আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • ভারতে পাসপোর্টবিহীন সাবেক ‘মার্কিন নৌসেনা’ গ্রেপ্তার

    ভারতে পাসপোর্টবিহীন সাবেক ‘মার্কিন নৌসেনা’ গ্রেপ্তার

    উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জ জেলায় ভারত-নেপাল আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে এক মার্কিন নাগরিককে আটক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী আর্মড বর্ডার ফোর্স (এসএসবি)। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ওই নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অনুমোদিত ইমিগ্রেশন পথ এড়িয়ে একটি অননুমোদিত পায়ে চলা পথ দিয়ে নেপালে প্রবেশের

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, পায়ে দড়ি বাঁধা অবস্থায় ওই বিদেশিকে গ্রামবাসী ও অস্ত্রধারী এসএসবি সদস্যরা নিয়ে যাচ্ছেন। চারপাশে ভিড় থাকলেও তাকে শান্তভাবেই থাকতে দেখা যায়।
    পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি নিজের নাম জর্ডান ব্রাউন বলে দাবি করেন। তার বয়স ৩৬ বছর। তিনি জানান, প্রায় ছয় বছর মার্কিন নৌবাহিনীতে (ইউএস নেভি) কর্মরত ছিলেন। এছাড়া তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ায় পড়াশোনা করেছেন বলেও দাবি করেন।তবে এসব দাবির পক্ষে তিনি কোনো নথি বা পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি।

    কীভাবে আটক হলেন
    ভারতীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সোনৌলি থানার মৈনিহওয়া এলাকার ৫১৬ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে নিয়মিত টহলের সময় ২২তম ব্যাটালিয়নের এসএসবি সদস্যরা তাকে দেখতে পান। তিনি নির্ধারিত ইমিগ্রেশন রুটের বাইরে সীমান্তের দিকে যাচ্ছিলেন।
    নিরাপত্তা বাহিনী তাকে থামার সংকেত দিলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়া হয়।

    পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই অবস্থান
    তল্লাশিতে অভিযুক্তের কাছ থেকে ৩১ হাজার ৪৬০ রুপি নগদ অর্থ এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি সন্দেহ, তার কাছে কোনো বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা অন্য কোনো পরিচয়পত্র পাওয়া যায়নি। পুলিশ আরও জানিয়েছে, নিজের পরিচয়, ভ্রমণের ইতিহাস এবং ভারতে আসার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছেন। জর্ডান ব্রাউন দাবি করেন, তিনি পর্যটক ভিসায় থাইল্যান্ডে গিয়েছিলেন এবং সেখানে তার পাসপোর্ট হারিয়ে যায়। এরপর সমুদ্রপথে শ্রীলঙ্কায় যান এবং সেখান থেকে ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর সমুদ্রপথে ভারতে প্রবেশ করেন। তারপর থেকে প্রায় আট মাস তিনি গোয়ায় অবস্থান করছিলেন।

    মহারাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিদ্ধার্থ জানান, গোয়া থেকে তিনি বেঙ্গালুরু হয়ে উত্তর প্রদেশে আসেন এবং সেখান থেকে নেপালে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় এসএসবি তাকে আটক করে। বর্তমানে তার দেয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। বৈধ ভ্রমণ নথি ছাড়া ভারতে প্রবেশের অভিযোগে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্টের ২১ ও ২৩ ধারায় সোনৌলি থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। জর্ডান ব্রাউনের আটক হওয়ার ঘটনায় ভারতে সন্দেহজনকভাবে বিদেশি নাগরিকদের চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) মিয়ানমার হয়ে মিজোরাম সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে আরেক মার্কিন নাগরিক ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যান ডাইক এবং ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করে। এনআইএর দাবি, তারা ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল।

    তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা নিষিদ্ধ ভারতীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখত, তাদের অস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করত এবং প্রশিক্ষণ দিত। সংস্থাটির দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা স্বীকার করেছেন যে, তারা একে-৪৭ রাইফেলধারী সশস্ত্র জঙ্গিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে ছিলেন। এনআইএর তথ্য অনুযায়ী, ১৪ জন ইউক্রেনীয় নাগরিক পর্যটক ভিসায় ভারতে প্রবেশ করে প্রথমে গুয়াহাটি এবং পরে মিজোরামে যান। এরপর তারা অনুমতি ছাড়া মিয়ানমারে প্রবেশ করেন এবং সেখানে জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি ইউরোপ থেকে ড্রোন ও অন্যান্য সরঞ্জাম বিদ্রোহী নেটওয়ার্কের কাছে পৌঁছে দিতে সহায়তা করেন।

    ভ্যান ডাইক ও অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (ইউএপিএ)-এর বিভিন্ন ধারায়, যার মধ্যে ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের অভিযোগও রয়েছে, মামলা দায়ের করেছে এনআইএ। সংস্থাটি কথিত এই আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

  • আইআরজিসি-কে নিষিদ্ধ করলো ব্রিটেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ ইরানের

    আইআরজিসি-কে নিষিদ্ধ করলো ব্রিটেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ ইরানের

    ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) ‘নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে ঘোষণা করার ব্রিটিশ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে ‘অযৌক্তিক’ এবং ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

    আল জাজিরা মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে বলেছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর একটি আনুষ্ঠানিক অংশ। একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে এভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে যুক্তরাজ্য স্পষ্টতই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে বলে জোরালো অভিযোগ করছে তেহরান।

    এর আগে গত সোমবার আইআরজিসি এবং তাদের সাথে যুক্ত একটি গোষ্ঠীকে নিষিদ্ধ করে যুক্তরাজ্য। নতুন এক বিশেষ ক্ষমতার আওতায় এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়, যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে কোনো বিদেশি রাষ্ট্র যেন অন্য দেশে নজরদারি বা নাশকতার মতো কাজের জন্য কোনো প্রক্সি ব্যবহার করতে না পারে।

    তবে ইরান বরাবরই এমন কোনো প্রক্সি ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের সাথে ইরানের দীর্ঘদিন ধরেই চরম উত্তেজনা ও বৈরি সম্পর্ক চলছে।

  • তামিলনাড়ুতে গরু জবাই নিষিদ্ধের আদেশ স্থগিত করল সুপ্রিম কোর্ট

    তামিলনাড়ুতে গরু জবাই নিষিদ্ধের আদেশ স্থগিত করল সুপ্রিম কোর্ট

    পবিত্র ঈদুল আজহা ও অন্য যেকোনো দিন ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে গরু জবাই নিষিদ্ধ করার যে নির্দেশ মাদ্রাজ হাইকোর্ট দিয়েছিল, তার ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

    সোমবার (১৩ জুলাই) সুপ্রিম কোর্ট এই রায় দিয়ে স্পষ্ট জানায় যে, হাইকোর্টের এই নির্দেশটির ক্ষেত্রে আইনি ‘সংশোধন’ বা পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

    হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বিশেষ আপিল আবেদন করে বর্তমানে তামিলনাড়ুর ক্ষমতায় থাকা থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকে সরকার। ওই আপিল আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশটি জারি করেন। এই রায় রাজ্যটির সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার ক্ষেত্রে বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে।

    এর আগে, গত ২৭ মে মাদ্রাজ হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ ১৯৭৬ সালের আগস্ট মাসের একটি পুরোনো সরকারি আদেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমগ্র তামিলনাড়ু রাজ্যে গরু জবাইয়ের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দিয়েছিল। হাইকোর্টের সেই আদেশকে সর্বোচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করে বিজয় সরকার যুক্তি প্রদর্শন করে যে, যখন দেশের বিদ্যমান আইন ও সংবিধিবদ্ধ বিধান নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নির্ধারিত স্থানে একটি বিশেষ ক্যাটাগরির বা শ্রেণির গরু জবাইয়ের স্পষ্ট অনুমতি প্রদান করে, তখন সেই বিধিবদ্ধ আইনের পরিপন্থি কোনো বিচার বিভাগীয় নির্দেশ বা নিষেধাজ্ঞা কোনোভাবেই টেকসই হতে পারে না।

    মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি জিআর স্বামীনাথন ও বিচারপতি ভি লক্ষ্মীনারায়ণের ডিভিশন বেঞ্চ দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের স্বার্থে ১৯৭৬ সালের সেই পুরনো আদেশটি জারির কথা উল্লেখ করেছিল। রায়ের লেখক বিচারপতি স্বামীনাথন আরো জোর দিয়ে বলেছিলেন, ভারতীয় সংবিধানের ৪৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাজ্য সরকারের দায়িত্ব হলো গরু, বাছুর এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত ও মালবাহী গবাদি পশু জবাই নিষিদ্ধ করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এমনকি, গণপরিষদের বিতর্কের ইতিহাস টেনে তিনি উল্লেখ করেন যে, গরু একটি অত্যন্ত পূজনীয় প্রাণি ও হিন্দু ধর্মের ভগবান কৃষ্ণের সময় থেকেই এটি তাদের সভ্যতার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

    ঐতিহ্যগতভাবে মুসলিম সম্প্রদায় পবিত্র ঈদুল আজহার সময় স্থানীয় বিধিবিধান মেনে বিভিন্ন ধর্মীয় সমাবেশ ও ব্যক্তিগত প্রাঙ্গণে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি বা উৎসর্গ করে থাকেন। এর পাশাপাশি তামিলনাড়ুর বেশ কিছু হিন্দু মন্দিরেও তাদের বার্ষিক উৎসবের সময় ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে পশু বলিদানের প্রথা চালু রয়েছে।

    মুসলিম ও বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতারা সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে যুক্তি দিয়েছেন যে, কোরবানি বা এই ধরনের ধর্মীয় উৎসর্গকে শুধুমাত্র লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও সরকারি কসাইখানায় সীমাবদ্ধ করা সম্পূর্ণ অবাস্তব ও অসম্ভব; কারণ উৎসবের দিনগুলোতে বিপুল পরিমাণ পশুর চাহিদার চাপ সামলানোর মতো পর্যাপ্ত ধারণক্ষমতা বা অবকাঠামো ওই নির্দিষ্ট কসাইখানাগুলোর নেই।

    তামিলনাড়ু সরকার আদালতে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছে যে, তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন ও কসাইখানা পরিচালনার অন্যান্য বিদ্যমান নিয়মাবলি এরই মধ্যে কোনো স্থানে ও কী ধরনের শর্তাধীনে পশু জবাই করা যাবে তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু এসব আইন কোনোভাবেই রাজ্যে পশু জবাইয়ের ওপর কোনো ঢালাও বা সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে না।

  • মাঠেই লুটিয়ে পড়ে ভারতীয় পেসারের মৃত্যু

    মাঠেই লুটিয়ে পড়ে ভারতীয় পেসারের মৃত্যু

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ক্রিকেট মাঠে আবারো ঘটল মর্মান্তিক ঘটনা। খেলার মধ্যেই অসুস্থ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ভারতের জম্মু-কাশ্মিরের তরুণ পেসার সুহেল। ওভার শেষ করে নিজের ফিল্ডিং পজিশনে ফেরার সময় হঠাৎ মাঠেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, জম্মু-কাশ্মিরের তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ‘ভালেসা চেনাব প্রিমিয়ার লিগ’-এর একটি ম্যাচে ঘটনাটি ঘটে। জিমখানা কিস্তওয়ারের বিপক্ষে বাদশা ১১ ভালেসার হয়ে খেলছিলেন সুহেল।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, দ্বিতীয় ওভার শেষ করার পর জুতার ফিতা বাঁধতে নিচু হন সুহেল। এরপর উঠে দাঁড়ালে কয়েক সেকেন্ড ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। কিছুক্ষণ পর স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে শুরু করলেও অল্প দূর যেতেই আচমকা মাঠে লুটিয়ে পড়েন।

    তাকে পড়ে যেতে দেখে সতীর্থ ও প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা দ্রুত ছুটে আসেন। মাঠেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর একটি গাড়িতে করে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জরুরি ভিত্তিতে তাকে হাসপাতালে নেয়ার জন্য গাড়ি মাঠে প্রবেশ করছে।

    তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা সুহেলকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে তার লাশের ময়নাতদন্ত করা হবে। এরপর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

    এ ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। তরুণ এই ক্রিকেটারের আকস্মিক মৃত্যু স্থানীয় ক্রিকেটাঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

  • ইসরায়েলের সাহায্যে ক্ষমতায় বসতে চেয়েছিলেন আহমাদিনেজাদ?

    ইসরায়েলের সাহায্যে ক্ষমতায় বসতে চেয়েছিলেন আহমাদিনেজাদ?

    হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর ২০২৪ সালের শুরুর দিকে দেশটির সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত এক অনুরোধ পান।

    কর্মকর্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর অধ্যাপক গেরগেলি ডেলিকে জানান, লুডোভিকা ইউনিভার্সিটি অব পাবলিক সার্ভিসে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক একটি সম্মেলনের আয়োজন করতে হবে। সেই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানাতে হবে ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যিনি ব্যাপকভাবে বিতর্কিত।

    এর কারণ ছিল আরও বিস্ময়কর। ওই কর্মকর্তা অধ্যাপক ডেলিকে জানান, সম্মেলনটি আসলে একটি অজুহাতমাত্র। এর আড়ালে বুদাপেস্টে ইসরায়েলের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করবেন আহমাদিনেজাদ। অথচ ইসরায়েলকে তিনি সব সময় প্রকাশ্যে শত্রু বলে মন্তব্য করে এসেছেন।

    তামির হাইমান, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান

    এক সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ডেলি দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, তিনি জানতেন এই আমন্ত্রণ তাঁর ব্যক্তিগত সুনাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। তবু তাঁর বিশ্বাস ছিল, এর মাধ্যমে তিনি হয়তো মানুষের জীবন বাঁচানোর একটি প্রচেষ্টার অংশ হতে পারবেন।

    ২০২৪ সালে আহমাদিনেজাদের বুদাপেস্টে ওই সফর এবং পরের বছরের আরেকটি সফর ছিল ইসরায়েলের অনেক বছরের এক গোপন পরিকল্পনার অংশ। এ পরিকল্পনার বিষয়ে জানেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এমন একাধিক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ইসরায়েল আহমাদিনেজাদকে এমন একটি গোয়েন্দা সম্পদে পরিণত করতে চেয়েছিল, যাকে উপযুক্ত সময়ে ইরানের নতুন নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।

    নিউইয়র্কে ইহুদিবাদবিরোধী অতিরক্ষণশীল ইহুদি সংগঠন নেতুরেই কার্তার রেবাই মোশে বের বেকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ।

    যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, আহমাদিনেজাদকে নিজেদের পক্ষে আনাকে ইসরায়েল এতটাই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছিল যে ২০২৪ সালে দেশটির তৎকালীন গোয়েন্দাপ্রধান ডেভিড বারনিয়া নিজে বুদাপেস্টে গিয়ে তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন। এর কিছুদিন পর ইসরায়েলের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে (সিআইএ) জানায়, তারা আহমাদিনেজাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছে।

    আহমাদিনেজাদকে ঘিরে সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনা তৈরি করার সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের জন্য ছিল এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। কারণ, প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নিয়েছিলেন, নিয়মিত ইসরায়েলকে ধ্বংস করার আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং হলোকাস্ট (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইহুদিদের ওপর নাৎসি গণহত্যা) অস্বীকার করেছিলেন।

    মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েল গোপনে আহমাদিনেজাদের বাসস্থান ও বিদেশ সফরের ব্যয় বহন করেছে। বুদাপেস্ট সফরসহ বিদেশে বিভিন্ন সময়ে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা তাঁর সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকও করেছেন।

    চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রথম কয়েক দিনের মধ্যে, এই প্রচেষ্টার চূড়ান্ত পর্ব শুরু হয়। তেহরানে কঠোর নজরদারির মধ্যে থাকা আহমাদিনেজাদকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার একটি সাহসী অভিযান চালায় ইসরায়েল। উদ্দেশ্য ছিল বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতনের পরিকল্পনা কার্যকর করা এবং আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় বসানো।

    ব্যর্থ পরিকল্পনা

    তবে শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের এক বিমান হামলায় আহমাদিনেজাদের বাসভবনকে নিশানা করা হয়। হামলায় তাঁর দেহরক্ষীদের ভবন ও বুলেটপ্রুফ একটি গাড়ি লক্ষ্য করা হয়েছিল। ইরানের চারজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, হামলার পর ঘটনাস্থলে একটি কালো রঙের প্যুজো গাড়ি এসে আহমাদিনেজাদকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নেয়।

    অভিযান সম্পর্কে অবগত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, মোসাদের সদস্যরা গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। তাঁরা আহমাদিনেজাদকে ইরানের ভেতরে একটি গোপন নিরাপদ আস্তানায় নিয়ে যান।

    তবে ঘটনাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, এই তড়িঘড়ি উদ্ধার অভিযানে আহমাদিনেজাদ ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। একই সঙ্গে তাঁকে আবার ক্ষমতায় বসানোর ইসরায়েলের পরিকল্পনা নিয়েও তাঁর মধ্যে সংশয় তৈরি হয়।

    এরপর আহমাদিনেজাদ কীভাবে সেই নিরাপদ আস্তানা ছেড়েছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। গত সোমবার (৬ জুলাই) ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজার অনুষ্ঠানে আহমাদিনেজাদকে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল। এর আগপর্যন্ত তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

    বর্তমানে আহমাদিনেজাদের অবস্থান স্পষ্ট নয়। তবে ইরানের চারজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর আহমাদিনেজাদ এখন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখার হেফাজতে রয়েছেন। তাঁকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে।

    তেহরানের বর্তমান সরকারকে উৎখাতের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আহমাদিনেজাদকে ইরানের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার এই পরিকল্পনা নিয়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

    এই পরিকল্পনার আরেকটি অংশ ছিল ইরাকের উত্তরাঞ্চলে অবস্থানরত ইরানি কুর্দি যোদ্ধাদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে প্রবেশ করানো, সেখানে কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং পরে রাজধানী তেহরানের দিকে অগ্রসর হওয়া। তবে সেই পরিকল্পনাও কখনো আলোর মুখ দেখেনি।

    এই পরিকল্পনায় আহমাদিনেজাদের ভূমিকার তথ্য সবার আগে প্রকাশ করেছিল নিউইয়র্ক টাইমস। এরপর গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘ফায়ারিং লাইনে’ ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান তামির হাইমান বলেন, ইরানে সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনায় ‘খুবই ব্যতিক্রমধর্মী’ ধারাবাহিক কয়েকটি বিশেষ অভিযান চালানোর কথা ছিল। তাঁর ভাষায়, ‘আহমাদিনেজাদও সেই ধারাবাহিক পরিকল্পনার অংশ ছিলেন।’

    বদলে যাওয়া আহমাদিনেজাদ

    মাহমুদ আহমাদিনেজাদ ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। সে সময় তিনি দেশটির সবচেয়ে প্রভাবশালী কট্টরপন্থী রাজনীতিকদের একজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি প্রকাশ্যে ইসরায়েলকে ধ্বংস করার কথা বলতেন। তাঁর শাসনামলে ইরান নতুন করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি শুরু করে। এটা গোপনে দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা নিয়ে সন্দেহকে আরও জোরালো করেছিল।

    ২০০৯ সালে আহমাদিনেজাদ আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে ইরানজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমনের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর আমলে বিচার বিভাগ অসংখ্য ভিন্নমতাবলম্বীকে মৃত্যুদণ্ড দেয় এবং বিরোধী নেতা ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বন্দী করে।

    তবে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়ার পর ধীরে ধীরে আহমাদিনেজাদের অবস্থানে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। তিনি আগের তুলনায় অনেক সংযত হন এবং ইসরায়েলবিরোধী কড়া বক্তব্যও কমিয়ে দেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও বক্তৃতায় তিনি ইরানের পপ–সংস্কৃতি নিয়ে মতামত দেন, নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমননীতির সমালোচনা করেন এবং শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন।

    নিজের পোশাক-পরিচ্ছদেও পরিবর্তন আনেন আহমাদিনেজাদ। দীর্ঘদিনের পরিচিত ঢিলেঢালা খয়েরি জ্যাকেট ছেড়ে পরতে শুরু করেন মাপমতো স্যুট। অগোছালো দাড়িও ছেঁটে-গুছিয়ে রাখতেন।

    তেহরানে নিজের কার্যালয়ে প্রতিদিন সকালে ঘণ্টাব্যাপী জনসাধারণের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন আহমাদিনেজাদ। সাধারণ মানুষ তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তাঁর কাছে আসতেন। কেউ কেউ সরকারি জটিলতা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা চাইতেন। কখনো কখনো তিনি সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোতে চিঠি লিখে ঋণের আবেদনকারীদের সুপারিশও করতেন। একই সঙ্গে তিনি নিয়মিত দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামীণ এলাকায় ঘুরে সমর্থকদের সঙ্গে দেখা করতেন।

    ইরানের সরকারের সঙ্গে আহমাদিনেজাদের সম্পর্ক ছিল জটিল। শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকে একঘরে করে রাখে এবং তাঁর চলাফেরায় বিধিনিষেধ আরোপ করে। তবে সর্বোচ্চ নেতাকে পরামর্শ দেওয়া উচ্চপর্যায়ের একটি পরিষদে অন্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁকেও সদস্য হিসেবে রাখা হয়। যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিন আগে, ফেব্রুয়ারি মাসেও তিনি ওই পরিষদের বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন।

    ইরানের অনেকে আহমাদিনেজাদের এই পরিবর্তনকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখেছেন। তাঁদের মতে, সাধারণ মানুষের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করা এবং ক্ষমতাসীনদের থেকে দূরত্ব দেখানোর উদ্দেশ্যেই তিনি এই নতুন ভাবমূর্তি গড়ে তুলছিলেন। শ্রমজীবী মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সমর্থন ছিল। তাঁর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের বিশ্বাস ছিল, তিনি কোনো একদিন আবার ক্ষমতায় ফিরতে চান।

    ফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আহমাদিনেজাদের সাবেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আবদোলরেজা দাভারি বলেন, ‘আহমাদিনেজাদ অর্থের জন্য এমন কিছু করবেন না। তাঁর অর্থ আছে, বিস্তৃত অর্থনৈতিক নেটওয়ার্কও আছে। তিনি এটা ক্ষমতার জন্য করতে পারেন। তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে চান।’ কয়েক বছর আগে আবদোলরেজার সঙ্গে আহমাদিনেজাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

    আহমাদিনেজাদের ঘনিষ্ঠ এক সহযোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্যক্তিগত আলাপের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিদেশি শক্তির সহায়তায় ভবিষ্যতে ইরানের নেতা হওয়ার ইচ্ছার কথা আহমাদিনেজাদ তাঁর অতি ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে জানিয়েছিলেন।

    ওই সহযোগীর ভাষ্যমতে, তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অনুমতি না পাওয়ার পর ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বর্তমান ব্যবস্থার প্রতি আহমাদিনেজাদের আস্থা নষ্ট হয়ে যায়। তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন, বর্তমান ব্যবস্থা বহাল থাকলে তাঁর পক্ষে আর ক্ষমতায় ফেরা সম্ভব নয়।

    যুদ্ধ ও সরকার পরিবর্তনের পরিস্থিতি তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হয়তো ইরানের বাইরে থাকা এমন কোনো বিরোধী নেতাকে বেছে নেবে, যিনি দেশের বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত নন—আহমাদিনেজাদের এমন আশঙ্কাও ছিল। এতে ইরান আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে বলে তিনি মনে করতেন।

    নিজের ঘনিষ্ঠদের কাছে সাবেক এই প্রেসিডেন্ট বলতেন, তিনি রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিনের মতো একজন সংস্কারকের ভূমিকা পালন করতে পারেন। ক্ষমতায় এলে ইরান ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আব্রাহাম অ্যাকর্ডস চুক্তির অংশ হিসেবে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে।

    সে সময় আহমাদিনেজাদ ও ইরানের শাসনব্যবস্থার মধ্যে ক্রমবর্ধমান দূরত্বের বিষয়টি ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল। সে সময়কার গোয়েন্দা মূল্যায়ন সম্পর্কে অবগত ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা খাতের দুজন কর্মকর্তা বলেন, বিশেষ করে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও অন্যান্য শীর্ষ নেতার প্রতি আহমাদিনেজাদের ক্ষোভ তাঁদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। কারণ, তাঁরাই তাঁকে তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেননি।

    অন্যদিকে আহমাদিনেজাদের কর্মকাণ্ড আইআরজিসির গোয়েন্দা শাখারও সন্দেহ বাড়িয়ে তুলেছিল। বিদেশি হস্তক্ষেপ থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে রক্ষা করাই সংস্থাটির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

    আইআরজিসির দুজন সদস্য এবং এ ঘটনার সঙ্গে পরিচিত একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার মতে, ২০১৭ সাল থেকে আহমাদিনেজাদ প্রকাশ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি পাঠাতে শুরু করেন। পরে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকেও চিঠি লেখেন। ট্রাম্প তখন দুই নেতারই প্রকাশ্যে প্রশংসা করেছিলেন।

    চলতি বছরের ইসরায়েলি হামলার পর আহমাদিনেজাদ যখন সাময়িকভাবে আইআরজিসির নজরদারির বাইরে চলে যান, তখন ইরানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাঁর সঙ্গে ইসরায়েলের যোগাযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু করে। চারজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, তদন্তে ধীরে ধীরে সেই যোগাযোগের বিভিন্ন তথ্য উঠে আসে।

    বিদেশ সফরে গোপন বৈঠক

    ইসরায়েলি গোয়েন্দারা ঠিক কবে থেকে আহমাদিনেজাদকে নিজেদের পক্ষে আনার চেষ্টা শুরু করেছিল, তা স্পষ্ট নয়। তবে ইরানের কর্মকর্তারা বলেন, ২০২৩ সালে পরিবেশবিষয়ক একটি সম্মেলনে যোগ দিতে গুয়াতেমালা সফরের সময় তাঁদের মধ্যে খুব সম্ভবত প্রাথমিক যোগাযোগ হয়েছিল। তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল গুয়াতেমালা সরকার। লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে গুয়াতেমালার কূটনৈতিক সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে ঘনিষ্ঠ।

    তবে ওই সফর প্রায় ভেস্তে যাচ্ছিল। তেহরান বিমানবন্দরে নিরাপত্তা বাহিনী আহমাদিনেজাদকে বোর্ডিং পাস দিতে এবং দেশ ছাড়ার অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।

    এর প্রতিবাদে আহমাদিনেজাদ ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমানবন্দরেই অবস্থান করেন। ঘটনাটি দ্রুত জনসমক্ষে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। তিনি সাধারণ যাত্রী, বিমানবন্দর ও বিমান সংস্থার কর্মীদের সঙ্গে ছবি তোলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপডেট দিতে থাকেন।

    শেষ পর্যন্ত ইরানি কর্তৃপক্ষ আহমাদিনেজাদকে উড়োজাহাজে উঠতে এবং সম্মেলনে অংশ নিতে অনুমতি দেয়।

    সফরকালে প্রকাশিত এক ভিডিওতে আহমাদিনেজাদ বলেন, ‘কিছু মানুষ আমাকে গুয়াতেমালা যেতে নিষেধ করেছিল। আমি তাঁদের বলেছি, আমার ভাই, দেশটির পরিবেশমন্ত্রী, আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। লাতিন আমেরিকায় এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ।’

    তেহরানের দক্ষিণে শিরাজ শহরের একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছেন ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। ২০০৭ সালের ১৬

    পরের বছর আহমাদিনেজাদ প্রথমবারের মতো হাঙ্গেরি সফরে যান। বুদাপেস্টে লুডোভিকা ইউনিভার্সিটির সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আড়ালে তিনি মোসাদের তৎকালীন প্রধান ডেভিড বারনিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন। গত মাস পর্যন্ত পাঁচ বছর তিনি মোসাদের নেতৃত্বে ছিলেন।

    সে সময় হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ডানপন্থী নেতা ভিক্টর অরবান। ইউরোপের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় ইসরায়েলের সঙ্গে তাঁর সরকারের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। অরবান ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে অপরের দেশ সফরও করেন। ২০২৫ সালের এপ্রিলে নেতানিয়াহু লুডোভিকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়টি তাঁকে জনসেবায় বিশেষ সম্মাননা দেয়।

    এর দুই মাস পর ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিন আগে আবারও বুদাপেস্টে যান আহমাদিনেজাদ। আনুষ্ঠানিকভাবে এটি ছিল আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয় সফর। তবে প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করা।

    বিদেশ সফরে সব সময় আইআরজিসির আনসার ইউনিটের দেহরক্ষীরা আহমাদিনেজাদের সঙ্গে থাকতেন। তাঁদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের জুনের ওই সফরে অন্তত দুবার আহমাদিনেজাদ নিরাপত্তারক্ষীদের ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য নিখোঁজ ছিলেন। পরে তাঁরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে আহমাদিনেজাদ বলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। আইআরজিসির দুজন সদস্য এবং এ ঘটনার সঙ্গে পরিচিত এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলনে আহমাদিনেজাদ ইংরেজিতে বক্তৃতা দেন। এতে উপস্থিত ব্যক্তিরা বিস্মিত হন। কারণ, প্রেসিডেন্ট থাকাকালে প্রতিটি বক্তৃতার শুরুতে তিনি কোরআনের আয়াত পাঠ করতেন। কিন্তু এবার তা করেননি।

    গাঢ় নীল রঙের মাপমতো স্যুট পরে আহমাদিনেজাদ ‘অভিন্ন মানবতা’ এবং ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থা’ নিয়ে কথা বলেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, নতুন একটি বিশ্বব্যবস্থা কীভাবে গড়ে উঠতে পারে, সে বিষয়ে তিনি নিজের মতামত তুলে ধরছেন।

    আহমাদিনেজাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর গেরগেলি ডেলিকে প্রাচীন ইরানি কবি ফেরদৌসির ‘শাহনামা’ উপহার দেন। জবাবে ডেলি তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্মারকচিহ্ন তুলে দেন।

    গত মাসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডেলি বলেন, আহমাদিনেজাদকে আমন্ত্রণ জানানোর ক্ষেত্রে তিনি মূলত একজন ‘স্ট্রোহমানের’ ভূমিকা পালন করেছিলেন। জার্মান শব্দটির অর্থ হলো, এমন একজন ব্যক্তি, যিনি অন্য কোনো গোপন পরিকল্পনার আড়াল বা মুখপাত্র হিসেবে ব্যবহৃত হন।

    ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে তেহরানে নিজের বাড়ি থেকে কালো প্যুজো গাড়িতে করে সরিয়ে নেওয়ার পর গত সপ্তাহ পর্যন্ত আহমাদিনেজাদকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

    গত সোমবার হঠাৎ সাবেক এই প্রেসিডেন্ট ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিদায় অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য উপস্থিত হন। ভিডিওতে দেখা যায়, প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও তাঁর গায়ে ছিল মোটা জ্যাকেট। সার্জিক্যাল মাস্কটি থুতনির নিচে নামানো ছিল। ইরানের জীবিত অন্য দুই সাবেক প্রেসিডেন্ট—হাসান রুহানি ও মোহাম্মদ খাতামিকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, তাঁদের কাউকে সেখানে দেখা যায়নি।

    খামেনির শেষবিদায় অনুষ্ঠানে আহমাদিনেজাদ মাথা নিচু করে নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁর চারপাশে থাকা কয়েকজন ব্যক্তিকে নিরাপত্তারক্ষী বলে মনে হয়েছে।

  • সবুজ কারখানায় বিশ্বমঞ্চে নতুন রেকর্ড, একশ’র মধ্যে বাংলাদেশের ৫৩

    সবুজ কারখানায় বিশ্বমঞ্চে নতুন রেকর্ড, একশ’র মধ্যে বাংলাদেশের ৫৩

    পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পোশাক শিল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। নতুন করে আরও চারটি তৈরি পোশাক (আরএমজি) কারখানা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত লিড (লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এভায়রনমেন্টাল ডিজাইন) সনদ অর্জন করেছে। এর ফলে দেশে লিড সনদপ্রাপ্ত পোশাক কারখানার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯০টিতে। এর মধ্যে ১২৫টি প্লাটিনাম, ১৪৫টি গোল্ড এবং বাকিগুলো সিলভার ও সার্টিফায়েড পর্যায়ের।

    সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিশ্বের সর্বোচ্চ স্কোরপ্রাপ্ত শীর্ষ ১০০টি লিড সনদধারী কারখানার মধ্যে এখন বাংলাদেশের ৫৩টি কারখানা রয়েছে। বিশ্বের অন্য কোনও দেশের তুলনায় এটি একটি অনন্য অর্জন, যা টেকসই শিল্পায়নে বাংলাদেশের নেতৃত্বেরই প্রতিফলন। বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    নতুন করে লিড সনদ পাওয়া চারটি কারখানার মধ্যে দুটি প্লাটিনাম, একটি গোল্ড এবং একটি সিলভার পর্যায়ের স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

    চট্টগ্রামের উত্তর নাসিরাবাদ শিল্প এলাকায় অবস্থিত ক্যানভাস গার্মেন্টস প্রাইভেট লিমিটেড LEED O+M: Existing Buildings v4.1 রেটিং ব্যবস্থায় ৯০ পয়েন্ট অর্জন করে প্লাটিনাম সনদ পেয়েছে। গাজীপুরের চয়দানায় অবস্থিত ম্যাট্রিক্স সোয়েটার্স লিমিটেড একই রেটিং ব্যবস্থায় ৮৮ পয়েন্ট অর্জন করে প্লাটিনাম সনদ লাভ করেছে। এদিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের করিম টেক্সটাইলস লিমিটেড ৭৩ পয়েন্ট অর্জন করে গোল্ড এবং ঢাকার ধামরাইয়ের করিম টেক্স লিমিটেড ৫৩ পয়েন্ট নিয়ে সিলভার সনদ অর্জন করেছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই স্বীকৃতি?

    লিড সনদ বিশ্বের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পরিবেশবান্ধব ভবন ও শিল্প কারখানার স্বীকৃতিগুলোর একটি। জ্বালানি সাশ্রয়, পানির দক্ষ ব্যবহার, কার্বন নিঃসরণ কমানো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের ব্যবহার, কর্মপরিবেশ এবং টেকসই অবকাঠামো— এসব সূচকে নির্ধারিত মান পূরণ করেই একটি কারখানা এই সনদ অর্জন করে।

    বর্তমানে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বড় বড় ফ্যাশন ব্র্যান্ড পরিবেশবান্ধব কারখানাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফলে লিড সনদ শুধু একটি সম্মানজনক স্বীকৃতিই নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার।

    উৎপাদনের পাশাপাশি টেকসই শিল্পেও নেতৃত্ব

    বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রফতানিকারক দেশ। গত এক দশকে শুধু রফতানির পরিমাণ বাড়ানোর দিকেই নয়, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে দেশের উদ্যোক্তারা।

    সবুজ কারখানায় বিনিয়োগের ফলে বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহার কমছে, উৎপাদন ব্যয় দীর্ঘমেয়াদে হ্রাস পাচ্ছে এবং কার্বন নিঃসরণও কমানো সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থাও বাড়ছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে বৈশ্বিক বাজারে টেকসই উৎপাদন আর অতিরিক্ত সুবিধা নয়; এটি ক্রেতাদের অন্যতম প্রধান শর্তে পরিণত হয়েছে। সেই বাস্তবতায় বাংলাদেশের এই অগ্রগতি ভবিষ্যতের রপ্তানি বাজার ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে

    বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘‘নতুন চারটি লিড সনদপ্রাপ্ত কারখানার সংযোজন বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এখন দেশে ২৯০টি লিড সনদপ্রাপ্ত পোশাক কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে ১২৫টি প্লাটিনাম এবং ১৪৫টি গোল্ড। বিশ্বের সর্বোচ্চ স্কোরপ্রাপ্ত শীর্ষ ১০০টি লিড সনদধারী কারখানার মধ্যে বাংলাদেশের ৫৩টির অবস্থান প্রমাণ করে, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে।’’

    তিনি বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন শুধু প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য চান না, তারা উৎপাদন প্রক্রিয়াও পরিবেশবান্ধব ও দায়িত্বশীল হতে হবে— এমন প্রত্যাশা করেন। বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা সেই পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের সফলভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছেন। সবুজ কারখানায় বিনিয়োগের ফলে জ্বালানি ও পানির দক্ষ ব্যবহার বাড়ছে, কার্বন নিঃসরণ কমছে এবং শ্রমিকদের জন্য আরও নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হচ্ছে।’’

    মহিউদ্দিন রুবেল আরও বলেন, ‘‘এই অর্জন ধরে রাখতে শুধু বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয়, মাঝারি ও ছোট কারখানাগুলোকেও সবুজ রূপান্তরের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারবে এবং টেকসই উৎপাদনে বিশ্বের রোল মডেল হিসেবে নিজেদের অবস্থান দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে সক্ষম হবে।’’

    বিশ্বের শীর্ষ তালিকায় বাংলাদেশের আধিপত্য

    বিশ্বের সর্বোচ্চ স্কোরপ্রাপ্ত শীর্ষ ১০০টি লিড সনদধারী কারখানার মধ্যে বাংলাদেশের ৫৩টির অবস্থান দেশের সক্ষমতার একটি বড় প্রমাণ। শুধু সংখ্যায় নয়, সর্বোচ্চ স্কোর অর্জনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের একাধিক কারখানা ধারাবাহিকভাবে বিশ্বসেরাদের তালিকায় স্থান করে নিচ্ছে। এটি প্রমাণ করে, দেশের উদ্যোক্তারা এখন শুধু কম খরচে উৎপাদনের প্রতিযোগিতায় নেই; বরং পরিবেশ সংরক্ষণ, জ্বালানি দক্ষতা এবং টেকসই শিল্প ব্যবস্থাপনাকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন।

    সামনে সুযোগ, তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়

    বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণ কমানো, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের ওপর জোর বাড়ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন পরিবেশগত নীতিমালা, কার্বন-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর সরবরাহ শৃঙ্খলে টেকসই উৎপাদনের বাধ্যবাধকতা বাংলাদেশের জন্য যেমন নতুন সুযোগ তৈরি করছে, তেমনি প্রতিযোগিতাও বাড়াচ্ছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু লিড সনদের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন, শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন, পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনে আরও বিনিয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পোশাক কারখানাগুলোকেও সবুজ রূপান্তরের আওতায় আনতে হবে।

    বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা

    বিশ্ববাজারে পোশাক রফতানিতে প্রতিযোগিতা দিন দিন বাড়ছে। ভিয়েতনাম, ভারত, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোও টেকসই শিল্পে দ্রুত বিনিয়োগ করছে। এমন বাস্তবতায় নতুন চারটি লিড সনদ বাংলাদেশের জন্য শুধু আরেকটি পরিসংখ্যানগত অর্জন নয়; এটি আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের গ্রহণযোগ্যতা, ব্র্যান্ড ইমেজ এবং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হওয়ার একটি ইতিবাচক বার্তা।

    সবুজ শিল্পায়নে ধারাবাহিক এই অগ্রগতি ধরে রাখতে পারলে ভবিষ্যতে আরও উচ্চমূল্যের ক্রয়াদেশ আকর্ষণ, বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর আস্থা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদনে বাংলাদেশকে বিশ্বের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

  • এবারের বিশ্বকাপে ১০০ ম্যাচে যত রেকর্ড

    এবারের বিশ্বকাপে ১০০ ম্যাচে যত রেকর্ড

    বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে আয়োজিত হচ্ছে ২৩তম টুর্নামেন্ট। চলতি আসরে রেকর্ড ৪৮টি দেশ অংশ নিচ্ছে। ইতোমধ্যে ১০০টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাকি আছে- দুই সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ ফাইনালসহ ৪টি ম্যাচ।

    আগামী ১৯ জুলাই দিবাগত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের মেগা ফাইনাল। বিশ্বসেরার মুকুট জয়ের স্বপ্ন নিয়ে এখনও টিকে আছে- ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, সাবেক তিন চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও স্পেন।

    ইতোমধ্যে বিদায় নিয়েছে সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোসহ মোট ৪৪টি দল। হেভিওয়েট ব্রাজিল, জার্মানি, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী দলগুলোরও বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়েছে।

    টুর্নামেন্টের ১০০ ম্যাচে যেসব রেকর্ড হয়েছে-

    ১০০ ম্যাচ শেষে এবারের বিশ্বকাপে মোট গোল হয়েছে ২৯২টি। ৪৮ দলের বিশ্বকাপে গোলের সংখ্যা বাড়বে এমন প্রত্যাশা ছিলই। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ৬৪ ম্যাচে মোট গোল হয়েছিল ১৭২টি। সেখানে ২০২৬ বিশ্বকাপে মাত্র ১০০ ম্যাচেই গোলসংখ্যা পৌঁছে গেছে ২৯২ তে।

    দলগতভাবে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৭টি গোলের মালিক আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফ্রান্সের গোল ১৬টি। ইংল্যান্ড করেছে ১৩টি এবং স্পেনের গোলসংখ্যা ১১টি। অন্যদিকে, এ টুর্নামেন্টে একমাত্র গোলশূন্য দল পানামা। গ্রুপ পর্বে তিনটি ম্যাচ খেলেও তারা কোনো গোলের দেখা পায়নি।

    অ্যাসিস্টে এগিয়ে ফ্রান্স

    দলগত অ্যাসিস্টের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে ফ্রান্স। তারা করেছে ১৪টি অ্যাসিস্ট। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড সমান ১০টি করে অ্যাসিস্ট করেছে। স্পেনের অ্যাসিস্ট ৮টি।

    আক্রমণে সবচেয়ে ভয়ংকর বেলজিয়াম

    প্রতিপক্ষের গোলমুখে সবচেয়ে বেশি শট নেওয়া দলের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বেলজিয়াম। তারা মোট ১১২টি নিশ্চিত শট নিয়েছে। স্পেন ও ফ্রান্স নিয়েছে ১১০টি করে শট। আর্জেন্টিনার শটের সংখ্যা ৯৮টি।

    পাসিংয়ে আধিপত্য আর্জেন্টিনার

    বল দখল ও ছোট ছোট পাসের খেলায় এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে সফল দল আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপে এ আসরে শততম ম্যাচ শেষে তারা দিয়েছে ৪ হাজার ১৬২টি পাস, যার সফলতার হার ৯১ শতাংশ। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্পেন, তাদের সফল পাসের সংখ্যা ৪ হাজার ৭৫টি।

    রক্ষণে সবচেয়ে দৃঢ় স্পেন

    এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কম গোল হজম করেছে স্পেন। মাত্র একটি গোল হজম করেছে তারা। ফ্রান্স গোল হজম করেছে ২টি। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড প্রত্যেকেই হজম করেছে ৬টি করে গোল। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি ১২টি করে গোল হজম করেছে ইরাক ও তিউনিশিয়া।

    আত্মঘাতী গোলের নতুন বিশ্বরেকর্ড

    ২০২৬ বিশ্বকাপ ইতোমধ্যেই আত্মঘাতী গোলের নতুন রেকর্ড গড়েছে। ১০০ ম্যাচ শেষে আত্মঘাতী গোলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪টি, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১২টি আত্মঘাতী গোল হয়েছিল। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস লিখেছে উত্তর আমেরিকার এবারের আসরটি। সবচেয়ে বেশি দুটি করে আত্মঘাতী গোল করেছে কাতার ও মিশরের ফুটবলাররা।

    ফাউলে এগিয়ে সুইজারল্যান্ড

    টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ৮৯টি ফাউল করেছে সুইজারল্যান্ড। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মরক্কোর ফাউল ৮৮টি। ইংল্যান্ড করেছে ৮৭টি ফাউল, আর আর্জেন্টিনা করেছে ৬৮টি।

    লাল কার্ডেও রেকর্ড

    ২০২২ সালের পুরো বিশ্বকাপে মাত্র চারটি লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। অথচ ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই তিনজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেন। ১০০ ম্যাচ শেষে এবারের বিশ্বকাপে মোট ১৪টি লাল কার্ড দেখানো হয়েছে, যা ২০১৮ ও ২০২২ এই দুই বিশ্বকাপ মিলিয়ে প্রদর্শিত মোট ৮টি লাল কার্ডেরও বেশি। দক্ষিণ আফ্রিকা ও কাতারের ফুটবলাররা সবচেয়ে বেশি দুটি করে লাল কার্ড দেখেছেন।

    হলুদ কার্ড ও অফসাইড

    এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ২৫৭ জন ফুটবলার হলুদ কার্ড দেখেছেন। দলগতভাবে সবচেয়ে বেশি ১২টি হলুদ কার্ড পেয়েছেন মিশরের খেলোয়াড়রা। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি ১৯ বার অফসাইডে ধরা পড়েছে কলম্বিয়া। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আর্জেন্টিনা, যারা অফসাইড হয়েছেন ১৮ বার।

    গোলরক্ষকদের মধ্যে সেরা সেভ

    এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সেভ করেছেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। তিনি করেছেন ২৮টি সেভ, যা চলতি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ।

  • মোজতবা খামেনি ৯০ শতাংশ শেষ: ট্রাম্পের দাবি

    মোজতবা খামেনি ৯০ শতাংশ শেষ: ট্রাম্পের দাবি

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় দেশটি তাদের সামরিক সক্ষমতা এবং শীর্ষ কমান্ডারদের হারিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনিও ৯০ শতাংশ ‘শেষ’ হয়ে গেছেন।

    গত সপ্তাহে প্রয়াত বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অনুপস্থিত ছিলেন মোজতবা আলী খামেনি।

    ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, তাদের কোনো নৌবাহিনী নেই, কোনো বিমানবাহিনী নেই, সব শেষ। তাদের বিমানবিধ্বংসী ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের সব নেতা নিহত হয়েছেন, তাদের সেরা নেতাদের হত্যা করা হয়েছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুদ্ধে ইরানের সেরা নেতারা মারা গেছেন। তাঁরা আর নেই। খোমেনি শেষ।

    এখানে ট্রাম্প ১৯৮৯ সালে মারা যাওয়া ইরানের প্রয়াত বিপ্লবী নেতা ‘খোমেনি’–এর নাম ব্যবহার করলেও দৃশ্যত তিনি আলী খামেনিকে বুঝিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রথম দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি নিহত হন। ট্রাম্প আরও যোগ করেন, তাঁর (খামেনি) ছেলেও ৯০ শতাংশ শেষ।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনে বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ পরিবারের সদস্যরা নিহত হন। এ সময় মোজতবা আলী খামেনিও আহত হন বলে জানা যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর পর থেকে তাঁকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তাঁর এই দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি তাঁর স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং তিনি কোথায় আছেন—তা নিয়ে জনগণের মধ্যে ব্যাপক জল্পনাকল্পনার জন্ম দিয়েছে।

    সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনার পরই ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে এল। গত সপ্তাহের রোববার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানোয় যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসকেও জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ আবার শুরু হয়েছে। তিনি ইরানের বিভিন্ন নিশানায় একাধিক দফায় হামলার নির্দেশ দিয়েছেন।

  • ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ৪৫৬১

    ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ৪৫৬১

    লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় গত ২৪ জুন শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত মৃত বেড়ে ৪ হাজার ৫৬১ জনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার তুরস্কের সরকারি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    দেশটির ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট জর্জ রদ্রিগেজ বলেন, ভূমিকম্পে মোট ১৬ হাজার ৭৪০ জন আহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ ১ লাখ ২৮ হাজার ৩২৪টি পরিবারকে সহায়তা করেছে। এ ছাড়া ২০ হাজার ২৩১ জনের জন্য ১০৭টি অস্থায়ী আশ্রয়শিবির স্থাপন করা হয়েছে। এসব আশ্রয়শিবিরে ১৭ হাজার ৯০৭ জন আশ্রয় নিয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, ভূমিকম্পে ৮৫৬টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯০টি ধসে পড়েছে।

    মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, গত ২৪ জুন দক্ষিণ আমেরিকার এ দেশে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে।
    ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ ও গবেষণা সংস্থা ইউএসজিএস এক বিবৃতিতে জানায়, নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলীয় উপকূল ছিল এ ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল বা এপিসেন্টার। ওই অঞ্চলে দেশটির বেশ কয়েকটি তেল শোধানারগার রয়েছে।

    মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের ফলে রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন শহর এবং গ্রামে বহু ভবন ধসে পড়ে। ইউএসজিএসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার অধিকাংশ ভবন ও বাড়িঘর নির্ম ভূমিকম্প সহনশীল প্রযুক্তি অনুসরণ করে তৈরি করা হয়নি। ফলে নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার বা তার চেয়ে বেশিও হতে পারে।

  • ট্রাম্প কেন পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন চাই?

    ট্রাম্প কেন পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন চাই?

    ইরানের সন্দেহভাজন একটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামের ওই স্থাপনা লক্ষ্য করে তিনি বলেছেন, ‘ইরানিদের প্রস্তুত থাকতে বলো।’ জাইদ সাবাহর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। ট্রাম্পের হুমকি দেওয়া পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন কী

    পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন, যা স্থানীয়ভাবে ‘কুহ-ই কোলং গাজ লা’ নামে পরিচিত। এটি ইরানের মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের কাছে অবস্থিত। এই পাহাড়ে মাটির গভীরে দুটি টানেল বা সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্স রয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই সুড়ঙ্গগুলো মাটির এত গভীরে তৈরি করা হয়েছে যে আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী ‘বাঙ্কার-বাস্টার’ বা মাটি ভেদ করা বোমা দিয়েও সেখানে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

    দ্য ওয়াশিংটন পোস্টসহ মার্কিন গণমাধ্যমে বিশ্লেষকদের বরাতে বলা হয়েছে, এই স্থাপনা তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অংশ হতে পারে। এর আগে ‘হিউ হিউইট শো’তে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই স্থাপনা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

    ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা সেখানে কোনো তৎপরতা দেখছি না। তাদের পারমাণবিক পরিস্থিতির অবস্থা ভালো নয়। আমরা যখনই এর (পারমাণবিক কার্যক্রম) কথা শুনি, তখনই তা উড়িয়ে দিই। তাই তারা এটি নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করে না। তবে আমরা খুব শিগগিরই পিকঅ্যাক্সে একটি আঘাত হানব।’

  • মার্কিন পঞ্চম নৌবহরে ইরানের হামলা

    মার্কিন পঞ্চম নৌবহরে ইরানের হামলা

    বাহরাইনে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। বাহিনীটি এটিকে একটি ‘প্রতিশোধমূলক অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। হামলায় ওই ঘাঁটির একটি জ্বালানি সংরক্ষণাগারে আগুন ধরে যায়।

    বিবৃতিতে আরো দাবি করা হয়, হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার এবং নৌবহরের এয়ার কন্ট্রোল রাডার ধ্বংস হয়েছে।

    এ ছাড়া একটি সি-র‍্যাম আগাম সতর্কীকরণ রাডার ব্যবস্থা এবং মানববিহীন সারফেস ভেসেল নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে। আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের এই প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

    তবে ইরানের এই দাবির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) বা বাহরাইন সরকারও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

  • কী আছে ভারতের নিষিদ্ধ এই সিনেমায়

    কী আছে ভারতের নিষিদ্ধ এই সিনেমায়

    ১৯৯৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। পাঞ্জাবের অমৃতসরে নিজের বাড়ির সামনে থেকে অপহৃত হন মানবাধিকারকর্মী জসওয়ন্ত সিং খালরা। এরপর তাঁকে আর কখনো জীবিত বা মৃত—কোনো অবস্থাতেই দেখা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী ছিল, জনমতও ক্রমেই তীব্র হচ্ছিল। তবু প্রায় এক বছর কেটে গেলেও ঘটনার কোনো অগ্রগতি হয়নি। আসলে কী হয়েছিল খালরার? তিনি কি হঠাৎ করেই পৃথিবী থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিলেন? নাকি পুলিশের দাবি অনুযায়ী ইউরোপ কিংবা আমেরিকায় দিনমজুরের কাজ করতে চলে গিয়েছিলেন? নাকি তিনিও সেই হাজারো তরুণের একজন, যাঁদের ‘নিখোঁজ’ দেখিয়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার করা হয়েছিল—যাঁদের ন্যায়বিচারের জন্যই নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন খালরা?

    একনজরে
    সিনেমা: ‘সাতলুজ’
    ধরন: ড্রামা
    পরিচালনা: হানি ত্রেহান
    অভিনয়: দিলজিৎ দোসাঞ্জ, সুবিন্দর ভিকি, গীতিকা বিদ্যা ওহলিয়ান, কানওয়ালজিৎ সিং, জগজিৎ সান্ধু, এস এম জহির
    ভাষা: হিন্দি ও পাঞ্জাবি
    স্ট্রিমিং: জি৫
    দৈর্ঘ্য: ২ ঘণ্টা ৪৪ মিনিট

    খালরার আত্মা যে অনিশ্চয়তার ভেতর দিয়ে যেন ভেসে বেড়াচ্ছিল, হানি ত্রেহানের ছবির যাত্রাপথও যেন তেমনই। প্রথমে ছবিটির নাম ছিল ‘পাঞ্জাব ৯৫’। ২০২৩ সালে এটি টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ভারতের সার্টিফিকেশন বোর্ডে (সিবিএফসি) টানা তিন বছর আটকে থাকে ছবিটি। কারণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নাগরিক আন্দোলনের মূল্য নিয়ে নির্মিত ছবিটিতে বোর্ড প্রায় ১২০টি কাটের নির্দেশ দিয়েছিল। কাস্টিং পরিচালক হানি ত্রেহান এ সময় ব্যক্তিগত প্রদর্শনীর আয়োজন করেন, সাক্ষাৎকার দেন এবং সেন্সর বোর্ডের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ লড়াইয়ের নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

    সন্ধ্যা সুরির ‘সন্তোষ’ ছবির মতোই—যেখানে উত্তর ভারতের পুলিশি রাষ্ট্রব্যবস্থার কঠিন বাস্তবতা উঠে এসেছে—নতুন নাম পাওয়া ‘সাতলুজ’ও ভারতে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির সুযোগ পায়নি। বরং নীরবে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। হয়তো এটিই সবচেয়ে দুঃখজনক পরিণতি নয়। বরং জি৫–এর ‘বার্লিন’, ‘কেনেডি’ এবং ‘সাতলুজ’—তিনটি ছবিই উদ্বিগ্ন নাগরিকদের জন্য একসঙ্গে দেখার মতো অসাধারণ একটি ত্রয়ী। কিন্তু মুক্তির পরও শেষ রক্ষা হয়নি। ৪ জুলাই মুক্তির ৪৮ ঘণ্টা পরেই সরকারি চাপে সিনেমাটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় প্ল্যাটফর্মটি। এত আলোচিত, প্রশংসিত আর নিষিদ্ধ এই সিনেমায় কী আছে?

