আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • অমুসলিম রাষ্ট্রে নিষিদ্ধ হলো ইসরাইলি পণ্য

    অমুসলিম রাষ্ট্রে নিষিদ্ধ হলো ইসরাইলি পণ্য

    আয়ারল্যান্ডের পার্লামেন্ট ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমের অবৈধ ইহুদি বসতি এলাকায় উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার একটি বিল অনুমোদন করেছে। টাইমস অব ইসরাইলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

    এই বিল পাসের মাধ্যমে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইসরাইলের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোর বিষয়ে কঠোর বাণিজ্যিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল ডাবলিন। বিলটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আয়ারল্যান্ডের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে পাঠানো হবে।

    ‘ইসরাইলি বসতি’ শীর্ষক এই বিলের আওতায় ইসরাইলের স্বীকৃত সীমানার বাইরের আবাসিক, কৃষি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে উৎপাদিত পণ্য আয়ারল্যান্ডে প্রবেশ করতে পারবে না। আয়ারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম দেশ হিসেবে এমন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করলেও গত অক্টোবরে স্পেন এ ধরনের আমদানি বিধিনিষেধের একটি প্যাকেজ বাস্তবায়ন করেছে।

    অর্থনৈতিক দিক থেকে আয়ারল্যান্ডের এই আমদানি নিষেধাজ্ঞা মূলত প্রতীকী এবং এর প্রভাব খুবই সামান্য। কারণ, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ওই সব অঞ্চল থেকে আয়ারল্যান্ডে আমদানিকৃত ফল, শাকসবজি ও কাঠের মতো পণ্যের মোট বাণিজ্য মূল্য এক মিলিয়ন ইউরোর (১১ লাখ ডলার) চেয়েও কম ছিল।

    তবে ডাবলিনের বিরোধী রাজনীতিকরা বিলটির সমালোচনা করে বলেছেন, এতে সেবাক্ষেত্রের বাণিজ্যকে অন্তর্ভুক্ত না করে শুধু পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় এটি যথেষ্ট কার্যকর হবে না। এর জবাবে সরকার যুক্তি দিয়েছে যে, সেবাক্ষেত্রে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আইনি দিক থেকে পণ্যের চেয়ে বেশি জটিল, তাই আইনটি কার্যকর করার আগে এটিকে পুরোপুরি নিশ্ছিদ্র করা প্রয়োজন।

    ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলার পর গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের অন্যতম কট্টর সমালোচক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে আয়ারল্যান্ড। ২০২৪ সালে তারা একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। এর পরপরই ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার আয়ারল্যান্ডের ‘চরম ইসরাইলিবিরোধী নীতির’ অভিযোগ তুলে ডাবলিনে ইসরাইলের দূতাবাস বন্ধের নির্দেশ দেন।

  • পারমাণবিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণ করছে ইরান

    পারমাণবিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণ করছে ইরান

    আর্ন্তজাকি ডেস্ক:

    ইরানের বিরুদ্ধে সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনা পুনর্নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। নতুন কিছু স্যাটেলাইট চিত্র বা ভূ-উপগ্রহের ছবিতে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) পরিপন্থি। ওই চুক্তিতে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

    ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি’র সঙ্গে যৌথভাবে এই নতুন স্যাটেলাইট চিত্রগুলো বিশ্লেষণ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ছবিগুলো নতুন এক প্রশ্ন সামনে এনেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি ‘ভেঙে গেছে’ বলে ঘোষণা দেন। এর আগেই ইরান চুক্তি লঙ্ঘন করেছিল কি না, তা নিয়ে এখন সংশয় তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে ক্রমাগত হামলার জবাবে মার্কিন প্রশাসন সম্প্রতি ইরানে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করার পরই এ তথ্য সামনে এলো।

    স্যাটেলাইট চিত্রে কী দেখা গেছে?

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পারচিন নামক একটি এলাকায় পারমাণবিক অস্ত্রের জন্য বিস্ফোরক তৈরি করা হতো বলে ধারণা করা হয়। গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানের আগে ইরান এই স্থাপনাটির চারপাশে একটি কংক্রিটের সুরক্ষা প্রাচীর তৈরি করেছিল। এতেই বোঝা যায় স্থাপনাটি তাদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বোমাবর্ষণে পারচিনের এই সাইটটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    তবে জুন ও জুলাই মাসের নতুন ছবিতে দেখা গেছে, তেহরান এটি মেরামত ও পুনর্নির্মাণের পদক্ষেপ নিচ্ছে। জুন মাসে যখন সমঝোতা স্মারক কার্যকর ছিল, তখন স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায় ইরান বোমার আঘাতে তৈরি হওয়া গর্তগুলো অস্থায়ী কভার দিয়ে ঢেকে রেখেছে। পরে জুলাই মাসে সেগুলোর ওপর তারের জাল বসানো হয়।

    ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ানোর আরেকটি সন্দেহভাজন স্থান হলো ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’। গত মাসের ছবিতে দেখা গেছে, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাত্র কয়েক দিন পরেই সেখানকার সুড়ঙ্গগুলোর ভেতরে বিভিন্ন যানবাহন আসা-যাওয়া করছে।

    বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, এটি সম্ভবত ওয়াশিংটনের সাথে তেহরানের চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন ছিল। তবে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ইসফাহান, ফোরদো এবং নাতাঞ্জের মতো ইরানের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে এখন পর্যন্ত কোনো হাত দেওয়া হয়নি।

    এর পাশাপাশি ইরান তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রাখার ঘাঁটিতেও কাজ শুরু করেছে। পারমাণবিক সক্ষমতার বাইরেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে।

    সর্বশেষ স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, তেহরান তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিও মেরামত করা শুরু করেছে।

    আমেরিকা-ইরান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)

    গত জুন মাসে শত্রুতা অবসান এবং যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে একটি বিস্তৃত রূপরেখা চুক্তির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিল। এই চুক্তিতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর মধ্যে ছিল হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং ইরানের বন্দরগুলো থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া। একই সাথে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহ বা তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

    সমঝোতা স্মারকে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান পুনর্ব্যক্ত করছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহ বা বিকাশ করবে না। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে মজুত থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অন-সাইট ডাউন-ব্লেন্ডিং বা নিষ্ক্রিয় করার জন্য উভয় দেশ একটি পারস্পরিক সম্মত পদ্ধতিতে কাজ করতে রাজি হয়েছে।’

    চূড়ান্ত চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক চাহিদার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার কথাও সেখানে উল্লেখ ছিল। তবে নতুন স্যাটেলাইট চিত্রগুলো এখন এই বড় প্রশ্নটিই সামনে নিয়ে এসেছে যে, চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় ইরান কি তবে সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছিল?

  • আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার

    আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার

    বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। এই বর্ধিত বাণিজ্যিক লেনদেনকে সচল রাখতে ওঠানামা করছে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার।

    দেশীয় বাজারে মার্কিন ডলারসহ আন্তর্জাতিক প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ওঠানামা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী আজকের (১১ জুলাই ২০২৬) মুদ্রা বিনিময় হারের একটি সার্বিক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো—

    মুদ্রার নাম বাংলাদেশি টাকা

    ইউএস ডলার : ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা
    ইউরো : ১৪০ টাকা ২২ পয়সা
    পাউন্ড : ১৬৪ টাকা ৪৪ পয়সা
    কানাডিয়ান ডলার : ৮৬ টাকা ৬৭ পয়সা
    অস্ট্রেলিয়ান ডলার : ৮৫ টাকা ১১ পয়সা
    চাইনিজ ইয়েন : ১৮ টাকা ০৪ পয়সা
    সিঙ্গাপুরি ডলার : ৯৪ টাকা ৯২ পয়সা
    ভারতীয় রুপি : ১ টাকা ২৮ পয়সা

    মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত : ৩০ টাকা ২৯ পয়সা
    সৌদি রিয়াল : ৩২ টাকা ৮৬ পয়সা
    কাতারি রিয়াল : ৩৩ টাকা ৮৪ পয়সা
    কুয়েতি দিনার : ৩৯৮ টাকা ১৬ পয়সা
    আরব আমিরাতের দিরহাম : ৩৩ টাকা ৫৭ পয়সা

    *মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে।

    আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিং এবং প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহ ইতিবাচক থাকায় খোলাবাজার ও অফিশিয়াল রেটের মধ্যকার ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। বিগত এক মাসে ডলারের গড় বিনিময় হার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে, যা আমদানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক।

  • তুরস্কে আজানের ধ্বনিতে মুগ্ধ আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

    তুরস্কে আজানের ধ্বনিতে মুগ্ধ আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

    তুরস্ক সফরে দেশটির মুসলিম জনগণের সহনশীলতা, আন্তরিক আতিথেয়তা এবং ধর্মীয় পরিবেশের প্রশংসা করেছেন আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্ট্রুন ফ্রোস্তাদোত্তির।

    সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, তুরস্কের মুসলিমদের সহনশীলতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। তারা আমাকে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে। আজানের ধ্বনি আমার খুব ভালো লেগেছে; এর মধ্যে এক ধরনের গভীর ও হৃদয়স্পর্শী সুর রয়েছে।

    তুরস্কে পাওয়া উষ্ণ অভ্যর্থনা ও ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমি খুব শিগগিরই আবার তুরস্ক সফর করব।

  • কলকাতায় ১৩৬ বছরের মসজিদ সরানো হচ্ছে

    কলকাতায় ১৩৬ বছরের মসজিদ সরানো হচ্ছে

    কলকাতা বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ের পাশে অবস্থান করা শতাব্দী প্রাচীন গৌরীপুর মসজিদ স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া। মসজিদ কমিটি, এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সর্বজনমতের ভিত্তিতে একটি বিশেষ পরিদর্শক দল ও নিরাপত্তা কমিটির বৈঠকের পর এই পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

    মনে করা হচ্ছে শনিবার (১১ জুলাই) থেকেই এই মসজিদ স্থানান্তরের কাজ শুরু হতে পারে। কারণ বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করে শনিবার থেকেই মসজিদটিতে নামাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। এর আগে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন সময় মসজিদ ভাঙচুরের ঘটনা সামনে এসেছে। তবে গৌরীপুর মসজিদ স্থানান্তরের বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন।

    ১৩৬ বছরের পুরোনো গৌরীপুর জামে মসজিদ যা অনেকের কাছে ‘বাঁকড়া মসজিদ’ নামেও পরিচিত। এই ঐতিহাসিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বর্তমানে কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা হয়। এর কারণ মসজিদটির অবস্থান।

    কলকাতা বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ের একেবারে গা ঘেঁষে থাকায় প্রবল বর্ষণ বা ঘন কুয়াশায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার সময় পাইলটের পক্ষে রানওয়ে থেকে সামান্য দূরত্বে এই মসজিদ ভিজ্যুয়াল ইলিউশন তৈরি করে। এতে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কড়া কিছু সেফটি নর্মস বা সুরক্ষাবিধি রয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র বলছে, বাঁকড়া মসজিদটি বিমানবন্দরের সেকেন্ডারি বা সহকারী রানওয়ে থেকে মাত্র ১৬৫ মিটার দূরত্বে অবস্থিত। অথচ আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল সুরক্ষাবিধি স্পষ্ট বলছে, রানওয়ে থেকে যে কোনো কাঠামোর ন্যূনতম দূরত্ব অন্তত ২৪০ মিটার হওয়া বাধ্যতামূলক। স্বাভাবিকভাবেই এই আন্তর্জাতিক নিয়মের চেয়ে বেশ কিছুটা কম দূরত্বে রয়েছে মসজিদটি।

    সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রানওয়ের এত কাছাকাছি এই কাঠামোটি থাকার কারণে সেখানে আধুনিক ‘ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম’ (আইএলএস) বসানো যাচ্ছিল না। আর এর ফলেই বিমানবন্দরের উড়ান পরিচালনার সামগ্রিক ক্ষমতা অনেকটাই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

    বর্তমান এই কাঠামোগত বিন্যাসের কারণে আরেকটি বড় সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। মসজিদটির অবস্থানের দরুন সেকেন্ডারি রানওয়ের ‘টাচডাউন পয়েন্ট’ বা বিমান ছোঁয়ার নির্দিষ্ট স্থানটিকে বাধ্য হয়ে কিছুটা এগিয়ে এনে ছোট করতে হয়েছিল। আর রানওয়ের এই সীমাবদ্ধতার কারণে বড় বিমানগুলো এই রানওয়েটি ব্যবহার করতে পারছিল না। মসজিদটি অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে গেলে এই সমস্ত বাধা-বিপত্তি এক ঝটকায় দূর হয়ে যাবে। সেই সঙ্গে পরিকাঠামোগত আধুনিকীকরণের রাস্তা সাফ হওয়ায় বিমান চলাচল ব্যবস্থাও অনেক উন্নত হবে।

    কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছে, চলতি হজের মৌসুম শেষ হওয়ার পরেই ২০১৩ সালের আগে কলকাতা বিমানবন্দর যে পুরোনো টার্মিনাল ভবনটি ব্যবহার করত, সেটিও এবার ভেঙে ফেলা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরোনো টার্মিনাল ভবনটি ভেঙে ফেলার পর নতুন টার্মিনাল তৈরি এবং মসজিদ স্থানান্তরের পর দ্বিতীয় রানওয়ে পুরোদমে চালু করা গেলে কলকাতা বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী পরিবহন করার ক্ষমতা এক ধাক্কায় বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৪ কোটি (৪০ মিলিয়ন)।

    এই মসজিদের কারণে বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজও থমকে আছে প্রায় ৩০ বছর। সূত্র বলছে, ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই মসজিদ স্থানান্তরের বিষয়টি বারবার আলোচনায় উঠে এসেছে। কিন্তু কখনও স্থানীয় বাধা, কখনও পূর্বতন বাম ও তৃণমূল সরকারের ঢিলেমিতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার পায়নি।

    তবে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হওয়ায় ফের মসজিদ সরানো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু ঈদের নামাজ ওই মসজিদে পড়েন বহু মানুষ। তাদের ভাবাবেগকেও প্রাধান্য দিতে চেয়েছিল রাজ্য সরকার এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। ঠিক হয়েছিল, ঈদের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। মনে করা হচ্ছে শনিবার থেকেই এই স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে স্থানীয় স্তরে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে এমন আশঙ্কায় গোটা বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয় রাখা হয়েছে। ব্যাপক নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা এলাকা।

    মসজিদ কমিটির তরফে আগেই এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা চাই না আমাদের কারণে বিমানবন্দরের কোনো ক্ষতি হোক বা সুরক্ষায় বিঘ্ন ঘটুক। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আমাদের বিমানবন্দরের বাইরে আরও বড় একটি মসজিদ তৈরি করে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে স্থানান্তর করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার মতো অবস্থায় আমরা এই মুহূর্তে নেই।’

    স্থানীয় বিধায়ক সৌরভ শিকদার বলেন ‘যারা নামাজ পড়তে যান তাদের কোনো পাশ ইস্যু করা হয় না। শুধুমাত্র আধার কার্ড জমা রেখে তাদের রানওযের পাশে থাকা ওই মসজিদে নিয়ে যাওয়া হয়। আপনারা জানেন আগের সরকারের আমলে কত জাল আধার কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। নিরাপত্তার একটা সংকট তৈরি হয়। একইসঙ্গে যারা নামাজ পড়তে যান তাদের জন্য সিআইএসএফ জওয়ান মোতায়েন রাখতে হয়। একটা বাস সবসময় যাতায়াতের জন্য রাখতে হয়। মসজিদটির জন্য রানওয়ে সম্প্রসারণ করা যাচ্ছে না। এজন্য বড় বিমান আসতে পারে না। বিমানবন্দরের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। কর্মসংস্থান হচ্ছে না। এক কথায় বিমানবন্দরের উন্নয়ন কিছুই হচ্ছে না। আবার নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে। আমরা মসজিদ কমিটিকে বলেছি রানওয়ের বাইরে এয়ারপোর্ট অথরিটির অন্য জমি আপনারা চিহ্নিত করুন, আমরা দিয়ে দেবো।’

    ১৯২৪ সালে চালু হয় কলকাতা বিমানবন্দর। জমিটি প্রাচীন ওয়াকফ সম্পত্তি। পরে ১৯৬২ সালে বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য জমিটি অধিগ্রহণ করে এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া। তখন মসজিদের পাশেই ছিল যশোর রোড। বিমানবন্দরের জন্য যশোর রোড ঘুরিয়ে দেয়া হয়। মসজিদটি থেকে যায় বিমানবন্দরের পাঁচিলের ভেতর, রানওয়ের পাশেই।

    ১৯৬২ সালের জমি অধিগ্রহণের অন্যতম শর্ত হিসেবে গৌরীপুর কালীমন্দিরের (যশোহর রোডের ওপর) বিপরীতে একটি ছোট্ট লোহার গেট করা আছে। তার ওপর রয়েছে সিআইএসএফের ওয়াচ টাওয়ার। গেটের কলিং বেল বাজালে নামাজ পাঠ করতে ইচ্ছুক মানুষের জন্য গেট খোলা হয়। তাদের আধার কার্ড যাচাইয়ের পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের বিশেষ বাসে করে মসজিদ পর্যন্ত নিয়ে যান। দৈনিক তিনটি শিফটে এরকম ৪টি করে বাসের ব্যবস্থা থাকে। এই বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়া সাধারণ মানুষের পক্ষে ওই মসজিদ পর্যন্ত যাওয়া কার্যত অসম্ভব।

    শনিবার সালামপুরের কারণে যদি মসজিদটি ভাঙার কাজ শুরু হয় বাইরের জগতের মানুষ সেটা ঘুণাক্ষরেও টের পাবেন না। কারণ ভাঙার যন্ত্রপাতি বিমানবন্দরের নিজস্ব। সেগুলো পুরাতন টার্মিনাস কার্গো বিভাগ থেকে সরাসরি রানওয়ে হয়ে মসজিদ পর্যন্ত যাতায়াত করবে। যশোহর রোড থেকে মসজিদের দূরত্ব কমবেশি প্রায় ৩ কিলোমিটার।

  • কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোইয়ের বিরুদ্ধে মার্কিন আদালতে মামলা

    কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোইয়ের বিরুদ্ধে মার্কিন আদালতে মামলা

    কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই ২০১৫ সাল থেকে ভারতের কারাগারে বন্দি আছেন। কারাবন্দি থেকেও তিনি ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) ৩৩ বছর বয়সি বিষ্ণোই এবং তার ছয় সহযোগীর বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অভিযোগপত্র প্রকাশ করেছে। এতে তাদের বিরুদ্ধে খুন, চাঁদাবাজি, নিষিদ্ধ মাদক পাচার এবং মানব পাচারের মতো মারাত্মক অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে উন্মোচিত এই নথিতে বিষ্ণোইয়ের চক্রটিকে ‘বিষ্ণোই অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপ’ বা ‘বিষ্ণোই ওসিজি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই চক্রের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অপরাধগুলোর একটি হলো কানাডায় খালিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ড। এছাড়া বলিউড অভিনেতা সালমান খানের বাড়িতে গুলি বর্ষণ, পাঞ্জাবি অভিনেতা ও গায়ক গিপ্পি গ্রেওয়ালের ওপর হুমকি এবং গায়ক সিধু মুসওয়ালার হত্যাকাণ্ডের ‘আদেশ ও নির্দেশনা’ দেওয়ার পেছনেও এই চক্রটিকে দায়ী করা হয়েছে।

    একটি বৈশ্বিক অপরাধ চক্র

    মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিষ্ণোই অপরাধ চক্রের সদস্যরা ভারত এবং ভারতের বাইরের প্রবাসী জনগোষ্ঠীর বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতাদের টার্গেট করে আসছিল।

    মার্কিন তদন্তে দেখা গেছে, বছরের পর বছর ধরে বিষ্ণোইয়ের এই সিন্ডিকেটটি একটি ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রে’ রূপ নিয়েছে। এর মূল সদর দপ্তর ভারতে হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর সক্রিয় সদস্য রয়েছে।

    তদন্তে আরো উঠে এসেছে যে, কারাগারে বন্দি থাকা সত্ত্বেও বিষ্ণোই সেখানে চোরাই পথে আনা মোবাইলফোন এবং অন্যান্য ইন্টারনেট ভিত্তিক যোগাযোগ প্রযুক্তি (ভিওআইপি ডিভাইস) ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে তার সহযোগীদের সরাসরি নির্দেশনা দিয়ে আসছিলেন।

    অভিযোগপত্রে উত্তর আমেরিকায় সতিন্দরজিৎ সিং ওরফে গোল্ডি ব্রার এবং ইউরোপে রোহিত গোদারাকে বিষ্ণোইয়ের প্রধান দলনেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি সুখরাজ সিং কাং ভারতে এই সিন্ডিকেটের প্রধান সহযোগী বা লেফটেন্যান্ট হিসেবে কাজ করতেন। এছাড়া রাজন ভাট্টি, ভুলওয়ান এবং সুমিত নামের আরো তিন ব্যক্তি এই চক্রের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে নথিতে নাম এসেছে।

    বিষ্ণোইয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট অভিযোগসমূহ

    হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ড

    মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, বিষ্ণোই এবং গোল্ডি ব্রার ২০২৩ সালের ১৮ জুন ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সুরিতে গুরু নানক শিখ গুরুদুয়ারা মন্দিরের বাইরে খালিস্তানি নেতা হরদীপ সিং নিজ্জরকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রে চারজন যুক্ত ছিলেন এবং তাদের মধ্যে দু’জন সরাসরি গুলি চালিয়েছিলেন।

    সিধু মুসওয়ালা হত্যাকাণ্ড

    অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ২৯ মে পাঞ্জাবের মানসায় বিশিষ্ট ভারতীয় গায়ক ও র‌্যাপার সিধু মুসওয়ালাকে হত্যার পেছনে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হাত ছিল। পরে একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই গ্যাং হত্যাকাণ্ডের আদেশ দেওয়ার কথা স্বীকারও করেছিল। কংগ্রেস নেতা সিধু মুসওয়ালার আসল নাম ছিল শুভদীপ সিং সিধু। পাঞ্জাবের মানসা জেলার জওহারকে গ্রামে অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা তাকে গুলি করে হত্যা করে।

    সালমান খানের বাড়িতে গুলি

    অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বিষ্ণোই বহুবার ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব সালমান খানকে হত্যার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এর জের ধরে ২০২৪ সালের এপ্রিলে সালমানের বাসভবনে হামলা চালানো হয়। মূলত ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের মামলাকে কেন্দ্র করে এই গ্যাং বছরের পর বছর ধরে সালমান খানকে নানা হুমকি দিয়ে আসছিল।

    গিপ্পি গ্রেওয়াল মামলা

    ২০২৩ সালের ২৪ নভেম্বর অভিনেতা ও গায়ক গিপ্পি গ্রেওয়ালের (রূপিন্দর সিং গ্রেওয়াল) বাসভবনে গুলি চালানোর দায় স্বীকার করেছিলেন বিষ্ণোই। ২৫ নভেম্বর একটি ফেসবুক পোস্টে বিষ্ণোই লিখেছিলেন, ‘আমাদের হাত থেকে তোমাকে কেউ বাঁচাতে পারবে না।’

    অভিযোগপত্র থেকে আরো জানা গেছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে এই গ্যাংটি গ্রেওয়াল ও তার ম্যানেজারের সাথে বারবার যোগাযোগ করে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে।

    সুনীল যাদব হত্যাকাণ্ড

    অন্যান্য মামলার মধ্যে মার্কিন বিচার বিভাগ ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার স্টকটনে মাদক পাচারকারী সুনীল যাদব হত্যাকাণ্ডের বিষয়টিও উল্লেখ করেছে।

    নথিতে দেখা গেছে, গোল্ডি ব্রার এবং রোহিত গোদারা বিষ্ণোই গ্যাংয়ের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ফেসবুকে একটি সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। সেখানে তারা লিখেছিলেন, ‘আমাদের সব শত্রুরা প্রস্তুত থেকো, তোমরা পৃথিবীর যে প্রান্তেই পৌঁছাও না কেন, আমরা সেখানে পৌঁছে যাব।’

  • ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে না তুরস্ক

    ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে না তুরস্ক

    ইসরাইলের সঙ্গে তুরস্ক কোনো ধরনের সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়াবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময়ের প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য করলেন তিনি। হাকান ফিদানের মতে, নির্বাচনি সুবিধা পেতেই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ কিছু নেতা এ ধরনের উসকানিমূলক পরিস্থিতি তৈরি করছেন।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    হাকান ফিদান জানান, ইসরাইলের সঙ্গে তুরস্কের যুদ্ধে জড়ানোর কোনো যৌক্তিক কারণ বা প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, ‘আমি লক্ষ্য করেছি, যখনই ইসরাইলে নির্বাচন ঘনিয়ে আসে, তখনই সে দেশের সরকারি ও বিরোধী দলের রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে এ ধরনের হুমকিমূলক কথাবার্তা শোনা যায়। তবে আঙ্কারা নেতানিয়াহুর এই নির্বাচনী ফাঁদে পা দেবে না।’

    তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, রাজনৈতিক টিকে থাকার লড়াইয়ে নেতানিয়াহু এবং তাঁর সহযোগীদের সবসময় একটি শত্রুর প্রয়োজন হয়। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরাইল এরইমধ্যে হামাস, হিজবুল্লাহ ও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। এখন নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে অনেক ইসরাইলি রাজনীতিবিদের কাছে তুরস্ক নতুন শত্রু হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

    তবে ইসরাইলের সব রাজনীতিবিদ বা নাগরিক একই মানসিকতার নন উল্লেখ করে হাকান ফিদান বলেন, ‘স্রষ্টাকে ধন্যবাদ যে ইসরাইলে এখনও কিছু বোধসম্পন্ন ও বুদ্ধিমান মানুষ আছেন, যারা নেতানিয়াহু ও তাঁর অনুসারীদের মতো উগ্রপন্থী নন।’

  • হামলা-সমঝোতা ব্যর্থ-এখন কি করবেন ট্রাম্প?

