আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • রুশ হামলার পর ইউক্রেনে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে

    রুশ হামলার পর ইউক্রেনে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে

    ইউক্রেনে রাশিয়ার সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলার পর আকস্মিক সফরে কিয়েভ পৌঁছেছেন ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে। বুধবার তার এই সফরের কথা নিশ্চিত করেছে ন্যাটো ও ইউক্রেনের কর্মকর্তারা।

    ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে রুটের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে দেশকে রক্ষার জন্য জেলেনস্কি দীর্ঘদিন ধরে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর কাছে আরও সহায়তা চেয়ে আসছেন।

    ন্যাটোর এক মুখপাত্র জানান, জোটভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে নিয়ে রুটে কিয়েভে পৌঁছেছেন। এর আগে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে অপারেটর উক্রজালিজনিতসিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার আগমনের ছবি প্রকাশ করেছিল।

    প্রতিষ্ঠানটি এক পোস্টে লিখেছিল, “আমরা ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটেকে স্বাগত জানাই।” পরে তারা এই সফরকে ইউক্রেনের প্রতি ন্যাটোর সংহতি ও সমর্থনের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে উল্লেখ করে। তবে পোস্টটি পরে মুছে ফেলা হয়।

    রুটের এই সফর এমন এক সময়ে হলো, যখন ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর সেন্ট পিটার্সবার্গের কয়েকটি জ্বালানি ও সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই শহরে তখন একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ফোরামে রুশ কর্মকর্তা ও বিদেশি অতিথিরা জড়ো হচ্ছিলেন।

    অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কিয়েভ এবং পূর্বাঞ্চলীয় শহর দিনিপ্রোতে অন্তত ২৩ জন নিহত হন।

    ইউক্রেন বলছে, রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে তাদের আরও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং এর গোলাবারুদ সরবরাহ বাড়ানোর জন্য ন্যাটো সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি।

  • ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে দেখা করতে চান ট্রাম্প

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে দেখা করতে চান ট্রাম্প

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের ‘পড ফোর্স ওয়ান’ নামে একটি জনপ্রিয় পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত মোজতবার খামেনির সঙ্গে তার সাক্ষাতের সুযোগ হয়নি। তবে সুযোগ হলে তিনি অবশ্যই তার সঙ্গে দেখা করতে চান। ভবিষ্যতে কোনো এক সময় এ সাক্ষাৎ হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

    খামেনির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি জানি না, তার সঙ্গে আমার দেখা করার সৌভাগ্য কবে হবে। তবে ইরানের সঙ্গে আমাদের যে আলোচনা চলছে, এতে অবশ্যই যুক্ত আছেন মোজতবা। আমি মনে করি, তাকে ইরানিরা অনেক সম্মান করেন। তবে যেসব গল্প শোনা যায়, যদি সেগুলো সত্য হয় তাহলে হয়ত মোজতবা তার শরীরের অনেক অঙ্গ হারিয়েছেন’।

    প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে অতর্কিত হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনী। সেই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ তার পরিবারের অনেকে নিহত হয়। তবে সেইদিন অল্পের জন্য বেঁচে যান তার ছেলে মোজতবা খামেনি।

    এরপর গত ৮ মার্চ ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নাম ঘোষণা করে তেহরান। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে বার্তা দিয়ে আসছেন তিনি, যেগুলো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের পড়ে শোনানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত নতুন সর্বোচ্চ নেতা কোনো ছবি, ভিডিও বা অডিও রেকর্ডিং প্রকাশিত হয়নি।


    আরও পড়ুন · নির্ভরযোগ্য সূত্র:

  • গফরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

    গফরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী ঘোষণা

    ময়মনসিংহের গফরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে জামায়াতের মনোনীত মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। মেয়র প্রার্থী হলেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার মহাসচিব মো: একরাম উল্লাহ।

    সম্প্রতি জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

    এ সময় জেলা নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা গফরগাঁও পৌরবাসীর দোয়া, সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করছি।

    মেয়র প্রার্থী একরাম উল্লাহ বলেন, ‘ন্যায়ভিত্তিক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজমুক্ত ও কল্যাণমুখী আধুনিক গফরগাঁও পৌরসভা গঠনে সবাইকে সাথে নিয়ে কাজ করতে চাই।’

  • পুশইনের প্রতিবাদে বেনাপোল সীমান্তে যাচ্ছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    পুশইনের প্রতিবাদে বেনাপোল সীমান্তে যাচ্ছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    বেনাপোল সীমান্তে ভারত থেকে জোরপূর্বক পুশইনের প্রতিবাদ জানাতে এলাকাটি সফরে যাচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বুধবার তিনি সীমান্ত সফরে যাচ্ছেন।

    আজ মঙ্গলবার এনসিপির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সফরসূচির মধ্যে রয়েছে— বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় বেনাপোল সীমান্তে যাওয়া, সকাল পৌনে ১২টায় সাদিপুর সীমান্ত পরিদর্শন এবং দুপুর ১টায় বেনাপোলের পর্যটন হোটেল লবিতে প্রেস ব্রিফিং।

    এনসিপি জানিয়েছে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই সফরের মূল উদ্দেশ্য সীমান্ত নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও স্থানীয় বাস্তবতা পর্যবেক্ষণ করা। এর আগে গত ২২ মে ঝিনাইদহ সীমান্ত সফরে গিয়ে হামলার শিকার হন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। পৌর কালেক্টর জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করে বের হওয়ার পরপরই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা পুলিশের উপস্থিতিতে হামলা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার আগে লালমনিরহাট সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যার প্রতিবাদে হাতীবান্ধায় যান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

    এ এম

  • ট্রাম্পের দাবি নাকচ, পারমাণবিক ইস্যুতে কোনো আলোচনা হয়নি ইরানের

    ট্রাম্পের দাবি নাকচ, পারমাণবিক ইস্যুতে কোনো আলোচনা হয়নি ইরানের

    পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি বলে স্পষ্ট জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির বিষয়ে কোনো নতুন সমঝোতায় পৌঁছায়নি।

    সোমবার (১ জুন) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচির খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা চলছে না। এ মুহূর্তে তেহরানের প্রধান লক্ষ্য চলমান সংঘাতের অবসান এবং স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা।

    তিনি বলেন, পারমাণবিক ইস্যুতে কখন এবং কীভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে, সে বিষয়ে ইরান অবগত রয়েছে। তবে বর্তমানে এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত আলোচনা হয়নি।

    ইসমাইল বাঘেই আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। তিনি বলেন, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজন হলে ইরান প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।

    এদিকে মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের গোর্ক শহর ও কাসেম আইল্যান্ডে অবস্থিত রাডার এবং ড্রোন স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটন এসব অভিযানকে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

    সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে ইরান পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার এখন পারমাণবিক আলোচনা নয়; বরং চলমান সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।##

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে ৩০ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ পাবে ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে ৩০ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ পাবে ইরান

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে ইরানের জন্য প্রায় ৩০ হাজার কোটি (৩০০ বিলিয়ন) ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল গঠিত হতে পারে।

    নিউ ইয়র্ক টাইমস-জানায়, দীর্ঘদিনের সংঘাত শেষে ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি, শিল্পখাত এবং রাস্তাঘাট ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনর্গঠনে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।

    দ্য টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, এটি মূলত একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ তহবিল হবে, যা বিভিন্ন দেশের আর্থিক সহায়তায় গঠিত হতে পারে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই তহবিল গঠনে মধ্যস্থতা করবে। উভয় পক্ষ খসড়া সমঝোতা স্মারকে সম্মত হলে প্রাথমিক ৬০ দিনের আলোচনা চলাকালীন এই তহবিল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা ও কূটনীতিকের বরাতে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই খসড়ায় কেবল যুদ্ধাবসানই নয়, বরং মার্কিন-ইরান অনাক্রমণ চুক্তির মতো বড় বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার অধীনে কোনো দেশই একে অপরের ওপর হামলা চালাবে না। মধ্যস্থতাকারীরা আশা করছেন, এই চুক্তি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে সামগ্রিক আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে ভূমিকা রাখবে, যার মধ্যে লেবাননে চলমান যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টিও যুক্ত হতে পারে।

    পরমাণু ইস্যুতে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার শর্তে রাজি হবে এবং আলোচনা চলাকালীন তাদের পরমাণু কর্মসূচির কিছু অংশ স্থগিত রাখবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার প্রতিশ্রুতি দেবে। এছাড়া, খসড়ায় ইরানকে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানি সচল রাখার পাশাপাশি সীমিত পরিসরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিনিময়ে মার্কিন তেল ও জ্বালানি সংস্থাগুলো যেন ইরানি যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগ করতে পারে, সেই প্রস্তাবও রেখেছে তেহরান।

    এই আলোচনার মূল ভিত্তি হিসেবে বিভিন্ন বিদেশী ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের হিমায়িত সম্পদ অবমুক্ত করার সম্ভাবনাও খসড়া কাঠামোতে রাখা হয়েছে। যদিও তেহরানের দাবি, ফলপ্রসূ আলোচনা শুরুর আগেই এই অর্থ ছাড় করতে হবে। তবে এই কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই ইসরাইল কর্তৃক ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করার বিষয়টি আঞ্চলিক উত্তেজনাকে টিকিয়ে রেখেছে। আলোচনার দ্বিতীয় পর্বে মূলত ইরানের কাছে থাকা প্রায় ৯৭০ পাউন্ড উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং ১০ টন নিম্ন-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভাগ্য নির্ধারণ করা হবে। ##

  • ফের ইরানের সামরিক স্থাপনায়  হামলা

    ফের ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালিয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এ হামলা চালানো হয়েছে ইরানের গোড়ুক শহর এবং কেশম দ্বীপে অবস্থিত রাডার ও ড্রোন স্থাপনাগুলোতে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযান চালিয়েছে। খবর আল জাজিরার।

    সংস্থাটি আরও দাবি করে, তাদের বাহিনী ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং দুটি একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন ধ্বংস করেছে, যেগুলো আঞ্চলিক জলসীমায় চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য ‘স্পষ্ট হুমকি’ তৈরি করছিল।

    সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ‘আগ্রাসী পদক্ষেপের’ জবাবে এই হামলা পরিচালনা করা হয়। তবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

    এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।##

  • শতাধিক মানুষকে ভারত থেকে  পুশ ইনের চেষ্টা

    শতাধিক মানুষকে ভারত থেকে পুশ ইনের চেষ্টা

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে যশোরের বেনাপোল সীমান্তে কথিত বাংলাদেশি নাগরিকদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ওই ‘বাংলাদেশিরা’ ভারতে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানেই বসবাস করছিলেন।

    গতকাল রোববার রাত থেকে বেনাপোলের রঘুনাথপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের হরিদাসপুর এলাকায় নারী, পুরুষ ও শিশুদের জড়ো করে রাখা হয়। পরে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করলে বাধা দেয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ফলে কেউ বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি।

    সীমান্ত সূত্রে জানা যায়, যাদের পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, তাদের অনেকেই ভারতে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস করছেন। নাগরিকত্ব ও পরিচয় যাচাই ছাড়া তাদের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্তের উভয় পাশে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি ও বিএসএফ। বেনাপোল সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

    এর আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর সীমান্তে নিজেদের বাংলাদেশি দাবি করা শতাধিক ব্যক্তিকে যাচাই-বাছাই শেষে বিজিবির কাছে হস্তান্তরের খবর পাওয়া যায়। বিএসএফ তাদের পরিচয় নিবন্ধন ও বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের পর ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছিল।

    তবে বেনাপোল সীমান্তে চলমান এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত বিজিবি বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

    সীমান্তবাসীরা জানান, গতকাল রাতে সীমান্তে একটি বাগানে শতাধিক মানুষকে জড়ো করা হয়। পরে তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করলে বিজিবি প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এতে সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সীমান্ত নিরাপত্তায় তাঁরা বিজিবির পাশে থাকবেন।

    যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, বিএসএফ ১০০ থেকে ১২০ জনকে সীমান্ত এলাকায় জড়ো করেছে। তবে অবৈধভাবে কেউ বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।##

  • মালয়েশিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ

    মালয়েশিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    ১৬ বছরের কম বয়সি শিশুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট খোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে নতুন নিয়ম কার্যকর শুরু করেছে মালয়েশিয়া। তরুণ ব্যবহারকারীদের অনলাইন নিরাপত্তা জোরদার করার বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় শরিক হয়ে সোমবার থেকে এই নিয়ম বলবৎ করেছে দেশটি।

    নতুন এই নিয়মের আওতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য বয়স যাচাইকরণ ব্যবস্থা চালু করা এবং ১৬ বছরের কম বয়সিদের অ্যাকাউন্ট ব্লক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউবসহ অন্তত ৮০ লাখ ব্যবহারকারী রয়েছে এমন সব প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

    যেসব কোম্পানি এই নিয়ম মেনে চলতে ব্যর্থ হবে, তাদের ১ কোটি রিঙ্গিত পর্যন্ত জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। তবে শিশুরা যদি এই আইন ফাঁকি দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলে, তাহলে তাদের বাবা-মাকে কোনো শাস্তি দেওয়া হবে না।

    সরকার জানিয়েছে, ক্ষতিকর কনটেন্ট, সাইবার বুলিং এবং অতিরিক্ত ব্যবহারে আসক্তি তৈরি করে প্ল্যাটফর্মগুলোর এমন ফিচার থেকে শিশুদের রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল ও ইন্দোনেশিয়াসহ অন্যান্য দেশও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের প্রবেশের ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা বা শর্ত আরোপ করেছে। এছাড়া ব্রিটেন, ফ্রান্স, স্পেন, ডেনমার্ক, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়াও একই ধরনের পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা বা উন্নয়ন করছে।

    মালয়েশিয়ার যোগাযোগ ও মাল্টিমিডিয়া কমিশন জানিয়েছে, এই নিয়মের উদ্দেশ্য শিশুদের ইন্টারনেট বা ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার থেকে বিরত রাখা নয়, বরং অনলাইন ক্ষতি মোকাবিলা করা এবং বয়সোপযোগী সুরক্ষাকবচ নিশ্চিত করতে সেবা প্রদানকারীদের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ দেওয়া।

    গত মাসে এক বিবৃতিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানায়, ‘এই পদক্ষেপগুলো অনলাইন পরিবেশে শিশুদের সুরক্ষা জোরদার করতে সাহায্য করবে এবং ক্রমবর্ধমান জটিল ডিজিটাল ঝুঁকি মোকাবিলায় অভিভাবকদের বাড়তি আশ্বাস দেবে।’

    প্ল্যাটফর্মগুলোকে এখন ‘সেফটি-বাই-ডিজাইন’ ফিচার চালু করতে হবে, যার মধ্যে বাধ্যতামূলক ব্যবহারকে উৎসাহিত করে এমন কারসাজিমূলক ডিজাইনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া কম বয়সি অ্যাকাউন্ট এবং ক্ষতিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো মালয়েশিয়ার এই নতুন নিয়ম কীভাবে বাস্তবায়ন করবে, তা এখনো বিস্তারিত জানায়নি।

    এজ-ভেরিফিকেশন সিস্টেমের বাস্তবায়ন সম্পন্ন করার জন্য প্ল্যাটফর্মগুলোকে একটি গ্রেস পিরিয়ড বা অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

    এর আগে গত এপ্রিলে মেটার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পাবলিক পলিসি ডিরেক্টর ক্লারা কোহ সতর্ক করে বলেছিলেন, মালয়েশিয়ার ১৬ বছরের কম বয়সিদের এই ঢালাও নিষেধাজ্ঞা উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে। এটি কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষিত অ্যাপ থেকে দূরে ঠেলে দিয়ে ইন্টারনেটের অনিয়ন্ত্রিত ও বিপজ্জনক কোণগুলোতে নিয়ে যেতে পারে।

    তিনি জানান, মেটা ইতোমধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সিদের জন্য ‘টিন অ্যাকাউন্টস’ চালু করেছে, যা যোগাযোগ, স্ক্রিন টাইম এবং অনুপযুক্ত কনটেন্ট দেখার সুযোগ সীমিত করে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং অনলাইন সুরক্ষায় কীরূপ প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যেই মালয়েশিয়া এই নিষেধাজ্ঞা জারি করল। গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের একটি জুরি প্ল্যাটফর্মের ডিজাইনের কারণে এক তরুণ ব্যবহারকারীর ক্ষতির অভিযোগে মেটা ও ইউটিউবকে লাখ লাখ ডলার জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

    অনেক অভিভাবকের সমর্থন থাকলেও মালয়েশিয়ার এই পদক্ষেপ ডেটা প্রাইভেসি বা তথ্যের গোপনীয়তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে। মালয়েশিয়ার মোনাশ ইউনিভার্সিটির সোশ্যাল সায়েন্সের লেকচারার বেঞ্জামিন লোহ বলেন, ‘এটি বৈশ্বিক প্রবণতা অনুসরণ করছে ঠিকই, তবে বয়স যাচাইয়ের জন্য সরকারি আইডি কার্ডের প্রয়োজনীয়তার কারণে এটি শঙ্কা তৈরি করছে।’

    লোহ আরো বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা দেখায় যে বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞাগুলো এখনো পুরোপুরি কার্যকর প্রমাণিত হয়নি। মা-বাবার জন্য কোনো শাস্তির বিধান না থাকায় পরিবারগুলো সহজেই তাদের শিশুদের জন্য অ্যাকাউন্ট তৈরি করে এই আইন ফাঁকি দিতে পারে।

    তিনি আরো বলেন, ‘এটি একটি বড় ফাঁকফোকর। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো যদি এটি সংশোধন না করে, তাহলে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বন্ধে এই আইনের কার্যকারিতা খুব কমই থাকবে।’##

  • ইরানিদের অধিকার নিশ্চিত না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি নয়: গালিবাফ

    ইরানিদের অধিকার নিশ্চিত না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি নয়: গালিবাফ

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    যুক্তরাষ্ট্র ইস্যুতে ইরানের প্রধান আলোচক ও দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরানি জনগণের অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি অনুমোদন করবে না তেহরান।

    আজ রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় গালিবাফ বলেন, ‘ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষা হয়েছে বলে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো চুক্তি অনুমোদন করব না।’

    গালিবাফ আরও বলেন, ‘আমাদের আলোচকেরা শত্রুপক্ষের কথাবার্তা বা প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা রাখেন না।’

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যেই গালিবাফ এ মন্তব্য করেন। উভয় পক্ষ বর্তমানে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা কাঠামো নিয়ে প্রস্তাব ও পাল্টা প্রস্তাব বিনিময় করছে।

    এর আগে গতকাল শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ও অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছে একটি নতুন খসড়া কাঠামো পাঠিয়েছেন, যাতে আগের তুলনায় আরও কঠোর শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    তবে নতুন প্রস্তাবে ঠিক কী ধরনের শর্ত রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

    ইরানের দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো সমঝোতার ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোতে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করা।

    এ ছাড়া, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল তদারকিকে ইরান নিজেদের বৈধ অধিকার হিসেবে বিবেচনা করে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটি এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।

    বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হওয়ায় এই অঞ্চলের পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারেও ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।##


    আরও পড়ুন · নির্ভরযোগ্য সূত্র:

  • অভিবাসন ইচ্ছুকদের ভিসার সুখবর দিল মার্কিন দূতাবাস

    অভিবাসন ইচ্ছুকদের ভিসার সুখবর দিল মার্কিন দূতাবাস

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    ভিসা প্রক্রিয়ায় গতিশীলতা আনতে অভিবাসনে ইচ্ছুকদের সুখবর দিয়েছে বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। দুই দিনের মধ্যে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