    ‘সাতলুজ’ এমন এক শক্তিশালী রাজনৈতিক চলচ্চিত্র, যা কোনো ধরনের আপস করে না। রাষ্ট্র এবং তার পুলিশ বাহিনী যখন জনগণের অধিকার রক্ষার বদলে সেই অধিকারই পদদলিত করে, তখন কী ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়—ছবিটি নির্ভীকভাবে সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে আসে। ফলাফল, এটি হয়ে ওঠে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেওয়া এক সিনেমা। এটি সহজে দেখার মতো ছবি নয়। কিন্তু দীর্ঘ সময়ের হলেও ‘সাতলুজ’ কখনো দর্শককে চোখ ফেরানোর সুযোগ দেয় না। ছবিটি দর্শকের পূর্ণ মনোযোগ দাবি করে এবং নির্মাতার বক্তব্যের ভার বহন করতেও যে প্রস্তুত থাকতে বলে, সে কথা বলাই বাহুল্য। হানি ত্রেহান আমাদের নিয়ে যান আশি ও নব্বইয়ের দশকের সেই পাঞ্জাবে, যেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের রক্তাক্ত অধ্যায় সমাজকে গ্রাস করেছিল। রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং পুলিশের লাগামহীন ক্ষমতার যে নির্মম চিত্র তিনি এঁকেছেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং শিহরণ জাগানো।

    ‘সাতলুজ’-এর দৃশ্য। আইএমডিব

    যদিও গল্পটি ভারতের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল এবং নির্দিষ্ট সময়কে ঘিরে, ‘সাতলুজ’ আসলে সন্ত্রাস, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের এমন এক সর্বজনীন দলিল, যা যেকোনো সমাজের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে উঠতে পারে। আইনহীনতা যখন ক্ষমতাসীনদের স্বার্থ রক্ষা করে, তখন তার পরিণতি কেমন হয়—ছবিটি সেটিই দেখায়। ছবির শুরুতে একটি বাধ্যতামূলক ঘোষণা জানিয়ে দেওয়া হয়—এটি তথ্যচিত্র নয়; মানবাধিকারকর্মী জসওয়ন্ত সিং খালরার জীবনের ঘটনাগুলো অবলম্বনে নির্মিত সিনেমা।

    নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি পাঞ্জাবে নিখোঁজ হওয়া মানুষ, বিচারবহির্ভূত আটক এবং গণদাহের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে জসওয়ন্ত সিং খালরাকে যে চরম মূল্য দিতে হয়েছিল, ছবিটি সেই ইতিহাসকে ভিত্তি করে নির্মিত। আরএসভিপি এবং ম্যাকগাফিন পিকচার্স প্রযোজিত এই ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন হানি ত্রেহান, নিরেন ভাট ও উৎসব মৈত্র। বাস্তব ঘটনা থেকে ছবির বিচ্যুতি বলতে মূলত কয়েকটি চরিত্রের নাম পরিবর্তন করা।

    ডিজিপি আইপিএস বিট্টা (কানওয়ালজিৎ সিং) কিংবা মুখ্যমন্ত্রী অনন্ত সিং—যিনি আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হন, তার এক সপ্তাহ পর অমৃতসরে নিজের বাড়ির সামনে থেকে অপহৃত হন জসওয়ন্ত সিং—এসব চরিত্রের বাস্তব প্রেরণা সহজেই অনুমান করা যায়। ব্যাংক কর্মকর্তা জসওয়ন্ত সিং খালরা (দিলজিৎ দোসাঞ্জ) প্রথম সন্দেহ করেন, যখন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং বন্ধুর মা নিখোঁজ হয়ে যান। তিনি থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে চাইলে পদোন্নতির চিন্তায় ব্যস্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা (বংশ ভরদ্বাজ) অভিযোগ নিতেই অস্বীকৃতি জানান।

    ইন্সপেক্টর পদে উন্নীত হয়ে বিয়ে করার স্বপ্নেই তিনি মশগুল। এরপর খালরা মর্গে যান। দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক (গীতা আগরওয়াল শর্মা) তাঁকে এমন তথ্য দেন, যা তাঁকে স্তম্ভিত করে। কিন্তু আরও বড় ধাক্কা অপেক্ষা করছিল শ্মশানে। সেখানে তিনি এমন একটি রেজিস্টার খুঁজে পান, যেখানে শত শত অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের তালিকা সংরক্ষিত। এরপর গল্প ক্রমে আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

    হুমকি ও সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে খালরা সত্য অনুসন্ধান চালিয়ে যান। স্থানীয় এক বিধায়ক তাঁকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি তুলে ধরার জন্য তিরস্কার করেন। কিন্তু তিনি দমে যান না। স্ত্রী পরমজিৎ (গীতিকা বিদ্যা ওহলিয়ান) জানেন, এই পথ তাঁদের দুই স্কুলপড়ুয়া সন্তানসহ পুরো পরিবারকে বিপদের মুখে ফেলছে। তবু তিনি স্বামীর পাশে থাকেন। স্থানীয় থানায় জসওয়ন্তের শৈশবের বন্ধু কনস্টেবল সতনাম সিং (সৌরভ সচদেবা) কর্মরত। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গাড়িচালক হিসেবে কাজ করার সুবাদে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিজের ঝুঁকি নিয়েই জসওয়ন্তকে জানাতে থাকেন তিনি। এই সাহসের মূল্যও তাঁকে দিতে হয়।

    ‘সাতলুজ’-এর দৃশ্য। আইএমডিবি

    সতনাম একসময় বলেন, ‘কালো পাতায় লেখা কালো সত্য, যা দেখা যায় না, পড়াও যায় না।’ নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তিনি খালরাকে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেন।
    ছবির প্রায় এক ঘণ্টা পর সতনামের বাড়িতে ঘটে যাওয়া একটি দৃশ্য পুরো চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। এই দৃশ্যে সুবিন্দর ভিকি (এসএসপি সুরজিৎ সিং সুগ্গা) এবং সৌরভ সচদেবা অভিনয়ের অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দেন। ক্ষমতা ও অহংকারে উন্মত্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা একটি পরিবারকে কার্যত জিম্মি করে রাখে। অন্যদিকে নিচের সারির এক অসহায় পুলিশ সদস্য অপরাধবোধ আর ভয়ে কাঁপতে থাকেন। ক্ষমতা কীভাবে কাজ করে এবং সেই ক্ষমতার সামনে সাধারণ মানুষ কতটা অসহায় হয়ে পড়ে—কে ইউ মোহাননের ক্যামেরা আর এ শ্রীকর প্রসাদের সম্পাদনা মিলিয়ে দৃশ্যটি অসাধারণভাবে ফুটে উঠেছে।

    ‘সাতলুজ’ মূলত পুলিশ ও জঙ্গিদের সংঘাতের গল্প হলেও ছবিটি দেখায়, শেষ পর্যন্ত পুলিশই কীভাবে সবচেয়ে ভয়ংকর সহিংস শক্তিতে পরিণত হয় এবং সম্পূর্ণ দায়মুক্তি নিয়ে আইন ভঙ্গ করতে থাকে। এটি গণতন্ত্রের অবক্ষয় এবং ক্ষমতার নগ্ন অপব্যবহারকে স্বাভাবিক করে তোলার ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে নির্মিত এক সতর্কবার্তা।

    খালরা নিখোঁজ হওয়ার পর দিল্লি থেকে পাঞ্জাবে আসেন সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের অতিরিক্ত পরিচালক সমুদ্র সিং (অর্জুন রামপাল)। চরিত্রটি ছবির বর্ণনাকারীর ভূমিকাও পালন করে। অন্যদিকে একজন আইনজীবী (বরুণ বাদোলা) অবৈধভাবে হত্যা করা নারী-পুরুষদের পরিবারের পক্ষে আদালতে মামলা করেন। ছবির কিছু অংশ হয়তো একটু দীর্ঘ মনে হতে পারে। তবে বিষয়টির গুরুত্ব এবং গল্প বলার ধারালো ভঙ্গির কারণে ‘সাতলুজ’ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দর্শককে ধরে রাখে। এটি একই সঙ্গে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেয় এবং অস্বস্তিতে ফেলে।

    অভিনয়ের দিক থেকেও ছবিটি অসাধারণ। সবার আগে বলতে হয় দিলজিৎ দোসাঞ্জের কথা। অতিরঞ্জন ছাড়াই তিনি ক্ষোভ, দৃঢ়তা এবং অদৃশ্য বিপদের আশঙ্কা দারুণভাবে প্রকাশ করেছেন। চরিত্রটির গুরুত্ব এবং ছবির উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি যে পুরোপুরি সচেতন ছিলেন, তা অভিনয়ের প্রতিটি মুহূর্তে স্পষ্ট। তারকাসুলভ উপস্থিতিকে সামনে না এনে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে চরিত্র ও সময়ের ভেতর মিশিয়ে দিয়েছেন।

    ছবিতে দিলজিৎ দোসাঞ্জ অভিনীত খালরা চরিত্রটিকে প্রথমে দেখা যায় একেবারেই সাধারণ একজন মানুষ হিসেবে। তিনি একটি ব্যাংকের কর্মী, শান্ত স্বভাবের পারিবারিক মানুষ। ছয় মাস আগে তাঁর বন্ধু কিরপালকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় মৃত পাওয়া গিয়েছিল। এবার নিখোঁজ হয়ে যান শোকে পাগল হয়ে যাওয়া কিরপালের মা। তাঁকে খুঁজতে জসওয়ন্ত ছুটে বেড়ান হাসপাতাল, মর্গ ও শ্মশানে। ব্যাংকার হিসেবে সংখ্যার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কই হয়তো তাঁকে একটি অসংগতি ধরতে সাহায্য করে। সরকারি নথিতে ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ হিসেবে নিবন্ধিত মৃতদেহগুলোর তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করা হয়েছে।

    মুক্তির মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সরিয়ে নেওয়া ‘সাতলুজ’। কোলাজ

    হানি ত্রেহান দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশিব্যবস্থার নৃশংসতা কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে কখনোই ক্যামেরা সরিয়ে নেন না। তবে তিনি এটাও দেখান, এই পচন পুরো ব্যবস্থার নয়; বরং কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা ও তাঁদের ঊর্ধ্বতনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, ত্রেহান এই ভয়াবহ গল্পটি বলেছেন অসাধারণ সংযম ও স্থিরতার সঙ্গে। খালরা কোনো আবেগপ্রবণ বিপ্লবী নন। তিনি এই মাটিরই মানুষ। নিজের সমাজকে রক্ষা করার দায় থেকেই তিনি সত্যের খোঁজে নামেন।

    শুরু থেকেই কে ইউ মোহাননের রাতের দৃশ্যের চিত্রগ্রহণ দৃষ্টিনন্দন ও পরিশীলিত। মাঝেমধ্যে কিছু নান্দনিক দৃশ্য—যেমন ওপর থেকে ধারণ করা সাদা-কালো মুদ্রা ছোড়ার দৃশ্য—পাঞ্জাব নোয়ার ঘরানার বাস্তবতাকে ভেঙে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। ছবির মাঝামাঝি এসে এটি রহস্য–থ্রিলারে রূপ নেয়। আর সেখানে অর্জুন রামপালকে নতুনভাবে আবিষ্কার করা যায়। ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এ সুবিন্দর ভিকির চরিত্রের কাছে যিনি কার্যত হার মেনেছিলেন, এখানে যেন তিনি পাল্টা জবাব দেওয়ার সুযোগ পান। সুবিন্দর ভিকি অভিনয় করেছেন এসএসপি সুগ্গা চরিত্রে। দুর্নীতিগ্রস্ত, ঘৃণ্য ও নির্মম এই পুলিশ কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদ দীর্ঘায়িত করে মানসিক নির্যাতন চালাতে ভালোবাসে। চরিত্রটি অনেকটা ‘ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ডস’–এর হান্স লান্ডার কথা মনে করিয়ে দেয়।

    ‘সাতলুজ’ দেখিয়ে দেয়, বিশ্বের বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো কীভাবে জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে সত্য উদ্‌ঘাটনকারীদের অপদস্থ করে এবং প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করে। এটি শুধু ভুলে যাওয়া মানুষদের স্মৃতির দলিল নয়; এটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রযন্ত্রের সামনে ধরা এক জরুরি আয়না। তাই ছবিটি শুধু সিনেমা হিসেবে নয়, সময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবেও মনোযোগ পাওয়ার দাবি রাখে।

    সিনেমার কিছু সংলাপ শেষ হওয়ার পরও মনে থাকে। খালরা বলেন, ‘আমরা পুলিশবিরোধী নই, সরকারবিরোধীও নই।’ ছবির শেষ হয় খালরার আরেকটি বিখ্যাত উক্তি দিয়ে, ‘আমি অন্ধকারকে চ্যালেঞ্জ জানাই।’ তবে সবচেয়ে বেশি মনে থাকবে খালরার বলা সবচেয়ে সহজ কথাটিই—‘কাউকে না কাউকে তো সামনে আসতেই হবে।’

  • গতি হারাচ্ছে বাংলাদেশ, দ্রুত এগোচ্ছে ভিয়েতনাম

    গতি হারাচ্ছে বাংলাদেশ, দ্রুত এগোচ্ছে ভিয়েতনাম

    মতামত

    বিশ্ব পোশাক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণের গতি বাড়লেও সেই প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি দেশের তৈরি পোশাক খাত। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে অংশীদারত্ব কমেছে এবং প্রধান প্রতিযোগী ভিয়েতনাম রপ্তানি মূল্যে বাংলাদেশের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

    বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ। বিপরীতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক গড়ের তুলনায় দেশের প্রবৃদ্ধি প্রায় পাঁচ গুণ কম হয়েছে। অথচ ২০২৪ সালে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সে সময় বিশ্ববাজারের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি হারে রপ্তানি বাড়িয়েছিল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারিত হলেও বাংলাদেশ প্রত্যাশিত সুবিধা নিতে পারেনি।

    ডব্লিউটিওর পরিসংখ্যান বলছে, ধীরগতির এই প্রবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক বাজারে দেশের অংশীদারত্বেও। ২০২৪ সালে যেখানে বাংলাদেশের হিস্যা ছিল ৭ শতাংশ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সেই ধারা উল্টে তা কমে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশে নেমে এসেছে। আগের বছরে যে অগ্রগতি হয়েছিল, তার বড় অংশই এবার হারিয়েছে দেশের পোশাকশিল্প।

    এদিকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম দ্রুত ব্যবধান কমিয়ে আনছে। ডব্লিউটিওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৮ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে ভিয়েতনামের রপ্তানি হয়েছে ৩৭ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার। ফলে দুই দেশের ব্যবধান এখন মাত্র ১ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। অথচ ২০২৪ সালে এই পার্থক্য ছিল ২ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন এবং ২০২৩ সালে ছিল ৪ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার। বাজার অংশীদারত্বের দিক থেকেও দুই দেশের দূরত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের হিস্যা ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ, আর ভিয়েতনামের ৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, রপ্তানি প্রবৃদ্ধির বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী বছরই বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যেতে পারে ভিয়েতনাম।

    ডিপিএ শিল্পের বৈদেশিক অর্থ পাঠানোর নিয়ম শিথিল

    ডব্লিউটিওর তথ্য বিশ্লেষণে আরো দেখা যায়, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক বাজারে পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া। দীর্ঘদিন ধরে চীনের বাজার সংকুচিত হলে এশিয়ার অন্য রপ্তানিকারক দেশগুলো তার সুবিধা পেত। তবে এবার সেই চিত্র বদলে গেছে। চীনের পোশাক রপ্তানি ৪ দশমিক ৯২ শতাংশ কমলেও সেই বাজারের বড় অংশ দখল করছে কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনাম। এ সময় কম্বোডিয়ার প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ। বিপরীতে বাংলাদেশ সেই বাজার দখলের সুযোগ প্রত্যাশিতভাবে কাজে লাগাতে পারেনি।

    বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক এবং বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল আমার দেশকে বলেন, বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণের যে চিত্র দেখা যাচ্ছে তা মূলত চাহিদা বৃদ্ধির কারণে নয়। বরং পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির জন্য হয়েছে। তবে যতটুকু বাজার বেড়েছে তার কাঙ্ক্ষিত হিস্যা সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ দখল করতে পারেনি। চীন থেকে যেসব ক্রয়াদেশ সরে যাচ্ছে তা ধরতে ভিয়েতনাম আমাদের চেয়ে এগিয়ে গেছে কারণ তাদের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), কম লিড টাইম, উন্নত বন্দর ব্যবস্থাপনা এবং নিরবচ্ছিন্ন সাপ্লাই চেইনের মতো শক্তিশালী সুবিধা রয়েছে।

    তিনি বলেন, ভিয়েতনাম দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করলেও বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ভিত্তি এখনো অনেক শক্তিশালী। সরকারের নীতিগত সহায়তা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরো শক্তিশালী করা সম্ভব।

    সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় প্রধান বাজারেই বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ইইউয়ের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-এপ্রিল সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে ৬০৮ দশমিক ৬২ কোটি ইউরোতে নেমেছে, যা এক বছর আগে ছিল ৭৫৪ দশমিক ৪৭ কোটি ইউরো। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওটেক্সার তথ্য বলছে, দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১১ দশমিক ২৪ শতাংশ কমে ২৯৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এপ্রিল মাসে এককভাবে রপ্তানি আয় কমেছে ১৭ দশমিক ২১ শতাংশএদিকে নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সেই লক্ষ্য অর্জনে পোশাক খাতের পাশাপাশি অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

  • আইআরজিসি’কে নিষিদ্ধ করছে বৃটেন

    আইআরজিসি’কে নিষিদ্ধ করছে বৃটেন

    ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে বৃটেন সরকার। এই সিদ্ধান্তকে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সোমবার (১৩ জুলাই) গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    এনিয়ে বৃটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (হোম অফিস) জানায়, ইরানের সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ শাখা আইআরজিসির প্রতি যেকোনো ধরনের সমর্থন নিষিদ্ধ করা হবে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মতবিরোধের পর সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইনি দিক থেকে এটি সরাসরি ‘প্রস্ক্রিপশন’ (সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধকরণ) না হলেও কার্যত একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা হিসেবে বিবেচিত হবে।


    আইআরজিসির পাশাপাশি ইসলামিক মুভমেন্ট অব দ্য কম্প্যানিয়নস অব দ্য রাইট (আইএমসিআর) এবং রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার আন্তর্জাতিক শাখা রাশিয়ান ফেডারেশন ভলান্টিয়ার কর্পস (জিআরইউ)-কেও নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার।

    বৃটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানায়, সব তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, সংগঠনগুলো বিদেশি শক্তির পক্ষে বৃটেনের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে বিশ্বাস করার যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। তাই বৃটেনের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এসব সংগঠনকে তালিকাভুক্ত করা প্রয়োজন।


    বৃটিশ সরকারের দাবি, বৃটেনের মাটিতে সংঘটিত একাধিক হুমকি ও ষড়যন্ত্রের পরিপ্রেক্ষিতে আইআরজিসির বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইরান ইন্টারন্যাশনাল টেলিভিশনের দুই সাংবাদিককে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগ এবং বৃটিশ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সাইবার হামলার ঘটনাও রয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আগের কনজারভেটিভ সরকারের অবস্থান থেকে সরে এসেছে বর্তমান সরকার। পূর্ববর্তী সরকার আইআরজিসিকে নিষিদ্ধ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আইআরজিসিকে যেকোনোভাবে সমর্থন করা বৃটেনে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই পদক্ষেপ তেহরান-লন্ডন সম্পর্ককে আরও শীতল করে তুলতে পারে। বৃটিশ কর্মকর্তারা আগেই সতর্ক করেছিলেন, আইআরজিসিকে নিষিদ্ধ করা হলে ইরান তেহরানে নিযুক্ত বৃটেনের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করতে পারে।

  • তামিলনাড়ুতে গরু জবাইর পক্ষে লড়াইয়ে বিজয়

    তামিলনাড়ুতে গরু জবাইর পক্ষে লড়াইয়ে বিজয়

    তামিলনাড়ুতে কোরবানি ঈদ বা অন্য যেকোনো দিনে গরু ও বাছুর জবাই নিষিদ্ধ করার বিষয়ে মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার (১৩ জুলাই) সর্বোচ্চ আদালত এই স্থগিতাদেশ দিয়ে উল্লেখ করেন যে হাইকোর্টের ওই পূর্ববর্তী আদেশটিতে সংশোধন প্রয়োজন ছিল।

    তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়-এর নেতৃত্বাধীন তামিলগা ভেট্রি কাড়াগাম (টিভিকে) সরকার মাদ্রাজ হাইকোর্টের গত ২৭ মে-র রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে একটি বিশেষ লিভ পিটিশন দায়ের করেছিল, যার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত এসেছে।

    হাইকোর্টের ওই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার আদালতে যুক্তি প্রদর্শন করে যে দেশের বিদ্যমান আইনি বিধান যেখানে নির্দিষ্ট কিছু স্থানে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির গরু জবাই করার অনুমতি দেয়, সেখানে আইনের সেই বিধির পরিপন্থী কোনো বিচার বিভাগীয় নির্দেশ কোনোভাবেই বহাল রাখা যায় না।

    এর আগে মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি জিআর স্বামীনাথন এবং বিচারপতি ভি লক্ষ্মীনারায়াণনের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ ১৯৭৬ সালের একটি সরকারি আদেশের ওপর ভিত্তি করে রাজ্যজুড়ে গো-হত্যা নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মূলত দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের স্বার্থে তৎকালীন সময়ে ওই সরকারি আদেশ জারি করা হয়েছিল।

    হাইকোর্টের রায়ের পক্ষে বিচারপতি স্বামীনাথন উল্লেখ করেছিলেন যে সংবিধানের ৪৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাজ্যগুলোর উচিত গরু, বাছুর এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত গবাদি পশু জবাই নিষিদ্ধ করার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। এছাড়া সংবিধান সভার বিতর্কের সূত্র ধরে তিনি উল্লেখ করেন যে প্রাচীনকাল থেকেই ভারতীয় সভ্যতায় গরুকে একটি শ্রদ্ধেয় প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

    তবে এই নিষেধাজ্ঞার বিপরীতে গিয়ে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়ের নেতারা যুক্তি দিয়েছেন যে কোরবানি ঈদের মতো ধর্মীয় উৎসবে কেবল সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত কসাইখানায় পশু কোরবানি সীমাবদ্ধ রাখা একেবারেই অবাস্তব। কারণ উৎসবের দিনগুলোতে বিপুল পরিমাণ চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতা এই কসাইখানাগুলোর নেই।

    তামিলনাড়ু সরকারও আদালতের কাছে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছে, ‘তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন’ সহ বিদ্যমান অন্যান্য বিধিমালা পশুর জবাইয়ের স্থান ও শর্তাবলী কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে ঠিকই, তবে এটি ঢালাওভাবে কোনো সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে না।

  • পিতার স্মরণসভায় প্রকাশ্যে আসবেন মোজতবা খামেনি?

    পিতার স্মরণসভায় প্রকাশ্যে আসবেন মোজতবা খামেনি?

    ইরান যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে অন্তরালে থাকা ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি অবশেষে জনসমক্ষে আসতে পারেন। আগামী সপ্তাহে তেহরানে তার পিতা তথা প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্মরণসভায় তার উপস্থিতির সম্ভাবনা নিয়ে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

    ইরানি গণমাধ্যম জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিমান হামলায় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে নিহত হওয়া ৮৬ বছর বয়সি সাবেক শীর্ষ নেতার এই স্মরণসভাটি তার উত্তরসূরির পক্ষ থেকে আয়োজন করা হচ্ছে।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছে, শহীদ নেতার স্মরণে ইসলামিক বিপ্লবের বর্তমান নেতা মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) তেহরানের মুসাল্লায় বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত একটি বিশেষ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে।

    গত সপ্তাহে আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম জানাজা ও শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে ৫৬ বছর বয়সি এই নতুন শীর্ষ নেতাকে কোথাও দেখা যায়নি, যা সবার মনে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। তেহরানের ইমাম খোমেনী গ্র্যান্ড মুসাল্লায় আয়োজিত সেই বিশাল জানাজায় মোজতবার তিন ভাই মোস্তফা, মেসাম এবং মাসুদ খামেনিকে তাদের পিতা, বোন, ভগ্নিপতি, ভাইয়ের স্ত্রী এবং ১৪ মাস বয়সি এক নাতনির কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে জানাজার নেতৃত্ব দিতে দেখা গিয়েছিল।

    দীর্ঘ প্রায় ৩৭ বছর ধরে ইরান শাসন করা আলী খামেনির জানাজা উপলক্ষে তেহরানসহ অন্যান্য প্রধান শহরগুলোর রাস্তাঘাট ও আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। পশ্চিমাবিশ্বের সাথে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মধ্য দিয়ে ইরানকে লৌহহস্তে নেতৃত্ব দেওয়া এই নেতার শেষ বিদায়ে লাখ লাখ শোকার্ত মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন।

    পিতার মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতা লাভ করলেও মোজতবা খামেনি এখনো পর্যন্ত জনসমক্ষে আসেননি। যুদ্ধের শুরুর দিকে হওয়া সেই প্রাণঘাতী হামলায় তিনিও আহত হয়েছিলেন বলে জানা যায়, যার পর থেকেই তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ আড়ালে রেখেছেন।

    এমতাবস্থায়, চলতি সপ্তাহে পিতার এই রাষ্ট্রীয় স্মরণসভায় যদি নতুন সর্বোচ্চ নেতা শেষ পর্যন্ত যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে ইরানের সর্বোচ্চ পদ গ্রহণের পর এটিই হবে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক এবং ঐতিহাসিক জনসমক্ষ উপস্থিতি।

  • বিদেশী গুপ্তচরবৃত্তি ঠেকাতে শক্ত হচ্ছে জাপান

    বিদেশী গুপ্তচরবৃত্তি ঠেকাতে শক্ত হচ্ছে জাপান

    বিদেশী গোয়েন্দা তৎপরতা মোকাবিলায় আরো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সোমবার স্বীকার করেছে জাপান। এর একদিন আগে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জাপানকে ‘গুপ্তচরদের আখড়া’ ও অস্ত্রের যন্ত্রাংশ সংগ্রহের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসে পরিণত করেছে রাশিয়া। বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    রোববার প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘দুর্বল গুপ্তচরবৃত্তি-বিরোধী আইনের’ সুযোগ নিয়ে জাপানকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও ইউক্রেন যুদ্ধে প্রয়োজনীয় দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি সংগ্রহের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছে মস্কো।

    জাপানের প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা সোমবার বলেন, ‘দ্রুত পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিবেশে আমরা উপলব্ধি করছি, জাপানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের মতো বিদেশী গোয়েন্দা তৎপরতা আরো কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।’

    যুক্তরাষ্ট্রের ওই সংবাদপত্রের প্রতিবেদন সম্পর্কে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে কিহারা সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের আরো কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে হবে।’

    ইউক্রেন সরকারের হিসাবের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার ব্যবহৃত ৯০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনে জাপানি যন্ত্রাংশ রয়েছে। এতে আরো বলা হয়, জাপানে রাশিয়ার এ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা মাকসিম ভ্লাদিমিরোভিচ ফিলচেনকভ। তিনি টোকিওতে রাশিয়ার বিমান সংস্থা অ্যারোফ্লটের কার্যালয়ে আড়ালের পরিচয়ে কাজ করছেন।

    রাশিয়ায় সরাসরি রফতানিতে বিধিনিষেধ থাকায়, বিভিন্ন সংগ্রহ নেটওয়ার্ক মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান এবং ভিয়েতনাম, উজবেকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো তৃতীয় দেশ ব্যবহার করে এসব যন্ত্রাংশ রাশিয়ায় পাঠাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    কিহারা আরো জানান, চলতি বছর জাপানের পার্লামেন্ট একটি আইন অনুমোদন করেছে। এর মাধ্যমে দেশটির বিচ্ছিন্ন গোয়েন্দা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য নতুন একটি জাতীয় সংস্থা গঠনের পথ সুগম হয়েছে।

  • ভারতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে বর্জ্যের স্তূপ ধসে নিহত ৯

    ভারতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে বর্জ্যের স্তূপ ধসে নিহত ৯

    ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় মহারাষ্ট্র রাজ্যের পুনে শহরের উপকণ্ঠে একটি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন (ওয়েস্ট-টু-এনার্জি) কেন্দ্রে বর্জ্যের বিশাল স্তূপ ধসে অন্তত ৯ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। ভারী বর্ষণের কারণে পাশের ল্যান্ডফিলের হাজার হাজার টন বর্জ্য ধসে প্রশাসনিক ভবনের ওপর পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    কেন্দ্রটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান অ্যান্টনি ওয়েস্ট সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, গত বুধবারের এ ঘটনায় ভবনের ভেতরে থাকা ২৩ জন কর্মী আটকা পড়েন। অবিরাম বৃষ্টির কারণে পাশের ল্যান্ডফিল অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে এবং সেখানকার বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ভবনের ওপর ধসে পড়ে।

    দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানের পর ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অপর ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

    প্রবল বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের কাছে পৌঁছাতে উদ্ধারকর্মীদের ব্যাপক বেগ পেতে হয় বলে জানিয়েছেন প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষ।

    ঘটনার পর কাঠামোগত ও নিরাপত্তা মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

    ভারতে প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষা মৌসুমে ভবন ও নির্মাণসংক্রান্ত দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে। দীর্ঘস্থায়ী ভারী বৃষ্টির কারণে পুরোনো ও দুর্বল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    এদিকে, বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভারতে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ও তীব্র হচ্ছে। পাশাপাশি চলতি বছরে সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো-র প্রভাবে দেশটির স্বাভাবিক আবহাওয়ার ধরনেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে বলে আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা।

