ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, আগামী ৩০ দিন হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি ইরানের হাতেই থাকবে। এ বিষয়ে অন্য কোনো পক্ষ বা রাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা নেই। রোববার (২৮ জুন) ইরাক সফরকালে তিনি এ কথা জানান।
আরাগচি বলেন, ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে আমি আমার ইরাকি সমকক্ষকে অবহিত করেছি।
তিনি বলেন, আগামী ৩০ দিন হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে ইরানের তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনায় থাকবে। সব প্রতিবন্ধকতা দূর হওয়ার পর প্রণালিটির পূর্ণ সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা হবে। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এই দায়িত্ব ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের। এ বিষয়ে অন্য কোনো পক্ষ বা রাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা নেই। সমঝোতা স্মারকে বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে স্পষ্ট করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা একতরফা পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি চালু হওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করবে।
ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলীয় শহর টম্বলেনে একটি ছোট বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রোববার (২৮ জুন) সকালে ন্যান্সি-এসে বিমানবন্দরের কাছে টম্বলেন পৌর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, তবে বিমানটিতে ঠিক কতজন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
এর আগে ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানায়, ন্যান্সি-এসে বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করা একটি বেসামরিক বিমান এ দুর্ঘটনায় পড়ে।
মিউরথ-এ-মোসেল প্রিফেকচার কর্তৃপক্ষ এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে জানায়, টম্বলেন পৌরসভায় একটি বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়েছ।
গভর্নর ইউভ সেগি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের অপারেশনাল সেবা সক্রিয় করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
ভারতের কেরালায় বাড়িভাড়া দিতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে একই পরিবারে চারজন। পুলিশ জানিয়েছে, রোববার পিরাভমের কাছে একটি নদী থেকে সাত বছর বয়সি এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে একই পরিবারের চার সদস্যের লাশ উদ্ধারের কাজ শেষ হলো।
শুক্রবার সন্ধ্যায় নদী থেকে শিশুটির দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মা ভিজি ও তার দুই বছর বয়সি ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। শনিবার উদ্ধার হয় শিশুটির বাবার লাশ। আর নিখোঁজ সাত বছরের মেয়েটির খোঁজ চলছিল রোববার সকাল পর্যন্ত। পরে পিরাভোমের কাছে নদী থেকেই তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
শনিবার থেকেই পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা মেয়েটির খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। তবে সেদিন তাকে পাওয়া যায়নি। রোববার সকালে আবার অভিযান শুরু হলে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
তদন্তের পর, পুলিশ ভিজি ও তার ছেলেকে কোঠামঙ্গলমের একটি ভাড়াবাড়ির বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করে। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার পর পুলিশ নিখোঁজ থাকা নারায়ণন ও দম্পতির মেয়ের সন্ধান শুরু করে। পুলিশের ভাষ্যমতে, পালাক্কাড়ের বাসিন্দা নারায়ণন তার পরিবারের সঙ্গে কোঠামঙ্গলমের একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন।
পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি নারায়ণন ও তার পরিবার আর্থিক সংকটের কারণে বাড়িভাড়া পরিশোধ করতে না পেরে কোট্টামঙ্গলম থানার কাছে সহায়তা চেয়েছিলেন। পুলিশ তাদের জন্য বিকল্প একটি বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছিল এবং রোববার সেখানে ওঠার কথা ছিল।
তদন্তে পিরাভোমের একটি রেস্তোরাঁর সিসিটিভি ফুটেজও উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার পরিবারের চার সদস্য একসঙ্গে খাবার খেয়েছিলেন।
পুলিশ পরিবারের স্বজন ও পরিচিতদের বক্তব্য নিয়েছে এবং একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি করাসহ দুইজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পুলিশের পাঁচজনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা হবে আগামীকাল রোববার। রায়ের এ কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
আজ শনিবার দুপুরে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি বলেন, ‘পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পঞ্চম রায় ঘোষণা হবে ২৮ জুন। পাঁচজনের বিরুদ্ধে এ রায় দেবেন ট্রাইব্যুনাল-১। রায়ের পুরো কার্যক্রম বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট সাক্ষ্য দিয়েছেন ১৩ জন।’
এ মামলায় অভিযুক্ত মোট পাঁচ আসামির মধ্যে শুধুমাত্র রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার গ্রেপ্তার রয়েছেন। বাকি চারজন হলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক উপ-পরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।
এর আগে, গত ১৫ জুন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের দ্বিতীয় দফায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়। ওই দিন প্রথমেই রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন। এ ঘটনার সঙ্গে তার মক্কেলের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি। তবে মামলার পাঁচ আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছিলেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২৮ জুন দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
গত ১০ জুন পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। জবানবন্দিতে এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে অভিযোগও আনেন তিনি। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি প্রথম ধাপে সাক্ষ্য দেন এই আসামি। এ মামলায় চঞ্চল ছাড়া অন্যরা পলাতক রয়েছেন।
গত ৪ মার্চ এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু নতুন করে ডিজিটাল অ্যাভিডেন্স জমা দেওয়ার আবেদন করে প্রসিকিউশন। এরপর প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া আমির হোসেনকে পুনরায় সাক্ষ্য দিতে হয়।
গত বছরের ৭ অগাস্ট প্রসিকিউশন এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১।
তুরস্কের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএফডিএ) ভেনেজুয়েলায় উদ্ধার অভিযান ও মানবিক সহায়তা জোরদারে দুটি সামরিক পরিবহন বিমান পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।
এএফডিএ জানিয়েছে, তুর্কি সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে একটি এ-৪০০এম সামরিক পরিবহন বিমান উদ্ধারকারী ও মানবিক সহায়তা দল বহনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে ইস্তাম্বুল, ইজমির ও দেনিজলি থেকে ৩৮ সদস্যের অনুসন্ধান ও উদ্ধার এবং মানবিক সহায়তা দল অংশ নেবে।
এছাড়া বিমানটিতে পাঁচ সদস্যের জাতীয় মেডিকেল রেসকিউ টিম, তুর্কি রেড ক্রিসেন্টের দুই সদস্যের মানবিক সহায়তা দল, দুটি অনুসন্ধানী কুকুর এবং তিনটি পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান ও উদ্ধার যানবাহনও পাঠানো হবে।
অন্যদিকে, তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও একটি এ-৪০০এম সামরিক পরিবহন বিমান পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বিমানে ২২ সদস্যের হিউম্যানিটারিয়ান এইড ব্রিগেড দল এবং তাদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকবে।
এএফডিএ জানিয়েছে, দুটি বিমানই শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে ইস্তাম্বুল আতাতুর্ক বিমানবন্দর থেকে ভেনেজুয়েলার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস ও এর আশেপাশে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রায় ২৩৫ জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন শত শত মানুষ। নিখোঁজ রয়েছেন আরো বহু মানুষ।
তুরস্কের ইস্তাম্বুলের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১০ হাজারের বেশি ঐতিহাসিক নিদর্শন উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।
ইস্তাম্বুলের পুলিশপ্রধান সেলামি ইলদিজ বলেন, চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ওই দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বেসরকারি তুর্কি সংবাদমাধ্যম ডিএইচএ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ৩৬৬টি প্রাচীন মুদ্রা, শিলালিপি ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন। এগুলোতে প্রাচীন হিট-আইট, গ্রিক, রোমান, বাইজেনটাইন ও উসমানীয় যুগের মানুষের সামাজিক জীবন, ধর্মীয় বিশ্বাস ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নানা প্রতিফলন রয়েছে।
প্রত্নসম্পদ চোরাচালানের বিরুদ্ধে তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর অবস্থান নিয়ে আসছে। গত বছর বিদেশে পাচার হওয়া ১৮০টি শিল্পকর্ম দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয় দেশটি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলি আকবর ভেলায়াতি বলেছেন, উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর স্থিতিশীলতা হলো হরমুজ প্রণালি। আর এই জলপথ শতাব্দীব্যাপী ইরানের ব্যবস্থাপনার ফল। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমা দেশগুলো এই অঞ্চলে লুটপাট ও সহিংসতা ছাড়া আর কিছুই আনেনি।
শুক্রবার (২৬ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভেলায়াতি বলেন, উপসাগরীয় আরব দেশগুলো ইরানের কাছে ঋণী। কারণ হরমুজ প্রণালিতে শতাব্দীব্যাপী ইরানের ব্যবস্থাপনার ফলে এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় ছিল। কিন্তু পশ্চিমারা আসার পর এই অঞ্চলে লুটপাট ও সহিংসতাই শুধু বেড়েছে।
তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের এই রাজনৈতিক অপ্রাপ্তবয়স্কদের ভাড়াটে বিবৃতিতে আশ্বস্ত হওয়া উচিত নয়। জেনে রাখুন, আপনাদের টিকে থাকা এই টেবিলের উচ্ছিষ্টের ওপর নির্ভরশীল।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যবস্থার এই বড় পুনর্বিন্যাসে প্রান্তিক ক্ষুদ্র খেলোয়াড়দের কোনো আসন নেই। তারা বাদ পড়ে যাবে এবং তাদের কৌশলগত টিকে থাকা তেহরানের সহনশীলতার ওপর নির্ভর করবে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা ও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেছে। বাহিনীটি বলছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান কর্তৃক নির্ধারিত আনুষ্ঠানিক রুট ব্যবহার করেই কেবল নিরাপদে এই কৌশলগত জলপথ অতিক্রম করা সম্ভব।
১৯০০ সালের পর ভেনিজুয়েলার সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া ছেলেকে খুঁজে পেতে খালি হাতে কংক্রিটের বিশাল স্তূপ খুঁড়ে চলেছেন আম্পারো দেল জিউদিসে।
বুধবার সন্ধ্যায় ভেনিজুয়েলার উত্তরাঞ্চলে পরপর ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এসব ভয়াবহ ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি লা গুয়াইরা। সেখানে অসংখ্য পরিবারের মতো দেল জিউদিসের পরিবারেও নেমে এসেছে এক মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি।
ভেনিজুয়েলার লা গুয়াইরা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩৫ জনে। আহত হয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ৩০০ জন।
সময়ের সাথে সাথে সরকারি সহায়করা না পৌঁছনোয় হতাশ দেল জিউদিসে। খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টারত এই মা বলেন, ‘এখানে অনেক পাথর। খালি হাতে এগুলো সরানো অসম্ভব।’
তিনি যেখানে মনে করছেন তার ছেলে আটকে আছেন, সেখান থেকে অল্প দূরে বসে এ কথা বলেন। তার ২৩ বছর বয়সী নাতি আলেসান্দ্রো স্বেচ্ছাসেবী দমকলকর্মীর হেলমেট পরে নিখোঁজ বাবাকে খুঁজতে উদ্ধারকাজে যোগ দেন।
তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে একটি বহুতল ভবনের ধ্বংসাবশেষের দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘উনি ভেতরেই আছেন।’ প্রায় ২৫ হাজার মানুষের জনপদ লা গুয়াইরা একসময় ছিল রাজধানী কারাকাসের মানুষের ক্যারিবীয় সাগরের সৌন্দর্য উপভোগের জনপ্রিয় গন্তব্য। সুইমিংপুল-সমৃদ্ধ বহু উঁচু ভবন ভূমিকম্পে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেখানে।
অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ বৃহস্পতিবার অঞ্চলটি পরিদর্শন করে এটিকে দুর্যোগকবলিত এলাকা ঘোষণা করেন। এএফপির প্রতিনিধিরা সেখানে লুটপাটের ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেছেন। চারদিকে শুধু ধ্বংসস্তূপ আর আতঙ্কে স্তব্ধ মানুষের মুখ।
বিলাসবহুল সমুদ্রতীরবর্তী আবাসিক ভবনগুলো এখন ধাতু, কাচ ও কংক্রিটের স্তূপে পরিণত হয়েছে। সেগুলোর চারপাশে তখনো ধুলার মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছিল।
উপকূলীয় মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। উপকূলজুড়ে অনেক ভবন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অনেক ভবন পুরোপুরি ধসে গেছে। দুটি পাঁচতারকা হোটেলও ধসে পড়েছে। উদ্ধারকারী দল ও স্বেচ্ছাসেবীরা একসময় ১৫ তলা পর্যন্ত উঁচু ছিল এমন ভবনের ধ্বংসস্তূপে উঠে নিখোঁজ ব্যক্তিদের নাম ধরে ডাকতে থাকেন।
ভেনিজুয়েলায় একের পর এক আফটারশক অনুভূত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি ভবন প্রতিটি কম্পনেই বিকট শব্দে কেঁপে উঠছিল।
ভেনিজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত লা গুয়াইরা শহরে উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। বুধবার সন্ধ্যায় উত্তরাঞ্চলে পরপর ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানার পর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি হয়ে ওঠে উপকূলীয় এই শহর।
বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৫ জনে। আহত হয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ৩০০ জন। ধসে পড়েছে অসংখ্য বহুতল ভবন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলীয় মহাসড়ক এবং বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বহু আবাসিক ভবন। দুটি পাঁচতারকা হোটেলও সম্পূর্ণ ধসে গেছে।
এএফপির প্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় লুটপাটের ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেছেন। চারদিকে ধ্বংসস্তূপ, আতঙ্কিত মানুষের আর্তনাদ এবং নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজে ফেরার হৃদয়বিদারক দৃশ্যের মধ্যেই কিছু দুর্বৃত্ত লুটপাটে জড়িয়ে পড়ে।
উদ্ধারকারী দল ও স্বেচ্ছাসেবীরা ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে উঠে নিখোঁজ ব্যক্তিদের নাম ধরে ডাকতে থাকেন। একই সময়ে একের পর এক আফটারশকে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এরই মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে লা গুয়াইরাকে দুর্যোগকবলিত অঞ্চল ঘোষণা করেছেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম প্রয়োজনের তুলনায় ধীরগতিতে চলছে।
ভারতের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ দায়িত্ব পালনকালে নিহত ছয় সেনাসদস্যের নাম প্রথমবারের মতো প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্য এবং একজন ভারতীয় বিমানবাহিনীর সার্জেন্ট।
সরকার জানিয়েছে, এই ছয় বীর সেনাসদস্যের নাম নয়াদিল্লির জাতীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে (ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়াল) খোদাই করে সংরক্ষণ করা হবে।
২০২৫ সালে বিভিন্ন সামরিক অভিযানে প্রাণ উৎসর্গকারী সেনাসদস্যদের পূর্ণ তালিকার সঙ্গেই প্রথমবারের মতো প্রকাশ করা হয়েছে অপারেশন ‘সিঁদুর’-এ নিহত এই ছয় সদস্যের নাম।
জাতীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধের ‘ত্যাগ চক্র’ দেশের জন্য আত্মোৎসর্গকারী সেনাসদস্যদের স্মরণে নির্মিত। ১৬টি বৃত্তাকার গ্রানাইট দেয়াল নিয়ে গঠিত এই অংশে স্বাধীনতার পর থেকে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী প্রতিটি সেনাসদস্যের নাম, পদবি ও ইউনিট খোদাই করা রয়েছে। এবার সেই স্মৃতিফলকে যুক্ত হচ্ছে অপারেশন ‘সিঁদুর’-এ নিহত এই ছয় সেনাসদস্যের নামও।
গত বছরের ৭ মে, জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনার জের ধরে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে কথিত সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে হামলা চালায় ভারত। ওই সামরিক অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সিঁদুর’।
এর জবাবে পাকিস্তান পাল্টা হামলা চালালে দুই দেশের মধ্যে আকাশযুদ্ধ, ড্রোন হামলা এবং সীমান্তজুড়ে ব্যাপক গোলাবিনিময় শুরু হয়। চার দিন ধরে চলা এই সংঘাত ১০ মে শেষ হয়।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মতে, ‘সিঁদুর’ নামটি প্রতীকী অর্থে বেছে নেওয়া হয়েছিল। হিন্দু বিবাহিত নারীদের সিঁথিতে ব্যবহৃত লাল সিঁদুরকে প্রতীক হিসেবে নিয়ে পেহেলগাম হামলায় নিহতদের স্ত্রীদের ‘বিধবা হওয়ার’ ঘটনার প্রতিশোধের বার্তা তুলে ধরতেই এই নামকরণ করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তির আওতায় জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিদর্শনের সুযোগ পাবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি।
শুক্রবার (২৬ জুন) জাপানে এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রোসি বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আইএইএকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশাধিকার দিয়ে পরিদর্শনের সুযোগ দিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘একটি চুক্তি হয়েছে। সেই চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য আইএইএকে অবশ্যই প্রবেশাধিকার ও পরিদর্শনের সুযোগ দিতে হবে। আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই সেখানে যেতে পারব।’
তবে গ্রোসির এই বক্তব্যের আগে ইরান জানায়, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে না।
রাফায়েল গ্রোসি বলেন, চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা। ইরান সরকার বারবার দাবি করেছে যে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো উদ্দেশ্য নেই। তবে শুধু ঘোষণাই যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গ্রোসি বলেন, ‘উদ্দেশ্যের ঘোষণা যথেষ্ট নয়। আমাদের একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য যাচাই ব্যবস্থা প্রয়োজন।’ তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের পর যত দ্রুত সম্ভব এমন একটি যাচাই ব্যবস্থা কার্যকর করা উচিত।
আইএইএ প্রধান জানান, ইতোমধ্যে সংস্থাটির পরিদর্শকরা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রযুক্তিগত বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, ইরান সফরের প্রথম লক্ষ্য হবে আগে পরিদর্শন করা পারমাণবিক উপকরণে আইএইএর লাগানো সিল অক্ষত রয়েছে কিনা, তা যাচাই করা। পাশাপাশি কোনো পারমাণবিক উপাদান নিখোঁজ হয়েছে কিনা, সেটিও পরীক্ষা করা হবে।
এখনও পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর কত পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অক্ষত রয়েছে বা সেগুলো কোথায় রাখা হয়েছে—এ বিষয়ে আইএইএকে কোনো তথ্য দেয়নি ইরান।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। এর মাধ্যমে আগামী ৬০ দিন ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চালানোর পথ তৈরি হয়েছে।
তবে বুধবার ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। তেহরানের অবস্থান হলো, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতা এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আগে গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
আইএইএর হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর আগে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম মজুত ছিল। সংস্থাটির মানদণ্ড অনুযায়ী, ওই ইউরেনিয়াম আরও সমৃদ্ধ করা হলে তা প্রায় ১০টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য যথেষ্ট হতে পারে।
রাফায়েল গ্রোসি বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি যে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে এবং কোনো পারমাণবিক উপাদান অন্য কাজে সরিয়ে নেওয়া হয়নি, তা নিশ্চিত করতেই এই যাচাই কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এক রাতেই ইউক্রেন ৬৬০টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ক্রেমলিন। এটি ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এক রাতে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা।