    রোববার (৩১ মে) দুপুরে মার্কিন দূতাবাসের এক ক্ষুদে বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    মার্কিন দূতাবাস জানায়, আগামী ১ জুন থেকে এই ঘোষণা কার্যকর করা হবে। সেইসঙ্গে ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস সব ধরনের অভিবাসী ভিসা ক্যাটাগরির আবেদন ২ কর্মদিবসের মধ্যে প্রক্রিয়াকরণ করবে।

    দূতাবাস অনুরোধ জানিয়েছে, বিস্তারিত তথ্যের জন্য আমাদের ‘ডিরেক্টরি অব ভিসা ক্যাটাগরিজ’ (ভিসা ক্যাটাগরির নির্দেশিকা) দেখুন এবং ‘ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ক্যাটাগরিজ’ অপশনটি চেক করুন।##

  • রাশিয়ার হামলায় একদিনেই ১৩২০ ইউক্রেনীয় সেনা নিহত

    রাশিয়ার হামলায় একদিনেই ১৩২০ ইউক্রেনীয় সেনা নিহত

    ইউক্রেনে চলমান বিশেষ সামরিক অভিযান এলাকায় রুশ বাহিনীর বিভিন্ন গ্রুপের অভিযানে প্রায় ১ হাজার ৩২০ জন ইউক্রেনীয় সেনাসদস্য নিহত হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) রুশ বার্তা সংস্থা তাস প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘন্টায় এ নিহতের ঘটনা ঘটেছে বলে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

    এদিকে, গত এক সপ্তাহে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ২ হাজার ৩০০টিরও বেশি ড্রোন হামলা, প্রায় ১ হাজার ৫৬০টি নির্দেশিত গাইডেট বোমা হামলা এবং বিভিন্ন ধরনের ১০৮টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ তথ্য জানিয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম ইউক্রেনিফর্ম।

    রুশ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ‘নর্থ’ ব্যাটলগ্রুপের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রায় ২০০ জন, ‘ওয়েস্ট’ ব্যাটলগ্রুপের অভিযানে ১৮০ জনের বেশি, ‘সাউথ’ ব্যাটলগ্রুপের এলাকায় ৮৫ জনের বেশি, ‘সেন্টার’ ব্যাটলগ্রুপের এলাকায় ৩৪০ জনের বেশি, ‘ইস্ট’ দিকের অভিযানে ৪৫৫ জনের বেশি এবং ‘দনেপ্রো’ ব্যাটলগ্রুপের এলাকায় আরও ৬০ জনের মত সেনাসদস্য হতাহত হয়েছে।

    এর পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টায় রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১০টি নির্দেশিত বিমানবোমা, যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত একটি হাইমার্স মাল্টিপল-লঞ্চ রকেট সিস্টেমের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৫২টি ফিক্সড-উইং ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে জানিয়েছে রুশ মন্ত্রণালয়।

    দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১০টি গাইডেট অ্যারিয়েল বোম, যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত একটি হাইমার্স মাল্টিপল-লঞ্চ রকেট সিস্টেমের একটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৫২টি ফিক্সড-উইং মানববিহীন আকাশযান (ইউএভি) ভূপাতিত করেছে।

    রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, বিশেষ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত তাদের বাহিনী মোট ৬৭১টি বিমান, ২৮৪টি হেলিকপ্টার, ক৬৮৪টি ড্রোন, ৬৬১টি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, ২৯ হাজার ৫৫০টি ট্যাংক ও অন্যান্য সাঁজোয়া যুদ্ধযান, ১ হাজার ৭২৭টি মাল্টিপল-লঞ্চ রকেট সিস্টেম, ৩৫ হাজার ১৩৬টি ফিল্ড আর্টিলারি গান ও মর্টার এবং ৬২ হাজার ৮৭৪টি বিশেষ সামরিক যান ধ্বংস করেছে।

    এছাড়াও ইউক্রেনের কথিত ‘সন্ত্রাসী হামলার’ জবাবে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের সামরিক বিমানঘাঁটি এবং সশস্ত্র বাহিনীর কাজে ব্যবহৃত জ্বালানি, জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহন অবকাঠামোর ওপর সমন্বিত হামলা চালিয়েছে বলেও জানিয়েছে মস্কো।

    রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ার ভূখণ্ডে বেসামরিক স্থাপনার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের সন্ত্রাসী হামলার জবাবে রাশিয়ান ফেডারেশনের সশস্ত্র বাহিনী দূরপাল্লার উচ্চ-নির্ভুলতাসম্পন্ন স্থল ও আকাশভিত্তিক অস্ত্র এবং আক্রমণাত্মক ড্রোন ব্যবহার করে সামরিক বিমানঘাঁটি, জ্বালানি, জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহন অবকাঠামোর ওপর সমন্বিত হামলা চালিয়েছে। হামলার সব লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে এবং নির্ধারিত উদ্দেশ্য অর্জিত হয়েছে।

    ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়। তখন থেকে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখনো অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে। এই যুদ্ধে ইউক্রেনের খেরসন, ঝাপোরঝিয়া এবং দনবাস প্রদেশের লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক এলাকা দখল করেছে রুশ বাহিনী।

    এর আগে ২০১৪ সালে সামরিক অভিযান চালিয়ে ক্রিমিয়া দখল করে রাশিয়া। এরপর ক্রিমিয়াতে নামমাত্র গণভোটের মাধ্যমে নিজেদের ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে রাশিয়া।

    চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ৫০ হাজার রুশ সেনা নিহত হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রুশ বাহিনীর হামলায় প্রায় ৫৫,০০০ ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছে।##

  • ভিসা নিয়ে মার্কিন দূতাবাসের সুখবর

    ভিসা নিয়ে মার্কিন দূতাবাসের সুখবর

    ভিসা প্রক্রিয়ায় গতিশীলতা আনতে অভিবাসনে ইচ্ছুকদের সুখবর দিয়েছে বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। দুই দিনের মধ্যে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।রোববার (৩১ মে) দুপুরে মার্কিন দূতাবাসের এক ক্ষুদে বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। মার্কিন দূতাবাস জানায়, আগামী ১ জুন থেকে এই ঘোষণা কার্যকর করা হবে। সেইসঙ্গে ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস সব ধরনের অভিবাসী ভিসা ক্যাটাগরির আবেদন ২ কর্মদিবসের মধ্যে প্রক্রিয়াকরণ করবে। দূতাবাস অনুরোধ জানিয়েছে, বিস্তারিত তথ্যের জন্য আমাদের ‘ডিরেক্টরি অব ভিসা ক্যাটাগরিজ’ (ভিসা ক্যাটাগরির নির্দেশিকা) দেখুন এবং ‘ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ক্যাটাগরিজ’ অপশনটি চেক করুন।

  • জাতিসংঘের ‘দাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’ পাচ্ছেন বাংলাদেশের ৬ বীর সেনানী

    জাতিসংঘের ‘দাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’ পাচ্ছেন বাংলাদেশের ৬ বীর সেনানী

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    বিশ্বশান্তি রক্ষায় নিজেদের জীবন উৎসর্গকারী বাংলাদেশের ৬ জন বীর সেনানীকে মরণোত্তর ‘দাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’ প্রদান করছে জাতিসংঘ। চলতি বছরের ৫ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ উদযাপনের অংশ হিসেবে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিজ হাতে এই সম্মাননা পদক তুলে দেবেন।

    এ বছর বিশ্বজুড়ে আত্মত্যাগকারী মোট ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর এই আন্তর্জাতিক পদকে ভূষিত করা হচ্ছে। সম্মাননা পেতে যাওয়া এই শান্তিরক্ষীদের মধ্যে ৫৯ জনই গত বছর কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে বাংলাদেশের এই ৬ জন কৃতি সন্তান রয়েছেন।

    মরণোত্তর ‘দাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’ পেতে যাওয়া বাংলাদেশের সেই ছয়জন বীর শান্তিরক্ষী হলেন— প্রাইভেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রাইভেট মো. সবুজ মিয়া, কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, প্রাইভেট মো. মোমিনুল ইসলাম, প্রাইভেট শামীম রেজা এবং প্রাইভেট শান্ত মন্ডল। এই বীর সেনানীরা আব্বেই অঞ্চলে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এবং ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর সেখানে একটি আকস্মিক ড্রোন হামলায় নিহত হন।##

  • সহিংসতায় রূপ নিল পিএসজির বিজয় উচ্ছ্বাস, ফ্রান্সজুড়ে গ্রেপ্তার ৪ শতাধিক

    সহিংসতায় রূপ নিল পিএসজির বিজয় উচ্ছ্বাস, ফ্রান্সজুড়ে গ্রেপ্তার ৪ শতাধিক

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে আর্সেনালকে হারিয়ে প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের (পিএসজি) ঐতিহাসিক শিরোপা জয়ের উচ্ছ্বাস ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে ৪ শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রোববার ভোর পর্যন্ত মোট ৪১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী প্যারিস থেকেই আটক করা হয়েছে ২৮০ জনকে।

    পিএসজির জয়ের পর হাজারো সমর্থক প্যারিসের রাজপথে নেমে উদযাপনে অংশ নেন। তবে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে বিশৃঙ্খলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।

    স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, বিভিন্ন এলাকায় আতশবাজি ও ফ্লেয়ার নিক্ষেপ করা হচ্ছে। কোথাও মোটরসাইকেল ও বৈদ্যুতিক বাইকে আগুন দেয়া হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি দোকান ও স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, সহিংসতায় অন্তত সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। কয়েকটি এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়।

    কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় অন্তত ছয়টি যানবাহন, দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং একটি বাসস্টপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনিয়েজ এসব ঘটনাকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

    উল্লেখ্য, এর আগেও পিএসজির ইউরোপীয় শিরোপা উদযাপনকে ঘিরে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল। সেই সংঘর্ষে দুজন নিহত হন, যাদের মধ্যে একজন ছিলেন ১৭ বছর বয়সী কিশোর।

    এদিকে রোববার রাজধানী প্যারিসে পিএসজি খেলোয়াড়দের নিয়ে বিজয় শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ।##

  • পশ্চিমবঙ্গে হোল্ডিং সেন্টারে আটক ৪০০ জন, বাংলাদেশে পাঠানোর প্রচেষ্টা

    পশ্চিমবঙ্গে হোল্ডিং সেন্টারে আটক ৪০০ জন, বাংলাদেশে পাঠানোর প্রচেষ্টা

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    পশ্চিমবঙ্গে হোল্ডিং সেন্টার চালু হওয়ার পর প্রথম ৭ দিনে রাজ্য প্রশাসন এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জন কথিত ‘বাংলাদেশি’কে আটক করেছে। তাদেরকে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

    পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আটক করা হয়েছে বসিরহাট পুলিশ জেলায়। সেখানে ৩৩৫ জন কথিত অবৈধ অভিবাসীকে আটক রাখা হয়েছে। তাদের রাখা হয়েছে তেঁতুলঘাটি, পাথরশাঁতি, চরঘাট ও সুভাষ নগরের বন্যা ত্রাণকেন্দ্রগুলোতে।

    বসিরহাট ছাড়াও মালদা, মুর্শিদাবাদ ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায়ও কথিত বাংলাদেশি অভিবাসীদের আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া বারুইপুর, বারাসাত, কোচবিহার, জঙ্গিপুর, কৃষ্ণনগর ও বনগাঁ পুলিশ জেলাগুলোতেও আটক ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    এসব হোল্ডিং সেন্টারে নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করেছে রাজ্য প্রশাসন। সূত্রের দাবি, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে আটক ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত এবং নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করা যায়। সূত্রগুলো জানিয়েছে, হোল্ডিং সেন্টারগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    এদিকে কেরালায় কর্মরত চার শ্রমিকও রয়েছেন সেই কথিত অভিবাসীদের মধ্যে, যাঁরা ২৬ মে হাকিমপুর সীমান্ত ফাঁড়িতে পৌঁছেছিলেন। তাঁদের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার একটি আটক কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

    ফোনে কথা বলতে গিয়ে ওই চার যুবকের একজন মতলেব হোসেন বলেন, ‘গতকাল আমাদের বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়া হয়েছে। তাঁরা আমাদের আঙুলের ছাপ ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করেছে। বিএসএফ কর্মকর্তারাও আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। কীভাবে ভারতে প্রবেশ করেছি, কোথায় কাজ করেছি এবং কোথায় থেকেছি, সে বিষয়ে সব তথ্য নিয়েছেন। আমরা তাঁদের সবকিছু জানিয়েছি।##

  • ইরান চুক্তিতে ‘সংশোধনী’ চান ট্রাম্প

    ইরান চুক্তিতে ‘সংশোধনী’ চান ট্রাম্প

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে কয়েকটি ‘সংশোধনী’ আনার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে এক বৈঠকে ট্রাম্প তার দলকে ওই চুক্তির কয়েকটি ধারা পরিবর্তন করতে বলেন।

    আল জাজিরার রোববার (৩১ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সংশোধনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কিত বিষয়গুলো রয়েছে। বর্তমানে চুক্তিতে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার করেছে, তবে এর বাইরে নির্দিষ্ট কিছু ছাড়ের বিস্তারিত নেই।

    একজন ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, ‘এটি মূলত কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত পাবে এবং তার সময়সূচি কী হবে সেসব নির্দিষ্ট করার বিষয়।’

    আরেকটি সূত্র জানায়, ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়টি ঘিরেও পরিবর্তন আনতে চান।

    সূত্রগুলো আরও জানায়, ইরানের প্রতিক্রিয়া পেতে তিন দিন সময় লাগতে পারে। এক ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, ‘সপ্তাহের শুরুতেই আমরা কিছু একটি পাওয়ার আশা করছি।’

    এর আগে, ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের ইরান যাওয়া উচিত হয়নি, তবে ইরানের সক্ষমতা আছে। আমরা যদি ৯ মাস আগে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে তাদের ওপর হামলা না করতাম, তাহলে এখন তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকত এবং পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন হতো। তখন হয়তো ইসরায়েল থাকত না, এমনকি পুরো মধ্যপ্রাচ্য নিয়েই প্রশ্ন উঠে যেত। এরপর তারা কোথায় যেত?’##

  • ইরান যুদ্ধে আমেরিকার জড়ানো উচিত হয়নি: ট্রাম্প

    ইরান যুদ্ধে আমেরিকার জড়ানো উচিত হয়নি: ট্রাম্প

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: ইরান যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর জড়ানো উচিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরান বিষয়ে নিজের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনাকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    সাক্ষাৎকারে ইরাক যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরাকে যা ঘটেছে তা আপনারা দেখছেন। আমরা সেখানে অত্যন্ত খারাপ করেছি। আমরা যা করেছি, তা ছিল খুবই বোকার মতো কাজ।,

    উল্লেখ্য, প্রথমত আমাদের সেখানে (ইরাকে) যাওয়াই উচিত হয়নি।’

    এরপর ইরানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের ইরানে থাকা উচিত হয়নি, তবে ইরানের সেই সক্ষমতা রয়েছে। আমরা যদি ৯ মাস আগে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে তাদের ওপর হামলা না করতাম, তবে এই মুহূর্তে তাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকত। আর তেমনটি হলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো। সম্ভবত তখন আপনারা ইসরাইলকে পেতেন না, এমনকি মধ্যপ্রাচ্যকেও পেতেন না। এরপর তারা সেখান থেকে কোথায় যেত?’

    সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরো দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছা করেই ইরানের সামরিক বাহিনীকে রেহাই দিয়েছে।

    এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের সামরিক বাহিনীকে আমরা এক প্রকার স্পর্শ করিনি, কারণ আমরা মনে করি তাদের সামরিক বাহিনী কিছুটা নরমপন্থি। তাদের অন্যান্য লোকজন রয়েছে যারা নরমপন্থি নয়। আমরা তাদের লক্ষ্যবস্তু করেছি এবং নেতৃত্বের বিভিন্ন স্তরকে সরিয়ে দিয়েছি। তবে তাদের সামরিক বাহিনীকে আমরা আসলে কিছুই করিনি।’

    ট্রাম্প আরো বলেন, ‘মানুষ হয়তো এই কথা শুনে অবাক হবে। কারণ যুদ্ধে এমন কিছু ভুল হয়ে থাকে যেখানে আপনি সবাইকে নিশ্চিহ্ন করে দেন এবং এর ফলে এমন একটি দেশের সৃষ্টি হয় যা হয়তো পরবর্তী ৪০ বছরেও আর পুনর্গঠিত হতে পারে না।’##

  • ৫ তলা ভবন ধস, শতাধিক শিক্ষার্থী হতাহতের শঙ্কা

    ৫ তলা ভবন ধস, শতাধিক শিক্ষার্থী হতাহতের শঙ্কা

    ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির দক্ষিণে একটি পাঁচতলা বাণিজ্যিক ভবন ধসে পড়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় সাকেত মেট্রো স্টেশনের কাছে সাইদুলাজাব এলাকার ওয়েস্টার্ন মার্গে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভবনটিতে একটি কোচিং ইনস্টিটিউট, কয়েকটি ক্যাফে ও অফিস ছিল। একই সঙ্গে ভবনের ওপরের অংশে নির্মাণকাজ চলছিল বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।

    পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন গুরুতর আহত। ধ্বংসস্তূপে আর কেউ আটকা পড়ে আছেন বলে আপাতত মনে হচ্ছে না, তবে নিশ্চিত হতে তল্লাশি চলছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভবনটি ধসে পড়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মানুষের চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। মুহূর্তেই চারদিকে ধুলার মেঘ ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের একটি অংশ পাশের একটি অস্থায়ী টিনশেড ক্যানটিনের ওপর ভেঙে পড়ে, যেখানে শিক্ষার্থীরা খাবার খাচ্ছিলেন।

    দমকল বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তিনজনকে উদ্ধার করে। পরে দমকলকর্মী ও জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

    আহত এক শিক্ষার্থীর বাবা বলবন্ত যাদব জানান, তার মেয়ে নীলম ভবনের পাশের ক্যানটিনে ছিলেন। ভবন ধসে পড়ার সময় সেখানে শতাধিক শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন। নীলমের পা ভেঙে গেছে এবং তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    উদ্ধারকাজে ভারী যন্ত্রপাতি, হাইড্রোলিক কাটার, বিশেষ ক্যামেরা ও প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানী কুকুর ব্যবহার করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে দমকল, এনডিআরএফ, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা কাজ করছেন।

    সেখানকার পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর ভবনটির মালিকানা, নির্মাণকাজের অনুমোদন এবং কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।

  • নেদারল্যান্ডসে মসজিদে হামলা পুলিশের বিরুদ্ধে নিস্ক্রিয়তার অভিযোগ

    নেদারল্যান্ডসে মসজিদে হামলা পুলিশের বিরুদ্ধে নিস্ক্রিয়তার অভিযোগ

    নেদারল্যান্ডসের রটারডাম শহরের একটি মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মসজিদের দেয়াল ভাঙচুর, বিয়ারের বোতল নিক্ষেপ এবং ভবনের সামনে অশোভন আচরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন নেদারল্যান্ডস (আইএসএন)।শুক্রবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে ছয়জন হামলাকারী মেভলানা মসজিদে ভাঙচুর চালায়। সংস্থাটি জানায়, হামলাকারীরা মসজিদের একটি মোজাইক দেয়াল নষ্ট করে। পাশাপাশি তারা ভবনটির দিকে বিয়ারের বোতল ছুড়ে মারে এবং এর সামনের অংশে প্রস্রাব করে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, মসজিদ কর্তৃপক্ষ বারবার পুলিশকে ফোন করলেও যথাসময়ে সাড়া না দিয়ে হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে যাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

    বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, মুসলিমদের ও মসজিদ লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা বাড়তে থাকায় মুসল্লিরা ক্রমশ নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। তবে ঘটনাস্থলে আসা পুলিশ কর্মকর্তারা এ ঘটনাকে ‘সরাসরি হস্তক্ষেপ করার মতো কোনো হুমকি বা জরুরি পরিস্থিতি’ হিসেবে বিবেচনা করেননি।

    পুলিশের এমন মূল্যায়নের তীব্র সমালোচনা করে বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশের এই মনোভাব বোঝা কঠিন। যেকোনো পরিস্থিতিতে মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই তাদের ধর্মপালনের অধিকার রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। হামলার পাশাপাশি পুলিশের সাড়া দিতে এমন বিলম্বের ঘটনা গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

    আইএসএন জানিয়েছে, তারা এই হামলার ঘটনায় একটি আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেছে এবং বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে তদন্ত করার অনুরোধ জানিয়েছে।

    (সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি)

    আরআেই খান

  • অনলাইনে বিষ বিক্রি করে আত্মহত্যায় সহায়তা করার দায় স্বীকার কানাডিয়ান নাগরিকের

    অনলাইনে বিষ বিক্রি করে আত্মহত্যায় সহায়তা করার দায় স্বীকার কানাডিয়ান নাগরিকের

    অনলাইনে বিষাক্ত পদার্থ বিক্রি করে বিভিন্ন দেশের মানুষের আত্মহত্যায় সহায়তার অভিযোগে কানাডার নাগরিক কেনেথ ল’ আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। প্রসিকিউটরদের সঙ্গে একটি সমঝোতার অংশ হিসেবে তিনি ১৪টি অভিযোগে দায় স্বীকার করেন। এর ফলে তার বিরুদ্ধে আনা আরও গুরুতর হত্যার অভিযোগগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    শুক্রবার কানাডার অন্টারিও প্রদেশের একটি আদালতে ৬০ বছর বয়সী কেনেথ ল’ এই স্বীকারোক্তি দেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন ফোরাম ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিশ্বের অন্তত ৪০টি দেশের মানুষের কাছে প্রায় ১ হাজার ২০০টি বিষের প্যাকেজ সরবরাহ করেছিলেন।

    কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বিক্রি হওয়া প্যাকেজগুলোর প্রায় এক-চতুর্থাংশ যুক্তরাজ্যে পাঠানো হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে আনা ১৪টি অভিযোগই কানাডার ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও যুক্তরাজ্যের কিছু পরিবার দাবি করেছে, কেনেথ ল’-এর সরবরাহ করা পণ্যের কারণে সেখানে বহু মানুষের মৃত্যু ঘটেছে।

    এ ঘটনায় ব্রিটিশ প্রসিকিউটরদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগীর স্বজন। তবে যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সিপিএস) জানিয়েছে, কানাডায় তার দোষ স্বীকারের বিষয়টি তারা সমর্থন করেছে এবং সাজা নির্ধারণের সময় ব্রিটিশ নাগরিকদের মৃত্যুর বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।

    সিপিএসের মতে, কানাডায় একই অপরাধে বিচার ও দণ্ডের মুখোমুখি হওয়ার পর কেনেথ ল’-কে যুক্তরাজ্যে প্রত্যর্পণ করা আইনগতভাবে জটিল হতে পারে। সে কারণেই আলাদা করে সেখানে মামলা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

    কানাডার আইনে আত্মহত্যায় সহায়তার অপরাধে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে তার সাজা নির্ধারণ সংক্রান্ত শুনানি শুরু হবে। শুনানিতে ভুক্তভোগীদের পরিবারের লিখিত বক্তব্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

    উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি এবং আরও কয়েকটি দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ তদন্তের পর ২০২৩ সালের মে মাসে কেনেথ ল’-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, তিনি মানুষের জীবনাবসানে সহায়তাকারী বিভিন্ন উপকরণ বিক্রির জন্য একাধিক ওয়েবসাইট পরিচালনা করতেন।

    গ্রেপ্তারের আগে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তার কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে আসে। সেখানে একজন আন্ডারকভার সাংবাদিক ক্রেতা সেজে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং পণ্য ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগজনক তথ্য সংগ্রহ করেন।
    (সূত্র: বিবিসি)

  • ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ তুলে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

    ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ তুলে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

    ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজ সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন। গত মাসে এই অবরোধ আরোপ করা হয়েছিল।

    পোস্টে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির জন্য কয়েকটি শর্ত তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প

    ট্রাম্পের শর্ত অনুযায়ী, ইরানকে কখনই পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার করতে হবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল ছাড়া উভয় দিক থেকে অবাধ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।

    ট্রাম্প বলেন, প্রণালিতে যদি কোনো মাইন থেকে থাকে, তাহলে সেগুলোও দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে। মার্কিন বাহিনী ইতোমধ্যে অনেক মাইন বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ শিগগিরই তুলে নেওয়া হবে এবং বর্তমানে আটকে থাকা জাহাজগুলো নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যেতে পারবে।

    তিনি দাবি করেন, প্রায় ১১ মাস আগে মার্কিন বি-২ বোমারু বিমানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সহযোগিতায় উদ্ধার করে ধ্বংস করবে যুক্তরাষ্ট্র।

    সূত্র: ডয়েচে ভ্যালে

  • হাজীদের নিয়ে প্রথম ফ্লাইট ঢাকায়

    হাজীদের নিয়ে প্রথম ফ্লাইট ঢাকায়

    ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে ৪১৯ যাত্রী নিয়ে প্রথম ফিরতি হজ ফ্লাইট। শনিবার (৩০ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিমানটি বিমানবন্দরে অবতরণ করে।গত ১৭ এপ্রিল রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২০২৬ সালের হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী নিয়ে শেষ ফ্লাইটটি সৌদি পৌঁছায় ২১ মে।

  • কেনিয়ায় স্কুলের আবাসিক ভবনে আগুন ১৬ ছাত্রী নিহত

    কেনিয়ায় স্কুলের আবাসিক ভবনে আগুন ১৬ ছাত্রী নিহত

    পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়ার একটি আবাসিক বালিকা স্কুলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ জন ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে । কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার (৭৭ মাইল) পশ্চিমে গিলগিল এলাকার ‘উতুমিশি গার্লস’ স্কুলে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে বলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন পুলিশ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডে আহত আরও ৭৪ জন ছাত্রীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।কেনিয়া রেডক্রস এবং পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ভোরে ছাত্রীরা যখন ঘুমিয়ে ছিল, তখন স্কুলটিতে আগুন লাগে।পুলিশ জানায়, উদ্ধার অভিযান চলছে, আগুন লাগার কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কেনিয়া রেডক্রস জানিয়েছে, জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সর্বাত্মক সহায়তা দিচ্ছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে আগুন লাগে এবং তা দ্রুত একটি ডরমিটরি ব্লকে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ব্লকটিতে প্রায় ২২০ জন ছাত্রী থাকত।কমান্ডার মউইনি জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে। বর্তমানে স্কুল এলাকাটি কর্ডন বা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এবং শুধুমাত্র অভিভাবকদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।কেনিয়ার আবাসিক স্কুলগুলোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এটিই প্রথম নয়; সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে এমন বেশ কয়েকটি মারাত্মক অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে।

  • লেবাননে ইসরায়েলের হামলা জোরদার, বহু মানুষ নিহত

    লেবাননে ইসরায়েলের হামলা জোরদার, বহু মানুষ নিহত

    দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক ইসরায়েলি হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়েছেন। এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

    লেবানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন শিশুও রয়েছে।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা হেজবুল্লাহর শতাধিক অবকাঠামো ও যোদ্ধাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলের মাঝামাঝিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিকে সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    এর আগে সোমবার নেতানিয়াহু বলেছিলেন, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলা আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

    মঙ্গলবার নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল “লেবাননে তাদের অভিযান আরও বিস্তৃত করছে।”

    তিনি বলেন, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বড় আকারে স্থল অভিযান চালাচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে। একই সঙ্গে, উত্তর ইসরায়েলের জনগণকে হেজবুল্লাহর হামলা থেকে রক্ষা করতে তারা “নিরাপত্তা অঞ্চল” আরও শক্তিশালী করছে।

    এখানে “নিরাপত্তা অঞ্চল” বলতে সীমান্ত সংলগ্ন কিছু এলাকাকে বোঝানো হচ্ছে, যেটিকে ইসরায়েল নিজেদের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি দুই পক্ষই বারবার লঙ্ঘন করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনাও হুমকির মুখে পড়েছে।

    ইসরায়েল প্রতিদিনই দক্ষিণ লেবাননে বিমান ও কামান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, হেজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় রকেট ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে, দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকায় ইসরায়েলি সেনার উপস্থিতিও রয়েছে।

    স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিমান হামলার লক্ষ্য ছিল লেবাননের বেকা উপত্যকার মাশগারা গ্রাম এবং দক্ষিণ লেবাননের বুর্জ আল-শামালি এলাকা।

    দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিউফোর্ট দুর্গের কাছেও কয়েকটি হামলা হয়েছে। প্রায় ৯০০ বছরের পুরোনো এই দুর্গটিকে জাতিসংঘের সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেসকো এ অঞ্চলের সবচেয়ে ভালোভাবে সংরক্ষিত মধ্যযুগীয় দুর্গগুলোর একটি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

    সোমবার এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ইরান-সমর্থিত শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহর হামলার জবাবে ইসরায়েল তাদের হামলার সংখ্যা ও তীব্রতা আরও বাড়াবে।

    তিনি বিশেষভাবে ফাইবার-অপটিক ড্রোনের কথা উল্লেখ করেন, যেগুলো ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ, সেগুলোকে সহজে শনাক্ত করা যায় না।

    তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানব।”

    এই ঘোষণার পর হেজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পর অনেক বাসিন্দাকে এলাকা ছেড়ে পালাতে দেখা যায়। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পরিবারগুলো রাস্তায় বের হয়ে পড়লে সড়কে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।

    লেবাননের রাজধানী বৈরুতকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু না করা হলেও সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান।

    বিবিসি প্রায় ৫০টি স্থানে কয়েক ডজন হামলার তথ্য পেয়েছে।

    লেবানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় দক্ষিণের শহর আরব সালিমের একটি বাড়িতে হামলায় এক ব্যক্তি ও তার স্ত্রী নিহত হন। এছাড়া কাওতারিয়েত এল রেজ গ্রামেও ইসরায়েলি হামলায় আরও দু’জন নিহত হয়েছেন। রাতভর হামলায় মাশগারা এলাকার কয়েকটি বাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়।

    লেবানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপ থেকে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন নারী ও দু’টি শিশুও রয়েছে। এছাড়া আরও ১৫ জন আহত হয়েছেন।

    আহতদের মধ্যে ছিল মোহাম্মদ নামের এক শিশুও। ভিডিওতে দেখা যায়, গভীর রাতে উদ্ধারকর্মীরা মরিয়া হয়ে ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন। ধ্বংসস্তূপের ফাঁক দিয়ে শিশুটির ছোট দু’টি হাত বাইরে বেরিয়ে ছিল। পরে ধুলা-মাটিতে ঢাকা সাত বছরের শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

    “ঘুম থেকে উঠে আমার মনে হচ্ছিল আমি নড়াচড়া করতে পারছি না। পাশে শুধু অন্ধকার ছিল,” হাসপাতালের বেডে শুয়ে পরিবারের সদস্যদের পাশে নিয়ে বিবিসিকে বলছিল মোহাম্মদ।

    “যারা আমাকে উদ্ধার করছিল, তাদের শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। আমাকে বের করতে তাদের অনেক সময় লেগেছে।”তার মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা ছিল। হাত ও পায়েও কাটা ও আঁচড়ের দাগ দেখা যাচ্ছিল। যখন ক্ষেপণাস্ত্রটি তাদের বাড়িতে আঘাত হানে, মোহাম্মদ তখন নিজের বিছানায় ঘুমিয়ে ছিল। ওই হামলায় তার বাবা ও দুই বোন নিহত হন।

    মাশগারা এখন একেবারে জনশূন্য শহরের মতো মনে হচ্ছে। রাস্তায় খুব কম গাড়ি চলাচল করছে। মাঝে মাঝে কয়েকটি গাড়ি আমাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আমরা কারা, তা দেখে নিচ্ছে। চারপাশে যেন জীবনের কোনো চিহ্ন নেই।

    যেসব স্থানে রাতভর হামলা হয়েছিলো, পৌরসভার সদস্য আহমাদ আমাদের সেইসব স্থানে নিয়ে যান। ভেঙে পড়া বাড়ি ও দোকানপাট দেখে জায়গাটিকে যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত একটি জনপদ মনে হচ্ছিল।

    আহমাদ বলেন, “আমি হেজবুল্লাহর সদস্য নই। কিন্তু গ্রামের সবাই প্রতিরোধের পক্ষে। আর শত্রুপক্ষ (ইসরায়েল) কাউকেই ছাড় দিচ্ছে না।”

    এরপরই যুদ্ধবিমানের শব্দে আহমাদের কথা থেমে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং আমাদেরকে দ্রুত সরে যেতে হয়।

    পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, আমরা যেখানে ছিলাম, তার খুব কাছাকাছি একটি সড়কেই বড় ধরনের বিস্ফোরণ হয়েছে।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পরে মাশগারা এলাকার আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করে। তারা দাবি করে, সেখানে “হেজবুল্লাহর অবকাঠামো” লক্ষ্য করে কয়েকটি হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে “সন্ত্রাসী তৎপরতা” শনাক্ত করা হয়েছিল। ওই হামলায় “সন্ত্রাসীরা” নিহত হয়েছেন।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, রাতভর দক্ষিণ লেবাননে হেজবুল্লাহর ব্যবহৃত ৯০টির বেশি অস্ত্র গুদাম, নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, নজরদারির জায়গা ও অন্যান্য স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।

    মঙ্গলবার সকালে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করে। তারা হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ১৭ এপ্রিল কার্যকর হওয়া ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তোলে।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র কর্নেল আভিচাই আদরাই বলেন, হেজবুল্লাহ বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় এই ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া ইসরায়েলি বাহিনীর সামনে আর কোনো উপায় ছিল না।

    অন্যদিকে, হেজবুল্লাহ জানিয়েছে যে ইসরায়েলের “যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের” জবাবে তারা উত্তর ইসরায়েলের তিনটি ব্যারাক ও একটি সামরিক পোস্টে হামলা চালিয়েছে।

    মূলত, গত রোববার দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধে একজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর হামলা আরও জোরদারের নির্দেশ দেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

    এর ফলে গত দোসরা মার্চ সংঘাত শুরুর পর থেকে হেজবুল্লাহর হামলায় দক্ষিণ লেবাননে নিহত ইসরায়েলি সেনার সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে।

    এছাড়া, একজন বেসামরিক ঠিকাদারও নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে লেবানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একই সময়ে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে অন্তত তিন হাজার ১৮৫ জন নিহত হয়েছেন।

  • বাংলাদেশিদের আর জামাই আদর করা হবে না-শুভেন্দু অধিকারী

    বাংলাদেশিদের আর জামাই আদর করা হবে না-শুভেন্দু অধিকারী

    ভারত বাংলাদেশিদের আর জামাই আদর করবে না বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    মঙ্গলবার নদিয়া, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কর্মকর্তাদের নিয়ে কল্যাণীতে এক প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

    শুভেন্দু দাবি করেন, রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার হাকিমপুর চেকপয়েন্টে বিপুল সংখ্যক ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ জড়ো হয়েছেন।

    তাদের উদ্দেশে তিনি হিন্দিতে বলেন, জলদি জলদি ভাগো, নেহি তো জো করনা হ্যায় সরকার করেগা।

    এ সময় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের’ উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তাদের জেলে বসিয়ে খাইয়ে জনগণের টাকা নষ্ট করতে চাই না। তারা ভারতীয়দের, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ক্ষতি করছে। আইন আগে থেকেই ছিল, কিন্তু ভোটব্যাংকের রাজনীতির কারণে কিছু মানুষ তা ব্যবহার করেনি। আমি শুধু একটাই কথা বলব, তাড়াতাড়ি পালাও। তাড়াতাড়ি পালাও। আমাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের ভাগ আর আমরা দেব না।’

    শুভেন্দু বলেন, ‘আমরা পুলিশকে বলে দিয়েছি, জেলে পাঠাতে হবে না। আইনে নেই। সরাসরি পুলিশ নেবে এবং বিএসএফের হাতে তুলে দেবে। দেশের পয়সায় খাবে, ওষুধ দেওয়া হবে, জামা কাপড় পরবে কেন। জামাই নাকি! জলদি জলদি ভাগো!