  • ইসরাইলে প্রতি ৪ জনে ১ জন মাদকাসক্ত

    ইসরাইলে প্রতি ৪ জনে ১ জন মাদকাসক্ত

    গাজায় ইসরাইলের চলমান যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতের কারণে দেশটির নাগরিকদের মধ্যে মাদক ব্যবহারের প্রবণতা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রতি চারজন ইসরাইলির মধ্যে একজন ক্ষতিকারক মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করছেন।

    দেশটির সংবাদমাধ্যম হারেৎজের প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

    ইসরাইল সেন্টার ফর অ্যাডিকশন অ্যান্ড মেন্টাল হেলথের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে মাদকের অপব্যবহার নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। করোনা মহামারির আগে ইসরাইলে প্রতি ১০ জনে একজন মাদক ব্যবহার করতেন। মহামারির সময়ে তা বেড়ে প্রতি সাতজনে একজন হয়। আর ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর এই হার বেড়ে এখন প্রায় ২৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

    গবেষণায় দেখা গেছে, ইসরাইলিদের মধ্যে ঘুমের ওষুধের ব্যবহার আড়াই গুণ বেড়েছে। অন্যদিকে আফিমজাতীয় ও উদ্দীপক (স্টিমুল্যান্ট) ওষুধের ব্যবহার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এর পাশাপাশি অ্যালকোহল ও গাঁজার ব্যবহারও বেড়েছে। এছাড়া যারা পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারে (পিটিএসডি) ভুগছেন, তাদের মধ্যে মাদকের অপব্যবহারের হার এখন ৫৪ দশমিক ২ শতাংশ।

    সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক শাউলি লেভ-রান বলেন, বারবার তৈরি হওয়া সংকটের কারণে চরম মানসিক চাপের সময়ে গড়ে ওঠা অভ্যাসগুলো মানুষের মধ্যে স্থায়ী রূপ নিয়েছে।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘মানসিক চাপ যত বাড়ে, মানুষ তত বেশি মাদক ব্যবহার করে। এমনকি তাৎক্ষণিক মানসিক চাপ কমে যাওয়ার পরও মানুষ এই ব্যবহার চালিয়ে যায়।’

    মাদক ব্যবহারকারীদের বক্তব্য থেকে জানা গেছে, রকেট হামলার সাইরেন, জানাজা, সামরিক সংহতি এবং প্রতিদিনের মৃত্যুর খবর সহ্য করতে তারা নিয়মিত কেটামিন, কোকেন, অ্যামফিটামিন, গাঁজা এবং চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ঘুমের ওষুধ ব্যবহার করছেন।

    এক ব্যক্তি জানান, ইসরাইলের যুদ্ধ যত বাড়ছে, তার মাদক নেওয়ার পরিমাণও তত বাড়ছে। রক্তপাত ও মৃত্যু থেকে নিজেকে মানসিকভাবে দূরে রাখতেই তিনি এসব ব্যবহার করছেন।

    অন্য একজন জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর জানাজায় অংশ নেওয়ার সময়ও মানুষ অ্যামফিটামিন জাতীয় উদ্দীপক মাদক গ্রহণ করেছে।

    অনেকে বোমা শেল্টারে প্রবেশের আগে কেটামিন নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ রাতে ঘুম না হওয়া এবং উদ্বেগের মধ্যেও কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে উদ্দীপক মাদক ব্যবহার করছেন।

    মাদকের এই বিস্তার কেবল নৈশকালীন বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সাক্ষাৎকারদাতারা জানিয়েছেন, বাড়ি, কর্মক্ষেত্র, বার এবং পাবলিক শেল্টারগুলোতে এখন প্রকাশ্যে মাদক ব্যবহার করা হচ্ছে। এনক্রিপ্ট করা মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার কারণে এখন মাদক পাওয়া আরো সহজ হয়ে গেছে।

    ক্ষতি কমানোর কর্মসূচিতে যুক্ত চিকিৎসক ডা. রয় জাকার জানান, মাদক-সংক্রান্ত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া ৮০ শতাংশের বেশি রোগী একাধিক ধরনের মাদক একসঙ্গে গ্রহণ করেছিলেন।

    ইসরাইলে বসবাসরত ফিলিস্তিনি নাগরিকরাও মাদকের দিকে ঝুঁকছেন বলে জানা গেছে। একদিকে তারা গাজায় ইসরাইলি ধ্বংসযজ্ঞ দেখছেন, অন্যদিকে নিজেদের দেশেও ক্রমবর্ধমান নিপীড়নের মুখোমুখি হচ্ছেন।

    এক ফিলিস্তিনি নাগরিক বলেন, গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো হত্যাকাণ্ড দেখে মানুষ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। মানসিক স্বাস্থ্যসেবা বা থেরাপি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সাধারণের নাগালের বাইরে হওয়ায় অনেকে বাধ্য হয়ে মাদকের পথ বেছে নিয়েছেন।

    অধ্যাপক লেভ-রান সতর্ক করে বলেছেন, ইসরাইলের চলমান যুদ্ধ এবং স্থায়ী সতর্কাবস্থা এই সংকটকে আরো গভীর করতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী এই সহিংসতার কারণে মানুষ সাধারণ জীবনে ফিরে আসার আ

  • ইরানের কাছে পরাজয় থেকে শিক্ষা নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র: আইআরজিসি

    ইরানের কাছে পরাজয় থেকে শিক্ষা নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র: আইআরজিসি

    কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ ও সামরিক হামলা চালিয়ে আসছে। তাদের দাবি, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে সাম্প্রতিক পরাজয় থেকে শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

    বিবৃতিতে বলা হয়, কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক ও একটি প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। দেশটির আহমদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে একটি কৌশলগত রাডার ব্যবস্থাও সম্পূর্ণ ধ্বংসের দাবি করা হয়।

    কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় দুটি হিমার্স ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক যন্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র বোঝাই গুদামে আগুন ধরে সেগুলো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।

    প্রতিশোধমূলক অভিযানে জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্স হাসান বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলায় কয়েকটি জ্বালানি ডিপো ও গোলাবারুদের গুদামে আগুন ধরে যায় বলে দাবি করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

    বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের হামলায় বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন বহর ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দাবি করেছে ইরানি বাহিনী। বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিতে হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, একটি পি-৮ বিমান রাখা হ্যাঙ্গার এবং একটি মার্কিন সামরিক ড্রোন কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টারে হামলা চালানো হয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি না রাখলে সমঝোতা স্মারক মানবে না ইরান

    যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি না রাখলে সমঝোতা স্মারক মানবে না ইরান

    যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে সমঝোতা স্মারক আর মেনে চলবে না ইরান। সোমবার তেহরানে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। এ সময় সমঝোতা স্মারক মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

    মুখপাত্র বলেন, ইরানি জাতির স্বার্থ ও উদ্বেগের কথা মাথায় রেখে অত্যন্ত সতর্কতা ও গুরুত্বের সঙ্গে প্রতিটি আলোচনায় অংশ নিয়েছে তেহরান।

    তেহরানে সাংবাদিকদের বাঘাই বলেন, ‘সমঝোতায় পৌঁছানোর পর ইরান তার প্রতিশ্রুতি পূরণে সদিচ্ছা ও গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করেছে।’

    তিনি বলেন, ‘বরাবরই শ্রত্রুপক্ষ প্রথমে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান কখনোই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী প্রথম পক্ষ নয়।’

    বাঘাই আরো বলেন, ওয়াশিংটন যদি যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি আর মেনে চলবে না।

    তিনি বলেন, ‘যখনই অপর পক্ষ তার দায়বদ্ধতা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, আমরাও আমাদের দায়বদ্ধতা রক্ষা করিনি। … আমরা এভাবেই কাজ করে যাব।’

  • কাশ্মীরকে পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদার দাবি কি ট্রাম্পের কাছে জানাব?

    কাশ্মীরকে পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদার দাবি কি ট্রাম্পের কাছে জানাব?

    নির্বাচনের পর দুই বছর কেটে গেলেও জম্মু ও কাশ্মীরকে এখনো পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা দেয়নি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা দিতে বিলম্ব করায় বিজেপি সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ।

    রোববার জম্মুতে এক জনসভায় ওমর আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। প্রথমে তারা বলেছিল বিধানসভায় উত্থাপন করে রাজ্য মর্যাদা পাওয়া যাবে না। তারপর বলল জম্মু ও কাশ্মীরে আন্দোলন করলেও হবে না। এখন তারা বলছে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করলেও হবে না।’ তিনি মোদি সরকারের প্রতি প্রশ্ন তোলেন, কী করলে রাজ্যের মর্যাদা পাওয়া যাবে?

    এরপরই তিনি বলেন, ‘তবে কি দাবি আদায়ে এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে যেতে হবে? তাহলে কি এবার হোয়াইট হাউসের সামনে ধর্মঘটে বসব?’

    বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়টি স্পষ্ট করে না দেওয়া পর্যন্ত রাজধানী দিল্লিতে আন্দোলন করার ঘোষণা দেনওমর আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘রাজধানীতেই বিক্ষোভ প্রদর্শন করব এবং দ্বারে দ্বারে ঘুরব’।

    আগামী ২০ জুলাই সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। অধিবেশনের প্রথম দিনে নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান তিনি।

    সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে জম্মু–কাশ্মীরকে দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট। তখন থেকে জম্মু–কাশ্মীর ও লাদাখ দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। যদিও বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকার বলেছিল, জম্মু–কাশ্মীরকে ঠিক সময়ে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু এখনো রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি।

  • কাতারকে ‘সফট পাওয়ার’ হিসেবে গড়ে তুলেছেন প্রয়াত বাবা আমির

    কাতারকে ‘সফট পাওয়ার’ হিসেবে গড়ে তুলেছেন প্রয়াত বাবা আমির

    আয়তনের দিক দিয়ে বেশ ক্ষুদ্র একটি রাষ্ট্র। একসময় টিকে থাকার লড়াইয়ে থাকা দেশটি আজ বিপুল সম্পদ ও আঞ্চলিক–আন্তর্জাতিক প্রভাবের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থানকে অনেক শক্তিশালী করেছে। অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই থেকে কাতারকে প্রভাবশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার এই সাফল্যের নেপথ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন দেশটির সদ্য প্রয়াত আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি। যিনি বর্তমান আমি শেখ তামিম বিন হামাদ আল–থানির বাবা। তাঁকে কাতারে বাবা আমিরও বলা হয়ে থাকে।

    গতকাল রোববার কাতারের আমিরের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে শেখ হামাদের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

    কাতারের রাজধানী দোহার ইমাম মুহাম্মদ ইবন আবদ আল-ওয়াহাব মসজিদে মাগরিবের নামাজের পর কোনো আড়ম্বর ছাড়াই তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শোকাহত লোকজন কাতারের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে জানাজায় অংশ নেন।

    এরপর প্রয়াত শেখ হামাদের ছেলে এবং বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল–থানিসহ পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা মসজিদ থেকে মরদেহ বের করে নিয়ে যান। শেখ হামাদকে দোহার উত্তরে অবস্থিত লুসাইল কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

    দূরদর্শী শেখ হামাদ

    শেখ হামাদ উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রান্তিক অবস্থান থেকে কাতারকে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, জাতীয় ও মানবিক ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত করেন। এর পেছনে ছিল তাঁর এমন এক দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি, যা দেশের সীমিত আকার ও ছোট ভৌগোলিক সীমানাকে ছাড়িয়ে বৃহত্তর সম্ভাবনাকে দেখতে পেরেছিল।

    শেখ হামাদকে কাছ থেকে যাঁরা চিনতেন, তাঁরা বলেছেন, ১৯৯৫ সালে ক্ষমতা গ্রহণের আগেই তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, কাতারের প্রচলিত শক্তির উপাদান সীমিত। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, দেশের প্রভাব বৃদ্ধি করতে ‘সফট পাওয়ার’–এ বিনিয়োগ করা প্রয়োজন।

    এ কারণে ক্ষমতায় আসার পর প্রথমেই শেখ হামাদ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ক্রীড়াক্ষেত্রে পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি খাতে বিশাল বিশাল প্রকল্প শুরু করেন এবং এই খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করেন। সেসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিনি দেশের সম্পদকে শুধু নিজের জনগণের সমৃদ্ধির উৎস হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রভাবের শক্তিতে রূপান্তর করেন।

    কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি তাঁর বাবা ও কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির জানাজায় অংশ নেন। রাজধানী দোহায় অবস্থিত ইমাম মুহাম্মদ ইবন আবদ আল-ওয়াহাব মসজিদে এই জানাজা

    পূর্ব ভূমধ্যসাগর থেকে হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল ভৌগোলিক এলাকাজুড়ে জটিল বিরোধ ও সংঘাত নিরসনে কাতারের কূটনীতি সফলভাবে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে।

    ২০০৮ সালে দোহা লেবাননের নেতাদের একত্র করে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পাদনে সহায়তা করে, যার ফলে দেশটি আরেকটি গৃহযুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা পায়।

    দারফুর সংকট নিয়ে সুদানের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে ৩০ মাস ধরে চলা আলোচনার পৃষ্ঠপোষকতা করে কাতার। এর ফলে ২০১১ সালে ‘দোহা ডকুমেন্ট ফর পিস’ স্বাক্ষরিত হয়।

    ফিলিস্তিনের বিভক্ত দুপক্ষ হামাস ও ফাতাহর মধ্যে সংলাপ অব্যাহত রাখতেও পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছে কাতার। পাশাপাশি ইয়েমেন ও সোমালিয়ার বিরোধ এবং ইরিত্রিয়া ও জিবুতির মধ্যকার বিরোধ মীমাংসায় ভূমিকা রেখে কূটনীতির ক্ষেত্রে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে দেশটি।

    শেখ হামাদের শাসনামলেই কাতার আল–উদেইদ সামরিক ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি রয়েছে এই আল–উদেইদ সামরিক ঘাঁটিতে। একই সঙ্গে কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস নেতৃত্বকেও আশ্রয় দেয়। আল–উদেইদ সামরিক ঘাঁটি থেকে দোহা খুব দূরে নয়।

    ফিলিস্তিনের বিভক্ত দুপক্ষ হামাস ও ফাতাহর মধ্যে সংলাপ অব্যাহত রাখতেও পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছে কাতার। পাশাপাশি ইয়েমেন ও সোমালিয়ার বিরোধ এবং ইরিত্রিয়া ও জিবুতির মধ্যকার বিরোধ মীমাংসায় ভূমিকা রাখে কূটনীতির ক্ষেত্রে একটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

    ২০১২ সালে ইসরায়েলি যুদ্ধের পর গাজা উপত্যকা সফরকারী প্রথম আরব নেতা ছিলেন শেখ হামাদ। সেখানে তিনি ৪০ কোটি ডলারের অনুদানের মাধ্যমে আবাসন ও পুনর্গঠন প্রকল্প শুরুর ঘোষণা দিয়েছিলেন।

    কাতারের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা দেশটির রাজনৈতিক নীতিগুলোকে, বিশেষ করে ফিলিস্তিন ইস্যুতে তাদের অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারেনি। কারণ, সংঘাতের সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পথ খোলা রাখা কাতারের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। এসব পক্ষের মধ্যে ইসরায়েলও রয়েছে।

    উপসাগরীয় এই দেশ ‘আরব বসন্ত’ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল এবং এমন নীতি গ্রহণ করেছিল, যা স্পষ্টভাবে এই অঞ্চলের জনগণের স্বাধীনতা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের অধিকারের পক্ষে ছিল।

    প্রয়াত আমিরের শাসনামলে কাতারের উন্নয়ন পরিকল্পনা শুধু অর্থনৈতিক আধুনিকায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং এটি এমন একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তুলেছিল, যা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম।

    কাতারকে নিয়ে শেখ হামাদের স্বপ্ন যখন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করে, সে সময়ে ২০১৩ সালে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন তাঁর ছেলে ও উত্তরসূরি শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। ছেলে দেশকে নিয়ে বাবার স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলছেন।

  • সরকারের আর্থিক সংস্কার ও রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতার প্রশংসা আইএমএফের

    সরকারের আর্থিক সংস্কার ও রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতার প্রশংসা আইএমএফের

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকারের আর্থিক সংস্কার ও রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতার প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর প্রতিনিধি সম্মান জানিয়েছে। আইএমএফের সাথে বাংলাদেশের আগামী দিনের নতুন কর্মসূচির ভিত্তি ও সিকোয়েন্সিং নিয়ে এবং নীতিমালার সার্বিক দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    সোমবার মন্ত্রণালয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বাংলাদেশ ও হংকং বিষয়ক মিশন প্রধান ইভো ক্রজনার এর সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের সাথে নতুন কর্মসূচি কোন ভিত্তির ওপর পরিচালিত হবে, তা পরিষ্কার করা হয়েছে এবং প্রস্তাবিত ভিত্তিসমূহের ওপর তারা সম্পূর্ণ একমত পোষণ করেছেন। সংস্কার কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে ধাপে ধাপে পরিবর্তনগুলো আনা হবে। রাতারাতি বা ওভারনাইট কোনো বড় পরিবর্তন সম্ভব নয় এবং আইএমএফ এ বিষয়ে সহমত প্রকাশ করেছে।

    তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কোন সংস্কার কখন করা প্রয়োজন, সেই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ক্রমান্বয়ে পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। আইএমএফ এই সিকোয়েন্সিংয়ের নীতিতে সায় দিয়েছে। এছাড়া একটি রাজনৈতিক সরকারের জনকল্যাণমূলক দায়বদ্ধতা এবং রেসপন্সিবিলিটিকে আইএমএফ বিশেষভাবে সম্মান জানিয়েছে। দেশের মানুষের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখেই অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হবে।

    মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের চার মাসের মেয়াদে আর্থিক খাতের সংস্কার, শেয়ারবাজার ও ক্যাপিটাল মার্কেটের উন্নয়ন এবং রাজস্ব আদায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতিতে আইএমএফ প্রতিনিধিদল সন্তোষ প্রকাশ করেছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাত্র চার মাসে ট্যাক্স আদায়কে একটি বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ইতিবাচক ধারা বজায় রেখে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত আরও বাড়াতে সরকারের প্রস্তাবনাসমূহ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

    ভর্তুকি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, এখনই সুনির্দিষ্ট ডিটেইলস বা শর্ত নিয়ে আলোচনা হয়নি। মূলত নতুন কর্মসূচির মূল ভিত্তি তৈরি নিয়ে কথা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত আলোচনার টেবিলে সকল বিষয়গুলো আসবে।

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও জানান, এই আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের বার্ষিক সভায় এ বিষয়ে পরবর্তী আলোচনা হবে। বর্তমান সরকারের সংস্কারমুখী পারফরম্যান্সে আইএমএফ সন্তুষ্ট এবং এই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই আগামী দিনের নতুন প্রোগ্রাম চূড়ান্ত করা হবে।

  • কলকাতা বিমানবন্দর মসজিদে আর নামাজ পড়া যাবেনা

    কলকাতা বিমানবন্দর মসজিদে আর নামাজ পড়া যাবেনা

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতা বিমানবন্দর অঞ্চলে ১৩৬ বছরের পুরোনো একটি মসজিদে নামাজ আদায় আপাতত বন্ধ করে দিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। গত শুক্রবার এই মসজিদে নামাজ পড়া হলেও গত শনিবার মুসল্লিদের মসজিদে যাওয়ার প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই ফটক হলো বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশের পথ, যা দিয়ে মসজিদে ঢুকতে হয়।

    পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম কোনো মসজিদ বন্ধ করে দেওয়া হলো। বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

    এ বিষয়ে আগাম কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি বলে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ জমিরউদ্দিন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তবে মসজিদটি স্থানান্তর করতে মসজিদ কমিটির সঙ্গে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। মসজিদটির জন্য আরও প্রশস্ত একটি জায়গা দেওয়া হবে বলেও অতীতে জানানো হয়েছে।

    সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী বিমান ওঠানামার পথ বা রানওয়ে থেকে কোনো অবকাঠামোর দূরত্ব ন্যূনতম ২৪০ মিটার থাকা প্রয়োজন। ‘বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদ’ নামে এই মসজিদ রানওয়ে থেকে ১৬৫ মিটার দূরে অবস্থিত। সে কারণে এটিকে স্থানান্তরিত করা প্রয়োজন।

    বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ বলেছে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তার জন্য যে অঞ্চল চিহ্নিত করা হয়েছে, মসজিদটি তার ভেতরে অবস্থিত। সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ) নামে একটি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে রয়েছে অঞ্চলটি। ভারতে সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তার দায়িত্বে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে সিআইএসএফ। তারাও এই স্থাপন নিয়ে অতীতে আপত্তি জানিয়েছে। তবে এখনো পশ্চিমবঙ্গে বড় মাপের কোনো মসজিদ বন্ধ করা হয়নি বা সেখানে নামাজ পড়ায় বাধা দেওয়া হয়নি। এই প্রথম শনিবার বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদে নামাজ বন্ধ করে দেওয়া হলো।

    সমস্যা হলো, কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থাপিত হয়েছে ১৯২৪ সালে আর মসজিদটি স্থাপিত হয়েছে ১৮৯০ সালে। অর্থাৎ বিমানবন্দর তৈরির ৩৪ বছর আগে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এ অঞ্চল সে সময় অবিভক্ত বাংলার অংশ ছিল এবং গ্রামের মানুষের টাকায় মসজিদটি বানানো হয়।

    আজ যেখানে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা, একসময় সেখানকার গ্রাম থেকেও মানুষ এসে এই ঐতিহাসিক মসজিদে নামাজ আদায় করতেন, যেমন আসতেন পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর মহকুমার মানুষও। আঞ্চলিক ইতিহাস নিয়ে রচিত প্রবন্ধে মসজিদটির যে উল্লেখ রয়েছে, সেখান থেকেই এ তথ্য পাওয়া যায়।

    ওই সময় মসজিদটির নাম ছিল ‘গৌরীপুর জামে মসজিদ’ এবং বর্তমানে এটির নাম ‘বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদ’। বাংলাদেশ–লাগোয়া উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ এ মসজিদে এখনো নামাজ আদায় করেন।

    এ ঘটনায় যাতে উত্তেজনা না ছড়ায়, সেদিকে নজর রাখতে মসজিদ কমিটিসহ স্থানীয় সব সামাজিক সংগঠনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন ভারতের বৃহত্তম মুসলিম সংগঠন জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক, কিন্তু এ নিয়ে কেউ রাস্তায় নামবেন না। আমরা বিজেপির সঙ্গে ঝগড়া চাই না। আমরা চাই যেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ মসজিদে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে। জোর করে মসজিদের দরজা বন্ধ করে দেওয়া ঠিক কাজ হয়নি।’

    বিষয়টি সম্পর্কে বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন যেমন দারুল উলুম দেওবন্দ, মুসলিম পারসোনাল ল বোর্ড এবং জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য আবেদন জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক গ্রন্থাগারমন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী।

  • উচ্চ খেলাপি ঋণের ব্যাংক বন্ধ করা হচ্ছে না কেন

    উচ্চ খেলাপি ঋণের ব্যাংক বন্ধ করা হচ্ছে না কেন

    দেশের ব্যাংক খাত এখন উচ্চ খেলাপি ঋণের চাপে জর্জরিত। কিছু ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার ৮০ শতাংশেরও বেশি। এত উচ্চহারে খেলাপি ঋণ থাকা সত্ত্বেও এসব ব্যাংক কীভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং কেন সেগুলোকে অবসায়ন বা বন্ধের প্রক্রিয়ায় নেওয়া হচ্ছে না এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

    গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকে এসব প্রশ্ন তোলে আইএমএফের প্রতিনিধিদল। নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করতে পাঁচ দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছেন সংস্থাটির প্রতিনিধিরা। সফরের প্রথম দিন সকালে গভর্নর ও তার টিমের সঙ্গে উদ্বোধনী বৈঠকের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে পৃথক বৈঠক হয় তাদের। আইএমএফের বাংলাদেশ মিশনপ্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে প্রথম দিনের বৈঠক হয়।

    বৈঠকসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, খেলাপি ঋণ কমানো, ব্যাংক রেজল্যুশন, ইসলামি ব্যাংকিং, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা এবং নতুন ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

    সূত্র জানায়, এদিন বিকাল সাড়ে ৪টায় ব্যাংক রেজল্যুশন বিভাগ এবং ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে ব্যাংকিং খাত সংস্কারের রূপরেখা, অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ (একিউআর), দুর্বল ব্যাংকের শ্রেণিবিন্যাস, রেজল্যুশন কৌশল, রেজল্যুশন ফান্ড এবং একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি ব্যাংকের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ নিষ্পত্তি কাঠামো এবং ব্যাংক রেজল্যুশন আইন বাস্তবায়নের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে কেন একিউআরের আওতায় আনা হচ্ছে না, সে বিষয়ে জানতে চেয়েছে আইএমএফ। একই সঙ্গে আর্থিকভাবে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে কেন এখনো রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়া হয়নি, সে প্রশ্নও তোলে সংস্থাটি।

    তিনি বলেন, যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৮০ শতাংশের বেশি, সেগুলো কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং এত দুর্বল অবস্থার পরও কেন অবসায়ন বা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়নিÑএ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে আইএমএফ। তবে বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব দেওয়া হয়নি।

    দিনের দ্বিতীয়ার্ধে ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টের (বিআরপিডি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ব্যাংক খাতের চলমান ও পরিকল্পিত আইনগত সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে খেলাপি ঋণ নিষ্পত্তির কাঠামো, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এএমসি) গঠন, সমস্যাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা, দেউলিয়াত্ব আইন এবং আদালতের বাইরে ঋণ পুনর্গঠনব্যবস্থার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। একই বৈঠকে ইসলামি ব্যাংকিং খাতের আইনগত সংস্কার, আইএফআরএস-৯ এবং ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ১৮এ ধারা নিয়েও আলোচনা হয়।

    বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, আইএফআরএস-৯ বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং খেলাপি ঋণ (এনপিএল) নিষ্পত্তির জন্য প্রণয়নাধীন গাইডলাইন নিয়ে আইএমএফ বিস্তারিত জানতে চায়। বাংলাদেশ ব্যাংক আইএমএফকে জানিয়েছে, আইএফআরএস-৯ বাস্তবায়নের নির্দেশনা ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে। আর এনপিএল রেজল্যুশন গাইডলাইন তৈরির কাজ চলছে, যা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।

    এদিন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগের সরকারের নেওয়া আইএমএফ ঋণ কর্মসূচি ছিল ‘সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী’। দেশের মানুষের অর্থনৈতিক স্বার্থরক্ষা করেই আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি করা হবে।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল চিন্তা টাকা পাওয়া নয়, দেশের স্বার্থরক্ষা করা। দেশের মানুষের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে আইএমএফের সঙ্গে কোনো কর্মসূচিতে সরকার যাবে না।’

    নতুন কর্মসূচির আওতায় সরকার তিন বছর মেয়াদে ৪০০-৪৫০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার আশাবাদী। অর্থ পাওয়া গেলে তা সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বৈদেশিক অর্থায়নের চাপ মোকাবিলায় ব্যবহার করা হবে।

    ঋণের জন্য গত ৯ জুন আইএমএফকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেন অর্থমন্ত্রী। সেখানে বলা হয়েছে, আগের কর্মসূচি গ্রহণের সময়কার অর্থনৈতিক ও নীতিগত বাস্তবতা এখন আর নেই। দেশীয় রাজনৈতিক অর্থনীতি, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং নতুন চ্যালেঞ্জের কারণে কিছু সংস্কার বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে সরকার সংস্কার কর্মসূচি থেকে সরে আসতে চায় না; বরং দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করতে চায়।

    ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আইএমএফের কাছ থেকে ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচিতে চুক্তি করেছিল। পরে ২০২৫ সালের জুনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ওই কর্মসূচির আকার বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়। অনুমোদিত ওই কর্মসূচির আওতায় পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ মোট ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে। তবে ষষ্ঠ কিস্তির অর্থছাড় নিয়ে প্রায় এক বছর আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি। পরে উভয়পক্ষের সম্মতিতে আগের ঋণ কর্মসূচিটি বাতিল করা হয়।

  • বিদায়ের পর সাদিক কায়েমের আবেগঘন স্ট্যাটাস

    বিদায়ের পর সাদিক কায়েমের আবেগঘন স্ট্যাটাস

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায়ের পর আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন সদ্যবিদায়ী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে ছাত্রশিবিরের ষাণ্মাসিক এক সেটআপে সাদিক কায়েমসহ ৯ জন কেন্দ্রীয় সম্পাদকের আনুষ্ঠানিক বিদায়ের কথা জানিয়েছেন প্রচার সম্পাদক এসএম ফরহাদ।

    এরপর ব্যক্তিগত ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ছাত্রশিবির থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায়ের কথা জানান সাদিক কায়েম। ওই স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, আমার আবেগ আর ভালোবাসার প্রিয় সংগঠন! দেখতে দেখতে দীর্ঘ এক সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো। সংগঠনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে আজ আমার আনুষ্ঠানিক ছুটি হয়েছে। সবকিছুর জন্য আল্লাহর কাছে অগণিত শুকরিয়া আদায় করছি। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ও প্রোডাক্টিভ সময়গুলো কেটেছে এই কাফেলার সাথে।

    তিনি আরো লিখেন, এই প্রিয় কাফেলা আমাকে দেশ ও জাতিকে নিয়ে ভাবতে শিখিয়েছে, জড়তা ভেঙে কথা বলতে শিখিয়েছে, নেতৃত্বের গুণাবলিকে পরম মমতায় বিকশিত করেছে। ইসলামী ছাত্রশিবিরই আত্মিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশে পরিপূর্ণ পথনির্দেশনা দিয়েছে।

    ‘পেছনে ফিরে তাকালে স্মৃতির পাতায় ভেসে ওঠে অসংখ্য প্রিয় মুখ আর সংগ্রামী চিত্র। পুরোটা সময় জুড়ে নিবেদিতপ্রাণ দায়িত্বশীল ও জনশক্তিদের যে সোহবত ও সান্নিধ্য পেয়েছি, তা আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন। জীবনের প্রতিটি বাঁকে আপনাদের কাছ থেকে শিখেছি, অনুপ্রাণিত হয়েছি।’

    সাদিক কায়েম আরও লিখেন, দোয়া করি, আল্লাহ তায়ালা ইসলামী ছাত্রশিবিরের এই সংগ্রাম ও আন্দোলনের কর্মীদের পবিত্র সম্পর্কগুলোকে কবুল করুন। সামনের দিনগুলোতে এই অঞ্চলের মজলুম মানুষের মুক্তি সংগ্রামের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে পথ চলার তাওফিক দিন এবং এই আন্দোলনকে বিজয়ী করার মতো যোগ্য নেতৃত্ব দান করুন, আমীন।ছাত্রশিবির থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেওয়া ৯ সম্পাদকদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাদিক কায়েম, কেন্দ্রীয় মিডিয়া সম্পাদক মু’তাসিম বিল্লাহ শাহেদী, কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক শরীফ মাহমুদ, কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার সম্পাদক মুহিবুর রহমান মুহিব, কেন্দ্রীয় প্লানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় ব্যবসায় শিক্ষা সম্পাদক নুরুল হুদা, কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক আরাফাত হোসেন মিলন, কেন্দ্রীয় বিতর্ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান আরমান ও কেন্দ্রীয় দাওয়াহ সম্পাদক শাহীন আহমেদ।

  • যুদ্ধের কারণে বেড়েছে তেলের দাম, কমেছে এশিয়ার শেয়ার সূচক

    যুদ্ধের কারণে বেড়েছে তেলের দাম, কমেছে এশিয়ার শেয়ার সূচক

    সপ্তাহের শুরুটা বিশ্ববাজারের জন্য স্বস্তির হলো না। উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার খবরের সঙ্গে ইরানের দাবি, হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ খবরে মুহূর্তেই চাঙা হয়ে ওঠে তেলের বাজার, চাপের মুখে পড়ে শেয়ারবাজার।

    আজ সোমবার সকালে এশিয়ার বেশির ভাগ শেয়ারসূচক নিম্নমুখী। সেই সঙ্গে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা।

    ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব পড়ে মুদ্রা ও বন্ডবাজারেও। এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের খোঁজ করেন। ডলারের দাম বেড়ে যায়, সঙ্গে বাড়ে মার্কিন সরকারি বন্ডের সুদহার।

    বাজারে এখন ধারণা, মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি নতুন করে বেড়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভকে আবারও সুদহার বাড়াতে পারে। এমন সময় ফেডের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ মঙ্গলবার এই প্রথম মার্কিন কংগ্রেসে বক্তব্য দেবেন। তাঁর বক্তব্যের দিকে তাকিয়ে আছে বিশ্ববাজার।

    এদিকে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের জুন মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশিত হওয়ার কথা। জ্বালানির দাম আগের কয়েক সপ্তাহে কিছুটা কমে আসায় মূল্যস্ফীতিও হয়তো সামান্য কমতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করায় সেই স্বস্তি বেশি দিন টিকবে না।

    আজ সোমবার সকালে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম একলাফে ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ১১ ডলারে উঠেছে। কয়েক দিন আগেও এর দাম ছিল ৭০ দশমিক ১৪ ডলার। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৪ দশমিক ৩৭ ডলারে উঠেছে।

    হরমুজ প্রণালি ঘিরে উদ্বেগের মধ্যেই মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ২০টি জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে প্রণালি পার করানো হয়েছে। তবে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, এই পথে চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

    এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের বড় নজর এখন করপোরেট পরিসংখ্যানের দিকে। মঙ্গলবার থেকে বড় বড় মার্কিন ব্যাংক চলতি প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। এর পরপরই নেটফ্লিক্স ও জেনারেল ইলেকট্রিকের মতো প্রতিষ্ঠানও আয়ের তথ্য প্রকাশ করবে।

    অনেকের আশা, কোম্পানিগুলোর ভালো মুনাফার খবরে বাজারের উদ্বেগ কিছুটা হলেও কমতে পারে।

    বিনিয়োগ ব্যাংক সিটির বিশ্লেষকেরা অবশ্য এখনো প্রযুক্তি খাত নিয়ে আশাবাদী। তাঁদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) শেয়ারে অস্থিরতা থাকলেও এই খাতে ভালো মুনাফা হচ্ছে। সেই সঙ্গে এসব কোম্পানির মূল্যায়ন ভালো। এসব কারণে এই খাতের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা অক্ষুণ্ন আছে।

    তবে দিনের শুরুতে শেয়ারবাজারে সেই আশাবাদের প্রতিফলন দেখা যায়নি। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও নাসডাক ফিউচার নিম্নমুখী ছিল। ইউরোপের প্রধান সূচকগুলোর ফিউচারও নিম্নমুখী। জাপানের নিক্কেই সূচক টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো বড় পতনের মুখে পড়েছে। জাপান ছাড়া এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শেয়ারবাজারের এমএসসিআই সূচকও নেমে যায়।

    তেলের দাম কত বাড়বে

    গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় নেমে এসেছিল। এরপর তেলের দাম ধীরে ধীরে বাড়ছিল। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে প্রথম দফা হামলা চালানোর আগে যে দাম ছিল, আজ সোমবার মূল্যবৃদ্ধির পর তেলের দাম সেই তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ বেশি।

    অস্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান এক্সঅ্যানালিস্টসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান তেলবিশ্লেষক মুকেশ সহদেব মনে করেন, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় আগস্ট ও সেপ্টেম্বরজুড়ে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারের ওপরে থাকবে।

    গত শনিবার গ্রাহকদের উদ্দেশে দেওয়া এক নোটে সহদেব বলেন, এ সময়ের মধ্যে তেলের দামে মাঝেমধ্যে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যেতে পারে, তবে তা এই সীমার মধ্যেই থাকবে।

    সহদেব আরও বলেন, দূরপাল্লার জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে শোধনাগারগুলোকে কয়েক সপ্তাহ আগেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সে কারণে তারা ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর তাৎক্ষণিক নির্ভরতা কিছুটা হ্রাস করেছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনায় সেই প্রবণতা আরও জোরালো হবে।

    অস্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান আইজির বাজার–বিশ্লেষক ফ্যাবিয়েন ইয়িপও মনে করেন, সাম্প্রতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও তেলের দাম যে আবার ১০০ ডলার চাড়িয়ে যাবে, তেমন সম্ভাবনা কম।

    আজ প্রকাশিত এক নোটে ফ্যাবিয়েন ইয়িপও বলেন, জুন মাসে তেলের দাম যে যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে গেল, তার পেছনে বাজারের ধারণা ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা যতই নাজুক হোক, তা টিকে থাকবে। তবে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় প্রমাণিত হয়েছে, সে ধারণার ভিত্তি কতটা ভঙ্গুর ছিল।

    এদিকে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বন্ডবাজারেও। যুক্তরাষ্ট্রের দুই বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ২০২৫ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। ফলে ডলার আরও শক্তিশালী হয়েছে।

    বন্ডের সুদহার বেড়ে যাওয়ায় সোনার আকর্ষণ কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ১ শতাংশের বেশি কমে ৪ হাজার ৭৬ ডলারে নেমে এসেছে।

  • নতুন অর্থবছরের ১১ দিনেই রেমিট্যান্সে ১১.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

    নতুন অর্থবছরের ১১ দিনেই রেমিট্যান্সে ১১.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

    রোববার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৯ থেকে ১১ জুলাই—এই তিন দিনেই দেশে এসেছে ১৯ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এতে মাসের প্রথম আট দিনের তুলনায় রেমিট্যান্সের গতি আরও জোরালো হয়েছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নতুন অর্থবছরের শুরুতে রেমিট্যান্সের এই ইতিবাচক প্রবণতা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে আরও স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় পরিশোধ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং টাকার বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স দীর্ঘদিন ধরেই অন্যতম প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার উৎস। তৈরি পোশাক রপ্তানির পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ দেশের চলতি হিসাবের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ডলারের সংকট এবং আমদানি ব্যয়ের চাপের মধ্যে রেমিট্যান্স অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে। ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে দ্রুত অর্থ পৌঁছে দেওয়া, প্রণোদনা সুবিধা, ডিজিটাল লেনদেনের সম্প্রসারণ এবং হুন্ডি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নজরদারি বৃদ্ধির ফলে প্রবাসীদের একটি বড় অংশ এখন আনুষ্ঠানিক চ্যানেল ব্যবহার করছেন।

    মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিতে নিয়মিত বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাচ্ছেন। শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মী বিদেশে যাওয়ার প্রবণতাও দীর্ঘমেয়াদে রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাড়লেই হবে না; এই অর্থ উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ নিশ্চিত করাও জরুরি। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ যদি শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, কৃষি এবং অবকাঠামো উন্নয়নে আরও বেশি ব্যবহৃত হয়, তাহলে তা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বহুগুণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    ব্যাংকাররা বলছেন, বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ একসঙ্গে শক্তিশালী থাকলে ব্যাংকগুলোর ডলার ব্যবস্থাপনায় চাপ আরও কমবে। এতে এলসি নিষ্পত্তি, জ্বালানি ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
    বিশ্লেষকদের মতে, নতুন অর্থবছরের শুরুতে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রণোদনা অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন বাজার সৃষ্টি, দক্ষ কর্মী পাঠানো এবং প্রবাসীদের জন্য ব্যাংকিং সেবা আরও সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করা প্রয়োজন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বরাবরই বলে আসছেন, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রেমিট্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রবাসীদের বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংককে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্য দ্রুত ও নিরাপদ অর্থ স্থানান্তর ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জুলাই মাসের প্রথম ১১ দিনের প্রবৃদ্ধি যদি পুরো মাসজুড়ে বজায় থাকে, তাহলে মাস শেষে রেমিট্যান্স প্রবাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হতে পারে। এতে দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য আরও শক্তিশালী হবে এবং রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

  • হরমুজ প্রণালিতে ‘সেবা ফি’ দিতে সম্মত ইউরোপ

    হরমুজ প্রণালিতে ‘সেবা ফি’ দিতে সম্মত ইউরোপ

    বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে টোল আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা। টোল বাধ্যতামূলক নাকি স্বেচ্ছাধীন হবে, আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন কী বলে এবং প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—এসব প্রশ্নে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, ওমানসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে। তবে ইউরোপের দেশগুলো ‘নেভিগেশন ফি’ অর্থাৎ জাহাজ চলাচলে পরিষেবার বিনিময়ে ‘ফি’ দেওয়ার একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে।

    ইরান বলছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে নির্দিষ্ট ‘ফি’ দিতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানকে অবিলম্বে এই প্রণালি উন্মুক্ত করে দিতে হবে। সেই সঙ্গে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে, এই পথে চলাচলকারী কোনো জাহাজে তারা হামলা চালাবে না। এদিকে ইউরোপ বলছে, টোল আরোপ হতে পারে, তবে তা বাধ্যতামূলক হবে না। অন্যদিকে ইরান একতরফাভাবে টোল আরোপ করুক, তা চায় না ওমান।

    হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এই প্রণালি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানে আগ্রাসন শুরুর পর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তেহরান খুবই কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে সক্ষম হয়। কার্যত এখনো কৌশলগত এই বৈশ্বিক জলপথের নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতেই রয়ে গেছে।

    যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের লক্ষ্যে গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়। এর লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা এবং সব ধরনের সংঘাতের অবসান ঘটানো। চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও নৌ পরিষেবা কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নির্ধারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সঙ্গে ইরান ও ওমানের আলোচনার কথা রয়েছে।

    কে কী বলছে

    হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ‘নেভিগেশন ফি’ আদায়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে—এমন কয়েকটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইউরোপের দেশগুলো। তবে তাদের শর্ত হলো হরমুজ প্রণালিতে এ ধরনের টোল কোনোভাবেই বাধ্যতামূলক হতে পারবে না। এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘের সমুদ্র পরিবহনবিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) সমর্থন থাকতে হবে।

    যুক্তরাজ্যের উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি গতকাল শনিবার বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে টোল বাধ্যতামূলক করা হলে তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য বিপর্যয়কর হবে। তবে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য বলেছেন, মালাক্কা প্রণালি, ইংলিশ চ্যানেলসহ বিশ্বের অনেক প্রাকৃতিক জলপথে জাহাজ চলাচলে নির্দিষ্ট সেবার বিনিময়ে অর্থ আদায় করা হয়। এ ধরনের ব্যবস্থা আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃত।

    প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু সেবা দেওয়া হলে তার জন্য স্বেচ্ছাধীন অর্থ আদায় ব্যবস্থার পক্ষে ওমান। এর মাধ্যমে ইরানও কিছু অর্থ পেতে পারে, তবে সেটি একতরফা বাধ্যতামূলক টোল হিসেবে নয়। ওমানের লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালিকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় রেখে পরিচালনা করা, যেখানে জাহাজ চলাচল অবাধ থাকবে। এ লক্ষ্যে তেহরানকে একটি প্রস্তাবও দিয়েছে তারা।

    যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, হরমুজ প্রণালি খোলা আছে বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিক ইরান। পাশাপাশি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের অঙ্গীকার করতে হবে দেশটিকে। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের নেতৃত্বের কাছে একটি বার্তা পাঠানোর কথাও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে তেহরানকে প্রকাশ্যে এই ঘোষণা দিতে বলা হয়েছে যে হরমুজ প্রণালি খোলা আছে এবং তারা আর বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালাবে না।

    হরমুজ প্রণালি কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে আলোচনা করতে শনিবার ওমান সফরে গেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, যুদ্ধ বন্ধে দেড় মাসের বেশি সময় ধরে চলা আলোচনার অংশ এটি। ইরান বলছে, ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালি পরিচালনা করবে তারা। আর চলাচলকারী জাহাজগুলোকে দিতে হবে ‘সার্ভিস ফি’।

    ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের সমুদ্রবিষয়ক নিরাপত্তাবিশেষজ্ঞ জেনিফার পার্কার মনে করেন, হরমুজে চলাচলকারী জাহাজ থেকে কেবল ‘ফি’ আদায় নয়, বরং এর মাধ্যমে প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখাই তেহরানের মূল লক্ষ্য। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে তিনি বলেন, কিছু ছাড় পেলে ইরান হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেবে—যুক্তরাষ্ট্রের এ ভাবনা থেকে সরে এসে বিষয়টি নতুন করে ভাবতে হবে। কোনো প্রতিশ্রুতি, অর্থনৈতিক ছাড়, এমনকি সামরিক অভিযান চালালেও হরমুজ প্রণালি নিয়ে তেহরানের অবস্থান বদলানো যাবে না।

  • ভারতে নতুন করে করোনার হানা, ২ জনের মৃত্যু

    ভারতে নতুন করে করোনার হানা, ২ জনের মৃত্যু

    ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের কাদাপা জেলায় আবারও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। এতে প্রদেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। সম্প্রতি জেলায় আটজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। একইসঙ্গে গত কয়েক সপ্তাহে করোনায় আক্রান্ত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

    ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, কাদাপার রাজামপেট এলাকার ৫২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হওয়ার পর তার করোনা শনাক্ত হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভেলোরের ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তিনি মারা যান।

    অন্যদিকে, কাদাপার ৪৩ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তি অসুস্থতা নিয়ে সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে করোনা পরীক্ষায় তার সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরে হাসপাতালের করোনা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    এছাড়া কাদাপা মেডিকেল কলেজের ২৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর শরীরেও করোনা শনাক্ত হয়েছে। তিনি বর্তমানে নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    নতুন করে সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ বিশেষ টিম মোতায়েন করেছে। আক্রান্ত এলাকাগুলো থেকে প্রায় ৪০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি নমুনার ফল নেগেটিভ এসেছে। বাকি নমুনাগুলোর পরীক্ষার ফলের অপেক্ষায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে কাদাপা জেলায় আটজন করোনা রোগী রয়েছেন। ভাইরাসের ধরন শনাক্ত এবং সংক্রমণের ধরণ বোঝার জন্য নমুনা পাঠানো হয়েছে।

    অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সাভিথা কাদাপায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আক্রান্ত এলাকাগুলোতে কঠোরভাবে করোনা স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি চালানোর নির্দেশ দেন।

    পাশাপাশি আক্রান্ত এলাকাগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। জীবাণুনাশক ছিটানো ও ব্লিচিং কার্যক্রমও চলছে।

    এ ছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের দ্রুত করোনা পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাদের করোনা শনাক্ত হবে তাদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হবে এবং অন্যদের বাড়িতে থেকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

    পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলার হাসপাতালগুলোকে পর্যাপ্ত শয্যা, আইসোলেশন সুবিধা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার, জনসমাগমে মাস্ক ব্যবহারের এবং করোনার উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

  • আইএমএফের সঙ্গে আগের ঋণ কর্মসূচি ‘জনস্বার্থবিরোধী’: অর্থমন্ত্রী

    আইএমএফের সঙ্গে আগের ঋণ কর্মসূচি ‘জনস্বার্থবিরোধী’: অর্থমন্ত্রী

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে আগের সরকারের নেওয়া ঋণ কর্মসূচিকে ‘সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী’ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দেশের মানুষের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করেই আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি করা হবে।

    আজ রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ কথাগুলো বলেন অর্থমন্ত্রী। এ সময় নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে আইএমএফের ১২ সদস্যের একটি মিশন অর্থ মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করছিল। চলতি সপ্তাহজুড়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করবে এ মিশন।

    দিনভর আজ মিশনটির আটটি নির্ধারিত বৈঠক ছিল। এর মধ্যে বেলা ১টায় একটি ছিল অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে। তবে জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের জানাজায় অংশ নিতে যাওয়ায় ওই বৈঠক বাতিল করা হয় বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

    আইএমএফের বাংলাদেশ মিশনপ্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে আজ দিনের প্রথম বৈঠকটি হয় অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সঙ্গে। এরপর অর্থ বিভাগের কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদের কাছে নিজেদের নীতি পরিকল্পনা উপস্থাপন করে আইএমএফ মিশন।

    অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বের হওয়ার সময় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আরও বলেন, ‘আমাদের মূল চিন্তা টাকাপাওয়া নয়, দেশের স্বার্থ রক্ষা করা। দেশের মানুষের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে আইএমএফের সঙ্গে কোনো কর্মসূচিতে সরকার যাবে না।’

    আগের সরকারের নেওয়া আইএমএফের ঋণ কর্মসূচিকে ‘সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী’ উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘একটি নির্বাচিত সরকার হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের এবং দেশের অর্থনীতির স্বার্থ সুরক্ষিত রাখাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। জনগণের অর্থনৈতিক স্বার্থ নিশ্চিত করে আইএমএফের সঙ্গে এমন একটি নতুন কর্মসূচিতে আমরা যাচ্ছি। যে কর্মসূচিতেই যা–ই না কেন, সেখানে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ শতভাগ সংরক্ষিত থাকবে।’

    নতুন কর্মসূচির আওতায় সরকার তিন বছর মেয়াদে ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ পাওয়ার আশাবাদী। অর্থ পাওয়া গেলে তা সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বৈদেশিক অর্থায়নের চাপ মোকাবিলায় ব্যবহার করবে বাংলাদেশ। ঋণের জন্য গত ৯ জুন আইএমএফকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এতে বলা হয়, আগের কর্মসূচি গ্রহণের সময়ের অর্থনৈতিক ও নীতিগত বাস্তবতা এখন আর নেই। দেশীয় রাজনৈতিক অর্থনীতি, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং নতুন চ্যালেঞ্জের কারণে কিছু সংস্কার বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে সরকার সংস্কার কর্মসূচি থেকে সরে আসতে চায় না, বরং দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করতে চায়।

    ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আইএমএফের কাছ থেকে ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণের চুক্তি করেছিল। ২০২৫ সালের জুনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই ঋণের আকার বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলার করা হয়। অনুমোদিত ওই ঋণ কর্মসূচির আওতায় পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ মোট ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে। তবে ষষ্ঠ কিস্তির অর্থছাড় নিয়ে প্রায় এক বছর ধরে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি। এরই মধ্যে উভয় পক্ষ মিলে কর্মসূচিই বাতিল করে দিয়েছে।

    নতুন ভিসা নীতির কাজ চলছে

    আজ অর্থমন্ত্রী নতুন ভিসা নীতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে বিদ্যমান ভিসা নীতি আধুনিক করা হবে। এটি নিয়ে কাজ চলছে। এতে বিদেশি পর্যটক, বিনিয়োগকারী ও দক্ষ জনশক্তির বাংলাদেশে আসা সহজ হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগও বাড়বে।

    নতুন ভিসা নীতির ঘোষণা অবশ্য আসে ২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে। ওই বৈঠকে ২০০৬ সালের ভিসা নীতি সংশোধন করে নতুন নীতিমালার খসড়া উপস্থাপন করা হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি ওই দিন জানিয়েছিলেন, খসড়াটি পরিমার্জনের জন্য অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    নতুন ভিসা নীতির লক্ষ্য হচ্ছে বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থান সহজ করা, বিদেশি বিনিয়োগ ও ব্যবসা উৎসাহিত করা, পর্যটন খাতের বিকাশ, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর নিশ্চিত করা, জাতীয় নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং আধুনিক ও সেবামুখী অভিবাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা।

    আজ যেসব বিষয়ে আলোচনা

    আজকের বৈঠকগুলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সম্ভাব্য দ্বিতীয় সহনশীলতা ও টেকসই সুবিধা (আরএসএফ) কর্মসূচি। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ কর্মসূচির প্রস্তুতি, সম্ভাব্য কাঠামো ও শর্ত নিয়ে বেলা ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি আগের সরকারের সময়ে নেওয়া প্রথম আরএসএফ কর্মসূচির আওতায় সংস্কার বাস্তবায়নের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়েছে।

    বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বৈঠকগুলোয় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ও মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য, রাজস্ব আহরণের পরিকল্পনা, ভর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), বড় উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা এবং অর্থায়নের উৎস নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

    এ ছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছর ও মধ্য মেয়াদে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো একীভূত করার পরিকল্পনা, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, নতুন নিয়োগ, জনবলকাঠামো এবং বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির সূত্র হচ্ছে আইএমএফের সঙ্গে আলোচ্য বিষয়।

  • চীনে আঘাত হেনেছে টাইফুন ‘বাভি’, ফিলিপাইনে নিহত ১৭

    চীনে আঘাত হেনেছে টাইফুন ‘বাভি’, ফিলিপাইনে নিহত ১৭

    চীনের পূর্বাঞ্চলের ঝেজিয়াং প্রদেশে টাইফুন ‘বাভি’ আঘাত হেনেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, বাভি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

    চীনের প্রাদেশিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থার বরাতে বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, গতকাল শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ২০ মিনিটে টাইফুন বাভি চীনের ভূখণ্ডে আঘাত হেনেছে। এর আগে ঘূর্ণিঝড়টি জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপপুঞ্জ ও তাইওয়ানে প্রবল বাতাস ও বৃষ্টিপাত ঘটায়।

    গত এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে বাভি চীনে আঘাত হানা দ্বিতীয় টাইফুন। এর আগে সপ্তাহান্তে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে টাইফুন ‘মায়সাক’ আঘাত হেনেছিল।

    চীনা কর্তৃপক্ষ টাইফুন বাভির কারণে গতকাল ১৭ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়েছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলে জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা। কেন্দ্রের কাছাকাছি বাভির বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার বা প্রায় ৮৯ মাইল।

    স্থলভাগে আঘাত হানার পর বাভি ক্রমেই আরও উত্তর–পশ্চিমে সরে যাচ্ছে। ফলে সেটি ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

    চীনের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা এর আগে বাভির কারণে ‘কমলা সতর্কতা’ জারি করেছিল। টাইফুন নিয়ে চার স্তরের সতর্কতা রয়েছে। এর মধ্যে এ সতর্কতা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

    প্রতিকূল আবহাওয়ার জেরে চীনে কয়েক শ উড়োজাহাজের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। কমিয়ে আনা হয়েছে ট্রেনযাত্রা। বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। স্থগিত হয়েছে বহু ফেরির যাত্রা।

    ঝেজিয়াংয়ের ঘনবসতিপূর্ণ শহর ওয়েনঝুয়ে বসবাস করেন হুয়াং জিংহুয়ান। টাইফুনের সতর্কতা মাথায় নিয়ে আগেই বাজার করে রাখছিলেন তিনি। ৫০ বছর বয়সের হুয়াং রয়টার্সকে বলেন, ‘আমি একটু চিন্তিত। তবে আমার মনে হয়, এটা ঠিক হয়ে যাবে।’

    হুয়াং জানান, তিনি পরিবারের সদস্যদের জন্য দু–তিন দিনের প্রয়োজনীয় খাবার ও পানি কিনে রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আগেও টাইফুন মোকাবিলা করেছি। এবারও সামলে উঠব।’

    ফিলিপাইনে নিহত ১৭, তাইওয়ানে ১৩৪ আহত

    শক্তিশালী দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ফিলিপাইনে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। সঙ্গে যোগ হয়েছে গত শুক্রবারের রাতের টাইফুন বাভির প্রভাব। প্রতিকূল আবহাওয়ার জেরে ভূমিধসে দেশটিতে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

    তাইওয়ানে তীব্র বাতাস ও ভারী বৃষ্টির জেরে অন্তত ১৩৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তর। বিশেষ করে পিচ্ছিল সড়কে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে অনেকে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আহত হয়েছেন।

    গতকাল সকালে তাইওয়ানে প্রায় ১৪ হাজার ২১০ জনকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিশেষত তাইচুং শহর ও হুয়ালিয়েন কাউন্টি থেকে লোকজনকে সরানো হয়েছে। তাইওয়ানজুড়ে স্কুল, অফিস ও বেশির ভাগ রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখা হয়েছে।

  • ২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ এফডিআই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের : আঙ্কটাড

    ২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ এফডিআই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের : আঙ্কটাড

    ২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রবৃদ্ধিতে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এ সময় দেশে এফডিআই প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেড়ে ১৭৮ কোটি মার্কিন ডলারে (১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন) পৌঁছেছে।

    জাতিসঙ্ঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাডের ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট ২০২৬’-এ এ তথ্য উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে এফডিআই প্রবাহ ছিল ১২৩ কোটি মার্কিন ডলার (১ দশমিক ২৩ বিলিয়ন), যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১৭৮ কোটি মার্কিন ডলারে (১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন)। বৈশ্বিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জপূর্ণ থাকা সত্ত্বেও এ প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান আস্থার প্রতিফলন।

    প্রতিবেদনটি এমন এক সময় প্রকাশিত হয়েছে, যখন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বাণিজ্য অনিশ্চয়তা এবং উচ্চ অর্থ ব্যয়ের কারণে বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রবাহ অসম অবস্থায় রয়েছে।

    এ প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের শক্তিশালী এফডিআই প্রবৃদ্ধি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    যদিও মোট স্থায়ী মূলধন গঠনে এফডিআইয়ের অংশ তুলনামূলকভাবে কম, তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির মডেলের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে দেশীয় বিনিয়োগ এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

    আঙ্কটাড জানিয়েছে, উন্নয়নশীল অঞ্চলগুলোর মধ্যে ২০২৫ সালেও উন্নয়নশীল এশিয়া বিশ্বের প্রধান বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। এ অঞ্চলে এ সময় মোট ৬৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এফডিআই এসেছে।

    বাংলাদেশের এ সাফল্য এশিয়ার অর্থনীতিগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক আগ্রহের বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রবণতারই প্রতিফলন।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা দুই বছর পতনের পর ২০২৫ সালে বৈশ্বিক এফডিআই ৬ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

    এ পুনরুদ্ধারের পেছনে ডিজিটাল অবকাঠামো, উৎপাদন শিল্প, জ্বালানি রূপান্তর প্রযুক্তি এবং অন্যান্য কৌশলগত খাতে বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎপাদনশিল্প, সেবা, অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আরো ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার, প্রতিযোগিতামূলক কর্মশক্তি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার ভবিষ্যতে এফডিআই প্রবৃদ্ধির জন্য শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে।

    অর্ধ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি জিডিপি, শিল্পায়ন ও সংযোগ ব্যবস্থায় ধারাবাহিক অগ্রগতির ফলে বাংলাদেশ ক্রমেই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্ব পাচ্ছে।

  • নিয়ন্ত্রণে আসছে স্পেনের ভয়াবহ দাবানল

    নিয়ন্ত্রণে আসছে স্পেনের ভয়াবহ দাবানল

    স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে কমপক্ষে ১২ জনের প্রাণ কেড়ে নেয়া ভয়াবহ দাবানল রোববার (১২ জুলাই) অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। এই দাবানলের কারণে কয়েকশত বাসিন্দাকে সরিয়ে নেয়া হয়, তবে তারা এখন বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। একইসাথে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।

    আঞ্চলিক জরুরি সেবা প্রধান আন্তোনিও সান্স শনিবার রাতে জানান, আলমেরিয়া প্রদেশের আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে সরিয়ে নেয়া প্রায় দেড় হাজার মানুষের মধ্যে প্রায় ৬০০ জনকে বাড়ি ফেরার অনুমতি দেয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকলকর্মীরা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    আন্দালুসিয়া আঞ্চলিক সরকারের এক বিবৃতিতে সান্স বলেন, ‘আজকের অভিযান ও আগুনের বিস্তৃত অংশ স্থিতিশীল হওয়ায় এসব ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়েছে। সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার দিকেই এগিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’

    শনিবার আবহাওয়ার উন্নতির কারণে পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়েছে। বাতাসের গতি কমে যাওয়া এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় দমকলকর্মীরা আগুনের ওপর সরাসরি অভিযান চালানোর সুযোগ পান।

    বিচারমন্ত্রী ফেলিক্স বোলানিওস শনিবার বলেন, অনুকূল বাতাস ও আর্দ্রতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে দমকলকর্মীরা দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে আরো এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন।

    তিনি আরো বলেন, শনিবার আগুন আর নতুন করে ছড়ায়নি। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিমাণ প্রায় ছয় হাজার ৬০০ হেক্টরেই স্থির রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সোমবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

    কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১২ জনই বলছে। তবে ময়নাতদন্ত এবং উদ্ধার করা লাশগুলোর পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না বলে সতর্ক করেছে তারা। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মৃতদের অনেকেই বিদেশী নাগরিক হতে পারেন।

  • পারমাণবিক বোমার চেয়েও হরমুজ প্রণালী ‘বেশি গুরুত্বপূর্ণ’

    পারমাণবিক বোমার চেয়েও হরমুজ প্রণালী ‘বেশি গুরুত্বপূর্ণ’

    কয়েক ডজন পারমাণবিক বোমার চেয়েও হরমুজ প্রণালী ‘বেশি গুরুত্বপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই।

    সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এই কৌশলগত পানিপথটি কয়েক ডজন পারমাণবিক বোমার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান এটিকে রক্ষা করবে।’

    তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সির মতে, রেজাই আরো বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী একটি কৌশলগত প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। ইরান তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং জাতীয় শক্তির ওপর নির্ভর করে দেশের স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষা করবে।’

  • একতরফা চুক্তির যুগ শেষ:গালিবাফ

    একতরফা চুক্তির যুগ শেষ:গালিবাফ

    ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, একতরফা চুক্তির যুগ শেষ হয়ে গেছে। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে গালিবাফ বলেন, ‘এখন আর একতরফা চুক্তির যুগ নেই। আমরা আগেই বলেছিলাম, প্রতিশ্রুতি বজায় রাখুন, না হলে এর মূল্য দিতে হবে। বাস্তবতা এখন সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।’

    তার পোস্টের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের ধারা ৫-এর ছবি জুড়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। ওই অনুচ্ছেদে ‘ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে’—এই বাক্যাংশটিতে বিশেষভাবে জোড় দেওয়া ছিল।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা নিয়ে মতবিরোধ থেকেই সাম্প্রতিক হামলা ও উত্তেজনার সূত্রপাত হয়েছে।

  • যুদ্ধ ছেড়ে কুটনৈতিক পথে আসার আহ্বান

    যুদ্ধ ছেড়ে কুটনৈতিক পথে আসার আহ্বান

    কূটনৈতিকভাবে সমস্যা সমাধান করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান। রোববার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে ফোনালাপে এ আহ্বান জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।

    ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে ইসহাক দার বলেন, বিরোধ নিষ্পত্তি এবং স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করার জন্য সংলাপ ও কূটনীতিই একমাত্র কার্যকর পথ।

    তিনি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একটি গঠনমূলক ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখার জন্য পাকিস্তানের প্রস্তুতির কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।

    পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে জারি করা এক বিবৃতি অনুসারে, দুই নেতা পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। ইসহাক দার জুনে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী উত্তেজনা প্রশমন এবং সংযম প্রদর্শনের জন্য সব পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন।

    রোববার গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণার পর তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

    বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর এই উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। ইরান জানিয়েছে, অননুমোদিত পথে চলাচলকারী একটি জাহাজে সতর্কতামূলক গুলি চালানোর পর তারা প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়েছে।

    ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী বলেছে, এই অঞ্চলে মার্কিন হস্তক্ষেপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি বন্ধ থাকবে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেত।

  • যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ড সেন্টার ধ্বংস করল ইরান

    যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ড সেন্টার ধ্বংস করল ইরান

    জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এসব হামলায় মার্কিন বিমান ঘাঁটির কমান্ড সেন্টার, অবকাঠামো ও এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দাবি করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

    আইআরজিসি রোববার জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানে উপকূলীয় ঘাঁটি ও টেলিকম টাওয়ারে মার্কিন হামলার প্রতিশোধ নিতে রোববার এ হামলা চালানো হয়েছে।

    আইআরজিসি বলেছে, ‘মার্কিন হামলার কঠোর জবাব’ হিসেবে তাদের বিমান বাহিনীর ঘাঁটিটির সামরিক অবকাঠামোয় আঘাত হেনেছে।

    এক বিবৃতিতে আইআরসিজি জানায়, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে অনুমোদনহীন পথ দিয়ে কয়েকটি জাহাজ পাঠানোর প্রচেষ্টা ইরানি বাহিনী রুখে দিয়েছে। এরপর মার্কিন বাহিনী দক্ষিণ ইরানের উপকূলীয় ঘাঁটি ও টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে বিমান হামলা চালায়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অপরাধী মার্কিন শাসনব্যবস্থা ওমান সালতানাতের ওপর নিজেদের ইচ্ছাকে চাপিয়ে দিয়ে গত রাতে এমন কিছু পরীক্ষা করার চেষ্টা করেছে, যা ইতোমধ্যেই পরীক্ষিত।’ বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে ‘আরো কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে।

  • দিল্লির রাস্তায় ঘুমানোর চেয়ে মুসলিম মেয়েকে নিয়ে জঙ্গলে থাকা ভালো

    দিল্লির রাস্তায় ঘুমানোর চেয়ে মুসলিম মেয়েকে নিয়ে জঙ্গলে থাকা ভালো

    দিল্লির মেহরৌলি এলাকায় মেট্রো স্টেশনের কাছে ফুটপাথে শুয়ে ঘুমাচ্ছিল বছর দশেকের একটি মেয়ে। গত ২২ জুন ভোরবেলায় এক ট্যাক্সিচালক তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

    সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেয়েটির লাশ গুরুগ্রাম-ফরিদাবাদ সীমান্তের কাছে ফেলে দেওয়া হয়। অভিযুক্তকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনা আরো একবার ভারতের রাজধানী দিল্লিতে গৃহহীন নাবালিকা ও নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

    রুজি-রুটির খোঁজে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ দিল্লিতে আসেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ পরিবারের সঙ্গে স্থায়ী বা অস্থায়ী বাসস্থানের বন্দোবস্ত করতে সক্ষম হন। তবে অনেকের পক্ষে মাথার ওপর ছাদ জোটানো সম্ভব হয় না। তারা একপ্রকার বাধ্য হয়েই রাস্তার ধারে বা ফুটপাথের মতো জায়গায় দিন কাটান। মাথার ওপর ছাদ ছাড়াই দিল্লিতে এইভাবে ঠিক কত সংখ্যক মানুষ বাস করছেন, সে সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই।

    তবে গৃহহীন ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘শহরি অধিকার মঞ্চ’-এর অনুমান, ২০২৪ সালে দিল্লিতে প্রায় তিন লাখ মানুষ গৃহহীন ছিলেন। এর মধ্যে একটি বড় অংশ নারী। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা আরো বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। রাস্তায় যাদের ঘর, তারা প্রতিটা রাতই নতুন ভয়কে সঙ্গী করে শুতে যান। কখনো বিরূপ আবহাওয়া তাদের ঘুম কেড়ে নেয়। কখনো দ্রুত গতিতে ধেয়ে আসা যানবাহনের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে মাথার উপরে ছাদহীনদের যে ভয়টা সবচেয়ে বেশি তাড়া করে ফেরে, তা হলো শ্লীলতাহানি এবং ধর্ষণের ঘটনা। এই ভয় এতটাই তীব্র যে অনেকে রাতগুলোয় অর্ধেক ঘুম আর অর্ধেক জেগে পুরো জীবন কাটিয়ে দেন।

    মেহরৌলির ওই ঘটনার পর দিল্লির বিভিন্ন জায়গা ঘুরে রাস্তায় বসবাসকারী শিশু-কিশোরী ও নারীদের অবস্থার খোঁজ নেওয়া হয়েছে।

    ‘ঘর থাকলে স্ত্রীকে খোলা জায়গায় রাখতাম?’

    ঘটনাস্থল সংলগ্ন লাডো সরাইয়ের ফুটপাতে যেতেই চোখে পড়ে সারি সারি মানুষ। এদের মধ্যে কয়েকজন নারী বেলুন বিক্রি করছিলেন, কেউ ফুল সাজাচ্ছিলেন, কেউ বা মূর্তি তৈরি করছিলেন। কেউ আবার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে কাজে ব্যস্ত। ফুটপাথের ওপরেই রাখা তোশক। কোথাও লোহার তৈরি বেড়ার ওপর কাপড় শুকাচ্ছে। ছোট ছোট কৌটোয় রাখা খাবার-দাবার। তীব্র দাবদাহ থেকে রেহাই পেতে কেউ আবার সঙ্গে স্ট্যান্ড ফ্যান রেখেছেন।

    এই ফুটপাথেই বেলুন বিক্রি করছিলেন পূজা নামে এক নারী। তিনি বলেন, ‘যতই রোদ হোক, বৃষ্টি হোক, দিন কোনোমতে কেটে যায়। আসল সমস্যা শুরু হয় রাতে। আশপাশ দিয়ে বহু লোক যায়। কেউ অশ্লীল কথা বলে, কেউ কাছে এসে বসে পড়ে। মাঝে মধ্যে অনেকে কাছাকাছি এসে শুয়ে পড়ে। মানা করলে আমাদের ধমক দিয়ে বলে—তুমি কি এই ফুটপাথ কিনে নিয়েছ?’

    কাছেই বসে ছিলেন পূজার স্বামী রোশন। তিনি বলেন, ‘শ্লীলতাহানির বিষয় নিয়ে আর কী বলব! খালি কোনোমতে বেঁচে আছি। ঘর থাকলে কি আর আমার স্ত্রীকে এভাবে খোলা জায়গায় রাখতাম?’ রাতে কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন জানতে চাইলে রোশন বলেন, ‘কী করব? দিনের বেলায় অসম্পূর্ণ ঘুম পূরণ করি। কিন্তু রাত তো রাতই। চোখ লেগে যায়, আর তারপর ঠিক সেই একই ঘটনা ঘটে।’

    রাজস্থানের ভিলওয়াড়ার বাসিন্দা এই দম্পতি প্রায় চার বছর আগে দিল্লি এসেছিলেন। পূজা বলেন, ‘আমারও এক মেয়ে আছে। তাকে আমি সঙ্গে এনেছিলাম। কিন্তু এখানে এই সমস্ত দেখার পর ওকে ওর দিদিমার কাছে রেখে আসতে হয়েছে। সেখানে অন্তত মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই তো আছে।’

    বছর বারোর কিশোরী আভ্যা (নাম পরিবর্তন করা হয়েছে) একসময় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে গিয়েছিল। সে মৃদুস্বরে বলে, ‘হলেই বা কী করব। মেয়েদের জাত, এ সব তো হবেই। যতটা সম্ভব সাবধানে থাকি। পালা করে ঘুমাই আমরা। একজন তিন ঘণ্টা ঘুমায়, অন্যজন পরের তিন ঘণ্টা। মোবাইলের দিকে তাকিয়ে রাত কোনোমতে কেটে যায়।’

    ১২ বছরের আভ্যা থেকে শুরু করে ৫০ বছর বয়সি কৌশল—সবারই একই গল্প। তারা ঝলমলে রাজধানীর সেই অংশ, যা আড়ালে থাকলে তবেই দিল্লিকে দিল্লির মতো দেখায়।

    প্রায় চার দশক ধরে গৃহহীন ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করা সমাজকর্মী ড. রাজেশ কুমার বলেন, ‘গৃহহীনদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে থাকেন নারীরা। এক্ষেত্রে বাচ্চা মেয়েরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়। ঘুমের মধ্যেই তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ধর্ষণ ও হত্যার মতো অপরাধ ঘটে। মাঝে মাঝে তাদের বিক্রিও করে দেওয়া হয়। মেহরৌলির ঘটনাটা বিচ্ছিন্ন নয়। এমনটা ঘটতেই থাকে, শুধুমাত্র অভিযোগ দায়ের করা হয় না। বাবা-মায়েরা জানেন না যে কিছু ঘটলে কীভাবে পুলিশের কাছে যেতে হবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘যদি কোনো শিশু রাস্তায় একা থাকে, তবে তাকে অবিলম্বে শেল্টারে নিয়ে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত। দিল্লিতে গৃহহীনদের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু সেই অনুযায়ী আশ্রয়কেন্দ্র কম। বিদ্যমান আশ্রয় কেন্দ্রগুলোর ক্ষমতা পুনর্মূল্যায়ন করা দরকার।’

    দিল্লি আরবান শেল্টার ইমপ্রুভমেন্ট বোর্ডের তথ্য অনুসারে, বর্তমানে দিল্লিতে প্রায় ২০০টি স্থায়ী শেল্টার আছে। এর মধ্যে ১৫৫টি পুরুষদের জন্য, ২০টি পরিবারের জন্য এবং মাত্র ১৭টি আশ্রয়কেন্দ্র নারীদের জন্য সংরক্ষিত।

  • শিক্ষার্থীদের ‘আকর্ষণীয়’ পাঠ্যবই দিবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষার্থীদের ‘আকর্ষণীয়’ পাঠ্যবই দিবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    অতীতের সব ভুলভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে এসে আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত, মানসম্মত, প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয় পাঠ্যপুস্তক উপহার দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ‘চারটি নতুন পাঠ্যপুস্তকের কাঠামো চূড়ান্তকরণ কর্মশালা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)’র চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

    এছাড়াও অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেনসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে পাঠ্যপুস্তকের পান্ডুলিপিতে অসংখ্য বানান ভুল ও যাচ্ছেতাই বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছে। আমরা এবার শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গ্রুপভিত্তিক নিবিড় কাজ করছি।’

    তিনি বলেন, অতীতের সেই আবর্জনা পরিষ্কার করে, এবার শতভাগ নির্ভুল বই তৈরি করা হচ্ছে। মানসম্মত প্রিন্টিং ও কাগজের গুণগত মানের ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না।
    এ সময় ড. এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, বইয়ের প্রচ্ছদ ও ভেতরের ছবিগুলো এমন প্রাণবন্ত হতে হবে, যাতে তা কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে আকর্ষণ করে; ছবি যেন নিজেই কথা বলে।

    তিনি জানান, নতুন এই চারটি বইয়ের পান্ডুলিপি চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর গঠিত বিশেষজ্ঞ দলকে আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে ক্রীড়া বিষয়ক অধ্যায়ের কনক্লুসিভ স্টেটমেন্ট এবং সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সাব-কমিটিও আগামী ৫ দিনের মধ্যে তাদের মতামত জমা দেবেন। এরপরই এই পান্ডুলিপি চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে।

    ভবিষ্যৎ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘২০২৭ সালের কাজ শেষ করেই আমরা বসে থাকব না। ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের পরিমার্জিত কারিকুলাম করার জন্য আগামী ১ আগস্ট থেকেই আমরা নতুন বইয়ের কাজে হাত দিব, যাতে হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকে এবং কোনো তাড়াহুড়ো না হয়।’

    তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা খাতের উন্নয়নকে নিজে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁর ভিশন বাস্তবায়নে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি চমৎকার ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

  • ইসরাইলিদের হাতে মার্কিন আইনপ্রণেতা আটক !

    ইসরাইলিদের হাতে মার্কিন আইনপ্রণেতা আটক !

    অধিকৃত পশ্চিম তীর সফরের সময় সশস্ত্র ও অবৈধ ইসরাইলি ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হাতে সদলবলে আটক হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য রো খান্না। গত শনিবার তিনি এ ঘটনার কথা উল্লেখ করে একে দখলদারিত্বের অধীনে ফিলিস্তিনিদের প্রতিদিনের কঠিন বাস্তবতার এক নির্মম চিত্র বলে বর্ণনা করেন।

    ফিলিস্তিনি গ্রাম তুরমুস আইয়ায় রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্যালিফোর্নিয়ার এই ডেমোক্রেট নেতা বলেন, ঘটনাটি ঘটে যখন তার প্রতিনিধি দলটি অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলের খিরবেত জানুতা নামক একটি ফিলিস্তিনি গ্রাম পরিদর্শনে গিয়েছিল। ক্রমাগত বসতি স্থাপনকারীদের হামলার মুখে এই গ্রামের বাসিন্দারা আগেই জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছেন।

    রো খান্না জানান, তারা যখন ধ্বংস হয়ে যাওয়া সেই গ্রাম এবং সেখানকার একটি বিধ্বস্ত বিদ্যালয়ের ধ্বংসাবশেষ দেখছিলেন, ঠিক তখনই সশস্ত্র ইসরাইলিরা তাদের গাড়িটি ঘিরে ফেলে।

    খান্না রয়টার্সকে বলেন, ‘ওরা স্কুলটি ধ্বংস করেছে, পুরো গ্রামটিই শেষ করে দিয়েছে। এই গুন্ডারা আমেরিকার তৈরি এম-৪ মেশিনগান নিয়ে এসে আমাদের আটকে রাখে। তারা রাস্তা অবরোধ করে। এরপর তারা ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে খবর দেয় এবং আইডিএফ এসে ওই আমেরিকানদের পক্ষে নয়, বরং হামলাকারী বসতি স্থাপনকারীদের পক্ষ নেয়।’

    খান্নার সঙ্গে থাকা তার সহকারী ক্যামেরন কাস্কি জানান, ইসরাইলি পুলিশ হস্তক্ষেপ করার আগে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। এই পরিস্থিতির মধ্যে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সহায়তার জন্য জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসেও যোগাযোগ করেছিলেন।

    ইসরাইলি সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে, খিরবেত জানুতার কাছে বসতি স্থাপনকারীরা গাড়ি আটকে রেখেছে—এমন খবর পাওয়ার পর সেখানে বাহিনী পাঠানো হয়েছিল।

    রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, সেনা ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বসতি স্থাপনকারীদের সরিয়ে দেয় এবং মার্কিন প্রতিনিধি দলটিকে তাদের গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। তবে এই বিষয়ে ইসরাইলি পুলিশ এবং জেরুজালেমের মার্কিন দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

    খিরবেত জানুতা গ্রামটি বর্তমানে অধিকৃত পশ্চিম তীরে চরম আকার ধারণ করা ইসরাইলি সহিংসতার এক প্রতীক হয়ে উঠেছে। বারবার হামলার শিকার হয়ে ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাও এই অঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলিদের হামলার হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধির তথ্য নথিবদ্ধ করেছে।

    রো খান্নার এই সফরটি এমন এক সময়ে হলো, যখন ইসরাইল এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের প্রতি মার্কিন নীতি কী হওয়া উচিত—তা নিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরেই বিতর্ক তীব্র হচ্ছে।

    ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী হবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে খান্না বলেন, তিনি এটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছেন এবং এই সফর তার সেই চিন্তাভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।

    এই কংগ্রেস সদস্যের মতে, মার্কিন ভোটারদের কাছে ফিলিস্তিন ইস্যুটির রাজনৈতিক ও নৈতিক গুরুত্ব কতটা গভীর, তা ডেমোক্রেটিক পার্টির অনেক নেতাই অনুধাবন করতে পারছেন না।

    খান্না বলেন, ‘আপনি যদি ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলতে না পারেন, গাজার গণহত্যা কিংবা পশ্চিম তীরের বর্ণবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে না পারেন, তবে আপনার নৈতিক অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ।’

    খান্না আরও জানান, তিনি কোনো অফিশিয়াল ইসরাইলি কর্মসূচি ছাড়াই কেবল ফিলিস্তিনিদের ব্যবস্থাপনায় এই সফরের সিদ্ধান্ত নেন, যাতে মাঠপর্যায়ের প্রকৃত পরিস্থিতি নিজ চোখে দেখতে পারেন।

    তার এই মন্তব্যের মাত্র কয়েক দিন আগে, ওবামা প্রশাসনের সাবেক হোয়াইট হাউস চিফ অব স্টাফ এবং সম্ভাব্য ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী রাহম ইমানুয়েলও তেল আবিব সফরকালে ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরাইলের নীতির সমালোচনা করেছিলেন। তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে ইসরাইলের প্রতি আমেরিকার দীর্ঘদিনের সমর্থন দিন দিন কমছে।

  • পাট নেবে পাকিস্তান, আসবে খাদ্য পণ্য

    পাট নেবে পাকিস্তান, আসবে খাদ্য পণ্য

    দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্কের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। উভয় দেশের মধ্যে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল এবং পাটের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও কৃষিপণ্য আমদানি-রপ্তানি সহজ করতে সরকারি পর্যায়ে একটি বড় ধরনের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে যাচ্ছে।


    সম্প্রতি বাংলাদেশের শিল্প মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব পাকিস্তান (টিসিপি)-এর চেয়ারম্যান আসিম আজিম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে একটি পাকিস্তানি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরকালে এই বৈঠকে অংশ নেয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির এবং ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।


    পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন-এর সাথে আলাপকালে টিসিপি চেয়ারম্যান আসিম আজিম সিদ্দিকী জানান, পাকিস্তান বাংলাদেশে চাল, মসুর ডাল, ছোলা, সার, ভোজ্যতেল এবং অন্যান্য কৃষিপণ্য রপ্তানি করতে অত্যন্ত আগ্রহী। অন্যদিকে, পাকিস্তানের শিল্প খাতে বাংলাদেশের উন্নত মানের পাট এবং পাটজাত পণ্যের বিপুল চাহিদা রয়েছে।তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আইনি কাঠামো মেনে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে বাংলাদেশে পণ্য সরবরাহে সহায়তা করার প্রস্তাবও দিয়েছে পাকিস্তান। বৈঠকে উভয় পক্ষই পাকিস্তান-বাংলাদেশ যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে এবং বাণিজ্য প্রতিনিধি দল বিনিময় বাড়াতে সম্মত হয়েছে।

    টিসিপি চেয়ারম্যান বলেন, “আমাদের এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদার করা, খাদ্য সরবরাহে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং শিল্প খাতের অংশীদারিত্বকে সম্প্রসারিত করা।”বৈঠকে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য শক্তিশালী বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা গেলে দুই দেশের জন্যই বিনিয়োগ ও ব্যবসার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

    মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তৈরি, শিল্পায়ন ত্বরান্বিতকরণ এবং বাণিজ্য সহজীকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছে। এই সংস্কার প্রক্রিয়া দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে আরও প্রসারিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারসহ দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বব্যাপী সরবরাহ চেইনের বর্তমান চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে এই উদ্যোগটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। পাকিস্তানের উদ্বৃত্ত কৃষি উৎপাদন বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান খাদ্যের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। বিশেষ করে চাল এবং ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে এটি বাংলাদেশের আমদানির উৎসকে আরও বহুমুখী করবে। বিপরীতভাবে, বাংলাদেশের পাটজাত পণ্য পাকিস্তানের টেক্সটাইল ও প্যাকেজিং শিল্পের জন্য সাশ্রয়ী ও কার্যকর সমাধান হতে পারে।

    প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকটি সই হলে দুই দেশের মধ্যকার আমলাতান্ত্রিক ও পদ্ধতিগত জটিলতা অনেকটাই দূর হবে। সরকারিভাবে সরাসরি বাণিজ্য চ্যানেল চালু হওয়ার ফলে লেনদেন আরও মসৃণ ও দ্রুত হবে, যা বাজারে পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    খাদ্য ও কৃষি খাতের এই সমঝোতা কেবল পণ্য আদানপ্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ এখন বাণিজ্যকে আরও সাশ্রয়ী ও দক্ষ করতে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ে কাজ করবে। তা হলো- পণ্যের ওপর শুল্কের হার কমিয়ে এনে আমদানি-রপ্তানি খরচ হ্রাস করা, দুই দেশের গুণগত মানদণ্ডের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা যাতে পণ্য খালাসে সময় কম লাগে এবং সরাসরি নৌ বা বিমান যোগাযোগের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা আরও উন্নত করা।

    এই উদ্যোগটি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। উভয় দেশই এখন তাদের প্রথাগত সম্পর্কের বাইরে গিয়ে কৃষি এবং হালকা শিল্পে একটি স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ চেইন গড়ে তুলতে চায়। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই সমঝোতা স্মারকটি আনুষ্ঠানিকভাবে সই হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দুই দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ভলিউম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে।

  • ‘সমঝোতা ছাড়া হাসিনার ফেরার সুযোগ নেই’ চিফ প্রসিউটর

    ‘সমঝোতা ছাড়া হাসিনার ফেরার সুযোগ নেই’ চিফ প্রসিউটর

    ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও ভারতের সরকারের পারস্পরিক সমঝোতা ছাড়া দেশে এসে সরাসরি আত্মসমর্পণ করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘দেশে ফিরলে বিমানবন্দরেই তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হবেরোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণে নির্বাসিত অবস্থায় রয়েছেন। তিনি সাধারণ নাগরিকের মতো ইচ্ছা করলেই বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন না। তাকে দেশে আসতে হলে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আসতে হবে। আর দেশে পা রাখামাত্রই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।’

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।

    তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত নৃশংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনাসহ ট্রাইব্যুনালে চলমান প্রধান ১০টি মামলার তদন্তও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এসব মামলার তদন্ত প্রতিবেদন খুব শিগগিরই ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

  • বর্ষাকালে পেটের সুস্থতায় যেসব শাক সবজি খাওয়া ঠিক নয়

    বর্ষাকালে পেটের সুস্থতায় যেসব শাক সবজি খাওয়া ঠিক নয়

    বর্ষাকালে বাজারে তাজা সবজি পাওয়া যায়। পাওয়া যায় বিভিন্ন ধরনের শাকও। এ সময়ে সব ধরনের শাক সবজি খাওয়া ঠিক নয়। কারণ বর্ষার অতিরিক্ত আর্দ্রতায় জীবাণুর বংশবৃদ্ধি ঘটে। সবজিতেও দূষণ বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে। খাবারে ই কোলাই, সালমোনেল্লার মতো ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ বাড়ে। এই মৌসুমে ঘরে তৈরি সবজির তরকারি খেয়েও সংক্রমণে ভুগতে পারেন, এমনটাই জানানো হয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘এই সময়’-এর একটি প্রতিবেদনে। তাই বর্ষায় কোন কোন শাকসবজি না খাওয়াই ভালো, তা জেনে রাখা ভালো।

    বিভিন্ন ধরনের শাক
    বর্ষাকালে শাকপাতা না খাওয়াই ভালো। পাতার ভেতর পোকামাকড় এবং জীবাণু লেগে থাকতে পারে। বর্ষার পানি জমে শাকে ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি ঘটে। আবার অনেক সময়ে কাদা লেগে থাকে শাকে। তাই এই সময় শাক না খাওয়াই ভালো। খেলেও তা ভালো করে ধুয়ে সেদ্ধ করে নেওয়া উচিত। কাঁচা অবস্থায় একেবারেই খাবেন না।

    কপি জাতীয় সবজি
    এখন সারাবছরই বাঁধাকপি ও ফুলকপি পাওয়া যায়। কিন্তু বর্ষায় এই ধরনের সবজি না খাওয়াই ভালো। বাঁধাকপির মধ্যে পোকা বা কৃমি থাকার আশঙ্কা থাকে। ফুলকপির মধ্যেও পোকামাকড় থাকতে পারে। আর্দ্রতার কারণে এই দুই সবজিতেও ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ বাড়ে।

    মাশরুম
    বর্ষাকালে মাশরুম এড়িয়ে চলুন। এই সবজি স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় জন্মায় এবং খুব দ্রুত আর্দ্রতা শোষণ করে। বর্ষায় ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ বাড়ে এবং তার প্রভাব মাশরুমের উপরও পড়ে। তাই এই ঋতুতে মাশরুম খেলে ফুড পয়জনিং-এর ঝুঁকি বাড়ে।আর কোন কোন সবজি এড়িয়ে চলা উচিত?
    আলু, পেঁয়াজ, গাজরের মতো সবজি মাটির নিচে হয়। আবার বেগুন-টমেটোর মতো সবজিতে দ্রুত পচন ধরে। তাই এসব সবজি বর্ষায় এড়িয়ে চলা উচিত। কিন্তু সব সময় এই সবজিগুলো এড়ানো যায় না। তাই বর্ষায় যখনই বাজার থেকে সবজি কিনে আনবেন, সেগুলো ভালো করে ধুয়ে নেবেন। লবণ বা ভিনিগার মেশানো পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে ধুয়ে নিতে পারেন। তারপর পানি ঝরিয়ে শুকনো করে ফ্রিজে তুলে রাখুন। আর উচ্চ আঁচে সবজি রান্না করুন।

  • খাবারে প্রোটিন যোগ করার সহজ উপায়

    খাবারে প্রোটিন যোগ করার সহজ উপায়

    প্রোটিনের উপকারিতা শুধু পেশি গঠন এবং শক্তি বাড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, বিপাকীয় স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং শরীরকে মেরামত ও পুনরুদ্ধারে সাহায্য করার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদিও অনেকেই মনে করেন, উচ্চ-প্রোটিনযুক্ত খাবার ব্যয়বহুল বা খাধ্যাভ্যাস অনুসরণ করা কঠিন, তবে প্রতিদিনের রান্না করা খাবারে কয়েকটি সাধারণ পরিবর্তন এনে সহজেই প্রোটিন গ্রহণের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে।

    ভারতীয় নিউট্রিশনিস্ট প্রবালিকা লোনডে দৈনন্দিন খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ানোর ৫টি সহজ উপায় জানিয়েছেন ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে’র এক প্রতিবেদনে। যেমন-

    ১. আপনার নিয়মিত খাবারে ডাল, অঙ্কুরিত ছোলা বা ভাজা ছোলা যোগ করুন। অতিরিক্ত পুষ্টির জন্য সালাদ,স্যান্ডউইচে অঙ্কুরিত ছোলা মেশাতে পারেন। দুপুরের বা রাতের খাবারের সাথে এক বাটি অতিরিক্ত ডাল যোগ করাও প্রোটিন বাড়ানোর একটি সহজ উপায়।

    ২. সঠিক পরিমাণে পনির, দই বা দুধ আপনার দৈনন্দিন খাবারে অন্তর্ভুক্ত করুন। পনির পরোটা, সবজি, পোলাও বা স্যান্ডউইচে যোগ করা যেতে পারে। দই প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামে সমৃদ্ধ এবং এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। এমনকি এক কাপ দই বা দুধও দৈনিক প্রোটিন গ্রহণের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

    ৩. আরেকটি ভালো উপায় হলো প্রোটিন-সমৃদ্ধ আটা ব্যবহার করে খাবারটিকে মাল্টিগ্রেইন করে তোলা। রুটি বানানোর সময় গমের আটার সাথে বেসন, রাগি, সয়াবিনের আটা বা ছাতু যোগ করলে এর পুষ্টিগুণ বেড়ে যায় এবং স্বাদেও তেমন কোনো পরিবর্তন হয় না।

    ৪. সকাল এবং বিকালের নাশতায় বাদাম ও বীজ যোগ করুন। চিনাবাদাম, কাঠবাদাম, তিল, তিসি এবং কুমড়োর বীজ দই, স্মুদি, ওটস বা সালাদের উপর ছিটিয়ে দেওয়া যেতে পারে। খাবারের সাথে চিনাবাদামের চাটনি বা চিনাবাদামের গুঁড়োও একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প।

    ৫. খাবারে ডিম, মুরগির মাংস, মাছ বা সয়া পণ্য আরও বেশি করে অন্তর্ভুক্ত করুন। সিদ্ধ ডিম বিকালের নাশতা হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে তরকারি, বা ফ্রাইড রাইসে সয়া যোগ করা যায়। এই খাবারগুলো সাশ্রয়ী এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ।

    লোন্ডে বলেন , দৈনন্দিন কিছু সাধারণ পরিবর্তনের মাধ্যমে বাড়ির খাবারকে স্বাস্থ্যকর ও আরও সুষম করে তোলা যায়। তিনি জানান, প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার শক্তি বাড়াতে, শরীর সেরে উঠতে সাহায্য করে। এই সব দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। তবে, তিনি খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে জানতে একজন পুষ্টিবিদের সঙ্গে যেগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন।

  • বঙ্গোপসাগরে ৪.৫ মাত্রার ভূমিকম্প

    বঙ্গোপসাগরে ৪.৫ মাত্রার ভূমিকম্প

    বঙ্গোপসাগরে ৪ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর ফলে ভারতের বিশাখাপত্তনম ও অন্ধ্রপ্রদেশ সংলগ্ন জেলাগুলোর কিছু অংশে কম্পন অনুভূত হয়। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান ইনফরমেশন সার্ভিসেস এ তথ্য জানায়। ভূমিকম্পের কারণে কোনো হতাহত, বা অন্য কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

    রোববার (১২ জুলাই) ভোর ৫টা ৫ মিনিটের দিকে কেঁপে ওঠে উপকূলীয় শহর বিশাখাপত্তনমের কিছু এলাকা। গাজুয়াকা, মঙ্গলাপালেম, সাগর নগর, পেদ্দা ওয়ালটেয়ার, আরিলোভা, এমভিপি কলোনি, আপ্পুঘরসহ অন্যান্য এলাকায় এই কম্পন অনুভূত হয়।

    ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসিমোলজি জানিয়েছে, ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, ভারতীয় সময় সকাল ৫টা ৫ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে ১০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল বঙ্গোপসাগরে কাকিনাডা উপকূল থেকে প্রায় ২২৫ কিলোমিটার দূরে।

    আনাকাপল্লি, ভিজিয়ানগরম, কাকিনাদা এবং কোনাসীমা জেলার কিছু অংশে কম্পন অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

  • বাবার হত্যার ‘প্রতিশোধ’ অবশ্যই নেওয়া হবে: মোজতবা খামেনি

    বাবার হত্যার ‘প্রতিশোধ’ অবশ্যই নেওয়া হবে: মোজতবা খামেনি

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মর্মান্তিক মৃত্যুর পর তাঁর স্মরণে আয়োজিত বিদায় অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির দৃশ্য। তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে এক ব্যক্তিকে ইরানের প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ছবিসংবলিত একটি ব্যানার বয়ে নিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে। তেহরান, ইরান। ২ জুলাই ২০২৬ছবি: রয়টার্স

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, তাঁর বাবার হত্যার ‘প্রতিশোধ’ অবশ্যই নেওয়া হবে।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফারস–এ প্রকাশিত মোজতবার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রতিশোধ নেওয়া আমাদের জাতির দাবি এবং এটি অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে।’

    প্রয়াত নেতাকে উদ্দেশ করে ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা শপথ করছি, ওই অপরাধী ও কলঙ্কিত খুনিদের কাছ থেকে আমরা আপনার পবিত্র রক্ত এবং এই দুই যুদ্ধের সব শহীদের রক্তের বদলা নেব।’

    বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, ‘ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত এই অপরাধীদের সবার নাম জানা এবং নথিভুক্ত আছে। বৃদ্ধ বয়সে বিছানায় শুয়ে শান্তিতে মৃত্যুর যে ইচ্ছা তারা বুকে পুষে রাখছে, তা তাদের সঙ্গেই কবরে যাবে। তাদের এটা জানা উচিত, এই বিষয়টি আমার বা অন্য কোনো কর্মকর্তার বেঁচে থাকা বা না থাকার ওপর নির্ভর করে না।’

    বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা বেঁচে থাকি বা না থাকি, খুব ‘শিগগিরই’ এই প্রতিজ্ঞা পূরণ করা হবে।’

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হুমকি দিয়েছেন, ইরান যদি তাঁকে হত্যার চেষ্টা করে, তবে তিনি দেশটিকে ‘ধুলায় মিশিয়ে’ দেবেন। তাঁর এই হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে এমন হুঁশিয়ারি এল।

    সম্প্রতি ইসরায়েলি গোয়েন্দারা দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ইসরায়েলি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, তেহরানের কট্টরপন্থী নেতাদের কোনো একটি অংশ ট্রাম্পকে হত্যার এই ইচ্ছা পোষণ করে। তবে এ বিষয়ে অবগত যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সূত্র ভিন্ন কথা জানিয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দাদের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে ট্রাম্পকে হত্যার নতুন বা নির্দিষ্ট কোনো ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন ইরানি পক্ষগুলোর তাঁকে হত্যার ইচ্ছা নিয়ে বেশ কিছু গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

    নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর মোজতবা খামেনিকে এখনো জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

    ধারণা করা হচ্ছে, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনে যখন মোজতবার বাবা, মা, সন্তান ও স্ত্রী নিহত হন, সেখানে তিনিও আহত হয়েছিলেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই নতুন এই সর্বোচ্চ নেতা প্রকাশ্যে আসছেন না। তিনি কেবল লিখিত বিবৃতির মাধ্যমেই তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এর মধ্যে তিনি কখনো নিজের মুখ দেখাননি বা নিজের কণ্ঠেও বার্তা দেননি।

    সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর মোজতবার খুব অল্প কয়েকটি বার্তা প্রকাশ পেয়েছে। শনিবারের বার্তাটি সেগুলোরই একটি।

  • জাতিসংঘে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে বৈঠক, পাশে দাঁড়াল চীন-রাশিয়া

    জাতিসংঘে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে বৈঠক, পাশে দাঁড়াল চীন-রাশিয়া

    ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে রাশিয়া ও চীন। দেশ দুটির দাবি, ২০২৫ সালের অক্টোবরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তাই ইরানের পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনার এখতিয়ার এখন আর পরিষদের নেই।

    শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রেস টিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইউরোপীয় সদস্য দেশগুলোর অনুরোধে নিরাপত্তা পরিষদের এই বৈঠক ডাকা হয়। তবে চীন ও রাশিয়া এর বিরোধিতা করে। পরে ভোটে ১১টি দেশ পক্ষে, দুটি দেশ বিপক্ষে এবং দুটি দেশ বিরত থাকায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    গত বছর ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এটি ছিল এ বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের তৃতীয় বৈঠক। এর আগে চলতি বছরের মার্চ ও জুন মাসেও একই বিষয়ে বৈঠক হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

    ২০১৫ সালে ইরান ও ছয় বিশ্বশক্তির মধ্যে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি বা জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) অনুমোদনের জন্য ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। এর মেয়াদ ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর শেষ হয়।

    ইরান, রাশিয়া ও চীনের মতে, ওই তারিখের পর প্রস্তাবটির সব বিধান, নিষেধাজ্ঞা এবং নিরাপত্তা পরিষদের দায়িত্বেরও অবসান ঘটেছে। ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের আর কোনো এখতিয়ার নেই।

    তিন দেশই বলেছে, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির তথাকথিত নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের উদ্যোগ আইনগত ও প্রক্রিয়াগতভাবে অবৈধ। কারণ সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবটির কার্যকারিতা ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।

    জাতিসংঘে রাশিয়ার উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি আন্না এভস্তিগনিয়েভা বৈঠকের আগে বলেন, ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবরের পর থেকে ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের আর কোনো কার্যকারিতা নেই। নিরাপত্তা পরিষদেরও এ বিষয়ে আলোচনা করার ম্যান্ডেট শেষ হয়েছে।

    তিনি অভিযোগ করেন, নিরাপত্তা পরিষদের কয়েকটি সদস্য দেশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এমন একটি বিষয় নিয়ে বারবার বৈঠক ডেকে নিয়ম ভঙ্গ করছ।

    এভস্তিগনিয়েভা বলেন, ইরানকে ঘিরে অযৌক্তিকভাবে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নিরাপত্তা পরিষদকে ব্যবহার করার সব ধরনের প্রচেষ্টা রাশিয়া দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে। জাতিসংঘে চীনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি সান লেইও একই অবস্থান তুলে ধরেন।

    তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের মেয়াদ শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে ইরানের পারমাণবিক ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের আনুষ্ঠানিক ভূমিকারও সমাপ্তি হয়েছে।

    সান লেই আরও বলেন, নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টির অতিরিক্ত রাজনৈতিকীকরণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিভাজন বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক সমাধানের পথকে আরও কঠিন করে তুলছে।

    বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আগের অভিযোগগুলো পুনরায় তুলে ধরে। তবে বৈঠক শেষে কোনো সিদ্ধান্ত, প্রস্তাব বা আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি।

    প্রস্তাবটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর জাতিসংঘে দেওয়া এক যৌথ চিঠিতে তিন দেশ জানায়, ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের সমাপ্তির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকারও ইতি ঘটেছে। একইসঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ ব্যবস্থাগুলো পুনরুজ্জীবিত করার যে কোনো প্রচেষ্টাও তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।

  • পর্যটকবাহী স্পিডবোট ডুবে নিহত ১৫

    পর্যটকবাহী স্পিডবোট ডুবে নিহত ১৫

    ভিয়েতনামের দক্ষিণাঞ্চলীয় ফু কোক দ্বীপের কাছে ভারতীয় পর্যটক বহনকারী একটি দ্রুতগামী স্পিডবোট ঢেউয়ের তোড়ে সাগরে উল্টে গেছে। এতে অন্তত ১৫ জন ভারতীয় পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। ভিয়েতনামের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ভিএনএক্সপ্রেস ও হ্যানয়ে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, স্পিডবোটটিতে ক্রু সদস্যসহ মোট ৩৬ জন আরোহী ছিলেন। এদের মধ্যে ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও দুজনের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক।

    ভিয়েতনামের কোস্টগার্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আজ শনিবার দুপুরের পর ৩২ জন ভারতীয় পর্যটক, তিনজন ক্রু সদস্য এবং একজন গাইডসহ মোট ৩৬ জন আরোহী নিয়ে স্পিডবোটটি ফু কোক দ্বীপপুঞ্জের অন্তর্গত হন মে রুত নোয়াই নামক একটি ছোট দ্বীপ থেকে আন থোই বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। বন্দর অভিমুখে যাওয়ার পথে উপকূল থেকে মাত্র ৪০০ মিটার (৪৪০ গজ) দূরে বোটটি ঝোড়ো হাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের মুখে পড়ে।

    সাগরের পানির আঘাতে স্পিডবোটটি মুহূর্তের মধ্যে উল্টে যায় এবং বোটের চালক, ক্রুসহ সব আরোহী সাগরের লোনা পানিতে ছিটকে পড়েন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় মৎস্যজীবী, কোস্টগার্ডের বিশেষ উদ্ধারকারী দল এবং নিকটবর্তী অন্য নৌযানগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সাগরের তীব্র স্রোত উপেক্ষা করে উদ্ধারকর্মীরা পানি থেকে ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে পাঠাতে সক্ষম হন। তবে সাগরের তলদেশ এবং চারপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে একে একে ১৫ জন ভারতীয় পর্যটকের নিথর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

    দুর্ঘটনার পর ভিয়েতনামে নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাস দুঃখ প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পর্যটক এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক ও আইনি সহায়তা দিতে ভারতীয় মিশন ইতিমধ্যে ভিয়েতনামের দুটি প্রধান শহরে জরুরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ বা কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে। এর মধ্যে একটি কন্ট্রোল রুম হো চি মিন সিটিতে অবস্থিত ভারতীয় কনস্যুলেট জেনারেলে এবং অন্যটি রাজধানী হ্যানয়ের মূল দূতাবাসে কাজ শুরু করেছে।

  • জুলাই নিয়ে সিনেমা বানান, রক্ত বিক্রি করে টাকা দেব: তাজুল

    জুলাই নিয়ে সিনেমা বানান, রক্ত বিক্রি করে টাকা দেব: তাজুল

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘রাষ্ট্র যদি জুলাই নিয়ে সিনেমা বানানোর জন্য ফান্ড না দেয়, তাহলে আমি নিজের গাড়িটি বিক্রি করে দিয়ে হলেও সেই ফান্ডে টাকা দেব।’ যোগ্য চলচ্চিত্র পরিচালকদের এই কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফান্ডের জন্য প্রয়োজনে আমার রক্ত বিক্রি করতেও দ্বিধা করব না।’

    শনিবার জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের বিশেষ অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ফ্যাসিস্টদের সহযোগী যারা জুলাই বিপ্লবকে ‘জঙ্গি কর্মকাণ্ড’ বা ‘সিডিআই’ বলে মিথ্যা প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করছে, তাদের রুখে দিতে সঠিক ইতিহাসের চলচ্চিত্র নির্মাণ খুবই জরুরি।’

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ইতিহাসের এই বীরত্বগাথাকে অমর করে রাখতে এবং শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে জুলাইয়ের ওপর ভিত্তি করে মানসম্মত সিনেমা নির্মাণ করা প্রয়োজন।’

    জুলাই বিপ্লবকে একটি মহাকাব্যিক বিপ্লব এবং অসম মহাযুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘একপক্ষ অস্ত্র এবং অন্যপক্ষ বুককে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে।’ তিনি হাসপাতালে আহতদের ভয়াবহ অবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘তৎকালীন স্বৈরশাসকের নির্দেশে ‘নো রিলিজ, নো ট্রিটমেন্ট’ নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল, যার ফলে আহতদের অস্ত্রোপচার করা হয়নি এবং ড্রেসিংয়ের সময় অ্যানেস্থেশিয়া পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।’

  • হাদি হত্যার বিচার করতে না পারলে পদত্যাগ করুন: জামায়াত আমির

    হাদি হত্যার বিচার করতে না পারলে পদত্যাগ করুন: জামায়াত আমির

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘হাদি হত্যার বিচার করতে না পারলে পদত্যাগ করুন। পরবর্তী সরকার এসে বিচার করবে।’

    শনিবার রংপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

    জামায়াত আমির বলেন, ‘এ দেশের মানুষ চাঁদাবাজি করে না। যারা চাঁদাবাজি করে, তারা জনগণের কষ্ট কিভাবে বুঝবে।’

    বর্তমান সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘নির্বাচনের আগে ‘তিস্তা বাঁচাও’ আন্দোলন করলেও বাজেটে এর জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। তিনি ঘোষণা করেন, আগামীতে ইনশাআল্লাহ ১১ দলীয় ঐক্য নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।’ এছাড়া সীমান্তে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সরকারের নীরবতার সমালোচনা করে তিনি বিজিবি এবং সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ প্রচেষ্টাকে অভিনন্দন জানান।

    জামায়াত আমির রংপুর বিভাগকে ‘কৃষির রাজধানী’ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। তিনি আলু চাষীদের সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে হিমাগারে প্রতি বস্তা আলুর জন্য ৬০০ টাকা দিতে হচ্ছে যা কৃষকদের ওপর জুলুম। তিনি আলুর বস্তা রাখার খরচ কমানো এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানান।তিনি অঙ্গীকার করেন, ১১ দলের সরকার গঠিত হলে দেশে কোনো চাঁদাবাজ বা দুর্নীতিবাজের জায়গা হবে না। এমনকি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও যদি দুর্নীতির সাথে জড়িত হন, তাকেও বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

  • রংপুর দখলের কথা বললে আমরা কলকাতা দখল করব; কর্নেল অলি

    রংপুর দখলের কথা বললে আমরা কলকাতা দখল করব; কর্নেল অলি

    এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম ভারতের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আপনাদের দাস-দাসীরা দিল্লিতে; বাংলাদেশে এখন আপনাদের দাসদের রাজত্ব নেই।’

    গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সীমান্তে পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে শনিবার ১১ দলীয় ঐক্যের রংপুর বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

    জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত সমাবেশে তিনি রংপুরবাসীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের সন্তান আবু সাঈদ অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়ে পুরো বাংলাদেশকে দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি আমাদের যে বার্তা দিয়েছেন, তা হলো—দেশের জন্য প্রয়োজনে প্রাণ দিতে হবে। কারও তাঁবেদারি করে থাকবেন না।’

    কর্নেল অলি বলেন, ‘কয়েকদিন আগে ভারতীয় হাইকমিশনার বেনাপোল দিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। তিনি সুন্দর কবিতা শোনালেন—একই আকাশ, একই বাতাস। যদি আমাদের জন্য এতই আপনার মায়া হয়, চারিদিকে কাঁটাতার কেন দিলেন? আমাদের জন্য যদি এতই প্রীতি হয়, কেন প্রত্যেকদিন পুশইন করছেন? আমরা কেন ফারাক্কায় পানি পাচ্ছি না? তিস্তায় পানি পাচ্ছি না? আমাদের যে অভিন্ন নদীগুলো আছে, এগুলো থেকে পানি কেন আসছে না?’

    ‘আমরা যখন উড়োজাহাজ কিনি, আপনাদের পেটে ব্যথা শুরু হয়ে যায়। আপনারা যখন প্লেন কেনেন, বড় বড় জাহাজ কেনেন, আমরা তো কিছু বলি না। আমরা দেশের প্রয়োজনে ট্যাঙ্ক কিনব, আর্টিলারি কিনব, এটা আমাদেরই সিদ্ধান্ত।’

    অলি আহমদ বলেন, ‘আমরা আপনাদের দাস নই। আপনাদের দাসী তো আপনাদের কাছে চলে গেছে। এখন তো দাসী এখানে নেই। যদি আমাদের সাথে সুসম্পর্ক করতে চান, কাঁটাতারের বেড়া উঠিয়ে নিন, পুশইন বন্ধ করুন। আর কখনো বলবেন না—রংপুর দখল করবেন।’

    ‘আপনারা যদি বলেন, রংপুর দখল করবেন, আমরাও বলব, কলকাতা দখল করব। আগের দিন শেষ। এখন নতুন জমানা শুরু। বাংলাদেশের এখন আপনার দাসীর রাজত্ব নেই। এই দাস-দাসীরা আর কখনও বাংলাদেশ শাসন করতে পারবে না।’

  • বেলুচিস্তানে ভারতের ‘প্রক্সি যুদ্ধের’ প্রমাণ আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরবে পাকিস্তান

    বেলুচিস্তানে ভারতের ‘প্রক্সি যুদ্ধের’ প্রমাণ আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরবে পাকিস্তান

    বেলুচিস্তানে ভারতের কথিত সম্পৃক্ততার প্রমাণ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। এ কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের রাজনৈতিক ও জনবিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ। শুক্রবার জিও নিউজ-এর ‘নয়া পাকিস্তান’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বেলুচিস্তানের পরিস্থিতি কেবল রাজনৈতিক, আইন-শৃঙ্খলা বা সন্ত্রাসবাদের সমস্যা নয়; বরং আফগানিস্তানকে ব্যবহার করে ভারতের চাপিয়ে দেয়া একটি ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ’। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ।

    রানা সানাউল্লাহ বলেন, সর্বোচ্চ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, ভারতের বিরুদ্ধে সংগৃহীত সুনির্দিষ্ট প্রমাণ আন্তর্জাতিক মহলে উপস্থাপন করা হবে। তার দাবি, পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালাতে আফগানিস্তানকে পরিকল্পিতভাবে প্রক্সি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এদিকে, বেলুচিস্তানে চলমান ‘অপারেশন শাবান’-এ শুক্রবার আরও ১৭ জন ‘ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে বলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্র দাবি করেছে। এতে এই অভিযানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৩ জনে পৌঁছেছে। মাঙ্গি ড্যাম পুলিশ স্টেশনে প্রাণঘাতী হামলার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কোর (এফসি) এবং বেলুচিস্তান পুলিশের যৌথ অংশগ্রহণে এই অভিযান শুরু হয়।

    বুধবার সংবাদ সম্মেলনে ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর)-এর মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, ভারত সমর্থিত সন্ত্রাসীরা পুলিশ চৌকিতে হামলা চালালেও পুলিশ সদস্যরা সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং প্রাথমিক সংঘর্ষে ১৫ জন হামলাকারী নিহত হয়। তিনি জানান, প্রাথমিক লড়াইয়ে নয়জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। পরে হামলাকারীরা কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে জিম্মি করে, এরপর নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সামরিক মুখপাত্র বলেন, আমাদের সন্তানরা জিম্মি ছিল। এই কারণে নিরাপত্তা বাহিনী অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে জিয়ারাত এলাকার পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের ঘিরে ফেলে। তার ভাষ্য, ৬ জুলাই থেকে নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে অভিযান চালিয়ে আসছিল। পরে সন্ত্রাসীরা যখন বুঝতে পারে যে তাদের ঘেরাও করা হয়েছে, তখন এই কাপুরুষরা আরও ১৮ জন পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে।

    লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী জানান, মাঙ্গি চেকপোস্টে হামলায় মোট ২৭ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন এবং ওই অভিযানে ২৬ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়। এদিকে, নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, খুজদারের একটি পুলিশ স্টেশনে হামলাও প্রতিহত করা হয়েছে। পরে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও এফসি অভিযানে নামলে আরও আটজন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়। নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, ৫ জুলাই থেকে অপারেশন শাবান এবং অন্যান্য গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযানে মোট ৯১ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এছাড়া পৃথক হেলিকপ্টার অভিযানে আরও পাঁচ থেকে ছয়জন নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    চলমান অভিযানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলেও সাম্প্রতিক তিনটি হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক নাগরিকসহ মোট ৪২ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার কোয়েটায় ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান সংক্রান্ত প্রাদেশিক অ্যাপেক্স কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বেলুচিস্তানে ‘ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদ’ নির্মূলে বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্বের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ফিতনা আল-খাওয়ারিজের অশুভ পরিকল্পনা আমাদের নস্যাৎ করতে হবে। পুরো জাতি সশস্ত্র বাহিনীর পাশে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পাকিস্তানের শেষ সন্ত্রাসী নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ চলবে। ভারতের প্রতি ইঙ্গিত করে শেহবাজ শরিফ বলেন, পাকিস্তানের ‘পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিবেশী’ সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলাগুলোর পেছনে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তানে হামলা চালাতে আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করা হচ্ছে।

  • চায়না জিওলজিক্যাল সার্ভের গবেষণা

    চায়না জিওলজিক্যাল সার্ভের গবেষণা

    ব্রহ্মপুত্রে চীনের মেগা বাঁধ ঘিরে ভূমিকম্পের শঙ্কা, ঝুঁকিতে ভারত-বাংলাদেশ

    তিব্বতে ব্রহ্মপুত্র নদের (ইয়ারলুং সাংপো) ওপর নির্মাণাধীন বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চীনের একদল ভূতাত্ত্বিক। তাদের গবেষণায় উঠে এসেছে, এই মেগা বাঁধের ঠিক নিচেই রয়েছে একটি সক্রিয় ভূ-ফাটল (ফল্ট লাইন), যা ভবিষ্যতে বাঁধটির কাঠামোগত স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। উজানে চীনের এই বিশাল বাঁধ নির্মাণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভারত ও বাংলাদেশে উদ্বেগ রয়েছে।

    গত মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত ‘চায়না জিওলজিক্যাল সার্ভে’র তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত চীনা ভাষার সাময়িকী ‘সেডিমেন্টারি জিওলজি অ্যান্ড টেথিয়ান জিওলজি’তে এ গবেষণা প্রকাশিত হয়।

    এতে বলা হয়েছে, পূর্ব হিমালয় অঞ্চলের পাইজেন ফল্ট বরফ যুগের প্লাইস্টোসিন সময়কাল থেকেই অত্যন্ত সক্রিয়। এই ফল্টের অবস্থান বাঁধের জলাধার এলাকার খুব কাছাকাছি হওয়ায় এটি শুধু বাঁধই নয়, আশপাশের সড়ক, সেতু, সুড়ঙ্গ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হতে পারে।

    গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন চেংদু ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, চায়না জিওলজিক্যাল সার্ভের সিভিল-মিলিটারি ইন্টিগ্রেশন সেন্টার এবং মিডল ইয়ারলুং সাংপো রিভার ন্যাচারাল রিসোর্সেস অবজারভেশন অ্যান্ড রিসার্চ স্টেশনের ভূতাত্ত্বিকরা।

    গবেষকরা জানান, পাইজেন ফল্টের দীর্ঘমেয়াদি সক্রিয়তার কারণে আশপাশের শিলাস্তরে অসংখ্য ফাটল তৈরি হয়েছে এবং সেগুলোর যান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যও পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে এসব এলাকার মাটি ও শিলার ধারণক্ষমতা এবং স্থিতিশীলতা আগের তুলনায় অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব বড় প্রকৌশল প্রকল্পগুলোর ভিত্তির ওপরও পড়তে পারে।

    গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, পাইজেন এলাকা ইয়ারলুং সাংপো জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জলাধার অঞ্চলের মধ্যেই অবস্থিত। এখানকার ভূমির গঠন আলগা এবং মাটির সংযোজন শক্তি তুলনামূলকভাবে কম। ফলে দীর্ঘ সময় জলাধারের পানির নিচে থাকার পাশাপাশি ফল্ট লাইনের নড়াচড়া কিংবা ভূমিকম্পের প্রভাবে দুই পাশের পাহাড়ি ঢাল সহজেই অস্থিতিশীল হয়ে ভূমিধস বা পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটতে পারে।

    এ কারণে গবেষকরা প্রকৌশলীদের ঢালের স্থিতিশীলতা বাড়াতে অতিরিক্ত শক্তিশালীকরণ, রিটেইনিং ওয়াল বা প্রতিরোধমূলক দেয়াল নির্মাণ এবং ভূমিধস প্রতিরোধে বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন। তাদের মতে, নির্মাণ ও পরিচালনার পুরো সময়জুড়েই এসব নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

    চীন গত বছর তিব্বত মালভূমিতে এই মেগা বাঁধের নির্মাণকাজ শুরু করে। প্রকল্পটি থেকে বছরে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থ্রি গর্জেস বাঁধের উৎপাদন ক্ষমতার প্রায় তিন গুণ।

    ইয়ারলুং সাংপো নদী তিব্বত ছেড়ে ভারতের অরুণাচল প্রদেশ ও আসামে প্রবেশের পর ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত হয়। পরে এটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে যমুনা নামে প্রবাহিত হয়। এ কারণে উজানে চীনের এই বিশাল বাঁধ নির্মাণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভারত ও বাংলাদেশে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে, পানির প্রবাহ, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং ভাটির দেশগুলোর পানি নিরাপত্তার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

    গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, পাইজেন এলাকা হিমালয়ের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে এখানে নিয়মিত শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়। ফলে ইয়ারলুং সাংপো নদীর আশপাশে একটি অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকম্প অঞ্চল গড়ে উঠেছে।

    ভূতাত্ত্বিকদের তথ্য অনুযায়ী, পাইজেন ফল্টটি প্লাইস্টোসিন যুগের শুরু থেকেই সক্রিয় এবং বর্তমান হলোসিন যুগেও এর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রাচীন হ্রদের পলিমাটির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৯ হাজার ৫০০ বছর আগেও এই ফল্ট সক্রিয় ছিল।

    গবেষকরা ২০১৭ সালে তিব্বতের মিলিন এলাকায় সংঘটিত ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের কথাও উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, ওই ভূমিকম্প পাইজেন ফল্টের উত্তর প্রান্তে সংঘটিত হয়েছিল, যা এখনো এই ফল্টের শক্তিশালী ভূমিকম্প সৃষ্টির সক্ষমতার প্রমাণ বহন করে।

    গবেষণাপত্রে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে আঞ্চলিক ভূমিকম্পের প্রভাবে সহজেই ভূমিধস ও পাহাড়ধসের মতো দুর্যোগ দেখা দিতে পারে। এতে বাঁধ, সড়ক, সেতু, সুড়ঙ্গসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং সেখানে কর্মরত মানুষের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে। তাই নির্মাণ ও পরিচালনার প্রতিটি ধাপে কাঠামোগত নিরাপত্তা আরও জোরদার করা এবং ভূমিধস প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন গবেষকরা।

  • যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেন ছেড়ে চীনে পাড়ি জমালেন ১০ বিজ্ঞানী

    যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেন ছেড়ে চীনে পাড়ি জমালেন ১০ বিজ্ঞানী

    গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত তহবিলের অভাব এবং পশ্চিমা দেশগুলোতে চীনা শিক্ষাবিদদের বড় কোনো প্রকল্পের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসাসহ বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করে এ বছর ডজন খানেক বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেন ছেড়ে চীনে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়তে পাড়ি জমিয়েছেন।

    পাঠকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগানো এমন ১০ জন বিজ্ঞানী ও গবেষকের গল্প নিচে তুলে ধরা হলো:

    ১. ‘চীনাদের জন্য অসম্ভব’: ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ঝাং কাই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লেন

    অভূতপূর্ব নির্ভুলতার সঙ্গে একটি অতি-বৃহৎ আকারের সেলুলার স্ট্রাকচার গ্রুপ ডাটা ব্যাংক তৈরি করছেন বিজ্ঞানী ঝাং কাই। নিজের এই বিশাল স্বপ্ন পূরণের জন্য জন্মভূমি চীনে ফিরে আসাকেই তিনি স্বাভাবিক পছন্দ হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

    ২. নিজস্ব ল্যাব গড়তে কেমব্রিজ ছাড়লেন জ্বালানি বিজ্ঞানী চেন পেইপেই

    কিছু উদীয়মান তরুণ বিজ্ঞানীদের কাছে ব্রিটিশ একাডেমিয়ার আগের সেই মর্যাদা এখন কমছে। এর পেছনে রয়েছে ক্রমাগত সংকুচিত হতে থাকা গবেষণা তহবিল এবং জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি। আর এই কারণেই শীর্ষ স্তরের প্রতিভারা এখন স্থিতিশীলতা ও প্রয়োজনীয় সম্পদের খোঁজে অন্য দেশের দিকে ঝুঁকছেন।

    জ্বালানি বিজ্ঞানী চেন পেইপেই তেমনি এক পরিস্থিতিতে হংকংয়ে নিজের ল্যাব তৈরি করতে কেমব্রিজ ছেড়েছেন।

    ৩. নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী ওমর ইয়াঘি যুক্তরাষ্ট্রের পাট চুকিয়ে চীনের শিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিলেন

    গত বছরের রসায়নে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ওমর ইয়াঘি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত একটি নতুন গবেষণা কেন্দ্রের নেতৃত্ব দিতে চীনের শিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন।

    ৪. ব্ল্যাক হোল শিকারি বিজ্ঞানী দাই লিয়াং যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে সাংহাইয়ে

    ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর অনুসন্ধানের কাজের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার ‘সবচেয়ে মেধাবী তরুণ বিজ্ঞানীদের’ জন্য সংরক্ষিত একটি মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপ পেয়েছিলেন পদার্থবিদ দাই লিয়াং। তিনি সম্প্রতি চীনে ফিরে এসেছেন এবং সাংহাইয়ে একটি পদে যোগ দিয়েছেন।

    ৫. উদীয়মান চিপ বিজ্ঞানী জিয়াং জিয়ানফেং এমআইটি ছেড়ে পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে

    সাধারণত পিএইচডি শেষ করার পর ডক্টরাল সুপারভাইজার হতে একজন শিক্ষাবিদের আট থেকে দশ বছর সময় লাগে। কিন্তু সেমিকন্ডাক্টর বিজ্ঞানী জিয়াং জিয়ানফেং মাত্র ১৮ মাসেই সেই গৌরব অর্জন করেছেন এবং এমআইটি ছেড়ে চীনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন।

    ৬. প্রখ্যাত নিউরোবায়োলজিস্ট এবং সাবেক তায়কোয়ান্দো অধিনায়ক চিহ-ইং সু চীনে পাড়ি জমালেন

    ফল মাছি এবং মশার ঘ্রাণশক্তির ওপর গবেষণার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ও প্রশংসিত নিউরোবায়োলজিস্ট চিহ-ইং সু ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সান দিয়েগোর ফ্যাকাল্টি ভাইস-চেয়ারের পদ ছেড়েছেন। তিনি শেনজেন একাডেমি অব মেডিকেল সায়েন্সেস-এ যোগ দিয়েছেন।

    ৭. বিশ্বের প্রথম উদ্ভিদ শনাক্তকরণ অ্যাপের জনক এআই বিজ্ঞানী লিং হাইবিন এখন চীনে

    বিশ্বের প্রথম মোবাইল উদ্ভিদ শনাক্তকরণ অ্যাপের পেছনের কারিগর ও প্রশংসিত কম্পিউটার বিজ্ঞানী লিং হাইবিন যুক্তরাষ্ট্রের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি পূর্ব চীনের হাংচৌতে অবস্থিত ওয়েস্টলেক ইউনিভার্সিটিতে পূর্ণকালীন অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়েছেন।

    ৮. উত্তর আমেরিকার শীর্ষ কম্পিউটার ভিশন বিজ্ঞানী লিয়াং জি চীনে প্রত্যাবর্তন করলেন

    বিশ বছর আগে মাইক্রোসফটে থাকার সময় লিয়াং জি এমন কিছু প্রযুক্তি তৈরি করেছিলেন যা উইন্ডোজ মিডিয়া ভিডিও প্লেয়ার এবং ব্লু-রে ডিস্কের মতো পণ্যে যুক্ত করা হয়েছিল, যা বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ ব্যবহার করেন। সেই কম্পিউটার ভিশন বিজ্ঞানী এবার উত্তর আমেরিকা থেকে চীনে ফিরে এসেছেন।

    ৯. পুরস্কারপ্রাপ্ত মেমোরি চিপ বিশেষজ্ঞ মার্কিন চাকরি ছেড়ে চীনা সেমিকন্ডাক্টর ফার্মে

    সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং এবং মেমোরি চিপ খাতের এক প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞ দুই দশকেরও বেশি সময় পর ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, আরভিনের অধ্যাপনা ছেড়েছেন। তিনি পূর্ব চীনের একটি শীর্ষস্থানীয় কন্ডাক্টিভ ম্যাটেরিয়ালস কোম্পানিতে যোগ দিয়েছেন।

    ১০. ব্রিটেনে ৩৮ বছর কাটানোর পর হংকং পলিইউ-তে যোগ দিলেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ইভি মোটর বিশেষজ্ঞ

    বৈদ্যুতিক মোটর ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অন্যতম বিশ্বসেরা বিশেষজ্ঞ ঝু জিকিয়াং ব্রিটেনে তার প্রায় চার দশকের দীর্ঘ কর্মজীবনের ইতি টেনেছেন। তিনি হংকং পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটিতে একটি পূর্ণকালীন পদে যোগ দিতে সেখানে পাড়ি জমিয়েছেন।

  • পাকিস্তানের জনসংখ্যা বৃদ্ধি তৈরি করছে ‘নীরব সংকট’

    পাকিস্তানের জনসংখ্যা বৃদ্ধি তৈরি করছে ‘নীরব সংকট’

    পাকিস্তানের দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যা এখন আর কেবল আদমশুমারির পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং জাতীয় অর্থনীতির জন্য একটি মারাত্মক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, টেকসই নগর পরিকল্পনা, পরিবেশবান্ধব সবুজ জ্বালানি এবং প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ না নিলে দেশটির আগামী প্রজন্ম বিশুদ্ধ বাতাস, নিরাপদ পানি এবং সুস্থ জীবনযাত্রার অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

    আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান বর্তমানে তীব্র জনসংখ্যা বৃদ্ধির সংকটে থাকা অন্যতম শীর্ষ দেশ। বিপুল জনসংখ্যার চাপে দেশটির সীমিত সম্পদের ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়ছে, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য এবং জনস্বাস্থ্যকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসংখ্যার চাহিদা এবং প্রাপ্ত সম্পদের মধ্যকার এই ক্রমবর্ধমান ব্যবধান পাকিস্তানকে একটি ‘নীরব সংকটে’র দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সুপরিকল্পিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না থাকলে খাদ্য, পানি, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের সংকট ভবিষ্যতে আরও তীব্র আকার ধারণ করবে।

    শহরগুলোর দ্রুত ও অপরিকল্পিত বিস্তার প্রধান শহর এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোর ওপর অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। কোনো সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া আবাসন প্রকল্প গড়ে ওঠায় তীব্র যানজট, গণপরিবহনের সংকট এবং বায়ু দূষণ দেশটিতে চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    একই সঙ্গে শহুরে জনগোষ্ঠী পানির অভাব, দুর্বল ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং সাশ্রয়ী ও সুপরিকল্পিত আবাসনের তীব্র সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে।

    পরিকাঠামো ও নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির গতির চেয়ে শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি বেশি হওয়ায় এই সমস্যাগুলো দিন দিন আরও প্রকট হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি কেবল একটি অর্থনৈতিক সংকট নয়, এটি পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি।

    অতিরিক্ত যানবাহন, নির্মাণকাজ, বর্জ্য উৎপাদন এবং জ্বালানির উচ্চ চাহিদা বায়ু মান নষ্ট করছে এবং পরিবেশের অবক্ষয় ঘটাচ্ছে। পানি সংকট এবং দুর্বল স্যানিটেশন ব্যবস্থার কারণে ঘনবসতিপূর্ণ ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকাগুলোতে রোগব্যাধির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে।

    এদিকে, বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বক্তৃতায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি দেশটির তরুণ প্রজন্মকে মূল্যবান জাতীয় সম্পদ এবং দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

    তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির জন্য তরুণদের শিক্ষা, পেশাগত দক্ষতা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে বিনিয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি। জনসংখ্যাভিত্তিক এই সম্ভাবনাকে পাকিস্তানের জাতীয় সমৃদ্ধি এবং অর্থপূর্ণ মানব উন্নয়নে রূপান্তর করতে হবে।

  • যুদ্ধবিরতি কার্যকর নেই তবুও আলোচনায় রাজি

    যুদ্ধবিরতি কার্যকর নেই তবুও আলোচনায় রাজি

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার বলেছেন, ইরানের সাথে আরো আলোচনা চালিয়ে যেতে তিনি রাজি হয়েছেন। তবে একইসাথে তিনি আবারো দাবি করেছেন, দু’দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে।

    গত মাসের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি কোনো আলোচনা হয়নি। তবে এ সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে আবারো পাল্টাপাল্টি হামলার পর মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে পৌঁছেছে বলে ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে।

    ওয়াশিংটন ও তেহরান দীর্ঘ কয়েক মাসের যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তিতে রূপ দেয়ার লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে সই করার তিন সপ্তাহের কিছু বেশি সময় পর চলতি সপ্তাহে দু’দিন ধরে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা হয়েছে। এতে আবারো পূর্ণমাত্রার আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    ট্রাম্প শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান আমাদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যেতে চায়। আমরা এতে সম্মতি দিয়েছি। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে।’

    এর আগে চলতি সপ্তাহে ন্যাটো সম্মেলনেও ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি শেষ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। ইরান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তাদের সাথে আলোচনা করা শুধু সময়ের অপচয়।’

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা সমঝোতা স্মারকে সই করার পর সুইজারল্যান্ডে এক দফা সরাসরি আলোচনা করেছে। পাশাপাশি কাতারে পরোক্ষ আলোচনাও হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কূটনৈতিক অগ্রগতির কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।

    শুক্রবার কাতারের আমিরের সাথে মিসরের প্রেসিডেন্টের আলোচনায় দোহা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে। এর মধ্যেই ইরান দাবি করেছে, তারা কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশ কাতার অভিযোগ করেছে, ইরান হরমুজ প্রণালীতে তাদের একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা করেছে।

    ইরানের তাসনিম বার্তাসংস্থা জানিয়েছে, মঙ্গলবারের ঘটনার পর কাতারের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা আরো জোরদার করার চেষ্টা হিসেবে দেশটির একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে অবস্থান করছে। ওই ঘটনার পর কাতার তাদের একটি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) বহনকারী জাহাজে ইরানের ‘অগ্রহণযোগ্য হামলার’ অভিযোগ তুলে নিন্দা জানিয়েছিল। তবে ইরান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

    সঙ্ঘাতের মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ শুক্রবার কাতারের আমিরের সাথে টেলিফোনে কথা বলেছেন। তার কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিয়ে তারা আলোচনা করেন।

    শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথেও কথা বলেন এবং ‘কষ্টার্জিত শান্তি’ রক্ষার আহ্বান জানান বলে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান।

    তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।

    ইরানের আইএসএনএ বার্তাসংস্থাকে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের অবসান বিশ্বের দেশগুলোর অগ্রাধিকার। তবে সবাইকে জানতে হবে, ইরানের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে এই সঙ্ঘাত কখনো শেষ হবে না।’ তিনি আরো বলেন, ইরানের জনগণ আত্মরক্ষার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

  • তাৎক্ষণিক ব্যবহারের জন্য ভারতের ১২পরমাণু বোমা মোতায়েন

    তাৎক্ষণিক ব্যবহারের জন্য ভারতের ১২পরমাণু বোমা মোতায়েন

    ভারত প্রথমবারের মতো তাৎক্ষণিক ব্যবহারের জন্য ১২টি পরমাণু বোমা মোতায়েন করেছে। ডুবোজাহাজ ও ভূগর্ভস্থ সাইলোতে এগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপরি) ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনের বরাতে ভারতীয় বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল এবং নয়াদিল্লির সেন্টার ফর এয়ার পাওয়ার স্টাডিজের সাবেক মহাপরিচালক অনিল চোপড়া এই তথ্য জানিয়েছেন।

    আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আরটি শনিবার (১১ জুলাই) জানিয়েছে, সিপরির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ভারতের মোট পরমাণু বোমার সংখ্যা গত বছরের ১৮০টি থেকে বেড়ে বর্তমানে ১৯০টি হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি পরমাণু অস্ত্র প্রথমবারের মতো তাৎক্ষণিক ব্যবহারের জন্য ডুবোজাহাজ ও ভূগর্ভস্থ সাইলোতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    এ পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারত তার দীর্ঘদিনের পৃথকভাবে মজুদ রাখার নীতি ভেঙে সাগরে সবসময় পরমাণু অস্ত্রের উপস্থিতি ও যুদ্ধের প্রস্তুতি নিশ্চিত করার কৌশলগত সক্ষমতা অর্জন করল।

    ভারত ‘প্রথমে আঘাত না করার’ নীতিতে অটল থাকলেও দুই পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশী চীন ও পাকিস্তানের হুমকির মুখে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। সিপরির তথ্য অনুযায়ী, চীনের কাছে বর্তমানে ৬২০টির বেশি পরমাণু বোমা রয়েছে। বেইজিং দূরপাল্লার ডিএফ-৫বি, ডিএফ-৪১ ক্ষেপণাস্ত্র, জিন-ক্লাসের ডুবোজাহাজ ও এইচ-৬এন বোমারু বিমান নিয়ে শক্তিশালী ত্রিমাত্রিক পারমাণবিক ব্যবস্থা গড়ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের আইসিবিএম সংখ্যা রাশিয়া বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ হতে পারে।

    বেইজিং এখন ‘লঞ্চ-অন-ওয়ার্নিং’ বা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তের সাথে সাথেই পাল্টা আঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের কাছে রয়েছে ১৭০টি পরমাণু বোমা, যার গোড়াপত্তন করেছিলেন বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী আবদুল কাদের খান। এনপিটিবহির্ভূত পাকিস্তানের কোনো ‘প্রথমে আঘাত না করার’ নীতি নেই। তারা শাহীন-৩ ক্ষেপণাস্ত্র, এফ-১৬ ও মিরাজ যুদ্ধবিমানের পর এখন ডুবোজাহাজ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে।

    এই বৈরী পরিবেশে ভারত তার নিজস্ব ত্রিমাত্রিক পারমাণবিক শক্তি জোরদার করেছে। ভূমিতে রয়েছে ৫ হাজার কিলোমিটারেরও দূরপাল্লার অগ্নি-৫ আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র, অগ্নি-পি ও অগ্নি-৪। আকাশে রাফাল, মিরাজ ২০০০ ও জাগুয়ার যুদ্ধবিমান পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম।

    সবচেয়ে নিরাপদ সমুদ্রভাগে ২০১৬ সালে ‘আইএনএস অরিহন্ত’ মোতায়েনের পর ২০২৪ সালে ‘আইএনএস অরিঘাত’ এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে ‘আইএনএস অরিদমন’ নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে, যা ৩,৫০০ কিলোমিটার দূরত্বের কে-৪ ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম। ভারতের এই সাবমেরিন ও রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তির উন্নয়নে এবং ক্রুদের সেন্ট পিটার্সবার্গ ও ভ্লাদিভোস্তকে প্রশিক্ষণে প্রধান অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রেখেছে রাশিয়া। পূর্বে লিজ নেয়া আইএনএস চক্র-১ ও চক্র-২ এর পর ৩ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে চক্র-৩ লিজ নেয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।

    সামরিক বা কূটনৈতিক ভাষায় ‘ত্রিমাত্রিক পারমাণবিক ব্যবস্থা’ বলতে একটি দেশের এমন এক শক্তিশালী সক্ষমতাকে বোঝায়, যার মাধ্যমে তারা একই সাথে তিনটি ভিন্ন মাধ্যম থেকে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে। এই তিনটি মাধ্যম হলো- ভূমি, আকাশ ও পানি। কোনো দেশের এই ত্রিমাত্রিক ব্যবস্থা থাকা মানে—শত্রুপক্ষ যদি আকস্মিক হামলায় তাদের ভূমির ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি বা আকাশের বিমানঘাঁটি ধ্বংসও করে দেয়, তা হলেও পানির নিচে লুকিয়ে থাকা সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজ থেকে দেশটি পাল্টা মারাত্মক পারমাণবিক আঘাত হানতে পারবে। একে যুদ্ধের ভাষায় ‘সেকেন্ড-স্ট্রাইক ক্যাপাবিলিটি’ বা পাল্টা আঘাতের সবচেয়ে নিরাপদ ঢাল বলা হয়।

    ভারতের এই কৌশলগত পারমাণবিক বাহিনী বা এসএফসি মূলত বেসামরিক রাজনৈতিক নেতৃত্বের অধীনস্থ পরমাণু কমান্ড কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় পরিচালিত হয়, যার প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী ও নির্বাহী প্রধান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। পূর্বে ডিআরডিও ও পরমাণু শক্তি বিভাগ অস্ত্র আলাদা রাখলেও এখন দ্রুত সাড়ার জন্য তা সুসংহত করা হচ্ছে। ভারত ‘প্রথমে আঘাত না করার’ নীতি ধরে রেখে সুরক্ষায় ‘মিরভ’ প্রযুক্তি, এস-৫ ক্লাসের সাবমেরিন ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়নে কাজ করছে।

  • ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’, চীনে নিরাপদ আশ্রয়ে ৬ লাখ মানুষ

    ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’, চীনে নিরাপদ আশ্রয়ে ৬ লাখ মানুষ

    আন্তজাতিক ডেস্ক:

    চীনের পূর্ব উপকূলের দিকে ধেয়ে আসা শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’র প্রভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে ৬ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ‘সুপার টাইফুন’ থেকে এর শক্তি কিছুটা কমলেও এটি এখনো অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং ভারী বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    চীনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পূর্বাঞ্চলীয় ঝেজিয়াং প্রদেশ থেকে পাঁচ লাখের বেশি এবং পার্শ্ববর্তী ফুজিয়ান প্রদেশ থেকে আরও প্রায় এক লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    এর আগে জাপানের সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানে এবং তাইওয়ানের উত্তরাঞ্চল ঘেঁষে অগ্রসর হওয়ার পর টাইফুনটি বর্তমানে চীনের দিকে ধেয়ে আসছে। রোববার ভোরে ঘনবসতিপূর্ণ ঝেজিয়াং প্রদেশের ওয়েনঝৌ শহরের উপকূলে এটি আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ।

    চীনের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা টাইফুনের জন্য চার স্তরের সতর্কতার মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি করেছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, রেল যোগাযোগ সীমিত করা হয়েছে এবং বহু স্কুল ও ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

    ওয়েনঝৌর বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী হুয়াং শিংহুয়ান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, কিছুটা উদ্বিগ্ন হলেও আমি মনে করি আমরা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারব। তিনি জানান, তাদের পরিবার দুই থেকে তিন দিনের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার ও পানির মজুত করেছে। অতীতেও তারা একাধিক টাইফুনের মুখোমুখি হয়েছেন এবং এবারও পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারবেন বলে আশাবাদী।

    ফুজিয়ান প্রদেশের নিংদে শহরে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকা থেকে তিন হাজার ৭০০–এর বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে ১৭ হাজারের বেশি জরুরি উদ্ধারকর্মীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    আবহাওয়াবিদদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে অগ্রসর হওয়ার সময় টাইফুন ‘বাভি’র শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে এর বৃষ্টিবাহী মেঘমালায় বিপুল পরিমাণ আর্দ্রতা থাকায় ভারী বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে।

    এদিকে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে আঘাত হানা ট্রপিক্যাল স্টর্ম ‘মেইসাক’-এর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে এখনো লড়ছে চীনের দক্ষিণাঞ্চলের হাইনান ও গুয়াংশি অঞ্চল। গুয়াংশির নানিং শহরে একটি বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট বন্যায় অন্তত ৩৯ জনের প্রাণহানি হয়েছে।