝানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন যে কেবল তিনিই ইসরাইলিদের নিরাপদ রাখতে পারেন।

    আগামী অক্টোবরে দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিরোধী দলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গত সপ্তাহে বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচন দেশের জন্য একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট হতে যাচ্ছে। এটি যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বাড়িয়ে বলার অপেক্ষা রাখে না।’

    ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের আকস্মিক হামলায় ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫০ জন অপহৃত হওয়ার পর থেকেই নেতানিয়াহুর ওপর সমর্থকদের আস্থা গভীরভাবে কেঁপে ওঠে।

    এরপর গাজায় ইসরাইলের নৃশংস ও রক্তক্ষয়ী অভিযানে ৭৩,০০০-এরও বেশি মানুষ নিহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে ইসরাইল একঘরে হয়ে পড়ে।

    গাজায় যুদ্ধাপরাধের কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) এই রাজনীতিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আগ্রাসন শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গত বুধবার সমঝোতা স্মারকে সই করেন। চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে দুই পক্ষ সুইজারল্যান্ডে ৬০ দিনের সময়সীমা মাথায় রেখে আলোচনায় বসছে।

    সমঝোতার অন্যতম শর্ত, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। কিন্তু ইসরাইল শুরুতে তা মানতে চায়নি। অবশেষে গতকাল শুক্রবার ইসরাইল ও লেবাননের হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতির কথা জানায়।

    এরপরও লেবাননে নৃশংসতা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। দেশটিতে গতকাল এক দিনেই অন্তত ৪৭ জনকে হত্যা করে তারা। শনিবার ইসরাইলি হামলায় আরও অন্তত ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ইসরাইলের শাসনক্ষমতায় রয়েছেন। ১৯৯৬ সালে তিনি প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন। এ পদে ছিলেন ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত। এরপর ২০০৯ সালে আবারও ইসরাইলের সরকারপ্রধান হন নেতানিয়াহু। ২০২১ সাল পর্যন্ত টানা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

    সাময়িক বিরতির পর ২০২২ সালে আবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সেই থেকে দেশটির সরকারপ্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। নেতানিয়াহু ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা সরকারপ্রধান।

    ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সমঝোতা চুক্তিতে মোটেই খুশি হতে পারছে না ইসরায়েলিরা। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই চুক্তিকে বহু ইসরাইলি ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছেন।

    স্থানীয় বিশ্লেষকরা একে একটি ‘আত্মসমর্পণ’ এবং ‘লজ্জাজনক চুক্তি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন, যা ইসরাইলের চরম আশঙ্কার চেয়েও খারাপ।

    সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, এই চুক্তির ফলে ইরান যুদ্ধের আগের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে পুনর্গঠিত হওয়ার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি লেবাননের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই চুক্তি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতাকে সীমিত করে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে, যা দেশটির উত্তরের অঞ্চলের জন্য বড় হুমকি।

  • মার্কিনিদের নাগরিকত্ব ছাড়ের হিড়িক, নেপথ্যে কী?

    মার্কিনিদের নাগরিকত্ব ছাড়ের হিড়িক, নেপথ্যে কী?

    ১০ বছর আগে যখন এরিন ক্ল্যাট ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা নিয়ে নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমিয়েছিলেন, তার ছয় মাসের মধ্যেই বুঝতে পেরেছিলেন এই দেশকেই তিনি নিজের স্থায়ী ঠিকানা বানাতে চান। ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক নানা কারণে ২০১৬ সালেই তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছিলেন ‘ভিন্ন কোনো পরিবেশে’ বাঁচার আশায়।

    এক দশক পর, ৩৪ বছর বয়সি এরিন আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট নাগরিকত্ব ত্যাগের সরকারি ফি প্রায় ৮০ শতাংশ কমানোর ঠিক আগমুহূর্তে, এরিন ২,৩৫০ মার্কিন ডলার পরিশোধ করে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগের শপথ নেন। ২০১৫ সালের মে মাসে নিউজিল্যান্ডের নাগরিকত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত পাকা করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে দেশের রাজনৈতিক গতিপথ এবং বিদেশে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের ওপর করের বোঝা—এই দুই কারণেই নাগরিকত্ব ত্যাগ করাকে তার কাছে সবচেয়ে স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত মনে হয়েছে।

    এরিনের মতো এমন হাজারো আমেরিকান প্রতি বছর তাদের নাগরিকত্ব ত্যাগ করছেন। যদিও মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে এর সঠিক বার্ষিক পরিসংখ্যান পাওয়া বেশ কঠিন। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও আইআরএস এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বার্ষিক সংকলন প্রকাশ করে না।

    ‘আমেরিকানস ওভারসিজ’ নামক একটি সংস্থার তথ্যমতে, ২০২৫ সালে ৪,৮৮৯ জন আমেরিকান নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন, যা ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ। সংস্থাটি ধারণা করছে, ২০২৬ সালে এই সংখ্যা আরও ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ৪০,০০০ দ্বৈত নাগরিকত্বধারী আমেরিকান নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়া বা এই সংক্রান্ত তথ্যের জন্য সংস্থাটির পরামর্শ নিচ্ছেন।

    আমেরিকানদের নাগরিকত্ব ত্যাগের এই হিড়িকের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে সামনে আসছে মার্কিন কর আইন। ‘ফ্যাক্টকা’ নামক এই আইনের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট তার নাগরিকদের বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে অর্জিত আয়ের ওপর কর আরোপ এবং রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা দেয়। বিশ্বের মাত্র দুটি দেশের মধ্যে এই নিয়ম রয়েছে, যার একটি যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যটি পূর্ব আফ্রিকার ইরিত্রিয়া। এই আইনের কারণে ইউরোপের ব্যাংকগুলো অনেক সময় মার্কিন নাগরিকদের অ্যাকাউন্ট খুলতে বা ঋণ দিতে অস্বীকৃতি জানায়, যা প্রবাসীদের সাধারণ জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তোলে। বিশেষ করে যারা ‘অ্যাক্সিডেন্টাল আমেরিকান’ বা দুর্ঘটনাবশত আমেরিকান (যারা যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেও কখনো সেখানে থাকেননি বা কাজ করেননি), তাদের জন্য এই করের বোঝা মেটানো এক দুঃস্বপ্নের মতো।

    আর্থিক ও রাজনৈতিক কারণ ছাড়াও অনেকের ক্ষেত্রে নিজস্ব পরিচয়ের দ্বিধাদ্বন্দ্ব বা ‘আইডেন্টিটি ক্রাইসিস’ একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করে। ইতালিতে বসবাসরত ক্যারোলিন চিরিচেলার কথাই ধরা যাক। তিনি নিজেকে একজন গর্বিত আমেরিকান মনে করলেও বর্তমানে তার মার্কিন নাগরিকত্ব ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন। তার সন্তান ও স্বামী ইতালীয় এবং তার পুরো জীবন এখন ইতালিতেই আবর্তিত।

    ক্যারোলিনের মতে, দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে তিনি নিজেকে পুরোপুরি ইতালীয় বা পুরোপুরি আমেরিকান কোনোটিই ভাবতে পারেন না। এই দোলাচল থেকে মুক্তি পেতেই তিনি কেবল ইতালির পাসপোর্টটি রাখার কথা ভাবছে।

  • যে কারণে ভেঙে তিন টুকরো হলো তৃণমূল কংগ্রেস

    যে কারণে ভেঙে তিন টুকরো হলো তৃণমূল কংগ্রেস

    পশ্চিমবঙ্গে একটানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দল তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনি ফল প্রকাশের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভেঙে খানখান হয়ে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে পূর্বাভাস করলেও এত দ্রুত এমন বিপর্যয় ঘটবে তা কেউ ধারণা করতে পারেননি। ২৮ বছরেরও বেশি পুরোনো এই দলটি মাত্র ২৮ দিনের মধ্যে তিন টুকরো হয়ে গেছে।

    বর্তমানে দলটির বেশির ভাগ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আলাদা ব্লক গঠন করে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করছেন। তারা কলকাতায় রাজ্য বিধানসভায় মূল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছেন।

    অন্যদিকে, দিল্লিতে তৃণমূলের অন্তত ২০ জন লোকসভা এমপি স্পিকারকে চিঠি দিয়ে পুরোনো দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তারা ‘এনসিপিআই’ নামের একটি দলে যোগ দিয়ে কেন্দ্রে শাসক জোট এনডিএকে সমর্থন করছেন।

    আর মূল দল কাগজে-কলমে মমতা ও তার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা এখন ‘কালীঘাট তৃণমূল’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।

    তৃণমূল কংগ্রেস এত দ্রুত ভেঙে যাওয়ার পেছনে মূল তিনটি কারণ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো

    ১. নির্বাচন-সর্বস্ব ও আদর্শহীন রাজনীতি

    তৃণমূল কংগ্রেসের নিজস্ব কোনো রাজনৈতিক দর্শন বা মতাদর্শ ছিল না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতি মূলত জনমোহিনী নীতি বা ‘পপুলিজম’-এর ওপর ভিত্তি করে চলত। ১৯৯৮ সালে দল গঠনের পর থেকে ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসা পর্যন্ত তাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল সিপিআইএমকে হঠানো। ফলে শুধু নির্বাচন জেতার ওপর নির্ভরশীল এই রাজনীতি দলটির জন্য চড়া মূল্য ডেকে এনেছে।

    ৪ মে নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর দলটির নেতারা বুঝতে পারেন যে ভোটে হারার পর তাদের আঁকড়ে ধরার মতো কোনো আদর্শিক ভিত্তি নেই। ভারতে কংগ্রেস, বিজেপি বা বামপন্থিদের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শ ও সংগঠন থাকায় তারা ভোটে হারলেও টিকে থাকে। এমনকি বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী যখন নিষিদ্ধ ছিল, তখনো তারা আদর্শগত ভিত্তি দিয়ে অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছিল। কিন্তু তৃণমূলের ক্ষেত্রে তা ঘটেনি। ফলে ৪১ শতাংশ ভোট পেয়েও নির্বাচন-কেন্দ্রিক রাজনীতির বাইরে দলটিকে বিস্তৃত করতে না পারায় এটি সহজে ভেঙে গেছে।

    ২. ক্যাটালিস্টের ভূমিকায় বিজেপি

    নির্বাচনি বিপর্যয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্বলতম মুহূর্তে তাকে আঘাত করার কোনো সুযোগ ছাড়েনি বিজেপি। এই দল ভাঙার পেছনে বিজেপির সক্রিয় মদত ছিল। বিদ্রোহী বিধায়কদের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ভাঙার আগে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন এবং বিদ্রোহী এমপিরা বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বৈঠক করেন। পুরো বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আড়াল থেকে তদারক করেছেন বলে জানা গেছে।

    বিজেপি চেয়েছে রাজপথের আন্দোলনকারী মমতার বদলে পশ্চিমবঙ্গে এমন একটি ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ বিরোধী দল আসুক, যারা শুধু গঠনমূলক সমালোচনা করবে।

    অন্যদিকে, দিল্লিতে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা (২৪০ আসন) না পাওয়ায় শরিকদের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তৃণমূলের দুই-তৃতীয়াংশ এমপিকে ভাঙিয়ে এনডিএর শক্তি ৩০০ পার করাই ছিল বিজেপির লক্ষ্য। তবে বিজেপি বিদ্রোহীদের নিজেদের দলে সরাসরি ঠাঁই দেয়নি।

    ৩. অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ফ্যাক্টর

    তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতারা প্রায় প্রত্যেকেই দলের ভেতর দমবন্ধ পরিস্থিতির জন্য মমতার ভাইপো ও অঘোষিত উত্তরাধিকারী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেছেন। অভিষেক ‘কর্পোরেট কায়দায়’ দল পরিচালনা করতেন এবং নিজের একটি ঘনিষ্ঠ বলয় তৈরি করে রাখতেন। এর ফলে তৃণমূলের নিচুতলার সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বের বড় দূরত্ব তৈরি হয়।

    অভিষেক দলের ভেতর করপোরেট শৃঙ্খলা আনতে গিয়ে আমজনতার সঙ্গে দূরত্ব বাড়ান। কয়েক বছর আগে তিনি ‘আই-প্যাক’ নামের একটি নির্বাচনী পরামর্শদাতা সংস্থাকে যুক্ত করেন। আই-প্যাকের বেতনভুক কর্মীরা কার্যত দলটিকে হাইজ্যাক করে নিয়েছিল এবং কে টিকিট পাবেন বা কে কী ভাষণ দেবেন তা তারাই ঠিক করত। এর পাশাপাশি অভিষেকের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির নানা অভিযোগ দলটির ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। ক্ষুব্ধ নেতারা এখন অভিষেকের দিকে আঙুল তুলেই নিজেদের দলবদলকে জাস্টিফাই বা বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

  • ইরান সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ইরান সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ইরানের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। শনিবার তেহরান সফরকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সংবাদ সংস্থা আইএসএনএকে জানান, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইসলামাবাদের চলমান প্রচেষ্টার অংশ নাকভির এই সফর। যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে পাকিস্তান।

    এর আগে গত ৭ জুন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্কান্দার মোমেনির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন নাকভি।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি সম্পাদনের জন্য পাকিস্তানি কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সফর করছেন।

    বুধবার, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর করেন।

  • ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা বাস্তবায়নে গোপন আলোচনা চলছে: সুইজারল্যান্ড

    ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা বাস্তবায়নে গোপন আলোচনা চলছে: সুইজারল্যান্ড

    সুইজারল্যান্ড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইই) বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে দেশটির বার্গেনস্টক রিসোর্টে এখনো একটি ‘নির্ভরযোগ্য ও গোপন’ পরিবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে। খবর রয়টার্সের।

    শনিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, আলোচনায় কারা অংশ নিচ্ছেন বা কী বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে—গোপনীয়তার স্বার্থে সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হবে না।

    মন্ত্রণালয় বলেছে, সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই একটি নিরপেক্ষ ও নির্ভরযোগ্য মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে।

  • ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি নিয়ে সন্দিহান রাশিয়া

    ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি নিয়ে সন্দিহান রাশিয়া

    রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা নতুন উসকানি বা হামলার কারণে সহজেই ভেঙে যেতে পারে। তাই এখনই স্থায়ী শান্তির আশা করা ‘তাড়াহুড়ো’ হবে।

    রুশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ম্যাক্স -এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘লেবাননে নতুন হামলা বা অন্যান্য উস্কানির কারণে এই অস্থিতিশীল চুক্তি সহজেই ভেস্তে যেতে পারে। আর নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার, যারা যুদ্ধের মাধ্যমেই টিকে আছে তাদের জন্য ঠিক এটিই প্রয়োজন। সুতরাং, শান্তির আশা।

    ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া ও ইরান সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। তবে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের সংঘাতে মস্কো মূলত কূটনৈতিক ও মৌখিক সমর্থনেই সীমাবদ্ধ থাকায় দুই দেশের অংশীদারিত্বের সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

  • মোদির যোগব্যায়ামে  সরকারি কর্মচারীদের উপস্থিতি বাধ্যমূলক নয়,হাইকোর্ট

    মোদির যোগব্যায়ামে সরকারি কর্মচারীদের উপস্থিতি বাধ্যমূলক নয়,হাইকোর্ট

    কলকাতার রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে আগামী রোববার আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মচারীদের উপস্থিত থাকতে হবে বলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল। বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যায় সরকারি কর্মচারীদের একটি সংগঠন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট শুক্রবার জানিয়েছেন, সরকারি কর্মচারীদের যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক নয়।

    ভারতের প্রাচীন যোগব্যায়ামকে দেশের ভেতরে ও বাইরে জনপ্রিয় করতে ক্ষমতায় আসার পরেই বড় ভূমিকা নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আগামী রোববার (২১ জুন) বিশ্ব যোগব্যায়াম দিবস। প্রতিবারই এই দিনে প্রকাশ্যে যোগ চর্চা করেন মোদি। ভারতের প্রচারমাধ্যম বড় করে তা প্রচার করে।

    পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদী বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর এবার কলকাতার প্রধান সড়ক রেড রোড সাত দিন বন্ধ করে হাজার হাজার মানুষকে নিয়ে যোগব্যায়ামের পরিকল্পনা করেছিল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। জলে ও স্থলে দুই জায়গাতেই যোগব্যায়ামের বিশাল পরিকল্পনা নিয়েছিল সরকার। এ কারণেই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বলা হয়েছিল।

    বিজ্ঞপ্তিটি চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যায় বামফ্রন্টের সরকারি কর্মচারী সমিতি। আবেদনকারীদের পক্ষে উপস্থিত প্রবীণ আইনজীবী সিপিআইএম দলের সাবেক সংসদ সদস্য বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য যুক্তি দেন, যোগব্যায়ামে অংশগ্রহণের জন্য সরকার নির্দেশ দিতে পারে না।

    বিকাশরঞ্জন বলেন, ‘আমি যা করতে পছন্দ করি না, সরকার আমাকে তা করার নির্দেশ দিতে পারে না। এটি ঐচ্ছিক হওয়া উচিত।’ আদালত যখন মন্তব্য করেন, যোগব্যায়াম যেকোনো জায়গায় করা যেতে পারে।। তখন প্রবীণ আইনজীবী উত্তর দেন, ‘আমি মোটেও এটি করতে চাই না।’

    রাজ্য সরকারের পক্ষে উপস্থিত হয়ে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতকে বলেন, এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কর্মচারীদের কেবল অনুষ্ঠানে অংশ নিতে উৎসাহিত করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল রেড রোডের যোগব্যায়াম অনুষ্ঠানে বৃহত্তম অংশগ্রহণ করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস গড়া।

    বিল্বদল বলেন, বিজ্ঞপ্তিটি কেবলই একটি আবেদন ছিল এবং যাঁরা অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

    রাজ্য সরকারের এই বক্তব্য গ্রহণ করে হাইকোর্ট বিষয়টির নিষ্পত্তি করেন। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, সরকারি নির্দেশটি যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য কর্মচারীদের প্রতি একটি সাধারণ আবেদন মাত্র, এটি বাধ্যতামূলক নয়। ব্যক্তিগত কারণে কেউ উপস্থিত হতে না পারলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কথা ভাবা হয়নি।

    আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের এখন যোগব্যায়ামের অনুষ্ঠানে না গেলেও চলবে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টিকে বিজেপির জন্য একটা বড় ধাক্কা বলে অনেকে উল্লেখ করেছেন।

  • ট্রাম্পের মন্তব্যে বিস্মিত মেলোনি, দিলেন কড়া জবাব

    ট্রাম্পের মন্তব্যে বিস্মিত মেলোনি, দিলেন কড়া জবাব

    জি-৭ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির মধ্যে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্য ঘিরে দুই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

    মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প ইতালির টেলিভিশন চ্যানেল লা-৭–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, সম্প্রতি জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে মেলোনি তার সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য ‘ভিক্ষা’ করেছিলেন।

    ট্রাম্প বলেন, সে (মেলোনি) আমার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য ‘ভিক্ষা’ করেছিল। সে আমার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য খুবই মরিয়া ছিল। আমি আসলে ছবি তুলতাম না, কিন্তু তার জন্য খারাপ লাগায় রাজি হয়েছিলাম।

    ট্রাম্পের এ মন্তব্যের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ মনগড়া’ বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, আমি কিংবা ইতালি কখনো কারও কাছে কিছু ‘ভিক্ষা’ চায় না।

    মেলোনি আরও বলেন, তিনি ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে বিস্মিত হয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কেন তার মিত্রদের প্রতি এমন আচরণ করেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    এক বার্তায় মেলোনি বলেন, ‘আমি জানি না কেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তার মিত্রদের সঙ্গে এভাবে আচরণ করেন। এটি প্রথমবার নয়। হতাশাজনক বিষয় হলো, পশ্চিমা বিশ্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের প্রতি তিনি এমন কঠোর অবস্থান দেখান না; বরং তাদের নেতাদের প্রতি অনেক বেশি সহনশীলতা প্রদর্শন করেন।’

    এ ঘটনায় ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানিও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের মন্তব্যকে ইতালির প্রতি অবমাননাকর আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিলের ঘোষণা দেন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তাজানি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে করা গুরুতর ও অপমানজনক মন্তব্য পুরো ইতালিকেই অপমান করেছে। এজন্য আগামী ২১ ও ২২ জুন নির্ধারিত আমার যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

  • ইরাকে আইআরজিসি’র গোপন সেল, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে হামলা

    ইরাকে আইআরজিসি’র গোপন সেল, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে হামলা

    ইরাকে নতুন গোপন সেল গঠন করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এসব সেল উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। আটটি ইরাকি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ইরাকে আইআরজিসি সমর্থিত নতুন গোপন সেলগুলোর সংখ্যা তিন থেকে চারটি। প্রতিটি সেলে প্রায় ১০ জন করে অভিজ্ঞ ইরাকি শিয়া যোদ্ধা রয়েছে। এসব সেল ২০ এপ্রিল থেকে ১৭ মে পর্যন্ত ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় বসরা ও সামাওয়া শহরের নিকটবর্তী মরুভূমি অঞ্চল থেকে অন্তত সাতটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হামলাগুলোর লক্ষ্যবস্তু ছিল কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন স্থাপনা।

    নিরাপত্তা সূত্রগুলোর দাবি, নতুন গোপন সেলগুলোর কিছু সদস্য ইরাকভিত্তিক ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ জোট থেকে নেয়া হয়েছে। হাজার হাজার যোদ্ধা নিয়ে গঠিত এই জোটটি কট্টরপন্থী শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একটি ছাতাসংগঠন হিসেবে পরিচিত। তবে নতুন সেলগুলো ওই জোটের প্রচলিত কমান্ড কাঠামোর বাইরে কাজ করছে এবং সরাসরি আইআরজিসি-এর কাছে জবাবদিহি করছে। দুইজন ইরাকি সামরিক কর্মকর্তা, একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং পাঁচজন স্থানীয় মিলিশিয়া কমান্ডারসহ একাধিক সূত্র এই তথ্য দিয়েছে।

    কৌশল বদলাচ্ছে তেহরান?
    পাঁচজন মিলিশিয়া কমান্ডারের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সামরিক সক্ষমতা হ্রাস এবং ইরানের নিজস্ব অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আইআরজিসি নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে ছোট, অধিক আদর্শিক এবং সরাসরি নিয়ন্ত্রিত সেল গঠন করা হচ্ছে, যাতে আঞ্চলিক প্রভাব বজায় রাখা যায়।
    ইরাক দীর্ঘদিন ধরে ইরানের তথাকথিত ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই জোটের আওতায় গাজা, লেবানন, ইয়েমেন ও ইরাকের বিভিন্ন গোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত।

    তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরাকের বেশ কয়েকটি শক্তিশালী শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী অস্ত্র সমর্পণ করে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মনোযোগ দেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের চাপের মুখে দুটি গোষ্ঠী: আসাইব আহল আল-হক এবং ইমাম আলী ব্রিগেড- এই মাসে সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে অস্ত্র হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দেয়।

    অবসরপ্রাপ্ত ইরাকি সেনা কর্মকর্তা জাসিম আল-বাহাদলির ভাষায়, আইআরজিসির নতুন গোষ্ঠীগুলো ছোট, বেশি মতাদর্শিকভাবে অনুগত এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণাধীন। অর্থনৈতিক চাপে থাকা ইরানের জন্য এটি তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল কৌশল।

    যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতেও প্রক্সি ইস্যু অমীমাংসিত
    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও ভবিষ্যৎ আলোচনা নিয়ে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হলেও ইরানের আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের বিষয়টি আলোচনার অন্তর্ভুক্ত নয়।

    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে ইরাকি সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে, ইরানে সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং আইআরজিসির কার্যক্রম বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে।

    অন্যদিকে, ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি এবং যুক্তরাষ্ট্রের দূত টম ব্যারাক সম্প্রতি বৈঠক করে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা সব সশস্ত্র গোষ্ঠী নিরস্ত্রীকরণ এবং ইরাকের ভূখণ্ডকে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার জন্য ব্যবহার না হতে দেয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

    উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ
    ইরাকি নিরাপত্তা সূত্রগুলোর দাবি, নতুন গোষ্ঠীগুলো কুয়েতে তিনটি, সৌদি আরবে দুটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
    লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটি এবং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি সামরিক স্থাপনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

    এ ছাড়া, ১৭ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে ইরাকভিত্তিক কোনো গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করছে ইরাকি কর্তৃপক্ষ।

    একই দিনে সৌদি আরবও ইরাকের আকাশসীমা থেকে প্রবেশ করা তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছিল। প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদি এসব হামলাকে ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করে কুয়েত ও আমিরাতের সঙ্গে যৌথ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।
    তবে রয়টার্স উল্লেখ করেছে, উল্লিখিত হামলা, নতুন সেলগুলোর কাঠামো কিংবা আইআরজিসির সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘে দেশটির প্রতিনিধিরাও এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি।

    বিশ্লেষকদের মতে, যদি এসব অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তা ইরাকের নতুন সরকারের জন্য একটি বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে এবং বাগদাদ-ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্কের সূক্ষ্ম ভারসাম্য আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

  • সীমান্তে জমি অধিগ্রহণে  বিক্ষোভে শুভেন্দু

    সীমান্তে জমি অধিগ্রহণে বিক্ষোভে শুভেন্দু

    পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে জিতে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের জন্য বাংলাদেশ লাগোয়া সীমান্তে জমি অধিগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ৫০০ একরের বেশি জমি অধিগ্রহণ করে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করতে গিয়ে মুর্শিদাবাদ জেলায় কৃষকদের প্রতিরোধের মুখে পড়েছে রাজ্য প্রশাসন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ জুন এপিডিআর মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটির সদস্যরা ডোমকল ব্লকের ঘোষপাড়া সর্বপল্লী ভুতগাড়ির মাঠ পর্যবেক্ষণ করেন। এই মাঠে প্রায় ১৫ হাজার বিঘা তিন ফসলি জমি রয়েছে। এই জমির ওপর নির্ভরশীল পাঁচ গ্রামের কৃষক। এই পাঁচটি গ্রাম হলো দক্ষিণ ঘোষপাড়া, সর্বপল্লী, ফরাজীপাড়া, মুরাদপুর এবং উত্তর ঘোষপাড়া। এই জমিতে পাট, গম, কলাই, মুশুরি, রসুন, পেঁয়াজ ও বিভিন্ন সবজির চাষ এই জমিতে হয়।

    কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেছেন জেলা কমিটির ৯ জন সদস্য। কৃষকেরা এপিডিআরের প্রতিনিধি দলকে জানিয়েছে, তাদের প্রত্যেকের জমির পরিমাণ একেবারেই বেশি নয়। কৃষকদের পরিবার পিছু জমি এক, দেড় বা দুই বিঘা। অর্থাৎ তাঁরা ক্ষুদ্র কৃষক।