    এরআগে, কথিত ‘বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা’ অনুপ্রবেশকারীদের আটক রাখার জন্য ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রত্যেক জেলায় ‌‘আটক শিবির’ বা ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ দেয় শুভেন্দু অধিকারী নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও গত এক বছরে একই ধরনের আটক শিবির তৈরি করা হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে এই উদ্যোগ বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবারই প্রথম নেওয়া হয়।##

  • ঐতিহাসিক নবী সুলাইমান মসজিদ দখল করল ইসরাইল

    ঐতিহাসিক নবী সুলাইমান মসজিদ দখল করল ইসরাইল

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসলামিক ওয়াকফ পরিচালিত মুসলমানদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় নিদর্শন নবী সুলাইমান (আ)-এর সমাধিস্থল দখলের আদেশ জারি করেছে ইসরাইল। মঙ্গলবার ২৮ একর জমি অধিগ্রহণ করার ঘোষণা দেয় ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। এই জমির মধ্যেই ফিলিস্তিনি শহর বেইত ইক্সা এবং ঐতিহাসিক নবী সুলাইমান মসজিদ অবস্থিত।

    ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি ইউনিটের অধীনস্থ বেসামরিক প্রশাসন জানায়, এলাকাটি ‘জনস্বার্থে’ দখল করা হচ্ছে।

    ইসরাইল বলছে, নবী সোলাইমান (আ)-এর সমাধির প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটি সংরক্ষণের জন্য তারা একটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেবে।

    কিন্তু ফিলিস্তিনি বিশ্লেষকরা বলছেন যে, এই পদক্ষেপটি ‘ইহুদীকরণ’-এর আরো একটি উদাহরণ। সোলাইমান (আ) ইহুদি, খ্রিস্টান এবং মুসলিম ঐতিহ্যে গুরুত্বপূর্ণ একজন নবী। সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা

    বাইজেন্টাইন যুগে, সম্রাট জাস্টিনিয়ান সেই স্থানে একটি গির্জা নির্মাণের আদেশ দিয়েছিলেন যেখানে সোলাইমান (আ) কে সমাহিত করা হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়।

    স্থানটি জেরুজালেমের ৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে একটি পাহাড়ের চূড়ায়, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮৮৫ মিটার উপরে অবস্থিত। এরপর মুসলিম শাসকরা সোলাইমান (আ) এর স্মরণে সেই স্থানে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেন।

    এখন সেখানে যে মসজিদটি রয়েছে, তাতে আইয়ুবী ও মামলুক আমলের স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এর মধ্যে একটি সমাধিও রয়েছে, যা মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী সোলাইমান (আ) এর কবর।

    মানচিত্র, সীমান্ত, বসতি এবং জেরুজালেম শহর বিষয়ক বিশেষজ্ঞ খলিল তুফাকজি মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ‘এগুলো ইসলামিক ওয়াকফ [ধর্মীয় দান], আলামি পরিবারের একটি বংশানুক্রমিক ওয়াকফ।’

    ১৯৬৭ সালে ইসরাইল পশ্চিম তীর দখল করার পর থেকে, তারা নবী সোলাইমান (আ) এর সমাধিস্থল এলাকায় ক্রমান্বয়ে পরিবর্তন এনেছে।

    এর মধ্যে রয়েছে ভূগর্ভস্থ সেই কক্ষে একটি সিনাগগ নির্মাণ, যেখানে সোলাইমান (আ) এর সমাধি রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়।

    সময়ের সাথে সাথে, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ মুসলিমদের প্রার্থনার স্থানের আকার কমিয়ে দিয়েছে এবং ক্রমবর্ধমানভাবে স্থানটির স্থাপনাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।##

  • যুদ্ধবিরতি অনিশ্চিত, অস্থির  বিশ্ব জ্বালানি বাজার

    যুদ্ধবিরতি অনিশ্চিত, অস্থির বিশ্ব জ্বালানি বাজার

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা ঘিরে নতুন অনিশ্চয়তা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার কারণে আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে বিশ্ব জ্বালানি বাজার। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।

    জুলাই সরবরাহের ব্রেন্ট তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে যুক্তরাষ্ট্র সময় অনুযায়ী সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রায় ১০০ দশমিক ১২ ডলারে পৌঁছায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঊর্ধ্বগতির প্রধান কারণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বাড়তে থাকা উদ্বেগ ও চলমান সামরিক পরিস্থিতি।

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ছেলে মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আর কোনো নিরাপদ আশ্রয় থাকবে না। তার এই সতর্কবার্তার কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন বাহিনী ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর দুটি মাইন বসানো নৌযানে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলা চালায়।

    ওয়াশিংটনের দাবি, ওই স্থাপনাগুলো মার্কিন বাহিনী ও আঞ্চলিক নৌ চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিল। তবে ইরান অভিযোগ করেছে, এই হামলা যুদ্ধবিরতির সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে এবং তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, কোনো আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে।

    হরমুজ প্রণালি বিশ্ব তেল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ যেখানে দিয়ে প্রতিদিন প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয়। এই পথ ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    এদিকে ওমান উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণের খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। যদিও জাহাজে থাকা সবাই নিরাপদ আছে, তবুও এ ঘটনায় তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা নতুন করে সামনে এসেছে।

    এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বার্তা ও সামরিক পদক্ষেপের কারণে সেই আশাবাদ দ্রুত ম্লান হয়ে গেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বৈশ্বিক তেলের বাজারে সরবরাহ-চাহিদার চেয়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাই দামের ওপর বেশি প্রভাব ফেলছে।


    আরও পড়ুন · নির্ভরযোগ্য সূত্র:

  • শুভেন্দু ক্ষমতায় আসার পর ৬০১ মাদ্রাসার ভাতা বন্ধ !

    শুভেন্দু ক্ষমতায় আসার পর ৬০১ মাদ্রাসার ভাতা বন্ধ !

    পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ক্ষমতা গ্রহণের পর ৬০১ টি মাদরাসার শিক্ষকদের সরকারি ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম আজ তকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে অনিবন্ধিত মাদরাসার সংখ্যা ৬০১টি। শিক্ষার্থী ৮৪ হাজার। আর শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন প্রায় ৬ হাজার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময় সরকারের কিছু আর্থিক সহযোগিতা ও বিভিন্নভাবে মাদরাসাগুলো পরিচালিত হতো। কিন্তু শুভেন্দু ক্ষমতায় আসার পর সরকারি সহায়তা বন্ধ রয়েছে।

    এদিকে ভাতা বন্ধ হওয়ার পর শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি কামাল হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। তিনি শিক্ষকদের বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দেন।

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই পশু জবাই কারার বিষয়ে নতুন বিধান জারি করে। একারণে কোরবানির সময় মুসলমানরানও আর গরু কিনছে না। ফলে বিপদে পড়েছে দেশটির হিন্দু খামারিরা। এই খামারিরা দীর্ঘ দিন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে গরুগুলোকে লালন-পালন করেছে। এখন বিক্রি করতে না পারার কারণে তারা বেশ চিন্তিত। এমনকি মুসলমানদের গরু কোরবানির অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হোক এই দাবি নিয়ে তারা বিক্ষোভও করেছে।

    এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি কমিয়ে দু-দিন থেকে একদিন করে নতুন এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ঈদ উদযাপনের দিন পরিবর্তন হওয়ায় ছুটির দিনও বদলানো হয়েছে। তবে পূর্বের দুই দিনের ছুটি কমিয়ে এবার তা এক দিনে নামিয়ে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু।

    পশ্চিমবঙ্গে এর আগে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালীন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য টানা দুদিন ছুটি ঘোষণা করে। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। নতুন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনে রাজ্য বিধানসভার ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে পশ্চিমবঙ্গে এবারই প্রথম সরকার গঠন করেছে বিজেপি। আর বিপরীতে প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন।

  • যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ‘চূড়ান্ত জবাবের’ হুঁশিয়ারি দিল ইরান

    যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ‘চূড়ান্ত জবাবের’ হুঁশিয়ারি দিল ইরান

    ইরানের বিপ্লবী গার্ডের বিমানবাহিনীর কমান্ডার সাইয়েদ মজিদ মুসাভি বলেছেন, চলমান শান্তি আলোচনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় ইরান জবাব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সমালোচনা করে বলেন, “শত্রুর সঙ্গে আলোচনা মানেই নিছক ক্ষতি”।

    মুসাভি জানান, ইরানের বিমানবাহিনী—যারা দেশটির কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচির তত্ত্বাবধান করে—বর্তমানে “অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায়” রয়েছে। তিনি দাবি করেন, বাহিনীটি “চূড়ান্ত ও দ্রুত জবাব” দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং এখন শুধু সর্বাধিনায়কের চূড়ান্ত নির্দেশনার অপেক্ষায় আছে।

    এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, বন্দর আব্বাসের হরমোজগান অঞ্চলে “আগ্রাসী কর্মকাণ্ড” চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।

  • ইরানের  ইউরেনিয়াম নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা

    ইরানের ইউরেনিয়াম নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা

    ইরানকে তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর অথবা আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে ধ্বংস করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    মঙ্গলবার (২৬ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যাকে তিনি নিউক্লিয়ার ডাস্ট বলে উল্লেখ করেছেন, তা হয় অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, নয়তো ইরানের ভেতরেই অথবা অন্য কোনো গ্রহণযোগ্য স্থানে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে ধ্বংস করতে হবে।

    তিনি লিখেছেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হয় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করে ধ্বংস করা হবে, অথবা আরও ভালো হয় যদি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তা নিজ দেশেই কিংবা অন্য কোনো গ্রহণযোগ্য স্থানে ধ্বংস করা হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় পারমাণবিক শক্তি কমিশন বা সমমানের কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা উপস্থিত থাকবে।

    মধ্যপ্রাচ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন, তার প্রধান লক্ষ্য হলো ইরান যেন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।

    তবে তেহরান ধারাবাহিকভাবে দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির উদ্দেশ্য সামরিক নয় এবং তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করেনি


    আরও পড়ুন · নির্ভরযোগ্য সূত্র:

  • যুদ্ধে ইরান বিজয়ী, ব্রিটিশ সাংবাদিক হার্স্টের বিশ্লেষণ

    যুদ্ধে ইরান বিজয়ী, ব্রিটিশ সাংবাদিক হার্স্টের বিশ্লেষণ

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে চলা যন্ত্রণাদায়ক আলোচনায় প্রতিটি দিনই নতুন মোড় নিচ্ছে।

    যখনই কোনো একটি বিষয়ে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে আসে, তখনই ট্রাম্প তার অপরাধের সহযোগী ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করেন এবং তারপর সেই আলোচনা থেকে সরে আসেন।

    এমনটাই ঘটেছে দুটি বিষয়ের ক্ষেত্রে, যেগুলোতে ইরানি আলোচকেরা একটি চুক্তিতে পৌঁছেছেন বলে মনে করেছিলেন। ইরানবিষয়ক বিশ্লেষক হাসান আহমাদিয়ানের মতে, প্রস্তাবিত ৩০-৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির দুটি মূল শর্ত ছিল যে, এই যুদ্ধবিরতি লেবানন পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এবং ইরানের কিছু সম্পদ অবমুক্ত করা হবে।

    কিন্তু পথটা যতই আঁকাবাঁকা হোক না কেন এবং এই চুক্তি ব্যর্থ হলেও ট্রাম্প যদি তৃতীয়বারের মতো ইরানের ওপর আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেন, তবু এটা নির্মমভাবে স্পষ্ট যে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি যুদ্ধে হেরে গেছে। এটা গত ২৫ বছরে তাদের ষষ্ঠ পরাজয়।

    ইরানের হাতেই সব তাস রয়েছে, প্রধানত হরমুজ প্রণালি। কিন্তু সেই সঙ্গে উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে অর্জিত প্রতিরোধব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। আরও কিছু তাস ইরান এখনো খেলেনি, যেমন—লোহিতসাগরের মোহনায় বাব এল-মানদেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া। ট্রাম্পের হাতে এর কোনোটিই নেই।

    বর্তমান শতাব্দীর প্রথম চতুর্থাংশে যুক্তরাষ্ট্রের এই ধারাবাহিক ব্যর্থতা দৃশ্যমান যখন তার সামরিক শক্তি অবিসংবাদিত এবং এর ব্যবহারে তার একচেটিয়া অধিকার রয়েছে।

    ইরানকে আক্রমণ করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প শুধু আফগানিস্তান, ইরাক, ইয়েমেন, লিবিয়া ও সিরিয়ায় তার পূর্বসূরিদের ভুলেরই পুনরাবৃত্তি করেননি; এর সঙ্গে তিনি নিজেরও কয়েকটি ভুল যোগ করেছেন।

    সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ যেমন সাদ্দাম হোসেনের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র থাকার মিথ্যা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইরাক আক্রমণ করেছিলেন, তেমনি ট্রাম্পও মিথ্যা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইরান আক্রমণ করেছেন।

    কিন্তু অন্তত বুশের সন্দেহজনক ডসিয়ারটি তার নিজের গোয়েন্দা সংস্থাই সরবরাহ করেছিল। বিপরীতে ট্রাম্পের মিথ্যা গোয়েন্দা তথ্য মোসাদ তৈরি করেছে এবং মার্কিন কমান্ডার-ইন-চিফ তার নিজের গোয়েন্দা সংস্থার সেরা পরামর্শের বিরুদ্ধে গিয়ে তা পুরোপুরি বিশ্বাস করেছিলেন।

    নেতানিয়াহু ও মোসাদের পরিচালক ডেভিড বারনিয়া ট্রাম্পকে বোঝান যে, জানুয়ারির অভ্যুত্থানের পর তেহরানের শাসনব্যবস্থা এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে, সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার পর তা বড়জোর কয়েক দিন টিকবে।

    নেতানিয়াহুর চেয়ে জোরালোভাবে আর কেউ বলেনি যে, এর জন্য শুধু একটি শেষ ধাক্কার প্রয়োজন। এটা ঘটলে তার জীবনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে চলেছিল। যুদ্ধ যেহেতু প্রায় শেষ, তাই এখন তার চেয়ে বড় পরাজিত আর কেউ নেই। এ কারণেই তিনি ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।

    কিন্তু এই যুদ্ধ যখন অবশেষে থামবে, তখন এ দজনের জন্যই চূড়ান্ত হিসাবনিকাশ নিশ্চিতভাবেই আসবে।

    ক্ষমতার ভারসাম্য

    তারা শুধু খারাপভাবে পরাজিত হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আঞ্চলিক পরিকল্পনার প্রতি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের হুমকি যথেষ্ট গুরুতর।

    তিনটি মার্কিন প্রশাসনের নীতিই ছিল—ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ, জো বাইডেন এবং এখন ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ—সুন্নি আরব দেশগুলোকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে উৎসাহিত করা।

    প্রস্তাবিত এই নতুন ব্যবস্থাকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়েছে—সুন্নি-ইসরাইল জোট, আরব ন্যাটো, আব্রাহাম চুক্তি—কিন্তু এর রূপরেখা স্পষ্ট। এটি কোনোভাবেই সমতার অংশীদারিত্ব হবে না। ইসরাইলকে নতুন আঞ্চলিক আধিপত্যকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে। এটি হবে এমন একটি কেন্দ্র যার মাধ্যমে অস্ত্র, উচ্চ প্রযুক্তি, তথ্য এবং বাণিজ্য পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত হবে।

    এই জোটের একমাত্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ অংশীদার ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ। একমাত্র তিনিই দুটি ‘ছোট স্পার্টা’র একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর এবং লোহিতসাগরের চারপাশে কৌশলগতভাবে ছড়িয়ে থাকা বিমানক্ষেত্র ও বন্দরের একটি পারস্পরিক লাভজনক সাম্রাজ্য গঠনের সুবিধা দেখেছিলেন।

    ইরানের সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের ফলে হয় শাহের পুত্র রেজা পাহলভীর মতো একজন দুর্বল লোককে ক্ষমতায় বসানো হতো অথবা গৃহযুদ্ধ শুরু হতো কিংবা ইরান খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যেত। ইসরাইল এসবের তোয়াক্কা করেনি। ইরাক এবং এখন সিরিয়ার খণ্ড-বিখণ্ড হওয়া ও স্থায়ীভাবে দুর্বল হয়ে পড়াটাই ইসরাইলের প্রতিষ্ঠিত নীতি।

    সৌভাগ্যবশত, এটি এমন একটি কল্পনা, যা এখন কেবল ট্রাম্পের মাথাতেই বিদ্যমান। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের টিকে থাকা এই অঞ্চলের ক্ষমতার ভারসাম্যকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করে দিয়েছে।

    প্রান্ত থেকে কেন্দ্রে

    শুধু দেখুন কারা আলোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছে: পাকিস্তান ও কাতার। ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে পাকিস্তান বরাবরই এই অঞ্চলের প্রান্তে ছিল। ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার মতো অন্যান্য মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মতোই তারাও সহানুভূতি দেখিয়েছিল, শুধু এটুকুই।

    মূল পরিবর্তনটি আসে ইরান যুদ্ধের চরম মুহূর্তে, যখন প্রধান আরব শক্তিগুলো—সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত—দেখল যে মার্কিন সামরিক ছাতার জন্য তারা এত চড়া মূল্য দিলেও তা তাদের রক্ষা করতে পারছে না। ফলে তারা বিশাল সেনাবাহিনী এবং প্রতিষ্ঠিত বিমান শক্তি সম্পন্ন বাইরের শক্তিগুলোর দিকে তাকায়। তা হলো তুরস্ক ও পাকিস্তান।

    হঠাৎ করেই পাকিস্তানি সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির একজন প্রধান খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূত হন।

    পাকিস্তান এমন আরেকটি দেশ, যাকে একজন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট তালেবানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের যুদ্ধে সহযোগিতা না করলে বোমা মেরে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।

    এটি একটি পারমাণবিক শক্তি এবং এর একটি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি রয়েছে। চীনের সঙ্গে এর একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক ও সামরিক সম্পর্ক আছে। ফলে দেশটির কাছে চীনের তৈরি পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা ভারতের অত্যাধুনিক ফরাসি রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম।

    গুরুত্বপূর্ণভাবে, উপসাগরীয় যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের অপ্রত্যাশিত আবির্ভাবে মোহাম্মদ বিন জায়েদের প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল তাদের দেওয়া অর্থ ফেরত চাওয়া।

    সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০১৮ সালে পাকিস্তানকে ২ বিলিয়ন ডলার দিয়েছিল। সৌদি আরব আবুধাবিকে অর্থ পরিশোধের জন্য পাকিস্তানকে তহবিল সরবরাহ করে।

    প্রধান আলোচক হিসেবে কাতারের অন্তর্ভুক্তিতে তেমন কোনো বিস্ময় ছিল না। ইরানের সঙ্গে আসন্ন চুক্তির ঘোষণা দেওয়া একটি পোস্টে ট্রাম্প অন্তত তিনজন কাতারি নাগরিকের নাম উল্লেখ করেছিলেন।

    উদীয়মান জোট

    কিন্তু এখন দুটি স্বতন্ত্র জোটের উদ্ভব ঘটেছে। যুদ্ধের উত্তাপের মধ্যে গঠিত একটি জোটে রয়েছে সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক, কাতার এবং ওমান। ধারণা করা হচ্ছে, কুয়েত পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছে, অন্যদিকে গাজায় ইসরাইলের পরিকল্পনা নিয়ে মিশরের যথেষ্ট ভয় রয়েছে।

    এই রাষ্ট্রগুলোর অধিকাংশই ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর সদস্য, কিন্তু ইরানের বিজয়ের পর এর কোনো অর্থই থাকে না। তারা সবাই গাজার অর্ধেক, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল এবং পশ্চিম তীরের দুই-তৃতীয়াংশ স্থায়ীভাবে দখল করার ইসরাইলি প্রচেষ্টার বিরোধী।

    এই উদীয়মান জোটের আরেকটি লক্ষণ ছিল তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি বিবৃতি, যেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী সোমালিল্যান্ড অঞ্চলে ইসরাইলে দূতাবাস খোলার নিন্দা জানানো হয়। এতে অনুপস্থিত ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত।

    সুন্নি মুসলিম দেশগুলোর একটি শক্তিশালী সামরিক ও কূটনৈতিক জোটের উত্থান ঠিক সেটাই, যা ইসরাইল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত চায়নি। এই জোট এখন শক্তিশালী এবং ক্রমশ প্রকাশ্য হয়ে উঠছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপিত হলে আবুধাবি নিজেকে তার সবচেয়ে শক্তিশালী দুটি দেশের বন্দুকের নলের সামনে দেখতে পাবে, অন্তত রূপক অর্থে। এগুলো হলো প্রতিবেশী ইরান এবং সৌদি আরব।

    ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে সৌদি আরবকে টেনে আনার আমিরাতের কৌশল ব্যর্থ হয়েছে। রিয়াদ কমবেশি তার অবস্থানেই অটল থেকেছে এবং ইরানের সাথে তার সম্পর্ক ও ইয়েমেনের হুথিদের সাথে যুদ্ধবিরতি অক্ষুণ্ণ রেখেছে।

    একটি বিষয় নিশ্চিত। যদিও সুন্নি দেশগুলোর এই উদীয়মান জোট নিজেদের ইসরেইলবিরোধী হিসেবে পরিচয় দেবে না, তবে এর অস্তিত্ব নিশ্চিতভাবেই ইহুদিবাদী জন্য সুবিধাজনক নয়।

    প্রতিরোধকে শক্তিশালী করা

    পৃথিবীতে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে আরেকটি প্রধান শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে। এটি এই অঞ্চলের অন্য সকল তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশের উপর তার প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও একবার প্রতিষ্ঠা করেছে, এবং ওমানের সাথে মিলে হরমুজের উপর তার কার্যত নিয়ন্ত্রণ আর কখনও ছেড়ে দেবে না।

    সাম্প্রতিক দিনগুলোতে, পাকিস্তান ও চীনের উদ্দেশে হরমুজ দিয়ে ট্যাংকারগুলোর যাতায়াত কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। ইরান প্রমাণ করেছে যে তারা কলের মতো হরমুজকে যখন-তখন চালু বা বন্ধ করতে পারে।

    ইরানের এই বিজয় অঞ্চলজুড়ে প্রতিরোধ আন্দোলনকেও শক্তিশালী করেছে। ফাঁদ পাতা পেজার এবং ধারাবাহিক হামলায় হিজবুল্লাহর নেতৃত্ব একাধিকবার নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার পর তাদের একটি যুদ্ধশক্তি হিসেবে বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রতি-গোয়েন্দা কার্যক্রমের প্রাথমিক পাঠ শেখা এক নতুন প্রজন্মের যোদ্ধাদের (হিজবুল্লাহ যখন বুঝতে পারে যে তাদের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তখন থেকে কেউ ফোন ধরে না) এবং এফপিভি ড্রোন নামক একটি নতুন অস্ত্রের সাহায্যে তারা লেবাননকে লেবানন সরকারের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকরভাবে রক্ষা করছে। অথচ লেবানন সরকার বর্তমানে ইসরাইলের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে!

    ইরান বিশ্বক্ষমতার ভারসাম্যও বদলে দিয়েছে। অত্যন্ত স্বচ্ছন্দ প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সামনে ট্রাম্পকে নতজানু হতে দেখাটা ছিল বেদনাদায়ক, যেখানে চীনা নেতা এতটাই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে, ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়েই তিনি তাইওয়ানকে স্পর্শ না করার সুস্পষ্ট হুমকি দেন।

    রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা যথার্থই পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রকে এখন একটি দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করার পালা, যেখানে চীন স্থিতিশীলতার কণ্ঠস্বর এবং ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে, এমনকি মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। গত ২৫ বছরে চীনই একমাত্র বৃহৎ শক্তি যা কোনো যুদ্ধে লিপ্ত হয়নি।

    বশ্যতার বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধ আরব বিশ্বের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা। বার্তাটি হলো- যথেষ্ট দৃঢ়সংকল্প এবং যথেষ্ট উচ্চ সহনশীলতা থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যম শক্তিগুলো মার্কিন ও ইসরাইলি ঔপনিবেশিক আধিপত্যকে প্রতিহত করতে এবং জয়ী হতে পারে।

    ঐতিহাসিক পরাজয়

    একটি কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর কী ঘটবে?

    আমি মনে করি, ইসরাইল নতুন করে লেবানন ও গাজায় বোমাবর্ষণ পুনরায় শুরু করবে। নেতানিয়াহু লিটানি নদীর দক্ষিণে প্রতিটি বাড়ি, গ্রাম ও শহর ধ্বংস করতে চাইবেন, যাতে ইরানে তার বিপর্যয়কে যথাসম্ভব দীর্ঘ সময় ধরে আড়াল করা যায়। তিনি হামাসের নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্যে পুরো গাজা দখল করার কথাও বিবেচনা করতে পারেন।

    কিন্তু তিনি নিজের রাজনৈতিক কবর নিজেই খুঁড়বেন, কারণ ইসরেইলের পক্ষে তার কোনো উদ্দেশ্য অর্জন করে এই ধারাবাহিক যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার কোনো সম্ভাবনাই নেই।

    ট্রাম্প বা নেতানিয়াহু কেউই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কাছে পরাজিত হওয়া ছাড়া তাদের চোখে চোখ রেখে অন্য কিছু দাবি করতে পারবেন না।

    গাজায় ইসরাইল তার গণহত্যায় যেমন আমেরিকান ইহুদিদের একটি পুরো প্রজন্মের সমর্থন হারিয়েছে, তেমনি ইরানের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধ রিপাবলিকান ট্রাম্প সমর্থকদের বয়স্ক প্রজন্মের ওপর একই রকম প্রভাব ফেলেছে। ইসরাইল যে যুক্তরাষ্ট্রকে “দখল” করে রেখেছে, এই ধারণাটি দ্রুতগতিতে বাড়ছে রিপাবলিকান খ্রিস্টান মহলে।

    আর আমি যদি আবুধাবির শাসক হতাম, তবে আমি নিজেকে তেহরানে সরকার পরিবর্তনের কথা জিজ্ঞেস করতাম না। আমি নিজেকে জিজ্ঞেস করতাম, আমি আর কতদিন ক্ষমতায় থাকতে পারব?

  • হাসপাতালে নেতানিয়াহু

    হাসপাতালে নেতানিয়াহু

    খলদার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় দেশটির রাজধানী তেল আবিবের হাদাসাহ আইন কেরেম মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয় তাকে।

    তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে হিব্রু গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই বিবৃতি জারি করা হয়। বিবৃতি বলা হয়, মূলত দাঁতের চিকিৎসার জন্য নেতানিয়াহুকে ওই হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। খবর টাইমস অব ইসরাইল।

    ৭৬ বছর বয়সি এই প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য সাম্প্রতিক সময়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। কারণ, কয়েকটি ঘটনার মাধ্যমে তার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য জনসাধারণের কাছ থেকে গোপন রাখার অভিযোগ উঠে আসে এবং এ নিয়ে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন। এর ফলে ইসরাইলের অনেকের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য নিয়ে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।

    গত মাসে নেতানিয়াহু সামাজিক মাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্টে জানান, তিনি সম্প্রতি হাদাসাহ মেডিকেল সেন্টারে প্রোস্টেটের ম্যালিগন্যান্ট (ক্যানসারজনিত) টিউমারের জন্য সফলভাবে অস্ত্রোপচার করেছেন।

    ইরান যুদ্ধে যেন এটি ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রচারণার কাজে ব্যবহার করতে না পারে, সেই কারণে তিনি বিষয়টি জনসমক্ষে আনেননি বলে দাবি করেন। তবে কবে রোগ নির্ণয় হয়েছিল, কবে চিকিৎসা শুরু করেছিলেন বা কবে শেষ হয়েছে এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু জানাননি।

    নেতানিয়াহুর ঘোষণার সঙ্গে তার বার্ষিক স্বাস্থ্য প্রতিবেদন এবং ক্যানসার নির্ণয় ও চিকিৎসা সম্পর্কিত একটি অতিরিক্ত নথি প্রকাশ করা হয়। তবে সেই প্রতিবেদনে অর্ধেক পৃষ্ঠাজুড়ে মাত্র পাঁচটি অস্পষ্ট বিষয় ছিল এবং এটি কোন বছরের প্রতিবেদন সেটিও উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া কোনো নথিতেই হাসপাতালের লোগো বা আনুষ্ঠানিক চিকিৎসা বিবৃতির ইঙ্গিত ছিল না।

    নেতানিয়াহুর শরীরে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে একটি পেসমেকার বসানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালের মার্চে তার হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রোস্টেট অপসারণের অস্ত্রোপচার হয়।

    নেতানিয়াহুর পেসমেকার বসানোর সময় প্রথমদিকে জানানো হয়েছিল, তিনি পানিশূন্যতা পর্যবেক্ষণের জন্য রামাত গানের সেবা মেডিকেল সেন্টারে এক রাত অবস্থান করেছিলেন বলে জানিয়েছিল তার কার্যালয় ও হাসপাতাল। যখন হাসপাতাল জানায়, বাস্তবে তার শরীরে একটি সাবকিউটেনিয়াস হার্ট মনিটর বসানো হয়েছিল, তখন প্রধানমন্ত্রীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

    চিকিৎসকরা একসপ্তাহ পরে স্বীকার করেন তিনি হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময় করা একটি ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম (ইসিজি) পরীক্ষায় তারা কিছু অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেছিলেন। তবুও তারা জনসাধারণকে আশ্বস্ত করেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর হৃদযন্ত্র ‘সম্পূর্ণ স্বাভাবিক’ ছিল।

  • পদ ছাড়লেন ট্রাম্প অনুগত গোয়েন্দাপ্রধান তুলসী গ্যাবার্ড

    পদ ছাড়লেন ট্রাম্প অনুগত গোয়েন্দাপ্রধান তুলসী গ্যাবার্ড

    যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন তুলসী গ্যাবার্ড। তিনি শেষ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুগত ছিলেন। ট্রাম্পের রাজনৈতিক শত্রুদের বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষোভকে ন্যয্যতা দিয়ে লড়েছেন। গত বছর তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও বেশ কয়েকজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, ওবামা প্রশাসন ২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়টিকে বড় করে দেখিয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁরা ‘দেশদ্রোহিতামূলক ষড়যন্ত্রে’ নেতৃত্ব দিয়েছেন। জানুয়ারিতে জর্জিয়ায় কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) একটি অভিযান চলাকালে তুলসী গ্যাবার্ড সেখানে হাজির হন। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সেখানে ২০২০ সালের নির্বাচনের ব্যালট খুঁজছিলেন। অথচ তুলসী গ্যাবার্ডের মূল দায়িত্ব ছিল শুধু বিদেশি গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নজর রাখা।

    গত শুক্রবার তুলসী গ্যাবার্ড ট্রাম্পের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৩০ জুন তিনি পদ ছেড়ে দেবেন। সম্প্রতি তাঁর স্বামীর ক্যানসার ধরা পড়েছে। স্বামীর পাশে থাকতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে অনেক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, হোয়াইট হাউস থেকে তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। গত মাসে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’ এক প্রতিবেদনে বলেছে, মার্কিন ১৮টি গোয়েন্দা সংস্থার তদারককারীর এই পদ থেকে তুলসী গ্যাবার্ডকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রিসভার সদস্যদের কাছে ব্যক্তিগতভাবে জানতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প।

    তুলসী গ্যাবার্ড ট্রাম্পের অনুগত ছিলেন। এমনকি অতীতের নির্বাচনগুলো নিয়ে ট্রাম্পের বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্বকেও তিনি সমর্থন করতেন। তবে বিদেশের মাটিতে মার্কিন হস্তক্ষেপ ও অন্য দেশের সরকার পরিবর্তনের যুদ্ধের বিরোধী ছিলেন তিনি। এটাই শেষ পর্যন্ত তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সক্ষমতা নিয়ে তাঁর মূল্যায়ন একাধিকবার ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করেছিল। গত বছর জুনে ইসরায়েল ইরানের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এরপর ওয়াশিংটনও ১২ দিনের জন্য সেই যুদ্ধে যোগ দেয়। সে সময় ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা করা হয়েছিল। তখন ট্রাম্প তুলসী গ্যাবার্ডের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। তিনি চেয়েছিলেন তুলসী গ্যাবার্ড যেন তাঁর মূল্যায়নে বলেন যে ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

    গত জানুয়ারিতে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দল ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত এবং তাঁকে অপহরণ করে নিউইয়র্কে বিচারের মুখোমুখি করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছিল।

    ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একটি নতুন যুদ্ধ শুরু করেন। ওই সময় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের শীর্ষ স্তর থেকে তুলসী গ্যাবার্ডকে অনেকটা সরিয়ে রাখা হয়েছিল।

    জো কেন্ট তাঁর পদত্যাগপত্রে লেখেন, ‘বিবেকবোধ থাকতে আমি চলমান ইরান যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারি না।’ এই পদত্যাগপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি আরও বলেন, ‘ইরান আমাদের দেশের জন্য কোনো আসন্ন হুমকি ছিল না। এটা পরিষ্কার যে ইসরায়েল এবং দেশটির আমেরিকান প্রভাবশালী লবির চাপের কারণেই আমরা এই যুদ্ধ শুরু করেছি।’

    কেন্টের পদত্যাগ ট্রাম্প প্রশাসনকে স্তব্ধ করে দেয়। অন্য দেশে হস্তক্ষেপের বিরোধী হওয়ায় তুলসী গ্যাবার্ড ট্রাম্পের বলয়ে আরও একা হয়ে পড়েন। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প এবং তাঁর প্রচার দল যুদ্ধে ক্লান্ত আমেরিকানদের সামনে তাঁকে ‘শান্তির দূত’ হিসেবে তুলে ধরেছিল।

    কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পরই ট্রাম্প তাঁর সেই অঙ্গীকার থেকে সরে আসেন। গত বছর তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সাতটি দেশে বোমা হামলার নির্দেশ দেন। দেশগুলো হলো ইয়েমেন, সিরিয়া, ইরান, ইরাক, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া ও ভেনেজুয়েলা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি ইরানের ওপর ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে হামলা শুরু করেন। এটি আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেয়। তেহরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি ও অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালায়। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এই পথ দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশের বেশি তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। এর ফলে আমেরিকায় তেলের দাম বেড়ে যায় এবং বিশ্ব অর্থনীতি ধাক্কা খায়। গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। তবে স্থায়ী চুক্তি নিয়ে আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প বারবার যুদ্ধ আবার শুরু করার হুমকি দিচ্ছেন।

    তুলসী গ্যাবার্ড রিপাবলিকান পার্টিতে যোগ দেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেনফাইল ছবি: রয়টার্স

    ট্রাম্প নিজেকে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দাবি করেন। তিনি বিদেশের মাটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধী হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছিলেন; কিন্তু তাঁর একজন অন্যতম উপদেষ্টা হিসেবে নিজের মেয়াদকালে তুলসী গ্যাবার্ড ট্রাম্পের জন্য এক অস্বস্তিকর স্মারক হয়ে ওঠেন। কারণ, ট্রাম্প এমন এক যুদ্ধ শুরু করেছেন, যা এখন পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ক্ষমতায় আসা ইরানের সরকারকে এখনো সরানো যায়নি। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে ট্রাম্প যে চতুরতার আশ্রয় নিয়েছেন, তা অতীতের মার্কিন সংঘাতগুলোকে মনে করিয়ে দেয়। বিশেষ করে ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের সময় জর্জ ডব্লিউ বুশ যেমন গোয়েন্দা তথ্য কারসাজি করে ওই যুদ্ধের ন্যায্যতা দিয়েছিলেন।

    গত জুন মাস থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং অন্যান্য মার্কিন কর্মকর্তা বারবার দাবি করে আসছেন যে ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি থেকে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস দূরে আছে। গত মার্চে কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যদি দুই সপ্তাহের মধ্যে আঘাত না করতাম, তবে তারা পারমাণবিক অস্ত্র পেয়ে যেত।’


    আরও পড়ুন · নির্ভরযোগ্য সূত্র:

  • এশিয়ার বাজারেও কমলো তেলের দাম

    এশিয়ার বাজারেও কমলো তেলের দাম

    বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতনের প্রভাব পড়েছে এশিয়ার বাজারে। সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমার খবরে তেলের দামের পাশাপাশি এশিয়ার প্রধান শেয়ার বাজারগুলোতেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে।

    সোমবার (২৫ মে) এশিয়ার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ৩৬ মার্কিন ডলারে নেমে আসে। পরে এশিয়ার বাজারে এর দাম আরও কমে ৯৭ দশমিক ৯০ ডলারে দাঁড়ায়, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কম।

    একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও ৫ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ৯৯ ডলারে নেমে আসে। তবে সরকারি ছুটির কারণে সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের জ্বালানি ও আর্থিক বাজার বন্ধ ছিল।

    এদিকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।

    তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালি আবার পুরোপুরি চালু করা হবে। বিশ্বের মোট খনিজ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

    হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর সম্ভাবনায় এশিয়ার শেয়ারবাজারে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। জাপানের প্রধান শেয়ারসূচক নিক্কেই-২২৫ প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৬৫ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো শিল্পোন্নত দেশগুলো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ফলে এ অঞ্চলের অস্থিরতায় তাদের অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়ে। সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির খবর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশাবাদ তৈরি করেছে।


    আরও পড়ুন · নির্ভরযোগ্য সূত্র:

  • পশ্চিমবঙ্গে গরু কোরবানির দাবিতে হিন্দুদের বিক্ষোভ, বিরোধিতায় মুসলিমরা

    পশ্চিমবঙ্গে গরু কোরবানির দাবিতে হিন্দুদের বিক্ষোভ, বিরোধিতায় মুসলিমরা

    আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গে গরু বিক্রি ও জবাইয়ে কড়াকড়ি আরোপ করেছে বিজেপি সরকার। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের একাধিক আলেম ও ইমামরা মুসলিম সম্প্রদায়কে কোরবানিতে গরু ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু দেশটির বিভিন্ন স্থানে মুসলমানদের গুরু কোরবানি দেওয়ার অধিকার দিতে হবে এই দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন হিন্দুরা।

    গত ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র বিভাগ এক নির্দেশনায় জানায়, সরকারি অনুমতি ছাড়া গরু, ষাঁড়, বাছুর ও মহিষ জবাই করা যাবে না। জবাইয়ের আগে পৌরসভা চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত প্রধান এবং সরকারি পশুচিকিৎসকের যৌথ সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়, শুধুমাত্র ১৪ বছরের বেশি বয়সী বা অক্ষম পশু জবাইয়ের অনুমতি পাবে। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে জেল ও জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে।

    রাজ্য সরকারের এমন সিদ্ধান্তে কলকাতার ঐতিহাসিক নাখোদা মসজিদের ইমাম মাওলানা শফিক কাসমি মুসলমানদের গরু কোরবানি না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বলেন, আমি মুসলিম ভাইদের বলব, গরু কোরবানি না দিতে। এমনকি গরুর মাংস খাওয়াও বন্ধ করা উচিত।

    হুগলির ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা জিয়াউদ্দিন সিদ্দিকিও একই সুরে বলেন, হিন্দুরা গরুকে পূজা করে। আমরা ছাগল বা ভেড়া কোরবানি দিতে পারি।

    ভারতের আজ তক মিডিয়ার এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে কলকাতা হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত গরু কোরবানি বন্ধ করার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছেন হিন্দু নারী-পুরুষরা। সেখানে তারা বলেন, কোরবানির নিয়মের যে প্রথা বন্ধ করা হয়েছে, সেটা আমরা মানি না। মানবো না। রাজ্য সরকার কোরবানির নিয়ম বন্ধ করেছে, সেটা আমরা মানি না। গরু বিক্রি করতে দিতে হবে।

    বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনার বামুনিয়া গ্রামের সিংহভাগই হচ্ছে হিন্দু খামারি। তারা বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গরুর খামার করেছেন। তারা কোরবানি ঈদের আগে গরু বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করার কথা ভেবে ছিলেন। গত বেশ কয়েক বছর থেকে তারা এমনটাই করে আসছেন। কিন্তু এবার শুভেন্দু সরকারের জারি করা আইনের কারণে কেউ-ই আর গরু কিনছেন না। গ্রামের হিন্দু খামারিরা বলছেন এবার অন্তত মুসলমানদের গরু কোরবানি দিতে দেওয়া হোক। তাহলে আমরা গরু বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করতে পারবো।

  • সৌদি বাজারে রপ্তানি বাড়াতে  প্রস্তাব -বাণিজ্যমন্ত্রী

    সৌদি বাজারে রপ্তানি বাড়াতে প্রস্তাব -বাণিজ্যমন্ত্রী

    বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বিদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে যে নামটি প্রতিনিধিত্ব করা হয়, সেটি হলো বাংলাদেশ। সঙ্গতকারনে দেশের ভাবমূর্তি, রপ্তানি সক্ষমতা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

    আজ রোববার সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির একটি প্রতিনিধিদল বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দপ্তরে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এসব কথা বলেন।খন্দকার মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো তৈরি পোশাক খাতনির্ভর। তবে সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, পাটপণ্য, খাদ্যপণ্য এবং সৌদি ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী তৈরি পোশাক রপ্তানির বড় সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে খাতভিত্তিক পরিকল্পনা নিতে হবে।

    প্রবাসী কর্মীদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিদেশে কাজ করতে যাওয়া মানুষ অনেক ত্যাগ স্বীকার করেন। তাঁদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে ব্যক্তি, পরিবার ও দেশ—সবাই উপকৃত হবে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ বাংলাদেশের জন্য বড় সম্পদে পরিণত হতে পারে।

    প্রতিনিধিদলের উদ্দেশে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোন খাতে কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, কোথায় নীতিগত সহায়তা দরকার এবং কোথায় আর্থিক বা খাতভিত্তিক সহযোগিতা দরকার—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিতে হবে। বাস্তবসম্মত প্রস্তাব পেলে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

    বৈঠকে সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আশরাফুল হক চৌধুরী বলেন, সৌদি আরবের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবার জন্য বড় ধরনের রপ্তানি ও বাণিজ্য সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে ২০২৭ সালের মধ্যে সৌদি আরবে বাংলাদেশের রপ্তানি ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব।

    প্রতিনিধিদল জানায়, সৌদি ভিশন ২০৩০, ওয়ার্ল্ড এক্সপো এবং বিশ্বকাপকে সামনে রেখে শিক্ষা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, গ্রিন টেকনোলজি, পরিবেশ, মরুভূমি বনায়ন, কৃষি ও খাদ্য খাত এবং ক্ষুদ্রঋণভিত্তিক অর্থায়নের মতো খাতে বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও খাতভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

  • যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সম্পর্কে ভাঙনের সুর!

    যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সম্পর্কে ভাঙনের সুর!

    ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য চুক্তিতে ইসরাইলকে রাখা হয়নি। এতে খুশি নয় দেশটি। তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করছেন।

    আল জাজিরা জানিয়েছে, দুপক্ষের মাঝে টানাপোড়েন চলছে। তবে নেতানিয়াহু সম্প্রতি এক্সে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্ক এখনো শক্তিশালী আছে। যদিও সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে ইসরাইলের ভেতরে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইসরাইলি কর্মকর্তারা যে খসড়া দেখেছেন, তাতে তারা মোটেও সন্তুষ্ট নন।

    দখলকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক নিদা ইব্রাহিম জানিয়েছেন, ইসরাইলের প্রধান উদ্বেগ হলো— চুক্তিতে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত নেই।

    প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, নেতানিয়াহু নাকি তার কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে মন্তব্য না করতে নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক সামলাতে তিনি সতর্ক অবস্থান নিতে চান। কোনো ভুল তিনি চান না।

    ইসরাইলি চ্যানেল ১২–এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তির ফলে লেবাননে চলমান সংঘাত শেষ হলে ইসরাইলের সামরিক তৎপরতা সীমিত হয়ে যেতে পারে। এমন আশঙ্কা ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ভেতরেও রয়েছে। বিশেষ করে লেবানন থেকে ড্রোন হামলায় হতাহতের ঘটনা নিয়ে ইসরাইলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দুদেশই ইরান যুদ্ধের পর থেকে একসঙ্গে কাজ করলেও এখন নীতিগত মতপার্থক্য বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ইসরাইলের সামরিক কৌশল (বিশেষ করে হিজবুল্লাহ/ইরান ইস্যু) প্রভাবিত হতে পারে।

  • ইসরাইলি গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত

    ইসরাইলি গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত

    হরমোজগান প্রদেশে একটি ইসরাইলি গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের নৌবাহিনীর সহযোগিতায় ভূপাতিত ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ড্রোনটি ‘অরবিটার’ মডেলের নজরদারি ড্রোন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ড্রোনটি গোয়েন্দা নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে কী পরিস্থিতিতে এটি ভূপাতিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

    এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ইসরাইলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • ট্রাম্পকন্যাকে হত্যার নীলনকশা

    ট্রাম্পকন্যাকে হত্যার নীলনকশা

    র্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২০২০ সালে মার্কিন হামলায় ইরানি কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে তিনি এ পরিকল্পনা করেছিলেন।

    নিউইয়র্ক পোস্টের বরাতে আল আরাবিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩২ বছর বয়সী ইরাকি নাগরিক মোহাম্মদ বাকের সাদ দাউদ আল সাদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে হত্যার ‘অঙ্গীকার’ করেছিলেন। এমনকি তার কাছে ফ্লোরিডার বাড়ির একটি নকশাও ছিল।

    নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, আল-সাদি সোলাইমানির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে ট্রাম্প পরিবারের সদস্যদের টার্গেট করছিলেন। সোলাইমানি ছিলেন ইরানের কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান। তিনি ২০২০ সালে বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হন।

    ওয়াশিংটনে ইরাকি দূতাবাসের সাবেক উপ-সামরিক অ্যাটাশে এন্তিফাধ কানবার বলেন, সোলাইমানির মৃত্যুর পর আল সাদি ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে হত্যার কথা বলেছিলেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আল সাদি আরবি ভাষায় একটি হুমকিমূলক বার্তার সঙ্গে ফ্লোরিডার একটি আবাসিক এলাকার মানচিত্র পোস্ট করেছিলেন। এ এলাকাতেই ইভাঙ্কা ট্রাম্প ও তার স্বামী জ্যারেড কুশনারের বাড়ি রয়েছে।

    গত ১৫ মে তুরস্কে আল সাদিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে ১৮টি হামলা ও হামলার চেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে তাকে কাতায়েব হিজবুল্লাহ ও ইরানের আইআরজিসির কথিত অপারেটিভ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এছাড়া আমস্টারডাম, লন্ডন, টরন্টো, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসে মার্কিন ও ইহুদি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতা থাকার অভিযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, আল সাদি আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগের আড়াল হিসেবে একটি ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবহার করতেন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি আল-সাদির আইনজীবীও কোনো মন্তব্য করেননি।

  • ইউক্রেনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি পুতিনের

    ইউক্রেনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি পুতিনের

    ইউক্রেনের দখলকৃত পূর্বাঞ্চলে একটি ছাত্রাবাসে হামলার অভিযোগ করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ ঘটনায় পাল্টা প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শনিবার (২৩ মে) বিবিসি-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রাশিয়া-সমর্থিত স্থানীয় গভর্নর জানিয়েছেন, লুহানস্ক অঞ্চলের স্টারোবিলস্ক শহরে রাতভর চালানো ওই হামলায় ১০ জন নিহত এবং ৩৮ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া আরও ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, স্টারোবিলস্কে রাশিয়ার অভিজাত রুবিকন ড্রোন ইউনিটের সদর দপ্তরে হামলা চালানো হয়েছে। তবে সেটিই রাশিয়ার উল্লেখ করা ভবন কি না, সে বিষয়ে তারা কিছু বলেনি।

    পুতিন জানিয়েছেন, ওই এলাকার আশপাশে কোনো সামরিক স্থাপনা, গোয়েন্দা সংস্থার কার্যালয় বা সংশ্লিষ্ট কোনো অবকাঠামো ছিল না। শুক্রবার ক্রেমলিনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমাদের বিমান প্রতিরক্ষা বা ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থার কারণে গোলাবারুদ ভবনটিতে আঘাত করেছে—এমন দাবির কোনো ভিত্তি নেই।

    তিনি রুশ সামরিক বাহিনীকে প্রতিশোধের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট জানান, ইউক্রেন তিন দফায় মোট ১৬টি ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা চালায়শনিবার ভোরে রুশ কর্মকর্তারা জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরনগরী নভোরোসিস্কের একটি তেল ডিপোতে আগুন লাগে। এতে দুইজন আহত হন। দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলের সদর দপ্তর জানায়, কয়েকটি কারিগরি ও প্রশাসনিক ভবনে আগুন ধরে যায় এবং ড্রোনের টুকরো একটি জ্বালানি টার্মিনালে পড়ে। আহত দুজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া ড্রোন হামলায় আনাপা শহরের কয়েকটি ব্যক্তিগত বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়।

    ইউক্রেনের সেনাবাহিনী শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল স্টারোবিলস্কে রুবিকন ইউনিটের সদর দপ্তর। তারা অভিযোগ করে, এই বিশেষ ড্রোন ইউনিটটি নিয়মিতভাবে ইউক্রেনের বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামোর ওপর হামলা চালিয়ে আসছে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইউক্রেনীয় বাহিনী আন্তর্জাতিক মানবিক আইন, যুদ্ধের আইন ও রীতিনীতি কঠোরভাবে মেনে শুধুমাত্র সামরিক অবকাঠামো ও সামরিক কাজে ব্যবহৃত স্থাপনাগুলোতেই হামলা চালাচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসনের দখলকৃত এলাকায় রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবির সদর দপ্তরে হামলা চালানো হয়েছে। এতে প্রায় ১০০ জন রুশ দখলদার নিহত বা আহত হয়েছে। রাশিয়ার সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ক্রেমলিনপন্থী একটি টেলিগ্রাম চ্যানেল বড় ধরনের ড্রোন হামলার পর হতাহতের খবর দিয়েছে।

  • সমকামিতার সমালোচনা করায় সেনেগালের প্রধানমন্ত্রী বরখাস্ত

    সমকামিতার সমালোচনা করায় সেনেগালের প্রধানমন্ত্রী বরখাস্ত

    সেনেগালের প্রেসিডেন্ট বাসিরু দিওমায়ে ফায়ে কয়েক মাসের রাজনৈতিক উত্তেজনার পর প্রধানমন্ত্রী ওসমান সোনকোকে বরখাস্ত করেছেন এবং সরকার ভেঙে দিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সোনকোর পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি সমকামিতা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে, এক আকস্মিক অধ্যাদেশের মাধ্যমে এ খবর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানানো হয়। পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটি ইতোমধ্যে ব্যাপক ঋণের বোঝার মধ্যে থাকায় ঘটনাটি রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়িয়েছে।

    সোনকো সম্প্রতি পশ্চিমা বিশ্বের তীব্র সমালোচনার জবাবে বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো অন্য দেশের ওপর সমকামিতার ‘চাপ’ তৈরি করার চেষ্টা করছে। সমকামিতার অপরাধের জন্য শাস্তি কঠোর করার একটি নতুন আইন সেনেগালে পাশ হওয়ায়, সোনকো এই মন্তব্য করেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে বরখাস্ত করা হয়।

    তিনি ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের সমালোচনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘যদি তারা এই পথ বেছে নেয়, সেটা তাদের সমস্যা। এ বিষয়ে আমাদের শিক্ষার প্রয়োজন নেই।’

    প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তা ওমর সাম্বা অধ্যাদেশটি পড়ে শোনান এবং জানান, প্রেসিডেন্ট ফায়ে সোনকোকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছেন, যার ফলে সরকারের অন্যান্য মন্ত্রীরাও পদত্যাগ করেছেন। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা এখনও ঘোষণা করা হয়নি। বরখাস্ত হওয়ার পর সোনকো সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আজ রাতে আমি কুয়ের গরগুইয়ে শান্তিতে ঘুমাব।’ কুয়ের গরগুই সোনকোর নিজ এলাকা, যা ডাকারের মধ্যে অবস্থিত। এ সময় তার শত শত সমর্থক তার বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন।

    প্রেসিডেন্ট ফায়ে মূলত সোনকোর সমর্থনের ওপর ভর করে ক্ষমতায় এসেছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে সোনকোই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সবচেয়ে সম্ভাবনাশীল ব্যক্তি ছিলেন, তবে মানহানির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেননি। সোনকো এবং ফায়ে একসময় পাস্তেফ পার্টি গঠন করেছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে দুর্নীতি রোধ এবং অর্থনীতি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রথম ধাপের ভোটেই তারা জয়লাভ করেন।

    সেনেগালের তরুণদের মধ্যে সোনকো ব্যাপক জনপ্রিয়, বিশেষ করে তাঁর প্যান-আফ্রিকান মনোভাব এবং সাবেক ঔপনিবেশিক ফ্রান্সের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তরুণদের আকৃষ্ট করে। তবে সব ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট ফায়ের হাতে থাকায়, তিনি চাইলে অধ্যাদেশের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে সরাতে পারেন।

    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী দুইজনের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠেছে। গত মে মাসে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ফায়ে প্রকাশ্যভাবে সোনকোর একক আধিপত্যের সমালোচনা করেন। সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নতুন প্রশাসন বিশাল ঋণের বোঝার মধ্যে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, সেনেগালের ঋণের পরিমাণ মোট জিডিপির ১৩২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা সাব-সাহারা আফ্রিকার মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

    সম্প্রতি পার্লামেন্টে পাশ হওয়া একটি নতুন বিলের মাধ্যমে ২০২৯ সালের নির্বাচনে সোনকো অংশগ্রহণ করতে পারবে। এই আইনি সংস্কার পূর্বের নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়েছে, যা মানহানির মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তিদের নির্বাচনে দাঁড়াতে বাধা দিত।

  • ইরান যুদ্ধে মার্কিন ‘রিপার’ ড্রোনের ২০ শতাংশ ধ্বংস।

    ইরান যুদ্ধে মার্কিন ‘রিপার’ ড্রোনের ২০ শতাংশ ধ্বংস।

    যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির চালকবিহীন ড্রোন ‘এমকিউ-৯ রিপার’ বহরে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। ইরানের সাথে চলমান সংঘাতে মার্কিন বিমানবাহিনীর মোট রিপার ড্রোন বহরের প্রায় ২০ শতাংশই ধ্বংস হয়ে গেছে। ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরান এ পর্যন্ত প্রায় ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) মার্কিন ডলার মূল্যের এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ধ্বংস করেছে, যা যুদ্ধপূর্ববর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মজুদে থাকা মোট ড্রোনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। এর মধ্যে বেশ কিছু ড্রোনকে আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। আবার অনেকগুলো ড্রোন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়ে মাটিতেই ধ্বংস হয়েছে।

    এমকিউ-৯ রিপার মূলত একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল নজরদারি ড্রোন, যা একই সাথে হেলফায়ার মিসাইল বা গাইডেড বোমার মতো ভারী অস্ত্র বহন ও নিখুঁত হামলা চালাতে সক্ষম। ব্লুমবার্গের জানায়, চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩০টি রিপার ড্রোন হারিয়েছে। এই সংখ্যাটি চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন ‘কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস’-এর দেওয়া তথ্যের (২৪টি) চেয়েও বেশি। ড্রোনের এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুদ্ধের সামগ্রিক ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    চলতি মে মাসে রয়টার্সকে দেওয়া পেন্টাগনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার তথ্যমতে, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধের ব্যয় ইতোমধ্যে প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।এই প্যাটার্ন ম্যাপিংয়ের পেছনে রাশিয়ার প্রত্যক্ষ সহযোগিতা থাকতে পারে বলে ধারণা করছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা চুক্তির অংশ হিসেবে রাশিয়া মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সেনাদলের স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহ করে ইরানকে সাহায্য করে আসছে। মূলত ইরান নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ব্যবস্থার পাশাপাশি রুশ ও চীনা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি মিশ্রণ ব্যবহার করছে।

    গত এপ্রিল মাসে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর মাত্র কয়েকদিন আগে ইরান একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিল, যা ওয়াশিংটনকে চরম নাটকীয় পরিস্থিতির মুখে ফেলে দেয়।

    এর আগে, ২০২৫ সালের জুনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালালে দুই দেশের মধ্যে পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হয়। মিডল ইস্ট আই-এর পূর্ববর্তী এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেই যুদ্ধের পরই চীন ইরানকে অত্যাধুনিক সারফেস-টু-এয়ার (ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য) মিসাইল ব্যাটারি সরবরাহ করেছিল। বেজিং ও মস্কোর এমন কৌশলগত সহায়তায় শক্তিশালী হয়ে ওঠা ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন মার্কিন বিমানবাহিনীর জন্য এক বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে

  • ইরান যুদ্ধ: তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

    ইরান যুদ্ধ: তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

    ইরানে চলমান সামরিক পরিস্থিতির কারণে তাইওয়ানের জন্য নির্ধারিত প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও এক সিনেট শুনানিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ওই শুনানিতে হাং কাও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানে পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথ সামরিক অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ ও অস্ত্র মজুত নিশ্চিত করতে চায়। এ অভিযানের কোডনাম ‘এপিক ফিউরি’। তিনি বলেন, আমাদের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় মজুত নিশ্চিত করতে সাময়িক বিরতি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন প্রয়োজন মনে করলে বিক্রি পুনরায় চালু হবে। তবে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অস্ত্র বিক্রিতে কোনো পরিবর্তন বা স্থগিতের বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানেন না।

    দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছে চীন। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের কথাও একাধিকবার উল্লেখ করেছে। স্থগিত হওয়া এই ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র, বিশেষ করে লকহিড মার্টিনের পিএসি-৩ এবং সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। কয়েক মাস ধরেই এ প্যাকেজটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

    সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প এ বিষয়ে সরাসরি অবস্থান না নিয়ে বলেন, তাইওয়ানের অস্ত্র বিক্রি চীনের সঙ্গে আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দরকষাকষির উপাদান হতে পারে। তিনি আরো জানান, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বেইজিং সফরের সময় শি জিনপিং ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলো তাইওয়ান। পরে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি শি’র সঙ্গে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি খুব বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন।

    এদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে সরাসরি তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের সঙ্গে কথাও বলতে পারেন, যা দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক রীতির বাইরে এবং এতে চীনের ক্ষুব্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত ডিসেম্বরেও যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের জন্য ১১ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন করলে চীন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়।

  • এবার ঈদুল আজহায় মুসলিমদের ছুটিতে কোপ শুভেন্দুর

    এবার ঈদুল আজহায় মুসলিমদের ছুটিতে কোপ শুভেন্দুর

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালের শুরুতে প্রকাশিত ছুটির তালিকায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে দুই দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছিল তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তবে রাজ্যটিতে সরকার পরিবর্তনের পর সেই সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনল নতুন বিজেপি সরকার। শনিবার জারি করা এক নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এবার ঈদুল আজহায় একদিনই সরকারি ছুটি থাকবে। আগামী ২৮ মে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিক সংস্কারে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি সরকারি দফতরে কর্মসংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতেও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। সরকারি পরিষেবা দ্রুত ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে নিশ্চিত করতে অপ্রয়োজনীয় ছুটি ও গাফিলতির সংস্কৃতি কমানোর ওপর জোর দিচ্ছে নতুন সরকার। এছাড়া সরকারি কর্মীদের অফিসে উপস্থিতির সময়ও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ঈদুল আজহার ছুটি কমানোর সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক শৃঙ্খলার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, বছরের শুরুতেই সাধারণত সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে প্রকাশিত তালিকায় ২৬ ও ২৭ মে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে শনিবার অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পি কে মিশ্র নতুন নির্দেশনা জারি করে জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের ছুটির তালিকার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবার একদিনের ছুটি কার্যকর করা হচ্ছে। এদিকে নতুন এই সিদ্ধান্তের পর সরকারি কর্মীদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, ভবিষ্যতে দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটির ক্ষেত্রেও কি কোনো কাটছাঁট হতে পারে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে গুলি, হামলাকারীসহ নিহত ৫

    যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে গুলি, হামলাকারীসহ নিহত ৫

    যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগোতে একটি মসজিদ ও ইসলামিক স্কুল কমপ্লেক্সে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই ঘটনাটিকে একটি বর্ণবাদী ও ঘৃণা-প্রসূত অপরাধ বা ‘হেইট ক্রাইম’ হিসেবে সন্দেহ করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

    সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াল জানিয়েছেন, সোমবার সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার ‘ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগো’ বা আইসিএসডিতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারী দুজনও পরে নিজেদের গুলিতে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ঘটনাস্থলটি একটি ইসলামিক সেন্টার হওয়ায় বিষয়টি কোনোভাবেই হালকা করে দেখা হচ্ছে না। পুলিশ প্রধান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত অন্য কোনো তথ্য-প্রমাণ না মিলছে, ততক্ষণ একে বর্ণবাদী অপরাধ হিসেবেই বিবেচনা করছে পুলিশ।

    সন্দেহভাজন হামলাকারী দুজনের বয়স আনুমানিক ১৭ ও ১৯ বছর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াল আরো জানান, নিহতদের মধ্যে একজন ছিলেন ওই ইসলামিক সেন্টারের নিরাপত্তারক্ষী। হামলা রুখতে এবং এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা যেন আরো বড় বিপর্যয় বা গণহত্যোয় রূপ না নেয়, তা নিশ্চিত করতে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন।

    নিহত তিনজনের সকলেই প্রাপ্তবয়স্ক। ঘটনার শুরুতে সান ডিয়েগো পুলিশ বিভাগ সেখানে একজন সক্রিয় বন্দুকধারী থাকার কথা জানিয়ে সতর্কবার্তা দিলেও পরে জানায় যে হুমকি ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়েছে।

    এই ভয়াবহ ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মসজিদের ইমাম তাহা হাসান। তিনি আইসিএসডিকে এমন এক মিলনমেলা হিসেবে বর্ণনা করেন যেখানে মুসলিম এবং অমুসলিম- সবাই একসাথে জড়ো হন, প্রার্থনা করেন, শিক্ষা নেন এবং আনন্দ উৎসব ভাগাভাগি করেন।

    ইমাম তাহা হাসান আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, একটি এবাদতের কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে এমন হামলা চালানো অত্যন্ত জঘন্য এবং মারাত্মক আপত্তিকর। আমাদের এই ইসলামিক সেন্টারটি শুধুই একটি পবিত্র এবাদতের জায়গা। এদিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়িয়ে সান ডিয়েগোর মেয়র টড গ্লোরিয়া জোর দিয়ে বলেছেন, এই শহরে ঘৃণার কোনো স্থান নেই।

    স্থানীয় মুসলিমদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের প্রার্থনা আপনাদের সাথে আছে। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, এই শহরে আপনারা যেন নিরাপদ বোধ করতে পারেন তার জন্য যা যা করা দরকার আমরা সব করব। এই সংবেদনশীল সময়ে আমাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং স্থানগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের সম্পদের কমতি রাখা হবে না। সান ডিয়েগোর ডাউনটাউন বা মূল শহরের উত্তরে অবস্থিত ক্লেয়ারমন্ট আবাসিক এলাকায় এই ইসলামিক সেন্টারটি অবস্থিত।

  • ট্রাম্পের ক্ষতিপূরণ তহবিল নিয়ে বিতর্ক

    ট্রাম্পের ক্ষতিপূরণ তহবিল নিয়ে বিতর্ক

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত নতুন ক্ষতিপূরণ তহবিলকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এই তহবিল প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের সুবিধা দেওয়ার একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ।

    যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সোমবার জানায়, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় টার্গেট করা হয়েছে এমন কিছু ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ দিতে ১৭৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। সমালোচকদের ভাষায়, এটি একটি গোপন রাজনৈতিক তহবিল, যা ট্রাম্পের রাজনৈতিক মিত্রদের উপকৃত করবে।

    এই উদ্যোগ ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কৌশলের প্রতিফলন বলে মনে করেন অনেকে। ওরেগনের ডেমোক্র্যেট সিনেটর রন ওয়াইডেন অভিযোগ করে বলেন, এটি ডানপন্থীদের রাজনৈতিক সহিংসতার জন্য তৈরি একটি বিশাল গোপন তহবিল।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম বিতর্কিত পদক্ষেপ হয়ে উঠতে পারে এই তহবিল। একই সঙ্গে এটি রিপাবলিকান পার্টির জন্যও নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে

  • মধ্যপ্রাচ্য ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর মাথার দাম নির্ধারণ করছে ইরান

    মধ্যপ্রাচ্য ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর মাথার দাম নির্ধারণ করছে ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকোম) শীর্ষ কমান্ডার ব্র্যাড কুপারের মাথার দাম নির্ধারণ করতে যাচ্ছে ইরান। দেশটির সংসদে শিগগিরই এ বিষয়ে ভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

    ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি জানান, “ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা ব্যবস্থা” শিরোনামে একটি বিল প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে ট্রাম্প বা নেতানিয়াহু ও শীর্ষ কমান্ডার ব্র্যাড কুপারের মাথার দাম ৫০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৪৩.৫ মিলিয়ন পাউন্ড) পুরস্কার দেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

    ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, ফেব্রুয়ারিতে সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে লক্ষ্য করে হওয়া হামলার জন্য ট্রাম্প, নেতানিয়াহু এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দায়ী। এ ঘটনার জবাবে “প্রতিরোধ ও পাল্টা ব্যবস্থা” গ্রহণ করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন আজিজি।

    জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের আরেক সদস্য মাহমুদ নাভাবিয়ান বলেন, “যে ব্যক্তি ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে জাহান্নামে পাঠাবে”, তার জন্য পুরস্কার নির্ধারণের বিষয়ে সংসদ শিগগিরই ভোট দেবে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর সামরিক হামলা পুনরায় শুরু হলে তার জবাব হবে “বিধ্বংসী”।

    বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত এই পুরস্কার আইন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। কারণ, এতদিনের ধর্মীয় ফতোয়া বা রাজনৈতিক হুমকিকে এবার আনুষ্ঠানিক সংসদীয় পদক্ষেপে রূপ দেওয়ার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।

    এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান যদি তার বিরুদ্ধে কোনো হত্যাচেষ্টা চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র “অত্যন্ত কঠোর” জবাব দেবে এবং প্রয়োজনে ইরানকে “পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন” করে দেওয়া হবে।এদিকে “ব্লাড কভেন্যান্ট” নামের একটি প্রচারণা দাবি করেছে, ট্রাম্পকে হত্যার উদ্দেশ্যে তারা ইতোমধ্যে ২৭ মিলিয়ন ডলারের বেশি তহবিল সংগ্রহ করেছে।


    আরও পড়ুন · নির্ভরযোগ্য সূত্র:

  • ‘চিকেনস নেকের’ মহাসড়কের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় সরকারের।

    ‘চিকেনস নেকের’ মহাসড়কের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় সরকারের।

    ভারতের স্ট্র্যাটেজিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিমবঙ্গের ‘শিলিগুড়ি করিডোর’ বা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত সরু ভূখণ্ডের অনেকটা জমি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে হস্তান্তর করল রাজ্য সরকার।

    পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্য সচিবের জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এক বছর ধরে টালবাহানা করলেও নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই ‘যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য’ ওই অঞ্চলের সাতটি সড়ক ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অব ইন্ডিয়া ও ন্যাশনাল হাইওয়েজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন লিমিটেডের হাতে তুলে দিয়েছে।

    এতদিন পর্যন্ত রাজ্য সরকারের পূর্ত দপ্তরের হাতেই এই সড়কগুলো দেখভালের দায়িত্ব ছিল। এই সাতটি সড়কের মধ্যে পাঁচটিই সরাসরি শিলিগুড়ি করিডোরের মধ্যে দিয়ে গেছে। এখন এই হস্তান্তরের ফলে রাস্তাগুলোর সম্প্রসারণ, মেরামতির কাজ দ্রুত শুরু হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    আর সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে রাস্তার সম্প্রসারণ হলে ওই অঞ্চলে সড়কপথে সামরিক অভিযান অনেক সহজ এবং দ্রুত হবে।

    ভৌগোলিক দিক থেকে চিকেন্স নেকের অবস্থান ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনটি আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে অবস্থিত এই ভূখণ্ডটি সবচেয়ে সরু যেখানে – তার দৈর্ঘ্য মাত্র ২২ কিলোমিটার। এই ‘চিকেন্স নেক’ নেপাল, বাংলাদেশ ও ভূটান সীমান্তের খুব কাছাকাছি অবস্থিত।

    এই সরু ভূখণ্ডটি উত্তর-পূর্বের সেভেন সিস্টারস বা সাতটি রাজ্যের সঙ্গে বাকি দেশকে জুড়ে রেখেছে। এই অঞ্চলটির লাগোয়া সিকিমের উত্তরে রয়েছে আরেক প্রতিবেশী দেশ চীন। বিশেষজ্ঞরা জাতীয় সুরক্ষার দিক থেকেও এই পদক্ষেপকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন।

    ২০১৭ সালে ভূটান-চীন-ভারত তিন দেশের সীমানা যেখানে মিশেছে, সেই ডোকলামে সামরিক সংকটের পর থেকেই এই অঞ্চলের রাস্তা সম্প্রসারণ করা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্তরে চিন্তা-ভাবনা চলছিল।

  • রাশিয়ার কাছে ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে চায় ইরান

    রাশিয়ার কাছে ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে চায় ইরান

    ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করতে চায় বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের গণমাধ্যম আল হাদাথ। ফাঁস হওয়া একটি নথির বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো তেহরানের সবশেষ শান্তি প্রস্তাবের অংশ হিসেবে বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে।

    আল হাদাথের সোমবারের প্রতিবেদনটি ইংরেজিতে প্রকাশ করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্র মালিকানাধীন গণমাধ্যম আরটি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইরান দীর্ঘ সময়ের জন্য তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত রাখতে প্রস্তুত। তবে শর্ত হলো- তাদের উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

    আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) হিসাব অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে ৪০০ কেজির (৬০ শতাংশ) বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আছে। সাধারণত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য ৯০ শতাংশ বা এর বেশি মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের প্রয়োজন হয়।

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের অবসান ঘটাতে মস্কো শুরু থেকেই সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়ে আসছে। বিশেষ করে ইরানের ইউরেনিয়াম নিজেদের ভূখণ্ডে সংরক্ষণের আগ্রহও দেখিয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা শুধু প্রস্তাবই দেইনি, ২০১৫ সালে এ ধরনের প্রস্তাব সফলভাবে বাস্তবায়নও করেছিলাম।’

    সোমবার মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, তেহরানের সবশেষ প্রস্তাবটি ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছে। কারণ, তারা আগের প্রস্তাবটিতে নামমাত্র পরিবর্তন করে তা নতুন প্রস্তাব হিসেবে পাঠিয়েছে।

    স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা শুরুর সময় থেকেই ট্রাম্প দাবি করছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ওয়াশিংটনের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। গত সপ্তাহে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইউরেনিয়ামের মজুত হাতে পেলে তিনি মানসিকভাবে স্বস্তি পাবেন।

  • আরব আমিরাতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা

    আরব আমিরাতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন ধরেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষের বরাতে রোববার (১৭ মে) এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা ডন।
    আবুধাবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং তেজস্ক্রিয়তার মাত্রায় কোনো প্রভাব পড়েনি।

    আবু ধাবির মিডিয়া কার্যালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেছে, ড্রোন হামলার কারণে আল দাফরা অঞ্চলের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরের সীমানার বাইরে একটি জেনারেটরে আগুন লাগে। এই ঘটনায় আবুধাবি কর্তৃপক্ষ দ্রুত সাড়া দেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    এতে তেজস্ক্রিয় ঝুঁকি বা কেন্দ্রের কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি বলে পোস্টে বলা হয়েছে।
    দেশটির ফেডারেল অথরিটি ফর নিউক্লিয়ার রেগুলেশন নিশ্চিত করেছে যে, অগ্নিকাণ্ডে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা বা গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমে কোনো প্রভাব পড়েনি, সব ইউনিটই স্বাভাবিকভাবে সচল আছে।

    তবে দেশটিতে সর্বশেষ এই হামলা কারা চালিয়েছে- তা নিয়ে এখন পর্যন্ত কিছু বলা হয়নি।
    গত ৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও আরব আমিরাতের ওপর দফায় দফায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে আসছে আমিরাত।

  • মস্কোয় ইউক্রেনের ৫০০ ড্রোন হামলায় নিহত ৩, এক বছরের সবচেয়ে বড় আঘাত

    মস্কোয় ইউক্রেনের ৫০০ ড্রোন হামলায় নিহত ৩, এক বছরের সবচেয়ে বড় আঘাত

    রাশিয়ার রাজধানী মস্কোকে রাতভর পাঁচ শতাধিক ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। স্থানীয় ও সামরিক কর্মকর্তাদের বরাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস রোববার (১৭ মে) এই তথ্য জানিয়েছে।

    তাস জানিয়েছে, মস্কোর ওপর এই আক্রমণ গত এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় হামলা। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত তিনজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অনেকে।

    মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, মস্কোর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত খিমকিতে রোববার ভোররাতে একটি বাড়িতে ড্রোন হামলা হলে একজন নারী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া সেখানে ধ্বংসাবশেষের নিচে আরেকজন আটকে পড়েছেন।
    তিনি আরও বলেন, মস্কোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মিতিসচিতে ড্রোন হামলার ফলে ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুইজন নিহত হয়েছেন। হামলায় মস্কোতে মোটে ১২ জন আহত হয়েছেন।

    রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর ৫৫৬টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। সোবিয়ানিন জানান, শুধুমাত্র মস্কোর দিকে আসা ১২০টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।

    তাসের খবরে বলা হয়েছে, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে সুবোতিনো গ্রামে একটি বাড়িতে আগুন ধরেছে। এতে চারজন দগ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া ইস্ত্রা শহরে বেশ কয়েকটি ভবন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    এ ছাড়া রাশিয়ার ব্যস্ততম বিমানবন্দর শেরেমেতিয়েভোর প্রাঙ্গণে ড্রোনের কিছু অংশ পড়েছে। তবে এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
    অন্যদিকে রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, রাতভর রাশিয়া ২৮৭টি ড্রোন ছুড়েছে। এতে অন্তত নয়জন আহত হয়েছে।

  • রিজার্ভ সংকটে ভারতে বাড়ল জ্বালানির দাম

    রিজার্ভ সংকটে ভারতে বাড়ল জ্বালানির দাম

    আন্তর্জাতিক সংবাদঃ

    ভারতে দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকার পর অবশেষে বাড়ানো হলো জ্বালানির দাম। শুক্রবার দেশটির সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি তিন রুপি এবং সিএনজির দাম কেজিপ্রতি দুই রুপি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং রুপির অবমূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পেট্রোলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে লিটারপ্রতি ৯৭ রুপি ৭৭ পয়সা, যা আগে ছিল ৯৪ রুপি ৭৭ পয়সা। একইভাবে ডিজেলের দাম ৮৭ রুপি ৬৭ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৯০ রুপি ৬৭ পয়সা। তেল শিল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মুম্বাইয়ে পেট্রোলের দাম এখন ১০৬ রুপি ৬৮ পয়সা এবং চেন্নাইয়ে ১০৩ রুপি ৬৭ পয়সা। ডিজেলের দাম মুম্বাইয়ে ৯৩ রুপি ১৪ পয়সা, কলকাতায় ৯৫ রুপি ১৩ পয়সা এবং চেন্নাইয়ে ৯৫ রুপি ২৫ পয়সায় পৌঁছেছে।

    ভারত সরকার ২০২২ সালের এপ্রিলের পর থেকে জ্বালানির দাম বাড়ানো এড়িয়ে চলছিল। বরং ২০২৪ সালের মার্চে লোকসভা নির্বাচনের আগে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি দুই রুপি কমানো হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সেই স্থিতিশীলতা ধরে রাখা কঠিন করে তুলেছে।

    চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারত গড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৬৯ ডলারে অপরিশোধিত তেল আমদানি করলেও পরবর্তী মাসগুলোতে সেই দাম বেড়ে ১১৩ থেকে ১১৪ ডলারে পৌঁছায়। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত অপরিশোধিত তেল আমদানিতে প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। আমদানি ব্যয়ের তালিকায় এরপরেই রয়েছে ইলেকট্রনিক পণ্য, যার পরিমাণ ১১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার, এবং স্বর্ণ আমদানি সাত হাজার ২০০ কোটি ডলার।

    বর্তমানে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে প্রায় ৬৯ হাজার কোটি ডলার। তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় এই রিজার্ভ যথেষ্ট নয়। রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার সাবেক ডেপুটি গভর্নর মাইকেল দেবব্রত পাত্র সম্প্রতি এক প্রবন্ধে বলেছেন, শক্তিশালী অর্থনৈতিক অবস্থান নিশ্চিত করতে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অন্তত এক লাখ কোটি ডলারে উন্নীত করা প্রয়োজন।

    তার মতে, এক বছরের মধ্যে পরিশোধযোগ্য বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের সম্ভাব্য অর্থ প্রত্যাহার ঠেকাতে আরো ৬০ থেকে ৬৫ হাজার কোটি ডলার রিজার্ভ দরকার হতে পারে।

    বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে ভারতীয় রুপি এশিয়ার দুর্বলতম মুদ্রাগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। সংঘাত শুরুর সময় প্রতি ডলার কিনতে যেখানে ৯১ রুপি লাগত, এখন সেখানে খরচ হচ্ছে প্রায় ৯৫ রুপি। ফলে আমদানি ব্যয় আরো বেড়ে গেছে।

    বিবিসি বাংলা

  • ৩ দিনের চীন সফরে কী পেলেন ট্রাম্প

    ৩ দিনের চীন সফরে কী পেলেন ট্রাম্প

    চীনে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্র ফিরে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই সফর তার দ্বিতীয় মেয়াদের ক্ষমতায় আসার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সফর শেষে ট্রাম্প কী নিয়ে ফিরলেন সেটিই বোঝার চেষ্টা করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আল জাজিরা।

    শুক্রবার (১৫ মে) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প চেয়েছিলেন ইরানের তেল ও গ্যাসের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন যেন তেহরানের ওপর নিজেদের প্রভাব খাটায়। তার ধারণা ছিল, বেইজিংকে চাপ দিয়ে ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে আনা যেতে পারে। এমনকি হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে পরিচালিত কার্যক্রমেও চীনকে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে বলে তিনি মনে করেছিলেন।

    গত রাতে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও দ্রুত এই যুদ্ধের অবসান চান বলে তিনি বিশ্বাস করেন।তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করেছে। বেইজিংয়ের বক্তব্য, এই যুদ্ধ কখনোই শুরু হওয়া উচিত ছিল না এবং আর সংঘাত নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানে পৌঁছানো দরকার।

    চীন সফর শেষে ট্রাম্প আশা করছেন, বেইজিং হয়তো ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা আলোচনায় ভূমিকা রাখবে। তবে বাণিজ্য ইস্যুর মতো এখানেও এখন পর্যন্ত এমন কোনো লিখিত সমঝোতা নেই, যা থেকে বোঝা যায় চীন সরাসরি মধ্যস্থতায় নামছে।

    যদিও এই সফরে ট্রাম্পকে বিশেষ সম্মান দেখিয়েছে চীন। প্রেসিডেন্টের জন্য ছিল ব্যতিক্রমধর্মী আতিথেয়তা। তিনি সফর শেষ করেছেন ঝংনানহাই কমপ্লেক্সে, যা চীনের ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।অত্যন্ত গোপনীয়, রহস্যময় এবং বিশ্বের সবচেয়ে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থাপনাগুলোর একটি এই কম্পাউন্ডে বসবাস করেন শি জিনপিং এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতারা।

    চীনা কমিউনিস্ট পার্টির বাইরের খুব কম মানুষই সেখানে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং নেদারল্যান্ডসের রাজা।

    ট্রাম্পকে সম্মানিত ও গুরুত্বপূর্ণ অনুভব করানো ছিল চীনের বৃহত্তর কৌশলের অংশ। ভবিষ্যৎ সম্পর্কের পরিবেশ তৈরি করতেই এমন আয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।চীনের সরকারি সামাজিক মাধ্যমগুলোতে এই সফরকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরা হলেও বিস্তারিত খুব কমই জানানো হয়েছে।অবশ্য এটিই চীনের স্বাভাবিক কূটনৈতিক ধরন। শি জিনপিং সাধারণত খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করেন না।

    বেইজিংয়ের দৃষ্টিতে এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলা। সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও বৈরিতা কমিয়ে আগামী তিন বছরের জন্য একটি নতুন কাঠামো তৈরি করার চেষ্টা করেছে চীন।

    জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য তদারকির জন্য একটি বোর্ড অব ট্রেড গঠনের বিষয়েও আলোচনা করেছে।তবে এ নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তা সত্ত্বেও, ট্রাম্প মনে করছেন তিনি এই সফরে নিজের অনেক লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছেন।তিনি চীনের কাছে আরও বিমান বিক্রির বিষয়টি জোর দিয়ে তুলেছেন। ট্রাম্পের দাবি, বোয়িং দুইশ উড়োজাহাজ সরবরাহের একটি চুক্তি পেতে যাচ্ছে।

    এছাড়া আগামী তিন বছরে চীনে আরও বেশি কৃষিপণ্য রপ্তানির আশাও করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে কয়েক বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব অর্জন ট্রাম্পের জন্য বড় সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

    ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত করার বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে। এ কারণেই সফরে তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বড় কোম্পানির প্রতিনিধিরাও ছিলেন। সব মিলিয়ে, চীনে প্রায় চল্লিশ ঘণ্টার সফরকে সফল বলেই মনে করছেন ট্রাম্প।

    তবে এটিই দুই নেতার শেষ বৈঠক নয়। চলতি বছরে আরও অন্তত তিনটি বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি হবে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে, আর সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটন ডিসিতে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয় সফর।

  • ইরানসহ আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিয়ে আগ্রাসনবিরোধী চুক্তির প্রস্তাব সৌদি আরবের

    ইরানসহ আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিয়ে আগ্রাসনবিরোধী চুক্তির প্রস্তাব সৌদি আরবের

    মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এবং ইরানকে নিয়ে আগ্রাসনবিরোধী একটি চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। ইউরোপে স্নায়ুযুদ্ধের সময় উত্তেজনা কমাতে করা ১৯৭০–এর দশকের একটি চুক্তির আদলে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

    সৌদি আরবের এই উদ্যোগ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমর্থন পেয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই উদ্যোগকে সমর্থন করবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

    সৌদি আরব মূলত ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক হেলসিংকি অ্যাকর্ডসকে মডেল হিসেবে ধরে এই নতুন চুক্তির খসড়া তৈরি করছে। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইউরোপের সীমানাকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। একই সঙ্গে সব পক্ষ মানবাধিকার রক্ষা এবং অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক ও মানবিক বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে একমত হয়েছিল

    আরব এক কূটনীতিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের জন্য এমন একটি চুক্তিকে ‘বেশির ভাগ আরব ও মুসলিম দেশের পাশাপাশি ইরানও’ স্বাগত জানাবে। তবে ইরান এর আগে উপসাগরীয় দেশগুলোকে তাদের অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিল।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা কমাতে পারে, এমন যেকোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করবে ইসরায়েল। এ ছাড়া কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো এই চুক্তিতে কীভাবে সমাধান করা হবে, তা–ও পরিষ্কার নয়।

    তেহরান এই জলপথের ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে চায় এবং সেখানে জাহাজ চলাচলের জন্য নিজস্ব টোল ব্যবস্থাও চালু করেছে।যুদ্ধ শুরুর আগে সৌদি আরব ও অন্য উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের ওপর হামলা না করতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, যুদ্ধের ফলে ইরান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটির ইসলামি শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

    মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও এই আশঙ্কার প্রতিফলন দেখা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের পরও ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত প্রায় অক্ষত রয়েছে এবং দেশটির সরকারের পতনের কোনো লক্ষণ নেই।

    যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপসাগরীয় দেশগুলো বিভক্ত হয়ে পড়েছে। যুদ্ধ এড়ানোর চেষ্টা করা সত্ত্বেও ইরান থেকে হাজার হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হতে হয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোকে। বিপরীতে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিতে এসব দেশকে চাপ দিয়ে আসছে। #

  • বিশ্বের সবচেয়ে ঘৃণিত দেশ ইসরাইল!

    বিশ্বের সবচেয়ে ঘৃণিত দেশ ইসরাইল!

    ‘নিরা ডেটা’ তাদের ‘২০২৬ গণতন্ত্র ও দেশ সম্পর্কিত ধারণা’ গবেষণার অংশ হিসেবে নতুন এক বৈশ্বিক জরিপ প্রকাশ করেছে। জরিপ অনুসারে, ইসরাইলকে এখন বিশ্বের সবচেয়ে ঘৃণিত দেশ হিসেবে দেখা হয়। নেতিবাচক বা ঘৃণিত দেশের তালিকায় প্রথম পাঁচটি দেশের তালিকায় রয়েছে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র।

    অন্যদিকে সবচেয়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচিত পাঁচটি দেশ হলো— সুইজারল্যান্ড, কানাডা, জাপান, সুইডেন ও ইতালি। গবেষণার ফলাফলে ‘গ্লোবাল কান্ট্রি পারসেপশনস ২০২৬’ র‍্যাঙ্কিং-এর একেবারে তলানিতে স্থান পেয়েছে ইসরাইল। জরিপটি ৪৬ হাজার ৬৬৭ জন উত্তরদাতার ওপর করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে ১২৯টি দেশ ও তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে কিভাবে দেখা হয়, তা মূল্যায়ন করার জন্য মূলত গবেষণাটি করা হয়েছে।

    গাজায় গণহত্যা, ফিলিস্তিনিদের গণ-বাস্তুচ্যুতি, ফিলিস্তিনের মুসলিমদের অনাহারে রাখা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার মধ্যে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার আরো একটি লক্ষণ হলো এই ফলাফল। মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসঙ্ঘের বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক আদালতগুলো দখলদার ইসরাইল কর্তৃক আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের বিষয়ে সতর্ক করায় দেশটির বৈশ্বিক ভাবমূর্তি ধসে পড়েছে।

    গাজায় দখলদার ইসরাইলের আক্রমণের জেরে দেশটির মর্যাদার এই পতন ঘটেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইল ৭৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে, গাজার বেশিরভাগ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করেছে, প্রায় সমগ্র জনগোষ্ঠীকে বাস্তুচ্যুত করেছে এবং এমন সব শর্ত আরোপ করেছে, যেগুলোকে জাতিসঙ্ঘের বিশেষজ্ঞ ও গবেষকরা গণহত্যামূলক বলে বর্ণনা করেছেন।

    বিশ্বব্যাপী মর্যাদার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরও নাটকীয় পতন ঘটেছে। আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বের সবচেয়ে নেতিবাচকভাবে বিবেচিত দেশগুলোর মধ্যে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। এক্ষেত্রে রাশিয়া ও চীন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। মাত্র দুই বছরে ৩৮ পয়েন্ট হারানোর কারণে নেট পারসেপশন স্কোর ২০২৪ সালের +২২ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে -১৬ শতাংশে নেমে এসেছে।

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। এর মধ্যে ছিল ন্যাটো মিত্রদের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন, আগ্রাসী শুল্ক আরোপ, গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত হুমকি, ইউক্রেনের জন্য সাহায্য হ্রাস এবং ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সঙ্ঘাতে ওয়াশিংটনের ভূমিকা। সমীক্ষায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রকে এখন রাশিয়া ও ইসরাইলের পর বিশ্বের একটি প্রধান হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, জরিপে নির্বাচন, বাকস্বাধীনতা, রাজনৈতিক বহুত্ববাদ, নাগরিক শিক্ষা, ক্ষমতার পৃথকীকরণ, আইনের শাসন, সরকারি স্বচ্ছতা ও শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের মতো বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন করার মাধ্যমে নাগরিকদের কাছে সরাসরি জানতে চাওয়া হয়, তারা গণতন্ত্রকে কিভাবে অনুভব করে।

  • স্থানীয় নির্বাচন ইংল্যান্ডে শতাধিক মুসলিম কাউন্সিলর নির্বাচিত

    স্থানীয় নির্বাচন ইংল্যান্ডে শতাধিক মুসলিম কাউন্সিলর নির্বাচিত

    সর্বশেষ অনুষ্ঠিত যুক্তরাজ্যের স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনে ইসলামপন্থি ও ফিলিস্তিন এজেন্ডার সঙ্গে যুক্ত ৫৭৪ জন প্রার্থী বিজয় অর্জন করেছেন। ইংল্যান্ডে ১০০টিরও বেশি আসন নিশ্চিত করেছেন স্বতন্ত্র মুসলিম প্রার্থীরা। এ নির্বাচনে সব মিলিয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন পাঁচ হাজার ৬৬ জন।

    হেনরি জ্যাকসন সোসাইটির (এইচজেএস) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের স্থানীয় পরিষদগুলোতে নির্বাচিত প্রতি ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে ১ জনেরও বেশি মুসলিম এজেন্ডা নিয়ে প্রচার চালিয়েছেন।

    এইচজেএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, যদিও তাদের সবাই মুসলিম ছিলেন না, তবে তাদের কর্মসূচি সুস্পষ্টভাবে ইসলামের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এসব প্রার্থী সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এরা সবাই ক্রমাগত ও সুস্পষ্টভাবে মুসলিমদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলীকে তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডার কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে প্রচার চালিয়েছেন।

    মুসলিমপন্থি বিজয়ীদের মধ্যে ১৩২ জন স্বতন্ত্র, ৩৫০ জন গ্রিন পার্টির, ৮৪ জন লেবার পার্টির সদস্য এবং ছয়জন লিবারেল ডেমোক্র্যাট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

    ৫৭৪ জন প্রার্থীর মধ্যে একজন হলেন মোহাম্মদ সুলেমান, তিনি নিউক্যাসল থেকে গ্রিন পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ল্যাম্বেথের গ্রিন পার্টির প্রার্থী সাইকা আলী, অনলাইনে ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্য পোস্ট করে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তারপরও তিনি নির্বাচিত হয়েছেন।

    ম্যানচেস্টারের গ্রিন পার্টির প্রার্থী শামস সৈয়দ বলেছিলেন, গাজা ছাড়া রাজনীতিতে তার কোনো আগ্রহ নেই। তিনিও নির্বাচিত হয়েছেন।সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ব্রিটেনের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ মুসলিম। ইংল্যান্ডে মুসলিমদের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। তুলনামূলকভাবে, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসে জনসংখ্যার মাত্র প্রায় ২ শতাংশ মুসলিম। ২০২১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, উত্তর আয়ারল্যান্ডে এই সংখ্যা মাত্র ০.৬ শতাংশ।

    যুক্তরাজ্যে মুসলিম জনসংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। ২০০১ সালের আদমশুমারিতে জনসংখ্যার মাত্র ২ দশমিক৭ শতাংশ নিজেদের মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল। অন্যদিকে ২০১১ সালের আদমশুমারিতে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বাসিন্দা নিজেদের ইসলাম ধর্মাবলম্বী হিসেবে পরিচয় দেন।

  • ইরান নিয়ে ধৈর্য হারাচ্ছি -ট্রাম্প

    ইরান নিয়ে ধৈর্য হারাচ্ছি -ট্রাম্প

    চীনে সফরত অবস্থায় ইরান ইস্যুতে কড়া হুঁশিয়ার বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান ইস্যুতে তিনি ধৈর্য হারিয়ে ফেলছেন।

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনা ও আরব আমিরাত উপকূলের কাছে ইরানি বাহিনীর হাতে জাহাজ জব্দের খবর প্রকাশের পর এমন হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    গতকাল হোয়াইট হাউজ জানায়, বেইজিংয়ে বৈঠকে ট্রাম্প এবং শি হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ আছে। এতে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।

    বৃহস্পতিবার রাতে ফক্স নিউজে ট্রাম্পের দেয়া সাক্ষাৎকার প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে ট্রাম্প বলেছেন, আমি আর বেশি ধৈর্য ধরব না। তাদের একটি সমঝোতায় আসা উচিত। ইরানের গোপন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মজুতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, আসলে, এটা পেলে আমার ভালোই লাগবে। শুধুমাত্র জনসংযোগের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এটি সুরক্ষিত করা প্রয়োজন।

    পরবর্তী সময়ে শুক্রবার ভোরে বেইজিং থেকে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান চলবে।এদিকে ট্রাম্পের এসব বার্তার পর ইরানের পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি বলেন, পুরোপুরি বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে অভিযান চলবে।

  • বিশ্ব ভারতের ঐতিহাসিক কামাল মওলা মসজিদকে মন্দির ঘোষণা

    বিশ্ব ভারতের ঐতিহাসিক কামাল মওলা মসজিদকে মন্দির ঘোষণা

    ভারতের মধ্যপ্রদেশে ভোজশালা কমপ্লেক্সের বিতর্কিত স্থানকে সরস্বতীর মন্দির হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার হিন্দু আবেদনকারীদের পক্ষে রায় দিয়েছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট।

    বিচারপতি বিজয় কুমার শুক্লা ও বিচারপতি অলোক আওয়াস্থির বেঞ্চ এ রায় দেয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ভোজশালায় একটি সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র এবং সরস্বতীর মন্দির ছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।

    আদালত বলেছে, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি যে এই স্থানে হিন্দু পূজার ধারাবাহিকতা কখনো বিলুপ্ত হয়নি। ঐতিহাসিক সাহিত্য থেকে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় যে, বিতর্কিত এলাকাটির চরিত্র ছিল ভোজশালা, যা পরমার রাজবংশের রাজা ভোজের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সংস্কৃত শিক্ষার কেন্দ্র ছিল।’

    আদালত মুসলিম সম্প্রদায়কে জেলায় একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য পৃথক জমি বরাদ্দের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে।

    হিন্দু সম্প্রদায় ভোজশালাকে রাজা ভোজ নির্মিত সরস্বতীর মন্দির বলে মনে করে। অন্যদিকে মুসলিম পক্ষ দাবি করে যে এই স্থানটি বহু শতাব্দী ধরে কামাল মওলা মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ২০০৩ সালের এএসআই চুক্তি অনুসারে, হিন্দু ও মুসলমানরা যথাক্রমে মঙ্গলবার ও শুক্রবার এখানে প্রার্থনা করে থাকেন।

    হিন্দু পক্ষ এই আদেশকে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করে এবং কমপ্লেক্সটিতে উপাসনার একচেটিয়া অধিকার দাবি করে। হাইকোর্ট ২০২৪ সালের ১১ মার্চ এএসআইকে ভোজশালা মন্দির-কামাল মওলা মসজিদ কমপ্লেক্সের একটি বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল। এএসআই সেই বছরের ২২ মার্চ সমীক্ষা শুরু করে এবং ৯৮ দিনব্যাপী একটি বিস্তারিত সমীক্ষার পর আদালতে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ধারের পরমার রাজাদের শাসনামলের একটি বিশাল কাঠামো এই মসজিদেরও আগে নির্মিত হয়েছিল এবং বর্তমান বিতর্কিত কাঠামোটি মন্দিরের পুনর্ব্যবহৃত অংশ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। হিন্দু পক্ষের দাবি, এএসআই এর বৈজ্ঞানিক জরিপের সময় প্রাপ্ত মুদ্রা, ভাস্কর্য এবং শিলালিপি প্রমাণ করে যে এই চত্বরটি মূলত একটি মন্দির ছিল।তবে, মুসলিম পক্ষ আদালতে যুক্তি দিয়েছে যে এএসআই এর জরিপ প্রতিবেদনটি পক্ষপাতদুষ্ট ছিল এবং হিন্দু আবেদনকারীদের দাবিকে সমর্থন করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল।

  • ভারতের ঐতিহাসিক কামাল মওলা মসজিদকে মন্দির ঘোষণা

    ভারতের ঐতিহাসিক কামাল মওলা মসজিদকে মন্দির ঘোষণা

    ভারতের মধ্যপ্রদেশে ভোজশালা কমপ্লেক্সের বিতর্কিত স্থানকে সরস্বতীর মন্দির হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার হিন্দু আবেদনকারীদের পক্ষে রায় দিয়েছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট।

    বিচারপতি বিজয় কুমার শুক্লা ও বিচারপতি অলোক আওয়াস্থির বেঞ্চ এ রায় দেয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ভোজশালায় একটি সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র এবং সরস্বতীর মন্দির ছিল বলে প্রমাণ মিলেছে। আদালত বলেছে, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি যে এই স্থানে হিন্দু পূজার ধারাবাহিকতা কখনো বিলুপ্ত হয়নি। ঐতিহাসিক সাহিত্য থেকে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় যে, বিতর্কিত এলাকাটির চরিত্র ছিল ভোজশালা, যা পরমার রাজবংশের রাজা ভোজের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সংস্কৃত শিক্ষার কেন্দ্র ছিল।’ আদালত মুসলিম সম্প্রদায়কে জেলায় একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য পৃথক জমি বরাদ্দের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে।

    হিন্দু সম্প্রদায় ভোজশালাকে রাজা ভোজ নির্মিত সরস্বতীর মন্দির বলে মনে করে। অন্যদিকে মুসলিম পক্ষ দাবি করে যে এই স্থানটি বহু শতাব্দী ধরে কামাল মওলা মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ২০০৩ সালের এএসআই চুক্তি অনুসারে, হিন্দু ও মুসলমানরা যথাক্রমে মঙ্গলবার ও শুক্রবার এখানে প্রার্থনা করে থাকেন। হিন্দু পক্ষ এই আদেশকে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করে এবং কমপ্লেক্সটিতে উপাসনার একচেটিয়া অধিকার দাবি করে।

    হাইকোর্ট ২০২৪ সালের ১১ মার্চ এএসআইকে ভোজশালা মন্দির-কামাল মওলা মসজিদ কমপ্লেক্সের একটি বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল। এএসআই সেই বছরের ২২ মার্চ সমীক্ষা শুরু করে এবং ৯৮ দিনব্যাপী একটি বিস্তারিত সমীক্ষার পর আদালতে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।প্রতিবেদনে বলা হয়, ধারের পরমার রাজাদের শাসনামলের একটি বিশাল কাঠামো এই মসজিদেরও আগে নির্মিত হয়েছিল এবং বর্তমান বিতর্কিত কাঠামোটি মন্দিরের পুনর্ব্যবহৃত অংশ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।

    হিন্দু পক্ষের দাবি, এএসআই এর বৈজ্ঞানিক জরিপের সময় প্রাপ্ত মুদ্রা, ভাস্কর্য এবং শিলালিপি প্রমাণ করে যে এই চত্বরটি মূলত একটি মন্দির ছিল।তবে, মুসলিম পক্ষ আদালতে যুক্তি দিয়েছে যে এএসআই এর জরিপ প্রতিবেদনটি পক্ষপাতদুষ্ট ছিল এবং হিন্দু আবেদনকারীদের দাবিকে সমর্থন করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল।