আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের পরোক্ষ আলোচনা শুরু

    দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের পরোক্ষ আলোচনা শুরু

    মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে বলে আলোচনার বিষয়ে অবগত এক কূটনীতিক বুধবার এএফপিকে জানিয়েছেন।

    সংবেদনশীল এই আলোচনা সম্পর্কে পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ওই কূটনীতিক জানান, আলোচনা শুরু হয়েছে।

    এর আগে তিনি বলেছিলেন, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় বুধবার দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘পরোক্ষ কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা’ অনুষ্ঠিত হবে।

    তিনি বলেন, দোহার এই আলোচনা ‘সমঝোতা স্মারকের’ ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে সুইজারল্যান্ডের লেক লুসার্ন সম্মেলনে অর্জিত অগ্রগতি এবং জুনে উভয় পক্ষ অনুমোদিত আলোচনার কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে আগোনো হচ্ছে।

    কূটনীতিক জানান, যুক্তরাষ্ট্রের দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ এই কারিগরি আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন না। মঙ্গলবার তারা কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানির সাথে বৈঠক করেছেন।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় দেশই আগে জানিয়েছিল, তারা কাতারের বৈঠকে কর্মকর্তাদের পাঠাবে।

    কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, অবরোধ প্রত্যাহারের পর হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়া এবং যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর সময়সূচি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল এই যুদ্ধ।

    বুধবার ইরানি কর্মকর্তাদের দোহায় যাওয়ার কথা থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি আলোচনা হওয়ার দাবিকে তেহরান নাকচ করে দেয়।

    ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি নিশ্চিত করেন, ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি। তবে তিনি বলেন, ‘আগামী কয়েক দিনে কোনো পর্যায়েই আমেরিকান পক্ষের সাথে আলোচনার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।’

    এদিকে কুশনার ও উইটকফ মঙ্গলবার কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেন বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, তারা ‘সমঝোতা স্মারকের কাঠামোর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান আলোচনা’ নিয়ে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি লেবাননের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও তাদের আলোচনায় স্থান পায়।

  • সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার হুমকি, ‘পোষ্যদের’ শিক্ষা দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

    সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার হুমকি, ‘পোষ্যদের’ শিক্ষা দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে ‘হত্যার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ। এমন মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, প্রভুকে অমান্য করে।

    আরাগচি বলেন, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) শর্তগুলো স্পষ্ট এবং সবার জন্য উন্মুক্ত। তিনি আরো বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তেল আবিবে তার পোষ্যদের মুখ বন্ধ রাখতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যদি তারা তাদের প্রভুকে অমান্য করে, তবে ইরান তাদের শিক্ষা দেবে।’

    সোমবার ইসরাইলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত মন্তব্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ বলেন, ইরান ‘দর-কষাকষিতে পারদর্শী ব্যবসায়ীর মতো’ আলোচনা থেকে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইসরাইল কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেবে না।

    এর জবাবে আরাগচি সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদের জনগণ ও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির জবাব তাৎক্ষণিক এবং শক্তিশালীভাবে দেওয়া হবে।’

  • জার্মানিতে তাপপ্রবাহে নদী-হ্রদে ডুবে ৩০ জনের বেশি প্রাণহানি

    জার্মানিতে তাপপ্রবাহে নদী-হ্রদে ডুবে ৩০ জনের বেশি প্রাণহানি

    তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে জার্মানিতে নদী, হ্রদ ও অন্যান্য জলাশয়ে সাঁতার কাটতে নেমে ৩০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বেশির ভাগই পুরুষ, তবে তাদের মধ্যে কয়েকজন কিশোরও রয়েছে।

    জার্মানির জীবন রক্ষা সংস্থা (ডিএলআরজি) জানিয়েছে, গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত সাঁতার বা গোসল করতে গিয়ে অন্তত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার আরও অন্তত সাতটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে। তাপপ্রবাহ শুরুর আগেই সংস্থাটি ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল।

    নিডারজ্যাক্সেন রাজ্যের পাইনে শহরের আইক্সার হ্রদ থেকে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়ার এখৎস হ্রদে নিখোঁজ হওয়া ১৪ বছর বয়সী আরেক কিশোরের মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে।

    এদিকে এলবে নদী, স্যাক্সনির পোহল জলাধার, কেল শহরের একটি খনির হ্রদ, নেফেল হ্রদ, কোলনের ফ্যুলিঙ্গার হ্রদ এবং বাল্টিক সাগরে আরও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    ডিএলআরজির সভাপতি উটে ফগ্ট বলেন, বিশেষ করে অনেক পুরুষ নিজেদের সক্ষমতাকে অতিমূল্যায়ন করে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি নিচ্ছেন, যা এ ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

    জার্মান আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, কয়েক দিনের তীব্র গরমের পর তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও ১০ থেকে ১২ জুলাইয়ের মধ্যে আবারও তাপপ্রবাহ বাড়তে পারে।

    এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে বলেছে, তাপপ্রবাহ এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো আবহাওয়াজনিত ঘটনা নয়; এটি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্রমেই আরও ঘন ঘন, তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হয়ে উঠছে।

    ডব্লিউএইচওর ইউরোপীয় আঞ্চলিক পরিচালক হান্স ক্লুগে বলেন, ইউরোপের অর্ধেকের বেশি দেশের এখনো কার্যকর তাপপ্রবাহ মোকাবিলা পরিকল্পনা নেই। আগাম সতর্কতা, শীতল আশ্রয়কেন্দ্র এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সহায়তা চালু করা গেলে বহু প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব।

  • ক্রিপ্টোতেই ট্রাম্পের বাজিমাত, প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রথম বছরেই আয় ১০০ কোটির বেশি ডলার

    ক্রিপ্টোতেই ট্রাম্পের বাজিমাত, প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রথম বছরেই আয় ১০০ কোটির বেশি ডলার


    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম বছরেই ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংশ্লিষ্ট ব্যবসা থেকে ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টদের বাধ্যতামূলক বার্ষিক আর্থিক বিবরণীতে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেছেন।

    মঙ্গলবার প্রকাশিত ৯২৭ পৃষ্ঠার আর্থিক বিবরণীতে ট্রাম্প জানান, দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক দিন আগে চালু হওয়া ট্রাম্প মিম কয়েন থেকে রয়্যালটি হিসেবে তিনি ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করেছেন। যদিও বাজারে আসার পর থেকে এই কয়েনের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

    এ ছাড়া ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল নামের একটি ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁর আয় হয়েছে ৫০ কোটি ডলারেরও বেশি। প্রতিষ্ঠানটি ট্রাম্পের ছেলেদের পাশাপাশি তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সন্তানদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত।

    আর্থিক বিবরণীতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রিয়েল এস্টেট ব্যবসা এবং ট্রাম্প-ব্র্যান্ডের বিভিন্ন পণ্য থেকেও কয়েক লাখ ডলার আয় করেছেন তিনি। তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের কারণে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউস।

    ২০২৪ সালের আর্থিক বিবরণীতে ট্রাম্প ৬০ কোটি ডলারের বেশি আয়ের তথ্য দিয়েছিলেন। সর্বশেষ ঘোষিত আয় সেই তুলনায় অনেক বেশি।

    হোয়াইট হাউসের দাবি, ট্রাম্প তাঁর ব্যবসাগুলো ছেলেদের পরিচালিত একটি ট্রাস্টের অধীনে রেখেছেন। তাই এ ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাতের কোনো প্রশ্ন নেই।

    হোয়াইট হাউসের উপপ্রেস সচিব আনা কেলি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের ‘ক্রিপ্টো রাজধানী’ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছেন। তাঁর ভাষায়, প্রেসিডেন্ট বা তাঁর পরিবার কখনো স্বার্থের সংঘাতে জড়ায়নি এবং ভবিষ্যতেও জড়াবে না। তিনি আরও দাবি করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিটি সিদ্ধান্তই আমেরিকান জনগণের সর্বোচ্চ স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া হয়।

    ট্রাম্প নিজেও বলেছেন, তিনি ফেডারেল স্বার্থসংঘাত আইনের আওতায় পড়েন না। অথচ কয়েক বছর আগেও তিনি বিটকয়েনকে ‘প্রতারণা’ এবং ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন।

    সর্বশেষ আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে তাঁর আয় এখন রিয়েল এস্টেট ব্যবসার আয়ের চেয়েও বেশি। একসময় এই রিয়েল এস্টেট খাত থেকেই ট্রাম্প ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি পান।

    প্রতিবেদনে দেখা যায়, ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো ক্লাব থেকে প্রায় ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং ট্রাম্প ন্যাশনাল ডোরাল মিয়ামি গলফ ক্লাব থেকে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার আয় করেছেন তিনি। নিউ জার্সির ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাব বেডমিনস্টার, ফ্লোরিডার জুপিটার এবং স্কটল্যান্ডের ট্রাম্প টার্নবেরি গলফ ক্লাব থেকেও ৩ কোটি ডলারের বেশি করে আয় এসেছে।

    এ ছাড়া ট্রাম্প-ব্র্যান্ডের ঘড়ি থেকে ৪৭ লাখ ডলার রয়্যালটি পেয়েছেন তিনি। বাইবেল, জুতা, সুগন্ধি ও গিটার বিক্রি থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় হয়েছে।

    ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পও নিজের আয় বিবরণীতে জানিয়েছেন, তাঁকে নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রের লাইসেন্স চুক্তি থেকে তিনি ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং এনএফটি বিক্রি করে আরও ৬০ লাখ ডলার আয় করেছেন।

    ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, বিভিন্ন আইনি মামলার নিষ্পত্তির মাধ্যমে তিনি মোট ৮ কোটি ৬৫ লাখ ডলার পেয়েছেন। এর মধ্যে এবিসি, সিবিএস, মেটা, ইউটিউব ও এক্সের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থ এসেছে।

    হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এসব অর্থের বড় একটি অংশ ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি অথবা ওয়াশিংটন ডিসি এলাকার পার্ক রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হবে।

    ফোর্বস-এর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ট্রাম্পের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬০০ কোটি ডলার, যা ২০২৪ সালে ছিল ২৩৩ কোটি ডলার। অন্যদিকে ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার সূচক তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৭৬০ কোটি ডলার বলে উল্লেখ করেছে।

    হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্প ক্রিপ্টোশিল্পের প্রতি ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি এ খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিয়েছেন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নীতিতেও পরিবর্তন এনেছেন।

    ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে দায়িত্ব নেওয়া ইউএস সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের প্রধান পল অ্যাটকিন্স তাঁর পূর্বসূরির কঠোর নিয়ন্ত্রণনীতি থেকে সরে এসে তুলনামূলক শিথিল অবস্থান গ্রহণ করেন। একই বছরের জুলাইয়ে ট্রাম্প জিনিয়াস অ্যাক্ট আইনে স্বাক্ষর করেন, যার লক্ষ্য ডিজিটাল সম্পদের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠা করা।

  • যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে একের পর এক মামলার রায়ে ধরাশায়ী ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে একের পর এক মামলার রায়ে ধরাশায়ী ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন। এর মধ্যে তিনটি রায় ট্রাম্পের বিপক্ষে গেছে। মাত্র একটি রায় তাঁর পক্ষে এসেছে। পরদিন মঙ্গলবারও ট্রাম্পবিরোধী রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট।

    রায়গুলোয় যেসব বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—স্বাধীন সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ওপর প্রেসিডেন্টের কর্তৃত্ব, ভোটাধিকার ও যৌন নিপীড়নসংক্রান্ত মামলা এবং জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বিষয়ে দেওয়া রায়। এর মধ্যে শুধু স্বাধীন সংস্থার কর্মকর্তাদের বরখাস্তের ক্ষেত্রে তাঁর ক্ষমতা বেড়েছে।

    স্বাধীন সংস্থার কর্মকর্তাদের বরখাস্তের ক্ষমতা বাড়ল

    যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতা আরও বাড়িয়ে একটি রায় দিয়েছেন। এই রায় অনুযায়ী, স্বাধীন সরকারি সংস্থার সদস্যদের বরখাস্ত করতে প্রেসিডেন্টকে আর কোনো কারণ দেখাতে হবে না।

    আদালত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) ডেমোক্র্যাট সদস্য রেবেকা স্লটারকে বরখাস্তে ট্রাম্পের নেওয়া পদক্ষেপটি বৈধ। একই সঙ্গে আদালত ১৯৩৫ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির বাতিল করেছে, যেখানে কংগ্রেসের এমন ক্ষমতা স্বীকৃত ছিল, যার মাধ্যমে কিছু নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধানদের প্রেসিডেন্টের ইচ্ছেমতো অপসারণ থেকে সুরক্ষা দেওয়া যেত।

    ট্রাম্প গত বছর কোনো কারণ না দেখিয়েই স্লটারকে বরখাস্ত করেছিলেন। ধারণা করা হয়, নীতিগত বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে মতবিরোধ ছিল। তবে নিম্ন আদালতগুলো স্লটারের দাবির পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। তারা বলেছিলেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ কংগ্রেসের নির্ধারিত সুরক্ষাবিধি লঙ্ঘন করেছে।

    তবে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের ৯ বিচারপতির মধ্যে ৬ জনই রায় দিয়েছেন, স্বাধীন সরকারি সংস্থার সদস্যদের বরখাস্ত করতে প্রেসিডেন্টকে আর কোনো কারণ দেখাতে হবে না।

    আইনজীবী ব্রুস ফেইন আল-জাজিরাকে বলেন, এই রায়ের কারণে ‘নির্বাহী শাখার ওপর ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নিজের ইচ্ছেমতো বরখাস্ত করার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।’

    বিশ্লেষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকেই ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোয় নিজের রাজনৈতিক মিত্রদের বসানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই রায়কে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, এমন এক সময়ে এই রায় এসেছে, যখন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সম্প্রসারণ করাটা ‘সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন’।

    তবে সুপ্রিম কোর্টের উদারপন্থী বিচারপতি সোনিয়া সোতোমেয়র ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আজ সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা ৯০ বছরের পরীক্ষিত ও কার্যকর একটি ব্যবস্থা বাতিল করে এমন একটি অপরিণত নির্বাহী ক্ষমতার তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা একদিকে সর্বগ্রাসী, অন্যদিকে আবার কিছু অস্পষ্ট ব্যতিক্রমের ওপর নির্ভরশীল।’

    ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনও এই রায়ের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেমোক্র্যাট নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করেছেন এবং স্বাধীনভাবে পরিচালিত সংস্থাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়েছেন। তিনি চান, সেগুলো মার্কিন জনগণের পরিবর্তে তাঁর ও তাঁর ধনী মিত্রদের স্বার্থ রক্ষা করুক।’

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পছবি

    ফেডারেল রিজার্ভ গভর্নরকে বরখাস্তে বাধা

    সোমবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের প্রধান লিসা কুককে পদ থেকে সরিয়ে দিতে ট্রাম্পের নেওয়া উদ্যোগটি আটকে দিয়েছেন। আর এর মধ্য দিয়ে ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমের স্বাধীনতা বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

    ফেডারেল রিজার্ভ একটি নির্দলীয় প্রতিষ্ঠান, যা বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির মুদ্রানীতি নির্ধারণ করে। এর গভর্নরদের প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন দেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট তাঁদের মনোনয়ন চূড়ান্ত করে।

    কুককে বরখাস্ত করার কারণ হিসেবে ট্রাম্প তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা প্রমাণহীন মর্টগেজ জালিয়াতির অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তবে কুক সেই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, সুদের হার কমানোর জন্য ট্রাম্পের চাপের বিপরীতে মুদ্রানীতি নিয়ে মতপার্থক্যের কারণেই তাঁকে সরানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

    ১৯১৩ সালে ফেডারেল রিজার্ভ প্রতিষ্ঠার পর থেকে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর আগে কখনো ফেডারেল রিজার্ভের কোনো গভর্নরকে অপসারণের চেষ্টা করেননি।

    সোমবার দেওয়া রায়ে আদালত বিশেষভাবে ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিদের দেওয়া মতামতে বলা হয়, ‘শুধু স্বাধীনতা থাকাই নয়, স্বাধীনতার দৃশ্যমান উপস্থিতিও ফেডারেল রিজার্ভের কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’

    আইনজীবী ব্রুস ফেইন বলেন, এর ফলে ‘ফেডারেল রিজার্ভ বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়া এবং রাজনৈতিক সুবিধার জন্য মুদ্রানীতি প্রভাবিত করতে ট্রাম্পের চেষ্টা স্থায়ীভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।’

    কুক আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

    তবে ট্রাম্প সঙ্গে সঙ্গেই এর বিরোধিতা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কল্যাণ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত যেন কোনো অনিয়মকারী ব্যক্তি নিতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে আমরা অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’

    তবে এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন বা সরকার পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নিতে পারে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

    ডাকযোগে ভোট গণনার নিয়ম বহাল

    মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এমন একটি অঙ্গরাজ্য আইন বহাল রেখেছে, যার আওতায় নির্বাচনের দিনের মধ্যে ডাকযোগে পাঠানো হলেও পরে পৌঁছানো ব্যালট গণনা করা যাবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য এটি আরেকটি ধাক্কা।

    রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের ওই আইনকে চ্যালেঞ্জ করেছিল। ওই আইনে বলা হয়েছে, ব্যালট যদি নির্বাচনের দিনের মধ্যে ডাক বিভাগের সিলমোহর পায় এবং ভোটের পর পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে পৌঁছে যায়, তাহলে তা গণনা করা হবে। আদালত রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির চ্যালেঞ্জ খারিজ করে দেয়।

    এর মধ্য দিয়ে নিম্ন আদালতের একটি সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন সুপ্রিম কোর্ট। নিম্ন আদালত বলেছিল, মিসিসিপির আইনটি যুক্তরাষ্ট্রের সেই ফেডারেল আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, যেখানে প্রেসিডেন্ট, সিনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

    ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থার সমালোচনা করে আসছেন। তিনি কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছেন, এই পদ্ধতিতে জালিয়াতির সুযোগ আছে। ২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে নিজের পরাজয়ের পেছনেও এটি ভূমিকা রেখেছিল বলে অভিযোগ করেছেন ট্রাম্প।

    চলতি বছরের মার্চে ট্রাম্প ডাকযোগে ভোটের নিয়ম আরও কঠোর করতে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। তবে নিম্ন আদালত সেই আদেশ বাস্তবায়ন স্থগিত করে দিয়েছে।

    নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে ভোটারদের অধিকারের জন্য ‘বড় ধরনের ক্ষতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে তিনি কংগ্রেসকে ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ পাস করার আহ্বান জানান।

    সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এবং রক্ষণশীল বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট মিসিসিপির আইন বহাল রাখার পক্ষে ভোট দেন। তাঁরা আদালতের তিনজন উদারপন্থী বিচারপতির সঙ্গে একমত হন।

    যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে অঙ্গরাজ্যগুলোর ব্যাপক ক্ষমতা আছে।

    সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত লিখতে গিয়ে ব্যারেট বলেন, ‘ফেডারেল আইন নির্ধারণ করে যে কখন ভোট দিতে হবে, আর অঙ্গরাজ্যের আইন নির্ধারণ করে কখন সেই ভোটপত্র গ্রহণ করা হবে।’

    সাধারণত ডেমোক্র্যাট ভোটাররা রিপাবলিকানদের তুলনায় ডাকযোগে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি বেশি ব্যবহার করেন। কোভিড-১৯ মহামারির সময় এই পদ্ধতির ব্যবহার আরও বেড়ে যায়। ট্রাম্প নিজেও ডাকযোগে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন।

    বিভিন্ন জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসে তাদের অল্প ব্যবধানে থাকা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর ঝুঁকিতে আছে, বিশেষ করে প্রতিনিধি পরিষদে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা যদি প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, তবে তারা ট্রাম্পের নীতিগত কর্মসূচি আটকে দিতে পারে। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে আবারও অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর উদ্যোগ নেওয়ারও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে দুবার অভিশংসিত হয়েছেন।

    সুপ্রিম কোর্টের ৯ বিচারপতিছবি

    ট্রাম্পের যৌন নিপীড়ন মামলার রায় বহাল

    ২০২৩ সালের ৯ মে ম্যানহাটানের একটি ফেডারেল দেওয়ানি আদালত রায় দেন, ট্রাম্প ১৯৯৬ সালে নিউইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরে কলাম লেখক ই. জ্যঁ ক্যারলের ওপর যৌন নিপীড়ন চালিয়েছিলেন। আদালত এ ঘটনার জন্য ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করেন। তাঁকে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়। সেই রায় পুনর্বিবেচনা করতে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো হয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্ট সেই রায় পুনর্বিবেচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

    এতে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আশ্চর্যজনকভাবে, সুপ্রিম কোর্ট আমার বিরুদ্ধে আনা একটি ভুয়া মামলার রায় পুনর্বিবেচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। মামলাটি এমন একজন নারীর করা, যাঁর সঙ্গে আমার কখনো পরিচয় ছিল না। (কয়েক দশক আগে কোনো অনুষ্ঠানে তাঁর স্বামীসহ আমার পাশে দাঁড়িয়ে তোলা একটি ছবি আমাদের পরিচয়ের প্রমাণ হতে পারে না।)’

    ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আইনকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে পরিচালিত এই মামলার বিরুদ্ধে আমি লড়াই চালিয়ে যাব। এর মধ্যে মানহানির অভিযোগের মতো হাস্যকর দাবিগুলোর বিরুদ্ধেও আমি সর্বশক্তি দিয়ে লড়ব।’

    ক্যারল ২০১৯ সালে প্রকাশিত তাঁর একটি বইয়ে লিখেছিলেন, ২৩ বছর আগে নিউইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরে পোশাক বদলানোর কক্ষে ট্রাম্প তাঁকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন।

    এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প ক্যারলকে ‘পাগলাটে নারী’ বলে অভিহিত করেছেন। ক্যারলের দাবি ছিল, এই মন্তব্য তাঁর সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে এবং এটি মানহানিকর।

    ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা কাপলান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আজকের সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তটি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করেছে, জুরির সর্বসম্মত রায় অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই ক্যারলের ওপর যৌন নিপীড়ন চালিয়েছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছিলেন।’

    ক্যারল আরও বলেন, ‘এই রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের একাধিক আপিলের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। আজকের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাঁর কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টারও অবসান ঘটল।’

    জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব

    গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট দেশটিতে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার বহাল রেখেছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রায় সব মানুষই দেশটির নাগরিকত্ব পাবেন। আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী প্রধান একটি এজেন্ডা বড় ধাক্কা খেল।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনই যে নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন সেটির উদ্দেশ্য ছিল, যুক্তরাষ্ট্রে নথিপত্রহীন বা অবৈধ অভিবাসী এবং সাময়িকভাবে বসবাসকারী বিদেশিদের সন্তানদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা।

    তবে আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকের পক্ষে রায় লিখতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, এ নির্বাহী আদেশটি মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর পরিপন্থী।

    রবার্টস লিখেছেন, ‘তখন এবং এখন-সব সময়ই নাগরিকত্ব হলো অধিকার পাওয়ার অধিকার, যার মাধ্যমে আমাদের রাজনৈতিক কমিউনিটিতে স্বাধীনভাবে অংশ নেওয়া যায়। চতুর্দশ সংশোধনীর প্রণেতারা এই ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণকারী প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আজ আমরা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছি।’

    দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল দেওয়া রায়ে বিচারকেরা নাগরিকত্ব বলতে আসলে কী বোঝায়, তা পরিষ্কার করতে ইতিহাসের উদাহরণ টেনেছেন। তাঁরা দেখিয়েছেন কীভাবে ইংল্যান্ডের পুরোনো আইন থেকে শুরু করে দাসপ্রথার অবসান এবং পরে চীনাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার চেষ্টার মতো ঘটনাগুলো ঘটেছিল।

    প্রধান বিচারপতি রবার্টস লিখেছেন, ১৮৫৭ সালের ‘ড্রেড স্কট’ মামলার রায়টি ছিল অত্যন্ত ঘৃণ্য। কারণ, সেই রায়ে কৃষ্ণাঙ্গদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে বলা হয়েছিল, নাগরিকত্ব ঠিক হবে রক্তের সম্পর্কের ভিত্তিতে, দেশের মাটির ভিত্তিতে নয় (অর্থাৎ মা-বাবা যে দেশের নাগরিক, সন্তান শুধু সে দেশেরই নাগরিক হবে, জন্ম যেখানেই হোক না কেন)। পরে সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী এনে ওই ভুল নিয়মটি বদলে দেওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া ও ‘যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া সবার’ নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা।

    সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকেরা রায়ে পরিষ্কার করে বলেছেন, ‘কোনো মা-বাবা যদি অবৈধভাবে বা সাময়িক সময়ের জন্য (যেমন পর্যটন বা শিক্ষার্থী ভিসায়) যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন, আর সেই সময়ে তাঁদের কোনো সন্তান এ দেশে জন্ম নেয়, তবে সেই শিশুও জন্মসূত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নাগরিক হবে।’

  • ইরানে আবারও যুদ্ধ শুরুর চিন্তা করছেন ট্রাম্প, তবে এখনো কূটনীতিতেই ভরসা

    ইরানে আবারও যুদ্ধ শুরুর চিন্তা করছেন ট্রাম্প, তবে এখনো কূটনীতিতেই ভরসা

    ইরানের বিরুদ্ধে আবারও পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করা হবে কি না, তা নিয়ে গত কয়েক দিনে একাধিক উচ্চপর্যায়ের আলোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের সঙ্গে এসব আলোচনায় ইরানে নতুন করে বড় আকারের হামলার সম্ভাবনাও উঠে এসেছে। তবে আপাতত সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু না করে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প।

    মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরে বলা হয়েছে—আলোচনার বিষয়ে অবগত মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, মূল প্রশ্ন ছিল—যুক্তরাষ্ট্র কি চলমান আলোচনা ছেড়ে আবার ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার আক্রমণে ফিরবে। প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা এই সম্ভাবনাকে ‘কাজ শেষ করা’ হিসেবে দেখছেন। তবে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

    সহযোগীদের কাছে ট্রাম্প যুক্তি দিয়েছেন, নতুন করে পূর্ণমাত্রার হামলা শুরু হলে চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ভেঙে যেতে পারে। এতে শেষ পর্যন্ত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিষ্ক্রিয় করার দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন লক্ষ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট তাঁর সহযোগীদের জানিয়েছেন, পারমাণবিক সমঝোতার জন্য নির্ধারিত ১৮ আগস্টের সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও তাঁর আপত্তি নেই। এতে আলোচনার জন্য আরও সময় পাওয়া যাবে বলে তিনি মনে করছেন।

    এদিকে, ইরান ‘সমঝোতা স্মারক’ লঙ্ঘন করলে সীমিত আকারে এককালীন হামলার নীতিতেই আপাতত সন্তুষ্ট রয়েছেন ট্রাম্প। ওই সমঝোতা ঘিরেই গত সপ্তাহান্তে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ শুরু হয়, যা মাত্র দুই সপ্তাহ আগে প্রতিষ্ঠিত নাজুক যুদ্ধবিরতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে।

    যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টকে সামরিক বিকল্প উপস্থাপন করা পেন্টাগনের জন্য স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ট্রাম্পও নিয়মিতভাবে ইরান নিয়ে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। তবে সাম্প্রতিক আলোচনা ইঙ্গিত দিচ্ছে, তিনি তেহরানের সঙ্গে অচলাবস্থা ভাঙার নতুন উপায় খুঁজছেন এবং সামরিক পথ পুরোপুরি বাতিল করেননি।

    মার্কিন প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা মনে করছেন, যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে তা বহুল আলোচিত ইরান চুক্তির ব্যর্থতার নীরব স্বীকারোক্তি হিসেবে দেখা হবে। যদিও প্রকাশ্যে ট্রাম্প এখনো দাবি করছেন যে আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে। গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরান তাঁর সব শর্ত মেনে নিতে সম্মত হচ্ছে এবং তা তাদের করতেই হবে। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র আবার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প সব সময়ই কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেন এবং ইরানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভালো চুক্তিতে পৌঁছানোই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

    এদিকে মঙ্গলবার ফক্স নিউজে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, প্রেসিডেন্ট প্রশাসনকে আলোচনার ফলাফল দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে কূটনৈতিক সমাধান ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এখনো একাধিক বিকল্প রয়েছে। একই দিনে ট্রাম্পের ইরানবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার নতুন দফার আলোচনার জন্য কাতারের দোহায় পৌঁছান। কাতারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা সরাসরি ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসেননি; মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। এ সপ্তাহে দুই দেশের কারিগরি পর্যায়ের প্রতিনিধিদেরও একইভাবে পরোক্ষ আলোচনা করার কথা রয়েছে।

    কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ৬০ দিনের আলোচনায় সম্মতির পর এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান আলোচনার বড় জটগুলোর একটি হলো হরমুজ প্রণালি। ইরান দাবি করছে, এই জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে কয়েক বিলিয়ন ডলার সেবা ফি দিতে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, যুদ্ধের আগে যেমন ছিল, তেমনি এই পথ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত।

    একই সঙ্গে তেহরান জানিয়েছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা তারা মেনে নেবে না। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ইতোমধ্যে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মঙ্গলবার জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেন, এখন পর্যন্ত ইরান সহযোগিতামূলক আচরণ করেনি। তাঁর দাবি, মার্কিন সামরিক সুরক্ষা ব্যবস্থার কারণেই বৈশ্বিক তেল সরবরাহ পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, ইরান সহযোগিতা করুক বা না করুক, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সহযোগিতা থাকলে তা আরও ভালো হবে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সমাপ্তি চাওয়ার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।

    উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র এখন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মধ্যে একটি জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। কিছু কর্মকর্তা এটিকে সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত হিসেবে দেখলেও অন্যদের মতে, উদ্যোগটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। হোয়াইট হাউস বলছে, যোগাযোগ চ্যানেল ইতোমধ্যে চালু হয়েছে এবং উভয় পক্ষ এটি ব্যবহারও করেছে।

    কূটনৈতিক অচলাবস্থার কারণে ট্রাম্প বিকল্প পরিকল্পনাও খতিয়ে দেখছেন। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা তাঁকে ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে নতুন করে বড় পরিসরের বিমান হামলার বিভিন্ন পরিকল্পনা দেখিয়েছেন। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে অভিযানে, যা ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছিল, মার্কিন বাহিনী ইরানের ভেতরে ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এতে ইরানের প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস হয় এবং নতুন অস্ত্র তৈরির সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    মার্চের শেষ দিকে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে জানান, ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে দিতে আরও কয়েক সপ্তাহ লাগবে। এরপর ৭ এপ্রিল ট্রাম্প প্রাথমিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দেন। যদিও এরপর থেকে তিনি একাধিকবার বড় আকারের সামরিক অভিযান অনুমোদন দেওয়া থেকে সরে এসেছেন। এক পর্যায়ে তিনি ইরানি সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়া এবং খার্গ দ্বীপ দখলের হুমকিও দিয়েছিলেন, কিন্তু পরে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে আবার আলোচনার পথ বেছে নেন।

    আগেও সহযোগীদের ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান যদি মার্কিন সেনাদের হত্যা করে, কেবল তখনই তিনি যুদ্ধ পুনরায় শুরু করবেন। জুনে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে খুব সহজেই আবার বোমা হামলা শুরু করতে পারে এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের সক্ষমতা ধ্বংস করে দিতে পারে। কিন্তু তাতে হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকতে পারে এবং বহু মানুষ মারা যাবে। তাঁর মতে, যুদ্ধের চেয়ে একটি কার্যকর চুক্তিই বেশি শক্তিশালী সমাধান।

    ওয়াশিংটনের ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের ইরান বিশেষজ্ঞ ও পররাষ্ট্রনীতি গবেষণাবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট সুজান ম্যালোনি বলেন, ট্রাম্পের সামনে আরও কিছু চাপ প্রয়োগের পথ খোলা আছে। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরানের স্থগিত থাকা কয়েক বিলিয়ন ডলারের তহবিলে প্রবেশ সীমিত করতে পারে অথবা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণচেষ্টার অর্থনৈতিক খরচ আরও বাড়াতে পারে।

    তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই মধ্যপন্থী কৌশলেরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ট্রাম্প আবার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে ফিরতে অনিচ্ছুক বলেই মনে হচ্ছে। অন্যদিকে ইরানেরও জলপথে বিঘ্ন তৈরির সক্ষমতা রয়েছে। তাঁর মূল্যায়ন, পূর্বানুমানযোগ্য মার্কিন প্রতিক্রিয়া এবং শর্তসাপেক্ষ অর্থনৈতিক প্রণোদনার সমন্বয় তেহরানকে পরিস্থিতিকে অতিরিক্ত ঝুঁকির দিকে ঠেলে না দিতে উৎসাহিত করতে পারে।

  • ভারতের গুজরাটে ৩টি মসজিদ গুঁড়িয়ে দিলো সরকার

    ভারতের গুজরাটে ৩টি মসজিদ গুঁড়িয়ে দিলো সরকার

    আনর্তজাতিক ডেস্ক:

    ভারতের গুজরাটের কচ্ছ জেলায় প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে তিনটি মসজিদ, একাধিক মাজারসহ প্রায় ৩০টি স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে।

    বুধবার (১ জুলাই) দেশটির একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এর জেরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও মুসলিম সংগঠনগুলোর অভিযোগ, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ বা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই হঠাৎ এ অভিযান চালানো হয়।

    ঘটনার পর জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের একটি প্রতিনিধি দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে। প্রতিনিধি দলের নেতা মাওলানা হাকিমুদ্দিন কাসেমীর দাবি, প্রশাসনের কাছে বারবার কারণ জানতে চাওয়া হলেও কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি।

    তিনি অভিযোগ করেন, মসজিদ কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয় এবং প্রতিবাদকারীদের মধ্যে কয়েকজনকে আটক করা হয়।

    সংগঠনটির তথ্যমতে, ভেঙে ফেলা স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ১১টি ধর্মীয় স্থাপনা, ১৭টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং দুটি আবাসিক বাড়ি।

    তাদের আরো দাবি, উচ্ছেদের প্রতিবাদ করায় অন্তত ২৫ জন যুবককে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    জমিয়তের দাবি, কচ্ছের জুনা কান্ডলা মসজিদটি ১৯৬৫ সাল থেকেই ওয়াক্ত রেকর্ডে নিবন্ধিত ছিল। সংগঠনটির বক্তব্য, ওয়াক্তভুক্ত কোনো ধর্মীয় স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে আইন, যথাযথ প্রক্রিয়া এবং সাংবিধানিক বিধান মেনে চলা বাধ্যতামূলক।

    অন্যদিকে, গুজরাটের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ সংঘভির নির্দেশে সরকারি জমি দখলমুক্ত করার অংশ হিসেবে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

    প্রশাসনের দাবি, ভেঙে ফেলা স্থাপনাগুলো সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ছিল। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন- মুসলমানদের উচ্ছেদ করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

  • এনডিটিভির বিশ্লেষণ

    এনডিটিভির বিশ্লেষণ

    রাহুল গান্ধীর ‘আউটসাইডার নীতি’, ক্ষোভ বাড়ছে কংগ্রেসে

    রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি পর্বেই দলের ভেতর থেকে একটি সুনির্দিষ্ট ও পুঙ্খানুপুঙ্খ অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে— তিনি কংগ্রেসের খাঁটি নেতা-কর্মীদের চেয়ে বাইরের মানুষদের সঙ্গে কাজ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

    এখানে ‘আউটসাইডার’ বা ‘বাইরের মানুষ’ বলতে সবসময় এমন কাউকে বোঝায় না যিনি গতকালই দলে যোগ দিয়েছেন। কখনো কখনো এর অর্থ হলো— যিনি ঐতিহ্যগত রাজ্য-স্তরের সাংগঠনিক কাঠামোর বাইরে থেকে এসেছেন। আবার কখনো এর অর্থ কোনো প্রযুক্তিবিদ, অ্যাক্টিভিস্ট, সাবেক আমলা, পেশাজীবী, এনজিও-ভাবাপন্ন রাজনৈতিক কর্মী বা ব্যক্তিগত সহকারী— যারা জেলা কমিটি, যুব কংগ্রেস, প্রদেশ কংগ্রেস কিংবা অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির চেনা পথ মাড়িয়ে, উপদলীয় আনুগত্য বা নির্বাচনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে রাজনীতিতে আসেননি।

    সহজ কথায়, এটি এমন একদল মানুষকে বোঝায় যাদের প্রতি রাহুলের অন্ধ বিশ্বাস আছে, কিন্তু মূল দল বা সাধারণ কর্মীদের মনে তাদের প্রতি কোনো সমীহ নেই।

    এর সবচেয়ে সাম্প্রতিক উদাহরণ হলেন আম আদমি পার্টির সাবেক নেতা রাজেন্দ্র পাল গৌতম।

    কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সম্প্রতি আম আদমি পার্টির সাবেক নেতা ও দলিত অ্যাক্টিভিস্ট রাজেন্দ্র পাল গৌতমকে নির্বাচনি রাজ্য উত্তরপ্রদেশের ‘এআইসিসি ইনচার্জ’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি অবিনাশ পান্ডের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

    গৌতম একই সঙ্গে কংগ্রেসের তফসিলি জাতি বিভাগেরও প্রধান এবং রাহুল গান্ধীর সামাজিক ন্যায়বিচার ও দলিত ভাবমূর্তি পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে দেখা হচ্ছে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের বহু হেভিওয়েট নেতাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

    কংগ্রেসের জন্য উত্তরপ্রদেশ কোনো সাধারণ রাজ্য নয়। এটি সেই মাটি যেখানে একটি জাতীয় শক্তি হিসেবে কংগ্রেসের জন্ম হয়েছিল, যেখানে নেহেরু-গান্ধী পরিবারের রাজনীতি একসময় গণ-বৈধতা পেয়েছিল এবং এখানেই দলটির পতন সবচেয়ে বেশি অপমানজনক হয়েছে।

    ২০১৯ সালে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী যখন আনুষ্ঠানিকভাবে এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেন, তখন তাকে পূর্ব উত্তরপ্রদেশের এবং জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াকে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আর আজ, দলটির উত্তরপ্রদেশের প্রধান চালিকাশক্তি হলেন রাজেন্দ্র পাল গৌতম— যিনি একজন নবাগত এবং এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক বা কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির কোনো হেভিওয়েট নেতাও নন।

    এটি কেবল একটি সাধারণ নিয়োগ নয়, এটি আসলে একটি পরিষ্কার বার্তা। রাহুল স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছেন যে, কংগ্রেসের পুরনো কাঠামোর ভবিষ্যৎ কোনো স্বয়ংক্রিয় অধিকার বা উত্তরাধিকারের ওপর নির্ভরশীল নয়। তিনি আরও বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে— মতাদর্শিক অবস্থান, সামাজিক ন্যায়বিচার, দলিতদের কাছে পৌঁছানো এবং বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ের ক্ষেত্রে তিনি কোনো পরিশ্রান্ত ‘ইনসাইডার’ বা ঘরের মানুষের চেয়ে একজন নব্য দীক্ষিত ‘আউটসাইডার’কে বেশি বিশ্বাস করেন।

    এখন প্রশ্ন হলো— এটি রাহুলের রাজনৈতিক সাহস, নাকি সিদ্ধান্তহীনতার বিভ্রান্তি, নাকি নতুন এক ধরনের কোটারি বা বলয় কেন্দ্রিক রাজনীতি?

    রাহুল কেন ‘বাইরের মানুষ’দের বিশ্বাস করেন?

    রাহুল গান্ধীর এই আউটসাইডার প্রীতির পেছনে একটি মনস্তাত্ত্বিক এবং রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে।

    যখন তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন, তখন তার চারপাশে ছিল পুরনো কংগ্রেসের এক বিশাল বহর— জেলা পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতা, উপদলীয় কোন্দলের পরিচালক, গান্ধী পরিবারের পুরোনো অনুগত, প্রদেশ কংগ্রেসের বলিষ্ঠ প্রবীণ দলনেতা এবং দিল্লির মধ্যস্থতাকারী; যারা দলের পুনরুজ্জীবনের কথা ভুলে কেবল নিজেদের টিকিয়ে রাখার বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন।

    তাদের অনেকেই রাহুলকে একজন যোগ্য ‘নেতা’ হিসেবে না দেখে কেবল ‘উত্তরাধিকার’ হিসেবে বিবেচনা করতেন। তারা প্রকাশ্যে আনুগত্য দেখালেও গোপনে ছিলেন অবজ্ঞাপূর্ণ এবং সর্বদা সুযোগসন্ধানী। ফলে রাহুল কেন তাদের প্রতি সন্দেহপ্রবণ হয়ে উঠবেন, তা বোঝা মোটেও কঠিন নয়।

    রাহুলের চোখে, এই পুরনো কংগ্রেস মানেই হলো ক্ষমতার সঙ্গে আপস, উচ্চবর্ণের আধিপত্য এবং বিজেপির মতো নরম হিন্দুত্বের রাজনীতি করা।

    অন্যদিকে, বাইরের মানুষরা তার কাছে কংগ্রেসের ক্ষয়িষ্ণু সংস্কৃতির দ্বারা কলুষিত নন বলে মনে হয়। ঠিক এই কারণেই শশীকান্ত সেন্থিল, শচীন রাও, কৃষ্ণ আল্লাভারু, কে রাজু, প্রবীণ চক্রবর্তী, অলংকার সাওয়াই, কে বি বাইজু এবং কনিষ্ক সিংয়ের মতো ব্যক্তিরা রাহুলের বলয়ে বিভিন্ন সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন।

    তবে এই মানুষগুলো সবাই এক প্রকৃতির নন। এই যেমন,

    শশীকান্ত সেন্থিল: সাবেক আইএএস অফিসার, যিনি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সাংগঠনিক ওয়ার রুমের প্রধান ছিলেন এবং পরবর্তীতে তামিলনাড়ু থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

    শচীন রাও: প্রশিক্ষণ ও মতাদর্শ বিষয়ক ব্যক্তিত্ব, যার প্রভাব দলের ভেতরের ভাবধারায় স্পষ্ট।

    কৃষ্ণ আল্লাভারু: ফুল-টাইম রাজনীতিতে আসার আগে করপোরেট সেক্টরে ছিলেন। রাহুলের যুব কংগ্রেসের হাত ধরে উঠে এসে এখন বড় সাংগঠনিক কাজ সামলাচ্ছেন।

    কে রাজু: সাবেক আমলা, যিনি দীর্ঘদিন ধরে রাহুলের সামাজিক ন্যায়বিচার প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত।

    প্রবীণ চক্রবর্তী: যিনি দলে ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং পেশাদার ক্লাসের রাজনীতি নিয়ে এসেছেন।

    অলংকার সাওয়াই ও কে বি বাইজু: রাহুলের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ইনার-অফিসের প্রতিনিধি— যারা মূলত সাক্ষাৎ, লজিস্টিকস, ইন্টেলিজেন্স এবং শেষ মুহূর্তের নিয়ন্ত্রণ সামলান।

    কনিষ্ক সিং: রাহুলের একজন পুরোনো বিশ্বস্ত সহযোগী, যিনি অনেক আগে থেকেই এই ঘরানার প্রতিনিধিত্ব করছেন।

    এর সঙ্গে অতীতে জি মোহন গোপাল, মোহন প্রকাশ এবং মধুসূদন মিস্ত্রির মতো নামগুলো যোগ করলে একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্ন বা নকশা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

    রাহুল বারবার এমন কিছু মানুষকে খুঁজে নেন যারা নিজেদের ক্ষমতার জন্য কংগ্রেসের পুরনো প্রাদেশিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল নন; বরং তারা সরাসরি রাহুলের কাছে দায়বদ্ধ। তারা রাহুলকে সেটাই বলেন যা রাহুল শুনতে ভালোবাসেন— অর্থাৎ, যারা দলটির পতন ডেকে এনেছে তাদের বাইপাস বা এড়িয়ে গিয়েও নতুন করে দল পুনর্গঠন করা সম্ভব। তবে কংগ্রেসের আজীবন একনিষ্ঠ কর্মীরা এই পুরো বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন চোখে দেখেন।

    তাদের মতে, সমস্যাটি এমন নয় যে ঘরের মানুষেরা রাহুলকে সাহায্য করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বরং আসল সমস্যা হলো— রাহুল ঘরের মানুষদের মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। রাজ্য থেকে রাজ্যান্তরে এই একই ক্ষোভ বিরাজ করছে: যারা মোদির উত্থানের সবচেয়ে কঠিন দিনগুলোতে, ইডি-সিবিআইয়ের চাপ, বিজেপির আগ্রাসন, মতাদর্শগত আক্রমণ এবং একের পর এক পরাজয়ের মধ্যেও দল ছেড়ে যাননি— আজ তাদের অবহেলা করা হচ্ছে।

    অন্যদিকে, নবাগত বা রাহুলের ব্যক্তিগত অনুগতদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই অভিযোগকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

    কংগ্রেসের অনুগত কর্মীরা এক অদ্ভুত অবহেলার শিকার। যখন কোনো প্রতিবাদ, পদযাত্রা, বুথ মিটিং, গ্রেফতার বরণ কিংবা সংবাদ সম্মেলনের মতো কঠিন লড়াইয়ের মাঠ তৈরি হয়, তখন তাদের ডাক পড়ে। কিন্তু যখন কোনো পদ দেওয়া হয়, রাজ্যসভার টিকিট বণ্টন করা হয়, নির্বাচনি ওয়ার রুম তৈরি হয় কিংবা কোনো রাজ্যের ইনচার্জ বেছে নেওয়া হয়, তখন তারা দেখেন যে অচেনা কিছু মুখ তাদের ডিঙিয়ে শীর্ষস্থানে বসে গেছে।

    এই যেমন, হরিয়ানার রাজ্যসভা নির্বাচন এই অসন্তোষকে স্পষ্ট করে দিয়েছিল। রাহুল শিবির এক প্রথাগত হেভিওয়েট হরিয়ানভি নেতাকে বাদ দিয়ে করমবীর সিং বৌদ্ধ নামের এক অপরিচিত দলিত মুখকে সমর্থন দেয়।

    এক নাটকীয় লড়াইয়ের পর বৌদ্ধ শেষ পর্যন্ত জয়ী হলেও, এই পুরো প্রক্রিয়া দলের ভেতরের অন্তর্ঘাত, বাতিল ভোট এবং কংগ্রেস বিধায়কদের ক্রস-ভোটিংয়ের নগ্ন রূপকে সামনে এনেছিল।

    রাহুলের সমর্থকদের কাছে এটি ছিল পুরনো ঘুণে ধরা ব্যবস্থার প্রমাণ; কিন্তু পুরনো ঘরানার নেতাদের মতে, এটি ছিল স্থানীয় ক্ষমতার সমীকরণকে অবজ্ঞা করার চরম পরিণতি।

    একই ফাটল দেখা গিয়েছিল মধ্যপ্রদেশেও, যেখানে একজন নিরাপদ ও অভিজ্ঞ প্রবীণ প্রার্থীর চেয়ে রাহুলের অনুগত মীনাক্ষী নটরাজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। তামিলনাড়ুতে প্রবীণ চক্রবর্তীর রাজ্যসভার মনোনয়নও রাহুলের এই পেশাদার রাজনীতিরই প্রতিফলন ছিল।

    তবে রাজনীতি কেবল প্রতীকের খেলা নয়; রাজনীতি হলো সবাইকে একসঙ্গে এক কামরায় ধরে রাখার শিল্প। বাইরের মানুষরা রাহুলকে হয়তো মুগ্ধ করতে পারেন, কিন্তু তারা সব সময় বিধায়কদের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন না। তারা চমৎকার কৌশলপত্র বা স্ট্র্যাটেজি তৈরি করতে পারেন, কিন্তু জেলা সভাপতিদের বোঝাতে পারেন না। তারা জাতপাতভিত্তিক ন্যায়বিচার, সংবিধান, ডেটা বা দল সংস্কারের আধুনিক ভাষা বলতে পারেন, কিন্তু বালিয়ার ব্লক কমিটি, মোরেনার উপদল কিংবা রোহতকের বুথ নেটওয়ার্ক কার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে— সেই বাস্তব খবর তারা রাখেন না।

    আর এখানেই কংগ্রেসের চিরাচরিত ট্র্যাজেডি: রাহুল সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করতে পারেন যে পুরনো কলকব্জাগুলো ভেঙে গেছে, কিন্তু তিনি প্রায়শই এমন কিছু নতুন যন্ত্র দিয়ে তা প্রতিস্থাপন করেন যার মাটি বা শেকড়ের সঙ্গে কোনো সংযোগই থাকে না।

    আজকের কংগ্রেসের ভেতর মূলত দুজন রাহুল গান্ধী বসবাস করেন।

    এক রাহুল বিকেন্দ্রীকরণ, দলিত প্রতিনিধিত্ব, যুবকদের কণ্ঠস্বর, অভ্যন্তরীণ সাহস এবং মতাদর্শিক স্পষ্টতার কথা বলেন।

    আর অন্য রাহুল এমন এক ব্যবস্থা পরিচালনা করেন যেখানে তার কাছে পৌঁছানোর রাস্তাটি একটি ছোট্ট বৃত্তের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত; যেখানে জনগণের ভোটে নির্বাচিত নেতাদের চেয়ে অনির্বাচিত উপদেষ্টাদের বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় এবং যেখানে আজীবন অনুগত কর্মীরা কেবল আন্দাজ করার চেষ্টা করেন যে কোন দরজাটি দিয়ে ভেতরে ঢোকা সম্ভব।

    এই স্ববিরোধিতা রাহুলকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করেছে। একটি রাজনৈতিক দল কেবল পেশাদার উপদেষ্টা, মতাদর্শিক ধর্মান্তরিত ব্যক্তি বা ব্যক্তিগত অনুগতদের দিয়ে পুনর্গঠন করা যায় না।

    ঠিক তেমনি, শুধু পুরনো ক্লান্ত ব্যবস্থাপকদের দিয়েও তা সম্ভব নয়। দলের জন্য সংস্কার এবং শেকড়— দুটোরই প্রয়োজন। এমন বাইরের মানুষ প্রয়োজন যিনি দক্ষতা আনবেন, আবার এমন ঘরের মানুষও প্রয়োজন যিনি দলের ইতিহাস ও স্মৃতি বয়ে চলবেন।

    কংগ্রেসের মূলধারার বাইরে তাকানোর রাহুলের এই প্রবৃত্তি একটি গভীর উপলব্ধি থেকেই এসেছে। তিনি দলের ভেতরের সুবিধাবাদী সংস্কৃতি, উপদলীয় ব্ল্যাকমেইল এবং স্থায়ী অকর্মণ্যতার প্রাচীর ভাঙতে চান। কিন্তু পরিহাসের বিষয় হলো, কেবল নিজের ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠদের বিশ্বাস করতে গিয়ে তিনি নিজেই এক নতুন সুবিধাবাদী বলয় তৈরি করছেন।

    ঠিক এই কারণেই দলের ভেতরের ক্ষোভ কিছুতেই কমছে না। একজন বিশ্বস্ত কর্মীর কষ্ট কেবল এটা নয় যে একজন বাইরের মানুষ পুরস্কৃত হচ্ছেন; তার আসল কষ্ট হলো— লড়াইয়ের মাঠে তিনি দরকারি, কিন্তু পুরস্কারের মঞ্চে তিনি অদৃশ্য এবং রণকৌশল নির্ধারণের সময় তিনি অপাংক্তেয়।

    যে দলটির কর্মীরা এক দশক ধরে কেবল ত্যাগই স্বীকার করে গেছেন, তাদের কাছে এই অবহেলার অনুভূতি ছোট কোনো আবেগ নয়— এটিই এখন বড় রাজনীতি হয়ে উঠছে।

    রাহুল হয়তো আগামী দিনে প্রমাণ করতে পারেন যে তার এই ‘আউটসাইডার রিপাবলিক’ বা বহিরাগতদের সাম্রাজ্যই একটি নতুন কংগ্রেস তৈরি করবে। তবে তার আগে তাকে সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে যা প্রতিটি সাধারণ কংগ্রেস কর্মী আজ নীরবে নিজেকে জিজ্ঞেস করছেন: যদি দলের প্রতি আজীবন আনুগত্যের চেয়ে রাহুলের সঙ্গে ব্যক্তিগত নৈকট্যের মূল্য বেশি হয়, তবে আসলে কিসের পুনর্গঠন চলছে?

  • এ বছর ২০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিয়েছে রাশিয়া

    এ বছর ২০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দিয়েছে রাশিয়া

    বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রাশিয়ান সরকারের বৃত্তির সংখ্যা ২০১৮ সালের ৬৫টি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৬ সালে ২০০টিতে উন্নীত হয়েছে। এর ফলে আরও অধিক সংখ্যক মেধাবী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

    বুধবার (১ জুলাই) রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা তাদের অর্ধ-বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে। সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ান হাউসের পরিচালক আলেকজান্দ্রা খ্লেভনই বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার শিক্ষাগত সহযোগিতার ধারাবাহিক অগ্রগতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    এ সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা, রাশিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও যুব কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

    সংবাদ সম্মেলনে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে রাশিয়ান হাউসের কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয় এবং বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও যুব সহযোগিতার নতুন সুযোগগুলো উপস্থাপন করা হয়।

    এ সংবাদ সম্মেলনে অনলাইনে যুক্ত হয়ে রাশিয়ান সরকারের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ফারজানা ইয়াসমিন, যিনি বর্তমানে মস্কোর রাশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব ফ্রেন্ডশিপ অব পিপলস’র ফিলোলজি অনুষদের ম্যাস কমিউনিকেশন বিভাগে গ্লোবাল অ্যান্ড ডিজিটাল মিডিয়া বিষয়ে স্নাতকোত্তর অধ্যয়ন করছেন, রাশিয়ায় তার শিক্ষা, শিক্ষাজীবন, আবাসন ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

    সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ান সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক যুব কর্মসূচির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীরা শিক্ষা, বিজ্ঞান, গবেষণা, সংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক বিনিময় কর্মসূচিতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।

    অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরাম ২০২৬ নিয়ে আলোচনা করা হয়। রাশিয়ার আন্তর্জাতিক যুব কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের পাঁচজন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। এ উপলক্ষে অংশগ্রহণকারী মো. সৈয়দ রাইহান উল ইসলাম (ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি), মো. তৌহিদ বিন শাফি (কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ), সাকিব আসাদ খান (কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ) এবং ড. বারেক কায়সার (ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ) তাদের অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সুযোগ এবং পেশাগত জ্ঞান অর্জনের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

    পরিচালক আলেকজান্দ্রা ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল এবং ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরাম-সহ নিউ জেনারেশন প্রোগ্রাম’র বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ সম্পর্কেও বিস্তারিত তুলে ধরেন। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশের মেধাবী তরুণরা রাশিয়ায় সম্পূর্ণ অর্থায়নে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক বিনিময় কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।

    এছাড়া ‘চিলড্রেন ফর পিস’ আন্তর্জাতিক সম্মেলন সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়। এ বছর প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ছয়জন শিক্ষার্থী এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ অর্জন করে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠাবিষয়ক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব ও আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপকে আরও শক্তিশালী করেছে।

    সংবাদ সম্মেলনে ওপেন ডায়ালগ এবং সাংবাদিকদের জন্য ইন্টাররাশিয়া ফেলোশিপ প্রোগ্রাম সম্পর্কেও তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এ উপলক্ষে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষার্থী জিন্নাত আরা জাসোয়াকে অভিনন্দন জানানো হয়, যিনি সাংবাদিকদের জন্য ইন্টাররাশিয়া ফেলোশিপ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

    এছাড়া রোসআটম’র আন্তর্জাতিক প্রকল্প ‘আইসব্রেকার অব নলেজ’ সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয় যে, ২০২৫ ও ২০২৬—উভয় বছরেই বাংলাদেশ থেকে একজন করে বিজয়ী নির্বাচিত হয়েছে, যারা রাশিয়ার পারমাণবিক আইসব্রেকার ‘৫০ লেট পোবেদি’-তে চড়ে উত্তর মেরুতে সম্পূর্ণ অর্থায়নে বৈজ্ঞানিক অভিযানে অংশগ্রহণের বিরল সুযোগ পেয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার সহযোগিতায় আয়োজিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক একাডেমিক অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য সাফল্যও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ফাইন্যান্সিয়াল সিকিউরিটি অলিম্পিয়াড, ওপেন ওয়ার্ল্ড অ্যাস্ট্রোনমি অলিম্পিয়াড, ইন্টারন্যাশনাল জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াড, ওপেন বায়োলজি অলিম্পিয়াড, ওপেন এনভায়রনমেন্টাল অলিম্পিয়াডসহ আরও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, যেখানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা পদক অর্জনের মাধ্যমে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছে।

    সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ান হাউসের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কূটনীতি সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে বাংলাদেশে রাশিয়ান ফেডারেশনের দূতাবাসের অ্যাটাশে ও প্রেস সেক্রেটারি সোফিয়া কুতেপোভা ‘রাশিয়ার জনগণের ঐক্যের বছর’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা প্রদান করেন। তিনি রাশিয়ার বহুজাতিক ও বহুধর্মীয় সমাজব্যবস্থা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

    সংবাদ সম্মেলন শেষে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা রাশিয়ার শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, আন্তর্জাতিক যুব কর্মসূচি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

  • বেলুচিস্তান সীমান্তে তালেবানের ৪ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি পাকিস্তানের

    বেলুচিস্তান সীমান্তে তালেবানের ৪ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি পাকিস্তানের

    পাকিস্তানের বেলুচিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তান থেকে পাঠানো চারটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর এ ঘটনাকে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ব্যর্থ উসকানি হিসেবে বর্ণনা করেছে।

    মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, গত ৩০ জুন আফগান তালেবান সরকার বেলুচিস্তান সীমান্ত অতিক্রম করে চারটি সাধারণ মানের ড্রোন পাঠায়। তাদের দাবি, আফগান তালেবান নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতায় এসব ড্রোন পাঠানো হয়েছিল।

    আইএসপিআরের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত ড্রোনগুলো শনাক্ত করে। পরে নিরাপত্তা বাহিনী উন্নত প্রতিরোধমূলক প্রযুক্তি ব্যবহার করে চারটি ড্রোনই ধ্বংস করে দেয় এবং সম্ভাব্য হামলার চেষ্টা নস্যাৎ করে।

    বিবৃতিতে আফগান তালেবান সরকারের সমালোচনা করে বলা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা নিজেদের জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। আইএসপিআর আফগান তালেবানকে সন্ত্রাসীদের প্রতি পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করা এবং এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতি অনুসরণেরও আহ্বান জানানো হয়।

    পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আরও সতর্ক করে বলেছে, দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো উসকানির জবাব ‘অপারেশন গাজাব লিল হক’-এর আওতায় কার্যকর ও উপযুক্তভাবে দেওয়া হবে। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে এমন যেকোনো পদক্ষেপ দ্রুত, কঠোর ও নির্ণায়কভাবে প্রতিহত করা হবে বলেও জানানো হয়।

    এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে দীর্ঘদিনের বিরোধ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উপায়ে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

    রাশিয়ার বিবৃতিতে সাম্প্রতিককালে সীমান্তে পাকিস্তানের বিমান হামলার ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ বলে উল্লেখ করা হয়। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। তবে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী এবং আফগান তালেবান নিহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করেছে।

    মস্কো বলেছে, ইসলামাবাদ ও কাবুলের উচিত সশস্ত্র সংঘাত বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে সব বিরোধ নিষ্পত্তির পথ বেছে নেওয়া।

  • দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রী হান সেওং-সুক

    দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রী হান সেওং-সুক

    দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে হান সেওং-সুকের নিয়োগে অনুমোদন দিয়েছে দেশটির জাতীয় সংসদ। মঙ্গলবার (৩০ জুন) অনুষ্ঠিত ভোটে তার নিয়োগ আনুষ্ঠানিকভাবে পাস হয়।

    প্রযুক্তি ও ব্যবসা খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার জন্য পরিচিত হান সেওং-সুক এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ ইন্টারনেটভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নাভেরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা পরিচালনায় তার দক্ষতা দেশজুড়ে প্রশংসিত।

    প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি বর্তমান রাষ্ট্রপতি লি জে মিয়ংয়ের সরকারের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন। ওই দায়িত্বে থাকাকালে শিল্প খাতের উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তায় বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি ও করপোরেট খাতে হান সেওং-সুকের অভিজ্ঞতা দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতি, শিল্পনীতি এবং উদ্ভাবনভিত্তিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তার নিয়োগকে দেশটির প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে মোদি-পেজেশকিয়ানের ফোনালাপ

    হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে মোদি-পেজেশকিয়ানের ফোনালাপ

    মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও হরমুজ প্রণালি ইস্যু নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান আলোচনায় যে অগ্রগতি হয়েছে তাকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভারতের পাশাপাশি পুরো বিশ্বের জন্য হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

    উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর ভারত ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর আগে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৪৫ শতাংশ, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির অর্ধেক এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশই হরমুজ প্রণালি হয়ে দেশে পৌঁছাত।

    ঐতিহাসিকভাবে ইরানের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমলে ইসরায়েলের সঙ্গেও নয়াদিল্লির সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার হয়েছে।

    উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সংঘাত নিরসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ভারত তুলনামূলকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করেছে। বিপরীতে, ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমনের আলোচনায় সামনের সারিতে রয়েছে।

  • ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প

    ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প

    ধ্বংসস্তূপের নিচে ৪৮ ঘণ্টা কাটিয়েও আশা হারাননি তরুণী

    গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আটকা পড়েও শান্ত থাকার চেষ্টা করেছিলেন ২৩ বছর বয়সি আন্দ্রেয়া ক্যানোনিকো। শেষ পর্যন্ত উদ্ধারকারীরা তাকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

    সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহর লা গুইরার লস কোরালেস এলাকার বাসিন্দা আন্দ্রেয়া বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমি কখনো আশা হারাইনি।’ তবে, তার ২০ বছর বয়সি ভাই এবং ৯১ বছর বয়সি ফুফু এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

    গত বুধবার দেশটিতে রিখটার স্কেলে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    হাতে ব্যান্ডেজ বাঁধা আন্দ্রেয়া বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে তিনি নিজেকে বলেছিলেন, ‘আমি ঘুমিয়ে পড়ব।’

    আন্দ্রেয়া আরও বলেন, ‘আমি নিজেকে বলেছিলাম, এখন একটি ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যে আছি। নিশ্চয়ই আবারও কম্পন হবে। আমি শান্ত থাকব, উদ্বিগ্ন হব না।’

    তিনি জানান, প্রায় ছয় মিটার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়লেও তিনি বসে থাকতে পেরেছিলেন। তার সঙ্গে মোবাইল ফোন থাকায় সময় জানতে ও কিছুটা আলো পেতে সুবিধা হয়।

    আন্দ্রেয়া আরও জানান, তার চেয়ে কিছুটা ওপরে আটকে থাকা আরেক ব্যক্তির সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। ওই ব্যক্তি উদ্ধার হওয়ার পর উদ্ধারকর্মীদের জানান যে নিচে আরও একজন জীবিত রয়েছেন।

    আন্দ্রেয়া বলেন, ‘আমার ওপরে একটি ফাঁকা জায়গা ছিল, যেটি দিয়ে আমি ওপরে উঠতে পেরেছিলাম। এরপর উদ্ধারকারীরা যে পথ তৈরি করছিলেন সেখানে পৌঁছে ধীরে ধীরে ওপরে উঠি। তারা আমাকে টেনে তুললে আমি বেরিয়ে আসতে সক্ষম হই।’

    এদিকে একই এলাকায় ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবিত মানুষের সন্ধানে নিরলসভাবে কাজ করছেন ২৬ বছর বয়সি সাবেক খনিশ্রমিক মোইসেস ফারামায়া। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তিনি চিৎকার করে বলেন, ‘এখানে কেউ কি জীবিত আছেন?’

    মোইসেস জানান, তিনি এখন পর্যন্ত লা গুইরায় ১৬ জনকে জীবিতিএবং ২২টি লাশ উদ্ধার করেছেন। কর্তৃপক্ষ এলাকাটিকে ‘দুর্যোগ অঞ্চল’ ঘোষণা করেছে।

    মোইসেস বলেন, ‘একজনের দেয়ালে আঁচড়ানোর শব্দ শুনতে পাই। তিনি আটকে ছিলেন, কিন্তু হাত নাড়াতে পারছিলেন। পরে তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।’

    মোইসেস জানান, তিনি শুধু একটি গাঁইতি ও একটি কোদাল ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরান। বলিভার রাজ্যের এল কায়াও অঞ্চলের খনিতে ছয় বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে এ কাজে দক্ষ করে তুলেছে। এ কারণে উদ্ধারকাজে দমকল বাহিনী ও বিশেষজ্ঞরাও তার সহায়তা নেন।

    ‘দ্য মোল’ নামে পরিচিত মোইসেস বলেন, তিনি প্রায় না খেয়েই এবং না ঘুমিয়েই উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

    তিনি বলেন, ‘এই কাজ সহজ নয়। ধুলাবালি আর পচে যাওয়া লাশের গন্ধের মধ্যে কাজ করতে হয়। তার পরও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’ অন্যদিকে আন্দ্রেয়ার ভবনের সবাই মারা গেছেন বলে সম্প্রতি কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয়।

    ৪৪ বছর বয়সি রেস্তোরাঁ কর্মী আলেকজান্ডার গার্সিয়া জানান, তিনি দমকলকর্মীদের ‘কোড-১৪’ ঘোষণা করতে শুনেছিলেন, যার অর্থ ছিল সেখানে আর কোনো জীবিত ব্যক্তি নেই।

    তবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকারী দল ও স্পেনের প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানী কুকুর জীবিত মানুষের উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়ার পর ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা তার দুই ভাইকে জীবিত উদ্ধারের আশা আবারও জেগে ওঠে।

    গার্সিয়া বলেন, ‘সবাই তাদের আওয়াজ শুনেছিল, সবাই।’ তার মা ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হলেও পরে মারা যান।

    রাত নামার পরও টর্চের আলোয় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে মঙ্গলবার সকালের ভারি বৃষ্টিতে উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং উদ্ধারকর্মীদের মনোবলেও প্রভাব পড়ে।

    ভূমিকম্পের পর জীবিত উদ্ধার পাওয়ার সম্ভাব্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা শনিবার সন্ধ্যায় শেষ হয়ে গেছে। মঙ্গলবারের মধ্যে জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।

  • সীমান্তে বিজিবি-জনতার অভূতপূর্ব প্রতিরোধ

    সীমান্তে বিজিবি-জনতার অভূতপূর্ব প্রতিরোধ

    মানচিত্রের কাঁটাতার যেখানে দুই দেশকে ভাগ করেছে, ঠিক সেখানেই জন্ম নিয়েছে এক অঘোষিত, একতরফা আগ্রাসন। ওপারে অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র হাতে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। আর এপারে কোনো সীমানা প্রাচীর কিংবা ভারী অস্ত্র ছাড়াই বাংলাদেশের সীমান্তবাসী।

    গত দেড় দশক ধরে দেশের সীমান্তগুলোতে বিএসএফের ধারাবাহিক মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাতের আঁধারে জিরো পয়েন্টে ‘পকেট’ গেড়ে অবৈধ অবকাঠামো নির্মাণ এবং জোরপূর্বক ‘পুশইন’-এর এক ভয়াবহ ও ধারাবাহিক আগ্রাসন চলছে। তবে এই ভৌগোলিক ও অবকাঠামোগত চরম অবহেলার মাঝেই জন্ম নিয়েছে এক অভূতপূর্ব মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত প্রতিরোধের নতুন প্যাটার্ন।

    বিজিবির টহলে নদী, খাল ও পাকা রাস্তার তীব্র সীমাবদ্ধতা থাকলেও, সীমান্তের সাধারণ মানুষ এখন আর ভয়ে গুটিসুটি মেরে ঘরে বসে নেই। বিজিবির দেওয়া মাইক, টর্চ ও বাঁশি নিয়ে প্রতি রাতে জনতা গড়ে তুলছে এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর। বিএসএফের তাক করা বন্দুকের নল উপেক্ষা করে তরুণ সমাজ যে কোনো অন্যায়ের তাৎক্ষণিক জবাব দিচ্ছে। অন্যদিকে, পুরুষদের চেয়ে এক কদম এগিয়ে মা-বোনেরাও প্রতিরোধ গড়ে তুলে পিছু হটতে বাধ্য করছে সশস্ত্র বিএসএফ জোয়ানদের। ‘নিজের দেশ নিজেকেই রক্ষা করতে হবে’—এই অমোঘ মন্ত্রে দীক্ষিত অকুতোভয় তরুণ ও নারী সমাজই এখন প্রমাণ করছে যে, অতীতে রাষ্ট্রীয় অবহেলার মাঝেও কেবল জনগণের সম্মিলিত শক্তিই বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার সবচেয়ে অপরাজেয় হাতিয়ার।

    গত ২০ থেকে ২৪ জুন উত্তরবঙ্গের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জেলার প্রত্যন্ত শূন্যরেখা সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিএসএফের যে কোনো ধরনের উসকানি ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় তরুণ এবং নারীরাও সতর্ক রয়েছেন। দরকার হলে রাত জেগে পাহারাও দিচ্ছেন তারা।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিজিবির কয়েকজন কোম্পানি কমান্ডার জানান, স্থানীয় জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সীমান্তে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখছে।

    এ বিষয়ে ৫৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘পুশইনসহ বিএসএফের যে কোনো অপতৎপরতা বন্ধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে আছে। সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে কাজ করছে আনসার-ভিডিপি এবং সাধারণ গ্রামবাসী। রাতে একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে তারা বিজিবির সঙ্গে টহলে অংশ নিচ্ছেন এবং তথ্য দিয়ে সহায়তা করছেন।’

    কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়ে রাতের অন্ধকারে জোরপূর্বক নারী ও শিশুসহ দলে দলে মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) অপচেষ্টা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিএসএফের এই একতরফা আচরণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দফায় দফায় ফ্ল্যাগ মিটিং করেছে বিজিবি। একই সঙ্গে অনুপ্রবেশের এই নতুন কৌশল রুখতে দেশের প্রতিটি সংবেদনশীল সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    গত ১৬ জুন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ একটি বিশেষ প্রতিবেদন ও বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে তারা উল্লেখ করে যে, ভারত কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই পশ্চিমবঙ্গ ও অন্যান্য রাজ্য থেকে জাতিগত বাঙালি (প্রধানত মুসলিম) বাসিন্দাদের বাংলাদেশে পুশইন করছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

    এ বিষয়ে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক অবস্থানে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া বা দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ ছাড়া রাতের অন্ধকারে পুশইনের চেষ্টা আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, যা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পরিপন্থী। নাগরিকত্ব প্রমাণের বৈধ নথিপত্র ছাড়া কাউকে ঢালাওভাবে বাংলাদেশি দাবি করে পুশইন করা গ্রহণযোগ্য নয়। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী যদি কেউ প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের নাগরিকও হয়ে থাকেন, তবে তাকে পুশব্যাক করতে হলে নির্দিষ্ট আইনি যাচাই-বাছাই ও ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ভারতকে অবশ্যই মেনে চলতে হবে।

    উল্লেখ্য, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের ৫টি বিভাগের মোট ৩০টি জেলার ৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সংযোগ রয়েছে।

    পুরোনো ক্ষত আর বর্তমানের সতর্কতা

    গত ২১ জুন প্রবল বর্ষণের মধ্যেই কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের খলিশা কোটাল সীমান্তে পৌঁছায় এই প্রতিবেদক দল। যার ওপারেই ভারতের কিশামত করলা ও কদমতলী বাজার। এই সীমান্তের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন বহু বছর আগের এক দুঃসহ স্মৃতি। সীমান্ত পিলার ও ব্রিজের সামান্য বিরোধকে কেন্দ্র করে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন তার দুই ভাই—সফিরউদ্দিন (২৮) ও একরামুল (২২)।

    সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিএসএফ লাশ দুটি ওপারে নিয়ে গিয়ে তিনদিন পর ফেরত দিয়েছিল। সেই ক্ষত এখনো আমাদের বুকে তাজা। তবে এখন পরিস্থিতি বদলেছে। আমরা আমাদের জমিতেই চাষ করব, ভয় পেয়ে পিছু হটব না।’

    একইভাবে বালাটারী ধুলারকুটি সীমান্তের মোহাম্মদ কাইয়ুম হোসেন রুবেলের ছোট ভাই বিএসএফের গুলিতে চিরতরে এক চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন। ২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিল সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০০ গজ ভেতরে বাবার সঙ্গে ঘাস কাটার সময় নবম শ্রেণির কিশোর মোহাম্মদ রাসেল মিয়া বিএসএফের ধাওয়ার মুখে পড়ে। প্রাণভয়ে রাসেল পাশের একটি নদীতে ঝাঁপ দিলে তাকে লক্ষ্য করে শর্টগান থেকে রাবার বুলেট ছোড়া হয়।

    রাসেলের মাথা ও মুখমণ্ডলে ৪৮টি স্প্লিন্টার (ছররা গুলি) বিদ্ধ হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর ডান চোখটি রক্ষা পেলেও চিরতরে আলো হারিয়ে যায় তার বাম চোখ থেকে।

    স্থানীয়রা জানান, অতীতের এমন নির্মম ও নৃশংস অভিজ্ঞতাই আজ সীমান্তবাসীকে নিজেদের সুরক্ষায় বিজিবির পাশে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

    নারীদের রাত জেগে পাহারা

    সরেজমিনে দেখা যায়, সীমান্তের একদম শেষ মাথায় কাঁটাতারের কাছাকাছি বসবাস করেও বুকভরা অসীম সাহস নিয়ে ওপারকার অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার এ দেশের সাধারণ মানুষ। বিএসএফ যখনই রাতের অন্ধকারে জোরপূর্বক বাংলাদেশে মানুষ ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) অপচেষ্টা চালায়, তখনই বিজিবির পাশাপাশি টর্চের আলো আর বাঁশি নিয়ে সতর্ক সংকেত তৈরি করেন স্থানীয় নারী ও পুরুষরা।

    কুড়িগ্রাম থেকে দূরবর্তী আরেক প্রান্ত পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া সীমান্তের শাড়িয়ালজোতেও দেখা গেছে একই চিত্র। সেখানকার বাসিন্দা ফিরোজা খাতুন নিজের অদম্য সাহসের কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমি সীমান্তে কোনো কিছু দেখেই ভয় পাই না। বিএসএফ যখন এসে লোক নামিয়ে দিতে চায়, তখন আমি সঙ্গে সঙ্গে বিজিবিকে ফোন দিই এবং গ্রামের মানুষকে ডেকে তুলি।’

    ৯৩১ নম্বর পিলারের কৃষ্ণনগর বক্সী এলাকার বাসিন্দা পেশায় সাধারণ কৃষক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এলাকার মহিলারা পুরুষদের চেয়েও বেশি অ্যাক্টিভ। বিএসএফের অন্যায্য তৎপরতা দেখলেই তারা ঘর থেকে বের হয়ে এসে চিৎকার করে জড়ো হন এবং প্রতিরোধ তৈরি করেন। মহিলাদের এই সম্মিলিত চিৎকারে বিএসএফ তখন পিছু হটতে বাধ্য হয়।’

    তরুণরাই সীমান্তের মূল ভরসা

    সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনুপ্রবেশের চেষ্টা রুখে দিতে বিজিবির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সারারাত সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয় সাহসী তরুণরা। বিএসএফ বা ওপারকার কোনো পক্ষ গ্রামের দিকে ধেয়ে এলে পুরো গ্রামবাসী এক হয়ে পাল্টা ধাওয়া দেওয়ার নজিরও তৈরি হয়েছে।

    বালাটারী ধুলারকুটি সীমান্তবর্তী এলাকার এইচএসসি পরীক্ষার্থী তরুণ মোহাম্মদ শুভ পাটোয়ারী নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, ‘পুশইনের চেষ্টা হলে আমরা বিএসএফের গতিবিধি নজরদারিতে রাখি এবং বিজিবিকে সঙ্গে নিয়ে রাতে পাহারা দিই। বিজিবি সদস্যরা যখন মাইক নিয়ে আসেন, তখন সেই মাইক বাজানোর দায়িত্ব তরুণরাই নেয় এবং সবাই সতর্ক অবস্থানে থাকে।’

    শুভ জানান, কয়েক মাস আগে বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে স্থানীয় কৃষকদের মারধর করার চেষ্টা করলে মুহূর্তের মধ্যে গ্রামবাসী ও তরুণরা একতাবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। নিশ্চিত মৃত্যুর ঝুঁকি থাকার পরেও দেশের স্বার্থে তরুণরা পিছু হটেননি।

    গ্রামবাসী-বিজিবির যৌথ টহল

    কুড়িগ্রাম, নওগাঁ, জয়পুরহাট, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট ও পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন সীমান্ত ঘুরে দেখা গেছে এখন দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টাই এক ধরনের সতর্কাবস্থা বিরাজ করছে। বিএসএফের পুশইন ঠেকাতে প্রতিটি মুহূর্তে বিজিবির সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করছেন স্থানীয়রা।

    নওগাঁর ধামুরহাট উপজেলার আলতাদীঘি সীমান্তের অধিবাসী মোহাম্মদ মিলন মিয়া জানান, যখনই তারা সীমান্তে অবৈধ পুশইনের বিষয়ে কোনো খবর বা গুঞ্জন পান, তখনই পুরো এলাকাবাসী সতর্ক হয়ে যান এবং বিজিবিকে সার্বিক সহযোগিতা করেন।

    জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার হাটখোলা বিওপি অধীন সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ মনির খান বলেন, ‘ভারতের বিএসএফ যখনই পুশইন করতে আসে, আমরা সব জনগণ মিলে বিজিবির সঙ্গে থেকে সেটা ঠেকাই।’

    ভারতের এই পুশইন নীতির তীব্র সমালোচনা করে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘ভারত শক্তিশালী ও বড় রাষ্ট্র, আমরা তাদের কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করি না। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী যদি কেউ বাংলাদেশের নাগরিক হয়, তবে সীমান্তে বিজিবিকে চিঠি দিয়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বৈধ প্রক্রিয়ায় ফেরত দিতে হবে। এমন গোপনে লোক নামিয়ে দিয়ে সীমান্তে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা গ্রহণযোগ্য নয়।’

    তবে এই বীরত্বপূর্ণ সতর্কতার মাঝেও অনুসন্ধানকালে সীমান্ত এলাকার কিছু গুরুতর অবকাঠামোগত সংকট উঠে এসেছে। স্থানীয়রা দুঃখ প্রকাশ করে জানান, সীমান্তের একদম কাছাকাছি বাংলাদেশের অংশে কোনো ভালো রাস্তাঘাট নেই। এই উন্নত রাস্তা না থাকার কারণে রাতের বেলা বা যে কোনো জরুরি মুহূর্তে বিজিবির পক্ষে দ্রুত সীমান্ত এলাকায় টহল দেওয়া বা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

    অথচ ভারতের সীমান্ত অবকাঠামো সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে সীমান্তের একদম লাগোয়া পাকা রাস্তা এবং রাস্তার সঙ্গেই বিএসএফ ক্যাম্প। বাংলাদেশের সীমান্তেও একই রকম উন্নত রাস্তা এবং বিজিবি ক্যাম্প সীমান্তের কাছাকাছি থাকলে ওপার থেকে আসা যে কোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা অনেক সহজ হতো।

    সাবেক এমপি মোহাম্মদ রুহুল আমিন এই সংকটের কথা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সীমান্ত সড়কগুলোর অবস্থা খুব খারাপ। সড়কগুলো সংস্কার করা হলে বিজিবি দ্রুত সেখানে পৌঁছাতে পারবে।’

    বিজিবির কয়েকজন কোম্পানি কমান্ডারও এই সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে বলেন, রাস্তাঘাট বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছাতে কখনো কখনো বেশ সময় লেগে যায়। ভাঙাচোরা রাস্তায় সাইকেলে চড়েও টহল দিতে হয়, যা অত্যন্ত কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। জরুরি মুহূর্তে সাইকেলের চেন পড়ে যাওয়ায় তা ঝোপে রেখে হেঁটেই যেতে হয়। ফলে সীমান্ত সড়কের উন্নয়ন একদম জরুরি।’

  • তুরস্ক বসফরাসে ট্রানজিট ফি ১৫ শতাংশ বাড়াল

    তুরস্ক বসফরাসে ট্রানজিট ফি ১৫ শতাংশ বাড়াল

    তুরস্কের বসফরাস ও দারদানেলস প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ট্রানজিট ফি প্রায় ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। দেশটির পরিবহন ও অবকাঠামো মন্ত্রণালয় বুধবার রুশ বার্তা সংস্থা আরআইএ নভোস্তিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে প্রতি টনের জন্য ট্রানজিট ফি হবে ৬ দশমিক ৭০ মার্কিন ডলার। এর আগে ২০২২ সাল থেকে প্রতি টনে ৫ দশমিক ৮৩ ডলার ফি কার্যকর ছিল। মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক পর্যালোচনার অংশ হিসেবে এ হার বাড়ানো হয়েছে।

    বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ দুই সমুদ্রপথে ট্রানজিট ফি বৃদ্ধির ধারাবাহিকতার এটি সর্বশেষ পদক্ষেপ।

    এর আগে ১৯৮৩ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪০ বছর ট্রানজিট ফি প্রতি টনে মাত্র ৮০ সেন্টে অপরিবর্তিত ছিল। পরে ২০২২ সালে নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে এক লাফে ফি পাঁচ গুণেরও বেশি বাড়িয়ে প্রতি টনে ৪ দশমিক ৮ ডলার নির্ধারণ করা হয়।

    পরিবহন ও অবকাঠামোমন্ত্রী আবদুল কাদির উরালওগলুর দেওয়া প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বসফরাস ও দারদানেলস প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল থেকে তুরস্কের প্রায় ২৫ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার আয় হতে পারে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ ডলার বেশি।

    কৃষ্ণসাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা বসফরাস ও দারদানেলস প্রণালির চলাচল ১৯৩৬ সালের মন্ট্রো কনভেনশন অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এ চুক্তির আওতায় বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজ চলাচলের নিয়ম নির্ধারিত থাকলেও টোল নির্ধারণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রণ তুরস্কের হাতে রয়েছে।

  • হরমুজে যৌথভাবে টোল নেবে ইরান-ওমান

    হরমুজে যৌথভাবে টোল নেবে ইরান-ওমান

    হরমুজ প্রণালিতে যৌথভাবে টোল আরোপ করবে ইরান ও ওমান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য আপত্তি সত্ত্বেও ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য যৌথভাবে ফি আরোপ করতে চাইছে। মঙ্গলবার একজন ইরানি কর্মকর্তা ও চারজন কূটনীতিকের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।

    এই মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফা পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো কোনো ফি পরিশোধ ছাড়াই নিরাপদে চলাচল করতে পারবে। কিন্তু চুক্তির বাকি অংশের মতো এটিও শুধুমাত্র ৬০ দিনের আলোচনা পর্বের জন্য বৈধ।

    তবে চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান ও ওমানকে একটি পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। কিন্তু এই অঞ্চলে যুদ্ধ-পরবর্তী নতুন ব্যবসায়িক মডেলের অংশ হিসেবে টোল আরোপ করা হলে, এই জলপথ দিয়ে শত শত বছরের বিনামূল্যে যাতায়াতের প্রথাটি আর থাকবে না।

  • লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসনে বাস্তুচ্যুত ১০ লাখ মানুষ: জাতিসংঘ

    লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসনে বাস্তুচ্যুত ১০ লাখ মানুষ: জাতিসংঘ

    লেবাননে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক সমন্বয়কারী ইমরান রিজা বলেছেন, দেশটিতে ইসরাইলের আগ্রাসনে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। মঙ্গলবার বৈরুতে একটি সেমিনারে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, লেবাননের এই মুহূর্তে ১৪ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।

    রিজা বলেন, সহায়তা অপরিহার্য হলেও শুধু ত্রাণ সরবরাহ করে লেবাননে সংকটের ব্যাপকতা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, এই জরুরি অবস্থা শুধু মানবিক নয়, বরং দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। তিনি আরো বলেন, এই সংকট শ্রমবাজারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে দেশটিতে ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ২৭৮ জন নিহত হয়েছে।

  • টেক্সাসে রিপাবলিকানদের বিদ্বেষে চরম নিরাপত্তাহীনতায় মুসলিমরা

    টেক্সাসে রিপাবলিকানদের বিদ্বেষে চরম নিরাপত্তাহীনতায় মুসলিমরা

    যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে একটি তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রিপাবলিকান প্রাইমারি রান-অফ নির্বাচনের পর ইসলামভীতি ও মুসলিমবিদ্বেষী মনোভাব প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। সেখানকার মুসলিমরা ক্রমবর্ধমান জনরোষ ও ঘৃণার শিকার হচ্ছেন।

    টেক্সাসের বাসিন্দারা বলছেন, নির্বাচিত কর্মকর্তাদের দেওয়া ঘৃণামূলক বক্তব্য এখন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কথাবার্তায় প্রতিফলিত হচ্ছে। শিক্ষা নিয়ে আলোচনা, দোকানে কেনাকাটা, পার্ক, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো সাধারণ জায়গাগুলোতেও এই ঘৃণার প্রকাশ ঘটছে। সম্প্রতি হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে নামাজরত শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে এক ব্যক্তি কোরআন পুড়িয়ে দেয়। এছাড়া ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরার কারণেও অনেকে মৌখিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন।

    ডালাসের বাসিন্দা এবং ইসলামিক সেন্টার অব নর্থ আমেরিকা কাউন্সিল ফর সোশ্যাল জাস্টিসের সদস্য নায়লা সৈয়দ বলেন, `এই ঘৃণা নিচেও ছড়িয়ে পড়ছে।’

    স্কুলে তার দুই মেয়েকে ইসলামবিদ্বেষী প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। সহপাঠীরা তাদের কাছে জানতে চায়, তারা জানে কি-না যে ইসলামে নারীদের ওপর খারাপ আচরণ করা হয়। একজন অভিভাবক হিসেবে বিষয়টি নিয়ে তিনি বেশ উদ্বিগ্ন।

    অনলাইন হ্যারাসমেন্ট ও হুমকির কারণে অনেকে ছদ্মনাম ব্যবহারের অনুরোধ করেছেন। সম্প্রতি টেক্সাস জিপির অফিশিয়াল কনভেনশনে অংশ নেওয়া কয়েকজন মুসলিম প্রতিনিধিকে বলা হয়, হয় তারা খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হোক, নয়তো দেশ ছাড়ুক। একই সময়ে মুদি দোকানে দুই মুসলিম নারীকে লাঞ্ছিত করার একটি ভিডিও সামনে আসে। সেখানে এক নারী বলেন, ‘ইসলাম কোনো ধর্ম নয়, এটি সন্ত্রাসী সংগঠন। এটি মুসলিমদের দেশ নয়, এটি খ্রিস্টানদের দেশ।’

    ওই নারীর জন্য অনলাইনে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার ডলার তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে এবং রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য ন্যান্সি মেস এতে সমর্থন দিয়েছেন। ন্যান্সি মেস এবং ব্র্যান্ডন গিল মুসলিমপ্রধান দেশগুলো থেকে অভিবাসনের বিরোধিতা করছেন।

    টেক্সাসের ২৬তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধি ব্র্যান্ডন গিল তার ভোটারদের পাঠানো এক ইমেইলে লিখেছেন, ‘এখনই ইসলামিক অভিবাসন বন্ধ করুন, অন্যথায় আমাদের সন্তানদের মাশুল দিতে হবে।’

    ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এটি বন্ধ না হলে তার মেয়েসহ অন্য মেয়েদের বোরকা পরে সরকারি স্কুলে যেতে হবে।

    জিপির অফিশিয়াল প্ল্যাটফর্মে বিদ্বেষ

    জুন মাসে অনুষ্ঠিত টেক্সাস রিপাবলিকান পার্টির কনভেনশনে আইনগত অগ্রাধিকারের তালিকায় ‘ডোন্ট শরিয়াহ আওয়ার টেক্সাস বা আমাদের টেক্সাসে শরিয়াহ নয়’ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে মূলত শরিয়াহ আইনকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন, টেক্সাসে কেউ শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে না। শরিয়াহ কেবল আইন নয়, এটি একটি নৈতিক আচরণবিধি যা কোরআন থেকে নেওয়া হয়েছে।

    কনভেনশনে অংশ নেওয়া ওমর (ছদ্মনাম) জানান, সেখানে মুসলিমদের বারবার সন্ত্রাসী বলা হয়েছে এবং দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে।

    ওমর বলেন, ‘আমরা সাধারণ আমেরিকানদের মতোই বিষয়গুলো নিয়ে ভাবি। আমরা পরিবারের মানুষ। এটি আমার বিশ্বাস করা আমেরিকা নয়, তবে আমি কোথাও যাচ্ছি না।’

    স্টেট কম্পট্রোলার পদের গ্রিন পার্টির প্রার্থী শেহলা ফায়জি এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, রিপাবলিকানদের সমর্থন করা মুসলিমদের সঙ্গে এমনটা ঘটা কেবল সময়ের ব্যাপার ছিল।

    মূল দলগুলো ঘৃণার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান না নেওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র দল থেকে নির্বাচন করছেন। টেক্সাসে মাত্র দু’জন মুসলিম আইনপ্রণেতা আছেন।

    ফায়জি মনে করেন, এই বর্ণবাদ মুসলিমদের মানসিকভাবে সংকুচিত করে ফেলে।

    পাঠ্যপুস্তক সংশোধনের বিতর্ক

    অস্টিনে স্টেট বোর্ড অব এডুকেশনের এক শুনানিতে নায়লা সৈয়দ দেখতে পান, সামাজিক শিক্ষা সিলেবাস সংশোধনের আলোচনায় অন্তত ছয়জন বক্তা মুসলিম সভ্যতা ও বিশ্ব ইতিহাসে ইসলামের ভূমিকা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা কোরআনের আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছিলেন এবং অন্যরা তাতে হাততালি দিচ্ছিলেন।

    এই মিটিংয়ের পর রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা বোর্ড সামাজিক শিক্ষার নতুন খসড়া অনুমোদন করে, যেখানে দাসত্ব ও নাগরিক অধিকারের পাঠ সংকুচিত করা হয়েছে। নায়লা সৈয়দ মনে করেন, এটি প্রথমে একটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে দানব বানানোর মাধ্যমে শুরু হয় এবং পরে অন্য গোষ্ঠীর দিকে মোড় নেয়।

    নায়লা সৈয়দ কংগ্রেসের ‘শরিয়াহ-মুক্ত আমেরিকা’ ককাসের প্রতিষ্ঠাতা কিথ সেলফের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করলেও সফল হননি। টেক্সাসের অন্যতম মুসলিম আইনপ্রণেতা ড. সুলেমান লালানি রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার বন্ধ করতে একটি ‘ইন্টারফেইথ ককাস’ গঠন করেছেন। তিনি হিউস্টনে ‘ধর্মের রাজনৈতিকীকরণ’ নিয়ে একটি প্যানেল আলোচনা সভার আয়োজন করেন।

    সেখানে ড. সুলেমান বলেন, ‘অজ্ঞতা থেকে ভয়ের জন্ম হয় এবং ভয় থেকে ঘৃণা আসে। আমরা একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হলে সচেতনতা বাড়বে।’

    দক্ষিণ-পূর্ব টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ ক্রিশ্চিয়ান ম্যানুয়েল সরাসরি বলেন, ‘আমাদের সবাইকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা মানুষের অজ্ঞতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।

  • রাম মন্দিরের অর্থ আত্মসাৎ

    রাম মন্দিরের অর্থ আত্মসাৎ

    কোনো মুসলিম জড়িত থাকলে এতক্ষণে এনকাউন্টারে হত্যা করা হতো: ওয়াইসি

    ভারতের অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের অনুদান আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তর প্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীনের (এআইএমআইএম) প্রধান ও হায়দরাবাদের সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।

    সোমবার পশ্চিম উত্তর প্রদেশের বিজনোরে এক জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ওয়াইসি অভিযোগ করেন, রাম মন্দির ট্রাস্টে যদি কোনো মুসলিম সদস্য থাকতেন, তাহলে তাকে এতক্ষণে ‘এনকাউন্টারে’ হত্যা করা হতো এবং তার বাড়িতে বুলডোজার চালানো হতো।

    ওয়াইসি বলেন, ট্রাস্টে যদি একজন মুসলিম থাকতেন, তাহলে তাকে এনকাউন্টারে হত্যা করে এবং তার বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়ে মামলার ইতি টানা হতো। কিন্তু এখনকার অভিযুক্তরা দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

    রাম মন্দিরের অনুদান আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ওয়াইসি। তার অভিযোগ, মামলার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাসময়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এমনকি পুলিশ তাদের হেফাজতে নেওয়ার উদ্যোগও নিচ্ছে না। ওয়াইসির এই মন্তব্যের পর সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে জোরালো করতালি ও উল্লাস দেখা যায়।

    উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় বর্তমানে যে রাম মন্দির রয়েছে, সেই স্থানেই একসময় দাঁড়িয়ে ছিল ষোড়শ শতকে নির্মিত ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ। ১৯৯২ সালে হিন্দু উগ্রপন্থীদের হাতে মসজিদটি ভেঙে ফেলার ঘটনায় সারা ভারতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ওই দাঙ্গায় প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হন, যাদের অধিকাংশই ছিলেন মুসলিম।

    দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ওই স্থানেই রাম মন্দির নির্মাণের পথ সুগম হয়। আড়াই বছর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মন্দিরের প্রাণপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন। বহু হিন্দুর বিশ্বাস, এটিই ভগবান রামের জন্মস্থান।

    তবে ধর্মীয় আবেগ ও বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত এই মন্দির এখন অনুদান ও মূল্যবান উপহার আত্মসাতের অভিযোগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। গত এক মাস ধরে অভিযোগ উঠেছে, ভক্তদের দেওয়া বিপুল পরিমাণ অনুদান ও মূল্যবান উপহার আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন মন্দির পরিচালনাকারী ট্রাস্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি।

    কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং ইতোমধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে উত্তর প্রদেশে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে।

    এদিকে, ভক্ত ব্রজেশ কুমার আল জাজিরাকে বলেন, আমাদের বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। যারা ধর্মের নামে মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন, তারাই সেই বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছেন।

  • স্ট্যাচু অব লিবার্টিতে আলোক প্রদর্শনীর আয়োজন করবে ফ্রান্স

    স্ট্যাচু অব লিবার্টিতে আলোক প্রদর্শনীর আয়োজন করবে ফ্রান্স

    যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিউইয়র্কের স্ট্যাচু অব লিবার্টিতে বর্ণাঢ্য আলোক প্রদর্শনীর আয়োজন করবে ফ্রান্স। সোমবার ফ্রান্সের কনস্যুলেট এ তথ্য জানিয়েছে।

    ‘স্মরণীয় শিল্পসৃষ্টির’ এ আয়োজন আগেই ধারণ করা হবে। পরে ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এবিসি নেটওয়ার্কের ২৫ ঘণ্টাব্যাপী বিশেষ সম্প্রচারের শুরুতেই এটি প্রচার করা হবে। নিউইয়র্ক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    ফরাসি কনস্যুলেট এক বিবৃতিতে জানায়, ‘স্ট্যাচু অব লিবার্টিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হবে, যা আগে কখনও জনসাধারণ দেখেনি। এর প্রতীকী ও আবেগঘন তাৎপর্য আরও উজ্জ্বল করে তুলতেই এ বিশেষ মঞ্চায়নের আয়োজন করা হয়েছে।’

    নিউইয়র্কে ফ্রান্সের কনসাল সেডরিক ফুরসিকো এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের বন্ধুত্বের ইতিহাস ২৫০ বছরের। সেই সম্পর্ক এখনও অত্যন্ত দৃঢ় ও গভীর। তাই আমরা বিশেষ কিছু করতে চেয়েছি।’

    ফ্রান্স ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে নিউইয়র্ক বন্দরের এই স্ট্যাচু অব লিবার্টি উপহার দেয়। এটি বর্তমানে দেশটির অন্যতম বিখ্যাত স্থাপনা। ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চলতি মাসে ফ্রান্স তাদের বিমানবাহিনীর অ্যারোবেটিকস দলও যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছে।

    গত ৯ জুন ‘পাত্রুই দ্য ফ্রান্স’-এর আটটি আলফা জেট ম্যানহাটনের আকাশে ফরাসি জাতীয় পতাকার তিন রঙে আকাশ রাঙিয়ে তোলে। একই সঙ্গে তারা স্ট্যাচু অব লিবার্টির উপর দিয়ে উড়ে যায়।

  • প্রবাসীদের সুখবর দিল সৌদি আরব

    প্রবাসীদের সুখবর দিল সৌদি আরব

    সৌদি আরবে অবস্থান করা প্রবাসীদের জন্য সুখবর দিল দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়। যেসব প্রবাসী কর্মীর ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের অনুমতিপত্র নিয়ে সমস্যা রয়েছে, তাদের সেই অবস্থা সংশোধনের সময়সীমা চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

    মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাদ্যম গালফ নিউজ।

    সৌদির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে নিয়োগকর্তা ও কর্মচারীরা তাদের প্রয়োজনীয় আইনি এবং নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য আরো কিছুটা সময় পাবেন।

    মূলত যেসব প্রবাসী কর্মীর ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ এক বছর আগে আগে শেষ হয়ে গেছে, কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানে যোগদানের ছয় মাস পাও যাদের ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু হয়নি, শুধু তাদের ক্ষেত্রের এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে।

    মন্ত্রণালয় বলছে, শ্রম আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা, চুক্তিভুক্ত সব পক্ষের অধিকার রক্ষা করা এবং প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ দিতেই এই বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন বা ইস্যু করার জন্য নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

    সৌদি কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে যে, বর্ধিত এই সময়ের মধ্যে ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নতুন প্রতিষ্ঠানের জন্য তাৎক্ষণিক ওয়ার্ক ভিসার সংখ্যা সর্বোচ্চ পাঁচটিতে সীমিত করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে রিয়াদ।

  • পাক বাহিনীর ওপর ক্ষোভে ফুঁসছে আফগান মুসলিমরা, সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক

    পাক বাহিনীর ওপর ক্ষোভে ফুঁসছে আফগান মুসলিমরা, সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক

    চলতি মাসের শুরুতে আফগানিস্তানের পাকতিয়া প্রদেশের সীমান্তবর্তী নিজ গ্রামে ফিরেন বিসমিল্লাহ খান। তার একটাই স্বপ্ন ছিল- উপসাগরীয় দেশগুলোতে ১২ বছর কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থে যে বাড়িটি নির্মাণ করেছেন, জীবনের বাকি সময় সেটিতেই শান্তিতে কাটাবেন।
    পঞ্চাশোর্ধ্ব এই ব্যক্তি বিদেশে কাজ করে উপার্জিত প্রতিটি টাকাই ব্যয় করেছিলেন সন্তান ও নাতি-নাতনিদের জন্য একটি দুইতলা বাড়ি নির্মাণে। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই। সোমবার (২৯ জুন) ভোরের আগে চামকানি জেলার মান্দিখিল গ্রামজুড়ে একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়, আর মুহূর্তেই বদলে যায় সবকিছু।

    আফগানিস্তানের দাবি, পাকিস্তান রাতভর সীমান্তবর্তী পাকতিকা, পাকতিয়া ও কুনার প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অসংখ্য বেসামরিক বাড়ির মধ্যে বিসমিল্লাহ খানের বাড়িটিও ছিল।
    আফগান সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় অন্তত ৩৬ জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং আরও ১৬৩ জন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
    তবে পাকিস্তানের দাবি, তাদের বাহিনী তিনটি আফগান প্রদেশে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আস্তানায় ‘নির্ভুল’ অভিযান চালিয়েছে। দেশটির ভাষ্য, বিমান ও স্থল অভিযানে ২৯ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছে।

    এদিকে কিছুক্ষণ আগেও যে স্থানটি ছিল নিজের বাড়ি, সেই পাথর ও কাদামাটির ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে বিসমিল্লাহ খান এখনও বুঝে উঠতে পারছেন না, ঠিক কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে তার সবকিছু শেষ হয়ে গেল।
    কণ্ঠরুদ্ধ হয়ে বিসমিল্লাহ খান বলেন, বাড়ির ভেতরে শুধু নারী ও শিশুরাই ছিল। এই হামলায় তার স্ত্রী ও মেয়ে নিহত হয়েছেন। এছাড়া পরিবারের আরও প্রায় ১০ জন সদস্য আহত হয়েছেন।
    তিনি বলেন, আমি জানি না কেন আমাদের বাড়িটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হলো।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রথম হামলার কয়েক ঘণ্টা পর উদ্ধারকাজ চলার সময় আবারও পাক বাহিনী বিমান হামলা চালায়।
    ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে যখন স্থানীয়রা মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছিলেন এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করছিলেন, তখন দ্বিতীয় দফার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়।
    দ্বিতীয় দফার হামলার বর্ণনা দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মারজিয়া খান ওয়ালি বলেন, আমরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া নারী ও শিশুদের খুঁজছিলাম। আহতদের হাসপাতালে নেয়ার জন্য গাড়িতে তোলার সময় আবারও যুদ্ধবিমানের শব্দ শুনতে পাই। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই যারা মানুষের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছিল, তারাই হামলার শিকার হয়।
    প্রতিবেশী পাকতিকা প্রদেশের জিলান গ্রামের পাঁচ সন্তানের জননী জারমিনা ধ্বংস হয়ে যাওয়া নিজের বাড়ির ধ্বংসস্তূপের পাশে বসে আছেন। হামলায় তিনি তার স্বামী ও ছোট মেয়েকে হারিয়েছেন।

    ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা একটি কম্বল আঁকড়ে ধরে তিনি বলেন, বোমা পড়ার সময় আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম। কোনো ধরনের সতর্কবার্তা ছিল না। চোখ খুলতেই দেখি সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।
    তিনি আরও বলেন, রাজনীতি বা সশস্ত্র গোষ্ঠী সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। আমরা শুধু কৃষিকাজ করে জীবন চালাই।

    সীমান্তে আতঙ্ক
    কুনার প্রদেশে নতুন করে হামলার আশঙ্কায় সীমান্তসংলগ্ন গ্রামের কয়েক ডজন পরিবার নিজেদের বসতভিটা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, অনেক বাসিন্দাই এখন ঘরের পরিবর্তে খোলা মাঠে রাত কাটাচ্ছেন অথবা সীমান্ত থেকে আরও দূরের এলাকায় আশ্রয় নিচ্ছেন।
    স্থানীয় উপজাতীয় প্রবীণ মেরা খান বলেন, “এখানকার মানুষ দুটি ভয়ের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছে একটি যুদ্ধের ভয়, অন্যটি নিজের ঘরবাড়ি হারানোর ভয়।”

    আরও পড়ুন:

    ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে আইআরজিসি’র দুই সদস্যকে হত্যা

    কেন বাড়ছে উত্তেজনা?
    আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই সর্বশেষ এই বিমান হামলার ঘটনা ঘটলো। ২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে পাকিস্তান একাধিকবার সীমান্ত পেরিয়ে হামলা চালিয়েছে।
    ইসলামাবাদের অভিযোগ, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সদস্যরা আফগান ভূখণ্ডকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে হামলা চালাচ্ছে।
    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে টিটিপির হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী এবং সামরিক স্থাপনাগুলো বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

    আরও পড়ুন:

    ইউজারনেম ব্যবহার করেই লগইন করা যাবে হোয়াটসঅ্যাপে

    পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে বলেন, বিদেশি মদদপুষ্ট ও সমর্থিত সন্ত্রাসবাদের হুমকি সম্পূর্ণরূপে নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ‘পূর্ণ গতিতে’ অব্যাহত থাকবে।
    অন্যদিকে তালেবান পরিচালিত আফগান সরকার সর্বশেষ বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে “আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন” এবং “নিরীহ বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা” বলে অভিহিত করেছে।
    দেশটির সরকার আরও জানিয়েছে, তারা ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও আফগান তালেবানের মধ্যে স্বাক্ষরিত দোহা চুক্তির প্রতিশ্রুতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।
    ওই চুক্তি অনুযায়ী, আফগান ভূখণ্ড অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেয়া হবে না।

    শান্তির খোঁজে ফিরে এসে আবার যুদ্ধ
    পাকতিয়ার ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে বিসমিল্লাহ খান এখন শুধু বেঁচে থাকা পরিবারের সদস্যদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করছেন। তিনি বলেন, একটি ভালো ভবিষ্যতের খোঁজে আমি বহু বছর নিজের দেশ ছেড়ে ছিলাম।
    কিছুক্ষণ নীরব থেকে তিনি আরও বলেন, আমি শান্তিতে বসবাসের আশায় দেশে ফিরেছিলাম। কিন্তু আমি ফেরার আগেই যুদ্ধ আমার দুয়ারে এসে পৌঁছেছে।

  • ইসকন নেতা রাধারমণ দাসকে হঠাৎ সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

    ইসকন নেতা রাধারমণ দাসকে হঠাৎ সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

    কলকাতার ইসকনের সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাধারমণ দাসকে সংগঠনের সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাকে সংবাদমাধ্যম কিংবা জনসমক্ষে ইসকনের প্রতিনিধিত্ব না করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় রাধারমণ দাস জানান, তিনি সংগঠনের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে মেনে নিচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ইসকনের পক্ষে আর কোনো বক্তব্য দেবেন না।

    তার দাবি, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে বক্তব্য প্রদান, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের প্রতি সমর্থন, একটি টেলিভিশন টকশোতে অংশগ্রহণ, মেনকা গান্ধীকে আইনি নোটিশ পাঠানো, সাইবার অভিযোগ এবং সনাতন ধর্ম নিয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়াসহ কয়েকটি বিষয়কে এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ঘিরে রাধারমণ দাসের প্রকাশ্য মন্তব্যই তার বিরুদ্ধে নেওয়া শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান কারণ বলে সংগঠনের একাধিক সূত্র দাবি করেছে। তবে এ বিষয়ে ইসকনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

    বিদায়বার্তায় রাধারমণ দাস ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি ইসকনের উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

    উল্লেখ্য, সাবেক ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস বাংলাদেশের সম্মিলিত সনাতন জাগরণ জোটের প্রধান মুখপাত্র ছিলেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। তার গ্রেফতারের পর বিষয়টি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও নানা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।

  • ডাবলিনে জ্বালিয়ে দেয়া হলো মসজিদ

    ডাবলিনে জ্বালিয়ে দেয়া হলো মসজিদ

    আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে একটি মসজিদ জ্বালিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এনিয়ে দেশটির পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সোমবার সম্প্রচারমাধ্যম আরটিই এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৩টা নাগাদ তালবট স্ট্রিটের আল মদিনা হলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং তিনজনকে ওই মসজিদ থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ডাবলিনের ফায়ার ব্রিগেড জানিয়েছে, মসজিদের প্রাঙ্গণ থেকে ধোঁয়া বের হওয়ার খবর পেয়ে দমকলকর্মীদের পাঠানো হয়।

    তবে অগ্নিকাণ্ডে ভবনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করে জানিয়েছে যে, কর্মকর্তারা একটি সুনির্দিষ্ট সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। গতকাল ওই মসজিদে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার কারণে শহরে যান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে এবং এলাকার গণপরিবহন পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর মসজিদ ভবনটি সিলগালা করে দেয়া হয়েছে।

  • পশ্চিমবঙ্গের পেট্রোকেমিক্যালস কারখানায় আগুন, আহত ২০

    পশ্চিমবঙ্গের পেট্রোকেমিক্যালস কারখানায় আগুন, আহত ২০

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের একটি কারখানায় মঙ্গলবার ভোরবেলা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। তাদের উদ্ধার করে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় হাসপাতালে।

    এই খবর নিশ্চিত করে সেখানকার জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, অন্তত পাঁচজন গুরুতর জখম হয়েছেন এবং তাদের কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে কারখানার দুজন নিরাপত্তাকর্মীও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

    মঙ্গলবার ভোরে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যাল কারখানার ন্যাপথা পাইপলাইনে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ আকার নেয়।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তারা রাত পৌনে ৩টার দিকে প্রথম আগুন লক্ষ্য করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা দমকল ও পুলিশ কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। তারা বলেন, উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছানোর আগে স্থানীয়দের একাংশ উদ্ধারকাজেও যোগ দেন।

    আগুনের উৎসস্থল বা কারণ এখনো স্পষ্ট জানা যায়নি। যদিও স্থানীয়দের একাংশ দাবি করেছেন, তারা সোমবার রাতে একটি তীব্র গন্ধ পান এবং সন্দেহ করেন, কারখানার ন্যাপথা পাইপলাইনে লিকেজ হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরবেলা নাগাদ বৃষ্টি এবং বজ্রপাত হওয়ার পর বিধ্বংসী আগুন লেগে যায় বলে স্থানীয়দের দাবি।

    একটি বিবৃতিতে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, ঘটনাটি ঘটেছে কারখানার কাছে এমন একটি জায়গায়, যেখান থেকে ন্যাপথা চুরি করা হত বলে তারা মনে করেন। কর্তৃপক্ষ আরো জানিয়েছেন, তারা তদন্তে সহযোগিতা করবেন।

    আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় মোট প্রায় ১২টি ফায়ার ইঞ্জিন। ইতোমধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি।

  • যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিচ্ছে রাশিয়া: জেলেনস্কি

    যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিচ্ছে রাশিয়া: জেলেনস্কি

    উক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে বলেছেন, পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চল দখলের জন্য গত চার বছরেরও বেশি সময়ে ক্রেমলিন ১৫ বার সময়সীমা নির্ধারণ করেছে, কিন্তু প্রতিবারই তা পিছিয়ে দিতে হয়েছে।

    সোমবার (২৯ জুন) দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি এসব কথা বলেন। এর মাধ্যমে তিনি একদিন আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দেওয়া বক্তব্যেরও জবাব দেন। খবর আল আরাবিয়ার।

    রোববার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে পুতিন দাবি করেছিলেন, ইউক্রেন দূরপাল্লার হামলা বন্ধ এবং যুদ্ধের তীব্রতা কমানোর একটি প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এটি কিয়েভের সামরিক বাহিনীর ওপর চাপ কমানোর কৌশল মাত্র।

    জেলেনস্কি বলেন, পুতিনের বক্তব্য প্রমাণ করে তিনি সাধারণ রুশ নাগরিকদের বাস্তব পরিস্থিতি থেকে বিচ্ছিন্ন। ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার তেল শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানির সংকট তৈরি হয়েছে এবং মানুষকে পেট্রোলপাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।

    তিনি বলেন, তেল উৎপাদনকারী দেশ হয়েও, যাকে অনেক সময় ‘গ্যাস স্টেশন’ বলা হয়, সেই রাশিয়াই এখন জ্বালানি সংকটে ভুগছে। এটি যুদ্ধের সরাসরি পরিণতি। এমন বহু পরিণতির মধ্যে এটি একটি মাত্র উদাহরণ।

    জেলেনস্কির দাবি, ইউক্রেন বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাস নয়, বরং নির্ভুল সামরিক হামলার মাধ্যমে জবাব দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার রাজনৈতিক নেতৃত্ব এখনও ডনবাস দখলের লক্ষ্যেই আচ্ছন্ন। তবে রাশিয়া যদি যুদ্ধ বন্ধ না করে, তাহলে ডনবাস পুরোপুরি দখলের নির্ধারিত সময়সীমা আবারও পিছিয়ে দিতে হবে।

    ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর প্রথমে রাশিয়া রাজধানী কিয়েভ দখলের চেষ্টা চালায়। সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে তারা সেনা প্রত্যাহার করে পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাস অঞ্চলে অভিযান জোরদার করে।

    বর্তমানে রাশিয়া পুরো লুহানস্ক অঞ্চল এবং দোনেৎস্ক ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের বড় অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। যদিও মস্কোর বাহিনী ধীরে ধীরে দোনেৎস্কের পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে সেই অগ্রযাত্রার গতি অনেকটাই কমে এসেছে। একই সঙ্গে ইউক্রেন মাঝারি ও দূরপাল্লার ড্রোন হামলা আরও বাড়িয়েছে।

    এ মাসের শুরুতে জেলেনস্কি পুতিনকে একটি খোলা চিঠি লিখে মুখোমুখি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে পুতিন যে নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের কথা বলেছেন, সে বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।

    জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইউক্রেন ইতোমধ্যেই একাধিক প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু রাশিয়া প্রতিবারই সেগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে।

    রুশ নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা এখনও সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত হননি এবং বর্তমানে জ্বালানির লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, তাদের সামনে কী অপেক্ষা করছে, তা নিয়ে এখনই ভাবা উচিত।

  • হরমুজে ইরানের ভয়ে ভারতগামী জাহাজের ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ

    হরমুজে ইরানের ভয়ে ভারতগামী জাহাজের ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ

    ইরানের সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি এড়াতে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় ভারতগামী অধিকাংশ বাণিজ্যিক জাহাজ তাদের ট্র্যাকিং সিস্টেম বা অবস্থান শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রাখছে। সামুদ্রিক চলাচলসংক্রান্ত উপাত্ত থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

    সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগর থেকে ভারত অভিমুখে যাত্রা করা প্রায় ৬২ শতাংশ ট্যাংকার ও মালবাহী জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রমের সময় তাদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দিচ্ছে। সাধারণত জাহাজগুলো নিজেদের পরিচয়, অবস্থান ও গন্তব্য জানানোর জন্য অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) ট্রান্সপন্ডার ব্যবহার করে। তবে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে জাহাজগুলো অনেক সময় তথ্য পাঠানো বন্ধ করে দেয়। এই প্রক্রিয়াকে সামুদ্রিক ভাষায় গোয়িং ডার্ক বা অন্ধকারাচ্ছন্ন হওয়া বলা হয়।

    পশ্চিমা দেশগুলোর মিত্র বা ইরানের প্রতি বৈরীভাবাপন্ন দেশের পতাকাবাহী জাহাজগুলো এই সমুদ্রপথে বেশি ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে। জাহাজের চলাচল দেখে বোঝা যায়, এ ধরনের নৌযানগুলো ওমান নিয়ন্ত্রিত নৌপথটি ব্যবহার করছে। এই রুটকে যুক্তরাষ্ট্র ও ওমান সমর্থন করলেও ইরান স্বীকৃতি দেয়নি। এর বিপরীতে ইরান নিয়ন্ত্রিত রুট ব্যবহারকারী জাহাজগুলো সাধারণত তাদের ট্রান্সপন্ডার চালু রাখে। যদিও তাদের মধ্যে কিছু জাহাজ ইরানের নজরদারির মধ্যে থাকার সময়ও ট্র্যাকিং বন্ধ করে দিয়েছে।

    কেপলারের তথ্যমতে, ১ মে থেকে ২৫ জুনের মধ্যে ভারতগামী মোট ৭৩টি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে ৪৫টি জাহাজ তাদের অবস্থান বা পরিচয়ের তথ্য প্রচার না করেই চলাচল করেছে। এই সময়ের মধ্যে ভারতের পতাকাবাহী মাত্র চারটি জাহাজ এই সমুদ্রপথ পার হয়েছে, যার মধ্যে দুটি জাহাজ তাদের পরিচয় ও রুটের তথ্য গোপন রেখেছিল। বাকি দুটি জাহাজ তাদের সমস্ত তথ্য চালু রেখেই ইরান ও ওমান উভয় পক্ষের রুট দিয়ে চলাচল করেছে।

    একটি বড় ডাটাবেজ থেকে দেখা গেছে, পানামা, লাইবেরিয়া, ইউএই এবং মার্শাল আইল্যান্ডের মতো দেশের পতাকাবাহী অন্তত ৬৯টি ভারতগামী জাহাজ এই প্রণালিতে তাদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দিয়েছিল। এর মধ্যে ১৪টি জাহাজ ওমান নিয়ন্ত্রিত রুট ব্যবহার করেছে এবং ১০টি জাহাজ ইরান নিয়ন্ত্রিত রুট পার হয়েছে। এটি নির্দেশ করে যে উভয় করিডরেই তথ্য গোপন রেখে জাহাজ চলাচল করছে।

    গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে সংঘাত বাড়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতি ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ইরান প্রায়ই তাদের যাতায়াত নির্দেশিকা পরিবর্তন করছে। কিছু ক্ষেত্রে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার পরও জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

    গত এপ্রিলের মাঝামাঝিতে ভারতের পতাকাবাহী ভিএলসিসি ‘সানমার হেরাল্ড’ নামক একটি জাহাজ লারাক দ্বীপের কাছে আক্রান্ত হয়। এই এলাকা ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌসেনারা সামুদ্রিক ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করে। পরে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও ক্লিপে জাহাজের ক্যাপ্টেনকে বলতে শোনা যায় যে, ঘটনার আগে আইআরজিসি নৌবাহিনীর কাছ থেকে তারা যাতায়াতের অনুমতি পেয়েছিলেন।

    মে মাসের শুরুতে বেশ কয়েকটি জাহাজকে ওমানের উপকূল ঘেঁষে একটি রুট ব্যবহার করতে দেখা যায়। পরবর্তীতে মার্কিন বাহিনী এসকর্ট বা পাহারা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এই করিডরের অনুমোদন দেয়। এরপর ওমান এবং জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থাও (আইএমও) এটিকে স্বীকৃতি দেয়।

    যুক্তরাষ্ট্র ও আইএমওর নেতৃত্বাধীন এই পাহারা অভিযান শুরু হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তা গুটিয়ে নেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও জাহাজগুলো তাদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে এই রুট ব্যবহার করা বজায় রেখেছে। ওমানের সমুদ্রসীমার কাছাকাছি হওয়া এবং মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতির কারণে এই রুটকে তুলনামূলক নিরাপদ মনে করা হলেও এটি পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। মে মাসের মাঝামাঝিতে ওমানের লিমাহর কাছে ভারতের পতাকাবাহী একটি মালবাহী জাহাজ ডুবে যায়, যা ইরানের সন্দেহভাজন হামলা ছিল বলে জানা গেছে।

  • খামেনির জানাজায় যোগ দিতে ইরান যাচ্ছে জামায়াতের সংসদীয় প্রতিনিধি দল

    খামেনির জানাজায় যোগ দিতে ইরান যাচ্ছে জামায়াতের সংসদীয় প্রতিনিধি দল

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহিল সাইয়্যিদ আলী হুসাইনি খামেনির বিদায়, জানাজা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইরান যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধিদল ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সরকারের আমন্ত্রণে প্রতিনিধি দলটি আগামী ৩ জুলাই ঢাকা ত্যাগ করবেন। তারা আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত ইরান সফর করবেন।বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপির নেতৃত্বে এ প্রতিনিধিদলের অপর সদস্যরা হলেন মো. নুরুল আমীন এমপি, ড. মো. কেরামত আলী এমপি এবং ডা. এসএম খালিদুজ্জামান।

    দলীয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দলটি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর শোক, সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহিল সাইয়্যিদ আলী হুসাইনি খামেনেয়ীর জানাজা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে।

    ইরান সফরকালে সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী প্রতিনিধিদল দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ইরানের জনগণের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা যায়।

    একইসঙ্গে, এ গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি প্রতিনিধিদলের সফর সফল করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ইরান সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে।

  • ইমরান খানের আপিল আবেদন ফেরত দিলেন সুপ্রিম কোর্ট

    ইমরান খানের আপিল আবেদন ফেরত দিলেন সুপ্রিম কোর্ট

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবির একটি আপিল আবেদন ফেরত দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। ১৯০ মিলিয়ন পাউন্ডের দুর্নীতি মামলায় সাজা স্থগিতের আবেদন নিষ্পত্তি না করে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে এই আপিল দায়ের করা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার অফিস এই আপিলের ওপর আপত্তি তুলে তা ফেরত পাঠায়।

    রেজিস্ট্রার অফিসের উত্থাপিত আপত্তিতে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদ হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার সুপ্রিম কোর্টে নয়, বরং ফেডারেল কনস্টিটিউশনাল কোর্টে (এফসিসি) হওয়া উচিত। তবে ইমরান খান ও বুশরা বিবির আইনজীবী সালমান সাফদার এই আপত্তির বিরোধিতা করেছেন। তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন, সংবিধানের ১৮৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টে এই আপিলটি সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য।

    আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৯ সালের ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি অর্ডিন্যান্সের ৩২এ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্টের নির্দিষ্ট কিছু সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এফসিসিতে দ্বিতীয় আপিলের বিধান রয়েছে। তবে জামিন বা সাজা স্থগিতের আবেদনের আদেশের বিরুদ্ধে এফসিসিতে আপিল করার কোনো স্পষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা এনএও-তে নেই। ফলে সুনির্দিষ্ট সংবিধিবদ্ধ প্রতিকারের অনুপস্থিতিতে এই আদেশ চ্যালেঞ্জ করার একমাত্র উপযুক্ত ফোরাম হলো পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট।

    এর আগে মে মাসের শুরুতে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট সাজা স্থগিতের আবেদনটি এই যুক্তিতে নিষ্পত্তি করে দেয় যে মূল আপিলের শুনানির তারিখ ইতিমধ্যে নির্ধারিত হওয়ায় আলাদাভাবে সাজা স্থগিতের আবেদন বিবেচনার যৌক্তিকতা নেই।

    দায়ের করা এই আপিলে ইমরান খান উল্লেখ করেছেন, কারাবন্দী থাকা অবস্থায় তিনি চোখের সমস্যায় আক্রান্ত হন এবং চিকিৎসার জন্য তাকে কারাগারের বাইরে নিয়ে যেতে হয়েছিল। গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তাকে এভাবে বন্দি রাখা অন্যায় এবং দীর্ঘস্থায়ী নির্জন কারাবাস তাকে চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ফেলেছে। আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, সাজা স্থগিতের আবেদনটি ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করা হয়েছে।

  • ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে ৫৮ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত

    ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে ৫৮ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত

    ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে ৫৮ হাজারেরও বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার প্রকাশিত স্যাটেলাইট উপাত্তের এক প্রাথমিক মূল্যায়নে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার এই ভূমিকম্প দুটিতে প্রায় ১ হাজার ৭০০ মানুষ নিহত হয়েছে এবং এখনো হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশে গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনা।

    ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক কোরি শের এবং জ্যামন ভ্যান ডেন হেক জানান, ভূমিকম্পের পরদিন ২৫ জুন সংগৃহীত স্যাটেলাইট রাডার উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে আনুমানিক ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন সম্ভবত ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

    গবেষকদ্বয় ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন রাডার ইমেজিং স্যাটেলাইট ‘সেন্টিনেল-১’-এর উপাত্তের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    গবেষকেরা লিখেছেন, ‘এটি একটি প্রাথমিক ও দ্রুত মূল্যায়ন। এটি পৃষ্ঠতলের আকস্মিক পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে, যা ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’

    তারা আরো জানিয়েছে, এই সংখ্যাকে কেবল একটি নির্দেশক হিসেবে ধরা উচিত এবং এটি মাঠ পর্যায়ে যাচাই করা হয়নি।

    এদিকে ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ গত সোমবার জানিয়েছেন, ১৮৯টি ‘সম্পূর্ণ ধসে পড়া’ ভবনসহ ৮৫৫টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    নাসা জানিয়েছে, তাদের স্যাটেলাইটগুলো ছবি এবং উপাত্ত সংগ্রহের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিচ্ছে, যা মাঠ পর্যায়ে কর্মরত দলগুলোকে ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন ও উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনায় সাহায্য করবে।

  • ইউক্রেনের ৪৬ ড্রোন ভূপাতিত

    ইউক্রেনের ৪৬ ড্রোন ভূপাতিত

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গত রাতে মস্কোর দিকে আসা ইউক্রেনের কয়েক ডজন ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করেছেন রাজধানীর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন।

    তিনি মঙ্গলবার বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে। যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে ক্রেমলিনের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে এসব স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

    এ যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে। মস্কো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ম্যাক্স প্ল্যাটফর্মে সোবিয়ানিন লেখেন, ‘মস্কোর দিকে উড়ে আসা শত্রুপক্ষের ছয়টি ড্রোন রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী ভূপাতিত করেছে।’

    এর মধ্য দিয়ে ভূপাতিত ড্রোনের মোট সংখ্যা ৪৬-এ পৌঁছেছে বলে তিনি জানান।তিনি আরও বলেন, ‘ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ যেখানে পড়েছে, সেখানে জরুরি সেবাকর্মীরা কাজ করছেন।’

    এর আগে সোবিয়ানিন বলেন, রাজধানীর দিকে আসা ‘শত্রুপক্ষের ড্রোন’ প্রতিহত করতে রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করছে।

    এর কয়েক দিন আগেই বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের মধ্যে ইউক্রেনের ৬৬০টি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি করে রাশিয়া।যুদ্ধ শুরুর পর একসঙ্গে এমন বিপুলসংখ্যক ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনা বিরল।

    এ ছাড়া গত সপ্তাহে ইউক্রেনের এক হামলায় মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে আগুন লাগে।

  • সমঝোতা স্মারক মনথেকে বাস্তবায়ন করছে না যুক্তরাষ্ট্র

    সমঝোতা স্মারক মনথেকে বাস্তবায়ন করছে না যুক্তরাষ্ট্র

    ইরানের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক আলি আকবর দারেইনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী ইরানের জব্দ করা সম্পদ মুক্তির ক্ষেত্রে কোনো শর্ত নেই। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এখনো সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি।

    আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দারেইনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শর্ত ছাড়াই অবিলম্বে ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু তারা তাদের অঙ্গীকার রক্ষা করেনি।”

    তিনি জানান, সমঝোতা স্মারকটি দুই ধাপে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। প্রথম ধাপে পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং দ্বিতীয় ধাপে চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে।

    দারেইনির অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই এমওইউ অনুযায়ী নিজেদের দায়বদ্ধতা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ আলোচনা বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

    তার ভাষায়, “এমওইউর প্রথম অনুচ্ছেদে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের এবং ইসরাইলের পক্ষ থেকে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু পরে তারা ইসরাইল ও লেবাননের সঙ্গে আলাদা একটি চুক্তি করেছে, যা এমওইউর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্র সৎ উদ্দেশ্যে সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন করছে না।”

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, “যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অর্থ অবৈধভাবে আটকে রেখেছে এবং এখন সেই অর্থকেই জিম্মি করে রেখেছে।”

    তবে দারেইনির এসব বক্তব্য ইরানের পক্ষের অবস্থান ও অভিযোগ। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

  • যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নিতে হলে দিতে হবে ১৬ লাখ টাকা

    যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নিতে হলে দিতে হবে ১৬ লাখ টাকা

    যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় খরচে থাকা-খাওয়ার জন্য ব্যয় করা অর্থের অংশ হিসেবে প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। এ অর্থ পরিশোধ না করলে তারা স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

    মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উপস্থাপিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    নতুন এই আয়ভিত্তিক পরিশোধব্যবস্থা অভিবাসন ও আশ্রয় আইনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা এটিকে শিক্ষা ঋণব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে বিভিন্ন মানবাধিকার ও শরণার্থী সহায়তা সংস্থা এর তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, যুদ্ধ, নির্যাতন ও দুর্ভিক্ষ থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের ওপর এটি কার্যত অতিরিক্ত কর আরোপের শামিল।

    অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প থেকে সরকারের আয় খুবই সীমিত হবে। কারণ আশ্রয় পাওয়ার পাঁচ বছর পরও শরণার্থীদের ১৫ শতাংশেরও কম বছরে ২০ হাজার পাউন্ডের (প্রায় ৩২ লাখ টাকা) বেশি আয় করেন।

    যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এই পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন ও সহায়তার পেছনে প্রতি বছর সরকারের ৪ বিলিয়ন পাউন্ড খরচ হয়। এই খরচ কমিয়ে আনার জন্য লেবার পার্টির ওপর তীব্র চাপ রয়েছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আশ্রয় সহায়তা পাওয়া একটি অধিকার, তবে এটি একটি দায়িত্বও বটে। মানুষ যখন অবদান রাখতে এবং ব্রিটিশ জনগণের উদারতা ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হবে, তখন আমরা আশা করি তারা তা করবে।’

    হোম অফিস জানিয়েছে, আশ্রয়প্রার্থীদের মোট প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড ফেরত দিতে হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চাইলে এই চার্জ বা মাশুল সমন্বয় করতে পারবেন। যদি কোনো সফল আশ্রয়প্রার্থীর কাছে পর্যাপ্ত তহবিল বা অর্থ থাকে, তবে তাকে একটি নির্দিষ্ট হারের মাশুল দিতে বলা হবে।

    হোম অফিস আরো জানায়, ‘স্থায়ী বসবাসের যোগ্য হওয়ার আগে অভিবাসীদের অবশ্যই পুরো অর্থ পরিশোধ করতে হবে।’

    রিফিউজি কাউন্সিলের এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর ইমরান হুসেন বলেন, ‘নিপীড়ন, নির্যাতন ও যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করা অন্যায় ও অবাস্তব। এটি তাদের পরিবার পুনর্গঠন ও নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর লড়াইকে আরো কঠিন করে তুলবে। অনেক আশ্রয়প্রার্থীর এই সহায়তার প্রয়োজন হয়, কারণ হোম অফিস নিজেই আবেদন মূল্যায়নের সময় তাদের কাজ করা নিষিদ্ধ করে রাখে। এই নতুন আর্থিক বোঝা কেবল তাদেরই ক্ষতি করবে, যারা আমাদের তীরে খালি হাতে এসে পৌঁছেছে।’

    হেলেন ব্যাম্বার ফাউন্ডেশনের আবাসন ও কল্যাণ ব্যবস্থাপক জো ডেক্সটার বলেন, ‘এই প্রস্তাবটি সরকারের স্রেফ একটি দৃশ্যমান নিষ্ঠুরতা। আশ্রয় ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি বিলম্ব মোকাবিলার কোনো সুনির্দিষ্ট বিবরণ বা নির্ভরযোগ্য পরিকল্পনা এই ঘোষণায় নেই।’

    এই প্রকল্পটি কতটা সাশ্রয়ী হবে তা নির্ভর করবে আয়ের সীমা নির্ধারণ এবং এর আওতায় কতজন মানুষ আসছে তার ওপর। ২০২৩ সালের উপাত্ত অনুযায়ী, পাঁচ বছর আগে শরণার্থীর মর্যাদা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মাত্র ১৩ শতাংশের আয় ছিল অন্তত ২০ হাজার পাউন্ড। বাকিরা হয় বেকার ছিলেন অথবা এর চেয়ে কম আয় করতেন। যুক্তরাজ্যে জাতীয় জীবনযাত্রার মজুরি ২৫ হাজার পাউন্ডের কিছু কম।

    অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির মাইগ্রেশন অবজারভেটরির ডিরেক্টর ম্যাডেলিন সাম্পশন বলেন, ‘উপাত্ত বলছে যে আয়ের সীমা যদি ন্যূনতম মজুরির চেয়ে অনেক নিচে রাখা না হয়, তবে আশ্রয় পাওয়া খুব কম সংখ্যক মানুষই এই প্রকল্পে অবদান রাখার মতো যথেষ্ট আয় করতে পারবেন। সামগ্রিকভাবে, সরকারি অর্থায়নে এই প্রকল্পের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম হবে। কারণ এটি অত্যন্ত কম আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য একটি সামর্থ্য-যাচাইকৃত পেমেন্ট।’

    তিনি আরো বলেন, এই প্রকল্প সফল আশ্রয়প্রার্থীদের কাজ খোঁজার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করতে পারে অথবা তাদের বিকল্প আবাসনের দিকে ঠেলে দিতে পারে। শরণার্থীর মর্যাদা পাওয়ার পর তাদের বেশি কর দিতে হবে ভেবে তারা কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারে।

    হোম অফিসের কাছে এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ খরচের বিবরণ এবং আশ্রয়প্রার্থীদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু করার আনুমানিক আয়ের সীমা জানতে চেয়েছিল দ্য গার্ডিয়ান। যেখানে স্টুডেন্ট লোন বা ছাত্রঋণ প্রকল্পের মূল পরিচালন বাজেট বছরে ৪৪ মিলিয়ন পাউন্ড এবং সেখানে আয়ের সীমা হলো বছরে ২৬ হাজার ৯০০ পাউন্ড।

    হোম অফিসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, আয়ের সীমার মতো বিবরণগুলো পরবর্তী উপ-বিধিতে নির্ধারণ করা হবে। এই বিষয়গুলো চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিভাগটি প্রকল্পের সঠিক খরচ নির্ধারণ করতে পারবে না।

    যুক্তরাজ্যের এই নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় বিলে ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ৮ কীভাবে অভিবাসন ও নির্বাসনের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হবে, তা নির্দেশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বয়স মূল্যায়নের প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও এতে রয়েছে।

    হোয়াইটহলের সূত্র জানিয়েছে, দেরিতে আবেদন জমা দেওয়া বন্ধ করতে আধুনিক দাসত্ব কাঠামোও সংশোধন করা হবে।

  • নিখোঁজদের ছবিতে ঢেকে যাচ্ছে কারাকাসের হাসপাতাল

    নিখোঁজদের ছবিতে ঢেকে যাচ্ছে কারাকাসের হাসপাতাল

    ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের মিগুয়েল পেরেজ কারেনো হাসপাতালের বাইরের দেয়ালজুড়ে নিখোঁজ মানুষের ছবি টাঙানো হচ্ছে। ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকায় স্বজনরা এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরে তাদের প্রিয়জনদের খুঁজে বেড়াচ্ছেন। খবির বিবিসির।

    প্রতি ঘণ্টায় নতুন নতুন মানুষ নিখোঁজ স্বজনদের ছবি-সংবলিত লিফলেট নিয়ে এসে হাসপাতালের দেয়ালে সেগুলো লাগিয়ে দিচ্ছেন। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন উপকূলীয় এলাকা লা গুয়াইরার বহু বাসিন্দাও।

    স্বজনদের খুঁজতে আসা ইয়েরিঙ্কের বারমুদেজ জানান, ভূমিকম্পের সময় তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। তিনি যখন নিজের ভবনে প্রবেশ করছিলেন, ঠিক তখনই সেটি ধসে পড়ে। আহত অবস্থায় লাঠির সাহায্যে চলাফেরা করা বারমুদেজ এখন সেই ভবনে বসবাসকারী বন্ধুদের খুঁজছেন।

    সরকারের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “পুলিশ বা সরকার আমাদের কোনো সহায়তা করেনি। প্রতিবেশী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে আমরা নিজেরাই ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত ও নিহতদের বের করেছি। খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে উদ্ধারকাজ চালিয়েছি।”

    হাসপাতালের বাইরে এ সময় অসংখ্য মানুষ ভর্তি রোগীদের তালিকায় পরিচিত কোনো নাম খুঁজে পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করছেন।

    হাসপাতালের ভেতরেও পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত চাপের। হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সান্তিয়াগো কাসানোভা বলেন, প্রথম কয়েক দিন অত্যন্ত কঠিন ছিল। তবে এখন আহতের সংখ্যা কিছুটা কমে আসায় পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়েছে।

    তবে তিনি জানান, আহত রোগী কমে যাওয়ার কারণ ইতিবাচক নয়। সময় যত গড়াচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত মানুষ উদ্ধারের সম্ভাবনাও তত কমে যাচ্ছে।

  • কাবুল বলছে নিহতরা বেসামরিক, ইসলামাবাদের দাবি জঙ্গি

    কাবুল বলছে নিহতরা বেসামরিক, ইসলামাবাদের দাবি জঙ্গি

    আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে রাতভর ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে পাক বাহিনী। এতে দেশটির অন্তত ৩৬ জন বেসামরিক নিহত হয়েছে। সেই সঙ্গে আহত হয়েছে আরও ১৬৩ জন। সোমবার (২৯ জুন) আফগান কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানিয়েছে।

    এ ছাড়া আফগানিস্তান অভিযোগ করেছে যে, পাকিস্তান বেসামরিক এলাকা লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালিয়েছে। আফগান সরকারের ডেপুটি মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত বলেছেন, পাকতিয়া, পাকতিকা এবং কুনার প্রদেশে বেসামরিক নাগরিকদের বাড়ি লক্ষ্য করে পাক বাহিনী এসব হামলা চালিয়েছে।

    তবে পাকিস্তানের কর্মকর্তারা ভিন্ন দাবি করেছেন। তারা বলেছেন, পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী প্রাণঘাতী হামলার জবাবে স্থল ও বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে ২৯ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেছেন, দেশজুড়ে সশস্ত্র সংগঠনগুলোর একাধিক হামলার জবাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে।
    এক্সে তিনি বলেন, নির্ভুল হামলায় পাকতিয়া, পাকতিকা এবং কিনারে তিনটি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে।

    এদিকে তালিবান এক বিবৃতিতে বলেছে, পাকতিয়ায় চামকানি জেলার মান্দখালী গ্রামে এক বাড়িতে পাক বাহিনী বোমাবর্ষণ চালিয়েছে। এতে এক বৃদ্ধ ব্যক্তি এবং শিশু নিহত হয়েছে।
    বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এরপর পাক বাহিনী দ্বিতীয় হামলাটি চালায় গ্রামবাসীদের ওপর, যারা বেঁচে যাওয়াদের উদ্ধারে জড়ো হয়েছিলেন। এই হামলায় নিহত হয়েছে ২৮ জন এবং আহত ১৫৮ জন।

    এ ছাড়া তালেবানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাকতিকার গিয়ান জেলার ওলাস্ট গ্রামে আরেক বাড়িতে পাক বাহিনীর হামলায় ছয়জন বেসামরিক নিহত হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই নারী এবং শিশু।

    কুনারের মানোগাই জেলায় আরেকটি আবাসিক বাড়িতে হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তানি বাহিনী। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

    গত শনিবার পাকিস্তানের করাচিতে দেশটির আধাসামরিক বাহিনী রেঞ্জার্সের আঞ্চলিক সদরদপ্তরে আত্মঘাতী হামলা হয়। এতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর তিন সদস্য নিহত হয়েছে। এই হামলার পরেই আফগানিস্তানে অভিযান চালালো পাক বাহিনী।

    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার পরিমাণ বেশ বেড়েছে। বিশেষ করে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার জন্য আফগানিস্তানকে দায়ী করে আসছে পাক সরকার।

    দেশটির অভিযোগ, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে নিষিদ্ধঘোষিত পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি) এসব হামলা চালাচ্ছে। তবে পাকিস্তানের এসব অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে আসছে আফগানিস্তান।

    প্রতিবেশী দেশ দুইটির সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলায় সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। এতে দেশ দুইটির মধ্যে উত্তেজনা এখন চরমে। উভয় পক্ষই কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়।

  • তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের উদ্বেগের জবাব দিলো চীন

    তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের উদ্বেগের জবাব দিলো চীন

    তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) চীন তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলে আবারও স্পষ্ট করেছে। একই সঙ্গে দেশটি জোর দিয়ে বলেছে, বাংলাদেশ ও চীনের সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এটি তৃতীয় পক্ষের প্রভাবমুক্ত থাকা উচিত।

    বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের উদ্বেগ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয়।
    তিস্তা অববাহিকা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খুব কাছাকাছি অবস্থিত। এ কারণে ঢাকা-বেইজিংয়ের যৌথ উদ্যোগ নিয়ে ভারতের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হলো প্রকল্পটির ভৌগোলিক অবস্থান।

    চীনের ভাষ্য, তিস্তা প্রকল্পটি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ। গুও জিয়াকুন বলেন, তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প। চীন এ প্রকল্পে যথাসাধ্য সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
    তিনি আরও বলেন, চীন বাংলাদেশের সঙ্গে উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয় আরও জোরদার করতে এবং অর্থনীতি, বাণিজ্য, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও জনকল্যাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিময় ও সহযোগিতা বাড়াতে প্রস্তুত।

    বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, প্রকল্পটির ওপর প্রথমবারের মতো দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে একটি কারিগরি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করবেন।
    তিনি বলেন, এ বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। আগেরবার বিষয়টি এতটা অগ্রসর পর্যায়ে ছিল না। চীন জানিয়েছে, সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় প্রকল্পটি যৌক্তিক প্রমাণিত হলে তারা সর্বোচ্চ সহায়তা দেবে।

    তিস্তাসহ বাংলাদেশের নদীগুলোর ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বাড়াতে ঢাকা ও বেইজিং একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভবিষ্যতে কী ঘোষণা আসে, সে দিকে ভারতের নিবিড় নজর থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বিডব্লিউডিবি) এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পাওয়ারচায়না (পাওয়ারচায়না) একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ বাড়ানোর চুক্তি সই করে, যার মাধ্যমে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যায়।

    ভারতের উদ্বেগের মূল কারণ, তিস্তা নদীর অবস্থান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল শিলিগুড়ি করিডরের (যা ‘চিকেনস নেক’ নামেও পরিচিত) কাছাকাছি হওয়া এবং সেখানে চীনের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি।

    ওই অঞ্চলে, বিশেষ করে চীনের মতো বহিরাগত শক্তির প্রভাব বৃদ্ধি ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বাড়াতে পারে। কারণ, শিলিগুড়ি করিডরই ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর একমাত্র স্থল সংযোগ স্থাপন করেছে। ফলে এ করিডরের নিরাপত্তা ও কৌশলগত গুরুত্ব ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • ট্রাম্প প্রশাসনে ফাটল?

    ট্রাম্প প্রশাসনে ফাটল?

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করার পর দেশটির অভ্যন্তরে, বিশেষ করে ইসরাইলপন্থী রাজনীতিক ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। তবে ট্রাম্পের পক্ষে চুক্তিটির সাফাই দিতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি একাধিক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং একটি সফল চূড়ান্ত চুক্তির জন্য খুব শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

    তিনি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। সুইজারল্যান্ডে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দেয়া ভ্যান্স ইসরাইলের প্রকাশ্য বিরোধিতার জবাবে কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছেন।
    তিনি বলেন, আপনারা ৯০ লাখ মানুষের একটি দেশ। জাতীয় নিরাপত্তার প্রতিটি সমস্যার সমাধান শুধু মানুষ হত্যা করে করা সম্ভব নয়। ইসরাইলের সামরিক কৌশলের সমালোচনা করে ভ্যান্সের এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।


    অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রকাশ্যে ইসরাইলের সমালোচনা না করে বরং ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছেন। গত সপ্তাহে তিনি মধ্যপ্রাচ্য সফর করে উপসাগরীয় মিত্রদের আশ্বস্ত করেন, যারা যুদ্ধ চলাকালে ইরানের হামলার শিকার হয়েছিল। তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক নৌপথ (হরমুজ প্রণালি) কোনো একক রাষ্ট্রের সম্পত্তি নয়। এর কয়েক দিন পরই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। ১৭ জুন এমওইউ স্বাক্ষরের পর এটিই ছিল প্রথম সামরিক উত্তেজনা।

    বর্তমানে উভয় পক্ষ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা কমাতে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট জ্বালানির প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত সপ্তাহে ভ্যান্স ও রুবিওর দেয়া বিভিন্ন বক্তব্যে কিছু পার্থক্য লক্ষ্য করায় ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে নীতিগত বিভক্তির জল্পনা শুরু হয়। তবে হোয়াইট হাউস জোরালোভাবে সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
    হোয়াইট হাউসে বক্তব্য দিতে গিয়ে ভ্যান্স বলেন, বৈরুতে ইসরাইলের বেসামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলমান শান্তি প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এর আগে ইসরাইলের সমালোচনা করে বলেছিলেন, কাউকে খুঁজছেন বলে প্রতিবার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ধ্বংস করার প্রয়োজন নেই। কারণ ওই ভবনে অনেক মানুষ থাকে, তারা সবাই হিজবুল্লাহর সদস্য নয়।

    লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে দেশটিতে ইসরাইলি হামলায় চার হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
    ভ্যান্স আরও বলেন, ডনাল্ড ট্রাম্পই এই মুহূর্তে বিশ্বের একমাত্র রাষ্ট্রনেতা, যিনি ইসরাইলের প্রতি সহানুভূতিশীল। আমি যদি ইসরাইলি সরকারের সদস্য হতাম, তাহলে আমার সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্রকে প্রকাশ্যে আক্রমণ করতাম না।
    অন্যদিকে রুবিও লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে হিজবুল্লাহর হামলার বৈধ জবাব হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ভ্যান্সের মন্তব্য সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান।

    উপসাগরীয় দেশগুলো নিয়ে ভিন্ন সুর
    ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য ভ্যান্স সুইজারল্যান্ড সফর করেন এবং আলোচনা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি এমনও ইঙ্গিত দেন যে ভবিষ্যতে আরব দেশগুলো ইরানের পুনর্গঠন তহবিলে অবদান রাখতে পারে।
    অন্যদিকে রুবিও সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইন সফর করে মিত্র দেশগুলোকে আশ্বস্ত করেন যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্বার্থ রক্ষা করবে।
    ২৩ জুন তিনি বলেন, ইরানের পুনর্গঠনে উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থায়নের প্রশ্ন এখনো অনেক দূরের বিষয়। তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই একটি চুক্তি চাই। তবে যে কোনো মূল্যে চুক্তি করতে চাই না।

    ইরানকে নিয়ে অবস্থানের পার্থক্য
    ভ্যান্স ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আরও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে ওঠার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, দুই দেশ একসঙ্গে শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য কাজ করতে পারে। তিনি অতীতের সেই মার্কিন অবস্থান থেকেও কিছুটা সরে আসেন, যেখানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংসের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। ভ্যান্স বলেন, ইসরাইল হোক বা ইরান- কোনো দেশকেই আত্মরক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না।

    অন্যদিকে রুবিও স্পষ্টভাবে বলেন, ইরানকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে কোনো ধরনের টোল বা ফি আদায় করতে দেয়া হবে না।
    হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, এখানে একটিই শিবির রয়েছে- প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শিবির। পুরো প্রশাসনই প্রেসিডেন্টের সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে একমত যে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না।
    পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগটও বলেন, রুবিও ও ভ্যান্সের মধ্যে পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বিভক্তির দাবি ‘পুরোনো ও ভিত্তিহীন’। রুবিও নিজেও এ ধরনের জল্পনা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, আমরা সবাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বেই কাজ করছি। পুরো প্রশাসন একই অবস্থানে রয়েছে।

    ভ্যান্স ও রুবিও ট্রাম্প প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই কূটনৈতিক ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘদিন ধরেই তাদের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ভিন্নধর্মী অবস্থান রয়েছে।
    ক্ষমতায় আসার আগে ভ্যান্স বিদেশে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধকে প্রাণহানি ও অর্থের অপচয় হিসেবে সমালোচনা করতেন। অন্যদিকে রুবিও সিনেটে থাকাকালে ইরান, রাশিয়া ও কিউবার বিরুদ্ধে কঠোর নীতির পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় “হক” বা কঠোরপন্থী রাজনীতিক হিসেবে পরিচিতি পান।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে ট্রাম্পের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত এই দুই নেতা রিপাবলিকান পার্টির দুটি ভিন্ন ধারার প্রতিনিধিত্ব করেন। একদিকে রয়েছেন বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপ সমর্থনকারী নব্য রক্ষণশীলরা (নিওকনজারভেটিভ), অন্যদিকে রয়েছেন সেই রিপাবলিকানরা, যারা মনে করেন সাম্প্রতিক অনেক বিদেশি যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ব্যয়বহুল ও অপ্রয়োজনীয় ছিল।

  • গ্রাহকদের জন্য স্মার্টফোন সাশ্রয়ী করতে বাংলালিংকের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

    গ্রাহকদের জন্য স্মার্টফোন সাশ্রয়ী করতে বাংলালিংকের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

    ধানমন্ত্রী তারেক রহমান গ্রাহকদের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে স্মার্টফোন পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে বাংলালিংক কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আজ সোমবার বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভেয়নের চেয়ারম্যান অগি ফাবেলা তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এই আহ্বান জানান।

    জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময়ে ডিজিটাল সেবাকে আরও সহজলভ্য করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

    এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বাংলালিংক কর্তৃপক্ষকে আরও সাশ্রয়ী মূল্যে স্মার্টফোন গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান, যেন সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের হাতে স্মার্টফোন পৌঁছে যায়। একই সঙ্গে ইন্টারনেটের মূল্য আরও কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করারও আহ্বান জানান তিনি।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ভেয়নের বোর্ড সদস্য মিশেল সোয়েটিং এবং বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইওহান হেনড্রিক মার্টিনাস বুসে।

  • যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

    যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

    যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যানকে জাতীয় অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষিকে সহায়তা দেওয়া এবং উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়নে যেকোনো মূল্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।’

    আজ সোমবার দুপুরে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, ‘নদী, খাল ও সেচ অবকাঠামোয় বড় ধরনের বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের দীর্ঘদিনের পানি ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।বিশেষ করে রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের মানুষের অন্যতম বড় উদ্বেগের বিষয় পানি। সংসদ সদস্যরা নিয়মিত পদ্মা ও তিস্তা নদী নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। আমরা এসব সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছি।’

    সারা বছর কৃষির জন্য পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে কৃষিসহ অন্যান্য খাতে তা ব্যবহার করা হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করা হবে। যেন পুরো শুষ্ক মৌসুম এবং বছরের অন্যান্য সময় কৃষি ও প্রয়োজনীয় খাতে সেই পানি সরবরাহ করা যায়।’

    ‘দীর্ঘদিন ধরে সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তঃনদী সংযোগের অভাবে বাংলাদেশ ভুগছে। এর ফলে অনেক নদীর নাব্যতা হারিয়ে গেছে এবং বিভিন্ন এলাকায় সেচ ও পানির সংকট তৈরি হয়েছে’, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ‘আমি এমন এলাকা পরিদর্শন করেছি, যেখানে বর্ষায় চারদিকে পানি থাকলেও অল্প দূরের কৃষকরা পানির অভাবে জমিতে সেচ দিতে পারেন না।তবে এই সমস্যা সমাধানে দেশব্যাপী নদী ও খাল খনন এবং পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’

    আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘পানি প্রবাহ, সেচ ব্যবস্থা এবং বন্যা ব্যবস্থাপনা যাতে উন্নত করা যায় এ লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি চলছে। গত তিন মাসে প্রায় ৯শ’ কিলোমিটার খাল খনন বা পুনঃখনন করা হয়েছে।’

    কৃষকদের জন্য সরকারের সহায়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারের অন্যতম প্রথম সিদ্ধান্ত ছিল ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ এবং তার সুদ মওকুফ করা। এতে প্রায় ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন।’

    কৃষকদের সরাসরি সহায়তা দেওয়ার জন্য সরকার বিশেষ কৃষক কার্ড চালু করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৪৩ লাখ কৃষক এই কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা এবং অন্তত ১০টি অতিরিক্ত সেবা পাবেন। আমরা কৃষকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছি।’

    যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠানো এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সেবার পরিধি বাড়াতে সরকার কাজ করছে।’

    এর অংশ হিসেবে প্রবাসীদের বিভিন্ন সেবা সহজলভ্য করতে এবং বিদেশে তাঁদের ভোগান্তি কমাতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য নয়, জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

    দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, দুর্বল পরিকল্পনা ও অবহেলার কারণে দেশের জ্বালানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানকে অবহেলা করে বিদেশি কোম্পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি করা হয়েছে।তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার এখন জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে আমদানি নির্ভরতা কমানো যায়।’

    মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংকটের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ পরিস্থিতি আবারও প্রমাণ করেছে যে আমদানি নির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। সরকারের বৃহত্তর লক্ষ্য হলো এমন একটি শক্তিশালী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তোলা, যা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।’

    শিক্ষা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, শিক্ষিত ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন জনগোষ্ঠীই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তবে আগের শাসনামলে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করা হয়েছিল। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে শিক্ষা খাতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।

    এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। বাজেট এ অধিবেশনে প্রথমে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং পরে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখেন।

  • জার্মানিতে এলোপাতাড়ি গোলাগুলি, নিহত ৫

    জার্মানিতে এলোপাতাড়ি গোলাগুলি, নিহত ৫

    জার্মানির উত্তরাঞ্চলীয় শহর স্টাডেতে অতর্কিত বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় দেশটির পুলিশ সন্দেহভাজন একব্যক্তিকে আটক করেছে। খবর রয়টার্সের। সোমবার জার্মান পুলিশ জানায়, হামলার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনার তদন্ত চলছে।
    স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হামলাটি হামবুর্গের পশ্চিমে অবস্থিত প্রায় ৫০ হাজার জনসংখ্যার শহর স্টাডের কেন্দ্রস্থলের একটি যুবকেন্দ্রে (ইয়ুথ সেন্টার) ঘটেছে।
    কয়েকটি গণমাধ্যমে একাধিক হামলাকারীর কথা বলা হলেও পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেনি।

    পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত জানার জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

  • ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে ছাড় পাবে না ইসরাইল

    ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে ছাড় পাবে না ইসরাইল

    যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা সবার আগে আমেরিকা পররাষ্ট্র নীতিতে ইসরাইল আর কোনো বিশেষ ছাড় পাচ্ছে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানিয়েছে, ওয়াশিংটন এখন অন্য সব মিত্র দেশের মতো একই কৌশলগত নীতি ইসরাইলের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা শুরু করেছে।

    এতদিন ইসরাইল ভেবেছিল তারা হয়তো এই নীতির বাইরে থাকবে। এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইসরাইলি রাজনৈতিক উপদেষ্টা পলিটিকোকে বলেন, ‘আমরা বোকার মতো বাজি ধরেছিলাম যে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি থেকে আমরা ছাড় পাব। কিন্তু এটা তো আর চলতে পারে না। আমরা চার বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সব পররাষ্ট্র নীতিতে ব্যতিক্রম হয়ে থাকতে পারি না।’

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন নীতিতে এই পরিবর্তনের পেছনে অন্যতম শক্তিশালী সমর্থক হিসেবে সামনে এসেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি ইসরাইলি নেতৃত্বের তীব্র ও সরাসরি সমালোচনা করেছেন।

    ইসরাইলি কর্মকর্তাদের ভ্যান্স বলেছেন, তারা যেন এটা মনে রাখেন যে যুক্তরাষ্ট্রই ইসরাইলের ‘একমাত্র শক্তিশালী মিত্র’। ওয়াশিংটনের এই সমর্থনকে চিরস্থায়ী বা নিশ্চিত বলে ধরে নেয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন।

    দুই দেশের সরকারের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও সম্পর্কও আগের চেয়ে বেশ কমে গেছে। পলিটিকো জানিয়েছে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২০২৫ সালে পাঁচবার ওয়াশিংটন সফর করলেও ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কেবল একবার সেখানে গিয়েছেন।

    বিষয়টির সাথে পরিচিত একটি সূত্র জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসে নেতানিয়াহুর আরেকটি সফরের বিষয়টি এই মুহূর্তে কোনো বিবেচনায় নেই এবং দুই সরকারের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ অনেক কমে গেছে।

    সূত্রটি সতর্ক করে বলেছে, ‘সবচেয়ে খারাপ সময় এখনো আসতে বাকি রয়েছে।’

    এ খবরটি আসার কিছুদিন আগেই আরেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছিল, গত ২ জুন এক ফোনালাপে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করেন। মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে নেতানিয়াহুর পদক্ষেপে ট্রাম্প এতটাই বিরক্ত ছিলেন যে তিনি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে ‘পাগল’ বলে অবিহিত করেন।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প পরে নিজেই স্বীকার করেছেন যে সেই কথোপকথনের সময় তিনি নেতানিয়াহুকে একজন ‘অভিশপ্ত উন্মাদ’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।

  • প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে অভাবনীয় সাফল্য ইরানের

    প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে অভাবনীয় সাফল্য ইরানের

    শত্রুভাবাপন্ন পশ্চিমা মিডিয়ার সব দাবি উড়িয়ে ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে একের পর এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে ইরান। দেশটির শীর্ষ সেনা কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের মুখেও তারা আরো উন্নত এবং অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।

    ইরানের সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা শাখার ডেপুটি কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ইউসেফি খোশকালব একটি সাক্ষাৎকারে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে বিদেশী গণমাধ্যমের দাবিকে জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

    তিনি বলেন, ‘সারাদেশে নিয়মিত বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে চলেছে। পানি ও স্থল সীমান্তের পুরো নিরাপত্তা এবং ইরানের আকাশে কোনো শত্রু বিমানের উপস্থিতি না থাকাটাই প্রমাণ করে আমাদের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কতটা গতিশীল, চৌকস ও প্রস্তুত।’

    ইউসেফি খোশকালব জানান, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইসরাইলি শাসনামলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ ভেদ করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ইরানি বাহিনী তাদের অনন্য ক্ষমতাসম্পন্ন অত্যন্ত শক্তিশালী ও উন্নত ড্রোন শক্তির প্রমাণ দিয়েছে। রণক্ষেত্রে এমন উন্নত ড্রোনের ব্যবহার এখন ইরানের বাহিনীর কাছে একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এই ধারা আরো দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

    তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, ২০২৪ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপিয়ে দেয়া ১২ দিনের যুদ্ধ এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া দুই শত্রুর ৪০ দিনের অতর্কিত আগ্রাসনের সময় ইরানের কিছু সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কিন্তু তাতে ইরানের অগ্রযাত্রাকে থামেনি।

    ইউসেফি খোশকালব বলেন, ‘আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনীর বৈজ্ঞানিক, শিল্প ও জ্ঞানভিত্তিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে আমরা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ধারাবাহিক অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করছি।’ যুদ্ধক্ষেত্র এবং বিমান যুদ্ধ ব্যবস্থাপনায় আধুনিক ও কার্যকর সরঞ্জামের ব্যবহার এখন ইরানের নিত্যদিনের কাজ।

    এদিকে রোববার ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক ৪০ দিনের আগ্রাসী যুদ্ধের মধ্যেই ইরান আরো উন্নত ও অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

  • গুণ্ডা আইন আনছে শুভেন্দু

    গুণ্ডা আইন আনছে শুভেন্দু

    পশ্চিমবঙ্গে সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড দমনে নতুন আইন আনতে যাচ্ছে রাজ্য সরকার। এ লক্ষ্যে আজ রাজ্য বিধানসভায় উত্থাপন করা হবে জননিরাপত্তা ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিল। সরকারের দাবি, আইনটি কার্যকর হলে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী হবে এবং সংগঠিত অপরাধ দমনে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে।ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আসছিলেন। তিনি একাধিকবার বলেছেন, শুধু অপরাধীদের গ্রেফতার নয়; অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হবে।

    তার ভাষায়, ‘রাষ্ট্রবিরোধী কিংবা সংগঠিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।‌’

    এই বিলে সমাজবিরোধী কার্যকলাপের একটি বিস্তৃত সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এমন কোনো কাজ যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়, আতঙ্ক বা নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে কিংবা জনশৃঙ্খলা নষ্ট করে, তা সমাজবিরোধী কার্যকলাপ হিসেবে গণ্য হবে। মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষতি, বৈধ ব্যবসা বা জীবিকায় বাধা সৃষ্টি, জোরপূর্বক সম্পত্তি দখল, সরকারি বা ব্যক্তিগত সম্পদের বড় ধরনের ক্ষতি এবং অবৈধ খনন, বনজ সম্পদ বা বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত অপরাধও এই আইনের আওতায় পড়বে।‌

    বিলে কে ‘গুণ্ডা’ হিসেবে বিবেচিত হবেন—তা’ও স্পষ্ট করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি নিজে অথবা কোনো সংঘবদ্ধ চক্র, দল বা গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে নিয়মিত সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন, অন্যকে উৎসাহ দেন, অর্থায়ন করেন অথবা সহযোগিতা করেন, তাহলে তাকে এই আইনের আওতায় আনা যাবে।

    এ ছাড়া অস্ত্র, মাদক, বিস্ফোরক কিংবা মানবপাচারসংক্রান্ত অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও এই আইন প্রয়োগ করা যাবে। আইন অনুযায়ী সমাজের জন্য বিপজ্জনক ও দুর্ধর্ষ হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিরাও এর আওতায় পড়বেন।

    আটকের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে। কোনো ব্যক্তিকে আটক করতে হলে জেলা পুলিশ সুপার বা তার চেয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। গত সাত বছরের মধ্যে কোনো ব্যক্তি অন্তত একবার কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে থাকলে অথবা একই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন অন্তত তিনটি পৃথক মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত থাকলেও তাকে আটক করার বিধান রাখা হয়েছে।‌

    বিল অনুযায়ী, আটকের পর বিষয়টি একটি উপদেষ্টা বোর্ড পর্যালোচনা করবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া হবে এবং আটক ব্যক্তি চাইলে তার বক্তব্যও উপস্থাপন করতে পারবেন। এই আইনের অধীন অপরাধগুলোকে জামিন অযোগ্য এবং সরাসরি গ্রেফতারযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আইন লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। কোনো অভিযুক্তকে আশ্রয় বা লুকিয়ে রাখতে সহায়তা করলে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানার মুখোমুখি হতে হতে পারে।

    সরকারের দাবি, গুজরাট ও উত্তরপ্রদেশের মতো পশ্চিমবঙ্গেও কঠোর আইনি কাঠামোর মাধ্যমে সংগঠিত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা হবে। একই সঙ্গে জনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিদ্যমান আইনেও সংশোধন আনার প্রস্তাব আজ বিধানসভায় উপস্থাপন করা হবে।‌

    তবে বিরোধী দলগুলোর একাংশ এরইমধ্যে শঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, এই আইন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে। যদিও সরকারের দাবি, নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে নয়; কেবল সংগঠিত অপরাধ ও সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড দমনেই এই আইন প্রয়োগ করা হবে।

  • জাপানের ২০ প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করল চীন

    জাপানের ২০ প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করল চীন

    দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য (সামরিক ও বেসামরিক উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য) পণ্যের রপ্তানি বন্ধ করার উদ্দেশ্যে সোমবার ২০টি জাপানি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকায় যুক্ত করেছে চীন।

    এই তালিকার মধ্যে জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজও রয়েছে। সোমবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

    মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষা এবং অস্ত্র বিস্তার রোধসহ আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে জাপানের ২০টি প্রতিষ্ঠানকে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান জাপানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করে চীন।’

  • প্রবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে জরুরি নির্দেশনা দিলো সৌদি

    প্রবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে জরুরি নির্দেশনা দিলো সৌদি

    প্রবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা কিওয়া প্ল্যাটফর্ম জানিয়েছে, ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের জন্য নির্ধারিত সময়সীমার আর মাত্র দুই দিন বাকি রয়েছে।

    কিওয়া জানায়, ১ জুলাই থেকে যেসব কর্মীর ওয়ার্ক পারমিট তিন মাসের বেশি সময় ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ রয়েছে, তাদের নিয়োগকর্তার প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। নিয়োগকর্তাদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন বা কর্মী স্থানান্তর করার শেষ দিন হলো ৩০ জুন।

    কোনো কর্মীর ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ তিন মাসের বেশি সময় ধরে নবায়ন করা না হলে তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড থেকে মুছে ফেলা হবে। কোনো কর্মীকে যদি বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া কাজ করানো হয়, তাহলে যে দিন পর্যন্ত কাজ করানো হয়েছে, সেই দিন পর্যন্ত অর্জিত সব বকেয়া আর্থিক দায় নিয়োগকর্তাকেই বহন করতে হবে।

    নিয়োগকর্তাদেরকে সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই কর্মীর ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি ।

  • গাজায় সাড়ে তিন হাজারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল

    গাজায় সাড়ে তিন হাজারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল

    গাজায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি শুরুর পর থেকে ইসরাইল ৩ হাজার ৪৬৫ বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করেছে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস।

    প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও ইসরাইলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় অন্তত ১ হাজার ৪৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ৩ হাজার ৩৮০ জন আহত হয়েছেন।

    মানবিক সহায়তা প্রবেশের ক্ষেত্রেও চুক্তির শর্ত মানা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে গাজা মিডিয়া অফিস। তাদের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ১ লাখ ৫৬ হাজার ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশের কথা থাকলেও ইসরাইল মাত্র ৫৫ হাজার ৫৩৯টি ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে।

    এক বিবৃতিতে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস ইসরাইলের বিরুদ্ধে গাজায় ‘পরিকল্পিত গণবিনাশের নীতি’ অনুসরণের অভিযোগ তোলে। একই সঙ্গে তারা যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলে, ইসরাইলকে স্বাক্ষরিত চুক্তির সব শর্ত বাস্তবায়নে বাধ্য করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

    এছাড়া, গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে গাজা উপত্যকায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা অন্তত ৭৩ হাজার ৪৩ জনে পৌঁছেছে এবং মোট আহতের সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৪১৭ জনে দাঁড়িয়েছে।

  • হত্যা মামলার আসামি সাবেক পৌর কমিশনার বাছির বিমানবন্দরে গ্রেফতার

    হত্যা মামলার আসামি সাবেক পৌর কমিশনার বাছির বিমানবন্দরে গ্রেফতার

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামি কুমিল্লার দেবিদ্বারের সাবেক পৌর কমিশনার বাছির উদ্দিনকে (৪০) গ্রেফতার করেছে বিমানবন্দর থানা পুলিশ।

    রোববার (২৮ জুন) ভোরে আরব আমিরাত থেকে দেশে ফেরার পথে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    দুপুরে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    গ্রেফতার বাছির উদ্দিন দেবিদ্বার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ছিলেন। তিনি পৌরসভার চাঁপানগর গ্রামের মো: আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে।

    পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন প্রবাসে পলাতক থাকার পর দেশে ফিরলে বিমানবন্দর বাছির উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে একাধিক হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি।

    দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডিসি) মো: মনিরুজ্জামান বলেন, গ্রেফতার বাছির উদ্দিন রুবেল হত্যা, সাব্বির হত্যা ও আবুবকর হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি। বিমানবন্দর থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতারের পর আমাদের জানিয়েছে। খবর পেয়ে তাকে আনতে থানা পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে।

  • অস্ট্রেলিয়ায় কিশোররা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করলে ৮৩৭ কোটি টাকা জরিমানা!