    হামলা-সমঝোতা ব্যর্থ-এখন কি করবেন ট্রাম্প?

    গত ১৭ জুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে ইরানের সঙ্গে একটি প্রাথমিক চুক্তি করেন। এই চুক্তির আগে তিনি ও তার সহযোগীরা বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি আবার জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে আবার তেল বিক্রি করার সুযোগ দেবে, যাতে ইরান শত শত কোটি ডলার উপার্জন করতে পারে।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ধারণা ছিল, বহু বছর ধরে নিষেধাজ্ঞায় থাকা ইরান যখন আবার তেল বিক্রি করে বিপুল অর্থ পাবে, তখন তারা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার এই সুবিধা হারাতে চাইবে না এবং শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে।

    ট্রাম্পের ধারণা ছিল, বহু বছর ধরে নিষেধাজ্ঞায় থাকা ইরান যখন আবার তেল বিক্রি করে বিপুল অর্থ পাবে, তখন তারা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার এই সুবিধা হারাতে চাইবে না এবং শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে।

    তিনি বলেছিলেন, ‘এটা ইরানের জন্য খুব ভালো চুক্তি। তারা বারবার হামলার শিকার হয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।’ কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।

    চুক্তির এক মাসও পার হয়নি, এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালির কাছে তিনটি জাহাজে হামলা হয়েছে। এরপর ট্রাম্প ইরানকে তেল বিক্রির যে অনুমতি দিয়েছিলেন, তা বাতিল করে দেন। যুক্তরাষ্ট্র দুই রাত ধরে ইরানের ১৭০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়। এখন দুই দেশের মধ্যে নতুন আলোচনা হওয়ারও কোনো সময়সূচি ঠিক করা নেই।

    অর্থাৎ, ট্রাম্পের আগের দুটি পরিকল্পনা—বোমা হামলা ও চুক্তি—দুটিই ব্যর্থ হয়েছে। এখন তার নতুন কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, সেটিও পরিষ্কার নয়।

    এখন যুক্তরাষ্ট্র আবার আগের মতো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক হামলার পথেই ফিরছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ‘যদি তারা জাহাজে হামলা করে, তাহলে আমরা তাদের ওপর কঠোর হামলা চালাব।’

    কিন্তু অনেক বিশেষজ্ঞ প্রশ্ন তুলছেন—আগেও যখন নিষেধাজ্ঞা ও হামলা কাজ করেনি, এবার কেন করবে? সাবেক মার্কিন কূটনীতিক রিচার্ড হাস বলেন, ‘আমরা এখন এমন এক অবস্থায় আছি, যেখানে কোনো ভালো কৌশল দেখা যাচ্ছে না।’

    তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যত বেশি ইরানে হামলা করছে, ইরান তত বেশি উপসাগরের তেল ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা করছে। আর যুক্তরাষ্ট্র এখন এসব স্থাপনা পুরোপুরি রক্ষা করতে পারছে না।

    তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রথমে ভেবেছিলেন বোমা মেরে ইরানের সরকার বদলে ফেলবেন। পরে ভেবেছিলেন, বোমা মেরে ইরানকে আত্মসমর্পণ করানো যাবে। কিন্তু কোনোটাই সফল হয়নি।

    এরপর ট্রাম্প ইরানকে তেল বিক্রির সুযোগ দিয়ে সম্পর্ক ভালো করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেটিও ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের ভেতরেও এখন বড় ধরনের রাজনৈতিক বিভক্তি রয়েছে।

    সাম্প্রতিক হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তার জানাজায় অনেক মানুষ সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির দিকে পাথর ছোড়া হয় এবং তাকে ‘সমঝোতাকারী’ বলে গালি দেওয়া হয়। এমনকি তার মৃত্যু কামনা স্লোগানও দেওয়া হয়।

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকেও বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে নিরাপত্তারক্ষীরা সরিয়ে নিতে বাধ্য হন।

    তবে ট্রাম্প সাধারণত এসব অভ্যন্তরীণ বিভক্তির কথা বলেন না। তিনি এমনভাবে কথা বলেন যেন ইরানের সব সিদ্ধান্ত একদল নেতা সহজেই নিয়ে থাকে। এখনো যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় এবং ভবিষ্যতে আবার আলোচনা হতে পারে।

    কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যাগুলো শুধু প্রযুক্তিগত নয়; এগুলো পুরোপুরি রাজনৈতিক। তাই প্রশাসনের নিচের দিকের কর্মকর্তারা এগুলোর সমাধান করতে পারবেন না।

    সবচেয়ে বড় বিরোধের একটি হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। ইরান তাদের পারমাণবিক জ্বালানি রেখে দিতে পারবে, নাকি তা অন্য কোথাও পাঠাতে হবে- নতুন চুক্তিতে তা পরিষ্কারভাবে বলা হয়নি।

    ২০১৫ সালের ওবামা সরকারের চুক্তিতে ইরান তাদের পারমাণবিক জ্বালানির ৯৭ শতাংশ ছেড়ে দিয়েছিল। ট্রাম্প চান না এমন কোনো চুক্তি করতে, যাতে তিনি ওবামার চেয়ে কম কিছু পান।

    আরেকটি বড় সমস্যা হলো হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। চুক্তিতে লেখা ছিল, ইরান সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে যাতে জাহাজ নিরাপদে চলতে পারে।

    কিন্তু দুই দেশ এই কথার অর্থ আলাদাভাবে বুঝেছে। যুক্তরাষ্ট্র ভেবেছিল, ইরান শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। ইরান ভেবেছে, তারা ঠিক করবে কোন পথে জাহাজ চলবে এবং ভবিষ্যতে সেই পথ ব্যবহার করতে অর্থও নেবে।

    এরপর মার্কিন নৌবাহিনী ওমানের কাছের অন্য একটি পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল করাতে শুরু করলে ইরান কিছু জাহাজে গুলি চালায়। ফলে এখন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল অনেক কমে গেছে।এতে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে ঘোষণা করেন যে এই চুক্তি এখন আর কার্যকর নয়।

    তবে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, চুক্তি ভঙ্গ করেছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র নয়। কারণ তাদের মতে, চুক্তি কার্যকর থাকবে কি না, তা ইরানের আচরণের ওপর নির্ভর করছিল। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আবার আগের জায়গায় ফিরে এসেছে।

    ট্রাম্প বুঝতে পারছেন, শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। অন্যদিকে, ইরানিও বিশ্বাস করেন যে কূটনৈতিক আলোচনা শুধু সময়ক্ষেপণের একটি উপায়; পরে আবার যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল হামলা চালাতে পারে।

  • ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন, এখনই আসুন

    ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন, এখনই আসুন

    ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, দেশে ফেরার ইচ্ছা যদি সত্যিই থাকে, তাহলে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষার প্রয়োজন নেই; এখনই ফিরে এসে আদালতে নিজের অবস্থান তুলে ধরা উচিত।

    শনিবার সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ নজরুল লেখেন, ‘ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন? শেখ হাসিনা, আপনি এখনই দেশে ফিরে আসুন।’ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার ইচ্ছাকে স্বাগত জানিয়ে ফেসবুক পোস্টে আসিফ নজরুল লিখেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছিল। বর্তমান বিএনপি সরকারও একই উদ্যোগ নিয়েছে। সরকার বলছে, তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে চায়। অন্যদিকে, শেখ হাসিনাও দেশে ফেরার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। যদি সেটিই সত্য হয়, তাহলে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন? শেখ হাসিনা, আপনি এখনই দেশে ফিরে আসুন। বাংলাদেশের জনগণের সামনে এবং আদালতের সামনে আপনার অনেক প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শত শত মানুষের প্রাণহানির দায় নিয়ে আপনার বক্তব্য কী?

    সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের এই আইন উপদেষ্টা লিখেছেন, আপনার (শেখ হাসিনা) শাসনামলে বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, আয়নাঘর, ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ—এসব বিষয়ে আপনার ব্যাখ্যা কী? কেন দীর্ঘ সময় ধরে দেশের জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল? কেন আমরা ভারতের আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিলাম? এসব প্রশ্নের উত্তর ইতিহাসও খুঁজবে, আদালতও শুনতে চাইবে।

    পোস্টের শেষাংশে আসিফ নজরুল লিখেছেন, আপনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে আপনার পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে আগেই বিদেশে পাঠিয়েছেন। কিন্তু আপনার সরকারের কর্মকাণ্ডের রাজনৈতিক ও আইনি পরিণতির ভার বহন করতে হয়েছে আওয়ামী লীগের অসংখ্য সাধারণ নেতা-কর্মীকে। তাদের অনেকেই আজও বিভিন্ন মামলার মুখোমুখি বা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তাই, যদি সত্যিই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তাহলে আর বিলম্ব করবেন না। ফিরে আসুন, আইনের মুখোমুখি হোন এবং আদালতে আপনার অবস্থান তুলে ধরুন। আর যদি দেশে ফেরার বাস্তব পরিকল্পনা না থাকে, তাহলে বারবার ফেরার ঘোষণা দিয়ে নিজের দলের সাধারণ নেতা-কর্মীদের বিভ্রান্ত বা অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকির মধ্যে ফেলবেন না।’

  • দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি, কেন বেশি

    দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি, কেন বেশি

    চলতি অর্থবছরেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি গড় মূল্যস্ফীতি থাকবে। এমন পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এডিবি বলছে, এ বছর বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি হতে পারে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

    এডিবির এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক জুলাই সংস্করণে মূল্যস্ফীতির এই পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি। সেখানে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের জন্য ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর গড় মূল্যস্ফীতির যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তাতে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি হবে।

    এডিবি বলছে, দেশে পেট্রোলিয়াম, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের প্রভাব পরিবহন, পরিষেবা ও অন্যান্য ভোক্তাপণ্যের দামে পড়তে থাকবে, যা মূল্যস্ফীতি কমার গতি ধীর করবে।

    বাংলাদেশে টানা তিন মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি আছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সবশেষ হিসাবে, গত জুনে মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। গত মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির পরে অর্থাৎ আগের ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি।

    এমন পরিস্থিতিতে এডিবির পূর্বাভাস হলো চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৮ শতাংশ।

    ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়। এসব দেশ পরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেও বাংলাদেশ সেভাবে পারেনি। টানা চার বছর ধরে বাংলাদেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে।

    প্রতি মাসে মূল্যস্ফীতি হিসাব করা হয়। ১২ মাসের মূল্যস্ফীতি দিয়ে পুরো বছরের গড় চিত্র দেখানো হয়। এতে ওই বছরের মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি কেমন ছিল, তা জানা যায়।

    মূল্যস্ফীতি জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলে

    মূল্যস্ফীতি বাড়লে সীমিত ও মধ্য আয়ের মানুষের কষ্ট বাড়ে। আয় না বাড়লে তাদের সংসার চালানের খরচ বেড়ে যায়। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়েছে। ফলে বাজারে শাকসবজি, মাছ ও মাংসের দাম বেড়েছে। তবে চালের দামও বাড়তি।

    গত জুনে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৬ ও জাতীয় গড় মজুরি হার ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। এর মানে হলো, যত মূল্যস্ফীতি হয়েছে, এর চেয়ে মজুরি কম বেড়েছে। ফলে বাজার থেকে পণ্য কিনতে ভোগান্তি বাড়ছে।

    মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধি বা আয় বৃদ্ধি কম হলে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ে। প্রকৃত আয় কমে যায়। মূল্যস্ফীতির তুলনায় আয় না বাড়লে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয় কিংবা খাবার, কাপড়চোপড়, যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে কাটছাঁট করতে হয়।

    অন্য দেশে মূল্যস্ফীতি কত

    এডিবির পূর্বাভাস অনুসারে, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের পরে পাকিস্তানে সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি হতে পারে। ওই দেশে মূল্যস্ফীতি হতে পারে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। আফগানিস্তানের মূল্যস্ফীতি হতে পারে সাড়ে ৫ শতাংশ। আর শ্রীলঙ্কার মূল্যস্ফীতি হতে পারে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। ভারত, ভুটান ও মালদ্বীপের মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস হলো ৪ শতাংশ। আর নেপালের জন্য পূর্বাভাস হলো ৫ শতাংশ।

    ২০২৩ সালের দিকে শ্রীলঙ্কার ৭৩ শতাংশ ও পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতি ৫১ শতাংশ পর্যন্ত ওঠেছিল। তখন ওই দুটি দেশ নানা ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সফল হয়।

    বাংলাদেশে কেন বেশি

    বাংলাদেশে কেন গড় মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে, এর ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি দেশে পেট্রোলিয়াম, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের প্রভাব পরিবহন, পরিষেবা ও অন্যান্য ভোক্তাপণ্যের দামে পড়তে থাকবে। কারণ, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির দ্বিতীয় দফার প্রভাব, বিনিময় হার সমন্বয়ের প্রভাব এবং খাদ্য ও সেবা খাতে অব্যাহত মূল্যস্ফীতি কমার গতি ধীর করবে।

    এডিবি বলছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে এবং ব্যক্তিগত ভোগব্যয় সীমিত করছে। দুর্বল রপ্তানি ও আমদানির মাঝারি প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক চাহিদার দুর্বলতা ও বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরবরাহের দিক থেকে রপ্তানিমুখী উৎপাদন খাত উচ্চ জ্বালানি মূল্য, বৈদেশিক বাজারে দুর্বল চাহিদা ও কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতার কারণে চাপে থাকবে। অন্যদিকে সারের ঘাটতির কারণে কৃষি খাত ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তবে রেমিট্যান্সনির্ভর পারিবারিক আয়ের কারণে সেবা খাত প্রবৃদ্ধিতে কিছুটা সহায়তা করবে।

  • হরমুজে হামলা বন্ধের অঙ্গীকার চায় যুক্তরাষ্ট্র

    হরমুজে হামলা বন্ধের অঙ্গীকার চায় যুক্তরাষ্ট্র

    আর্ন্তজাতকি ডেস্ক:

    হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং সেখান দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের বিষয়ে ইরানের কাছ থেকে প্রকাশ্য অঙ্গীকার চায় যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার থেকে যে দুই পক্ষের মধ্যে যে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা, সেখানে এ বিষয়টি রাখতে চায় ওয়াশিংটন।

    যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, তেহরান ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের কাছে স্বীকার করেছে যে জাহাজে গুলি চালানো একটি ভুল ছিল।

    তবে ইরানিরা এ ঘটনার জন্য নিজেদের ভেতরের একটি নিয়ন্ত্রণহীন গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে বলেও জানা গেছে। ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে এ সপ্তাহের সংঘর্ষ সত্ত্বেও উভয় পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে, যদিও হোয়াইট হাউজ এটিকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে দেখেছে।

    জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার অংশ হিসেবে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার কথা ছিল ইরানের।

    বিবিসির যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অংশীদার সিবিএস নিউজকে জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, কট্টরপন্থিদের একটি পথভ্রষ্ট গোষ্ঠী বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়ে আলোচনাকে ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করছিল বলে তেহরান জানিয়েছে।

    মার্কিন একজন কর্মকর্তা টিভি নেটওয়ার্কটিকে বলেন, ‘তারা (ইরানিরা) আবার আলোচনায় ফিরে এসে বলেছে, আমরা ভুল করেছি। আমরা একটি ভুল করেছি। চলুন আলোচনা চালিয়ে যাই।’

    শুক্রবার সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের নেতৃত্বের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ইরানকে প্রণালিটি উন্মুক্ত রয়েছে মর্মে একটি বিবৃতি দিতে এবং বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানো বন্ধ করার ঘোষণা দিতে বলা হয়েছে এতে, একাধিক গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্সের উদ্ধৃতিতে একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা হয় আমাদের ওই বিবৃতি দেবে, নয়তো তাদের জন্য ফল ভালো হবে না।’ সিবিএস জানিয়েছে, হোয়াইট হাউজ আরও চায় যে, ইরান প্রকাশ্যে স্বীকার করুক যে জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো একটি ভুল ছিল।

    যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা দুই ব্যক্তি– বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার—আলোচনায় নেতৃত্ব দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ওই আলোচনা শনিবার ওমানে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

  • তাজউদ্দিনের অনুরোধেও স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি শেখ মুজিব: স্পিকার

    তাজউদ্দিনের অনুরোধেও স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি শেখ মুজিব: স্পিকার

    বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ভাঙার কোনো ইচ্ছা বা বিচ্ছিন্নতাবাদী হওয়ার বাসনা শেখ মুজিবুর রহমানের ছিল না। তাই ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্র্যাকডাউনের আগে তাজউদ্দীন আহমদের অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।

    শনিবার ‘রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)’ আয়োজিত ‘দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মেজর (অব.) হাফিজ বলেন, তাজউদ্দীন আহমদ শেখ মুজিবুর রহমানকে বলেছিলেন, পাকিস্তানি বাহিনী আক্রমণ করতে যাচ্ছে এবং মানুষ স্বাধীনতা চায়। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদী হতে পারেন না এবং পাকিস্তান ভাঙতে তার কোনো অবদান থাকুক, তা তিনি চান না। এ কারণে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।

    তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত আক্রমণের মুখে যখন জাতি দিশেহারা হয়ে পড়েছিল, তখন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এ সময় মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্দীপ্ত ও অনুপ্রাণিত করেছিল। তার ভাষায়, এটিই প্রকৃত সত্য।

    মেজর হাফিজ উদ্দিন বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না, এটি ছিল জনতার যুদ্ধ। তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর একটি বিশেষ গোষ্ঠী ইতিহাস বিকৃত করে শুধু ৭ মার্চের ভাষণের ভিত্তিতে স্বাধীনতার কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করেছে, যা ছিল অন্যায়।

    তিনি বলেন, রাজনীতিবিদেরা সাধারণত অন্যের কৃতিত্ব নিজেদের করে নিতে চান এবং নিজেদের দলের নেতার বাইরে অন্য কাউকে কৃতিত্ব দিতে চান না।

    আলোচনায় তিনি মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, সে সময় পূর্ব পাকিস্তানে রেজিমেন্টটির মাত্র পাঁচটি ব্যাটালিয়ন ছিল। বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে তারা কোনো পূর্বপরিকল্পনা বা যোগাযোগ ছাড়াই পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে বিদ্রোহ করে এবং জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়। এই প্রতিরোধই ছিল ৯ মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি।

    সেনাবাহিনীতে যোগদানের স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, মূলত ফুটবল খেলার আগ্রহ থেকেই তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের অনুপ্রেরণায় তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার মহান ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমান তাকে এ রেজিমেন্টে যোগ দিতে উৎসাহিত করেছিলেন।

    এ সময় তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রধান সংগঠক মেজর আব্দুল গনি এবং ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের রেজিমেন্ট কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার মাহমুদুর রহমান মজুমদারের অবদানের কথাও স্মরণ করেন। পাশাপাশি সৈনিক ও অফিসারদের মধ্যে চিরাচরিত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

  • কাল প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    কাল প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। এই ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষ্যে রোববার দুপুরে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন উপস্থিত থাকবেন।

    এ বছর মোট ৮২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ পাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বাকি ২০ শতাংশ পাবে বেসরকারি বা কিন্ডারগার্টেনের প্রার্থীরা। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ‘ট্যালেন্টপুল’ ও ‘সাধারণ গ্রেড’-এই দুই ভাগে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়।

    পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের অন্য সব জেলায় ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত এই পরীক্ষা চলে। আর পার্বত্য তিন জেলা-রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বিশেষ সময়সূচিতে ১৭ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হয়।

    এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৬ লাখ ৪০ হাজারের কিছু বেশি। তার মধ্যে সাড়ে ৫ লাখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এবং ৯০ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (কিন্ডারগার্টেন) শিক্ষার্থী।

  • ইউরোপের প্রতিরক্ষায় ভরসা তুরস্ক

    ইউরোপের প্রতিরক্ষায় ভরসা তুরস্ক

    ইউরোপের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় তুরস্কের গুরুত্ব দ্রুত বেড়ে চলেছে। সামরিক সক্ষমতা, প্রতিরক্ষা শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এবং কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে দেশটি এখন ইউরোপীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ন্যাটোর সাম্প্রতিক শীর্ষ সম্মেলন আয়োজক দেশ হিসেবে তুরস্ক এই পরিবর্তিত বাস্তবতাকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

    ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনীর অধিকারী তুরস্ক গত এক দশকে নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। বর্তমানে দেশটি নিজস্ব সামরিক চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারেও দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটছে তুরস্কের অস্ত্র রপ্তানির। গত বছর দেশটির প্রতিরক্ষা রপ্তানি ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ট্যাংক ধ্বংসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা তুরস্কের তৈরি বাইরাকতার টিবি-২ ড্রোন দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পের সবচেয়ে পরিচিত প্রতীক হয়ে উঠেছে। ইউক্রেন, পোল্যান্ড, রোমানিয়া ও ক্রোয়েশিয়াসহ একাধিক দেশ ইতোমধ্যে এই ড্রোন সংগ্রহ করেছে।

    শুধু ড্রোন নয়, তুরস্ক পোল্যান্ডে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও রাডার ব্যবস্থা, পর্তুগালের জন্য নৌবাহিনীর লজিস্টিক জাহাজ, স্পেনের জন্য উন্নত জেট প্রশিক্ষণ বিমান, ইরাকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ইন্দোনেশিয়ায় যুদ্ধবিমান সরবরাহ করছে। এছাড়া স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি) অনুযায়ী, পোল্যান্ড, এস্তোনিয়া, হাঙ্গেরি, আলবেনিয়া, কসোভো ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনাও তুরস্ক থেকে অস্ত্র আমদানি করেছে।

    তুরস্কের তৈরি বাইরাকতার টিবি-২ ড্রোন

    ন্যাটোর বৃহৎ প্রতিরক্ষা প্রকল্পেও তুরস্কের প্রতিষ্ঠান রকেটসান ও আসেলসানের মতো কোম্পানিগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সক্ষমতা এবং আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নে কাজ করবে।

    কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও তুরস্কের সক্রিয়তা বেড়েছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের শুরুতে শান্তি আলোচনা আয়োজন, সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতনের পর নতুন প্রশাসনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সংযোগ স্থাপন এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংকটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে দেশটি নিজেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

    ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে তুরস্কের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী সালিহ আইহান বলেন, তুরস্ক আর শুধু নিজের সীমান্ত রক্ষাকারী দেশ নয়; এটি এখন বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী একটি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।

    ন্যাটো সম্মেলনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    সম্মেলনে যুক্তরাজ্য ও তুরস্ক নতুন প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে। চুক্তির আওতায় গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়সহ দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার নিরাপত্তা হুমকি এবং ন্যাটো সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপের কারণে ইউরোপ এখন তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী। ইউরোপ ও এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থান, কৃষ্ণসাগর, পূর্ব ভূমধ্যসাগর, মধ্যপ্রাচ্য ও ককেশাস অঞ্চলের সংযোগ এবং বসফরাস ও দারদানেলস প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ তুরস্ককে অনন্য কৌশলগত সুবিধা দিয়েছে।

    একসময় পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে দূরত্ব তৈরি হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তুরস্ককে ইউরোপীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই অবস্থান নতুন ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে।

    আমেরিকান ইঞ্জিন ও তুরস্কের দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘কান’ যুদ্ধবিমান।

    যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ইঞ্জিনের ওপর এখনও তুরস্কের নিজস্ব কান (কেএএএন) যুদ্ধবিমান প্রকল্প নির্ভরশীল। একই সঙ্গে ইউরোপের সঙ্গে তুরস্কের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অসন্তোষের আশঙ্কাও রয়েছে। অন্যদিকে, ইসরাইল তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সরবরাহের সম্ভাবনার বিরোধিতা করছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর আগে দাবি করেছেন, এমন সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।

    আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদে ইউরোপের নিরাপত্তা কৌশলে তুরস্ক অপরিহার্য অংশীদার হয়ে উঠেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির জটিলতা তুরস্ককে ঘিরে নতুন চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি করতে পারে।

  • ৯৩ বছরেও ট্রাকের চাকায় সংসার চলে অরিন অ্যাসমাসের

    ৯৩ বছরেও ট্রাকের চাকায় সংসার চলে অরিন অ্যাসমাসের

    যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা অরিন অ্যাসমাস, বয়স ৯৩ বছর। এ বছর আগস্টে ৯৪–এ পা দেবেন তিনি। এ বয়সে যেখানে কারও সাহায্য ছাড়া হাঁটাচলা আর নিজের কাজ নিজে করা অনেক বড় কিছু, সেখানে অরিন অ্যাসমাস দিব্যি পণ্যবাহী বিশাল ট্রাক চালাচ্ছেন।

    ১১ বছর ধরে অরিন ‘ম্যাকলাফলিন ফ্রেইট’ কোম্পানিতে কর্মরত আছেন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে প্রথম ট্রাকের স্টিয়ারিং হাতে নিয়েছিলেন তিনি। তারপর দীর্ঘ ৭০ বছর তিনি ট্রাকের কেবিনেই কাটিয়ে দিয়েছেন। এবার নিজের এ অনন্য কীর্তির স্বীকৃতি পেতে এবং বিশ্বমঞ্চে নিজের নাম লেখানোর অপেক্ষায় আছেন তিনি।

    বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ট্রাকচালকের স্বীকৃতি পেতে অরিন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন।

    গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ট্রাকচালকের রেকর্ডটির মালিক কানসাসের ডয়েল আর্চার। তিনি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ৯২ বছর বয়সে এ স্বীকৃতি অর্জন করেন।

    এবার ডয়েল আর্চারকে ছাড়িয়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছেন অরিন অ্যাসমাস। তাঁর বর্তমান কর্মস্থল ‘ম্যাকলাফলিন ফ্রেইট’ তাদের প্রবীণ এই ট্রাকচালকের কাগজপত্র গিনেস কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছে।

    অরিন ট্রাক চালিয়ে ৫০ লাখ মাইলের বেশি পথ অতিক্রম করেছেন। অথচ ট্রাক চালানোর কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই জীবনে প্রথমবার ট্রাকের স্টিয়ারিং হাতে নিয়েছিলেন তিনি।

    সেবার আকস্মিক এক প্রয়োজনে এক ট্রাক গবাদিপশু নিয়ে শিকাগো পাড়ি দিয়েছিলেন অরিন অ্যাসমাস। সেই যে শুরু, এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। গত সাত দশকে পিটারবিল্টস, ম্যাক থেকে শুরু করে নানা ধরনের দানবীয় সব ট্রাক চালিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা ও হাওয়াই অঙ্গরাজ্য ছাড়া বাকি ৪৮টি অঙ্গরাজ্যের প্রতিটি ধূলিকণাই যেন তাঁর চেনা।

    ট্রাকচালক হিসেবে দীর্ঘ এ জীবনে অরিন নানা অভিজ্ঞার মুখোমুখি হয়েছেন। নব্বইয়ের দশকে লস অ্যাঞ্জেলেসের দাঙ্গার মধ্যে পড়ে গিয়েছিল তাঁর ট্রাক। উন্মত্ত জনতার ভিড় থেকে একটি শক্তিশালী রাইফেলের গুলি তাঁর ট্রাকের এক্সহস্ট পাইপ ফুটো করে দিয়েছিল। চোখের সামনে তিনি পেট্রলপাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণ দেখেছেন। তবে কোনো ভয়ই তাঁকে সড়ক থেকে দূরে সরাতে পারেনি।

    অরিনের চোখের সামনেই বদলে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের সড়কপথের রূপ। তিনি জানান, আগে ট্রাকে কোনো এসি বা ঘুমানোর জায়গা ছিল না। এখন স্বয়ংক্রিয় গিয়ার ও ক্রুজ কন্ট্রোল চলে এসেছে। তবে এখন যানজটের অবস্থা ভয়াবহ।

    শুধু ট্রাক চালানোই নয়, ২০ বছর ধরে মিডলটাউন সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলর হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন অরিন।

  • তুরস্ক ছাড়ার সময় কাতারের উপহার ছাড়তে  বাধ্য হলেন কেন ট্রাম্প ?

    তুরস্ক ছাড়ার সময় কাতারের উপহার ছাড়তে বাধ্য হলেন কেন ট্রাম্প ?

    চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ উড়োজাহাজে চড়ে তুরস্ক সফরে গিয়েছিলেন, সেটিতে আগের মডেলের মতো প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেই।

    উড়োজাহাজটি কীভাবে নতুন করে প্রস্তুত করা হয়েছে, সে বিষয়ে অবহিত একাধিক কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে, এ বিমানে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রপ্রতিরোধী ক্ষমতা যুক্ত করা হয়নি।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, কাতার থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া বোয়িং ৭৪৭-৮ উড়োজাহাজে এ ক্ষমতাগুলো না থাকায় এটি নিয়ে বিদেশে ভ্রমণ করা ঝুঁকিপূর্ণ। এ ঝুঁকির বিষয় গত বুধবার আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিক্রেট সার্ভিসের অনুরোধে ট্রাম্প হঠাৎ করেই নতুন উড়োজাহাজটি রেখে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে চড়ে তুরস্ক ছাড়ার আকস্মিক সিদ্ধান্ত নেন।

    এ ঘটনার পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের একটি দাবির ওপর সবার নজর পড়েছে। সরকারি উড়োজাহাজ হিসেবে ব্যবহৃত আগের বিমানবহরটি বেশ পুরোনো হয়ে গেছে অভিযোগ তুলে কাতার থেকে পাওয়া ৭৪৭ বিমানটিকে দ্রুত রাষ্ট্রীয় ব্যবহারের উপযোগী করার জন্য তিনি অনড় ছিলেন। গত এক বছর ধরে মার্কিন বিমানবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কাতারের দেওয়া এ উড়োজাহাজের সংস্কারকাজ চলেছে। এটিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করার জন্য এখন ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে দাবি তুলেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা।

    এ উড়োজাহাজের নিরাপত্তা শুধু প্রেসিডেন্টের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং তাঁর সঙ্গে থাকা হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা, সিক্রেট সার্ভিসের সদস্য, সাংবাদিক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্যও সমান জরুরি।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য এ নতুন উড়োজাহাজ যত দ্রুত সম্ভব চালু করার জন্য শুরু থেকেই জোর দিচ্ছিলেন। আন্তর্জাতিক সফরের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান যথেষ্ট আকর্ষণীয় বা জমকালো নয় বলে তিনি প্রায়ই অসন্তোষ প্রকাশ করতেন।

    নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানের নিরাপত্তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য

    গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস নতুন উড়োজাহাজটির সক্ষমতা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো প্রশ্নের জবাব না দিলেও এর নিরাপত্তাব্যবস্থার পক্ষে সাফাই গেয়েছে। হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চ্যং এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান একটি অত্যাধুনিক আকাশযান। প্রেসিডেন্ট ও তাঁর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এতে উচ্চস্তরের নিরাপত্তা প্রোটোকল যুক্ত করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি যেমনটি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শত্রু তাঁর ওপর নজর রাখছে।” আমরা সেসব হুমকি মোকাবিলায় আমাদের হাতে থাকা প্রতিটি হাতিয়ার ব্যবহার করছি।’

    কাতার থেকে পাওয়া এ উড়োজাহাজের নিরাপত্তাব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন বিমানবাহিনী। বলেছে, প্রেসিডেন্টের বহরের অংশ হিসেবে স্থায়ীভাবে তৈরি হতে থাকা দুটি বোয়িং জেটের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি একটি ‘সেতু’ বা সাময়িক উড়োজাহাজ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে কাতার থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া বোয়িং ৭৪৭-৮ উড়োজাহাজ। ছবির বাঁয়ে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তাবহর দেখা যাচ্ছে

    তবে উপহার হিসেবে পাওয়া উড়োজাহাজটি প্রেসিডেন্টকে বহনের জন্য প্রস্তুত, এমন ঘোষণা দেওয়ার সময় বিমানবাহিনী স্বীকার করেছিল, সাময়িক ব্যবহারের জন্য এই উড়োজাহাজে সাধারণত একটি এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা সব সরঞ্জাম নেই।

    গত ১৯ জুন এক বিবৃতিতে বিমানবাহিনী বলেছিল, ‘নিরাপত্তা, সুরক্ষা বা মিশনের যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকি নেওয়া হয়নি। তবে উড়োজাহাজটি যেন আগামী ৪০ বছর ভালোভাবে সেবা দিতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে গিয়ে কম ব্যবহৃত মিশন সেটের ক্ষেত্রে (কম প্রয়োজনীয় কিছু সুযোগ-সুবিধা) ছাড় দিতে হয়েছে।’

    ‘কম ব্যবহৃত মিশন সেট’ বলতে প্রকৃতপক্ষে কী বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি বিমানবাহিনী। তবে উড়োজাহাজটির নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অবহিত এবং নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাতার থেকে পাওয়া এ উড়োজাহাজে আগের মডেলের মতো প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেই।

    ঝুঁকিপূর্ণ বিদেশ সফরে ট্রাম্পের নতুন উড়োজাহাজ ব্যবহারে বিস্ময়

    পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন, বিমানবাহিনীর এমন দুজন সাবেক কর্মকর্তা এ ঘটনায় গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেন, যেখানে নিরাপত্তাঝুঁকি অনেক বেশি, সেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই নতুন উড়োজাহাজে চড়ে বিদেশ সফরে গেছেন।

    উল্লেখ্য, ট্রাম্প ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে যে দেশটিতে গিয়েছিলেন, সেই তুরস্কের সঙ্গে রয়েছে ইরানের সীমান্ত। আর এ সপ্তাহেই ইরানজুড়ে নতুন করে একাধিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

    সাবেক এ কর্মকর্তারা কাতার থেকে পাওয়া উড়োজাহাজটির সংস্কারকাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। তবে তাঁরা বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের গতি দেখেই বোঝা যায়, একটি পূর্ণাঙ্গ প্রেসিডেনশিয়াল উড়োজাহাজের জন্য ঐতিহ্যগতভাবে যেসব নিরাপত্তাব্যবস্থার পরিবর্তন দরকার, তার সব কটি করার মতো পর্যাপ্ত সময় এখানে পাওয়া যায়নি।

    বিমানবাহিনীর সাবেক সেক্রেটারি ফ্রাঙ্ক কেন্ডাল বলেন, ‘সময়স্বল্পতার কারণে একটি সাধারণ এয়ার ফোর্স ওয়ানের সব ধরনের পরিবর্তন এখানে করা সম্ভব হয়নি। তাই এর নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার ঘাটতি রয়ে গেছে।’ কেন্ডাল যখন দায়িত্বে ছিলেন, তখন বোয়িং যাতে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা দুটি নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান উড়োজাহাজ সরবরাহের কাজ দ্রুত শেষ করে, সেই চেষ্টা তিনি করেছেন।

    চলমান পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে কেন্ডাল আরও বলেন, ‘বর্তমান ইরান পরিস্থিতির কারণে এটি উদ্বেগের কারণ হতে পারে। সত্যি বলতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নতুন এ উড়োজাহাজের ব্যবহার দেখে আমি বেশ অবাক হয়েছি।’

    বাইডেন প্রশাসনের সময় এয়ার ফোর্স ওয়ান কর্মসূচির দায়িত্বে থাকা বিমানবাহিনীর সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অ্যান্ড্রু পি হান্টারও একই কথা বলেছেন। তাঁর মতে, ‘একটি বোয়িং ৭৪৭ উড়োজাহাজকে প্রকৃত অর্থেই এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে গড়ে তুলতে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করার প্রয়োজন হয়।’

    ট্রাম্প তুরস্কের উদ্দেশে রওনা হওয়ার ঠিক আগের দিন, সিনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা বিমানবাহিনীর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। চিঠিতে তাঁরা কাতার থেকে পাওয়া উড়োজাহাজটির সংস্কারকাজ নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন এবং এতে প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।

    কানেটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস্টোফার এস মারফি এবং অন্য ১২ সিনেটরের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ‘ট্রাম্প নিজেই এ উড়োজাহাজের নজিরবিহীন বিলাসিতা নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তাঁর এ বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে এ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার চেয়ে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আরাম ও পছন্দই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।’

    আঙ্কারায় উড়োজাহাজ বদলের নেপথ্যে

    পেন্টাগনের তিনজন সাবেক কর্মকর্তার মতে, এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহৃত পুরোনো বিমানগুলোতে এমন একটি প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ছিল, যা তাপ অনুসরণকারী ক্ষেপণাস্ত্রকে (হিট-সিকিং মিসাইল) ধ্বংস করতে পারত। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের জন্য নির্মাণাধীন বোয়িংয়ের নতুন উড়োজাহাজগুলোতেও এ ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

    নিরাপত্তা প্রোটোকলের বর্ণনা দিতে গিয়ে মার্কিন বিমানবাহিনীর একজন সাবেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের ডানার নিচে ও লেজে এ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন অংশ বাইরে থেকে দেখা যায়। তবে কাতার থেকে পাওয়া উড়োজাহাজের ছবিতে এমন কোনো ব্যবস্থা দেখা যায়নি।

    এয়ার ফোর্স ওয়ানের ইতিহাসে এ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ব্যবহার খুব একটা না হলেও, উড়োজাহাজটির নিরাপত্তার জন্য এটিকে সব সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

    মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন বর্তমানে নির্মাণাধীন বোয়িং বিমানগুলোর যে বিবরণ প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা গেছে নতুন জেটগুলোতে একটি ‘আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ ও ‘মিশন যোগাযোগব্যবস্থা’ থাকবে। একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ‘রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধান নির্বাহী ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের’ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার জন্য এ নিরাপত্তাব্যবস্থাগুলো থাকা জরুরি।

    নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানে ডোনাল্ড ট্রাম্প

    মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পকে নিশানা বানিয়েছে ইরান। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় পেনসিলভানিয়ার বাটলারে ট্রাম্পের ওপর প্রাণঘাতী হামলার আগেও তাঁর নিরাপত্তা বাড়িয়েছিল সিক্রেট সার্ভিস। ইরানের গুপ্তচরবৃত্তির গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

    ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র হামলা আবার শুরু হওয়া সত্ত্বেও, বর্তমান গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ব্রিফিং পাওয়া মার্কিন নীতিনির্ধারকেরা বিশ্বাস করেন না যে এই মুহূর্তে ট্রাম্পকে হত্যা করার কোনো তাত্ক্ষণিক পরিকল্পনা ইরানের রয়েছে।

    গোয়েন্দা মূল্যায়নের বর্ণনা দিতে গিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্পের জীবন কেড়ে নেওয়ার যেকোনো চেষ্টা কতটা বড় উসকানি হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা জবাব কতটা ভয়াবহ হতে পারে, সে সম্পর্কে ইরানের পরিষ্কার ধারণা রয়েছে।

    তা সত্ত্বেও আঙ্কারায় থাকাকালীন ইরানের এত কাছাকাছি অবস্থানে ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে সিক্রেট সার্ভিস এতটাই চিন্তিত ছিল যে দেশ ছাড়ার সময় তারা প্রেসিডেন্টকে উড়োজাহাজ পরিবর্তন করতে বাধ্য করে। গত বুধবার নিউইয়র্ক টাইমস প্রথম এই খবর প্রকাশ করে।

    অবশ্য উড়োজাহাজ পরিবর্তনের এ ঘোষণা দেওয়ার সময় ট্রাম্প ভিন্ন একটি গল্প শুনিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, তিনি পুরোনো উড়োজাহাজে ফিরছেন যাতে নতুন জেটটি আগেভাগে রওনা হতে পারে এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে যাত্রাবিরতি দিয়ে সেনাদের কাছে এর ‘চমৎকার’ রূপ প্রদর্শন করতে পারে।

    প্রেসিডেন্টের ভ্রমণের জন্য ব্যবহৃত সামরিক বিমানসংক্রান্ত আলোচনায় যুক্ত থাকা হোয়াইট হাউসের সাবেক একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ভ্রমণের সময় যখনই নিরাপত্তার প্রশ্ন ওঠে, তখনই হোয়াইট হাউসের কর্মী, সামরিক উপদেষ্টা ও সিক্রেট সার্ভিসের মধ্যে প্রায়ই একধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়।

    তবে সামরিক বিশেষজ্ঞরা যখনই কোনো পরিবর্তনের দাবি জানান, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা সাধারণত তাঁদের সিদ্ধান্ত মেনে নেন, যা সম্ভাব্য হুমকি প্রশমিত করতে সহায়তা করে।

  • হরমুজ প্রণালি বিশ্ব অর্থনীতির নতুন নিয়ন্ত্রক

    হরমুজ প্রণালি বিশ্ব অর্থনীতির নতুন নিয়ন্ত্রক

    মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি বড় সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে কোনো না কোনো ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা কাজ করে। কখনো তা জ্বালানি সম্পদ, কখনো সীমান্ত, আবার কখনো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। বর্তমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় সেই কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ এখন শুধু সামরিক সংঘাতের ক্ষেত্র নয়; বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অন্যতম প্রধান উপাদান।

    হরমুজ প্রণালি আরব উপসাগরকে ওমান উপসাগর এবং ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। প্রতিদিন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। ফলে এ পথের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়া মানেই বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হওয়া। আর তার প্রভাব পড়ে শিল্প উৎপাদন, পরিবহন, খাদ্যপণ্য এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর।

    ইরানের জন্য হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন ধরেই একটি কৌশলগত সম্পদ। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপের মুখে এ প্রণালিই তেহরানের সবচেয়ে কার্যকর চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার। প্রণালিতে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো কিংবা জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে ইরান আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করে; কিন্তু এ কৌশলের একটি বড় সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। একই পথ দিয়ে ইরানের নিজের তেল রপ্তানিও পরিচালিত হয়। ফলে হরমুজে অস্থিরতা যত বাড়ে, ততই ইরানের অর্থনীতিও ক্ষতির মুখে পড়ে।

    অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করাকে তারা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তার অপরিহার্য শর্ত হিসেবে দেখে। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের আওতায় হরমুজ প্রণালিতে কোনো রাষ্ট্রের একক নিয়ন্ত্রণ বা জাহাজ চলাচলের ওপর অতিরিক্ত শর্ত আরোপের বিরোধিতা করে ওয়াশিংটন। ফলে প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মতপার্থক্য কেবল সামরিক নয়, আন্তর্জাতিক আইন ও ভূরাজনীতির প্রশ্নেও গভীর।

    এই সংকটে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর অবস্থানও অত্যন্ত জটিল। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিকল্প পাইপলাইনের মাধ্যমে কিছু তেল রপ্তানির ব্যবস্থা করলেও সেই সক্ষমতা হরমুজের বিকল্প হতে পারে না। কাতারের প্রায় পুরো এলএনজি রপ্তানিই এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। ওমান একদিকে প্রণালির ভৌগোলিক অংশীদার, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার পক্ষপাতী। ফলে অঞ্চলটির প্রতিটি রাষ্ট্র অর্থনৈতিক স্বার্থ ও কূটনৈতিক ভারসাম্যের মধ্যে সমন্বয় করার চেষ্টা করছে।

    সংকটের সবচেয়ে বড় অভিঘাত পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতে সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পায়, শিল্প উৎপাদনের খরচ বেড়ে যায়, মূল্যস্ফীতি ত্বরান্বিত হয়। সামুদ্রিক বীমার ব্যয়ও কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের খরচ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে আমদানি-নির্ভর দেশগুলো অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ছে।

    বিশেষ করে এশিয়ার অর্থনীতিগুলো এই পরিস্থিতিতে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। চীন তার আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের বড় অংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে সংগ্রহ করে এবং ইরানি তেলের অন্যতম বৃহৎ ক্রেতা। জাপানও মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা জ্বালানির জন্য এই পথের ওপর নির্ভরশীল। ইউরোপের অনেক দেশও একইভাবে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার মুখোমুখি। ফলে হরমুজে অস্থিরতা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নয়, এটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

    তবে আলোচনায় তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পেলেও সার বাজারে এর প্রভাব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বের সামুদ্রিক সার বাণিজ্যের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিচালিত হয়। সরবরাহ ব্যাহত হলে সারের দাম বেড়ে যায়, কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে। এর প্রভাব তাৎক্ষণিক নয়, বরং পরবর্তী মৌসুমের ফসল উৎপাদন পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল ও খাদ্য আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এটি উদ্বেগজনক।

    বাংলাদেশের মতো জ্বালানি ও খাদ্য আমদানিনির্ভর অর্থনীতিও এই সংকট থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সার আমদানির খরচ বেড়ে গেলে দেশের উৎপাদন ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির ওপর তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। অর্থাৎ হরমুজে সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হবে, তার অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া তত বেশি অনুভূত হবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেও।

    বর্তমান বাস্তবতা বলছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধের সহজ সমাধান নেই। একদিকে ইরান এই প্রণালিকে তার কৌশলগত প্রভাবের প্রধান উৎস হিসেবে ধরে রাখতে চায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যনির্ভর দেশগুলো অবাধ নৌচলাচলের নীতি থেকে সরে আসতে প্রস্তুত নয়। ফলে একটি রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

    বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি কেবল যুদ্ধ নয়, বরং দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা। বাজার যুদ্ধের চেয়েও বেশি ভয় পায় অনিশ্চয়তাকে। হরমুজ প্রণালি যদি দীর্ঘ সময় অস্থিতিশীল থাকে, তবে এর প্রভাব শুধু জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বিশ্ব বাণিজ্য, কৃষি, শিল্প উৎপাদন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়েও এর দীর্ঘ ছায়া পড়বে। তাই হরমুজ এখন শুধু একটি সমুদ্রপথ নয়, বরং বর্তমান বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

  • খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার আইআরজিসির

    খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার আইআরজিসির

    ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এই প্রতিশোধ নেওয়া হবে উল্লেখ করে বাহিনীর প্রধান বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ড ইতিহাসের স্মৃতি থেকে কখনো মুছে যাবে না। শুক্রবার (১০ জুলাই) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, আইআরজিসি-র শীর্ষ কমান্ডার ও প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ভাহিদি অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে মার্কিন বাহিনীকে শিশু হত্যাকারী সেনাবাহিনী হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি পূর্ণ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি তোলেন।

    এক বিবৃতিতে ভাহিদি বলেন, আমেরিকার অপরাধী নেতা এবং ইসলামি বিপ্লব ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের সমস্ত শত্রুদের জেনে রাখা উচিত যে, এই স্বর্গীয় নেতাকে কাপুরুষোচিতভাবে হত্যা করে তারা কখনোই প্রতিরোধের পতাকাকে মাটিতে নামিয়ে দিতে পারবে না।

  • পারমাণবিক শক্তি ও সামরিক গোয়েন্দা সক্ষমতা জোরদারের ঘোষণা উত্তর কোরিয়ার

    পারমাণবিক শক্তি ও সামরিক গোয়েন্দা সক্ষমতা জোরদারের ঘোষণা উত্তর কোরিয়ার

    উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক শক্তি ‘গুণগত ও পরিমাণগত—উভয় দিক থেকেই’ আরো জোরদার করবে। একইসাথে দক্ষিণ কোরিয়াকেন্দ্রিক সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা ও দায়িত্বও বাড়ানো হবে।

    শুক্রবার (১০ জুলাই) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে উত্তর কোরিয়ার ওপর ব্যাপক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধ শান্তিচুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ায় উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। সিউল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের সমঝোতামূলক উদ্যোগ বারবার প্রত্যাখ্যান করার পর এ ঘোষণা এলো। পিয়ংইয়ং সিউলকে তাদের ‘সবচেয়ে বৈরী’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং নিজেকে ‘অপরিবর্তনীয়’ পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র ঘোষণা করেছে।

    রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, বৃহস্পতিবার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের বর্ধিত বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে ‘গুণগত ও পরিমাণগত—উভয় দিক থেকেই পারমাণবিক শক্তি জোরদার’ করার মতো পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

    এতে দক্ষিণ কোরিয়া সংক্রান্ত অভিযানের দায়িত্বে থাকা পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জেনারেল রিকনেসান্স অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর কার্যক্রম ও দায়িত্ব ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণেরও আহ্বান জানানো হয়।

    কেসিএনএ জানায়, সম্ভাব্য শত্রুর হুমকি নিয়ন্ত্রণ এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহে সংস্থাটি ‘গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা’ পালন করে।

    প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বৈঠকে সংস্থাটির ‘সামরিক নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার সক্ষমতা বৃদ্ধি’ করার উপায় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের জ্যেষ্ঠ গবেষক হং মিন বলেন, উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক পদক্ষেপ থেকে বোঝা যায়, পিয়ংইয়ং এখন দুই কোরিয়াকে ‘দু’টি বৈরী রাষ্ট্র’ হিসেবে বিবেচনা করছে। এর ফলে যুদ্ধবিরতি ভিত্তিক আগের কাঠামো পরিবর্তিত হতে পারে।

  • গাজা গণহত্যার জেরে ইসরাইলিদের প্রতি মার্কিনিদের সমর্থনে ধস

    গাজা গণহত্যার জেরে ইসরাইলিদের প্রতি মার্কিনিদের সমর্থনে ধস

    গাজা যুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের প্রতি জনসমর্থন কমছে। নতুন এক জরিপে দেখা যায়, আগের তুলনায় এখন অনেক কম মার্কিন নাগরিক ইসরাইলি জনগণের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রাখেন। অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের প্রতি মনোভাব প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

    জরিপ অনুযায়ী, এখন মাত্র ৫২ শতাংশ মার্কিনির ইসরাইলি জনগণের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, যা ২০২২ সালে ছিল ৬৭ শতাংশ। সমীক্ষায় আরো দেখা যায়, বেশিরভাগ মানুষ ইসরাইলি সরকার, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও হামাসের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। আর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরাইল সরকারের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    তরুণদের মধ্যে এই পার্থক্য আরো স্পষ্ট। ৩০ বছরের কম বয়সী মার্কিনিদের মধ্যে ৫৯ শতাংশ ফিলিস্তিনিদের সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা রাখেন, আর মাত্র ৩২ শতাংশ ইসরাইলিদের সম্পর্কে ইতিবাচক মত দেন।

    তরুণ ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই ব্যবধান সবচেয়ে বেশি। তাদের ৭২ শতাংশ ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন, আর মাত্র ২৬ শতাংশ ইসরাইলিদের প্রতি ইতিবাচক মত দিয়েছেন।

    অন্যদিকে, তরুণ রিপাবলিকানদের মধ্যে এখন ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলিদের প্রতি সমর্থনের মাত্রা প্রায় সমান। কয়েক বছর আগেও তারা ইসরাইলিদের প্রতি অনেক বেশি সমর্থন দেখাতেন, কিন্তু এখন সেই অবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে।

  • ২০ বছর পর ফিলিস্তিনে নির্বাচনের ঘোষণা

    ২০ বছর পর ফিলিস্তিনে নির্বাচনের ঘোষণা

    দীর্ঘ দুই দশক পর ফিলিস্তিনে আইনসভা নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। আন্তর্জাতিক মহলের চাপ এবং শাসনব্যবস্থার গণতান্ত্রিক বৈধতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এক প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রির মাধ্যমে তিনি আগামী ২৮ নভেম্বর নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেন। খবর আল জাজিরার।

    জারি করা অধ্যাদেশ অনুযায়ী, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা, অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমসহ ফিলিস্তিনের সব ভূখণ্ডে একযোগে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হলে এটি হবে ২০০৬ সালের পর ফিলিস্তিনিদের প্রথম সাধারণ নির্বাচন।

    ফিলিস্তিনে সর্বশেষ আইনসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৬ সালে। সেই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট আব্বাসের দল ফাতাহকে পরাজিত করে বড় ধরনের বিজয় অর্জন করে ইসলামপন্থি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। ওই নির্বাচনের পর থেকেই ফাতাহ ও হামাসের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজন তীব্র হয়ে ওঠে।

    পরবর্তীতে ২০০৭ সালে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গাজা উপত্যকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় হামাস। এরপর থেকে পশ্চিম তীরে ফাতাহ নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং গাজায় হামাসের পৃথক প্রশাসন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

    আল জাজিরার রামাল্লাভিত্তিক সংবাদদাতা নূর ওদেহ জানিয়েছেন, নির্বাচনের এই ঘোষণা দীর্ঘদিন ধরে চলা কূটনৈতিক আলোচনা ও আন্তর্জাতিক চাপের ফল। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাঠামোগত সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক বৈধতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ দীর্ঘদিন ধরে মাহমুদ আব্বাসের সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে আসছিল।

    তবে বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান আঞ্চলিক সংঘাত এবং গাজার অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে আগামী নভেম্বরের মধ্যে হামাস ও ফাতাহর মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করে পুরো ফিলিস্তিনে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা সহজ হবে না।

    এছাড়া পূর্ব জেরুজালেমের ফিলিস্তিনিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইসরাইল সেখানে ভোটগ্রহণের অনুমতি দেবে কি না, সেটিও নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • খাবারে অরুচি, কারাগারের দ্বারস্থ কয়েদি!

    খাবারে অরুচি, কারাগারের দ্বারস্থ কয়েদি!

    কথিত এক সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্রের মামলায় গ্রেফতার হওয়া এক মার্কিন নাগরিক ভারতের দিল্লির একটি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে তিহার জেলের ভেতরে নিজের খাবার নিজে রান্না করার অনুমতি চেয়েছেন। তার দাবি, কারাগারের অতিরিক্ত মসলাযুক্ত ও তৈলাক্ত খাবার তিনি সহ্য করতে পারছেন না।

    ম্যাথিউ ভ্যানডাইক নামের ওই মার্কিন নাগরিক গত এপ্রিল মাস থেকে বিচারিক হেফাজতে রয়েছেন। বিশেষ এনআইএ (জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা) আদালতকে তিনি জানান, জেলের খাবারের সাথে মানিয়ে নিতে না পেরে দীর্ঘ সময় ধরে না খেয়ে থাকার কারণে গত তিন মাসে তার ওজন প্রায় ১৪ কেজি কমে গেছে।

    পাতিয়ালা হাউস কোর্টে দায়ের করা আবেদনে ভ্যানডাইক তার পরিবারের মাধ্যমে জেলের ভেতরে ইন্ডাকশন কুকার ও পোর্টেবল স্টোভসহ রান্নার সরঞ্জাম এবং অলিভ অয়েল ও পাস্তার মতো খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের অনুমতি চেয়েছেন, যাতে তিনি নিজেই নিজের খাবার তৈরি করে নিতে পারেন।

    ভ্যানডাইক গত ৬ মে থেকে অনশন ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছেন। তার দাবি, কারাগারের নিয়মিত খাদ্যতালিকা তার শরীরে প্রচণ্ড অস্বস্তি তৈরি করছে এবং স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করছে। একজন মার্কিন নাগরিক হিসেবে ভারতীয় কারাগারের এই ধরনের খাবার নিয়মিত খাওয়া তার পক্ষে যেমন অভ্যস্ততা বহির্ভূত, তেমনি শারীরিকভাবেও অসম্ভব।

    নিজের শারীরিক দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে ভ্যানডাইক আরও জানিয়েছেন, জেলের মশার কামড়ে তার ম্যালেরিয়া বা ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। তাই সুরক্ষার জন্য মশা তাড়ানোর ওষুধ ও মশারি সরবরাহের জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিতে আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

    চলতি বছরের মার্চ মাসে ছয়জন ইউক্রেনীয় নাগরিকের সাথে এই মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার করে এনআইএ। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এই দলটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিজোরামে অবৈধভাবে প্রবেশ করে মিয়ানমার সীমান্তে চলে যায়। সেখানে তারা মিয়ানমারের সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত এবং ভারতে সক্রিয় সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে সহায়তাকারী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ভ্যানডাইককে প্রথমে কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে গত ৬ এপ্রিল তিহার জেলে স্থানান্তর করা হয়।

    আদালত এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিহার জেল কর্তৃপক্ষকে তাদের বক্তব্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এদিকে, আগামী ২১ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে।

  • ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা

    ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার জন্য ইরান সম্প্রতি একটি নতুন পরিকল্পনা করেছে বলে গোয়েন্দা তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠিয়েছে ইসরাইল। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি

    এই দাবি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে পড়ার মুখে এবং দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে।

    সূত্রগুলোর একটির দাবি, চলতি সপ্তাহেই ইসরাইল এই সতর্কবার্তা ওয়াশিংটনের কাছে পাঠিয়েছে। আরেকটি সূত্র জানায়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আসছিল। ইসরাইলের দেয়া তথ্যটি ছিল নতুন এবং একটি নির্দিষ্ট ষড়যন্ত্রকে কেন্দ্র করে।

    তবে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা মনে করছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করা হবে কিনা- এ বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতেই ইসরাইল এ ধরনের গোয়েন্দা তথ্য সামনে এনে থাকতে পারে।
    ইসরাইল যে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে, তার বিস্তারিত এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নিজস্বভাবে এখনো ওই তথ্য যাচাই করেনি এবং ইসরাইলের সতর্কবার্তার আগে এমন কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনার বিষয়ে তারা নজরদারিও করছিল না।

    তবে ২০২০ সালে ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা ছিল, প্রতিশোধ হিসেবে ইরান ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করতে পারে।

    ট্রাম্পের মন্তব্য
    ইসরাইলের সতর্কবার্তা নিয়ে মন্তব্য চাইলে হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের দিকেই ইঙ্গিত করে। গত বুধবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ওরা আমাকে হত্যা করতে চায়। আমি তাদের সব তালিকাতেই আছি। আজ সকালে দেখলাম, প্রতিটি তালিকায় আমার নাম রয়েছে। এখন পর্যন্ত হয়তো ভাগ্য আমার সঙ্গে ছিল, কিন্তু সেটা কতদিন থাকবে জানি না।
    মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন, ইরানিরা ভয়ংকর ও অসুস্থ মানসিকতার মানুষ। এই ক্যানসারকে নির্মূল করতে হবে। ক্যানসারকে শুরুতেই কেটে ফেলতে হয়- আমার অবস্থানও সেটাই।

    পরবর্তীতে ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি সম্প্রতি জানতে পেরেছেন যে ইরানের একটি নতুন তালিকায় তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত হত্যার লক্ষ্য হিসেবে রাখা হয়েছে। তবে তিনি ইসরাইলের দেয়া নতুন গোয়েন্দা তথ্যের কথাই বলছিলেন কিনা- তা স্পষ্ট করেননি।

    সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র জানিয়েছে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এমন কয়েকটি পক্ষের ওপর নজর রাখছে যারা হামলার বিষয়ে আলোচনা করেছে, যদিও এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তাদের একজন বলেন, বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে।

    তবে ওই সূত্রের মতে, ইসরাইলের দেয়া প্রতিবেদনকে অনেকেই ট্রাম্পের ইরাননীতি প্রভাবিত করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন। মার্কিন গোয়েন্দা মহলের একটি অংশ বরাবরই ইসরাইলি গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নেয়।

    এদিকে গত সপ্তাহজুড়ে চলছিল ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনির জানাজা ও শোকানুষ্ঠান। এসবের প্রত্যেকটিতে বিপুল জনতা ট্রাম্পকে হত্যার দাবিতে স্লোগান দেয়। তারা যুক্তরাষ্ট্রের ধ্বংস এবং ট্রাম্পের মৃত্যুর আহ্বান জানান।

    পর্দার আড়ালে আলোচনা অব্যাহত
    অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সামরিক উত্তেজনা এবং ট্রাম্পের ‘ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) শেষ’ বলে ঘোষণার পরও পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

    ওয়াশিংটন ও তেহরান আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে একটি নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে কাজ করছে। একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতেও হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে শেষ পর্যন্ত কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে তা স্থগিত রাখা হয়।

  • বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম

    বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম

    যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিতে দেরি হচ্ছে। এতে জ্বালানি তেলের সরবরাহে সংকট অব্যাহত থাকলেও ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও অন্যান্য অর্থনৈতিক উদ্বেগের কারণে বিশ্বব্যাপী তেলের চাহিদা কমার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর জেরে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে গেছে।

    যুদ্ধের আগে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশই এই প্রণালি দিয়ে যেত।

    ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৭২ ডলার বা ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৭৬ দশমিক ৩০ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪৪ ডলার বা ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ০৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

    এর আগে বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গত ১৯ জুনের পর এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২২ জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল।

    ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বৃহস্পতিবার উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। এতে তিন সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধবিরতি চুক্তি নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে।

    ম্যাকোয়ারি গ্রুপের গ্লোবাল এনার্জি স্ট্র্যাটেজিস্ট বিকাশ দ্বিবেদী এক নোটে বলেছেন, আমরা আশা করছি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে তৈরি হওয়া এই উত্তেজনা খুব বেশি দিন স্থায়ী হবে না। কারণ, উভয় দেশই এখন বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে সীমাবদ্ধ।

    তেহরানসহ অন্যান্য প্রতিপক্ষের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত কাতার বাণিজ্যিক জাহাজে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং আবারও কূটনীতির পথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। তুরস্ক ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা এড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।

    মার্কিন ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস-এর বিশ্লেষকেরা এক প্রতিবেদনে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার পর প্রথম ১০ দিনের মধ্যে পারস্য উপসাগর থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ প্রাক-যুদ্ধকালীন সময়ের ৮০ শতাংশের ওপরে পৌঁছেছিল। আটকে থাকা ট্যাংকারগুলো তড়িঘড়ি করে পারস্য উপসাগর ছাড়ার কারণেই এমনটা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি ট্যাংকারগুলোতে নতুন করে হামলার কারণে তা স্বাভাবিক সময়ের ৭০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে।

  • পিতার শেষ বিদায়েও আড়ালেই মোজতবা

    পিতার শেষ বিদায়েও আড়ালেই মোজতবা

    ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ঐতিহাসিক জানাজায় লাখ লাখ মানুষের ঢল নামলেও সেখানে দেখা যায়নি তার উত্তরসূরি ও নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে। ফলে তার শারীরিক অবস্থা, নিরাপত্তা এবং বাস্তবে তিনি দেশ পরিচালনা করছেন কিনা- এসব প্রশ্ন নতুন করে সামনে আসছে।
    তেহরানের বিশাল মোসাল্লা মসজিদে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হওয়া জনতার ভিড়ের মধ্যে একটি ঝাপসা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে ধর্মীয় পোশাক পরা এক ব্যক্তিকে বারান্দা থেকে অনুষ্ঠান পর্যবেক্ষণ করতে দেখা যায়। অনেকেই ধারণা করেন, তিনিই মোজতবা খামেনি। তবে পরে ইরানি আলেম রেজা মুসাভি ওয়ায়েজ জানান, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নিজেই। ফলে মোজতবার উপস্থিতির গুঞ্জনও ভেস্তে যায়।

    হামলার পর থেকেই আড়ালে
    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় আলি খামেনিসহ দেশটির কয়েক ডজন শীর্ষ নেতা ও সামরিক কমান্ডার নিহত হন। একই হামলায় নিহত হয় খামেনির স্ত্রীর এবং মোজতবার স্ত্রী। তবে ওই হামলায় মোজতবা খামেনি প্রাণে বেঁচে গেলেও আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়।
    এরপর থেকে তিনি জনসমক্ষে আসেননি। কেবল লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তার কোনো ভিডিও বা কণ্ঠবার্তা প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে, ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করছেন, তিনি পুরোপুরি সুস্থ রয়েছেন এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের আলোচনাসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

    নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
    খামেনির জানাজার আগে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, মোজতবা খামেনিও এখন “মৃত্যুর লক্ষ্যবস্তু”। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ইরান বিশেষজ্ঞ মোহসেন মিলানি বলেন, যুদ্ধের সময় ইরানের গোয়েন্দা ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে মোজতবার প্রকাশ্যে আসা তাকে হত্যাচেষ্টার ঝুঁকিতে ফেলতে পারত। এতে শুধু নেতৃত্বের ধারাবাহিকতাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা এবং ভবিষ্যৎ সংঘাত মোকাবিলাও জটিল হয়ে যেত।

    গুঞ্জন আরও জোরালো
    পিতার জানাজা ও দাফনে অনুপস্থিত থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি কিছু ভিডিওতে দাবি করা হয়, ছদ্মবেশে সাধারণ মানুষের ভিড়ে উপস্থিত ছিলেন মোজতবা খামেনি। আবার কেউ কেউ দাড়িবিহীন, কালো টুপি পরা এক ব্যক্তির ছবি ছড়িয়ে দাবি করছেন, তিনিই নতুন সর্বোচ্চ নেতা।
    এদিকে খামেনিকে দাফনের আগে শোকযাত্রায় অংশ নেয়া অনেক সমর্থক ‘মোজতবা, আমরা আপনার সেবায় প্রস্তুত’- এমন স্লোগানও দেন। তবে ছয় দিনব্যাপী শোকানুষ্ঠানের কোথাও মোজতবাকে দেখা যায়নি। এমনকি বাবার দাফনের সময়ও তিনি ভাই মোস্তফা, মাসউদ ও মেইসামের পাশে উপস্থিত ছিলেন না।

    এদিকে মোজতবার অনুপস্থিতিকে কটাক্ষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছে ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইরাকে খামেনির শোকমিছিলে নতুন সর্বোচ্চ নেতার পোস্টার বহনকারীদের ছবি প্রকাশ করে তারা ব্যঙ্গ করে লিখে, বাবার জানাজায় ইরাকে মোজতবার আবেগঘন উপস্থিতি।
    গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, মোজতবা খামেনি তার বাবার তুলনায় ‘আরও বাস্তববাদী’। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা জীবিত থাকলেও গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে ইরানের চিকিৎসা কর্মকর্তারা দাবি করেন, হামলায় তিনি গুরুতর আহত হননি।
    এদিকে গত মে মাসে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নে বলা হয়, ইরানের যুদ্ধকৌশল নির্ধারণে মোজতবা খামেনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

    বিরোধীদের প্রশ্ন, ক্ষমতার ভেতরেও অস্বস্তি
    বিশ্লেষকদের মতে, জানাজায় অনুপস্থিতি ইরানের বিরোধীদের মধ্যে এই ধারণা আরও শক্তিশালী করতে পারে যে মোজতবা কার্যত অক্ষম অথবা কেবল প্রতীকী নেতা। অন্যদিকে, ইরানের সরকারপন্থী মহলেও তার অনুপস্থিতি নানা প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনাকে ঘিরে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ আরও প্রকাশ্যে আসতে পারে।
    ইতোমধ্যে কিছু রক্ষণশীল গোষ্ঠী অভিযোগ তুলেছে, পশ্চিমাদের সঙ্গে আলোচনা চালানো কর্মকর্তারা নাকি মোজতবা খামেনির নির্দেশ অমান্য করছেন। এমনকি জানাজার শোভাযাত্রায় অংশ নেয়ার সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের দিকে পাথরও নিক্ষেপ করা হয়।

    আড়াল থেকেই নেতৃত্ব?
    বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবা খামেনির জনসমক্ষে না আসা ছিল একটি পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত। এতে তাকে সম্ভাব্য হামলা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে এবং একই সঙ্গে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের ধারাবাহিকতাও বজায় রাখা যাচ্ছে।
    আন্তর্জাতিক সংকট নিরসন সংস্থার ইরানবিষয়ক পরিচালক আলি ভায়েজ বলেন, সর্বোচ্চ নেতার প্রধান দায়িত্ব এখন পর্দার আড়াল থেকে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও সম্ভাব্য পারমাণবিক সমঝোতা এগিয়ে নেওয়া।
    তার ভাষায়, জনসমক্ষে না থাকলেও এর অর্থ এই নয় যে তিনি জবাবদিহিতার বাইরে। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি আছেন- তাত্ত্বিকভাবে কিংবা বাস্তবভাবে।

  • ইরানে হামলা, দায় অস্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

    ইরানে হামলা, দায় অস্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

    ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের দিনেও দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেশের দুটি ভিন্ন শহরের দুটি সামরিক ঘাঁটিতে বেশ কয়েকটি হামলা চালানো হয়েছে।

    তবে সিএনএন-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী এই মুহূর্তে ইরানে কোনো হামলা চালাচ্ছে না। অন্যদিকে ইসরাইলি কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, এই হামলার সাথে ইসরাইলের কোনো ধরনের জড়িত থাকার তথ্য তাদের জানা নেই।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা বুশেহর প্রদেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক উপ-গভর্নর এহসান জাহানিয়ানের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বুশেহর শহরের কাছের একটি সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি শত্রুদের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে সেখানে ক্ষয়ক্ষতির বা হতাহতের সুনির্দিষ্ট কোনো

    উল্লেখ্য, এই বুশেহর শহরের উপকণ্ঠেই ইরানের প্রধান পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি অবস্থিত। একই সময়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় কোনারক শহরের একটি নৌ-সামরিক জোনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শত্রুদের যুদ্ধবিমান দুই দফায় হামলা চালিয়েছে এবং কোনারক কাউন্টির গভর্নর মোহাম্মদ ইউনেস হকানি জানান, উদ্ধারকারী দল ও নিরাপত্তা বাহিনী বর্তমানে ঘটনাস্থলে কাজ করছে। ওমান উপসাগরের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত কোনারক একটি কৌশলগত বন্দর নগরী, আর বুশেহর শহরটি ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় প্রদেশে অবস্থিত।

  • গাজা ইস্যুতে ক্ষমা চাইলেন ব্রিটেনের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট:

    গাজা ইস্যুতে ক্ষমা চাইলেন ব্রিটেনের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট:

    গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের শুরুতে নিজেদের অবস্থান সঠিক ছিল না বলে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন বৃটেনের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন, তার নেতৃত্বে লেবার পার্টিকে গাজা ইস্যুতে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। এই খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান। গার্ডিয়ানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বার্নহ্যাম বলেন, গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরুর পর অনেকেই মনে করেছেন আমার দল সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি, এবং এর জন্য আমি দুঃখিত।

    আমাদের প্রতিক্রিয়া প্রায় সময়ই যথেষ্ট ভালো ছিল না। আমাদের আরও ভালো করা দরকার। তিনি স্বীকার করেন, গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাতে বৃটেনের অনেক বেশি দেরি হয়ে গিয়েছিল। একই সাথে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, নতুন প্রশাসন ক্ষমতায় এলে অবৈধ বসতিগুলোর সাথে সব ধরণের পণ্য বাণিজ্য নিষিদ্ধ করাসহ ইসরাইলি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইসরাইল সরকারের ওপর চাপ বাড়ানো হবে।

    এই ঘটনাটি লেবার পার্টির সাবেক প্রধান কিয়ার স্টারমারকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলতে পারে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর একটি রেডিও সাক্ষাৎকারে স্টারমার বলেছিলেন যে, ফিলিস্তিনিদের পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার অধিকার ইসরাইলের রয়েছে। তার এই বিতর্কিত মন্তব্য এবং পরবর্তীতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে দীর্ঘ বিলম্বের কারণে বৃটেনের বিপুল সংখ্যক মুসলিম ও প্রগতিশীল ভোটার লেবার পার্টির ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে গ্রিন পার্টিতে যোগ দেন। সেই ক্ষুব্ধ ভোটারদের মান ভাঙাতেই মূলত বার্নহ্যামের এই প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা। অবশ্য বামপন্থী শিবিরের প্রবল দাবি সত্ত্বেও গাজার পরিস্থিতিকে সরাসরি ‘গণহত্যা’ বলতে রাজি হননি বার্নহ্যাম।

    তিনি বলেন, গাজায় যে যুদ্ধাপরাধ ঘটেছে তার প্রমাণ রয়েছে। তবে এটি গণহত্যা কি না তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব রাজনীতিবিদদের নয়, বরং আন্তর্জাতিক আদালতের। বার্নহ্যামের এই অবস্থানের সমালোচনা করে গ্রিন পার্টির ডেপুটি লিডার মথিন আলী অভিযোগ করেছেন যে, বার্নহ্যাম আন্তর্জাতিক আদালতের দোহাই দিয়ে আসল সত্য এড়িয়ে যাচ্ছেন, কারণ যুদ্ধাপরাধের কথা সরাসরি স্বীকার করলে আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে ইসরাইলের কাছে বৃটেনের সব ধরণের অস্ত্র বিক্রি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

  • ট্রাম্পের যৌন নিপীড়নের শিকার ক্যারলকে ৫০ লাখ ডলার দিতে আদালতের নির্দেশ

    ট্রাম্পের যৌন নিপীড়নের শিকার ক্যারলকে ৫০ লাখ ডলার দিতে আদালতের নির্দেশ

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কলামিস্ট এলিজাবেথ জ্যঁ ক্যারলের মধ্যকার বহুল আলোচিত আইনি লড়াইয়ে বড় সিদ্ধান্ত দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। ট্রাম্পের সব আপত্তি উড়িয়ে দিয়ে মামলার ক্ষতিপূরণ বাবদ তাঁর জমা রাখা ৫০ লাখের বেশি ডলার অবিলম্বে ক্যারলকে হস্তান্তরের আদেশ দিয়েছেন নিউইয়র্কের ফেডারেল বিচারক লুই কাপলান। গতকাল বুধবার দেওয়া এই আদেশের ফলে ট্রাম্পের এই অর্থ পরিশোধ পিছিয়ে দেওয়ার শেষ চেষ্টাও ব্যর্থ হলো।

    এই মামলা দীর্ঘ তিন দশকের পুরোনো। সাময়িকীর সাবেক কলামিস্ট জ্যঁ ক্যারলের অভিযোগ, ১৯৯৬ সালে নিউইয়র্কের একটি বিলাসবহুল ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের চেঞ্জিং রুমে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালে ক্যারল বিষয়টি প্রকাশ্যে আনলে ট্রাম্প এটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দেন।

    ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন ক্যারল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৩ সালের মে মাসে আদালতের একটি জুরিবোর্ড ক্যারলের যৌন নিপীড়ন ও মানহানির মামলায় ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণের রায় দিয়েছিলেন।

    জুরিবোর্ডের সেই রায়ের পর থেকেই ট্রাম্প নিজেকে নির্দোষ দাবি করে উচ্চ আদালতে আপিল করে আসছিলেন এবং সম্প্রতি বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।

    আদালতের এই নতুন আদেশ এমন এক সময়ে এল, যখন ট্রাম্পের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের দোহাই দিয়ে এই অর্থ আটকে রাখার আবেদন করেছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের করা পুনর্বিবেচনার আবেদনটি ঝুলে থাকা পর্যন্ত যেন ক্যারলকে কোনো অর্থ না দেওয়া হয়। তবে বিচারক কাপলান সেই যুক্তি কানে তোলেননি।আদালতের এই নতুন সিদ্ধান্তের পর জ্যঁ ক্যারলের আইনজীবীদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ট্রাম্পের আইনজীবীরা বলেছেন, তাঁরা এই আদেশের বিরুদ্ধে আবার উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

    ট্রাম্প শিবিরের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাশেই আছেন। ডেমোক্র্যাটদের পয়সায় ক্যারল যে বানোয়াট নাটক সাজিয়েছেন, তার অবসান হওয়া দরকার। এই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধের দাবি জানাচ্ছি আমরা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব আইনি নোংরামি রুখে দেবেন এবং দেশকে আবার মহান করার মিশনে মনোযোগ দেবেন।’

    এর আগে ট্রাম্পের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দিয়েছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগপর্যন্ত এই অর্থ আটকে রাখলে ক্যারলের কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু প্রেসিডেন্টের জন্য তা অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনবে।

    ট্রাম্পের আইনজীবীরা আদালতে লিখিত আবেদনে বলেন, ‘এখনই ক্যারলকে অর্থ দেওয়া হলে পরে ট্রাম্প আপিলে জিতলেও সেই অর্থ আর ফেরত পাওয়া যাবে না। কারণ, ক্যারল নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন, এই অর্থ তিনি বিভিন্ন সংস্থায় দান করে দেবেন। একবার এই অর্থ তৃতীয় পক্ষের হাতে চলে গেলে তা আর উদ্ধার করা সম্ভব নয়।’

    আইনজীবীরা আরও দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায় আসার আগে অর্থ আটকে রাখলে ক্যারলের কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ, দেরি হওয়ার কারণে যে ক্ষতি হবে, তা পরবর্তী সময়ে সুদের মাধ্যমেই মিটিয়ে দেওয়া যাবে।

    গত সপ্তাহে ফেডারেল আদালতের রায় বাতিল করতে ট্রাম্পের করা আপিলটি খারিজ করে দেন সুপ্রিম কোর্ট। এর পরপরই ক্যারলের আইনজীবীরা নিম্ন আদালতের বিচারকের কাছে ট্রাম্পের জমা দেওয়া টাকা ছাড় করার অনুরোধ জানান। এ খবর পেয়ে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে তড়িঘড়ি করে সুপ্রিম কোর্টে আবার একটি পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হয়।

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জ্যঁ ক্যারলের করা দুটি মামলার মধ্যে এটি ছিল প্রথমটি। ২০২২ সালে করা দ্বিতীয় মানহানির মামলায় জুরিবোর্ড ট্রাম্পকে আরও ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার জরিমানা করেছিল। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওই রায়ের বিরুদ্ধেও তিনি চলতি মাসের শেষ নাগাদ সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবেন।

  • কেন গ্রিনল্যান্ডের ওপর ট্রাম্পের গভীর নজর?

    কেন গ্রিনল্যান্ডের ওপর ট্রাম্পের গভীর নজর?

    যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ন্যাটো মিত্র ডেনমার্কের সঙ্গে সম্পর্ককে আবারও উত্তপ্ত করে তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। আঙ্কারায় আয়োজিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্কালে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের আধা-স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন ট্রাম্পের এই দাবিকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে স্পষ্ট জানান, গ্রিনল্যান্ড অবশ্যই বিক্রির জন্য নয়। বিশ্বের বৃহত্তম এই দ্বীপটির প্রায় ৮০ শতাংশ অঞ্চলই উত্তর মেরু বা আর্কটিক বৃত্তের ওপরে অবস্থিত। এখানে মূলত ৫৬ হাজার ইনুইট আদিবাসী মানুষের বসবাস।

    দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব রাজনীতির আড়ালে থাকা এই বরফাবৃত দ্বীপটিকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে ট্রাম্পের তীব্র আকাঙ্ক্ষার পেছনে গভীর কৌশলগত, সামরিক ও খনিজ কেন্দ্রিক কারণ রয়েছে।

    উত্তর আমেরিকা রক্ষা এবং বিশ্ব সুরক্ষার দাবি: ট্রাম্পের মূল যুক্তি হলো, গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ডেনমার্কের কাছে থাকা নিরর্থক, কারণ এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার সাথে সরাসরি জড়িত। ন্যাটোর বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ডেনমার্কের জন্য নয়। কেবল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং গোটা বিশ্বের সুরক্ষার স্বার্থেই আমাদের এটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া প্রয়োজন। ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে গ্রিনল্যান্ডের পাশাপাশি কানাডা এবং ভেনিজুয়েলা নিয়েও অঞ্চল সম্প্রসারণের কথা ভাবলেও, গ্রিনল্যান্ডের বিষয়টি তার মুখে সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে। পূর্বে তিনি দ্বীপটির মালিকানা নিশ্চিত করতে সামরিক শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা উড়িয়ে না দিলেও, বর্তমানে সামরিক বিকল্পের পথ থেকে সরে এসেছেন বলে জানিয়েছেন।

    চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক হুমকি: পারমাণবিক পরাশক্তি রাশিয়া ও চীন উত্তর মেরু অঞ্চলে তাদের সামরিক শক্তি ব্যাপকভাবে বাড়াচ্ছে। ২০১৮ সালে চীন নিজেকে একটি নিকট-আর্কটিক রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে এবং বৈশ্বিক বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ হিসেবে এই অঞ্চলে একটি মেরু সিল্ক রোড তৈরির পরিকল্পনা উন্মোচন করে। তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব মাইক পম্পেও চীনের এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে প্রশ্ন তুলেছিলেন, আমরা কি আসলেই চাই উত্তর মেরু মহাসাগরটি সামরিকীকরণ এবং ভূখণ্ড দাবির প্রতিযোগিতায় আরেকটি দক্ষিণ চীন সাগরে রূপান্তরিত হোক? অন্য দিকে, রাশিয়া এই মেরু অঞ্চলে তাদের পুরোনো সোভিয়েত আমলের সামরিক অবকাঠামো সংস্কার করছে এবং ২০১৪ সাল থেকে বেশ কয়েকটি নতুন সামরিক ঘাঁটি ও বিমানবন্দর তৈরি করেছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ন্যাটোর তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সেখানে নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার ঐতিহাসিক কেন্দ্র এবং তাদের নর্দার্ন ফ্লিট (নৌবহর) এই উত্তর মেরু অঞ্চলেই অবস্থিত। তাই মার্কিন মূল ভূখণ্ডকে সুরক্ষিত রাখতে গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।

    কৌশলগত অবস্থান ও পিটুফিক স্পেস বেস: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকেই উত্তর আমেরিকার প্রতিরক্ষায় গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তৎকালীন সময়ে এটি যাতে নাৎসি জার্মানির হাতে না পড়ে এবং উত্তর আটলান্টিকের জাহাজ চলাচল পথ সুরক্ষিত থাকে, সেজন্য যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড দখল করেছিল। বর্তমানেও ১৯৫১ সালের চুক্তি অনুযায়ী মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমে প্রত্যন্ত পিটুফিক স্পেস বেস (সাবেক থুলে এয়ার বেস) পরিচালনা করে। এই ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর ক্ষেপণাস্ত্রের আগাম সতর্কবার্তা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং মহাকাশ নজরদারি কার্যক্রমে সাহায্য করে। এছাড়া গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও বৃটেনের মধ্যবর্তী সমুদ্রসীমা (যা জিআইইউকে গ্যাপ নামে পরিচিত) দিয়ে রুশ নৌবাহিনীর যেকোনো যুদ্ধজাহাজের যাতায়াতের ওপর নজরদারি রাখার জন্য এই দ্বীপটির অবস্থান অত্যন্ত সুবিধাজনক স্থানে রয়েছে।

    জলবায়ু পরিবর্তন ও নতুন বাণিজ্য পথ: কোল্ড ওয়ার বা স্নায়ুযুদ্ধের পর উত্তর মেরু অঞ্চলটি মূলত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র ছিল। কিন্তু গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে আর্কটিক অঞ্চলের পুরু বরফের স্তর দ্রুত গলতে শুরু করেছে। বরফ গলে যাওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য একটি নতুন এবং অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সামুদ্রিক পথ (নর্থওয়েস্ট প্যাসেজ) উন্মুক্ত হচ্ছে। এই নতুন বিশ্ব বাণিজ্য পথের নিয়ন্ত্রণ নিতেই পরাশক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা নতুন করে শুরু হয়েছে।

    বিরল খনিজ সম্পদের বিশাল ভাণ্ডার: প্রাকৃতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের মাটির নিচে লুকিয়ে রয়েছে বিপুল পরিমাণ মূল্যবান খনিজ সম্পদ। আধুনিক পৃথিবীর অর্থনীতি সচল রাখতে প্রয়োজনীয় হাই-টেক গ্যাজেট, যেমন স্মার্টফোন, কম্পিউটার, উন্নত ব্যাটারি এবং সামরিক সরঞ্জাম তৈরির জন্য অপরিহার্য রেয়ার আর্থ মিনারেলস বা বিরল খনিজ উপাদানের এক বিশাল উৎস এই দ্বীপ। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এই খনিজ বাজারের সিংহভাগ চীনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা শক্তিগুলো চীনের এই একচেটিয়া আধিপত্য ভাঙতে গ্রিনল্যান্ডের খনিজ সম্পদের ওপর চোখ রাখছে, যদিও সেখানকার কঠোর আবহাওয়া এবং পরিবেশগত কঠোর আইন খনিজ উত্তোলনের জন্য বড় বাধা।

    রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং ডেনমার্কের হুঁশিয়ারি: সামরিক বিশেষজ্ঞরা অবশ্য মনে করেন, গ্রিনল্যান্ডের ওপর মার্কিন পতাকা উড়লেই যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কৌশল রাতারাতি উন্নত হয়ে যাবে না। রয়্যাল ডেনিশ ডিফেন্স কলেজের সামরিক বিশেষজ্ঞ থমাস ক্রসবির মতে, যুক্তরাষ্ট্র একজন বিশ্বস্ত মিত্র হিসেবে ডেনমার্কের কাছ থেকে ইতিমধ্যে সব ধরনের নিরাপত্তা ও সামরিক সুবিধা ভোগ করছে। তাই এটি জাতীয় নিরাপত্তা বৃদ্ধির চেয়েও ট্রাম্পের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা। ডেনমার্কের পার্লামেন্ট গত বছর তাদের মাটিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি করার অনুমতি দিয়ে একটি বিল পাস করেছে, যা ২০২৩ সালে জো বাইডেন প্রশাসনের সাথে করা সামরিক চুক্তিকে আরও শক্তিশালী করে। তবে ডেনমার্কের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনোভাবে সম্পূর্ণ গ্রিনল্যান্ড বা এর কোনো অংশ জোরপূর্বক নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করে, তবে ডেনমার্ক এই সামরিক চুক্তি তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করার ক্ষমতা রাখে। অন্য দিকে, গ্রিনল্যান্ডের স্থানীয় জনগণও তাদের রাজধানী নুউকে অবস্থিত নতুন মার্কিন কনসুলেটের সামনে সমবেত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।

  • উত্তাল বেলুচিস্তান, চারদিনে পুলিশ-সেনাসহ নিহত ৯৬

    উত্তাল বেলুচিস্তান, চারদিনে পুলিশ-সেনাসহ নিহত ৯৬

    আর্ন্তচাতিক ডেস্ক:

    পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে তিনটি বড় সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে দেশটির অন্তত ৩৮ জন নিরাপত্তা সদস্য ও চারজ বেসামরিকনাগরিক নিহত হয়েছেন।

    এসব হামলার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল উত্তর বেলুচিস্তানের জিয়ারত জেলার মাঙ্গি ড্যাম এলাকায় একটি পুলিশ চৌকিতে হামলা। সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় প্রথমে নয়জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। পরবর্তীতে উদ্ধার অভিযানের সময় আরও ১৮ জন অপহৃত পুলিশ সদস্যকে হত্যা করা হয় বলে দাবি করেছে পাক সেনাবাহিনী।

    এসব হামলার পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা অভিযান চালায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। এনিয়ে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, জিয়ারত, বেলা-উইন্ডার, খারান ও দালবান্দিনে পাল্টা অভিযানে মোট ৫৪ জন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে।
    তবে বেলুচ বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর দাবি, নিহত পাকিস্তানি নিরাপত্তা সদস্যের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি।

    মাঙ্গি ড্যামে বহুমুখী হামলা
    গত ৬ জুলাই গভীর রাতে জিয়ারত জেলার মাঙ্গি ড্যাম প্রকল্পের পাম্পিং স্টেশন নম্বর-৩ সংলগ্ন একটি পুলিশ চৌকিতে বহুমুখী হামলা চালায় তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর ভাষ্য, সশস্ত্র ‘সন্ত্রাসীরা’ বিভিন্ন দিক থেকে একযোগে হামলা চালিয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ গোলাগুলিতে লিপ্ত হয়। শেষ পর্যন্ত হামলাকারীরা পুলিশ চৌকির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এতে মাঙ্গি ও কাওয়াস থানার দুই স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) এবং সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনীর এক হেড কনস্টেবলসহ অন্তত নয়জন পুলিশ সদস্য নিহত হন।

    পাক সেনাবাহিনীর দাবি, প্রাথমিক সংঘর্ষে পুলিশ ১৫ জন ‘সন্ত্রাসীকে’ হত্যা করলেও সেনাবাহিনী ও ফ্রন্টিয়ার কোরের অতিরিক্ত বাহিনী পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা অবশিষ্ট পুলিশ সদস্যদের জিম্মি করে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যায়।

    পরে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও ফ্রন্টিয়ার কোর ব্যাপক অভিযান শুরু করলে পরিস্থিতি জিম্মি সংকটে রূপ নেয়। আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী জানান, ‘সন্ত্রাসীরা’ ১৮ জন পুলিশ সদস্যকে জীবিত অবস্থায় জিম্মি করে নিয়ে যায়।

    তিনি বলেন, জিম্মিদের জীবনের ঝুঁকির কারণে নিরাপত্তা বাহিনী ভারী অস্ত্র বা বিমান হামলা চালায়নি। তবে নিরাপত্তা বাহিনী চারদিক থেকে ঘিরে ফেললে সন্ত্রাসীরা জিম্মি করা ১৮ জন পুলিশ সদস্যকেই হত্যা করে।
    শরিফ চৌধুরীর দাবি, উদ্ধার অভিযানে আরও ১১ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। ফলে জিয়ারত এলাকায় মোট ২৬ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে। এই ঘটনার পর বেলুচিস্তান সরকার জিয়ারতের পুলিশ সুপারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। একই সঙ্গে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে হামলার পুরো ঘটনাক্রম পুনর্গঠন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা, কমান্ড পর্যায়ের ব্যর্থতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা ছিল কিনা তা তদন্ত করে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।

    পাক সেনাবাহিনীর কনভয়ে হামলা
    জিয়ারতে অভিযান চলাকালেই বেলুচিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলের লাসবেলা জেলার বেলা-উইন্ডার এলাকায় এন-২৫ মহাসড়কে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি কনভয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
    আইএসপিআরের দাবি, বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এই হামলা চালিয়েছে। এতে একজন জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার (জেসিও) ও ১০ জন সৈন্যসহ মোট ১১ জন সেনাসদস্য নিহত হন।
    পাকিস্তানের সেনাবাহিনী জানায়, পাল্টা অভিযানে ১৪ জন হামলাকারী নিহত হয়েছে। অন্যদিকে বিএলএ দাবি করেছে, তাদের যোদ্ধারা ওই হামলায় ১৭ জন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করেছে এবং অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করেছে।

    টানা হামলায় চাপে পাকিস্তান
    চার দিনের ব্যবধানে বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক হামলার পর পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বড় ধরনের চাপে পড়েছে। আইএসপিআরের মহাপরিচালক আহমেদ শরিফ চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে হামলাকারীদের যেখানেই থাকুক খুঁজে বের করার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানে “যুক্তিসঙ্গততা ও আনুপাতিকতার” প্রশ্ন থাকবে না।

    ভারত ও আফগানিস্তানের ওপর দায়
    রাওয়ালপিন্ডিতে সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিআর প্রধান এসব হামলার জন্য ভারত ও আফগানিস্তানকে দায়ী করেন। তার দাবি, ভারতের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো এসব হামলার পেছনে রয়েছে এবং আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে টিটিপি সদস্যরা পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে।
    তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক অভিযানে নিহত অনেক জঙ্গিই আফগান নাগরিক। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

    অন্যদিকে ভারত বরাবরের মতোই বেলুচ বিদ্রোহীদের সমর্থনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। একইভাবে আফগান তালেবান সরকারও তাদের ভূখণ্ড পাকিস্তানবিরোধী হামলায় ব্যবহারের অভিযোগ নাকচ করেছে।
    প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ বেলুচিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহ, সশস্ত্র হামলা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কেন্দ্র।

    বিএলএর মতো সংগঠনগুলো একদিকে সশস্ত্র অভিযান চালিয়ে আসছে, অন্যদিকে জোরপূর্বক গুম, রাজনৈতিক অধিকার এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর বেলুচ জনগণের নিয়ন্ত্রণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে বেসামরিক আন্দোলনও চলছে।

    মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী সশস্ত্র বিদ্রোহী ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে একই ধরনের কঠোর দমন-পীড়নের নীতি অনুসরণ করছে। বেলুচ ইয়াকজেহতি কমিটির নেতা মাহরাং বেলুচের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং দীর্ঘদিনের আটকাবস্থাও সেই সমালোচনাকে আরও জোরালো করেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক অভিযান চালিয়ে জঙ্গি দমন করাই বেলুচিস্তানের সংকটের একমাত্র সমাধান নয়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বঞ্চনা, জোরপূর্বক গুম, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং স্থানীয় জনগণের অসন্তোষের মতো মূল সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে এই সহিংসতার চক্র ভাঙা কঠিন হবে।

  • খামেনির দাফনে হাজির হচ্ছেন মোজতবা?

    খামেনির দাফনে হাজির হচ্ছেন মোজতবা?

    ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তেহরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। এ ঘোষণার পর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে আসা নিয়ে জল্পনা তীব্র হয়েছে।

    সিএনএনের লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিতার মৃত্যুর পর সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই হতে পারে মোজতবার প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি দাফন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কিনা, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
    গত এক সপ্তাহ ধরে চলা খামেনির শোকানুষ্ঠান ও শেষযাত্রার কোনো পর্বেই মোজতবাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এ ছাড়া খামেনির দাফনে কারা উপস্থিত থাকবেন, সেই বিষয়ে নির্দিষ্ট কারও নাম প্রকাশ করা হয়নি।
    গত সপ্তাহজুড়ে খামেনি পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তার অন্য তিন ছেলে- মোস্তফা, মাসউদ ও মেইসাম খামেনি।

    এদিকে এরই মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। টানা দুইদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। এনিয়ে ইরানজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগও বেড়েছে।

    গত সপ্তাহে ইসরাইল জানায়, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা তাদের “টার্গেট” বা হত্যার লক্ষ্যবস্তু। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে ইসরাইলি বাহিনীর চালানো হামলায় আলি খামেনিসহ দেশটির কয়েক ডজন শীর্ষ নেতা ও সামরিক কমান্ডার নিহত হন। তবে সেইদিন অল্পের জন্য হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে যান মোজতবা।

    এরপর দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেও এখন পর্যন্ত মোজতবা আত্মগোপনে রয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর পর তিনি কখনো জনসমক্ষে আসেননি বা নিজের কণ্ঠে কোনো বক্তব্য দেননি। সমর্থকদের উদ্দেশে শুধুমাত্র লিখিত বার্তা পাঠিয়েছেন তিনি।
    তার এমন আড়ালে থাকা নিয়েও নতুন করে জল্পনা ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছে।

  • মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির জন্য ইরানকে দায়ী করল মিসর

    মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির জন্য ইরানকে দায়ী করল মিসর

    মার্কিন হামলার জবাবে কুয়েত, বাহরাইনসহ পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মিসর। এই হামলাকে সার্বভৌমত্বের ‘চরম লঙ্ঘন’ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ‘অগ্রহণযোগ্য উসকানি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে কায়রো। খবর আল জাজিরার

    বুধবার (৮ জুলাই) মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আরব ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা বিপন্ন করে— এমন যেকোনো পদক্ষেপকে মিসর দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। একই সঙ্গে অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে সব পক্ষকে সংযম অবলম্বন ও উত্তেজনা হ্রাসের আহ্বান জানিয়েছে কায়রো।

    বিবৃতিতে মিসর কুয়েত ও বাহরাইনের প্রতি তাদের পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে। তাদের নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    মিসরীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা মিসরের নিজস্ব জাতীয় নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক অঞ্চলের নিরাপত্তারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

    ইরানের এই আক্রমণাত্মক আচরণের সমালোচনা করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের এই বারবার চালানো নিন্দনীয় হামলার পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ বা অজুহাত থাকতে পারে না।

  • বলিউড: সৌরভের বায়োপিকের ফার্স্ট লুকে লর্ডসের স্মৃতি, ট্রলের শিকার রাজকুমার

    বলিউড: সৌরভের বায়োপিকের ফার্স্ট লুকে লর্ডসের স্মৃতি, ট্রলের শিকার রাজকুমার

    ভারতীয় সাবেক ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলীর জীবন উঠে আসছে বড় পর্দায়। এখন পুরোদমে চলছে সৌরভের বায়োপিক ‘দাদা’-এর শুটিং। গতকাল সৌরভ গাঙ্গুলীর জন্মদিন উপলক্ষে প্রকাশ করা হয় সিনেমার ফার্স্ট লুক পোস্টার। পাশাপাশি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় মুক্তির তারিখ। ২০২৭ সালের ১৪ মে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানে পরিচালিত সিনেমাটি।

    ২০০২ সালের ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি জয়ের পর লর্ডসের ব্যালকনিতে জার্সি উড়িয়ে সৌরভ গাঙ্গুলীর সেই উদ্‌যাপন ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় দৃশ্য। পোস্টারে লর্ডসের ঐতিহাসিক সেই মুহূর্তকে পুনর্নির্মাণ করেছেন সৌরভ গাঙ্গুলী চরিত্রে অভিনয় করা রাজকুমার রাও। সেই পোস্টার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে রাজকুমার রাওকে উদ্দেশ করে সৌরভ গাঙ্গুলী লিখেছেন, ‘জন্মদিনের সেরা উপহার। পর্দায় তোমাকে আমার রূপে দেখার জন্য মুখিয়ে আছি।’

    নিজের বায়োপিকের ফার্স্ট লুক দেখে সৌরভ উচ্ছ্বসিত হলেও, নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া বেশ নেতিবাচক ও মিশ্র। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই পোস্টার দেখে হতাশার কথা জানিয়েছেন। সৌরভের চরিত্রে রাজকুমারকে একেবারে মানায়নি বলে মন্তব্য করছেন নেটিজেনরা। এর আগে শুটিংয়ের দৃশ্য ফাঁস হওয়ার পরেও ট্রলের শিকার হয়েছিলেন রাজকুমার। সে সময় অভিনেতার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সৌরভ। উদাহরণ হিসেবে টেনেছিলেন পর্দায় মহেন্দ্র সিং ধোনি চরিত্রে অভিনয় করা সুশান্ত সিংয়ের কথা।

    সৌরভের ভাষ্য, ‘রাজকুমার দারুণ অভিনেতা। কিন্তু একই রকম দেখতে লোক তো আর পাওয়া যাবে না। ও অভিনয় করছে। আমার জীবনকে সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে। এখানেই মানুষ ভুল করে ফেলে যে, একই দেখতে হবে! কীভাবে হবে? সুশান্ত সিং রাজপুত কি এম এস ধোনির মতো দেখতে? কিন্তু ধোনির চরিত্রে ও চমৎকার কাজ করেছে।’

    টি-সিরিজ এবং লাভ ফিল্মসের ব্যানারে তৈরি এই সিনেমায় শুধু সৌরভের ক্রিকেটিং ক্যারিয়ার বা লড়াকু অধিনায়কত্বই নয়, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও সমান গুরুত্ব পাবে। সৌরভ গাঙ্গুলীর স্ত্রী ডোনা গাঙ্গুলীর চরিত্রে অভিনয় করছেন তানিয়া মানিকতলা। বাবার চরিত্রে অভিনয় করছেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, মায়ের ভূমিকায় অপরাজিতা আঢ্য।

  • বাহরাইনবাসীকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ

    বাহরাইনবাসীকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ

    ইরানের সাম্প্রতিক হামলার পর উপসাগরীয় দেশ বাহরাইনজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির সরকার নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকার পাশাপাশি দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

    বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দেশজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন সক্রিয় করা হয়েছে। সবাইকে আতঙ্কিত না হয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, জনসাধারণ যেন শান্ত থাকে এবং দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়। একই সঙ্গে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দফা হামলার জবাবে ইরান যে পালটা হামলা শুরু করেছে, তার প্রেক্ষাপটে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে।

  • ইরানের মাশহাদে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

    ইরানের মাশহাদে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

    ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা যে শহরে, সেই মাশহাদেই যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তেহরানের সঙ্গে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআরবি জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় রেলপথটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। অন্যদিকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দুটি সেতু ধ্বংস হয়েছে।

    ইরানের ইসলামিক রিপাবলিক রেলওয়ের একজন মুখপাত্র আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম তাসনিমকে বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এই রুটটি মেরামতের চেষ্টা চলছে।

    রাজধানী তেহরান এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের মধ্যকার এই রেলপথটি ইরানের সবচেয়ে ব্যস্ত রুট বলে জানা যায়।

    এর আগে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, গত রাতে আমরা ইরানে খুব কঠোরভাবে হামলা চালিয়েছি, খুবই কঠোরভাবে। সম্ভবত আজ রাতেও তাদের ওপর ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।

    এদিকে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহবাহী বিমান দেশটির পূর্বাঞ্চলের পবিত্র শহর মাশহাদে পৌঁছেছে।

    ইরানের গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, মরদেহ বহনকারী মাহান এয়ারের বিমানটি অবতরণের পর বিমানবন্দরে চলাচল করছে। প্রসঙ্গত, মাশহাদই আলি খামেনির জন্মশহর।

    এর আগে ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হয়। এসব অনুষ্ঠানে লাখো মানুষ অংশ নেন।

    খামেনির মৃত্যুর পর গত ছয় দিন ধরে ইরান ও ইরাকজুড়ে শোকানুষ্ঠান ও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি চলছে। এর অংশ হিসেবে ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালাসহ বিভিন্ন স্থানে জানাজা ও শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নাজাফ থেকে মাশহাদে কফিন স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে সেই কর্মসূচির শেষ পর্ব সম্পন্ন হচ্ছে।

    খামেনির কার্যালয়ের প্রধান মোহাম্মদ মোহাম্মাদি গোলপায়েগানি জানিয়েছেন, জীবদ্দশায় খামেনি ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন যেন তাকে মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারের কাছে দাফন করা হয়।

  • চীনে টাইফুন তাণ্ডবে বাঁধ ভেঙে বন্যা-ভূমিধসে নিহত ৩৮

    চীনে টাইফুন তাণ্ডবে বাঁধ ভেঙে বন্যা-ভূমিধসে নিহত ৩৮

    টাইফুন মায়সাকের প্রভাবে চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারি বৃষ্টি, ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। প্রবল বর্ষণে একটি জলাধারের বাঁধ ভেঙে গেছে, উপচে পড়েছে কয়েক ডজন নদী এবং হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলের গুয়াংসি অঞ্চলে টাইফুনের প্রভাবে সৃষ্ট বন্যায় অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় একলাখ ৩০ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে।

    চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গুয়াংসিতে অন্তত ৪০টি নদী ও জলপথ বিপৎসীমা অতিক্রম করে উপচে পড়েছে। এতে প্রায় ১৩ হাজার একর কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি জলাধারের কংক্রিটের বাঁধ ভেঙে প্রবল স্রোতে পানি বেরিয়ে যাচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা লাইফ জ্যাকেট পরে রাবারের নৌকায় দুর্গতদের উদ্ধারে কাজ করছেন।

    দুর্যোগ মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অতিরিক্ত ত্রাণসামগ্রী, খাদ্য, রেইনকোট ও রাবারের নৌকা পাঠিয়েছে চীনের কেন্দ্রীয় সরকার।

    চীনের বন্যা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গুয়াংসিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাত্রার জরুরি সতর্কতা বহাল রেখেছে। দেশটির পানি সম্পদমন্ত্রী লি গোইং বলেছেন, উঝৌ জলপরিমাপ কেন্দ্রে নদীর পানি বিপৎসীমার ছয় মিটারেরও বেশি ওপরে উঠতে পারে। টানা বৃষ্টি ও উচ্চমাত্রার পানির প্রবাহের কারণে জলাধার ও বাঁধগুলোর নিরাপত্তা এখন বড় পরীক্ষার মুখে।

    এদিকে মধ্যাঞ্চলের হুবেই প্রদেশে বজ্রঝড় ও ঘণ্টায় তীব্র গতির বাতাসে আরও ১১ জন নিহত এবং ৩৩১ জন আহত হয়েছেন। একজন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৪ হাজার ৮০০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ২২টি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।

    অন্যদিকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গানসু প্রদেশে ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার সকালে দাংচাং কাউন্টির রেনচাং গ্রামে ভূমিধসে ৩৩ জন মাটিচাপা পড়েন। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ২১ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ভূমিধসের কারণ তদন্ত করা হচ্ছে এবং পুনর্গঠনের জন্য ৩ কোটি ইউয়ান বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

    চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উদ্ধারকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে জরুরি ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন।

  • পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

    পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

    পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শুধু গাছ লাগানোর ঘোষণা দিলেই হবে না, প্রকৃতপক্ষে কতটি গাছ রোপণ করা হয়েছে, তার সঠিক হিসাব থাকতে হবে।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী উদাহরণ টেনে বলেন, ডুলাহাজারা হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের সময় বিপুলসংখ্যক গাছ কাটা হয়েছিল। পরে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সেখানে সাত লাখ গাছ রোপণ করা হয়েছে। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বাস্তবে সর্বোচ্চ দুই লাখ গাছ লাগানো হয়েছে।

    তিনি বলেন, “সাত লাখ গাছ লাগানোর কথা বলা হলেও পরে দেখা গেছে সর্বোচ্চ দুই লাখের মতো গাছ রোপণ করা হয়েছে। এটি সত্যিই দুঃখজনক।”

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ইচ্ছেমতো গাছ লাগালেই হবে না। কোন এলাকার মাটি, জলবায়ু ও পরিবেশের সঙ্গে কোন প্রজাতির গাছ উপযোগী, তা বিবেচনায় নিয়েই বৃক্ষরোপণ করতে হবে।

    তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণ শুধু পরিবেশ রক্ষার জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ ও সুন্দর জীবন নিশ্চিত করার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “একটি সন্তান জন্ম নিলে একটি গাছ লাগিয়ে সেই জন্মকে স্মরণীয় করে তুলি। সন্তান ও গাছ- দুটিই একসঙ্গে বেড়ে উঠুক।”

    সরকারের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবুজায়নের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

    তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়, এটি বর্তমান বাস্তবতা। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, নদীভাঙন ও লবণাক্ততা দেশের কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং জনজীবনের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। এ কারণেই সরকার পরিবেশকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে।

    বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানীসহ দেশের সব নগর ও শহরে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার বিকল্প নেই। প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো, জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং রিডিউস, রিইউজ ও রিসাইকেল (থ্রি-আর) নীতির বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।

    তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণও জরুরি। সবাইকে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “নিজে সুস্থ থাকুন, নিজের পরিবারের জন্যও পরিবেশ সুন্দর রাখুন।”

    অনুষ্ঠানে বন ও পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

  • যুক্তরাষ্ট্রে পুরস্কৃত ‘মানুষের বাগান’, অস্ট্রেলিয়ার উৎসবে তিন সিনেমা

    যুক্তরাষ্ট্রে পুরস্কৃত ‘মানুষের বাগান’, অস্ট্রেলিয়ার উৎসবে তিন সিনেমা

    সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বেড়েছে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ। শুধু অংশগ্রহণ নয়, পুরস্কার জেতার খবরও আসছে নিয়মিত। এবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এনএবিসি উত্তর আমেরিকা বঙ্গ সম্মেলনে সেরা ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড জিতেছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ‘মানুষের বাগান’। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব মেলবোর্ন (আইএফএফএম) ২০২৬-এ জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের তিন সিনেমা ‘রইদ’, ‘দেলুপি’ ও ‘বালুর নগরীতে’।

    ২ থেকে ৬ জুলাই নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয় ৪৬তম নর্থ আমেরিকান বেঙ্গলি কনফারেন্স। চার দিনের এই বঙ্গ সম্মেলনে একত্র হয়েছিলেন বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। সংগীত, নাটক ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির উদ্‌যাপন করা হয় এই আয়োজনে। উৎসবের শেষ দিনে প্রদর্শিত হয় নুরুল আলম আতিক পরিচালিত মানুষের বাগান। উপস্থিত দর্শকেরা প্রশংসা করেন সিনেমাটির। দর্শকদের প্রশংসার পাশাপাশি প্রতিযোগিতার সেরা ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড জিতে নেয় মানুষের বাগান। এর আগে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৫তম দিল্লি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতেছে সিনেমাটি।

    সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাঁচটি গল্প নিয়ে এগিয়েছে মানুষের বাগান সিনেমার কাহিনি। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জ্যোতিকা জ্যোতি, মনোজ প্রামাণিক, অর্চিতা স্পর্শিয়া, প্রসূন আজাদ, মুনিরা মিঠু, দীপান্বিতা মার্টিন প্রমুখ।

    এদিকে আগামী ১৩ থেকে ২৩ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত হবে ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব মেলবোর্নের ১৭তম আসর। উৎসবের বেস্ট ফিল্ম ফ্রম দ্য সাবকন্টিনেন্ট বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে মেজবাউর রহমান সুমনের রইদ, মোহাম্মদ তৌকির ইসলামের দেলুপি এবং মেহেদি হাসানের বালুর নগরীতে।

    এই উৎসবে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে মনোনয়ন পেয়েছে বাংলাদেশের তিনটি সিনেমা। এই বিভাগে আরও রয়েছে আফগানিস্তানের দুটি, নেপালের দুটি ও শ্রীলঙ্কার একটি সিনেমা। এর আগে বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়েছে রইদ, দেলুপি ও বালুর নগরীতে। রইদ ও দেলুপি ইতিমধ্যে মুক্তি পেয়েছে দেশের প্রেক্ষাগৃহে। গত ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া রইদ এখনো চলছে সিনেপ্লেক্সে

  • অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরেনিয়াম কিনবে ভারত

    অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরেনিয়াম কিনবে ভারত

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জানান, অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে ইউরেনিয়াম সরবরাহ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে ভারত।

    এটি ভারতের পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে আগামী বছরগুলোতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন মোদি। বিশ্বের মোট ইউরেনিয়াম মজুদের প্রায় ২৮ শতাংশ অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছে।

    অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সাথে বৈঠকের পর মোদি বলেন, ‘আজ আমরা পারমাণবিক জ্বালানি বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছি।’

    তিনি আরো বলেন, ‘এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতে ইউরেনিয়াম সরবরাহের পথ উন্মুক্ত হবে। একইসাথে আমাদের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি লক্ষ্যে নতুন গতি আসবে।’

    দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ব্যবস্থার আওতায় শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে দীর্ঘমেয়াদে অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরেনিয়াম রফতানি করা হবে। এতে আরো বলা হয়, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্ধারিত সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় এই রফতানি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

    আলবানিজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতে ইউরেনিয়াম রফতানির সুযোগ সৃষ্টি করবে। এর ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির বাইরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে।’

    ভারত ও অস্ট্রেলিয়া ২০১৫ সালে পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি করে। ওই চুক্তির মাধ্যমে ইউরেনিয়াম রফতানির ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। তবে আইনি জটিলতা থেকে যাওয়ায় এতদিন দুই দেশের মধ্যে এ বাণিজ্য প্রায় ছিলই না। বৃহস্পতিবারও দুই দেশের সম্পর্ক আরো জোরদারে মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করেন আলবানিজ।

    তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি, আপনার নেতৃত্ব এবং অস্ট্রেলিয়ার সাথে আপনার ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততাই এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি।’ অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে মোদির নিউজিল্যান্ড যাওয়ার কথা রয়েছে।

  • ইরানের ৮টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে জর্ডান

    ইরানের ৮টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে জর্ডান

    জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরান থেকে ছোড়া আটটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে ভূপাতিত করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী।

    জর্ডান সশস্ত্র বাহিনী-আরব আর্মির জেনারেল কমান্ডের একটি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, এই প্রতিহতকরণ অভিযানের ফলে বেশ কয়েকটি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে।

    সূত্রটি জানিয়েছে, এতে কোনো হতাহত বা বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সশস্ত্র বাহিনী আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জর্ডানের আকাশসীমা রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

    টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাতের মধ্যেই এই ঘটনাটি ঘটল।

    এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, তেহরান বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, বাহরাইনের কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক সাইরেন বাজিয়েছে এবং আকাশপথে হুমকি প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে।

  • মিশরকে ‘পুরস্কৃত’ করছে ফিফা

    মিশরকে ‘পুরস্কৃত’ করছে ফিফা

    টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলেও এবারের বিশ্বকাপে পারফরম্যান্স দিয়ে আলাদা করে নজর কেড়েছে মিশর। সেই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ফিফার কাছ থেকে রেকর্ড পরিমাণ আর্থিক প্রণোদনা পাচ্ছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। বর্তমান পুরস্কার কাঠামো অনুযায়ী মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (ইএফএ) প্রাপ্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    এবারের আসরে একাধিক কীর্তি গড়েছে ‘ফারাও’রা। নকআউট পর্বে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে জায়গা করে নেয় তারা। একই সঙ্গে একটি বিশ্বকাপ আসরে সর্বোচ্চ পাঁচটি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও গড়ে মিশর।

    গোল করার দিক থেকেও নিজেদের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে দলটি। পুরো টুর্নামেন্টে মোট আটবার প্রতিপক্ষের জাল খুঁজে নিয়ে এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড গড়ে তারা। বেলজিয়াম, ইরান ও নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে গঠিত কঠিন গ্রুপ থেকে রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্বে ওঠা মিশর শেষ পর্যন্ত দুটি জয়, দুটি ড্র এবং একটি হার নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করেছে।

    ফিফার পুরস্কার কাঠামো অনুযায়ী, বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণ-সংক্রান্ত ব্যয়ের জন্য মিশর পেয়েছে ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার। মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জনের জন্য যোগ হয়েছে আরও ১০ মিলিয়ন ডলার। আর শেষ ষোলো নিশ্চিত করায় ফেডারেশনের তহবিলে এসেছে অতিরিক্ত ৬ মিলিয়ন ডলার।

    সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ থেকে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই দেশটির সর্বোচ্চ আর্থিক প্রাপ্তি, যা ভবিষ্যতে মিশরের ফুটবল উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

  • যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট

    যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট

    লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসার সঙ্গে বৈঠক করে যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রস্তুতি ও দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে শিগগিরই ওয়াশিংটন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে আউনের।

    প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বৈঠকে আউন দক্ষিণ লেবাননে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরাইলের ওপর চাপ প্রয়োগ করে হামলা বন্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

    এছাড়া তিনি দখলকৃত লেবাননের বিভিন্ন শহরে ইসরাইলি গোলাবর্ষণ ও বুলডোজার দিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধেরও দাবি জানান।

    বৈঠক শেষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা বলেন, প্রেসিডেন্ট আউনের ওয়াশিংটন সফর লেবাননের স্থিতিশীলতার প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। তিনি জানান, আগামী ১৪-১৫ জুলাই ইতালির রোমে লেবানন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে একটি ফলো-আপ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

    রাষ্ট্রদূত আরো জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি মার্কিন সামরিক প্রতিনিধি দল বৈরুতে পৌঁছাবে। তারা ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহারের পর পরীক্ষামূলকভাবে নির্ধারিত কয়েকটি এলাকা লেবাননের সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের সমন্বয় করবে।

  • শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের প্রচেষ্টার প্রশংসা জাতিসংঘের

    শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের প্রচেষ্টার প্রশংসা জাতিসংঘের

    জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি । বৈঠকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। এ সময় তারা আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

    আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় দেশটির দীর্ঘদিনের ভূমিকার ওপর আলোকপাত করা হয়।

    জাতিসংঘের মহাসচিব শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের অব্যাহত প্রচেষ্টা ও অবদানের প্রশংসা করেন এবং আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশটির মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেন।

  • উপসর্গ ছাড়াই মস্তিষ্কের সাইলেন্ট স্ট্রোক

    উপসর্গ ছাড়াই মস্তিষ্কের সাইলেন্ট স্ট্রোক

    স্ট্রোক মানেই হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা মুখ বেঁকে যাওয়ার মতো লক্ষণ—এমন ধারণাই বেশি প্রচলিত। তবে চিকিৎসকদের মতে, এমন এক ধরনের স্ট্রোক রয়েছে, যা কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই নীরবে মস্তিষ্কের ক্ষতি করে যেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি ‘সাইলেন্ট স্ট্রোক’ নামে পরিচিত।

    সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের নিউরোসার্জন ডা. বৈভব প্যাটেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, প্রতি সপ্তাহেই তার কাছে এমন রোগী আসেন, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, স্বাস্থ্যকর খাবার খান এবং সুস্থ জীবনযাপন করেন। কিন্তু এমআরআই পরীক্ষায় দেখা যায়, তাদের মস্তিষ্কে ছোট ছোট ক্ষত তৈরি হয়েছে, যদিও তারা কখনো বুঝতেই পারেননি যে তাদের স্ট্রোক হয়েছিল।

    কেন এটি ‘সাইলেন্ট স্ট্রোক’?
    ডা. বৈভব প্যাটেলের মতে, সাধারণ স্ট্রোকের মতো এতে হাত-পায়ে দুর্বলতা, কথা বলতে সমস্যা বা মুখ বেঁকে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে অধিকাংশ মানুষ বুঝতেই পারেন না যে তাদের মস্তিষ্কে ক্ষতি হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে একাধিক সাইলেন্ট স্ট্রোক স্মৃতিশক্তি হ্রাস, ভারসাম্য নষ্ট হওয়া এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।যেসব লক্ষণ অবহেলা করা ঠিক নয়
    ভারতের নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের পরিচালক ডা. ধ্রুব চতুর্বেদীর মতে, সাইলেন্ট স্ট্রোকের স্পষ্ট লক্ষণ না থাকলেও কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। যেমন—হঠাৎ স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া, মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা হওয়া, হাঁটার সময় ভারসাম্য হারানো, শরীরের কোনো অংশে হালকা অসাড় অনুভূতি, চিন্তাভাবনা ধীর হয়ে যাওয়া, আচরণ বা মেজাজে অস্বাভাবিক পরিবর্তন।

    তিনি বলেন, অনেকেই এসব সমস্যাকে বয়সের প্রভাব বা মানসিক চাপ মনে করে এড়িয়ে যান। কিন্তু এগুলো সাইলেন্ট স্ট্রোকের ইঙ্গিতও হতে পারে।

    শনাক্ত করবেন কীভাবে?বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইলেন্ট স্ট্রোক শনাক্ত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এমআরআই পরীক্ষা। এতে মস্তিষ্কের ক্ষুদ্র ক্ষতও ধরা পড়ে। বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে, তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত।

    ঝুঁকি কমাতে কী করবেন?
    ডা. ধ্রুব চতুর্বেদীর পরামর্শ অনুযায়ী, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস মস্তিষ্কের রক্তনালি সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান থেকে বিরত থাকাও জরুরি।

    সাইলেন্ট স্ট্রোকের পর সুস্থ থাকা সম্ভব?
    চিকিৎসকদের ভাষ্য, স্ট্রোকে ক্ষতিগ্রস্ত মস্তিষ্কের কোষ পুনরায় তৈরি হয় না। তবে সময়মতো রোগ শনাক্ত করা গেলে পরবর্তী ক্ষতি অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। এজন্য রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত ব্যায়াম, মানসিক অনুশীলন, পর্যাপ্ত ঘুম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও সবুজ শাকসবজি সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নিয়ে নিয়মিত পরীক্ষা করালে ভবিষ্যতে স্মৃতিভ্রংশসহ বিভিন্ন জটিলতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

  • জনপ্রিয়তায় নেতানিয়াহুকে ছাড়ালেন মামদানি

    জনপ্রিয়তায় নেতানিয়াহুকে ছাড়ালেন মামদানি

    ইসরাইলের প্রতি মার্কিন জনসমর্থন আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক রিসার্সের সাম্প্রতিক জরিপে উঠে এসেছে এমন তথ্য। জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি তিনজনে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক মনে করেন, গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালাচ্ছে ইসরাইল। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য এসেছে নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানিকে নিয়ে। ইসরাইলের কড়া সমালোচক এই মেয়র ইহুদি-আমেরিকানদের মধ্যে নেতানিয়াহুর তুলনায় বেশি জনপ্রিয়।

    জরিপে অংশ নেওয়া ইহুদি-আমেরিকানদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ মনে করেন, ইসরাইল গণহত্যা চালিয়েছে। আর ৪৯ শতাংশ মনে করেন, গণহত্যা হয়নি।

    ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদিদের মধ্যে অত্যন্ত অজনপ্রিয়। জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি ১০ জন ইহুদি উত্তরদাতার মধ্যে প্রায় ছয়জন নেতানিয়াহুকে অপছন্দ করেন। আর পছন্দ করেন এক-তৃতীয়াংশ ইহুদি।

    নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিকে নেতানিয়াহুর তুলনায় বেশি পছন্দ করেন ইহুদি-আমেরিকানরা। জরিপ অনুযায়ী, ৪৪ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ইহুদি মামদানিকে পছন্দ করেন। নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখেন ৩৯ শতাংশ উত্তরদাতা। ১৭ শতাংশ এ বিষয়ে কোনো মত দেননি।

    সামগ্রিকভাবেও মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা কম। তাকে পছন্দ করেন ২০ শতাংশ, আর অপছন্দ করেন ৩৮ শতাংশ মার্কিনি। ৪১ শতাংশ উত্তরদাতা এ বিষয়ে কোনো মত দেননি।

  • চীনে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮

    চীনে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮

    টাইফুন মায়সাকের প্রভাবে চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারি বৃষ্টি, ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলের গুয়াংসি অঞ্চলে টাইফুনের প্রভাবে সৃষ্ট বন্যায় অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে।

    চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গুয়াংসিতে অন্তত ৪০টি নদী ও পানিপথ বিপৎসীমা অতিক্রম করে উপচে পড়েছে। এতে প্রায় ১৩ হাজার একর কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি জলাধারের কংক্রিটের বাঁধ ভেঙে প্রবল স্রোতে পানি বেরিয়ে যাচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা লাইফ জ্যাকেট পরে রাবারের নৌকায় দুর্গতদের উদ্ধারে কাজ করছেন।

    দুর্যোগ মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অতিরিক্ত ত্রাণসামগ্রী, খাদ্য, রেইনকোট ও রাবারের নৌকা পাঠিয়েছে চীনের কেন্দ্রীয় সরকার।

    চীনের বন্যা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গুয়াংসিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাত্রার জরুরি সতর্কতা বহাল রেখেছে। দেশটির পানি সম্পদমন্ত্রী লি গোইং বলেছেন, উঝৌ জলপরিমাপ কেন্দ্রে নদীর পানি বিপৎসীমার ছয় মিটারেরও বেশি ওপরে উঠতে পারে। টানা বৃষ্টি ও উচ্চমাত্রার পানির প্রবাহের কারণে জলাধার ও বাঁধগুলোর নিরাপত্তা এখন বড় পরীক্ষার মুখে।

    এদিকে মধ্যাঞ্চলের হুবেই প্রদেশে বজ্রঝড় ও ঘণ্টায় তীব্র গতির বাতাসে আরো ১১ জন নিহত এবং ৩৩১ জন আহত হয়েছেন। একজন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৪ হাজার ৮০০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ২২টি ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।

    অন্যদিকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গানসু প্রদেশে ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার সকালে দাংচাং কাউন্টির রেনচাং গ্রামে ভূমিধসে ৩৩ জন মাটিচাপা পড়েন।

    উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ২১ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ভূমিধসের কারণ তদন্ত করা হচ্ছে এবং পুনর্গঠনের জন্য ৩ কোটি ইউয়ান বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

    চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উদ্ধারকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে জরুরি ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন।

  • যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরও অক্ষত বুশেহর পারমাণবিক প্রকল্প

    যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরও অক্ষত বুশেহর পারমাণবিক প্রকল্প

    যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার পর ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে দাবি করেছে তেহরান। ইরানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

    স্থানীয় সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, বুশেহর এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হামলার পর ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ (শ্র্যাপনেল) বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর পড়ার খবরও ছড়িয়ে পড়ে। তবে এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুশেহর পারমাণবিক স্থাপনায় কোনো ধরনের ক্ষতি হয়নি।

    প্রায় দুই দশক আগে রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিত বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল না। ওই সময় মূলত নাতাঞ্জ, ফোরদো এবং ইস্পাহানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে হামলা চালানো হয়।

    যুদ্ধ চলাকালে বুশেহর কেন্দ্রে রুশ কারিগরি বিশেষজ্ঞরাও দায়িত্ব পালন করছিলেন। সর্বশেষ তেহরানের দাবি অনুযায়ী, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে এবং সেখানে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।

  • প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় জাতিসংঘে  স্থায়ী প্রতিনিধি হলেন আইরিন খান

    প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি হলেন আইরিন খান

    আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানবাধিকারকর্মী আইরিন খানকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। পরে তাঁকে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

    আইরিন খানকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা দিয়ে আজ বুধবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে বলা হয়, আইরিন খান এ পদে অধিষ্ঠিত থাকাকালে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

    আইরিন খান জাতিসংঘে বাংলাদেশের বর্তমান স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।

    আইরিন খান বর্তমানে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ারের দায়িত্বে আছেন। এর আগে তিনি যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

  • হলিউডকে টানতে মরক্কোয় তৈরি হচ্ছে বিশাল সিনেমা সিটি

    হলিউডকে টানতে মরক্কোয় তৈরি হচ্ছে বিশাল সিনেমা সিটি

    ঐতিহাসিক ও মহাকাব্যিক গল্পের ক্ষেত্রে হলিউড পরিচালকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় লোকেশন মরক্কোর ওয়ারজাজাত শহর। রিডলি স্কটের সাম্প্রতিক সৃষ্টি ‘গ্ল্যাডিয়েটর ২’সহ অসংখ্য ব্লকবাস্টার সিনেমার সেট পড়েছে সেখানে। এবার সেই ওয়ারজাজাতকে কেন্দ্র করে ফিল্ম সিটি নির্মাণের বড় উদ্যোগ নিয়েছে মরক্কো সরকার। সেখানে তৈরি হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের এক বিশাল ফিল্ম প্রোডাকশন হাব, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল সিনেমা সিটি’।

    মরক্কোর যুব, সংস্কৃতি ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই ফ্ল্যাগশিপ প্রজেক্টের নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে গত ২৭ জুন। ওয়ারজাজাত শহরের মূল প্রবেশদ্বারে ২৪ একর জমির ওপর গড়ে উঠছে এই সুবিশাল সিনেমা সিটি। মরক্কো সরকার এই প্রকল্পে ২৪০ মিলিয়ন মরোক্কান দিরহাম বিনিয়োগ করছে।

    অ্যাটলাস পর্বতমালা ও সাহারা মরুভূমির মধ্যবর্তী এই সিনেমা সিটি মূলত একটি ‘ওয়ান-স্টপ-শপ’ হিসেবে কাজ করবে। অর্থাৎ একটি সিনেমা বা সিরিজের প্রি-প্রোডাকশন থেকে শুরু করে শুটিং, ভিএফএক্স এবং মুক্তি পর্যন্ত যা যা প্রয়োজন, তার সবই মিলবে এক ছাদের নিচে।

    এই সিনেমা সিটিতে থাকবে বিশ্বমানের একাধিক সাউন্ড স্টেজ, এডিটিং ও স্ক্রিনিং রুম। এ ছাড়া চলচ্চিত্র নির্মাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আধুনিক ইমারসিভ প্রযুক্তির ব্যবহারের জন্য রাখা হচ্ছে আলাদা ডেডিকেটেড স্পেস। স্থানীয় কলাকুশলী ও নতুন প্রতিভার ব্যক্তিদের বিভিন্ন কারিগরি ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে থাকবে বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং দেশি-বিদেশি শুটিং টিমের আবাসের জন্য আধুনিক হোটেল সুবিধা।

    বর্তমানে হলিউডে সিনেমা নির্মাণের খরচ দিন দিন বাড়তে থাকায় সেখানকার বড় বড় স্টুডিও এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো কম খরচে উন্নত সুবিধার খোঁজে মরক্কোর মতো দেশের দিকে ঝুঁকছে। মরক্কো সরকারও এই সুযোগ লুফে নিতে আন্তর্জাতিক নির্মাতাদের জন্য ৩০ শতাংশ ক্যাশ রিবেট, সম্পূর্ণ ভ্যাট অব্যাহতি, শুটিংয়ের যন্ত্রপাতি ভাড়ার ওপর ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট এবং হোটেল বুকিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দিচ্ছে।

    গত কয়েক বছরে ওয়ারজাজাত শহরে ইন্ডিয়ানা জোন্স ফ্র্যাঞ্চাইজির ‘ইন্ডিয়ানা জোন্স অ্যান্ড দ্য ডায়াল অব ডেসটিনি’, নিকোলাস কেজের ‘লর্ড অব ওয়ার’-এর সিকুয়েল, ফরাসি ঐতিহাসিক এপিক ‘ডি গল: রেজিস্ট্যান্স’সহ অনেক আলোচিত সিনেমার শুটিং হয়েছে। এর বাইরেও বিশ্বখ্যাত সিরিজ ‘গেম অব থ্রোনস’-এর কিছু অংশ এবং মার্টিন স্করসেসির ‘দ্য লাস্ট টেম্পটেশন অব ক্রাইস্ট’-এর মতো ইতিহাস কাঁপানো প্রজেক্টের সেটও বসেছিল সেখানে।

    মরক্কো সরকারের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৫ সালে মরক্কোয় শুটিং হওয়া বিদেশি প্রজেক্টগুলো থেকে প্রায় ১৩০ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ এসেছে। নতুন সিনেমা সিটি চালু হলে এই বিনিয়োগের পরিমাণ ভবিষ্যতে আরও বহুগুণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • কোটি কোটি সমর্থক, তবু ফুটবলে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান?

    কোটি কোটি সমর্থক, তবু ফুটবলে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান?

    বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান কিংবা ইন্দোনেশিয়ার রাস্তাঘাটে ফুটবল উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে বড় পর্দায় আর্জেন্টিনার খেলা দেখতে হাজারো মানুষের ভিড়, মেসির গোলে উল্লাস সবই যেন বিশ্বকাপের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অথচ সেই উল্লাসে নিজের দেশের কোনো দল নেই। প্রশ্ন উঠছে, কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী থাকা সত্ত্বেও কেন বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারছে না এসব দেশ?

    বার্তাসংস্থা বিবিসির এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, শুধু জনসংখ্যা নয়; অর্থনৈতিক সক্ষমতা, অবকাঠামো, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং ফুটবল সংস্কৃতির ধারাবাহিক বিকাশ এসবই একটি দেশের বিশ্বকাপে সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    ঢাকায় মেসির গোলেই উৎসব, কিন্তু মাঠে নেই বাংলাদেশ

    ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচে লিওনেল মেসি গোল করার পর ঢাকার বিভিন্ন খোলা প্রাঙ্গণে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন হাজারো সমর্থক। অনেকের গায়ে ছিল আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সি। কিন্তু সেই দর্শকদের একজনও আর্জেন্টিনার নাগরিক ছিলেন না; তারা সবাই বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমী।

    ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন শহরেও একই ধরনের দৃশ্য দেখা গেছে। নিজেদের দল বিশ্বকাপে না থাকায় অনেক সমর্থক আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল কিংবা অন্যান্য জনপ্রিয় দলকে সমর্থন করেন।

    জনসংখ্যা বড় হলেই সাফল্য আসে না

    তাত্ত্বিকভাবে একটি দেশের জনসংখ্যা যত বেশি, প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বেশি। বিশ্বকাপজয়ী দেশগুলোর বেশিরভাগই জনবহুল যেমন ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইংল্যান্ড, ইতালি ও স্পেন তার উদাহরণ।

    তবে ব্যতিক্রম উরুগুয়ে। মাত্র সাড়ে ৩৫ লাখ মানুষের দেশটি দুইবার বিশ্বকাপ জিতেছে।

    ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ ও ‘সকারনোমিকস’ বইয়ের সহলেখক স্টেফান সিজমানস্কির মতে, জনসংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটি একমাত্র শর্ত নয়।

    তার ভাষায়, ‘একটি দেশের ফুটবলে সফল হতে মানুষের পাশাপাশি অর্থ, অবকাঠামো এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা প্রয়োজন।’

    সিজমানস্কি বলেন, যেসব দেশ বিশ্বকাপ জিতেছে, তাদের বেশিরভাগই দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছে। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো শত বছরেরও বেশি সময় ধরে উচ্চমানের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ায় তারা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।

    তার গবেষণা অনুযায়ী, সাধারণত বিশ্বকাপ জিততে মাথাপিছু গড় আয় ১৫ হাজার ডলারের বেশি হওয়া দরকার। যদিও ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা তুলনামূলক কম আয় নিয়েও সফল হয়েছে, কারণ তাদের ফুটবল ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতা অনেক সমৃদ্ধ।

    বাংলাদেশে কাঠামোগত দুর্বলতা

    বাংলাদেশের অভিনেতা, লেখক ও ফুটবল বিশ্লেষক অদিতি করিম বিবিসিকে বলেন, ‘লাখো-কোটি ফুটবল সমর্থক থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এত পিছিয়ে থাকবে এটা মেনে নেওয়া যায় না।’

    তার মতে, ক্রিকেট জনপ্রিয় হওয়া কোনো অজুহাত নয়।

    তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডও ক্রিকেট পরাশক্তি, কিন্তু তারা নিয়মিত বিশ্বকাপে খেলছে। আমাদের সমস্যা জনপ্রিয়তা নয়, বরং প্রস্তুতি, পরিকল্পনা ও কাঠামোর অভাব।’

    তিনি আরও বলেন, ‘বাস্তবতা বিবেচনায় আমার জীবদ্দশায় বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে খেলতে দেখার সম্ভাবনা আমি দেখি না। তবে বাংলাদেশি সমর্থকেরা বিশ্বকাপের আনন্দ থেকে নিজেদের কখনো দূরে রাখবেন না।’

    ভারতের সমস্যা ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা

    ভারতের সাবেক ফুটবলার শ্যাম থাপার মতে, দেশটির অন্যতম বড় সমস্যা ক্রিকেটের বিপুল জনপ্রিয়তা।

    তিনি বলেন, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) আর্থিক সাফল্যের কারণে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সন্তানদের ফুটবলের বদলে ক্রিকেটে উৎসাহিত করছে।

    তবে তার বিশ্বাস, ফুটবলেও সফল ক্যারিয়ার গড়ে ভালো আয় করা সম্ভব এই বার্তাটি পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছানো জরুরি।

    চীনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ

    চীন ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপে ফিরতে পারেনি, যদিও গত এক দশকে ফুটবলে বিপুল বিনিয়োগ করেছে।

    বেইজিংভিত্তিক ফুটবল বিশ্লেষক মার্ক ড্রেয়ারের মতে, সমস্যার মূল কারণ অতিরিক্ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ।

    তার ভাষায়, ‘ফুটবলের সিদ্ধান্ত ফুটবল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নেওয়া উচিত। কিন্তু চীনে সবকিছুই রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করে।’

    ইন্দোনেশিয়ার ভিন্ন পথ

    ইন্দোনেশিয়া ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শেষ ধাপ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তবে দেশটির অনেক খেলোয়াড়ই ইউরোপে জন্ম নেওয়া ইন্দোনেশীয় বংশোদ্ভূত।

    বিবিসি ইন্দোনেশিয়ার জেরোম উইরাওয়ান জানান, অনেক ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার শুরুর একাদশে আট বা নয়জন ইউরোপে জন্ম নেওয়া ফুটবলার খেলেছেন।

    অবকাঠামো সংকটে ইথিওপিয়া

    ইথিওপিয়াও কখনো বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি। দেশটির পেশাদার লিগ বর্তমানে উপযুক্ত স্টেডিয়ামের সংকটে ভুগছে।

    ইথিওপিয়ান প্রিমিয়ার লিগের প্রধান নির্বাহী কিফলে সাইফে জানান, চলতি মৌসুমে ৩৮০টির বেশি ম্যাচ মাত্র তিনটি অনুমোদিত স্টেডিয়ামে আয়োজন করতে হয়েছে। এমনকি জাতীয় দলকেও বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ‘হোম ম্যাচ’ মরক্কোতে খেলতে হয়েছে।

    বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের হতাশা

    ২০২৬ বিশ্বকাপের এশিয়ান বাছাইপর্বে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দুই দলই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে। ছয় ম্যাচে কোনো জয়ই পায়নি তারা।

    এছাড়া ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রশাসনিক সংকটের কারণে পাকিস্তানকে তিনবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা।

    বিশ্লেষকদের মতে, জনসংখ্যা বা ফুটবলের জনপ্রিয়তা নয়; দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শক্তিশালী ফুটবল কাঠামো, অবকাঠামো, বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত পরিচালনাই বিশ্বকাপে পৌঁছানোর মূল চাবিকাঠি। আর এসব ক্ষেত্রেই এখনও অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে।

  • আর্জেন্টিনার জয়ে রেফারির পক্ষপাত, যা বললেন মেসি

    আর্জেন্টিনার জয়ে রেফারির পক্ষপাত, যা বললেন মেসি

    মিশরের বিপক্ষে নাটকীয়তার ম্যাচে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ গোলে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনার। এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে চলে গেল বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

    গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় মিশরের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পেনাল্টি মিসের আক্ষেপ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

    মেসি বলেন, ‘পেনাল্টি মিস করার পর আমি ভীষণ রেগে গিয়েছিলাম নিজের ওপর। যেভাবে আমি শটটা নিয়েছি, তাতে আমার মনে হচ্ছিল, আমি পুরো দলকে ডুবিয়ে দিলাম।’

    মঙ্গলবার রাতে আটালান্টায় ম্যাচের শুরুতেই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ে আর্জেন্টিনা। ১৫ মিনিটে ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যায় মিশর। তবে মাত্র ৪ মিনিটের ব্যবধানে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি মেসি। তার নেওয়া শট দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন মিশরের গোলকিপার মোস্তফা শোবের।

    বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির অষ্টম পেনাল্টি। এর মধ্যে চারটিতে গোল করতে ব্যর্থ হন তিনি। একই সঙ্গে (টাইব্রেকার বাদে) বিশ্বকাপের এক আসরে দুটি পেনাল্টি মিস করা প্রথম ফুটবলার হিসেবেও নিজের নাম লেখান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

    এদিন ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। সেখান থেকে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয় তুলে নেয় তারা। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড। সেমিফাইনালের মিশনে আগামী ১২ জুলাই বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় কানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।

    মেসি বলেন, ‘২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও ঘুরে দাঁড়ানো সহজ নয়। পরবর্তী রাউন্ডে যেতে পেরে আমি খুশি এবং যেভাবে আমরা এটা করেছি তা নিয়েও। ২-০ হওয়ার পর পরিস্থিতি কঠিন হয়ে গিয়েছিল এবং আবারও ম্যাচটি নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নেওয়াটা অনেক রোমাঞ্চকর যাত্রা ছিল।’

    সতীর্থদের প্রশংসা করে মেসি বলেন, ‘এই দলটা আরও একবার প্রমাণ করেছে, যা আমি অনেকবার বলেছি। আমি ওদের চিনি, জানি তারা কীভাবে কাজ করে। এই দল লড়াই করতে জানে, বিশ্বাস রাখতে জানে। ওদের পাশে থাকাটা আমার জন্য সম্মানের। আমরা যেকোনো দলের বিপক্ষে লড়াই করতে প্রস্তুত।’

  • ভারতভিত্তিক অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অভিযান, গ্রেপ্তার ২৪

    ভারতভিত্তিক অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অভিযান, গ্রেপ্তার ২৪

    ভারতভিত্তিক সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত আন্তর্জাতিক অভিযানে ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছে। মঙ্গলবার তারা জানায়, কানাডায় এক প্রভাবশালী শিখ নেতাকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগেও গ্রেপ্তার হয়েছেন কয়েকজন।

    যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘদিনের তদন্তে তারা এমন অপরাধ চক্রগুলোর তথ্য সংগ্রহ করছিল। অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, গুলি, হামলা, জোরপূর্বক অর্থ আদায় এবং মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
    কর্মকর্তারা জানান, বেশ কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ রয়েছে যে তারা ভারতের কারাগারে থেকেও নিজেদের আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্র পরিচালনা করতেন। অভিযুক্তদের মধ্যে ১০ জন ছাড়া বাকিদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি বিল এসায়লি বলেন, ‘যেসব আন্তঃদেশীয় অপরাধী চক্র ভয়, মাদক ও সহিংসতা ছড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে বিচার এবং ফেডারেল সরকারের পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করা হবে।’

    মঙ্গলবার প্রকাশ করা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা অন্যতম ঘটনা হলো ২০২৩ সালে কানাডার নাগরিক হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ড।

    মঙ্গলবার প্রকাশ করা অভিযোগপত্রে উল্লিখিত অপরাধগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০২৩ সালে কানাডার নাগরিক হরদীপ সিং নিজ্জারকে হত্যা। পাঞ্জাব বংশোদ্ভূত নিজ্জর ছিলেন ‘খালিস্তান’ আন্দোলনের একজন পরিচিত কর্মী। তিনি শিখদের জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন।

    অভিযোগে বলা হয়েছে, ভারতের পাঞ্জাবের ৩৩ বছর বয়সী লরেন্স বিষ্ণোই কারাগারে বসেই নিজ্জর হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কানাডা তার সংগঠনকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

    কর্মকর্তাদের দাবি, বিষ্ণোই প্রকাশ্যে নিজেকে একজন ধর্মপ্রাণ ‘দেশপ্রেমিক’ হিসেবে তুলে ধরলেও এই ভাবমূর্তি ব্যবহার করে ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে নিজের অপরাধী চক্রের জন্য সদস্য ও সহযোগী সংগ্রহ করতেন।

    তাদের অভিযোগ, ব্যক্তিগতভাবে তিনি বহু দেশে ব্যাপক একটি অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনা করতেন, যার মধ্যে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, খুন, গুলি, হামলা, চাঁদাবাজি, অপহরণ, মাদক পাচার, মানব পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন ভারতের পাঞ্জাবের ৩৮ বছর বয়সী জগ্গু ভগবানপুরিয়াও। তিনি ভারতে কারাবন্দি একজন গ্যাং নেতা এবং একসময় বিষ্ণোইয়ের সহযোগী ছিলেন, পরে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন। কর্মকর্তাদের মতে, ভগবানপুরিয়া নিজের অপরাধী চক্র গড়ে তুলেছেন, যার যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডেে এক হাজারের বেশি সদস্য রয়েছে।

    ভগবানপুরিয়ার সঙ্গে আরো ১৬ জনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভাড়াটে হত্যাকাণ্ড, মাদক পাচার, অপহরণ, চাঁদাবাজি, অস্ত্র পাচারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের ৫৭ বছর বয়সী রবিন্দর সিং ধান্ডার বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি এমন একটি বড় মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, যারা প্রতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় শত শত কেজি কোকেন ও মেথামফেটামিন পাচার করত।

    এফবিআইয়ের লস অ্যাঞ্জেলেস কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক প্যাট্রিক গ্র্যান্ডি বলেন, ‘আজকের সমন্বিত অভিযান তিনটি ভয়ংকর আন্তঃদেশীয় অপরাধী সংগঠনের মূল ভিত্তিতে আঘাত করেছে, যারা যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার মাধ্যমে পরিবারগুলোকে আতঙ্কিত করেছে, সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে।’

  • হরমুজে আটকা পড়েছেন ৬ হাজার নাবিক

    হরমুজে আটকা পড়েছেন ৬ হাজার নাবিক

    হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে উপসাগরে শত শত জাহাজে প্রায় ৬ হাজার নাবিক আটকা পড়ে আছেন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ। তিনি সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন এবং উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন। খবর আলজাজিরার।

    এক বিবৃতিতে ডোমিঙ্গেজ গত দুই দিনে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী কয়েকটি জাহাজে হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এসব হামলায় নিরীহ নাবিকদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, কেবল নিজের দায়িত্ব পালন করার জন্য কোনো নাবিকের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়া উচিত নয়।

    আইএমও প্রধান পতাকাবাহী রাষ্ট্র, জাহাজের মালিক ও পরিচালনাকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল এড়িয়ে চলা উচিত।

    তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক হামলাগুলো উপসাগর ছাড়তে না পারা প্রায় ৬ হাজার নাবিকের মধ্যে বিদ্যমান ভয়, অনিশ্চয়তা এবং মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ডোমিঙ্গেজ জোর দিয়ে বলেন, নাবিকদের নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

  • মক্কা-মদিনায় তীব্র তাপপ্রবাহের শঙ্কা, সতর্কতা জারি

    মক্কা-মদিনায় তীব্র তাপপ্রবাহের শঙ্কা, সতর্কতা জারি

    সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ ও ধুলিঝড়ের সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ। জারি করা এ সতর্কতায় বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    সৌদি জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, মক্কা, মদিনা, রিয়াদ, পূর্বাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় তাপমাত্রা ৪৭ থেকে ৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। একই সঙ্গে প্রবল ধুলিঝড়ের কারণে কোথাও কোথাও দৃষ্টিসীমা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

    আবহাওয়া বিভাগ বলছে, ধুলিঝড়ের সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এতে খোলা জায়গা, মহাসড়ক ও মরু অঞ্চলে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু এবং দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পর্যাপ্ত পানি পান, সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা এবং বাইরে বের হলে মাস্ক ও ছাতা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যে চরম তাপপ্রবাহ ও ধুলিঝড়ের ঘটনা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে। তাই এ ধরনের আবহাওয়ায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। সূত্র: ক্যারিও সায়েন্স

  • ন্যায্য দামের অভাবে দিশেহারা পান চাষি

    ন্যায্য দামের অভাবে দিশেহারা পান চাষি

    কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলার প্রাচীন আদি পেশা পান চাষ। এই পেশার ওপর নির্ভর করেই জীবিকা নির্বাহ করে আসছে মহেশখালীর হাজারো পরিবার। তবে দেশের দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতি, উৎপাদনের খরচ বৃদ্ধি, বাজারে পানের দরপতন এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধার অভাবে বর্তমানে চরম সংকটে পড়েছেন স্থানীয় পান চাষিরা। অনেকেই ঋণ নিয়ে পান বরজ তৈরি করলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

    স্থানীয় পান চাষি আমির হোসেন জানান, মহেশখালীতে প্রতিবছর তিন হাজারেরও বেশি পান বরজ রোপণ করা হয়। উপজেলার প্রায় ৬০ শতাংশ পরিবার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পান চাষের সঙ্গে জড়িত। তাঁর মতে, প্রায় ৩০০ বছর আগেও মহেশখালীতে পান চাষের প্রচলন ছিল। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের মতো মহেশখালীতেও বহু শতাব্দী ধরে পান চাষ হয়ে আসছে। একসময় জমিদার পরিবারগুলো বিবাহ ও সামাজিক আয়োজনকে কেন্দ্র করে পান চাষে বিশেষ গুরুত্ব দিত।

    মহেশখালী উপজেলায় ১৬০০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়। এর মধ্যে ১৪০০ হেক্টর চাষাবাদ হয় পাহাড়ি জমিতে। পানের বরজের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজারের মতো।

    ঐতিহাসিক মৈনাক পর্বতের চারিদিকে ঢালু জমিতে যে মিষ্টি পান উৎপাদিত হয় তা দুনিয়ার আর কোথাও হয় না। এ কারণেই মহেশখালীর মিষ্টি পান এত গুরুত্ব ও তাৎপর্য বহন করে বিশ্বজুড়ে। এমনটাই মনে করেন ঐতিহাসিকরা।

    পান চাষের জন্য প্রয়োজন উপযোগী ও উঁচু জমি। বিশেষ করে পাহাড়ের পাদদেশে পান চাষ ভালো হয়। কিছু এলাকায় বিল বরজেও পান চাষের প্রচলন রয়েছে।

    একটি পান বরজ তৈরির জন্য প্রথমে জমি সমতল করা হয়। এরপর খুঁটি স্থাপন, রশি দিয়ে সারি নির্ধারণ, গর্ত তৈরি, ছন ও বাঁশ দিয়ে ছায়া তৈরি, মাটি খনন করে পাঠি নির্মাণসহ নানা কাজ সম্পন্ন করতে হয়। পরে অন্য বরজ থেকে রোগমুক্ত ও ভালো মানের লতা নির্বাচন করে দুই বা তিন গিরা করে চারা প্রস্তুত করা হয় এবং মাটির প্রলেপ দিয়ে রোপণের জন্য সংরক্ষণ করা হয়।

    রোপণের ১২ থেকে ১৩ দিন পর সার প্রয়োগ করতে হয়। ৪০ থেকে ৫০ দিন পর পরিচর্যার কাজ শুরু হয়। রোগবালাই দেখা দিলে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়। রোপণের প্রায় তিন মাস পর থেকে পান সংগ্রহ করা যায়।

    চাষিদের দাবি, একটি মাঝারি আকারের পান বরজ তৈরি ও পরিচর্যায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। অধিকাংশ কৃষক ঋণ নিয়ে বরজ তৈরি করেন। কিন্তু বাজারে পানের ন্যায্য মূল্য না থাকায় উৎপাদন খরচই উঠছে না।

    পান চাষি সুকুন্দ, মিদুল, আব্দুল করিম, আমির হোসেন ও আবু বক্কর বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বাপ-দাদার আদি পেশা হিসেবে পান চাষ করে আসলেও আমরা সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা পাইনি। এমনকি এক মুঠো সারও পাইনি। যদি পানের ন্যায্য মূল্য পেতাম, তাহলে আমাদের জীবনযাপন অনেক সুন্দর হতো।”

    তাঁরা আরও বলেন, “ঋণের টাকায় বরজ তৈরি করে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় দিনের পর দিন পরিবার নিয়ে মানসিক চাপে থাকতে হচ্ছে। অনেক সময় পান বিক্রির টাকা দিয়ে বাজার খরচও মেটানো যায় না।”

    মহেশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল গাফ্ফার বলেন, মহেশখালী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ে অনেকবার আবেদন করা হয়েছে। যেহেতু মহেশখালীর মিষ্টি পান চট্টগ্রাম অঞ্চলের লোকসংস্কৃতি সাথে সম্পৃক্ত এবং বাংলাদেশের জন্য বিখ্যাত। তাই পান চাষীরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেলে উৎপাদনে আরো উৎসাহিত হবে এবং এই এলাকার পান চাষীরা উপকৃত হবে।

    মহেশখালী উপজেলা কৃষি বিভাগের সিনিয়র উপসহকারী কর্মকর্তা জনাব জোনায়েদ জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো পান চাষিদের জন্য বিশেষ সহায়তা কার্যক্রম চালু হচ্ছে। আগামী জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে নগদ অর্থসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ জাতীয় সংসদে মহেশখালীর পানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং জিআই স্বীকৃতির দাবি তুলে জোরালো ভূমিকা রেখেছেন।

    স্থানীয় চাষিদের আশা, পানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি করা হলে মহেশখালীর প্রায় ৬০ শতাংশ পরিবারের জীবনমান উন্নত হবে এবং কৃষকের মুখে আবারও হাসি ফুটবে।

    মহেশখালীর মিষ্টি পানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। সরকারিভাবে পান রপ্তানি বৃদ্ধি এবং নতুন বিদেশি বাজার সৃষ্টি করা। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পান বরজের জন্য ক্ষতিপূরণ ও সহজ শর্তে কৃষিঋণ প্রদান। পানের সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিপণন ব্যবস্থা আধুনিক করা। রোগবালাই দমনে কৃষি বিভাগের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি।

    পান চাষিদের জন্য ভর্তুকি ও কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা।

    মহেশখালীর মিষ্টি পান বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও খ্যাতিমান কৃষিপণ্য। মহেশখালীর পাহাড়ি ঢাল ও উপকূলীয় জলবায়ু পান চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী, যা এ পানের স্বাদ ও গুণগত মানকে অনন্য করেছে। মিষ্টি স্বাদ, বড় আকার ও উন্নত মানের কারণে এ পানের সুনাম দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে; হাজারো কৃষকের জীবিকা ও স্থানীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি এই পান চাষ।

  • কানাডায় নিজ্জর হত্যায় বিষ্ণোই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ

    কানাডায় নিজ্জর হত্যায় বিষ্ণোই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ

    যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

    নিজ্জার হত্যাকাণ্ড: অভিযোগ গঠন করল যুক্তরাষ্ট্র

    কানাডায় শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে ভারতে কারাবন্দী কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিশনয় এবং তাঁর উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের প্রধান সহযোগী সতিন্দরজিৎ সিং ওরফে ‘গোল্ডি ব্রার’-এর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৩ সালের ওই হত্যাকাণ্ডের পর কানাডা ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কে নজিরবিহীন উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।

    লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি ফেডারেল আদালতে উন্মোচিত অভিযোগপত্রে (ইন্ডাইটমেন্ট) বলা হয়েছে, বিশনয় এবং গোল্ডি ব্রার ২০২৩ সালের ১৮ জুন ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারে শহরের একটি শিখ মন্দিরের বাইরে হরদীপ সিং নিজ্জারকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

    মার্কিন কৌঁসুলিদের অভিযোগ, লরেন্স বিশনয় ভারতের কারাগার থেকে চোরাই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে এই অভিযানের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তিনি নিজ্জারকে হত্যার সুবিধার্থে একজন সহযোগীকে তাঁর ছবি এবং একাধিক ঠিকানা সরবরাহ করেছিলেন। অন্যদিকে বিশনয়ের শৈশবের বন্ধু গোল্ডি ব্রার উত্তর আমেরিকায় তাঁদের এই অপরাধী চক্রের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন, যা ‘লরেন্স বিশনয় অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপ’ নামে পরিচিত।

    কানাডার নাগরিক হরদীপ সিং নিজ্জার ভারতে স্বাধীন শিখ রাষ্ট্র ‘খালিস্থান’ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন। নয়াদিল্লি তাকে আগেই ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল।

    ২০২৩ সালে নিজ্জার হত্যাকাণ্ডের পর কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো অভিযোগ করেছিলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভারত সরকারের এজেন্টদের সরাসরি সম্পৃক্ততার ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ’ রয়েছে। নয়াদিল্লি ট্রুডোর সেই অভিযোগকে ‘হাস্যকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল।

    তবে লরেন্স বিশনয় ও গোল্ডি ব্রারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দায়ের করা এই সাম্প্রতিক অভিযোগপত্রে ভারত সরকারের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়নি।

    লস অ্যাঞ্জেলেসে এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি বিল এসেয়ালি বা অন্য কোনো কর্মকর্তা এই হত্যাকাণ্ডে ভারত সরকারের জড়িত থাকা বা তাদের আগে থেকে জানার বিষয়ে কোনো অভিযোগ তোলেননি।

    কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশনয় এবং ব্রারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ গঠন মূলত মার্কিন ও কানাডীয় কর্তৃপক্ষের একটি বৃহত্তর যৌথ তদন্তের অংশ। এই তদন্তে ভারতভিত্তিক তিনটি অপরাধ চক্রের সঙ্গে জড়িত ৩৭ জন আসামির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মাদক পাচার এবং চোরাচালানের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৪ জনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বা হেফাজতে রয়েছেন।

    এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসে কানাডীয় পুলিশ নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চার ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছিল এবং তাঁদের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সংযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছিল। তবে মার্কিন অভিযোগপত্রে ওই শুটারদের সরাসরি আসামি না করে কেবল ‘সহ-ষড়যন্ত্রকারী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    হরদীপ সিং নিজ্জারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অটোয়া ও নয়াদিল্লির সম্পর্কের যে চরম অবনতি ঘটেছিল, কানাডার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির অধীনে তা কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে কার্নি তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক সফরে ভারতে যান এবং দুই দেশের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরু করেন, যা চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

    তবে কানাডার বর্তমান সরকারের এই আপসকামিতা ও নরম মনোভাবের সমালোচনা করছে দেশটির বেশ কয়েকটি শিখ সংগঠন। তাদের অভিযোগ, অটোয়া প্রশাসন ভারতকে যথাযথভাবে জবাবদিহির আওতায় আনতে এবং কানাডীয় শিখদের বিদেশি হস্তক্ষেপ ও দমন-পীড়ন থেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছে

  • মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের কাউন্টডাউন?

    মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের কাউন্টডাউন?

    হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে বুধবার (৮ জুলাই) ভোরে ইরানের বিভিন্ন স্থানে ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, আন্তর্জাতিক নৌপথে ইরানি হামলার হামলার জবাবেই এই সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। তবে এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    হামলার পর তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) কার্যত শেষ হয়ে গেছে। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি হয়েছে।
    আলোচকরা চাইলে আপাতত শান্তি আলোচনা চালিয়ে যেতে পারেন বলে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে এসব আলোচনাকে “সময়ের অপচয়” বলে মন্তব্য করেছেন।

    এ সময় তিনি ইরানের নেতৃত্বকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, ইরানিরা দুষ্ট ও অসুস্থ লোক। এরা ক্যান্সারের মতো এবং আপনারা জানেন আপনাদের কী করতে হবে— শুরুতেই ক্যান্সারকে ছেঁটে ফেলতে হবে।
    ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ইউরোপের শেয়ারবাজারে ১ দশমিক ৬ শতাংশ দরপতন হয়, ডলারের মান শক্তিশালী হয় এবং সরকারি বন্ডের সুদের হারও বেড়ে যায়।
    মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানের ৮০টিরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, উপকূলীয় রাডার, জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ৬০টিরও বেশি দ্রুতগতির নৌযান।
    সেন্টকমের দাবি, হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলরত তিনটি তেলবাহী জাহাজ— এম/টি আল রেকাইয়্যাত, এম/টি ওয়েদিয়ান এবং এম/টি সাইপ্রাস প্রসপারিটি-তেহরানের হামলার শিকার হয়।
    যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরান যদি সমঝোতা লঙ্ঘন অব্যাহত রাখে, তাহলে আরও হামলা চালানো হবে। পাশাপাশি ইরানের তেল রপ্তানির ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞাও কার্যকর করেছে ওয়াশিংটন।
    ইরানের গণমাধ্যম জানায়, দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক বন্দর, কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাসের আশপাশ এবং বুশেহর প্রদেশের দুটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে। কয়েকজন আহত হলেও এখন পর্যন্ত নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
    ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা পাল্টা হামলায় বাহরাইন ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। তাদের দাবি, বাহরাইনের মার্কিন পঞ্চম নৌঘাঁটি, পোর্ট সালমান এবং কুয়েতের আলি সালেম বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করারও দাবি করেছে আইআরজিসি।

    ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে সমঝোতা স্মারকের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন আখ্যা দিয়েছে। তারা বলেছে, জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় জবাব দিতে তারা দ্বিধা করবে না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা যুদ্ধ বন্ধের চুক্তির মৌলিক ভিত্তিকেই অকার্যকর করে দিয়েছে।

    শান্তি আলোচনা অনিশ্চিত
    প্রায় তিন সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারকের আওতায় উভয় পক্ষ শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ী ইরান হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখবে এবং এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানির ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে। কিন্তু নতুন হামলা ও ট্রাম্পের বক্তব্যের পর সেই শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর ওয়াশিংটনের এই প্রতিক্রিয়া যৌক্তিক।
    অন্যদিকে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি), কুয়েত, কাতার, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মিসর ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এসব পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি।

    পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে?
    দোহা ইনস্টিটিউট অব গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের বিশ্লেষক মুহানাদ সেলুম আল জাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলা সীমিত পরিসরের ছিল- এমন বার্তাই ওয়াশিংটন দিতে চেয়েছে। তার মতে, প্রযুক্তিগতভাবে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এখনও কার্যকর রয়েছে। তবে ন্যাটো সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য সেই ধারণাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
    সেলুম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ভিন্ন মাত্রায় শক্তি প্রয়োগ করতে চাইত, তাহলে তারা অন্য ধরনের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাত।

    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ নৌ কর্মকর্তা হারলান উলম্যান মনে করেন, দুই দেশের জন্যই সংবেদনশীল সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে উসকে দেয়ার চেষ্টা করেছে।
    তার ভাষায়, আমার মতে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে উসকানি দিচ্ছে। ট্রাম্প ইতোমধ্যে ইরান ইস্যুতে ন্যাটোর ভূমিকার সমালোচনা করেছেন এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর জন্যও জোটটির সমালোচনা করেছেন। আমার ধারণা, ইরান এখন হামলা বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর মধ্যে বিভাজন আরও গভীর করতে চাইছে।

    তাদের ধারণা, দেশজুড়ে চলমান শোকানুষ্ঠানের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ সীমিত থাকবে। উলম্যান আরও বলেন, আগস্টের নির্ধারিত সময়সীমার আগে আরও বেশি সময় নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরির কৌশলও ইরানের থাকতে পারে।
    তবে শেষ পর্যন্ত তিনি মনে করেন, পরিস্থিতি যুদ্ধের দিকে গড়াক বা শান্তির পথে এগোক- আমার ধারণা, উভয় পক্ষই শেষ পর্যন্ত উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করবে।

  • পাকিস্তানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ৩০

    পাকিস্তানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ৩০

    পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে মহাসড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র ব্যক্তিদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন নিরাপত্তা সদস্য এবং ১৯ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছেন। এ সময় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

    বুধবার (৮ জুলাই) নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে তথ্যটি তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি। প্রতিবেদনে বলা হয়, বেলুচিস্তান প্রদেশে সশস্ত্র ব্যক্তিরা একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক অবরোধ করলে নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, অভিযানে আরও কয়েকজন বিচ্ছিন্নতাবাদী আহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পুনরায় শুরু হওয়া বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলার ধারাবাহিকতায় এ ঘটনাটি ঘটল। এর একদিন আগেই জিয়ারত জেলায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে সংঘর্ষে নয়জন পুলিশ সদস্য নিহত হন।

    খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ বেলুচিস্তান প্রদেশ, যা বহুমূল্য চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট, দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র তৎপরতায় অস্থির।

    পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের জিয়ারাত জেলায় একটি পুলিশ পোস্টে সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ৯ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রয়েছেন। মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

    বেলুচিস্তান সরকারের গণমাধ্যম ও রাজনৈতিকবিষয়ক মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা শাহিদ রিন্দ জানান, হামলার পর যৌথ ক্লিয়ারেন্স অভিযানে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ১৫ সদস্য নিহত হয়েছে। খবর ডন নিউজের।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, গভীর রাতে একদল সশস্ত্র হামলাকারী পুলিশ পোস্টে আক্রমণ চালায়। পুলিশ সদস্যরা কিছু সময় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলি চালালেও একপর্যায়ে হামলাকারীরা পোস্টটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।

    জিয়ারাতের ডেপুটি কমিশনার আবদুল কুদ্দুস আচাকজাই জানান, ঘটনাটি মাঙ্গি ড্যাম এলাকায় ঘটেছে। তিনি বলেন, এখনো পাঁচ পুলিশ সদস্যের খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাদের উদ্ধারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    শাহিদ রিন্দ জানান, এ হামলায় মাঙ্গি ও কাওয়াস থানার দুই কর্মকর্তা এবং সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনীর ইনচার্জ হেড কনস্টেবল নিহত হয়েছেন। নিহতদের মরদেহ আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

    তিনি আরও জানান, হামলার পর শুরু হওয়া যৌথ ক্লিয়ারেন্স অভিযান শেষ হয়েছে। এতে ১৫ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। বেলুচিস্তানে শান্তি নষ্টের চেষ্টার জন্য সন্ত্রাসীদের ‘চড়া মূল্য’ দিতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    এদিকে হামলার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা কোয়েটা-জিয়ারাত মহাসড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এতে কোয়েটা-ঝোব মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

    পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বেলুচিস্তানের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্টের সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিযান পূর্ণ শক্তিতে চলবে।

    প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও হামলার নিন্দা জানিয়ে নিহত পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন পিটিভির বরাতে তিনি বলেন, শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া হবে এবং বেলুচিস্তানের শান্তি বিনষ্টের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। শত্রুদের সম্পূর্ণ নির্মূল না করা পর্যন্ত অভিযান চলবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

  • আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার

    আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার

    বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। এই বর্ধিত বাণিজ্যিক লেনদেনকে সচল রাখতে ওঠানামা করছে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার।

    দেশীয় বাজারে মার্কিন ডলারসহ আন্তর্জাতিক প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ওঠানামা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী আজকের (০৮ জুলাই ২০২৬) মুদ্রা বিনিময় হারের একটি সার্বিক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো—

    মুদ্রার নাম বাংলাদেশি টাকা

    ইউএস ডলার : ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা
    ইউরো : ১৪০ টাকা ১৮ পয়সা
    পাউন্ড : ১৬৪ টাকা ০২ পয়সা
    কানাডিয়ান ডলার : ৮৬ টাকা ৫০ পয়সা
    অস্ট্রেলিয়ান ডলার : ৮৫ টাকা ১১ পয়সা
    চাইনিজ ইয়েন : ১৮ টাকা ০৫ পয়সা
    সিঙ্গাপুরি ডলার : ৯৪ টাকা ৯৯ পয়সা
    ভারতীয় রুপি : ১ টাকা ২৯ পয়সা
    মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত : ৩০ টাকা ৩৩ পয়সা
    সৌদি রিয়াল : ৩৩ টাকা ১২ পয়সা
    কাতারি রিয়াল : ৩৩ টাকা ৮১ পয়সা
    কুয়েতি দিনার : ৩৯৮ টাকা ৫৬ পয়সা
    আরব আমিরাতের দিরহাম : ৩৩ টাকা ৬৪ পয়সা

    *মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে।

    আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিং এবং প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহ ইতিবাচক থাকায় খোলাবাজার ও অফিশিয়াল রেটের মধ্যকার ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। বিগত এক মাসে ডলারের গড় বিনিময় হার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে, যা আমদানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক।

  • তুরস্কের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হচ্ছে: ট্রাম্প

    তুরস্কের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হচ্ছে: ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি তার প্রথম মেয়াদে তুরস্কের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিচ্ছেন।

    ন্যাটো সম্মেলনের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আঙ্কারায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প বলেন, আমরা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছি, ঠিক আছে? এখন সময় এসেছে এটি করার। আমরা বন্ধুদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে চাই না। বিষয়টি খুবই সহজ।

    ট্রাম্পের বক্তব্য তুর্কি ভাষায় অনুবাদ হওয়ার সময় সাধারণত সংযত স্বভাবের এরদোয়ান হাসিমুখে ট্রাম্পকে থাম্বস-আপ দেন।

    তুরস্কের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল কাউন্টারিং আমেরিকা’স অ্যাডভারসারিজ থ্রু স্যাংশনস অ্যাক্ট (CAATSA) আইনের আওতায়। রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ (S-400) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তুরস্ককে উত্তর কোরিয়া ও ইরানের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ দেশগুলোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    এছাড়া, রাশিয়ার কাছে সংবেদনশীল প্রযুক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় তুরস্ককে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান কর্মসূচি থেকেও বাদ দেওয়া হয়।

    ট্রাম্প আঙ্কারায় আরও জানান, তুরস্ককে আবারও এফ-৩৫ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও তার প্রশাসন বিবেচনা করছে।

    এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস’র সঙ্গে যুক্ত সাবেক তুর্কি কূটনীতিক আলপার কোসকুন বলেন, ট্রাম্পের এই ঘোষণা ‘আঙ্কারার জন্য সুখবর’।

    তার ভাষায়, এটি সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা। যদিও প্রশাসন কিছুদিন ধরেই একই ধরনের অবস্থান জানিয়ে আসছে, তবে ট্রাম্প কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি এগিয়ে নিতে চান—এমন ইঙ্গিত এতে পাওয়া যাচ্ছে।

    কোসকুনের মতে, এর বিনিময়ে তুরস্ককে এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে পরিত্যাগের পথে এগোতে হবে।

    সিএএটিএসএ একটি ফেডারেল আইন হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে মার্কিন কংগ্রেসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে ট্রাম্প প্রশাসন চাইলে যুক্তি দেখাতে পারে যে, যেসব পরিস্থিতির কারণে তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, সেগুলো এখন আর বিদ্যমান নেই। সে ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার প্রয়োগ নতুনভাবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ থাকতে পারে।

    এছাড়া প্রেসিডেন্ট বিশেষ ছাড় দেওয়ার ক্ষমতাও ব্যবহার করতে পারেন। তবে তিনি সেই পথ বেছে নেবেন, নাকি রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের সহযোগিতায় এগোবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে।

    পশ্চিম ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের নেতাদের সমালোচনা করলেও ট্রাম্প ন্যাটো জোটে তুরস্ককে ‘বিশ্বস্ত’ মিত্র হিসেবে উল্লেখ করেন।

    তিনি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও স্পেনের নেতাদের প্রতিরক্ষা ও অভিবাসন নীতিতে দুর্বল বলে সমালোচনা করেন। এছাড়া গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্কের অবস্থান এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে চলমান বিরোধের কথাও উল্লেখ করেন। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, মার্চ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে তার অভিযানে পশ্চিমা দেশগুলো যুক্ত না হওয়ায় তিনি তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট।