আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • ‘পরিবারের সঙ্গে হয়তো এটাই শেষ কথা’, আরাগচি কেন উইটকফকে এমনটা বললেন

    ‘পরিবারের সঙ্গে হয়তো এটাই শেষ কথা’, আরাগচি কেন উইটকফকে এমনটা বললেন

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনার সময় ইরানি আলোচক দলকে সব সময় যে বিপদের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে চলতে হয়েছে, তা নিয়ে কথা বলেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তাঁর নেতৃত্বেই ইরানি আলোচক দল যুদ্ধ অবসানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা করছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের আলোচক দলের নেতৃত্বে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে এক কথোপকথনের কথা তুলে ধরে আরাগচি বলেন, ‘আমি উইটকফকে বলেছিলাম, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হুমকি তেহরানের আলোচকদের জন্য প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।’

    মেহর নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

    উইটকফের সঙ্গে সে কথোপকথন স্মরণ করে আরাগচি আরও বলেন, ‘আমি উইটকফকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আপনি কি কখনো এমন কোনো বৈঠকে ছিলেন, যেখানে প্রতিমুহূর্তে আপনার মনে হয়েছে, যেকোনো মুহূর্তে পুরো বৈঠকটি বোমা হামলার শিকার হতে পারে? ফোনে কথা বলার সময় আপনি কি কখনো এমন অবস্থায় ছিলেন, যখন আপনার মনে হয়েছে, আপনি বিস্ফোরিত বা ধ্বংস হয়ে যেতে পারেন, যেমনটা তারা বলে থাকে। ফোনে পরিবারের খোঁজ নেওয়ার সময় কখনো কি আপনার মনে হয়েছে, এটিই হয়তো (তাদের সঙ্গে) শেষবারের মতো কথা?’

    ইরানের প্রতিরোধ

    আরাগচি বলেন, অব্যাহত হুমকি সত্ত্বেও তেহরান পিছু হটতে অস্বীকৃতি জানায়।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শূন্য মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অবৈধ ও অযৌক্তিক দাবির জবাবে আমরা প্রতিরোধ জানিয়েছি এবং নিজেদের অবস্থানে দৃঢ় থেকেছি। তারা যখন দেখল আলোচনার মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্য অর্জন করা সম্ভব নয়, তখন তারা যুদ্ধ শুরু করে।’

    প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে আরাগচি আরও বলেন, ‘আপনাদের আলোচনা করতে হবে। আমাদের হুমকি দেওয়া যাবে না আর ঘুষ বা প্রলোভন দিয়েও আমাদের প্রভাবিত করা যাবে না।’

    যুক্তরাষ্ট্র গত বছর প্রথম পারমাণবিক বিষয়ে আলোচনা নিয়ে তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলে জানান ইরানের এই মন্ত্রী। এর পর থেকে মাঝেমধ্যেই যোগাযোগ হতো। আরাগচি দাবি করেন, আলোচনার টেবিলে তেহরানের দৃঢ় অবস্থানই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আরও কঠোর পথ বেছে নিতে বাধ্য করেছে।

    আরাগচি জোর দিয়ে বলেন, তারা ১২ দিনের যুদ্ধে পরাজিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিকে ইরান ভয় পায় না।

    সামরিক চাপ প্রয়োগ করে ইরানকে নতিস্বীকারে বাধ্য করা সম্ভব, ওয়াশিংটনের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন আরাগচি। যুক্তরাষ্ট্র গত জানুয়ারিতে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক করে ভেনেজুয়েলায় সরকার পরিবর্তন ঘটিয়েছিল।

    এ ঘটনার কথা উল্লেখ করে আরাগচি জোর দিয়ে বলেন, তেহরানে একক ক্ষমতাকাঠামো ব্যবস্থায় চলে না। তাই একজন নেতাকে সরিয়ে দিলেই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটবে না।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি ভেনেজুয়েলা নয় যে একজনকে ধরে নিয়ে গেলে বাকিরা ভয় পেয়ে পিছু হটে যাবে।

    তেহরানের ক্ষমতাকাঠামোয় ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্বের অধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে বিভিন্ন স্তরে ভাগ করে দেওয়া আছে বলে উল্লেখ করেন আরাগচি।

    ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ার প্রেক্ষাপটে ইরানি নেতা এ মন্তব্য করেছেন। আজ সোমবার টানা নবম দিনের মতো মার্কিন বাহিনী ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের তিন সেনা নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

  • নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা নিয়ে আইনি পথ খুঁজছেন জোহরান মামদানি

    নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা নিয়ে আইনি পথ খুঁজছেন জোহরান মামদানি

    সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে যাবেন। এ সময় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব কি না, সে বিষয়ে আইনি দিক পর্যালোচনা করছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের ‘দ্য ইন্টারভিউ’ পডকাস্টে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, তিনি মনে করেন নেতানিয়াহুর স্থান নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে। সেখানে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) অবস্থিত। মামদানি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্থান দ্য হেগে। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। বহু মানুষই তার কর্মকাণ্ডের কারণে একই মত পোষণ করেন। তিনি জানান, নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ বিভাগকে (এনওয়াইপিডি) কোনো বিদেশি রাষ্ট্রনেতাকে আটক করার নির্দেশ দেয়ার আইনি ক্ষমতা তার রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এ বিষয়ে তিনি নগর প্রশাসনের আইন বিভাগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছেন। মামদানি বলেন, নিউইয়র্ক সিটির আইন আমাকে যতটুকু ক্ষমতা দেয়, আমরা ততটুকুই করব। তবে এ উদ্দেশ্যে আমরা নিজেরা নতুন কোনো আইন তৈরি করব না।

    আইসিসির পরোয়ানা
    ২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নেতানিয়াহুসহ কয়েকজন ইসরাইলি নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আদালতের অভিযোগ, গাজায় যুদ্ধ চলাকালে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধের কৌশল হিসেবে অনাহার সৃষ্টি, হত্যা, নিপীড়ন এবং অন্যান্য অমানবিক কর্মকা- অন্তর্ভুক্ত।

    নির্বাচনী প্রচারণাতেও একই অবস্থান
    গত বছরের নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও মামদানি গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে গণহত্যা বলে উল্লেখ করেন এবং নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী আখ্যা দেন। সে সময় তিনি বলেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তিনি তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেবেন। একই সঙ্গে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলাকেও তিনি ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ বলে নিন্দা জানান। তবে সে সময় আইনি বিশেষজ্ঞরা মত দেন, কোনো বিদেশি প্রধানমন্ত্রীকে নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের নির্দেশে গ্রেপ্তার করা বাস্তবে প্রায় অসম্ভব এবং এতে ফেডারেল সরকারের সঙ্গে সংঘাত তৈরি হতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়
    যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য নয় এবং আদালতের এখতিয়ারও স্বীকার করে না। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আইসিসির বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। তার প্রশাসনের দাবি ছিল, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের ওপর আইসিসির কোনো বিচারিক ক্ষমতা নেই। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও পরে আইসিসিকে ধ্বংস করার অঙ্গীকার করে বলেন, আদালত আন্তর্জাতিক আইনের নামে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এক ধরনের যুদ্ধ চালাচ্ছে।

    নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়া
    আগামী অক্টোবরে কঠিন পুনঃনির্বাচনী লড়াইয়ের মুখে থাকা নেতানিয়াহু সম্প্রতি এক রেডিও সাক্ষাৎকারে মামদানির গ্রেপ্তারের হুমকিকে গুরুত্ব না দেয়ার কথা বলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামদানি হামাসকে সমর্থন করেন। যদিও মামদানি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। নেতানিয়াহু বলেন, তিনি সন্ত্রাসীদের পক্ষেই আছেন। যারা ইহুদি ও ইসরাইলকে ঘৃণা করে, তারা শেষ পর্যন্ত আমেরিয়াকেও ঘৃণা করে- এ বিষয়টি তিনি বুঝতে চান না কিংবা গুরুত্ব দেন না।

    ইসরাইলের পাল্টা সমালোচনা
    জাতিসংঘে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন অভিযোগ করেন, নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে মামদানি শহরে বাড়তে থাকা ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছেন। তবে মামদানি বলেন, তিনি বিদ্বেষমূলক অপরাধ দমনে কাজ করা দপ্তরের বাজেট বাড়িয়েছেন। ড্যানন বলেন, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে আসবেন, গর্বের সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন এবং বিশ্বের সামনে ইসরাইলের অবস্থান ও নাগরিকদের আত্মরক্ষার অধিকারের কথা তুলে ধরবেন। অন্যদিকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ মামদানির বক্তব্যকে নিরেট রাজনৈতিক নাটক বলে উড়িয়ে দেন এবং স্মরণ করিয়ে দেন যে যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়।

    ডেমোক্রেটদের মধ্যেও বদলাচ্ছে অবস্থান
    মামদানির এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরেও ইসরাইল নিয়ে আগের অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। গত বুধবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্রেট সদস্যদের প্রায় অর্ধেক ইসরাইলের জন্য ৩.৩ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা বাতিলের পক্ষে ভোট দেন। যদিও প্রস্তাবটি পাস হয়নি, তবু এটি ইসরাইলের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থনের অবস্থান দুর্বল হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। গাজা যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মামদানি বলেন, গাজা ও ফিলিস্তিনের বিষয়ে আমাদের দেশের নীতির চেয়ে দেউলিয়া নীতিগত অবস্থান খুঁজে পাওয়া কঠিন। তিনি আরও বলেন, গাজা যুদ্ধ এখন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভোটারদের ওপর প্রভাব ফেলছে এবং নিউইয়র্কের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলেও সেই প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে।

  • মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে নাগরিকদের আহ্বান দক্ষিণ কোরিয়ার

    মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে নাগরিকদের আহ্বান দক্ষিণ কোরিয়ার

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নাগরিকদের দ্রুত অঞ্চলটি ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। রোববার (১৯ জুলাই) ইরান ও ইসরাইলসহ ১৭টি কূটনৈতিক মিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সতর্কতা জারি করে।

    বৈঠকে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক ও জাহাজগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিতীয় উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিম জিনা বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশ গত মার্চ থেকেই লেভেল-৩ ভ্রমণ সতর্কতার আওতায় রয়েছে। তাই জরুরি প্রয়োজন না থাকলে সেখানে অবস্থানরত স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণকারীদের যত দ্রুত সম্ভব দেশ ত্যাগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এবং সৌদি আরবকে ঘিরে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার কারণে লোহিত সাগরে চলাচলকারী দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজগুলোর নিরাপত্তার বিষয়েও সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।’

    অন্যদিকে ভারতও তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ইরান সফর স্থগিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে।

    ইরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এক নতুন সতর্কবার্তায় বলেছে, ‘যারা বর্তমানে ইরানে অবস্থান করছেন, তারা সম্ভব হলে ফ্লাইট ব্যবহার করে সাময়িকভাবে দেশটি ত্যাগ করার বিষয়টি বিবেচনা করুন।’ অন্যদিকে জর্ডানে থাকা ভারতীয় নাগরিকদেরও সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস।

    উল্লেখ্য, গত মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে সংঘাতের অবসান এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। তবে গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়ে যায় এবং উভয় পক্ষ পালটাপালটি হামলা চালায়।

  • মার্কিন বাহিনীর স্থল অভিযানকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি

    মার্কিন বাহিনীর স্থল অভিযানকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি

    যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য স্থল অভিযান চালালে তা মোকাবিলায় ইরানের নেতৃত্ব প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি। একই সঙ্গে দক্ষিণ ইরানের কৌশলগত খার্গ দ্বীপ দখলের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনকে কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

    সোমবার (২০ জুলাই) তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে বাঘায়ি বলেন, ‘ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে এমন লোক রয়েছেন, যারা সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযানের জন্য মিনিট গুনছেন এবং মার্কিন সেনাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।’

    আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বাঘায়ি আরও বলেন, ‘খার্গ দ্বীপ দখলের মতো যেকোনো দুঃসাহসিক পদক্ষেপের পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রকে ভোগ করতে হবে।’

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে গেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইরানি মুখপাত্র বলেন, তেহরান যুদ্ধ ও কূটনীতি—উভয়কেই জাতীয় স্বার্থ রক্ষার উপায় হিসেবে বিবেচনা করে।

    তার ভাষায়, ‘আমি যুদ্ধ অথবা কূটনীতির এই দ্বৈত ধারণা প্রত্যাখ্যান করছি। কূটনীতি আমাদের জাতীয় স্বার্থ অর্জনের একটি মাধ্যম, যেমন যুদ্ধও একটি মাধ্যম।’

    বাঘায়ি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারকের পাঠ্য নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা নেই।

    তিনি বলেন, ‘সমঝোতা স্মারকটি সংক্ষিপ্ত এবং এতে ১৪টি ধারা রয়েছে। শুরু থেকেই আমরা বলে আসছি, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ইরানের। এ বিষয়ে ওমানের সঙ্গে পরামর্শ এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়া হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘চুক্তির ভাষা পুরোপুরি স্পষ্ট। তাই যুক্তরাষ্ট্রের এ চুক্তি ভঙ্গ করার কোনো অজুহাত নেই।’ ইরানি মুখপাত্র জানান, চলমান সংঘাতের মধ্যেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা তেহরানের কাছে পৌঁছেছে।

    তিনি বলেন, ‘আমরা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা পেয়েছি। বিস্তারিত বলতে চাই না, তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী আমাদের কাছে কিছু প্রস্তাব ও ধারণা পৌঁছে দিয়েছেন।’

    সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করেন বাঘায়ি। তিনি বলেন, ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি তেহরানের কোনো বৈরিতা নেই। তবে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার সুযোগ না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    বাঘায়ি সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা বারবার বলেছি, আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতি আমাদের কোনো শত্রুতা নেই। তবে আমরা আশা করি, তারা তাদের দায়িত্ব পালন করবে এবং তাদের ভূখণ্ড থেকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে দেবে না। যতদিন এ ধরনের হামলা চলবে, ততদিন আমাদের সশস্ত্র বাহিনীও জবাব দিতে থাকবে।’

  • চতুর্থ সন্তানের বাবা হলেন জেডি ভ্যান্স

    চতুর্থ সন্তানের বাবা হলেন জেডি ভ্যান্স

    চতুর্থ সন্তানের বাবা হয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

    স্থানীয় সময় রোববার মেরিল্যান্ডের বেথেসদায় অবস্থিত ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে তার ছেলেসন্তানের জন্ম হয়। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    এক যৌথ বিবৃতিতে জেডি ভ্যান্স ও তার স্ত্রী উষা ভ্যান্স জানান, ‘আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, আজ সকালে আমাদের ছেলে অ্যালেক নীল ভ্যান্স জন্ম নিয়েছে।’

    বিবৃতিতে বলা হয়, উষা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ আছেন। পরিবারের অন্য সন্তানেরাও ছোট ভাইকে পেয়ে দারুণ আনন্দিত।

    অ্যালেক নীল ভ্যান্স যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দেড় শতাধিক বছরের মধ্যে দায়িত্বে থাকা কোনো ভাইস প্রেসিডেন্টের ঘরে জন্ম নেওয়া প্রথম সন্তান। হোয়াইট হাউস হিস্টোরিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে সর্বশেষ উনিশ শতকে ১৮৭০ সালে দায়িত্ব পালনকালে ভাইস প্রেসিডেন্ট স্কাইলার কোলফ্যাক্স ও তার স্ত্রী এলেন ওয়েডের ঘরে সন্তান জন্ম নিয়েছিল।

    ওহাইও অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ও সাবেক মার্কিন মেরিন সেনা জেডি ভ্যান্স এবং ভারতীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান উষা ভ্যান্স ইয়েল ল স্কুলে পড়ার সময় একে অপরের সংস্পর্শে আসেন। ২০১৩ সালে তারা সেখান থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

    এই দম্পতির ঘরে ২০১৭ সালে প্রথম ছেলে ইওয়ান, ২০২০ সালে দ্বিতীয় ছেলে বিবেক এবং ২০২১ সালে মেয়ে মিরাবেলের জন্ম হয়।

    জেডি ভ্যান্স যুক্তরাষ্ট্রে জন্মহার কমে যাওয়ার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। ২০২১ সালে ওহাইও থেকে সিনেট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সময় থেকেই তিনি বেশি সন্তান নেওয়ার পক্ষে কথা বলে আসছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০২৫ সালের ‘মার্চ ফর লাইফ’ সমাবেশে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি চাই যুক্তরাষ্ট্রে আরও বেশি শিশু জন্ম নিক।’

  • আর হামলা হলে হরমুজ দিয়ে এক ফোঁটা তেল-গ্যাসও যাবে না: ইরান

    আর হামলা হলে হরমুজ দিয়ে এক ফোঁটা তেল-গ্যাসও যাবে না: ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে এক ফোঁটা তেল-গ্যাসও পরিবহন করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

    ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, যত দিন পর্যন্ত তাদের অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘আগ্রাসন’ চলতে থাকবে, তত দিন হরমুজ প্রণালি নিরাপদ থাকবে না। তারা সতর্ক করে বলেছে, এই পথ দিয়ে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য, এমনকি ‘এক ফোঁটা তেল বা গ্যাসও’ নিরাপদে পরিবহন করা সম্ভব হবে না।

    সোমবার আইআরজিসি আরো দাবি করে, হরমুজ প্রণালির অনিরাপদ দক্ষিণাঞ্চলীয় পথ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করার সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটে এবং সেগুলো অচল হয়ে পড়ে। তাদের অভিযোগ, মার্কিন সামরিক বাহিনী ওই জাহাজগুলোকে এই পথ ব্যবহার করতে উৎসাহিত করেছিল।

    তবে বিবৃতিতে ট্যাংকার দুটির নাম, পতাকা, ক্রু সদস্যদের পরিচয় বা সম্ভাব্য হতাহতের বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তারা তাৎক্ষণিকভাবে এ দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীকে ‘শাস্তিমূলক অভিযানের’ জন্য প্রস্তুত থাকারও সতর্কবার্তা দিয়েছে আইআরজিসি।

  • আমরা ভেনেজুয়েলা নই: আরাগচি

    আমরা ভেনেজুয়েলা নই: আরাগচি

    আমরা ভেনেজুয়েলা নই, আমরা ইরান, ইরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিকে ভয় পায় না বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তুরস্কের এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাগচি এসব কথা বলেন।

    আব্বাস আরাগচির দাবি, ইসরাইল ভেবেছিল স্বল্প সময়ের হামলার মাধ্যমে ইরানকে দুর্বল করে দেওয়া সম্ভব হবে। তবে বাস্তবে তা হয়নি।

    ইরানের ভেতর থেকে তথ্য ফাঁস হওয়ার কারণেই ইসরাইলি হামলা চালানো সম্ভব হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আরাগচি। তিনি বলেন, এসব হামলার পেছনে নিরাপত্তাজনিত দুর্বলতা থাকতে পারে, যা এখনো পুরোপুরি দূর করা যায়নি।

    তিনি আরো দাবি করেন, ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানতেন যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি প্রতিদিন সকালে তার কার্যালয়ে উপস্থিত থাকেন।

    আরাগচি জানান, সর্বোচ্চ নেতার ওপর হামলা হলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনাও আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের অনুমোদন নিয়েই করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘কূটনৈতিক প্রচেষ্টা যাচাই করতেই ইরান আলোচনায় অংশ নিয়েছিল এবং পুনরায় আলোচনা শুরু করা হবে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।’

  • সৌদি ওমরাহ ভিসার মেয়াদ করলো একবছর

    সৌদি ওমরাহ ভিসার মেয়াদ করলো একবছর

    পর্যটন খাতকে আরো গতিশীল করতে ওমরাহ ভিসার মেয়াদ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে সৌদি আরব। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই ভিসার মেয়াদ হবে এক বছর (৩৬৫ দিন)। এর ফলে ভিসাধারীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একাধিকবার সৌদি আরবে প্রবেশের সুযোগ পাবেন এবং প্রতিবার সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত অবস্থান করতে পারবেন।

    সোমবার সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘সৌদি ভিশন ২০৩০’-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই নতুন এই ভিসা ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে ধর্মীয় পর্যটনের পাশাপাশি দেশের পর্যটন শিল্পকে আরো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিবার সৌদি আরবে প্রবেশের আগে ভিসাধারীদের সরকারি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘নুসুক’ থেকে একটি নির্ধারিত প্যাকেজ কিনতে হবে। তবে ওই প্যাকেজের মেয়াদ ভিসার অবশিষ্ট সময়ের বেশি হতে পারবে না। এছাড়া সফরের আগে একই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ওমরাহ পালনের অনুমতিপত্র সংগ্রহ করাও বাধ্যতামূলক।

    তবে হজ মৌসুমে এই ভিসা কার্যকর থাকবে না। আরবি মাস জিলকদের ১ তারিখ থেকে জিলহজের ১৩ তারিখ পর্যন্ত ওমরাহ ভিসার ব্যবহার সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। এ সময় ভিসাধারীরা সৌদি আরবে প্রবেশের জন্য এই ভিসা ব্যবহার করতে পারবেন না।

  • ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র: রুবিও

    ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র: রুবিও

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করলেও কূটনীতির দরজা এখনো খোলা রয়েছে।

    রুবিও বলেন, ‘আমি মনে করি আমরা কূটনীতির জন্য সব সময় প্রস্তুত। এটি বাস্তবসম্মত হতে হবে। এটি এমন একটি চুক্তি হতে হবে, যা তারা মেনে চলতে ইচ্ছুক।’

    স্থানীয় সময় রোববার ফিলিপাইনে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিকে দর কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান।

    তিনি বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে ইরান এই প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করতে চায় এবং এটিকে দর কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী নৌপরিবহন সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র যা যা করা প্রয়োজন তা করবে এবং করে যাবে।’

  • যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আজ দায়িত্ব নিচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

    যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আজ দায়িত্ব নিচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

    আর্জাতিক ডেস্ক:

    যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। ২০১৬ সালের পর তিনি দেশটির ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন। দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই তাকে দুর্বল অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অভিবাসন সংকট এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতাসহ একাধিক বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

    অজনপ্রিয় হয়ে পড়া কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ৫৬ বছর বয়সি বার্নহ্যাম। মাত্র দুই বছর আগে স্টারমারের নেতৃত্বে লেবার পার্টি ১৪ বছরের কনজারভেটিভ শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিপুল বিজয় অর্জন করেছিল। গত মাসে স্টারমারের পদত্যাগের পর লেবার পার্টি বার্নহ্যামকে নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে।

    রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাওয়ার পর সোমবার স্টারমারের বিদায়ি বক্তব্যের পরপরই ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম ভাষণ দেবেন বার্নহ্যাম।

    রোববার প্রকাশিত দ্য টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গত এক দশকের রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে নতুনভাবে দেশ পরিচালনার লক্ষ্য নিয়েই তিনি দায়িত্ব নিচ্ছেন।

    বার্নহ্যাম বলেন, ‘এতদিন যেভাবে কাজ করা হয়েছে, তা সফল হয়নি। আমি ভিন্নভাবে কাজ করার চেষ্টা করব।’ তার কার্যালয় জানিয়েছে, প্রথম ভাষণে সরকার ও জনগণের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠন, জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং আঞ্চলিক প্রশাসনের ক্ষমতা আরও বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

    এদিনই তার মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগও ঘোষণা করা হতে পারে। বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী হিসেবে র্যাচেল রিভসের স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন, সেদিকে নজর থাকবে। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র বার্নহ্যাম ‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামে পরিচিত। লেবার পার্টির এমপিদের মতে, অভিবাসনবিরোধী রিফর্ম ইউকের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা মোকাবিলায় তিনিই দলের সবচেয়ে কার্যকর নেতা হতে পারেন।

    লেবার পার্টির উপনেতা লুসি পাওয়েল বলেন, লন্ডনের কেন্দ্রীয় রাজনীতির বাইরে মেয়র হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা বার্নহ্যামকে বাস্তবমুখী ও সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা দিয়েছে।

    দায়িত্ব গ্রহণের পর তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে ধীরগতির অর্থনীতি, সরকারের ঋণের উচ্চ ব্যয়, বাড়তে থাকা সামাজিক কল্যাণ ব্যয়, ছোট নৌকায় করে অনিয়মিত অভিবাসীদের আগমন এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে জ্বালানির দামের অস্থিরতা। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনিশ্চিত নীতিও ব্রিটিশ সরকারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

    বার্নহ্যাম বলেছেন, তিনি সরকারি ব্যয় ও অর্থনীতি পরিচালনায় ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করবেন। তার ভাষায়, শুরুতেই বিনিয়োগ ও প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মানুষকে সফল হওয়ার সুযোগ তৈরি করা হবে, ব্যর্থতার খরচ বহনের পরিবর্তে। তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নির্বাচনী প্রচারে মানুষের আর্থিক চাপের বিষয়টি তিনি সরাসরি উপলব্ধি করেছেন বলেও জানান।

    প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই বার্নহ্যাম তার প্রথম বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে স্টারমার সরকারের প্রস্তাবিত জাতীয় ডিজিটাল পরিচয়পত্র (ডিজিটাল আইডি) কর্মসূচি বাতিলের ঘোষণা দেন। তিন বছরে প্রায় ১৮০ কোটি পাউন্ড ব্যয়ের এ প্রকল্পের অর্থ জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলাসহ অন্যান্য অগ্রাধিকার খাতে ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছে তার কার্যালয়।

  • ‘ভাগ্য আমাদের পক্ষেই লেখা ছিল’

    ‘ভাগ্য আমাদের পক্ষেই লেখা ছিল’

    আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছে স্পেন। অবিশ্বাস্য এই ফাইনাল শেষে স্পেনের ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস বলেছেন, আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দেশকে বিশ্বকাপ জেতানোর পর মনে হয়েছে, ভাগ্য আমাদের পক্ষে ছিল।

    রোববার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেমে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে একমাত্র গোলটি করেন তোরেস। তার সেই গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতে নেয় স্পেন।

    ম্যাচ শেষে ফিফার সম্প্রচারমাধ্যমকে তোরেস বলেন, ‘আমার মনে হয়, শেষ পর্যন্ত এই গোলটি শুধু আমাদের কয়েকজনের নয়, স্পেনের ৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আজ ভাগ্য আমাদের পক্ষেই লেখা ছিল। এই শিরোপা আমাদের জন্যই নির্ধারিত ছিল। আজ আমরা আমাদের দেশের মানুষ থেকে অনেক দূরে আছি, কিন্তু যতটা সম্ভব তাদের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করেছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ফাইনাল সব সময়ই কঠিন হয়। প্রতিপক্ষে যখন লিওনেল মেসির মতো একজন খেলোয়াড় থাকে, তখন অবশ্যই কিছুটা দুশ্চিন্ত থাকে। কিন্তু আমরা সব সময় নিজেদের ওপর বিশ্বাস রেখেছি এবং নিজেদের ফুটবল খেলতে চেয়েছি। আমার মনে হয়, সেটি আমরা আবারও করে দেখাতে পেরেছি।’

    গোলের অনুভূতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘গোল করতে পেরে বিশাল স্বস্তি পেয়েছি। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আমাকে অনেক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। কিন্তু আমি আগেও বলেছি, ভাগ্য আমাদের পক্ষেই লেখা ছিল। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। তিনি সব সময় আমাকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দেন। আর শেষ পর্যন্ত তিনি সেই মানুষদেরই প্রাপ্য জিনিসটি দেন, যারা সত্যিই তার যোগ্য।’

  • ভারতে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জ

    ভারতে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জ

    আর্জাতিক ডেস্ক:

    ভারতের সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নয়াদিল্লি। সংসদ ভবন অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলকে ঘিরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি, আটক এবং লাঠিচার্জের অভিযোগে দিনভর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীজুড়ে। তবে লাঠিচার্জের অভিযোগ অস্বীকার করেছে দিল্লি পুলিশ।

    সোমবার পুলিশের অনুমতি ছাড়াই সংসদ ভবন অভিমুখে অভিযান শুরু করে সিজেপি। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মিছিল ঠেকাতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান ও টিয়ার শেল ব্যবহার করে। এছাড়া দিল্লির কয়েকটি এলাকায় সাময়িকভাবে মোবাইল নেটওয়ার্কও সীমিত করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

    সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে আগের দিন থেকেই রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। নতুন দিল্লি এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ১৬৩ ধারা জারি করে সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়। দিল্লি পুলিশ জানায়, সংসদ অভিযানের জন্য সিজেপি কোনো অনুমতি নেয়নি এবং অনুমতি চাইলেও তা দেওয়া হতো না। যন্তর মন্তর ছাড়া অন্য কোথাও জমায়েতের অনুমতি ছিল না। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবৈধ জমায়েত বা মিছিলে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

    নিরাপত্তার স্বার্থে রাজীব চক, জনপথ, প্যাটেল চক, কেন্দ্রীয় সচিবালয় ও সেবা তীর্থ মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। প্রায় পাঁচ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং নতুন দিল্লিকে ১৫টি নিরাপত্তা জোনে ভাগ করা হয়।

    এত কড়াকড়ির মধ্যেও হাজার হাজার সমর্থক নিয়ে সংসদ অভিমুখে মিছিল শুরু করে সিজেপি। সোনম ওয়াংচুকের অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী গীতাঞ্জলী আংমো কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

    পুলিশ সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাসসহ একাধিক নেতা ও বহু সমর্থককে আটক করে। পরে সৌরভ দাস দাবি করেন, সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার এখনও কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানায়নি, তবে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত সরকারের ওপর নির্ভর করছে।

    পরে জানা যায়, সিজেপি প্রতিনিধি আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন। দলটির প্রধান দাবি, নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। ওই বিষয়েই বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা জানায় সিজেপি।

    অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে লাঠিচার্জের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। পুলিশের দাবি, যন্তর মন্তরে কোনো লাঠিচার্জ বা বলপ্রয়োগের ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে এবং গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে সিজেপি। গত ২৮ জুন থেকে যন্তর মন্তরে আমরণ অনশনে বসেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। অনশনের ২১তম দিনে পুলিশ তাকে সেখান থেকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতাল থেকে তিনি সরকারের কাছে তিনটি শর্ত দিয়েছেন। সেগুলোর অন্তত একটি বাস্তবায়ন করা হলে তিনি অনশন প্রত্যাহারে রাজি বলে জানিয়েছেন।

  • টেকসই উৎপাদনে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল ইভিটেক্স ড্রেস শার্ট লিমিটেড

    টেকসই উৎপাদনে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল ইভিটেক্স ড্রেস শার্ট লিমিটেড

    টেকসই উৎপাদন, পরিবেশবান্ধব শিল্পচর্চা এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ইভিন্স গ্রুপের ইভিটেক্স ড্রেস শার্ট লিমিটেড আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬ এ ‘বছরের সবচেয়ে টেকসই তৈরি পোশাক কারখানা’ সম্মাননা অর্জন করেছে।

    ইভিন্স গ্রুপের লিড সংস্করণ ৪.১ প্লাটিনাম সনদপ্রাপ্ত সবুজ কারখানা ইভিটেক্স ড্রেস শার্ট লিমিটেড এ সম্মাননা অর্জন করে।

    গত ১৮ জুলাই রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে মার্কটেল বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. শরিফুল দুলু ইভিন্স গ্রুপের পরিচালক সানজানা শেহনাজ চৌধুরীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা তুলে দেন।

    টেকসই উন্নয়ন, দায়িত্বশীল উৎপাদন ব্যবস্থা, পরিবেশ সংরক্ষণ, জ্বালানি ও সম্পদের দক্ষ ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক মানের সবুজ শিল্পচর্চায় ধারাবাহিক অঙ্গীকারের স্বীকৃতি হিসেবে ইভিটেক্স ড্রেস শার্ট লিমিটেড এ সম্মাননা অর্জন করেছে।

  • লোহার কড়াইয়ে যে খাবারগুলো রান্না করা ঠিক নয়

    লোহার কড়াইয়ে যে খাবারগুলো রান্না করা ঠিক নয়

    প্রতিদিন রান্নার কাজে অনেকে লোহার কড়াই ব্যবহার করেন। সব ধরনের রান্না এ কড়াইতে করা ঠিক নয়। কারণ লোহা দিয়ে তৈরি পাত্রে বিশেষ কিছু খাবার রান্না করলে প্রকৃত খাবারের স্বাদ নষ্ট হতে পারে। এমনকি এ ধরনের পাত্রে রান্না খাবার খেলে শরীরে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। এমনটাই বলা হয়েছে ভারতের গণমাধ্যম ‘নিউজ১৮’-এর একটি প্রতিবেদনে।

    যেসব খাবার লোহার কড়াইয়ে রান্না করবেন না

    টমেটো
    প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো রান্নায় টমেটো দেওয়া হয়। শুধু টমেটো দিয়ে নানা পদও রান্না করা হয়। টমেটো প্রকৃতিগতভাবে অম্লীয় স্বাদের। তাই লোহার কড়াইয়ে এটি রান্না না করা ভালো। রান্না করলে শরীরে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে এবং এর থেকে ধাতব পদার্থ খাবারে মিশে যেতে পারে। খাবারে ধাতব মিশলে আসল স্বাদ নষ্ট হবে। লেবু ও ভিনেগারের মতো অন্যান্য অম্লীয় খাবারও লোহার কড়াইয়ে রান্না ঠিক নয়।

    ডিম
    আপনি যদি প্রায়ই ডিম রান্নার জন্য লোহার কড়াই ব্যবহার করে থাকেন, তবে এখন থেকে বন্ধ করুন। ডিমে থাকা সালফার লোহার সাথে বিক্রিয়া করে ডিমকে ধূসর করে দিতে পারে এবং এর স্বাদ নষ্ট করে দেয়। শুধু তাই নয়, লোহা ও সালফারের এই বিক্রিয়ার ফলে আপনার কড়াইতে মরিচা পড়তে পারে। কড়াইয়ের রঙও পাল্টে যেতে পারে, যা এর স্থায়িত্ব কমিয়ে দেয়। তাই, ডিম রান্নায় নন-স্টিক পাত্র ব্যবহার করা উচিত।

    মাছ
    লোহার কড়াইতে মাছ রান্না করা এড়িয়ে চলা উচিত। মাছে থাকা অ্যাসিড লোহার সাথে বিক্রিয়া করে। যার ফলে মাছ কড়াইয়ের তলায় লেগে যায় এবং এর স্বাদ ও গঠন বদলে যায়। নন-স্টিক প্যান বা স্টেইনলেস স্টিলের পাত্রে মাছ রান্না করা সবচেয়ে ভালো।

    ভাত
    লোহার পাত্রে ভাত রান্না করাও ঠিক নয়। চালের উচ্চ অম্লতা লোহার সঙ্গে বিক্রিয়া করে চালের রঙ পাল্টে দিতে পারে। এছাড়া ভাতে ধাতব স্বাদ যুক্ত হতে পারে। আবার লোহা চালে উপস্থিত প্রাকৃতিক তেলের সঙ্গে বিক্রিয়া করে চাল কড়াইয়ের তলায় লেগে যেতে পারে। তাই, ভাত রান্নার সময় লোহার পাত্র ব্যবহার না করে স্টেইনলেস স্টিল বা অন্য কোনো নন-স্টিক ভারী তলার পাত্র ব্যবহার করাই শ্রেয়।

  • হামাসের নতুন প্রধান খলিল আল-হাইয়া

    হামাসের নতুন প্রধান খলিল আল-হাইয়া

    আর্জাতিক ডেস্ক:

    লিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর নতুন প্রধান হিসেবে খলিল আল-হাইয়ার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি ইয়াহিয়া সিনওয়ারের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। হামাস এক বিবৃতিতে জানায়, সংগঠনের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান হিসেবে খলিল আল-হাইয়াকে নির্বাচিত করা হয়েছে।

    ২০২৪ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে ইয়াহিয়া সিনওয়ার নিহত হন। এর পর থেকেই হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তনের আলোচনা চলছিল।

    গত বছর হামাসের একাধিক শীর্ষ নেতার মৃত্যুর পর সংগঠনের নেতৃত্বে খলিল আল-হাইয়ার গুরুত্ব বেড়ে যায়। ২০২৪ সালে তেহরানে হামাসের তৎকালীন রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়া নিহত হন। পরে গাজায় ইয়াহিয়া সিনওয়ার এবং সংগঠনটির সামরিক শাখার প্রধান মোহাম্মদ দেইফও নিহত হন।

    ইসমাইল হানিয়ার মৃত্যুর পর ইয়াহিয়া সিনওয়ার হামাসের নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তবে একই বছরের শেষ দিকে তিনিও ইসরায়েলি অভিযানে নিহত হন। এরপর সংগঠনের রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হলো খলিল আল-হাইয়াকে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়িয়েছে তার দেশ-ইরানি প্রেসিডেন্ট

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়িয়েছে তার দেশ-ইরানি প্রেসিডেন্ট

    আর্জাতিক ডেস্ক:

    রানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সোমবার বলেছেন, তাঁর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়িয়ে গেছে। তেহরানের উচিত এই সংঘাতের প্রতিক্রিয়া বা পরিণতি মেনে নেওয়া।

    প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বাস্তবতা হলো আজ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে লিপ্ত আছে। আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে এবং এই প্রতিরোধের স্বাভাবিক পরিণতি মেনে নিতে হবে।’

    গত মাসে স্বাক্ষর হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি, পাল্টাপাল্টি হামলায় যখন ভঙ্গুর অবস্থায়, তখনই এমন ঘোষণা দিলেন পেজেশকিয়ান। চলমান সংঘাত বন্ধে প্রকাশ্যে চলা কূটনৈতিক তৎপরতারও তেমন অগ্রগতির কথা সামনে আসেনি।

    সোমবার শান্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান সফরের কথা আছে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনির। মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, ইরানি মন্ত্রী পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তবে এর সঙ্গে চলমান সংঘাতের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

    এদিকে পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অবনতির মুখে। সোমবার বাহরাইন ও কুয়েতের সরকার জানিয়েছে, তাদের দেশে ইরান নতুন করে হামলা চালিয়েছে। যা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত বা ধ্বংস করেছে। কুয়েতে হামলার ব্যাপারে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, দেশটিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হানা হয়েছে।

    ইরানের পাল্টা হামলার পাশাপাশি সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যেও উত্তেজনার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় লোহিত সাগর দিয়ে চলাচল করা নিজেদের জাহাজগুলোকেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এই সতর্কতার মধ্যেই সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলা একটি জাহাজে গুলির খবর পাওয়া গেছে।

  • ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা আয়ে রেকর্ড ফিফার

    ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা আয়ে রেকর্ড ফিফার

    দীর্ঘ লড়াই শেষে স্পেনের জয়ের মাধ্যমে পর্দা উঠেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়াপ্রতিযোগিতা আসরের। জমজমাট এই আয়োজন থেকে রেকর্ড পরিমাণ আয় করেছে এর আয়োজক ফিফা। রেকর্ড ১,৫০০ কোটি মার্কিন ডলার আয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে যাচ্ছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান। বিশ্ব ফুটবলের এই মেগা ইভেন্ট থেকে ধারণার চেয়েও অনেক বেশি অর্থ আয় হয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ফিফা ১১ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। তবে সব হিসাব ছাড়িয়ে আয় বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি শনিবার সদস্য দেশগুলোর অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে নিশ্চিত করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সংবাদের তথ্য অনুযায়ী, আজকের ডলারের বিনিময় হার (১ ডলার = ১২৩.১২ টাকা হিসাবে) অনুযায়ী ফিফার এই মোট আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা।

    আয়ের মূল উৎস টিকিট বিক্রি:

    ফিফা সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিপুল পরিমাণ আয় বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বিশেষ হসপিটালিটি প্যাকেজ এবং টিকিটের বিশাল চাহিদা। বিশেষ করে চড়া দামের ‘সেকেন্ডারি টিকিট মার্কেট’ থেকে আয়ের বড় অংশ এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, সেকেন্ডারি মার্কেটে টিকিট কেনাবেচার সময় ক্রেতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ এবং বিক্রেতার কাছ থেকে আরও ১৫ শতাংশ মোট ৩০ শতাংশ কমিশন আদায় করে ফিফা। ফাইনাল ম্যাচের আগের দিন শনিবারও নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনালের ভিআইপি ও হসপিটালিটি প্যাকেজ ফিফার টিকিট পোর্টালে ট্রফি লাউঞ্জ প্যাকেজ হিসেবে ব্যক্তিপ্রতি সর্বোচ্চ ৩৪,৫০০ ডলারে (প্রায় ৪২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা) বিক্রি হতে দেখা গেছে।

    সদস্য দেশগুলোর লাভ ও ইনফান্তিনোর অবস্থান:

    বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত এই বাম্পার রেভিনিউ বা রেকর্ড রাজস্বের সুবিধা ফিফার সদস্যভুক্ত ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোও পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও তাদের মধ্যে অতিরিক্ত অর্থ কীভাবে বণ্টন করা হবে সেই সম্পর্কিত চূড়ান্ত বিবরণী এখনো তৈরি হয়নি। তবে এই বিশাল আর্থিক সাফল্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে মাসব্যাপী আয়োজিত বিতর্কের পর জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর অবস্থানকে ফুটবল অঙ্গনে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি শেষ ৩২-এর ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে আমেরিকার স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড স্থগিতের বিষয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের কাছে ফিফা নতিস্বীকার করেছে এমন অভিযোগে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর (এফএ) মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও ২০২৭ সালের মার্চে হতে যাওয়া পরবর্তী ফিফা নির্বাচনে ইনফান্তিনোর পক্ষে এরই মধ্যে ২০০টিরও বেশি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের সমর্থন নিশ্চিত হয়েছে। বিশ্বকাপের অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের সুবাদে অসন্তুষ্ট দেশগুলোও হয়তো প্রকাশ্যে কোনো প্রতিবাদ জানাবে না।

    এই নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সাফল্যের ফলে অদূর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ফের বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পেতে পারে। পরবর্তী খালি থাকা ২০৩৮ সালের বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের জন্য যুক্তরাষ্ট্র আবারও বিড করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একটি অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে ট্রাম্প নিশ্চিত করেন যে, তার দেশ আবারও এটি আয়োজন করতে ইচ্ছুক এবং এবার তারা কানাডা ও মেক্সিকোকে ছাড়া এককভাবে আয়োজনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া ২০২৯ সালের ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়েও ফিফার সাথে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

  • এডিবি’র নামে ভুয়া ঋণের ফাঁদ, সতর্কবার্তা জারি

    এডিবি’র নামে ভুয়া ঋণের ফাঁদ, সতর্কবার্তা জারি

    এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) নাম, লোগো এবং কর্মকর্তাদের ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে ঋণ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে একদল প্রতারক চক্র। এমন পরিস্থিতিতে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক এই দাতা সংস্থা।

    আজ সোমবার ঢাকাস্থ এডিবি’র কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে এডিবি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা কখনোই কোনো ব্যক্তিকে সরাসরি ঋণ, অনুদান, তহবিল বা অন্য কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে না। একইভাবে, কোনো ব্যক্তির কাছে আর্থিক সহায়তার বিনিময়ে ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য চায় না এবং মোবাইল ব্যাংকিং বা অন্য কোনো মাধ্যমে কোনো টাকা জমা দেয়ারও অনুরোধ করে না।

    সাম্প্রতিক সময়ে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, প্রতারকরা এডিবি ও এর কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে নকল ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ, ভুয়া পরিচয়পত্র এবং অন্যান্য প্রতারণামূলক উপকরণ তৈরি করছে। এসবের মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সাথে এডিবির কোনো সম্পর্ক বা সম্পৃক্ততা নেই।

    জনসাধারণকে এ ধরনের ভুয়া ঋণের প্রস্তাব সম্পর্কে সতর্ক থাকার এবং কোনো ধরনের লেনদেন বা যোগাযোগ না করার জন্য জোরালোভাবে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এডিবি’র ঋণ বা আর্থিক সহায়তার নামে কেউ যোগাযোগ করলে বিষয়টি অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করেছে সংস্থাটি।

    বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে এডিবি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার এবং বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করে। তাই এডিবির প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে কেউ যদি সরাসরি ব্যক্তি পর্যায়ে ঋণ বা আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেয়, তবে সেটি নিশ্চিতভাবেই প্রতারণা। এ ধরনের প্রতারণা এড়িয়ে চলার প্রাতিষ্ঠানিক পরামর্শ ও বিস্তারিত তথ্য এডিবির অফিসিয়াল মাধ্যমে চোখ রাখতে বলা হয়েছে।

  • মেসি: যে গল্পের কোনো শেষ নেই

    মেসি: যে গল্পের কোনো শেষ নেই

    নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বাঁশি বাজার আগে গ্যালারির প্রতিটি চোখ একবার হলেও খুঁজে নেবে একটা মুখ। সেটি আর কেউ নন। লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। ঊনচল্লিশ বছর বয়সে বিশ্বকাপ ফাইনালে দাঁড়ানো এই মানুষটার জন্য রাতটা যেন এক দীর্ঘ জীবনের বৃত্ত পূর্ণ হওয়ার মুহূর্ত।


    ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপে উনিশ বছরের এক কিশোর হয়ে পথচলা শুরু করেছিলেন মেসি। ২০১০ বিশ্বকাপে সেভাবে আলো ছড়াতে পারেননি। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনাল হেরে চোখের জলে ভাসিয়েছিলেন গোটা আর্জেন্টিনাকে। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপেও গল্পের পূর্ণতা দিতে পারেননি। ২০২২ কাতারে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়েছেন। হাতে তুলেছিলেন সেই কাঙ্ক্ষিত সোনালি ট্রফি। যা ছিল তার ক্যারিয়ারের একমাত্র অপূর্ণ আক্ষেপ। ২০২৬ সালে ক্যারিয়ারে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নেমে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পাশে বসে গেছেন। ছয়টি বিশ্বকাপে খেলা হাতে গোনা কজনের একজন মেসি। তবে রোনালদো নিজের শেষ বিশ্বকাপের কথা আগেই জানিয়ে দিয়েছেন। মেসি মুখ ফুটে বলেননি এখনো। কিন্তু এই বয়স, এই শরীর নিয়ে চার বছর পর আবার একই মঞ্চে ফেরা কতটা সম্ভবÑউত্তরটা সবাই জানেন, শুধু স্বীকার করতে চান না কেউ।


    টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সামান্য পেশির চোট নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিল আর্জেন্টিনা শিবির। কোচ লিওনেল স্কালোনি খোলাখুলি কিছু না বললেও, পুরো আসরে বিশ্রাম দিয়ে দিয়ে মেসিকে খেলাতে হয়েছে তাকে। তারপরও মাঠে যা দেখিয়েছেন তিনি, তা রূপকথার কাছাকাছি। এই বিশ্বকাপে করেছেন নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও রয়েছেন। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর ম্যাচে জোড়া অ্যাসিস্ট করে দলকে টেনে নিয়ে গেছেন ফাইনালে। শরীর হয়তো আর আগের মতো নেই, কিন্তু চোখ আর পায়ের জাদু এখনো অটুট। এই বৈপরীত্যই যেন মেসির শেষ অধ্যায়ের সবচেয়ে মর্মস্পর্শী দিক।


    আটবার ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মান ব্যালন ডি’অর জিতেছেন মেসি। যা আজও কেউ ছুঁতে পারেননি। বার্সেলোনার হয়ে ক্লাব ফুটবলে জিতেছেন প্রায় সবকিছু। তবু দীর্ঘদিন সমালোচকরা বলতেন, বিশ্বকাপ ছাড়া তার কীর্তি অসম্পূর্ণ। ২০২২ সালে কাতারে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে সেই অপবাদ ঘুচিয়েছিলেন তিনি। আজ যদি আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয় শিরোপা জেতে, তাহলে ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের টানা দুই শিরোপার পর ৬৪ বছরে এই কীর্তি গড়া প্রথম দল হবে আর্জেন্টিনা। আর সেই ইতিহাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হবেন মেসি নিজেই। ২০১৪ সালে মারাকানায় ফাইনাল হেরে ট্রফির মঞ্চে নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকা মেসির সেই ছবি আজও ভাসে আর্জেন্টাইনদের চোখে। বছরের পর বছর সেই ব্যর্থতার বোঝা বয়ে বেড়াতে হয়েছে তাকে। ২০১৬ কোপা আমেরিকা ফাইনালে হেরে অবসরের ঘোষণাও দিয়েছিলেন। সেই মানুষটাই আজ ঊনচল্লিশ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে আছেন ফাইনালের মঞ্চে। হয়তো শেষবারের মতো। প্রতিটি ম্যাচ এখন তার কাছে যেন বাড়তি এক উপহার। বাড়তি সময়। যা পাবেন কিনা তা নিয়ে নিজেও কখনো নিশ্চিত ছিলেন না।


    মেসির এই দীর্ঘ পথচলায় বড় অনুপ্রেরণা স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো। ছোটবেলার বন্ধু থেকে জীবনসঙ্গী হয়ে ওঠা আন্তোনেলা মেসির ছায়া হয়ে ছিলেন সবসময়। ক্লাব ফুটবল হোক বা বিশ্বকাপ-গ্যালারিতে থেকেছেন তিন সন্তান থিয়াগো, মাতেও ও চিরোকে নিয়ে। ২০২২ সালে কাতারে ট্রফি হাতে মেসির উদযাপনের সেই আইকনিক দৃশ্যে পরিবারের উপস্থিতি ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত হয়ে আছে। আজ রাতেও, ফলাফল যাই হোক না কেন, গ্যালারির সেই চেনা মুখগুলোই হয়তো সবচেয়ে গভীরভাবে অনুভব করবে সময়ের এই বাঁকবদল।
    আর্জেন্টিনার রাস্তায়, বুয়েন্সে আয়েন্সের ক্যাফেতে, রোজারিওর অলিগলিতেÑমেসির জন্মশহর জুড়ে আজ রাতের অপেক্ষা যেন নিঃশ্বাস আটকে রাখা এক উৎকণ্ঠা। আটলান্টার গ্যালারিতে থাকা এক আর্জেন্টাইন সমর্থক সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, তিনি চান না মেসি অবসর নিন, কারণ তার খেলা দেখে মনে হয় তিনি এখনো পঁচিশ বছরের তরুণ। শুধু আর্জেন্টিনা নয়, ঢাকার অলিগলি থেকে গ্রামের পাড়া পর্যন্ত নীল-সাদা জার্সির উন্মাদনা প্রমাণ করে মেসি কোনো একটা দেশের সম্পত্তি নন, তিনি গোটা বিশ্ব ফুটবলের।
    দিয়েগো মারাডোনার উত্তরসূরি হওয়ার যে বোঝা নিয়ে বেড়ে উঠেছিলেন মেসি, সেই তুলনার ঊর্ধ্বে চলে গেছেন। পেলে-মারাডোনা-মেসি-এই ত্রয়ীর মধ্যে তার নাম উচ্চারিত হয় নির্দ্বিধায়। আর্জেন্টিনা ফাইনাল জিতুক বা হারুক, মেসির কীর্তি ফুটবলের পাতায় খোদাই হয়ে থাকবে চিরকাল। তবে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা তার ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে বসিয়ে দেবে এমন এক মুকুটÑযা তাকে চিরতরে পরিসংখ্যানের ঊর্ধ্বে নিয়ে যাবে। মেটলাইফের কয়েক ঘণ্টা স্রেফ একটা ফাইনাল নয়। এটা একটা বিদায়ের প্রস্তুতি, একটা কীর্তির চূড়ান্ত পরীক্ষা, আর কোটি ভক্তের হৃদয়ে খোদাই হয়ে থাকা এক নামের অধ্যায়। যার হয়তো কোনো শেষ নেই।

  • বিশ্ব সুন্দরীর মঞ্চে পাকিস্তানের যুবতী আনিকা

    বিশ্ব সুন্দরীর মঞ্চে পাকিস্তানের যুবতী আনিকা

    চলতি বছরের ‘মিস ওয়ার্ল্ড পাকিস্তান’-এর খেতাব জিতেছেন আনিকা জামাল ইকবাল। এ বার তাকে দেখা যাবে বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চে পাকিস্তানের হয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে। তার হাত ধরে ইতিহাস গড়ল পাকিস্তান। প্রায় ৭৪ বছরে প্রথম বারের জন্য বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চলেছে পাকিস্তান। জিন্নার দেশের হয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন ২৪ বছর বয়সী সুন্দরী এই আনিকা জামাল ইকবাল। এর আগে যে অনিকা কোনও সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেননি তা নয়। ২৪ বছরের এই তনয়া ‘মিস আর্থ’, ‘মিস গ্লোবাল’, ‘মিস কসমো’, ‘মিস ইকো ইন্টারন্যাশনল’ এবং ‘মিস অরা ইন্টারন্যাশনল’-এর মতো প্রতিযোগিতাগুলিতে অংশ নিয়েছেন। কসমোতে অনুষ্ঠিত ‘ফ্রিডম অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতাতেও আনিকা জিতে নিয়েছেন চারটি খেতাব। তার পড়াশোনা এখনও শেষ হয়নি। বর্তমানে তিনি পাকিস্তানের দানিস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাকাউন্টিং এবং অডিটিং নিয়ে স্নাতোকত্তর স্তরের পড়াশোনা করছেন।