    অস্ট্রেলিয়ায় কিশোররা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করলে ৮৩৭ কোটি টাকা জরিমানা!

    ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর বিশ্বের অন্যতম কঠোর নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দেওয়ার ব্যাপক প্রবণতা ঠেকাতে নিয়ম অমান্যকারী প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর জরিমানা দ্বিগুণ করবে অস্ট্রেলিয়া। শনিবার (২৭ জুন) দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়েছে।

    নতুন এই আইনের মাধ্যমে পদ্ধতিগত বা বড় ধরনের নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে ৯ কোটি ৯০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (৮ শত ৩৭ কোটি টাকা) করা হবে। একই সাথে প্ল্যাটফর্মগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অনলাইন ওয়াচডগ বা নজরদারি সংস্থা ‘ই-সেফটি’ -কে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

    এক বিবৃতিতে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক এবং ইউটিউবের সম্ভাব্য নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি ‘সক্রিয়ভাবে তদন্ত’ করছে।

    দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, ‘এটি স্পষ্ট যে, প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো আইন মেনে চলার জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থা নিচ্ছে না—এখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক বেশি শিশু রয়ে গেছে’।

    তিনি আরও বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর নিয়ম মেনে চলার যেকোনো ব্যর্থতাকে আমরা কতটা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি, এ পরিবর্তনগুলো তারই প্রতিফলন’।

    বয়স্কদের নামে নিবন্ধিত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে, ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে বা প্রাইভেট ব্রাউজারে লগ ইন করে অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীরা এসব নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাচ্ছে।

    অস্ট্রেলিয়ার এ নিষেধাজ্ঞার সাফল্যের দিকে গভীর আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে আরও অনেক দেশ, যারা ইতোমধ্যে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বা করার কথা ভাবছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও নিউজিল্যান্ড।

    চলতি মাসে ‘ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল’-এ প্রকাশিত অস্ট্রেলিয়ার এ পদক্ষেপটির প্রথম দিকের একটি সমকক্ষ-পর্যালোচিত (পিয়ার-রিভিউড) মূল্যায়নে দেখা গেছে, কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে এর খুব একটা প্রভাব পড়ার ‘যথেষ্ট প্রমাণ মেলেনি’।

    গবেষকেরা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার ঠিক আগে এবং তিন মাস পর ৪০০ জনের বেশি তরুণের ওপর জরিপ চালান। এতে দেখা যায়, তারা ব্যাপকভাবে এই নিয়ম ‘ফাঁকি’ দিচ্ছে।

    ১২-১৩ বছর বয়সি ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। তবে ১৪-১৫ বছর বয়সিদের মধ্যে ব্যবহার কিছুটা কমেছে এবং ১৬ বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে ব্যবহার বেড়েছে।

    দায়সারা পদক্ষেপ

    সরকারের মতে, এটি স্পষ্ট যে নিয়ন্ত্রক সংস্থার আরও ক্ষমতার প্রয়োজন; যদিও গত ১০ ডিসেম্বর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর থেকে ১৬ বছরের কম বয়সিদের ৫০ লাখেরও বেশি অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে।

    নতুন আইনের অধীনে, ‘ই-সেফটি’ কমিশনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকে এটা প্রমাণ করতে বাধ্য করতে পারবেন যে, ১৬ বছরের কম বয়সিদের অ্যাকাউন্ট খোলা ঠেকাতে তারা কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে।

    প্ল্যাটফর্মগুলোর দাবি যাচাই করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর পাশাপাশি বয়স নিশ্চিতকরণ বা অ্যাপ স্টোর সেবাদাতাদের মতো তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকেও তথ্য ও নথি চাওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হবে ‘ই-সেফটি’ কমিশনারকে।

    অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস বলেন, প্ল্যাটফর্মগুলো যথেষ্ট ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে তিনি সন্তুষ্ট নন।

    ওয়েলস বলেন, ‘ই-সেফটি কমিশনারের কাছ থেকে পাওয়া নিয়মিত আপডেটের ভিত্তিতে আমার কাছে এটি স্পষ্ট যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর পুরোনো কৌশলই অবলম্বন করছে এবং পার পেয়ে যাওয়ার জন্য দায়সারা কাজ করছে’।

    তিনি আরও বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো বিশ্বের সবচেয়ে ধনী এবং শক্তিশালী কোম্পানিগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে আমরা বদ্ধপরিকর। ই কঠোর নতুন জরিমানা ও ক্ষমতা প্রমাণ করে যে আমরা পিছপা হব না; বরং বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে জবাবদিহি করতে আমরা আমাদের প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করছি’।

    গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, অনলাইনে খুব বেশি সময় কাটানো কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। সন্তান সারাক্ষণ ফোনের স্ক্রিনে আঠার মতো লেগে থাকায় বিরক্ত অভিভাবকদের কাছে অস্ট্রেলিয়ার এ নিষেধাজ্ঞা যেন এক আশীর্বাদ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

    যদিও প্ল্যাটফর্মগুলো আইন মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে তারা সতর্ক করে বলেছে যে, এ পদক্ষেপগুলো কিশোর-কিশোরীদের ইন্টারনেটের অন্ধকার এবং অনিয়ন্ত্রিত জগতে ঠেলে দিতে পারে।

    অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক ব্যবহারকারীদের বয়স ১৬ বা তার বেশি কিনা, তা যাচাই করার একক দায়িত্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর এবং কমবয়সী কিশোরদের দূর করতে তারা যে ‘যৌক্তিক পদক্ষেপ’ নিয়েছে, তা তাদের প্রমাণ করতে হবে।

    কিছু প্ল্যাটফর্ম ছবি থেকে বয়স অনুমান করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এছাড়া ব্যবহারকারীরা চাইলে সরকারি পরিচয়পত্র আপলোড করেও নিজেদের বয়স প্রমাণ করতে পারবেন।

  • ইরান থেকে সস্তায় তেল-গ্যাস কেনার পরিকল্পনা পাকিস্তানের

    ইরান থেকে সস্তায় তেল-গ্যাস কেনার পরিকল্পনা পাকিস্তানের

    ইরান থেকে সস্তায় তেল ও গ্যাস কেনার কথা বিবেচনা করছে পাকিস্তান। রোববার পাকিস্তানের জ্বালানি মন্ত্রী আলি পারভেজ মালিক জানান, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের অবসান এবং তেহরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর তেহরান থেকে তেল ও গ্যাস কেনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

    লাহোরে সংবাদমাধ্যমকে মন্ত্রী বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত যখন তুঙ্গে ছিল, তখন এপ্রিলে পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম প্রতি লিটার ৪৬০ রুপিতে পৌঁছেছিল। কিন্তু তারপর থেকে বিশ্বব্যাপী দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

    ওয়াশিংটন ও তেহরান ১৭ জুন সুইজারল্যান্ডে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষর করে, যেখানে মধ্যস্থতা করেছিল পাকিস্তান।

    এই সমঝোতা স্মারকের অধীনে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত অর্থ বিভাগের মাধ্যমে ইরানের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানির জন্য অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। এর সাথে ব্যাংকিং লেনদেন, বীমা ও পরিবহনসহ সংশ্লিষ্ট সব সেবাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    মালিক বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ অবিলম্বে এই সুবিধা জনগণের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং জ্বালানি দাম কমিয়েছেন।

  • ধারণক্ষমতা ঘাটতির কারণে এআই ব্যবহারে লাগাম টানল গুগল

    ধারণক্ষমতা ঘাটতির কারণে এআই ব্যবহারে লাগাম টানল গুগল

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে প্রতিযোগিতা যত তীব্র হচ্ছে, ততই বাড়ছে প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং সক্ষমতা বা ডেটা সেন্টারের চাহিদা। সেই চাহিদা পূরণে সীমাবদ্ধতার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটার জন্য জেমিনি এআই মডেলের ব্যবহার সীমিত করেছে গুগল।

    ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চ মাসে গুগল মেটাকে জানায় যে, তাদের চাওয়া পরিমাণ কম্পিউটিং সক্ষমতা বা স্টোরেজ সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। ফলে মেটার কয়েকটি অভ্যন্তরীণ এআই প্রকল্পের কাজ বিলম্বিত হয়েছে।

    অ্যালফাবেটের মালিকানাধীন গুগল তাদের ক্লাউড অবকাঠামোর মাধ্যমে জেমিনি এআই মডেল পরিচালনা করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুগলের আরও কয়েকজন গ্রাহকও সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছেন। তবে জেমিনি এআই ব্যবহারের চাহিদা অত্যন্ত বেশি হওয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে মেটার ওপর।

    এ পরিস্থিতিতে মেটা তাদের কর্মীদের আরও দক্ষতার সঙ্গে এআই রিসোর্স ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে, এআই মডেল ব্যবহারের পরিমাপক একক ‘টোকেন’-এর ব্যবহার কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    তবে এ বিষয়ে গুগল ও মেটা কোনো প্রতিষ্ঠানই তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেনি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

    বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা প্রমাণ করে যে এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পর্যাপ্ত কম্পিউটিং অবকাঠামো নিশ্চিত করা এখন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উন্নতমানের চিপ ও ডেটা সেন্টারে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হলেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।

    এদিকে, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকে গুগল ক্লাউডের আয় বেড়ে ২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে অ্যালফাবেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুন্দর পিচাই এর আগে জানিয়েছিলেন, কম্পিউটিং সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে গুগল ক্লাউডের আরও দ্রুত সম্প্রসারণ ব্যাহত হচ্ছে এবং গ্রাহকদের অপেক্ষমাণ কাজের পরিমাণও বেড়েছে।

  • ইরানকে আবারও নিশ্চিহ্ন করার হুমকি ট্রাম্পের—পাল্টাপাল্টি হামলা, উত্তেজনা

    ইরানকে আবারও নিশ্চিহ্ন করার হুমকি ট্রাম্পের—পাল্টাপাল্টি হামলা, উত্তেজনা

    মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। আজ রোববার (২৮ জুন) ইরান দাবি করেছে, তাদের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী যৌথভাবে কুয়েত এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকায় নতুন করে বিমান হামলা চালায়। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।

    ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, সিরিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবে তারাও পাল্টা অভিযান পরিচালনা করে। তাদের দাবি, মার্কিন হামলা যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এর ফলে দুই দেশের মধ্যে চলমান সব ধরনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

    আইআরজিসি আরও বলেছে, সিরিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণকে দুর্বল করতে পারবে না। পাশাপাশি তারা সতর্ক করেছে, আগামী দিনগুলোয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ‘নরকের মতো পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হতে পারে।

    অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গতকাল শনিবার হরমুজ প্রণালিতে পানামার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজে ইরানি ড্রোন হামলার পর তারা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালায়। সেন্টকমের দাবি, ইরানের অব্যাহত আগ্রাসন ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুমকির জবাবে নজরদারি কেন্দ্র, যোগাযোগব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা, ড্রোনগুদাম এবং মাইন স্থাপনের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

    এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ইরান যদি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন অব্যাহত রাখে, তাহলে এমন সময় আসতে পারে, যখন যুক্তরাষ্ট্র আর সংযত থাকবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘প্রয়োজনে আমরা সামরিক অভিযান সম্পূর্ণ করব, তখন ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান আর অস্তিত্বে থাকবে না।’

    ট্রাম্পের এই বক্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই কুয়েতে বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করা হয় এবং বাহরাইনে সাইরেন বেজে ওঠে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটি শত্রুতাপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখোমুখি হয়েছে। পরে দ্বিতীয় দফায়ও সতর্কসংকেত জারি করা হয়।

    তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি এখনো দ্রুত পরিবর্তনশীল বলে তাঁরা উল্লেখ করেছেন।

    বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই সংঘাত নতুন করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

  • আজান নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে ডেনমার্ক

    আজান নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে ডেনমার্ক

    আজান নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছে ইউরোপের দেশ ডেনমার্ক। দিন দিন মুসলিমদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগে ভুগছে দেশটির সরকার। এই উদ্বেগ থেকেই আজান নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এ রাষ্ট্রটি।

    এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য দিয়েছেন ডেনমার্কের অভিবাসনমন্ত্রী মর্তেন বোদস্কভ। ড্যানিশ সংবাদ সংস্থা রিৎজাউকে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারের ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইল এবং ডেইলি টেলিগ্রাফ।

    বোদস্কভ বলেছেন, ক্রমবর্ধমান ‘ইসলামীকরণ’ ডেনমার্কের জনপরিসরের অনেকটা অংশ দখল করে নিচ্ছে। বর্তমানে দেশটির মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশ ইসলাম ধর্মাবলম্বী এবং মুসলিমরা ডেনমার্কের বৃহত্তম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ে পরিণত হয়েছে।

    ড্যানিশ এই মন্ত্রী সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে বলেন, ডেনমার্কের বাড়িঘরের ছাদ থেকে আজানের আহ্বান শোনা যাওয়া উচিত নয়।

    এমন এক সময়ে অভিবাসনমন্ত্রী এই মন্তব্য করলেন, যে সময়ে প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের নির্দেশে অভিবাসন নীতি ব্যাপকভাবে কঠোর করছে ডেনমার্ক। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বর্তমানে ডেনমার্কের অভিবাসন নীতি সবচেয়ে কঠোর।

    এদিকে, আজান নিষিদ্ধের এ পরিকল্পনা বাস্তাবায়নের ক্ষেত্রে ডেনমার্কের সরকারের সামনে কিছু আইনি চ্যালেঞ্জ রয়েছে, কারণ দেশটির সংবিধানে জনগণের মুক্তভাবে ধর্মচর্চার অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সমালোচকদের যুক্তি, এ পরিকল্পনা একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং এটি ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে।

    তবে, সেই চ্যালেঞ্জ খুব শক্তিশালী হবে বলে মনে হচ্ছে না। কারণ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপজুড়ে অভিবাসী-বিরোধী মনোভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। আজান ও হিজাব পরিধানের মতো ইসলামিক প্রথাগুলোকে কঠিন নজরে দেখা হচ্ছে।

    চলতি ২০২৬ সালের শুরুর দিকে পার্লামেন্টে আইন পাস করে দেশজুড়ে মুখঢাকা হিজাব-নেকাব নিষিদ্ধ করেছে ডেনমার্কের সরকার।

    রিৎজাউকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডেনমার্কের অভিবাসনমন্ত্রী বলেছেন, ডেনমার্ককে ইসলামীকরণের কোনও সুযোগ নেই। ডেনমার্কে ঘুরে বেড়ানোর সময় যদি আপনার মনে হয় যে আপনি ইসলামাবাদের কোনো উপশহরে এসে পড়েছেন, তাহলে খুব সমস্যা।

    এ এম

  • দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতায় তিস্তা গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প, তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য নয়: চীন

    দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতায় তিস্তা গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প, তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য নয়: চীন

    বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা কোনো ‘তৃতীয় পক্ষকে’ লক্ষ্য করে নয় এবং এই সম্পর্ক যেকোনো তৃতীয় পক্ষের প্রভাবমুক্ত থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছে বেইজিং।

    শুক্রবার (২৬ জুন) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এই মন্তব্য করা হয়। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম নদীভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প ‘তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’-এ চীনের সমর্থন এবং দ্রুত সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের (ফিজিবিলিটি স্টাডি) ঘোষণার পর পরই বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এই বার্তা এল।

    চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসন একটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, যা বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। চীন এই প্রকল্পে সাধ্যমতো সহায়তা দিতে প্রস্তুত।’

    গুও জিয়াকুন আরও যোগ করেন, ‘আমাদের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে তিস্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এটি অবশ্যই যেকোনো তৃতীয় পক্ষের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা উচিত।’

    https://5268880971524f0f34d8d0fe407fc93e.safeframe.googlesyndication.com/safeframe/1-0-45/html/container.html

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিস্তা প্রকল্পে চীনের এই প্রকাশ্য সমর্থন এবং ‘তৃতীয় পক্ষ’-সংক্রান্ত মন্তব্যটি ভারতের উদ্দেশ্যে একটি কূটনৈতিক বার্তা। কারণ, তিস্তা নদীর পানিবণ্টন ও অববাহিকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে দিল্লির দীর্ঘদিনের স্পর্শকাতরতা রয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সরকারি চীন সফরকালে এই তিস্তা প্রকল্প নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হয়। ২৫-২৬ জুন বেইজিং সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং এবং তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন।

    সফরের শেষে একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, চীন তার সক্ষমতার মধ্যে ‘তিস্তা প্রকল্পে সহায়তা ও সাহায্য দেবে’। এ ছাড়া দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা দ্রুত এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন করবেন এবং সমুদ্র ও সামুদ্রিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করা হবে।

    পানি কূটনীতি ও মেঘনা নদী ব্যবস্থাপনা

    তিস্তা প্রকল্প ছাড়াও বাংলাদেশ ও চীন সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, পানিসম্পদ পরিকল্পনা, জলবায়ু ও বন্যা পূর্বাভাস, বন্যা প্রতিরোধ ও দুর্যোগ প্রশমন এবং নদী ড্রেজিংয়ের ক্ষেত্রে একযোগে কাজ করতে সম্মত হয়েছে।

    এই নদীভিত্তিক সহযোগিতা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী মেঘনা (যা ব্রহ্মপুত্র বা ইয়ারলুং সাংপো নামেও পরিচিত) ব্যবস্থাপনায় এবং প্রতিবছর বাংলাদেশে সৃষ্ট বন্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের সময় আশ্বাস দেন, চীন বাংলাদেশের একটি ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’ হিসেবে থাকবে এবং বিএনপি সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। চীনা প্রেসিডেন্ট তারেক রহমানের প্রয়াত বাবা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘তাঁরা উভয়েই চীনের অত্যন্ত ভালো বন্ধু ছিলেন।’

    পাল্টা সৌজন্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘এক চীন নীতি’র প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। যৌথ ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ‘বিশ্বে কেবল একটিই চীন রয়েছে, তাইওয়ান গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চীন সরকারই সমগ্র চীনের একমাত্র বৈধ প্রতিনিধিত্বকারী সরকার।’ বাংলাদেশ তাইওয়ানের যেকোনো ধরনের স্বাধীনতার বিরোধিতাও পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    ভারত-ভিসা জটিলতার বিকল্প: ইউনানে চিকিৎসা পর্যটন

    স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার অংশ হিসেবে চীন বাংলাদেশ থেকে ইউনান প্রদেশে চিকিৎসা পর্যটকদের যাতায়াত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি ভারতের ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে বাংলাদেশি রোগীদের জন্য চীনের ইউনান প্রদেশকে একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    এ ছাড়াও বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় দুই দেশ উচ্চমানের সহযোগিতা এবং যৌথ আধুনিকায়নে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বহুপক্ষীয় সংস্থায় বাংলাদেশের বড় ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানানোর পাশাপাশি ব্রিকস এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় (এসসিও) বাংলাদেশের অংশগ্রহণের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছে বেইজিং।

    বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে শতভাগ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়াতে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন। দুই দেশ মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এবং চট্টগ্রামে ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল’ (সিইআইজেড) প্রতিষ্ঠার কাজ ত্বরান্বিত করতে সম্মত হয়েছে।

    রোহিঙ্গা সংকট ও কূটনৈতিক শব্দচয়ন

    ২০১৭ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমনপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রাখাইন রাজ্যের শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে চীন। সংকট সমাধানে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার’ মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সমর্থনের কথা জানায় বেইজিং।

    তবে কূটনৈতিক সতর্কতার অংশ হিসেবে যৌথ বিবৃতিতে সরাসরি ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি। এর পরিবর্তে সেখানে ‘মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষ’ হিসেবে তাঁদের উল্লেখ করা হয়েছে।

  • ইউরোপে প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহ

    ইউরোপে প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহ

    প্রচণ্ড গরমে খাঁ খাঁ করছে রাস্তাঘাট, শপিং মল ও শহরের কেন্দ্রগুলো। অনেক জায়গা দেখে মনে হবে পরিত্যক্ত এলাকা। গত এক সপ্তাহের মধ্য ইউরোপজুড়ে চলেছে স্মরণকালের সর্বোচ্চ তাপপ্রবাহ।

    গত শুক্রবার দুপুর থেকে গতকাল শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জার্মানির ছোট-বড় শহরগুলো যেন ভূতুড়ে নগরীতে পরিণত হয়েছিল। জরুরি প্রয়োজন বা কর্মস্থলে যাওয়া ছাড়া অধিকাংশ মানুষই ঘরের বাইরে পা রাখেননি।

    গতকাল জার্মানিতে নতুন সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, এদিন বিকেল সাড়ে চারটার দিকে দেশটির স্যাক্সনি-আনহাল্ট অঙ্গরাজ্যের ইয়েরিখোয়ার লান্ড জেলার ড্রেভিৎস এলাকায় ৪১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

    মাঠে ফসল পাকার আগেই প্রচণ্ড গরমে শুকিয়ে যাচ্ছেছবি: সরাফ আহমেদ

    আবহাওয়াবিদেরা এক গবেষণায় বলছেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে তাপপ্রবাহ তীব্র হয়ে উঠছে।

    জলবায়ুবিষয়ক গবেষণা নেটওয়ার্ক ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন শুক্রবার প্রকাশিত এক গবেষণায় জানিয়েছে, ইউরোপজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহের জন্য মানুষের সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনই নিঃসন্দেহে দায়ী। গবেষকেরা বলছেন, ৫০ বছর আগেও এ ধরনের চরম আবহাওয়ার ঘটনা বিরল ছিল।

    জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়লেও ইউরোপে এর প্রভাব তুলনামূলক বেশি। কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ। সেখানে বৈশ্বিক গড়ের প্রায় দ্বিগুণ হারে তাপমাত্রা বাড়ছে।

    বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা স্বাস্থ্য, কৃষি ও শ্রম খাতে এ তাপপ্রবাহের বড় ধরনের প্রভাবের বিষয়ে সতর্ক করেছে। সংস্থাটির মুখপাত্র ক্লেয়ার নুলিস বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের ক্রমেই এ ধরনের আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।’

    চলতি বছরের তীব্র তাপপ্রবাহে ইউরোপে এ পর্যন্ত আনুমানিক প্রায় ৪০০ জনেরও বেশি হিটস্ট্রোক, অতিরিক্ত তাপজনিত শারীরিক চাপ, তাপপ্রবাহ বা ডুবে যাওয়া ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

    শুক্রবার থেকে মধ্য ইউরোপের দেশ জার্মানি, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসে জুন মাসে তাপমাত্রা আগের সব রেকর্ড ভেঙেছে। বিশেষ করে গত দুই দিনে জার্মানির বিভিন্ন অঞ্চলে চরম তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

    স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসেই রেকর্ড তাপমাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত শতাধিক মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ফ্রান্সের সরকারও বহু প্রশাসনিক অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। দেশটিতে অনেকে গরম থেকে বাঁচতে পানিতে নেমে প্রাণ হারিয়েছেন।

    তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ব্রাসেলস থেকে জার্মানির কোলোন হয়ে প্যারিসগামী একটি ইউরোস্টার ট্রেন বিকল হয়ে পড়ে। ট্রেনটিতে প্রায় ৪০০ যাত্রী ছিলেন। অতিরিক্ত গরমের কারণে তিন যাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।

    স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কায় সপ্তাহান্তে প্যারিসের দুটি বড় অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তাপপ্রবাহের কারণে হাসপাতালগুলো রোগীতে পূর্ণ হয়ে গেছে।

    লোকশূন্য, গাড়িবিহীন ফাঁকা হ্যানোভার শহরের একটি রাস্তাছবি: সরাফ আহমেদ

    এদিকে গত বৃহস্পতিবার রাতে নেদারল্যান্ডসের জনপ্রিয় সংগীত উৎসব ‘ডেফকন’-এ যোগ দিতে হাজারো মানুষ জড়ো হলেও প্রচণ্ড গরমের কারণে কর্তৃপক্ষ নজিরবিহীন ‘কোড রেড’ সতর্কতা জারি করে। আয়োজকেরা শেষ মুহূর্তে উৎসবটি বাতিল করতে বাধ্য হন। এ সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

    জার্মানিতেও গতকাল হামবুর্গ হাফ ম্যারাথনসহ বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে বার্লিনসহ বিভিন্ন শহরের উন্মুক্ত সুইমিংপুলে নতুন টিকিট বিক্রি সীমিত করা হয়েছে।

    বার্লিন পুলিশ জানিয়েছে, শনি ও রোববার শহরের কেন্দ্র এবং শার্লোটেনবুর্গ এলাকায় মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে জলকামান ব্যবহার করা হবে। বিশেষ যান থেকে পানির ফোয়ারা ছিটিয়ে মানুষকে গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জার্মান আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, আজও একই ধরনের গরম অব্যাহত থাকতে পারে।

  • এক দিনে দুই ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল আফগানিস্তান–পাকিস্তান

    এক দিনে দুই ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল আফগানিস্তান–পাকিস্তান

    আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ৬ মাত্রার এ ভূমিকম্পে রাজধানী কাবুল থেকে শুরু করে সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী পাকিস্তানের কিছু অঞ্চলও কেঁপে ওঠে।

    ইউরোপিয়ান-মেডিটারেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, গতকাল শনিবারের এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল মাটির ১০০ কিলোমিটার গভীরে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে পাকিস্তানে ৫ দশমিক ৪ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

    ভূমিকম্পে পাকিস্তানের মুসাখাইল জেলার বিভিন্ন এলাকায় ২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। জেলার ডেপুটি কমিশনার আবদুল রাজ্জাক খাজাক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ভূমিকম্পে কয়েক ডজন বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ১২৫টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে তাঁবু, খাদ্যসামগ্রী, সৌর প্যানেল, কম্বল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী রয়েছে।

    ভূমিকম্পের সময় পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সোয়াত জেলায় আতঙ্কে মানুষ বাড়িঘর থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা দানিয়াল আহমদ।

    দানিয়াল আরও বলেন, ‘সোয়াতে ভূমিকম্পটি খুবই শক্তিশালী ছিল। অনেকক্ষণ ধরে কম্পন অনুভূত হয়েছে।’

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কর্তৃপক্ষকে জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে।

  • ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প

    ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প

    উদ্ধার হওয়া প্রতিটি মানুষই এক একটি অলৌকিক ঘটনা

    খালি হাত আর কোদাল দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানো হচ্ছে। আকাশে উড়ছে ড্রোন। সেটা ওপর থেকে জীবিত মানুষের চিহ্ন খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি পদক্ষেপ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে জীবিতদের উদ্ধারের লড়াই। ভেনেজুয়েলায় নিখোঁজ মানুষদের উদ্ধারে চলছে এমনই পদক্ষেপ। উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরা রাজধানী কারাকাস সংলগ্ন সীমানায় অবস্থিত। সেখানে যতদূর চোখ যায়, দেখা যায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ। বুধবার পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠার পর এই রাজ্যটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি

    বাসিন্দা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা মরিয়া হয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রিয়জন ও নিজেদের মূল্যবান জিনিসপত্র খুঁজছেন। কংক্রিট ও লোহার রডের নিচে কেউ জীবিত আছে কি না, সেই আশায় তারা কান পেতে শুনছেন সামান্যতম শব্দও পাওয়া যায় কিনা। এ পর্যন্ত কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, মাত্রা ৭.২ ও ৭.৫-এর দুটি ভূমিকম্পে কমপক্ষে ১৪৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পটি গত এক শতকে দেশটিতে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি। শত শত ভবন ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো হাজার হাজার মানুষ আটকা পড়ে আছেন। প্রতি ঘণ্টায় বাড়ছে মৃত ও আহতের সংখ্যা। জাতিসংঘেরঅনুমান, প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। দেশীয় উদ্ধারকারী দল সংখ্যায় খুবই কম। তবে মেক্সিকো, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেন থেকে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল এসে উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে। কিন্তু সেটিও যথেষ্ট নয়।
    মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর মতে, জীবিত মানুষ উদ্ধারের জন্য প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তির কাছে খাবার ও পানি থাকলে এই সময়সীমা আরও দীর্ঘ হতে পারে। দেশটির জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, উদ্ধার হওয়া প্রতিটি মানুষই এক একটি অলৌকিক ঘটনা। এই ট্র্যাজেডির ভয়াবহতা সম্পর্কে আমরা কিছুই গোপন করব না।

    লা গুয়াইরা রাজ্যের উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মারে এখন হতাশার ছায়া। খুব কম ভবনই অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে সেখানে। সরকারি বাহিনী বেঁচে যাওয়া মানুষের মধ্যে খাবার ও পানি বিতরণ করছে। অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেছেন, জীবিতদের উদ্ধারের এই সংকটময় সময়ে সরকার সর্বাত্মক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। যেসব স্থানে স্বজনরা আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেসব জায়গার আশপাশে উদ্বিগ্ন মানুষ অপেক্ষা করছেন। তাদের একজন হেসুস সুয়ারেজ। তিনি তার ছেলে জিন সুয়ারেজকে খুঁজতে প্রায় ২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন। তিনি বলেন, কোনো তথ্যই পাওয়া যাচ্ছে না। যারা তাকে চেনে, তারা বলছে, তাকে বের হতে দেখেনি। ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের দিকে ইশারা করে তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস, সে ওখানেই আছে।
    সুয়ারেজ এমন এক সংকটের মুখোমুখি, যার সম্মুখীন এখানকার অনেক মানুষই। তিনি বলেন, তাকে উদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব। এখানে কোনো উন্নত যন্ত্রপাতি নেই। একজন মানুষ একা এটা করতে পারে না। এটা খুবই বিপজ্জনক। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ৩১ বছর বয়সী কার্লোস এদুয়ার্দো কোথায় আছেন, তা অন্তত তার স্বজনরা জানেন। মাঝে মাঝে তারা তার কথা বলা বা গোঙানির শব্দ শুনতে পান।

    তার এক চাচাতো ভাই বিবিসি নিউজ মুন্ডো’কে বলেন, আমরা ডাকতে শুরু করি- ‘কার্লোস, কার্লোস, বাবা…’। এরপর সে একটা শব্দ করে, গোঙায়। প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে এমনটা হয়েছিল। তিনি বলেন, এরপর থেকে আর কোনো শব্দ শুনিনি। সে আর কথা বলেনি, জীবিত থাকারও কোনো লক্ষণ দেয়নি। তবে এর আগেও এমন করেছে। শনিবার বিকেলেও সে গোঙানোর পর চুপ হয়ে গিয়েছিল। তাই আমরা এখনো সাহায্যের অপেক্ষায় আছি, এই আশায় যে তাকে জীবিত উদ্ধার করা যাবে।

    যানজট ও মানুষের ভিড় অনেক সময় উদ্ধারকাজে বাধা সৃষ্টি করছে। সৈন্যরা ও মেক্সিকোর স্বেচ্ছাসেবকেরা বারবার সবাইকে নীরব থাকার অনুরোধ করছেন, যাতে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবনের কোনো শব্দ শোনা যায়। যার যেভাবে সম্ভব, সবাই সাহায্য করছেন। যাদের কাছে ড্রোন আছে, তারা দুর্গম এলাকায় জীবিত বা মৃত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। পরিবারের সদস্যরা ড্রোনের ভিডিওর দিকে তাকিয়ে থাকেন- হয়তো পরিচিত কোনো কাপড়, চুলের গোছা কিংবা ব্যক্তিগত কোনো জিনিস চোখে পড়বে। এমন কিছু, যা তাদের প্রিয়জনের কোনো খবর এনে দিতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক মৃতের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে এর ভয়াবহ পরিণতিও।

    গ্লেনদিস দেলগাদো বলেন, একটা গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। মৃতদেহের গন্ধ। এতে আমরা আর আমাদের শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ব। তিনি জানান, তার বাড়ির কাছের দুটি ভবন ধসে পড়েছে। কিন্তু সেখানে এখনো সরকারি কোনো সহায়তা পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, সরকার থেকে কেউ এখানে আসেনি। তবে আমি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিই যে কারাকাস থেকে মানুষ এসে আমাদের খাবার দিয়ে সাহায্য করছে।

    ২৭ বছর বয়সী দেইয়ের গাব্রিয়েল বলেন, মাকুতো, কারিবে- সব জায়গাই ক্ষতিগ্রস্ত। আর আমরা সবাই সেই দুর্গন্ধ অনুভব করছি। শুক্রবার কর্তৃপক্ষ জানায়, মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র, এল সালভাদর, সুইজারল্যান্ড, কলম্বিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ৮৬১ জন স্বেচ্ছাসেবক ইতিমধ্যে ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছেন। আরও অনেকে আসছেন। অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, শুক্রবার তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও’র সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা উদ্ধারকারী দল ও ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

    এক নারী তার ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। তার পা এখনো কাঁপছে। তিনি আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, আমরা মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় আছি। আমাদের সাহায্য করতে তাদের আসতেই হবে। তিনি নিজের ওয়াশিং মেশিনটি উদ্ধার করার জন্য বাড়িতে ফিরেছিলেন। তিনি বলেন, এটা খুব কঠিন পরিস্থিতি। আমরা এর জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। কত ত্যাগ আর পরিশ্রম করে মানুষ কিছু অর্জন করে, আর চোখের পলকেই সব ধসে পড়ে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জীবন। ২৮ বছর বয়সী আলেক্সান্দ্রা গাবিনো’র অবস্থাও একই রকম। তার দুই সন্তান- একজনের বয়স সাত বছর, অন্যজনের দুই বছর। ভূমিকম্পের সময় তিনি স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে গাড়িতে ছিলেন। তিনি বলেন, শিশুরা চিৎকার শুরু করেছিল। আমরা বুঝতেই পারিনি কী হচ্ছে। হঠাৎ পাশের ভবনটি ধসে পড়ে, তখন আমার স্বামী দ্রুত গাড়িটি পিছিয়ে নেন।

    এখন চারজনই মাইকেতিয়া’র সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি গাড়ি পার্কিং এলাকায় নিজেদের গাড়িতেই রাত কাটাচ্ছেন। বিমানবন্দরটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বন্ধ রয়েছে। তবে ভবন থেকে দূরে খোলা ও সমতল জায়গা হওয়ায় সেখানে আশ্রয় নেওয়া তুলনামূলক নিরাপদ। আলেক্সান্দ্রা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের বাইরে অপেক্ষা করছেন। তার স্বামী অস্থিতিশীল ভবনের ১৫ তলায় থাকা তাদের ফ্ল্যাটে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, যাতে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধার করা যায়। তিনি বলেন, শুধু সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো। কারণ ভেতরে যাওয়া খুবই বিপজ্জনক। বেশি কিছু উদ্ধারের ঝুঁকি নেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, সবকিছু হারিয়ে ফেলা খুব কষ্টের। আমার মা তার বাড়ি হারিয়েছেন, আমরাও আমাদের বাড়ি হারিয়েছি। আমাদের আর কিছুই নেই। সন্তানদের জন্য নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করেন। এরপর তিনি এমন একটি কথা বলেন, যা এখন অনেক মানুষের মনের কথাই প্রকাশ করে। ‘সবাই বলে, বেঁচে আছেন- এটাই সবচেয়ে বড় কথা। হ্যাঁ, সেটাই ঠিক। কিন্তু যা সহ্য করতে হচ্ছে, তা ভীষণ কষ্টের। মানুষের কষ্ট দেখা, তাদের চিৎকার শোনা, শিশুদের ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকতে দেখা, আর নিজের সন্তানদের দেখাশোনা করতে গিয়ে কিছুই করতে না পারার অসহায়ত্ব- এসব খুবই যন্ত্রণাদায়ক।’ শেষে তিনি বলেন, নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করেন, কিন্তু ভেতরে ভেতরে খুব কষ্ট হয়।

  • চুক্তি শুধু কাগজে ,বিশৃঙ্খলা হরমুজে

    চুক্তি শুধু কাগজে ,বিশৃঙ্খলা হরমুজে

    হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও প্রণালির আশপাশে ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ আবারো অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৫শে জুন) ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা প্রচার করে। তারা জানায়, আমাদের অনুমতি ছাড়া অথবা নির্ধারিত রুটের বাইরে কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা করলে, তার সব পরিণতির দায় সেই জাহাজকেই বহন করতে হবে।
    এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ ‘এভার লাভলিতে’তে একটি ইরানি ড্রোন আঘাত হানে বলে একজন মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান। যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে এটিই ছিল প্রথম হামলা।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার এই ঘটনাকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি ‘নির্বুদ্ধিতাপূর্ণ লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেন। তেহরানের এই হামলার জেরে শুক্রবার হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এই হামলার অর্থ পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়া নয়। অন্তত আপাতত বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার কোনো ইঙ্গিত নেই।
    পরবর্তীতে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানায়, মার্কিন হামলার জবাবে আইআরজিসি অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত এমন হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

    এদিকে শনিবার ভোরে বাহরাইন জানায়, তাদের ভূখণ্ডে ইরানের ড্রোন হামলা হয়েছে। তবে হামলার প্রকৃত লক্ষ্যবস্তু এখনো স্পষ্ট নয়।
    যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ‘সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা’ চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ইরান। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
    নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করাই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের অন্যতম বড় অঙ্গীকার। তবে ইরানের দৃষ্টিতে প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার অর্থ এই নয় যে, তারা এর ওপর নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেবে।

    চুক্তির একটি অস্পষ্ট ধারায় বলা হয়েছে, ইরান ও ওমান যৌথভাবে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নির্ধারণ করবে। এর ফলে প্রণালির ব্যবস্থাপনায় তেহরানের একটি আনুষ্ঠানিক ভূমিকা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলতে থাকলেও সাম্প্রতিক ড্রোন হামলা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, হরমুজ প্রণালিতে কোন জাহাজ কখন এবং কোন পথে চলবে- সেই সিদ্ধান্ত নিজেদের হাতে রাখতে চায়

    আইআরজিসি ইতিমধ্যে তেহরানের অনুমোদনবিহীন রুটকে ‘অগ্রহণযোগ্য’, ‘চরম বিপজ্জনক’ এবং ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করেছে। তারা সব জাহাজকে নিরাপদ চলাচলের জন্য শুধু তাদের নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করার আহ্বান জানিয়েছে।
    এদিকে সদ্য গঠিত পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথোরিটি (পিজিএসএ) নতুন নিয়ম জারি করেছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, জাহাজগুলোকে ই-মেইলের মাধ্যমে অনুমোদনের আবেদন করতে হবে। অনুমোদন পেলে তারা একটি ‘নিরাপদ যাত্রার নিশ্চয়তা’ পাবে, যার সঙ্গে বীমা সুবিধাও থাকবে।

    তবে সিএনএন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও পিজিএসএর ই-মেইল কার্যকর ছিল না। বর্তমানে হরমুজ প্রণালির মাত্র ২১ মাইল প্রশস্ত জলপথে তিনটি আলাদা রুট কার্যকর হয়েছে।
    দক্ষিণের একটি পথ ওমানের জলসীমা ঘেঁষে গেছে। মাঝের পথটি যুদ্ধের আগে ব্যবহৃত হতো। উত্তর দিকের পথটি সম্পূর্ণভাবে ইরানের নিয়ন্ত্রণে। ফলে জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের দ্বিধায় পড়েছে যে, কোন পথ ব্যবহার করলে নিরাপদ থাকবে, তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
    সামুদ্রিক ঝুঁকি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান মারিস্কস-এর প্রধান নির্বাহী দিমিত্রিস মানিয়াতিস বলেন, নিরাপদভাবে নৌ-চলাচলের জন্য পুরো পরিস্থিতি অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর। বর্তমান পরিবেশ অত্যন্ত বিপজ্জনক।

    একদিকে হামলার ঝুঁকি, অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা
    শিপিং কোম্পানিগুলোর সামনে এখন কঠিন সিদ্ধান্ত। যদি তারা ইরান নিয়ন্ত্রিত রুট এড়িয়ে অন্য পথ ব্যবহার করে, তাহলে হামলার ঝুঁকি রয়েছে। আবার যদি তারা আইআরজিসির নির্দেশনা মেনে ইরানের রুট ব্যবহার করে, তাহলে ভবিষ্যতে যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    দিমিত্রিস মানিয়াতিস বলেন, বিশ্বের শিপিং কোম্পানিগুলো ইরানের সঙ্গে লেনদেন এড়িয়ে চলতে চায়। কারণ ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারেÑএমন আশঙ্কা রয়েছে। তার মতে, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন অতীতে সতর্ক করেছিল যে, ইরানকে কোনো ধরনের টোল ফি পরিশোধ করাও ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞার কারণ হতে পারে।
    প্রথমদিকে ইরান প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায়ের কথা বলেছিল। পরে তারা জানায়, আপাতত সরাসরি টোল নেয়া হবে না। পরিবর্তে সামুদ্রিক সেবা বাবদ ফি এবং নতুন পরিবেশগত কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিকল্পনা বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের আরব মিত্র তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

    উদ্ধার অভিযানও স্থগিত
    এভার লাভলিতে হামলার পর আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) উপসাগরে আটকে থাকা ১১ হাজারের বেশি নাবিক বহনকারী ৫০০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার সমন্বিত মানবিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
    সংস্থাটি জানিয়েছে, পরিস্থিতি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। সামুদ্রিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পর অন্তত চারটি জাহাজ মাঝপথ থেকে ফিরে গেছে। যেসব জাহাজ ওমানের রুট ব্যবহার করছে, সেগুলো খুব কাছাকাছি দিয়ে চলাচল করছে। এতে সংঘর্ষ ও সামুদ্রিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে।

    যুদ্ধ চলাকালে একটি ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ারের (ভিএলসিসি) জন্য হামলার ঝুঁকির বীমা করতে মালিকদের ১০ লাখ ডলারেরও বেশি অতিরিক্ত প্রিমিয়াম দিতে হয়েছে।
    যদিও এখন হামলার ঘটনা তুলনামূলক কম, তবুও বীমা প্রিমিয়াম এখনও অনেক বেশি রয়েছে। বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রধান ফ্রেইট বিশ্লেষক ম্যাথিউ রাইট বলেন, বীমা পেতে হলে প্রতিটি জাহাজকে আগে থেকেই জানাতে হচ্ছে তারা কোন রুট ব্যবহার করবে।
    তার ভাষায়, এটি পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরা নয়। বরং এটি দেখিয়ে দিচ্ছে যে আমরা এখনও ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মধ্যেই আছি। হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে খুলে গেছে- এমন নিশ্চয়তা এখনো নেই।
    তিনি সতর্ক করে বলেন, আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত যদি রুট নিয়ে বিরোধের সমাধান না হয়, তাহলে তিনটি পথই বিশৃঙ্খলভাবে ব্যবহৃত হতে পারে এবং নৌচলাচল আরও অনিরাপদ হয়ে উঠবে।

    আস্থার সংকট এখনো কাটেনি
    ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও কিছু জাহাজ ধীরে ধীরে আবার হরমুজ প্রণালি ব্যবহার শুরু করেছে। তবে শিপিং কোম্পানিগুলো এখনো অপেক্ষা করছে- একটি দীর্ঘ সময় ধরে কোনো হামলা ছাড়াই নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত হওয়ার পরই তারা পুরোপুরি স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে চায়।
    ম্যাথিউ রাইট বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস রয়েছে। তাই এই চুক্তি অবশ্যই একটি ভালো প্রথম পদক্ষেপ।”
    তবে তিনি যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র যা বলছে এবং ইরান যা বলছে- দুইয়ের মধ্যে এখনও বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। তার মতে, আমরা এখনো একটি অত্যন্ত বিশৃঙ্খল সময়ের মধ্যদিয়ে যাচ্ছি।

  • কেন নিজের মায়ের কথা কখনো বলেন না কিম জং উন

    কেন নিজের মায়ের কথা কখনো বলেন না কিম জং উন

    উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন’কে ঘিরে অসংখ্য রহস্য। তবে তার মাকে ঘিরে গোপনীয়তা সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়গুলোর একটি। ক্ষমতায় আসার ১৫ বছরে তিনি প্রকাশ্যে একবারও তার মায়ের নাম উচ্চারণ করেননি। কিমের একনায়কতান্ত্রিক শাসনের বৈধতা অনেকটাই নির্ভর করে তার তথাকথিত ‘মাউন্ট পায়েকতু রক্তধারা’র ওপর। এ বংশপরিচয়কে কোরীয় জাতির পৌরাণিক প্রতিষ্ঠাতার উত্তরাধিকার বলে প্রচার করা হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

    আর এমন একটি দেশে, যেখানে এই বংশগত বিশুদ্ধতাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গৌরবের বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়, সেখানে কিমের মায়ের পরিচয় শুধু একটি গোপন তথ্যই নয়, বরং সেটি শাসনব্যবস্থার জন্য সম্ভাব্য হুমকিও। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, কোরীয় জাতির ইতিহাস শুরু হয়েছিল মাউন্ট পায়েকতু থেকে। চীন ও উত্তর কোরিয়ার সীমান্তে অবস্থিত এই পর্বতকে ডানগুনের জন্মস্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ডানগুনকে কোরিয়ার প্রথম রাজ্যের পৌরাণিক প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। হাজার হাজার বছর পর উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল সুং জাপানি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় এই পাহাড়কে নিজের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন বলে প্রচার করা হয়। পরে তার ছেলে কিম জং ইল-এরও জন্ম এই পবিত্র পাহাড়ের ঢালেই হয়েছে বলে রাষ্ট্রীয়ভাবে দাবি করা হয়। যদিও বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাস্তবে তার জন্ম সম্ভবত রাশিয়ায় হয়েছিল। এরপর থেকে কয়েক দশক ধরে মাউন্ট পায়েকতু’কে কিম পরিবারের শাসনের বৈধতা প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

    উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে যাওয়া সাবেক কূটনীতিক রিউ হিউন-উ তার বই ‘কিম জং উনের সিক্রেট ভল্ট’-এ লিখেছেন, বিশের কোঠায় থাকা কিম জং উন কোনো উল্লেখযোগ্য অর্জন ছাড়াই কেবল পায়েকতু রক্তধারার কারণেই উত্তরসূরি হয়েছেন। কিন্তু কিমের মাতৃসূত্রের বংশপরিচয়ের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন গল্প বলে। মাউন্ট পায়েকতু থেকে কয়েক শ মাইল দূরে রয়েছে জাপানের ঐতিহাসিক শহর ওসাকা। ধারণা করা হয়, সেখানেই ১৯৫২ সালে কিমের মা কো ইয়ং হুই জন্মগ্রহণ করেন। জীবনীকারদের সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী, কো ইয়ং হুইয়ের বাবা-মা মূলত বর্তমান দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ উপকূলের কাছে অবস্থিত জেজু দ্বীপের বাসিন্দা ছিলেন।

    জাপানে বসবাসকারী তাদের পরিবার ছিল জাইনিচি কোরিয়ান। অর্থাৎ ১৯১০ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত কোরীয় উপদ্বীপে জাপানের ঔপনিবেশিক শাসনামলে জাপানে চলে যাওয়া কোরীয় বংশোদ্ভূত অভিবাসী। কো ইয়ং হুইয়ের বয়স যখন প্রায় ১০ বছর, তখন তার পরিবার উত্তর কোরিয়ায় চলে যায়। তারা ছিলেন প্রায় ৯৩ হাজার কোরীয়ের মধ্যে, যারা ১৯৫৯ থেকে ১৯৮৪ সালের মধ্যে একটি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় উত্তর কোরিয়ায় পাড়ি জমান। তখন তাদের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল যে, সেখানে বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগসহ এক আদর্শ জীবন অপেক্ষা করছে। প্রথমদিকে জাপান থেকে আসা এসব অভিবাসীকে অনেকেই ঈর্ষার চোখে দেখতেন। কারণ তারা সঙ্গে করে নগদ অর্থ, পোশাক ও গৃহস্থালি বৈদ্যুতিক সামগ্রী নিয়ে এসেছিলেন।

    তবে একই সঙ্গে তাদের জ্জায়েপো নামে অবজ্ঞাসূচক একটি পরিচয়ে ডাকা হতো। রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিতে তারা এমন একটি গোষ্ঠী, যারা বিদেশি ও বিপজ্জনক মতাদর্শে প্রভাবিত বলে বিবেচিত হতো। উত্তর কোরিয়ার সমাজ অত্যন্ত কঠোরভাবে স্তরবিন্যস্ত। অনেক বিশ্লেষক এই সামাজিক কাঠামোর তুলনা বর্ণব্যবস্থার সঙ্গে করেন। এই সামাজিক শ্রেণিবিন্যাসকে বলা হয় সংবুন। এই ব্যবস্থায় জ্জায়েপো’রা ছিল তথাকথিত দোদুল্যমান শ্রেণির অন্তর্ভুক্তদ- যা মূল বা অনুগত শ্রেণি এবং শত্রু শ্রেণির মাঝামাঝি অবস্থানে। তাদের ওপর কঠোর রাষ্ট্রীয় নজরদারি চালানো হতো। এ ছাড়া তাদের ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চাকরি পাওয়ার সুযোগও প্রায় থাকত না। এটি কিম পরিবারের বহুদিন ধরে প্রচারিত পায়েকতু রক্তধারার কাহিনির সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।

    নর্দার্ন রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন-এর গবেষক কিম হিউং-সু বলেন, শাসকগোষ্ঠীর প্রচারণায়

  • রামের নামে যারা ক্ষমতায় এসেছে, রামই তাদের সরাবেন : কেজরিওয়াল

    রামের নামে যারা ক্ষমতায় এসেছে, রামই তাদের সরাবেন : কেজরিওয়াল

    রাম মন্দিরে ভক্তদের দেয়া দান এবং গয়না চুরির ঘটনা নিয়ে এবার সরাসরি বিজেপি এবং আরএসএসকে কাঠগড়ায় তুললেন আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এই ঘটনায় আসল ‘মাস্টারমাইন্ড’দের আড়াল করতে কেবল নিচুতলার ছোট কর্মচারীদের বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন তিনি।

    শুক্রবার (২৬ জুন) অযোধ্যা সফরে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।

    এ সময় কেজরিওয়াল বলেন, কোটি কোটি টাকার দান এবং ভক্তদের দেয়া মূল্যবান গয়না চুরির এই ঘটনার একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

    কেজরিওয়াল অভিযোগ করেন, এই চুরির ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা এফআইআর আসলে একটি লোকদেখানো প্রক্রিয়া মাত্র।

    তিনি বলেন, কোটি কোটি টাকার দান এবং অমূল্য অলঙ্কার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। শোনা যাচ্ছে, গত কয়েক মাসের সিসিটিভি ফুটেজও নাকি পাওয়া যাচ্ছে না! যে ঘটনার সাথে কোটি কোটি ভক্তের আবেগ ও বিশ্বাস জড়িত, তার আসল সত্য দেশের সামনে আসা উচিত এবং প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি হওয়া দরকার।

    আটজন ছোট কর্মচারীকে গ্রেফতারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরো বলেন, আটজন সামান্য কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এত দীর্ঘ সময় ধরে চলা এত বড় একটা কেলেঙ্কারি শুধু ওই সাধারণ কর্মচারীদের পক্ষে করা অসম্ভব। এর শিকড় অনেক উঁচুতে ছড়ানো। জুনিয়র কর্মীদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে বড় বড় মাথাদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে।

    রাম মন্দিরের এই চুরিকে ‘মহাপাপ’ বলে আখ্যা দিয়ে দোষীদের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানান তিনি।

    উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে উদ্দেশ করে কেজরিওয়াল বলেন, ‘যোগী জি, রাম মন্দিরের দান চুরির সাথে যারা জড়িত, তারা আপনাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চান। এর জন্য একটা বড় ষড়যন্ত্র বোনা হচ্ছে। এই মানুষেরা আপনার চেয়ারের পেছনে পড়েছে। যারা এমন মহাপাপের অভিযোগে অভিযুক্ত, আপনি কেন তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন? এই লড়াইয়ে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ান।

    তিনি আরো বলেন, ‘রাম মন্দির দান চুরির পেছনে অনেক বড় বড় মানুষ জড়িয়ে আছেন। যারা ভগবান রামের নাম ভাঙিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন, খোদ শ্রী রামই এবার তাদের ক্ষমতা থেকে টেনে নামাবেন।’

  • সৌদিতে ১৫ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসী আটক

    সৌদিতে ১৫ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসী আটক

    সৌদি আরবে এক সপ্তাহে যৌথ অভিযানে ১৫ হাজার ২৩১ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। গত ১৮ জুন থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত ওই অভিযান দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সৌদি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে ৭ হাজার ৫৮৯ জন আবাসন (রেসিডেন্সি) আইন লঙ্ঘন করেছে, ৪ হাজার ৪৪৩ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন ভঙ্গ করেছে এবং ৩ হাজার ১৯৯ জন শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক হয়েছে। এ ছাড়া একই সময়ে ১১ হাজার ২৯৭ জন অবৈধ অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

    পাশাপাশি ১৫ হাজার ১০৯ জনকে ভ্রমণ নথিপত্র সংগ্রহের জন্য তাদের নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনের কাছে পাঠানো হয় এবং ৩ হাজার ৬১৮ জনকে দেশে ফেরার ভ্রমণ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। দশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, অভিযানের সময় ১ হাজার ৭৬৩ জনকে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সৌদিতে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় আটক করা হয়। এদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ ইয়েমেনি, ৫৫ শতাংশ ইথিওপিয়ান এবং বাকি ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক।

    এছাড়া ৫৩ জনকে সৌদি আরব থেকে অবৈধভাবে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সৌদি গেজেটের খবরে বলা হয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের পরিবহন, আশ্রয় ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার অভিযোগে আরও ২২ জনকে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে ১৬ হাজার ৩৬৯ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তাদের মধ্যে ১৪ হাজার ২৯৬ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ৭৩ জন নারী। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, কেউ যদি অবৈধভাবে কোনো ব্যক্তিকে সৌদি আরবে প্রবেশে সহায়তা করেন, তাদের পরিবহন করেন, আশ্রয় দেন বা অন্য কোনো ধরনের সহযোগিতা বা সেবা প্রদান করেন, তবে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

    পাশাপাশি এ ধরনের কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ও আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত বাড়িঘরও জব্দ করা হবে। দেশটির মন্ত্রণালয় জনগণকে অবৈধ অভিবাসন বা আইন লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা দেখতে পেলে তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।