    এপিডিআরের প্রতিবেদন বলছে, ‘বাপ ঠাকুরদার আমল থেকে এখানকার কৃষকেরা এই জমিতে চাষাবাদ করছেন। জলঙ্গী নদীর ব্যাপক ভাঙনে অনেক উর্বর জমি তলিয়ে গিয়েছে। ফলে এই জমির ওপর এলাকার কৃষকদের বেঁচে থাকা নির্ভর করছে। মাঠে যেসব কৃষি জমি আছে, তা সবই সরকারি খাতায় নথিভুক্ত। জমিও যথেষ্টই উর্বর…এই জমির ওপর নির্ভরশীল পাঁচটি গ্রামের প্রায় ৬০০ পরিবার।

    ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দাঁড়িয়ে আছেন হিন্দুত্ববাদী বিজেপিদলীয় পশ্চিমবঙ্গের বিধায়ক চিত্ত মুখার্জি। সীমান্তে ২৭ কিলোমিটার এলাকায় কাটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে শুভেন্দু সরকার বিএসএফকে জমি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ২১ মে ২০২৬, মুর্শিদাবাদANIছবি: এএনআই

    প্রতিবেদনে বলা হয়, এই জমি চলে গেলে প্রায় তিন হাজার মানুষ পথে বসবে। এই জমি তারা কিছুতেই বিক্রি করবে না। কৃষকেরা মনে করছেন, ক্ষতিপূরণের সামান্য অর্থ জমির তুলনায় কিছুই নয়। জমি বছরের পর বছর ধরে তাদের পরিবারকে খাবার জোগাচ্ছে। কিন্তু ক্ষতিপূরণের সামান্য টাকা গরিবের পরিবারে আর্থিক টানাটানিতে কিছু দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে।

    এপিডিআরের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ৩১ মে মুর্শিদাবাদের সীমান্তবর্তী ডোমকল মহকুমার এই অঞ্চলে ‘বিএসএফ লাল পতাকার সীমানা লাগিয়ে অধিগ্রহণ করতে যায় এবং কৃষকেরা এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করেন। ভুতগাড়ির মাঠসংলগ্ন সড়কে বিপুলসংখ্যক কৃষক অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জলঙ্গি থানার পুলিশ ও বিএসএফ এক সঙ্গে জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে এলে কৃষকদের সঙ্গে বচসা বেঁধে যায়।

    এই প্রতিবেদন আরও বলছে, কৃষকেরা এপিডিআরের প্রতিনিধিদলকে জানিয়েছে, বিএসএফ কৃষকদের চাষের জমি ছেড়ে দিয়ে অন্য জায়গায় নিজেদের শিবির বানালে তাদের আপত্তি নেই। ডোমকল মহাকুমার এই অঞ্চলের জমিতে হিন্দু-মুসলিম এক সঙ্গে চাষ করেন। পাশের গ্রামে হিন্দু এলাকার কৃষকেরাও এই জমি কিছুতেই দেবে না।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাশের হিন্দু গ্রামের অনেকেই এপিডিআরের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁরা জানিয়েছে, গত সরকারের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তাঁরা নতুন সরকার এনেছেন। অথচ নতুন সরকার আসার পর সীমান্ত এলাকার চাষিদের জমি বিএসএফ দিয়ে দখলে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁরা এটা কিছুতেই মানবেন না। বিএসএফ, পুলিশ ক্রমশ এলাকার চাষিদের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে। জমি রক্ষার জন্য তারা লড়াই করবেন।

    কৃষকেরা এপিডিআরকে আরও বলেন, গত দুই বছরে বিএসএফ দুবার জমির মাপজোখ করে গেছে। কিন্তু সেই সময়ও কৃষকদের প্রতিরোধের কারণে তারা জমি নিতে আসেনি। এখন আবার জমি নেওয়ার তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকার বা বিএসএফের তরফে কোনো বিবৃতি এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

  • ‘হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না’, ইসরায়েলকে জে ডি ভ্যান্স

    ‘হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না’, ইসরায়েলকে জে ডি ভ্যান্স

    ইরানের সঙ্গে সদ্য স্বাক্ষরিত মার্কিন চুক্তির বিরোধিতা করায় ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার কট্টরপন্থী সদস্যদের নজিরবিহীন ভাষায় সমালোচনা করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, কোনো দেশ কেবল সহিংসতা বা হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে তাদের সব জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান করতে পারে না।

    হোয়াইট হাউসের এক ব্রিফিংয়ে এবং মার্কিন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জে ডি ভ্যান্স এই মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ সমালোচকদের জবাব দিয়ে ইরানের সঙ্গে হওয়া এই চুক্তির পক্ষে জোরালো সাফাই গেয়েছেন।

    হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে জে ডি ভ্যান্স ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গিভির এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের নাম উল্লেখ করে বলেন, ‘তাঁদের বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া উচিত।’

    ইসরায়েলি মন্ত্রীদের ক্ষোভের জবাব দিতে গিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি যদি ইসরায়েল সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকতাম, তবে বিশ্বের একমাত্র শক্তিশালী মিত্রের ওপর এভাবে হামলা চালাতাম না।’

    ইসরায়েলের সামরিক নীতির সমালোচনা করে ভ্যান্স আরও যোগ করেন, ‘৯ বা ১০ মিলিয়নের (জনসংখ্যা) একটি দেশ কেবল হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে তাদের সব জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান করতে পারে না।’

    তবে এই তীব্র বাদানুবাদের মধ্যেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিছুটা নমনীয় সুর বজায় রেখেছেন। তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, যুদ্ধের কঠিন সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পাশে ‘কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ দাঁড়িয়েছিল।

    এদিকে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও লেবাননে ইসরায়েল এবং ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবারও লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

    ইসরায়েল দাবি করছে, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াইটি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। তবে হিজবুল্লাহও এই চুক্তির শর্তাবলি প্রত্যাখ্যান করেছে।

    এই প্রসঙ্গে জে ডি ভ্যান্স কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, বৈরুতের মতো ঘনবসতিপূর্ণ বেসামরিক এলাকায় হামলা চালিয়ে বেসামরিক নাগরিক হত্যা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েলকে অবশ্যই এই শান্তি প্রক্রিয়াকে সম্মান জানাতে হবে।

    ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুদ্ধ অবসানের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে, বিশেষ করে রিপাবলিকান পার্টির কট্টরপন্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে। অনেকেই ইরানের পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের বিধান নিয়ে ক্ষুব্ধ।

    রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি এই চুক্তিকে ‘গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতিগত ভুল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর মতে, ‘ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে দমন করা যায়নি, বরং তারা বুঝে গেল যে হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দিলে কাজ হয়।’

    এই সমালোচনার জবাবে জে ডি ভ্যান্স বলেন, এই চুক্তির ফলে ইরান কোনো ছাড় পাবে না যদি না তারা শর্ত পূরণ করে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস করতে হবে এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে হবে। শর্ত ভঙ্গ করলে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

  • চীনের ল্যাবে আমেরিকার তহবিল  সেখান থেকেই করোনা:গোয়েন্দা তথ্য

    চীনের ল্যাবে আমেরিকার তহবিল সেখান থেকেই করোনা:গোয়েন্দা তথ্য

    যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক শীর্ষ মহামারি বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউসির বিরুদ্ধে করোনাভাইরাসের উৎপত্তির উৎস-সংক্রান্ত ‘ল্যাব-লিক’ (গবেষণাগার থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া) তত্ত্ব ধামাচাপা দেওয়া এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে প্রভাবিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের বিদায়ী পরিচালক (ডিএনআই) তুলসী গ্যাবার্ড বেশ কিছু নথিপত্র ও অভ্যন্তরীণ বার্তা প্রকাশ করে এই দাবি করেছেন।

    ডিএনআই তুলসী গ্যাবার্ডের দাবি অনুযায়ী, করোনাকালে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার ক্যারিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ড. ফাউসি ভাইরাসের গবেষণাগারভিত্তিক উৎস ও মার্কিন অর্থায়নে চীনের উহানে পরিচালিত বিতর্কিত ভাইরোলজি গবেষণার তথ্য আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন।

    তবে ফাউসি এর আগে মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া শুনানিতে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই বিষয়ে কোনো আলোচনার কথা সরাসরি অস্বীকার করেছিলেন। তিনি ছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রধান স্বাস্থ্য উপদেষ্টা।

    প্রকাশিত নথির বরাতে মার্কিন গোয়েন্দা দপ্তর দাবি করেছে, কোভিড-১৯ মহামারি শুরু হওয়ার আগে ড. অ্যান্থনি ফাউসির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (এনআইএআইডি) চীনের উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে বাদুড়ের করোনাভাইরাস নিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ‘গেইন-অব-ফাংশন’ (ভাইরাসের সংক্রমণক্ষমতা বাড়ানোর গবেষণা) প্রকল্পের জন্য লাখ লাখ মার্কিন ডলার তহবিল জুগিয়েছিল।

    গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই অনিচ্ছাকৃত ও অনিয়ন্ত্রিত ল্যাব-লিক বা গবেষণাগার থেকেই মূলত বিশ্বজুড়ে মহামারি ছড়িয়ে পড়েছিল, যা লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানির কারণ হয়।

    নতুন প্রকাশিত শত শত ই-মেইল ও নথির ভিত্তিতে তুলসী গ্যাবার্ড অভিযোগ করেছেন, ড. ফাউসি নিজের বিতর্কিত গবেষণাকে আড়াল করতে মহামারি চলাকালে তিনটি প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন, এর মধ্যে রয়েছে:

    ১. তহবিল সচল রাখা: ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক টিকা-বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে ঝুঁকিপূর্ণ করোনাভাইরাস গবেষণার পথ সুগম করা।

    ২. গোয়েন্দাদের প্রভাবিত করা: নিজের পছন্দের বিজ্ঞানীদের দিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বোঝানো যে—করোনার উৎপত্তি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক বা প্রাণীবাহিত।

    ৩. তথ্য নিয়ন্ত্রণ: জনসম্মুখে মহামারির প্রধান মুখপাত্র বা ‘পণ্ডিত’ সেজে ল্যাব-লিক তত্ত্বের পক্ষে থাকা বিজ্ঞানীদের কণ্ঠরোধ ও সেন্সর করা।

    ডিএনআই তুলসী গ্যাবার্ড বলেন, ‘আমেরিকান জনগণ বছরের পর বছর ধরে মিথ্যা, সেন্সরশিপ ও সত্য গোপনের শিকার হয়েছে। ফাউসির মতো অনির্বাচিত ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত আমলারা নিজেদের অপকর্ম লুকাতে গোয়েন্দা তথ্য ম্যানিপুলেট বা প্রভাবিত করেছেন, কংগ্রেসে মিথ্যা বলেছেন এবং নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছাতে বাধা দিয়েছেন।’

    বর্তমানে প্রকাশিত নথিপত্রগুলো ২০২৪ সালে করোনার উৎস নির্ধারণে গঠিত মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস সিলেক্ট সাবকমিটি) শুনানিতে ড. ফাউসির দেওয়া জবানবন্দির সম্পূর্ণ বিরোধী বলে দাবি করছে গোয়েন্দা দপ্তর।

    তৎকালীন শুনানিতে শপথ নিয়ে ফাউসি দাবি করেছিলেন, মহামারি চলাকালে বা তার আগে-পরে ভাইরাসের গবেষণা নিয়ে সিআইএ, এফবিআই বা ডিআইএর মতো মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে তাঁর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। কিন্তু বর্তমান নথিপত্রগুলো প্রমাণ করে যে—ফাউসি ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে এই বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

    তথ্য ফাঁসকারী বা হুইসেলব্লোয়ারদের ওপর প্রতিশোধ

    ডিএনআই গ্যাবার্ডের কার্যালয় জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সর্বোচ্চ তথ্য প্রকাশ ও স্বচ্ছতা’ নির্দেশনার অধীনে গত এক বছর ধরে মার্কিন গোয়েন্দা দলগুলো এই নথিগুলো নিয়ে কাজ করছিল। এই প্রক্রিয়ায় বেশ কয়েকজন হুইসেলব্লোয়ার বা তথ্য ফাঁসকারী কর্মকর্তা সাক্ষ্য দিয়েছেন।

    তাঁরা জানিয়েছেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভেতর যাঁরা প্রাকৃতিক উৎপত্তির বাইরে গিয়ে ল্যাব-লিক তত্ত্বের পক্ষে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও গোয়েন্দা বিশ্লেষণ তুলে ধরেছিলেন, তাঁদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। এমনকি তাঁদের পদোন্নতি আটকে দেওয়া বা চাকরিচ্যুত করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। গ্যাবার্ড এই প্রতিবেদনগুলো স্বাধীন তদন্তের জন্য গোয়েন্দা বিভাগের মহাপরিদর্শকের (আইজি) কাছে পাঠিয়েছেন।

    এর আগে তুলসী গ্যাবার্ড জানিয়েছিলেন, বিশ্বের ৩০টির বেশি দেশে ১২০টির বেশি জৈব গবেষণাগারে (বায়োলজিক্যাল ল্যাবরেটরি) যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিকভাবে অর্থায়ন করেছে। এর মধ্যে ছিল অত্যন্ত বিতর্কিত ‘গেইন-অব-ফাংশন’ (ভাইরাস বা জীবাণুর কার্যক্ষমতা ও সংক্রমণযোগ্যতা বৃদ্ধির কৃত্রিম গবেষণা) পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এই জটিল গবেষণাগুলো অত্যন্ত নামমাত্র বা সামান্য নজরদারির মধ্যে পরিচালিত হতো।

    করোনার উৎস নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক মহলে চরম মেরুকরণ এবং বিতর্ক দীর্ঘদিনের। বাইডেন প্রশাসনের সময়ে ল্যাব-লিক তত্ত্ব ও প্রাকৃতিক উৎপত্তি তত্ত্ব উভয় দিকেই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আংশিক সমর্থন ছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান গোয়েন্দাপ্রধান তুলসী গ্যাবার্ডের এই প্রকাশ্য অভিযোগ ও ডিক্লাসিফায়েড নথি প্রকাশ ড. ফাউসি এবং সাবেক স্বাস্থ্য প্রশাসনের ওপর আইনি ও রাজনৈতিক চাপ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