শুক্রবার (২৬ জুন) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সবগুলো ড্রোনই ভূপাতিত করেছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী মস্কো, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ক্রিমিয়া উপদ্বীপ, কৃষ্ণ সাগর, আজভ সাগরসহ এক ডজনের বেশি অঞ্চলের আকাশে এসব ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। এ তথ্য রাষ্ট্রীয় প্ল্যাটফর্ম ম্যাক্স-এ প্রকাশ করা হয়েছে।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, রাজধানীর দিকে আসা অন্তত ৪৭টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ যেখানে পড়েছে, সেখানে জরুরি সেবা কর্মীরা কাজ করছেন। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে, মস্কো থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে তুলা অঞ্চলেও ব্যাপক ড্রোন হামলার কথা জানিয়েছেন গভর্নর দিমিত্রি মিলিয়ায়েভ। তিনি বলেন, শেকিনো জেলার একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে একজন নারী আহত হয়েছেন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার ভেতরে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। বিশেষ করে তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, যাতে যুদ্ধ পরিচালনায় রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব উৎসে চাপ সৃষ্টি করা যায়।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে। গত সপ্তাহেও ইউক্রেনের এক ড্রোন হামলায় মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।
ইসরাইলকে অবশ্যই শর্তহীনভাবে লেবানন ত্যাগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেম।শুক্রবার সরাসরি সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি এই দাবি করেন।
নাঈম কাসেম বলেন, ইসরাইল কোনো ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে লেবাননে অবস্থান করছে না। বরং তারা লেবাননকে গ্রাস করতে এবং দেশটি দখল করতে চায় বলেই সেখানে ঢুকেছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সংযম প্রদর্শন কোনো দুর্বলতা ছিল না, বরং এটি ছিল ধৈর্যের একটি সুপরিকল্পিত কৌশল।’
দীর্ঘ সহনশীলতাই বিজয়ের একমাত্র পথ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের ধৈর্যই ভবিষ্যৎ গঠন করে, সমীকরণ ওলটপালট করে দেয় এবং অত্যাচারীর নিপীড়নকে ভেঙে চূর্ণ করে।’
তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, লিটানি নদীর উত্তর অঞ্চলে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ বা অস্ত্র জমা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ইসরাইলের পূর্ণাঙ্গ এবং শর্তহীন প্রত্যাহারের পর অস্ত্র সংক্রান্ত বিষয়টি দেশের অভ্যন্তরে আলোচনা করা হবে।
তিনি দাবি করেন, ইসরাইলের এই আগ্রাসনের মূল উদ্দেশ্য ছিল হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণ নির্মূল করা। তবে তারা এই আগ্রাসন সফলভাবে রুখে দিয়েছেন।
নাঈম কাসেম উল্লেখ করেন, ইসরাইলি দখলের ফলেই এই প্রতিরোধ বা রেজিস্ট্যান্সের জন্ম হয়েছে।
তিনি জানান, তাদের যোদ্ধারা বর্তমানে আলী তাহের পাহাড়ে অবস্থান করছেন
হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেম লেবানন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শত্রুর বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একই সাথে তিনি বাইরের শক্তির খবরদারি এবং আমেরিকা ও ইসরাইলের স্বার্থ অনুযায়ী নির্দেশ বাস্তবায়ন বন্ধ করার দাবি জানান।
তিনি বলেন, লেবাননের কর্তৃপক্ষ দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীর সাথে শত্রুতা বা বৈরিতা করার ঝুঁকি নিতে পারে না।
তিনি দাবি করেন, তারা ইসরাইলি-আমেরিকান পরিকল্পনা বা প্রজেক্ট নসাৎ করে দিয়েছেন এবং এখন একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছেন।
নাঈম কাসেম আরো উল্লেখ করেন, লেবানন সরকার যদি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পথে এগিয়ে যায়, তবে এই প্রতিরোধ যোদ্ধা বা হিজবুল্লাহ সরকারের পাশে থাকবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ নিয়ে মন্তব্য করেছেন কাসেম। তিনি এই সমঝোতায় পৌঁছানোকে আমেরিকা ও ইসরাইলের পরাজয়ের একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বলে অভিহিত করেছেন।
নাঈম কাসেম বলেন, ইরান নিজের অবস্থানে দৃঢ় ও অবিচল থাকতে পেরেছে। এর ফলেই দেশটি এই সমঝোতা স্মারকে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের পরাজয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণ করে।
ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলাকে মানবিক ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন ইরানের প্রেসিনেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বৃহস্পতিবার ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে পাঠানো এক বার্তায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে হতাহতের ঘটনায় শোক ও সহানুভূতি প্রকাশ করেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, এই দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ভেনেজুয়েলার সরকার ও জনগণের পাশে রয়েছে। সেইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্ভোগ কমাতে ও চলমান উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করার জন্য জরুরি ত্রাণ, চিকিৎসা সহায়তা এবং মানবিক সাহায্য প্রদানে ইরানের প্রস্তুতির কথা জানান তিনি।
পেজেশকিয়ান এই ভূমিকম্পকে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেন। ভেনিজুয়েলার জনগণ এই দুর্যোগ শিগগিরই কাটিয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বুধবার রাতে ভেনেজুয়েলায় দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে এখন পর্যন্ত ২৩৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
মানবিক সংকট মোকাবিলায় ইরান, লেবানন এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা হিসেবে ১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাপান।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইএফআরসি) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি)।
এই অর্থ স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য, আশ্রয়, নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করার মতো জরুরি মানবিক কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে।
এ ছাড়া, লেবাননে বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে জাপান প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৬ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার সহায়তা দেওয়ার কথাও জানিয়েছে টোকিও।
জাপান সরকার বলেছে, যুদ্ধ ও অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস প্রায় কোনো বিরোধিতা ছাড়াই প্রতি বছর ইসরাইলি সামরিক বাহিনীকে শত শত কোটি ডলার অর্থায়ন করে আসছে। এই দেশে জাতীয় পদে আসীন হতে চাইলে, যেকোনো মূল্যে ইসরাইলকে সমর্থন করাটা প্রায় অপরিহার্য—দীর্ঘদিন ধরেই এটা প্রতিষ্ঠিত সত্য ছিল। অথচ সেই সমর্থনের কারণে যারা ফিলিস্তিনি ও লেবানিজ আমেরিকান, তাদের আত্মীয়স্বজনসহ লাখ লাখ মানুষ ক্রমাগত হত্যা, বাস্তুচ্যুতি ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।
কিন্তু ইসরাইলের জন্য অবাধ অর্থায়ন ও দায়মুক্তির দিন শেষ। তা আর কখনো ফিরে আসবে না। এই অকাট্য বাস্তবতা নিয়ে যার সন্দেহ আছে, তার নিউইয়র্ক সিটির নির্বাচনের দিকে তাকানো প্রয়োজন। নির্বাচনে ফিলিস্তিনপন্থি প্রার্থীরা পাঁচটি বরোতে বিপুল বিজয় লাভ করেছেন। এই ঐতিহাসিক ফলাফলের পেছনে অনেক কারণ ছিল। কিন্তু একটি বিষয় তারা নিঃসন্দেহে নিশ্চিত করেছেন যে, ফিলিস্তিনি অধিকারের প্রতি সমর্থন অভূতপূর্ব রাজনৈতিক পরিবর্তন আনছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে আর কিছুই আগের মতো থাকবে না।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৯টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার প্রায় সাথে সাথেই এটা স্পষ্ট হয়ে যায়, নিউইয়র্ক সিটির ওপর দিয়ে ফিলিস্তিনপন্থি একটি ঢেউ আছড়ে পড়ছে। এই অপ্রতিরোধ্য স্রোতের ব্যাপকতা প্রথম অনুভব করেন বিদায়ী প্রতিনিধি ড্যান গোল্ডম্যান, যিনি তার বামপন্থি প্রতিদ্বন্দ্বী নিউইয়র্ক সিটির সাবেক কম্পট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার চেষ্টা করছিলেন। গোল্ডম্যান তার পুরো রাজনৈতিক জীবনে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের নিপীড়নের একজন সোচ্চার সমর্থক ছিলেন এবং এই প্রচারণার শেষ পর্যন্ত তিনি এই অবস্থান বজায় রেখেছিলেন। তিনি ইসরাইল যে ফিলিস্তিনি ভূমি দখল করেছে তা মেনে নিতে রাজি নন। তিনি গাজায় সংঘটিত গণহত্যাকে অস্বীকার করেন এবং এমনকি স্বীকার করেন যে গত বছরের সিটি নির্বাচনে তিনি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র পদের ডেমোক্র্যাটিক মনোনীত প্রার্থী জোহরান মামদানিকে ভোট দেননি। আর ভোট না দেওয়ার কারণ ছিল, মামদানি ফিলিস্তিনি অধিকারের পক্ষে সোচ্চার।
যখন গোল্ডম্যানের ভোটাররা ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি থেকে মুক্তির দাবি জানাচ্ছিলেন, তখন ওয়াশিংটনে তাদের প্রতিনিধি নির্লজ্জভাবে ইসরাইলের সামরিক বাহিনীকে অর্থায়নের জন্য শত শত কোটি ডলার পাঠাচ্ছিলেন। এমনকি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার থেকে রক্ষা করার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী রিপাবলিকান-নেতৃত্বাধীন আইনের পক্ষে ভোটও দিয়েছিলেন।
বিগত বছরগুলোতে, এই ভোটগুলো হয়তো তার পুনঃনির্বাচনকে সুনিশ্চিত করত। এ বছর সেগুলোই তার বিরুদ্ধে কাল হয়ে দাঁড়ায়-যা কোনো বড় অঙ্কের অনুদান দিয়েও মোকাবিলা করা সম্ভব ছিল না।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার মাত্র চার মিনিটের মধ্যেই ফলাফল ঘোষণা করা হয়। গোল্ডম্যান ল্যান্ডারের কাছে ৩০ পয়েন্টে হেরে যান। তিনি কংগ্রেসের ইতিহাসে প্রথম সদস্য হিসেবে ইসরাইলের প্রতি তার দৃঢ় সমর্থনের কারণে সুস্পষ্টভাবে পরাজিত হন।
এক ঘণ্টা পর, একই ঘটনা আবার ঘটল। কয়েক মাস আগে, খুব কম লোকই বিশ্বাস করত যে, ফিলিস্তিনি অধিকারের প্রতি সোচ্চার কণ্ঠ দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ার তার প্রতিদ্বন্দ্বী আদ্রিয়ানো এস্পাইলাটের মতো পাঁচবারের ক্ষমতাসীন একজনকে পরাজিত করতে পারবেন। আমেরিকান ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি ও তার মিত্ররা এই প্রতিযোগিতায় লাখ লাখ ডলার ঢেলেছিল, আভিলা শেভালিয়ারের ওপর অবিরাম আক্রমণ চালিয়েছিল এবং এস্পাইলাটকে জেতানোর চেষ্টা করেছিল। তবে তা কাজে আসেনি। সবচেয়ে বিস্ময়কর অঘটনে আভিলা শেভালিয়ার এস্পাইলাটকে পরাজিত করেন। তার বিজয় সমাবেশের জনতা ‘ফিলিস্তিনকে মুক্ত করো!’ ধ্বনিতে গগনভেদী স্লোগান দিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠে।
এখন এটা স্পষ্ট যে, ইসরাইলের গণহত্যার বিরুদ্ধে আভিলা শেভালিয়ারের স্বচ্ছ নৈতিক অবস্থান তার প্রচারণার জন্য একটি হাতিয়ার ছিল—ঠিক যেমনটা ছিল ল্যান্ডার ও ক্লেয়ার ভালদেজের জন্য।
এক রাতের মধ্যেই কংগ্রেসের দুজন সদস্য হেরে গেলেন, যাদের দুজনেরই সবচেয়ে বড় দাতা হলো এআইপিএসি। এর একটি বড় কারণ হলো, তারা সেই সমর্থন পেয়েছিলেন শর্ত সাপেক্ষে: ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের গণহত্যা অস্বীকার করা এবং আমেরিকানরা যখন জীবনধারণের জন্য সংগ্রাম করছে, তখন ইসরাইলকে দেওয়া শত শত কোটি ডলারের পক্ষে ভোট দেওয়া। এই ঘটনা আমাদের দেশের রাজধানীতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যেখানে উভয় দলের কংগ্রেসের অধিকাংশ সদস্য এখনো সেই একই অনুদান গ্রহণ করেন এবং সেই একই ভোট দেন। একইভাবে, এই ঘটনাটিও আলোড়ন সৃষ্টি করছে যে, ফিলিস্তিনপন্থি মেয়র মামদানি ডেমোক্র্যাটিক নেতৃত্বের প্রচণ্ড চাপ সত্ত্বেও দ্ব্যর্থহীনভাবে ল্যান্ডার, আভিলা শেভালিয়ার ও ভালদেজকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং ভোটারদের কাছ থেকে বিপুলভাবে পুরস্কৃত হয়েছিলেন।
এরপরও নিশ্চয়ই এমন কিছু মানুষ থাকবেন যারা বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে নিজেদের বোঝাবেন যে শহরগুলো এবং ঐতিহ্যগতভাবে ডেমোক্র্যাট-সমর্থিত রাজ্যগুলো দেশের প্রতিনিধিত্ব করে না। কিন্তু জনমত জরিপ ভিন্ন কথা বলছে। টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনের মার্চ মাসের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে ভোটারদের ওপর চালানো জরিপে দেখা গেছে, ৭৬ শতাংশ ভোটার বিশ্বাস করেন যে ইসরাইল গণহত্যা চালাচ্ছে। অ্যারিজোনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সুইং স্টেটের ৭৬ শতাংশ ডেমোক্র্যাটও একই মত পোষণ করেন। এই পরিসংখ্যানটি, এই মাসে প্রকাশিত আমাদের জরিপে নিউইয়র্ক স্টেটজুড়ে ৭০ শতাংশ ডেমোক্র্যাটের মতামতের চেয়েও বেশি, যারা বলেছিলেন যে ইসরাইল গণহত্যা চালাচ্ছে।
তবে এটি কেবল জনমতের বিষয় নয় বরং ভোটারদের সংগঠিত করারও বিষয়। ফিলিস্তিনি অধিকারের পক্ষে জোরালো অবস্থান গ্রহণ করা আজকের রাজনীতিতে অন্য যেকোনো বিষয়ের চেয়ে বেশি শক্তি জোগায়। এই পরিবর্তনটি ঘটার জন্য একটি ‘লাইভস্ট্রিম’ করা গণহত্যার প্রয়োজন হয়েছিল। ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের নিপীড়ন ও নৃশংসতার মাত্রা একে লাখ লাখ ভোটারের জন্য একটি রেড-লাইন ইস্যুতে পরিণত করেছে, যারা এই ধরনের ভয়াবহতায় জড়িত কাউকেই সমর্থন করবে না।
যদিও ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতৃত্ব তা অস্বীকার করে যেতে পারেন, কিন্তু এটা স্পষ্ট যে, বাস্তবতাকে উপেক্ষা করার এই মনোভাবের কারণেই কমলা হ্যারিস ২০২৪ সালের নির্বাচনে জেতার জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ ভোট হারিয়েছেন। একই মনোভাব বজায় রাখলে ২০২৮ সালেও সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি রয়েছে। আগামীতে ভোটারদের দাবি স্পষ্ট: জাতীয়ভাবে, ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে ভোট দিতে ইচ্ছুক ভোটারদের মধ্যে ৭১ শতাংশ চান যে তাদের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ইসরাইলের কাছে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করার বিষয়টিকে সমর্থন করবে। সেইসঙ্গে তারা ইসরাইলি সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টিকেও সমর্থন করেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে, ইরানের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে ইসরাইলি সরকারের সাথে প্রকাশ্য বিরোধ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। যা থেকে মনে হচ্ছে যে রক্ষণশীল ভোটাররাও ইসরাইলকে সমর্থন করা থেকে সরে এসেছেন। মে মাসে নিউইয়র্ক টাইমসের এক জরিপে দেখা গেছে, ৪৫ বছরের কম বয়সী ৬৩ শতাংশ রিপাবলিকান ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা বন্ধ করার পক্ষে। এখনই কিছু বলাটা বেশি তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে, কিন্তু ডেমোক্র্যাটরা এখন পর্যন্ত যে সুযোগটি হাতছাড়া করেছেন, রিপাবলিকানরা তা গ্রহণ করে ‘ইসরাইলের প্রতি কঠোর’ দলের তকমা দাবি করবেন—এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
ভোটাররা যেদিকে ঝুঁকে আছেন, সেদিকে সরে আসা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতৃত্বের জন্য কঠিন হওয়া ঠিক হবে না। ডেমোক্র্যাটিক ভোটারদের কাছে ইসরাইলের সামরিক বাহিনীকে অর্থায়ন চালিয়ে যাওয়া সমকামী বিবাহ নিষিদ্ধ করার চেয়ে বেশি জনপ্রিয় নয়। যদি নিজেদের অবস্থান দ্রুত সংশোধন করা না হয়, তবে ডেমোক্র্যাটরা দেখতে পাবে যে সরকার গঠনের জন্য তারা নিজেরাই নিজেদের সবচেয়ে বড় বাধা।
সঠিক ও নৈতিক অবস্থান রাজনৈতিক কৌশলগত অবস্থানের সাথে মিলে যাবে-রাজনীতিতে এটা সবসময় নাও হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলিস্তিনি অধিকার কর্মীরা, যারা কয়েক দশক ধরে এই কাজ করে আসছেন, তারা জানেন যে অবিশ্বাস্য সাহসিকতার ফলেই তারা আজ এই অবস্থানে এসে পৌঁছেছেন। ডেমোক্র্যাটদের কাছে এখন সুযোগ রয়েছে তাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ানোর এবং সেই মূল্যবোধগুলোকে সমুন্নত রাখার, যেগুলোকে দলটি সবচেয়ে গভীরভাবে গুরুত্ব দেয় বলে দাবি করে। যা সঠিক এবং যা চিরকাল সঠিক ছিল, তা করে দেখানোর এখনই সময়। তা না করার আর কোনো অজুহাত বাকি নেই।
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস ও এর আশেপাশে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে প্রায় ২৩৫ জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন শত শত মানুষ। নিখোঁজ রয়েছেন আরো বহু মানুষ।
বৃহস্পতিবার হালনাগাদ তথ্যে ২৩৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলভারো বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত আমরা আমাদের স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে প্রায় ২৩৫ জন রোগী পেয়েছি, যারা এখানে পৌঁছানোর আগেই মারা গেছেন অথবা হাসপাতালে আসার পরপরই প্রাণ হারিয়েছেন।’
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে কারাকাস থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ১৯০০ সালের পর এটিই দেশটিতে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।
বহু বছরের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ভেনেজুয়েলার অবকাঠামো আগে থেকেই নড়বড়ে ছিল। এর মধ্যে দফায় দফায় আফটারশকের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।
ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৫২০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ২৫০টির বেশি ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের মধ্যে অন্তত আটটি হাসপাতাল, ভেনেজুয়েলার রেড ক্রসের সদর দপ্তর এবং ফরাসি দূতাবাস রয়েছে।
দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো জানিয়েছেন, লা গুয়াইরা রাজ্যে প্রায় ৭০ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিপর্যয়অঞ্চললাগুয়াইরা
কারাকাসের পাশেই অবস্থিত উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরা। এই রাজ্যেই রাজধানীর প্রধান বিমানবন্দর অবস্থিত। ভূমিকম্পে এই এলাকাটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এটিকে ‘বিপর্যয় অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
তিনি জানান, উদ্ধারকাজ দ্রুত করতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। রাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কারাকাস বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সেখানকার জরুরি কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা রাত জেগে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি সাহায্য পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। লা গুয়াইরা শহরের বাসিন্দা ইয়ামিলেথ জিমেনেজ জানান, তার ১৯ বছর বয়সি ছেলে একটি সাত তলা অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের নিচে আটকে আছে। ধ্বংসস্তূপ সরানোর মতো কোনো যন্ত্রপাতি সেখানে নেই। তিন দিন আগে তার বাবাও মারা গেছেন।
লা গুয়াইরা শহরের মানুষ খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন। সাহায্য না পেয়ে সাধারণ মানুষ নিজেরাই কারাকাস-লা গুয়াইরা হাইওয়ে দিয়ে উপকূলের দিকে পানি, খাবার ও ওষুধ নিয়ে যাচ্ছেন।
পেড্রো পেরেজ নামে ৬৪ বছর বয়সি এক ব্যবসায়ী জানান, তিনি বাড়ি ও ব্যবসা দুটোই হারিয়েছেন। এখন স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে রাস্তায় ঘুমাচ্ছেন।
রাস্তায়নামেনবাসিন্দারা
সরকারি ছুটির দিন থাকায় ভূমিকম্পের সময় অধিকাংশ মানুষ বাড়িতে ছিলেন। কম্পন শুরু হতেই বাসিন্দারা আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। মারিয়া আলেজান্দ্রা নামের এক বাসিন্দা জানান, সেখানের পরিস্থিতি হরর সিনেমার মতো ছিল।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছে কারাবোবো রাজ্যের মোরন শহরেও বহু ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে। সেখানে পানি ও বিদ্যুৎ নেই। একটি ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক এলাকার প্রায় ২০০ পরিবার তাদের তোশক, টেলিভিশন ও ওয়াশিং মেশিন নিয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
৪৭ বছর বয়সি দেনিস সেকেরা জানান, ভূমিকম্প শুরু হতেই তার ৫ বছরের নাতনি তার ৭৯ বছর বয়সি দাদাকে হাত ধরে উঠানে নিয়ে যায়। তারা রাতে বাইরে ঘুমিয়াছেন এবং এখন সাহায্যের অপেক্ষায় আছেন।
নিখোঁজ৪৬হাজারেরওবেশি
ইউএসজিএসের ধারণা অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে এবং তা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিরোধী নেতাদের তৈরি করা নিখোঁজ ব্যক্তিদের ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটে ৪৬ হাজার জনেরও বেশি মানুষের নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে রয়টার্স এই তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
ভেনেজুয়েলা দীর্ঘদিন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকলেও, এই বিপদে বিশ্বের অনেক দেশ সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে।
হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল দ্রুতই পৌঁছাবে। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ধন্যবাদ জানান।
যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করেছে, যাতে ভূমিকম্পের সাহায্য পাঠাতে কোনো বাধা না থাকে। ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করতে প্রস্তুত।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, তারা উদ্ধারকারী দল পাঠাবেন এবং পেন্টাগন কারাকাস বিমানবন্দর সচল করতে লজিস্টিক সাপোর্ট দেবে।
ভেনেজুয়েলার এই দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্বজুড়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
জাতিসংঘের ত্রাণ প্রধান টম ফ্লেচার বলেন, তারা আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় করছেন। এই দুর্যোগ মোকাবিলায় বড় ধরনের যৌথ প্রচেষ্টা প্রয়োজন। কারণ ভূমিকম্পের আগেই দেশটিতে ৮০ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তার প্রয়োজন ছিল।
