আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর

    দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর

    চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

    মানবতাবিরোধী অপরাধসহ নানা অপকর্মে বারবার আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নাম আসায় দলটির বিচারের জন্য তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, অপরাধ প্রমাণিত হলে দল নিষিদ্ধ ও তাদের সব সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হওয়ার বিধান রয়েছে।

    তদন্তে আওয়ামী লীগের শরিক ১৪ দলের বিষয়ে প্রতিবেদন এলে তাদের বিচারের জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

    আজ রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আমিনুল ইসলাম।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, দলের বিচার ও দল নিষিদ্ধ করার যে প্রক্রিয়া, সে আইনগুলো আওয়ামী লীগই প্রণয়ন করেছে। সংবিধান সংযোজন করেছে। আওয়ামী লীগ ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত স্বৈরশাসন কায়েমের জন্য সার্বিক সহযোগিতা করেছে। তখন গণতন্ত্র হরণ করা হয়েছিল। নির্বিচারে মানুষ হত্যা করাসহ সবকিছুতেই আওয়ামী লীগ দোসর হিসেবে কাজ করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে লগি-বইঠা ব্যবহার করে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। তখন দল হিসেবে এই সংগঠন নির্বিচারে মানুষের জানমাল হরণ করেছে।

    চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, একইভাবে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশে ফ্যাসিজম কায়েম করেছিল। সেই ফ্যাসিজমের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড—সবকিছু আওয়ামী লীগ কেড়ে নিয়েছিল।

    আমিনুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে গিয়ে বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। গত ১৬ বছর মানুষের কোনো স্বাভাবিক জীবনব্যবস্থা, রাজনৈতিক ব্যবস্থা ছিল না। যে তিনটি নির্বাচন হয়েছে, সেগুলোর কোনোটি রাতে, কোনোটি একদলীয়, কোনোটি আমি-ডামির নির্বাচন ছিল। তারা সরকারে থেকে নানা বাহিনী দিয়ে মানুষের জানমালের ক্ষতি করেছে। জুলাই আন্দোলনে নির্বিচারে ছাত্র-জনতার ওপর বিভিন্ন বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে সাংগঠনিকভাবে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মূল দল জনগণের জানমালের ওপর আক্রমণ করে হতাহতের ঘটনা ঘটিয়েছে। আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নানা অপরাধ সংঘটন করেছে।

    চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন আওয়ামী লীগ প্রণয়ন করেছিল। এই দুটি আইনেই তাদের বিচারের ব্যবস্থা আছে। ট্রাইব্যুনালে একটি লিখিত অভিযোগ ছিল। তা তদন্ত সংস্থায় পাঠানোর পর তদন্ত চলছে। তদন্তের পরে যদি সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়া যায়, তখন প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে।

    আওয়ামী লীগের শরিক দলগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম বলেন, অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতা থাকলে নিশ্চয়ই সেটা রিপোর্টে আসবে। তখন তাদেরও বিচার করা সম্ভব হবে।

    সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার কথা জানিয়েছেন, ফিরলে তিনি আপিল করতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘রায় ঘোষণার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আপিলের বিধান আছে। ইতিমধ্যে তাঁর সে সময়, সেটি পার হয়ে গেছে। এখন তিনি যদি আসেন এবং যদি কোনো আইনগত পদক্ষেপ নিতে চান, তখনকার অবস্থা কী হয়, সেটা তখনই বোঝা যাবে। তবে আমরা চাই, তিনি দেশে আসুন। তাঁর (শেখ হাসিনা) বিরুদ্ধে যে দণ্ড আছে, তিনি সেটা চ্যালেঞ্জ করুক।’

  • সামুদ্রিক বাণিজ্য পুনরায় শুরু করল ইরান-কাতার

    সামুদ্রিক বাণিজ্য পুনরায় শুরু করল ইরান-কাতার

    প্রায় পাঁচ মাস স্থগিত থাকার পর ইরান ও কাতারের
    মধ্যে সামুদ্রিক বাণিজ্য পুনরায় শুরু হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) দোহায়
    নিযুক্ত ইরানের বাণিজ্যিক উপদেষ্টা আব্বাস আবদোলখানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে
    এ তথ্য জানান।

    গত মাসে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে চার মাসব্যাপী সঙ্ঘাতের পর শত্রুতার অবসানের ঘোষণা দেয়া হয় এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সামুদ্রিক চলাচলে ফিরে আসার নির্দেশ দেয়া হয়। তবে উপসাগরে প্রবেশ ও প্রস্থান নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে।


    আবদোলখানি বলেন, দোহায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এবং কাতারি কর্তৃপক্ষের
    মধ্যে সমন্বয়ের পর ইরানের দায়ের বন্দর এবং কাতারের আল-রুওয়াইস বন্দরের
    মধ্যে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে।


    বিপরীত দিকে অবস্থিত এই দু’টি বন্দর মূলত আঞ্চলিক বাণিজ্যের জন্য ব্যবহৃত
    হয়। যুদ্ধের সময় দায়ের বন্দরটি বেশ কয়েকবার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।

  • যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের বৈরিতা অব্যাহত

    যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের বৈরিতা অব্যাহত

    যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরাইলের সাথে চলমান বৈরিতার মাঝে কোনো আলোচনা বা সমঝোতার ফাঁদে ইরান আর পা দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির বিশ্লেষকরা।

    তেহরানের ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশম বলেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জানাজায় অংশ নেয়া লাখো মানুষের বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট। ইরানি জনগণ এখন পুরোপুরি সচেতন। তারা খুব ভালো করেই জানে যে, তাদের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের শত্রুতা মোটেও শেষ হয়ে যায়নি।

    রোববার (৫ জুন) আলজাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে খোশচেশম বলেন, পরমাণু চুক্তি হোক বা না হোক, ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক আচরণ চলতেই থাকবে বলে ইরানিরা ধরে নিয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে কোনো চুক্তি সই হোক বা না হোক, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই বৈরী আচরণ চলতেই থাকবে।

    তারা অর্থনীতি, নিষেধাজ্ঞা, সাইবার হামলা, মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ, হত্যাকাণ্ড, অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড এবং সম্ভবত সামরিক হামলার মতো বহুমুখী হাইব্রিড যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখবে।

    সবশেষে তিনি যোগ করেন, সর্বোচ্চ নেতার জানাজায় জনগণের এই বিশাল অংশগ্রহণ সরকারের প্রতি তাদের দৃঢ় সমর্থনেরই বহিঃপ্রকাশ। ইরানি জনগণ বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তারা শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে টিকে থাকতে প্রস্তুত এবং সর্বোচ্চ নেতার লক্ষ্য ও আদর্শ বাস্তবায়নে তারা অবিচল রয়েছে।

  • ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কত দূর যাবে, কী বলছে সুপারকম্পিউটার

    ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কত দূর যাবে, কী বলছে সুপারকম্পিউটার

    বলতে গেলে শেষ ভাগে এসে পড়েছে বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬। ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ শেষ হতে বাকি শুধু ১৪ দিন। যে টুর্নামেন্টের জন্য বিশ্ববাসী চার বছর অপেক্ষা করে, যার জন্য এত উন্মাদনা। তবে নকআউট পর্বে এখন যে রোমাঞ্চ ছড়াচ্ছে, তাতে কোন দল জিতবে শিরোপা, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে চলছে নানা আলাপ-আলোচনা।

    বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের বড় অংশ ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দলে ভাগ হয়ে পড়ে। তথ্য বিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞ প্রযুক্তি অপ্টা সুপারকম্পিউটারের মতে, লাতিন আমেরিকার দুই দল উঠবে কোয়ার্টার ফাইনালে। সুপারকম্পিউটারের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ব্রাজিলের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা প্রায় ৬৭ শতাংশ। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায় নিউইয়র্কে শুরু হবে ব্রাজিল-নরওয়ে শেষ ষোলোর ম্যাচ। আর আর্জেন্টিনার শেষ আটে ওঠার সম্ভাবনা ৭৯ শতাংশ। পরশু আটলান্টায় হবে শেষ ষোলোর আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচ।

    অপ্টা সুপারকম্পিউটার বিশ্লেষণের জন্য প্রায় ১০ হাজার সিমুলেশন চালিয়েছে, যাতে প্রতিটি দলের জয়ের সম্ভাবনা নির্ধারণ করা যায়। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচগুলোর সম্ভাব্য ফেবারিট দলগুলোর ব্যাপারেও ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল তারা। শেষ বত্রিশের ১৬ ম্যাচের মধ্যে ১৪ ম্যাচের বিজয়ী সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পেরেছিল অপ্টা সুপারকম্পিউটার। এর আগে একই প্ল্যাটফর্ম ২০২৫-২৬ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইয়ের (পিএসজি) শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা দেখিয়েছিল ৫৬ শতাংশ।

    কানাডা-মরক্কো, ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে—গত রাতে এই দুই ম্যাচ দিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলো শুরু হয়েছে। অপ্টা সুপারকম্পিউটার যা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল, তা-ই হয়েছে। মরক্কো ও কানাডার জয়ের সম্ভাবনা দেখিয়েছিল ৬৫.৭০ এবং ৩৪.৩০ শতাংশ। মরক্কো জিতেছে ৩-০ গোলে। আর প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ফ্রান্সের জয়ের সম্ভাবনা ৮৬.৬৮ শতাংশ দেখিয়েছিল সুপারকম্পিউটার। কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলে ফ্রান্স ১-০ গোলে জিতে নিশ্চিত করেছে কোয়ার্টার ফাইনাল।

    অপ্টা সুপারকম্পিউটারের পাশাপাশি অন্যরাও করছে ভবিষ্যদ্বাণী। গেতুলিও ভার্গাস ফাউন্ডেশনের (এফজিভি) স্কুল অব অ্যাপ্লাইড ম্যাথেমেটিকস স্পেনের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা বলছে ১৫.৫৭ শতাংশ। ব্রাজিলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা ৪.৬৮ শতাংশ। এদিকে ‘ওয়ার্ল্ড কাপ সিয়ার’ নামে পরিচিত একজন ব্রাজিলীয় পরিসংখ্যানবিদ এই ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে একমত নন। তাঁর মতে পর্তুগাল হবে চ্যাম্পিয়ন। যেখানে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কয়েক মাস আগে জানিয়েছিলেন, এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। ‘ওয়ার্ল্ড কাপ সিয়ার’-এর মতে স্পেন হবে রানার্সআপ। ব্রাজিল বিদায় নেবে সেমিফাইনালের আগেই।

    ৭ জুলাই কলম্বিয়া-সুইজারল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে শেষ ষোলো। ভ্যাঙ্কুভারে ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় শুরু হবে। সেদিন যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়াম, আর্জেন্টিনা মিসর ম্যাচও রয়েছে। এরপর ৯ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত হবে কোয়ার্টার ফাইনাল। শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল ১৯ জুলাই।

  • তৃতীয় বিয়ে করলেন আমির খান

    তৃতীয় বিয়ে করলেন আমির খান

    বলিউড অভিনেতা আমির খান ও গৌরী স্প্র্যাট আনুষ্ঠানিকভাবে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে নতুন পথচলা শুরু করলেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, আজ মুম্বাইয়ের স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২ টার পর স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টে স্বাক্ষর করেছেন আমির-গৌরী।

    সকাল থেকেই তাদের বিয়ে ঘিরে উৎসবের আমেজ। একের পর এক বিলাসবহুল গাড়ি এসে থামছে অভিনেতার বাড়ির গেটে। ঘরোয়া পরিসরে আয়োজিত হলেও আমিরের মতো সুপারস্টারের বিয়ে অন্যতম আকর্ষণ তা বলাই বাহুল্য। এদিকে ব্যক্তিগত জীবনে অনেক নারীর সঙ্গে আমির খানের নাম জড়িয়েছে।

    তবে রিনা দত্তকে ভালোবেসে প্রথম বিয়ে করেন তিনি। এ সংসারে জুনায়েদ ও ইরা খান নামে দুটো সন্তান রয়েছে। রিনার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর কিরণ রাওকে বিয়ে করেন আমির। এ সংসারে আজাদ খান নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। তবে তার দুটো সংসারই ভেঙে গেছে।

  • ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় ১৪ সরকারি সেনা নিহত

    ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় ১৪ সরকারি সেনা নিহত

    ইয়েমেনের বন্দরনগরী হোদেইদাহের দক্ষিণাঞ্চলে ইরান–সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় অন্তত ১৪ সরকারি সেনা নিহত হয়েছেন। ইয়েমেন সরকারের এক সামরিক কর্মকর্তা আজ রোববার বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    ওই কর্মকর্তা জানান, হোদেইদাহের দক্ষিণে অবস্থিত হাইস এলাকায় সরকারি বাহিনী হুতিদের আকস্মিক হামলা প্রতিহত করেছে। গতকাল শনিবার ভোরে শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে।

    ওই সামরিক কর্মকর্তা আরও বলেন, সংঘর্ষে হুতি বিদ্রোহীদেরও বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। তবে নিহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা তিনি উল্লেখ করেননি।

    ২০১৫ সাল থেকে হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে আসছেন। এক দশকের এ গৃহযুদ্ধে ইতিমধ্যে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দেখা দিয়েছে দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়।

    বিদ্রোহীরা বর্তমানে ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও লোহিত সাগরের কৌশলগত পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত হোদেইদাহ বন্দরসহ উত্তরের বেশির ভাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছেন। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বেশির ভাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

    ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে দুপক্ষের মধ্যে বড় ধরনের লড়াই মূলত স্থগিত ছিল।

    তবে গত শুক্রবার হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেন সরকারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলার হুমকি দেন। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের গড়ে তোলা প্রতিরোধ অক্ষের অন্যতম শরিক এ বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে একটি ইরানি বিমান অবতরণে বাধা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ এনেছে।

  • রাবণ অযোধ্যায় পৌঁছে গেছে, রামমন্দিরে চুরিই এর প্রমাণ: নির্মোহী আখড়ার প্রধান

    রাবণ অযোধ্যায় পৌঁছে গেছে, রামমন্দিরে চুরিই এর প্রমাণ: নির্মোহী আখড়ার প্রধান

    রাম জন্মভূমি মামলায় মুখ্য দাবিদার হিসেবে আইনি লড়াইয়ে জড়িত থাকার কারণে পরিচিত সন্ন্যাসী সংগঠন নির্মোহী আখড়ার প্রধান মহন্ত দীনেন্দ্র দাস মন্তব্য করেছেন, ‘রামলালার (রাম) ঘরে চুরির ঘটনা কখনোই ঘটা উচিত ছিল না।’ তিনি আরও বলেছেন, রামের ঘরে, অর্থাৎ রামমন্দিরে চুরির বিষয়টিই প্রমাণ করে যে রাবণ এরই মধ্যে অযোধ্যায় পৌঁছে গেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যারের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    নির্মোহী আখড়া খিল ভারতীয় আখড়া পরিষদ স্বীকৃত বৈষ্ণব বৈরাগী সম্প্রদায়ের একটি প্রাচীন হিন্দুধর্মীয় সন্ন্যাসী সংগঠন। এটি মূলত অযোধ্যা রাম জন্মভূমি বিবাদে মুখ্য দাবিদার হিসেবে আইনি লড়াইয়ে জড়িত থাকার কারণে সর্বাধিক পরিচিতি লাভ করে। অযোধ্যার আরও বেশি মানুষকে রামমন্দির ট্রাস্টের অংশ করা উচিত ছিল কি না, এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    এর আগে দ্য ওয়্যারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের ১৪ সদস্যের মধ্যে ৯ জনেরই আরএসএসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। মহন্ত দীনেন্দ্র দাস ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের’ ১৪ সদস্যের একজন। নির্মোহী আখড়া ছিল রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ মালিকানা বিরোধ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে আবেদনকারী পক্ষগুলোর একটি। শেষ পর্যন্ত সেই মামলার রায় হিন্দুপক্ষের অনুকূলে যায়।

    এর আগে দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, ট্রাস্টের বিশেষ আমন্ত্রিত সদস্য গোপাল রাওয়ের সমালোচনা করেছিলেন দীনেন্দ্র দাস। তাঁর অভিযোগ ছিল, গোপাল রাও ‘রাজনীতি করছেন।’ ট্রাস্টে রুপার ইট বা অন্যান্য অলংকার উপহার দেওয়ার পর অনেকেই কোনো রসিদ পাননি বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছে—সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে দীনেন্দ্র দাস এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘প্রতিটি লেনদেনের হিসাব থাকা উচিত ছিল। এমনকি রামও সমাজের নিয়ম মেনে চলতেন। সে কারণেই তিনি বনবাসে গিয়েছিলেন। তাই যদি কোনো কিছু (আর্থিক লেনদেনের প্রসঙ্গে) গোপন রাখা হয়, তাহলে সেটাই চুরির শামিল।’

    রামমন্দিরের তহবিল চুরির এই ঘটনা রামমন্দির ও অযোধ্যা শহর, উভয়ের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যেহেতু চুরি ইতোমধ্যেই হয়েছে, তাই আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে—রাবণ সেখানে পৌঁছে গেছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি অনুসরণ করছেন। এসবের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের স্বয়ংক্রিয়ভাবেই জেলে পাঠানো হবে। আর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা মৃত্যুদণ্ডও পেতে পারেন।’

    হিন্দু মহাকাব্য রামায়ণের প্রধান খলনায়ক এবং লঙ্কার (বর্তমান শ্রীলঙ্কা) রাক্ষসরাজ ছিলেন রাবণ। তিনি ঋষি বিশ্রবা ও রাক্ষসী কৈকসীর পুত্র। দশ মাথা ও অসীম শক্তির অধিকারী এই রাজা ভগবান শিবের পরম ভক্ত, অত্যন্ত জ্ঞানী ও আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন। রামচন্দ্রের স্ত্রী সীতাকে হরণ করার কারণে রামের হাতে তিনি নিহত হন।

  • পোপ চীনা কমিউনিস্টদের হয়ে কাজ করছেন: মার্কিন বিলিয়নিয়ার পিটার থিয়েল

    পোপ চীনা কমিউনিস্টদের হয়ে কাজ করছেন: মার্কিন বিলিয়নিয়ার পিটার থিয়েল

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ন্ত্রণ করার আহ্বান জানিয়েছেন ভ্যাটিকানের পোপ লিও চতুর্দশ। এর মাধ্যমে তিনি মূলত পরোক্ষভাবে চীনা কমিউনিস্ট এজেন্টের মতো কাজ করছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন বিলিয়নিয়ার পিটার থিয়েল। যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে আয়োজিত ‘অ্যাসপেন আইডিয়াজ ফেস্টিভ্যাল’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টিতে উগ্র বামপন্থী বা ডেমোক্রেটিক-সোশ্যালিস্টদের আধিপত্য বিস্তার এবং ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে একাধিক ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন।

    পেপ্যাল ও প্যালান্টিরের মতো বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পিটার থিয়েল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম দিকের সমর্থকদের মধ্যে অন্যতম। এ ছাড়া বর্তমান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ক্যারিয়ার গঠনেও থিয়েলের বড় অবদান রয়েছে। অ্যাসপেন ফেস্টিভ্যালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ফুকুইয়ামার সঙ্গে ‘হিউম্যানিটি অ্যাট দ্য এন্ড অব হিস্ট্রি’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে থিয়েল পোপের সমালোচনা করেন।

    উল্লেখ্য, গত মে মাসে পোপ লিও চতুর্দশ তাঁর প্রথম এনসাইক্লিক্যাল (ম্যাগনিফিকা হিউম্যানিটাস) নামের নথিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে একটি ‘অস্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি এটিকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র করার এবং এর ওপর কঠোর আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ আরোপেরও আহ্বান জানান।

    এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে থিয়েল যুক্তি দেখান, পোপের এই ধর্মীয় ও নৈতিক বার্তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মতো পশ্চিমা দেশগুলো এআইয়ের বিকাশ ধীর করে দেবে। কিন্তু চীন কোনোভাবেই পোপের কথায় কান দেবে না। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বর্তমান তীব্র এআই প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় শুধু এক পক্ষ তথা যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে পড়বে।

    এই যুক্তির ওপর ভিত্তি করেই থিয়েল দাবি করেন, পোপ প্রকৃতপক্ষে চীনা কমিউনিস্টদের হয়ে কাজ করছেন। থিয়েলের এই মন্তব্য শুনে উপস্থিত দর্শকেরা হেসে ওঠেন। তবে ভ্যাটিকান এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

    ফুকুইয়ামার সঙ্গে দীর্ঘ ১৪ বছর পর আয়োজিত এই প্যানেল আলোচনায় থিয়েল পশ্চিমা গণতন্ত্রের বর্তমান প্রতিষ্ঠানগুলোকে চরম স্থবিরতার ইঞ্জিন হিসেবে বর্ণনা করেন এবং দাবি করেন, প্রযুক্তির স্থবিরতাই আজ পশ্চিমা রাজনীতিকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

    আলোচনায় মার্কিন রাজনীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে থিয়েল দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এখন চরম বামপন্থী শক্তির উত্থান ঘটছে। শিগগির ডেমোক্রেটিক পার্টির নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে ডেমোক্রেটিক-সোশ্যালিস্টদের হাতে চলে যাবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি গত বছর নিউইয়র্ক সিটির মেয়র পদে জোহরান মামদানির জয় এবং চলতি বছরে একাধিক মেয়র ও কংগ্রেসের প্রাথমিক নির্বাচনে (প্রাইমারি) সোশ্যালিস্ট প্রার্থীদের একচেটিয়া বিজয়ের কথা উল্লেখ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘রিপাবলিকান পার্টি আসলে ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, ডেমোক্রেটিক পার্টি যখন সম্পূর্ণভাবে সোশ্যালিস্টদের দখলে চলে যাবে, তখনই এই দেশের পতন নিশ্চিত হবে।’

    এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে মার্কিন সংবিধানের ভিন্ন এক ব্যাখ্যা দাঁড় করান থিয়েল। তিনি বলেন, আমেরিকান বিপ্লব আসলে রাজা জর্জের বিরুদ্ধে ছিল না। বিপ্লব ছিল আসলে ব্রিটেনের স্বৈরাচারী ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী পার্লামেন্ট এবং আইনজীবীদের শাসনের বিরুদ্ধে একটি বিদ্রোহ। এ ছাড়া তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) একটি স্থবির ও নিয়মকানুনের বেড়াজালে বন্দী আমলাতন্ত্র হিসেবে আখ্যা দেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা, পেন্টাগন এবং ইমিগ্রেশন বিভাগের সঙ্গে প্যালান্টিরের বিলিয়ন ডলারের চুক্তি রয়েছে। থিয়েল দাবি করেন, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও তাঁর কোম্পানি মার্কিন ‘ডিপ স্টেট’ বা ছায়া সরকারের অংশ নয়। আমেরিকার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর এই বিশাল ক্ষমতাকে তিনি দেশের ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের একটি ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে তুলে ধরেন।

    ২০২৮ সালের মার্কিন নির্বাচন নিয়ে থিয়েল বলেন, শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক একটি উগ্র উদারপন্থী কোম্পানি। তারা তাদের অত্যাধুনিক এআই মডেল ব্যবহার করে ২০২৮ সালের মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জেতাতে ব্যাপক কারচুপি বা জালিয়াতি করবে।

    থিয়েলের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের মাধ্যমে ইলন মাস্ক ডানপন্থীদের পক্ষে যত চেষ্টাই করুন না কেন, অ্যানথ্রোপিকের এআই তার চেয়ে অনেক বেশি চতুরতার সঙ্গে কাজ করবে। অ্যানথ্রোপিক অবশ্য থিয়েলের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

    বক্তব্যের শেষে নিজের প্যালান্টির কোম্পানির নামকরণ প্রসঙ্গে সমালোচকদের জবাব দেন থিয়েল। তিনি জানান, প্যালান্টির নামটি জে.আর.আর. টলকিনের বিখ্যাত উপন্যাস ‘দ্য লর্ড অব দ্য রিংস’-এর জাদুকরি পাথর ‘প্যালান্টির’ থেকে নেওয়া হয়েছে। সমালোচকেরা বলে থাকেন, যারা এই পাথর ব্যবহার করে তারা শেষ পর্যন্ত ভিলেন সাউরনের প্রভাবে পড়ে।

    তবে থিয়েলের দাবি, অনেকে টলকিনের উপন্যাসটি সঠিকভাবে বোঝেন না। তিনি বলেন, ‘গল্পের শেষদিকে ভালো চরিত্রগুলোই প্যালান্টির ব্যবহার করে। আরাগন এটি ব্যবহার করে সাউরনের মুখোমুখি হয় এবং শেষে সে পরাজিত হয়। টলকিনের এই গল্প যে অন্যভাবে বলে, সে সাহিত্যই বোঝে না।’

  • নরওয়ের বিপক্ষে জিতবে ব্রাজিল

    নরওয়ের বিপক্ষে জিতবে ব্রাজিল

    এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সব কটি ম্যাচে সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করেছে ‘গণক’ বিড়াল মিলু। আজ ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচ নিয়েও ভবিষ্যদ্বাণী করেছে মিলু।

    বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায় শেষ ষোলোর ম্যাচে নিউইয়র্কে নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে নরওয়ের মুখোমুখি হবে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল। এই ম্যাচে ব্রাজিলের জয়ই দেখছে মিলু।

    ব্রাজিলের মিনাস জেরাইস রাজ্যের আগুয়ানিল পৌর শহরে মিলুর বসবাস। তার মালিক নাথান পিনেইরো। বিশ্বকাপের শুরু থেকেই ব্রাজিলের ম্যাচ নিয়ে মিলু ভবিষ্যদ্বাণী করে আসছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন সবাই। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’ জানিয়েছে, ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচ নিয়ে মিলুর ভবিষ্যদ্বাণীর ভিডিওতে এরই মধ্যে ৫৫ লাখ ভিউ হয়েছে।

    এমন তুমুল সাড়া মেলার পর মিলুর মালিক একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে পর্দার পেছনের গল্প এবং প্রতিটি ম্যাচের আগে কীভাবে এই ভবিষ্যদ্বাণীর প্রস্তুতি নেওয়া হয়, তা তুলে ধরেছেন পিনেইরো।

    মিলুর মালিক নাথান পিনেইরো দুটি একই রকম প্লাস্টিকের বাটিতে খাবার রাখেন। সেখানে ম্যাচ খেলতে যাওয়া দুটি দেশের পতাকা লাগানো থাকে। এরপর নাথান বাটি দুটির মাঝে মিলুকে ছেড়ে দেন। মিলু তখন সেই বাটিটিই বেছে নেয়, যেটির পতাকাবাহী দেশ ম্যাচটিতে জিতবে বলে সে মনে করে।

    মিলু যেন সব সময় ব্রাজিলের বাটিই বেছে নেয়, সে জন্য পাত্রগুলো নিয়ে কারসাজি করা হয়েছে—এমন সমালোচনার জবাবে নাথান গোটা প্রক্রিয়ার একটি ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে দেখানো হয়।

    বাটিগুলোয় খাবার দেওয়ার পর মিলুর মালিক নাথান সেগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় রাখেন, ক্যামেরা ঠিক করেন এবং মিলুকে তার পছন্দ বেছে নেওয়ার জন্য ডাকেন। দৃশ্যটি প্রস্তুত করার সময় রেকর্ডিংয়ের শুরুতেই নাথানকে বলতে শোনা যায়, ‘যেন সবাই দেখতে পারে, এটা কীভাবে কাজ করে।’

    ভিডিওতে মিলুর মালিক উল্লেখ করেন, চলতি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ম্যাচের ভবিষ্যদ্বাণী করার ক্ষেত্রে এই বিড়ালের সাফল্যের হার শতভাগ। জাপান ম্যাচ পর্যন্ত ব্রাজিলের জয়ের ব্যাপারে মিলুর করা সব কটি ভবিষ্যদ্বাণীই মাঠে সত্যি প্রমাণিত হয়েছে।

    ভিডিওর শেষে তিনি জানান, তিনি এই ভবিষ্যদ্বাণীর কোনো কাটছাঁট না করা (আনকাট) সংস্করণ প্রকাশ করবেন, যাতে অনুসারীরা পাত্র প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে প্রাণীটির বাটি বেছে নেওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি দেখতে পারেন।

  • শুধু হরমুজই নয়, আরও আছে ইরানের ‘বিকল্প অস্ত্র’— মেদভেদেভের সতর্কবার্তা

    শুধু হরমুজই নয়, আরও আছে ইরানের ‘বিকল্প অস্ত্র’— মেদভেদেভের সতর্কবার্তা

    রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, হরমুজ প্রণালি যেমন ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ, তেমনি বাব আল-মান্দেব প্রণালিও দেশটির ‘বিকল্প অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তেহরানে অবস্থানরত মেদভেদেভ বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি ইরানের জন্য পারমাণবিক অস্ত্রের সমতুল্য একটি কৌশলগত সম্পদ।’

    একই বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ইয়েমেন, জিবুতি ও ইরিত্রিয়ার মধ্যবর্তী বাব আল-মান্দেব প্রণালি— যা এডেন উপসাগরকে লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে— সেটিও ইরানের একটি ‘বিকল্প অস্ত্র’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

    মেদভেদেভ সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়।

    তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি পরিস্থিতি সেদিকে গড়াবে না। তবে যারা এ অঞ্চলে সংঘাত উসকে দিতে চায়, তাদের এই বাস্তবতা মনে রাখা উচিত।’

    উল্লেখ্য, এর আগেও ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। গত ৮ জুন তারা লোহিত সাগরে ইসরাইলি জাহাজ চলাচলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে।

  • ৫০০ কোটি ডলারের বাণিজ্যের লক্ষ্যে একমত পাকিস্তান-তুরস্ক

    ৫০০ কোটি ডলারের বাণিজ্যের লক্ষ্যে একমত পাকিস্তান-তুরস্ক

    পাকিস্তান ও তুরস্ক সুখে-দুঃখে একে অপরের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ৫০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। শনিবার ইস্তাম্বুলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান। এ খবর দিয়েছে অনলাইন

    সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রেসিডেন্ট এরদোগান পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ এবং তার প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, তাদের আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় স্থান পেয়েছে। এরদোগান বলেন, আমরা সব সময় একে অপরের পাশে থাকি। তিনি দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তুর্কি প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এটি বিশ্বশান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শান্তি, সমৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে পাকিস্তানের প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেন। এরদোগান জানান, তার সঙ্গে শেহবাজের আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, পাকিস্তান ও তুরস্কের সম্পর্ক গভীর, ঐতিহাসিক এবং দীর্ঘস্থায়ী। শেহবাজ বলেন, যুদ্ধ কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে তুরস্ক পাকিস্তানের পাশে থেকেছে। তিনি জানান, ইস্তাম্বুলে আয়োজিত বিজনেস ফোরামে তুরস্কের ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে এবং উভয় দেশই ৫০০ কোটি ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সঙ্গে বৈঠকের আগে ইস্তাম্বুলে পাকিস্তান-তুরস্ক বিজনেস-টু-বিজনেস (বি২বি) সম্মেলনে বক্তব্য দেন শেহবাজ শরিফ। তিনি বলেন, তুরস্ক পাকিস্তানের শক্তিশালী ও আন্তরিক মিত্র এবং আমাদের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। শেহবাজ বলেন, এই সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে উঠেছিল খিলাফত আন্দোলনের সময়। তিনি স্মরণ করেন, আলী ভ্রাতৃদ্বয়সহ উপমহাদেশের মুসলমানরা তুরস্কের স্বাধীনতা সংগ্রামে সমর্থন জানিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি কঠিন সময়ে তুরস্ক পাকিস্তানের পাশে থেকেছে। শেহবাজের ভাষ্য, প্রেসিডেন্ট এরদোগানের আন্তরিক সমর্থনের কারণেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পেরেছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এখন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে এবং শান্তির এই সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।

  • গাজায় মৃত্যু-ধ্বংসের বিভীষিকা

    গাজায় মৃত্যু-ধ্বংসের বিভীষিকা

    ধ্বংসস্তূপে হাজারো মরদেহ, তাঁবুতে তাঁবুতে আতঙ্ক

    মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহরের একটি বালুময় পথে নীল, হলুদ ও সাদা রঙের একটি ফুটবল পায়ে নিয়ে দৌড়াচ্ছিল ১৪ বছর বয়সী কিশোর কারাম। যুদ্ধ শুরুর আগে তার স্বপ্ন ছিল, একজন পেশাদার ফুটবলার হওয়ার। তবে তার এই স্বপ্ন এখন ফিকে হয়ে যাচ্ছে।
    বর্তমানে বাস্তুচ্যুত এই কিশোর সিএনএনকে বলেছে, আমার স্বপ্ন ছিল ফুটবলার হওয়া। বন্ধুদের সঙ্গে রাস্তায় খেলতাম। যুদ্ধের আগে জীবনটা খুব সুন্দর ছিল। কিন্তু এখন আর জীবন বলে কিছু নেই।
    সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেখানে একসময় ভূমধ্যসাগরের নীল দিগন্ত দেখা যেত, সেখানে এখন শুধু পোড়া কৃষিজমি, ধ্বংসপ্রাপ্ত ফলের বাগান এবং অসংখ্য ধ্বংসস্তূপ।
    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যখন সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতিকে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিতে রূপ দেয়ার চেষ্টা করছে, তখন গাজার বাসিন্দারা বলছেন, তারা এমন একটি যুদ্ধবিরতির মধ্যে বসবাস করছেন যার বাস্তব প্রভাব তারা অনুভব করছেন না। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইল বিদেশি সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেয়নি।

    যুদ্ধবিরতি হলেও বাস্তব পরিবর্তন নেই
    দীর্ঘ দুই বছরের যুদ্ধ ও অবরোধের পর গত বছরের অক্টোবরে ইসরাইল ও হামাস দুই ধাপের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তিতে ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার, হামাসের পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন এবং নতুন ফিলিস্তিনি প্রশাসন গঠনের কথা ছিল।
    কিন্তু আট মাসেরও বেশি সময় পার হলেও এসব পরিকল্পনার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি। বরং জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা নিকোলাই ম্লাদেনভ মে মাসেই সতর্ক করেছিলেন যে, গাজা একটি “বিপজ্জনক স্থবির অবস্থার” মধ্যে রয়েছে।
    চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য গঠিত বোর্ড অব পিস সম্প্রতি সাইপ্রাসে বৈঠক করলেও ভবিষ্যৎ পথ এখনও স্পষ্ট নয়। হামাসের কাছ থেকে প্রশাসনিক দায়িত্ব নেয়ার জন্য যে ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটি গঠনের কথা ছিল, তার কোনো সময়সূচি এখনো নির্ধারণ হয়নি। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনীও এখনও মোতায়েন হয়নি।
    অন্যদিকে ইসরাইল গাজার তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ অতিক্রম করে আরও এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং হামাসের সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
    গত মাসে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, তিনি সেনাবাহিনীকে গাজার ৭০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং প্রয়োজনে আরও এলাকা দখলের ইঙ্গিত দেন।
    অপরদিকে হামাসও পুনর্গঠিত হয়েছে, অস্ত্র সমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং গাজার বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।

    হতাহতের সংখ্যা বাড়ছেই
    ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে চলতি বছরের ২১ জুন পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় গাজায় অন্তত ১ হাজার ৫৯ জন নিহত এবং ৩ হাজার ৪২৯ জন আহত হয়েছেন।
    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে সিএনএন জানিয়েছে, অক্টোবরের পর থেকে গড়ে প্রতিদিন অন্তত একজন শিশু নিহত হয়েছে।
    জুন মাসে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন অভিযোগ করে, গাজায় শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ইসরাইল গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ইসরাইল এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে একে “জাতিসংঘের নথির ছদ্মবেশে রাজনৈতিক রক্ত অপবাদ” বলে অভিহিত করেছে।

    ‘এখানে প্রকৃত কোনো যুদ্ধবিরতি নেই’
    মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহে বাস্তুচ্যুত ত্রাণকর্মী স্যালি সালেহ বলেন, আপনি যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায় বোমা হামলার শিকার হতে পারেন। এখানে প্রকৃত কোনো যুদ্ধবিরতি নেই।
    জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ১৯ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং তাদের অনেকেই একাধিকবার স্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।
    অস্বাস্থ্যকর অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাসের কারণে চর্মরোগ ও পরজীবী সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাস্তুচ্যুত মানুষের বসবাসের ৮০ শতাংশেরও বেশি এলাকায় এসব রোগ ছড়িয়ে পড়েছে।
    স্যালি সালেহ জানান, ইঁদুর, তেলাপোকা ও বেজি রাতে তাঁবুতে ঢুকে শিশু ও নবজাতকদের কামড়ে দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা সরাসরি মানুষের ওপর আক্রমণও করছে।
    আমরা এমন অনেক অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলেছি, যাদের সন্তানদের ইঁদুর কামড়েছে। তারা আতঙ্কে আছেন, আবারও এমন ঘটনা ঘটতে পারে, বলেন তিনি।

    আবর্জনা, নোংরা পানি ও মানবিক সংকট
    গাজা সিটির পানি কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র হুসনি নাদিম মোহান্না জানান, শৌচাগারের সংকটের কারণে মানুষ মাটিতে গর্ত করে অস্থায়ী পায়খানা তৈরি করছে। এতে মাটি ও পানিদূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
    ইঁদুর ত্রাণের চাল ও আটা নষ্ট করে ফেলছে। অনেক পরিবার খাবারের পাত্র তাঁবুর ছাদে ঝুলিয়ে রাখতে বাধ্য হচ্ছে।
    ইসরাইলি সংস্থা সিওজিএটি দাবি করেছে, গত অক্টোবর থেকে প্রতিদিন প্রায় ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে, যা চুক্তিতে নির্ধারিত ন্যূনতম সংখ্যা। তাদের ভাষ্য, গাজার মানবিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।
    তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, বিদ্যুৎ উৎপাদনের যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রবেশে ইসরাইলি বিধিনিষেধ এবং ত্রাণকর্মীদের ওপর হামলার কারণে মানবিক পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব হচ্ছে না।

    ধ্বংসস্তূপের নিচে হাজারো মরদেহ
    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৭৮৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও অন্তত ৭ হাজার ৫০০ মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ অবস্থায় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
    আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির জেরুজালেমভিত্তিক মুখপাত্র প্যাট গ্রিফিথস বলেন, দীর্ঘদিন ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকলে মরদেহ শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। ডিএনএ পরীক্ষার সুবিধা না থাকায় উচ্চতা, আঙুলের ছাপ, দাঁতের গঠন, পুরোনো আঘাত বা জন্মদাগের মতো তথ্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

    শিশুদের খেলায়ও যুদ্ধের ছাপ
    স্যালি সালেহ জানান, গাজার শিশুরা খেলতে গিয়েও জানাজা ও দাফনের দৃশ্য অভিনয় করছে, যা তাদের মানসিক ট্রমার গভীরতা প্রকাশ করে।
    গাজা সিটিতে বাস্তুচ্যুত ২৪ বছর বয়সী লেখক ইয়াহইয়া আলহামারনা বলেন, যুদ্ধ শুধু ভবিষ্যৎ নয়, মানুষের পরিচয়ও কেড়ে নিচ্ছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে গাজায় বেকারত্বের হার বেড়ে ৮৫ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে। যুদ্ধের আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরের পূর্বে এই হার ছিল ৪৫ শতাংশ।
    আলহামারনা বলেন, ফিলিস্তিনিদের প্রায়ই শুধু নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়, মানুষ হিসেবে নয়। এটি অমানবিক।
    তিনি বলেন, ধ্বংসের মধ্যেও মানুষ লিখছে, কথা বলছে এবং আশা ধরে রেখেছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নিহত ফিলিস্তিনি লেখক ও অধ্যাপক রিফাত আল-আরিরের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তিনি চিন্তা, সংস্কৃতি ও শব্দের শক্তির প্রতীক ছিলেন। মানুষ এখনও লিখছে, কথা বলছে এবং আশা করছে। আর এটিই এক ধরনের প্রতিরোধ।

  • ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির পর বিশ্ব স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে: এরদোয়ান

    ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির পর বিশ্ব স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে: এরদোয়ান

    তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতার ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তার ভাষ্য, এই অগ্রগতি বিশ্ববাসীর জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বয়ে এনেছে।

    ইস্তাম্বুলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকের পর এরদোয়ান পাকিস্তানের মধ্যস্থতার ভূমিকাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, গত মাসে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য আশাব্যঞ্জক।

    তুর্কি প্রেসিডেন্ট আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে নেওয়া যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগে তুরস্ক ভবিষ্যতেও সমর্থন দিয়ে যাবে। একই সঙ্গে তিনি ইসরাইলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের ওপর নিবিড় নজর রাখার কথাও উল্লেখ করেন।

    এরদোয়ান বলেন, যুদ্ধমুখী নীতিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়া বর্তমান ইসরাইলি সরকারের কারণে অঞ্চলটিকে আবারও সংঘাত, রক্তপাত ও অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

  • খামেনির জানাজায় অংশ নিলেন ৩ ছেলে

    খামেনির জানাজায় অংশ নিলেন ৩ ছেলে

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তার পরিবারের চার সদস্যের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছেন আলি খামেনির ছেলেরাও। এছাড়া লাখ লাখ মানুষ তার জানাজায় অংশ নেন।

    বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস সংবাদ এক প্রতিবেদনে জানায়, খামেনির ছেলে মাসুদ, মেসাম ও মোস্তফা জানাজায় অংশ নিয়েছেন। আইআরজিসির কমান্ডার আহমদ ভাহিদিও এতে অংশ নেন।

    ইসরাইলের হত্যার হুমকির কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় এতে অংশ নেননি খামেনির ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।

  • কোরআনের আয়াত শুনিয়ে মুসলিম দেশগুলোকে ইরানের শক্তিশালী বার্তা

    কোরআনের আয়াত শুনিয়ে মুসলিম দেশগুলোকে ইরানের শক্তিশালী বার্তা

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোকানুষ্ঠান কেবল বিদায়ের মঞ্চ নয়, বরং একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক মঞ্চে পরিণত হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক ভাষণ বা হুমকির গর্জন ছাড়াই ইরান পবিত্র কোরআনের আয়াতের মাধ্যমে বিশ্বকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে।

    জানাজার শোকের মঞ্চে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তৃতা ছিল না। এর পরিবর্তে বিভিন্ন মুসলিম দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে নির্দিষ্ট আয়াতের তেলাওয়াত করা হয়, যার প্রতিটিতে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বার্তা নিহিত ছিল।১. আফগানিস্তানকে শোনানো হয় সূরা আল-ফাতহর আয়াত ১। এর অর্থ: নিশ্চয়ই আমি আপনাকে (হে মুহাম্মদ) একটি স্পষ্ট ও পরিপূর্ণ বিজয় দান করেছি।

    পেছনের রাজনীতি: আফগান মন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি ও প্রতিনিধিদল যখন হলে প্রবেশ করেন, তখন তাদের এই আয়াত শোনানো হয়। ২০ বছরের দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর আমেরিকার মতো পরাশক্তিকে তাড়িয়ে আফগানিস্তানের যে ঐতিহাসিক বিজয়, এই তেলাওয়াতের মাধ্যমে ইরান সরাসরি তাদের সেই লড়াইকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে এক অনন্য ‘বিজয়ের অভিনন্দন’ জানিয়েছে।

    ২. বাংলাদেশকে শোনানো হয় সূরা আলে-ইমরানের আয়াত ১৬৯-১৭০। এর অর্থ: আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদেরকে তুমি কখনো মৃত মনে করো না; বরং তারা নিজেদের রবের নিকট জীবিত, তারা রিজিকপ্রাপ্ত। আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে যা দিয়েছেন তাতে তারা আনন্দিত এবং তাদের পেছনে যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হয়নি (অর্থাৎ জীবিত আছে), তাদের জন্য তারা এ সুসংবাদ গ্রহণ করে যে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।

    পেছনের রাজনীতি: বাংলাদেশের জন্য এই আয়াতটি ছিল এক অনবদ্য প্রতীকী স্বীকৃতি। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লব এবং জালিমের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, ইরানের এই আয়াত তেলাওয়াত সরাসরি সেই শহীদদের আত্মত্যাগকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে এক আধ্যাত্মিক সম্মান এনে দেয়।

    ৩. ফিলিস্তিনকে শোনানো হয় সূরা বনী ইসরাইলের আয়াত ১। এর অর্থ: পরম পবিত্র ও মহিমাময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতের বেলায় মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা (বায়তুল মুকাদ্দাস) পর্যন্ত ভ্রমণ করিয়েছেন, যার চারপাশকে আমি বরকতময় করেছি, তাকে আমার কিছু নিদর্শন দেখানোর জন্য। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।

    পেছনের রাজনীতি: ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলের সামনে ইসলামের প্রথম কিবলা আল-আকসার আয়াতটি তেলাওয়াত করার অর্থ ছিল অত্যন্ত গভীর। এর মাধ্যমে ইরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, খামেনির বিদায়ের পরেও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা এবং জেরুজালেম মুক্ত করার লড়াই ইরানের কাছে সবচেয়ে পবিত্র এবং অবিচ্ছেদ্য এজেন্ডা হয়ে থাকবে।

    ৪. কাতারকে শোনানো হয় সূরা আল-ফাতহর আয়াত ১-৩। এর অর্থ: নিশ্চয় আমি আপনাকে সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি, যেন আল্লাহ আপনার অতীত ও ভবিষ্যতের ত্রুটিসমূহ মার্জনা করে দেন এবং আপনার প্রতি তাঁর অনুগ্রহ পূর্ণ করেন আর আপনাকে সরল পথে পরিচালিত করেন। এবং আল্লাহ আপনাকে বলিষ্ঠ সাহায্য দান করেন।

    পেছনের রাজনীতি: কাতার দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে এবং বিশেষ করে ফিলিস্তিন ইস্যুতে বড় বড় পরাশক্তির মাঝে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। এই আয়াতের মাধ্যমে কাতারকে তাদের এই স্বাধীন, সাহসী এবং সফল কূটনৈতিক অবস্থানের জন্য এক ধরণের ভূরাজনৈতিক সাধুবাদ ও ‘বিজয়’-এর শুভেচ্ছা জানিয়েছে ইরান।

    ৫. পাকিস্তানকে শোনানো হয় সূরা বনী ইসরাইলের আয়াত ৮০। এর অর্থ: বলো, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে প্রবেশ করাও কল্যাণের সঙ্গে এবং আমাকে নিষ্ক্রান্ত করাও কল্যাণের সঙ্গে এবং তোমার নিকট হতে আমাকে দান করো সাহায্যকারী শক্তি।

    পেছনের রাজনীতি: পাকিস্তান সবসময় মুসলিম বিশ্বের সংকটগুলোতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের চেষ্টা করে। এই দোয়ার মাধ্যমে ইরান প্রকারান্তরে পাকিস্তানকে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সংকট উত্তরণে একটি ‘সাহায্যকারী শক্তি’ হিসেবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

    ৬. তুরস্ককে শোনানো হয় সূরা আন-নিসার আয়াত ৯৫। এর অর্থ: মুমিনদের মধ্যে যারা অক্ষম নয় অথচ ঘরে বসে থাকে ও যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন-প্রাণ দিয়ে জিহাদ করে তারা সমান নয়। যারা স্বীয় ধন-প্রাণ দিয়ে জিহাদ করে আল্লাহ তাদেরকে, যারা ঘরে বসে থাকে তাদের ওপর মর্যাদা দিয়েছেন; আল্লাহ সকলকেই কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যারা ঘরে বসে থাকে তাদের ওপর যারা জিহাদ করে তাদেরকে আল্লাহ মহাপুরস্কারের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।

    পেছনের রাজনীতি: তুরস্ক মুখে ফিলিস্তিন বা মুসলিম উম্মাহর পক্ষে অনেক বড় বড় কথা বললেও, বাস্তবে ইসরায়েল বা পশ্চিমা শক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো সামরিক বা শক্ত অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেয় না। এই আয়াতের মাধ্যমে ইরান তুরস্কের সেই ‘ঘরে বসে থাকা’ বা নিষ্ক্রিয় নীতিকে ইঙ্গিত করে এক ধরণের সূক্ষ্ম কূটনৈতিক ভর্ৎসনা করেছে।

    এ এম

  • খামেনির প্রতি ইরানিদের ভালোবাসায়  বিস্মিত ট্রাম্প

    খামেনির প্রতি ইরানিদের ভালোবাসায় বিস্মিত ট্রাম্প

    ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির জানাজায় লাখ লাখ মানুষকে কাঁদতে দেখে বিস্মিত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    তিনি বলেন, ‘ আমি ভেবেছিলাম মানুষ তাকে ঘৃণা করে। কিন্তু এত মানুষকে কাঁদতে দেখে আমি অবাক হয়েছি।’ মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

    একটি টেলিফোন সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, তিনি চাইলে জানাজায় অংশ নেওয়া ‘সবাইকে নিশ্চিহ্ন’ করে দিতে পারতেন। তবে তিনি যদি এই হুমকি কার্যকর করেন, তাহলে ‘আলোচনা করার মতো আর কেউ অবশিষ্ট থাকবে না।’

    ট্রাম্প অ্যাক্সিওসকে জানান, খামেনির জানাজা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা থেকে বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। তিনি আরো বলেন, ‘জানাজার আনুষ্ঠানিকতা চলাকালীন কোনো পক্ষই অপর পক্ষকে লক্ষ্য করে গুলি চালাবে না।’

    গত শুক্রবার তেহরানে আনুষ্ঠানিকভাবে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শোক ও দাফন অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। টানা সাত দিন ধরে ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার তেহরানে বিদেশি নেতাদের বেশির ভাগই খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

    শনিবার ও রোববার তেহরানে সাধারণ মানুষের জন্য রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ সময় সর্বস্তরের মানুষ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তার পরিবারের প্রয়াত কয়েকজন সদস্যের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন।

    ইরান কর্তৃপক্ষ বলেছে, সাড়ে তিন দশক ধরে ইরানের শাসনক্ষমতায় থাকা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আগামী তিন দিনে শুধু তেহরানেই দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে তারা আশা করছে।

    শনিবার সন্ধ্যা থেকেই বহু মানুষ ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। রোববার সকাল নাগাদ সেটা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। ৬টা থেকে জনসাধারণের জন্য অনুষ্ঠানস্থলের মূল ফটক খুলে দেওয়া হয়েছে।

    শ্রদ্ধা জানাতে এসে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়ানো সোমায়ি হামেদি নামের এক ব্যক্তি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা আমাদের নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে চাই। তাই এভাবে অপেক্ষা করাটা আমাদের জন্য বেদনাদায়ক কিংবা কঠিন কিছু নয়।’

    বিপুল জনসমাগমের এ আয়োজন ঘিরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে ইরান সরকার। বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। আকাশপথ বন্ধ রাখার কথাও রয়েছে।

    বলা হচ্ছে, ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পূর্বসুরি ও ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজার পর ইরানে এটাই সবচেয়ে বড় জনসমাগম হতে চলেছে। খোমেনির শোক ও দাফন অনুষ্ঠানে প্রায় এক কোটি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।

    আগামী সোমবার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শোকযাত্রা ইরানের দক্ষিণে কোম নগরীর উদ্দেশে যাত্রা করবে। চলবে মঙ্গলবারও।

    বুধবার ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে খামেনির লাশ পৌঁছাবে। সেখান থেকে নাজাফের কারবালা শহরে জনসাধারণের অংশগ্রহণে শোকযাত্রা হবে। সেখানেও শোকাহত মানুষ তার প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানাবেন।

    সবশেষে খামেনির লাশ আবার ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে। শুক্রবার দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদ শহরে অবস্থিত ইমাম রেজার মাজারে খামেনির দাফন সম্পন্ন হবে। মাশহাদ তার জন্মস্থান।

    নিরাপত্তার কারণে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা ও খামেনির ছেলে মোজতবা আলি খামেনি শোক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন না। সম্প্রতি মোজতবাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে ইসরাইল। সেই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    এর আগে আয়াতুল্লাহ খামেনিকে গত মার্চ মাসে দাফন করার পরিকল্পনা ছিল। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেই সূচি পিছিয়ে দেওয়া হয়।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সি আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। ওই দিনই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আগ্রাসন শুরু হয়েছিল।

    আগ্রাসনের ৪০ দিনের মাথায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। গত ১৭ জুন দেশ দুটি একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে। এখন তারা কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় স্থায়ী শান্তিচুক্তির জন্য আলোচনা চালাচ্ছে।

    এদিকে, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল গতকাল তেহরানে আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানিয়েছে।

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান, জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখেইল কাভেলাশভিলি, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান, তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইয়িলমাজ, রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ গতকাল ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

    তেহরানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানান ভারতের বিহারের গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইন এবং কেন্দ্রীয় উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্গারিটা, চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির সহসভাপতি হে ওয়েই, তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি প্রমুখ। আরো ছিলেন ফিলিস্তিনের হামাস ও লেবাননের হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিরা।

  • মিসরের প্রেসিডেন্ট

    মিসরের প্রেসিডেন্ট

    ফিলিস্তিনে দখলদারিত্ব বন্ধ না হলে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক নয়

    মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেছেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওপর ইসরাইলের দখলদারিত্বের অবসান না হওয়া পর্যন্ত দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো সুযোগ নেই। খবর আলজাজিরার।

    রোববার এক ভাষণে সিসি বলেন, ‘দখলদারিত্বের অবসান, অন্যায় ও আগ্রাসন বন্ধ, অধিকার প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়া এবং সবার জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ন্যায্য শান্তি প্রতিষ্ঠা না হলে স্থায়ী শান্তি, প্রকৃত স্থিতিশীলতা কিংবা জনগণের পর্যায়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে না।’

    ১৯৭৯ সালে ইসরাইলের সঙ্গে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরকারী প্রথম আরব রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত মিসরের প্রেসিডেন্ট সিসি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের একমাত্র সমাধান হলো ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে একটি সর্বাত্মক শান্তিচুক্তি।

    তিনি বলেন, ন্যায্য শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে এ অঞ্চলের মানুষ স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির মধ্যে বসবাসের সুযোগ পাবে।

    এ ছাড়া ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া গাজাবিষয়ক যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান সিসি। তার দাবি, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও ইসরাইলি হামলায় এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

  • যুক্তরাষ্ট্রের চাপে খামেনির জানাজায় অংশ নেয়নি ১৩ দেশ

    যুক্তরাষ্ট্রের চাপে খামেনির জানাজায় অংশ নেয়নি ১৩ দেশ

    যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় অংশ নেয়নি অন্তত ১৩টি দেশ। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে পূর্ব ইউরোপ, আফ্রিকা, উপসাগরীয় অঞ্চল ও পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি রাষ্ট্র। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।


    তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনির শোকযাত্রা ও জানাজায় অনুপস্থিত থাকার পর এসব দেশের কয়েকটি সরকার কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে তেহরানের কাছে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে।

    বার্তা সংস্থাটি একজন জ্যেষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেছে, খামেনির জানাজায় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদল যেন অংশ না নেয়, সে উদ্দেশ্যে গত পাঁচ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা একটি “ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচারণা” চালিয়েছেন।
    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৬ জুন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনগুলোকে একটি গোপন নির্দেশনা দেন। ওই নির্দেশনায় স্বাগতিক দেশগুলোর সরকারকে জানাতে বলা হয় যে, খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকে ওয়াশিংটন “অবন্ধুসুলভ পদক্ষেপ” হিসেবে বিবেচনা করবে এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর “নেতিবাচক প্রভাব” পড়তে পারে।

    দুইজন আরব কূটনীতিকের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কো রুবিও ব্যক্তিগতভাবে অন্তত পাঁচটি আরব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
    এ ছাড়া আফ্রিকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতরা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, খামেনির জানাজায় অংশ নিলে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন সহায়তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তবে তাসনিমের এ দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • খামেনির যেসব নীতিতে পাল্টে যায় ইরানের রাজনীতি

    খামেনির যেসব নীতিতে পাল্টে যায় ইরানের রাজনীতি

    ইরানের দীর্ঘতম সময় দায়িত্ব পালনকারী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজার আয়োজন চলছে। তার মৃত্যু দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ এক যুগের অবসান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    ১৯৮৯ সালে ইরান-ইরাক যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের সময় সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন খামেনি। তার নেতৃত্বে সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় সশস্ত্র বাহিনী, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম এবং গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত নিয়োগের ওপর ব্যাপক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে।

    খামেনির শাসনামলে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দেশটির নিরাপত্তা, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদারের যুক্তিতে ইরান তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণ করে।

    পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ইরানের বিরোধও তার শাসনামলে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল। খামেনি বারবার দাবি করেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না। তবে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার রক্ষার বিষয়েও তিনি অনড় অবস্থান বজায় রেখেছিলেন।

    আঞ্চলিক কৌশলের অংশ হিসেবে মিত্র সরকার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বিস্তৃত হয়। তবে এই নীতির কারণে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো, ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের উত্তেজনাও আরো গভীর হয়।

    খামেনির মৃত্যু রাষ্ট্রকে দুর্বল করার পরিবর্তে অনেক ইরানির জন্য ঐক্য ও সংহতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। তার শেষ বিদায়কে ঘিরে দেশজুড়ে শোকের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও ইরানের রাজনৈতিক গতিপথ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

  • হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে ‘ভণ্ডামি’ বললেন সোহেল তাজ

    হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে ‘ভণ্ডামি’ বললেন সোহেল তাজ

    ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বছরই দেশে ফিরবেন বলে যে ঘোষণা দিয়েছেন, এর কঠোর সমালোচনা করেছেন তার সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ।

    আজ শনিবার ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে সোহেল তাজ এ সমালোচনা করেন। নিচে তার পোস্টটি তুলে ধরা হলো:

    একজন মানুষের ইগো/অহংকার যে একটি দেশ এবং দলকে ধ্বংস করতে পারে তার প্রমান হচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবার।

    গণহত্যা, গুম, খুন, দুর্নীতি করে, গণতন্ত্র কবর দিয়ে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অপব্যবহার করে, দেশ এবং মানুষের সাথে বিস্বাসঘাতকতা করে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করে ছাত্র/জনতার ঝাঁটাপেটা খেয়ে পালিয়ে গিয়ে, দুর্নীতি/লুটপাট করে লক্ষ্য লক্ষ্য কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা সেই টাকার পাহাড়ে বসে আবার এখন ফেরার কথা বলে আওয়ামী লীগের নিরীহ নেতাকর্মীদের বিপদে ফেলার আরেকটি ভণ্ডামি করছে।

    আত্মসমালোচনা এবং আত্মউপলব্ধি না করলে অদূর ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির মাঠে ফিরে আসার সম্ভবনা খুবই কম।

  • মসজিদের ইমাম থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

    মসজিদের ইমাম থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

    চার মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনকে ঘিরে নজিরবিহীন আয়োজন চলছে। ইরান ও ইরাকের পাঁচটি শহরজুড়ে ছয় দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে এক থেকে দুই কোটি মানুষের অংশগ্রহণের আশা করছে তেহরান। ঠিক এই সময়ে তার জীবনের বিভিন্ন শিক্ষণীয় দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা চলছে।

    ইমাম খামেনির রচিত আত্মজীবনী ‘সেল নম্বর ১৪’ বইয়ে খামেনি নিজের জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন।

    ইরানের নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মসজিদের ইমাম থেকেই দেশের সর্বোচ্চ নেতা হয়েছেন। খামেনি প্রথমে মাশহাদের একটি সরু গলিতে অবস্থিত ছোট ‘ইমাম হাসান মসজিদে’ ইমামতি শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি মাশহাদের বিখ্যাত ও বড় ‘কেরামত মসজিদে’ ইমামতি শুরু করেন। এই মসজিদটি শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর মিলনস্থলে পরিণত হয়েছিল। তবে তাঁর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে সরকারি কর্তৃপক্ষ তাকে এই মসজিদে ইমামতি করতে বাধা দেয়।

    কেরামত মসজিদে ইমামতি নিষিদ্ধ হওয়ার তিন মাস পর তিনি আবারও ‘ইমাম হাসান মসজিদে’ ফিরে আসেন এবং প্রতি শনিবার মাগরিবের নামাজের পর বিভিন্ন বিষয়ে ওপর বক্তব্য দিতেন।

    ১৯৬৬ সালের দিকে তেহরানে অবস্থানকালে তিনি একটি নির্মাণাধীন মসজিদে (যা পরে ‘আমিরুল মুমিনিন মসজিদ’ নামে পরিচিত হয়) জামাতে নামাজ পড়াতেন এবং বক্তব্য দিতেন।

    নির্বাসনে থাকা অবস্থায় তিনি ইরনশাহরের একমাত্র শিয়া মসজিদ ‘আল-রাসুল মসজিদে’ ইমামতি শুরু করেন। তিনি সেখানে নামাজের পর অত্যন্ত জনপ্রিয় ও শিক্ষামূলক সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিতেন।

    আলী খামেনি মাশহাদের সামরিক কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় তিনি সহবন্দিদের নিয়ে জামাতে নামাজ পড়াতেন। তাঁর ইমামতি এবং ধর্মীয় বক্তব্যের প্রভাব দেখে কারারক্ষীরা পরে তাকে জামাতে নামাজ পড়াতে এবং অন্য বন্দিদের সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করে দেয়।

  • নরওয়ে ম্যাচের আগে ধাক্কা খেল ব্রাজিল

    নরওয়ে ম্যাচের আগে ধাক্কা খেল ব্রাজিল

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের ম্যাচ ঘিরে ভক্তদের উত্তেজনার শেষ নেই। সেই ম্যাচের আগেই ধাক্কা খেল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। চোটের কারণে আরলিং হালান্ডের দলের বিপক্ষে মাঠে নামতে পারবেন না ব্রাজিলের তারকা মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা। প্রতিবেদনে এমনটি জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

    ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচটি শুরু হবে আগামীকাল বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টায়; ভেন্যু নিউইয়র্কের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে পরবর্তী ম্যাচে বাইরে থাকবেন পাকেতা। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে মাঝমাঠের অন্যতম ভরসাকে হারানো ব্রাজিলের জন্য নিঃসন্দেহে অনেক বড় ধাক্কা।

    পাকেতা ঠিক কবে মাঠে ফিরবেন, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) পক্ষ থেকে। তবে সিবিএফের সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাজিল ফাইনালে না উঠলে এবারের বিশ্বকাপে আর মাঠে নামার সম্ভাবনা নেই পাকেতার।

    সেরা ৩২-এর ম্যাচে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোতে ওঠে ব্রাজিল। সেই ম্যাচে কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারেসের সঙ্গে শুরুর একাদশেই ছিলেন পাকেতা। চোট পাওয়ায় বিরতির পর আর মাঠে নামা হয়নি তাঁর। বর্তমানে চোট থেকে সের উঠতে চিকিৎসা নিচ্ছেন এই মিডফিল্ডার।

    পাকেতার অনুপস্থিতিতে কোচ কার্লো আনচেলত্তির সামনে একাধিক বিকল্প রয়েছে। এক পজিশনে দানিলো সান্তোসকে নামাতে পারেন ব্রাজিলিয়ান কোচ। আবার কৌশলে পরিবর্তন এনে আরও আক্রমণাত্মক একাদশ সাজাতে এন্দ্রিক বা গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির মতো খেলোয়াড়কেও সুযোগ দিতে পারেন।

    এদিকে ঊরুর চোট কাটিয়ে ধীরে ধীরে মাঠে ফেরার পথে রয়েছেন রাফিনিয়া। হাইতির বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে চোট পাওয়ার পর থেকে মাঠের বাইরে আছেন বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড। বর্তমানে মূল দলের বাইরে থেকে ব্যক্তিগত অনুশীলন করছেন। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাঁকে বদলি বেঞ্চে রাখা হতে পারে বলে জানিয়েছে দলের একটি সূত্র।

  • যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে ট্রাম্পকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

    যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে ট্রাম্পকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

    যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী তাঁর শুভেচ্ছাবার্তায় বাংলাদেশ সরকার, দেশের জনগণ এবং তাঁর নিজের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে এই ঐতিহাসিক মাইলফলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বাস্তবধর্মী নেতৃত্বে আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্র আরও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।

    প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদ্‌যাপনের পাশাপাশি ‘আমেরিকা ২৫০’ বিশ্বের মানুষের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, আমেরিকান স্বপ্ন, আত্মত্যাগ, স্বাধীনতা, মূল্যবোধ, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান থেকে মানুষ অনুপ্রেরণা গ্রহণ করছে।

    দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ও উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে রয়েছে। গত পাঁচ দশকে দুই দেশের সম্পর্ক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক অংশীদারত্বে পরিণত হয়েছে।

    তিনি বলেন, চলতি বছরের শুরু থেকে বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির মাধ্যমে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহযোগিতা ও উদারতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

    শুভেচ্ছাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তাঁর সরকার এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের অংশীদারত্ব আরও জোরদার ও গভীর করতে কাজ করে যাবেন।

