আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • হাসিনাকে দিয়ে এক ঢিলে বহু পাখি মারতে চাই দিল্লি

    হাসিনাকে দিয়ে এক ঢিলে বহু পাখি মারতে চাই দিল্লি

    প্রায় দুই বছর ধরে ভারতের মাটিতে থাকা হাসিনা নেতা-কর্মীদের নিয়ে ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরতে চান। দেশে ফিরে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন। তার এই বক্তব্য সামনে আসার পর বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতেও তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তবে দিল্লির পর্যবেক্ষকেরা একে ‘দেশে ফেরার সুনির্দিষ্ট ঘোষণা’ হিসেবে দেখার চেয়ে ‘জল মাপার চেষ্টা’ হিসেবেই বেশি দেখছেন।

    শেখ হাসিনার ভারতে থাকা নিয়ে দিল্লির অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে অপরিবর্তিত রয়েছে। গত কয়েক দিনে ভারতের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারত শেখ হাসিনাকে নিজে থেকে ডেকে এনে আশ্রয় দেয়নি, আবার এখন জোর করে তাড়িয়েও দিচ্ছে না।

    সাউথ ব্লকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, ‘পরিস্থিতি যাচাই করে তিনি যদি দেশে ফিরতে চান, ফিরবেন। আর যদি মনে করেন ভারতেই থাকবেন, তাহলে তাই।’

    গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাসিনা জানান, তিনি আগামী ডিসেম্বরে দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন এবং আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান। তিনি আরো বলেন, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি ফাঁসিও দেওয়া হতে পারে, এটা জেনেও তিনি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    শেখ হাসিনার এই বক্তব্য নিয়ে দিল্লির শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা, বিশ্লেষক ও সাবেক কূটনীতিক এবং ভারতে আশ্রিত আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি। এই আলোচনা থেকে প্রধানত দুটি বিষয় উঠে এসেছে—

    প্রথমত, শেখ হাসিনা এ কথা বলেছেন মানেই তিনি ডিসেম্বরেই ভারত থেকে ঢাকায় ফিরবেন—এমনটা নাও হতে পারে। মাঝের এই পাঁচ মাসে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, বাংলাদেশ সরকার কী প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ব হাসিনাকে নিয়ে কী মনোভাব পোষণ করে—এই সব বিষয়ের ওপরই তার প্রত্যাবর্তন নির্ভর করবে।

    দ্বিতীয়ত, হাসিনা এই সিদ্ধান্ত কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে না নিলেও, তিনি যে ভারতের প্রচ্ছন্ন সম্মতি ছাড়া এই বক্তব্য দেননি, সে বিষয়ে পর্যবেক্ষকরা একমত। ভারত সরকারও মনে করছে, এই ঘোষণায় তাদের ক্ষতি নেই, বরং লাভ বেশি। হাসিনা ফিরে গেলে ভারত দু-বছরের কূটনৈতিক অস্বস্তি থেকে মুক্তি পাবে। আর যদি না-ও ফেরেন, তাহলেও দিল্লি বলতে পারবে যে হাসিনা তো ফিরতেই চেয়েছিলেন, কিন্তু বাংলাদেশ সরকার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি। ফলে এই বক্তব্যকে ‘এক ঢিলে অনেকগুলো পাখি মারা’র শামিল বলে মনে করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে বলটা বাংলাদেশ সরকারের কোর্টে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

    ঢাকায় ভারতের সাবেক হাই কমিশনার পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তী মনে করেন, শেখ হাসিনা সত্যিই ফিরতে সিরিয়াস, কারণ আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে তার ফেরা দরকার।

    তিনি বলেন, হাসিনা ঢাকায় ফিরলে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করবেন এবং বিচার চলাকালীন তাকে নিরাপদ হেফাজতে রাখা হতে পারে। সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্দার আড়ালে দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে দরকষাকষি হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

    দিল্লির রাজনৈতিক বিশ্লেষক জয়ন্ত রায়চৌধুরীর মতে, শেখ হাসিনা বিএনপির কাছে বার্তা দিতে চান যে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে অপ্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা তিনি নিজে গিয়ে রুখবেন।

    ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ভারতে আশ্রয় নিয়ে থাকা কয়েক হাজার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীর মধ্যে হাসিনার এই বক্তব্য নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক নেতা মনে করেন, বর্তমান জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হাসিনা ফিরে আসুক, তা বিএনপি সরকার চাইবে না।

    হাসিনা দেশে ফিরলে কতজন তার সঙ্গী হবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, তারা নেত্রীর সঙ্গে বিমানে করে ফিরতে প্রস্তুত।

    তবে সাবেক এক ক্যাবিনেট সদস্য জানান, শেখ হাসিনার বিচারের দিকে আন্তর্জাতিক নজর থাকবে, কিন্তু সাধারণ নেতা-কর্মীরা দেশে ফিরলে তাৎক্ষণিক মিথ্যা মামলায় জেলে চলে যাবেন, যা কেউ জানতেও পারবে না। ফলে শেষ পর্যন্ত কতজন তার সঙ্গী হবেন, তা এখনই বলা মুশকিল।

  • চীনের সঙ্গে জিও পলিটিক্যাল ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে: মির্জা ফখরুল

    চীনের সঙ্গে জিও পলিটিক্যাল ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে: মির্জা ফখরুল

    চীনের সঙ্গে ভূরাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে চায় বিএনপি। এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মধ্য দিয়ে দুদেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশন’ আয়োজিত আলোচনাসভায় এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক চীন সফরের পর ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় গেস্ট অব অনার ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের তরুণরা চীনে যাচ্ছে এবং সম্পর্ক গড়ে তুলছে। তারেক রহমানের সফর দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করেছে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী নির্যাতনের সময়ও আমরা দলটির সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি।’

    তিনি বলেন, চীন শুধু আওয়ামী লীগকে নয়, বরং বিএনপিসহ অন্যান্য দলের সঙ্গেও সম্পর্ক রেখেছে। বিএনপি চীনের সঙ্গে জিও পলিটিক্যাল ইন্টারেস্টে সম্পর্ক রাখতে চায়। আবার ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক রাখতে চাই।

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, চীন-বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন বেশ উপরে। চীনের প্রযুক্তির সহায়তা চায় বাংলাদেশ। আবার চীনের কারিগরি শিক্ষায় বাংলাদেশের তরুণদের শিক্ষিত করতেও দেশটির সহায়তা প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো নির্মাণ, সোলার এনার্জি ও গ্রিন এনার্জির ব্যবহারে চীনা প্রযুক্তির সহায়তা বাড়াতে পারলে লাভবান হবে বাংলাদেশ।

    মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আশাবাদী, কারণ চীনের সঙ্গে বিএনপির আদর্শিক মিল আছে। পাশাপাশি ব্যবসায়িক সম্পর্কও আছে। আমরা চীন থেকে আমদানি ও রপ্তানি করব। চীনও আমাদের দেশ থেকে আমদানি-রপ্তানি করবে। আধিপত্যবিরোধী শক্তি হিসেবে চীনের নেতৃত্ব চায় বাংলাদেশ।

    সভায় ইয়াও ওয়েন বলেন, চীনে বিদ্যমান হাইস্পিড ট্রেন প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বাংলাদেশে কার্যকর করতে আগ্রহী তারা। চট্টগ্রাম, ঢাকা ও সিলেটকে এই হাইস্পিড ট্রেন প্রযুক্তির আওতায় আনা সম্ভব বলেও জানান তিনি।

    এ সময় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন রাষ্ট্রদূত। তারেক রহমানের সফরে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।

    অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জান মিল্লাতসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নজমুল হক নান্নু।

    আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা, সম্মান, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

    তারা আশাবাদ প্রকাশ করেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আগামী দিনে আরও সম্প্রসারিত হবে।

  • দাবানলের ধোঁয়া ছড়ানোর জন্য কানাডার কাছ থেকে মাশুল চাইবে ট্রাম্প

    দাবানলের ধোঁয়া ছড়ানোর জন্য কানাডার কাছ থেকে মাশুল চাইবে ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রে দাবানলের ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ার জন্য কানাডার কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল শুক্রবার তিনি বলেন, এ দূষণ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের যে বিপুল খরচ হচ্ছে, সেই হিসাবাতীত ব্যয় কানাডার কাছ থেকে আদায় করা হবে। দেশটির পণ্যের ওপর আরোপিত মার্কিন শুল্কের সঙ্গে সেই অতিরিক্ত খরচ যুক্ত করা হবে।

    কানাডার বেশ কয়েকটি স্থানে দাবানল জ্বলছে। দাবানলের ধোঁয়া গত বৃহস্পতিবার ও গতকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় এসব এলাকার বাসিন্দাদের ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

    কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্কটা বরাবরই টানাপোড়েনের। গতকাল ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার দাবানলের ধোঁয়া ছড়ানোর ঘটনাকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য পরিস্থিতি’ বলে উল্লেখ করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তিনি কার্নিকে ফোন করে জানতে চাইবেন যে এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কানাডা কী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।

    ট্রাম্প নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘নিজেদের বনভূমি সঠিকভাবে দেখভাল না করার জন্য আমরা কানাডাকেই দায়ী করছি। এতে যুক্তরাষ্ট্র অহেতুক নোংরা, দূষিত ও অস্বাস্থ্যকর বাতাসের কবলে পড়ছে।’

    ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এটি ইচ্ছাকৃত অবহেলা এবং এখন প্রায় প্রতিবছরই এমন ঘটনা ঘটছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কোটি কোটি ডলার ক্ষতি হচ্ছে। কানাডার পণ্যের ওপর বর্তমানে আরোপ থাকা মার্কিন শুল্কের সঙ্গে এ দূষণ মোকাবিলা–সংক্রান্ত খরচও যোগ করতে হবে।’

    কানাডার জরুরি ব্যবস্থাপনাবিষয়ক মন্ত্রী এলিয়েনর ওলশেভস্কি বলেন, ২০২০ সাল থেকে বন সংরক্ষণ ও দাবানল প্রতিরোধে কানাডা সরকার ১ হাজার ২০০ কোটি কানাডীয় ডলার (প্রায় ৮৫৬ কোটি মার্কিন ডলার) বিনিয়োগ করেছে। কারণ, দেশটি ক্রমেই আরও শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়ার মুখোমুখি হচ্ছে।

    ওলশেভস্কি আরও বলেন, সীমান্তের দুই পাশে দাবানল মোকাবিলায় কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের সহযোগিতার ইতিহাস আছে। এক বিবৃতিতে ওলশেভস্কি বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমাদের প্রধান অগ্রাধিকারের জায়গা হলো, কানাডার মানুষকে সুরক্ষিত ও বিভিন্ন কমিউনিটিকে নিরাপদ রাখা।’

    কানাডায় বিশ্বের বৃহত্তম বনভূমিগুলোর একটির অবস্থান। জলবায়ুবিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে কানাডার বনাঞ্চল আরও শুষ্ক হয়ে পড়ছে। এতে সেখানে দাবানলের ঘটনাও বেড়ে যাচ্ছে।

    ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার থম্পসন রিভার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবানলবিষয়ক বিশেষজ্ঞ মাইক ফ্ল্যানিগান বলেন, ‘জলবায়ু যত উষ্ণ হচ্ছে, তত আরও চরম আবহাওয়া দেখছি আমরা। আর এতে দাবানলের ঘটনা আরও বাড়বে।’ ২০২৫ সালে ক্ষমতায় আসার পরপরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা থেকে আমদানি হওয়া বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেন।

    কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির কার্যালয় ট্রাম্পের মন্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে বৃহস্পতিবার কার্নি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও বেশি উদ্যোগ নেওয়া উচিত। কারণ, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বে দীর্ঘস্থায়ী খরা দেখা দিচ্ছে এবং তাপমাত্রা বাড়ছে।

    আগামীকাল রোববার নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল চলাকালে ট্রাম্প ও কার্নির সাক্ষাৎ হতে পারে।

    এ বছর কানাডার বেশির ভাগ দাবানল দেখা গেছে অন্টারিও প্রদেশে। এর মধ্যে বেশি আগুন লেগেছে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দুর্গম ও জনবিরল এলাকায়, যেখানে যাতায়াতের প্রধান উপায় উড়োজাহাজ। এ পর্যন্ত সেখানে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার একর (প্রায় ২ হাজার ৬৩০ বর্গকিলোমিটার) বনভূমি পুড়ে গেছে। দাবানলের কারণে ইতিমধ্যে হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    ‘কিছুই অবশিষ্ট নেই’

    অন্টারিওর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নামায়গুসিসাগাগুন ফার্স্ট নেশন (কলিন্স ফার্স্ট নেশন নামেও পরিচিত) এলাকায় দাবানলে প্রায় সবকিছু পুড়ে গেছে। এতে বাসিন্দারা নৌকায় করে এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য থান্ডার বে শহরে চলে যেতে বাধ্য হন।

    জরুরি ব্যবস্থাপনা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা স্থানীয় নেতা ম্যাথিউ হপে রয়টার্সকে এ তথ্য দিয়েছেন।হপে বলেন, ‘কিছুই অবশিষ্ট নেই। তাই আপনি বুঝতেই পারছেন, কমিউনিটির মানুষ ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছেন, তাঁরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও দিশাহারা।’

    লেক সুপিরিয়রের উত্তর তীরে অবস্থিত প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার জনসংখ্যার শহর থান্ডার বে। টরন্টো থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এটির অবস্থান।

    থান্ডা বের মেয়র কেন বশকফ রয়টার্সকে বলেন, উত্তর-পশ্চিম অন্টারিওর বিভিন্ন এলাকায় দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের আশ্রয় দিতে গিয়ে শহরের সব আশ্রয়কেন্দ্র এখন পূর্ণ হয়ে গেছে।

    অন্টারিওর প্রাদেশিক সরকারের প্রধান ডাগ ফোর্ড গতকাল বলেন, দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানল মোকাবিলায় প্রদেশটি ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কিনবে। দাবানল মোকাবিলায় কানাডার পদক্ষেপকে অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রাজনীতিক যে সমালোচনা করছেন, তা প্রত্যাখ্যান করেছেন ফোর্ড।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রেও এ বছর দাবানলের পরিস্থিতি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি গুরুতর। দেশটির ন্যাশনাল ইন্টারএজেন্সি ফায়ার সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় ৩৭ লাখ একর জমি পুড়ে গেছে। গত ১০ বছরের একই সময়ে এটি ছিল গড়ে ২৭ লাখ একর।

  • আইসিসি প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

    আইসিসি প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

    আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) চিফ প্রসিকিউটর করিম খানের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করা দুই নারীর একজন প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এসেছেন। দুজনই মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের ক্রিস্টিয়ান আমানপোরকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। প্রকাশ্যে আসা আইসিসির ওই কর্মীর নামের প্রথম অংশ সারাহ। চিফ প্রসিকিউটর করিম খানের বিরুদ্ধে সহকর্মীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে প্রায় দুই বছর ধরে চলা আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে তাঁর এই সাক্ষাৎকার।

    সারাহ পেশায় আইনজীবী এবং তিনি সরাসরি করিম খানের অধীনে কাজ করতেন। তিনি করিম খানের আচরণকে ‘উদ্দেশ্য হাসিলে একের পর এক চেষ্টা’ চালিয়ে যাওয়া বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ‘এটি ধীরে ধীরে আমার ব্যক্তিগত সীমানা লঙ্ঘন করার মতো একটি বিষয় ছিল। তিনি শুধু শারীরিকভাবে নয়, মানসিকভাবেও আমার ব্যক্তিগত সীমানায় অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন।’

    সারাহ অভিযোগ করেন, একবার কলম্বিয়ায় সরকারি সফরের সময় করিম খান তাঁর হোটেলের কক্ষে ঢুকে পড়েন। সে সময় তিনি ঘুমানোর ভান করে পড়ে ছিলেন। ওই অবস্থায় করিম খান তাঁর গায়ে আপত্তিকরভাবে হাত দেন, তাঁকে স্পর্শ করেন।’ তবে করিম খান শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    প্যাট্রিসিয়া ছদ্মনামের দ্বিতীয় আরেক নারীও সিএনএনের প্রতিবেদক আমানপোরের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে সাক্ষাৎকারের সময় তাঁর মুখমণ্ডল আড়াল করে রাখা হয়েছিল। এই নারী গত বছর প্রথম যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছিলেন। তিনি করিম খানের কর্মজীবনের শুরুর দিকে তাঁর সঙ্গে কাজ করতেন।

    প্যাট্রিসিয়া বলেন, ২০০৯ সালে ইন্টার্নশিপ করার সময় তাঁকে করিম খানের বাড়িতে গিয়ে কাজ করতে হতো। তিনি অভিযোগ করেন, ‘আমি যতবারই সেখানে গিয়েছি, প্রতিবারই তিনি আমার ওপর চড়াও হতেন। তিনি আমাকে জাপটে ধরতেন, আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করতেন, আমার মুখে চুম্বন করতেন এবং চুল হাতড়ে আমাকে তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে বাধ্য করার চেষ্টা করতেন।’

    করিম খানের আইনজীবীদের একজন সারেতা আশরাফ। তাঁর দাবি, এই দুই নারীর আনা অভিযোগগুলো নতুন কিছু নয়। করিম খান শুরু থেকেই এসব অভিযোগ ‘পুরোপুরি’ অস্বীকার করে আসছেন। আমানপোরের সঙ্গে কথা বলার সময় সারেতা বলেন, ‘সব তথ্যপ্রমাণ ও বাস্তবতা আজকের এই অনুষ্ঠানে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তার চেয়ে একদম আলাদা।’

    সারেতা আশরাফ আরও বলেন, ‘আগামী ২৪ জুলাই অনুষ্ঠেয় ভোটের মাত্র এক সপ্তাহ আগে গণমাধ্যমে এ ধরনের সাক্ষাৎকার দেওয়া হলো।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজকের এই সিএনএন অনুষ্ঠানে যেসব তথ্যপ্রমাণ ও জবানবন্দি দেখানো হলো, সেগুলো এবং আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইতিমধ্যে সদস্যদেশগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে।’

    করিম খান এবং আইসিসি—দুপক্ষের জন্য অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল সময়ে এসব সাক্ষাৎকার সামনে এসেছে। প্রসিকিউটর করিম খানকে তাঁর পদ থেকে অপসারণ করা হবে কি না, তা নিয়ে আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আইসিসির সদস্যদেশগুলো এক নজিরবিহীন ভোটাভুটিতে বসবে।

    গত মাসে সারাহর আনা যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সঙ্গে করিম খানের গুরুতর অসদাচরণের সম্পৃক্ততা পায় আইসিসির গভর্নিং বডি। এরপর তারা করিম খানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে এবং তাঁর ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য বিষয়টি আদালতের ১২৫টি সদস্যদেশের কাছে পাঠিয়েছে।

    তবে প্রধান প্রসিকিউটরের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ‘নিয়মবহির্ভূত’।

    ২০২১ সালে ৯ বছরের মেয়াদে আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের দায়িত্ব পরিচালনার জন্য নির্বাচিত হন করিম খান। এই বিভাগটি মূলত যুদ্ধাপরাধ বা নৃশংসতার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তদন্ত ও বিচারের কাজ করে থাকে। ৩৯ বছর বয়সী সারাহ ২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সরাসরি করিম খানের বিশেষ সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন।

    মালয়েশিয়ার নাগরিক সারাহ প্রধান প্রসিকিউটর করিম খানের শীর্ষ দলে যোগ দেওয়ার আগে বেশ কয়েক বছর আইসিসির সাধারণ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছিলেন। ২০২৪ সালের শেষভাগে যখন সারাহর আনা অভিযোগের বিশদ বিবরণ প্রথম সামনে আসে, তখন আইসিসির প্রধান প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। এত দিন পর্যন্ত তাঁর পরিচয় গোপন রাখা হয়েছিল।

    করিম খানের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময় দাবি করেছেন, এসব অভিযোগ একটি ষড়যন্ত্রের অংশ। ২০২৪ সালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে করিম খান গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছিলেন।

    করিম খানের সেই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিরোধী কোনো পক্ষ তাঁকে হেয় করতে এই চক্রান্ত করতে পারে বলে করিম খানের প্রতিনিধিরা দাবি করেছেন। তবে দ্য গার্ডিয়ানের হাতে আসা নথিপত্র অনুযায়ী, করিম খানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়ার তদন্ত করে দেখা গেছে, কোনো গোয়েন্দা সংস্থাসহ তৃতীয় কোনো পক্ষ সারাহকে ‘ব্যবহার’ করছে, এমন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

    সারাহ মুসলিম এবং এখনো আইসিসিতে কর্মরত। আমানপোরের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি যদি কোনো রাষ্ট্রের গোয়েন্দা এজেন্ট হতাম বা এ নিয়ে সামান্যতম সন্দেহও থাকত, তবে আমাকে অনেক আগেই চাকরিচ্যুত করা হতো।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার সঙ্গে যা ঘটেছে, কেবল সেই কারণেই আমি অভিযোগ করেছি, অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নয়।’

  • ট্রাম্পের মাথার দাম ১২৩ কোটি টাকা ঘোষণা করলো-আইআরআই

    ট্রাম্পের মাথার দাম ১২৩ কোটি টাকা ঘোষণা করলো-আইআরআই

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাথার দাম এক কোটি ডলার ঘোষণা করেছে ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক (আইআরআই)। বর্তমান দর অনুযায়ী (১ ডলার সমান ১২৩.১২ টাকা) এ পুরস্কার প্রায় ১২৩ কোটি ১২ লাখ টাকার সমান।

    ইরানপন্থী সংগঠনটি গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ট্রাম্পকে কেউ হত্যা করতে পারলে তাঁকে পুরস্কার হিসেবে এ অর্থ দেওয়া হবে।

    ট্রাম্পকে অপরাধী হিসেবে উল্লেখ করে এক বিবৃতিতে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স বলেছে, তাদের সদস্য ও সমর্থকদের কাছ থেকে পাওয়া অনুদানের অর্থে এক কোটি ডলার পুরস্কার বরাদ্দ করা হয়েছে। অপরাধী ট্রাম্পকে যে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠী হত্যা করবে—তিনি বা তাঁরা এ পুরস্কার পাবেন।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষ শিশু ও বিজ্ঞানীদের হত্যাকারীকে খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। স্বৈরাচারীরা কখনো শান্তি পাবে না। সম্মানিত মানুষের ক্ষোভ থেকে ওই অপরাধী (ট্রাম্প) নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাবে না।’

    যোদ্ধাদের জন্য প্রতিশোধ নেওয়া ‘বাধ্যতামূলক অঙ্গীকার’ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স। বলা হয়েছে, ‘শহীদদের রক্ত অভিশাপ হয়ে অহংকারীদের সিংহাসন কাঁপিয়ে দেবে; যতক্ষণ না আগ্রাসনকারীরা পরাজিত হয় এবং স্বৈরাচারের দুর্গগুলো ধসে পড়ে।’

    এদিকে গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের বৈঠকে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল–জাইদির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেছেন, ২০২০ সালে ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও ইরাকের মিলিশিয়া নেতা আবু মাহদি আল–মুহান্দিস হত্যায় তাঁর ভূমিকা ছিল।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি ভালোভাবে নেয়নি ইরাকের ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স। মূলত এর পরই সংগঠনটির পক্ষ থেকে ট্রাম্পের মাথার এ দাম ঘোষণা করা হলো।

  • ফাইনালে মাঠে থাকবেন ট্রাম্প-মামদানি, কে কোন দলকে সমর্থন করছেন?

    ফাইনালে মাঠে থাকবেন ট্রাম্প-মামদানি, কে কোন দলকে সমর্থন করছেন?

    বিশ্বকাপের ফাইনালে মাঠে উপস্থিত থাকবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। যদিও রাজনীতিতে বিপরীত মেরুর এ দুই নেতার আলাদা করে সাক্ষাতের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে নিশ্চিত করেছে মেয়রের মুখপাত্র।

    এর আগেও দুজনকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল গত মাসের এনবিএ ফাইনালে। ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের একটি ‘বুলেটপ্রুফ লাক্সারি বক্সে’ বসে খেলা উপভোগ করা ট্রাম্পকে দেখে সেদিন নিউইয়র্ক নিক্সের সমর্থকরা দুয়ো ধ্বনি দিতে ছাড়েননি। আর মার্কিন প্রেসিডেন্টের আগমনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তার কারণে স্টেডিয়ামের বাইরের ওয়াচ পার্টি বাতিল করতে হয়েছিল, দর্শকদেরও মাঠে ঢুকতে হয়েছিল নির্ধারিত সময়ের ঘণ্টা দুয়েক আগে।

    অন্যদিকে, মেয়র জোহরান মামদানি ছিলেন অনেকটাই আড়ালে। সাধারণ দর্শকদের মতো গ্যালারির একেবারে ওপরের সারিতে দাঁড়িয়ে খেলা উপভোগ করেছিলেন তিনি। এক মাসের ব্যবধানে আবারও তাদের দেখা যাবে। এবার আরও বড় টুর্নামেন্ট ফুটবল বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে। যেখানে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হচ্ছে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন।

    গত মাসেই বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো নিশ্চিত করেছিলেন, এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন ট্রাম্প নিজেই। ইনফান্তিনো বলেছিলেন, ‘আমরা প্রেসিডেন্টের সঙ্গেই থাকব, ফাইনাল উপভোগ করব এবং যৌথভাবে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেব। আমরা সবসময় একসঙ্গেই আছি।’

    তবে টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে ফিফা প্রধানের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের তারকা ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করার জন্য ইনফান্তিনোকে ব্যক্তিগতভাবে ফোনও করেছিলেন ট্রাম্প। ফিফা সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে বালোগান খেলতে পেরেছিলেন। যদিও ম্যাচটি যুক্তরাষ্ট্র হেরে যায়। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন হস্তক্ষেপ এবং ফিফা সভাপতির তা মেনে নেওয়া মোটেও ভালোভাবে নেননি সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর মতো বিশ্বনেতাদের উপস্থিতির কারণে ফাইনাল ম্যাচটিকে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ‘লেভেল ওয়ান স্পেশাল ইভেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি আয়োজন, যার সুরক্ষায় আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ, বিশেষ গোয়েন্দা দল এবং বিস্ফোরক শনাক্তকারী কুকুরসহ ব্যাপক ফেডারেল নিরাপত্তা ব্যবস্থা মোতায়েন থাকবে।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে চলতি বিশ্বকাপে এখনো গ্যালারিতে না দেখা গেলেও মেয়রের গল্পটা ভিন্ন। নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচেই মাঠে ছিলেন মামদানি। নিজেকে আর্সেনালের কট্টর সমর্থক ও ‘ফুটবল পাগল’ দাবি করা এই রাজনীতিক মেয়র নির্বাচনের আগেও ব্রুকলিনে নিয়মিত ফুটবল খেলতেন।

    এবার বিশ্বকাপকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নিজের রাজনৈতিক আদর্শকেও কাজে লাগিয়েছেন তিনি। ‘দ্য মর্নিং পিচ’ নামে একটি ফুটবল ও আবহাওয়া বিষয়ক ভিডিও অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেছেন তিনি। সাধারণ মানুষের জন্য পার্কগুলো রাতে খোলা রেখে ওয়াচ পার্টি ও খেলার ব্যবস্থা করেছেন। তার উদ্যোগে ফুটবল ভক্তদের জন্য মাত্র ৫০ ডলারের বিশেষ জার্সি এনেছিল সিটি কর্পোরেশন, যা মুহূর্তেই বিক্রি হয়ে যায়। এমনকি ফিফাকে রাজি করিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য ৫০ ডলার মূল্যের ১,০০০টি টিকিটের ব্যবস্থাও করেছিলেন তিনি। সাউথ ব্রঙ্কসের মেক্সিকান রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে অভিবাসী আশ্রয়কেন্দ্র, এমনকি রাইকার্স আইল্যান্ড কারাগারের বন্দিদের সঙ্গে বসেও খেলা দেখতে দেখা গেছে এই মেয়রকে।

    ফাইনালে কার সমর্থন কোন দিকে?

    ফাইনালে ট্রাম্প কিংবা মামদানি—কে কোন পক্ষ নিচ্ছেন, তা এখনো রহস্যই বটে। সম্প্রতি স্পেনের সমালোচনা করায় ট্রাম্প এবার আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করছেন কিনা—জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি লেভিট মার্কিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিষয়টি তার জানা নেই।

    সম্প্রতি নিউইয়র্কে ফিফা ইভেন্টে হাজির ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লিওনেল মেসির পারফরম্যান্সের প্রশংসাও করেছেন তিনি। আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির সঙ্গেও তার সংক্ষিপ্ত কথাবার্তা হয়। তাকে তিনি অভিবাদন জানান এবং রোববারের ম্যাচটি নিয়ে জানতে চান। ট্রাম্প তাকে বলেন, ‘তোমরা কি আবার ইতিহাস পুনরাবৃত্তি করতে প্রস্তুত?’

    অন্যদিকে, মেয়রের পছন্দের দল মরক্কো আগেই বিদায় নিয়েছে। ফাইনালের ভবিষ্যদ্বাণী জানতে চাইলে মামদানি রসিকতা করে বলেন, আমি এবার যার পক্ষ নিয়েছি, সেই হেরেছে। এই মুহূর্তে আমি যার নামই নেব, মনে হচ্ছে সেই দলটাই হেরে যাবে! এর আগে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচের বিতর্কিত রেফারিংয়ের পর তিনি এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন, ‘ডাকাতি হয়েছে’।

  • কুয়েতও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে চায়

    কুয়েতও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে চায়

    জ্বালানি সহযোগিতা ও বিনিয়োগের বিনিময়ে কুয়েতের সঙ্গে একটি সম্প্রসারিত প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে পাকিস্তান। এ বিষয়ে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সূত্র এমন তথ্য জানিয়েছে।

    সূত্রগুলোর বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তাদের একজন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার কারণে এই আলোচনা জটিল হয়ে উঠতে পারে। গত সোমবার ইয়েমেনে ইরানের মিত্র হিসেবে পরিচিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা সৌদি আরবে হামলা চালায়। এরপর পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান ইরানকে জানিয়ে দেয়, সৌদি আরবের ওপর যেকোনো ধরনের হামলাকে তারা নিজেদের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করবে।

    চলতি বছর বেশ কয়েকবারই ইরানের হামলার শিকার হয়েছে কুয়েত। পাকিস্তান যদি কুয়েতের সঙ্গে নতুন কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি করে, তাহলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

    ২০২৩ সাল থেকে কুয়েতের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়া নিয়ে একটি সীমিত প্রতিরক্ষা চুক্তি বহাল আছে। তবে এখন কুয়েত পাকিস্তানের কাছ থেকে আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা সহযোগিতা চাইছে, যা সৌদি আরবের সঙ্গে ইসলামাবাদের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের মতো হবে।

    পাকিস্তান সরকারের এক কর্মকর্তা বলেছেন, প্রস্তাবিত সহযোগিতার আওতায় হাজার হাজার পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন, যুদ্ধবিমান, ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও অন্যান্য সামরিক সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

    তবে পাকিস্তান এতটা এগোতে রাজি হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কারণ, বহু দশকের পুরোনো মিত্রতার ভিত্তিতে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের এমন ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

    আলোচনার বিষয়ে অবগত পাকিস্তানের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, কুয়েতের চাওয়ার তালিকায় প্রায় সব ধরনের সামরিক সহযোগিতাই রয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘একটি বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই, এ মুহূর্তে যুদ্ধের জন্য সেনা মোতায়েনের বিষয়টি আমরা বিবেচনা করছি না এবং করতে পারি না।’

    মধ্যপ্রাচ্যের একটি সূত্রও নিশ্চিত করেছে, কুয়েত পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার মতো বিষয়ও আছে। তবে সূত্রটি বলেছে, এটি শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে রূপ নেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

    রয়টার্স এ বিষয়ে পাকিস্তানের চারটি ও মধ্যপ্রাচ্যের একটি সূত্রের সঙ্গে কথা বলেছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করার অনুমতি না থাকায় তাঁদের কেউই নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। এ বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ও কুয়েতের তথ্য মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য জানার চেষ্টা করেছিল রয়টার্স। তবে সাড়া পাওয়া যায়নি।

    প্রতিরক্ষায় বিকল্প অংশীদার খুঁজছে কুয়েত

    গত এক বছরে পাকিস্তান ও উপসাগরীয় দেশগুলো নতুন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানের বড় একটি সামরিক বাহিনী আছে এবং দেশটি নিজস্ব যুদ্ধবিমানও তৈরি করে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহযোগিতার বিকল্প বা পরিপূরক হিসেবে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ পাকিস্তানকে গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ, তারা এখন যুক্তরাষ্ট্রকে আগের মতো নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে দেখছে না।

    কুয়েতের নিরাপত্তা পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত মধ্যপ্রাচ্যের একটি সূত্র বলেছে, কুয়েত পাকিস্তানকে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে।

    সূত্রটি আরও বলেছে, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে আগে থেকেই পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আছে। সুন্নি মুসলিম রাষ্ট্র ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের ভালো সম্পর্ক আছে। তাই অন্য কিছু বিকল্পের তুলনায় পাকিস্তানকে বেছে নেওয়া এতটা স্পর্শকাতর হবে না।’

    সূত্রগুলো বলছে, তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব একটি নতুন পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির খসড়া তৈরি করছে। এটি সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের বর্তমান দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির বাইরে আলাদা একটি উদ্যোগ। এ ছাড়া বাহরাইনও একই ধরনের চুক্তিতে আগ্রহী। এদিকে জর্ডান পাকিস্তানের সঙ্গে অস্ত্র সরবরাহ ও সামরিক প্রশিক্ষণসংক্রান্ত একটি চুক্তি করতে আগ্রহ দেখিয়েছে।

    তেলের বিনিময়ে নিরাপত্তা

    পাকিস্তান প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তিকে জরুরি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের একটি উপায় হিসেবে দেখছে। কুয়েতের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে ইসলামাবাদ জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে সহযোগিতা চায়। এটি পাকিস্তানের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তেল ও জ্বালানির মজুত বাড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।

    আলোচনার সঙ্গে পরিচিত পাকিস্তানের একটি সূত্র বলেছে, কুয়েত পাকিস্তানে শুল্ক–সুবিধাসহ জ্বালানি সংরক্ষণাগার স্থাপনের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। এটি দুই দেশের সরকারের মধ্যে আগে থেকে থাকা ডিজেল সরবরাহ চুক্তির ভিত্তিতে এগোতে পারে।

    দুটি সূত্রের মতে, এ ধরনের প্রস্তাব পাকিস্তানকে আরও বড় পরিসরের প্রতিরক্ষা চুক্তির দিকে এগোতে উৎসাহিত করতে পারে। তাদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমে এলে এ নিয়ে আলোচনা আরও গতি পাবে।

    তবে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির দক্ষিণ এশিয়া–বিষয়ক গবেষক মুহাম্মদ ফয়সাল মনে করেন, পাকিস্তানের সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি বলেন, পাকিস্তানকে বুঝে ও শুনে এগোতে হবে। অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে তাদের সচেতন থাকতে হবে।

  • তরবারির জোরে নয়, আরব বণিকদের মাধ্যমে ভারতে এসেছিল ইসলাম

    তরবারির জোরে নয়, আরব বণিকদের মাধ্যমে ভারতে এসেছিল ইসলাম

    প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, ৭১২ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধ আক্রমণের মাধ্যমে ভারতে ইসলামের আগমন ঘটেছিল। একে অনেকে তরবারির শক্তির ওপর ভর করে ইসলামের আগমন বলে মনে করেন। তবে আধুনিক ইতিহাসবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীদের অনেকেই এই ধারণার সঙ্গে একমত নন।

    তাদের মতে, ভারতে ইসলামের আগমন কোনো একক ঘটনার ফল নয়। এটি কয়েক শতাব্দী ধরে চলা ঐতিহাসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ার পরিণাম।ভারতে ইসলামের প্রসারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল বাণিজ্য। প্রাচীনকাল থেকেই ভারত গোলমরিচের জন্য সারা বিশ্বে পরিচিত ছিল। আরব সাগর শান্ত থাকায় এই সমুদ্রপথে আরব বণিকদের দীর্ঘদিনের প্রভাব ছিল। তারা বর্ষার সময়ে ভারতে আসতেন এবং ব্যবসা শেষে আরবে ফিরে যেতেন।

    বিখ্যাত ইতিহাসবিদ সৈয়দ সুলেমান নদভীর মতে, ইসলামের আবির্ভাবের পর বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ আরবদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। দীর্ঘদিন যোগাযোগের ফলে দক্ষিণ ভারতে ‘মাপ্পিলা মুসলিম’ নামে এক মুসলিম সম্প্রদায়ের বিকাশ ঘটে।

    রাজনীতিবিদ ও লেখক শশী থারুর প্রায়ই উল্লেখ করেন যে, পরিচিত ও বিশ্বস্ত আরব বণিকদের হাত ধরেই মালাবার উপকূলে ইসলাম এসেছিল। কোনো তলোয়ারের জোরে কেরালায় ইসলাম পৌঁছায়নি। দক্ষিণ ভারতে ইসলামের আগমন সম্পর্কে বেশ কিছু তত্ত্ব প্রচলিত আছে।

    প্রথম তত্ত্ব অনুযায়ী, নবী মোহাম্মদ (সা.)-এর জীবদ্দশাতেই প্রাচীন মুজিরিস বন্দর দিয়ে কেরালায় ইসলাম এসেছিল। ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে মালিক বিন দিনারের উদ্যোগে নির্মিত ‘চেরামন জামা মসজিদ’ এই দাবির পক্ষে বড় প্রমাণ। মসজিদটি প্রতিষ্ঠার পেছনে কেরালার হিন্দু রাজা চেরামন পেরুমলের ইসলাম গ্রহণের গল্পও জড়িয়ে আছে।

    প্রফেসর ইলিয়াসের মতে, আরবরা এখানে মূলত গোলমরিচের ব্যবসা করতে এসেছিলেন। তারা বাণিজ্যের পাশাপাশি হিসাব করার পদ্ধতি, ওজন মাপার কৌশল এবং ভালো নৌকা তৈরির প্রযুক্তিও শিখিয়েছিলেন।

    ঐতিহাসিকদের একাংশ ৭১২ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধ ও মুলতান দখল এবং পরবর্তীতে দিল্লির সালতানাত প্রতিষ্ঠাকে রাজনৈতিক সম্প্রসারণ হিসেবে দেখেন।

    তবে আধুনিক গবেষকদের মতে, এই জয়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করা, জোর করে মানুষকে ধর্মান্তরিত করা নয়।

    ভারতে ইসলামের প্রসারে সুফি আন্দোলনও বড় ভূমিকা পালন করেছে। একাদশ শতকের পর চিশতি ও সোহরাওয়ার্দী সিলসিলার সুফি-সন্তরা ভারতের বিভিন্ন অংশে বসতি স্থাপন করেন। তাদের খানকাহ ও দরগাহগুলো আধ্যাত্মিক এবং সামাজিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। আজমেরের খাজা মঈনুদ্দিন চিশতির দরগাহ এর একটি বড় উদাহরণ, যেখানে সব ধর্মের মানুষ আসেন। ইসলামের সাম্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও ন্যায়বিচারের নীতি মানুষকে আকর্ষণ করেছিল।

    ইতিহাসবিদ রিচার্ড ইটনের মতো পণ্ডিতরা আরেকটি নতুন তত্ত্ব দিয়েছেন। তাদের মতে, বাংলা ও পাঞ্জাবের মতো অঞ্চলে ইসলামের বিস্তার মূলত কৃষি উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। মুসলিম শাসকরা সুফি খানকাহ ও মসজিদগুলোকে অনুর্বর জমি দান করতেন। এই প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কৃষি বসতি স্থাপন করলে স্থানীয় কৃষকরা ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক অগ্রগতির অংশ হিসেবে ইসলাম গ্রহণ করেন। সব মিলিয়ে, বাণিজ্য, আধ্যাত্মিকতা, রাজনীতি ও সামাজিক সুযোগের এক দীর্ঘ মিশ্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই অঞ্চলে ইসলামের বিস্তার ঘটেছিল।

  • সিএনএন, এবিসি ও এনবিসি লাইসেন্স বাতিলের হুমকি-ট্রাম্প

    সিএনএন, এবিসি ও এনবিসি লাইসেন্স বাতিলের হুমকি-ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ টেলিভিশন নেটওয়ার্কের মধ্যে দুটি এবং সিএনএন গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তাদের মূল টেলিভিশন চ্যানেলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করেনি। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ট্রাম্প।

    মধ্যবর্তী নির্বাচনের চার মাস আগে দেওয়া ওই ভাষণে ট্রাম্প মূলত নির্বাচন–সংক্রান্ত নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে নজিরবিহীনভাবে চাপে রাখা ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, যেসব টেলিভিশন নেটওয়ার্ক তার ভাষণ সরাসরি দেখায়নি, তারা একটি ‘ষড়যন্ত্রে’ জড়িত। তিনি বলেছেন, এসব নেটওয়ার্কের সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল করা উচিত।

    ট্রাম্প বলেন, ‘এনবিসি ও এবিসি—এই ভুয়া সংবাদমাধ্যম দুটি ঘোষণা দিয়েছে, তারা আমার এই ভাষণ সম্প্রচার করবে না, যা বিরল ঘটনা।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের ধোঁকাবাজির শাস্তি হিসেবে তাদের সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল করা উচিত।’

    তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী, কোন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক কী সম্প্রচার করবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা তাদের আছে। যদিও অতীতে দেখা গেছে, জনস্বার্থের বিষয় বিবেচনায় এমন ভাষণগুলো বেশির ভাগ সম্প্রচারমাধ্যমই সরাসরি প্রচার করেছে।

    গতকাল বিকেলে এবিসি নিউজের এক মুখপাত্র বলেন, ট্রাম্পের ভাষণ তাদের মূল টেলিভিশন চ্যানেলে নয়, এবিসি নিউজ লাইভ স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম এবং এবিসি নিউজ রেডিওতে প্রচার করা হবে।

    বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তির বরাতে জানা গেছে, এনবিসি নিউজ ট্রাম্পের ভাষণ তাদের মূল টেলিভিশন চ্যানেলে নয়, বিনা মূল্যের স্ট্রিমিং সেবা এনবিসি নিউজ নাউ-তে সম্প্রচার করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

    সিএনএন এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা ভাষণটি থেকে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ পর্যবেক্ষণ করবে। একই সঙ্গে তাদের ওয়েবসাইট এবং সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক স্ট্রিমিং সেবা সিএনএন অল অ্যাকসেসে ভাষণের সরাসরি ভিডিও থাকবে।

    সাধারণত এবিসি ও এনবিসির স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে তাদের মূল টেলিভিশন চ্যানেলের তুলনায় অনেক কম দর্শক থাকে। একইভাবে সিএনএনের ডিজিটাল স্ট্রিমিং সেবার দর্শকসংখ্যাও তাদের নিয়মিত কেবল চ্যানেলের চেয়ে কম।

    ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্প কিছু গোয়েন্দা নথি প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের প্রমাণ। এর মাধ্যমে তিনি নির্বাচন–সংক্রান্ত নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগকে আবারও সামনে এনেছেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নে বলা হয়েছে, চীন ২০২০ সালে মার্কিন নির্বাচনের ফল বদলে দিয়েছিল বলে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

    ভাষণের আগে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, ট্রাম্প শুরুতেই ইরানের পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিয়ে কথা বলতে পারেন। এ ছাড়া তিনি আরও বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরতে পারেন। এ কারণেই টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোর উচিত ছিল ভাষণটি সরাসরি সম্প্রচার করা এবং মার্কিন নাগরিকদের তা দেখার সুযোগ করে দেওয়া।

    ট্রাম্প কয়েক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছেন। তিনি কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করে আসছেন, ২০২০ সালের নির্বাচনে কারচুপির কারণে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে তাঁকে পরাজিত হতে হয়েছে। এ ছাড়া তিনি অভিযোগ করে আসছেন, ডাকযোগে ভোটের ক্ষেত্রে ব্যাপক জালিয়াতি হয়, ভোটিং মেশিনে কারচুপি করা যায় এবং মার্কিন নাগরিকত্ব না থাকা ব্যক্তিরা ব্যাপকভাবে ভোট দেন। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি ট্রাম্প।

    ডেমোক্রেটিক পার্টির কয়েকজন নেতা টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোকে ট্রাম্পের ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, আগেই ভুল প্রমাণিত হওয়া দাবিগুলো আবারও ভাষণে তুলে ধরতে পারেন ট্রাম্প।

    সিবিএস তাদের নিয়মিত অনুষ্ঠান বন্ধ রেখে ট্রাম্পের ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করেছে। তবে সম্প্রচার শুরুর আগে উপস্থাপক টনি ডোকুপিল বলেন, ‘সত্যি বলতে, এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট যা বলেছেন, তার অনেকটাই সঠিক নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারপরও আমরা ভাষণটি সরাসরি দেখাচ্ছি। কারণ, এটি একটি সংবাদ এবং সংবাদ প্রচার করাই আমাদের দায়িত্ব।’

    তবে প্রায় ১৫ মিনিট পর সিবিএস সম্প্রচার থামিয়ে ট্রাম্পের নির্বাচন জালিয়াতির দাবিগুলোর তথ্য যাচাই করে সেগুলো খণ্ডন করতে শুরু করে। ফক্স নিউজ ট্রাম্পের ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করেছে। নিউইয়র্কসহ ফক্স টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকটি স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যমও ভাষণ প্রচার করেছে।

  • এবারও কি তাহলে ব্যালন ডি’অর পাচ্ছেন মেসি

    এবারও কি তাহলে ব্যালন ডি’অর পাচ্ছেন মেসি

    আরও আগেই ইউরোপ অধ্যায়ের পাট চুকিয়েছেন লিওনেল মেসি। ২০২৩ সালেই যোগ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে। এরপরও নবম ব্যালন ডি’অরের হাতছানি আর্জেন্টিনার অধিনায়কের সামনে।

    বিশ্বকাপের ফাইনালকে ঘিরে যখন ফুটবল বিশ্বে উত্তেজনা তুঙ্গে, তখনই ব্যালন ডি’অর নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিন। এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের আয়োজকেরা জানিয়েছে, ব্যালন ডি’অর জিততে কোনো ফুটবলারের ইউরোপের ক্লাবে খেলা বাধ্যতামূলক নয়। অর্থাৎ বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে খেলে সেরা পারফরম্যান্স দেখাতে পারলে এই পুরস্কার জয়ের সুযোগ রয়েছে।

    একসময় ব্যালন ডি’অর শুধু ইউরোপীয় লিগে খেলা ফুটবলারদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। ১৯৯৫ সালে পুরস্কারটি আন্তর্জাতিক রূপ পেলেও তখনো ইউরোপে খেলা ছিল অন্যতম শর্ত। তবে ২০০৭ সাল থেকে সেই বিধিনিষেধ তুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকে বিশ্বের সেরা ফুটবলারকেই ব্যালন ডি’অর দেওয়া হচ্ছে, তিনি কোন লিগ বা ক্লাবে খেলছেন, সেটি আর বিবেচ্য নয়।

    এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আয়োজকেরা গত ১৮টি আসরের উদাহরণ তুলে ধরেছে। তাদের ভাষ্য, ‘গত ১৮টি আসর বিশ্লেষণ করে আমরা দেখেছি, ইউরোপের বাইরে খেলেও কোনো ফুটবলারের ব্যালন ডি’অর জেতা বাস্তবসম্মত কি না। ২০০৭ সালে কাকা, ২০০৮ সালে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং ২০০৯ সালে লিওনেল মেসি—তিনজনই ওই বছর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছিলেন, যা ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিযোগিতা হিসেবে বিবেচিত। লুকা মদরিচ, করিম বেনজেমা, রদ্রি ও উসমান দেম্বেলেও যখন এই পুরস্কার জিতেছেন, তখন সবাই ইউরোপেই খেলছিলেন।’

    তবে এই ধারার ব্যতিক্রম হিসেবে ব্যালন ডি’অরের আয়োজকেরা লিওনেল মেসির নাম উল্লেখ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইউরোপের বাইরে খেলে ব্যালন ডি’অর জেতা একমাত্র ফুটবলার লিওনেল মেসি। ৬৭তম ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান, যা ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়, তখন আর্জেন্টাইন তারকা ইতোমধ্যেই ইন্টার মিয়ামির হয়ে খেলছিলেন। ফলে আটবারের এই বিজয়ীই প্রথম পুরুষ ফুটবলার হিসেবে কোনো অ-ইউরোপীয় ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করে ব্যালন ডি’অর জেতেন।’

    বিবৃতির শেষ অংশে বলা হয়েছে, ‘ব্যালন ডি’অরের ক্ষেত্রে কিছুই অসম্ভব নয় এবং যেকোনো ফুটবলারই এই পুরস্কার জিততে পারেন।’

    এই ব্যাখ্যা এমন সময় এলো, যখন বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন মেসি। সাত ম্যাচে আট গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছেন এই ফরোয়ার্ড। ফলে মায়ামির এই তারকা নবমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জয়ের আলোচনাতেও জোরালোভাবেই রয়েছেন।

  • রাশিয়ার তেল কিনলেই ১০০% শুল্ক

    রাশিয়ার তেল কিনলেই ১০০% শুল্ক

    রাশিয়াকে চাপে ফেলতে মস্কোর তেল ও গ্যাস কেনা শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারক দেশের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের একটি সংশোধিত নিষেধাজ্ঞা বিল উত্থাপন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটররা। বিলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন রয়েছে, যা মূলত চীন ও ভারতকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে।

    প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নেতৃত্বে আনা এ বিলটি সংশোধন করে সর্বোচ্চ শুল্কের হার আগের ৫০০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০০ শতাংশ করা হয়েছে। মূল বিলের তুলনায় সংশোধিত বিলে শুল্কের বড় ধরনের হ্রাস এটি। তবে যে দেশগুলো রাশিয়ার মোট গ্যাস রপ্তানির ১৫ শতাংশের কম আমদানি করে, সেগুলোকে এ শুল্কের আওতা থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। ফলে ইউরোপের দেশগুলো লাভবান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বিলটিতে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, ওই দেশগুলোর মোট চাহিদার তুলনায় রাশিয়া থেকে কেনা গ্যাসের পরিমাণ খুবই সামান্য এবং তারা মস্কোর ওপর নির্ভরতা কমাতে ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নিচ্ছে।

    আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, বিলটিতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও আর্থিক খাতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত পুরোনো জাহাজের ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া নৌবহরকে লক্ষ্য করেও নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করা হয়েছে।

    কানেটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল বিলটির খসড়া তৈরিতে প্রয়াত সিনেটর গ্রাহামের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং তাঁর সঙ্গে বেশ কয়েকবার ইউক্রেন সফর করেছেন।

    বিলটি প্রসঙ্গে রিচার্ড ব্লুমেনথাল বলেন, ‘এটি তৈরি করতে আমাদের অত্যন্ত পরিশ্রম এবং কিছু ক্ষেত্রে বেদনাদায়ক আলোচনা ও বিতর্ক করতে হয়েছে। তবে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আনা হয়েছে। ইউক্রেন এখন একটি টার্নিং পয়েন্ট বা সন্ধিক্ষণে রয়েছে। তারা যুদ্ধের ময়দানে পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে নিয়ে আসছে।’

    গত বছর রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারক দেশ ছিল চীন, ফ্রান্স, জাপান, হাঙ্গেরি ও বেলজিয়াম। তবে ১৫ শতাংশের কম গ্যাস কেনার শর্তের কারণে চীনের বাইরে বাকি দেশগুলো এ শুল্কের আওতা থেকে ছাড় পাবে। অন্যদিকে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশ হলো চীন, ভারত, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজান।

    রাশিয়ার জ্বালানি কেনার অপরাধে যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও চীন ও ভারতকে আলাদাভাবে শাস্তির আওতায় ফেলার চেষ্টা করেছিল। গত বছর রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন, যদিও পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ভারতের জন্য রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনার যে সাময়িক ছাড় মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ দিয়েছিল, তার মেয়াদ গত ১৭ জুন শেষ হয়েছে। ফলে ভারতের বর্তমান তেল আমদানির বিষয়টি আইনি জটিলতায় পড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

    সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল জানান, শুল্কের চূড়ান্ত হার নির্ধারণ করবে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর। অন্যান্য দেশ যেন রাশিয়ার তেল কেনায় নিরুৎসাহিত হয়, তার ওপর ভিত্তি করেই এ শুল্কের হার ধার্য করা হবে।

    গত শনিবার ৭১ বছর বয়সে সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের আকস্মিক মৃত্যুর পর এ বিল পাসের প্রক্রিয়া আরও গতি পেয়েছে। গ্রাহাম বেঁচে থাকতে এই আইনের মূল চালিকা শক্তি ছিলেন। তাই তাঁর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে দুদলের (ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান) অনেক সিনেটরই এখন বিলটি পাস করতে চান।

    আকস্মিক মৃত্যুর আগে ইউক্রেন সফরের সময় গ্রাহাম ঘোষণা করেছিলেন যে বিলটি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন তিনি।

    বিলটি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেন, ‘বিলটি পাস হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।’ বিলটির পক্ষে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার থাকা গ্রাহামের সম্মানে এটি করা হবে উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘এটি লিন্ডসের সম্মানে করা হচ্ছে। এটি তাঁর স্বপ্নের প্রজেক্ট ছিল। অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে তিনি এটি বেশি চেয়েছিলেন। আপনারা তো জানেনই তিনি এ বিষয়ে কেমন ভাবতেন। তাই বিলটি পাস হওয়ার একটি ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।’

    সিনেটের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিলটির পক্ষে ইতিমধ্যে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলেরই ২৬ জন সিনেটর সহপৃষ্ঠপোষক হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আরও অনেক সিনেটর এতে যোগ দেবেন বলে তাঁরা আশা করছেন।

    রাশিয়ার জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ ভ্লাদিমির মনোমাখ।

    বিলটি পাস হওয়ার বিষয়ে বড় আশা ব্যক্ত করে একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘বিলটি পাসের পথ নিয়ে আমরা বেশ আত্মবিশ্বাসী।’

    রাশিয়াকে দেওয়া এ নিষেধাজ্ঞা বিলটি নিয়ে দুই দলের একদল সিনেটর এবং হোয়াইট হাউস দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আলোচনা ও দর–কষাকষি করেছে। এ সময়ে বেশ কয়েকটি আরও কঠোর প্রস্তাব বিবেচনা করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি প্রস্তাব ছিল—রাশিয়া থেকে তেল, গ্যাস, ইউরেনিয়াম এবং অন্যান্য পণ্য কেনা দেশগুলোর আমদানির ওপর সরাসরি ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা।

  • বিশ্বকাপে মাঠের বাইরের তারকা ইয়ামালের ছোট ভাই

    বিশ্বকাপে মাঠের বাইরের তারকা ইয়ামালের ছোট ভাই

    বিশ্বকাপের আলোচনায় সাধারণত জায়গা করে নেন মাঠে দাপিয়ে বেড়ানো তারকারা। কিন্তু এবার সেই প্রচলিত চিত্র বদলে দিয়েছেন মাত্র তিন বছরের এক শিশু। স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালের ছোট ভাই কেইন মাঠে না নেমেও নিজের প্রাণবন্ত উপস্থিতি আর দুষ্টুমিতে হয়ে উঠেছেন বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণ।

    স্পেনের প্রতিটি ম্যাচেই গ্যালারিতে দেখা যাচ্ছে ছোট্ট কেইনকে। তার হাসি, উচ্ছ্বাস, নাচ, মজার অঙ্গভঙ্গি কিংবা ক্যামেরার সামনে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ফলে ফুটবলারদের পাশাপাশি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে জায়গা করে নিয়েছে এই খুদে দর্শকও।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও কেইনকে নিয়ে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। অনেকের মতে, এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমক কোনো গোল বা ট্রফি নয়, বরং গ্যালারিতে থাকা এই তিন বছরের শিশুটি। কেউ তাকে ‘বিশ্বকাপের ক্ষুদে তারকা’, আবার কেউ ‘স্পেনের গ্যালারি সুপারস্টার’ বলেও অভিহিত করছেন।

    স্পেনের ম্যাচ চলাকালে সম্প্রচার ক্যামেরা যখনই কেইনের দিকে ঘুরে যায়, তখনই তার হাসিখুশি মুখভঙ্গি দর্শকদের মন জয় করে নেয়। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে হারানোর পরও এমনই এক মুহূর্তে আবার আলোচনায় আসে সে। খেলোয়াড়রা মাঠে জয় উদযাপনে ব্যস্ত থাকলেও ক্যামেরায় ধরা পড়ে গ্যালারিতে থাকা কেইনের আনন্দ-উচ্ছ্বাস। তার দুষ্টুমি দেখে হাসিতে মেতে ওঠেন বড় ভাই লামিন ইয়ামালও। সেই দৃশ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

    অবশ্য কেইনের পরিচিতি এবারই প্রথম নয়। ২০২৪ সালে স্পেন ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ভাইয়ের সঙ্গে শিরোপা উদযাপনে অংশ নিয়েছিল সে। একই বছর প্যারিসে ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে ছোট্ট কালো স্যুট ও স্নিকার্স পরে রেড কার্পেটে হেঁটে নজর কাড়ে এই খুদে।

    পারিবারিকভাবে লামিন ইয়ামাল ও কেইনের মা একই হলেও তাদের বাবা আলাদা। ইয়ামালের বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর জন্ম হয় কেইনের। তবে বয়সের প্রায় ১৫ বছরের ব্যবধান দুই ভাইয়ের সম্পর্কের গভীরতায় কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।

    ছোট ভাইকে নিয়ে ইয়ামাল বরাবরই আবেগপ্রবণ। তিনি বলেন, ‘আমার ছোট ভাই আমার কাছে সবকিছু। আমি তাকে প্রচণ্ড ভালোবাসি। মনে হয় সে আমার নিজের সন্তান।’

    অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে স্পেনের জয়ের পর গ্যালারিতে দুই হাত তুলে ‘ভামোস!’ বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায় কেইনকে। সেই দৃশ্যও দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

    ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে জন্ম নেওয়া কেইন এখনো শৈশবের আনন্দে মেতে থাকলেও ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে পরিচিত মুখে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, বিশ্ব ফুটবলের নতুন সুপারস্টার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন লামিন ইয়ামাল। একসময় কঠিন আর্থিক বাস্তবতায় বেড়ে ওঠা এই বার্সেলোনা তারকা জানিয়েছেন, এখন সবচেয়ে বেশি আনন্দ পান মায়ের মুখে হাসি দেখতে এবং ছোট ভাইকে সুন্দর শৈশব উপভোগ করতে দেখে।

    বর্তমানে একজন মাঠে পায়ের জাদুতে দর্শকদের মুগ্ধ করছেন, আর অন্যজন গ্যালারিতে নিজের নিষ্পাপ হাসি, উচ্ছ্বাস ও প্রাণচাঞ্চল্যে কোটি মানুষের ভালোবাসা কুড়িয়ে নিচ্ছে।

  • কলকাতা বিমানবন্দর মসজিদে ১৬৩ ধারা জারি: জুমা পড়তে পারেনি মুসল্লিরা

    কলকাতা বিমানবন্দর মসজিদে ১৬৩ ধারা জারি: জুমা পড়তে পারেনি মুসল্লিরা

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার দমদম বিমানবন্দরের প্রাচীরসংলগ্ন ১৩৬ বছরের পুরোনো বাঁকড়া মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের ঘোষণা দিয়েও সেখানে যেতে পারেননি মুসল্লিরাসহ মসজিদ কমিটির নেতারা।

    আজ শুক্রবার সকাল থেকেই ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা জারি করায় সেখানে জমায়েত ও কর্মসূচি পালন সম্ভব হয়নি। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা আইনের ১৬৩ ধারা আগের ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারা।

    আজ বাঁকড়া মসজিদে জুমার নামাজ আদায় এবং শান্তিপূর্ণ দোয়া ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার মসজিদ কমিটির সভাপতি এবং রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী ভারতের বৃহত্তম মুসলিম সংগঠন জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী ঘোষণা দিয়েছিলেন।

    তবে আজ বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেট এলাকায় পৌঁছে সিদ্দিকুল্লাহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মসূচি পালন করা সম্ভব হচ্ছে না।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী পরে তাঁর সমর্থকদের নিয়ে কাছের আরেকটি মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। এদিকে কলকাতার কয়েকটি এলাকায় কিছু মুসল্লিকে নামাজের সময় হাতে কালো কাপড় বেঁধে নীরব প্রতিবাদ জানাতেও দেখা গেছে।

    আজ সকাল থেকেই বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেট ও আশপাশের এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। পুরো এলাকায় মোতায়েন করা হয় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী, র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র‍্যাফ) ও জলকামান। বিধাননগর পুলিশ গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে।

    বিমানবন্দরসংলগ্ন বাঁকড়া মসজিদ সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কয়েক দিন আগে সেখানে যাতায়াত ও নামাজ আদায় বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ।

    গতকাল কলকাতা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী ও মসজিদ কমিটির সদস্যরা অভিযোগ করেন, ১১ জুলাই থেকে মসজিদে যাওয়ার পথ ভেতর থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা জানিয়ে দিয়েছেন, বিমানবন্দরসংলগ্ন ওই মসজিদে আর নামাজ আদায় করা যাবে না।

    মসজিদ কমিটির দাবি, ১৩৬ বছরের পুরোনো এই মসজিদে নামাজ বন্ধের আগে তাঁদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। এমনকি কোনো লিখিত নোটিশও দেওয়া হয়নি।

    মসজিদ কমিটির ভাষ্য, ১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মসজিদে একসময় আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ নামাজ আদায় করতেন। অবিভক্ত ভারতের সময় বর্তমান বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও অনেক মুসল্লি সেখানে নামাজ আদায়ের জন্য যেতেন।

    মসজিদে নামাজ আদায়ের সুযোগ পুনর্বহাল এবং বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেট খুলে দেওয়ার দাবিতে আজ সেখানে জমায়েতের চেষ্টা করেছিলেন সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে মসজিদ কমিটির সদস্যরা। তবে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা ও ১৬৩ ধারা জারির কারণে তাঁদের সেই কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ওই অঞ্চলটিতে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

  • ইরানের সঙ্গে চুক্তির কারনে  ইসরায়েলের আক্রমণের শিকার- ড্যান্স

    ইরানের সঙ্গে চুক্তির কারনে ইসরায়েলের আক্রমণের শিকার- ড্যান্স

    যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অভিযোগ করেছেন, ইরান যুদ্ধ অবসানে সম্ভাব্য চুক্তির বিরুদ্ধে মার্কিন জনমত গড়ে তুলতে ইসরায়েল সরকারের কিছু সদস্য প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন। গত বুধবার মার্কিন পডকাস্টার জো রোগানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স এ কথা বলেছেন।

    ওই সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের কড়া সমালোচনা করেন।যুদ্ধ বন্ধে গত মাসে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের হওয়া চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়ে জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘ইসরায়েল সরকারের কিছু সদস্য চান সামরিক অভিযান চলুক। তাই তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তির পথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।’

    ভবিষ্যতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকা ভ্যান্স এর আগেও ইসরায়েলের সমালোচনা করেছেন। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যকার মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

    জো রোগানের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘আমি যে চুক্তির জন্য কাজ করছিলাম, সেটি ভেস্তে দিতে বিদেশি অর্থায়নে প্রচার চালানো হচ্ছে, যাতে জনমত চুক্তির বিরুদ্ধে যায়।’

    টাইম সাময়িকীতে সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন ভ্যান্স। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ সম্পর্কে মার্কিন জনমতকে প্রভাবিত করতে ইসরায়েলের পক্ষে ডিজিটাল প্রচার চালানোর জন্য ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার শিবিরের সাবেক এক ব্যবস্থাপককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ভ্যান্স বলেন, আলোচনা ও চুক্তি ভন্ডুল করার উদ্দেশ্যে অত্যন্ত গোপনে এবং বিপুল অর্থায়নে প্রচারণা চালানো হয়েছে।

    ভ্যান্স মনে করেন, ইসরায়েলি সরকারের ভেতরে এমন কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা মার্কিন জনমতকে প্রভাবিত করে অনির্দিষ্টকাল ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চান।

    ওয়াশিংটন থেকে আল-জাজিরার প্রতিবেদক প্যাটি কালহেন বলেন, ভ্যান্স যে ইসরায়েল-সম্পৃক্ত প্রচারণার কথা বলেছেন, তার মূল লক্ষ্য সম্ভবত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মাগা’ (মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন) সমর্থকদের প্রভাবিত করা। যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল-নীতি নিয়ে এই সমর্থকগোষ্ঠীর মধ্যে ক্রমেই মতভেদ বাড়ছে।

    কালহেন মনে করেন, এ কারণেই ভ্যান্স জো রোগানের পডকাস্টে গিয়েছেন। জো রোগান যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় পডকাস্টারদের একজন। বিশেষ করে ‘মাগা’র সমর্থক তরুণদের মতামত গঠনে তাঁর বেশ প্রভাব রয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আরও দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়ায় ইসরায়েল-সম্পৃক্ত একটি গোষ্ঠী তাঁকেও ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছে।

    ভ্যান্স বলেন, ‘দেশের জন্য প্রেসিডেন্ট যে আলোচনার লক্ষ্য ঠিক করেছেন, আমি সেটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। আর সে কারণেই আমার বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ চালানো হচ্ছে।’

    ভ্যান্স আরও বলেন, ‘মিত্র হোক বা প্রতিপক্ষ—সব দেশই যুক্তরাষ্ট্রের নীতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। ইসরায়েলও এমন চেষ্টা করে থাকে, এতে আমার আপত্তি নেই। তবে আমার উদ্বেগ তখনই, যখন এ ধরনের প্রভাব বিস্তারের প্রচারণা সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।’

    ভ্যান্স গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তির পক্ষেও কথা বলেছেন। যুদ্ধ বন্ধের উদ্দেশ্যে করা ওই চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলে ব্যাপক বিরোধিতা আছে।

    তবে গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়ে যাওয়ায় ওই শান্তি চুক্তি কার্যত ভেঙে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে।

    ইসরায়েলের প্রভাব না থাকলে যুক্তরাষ্ট্র সর্বশেষ ইরান যুদ্ধের সঙ্গে জড়াতো বলে তিনি মনে করেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি তা–ই মনে করি।’

    ভ্যান্স আরও বলেন, ‘ইসরায়েলের প্রভাবের বিষয়টি আলাদা। তবে প্রেসিডেন্ট দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন এবং আমিও একমত, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়।’

  • কাতারের আল-উদেদ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা

    কাতারের আল-উদেদ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা

    ইরান বলেছে, দেশটির সামরিক বাহিনী কাতারের আল উদেইদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি তাদের ১৫তম দফার হামলা। খবর আলজাজিরার।বিজ্ঞাপনইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওই হামলায় একটি দূরপাল্লার রাডার ব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি কৌশলগত আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) বিমান ধ্বংস করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি এ তথ্য প্রকাশ করেছে।বিবৃতিতে আইআরজিসি আরও বলেছে, মার্কিন শত্রু এবং এ অঞ্চলে তাদের ঘাঁটির স্বাগতিকদের জানা উচিত, সীমা লঙ্ঘন করে মানুষ ও বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলার মূল্য অত্যন্ত কঠোর ও ভয়াবহ হবে। শত্রুপক্ষ যদি এই ধারা অব্যাহত রাখে, তাহলে আরও বিধ্বংসী জবাব দেওয়া হবে—যা যুদ্ধের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।তবে ইরানের এই দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা কাতারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি

  • মেঝেতে স্বামীর লাশ, ছুরিকাহত ছেলে—বিছানায় শুয়ে ফোন স্ক্রল করছিলেন চিকিৎসক স্ত্রী

    মেঝেতে স্বামীর লাশ, ছুরিকাহত ছেলে—বিছানায় শুয়ে ফোন স্ক্রল করছিলেন চিকিৎসক স্ত্রী

    ভারতের কর্নাটকের ধারওয়াড়ে একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে এক চিকিৎসকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় তার আট বছর বয়সী ছেলেকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ছেলেটির মা, যিনি নিজেও একজন ডাক্তার, তিনি তখন বিছানায় শুয়ে ফোনে স্ক্রল করছিলেন। ঘটনার পর চিকিৎসক স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। খবর এনডিটিভির।

    পুলিশ জানায়, ধারওয়াড় শহরের কর্নাটক ইউনিভার্সিটি রোডের রাঙ্কা স্টেলো অ্যাপার্টমেন্টে ঘটনাটি ঘটে। স্বজনরা দীর্ঘ সময় ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে ফ্ল্যাটে গিয়ে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলে অ্যানেস্থেটিস্ট ডা. কিরণ হন্নানাভার (৪৫)-কে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। অন্য একটি কক্ষে তার আট বছরের ছেলে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে ছিল। আর শিশুটির মা ও চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. প্রিয়াঙ্কা বিছানায় শুয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পায়, ডা. হন্নানাভারের গলায় একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আহত শিশুটিকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন।

    হুব্বল্লি-ধারওয়াড় পুলিশ কমিশনার এন. শশিকুমার জানান, প্রাথমিক তদন্তে বাইরের কোনো ব্যক্তি ফ্ল্যাটে প্রবেশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনার সময় নিরাপত্তাবেষ্টিত আবাসনে ওই দম্পতি ও তাদের সন্তান ছাড়া আর কেউ ছিলেন না।

    স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই তারা ডা. হন্নানাভারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন। কমিশনার জানান, ফোন ধরেছিলেন ডা. প্রিয়াঙ্কা। তিনি প্রথমে বলেন, তার স্বামী বিশ্রাম নিচ্ছেন, পরে বলেন তিনি বাইরে গেছেন। এতে সন্দেহ হওয়ায় স্বজনরা ফ্ল্যাটে গিয়ে ঘটনাটি জানতে পারেন।

    পুলিশ জানিয়েছে, ডা. প্রিয়াঙ্কাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মনে হয়েছে এবং তিনি ঘটনার বিষয়ে অসংগতিপূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

    তদন্তকারীরা অ্যাপার্টমেন্টের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছেন এবং উভয় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন। উপশহর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ঘটনাটি পারিবারিক বিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ ও ঘটনার ধারাবাহিকতা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    এদিকে আহত শিশুটি অটিজমে আক্রান্ত বলে কিছু তথ্য পাওয়া গেলেও পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি এখনও যাচাই করা হচ্ছে। নিহত চিকিৎসকের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রতিবেশীদের সঙ্গে কোনো বিরোধের প্রমাণও মেলেনি। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • ইসরাইলি কারাগারে জার্মার নারী অধিকারকর্মী ধর্ষণের শিকার

    ইসরাইলি কারাগারে জার্মার নারী অধিকারকর্মী ধর্ষণের শিকার

    ইসরাইলি কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় তিনবার বেআইনিভাবে নগ্ন করে তল্লাশি এবং ধর্ষণের শিকার হয়েছেন আনা লিডকে (২৫) নামে এক জার্মান নারী অধিকারকর্মী। গত শরৎকালে ইউরোপ থেকে মানবিক সহায়তা নিয়ে গাজা অভিমুখী ত্রাণবাহী জাহাজের বহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় যোগ দিয়েছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা থেকে ইসরাইলি বাহিনী তাদের নৌকাটি আটক করে এবং আনাকে পাঁচ দিন বন্দি রাখা হয়।

    ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কাছে এ ঘটনার আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।আনা লিডকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে জানান, ইসরাইলি কারাগারে এই সহিংসতা ও ধর্ষণের মূল উদ্দেশ্য ছিল ফিলিস্তিনের পক্ষে সংহতি প্রকাশ করা অধিকারকর্মীদের ভয় দেখানো।

    তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের ইচ্ছা ভেঙে দিতে এবং স্তব্ধ করতে চায়। তারা পরিস্থিতি এতটাই ট্রমাটিক করতে চায়, যেন আমরা ফিলিস্তিন নিয়ে আর কখনো কথা না বলি।’ তবে ভয় না পেয়ে আনা এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেছেন।

    ইসরাইলের অ্যাটর্নি জেনারেল, কারা কর্তৃপক্ষের আইনি উপদেষ্টা এবং কারারক্ষী তদন্ত বিভাগের কাছে এই লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। আনার আইনজীবী মুনা হাদ্দাদ বলেন, ইসরাইলে বন্দিদের ওপর নির্যাতনের যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, এই অভিযোগ তার বিরুদ্ধে একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

    মুনা হাদ্দাদ জানান, গত তিন বছর ধরে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর পদ্ধতিগতভাবে যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণ করা হচ্ছে। এখন ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের পক্ষে দাঁড়ানো বিদেশি নাগরিকদের ওপরও এই আচরণ সম্প্রসারিত করছে।

    গত ১০ অক্টোবর আনাকে গিভন কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে একটি আংশিক ঢাকা পর্দাওয়ালা জায়গায় তাকে পোশাক খুলতে বাধ্য করা হয়। তিনি অস্বীকৃতি জানালে নারীরক্ষীরা জোরপূর্বক তার পোশাক ছিঁড়ে ফেলে এবং তাকে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করে ধর্ষণ করে। আনা চিৎকার করার চেষ্টা করলে তার মুখ চেপে ধরা হয়। সেই সময় পর্দার ওপাশ থেকে পুরুষ রক্ষীদের হাসির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। আনা বিশ্বাস করেন, কারাগারে থাকা বডি ক্যামেরা বা নিরাপত্তা ক্যামেরা দিয়ে এই পুরো ঘটনা ভিডিও করা হয়েছে।

    এই ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। গত মে মাসে জাতিসংঘ সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতার জন্য ইসরাইলকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে।

    এছাড়া অস্ট্রেলীয় পুলিশ এবং ফরাসি প্রসিকিউটররা ইসরাইলি কারাগারে তাদের নাগরিকদের ওপর নির্যাতন ও যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু করেছে। ১২ অক্টোবর অন্য অধিকারকর্মীদের সঙ্গে আনাকে জর্ডানে ফেরত পাঠানো হয়। জার্মানি ফিরে গিয়ে ডিসেম্বর মাসে তিনি রাজনৈতিক বন্দিদের এক সম্মেলনে এ ঘটনা প্রকাশ্যে আনেন। তার দেখাদেখি ফ্লোটিলার ১০-এর বেশি অধিকারকর্মী যৌন নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছেন।

    তবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ও কারা কর্তৃপক্ষ (আইপিএস) এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। কারা কর্তৃপক্ষের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, এই অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং তাদের কর্মীদের দ্বারা কোনো ধরনের ধর্ষণ বা পদ্ধতিগত নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি।

  • শান্তিচুক্তি আলোচনা ভেস্তে দিতে অর্থায়ন করছে ইসরায়েল, অভিযোগ ভ্যান্সের

    শান্তিচুক্তি আলোচনা ভেস্তে দিতে অর্থায়ন করছে ইসরায়েল, অভিযোগ ভ্যান্সের

    যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিআলোচনাকে ভেস্তে দেডেন্ট জে ডি ভ্যান্স অভিযোগ করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান ওয়ার জন্য অর্থায়ন করছে ইসরায়েল।

    জনপ্রিয় পডকাস্ট সঞ্চালক জো রোগানের অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ‘আপনারা একটি অত্যন্ত গোপন এবং বিপুল অর্থায়নে পরিচালিত প্রচারণা দেখছেন। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের আলোচনা এবং সম্ভাব্য চুক্তিকে নস্যাৎ করা।’ খবর আল জাজিরার।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘ট্রাম্পের পক্ষে প্রচারণা চালানো এক ব্যক্তি একদল মানুষকে অর্থ দিয়েছেন। আর তিনি নিজেও ইসরায়েল সরকারের নির্দিষ্ট কিছু মহলের কাছ থেকে অর্থ পেয়েছেন। সেই ব্যক্তিরাই এখন আমার বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ চালাচ্ছেন।’

    তবে ভ্যান্সের এই অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফার বিমান হামলায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক প্রদেশে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আহভাজ, খুজেস্তান, হরমুজগান এবং সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় আহভাজের একটি শিশু ক্যানসার হাসপাতাল থেকে জরুরি ভিত্তিতে রোগীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত চলা হামলায় আহভাজ, বন্দর আব্বাস, কেশম ও চাবাহার এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

  • যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০০ কোটি ডলারের অস্ত্র কিনবে সৌদি আরব

    যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০০ কোটি ডলারের অস্ত্র কিনবে সৌদি আরব

    যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০০ কোটি ডলারের অস্ত্র কিনবে সৌদি আরব। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে আনুমানিক ১৯৬ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এলো যখন ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সাথে সৌদি আরবের নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সাথে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনাও তুঙ্গে রয়েছে।

    এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্তটি উপসাগরীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম চালিকাশক্তি ও ন্যাটোর বাইরের প্রধান মিত্র (মেজর নন-ন্যাটো অ্যালাই) সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

    এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার উদ্দেশ্যগুলোও পূরণ হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এই সামরিক প্যাকেজের আওতায় সৌদি আরব মূলত ২০ হাজার পর্যন্ত ‘অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেমস’ এবং এর সাথে সম্পর্কিত যুদ্ধাস্ত্র সংগ্রহ করতে যাচ্ছে, যার মধ্যে ১০ হাজার আকাশ থেকে আকাশে এবং ১০ হাজার আকাশ থেকে মাটিতে আঘাত হানার গাইডেড সিস্টেম ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য অনুসারে, এই প্রযুক্তিটি অত্যন্ত কম খরচে এবং চারপাশের ক্ষয়ক্ষতি সীমিত রেখে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম।

    এই অস্ত্র চুক্তির মূল ঠিকাদার হিসেবে কাজ করবে বিশ্বখ্যাত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিএই সিস্টেমস। মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এই অস্ত্র বিক্রির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সামরিক প্রস্তুতির ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

  • ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করলেন জেলেনস্কি

    ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করলেন জেলেনস্কি

    প্রধানমন্ত্রীর পর এবার ইউক্রেনের জনপ্রিয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরোভকে বরখাস্ত করেছেন ভলোদিমির জেলেনস্কি। সরকারের ব্যাপক রদবদলের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিদেশী অংশীদার ও সুশীল সমাজের অনুরোধ উপেক্ষা করেই তাকে সরানো হলো। টেলিগ্রামে দেয়া এক পোস্টে ফেদোরোভ নিজের বিদায়ের কথা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দেশের সেবা করতে পারা তার জন্য বড় সম্মান ছিল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংস্কার ও দুর্নীতি হ্রাসে তার অবদান রয়েছে বলে মনে করা হয়। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। মাত্র ছয় মাসের দায়িত্ব পালনকালে তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের অবস্থানের নাটকীয় উন্নতি ঘটান।

    তার অধীনে কিয়েভ দূরপাল্লার ড্রোনের সাহায্যে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে সফল আঘাত হানে এবং দখলকৃত ক্রিমিয়াকে মূল রুশ ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করতে সক্ষম হয়। বিদায়ের দিন ফেদোরোভ জানান, ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী সফলভাবে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাও সম্পন্ন করেছে, যা যুদ্ধের খরচ ৩০ শতাংশ কমিয়ে এনেছে। ফেদোরোভের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কোও পদত্যাগ করেছেন, যার স্থলে নাফতোগাজের প্রধান সের্হি কোরেতস্কি আসতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ফেদোরোভের এই অপসারণ তার সমর্থকদের ক্ষুব্ধ করেছে এবং সেনাপ্রধান কর্নেল জেনারেল ওলেক্সান্ডার সিরস্কির সাথে তার বিরোধের গুঞ্জনকে উসকে দিয়েছে। মস্কোয় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত মাইকেল ম্যাকফেলসহ আন্তর্জাতিক মহল জেলেনস্কিকে এই সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছিল।

    বরখাস্ত হওয়া মন্ত্রীর সহযোগী সের্হি স্তেরনেনকো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমলাতান্ত্রিক প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রকৃত সংস্কার শুরুই করতে দেয়া হয়নি। বিরোধী দলীয় রাজনীতিবিদ ইরিনা গেরাশচেঙ্কো এবং অনলাইন মন্তব্যকারীরাও জেলেনস্কির এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। থিংক ট্যাংক পলিটিকার উপ-পরিচালক আরতেম ব্রনঝুকোভ রেডিও এনভিকে জানান, রাশিয়ার মতো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালীন এভাবে ঘন ঘন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পরিবর্তন করা অত্যন্ত অস্বাভাবিক।

  • সৈনিকদের টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা করবে যুক্তরাষ্ট্র

    সৈনিকদের টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা করবে যুক্তরাষ্ট্র

    যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে টেস্টোস্টেরন হরমোনের ঘাটতি পরীক্ষা করা হবে। ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী সেনা সদস্যদের বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে এই পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

    এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। সামাজিক মাধ্যম এক্সে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে হেগসেথ বলেন, সামরিক বাহিনীর সদস্যরা যাতে নিজেদের সেরা সক্ষমতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই স্ক্রিনিং কর্মসূচির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যেসব সেনার টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কম পাওয়া যাবে, তাদের ঐচ্ছিক হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির সুবিধা দেয়া হবে। তবে ৩০ বছরের কম বয়সীদের জন্য এই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়, বরং তারা চাইলে এটি করাতে পারবেন।

    হেগসেথ বুধবারের ভিডিওতে আরও বলেন, আমাদের যোদ্ধাদের বিশ্বের সেরা চিকিৎসা সেবা প্রদান করার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, এই কর্মসূচি তারই অংশ। অবশ্য এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া নারী সেনাসদস্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে কি না, তা হেগসেথ নির্দিষ্ট করে জানাননি, যদিও বয়সের সঙ্গে সঙ্গে নারীদের শরীরেও টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যায়।

    পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল এক বিবৃতিতে জানান, সক্রিয় ও রিজার্ভ উভয় বাহিনীর ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী সকল সদস্যদের জন্য এই টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পরীক্ষা অবিলম্বে কার্যকর করা হবে। এই ঘোষণার পর ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞ সেনাসদস্য এবং সশস্ত্র সেবা কমিটির সদস্য, ডেমোক্রেটিক সিনেটর ট্যামি ডাকওয়ার্থ প্রতিরক্ষা সচিবের প্রতি পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই এই হরমোন পরীক্ষার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

    তবে গত বছর সামরিক বাহিনীতে টেস্টোস্টেরন ব্যবহার ও স্ক্রিনিং নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের নেতৃত্ব দেয়া ডক্টর মোহিত খেরা বুধবার জানান, ৩০ বছরের বেশি বয়সী সব পুরুষেরই এই পরীক্ষা করানো উচিত, কারণ এটি একজন মানুষের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সামগ্রিক স্বাস্থ্যের প্রধান সূচক।

    বেলর কলেজ অব মেডিসিনের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক খেরা বলেন, মূল বিষয় হলো অনেক যুবকের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কম থাকে, যা তাদের পেশি ও শক্তির ক্ষেত্রে পিছিয়ে দেয়। যুদ্ধক্ষেত্রে থাকলে এটি একটি বড় সমস্যা হতে পারে। তবে তিনি এও যোগ করেন যে কোনো লক্ষণ না থাকলে কাউকে শুধু শুধু টেস্টোস্টেরন দেয়া যাবে না এবং এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির সুবিধা সম্পর্কে তিনি ব্যাখ্যা করেন যে এটি পেশির ভর বাড়ায়, চর্বি জমতে বাধা দেয় এবং বিষন্নতার ঝুঁকি কমায়।

    সময়ের সাথে সাথে এটি হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতেও সাহায্য করতে পারে। তবে এটি সবার জন্য নয় বলে তিনি সতর্ক করেছেন। খেরা বলেন, তরুণরা টেস্টোস্টেরন নিলে তা তাদের বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে। তাই কেউ যদি সন্তান নেয়ার বয়সে থাকেন, তবে তাকে অবশ্যই বুঝতে হবে যে এটি তাকে বন্ধ্যা করে দিতে পারে।

    এছাড়া তাত্ত্বিকভাবে এর ফলে হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র এবং প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা চিকিৎসকদের জন্য পুরুষদের টেস্টোস্টেরন প্রেসক্রিপশন লেখার বাধাগুলো দূর করার চেষ্টা করার পরপরই হেগসেথের এই ঘোষণা এলো। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এটিকে জাতীয় প্রজনন সংকটের সমাধান হিসেবেও সামনে এনেছেন।

  • ইরানে ক্যানসার হাসপাতালে হামলা, সরানো হলো ২১১ রোগী

    ইরানে ক্যানসার হাসপাতালে হামলা, সরানো হলো ২১১ রোগী

    ইরানের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের একটি ক্যানসার হাসপাতালে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে ইরান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর ইরানের আহভাজ শহরের বাঘাই বিশেষায়িত হাসপাতাল থেকে ২১১ জন রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

    হাসপাতালের পরিচালক রেজা বাজার জানান, আহভাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কারণে হাসপাতালটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। তবে এ ঘটনায় হাসপাতালের কোনো রোগী বা কর্মীর

    হাসপাতালটির ব্যবস্থাপক ডা. মাজিদ বু’আজার আল জাজিরাকে বলেন, মার্কিন হামলার কারণে ২১১ জন রোগীকে বাধ্য হয়ে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হয়েছে।
    তিনি জানান, সরিয়ে নেয়া রোগীদের মধ্যে ক্যানসার রোগীসহ গুরুতর অসুস্থ অনেক রোগী ছিলেন। ওই হাসপাতালের এক কর্মী আল জাজিরাকে বলেন, এখানে বিশেষ ধরনের রোগীরা চিকিৎসাধীন ছিলেন, যার মধ্যে ক্যানসার রোগীও রয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে হাসপাতালের আশপাশের এলাকায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ হয়েছে। অনেক রোগী তখন অক্সিজেন ও ভেন্টিলেটরের সহায়তায় ছিলেন।
    তিনি আরও বলেন, কেউ কোলে শিশু নিয়ে, কেউ হাতে স্যালাইনের লাইন লাগানো অবস্থায়, আবার কেউ হুইলচেয়ারে করে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসেন। সবাইকে দ্রুত বাইরে সরিয়ে নেয়া হয়।

    ইতিমধ্যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলাকে ‘বর্বরোচিত’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। এনিয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে বলেন, এই বর্বরোচিত হামলা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ওপর ইসরাইলের চালানো নৃশংস হামলার কথা মনে করিয়ে দেয়। এর ফলে হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের চরম দুর্ভোগ ও আতঙ্কের মধ্যে পড়তে হয়েছে।

    তিনি জানান, হাসপাতালে কেমোথেরাপি নিচ্ছিলেন এমন ২১১ জন রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে।
    তবে এই হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।

  • বিজেপির শেষ না দেখে মরতে চাই না: মমতা

    বিজেপির শেষ না দেখে মরতে চাই না: মমতা

    নিজেকে যেন চলচ্চিত্রের চরিত্র ইন্ডিয়ানা জোনসের সঙ্গে তুলনা করে সমালোচকদের জবাব দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, তিনি এখনো লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত এবং ‘বিজেপির শাসনের অবসান’ না দেখা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে চান।

    পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে টিএমসির ভরাডুবির পর অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক যখন মমতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তখন তিনি পালটা দাবি করেছেন—দলত্যাগে দুর্বল হয়ে পড়া দলকে তিনি আবারও নতুন করে গড়ে তুলতে সক্ষম।

    ৭১ বছর বয়সি মমতা ফেসবুক বার্তায় বলেন, আমার বয়স নিয়ে আপনাদের চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। মানুষের বয়স নির্ধারণ করে তার মন, শরীর ও মানসিক শক্তি। আমি কি কোনো দিন প্রধানমন্ত্রীর বয়স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছি? বয়স নিয়ে কাউকে অপমান করার সাহস দেখাবেন না। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন বিজেপির লোকজন চেয়েছিল আমি যেন হার্ট অ্যাটাকে মারা যাই। কিন্তু আমি বেঁচে থাকব, যত দিন না তোমাদের পতন দেখি।

    বয়সকে প্রত্যাবর্তনের পথে বাধা মনে করেন না জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতের মতো এবারও তিনি দলকে নতুনভাবে গড়ে তুলবেন।

    মমতা বলেন, যারা যেতে চায়, তারা চলে যাক। যা থাকবে, সেটাই আমার সোনার খনি। ২০০৪ ও ১৯৯৭ সালে যেমন একা নতুন করে শুরু করেছিলাম, ২০২৬ সালেও তেমনই পারব। আমার সেই সাহস এখনো আছে। আমি এক-দুই নয়, তিন প্রজন্মের নেতা তৈরি করেছি এবং যারা আমার সঙ্গে আছে, তাদের জন্য আমি ছাতার মতো আশ্রয় হয়ে থাকব।

    এরপরই তিনি ঘোষণা দেন, করব, লড়ব, বাঁচব। এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দেন, রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই।

    সাম্প্রতিক সময়ে টিএমসিতে নজিরবিহীন বিদ্রোহের মুখে পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, রাজ্য বিধানসভা ও জাতীয় সংসদে নির্বাচিত তার দলের অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি বিদ্রোহ করেছেন। বিধায়কদের বড় অংশ বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং লোকসভার ২০ জন সাংসদ একটি ছোট রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়ে এনডিএ জোটকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছেন।

    ২১ জুলাই টিএমসির শহীদ দিবসের সমাবেশের কয়েক দিন আগে মমতার এই আবেগঘন বার্তা এসেছে। দলটির রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারে দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবার একই দিনে দলটির দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ মাত্র এক কিলোমিটার দূরত্বে পৃথকভাবে শহীদ দিবস পালন করবে।

    এদিকে বুধবার কলকাতা হাইকোর্ট মমতা-নেতৃত্বাধীন টিএমসি গোষ্ঠীকে কলকাতার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনের ঐতিহ্যবাহী স্থানের পরিবর্তে বিড়লা প্ল্যানেটারিয়ামের কাছে তাদের বার্ষিক ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে।

    উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে যুব কংগ্রেসের সভাপতি থাকাকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভে ১৩ জন কংগ্রেস কর্মী নিহত হন। সেই ঘটনাকে স্মরণ করেই পরবর্তীতে টিএমসি প্রতি বছর ২১ জুলাই ‘শহীদ দিবস’ পালন করে আসছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম পরিচয় জানার পরই ভারতীয় যুবকের ওপর হামলা

    যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম পরিচয় জানার পরই ভারতীয় যুবকের ওপর হামলা

    যুক্তরাষ্ট্রে এক প্রবাসী ভারতীয় মুসলিম যুবকের ওপর বিদ্বেষপ্রসূত হামলার অভিযোগ উঠেছে। উটাহ অঙ্গরাজ্যের ওয়েস্ট ভ্যালি সিটির ভ্যালি ফেয়ার মলের সামনে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতের এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন সোহেল নামে ওই যুবক।

    বুধবার (১৫ জুলাই) ভারতীয় একটি পত্রিকা জানিয়েছে, হামলার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তার অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক পুলিশের বরাতে জানা যায়, অভিযুক্ত ৪৮ বছর বয়সী পিটার মাইকেল লারসেন প্রথমে সোহেলের সাথে কথোপকথন শুরু করেন। তিনি সোহেলের দেশের পরিচয় জানতে চাইলে সোহেল নিজেকে ভারতীয় বলে পরিচয় দেন। এরপর ধর্ম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি নিজেকে মুসলিম বলে জানান।

    অভিযোগ অনুযায়ী, এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে পিটার ধারালো ছুরি নিয়ে তার ওপর হামলা চালান। হামলায় সোহেলকে অন্তত ১৫ বার ছুরিকাঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনাটি দেখে মলের কর্মী ও আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে হামলাকারীকে আটক করেন এবং গুরুতর আহত সোহেলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

    মলের এক কর্মী জানান, হামলাকারী অত্যন্ত নির্মমভাবে সোহেলকে হত্যা করার চেষ্টা করছিল। হাসপাতালে নেয়ার পর তার একাধিক অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি এখনো সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    এ ঘটনায় অভিযুক্ত পিটার মাইকেল লারসেনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের কাছে তিনি হামলার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মুসলিমদের লক্ষ্য করেই এ হামলা চালানোর কথা বলেছেন বলে অভিযোগ।

    এ ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী ভারতীয় ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পুলিশ হামলার পেছনে বিদ্বেষমূলক অপরাধের (হেট ক্রাইম) বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।

  • লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় সেনা মোতায়েন রাখবে ইসরাইল

    লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় সেনা মোতায়েন রাখবে ইসরাইল

    ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে জানিয়েছেন, লেবানন, সিরিয়া ও গাজা উপত্যকায় গড়ে তোলা ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ ইসরাইলি বাহিনী মোতায়েন রাখা হবে।

    কাটজের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, রাতে দুই মন্ত্রীর মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়।এ সময় কাটজ ‘সিরিয়া, গাজা ও লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে অবস্থান বজায় রাখার বিষয়ে ইসরাইলের দৃঢ় অবস্থান’ তুলে ধরেন।

    তিনি বলেন, বিদ্রোহী বাহিনীর হুমকি থেকে ইসরাইলের সীমান্ত ও সীমান্তসংলগ্ন জনপদগুলোকে সুরক্ষা দিতেই এ সিদ্ধান্ত।

    কাটজ বলেন, ‘আমাদের সীমান্তে আমাদের হয়ে কাজ করার জন্য আমরা কখনোই যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করিনি।’ মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সিরিয়া ও লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

    একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানায়, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেছেন, সিরিয়ায় ইসরাইলের সেনা মোতায়েন দেশটিতে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।

    অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে ট্রাম্পকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘তারা আপনাদের সেখানে চায় না। আপনাদের সেনা অন্যত্র মোতায়েন করা উচিত।’ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদের পতনের পর ইসরাইল গোলান মালভূমিতে ইসরাইলি ও সিরীয় বাহিনীর মধ্যকার জাতিসঙ্ঘ তত্ত্বাবধানে থাকা বাফার জোনে সেনা পাঠায়।

    এর পর থেকে ইসরাইল সিরিয়ার ভূখণ্ডে একাধিকবার অভিযান ও বিমান হামলা চালিয়েছে। একই সাথে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একটি নিরস্ত্রীকৃত অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছে।

    লেবাননে ইসরাইলি বাহিনী এখনো মোতায়েন রয়েছে। সেনাবাহিনী জানায়, লেবাননের ভূখণ্ডের প্রায় ১০ কিলোমিটার ভেতর পর্যন্ত বিস্তৃত একটি নিরাপত্তা অঞ্চলে তারা অবস্থান করছে।

    লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে গত মার্চে হিজবুল্লাহ ইসরাইলে হামলা চালিয়ে লেবাননকে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে জড়িয়ে দেয়ার পর দুই দেশ সংঘাতের অবসানে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

    বুধবার রোমে দুই দেশের মধ্যে পঞ্চম দফার আলোচনা শেষ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলা এ আলোচনার লক্ষ্য, দক্ষিণে ইসরাইল ঘোষিত নিরাপত্তা অঞ্চলের বাইরে থাকা দু’টি ‘পাইলট জোন’ থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করা।

    গাজায় ইসরাইলি বাহিনী বর্তমানে ভূখণ্ডটির ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। এছাড়া ইসরাইল ও মিসরের সীমান্তসংলগ্ন পুরো বাইরের পরিধিজুড়েও তাদের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে।

  • ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধের’ ঝুঁকিতে ট্রাম্প

    ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধের’ ঝুঁকিতে ট্রাম্প

    আর্ন্তর্জাতিক ডেস্ক:

    কোনো দেশই যুদ্ধ শুরু করার সময় মনে করে না যে যুদ্ধ চিরদিন চলবে। কিন্তু ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক প্রেসিডেন্ট এমন সব যুদ্ধে জড়িয়েছেন, যা বছরের পর বছর ধরে চলেছে। শেষ পর্যন্ত পরবর্তী কোনো প্রেসিডেন্ট খরচ ও রাজনৈতিক চাপ সহ্য করার মতো না হওয়ায় বিজয় ঘোষণা করে সেনা ফিরিয়ে এনেছেন। সমালোচকদের মতে, ইরানের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একই পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন।

    ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণায় বলেছিলেন, তিনি নতুন যুদ্ধ শুরু করবেন না, বরং যুদ্ধ শেষ করবেন। বিশেষ করে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়াতে চান না। কিন্তু এখন তার নীতিই তাকে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

    ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী হামলা চালিয়ে যুদ্ধ শুরু করে। পরবর্তীতে কখনো আলোচনা অথবা আবার হামলা পর্যায়ক্রমনে চলছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা ট্রাম্পের ঘোষিত লক্ষ্য—ইরানের সরকার পরিবর্তন বা দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ—কোনোটিই অর্জন করতে পারেনি। বরং যুদ্ধের ফলে নতুন একটি বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে। আর তা হলো হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে গেছে।

    কূটনৈতিক আলোচনা আপাতত ব্যর্থ হওয়ায় ট্রাম্প নিজেকে পুনরায় যুদ্ধের ময়দানে দেখতে পাচ্ছেন। যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেছে, হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ, আর যে সমঝোতা স্মারককে সফল বলেছিলেন, সেটিও এক মাসের মধ্যেই ভেঙে পড়েছে।

    বিশ্লেষক আলি ভাইজ বলেন, দুই পক্ষই এই সমঝোতাকে শান্তির সেতু হিসেবে নয়, বরং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আরেকটি উপায় হিসেবে দেখেছে। তাই দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পরিকল্পনা না থাকলে এই যুদ্ধও ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ হয়ে যেতে পারে।

    ‘ফরএভার ওয়ার’ চিরস্থায়ী যুদ্ধের ধারণাটি মূলত ৯/১১-এর পর শুরু হয়। তখন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান ও ইরাকে দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চালায়। শুরুতে সেদেশের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হলেও পরে বিদ্রোহ দমন ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় বহু বছর কেটে যায়। শেষ পর্যন্ত বিপুল অর্থ ও প্রাণহানির পরও স্পষ্ট সাফল্য আসেনি।

    যুদ্ধ বিশেষজ্ঞ লরেন্স ডি. ফ্রিডম্যান বলেন, শক্তিশালী দেশগুলো প্রায়ই মনে করে তারা খুব দ্রুত যুদ্ধ জিতে যাবে। কিন্তু তারা সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতা বুঝতে পারে না। ফলে যুদ্ধ অনেক দীর্ঘ হয়।

    তিনি বলেন, ট্রাম্প যেমন ইরানে, তেমনি ইউক্রেনের ক্ষেত্রে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিজেদের সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হন। তাই তারা এমন লক্ষ্য নির্ধারণ করেন যা দ্রুত অর্জন করা সম্ভব ছিল না।

    শুধু শক্তিশালী সেনাবাহিনী থাকলেই যুদ্ধ জেতা যায় না। যুদ্ধক্ষেত্রের সাফল্যকে স্থায়ী রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সাফল্যে রূপ দিতে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা দরকার। ট্রাম্পের ক্ষেত্রে সমস্যা আরো বেশি, কারণ তিনি স্থলবাহিনী পাঠাতে চান না; শুধু বিমান ও নৌবাহিনীর ওপর নির্ভর করছেন।

    ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশের লক্ষ্য ছিল সীমিত—কুয়েত থেকে সাদ্দাম হোসেনের বাহিনীকে বের করে দেওয়া। তাই সেই যুদ্ধ দ্রুত শেষ হয়। কিন্তু তার ছেলে জর্জ ডব্লিউ. বুশ পরে ইরাকে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করেন, যা শেষ পর্যন্ত ইরানের প্রভাবই বাড়িয়ে দেয়। আফগানিস্তানেও তালেবানকে সরানোর পর নতুন সমাজ গড়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে তালেবান আবার ক্ষমতায় ফিরে আসে।

    কোনো কোনো বিশ্লেষকের মতে, ট্রাম্প মনে করেন তিনি ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লব ও মার্কিন জিম্মি সংকটের পর থেকে চলে আসা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বিরোধের অবসান ঘটাতে চেয়েছিলেন।

    জনস হপকিন্স স্কুল অফ অ্যাডভান্সড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের অধ্যাপক ভ্যালি নাসর বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের এই ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ হলো এমন একটি সংঘাতেরই আরেকটি পর্যায়, যা কখনো উত্তপ্ত হয়েছে, আবার কখনো ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির মতো সমঝোতাও হয়েছে। কিন্তু ট্রাম্প ২০১৮ সালে সেই চুক্তি বাতিল করেন।

    কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের সিনিয়র ফেলো অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, ইসরাইলের প্ররোচনায় ট্রাম্প আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছেন। এই সংঘাত লেবানন, ফিলিস্তিন ও ইয়েমেনে ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমেও চলছে।

    ট্রাম্প চাইলে এখনো তাঁর সমর্থকদের কাছে এই যুদ্ধকে একটি বিজয় হিসেবে তুলে ধরে সরে আসতে পারেন। কিন্তু তিনি বরং আরো বেশি জড়িয়ে পড়ছেন, অথচ শান্তি প্রতিষ্ঠার স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই। আর হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার মার্কিন প্রতিশ্রুতি এবং এই জলপথের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার অবস্থান—দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

    তবে এই যুদ্ধ আফগানিস্তান বা ইরাকের যুদ্ধের মতো নয়। সেখানে বহু বছর ধরে হাজার হাজার মার্কিন সেনা দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করেছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের মদতপুষ্ট নতুন সরকারগুলোর বিরোধী মিলিশিয়া ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই করে মার্কিন সেনারা। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র মূলত একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়ছে।

  • প্রেসিডেন্ট হওয়ারও আগেই খার্গ দ্বীপে নজর ছিল ট্রাম্পের

    প্রেসিডেন্ট হওয়ারও আগেই খার্গ দ্বীপে নজর ছিল ট্রাম্পের

    ইরানে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করার বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি প্রেসিডেন্ট হওয়ার বহু আগে ১৯৮৮ সালেই এটি দখলের চিন্তা করেছিলেন ট্রাম্প।

    পারস্য উপসাগরে ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার (১৫ মাইল) দূরে অবস্থিত ছোট এই দ্বীপটির আয়তন নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

