আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • পাঁচ ক্রুসহ পাকিস্তানের মালবাহী উড়োজাহাজ নিখোঁজ

    পাঁচ ক্রুসহ পাকিস্তানের মালবাহী উড়োজাহাজ নিখোঁজ

    আর্ন্তজাতিক যেস্ক:

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে করাচি আসার পথে পাঁচজন ক্রুসহ পাকিস্তানের একটি মালবাহী বিমান নিখোঁজ হয়েছে।

    বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে করাচির এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে কেটু এয়ারওয়েজের বোয়িং ৭৩৭-৪০০ মডেলের কার্গো বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

    পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার ঠিক আগে স্থানীয় সময় রাত ৯টা ১৮ মিনিটে বিমানটির পাইলট দিকনির্ণয় ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

    এর জবাবে স্থানীয় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল বিমানটিকে পথ দেখানোর চেষ্টা করলেও, মাত্র তিন মিনিট পরেই রাডার থেকে বিমানটি সম্পূর্ণ হারিয়ে যায়।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে বিমানটি করাচি উপকূল থেকে প্রায় ২৮৭ কিলোমিটার পশ্চিমে আরব সাগরের উপরে অবস্থান করছিল।

    ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার২৪’-এর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাডার থেকে হারিয়ে যাওয়ার আগে বিমানটির উচ্চতায় চরম ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে।

    শেষ মুহূর্তে বিমানটি মাত্র এক মিনিটেরও কম সময়ে প্রায় ৫০০০ ফুট নিচে নেমে যায়।

    এর ঠিক ৩০ সেকেন্ড পর এটি আবার ৬০০০ ফুট ওপরে উঠলেও শেষ পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৫৫০ ফুট উচ্চতা থেকে একবারে খাড়া নিচের দিকে আছড়ে পড়তে শুরু করে।

    রেডারে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, বিমানটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১১০০ ফুট ওপরে থাকা অবস্থায় প্রতি মিনিটে ২২৪০০ ফুট (ঘণ্টায় প্রায় ৪০০ কিলোমিটার) গতিতে নিচে নামছিল।

    পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (পিএএ) জানিয়েছে, উড়োজাহাজে পাঁচজন ক্রু ছিলেন। শারজাহ থেকে করাচিগামী কে২ এয়ারওয়েজের বোয়িং ৭৩৭ পাকিস্তান কার্গো ফ্লাইটটি রাত ৯টা ১৮ মিনিটে নেভিগেশনাল সিস্টেমে সমস্যার কথা জানিয়েছিল। এরপরই করাচি এরিয়া কন্ট্রোল সেন্টার (এসিসি) তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নির্দেশনা দেয়।

    নিখোঁজ বিমান ও ক্রুদের সন্ধানে সাগরে সমন্বিত তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে পাকিস্তানের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

    ফ্লাইটরাডারের তথ্য অনুযায়ী, এপি-বিওআই নিবন্ধিত উড়োজাহাজটি হচ্ছে বোয়িং ৭৩৭-৪এম০ (বিডিএসএফ), যা ২০২৪ সালে কে২ এয়ারওয়েজের বহরে যুক্ত হয়েছিল।

    এই উড়োজাহাজ মূলত ১৯৯৯ সালে একটি যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে অ্যারোফ্লট-এ যুক্ত হয়েছিল। এরপর ২০০৪ সালে গারুডা ইন্দোনেশিয়াযর বহরে যুক্ত হয়। এটিকে ২০১২ সালে মালবাহী উড়োজাহাজে রূপান্তর করা হয়। পরবর্তী সময়ে এটি টিএনটি এয়ারওয়েজ ও এএসএল এয়ারলাইসের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল।

  • চীনে ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১

    চীনে ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১

    চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গানসু প্রদেশে ভূমিধসে নিহত বেড়ে ২১ জনে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার সকাল ৬টা ৫৬ মিনিটে ডাংচাং কাউন্টির রেনচাং গ্রামে এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে ৩৩ জন মাটির নিচে চাপা পড়ে। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

    চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে এবং এ দুর্ঘটনায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    ভূমিধসের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনর্গঠনের জন্য সরকার ৩ কোটি ইউয়ান বরাদ্দ দিয়েছে। এদিকে, একই দিনে চীনের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে প্রবল ঝড় ও ভারি বৃষ্টিতে প্রায় ১৭ জন নিহত হয়েছে এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছে।

    দক্ষিণাঞ্চলের গুয়াংসি এলাকায় প্রায় ৪০টি নদী ও জলপথে বন্যা দেখা দিয়েছে। এছাড়া, প্রবল পানির চাপে একটি জলাধারের বাঁধ ভেঙে যায়। এ কারণে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উদ্ধারকাজে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

  • পশ্চিমবঙ্গে কন্যাশিশু ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায়  অভিযুক্ত ও সাক্ষী এনকাউন্টারে

    পশ্চিমবঙ্গে কন্যাশিশু ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ও সাক্ষী এনকাউন্টারে

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার বারুইপুরে মুসলিম কন্যাশিশুকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় পুলিশের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ‘যোগী মডেল’-এর তত্ত্ব জোরালো হচ্ছে। অভিযোগ উঠছে, উত্তর প্রদেশের ধাঁচে এনকাউন্টারের মাধ্যমে অভিযুক্ত ও সাক্ষীদের খতম করে দেওয়া হচ্ছে।

    গত রোববার সকালে সূর্যপুর এলাকার একটি পুকুর থেকে ওই কন্যাশিশুর লাশ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে পুলিশ প্রথমে প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের দাবি, মঙ্গলবার রাত পৌনে ১টা নাগাদ প্রভাসকে নিয়ে সূর্যপুরে গেলে সে পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং এক রাউন্ড গুলিও চালায়। এরপর পুলিশের পাল্টা গুলিতে প্রভাসের মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকেই অনেকে যোগী মডেলে এনকাউন্টার বলে আখ্যা দিচ্ছেন, যেখানে বিচার প্রক্রিয়ার আগেই মূল অভিযুক্ত বা সাক্ষীকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে।

    এই তদন্তের মধ্যেই একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, পুলিশি হেফাজতে জেরা চলাকালীন প্রভাস রাজা নামের এক বিজেপি নেতার নাম উল্লেখ করেছিল। এই নারকীয় ঘটনায় ওই নেতার জড়িত থাকার সরাসরি ইঙ্গিত থাকার পরও পুলিশ এখন পর্যন্ত রাজাকে গ্রেপ্তার করেনি। একদিকে মূল অভিযুক্তের এনকাউন্টারে মৃত্যু এবং অন্যদিকে জেরায় নাম উঠে আসা বিজেপি নেতা অধরা থাকা—এ দুইয়ে মিলে গোটা ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।

    পাশাপাশি পুলিশি তৎপরতায় অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়াও চলছে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এসটিএফ, বারুইপুর এসওজি এবং জেলা পুলিশের যৌথ বাহিনী বসিরহাট থেকে কবীর মোল্লা নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। এই মামলায় এর আগে আনন্দ সর্দার এবং দিবাকর সর্দারকেও গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। ফলে এখন পর্যন্ত মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার।

    অন্যদিকে, মঙ্গলবার বারুইপুরে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বারুইপুরের এসপি অফিসে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে তিনি জানান, এ ঘটনায় প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। ঘটনার পর বিক্ষোভের নামে পুলিশের ওপর যারা হামলা চালিয়েছে এবং গাড়ি ভাঙচুর করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে এরই মধ্যে ২০০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং পুলিশি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    সব মিলিয়ে, কন্যাশিশু ধর্ষণ ও খুনের এ ঘটনায় একদিকে যেমন পুলিশের কড়া অবস্থান ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি সামনে আসছে, ঠিক তেমনি মূল অভিযুক্তের এনকাউন্টার এবং জেরায় নাম ওঠা বিজেপি নেতা রাজাকে ধরতে পুলিশের ব্যর্থতা বা অনীহা গোটা ঘটনায় এক নতুন ও বিতর্কিত মাত্রা যোগ করেছে।

  • ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শেষ: ট্রাম্প

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শেষ: ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক ভেঙে গেছে। তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া সময়ের অপচয়।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আলোচনা করা। কিন্তু কাতারে হওয়া পরোক্ষ আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি। এরপর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী আবারো ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালায়।

    আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের আগে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি ইরানের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারকটি শেষ গেছে। দুই পক্ষের আলোচকরা চাইলে টেবিলে বসে শুধু শুধু কথা বলতে পারে, তবে আমার মনে হয় তারা স্রেফ সময় নষ্ট করছেন।’

    তিনি আরো বলেন, ‘তারা অত্যন্ত খারাপ মানুষ। তাদের নেতৃত্বও খারাপ মানুষের হাতে। তারা সহিংস। তাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে তারা তা ব্যবহার করত। আমার দৃষ্টিতে বিষয়টি শেষ।’

    হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক হামলার জন্য তেহরান দায়ী। এর জবাবে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

    যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫টি সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।

  • ইরানের হামলায় কুয়েতের বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত

    ইরানের হামলায় কুয়েতের বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত

    ইরানের হামলায় ছোড়া স্প্লিন্টারের আঘাতে কুয়েতের বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেগুলো অচল হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়। খবর আলজাজিরার।

    মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ক্ষয়ক্ষতি হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। ক্ষতিগ্রস্ত লাইনগুলো মেরামতে জরুরি প্রকৌশলী দল ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

    এদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে দেশটির আকাশসীমায় দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৩টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়। সবগুলোই সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

  • ৮৫ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলা

    ৮৫ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলা

    বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫টি সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস জানিয়েছে, তাদের নৌ ও বিমানবাহিনী যৌথভাবে এই হামলা চালায়। তাদের দাবি, হামলায় বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি এবং কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

    আইআরজিসি আরো জানায়, এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাদের প্রথম পাল্টা জবাব। তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ও ইসলামাবাদ চুক্তি লঙ্ঘন করে হরমোজগান ও মাহশাহরে কিছু উপকূলীয় ঘাঁটি এবং বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে।

    তাদের দাবি, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতার দাফন অনুষ্ঠানের গুরুত্ব কমিয়ে দিতেই যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা চালিয়েছে।

  • ইরানে মার্কিন বাহিনীর শক্তিশালী বিমান হামলা

    ইরানে মার্কিন বাহিনীর শক্তিশালী বিমান হামলা

    আর্ন্তজআতক ডেস্ক:

    হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে ইরানে ধারাবাহিক সামরিক হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

    যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বুধবার থেকে এই অভিযান শুরু করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেসামরিক নাগরিকদের পরিচালিত বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ইরানকে “ভারী মূল্য” দিতে বাধ্য করতেই এ হামলা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

    যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, সোমবার ও মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনটি ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগে মঙ্গলবার এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছিলেন, ইরানের এসব কর্মকাণ্ডের “পরিণতি ভোগ করতে হবে” এবং হামলাগুলোকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন।

    তবে ট্যাংকারে হামলার দায় স্বীকার করেনি ইরান।

    সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানের হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সংস্থাটির দাবি, “ইরানের প্রদর্শিত আগ্রাসন অযৌক্তিক, বিপজ্জনক এবং যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।”

    এদিকে, কাতার ও সৌদি আরবও হামলার নিন্দা জানিয়েছে। দুই দেশই বলেছে, হরমুজ প্রণালির ভেতর বা আশপাশ দিয়ে চলাচলের সময় তাদের দেশের একটি করে ট্যাংকার হামলার শিকার হয়েছে।

    এর আগে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত তেল নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা একটি ছাড় বাতিল করে।

  • ফিফা বিশ্বকাপ নিয়ে এবার মুখ খুললেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

    ফিফা বিশ্বকাপ নিয়ে এবার মুখ খুললেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ তাদের গুন্ডামি পররাষ্ট্রনীতিরই প্রতিচ্ছবি।

    বুধবার (০৮ জুলাই) সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান বলেন, বিশ্বকাপ আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ এক প্রকার নিয়ম লঙ্ঘন। পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর চাপ সৃষ্টি, বাধা তৈরি এবং প্রতারণাও করছে দেশটি। মূলত এটি ওয়াশিংটনের বৃহত্তর পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তারা সব জায়গায় এমন আচরণই করে থাকে।

    পেজেশকিয়ান আরও বলেন, মার্কিন সরকারের আচরণ তাদের তথাকথিত মেগা প্লেবুক-এরই প্রতিফলন। তবে ইরান এই ধরনের খেলা প্রত্যাখ্যান করে ও নিজেদের অধিকারের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ায়। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে চলতি সপ্তাহে মার্কিন বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা এবং তেলের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর এই মন্তব্য করলেন পেজেশকিয়ান।

    সূত্র : আল জাজিরা

  • এশিয়ার ক্রেতাদের জন্য তেলের দামে নজিরবিহীন মূল্যছাড় সৌদির

    এশিয়ার ক্রেতাদের জন্য তেলের দামে নজিরবিহীন মূল্যছাড় সৌদির

    এশিয়ার বাজারে নিজেদের অপরিশোধিত তেলের দাম গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় অঙ্কের কমিয়েছে বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব। তবে এত বড় ছাড়ের পরও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের তুলনায় সৌদির তেল এখনও ব্যয়বহুল রয়ে গেছে।

    ফলে এশিয়ার ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সৌদির তেল কেনার ব্যাপারে তেমন একটা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। সোমবার (৬ জুন) রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি সৌদি আরামকো তাদের ফ্ল্যাগশিপ ‘আরব লাইট’ ক্রুডের অফিশিয়াল সেলিং প্রাইস আগামী আগস্ট মাসের জন্য এক ধাক্কায় ব্যারেল প্রতি ১১ ডলার কমিয়েছে। নতুন এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ওমান ও দুবাইয়ের গড় দামের চেয়ে ১.৫০ ডলার কমে। একই সঙ্গে অপর চারটি গ্রেডের তেলের দামও ব্যারেল প্রতি ১১ ডলার করে কমানো হয়েছে।

    বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার ফলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজের চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে এবং তেলের লোডিং পুনরায় সচল হয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণেই বিশ্ববাজারে তেলের দামে আকস্মিক পতন ঘটেছে।

    এর আগে মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়, কারণ বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশই এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে ৬০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় এশিয়ার বাজারে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে। ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানি এখন চীনের স্বাধীন শোধনাগারগুলোর বাইরেও তাদের পুরোনো এশীয় ক্রেতাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি, ইরাকের সোমো এবং কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনও ক্রেতা আকর্ষণের জন্য তেলের দামে ব্যাপক ছাড় দিচ্ছে।

    বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভরটেক্সার বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়ায়, বিশেষ করে চীনে তেলের দুর্বল চাহিদা এবং ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের কারণে বিক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, যা বাজারকে সম্পূর্ণ ক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গেছে।

    এশিয়ার বিভিন্ন শোধনাগার এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সূত্রগুলো জানাচ্ছে, আগস্ট মাসে লোড হতে যাওয়া সৌদি তেলের দাম অন্যান্য উপসাগরীয় গ্রেডের চেয়ে এখনও ব্যারেল প্রতি কয়েক ডলার বেশি পড়বে। এর বড় একটি কারণ হলো পারস্য উপসাগরের ভেতর থেকে তেল পরিবহনের উচ্চ জাহাজ ভাড়া এবং ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখনও বেশ ভঙ্গুর। ফলে পারস্য উপসাগরের ভেতরে প্রবেশ করে তেলবাহী জাহাজ চার্টার করার খরচ অনেক বেশি। ভারতের একটি শোধনাগারের সূত্র জানায়, তারা অন্যান্য কোম্পানির তেল আরও অনেক কম দামে পাচ্ছেন, তাই সৌদির তেল বেশি দামে কেনার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

    অন্য এক ব্যবসায়ী জানান, আবুধাবির আপার জাকুম ক্রুড ওমানের সোহার বন্দরে জাহাজ থেকে জাহাজে স্থানান্তরের জন্য দুবাই রেটের চেয়ে ৬ থেকে ৮ ডলার কমে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে সৌদির রাস তানূরা বন্দর থেকে তেল লোড করতে জাহাজ ভাড়াই ডাবলের চেয়ে বেশি পড়ে যাচ্ছে।

    হিসাব অনুযায়ী, উপসাগরের ভেতর থেকে তেল আনা বাইরের চেয়ে ব্যারেল প্রতি প্রায় ১৫ ডলার বেশি ব্যয়বহুল। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সৌদি আরব এখনই কোনো মূল্য যুদ্ধে জড়াতে চাচ্ছে না। তারা কৃত্রিমভাবে তেলের দাম ধরে রাখার চেষ্টা করছে। এক তেল ব্যবসায়ী মন্তব্য করেছেন যে সৌদিরা ভালো করেই জানে তাদের তেলের দাম এখন বেশি, তবুও তারা দাম ধরে রেখেছে।

    বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বাজার পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে দাম আরও না কমালে এশিয়ার বাজারে বড় ধরনের মার্কেট শেয়ার হারাতে পারে সৌদি আরামকো।

  • ইসরাইলে সরিয়ে নিচ্ছে মার্কিন ঘাঁটি

    ইসরাইলে সরিয়ে নিচ্ছে মার্কিন ঘাঁটি

    যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে রক্ষা করতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইসরাইল এবং তার প্রতিবেশী দেশগুলোতে স্থানান্তরিত করা দরকার। গত সপ্তাহে এক ওয়েবিনারে এমন মন্তব্য করেছেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের সাবেক প্রধান জেনারেল ফ্রাঙ্ক ম্যাকেঞ্জি।

    কাতারের আল-উদেইদ সামরিক ঘাঁটির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ সেন্টকমের অগ্রবর্তী সদর দফতরকে ইরান থেকে মাত্র ১০০ মাইল দূরে (কাতারে) স্থাপন করবে না। অথচ বর্তমানে সেটি সেখানেই রয়েছে।’

    ২৮ মার্চ ২০১৯ থেকে ১ এপ্রিল ২০২২ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ম্যাকেঞ্জি জানান, ২০২২ সালে তিনি এবং অন্য কর্মকর্তারা বাইডেন প্রশাসনকে সতর্ক করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার এবং বাহরাইনে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানের হামলার মুখে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই মার্কিন বাহিনীকে পশ্চিম দিকে, বিশেষ করে ইসরাইলে নিয়ে যাওয়া উচিত।

    ম্যাকেঞ্জি বলেন, ‘আমরা বাইডেন প্রশাসনের কাছে প্রস্তাব দিয়েছিলাম যেন ঘাঁটিগুলো পশ্চিমে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়, যার মধ্যে ইসরাইল ও মিশর অন্তর্ভুক্ত, যাতে ইরানের সাথে যুদ্ধ লাগলে আমরা দ্রুত পশ্চিমে সরে যেতে পারি।’ তবে বাইডেন প্রশাসন এই প্রস্তাবটিকে নাকচ করে দিয়েছিল।

    তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ঘাঁটি ব্যবস্থা অতীতের ধারাবাহিকতায় চলছে। এটি মূলত স্নায়ুযুদ্ধের সময়ের উত্তরাধিকার, যখন যুক্তরাষ্ট্র তেল-সমৃদ্ধ আরব উপসাগরীয় দেশগুলোতে সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্ভাব্য আগ্রাসন নিয়ে চিন্তিত ছিল। পরে ইরাক ও আফগানিস্তানে মার্কিন বিদ্রোহবিরোধী অভিযানের সময়ও এগুলো ব্যবহৃত হয়েছিল। ম্যাকেঞ্জির মতে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কৌশল মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সাথে মিলছে না।’

    স্যাটেলাইটের ছবি দেখে ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মূল্যায়ন করা কঠিন উল্লেখ করে ম্যাকেঞ্জি সতর্ক করেন, ‘একটি ঘাঁটির হ্যাঙ্গার, রাডার বা ব্যারাক ধ্বংস হলেও এর ভূগর্ভস্থ জ্বালানি ব্যবস্থা এবং রানওয়ে অক্ষত থাকতে পারে, যা দিয়ে যুদ্ধবিমান ওঠানামা করতে পারে। পরিস্থিতি এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে, শত্রুর কাছাকাছি থাকা ভালো, কারণ যুদ্ধে দ্রুত যোগ দেওয়া যায়; কিন্তু আবার শত্রুর কাছাকাছি থাকা খারাপও, কারণ সে আপনাকে খুব দ্রুত আঘাত করার ক্ষমতা রাখে।’

    অবশ্য আরব মিত্রদের সাথে সংহতি বজায় রাখতে উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন উপস্থিতি বজায় রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন ম্যাকেঞ্জি। তবে তার প্রস্তাব, যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় ঘাঁটিগুলোকে কেবল জ্বালানি নেওয়ার কাজে ব্যবহার করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদী ঘাঁটি হিসেবে ইসরাইল, মিশর ও সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলকে বেছে নিতে পারে।

  • ‘ককরোচে’র এক্স অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার নির্দেশ

    ‘ককরোচে’র এক্স অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার নির্দেশ

    ভারতের দিল্লি হাইকোর্ট ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট আনব্লক করার নির্দেশ দিয়েছেন।

    স্থানীয় সময় শুক্রবার (জুন) বিচারপতি স্বরনা কান্ত শর্মার বেঞ্চ দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের করা আবেদন গ্রহণ করে এ নির্দেশ দেন।

    শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুশার মেহতা আদালতকে জানান, দলটির কিছু পোস্ট নিট পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি এবং বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কায় অ্যাকাউন্টটি ব্লক করা হয়েছিল।

    তবে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, নিট পরীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। ফলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ রাখার পক্ষে সরকারের যে উদ্বেগ ছিল, তার আর কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র এক্স অ্যাকাউন্ট পুনরায় চালু করার নির্দেশ দেন।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম লাইভ ল’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ায় অ্যাকাউন্ট ব্লক রাখার প্রয়োজনীয়তা আর নেই বলে মনে করেছে আদালত।

  • ঘুষের দায়ে চীনা কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

    ঘুষের দায়ে চীনা কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

    প্রায় ৩২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (২.২ বিলিয়ন ইউয়ান) ঘুষ গ্রহণের দায়ে চীনের এক সাবেক সরকারি কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। পূর্বাঞ্চলের চাংঝৌ শহরের আদালত সোমবার এ রায় ঘোষণা করে। খবর বিবিসির।

    দণ্ডপ্রাপ্ত ইয়াং ইউলিন (৬৯) ১৯৯৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নানজিং শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। আদালতের রায় অনুযায়ী, তিনি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রকৌশল প্রকল্প, জমি হস্তান্তর এবং অর্থায়নের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের ঘুষ ও মূল্যবান সামগ্রী গ্রহণ করেন।

    ঘুষ গ্রহণের পাশাপাশি ইয়াংকে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থ পাচারের অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, তার অপরাধ ছিল অত্যন্ত গুরুতর এবং এর ফলে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে বহু ক্ষতি হয়েছে।

    চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ইয়াংয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামরিক বাহিনী, ব্যাংকিং খাত এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে আসছে বেইজিং।

    চীনে আর্থিক অপরাধে মৃত্যুদণ্ড তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও, ১ বিলিয়ন ইউয়ানের বেশি অর্থ জড়িত গুরুতর দুর্নীতির মামলায় এ ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়। এর আগে ২০২১ সালে সাবেক আর্থিক কর্মকর্তা লাই শিয়াওমিন এবং ২০২৪ সালে ইনার মঙ্গোলিয়ার সাবেক কর্মকর্তা লি জিয়ানপিংকে বড় অঙ্কের ঘুষ ও আত্মসাতের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

    রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইয়াং ইউলিন আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং শেষ বক্তব্যে অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন। তবে তদন্তে সহযোগিতা করলেও তার অপরাধের মাত্রা এতটাই গুরুতর ছিল যে, আদালত শাস্তি কমানোর কোনো সুযোগ দেখেনি।

  • নেতানিয়াহুর ওপর নিষেধাজ্ঞা চান ৭১ ব্রিটিশ এমপি

    নেতানিয়াহুর ওপর নিষেধাজ্ঞা চান ৭১ ব্রিটিশ এমপি

    ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির বিচারমন্ত্রী ইয়্যারিভ লেভিনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়েছেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একাধিক সদস্য।

    মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৭১ জন ব্রিটিশ এমপি ও লর্ডস সদস্য দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ দাবি জানান।

    চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ‘পদ্ধতিগত ও নথিভুক্ত নির্যাতনের’ দায় ইসরাইল সরকারের, যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুও রয়েছেন।

    লেবার পার্টির এমপি নিল ডানকান-জর্ডানের নেতৃত্বে তৈরি ওই চিঠিতে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ৩০ জন এমপি ও ৭ জন লর্ডস সদস্যসহ বিভিন্ন দলের আইনপ্রণেতারা স্বাক্ষর করেন।

    ব্রিটিশ আইনপ্রণেতারা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আহ্বান জানান, নেতানিয়াহু, উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিচারমন্ত্রী ইয়্যারিভ লেভিনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ‘দায়মুক্তির অবসান’ ঘটাতে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।

    চিঠিতে আরও বলা হয়, গত বছর ইসরাইলের ডানপন্থি দুই মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোটরিচের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছিল। তবে এতে ফিলিস্তিনি বন্দিদের প্রতি ইসরাইল সরকারের আচরণে তেমন পরিবর্তন আসেনি। বরং পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেছে এবং ‘প্রায় সম্পূর্ণ দায়মুক্তি’ তৈরি হয়েছে।

    চিঠিতে জাতিসংঘের ফেব্রুয়ারির একটি প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিস্তিনি নারী, পুরুষ ও শিশুদের ওপর নির্যাতন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, জীবনধারণের উপকরণ ধ্বংস এবং বঞ্চনার মাধ্যমে শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে।

  • ভারতে এবার তাজমহল ভেঙে মন্দির করা হবে ?

    ভারতে এবার তাজমহল ভেঙে মন্দির করা হবে ?

    সারা বিশ্বের পর্যবেক্ষক ও ইতিহাসবিদদের জন্য ভারতের সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য তাজমহলের আয়ু বোধ হয় ফুরিয়ে আসছে। উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদ হাইকোর্ট গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় সরকার ও আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়াকে (এএসআই) নোটিশ জারি করে উত্তর প্রদেশেরই আগ্রা আদালতের একটি আদেশ সম্পর্কে তাঁদের মতামত জানতে চেয়েছেন।

    উত্তর প্রদেশের আগ্রা আদালত অতীতে তাজমহল জরিপের উদ্দেশ্যে এই সৌধের স্থিরচিত্র ও ভিডিওগ্রাফির জন্য অ্যাডভোকেট-কমিশনার নিয়োগে অনুমতি দেননি। অর্থাৎ তাজমহল জরিপ করার যে আবেদন এক আইনজীবী ২০১৫ সালে করেছিলেন, সেই আবেদন অতীতে খারিজ করে দিয়েছিলেন আগ্রা আদালত।

    সম্প্রতি সেই মামলার শুনানি করেই সোমবার এলাহাবাদ হাইকোর্ট জানতে চেয়েছেন, কেন তাজমহলের নিচে মন্দিরের অস্তিত্ব খুঁজতে জরিপ করা যাবে না।

    আবেদনকারীর পক্ষে উপস্থিত আইনজীবী হরিশঙ্কর জৈনের বক্তব্য শোনার পর এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি রোহিতরঞ্জন আগরওয়ালের বেঞ্চ জানতে চান, কেন সৌধের জরিপ করা যাবে না। আবেদনকারী আইনজীবী জৈনের দাবি, বিশ্বখ্যাত এই স্মৃতিসৌধটি আসলে একটি প্রাচীন হিন্দু মন্দির, যার নাম ‘তেজো মহালয়া’। এটি ভগবান মহাদেবের উদ্দেশে উৎসর্গী করা হয়েছিল।

    হিন্দু দেবতা মহাদেবকে মামলাটির মূল পক্ষ করা হয়েছে, যেমন সাধারণ মানুষকে করা হয়। মহাদেবকে মূল পক্ষ করে তাঁর ‘পরম বন্ধু’ আইনজীবী হরিশঙ্কর জৈন এবং আরও বেশ কয়েকজন ভক্তের মাধ্যমে এই পিটিশন করা হয়েছে।

    তাজমহল

    বিতর্কিত রামমন্দির-বাবরি মসজিদ নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বছর কয়েক আগে হিন্দুত্ববাদী হরিশঙ্কর জৈনের ছেলে আইনজীবী বিষ্ণুশঙ্কর জৈন এক সাক্ষাৎকারে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, যেসব সৌধের নিচে হিন্দুদের কথিত পবিত্র স্থান রয়েছে, একটি দীর্ঘ তালিকা প্রস্তুত করেছেন তাঁরা। এই তালিকা দীর্ঘ।

    বিষ্ণুশঙ্কর বলেছিলেন, এসব স্থান বেছে বেছে বের করে মামলা করা হবে। বর্তমানে সেই কাজই করছেন পিতা–পুত্রের এই দল। বিষ্ণুশঙ্কর জৈন এই প্রতিবেদককে জানিয়েছিলেন, তারা হিন্দুত্ববাদী সংগঠন হিন্দু মহাসভার সঙ্গে যুক্ত।

    এলাহাবাদ হাইকোর্টের মামলায় বাদীপক্ষ (আবেদনকারী) একটি ঘোষণামূলক ডিক্রি ও নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছে, যার মূল বক্তব্য হলো—এই স্মৃতিসৌধটি একটি হিন্দু মন্দির। তাই বাদীপক্ষ তথা হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের তাজমহল প্রাঙ্গণের ভেতরে পূজা করার অনুমতি দেওয়া প্রয়োজন।

    বাদীপক্ষের সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এলাহাবাদ হাইকোর্ট সরকার ও এসআই–এর কাছে জানতে চেয়েছেন, বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য কেন জরিপ করা হবে না।

    বিতর্কিত রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ ভূমির মালিকানাসংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তিতে এই এলাহাবাদ হাইকোর্টই অন্যতম কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের লখনৌ বেঞ্চ ২:১ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রায় দিয়েছিলেন, অযোধ্যার বিবদমান ২ দশমিক ৭৭ একর জমি হিন্দু দেবতা রাম লালা, রক্ষণাবেক্ষণকারী নির্মোহী আখড়া এবং সুন্নি ওয়াক্‌ফ বোর্ডের মধ্যে সমান তিন ভাগে ভাগ করে দেওয়া যেতে পারে।

    তাজমহলের পরিপ্রেক্ষিতে আবেদনকারীরা দাবি করেছেন, ভারতের সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে সৌধের ভেতরে ‘দর্শন’ ও ‘পূজা’ করার মৌলিক অধিকার হিন্দুদের রয়েছে। এরপর ২০১৯ সালে তাজমহলে জরিপ করতে একজন অ্যাডভোকেট কমিশনার নিয়োগের আবেদন করা হয়েছিল।

    তবে ওই সময় আগ্রার অতিরিক্ত দেওয়ানি বিচারক (সিনিয়র ডিভিশন) ওই আবেদন খারিজ করেছিলেন। আদালত যুক্তি দিয়েছিলেন, বাদীপক্ষ তাজমহলে সুনির্দিষ্ট জায়গা (দাগ নম্বর) নিশ্চিত করার জন্য কোনো রাজস্ব নথি (যেমন খতিয়ান বা খসড়া) দাখিল করতে ব্যর্থ হয়েছে। সম্পত্তির বর্ণিত সীমানা ও আয়তন (৭৭ বিঘা) বিবাদীপক্ষের নথির সঙ্গে মেলেনি।

    এই আদেশের বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে একটি রিভিশন পিটিশন (সংশোধনী আবেদন) রক্ষণাবেক্ষণের অযোগ্য বলে গণ্য করেন আগ্রার অতিরিক্ত জেলা জজ। এই দুটি আদেশকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বাদীপক্ষ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে।

    আবেদনে বাদীপক্ষ মূল মামলায় করা নিম্নলিখিত সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যসংক্রান্ত দাবিগুলো উল্লেখ করে বলেছে, কথিত প্রাচীন তেজো মহালয় মন্দিরটি (তাজমহল), যেখানে দেবতা আগ্রেশ্বর মহাদেব বিরাজ করছেন, সেটি ১১৫৫-৫৬ খ্রিষ্টাব্দে রাজা পরমর্দি দেব নির্মাণ করেছিলেন।

    প্রসঙ্গত, ইউনেস্কো তাজমহলকে একটি ‘হেরিটেজ সাইট’ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং বিষয়টি ভারত সরকারের পর্যটনবিষয়ক ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে।

    সেই ওয়েবসাইটেই বলা হয়েছে, এটি তৈরি করেছিলেন মোগল সম্রাট শাহজাহান, তাঁর পত্নী মমতাজ মহলের স্মৃতিতে। ওয়েবসাইটে মমতাজ মহল ও শাহজাহানের ছবিও (হাতে বা কম্পিউটারে করা পেন্টিং) রয়েছে।

    ইতিহাসবিদদের বক্তব্য, তাজমহল বানানোর কাজ শুরু হয় ১৬৩১ খ্রিষ্টাব্দে এবং শেষ হয় ১৬৫৩ সালে বা তার আশপাশে। বছর দশেক আগে হিসাব করে দেখা যায়, এই স্মৃতিসৌধটির বাজার মূল্য ৫০ বিলিয়ন বা ৫ হাজার কোটি ডলারের বেশি। এটি ভারতের মুখ্য পর্যটনকেন্দ্র।

    আবেদনকারী হিন্দুত্ববাদী আইনজীবীরা অবশ্য এই বক্তব্য মানতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই স্মৃতিসৌধটি রাজা মানসিংহের নিয়ন্ত্রণ ও মালিকানায় আসে এবং পরবর্তী সময়ে ১৭ শতকে জয়পুরের রাজা জয়সিংহ এই স্থানে অর্থাৎ তাজমহলে অভিষিক্ত হন।

    এরপর মোগল শাসক শাহজাহান রাজা জয়সিংহের কাছ থেকে কথিত ‘তেজো মহালয়া’ প্রাসাদটি জোরপূর্বক দখল করেন এবং তাঁর মৃত রানির স্মৃতিসৌধে পরিণত করেন। এই রূপান্তরের জন্য বিতর্কিত সৌধটির কিছু অংশ পরিবর্তন করে ইসলামিক বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হয়েছিল।

    হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের প্রতিনিধিরা আরও দাবি করেন, অন্তত ১০৯টি প্রত্নতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহাসিক প্রমাণ রয়েছে যা প্রমাণ করে, এই সম্পত্তিটি একটি হিন্দু মন্দির।

    মামলার আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, এএসআই ‘বেআইনিভাবে’ মুসলিমদেরকে গত শুক্রবারে তেজো মহালয়া বা তাজমহলে ‘নামাজ’ পড়ার অনুমতি দিয়েছে। এ কারণে দর্শনার্থীদের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং ভবন চত্বরের বেশ কয়েকটি তলা তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে। বাদীপক্ষের দাবি, হিন্দু ‘পূজা’ ও দেবতার আরাধনা ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এই সম্পত্তির ব্যবহার বেআইনি।

    আবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, বিতর্কিত সম্পত্তির পরিচয় নিয়ে কোনো বিরোধ নেই। কারণ, এটি একটি সর্বজনবিদিত প্রাচীন স্মৃতিসৌধ। তা ছাড়া আবেদনকারীদের যুক্তি, সৌধটির শারীরিক বৈশিষ্ট্য, কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য এবং তালাবদ্ধ অংশগুলো ‘কেবল মৌখিক সাক্ষ্যের মাধ্যমে কার্যকরভাবে প্রমাণ করা সম্ভব নয়’।

    আবেদনে দাবি করা হয়েছে, এএসআই-নিয়ন্ত্রিত এই সৌধটিতে তাদের অবাধ প্রবেশের অধিকার নেই, যার ফলে কার্যকর নিরপেক্ষ সিদ্ধান্তের জন্য আদালতের নিযুক্ত একজন ফটোগ্রাফার ও ভিডিওগ্রাফার নিয়োগ দেওয়া অপরিহার্য।

    এই পটভূমিতে আবেদনকারীরা দাবি করেছেন, হাইকোর্ট যেন আগ্রা আদালতের আদেশ বাতিল করেন এবং ট্রায়াল কোর্টকে (নিম্ন আদালত) গুণাগুণের ভিত্তিতে অ্যাডভোকেট-কমিশনার নিয়োগের আবেদনটি নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেয়।

    এ ছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন একটি স্থগিতাদেশের আবেদনে অনুরোধ করা হয়েছে, হাইকোর্ট যেন এএসআইয়ের পরিচালককে নির্দেশ দেন, আবেদনকারীদের উপস্থিতিতে ভবনের ভেতর ও বাইরের ছবি তোলা হয় এবং তা বর্তমান বিচারিক প্রক্রিয়ায় দাখিল করা হয়।

    বিষয়টি নিয়ে অবগত আইনজীবীরা মনে করছেন, তাজমহল নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছিল এবং যা ৬ জুলাই একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেল, তা একটি নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে। একইভাবে ভারতে নতুন এক বিতর্কের সূচনা হয়েছিল তিন দশক আগে বাবরি মসজিদকে কেন্দ্র করে, যা ২০১৯ সালে ভারতে রামমন্দির বলে আদালত চিহ্নিত করেছিলেন। তাজমহলের কপালে কী লেখা আছে, তা বোঝা যাবে আর কয়েক বছরের মধ্যেই

  • ৪৫৫ শিশুর জন্য জীবনের সর্বস্ব দান করলেন চীনা দম্পতি, ঘরে মিলল জরাজীর্ণ আসবাব

    ৪৫৫ শিশুর জন্য জীবনের সর্বস্ব দান করলেন চীনা দম্পতি, ঘরে মিলল জরাজীর্ণ আসবাব

    জীর্ণ আসবাব, স্কচটেপ দিয়ে মেরামত করা চশমা আর ১৭ ইউয়ানের (প্রায় ২৫০ টাকা) দুপুরের খাবার দুজনে ভাগ করে খাওয়া—এমন অতি সাধারণ ও মিতব্যয়ী জীবন ছিল চীনের এক নিঃসন্তান দম্পতির। কিন্তু মৃত্যুর পর তাঁরা যে অনন্য কীর্তি রেখে গেছেন, তা এখন বিশ্বজুড়ে মানুষের হৃদয় জয় করে নিয়েছে।

    নিজেদের জীবনের সব সঞ্চয় মিলিয়ে প্রায় ৫০ লাখ ইউয়ান (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৮ কোটি টাকার সমতুল্য) জন্মগত হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য দান করে গেছেন এই দম্পতি। তাঁদের এই মহৎ দানের ফলে অন্তত ৪৫৫ জন শিশুর জটিল হৃদ্‌রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে বলে গত মাসে সাংহাইয়ের এক প্রদর্শনীতে নিশ্চিত করেছেন দাতব্য কর্মকর্তারা।

    সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই হৃদয়স্পর্শী তথ্য উঠে এসেছে। একটি পোস্টার বদলে দিল জীবন এই মানবিক গল্পের নেপথ্যে রয়েছেন দু ইংরং ও তাঁর স্ত্রী লু সুয়িং। দু পেশায় কলেজশিক্ষক ছিলেন এবং লু একই কলেজে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৮ সালে ৮১ বছর বয়সে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান দু ইংরং এবং তাঁর স্ত্রী লু সুয়িং গত বছর (২০২৫ সালে) ৯২ বছর বয়সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালের শুরুর দিকে দু ইংরং সাংহাইয়ের ‘ইয়োদা কার্ডিওথোরাসিক হাসপাতাল’-এর সামনে একটি পোস্টার দেখতে পান। সেখানে জন্মগত হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার সহায়তায় সাধারণ মানুষের প্রতি অর্থ সাহায্যের আবেদন জানানো হয়েছিল।

    পোস্টারটি দেখার পর এই দম্পতি তাৎক্ষণিকভাবে ১০টি শিশুর চিকিৎসার জন্য ৫ লাখ ইউয়ান (প্রায় ৭০ লাখ টাকা) দান করেন। এর কিছুদিন পর তাঁরা তাঁদের বাকি ৪৫ লাখ ইউয়ানও (প্রায় ৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা) একই তহবিলে দান করার সিদ্ধান্ত নেন।

    এই দম্পতির ঘরের পরিস্থিতি দেখে হাসপাতালের দাতব্য প্রকল্পের এক কর্মী তাঁদের কিছু টাকা নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য রেখে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কারণ, তাঁদের ঘরটি ছিল অত্যন্ত পুরোনো ও জীর্ণ।

    সেই অনুরোধের জবাবে দু ইংরং বলেছিলেন, ‘আমাদের দুজনেরই আর বেশি সময় বাকি নেই। আমরা পেনশনের টাকা পাই এবং আমাদের কিছু সঞ্চয়ও আছে। আমাদের এত টাকার কোনো প্রয়োজন নেই।’

    নিজেদের কোনো সন্তান না থাকায়, এই দম্পতি তাঁদের আইনি অভিভাবক হিসেবে ‘সাংহাই ওভারসিজ চায়নিজ ফাউন্ডেশন’কে নিযুক্ত করেছিলেন।

    ২০১৮ সালে দু এবং ২০২৫ সালে লুর মৃত্যুর পর ওই ফাউন্ডেশনের কর্মীরা তাঁদের ঘরে গিয়ে অবাক হয়ে যান। ঘরের আসবাবগুলো ছিল বহু পুরোনো, চশমাটি ছিল মেরামত করা। এমনকি তাঁরা দৈনন্দিন খরচের প্রতিটি হিসাব ডায়েরিতে লিখে রাখতেন। অনেক সময় দু ইংরং মাত্র ১৭ ইউয়ানের একটি দুপুরের খাবার কিনে এনে তা দুজনে ভাগ করে খেতেন।

    তবে জীবনযাপনে চরম মিতব্যয়ী হলেও এই দম্পতি মননে ছিলেন অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তাঁদের ঘরে ছিল বইয়ের বিশাল সংগ্রহ, সংবাদপত্রের ক্লিপিংস এবং অজস্র মিউজিক রেকর্ড। শুধু এই শেষ দানই নয়, দীর্ঘ বছর ধরে চীনের বিভিন্ন ভূমিকম্পের ত্রাণ তহবিল, শিক্ষা খাত এবং বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণে তাঁরা নিয়মিত অর্থ দান করে গেছেন।

    তাঁদের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তাঁদের মরদেহ সাগরে সমাহিত করা হয়েছে। ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা অত্যন্ত আবেগপূর্ণ কণ্ঠে জানান, এই দম্পতির রেখে যাওয়া সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার বা সম্পত্তি হলো সেই ৪৫৫টি শিশু, যাদের হার্ট এখন সুস্থভাবে স্পন্দিত হচ্ছে কেবল এই দম্পতির ভালোবাসায়।

  • ভারতে পুলিশ কর্মকর্তার ৩০০ কোটি রুপির অবৈধ সম্পদ: গ্রেপ্তার

    ভারতে পুলিশ কর্মকর্তার ৩০০ কোটি রুপির অবৈধ সম্পদ: গ্রেপ্তার

    ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রায় ৩০০ কোটি রুপি মূল্যের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্যের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা (এসিবি)। সোমবার সন্ধ্যায় ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) সানকিরেড্ডি ভীম রেড্ডিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের মামলা করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

    এসিবির কর্মকর্তারা একাধিক স্থানে তল্লাশি শেষ করার পর ওইদিন সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৪০ মিনিটে হায়দরাবাদের ইব্রাহিমবাগ এলাকার ভেসেলা মেডোজে অবস্থিত বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তাকে এসিবির বিশেষ আদালতে হাজির করার কথা জানানো হয়। এসিবির অভিযোগ, চাকরিকালীন সময়ে দুর্নীতির মাধ্যমে এবং বিভিন্ন অবৈধ উপায়ে ভীম রেড্ডি তার বৈধ আয়ের তুলনায় বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

    কয়েক দিন আগে এসিবি একযোগে তার বাসভবনসহ তেলেঙ্গানা ও কর্নাটকের মোট ১৬টি স্থানে অভিযান চালায়। এসব স্থানের মধ্যে তার আত্মীয়স্বজন, বন্ধু, কথিত বেনামি মালিক এবং সহযোগীদের সম্পত্তিও ছিল। তল্লাশিতে কর্মকর্তারা নিম্নলিখিত সম্পদের সন্ধান পান- হায়দরাবাদের ভেসেলা মেডোজে একটি বিলাসবহুল ভিলা। টেলিকম নগরে জি+২+পেন্টহাউস বিশিষ্ট একটি আবাসিক ভবন। সাই প্রভা রেসিডেন্সিতে একটি ফ্ল্যাট। গাচিবাউলির ক্রান্তি সিওন অ্যাপার্টমেন্টে একটি ফ্ল্যাট। মানিকোন্ডার ল্যাঙ্কোহিলস রোডে ৫০০ বর্গগজ জমির ওপর নির্মিত একটি জি+৫ বাণিজ্যিক ভবনের অংশীদারত্ব।

    মানিকোন্ডা মারিচেত্তু জংশনের কাছে প্রায় ৩ হাজার বর্গফুটের একটি বাণিজ্যিক জায়গা। টেল্লাপুরের অভিনন্দা রেসিডেন্সিতে দুটি ফ্ল্যাট। প্রগতি রিসোর্টস এলাকায় ৫০০ বর্গগজের একটি খালি প্লট। সাঙ্গারেড্ডির জহিরাবাদে সাড়ে ৩ একর কৃষিজমি। কর্নাটকে ৬ একর কৃষিজমি। কর্নাটকেই আরও ৩৮ একর কৃষিজমি। ব্যাঙ্গালোরের দেবনাহাল্লিতে ১ একর জমি। নাগোলের কামিনেনি হাসপাতালের কাছে ২০০ বর্গগজের একটি প্লট। পাটানচেরুর জিপিআর হাউজিং সোসাইটির কাছে ৪০০ বর্গগজের একটি প্লট। পাটানচেরুতেই আরও ২০০ বর্গগজের একটি প্লট। বিকারাবাদের মোমিনপেটে ১ হাজার বর্গগজের একটি জমি। মোমিনপেটে ২ একর কৃষিজমি। শ্রী রাঘবেন্দ্র রক স্যান্ড মিনারেলস নামের প্রতিষ্ঠানে ৭৫ লাখ রুপির বিনিয়োগ। সিসি কুন্তা এলাকার মুচিন্তালা গ্রামে ৪ দশমিক ২০ একর কৃষিজমি। নগদ অর্থ, স্বর্ণ ও রুপা। তল্লাশিতে ভীম রেড্ডির বাড়ি থেকে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার ।

    এ ছাড়া তার কথিত এক বেনামি ব্যক্তির বাড়ি থেকে আরও ৪০ লাখ রুপি নগদ পাওয়া যায়। অভিযানে প্রায় ২ কেজি স্বর্ণালংকার, প্রায় ২০ কেজি রুপার সামগ্রী এবং বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১৯ লাখ ৯১ হাজার রুপি জমার তথ্যও উদ্ধার করা হয়েছে।

    এসিবির কর্মকর্তারা বলছেন, এই ডায়েরিটি মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে কাজ করেছে।

  • গুম, হেফাজতে খুন নিয়ে নির্মিত সিনেমা নিষিদ্ধ করল ভারত সরকার, তুমুল বিতর্ক

    গুম, হেফাজতে খুন নিয়ে নির্মিত সিনেমা নিষিদ্ধ করল ভারত সরকার, তুমুল বিতর্ক

    ভারতে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জি-ফাইভের ভারতীয় ক্যাটালগ থেকে পাঞ্জাবের বিতর্কিত ছবি ‘সতলুজ’ সরিয়ে নেওয়ার পর তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মুক্তির মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারতের দর্শকদের জন্য ছবিটির স্ট্রিমিং বন্ধ করে দেওয়া হয়। জশবন্ত সিং খালরা নামক এক শিখ মানবাধিকারকর্মীর জীবনের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই ছবিতে মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ।

    ছবিটি আকস্মিকভাবে সরিয়ে নেওয়ার তীব্র নিন্দা করেছেন স্বয়ং দিলজিৎ দোসাঞ্জ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘আমি এই অন্ধকারকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি। খালরা সাহেবের কণ্ঠস্বর কেউ দমাতে পারবে না।’

    বিখ্যাত বিনোদন সাময়িকী ভ্যারাইটি ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দিলজিৎ দোসাঞ্জ এই ছবিটিকে তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম অর্থবহ কাজ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘ভাই জশবন্ত সিং খালরা জির আত্মত্যাগ এবং মানবতার প্রতি তাঁর অবদানই ছিল এই চলচ্চিত্রে আমার যুক্ত হওয়ার মূল কারণ। আমি অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা এবং শ্রদ্ধার সঙ্গে এই চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।’

    ছবিটি ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে, এমন আশঙ্কা দোসাঞ্জ আগেই করেছিলেন। গত শনিবার এক ইনস্টাগ্রাম লাইভে তিনি ভক্তদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, সোমবারের মধ্যে ছবিটি নামিয়ে নেওয়া হতে পারে। তবে কোনো চিন্তা নেই, আপনারা এটি ডাউনলোড করে নিন।’

    সোমবার রাজস্থানে খোলা আকাশের নিচে প্রজেক্টরে ছবিটির একটি গণপ্রদর্শনীর ভিডিও ক্লিপ এক্সে (সাবেক টুইটার) শেয়ার করে দোসাঞ্জ পাঞ্জাবিতে লেখেন, ‘হুন নি রুকনি ফিল্ম। খালরা সাব দি আওয়াজ নু কোই নি দাবা সাকদা।’ (অর্থাৎ, এই ছবি আর থামানো যাবে না। খালরা সাহেবের কণ্ঠস্বর কেউ দমাতে পারবে না)।

    কী বলছে জি-ফাইভ কর্তৃপক্ষ?

    হানি ত্রেহানের পরিচালনায় এবং দিলজিৎ দোসাঞ্জ ও অর্জুন রামপাল অভিনীত এই ছবিটিতে মূলত ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যবর্তী সময়ে পাঞ্জাবে পুলিশের হাতে নিখোঁজ ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হাজার হাজার মানুষের পরিচয় শনাক্তকরণ ও সৎকারের লড়াইকে তুলে ধরা হয়েছে।

    ভারতের বাইরে ‘জি-ফাইভ গ্লোবাল’ প্ল্যাটফর্মে ছবিটি এখনো দেখা গেলেও, ভারতের ক্যাটালগ থেকে এটি তুলে নেওয়া হয়েছে। জি-ফাইভ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, ‘মুক্তির পর থেকে “সতলুজ” ছবিটির প্রতি দর্শকদের সাড়া সত্যিই অভিভূত করার মতো। আমরা ছবিটির সৃজনশীল ভাবনার সঙ্গে দৃঢ়ভাবে আছি… তবে বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভারতে ছবিটির স্ট্রিমিং বন্ধ থাকবে। আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যথাযথ উপায়ে ছবিটি যত দ্রুত সম্ভব ভারতীয় দর্শকদের কাছে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি।’

    রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ

    ছবিটি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা পাঞ্জাবের রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝড় তুলেছে। রাজনৈতিক দলগুলো একে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখছে।

    শিরোমনি আকালি দল (এসএডি) দলের সভাপতি সুখবীর সিং বাদল এক পোস্টে বলেন, ‘এটি আমাদের যৌথ স্মৃতি, সত্য এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর এক নির্লজ্জ আঘাত। পাঞ্জাবকে তার অতীতের অপ্রীতিকর ইতিহাসের মুখোমুখি হতে দেওয়া উচিত, তা চাপা দেওয়া কোনো সমাধান নয়।’

    কংগ্রেস নেতা সুখপাল সিং খাইরা অবিলম্বে ছবিটি পুনরায় ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, ছবিতে প্রদর্শিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো আদালতের রায়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

    আম আদমি পার্টির (এএপি) সংসদ সদস্য মালবিন্দর সিং কাং সরাসরি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘এই ছবিটি ব্লক করে বিজেপি তাদের আসল মুখ উন্মোচন করেছে। পাঞ্জাবের সত্য প্রকাশে তাদের ঐতিহাসিক ভয় আবারও স্পষ্ট হলো।’

    শিরোমনি গুরুদ্বারা প্রবন্ধক কমিটির (এসজিপিসি) প্রধান সচিব কুলবন্ত সিং মানান বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেন, পাঞ্জাবের চরমপন্থী সময়কালের ইতিহাস নিয়ে নির্মিত এই ছবি দেখার এবং সে সম্পর্কে নিজস্ব মতামত তৈরি করার অধিকার জনগণের রয়েছে।

    তিন বছরের সেন্সরশিপ জটিলতা

    চলচ্চিত্রটির এই ওটিটি মুক্তি সহজ ছিল না। মূলত ‘ঘাল্লুঘারা’ (শিখদের ওপর হওয়া ঐতিহাসিক গণহত্যা নির্দেশক শব্দ) নামে ২০২২ সালে ছবিটি প্রথম সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশনের (সিবিএফসি) কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। সে সময় বোর্ড ছবিটির ১২৭টি দৃশ্য কাটার নির্দেশ দেয় এবং ছবির নাম বদলে ‘পাঞ্জাব ৯৫’ রাখার কথা বলে।

    প্রযোজকেরা প্রথমে বম্বে হাইকোর্টে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেন। তিন বছর ধরে জটিলতা চলার পর এবং ২০২৩ সালের টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রিমিয়ার থেকে ছবিটিকে সরিয়ে নেওয়ার পর, অবশেষে গত ৩ জুলাই ‘সতলুজ’ নামে ছবিটি ভারতের জি-ফাইভে মুক্তি পায়।

    পরিচালক হানি ত্রেহান এক সাক্ষাৎকারে বলেন, থিয়েটার রিলিজ পাওয়ার সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে ওটিটি মুক্তির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেন্সর বোর্ডের কাছ থেকে কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই দীর্ঘ বিলম্বের পর, ছবির প্রযোজকেরা সেন্সর সার্টিফিকেট ছাড়াই সরাসরি ওটিটি মুক্তির পথ বেছে নেন। দিলজিৎ দোসাঞ্জও দাবি করেন, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ছবিটি কোনো রকম কাটছাঁট ছাড়াই স্ট্রিম করা হয়েছিল।

    কেন জশবন্ত সিং খালরা ও এই চলচ্চিত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?

    পাঞ্জাবের ইতিহাসের এক রক্তাক্ত অধ্যায়ের ওপর ভিত্তি করে এই ছবি নির্মাণ করা হয়েছে। শিখ অধিকারকর্মী জশবন্ত সিং খালরা ১৯৯০-এর দশকে পাঞ্জাব পুলিশের দ্বারা বেওয়ারিশ বা অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে পুড়িয়ে ফেলা প্রায় ২৫ হাজার মৃতদেহের রহস্য উদ্‌ঘাটন করেন। তাঁর এই তদন্তের ফলে শত শত পুলিশ কর্মকর্তার জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে আসে।

    ১৯৯৫ সালে জশবন্ত সিং খালরাকে তাঁর বাড়ির সামনে থেকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে পুলিশ হেফাজতেই তাঁকে হত্যা করা হয়। ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার (সিবিআই) তদন্তের পর ২০০৭ সালে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট এই অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে চারজন পুলিশ কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।

    চলচ্চিত্রটি ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়ায় ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনে ‘দ্বিমুখী নীতি’ ও পক্ষপাতমূলক সেন্সরশিপের বিতর্ক নতুন করে উসকে গেছে।

    সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলছেন, যেখানে উগ্র ডানপন্থী ও রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ছবি যেমন—‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ (২০২২), ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ (২০২৩) বা ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ (২০২৫) কোনো বাধা ছাড়াই অবাধে প্রদর্শিত ও স্ট্রিম হচ্ছে, সেখানে পাঞ্জাবের বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি মানবাধিকার বিষয়ক চলচ্চিত্রকে কেন সেন্সরশিপের বেড়াজালে আটকে ভারতের দর্শকদের থেকে দূরে রাখা হচ্ছে।

  • নতুন লুকে জয়া আহসান, স্টাইলিশ ১০ ছবি

    নতুন লুকে জয়া আহসান, স্টাইলিশ ১০ ছবি

    বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের দর্শকের কাছে জয়া আহসান শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী নন, বরং সময়ের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোর মুখ। বর্তমানে অভিনয় নিয়েই তার ব্যস্ততা। আমাগী ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার নতুন সিনেমা ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’। সিনেমার মুক্তির আগে নতুন রূপে হাজির হলেন এই অভিনেত্রী।

    মঙ্গলবার নতুন ফটোশুটের বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করেছেন জয়া। ছবিটিতে জয়া আহসানকে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস লুকে দেখা যাচ্ছে। ছবি: ফেসবুক

    সাদা রঙের ডাবল-ব্রেস্টেড ব্লেজার ও গলায় একাধিক স্তরের সোনালি-সবুজ পাথর বসানো স্টেটমেন্ট নেকলেস। ডান হাতের অনামিকায় বড় সবুজ রত্নখচিত আংটি, যা নেকলেসের সঙ্গে মানানসই। গয়নাগুলো ছবির প্রধান আকর্ষণগুলোর একটি। ছবি: ফেসবুক

    ছবিগুলো বেশ পছন্দ করেছেন তার ভক্তরা। প্রতিক্রিয়া এসেছে এক হাজারের বেশি। ভক্তদের অনেকে জয়ার পোস্ট করা এসব স্থিরচিত্র নিজের ফেসবুক ওয়ালেও শেয়ার করেছেন।ছবি: ফেসবুক

    ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমার প্রচারণার জন্য বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন জয়া। ছবি: ফেসবুক

    ক’দিন আগে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমা নিয়ে জয়া বলেন, ‘অভিনয়শিল্পীর বাইরে আমি একজন দর্শকও। তাই আমিও অপেক্ষা করছি সিনেমাটি দেখার জন্য। এই সিনেমার প্রথম পর্বে যে সম্পর্কের সমীকরণ আমরা দেখেছিলাম, এবার সেটি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখবে দর্শক।’ ছবি: ফেসবুক

    ‘অর্ধাঙ্গিনী’র গল্প যেখানে শেষ হয়েছিল, সেখান থেকেই এগোবে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’। ফলে আগের ছবির দুই গুরুত্বপূর্ণ নারী চরিত্রের সম্পর্ক এবার কোন নতুন দিকে মোড় নেয়, সেটিই সিনেমাটির অন্যতম আকর্ষণ বলে মনে করছেন জয়া আহসান। ছবি: ফেসবুক

    ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমায় জয়া আহসান ছাড়াও অভিয়ন করেছেন চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়, কৌশিক সেন, ইন্দ্রাশিস রায় ও অম্বরীশ ভট্টাচার্য প্রমুখ। ছবি: ফেসবুক

    জয়াকে সবশেষ পর্দায় দেখা গেছে পশ্চিমবঙ্গের ‘ওসিডি’ সিনেমায়। এটি পরিচালনা-রচনা করেছেন সৌকর্য ঘোষাল। এই সিনেমাটি শৈশবের তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং মানসিক চাপ নিয়ে তৈরি। ছবি: ফেসবুক

    চলতি বছরের শুরুতে সুমন মুখার্জি পরিচালিত ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রী (সমালোচক) বিভাগে ‘জি ২৪ ঘণ্টা’ আয়োজিত ‘বিনোদনের সেরা ২৪’ অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন। ছবি: ফেসবুক

  • জেট ফুয়েলের দাম কমলো

    জেট ফুয়েলের দাম কমলো

    উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের (জেট এ-১) দাম লিটার প্রতি ১৯ টাকা কমিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য শুল্ক ও মূসকসহ এ দাম কমানো হয়।

    এছাড়া দেশী ও বিদেশী এয়ারলাইন্সগুলোর আর্ন্তজাতিক ফ্লাইটের জন্য শূন্য দশমিক ১৩ মার্কিন ডলার কমানো হয়েছে।

    মঙ্গলবার বিইআরসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

    নতুন এই মূল্য আজ রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে।

    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রুটের এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য জেট এ-১ ফুয়েলের দাম লিটার প্রতি ১৫০ টাকা ২১ পয়সা থেকে ১৯ টাকা ২২ পয়সা কমিয়ে ১৩০ টাকা ৯৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    অপরদিকে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের জন্য এই দাম লিটার প্রতি শূন্য দশমিক ৯৮০৮ ডলার থেকে শূন্য দশমিক ১৩ ডলার কমিয়ে শূন্য দশমিক ৮৫৫৬ ডলার করা হয়েছে।

    বিইআরসি জানায়, গত ৫ জুন থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে প্লাটস রেটের গড় মূল্য বিবেচনা করে এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের (পিওসিএল) প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩ এর ৩৪ (৪) এবং ৩৪ (৬) ধারা অনুযায়ী বিইআরসি আজ একটি গণশুনানি করে।

    গণশুনানিতে ৫ জুন থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত জেট এ-১ ফুয়েলের প্লাটস রেটের বিস্তারিত মূল্যের পাশাপাশি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) নিষ্পত্তিতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বিবেচনা করে জুলাই মাসের জন্য এই মূল্য নির্ধারণ করেছে বিইআরসি।

  • বিপাকে ওপেক, তেলের দাম নামতে পারে ৪০ ডলারে

    বিপাকে ওপেক, তেলের দাম নামতে পারে ৪০ ডলারে

    ইরান যুদ্ধ বিশ্বরাজনীতির পাশাপাশি ওপেকের মতো শক্তিশালী তেল উৎপাদনকারী জোটের দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিরোধকে চরমভাবে উসকে দিয়েছে। এই বসন্তে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহ সংকটের মুখোমুখি হওয়ার পর, প্রায় ৭০ বছরের পুরোনো এই জোটটি এখন নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে অবতীর্ণ। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি ধাপে ধাপে পুনরায় সচল হতে শুরু করায় ওপেকের বেশ কয়েকটি সদস্য দেশ যুদ্ধকালীন ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তেল উৎপাদন এক ধাক্কায় ব্যাপক হারে বাড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছে। আর এটিই জোটের ভেতরে উৎপাদন কোটা নিয়ে পুরোনো দ্বন্দ্বকে নতুন করে পুনরুজ্জীবিত করেছে।

    এই কোটা বিতর্কের জের ধরেই গত এপ্রিল মাসে ওপেকের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) জোট ত্যাগ করে। এখন ওপেকের সামনে কেবল দুটি কঠিন পথ খোলা রয়েছে। হয় জোটকে ধরে রাখতে গিয়ে তেলের বাজার ধসিয়ে দেয়া, না হয় মুনাফা বাড়াতে গিয়ে জোটের ভাঙনকে ত্বরান্বিত করা। চলতি বসন্তে যখন পুরো বিশ্ব তেলের তীব্র সংকটে ভুগছিল, তখন মধ্যপ্রাচ্যে তেলের অভাব না থাকলেও পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল ক্রেতাদের কাছে পাঠাতে পারছিল না।

    গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বা হরমুজ প্রণালি ইরানের অবরুদ্ধ করা এবং পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অবরোধের কারণে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ প্রায় পুরোপুরিভাবে আটকা পড়ে যায়। ফলে ইরান, ইরাক ও কুয়েতের মতো ওপেক সদস্যরা উৎপাদন বন্ধ করে অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। এখন প্রণালি সচল হতেই ওপেকের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ ইরাক তাদের উৎপাদনের কোটা বাড়ানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।

    ইরাকের তেল বিষয়ক মন্ত্রী ব্লুমবার্গকে জানান, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নাটকীয়ভাবে বাড়ানো না হলে ওপেকে থাকা না থাকার বিষয়ে তাদের নতুন করে ভাবতে হবে। যুদ্ধে ইরাকের তেল উৎপাদন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির দৈনিক ৪৫ লাখ ব্যারেল থেকে কমে এপ্রিল-মে মাসে মাত্র ১০ লাখ ব্যারেলে নেমে আসে। এখন তারা রেকর্ড দৈনিক ৫০ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলনের অনুমতি চায়। তারা দীর্ঘমেয়াদে ৭০ লাখ ব্যারেল উৎপাদন করতে চায় বলে জানায়। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশটির এই মুহূর্তে নগদ অর্থের তীব্র প্রয়োজন। তবে এই সংকটে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের চাবিকাঠি রয়েছে ওপেকের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি সৌদি আরবের হাতে।

    ইরাক বা কুয়েতের মতো সৌদির হুট করে উৎপাদন বাড়ানোর তাড়া নেই। কারণ যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার করে তারা প্রায় ৬০ ভাগ ব্যবসা সচল রাখতে পেরেছিল, যা পারস্য উপসাগরের ওপর নির্ভরশীল ইরাক বা কুয়েতের পক্ষে সম্ভব ছিল না। ফলে সৌদি আরব বাজার স্থিতিশীল রাখতে উৎপাদন হুট করে বাড়ানোর ঘোর বিরোধী। কারণ বৈশ্বিক চাহিদা পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হওয়ার আগে বাজারে তেলের বন্যা বয়ে দিলে তেলের দাম ও মুনাফা দুটিই তলানিতে ঠেকবে।

    এই কারণেই রাশিয়া ও অন্যান্য নন-ওপেক দেশগুলোকে নিয়ে গঠিত ওপেক প্লাস জোট সম্প্রতি দৈনিক মাত্র ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ওপেক যদি উৎপাদন সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে যায়, তবে সেই তেলের বড় কোনো ক্রেতা মিলবে না। যুদ্ধের সময় তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় এবং সরবরাহের ঘাটতি থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির চাহিদা ব্যাপক কমে যায়, যা এখনো পুনরুদ্ধার হয়নি। বিশেষ করে চীন ও ইউরোপ এই বসন্তে ব্যাপকভাবে বৈদ্যুতিক প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকে পড়ায় তেলের চাহিদা আগের জায়গায় আর কখনো নাও ফিরতে পারে।

    যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের জরুরি তেলের মজুদ (রিজার্ভ) ১.৪ বিলিয়ন ব্যারেল কমে গেছে এবং তা পূরণ করা প্রয়োজন, তবে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে দেশগুলো ২০২৭ সালের আগে বড় কেনাকাটায় নাও যেতে পারে। যদি ওপেকের উৎপাদন নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়ে, তবে আগামী বছর তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৬০ ডলারে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে তা ৫০ ডলারে নেমে আসতে পারে। আর পরিস্থিতি যদি আরও চরম আকার ধারণ করে, তবে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান অন্য সদস্যদের ওপর চাপ তৈরি করতে নিজেদের উৎপাদনও বাড়িয়ে দিতে পারেন।

    তেমনটি হলে তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে ৪০ ডলারের ঘরে নেমে আসবে। এমন এক পরিস্থিতি যা কেবল সৌদির মতো ধনী দেশের পক্ষেই সহ্য করা সম্ভব, বাকি ওপেক সদস্যদের জন্য যা হবে চরম বিপর্যয়। বৈশ্বিক তেলের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সরবরাহ ঘাটতি থেকে এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেলের উদ্বৃত্তের দিকে

  • যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মসজিদে হামলা-হুমকি, আতঙ্কে মুসলিমরা

    যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মসজিদে হামলা-হুমকি, আতঙ্কে মুসলিমরা

    যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক হামলা, মসজিদ ও ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারে হুমকির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক হামলা ও নিরাপত্তা হুমকির কারণে দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।


    সান দিয়েগো শাখার কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (সিএআইআর) নির্বাহী পরিচালক তাজহিন নিজাম দ্য নিউ আরবকে বলেন, আগে মসজিদটি সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। তবে হামলার পর এখন প্রবেশকারীদের পরিচয় যাচাই করে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে।


    তিনি বলেন, অনেক মানুষ এখন আর জনসমাগমস্থলে নিরাপদ বোধ করেন না।
    গত দুই সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট ও মিশিগানের দুটি মসজিদে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছে। একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের একটি মসজিদেও।


    এসব ধারাবাহিক হামলা ও হুমকির কারণে উত্তর আমেরিকার অনেক মুসলিম প্রতিদিনের স্বাভাবিক জীবনযাপন নিয়েও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে বড় ধরনের কোনো হামলার পর অনুকরণমূলক হামলার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।


    ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে সিএআইআর জানায়, ২০২৪ সালে তারা মুসলিম ও আরবদের বিরুদ্ধে ৮ হাজার ৬৫৮টি বৈষম্য ও বিদ্বেষমূলক ঘটনার অভিযোগ পেয়েছে, যা ১৯৯০-এর দশক থেকে তথ্য সংরক্ষণ শুরু করার পর সর্বোচ্চ।
    এসব অভিযোগের প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল সরাসরি ঘৃণাজনিত অপরাধ (হেট ক্রাইম)। সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি বছরের তথ্য-উপাত্তও প্রায় একই মাত্রার ইসলামবিদ্বেষী ঘটনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।


    এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যও পরিস্থিতিকে আরও উসকে দিয়েছে।
    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কয়েকটি মুসলিমপ্রধান দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। এছাড়া ইরানকে ঘিরে তার সাম্প্রতিক সামরিক অবস্থান এবং মিনেসোটার সোমালি সম্প্রদায় নিয়ে তার বক্তব্যও মুসলিমবিদ্বেষকে উসকে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।


    গত চার বছরে যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে হামলা ও হুমকির ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য। সেখানে ৪৪টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। একই সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় এ ধরনের ৮টি ঘটনা ঘটেছে।


    গত মঙ্গলবার মিনেসোটার সোমালি সম্প্রদায়ের এক ইমামকে টেক্সাসে মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ (আইসিই) আটক করেছে। তবে ঠিক কী কারণে তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।


    সিএআইআর-মিনেসোটার উপ-নির্বাহী পরিচালক আদান সুলেইমান দ্য নিউ আরবকে বলেছেন, এখন ঘটনাগুলো আমাদের খুব কাছাকাছি ঘটছে। প্রতিনিয়ত এমন কাউকে চিনি, যিনি কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
    তার ভাষায়, মানুষ ভয় ছাড়া স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে পারছে না। কেউ যখন মসজিদে আল্লাহর ইবাদত করতে যায়, তখনও মনে প্রশ্ন জাগে- আমার সঙ্গেও কি কোনো দুর্ঘটনা ঘটবে?

    ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মসজিদ নিরাপত্তা জোরদার করেছে। কোথাও অগ্নিনিরোধক ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছে, কোথাও নিয়োগ দেয়া হয়েছে সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী।
    তবে মুসলিম নেতারা বলছেন, কঠিন এই সময়ে স্থানীয় অমুসলিম সম্প্রদায়ের সমর্থন তাদের আশাবাদী করে তুলছে। হামলার পর অনেক প্রতিবেশী মসজিদে ফুল ও সংহতির বার্তা পাঠিয়েছেন।


    দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার লা মারিদা মসজিদও সম্প্রতি হুমকিমূলক চিঠি পেয়েছে। মসজিদের সভাপতি রেজাউর রহমান জানান, সান দিয়েগোর হামলার পরও তারা আগামী অক্টোবরে নির্ধারিত ‘ওপেন হাউস’ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
    তিনি বলেন, আমরা শুধু এই সমাজে বসবাস করি না, আমরাই এই সমাজের অংশ।

  • ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিল সৌদি আরব

    ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিল সৌদি আরব

    বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণ আরও সহজ করতে ‘প্যাকেজ ভিসা’ নামে নতুন একটি কর্মসূচি চালু করেছে সৌদি আরব। এর আওতায় ভ্রমণকারীরা ফ্লাইট, আবাসন ও অন্যান্য ভ্রমণসেবাসহ একটি সমন্বিত ভ্রমণ প্যাকেজের মাধ্যমে পর্যটন ভিসা পেতে পারবেন।

    সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, অনুমোদিত ট্রাভেল ও ট্যুরিজম সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। খবর গালফ নিউজের।

    নতুন ‘প্যাকেজ ভিসার’ আওতায় যোগ্য ভ্রমণকারীরা একটি সমন্বিত প্যাকেজের মাধ্যমে পর্যটন ভিসার আবেদন করতে পারবেন। এসব প্যাকেজে যাওয়া-আসার বিমান টিকিট, অনুমোদিত হোটেল বা আবাসন এবং ইলেকট্রনিক ভিসা আবেদন সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এছাড়া পর্যটকেরা বিভিন্ন অনুষ্ঠান, ভ্রমণ কার্যক্রম ও দর্শনীয় স্থানও তাদের ভ্রমণ করতে পারবেন।

    এর ফলে আলাদাভাবে বিমান টিকিট, হোটেল বুকিং ও ভিসা প্রক্রিয়া পরিচালনার প্রয়োজন কমে যাবে। তবে কেবল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং ২৪ ঘণ্টা গ্রাহকসেবা থাকা অনুমোদিত ট্রাভেল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোই এই সেবা দিতে পারবে।

    সৌদি সরকারের ‘ভিশন ২০৩০’ এর আওতায় পর্যটন খাত সম্প্রসারণের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে দেশটির পর্যটন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বীমা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ করেছে।

    সৌদি আরবের পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আল খাতিব বলেন, ‘সৌদি আরবের পর্যটন অগ্রযাত্রা সবসময়ই উচ্চাকাঙ্ক্ষা, উন্মুক্ততা ও ধারাবাহিক উন্নয়নের প্রতিফলন। প্যাকেজ ভিসার মাধ্যমে আমরা পর্যটকদের যাত্রা সহজ করছি এবং ভ্রমণকে আরও আধুনিক করে তুলছি।’

    ।

  • পাকিস্তানে পুলিশকে লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু গুলি, ওসিসহ নিহত ৯

    পাকিস্তানে পুলিশকে লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু গুলি, ওসিসহ নিহত ৯

    পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের জিয়ারাত জেলায় একটি পুলিশ পোস্টে সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ৯ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রয়েছেন। মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

    বেলুচিস্তান সরকারের গণমাধ্যম ও রাজনৈতিকবিষয়ক মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা শাহিদ রিন্দ জানান, হামলার পর যৌথ ক্লিয়ারেন্স অভিযানে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ১৫ সদস্য নিহত হয়েছে। খবর ডন নিউজের।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, গভীর রাতে একদল সশস্ত্র হামলাকারী পুলিশ পোস্টে আক্রমণ চালায়। পুলিশ সদস্যরা কিছু সময় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলি চালালেও একপর্যায়ে হামলাকারীরা পোস্টটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।

    জিয়ারাতের ডেপুটি কমিশনার আবদুল কুদ্দুস আচাকজাই জানান, ঘটনাটি মাঙ্গি ড্যাম এলাকায় ঘটেছে। তিনি বলেন, এখনো পাঁচ পুলিশ সদস্যের খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাদের উদ্ধারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    শাহিদ রিন্দ জানান, এ হামলায় মাঙ্গি ও কাওয়াস থানার দুই কর্মকর্তা এবং সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনীর ইনচার্জ হেড কনস্টেবল নিহত হয়েছেন। নিহতদের মরদেহ আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

    তিনি আরও জানান, হামলার পর শুরু হওয়া যৌথ ক্লিয়ারেন্স অভিযান শেষ হয়েছে। এতে ১৫ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। বেলুচিস্তানে শান্তি নষ্টের চেষ্টার জন্য সন্ত্রাসীদের ‘চড়া মূল্য’ দিতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    এদিকে হামলার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা কোয়েটা-জিয়ারাত মহাসড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এতে কোয়েটা-ঝোব মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

    পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বেলুচিস্তানের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্টের সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিযান পূর্ণ শক্তিতে চলবে।

    প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও হামলার নিন্দা জানিয়ে নিহত পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন পিটিভির বরাতে তিনি বলেন, শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া হবে এবং বেলুচিস্তানের শান্তি বিনষ্টের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। শত্রুদের সম্পূর্ণ নির্মূল না করা পর্যন্ত অভিযান চলবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

  • দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে ইন্দোনেশিয়া-ভারত চুক্তি

    দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে ইন্দোনেশিয়া-ভারত চুক্তি

    প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে একমত হওয়ার পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়াকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করবে ভারত। মঙ্গলবার দুই দেশের নেতাদের বৈঠকের পর ভারতের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।

    জাকার্তা থেকে এএফপি জানায়, তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাকার্তায় অবস্থানরত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আতিথ্য দিচ্ছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো। সফরের আলোচ্যসূচির শীর্ষে ছিল ভারতের তৈরি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নিয়ে চুক্তি।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানান, সফরকালে ‘ব্রহ্মোস সিস্টেমে সহযোগিতা’ বিষয়ক একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    তিনি আরো জানান, দুই দেশ আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র (এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল) সহযোগিতা বিষয়েও একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে, যা ‘প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরো শক্তিশালী করবে’।

    তবে এসব চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধেরও জবাব দেয়নি ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

    প্রবোওর সাথে বৈঠকের পর মোদি বলেন, জাকার্তা ও নয়াদিল্লির মধ্যে ‘ক্রমবর্ধমান পারস্পরিক আস্থা’ প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক বিষয়ক সহযোগিতার ভিত্তি আরো শক্তিশালী করেছে।

    তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ আমরা প্রতিরক্ষা বিনিময়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও শিল্পখাতে সহযোগিতা আরো জোরদারের বিষয়ে একমত হয়েছি।’

    মোদি জানান, ভারত মহাসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দুই দেশের কোস্টগার্ডও একযোগে কাজ করবে।

    এশিয়ার দুই বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ, যার বিপুল মজুত রয়েছে ইন্দোনেশিয়ায়, এবং ইস্পাত শিল্পেও যৌথভাবে কাজ করতে সম্মত হয়েছে।

    মোদি বলেন, ‘স্টেইনলেস স্টিল ও বিরল মৃত্তিকা (রেয়ার আর্থ) চুম্বক উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমাদের দুই দেশের কোম্পানিগুলোর মধ্যে নতুন অংশীদারিত্বের সূচনা হচ্ছে।’ প্রবোও বলেন, ইন্দোনেশিয়া ও ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে বিবেচনা করে।

    তিনি জানান, দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানো এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (প্রেফারেনশিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট) নিয়ে আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

    এছাড়া, তারা উভয়েই মধ্য জাভার যোগ্যাকার্তায় অবস্থিত ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী প্রাম্বানান মন্দিরের সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের অগ্রগতিকে স্বাগত জানান। বুধবার তারা একসাথে মন্দিরটি পরিদর্শন করবেন।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইন্দোনেশিয়া সফর শেষ করে মোদি অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরে যাবেন।

  • যুদ্ধবিমান তৈরিতে একজোট হচ্ছে পাকিস্তান-তুরস্ক

    যুদ্ধবিমান তৈরিতে একজোট হচ্ছে পাকিস্তান-তুরস্ক

    তুরস্কের তৈরি ‘কান’ যুদ্ধবিমানের বিভিন্ন প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশ যৌথভাবে উৎপাদনের জন্য একটি বড় ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। দুই দেশের এই উদ্যোগ দ্বিপক্ষীয় সামরিক অংশীদারত্বকে আরো গভীর করবে। একই সঙ্গে তা উভয় দেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    প্রস্তাবিত এই উদ্যোগের আওতায় যুদ্ধবিমানটির ‘কান-পিকে’ সংস্করণের জন্য উন্নত অ্যাভিওনিক্স বা বিমান চালনাসংক্রান্ত ইলেকট্রনিকস এবং রাডার-ব্যবস্থা যৌথভাবে তৈরি করা হবে। এই সহযোগিতার মূল চুক্তিটি ২০২৬ সালের মধ্যে চূড়ান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    উভয় দেশের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের ব্যাপক আগ্রহের কারণে এই যৌথ প্রকল্পগুলোর গতি আরো ত্বরান্বিত হচ্ছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষাশিল্প আরো শক্তিশালী ও উন্নত করার ক্ষেত্রে ‘কান’ যুদ্ধবিমান প্রকল্পটি একটি কৌশলগত মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই যৌথ উৎপাদন পরিকল্পনায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হবে। এই সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিমান চালনা ও বিমান তৈরিতে তুরস্কের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উন্নয়নে দুই দেশই একে অপরের শক্তি ও সক্ষমতা কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।

  • নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে  আন্দোলনের ডাক এহুদ বারাকের

    নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক এহুদ বারাকের

    ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে আইন অমান্য আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক।

    ইরনা জানিয়েছে, এহুদ বারাক বর্তমান রাজনৈতিক ধারার বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের বর্তমান মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে ব্যাপক আইন অমান্য আন্দোলনের ডাক দেন।

    সাবেক ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে নিতে মন্ত্রিসভার অস্বীকৃতি কেবল একটি আইনি বিবাদ নয়, বরং এটি এমন একটি মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে ইসরাইল এবং এর সাংবিধানিক ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, যাদের বিষয়াদি পরিচালনার যোগ্যতা ও দক্ষতা নেই।

    বারাক অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ভবিষ্যতের ওপর এই বিবাদের গুরুতর পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

    বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বান এমন এক সময়ে এসেছে, যখন বিভিন্ন স্তরের ব্যর্থতার কারণে, বিশেষ করে ইসরাইলি মন্ত্রিসভার মাধ্যমে অঞ্চলজুড়ে উস্কে দেওয়া যুদ্ধগুলোর প্রতিকূল ফলাফলের ফলে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসরাইলি শাসনের অভ্যন্তরে তীব্র সংঘাত দেখা দিয়েছে।

  • আজ কাঁদবেন কে, মেসি নাকি সালাহ?

    আজ কাঁদবেন কে, মেসি নাকি সালাহ?

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচে আজ মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল এবং মিশর জাতীয় ফুটবল দল। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ১০টায় যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই লড়াই। ম্যাচটির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন দুই তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি ও মোহামেদ সালাহ।

    ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার অনুশীলন ঘিরে ছিল বাড়তি আগ্রহ। নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে অনুশীলনে যোগ দেন মেসি। এর আগে কোচ লিওনেল স্কালোনি-র সঙ্গে আলাদা বৈঠকে অংশ নেন তিনি। পরে সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলনে প্রাণবন্তভাবেই অংশ নিতে দেখা যায় আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে।

    স্কালোনি বলেন, টানা ম্যাচ, দীর্ঘ বিমানযাত্রা, গরম আবহাওয়া এবং একেক ভেন্যুর ভিন্ন পরিবেশ এবারের বিশ্বকাপকে আরও কঠিন করে তুলেছে। তার মতে, এ টুর্নামেন্টে কোনো দলকেই স্পষ্ট ফেবারিট বলা যাচ্ছে না এবং সামান্য ভুলও বিদায়ের কারণ হতে পারে।

    অন্যদিকে মিশরের কোচ হোসাম হাসান বলেন, তার দল দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা সময় পার করছে। আর্জেন্টিনাকে যথেষ্ট সম্মান করলেও ভয় পান না বলে জানান তিনি। নিজেদের স্বাভাবিক খেলাই খেলতে চান এবং সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।

    আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশে কয়েকটি পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। চোট কাটিয়ে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। আক্রমণভাগে লাওতারো মার্টিনেজের বদলে শুরু থেকেই খেলতে পারেন হুলিয়ান আলভারেজ। মাঝমাঠে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের ফেরার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    অতীত পরিসংখ্যান আর্জেন্টিনার পক্ষে থাকলেও নকআউট পর্বে কোনো হিসাবই শেষ কথা নয়। একটি মুহূর্ত বা একজন খেলোয়াড়ের নৈপুণ্যই বদলে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য। তাই কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে দুই দলই নামছে নিজেদের সেরা খেলাটা উপহার দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে।

  • বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের মান্যবর রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

    মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠকে মিলিত হন তার।

    এ সময় চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেশটির দূতাবাসের রাজনৈতিক সেকশনের পরিচালক ঝ্যাং জিং এবং পলিটিকাল এ্যাটাচে রু কি উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আন্তরিক ও ফলপ্রসূ আলোচনা করা হয় এবং উভয় দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। উভয় পক্ষ উল্লেখ করেন যে, দুই দেশের জনগণের কল্যাণ, রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পারস্পরিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ে দুই দেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আগামী দিনগুলোতে এই সম্পর্ক আরো গভীর, সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক হবে বলে তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

    এছাড়াও তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ ইকোনমিক করিডোর এবং বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ ও প্রস্তাবিত বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিরোধীদলীয় নেতা রোহিঙ্গা সমস্যার আশু সমাধান এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসনে চীন সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর।

  • বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা মওকুফে জরিমানা গুনছে যুক্তরাষ্ট্র

    বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা মওকুফে জরিমানা গুনছে যুক্তরাষ্ট্র

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    লাল কার্ডের কারণে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা থেকে শেষ মুহূর্তে রেহাই পেলেও আর্থিক শাস্তি এড়াতে পারেননি যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুন। বিশ্বকাপে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে বিতর্কিত লাল কার্ডের ঘটনায় তাকে ৪০ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ৩০ হাজার পাউন্ড) জরিমানা করেছে ফিফা। সেই জরিমানার অর্ধেক বহন করবে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশনও।

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর আগে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি বালোগুনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত করে। ফলে তিনি বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামেন। তবে আর্থিক শাস্তির সিদ্ধান্ত বহাল রাখে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা।

    ফিফার এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ডিসিপ্লিনারি কোডের দুটি পৃথক ধারা ভঙ্গের দায়ে মোট ৪০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। এর অর্ধেকের দায় বহন করবে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশন।

    বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে বিশ্ব ফুটবলে বড় বিতর্কের জন্ম হয়েছে। বেলজিয়াম ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং উয়েফা প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করেছে। এমনকি অভিযোগ ওঠে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার পরই সিদ্ধান্ত বদলানো হয়।এই বিতর্কের জেরে মুখ খুলেছেন ইনফান্তিনোও। তিনি দাবি করেন, ফিফার বিচারিক সংস্থাগুলো সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং তাদের সিদ্ধান্তে সভাপতির কোনো হস্তক্ষেপ নেই।

    ইনফান্তিনো বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোন পেয়েছিলাম, যেমন বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারি কর্মকর্তা ও ফুটবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকেও বিভিন্ন বিষয়ে ফোন পাই। আমি শুধু জানিয়েছি যে বিষয়টি স্বাধীন বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট কমিটি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘কখনো আমি ডিসিপ্লিনারি কমিটির সিদ্ধান্তে একমত হই, কখনো হই না। কিন্তু সবসময় তাদের স্বাধীনতাকে সম্মান করি। ব্যক্তিগত মতামত এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়।’বালোগুনের শাস্তি স্থগিত হওয়ার ঘটনায় ফুটবল বিশ্বে আলোচনা এখনো থামেনি। তবে নিষেধাজ্ঞা এড়ালেও বড় অঙ্কের জরিমানা দিয়ে বিতর্কিত এই অধ্যায়ের মূল্য চুকাতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের এই ফরোয়ার্ডকে।

  • যুক্তরাষ্ট্রকে বিদায় করে কোয়ার্টারে বেলজিয়াম

    যুক্তরাষ্ট্রকে বিদায় করে কোয়ার্টারে বেলজিয়াম

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    এই ম্যাচে আলোচনার নাম ছিলো যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন বালোগান। আগের ম্যাচে লাল খেয়ে এই ম্যাচে তার খেলার কথা না থাকলেও ফিফার বিতর্কিত সিদ্ধান্তে মাঠে নামেন বালোগান। তবে এই ফরোয়ার্ডের ফেরাও মাঠে খুব একটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। বেলজিয়ামের দাপুটে ফুটবলের সামনে উড়ে গেছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে চার্লস ডি কেটেলাইরের জোড়া গোলে সহ-স্বাগতিকদের ৪-১ গোলে হারিয়েছে ইউরোপের দলটি।

    বেলজিয়ামের হয়ে প্রথমার্ধে দুই গোল করেন চার্লস ডি কেটেইলার। দ্বিতীয়ার্ধে একটি করে গোল করেন হ্যান্স ভানাকেন ও তারকা খেলোয়াড় রোমেলু লুকাকুু। প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে একটি গোল শোধ করেন মালিক তিলমান।কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ ইউরোপের অন্যতম সেরা দল স্পেন। যারা রাতের অন্য ম্যাচে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে হারিয়েছে ১-০ গোলে। ১১ জুলাই রাত ১টায় সেমিফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই পরাশক্তি।

    ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বেলজিয়াম। এর ফলও পেয়ে যায় দ্রুত। নবম মিনিটে চার্লস ডি কেটেলাইরের গোলে এগিয়ে যায় তারা। গোল হজমের পর কিছুটা চাপে পড়ে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র, আর মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় গ্যালারির উচ্ছ্বাস।তবে ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে সময় নেয়নি মার্কিনরা। ম্যাচের ৩১তম মিনিটে দারুণ এক ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত গোল করে যুক্তরাষ্ট্রকে সমতায় ফেরান মালিক তিলমান। গোলের পর নতুন উদ্দীপনায় খেলতে শুরু করে স্বাগতিকরা।

    কিন্তু সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। সমতায় ফেরার মাত্র দুই মিনিট পরই আবারও আঘাত হানে বেলজিয়াম। লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের নিখুঁত ক্রসে হেড করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন চার্লস ডি কেটেলাইরে। তাতেই আবারও ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম।প্রথমার্ধের বাকি সময় দুই দলই একাধিক আক্রমণ গড়ে তুললেও আর কোনো গোলের দেখা মেলেনি। ফলে ২-১ ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

    দ্বিতীয়ার্ধে চাপ ধরে রেখে খেলে যায় বেলজিয়াম। ফল আসে ৫৭তম মিনিটে। আগের দুই গোলের কারিগর কেটেলাইর এবার সহায়তাকারীর ভূমিকায়। তার পাস থেকে ৫৭তম মিনিটে জাল খুঁজে নেন হ্যান্স ভানাকেন।

    এরপর দুদল একের পর এক আক্রমণ করে যায়। বেলজিয়াম রক্ষণ শক্ত করায় জোর দেয়। যুক্তরাষ্ট্র খেলোয়াড় বদলি করেও স্কোরলাইন পাল্টাতে পারেনি। রক্ষণ জমাট করার ফাঁকেই শেষদিকে আরেকবার ভেলকি দেখায় বেলজিয়াম।যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে হঠাৎ করেই বল নিয়ে পাল্টা আক্রমণে ওঠেন তৃতীয় গোলদাতা ভানাকেন। তিনি দুর্দান্ত এক পাস বাড়ান রোমেলু লুকাকুর দিকে। তারকা খেলোয়াড় কোনো ভুল করেননি। শেষ পেরেকটা ঠুকে দেন স্বাগতিকদের কফিনে। ফলে দুর্দান্ত জয়ে শেষ আট নিশ্চিত করে বেলজিয়াম।

  • বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম

    বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম

    বিশ্ববাজারে সপ্তাহের প্রথম দিন সোমবার অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে। মূলত দুটি কারণে আজ দাম কমেছে।

    বিষয়টি হলো, ওপেক ও সহযোগী দেশগুলো আগস্ট থেকে তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রধান উৎপাদক দেশগুলোর রপ্তানি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

    পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আজ তেলের দাম কমেছে।

    সোমবার সকালে এ প্রতিবেদন লেখার সময় ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে ৭১ দশমিক ৭০ ডলারে নেমে আসে। আগের কার্যদিবসে ব্রেন্টের দাম শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ বেড়েছিল।

    একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ২৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৬৮ দশমিক ৪২ ডলারে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাজার বন্ধ থাকায় শুক্রবার ডব্লিউটিআইয়ের আনুষ্ঠানিক নিষ্পত্তিমূল্য নির্ধারিত হয়নি।

    গত সপ্তাহজুড়ে এই দুই ধরনের তেলের দাম প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে দাম নিম্নমুখী ছিল। এ সময় বিনিয়োগকারীরা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনার অগ্রগতি এবং উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি পুনরুদ্ধারের গতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন।

    রোববার ওপেক, রাশিয়াসহ মিত্রদেশগুলো আগস্ট থেকে দৈনিক উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা আরও ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে জুন ও জুলাইয়েও একই পরিমাণ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

    তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে এ উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৌদি আরব, কুয়েত ও ইরাকের মতো প্রধান ওপেক সদস্যদের উৎপাদন ও রপ্তানি সীমিত হয়ে পড়ে।

    বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান আইজির বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে মোটামুটি মিলেছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ওপেক ছেড়ে যাওয়ার পর এবং যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে উৎপাদন এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় নির্ধারিত কোটাও বাস্তবে পূরণ হচ্ছে না। তাই আপাতত এসব লক্ষ্যমাত্রার খুব বেশি গুরুত্ব নেই।

    সংযুক্ত আরব আমিরাত গত ১ মে থেকে ওপেক ছাড়ে। এদিকে ইরান যুদ্ধের সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া সরবরাহ পুনরায় চালু করতে শুরু করেছে উপসাগরীয় সদস্যদেশগুলো। একই সঙ্গে তারা রপ্তানিও বাড়াচ্ছে।

    রয়টার্সের জরিপে দেখা গেছে, জুনে ওপেকের তেল উৎপাদন আগের মাসের তুলনায় দৈনিক ৩৩ লাখ ব্যারেল বেড়ে ১ কোটি ৯৪৩ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধারের ঘটনা এটি।

    তথ্য অনুযায়ী, জুনে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানি মে মাসের তুলনায় দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি বেড়ে ১ কোটি ব্যারেল অতিক্রম করেছে। তবে যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এই রপ্তানি এখনো প্রায় ৪০ শতাংশ কম।

    এদিকে শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, জুনে রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দরগুলো থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। জুলাইয়েও এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটি অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।

  • জুলাইয়ের প্রথম পাঁচ দিনে রেমিট্যান্স  ৩৮.১ শতাংশ বেড়েছে

    জুলাইয়ের প্রথম পাঁচ দিনে রেমিট্যান্স ৩৮.১ শতাংশ বেড়েছে

    চলতি ২০২৬ সালের জুলাই মাসের প্রথম পাঁচ দিনে বাংলাদেশে ৫৬ কোটি ৭০ লাখ (৫৬৭ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা ২০২৫ সালের জুলাই মাসের একই সময়ের ৪১ কোটি ১০ লাখ (৪১১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের তুলনায় ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।

    আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৬ সালের ৫ জুলাইই প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশে ২১ কোটি ৯০ লাখ (২১৯ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই রেমিট্যান্স প্রবাহের এ শক্তিশালী ধারা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক ইতিবাচক প্রবণতাকেই প্রতিফলিত করছে।

  • খামেনির জানাজায় অংশ নিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ

    খামেনির জানাজায় অংশ নিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ

    ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও শোকমিছিলে অংশ নিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ।

    রক্ষণশীল রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য পরিচিত আহমাদিনেজাদ দীর্ঘদিন ধরে খামেনির প্রতি অত্যন্ত অনুগত হিসেবে বিবেচিত ছিলেন। তিনি এর আগে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একজন সাবেক কমান্ডার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

    ছাত্রজীবনে আহমাদিনেজাদ ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর গঠিত রক্ষণশীল ছাত্র সংগঠন ‘অফিস ফর স্ট্রেনদেনিং ইউনিটি’র একটি কট্টরপন্থী অংশের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ইরানের রক্ষণশীল রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

    খামেনির শেষ বিদায়ে দেশটির বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় নেতাদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষও শোকমিছিলে অংশ নেন।

  • খামেনির শেষ বিদায়ে শোকে স্তব্ধ তেহরান, রাজপথে জনতার ঢল

    খামেনির শেষ বিদায়ে শোকে স্তব্ধ তেহরান, রাজপথে জনতার ঢল

    ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠান সোমবার রাজধানী তেহরানে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে। ভোর থেকেই নির্ধারিত শোভাযাত্রার পথগুলোতে মানুষের ঢল নামে।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি খবরে বলা হয়েছে, অংশগ্রহণকারীরা ইরানের জাতীয় পতাকা ও খামেনির ছবি বহন করেন। শোভাযাত্রাজুড়ে বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে তারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং জাতীয় ঐক্যের বার্তা দেন।

    রাজধানীর আজাদি সড়কসহ আশপাশের এলাকায় নারী-পুরুষ, তরুণ, বৃদ্ধসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোকযাত্রায় অংশ নেন। পুরো পরিবেশ ছিল শোক, দোয়া ও শোকগাথায় মুখর। মরদেহবাহী শোভাযাত্রায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দেশটির বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারাও অংশ নেন।

    সূচি অনুযায়ী, তেহরানের কর্মসূচি শেষে মঙ্গলবার পবিত্র নগরী কোমে জানাজা ও শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় বিশেষ বিদায় ও জানাজার আয়োজন করা হয়েছে। এরপর বৃহস্পতিবার মাশহাদে জানাজা শেষে ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

  • লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে ১৪ জন গ্রেফতার, সন্ত্রাসবাদ আইনে মামলা

    লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে ১৪ জন গ্রেফতার, সন্ত্রাসবাদ আইনে মামলা

    যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর ওপর নিষেধাজ্ঞার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিক্ষোভ থেকে ১৪ জন কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (৫ জুলাই) নিউ স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সামনে ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরিজ’ নামের একটি প্রচারাভিযানকারী সংগঠন এ কর্মসূচির আয়োজন করে। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করে ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এ যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে সন্ত্রাসবাদ আইনের ১২ ধারায় ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। যুক্তরাজ্যের এই আইনে নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনকে সমর্থনের আহ্বান জানানো অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এ অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

    গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৮৩ বছর বয়সী অ্যাংলিকান যাজক ও দীর্ঘদিনের শান্তিকর্মী রেভারেন্ড সু পারফিটও রয়েছেন।

    ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরিজ’ জানায়, ‘সেভিং লাইভস ইজ নট টেররিজম’ শীর্ষক প্রচারণার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সংগঠনটির দাবি, এই প্রচারণা শুরুর পর থেকে সন্ত্রাসবাদবিষয়ক আইনে সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    সংগঠনটির এক মুখপাত্র বলেন, পুলিশকে ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এ যোগ দেওয়ার আহ্বানটি ব্যঙ্গাত্মক ছিল। তবে পুলিশ সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের সন্ত্রাসবাদ আইনের ১২ ধারায় গ্রেফতার করেছে।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, ফিলিস্তিনপন্থি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমনের পরিবর্তে যুক্তরাজ্য সরকারের উচিত ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমসের যুক্তরাজ্যভিত্তিক কার্যক্রম তদন্ত করা।

    প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত এ ঘটনায় মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ২০০ আটক

    মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ২০০ আটক

    মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের তামান মালুরি নাইট মার্কেটে অভিযান চালিয়ে ২০০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। এদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে দুই সপ্তাহ নজরদারি চালানোর পর এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের নাম ছিল ‘অপ কুটিপ’। অভিযানে কুয়ালালামপুর ও পুত্রাজায়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ ও কুয়ালালামপুর সিটি হল একসঙ্গে অংশ নেয়।

    ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক হামশা ইনজাউ জানান, মোট ৫০০ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ছিলেন ৪০৭ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন মালয়েশিয়ান। যাচাই শেষে ২০০ জন বিদেশিকে আটক করা হয়।

    আটকদের মধ্যে ১২৫ জন পুরুষ এবং ৭৫ জন নারী রয়েছেন। তারা ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, চীন, পাকিস্তান ও ভারতের নাগরিক।

    অভিযানটি সন্ধ্যা ৬টার দিকে শুরু হয়। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের দেখে অনেক বিদেশি পালানোর চেষ্টা করেন। কেউ কেউ লুকিয়ে পড়লেও পরে কর্মকর্তারা তাদের খুঁজে বের করেন।

    হামশা ইনজাউ বলেন, এই এলাকায় অনেক বিদেশি জড়ো হচ্ছেন— এমন অভিযোগ পাওয়ার কারণেই এখানে অভিযান চালানো হয়েছে।

    তিনি আরো জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। বৈধ ভ্রমণ নথি (পাসপোর্ট/ভিসা) না থাকা, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা, সামাজিক ভিজিট পাসের অপব্যবহার এবং ভিসা বা ইমিগ্রেশন পাসের শর্ত ভঙ্গ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    তিনি বলেন, শুধু তামান মালুরি নয়, কুয়ালালামপুরের অন্যান্য নাইট মার্কেটেও এ ধরনের অভিযান চালানো হবে, বিশেষ করে যেখানে অনেক বিদেশি যাতায়াত করেন।

    তিনি আরো বলেন, অবৈধভাবে থাকা বিদেশিদের পাশাপাশি তাদের নিয়োগদাতা, ব্যবসায়ী, দালাল, চক্র এবং যারা তাদের আশ্রয় দেয় তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়েছে কাতার

    বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়েছে কাতার

    চলতি বছর বাংলাদেশে নির্ধারিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে কাতারের সমন্বিত জাতীয় তেল ও গ্যাস করপোরেশন ‘কাতারএনার্জি’। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।

    সোমবার (০৬ জুলাই) বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পেট্রোবাংলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান।

    তিনি বলেন, ‘এসব সমস্যার মূল কারণ যুদ্ধ। ঘাটতি মোকাবিলায় আমরা বিকল্প উৎস খুঁজছি। স্পট মার্কেট থেকে বেশি এলএনজি কেনা যেতে পারে। অন্যান্য সরবরাহকারী দেশের সরকারের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সবচেয়ে সুবিধাজনক বাণিজ্যিক বিকল্পই বেছে নেওয়া হবে।’

    বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদনকারী দেশ কাতার। বাংলাদেশে আমদানি হওয়া এলএনজির সবচেয়ে বড় সরবরাহকারীও দেশটি। গত বছর বাংলাদেশ প্রায় ৭০ লাখ টন এলএনজি আমদানি করে, যার মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ টনই এসেছে কাতার থেকে।

    বর্তমানে কাতারএনার্জির সঙ্গে পেট্রোবাংলার দুটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে। এর একটি বছরে ২৫ লাখ টন এবং অন্যটি ১৮ লাখ টন এলএনজি সরবরাহের জন্য।

    আবদুল মান্নান জানান, নির্ধারিত সরবরাহ কমানো হলেও কাতার কর্তৃপক্ষ যতটা সম্ভব এলএনজি সরবরাহ অব্যাহত রাখবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। এ বিষয়ে কাতারএনার্জির তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এদিকে, জ্বালানি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলার জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় চলতি বছর কাতার থেকে ১৯টি এলএনজি কার্গো পেয়েছিল বাংলাদেশ।

    তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কাতারের রাস লাফান রপ্তানি টার্মিনাল থেকে বাংলাদেশে আর কোনো এলএনজি কার্গো আসেনি। ফলে দেশের চাহিদা মেটাতে স্পট মার্কেট থেকে বিকল্প চালান কিনতে হচ্ছে। মার্চের পর থেকে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্পট মার্কেট থেকে ৩৫টি এলএনজি কার্গো আমদানি করেছে।

    উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ সাধারণত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ নৌপথে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।

  • ভারত নামের ছোট একটি দেশ ইসরাইলের বড় ভক্ত: নেতানিয়াহু

    ভারত নামের ছোট একটি দেশ ইসরাইলের বড় ভক্ত: নেতানিয়াহু

    যুক্তরাষ্ট্রই ইসরাইলের একমাত্র শক্তিশালী মিত্র—মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের এমন বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ভারতের প্রবল সমর্থনের কথা উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বে ইসরাইলের আরও অনেক বন্ধু রয়েছে এবং ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের কাছ থেকে তারা ‘অভাবনীয়’ সমর্থন পাচ্ছেন।

    সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই মন্তব্য করেন। গাজা, ইরান ও লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযানের কারণে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে থাকা এই নেতা ভারতের অবস্থানকে বড় ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

    সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমাদের আরও কিছু বন্ধু রয়েছে, যেমন ভারত নামের ছোট একটি দেশ। সেখানে ১৪০ কোটি মানুষের বসবাস এবং দেশটির সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আমরা অবিশ্বাস্য রকমের সমর্থন পাচ্ছি। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভারতীয়দের কাছ থেকে ইসরাইলের পক্ষে বিপুল সমর্থনের বন্যা বয়ে যাচ্ছে।

    ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, শ্রদ্ধাবোধ থাকার মানে এই নয় যে ভ্যান্সের সব কথার সাথে আমাকে একমত হতে হবে। বিশ্বের অনেক দেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসরাইল-বিরোধী বা ইহুদি-বিরোধী প্রচারণাকে এখন ফ্যাশনে পরিণত করা হয়েছে। কিন্তু পর্দার পেছনের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। অনেক দেশের শীর্ষ নেতারা ব্যক্তিগতভাবে তাকে ফোন করেন এবং বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সই করার পাশাপাশি ইসরাইলি সেনাবাহিনীর রণকৌশল শিখিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান।

    কয়েক সপ্তাহ আগে হোয়াইট হাউজে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেডি ভ্যান্স ইসরাইলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ইসরাইলের উচিত হবে না বিশ্বের বুকে তাদের অবশিষ্ট থাকা একমাত্র শক্তিশালী মিত্রের (যুক্তরাষ্ট্র) সাথে বৈরিতা করা।

    গত মাসে ইরানের সাথে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সই করা একটি সমঝোতা স্মারককে সমর্থন করতে গিয়ে ভ্যান্স এই মন্তব্য করেছিলেন। মার্কিন-ইরান সমঝোতার সেই শর্ত অনুযায়ী লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের কথা থাকলেও ইসরাইল তা এখনও মেনে নেয়নি।

    এই প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু দাবি করেন, দক্ষিণ লেবাননের বেশ কিছু খ্রিস্টান অধ্যুষিত গ্রাম নাকি হিজবুল্লাহর হাত থেকে বাঁচতে ইসরাইলের সাথে যুক্ত হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে, যার কারণে তারা সেখানে অবস্থান করছেন। তবে লেবানন পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, কূটনৈতিক ক্ষেত্রে জেডি ভ্যান্সের একচ্ছত্র মার্কিন আধিপত্যের দাবিকে ভারতের নাম টেনে সরাসরি নাকচ করে দিলেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী।

  • ইউক্রেনজুড়ে রাতভর রুশ বাহিনীর হামলা, নিহত ১১

    ইউক্রেনজুড়ে রাতভর রুশ বাহিনীর হামলা, নিহত ১১

    ইউক্রেনজুড়ে রাতভর ফের ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া বাহিনী। সোমবার (৬ জুলাই) ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রুশ বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছে। সেই সঙ্গে আহত হয়েছে এক ডজনের বেশি। খবর আল জাজিরার।

    কিয়েভ সিটির সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো বলেছেন, হামলার কিয়েভে আহত হয়েছে ৪৬ জন। এ ছাড়া কিয়েভের আশেপাশে অতর্কিত হামলায় আরও একজন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছে। ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া রাতভর ৬৮টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৫১টি ড্রোন ছুড়েছে।

    কিয়েভ ইন্ডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিট নাগাদ প্রথম বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, এরপর ২টা ১০ এবং ৩টা ১৫ মিনিটেও একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।

    ইউক্রেনজুড়ে বিমান হামলার সাইরেন বাজানোর পর হাজার হাজার বাসিন্দা ভূগর্ভস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। তাকাচেঙ্কো বলেছেন, বিমান হামলায় কিয়েভে অন্তত ১৫টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজধানীজুড়ে উদ্ধার অভিযান চলছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এর আগে রোববার রাতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেন যে রাশিয়ান বাহিনী আরও তুমুল হামলা চালাতে পারে।

    তিনি বলেছেন, গোয়েন্দারা ফের ইঙ্গিত দিয়েছেন যে রাশিয়া আরও ব্যাপক হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। চার বছরের বেশি সময় ধরে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ চলছে। এতে দুইপক্ষের বহু হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে যুদ্ধ বন্ধে এখন পর্যন্ত কোনো লক্ষণ নেই। উল্টো দেশ দুইটির মধ্যে যুদ্ধের পরিমাণ আরও বাড়ছে।

  • বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষে ৬ থানা নির্মাণ করছে ভারত

    বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষে ৬ থানা নির্মাণ করছে ভারত

    বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করা এবং অনুপ্রবেশ ঠেকানোর লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলা পুলিশ রাজ্য সরকারের কাছে তিনটি নতুন থানা, দুটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং একটি বিদ্যমান পুলিশ ক্যাম্পকে পুলিশ ফাঁড়িতে উন্নীত করার প্রস্তাব জমা দিয়েছে

    দেশটির পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রস্তাবটি রাজ্য সরকারের অনুমোদন পাবে।
    রোববার মালদার পুলিশ সুপার অনুপম সিং সংবাদমাধ্যমকে এ প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত করেছেন।

    তিনি বলেন, বৈষ্ণবনগর থানার কুম্ভিরা, কালিয়াচক থানার গোলাপগঞ্জ এবং হবিবপুর থানার বুলবুলচন্ডি পুলিশ ফাঁড়িকে পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া হবিবপুর থানার জাজইল এবং বামনগোলা থানার জগদলা এলাকায় দুটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ইংরেজবাজার থানার অধীন মহদীপুর পুলিশ ক্যাম্পকে পুলিশ ফাঁড়িতে উন্নীত করারও প্রস্তাব করা হয়েছে।
    অনুপম সিং বলেছেন, প্রস্তাব অনুমোদিত হলে জেলায় পুলিশের জনবলও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

    ভারতের মালদা জেলা বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘ ও বিস্তৃত সীমান্ত ভাগ করে নিয়েছে। টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই এই সীমান্ত অনুপ্রবেশ, গবাদিপশু পাচার এবং মাদক চোরাচালানের মতো অপরাধের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত।
    পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দেশটির সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে সহায়তার জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর কাছে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। এরই অংশ হিসেবে দেশটির সীমান্তের বিভিন্ন অংশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ চলছে।
    অনুপম সিং জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে এবং অনুপ্রবেশ রোধে জেলা পুলিশ বিএসএফের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চালিয়ে যাবে। বিশেষ করে হবিবপুর ও বামনগোলা থানা এলাকার দীর্ঘ অনাবৃত সীমান্ত এই উদ্যোগের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ওই অঞ্চলে একটি নতুন থানা এবং দুটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

    হবিবপুরের বিজেপি বিধায়ক ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আদিবাসী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী জোয়েল মুর্মু এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
    তিনি বলেন, আমার বিধানসভা এলাকায় গবাদিপশু পাচার, অনুপ্রবেশ এবং মাদক চোরাচালান দীর্ঘদিনের সমস্যা। নতুন থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন হলে আইনশৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী হবে।

  • ‘ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে ফিফা সীমা ছাড়িয়ে গেছে’

    ‘ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে ফিফা সীমা ছাড়িয়ে গেছে’

    শেষ ষোলোতে তারকা এক ফুটবলারকে ছাড়াই মাঠে নামতে হতো যুক্তরাষ্ট্রকে। আগামীকাল সিয়াটলে বাংলাদেশ সময় সকালে হতে যাওয়া ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। কিন্তু নকআউট পর্বের ম্যাচের আগমুহূর্তে বদলে গেল সিদ্ধান্ত। তাতে তোপের মুখে পড়েছে ফিফা।

    সানফ্রান্সিসকোতে গত ২ জুলাই বসনিয়ার বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন যুক্তরাষ্ট্রের তারকা ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগান। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তিনি এক ম্যাচ নিষিদ্ধ এবং শেষ ষোলোতে বেলজিয়াম ম্যাচে তাঁর খেলার কথা না। অথচ সেই শাস্তি কার্যকর হওয়ার আগেই স্থগিত করে দিল ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এরপর ফিফাকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন। বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থার এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে উয়েফা আজ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘গতকাল ফুটবলার ফোলারিন বালোগানকে লাল কার্ডের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরোপিত এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা এক বছরের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফিফা সীমা অতিক্রম করেছে।’

    গতকাল বালোগানের ওপর থেকে শাস্তি তুলে নেয় ফিফা। এক বিবৃতিতে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা বলেছে, ‘ফিফা ডিসিপ্লিনারি কোডের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কার্যকর হওয়া এক বছরের পরীক্ষামূলক সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।’

    তবে বালোগান ফের অপরাধ করলে ফিফা শাস্তির ব্যাপারটি ভেবে দেখবে। বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা বলেছে, ‘যদি ফোলারিন বালোগান পরীক্ষামূলক সময়ের মধ্যে একই ধরনের ও একই মাত্রার আরেকটি অপরাধ করেন, তাহলে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হবে এবং বর্তমান শাস্তি কার্যকর হবে। নতুন অপরাধের জন্য আরোপিত অতিরিক্ত শাস্তির বাইরে এই শাস্তিও কার্যকর হবে।’

    বালোগান শেষ বত্রিশে বসনিয়া ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচকে করা এক ট্যাকলের জন্য প্রথমে হলুদ কার্ডও দেখেননি। পরে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পরামর্শে রিপ্লে দেখে রেফারি সিদ্ধান্ত বদলে তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। সেই সিদ্ধান্তের পরই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। এবার বালোগানের ওপর থেকে তুলে নেওয়া হলো নিষেধাজ্ঞা। চলতি বিশ্বকাপে তিনি তিন ম্যাচে করেছেন ৩ গোল।

  • প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইলেন চিত্রনায়িকা

    প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইলেন চিত্রনায়িকা

    বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন চিত্রনায়িকা পলি। অভিযোগ তোলেন নির্বাচনে তাকে হারানোর জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে এবং পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অর্থের প্রভাব ছিল স্পষ্ট।

    গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত শিল্পী সমিতির নির্বাচনে শিবা শানু-জয় চৌধুরী প্যানেল থেকে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন পলি। এ পদে বিজয়ী হয়েছেন পারভেজ চৌধুরী আবির। তিনি পেয়েছেন ২৭২ ভোট, আর পলি পেয়েছেন ১৪৪ ভোট।

    নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর গুলশানে নিজ বাসায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পলি বলেন, ‘আমাকে হারানোর জন্য লাখ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। আমি শুরু থেকেই বলে আসছি, প্রকৃত শিল্পীরা কখনো টাকা ছিটিয়ে নির্বাচন করেন না। এবারের নির্বাচনে প্রকৃত শিল্পীরাই হেরেছেন। রোজিনা আপা, নূতন আপা, রিনা খান আপা, মুক্তির মতো প্রকৃত শিল্পীরা পরাজিত হয়েছেন। তাদের সঙ্গে আমিও রয়েছি।’

    নির্বাচনে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলে তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পলির ভাষ্য, ‘যারা টাকা দিয়েছে এবং যারা টাকা নিয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হোক। আমি ঢাকা-১৭ আসনের একজন ভোটার। দেশের জনগণের ভোটেই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, সেখানে আমারও একটি ভোট রয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমি এই ঘটনার বিচার চাই।’

    নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রসসঙ্গে পলি জানান, এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না তার। তবে শিবা শানু-জয় চৌধুরী প্যানেলের প্রার্থী সনি রহমানের অনুরোধে তিনি নির্বাচনে অংশ নেন।

    বলেন, ‘আমাকে প্যানেলে নেওয়ার পর থেকেই নানা ধরনের নাটক শুরু হয়। শুরুতে একজন নায়িকাকে প্যানেলে নেওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়, পরে শুরু হয় চাঁদাবাজি। নির্বাচনী খরচের কথা বলে আমার কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়। আমি প্রথমে তিন লাখ টাকা দিই। পরে শিল্পীদের বিভিন্ন সহযোগিতার জন্য আরও দুই লাখ টাকা খরচ করি। এটি ভোট কেনার জন্য নয়, বিভিন্ন হেল্পারের খরচ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। নায়িকা জলি নিজেও আমাকে জানিয়েছে, সেও টাকা এনে দিয়েছে।’

    সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে পলি বলেন, ‘যে দেশে ১৫ বছর পর একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে, সেখানে শিল্পী সমিতিতে কেন সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না? যারা নির্বাচনে টাকা ছিটিয়ে নোংরামি করেছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। প্রয়োজন হলে রিমান্ডে নিয়ে তদন্ত করা হোক, যাতে প্রকৃত সত্য সবার সামনে আসে।’

    সবশেষে নায়িকা বলেন, ‘এখন শিল্পী সমিতির ওই চেয়ার নিয়ে আমার কোনো আগ্রহ নেই। আমি শুধু চাই সত্যটা প্রকাশ হোক। তা না হলে প্রকৃত শিল্পীরা ফাইটার ও নাচের শিল্পীদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে প্রকৃত শিল্পীরা আর শিল্পী সমিতির নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী হবেন না।’

  • পড়ে থাকা আম কুড়োলেই ৫ লাখ টাকা জরিমানা!

    পড়ে থাকা আম কুড়োলেই ৫ লাখ টাকা জরিমানা!

    রাস্তার পাশে আমে ভরা গাছ, নিচে পড়ে আছে পাকা আম—এমন দৃশ্য দেখলে অনেকেই হয়তো সহজভাবেই কয়েকটি আম কুড়িয়ে নিতে চাইবেন। তবে সিঙ্গাপুরে এমন কাজ করতে গেলে গুনতে হতে পারে মোটা অঙ্কের জরিমানা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির আইন অনুযায়ী, সরকারি জায়গা কিংবা রাস্তার ধারে পড়ে থাকা আম সংগ্রহ করা বা গাছ থেকে আম পাড়া—দুটোই শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

    সম্প্রতি সিঙ্গাপুরপ্রবাসী ভারতীয় বংশোদ্ভূত ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা প্রিয়াঙ্কা সিনহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তার পাশে একটি আমগাছ পাকা আমে পরিপূর্ণ এবং বেশ কিছু আম মাটিতেও পড়ে রয়েছে। সাধারণভাবে ফলগুলো পরিত্যক্ত মনে হলেও প্রিয়াঙ্কা জানান, সিঙ্গাপুরে অনুমতি ছাড়া এসব আম স্পর্শ করাও নিষিদ্ধ।

    তিনি বলেন, যদি কেউ সেগুলো কুড়ানোর চেষ্টা করে, তবে তাকে ৫ হাজার সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার জরিমানা করা হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অংকের পরিমাণ ৫ লাখ টাকার কাছাকাছি (বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী)।

    কারণ, সিঙ্গাপুরের আইন অনুযায়ী পাবলিক প্লেস বা রাস্তার পাশে লাগানো সমস্ত গাছপালা সরকারের সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই অনুমতি ছাড়া গাছ থেকে ফল পাড়া বা মাটি থেকে কুড়ানোকে সরকারি সম্পত্তি চুরির সমান অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই কারণেই সরকার এই ধরনের কাজের ওপর কঠোর ও ভারী জরিমানা আরোপ করে থাকে।

    সুতরাং, সিঙ্গাপুরের রাস্তায় চলাচলের সময় সুন্দর ফল দেখে প্রলুব্ধ হওয়ার আগে এর পরিণতির কথা মনে রাখা জরুরি। সামান্য একটি আম কুড়ানোর শখ আপনার জন্য বয়ে আনতে পারে সাড়ে ৪ লাখ টাকারও বেশি জরিমানার বোঝা।

    তথ্যসূত্র: জিও নিউজ

  • গৃহযুদ্ধের মুখে ইসরাইল

    গৃহযুদ্ধের মুখে ইসরাইল

    ইসরাইল গৃহযুদ্ধের ‘বাস্তব ও স্পষ্ট’ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে মনে করেন দেশটির ৬০ শতাংশ নাগরিক। এমন তথ্য উঠে এসেছে জুইশ পিপল পলিসি ইনস্টিটিউটের প্রকাশিত এক জরিপে। খবর আলজাজিরার।

    জরিপে আরও দেখা গেছে, ৭৯ শতাংশ ইসরাইলি গত এক বছরকে সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে ‘খারাপ’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। পাশাপাশি ৪৯ শতাংশ ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশাবাদী বলে জানিয়েছেন।

    এছাড়া ৫২ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, দেশটির প্রধানমন্ত্রী বা অন্য কোনো শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে লক্ষ্য করে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ‘উচ্চ সম্ভাবনা’ রয়েছে।

    থিংক ট্যাংকটির সভাপতি ইয়েদিদিয়া স্টার্ন বলেন, ‘ইসরাইলি সমাজ অসাধারণ স্থিতিস্থাপকতা ও আশাবাদ দেখালেও এটি গভীরভাবে বিভক্ত ও মেরুকৃত।

    তিনি আরো বলেন, জনগণ অভ্যন্তরীণ বিভাজনকেই সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখছে। তাই সংহতি ও পারস্পরিক আস্থা গড়ে তুলতে আমাদের জরুরিভাবে একটি দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন।

  • ইসরাইলকে বন্ধুতালিকায় রাখছেন না ট্রাম্প!

    ইসরাইলকে বন্ধুতালিকায় রাখছেন না ট্রাম্প!

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেল আবিবের সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করতে যাচ্ছেন। ১৯৪৮ সালে বিভিন্ন ইহুদিবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমন্বয়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনী গঠনের পর থেকেই এই মার্কিন জোট তাদের টিকিয়ে রাখতে মূল ভূমিকা পালন করে আসছে।

    বর্তমানে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার এক বিপজ্জনক খেলায় মেতেছেন। চলমান দুর্নীতি মামলার কারণে তার সম্ভাব্য কারাদণ্ড হতে পারে, আবার চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিও রয়েছে।

    লেবাননসহ ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো এখন ওয়াশিংটনের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে ইসরাইলি জনগণ চায় এই যুদ্ধ চলুক। এ দুইয়ের টানাপোড়েনে পড়ে নেতানিয়াহু তার চার দশকের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছেন।

    ২০২৫ সালের জুনে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির সময় মার্কিন-ইরান বিরোধের খবর পাওয়া গিয়েছিল। এর এক বছর পর তেহরানের সাথে কীভাবে পথ চলা যায় তা নিয়ে মতভেদের কারণে আমেরিকার সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে।

    আমেরিকার সঙ্গে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির আলোচনায় ইরান একটি প্রধান শর্ত জুড়ে দিয়েছে—দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। এই শর্তই মূলত আমেরিকা ও ইসরাইলকে বড় ধরনের সংঘাতের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

    গত মাসে একটি ফোনালাপ ফাঁসের খবর পাওয়া যায়, যা হোয়াইট হাউস অস্বীকার করেনি। সেখানে দেখা যায়, ইরানের সাথে যুদ্ধ শেষ করতে মরিয়া ট্রাম্প লেবাননে হামলা বন্ধ না করায় নেতানিয়াহুকে তীব্র ভাষায় তিরস্কার করছেন।

    খবর অনুযায়ী, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলে অভিহিত করেন এবং তার প্রতি অকৃতজ্ঞতার অভিযোগ এনে বলেন, প্রেসিডেন্টের হস্তক্ষেপ না থাকলে তিনি এতদিনে জেলেই থাকতেন। ট্রাম্প নাকি নেতানিয়াহুকে বলেন, ‘এখন সবাই তোমাকে ঘৃণা করে। এসবের কারণে সবাই এখন ইসরাইলকে ঘৃণা করছে।’

    গত সপ্তাহে অ্যাক্সিওস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘নেতানিয়াহু ভালো করেই জানেন আসল বস কে’—যা দুই নেতার মধ্যকার উত্তপ্ত সম্পর্কেরই বহিঃপ্রকাশ।

    জুন মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে জেডি ভ্যান্স ট্রাম্পকে এই মুহূর্তে ইসরাইলের প্রতি সহানুভূতিশীল একমাত্র বিশ্বনেতা হিসেবে বর্ণনা করেন। একই সাথে তিনি ইসরাইলি মন্ত্রীদের সতর্ক করে বলেন, ‘আপনাদের মাতৃভূমিকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র মার্কিনীদের হাতে তৈরি এবং মার্কিন করদাতাদের টাকায় কেনা।’

    সাম্প্রতিক জরিপগুলো দেখাচ্ছে, কেবল সাধারণ মার্কিন জনগণই ইসরাইলের বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে না, বরং ট্রাম্পের ডানপন্থী পপুলিস্ট ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (ম্যাগা) আন্দোলনের একটি বড় অংশের মধ্যেও ইসরাইলকে নিয়ে তীব্র সংশয় তৈরি হয়েছে।

    ম্যাগা শিবিরের সাবেক কট্টর সমর্থক মার্জোরি টেইলর গ্রিনের মতো নেতারা এখন ইসরাইলকে মার্কিন সহায়তার বিষয়ে তীব্র সমালোচনা করছেন। ডানপন্থী রাজনীতিতে অন্যতম সোচ্চার কণ্ঠস্বর, সাবেক টেলিভিশন উপস্থাপক টাকার কার্লসন জুনের শেষের দিকে বলেন, ট্রাম্প অবশেষে বুঝতে পেরেছেন যে ইসরাইলই তার প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।

    কার্লসন তার পডকাস্টের শুরুতে অভিযোগ করেন, ইসরাইল ট্রাম্পকে ফুসলিয়ে, বুঝিয়ে ও হুমকি দিয়ে ইরানে হামলা করিয়েছে, যাতে প্রতিবেশী লেবাননের বিরুদ্ধে আরেকটি যুদ্ধ শুরু করার উছিলা পাওয়া যায়।

    ওয়াশিংটনের ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এর গবেষক ও জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড্যানিয়েল বাইম্যান আলজাজিরাকে বলেন, ট্রাম্প মার্কিন এস্টাবলিশমেন্টের ঐতিহ্যগতভাবে সবচেয়ে ইসরাইলপন্থী দল ‘রিপাবলিকান’-এর প্রধান হলেও, ইসরাইলের সাথে বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে তার হাতে বেশ কিছু বিকল্প রয়েছে।

    বাইম্যান বলেন, ‘আমি মনে করি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যথেষ্ট নমনীয়তা রয়েছে। অনেক রিপাবলিকান কট্টর ইসরাইলপন্থী হলেও প্রেসিডেন্টের একটি অত্যন্ত অনুগত কর্মী বাহিনী রয়েছে এবং তিনি দেখিয়েছেন যে দলের বিশাল অংশকে তিনি নিজের মতে আনতে পারেন। এ বিষয়ে তিনি অনেক ডেমোক্র্যাটকেও পাশে পাবেন, কারণ ডেমোক্র্যাট দলটির ভেতরেও ইসরাইলের প্রতি সমালোচনা দিন দিন বাড়ছে।’

    ইতিহাসজুড়ে আমেরিকার কূটনৈতিক ও সামরিক সমর্থন ইসরাইলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা ইসরাইলের খুব কম মানুষই না বোঝার ভান করতে পারেন। ২০১৬ সাল থেকে ইসরাইল একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় ১০ বছরে ৩৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা পাচ্ছে, যা আমেরিকার ইতিহাসে অন্য কোনো দেশকে দেওয়া সবচেয়ে বড় অনুদান।

    ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরাইলের নৃশংস যুদ্ধে মার্কিন কূটনৈতিক সমর্থন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে এ পর্যন্ত অন্তত ৭২,০০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই ইস্যুতে জাতিসংঘে ইসরাইলের পক্ষে ওয়াশিংটন কম করে হলেও ছয়বার তাদের ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে।

    ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্বে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা আমেরিকার সাথে দেশের দূরত্ব এবং ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার বিষয়টি সামনে এনেছেন। অথচ, এই কূটনৈতিক সংকটের পেছনে দায়ী আঞ্চলিক যুদ্ধগুলোকে তাদের অধিকাংশই সমর্থন করেছিলেন।

    জুনের মাঝামাঝিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ ইসরাইলের প্রধান মিত্রকে ধরে রাখতে নেতানিয়াহুর ব্যর্থতার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘আমরা যদি দ্রুত এই সরকারকে পরিবর্তন করতে না পারি, তবে ইসরাইলের বৈদেশিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে।’

    ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সাবেক চিফ অব স্টাফ গাদি আইজেনকোট, যিনি এবারের নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার সবচেয়ে বড় দাবিদার, তিনিও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনায় ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করেছেন।

    আইজেনকোট সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন, নেতানিয়াহু পরিস্থিতি এতটাই খারাপ করেছেন যে ট্রাম্পকে বাধ্য হয়ে ইসরাইলকে ছাড়াই একলা চলার নীতি নিতে হয়েছে এবং ইরানের সাথে চুক্তি করতে হচ্ছে, যা ইসরাইলকে তার এক নম্বর মিত্রের কাছ থেকে আরও বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে।

    ইসরাইলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক নিম্রোদ ফ্লাশেনবার্গ বলেন, ‘বিশ্বের বুকে ইসরাইলের অবস্থানের মূল চাবিকাঠি হলো আমেরিকা। আমেরিকার অবদানই ইসরাইলের জন্য সবকিছু; তারা ইসরাইলকে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কূটনৈতিক মর্যাদা—সবকিছু দেয়।’

    আমেরিকান লেখক ও সাবেক কূটনীতিক অ্যারন ডেভিড মিলার উল্লেখ করেন, ট্রাম্পই প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট নন, যিনি ইসরাইলের সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন, তবে খুব কম নেতাই এটি এত জনসমক্ষে করেছেন।

    তিনি বলেন, ‘কিন্তু কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট বর্তমান প্রশাসনের মতো ভাষায় কথা বলেননি, কিংবা ইসরাইলি সমকক্ষদের সাথে আলোচনা এভাবে ফাঁস করেননি, যেখানে তাদের খাটো ও হেয় করা হয়েছে। কংগ্রেস বা সাধারণ জনগণ—রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট ভোটারদের কাছে ইসরাইল এর আগে কখনো এতখানি অজনপ্রিয় ছিল না।’

    তবে এই উত্তেজনার পরও এমন কোনো ইঙ্গিত নেই যে ট্রাম্প প্রশাসন ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক একেবারে ছিন্ন করার কথা ভাবছে।

    মিলার বলেন, ‘ট্রাম্প যদি ইসরাইলের ওপর বড় কোনো চাপ সৃষ্টি করতে চান, তবে তা হতে হবে এমন কোনো বড় সাফল্যের উদ্দেশ্যে, যা তাকে বিশ্বমঞ্চে বীর হিসেবে জাহির করবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘লেবানন, গাজা কিংবা ইসরাইল-সৌদি সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ—কোনো ইস্যুরই এই মুহূর্তে এমন কোনো বড় সাফল্যের সম্ভাবনা নেই, যা ইসরাইলের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ও জোরালো চাপ সৃষ্টি করতে ট্রাম্পকে প্ররোচিত করবে।’

  • ফিলিস্তিনিদের গাড়িতে গ্রেনেড ছুড়ে দরজা চেপে ধরল ইসরাইলি সেনা

    ফিলিস্তিনিদের গাড়িতে গ্রেনেড ছুড়ে দরজা চেপে ধরল ইসরাইলি সেনা

    ফিলিস্তিনি একটি গাড়িতে ইসরাইলি সেনার গ্রেনেড নিক্ষেপের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিটিতে একটি সিসিটিভি ফুটেজ দেখানো হয়েছে। যেখানে এক ইসরাইলি সেনা কয়েকজন তরুণ ফিলিস্তিনিদের বহনকারী একটি গাড়ির ভেতরে স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করছেন।

    ভিডিওতে দেখা যায়, অস্ত্রের মুখে গাড়িটি থামানোর পর ওই সেনা গাড়ির ভেতরে একটি স্টান গ্রেনেড ছুড়ে দেন। গ্রেনেডটি বিস্ফোরণের আগে ফিলিস্তিনিরা আতঙ্কে গাড়ি থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে সেনা চালকের পাশের দরজা জোর করে বন্ধ করে দেন।

    ঘটনাটি ঘটেছে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের উত্তরে অবস্থিত কালানদিয়া শরণার্থী শিবিরে। ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

  • মুসলিম কিশোরীকে গণধর্ষণ, হত্যা,উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ

    মুসলিম কিশোরীকে গণধর্ষণ, হত্যা,উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ

    কলকাতার দক্ষিণ শহরতলির বারুইপুর অঞ্চলে এক মুসলিম কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    প্রায় ১১ বছর বয়সী ওই কিশোরীর পরিবার অভিযোগ করেছে, তাকে খুন করার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে। এরপর লাশ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। পরিবার বলছে, শনিবার বিকেল ৪টা নাগাদ খাবার কেনার জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই ওই কিশোরী নিখোঁজ ছিল। এরপর রোববার সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    লাশ উদ্ধারের পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো পশ্চিমবঙ্গে। বারুইপুরে টহল দিচ্ছে সশস্ত্র পুলিশবাহিনী।

    সোমবার প্রাথমিক ময়না তদন্তের রিপোর্ট এসেছে পুলিশের হতে। তার উপর ভিত্তি করে পকসো আইনে ধর্ষণের মামলা রুজু করেছে পুলিশ। যদিও প্রাথমিকভাবে রুজু হওয়া মামলায় ধর্ষণের উল্লেখ ছিল না। ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি গঠন করে ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

    এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওই এলাকায় এক যুবককে পিটিয়েও মারা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে ক্ষুব্ধ জনতার রোষেই তার মৃত্যু হয়।

    রোববার বারুইপুর থানার পুলিশ এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। পরে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

    ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ১৬৩ ধারা (আগের ১৪৪ ধারা) অনুযায়ী বারুইপুরে পাঁচজনের বেশি জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। কোনো রকম সংঘাত ঠেকাতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    নির্যাতিতার পরিবারকে সুবিচারের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পরিবারটি রাজ্য পুলিশের সদর দফতরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের আইজি কঙ্করপ্রসাদ বারুই।

    ওই অঞ্চলের এক বাসিন্দা সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, ‘মাগরিবের নামাজের পর বোনটি (নির্যাতিতা কিশোরী) তার বন্ধুর জন্মদিন পালন করতে গিয়েছিল। কিন্তু রাত আটটার পর থেকে তার আর কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছিল না।’

    ‘রাতে প্রায় সাড়ে আটটা নাগাদ আমরা থানায় যোগাযোগ করেছিলাম কিন্তু পুলিশ গুরুত্ব দিচ্ছিল না। রোববার সকালে আমরা স্থানীয়দের থেকে খবর পেলাম। পরে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীকে আমরাই ধরে ফেলি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘দোষী নিজেই থানায় দোষ স্বীকার করেছিল ও তাকে সঙ্গে নিয়েই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করি। তখনও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। অন্যদিকে শান্তনু মণ্ডল নামে এক স্থানীয় বিজেপি নেতা দোষীকে নিয়ে পালিয়ে যায়।’

    এই ঘটনার পরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অঞ্চল। রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয়রা।

    বারুইপুরে ওই ঘটনার পরে এক অভিযুক্তকে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনা সামনে এসেছে। জনরোষ সামাল দিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলে জানানো হয়েছে পুলিশের তরফে।

    এই ঘটনায় রোববার রাত পর্যন্ত তিনটি মামলা করা হয়েছিল। একটি মামলা কিশোরীকে খুনের ঘটনায়, একটি স্থানীয় জনগণ কর্তৃক পুলিশের ওপর হামলা ও অপরটি এক অভিযুক্তকে খুনের মামলা।

    শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, পকসো ধারায় ধর্ষণ ও খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে প্রাথমিক ময়নাতদন্ত রিপোর্টটি পুলিশের হাতে আসার পরে।

    যদিও প্রাথমিক রিপোর্টটিতে কী বলা হয়েছে, তা নিয়ে প্রকাশ্য কোনো মন্তব্য করতে চাননি পুলিশকর্তারা।

    একটি বিশেষ তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে পুলিশ। প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের আইজি কঙ্করপ্রসাদ বারুই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সুষ্ঠু তদন্ত করে সাজা নিশ্চিত করা হবে।

    অভিযুক্ত একজনকে রোববার গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ছাড়াও আরও দুজন গ্রেফতার হয়েছেন। এখন মোট গ্রেফতারের সংখ্যা হলো তিন। অন্য তিনজন আটক হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

  • লন্ডনে গ্লোবাল আশেকে রাসুল (সা.) কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

    লন্ডনে গ্লোবাল আশেকে রাসুল (সা.) কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

    বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশের সহস্রাধিক মানুষের অংশগ্রহণে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্লোবাল আশেকে রাসুল (সা.) কনফারেন্স ২০২৬।

    মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্ব প্রদানকারী ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা হুজুরের আহ্বানে স্থানীয় সময় রোববার বিকেলে লন্ডনের একটি কনভেনশন হলে এই কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।

    মূল বক্তব্যে ইমাম কুদরত এ খোদা বলেন, “আজকের সমাজ হেরা গুহার সেই জ্ঞানকে ভুলে গেছে। ইসলাম রয়ে গেছে, কিন্তু আত্মশুদ্ধির সাধনা হারিয়ে গেছে।”

    কোরআন অনুসরণ করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, “কোরআন জানা আর কোরআন মানা এক জিনিস নয়।”

    “ধর্মীয় জ্ঞান তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা মানুষের চরিত্রে প্রতিফলিত হয়। সুফিজম মানুষকে চরিত্রবান হওয়ার শিক্ষা দেয়,” যোগ করেন ইমাম কুদরত এ খোদা।

    বিশ্বশান্তি ও মানবিক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “ভালোবাসার উপরে ধর্ম নেই, ভালোবাসার উপরে ইবাদত নেই।”

    অনুষ্ঠানে সুফিবাদ, আল্লাহর প্রেমের মাধ্যমে আত্মিক জাগরণ, মোহাম্মদী ইসলামের শিক্ষা এবং বিশ্বব্যাপী এর কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

    কনফারেন্সে ‘দ্য রাইজ এন্ড স্প্রেড অব মোহাম্মদী ইসলাম’ শীর্ষক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। মিলাদ শরীফ পাঠ এবং বিশ্ববাসীর শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ কামনায় মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কয়েক লাখ আশেকে রাসুল অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

    দেওয়ানবাগ শরীফ যুক্তরাজ্য শাখা এই অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। বর্তমানে বিশ্বের ৪০টির বেশি দেশে দেওয়ানবাগ শরীফ নিবন্ধিত সংগঠন হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে আয়োজকরা জানান।

  • প্রশান্ত মহাসাগরে সাবমেরিন থেকে সফল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল চীন

    প্রশান্ত মহাসাগরে সাবমেরিন থেকে সফল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল চীন

    চীন একটি পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে প্রশান্ত মহাসাগরে ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে। এর আগে এই অঞ্চলের দেশগুলো সতর্ক করে দিয়েছিল যে, চীন একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পরিকল্পনা করছে। এরপরই এ সোমবার এ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা পরিচালনা করল চীন।

    কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বেইজিংয়ের সামরিক সক্ষমতার বিরল প্রদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে প্রভাবশালী।

    চীনের নৌবাহিনীর মুখপাত্র ওয়াং শুয়েমেং এক বিবৃতিতে জানান, সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১ মিনিটে পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির একটি কৌশলগত পারমাণবিক সাবমেরিন প্রশিক্ষণধর্মী সিমুলেশন ওয়ারহেড বহনকারী একটি কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র প্রশান্ত মহাসাগরের নির্ধারিত জলসীমায় সফলভাবে উৎক্ষেপণ করে। ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে সঠিকভাবে আঘাত হানে।

    তিনি বলেন, এটি চীনের বার্ষিক সামরিক প্রশিক্ষণের নিয়মিত অংশ এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আগেই অবহিত করা হয়েছিল।

    তবে এ উৎক্ষেপণের তীব্র সমালোচনা করেছে অঞ্চলের কয়েকটি দেশ। বিশেষ করে জাপান জানিয়েছে, উৎক্ষেপণ না করার জন্য তারা চীনকে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিল।

    একই দিনে চীনের পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি ছিংদাও উপকূলে চীন ও রাশিয়ার বার্ষিক যৌথ নৌমহড়া শুরুর কথা ছিল। তবে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাটি ওই মহড়ার অংশ ছিল কি না, তা স্পষ্ট হয়নি।

    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন দ্রুত পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মে মাস পর্যন্ত চীনের কাছে ৫০০টিরও বেশি কার্যকর পারমাণবিক ওয়ারহেড ছিল এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

  • সিয়াটলে যুক্তরাষ্ট্র না বেলজিয়াম হাসবে?

    সিয়াটলে যুক্তরাষ্ট্র না বেলজিয়াম হাসবে?

    ফিফার বর্তমান র‍্যাঙ্কিংয়ের নয়ে বেলজিয়াম। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ১৬ নম্বরে। এ হিসাবে কাগজে-কলমে এগিয়ে বেলজিয়ামই। কিন্তু বাংলাদেশ সময় আগামীকাল সকাল ৬টায় সিয়াটলে দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার আগে নিজেদের এগিয়ে রাখতে নারাজ বেলজিয়াম দলের উইঙ্গার দোদি লুকেবাকিও। উল্টো তিনি এই ম্যাচে দুই দলেরই ‘ফিফটি-ফিফটি’ সম্ভাবনা দেখেন।

    র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার পরও কেন তাঁদের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাবনা দেখছেন লুকেবাকিও—কারণ, যুক্তরাষ্ট্র খেলবে ঘরের মাঠে, সমর্থকভরা গ্যালারির সমর্থন নিয়ে। তাঁর ভাষায়, ‘বিশ্বকাপে সবকিছুই আলাদা। যুক্তরাষ্ট্র এবার নিজেদের মাঠে খেলছে, দর্শকদের সমর্থনও পাবে। তাই ম্যাচটা হবে ৫০-৫০।’

    অবশ্য পরিসংখ্যানও প্রায় একই কথা বলছে। অপ্টর সুপারকম্পিউটার ৯০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের সম্ভাবনা দেখছে ৩৭.২ শতাংশ, আর বেলজিয়ামের ৩৬.৫ শতাংশ। অর্থাৎ দুই দলের সম্ভবনার ব্যবধান খুবই সামান্য।

    ‘ডি’ গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে শেষ বত্রিশে উঠে আসে যুক্তরাষ্ট্র। ওই পর্বে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় মরিসিও পচেত্তিনোর দল। টানা চার ম্যাচে অন্তত দুই গোল করে তারা গড়েছে নতুন কীর্তি। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বাইরে প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপে টানা চার ম্যাচে দুই বা তার বেশি গোল করার কীর্তি পচেত্তিনোর দলের।

    অন্যদিকে বেলজিয়াম খুব একটা স্বস্তি নিয়ে শেষ ষোলোয় আসেনি। গ্রুপে মাত্র একটি জয় পেলেও গোল ব্যবধানে শীর্ষে থেকে নকআউটে ওঠে তারা। শেষ বত্রিশে সেনেগালের বিপক্ষে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নেয় বেলজিয়ানরা।

    তবে নকআউটের অভিজ্ঞতায় এগিয়ে বেলজিয়াম। বিশ্বকাপে তাদের শেষ সাতটি নকআউট ম্যাচের পাঁচটিতেই জিতেছে তারা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ছয়টি শেষ ষোলোর পাঁচটিতেই বিদায় নিয়েছে। একমাত্র ব্যতিক্রম ২০০২ সালে, যখন মেক্সিকোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল তারা।

    মার্চে আটলান্টায় প্রীতি ম্যাচে এই দুই দলের দেখা হয়েছিল। সেদিন ৫-২ ব্যবধানে জিতেছিল বেলজিয়াম, যেখানে শেষ দুটি গোল করেছিলেন লুকেবাকিও। তবে এবার তাঁর বিশ্বাস, বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের সমর্থকদের সামনে খেলতে নামা যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ ভিন্ন এক প্রতিপক্ষ। তাই সিয়াটলে শেষ আটের টিকিটের লড়াইয়ে জমজমাট এক ম্যাচেরই অপেক্ষা।

  • গাজার শাসন কমিটি ভেঙে দিচ্ছে হামাস

    গাজার শাসন কমিটি ভেঙে দিচ্ছে হামাস

    আন্তজাতিক ডেস্ক:

    গাজায় হামাসের নির্বাহী সংস্থা ‘গভর্নমেন্ট ফলো-আপ কমিটি’ ভেঙে দিচ্ছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। প্রায় ২০ বছর ধরে গাজা শাসন করছে এই হামাসের এই শাসন কমিটি। বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন হামাস কর্মকর্তারা।

    এই পদক্ষেপের ফলে বিভিন্ন ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত নির্দলীয় টেকনোক্র্যাটিক কমিটির জন্য গাজা উপত্যকার দায়িত্ব গ্রহণের পথ প্রশস্ত হবে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে হামাসের একজন কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, গাজার সরকারি কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ আনুষ্ঠানিকভাবে তার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত কমিটির কাজ তদারকির জন্য ঐকমত্যের ভিত্তিতে একজনকে নিয়োগ করা হবে।

    এরআগে, গত অক্টোবরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত টেকনোক্র্যাট সরকারের কাছে গাজার ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি হয় গাজা উপত্যকা শাসনকারী গোষ্ঠী হামাস।

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া হামাস–ইসরাইলের যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ফিলিস্তিনের নানা খাতে বিশেষজ্ঞ ১৫ ব্যক্তিকে নিয়ে এনসিএজি গঠন করা হয়েছে। গাজা পুনর্গঠনকালে তারা বিধ্বস্ত উপত্যকাটির দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করবেন।

  • গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩,০৯৮

    গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩,০৯৮

    ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৭৩ হাজার ৯৮ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭১ জন।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ দৈনিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় পাঁচজন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন। এছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং সম্প্রতি নিহত হয়েছেন আরও তিনজন।

    এর ফলে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ৭৩ হাজার ৯৮ জনে। আহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭১ জন।

    এদিকে, গত বছরের অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৭২ জন নিহত এবং ৩ হাজার ৪৬৩ জন আহত হয়েছেন।

  • খামেনির জানাজা-পরবর্তী শোকযাত্রায় মানুষের ঢল

    খামেনির জানাজা-পরবর্তী শোকযাত্রায় মানুষের ঢল

    ইরানের রাজধানী তেহরানে আজ সোমবার (৬ জুলাই) লাখো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা-পরবর্তী শোকযাত্রা শুরু হয়েছে।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, সোমবার ভোর থেকেই শোকযাত্রার নির্ধারিত সড়কগুলো মানুষের ঢলে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অংশগ্রহণকারীরা ইরানের জাতীয় পতাকা ও খামেনির ছবি বহন করেন এবং উদ্দীপনাময় স্লোগান দিতে দিতে জাতীয় ঐক্য ও শহীদ নেতার আদর্শের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।

    নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-যুবকসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এই শোকযাত্রায় অংশ নিয়েছেন। শহীদ নেতাকে সর্বোচ্চ সম্মান জানিয়ে বিদায় দিতে তারা রাজপথে নেমে আসেন।

    পুরো পরিবেশ ছিল শোক, দোয়া, শোকগাথা ও অশ্রুসিক্ত আবেগে পরিপূর্ণ। এতে দেশটির বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারাও অংশ নেন।

    তেহরানের এই কর্মসূচি শেষে মঙ্গলবার কোমে জানাজা ও শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় জানাজার আয়োজন করা হয়েছে। সবশেষে, বৃহস্পতিবার মাশহাদে জানাজা শেষে তাকে ইমাম রেজা (আ:)-এর মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হবে।

  • চীনের দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ

    চীনের দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ

    অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে চীনের বড় বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্ব চাইছে বাংলাদেশের নতুন সরকার। একই সাথে তারা প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথেও সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

    গত মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যান। এই সফর ঢাকার পররাষ্ট্রনীতির নতুন দিক নির্দেশ করে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সফর ঢাকার কৌশলগত অগ্রাধিকার পরিবর্তনের আভাস দেয়। প্রথম সফর মালয়েশিয়ায় হলেও, চীনের সফরটিকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

    সাধারণত দক্ষিণ এশিয়ার নতুন নির্বাচিত নেতারা প্রথমে ভারতে সফরে যান। তারেক রহমানের চীন সফরকে দিল্লির জন্য একটি বার্তা হিসেবে দেখছেন ভারতের কেউ কেউ। দিল্লি বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী শেখ হাসিনার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিল।

    প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরে বেশ কিছু দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই হয়েছে। এর মধ্যে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা এবং মংলা বন্দরের কাছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন চুক্তিটি বিশেষ নজর কেড়েছে। বাংলাদেশে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতায় থাকা ভারত ও চীন উভয় দেশই এই বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

    ২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ক শীতল হয়। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে দিল্লিতে আশ্রয় নেন। এরপর ডা. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন ছিল। ভারত তখন উচ্চপর্যায়ের সফর এড়িয়ে চলে।

    গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ জয় পায়। এরপর তারেক রহমান দায়িত্ব নিলে উভয় পক্ষই সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়। ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শ্যাম শরণ বিবিসিকে বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমেছে এতে কোনো সন্দেহ নেই।’

    তিনি জানান, সীমান্ত অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হচ্ছে এবং ভারত বাংলাদেশিদের ট্যুরিস্ট ভিসা দিচ্ছে।

    ১৮ মাস বন্ধ থাকার পরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাস চলাচল আংশিক শুরু হয়েছে। এখন কলকাতা-ঢাকা এবং ঢাকা-আগরতলা রুটে বাস চলছে। চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়। তখন ভারত ‘ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন’ দিয়ে বাংলাদেশে হাজার হাজার টন জরুরি জ্বালানি পাঠায়।

    গত মাসে ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দিনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব নিয়েছেন। দিল্লি তাকে ক্যাবিনেট পদমর্যাদা দিয়েছে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের ইঙ্গিত দেয়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা থাকলেও গত বছর দুই দেশের বাণিজ্য ছিল প্রায় ১৩ বিলিয়ন পাউন্ড। এই বাণিজ্য মূলত ভারতের পক্ষে ছিল।

    তবে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ক যতটা আশা করা হয়েছিল, ততটা সহজ হয়নি। সম্পর্কে এখনো কিছু অস্বস্তি রয়ে গেছে। শেখ হাসিনাকে সমর্থনের কারণে বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী মনোভাব তৈরি হয়েছে। এছাড়া ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) যাদের অবৈধ অভিবাসী মনে করে, তাদের বাংলাদেশে পুশ-ইন করার চেষ্টা করছে। এটি ঢাকায় বিতর্ক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

    বাংলাদেশি কর্মকর্তারা বলেন, কোনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ছাড়াই ভারত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাজার হাজার বাংলাভাষী মুসলিমকে পুশ-ইন করেছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নির্বাচনের সময় হিন্দু-জাতীয়তাবাদী নেতাদের বাংলাদেশ-বিরোধী মন্তব্য ঢাকায় নেতিবাচক বার্তা দিয়েছে।

    সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এসব বিষয় বাংলাদেশে জনঅসন্তোষ তৈরি করেছে, যা ঢাকার চিন্তাভাবনায় প্রভাব ফেলেছে।’

    গত মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির কাছে তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত হয়। এর ফলে সীমান্তে অবস্থিত এই রাজ্যে তৃণমূলের ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। পশ্চিমবঙ্গের সাথে বাংলাদেশের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক মিল রয়েছে।

    তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনায় চীনের যেকোনো ভূমিকা ভারতের জন্য একটি সংবেদনশীল নিরাপত্তা ইস্যু। ভারত ও বাংলাদেশ এই নদীর পানি শেয়ার করে। তবে পানি বণ্টন চুক্তিটি বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে। তারেক রহমানের বেইজিং সফরের সময় দুই পক্ষ তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনায় যৌথ কারিগরি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করতে সম্মত হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষিকাজের জন্য নদীটির ড্রেজিং ও নাব্যতা ফেরানো প্রয়োজন।

    শ্যাম শরণ বলেন, ‘আমাদের সীমান্তের কাছে যেকোনো প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা সবসময় উদ্বেগের বিষয়। আমরা এটিকে মোটেও স্বাগত জানাব না।’

    ভারত ও চীনের মধ্যেও সীমান্ত বিরোধ রয়েছে। ১৯৬২ সালের যুদ্ধে ভারতের পরাজয় হয়েছিল। সাম্প্রতিক সীমান্ত সংঘর্ষেও উভয় পক্ষের প্রাণহানি হয়েছে।

    এই প্রকল্পে চীনের ভূমিকা ভারতকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘শিলিগুড়ি করিডোর’ বা ‘চিকেনস নেক’-এর কাছাকাছি নিয়ে আসবে। এই ২২ কিলোমিটারের স্ট্রিপটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে উত্তর-পূর্বের সাতটি রাজ্যকে যুক্ত করেছে।

    বাংলাদেশি কর্মকর্তারা বলছেন, আগের সরকারগুলো ভারতকে তিস্তা প্রকল্পে যোগ দিতে বলেছিল। কিন্তু দিল্লি সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘ সময় নেয়।

    তাদের মতে, চীনের এই বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা ও আর্থিক সম্পদ রয়েছে।

    তবে বেইজিং ভারতের উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয়। এটি তৃতীয় পক্ষের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা উচিত।’

    চীন ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা সরবরাহকারী দেশ। বাংলাদেশের মোট অস্ত্র আমদানির ৭০ শতাংশের বেশি আসে চীন থেকে। বেইজিংয়ের কাছে ঢাকার দেনা ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি। সফরকালে চীন ‘চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর’ উন্নয়নের প্রস্তাব দিয়েছে। এটি চীনের ইউনান প্রদেশকে দুই দেশের সাথে যুক্ত করবে।

    ভারত দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশিয়াকে নিজের প্রভাব বলয় মনে করে। তবে চীন বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপে তার অবস্থান বাড়িয়েছে। নতুন সরকারের সাথে ভারতের সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের প্রচেষ্টা জটিল হচ্ছে শেখ হাসিনার দিল্লিতে অবস্থানের কারণে। ঢাকা তার প্রত্যর্পণ চাইছে। ছাত্র আন্দোলনে শত শত মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় শেখ হাসিনাকে ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।

    শ্যাম শরণ বলেন, ‘যতদিন হাসিনা দিল্লিতে আছেন, রাজনৈতিক কারণে তারেক রহমানের ভারত সফর কিছুটা কঠিন হতে পারে।’

    তবে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ভারত বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রতিবেশী। তাই তারেক রহমান দিল্লি সফর করতে পারেন। ভারতও জানে যে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশের সাথে স্থিতিশীল সম্পর্ক জরুরি। সেখানে বেশ কয়েকটি জাতিগত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে।

    সূত্র: বিবিসি

  • পল্লী উন্নয়নে সরকার কাজ করছে: মির্জা ফখরুল

    পল্লী উন্নয়নে সরকার কাজ করছে: মির্জা ফখরুল

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) বিষয়ক মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পল্লী উন্নয়নে নির্বাচিত সরকার কাজ করছে।

    সোমবার (৬ জুলাই) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক পল্লী উন্নয়ন দিবস ও সিরডাপের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, পল্লী উন্নয়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পল্লী উন্নয়নে নির্বাচিত সরকার কাজ করছে।

    অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে জনিয়ে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডসহ নানা কার্ডের মাধ্যমে সাধারণ প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে। গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নে সরকার বদ্ধপরিকর।

    এ সময় ৫ যুগ ধরে সিরডাপ পল্লী উন্নয়নে কাজ করছে বলেও জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রান্তিক পর্যায়ে উদ্যোক্তা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সিরডাপের কাজ প্রশংসনীয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

  • প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ যুবরাজ সালমানের

    প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ যুবরাজ সালমানের

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে যুবরাজের আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ. বিন আবিয়া।

    সোমবার (৬ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    এ সময় সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদের একটি চিঠি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন সৌদি রাষ্ট্রদূত। এ ছাড়া, দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়৷

    এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের উপ-রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

  • ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে কাঁচা রসুন খাওয়া কি ভালো? 

    ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে কাঁচা রসুন খাওয়া কি ভালো? 

    প্রতিদিন রান্নায় রসুন ব্যবহার করা হয়। এটি কেবল খাবারের স্বাদ বাড়ায় না, শরীরের নানাবিধ উপকারও করে। রসুনে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান প্রদাহ কমায়। আবার ভাইরাস গঠিত সংক্রমণের হাত থেকেও সুরক্ষিত রাখে। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে রসুন। বেশ কিছু গবেষণা বলছে, রসুনে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে, যা শরীরের ইনসুলিন ব্যবহার করার ক্ষমতা এবং গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া উন্নত করতে পারে। প্রশ্ন হলো কার্যকর ফলাফল পেতে রসুন কি কাঁচা খাওয়া ভালো, নাকি রান্নায় রসুন ব্যবহার করাই ভালো?

    ভারতীয় গণমাধ্যম ‘এই সময়’-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রসুন খালি পেটে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে। রসুনে থাকা অ্যালিসিন উপাদানটি হলো এমন একটি সালফার যৌগ যা ইনসুলিনের নিঃসরণ এবং কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। এর কারণে রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু রসুন ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিসের কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। তবে কাঁচা রসুন থেঁতো করে খেলে উপকার মিলবে। অনেকেই রসুন কাঁচা খেতে পারেন না। এর তীব্র গন্ধ অসহ্যকর।

    তাহলে রসুন কীভাবে খাবেন?
    রসুন কাটার পরে বা থেঁতো করার পরে মিনিটে পাঁচেক রেখে দিন। এতে অ্যালিসিন যৌগটি তৈরি হওয়ার সুযোগ পাবে। এছাড়া রসুন কুচি করেও নিতে পারেন। যদি কাঁচা রসুন খেতে না পারেন, তাহলে থেঁতো করা বা কুচি কুচি করে কাটা রসুন রান্না মিশিয়ে খাওয়া যায়। রান্নার আগেও কাটা রসুন কিছুক্ষণ খোলা হাওয়ায় রেখে দিন। উচ্চ তাপমাত্রায় বেশি সময় নিয়ে রসুন রান্না করা ঠিক নয়। এতে রসুনের উপকারী যৌগগুলোর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।

    প্রতিদিন কতটা রসুন খাওয়া উচিত?
    সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে ১ থেকে ২ কোয়া রসুন খাওয়াই যথেষ্ট। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খেলে বাড়তি উপকার তো মিলবেই না, বরং পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বেশি পরিমাণে রসুন খেলে অনেকের অ্যাসিডিটি, বুকজ্বালা, পেট ফাঁপা, গ্যাস, পেটে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খাচ্ছেন বা যাদের অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা রয়েছে, তাদের ডায়েটে রসুনের পরিমাণ বাড়ানোর আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত।

  • বুকজ্বালা ও গ্যাসের সমস্যা কমবে  ৭ পানীয়তে

    বুকজ্বালা ও গ্যাসের সমস্যা কমবে ৭ পানীয়তে

    বুকজ্বালা, অম্বল, টক ঢেকুর, অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা অনেকের নিত্যদিনের সঙ্গী। সহজ সমাধান হিসেবে তারা ওষুধ খেয়ে নেন। হজমের ওষুধ অতিরিক্ত খেলে গুরুতর শারীরিক সমস্যা হতে পারে। ভারতীয় গণমাধ্যম ‘আনন্দবাজার পত্রিকার’ এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওষুধের বদলে রান্নাঘরে থাকা কয়েকটি উপাদান দিয়েই কমানো যায় গ্যাস, বুকজ্বালার সমস্যা।

    মৌরি ভেজানো পানি: মৌরি হজমে সাহায্য করে এবং পেটের অস্বস্তি কমাতে পারে। অম্বল ও গ্যাসের সমস্যায় মৌরি ঘণ্টাখানেক ভিজিয়ে তার পানি পান করতে পারেন। অম্বল বা বুকজ্বালা থেকে রেহাই দিতে পারে এই ঘরোয়া পানীয়। কারণ, এতে থাকা অ্যানিথোল নামক যৌগ পাকস্থলীর পেশিগুলোকে শিথিল করে এবং হজমকারী রসের ক্ষরণ বাড়িয়ে গ্যাস ও ফোলা ভাব কমায়।

    জিরা পানি: বদহজমের সমস্যা কমানোর জন্য জিরার জুড়ি মেলা ভার। জিরায় থাইমল নামক তেল থাকে, যা লালা গ্রন্থিকে সক্রিয় করে। এর ফলে পাচক রস ও এনজ়াইম নিঃসরণ বাড়ে। খাবারকে দ্রুত ভাঙতে সাহায্য করে এটি। ফলে হজমে সমস্যা হয় না। পাশাপাশি এটি পেটফাঁপা এবং গ্যাসও কমায়। এই মশলা ভিজিয়ে রেখে সেই পানি পান করলে অম্বলের সমস্যা কমতে পারে।

    লবঙ্গ ভেজানো পানি: লবঙ্গ চিবিয়ে খেলে মুখের স্বাদ যেমন বদলায়, তেমনই হজমেও কিছুটা সাহায্য করতে পারে। অনেকেই অম্বল হলে একটি বা দু’টি লবঙ্গ মুখে রেখে ধীরে ধীরে চিবিয়ে খান। লবঙ্গ হাতে চিপে পানিতে ফেলে দিয়ে খানিকক্ষণ অপেক্ষা করুন। তারপর ওই পানি ছেঁকে পান করুন। এর মধ্যে থাকা ইউজেনল পরিপাকতন্ত্রকে সুরক্ষা দেয় এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এর ফলে বুকজ্বালা, পেট ফাঁপা, গ্যাস ও অম্বলের সমস্যা অনেকটা কমবে।

    আদা পানি: আদা হজমের সমস্যায় বহু দিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এক কাপ হালকা আদা দেওয়া গরম পানি বা আদা চা পেটের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। আদা পাকস্থলীর পেশি শিথিল করে, হজম প্রক্রিয়া দ্রুত করে এবং প্রদাহ কমায়, যার ফলে অ্যাসিড রিফ্লাক্স ও বুকজ্বালা কমে।

    এলাচের গুঁড়া মিশ্রিত পানি: পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিড প্রশমিত করে এবং হজমে সাহায্যকারী এনজাইমের ক্ষরণ বাড়িয়ে অম্বল কমাতে পারে এলাচ। বুকজ্বালা দূর করে পেট ঠান্ডা করতে পারে এটি। এলাচ গুঁড়ো করে পানিতে মিশিয়ে খানিক পরে সেই পানি ছেঁকে পান করলে আরাম মিলবে।

    ধনের পানি: গোটা ধনে এবং ধনেপাতা, দু’টিই হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। পাকস্থলীতে পাচক রস এবং এনজ়াইম ক্ষরণ বাড়ায় ধনে। এটি খাবারকে দ্রুত ও সঠিক ভাবে ভাঙতে সাহায্য করে। ফলে হজম করার ক্ষমতা বাড়ে। তাই ধনে কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে সেই পানিটুকু ছেঁকে খেয়ে নিলে আরাম পেতে পারেন।

    ঈষদুষ্ণ পানি: সাধারণ গরম পানিও হজমে কাজে দিতে পারে। খাবারের পরে অল্প গরম পানি পান করলে হজমপ্রক্রিয়া সহজ হতে পারে এবং অস্বস্তি কমতে পারে। কারণ, ঈষদুষ্ণ বা হালকা গরম পানি হজমের গতি বাড়াতে পারে, অন্ত্রকে সচল করে, বিপাক ক্রিয়াকে সক্রিয় করে বদহজম কমাতে সাহায্য করে। গরম জল পাকস্থলীতে পৌঁছানোর পর খাবার ও চর্বিকে সহজে দ্রবীভূত করতে পারে। ফলে দেহ দ্রুত খাদ্যকণাগুলো হজম করতে পারে।

  • আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের সঙ্গে সাক্ষাৎ মিসরের

    আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের সঙ্গে সাক্ষাৎ মিসরের

    কেপ ভার্দের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর আর্জেন্টিনা শেষ ষোলোতে খেলবে মিসরের বিপক্ষে। পরশু আটলান্টায় মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা-মিসর; যা ডালাস থেকে প্রায় ১৩০০ কিলোমিটার দূরে। নতুন ভেন্যুতে যাওয়ার আগে মিসর ফুটবল দলের সদস্যরা ডালাস পুলিশ ডেপুটি চিফের সঙ্গে দেখা করেছেন।

    মিসর ফুটবল দলের সঙ্গে ডালাস পুলিশ সৌজন্য সাক্ষাতের আয়োজন করেছে। সামাজিক মাধ্যমে একাধিক ছবিও পোস্ট করেছে পুলিশ। ডালাস পুলিশ বিভাগ নিজেদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে গতকাল রাতে ছবি পোস্টের পর ক্যাপশনে লিখেছে, ‘ডালাস পুলিশ বিভাগ আমাদের কমিউনিটির সদস্য এবং আন্তর্জাতিক অতিথিদের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে অত্যন্ত মূল্য দেয়। আমরা বিশ্বাস করি, একটি কথোপকথনও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। সম্মান শুধু কথায় নয়, কাজের মাধ্যমেই প্রকাশ পায়। আজ (গতকাল) মিসর ফুটবল দলের সদস্যরা ডালাস পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং উপহার বিনিময় করেন।’

    ডালাস পুলিশ বিভাগের ডেপুটি চিফ ইসমাইলের সঙ্গে মিসর অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ, কোচ হোসাম হাসানসহ অনেকে ছিলেন। অন্যদের মধ্যে রয়েছেন হিউস্টনে মিসরের কনসাল জেনারেল শেরিফ মোখতার , মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হানি আবু রিদা এবং মিসর ফুটবল দলের পরিচালক ইবরাহিম হাসান। যাঁদের মধ্যে হানি আবু রিদা ফিফা কাউন্সিলের একজন বিশিষ্ট সদস্য।

    পরশু রাতে ডালাসে টাইব্রেকারে শেষ বত্রিশের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ গোলে হারায় মিসর। শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর মিসর ফুটবল দলের সঙ্গে গতকাল সৌজন্য সাক্ষাতের আয়োজন করে ডালাস পুলিশ। মিসরকে অভিনন্দন জানিয়ে ফেসবুকে ডালাস পুলিশ লিখেছে, ‘গতকাল (গত পরশু) অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের জন্য মিসর দলকে অভিনন্দন। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালীন এবং এর পরেও তাদের সঙ্গে এই সুসম্পর্ক বজায় থাকবে বলে আশা করছি।’

    অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে মাঠে নামার আগে মিসর দলের সঙ্গে ঘটেছিল এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। হোটেলে নিরাপত্তাকর্মী ও দলটির কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল, মিসর দলের পরিচালক ইব্রাহিম হাসান স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়লে তা হাতাহাতিতে পৌঁছেছিল। এরপর অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর মিসর দলের সঙ্গে তো সৌজন্য সাক্ষাতের আয়োজন করল ডালাস পুলিশ।

  • ১২ হাজারের বেশি প্রবাসীকে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব

    ১২ হাজারের বেশি প্রবাসীকে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব

    মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১২ হাজার ২৯২ জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। অবৈধ অবস্থান ও সীমান্ত-সংক্রান্ত অপরাধ দমনে দেশজুড়ে অভিযান জোরদারের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রোববার সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে গালফ নিউজ।

    অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, আরও ১৬ হাজার ৯১২ জনকে ভ্রমণসংক্রান্ত নথি সংগ্রহের জন্য নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বহিষ্কারের আগে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ৪ হাজার ১৭৪ জনকে ভ্রমণের টিকিট ও রিজার্ভেশন সম্পন্ন করার জন্য পাঠানো হয়েছে।

    সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমকারীদের প্রবেশে সহায়তা, পরিবহন, আশ্রয় বা অন্য যেকোনো ধরনের সহযোগিতা গুরুতর অপরাধ। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড, ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা এবং অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন বা সম্পত্তি জব্দ করা হতে পারে।

    গত ২৫ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত যৌথ নিরাপত্তা অভিযানে মোট ১৫ হাজার ৫৯১ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭ হাজার ৭৫৯ জন আবাসন আইন, ৪ হাজার ৪৮৮ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন এবং ৩ হাজার ৩৪৪ জন শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক হন।