  • ইরান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ

    ইরান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ

    মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি আবারো এক গভীর পরিবর্তনের মুখে দাঁড়িয়ে। সাম্প্রতিক ইরান–যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ কেবল সামরিক সংঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এটি দীর্ঘদিন ধরে টিকে থাকা আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোকে নাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ ১৯৯০ সালের ইরাকের কুয়েত আক্রমণ এবং ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধ–এর মতোই মধ্যপ্রাচ্যের শক্তি ভারসাম্য পুনর্গঠনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

    দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও আগাম সতর্কীকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে নিজেকে নিরাপত্তার প্রধান গ্যারান্টর হিসেবে উপস্থাপন করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সংঘাত দেখিয়েছে, এই নিরাপত্তা ছাতা সত্ত্বেও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব থেকে উপসাগরীয় দেশগুলো পুরোপুরি সুরক্ষিত নয়।

    উদাহরণ হিসেবে বলা হচ্ছে, ইরানি হামলায় কাতারের তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি সক্ষমতার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে স্পষ্ট হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সবসময় অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত ঝুঁকি থেকে রক্ষা দিতে সক্ষম নয়।

    এই বাস্তবতা উপসাগরীয় দেশগুলোকে বিকল্প নিরাপত্তা কাঠামোর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, তুরস্ক, মিশর এবং পাকিস্তানের মধ্যে সমন্বয়ের প্রবণতা বাড়ছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই দেশগুলোর সক্ষমতা একে অপরকে পরিপূরক করে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক শক্তি, তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প, মিশরের ভৌগোলিক ও সামরিক অবস্থান এবং পাকিস্তানের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা মিলিয়ে একটি সম্ভাব্য নিরাপত্তা কাঠামোর ভিত্তি তৈরি হতে পারে।

    তবে এটিকে এখনই পূর্ণাঙ্গ জোট বলা যাচ্ছে না। ঐতিহাসিক বিরোধ ও আস্থার ঘাটতি এই দেশগুলোর সম্পর্ককে এখনো জটিল করে রেখেছে।

    অন্যদিকে ইসরাইল তার কৌশলগত অবস্থান পুনর্গঠনে নতুন ধরনের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে, যা বিশ শতকের মধ্যভাগে অনুসৃত ‘পেরিফেরি ডক্ট্রিনে’-এর আধুনিক সংস্করণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই কৌশলে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আরব বিশ্বের বাইরে একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হচ্ছে।

    এই নেটওয়ার্কের অন্যতম কেন্দ্রীয় শক্তি হলো সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২০২০ সালের আব্রাহাম চুক্তির পর থেকে আবুধাবি ও তেলআবিবের মধ্যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো ক্ষেত্রে সহযোগিতা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

    এই নতুন কাঠামোয় ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ভারত–ইসরাইল–ইউএই–যুক্তরাষ্ট্র সমন্বিত আইটুইউটু গ্রুপিং এবং প্রস্তাবিত ভারত–মধ্যপ্রাচ্য–ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর এই কৌশলগত সংযোগকে আরও শক্তিশালী করছে।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০–২০২৪ সময়ে ভারত ছিল ইসরাইলের অস্ত্র রপ্তানির সবচেয়ে বড় ক্রেতা, যা মোট রপ্তানির প্রায় ৩৪ শতাংশ এ তথ্য দিয়েছে স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট।

    ইউরোপীয় প্রান্তে গ্রিস ও সাইপ্রাস ইসরাইলের সঙ্গে জ্বালানি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করেছে, যা তুরস্কের প্রভাব ভারসাম্য রক্ষার কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

    দক্ষিণাঞ্চলে ইথিওপিয়া এবং সোমালিল্যান্ড নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণের অংশ হয়ে উঠছে। লোহিত সাগর ও হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে হুথি হামলার পর ইসরাইল নৌপথ নিরাপত্তা ও বাণিজ্য রুট সুরক্ষায় গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

    এই অঞ্চলে ইসরাইল, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইথিওপিয়ার স্বার্থের মিল দেখা যাচ্ছে, যা একই সঙ্গে মিশর, সৌদি আরব ও তুরস্কের জন্য নতুন কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য এখন কঠোর দুটি ব্লকে বিভক্ত হচ্ছে না। বরং অঞ্চলটি প্রবেশ করছে ‘ফ্লেক্সিবল ওভারল্যাপিং পার্টনারশিপ’-এর যুগে, যেখানে দেশগুলো এক ক্ষেত্রে সহযোগিতা করলেও অন্য ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অবস্থান করছে।

    অর্থনৈতিক নির্ভরতা ও বাস্তববাদী কূটনীতি এই সম্পর্কগুলোকে আরও জটিল করে তুলছে। উদাহরণ হিসেবে, মিশর একদিকে উপসাগরীয় বিনিয়োগের ওপর নির্ভরশীল, অন্যদিকে ইসরাইলের সঙ্গে শান্তি বজায় রাখছে।

  • ইরানের উপর জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা সরাতে শর্ত দিল ফ্রান্স

    ইরানের উপর জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা সরাতে শর্ত দিল ফ্রান্স

    আর্ন্তাজাতিক ডেস্ক:

    ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের আসন্ন আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায় ফ্রান্স। একই সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির শর্তে সন্তুষ্ট না হলে জাতিসংঘের ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সম্মতি দেবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারো। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের।

    শুক্রবার তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে আলোচনায় শুধু পারমাণবিক কর্মসূচিই নয়, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তাদের সমর্থনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

    বারো বলেন, ইরানের কাছ থেকে বড় ধরনের ছাড়ের বিনিময়েই জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ও ভেটোক্ষমতাসম্পন্ন সদস্য হিসেবে ফ্রান্সের সম্মতি ছাড়া এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সম্ভব নয়।

    তার ভাষায়, “ইরানের অবস্থানে মৌলিক পরিবর্তন আনাই আমাদের লক্ষ্য। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হিসেবে এই সংকটের সমাধানে ফ্রান্সের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

    চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে এবং চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আলোচনার বাইরে থাকা ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি এবার পরবর্তী দফার আলোচনার কাঠামো নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী।

  • যুক্তরাষ্ট্র–ইরান চুক্তি সব কূলই হারাচ্ছে নেতানিয়াহু

    যুক্তরাষ্ট্র–ইরান চুক্তি সব কূলই হারাচ্ছে নেতানিয়াহু

    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গদি অনেক দিন ধরেই টালমাটাল। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর দেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।

    চলতি বছরের অক্টোবরে ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন। গত মার্চ মাসেও যুদ্ধবাজ নেতানিয়াহু দম্ভভরে বলেছিলেন, ‘আমরা মধ্যপ্রাচ্যের চেহারা বদলে দিচ্ছি।’

    কিন্তু ইসরায়েলের সেই লক্ষ্য পূরণ হওয়ার অনেক আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন। ওই স্মারকে ইরানের শর্ত মেনে লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের উল্লেখও রয়েছে।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে, ইরানও পাল্টা জবাব দিতে থাকে। ইরান যুদ্ধের মধ্যেই মার্চের শুরুতে দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল ইসরায়েল।

    সে সময় মধ্যপ্রাচ্যকে পাল্টে দেওয়ার যে দম্ভোক্তি নেতানিয়াহু করেছিলেন—দিন যত গড়িয়েছে, তা ক্রমে ফাঁপা বুলিতে পরিণত হয়েছে।

    দুর্নীতির অভিযোগ, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা থেকে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের ইসরায়েলে হামলার সময় জনগণকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে নেতানিয়াহু আগে থেকেই সমালোচনার মুখে রয়েছেন।

    এখন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিচালনা এবং ইসরায়েলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক সামলানোর বিষয় নিয়েও তাঁকে ভোটারদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

    ৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহু এরই মধ্যে অক্টোবরের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। গত সপ্তাহে তিনি তাঁর প্রার্থিতা নিশ্চিত করেন।

    জনমত জরিপ অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট পরাজয়ের পথে রয়েছে। তবে ১৯৯০-এর দশক থেকে ইসরায়েলের পার্লামেন্টারি ব্যবস্থায় নেতানিয়াহু গভীর প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তাই সেখানে তাঁকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে একটি নতুন সরকার গঠন সম্ভব হবে, এমনটা খুব কম ইসরায়েলি বিশ্বাস করেন।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে এই ভালোবাসায় ফাটল দেখা দিয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেনফাইল ছবি: রয়টার্স

    স্থায়ী বিজয় না পাওয়া

    সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন নেতানিয়াহু। এবার নির্বাচনের ফল যা–ই হোক, দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা তিনি। সমর্থকদের কাছে একসময় তিনি ‘কিং বিবি’ নামে পরিচিত ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি বিরোধীদের সীমাহীন ক্ষোভেরও লক্ষ্যবস্তু।

    নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি তাঁকে এমন একজন কঠোর নিরাপত্তাপন্থী নেতা হিসেবে তুলে ধরে, যিনি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিকে ঠেকিয়ে রেখেছেন এবং একই সঙ্গে ইসরায়েলের শত্রু ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে হামলার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

    ২০২৫ সালে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ‘জর্ডান নদীর পশ্চিমে কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র থাকবে না। বছরের পর বছর ধরে আমি বিপুল চাপের মুখেও সেই *** রাষ্ট্র গঠনের বিষয়টি ঠেকিয়ে রেখেছি।’

    যদিও হামাসের হামলার আগেই নিরাপত্তা ব্যর্থতার কারণে নেতানিয়াহুর কট্টরপন্থী ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তবে সেসবের দায় তিনি স্বীকার করেননি। গাজা ও লেবাননে অভিযান তাঁকে সামরিক সাফল্য এনে দিলেও স্থায়ী বিজয়ের দেখা তিনি পাননি।

    বরং তাঁর সামরিক অভিযানের কারণে গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। সেই সঙ্গে ইসরায়েলের সামরিক মৃত্যুর সংখ্যা কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    দেশের অভ্যন্তরে সমালোচকেরা বলেছেন, নেতানিয়াহু গাজা সীমান্তের নিরাপত্তা থেকে নজর সরিয়ে নিয়েছিলেন এবং হামাসকে বাস্তব হুমকি হিসেবে গুরুত্ব দেননি।

    বেশির ভাগ ইসরায়েলি গাজা যুদ্ধকে সমর্থন করেছিলেন। তবে অনেকেই নেতানিয়াহুর যুদ্ধ পরিচালনার কৌশলের বিরোধিতা করেছেন।

    কয়েকজন শীর্ষ জেনারেল এবং জিম্মিদের পরিবারের সদস্যরা নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে বলেছিলেন, এ যুদ্ধ নিয়ে তাঁর স্পষ্ট কোনো কৌশলগত পরিকল্পনা ছিল না।

    ইসরায়েলে উগ্রপন্থী ইহুদিরা হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহ এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ড উদ্‌যাপন করেছেন। যদিও হামাস এখনো গাজার বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ করছে, ইরানের শাসনব্যবস্থাও একই আছে এবং হিজবুল্লাহও লেবাননে সক্রিয়।

    ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস এখনো গাজার প্রায় অর্ধেক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেফাইল ছবি: রয়টার্স

    ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছেন, সেখানে লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের কথা বলা আছে। এর ফলে ইসরায়েলকে এখন হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য হতে হবে।

    এ প্রসঙ্গে নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বলেন, ‘নেতানিয়াহু যুদ্ধ হেরে গেছেন। নেতানিয়াহু কোনো কিছুই অর্জন করতে পারেননি—চূড়ান্ত পরীক্ষার সময় তিনি ভেঙে পড়েছেন।’

    নেতানিয়াহু এই ধরনের সমালোচনার নিন্দা করে বলেছেন, এসব ইসরায়েলের অর্জনকে খাটো করে দেখানোর প্রচারের অংশ।

    ইরান থেকে সম্ভাব্য পারমাণবিক হুমকি নিয়ে সতর্ক করে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা যদি সময়মতো এবং বিপুল শক্তি প্রয়োগ করে পদক্ষেপ না নিতাম—তাহলে আজ আমরা এখানে থাকতাম না।’

  • সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত বেড়ে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ

    সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত বেড়ে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ

    সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিক ও ব্যাংকগুলোর জমা রাখা অর্থের পরিমাণ বা আমানত ২০২৫ সালের তুলনায় ৪১ শতাংশ বেড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক’-এর প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪২ লাখ সুইস ফ্রাঁ (সিএইচএফ), যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা। এটি ইতিহাসে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে ২০২১ সালে সর্বোচ্চ ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ আমানত ছিল।

    সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সুইস ব্যাংকে সামগ্রিক আমানত বৃদ্ধির মূল কারণ বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর জমা অর্থের বড় উল্লম্ফন। ২০২৪ সালে যেখানে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর জমার পরিমাণ ছিল ৫৭ কোটি ৬৬ লাখ ফ্রাঁ, ২০২৫ সাল শেষে তা ৪৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ কোটি ২৭ লাখ ফ্রাঁ। অর্থাৎ মোট জমার ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশই ধরে রেখেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংক।

    অন্যদিকে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশি ব্যক্তিমালিকানাধীন বা একক গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে জমার পরিমাণ প্রায় ১০ শতাংশ কমে গেছে। ২০২৪ সালের ১ কোটি ২৬ লাখ ফ্রাঁর বিপরীতে ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ ফ্রাঁ। তবে সুইস ব্যাংকের এই বার্ষিক রিপোর্টে শুধু বৈধ ও অফিশিয়াল হিসাবের তথ্যই আসে, ফলে বহুল আলোচিত কালো টাকা বা পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ কত, তা এই হিসাব থেকে জানার সুযোগ নেই।

    কর ফাঁকি ও অর্থ পাচার রোধে ২০১৮ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী অটোমেটিক এক্সচেঞ্জ অব ইনফরমেশন (এইওআই) বা স্বয়ংক্রিয় তথ্য বিনিময় প্রথা চালু করেছে সুইজারল্যান্ড। এর আওতায় গ্রাহকের নাম, ঠিকানা, কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) এবং ব্যাংক ব্যালেন্সের তথ্য সংশ্লিষ্ট দেশের কর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০২৫ সালে সুইস ফেডারেল ট্যাক্স অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফটিএ) বিশ্বের ১০১টি দেশের সঙ্গে প্রায় ৩৪ লাখ আর্থিক অ্যাকাউন্টের তথ্য বিনিময় করেছে।

    তবে ওইসিডি গ্লোবাল ফোরাম অন ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অব ইনফরমেশন ফর ট্যাক্স পারপাসেস ২০২৬-এর মে মাসের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, বাংলাদেশ এখনো এই অটোমেটিক এক্সচেঞ্জ অব ইনফরমেশন (এইওআই) চুক্তিতে সই করেনি।

    দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ

    সুইস ব্যাংকে অর্থ রাখার দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন দ্বিতীয়। এই অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি অর্থ রয়েছে ভারতের, প্রায় ৩২০ কোটি সুইস ফ্রাঁ। তবে গত বছরের তুলনায় তাদের জমার পরিমাণ ৮ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে ভারতসহ পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানের জমার পরিমাণ কমলেও বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও মালদ্বীপের জমার পরিমাণ ২০২৫ সালে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অঞ্চলে শতাংশের হিসাবে সবচেয়ে বেশি (৪৮ দশমিক ২ শতাংশ) প্রবৃদ্ধি হয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের।

  • দুই দেশেরই দায়িত্ব পুশ ইন সমস্যা সমাধান করা: ডুজারিক

    দুই দেশেরই দায়িত্ব পুশ ইন সমস্যা সমাধান করা: ডুজারিক

    আলোচনার মাধ্যমে পুশ ইন সমস্যা সমাধান করতে বাংলাদেশ ও ভারতকে আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক। বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ডুজারিক বলেছেন, সীমান্তে ‘পুশ ইন’ সমস্যার সমাধান আলোচনার মাধ্যমে করা উভয় দেশের দায়িত্ব।

    সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন যে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পরিস্থিতির দিকে আবারও দৃষ্টি দেয়া উচিত। আন্তর্জাতিক মহলের মনোযোগ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা, লেবানন, দক্ষিণ সুদান ও হাইতির দিকে থাকলেও, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কয়েক শ নারী ও শিশুর জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শিশুরা ক্ষুধায় কাঁদছে এবং নারীরা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন- এ অবস্থায় জাতিসংঘ মহাসচিব বিষয়টিকে কীভাবে দেখছে।

    এর জবাবে ডুজারিক বলেন, আলোচনার মাধ্যমে এবং মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে এই সমস্যার সমাধান করা উভয় দেশেরই দায়িত্ব।

    এ সময় আরেক প্রশ্নে ওই সাংবাদিক জানতে চান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নবনির্বাচিত সভাপতি একসময় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রোহিঙ্গাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেনটেটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব নেবেন।

    একইসঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিবও অতীতে শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে কি নতুন করে আশাবাদী হওয়া যায়?

    এর জবাবে ডুজারিক বলেন, সাধারণ পরিষদের সভাপতির মূল দায়িত্ব হলো পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করা। ফলে মহাসচিব ও সাধারণ পরিষদের সভাপতির মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সাধারণ পরিষদের বিষয়গুলোই অগ্রাধিকার পাবে। তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলাদা প্রক্রিয়ায় কাজ অব্যাহত রয়েছে।

  • কলকাতাজুড়ে পচা ডিমের নজিরবিহীন চাহিদা

    কলকাতাজুড়ে পচা ডিমের নজিরবিহীন চাহিদা

    পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভোট-পরবর্তী সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের লক্ষ্য করে এক অভিনব উপায়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু হয়েছে, যেখানে ‘পচা ডিম’ হয়ে উঠেছে প্রধান হাতিয়ার। কলকাতার আশেপাশের বাজারগুলিতে হঠাৎ করেই পচা ডিমের চাহিদা ও বিক্রি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় পচা ডিমের খোঁজ করছেন।

    অতীতে যে পচা ডিম সাধারণত মাছের খাবার, শ্যাম্পু কিংবা নিউরোথেরাপির কাজে ব্যবহৃত হতো, তা এখন রাজনৈতিক প্রতিবাদের এক অহিংস অথচ তীব্র অপমানজনক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন যে, এখন কেউ এক ক্রেট ডিম কিনতে এলেই তারা ঠাট্টা করে জিজ্ঞেস করছেন যে এগুলি খাওয়ার জন্য নাকি ছোঁড়ার জন্য নেওয়া হচ্ছে। কিছুদিন আগেই এক ক্রেতা পুরো এক ক্রেট পচা ডিম কিনে নিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন, যাদবপুরের ‘শম্ভু এগ শপ’-এর এক ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকার সম্ভাবনা প্রবল।

    এই পচা ডিম ছোঁড়ার রাজনীতির শুরু হয়েছিল তৃণমূলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়ে, তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে একটি বিক্ষোভের মুখে পড়েন হন এবং তখন তাকে লক্ষ্য করে প্রথম পচা ডিম ছোঁড়া হয়। এরপর থেকেই তৃণমূলের একাধিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে এই ডিম হামলা চালানো হচ্ছে। বলা যায় ্এটি এখন রাজ্য রাজনীতির একটি প্রধান উপাদান হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পরবর্তী সহিংসতা ও হেনস্তায় বিজেপি সরকার সরাসরি মদদ দিয়ে যাচ্ছে। তৃণমূলের দাবি, পুলিশের সামনেই দলটির নেতাদের একের পর এক ডিম মারা হচ্ছে, অথচ পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। এছাড়াও তৃণমূলের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার করে জেলে ভরেছে পুলিশ। পরে আদালতে নেয়ার সময়ই সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশে থাকা বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে তাদের লক্ষ্য করে পচা ডিম ছুঁড়ছে।

  • চুক্তিতে সই ট্রাম্প-পেজেশকিয়ানের

    চুক্তিতে সই ট্রাম্প-পেজেশকিয়ানের

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান গতকাল বুধবার দুই দেশের প্রেসিডেন্টদের স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী চুক্তির পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশ করেছে। যুদ্ধের অবসান ঘটাতে করা এই চুক্তির পরও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান চুক্তির প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে আবারও হামলা শুরু হবে এবং ইরানি কর্মকর্তাদের হত্যা করা হতে পারে। খবর রয়টার্সের।

    ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানে হামলার পক্ষে আগে দেওয়া নিজের অন্তত একটি অবস্থান থেকেও সরে আসেন। তিনি বলেন, তেহরানের হাতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকা ‘অন্যায্য’ হবে না। যদিও এর আগে তিনি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন।

    সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যদি চুক্তি লঙ্ঘন করে, তাহলে আমরা তাদের ওপর ভয়াবহ বোমা হামলা চালাব। আমি সেটা চাই না। আমি চাই তারা চুক্তি মেনে চলুক।’ ইরানের জনগণকে ‘বুদ্ধিমান মানুষ’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকরা আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি আশা করছেন এই প্রক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনবে এবং বৈশ্বিক তেলের দাম কমাতে সহায়তা করবে। এর আগে ট্রাম্প আরও বলেছিলেন, ‘যদি আমার পছন্দ না হয়, যদি তারা ঠিকমতো আচরণ না করে, তাহলে আমরা আবার ফিরে গিয়ে তাদের মাথার ঠিক মাঝখানে বোমা ফেলব।’

    অন্যদিকে, ইরানের নেতারা ট্রাম্পের নতুন হুমকির বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। বরং তাঁরা ঘটনাটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্ত হিসেবে উদ্‌যাপন করেছেন। ইরান এমন কিছু ছবি প্রকাশ করেছে, যাকে ১৯৭৯ সালে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো কোনো মার্কিন ও ইরানি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরিত চুক্তির দলিল বলে মনে করা হচ্ছে।

    ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ‘সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা যা অর্জন করতে চেয়েছিলাম, আলোচনার মাধ্যমে আমরা তার চেয়েও বহু গুণ বেশি পেয়েছি। এর তুলনাই চলে না।’ তিনি জানান, এই চুক্তির অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন আটকে থাকা ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্পদও অবমুক্ত করা হবে।

    এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। যুদ্ধের প্রথম দিনেই ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং একাধিক সামরিক নেতাকে হত্যা করা হয়। পরে সংঘাত দ্রুত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেয়। এতে সাক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই ইরান ও লেবাননের বাসিন্দা। এ ছাড়া যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়েছে, নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হয়েছে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বড় ধরনের খাদ্য সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    ১৪ দফার এই অন্তর্বর্তী চুক্তিতে এপ্রিল মাসে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হয়েছে। লেবাননকেও এর আওতায় রাখা হয়েছে, যাতে দুই পক্ষ চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার সুযোগ পায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ইংরেজি ও ফারসি ভাষায় প্রস্তুত করা স্মারকে ডিজিটাল স্বাক্ষর করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার থেকেই চুক্তিটি কার্যকর হয়েছে।

    ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে ভার্সাই প্রাসাদে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে যোগ দেওয়ার ঠিক আগে ট্রাম্প চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ঐতিহাসিক এই ভার্সাই প্রাসাদেই একসময় সেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।

  • ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় তেহরানের অর্থনৈতিক জয়

    ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় তেহরানের অর্থনৈতিক জয়

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতা ইরানকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা দিয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের সবচেয়ে জটিল মতবিরোধের ক্ষেত্রগুলো ও পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে ইরানকে শেষ পর্যন্ত যে কঠিন ছাড়গুলো দিতে হতো তা আপাতত ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। এটিও ইরানের জন্য অনেকটাই ইতিবাচক।

    সমঝোতা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ তুলে নেবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চূড়ান্ত পারমাণবিক চুক্তি হওয়ার আগেই ইরানকে আবার তেল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হবে। এতে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটে থাকা দেশটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক লাইফলাইন পাবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়ন এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দেশটির অর্থনীতি তীব্র চাপের মুখে ছিল।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের প্রধান অঙ্গীকার হলো আগামী ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা। তবে ওই সময়সীমা শেষে জাহাজ চলাচলে ফি আরোপের সুযোগ সমঝোতায় খোলা রাখা হয়েছে।

    ফ্রান্সের সায়েন্সেস পো’র সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গবেষক নিকোল গ্রায়েভস্কি বলেন, ‘সবদিক বিবেচনায় সমঝোতাটি ইরানের অনুকূলেই বলে মনে হচ্ছে। তুলনামূলকভাবে সীমিত নতুন পারমাণবিক প্রতিশ্রুতি দেওয়ার বিপরীতে তেহরান নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পথে অগ্রগতি অর্জন করেছে। বিশেষত তেল রপ্তানি পুনরুদ্ধারের সুযোগ, অর্থনৈতিক সুবিধা এবং সামরিক চাপ হ্রাস পেয়েছে।

    গ্রায়েভস্কির মতে, যুক্তরাষ্ট্র যেসব কঠিন ছাড় আদায় করতে চেয়েছিল, সেগুলোর বেশিরভাগই ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। যদিও পরবর্তী চুক্তিতে দুই পক্ষের লাভ-ক্ষতির ভারসাম্য বদলাতে পারে, তবে বর্তমান সমঝোতায় তাৎক্ষণিক ও বাস্তব সুবিধা তুলনামূলকভাবে বেশি পেয়েছে ইরান।

    সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। তবে বাস্তবে এসব পদক্ষেপ ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তা সত্ত্বেও চুক্তির খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের গড় দামও কয়েক মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রতি গ্যালন ৪ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।

    তবে ইরানবিরোধী বিশ্লেষকদের একাংশ এই সমঝোতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সাবেক মার্কিন ট্রেজারি কর্মকর্তা এবং ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিজ-এর জ্যেষ্ঠ ফেলো মিয়াদ মালেকি বলেন, ইরানের তেল বাণিজ্য সহজ করতে ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিলের অঙ্গীকার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্রকে দুর্বল করে দিতে পারে।

    অন্যদিকে যারা প্রকাশ্য সংঘাত বা নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে ইরানের সঙ্গে কূটনীতিকে সমর্থন করেন, তারা এই সমঝোতা স্মারকের প্রশংসা করে বলেছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সুযোগ করে দিয়েছে।

    ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিল-এর সভাপতি জামাল আবদি বলেন, এগুলো কোনো ছাড় নয়; বরং দীর্ঘদিনের ব্যর্থ চাপ প্রয়োগের নীতির সংশোধন, যা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধকে অনিবার্য করে তুলেছিল।

    কিছু বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলেছেন, এমন একটি সমঝোতা যদি শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়, তবে কয়েক মাসের যুদ্ধের আগেই কেন তা করা গেল না। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট-এর জ্যেষ্ঠ ফেলো হলি ড্যাগ্রেস বলেন, তিন মাসের যুদ্ধ ছাড়াই এই আলোচনা হতে পারত। হরমুজ প্রণালির মতো বিষয়, যা ঐতিহাসিকভাবেই খোলা ছিল, কূটনীতির মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব ছিল।

    তিনি আরও বলেন, সমঝোতায় সবচেয়ে কঠিন বিষয়গুলো—বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সুনির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ—ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘আমি সন্দিহান যে আগামী ৬০ দিনের আলোচনা কোনো বাস্তব ফল দেবে। এটা কেবল সমস্যাকে ভবিষ্যতের জন্য ঠেলে দেওয়া।’

  • ৩০০ বিলিয়ন ডলার দেয়াসহ কী আছে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ দফা চুক্তিতে

    ৩০০ বিলিয়ন ডলার দেয়াসহ কী আছে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ দফা চুক্তিতে

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং তা কার্যকর হয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ-এ অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনে অংশ নেয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির ফলে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

    ১৪ দফার এই চুক্তিকে মূলত সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ বলা হচ্ছে। এতে বলা হয়েছে যে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করবে না।

    এছাড়া দেশটির ‘পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের’ জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে, যদিও এতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বাধ্যতামূলক নয়।

    যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং ইসরাইলের মধ্যে সঙ্ঘাত শুরু হওয়ার চার মাস পর এই চুক্তি হলো।ট্রাম্প প্রশাসন এই চুক্তিকে ‘কর্মসম্পাদন’ বা পারফর্ম্যান্সভিত্তিক হিসেবে বর্ণনা করেছে। অর্থাৎ, ইরান নিজ প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করলেই কেবল চুক্তির সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

    যদিও চুক্তির মধ্যে অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েরও সমাধান হয়নি, তবু এর যেসব মূল দিক সম্পর্কে জানা সম্ভব হয়েছে, সেগুলো তুলে ধরা হলো।

    প্রথম দফা : ‘সব ফ্রন্টে’ সঙ্ঘাতের অবসান

    চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা লেবাননসহ ‘সব ফ্রন্টে’ সামরিক অভিযান অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা দেবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছিলেন যে লেবাননের হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের সামরিক অভিযান ইরানের সাথে হওয়া এই চুক্তিকে ভেস্তে দিতে পারে।

    অন্যদিকে, তেহরান বারবার আশা জানিয়েছে যে যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

    ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বুধবার বলেন, লেবাননে ইসরাইলের যেকোনো সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে তা হবে ‘এই সমঝোতার লঙ্ঘন’, আর এর প্রতিক্রিয়ায় ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে’।

    চুক্তিতে আরো বলা হয়েছে, ‘এখন থেকে’ কোনো পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করবে না বা হুমকি দেবে না এবং লেবাননের ‘ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব’ নিশ্চিত করবে।

    নথি অনুযায়ী, চূড়ান্ত এই চুক্তি সঙ্ঘাতের স্থায়ী ‘অবসান’ ঘটাবে।তবে এই দফার নিয়ে ইসরাইল কী প্রতিক্রিয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

    দ্বিতীয় দফা : ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে’ পারস্পরিক সম্মান

    যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সাথে এক টেলিফোন ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের কাছে হুবহু পড়ে শোনানো চুক্তিটিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে’ এবং একে অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপে বিরত থাকবে।

    এই ধারা ইরানের ভিন্নমতাবলম্বী গোষ্ঠীগুলো নেতিবাচকভাবে নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে, ইরানের বিভিন্ন শহরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘সহায়তা আসছে’।

    তৃতীয় দফা : ৬০ দিনের সময়সীমা

    চুক্তির তৃতীয় দফা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও সমঝোতায় পৌঁছানোর অঙ্গীকার করেছে। তবে উভয়পক্ষের সম্মতিতে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।

    দু’দেশের নেতারা সমঝোতা স্মারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করার পর থেকেই ৬০ দিনের এই সময় গণনা শুরু হয়েছে।

    হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বুধবার রাতে ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে জি৭ সম্মেলন পরবর্তী এক নৈশভোজে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান-সংক্রান্ত এই নথিতে স্বাক্ষর করেন।

    হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও এতে স্বাক্ষর করেছেন।

    এর আগে ট্রাম্প এবং ইরানি কর্মকর্তারা এ সপ্তাহের শেষ দিকে জেনেভায় আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে এখন সেটি হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

    চতুর্থ দফা : যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ প্রত্যাহার করবে

    চতুর্থ দফায় বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে আরোপিত নৌ অবরোধ এবং ‘যেকোনো বিঘ্ন বা প্রতিবন্ধকতা’ অপসারণ শুরু করবে।

    চুক্তি এবং ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে এই অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে। এ সময়ে ইরানের বন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে পরিমাণ জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে, তা হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নৌ চলাচলের হারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

    চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ‘ইরানের নিকটবর্তী অঞ্চল’ থেকে নিজেদের সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

    বাস্তবে এর অর্থ হলো, ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর আগে মার্কিন বাহিনীর যে অবস্থান ছিল, দেশটি আবার সেই অবস্থায় ফিরে যাবে।

    পঞ্চম দফা : হরমুজ প্রণালী

    চুক্তির একটি অংশে বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ইরান ‘সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা’ চালিয়ে কোনো ধরনের ফি ছাড়াই হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করবে।

    যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম তীব্রভাবে বেড়ে যায়। তাই প্রণালীটি পুনরায় চালু করা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল।

    নথিতে বলা হয়েছে, কারিগরি ও সামরিক ‘প্রতিবন্ধকতা’ দূর করা এবং মাইন অপসারণ কার্যক্রম বিবেচনায় নিয়ে জাহাজ চলাচল ‘অবিলম্বে’ শুরু হবে।

    এর আগে এক ব্রিফিংয়ে কর্মকর্তারা বারবার স্পষ্ট করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে চলাচলের জন্য কোনো ধরনের ফি নেয়া হবে না।

    দীর্ঘমেয়াদে, ইরান ওমান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সাথে মিলে হরমুজ প্রণালী পরিচালনায় আরো বিস্তৃত একটি কাঠামোগত চুক্তির জন্য কাজ করবে বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে ইরান নিজেদের অধিকার দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে।

    তবে ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালী ব্যবহারের জন্য টোল বা শুল্ক ব্যবস্থা চালু থাকার মতো সিদ্ধান্ত উপসাগরীয় দেশগুলো কখনোই মেনে নেবে না।

    ষষ্ঠ দফা : ইরানের পুনর্গঠনের জন্য অর্থায়ন

    সমঝোতা স্মারকের ষষ্ঠ দফায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক অংশীদাররা ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন (৩০ হাজার কোটি) ডলারের একটি ‘চূড়ান্ত ও পারস্পরিকভাবে সম্মত পরিকল্পনা’ প্রণয়ন করবে।

    চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এই তহবিলের কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় সব লাইসেন্স, ছাড়পত্র ও অনুমোদন দেবে।

    তবে তার মানে এটা না যে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অর্থায়ন করবে।

    এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানকে কিংবা তহবিলে ‘এক পয়সাও’ দিতে হবে না।

    উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, যদি ইরান ‘ভালো আচরণ’ করে, তাহলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন নিয়ে ইরানে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে পারে।

    ট্রাম্প ও প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানকে অর্থ দেবে না। তাদের দাবি, ২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের সাথে ইরানের পারমাণবিক চুক্তির তুলনায় এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

    সপ্তম দফা : নিষেধাজ্ঞার অবসান

    চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে। এর মধ্যে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের আওতায় থাকা নিষেধাজ্ঞা এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফাভাবে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলোও অন্তর্ভুক্ত।

    তবে এই প্রক্রিয়ার সময়সূচি এখনো স্পষ্ট নয়।

    নথিতে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে এ বিষয়ে একটি সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। তবে উভয়পক্ষই বিষয়টি ‘অবিলম্বে’ অগ্রাধিকার দিয়ে পরবর্তী আলোচনায় বিবেচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

    নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’ কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল তেহরানকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে ফেলা।

    অষ্টম দফা : পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার প্রতিশ্রুতি

    ইরান পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহ বা অর্জন না করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি উভয় পক্ষ তেহরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে একমত হয়েছে।

    এই পদার্থ ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি এখনো স্পষ্ট নয়। নথিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী আলোচনায় একটি প্রক্রিয়া ‘পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে’ হবে। তবে ন্যূনতম হিসেবে এটি আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ-এর তত্ত্বাবধানে ‘ডাউনব্লেন্ড’, অর্থাৎ ইউরেনিয়ামের মান বা তীব্রতা হ্রাস করার ব্যবস্থা করা হবে।

    জ্যেষ্ঠ এক মার্কিন কর্মকর্তা একে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘ন্যূনতম মান’ এবং ‘বড় সাফল্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    ট্রাম্প বলেছেন, এই বছরের শুরুতে চালু করা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-এর ৯৯ শতাংশ লক্ষ্যই ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে বিরত রাখা।

    যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তিকে পারফরম্যান্সভিত্তিক হিসেবে বর্ণনা করেছে, তাই সপ্তম দফায় উল্লেখিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ইরানের অষ্টম দফা মেনে চলার ওপর নির্ভর করবে।

    নবম ও দশম দফা : ‘স্থিতাবস্থা’

    এই দু’টি দফায় বলা হয়েছে, পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবস্থাপনা না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রাখবে।

    বাস্তবে এর অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না। একই সময়ে তারা তেল, পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি এবং সংশ্লিষ্ট সেবাসমূহ- যেমন ব্যাংকিং লেনদেন ও পরিবহনের জন্য ওয়েভার বা ছাড়পত্র জারি করবে।

    একাদশ দফা : জব্দকৃত অর্থ

    এই দফাটি আলোচনায় একটি বড় বাধা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

    ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে তাদের জব্দকৃত সম্পদ ফিরিয়ে দিতে হবে, যা দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সহায়তা হিসেবে কাজ করবে।

    নথির একাদশ দফায় বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্র ‘জব্দ বা আটকানো সব অর্থ সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারের সুযোগ করে দেবে’, আর এর প্রক্রিয়া পরবর্তী আলোচনায় নির্ধারণ করা হবে।

    এক মার্কিন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কিছু সম্পদ এমওইউ-পরবর্তী আলোচনার সময় মুক্ত করা হবে, যাতে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবস্থাপনা শুরুর মতো শর্তগুলো মানলে ইরানকে উৎসাহ দেয়া যায়।

    দ্বাদশ থেকে চতুর্দশ দফা : নজরদারি ও চূড়ান্ত আলোচনা

    চুক্তির শেষ কয়েকটি দফায় চুক্তি বাস্তবায়নের কাঠামো ও প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এমন একটি ‘ব্যবস্থা’ গঠন করবে, যা এমওইউ বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ চুক্তির শর্ত মানা হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করবে। তবে বাস্তবে এটি কিভাবে কাজ করবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

    এমওইউ স্বাক্ষরের পর এবং বাস্তবায়ন শুরু হলে উভয় দেশ চূড়ান্ত একটি চুক্তির জন্য আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করবে।

    সবশেষে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হবে।

  • ইরানের ১০ হাজার কোটি ডলার  আটকে আছে কোথায় ?

    ইরানের ১০ হাজার কোটি ডলার আটকে আছে কোথায় ?

    চীন ও ইরাকের ব্যাংক হিসাব থেকে শুরু করে কাতার ও দক্ষিণ কোরিয়ায় আটকে থাকা তহবিল—বিদেশে ইরানের মালিকানাধীন ১০ হাজার কোটি ডলারেরও (১০০ বিলিয়ন ডলার) বেশি অর্থ আটকে রয়েছে। আর ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় এই অর্থ ফিরে পাওয়া তেহরানের অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে সামনে এসেছে।

    দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা, মুদ্রাস্ফীতি ও বছরের পর বছর ধরে চলা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকার ফলে বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার ব্যাপক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইরানি কর্মকর্তারা বিদেশে থাকা তাঁদের সম্পদের অন্তত ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ধাপে ধাপে ছাড় করার দাবি জানাচ্ছেন।

    তেহরানের দাবি, বিদেশে তাদের ১০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ আটকে রয়েছে। অবশ্য বাইরে থাকা এই অর্থের হিসাব ভিন্নও হতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের এই সময় বিষয়টি আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। এই চুক্তির ফলে শেষ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের তেল রপ্তানি আবার শুরু, আটকে থাকা সম্পদ ফেরত এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিচালনার একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো তৈরি হতে পারে।

    চীন সবচেয়ে বড় অংশের অংশীদার

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য হিসাব অনুযায়ী, ইরানের আটকে থাকা সম্পদের সবচেয়ে বড় অংশটি চীনে রয়েছে বলে ধারণা করা হয়, যার পরিমাণ ২ হাজার কোটি ডলার থেকে ৫ হাজার কোটি ডলার। এই অর্থের সিংহভাগই চীনের কাছে বছরের পর বছর ধরে তেল বিক্রির মাধ্যমে জমা হয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন ইরানের সবচেয়ে বড় জ্বালানি ক্রেতা।

    যেহেতু বেশির ভাগ আন্তর্জাতিক জ্বালানি লেনদেন বিশ্বব্যাপী ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে হয়ে থাকে, ফলে ইরানের তেল রপ্তানির অনেক অর্থই নিষেধাজ্ঞার কারণে তেহরানের হাতে আসেনি। জানা গেছে, কিছু তহবিল চীনা পণ্য ও যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে, তবে একটি বিশাল অঙ্কের অর্থ এখনো আটকে রয়েছে।

    ২০১৮ সালের আগে তেল কেনার সঙ্গে যুক্ত শত শত কোটি ডলার আটকে থাকা দেশগুলোর মধ্যে ভারত অন্যতম।

    অর্থ আটকে থাকার কারণ

    বেশির ভাগ তহবিলই ইরানের তেল, গ্যাস এবং বিদ্যুৎ বিক্রি থেকে এসেছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যাংক ও বিভিন্ন দেশের সরকার এই অর্থ তেহরানে স্থানান্তর করতে পারছে না।

    কিছু তহবিল কেবল খাদ্য ও ওষুধের মতো মানবিক পণ্য কেনার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। বেশ কয়েকটি ব্যাংক হিসাবে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে স্থানীয় মুদ্রায় এই অর্থ রাখা হয়েছে।

    এই অর্থ এখন কেন গুরুত্বপূর্ণ

    ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার অংশ হিসেবে ইরান অন্তত ২৪ বিলিয়ন ডলার এখন ফেরত চায়। আটকে থাকা সম্পদ নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের গতি ফেরাতে পারে।

    নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির আলোচনায় এসব আটকে থাকা অর্থ দর–কষাকষির প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

    এই অর্থ ফেরত পেলে তা তেহরানকে তাদের মুদ্রার মান স্থিতিশীল করতে, আমদানিতে অর্থায়ন করতে এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে।

    ইরাক, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া

    ইরানের বিদ্যুৎ ও প্রাকৃতিক গ্যাস কেনার সঙ্গে জড়িত প্রায় ১ হাজার কোটি থেকে ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ইরাকের কাছে আটকে আছে বলে ধারণা করা হয়। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বাগদাদ এই অর্থের বেশির ভাগ অংশ তেহরানে অবাধে স্থানান্তর করতে পারছে না।

    ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া—উভয় দেশের কাছেই প্রায় ৭০০ কোটি ডলার করে আটকে আছে। ২০১৮ সালে ওয়াশিংটন আবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার আগে উভয় দেশই ইরানের অন্যতম বড় তেল ক্রেতা ছিল। সেই অপরিশোধিত তেল কেনার অর্থ পরবর্তী সময় স্থানীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আটকে দেওয়া হয়।

    ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বন্দিবিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে মূলত দক্ষিণ কোরিয়ায় আটকে থাকা প্রায় ৬০০ কোটি ডলার কাতারে স্থানান্তর করা হয়েছিল। এসব তহবিল মানবিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত ছিল। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর এই অর্থ ব্যবহারের নিয়ম আরও কঠোর করা হয়।

    জাপান, ওমান, লুক্সেমবার্গ এবং অন্যান্য দেশেও ছোট অঙ্কের অর্থ আটকে রয়েছে বলে ধারণা করা হয়, যা ইরানের আর্থিক লেনদেনের ওপর কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞা–সংক্রান্ত বিরোধ ও বিধিনিষেধের চিত্র তুলে ধরে।

    এই অর্থ এখন কেন গুরুত্বপূর্ণ

    মুদ্রাস্ফীতি, দুর্বল মুদ্রা এবং বছরের পর বছর ধরে চলা নিষেধাজ্ঞার চাপে হিমশিম খাওয়া অর্থনীতিতে দ্রুত শক্ত বৈদেশিক মুদ্রা (হার্ড কারেন্সি) জোগানোর অন্যতম সহজ উপায় হলো এই আটকে থাকা সম্পদ ফিরিয়ে আনা।

    ওয়াশিংটনের জন্য এসব তহবিল দর–কষাকষির প্রধান এক হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। রয়টার্স গত সপ্তাহে জানিয়েছে, ইরান প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ৬০০ কোটি থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার ছাড় করার জন্য চাপ দিচ্ছিল। মার্কিন আলোচনাকারীরা মানবিক ব্যয় এবং ভবিষ্যতে চুক্তি মেনে চলার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে যুক্ত করে ধাপে ধাপে অর্থ ছাড় করার কথা বলছেন।

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের অংশ হিসেবে ইরানি কর্মকর্তারা জব্দ থাকা অন্তত ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রকাশিত সমঝোতা স্মারকেও ইরানের জব্দ অর্থ উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    বছরের পর বছর ধরে জব্দ অর্থ উদ্ধারে তেহরানের এই চেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হলে এটি তাদের জন্য অন্যতম বড় অর্থনৈতিক পুরস্কার হয়ে উঠতে পারে।

  • ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ দফা চুক্তি প্রকাশ, কী আছে তাতে

    ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ দফা চুক্তি প্রকাশ, কী আছে তাতে

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তির ১৪ দফা খসড়া প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। খসড়ায় যুদ্ধবিরতি, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ রয়েছে।

    সিএনএনের দাবি, তারা এক মার্কিন কর্মকর্তার কাছ থেকে এই সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) খসড়া কপি পেয়েছে। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে উপস্থিত এক কূটনীতিক এবং আলোচনার সঙ্গে জড়িত আরও দুই কূটনৈতিক সূত্র এর সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তবে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বলেছেন, ফাঁস হওয়া নথিটি চূড়ান্ত সমঝোতার প্রকৃত প্রতিফলন নয়।

    খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ গত রোববার ডিজিটালভাবে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। এরপর চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করতে ৬০ দিনের সময়সীমা কার্যকর হবে।

    খসড়া অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানির অনুমতি দেবে। পাশাপাশি ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কিত প্রতিশ্রুতি পূরণ করলে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন তহবিলে প্রবেশাধিকার পেতে পারে। তবে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা খসড়ায় নেই।

    চুক্তির ১৪ দফা:

    ১। ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এবং বর্তমান যুদ্ধে জড়িত তাদের মিত্ররা এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধের তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী সমাপ্তি ঘোষণা করবে। উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপ নেবে না এবং শক্তি প্রয়োগ বা শক্তি প্রয়োগের হুমকি থেকেও বিরত থাকবে।

    ২। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে এবং পরস্পরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকবে।

    ৩। উভয় দেশ সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা চালাবে। পারস্পরিক সম্মতিতে এ সময় বাড়ানো যেতে পারে।

    ৪। সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে এবং ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বাধা বা হস্তক্ষেপ বন্ধ করবে। সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে জাহাজ চলাচল যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। এছাড়া চূড়ান্ত চুক্তির ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র আশপাশের এলাকা থেকে তাদের বাহিনী প্রত্যাহার করবে।

    ৫। ইরান সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের পরপরই পারস্য উপসাগর থেকে ওমান সাগর পর্যন্ত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার পদক্ষেপ নেবে। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত প্রতিবন্ধকতা দূর ও মাইন অপসারণের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।

    ৬। যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক অংশীদাররা ইরানের পুনর্বাসন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়নে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত হবে।

    ৭। যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ইরানের ওপর বর্তমান সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে। এর মধ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) বোর্ড অব গভর্নরসের প্রস্তাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা প্রাথমিক ও গৌণ নিষেধাজ্ঞাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

    ৮। ইরান পুনর্ব্যক্ত করেছে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং পারমাণবিক কর্মসূচি-সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয় চূড়ান্ত চুক্তিতে সমাধান করা হবে।

    ৯। চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষ বর্তমান অবস্থা বজায় রাখবে। ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে বর্তমান অবস্থা বজায় রাখবে এবং যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা অঞ্চলে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করবে না।

    ১০। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরপরই এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবার রপ্তানির অনুমোদন দেবে। এর মধ্যে ব্যাংকিং, বীমা ও পরিবহন খাতও থাকবে।

    ১১। আলোচনায় অগ্রগতির ভিত্তিতে ইরানের স্থগিত বা সীমাবদ্ধ তহবিল ও সম্পদ মুক্ত করে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারিত যেকোনো চূড়ান্ত অর্থপ্রদানে এসব অর্থ ব্যবহার করা যাবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সব অনুমোদন ও লাইসেন্স যুক্তরাষ্ট্র প্রদান করবে।

    ১২। চূড়ান্ত চুক্তির সফল বাস্তবায়ন ও ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি তদারকির জন্য একটি বাস্তবায়ন কাঠামো গঠন করা হবে।

    ১৩। সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর এবং ৪, ৫, ১০ ও ১১ নম্বর ধারার বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার নিশ্চয়তা পাওয়ার পর উভয় দেশ বাকি ধারাগুলো নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা শুরু করবে।

    ১৪। চূড়ান্ত চুক্তি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হবে।

  • ইরানকে ঘুষ দিয়েছিলেন ওবামা: ট্রাম্প

    ইরানকে ঘুষ দিয়েছিলেন ওবামা: ট্রাম্প

    ২০১৫ সালের ইরান পরমাণু চুক্তি (জেসিপিওএ) ঘিরে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, ওই চুক্তির অংশ হিসেবে ওবামা প্রশাসন ইরানকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে কার্যত ‘ঘুষ’ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

    ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ওবামার করা জেসিপিওএ চুক্তিতে ইরানকে ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছিল। ব্যাংক থেকে আনা এই অর্থ একটি বোয়িং ৭৫৭ উড়োজাহাজে করে ইরানে পাঠানো হয়।

    ট্রাম্প দাবি করেন, অর্থবাহী বিমানটি তেহরানে পৌঁছানোর পর ইরানিরা সেটিকে স্বাগত জানায় এবং ওই অর্থ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। তার ভাষায়, ওবামা এভাবে অর্থ দিয়ে সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছিলেন। আমি সে পথ অনুসরণ করিনি।

    ইরানের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গেও ট্রাম্প কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, ইরানিরা ওবামাকে নিয়ে হাসাহাসি করেছিল এবং তাকে দুর্বল মনে করেছিল।

    উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ইরান ও বিশ্বশক্তিগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা (জেসিপিওএ) বা পরমাণু চুক্তির মাধ্যমে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা আরোপের বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়। চুক্তিটি নিয়ে শুরু থেকেই সমালোচনামুখর ছিলেন ট্রাম্প এবং ক্ষমতায় এসে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নেন।

  • ইরান-মার্কিন চুক্তি নেতানিয়াহুর জন্য অপমানজনক পরাজয়

    ইরান-মার্কিন চুক্তি নেতানিয়াহুর জন্য অপমানজনক পরাজয়

    ইরনার বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষ করার জন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তির ঘোষণা ইসরায়েলের জন্য তিক্ত আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে যে কারণে তারা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এবং শুক্রবার চুক্তি স্বাক্ষরের পর এর খসড়া প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে তারা।

    ইসরায়েলি গণমাধ্যম এর আগে জানিয়েছিল, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এ কারণে উদ্বিগ্ন যে, লেবানন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যেকোনো চুক্তি তেল আবিবের কার্যকলাপের স্বাধীনতাকে সীমিত করবে।

    ইসরায়েলি বিশ্লেষক ইয়োসি ফ্রেইটার বলেছেন: নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের বিস্তারিত না জানার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ইসরায়েল বিপর্যয়কর কৌশলগত পরাজয়ের মুখে রয়েছে।

    আরেকজন ইসরায়েলি বিশ্লেষক বেন কাসপিট লিখেছেন, নেতানিয়াহু ব্যর্থতার কারিগর এবং তিনি ইরানের হাত থেকে ইসরায়েলকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানোর দাবি করেন, যা তার অসংখ্য মিথ্যার মধ্যে একটি।

    এ প্রসঙ্গে বারাক সারিও লিখেছেন, ট্রাম্পের কাছ থেকে নেতানিয়াহু সবচেয়ে বড় অপমান সহ্য করেছেন এবং ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চুক্তিটি তেল আবিবের জন্য ক্ষতিকর।

    বিশিষ্ট ইসরায়েলি সামরিক বিশ্লেষক ইয়োসি ইয়োশুয়া, বর্তমান পরিস্থিতিকে ২০০৬ সালের দ্বিতীয় লেবানন যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, ইসরায়েলি জনমত আজ মোহভঙ্গ ও পরাজয়ের এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতার সম্মুখীন, যার মাত্রা ইসরায়েলি পূর্ববর্তী সংকটগুলোর চেয়ে অনেক বেশি গভীর। #

  • জাতিগত বাঙালিদের অবৈধভাবে বহিষ্কার, মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে ভারত

    জাতিগত বাঙালিদের অবৈধভাবে বহিষ্কার, মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে ভারত

    ভারতীয় কর্তৃপক্ষ, বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের প্রধানত মুসলিম জাতিগত বাঙালি বাসিন্দাদেরকে কথিত বাংলাদেশি দাবি করে কোনো যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ভারত মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। এক্ষেত্রে ভারত সরকারকে অবৈধ উপায়ে মানুষকে বহিষ্কার করা বন্ধ করতে হবে। ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর কার্যক্রম এবং বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)-এর প্রবেশ ঠেকানোর প্রচেষ্টার কারণে বহু পরিবার দুই দেশের সীমান্তের জিরো লাইনে আটকে পড়েছে। বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষীরা জানিয়েছেন, ১লা জুন ২০২৬ থেকে এ পর্যন্ত তারা বিএসএফের অন্তত ২১টি চেষ্টা ব্যর্থ করেছেন। এ সময়ে শিশুসহ ২০০ জনের বেশি মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে

    এতে আরও বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন- তার ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতির অধীনে শত শত (কথিত) ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’কে আটক করা হয়েছে এবং প্রায় ৫,০০০ জনকে ‘ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।’ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক উপ-পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পরিবারগুলোকে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে বা সীমান্তে আটকে রেখে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। সরকারকে অবৈধ বহিষ্কার বন্ধ করতে হবে এবং নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

    সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা নয়জন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার নিয়ে। এসব মানুষ দেখেছেন যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা রাতে মানুষদের সীমান্তে নিয়ে এসে কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষীরা প্রবেশ করতে না দেয়ায় ভারতীয় বাহিনী পরে তাদের ফিরিয়ে নেয়। বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার একটি ঘটনায় ৫ই জুন প্রায় ১০ জনের একটি দলকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল হোসেন বলেন, তারা প্রায় ৫০ ফুট বাংলাদেশের ভেতরে চলে এসেছিল। পরে দুই দেশের বাহিনী এসে দীর্ঘ সময়ের ‘স্ট্যান্ডঅফ’-এর পর তারা ফিরে যায়। তিনি আরও জানান, ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে প্রায় ৭৫ ঘণ্টা তারা সীমান্তের ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’-এ আটকে ছিল। পরে আলোচনার পর তাদের আবার ভারতের দিকেই ফিরিয়ে নেয়া হয়।