    বার্তার শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও অব্যাহত সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুখ কামনা করেন তিনি।

  • শিল্পী সমিতির সভাপতি শিবা সানু, সম্পাদক জয় চৌধুরী

    শিল্পী সমিতির সভাপতি শিবা সানু, সম্পাদক জয় চৌধুরী

    ফন্ট সাইজ:

    বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন খল-অভিনেতা শিবা শানু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জয়লাভ করেছেন চিত্রনায়ক জয় চৌধুরী। শনিবার ভোররাতে নির্বাচন কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। ফলাফলে দেখা যায়, সভাপতি পদে শিবা সানু ২৪৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আরমান পেয়েছেন ১৭৩ ভোট। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে জয় চৌধুরী পেয়েছেন ২৩৭ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রোমানা ইসলাম মুক্তি পেয়েছেন ১৭৯ ভোট।

    এবারের নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদে ডিএ তায়েব ২৬৯ ও ইলিয়াস কোবরা ২১৬, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে সুব্রত ২৬৬, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সনি রহমান ২৩৩, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে এম এ পারভেজ চৌধুরী আবীর ২৭২, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে জ্যাকি আলমগীর ২২১, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে মারুফ আকিব ২২৬ এবং কোষাধ্যক্ষ পদে কমল ২২১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

    কার্যকরী পরিষদের ১১টি সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন কায়েস আরজু ৩২৩, আলি রাজ ২৯৬, নাসরিন ২৮৯, জেসমিন আক্তার ২৮০, শিপন মিত্র ২৪৮, সুশান্ত ২৩২, রাকা আলম ২২৭, শিরিন শিলা ২২৫, চিকন আলী ২২৪, কাবিলা ২২১ এবং ফরহাদ ২১৬।

    নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে কায়েস আরজু, আলি রাজ, জেসমিন আক্তার, শিপন মিত্র, কাবিলা, শিরিন শিলা ও ফরহাদ শিবা সানু-জয় চৌধুরী পরিষদ থেকে এবং নাসরিন, সুশান্ত, রাকা আলম ও চিকন আলী আরমান–মুক্তি পরিষদ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।

    শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শিল্পী সমিতির মোট ৫৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ৪৮০ জন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোটগ্রহণ শেষে গণনা শেষে রাতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

    এবারের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু। নির্বাচন কমিশনের সদস্য হিসেবে রয়েছেন কামাল মো. কিবরিয়া লিপু ও বি এইচ নিশান।

  • ৫ আগস্টের অর্জন কোনও একক ব্যক্তি বা দলের নয়- প্রধানমন্ত্রী

    ৫ আগস্টের অর্জন কোনও একক ব্যক্তি বা দলের নয়- প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘৫ আগস্ট যে অর্জন আমরা করেছি, এই অর্জন কোনও একক ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের নয়; বরং এই অর্জন দলমত নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি শান্তিপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের অর্জন।’

    শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’-এ তিনি এসব কথা বলেন। ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার’ ও ‘আমরা জুলাইযোদ্ধা’ কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আহত জুলাইযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমি যদি এই মুহূর্তে আমার মাকে যদি জিজ্ঞাসা করতে পারতাম, মা গত সতের বছর আপনার ওপর যে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন হয়েছে, আপনি কি চান, আমি তার প্রতিশোধ নিই?।….কারণ সেই প্রতিশোধ নেয়ার ক্ষমতা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাকে দিয়েছেন। আমার মায়ের সন্তান হিসেবে আমি নিশ্চিত আমার মা আমাকে বলতেন—তোমার দায়িত্ব দেশের সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে সামনে এগিয়ে যাওয়া। দেশকে সামনে নিয়ে যাওয়া।’

    তিনি বলেন, ‘আমি যদি আমার ভাইটিকে জিজ্ঞাসা করতে পারতাম, তুমি কি চাও তোমার সঙ্গে যে অন্যায় অবিচার হয়েছে, তোমাকে মৃত্যুর মুখ ঠেলে দেয়া হয়েছে, যারা এরজন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে আমি প্রতিশোধ নিই? কারণ সেই ক্ষমতা আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন। আমরা দুই ভাই একসঙ্গে বড় হয়েছি। তাকে আমি চিনি, আমি জানি। একই রক্ত আমাদের শরীরে প্রবাহিত হচ্ছে। আমার ভাইটিও সেই একই উত্তর দিতো, যে উত্তরটি আমার মা আমাকে দিতেন।’

  • বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত, এক নজরে পুরো সূচি

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত, এক নজরে পুরো সূচি

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ বত্রিশ পর্ব শেষে চূড়ান্ত হয়েছে শেষ ষোলোর লাইনআপ। কলম্বিয়ার জয়, আর্জেন্টিনা ও মিসরের নাটকীয় অগ্রযাত্রার মধ্য দিয়ে পূর্ণতা পেয়েছে নকআউটের পরবর্তী ধাপের সূচি। এবার শিরোপার দৌড়ে টিকে থাকা ১৬টি দল মুখোমুখি হবে আরও কঠিন পরীক্ষায়।

    প্রথম ম্যাচেই কানাডার সামনে থাকবে মরক্কোর চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে প্যারাগুয়ের প্রতিপক্ষ বর্তমান রানার্সআপ ফ্রান্স। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল লড়বে নরওয়ের বিপক্ষে, আর যৌথ আয়োজক মেক্সিকোর সামনে অপেক্ষা করছে শক্তিশালী ইংল্যান্ড।

    বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি পর্তুগাল ও স্পেন মুখোমুখি হবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াইগুলোর একটিতে। স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা খেলবে আফ্রিকার প্রতিনিধি মিসরের বিপক্ষে, আর শেষ ষোলোর শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়া।শেষ ষোলোর সূচি (বাংলাদেশ সময়)

    কানাডা বনাম মরক্কো
    হিউস্টন স্টেডিয়াম
    ৪ জুলাই, রাত ১১:০০

    প্যারাগুয়ে বনাম ফ্রান্স
    ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়াম
    ৫ জুলাই, রাত ৩:০০

    ব্রাজিল বনাম নরওয়ে
    নিউইয়র্ক
    ৬ জুলাই, রাত ২:০০

    মেক্সিকো বনাম ইংল্যান্ড
    মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম
    ৬ জুলাই, সকাল ৬:০০
    পর্তুগাল বনাম স্পেন
    ডালাস স্টেডিয়াম
    ৭ জুলাই, রাত ১:০০

    যুক্তরাষ্ট্র বনাম বেলজিয়াম
    সিয়াটল স্টেডিয়াম
    ৭ জুলাই, সকাল ৬:০০

    আর্জেন্টিনা বনাম মিসর
    আটলান্টা স্টেডিয়াম
    ৭ জুলাই, রাত ১০:০০
    ইজারল্যান্ড বনাম কলম্বিয়া
    বিসি প্লেস, ভ্যাঙ্কুভার
    ৮ জুলাই, রাত ২:০০

    বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এখন থেকে প্রতিটি ম্যাচই ‘বাঁচা-মরার’ লড়াই। একবার হারলেই বিদায়, আর জিতলেই কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট। ফলে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে টানা কয়েকটি হাইভোল্টেজ লড়াই।

  • ঘানাকে বিদায় করে শেষ ষোলোতে কলম্বিয়া

    ঘানাকে বিদায় করে শেষ ষোলোতে কলম্বিয়া

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ঘানাকে বিদায় করে শেষ ষোলোতে কলম্বিয়া, প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড

    ২০১৪ সালের সেই স্মৃতি কি মনে আছে? সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে পুরো ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল কলম্বিয়া। মাঝে কিছুটা ছন্দপতন আর কাতার বিশ্বকাপের টিকিট না পাওয়ার হতাশা ভুলে আবারও সেই চেনা রূপেই ফিরছে লাতিন আমেরিকার এই পরাশক্তি। শেষ ৩২ পর্বের ম্যাচে ঘানাকে ১-০ গোলে হারিয়ে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়ানরা।

    যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে এই বাঁচা-মরার লড়াইয়ে শুরু থেকেই ঘানার ওপর চড়াও হয়ে খেলে কলম্বিয়া। ম্যাচের শুরুতেই, ঠিক ১৪ মিনিটের মাথায় জন আরিয়াসের দুর্দান্ত এক গোলে লিড নেয় দলটি। শেষ পর্যন্ত এই একটি গোলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

    পুরো ম্যাচেই ছিল কলম্বিয়ার একচেটিয়া আধিপত্য। প্রায় ৬১ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে ঘানার রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে তারা। পুরো ম্যাচে কলম্বিয়া গোল অভিমুখে শট নেয় ৮টি। তবে ব্যবধান আরও বাড়তে পারতো যদি স্ট্রাইকাররা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারতেন। বিশেষ করে পুয়ের্তা ও দিয়াজ ম্যাচের অন্তত চারটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন।ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে দিয়াজ আরও একবার বল ঘানার জালে জড়ালেও সূক্ষ্ম অফসাইডের কারণে ভিএআর প্রযুক্তিতে সেই গোলটি বাতিল হয়। এর বাইরে মোজিকার একটি নিশ্চিত গোল চমৎকার দক্ষতায় রুখে দেন ঘানার গোলকিপার লরেন্স আতি জিগি। ফলে এক গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় কলম্বিয়াকে।

    অন্যদিকে, পুরো ৯০ মিনিটে কলম্বিয়ার রক্ষণভাগ ভেদ করে একটি শটও নিতে পারেনি ঘানা। মাঠের পারফরম্যান্সে একেবারেই নিষ্প্রভ থাকা ঘানা এই হারের মাধ্যমে আরও একবার দক্ষিণ আমেরিকান কোনো দলের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলো।

    ২০১৮ সালে সর্বশেষ শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়া কলম্বিয়া এবার আরও বড় কিছুর স্বপ্ন দেখছে। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের মুখোমুখি হতে হবে ইউরোপের শক্তিশালী দল সুইজারল্যান্ডের।

  • ভূরুঙ্গামারীতে অজ্ঞাত পরিচয় নারীর লাশ উদ্ধার

    ভূরুঙ্গামারীতে অজ্ঞাত পরিচয় নারীর লাশ উদ্ধার

    কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অজ্ঞাত পরিচয় এক নারীর লাশ উদ্ধার করছে পুলিশ। শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের খোঁচাবাড়ি এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের ধারণা, দুধকুমার নদ দিয়ে ভারত থেকে নেমে আসা ঢলের সাথে লাশটি ভেসে এসেছে।

    তিলাই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, শুক্রবার দুপুরে স্থানীয়রা দুধকুমার নদের চরে লাশটি দেখতে পেয়ে আমাকে জানায়। দুধকুমার নদের পানি কমে যাওয়ায় লাশটি চরের কাদায় আটকা পড়েছে। থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলে বিকেলে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে। লাশের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লাশটি সম্ভবত ভারতীয় নাগরিকের।

    ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, লাশটি ভারত থেকে ভেসে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাশের পরিচয় মেলেনি। অজ্ঞাত লাশটির দাফনকাজ সম্পাদনের জন্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • বৈঠকে বসেছেন ইরান-বাংলাদেশের স্পিকার

    বৈঠকে বসেছেন ইরান-বাংলাদেশের স্পিকার

    ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফের সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের (বীর বিক্রম) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।শুক্রবার (৩ জুলাই) স্থানীয় সময় ইরানের তেহরানে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    এর আগে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের (বীর বিক্রম) নেতৃত্বে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে পৌঁছান।

    শনিবার (৪ জুলাই) আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা হবে এবং আগামী ৯ জুলাই নিজ জন্মস্থানে তাকে দাফন করা হবে। শনিবার জানাজায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

    আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি হামলায় তিনি শাহাদতবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

  • খামেনির সঙ্গে শায়িত হবেন তার পরিবারের যে সদস্যরা 

    খামেনির সঙ্গে শায়িত হবেন তার পরিবারের যে সদস্যরা 

    ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাযায় তার পরিবারের সদস্যদেরও দাফন সম্পন্ন করা হবে বলে।

    শুক্রবার (০৩ জুলাই) আল জাজিরার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত রাতে খামেনির জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। তাকে চিরবিদায় জানাতে বড় ধরনের শোকযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রায় ১০০টি দেশ থেকে কূটনীতিক ও প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

    ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত খামেনির পরিবারের একাধিক সদস্যকেও দাফন করা হবে। তাদের মধ্যে রয়েছেন তার মেয়ে, পুত্রবধূ, জামাতা এবং তিন বছর বয়সী নাতনি।

    ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানাজায় ইউরোপের সেই সব দেশকে আমন্ত্রণ জানায়নি, যারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সমর্থন জানিয়েছিল।

    এই রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা কয়েকদিন ধরে চলবে। আনুষ্ঠানিক স্মরণসভা শুরু হবে আগামীকাল থেকে। এরপর শোকযাত্রা ইরাকের নাজাফ ও কারবালা শহরে গড়াবে। এরপর ইরানের মাশহাদ শহরে শেষ দাফন ও স্মরণানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। মাশহাদই খামেনির জন্মস্থান।

  • খামেনির জানাজায় যাননি সৌদির কেউ

    খামেনির জানাজায় যাননি সৌদির কেউ

    ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে এখনো পর্যন্ত কোন প্রতিনিধি পাঠায়নি সৌদি আরব। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ সমাবেশে সৌদির অনুপস্থিতি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) হাউস অফ সৌদ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বছরখানেক আগে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান ব্যক্তিগতভাবে ইরানে গিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির জানাজায় অংশ নিয়েছিলেন। ওই সফরকে চীন-মধ্যস্থতায় সৌদি-ইরান সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হয়েছিল।

    বিশ্লেষকদের মতে, সৌদির অনুপস্থিতির পেছনে একাধিক ভূ-রাজনৈতিক কারণ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও ইরানের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়া চললেও আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সামরিক সংঘাত এবং পারস্পরিক সন্দেহ এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইয়েমেনসহ বিভিন্ন সংঘাতে দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ উত্তেজনা রয়েছে। অন্যদিকে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ও মধ্যস্থতা প্রক্রিয়াও এই মুহূর্তে স্থগিত রয়েছে।

    এছাড়া সাম্প্রতিক একাধিক আন্তর্জাতিক সফর ও আলোচনার সময়সূচিও সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের জন্য ইরানে যাওয়ার সম্ভাবনাকে জটিল করে তুলেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের এই অনুপস্থিতি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয় বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ক্ষমতার ভারসাম্য ও আস্থার সংকটেরও ইঙ্গিত বহন করে।

    তাদের মতে, একদিকে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া চলছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে সৌদি আরবের কৌশলগত সম্পর্কও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের একটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল অনুষ্ঠানে উচ্চপর্যায়ের উপস্থিতি সৌদির জন্য জটিল কূটনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

    এদিকে, ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ৩ জুলাইয়ের অনুষ্ঠানটি বিদেশি অতিথিদের জন্য আলাদা করে আয়োজন করা হয়েছে। এটি ৪ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত তেহরান, কোম, মাশহাদ, নাজাফ ও কারবালায় চলবে।

    বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও তালিকা অনুযায়ী, নিশ্চিত উপস্থিতদের মধ্যে রয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান, জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট সালোমে জুরাবিশভিলি-কাভেলাশভিলি এবং চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হে ওয়েই। ভারত থেকে প্রতিনিধি হিসেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিহারের গভর্নর অংশ নিচ্ছেন।

  • খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানে গেলেন ১১ দলের নেতারা

    খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানে গেলেন ১১ দলের নেতারা

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহিল সাইয়্যিদ আলী হুসাইনি খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইরানের উদ্দেশে রওনা হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল।বৃহস্পতিবার সকালের একটি ফ্লাইটে ইরানের উদ্দেশে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তারা।ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সরকারের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপির নেতৃত্বে দেশটিতে সফরে যাওয়া প্রতিনিধিদলে রয়েছেন—মো. নুরুল আমীন এমপি, ড. মো. কেরামত আলী এমপি ও ডা. এস এম খালিদুজ্জামান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এমপি সাইদউদ্দিন আহমাদ হানজালা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।সূত্রমতে, আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা ৪ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত একাধিক ধাপে অনুষ্ঠিত হবে।১১ দলের প্রতিনিধিদলটি ইরান সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর শোক, সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশের উদ্দেশ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে।জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইরান সফরকালে সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী প্রতিনিধিদল দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবে। এই সফর বাংলাদেশ ও ইরানের জনগণের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরো সুদৃঢ় হবে বলে আশা করেছন সংশ্লিষ্টরা।

  • খালি পেটে যেসব খাবার খেলে বিপদ হতে পারে

    খালি পেটে যেসব খাবার খেলে বিপদ হতে পারে

    সকালে ঘুম থেকে উঠে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া শ্রেয়। অনেকেই দিনের শুরুতে গ্রিন টি কিংবা ফলের রস পান করেন। এ অভ্যাস ঠিক নয়। ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই যেসব খাবার খাওয়া হয়, কিংবা যে পানীয় পান করা হয় তা নিয়ে সচেতন থাকা জরুরি। কারণ সারারাত না খেয়ে থাকার পর শরীর দীর্ঘ সময় উপবাস অবস্থায় থাকে। তাই দিনের প্রথম খাবার বা পানীয় হজম, শক্তির মাত্রা এমনকি দিনের পরবর্তী সময়ে খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

    এ কারণেই দিনের শুরুতে খালি পেটে কী খাওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে একটু সচেতন থাকার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। ভারতের পরামর্শক কিরণ কুকরেজা খালি পেটে কিছু খাবার ও পানীয় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।

    খালি পেটে যেসব খাবার ও পানীয় এড়িয়ে চলবেন

    লেবুজাতীয় ফল
    সকালের নাশতায় কমলা বা আনারস খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। তবে এটি সবার জন্য সমান উপকারী নাও হতে পারে। কিরণ কুকরেজার মতে, লেবুজাতীয় ফল স্বাভাবিকভাবেই বেশ অম্লীয় (অ্যাসিডিক)। খালি পেটে এগুলো খেলে অম্বল বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়তে পারে। যদিও এসব ফলে প্রচুর পুষ্টিগুণ রয়েছে, তবু খাওয়ার সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

    গ্রিন টি
    ওজন কমানো ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস হিসেবে গ্রিন টি বেশ জনপ্রিয়। তবে এটি খালি পেটে পান করা সবসময় ভালো নাও হতে পারে। কিরণের মতে, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে খালি পেটে গ্রিন টি পান করলে অম্বল, বমি বমি ভাব বা পেটের অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। কারণ এতে থাকা ক্যাফেইন ও ট্যানিন পাকস্থলীতে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে।

    চা ও কফি
    অনেকের দিনই শুরু হয় এক কাপ চা বা কফি দিয়ে। তবে খালি পেটে চা কিংবা কফি পান করলে অম্লতা, পেট ফাঁপা ও হজমতন্ত্রে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন কিরণ কুকরেজা। ফলে দিনের শুরুটা স্বস্তিদায়ক নাও হতে পারে।

    ঝাল খাবার
    সবুজ বা শুকনো মরিচসমৃদ্ধ ঝাল খাবার খালি পেটে খেলে পাকস্থলীর আবরণে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি হতে পারে। এতে বুকজ্বালা, অস্বস্তি ও হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।ফলের রস
    ফলের রসকে অনেকেই স্বাস্থ্যকর মনে করেন। কিরণের মতে, ফলের রসে সম্পূর্ণ ফলের তুলনায় আঁশ (ফাইবার) অনেক কম থাকে। ফলে সকালে খালি পেটে ফলের রস পান করলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

  • গোসল করতে গিয়ে কানে পানি ঢুকেছে? যা করবেন

    গোসল করতে গিয়ে কানে পানি ঢুকেছে? যা করবেন

    অনেকেই সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে পছন্দ করেন। কারও আবার সুযোগ হয় পুকুরে সাঁতার কাটার। সাঁতার কাটার সময় হঠাৎ কানে পানি ঢুকে যাওয়ার সমস্যায় পড়েননি, এমন মানুষ কম। অনেকে সময় বাড়িতেও গোসলের সময় অসাবধানবশত কানে পানি ঢুকতে পারে। কানে পানি ঢুকলে শুধু যে অস্বস্তি হয় তাই নয়, মাথা ধরা, কান ভারী হয়ে থাকা এবং ঠিকমতো শুনতে না পাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। অনেকেই এই পানি বের করার জন্য দেশলাই কাঠি, ইয়ার বাড বা সেফটি পিন কানের ভেতর ঢুকিয়ে দেন, যা কানের পর্দার মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।ভারতের নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ডা. অরিজিৎ মহাপাত্র জানান, ইয়ার বাড, দেশলাই কাঠি, পেন বা সেফটি পিনের মতো কোনোও জিনিস কানের ভেতর ঢোকানো খুবই বিপজ্জনক। আমাদের কানের চামড়া খুবই সংবেদনশীল এবং কানের পর্দা খুবই পাতলা হয়। এই ধরণের শক্ত জিনিস ব্যবহার করলে কানের ভেতরের ময়লা নরম জলের সংস্পর্শে এসে ফুলে যায় এবং কানের পর্দা ফুটো হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। চিকিৎসকদের মতে, কানে পানি জমলে তা থেকে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বা ‘সুইমার্স ইয়ার’-এর মতো রোগ হতে পারে। তাই কানের ক্ষতি না করে ঘরোয়ার উপায়ে কীভাবে পোনি বের করবেন তা জানানো হয়েছে ‘টিভি নাইনে’র এক প্রতিবেদনে। যেমন-

    কানে পানি বের করার সবচেয়ে সহজ এবং প্রাকৃতিক উপায় হচ্ছে পাশ ফিরে শুয়ে পড়া। যে কানে পানি ঢুকেছে, সেই দিকটি নিচের দিকে রেখে বালিশের ওপর কিছুক্ষণ শুয়ে থাকুন। এতে কানের ভেতরের পানি এমনিতেই বাইরে বেরিয়ে আসবে। এছাড়া, যে কানে পানি ঢুকেছে সেই দিকে মাথাটি কাত করে এক পায়ে দাঁড়িয়ে হালকা লাফ দিলেও সহজেই পানি বেরিয়ে যায়।

    হাতের তালু দিয়ে কানের ভেতর একটি হালকা ভ্যাকুয়াম বা হাওয়া বন্দি করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করলে পানি বেরিয়ে যাবে। এর জন্য মাথাটি আক্রান্ত কানের দিকে কাত করুন। এবার হাতের তালু কানের ওপর শক্ত করে চেপে ধরে রাখুন। এরপর দ্রুত হাতটি সরিয়ে নিন। এইভাবে কয়েকবার করলে কানের ভেতরের আটকে থাকা পানি বাতাসের চাপে বাইরে চলে আসবে।

    অনেক সময় গরম ভাপ কানের পানি বের করতে সাহায্য করে। একটি পরিষ্কার নরম কাপড় বা তোয়ালে গরম পানিতে ভিজিয়ে ভালো করে নিংড়ে নিন। এবার তোয়ালেটি আক্রান্ত কানের ওপর ৫ থেকে ১০ মিনিট চেপে ধরে রাখুন। গরম ভাপের ফলে কানের ভেতরের পেশি শিথিল হয় । সেই সাথে জমে থাকা পানি সহজেই নালী বেয়ে বেরিয়ে আসে।

    এসব সমাধান চেষ্টা করার পরও যদি কানের পানি বের না হয় তাহলে বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নিন।

  • দেশের এক ইঞ্চি জমিও কাউকে দখল করতে দেওয়া হবে না: ডা. শফিকুর রহমান

    দেশের এক ইঞ্চি জমিও কাউকে দখল করতে দেওয়া হবে না: ডা. শফিকুর রহমান

    দেশের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের এক ইঞ্চি জমি তো দূরের কথা, একটি বালুকণার ওপরও কাউকে পা রাখতে দেওয়া হবে না।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) নেত্রকোণা সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সীমান্ত ইস্যুতে সংসদে সব দলের পক্ষ থেকে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রকাশ পেলে তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা দিত। বর্তমান সংসদের ৩৪৮ সদস্যই দেশের জনগণের প্রতিনিধি। তাই জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করা উচিত।

    তিনি বলেন, সীমান্ত রক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দায়িত্ব পালন করছে। প্রয়োজন হলে জনগণও দেশপ্রেমের শক্তি নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াবে। অতীতেও বিভিন্ন স্থানে জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    সরকারি বরাদ্দ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন বরাদ্দ ও অনুদান দেওয়া হলেও বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বকারী এলাকাগুলো একই ধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের উচিত দল-মত নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি অঞ্চল ও নাগরিকের প্রতি সমান দায়িত্ব পালন করা। কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর জন্য নয়, বরং সমগ্র দেশের মানুষের কল্যাণেই সরকারকে কাজ করতে হবে।

  • হরমুজ খুলতে ট্রাম্পের ১০০ বিলিয়ন ডলারের টোপ ,অনড় ইরান

    হরমুজ খুলতে ট্রাম্পের ১০০ বিলিয়ন ডলারের টোপ ,অনড় ইরান

    হরমুজ প্রণালি হয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য টোল আদায়ের বিষয়ে ইরানের অনড় অবস্থান থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র ও ওমান। এ লক্ষ্যেই পরোক্ষ আলোচনায় ওয়াশিংটনের প্রধান প্রস্তাব ছিল, বিদেশে জব্দ ইরানের প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিলের একটি অংশ অবমুক্ত করা হবে।

    মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরে বলা হয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত তেহরান সেই প্রস্তাবে সাড়া দিচ্ছে না। বরং দেশটির সামরিক নেতৃত্ব বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত নৌপথগুলোর একটি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে নতুন করে হুমকি দিচ্ছে।

    এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার দোহায় যান। সেখানে তাঁরা কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। উদ্দেশ্য ছিল অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠা এবং গত মাসে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে হওয়া প্রাথমিক চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে সমাধানে পৌঁছানো। আলোচনার সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে সাম্প্রতিক লেবাননের সংঘাত নিয়েও আলোচনা করেছে। এই সংঘাত পুরো আলোচনাপ্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে।

    ওই ব্যক্তিদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ইরানের সামনে একটি বিনিময় প্রস্তাব দেন। তাতে বলা হয়, ইরান যদি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের দাবি ছেড়ে দেয় এবং টোল আদায়ের দাবি প্রত্যাহার করে, তাহলে বিনিময়ে দেশটির জব্দ থাকা তহবিল থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলার অবমুক্ত করা হবে।

    গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, বিদেশে জব্দ প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিলের একটি অংশ ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল ইরানের। বছরের পর বছর নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট লাগামহীন মূল্যস্ফীতিতে দেশটির অর্থনীতি মারাত্মক চাপে রয়েছে। তাই বৈদেশিক মুদ্রার নতুন প্রবাহের প্রয়োজন ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    আলোচনার শুরুতে কাতারে আটকে থাকা ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের দিকেই অগ্রগতি হচ্ছিল। কিন্তু ইরানের প্রণালি অবরোধের সিদ্ধান্তের কারণে সেই অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া পিছিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন আলোচনার সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিরা। গতকাল বৃহস্পতিবার ইরান স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, এই প্রস্তাব তাদের অবস্থান বদলানোর জন্য যথেষ্ট নয়। দোহা থেকে ফিরে ইরানের আলোচক ও উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেন, হরমুজ প্রণালি ‘যুক্তরাষ্ট্রের নয়, ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন।’

    দিনের শেষভাগে দিকে ইরানের সামরিক বাহিনী আরও কঠোর অবস্থান নেয়। তারা সতর্ক করে জানায়, ইরানের অনুমোদিত পথ ব্যবহার না করে যে কোনো জাহাজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ‘তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী” প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। সবশেষে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী প্রতিটি জাহাজের কাছ থেকে নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক সেবার বিনিময়ে ফি আদায় করতে চায় ইরান। তাদের আশা, এর মাধ্যমে বছরে সম্ভাব্য ৪০ বিলিয়ন ডলার আয়ের বড় অংশ তারা পাবে। তবে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলো।

    এর পরিবর্তে আলোচকরা ওমানের একটি বিকল্প প্রস্তাব বিবেচনা করছেন। ওমানের হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশে অধিকার রয়েছে। আলোচনার সঙ্গে পরিচিত কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী সামুদ্রিক সেবার অর্থ পরিশোধ করা হবে একটি বিশেষ তহবিলের মাধ্যমে, যা স্বেচ্ছা অনুদানে গড়ে তোলা হবে।

    তাঁদের মতে, ওমান ইতোমধ্যে তেল ও শিপিং কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছে, তারা এ ধরনের তহবিলে অর্থ দিতে আগ্রহী কি না তা জানতে। কিন্তু ইরান এ পর্যন্ত এই পদ্ধতির বিরোধিতা করেছে। কারণ, এতে সরাসরি কোনো টোল বা ফি পরিশোধের ব্যবস্থা থাকবে না।

    উপসাগরীয় দেশগুলোও এই পরিকল্পনা কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, পুরো জলপথ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সরঞ্জাম ইরানের হাতে পর্যাপ্ত নেই। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক সানাম ভাকিল বলেন, ‘ইরান নিজেদের শর্তে প্রণালি খুলতে চায় এবং তারা যে কৌশলগত সুবিধা অর্জন করেছে, তা ছাড়তে চায় না।’ তবে তাঁর মতে, ‘তেহরান দীর্ঘমেয়াদে কার্যকরভাবে প্রণালির প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করার চেয়ে সেটিকে অস্থিতিশীল করে তোলা অনেক সহজে করতে পারে।’

    ওয়াশিংটনের অবস্থান সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকেরা ওমানের প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছেন, তবে এতে তাঁদের কিছু উদ্বেগ রয়েছে। তারা এসব বিষয় ওমানের সঙ্গে আলোচনায় তুলতে চান। আরেক ব্যক্তি বলেন, এই পরিকল্পনাকেও এমন একটি ব্যবস্থার রূপ হিসেবে দেখা হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত ইরানকেই টোল আদায়ের সুবিধা এনে দেবে।

    এই অচলাবস্থার কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। গত সপ্তাহে ওমান তেহরানের অনুমতি ছাড়াই বিকল্প নৌপথ চালু করার পর ইরান আবারও জাহাজে হামলা শুরু করে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে পাল্টা হামলা চালায়। পরে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় এবং পুনরায় আলোচনা শুরু করে। পণ্যবাজারের তথ্যপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক জাহাজ চলাচলের সংখ্যা নেমে এসেছে ৪৩ টিতে, যেখানে এক সপ্তাহ আগেও এ সংখ্যা ছিল ৭৫। তুলনামূলকভাবে যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন ১০০ টিরও বেশি জাহাজ এই প্রণালি ব্যবহার করত বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

  • বাবার শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় থাকছেন না ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

    বাবার শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় থাকছেন না ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

    ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় তাঁর ছেলে দেশটির বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি উপস্থিত থাকছেন না। গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতে নিযুক্ত তাঁর প্রতিনিধি এমন তথ্য দিয়েছেন।

    ওই প্রতিনিধি বলেছেন, বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে হত্যা করা হবে বলে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর প্রথম দিনে (২৮ ফেব্রুয়ারি) খামেনি নিহত হন। খামেনিকে প্রথমে মার্চ মাসে দাফনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেই পরিকল্পনা পিছিয়ে দেওয়া হয়।

    আজ শুক্রবার রাষ্ট্রীয়ভাবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। সাত দিন ধরে এ আনুষ্ঠানিকতা চলবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১০০টি দেশের প্রতিনিধিরা খামেনির জানাজায় অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী ৯ জুলাই মাশহাদে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে দাফন করা হবে।

    কোনো ধরনের হামলা চালানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে হুঁশিয়ার করেছেন ইরানের এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার আলী আবদোল্লাহি এ হুঁশিয়ারি দেন।

    আবদোল্লাহি বলেন, ‘আমরা ইরানের শত্রুদের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী সরকারকে (ইসরায়েল) ভুল হিসাব–নিকাশ না করার জন্য সতর্ক করছি। আমাদের দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি বা আগ্রাসনের জবাবে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যে কঠোর প্রতিশোধ নেবে, সেটি তাদের মাথায় রাখা উচিত।’

  • আয়াতুল্লাহ খামেনির জন্য শোক পালন শুরু, সাত দিনের আনুষ্ঠানিকতায় কী কী থাকছে

    আয়াতুল্লাহ খামেনির জন্য শোক পালন শুরু, সাত দিনের আনুষ্ঠানিকতায় কী কী থাকছে

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিনিহত হওয়ার চার মাসেরও বেশি সময় পর, দেশটিতে তার জন্য কয়েক দিনের রাষ্ট্রীয় শোকপালন ও শেষ বিদায়ের শোভাযাত্রা শুরু হয়েছে।

    শুক্রবার থেকে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সাবেক এই আয়াতুল্লাহর মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হচ্ছে।

    শনিবার সকাল স্থানীয় সময় ভোর ৬টায় তেহরানের ইমাম খোমেনি মুসাল্লায় মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে, যেখানে দর্শনার্থীরা রোববার বিকেল পর্যন্ত শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারবেন। আগামী বৃহস্পতিবার তার নিজ শহর মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।

    ইরানি কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, এই আয়োজনে এক কোটি ২০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষের উপস্থিতি হতে পারে। ইরানে কোনো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের জন্য এর আগে কখনও এত বড় পরিসরে প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি।

    আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের চার মাসেরও বেশি সময় পর এই আনুষ্ঠানিকতা হচ্ছে, যেটিকে ইরানি কর্মকর্তারা ‘শতাব্দীর সেরা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া’ বলে অভিহিত করছেন।

    প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রয়েছে:

    • শোক জানাতে আসা মানুষদের জন্য হাজারো সেবাকেন্দ্র (মাওকিব)

    • ১০ লাখের বেশি দর্শনার্থীর থাকার ব্যবস্থা

    • জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের জন্য তেহরানের কেন্দ্রস্থলজুড়ে নির্ধারিত পথ

    পুরো কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) তেহরানভিত্তিক প্রধান প্রাদেশিক ইউনিট মোহাম্মদ রাসুলুল্লাহ কোর।

    এএফপি জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষ তেহরানের সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলো শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। যান চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে শহরের কেন্দ্রস্থলের বেশিরভাগ অংশে ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।

    তেহরানের আকাশসীমা শুক্রবার থেকে আংশিকভাবে এবং সোমবার থেকে পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।

    জানাজা, দাফনসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে তেহরানে আসা রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তালিকা সবচেয়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    কয়েকজন বিশ্লেষকের মতে, উপস্থিত থাকা ব্যক্তিদের পাশাপাশি কারা আয়োজন থেকে দূরে থাকবেন- সেটিও একই গুরুত্ব বহন করতে পারে।

    কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েক ডজন দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পার্লামেন্টের স্পিকার এবং মন্ত্রীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। প্রায় ৮০০ জন বিদেশি সাংবাদিক এই অনুষ্ঠান কভার করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদও তেহরানে গেছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় যোগ দিতে।

    জানাজার জন্য ইরানি কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে প্রতীক হিসেবে মুষ্টিবদ্ধ হাত আর স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে, “আমাদের জেগে উঠতেই হবে”।

    শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ছয়টায় তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় ছয় দিনের এই আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। রোববার বিকেল পর্যন্ত সাধারণ মানুষ সেখানে গিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন।

    মোহাম্মদ রাসুলুল্লাহ কোরের কমান্ডার হাসান হাসানজাদেহ জানান, খামেনির কফিন একটি উঁচু মঞ্চে রাখা হবে। দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে যাতে প্রত্যেকে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষ করে বের হতে পারেন।

    মঙ্গলবার তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত কোম শহরে স্থানান্তরিত করা হবে আয়োজন। সেখানে ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান জামকারান মসজিদে জানাজার নামাজে ইমামতি করবেন শিয়াদের জ্যেষ্ঠ আলেম।

    বুধবার খামেনির মরদেহ ইরাকের নাজাফে নেওয়া হবে। অন্ত্যেষ্টিযাত্রার পর কারবালায় ইসলামের খলিফা আলীর (যাকে শিয়া মুসলিমরা তাদের প্রথম ইমাম হিসেবে মানেন) সমাধিস্থলে আনুষ্ঠানিকতা পালন করে মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে।

    ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরাকের বিভিন্ন গোষ্ঠীর অনুরোধেই এসব কর্মসূচি রাখা হয়েছে। যদিও শিয়াশাসিত মুসলিম বিশ্বে খামেনির প্রভাব এবং অঞ্চলজুড়ে ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সম্পর্ক তুলে ধরতেই এসব আয়োজন করা হয়েছে বলে মত কয়েকজন বিশ্লেষকের।

    অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সমন্বয়ের জন্য বাগদাদ সফর করা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই আয়োজনের ‘প্রতীকী গুরুত্বের’ কথা উল্লেখ করেছেন।

    বৃহস্পতিবার খামেনিকে তার জন্মশহর মাশহাদে দাফন করা হবে। শিয়া ইসলামের অষ্টম ইমামের সমাধিস্থল এবং ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান ইমাম রেজার সমাধিস্থলে তাকে সমাহিত করা হবে, যা প্রতিবছর লাখো মানুষ পরিদর্শন করে।

    এরপর সারা দেশে আরও ৪০ দিন শোকানুষ্ঠান চলবে। দাফনের প্রথম বার্ষিকী পর্যন্ত বিভিন্ন স্মরণসভা ও কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে।

    খামেনির শেষকৃত্য এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

    বিশ্লেষকদের মতে, আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নেতাদের শেষকৃত্য কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এর রাজনৈতিক গুরুত্বও থাকে।

    কারও কারও মতে, এই অনুষ্ঠান ইরানি রাষ্ট্রের জন্য ঐক্যের বার্তা দেওয়া এবং নিজেদের রাজনৈতিক বয়ানকে আরও শক্তিশালী করার একটি সুযোগ। এটি খামেনি-পরবর্তী ক্ষমতার কাঠামো সুসংহত করা এবং তার ছেলে ও উত্তরসূরি মোজতবা খামেনির প্রতি সমর্থন জোরদার করার ক্ষেত্রেও প্রতীকী ভূমিকা রাখতে পারে।

    তবে কেউ কেউ সতর্কও করছেন যে এত বড় পরিসরে জনসমাবেশ হলেও সেটা ইরানের গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন দূর করতে পারবে না।

    ব্যাপক প্রস্তুতি সত্ত্বেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো—মোজতবা খামেনি ও তার ভাইবোনেরা তাদের বাবার দাফনে উপস্থিত থাকবেন কি না।

    কারণ গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে খামেনির ছেলেদের আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। এছাড়া, ২০২৬ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারির এক হামলায় মোজতবা খামেনির স্ত্রীসহ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হওয়ার খবর প্রকাশের পর থেকে তার শারীরিক অবস্থা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

    গত মঙ্গলবার আয়োজক কমিটির সম্পাদক আলী আকবর পুরজামশিদিয়ান বলেন, মোজতবা অনুষ্ঠানে থাকবেন কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের কার্যালয় এবং সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় থেকে জানানো হবে।

    আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জবাব না পাওয়া প্রশ্ন হলো—জানাজার নামাজে কে ইমামতি করবেন। শিয়া ঐতিহ্যে এই ভূমিকার ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উভয় ধরনের তাৎপর্য রয়েছে।

    কয়েকজন পর্যবেক্ষকের মতে, মোজতবা যদি জনসমক্ষে উপস্থিত হন, তাহলে তা ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করা হতে পারে।

  • ইন্দোনেশিয়ার মার্কিন পাইলটকে গুলি করে হত্যা, বিমানে আগুন

    ইন্দোনেশিয়ার মার্কিন পাইলটকে গুলি করে হত্যা, বিমানে আগুন

    ইন্দোনেশিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহীরা দেশটির পাপুয়া অঞ্চলে এক মার্কিন পাইলটকে গুলি করে হত্যা করেছে এবং তার বিমানে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘ওয়েস্ট পাপুয়া ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি’ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার হাইল্যান্ড পাপুয়া প্রদেশে বিমানটি অবতরণ করার পর তারা পাইলট নিকোলাস এফ গসলিংকে হত্যা করে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

    বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দাবি, বেসামরিক পাইলটরা ইন্দোনেশিয়ার সেনাদের এই অঞ্চলে আনা-নেয়ার কাজ করছিল এবং গসলিংয়ের মৃত্যু সেই কাজের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ বার্তা। ইন্দোনেশিয়ার কর্মকর্তারা গসলিংয়ের বিমানটি পুড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও পাইলট এবং বিমানে থাকা সাতজন যাত্রীর ভাগ্যে ঠিক কী ঘটেছে, তা এখনো অস্পষ্ট বলে জানিয়েছেন। প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ এই অঞ্চলের স্বাধীনতা নিয়ে ইন্দোনেশিয়া সরকার এবং ওয়েস্ট পাপুয়ার আদিবাসীদের মধ্যে কয়েক দশক ধরে সংঘাত চলছে।

    ইন্দোনেশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইয়াহুকিমো অঞ্চলের একটি বিমানবন্দরে মার্কিন পাইলট ও সাত যাত্রী বহনকারী বিমানটি পুড়ে যাওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। যে বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটটি উড্ডয়ন করেছিল, সেখানকার পরিচালকের প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তর জানিয়েছে যে পাইলট মারা গেছেন। তবে ঘটনার মূল কারণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের অপেক্ষা করা হচ্ছে। ১৯৬৯ সালে পাপুয়া ইন্দোনেশিয়ার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকে এই সংঘাত শুরু হয়, যার ফলে ব্যাপক বেসামরিক মানুষের মৃত্যু এবং বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে।

    এর আগে ২০২৪ সালে দীর্ঘ আলোচনার পর একই গোষ্ঠীর কাছ থেকে ১৯ মাস বন্দী থাকার পর এক নিউজিল্যান্ডের পাইলট মুক্তি পেয়েছিলেন। তার ঠিক এক মাস আগে এই গোষ্ঠীর বন্দুকধারীরা গ্লেন ম্যালকম কনিং নামে আরেক নিউজিল্যান্ডের হেলিকপ্টার পাইলটকে অবতরণের পরপরই গুলি করে হত্যা করেছিল।

  • পাকিস্তানে বাস খাদে পড়ে নিহত ৪০

    পাকিস্তানে বাস খাদে পড়ে নিহত ৪০

    পাকিস্তানে একটি বাস খাদে পড়ে যাওয়ায় কমপক্ষে ৪০ যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো আট যাত্রী।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) দক্ষিণ-পশ্চিম বেলুচিস্তান প্রদেশ পার হয়ে আসার পরে উত্তর-পশ্চিম খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটি বেলুচিস্তানের শেরানি জেলার দানা সার এলাকা থেকে আসছিল।

    বেলুচিস্তান সরকারের মুখপাত্র শহিদ রিন্দ জানান, হাসপাতালে আহত আটজনের চিকিৎসা চলছে। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে।

    বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি বলেছেন, তিনি ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন।

  • তেহরানে খামেনিকে শ্রদ্ধা জানালেন যেসব দেশের প্রতিনিধিরা

    তেহরানে খামেনিকে শ্রদ্ধা জানালেন যেসব দেশের প্রতিনিধিরা

    ইরানের শহীদ বিপ্লবী নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে শ্রদ্ধা জানাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদল তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় উপস্থিত হয়েছেন।

    বার্তাসংস্থা ইরনা জানিয়েছে, শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় শ্রদ্ধা নিবেদনের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে রাশিয়া, ভারত, চীন, তুরস্ক, ইরাক, বসনিয়া, হার্জেগোভিনা, হাঙ্গেরি ও বাংলাদেশের বিভিন্ন নেতারা এবং পাশাপাশি ইরাকের কাতায়েব হিজবুল্লাহর সদস্যরা শহীদ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    এছাড়া, ইন্দোনেশিয়া ও আফগানিস্তানের আলেম ও ধর্মীয় চিন্তাবিদ, আহমদ মাসউদ (আহমদ শাহ মাসউদের ছেলে), লেবাননের আমাল আন্দোলনের প্রতিনিধিদল, সিরিয়া, লেবানন, ইরাক, মরক্কো ও তুরস্কের প্রতিরোধ ফ্রন্টের প্রতিনিধিরা, আফগানিস্তানের ফাতেমিয়ুন ব্রিগেডের প্রতিনিধি এবং পাকিস্তানের নেতারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

    স্পেন, ইকুয়েডর ও বলিভিয়ার সাংস্কৃতিক কর্মী, বুলগেরিয়ার সংসদ সদস্য ও রিপাবলিকান পার্টির প্রতিনিধিরাও শহীদ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ইরানের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ গোলাম আলী হাদ্দাদ আদেল এবং দেশটির আরো অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    এছাড়া শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর পরিবার, লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলনের কমান্ডাররা, বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিদল, ইরাকের উপজাতীয় নেতা, কুর্দিস্তান অঞ্চলের কুর্দি দলগুলো, ইরাকি সংসদের সদস্য, লেবাননের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং লেবানন, ইরাক ও আফগানিস্তানের গণমাধ্যমকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

    আরো উপস্থিত ছিলেন ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি দল, হিন্দু ধর্মীয় নেতারা, থাইল্যান্ড ও জার্মানির শিয়া প্রতিনিধিরা, রাশিয়ার আলেমদের প্রতিনিধি দল, তুরস্কের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং জর্জিয়ার মুসলিম প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।

    ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, আলি খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে প্রায় ১০০টি দেশের সরকারি প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন গণসংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি আটজন রাষ্ট্রপ্রধান এবং ১২ জন পার্লামেন্ট স্পিকার অংশগ্রহণ করবেন।

  • বুরকিনা ফাসোয় সেনা-বিদ্রোহী তুমুল সংঘর্ষ, নিহত ৪০০

    বুরকিনা ফাসোয় সেনা-বিদ্রোহী তুমুল সংঘর্ষ, নিহত ৪০০

    আন্তজাতিক ডেস্ক:

    পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোর বিভিন্ন সামরিক অবস্থানে বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একটি বড় ধরনের সমন্বিত হামলা প্রতিহত করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

    সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় কমপক্ষে ৪০০ জন বিদ্রোহী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল মুসা দিয়ালো।
    বুধবার (১ জুলাই) গভীর রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে দেশটির সেনাবাহিনী এ তথ্য জানায়

    এতে বলা হয়, গত ৩০ জুন সিরবা অঞ্চলের গায়েরি ও লিপতাকো অঞ্চলের সোলহান এবং সেব্বায় জাতীয় সশস্ত্র বাহিনী (এফএএন) ও স্বদেশ প্রতিরক্ষা স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর (ভিডিপি) অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

    সেনাবাহিনীর ভাষ্য, বিমানবাহিনীর সহায়তায় স্থলবাহিনী তাৎক্ষণিক পাল্টা অভিযান চালায়। লক্ষ্যভিত্তিক বিমান হামলা ও স্থল অভিযানে ৪০০ জনের বেশি হামলাকারী নিহত হন।

    এ সময় ২৫০টির বেশি মোটরসাইকেল, বিভিন্ন ধরনের ৩৫৩টি অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং যোগাযোগ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

    সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সংঘর্ষে তাদের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন সোলহানে ও একজন গায়েরিতে নিহত হন। বিবৃতিতে বলা হয়, পালিয়ে যাওয়া হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    একই সঙ্গে নাগরিকদের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করা, নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    এদিকে সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে সমন্বিত হামলার ঘটনাকে বুরকিনা ফাসোর ফ্রান্সের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

    সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, ফ্রান্স সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। সূত্র: আনাদোলু, টিআরটি ওয়ার্ল্ড

  • কঙ্গোয় ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব, প্রাণহানি ৪০০ ছাড়াল

    কঙ্গোয় ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব, প্রাণহানি ৪০০ ছাড়াল

    আফ্রিকার মধ্যাঞ্চলীয় দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় (ডিআর কঙ্গো) ইবোলার প্রাদুর্ভাবে ৪০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দেশটির সরকারি পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    দেশটির জাতীয় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের (আইএনএসপি) সবশেষ পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, গত ১৫ মে দেশটিতে ইবোলার প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে অত্যন্ত সংক্রামক এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪০৬ জন। তাদের মধ্যে অন্তত ৪৩৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই রোগে আক্রান্তদের মৃত্যুর হার ৩১ শতাংশের কিছু বেশি।

    ইবোলা প্রাদুর্ভাবের মূল কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান শহর কিসাঙ্গানিতেও সম্প্রতি প্রথম একজন ইবোলা রোগী শনাক্তের খবর পাওয়া গেছে। আইএনএসপি বলেছে, ২৪ বছর বয়সী এক গর্ভবতী নারীর মরদেহের নমুনা পরীক্ষার ফল ইবোলা পজিটিভ এসেছে।

    দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলেছে, নিহত ওই নারীর মরদেহ ইতুরি প্রদেশের নিয়া নিয়া স্বাস্থ্য অঞ্চল থেকে মোটরসাইকেলে করে গোপনে কিসাঙ্গানিতে নিয়ে আসা হয়েছিল। প্রায় ১৫ লাখ বাসিন্দার শহর এবং শোপো প্রদেশের রাজধানী কিসাঙ্গানি।

    ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তির শরীর অত্যন্ত সংক্রামক থাকে এবং অনেক ক্ষেত্রেই দাফন বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার নজির রয়েছে। ইবোলার বুন্দিবুগিও ধরনের কারণে এই প্রাদুর্ভাবের সৃষ্টি হয়েছে। ইবোলার অত্যন্ত সংক্রামক এই ধরনের কোনও টিকা কিংবা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।

    তবে এ বিষয়ে কিছু প্রতিষেধকের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শিগগিরই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। দেশটিতে চলমান প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল ছিল উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে। দেশটিতে ইবোলায় মোট মৃত্যুর ৮৩ শতাংশেরও বেশি ঘটনা ঘটেছে এই প্রদেশে। তবে ইবোলার প্রকৃত ব্যাপকতা নিরূপণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

    কঙ্গোর এই প্রদেশটির সঙ্গে উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানের সীমান্ত রয়েছে। ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ইতোমধ্যে পার্শ্ববর্তী উত্তর কিভু এবং দক্ষিণ কিভু প্রদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে।

    ইবোলা ভাইরাসের বৈজ্ঞানিক নাম ‘অর্থোইবোলাভাইরাস জাইরেন্স’। এ পর্যন্ত ইবোলার ছয়টি ধরন বা প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে। সেগুলো হলো—জাইর, সুদান, বুন্দিবুগিও, রেস্টন, তাই ফরেস্ট ও বোম্বালি। ২০১৪ সাল থেকে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঘটিয়েছে ‘জাইর’ প্রজাতিটি। তবে কঙ্গো এবং উগান্ডায় প্রাদুর্ভাবের জন্য ইবোলার যে ভাইরাসটিকে দায়ী করা হচ্ছে, সেটি বুন্দিবুগিও প্রজাতি।

    ইবোলার প্রধান শিকার মানুষ এবং প্রাইমেট গোত্রীয় বিভিন্ন প্রাণী যেমন শিম্পাঞ্জি, গরিলা, ওরাংওটাং প্রভৃতি। এটি বাহুবাহিত কোনও রোগ নয়। আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণীর রক্ত, লালা, ঘাম, বমি, মল-মূত্র বা অন্যান্য শারীরিক তরলের সাথে সরাসরি সংস্পর্শে এলে এই ভাইরাস ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত সুঁই বা কাপড় থেকেও এটি সংক্রমিত হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির প্রত্যক্ষ ও ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে, এমনকি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আচার-অনুষ্ঠানের সময় মৃতদেহের সরাসরি সংস্পর্শ থেকেও ছড়াতে পারে ভাইরাসটি।

    ফলখেকো বাদুড়কে ইবোলার প্রাকৃতিক বাহক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এই বাদুড় নিজে ইবোলায় আক্রান্ত হয় না; শুধু ভাইরাসটি বহন করে। এছাড়া বনমানুষ, হরিণ ও সজারু এই ভাইরাস বহন করে এবং মানুষের শরীরে ছড়িয়ে দিতে পারে।

    ইবোলার উপসর্গগুলো হলো—হঠাৎ তীব্র জ্বর এবং তার সঙ্গে প্রচণ্ড শারীরিক দুর্বলতা-ক্লান্তি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা, ডায়রিয়া ও বমি, শরীরের বিভিন্ন অংশে ফুসকুড়ি, লিভার ও কিডনির কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়া, এবং শেষ পর্যায়ে নাক, মুখ কিংবা মলদ্বার দিয়ে তীব্র অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রক্তক্ষরণ। সাধারণত ভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় দিন থেকেই এসব উপসর্গ দেখা দেওয়া শুরু করে।

    বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না বলে অন্যান্য ভাইরাসজনিত রোগের তুলনায় কম সংক্রামক ইবোলা। তবে এই রোগে আক্রান্তদের মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি। ইবোলার চূড়ান্ত পর্যায়ে নাক-মুখ ও মলদ্বার দিয়ে অব্যাহত রক্তপাতের জেরে মৃত্যু হয় রোগীর। এজন্য ইবোলাকে ‘হেমারোজিক ফিভার’ বা রক্তক্ষরণ জ্বরও বলা হয়।

    গড় হিসেবে ইবোলায় মৃত্যুহার ৫০ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোতে সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পরিলক্ষিত হয়েছে। গত ৫০ বছরে আফ্রিকায় এই রোগে ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন।

  • মার্কিন প্রেসিডেন্ট হয়েও ট্রাম্পের মতো অর্থের এমন নেশা আগে কি কারও ছিল, এটি কতটা নৈতিক

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট হয়েও ট্রাম্পের মতো অর্থের এমন নেশা আগে কি কারও ছিল, এটি কতটা নৈতিক

    সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসনের স্ত্রী লাভজনক একটি রেডিও স্টেশনের মালিক ছিলেন। জর্জ ডব্লিউ বুশের বাবা যখন হোয়াইট হাউসে ছিলেন, তখন বুশ নিজে একটি তেল কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে ছিলেন। আর জো বাইডেন যখন ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখন তাঁর ছেলে হান্টার বাইডেন ইউক্রেনীয় একটি প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি থেকে অর্থ নিতেন।

    তবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ডোনাল্ড জে ট্রাম্পের মতো এমন উদাহরণ আগে কখনো দেখা যায়নি। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার প্রথম বছরেই ট্রাম্প ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসা থেকে প্রায় ১৪০ কোটি ডলার আয় করেছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে নেওয়া তাঁর বিভিন্ন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন ব্যবসা থেকে লাভবান হয়েছেন।

    সব মিলিয়ে ২০২৫ সালে ট্রাম্পের আয় বেড়ে অন্তত ২২০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। অথচ ক্ষমতায় ফেরার আগে ২০২৪ সালে তাঁর ন্যূনতম আয় ছিল ৬২ কোটি ২০ লাখ ডলার।

    কর আইনজীবী ও ‘অল দ্য প্রেসিডেন্টস মানি’ বইয়ের লেখক মেগান গোরম্যান বিষয়টিকে ‘সম্পূর্ণ নজিরবিহীন’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি ২৫০ বছরের মার্কিন প্রেসিডেন্টদের সম্পদের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করেছেন।

    গোরম্যান ও অন্যান্য ইতিহাসবিদ বলেন, সাধারণত মার্কিন প্রেসিডেন্টরা নিজেদের করপোরেট সংশ্লিষ্টতা থেকে দূরে রাখতেন। স্বার্থের সংঘাত এড়াতে তাঁরা সব সময় সচেতন থাকতেন।

    ইতিহাসবিদ লিন্ডসে এম চারভিনস্কি বলেন, ‘সরকারি পদ ছিল ঋণের উৎস, আয়ের নয়।’ তিনি মাউন্ট ভার্ননের জর্জ ওয়াশিংটন প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরির নির্বাহী পরিচালক।

    ট্রাম্প ও তাঁর পরিবার ঠিক তার উল্টোটা করেছেন। তাঁরা নতুন নতুন ব্যবসা শুরু করেছেন। হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্পের নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তে এসব ব্যবসা ফুলেফেঁপে উঠছে।

    উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গত অক্টোবরে ট্রাম্প ক্রিপ্টোজগতের শীর্ষ ধনী চ্যাংপেং ঝাওকে ক্ষমা করে দেন। ঝাও হলেন বিশ্বখ্যাত ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সের প্রতিষ্ঠাতা। ট্রাম্প পরিবারের নিজস্ব ক্রিপ্টো ব্যবসার অন্যতম প্রধান অংশীদার এই বাইন্যান্স।

    এ ছাড়া গত জুলাইয়ে ট্রাম্প ‘স্ট্যাবলকয়েন’ নামে একধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সিকে উৎসাহিত করতে একটি আইনে সই করেন। ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নিজেদের ‘স্ট্যাবলকয়েন’ বাজারে আনার মাত্র চার মাস পরই তিনি এই আইনে সই করলেন।

    মেগান গোরম্যান মনে করেন, ট্রাম্পের এই কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক চুক্তির সঙ্গে একধরনের বিশ্বাসঘাতকতা। কারণ, জর্জ ওয়াশিংটনের সময় থেকেই নীতিটি প্রচলিত যে—দেশের নেতারা নিজের স্বার্থের চেয়ে দেশকেই বড় করে দেখবেন।

    হোয়াইট হাউস ও ট্রাম্প পরিবার বারবার প্রেসিডেন্টের আয়সংক্রান্ত সব প্রশ্ন নাকচ করে দিয়েছে। তারা যুক্তি দিয়েছে, ট্রাম্পের দুই বড় ছেলে—এরিক ট্রাম্প ও ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র পারিবারিক ব্যবসা পরিচালনা করেন। ফলে এখানে স্বার্থের কোনো সংঘাত নেই

    হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি মে মাসের শেষে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেবল মার্কিন জনগণের স্বার্থেই কাজ করেন।’ ডেল টেকনোলজিসের মতো কোম্পানিতে ট্রাম্পের পক্ষে শেয়ার কেনা নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তখন তিনি এই মন্তব্য করেন।

    কেলি আরও বলেন, ভুয়া সংবাদমাধ্যমগুলো বছরের পর বছর ধরে ট্রাম্প ও তাঁর ব্যবসার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেছে। এসব অভিযোগ সত্য নয় বলেই জনগণ তাঁকে বিপুল ভোটে আবার নির্বাচিত করেছেন।

    ট্রাম্পের নতুন আয়ের সিংহভাগই এসেছে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রাশিল্প থেকে। ২০২৪ সালের শেষের দিকে ট্রাম্প যখন দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে, তখন তাঁর পরিবার এই খাতে আক্রমণাত্মকভাবে বিনিয়োগ শুরু করে।

    ট্রাম্প তাঁর পারিবারিক ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্স’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা। মঙ্গলবার প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, এই ব্যবসা থেকে প্রেসিডেন্টের ৭৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার আয় হয়েছে। এই আয়ের একটি বড় অংশ এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছ থেকে। আমিরাত সরকার ওই কোম্পানির শেয়ার কিনেছে।

    ট্রাম্পের অভিষেকের তিন দিন আগে তিনি ‘$TRUMP’ নামে একটি মিমকয়েন চালুর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেন। এটি এক বিশেষ ধরনের ক্রিপ্টো টোকেন। প্রকাশিত তথ্যমতে, এই ব্যবসা থেকে তিনি নতুন করে আরও ৬৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার আয় করেছেন। এই আয়ের পরিমাণ ২০২৪ সালে সারা বিশ্বে তাঁর পরিচালিত অন্যান্য সব ব্যবসার মোট আয়ের চেয়েও সামান্য বেশি।

    ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) একটি বিবৃতি দেয়। সেখানে বলা হয়, এ ধরনের টোকেনগুলো আর কমিশনের নজরদারির আওতায় থাকবে না। বাইডেন প্রশাসনের সময় সংস্থাটির চেয়ারম্যান যে অবস্থান নিয়েছিলেন, এ সিদ্ধান্ত ছিল তার ঠিক উল্টো। এই সিদ্ধান্তের ফলে ট্রাম্পের মিমকয়েন ব্যবসা সরাসরি লাভবান হয়।

    সৌদি আরবের এক আবাসন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রিয়েল এস্টেট চুক্তি থেকেও ট্রাম্প ও তাঁর ছেলেরা কোটি কোটি ডলার আয় করেছেন। এই চুক্তির সঙ্গে সৌদি সরকারও জড়িত। এ ছাড়া ভিয়েতনাম ও রোমানিয়াতেও তাঁদের রিয়েল এস্টেট ব্যবসা থেকে বড় অঙ্কের অর্থ এসেছে।মার্কিন ডলার

    তবে ট্রাম্পের এই আয়ের হিসাবে তাঁর ছেলেদের কিছু ব্যবসার মুনাফা ধরা হয়নি। তাঁর ছেলেরা সম্প্রতি সামরিক ঠিকাদারি ও ‘প্রেডিকশন মার্কেট’ কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছেন। এ ছাড়া খনিজ সম্পদ উত্তোলনের খনি তৈরির জন্য তাঁরা কোটি কোটি ডলারের সরকারি সহায়তারও চেষ্টা করছেন। এসব খাত থেকে ট্রাম্প সরাসরি টাকা না পেলেও তাঁর পরিবার বড় অঙ্কের মুনাফা অর্জন করছে।

    ২০১৭ সালে ট্রাম্প যখন প্রথম মেয়াদে ওয়াশিংটনে আসেন, তখন তিনি ও তাঁর পরিবার নতুন কোনো আন্তর্জাতিক ব্যবসা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। হোয়াইট হাউসে থাকার সুযোগ নিয়ে তাঁরা লাভবান হচ্ছেন—এমন অভিযোগ এড়াতেই এই চুক্তি করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও স্বার্থের সংঘাত নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। বিদেশি সরকারি প্রতিনিধিদের সফর এবং ট্রাম্পের হোটেল ও অন্যান্য স্থাপনায় লবিস্টদের খরচ করা নিয়ে এসব বিতর্ক তৈরি হয়।

    দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হওয়ার পর ট্রাম্প পরিবার মুনাফা অর্জনের ব্যাপারে কোনো রাখঢাক রাখছে না। তারা অত্যন্ত আক্রমণাত্মকভাবে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

    ২০২৪ সালের নির্বাচনের ঠিক আগে এরিক ট্রাম্প দাবি করেন, ‘প্রথম মেয়াদে কোনো ধরনের অনৈতিকতা এড়াতে আমরা সম্ভাব্য সবকিছুই করেছিলাম। কিন্তু সত্যি বলতে, আমরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।’ তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্সির কারণে তাঁর বাবাকে বিশাল অঙ্কের সম্পদ হারাতে হয়েছে।

    এরিক আরও যোগ করেন, ‘আমরা চিরকাল হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না, আর আমি তা করবও না।’

    ট্রাম্পের ছেলেরাই মূলত ব্যবসা পরিচালনা করেন। ট্রাম্প প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার পর কিছু ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছিল। আইনিভাবে তাঁরাই সেসব ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণ করেন এবং ব্যবসার আয় সংগ্রহ করেন। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই এসব ট্রাস্টের সুবিধাভোগী। ফলে এই ব্যবসায়িক চুক্তিগুলো থেকে পরোক্ষভাবে তিনিই লাভবান হচ্ছেন।

    বিপরীতে আধুনিক সময়ের অধিকাংশ মার্কিন প্রেসিডেন্টই তাঁদের মালিকানাধীন ব্যবসা বা শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, জর্জ ডব্লিউ বুশ নির্বাচনের আগেই টেক্সাস রেঞ্জার্স বেসবল দলের শেয়ার বিক্রি করেছিলেন। অন্যদিকে জিমি কার্টার তাঁর চীনাবাদাম খামারের দায়িত্ব একজন স্বতন্ত্র ট্রাস্টির হাতে তুলে দিয়েছিলেন।

    মার্কিন প্রেসিডেন্টদের নিয়ে গবেষণা করা ইতিহাসবিদেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন কোনো প্রেসিডেন্টের নজির নেই। হোয়াইট হাউসে যাওয়ার ঠিক আগে নতুন ব্যবসায় নামা এবং মেয়াদে থাকাকালে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার উদাহরণ আগে আর দেখা যায়নি। বরং ইতিহাসবিদেরা সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত এড়ানোর বিভিন্ন চেষ্টার উদাহরণ দিয়েছেন।

    প্রেসিডেন্ট ওয়ারেন জি হার্ডিং ক্ষমতায় থাকাকালে ওহাইওর একটি সংবাদপত্রের মালিক ছিলেন। এটি প্রায় চার দশক ধরে তাঁদের পারিবারিক মালিকানায় ছিল। তবে তাঁর বিনিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ১৯২৩ সালে মৃত্যুর কিছুদিন আগে তিনি পত্রিকাটি বিক্রি করতে রাজি হয়েছিলেন।

    এলবিজে ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী ও ইতিহাসবিদ মার্ক কে আপডেগ্রোভ বলেন, প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি আততায়ীর হাতে নিহত হওয়ার পর যখন জনসন হোয়াইট হাউসে আসেন, তখন তাঁর স্ত্রী লেডি বার্ড জনসন নিজেদের রেডিও ও টেলিভিশন স্টেশনগুলো একটি ট্রাস্টের হাতে ছেড়ে দেন। বাইরের একজন আইনজীবী ও স্টেশন নির্বাহী সেই ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণ করতেন।

    সাউদার্ন মেথডিস্ট ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর প্রেসিডেন্সিয়াল হিস্ট্রির পরিচালক জেফরি এ অ্যাঙ্গেল বলেন, ‘প্রেসিডেন্টরা সব সময় তাঁদের সিদ্ধান্ত বা জনস্বার্থের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, এমন বিষয় থেকে দূরে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস যেন ঠিক উল্টো পথে হাঁটছে। তাঁরা মনে করেন, তাঁরা এত বেশি ব্যবসা করবেন যে মানুষ বিষয়টিকে আর অস্বাভাবিক ভাববে না।’

    প্রেসিডেন্টদের সন্তান বা ভাইবোনেরা যখন ব্যবসায়িক চুক্তি করেছেন, তখন তা নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। গত বছর ট্রাম্প সরাসরি যে পরিমাণ অর্থ আয় করেছেন, সেই তুলনায় আগের প্রেসিডেন্টদের স্বজনদের ব্যবসা ছিল খুবই ছোট। তা সত্ত্বেও সংবাদমাধ্যমে এসব নিয়ে তখন ব্যাপক আলোচনা–সমালোচনা হয়েছিল।

    উদাহরণ হিসেবে জিমি কার্টারের ভাইয়ের প্রবর্তিত ‘বিলি বিয়ার’ ব্র্যান্ডের কথা বলা যায়। এ ছাড়া ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের ছেলে জেমস রুজভেল্টের নামও আসে। জেমস একটি বিমা কোম্পানির আংশিক মালিক ছিলেন। তাঁর কোম্পানি বড় মার্কিন প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার কাছে বিমা পলিসি বিক্রি করত। অথচ তখন তিনি তাঁর বাবার উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছিলেন।

    দ্য স্যাটারডে ইভিনিং পোস্ট এবং দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জেমস রুজভেল্টের বিমা ব্যবসা নিয়ে বড় প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। এটি ‘জিমিস গট ইট’ কেলেঙ্কারি নামে পরিচিতি পায়। শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের ছেলেকে তাঁর সরকারি পদ ছাড়তে হয়েছিল।

    ইতিহাসবিদেরা বলছেন, ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারের বর্তমান কর্মকাণ্ড এই ঐতিহ্যের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। স্বার্থের সংঘাত নিয়ে আগে যেমন সতর্কতা দেখা যেত, এখন তা আর নেই।

    এর একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হলো জ্যারেড কুশনার। তিনি তাঁর শ্বশুর ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক পররাষ্ট্রনীতি উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। অন্যদিকে তাঁর প্রাইভেট ইকুইটি ফার্ম মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সার্বভৌম তহবিল থেকে কয়েক শ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে।

    ইতিহাসবিদ আপডেগ্রোভ বলেন, তাঁরা যা করছেন তা অত্যন্ত খোলামেলা এবং বেপরোয়া। প্রায় গর্বের সঙ্গেই তাঁরা সরকারি পদ ব্যবহার করে ব্যবসা করছেন। এটাই বর্তমান পরিস্থিতিকে আগের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা ও নাটকীয় করে তুলেছে।

  • ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের ‘প্রজনন গণহত্যা’, ১৮৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে উঠে এল যে ভয়াবহ তথ্য

    ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের ‘প্রজনন গণহত্যা’, ১৮৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে উঠে এল যে ভয়াবহ তথ্য

    গত কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ‘প্রজনন গণহত্যা’ চালিয়ে আসছে ইসরাইল। চিকিৎসা অবকাঠামো ধ্বংস, নারী ও শিশুদের হত্যা এবং পরিবেশকে এমন পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে, যার পরিণতিতে দেখা দিচ্ছে বন্ধ্যত্ব। নতুন এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    ‘ফিলিস্তিন ফেমিনিস্ট কালেক্টিভ’-এর ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলার পর গাজায় ইসরাইলি নিধনযজ্ঞ শুরু হলে এই চর্চা আরও ত্বরান্বিত হয়। ফিলিস্তিনিদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অসম্ভব করে তোলাই এর মূল উদ্দেশ্য।

    গত সপ্তাহে ফিলিস্তিন ও ইসরাইল বিষয়ক জাতিসংঘের শীর্ষ তদন্ত সংস্থা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, গাজায় হামলার প্রধান অংশ হিসেবে ইসরাইলি বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

    জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে শিশুদের ওপর হওয়া ক্ষতির পুরো চিত্র খতিয়ে দেখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্নাইপার ও ড্রোনের মাধ্যমে নিখুঁত গুলি, আটক অবস্থায় নির্যাতন, প্রজননগত সহিংসতা এবং স্কুল ও হাসপাতাল ধ্বংসের মতো বিষয়গুলো।

    জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইল ২১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি শিশুকে হত্যা করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আরও ৫ হাজার ১৬০ জন শিশু ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত অন্তত ১৫ হাজার শিশু তাদের মাকে হারিয়েছে।

    জাতিসংঘের নথিবদ্ধ করা একটি ঘটনায় দেখা যায়, আল-নাসর শিশু হাসপাতালে ইসরাইলি বাহিনী বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় চার নবজাতকের মৃত্যু হয়। পরে বিকল হয়ে যাওয়া লাইফ সাপোর্ট মেশিনের সঙ্গে যুক্ত অবস্থায় তাদের পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

    গণহত্যার শুরুতে জাতিসংঘের হিসাবে গাজায় ৫০ হাজার অন্তঃসত্ত্বা নারী ছিলেন এবং প্রতি মাসে ৫ হাজার ৫০০ শিশু জন্ম নিচ্ছিল। অনেকেরই জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল, যা ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর কারণে অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

    সে সময় গর্ভপাতের হার ৩০০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে যায়। ব্যাপক অপুষ্টি, রক্তশূন্যতা এবং প্রসবপূর্ব প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবে অকাল জন্ম, কম ওজনের শিশু এবং প্রসবের সময় মারাত্মক রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

    ‘একটি শিকারি রাষ্ট্র’

    প্রগ্রেসিভ ইন্টারন্যাশনালের সহায়তায় প্রস্তুত করা ১৮৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটির শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘এ প্রিডেটরি স্টেট: ইসরাইলি সিস্টেমিক সেক্সুয়ালাইজড অ্যান্ড জেন্ডারড ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট প্যালেস্টাইনস’ (একটি শিকারি রাষ্ট্র: ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের পদ্ধতিগত যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা)। এতে উল্লেখ করা হয়, ইসরাইল গাজায় বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটারি প্যাড ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়ায় অনেক ফিলিস্তিনি নারী ‘মাসিক বন্ধ করতে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি বা ঘরে তৈরি প্যাড ব্যবহার করতে বাধ্য হন’।

    ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত পরিচালিত গবেষণার ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য, ইসরাইলের প্রকাশ করা গোপন নথি, ফিলিস্তিনিদের মৌখিক ইতিহাস, একাডেমিক গবেষণা, প্রামাণ্য দলিল, গণমাধ্যমের খবর, মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নথি এবং জাতিসংঘের প্রতিবেদন ও বিবৃতি যুক্ত করা হয়েছে।

    গাজার বোমা বিধ্বস্ত হাসপাতালগুলোতে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, অ্যানেসথেসিয়া বা জীবাণুমুক্ত সরঞ্জাম নেই। ফলে ফিলিস্তিনি নারীরা ভিড়ভাট্টাপূর্ণ আশ্রয়কেন্দ্র, ঘরবাড়ি বা ধ্বংসস্তূপে ঘেরা রাস্তায় সন্তান জন্ম দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

    গাজায় কাজ করা আন্তর্জাতিক চিকিৎসকেরা অ্যানেসথেসিয়া ছাড়া সিজারিয়ানসহ নানা অস্ত্রোপচার করার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। সদ্য মা হওয়া নারীরা ডায়াপার, খাবার, পানি ও শিশুর গুঁড়ো দুধের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাচ্ছেন না, যা বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় খুব সাধারণ বিষয়।

    প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গাজার ওপর ইসরাইলের এই হামলা আংশিকভাবে ‘প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং অন্যান্য দৈনন্দিন অবকাঠামোর পদ্ধতিগত ধ্বংসের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে, যা ফিলিস্তিনিদের জীবনকে কেবল ঝুঁকিপূর্ণই নয়, অসম্ভব করে তুলেছে।’

    ইসরাইল গাজার প্রসূতি ওয়ার্ড ও আইভিএফ ক্লিনিকগুলো ধ্বংস করেছে। ফিলিস্তিন ফেমিনিস্ট কালেক্টিভ জানিয়েছে, সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত সাদা ফসফরাস এবং অন্যান্য বিষাক্ত অস্ত্রের ব্যবহার ‘প্রজননক্ষমতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি ও বংশানুক্রমিক প্রভাব ফেলবে’।

    হাজার হাজার ফিলিস্তিনি মা বিধবা বা রাজবন্দিদের স্ত্রী হিসেবে তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ও রক্ষাকর্তা হিসেবে বেঁচে আছেন। অন্যদিকে পদ্ধতিগত উচ্ছেদ ও কারাবাসের কারণে আরও হাজার হাজার নারী তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ব্যাপক অনাহার, বাস্তুচ্যুতি এবং রোগের প্রাদুর্ভাব সত্ত্বেও গাজার ফিলিস্তিনি মায়েদের ওপর নতুন জীবনের জন্ম দেওয়া এবং সন্তানদের যত্ন নেওয়ার মতো অসম্ভব দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

    ফিলিস্তিন ফেমিনিস্ট কালেক্টিভ গাজার দুই নারী রানিয়া আবু আনজা এবং জোমানা আরাফার ঘটনা বিশেষভাবে তুলে ধরেছে।

    আবু আনজা ১০ বছর ধরে আইভিএফ চিকিৎসা নেওয়ার পর অবশেষে নাঈম ও উইসাম নামে যমজ সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু ২০২৪ সালের মার্চে এক ইসরাইলি বিমান হামলায় স্বামীসহ তার ওই দুই শিশু প্রাণ হারায়।

    জোমানা আরাফা যমজ সন্তানের জন্ম দেওয়ার দুদিনের মাথায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ঘোষিত ‘নিরাপদ মানবিক অঞ্চলে’ আশ্রয় নেওয়া অবস্থায় তার দুই শিশু এবং নিজ মাসহ নিহত হন। তার স্বামী নবজাতকদের জন্মনিবন্ধন আনতে যাওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান।

    প্রতিবেদনে এসব ঘটনাকে কেবল ‘হিমশৈলের চূড়া’ বা বিশাল ঘটনার সামান্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের ওপর গঠিত স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন জানিয়েছে, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী পরিকল্পিতভাবে প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়েছে। প্রসূতি ওয়ার্ড, প্রসবপূর্ব চিকিৎসা কেন্দ্র, ফার্টিলিটি ক্লিনিক এবং নবজাতকদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রগুলো প্রায় ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

    গাজার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সেখানে ইসরাইলের কঠোর খাদ্য নিষেধাজ্ঞার কারণে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।

    ফিলিস্তিনিদের বংশবৃদ্ধি নিয়ে ইসরাইলের ঐতিহাসিক ভয়ের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৫ সালে ইসরায়েলি ভূগোলবিদ আরনন সোফার সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘ইসরায়েল সবচেয়ে বড় যে হুমকির সম্মুখীন, তা হলো আরব নারীদের গর্ভ।’ তিনি দাবি করেছিলেন, ফিলিস্তিনিদের জন্মহার ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।

    ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী (১৯৬৯-১৯৭৪) গোল্ডা মেয়ার মন্তব্য করেছিলেন যে, ‘আরও একটি ফিলিস্তিনি শিশু জন্ম নিতে যাচ্ছে’—এই ভাবনা থেকেই তার দুঃস্বপ্ন শুরু হতো।

    ফিলিস্তিন ফেমিনিস্ট কালেক্টিভের এ প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের জন্য নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি ফ্রান্সেসকা আলবানিজ বলেন, ‘এটি এমন একটি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ, যা ফিলিস্তিনিদের জীবন—দেহ, বসতবাড়ি, পরিবার, প্রজননগত অস্তিত্ব এবং এমনকি মৃতদেরও নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ারে পরিণত করেছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এখন এটা বোঝার সময় এসেছে যে, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধগুলো—যার মধ্যে এই প্রতিবেদনে নিখুঁতভাবে তুলে ধরা যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতাও অন্তর্ভুক্ত—কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো নির্যাতনের সমষ্টি নয়; বরং এটি আধিপত্য বিস্তার, নিপীড়ন এবং নিশ্চিহ্ন করার একটি সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা।’

  • পারমাণবিক স্থাপনায় বিদেশিদের প্রবেশাধিকার নিয়ে কড়া অবস্থানে ইরান

    পারমাণবিক স্থাপনায় বিদেশিদের প্রবেশাধিকার নিয়ে কড়া অবস্থানে ইরান

    ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছে, এমন খবরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বৃহস্পতিবার আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শিকার ফোরডো ফুয়েল এনরিচমেন্ট প্ল্যান্ট, নাতাঞ্জ নিউক্লিয়ার ফ্যাসিলিটি এবং ইসফাহান নিউক্লিয়ার টেকনোলজি সেন্টারে আইএইএ পরিদর্শকদের প্রবেশ বা পরিদর্শনের কোনো অধিকার নেই।

    তিনি জানান, বর্তমানে আইএইএ পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার কেবল দুটি স্থাপনায় সীমাবদ্ধ, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং তেহরান গবেষণা চুল্লি।

    গালিবাফ আরও বলেন, এসব স্থাপনায় আইএইএ-র প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে ইরানের পার্লামেন্ট ইতোমধ্যে একটি আইন পাস করেছে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদেও এ বিষয়ে একটি সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে।

    এর আগে আইএইএ মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বলেছিলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার আওতায় সংস্থাটির পরিদর্শকদের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশ করে পরিদর্শন করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগির তারা সেখানে যেতে পারবেন।

  • হরমুজ যুক্তরাষ্ট্রের খেলার মাঠ নয়-ইরান

    হরমুজ যুক্তরাষ্ট্রের খেলার মাঠ নয়-ইরান

    হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজকে ইরান নির্ধারিত সামুদ্রিক রুট অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। অন্যথায় এর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক সদর দপ্তর জানায়, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপের জবাব সশস্ত্র বাহিনী দ্রুত ও কঠোরভাবে দেবে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালি আগ্রাসী আমেরিকার খেলার মাঠ নয়; এটি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের অবিসংবাদিত সার্বভৌমত্বের অংশ।

    সামরিক বাহিনী তাদের বিবৃতিতে আরও বলেছে, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর জন্য একটি রেড লাইন।

    এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে বলেছেন, দেশটির জনগণ বা শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির জবাবে তেহরান তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া জানাবে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তেল আবিবে থাকা পোষ্যদের নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তারা যদি তাদের প্রভুর নির্দেশ অমান্য করে, তবে ইরান তাদের শিক্ষা দেবে।

    আরাগচির এক্স পোস্টটি ছিল ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া। কাটজ দাবি করেছিলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হত্যার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন।

  • খামেনির জানাজার আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে সতর্ক করল ইরান

    খামেনির জানাজার আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে সতর্ক করল ইরান

    প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফনের আগে ইরানের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দেশটির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ না নিতে সতর্কবার্তা দিয়েছে।

    ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং চ্যানেলের বরাতে খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার আলি আবদুল্লাহি এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা ইরানের শত্রুদের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে যেকোনো ভুল পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হুমকি বা আগ্রাসন হলে সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর জবাবের মুখোমুখি হতে হবে।

    সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জান জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা ৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে শুরু হবে। পরে কুম ও ইরাকে স্মরণানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ৯ জুলাই তার জন্মস্থান মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

    উল্লেখ্য, ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রথম দিনে নিহত হন। ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘ সময় দেশটির নেতৃত্ব দেন।

  • খামেনির জানাজায় যোগ দিচ্ছে ভারত

    খামেনির জানাজায় যোগ দিচ্ছে ভারত

    ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন ও জানাজায় অংশ নিতে আগামী ৩ জুলাই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে ভারত। প্রতিনিধি দলে থাকছেন ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্রী পবিত্র মার্গারিটা এবং বিহারের গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইন।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘জানাজায় ভারতের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের গুরুত্বকে তুলে ধরে। একইসঙ্গে এটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার শক্ত ভিত্তিকেও প্রতিফলিত করে।’ খবর আল জাজিরার।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আগামী ৪ জুলাই তেহরানে আলী খামেনির দাফন ও জানাজার শোভাযাত্রা শুরু হবে। পরে ৯ জুলাই তার নিজ শহর মাশহাদে দাফনের মধ্য দিয়ে শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।

    এরা আগে ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৯০টিরও বেশি দেশের আলেম, ধর্মীয় নেতা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা আলি খামেনির বিদায়, জানাজা এবং দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তাকে শ্রদ্ধা জানাতে তাদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।

    ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তাবিষয়ক উপমন্ত্রী এবং আলি খামেনির দাফন ও জানাজা আয়োজন কমিটির সম্পাদক আলি আকবর পুরজামশিদিয়ান জানান, ইতোমধ্যে ৩০টিরও বেশি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠানোর আবেদন করেছে। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।

  • থাইল্যান্ডে শিশুর চালানো পিকআপের ধাক্কায় ৮ সন্ন্যাসী নিহত

    থাইল্যান্ডে শিশুর চালানো পিকআপের ধাক্কায় ৮ সন্ন্যাসী নিহত

    থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মুকদাহান প্রদেশে বৌদ্ধ ধর্মীয় পদযাত্রায় অংশ নেওয়া সন্ন্যাসীদের ওপর ১১ বছর বয়সী এক শিশুর চালানো একটি পিকআপ ট্রাক উঠে গেলে অন্তত আটজন সন্ন্যাসী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২০ জনের বেশি।

    বৃহস্পতিবার পুলিশ ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, ৩৫ জন সন্ন্যাসী এবং পাঁচজন সাধারণ অনুসারী ধর্মীয় তীর্থযাত্রার অংশ হিসেবে সড়কের পাশে হেঁটে যাওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী সন্ন্যাসী ফ্রা সোমপং জানান, তিনি একটি পিকআপ ট্রাককে তাদের দিকে এগিয়ে আসতে দেখেছিলেন। তখন তিনি ‘বুদ্ধো, বুদ্ধো’ মন্ত্র জপ করছিলেন। হঠাৎ ট্রাকটি দ্রুতগতিতে এসে শোভাযাত্রার ওপর উঠে যায়।

    তিনি বলেন, ‘আমি ও আরেকজন সন্ন্যাসী সময়মতো লাফ দিয়ে সরে যেতে পেরেছিলাম। তবে সামনের কয়েকজন বেঁচে গেলেও পেছনের অনেককে ট্রাকটি সজোরে ধাক্কা দেয় এবং তারা ছিটকে পড়ে।’

    পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলেই পাঁচজন সন্ন্যাসীর মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজন মারা যান।

    প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পিকআপটি চালাচ্ছিল ১১ বছর বয়সী এক শিশু, যে তার বাবা-মায়ের গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিল। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

  • বিরোধ তুঙ্গে, সৌদি থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    বিরোধ তুঙ্গে, সৌদি থেকে সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে। ওয়াশিংটনের যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তে রিয়াদ ক্ষুব্ধ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরব থেকে মার্কিন সেনা কমিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্যের একটি গোয়েন্দা সূত্র টাইমস অব ইসরাইলকে জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক আগের তুলনায় অনেক বেশি শীতল হয়ে পড়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে একই ধরনের তথ্য জানিয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলো নিরাপদে বের করে এনে ইরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেছিল। এ অভিযানে সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের প্রয়োজন ছিল। তবে সৌদি সরকার এতে অনুমতি না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পনাটি বাতিল করতে বাধ্য হয়।

    সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় দুই দিনেরও কম সময়ের মধ্যে তিনি ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন।

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, সৌদি আরবের এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে হোয়াইট হাউস রিয়াদের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ স্থগিত রাখার হুমকি দেয়। সৌদি আরব এসব ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করছিল।

    মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র এখন সৌদি আরবে তাদের সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

    গত সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপসাগরীয় অঞ্চল সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইন গেলেও সৌদি আরব সফর করেননি। রিয়াদ এটিকে কূটনৈতিক অবজ্ঞা হিসেবে দেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    এর এক সপ্তাহ আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন। ওই সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় ওয়াশিংটনের ভূমিকার প্রতি সৌদি অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    প্রতিবেদন বলছে, যুদ্ধ শুরুর আগে সৌদি আরব ট্রাম্প প্রশাসনকে সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিল। রিয়াদের আশঙ্কা ছিল, ইরানের সরকার উৎখাতের চেষ্টা সফল না হলে তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে।

    তবে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ শুরু করলে সৌদি নেতৃত্বের মধ্যে এ ধারণা তৈরি হয় যে, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার পরও মার্কিন নীতিনির্ধারণে তাদের প্রভাব খুবই সীমিত।

    যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমে অনীহা থাকলেও সৌদি আরবসহ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়। কারণ, ইরানের পাল্টা হামলার বড় চাপ তাদেরই মোকাবিলা করতে হচ্ছিল।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবও ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোতে কয়েকটি হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপর যুদ্ধের উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেয় রিয়াদ।

    বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ধারাবাহিক হামলা নিয়ে সৌদি আরব উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের আশঙ্কা ছিল, এতে আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামো আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে। রিয়াদ চেয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র যেন আমিরাতকে হামলা বন্ধ করে কূটনৈতিক উদ্যোগে যোগ দিতে চাপ দেয়।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত এক বছরে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে যে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে, ইরান ইস্যু তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গত এপ্রিলে আমিরাত সৌদি নেতৃত্বাধীন ওপেক জোট থেকে সরে যায়।

    যুদ্ধ চলার সময় সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দর অবরোধ তুলে নেওয়ারও অনুরোধ জানায়। তবে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এতে রাজি হননি।

    পরে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এতে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য একটি সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। যদিও সাম্প্রতিক গোলাগুলির ঘটনায় ওই সমঝোতা নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সহযোগীদের বলেছেন, এই সময়সীমা প্রয়োজনে পরিবর্তন করা যেতে পারে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সমঝোতা আলোচনায় ইসরাইলের কোনো ভূমিকা ছিল না। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এ থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন। তবে সমঝোতার শর্তে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্রদের জন্য যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ রয়েছে।

    এদিকে ইসরাইলের কর্মকর্তারা এই সমঝোতার বিরোধিতা করছেন। তাদের মতে, এতে যুদ্ধের মূল লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করা এবং দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের পরিবেশ তৈরি- কোনোটিই অর্জিত হয়নি।

  • গাজা যুদ্ধের ১,০০০ দিন, অনিশ্চিৎ ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনিদের

    গাজা যুদ্ধের ১,০০০ দিন, অনিশ্চিৎ ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনিদের

    গাজা যুদ্ধের এক হাজার দিন পূর্ণ হয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। বরং প্রায় প্রতিদিনই ইসরাইলি হামলায় ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি ঘটছে। খবর আরব নিউজের।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৫৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩৫০ জনের বেশি নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন আরও ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি।

    গাজায় ২০ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনির ভাগ্য এখনও অনিশ্চিত, যাদের অধিকাংশই বাস্তুচ্যুত এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বসবাস করছে। ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির অধীনে ইসরাইলি বাহিনী এই অঞ্চলের অর্ধেকেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করত, কিন্তু ইসরাইল সরকার তা আরও বাড়িয়েছে এবং বলেছে যে তারা ৭০ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্য নিয়েছে।

    খুব কম লোকই সেখানে প্রবেশ বা প্রস্থান করতে পারছে। হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং পুনর্গঠনের বিশাল কাজসহ যুদ্ধবিরতির পরবর্তী পদক্ষেপগুলো থমকে গেছে।

    আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির আঞ্চলিক পরিচালক নিকোলাস ভন আর্ক্স এই সপ্তাহে বলেছেন, স্বাভাবিক জীবনের সামান্য আভাস ফিরিয়ে আনতেও আরও অনেক কিছু করা প্রয়োজন। কিন্তু আমরা সেই অবস্থার এখনও অনেক দূরে।

    অন্যদিকে জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, গাজায় ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা সম্প্রসারণ বেসামরিক মানুষের জন্য প্রাণঘাতী ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। অনেক এলাকায় স্পষ্ট সীমারেখা না থাকায় সাধারণ মানুষ আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

    উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর পর থেকে ইসরাইলের হামলায় গাজায় মোট ৭৩ হাজার ৬৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

  • ভারতের দ্বারস্থ রাশিয়া

    ভারতের দ্বারস্থ রাশিয়া

    ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটিতে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত থেকে সমুদ্রপথে পেট্রোল আমদানি শুরু করেছে মস্কো। শিল্প খাতের দুইটি সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে রাশিয়াজুড়েই জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে। কোথাও রেশনিং চালু হয়েছে, কোথাও আবার পেট্রোলপাম্পে দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে দেশটিতে পেট্রোলের দামও রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে।
    ক্রেমলিন মঙ্গলবার জানিয়েছে, গ্রহণযোগ্য দামে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে রাশিয়া কয়েকটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে রাশিয়ার জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং ভারতের তেল মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
    শিল্প খাতের একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে অন্তত ৬০ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল রাশিয়ার উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে। আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, ৩০ থেকে ৪০ হাজার টন ধারণক্ষমতার দুটি ট্যাংকার ইতোমধ্যে ভারত থেকে রওনা হয়েছে।

    তৃতীয় একটি সূত্রের দাবি, রাশিয়া বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতি মাসে মোট চার লাখ টন পেট্রোল আমদানির পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে প্রতিবেশী বেলারুশও রয়েছে, যেখান থেকে ইতোমধ্যে রাশিয়ায় জ্বালানি রপ্তানি শুরু হয়েছে।
    গ্রীষ্মকালে জ্বালানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রাশিয়ায় প্রতিদিন অন্তত এক লাখ ১০ হাজার টন পেট্রোল ব্যবহৃত হয়। ভারতের কোন তেল শোধনাগার রাশিয়ায় এই পেট্রোল সরবরাহ করছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
    রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত রোববার সরকারের মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে স্বীকার করেন, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশের কিছু অঞ্চলে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। তবে তিনি বলেন, সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।

    এদিকে রয়টার্সের হিসাব ও বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের প্রথমার্ধে বেলারুশ থেকে রেলপথে রাশিয়ায় পেট্রোল সরবরাহ ৭০ হাজার টনের বেশি হয়েছে, যা মে মাসের একই সময়ের তুলনায় প্রায় তিন গুণ।
    জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গত সপ্তাহে রাশিয়ার পার্লামেন্ট কর আইনের সংশোধনী অনুমোদন করেছে। নতুন ব্যবস্থায় ইউক্রেনের হামলার কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি জ্বালানি আমদানিতে ভর্তুকিও দেয়া হবে। এই ভর্তুকির হিসাব নির্ধারণে ভারত থেকে সরবরাহের খরচ ও মূল্যকে ভিত্তি ধরা হবে।

  • আল-আকসায় ইহুদিদের ‘তাণ্ডব’

    আল-আকসায় ইহুদিদের ‘তাণ্ডব’

    অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে ফের ‘তাণ্ডব’ চালিয়েছে ইহুদি সেটেলাররা। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
    খবরে বলা হয়েছে, ইসরাইলি পুলিশের তত্ত্বাবধানে ইহুদিরা আল-আকসায় জোরপূর্বক প্রবেশ করেছে। ফিলিস্তিনের সরকারি ওয়াফা নিউজ এজেন্সি বলেছে, ইহুদি সেটেলাররা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেছে এবং তালমুদীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করেছে।

    জেরুজালেম গভর্নরেটের বরাতে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, বুধবার কয়েক ডজন ইহুদি বসতি স্থাপনকারী কম্পাউন্ডের প্রাঙ্গণে উস্কানিমূলক পদযাত্রা ও আচার-অনুষ্ঠান পালন করেছে।
    আল-আকসা মসজিদ ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান হিসেবে বিবেচিত। অন্যদিকে ইহুদিরা এই এলাকাটিকে টেম্পল মাউন্ট বলে। তাদের দাবি, এটি দুটি প্রাচীন ইহুদি টেম্পলের স্থান ছিল।

  • সাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত

    সাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত

    উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

    এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আবহাওয়া অধিদপ্তরের জারি করা এক সতর্কবার্তায় বলা হয়, লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্র বিক্ষুব্ধ থাকতে পারে। তাই উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

    এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

    দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

  • শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ছিলেন ইনু

    শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ছিলেন ইনু

    ডেস্ক নিউজ : জুলাই আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধে গত ৩০ জুন রায় হয় জাসদ নেতা ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর। রায়ে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তবে, এখানেই শেষ নয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেক মামলায় এবার আসামি হচ্ছেন হাসানুল হক ইনু।

    চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, রাতের আঁধারে ২০১৩ সালে শাপলাচত্বরে যে হত্যাযজ্ঞ ঘটে, তাতে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে হাসানুল হক ইনুর। এ মামলায় তাকেও আসামি করা হবে। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন ও ফরমাল চার্জ দাখিল করা হবে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

    রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গেল বছরের ২৬ নভেম্বর শাপলা চত্বরের হত্যাযজ্ঞ নিয়ে শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দেয় হেফাজতে ইসলাম।

  • গ্রেপ্তার শ্যালক-দুলাভাই

    গ্রেপ্তার শ্যালক-দুলাভাই

    রামমন্দিরে ‘রামচুরি’, তদন্তে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

    ভারতের অযোধ্যার রামমন্দিরের দানবাক্স থেকে অর্থ চুরির মামলার তদন্তে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অযোধ্যা পুলিশের বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত কুম্ভ মেলার সময়ই রামমন্দিরে

    পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া আট অভিযুক্তের মধ্যে কয়েকজন কুম্ভ মেলার আগেও ছোটখাটো চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে কুম্ভ মেলার সময় মন্দিরে ভক্তদের দান ও অনুদানের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা যোগসাজশ করে বড় পরিসরে অর্থ আত্মসাৎ করে।

    এখন পর্যন্ত এসআইটি আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন, অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লাভ কুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামাশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু যাদব।

    ভারতীয় সংবাদবাদ এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৩০ জুন) তাদের কয়েক ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের দাবি, এই অর্থ আত্মসাতের পুরো ষড়যন্ত্রে আটজনই জড়িত ছিলেন।
    তদন্তে জানা গেছে, দুলাভাই-শ্যালক জুটি লাভ কুশ মিশ্র ও অনুকল্প মিশ্র সবচেয়ে বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছে। পুলিশের দাবি, চুরি করা অর্থ দিয়ে তারা একাধিক সম্পত্তিও কিনেছে। ইতোমধ্যে তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্ধডজনেরও বেশি সম্পত্তির খোঁজ পেয়েছে পুলিশ।

    অভিযুক্তদের আর্থিক লেনদেন ও সম্পত্তির উৎস খতিয়ে দেখতে আয়কর বিভাগের সহায়তা নেয়া হচ্ছে। তদন্তে ভারতীয় স্টেট ব্যাংকের (এসবিআই) কয়েকজন কর্মীর ভূমিকাও সন্দেহের মধ্যে এসেছে। অর্থের উৎস, লেনদেন ও অর্থ পাচারের সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর কাছেও তদন্তের আবেদন জানাবে অযোধ্যা পুলিশ।

    দান গণনার দায়িত্বে ছিল ব্যাংক
    রাম মন্দিরের দানবাক্সের অর্থ গণনার অনুমোদিত সংস্থা হলো ভারতীয় স্টেট ব্যাংক (এসবিআই)। ব্যাংকটি এই কাজের জন্য একটি বেসরকারি সংস্থাকে নিয়োগ দিয়েছে

    ।মন্দিরের চারটি দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থ ১৪ সদস্যের একটি দল গণনা করে। তাদের মধ্যে ১১ জন ব্যাংকের কর্মী এবং তিনজন মন্দির ট্রাস্টের প্রতিনিধি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্লার কৌশলপুরী এলাকার একটি আস্তানা থেকে সবচেয়ে বেশি নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে।
    এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই জায়গাটি অবিনাশের ভাই অভিষেক শুক্লার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি যোগব্যায়াম কেন্দ্র। কেন্দ্রটির পরিচালনাকারী সীমা তিওয়ারি জানান, গত ৫ জুন পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার করে।

    তিনি বলেন, অভিষেকের চারটি বাক্স ওই যোগকেন্দ্রে রাখা ছিল। বাক্সগুলোর ভেতরে কম্বলের মধ্যে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল নগদ অর্থ। একটি বাক্সের গায়ে ‘রাম রাজ্য কোষ’ লেখা ছিল।
    সীমা তিওয়ারির দাবি, অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিষেক তাকে বলেন, তার ভাই অবিনাশ শুক্লা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাই পুলিশ অভিযান চালিয়েছে।

    অভিযুক্তদের বাড়ি থেকেও উদ্ধার নগদ অর্থ

    তিন দিন আগে তদন্তের অংশ হিসেবে অযোধ্যা পুলিশ সব অভিযুক্তের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। এ সময় টিন্নু যাদবের বাড়ি থেকে নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।

    টিন্নু যাদব একসময় রাম মন্দির ট্রাস্টের সাবেক সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায়ের গাড়িচালক ছিলেন। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দান গণনার কক্ষের একটি চাবি টিন্নু যাদবের কাছে ছিল, আর অন্যটি ছিল ব্যাংকের কর্মীদের কাছে। ব্যাংকের কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে যোগসাজশ করেই দানের অর্থ আত্মসাৎ করা হতো। পরে চুরি করা অর্থ টিন্নু যাদব ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাগ করে নেয়া হতো।
    পুলিশ অভিযুক্তদের বাড়ি থেকে তাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির নথিও জব্দ করেছে।

    তদন্তে দেখা গেছে, অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাবে তাদের বৈধ আয়ের তুলনায় অনেক বেশি অর্থের লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরের ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনায় এমন সব লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে, যার পরিমাণ তাদের পরিচিত আয় বা বৈধ আয়ের উৎসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্লার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ৮৯ লাখ রুপি নগদ উদ্ধার করা হয়েছে। এই অর্থ ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ এফআইআর দায়েরের আগেই নিজস্ব উদ্যোগে উদ্ধার করেছিল।

  • শুভেন্দু ও মানিক সাহাকে আম উপহার বাংলাদেশের   

    শুভেন্দু ও মানিক সাহাকে আম উপহার বাংলাদেশের   

    শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার কাছে আম পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। দুই মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য দুটির স্বনামধন্য ব্যক্তি ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য পাঠানো হয়েছে ১১০০ কেজি আম।

    মঙ্গলবার বিকেলে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আমগুলো ভারতের কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ উপদূতাবাস ও আগরতলায় নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী দূতাবাসের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আম্রপালি ও হাঁড়িভাঙ্গা আম পাঠানো হয়। সবমিলিয়ে কলকাতা উপদূতাবাসে ১০০টি কার্টনে পাঁচ কেজি করে ৫০০ কেজি এবং ত্রিপুরার সহকারী দূতাবাসে ১২০টি কার্টনে পাঁচ কেজি করে ৬০০ কেজি আম পাঠানো হয়েছে।

    বেনাপোল বন্দরের মাধ্যমে পাঠানো আম কলকাতায় অবস্থিত উপদূতাবাসের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। বেনাপোল বন্দর দিয়ে আম পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কোয়ারেন্টাইন বিভাগের উপ-পরিচালক আবু তালহা।

    অন্যদিকে, ত্রিপুরার জন্য পাঠানো আম আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের আগরতলায় নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    আমগুলোর মধ্যে শুভেন্দু অধিকারী ও মানিক সাহা দুই মুখ্যমন্ত্রীর জন্য পাঠানো হয়েছে ১০০ কেজি করে আম। বাকি আম রাজ্য দুটির স্বনামধন্য ব্যক্তি ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে বণ্টন করা হবে।

  • রাশিয়ান সেনাদের গোপনে প্রশিক্ষণ দিয়েছে চীন

    রাশিয়ান সেনাদের গোপনে প্রশিক্ষণ দিয়েছে চীন

    রাশিয়ার সেনাবাহিনীকে গোপন সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়েছে চীন। গত বছর চীনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমোদনেই এই প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়। এ প্রশিক্ষণে রাশিয়া ও চীনের অন্তত চারজন জেনারেল সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছেন দুই ইউরোপীয় কর্মকর্তা।

    রয়টার্সের হাতে আসা নথিতেও এ তথ্যের উল্লেখ রয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধসংশ্লিষ্ট এই প্রশিক্ষণে এত উচ্চপর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতার গুরুত্বই তুলে ধরে। বিষয়টি ইউরোপে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, যদিও বেইজিং এমন কোনো প্রশিক্ষণ হওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। রয়টার্সের দেখা একটি গোপন রুশ নথিতে ২০২৫ সালের আগস্টে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলৌসভ জারি করা একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশনার উল্লেখ রয়েছে।

    নথিতে বলা হয়েছে, বেলৌসভের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রুশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি প্রতিনিধিদল চীনে গিয়ে পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-এর সামরিক স্থাপনাগুলোতে প্রশিক্ষণে অংশ নেয়।
    তেজস্ক্রিয়, রাসায়নিক ও জীবাণু যুদ্ধবিষয়ক প্রশিক্ষণ একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণ কর্মসূচির একটি অংশ ছিল বেইজিংয়ের একটি সামরিক স্থাপনায় ২০২৫ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত তিন সপ্তাহব্যাপী তেজস্ক্রিয়, রাসায়নিক ও জীবাণু (আরবিসি) প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ। রয়টার্সের দেখা দুটি প্রতিবেদনে এমন ছবিও রয়েছে, যেখানে চীনা একজন প্রশিক্ষক রুশ সেনাদের পাঠ দিচ্ছেন। সেখানে তাদের একটি পারমাণবিক চুল্লির মডেল পর্যবেক্ষণ করতে এবং রাসায়নিক গোয়েন্দা কার্যক্রম, তেজস্ক্রিয়তা শনাক্তকরণ ও দূষণ থেকে বায়ু চলাচল ব্যবস্থা সুরক্ষার কৌশল শেখানো হচ্ছে।

    ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের একজন বলেন- তেজস্ক্রিয়, জীবাণু ও রাসায়নিক যুদ্ধবিষয়ক প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত থাকায় এই সহযোগিতার কৌশলগত গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে। তার মতে, বিশ্বের সামরিক বাহিনীগুলোর কাছে এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে রাশিয়া ও চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো সাড়া দেয়নি। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইউক্রেন সংকট নিয়ে বেইজিংয়ের অবস্থান সব সময় একই রয়েছে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ প্রতিবেদনে উত্থাপিত সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। চীন বরাবরই দাবি করে আসছে, ইউক্রেন যুদ্ধে তারা নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করতে চায়। গত মাসে ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও সামরিক নথির বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের নভেম্বরে চীন প্রায় ২০০ রুশ সেনাকে প্রশিক্ষণ দেয়। তাদের কয়েকজন পরে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেন। সে সময় ক্রেমলিন ওই প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।

    তবে পশ্চিমা গণমাধ্যমে ভুল তথ্য প্রকাশের অভিযোগ তোলে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস ১৫ জুন বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিজেদের উৎসের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে যে এই প্রশিক্ষণ হয়েছে। এখন এর সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করা হচ্ছে। চীন তার এ মন্তব্যকে নিরেট অপপ্রচার বলে প্রত্যাখ্যান করে।
    চীনের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন ভাবনা
    ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়াকে তাদের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে। একই সময়ে মস্কো ও বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও ইউরোপ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। চীন ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার।

    ২৭ সদস্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় এখন প্রশ্ন উঠেছে, এই সামরিক প্রশিক্ষণের পরিপ্রেক্ষিতে চীনের বিরুদ্ধে আরও কোনো পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন কি না। কারণ, এতদিন বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক মূলত বাণিজ্যিক স্বার্থকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হয়েছে। রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সহায়তা করার অভিযোগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এরই মধ্যে কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ব্রাসেলসের আরেক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচিত চীনকে শুধু অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা বন্ধ করা। বরং কাজা কালাস যে ভাষায় বলেছেন, রাশিয়ার যুদ্ধের নির্ণায়ক সহায়ক হিসেবে চীনের ভূমিকাকে গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।


    সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই ইউরোপীয় কর্মকর্তা জানান, প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ভিত্তি হিসেবে ২রা জুলাই স্বাক্ষরিত চুক্তিতে রাশিয়ার মেজর জেনারেল রুস্তাম খুসাইনভ এবং চীনের সিনিয়র কর্নেল সান দাইউন স্বাক্ষর করেছিলেন। অন্যদিকে রুশ পার্লামেন্টের প্রতিরক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান এবং জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা আন্দ্রেই কার্তাপোলভ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরটিভিআইকে বলেন, এই প্রশিক্ষণসংক্রান্ত প্রতিবেদন সম্পূর্ণ অর্থহীন। তার দাবি, রাশিয়ার সেনাবাহিনীর চীনের কাছ থেকে শেখার মতো কিছুই নে

  • ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে হত্যা ধর্মীয় কর্তব্য

    ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে হত্যা ধর্মীয় কর্তব্য

    আর্ন্তজাকি ডেস্ক:

    ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় আলেমরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা এই দুই নেতাকে “মাহদুর আল-দাম” অর্থাৎ এমন ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন, যাদের হত্যা ধর্মীয়ভাবে বৈধ বা ন্যায্য বলে তারা দাবি করছেন। খবর নিউ ইয়র্ক পোস্টের।

    এনিয়ে ইরানের ৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস ১০ দফা বিবৃতিতে বলেছে, জায়নবাদী শাসনের দুষ্ট প্রধানমন্ত্রী এবং ক্রিমিন্যাল মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হত্যা করা একটি ধর্মীয় কর্তব্য, যা “যেকোনো পরিস্থিতিতেই” পালন করতে হবে।

    ইরানের সংবিধান অনুযায়ী এসব আলেম দেশটির সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন ও তার তত্ত্বাবধানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। বিবৃতিতে তারা আরও দাবি করেছে, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেয়ার আহ্বান সর্বোচ্চ গুরুত্বের বিষয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, যেকোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি এই অপরাধীদের নাগাল পায়, তবে তাদের জাহান্নামে পাঠানো তার জন্য বাধ্যতামূলক।

    এদিকে ইরানের দৈনিক হামশাহরি প্রথম পাতায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে রাইফেলের নিশানার (ক্রসহেয়ার) মধ্যে ট্রাম্পের মুখের ছবি ছাপানো হয়েছে। ছবির ওপর বড় শিরোনামে লেখা ছিল, প্রতিশোধ নিশ্চিত।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা আসলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৌশল, যার উদ্দেশ্য নতুন করে হামলার প্রস্তুতির জন্য সময় নেয়া।

    ইরানের ধর্মীয় নেতারা দাবি করেছেন, নতুন করে হামলার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে উল্লিখিত বিষয়গুলো নির্ধারিত ৩০ ও ৬০ দিনের সময়সীমার মধ্যেই নিষ্পত্তি করতে হবে।

    এ ছাড়া আলেমরা ইরানের সমর্থকদের “নেতার নামে” রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের উপস্থিতি এখন অপরিহার্য এবং নির্ধারক।