পোপ লিও চতুর্দশ ভেনিজুয়েলার জন্য প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ইউরো সহায়তা পাঠিয়েছেন।
জাতিসংঘের ভেনিজুয়েলা মানবাধিকার মিশন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তারা একে ‘জীবন-মরণের বিষয়’ বলে উল্লেখ করেছেন।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মার্কিন সামরিক অভিযানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত ও গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে ওয়াশিংটন সরাসরি জড়িত। এই দুর্যোগে যুক্তরাষ্ট্র ১৫ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা ঘোষণা করেছে। সেই সাথে দুটি যুদ্ধজাহাজ, পরিবহন বিমান ও হেলিকপ্টার মোতায়েন করছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ‘আমাদের সাড়া হবে অনেক বড়, দ্রুত এবং কার্যকর।’
এছাড়া সুইজারল্যান্ড, স্পেন, ফ্রান্স, পর্তুগাল এবং মেক্সিকো ইতোমধ্যে বিশেষজ্ঞ ও উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে। চীন, ভারত, ব্রাজিল এমনকি যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানও ভেনেজুয়েলাকে সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছে।
তবে ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ তেল খাতে কোনো বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেনি। বিদেশি জ্বালানি কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, তাদের তেল অবকাঠামোগুলো সুরক্ষিত রয়েছে।
দুই দিনের এ আয়োজন সম্পর্কে সেখানে ডিডাব্লিউর মহাপরিচালক বারবারা মাসিং বলেন, ‘‘এ বছর আমাদের প্রতিপাদ্য, জার্নালিজম আউট লাউড। কারণ, ক্রমশ কোলাহলপূর্ণ হয়ে ওঠা এ পৃথিবীতে সাংবাদিকতাকে অবশ্যই সোচ্চার থাকতে হবে।”
তিনি আরো বলেন, ‘‘সুসংবাদ এটাই, যে সোশ্যাল মিডিয়া ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই)-এ যুগেও যে মাধ্যমগুলো তথ্য পাওয়ার জন্য মানুষ সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেন, সেগুলোর মধ্যে প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমগুলো তথ্যের প্রধান উৎস হিসেবে ঠিকই টিকে আছে। বিষয়টি আমাদের শক্তিশালী একটা ভিত্তি দেয়। এতে করে বিশ্বাসযোগ্যতা, তথ্যের নির্ভুলতা, প্রেক্ষাপট এবং সাংবাদিকতার প্রতি দীর্ঘমেয়াদী অঙ্গীকারের সুফল পাওয়া যায়।”
‘‘ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও এআই-এর মাধ্যমে সাংবাদিকতাভিত্তিক কনটেন্ট বিপুলভাবে উপকৃত হয়, যেগুলো মূলত অন্যদের তৈরি, অথচ অন্য কোনো ক্ষেত্রে আমরা এসব কখনোই মেনে নিতাম না” উল্লেখ করে তিনি যোগ করেন, ‘‘এ কারণে এমন টেকসই ব্যবসায়িক মডেল প্রয়োজন, যা মানসম্মত সাংবাদিকতাকে সহায়তা করবে এবং নিশ্চিত করবে যে, কনটেন্ট-ক্রিয়েটররা তাদের কাজের বিনিময়-অর্জনের ন্যায্য অংশ পাবেন। এভাবে আমরা গণতন্ত্র ও নিরাপত্তার সেবায় প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং সাংবাদিকতার দক্ষতার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে পারি।
”ডিডাব্লিউর মহাপরিচালক বারবারা মাসিং বলেন, ‘‘এ বছর আমাদের প্রতিপাদ্য, জার্নালিজম আউট লাউড। কারণ, ক্রমশ কোলাহলপূর্ণ হয়ে ওঠা এ পৃথিবীতে সাংবাদিকতাকে অবশ্যই সোচ্চার থাকতে হবে।’
বুধবার জিএমএফ-এর দ্বিতীয় দিনে ‘দ্য ভ্যালু অব জার্নালিজম’, অর্থাৎ ‘সাংবাদিকতার গুরুত্ব’ শীর্ষক সামগ্রিক গবেষণা প্রতিবেদন (মেটা-স্টাডি) প্রকাশ করে ডিডাব্লিউ অ্যাকাডেমি৷ প্রতিবেদনে স্বাধীন সাংবাদিকতা যে সমাজের জন্য উল্লেখযোগ্য জনমূল্য সৃষ্টি করে- এ বিষয়টি তুলে ধরা হয়৷ বারবারা মাসিং বলেন, ‘‘গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিনিয়োগ করা প্রতিটি ডলার উন্নত জনসেবা এবং দুর্নীতি হ্রাসের মাধ্যমে একশ ডলারেরও বেশি মূল্যের জনমূল্য সৃষ্টি করতে পারে। অথচ এর বিপরীতে ভুল তথ্যের কারণে সারা বিশ্বে সমাজকে প্রতি বছর ৩৫০ থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়।”
এর আগে গ্লোবাল মিডিয়া ফোরামের উদ্বোধনপর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন এ কারণে সাংবাদিকতাসংক্রান্ত কাজের গুরুত্ব আমাদের স্বীকার করে যেতে হবে এবং গণমাধ্যম-প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকার সক্ষমতা বজায় রাখতে হবে।নইলে গণমাধ্যমের বৈচিত্র্য ও দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে এবং সেক্ষেত্রে গণতন্ত্রের অন্যতম একটি ভিত্তিকে আমরা দুর্বল করে ফেলবো।
”নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের ফেডারেল, ইউরোপীয় ও গণমাধ্যম বিষয়ক মন্ত্রী নাথানায়েল লিমিনস্কি বলেন, ‘‘যারা তথ্য ও মতামতের বৈচিত্র্য আনেন, তাদের জন্য কেবল বিশ্বের অন্যান্য স্থানেই নয়, খোদ এখানে, অর্থাৎ জার্মানিসহ পুরো ইউরোপেও নিজেদের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ছে
জার্মানির বন শহরের ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স সেন্টার, বন (ডাব্লিউসিসিবি)-এ ১৯তম গ্লোবাল মিডিয়া ফোরামে অংশ নেন একশ’টিরও বেশি দেশের ১৪০০-রও বেশি মানুষ।
দুই দিনের এ আয়োজনে সমকালীন গণমাধ্যমের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল রাজনৈতিক চাপ ও সেন্সরশিপের মুখে গণমাধ্যমের টিকে থাকা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাবের মধ্যেও প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখা, নির্ভরযোগ্য তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, আরো নতুন দর্শককে সম্পৃক্ত করা এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে আরো শক্তিশালী করা।
এবারের আয়োজনে হংকংয়ের গণমাধ্যমে-উদ্যোক্তা ও গণতন্ত্রের প্রবক্তা জিমি লাইকে ডিডাব্লিউ ফ্রিডম অফ স্পিচ অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়। জিমি লাই এখন কারাবন্দি৷ তাই তার পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন তার মেয়ে৷
প্রথম আলো, দ্য হিন্দুসহ ভারত এবং বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা যায়। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান। ভারত থেকে উপস্থিত ছিলেন ভিকাটান মিডিয়া গোষ্ঠীর প্রধান শ্রীনিবাসন বালসুব্রহ্মণ্যম।
আইআরজিসির নৌবাহিনী ঘোষণা করেছে, হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার জন্য এই বাহিনীর সাথে সমন্বয় করা বাধ্যতামূলক।
ইরানিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনকে উদ্ধৃত করে পার্সটুডে জানিয়েছে, আইআরজিসি নৌবাহিনীর ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে: ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে অবহিত বা সমন্বয় না করে কিছু কর্তৃপক্ষ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের জন্য তাদের মতো করে একটি নতুন পথ ঘোষণা করেছে, যা অগ্রহণযোগ্য এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক।
আইআরজিসির ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে: “আমরা সকলকে জানাচ্ছি, হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার একমাত্র অনুমোদিত পথ হলো ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান কর্তৃক ঘোষিত পথ। এই পথগুলোর বাইরে নৌযান চলাচল অত্যন্ত বিপজ্জনক ও নিষিদ্ধ, এবং আমরা আপনাদেরকে ঘোষিত পথের বাইরে যেকোনো ধরনের চলাচল থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করছি।”
আইআরজিসির এই ঘোষণার শেষে বলা হয়েছে: “চ্যানেল ১৬ দিয়ে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার জন্য আইআরজিসির নৌবাহিনীর সাথে সমন্বয় আবশ্যক এবং নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”#
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত দক্ষিণ ইরানের মিনাব স্কুলের “ভয়াবহ অপরাধ”-এর নিন্দা জানিয়েছেন এবং এ নৃশংসতার সাথে জড়িত সকল অপরাধী, পরিকল্পনাকারী ও কমান্ডারদের পূর্ণ জবাবদিহিতার দাবি করেছেন।
ইরানিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনকে উদ্ধৃত করে পার্সটুডে জানিয়েছে, জাতিসংঘ মহাসচিবের ২০২৫ সালের প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা পরিষদের “শিশু ও সশস্ত্র সংঘাত” বিষয়ক বার্ষিক সভায় জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি বলেছেন, “জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি শাসনের ১২ দিনের আগ্রাসী যুদ্ধের ভয়াবহ মানবিক পরিণতি, বিশেষ করে শিশুদের উপর এর প্রভাব, যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি, যেখানে ১২ দিনের ওই আগ্রাসনের সময় ৪৭ জন ইরানি শিশু শহীদ হয়েছে।”
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রদূত জোর দিয়ে বলেন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল কর্তৃক ইরানি শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অন্যতম ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধের বিষয়টি সমাধান না করে আমরা শিশু সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা করতে পারি না।
ইরাভানি বলেন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে তাদের সাম্প্রতিক আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিক এবং বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এই আগ্রাসনের সময়, অন্যান্য বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি অসংখ্য স্কুল এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আঘাত হানা হয়েছে, ধ্বংস করা হয়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলায় পাঁচ বছরের কম বয়সী ১৭ জন শিশুসহ ২২০ জন শিশু শহীদ হয়েছে।
তিনি বলেন: সবচেয়ে ভয়াবহ অপরাধটি ঘটেছে হরমুজগান প্রদেশের মিনাব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। স্কুল চলাকালীন সময়ে, যখন ২৬৪ জন শিক্ষার্থী ক্লাসে ছিল, তখন স্কুলটিতে দুটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এই হামলায় ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী ১৬৮ জন ছাত্রী, তাদের শিক্ষক ও অভিভাবক শহীদ হন এবং আরও ৯৬ জনেরও বেশি আহত হন। অনেক ভুক্তভোগী ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছিলেন এবং বেশ কয়েকটি মৃতদেহ এতটাই বিকৃত হয়ে গিয়েছিল যে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ইরভানি বলেন: “ইরান দ্ব্যর্থহীনভাবে এই জঘন্য যুদ্ধাপরাধের নিন্দা জানায় এবং সকল অপরাধী, পরিকল্পনাকারী ও কমান্ডারদের পূর্ণ জবাবদিহিতা দাবি করে।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন: “মিনাবের শিশুদের স্মৃতির জন্য প্রয়োজন ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখানে নীরবতা গ্রহণযোগ্য নয়। শিশুদের সুরক্ষা বেছে বেছে হওয়া উচিত নয়। আন্তর্জাতিক আইন অবশ্যই সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে।”#
ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় উদ্ধার সহায়তা জোরদার করতে ফ্রান্স, স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও সুইজারল্যান্ড উদ্ধারকারী দল, অনুসন্ধানী কুকুর এবং ভারী সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। খবর আলজাজিরার।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে দক্ষ ৮৫ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল অবিলম্বে ভেনেজুয়েলায় পাঠানো হচ্ছে। তিনি ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কথা বলে দেশটির জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং বলেন, ফ্রান্স ও তার অংশীদার দেশগুলো প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
স্পেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর জরুরি ইউনিটের ৫৪ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল ভেনেজুয়েলায় মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এ দলে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অনুসন্ধানী কুকুরের পাশাপাশি উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত বিশেষ ক্যামেরা, জিওফোনসহ আধুনিক সরঞ্জাম রয়েছে।
নেদারল্যান্ডসও একটি উদ্ধারকারী দল পাঠানোর পাশাপাশি উদ্ধারকর্মী, অনুসন্ধানী কুকুর ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মোতায়েনের জন্য প্রায় ২০ লাখ ইউরো বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
অন্যদিকে সুইজারল্যান্ড জানিয়েছে, ‘সুইস রেসকিউ চেইন’-এর আওতায় ৮০ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল, আটটি অনুসন্ধানী কুকুর এবং ১৮ টন উদ্ধার সরঞ্জাম যত দ্রুত সম্ভব ভেনেজুয়েলায় পাঠানো হবে।
এদিকে বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা বিদ্যুৎচালিত ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। ভূমিকম্পের পর রাজধানী কারাকাসে আতঙ্কিত মানুষজন ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে নিজের রিপাবলিকান দলের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।এই বৈঠকের পরপরই যুদ্ধের খরচ মেটাতে কংগ্রেসের কাছে আরও কয়েক হাজার কোটি ডলার দাবি করেছে তার প্রশাসন।
রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার ওয়াশিংটনে এই উত্তপ্ত বাদানুবাদের ঘটনা ঘটে।
বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্য জানান, সিনেটর বিল ক্যাসিডির সঙ্গে ট্রাম্পের তীব্র চেঁচামেচি ও বাগবিতণ্ডা হয়।
ক্যাসিডি বলেন, গত সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে ট্রাম্প যে রূপরেখা চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন, তা নিয়ে প্রশাসনের ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। কারণ এই চুক্তিতে ইরানকে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প যেসব লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন, তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
ক্যাসিডি সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের যা জানানো হচ্ছে, মার্কিন জনগণের তার চেয়ে বেশি কিছু জানা দরকার। আমাদের যা বলা হয়েছিল, যুদ্ধ যেভাবে চলার কথা, পরিস্থিতি সেভাবে চলছে বলে মনে হচ্ছে না।
পরবর্তীতে প্রেসিডেন্টকে সন্তুষ্ট করার প্রচেষ্টায় রিপাবলিকান সেনেট নেতারা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের একটি প্রস্তাব আটকে দিতে গভীর রাতে ভোটাভুটির আয়োজন করেন। মে মাসে পাস হওয়া যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত ওই প্রস্তাবটি ৫০-৪৭ ভোটে আটকে দেয় সেনেট।
ভোটের পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, ‘এই ভোট ইরানকে সতর্ক বার্তা দিল।’ তবে এই ভোট আগের সিদ্ধান্তের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।
আগামী নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে এই যুদ্ধ ট্রাম্পের ওপর বড় রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।
এই উত্তপ্ত বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের কাছে যুদ্ধের খরচ বাবদ অতিরিক্ত ৭ হাজার কোটি ডলার দাবি করে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ৮৬ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের সামরিক বাজেটকে আরও বাড়িয়ে দেবে।
বুধবার রাতের ভোটাভুটিতে ক্যাসিডি প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে কেনটাকির রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল ভোটদানে বিরত থাকেন।
মেইন প্রদেশের সুসান কলিন্স এবং আলাস্কার লিসা মুরকোভস্কি নামের দুই রিপাবলিকান সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দেন। পেনসিলভানিয়ার জন ফেটারম্যান ছিলেন একমাত্র ডেমোক্র্যাট, যিনি প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন। মিচ ম্যাককনেল এবং মাইকেল বেনেট ভোট দেননি।
পরবর্তীতে বুধবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে ক্যাসিডি জানান, বিকেলে ইরান ইস্যুতে বিস্তারিত ব্রিফিংয়ের জন্য তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউজের এই দ্রুত সাড়া দেওয়াকে তিনি স্বাগত জানান।
ঢাকার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টার অংশ হিসেবে বাংলাদেশিদের জন্য আবার ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে ভারত। আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হাতে পরিচয়পত্র পেশের মধ্য দিয়ে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব শুরু করার পর যমুনা ফিউচার পার্কে ভারতীয় ভিসা সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন দীনেশ ত্রিবেদী।
ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ২৮ জুন থেকেই বাংলাদেশিদের জন্য আবার ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আবারও সাধারণ ভ্রমণ ভিসা চালুর ঘোষণা দিতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। ২৮ জুন থেকে ভিসা আবেদন জমা দেওয়া যাবে। মানবিক কারণে জরুরি মেডিকেল ভিসা প্রদানও চলতে থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে পাঁচটি ভিসা আবেদন কেন্দ্র—ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনা থেকে এই ভিসা দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে।
ভারতের এই হাইকমিশনার বলেন, ‘আশা করি, এর মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। হাইকমিশনার হিসেবে আমি প্রথম কাজটি করলাম। আমি অনেক খুশি। আশা করি, এখানকার সাধারণ মানুষও খুশি হবে।’
এ সময় হাইকমিশনার জানান, তিনি মাঝেমধ্যে ভিসা সেন্টারে এসে সাধারণ মানুষের কথা শুনবেন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের পরামর্শ নেবেন।
উত্তরপ্রদেশে আবারও যোগী প্রশাসনের ‘বুলডোজার নীতি’র নিষ্ঠুর শিকার হলো মুসলিমদের একটি ধর্মীয় উপাসনালয়। এবার কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই গভীর রাতের আঁধারে বুলডোজার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ঐতিহাসিক এক মসজিদ। বিরোধী দলগুলোর তীব্র বাধা এবং প্রতিবাদের তোয়াক্কা না করেই মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঐতিহ্যবাহী কাঠামোটি ধূলিসাৎ করে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের সম্ভল জেলার নাখাসা থানা এলাকার কাসেরওয়া গ্রামে।
হৃদয়বিদারক এই ঘটনার পর স্থানীয় মুসলিমদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। অন্যায্য এই উচ্ছেদ অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাসেরওয়া গ্রামে অবস্থিত ‘মুস্তফা কাদরি মসজিদ’ লক্ষ্য করে গভীর রাতে আচমকাই ভারী পুলিশ ফোর্স নিয়ে হানা দেয় জেলা প্রশাসন। দুটি বিশাল বুলডোজার নিয়ে মসজিদের ওপর চালানো হয় তাণ্ডব। প্রশাসনের দাবি, মসজিদটি নাকি সরকারি জমিতে ‘অবৈধভাবে’ নির্মাণ করা হয়েছিল।
কর্মকর্তারা অজুহাত দেখিয়েছেন যে, ওই জমিটি মূলত গ্রাম সভার এবং তা কবরস্থানের জন্য সংরক্ষিত ছিল। এর আগেও মসজিদের একটি অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, আর এবার রাতের অন্ধকারে বাকি অংশটুকুও মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হলো।
প্রশাসনের এই কাপুরুষোচিত অভিযানের টাইমিং নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার দিনই ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পূর্বের ভাঙচুরের ঘটনা পরিদর্শন করতে ওই গ্রামে অবস্থান করছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কংগ্রেস প্রতিনিধি দল গ্রাম থেকে বের হওয়া মাত্রই প্রশাসন পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং চিরুনি অভিযান শুরু করে।
শুধু মসজিদ ভাঙাই নয়, ঘটনার পরপরই অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে সমস্ত ধ্বংসাবশেষ ও রাবিশ ট্রাকে করে সরিয়ে ফেলা হয়, যাতে সেখানে কোনো মসজিদের অস্তিত্ব ছিল—তার প্রমাণও না থাকে। প্রশাসনের এই অতি-তৎপরতাকে ‘প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা’ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
প্রশাসনের এই একতরফা ও অত্যাচারী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ফেটে পড়েছেন সমাজবাদী পার্টির প্রভাবশালী নেতা জিয়া-উর-রেহমান বার্ক। সরকারি দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “প্রশাসন ক্ষমতার অপব্যবহার করে জঘন্য অপরাধ করেছে। যে জমিতে মসজিদ ছিল, তা কোনো সরকারি জমি নয়; বরং সেটি ওয়াকফ বোর্ডের বৈধ সম্পত্তি। আমরা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে চুপ থাকব না, বিষয়টি নিয়ে আমরা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছি।”
কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টি যৌথভাবে অভিযোগ করেছে যে, কোনো আইনি প্রক্রিয়া বা আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশ ছাড়াই সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এবং মুসলিম সমাজকে উস্কানি দিতেই এই বুলডোজার অ্যাকশন চালানো হয়েছে।
এদিকে মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার আরও একটি নতুন চক্রান্ত শুরু করেছে যোগী রাজ্যের পুলিশ। উচ্ছেদ অভিযানের সময় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে নাকি “আই লাভ মোহাম্মদ” লেখা কিছু পোস্টার উদ্ধার করা হয়েছে—এমন দাবি করে ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে প্রশাসন।
জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) বিশেষ নির্দেশে এই পোস্টারকে কেন্দ্র করে মুসলিমদের বিরুদ্ধে একটি নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, মসজিদ ভাঙার প্রতিবাদ দমাতেই এখন নিরীহ মুসলিম যুবকদের এই মামলায় ফাঁসানোর নীল নকশা করা হচ্ছে।
রাতের অন্ধকারে একটি পবিত্র মসজিদ উধাও করে দেওয়ার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সম্ভলজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুরো এলাকায় বিপুল সংখ্যক সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানায় যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে তেহরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন খামেনি। আগামী ৪ থেকে ৯ জুলাই ইরানের বিভিন্ন শহর এবং ইরাকে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ৪ ও ৫ জুলাই ইরানের রাজধানী তেহরানে প্রয়াত এই নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য একটি বিদায়ী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এর পরদিন, অর্থাৎ ৬ জুলাই তেহরানে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে ৭ জুলাই কোয়ম শহরে আরেকটি জানাজা হবে।
কোয়মের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে খামেনির মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে ৯ জুলাই আরেকটি জানাজা শেষে বিখ্যাত ইমাম রেজার মাজারে তাঁকে দাফন করা হবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে খামেনির জানাজায় অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে তেহরানের এই আমন্ত্রণ নয়াদিল্লিকে বড় ধরনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত পরীক্ষায় ফেলে দিয়েছে।
কেন এই আমন্ত্রণ ভারতের জন্য কৌশলগত পরীক্ষা
ভারত ও ইরানের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। জ্বালানি, বাণিজ্য এবং সংস্কৃতির পাশাপাশি ভারতের জন্য ইরানের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে পাকিস্তানের ভূখণ্ড এড়িয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় বাণিজ্যের একমাত্র পথ হচ্ছে ইরানের চাবাহার বন্দর—যেখানে ভারত বিপুল বিনিয়োগ করেছে।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত ও সামরিক অংশীদারত্ব এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছেছে। খামেনি যেহেতু সরাসরি মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযানে (অপারেশন এপিক ফিউরি) নিহত হয়েছেন, তাই এই জানাজায় মোদি বা ভারতের উচ্চপর্যায়ের কোনো প্রতিনিধিত্ব ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবকে ক্ষুব্ধ করতে পারে।
এ প্রসঙ্গে ভূরাজনীতি বিশেষজ্ঞ ও নয়াদিল্লিভিত্তিক সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ব্রহ্ম চেলানি বলেছেন, ‘খামেনির জানাজা নয়াদিল্লিকে অত্যন্ত নাজুক অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর ভারতের নীরবতা তেহরানের চোখে এক ধরনের কূটনৈতিক ঋণ তৈরি করেছে। তবে জানাজায় ভারতের বেশি হাই-প্রোফাইল উপস্থিতি আবার ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সঙ্গে সম্পর্ক ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।’
ভারতের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ দিক হলো শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়। ইরানের পর বিশ্বজুড়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজ্যগুলোতেই সবচেয়ে বেশি শিয়া ধর্মাবলম্বী মানুষের বাস। আয়াতুল্লাহ খামেনি বিশ্বব্যাপী শিয়া মুসলিমদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হওয়ায় ভারতের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর আবেগ তাঁর জানাজার সঙ্গে যুক্ত। খামেনির মৃত্যুর পর ভারতের বহু জায়গায় বড় ধরনের শোক মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক দুই দিক থেকেই ভারসাম্য রক্ষা করা ভারতের জন্য জরুরি।
মোদি কি ইরান যাবেন
কূটনৈতিক সূত্র ও বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই জানাজায় অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এ ছাড়া ওই সময়ে মোদির আগে থেকে নির্ধারিত বহুপক্ষীয় বিদেশ সফর রয়েছে।
তবে এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসে যখন ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা যান, তখন ভারত একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছিল এবং তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়কে তেহরানে পাঠিয়েছিল। এবারও খামেনির জানাজায় কোনো সিনিয়র মন্ত্রী বা উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল পাঠানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে।
ভারত বরাবরই যেকোনো আন্তর্জাতিক সংকটে নিজস্ব ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ বজায় রাখার নীতিতে বিশ্বাসী। এখন দেখার বিষয়, কোনো পক্ষকে অসন্তুষ্ট না করে নয়াদিল্লি এই কূটনৈতিক সূক্ষ্ম ভারসাম্যের খেলায় কীভাবে নিজের অবস্থান ধরে রাখে।
ভেনেজুয়েলায় ৭ দশমিক ৫ এবং ৭ দশমিক ২ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ইতোমধ্যে এতে প্রাণহানির হয়েছে ১৬৪ জনের। তবে এ সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ ও গবেষণা সংস্থা ইউএসজিএস। কাঁপিয়ে দেওয়া ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সম্ভাব্য আফটারশক বা ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকায় অনেকেই রাস্তায় তাঁবু স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
অন্যরা বাগানে বা ফুটপাথে গদি, মাদুর বা চাদর পেতে রাত কাটাচ্ছেন—তারা অপেক্ষা করছেন কখন নিজেদের বাড়িতে ফিরে যাওয়া নিরাপদ হবে তা জানতে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বড় ধরনের আফটারশকের শঙ্কা এখনো রয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শার্লে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্স দূতাবাসের পলিটিক্যাল অ্যাটাশে এমিলি পালাউয়ান।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উষ্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশে নির্বাচন-পরবর্তী চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহের টেকসইকরণ, মানবাধিকার পরিস্থিতি, বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়।
সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে বৈঠকে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য দুর্নীতি নিরসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়।
বিরোধীদলীয় নেতা বাংলাদেশের সঙ্গে ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য ফ্রান্সের প্রতি আহ্বান জানান। ভবিষ্যতে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও বেগবান হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
আলোচনাকালে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।
প্রশান্ত মহাসাগরে নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধি করতে চীন দীর্ঘদিন ধরে ‘সালামি-স্লাইসিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করছে। ‘সালামি স্লাইসিং’ হলো একটি ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক কৌশল, যেখানে কোনো বড় লক্ষ্য বা বিশাল ভূখণ্ড একবারে দখল না করে, অত্যন্ত চতুরতার সাথে ধীরে ধীরে ছোট ছোট পদক্ষেপের মাধ্যমে তা নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। সহজ কথায়, একটি আস্ত সালামি সসেজ (মাংসের তৈরি রোল) যেমন একবারে না খেয়ে পাতলা পাতলা টুকরো করে কেটে খাওয়া হয়, এই কৌশলটিও ঠিক সেরকম। আন্তর্জাতিক আইনকে পাস কাটিয়ে করে সরাসরি যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি না করেই বিতর্কিত অঞ্চলগুলোতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা
সম্প্রতি মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে চীনের জাহাজগুলো মূল ভূখণ্ড থেকে রেকর্ড দূরত্বে গিয়ে ‘আইন প্রয়োগকারী’ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। নিজেদের উপকূল থেকে পাঁচশো মাইলেরও বেশি দূরে অবস্থিত একটি বিতর্কিত লেগুনের ভেতরে ‘গবেষণা’ চালিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিং এবং ওয়াশিংটনের কাছে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রেখা হিসেবে পরিচিত ‘ফার্স্ট আইল্যান্ড চেইন’-এর বাইরে নিজেদের উপস্থিতি বাড়ানোর একটি বড় চেষ্টা এটি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের পরপরই চীনের এই সামুদ্রিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও সেই সফরটি বেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল। তবে চীনের নেতা শি জিনপিং স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, মার্কিন-চীন সম্পর্কের অবনতির সবচেয়ে বড় কারণ হতে পারে স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ান।
চীন যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দিয়েছে তাইওয়ানকে সামরিক সহয়তা করার ক্ষেত্রে। চলতি মাসের শুরুতে চীনের মেরিটাইম সেফটি এজেন্সির (এমএসএ) তিনটি বেসামরিক আইন প্রয়োগকারী জাহাজ ফিলিপাইন ও তাইওয়ানের মধ্যবর্তী চ্যানেল দিয়ে গিয়ে তাইওয়ানের পূর্ব দিকের জলসীমায় টহল ও মানচিত্র তৈরির কাজ শুরু করে। পর্যবেক্ষকদের মতে এটিই প্রথম কোনো এমএসএ জাহাজের এই সীমানা অতিক্রমের ঘটনা। এই পদক্ষেপ তাইওয়ানের ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষের জন্য একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জ ও সতর্কবার্তা।
চীনের আধা-সরকারি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, তারা প্রথমবারের মতো তাইওয়ানের পূর্ব সমুদ্র সৈকতের তলদেশের মানচিত্র তৈরি করেছে এবং এই জলসীমা এখন থেকে চীনের ‘নিকটবর্তী জলসীমা’ হিসেবে গণ্য হবে, যেখানে তাদের পূর্ণ শাসনভার চলবে। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং’তে এই অভিযানের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, বেইজিংয়ের আসল উদ্দেশ্য হলো সাম্রাজ্য বিস্তার করা এবং তাইওয়ান তথা ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতি চীনের হুমকি। একজন তাইওয়ানিজ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চীন এই বেসামরিক জাহাজ ব্যবহার করে দেখাতে চাইছে যে তাইওয়ানের ওপর তাদের বাস্তব নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সামরিক বাহিনীর চেয়ে এই বেসামরিক ও অ-সামরিক জাহাজগুলো দীর্ঘমেয়াদে স্ট্যাটাস কো বা স্থিতাবস্থার জন্য বেশি বিপজ্জনক। কারণ এগুলোকে আপাতদৃষ্টিতে কম হুমকিস্বরূপ মনে হয়।
প্রাথমিকভাবে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে রেডিওর মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা হলেও পরবর্তী ধাপে চীন তাইওয়ানে আসা জাহাজগুলোকে আটকে দিতে পারে বা চীনের বন্দরে যেতে বাধ্য করতে পারে। এটি তাইওয়ানে আসা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহী জাহাজগুলোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট চীনের এই আচরণকে ‘গভীরভাবে অস্থিতিশীল’ বলে আখ্যা দিয়েছে। অন্যদিকে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি এক যৌথ বিবৃতিতে এই অঞ্চলের নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ও আন্তর্জাতিক শিপিংয়ের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একই সাথে দক্ষিণ চীন সাগরের স্কারবোরো শোল অঞ্চলেও চীন তাদের আধিপত্য বাড়াচ্ছে।
ফিলিপাইনের নিজস্ব অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভেতরে থাকা সত্ত্বেও চীন সেখানে কৃত্রিম ভাসমান কাঠামো তৈরি করেছে, যা স্যাটেলাইট ছবিতে ধরা পড়েছে। ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষা সচিব গিলবার্ট তেওদোরো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে চীন আগেও দ্বীপ তৈরি করে সামরিক ঘাঁটি বানানোর বিষয়ে মিথ্যা বলেছিল এবং এবারও তারা গবেষণার নামে জালিয়াতি করছে। ওয়াশিংটন এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফিলিপাইনকে ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার মূল্যের চারটি সামুদ্রিক ড্রোন সরবরাহ করেছে। তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক মহলের কার্যকর ও জোরালো প্রতিরোধ না থাকলে চীন এভাবেই একটু একটু করে পুরো অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেবে।
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দু’দেশের মধ্যে এই ১৩টি সমঝোতা স্মারখ স্বাক্ষর হয় বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক।
ওদিকে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে বসেছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কুয়াং এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিকাল ৫টায় বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব পিপল এই বৈঠক বসেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অন্যদিকে চীনের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে আছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ইরানের পক্ষে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার অন্যতম সম্ভাব্য নেতা ছিলেন। তবে তাঁর অনুরোধে এরদোয়ান সংঘাতে জড়াননি। একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও তাঁর আহ্বানে সংঘাতে জড়াননি।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট নিউজের খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের সময় এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প। এক তুর্কি সাংবাদিক তাঁর সম্ভাব্য আঙ্কারা সফর এবং তাঁর ভাষায় ‘ভালো বন্ধু’ এরদোয়ান ও তুরস্কের জনগণের উদ্দেশে বার্তা জানতে চাইলে জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাঁকে পছন্দ করি, তিনি আমার বন্ধু এবং তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় তাতে জড়াননি। তিনি ইরানের পক্ষে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার অন্যতম সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন—এমনকি হয়তো ইরানের পক্ষেও যেতে পারতেন। কারণ, তিনি ইসরায়েলের খুব বড় ভক্ত নন। আমি তাঁকে এতে না জড়াতে বলেছিলাম এবং তিনি বাইরে ছিলেন।’
নিজের বক্তব্যে ট্রাম্প কূটনৈতিক যোগাযোগকে বড় আঞ্চলিক সংঘাত ঠেকানোর কার্যকর উপায় হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে তাঁর ব্যক্তিগত ভূমিকাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এ মাসের শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি যত দিন প্রেসিডেন্ট থাকবেন তত দিন ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যে কোনো সংঘাত হবে না। এবারও সেই অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করে তিনি জানান, এরদোয়ানকে তিনি সরাসরি সংঘাত থেকে দূরে থাকতে বলেছিলেন এবং তাঁর দাবি অনুযায়ী, তুর্কি প্রেসিডেন্ট তা মেনে চলেছেন।
এরদোয়ান প্রসঙ্গে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তিনি বাইরে ছিলেন। এরদোয়ান একজন দুর্দান্ত নেতা, খুব শক্তিশালী মানুষ এবং তাঁর একটি খুব ভালো সামরিক বাহিনী আছে। আমি তাঁকে এতে না জড়াতে বলেছিলাম এবং তিনি সেটিই করেছেন।’
তবে শুধু তুরস্ক নয়, আরও কয়েকটি বড় শক্তিকেও তিনি সংঘাতের বাইরে রাখতে ভূমিকা রেখেছেন বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আর জানেন কে অসাধারণ ছিলেন? চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। তিনিও এতে জড়াতে পারতেন। ওই অঞ্চল থেকে তিনি তাঁর তেলের অর্ধেক পান। বুঝতেই পারছেন কেন তিনি এতে জড়াতে চাইতে পারেন। আমি তাঁকে অনুরোধ করেছিলাম, দয়া করে এতে জড়াবেন না। আর তিনি জড়াননি। আমরা ভালো কাজ করেছি।’
পরে ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এবং সি চিন পিংও তা-ই করেছেন। সত্যি বলতে, যদি ভালো করে দেখেন, পুতিনও তা-ই করেছেন। যদিও বলা যায়, ভ্লাদিমিরের মনোযোগ দেওয়ার মতো অন্য বিষয়ও আছে। কিন্তু তাঁরা সবাই বাইরে ছিলেন। বিষয়টা বেশ বিস্ময়কর ছিল। মানুষ অবাক হয়েছিল।’
তবে তুরস্ক ইরানের পক্ষে যুদ্ধে যোগ দিতে পারত বলে ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, তার ভিত্তি কী, তা স্পষ্ট নয়। সংঘাত চলাকালে ইরান থেকে তুরস্কের দিকে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে এরদোয়ান আবারও ইসরায়েলের সমালোচনা করার পর ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, জেরুজালেম ও আঙ্কারার মধ্যে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা আছে কি না। সে সময়ও ট্রাম্প তুর্কি প্রেসিডেন্টের প্রশংসা করে বলেছিলেন, ‘দেখুন, তিনি আমার খুব ভালো বন্ধু। আমরা একসঙ্গে খুব ভালোভাবে কাজ করেছি। আমি তাঁকে খুব পছন্দ করি। আমার হয়তো এটা বলা উচিত নয়। কারণ, মিডিয়া সঙ্গে সঙ্গে বলবে, “ওহ, তিনি এরদোয়ানকে ভালোবাসেন।’ কিন্তু তিনি একজন দুর্দান্ত নেতা। খুব শক্তিশালী নেতা। খুব শক্তিশালী মানুষ।”’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যা বলছেন, সে ধরনের কিছু আমি একেবারেই শুনিনি। যদি শুনতাম, আমি তাঁকে ফোন করতাম। আর আমি মনে করি, সবকিছু ঠিকঠাক করে ফেলতাম। আমি মনে করি না, তুরস্কের সঙ্গে এমন কিছু ঘটবে। অন্তত আমি প্রেসিডেন্ট থাকা পর্যন্ত নয়। কারণ, তিনি আমাকে সম্মান করেন এবং আমিও তাঁকে সম্মান করি। এর বাইরে আমাদের মধ্যে ভালো বন্ধুত্বও আছে। তাই দেখা যাক।’
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার তারাতলা এলাকায় নির্মাণাধীন গুদাম ভবন ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে আরও একজন আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর নিহতের সংখ্যা বাড়ে। এদিকে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে প্রশাসন।
বুধবার বিকালে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার প্রায় ২১ ঘণ্টা পরও উদ্ধারকাজ চলছিল। উদ্ধারকারীরা সেনাবাহিনীর অত্যাধুনিক ভূগর্ভ অনুসন্ধান প্রযুক্তির সহায়তায় ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত মানুষের সন্ধান চালাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে মোট ৩০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কৃষ্ণ চৌধুরী, রোহিত চৌধুরী, রাহুল চৌধুরী, চন্দ্রমা চৌধুরী, পাপ্পু রজক, আজগার হোসেন, সাহিল সরদার ও ঘি কুমার। আরও দুইজনের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের অনেকেই গুরুতর আঘাত নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সারা রাত ধরে উদ্ধার অভিযান তদারকি করেছেন রাজ্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কলকাতা পুলিশ ও কলকাতা পৌরসভার কর্মকর্তারা। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক উদ্ধারকর্মী, দমকল বাহিনী, পুলিশ এবং চিকিৎসা দল মোতায়েন করা হয়েছে।
রাজ্য সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছেন কি না তা শনাক্ত করতে সব ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে ধ্বংসস্তূপের ভেতরে মানুষের নড়াচড়া কিংবা হৃদস্পন্দনের মতো সংকেত শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
প্রশাসনের দাবি, সম্ভাব্য জীবিতদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার সময় ভবনটিতে বহু শ্রমিক কাজ করছিলেন। ফলে শুরু থেকেই হতাহতের সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। রাতভর স্বজনদের অপেক্ষায় ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল চত্বরে ভিড় করতে দেখা যায় উদ্বিগ্ন পরিবারগুলোর সদস্যদের।
গুদাম ভবনটি কী কারণে ধসে পড়ল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। নির্মাণে কোনো ত্রুটি ছিল কি না কিংবা নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। কলকাতার সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া অন্যতম বড় এই দুর্ঘটনা ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইরান যুদ্ধ ঘিরে কয়েক মাসের অস্থিরতার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশায় তেলের দাম দ্রুত কমছে। এর ফলে ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ইরান যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থানে ফিরে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আগামী আগস্ট মাসে সরবরাহের চুক্তিভিত্তিক ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ১ দশমিক ২২ ডলার বা ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৭২ দশমিক ৫২ ডলারে নেমে এসেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ দশমিক ০২ ডলার বা ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৬৯ দশমিক ৩২ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে। উভয় চুক্তির ক্ষেত্রেই তেলের এই দাম গত ২৭ ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন।
বাংলাদেশের হিসাব অনুয়ায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল প্রতি ব্যারেল (১ ব্যারেল সমান প্রায় ১৫৯ লিটার) বিক্রি হচ্ছে ৮ হাজার ৭০২ টাকা (১ ডলার সমান ১২০ টাকা ধরে)। অর্থাৎ, প্রতি লিটার অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম পড়ছে প্রায় ৫৪ টাকা ৭৩ পয়সা।
এর মাধ্যমে দুই ধরনের তেলের দামই ২৭ ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। রয়টার্স বলছে, আগস্টের ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সেপ্টেম্বরের দামের তুলনায় কম ছিল।