    মার্কিন কর্মকর্তারা একে ইরানের পুরো তেল সরবরাহ ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দ্বীপটির গভীর পানির জেটিগুলো এই অঞ্চলের অল্প কয়েকটি জেটির মধ্যে অন্যতম। কেননা এটি সুপারট্যাঙ্কার ভেড়ানোর সক্ষমতা রয়েছে। ফলে তেল রপ্তানির জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    খার্গ দ্বীপ দিয়ে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়। ফলে এটি দেশটির অর্থনীতির অন্যতম প্রধান প্রাণকেন্দ্র।

    ১৯৮৪ সালের অবমুক্ত একটি সিআইএ নথিতে খার্গ দ্বীপের স্থাপনাগুলোকে “ইরানের তেল ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

    খার্গ দ্বীপ দখলের ধারণা ট্রাম্পের জন্য নতুন নয়। চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার দ্বীপটিতে হামলা চালিয়েছে। এমনকি ১৯৮৮ সালেও, প্রেসিডেন্ট হওয়ার বহু আগে, ট্রাম্প দ্বীপটি দখলের ধারণা নিয়ে কথা বলেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    তবে এ পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে মতভেদ রয়েছে। হোয়াইট হাউসের একাংশের কর্মকর্তাদের মতে, খার্গ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া গেলে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) অর্থনৈতিক সক্ষমতায় বড় আঘাত হানা সম্ভব হবে এবং এতে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

    অন্যদিকে প্রশাসনের আরেকটি অংশ এ ধরনের অভিযানে বিপুলসংখ্যক স্থলসেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাই তারা পরিকল্পনাটি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

  • নৌকাডুবিতে ৫ শতাধিক রোহিঙ্গার মৃত্যুর শঙ্কা

    নৌকাডুবিতে ৫ শতাধিক রোহিঙ্গার মৃত্যুর শঙ্কা

    মিয়ানমার উপকূলে জুনের শেষ দিকে দুটি নৌকাডুবির ঘটনায় পাঁচ শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। যৌথ বিবৃতিতে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও এর শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর ।

    বিবৃতিতে বলা হয়, নৌযান দুটি জুনের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে যাত্রা করেছিল। আরোহীদের বেশির ভাগই ছিল দেশটির মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা। তাদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশের কক্সবাজারে শরণার্থী শিবির থেকেও যাত্রা করেছিল।

    জাতিসংঘের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রায় ২৫০ আরোহী বহনকারী একটি নৌকা সমুদ্রে যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অন্যদিকে প্রায় ২৮০ জন আরোহী নিয়ে যাত্রা করা আরেকটি নৌকা গত ৮ জুলাই মিয়ানমারের আয়েয়ারওয়াডি উপকূলে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, নৌকাডুবির এসব ঘটনা এবং হতাহতের সংখ্যা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। তবে সম্ভাব্য এই ভয়াবহ প্রাণহানিতে আইওএম ও ইউএনএইচসিআর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

  • বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে চীন

    বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে চীন

    বিশ্বের একটি বড় অংশের মানুষের কাছে এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীন বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ওয়াশিংটন-ভিত্তিক খ্যাতনামা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘পিউ রিসার্চ সেন্টার’-এর সাম্প্রতিক এক বিশ্বজনমত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০০২ সালে বৈশ্বিক মনোভাব নিয়ে ট্র্যাকিং শুরু করার পর এই প্রথমবার প্রতিষ্ঠানটি এমন ফলাফল রেকর্ড করল।

    ৩৬টি দেশের ৪২ হাজারেরও বেশি মানুষের ওপর চালানো এই জরিপে দেখা গেছে, ২৫টি দেশের মানুষই যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের প্রতি বেশি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। বিপরীতে, বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি আগের চেয়ে অনেকটাই ক্ষুণ্ন হয়েছে।

    চীনের পক্ষে হাওয়া: স্পেন, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, গ্রিস এবং কানাডার মতো দেশগুলোতে জনমত ব্যাপকভাবে চীনের দিকে ঝুঁকেছে। এছাড়া ইতালি, মেক্সিকো, কলম্বিয়া, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও তুরস্কে চীনের জনপ্রিয়তা রেকর্ড ছুঁয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থক: জরিপ করা ৩৬টি দেশের মধ্যে মাত্র ৬টি দেশে এখনও যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয়তা বেশি। এর মধ্যে রয়েছে আমেরিকার কট্টর মিত্র হিসেবে পরিচিত পোল্যান্ড, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, জাপান এবং ইসরাইল।

    আয় ও আঞ্চলিক বৈচিত্র্য: সাধারণত মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে চীনের জনপ্রিয়তা বেশি দেখা গেছে, আর ধনী দেশগুলোতে নেতিবাচক। তবে ব্যতিক্রম সিঙ্গাপুর—উচ্চ মাথাপিছু আয় সত্ত্বেও দেশটির মানুষ চীনের প্রতি ইতিবাচক। এশিয়ায় চীনের প্রতি সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক পাকিস্তান (৯০%) এবং সবচেয়ে নেতিবাচক জাপান (১১%)।

    বিশ্ব রাজনীতি পরিচালনায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কার ওপর মানুষের আস্থা বেশি? জরিপে দেখা গেছে, সামগ্রিকভাবে বিশ্ববাসীর আস্থা দুজনের প্রতিই বেশ কম (৫০%-এর নিচে)। তবে ট্রাম্পের তুলনায় শি জিনপিং কিছুটা এগিয়ে আছেন।

    গবেষকরা জানান, বিশ্বজুড়ে শি জিনপিংকে নিয়ে মানুষ খুব চরমপন্থী মতামত না দিলেও, ট্রাম্পের ক্ষেত্রে মানুষ তীব্র ইতিবাচক বা তীব্র নেতিবাচক (চরম) প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। ট্রাম্পের প্রতি সর্বোচ্চ ৬৮% আস্থা দেখিয়েছে ফিলিপাইন, আর সর্বনিম্ন ৪% এসেছে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম থেকে।

    গবেষকদের মতে, দেশ দুটির পররাষ্ট্রনীতি এই জনপ্রিয়তার পার্থক্যের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে। হস্তক্ষেপের নীতি: জরিপে অংশ নেওয়া ৭৫% মানুষের ধারণা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করে। চীনের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৪৫%।

    যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অস্থিরতা: জরিপ চলার সময়েই গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর বক্তব্য, ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার মার্কিন প্রচেষ্টা এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার মতো ঘটনাগুলো বিশ্ববাসীকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের শাসনব্যবস্থা একনায়কতান্ত্রিক এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং একজন কর্তৃত্ববাদী নেতা হওয়া সত্ত্বেও, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে চীনের নীতিকে অনেক দেশ বেশি ‘পূর্বানুমানযোগ্য’ বা স্থিতিশীল মনে করছে। পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোতে নিজেদের ভাবমূর্তি বাড়াতে বেইজিংয়ের ধারাবাহিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রচেষ্টাও এই জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ।

  • তুরস্কে ২০১৬ সালের অভ্যুত্থানচেষ্টা যেভাবে পালটে দিয়েছে দেশকে

    তুরস্কে ২০১৬ সালের অভ্যুত্থানচেষ্টা যেভাবে পালটে দিয়েছে দেশকে

    রাস্তায় গোলাগুলি, চলমান ট্যাংক, সরকারি ভবনের ওপর নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া যুদ্ধবিমান, সংসদ ভবনে হামলা – সবকিছুই সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছিল টেলিভিশনে। তিনটি সামরিক অভ্যুত্থান এবং আরও দুটি সামরিক হস্তক্ষেপের অভিজ্ঞতা থাকা একটি দেশের জন্যও ২০১৬ সালের ১৫ জুলাইয়ের রাতটি ছিল নজিরবিহীন।

    অজ্ঞাত একটি স্থান থেকে মোবাইল ফোন অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে সরাসরি একজন টেলিভিশন উপস্থাপকের সঙ্গে কথা বলে এরদোগান সেদিন রাতে তার সমর্থকদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানান। সারা দেশের মসজিদগুলোও তাদের লাউডস্পিকারের মাধ্যমে তার বার্তা প্রচার করে।

    সকালের মধ্যেই অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ হয়। মোট ২৫৩ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ১৮৪ জন ছিলেন বেসামরিক নাগরিক। এছাড়া কথিত ৩৪ জন ষড়যন্ত্রকারীও নিহত হন। অভ্যুত্থানচেষ্টাটি মাত্র কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছিল, কিন্তু এর পরিণতি গত এক দশকে তুর্কি রাজনীতিকে পুনর্গঠন করেছে। এতে দেশের অভ্যন্তরে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে গেছে এবং বিদেশের সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে নির্ধারিত হয়েছে।

    সরকার বলেছিল, গুলেন নেটওয়ার্ককে ভেঙে দিতে এসব ব্যবস্থা প্রয়োজন ছিল। একসময় প্রেসিডেন্ট এরদোগানের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন গুলেন। তার ধর্মীয় আন্দোলনের সদস্যরা কয়েক দশক ধরে তুর্কি রাষ্ট্র ও আমলাতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।

    অভ্যুত্থানচেষ্টার পর হাজার হাজার সেনাসদস্য, যার মধ্যে পদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও জেনারেলও ছিলেন, বিচারক, প্রসিকিউটর বা আইনজীবী, পুলিশ কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ও সরকারি কর্মচারীদের গ্রেফতার, বরখাস্ত বা সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

    গুলেন নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ থাকা শত শত বেসরকারি স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়, পাশাপাশি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ও বন্ধ হয়। সমালোচকদের দাবি, এই দমন অভিযান শুধু কথিত অভ্যুত্থানকারী ও গুলেনপন্থিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং আরও বিস্তৃতভাবে ভিন্নমত দমনেও ব্যবহৃত হয়।

    বিরোধী রাজনীতিকদের অভিযোগ, শুদ্ধি অভিযানের পর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অন্য কিছু ধর্মীয় সম্প্রদায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। তবে সরকারি কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।

    সমর্থকদের মতে, নতুন ব্যবস্থা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আরও কার্যকর শাসন নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, এতে প্রেসিডেন্টের হাতে, বিশেষ করে একজন ব্যক্তির চারপাশে, অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ফ্রিডম হাউজ বলছে, রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থার অধীনে নীতিনির্ধারণে আইনপ্রণেতাদের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে।

    ইস্তানবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক দোগান চেতিনকায়াও এ মূল্যায়নের সঙ্গে একমত। তার মতে, প্রেসিডেন্সিয়াল ব্যবস্থা ‘খামখেয়ালিপনা এবং অস্পষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো’ দ্বারা চিহ্নিত।

    অধ্যাপক চেতিনকায়া বলেন, ১৫ই জুলাইয়ের পর তুরস্কের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে ফেলা হয় এবং তারা তাদের স্বায়ত্তশাসন হারায়। বিচার বিভাগ এবং আইনসভা আর অর্থবহ ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেনি।

    এর পর থেকে জনসমাবেশ আয়োজন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। কর্তৃপক্ষ প্রায়ই সমাবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করছে এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা মোতায়েন করছে। গণমাধ্যমের মালিকানার ওপর সরকারের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং বিশিষ্ট সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার কারণে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাও দুর্বল হয়েছে।২০২৬ সালের রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ১৮০ দেশের মধ্যে তুরস্কের অবস্থান ১৬৩তম।

    ফ্রিডম হাউজ বলছে, গত এক দশকে তুরস্ক সাংবিধানিক পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, স্বাধীন সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের সদস্যদের কারাবন্দি করার মাধ্যমে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে আরও কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠেছে।

    ইস্তানবুলের মেয়র একরেম ইমামোগলু, যাকে ভবিষ্যতের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এরদোয়ানের সবচেয়ে শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করেন অনেকেই, ২০২৫ সালের মার্চে দুর্নীতিসংক্রান্ত অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার সঙ্গে আরও কয়েক ডজন পৌর কর্মকর্তা গ্রেফতার হন। যদিও তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার বিচারপ্রক্রিয়া এখনো চলছে।

    ২০২৬ সালের মে মাসে একটি আদালতের আদেশ কার্যত তার দল, প্রধান বিরোধী দল সিএইচপি-এর নেতৃত্বে হস্তক্ষেপ করে এবং বর্তমান নেতার পরিবর্তে একজন সাবেক নেতাকে দায়িত্ব দেয়। বিরোধীরা এ ঘটনাকে ‘বিচারিক অভ্যুত্থান’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে সরকার গণতান্ত্রের যাত্রা পিছিয়ে দেওয়া সংক্রান্ত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে।

    সরকারের বক্তব্য হলো, অভ্যুত্থানচেষ্টা এবং পরবর্তী শুদ্ধি অভিযানের পর গৃহীত পরিবর্তনগুলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করেছে। কারণ এগুলোর মাধ্যমে রাষ্ট্রের জন্য হুমকি বলে বিবেচিত সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অপসারণ করা হয়েছে।

    ইয়িলদিরিম বেয়াজিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নুরি সালিক বলেন, বর্তমান ব্যবস্থাকে আমি অভ্যুত্থানচেষ্টার মাধ্যমে উন্মোচিত অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলায় রাষ্ট্রের গড়ে তোলা একটি প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখি। এটিকে শুধু কর্তৃত্ববাদের দিকে অগ্রসর হওয়ার পদক্ষেপ হিসেবে দেখি না; বরং রাষ্ট্রের আত্মরক্ষার প্রবৃত্তিরই একটি সম্প্রসারণ হিসেবে দেখি।

    তুরস্ক ওয়াইপিজি-কে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মনে করে। পিকেকে-কে তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পিকেকে-এর সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ দেখা গেছে, যদিও অগ্রগতি এখনো অনিশ্চিত।

    অধ্যাপক সালিকের মতে, ব্যর্থ অভ্যুত্থানচেষ্টা তুর্কি রাষ্ট্রের ভেতরে নিরাপত্তাকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও শক্তিশালী করেছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছিল।

    একই সময়ে, নেটোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তুরস্ক রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে আরও বৈচিত্র্যময় পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করেছে। রাশিয়ান এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বড় ধরনের বিরোধ তৈরি হয়। এর জেরে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং তুরস্ককে এফ-থার্টিফাইফ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি থেকে বাদ দেয়।

    তবে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবেন এবং এফ-থার্টিফাইফ বিক্রির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদিও এমন কোনো পদক্ষেপ কংগ্রেসে উল্লেখযোগ্য বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে।

  • এই জয় ম্যারাডোনার জন্য উপহার: মেসি

    এই জয় ম্যারাডোনার জন্য উপহার: মেসি

    লিওনেল মেসির হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি ওঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন আর্জেন্টাইন ফুটবলের কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা। কিন্তু সেই দৃশ্য দেখার আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যান তিনি। পরে কাতার বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার সেই স্বপ্ন পূরণ করেন মেসি। ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনার বিশ্বকাপ জয়ের ৩৬ বছর পর আর্জেন্টিনাকে আবারও শিরোপা এনে দেন তিনি।

    ২০২২ সালে কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে যে ট্রফিতে চুম্বন করেছিলেন মেসি, চার বছর পর নিউইয়র্কে আবারও সেই স্বপ্ন ছোঁয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছেন এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজরা। দুই গোলের পেছনেই ছিল মেসির অবদান, দুটি অ্যাসিস্টই এসেছে তার পা থেকে। আর এই স্মরণীয় জয়টি তিনি উৎসর্গ করেছেন প্রয়াত কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাকে।

    ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসের এক প্রতিবেদক মেসির হাতে তুলে দেন ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার পরা আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক জার্সি। আবেগঘন সেই মুহূর্তে মেসি জানান, এই জয় ম্যারাডোনার জন্যও বিশেষ এক উপহার।

    মেসি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, দিয়েগো ওপর থেকে এই ম্যাচ উপভোগ করছেন। আজ তার জন্য খুবই বিশেষ একটি দিন। তিনি যেখানেই থাকুন না কেন, তাকে এই আনন্দ দিতে পেরেছি। এটাও তার জন্য একটি উপহার।’

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার এই জয় অনেকের মনেই ফিরিয়ে এনেছে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের স্মৃতি। সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যারাডোনা ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ খ্যাত দুটি গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিলেন। পরে তার নেতৃত্বেই বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় আর্জেন্টিনা।

    চার দশক পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে একই প্রতিপক্ষকে একই ব্যবধানে হারাল আলবিসেলেস্তেরা। আর সেই জয়ের কেন্দ্রে ছিলেন লিওনেল মেসি। ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও তিনি ছিলেন শান্ত ও ধৈর্যশীল। মাঝমাঠে নেমে খেলার ছন্দ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তৈরি করেছেন দুই গোলের সুযোগ।

    প্রথমে এনজো ফার্নান্দেজকে নিখুঁত পাস দিয়ে সমতাসূচক গোলের পথ খুলে দেন। পরে লাউতারো মার্তিনেজের উদ্দেশে ভাসানো ক্রস থেকে আসে জয়সূচক হেড। এখন শিরোপার পথে আর্জেন্টিনার সামনে শেষ বাধা স্পেন।

    আগামী রোববার অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। সেই ম্যাচে জয় পেলে ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে আর্জেন্টিনা।

    তবে ফাইনালের আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক জয়কে ম্যারাডোনার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবেই দেখছেন মেসি। তার বিশ্বাস, আর্জেন্টিনার প্রতিটি বড় অর্জনের সঙ্গে ম্যারাডোনার স্মৃতি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে থাকবে।

  • বাংলাদেশকে ৫০০ শিক্ষাবৃত্তি দেবে সৌদি আরব

    বাংলাদেশকে ৫০০ শিক্ষাবৃত্তি দেবে সৌদি আরব

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিনের সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া।

    বৈঠকে সৌদি সরকার বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে রাজনীতি ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে। বিশেষ করে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সৌদি আরব কীভাবে সহযোগিতা করতে পারে, সে বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি বছর ৫০০ শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। রাষ্ট্রদূত জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যেই তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবহিত করেছেন।

    বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে প্রবেশকে আরও সহজ করা এবং এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়মতান্ত্রিক জটিলতা দূর করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

    এ ছাড়া হজ ও ওমরাহ, দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টির বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সাথে রাষ্ট্রদূতের আলাপ হয়।

    বর্তমানে সৌদি আরবে বসবাসরত প্রায় ৩৮ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি সৌদি আরবের অর্থনীতি ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। একই সঙ্গে তাদের পা

    ঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে উভয় সরকার গুরুত্বারোপ করে।

    সাক্ষাতে সৌদি প্রতিনিধিদলের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন ভাইস অ্যাম্বাসেডর খালিদ সাঈদ এম. আল হাদাল এবং ডেপুটি হেড অব দ্যা কনসুলার সেকশন মুহাম্মদ ফাহাদ ধি. আল সুহাইমি।

  • আল-আকসা মসজিদের ফটক বন্ধ করে দিলো ইসরাইল

    আল-আকসা মসজিদের ফটক বন্ধ করে দিলো ইসরাইল

    সামরিক মহড়ার অজুহাতে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদের একটি ফটক মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সাময়িকভাবে বন্ধ দেয় ইসরাইলি বাহিনী। এ ঘটনায় মুসল্লিদের প্রবেশে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জেরুজালেম গভর্নরেট এক বিবৃতিতে জানায়, ইসরাইলি বাহিনী আল-

    যদিও শুধু কিং ফয়সাল গেট বন্ধ রাখা হয়েছিল, তবে মসজিদের অন্যান্য প্রবেশপথেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এর ফলে মুসল্লিদের স্বাভাবিকভাবে মসজিদে প্রবেশে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
    সাম্প্রতিক সময়ে আল-আকসা মসজিদকে ঘিরে ইসরাইলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বিধিনিষেধ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে নিরাপত্তার অজুহাতে ইসরাইল নজিরবিহীনভাবে ৪০ দিনের জন্য আল-আকসা মসজিদ বন্ধ করে দেয়।
    সে সময় ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের জুমার নামাজ, রমজানের রাতের তারাবির নামাজ এবং ঈদুল ফিতরের নামাজে অংশ নেয়ার জন্য মসজিদে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।

    ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা ওই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এটি নিরাপত্তাজনিত প্রয়োজন নয়; বরং আল-আকসা মসজিদের ইসলামী পরিচয় ক্ষুণ্ন করে সেখানে “ইহুদিকরণ” এগিয়ে নেয়ার একটি প্রচেষ্টা।
    ফিলিস্তিনের আওকাফ ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় চলতি মাসের শুরুতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, জুন মাসে ইসরাইলি বাহিনী ২৬ বার আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে অভিযান চালায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই সময়ে ৪ হাজার ২১২ জন ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন।

    দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে আল-আকসা মসজিদ একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত “স্ট্যাটাস কো” ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে। এই ব্যবস্থায় পুরো ১ লাখ ৪৪ হাজার বর্গমিটার এলাকা জর্ডানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ইসলামিক ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের অধীনে। এর মধ্যে রয়েছে ডোম অব দ্য রক, কিবলি মসজিদ, আশপাশের প্রাঙ্গণ, ফটক ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলো।

    এই ব্যবস্থায় নির্ধারিত সময়ে অমুসলিমরা স্থানটি পরিদর্শন করতে পারলেও সেখানে নামাজ আদায়ের অধিকার শুধুমাত্র মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত। পাশাপাশি স্থাপনাটির রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশাসন ও ধর্মীয় বিষয়গুলোও ওয়াকফ কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করে।
    ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর থেকে ইসরাইল ধীরে ধীরে ‘স্ট্যাটাস কো’ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে আসছে।

    তাদের দাবি, মুসল্লিদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি আল-আকসা প্রাঙ্গণে ইসরাইলি উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ওয়াকফের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সীমিত করা, কর্মীদের অনুমতিপত্র বাতিল এবং দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সেখানে ইহুদিদের প্রার্থনার সুযোগ দেয়ার মাধ্যমে ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা আরও খর্ব করা হয়েছে।

    গত মে মাসে মিডল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে দাবি করে, আল-আকসা মসজিদের ওপর জর্ডানের ঐতিহাসিক অভিভাবকত্ব (কাস্টডিয়ানশিপ) বাতিলের লক্ষ্যে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তবে ওয়াশিংটন এ ধরনের কোনো পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে।

  • বিশ্ববাজারে দাম কমেছে অ্যালুমিনিয়ামের

    বিশ্ববাজারে দাম কমেছে অ্যালুমিনিয়ামের

    আন্তর্জাতিক বাজারে অ্যালুমিনিয়ামের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)-এর একটি বড় পরিশোধনাগার পুনরায় চালু হওয়ার খবরে এ দরপতন হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এমিরেটস গ্লোবাল অ্যালুমিনিয়াম (ইজিএ) জানিয়েছে, সাড়ে তিন মাস বন্ধ থাকার পর অ্যালুমিনা রিফাইনারিটি আবার উৎপাদনে ফিরেছে। এ ঘটনাকে উপসাগরীয় অঞ্চলে ধাতুটির উৎপাদন আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসার একটি বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

    লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) তিন মাস মেয়াদি অ্যালুমিনিয়ামের বাজার আদর্শ মূল্য ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি টন ৩ হাজার ১৪৩ ডলার ৫০ সেন্টে নেমে এসেছে। গত সপ্তাহের শেষ লেনদেনের শুরুর দিকে ধাতুটির দাম প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়েছিল। তবে এ বড় পতনের পরও সপ্তাহের ব্যবধানে অ্যালুমিনিয়ামের সামগ্রিক দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। এর মাধ্যমে টানা পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলতে থাকা দরপতনের অবসান ঘটল। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা কমে আসা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার আশায় দাম কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল।

    বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে দাম বাড়ার সুযোগে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ধাতু বিক্রি করে দিতে বেশি আগ্রহী ছিলেন। কারণ তারা ধারণা করেছেন, বিশ্ববাজারে অ্যালুমিনিয়ামের সরবরাহ আগামীতে আরো বাড়বে। মধ্যপ্রাচ্যে উৎপাদন শুরু হওয়ার পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ার নতুন পরিশোধনাগারগুলো থেকেও উৎপাদন ও সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এ দেশের একটি নতুন শোধনাগার গত মাস থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে অ্যালুমিনিয়াম রফতানি শুরু করেছে।

    ইজিএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আল তাউইলাহ পরিশোধনাগারের উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ শতাংশে উন্নীত হবে। অ্যালুমিনিয়াম তৈরির মূল কাঁচামাল হলো এ অ্যালুমিনা। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এ পরিশোধনাগারের উৎপাদন পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে বাজার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক বাজারে এ পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে এখনো বড় ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পণ্য পরিবহনের বিষয়টি এখনো বেশ অনিশ্চিত।

    এদিকে লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জের নিবন্ধিত গুদামগুলোয় অ্যালুমিনিয়ামের মজুদ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের পর এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। মজুদের এ ঘাটতি বিশ্ববাজারে বর্তমানে ধাতুটির তাৎক্ষণিক সরবরাহ সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    অন্য শিল্প ধাতুর বাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। তামার দাম দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন ১৩ হাজার ৪৯৫ ডলার ৫০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে, যা সপ্তাহ শেষে ১ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি নিশ্চিত করেছে। একই সময় সাংহাই ফিউচার এক্সচেঞ্জে তামার মজুদ ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ কমে গত ডিসেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এর বাইরে সিসার দাম দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৯৬ ডলার এবং নিকেলের দাম দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১৬ হাজার ৭৩৫ ডলারে পৌঁছেছে। প্রধান উৎপাদনকারী দেশ ইন্দোনেশিয়ায় সালফারের ঘাটতির কারণে নিকেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। অন্যদিকে টিনের দাম দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৫৩ হাজার ৪০৫ ডলার এবং দস্তার দাম দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৬১৪ ডলার ৫০ সেন্টে নেমেছে।

  • তিন দেশেরে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা

    তিন দেশেরে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা

    মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি এক নতুন ও ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে জোরালো বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোতে পুনরায় নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে ওয়াশিংটন।

    এর জবাবে উপসাগরীয় ৩ দেশে পালটা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে মার্কিন আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর ওপর প্রস্তাবিত ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে যাওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় এই হামলা ও পালটা হামলার ঘটনা ঘটল।

    এই সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ইতোমধ্যেই ১০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

    ইরানের বিশেষ সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, নতুন করে মার্কিন অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে ইরানের তেল ও গ্যাস রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় তারা মার্কিন মিত্রদের পথও বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

    এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ‘এই অঞ্চলের তেল ও গ্যাস রপ্তানি হয় সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, নয়তো কারো জন্যই থাকবে না।’

    ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেছেন, মার্কিন এই অবরোধের সিদ্ধান্ত গত মাসে হওয়া শান্তি আলোচনার অন্তর্বর্তীকালীন ‘ইসলামাবাদ স্মারক’ চুক্তিকে সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়েছে।

    সংঘাতের পঞ্চম দিনে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা ইরানের উপকূলবর্তী ও প্রণালির নিকটবর্তী ডজনখানেক সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমগুলো বন্দর নগরী আব্বাস, কিশ দ্বীপ এবং বন্দর ইমাম খোমেনিতে বিকট বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে।

    মার্কিন হামলার পরপরই বাহরাইনে সাইরেন বেজে ওঠে এবং কুয়েত ও জর্ডান তাদের আকাশসীমায় ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করে। ইরানি সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন যুদ্ধবিমান ঘাঁটিতে এবং বাহরাইন ও কুয়েতের মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে সফল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি।

  • বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ফ্রান্সে উত্তেজনা, গ্রেফতার কমপক্ষে ১৬০

    বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ফ্রান্সে উত্তেজনা, গ্রেফতার কমপক্ষে ১৬০

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর ফ্রান্সের একাধিক শহরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ম্যাচ শেষে প্যারিস ও লিওঁসহ কয়েকটি এলাকায় সমর্থকদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অভিযান চালিয়ে দুই শহর মিলিয়ে ১৬০ জনের বেশি ব্যক্তিকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘বিএফএমটিভি’ জানিয়েছে, শুধু রাজধানী প্যারিস থেকেই ১৪১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ প্রিফেকচারের তথ্যমতে, বেশির ভাগ গ্রেফতারের কারণ ছিল পুলিশ সদস্য ও জরুরি সেবাকর্মীদের লক্ষ্য করে আতশবাজির মর্টার ছোড়া।

    অন্যদিকে, লিওঁর প্লাস বেলকুর চত্বরে বড় পর্দায় শত শত সমর্থক সেমিফাইনাল উপভোগ করেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও সেখানে অনেকেই অবস্থান করছিলেন। পরে কয়েকটি ছোট দল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু, বিশেষ করে আতশবাজি নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ইউনিট সিআরএস ৮৩-এর সহায়তা নেয় পুলিশ। পরে যৌথ অভিযানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করা হয় এবং প্রায় ২০ জনকে আটক করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের বেশির ভাগই ২০০২ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া তরুণ।

    তবে পুরো ঘটনায় স্বস্তির খবরও রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংঘর্ষের সময় কোনো গুরুতর আহতের ঘটনা ঘটেনি। পাশাপাশি সরকারি বা বেসরকারি সম্পদের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবরও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

  • ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের গোপন নথি হ্যাক

    ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের গোপন নথি হ্যাক

    ভারতের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কুদানকুলাম-সংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ সংবেদনশীল নথি ডার্ক ওয়েবে প্রকাশ করেছে কুখ্যাত র‍্যানসমওয়্যার গোষ্ঠী ওয়ার্ল্ড লিকস। ফাঁস হওয়া নথিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কিছু স্থাপনার কথিত নকশা, সরবরাহকারীদের তথ্য, পরিদর্শন প্রতিবেদন, বৈঠকের নথি, যন্ত্রপাতি মূল্যায়ন এবং বিমা-সংক্রান্ত কাগজপত্র রয়েছে।

    পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য ডন বুধবার (১৫ জুলাই) জানিয়েছে, তামিলনাড়ুর কুদানকুলাম ভারতের সাতটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে সবচেয়ে বড়। এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান প্রকল্প।

    কেন্দ্রটির ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি রিলায়েন্স গ্রুপ রয়টার্সকে জানিয়েছে, তৃতীয় পক্ষের তথ্যকেন্দ্র সেবাদাতা ইয়োটা পরিচালিত একটি সার্ভারে সংরক্ষিত তাদের তথ্যের আংশিক নিরাপত্তা ভেদ করা হয়েছে। বিষয়টি ভারত সরকারকে জানানো হয়েছে। তবে ঠিক কী ধরনের তথ্য ফাঁস হয়েছে, তা প্রতিষ্ঠানটি প্রকাশ করেনি।

    রয়টার্স ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ের তারিখযুক্ত নথিগুলো পর্যালোচনা করলেও সেগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। ওয়ার্ল্ড লিকসের ওয়েবসাইটে রিলায়েন্স-সংক্রান্ত মোট ৮ লাখ ৫৮ হাজার ফাইলের মধ্যে প্রায় ১৯ হাজারকে সবচেয়ে সংবেদনশীল বলে মনে হচ্ছে।

    ফাঁস হওয়া নথিতে নির্মাণাধীন ৩ ও ৪ নম্বর ইউনিটের বায়ু চলাচল ও শীতলীকরণ ব্যবস্থার কথিত নকশা, একটি কমন কন্ট্রোল রুমের পূর্ণ বিন্যাস, অনুমোদিত সরবরাহকারীর তালিকা, ২০২৪ সালের যৌথ পরিদর্শনের নথি ও যন্ত্রপাতির ছবি রয়েছে। এছাড়া একটি নথিতে দাবি করা হয়েছে, সন্ত্রাসী হামলায় ৩ বা ৪ নম্বর ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হলে ১১ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ পাওয়ার মতো বিমাও করা হয়েছে।

    ২০১৮ সালে রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার ৩ ও ৪ নম্বর ইউনিটের অবকাঠামো নির্মাণের চুক্তি পায়। দুটি ইউনিটই এখনো নির্মাণাধীন। ২০২৭ সালে চালু হলে এগুলো থেকে মোট ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।

    ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুৎ করপোরেশন ও দেশটির প্রধান সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সার্ট-ইন ঘটনাটি তদন্ত করছে। ইয়োটা জানিয়েছে, ২৯ মে সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে তা বন্ধ করা হয় এবং র‍্যানসমওয়্যার চালানোর চেষ্টা ঠেকানো হয়। তবে জুনের শেষ দিকে রিলায়েন্স জানায়, বাইরের একটি গোষ্ঠী তথ্য ফাঁসের দাবি করছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব নথি ব্যবহার করে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সহায়ক অবকাঠামো, সরবরাহ শৃঙ্খল ও নিরাপত্তার দুর্বলতা শনাক্ত করা সম্ভব। তবে প্রকাশিত নথিগুলোতে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত রোসাটম সরবরাহ করা পারমাণবিক চুল্লির মূল ব্যবস্থার কোনো তথ্য নেই।

    ওয়ার্ল্ড লিকস এর আগে নাইকি ও টাটা গ্রুপকেও লক্ষ্যবস্তু করেছিল। গত বছর ভারতের ২ কোটি ৮৯ লাখ অ্যাকাউন্টের তথ্য ফাঁস হয়, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের পর বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ।

    ২০১৯ সালেও কুদানকুলাম বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রশাসনিক নেটওয়ার্কে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ম্যালওয়্যার শনাক্ত হয়েছিল। তখন কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল ব্যবস্থা অক্ষত ছিল।

  • বিশ্বকে বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: চীন

    বিশ্বকে বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: চীন

    জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত সান লেই বলেছেন, ইরানের ওপর হামলার মাধ্যমে বিশ্বকে আবারো বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র । মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের উত্তপ্ত বাক্য বিনিমিয় হয়। এসময় ওয়াল্টজ অভিযোগ করেন, ইরান ও ইয়েমেনে হুথিদের কাছে এমন কিছু পণ্য যেতে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না, যেগুলো সাধারণ (বেসামরিক) কাজেও ব্যবহার করা যায়, আবার সামরিক কাজেও ব্যবহার করা সম্ভব।

    তিনি বলেন, ইরান এবং কিছু ক্ষেত্রে চীনের কিছু কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠান জাতিসংঘের একটি অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেছে, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

    এর জবাবে সান লেই বলেন, এই অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তিনি আরো বলেন, চীন এ ধরনের পণ্য রপ্তানির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে।

  • ১৮ কোটি রুপি খরচে প্রতারক স্ত্রীকে খুঁজে বের করলেন চীনা নাগরিক

    ১৮ কোটি রুপি খরচে প্রতারক স্ত্রীকে খুঁজে বের করলেন চীনা নাগরিক

    প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া, ভুয়া সন্তান জন্ম দেওয়া এবং স্বামীকে গাড়ি দুর্ঘটনায় হত্যার ষড়যন্ত্র করে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান স্ত্রী। এটি কোনো রোমাঞ্চকর সিনেমার গল্প নয়, চীনা বিনিয়োগকারী ৫২ বছর বয়সি লি পিং-এর বাস্তব জীবনের এক অবিশ্বাস্য লড়াই।

    দীর্ঘ ৯ বছর ধরে প্রায় ১৮ কোটি রুপি (১৩ মিলিয়ন ইউয়ান বা ১.৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) খরচ করে অবশেষে নিজের প্রতারক সাবেক স্ত্রীকে আইনের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে লি পিং-এর শেয়ার করা ১৫ মিনিটের একটি ভিডিও এ মুহূর্তে চীনজুড়ে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে প্রায় ৭ কোটি ইউয়ান (১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) আয় করেন লি পিং। ২০১৪ সালে একটি ব্যবসায়িক ফোরামে তার সঙ্গে পরিচয় হয় ঝাং শুদান নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তার।

    ঝাং নিজেকে অত্যন্ত দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা এক লড়াকু নারী হিসেবে লির কাছে উপস্থাপন করেন। লির দাবি, ঝাং মূলত তার আর্থিক প্রতিপত্তি দেখেই সুপরিকল্পিতভাবে তার জীবনে প্রবেশ করেছিলেন।

    ঝাংয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তার ব্যাংকে ২ কোটি ইউয়ান জমা রাখেন লি এবং ঝাংয়ের পালক বাবা-মায়ের চিকিৎসার নাম করে বিভিন্ন সময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ সাহায্য করতে শুরু করেন। ২০১৫ সালের শুরুতে ঝাং বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং মার্চ মাসে জানান যে তিনি গর্ভবতী। খুশিতে লি তার জন্য শেনঝেনে ৭৫ লাখ ইউয়ানের একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট কিনে দেন এবং ওই বছরের এপ্রিলেই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

    কিন্তু বিয়ের ঠিক পরের দিনই ঘটে প্রথম রহস্যজনক ঘটনা। লি সড়কপথে শেনঝেন ফেরার সময় তার গাড়ির ব্রেক হঠাৎ বিকল হয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে। অল্পের জন্য বেঁচে যান লি।

    এর কয়েক দিন পর, ব্যাংকের পারফরম্যান্স ভালো দেখানোর অজুহাতে ঝাং স্বামীর কাছ থেকে প্রায় ২৭ লাখ ইউয়ান হাতিয়ে নেন। এর পরপরই নিজের সমস্ত নথিপত্র এবং লির কেনা ৪টি সম্পত্তির মালিকানা দলিল নিয়ে উধাও হয়ে যান ঝাং।

    পরবর্তীতে পুলিশ তদন্তে জানতে পারে, ঝাং হংকং হয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে পালিয়ে গেছেন।

    পরবর্তী তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। পুলিশ জানতে পারে, বিয়ের পর দিন লির গাড়ির ব্রেক বিকল হওয়ার পেছনে ঝাং এবং তার এক সহযোগীর হাত ছিল। লি বলেন, ‘সে কেবল টাকা চুরি করলেই আমি হয়তো এতটা পেছনে লাগতাম না। কিন্তু সে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার চক্রান্ত করেছিল, যাতে স্ত্রী হিসেবে আমার সমস্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারে।’

    প্রতারক স্ত্রীকে খুঁজে বের করতে ১০ লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দেন লি। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশেই ব্যক্তিগত গোয়েন্দা ও আইনজীবী নিয়োগ করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের গির্জা, চীনা কমিউনিটি সেন্টার এবং প্রসূতি কেন্দ্রগুলোতেও তল্লাশি চালানো হয়। দীর্ঘ ৯ বছরের অনুসন্ধান এবং প্রায় ১৮ কোটি রুপি ব্যয়ের পর লস অ্যাঞ্জেলেসে সন্ধান মেলে ঝাং ও তার সন্তানের। ডিএনএ টেস্টে প্রমাণিত হয়, ওই সন্তান লির নয়।

    অবশ্য আইনি লড়াইয়ের শুরুটা সহজ ছিল না। ঝাং তখনো লির আইনি স্ত্রী থাকায় প্রথম দিকে প্রতারণার মামলাটি থমকে যায়। তবে ২০২০ সালে শেনঝেনের একটি আদালত তাদের বিয়ে বাতিল ঘোষণা করে এবং ৪টি সম্পত্তি লি-এর নামে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

    অবশেষে ২০২৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত ঝাং শুদানকে জালিয়াতি, অবৈধ অনুপ্রবেশ, ভিসা জালিয়াতি, শিশু অপহরণ এবং মানবপাচারসহ ২৩টি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে ৬৫ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে।

    ঝাংকে দেশ থেকে পালাতে সাহায্য করা তার সহযোগীদের বিরুদ্ধেও চীনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন লি পিং।

  • প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে নতুন আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে নতুন আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে এবং মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে নতুন আইন (মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬) অত্যন্ত কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

    তিনি বলেন, অপরাধী চক্রের প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল কৌশলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকেও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়েছে।

    আজ বুধবার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত ‘মানব পাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ বিষয়ক জাতীয় অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

    মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান মোকাবেলায় আধুনিক আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে বাংলাদেশের অঙ্গীকার আরো জোরদার করার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন–পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এবং বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ।

    এ সময় মন্ত্রী তার বক্তব্যে শক্তিশালী আইন, কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় ও অবিচল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সদ্য প্রণীত ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ এসব গুরুতর আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবেলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

    তিনি আরও বলেন, নতুন আইনটির সফল বাস্তবায়নের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ, উন্নয়ন সহযোগী এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অপরিহার্য।

    মন্ত্রী বলেন, নতুন আইনটি মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে; অভিবাসী চোরাচালানকে অপরাধ হিসেবে দমন ও বিচারের জন্য একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে; তদন্ত ও বিচার পরিচালনার ক্ষমতা জোরদার করেছে; ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা আরো শক্তিশালী করেছে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ সম্প্রসারিত করেছে। একই সঙ্গে আইনটিতে ভুক্তভোগীদের শাস্তি না দেওয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতি সমুন্নত রাখা হয়েছে, যেন ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে তাদের মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

    জাতীয় পর্যায়ের এই অবহিতকরণ অনুষ্ঠানটি আইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নতুন আইন সম্পর্কে একটি অভিন্ন ও সুস্পষ্ট ধারণা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করে। এতে অংশগ্রহণকারীরা আইনটির মূল বিধান ও বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে মতবিনিময় করেন। তদন্ত থেকে বিচার নিষ্পত্তি পর্যন্ত ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে সমন্বয় জোরদার করাসহ আইনটির কার্যকর প্রয়োগের অগ্রাধিকারগুলোও আলোচনায় উঠে আসে। মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধের অন্যতম গুরুতর রূপ। এসব অপরাধ ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে শোষণ করে, আইনের শাসনকে দুর্বল করে এবং জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।

    অংশগ্রহণকারীরা এসব অপরাধ প্রতিরোধ, ভুক্তভোগী ও বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের সুরক্ষা, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র ভেঙে দেওয়া এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে ধারাবাহিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    অনুষ্ঠানে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম নতুন আইন প্রণয়নের প্রেক্ষাপট, যৌক্তিকতা এবং প্রধান বিধানসমূহ উপস্থাপন করেন। এরপর আইন বাস্তবায়নের অগ্রাধিকার এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজন মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে বাংলাদেশের চলমান প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃঢ় নেতৃত্ব ও সমন্বয়মূলক ভূমিকার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

    অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), বিচার বিভাগ, প্রসিকিউশন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তর, কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

  • মালয়েশিয়ায় ইসরাইলি পেলেই বহিষ্কার

    মালয়েশিয়ায় ইসরাইলি পেলেই বহিষ্কার

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

    মালয়েশিয়ায় কোনো ইসরাইলি নাগরিককে পাওয়া গেলে, সঙ্গে সঙ্গে তাকে বহিষ্কার করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের জোহর রাজ্যে ফরেস্ট সিটিতে একটি বেসরকারি আবাসিক কমিউনিটির কার্যক্রমে একজন ইসরায়েলি জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সরকার কোনো ছাড় দেবে না।

    তিনি বলেন, ‘যদি আমরা কোনো ইসরাইলিকে খুঁজে পাই, তাহলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে দেশ থেকে বের করে দেব। কারণ আমরা ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেই না।’

    মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম ‘ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগগুলো তদন্ত করছে এবং এগুলো সত্য প্রমাণিত হলে সরকার কোনো আপোস করবে না।

    ইসরাইলের পাসপোর্টধারীদের জন্য সাধারণত বিশেষ সরকারি অনুমোদন ছাড়া মালয়েশিয়ায় প্রবেশ নিষিদ্ধ, কারণ দেশটি ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয় না। জোহরভিত্তিক একটি স্টার্টআপ কমিউনিটি ‘নেটওয়ার্ক স্কুল’ সম্পর্কিত অভিযোগের বিষয়ে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত শুরু করেছে।

    পাশাপাশি অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে যে ফরেস্ট সিটির একটি আন্তর্জাতিক কমিউনিটিতে পরিদর্শন করা ২৬৬ জন বিদেশির সকলেরই বৈধ অভিবাসন নথি ছিল। ফরেস্ট সিটি হলো সিঙ্গাপুর সীমান্তের কাছে জোহরে কৃত্রিম দ্বীপের ওপর নির্মিত একটি বড় আকারের মিশ্র-ব্যবহারের উন্নয়ন প্রকল্প।

  • সমঝোতা স্মারক থেকে বেরিয়ে গেল ইরান

    সমঝোতা স্মারক থেকে বেরিয়ে গেল ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়িয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র বারবার সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। সংঘাত বন্ধে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতার কোনো অংশই তেহরান এখন আর মানতে বাধ্য নয় বলে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

    ইরান বলছে, ইরানের বন্দরগুলোতে নতুন করে নৌ অবরোধ আরোপসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র শুধু চুক্তিটি লঙ্ঘনই করেনি বরং এটিকে পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে পুরো হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়ার ঘোষণাও দিয়েছে ইরান।

    এই ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে যখন বুধবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র আবারো ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ কার্যকর করেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে ইরানের হামলার জেরে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন। এর পরই যুক্তরাষ্ট্রের সেনা থাকা বিভিন্ন দেশে নতুন করে হামলা শুরু হয় এবং যুদ্ধ বন্ধে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতাও আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

    ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেছেন, ‘যে মূল্যই দিতে হোক না কেন, হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে ইরান’। তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    তিনি বলেন, সাধারণ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরান ও ওমান— দুই দেশের মধ্যে ভাগাভাগি থাকে। তবে যুদ্ধকালীন জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকা প্রয়োজন। গারিবাবাদি আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কখনোই আলোচনার আবেদন করবে না ইরান।’

  • স্পেনের দাবানলে নিহত ১৩ জনের ১২ জনই বিদেশি

    স্পেনের দাবানলে নিহত ১৩ জনের ১২ জনই বিদেশি

    স্পেনের দক্ষিণে আন্দালুসিয়া অঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলে নিহত ১৩ জনের মধ্যে ১২ জনই বিদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, নিহতদের মধ্যে সাতজন যুক্তরাজ্যের, তিনজন বেলজিয়ামের, একজন ফ্রান্সের এবং একজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। বাকি একজন ছিলেন স্পেনের নাগরিক। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

    নিহত ১৩ জনের মধ্যে আটজন নারী ও পাঁচজন পুরুষ। তাদের সবাই প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন বলে নিহতদের পরিচয় শনাক্তের দায়িত্বে থাকা সরকারি সংস্থা জানিয়েছে।

    গত বৃহস্পতিবার ভূমধ্যসাগর উপকূলসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় আলমেরিয়া প্রদেশে এই দাবানলের সূত্রপাত হয়। মনোরম এই অঞ্চলে বহু বিদেশি নাগরিকের বসবাস করেন।

    প্রচণ্ড বাতাসে আগুন দ্রুত বনাঞ্চল ও তীব্র তাপপ্রবাহে শুকিয়ে যাওয়া ঝোপঝাড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে, একসময় মনোরম গ্রামীণ জনপদগুলো জনশূন্য এলাকায় পরিণত হয়।

    প্রথমদিকে উদ্ধারকর্মীরা ১২টি মরদেহ উদ্ধার করেন। সেগুলো এতটাই পুড়ে গিয়েছিল যে পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা করতে হয়।

    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্পেনের সবচেয়ে প্রাণঘাতী দাবানলগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত এ ঘটনায় প্রায় ৭ হাজার হেক্টর (১৭ হাজার একরেরও বেশি) জমি পুড়ে গেছে। একটি বৈদ্যুতিক তার সড়কের ওপর ছিঁড়ে পড়ে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

    বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। গত রোববার থেকে বাসিন্দারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্পেনে তাপপ্রবাহের মাত্রা ও স্থায়িত্ব বেড়েছে। প্রায়ই তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাচ্ছে, যা দাবানল ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।

    ইউরোপীয় বন অগ্নিকাণ্ড তথ্য ব্যবস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে স্পেনে দাবানলে ৩ লাখ ৯৩ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে ধ্বংস হয়, যা দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

  • ইরাক ছাড়ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী

    ইরাক ছাড়ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী

    দীর্ঘ ২৩ বছর উপস্থিতির পর আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরাক ত্যাগ করবে। মঙ্গলবার আমেরিকা ও ইরাকের কর্মকর্তারা এই যৌথ ঘোষণা দিয়েছেন, যা ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের মাধ্যমে শুরু হয়ে পরবর্তীতে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে অভিযানের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হতে যাচ্ছে।

    এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। হোয়াইট হাউজে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির পাশে দাঁড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমরা মনে করি না যে সেখানে আমাদের আর সামরিক বাহিনীর প্রয়োজন আছে। মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর সাথে ইরাকের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের সম্পর্কটি এখন এক বিশাল অংশীদারিত্বের রূপ নিয়েছে যেখানে সামরিক বাহিনীর আর প্রয়োজন নেই।

    ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদি বলেন, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মার্কিন বাহিনী ইরাক থেকে বের হয়ে যাবে। তবে মার্কিন কোম্পানিগুলো ইরাকের ভেতরেই থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র এখন আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের দায়িত্ব প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইরাকি সেনাদের ওপর হস্তান্তর করছে। ২০০৩ সালের মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে এক ব্যাপক বিমান হামলার মাধ্যমে আক্রমণ শুরু করেছিল। এরপর বাগদাদে মার্কিন পদাতিক সেনা প্রবেশ করে।

    এই আক্রমণটি মূলত সাদ্দাম হোসেনের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র লুকিয়ে রাখার ভুয়া দাবির ওপর ভিত্তি করে চালানো হয়েছিল। যার কোনো অস্তিত্ব পরবর্তীতে আর পাওয়া যায়নি। ২০০৭ সালে ইরাকে বিদ্রোহ দমনের চরম পর্যায়ে মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৭০ হাজারে পৌঁছেছিল। ওবামা প্রশাসন ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের আলোচনা সম্পন্ন করার পর ২০১১ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ যুদ্ধকালীন মার্কিন সেনারা ইরাক ত্যাগ করে।

    ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেটের উত্থান এবং ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল এলাকা তাদের দখলে চলে যাওয়ার পর ইরাক সরকারের আমন্ত্রণে মার্কিন ও সহযোগী দেশের বাহিনী পুনরায় দেশটিতে ফিরে আসে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ভেঙে পড়া পুলিশ ও সামরিক ইউনিটগুলোকে পুনর্গঠন ও নতুন করে প্রশিক্ষণ দেয়া। আইএস তাদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল হারানোর পর ২০২১ সালে জোটের সামরিক অভিযান শেষ হয়। তবে প্রশিক্ষণ ও যৌথ অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রায় আড়াই হাজার সেনা ইরাকে রেখেছিল।

  • দামুড়হুদায় বিজিবির অভিযানে স্বর্ণের বারসহ আটক ১

    দামুড়হুদায় বিজিবির অভিযানে স্বর্ণের বারসহ আটক ১

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা মূল্যের আটটি স্বর্ণের বারসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    বুধবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার মুন্সিপুর বিওপির সামনের সড়কে এ অভিযান চালানো হয়।

    আটক মো: মিজানুর রহমান (৬১) দামুড়হুদা উপজেলার পিরপুরকুল্লা গ্রামের মৃত সোলেমান মোল্লার ছেলে।

    বিজিবি চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) জানায়, মুন্সিপুর সীমান্ত দিয়ে সোনার একটি বড় চালান ভারতে পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্তে বিশেষ টহলদল মোতায়েন করা হয়। বেলা আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটে কার্পাসডাঙ্গা বাজার থেকে মোটরসাইকেলে মুন্সিপুর বিওপির সামনের সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় সন্দেহভাজন মিজানুর রহমানকে থামানো হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি লুঙ্গির ভাঁজে স্বর্ণ লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেন। এরপর তল্লাশি চালিয়ে তার কোমরে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় আটটি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।

    চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: নাজমুল হাসান জানান, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৭৬ লাখ ১ হাজার ২৩০ টাকা। এছাড়া পাচারের কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, আটক ব্যক্তি ও জব্দকৃত মালামাল দামুড়হুদা থানায় হস্তান্তর এবং সোনা চুয়াডাঙ্গা ট্রেজারি অফিসে জমা দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

  • অবরোধ কার্যকরে ২০ যুদ্ধজাহাজ, কয়েক শ উড়োজাহাজ মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের

    অবরোধ কার্যকরে ২০ যুদ্ধজাহাজ, কয়েক শ উড়োজাহাজ মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর ওয়াশিংটন সময় গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টা (২০:০০ জিএমটি) থেকে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় আবার নৌ অবরোধ কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনী নৌ অবরোধ কার্যকর করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    গতকাল বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, ‘বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ এবং শতাধিক সামরিক উড়োজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অভিযান পরিচালনা করছে। মার্কিন বাহিনী সর্বদা সতর্ক, লড়াকু ও যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।’

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা চালায়। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয়। বিশ্ববাজারে পণ্য সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি। এ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক–পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়।

    তেহরান গত মার্চ মাস থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিলে ওয়াশিংটন এপ্রিল মাসে ইরানের বন্দরগুলো ও উপকূলীয় এলাকায় নৌ অবরোধ জারি করে। এর ফলে ইরানের বন্দরগুলোতে পণ্যবাহী জাহাজের প্রবেশ ও সেখান থেকে সেগুলোর বের হওয়া আটকে যায়। পরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারক সই হলে জুন মাসে সেই অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

    মার্কিন নৌবাহিনীর ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড।

    সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলা–পাল্টা হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। উভয় দেশ পরস্পরের বিরুদ্ধে থেমে থেমে হামলা চালাতে ও চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করতে থাকে। গত সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের আওতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি হঠাৎ বাতিল ঘোষণা করেন ট্রাম্প। এ সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প আবার নৌ অবরোধ কার্যকর করার ঘোষণা দেন।

    শুধু নৌ অবরোধ কার্যকর করা নয়, বরং গতকাল টানা চতুর্থ রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, তেহরান যদি আবার আলোচনায় না ফেরে, তবে আগামী সপ্তাহে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোতে হামলা চালানো হতে পারে। মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচল করা বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার সক্ষমতা আরও দুর্বল করে দিতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে দেশটির ওপর হামলা চালিয়েছে।

    ইরানের বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস।

    ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। ইরানের সেনাবাহিনী আজ বুধবার ভোরে জানিয়েছে, তারা জর্ডানের আজরাক ঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন অবস্থানগুলোয় ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন কোনো মন্তব্য করেনি।

    ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা বাহরাইন এবং কুয়েতেও অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

  • ‘আমরা কখনও এটা করিনি’

    ‘আমরা কখনও এটা করিনি’

    চিত্রনাট্য হাতে পেয়ে সংলাপের সংখ্যা গোনার চেয়ে চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক যাত্রা ও গভীরতাকে প্রাধান্য দেন অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু। তার অভিনীত তেমনই একটি সিনেমা ‘মাস্তুল’। আগামী শুক্রবার (১৭ জুলাই) দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে এটি। সেই উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যায় ধানমণ্ডির রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারে সিনেমাটির একটি বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

    সিনেমায় বাবুর কোনো সংলাপ নেই, তবে নিখুঁত অভিনয় আর ভাব-অভিব্যক্তিতে পর্দায় চরিত্রটি জীবন্ত করে তুলেছেন তিনি। চরিত্রটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এমনটাই জানালেন এই অভিনেতা।

    সিনেমাটির মূল কাহিনি আবর্তিত হয়েছে একটি জ্বালানিবাহী তেলের ট্যাংকারের বৃদ্ধ পাচক মকবুল এবং বন্দর এলাকার এক পথশিশু নূরাকে ঘিরে। তাদের মনস্তাত্ত্বিক সম্পর্কের সমীকরণে পর্দায় উঠে এসেছে নদী বন্দরের প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রা, একাকীত্ব, স্নেহ, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং বেঁচে থাকার লড়াই।

    ‘মকবুল’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাবু। তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্রে আমাদের কিছু অভিনেতা-অভিনেত্রী আছেন, যারা স্ক্রিপ্ট পেলে কয়টা সংলাপ আছে তা মার্ক করে। কিন্তু থিয়েটার থেকে আমরা যারা এসেছি, আমরা কখনও এটা করিনি। অভিনয় আসলে শুধু সংলাপ না, এটি অ্যাকশন ও রিঅ্যাকশন। আমার চরিত্রটির জার্নি বা গ্রাফটা কেমন, সেটাই মূল বিষয়। আমরা সবসময় চেষ্টা করি নিজের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে চরিত্রের মধ্যে ডুবে থাকার।’

    ‘মাস্তুল’ দেখার আহ্বান জানিয়ে বাবু বলেন, ‘আপনারা সিনেমাটি দেখেছেন, সবাইকে অনুরোধ করব পরিবার নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে এসে সিনেমাটি দেখার। সিনেমাটি দেখে একটা গল্প নিয়ে ফিরবেন।’

    এ সিনেমায় ফজলুর রহমান বাবু ছাড়াও অভিনয় করেছেন দীপক সুমন, আমিনুর রহমান মুকুল, আরিফ হাসান, সিকদার মুকিত, শাহজাহান শোভন ও সিফাত বন্যাসহ অনেকে।

    সিনেমার জন্য অভিনেতা বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে জানতে চাইলে নির্মাতা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, ‘আমার কাস্টিং ফিলোসফি খুবই সিম্পল। আমার কল্পনার চরিত্রটির সাথে সামনে থাকা একজন রক্ত-মাংসের মানুষের অবয়ব যখন মিলে যায়, তখন তাকেই কাস্ট করি। এই সিনেমায় সবচেয়ে বেশি অডিশন দিতে হয়েছে “সুকানি” চরিত্রটির জন্য। অনেক নামী অভিনেতা এই চরিত্রের দৌড়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত আমরা দীপক সুমনকে বেছে নিয়েছি, তার কাজের কোনো তুলনা নেই।’

    নির্মাতা আরও বলেন, ‘আমি যে সিনেমা দেখতে চাই, সেটাই বানাতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, এই ধরনের সিনেমা দেখার মতো একটি দর্শকশ্রেণী বাংলাদেশে আছে। হয়তো সংখ্যায় খুব বড় নয়, কিন্তু দিন দিন সেই দর্শক বাড়ছে।’

    বিশেষ এই প্রদর্শনীতে দেশের শিল্প-সাহিত্য ও চলচ্চিত্রাঙ্গনের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রদর্শনী শেষে ‘মাস্তুল’র মেকিং ও থিমের প্রশংসা করেন ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’খ্যাত পরিচালক মসিহউদ্দিন শাকের। তিনি বলেন, ‘পুরো সিনেমাটি আমার বেশ ভালো লেগেছে। এটি দেখতে অনেকটা প্রামাণ্যচিত্রের মতো মনে হলেও ভেতরে একটি দারুণ গল্প রয়েছে। বিশেষ করে সিনেমায় যে জীবনযাত্রা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তা আমাদের অনেকের কাছেই বেশ অচেনা। এমন একটি ভিন্নধর্মী ও সুন্দর থিম নিয়ে কাজ করার জন্য পরিচালককে ধন্যবাদ।’

    উল্লেখ্য, গত বছর মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে ‘স্পেশাল মেনশন’ পুরস্কার পায় মাস্তুল। এরপর একাধিক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হওয়ার পর এবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি।

  • ইরান যুদ্ধ : ট্রাম্পের প্রতিরক্ষা বিল আটকে দিলেন ডেমোক্র্যাটরা

    ইরান যুদ্ধ : ট্রাম্পের প্রতিরক্ষা বিল আটকে দিলেন ডেমোক্র্যাটরা

    যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্যরা বার্ষিক প্রতিরক্ষানীতি–বিষয়ক একটি বিল নিয়ে বিতর্ক শুরু করার একটি প্রস্তাব (এনডিএএ) আটকে দিয়েছেন। তাঁরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চালানো ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও বৃদ্ধি করার প্রস্তাবেরও বিরোধিতা করেছেন ডেমোক্র্যাটরা।

    গতকাল মঙ্গলবার সিনেটে বার্ষিক প্রতিরক্ষানীতি–বিষয়ক বিল নিয়ে বিতর্ক শুরু করতে উত্থাপিত প্রস্তাবটি নিয়ে ভোটাভুটি হয়। ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটি ৫০-৪৬ ভোটে খারিজ হয়ে যায়। এর মধ্য দিয়ে কংগ্রেসে পাস হওয়ার আশায় থাকা অল্প কয়েকটি বিলের মধ্যে একটি বিরলভাবে ধাক্কা খেল।

    বার্ষিক এই প্রতিরক্ষানীতি–বিষয়ক বিলের মাধ্যমে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১ লাখ ১৫ হাজার কোটি ডলারের সামরিক বাজেটের বড় একটি অংশ অনুমোদনের কথা ছিল। তবে ১০০ সদস্যের সিনেটে বিতর্ক শুরু করতে প্রস্তাবটির পক্ষে অন্তত ৬০ ভোটের প্রয়োজন ছিল।

    ডেমোক্র্যাটদের যুক্তি হলো, ট্রাম্প যখন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরও জোরদার করছেন, তখন কংগ্রেসের এই বিল নিয়ে এগিয়ে যাওয়া উচিত নয়। দলের অনেক সদস্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির বিরোধিতা করেছেন। পাশাপাশি পেন্টাগনের জন্য প্রস্তাবিত রেকর্ড পরিমাণ বাজেট নিয়েও তাঁরা আপত্তি জানান।

    সিনেটে ভোটাভুটির আগে ডেমোক্র্যাটদের নেতা চাক শুমার দলীয় সদস্যদের বিলটির বিরোধিতা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এটি ট্রাম্প প্রশাসনকে কংগ্রেসের তদারকি ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ‘ছাড়পত্র’ দেবে।

    কংগ্রেসের বাইরেও নাগরিক স্বাধীনতা, পররাষ্ট্রনীতি ও যুদ্ধবিরোধী ১৪টি সংগঠনের একটি জোট বিলটির বিরোধিতা করেছে। ট্রাম্পের চালানো ইরান যুদ্ধকে অননুমোদিত উল্লেখ করে তারা বলেছে, এ যুদ্ধে অর্থায়ন বন্ধের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত বার্ষিক প্রতিরক্ষানীতি–বিষয়ক বিলটি এগিয়ে নেওয়া উচিত নয়।

    ক্রিস ভ্যান হলেন, বার্নি স্যান্ডার্স, এলিজাবেথ ওয়ারেন, এড মার্কি, জেফ মার্কলি, পিটার ওয়েলচসহ কয়েকজন ডেমোক্র্যাট সিনেটর গত সপ্তাহে সহকর্মীদের উদ্দেশে একটি চিঠি লেখেন। সেখানে তাঁরা সহকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, বিতর্কের সুযোগ না দিয়ে যেন ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্ট (এনডিএএ) এগিয়ে নেওয়া না হয়।

    চিঠিতে তাঁরা লিখেছেন, ‘সিনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্য হিসেবে আমাদের এমন কোনো ভোট দেওয়া উচিত নয়, যা ট্রাম্পকে নেতানিয়াহুর চরমপন্থী সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও গভীর করতে উৎসাহিত করবে।’

    ভোটাভুটির আগে এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিওতে সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন বলেন, এই বিল পেন্টাগনের জন্য ‘অস্বাভাবিকভাবে বড়’ বাজেট অনুমোদনের পথ খুলে দেবে। পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের অবৈধ যুদ্ধের ওপর কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করবে না।

  • মোসাদে বিষয়ে যা বললেন আহমাদিনেজাদ

    মোসাদে বিষয়ে যা বললেন আহমাদিনেজাদ

    ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ তাঁকে ইরানের ক্ষমতায় বসানোর চেষ্টা করেছিল এবং তিনি গৃহবন্দী অবস্থানে আছেন—একটি প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক টাইমসের এমন দাবি গতকাল মঙ্গলবার প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। তিনি বলেছেন, ‘এ দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

    আহমাদিনেজাদের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে উল্টো অভিযোগ করে বলা হয়, জনমতকে বিভ্রান্ত করা এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ বিভাজন উসকে দেওয়ার লক্ষ্যে নিউইয়র্ক টাইমস মনগড়া এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

    বিবৃতিতে আহমাদিনেজাদকে গৃহবন্দী করে রাখার দাবিও অস্বীকার করা হয়েছে। তাঁর কার্যালয়ের দাবি, সংবাদপত্রটি নিজেদের ‘অবাস্তব’ দাবির পক্ষে সমর্থনের জন্যই মনগড়া এ (গৃহবন্দী) অভিযোগ করেছে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে যেসব দাবি করা হয়েছে তার সবই সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং আমরা এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।’

    নিউইয়র্ক টাইমস গত সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ আহমাদিনেজাদকে ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতায় রাজি করানোর চেষ্টা এবং তাঁকে ইরানের নেতৃত্বের জন্য সম্ভাব্য একজন প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করেছিল। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, সাবেক এ প্রেসিডেন্ট বর্তমানে গৃহবন্দী রয়েছেন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে চালানো হামলার পর দেশটিতে সরকার পরিবর্তন ঘটানোর বৃহত্তর ইসরায়েলি চেষ্টার অংশ ছিল এ পরিকল্পনা।

    মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েল গোপনে আহমাদিনেজাদের বাসস্থান ও ভ্রমণ খরচের জন্য অর্থ প্রদান করেছে এবং ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বিদেশে বেশ কয়েকবার তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এর মধ্যে বুদাপেস্ট সফরের সময়ের বৈঠকও রয়েছে।’

    সংবাদপত্রটি আরও দাবি করেছে, এ চেষ্টার চূড়ান্ত পর্যায় ঘটে গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের শুরুর দিনগুলোতে। সে সময় ইরানে সরকার উৎখাতের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আহমাদিনেজাদকে তেহরান থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ইসরায়েলি গোয়েন্দারা এবং তাঁকে দেশটির নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল আহমাদিনেজাদের বাসভবনকে নিশানা করে একটি বিমান হামলা চালায়। হামলায় তাঁর দেহরক্ষীদের ভবন ও বুলেটপ্রুফ একটি গাড়ি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।

    ইরানের চারজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে আরও দাবি করা হয়, হামলার পর ঘটনাস্থলে একটি কালো রঙের প্যুজো গাড়ি এসে আহমাদিনেজাদকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নেয়।

    অভিযান সম্পর্কে অবগত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, মোসাদের সদস্যরা গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। তাঁরা আহমাদিনেজাদকে ইরানের ভেতরে একটি গোপন নিরাপদ আস্তানায় নিয়ে যান।

    নিউইয়র্কে ইহুদিবাদবিরোধী অতিরক্ষণশীল ইহুদি সংগঠন ‘নেতুরেই কার্তা’–এর রেবাই মোশে বের বেকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। ২০০৮ সালের ২৪ সেপ্টেম্বরছবি: রয়টার্স

    তবে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, এ তড়িঘড়ি উদ্ধার অভিযানে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন আহমাদিনেজাদ। একই সঙ্গে তাঁকে আবার ক্ষমতায় বসানোর ইসরায়েলের পরিকল্পনা নিয়েও তাঁর মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছিল।

    ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। গত সপ্তাহে তাঁর জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠিত হয়। আহমাদিনেজাদ জানাজায় অংশ নিয়েছেন। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটাই ছিল জনসমক্ষে তাঁর প্রথমবার উপস্থিত হওয়া।

    ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আহমাদিনেজাদ। একজন সংস্কারবাদী এবং কট্টর ইসরায়েল ও মার্কিনবিরোধী নেতা হিসেবে তাঁর বিশেষ পরিচিতি রয়েছে।

    প্রসঙ্গত, মানচিত্র থেকে ইসরায়েলকে মুছে ফেলার ঐতিহাসিক আহ্বানটি জানিয়েছিলেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। পরে ২০০৫ সালে প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ একটি সম্মেলনে খোমেনির এ বক্তব্য আবার উদ্ধৃত করে নতুন করে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি করেন। সংবাদমাধ্যমগুলোতে তাঁর এ বক্তব্যটি ইংরেজিতে ‘wipe Israel off the map’ (মানচিত্র থেকে ইসরায়েলকে মুছে ফেলা) হিসেবে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছিল

  • আইন ভাঙার খেলায় মত্ত: ট্রাম্প

    আইন ভাঙার খেলায় মত্ত: ট্রাম্প

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী পণ্যবাহী জাহাজ থেকে তাঁর দেশ ২০ শতাংশ ফি বা টোল আদায় করবে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের মতেই এ ধরনের ফি আদায় করা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।

    বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ সামুদ্রিক জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই গত সোমবার ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন।

    এ জলপথকে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহে দুই দেশ একে অপরের ওপর কয়েকবার হামলা, পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এ কারণে তাদের মধ্যকার মাসখানেক ধরে চলা যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে।

    চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে এ মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সূত্রপাত। এর পর থেকে ইরান এ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর মাঝেমধ্যেই হামলা চালিয়ে আসছে। বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিজেদের উপকূলের কাছাকাছি পথ ব্যবহারে বাধ্য করতেই ইরান এ কৌশল নিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে নিজেদের পক্ষ থেকে টোল আদায়ের পথ তৈরি করতেই এমনটা করছে তারা।

    টোল আদায়ের এ পরিকল্পনা ঘোষণার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, এই জলপথে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে মার্কিন সামরিক বাহিনী যে নিরাপত্তা দিচ্ছে, তার খরচ উশুল করতেই এ ফি নেওয়া হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘হরমুজ প্রণালি মুক্ত আছে এবং ইরানের সহযোগিতা ছাড়াই এটি মুক্ত থাকবে।’

    ট্রাম্প আরও বলেন, ‘যেকোনো এবং সব ধরনের প্রয়োজনীয় খরচ’ মেটাতে যুক্তরাষ্ট্র এ ২০ শতাংশ ফি আদায় করবে। এটিকে ন্যায়সংগত হিসেবেও আখ্যায়িত করেন তিনি। সেই সঙ্গে জানান, যুক্তরাষ্ট্র আবার ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করা শুরু করবে।

    টোল আদায়ের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবারই প্রথম এমন হুমকি দিলেন না। গত মাসে ইরানের সঙ্গে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি সইয়ের পরও তিনি এমন সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। যদিও ওই চুক্তির একটি ধারার এমন ব্যাখ্যা তেহরান দিয়েছিল যে হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের কর্তৃত্ব রয়েছে।

    স্মারকে আরও বলা হয়েছিল, চুক্তি–পরবর্তী ৬০ দিন কোনো দেশই কোনো ধরনের টোল আদায় করতে পারবে না। তবে এর পরের সময়ের জন্য এই ফি আরোপের পথ খোলা রাখা হয়।

    এ বিষয় এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। এ ২০ শতাংশ ফি কীভাবে হিসাব করা হবে বা কীভাবে আদায় করা হবে, সে বিষয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু জানাননি। তা ছাড়া তাঁর এ অবস্থান কেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, সে ব্যাখ্যাও ট্রাম্প বা তাঁর উপদেষ্টারা দেননি।

    গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনো টোল আরোপ করা যাবে না। তিনি উল্লেখ করেছিলেন, ‘কোনো আন্তর্জাতিক জলপথে কোনো দেশেরই টোল বা ফি আদায়ের অনুমতি নেই। এটাই বর্তমান আন্তর্জাতিক আইন।’

    একদিকে টোল আদায়ের ঘোষণা এবং অন্যদিকে ইরানের বন্দরগুলো আবার অবরোধের নির্দেশ—সব মিলিয়ে এ যুদ্ধ থামানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সামনে বিকল্প যে ক্রমেই কমে আসছে, তাঁর এ পদক্ষেপগুলোয় সেটিই ফুটে উঠেছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাহাজের মালামালের মূল্যের ওপর ২০ শতাংশ ফি আরোপ করা হলে এ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের খরচ দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে যেতে পারে।

    উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০ লাখ ব্যারেল তেল বহনকারী একটি বড় ট্যাংকারের ক্ষেত্রে এ ফি বাবদ ৩ কোটি ডলারের বেশি বাড়তি খরচ যোগ হতে পারে। ফলে সাধারণ ভোক্তাদের স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি দামের মুখে পড়তে হবে।

    বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ওই অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজ পরিচালনাকারীদের কাছে এ মুহূর্তে ফির আশঙ্কার চেয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বন্দ্ব আরও বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিই বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মালাক্কা প্রণালিকে এ ক্ষেত্রে একটি সম্ভাব্য উদাহরণ হিসেবে ধরা যেতে পারে, যা আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। এ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়। সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া যৌথভাবে এ জলপথ পরিচালনা করে।

    এ জলপথে চলাচলকারী জাহাজগুলো শুধু তখনই ফি দেয়, যখন তাদের নির্দিষ্ট কোনো সেবার প্রয়োজন হয়। যেমন কোনো জাহাজ টেনে নেওয়ার জন্য সাহায্য বা প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশগুলো পার হওয়ার জন্য দিকনির্দেশনার প্রয়োজন হলে তারা ফি দেয়। কিন্তু শুধু এ জলপথ দিয়ে যাতায়াত বা পারাপারে জাহাজগুলোকে কোনো অর্থ দিতে হয় না।

    তা ছাড়া মালাক্কা প্রণালির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিও সম্পূর্ণ ভিন্ন। জলপথটি পরিচালনাকারী তিনটি দেশের মধ্যে বড় ধরনের কোনো দ্বন্দ্ব নেই এবং তারা প্রায় ছয় দশক ধরে নিজেদের মধ্যে যেকোনো যুদ্ধ এড়িয়ে চলতে পেরেছে।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ট্রাম্পের এ ঘোষণার পর একহাত নিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন যখন নিজেই ইরানের টোল আদায়ের ধারণাকে নাকচ করে দিয়েছিল, তখন ট্রাম্পের নিজের মুখে টোলের ঘোষণা দেওয়াটা বেশ হাস্যকর।

    আব্বাস আরাগচি অবশ্য ট্রাম্পের একটি কথার সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, ট্রাম্প ‘একেবারে ঠিক’ বলেছেন যে যারা এই প্রণালিতে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করবে, তাদের ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত। তবে এ কথা বলার পর আরাগচি দাবি করেন, ইরানই আসলে এ জলপথের নিরাপত্তা দিচ্ছে।

    এরপর আরাগচি স্পষ্ট উপহাসের সুরে বলেন, ‘অবশ্য ২০ শতাংশ ফি অনেক বেশি। আমরা ন্যায্য ফি রাখব।’ চলতি যুদ্ধের শুরুর দিকে তেহরান যখন এ জলপথ কার্যকরভাবে বন্ধ করে ফেলেছিল, তখন থেকেই ইরানি কর্মকর্তারা বারবার এ প্রণালি থেকে অর্থ উপার্জনের ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছেন।

    জানা গেছে, ইরান এবং এ প্রণালির দক্ষিণে অবস্থিত দেশ ওমান যৌথভাবে এ জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে ফি আদায়ের উপায় খুঁজছে। ওমানের এ প্রস্তাব মূলত মালাক্কা প্রণালির আদলে তৈরি করা হয়েছে। তবে এ ফি দেওয়াটা বাধ্যতামূলক নাকি স্বেচ্ছামূলক হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

  • মধ্যপ্রাচ্যের সব সমুদ্রপথ বন্ধ করবে ইরান

    মধ্যপ্রাচ্যের সব সমুদ্রপথ বন্ধ করবে ইরান

    যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সুবিধা দেয়, এমন অন্য সব জ্বালানি রপ্তানির করিডর বন্ধের হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। দেশটির সংবাদমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশ হয়েছে।

    আইআরজিসির এ হুমকির আগে ইরান নতুনভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করেছে।

    আজ বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ‘আঞ্চলিক জ্বালানি রপ্তানির সুবিধা হয় সবাই পাবে, না হয় কেউই পাবে না।’

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরান মূলত ইয়েমেনের মিত্র গোষ্ঠী হুতিদের ব্যবহারে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব–এল–মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার সম্ভাব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি জ্বালানি পরিবহনের পথ ঝুঁকির মুখে পড়বে।

    সংকীর্ণ এই প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের বড় এক অংশ এ পথ দিয়েই সম্পন্ন হয়।

    ইরানের প্রেস টিভির খবরে বলা হয়, গত সোমবার হুতিদের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সৌদি আরব যদি ইয়েমেনে হামলা চালিয়ে যায়, তবে তাঁরা বাব–এল–মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত আছেন। তাঁর দাবি, এমনটি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম বেড়ে ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

    এদিকে সোমবার নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বিমানবন্দরে সৌদি আরব বোমা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ এনে দেশটিতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছেন হুতিরা। এর মধ্য দিয়ে সৌদি আরব ও ইরান–সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর মধ্যে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়।

    হুতিরা এর আগেই প্রমাণ করেছেন যে বাব–এল–মান্দেব প্রণালি বন্ধ করার মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যাহত করার সক্ষমতা তাঁদের আছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর ইরান–সমর্থিত এ গোষ্ঠী লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলা শুরু করেছিল। তাদের দাবি ছিল, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েল–সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো তারা নিশানা করছে।

    হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার সক্ষমতা ‘দুর্বল করতে’ নতুন দফায় দেশটিতে হামলা শুরু হয়েছে বলে মার্কিন বাহিনীর ঘোষণার এক দিন পরই আইআরজিসি নতুন ওই হুমকি দিয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, গত এক সপ্তাহে ইরান সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এতে প্রায় এক ডজন নাবিক নিহত, নিখোঁজ বা আহত হয়েছেন।

    গতকাল মঙ্গলবার রাতে মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা হরমুজ প্রণালির আশপাশ ও ইরানের উপকূলীয় এলাকায় কয়েক ডজন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে বলেছে, টানা সাত ঘণ্টা ধরে এ অভিযান চালানো হয়।

    আইআরজিসি আজ বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অশুভ তৎপরতার অবসান না হওয়া পর্যন্ত’ হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে। ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ প্রতিদিন এ প্রণালি দিয়ে আনা ও নেওয়া করা হতো। আইআরজিসির দাবি, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে তারা বাহরাইনে থাকা মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

  • এখন আমার মরার সময় নয় বলার কয়েক ঘণ্টা পরই মৃত্যু

    এখন আমার মরার সময় নয় বলার কয়েক ঘণ্টা পরই মৃত্যু

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একনিষ্ঠ মিত্র এবং বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক অভিযানের দীর্ঘদিনের সমর্থক, সাউথ ক্যারোলাইনার সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম শনিবার গভীর রাতে হঠাৎ মারা গেছেন। শনিবার তার মৃত্যু হয়। এতে ইউক্রেন ও ইসরাইলের মতো দেশগুলো কংগ্রেসে একজন একনিষ্ঠ সমর্থক এবং ট্রাম্পের কানে কথা বলার মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বরকে হারালো।এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি বলেছিলেন, এখনই আমি মরতে পারি না। এখনও আমার অনেক কাজ বাকি।

    অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জীবনের শেষ কয়েক সপ্তাহে গ্রাহাম সৌদি আরব ও ইসরাইলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি উচ্চাভিলাষী কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছিলেন।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের সঙ্গে সর্বশেষ ফোনালাপে গ্রাহাম সম্প্রতি ইউক্রেন সফরের বিষয়ে তাকে অবহিত করেন। সফরকালে তিনি একটি সামরিক ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন। পাশাপাশি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি বিল সিনেটে পাস করানোর পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করেন।

    ট্রাম্প পরে সাংবাদিকদের বলেন, ফোনালাপে গ্রাহামকে কিছুটা ক্লান্ত শোনালেও তিনি স্বাভাবিক ছিলেন। তাদের মধ্যে কংগ্রেসে ভোটার পরিচয় যাচাই সংক্রান্ত সেফ অ্যাক্ট এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।

    এদিকে, গ্রাহামের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির সঙ্গে আরেকটি ফোনালাপেও তিনি নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে দেন। তিনি জানান, রোববার নির্ধারিত মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর চিকিৎসকের কাছে যাবেন।

    অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, শেষ ফোনালাপে গ্রাহাম বলেন, এখনই আমি মরতে পারি না। এখনও রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি শেষ করতে হবে, ইরান ইস্যু সমাধান করতে হবে এবং ইসরাইল-সৌদি সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কাজও বাকি।

    তার মৃত্যুর পর ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দেন। এদিকে, সাউথ ক্যারোলাইনার গভর্নর হেনরি ম্যাকমাস্টার গ্রাহামের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য তার বোন ডারলিন গ্রাহাম নরডোনকে সিনেটর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

  • বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

    বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

    বঙ্গোপসাগর লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার কারণে উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে পূর্ভাবাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দরে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।এছাড়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

  • আজকের মুদ্রার রেট: ১৪ জুলাই ২০২৬

    আজকের মুদ্রার রেট: ১৪ জুলাই ২০২৬

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন এক কোটির বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন। প্রবাসী আয় দেশে পাঠানো ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সুবিধার্থে প্রতিদিনই বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার জানা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার নিচে তুলে ধরা হলো-

    দেশ ও বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশি টাকা – ৳ (BDT)

    মালয়েশিয়ান ১ রিংগিত ৩০ টাকা ২৫ পয়সা

    সৌদির ১ রিয়াল ৩২ টাকা ৮৯ পয়সা

    মার্কিন ১ ডলার ১২২ টাকা ৯৪ পয়সা

    ইউরোপীয় ১ ইউরো ১৪৩ টাকা ৪৬ পয়সা

    ইতালিয়ান ১ ইউরো ১৪৩ টাকা ৪৬ পয়সা

    ব্রিটেনের ১ পাউন্ড ১৬৫ টাকা ৪০ পয়সা

    সিঙ্গাপুরের ১ ডলার ৯৫ টাকা ৪৬ পয়সা

    অস্ট্রেলিয়ান ১ ডলার ৮৫ টাকা ৭৩ পয়সা

    নিউজিল্যান্ডের ১ ডলার ৭১ টাকা ১২ পয়সা

    কানাডিয়ান ১ ডলার ৮৭ টাকা ০২ পয়সা

    ইউ এ ই ১ দিরহাম ৩৩ টাকা ৬২ পয়সা

    ওমানি ১ রিয়াল ৩১৯ টাকা ০৫ পয়সা

    বাহরাইনি ১ দিনার ৩২৭ টাকা ৮৫ পয়সা

    কাতারি ১ রিয়াল ৩৩ টাকা ৯৩ পয়সা

    কুয়েতি ১ দিনার ৪০১ টাকা ৫১ পয়সা

    সুইজারল্যান্ডের ১ ফ্রেঞ্চ ১৪৮ টাকা ০৬ পয়সা

    দক্ষিণ আফ্রিকান ১ রান্ড ৭ টাকা ৪৮ পয়সা

    জাপানি ১ ইয়েন ০.৭৫৯ টাকা

    দক্ষিণ কোরিয়ান ১ ওন ০.০৮২০৬২৬০ টাকা

    ইন্ডিয়ান ১ রুপি ১ টাকা ২৫ পয়সা

    উল্লেখ্য, যে কোনো সময় মুদ্রা বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে।

  • চার বছর ধরে নিখোঁজ সু চি কি বেঁচে আছেন?

    চার বছর ধরে নিখোঁজ সু চি কি বেঁচে আছেন?

    সামরিক জান্তা পরিচালিত আদালতে শুনানির শেষ পর্ব অর্থাৎ ২০২২ সালের পর থেকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী ও নোবেলজয়ী অং সান সু চিকে। প্রায় চার বছর ধরে বন্দি এই নেত্রীর বর্তমান অবস্থা এবং অবস্থান নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    তার পরিবার, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও আঞ্চলিক নেতারা এখন সু চি বেঁচে আছেন কি না, তার স্পষ্ট প্রমাণ (প্রুফ অব লাইফ) দাবি করছেন।

    ৮১ বছর বয়সি এই নেত্রীর সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে তার ছোট ছেলে কিম আরিস আন্তর্জাতিকভাবে প্রচার চালাচ্ছেন। সম্প্রতি লন্ডনে দেওয়া এক বক্তব্যে আরিস গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তার মা কার্যত জনসমক্ষ থেকে নিখোঁজ হয়ে গেছেন।

    এমনকি ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে তার আইনজীবীদেরও সু চির সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। জান্তা সরকার এ বছরের শুরুতে সু চিকে কারাগার থেকে সরিয়ে গৃহবন্দি করার দাবি করলেও, তাকে দেখতে দেওয়ার সব আবেদন বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে।

    সু চির বন্দিদশা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। গত মাসে নয়া দিল্লিতে এক বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মিয়ানমারের জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের কাছে সু চির বিষয়টি উত্থাপন করেন। এর আগে মে মাসে জাতিসংঘের বিশেষ দূত জুলি বিশপও সু চির সাথে সাক্ষাতের অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

    সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, সু চির নাম উচ্চারণ করলেই জান্তা প্রধান ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এছাড়া ব্যাংককে আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও সু চির শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

    যদিও গত এপ্রিলে সামরিক সরকার দাবি করেছিল যে সু চিকে কারাগার থেকে সরিয়ে গৃহবন্দি করা হয়েছে, তবে এর পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ তারা দিতে পারেনি। জান্তা কর্মকর্তারা কেবল একটি ছবি প্রকাশ করেছেন যেখানে তাকে একজন পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে দেখা যায়।

    তবে সু চির ছেলে কিম আরিস এই ছবির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন, ছবিটি সাম্প্রতিক সময়ে তোলা কি না তার কোনো প্রমাণ নেই। তাছাড়া নেপিডোতে তার বাড়িটি ইতোমধ্যেই ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং ইয়াঙ্গুনের পুরনো বাসভবনেও তাঁকে রাখা হয়নি বলে জানা গেছে।

    দীর্ঘদিন সু চিকে দেখতে না পাওয়ায় কূটনীতিকদের মধ্যে নানা জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, জান্তা প্রধানের এই অনীহার কারণ হয়তো সু চি গুরুতর অসুস্থ কিংবা বেঁচে নেই।

    তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সু চিকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখা মূলত তার রাজনৈতিক প্রভাবকে দমিয়ে রাখার কৌশল। বর্তমানে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে মিয়ানমারের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ও গণতন্ত্রকামী বাহিনী ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করছে।

    বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সু চিকে মুক্তি দিলে এই ভঙ্গুর জোটে ফাটল ধরতে পারে, যা জান্তার জন্য রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক হতে পারত। কিন্তু সামরিক বাহিনী হয়তো সশস্ত্র লড়াইয়ের চেয়ে সু চির নেতৃত্বে অহিংস গণ-আন্দোলন গড়ে ওঠার আশঙ্কাকেই বেশি ভয় পাচ্ছে।

    এদিকে তীব্র দমনপীড়নের মধ্যেও মিয়ানমারে সু চির জনপ্রিয়তা কমেনি। গত ১৯ জুন তার ৮১তম জন্মদিনে জান্তার চোখ রাঙানি উপেক্ষা করেই অনেক সমর্থক গোপনে তার দীর্ঘায়ু কামনা করে প্রার্থনা করেছেন। বর্তমানে মিয়ানমারের কারাগারে সাড়ে চৌদ্দ হাজারের বেশি রাজনৈতিক বন্দি রয়েছেন, যাদের মধ্যে শুধু এই বছরেই চরম অবহেলা ও চিকিৎসার অভাবে অন্তত ৬০ জন মারা গেছেন। মায়ের পাশাপাশি এই বন্দিদের দুর্দশার কথাও বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরছেন তার ছেলে।

    সু চির এই দীর্ঘ অনুপস্থিতির মাঝেই ইয়াঙ্গুনের বাসভবনে ঘটে গেছে এক বেদনাদায়ক ঘটনা। ২০১০ সালে সু চি গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ছেলে কিম আরিস তাকে ‘তাইচিতো’ নামের একটি কুকুর উপহার দিয়েছিলেন। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে প্রিয় নেত্রীর ফেরার অপেক্ষায় থাকা বিশ্বস্ত সেই পোষা কুকুরটি গত মাসে মারা গেছে, যা সু চির দীর্ঘকালীন বন্দিদশা ও নিঃসঙ্গতাকে আরও একবার সামনে এনে দিয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘জলদস্যু’ রাষ্ট্রে পরিণত হবে: লুলা

    যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘জলদস্যু’ রাষ্ট্রে পরিণত হবে: লুলা

    কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর ২০ শতাংশ ফি ধার্য করার মার্কিন পরিকল্পনাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা।

    ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘জলদস্যু’ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। দীর্ঘদিন ধরে জলদস্যুতার বিরুদ্ধে লড়াই করা একটি পরাশক্তি নিজেই এখন জলদস্যুর ভূমিকা নিতে পারে না।

    সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আবারও নৌ-অবরোধ আরোপ করতে যাচ্ছেন। একই সাথে এই সংকীর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথটি উন্মুক্ত রাখার খরচ মেটাতে এর মধ্য দিয়ে যাতায়াতকারী সমস্ত কার্গো জাহাজ থেকে ২০ শতাংশ মাশুল আদায় করবে যুক্তরাষ্ট্র।

    ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে সাও পাওলোতে আয়োজিত এক জনসভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ব্রাজিলের প্রবীণ এই বামপন্থী নেতা। লুলা বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে তিনি হরমুজ প্রণালী অবমুক্ত করবেন, কিন্তু এর বিনিময়ে সেখান দিয়ে পার হওয়া প্রতিটি জাহাজের তেলের মালিককে ২০ শতাংশ অর্থ দিতে হবে। অতীতে এই ধরনের কাজকে জলদস্যুতা হিসেবে গণ্য করা হতো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি বড় দেশের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

    চলমান এই সংঘাতের কারণে ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের পাশাপাশি চাল, ডাল, টমেটো ও পেঁয়াজের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হচ্ছে বলে সতর্কবার্তা দেন লুলা।

    উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথটি অবরোধ করে। পরবর্তীতে জুনে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়, তবে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হওয়ায় ট্রাম্প আবারও অবরোধ ও কঠোর মাশুল আরোপের হুংকার দিচ্ছেন।

    আগামী অক্টোবরে ব্রাজিলের সাধারণ নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদের জন্য লড়তে যাওয়া ৮০ বছর বয়সি লুলা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ায় দেশের সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে তাঁর সরকার ইতোমধ্যে জ্বালানির ওপর বিশেষ কর মওকুফসহ বেশ কিছু জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

  • ট্রাম্পের নিয়মেই খেলছে ইরান

    ট্রাম্পের নিয়মেই খেলছে ইরান

    ইরান যেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে তার নিজের খেলাতেই ঘায়েল করছে। সোমবার ট্রাম্প অভিযোগ করেন, কোনো চুক্তি মেনে চলার ক্ষেত্রে ইরানের ওপর ভরসা করা যায় না। অথচ তিনি নিজেই ইতিপূর্বে যুদ্ধ থামানোর একটি সমঝোতা স্মারক ভেঙেছেন। ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অভিযোগ করে বলেন, এটি একটি চূড়ান্ত চুক্তি ছিল, তারা তা ভেঙেছে, তারা সবসময় চুক্তি ভাঙে। আন্তর্জাতিক একাধিক চুক্তি থেকে নিজের বেরিয়ে যাওয়ার অভ্যাসের পরও এমন মন্তব্যে ট্রাম্পের নিজের আত্মবিরোধী রূপ ফুটে উঠেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ওবামা আমলের ইরান পারমাণবিক চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তের ফলেই যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান এই সংকট তৈরি হয়েছে। পরবর্তীতে ট্রাম্প যখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর নিজস্ব টোল বা কর আরোপের হুমকি দেন, তখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক মাধ্যম এক্সে উপহাস করে লেখেন, ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে টোল নেয়ার বিষয়ে তেহরানের অবস্থানকে বৈধতা দিয়েছেন। তবে ২০ ভাগ টোল অবশ্যই অনেক বেশি, আমরা ন্যায্য ফি রাখব। ট্রাম্প এখন বুঝতে পারছেন যে ইরান বেশ শক্ত দরকষাকষি করছে এবং সমঝোতা স্মারকের ভাষা তারা নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করছে। অথচ ট্রাম্প যে যুদ্ধকে ইতিমধ্যে জয় করেছেন বলে বারবার দাবি করেছিলেন, তা কেন আবার শুরু হলো তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা তিনি মার্কিন নাগরিকদের দিতে পারেননি।

    সোমবার এক রেডিও শোতে ট্রাম্প সুর বদলে দাবি করেন, এই চুক্তি ছিল একটি পরীক্ষা যাতে ইরান ব্যর্থ হয়েছে এবং এর কোনো মূল্য নেই। সমঝোতা স্মারকটি ভেঙে যাওয়ার মূল কারণ ছিল হরমুজ প্রণালির ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা, যা ইরানের জন্য এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় বিজয়। তেহরান তাদের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমিত ক্ষমতার চতুর প্রয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তিকে কৌশলে পরাস্ত করছে। মূলত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে ট্রাম্পের অনভিজ্ঞ রিয়েল এস্টেট আলোচক দলের তৈরি করা শিথিল ভাষার সুযোগ নিয়ে ইরান এই বাড়তি সুবিধা লুফে নিয়েছে।

    এই চুক্তি অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক চুক্তি সম্পন্ন করার সময়সীমা ছিল চরম অবাস্তব। বর্তমানে প্রতিদিনের পাল্টাপাল্টি হামলায় পরিস্থিতি যেকোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও, পুরোপুরি বড় ধরনের যুদ্ধ এখনও এড়ানো সম্ভব। কারণ ট্রাম্প ইরানের তেল উৎপাদন কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে আক্রমণ করার মতো বড় ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি নিতে রাজি নন।

    এছাড়া যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভুল হামলায় ইরানের একটি স্কুলে ১৬৮টি শিশু ও ১৪ জন শিক্ষক নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলেও, ট্রাম্প এখনও সেতু বা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো বেসামরিক অবকাঠামোতে বড় ধরনের হামলা চালাননি। ইরানও মার্কিন ঘাঁটি বা প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর প্রতিশোধমূলক হামলার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সীমা বজায় রাখছে। যুদ্ধ এখনই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। তবে প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ থেকে ট্রাম্প কীভাবে বেরিয়ে আসবেন সেই প্রশ্নের কোনো জবাব এখনও তার কাছে নেই।

  • চীনের বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়তে পশ্চিমাদের লাগবে ২৩.৬ ট্রিলিয়ন ডলার

    চীনের বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়তে পশ্চিমাদের লাগবে ২৩.৬ ট্রিলিয়ন ডলার

    গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাত ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে আগামী কয়েক দশকে প্রয়োজন হবে বিপুল অংকের অতিরিক্ত বিনিয়োগ। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইওয়াই-পার্থেননের বিশ্লেষণে বলা হয়, ২০৫০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোজোন ও যুক্তরাজ্যকে এ লক্ষ্য পূরণে অতিরিক্ত ২৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে হতে পারে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে চীনের সঙ্গে যুক্ত উৎপাদন, প্রযুক্তি, গবেষণা, সফটওয়্যার অবকাঠামো ও সরবরাহ শৃঙ্খলের বিকল্প গড়ে তুলতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হবে যুক্তরাষ্ট্রের। দেশটির প্রয়োজন হবে প্রায় ১৩ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। ইউরোজোনের প্রয়োজন হবে ৯ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার ও যুক্তরাজ্যের প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার।

    ইওয়াই-পার্থেননের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২৫ বছরে তিন অঞ্চলের গড়ে প্রতি বছর অতিরিক্ত প্রায় ৯৪০ বিলিয়ন বা ৯৪ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। এটি জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে চলমান বিনিয়োগের অতিরিক্ত।

    শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেই বছরে প্রায় ৫৫ হাজার কোটি ডলার অতিরিক্ত বিনিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে। তুলনা হিসেবে বলা হয়, ২০২৫ সালে দেশটির বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ডেটা সেন্টার নির্মাণে প্রায় ৬০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছিল। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ জোটটির বর্তমান বার্ষিক বাজেটের প্রায় দ্বিগুণের সমান।

    ইওয়াই-পার্থেননের কর্মকর্তা ও যুক্তরাজ্যের সাবেক সরকারি উপদেষ্টা ম্যাটস পারসনের মতে, সরবরাহ শৃঙ্খল স্থানীয়করণ করা সহজ হবে না। কারণ এতে করদাতা ও ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয় চাপানোর ঝুঁকি রয়েছে।

    তার ভাষ্য, পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার চেয়ে আংশিকভাবে চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোই বাস্তবসম্মত পথ। শুরুতে ব্যয় তুলনামূলক কম থাকলেও সময়ের সঙ্গে তা বাড়বে।

    বিশ্লেষণে আরো বলা হয়, শুধু অর্থ ব্যয় করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ উন্নত উৎপাদন, বিদ্যুচ্চালিত যানবাহন, ব্যাটারি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহে এখনো চীনের আধিপত্য রয়েছে।

    আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্যানুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বের পরিশোধিত লিথিয়াম ও কোবাল্টের ৬০ শতাংশের বেশি এবং ব্যাটারি-গ্রেড গ্রাফাইট ও বিরল খনিজের প্রায় ৮০ শতাংশ সরবরাহ করবে চীন। ফলে এসব কাঁচামালের বিকল্প উৎস তৈরি করা পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

    নির্ভরতার এ বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হয় গত বছর। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হুমকির জবাবে বেইজিং গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজ রফতানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের গাড়ি শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। পরে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে সমঝোতা হলেও বিষয়টি পশ্চিমা দেশগুলোকে সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। এ কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিরল খনিজ মজুদের পরিকল্পনাও এগিয়ে নিচ্ছে।

    ফরাসি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ন্যাটিক্সিসের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ অ্যালিসিয়া গার্সিয়া-হেরেরো বলেন, ‘বড় অংকের বিনিয়োগ করলেও পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষে দ্রুত চীন থেকে সরে আসা সম্ভব নয়। কারণ বিরল খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে শুরু করে ওষুধ তৈরির কাঁচামাল পর্যন্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ শিল্প উপাদানের নিয়ন্ত্রণ এখনো চীনের হাতে রয়েছে।’

    ইওয়াই-পার্থেননের হিসাব বলছে, চীনে উৎপাদিত অনেক পণ্যের কারখানা পর্যায়ের খরচ অন্যান্য দেশের তুলনায় ২০-১০০ শতাংশ পর্যন্ত কম। ফলে চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ উৎপাদন ব্যয় বাড়াতে পারে। এর প্রভাব ভোক্তা মূল্যেও পড়বে। বিশেষ করে ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাতে পণ্যের দাম ১ থেকে ২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

    এতে মূল্যস্ফীতি ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বাণিজ্য বিরোধ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা পশ্চিমা দেশগুলোকে নতুন শিল্পনীতি গ্রহণে উৎসাহিত করেছে। তবে চীনের বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে শুধু সময়ই নয়, বিপুল অর্থ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনারও প্রয়োজন হবে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখি বাংলাদেশি সাইফুল

    যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখি বাংলাদেশি সাইফুল

    বাংলাদেশী নাগরিক সাইফুল্লাহ আল-মামুন (৩৯) মার্কিন আদালতে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। একটি আন্তর্জাতিক অপরাধী মানব পাচার চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে ব্রাজিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হয়। গত ৮ জুলাই ব্রাজিল থেকে প্রত্যর্পণের পর সোমবার টেক্সাসের লারেডোতে তাকে প্রথমবার আদালতে হাজির করা হয়। একটি সম্পূরক অভিযোগপত্রে সাইফুল্লাহর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে মানুষ পাচারের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    মার্কিন বিচার বিভাগের (ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানা যায়। আদালতের নথি অনুযায়ী, সাইফুল্লাহ আল-মামুন এবং তার সহযোগী ৪৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ মিলন হোসেন ও ৩৮ বছর বয়সী মোক্তার হোসেন, সকলেই বাংলাদেশী নাগরিক। তারা একটি মানব পাচার চক্রের সাথে যুক্ত ছিলেন। ব্রাজিলের সাও পাওলো এবং দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা ও মেক্সিকোর বিভিন্ন স্থান দিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষকে অবৈধ উপায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে সহায়তা করতেন তারা।

    এই অবৈধ ভ্রমণের জন্য ভুক্তভোগী মানুষেরা দালালদের হাজার হাজার ডলার পরিশোধ করেছিলেন। সাইফুল্লাহ আল-মামুনকে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর ব্রাজিলে গ্রেপ্তার করা হয়। মোহাম্মদ মিলন হোসেন এবং মোক্তার হোসেন ইতিপূর্বে নিজেদের দোষ স্বীকার করেছেন এবং তাদের প্রত্যেককে ৪৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। সাইফুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে মানুষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার ষড়যন্ত্র করা, আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে একাধিকবার মানুষ পাচার করা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশে প্ররোচিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে মানুষ পাচারের সবকটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বনিম্ন ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

    এছাড়া অবৈধ অনুপ্রবেশে সহায়তা ও ষড়যন্ত্রের অন্যান্য অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর আরও ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। মার্কিন বিচার বিভাগের ক্রিমিনাল ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল এ টাইসেন ডুভা, সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব টেক্সাসের ইউএস অ্যাটর্নি অ্যারন রেইটজ এবং ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশন্সের (এইচএসআই) ফিনিক্স শাখার বিশেষ এজেন্ট ইন চার্জ জেসন টি স্টিভেন্স যৌথভাবে এই ঘোষণা দেন।

    ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশ, কলম্বিয়ার জাতীয় পুলিশসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় এইচএসআই ফিনিক্স এই ঘটনার তদন্ত পরিচালনা করছে। এই তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করছে ‘জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স আলফা’ (জেটিএফএ), যা কার্টেল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত মানব পাচার দমনে মার্কিন সরকারের প্রধান বিশেষ সেল হিসেবে কাজ করে। তবে আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি আসামিকে নির্দোষ হিসেবে গণ্য করার আইনি বিধান রয়েছে।

  • ফের কাঁপল ইরান!

    ফের কাঁপল ইরান!

    ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর বন্দর আব্বাসে ফের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরটিতে অন্তত পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
    তবে বিস্ফোরণে কী পরিমাণে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে- তা তাৎক্ষনিকভাবে জানা যায়নি। এ ছাড়া এই বিস্ফোরণের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র দায়ী কিনা- সেটিও নিশ্চিত করেনি ইরান।

    গত টানা তিনরাত ধরে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    বিশেষ করে, হরমুজ এখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মার্কিন আগ্রাসনে কখনোই হরমুজ খুলবে না।
    অন্যদিকে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছে, তারা হরমুজ দখলে নেবে।