    আরেক ঘটনায় ৬ই জুন ছয়জনের একটি পরিবারকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষীরা তাদের প্রবেশ আটকালেও ভারতীয় বাহিনী তাদের ফেরত নিতে দেয়নি। ফলে পরিবারটি খোলা আকাশের নিচে রাত কাটায়। পরে তাদের আবার ভারতে ফিরতে দেয়া হয়। ৮ই জুন ঠাকুরগাঁও সীমান্তে ১১ জনকে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা জিরো লাইনে আটকে রাখার পর ফেরত নেয়া হয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশি সীমান্ত কর্তৃপক্ষ।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আরও বলছে, মার্চে নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় প্রায় ৯০ লাখ নাম বাদ দেয়া হয়, যা আটক ও বহিষ্কারের হুমকি সৃষ্টি করে। একই ধরনের বিতর্কিত নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া এর আগেও আসাম রাজ্যে লক্ষাধিক মানুষকে রাষ্ট্রহীনতার ঝুঁকিতে ফেলে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সম্প্রতি বলেছেন, অবৈধ অভিবাসীদের সীমান্তের কাছে নিয়ে গিয়ে ‘ঠেলে দেয়া হয়’। এমন পরিবেশ তৈরি হয়েছে যাতে অনেকেই নিজে থেকেই ফিরে যাচ্ছে।

    পঞ্চগড়ের এক জনপ্রতিনিধি হাসিবুর ইসলাম জানান, শিলিগুড়ির একটি পরিবার, যাদের কাছে আধার কার্ড ছিল, তাদেরকে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় আটক করা হয় এবং সীমান্তে পাঠানো হয়। পরে তিন দিন আটকে থাকার পর তাদের আবার ভারতে ফিরতে দেয়া হয়। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, অনেক বাংলাদেশি অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করছে এবং স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনে সহায়তা দেয়া হচ্ছে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, জোরপূর্বক বহিষ্কার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে গ্রহণ করবে না এবং প্রত্যাবাসন অবশ্যই যাচাই ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে হতে হবে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী ভারতকে নাগরিকত্ব ও মানবাধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো মানুষকে খাদ্য, পানি বা চিকিৎসা ছাড়াই সীমান্তে আটকে রাখা নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণের শামিল হতে পারে।

    সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, শিশুদের জোরপূর্বক সীমান্তে ঠেলে দেয়া শিশু অধিকার সনদের লঙ্ঘন। শেষে মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, কারও জাতীয়তা যা-ই হোক না কেন, তাকে দুই সশস্ত্র সীমান্ত বাহিনীর মাঝখানে খোলা মাঠে রাত কাটাতে বাধ্য করা উচিত নয়।

  • ৩০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের অর্ধেকের বেশি অর্থায়ন ইতোমধ্যেই নিশ্চিত

    ৩০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের অর্ধেকের বেশি অর্থায়ন ইতোমধ্যেই নিশ্চিত

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত সমঝোতা কাঠামোর অংশ হিসেবে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ বিনিয়োগ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক চুক্তির আগেই তহবিলের অর্ধেকেরও বেশি অর্থায়ন ইতোমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে।

    সূত্রের দাবি, ‘রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড’ নামে প্রস্তাবিত এই তহবিলের লক্ষ্য হলো ইরানে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং উভয় পক্ষকে একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির দিকে এগিয়ে যেতে অর্থনৈতিক প্রণোদনা দেওয়া।

    তবে এটি কোনো ক্ষতিপূরণ বা পুনর্গঠন সহায়তা কর্মসূচি নয়। তহবিলটি পুরোপুরি বেসরকারি খাতের অর্থায়নে গঠিত হবে এবং এতে কোনো সরকারি অনুদান বা রাষ্ট্রীয় অর্থ থাকবে না।

    সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় আরব দেশ, এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। সম্ভাব্য বিনিয়োগের খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি, পরিবহন, উৎপাদনশিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা।

    এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্রের দাবি, যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির জন্য তেহরান শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল। তবে ওয়াশিংটন সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে। এরপরই বিকল্প হিসেবে বিনিয়োগভিত্তিক এই তহবিলের ধারণা সামনে আসে।

    ইরানি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক দেশগুলো বিভিন্ন উপায়ে এতে অংশ নিতে পারে। এর মধ্যে ঋণ নিশ্চয়তা, ঋণসুবিধা চালু করা কিংবা যুদ্ধক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে সরাসরি অর্থায়ন অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

    সম্ভাব্য পুনর্গঠন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ইস্পাত কারখানা, তেল শোধনাগার, বিমানবন্দর এবং সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য অবকাঠামো।

    সূত্রটি জানিয়েছে, এই তহবিল যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কিংবা বিদেশে জব্দ থাকা ইরানি রাষ্ট্রীয় সম্পদ মুক্ত করার আলোচনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। দুটি বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা আর্থিক প্রক্রিয়া এবং ভিন্ন সময়সূচির আওতায় পরিচালিত হবে।

    সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ৬০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনার কাঠামো তৈরি করা হবে। এই সময়ের মধ্যে তহবিলের প্রশাসকরা সম্ভাব্য ইরানি পক্ষের সঙ্গে প্রকল্প চিহ্নিতকরণ এবং পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ করবেন।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছিলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তির শর্ত পূরণ করলে ইরান ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল থেকে সুবিধা পেতে পারে। এর জন্য তেহরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং কঠোর আন্তর্জাতিক তদারকি ব্যবস্থা মেনে নিতে হবে।

    সূত্রটি আরও জানিয়েছে, তহবিলের ব্যবস্থাপনা কীভাবে হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ চার দশক ধরে নিষেধাজ্ঞার কারণে বৈশ্বিক বিনিয়োগ থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন থাকা ইরানের জন্য এই তহবিল কার্যকর হলে তা দেশটির অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

  • দুইটি মসজিদ জ্বালিয়ে দিলো ইসরাইলি সেটেলাররা

    দুইটি মসজিদ জ্বালিয়ে দিলো ইসরাইলি সেটেলাররা

    অধিকৃত পশ্চিম তীরের কেন্দ্রীয় শহর রামাল্লার উত্তরে অবস্থিত জিলজিলিয়া ও মাজরা আল-নুবানি গ্রামের দুটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে ইসরাইলি সেটেলাররা। সেই সঙ্গে ইসরাইলিরা মসজিদ দুইটির দেয়ালে হিব্রু ভাষায় স্লোগান লিখে দিয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এই

    স্থানীয় সূত্র আনাদোলুকে জানিয়েছে, একদল দখলদার ভোরবেলা জিলজিলিয়ায় হামলা চালিয়ে সেখানকার মসজিদ জ্বালিয়ে দেয়। এতে ওই মসজিদের নারীদের নামাজ পড়ার কক্ষটি পুড়ে যায় এবং মসজিদটির বাইরের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    স্থায়ীয়রা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে জিলজিয়ায় ইসরাইলি দখলদারদের হামলার পরিমাণ বেড়েছে। গত মাসে ইসরাইলি সেটেলাররা সেখানে হামলা চালান এবং ভেড়া চুরি করে নিয়ে গেছেন।

    আনাদোলু জানিয়েছে, আরেক পৃথক ঘটনায় দখলদাররা মাজরা আল-নুবানি গ্রামে হামলা চালায় এবং সেখানে একটি মসজিদ জ্বালিয়ে দেয়। এতে মসজিদের ক্ষতি হয়েছে। দখলদাররা দুইটি মসজিদের দেয়ালেই হিব্রু ভাষায় স্লোগান লিখেছে।

    পশ্চিম তীরে ইসরাইলি দখলদারদের হামলা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। তারা ফিলিস্তিনিদের সম্পত্তি দখল ও লুট করে নিচ্ছে।

  • অযোধ্যায় রাম মন্দির ট্রাস্টের  ২০০ কোটি রুপি তছরুপ

    অযোধ্যায় রাম মন্দির ট্রাস্টের ২০০ কোটি রুপি তছরুপ

    অযোধ্যার রাম মন্দিরকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। মন্দির ট্রাস্টের সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রায় ২০০ কোটি রুপি আত্মসাতের অভিযোগ এনে গতকাল মঙ্গলবার একটি অভিযোগপত্র দায়ের করেছেন ‘ধর্ম সেনা ভারত’-এর প্রধান ও সাবেক করসেবক সন্তোষ দুবে।

    ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রবীণ নেতা এল কে আদভানির সঙ্গে সন্তোষ দুবেও ছিলেন ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলার অন্যতম প্রধান আসামি।

    হিন্দি ভাষায় জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে দুবে উল্লেখ করেন, ‘আবেদনকারী (সন্তোষ দুবে নিজে) প্রায়ই দর্শনের জন্য রাম জন্মভূমি মন্দিরে যান। তিনি প্রায়ই দেখেছেন, ভক্তরা দানবাক্সে সোনা ও রুপার গয়না, সোনা ও রুপার মুদ্রা এবং নগদ অর্থ দান করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ভক্তদের কাছ থেকে প্রতিদিন দানবাক্সগুলোতে নগদ টাকা, মুদ্রা ও গয়না মিলিয়ে ১ কোটি রুপির বেশি মূল্যের অনুদান জমা পড়ছে।’

    সন্তোষ দুবে বলেন, এই অনুদান সংরক্ষণ ও সুরক্ষার দায়িত্ব রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের ট্রাস্টিদের ওপর ন্যস্ত। কিন্তু তাঁরা এ অর্থ নিরাপদে রাখার বদলে আত্মসাৎ করেছেন। দুবে তাঁর এ অভিযোগে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই বানসাল ও অন্য কর্মচারীদের নাম উল্লেখ করেছেন।

    অভিযোগ তদন্তে পলিগ্রাফ পরীক্ষার দাবি

    অভিযোগপত্রে সন্তোষ দুবে দাবি করেছেন, ‘আবেদনকারীর অভিযোগ হলো, ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই বানসাল, অনিল মিশ্র, গোপাল রাও এবং রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নুসহ (চম্পত রাইয়ের গাড়িচালক হিসেবে পরিচিত) ট্রাস্টের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজশে বড় অঙ্কের অর্থ, সোনা ও রুপার গয়না এবং মুদ্রা দানবাক্স থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আত্মসাৎ করা এ অর্থ ও সম্পদের মূল্য ২০০ কোটি রুপির বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

    মন্দিরের তহবিল আত্মসাৎ করার জন্য ট্রাস্টের কর্মকর্তারা হিসাবের খাতায় ভুয়া তথ্য ও জাল সংখ্যা বসিয়েছেন বলেও অভিযোগ তোলেন সন্তোষ দুবে। তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে যে মন্দিরে অনুদান হিসেবে পাওয়া রত্নখচিত গয়না বিক্রি ও কোটি কোটি রুপি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এর মধ্যে কিছু মালামাল সাধারণ চোরদের কাছ থেকে উদ্ধারও করা হয়েছে।’

    এ ঘটনায় উত্তর প্রদেশ পুলিশকে একটি এজাহার বা এফআইআর দায়েরের অনুরোধ জানিয়েছেন সন্তোষ দুবে। তিনি বলেন, ‘ভক্তদের দান করা কোটি কোটি রুপি, সোনা ও রুপার গয়না, মুদ্রা ও মূল্যবান রত্নসামগ্রী উদ্ধার করতে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ন্যায়বিচার ও ধর্মের স্বার্থেই আইনের উপযুক্ত ধারা অনুযায়ী একটি এফআইআর নথিভুক্ত করা উচিত। সেই সঙ্গে তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পলিগ্রাফ পরীক্ষা (মিথ্যা শনাক্তকরণ পরীক্ষা) করা দরকার।’

    মন্দিরের তহবিল তছরুপের এ অভিযোগগুলো সামনে আসার পর বিরোধী দলগুলো উত্তর প্রদেশের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে নিশানা করতে শুরু করেছে। বিশেষ করে সমাজবাদী পার্টি (এসপি) এ দুর্নীতির অভিযোগটি ব্যাপকভাবে তুলে ধরছে।

    গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে উত্তর প্রদেশে বিজেপির শাসন দুর্নীতিতে ডুবে গেছে। তা না হলে এখানে এসআইটি (বিশেষ তদন্ত দল) গঠনের বদলে আইআইটি (ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি) গড়ে উঠত।’

  • ইসরাইল ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্ব নেই: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

    ইসরাইল ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্ব নেই: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

    আর্ন্তজাতকি ডেস্ক

    ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার অস্তিত্বের জন্য ইসরাইলের কাছে ঋণী। তার এই দাবি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। এর আগে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি না থাকলে ইসরাইলের কোনো অস্তিত্বই থাকত না। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন না থাকলে ইসরাইল টিকে থাকতে পারত না।’

    ইসরাইলে দেওয়া এক ভাষণে হাকাবি বলেন, ‘ইহুদি ভিত্তি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্ব থাকত না। যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য এই ভূমির ইতিহাস গূরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’

    হাকাবির এই দাবি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত বার্ষিক জি-৭ সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্প ইসরাইলি নেতৃত্বের তীব্র প্রকাশ্য সমালোচনা করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইসরাইল থাকত না। আমি ছাড়া ইসরাইল থাকত না, কারণ আমি যা করেছি তা করতে অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট ইচ্ছুক ছিলেন না।’