সেপ্টেম্বরে বিক্রির জন্য চুক্তিতে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ছিল ৭৩ দশমিক ৫৯ ডলার। বিশ্লেষকদের মতে, সেপ্টেম্বরের দামের তুলনায় আগস্টে সরবরাহযোগ্য তেলের দাম কমে যাওয়াটা স্বল্পমেয়াদে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বুধবার (২৪ জুন) এক ফোরামে মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল এখন ইরান যুদ্ধ পূর্ববর্তী স্বাভাবিক অবস্থার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২০ মিলিয়ন (২ কোটি) ব্যারেল তেল এই প্রণালি পার হয়েছে। তবে প্রণালিটি সম্পূর্ণ মাইনমুক্ত করতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগার কারণে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা দেরি হবে।
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেছেন, মানুষের জীবন রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
রদ্রিগেজ বলেন, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ডোমিনিকান রিপাবলিক, মেক্সিকো ও এল সালভাদরসহ বিভিন্ন দেশ থেকে উদ্ধারকর্মীরা ভেনেজুয়েলায় পৌঁছাতে শুরু করবে।
তিনি আরো জানান, যারা তাদের বাড়িঘর হারিয়েছেন, তাদের জন্য হোটেল ও আশ্রয়স্থল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জনসেবার জন্য অপরিহার্য নয় এমন সব শ্রেণিকক্ষ কার্যক্রম ও অন্যান্য কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে কারাকাসের উত্তরে লা গুয়াইরা রাজ্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বলে জানিয়েছেন দেশটির অন্তর্বতী প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ।
সেখানে কয়েক ডজন ভবন ধসে পড়েছে জানিয়ে তিনি একে ‘দুর্যোগ এলাকা’ এবং ‘একটি প্রকৃত ট্র্যাজেডি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ভূমিকম্পে ৩২ জন নিহত হওয়ার তথ্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতে লা গুয়ারা রাজ্য থেকে আসতে পারে এমন কোনো সংখ্যাই অন্তর্ভুক্ত নয়।
এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন যে, ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ জন নিহত ও ৭০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
সিমোন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে ভেনেজুয়েলা সরকার। রদ্রিগেজ নিশ্চিত করেছেন যে টার্মিনালে গুরুতর ক্ষতি হওয়ায় কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে
সুইজারল্যান্ডে একটি শান্তি সম্মেলন চলাকালীন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে লক্ষ্য করে ইসরাইলের একটি পরিকল্পিত হামলা পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দারা নস্যাৎ করে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন ব্রাজিলীয় সাংবাদিক ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক পেপে এসকোবার। এই দাবিকে কেন্দ্র করে একটি বড় ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লেবানিজ-অস্ট্রেলীয় উদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার মারিও নাওফালের সঙ্গে এক আলোচনায় এসকোবার এই দাবি করেন। তার মতে, এই কথিত ষড়যন্ত্রে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ জড়িত ছিল। তাদের লক্ষ্য ছিলেন আসিম মুনির এবং সম্ভবত ওই সম্মেলনে অংশ নেওয়া পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা।
এসকোবার দাবি করেন, এই কথিত পরিকল্পনা সম্পর্কে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার পর পাকিস্তানি গোয়েন্দারা পদক্ষেপ নেয়। এরপর পাকিস্তান কূটনৈতিক মাধ্যমের সাহায্যে ইসরাইলকে সরাসরি একটি সতর্কবার্তা পাঠায়।
এসকোবার বলেন, “মূলত সংক্ষিপ্ত বিষয়টি হলো-পাকিস্তানি সামরিক গোয়েন্দারা অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য পায় যে, নেতানিয়াহুর নির্দেশে মোসাদ সুইজারল্যান্ডে যাওয়া অসিম মুনির এবং সম্ভবত পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের বাকি সদস্যদের ওপর একটি গুপ্তহত্যা চেষ্টার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তাই পাকিস্তানিরা তাদের নিয়মিত মধ্যস্থতাকারী ওমানকে দিয়ে ইসরাইলিদের কাছে একটি বার্তা পাঠায়। বার্তায় বলা হয়, ‘যদি আপনারা আমাদের প্রতিনিধি দলকে স্পর্শ করেন, তবে আমরা আপনাদের মানচিত্র থেকে মুছে দেব’, ব্যস। আমি আমাদের সূত্রের দেওয়া তথ্য উদ্ধৃত করে এটি বলছি।’
ইসরাইল ও পাকিস্তানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই তিনি এই মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতি প্রকাশ্যে যেভাবে চিত্রায়িত হচ্ছে, বাস্তবতা তার চেয়ে আলাদা।
এই কথিত গুপ্তহত্যার হুমকির বিষয়টি ইসরাইল বা পাকিস্তানের কোনো কর্মকর্তা নিশ্চিত করেননি। সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র বা পাকিস্তানের নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষও এই সম্মেলন চলাকালীন এমন কোনো হুমকি নিয়ে কোনো সতর্কতা জারি করেনি বা প্রকাশ্যে কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেনি।
এদিকে, গত সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি প্রচেষ্টার আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক গিয়েছিলেন।
ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা ভণ্ডুল করতে সুইজারল্যান্ডে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। এর জবাবে ইসরাইলকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি দিয়েছে পাকিস্তান।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) আইএসএনএর বরাতে ইরানের অন্যতম জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম হামশাহরি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।
মূলত ইরান-মার্কিন শান্তি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে আবারো যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতেই ইসরাইল এই বিপজ্জনক পরিকল্পনা করেছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এই গুপ্তহত্যার পরিকল্পনার বিষয়ে আগেই পুরোপুরি জানতে পারে। তবে ভয় পেয়ে বা সতর্কতা হিসেবে আসিম মুনিরের সফরসূচি বা বৈঠকের সময়সূচিতে ইসলামাবাদ কোনো পরিবর্তন আনেনি। এর বদলে চরম সাহসিকতার সাথে ইসলামাবাদ ইসরাইলের কাছে একটি স্পষ্ট ও জরুরি বার্তা পাঠায়।
বার্তায় বলা হয়েছে, পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের গায়ে হাত দিলে আমরা ইসরাইলকে মানচিত্র থেকে মুছে দেবো। পাকিস্তানের এই পাল্টা হুমকি এতটাই স্পষ্ট ও জোরালো ছিল যে এর ভিন্ন কোনো ব্যাখ্যার সুযোগ ইসরাইলের ছিল না। মুসলিম দেশগুলোর এই অনড় ও কঠোর অবস্থানের মুখে শেষ পর্যন্ত মোসাদ তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়। এর ফলে আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে ইরানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা একধাপ এগিয়ে গেল।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার (ক্যাবিনেট) মন্ত্রীর সমমর্যাদা দিয়েছে ভারত সরকার। ফলে রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে তিনি উচ্চতর প্রটোকল সুবিধা পাবেন।
বুধবার (২৪ জুন) ভারত সরকারের জারি করা এক অফিস স্মারকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, দিনেশ ত্রিবেদীকে ব্যক্তিগতভাবে এই বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। তবে এ কারণে ভারতের বিদ্যমান টেবিল অব প্রিসিডেন্স বা রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ক্রমতালিকায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
ভারত সরকারের আন্ডার সেক্রেটারি কমলেশ রবিদাস স্বাক্ষরিত স্মারকে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীকে ব্যক্তিগত বিবেচনায় টেবিল অব প্রিসিডেন্সে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার মন্ত্রীর সমমর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, এই মর্যাদা কেবল আনুষ্ঠানিক ও প্রটোকলসংক্রান্ত কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর ফলে ভারতের প্রটোকল তালিকায় কোনো স্থায়ী পরিবর্তন আসছে না।
টেবিল অব প্রিসিডেন্স হলো ভারতের একটি সরকারি প্রটোকল তালিকা, যেখানে রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পদধারী ব্যক্তি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অগ্রাধিকারক্রম নির্ধারণ করা হয়।
ভেনেজুয়েলায় বুধবার (২৪ জুন) এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর পর থেকে দেশটিতে ২০টিরও বেশি আফটারশক (পরবর্তী কম্পন) অনুভূত হয়েছে। এটি দেশটির ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.২ এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল কারাবোবো অঙ্গরাজ্যে, রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে।
এর মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর আরও শক্তিশালী ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে বলে জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।
ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পটি দেশটির ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী হলেও, এগুলো বিশ্বের ইতিহাসে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে পড়ে না। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইতিহাসের ১০টি সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সেগুলোর আনুমানিক প্রাণহানির সংখ্যা নিচে দেওয়া হলো—
১. ১৯৬০ সালে চিলির বিওবিও’তে ৯ দশমিক ৫ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে কমপক্ষে ১ হাজার ৬৫৫ জনের মৃত্যু হয়।
২. যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় ১৯৬৪ সালে ৯ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে ১৩০ জনের মৃত্যু হয়।
৩. ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায়। ২০০৪ সালে আঘাত হানা ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে ২ লাখ ৮০ হাজারের বেশি প্রাণহানি হয়।
৪. জাপানের তোহোকুতে ২০১১ সালে ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এতে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ মারা যান।
৫. ১৯৫২ সালে রাশিয়ার কামচাটকায় ৯ মাত্রার ভূমকম্পে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।
৬. দীর্ঘ ৭৩ বছর পর ২০২৫ সালে রাশিয়ার কামচাটকায় ফের ভয়াবহ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৮। তবে এতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
৭. চিলির বিওবিও’তে ২০১০ সালে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে ৫২৩ জনের মৃত্যু হয়।
৮. ইকুয়েডরের এসমেরালদাসে ১৯০৬ সালে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে দেড় হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।
৯. ১৯৬৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যে ৮ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। তবে এতে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
১০. ভারতের অরুণাচল প্রদেশে ১৯৫০ সালে ৮ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে ৭৮০ জনের মৃত্যু হয়।
ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুই দফা ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৯৭১ জন। বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এ তথ্য জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ।
বুধবার সন্ধ্যায় ভেনেজুয়ায় ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। কম্পন পুরো অঞ্চলজুড়ে অনুভূত হয়।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যের ধ্বংসস্তূপ থেকে ধুলোমাখা অবস্থায় জীবিত তিন শিশুকে উদ্ধার করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
দেলসি রদ্রিগেজ লা গুয়াইরাকে ‘দুর্যোগ অঞ্চল’ ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, বিপুলসংখ্যক ভবন ধসে পড়ায় রাজ্যটি ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। সেখানে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তেহরানের সঙ্গে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে যখন আলোচনা করছিলেন, ঠিক সে সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবার ইরানে বোমা হামলার হুমকি দিয়ে অযাচিত মন্তব্য করে বসেছেন।
ট্রাম্প ফক্স নিউজের এক সাংবাদিককে বলেন, ইরানিরা যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেন, তাহলে ভ্যান্সের সঙ্গে আলোচনা করতে আসা আলোচকেরা আর কখনো নিজেদের দেশে ফিরতে পারবেন না। প্রকৃতপক্ষে তখন ফিরে যাওয়ার মতো কোনো দেশই তাঁদের থাকবে না।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনায় প্রধান ব্যক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভ্যান্সকে যে কতটা জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, ট্রাম্পের বারবার এ ধরনের বাধা তৈরি তারই সবশেষ উদাহরণ।
গতকাল সোমবার ভ্যান্স বলেন, প্রথম দফার আলোচনা শান্তির জন্য একটি ‘সফল ভিত্তি’ তৈরি করেছে। কিন্তু এখন ভ্যান্সকে এমন একটি যুদ্ধ শেষ করার পথ খুঁজে বের করতে হবে, যে যুদ্ধের শুরুতে তিনি নিজেই বিরোধী ছিলেন। একই সঙ্গে তাঁকে তাঁর বসের খামখেয়ালিপনা ও এমন এক শত্রুপক্ষকে সামলাতে হবে, যাঁরা ট্রাম্পের হুমকিতে মোটেও ভয় পাচ্ছেন না।
গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স বলেন, ‘গত (রোববার) আমরা ইরানিদের বলেছি, আপনারা যখন এমন কথাবার্তা বলেন, যাকে আমাদের এই প্রজন্মের তরুণেরা ‘ফালতু কথা’ বলে ভাবেন। সুতরাং আপনারা আশা করতে পারেন না, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তার জবাব দেবেন না এবং সত্যটা তুলে ধরবেন না। তাই তাঁরা যখন অসত্য কিছু বলবেন, প্রেসিডেন্ট অবশ্যই তার জবাব দেবেন।’
উভয় পক্ষই শত্রুতা বন্ধ করতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে এবং এখন ৬০ দিনের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী একটি পরমাণু চুক্তি করার চেষ্টা করছে। কিন্তু ২০২৮ সালের রিপাবলিকান মনোনয়নের জন্য সবচেয়ে এগিয়ে থাকা ভ্যান্সের জন্য পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে বেশ ঝুঁকিপূর্ণই রয়ে গেছে।
শান্তি চুক্তিটি নিয়ে গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেছেন, ‘যদি এটি সফল হয়, তবে এর কৃতিত্ব আমি নেব। আর যদি ব্যর্থ হয়, তবে আমি জেডিকে দোষ দেব।’
ভ্যান্স অবশ্য বলেছেন, প্রেসিডেন্ট এটি মজা করে বলেছেন। তবে ট্রাম্প কখনোই অন্যের ওপর দোষ চাপাতে দ্বিধা করেন না। আর ভ্যান্স ভবিষ্যতের এই আলোচনাকে কীভাবে সামলান, তার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ফলাফল ও ট্রাম্পের উত্তরসূরি হিসেবে তাঁর নিজের ভবিষ্যৎ।
কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের সিনিয়র ফেলো করিম সাদজাদপুর বলেন, ভ্যান্স ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে আছেন। একটি অপ্রিয় যুদ্ধ শেষ করতে পারলে তিনি হয়তো বাহবা পেতে পারেন। আবার এমনও হতে পারে, শেষ পর্যন্ত তাঁকে ‘মার্কিনদের জন্য এক অপমানজনক পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের এক চরম শত্রুকে শত শত কোটি ডলার দিয়ে দেওয়ার চুক্তির মূল কারিগর’ হিসেবে দেখা হবে।
আরেকটি বিষয় পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। সেটা হচ্ছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডারদের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
সাদজাদপুর বলেন, ‘যেকোনো মার্কিন রাজনীতিক, বিশেষ করে যিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, তাঁর জন্য এটি কোনো অনুকূল পরিস্থিতি নয়।’
মার্কিন নাগরিকেরা ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে যুদ্ধ বন্ধ ও জ্বালানি খরচ কমানোর জন্য দাবি জানাচ্ছেন। তবে সাদজাদপুর যুক্তি দিয়ে বলেন, মার্কিন নাগরিকেরা আসলে যুদ্ধ কীভাবে শেষ হচ্ছে, তার ওপর বেশি নজর রাখছে।
সাদজাদপুর বলেন, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জনপ্রিয়তার গ্রাফ দ্রুত নেমে গিয়েছিল। কারণ, সেই সময় ১৩ মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছিলেন।
ইরানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে করমর্দন করছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। মাঝখানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ২১ জুন ২০২৬, সুইজারল্যান্ডছবি: রয়টার্স
এই গবেষক বলেন, ‘মার্কিনরা যুদ্ধ পছন্দ করেন না। কিন্তু পরাজয় তাঁরা আরও বেশি অপছন্দ করেন।’
ভ্যান্স সুইজারল্যান্ড ত্যাগের প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই সম্ভাব্য একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির যে রূপরেখা দিয়েছিলেন, তাতে ফাটল দেখা দিতে শুরু করেছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ইরান তাদের দেশে জাতিসংঘের পরমাণু পরিদর্শকদের আমন্ত্রণ জানাতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু ইরানিরা বলেছেন, তাঁরা ‘নতুন কোনো প্রতিশ্রুতি’ দেননি।
ভ্যান্স ইরানকে সম্ভাব্য অর্থায়নের ব্যবস্থা নিয়েও কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছেন, কাতার ইরানের আটকে থাকা অর্থ ছেড়ে দেবে এবং সেই অর্থ দিয়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন, ভুট্টা ও গম কিনবে। এর কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প ওভাল অফিসে সেই কথার পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ইরানের জনগণের জন্য খাদ্যপণ্য ‘একচেটিয়াভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে আমাদের কৃষকদের কাছ থেকেই কেনা হবে।’
তবে ইরানি কর্মকর্তারা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। অতীতে তাঁরা বলেছেন, এই অর্থ তাঁদের অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা হবে।
শৈশবে ডেলিভারি বয় ও ডেটা এন্ট্রি অপারেটর থেকে শুরু করে ভারতের অন্যতম সফল স্টার্টআপ উদ্যোক্তা কুনাল শাহের জীবন কাহিনী যেন কোনো সিনেমার গল্প। এবার তিনি হোয়াটসঅ্যাপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। সোমবার রাতে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।
এ ছাড়া এক বিবৃতিতে মেটা জানিয়েছে, কুনাল শাহকে নিয়োগ দেয়ার পাশাপাশি তার নিজের হাতে গড়ে তোলা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্রেড-এ ৯০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে তারা। সংস্থাটি কুনাল শাহকে একজন ‘বিল্ডার মাইন্ডসেট’ ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গির উদ্যোক্তা হিসেবে বর্ণনা করেছে। মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ বলেন, কুনাল তার ক্রেডকে ভারতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় মেসেজিং অ্যাপের প্রধান হিসেবে যে ধরনের উদ্যমী মানসিকতা ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন, সেটা কুনালের মধ্যে আছে।
কুনাল শাহ এমন এক উদ্যোক্তা, যিনি খুব অল্প বয়সেই জীবনের সংগ্রাম শুরু করেন। পরিবারের ব্যবসা ব্যর্থ হয়ে আর্থিক সংকটে পড়ার পর মাত্র ১৪-১৫ বছর বয়স থেকেই তিনি বিভিন্ন কাজ শুরু করেন। ১৬ বছর বয়সের মধ্যেই তিনি ডেলিভারি বয়, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, মেহেদি কন বিক্রেতা, সাইবার ক্যাফে অপারেটর, পাইরেটেড সিডি বিক্রেতা এবং কম্পিউটার টিউটর হিসেবে কাজ করে আর্থিক স্বাধীনতা অর্জন করেন।
২০২১ সালে এক সাক্ষাৎকারে কুনাল বলেন, বড় কিছু তৈরি করতে হলে সহানুভূতি কোনো বিকল্প নয়, এটি বাধ্যতামূলক। কুনাল বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে হলে তাদের অনুভূতি বোঝা জরুরি।
তার মতে, দীর্ঘমেয়াদে সফল প্রতিষ্ঠান গড়তে হলে নেতৃত্বকে অবশ্যই মানুষের আবেগ ও প্রয়োজনের প্রতি সংবেদনশীল হতে হয়। তিনি আরও বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান সহানুভূতিহীন নেতৃত্বেও সাময়িকভাবে সফল হতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা টিকে না থাকার ঝুঁকি থাকে।
অন্যান্য ভারতীয় স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতাদের মতো আইআইটি বা আইআইএম ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকলেও কুনাল শাহ পড়েছেন মুম্বাইয়ের উইলসন কলেজে দর্শন বিষয়ে। পরবর্তীতে তিনি এনএমআইএমএস থেকে এমবিএ শুরু করলেও তা শেষ করেননি।
তার মতে, প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবতার চেয়ে পরীক্ষার নম্বরের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়, তাই তিনি নিজে শিখে এগোনোকেই বেছে নেন। কুনাল শাহ বরাবরই বিশ্বাস করেন, সফল হওয়ার জন্য ডিগ্রির চেয়ে দক্ষতা ও বহুমুখী চিন্তাভাবনা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানান, ক্রেড-এ এমনও সিনিয়র লিডার আছেন যিনি শুধুমাত্র দশম শ্রেণি পাস। কুনাল নিয়োগের ক্ষেত্রে ডিগ্রির চেয়ে মানুষের বৈচিত্র ও সক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দেন।
২০১৮ সালে কুনাল নিজের প্রায় ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে ক্রেড প্রতিষ্ঠা করেন। এটি মূলত একটি মেম্বারশিপভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম, যা সময়মতো ক্রেডিট কার্ড বিল পরিশোধে ব্যবহারকারীদের পুরস্কৃত করে। এর আগে তিনি তৈরি করেছিলেন ফ্রি চার্জ, যা পরে ২০১৭ সালে এক্সিস ব্যাংকের কাছে বিক্রি হয়। বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপের বিশ্বব্যাপী ব্যবহারকারী সংখ্যা ৩ বিলিয়নেরও বেশি, যার মধ্যে ভারতে ব্যবহারকারী ৫০ কোটির বেশি, যা অ্যাপটির সবচেয়ে বড় বাজার।
বিশ্লেষকদের মতে, কুনাল শাহের এই নিয়োগ ভারতের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের জন্য একটি বড় অর্জন। হোয়াটসঅ্যাপের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভারতের বাজার ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে গত বেশ কয়েক বছর ধরেই ধারাবাহিকভাবে ভারতীয় বংশোদ্ভূত কর্মকর্তারা উচ্চপদে নিয়োগ পাচ্ছেন। এক অর্থে এখন ভারতীয়দের হাতেই ‘সিলিকন ভ্যালির’ দখল। সুন্দর পিচাই, সত্য নাদেলা, অরবিন্দ কৃষ্ণ, নিকেশ অরোরা, সাজিথ পাই- এসব বড় বড় নামের তালিকায় এবার যোগ দিলেন কুনাল শাহ।
একদিনে ভেঙে গেল ৩৫ বছরের বসতি। যে মাটিতে ঘর তুলেছিলেন, সন্তানদের বড় করেছেন, যে জমিতে চাষ করে সংসার চালিয়েছেন, সেই মাটি ছেড়ে এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছেন ১৯টি পরিবার। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার রানিনগর সীমান্ত এলাকায় প্রশাসনের নির্দেশে বসতভিটা ছেড়ে যেতে হয়েছে এসব পরিবারকে।
স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা এবং কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনার কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিযোগ, তারা কোনো অপরাধ করেনি। বছরের পর বছর সরকারি নথিভুক্ত জমিতে বসবাস করার পরও আজ তাদের ঘর ছাড়তে হয়েছে। রানিনগরের চর সরন্দাজপুরের পেঙ্গুপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কোথাও ভাঙা ঘরের বাঁশ পড়ে আছে, কোথাও উঠোন ফাঁকা। কয়েকদিন আগেও যেখানে শিশুদের কোলাহল ছিল, সেখানে এখন নীরবতা।
উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দা আজবার আলি বলেন, প্রায় ৩৫ বছর ধরে আমরা এখানে আছি। চাষাবাদ করেছি, সংসার চালিয়েছি। হঠাৎ করে উঠে যেতে হবে, কখনও ভাবিনি। এখন কোথায় যাব, কীভাবে জীবন চলবে, বুঝতে পারছি না।
স্থানীয়দের দাবি, ১৯টি পরিবারের মধ্যে অধিকাংশের অন্যত্র ছোটখাটো আশ্রয় থাকলেও মিলন শেখ ও রাইহান শেখের পরিবারের সামনে সবচেয়ে বড় সংকট দেখা দিয়েছে। তাদের স্থায়ীভাবে থাকার মতো অন্য কোনো জায়গা নেই। গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দারা বলছেন, সীমান্তের জীবন এমনিতেই কঠিন। তার ওপর হঠাৎ করে বসতি ছেড়ে চলে যেতে হওয়ায় অনেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
সুজান শেখ জানান, এতদিন বাড়ির পাশেই জমিতে কাজ করেছি। গরু-ছাগল পালন করেছি। এখন দূর থেকে সবকিছু দেখাশোনা করা খুব কঠিন হবে। সংসারের খরচ কীভাবে চলবে, সেই চিন্তাই এখন সবচেয়ে বড়।
আজবার আলি, তুফান শেখ, ইউনুস আলি ও মতি শেখসহ একাধিক কৃষক জানান, তাদের চাষের জমি এখনও সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে। কিন্তু বসতবাড়ি সরে যাওয়ার পর প্রতিদিন সেখানে গিয়ে কাজ করা অনেক বেশি কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বসতিগুলো সীমান্তের অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থান করছিল। নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে সেখানে নজরদারিতে সমস্যা হচ্ছিল। পাশাপাশি সীমান্ত অপরাধ ও চোরাচালানের ঝুঁকিও ছিল। এসব বিষয় বিবেচনা করেই পরিবারগুলোকে অন্যত্র সরে যেতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান মাফরোজা বিবি বলেন, এলাকাটি সীমান্তের সংবেদনশীল অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। ভবিষ্যতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজও রয়েছে। মানুষের নিরাপত্তার কথা ভেবেই তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসনিক যুক্তির আড়ালে সীমান্তবাসীর কষ্টের ছবিটাই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে উঠেছে। যেসব মানুষ বছরের পর বছর সীমান্ত পাহারা দেওয়া রাষ্ট্রের ছায়াতেই জীবন কাটিয়েছেন, তারাই আজ নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।
কাঁটাতারের বেড়া হয়তো সীমান্তকে আরও সুরক্ষিত করবে। কিন্তু সেই বেড়ার ছায়ায় যে বহু মানুষের স্মৃতি, শেকড় আর জীবনসংগ্রামের গল্প চাপা পড়ে যাচ্ছে, রানিনগরের এই ১৯টি পরিবার তারই এক মর্মস্পর্শী উদাহরণ।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দাবি করেছেন, ‘ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ নামে পরিচিত ওই সমঝোতা চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে পাকিস্তান।
শাহবাজ শরিফের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রেসিডেন্ট ইলেকট্রনিকভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন এবং এর ফলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। এই উদ্যোগে সহায়তার জন্য কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের নেতৃত্বকে ধন্যবাদও জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল। সমঝোতার ঘোষণার পর তেলের দাম কমেছে এবং বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
এদিকে, পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক সফলতা ভারতের জন্যও একটি নতুন অস্বস্তি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। দীর্ঘদিন ধরে ভারত পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিচ্ছিন্ন করার কৌশল গ্রহণ করলেও বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তা সহজ নয় বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। প্রায় ২৪ কোটির বেশি জনসংখ্যা নিয়ে দেশটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র। মুসলিম বিশ্বে এর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রভাব পাকিস্তানকে একটি বিশেষ অবস্থান দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিপুল সংখ্যক পাকিস্তানি প্রবাসীও দেশটির কৌশলগত গুরুত্ব বাড়িয়েছে।
সামরিক শক্তির দিক থেকেও পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। বিশ্বের বৃহৎ স্থায়ী সেনাবাহিনীগুলোর একটি পাকিস্তানের রয়েছে। দেশটি চীন ও তুরস্কের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলেছে এবং বিভিন্ন দেশে যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি করছে।
পারমাণবিক অস্ত্রধারী মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানের অবস্থানও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দেশটির হাতে প্রায় ১৭০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক সহযোগিতাও পাকিস্তানের কৌশলগত প্রভাব বাড়িয়েছে।
ভৌগোলিক অবস্থানও পাকিস্তানের অন্যতম শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। ভারত, আফগানিস্তান, ইরান ও চীনের সঙ্গে স্থলসীমান্ত এবং আরব সাগরের তীরবর্তী অবস্থান দেশটিকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। বিশেষ করে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র পাকিস্তান।
তবে এসব শক্তির পাশাপাশি দেশটি অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি। বেলুচিস্তানসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্রোহ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক সংকট পাকিস্তানের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং মিত্র দেশগুলোর আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতাও দেশটির দুর্বলতার অন্যতম দিক হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তববাদী ও স্বার্থভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের গুরুত্ব ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতার দাবিও সেই কৌশলেরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে পাকিস্তানকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা বা বিচ্ছিন্ন করা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
লেবানন প্রসঙ্গে ইসরাইলের অতি-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গাভিরের একটি চরম উগ্র ও বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রভাবশালী মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। বেন গাভিরকে সরাসরি ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে স্যান্ডার্স সাফ জানিয়েছেন, জেরুজালেমের (ইসরাইল) বর্তমান উগ্রপন্থী প্রশাসনকে আমেরিকার কোনো ধরনের সামরিক বা আর্থিক সহায়তা দেওয়া উচিত নয়।
দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সাথে সংঘর্ষে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর চার সেনা নিহতের খবর প্রকাশের পর গত শুক্রবার (১৯ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেন গাভির দাবি করেন— ‘পুরো লেবাননকে পুড়িয়ে ছাই করে দিতে হবে।’ তার এই উগ্র ও আক্রমণাত্মক বক্তব্যের জবাবেই ভার্মন্টের স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান।
এক বিবৃতিতে সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, “কোনো সভ্য বা বড় রাষ্ট্রের একজন স্বাভাবিক ক্যাবিনেট সদস্যের কাছ থেকে এ ধরনের কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য আসতে পারে না। ইসরাইলি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী বেন গাভিরের এই মন্তব্যটি মূলত একজন প্রকাশ্য যুদ্ধাপরাধীর বক্তব্য।” তিনি স্পষ্ট করেন, যারা একটি পুরো দেশকে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়, তাদের পেছনে মার্কিন করদাতাদের ডলার খরচ করা বন্ধ করতে হবে।
তবে আন্তর্জাতিক ও মার্কিন চাপ সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে বেন গাভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) তার এই উগ্র অবস্থানের পক্ষে পুনরায় সাফাই গেয়েছেন। মার্কিন প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে তিনি লিখেছেন, “আমেরিকানদের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই বলছি, ইসরাইলকে পুরো বিশ্বের কাছে এটি স্পষ্ট করতে হবে যে আমাদের সন্তানদের রক্ত এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা কোনো ফেলনা জিনিস নয়।” একই সঙ্গে তিনি নিজের আগের অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করে আবারও জোর দিয়ে বলেন, “পুরো লেবাননকে অবশ্যই পুড়তে হবে।”
এদিকে লেবাননে ইসরাইল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাতের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারির (মনিটরিং) জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থা চালু করেছে ওয়াশিংটন। গত সোমবার একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের মাধ্যমে এই সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা বা মনিটরিং সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
ওয়াশিংটনের এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানা ১৮ ঘণ্টার একটি দীর্ঘ কূটনৈতিক আলোচনা শেষ হয়েছে। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক আলোচনায় পাকিস্তান ও কাতার মধ্যস্থতা করে। গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির অমীমাংসিত ধারাগুলো, বিশেষ করে সব ফ্রন্টে বৈরিতা ও যুদ্ধ বন্ধের (যুদ্ধবিরতি) বিষয়গুলো নিয়ে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ বিস্তারিত আলোচনা করেছে।
লেবাননের সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে লেবানন সীমান্তে শুরু হওয়া ইসরাইলের ভয়াবহ সামরিক অভিযানে দেশটিতে এ পর্যন্ত ৪,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ১২,০০০-এরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া ইসরাইলি বোমাবর্ষণের কারণে ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি লেবানিজ বাসিন্দা। এই ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধ ও চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সপ্তাহান্তে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বিশেষ বর্ধিত আলোচনা সম্পন্ন হলো।
মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর দ্রুত বিস্তার ঠেকাতে শ্রীলঙ্কায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের কার্যালয় জানায়, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা হবে। এই ইউনিট মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসের কাজ করবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে শ্রীলঙ্কা-এ প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বুধবার থেকে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হবে বলেও জানানো হয়েছে।
জাতীয় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের প্রধান কাপিলা কান্নাঙ্গারা সতর্ক করে বলেন, সংক্রমণ বাড়তে থাকলে হাসপাতালগুলো বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে এবং পরিস্থিতি ২০১৭ সালের মতো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয় আরও জানিয়েছে, যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মশার প্রজননস্থল সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে নতুন করে তীব্র হুমকি দেওয়ার পর সুইজারল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা বয়কট করে সভাকক্ষ থেকে বের হয়ে গেছে ইরানের প্রতিনিধি দল।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) ইরানের প্রধান আলোচক ও দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আনুষ্ঠানিকভাবে এই আলোচনা বর্জনের কথা নিশ্চিত করেছেন।
নিজের দেশের অবস্থান পরিষ্কার করে গালিবাফ বলেন, ‘আমাদের নির্দিষ্ট কিছু মূলনীতি রয়েছে এবং এ পর্যন্ত আমরা কখনোই আমেরিকানদের সঙ্গে একই টেবিলে বসে সরাসরি সংলাপে অংশ নিতে চাইনি।’ মধ্যস্থতাকারীদের বিশেষ অনুরোধে ইরান কেবল পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নিতে রাজি হয়েছিল।
গালিবাফ বলেন যে, ‘আলোচনার মাঝপথে আমি জানতে পারি যে ট্রাম্প আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, আমাদের এই প্রতিনিধি দল এবং একই সঙ্গে ইরানের মূল ভূখণ্ডে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর তীব্র হুমকি দিয়েছেন।’ এই খবর পাওয়ার পরপরই তিনি মার্কিন প্রতিনিধি দলের প্রধান ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানান।
ইরানি স্পিকার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টকে স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেন যে ট্রাম্পের এই ধরনের কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির শর্তগুলোকে সরাসরি লঙ্ঘন করে।
তিনি জেডি ভ্যান্সকে উদ্দেশ্য করে সভাকক্ষে বলেন যে, ‘আমি ভ্যান্সকে বলেছিলাম যে আমরা এখানে আলোচনার টেবিলে বসে আছি এবং আমাদের স্বাক্ষরিত সমঝোতার প্রথম ধারা অনুযায়ী যেকোনো পক্ষকে হুমকি দেওয়া বা সামরিক বলপ্রয়োগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু আপনাদের প্রেসিডেন্ট আজকেই নতুন করে আমাদের হুমকি দিয়েছেন।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, ‘আপনাদের জেনে রাখা উচিত যে ইরান কখনোই কোনো ধরনের হুমকি বা চাপের মুখে নতি স্বীকার করে আলোচনা পরিচালনা করে না।’
এই ঘটনার পরপরই ইরানের সম্পূর্ণ প্রতিনিধি দল তাৎক্ষণিকভাবে বৈঠকটি সমাপ্ত ঘোষণা করে আলোচনার টেবিল থেকে একযোগে উঠে দাঁড়ায় এবং সভাকক্ষ ত্যাগ করে। গালিবাফ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, ‘আমরা আলোচনা শেষ করে বৈঠক থেকে বের হয়ে এসেছি এবং সেখানে আর কখনোই ফিরে যাইনি।’ পরবর্তীতে মার্কিন প্রতিনিধি দল মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে আরেকটি জরুরি বৈঠক বসার জন্য জোরালো আকুতি জানালেও তেহরান ওয়াশিংটনের সেই প্রস্তাবটি সরাসরি নাকচ করে দেয়।
আমেরিকার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর কাতার ও পাকিস্তানের বিশেষ মধ্যস্থতাকারীরা ইরানি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তাদের নিজস্ব আবাসে এসে দেখা করেন। ইরানি স্পিকার মধ্যস্থতাকারীদের সাফ জানিয়ে দেন যে, ‘কাতারি ও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা আমাদের কাছে এসেছিলেন এবং আমরা তাদের বলেছি যে আমরা কেবল আপনাদের সঙ্গেই কথা বলব, তবে আমেরিকানদের সঙ্গে আমরা আর কোনো ধরনের সংলাপে বসব না।’
পরবর্তীতে দুই দেশের মধ্যকার এই অচলাবস্থা নিরসনে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা দীর্ঘ ৮০ মিনিট যাবত ইরানের সঙ্গে এক নিবিড় আলোচনা পরিচালনা করেন এবং সবশেষে একটি যৌথ কূটনৈতিক বিবৃতি প্রকাশ করেন।
এ ছাড়া মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যরাতে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি উল্লেখ করে এক চরম হুমকি দিয়ে বসেন। তিনি বলেন যে ইরান যদি নতুন করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার কোনো চেষ্টা চালায় তবে পৃথিবীর বুকে ইরানের অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়বে।
তিনি অত্যন্ত আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করে বলেন যে, ‘আপনারা আর নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগটুকুও পাবেন না এবং প্রয়োজনে আমরা নিজেরাই পুরো হরমুজ প্রণালির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আমাদের নিজেদের হাতে তুলে নেব।’ ওই একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার নিয়ে কথা বলা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকেও উদ্দেশ্য করে বলেন যে, ‘তার নিজের মুখ সামলে কথা বলা উচিত এবং তিনি যদি সোজা না হন তবে আমরা পুরো দেশের বাকি অংশও আমাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেব।’
উল্লেখ্য যে দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর গত ১৪ জুন পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি বিশেষ ১৪ দফার শান্তি সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল। পরবর্তীতে গত ১৮ জুন ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ বা এমওইউ-টি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়।
এই চুক্তির প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে ছিল লেবানন যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর আমেরিকার আরোপিত দীর্ঘদিনের নৌ অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়া।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি। বৈঠকে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের বিষয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) চীনের দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় এই উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাতের শুরুতেই ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি বাংলাদেশের নতুন সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের মতো অন্যান্য ডেল্টা রাষ্ট্র এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর সহযোগিতায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামকে একটি সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মঞ্চে জলবায়ু ও পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের নেওয়া বেশ কয়েকটি মেগা পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫০ মিলিয়ন (২৫ কোটি) বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং পরিবেশ সুরক্ষায় প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের কাজ চলছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে উৎসাহ প্রদানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে সৌরবিদ্যুৎ (সোলার) উৎপাদনে কর-সুবিধা ও বড় প্রণোদনা প্রদান করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
আলোইস জভিংগি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিজ্ঞতা ও গৃহীত উদ্যোগগুলোকে বৈশ্বিক পরিসরে কাজে লাগানোর বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান ও বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং এটি তাদের বড় আগ্রহ তৈরি করবে।”
তিনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। সাক্ষাৎ শেষে জভিংগি প্রধানমন্ত্রীকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মর্যাদাপূর্ণ বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান।
সাক্ষাতকালে প্রধানমন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন— পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে দিল্লি বিমানবন্দরে হেনস্তা করা নিয়ে তর্ক-বিতর্কের পর এ বিষয়ে নিজেদের ব্যাখ্যা তুলে ধরেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল দাবি করেছেন, জাহেদ উর রহমান তাঁর ব্যক্তিগত পাসপোর্টে ভারত সফর করছিলেন।
সম্প্রতি একটি সম্মেলনে যোগ দিতে দিল্লিতে যান জাহেদ উর রহমান। সেখানে তাঁকে ইমিগ্রেশনের বাধার মুখে পড়তে হয়। দীর্ঘ সময় দিল্লি বিমানবন্দরে বসে থাকার পর শেষ পর্যন্ত তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন। এ ঘটনার পরই তৈরি হয় সমালোচনা। ভারতীয় দূতকে ডেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায় ঢাকা।
এই ঘটনায় বিতর্ক তৈরি হয়। অবশেষে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টিতে তাদের বক্তব্য স্পষ্ট করেছে।
রণধীর জয়সোয়াল জানান, জাহেদ উর রহমান তাঁর ব্যক্তিগত বেসরকারি পাসপোর্ট নিয়ে দিল্লিতে এসেছিলেন এবং তাঁর সার্ক ভিসা ছিল। ইমিগ্রেশনে জিজ্ঞাসাবাদের পর যখন জানা যায় তিনি একটি সম্মেলনে যোগ দিতে এসেছেন, তখন তাঁকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়িক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে গত এক বছরে প্রায় ২১ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওরাকল। কোম্পানির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত ওরাকলের পূর্ণকালীন কর্মীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার। এক বছর আগে একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কর্মী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
ওরাকল জানিয়েছে, তাদের বিভিন্ন কার্যক্রমে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার ফলে জনবল প্রয়োজনীয়তা কমেছে। ভবিষ্যতেও এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটি ইঙ্গিত দিয়েছে।
বিশ্বজুড়ে ওরাকলের মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ১৩ শতাংশ এই ছাঁটাইয়ের আওতায় পড়েছে। প্রযুক্তি খাতে বর্তমানে এআই অবকাঠামো, বিশেষ করে ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও সম্প্রসারণে বিপুল বিনিয়োগের কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কর্মী সংখ্যা কমানোর পথে হাঁটছে। ওরাকলের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তও সেই ধারারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুধু ওরাকলই নয়, এআই খাতে বড় বিনিয়োগের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে অ্যামাজন ও মেটার মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। কর্মসংস্থান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে প্রযুক্তি খাতে এক লাখের বেশি কর্মী চাকরি হারিয়েছেন।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ওরাকলে বড় ধরনের ছাঁটাইয়ের খবর বিভিন্ন কর্মীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে উঠে এলেও তখন এর প্রকৃত পরিসর জানা যায়নি। বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, কর্মী ছাঁটাই, বিদায়ী ভাতা এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনায় গত এক বছরে তাদের ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরে একই খাতে ব্যয় ছিল ৩৭৪ মিলিয়ন ডলার, যা বর্তমান ব্যয়ের তুলনায় অনেক কম।
তবে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেছে ওরাকল। প্রতিষ্ঠানটির আশঙ্কা, নির্দিষ্ট কিছু পদে দক্ষ জনবলের ঘাটতি তৈরি হলে উৎপাদনশীলতা কমতে পারে এবং এর প্রভাব ভবিষ্যৎ আয়ের ওপর পড়তে পারে।
বর্তমানে ওপেনএআই ও মেটার মতো শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠানের জন্য ডেটা সেন্টার স্থাপনের বাজারে শক্ত প্রতিযোগিতার মধ্যেই রয়েছে ওরাকল। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই কোম্পানিটি তাদের ব্যবসায়িক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান মঙ্গলবার একদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন। সফরের মূল আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সমঝোতা বাস্তবায়ন এবং উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু।
সফরকালে পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ ছাড়া দুই দেশ বাণিজ্য, জ্বালানি, সীমান্ত নিরাপত্তা, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক সংযোগ উন্নয়নের মতো বিষয়ে সহযোগিতা জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করবে।
এই সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য একটি রোডম্যাপে সম্মত হয়েছে।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন পিটিভির খবরে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান নূর খান বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করলে তাঁকে স্বাগত জানান প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা।
এর আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে ইরানের প্রেসিডেন্ট এই রাষ্ট্রীয় সফরে পাকিস্তান সফর করছেন।
সফরকালে উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সিনেটের চেয়ারম্যান এবং জাতীয় পরিষদের স্পিকারও পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। উল্লেখ্য, ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি মাসউদ পেজেশকিয়ানের দ্বিতীয় পাকিস্তান সফর।
সোমবার (২২ জুন) সকালে ডাউনিং স্ট্রিটে নিজের সহকর্মী ও স্ত্রীকে পাশে নিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে জাতির উদ্দেশে বক্তব্য দেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার। তিনি স্বীকার করেন যে, বৃটেনকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য তিনি আর সঠিক ব্যক্তি নন। বৃটেনের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় নির্বাচনী জয় অর্জন করেও দুই বছরের কম সময়ের মধ্যেই ক্ষমতা ছাড়তে হচ্ছে স্টারমারকে।
গত ১০ বছরে দেশটিতে স্টারমারসহ ছয়জন প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনা ঘটলো। প্রায় দুই শতাব্দীর মধ্যে দেশটিতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তনের হার এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
পূর্বসূরিদের মতো স্টারমারও দেশটির নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান নিয়ে জনগণের ক্ষোভ প্রশমিত করতে ব্যর্থ হন। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর থেকে বৃটিশদের জীবনমান কার্যত স্থবির হয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, বৈশ্বিক ধাক্কা- বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারি- জাতীয় ঋণের বোঝা বাড়িয়ে সরকারি ব্যয় সীমিত করে ফেলেছে। এ ছাড়া অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতাও বৃটিশ সমাজ ও রাজনীতিতে গভীর বিভাজন সৃষ্টি করেছে।
বৃটেনের প্রধানমন্ত্রীর ইতিহাস নিয়ে গবেষণার জন্য পরিচিত ইতিহাসবিদ অ্যান্থনি সেলডল বলেন, স্টারমার এবং তার পূর্বসূরি লিজ ট্রুজ ও বরিস জনসন জনগণের কাছে একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়ায় বৃটেন এখন গভীর সংকটে পড়েছে। স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি অ্যান্ডি বার্নহ্যাম প্রসঙ্গে সেলডন বলেন, যদি বার্নহ্যামও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ব্যর্থ হন, তাহলে বৃটেনের ভবিষ্যৎ খুবই অন্ধকার।
একসময় স্থিতিশীলতার প্রতীক ছিল বৃটেন একসময় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো বৃটেন। দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা মার্গারেট থ্যাচার এবং টনি ব্লেয়ার আধুনিক বৃটেনের রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। কিন্তু ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকট বৃটিশ অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা দেয়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অতিরিক্তভাবে আর্থিক খাতের ওপর নির্ভরশীলতা দেশটিকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। পরবর্তী সময়ে সরকারি ব্যয় সংকোচনের নীতি বৃটেনকে ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় দুর্বল করে দেয়। সর্বশেষ কোনো বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী যিনি এককভাবে নির্বাচনে জয়ী হয়ে পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করেছিলেন, তিনি ছিলেন টনি ব্লেয়ার। ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি ক্ষমতায় ছিলেন।
একসময় ঘন ঘন সরকার পরিবর্তনের জন্য বৃটেন ইতালিকে বিদ্রূপ করত। এখন অনেকেই ঈর্ষার চোখে তাকাচ্ছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির দিকে। টানা প্রায় চার বছর ক্ষমতায় থেকে তিনি ইতালীয় প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী সরকারপ্রধান হওয়ার পথে রয়েছেন। অনেক বিশ্লেষক বৃটেনের বর্তমান অস্থিরতার জন্য ২০১৬ সালের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের গণভোটকে দায়ী করলেও, সরকারি নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্সটিটিউট ফর গভর্মেন্টের (আইএফজি) জ্যেষ্ঠ ফেলো এবং সাবেক অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জিল রাটার মনে করেন, সমস্যার সূত্রপাত হয়েছিল ২০০৮ সালের আর্থিক সংকট থেকেই।
তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে একটি সাধারণ অনুভূতি তৈরি হয়েছে যে তাদের জীবন উন্নত হচ্ছে না, এমনকি তাদের সন্তানদের জীবনও আগের চেয়ে ভালো হবে বলে তারা মনে করছেন না। আর এরপর আসা প্রতিটি সরকার সেই পরিস্থিতি বদলাতে ব্যর্থ হয়েছে। ২০১৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে ভোট দিয়ে বৃটেন তার দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতি আমূল পরিবর্তন করে। একই সঙ্গে পুনরায় জোরদার হয় স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা আন্দোলন, কারণ স্কটল্যান্ডের অধিকাংশ ভোটার ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, কোভিড-১৯ মহামারির সময় ব্যাপক সরকারি ব্যয় এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের প্রভাব মোকাবিলায় নেয়া পদক্ষেপের ফলে বৃটেনের সরকারি ঋণ মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১০০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।
যদিও জাপান, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, এবং ফ্রান্সের ঋণের অনুপাত আরও বেশি, তবুও বৃটেনে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং বাজেট ঘাটতি পূরণে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে ঋণ গ্রহণের ব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর। ২০২৫ সালে সুপারমার্কেট চেইন আসডা এবং সেন্টার ফর ইকোনমিক্স অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, বৃটেনে গড় প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য আয় বাড়লেও নিম্ন আয়ের ৪০ শতাংশ মানুষের ব্যয়ক্ষমতা ২০২১ সালের তুলনায় কমে গেছে।
‘কেন কিছুই কাজ করছে না’ বৃটেনের সাবেক সরকারি উপদেষ্টা স্যাম ফ্রিডম্যান তার বই ফেইল্ড স্টেট: হোয়াই নাথিং ওয়ার্কস অ্যান্ড হাউ উই ফিক্স ইট-এ যুক্তি দিয়েছেন যে বৃটেনের শাসনব্যবস্থা অতিমাত্রায় কেন্দ্রীভূত এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত সক্ষম নয়। এদিকে, দীর্ঘদিনের সংসদ সদস্য রজার গেল মনে করেন, বৃটিশ রাজনীতির সংস্কৃতিও অবনতি হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চাপ রাজনীতিবিদদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করছে। তিনি বলেন, সরকারকে ধীরগতিতে চলতে হবে। খুব বেশি আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। এর অনেকগুলোই খারাপ এবং অনেকগুলোর খসড়াও দুর্বল। আমাদের আরও পরিণত সরকার প্রয়োজন।
স্টারমার সরকারে এসে বিদ্যুতের উচ্চমূল্য, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ও প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মোকাবিলার জন্য সুস্পষ্ট পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে পারেননি বলে সমালোচিত হন। অন্যদিকে, বর্তমানে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন বলে আলোচনা চলছে। সেক্ষেত্রে তাকে দ্রুত মন্ত্রিসভা গঠন করে দেশের জন্য একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপরেখা উপস্থাপন করতে হবে। স্টারমারের কাছে ২০২৪ সালের নির্বাচনে পরাজিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক মন্তব্য করেছেন, বার্নহ্যামের একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা থাকা জরুরি। তিনি লিখেছেন, তা নাহলে তিনিও আরেকজন প্রধানমন্ত্রী হয়ে উঠবেন, যিনি রাত জেগে ভাববেন- কেন কিছুই কাজ করছে না।
সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তুলসি গ্যাবার্ড তাঁর শৈশব থেকে পরিচিত একটি হিন্দু ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা পেয়ে থাকতে পারেন বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।
রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সায়েন্স অব আইডেন্টিটি ফাউন্ডেশনের সাবেক সদস্য রেবেকা সল্টজবার্গের দেওয়া ২৫ হাজারের বেশি পৃষ্ঠার নথির ভিত্তিতে এই তথ্য উঠে এসেছে।
গ্যাবার্ড, যিনি একসময় ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ছিলেন এবং পরে রিপাবলিকান দলে যোগ দেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চলতি বছরের ২২ মে তিনি স্বামীর স্বাস্থ্যগত সমস্যার কথা উল্লেখ করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্যাবার্ড ছোটবেলা থেকেই সায়েন্স অব আইডেন্টিটি ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সংগঠনটির নেতা ক্রিস বাটলারকে তিনি আগে তাঁর “গুরু” হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। গ্যাবার্ডের বাবা-মাও সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সাবেক সদস্যদের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, বাটলার অনুসারীদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাব রাখতেন এবং রাজনীতিতেও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন। তবে সংগঠনটি নিজেদের “কাল্ট” বা বিতর্কিত ধর্মীয় গোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাটলারের কার্যালয়ের ব্যবহৃত একটি ই-মেইল ডোমেইনের সঙ্গে যুক্ত নথিতে কংগ্রেসে গ্যাবার্ডের কাজ, নীতি অবস্থান, টেলিভিশন সাক্ষাৎকার এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে পরামর্শমূলক মেমো পাওয়া গেছে।
নথিগুলোর মধ্যে সিরিয়া ইস্যু নিয়েও কয়েকটি মেমো ছিল। ২০১৬ সালের আগস্টের একটি নথিতে তৎকালীন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতা থেকে সরানোর মার্কিন প্রচেষ্টার বিরোধিতা করার কৌশল নিয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ওয়াশিংটন পোস্ট দাবি করেছে, কিছু নথির পরামর্শের সঙ্গে গ্যাবার্ডের পরবর্তী রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মিল পাওয়া গেছে।
তবে তুলসি গ্যাবার্ড এর আগে অস্বীকার করেছেন যে ক্রিস বাটলার তাঁকে রাজনৈতিকভাবে পরিচালনা করেছেন। তাঁর প্রতিনিধিরা নির্দিষ্ট নথি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য না করে অভিযোগ করেছেন, সংবাদপত্রটি তাঁর হিন্দু ধর্মীয় পরিচয়কে লক্ষ্য করে বিরূপ প্রচার চালাচ্ছে।
দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচিত সমঝোতার আওতায় ইরান সর্বোচ্চ ৫০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল সুবিধা পেতে পারে বলে জানা গেছে। চুক্তির ফলে আগে থেকে অবরুদ্ধ থাকা বিপুল পরিমাণ ইরানি সম্পদ ধাপে ধাপে মুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় প্রথমে দুই ধাপে ৬ বিলিয়ন ডলার করে মোট ১২ বিলিয়ন ডলার মুক্ত করার বিষয়ে নীতিগত সমঝোতা হয়েছিল। পরবর্তীতে সুইজারল্যান্ডে চূড়ান্ত স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়। ইরানের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ওই প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ইরানের ১২ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ তহবিল ছাড় করা হবে। এরপর ৬০ দিনের আলোচনাকালে আরও ১২ বিলিয়ন ডলার উন্মুক্ত হতে পারে। শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তি হলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং অবমুক্ত তহবিলের মোট মূল্য ৫০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
তবে এই অর্থ ইরানের হাতে সম্পূর্ণ অবাধ নগদ অর্থ হিসেবে দেওয়া হবে না বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন যে, এমন অর্থ ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতে পারে। এ কারণে তহবিল ব্যবহারে কঠোর শর্ত আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
চুক্তির আওতায় মুক্ত হওয়া অর্থ প্রধানত খাদ্য, ওষুধ ও মানবিক প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির মতো খাতে ব্যয়ের অনুমতি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি শর্ত হলো, অনুমোদিত মার্কিন-সংযুক্ত বাজার ও আর্থিক চ্যানেলের মাধ্যমে এসব পণ্য ক্রয় করতে হবে।
এই শর্তগুলো নিয়ে তেহরানের অবস্থান পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও এখন পর্যন্ত ইরান প্রকাশ্যে কোনো আপত্তি জানায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, চূড়ান্ত চুক্তি বাস্তবায়িত হলে তা ইরানের অর্থনীতির জন্য উল্লেখযোগ্য স্বস্তি বয়ে আনতে পারে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) চলতি মাসেই তাদের প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেন সেবা চালু করতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াম এ তথ্য জানিয়েছে।
ইউএইর যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আবুধাবির নতুন রেলস্টেশন উদ্বোধন করার পর এ ঘোষণা আসে।
ওয়ামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে আগামী ৩০ জুন আবুধাবি ও ফুজাইরাহর মধ্যে ট্রেন চলাচল শুরু হবে। পরবর্তীতে এই যাত্রীবাহী রেলসেবা দেশটির সাতটি আমিরাতের মধ্যে চারটিকে সংযুক্ত করবে।
আবুধাবি থেকে ফুজাইরাহ রুটে স্ট্যান্ডার্ড শ্রেণির ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ দিরহাম (প্রায় ১৫ মার্কিন ডলার) এবং প্রিমিয়াম শ্রেণির ভাড়া ১২০ দিরহাম (প্রায় ৩২ মার্কিন ডলার)।
দুবাইয়ের রেলস্টেশন আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর চালু হবে। আর প্রতিবেশী আমিরাত শারজাহর প্রধান স্টেশন ২০২৭ সালের ৩০ মার্চ থেকে কার্যক্রম শুরু করবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে অন্যান্য আমিরাতে রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সমীক্ষাও শুরু করা হবে।
স্টেশন উদ্বোধনকালে শেখ খালেদ বলেন, “এই প্রকল্প একটি সমন্বিত পরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইউএইর দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। এটি বিভিন্ন আমিরাতের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি করবে, মানুষ ও পণ্য পরিবহনকে আরও দক্ষ করবে এবং বিনিয়োগ, পর্যটন ও নগর উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।” নতুন রেলবহরে মোট ১৩টি ট্রেন থাকবে। প্রতিটি ট্রেনে সর্বোচ্চ ৪০০ জন যাত্রী ভ্রমণ করতে পারবেন।
মঙ্গলবার থেকেই যাত্রীরা টিকিট বুক করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে দুবাই ও আবুধাবির মধ্যে হাইপারলুপ প্রযুক্তিনির্ভর পরিবহন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। তবে সেই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি।
এদিকে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত ছয়টি দেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা দীর্ঘদিনের হলেও অগ্রগতি সীমিত। গত ডিসেম্বরে সৌদি আরব ও কাতার উপসাগরীয় দেশগুলোর রাজধানীগুলোকে সংযুক্ত করতে একটি উচ্চগতির রেলপথ নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষর করে।
এ ছাড়া ২০২২ সালে ওমানের সোহার বন্দর ও আবুধাবিকে সংযুক্ত করতে ৩ বিলিয়ন ডলারের একটি রেল প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়া হয়। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পটির প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ইউরোপজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহ পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরা হলো। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বারবার ফিরে আসা তাপপ্রবাহ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের একটি স্পষ্ট লক্ষণ। তারা সতর্কবার্তা জানান, ভবিষ্যতে এ ধরণের তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন, দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হবে। প্যারিস থেকে বার্তা সর্ংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
ফ্রান্সের ক্রীড়া ও যুববিষয়ক মন্ত্রী মারিনা ফেরারি মঙ্গলবার ফ্রান্স ইন্টার রেডিওকে জানান, সপ্তাহের শেষে দেশটিতে প্রায় ২০ জন পানিতে ডুবে মারা গেছেন।
তিনি তাপ থেকে বাঁচতে নদী, হ্রদ ও সমুদ্রসৈকতে ভিড় করা মানুষকে নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।
সোমবার দেশটির সিভিল সিকিউরিটির এক মুখপাত্র সপ্তাহের শেষে পানিতে ডুবে ১৩ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছিলেন।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নুর মঙ্গলবার সকালে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও একটি সংকটজনক পরিস্থিতিতে জরুরি বৈঠকে সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে একটি চুল্লি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কারণ, শীতলীকরণের জন্য কাছের নদী থেকে নেওয়া পানি অতিরিক্ত উষ্ণ হয়ে পড়েছিল।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটির এক মুখপাত্র এএফপিকে জানান, তুলুজের কাছে অবস্থিত গলফেশ পারমাণবিক কেন্দ্র গ্যারন নদীর পানি ব্যবহার করে শীতল করা হয়। তবে নদীর পানির তাপমাত্রা নিরাপদ সীমা ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়।
চরম গরমের কারণে ফ্রান্সে এক হাজার ৩৫০টির বেশি স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির গড় তাপমাত্রা জুন মাসের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
মেতেও ফ্রান্সের প্রকাশিত প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দিন ও রাত মিলিয়ে দেশটিতে গড় তাপমাত্রা ২৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। এর আগে ২০২৫ সালের ৩০ জুন সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রার রেকর্ড হয়েছিল।
মঙ্গলবারের জন্য ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডের ৯৬ বিভাগের মধ্যে ৫৪টিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এএফপির হিসাব অনুযায়ী, এতে প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ মানুষ প্রভাবিত হবে।
-বেলজিয়ামে রেকর্ড তাপপ্রবাহের আশঙ্কা-
বেলজিয়ামে তাপপ্রবাহ এক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা আইআরএমের পূর্বাভাস বিভাগের প্রধান ডেভিড ডেহেনাউ সতর্ক করে বলেছেন, এটি হতে পারে ‘এ পর্যন্ত রেকর্ড হওয়া’ সবচেয়ে উষ্ণ সময়।দেশটির কয়েকটি স্কুলে পাঠদান অর্ধদিবসে সীমিত করা হয়েছে।
জার্মানিতে সাঁতার কাটতে গিয়ে প্রাণহানির ঘটনা বেড়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, সপ্তাহের শেষে অন্তত পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বাভারিয়ার দুটি হ্রদে ২০ ও ২২ বছর বয়সী দুই যুবক ডুবে মারা গেছেন। বাল্টিক সাগরে মারা গেছেন ৭৯ বছর বয়সী এক নারী।
এ ছাড়া ব্রান্ডেনবুর্গ ও নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়ার হ্রদগুলোতেও প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ সোমবার জানায়, আগের দিন ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে উড্ডয়নের আগে একটি বিমান রানওয়ের পাশে এক ঘণ্টার বেশি সময় আটকে থাকায় গরমে অসুস্থ হয়ে পড়া কয়েকজন যাত্রীকে জরুরি সেবা দিতে হয়েছে।
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল সোমবার একটি প্রাইভেট কার থেকে দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রসিকিউটর এলেন মুরজেস বলেন, তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে।
প্যারিস অঞ্চলের প্রধান ভ্যালেরি পেক্রেস সাংবাদিকদের বলেন, ‘চরম গরমের সময়ে পরিবহন নেটওয়ার্কের ওপর ব্যাপক চাপ পড়ে। রেলপথ ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘এ কারণেই আমরা বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের যাত্রা স্থগিতের পরামর্শ দিয়েছি। যারা বাসা থেকে কাজ করতে পারেন, তাদেরও তা করতে বলা হয়েছে।’
-যুক্তরাজ্যে বিরল সর্বোচ্চ সতর্কতা-
যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর বুধবার ও বৃহস্পতিবারের জন্য মধ্য ও দক্ষিণ ইংল্যান্ডের কিছু এলাকায় সর্বোচ্চ স্তরের তাপ সতর্কতা জারি করেছে।
ছায়াযুক্ত স্থানেও কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার মেট অফিস জানায়, লন্ডন, বার্মিংহাম ও বাথসহ ইংল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় ‘ব্যতিক্রমধর্মী গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া’ বিরাজ করবে।
গত মাসেই মে মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছিল যুক্তরাজ্য।
আবহাওয়া দপ্তর আরও জানায়, জুন মাসের বিদ্যমান সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ডও এবার ভাঙতে পারে। বর্তমানে এ রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ১৯৭৬ সালের জুনে সাউদাম্পটন এবং ১৯৫৭ সালের জুনে ক্যামডেন স্কয়ারে রেকর্ড করা হয়েছিল।
শেয়ারবাজারে দুর্দান্ত অভিষেকের পর টানা তিন দিন ধরে কমছে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি শত শত বিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য হারিয়েছে। ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন কোম্পানিটি প্রথমবারের মতো ইনভেস্টমেন্ট-গ্রেড বন্ড (বিনিয়োগ-যোগ্য বন্ড) বিক্রি করার ঘোষণা দেওয়ার পরই এই ধস নামে। মূলত নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণে বড় ধরনের ঋণ নেওয়ার অংশ হিসেবে এই বন্ড ছাড়ছে কোম্পানিটি।
গতকাল সোমবার স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ১৬ শতাংশ কমে ১৫৪.৬০ ডলারে নেমে বন্ধ হয়েছে। এটি কোম্পানিটি লেনদেন শুরু করার পর থেকে সর্বনিম্ন স্তর। এর ফলে গত তিন দিনে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম কমেছে মোট ২৩ শতাংশ। এই সময়ের মধ্যে স্পেসএক্স ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাজার মূল্য হারিয়েছে। বর্তমানে কোম্পানিটির মোট বাজার মূলধন ২ ট্রিলিয়ন ডলারের সামান্য ওপরে রয়েছে।
জোন্সট্রেডিংয়ের প্রধান বাজার কৌশলবিদ মাইকেল ও’রুরকে বলেন, ‘বিক্রেতারা আবার নিয়ন্ত্রণে ফিরে এসেছেন। বিশ্বের যারা এটি কিনতে চেয়েছিলেন, তারা ইতোমধ্যে তা কিনে ফেলেছেন।’
রেকর্ড ৭৫ বিলিয়ন ডলারের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও ছাড়ার পর স্পেসএক্সের প্রথম দিনগুলোর লেনদেনে ব্যাপক ওঠানামা দেখা গেছে। সাধারণত কম ফ্লোট (লেনদেনের জন্য থাকা শেয়ারের স্বল্পতা) এবং খুচরা বিনিয়োগকারীদের উচ্চ আগ্রহ থাকা নতুন আইপিওগুলোর ক্ষেত্রে এমন অস্থিরতা দেখা যায়। লেনদেনের প্রথম দিনে মোট শেয়ারের মাত্র ৪.২ শতাংশ বাজারে লেনদেনের জন্য উন্মুক্ত ছিল। তবে সোমবারের এই বড় লোকসানের পরও স্পেসএক্স বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম কোম্পানি হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। বর্তমানে এর শেয়ারের দাম আইপিও মূল্য ১৩৫ ডলারের চেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি রয়েছে।
রকেট, স্যাটেলাইট এবং এআই খাতের এই বৃহৎ প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রথম বন্ড ইস্যু থেকে অন্তত ২০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের চেষ্টা করছে বলে গত সপ্তাহে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে। এ ছাড়া স্পেসএক্স গত সোমবার রিফ্লেকশন এআই নামের একটি এআই স্টার্টআপকে কম্পিউটিং রিসোর্স বা তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা দেওয়ার জন্য কোটি কোটি (মাল্টিবিলিয়ন) ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইলন মাস্কের এক্সএআই অধিগ্রহণের মাধ্যমে স্পেসএক্স কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের সঙ্গে যুক্ত হয়। এই কারণে তাদের এই লিস্টিং বা তালিকাভুক্তির বিষয়টি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের কৌতূহল ছিল। কারণ তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রোপিক পিবিসি এবং ওপেনএআই উভয় কোম্পানিই চলতি বছরের মধ্যে বাজারে আসার পরিকল্পনা করছে। বাজারে আসার সময় তাদের সম্ভাব্য বাজার মূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভান্ডা রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ইতিহাসের যেকোনো আইপিও-র তুলনায় স্পেসএক্সের (যার আনুষ্ঠানিক নাম স্পেস এক্সপ্লোরেশন টেকনোলজিস কর্পোরেশন) খুচরা বা রিটেইল লেনদেন ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী। এই ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা প্রথম পাঁচ কার্যদিবসে নেট ৪০৫ মিলিয়ন ডলারের শেয়ার কিনেছেন।
মার্কিন সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা বন্ধ করে ইসরাইলকে নিজস্ব অস্ত্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে বলে বক্তব্য দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শেয়ার করা একটি ভিডিও অনুযায়ী, গত সপ্তাহে সেনাদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের মার্কিন বন্ধুদের কাছ থেকে আমরা যে সমর্থন পেয়েছি, আমি তার গভীর প্রশংসা করি। তবে আমাদের এই নির্ভরতা থেকে মুক্ত হতে হবে এবং নিজেদের একটি স্বাধীন অস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে।’
এমন এক সময়ে নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এলো, যখন দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলা কমানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেশটির ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়ছে। উল্লেখ্য, দক্ষিণ লেবাননের বিশাল অংশ ইসরাইল অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে।
তবে মার্কিন চাপ সত্ত্বেও নেতানিয়াহু জোর দিয়ে বলেছেন যে, ইসরাইলি সেনারা দক্ষিণ লেবানন দখল করে রাখা অব্যাহত রাখবে এবং সেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ‘ধূলিসাৎ’ করবে।
ফিলিস্তিনি অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার প্রতিবেদনে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর হামলায় দু’জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন।
মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, আহত একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আগের হামলায় নিহত আরেকজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মৃতের সংখ্যা কমপক্ষে ৭৩ হাজার ৩৯ জনে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছেন এক লাখ ৭৩ হাজার ৩৮৮ জন।
মন্ত্রণালয় আরো জানায়, অক্টোবরে গাজায় ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় এক হাজার ২৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও তিন হাজার ২৮০ জন আহত হয়েছেন।
কলকাতার একটি পরিচিত রাস্তা ‘সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউ’র নাম পাল্টে গোপাল মুখার্জী রোড করার ঘোষণা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। কলকাতা পৌর সংস্থার পক্ষ থেকে নেয়া নাম বদলের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একটি পোস্ট ওই বিতর্কে জুগিয়েছে আরো ইন্ধন।
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন অবিভক্ত বাংলা প্রদেশের শেষ প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীও হয়েছিলেন। ‘দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংস’ নামে পরিচিত ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার সময়ে সোহরাওয়ার্দী ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। দাঙ্গা থামাতে না পারা নিয়ে ইতিহাসবিদদের একাংশ তাকে দোষারোপ করেন।
রাস্তাটি অবশ্য তার নামে ছিলই না। কলকাতার পার্ক সার্কাস অঞ্চলের ওই রাস্তাটি আসলে ছিল হাসান সোহরাওয়ার্দীর নামে। কলকাতা শহরের ইতিহাসবিদ হিসেবে যার গবেষণা উল্লেখযোগ্যভাবে স্বীকৃত, সেই পি থাঙ্কাপ্পন নায়ার তার বইতে তথ্যসূত্র দিয়ে সেকথা লিখে গেছেন।
হাসান সোহরাওয়ার্দী ছিলেন অধ্যাপক, কূটনৈতিক, শিল্প সমালোচক ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলমান ভিসি। যে রাস্তার নাম বদলানো হয়েছে, সেখানেই শিক্ষাবিদ হাসান সোহরাওয়ার্দীর বাড়ি। সেখানে এখন রয়েছে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের গ্রন্থাগার ও তথ্য কেন্দ্র।
তবে হাসান সোহরাওয়ার্দী ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী দুজনেই অবশ্য সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে। কিন্তু দুই সোহরাওয়ার্দীর নাম গুলিয়ে ফেলেছেন অনেক সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারকারী, এমনকি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমও এই নাম বিভ্রাটে ভুল শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করেছিল। বিতর্কের শুরু অবশ্য হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর দেয়া পোস্টকে ঘিরে।
‘এটি শুধুমাত্র একটি নাম পরিবর্তন নয়, ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন। দীর্ঘদিন ধরে কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে এমন এক ব্যক্তির নাম বহন করা হয়েছে, যার ভূমিকা বিভাজন ও রক্তক্ষয়ের ইতিহাসের সাথে জড়িত। আজ সেই অধ্যায়ের সংশোধন করে সাহস, আত্মত্যাগ ও রক্ষকের প্রতীক শ্রী গোপাল মুখার্জীকে যথাযোগ্য সম্মান জানানো হলো,’ লেখা হয়েছিল শুভেন্দু অধিকারীর ভেরিয়ায়েড ফেসবুক পেজে।
তিনি যে রাজনীতিবিদ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর দিকেই ইঙ্গিত করেছিলেন, তা স্পষ্ট। আবার যার নামে রাস্তার নতুন নামকরণ হলো, সেই গোপাল মুখার্জীও সেই ‘দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংস’র কারণেই পরিচিত। হিন্দুত্ববাদীরা গোপাল মুখার্জী, যিনি ‘গোপাল পাঁঠা’ নামে সুপরিচিত, তাকে ১৯৪৬-এর দাঙ্গার সময়ে ‘হিন্দুদের রক্ষাকর্তা’ হিসেবে তুলে ধরেন, আবার একজন ‘মুসলিম-বিদ্বেষী’ হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টাও করেন কেউ কেউ।
তবে গোপাল মুখার্জী বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, হিন্দুদের রক্ষা করতে তিনি অস্ত্র হাতে নেমেছিলেন ঠিকই, কিন্তু অনেক মুসলমানেরও প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন তখন।
কেন এ রাস্তাটির নাম বদলাতে চায় সরকার এক বছর আগে মুক্তি পেয়েছিল পরিচালক ভিভেক অগ্নিহোত্রীর ছবি ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’। ওই ছবিটি মুক্তির সময় তৎকালীন বিরোধী দলনেতা ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন যে, কলকাতায় গোপাল মুখার্জী ওরফে গোপাল পাঁঠার নামে একটি রাস্তা থাকা উচিত।পরিচালক অগ্নিহোত্রী দাবি করেছিলেন, ‘কলকাতার কসাইয়ের নামে রাস্তা থাকলেও গোপাল পাঁঠার নামে রাস্তা নেই।’ এই গোপাল মুখার্জীকে তিনি কলকাতার দাঙ্গা থেকে ‘হিন্দুদের বাঁচানোর নেতা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।মুখার্জীর একটি পাঁঠার মাংসের দোকান ছিল, যার থেকে তার নামকরণ হয় ‘গোপাল পাঁঠা’।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কলকাতা পৌর সংস্থার নাম বদলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘গতকাল পশ্চিমবঙ্গ দিবসের শুভক্ষণে সোহরাওয়ার্দী এভিনিউর নাম পরিবর্তন করে স্বর্গীয় গোপাল মুখার্জীর নামে “গোপাল মুখার্জী রোড” নামকরণ করার জন্য কলকাতা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের গৃহীত এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই। এটি শুধু একটি নাম পরিবর্তন নয়, ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন।’
তবে গোপাল মুখার্জী হিন্দু মহাসভা বা অন্য কোনো হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন না, বরং কংগ্রেস নেতাদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলেই জানা যায়।
যদিও গোপাল মুখার্জী বিবিসির সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন, ‘আমি ডাক্তার বিসি রায়ের (বিধান চন্দ্র রায়) ঘনিষ্ঠ ছিলাম। আমি কোনো পার্টির নই। আমি মানুষকে সাহায্য করি। আমি কোনো পার্টি করি না।’
ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশব্যাপী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড। সোমবার (২২ জুন) অনুষ্ঠিত সংগঠনটির কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠকে মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা, মসজিদ-মাদরাসা সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন রাজ্যের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বোর্ডের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বিজেপি শাসিত কয়েকটি রাজ্যে মুসলমানদের লক্ষ্য করে গণপিটুনি, মসজিদ ও মাদরাসা উচ্ছেদ, বাড়িঘরে বুলডোজার অভিযান এবং ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব পরিস্থিতি দেশের সামাজিক সম্প্রীতি, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করা হয়।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের সাংবিধানিক ও ধর্মীয় অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ নিয়ে একটি তথ্যনির্ভর প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। বোর্ডের নেতারা বলেন, বিষয়টি শুধু একটি সম্প্রদায়ের স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; বরং ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও সামাজিক ঐক্যের সঙ্গেও জড়িত।
মধ্যপ্রদেশের কামাল মওলা মসজিদ-ভোজশালা সংক্রান্ত মামলায় উচ্চ আদালতের সাম্প্রতিক রায় নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বোর্ড। তাদের মতে, ওই রায় ঐতিহাসিক দলিল, সরকারি নথিপত্র এবং দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে চলমান মামলায় সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটিকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে বিভিন্ন রাজ্যে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগের সমালোচনাও করা হয়। বোর্ডের বক্তব্য, কোনো নাগরিক বা শিক্ষার্থীর ওপর ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয় চাপিয়ে দেওয়া সংবিধানে স্বীকৃত ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের স্কুল ও সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত মাদরাসাগুলোতে এ নির্দেশনা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে মাদরাসায় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার সরকারি নির্দেশনার ওপর কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশকে স্বাগত জানিয়েছে সংগঠনটি। বোর্ডের নেতাদের মতে, গানটির কিছু অংশ মুসলমানদের একত্ববাদী ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড) বাস্তবায়নের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধেও অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বোর্ডের দাবি, এমন উদ্যোগ ধর্মীয় স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং ভারতের বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থার পরিপন্থী। উত্তরাখণ্ডে এ সংক্রান্ত আইনের বিরুদ্ধে চলমান আইনি লড়াইয়ের মতো অন্যান্য রাজ্যেও প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
মুসলমানদের অধিকার রক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংরক্ষণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে দেশব্যাপী গণআন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে বোর্ড। এ উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ কর্মপরিষদ গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
বোর্ডের সভাপতি মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ রাহমানির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ফজলুর রহিম মুজাদ্দেদি। বৈঠকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আলেম, আইনজীবী, সমাজনেতা এবং বোর্ডের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন। পরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হয়।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের পর এক সময় যা কল্পনাতেও ভাবা কঠিন ছিল, শেষ পর্যন্ত সেটাই বাস্তবে দেখা গেল। যে দলটি প্রায় তিন দশক আগে গড়ে তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই দলের শীর্ষ পদ থেকেই সরিয়ে দেওয়া হল তাকে। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়।
সোমবার (২২ জুন) কলকাতার নিউটাউনের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বিশেষ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের প্রায় ৬০ জন বিধায়ক এবং কলকাতা পুরসভার অন্তত ৭০ জন কাউন্সিলর। বৈঠকের নেতৃত্বে ছিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে এত বড় পরিবর্তন ঘটল। দীর্ঘদিন ধরে দলের মুখ এবং প্রধান সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসেবে পরিচিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বৈঠকের শুরুতেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সাংগঠনিক সংকটের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি জানান, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক। সর্বশেষ ২০২২ সালে সেই কমিটি গঠিত হয়েছিল। এরপর নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন কমিটি তৈরি হয়নি। সেই কারণেই জরুরি ভিত্তিতে এই বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে তিনি ব্যাখ্যা দেন।এরপর দ্রুত গতিতে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথমে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়। পরে ধ্বনি ভোটে অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তন নয়, বরং তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে নতুন ক্ষমতার কেন্দ্র গড়ে ওঠারও ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর দলের অভ্যন্তরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, এই বৈঠককে তারই প্রকাশ্য রূপ বলে মনে করা হচ্ছে। অরূপ রায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর নতুন রাজ্য নেতৃত্বেরও ঘোষণা করা হয়। দলের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথিন ঘোষ এবং সাবিনা ইয়াসমিন। সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান এবং সন্দীপন সাহাকে। এছাড়া কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আখরুজ্জামান আনসারিকে। একই সঙ্গে অতীতের আর্থিক কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য নিরীক্ষক নিয়োগের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে বিদ্রোহী তৃণমূল শিবির স্পষ্ট বার্তা দিল যে তারা পুরনো নেতৃত্বের ছায়া থেকে বেরিয়ে নতুন সাংগঠনিক কাঠামো গড়তে চায়। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগতদের কাছে ঘটনাটি নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। এক সময় যার নামেই তৃণমূল কংগ্রেসের পরিচয় তৈরি হয়েছিল, রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজের দলেই নেতৃত্ব হারাতে হল।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এটি নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।এখন দেখার বিষয়, এই নতুন নেতৃত্বের অধীনে তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের পুনর্গঠন করতে পারে কি না এবং আগামী দিনে রাজ্যের বিরোধী রাজনীতিতে কতটা প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়।