    রূপবতী আনিকার মন রয়েছে সমাজকর্মেও। তিনি ‘বিউটি উইদ পার্পস’ নামের একটি প্রকল্প চালান। পাকিস্তানের সকল থ্যালাসেমিয়া রোগীর সহায়তা করাই এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য। নিজের প্রকল্পের পাশাপাশি আনিকা পাকিস্তানের সামাজিক কর্মে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও সক্রিয় ভাবে কাজ করেন। লাহোরের বেশ কয়েকটি দাতব্য সংস্থায় আনিকা স্বেচ্ছাসেবী হিসাবে কাজ করেন। সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগা রোগীদের নিয়েই সে সকল সংস্থাগুলিতে কাজ করা হয়। আনিকা ‘মিস ওয়ার্ল্ড পাকিস্তান’-এর খেতাব জেতার পর ‘মিস পাকিস্তান ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন’-এর তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চে আনিকার যাওয়া এই সংস্থার জন্য একটি মাইলফলক স্পর্শ করছে।

    দীর্ঘ ২৫ বছরে প্রথম বারের মতো তাদের সংস্থা থেকে কেউ বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চে পা রাখতে চলেছেন। যদিও ইতিহাস বলছে দীর্ঘ ৭৪ বছরে পাকিস্তান বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চ ছুঁয়ে দেখেনি। ‘মিস পাকিস্তান ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন’-এর প্রধান সোনিয়া আহমেদ জানিয়েছেন, পাকিস্তানের জন্য এটি একটি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হতে চলেছে। তার মতে, পাকিস্তানের প্রতিভা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার জন্য এটি একটি অত্যন্ত ভাল সুযোগ। পাকিস্তানের প্রতিযোগীরা এর আগে নানা ধরনের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন। আনিকার কাছেও সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া নতুন কিছু নয়।

    তবে বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চ সে সবের থেকে আলাদা। সেখানে বাহ্যিক সৌন্দর্যের সঙ্গে বোধগম্যতা, জনসমক্ষে কথা বলার ধরন প্রভৃতি বিষয় যাচাই করে দেখা হয়। তবে সে সব নিয়ে চিন্তিত নন আনিকা। তিনি ছোট থেকেই জানতেন যে পাকিস্তানের মতো ইসলাম ধর্মাবলম্বী দেশে মডেলিংকে পেশা হিসাবে বেছে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া সহজ বিষয় নয়। এ বিষয়ে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন অনেকে। কিন্তু সে সব নিয়ে চিন্তিত নন আনিকা। বর্তমানে তিনি ভিয়েতনামে হতে চলা বিশ্বসুন্দরীর প্রতিযোগিতায় নিজেকে মেলে ধরাতেই গুরুত্ব দিচ্ছেন।

    অনিকার কাছে বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চ কেবল একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ নয়। তার প্রধান লক্ষ্য হল, বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে নিজের দেশের থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য সহযোগিতা জোগাড় করা, যাতে তিনি তার প্রকল্পকে আরও দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন। আনিকার মা-বাবা তথা পরিবারের সকলে মেয়ের এই সাফল্যে অত্যন্ত খুশি। মেয়ের এক জন সফল মডেল হওয়ার ইচ্ছায় তারা বরাবর পাশে থেকেছেন। আনিকার মা-বাবা কখনও তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে কিছু করার জন্য চাপ দেননি।

  • দুধে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অচেতন, বিছানায় সাপ ছেড়ে দিয়ে স্বামীকে হত্যা

    দুধে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অচেতন, বিছানায় সাপ ছেড়ে দিয়ে স্বামীকে হত্যা

    ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের মিরাটে এক ব্যক্তিকে সাপের কামড়ে হত্যার অভিযোগে তাঁর স্ত্রী ও এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডটিকে একটি সাধারণ দুর্ঘটনা হিসেবে সাজিয়ে ২০ লাখ রুপির বিমা দাবি আদায় এবং নিজেদের সম্পর্ক বজায় রাখার উদ্দেশ্যে এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

    নিহত ব্যক্তির নাম অতুল পানওয়ার। তিনি ও তাঁর স্ত্রী দামিনী উত্তর প্রদেশের হস্তিনাপুরে ‘কৃষ্ণা কিডস প্লে স্কুল’ নামে একটি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা করতেন। গত শুক্রবার সকালে নিজের বিছানা থেকে অতুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ২০১৯ সালে অতুল ও দামিনীর বিয়ে হয়েছিল বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা পিটিআই।

    মিরাটের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (এসএসপি) জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে দামিনীর সঙ্গে তাঁদের স্কুলের গাড়িচালক তুষার ওরফে নিক্কির সম্পর্ক ছিল।

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দামিনী ও তুষার প্রথমে অতুলকে সড়ক দুর্ঘটনার নাটক সাজিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তাঁরা নতুন পরিকল্পনা করেন। এই ষড়যন্ত্রে দামিনী ও তুষারের সঙ্গে আরও দুজন জড়িত ছিলেন বলে পুলিশ দাবি করেছে।

    সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (রুরাল) অভিজিৎ কুমার জানান, পরিকল্পনামাফিক দামিনী প্রথমে তাঁর স্বামীকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ায়, পরে সে অচেতন হয়ে পড়ে। এরপর অচেতন অতুলের বিছানায় একটি বিষধর সাপ ছেড়ে দেওয়া হয়। সাপের কামড় খাওয়ার পর শুক্রবার সকালে অতুলকে স্থানীয় একটি কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পুলিশ জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে দুটি প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। প্রথমত, অতুলের নামে থাকা ২০ লাখ রুপির বিমা দাবি করা এবং দ্বিতীয়ত, অতুলকে সরিয়ে দামিনী ও তুষারের সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়া। ঘটনাটিকে সাপের কামড়ে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল যাতে কারও মনে কোনো সন্দেহ তৈরি না হয়।

    প্রথম দিকে ঘটনাটি সাধারণ সাপের কামড়ে মৃত্যু বলে মনে হলেও পুলিশের সন্দেহ তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে তদন্তকারীরা অতুলের মৃত্যুর চারপাশের পরিস্থিতি গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে শুরু করেন।

    পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজনদের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড এবং অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে দামিনী ও তুষারের মধ্যকার কথোপকথন এবং ষড়যন্ত্রের বিষয়টি সামনে আসে। এরপরই পুলিশ দামিনী ও তুষারকে গ্রেপ্তার করে।

    তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত তুষার নিজেও বিবাহিত এবং এই হত্যাকাণ্ডের আগে তিনি তাঁর স্ত্রীকে ডিভোর্স দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। পুলিশ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি অভিযুক্তদেরও খুঁজে বের করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

  • ফিলিস্তিনের বিশ্বখ্যাত জলপাই তেল গেল কোথায়

    ফিলিস্তিনের বিশ্বখ্যাত জলপাই তেল গেল কোথায়

    মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে মালয়েশিয়া পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সুপারমার্কেটে ফিলিস্তিনি জলপাই তেলের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর পেছনে রয়েছে প্রতিকূল আবহাওয়া, ইসরায়েলি দখলনীতি, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং পশ্চিম তীরে চলমান অস্থিরতা। ফলে ফিলিস্তিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্য ও রপ্তানি খাত ভয়াবহ সংকটে পড়েছে।

    পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে রোববার (১৯ জুলাই) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ন্যাশনাল’ উল্লেখ করেছে—অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেরুজালেমের দক্ষিণে বেইত জালার কৃষক কামাল মুকারকারের পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম জলপাই চাষের সঙ্গে যুক্ত। একসময় জলপাই তেল বিক্রির আয়েই তাদের সংসার চলত। কিন্তু এবার তিনি বলছেন, ২০০৯ সালের পর এটিই সবচেয়ে খারাপ মৌসুম। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়া এবং বসতি স্থাপনকারীদের হামলার কারণে জলপাই উৎপাদন ৭০ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে।

    গাজা যুদ্ধের পর পশ্চিম তীরের অনেক মানুষ, যারা আগে ইসরায়েলে কাজ করতেন, জীবিকার অভাবে আবার কৃষিতে ফিরে এসেছেন। কিন্তু কৃষিতেও তারা প্রত্যাশিত ফল পাচ্ছেন না। মুকারকার জানান, গত দুই বছরের আবহাওয়া ছিল ‘দুর্যোগ’, আর সেই সংকটকে আরও গভীর করেছে সহিংসতা ও দখলনীতি।

    এদিকে মুকারকারের পরিবারের ৩০ শতাংশ জমি ইসরায়েলের বিভাজন প্রাচীর নির্মাণের সময়ই হারিয়ে গিয়েছিল। এ ছাড়া আশপাশের ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং নতুন আউটপোস্ট স্থাপনের ফলে অনেক কৃষক নিজেদের জমিতে নিরাপদে যেতে পারছেন না। গত বছরের ফসল সংগ্রহের সময়ও হামলার আশঙ্কায় অনেকে জলপাই তুলতেই যাননি।

    ফিলিস্তিনি অলিভ অয়েল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ফাইয়াদ ফাইয়াদের মতে, গত বছর ফিলিস্তিনে জলপাই তেলের উৎপাদন স্বাভাবিক গড়ের মাত্র ৩৩ শতাংশে নেমে আসে। উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৭ হাজার টন, অথচ পশ্চিম তীরের অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদাই অন্তত ১৩ হাজার টন। ফলে রপ্তানির জন্য কার্যত কোনো উদ্বৃত্ত তেল অবশিষ্ট নেই।

    স্বাভাবিক সময়ে ফিলিস্তিনের প্রায় ৪ হাজার টন জলপাই তেল উপসাগরীয় দেশগুলোতে, ১ হাজার টন জর্ডানে এবং আরও ২ হাজার টন বিশ্বের অন্যান্য দেশে রপ্তানি করা হয়। কিন্তু এবার সেই রপ্তানি প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

    ফাইয়াদ জানান, জলপাই তেল ফিলিস্তিনের কৃষি খাতের মোট আয়ের প্রায় ১৫ শতাংশ জোগান দেয়। প্রায় ৭০ হাজার জলপাই বাগানের মালিক এবং পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনসহ বিভিন্ন কাজে যুক্ত আরও প্রায় ৩০ হাজার পরিবার এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ প্রায় এক লাখ পরিবারের জীবিকা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জলপাই তেলের সঙ্গে জড়িত।

    তিনি আরও বলেন, গত মৌসুমে প্রায় ২০ শতাংশ সময় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বা বাধার কারণে কৃষকেরা নিজেদের জমিতে প্রবেশ করতে পারেননি। ইসরায়েলি বসতির কাছাকাছি হওয়ায় ৩১ হাজার একরেরও বেশি জমি কার্যত ফিলিস্তিনি মালিকদের নাগালের বাইরে রয়েছে।

    তবে চলতি বছরে ভালো বৃষ্টিপাত হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে কিছুটা আশাবাদ তৈরি হয়েছে। অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন মৌসুমে ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন তাঁরা। কিন্তু কৃষকদের মতে, অনুকূল আবহাওয়া থাকলেও সহিংসতা ও জমিতে প্রবেশের বাধা অব্যাহত থাকলে সেই আশাও বাস্তবায়িত হবে না।

  • ফাইনালের টিকিটের দামে আগুন

    ফাইনালের টিকিটের দামে আগুন

    বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। আর্জেন্টিনা-স্পেন মহারণ মাঠে বসে দেখতে মরিয়া সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম টিকিট সংকট। পুনর্বিক্রির বাজারে একটি টিকিটের দাম উঠেছে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন ডলার। যার বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা।

    নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া এই ফাইনালের কয়েক ঘণ্টা আগেও কমেনি টিকিটের চাহিদা। টিওয়াসি স্পোর্টসের বরাতে জানা গেছে, স্টাবহাব ও টিকিটমাস্টারের মতো পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্মে সর্বনিম্ন টিকিটের দামই শুরু হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার ডলার থেকে। আর চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আরও ঊর্ধ্বমুখী। ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সাধারণ টিকিটের সুযোগ এরই মধ্যে প্রায় শেষ। এখন অবশিষ্ট আছে কেবল হসপিটালিটি বা ভিআইপি ক্যাটাগরির টিকিট, যার দাম গিয়ে ঠেকেছে প্রায় ৬০ হাজার ডলারে-বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭৪ লাখ। টিকিট সংকটের এই চিত্র শুধু স্টেডিয়াম চত্বরেই সীমাবদ্ধ নেই, দেখা গেছে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারেও।

    সেখানে অনেক সমর্থককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে ‘টিকিট চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে। এই ম্যাচ মাঠে বসে দেখার জন্য যেকোনো অঙ্কের অর্থ খরচ করতেও প্রস্তুত তারা। আবার অনেকে অপেক্ষায় আছেন শেষ মুহূর্তে তুলনামূলক কম দামে টিকিট পাওয়ার আশায়। ফাইনালকে ঘিরে টাইমস স্কয়ারে জড়ো হয়েছিলেন আর্জেন্টিনা ও স্পেন-দুই দলেরই সমর্থকরা। তবে সংখ্যায় স্পষ্টতই এগিয়ে ছিলেন আলবিসেলেস্তে সমর্থকরা।

    লিওনেল মেসিদের সমর্থনে মুহূর্তেই যেন বুয়েনস আয়ার্সে রূপ নেয় নিউইয়র্কের এই বিখ্যাত চত্বর। মজা করে বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ডেও একে ‘আর্জেন্টাইনস স্কয়ার’ নামে দেখানো হয়। আর্জেন্টাইনদের এই দাপুটে উপস্থিতির মধ্যেও নিজেদের মতো করে উচ্ছ্বাসে মেতেছিলেন স্পেনের সমর্থকরাও। বৃষ্টিও বাধা হতে পারেনি দুই দলের সমর্থকদের উদযাপনে।

  • সীতার চরিত্রে অভিনয় করা আশীর্বাদ: সাই পল্লবী

    সীতার চরিত্রে অভিনয় করা আশীর্বাদ: সাই পল্লবী

    বহুল প্রতীক্ষিত পৌরাণিক চলচ্চিত্র ‘রামায়ণ’-এ সীতার চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তুতি হিসেবে ধ্যান ও প্রার্থনার আশ্রয় নিয়েছিলেন অভিনেত্রী সাই পল্লবী। তার ভাষ্য, এটি কোনো অর্জন নয়, বরং আশীর্বাদ।

    শুক্রবার ভারতের নয়াদিল্লিতে চলচ্চিত্রটির ট্রেলার উন্মোচন অনুষ্ঠানে সাই পল্লবী বলেন, দেবীর চরিত্রে অভিনয় করা সহজ নয়। এ ধরনের চরিত্র পাওয়াও একজন অভিনেতার জন্য বিরল সৌভাগ্যের বিষয়।

    তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না, সীতা মায়ের চরিত্রটি আমি বেছে নিয়েছি। বরং এই চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে আমি আশীর্বাদধন্য। এটি এমন কোনো চরিত্র নয়, যেটিকে পরিকল্পনা করে নিজের মতো করে উপস্থাপন করা যায়।’

    প্রস্তুতির বিষয়ে সাই পল্লবী বলেন, ‘আমি ধ্যান করতাম এবং প্রার্থনা করতাম- সীতা মা, আপনি আমার মাধ্যমে অভিনয় করুন। আমার মাধ্যমে যা প্রকাশ পাবে, সেটাই যেন এই চলচ্চিত্রের জন্য আপনার ইচ্ছা হয়।’

    অভিনয়ের সময় নিজের চিন্তা ও মানসিক অবস্থাকে যতটা সম্ভব নির্মল ও ইতিবাচক রাখার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি।

    সাই পল্লবীর বলেন, ‘আমি সব সময় চেষ্টা করেছি অন্তত আমার চিন্তাগুলোকে যতটা সম্ভব পবিত্র রাখতে এবং নিরপেক্ষ থাকতে। এতে পর্দায় নিজের সেরা সংস্করণটি তুলে ধরতে পেরেছি।’

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত পরিচালক নীতেশ তিওয়ারি সাই পল্লবীর নিষ্ঠার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সীতার চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে অভিনেত্রী অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন।

    দুই পর্বে মুক্তি পাবে ‘রামায়ণ’। প্রথম পর্ব ২০২৬ সালের দীপাবলিতে এবং দ্বিতীয় পর্ব ২০২৭ সালের দীপাবলিতে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।

    চলচ্চিত্রটিতে ভগবান রামের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রণবীর কাপুর। লক্ষ্মণের চরিত্রে রয়েছেন রবি দুবে, রাবণের ভূমিকায় কন্নড় অভিনেতা যশ এবং হনুমানের চরিত্রে অভিনয় করেছেন সানি দেওল। এ ছাড়া শূর্পণখা চরিত্রে রাকুল প্রীত সিং, কৈকেয়ীর চরিত্রে লারা দত্ত এবং মন্দোদরীর ভূমিকায় দেখা যাবে কাজল আগরওয়ালকে।

    সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • ফাইনালে নামার আগে অবসরের ইঙ্গিত দিলেন মেসি

    ফাইনালে নামার আগে অবসরের ইঙ্গিত দিলেন মেসি

    বিশ্বকাপের ফাইনালে মাঠে নামার আগেই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা উসকে দিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন, যা অনেকের কাছেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হচ্ছে।

    লিওনেল মেসি পুরো আর্জেন্টিনা দলের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘একটা পরিবার। গত কিছু বছরে কয়েকটা খেতাব জয়ই শুধু নয়, পুরো যাত্রা পথটাই ছিল অসাধারণ। এই দলের সঙ্গে প্রতিদিনের পথ চলা, একসঙ্গে লড়াই করা, কঠিন মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়ানো সবকিছুই। প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি আমরা। আমার প্রত্যেক সতীর্থ, দলের সব টেকনিক্যাল স্টাফ এবং সেই সমস্ত মানুষকে ধন্যবাদ, যাঁরা আমাদের জাতীয় দলকে পরিবারের মতো ধরে রাখতে প্রতিদিন পরিশ্রম করেন। রবিবার যাই হোক না কেন, এই দলটা এমন একটা গল্প লিখে ফেলেছে, যেটা আমরা কখনও ভুলব না। গল্পটা কেউ মুছে দিতেও পারবে না।’

    তিনি লিখেন, ‘চলো আর্জেন্টিনা। আমরা ইতিমধ্যেই বিশেষ কিছুর সাক্ষী হয়েছি। সেমিফাইনালে জাতীয় সঙ্গীত বেজে ওঠার মুহূর্ত থেকেই আমরা অনুভব করতে পারছিলাম। জানি, সমর্থকরা যে কোনও ম্যাচের থেকে বেশি ওই ম্যাচ জিততে চেয়েছিল। প্রথমত, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল। দ্বিতীয়ত, জিততে পারলে আরও একটা বিশ্বকাপ ফাইনাল। এর তাৎপর্য অপরিসীম। আমি জানি আর্জেন্টিনার মানুষ কতটা খুশি হয়েছেন। আমার মা, পরিবারের অন্যেরা আমাকে মানুষের উদ্‌যাপনের ছবি পাঠিয়েছেন। আর্জেন্টিনাবাসীকে এই আনন্দটা দিতে পেরে আমি খুশি এবং গর্বিত।’

    বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে মেসি বলেছেন, ‘এক বছর ধরে প্রস্তুতি নিয়েছি। কঠোর অনুশীলন করেছি। নিজেকে শারীরিক ভাবে সর্বোচ্চ জায়গায় রাখতে সর্বস্ব দিয়েছি। এই মুহূর্তে শুধু উপভোগ করতে চাই। গত বিশ্বকাপ জয় বা অন্য কোনও ট্রফির কথা বলছি না। এই দল সব সময় নিজেদের সেরাটাই দেয়। এই দল কারও কাছে ঋণী নয়। আমাদের এই দল কখনও চেষ্টা করা বন্ধ করে দেয় না। আমরা আমাদের ফুটবল এবং দৃঢ় সংকল্প নিয়ে মাঠে নেমেছিলাম। শেষ পর্যন্ত আমরা আরও একটা বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেছি।’

    এ নিয়ে তৃতীয়বার আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ ফাইনালে তুললেন মেসি। ২০১৪ সালে রানার্স হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল তাকে। সেবার জার্মানির কাছে হেরে যায় তার আর্জেন্টিনা। গত বিশ্বকাপ মেসিকে হতাশ করেনি। হাড্ডাহাড্ডি ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। এ বার সামনে স্পেন।

  • আইএলও মহাপরিচালকের সাথে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রীর বৈঠক

    আইএলও মহাপরিচালকের সাথে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রীর বৈঠক

    শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবোর এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আজ রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশের শ্রম খাতের আধুনিকায়ন, শ্রম আইন সংস্কার, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান নিশ্চিতকরণে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরো জোরদার করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

    বৈঠকে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আইএলও মহাপরিচালককে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    তিনি উল্লেখ করেন, শ্রম খাতের সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এই ধারাবাহিকতায় ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শ্রমমান নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। মন্ত্রী গর্বের সাথে উল্লেখ করেন, এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আইএলও’র ১০টি মৌলিক কনভেনশনই অনুসমর্থন করেছে, যা বৈশ্বিক শ্রম পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।

    মন্ত্রী তার বক্তব্যে সরকারের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫-এর সংশোধন, একটি ত্রিপক্ষীয় ‘ন্যাশনাল সোশ্যাল ডায়ালগ ফোরাম’ গঠন এবং স্বাধীন বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার পাশাপাশি ডিজিটাল কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক উভয় খাতের শ্রমিকদের জন্য একটি সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি গড়ে তুলতে ‘এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম’ জাতীয়করণ চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    তিনি আরো জানান, দেশে ও বিদেশে দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি নতুন ‘কর্মসংস্থান অধিদফতর’ প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে, যার মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালু করে আত্মকর্মসংস্থান ও কারিগরি প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।

    মন্ত্রী বিশেষ জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর এবং শ্রম অভিবাসনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা সিন্ডিকেটের কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না। মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং কম খরচে কর্মী পাঠাতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান মন্ত্রী।

    প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে আইএলও’র কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ গভর্নিং বডির সদস্য হিসেবে অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। শ্রম পরিদফতরের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন শ্রম পরিদর্শক নিয়োগসহ আইএলও’র রোডম্যাপ বাস্তবায়নে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। এই ইতিবাচক পরিবর্তন ও মাইলফলকগুলোকে স্বীকৃতি দিয়ে আইএলও’র ধারা ২৬ এর অধীনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চলমান অভিযোগের মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য তিনি মহাপরিচালকের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।

    আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট হোংবো বাংলাদেশের শ্রম খাতের যুগান্তকারী সংস্কার, বিশেষ করে ১০টি মৌলিক কনভেনশন অনুসমর্থন এবং ২০২৬ সালের নতুন শ্রম আইন প্রণয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

    তিনি বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার সাম্প্রতিক আন্দোলন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গতিশীল নেতৃত্ব ও সংস্কারমুখী ভাবধারার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। ইপিজেডসহ সব কর্মক্ষেত্রে সংগঠনের স্বাধীনতা ও আন্তর্জাতিক শ্রমমান বজায় রাখতে, অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আইএলও বাংলাদেশের পাশে থাকবে এবং আগামী অক্টোবর মাসের প্রস্তাবিত যৌথ মিশনসহ সার্বিক ক্ষেত্রে নীতিগত ও কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

    বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব মো: আব্দুর রহমান তরফদার, আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও আইএলওর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • গালাগাল দেওয়াকে ‘অশ্লীলতা’ বলা যায় না: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

    গালাগাল দেওয়াকে ‘অশ্লীলতা’ বলা যায় না: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

    ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে জানিয়েছে যে কেবল গালিগালাজ, অভদ্র আচরণ বা কোনো ধরনের কটু কথা যতই আপত্তিকর বা অসভ্য হোক না কেন, তা ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) অধীনে ‘অশ্লীলতা’ হিসেবে গণ্য হবে না।

    শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, কেবল মুখে গালিগালাজ বা অশোভন ভাষা ব্যবহার করলেই তা দণ্ডবিধির ২৯৪ ধারার আওতায় কোনো অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না।

    বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণটি দিয়েছে। নিম্ন আদালতের দেওয়া দণ্ডাদেশ বহাল রেখে মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তির দায়ের করা আপিল শুনানির সময় শীর্ষ আদালত এই রায় দেয়।

    রায়ে আদালত উল্লেখ করে, কোনো বক্তব্য বা উচ্চারণকে তখনই কেবল ‘অশ্লীল’ হিসেবে গণ্য করা যাবে, যখন প্রমাণ হবে যে সেটি ছিল অতিরিক্ত কামোদ্দীপক, যা মানুষের মনে বিকৃত ও কলুষিত চিন্তার উদ্রেক করে এবং সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ডেকে আনে।

    সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ শুক্রবার তাদের রায়ে স্পষ্ট করে জানায়, আইনের এই মানদণ্ডে বিচার করলে, অভিযোগকারী যে সমস্ত অভিযোগ এনেছেন তা যদি পুরোপুরি সত্য বলেও ধরে নেওয়া হয়, তবুও অভিযুক্তের মুখের কথাগুলোকে কোনোভাবেই অশ্লীল বলা যায় না। এই ধরনের শব্দগুলো যতই গালিগালাজপূর্ণ, অপ্রীতিকর বা অসভ্য হোক না কেন, তা ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৪(বি) ধারার শর্ত পূরণ করে না।

    তাছাড়া, আইপিসির এই ধারা অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণিত হতে হলে জনসমক্ষে সেই শব্দের কারণে অন্য কেউ বিরক্ত বা উত্যক্ত হয়েছেন—এমন প্রমাণ থাকতে হয়, যা এই মামলায় অনুপস্থিত ছিল। ফলে আদালত জানায় যে, আইপিসির ২৯৪(বি) ধারার অধীনে এই অপরাধটি এখানে গঠিতই হয়নি।

    আলোচ্য মামলাটি ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে ভারতের তামিলনাড়ুতে একটি কৃষি জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছিল। জমি নিয়ে মামলাকারীর সঙ্গে তার দুলাভাইয়ের ঝগড়া হয় এবং এর দুদিন পর একই সম্পত্তি নিয়ে অভিযোগকারীর ভাগ্নের সাথেও তার নতুন করে বিরোধ বাধে। প্রসিকিউশনের দাবি ছিল, ওই সময় অভিযোগকারী মধ্যস্থতা করতে এলে মামলাকারী তাকে নানা কটু কথা, গালিগালাজ এবং জাতিগত বৈষম্যমূলক স্লোগান দিয়ে আক্রমণ করেন।

    এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিচারিক আদালত মামলাকারীকে দণ্ডবিধির ২৯৪(বি) ধারায় অশ্লীলতা, ৩২৬ ধারায় গুরুতর আঘাত এবং ৫০৬(২) ধারায় অপরাধমূলক হুমকির পাশাপাশি তফসিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের অধীনে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। পরবর্তীতে মাদ্রাজ হাইকোর্ট মামলাকারীকে তফসিলি জাতি ও উপজাতি আইনের অভিযোগ থেকে খালাস দিলেও ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) অধীন অন্যান্য ধারাগুলোর সাজা বহাল রেখেছিল, যা অবশেষে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সংশোধন করে দিল।

  • জুলাইয়ের ১৮ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৮০ কোটি ডলার

    জুলাইয়ের ১৮ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৮০ কোটি ডলার

    চলতি (২০২৬-২৭) অর্থবছরের প্রথম ১৮ দিনে দেশে প্রায় ১৮০ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে প্রবাসীরা। এ সময়ে বৈধ পথে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২০ দশমিক ২ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ কোটি ২০ লাখ ডলার বেশি।

    আজ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১ থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ১৭৯ কোটি ৮০ লাখ (এক দশমিক ৭৯ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৪৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, শুধু ১৬ থেকে ১৮ জুলাই- এই তিন দিনেই দেশে এসেছে ১৬ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয়। এর আগে চলতি মাসের প্রথম পাঁচ দিনে এসেছিল ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। মাসজুড়ে ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্সপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় ১৮ দিনের মাথায় মোট প্রবাসী আয় পৌঁছেছে ১৭৯ কোটি ৮০ লাখ ডলারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩০ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা ২০ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সমান।

    অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও প্রণোদনার কারণে প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। এ প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের সম্ভাবনা বাড়ছে: ইউনিডেক্স অ্যাম্বাসেডর

    ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের সম্ভাবনা বাড়ছে: ইউনিডেক্স অ্যাম্বাসেডর

    বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য ইউরোপের বাজারে আরো বিস্তৃতভাবে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আন্তর্জাতিক খাদ্য আমদানিকারক ও পরিবেশক প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ডাচ এক্সপোর্টার্সের (ইউনিডেক্স) অ্যাম্বাসেডর ও অ্যাডভাইজার ফোরকান হায়দার চৌধুরী। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই বেলজিয়ান মনে করেন, আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা, দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং নিয়মিত বাজারসংযোগ বাড়াতে পারলে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা ইউরোপের বাজারে আরও বাড়বে। তিনি জানান, বর্তমানে এই বাজারের আর্থিক মূল্য বছরে শতকোটি টাকারও বেশি।

    তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৮৯ সালে রোল্যান্ড ইয়ানসেন একটি ছোট উদ্যোগ হিসেবে ইউনিডেক্স প্রতিষ্ঠা করেন। শোবার ঘরে একটি ফ্যাক্স মেশিন নিয়ে শুরু হওয়া প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ এথনিক ফুড ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। পারিবারিকভাবে রোল্যান্ড ইয়ানসেনের মসলা আমদানি-রপ্তানির ব্যবসার অভিজ্ঞতা ছিল। তাঁর বাবা ভারত থেকে তেজপাতা, জিরা, হলুদ, মরিচসহ বিভিন্ন মসলা আমদানি করে নেদারল্যান্ডসে এনে সুরিনাম, কুরাসাওসহ বিভিন্ন ডাচ অঞ্চলে রপ্তানি করতেন। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই ইউরোপে বসবাসরত অভিবাসীদের নিজ দেশের খাদ্যপণ্যের চাহিদাকে লক্ষ্য করে ইউনিডেক্সের কার্যক্রম শুরু হয়।

    প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই দুটি খাতে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। একটি এথনিক বাজার, যেখানে বিভিন্ন দেশের গ্রোসারি ও বিশেষায়িত দোকানে পণ্য সরবরাহ করা হয়। অন্যটি মূলধারার খুচরা বাজার, যেখানে বড় সুপারমার্কেট ও রিটেইল চেইনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খাদ্যপণ্য ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

    ফোরকান হায়দার চৌধুরী জানান, নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে ইউনিডেক্স প্রতিষ্ঠাতা রোল্যান্ড ইয়ানসেনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে ২০০৭ সালের অক্টোবরে তিনি ‘কি অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার (ইউরোপ)’ হিসেবে ইউনিডেক্সে যোগ দেন। এর আগে তিনি অন্য একটি বহুজাতিক কোম্পানির সিইও হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ইউনিডেক্সের ‘ডিরেক্টর অব সেলস’ পদে দায়িত্ব পান। তিনি বলেন, “প্রতিষ্ঠানটির সিইও আমাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন, যা এখনও অব্যাহত আছে। পারস্পরিক বিশ্বাসের এই পরিবেশই নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”

    ইউনিডেক্স বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ড্রাই ফুড, পানীয় এবং হিমায়িত খাদ্যপণ্য সংগ্রহ করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করছে। হেলসিংকি থেকে মাল্টা পর্যন্ত বিস্তৃত বাজারে প্রতিষ্ঠানটির সরবরাহ নেটওয়ার্ক রয়েছে। তিনি জানান, পশ্চিম আফ্রিকার ঘানা, নাইজেরিয়া, আইভরিকোস্ট ও সেনেগাল থেকে পাম অয়েল, পাম ক্রিম, কাসাভা ও বিভিন্ন ধরনের ফ্লাওয়ার আমদানি করা হয়। এ ছাড়া নরওয়ে থেকে সল্টেড ফিশ (বাকালাও) এবং চীন থেকে তেলাপিয়া মাছ আমদানি করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিপণন করা হয়।

    বাংলাদেশি পণ্য প্রসারে নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর উদ্যোগে প্রাণ, বিডি ফুড, ইফাদ, ড্যানিশসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য ইউনিডেক্সের মাধ্যমে ইউরোপের বাজারে পৌঁছাতে শুরু করে। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ফ্রোজেন মাছ, বিভিন্ন ধরনের স্ন্যাকস এবং অন্যান্য খাদ্যপণ্যও নিয়মিত আমদানি করা হচ্ছে। ইউনিডেক্স বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় রপ্তানিকারকদের মাধ্যমে এই বাজার ক্রমাগত সম্প্রসারিত করছে। এসব পণ্য এশিয়ানদের বাইরেও ইউরোপে বসবাসরত আরব, আফ্রিকান এবং ইউরোপীয়দের মধ্যে সম্প্রসারিত হচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, নতুন সরবরাহকারী খুঁজে বের করতে তিনি নিয়মিত বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক খাদ্য প্রদর্শনীতে অংশ নেন। দুবাইয়ের গালফ ফুড, জার্মানির আনুগা, ফ্রান্সের সিয়াল এবং থাইল্যান্ডের থাইফেক্স প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করে সম্ভাবনাময় বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হচ্ছে।

    সম্প্রতি ইউনিডেক্স ইউরোপভিত্তিক এশিয়ান ফুড গ্রুপের সঙ্গে একীভূত হয়ে একটি বৃহত্তর ব্যবসায়িক গ্রুপ গঠন করেছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির ক্রয়ক্ষমতা, সরবরাহব্যবস্থা এবং ইউরোপজুড়ে বাজার সম্প্রসারণের সক্ষমতা বহুগুণে বেড়েছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, এই সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের উৎপাদকদের জন্য ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    সম্প্রতি বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর এক সৌজন্য সাক্ষাতের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য ও কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা এবং এ ক্ষেত্রে ইউরোপীয় বাজারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, মন্ত্রীর কথায় বর্তমান নির্বাচিত সরকারের ইতিবাচক মনোভাব প্রতিফলিত হয়েছে।

    ব্যবসায়িক সাফল্যের মূল ভিত্তি হিসেবে তিনি মানবিক সম্পর্ককে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “ব্যবসা শুধু চুক্তি বা আর্থিক লেনদেনের বিষয় নয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সততা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতেই দীর্ঘস্থায়ী ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।”

    তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি আস্থার সম্পর্ক তৈরি করতে পারলে বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের জন্য ইউরোপের বাজারে আরও বড় সম্ভাবনা তৈরি হবে।

  • ইউক্রেনে রেকর্ডসংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল রাশিয়া

    ইউক্রেনে রেকর্ডসংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল রাশিয়া

    ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতভর ফের ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহারের দাবি, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর এক রাতে এটাই ছিল রাশিয়ার সবচেয়ে বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা।

    রোববার ভোরে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা রাশিয়ার এই হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং আরও কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। এনিয়ে ইউক্রেনের জাতীয় পুলিশ জানিয়েছে, কিয়েভের ছয়টি জেলায় হামলার প্রভাব পড়েছে।

    ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কিয়েভজুড়ে একাধিক স্থানে আগুন লাগে। এতে আবাসিক ভবন, অফিস, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, একটি ছাত্রাবাস এবং বেশ কয়েকটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    স্বিয়াতোশিনস্কি জেলায় আগুনে পুড়ে যাওয়া একটি ব্যক্তিগত বাড়ি থেকে চারজনকে উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। শেভচেনকিভস্কি জেলায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত তিনতলা একটি ভবন থেকেও বাসিন্দাদের নিরাপদে বের করে আনা হয়েছে।

    এছাড়া একটি অনাবাসিক ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি সোলোমিয়ানস্কি, দেসনিয়ানস্কি এবং দনিপ্রো জেলাতেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা কিয়েভে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে “ইউক্রেনের রাজধানীর ওপর নৃশংস সন্ত্রাসী হামলা” বলে আখ্যা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এই সন্ত্রাস বন্ধ করতে মস্কোর ওপর সর্বাত্মক ও বিধ্বংসী চাপ সৃষ্টি করতে হবে।

    অন্যদিকে, রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলীয় দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলেও একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওই অঞ্চলের কর্মকর্তা ওলেক্সান্দর গানঝা।
    এ ছাড়া জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে রাশিয়ার ড্রোন আঘাত হানলে ট্রেনটির একজন কন্ডাক্টর নিহত হন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের জাতীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তারা আগুনে পুড়ে যাওয়া রেলকোচের ছবিও প্রকাশ করেছে।

    কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের পঞ্চম বছরে প্রবেশ করা ইউক্রেন প্রায় প্রতিদিনই রাশিয়ার হামলার মুখে পড়ছে। তবে দেশটির হাতে এখন প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি রয়েছে, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত।

    এদিকে, প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে অপসারণ করায় দেশটিতে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বেড়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ হয়েছে এবং ইউক্রেনীয় সেনাদের একটি অংশও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

    সমালোচকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেন যখন কিছুটা গতি ফিরে পাচ্ছিল, ঠিক সেই সময় মিখাইলো ফেদোরভকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেয়া জেলেনস্কির প্রেসিডেন্সির সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি।

    চলতি জুলাই মাসে রাশিয়া একাধিকবার কিয়েভে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত সাতটি পৃথক হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এমন সময় এসব হামলা হচ্ছে, যখন ইউক্রেনের প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে এসেছে। রোববার ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাতে রাশিয়া ছোড়া ৪১টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি ভূপাতিত করা হয়েছে।

    এদিকে ইউক্রেন দাবি করেছে, তাদের বাহিনী কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার অধিকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে জ্বালানি ও অন্যান্য সরবরাহ ব্যাহত করার কৌশলের অংশ হিসেবে তারা জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্যবস্তু করছে বলে জানিয়েছে কিয়েভ।

  • তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের হাতে, হাসিনাসহ আসামি ৪১

    তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের হাতে, হাসিনাসহ আসামি ৪১

    শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজসহ ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    আজ রোববার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এই প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করে।

    চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রতিবেদনটি বর্তমানে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আগামী ২১ জুলাই নির্ধারিত সময়ে এটি ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।

    মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে আরও রয়েছেন- তৎকালীন পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি প্রধান, ডিএমপি কমিশনার এবং একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু, সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার কবির।

    এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, নথিপত্রগুলো বর্তমানে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তে এখন পর্যন্ত শুধু ঢাকাতেই ৩২ জন নিহত হওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য মিলেছে।তবে তদন্তের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকায় প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

    এদিকে মামলার অগ্রগতি জানতে আজ সকালে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে যান হেফাজতে ইসলামের একটি প্রতিনিধিদল। সংগঠনটির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদের (মধুপুর পীর) নেতৃত্বে এই দলে ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার ও মুফতি মীর ইদ্রিসসহ ১০-১৫ জন শীর্ষ নেতা।

    উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে ১৩ দফা দাবিতে শাপলা চত্বরে সমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম। ওইদিন গভীর রাতে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির যৌথ অভিযানে বহু মানুষ হতাহতের অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত চলছে।

  • ওয়াশিংটনকে ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ দেয়ার হুঁশিয়ারি মোজতবার

    ওয়াশিংটনকে ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ দেয়ার হুঁশিয়ারি মোজতবার

    যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি বলেছেন, মার্কিন শত্রু যখন যুদ্ধকে আরও উসকে দিতে এবং ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে চাইছে, তখন তাদের জানা উচিত- প্রিয় ইরানি জাতি এবং প্রতিরোধ অক্ষ তাদের জন্য অবিস্মরণীয় শিক্ষা প্রস্তুত করে রেখেছে।

    মোজতবা খামেনির এই বিবৃতি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন, আমাদের দেশের ওপর চলমান হামলা আবারও প্রমাণ করেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য নেই।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চুক্তির ক্ষেত্রে মহাশয়তান বারবার অঙ্গীকার ভঙ্গ করে আবারও সবার কাছে প্রমাণ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর এখন সম্পূর্ণ মূল্যহীন ও অবৈধ। আর জুলুম, আধিপত্যবাদ ও বর্বরতা যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাস ও নীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
    এ ছাড়া খামেনির জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি সতর্ক করে বলেন, আগামী কয়েক দিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অব্যাহত থাকলে ইরান পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করবে।

    তিনি বলেন, ইরান আর শুধু সমানুপাতিক পাল্টা জবাবে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
    সমঝোতা স্মারক ভেস্তে যাওয়ার পর টানা অষ্টমদিনের মতো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে সংঘর্ষ শুরুর পর থেকে শুক্রবার পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

    অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়ে, ইরানের সঙ্গে শুরু হওয়ার নতুন সংঘর্ষে তাদের দুইজন মার্কিন সেনা জর্ডানে নিহত হয়েছে। এ ছাড়া একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছে।

    বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে হামলার পরিমাণ ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। দেশটি প্রথমবারের মতো এবার ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে অন্তত পাঁচটি সেতু গুঁড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এ ছাড়া দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে বিমানবন্দরেও হামলা হয়েছে।
    সিএনএন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চল পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে সেখানে স্থল অভিযান চালাতে পারে।

    অন্যদিকে ইরান কড়া হুঁশিয়ার বার্তায় বলেছে, বেসামরিক অবকাঠামো হামলার শিকার হলে মধ্যপ্রাচ্যের সবকিছু গুঁড়িয়ে দেয়া হবে। ইতিমধ্যে দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলার পরিমাণ বাড়িয়েছে।

    কুয়েত অভিযোগ করেছে, ইরান দেশটির বেসামরিক স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এতে দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
    কুয়েতের বাসিন্দা হাসান রায়ান বলেন, আজ সকাল থেকেই বোতলজাত পানি ও টিনজাত খাবারের চাহিদা বেড়েছে। মানুষ আশঙ্কা করছে, সেবা ও সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে।
    আরেক বাসিন্দা আলি মাহমুদ বলেন, সরকারি ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও সড়ক ও সমুদ্রসৈকত প্রায় জনশূন্য।

    ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহৃত একটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া জর্ডানের আল-আজরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংকও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

    জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শনিবার তারা ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। আগের দিনও অন্তত তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়। এদিকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন যে, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ (ইরান যুদ্ধ বন্ধে প্রাথমিক চুক্তি)-এর আওতায় নিজেদের সব প্রতিশ্রুতি স্থগিত ঘোষণা করেছে তেহরান।

    তিনি বলেছেন , যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের সব প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে এবং সেখান থেকে সরে গেছে। আমরাও আমাদের সব প্রতিশ্রুতি স্থগিত করেছি।

  • ‘স্পেন শুরুতে গোল পেলে আর্জেন্টিনাকে আরও তিন-চারটা দেবে’

    ‘স্পেন শুরুতে গোল পেলে আর্জেন্টিনাকে আরও তিন-চারটা দেবে’

    নিউইয়র্কের ফাইনাল সামনে রেখে অনেকেই ভবিষ্যদ্বাণী করছেন নিজের মতো করে। টনি ক্রুসও করলেন। ভাইয়ের পডকাস্টে জার্মানির এ সাবেক মিডফিল্ডার বললেন, তার বাজি স্পেনের পক্ষে।

    নিজের ভাবনার পেছনের কারণও খোলাসা করেছেন ক্রুস। বর্তমান আর্জেন্টিনা দলকে তিনি জার্মানির চেয়ে ভালো মনে করেন না। যদিও জার্মানি এবারের আসরের নকআউট পর্বের শুরুতে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিয়েছে।

    শঙ্কার নানা বাঁক পেরিয়ে আর্জেন্টিনার ফাইনালে উঠে আসার নেপথ্যে লিওনেল মেসির ভূমিকা দেখছেন ক্রুস। রিয়াল মাদ্রিদের এ সাবেক মিডফিল্ডার বললেন, তিনি ভেবেছিলেন কাতার বিশ্বকাপই শেষ মেসির।

    অনেকের মতো ক্রুসের ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। চলতি আসরে ইতোমধ্যে ৮ গোল করে আর্জেন্টিনাকে সামনে থেকে পথ দেখাচ্ছেন মেসি। ৩৯ বছর বয়সকে স্রেফ সংখ্যা বানিয়ে ছুটছেন তিনি দুর্বার গতিতে। তবে, মেসির প্রশংসার পঞ্চমুখ হলেও ক্রুস ফাইনালে আর্জেন্টিনার তেমন কোনো সম্ভাবনাই দেখছেন না।

    ক্রুস বলেন, যদি স্পেন ১-০ গোলে এগিয়ে যায়, ভুলে যাও, আরও তিন-চার গোল করবে। আর্জেন্টিনা সমাধানের পথ খুঁজে পাবে না। আর্জেন্টিনা জার্মানির চেয়ে ভালো দল নয়, কিন্তু তাদের মানসিকতা অবিশ্বাস্য।

    টনি ক্রুস আরও বলেন, তাদেরকে ফাইনালে নিয়ে এসেছে মেসি। আমার উপলব্ধি, মেসির বুদ্ধিমত্তা বেড়েই চলেছে। আমি ভেবেছিলাম, ২০২২ বিশ্বকাপই তার শেষ।

    নিউইয়র্কে ২০ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় (এএম) উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন।

  • ইসরায়েলিরা কেড়ে নিল ১৭ বছরের ফিলিস্তিনি ফুটবলারের জীবন

    ইসরায়েলিরা কেড়ে নিল ১৭ বছরের ফিলিস্তিনি ফুটবলারের জীবন

    ফাদি হামদাল্লাহ আল-নাসান। ১৭ বছরের টগবগে কিশোর। ফিলিস্তিনের জাতীয় যুব দলের খেলোয়াড়। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার সময় গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছিলেন ফাদি। হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিলেন। তবে সেই লড়াইয়ের অবসান ঘটল মৃত্যুতে।

    ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা এবং পরিবারের সদস্যরা ফাদির মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তাঁরা জানান, পশ্চিম তীরে নিজ গ্রামে ১১ জুলাই ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন ফাদি। গতকাল শনিবার মৃত্যু হয়েছে তাঁর।

    ফাদি আল-মুঘাইয়ির ক্লাবের হয়ে খেলতেন। সেই সঙ্গে কিশোর এই ফুটবলার ফিলিস্তিনের জাতীয় যুব দলের সদস্য ছিলেন।

    কিশোর ফুটবলারের এই মৃত্যু পশ্চিম তীরজুড়ে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী আর সেনাদের দ্বারা সংঘটিত ক্রমবর্ধমান সহিংসতার দিকে নতুন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ১৯৬৭ সাল থেকে অঞ্চলটি ইসরায়েল দখল করে রেখেছে। আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হওয়া সত্ত্বেও সেখানে বসতি স্থাপনের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে ইসরায়েল।

    আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং জাতিসংঘ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি স্থাপনের কার্যক্রমকে বর্ণবৈষম্যমূলক ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    নিজ গ্রাম আল-মুঘাইয়িরে গতকাল ফাদিকে দাফন করা হয়েছে। কালো পোশাক পরা কয়েক শ শোকাহত মানুষ রামাল্লায় ফিলিস্তিন মেডিক্যাল কমপ্লেক্সে থেকে এই ফুটবলারের মরদেহ তাঁর গ্রামে নিয়ে যান।

    ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা যখন ওই গ্রামে আক্রমণ করেছিল, তখন ইসরায়েলের সেনারা ফাদির ঊরুতে গুলি করেন। এ কারণে পরবর্তী সময়ে ফাদির পা কেটে ফেলতে হয়। এই আঘাত থেকেই ফাদির মৃত্যু হয়েছে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, কিশোর ফুটবলার ফাদির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলের আক্রমণে ফিলিস্তিনি ক্রীড়াঙ্গনে শহীদের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ফিলিস্তিনের ফুটবল পরিবারেই ৫৬৮ জন শহীদ হয়েছেন।

    ছেলের বিষয়ে ফুটবলার ফাদির বাবা হামদাল্লাহ আল–নাসান বলেন, গ্রামে হামলার সময়টায় নারী ও মেয়েদের চিৎকার শুনে তাঁর ছেলে ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে গিয়েছিলেন। ফাদির বাবা বলেন, ‘সে সেখানে গিয়েছিল বলে প্রাণ হারাল।’ ফাদির মা হানান আল–নাসান তাঁর ছেলের সম্পর্কে বলেন, ‘সে খুবই ভালো ছাত্র ছিল। খেলাধুলায়ও দুর্দান্ত ছিল। ফুটবল খেলতে ভালোবাসত। সবাই ওকে পছন্দ করত।’

  • নিউইয়র্কে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত বাংলাদেশি দিদারুলের নামে সড়কের নামকরণ

    নিউইয়র্কে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত বাংলাদেশি দিদারুলের নামে সড়কের নামকরণ

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামের নামে একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড দিদারুল ইসলাম ওয়ে নামে সড়কটির নামফলক উন্মোচন করা হয়েছে।

    দিদারুল ইসলাম নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে (এনওয়াইপিডি) কর্মরত ছিলেন। ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই নিউইয়র্কের ম্যানহাটানের পার্ক অ্যাভিনিউয়ে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হন ৩৬ বছর বয়সী পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম।

    ওই দিন পার্ক অ্যাভিনিউয়ের একটি বহুতল ভবনে ঢুকে বন্দুকের এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে থাকেন এক তরুণ। সে সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হামলাকারীকে থামাতে গিয়ে গুলিতে নিহত হন দিদারুল। এ জন্য তাঁকে মরণোত্তর ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড পদোন্নতি দেওয়া হয়। পরে দিদারুলের প্রতি সম্মান জানিয়ে নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ তাঁর নামে সড়কের নামকরণের উদ্যোগ নেয়।

    গতকাল বৃষ্টির মধ্যেই নিউইয়র্ক সিটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা, দিদারুলের পরিবারের সদস্যসহ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা সড়কের নামফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কমিশনার জেসিকা টিসও উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে দিদারুল ইসলামের বীরত্ব ও কর্মজীবনের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন টিস। বলেন, এই সড়ক এখন থেকে এমন একজন মানুষের নাম বহন করবে, যিনি নিউইয়র্ককে নিজের ঘর বানিয়েছিলেন এবং এ শহরকে রক্ষা করতে গিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন।

    জেসিকা টিস আরও বলেন, দিদারুল ইসলাম ছিলেন সেই পুলিশ কর্মকর্তা, যাঁর মতো সহকর্মী পাওয়ার আশা প্রত্যেক কমান্ডিং অফিসার করে থাকেন। দিদারুল ইসলামের ছোট বোনের স্বামী এবং নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের গোয়েন্দা কর্মকর্তা কামরুল হাসান নিহত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

    কামরুল হাসান আরও বলেন, ‘ব্যক্তিজীবনে তিনি (দিদারুল) প্রতিটা মুহূর্ত মানুষের উপকার করার মানসিকতা পোষণ করতেন। এ জন্যই তিনি এমন বিরল সম্মান পেয়েছেন। এ জন্য আমরা নিজেরাও গর্ববোধ করতে পারি।’

    অনুষ্ঠানে দিদারুলের স্ত্রী জামিলা ইসলাম তাঁদের তিন সন্তান—আহিয়ান, আজহান ও আরহামকে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন।

    মৌলভীবাজার জেলার সন্তান দিদারুল ইসলাম ২০০৪ সালে বাংলাদেশ থেকে অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে যান। ২০১৩ সালে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে যোগ দেন। দিদারুল পরিবার নিয়ে ব্রঙ্কসে বসবাস করতেন।

  • শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত

    শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত

    ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাযজ্ঞে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আজ রোববার নিজ কার্যালয়ের সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শাপলা চত্বরের নারকীয় হত্যাকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে একটি খসড়া প্রতিবেদন দাখিল করেছেন তারা।

    তিনি বলেন, ‘প্রতিবেদনটি এখন চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই করা হবে। যেন একটি সঠিক তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত হয়। প্রকৃত আসামিরা যেন বিচারের সম্মুখীন হন। হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আজ খসড়া প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করেছি। শিগগিরই পূর্ণ প্রতিবেদন হাতে পাবো বলে আশা করছি।’

    এই মামলায় আসামী কারা হচ্ছেন- সে প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক পুলিশ প্রধান ও বিজিবি প্রধানসহ কয়েকজনের নাম প্রতিবেদন এসেছে। এসব আমরা যাচাই-বাছাই করছি। যাচাই-বাছাই শেষে আসামিদের নাম সংযোজন-বিয়োজন হতে পারে।’

    শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞে নিহতদের প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত নিহত ৬১ জনের একটি তালিকা পেয়েছিলাম। কিন্তু ৫৮ জনের পরিচয় এরই মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে।’

    আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আসা হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদ, মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার ও মুফতি মীর ইদ্রিসসহ অনেকেই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

  • বাংলাদেশ সীমান্ত পরিদর্শনে অমিত শাহ

    বাংলাদেশ সীমান্ত পরিদর্শনে অমিত শাহ

    পশ্চিমবঙ্গে এসে বাংলাদেশ সীমান্ত পরিদর্শনের পর ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডরে নিরাপত্তা জোরদার করতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

    অমিত শাহ শুক্রবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির কাছে বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমে শিলিগুড়ির কদমতলার বিএসএফ হেডকোয়ার্টারের অতিথিশালায় রাত কাটান। গতকাল শনিবার সকালে তিনি উত্তরবঙ্গ সচিবালয় উত্তরকন্যা’র পাশে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা এলাকার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ঘুরে দেখেন। তিনি কাঁটাতার লাগোয়া জামুরিয়া ভিটা ও সন্ন্যাসী কাঁটা সীমান্তও পরিদর্শন করেন।

    এরপর অমিত শাহ শিলিগুড়ির জুমাগাছ সীমান্ত আউটপোস্টে গিয়ে বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বিএসএফের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপনের পাশাপাশি নতুন ১৪টি সীমান্তচৌকি উদ্বোধন করেন তিনি।

    পরে উত্তরবঙ্গ রাজ্য সচিবালয় ‘উত্তর কন্যা’য় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন অমিত শাহ। সেখানে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলেন বলে বৈঠক সূত্র জানিয়েছে।

    অমিত শাহ বলেন, ভারতের সীমান্তকে দুর্ভেদ্য করতে কেন্দ্রীয় সরকার একটি চতুর্মুখী নিরাপত্তাবলয় তৈরি করছে। অনুপ্রবেশ বন্ধ করা এবং দিনরাত পাহারা দেওয়া জওয়ান ও তাঁদের পরিবারের কল্যাণ নিশ্চিত করা হবে বিজেপি সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

    ‘চিকেনস নেক’–এর নিরাপত্তার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে অমিত শাহ এই সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে কিছু পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি বলেন, চিকেনস নেকসহ গোটা উত্তরবঙ্গ সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে হবে। অনুপ্রবেশ রুখতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।

    ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সংযোগের পথটি শিলিগুড়ি করিডর বা চিকেনস নেক বলা হয়। বাংলাদেশ ও নেপালের মাঝের ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার এই সরু করিডর ভারতের দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করেন ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

    বাংলাদেশে জুলাই অভ্যুত্থানের পর ঢাকা–দিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যে বিভিন্ন সময়ই আলোচনায় আসে ‘চিকেনস নেক’। ভারত সরকারও এই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। গত মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর সীমান্তের নিরাপত্তা ও কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য ১ হাজার একর জমি বিএসএফকে দিয়েছে রাজ্য সরকার।

  • নিউইয়র্কে এলে গ্রেপ্তার হতে পারেন নেতানিয়াহু, আবারও বললেন মামদানি

    নিউইয়র্কে এলে গ্রেপ্তার হতে পারেন নেতানিয়াহু, আবারও বললেন মামদানি

    নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে শহরটিতে এলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। তাঁর কার্যালয় থেকে এখনো বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান মামদানি।

    নিউইয়র্ক টাইমসের ‘দ্য ইন্টারভিউ’ পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, তাঁর প্রশাসনের আইন বিভাগ সক্রিয়ভাবে নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে। নির্বাচনী প্রচারের সময় মামদানি এমন পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

    মামদানি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্থান দ্য হেগে। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত অভিযোগ গঠন করেছেন। আর আপনি দেখবেন, অনেক মানুষই শুধু কয়েক বছর ধরে তাঁর কর্মকাণ্ডের ফলে যা ঘটেছে, সে কারণেই এর সঙ্গে একমত পোষণ করেন।’

    আইন তাঁকে এমন কিছু করার অনুমতি দেয় কি না, প্রশ্নের জবাবে মামদানি বলেন, ‘এ নিয়ে আমাদের আইন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চলমান। তবে আমরা জাতীয় পর্যায়ে যা দেখেছি, তা হলো, কখনো কখনো নিজের মতো করে আইন তৈরি করা এবং আইনের সীমা অতিক্রম করে যাওয়ার প্রবণতা। তবে এমন কিছুতে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই।’

    আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ২০২৪ সালে নেতানিয়াহু ও অন্য ইসরায়েলি নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আইসিসির এ গ্রেপ্তারি পরোয়ানার নিন্দা জানিয়েছেন। মামদানি ইসরায়েল সরকারের একজন কঠোর সমালোচক। তিনি বারবার গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধকে জাতিগত নিধন বলে নিন্দা জানিয়েছেন। তবে ইসরায়েল এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

    গতকাল শনিবার জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ মেয়র মামদানির মন্তব্যকে ‘নিছক রাজনৈতিক নাটক’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়।

    সপ্তাহের শুরুতে ডব্লিউএবিসি রেডিওর উপস্থাপক সিড রোজেনবার্গের সঙ্গে কথা বলার সময় নেতানিয়াহু বলেন, নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি সেখানে গেলে তাঁকে গ্রেপ্তার করার সম্ভাবনা নিয়ে যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তা নিয়ে তিনি একেবারেই উদ্বিগ্ন নন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গতকাল জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যাননও বলেন, ‘নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে আসবেন, গর্বের সঙ্গে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন এবং বিশ্বের সামনে দাঁড়িয়ে ইসরায়েলের সত্য ও নিজের নাগরিকদের রক্ষা করার অটুট অধিকার তুলে ধরবেন।’

  • ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

    ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

    ইরানের পারমাণবিক সংস্থা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র দারখোভিন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণস্থলে হামলা চালিয়েছে। সংস্থাটি দাবি করেছে, দেশটির খুজেস্তান প্রদেশে নির্মাণাধীন ডারখোভিন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

    রোববার স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে সংস্থাটি জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৩টা ৩৯ মিনিটের দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

    এক বিবৃতিতে ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তবে হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

    ডারখোভিন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ ২০২২ সালে শুরু হয়। এটি ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত।

  • বিশ্বব্যাপী মার্কিন নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি

    বিশ্বব্যাপী মার্কিন নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি

    মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত ও ভ্রমণরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য বৈশ্বিক ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। শনিবার (১৮ জুলাই) এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেয়া হয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল এবং যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই বিদেশে অবস্থানরত সব মার্কিন নাগরিককে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরতদের সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও স্থানীয় নিরাপত্তা তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করতে উপদেশ দেয়া হয়েছে।

    পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মার্কিন নাগরিকদের নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকে জারি করা নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বিঘ্ন ঘটতে পারে—ফ্লাইট বাতিল এবং বিভিন্ন দেশের আকাশসীমা সাময়িক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে ভ্রমণপরিকল্পনা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলো সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠী বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন দূতাবাস কিংবা নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করতে পারে বলেও সতর্ক করেছে দেশটি।

    এ অবস্থায় বিদেশে থাকা মার্কিন নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর।

  • ট্রাম্পের একগুঁয়েমির কারণে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্র

    ট্রাম্পের একগুঁয়েমির কারণে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্র

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার এক মাস পার হতে না হতেই দেশটিতে পুনরায় বিমান হামলা শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

    গত ১৭ জুন ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে স্থায়ী শান্তি ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছিল দুই দেশ। তবে ট্রাম্প প্রশাসন চুক্তিটিকে ‘কার্যকারিতাহীন’ দাবি করে গত সপ্তাহে পুনরায় ইরানের সামরিক ও অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শুরু করে।

    এর জবাবে ইরানও পারস্য উপসাগরে মার্কিন মিত্রদের ওপর পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। সমালোচকদের মতে, চুক্তিটি ছিল ট্রাম্পের একটি সাময়িক কৌশল।

    মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক মন্তব্য থেকে জানা যায়, মূলত কৌশলগত তেল রিজার্ভ গড়ে তোলার সময় পেতেই ওয়াশিংটন এই চুক্তি করেছিল, যাতে ইরানের ওপর চাপ বজায় রেখে সাময়িকভাবে জ্বালানি তেলের দাম কমানো যায়।

    আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে মরিয়া। এমন সময়ে ভোটারদের কাছে অত্যন্ত অপ্রিয় এই যুদ্ধ নতুন করে শুরু করায় ট্রাম্প নিজের দলের জন্যই রাজনৈতিক বিপদ ডেকে আনছেন। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোটারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ রয়েছে।

    মার্কিন সাময়িকী ‘আমেরিকান কনজারভেটিভ’-এর নির্বাহী সম্পাদক কার্ট মিলস এটিকে ট্রাম্পের একটি ‘ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা’ এবং নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য একটি সম্পূর্ণ পরাজয়ের কারণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

    এই সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দু কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি এই সমুদ্রপথ দিয়ে রপ্তানি হতো। ইরান এই প্রণালি বন্ধের হুমকি দিয়ে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের ধনী দেশগুলোকে এক প্রকার জিম্মি করে ফেলেছে।

    বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই বিমান হামলা শেষ পর্যন্ত ইরানে স্থল অভিযানের রূপ নিতে পারে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও একটি দীর্ঘমেয়াদি ও অন্তহীন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে, যা ট্রাম্প নিজেই অতীতে এড়িয়ে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

  • ভারতে বাড়ছে মন্দিরের অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনা

    ভারতে বাড়ছে মন্দিরের অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনা

    ভারতের বিখ্যাত রামমন্দিরের ভক্তদের দেওয়া অনুদানের অর্থ চুরির ঘটনা তদন্ত করছে দেশটির পুলিশ। এ ঘটনা ধর্মীয় স্থানগুলোর বিশাল অঙ্কের অর্থ ও স্বর্ণ ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

    গত জুনে পুলিশ এই তদন্ত শুরু করে। অযোধ্যার এই হিন্দু মন্দির থেকে অনুদান চুরির অভিযোগে এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ চুরির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ প্রকাশ না করলেও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এর পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি রুপি বা ৩ লাখ ১৪ হাজার মার্কিন ডলার।

    দিল্লির অটোচালক অশোক প্রসাদ কুশওয়াহা জানান, ভক্তরা বিশ্বাস নিয়ে ঈশ্বরের কাজের জন্য তাদের কষ্টার্জিত অর্থ দান করেন। সেখান থেকে চুরি হওয়াটা ব্যক্তিগত ক্ষতির মতো। ভারতের বড় তীর্থস্থানগুলোতে অনুদান নিয়ে এমন কেলেঙ্কারি এবারই প্রথম নয়, এর আগে বদ্রীনাথ মন্দির এবং ৩১ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ থাকা বিশ্বের অন্যতম ধনী ‘তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানম’ ট্রাস্টেও এমন কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে।

    কেরালার সাবরিমলা মন্দিরের সাবেক প্রধান পুরোহিতের নাতি ও হিন্দু সংগঠক রাহুল ঈশ্বর বলেন, ‘মূল সমস্যা হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব।’

    তিনি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে ডিজিটাল হিসাব, সিসিটিভি নজরদারি এবং স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান। রামমন্দিরে গণনা প্রক্রিয়ার দুর্বলতা ও নজরদারির গাফিলতিকে কাজে লাগিয়েই এই চুরি করা হয়েছে।

    ২০২৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই রামমন্দির উদ্বোধন করেন। বর্তমানে এখানে প্রতিদিন গড়ে ৯০ হাজার দর্শনার্থী আসেন এবং নগদ অর্থ, স্বর্ণ ও রুপার গয়না দান করেন।

    এই চুরির ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। কারণ, মন্দিরটি ভারতের দীর্ঘদিনের এক ধর্মীয় বিরোধপূর্ণ জায়গায় নির্মিত হয়েছে। ১৯৯২ সালে সেখানে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর দেশব্যাপী সহিংসতায় ২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হন। ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে জমিটি মন্দির নির্মাণের জন্য দেওয়া হয়। এরপর দেশব্যাপী তহবিল সংগ্রহ অভিযানে প্রায় ৩৪ কোটি ১০ লাখ (৩৪১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার জমা হয়।

  • ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর চবি ছাত্রীর সঙ্গে চীনা অধ্যাপকের বিয়ে

    ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর চবি ছাত্রীর সঙ্গে চীনা অধ্যাপকের বিয়ে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক ছাত্রীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন চীনের শানডং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান (ওশানোগ্রাফি) বিভাগের অতিথি শিক্ষক জিহুয়া জাং। বিয়ের পর তার নতুন নাম রাখা হয়েছে আল আমিন।

    শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার নিজের ফেসবুক পোস্টে বিয়ের বিষয়টি জানান। পরে জিহুয়া জাংও তার ফেসবুক আইডিতে দুজনের একটি ছবি প্রকাশ করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    সুমাইয়া আক্তার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব ফয়জুন্নেছা হল সংসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস)। নিজ হাতে তৈরি বিভিন্ন ধরনের ঘরোয়া নাস্তা ও পিঠা বিক্রির মাধ্যমে তিনি ক্যাম্পাসে পরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

    বিয়ের বিষয়ে সুমাইয়া জানান, জিহুয়া জাং অতিথি শিক্ষক হিসেবে দুই দফায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন। গত ১৪ জুলাই তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের আগে তিনি স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং তার নতুন নাম রাখা হয় আল আমিন।

    তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষার একটি কোর্স করার সময় তাদের পরিচয় হয়। পরে সেই পরিচয় থেকে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন জানান, জিহুয়া জাং বিভাগের একটি প্রকল্পের অধীনে অতিথি (অ্যাডজাঙ্কট) অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের ডেটা মডেলিং ও এনভায়রনমেন্টাল অ্যানালাইসিস বিষয়ে পাঠদান করতেন। গত দুই বছরে সামার ভ্যাকেশনের সময় তিনি দুইবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন। সর্বশেষ গত জুন মাসে তিনি ক্যাম্পাসে অবস্থান করেছিলেন বলে জানান এই শিক্ষক।

  • বিশ্বকাপ ফাইনালে এক টিকিটের দাম ৭৪ লাখ টাকা!

    বিশ্বকাপ ফাইনালে এক টিকিটের দাম ৭৪ লাখ টাকা!

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপ শুরুর আগেই টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। ফাইনালকে ঘিরে সেই দাম এখন আরও বেড়েছে। শেষ মুহূর্তে ফাইনালের টিকিট বিক্রি হচ্ছে ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার মার্কিন ডলারে।

    শনিবার ফিফার অফিসিয়াল টিকিটিং ওয়েবসাইটে গোলপোস্টের পেছনের গ্যালারির সবচেয়ে কম দামের টিকিটের মূল্য ছিল ৬ হাজার ৪১১ দশমিক ২৫ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ লাখ টাকা। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়।

    এরপর সবচেয়ে কম দামের টিকিটের মূল্যও প্রায় ১০ হাজার ডলারে পৌঁছে যায়। স্টেডিয়ামের আপার ডেকের কর্নার অংশের এসব টিকিটের দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ লাখ টাকা।

    মাঠের কাছাকাছি আসনের টিকিট কিনতে গুনতে হচ্ছে প্রায় ১৬ হাজার ডলার। আর বিশেষ হসপিটালিটি প্যাকেজের টিকিটের মূল্য উঠেছে প্রায় ৬০ হাজার ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৪ লাখ টাকার সমান।

    টিকিট পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম সিটগিক ও স্টাবহাবেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। সেখানে আপার ডেকের টিকিটের দাম শুরু হয়েছে প্রায় ১০ হাজার ডলার থেকে। লোয়ার বোলের কিছু আসনের মূল্য পৌঁছেছে প্রায় ৩৫ হাজার ডলারে।

    এবারের ফাইনাল ঘিরে সমর্থকদের আগ্রহের বড় কারণ, বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামাল। পাশাপাশি এটি বিশ্বকাপে মেসির সম্ভাব্য শেষ ম্যাচ বলেও ধরা হচ্ছে।

    ফাইনালে আর্জেন্টিনা খেলবে তাদের চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপার লক্ষ্যে। একই সঙ্গে ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগও রয়েছে তাদের সামনে। সর্বশেষ ব্রাজিল ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে টানা দুটি বিশ্বকাপ জিতেছিল।

    অন্যদিকে, ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে স্পেন। চলতি আসরে মেসি এখন পর্যন্ত ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করেছেন। এটি তাঁর ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল।

    বিশ্বকাপের আগে গত মার্চে কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মধ্যে ফিনালিসিমা হওয়ার কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে ম্যাচটি বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত দুই দলের লড়াই হচ্ছে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে।

  • যেকোনো সময় ইসরাইলে হামলা, মিত্রদের প্রস্তুত থাকতে বলল ইরান

    যেকোনো সময় ইসরাইলে হামলা, মিত্রদের প্রস্তুত থাকতে বলল ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই হিজবুল্লাহসহ নিজেদের অন্যান্য আঞ্চলিক মিত্রদের বৃহত্তর সংঘাতের জন্য প্রস্তুত হতে বলেছে ইরান। এর ফলে এই লড়াইয়ে ইসরাইলেরও সরাসরি জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    শুক্রবার (১৭ জুলাই) লেবাননের দৈনিক সংবাদপত্র নিদা আল ওয়াতান-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলে দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হন। সম্প্রতি তেহরানে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ফাঁকে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বৈঠক থেকে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান-সমর্থিত আঞ্চলিক জোট ‘অ্যাক্সিস অব রেজিসট্যান্স’ বা ‘প্রতিরোধ বলয়’-এর নেতারা মিত্রদের জানিয়েছেন যে, অপেক্ষার পালা প্রায় শেষ হয়ে আসছে এবং এখন সামরিক পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়াই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।

    সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের এক মাস পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে শুক্রবারের এই প্রতিবেদনটি সামনে এল।

    এখন পর্যন্ত সর্বশেষ এই সংঘাতে ইসরাইল জড়িত হয়নি এবং তেহরানও সরাসরি ইহুদি রাষ্ট্রটিকে লক্ষ্যবস্তু করেনি। তবে ইরানের লেবাননভিত্তিক ছায়াসঙ্গঠন হিজবুল্লাহ যদি এই লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে এবং ইসরাইলি ভূখণ্ডে তাদের হামলা পুনরায় শুরু করে, তবে পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যেতে পারে।

    জানা গেছে, যেকোনো চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকার লক্ষ্যে হিজবুল্লাহকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ইরানের কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতের যেকোনো সংঘাত অতীতের যেকোনো লড়াইয়ের চেয়ে অনেক বেশি ব্যাপক ও ভয়াবহ হতে পারে।

    ‘নিদা আল ওয়াতান’ তাদের প্রতিবেদনে আরও জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বেশ কিছু বিপর্যয়ের মুখে পড়লেও, তেহরান এখনো হিজবুল্লাহকেই তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সম্পদ বলে বিবেচনা করে।

    গত ২ মার্চ ইসরাইলে হামলা চালিয়ে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে যোগ দেয়। একইসঙ্গে দেশ দুটির বিরোধ নিষ্পত্তিতে জেরুজালেম ও বৈরুতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কূটনীতিরও বিরোধিতা করে তারা।

    হিজবুল্লাহর এসব হামলার জবাবে ইসরাইলও তাদের ওপর ভারী বিমান হামলা চালায় এবং সীমান্ত থেকে হিজবুল্লাহকে দূরে সরিয়ে রাখতে দক্ষিণ লেবাননের একটি বাফার জোনের (নিরাপদ অঞ্চল) নিয়ন্ত্রণ নেয়।

    এর আগে ২০২৪ সালের এক দফা সংঘাতে হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্বকে ধ্বংস করে দিয়েছিল ইসরাইল। উল্লেখ্য, ইরান-সমর্থিত অপর এক সশস্ত্র গোষ্ঠী ইয়েমেনের হুতিরাও এর আগে ইসরাইলে হামলা চালিয়েছিল।

  • রাজনীতি এখন পরিণত হয়েছে লাভজনক ব্যবসায়: ডা. ইরান

    রাজনীতি এখন পরিণত হয়েছে লাভজনক ব্যবসায়: ডা. ইরান

    জুলাই পরবর্তী রাজনীতির গুনগত পরিবর্তন না হওয়ায় সৎ ও নিষ্ঠাবান রাজনৈতিকরা রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে মন্তব্য করে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ডাউট-বাটপার, লুটেরা, অর্থপাচারকারী-মানবপাচারকারী, মাদক ব্যবসায়ী ও কালোবাজারি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম এখন সর্বত্রই। যেকোনো মূল্যে অর্থ সম্পদ অর্জনের প্রতিযোগিতার কারণে রাজনীতি এখন পরিণত হয়েছে লাভজনক ব্যবসায়। আমলা কামলা পুঁজিপতিরা রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ করে রাজনৈতিক চরিত্র ধ্বংস করেছে। হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটকারীরা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও অর্থ লুটিয়ে জাতীয় সংসদ সদস্য হয়েছে।

    শনিবার কলেজ এভিনিউস্থ দলীয় কার্যালয়ে বরিশাল জেলা ও মহানগর লেবার পার্টি আয়োজিত প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

    লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. ইরান বলেন, আমরা খাই খাই রাজনীতি ও লুটপাটের গণতন্ত্র চাই না। অর্থ অস্ত্র কালোটাকা পেশীশক্তি হোন্ডা ও গুন্ডার রাজনীতির অবসানের জন্যই ছাত্র শ্রমিক জনতার আন্দোলনের চূড়ান্ত ফসল ৩৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থান। আমরা জীবন দেবো তবুও জুলাই দেবো না। জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য গণভোটের রায় কার্যকর করতে রাজপথে সক্রিয় থাকবে লেবার পার্টি।

    তিনি আরো বলেন, জনগণ একনায়কতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নতুন বন্দোবস্ত চেয়েছে। ও ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের কবর রচনা করেছে। আবু সাঈদ মুগ্ধ আউয়াল মিয়া ও নাঈমরা বস্তাপচা নোংরা রাজনীতি টিকিয়ে রাখতে জীবন উৎসর্গ করেনি। তাই নতুন ধারার রাজনীতি ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে লেবার পার্টিকে সুসংগঠিত করতে হবে।

    বরিশাল মহানগর লেবার পার্টির সভাপতি মো. সোহেল মাহমুদের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট জোহরা খাতুন জুঁই, বাংলাদেশ যুব মিশন আহবায়ক সালমান খান বাদসা। বক্তব্য রাখেন বরিশাল জেলা লেবার পার্টির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শাহাদাত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান হাওলাদার, পটুয়াখালী জেলা লেবার পার্টির আহবায়ক মো. দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার, ঝালকাঠি জেলা লেবার পার্টির সমন্বয়কারী মোহাম্মদ মাসুদ খান, পিরোজপুর জেলা লেবার পার্টির যুগ্ম আহবায়ক মো. ওয়ালি উল্লাহ হাওলাদার, নেছারাবাদ উপজেলা লেবার পার্টির যুগ্ম আহবায়ক মো. সাদেক হোসেন প্রমুখ।

  • বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

    বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

    বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য দিনদিন বাড়ছে। এই বাণিজ্য চালিয়ে যেতে মুদ্রা বিনিময়ের পরিমাণও বাড়ছে।

    লেনদেনের সুবিধার্থে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার আজ শনিবার বিনিময় হার

    বৈদেশিক মুদ্রা – বাংলাদেশি টাকা

    মালয়েশিয়ান ১ রিংগিত ৩০ টাকা ২২ পয়সা

    সৌদির রিয়াল – ৩২ টাকা ৮৯ পয়সা

    মার্কিন ডলার – ১২৩ টাকা ১৬ পয়সা

    ইউরোপীয় ইউরো – ১৪৩ টাকা ৫৫ পয়সা

    ইতালিয়ান ইউরো – ১৪৩ টাকা ৫৫ পয়সা

    ব্রিটেনের পাউন্ড – ১৬৬ টাকা ৩৪ পয়সা

    সিঙ্গাপুরের ডলার – ৯৫ টাকা ৭৩ পয়সা

    অস্ট্রেলিয়ান ডলার – ৮৬ টাকা ৭৪ পয়সা

    নিউজিল্যান্ডের ডলার – ৭২ টাকা ৩১ পয়সা

    কানাডিয়ান ডলার – ৮৭ টাকা ৯১ পয়সা

    ইউ এ ই দিরহাম – ৩৩ টাকা ৬৪ পয়সা

    ওমানি রিয়াল – ৩১৯ টাকা ০৫ পয়সা

    বাহরাইনি দিনার – ৩২৭ টাকা ৮৫ পয়সা

    কাতারি রিয়াল – ৩৩ টাকা ৯৩ পয়সা

    কুয়েতি দিনার – ৪০২ টাকা ০৬ পয়সা

    ইন্ডিয়ান রুপি – ১ টাকা ২৪ পয়সা

    ।

  • মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র

    মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র

    মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র

    মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ওই অঞ্চলে ভ্রমণের বিষয়ে মার্কিন নাগরিকদের নতুন করে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং যেকোনো সময় তা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে প্রয়োজন ছাড়া ওই অঞ্চলে ভ্রমণ বা মধ্যপ্রাচ্য হয়ে যাতায়াতের সিদ্ধান্ত পুনরায় মূল্যায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যারা ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন, তাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত নির্ভরযোগ্য সংবাদ অনুসরণ করতে হবে।

    একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য হয়ে যাতায়াতের পরিকল্পনা থাকা যাত্রীদের নিজ নিজ বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ সময়সূচি ও পরিচালনাগত অবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।

    পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন নির্দেশনা জারি হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

  • টানা দুই ফাইনালে আর্জেন্টিনার দুই দলে পার্থক্য কেমন

    টানা দুই ফাইনালে আর্জেন্টিনার দুই দলে পার্থক্য কেমন

    কাতারের লুসাইল স্টেডিয়াম থেকে নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়াম—লিওনেল মেসির নেতৃত্বে নামা আর্জেন্টিনার দুই দলের পার্থক্য শুধু সাড়ে তিন বছরের। ঠিক যেখানে বিশ্বকাপ আসর শেষ করেছিল আলবিসেলেস্তেরা, সেখান থেকেই যেন শুরু করেছে তারা। ২২ বিশ্বকাপে যাঁদের ওপর ভরসা করে ৩৬ বছরের আক্ষেপ মিটিয়েছিলেন কোচ লিওনেল স্কালোনি, তাঁদের ওপর ভর করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে।

    স্কালোনির জন্য শাপেবর ছিল গত বিশ্বকাপের স্কোয়াড। সেই স্কোয়াডের গড় বয়স ছিল মাত্র ২৭ বছর। এর মধ্যে অভিজ্ঞতার ভান্ডার নিয়ে আসা মেসি, আনহেল দি মারিয়া ও নিকোলাস ওতামেন্দিকে বাদ দিলে স্কোয়াডটা পরিণত হতো তারুণ্যের সমাহারে। ২৬ জনের দলে ৩০–এর কোটা পার করেছিলেন ৭ জন। এর মধ্যে দুজন ছিলেন বেঞ্চে বসা গোলরক্ষক।

    ৩০ পার করা অভিজ্ঞ পাপু গোমেজ, মার্কোস আকুনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছিলেন তরুণ এনজো ফার্নান্দেজ, রদ্রিগো দি পল, হুলিয়ান আলভারেজরা। একেবারে প্রথম দিন থেকেই একাদশের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন এসব তরুণ তুর্কিরা। ফলে প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে হোঁচট খেলেও ঠিকই বিশ্বকাপ নিয়েই কাতার থেকে ফিরেছিল আর্জেন্টিনা। আলভারেজ, ফার্নান্দেজদের সঙ্গে মেসি-দি মারিয়ার জুটি মিলে সমাপ্তি টেনেছিল ৩৬ বছরের অপেক্ষার।

    চার বছরে স্কালোনির সেই স্কোয়াড বড় হয়েছে, বয়স ও অভিজ্ঞতা—দুটোতেই। চার বছরে দুই দলের স্কোয়াডে পরিবর্তন এসেছে মোট ৯টি জায়গায়। কিন্তু বেশির ভাগ পরিবর্তনই এসেছে বেঞ্চে, একাদশের আশপাশে বলার মতো পরিবর্তন এসেছে মাত্র দুটি। ফুটবলকে বিদায় জানানো দি মারিয়া আর অফ ফর্মের কারণে বাদ পরা পাওলো দিবালা। এই দুজনকে বাদ দিলে দুই বিশ্বকাপের একাদশে পার্থক্য খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর।

    ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ফিফা

    গত বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালের সঙ্গে যদি এই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচের একাদশ মেলানো হয়, সেখানে পরিবর্তন চোখে পড়বে মাত্র একটি—দি মারিয়ার জায়গায় এসেছেন জুলিয়ানো সিমিওনে। চার বছর পর এসেও একই দলের ওপর ভরসা রাখা, সেই দলকে নিয়ে পারফর্ম করা কিন্তু সহজ কথা নয়। স্কালোনি সেটাই করে দেখিয়েছেন। তৈরি হওয়া সমস্যার খুঁজেছেন নতুন সমাধান।

    দি মারিয়া চলে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনার বাঁ প্রান্ত অনেকটাই অকার্যকর হয়ে আছে। তাগলিয়াফিকোর সঙ্গে দি মারিয়ার যে রসায়ন ছিল গত বিশ্বকাপে, সেটা তো নেই-ই। সঙ্গে বয়সের কারণে তাগলিয়াফিকোর সেই ধারও নেই। ফলে স্কালোনিকে খেলতে হয়েছে মাঝমাঠ ব্যবহার করে, আক্রমণও সাজাতে হয়েছে সেভাবে।

    এখানেই দিবালার মতো একজন ক্রিয়েটিভ মিডফিল্ডারকে হয়তো মিস করেছেন তিনি। কারণ, মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের প্রেসিং সয়ে মাঠের ভেতরের ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করার মতো একজন খেলোয়াড়ের বড্ড অভাব ছিল দলে। চার বছরে শাণিত হওয়া এনজো ফার্নান্দেজকে এই জায়গাতে ব্যবহার করেছেন তিনি। ফার্নান্দেজ-দি পল-ম্যাক আলিস্টার ভূমিকা পাল্টালেও নিজেদের কাজ তাঁরা ঠিকঠাক করে যাচ্ছেন।

    মাঝমাঠে নতুন সংযোজন হিসেবে দলে এসেছেন জুলিয়ানো সিমিওনে, নিকো গঞ্জালেজ, নিকো পাজের মতো তরুণ তারকা। কিন্তু গত বিশ্বকাপে যেভাবে তরুণদের ওপর সম্পূর্ণ ভরসা রেখেছিলেন, সেভাবে এবার কারও ওপর ভরসা রাখতে পারছেন না। একেবারে দেয়ালে পিঠ ঠেকে না গেলে মাঠে নামাচ্ছেন না কাউকেই। ফলে দলের খুঁতগুলো সহজেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

    গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচ বাদে প্রতিটি ম্যাচেই গোল হজম করতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। কেপ ভার্দে বাদে প্রতিটি নকআউট পর্বের ম্যাচই জিততে হয়েছে পিছিয়ে পড়ার পর। অভিজ্ঞতা আর চাপ সামলানোর অসাধারণ ক্ষমতার ওপর ভর করেই ফাইনাল পর্যন্ত এসেছে স্কালোনির দল।

  • পাট রপ্তানি তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

    পাট রপ্তানি তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

    দেশে পাটের সোনালি সময় এখন অতীত। তবু রপ্তানি বাণিজ্যে পাট ও পাটপণ্যের গুরুত্ব কমেনি। টানা চার বছর পাট ও পাটপণ্যের রপ্তানি কমার পর আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫–২৬ অর্থবছরে গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি হয়েছে। যদিও করোনাকালের রেকর্ড রপ্তানি থেকে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে খাতটি।

    এক দশক পাট ও পাটপণ্যের রপ্তানি ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের কাছাকাছি থাকলেও করোনাকালে অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবছরে একলাফে তা ১ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়, যা ১৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তারপর টানা চার বছর খাতটির রপ্তানি কমেছে। তবে সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাট ও পাটপণ্যের রপ্তানি পৌনে ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৮ কোটি মার্কিন ডলার। এই রপ্তানি গত তিন অর্থবছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

    পাটপণ্যের রপ্তানিকারকেরা বলছেন, বন্যার কারণে গত বছর পাট উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে কারণে কাঁচা পাটের দাম বেড়ে যায়। উচ্চ মূল্যের কারণেই অর্থের হিসাবে পাটপণ্যের রপ্তানি বেড়েছে। তবে পরিমাণের দিক থেকে রপ্তানি বাড়েনি। যদিও পরিমাণের দিক থেকেও রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে। সে জন্য কাঁচা পাটের সরবরাহব্যবস্থা মসৃণ করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। গবেষণা ও পণ্যের মান উন্নয়নের পাশাপাশি যৌথভাবে হলেও এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

    বিশ্বে পাট উৎপাদনে বাংলাদেশ দ্বিতীয়। বছরে দেশে ৯০ লাখ বেল পাট উৎপাদিত হয়। পাটপণ্যের রপ্তানি ৫০০ কোটি ডলারে উন্নীত করা সম্ভব বলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। যদিও রপ্তানি বাড়াতে করণীয় বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ সরকারের দিক থেকে দেখা যায়নি।

    রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে কাঁচা পাটের পাশাপাশি পাটের সুতা, বস্তা ও বহুমুখী পাটপণ্য রপ্তানি হয়। এসব পণ্য তুরস্ক, চীন, ভারত, মিসর, উজবেকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), জর্ডান, পাকিস্তান, রাশিয়া ও ইরানসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়ে থাকে। বিদায়ী অর্থবছর কাঁচা পাটের রপ্তানি ১১ শতাংশ কমে ১৩ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। যদিও পরিমাণের দিক থেকে কাঁচা পাটের রপ্তানি কমেছে প্রায় ৭৭ শতাংশ। বিদায়ী অর্থবছরে ৩৮ হাজার টন কাঁচা পাট রপ্তানি হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কাঁচা পাট রপ্তানি হয়েছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার টন।

    বিদায়ী অর্থবছরে পাটের বস্তার রপ্তানি ৫ শতাংশ বেড়ে ১৩ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে; আর পাটের সুতার রপ্তানি ১৮ শতাংশ বেড়ে ৪৯ কোটি ডলার হয়েছে। যদিও পরিমাণের দিক থেকে পাটের সুতার রপ্তানি কমেছে ২ শতাংশ। বিদায়ী অর্থবছরে ৪ লাখ ২৮ হাজার টন পাটের সুতা রপ্তানি হয়। তার আগের অর্থবছর রপ্তানি হয়েছিল ৪ লাখ ৩৮ হাজার টন।

    জানতে চাইলে বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) সভাপতি তাপস প্রামাণিক প্রথম আলোকে বলেন, বিদায়ী অর্থবছর প্রতি মণ কাঁচা পাট ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকায় কিনতে হয়েছে। তার আগের বছরও এর দাম তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা ছিল। মূল্যবৃদ্ধির কারণে ১ হাজার ডলারের পণ্যের দাম বেড়ে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ ডলার হয়েছে। সে কারণে অর্থের হিসাবে রপ্তানি বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, পাটপণ্যের রপ্তানি অনায়াসে দুই-তিন বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। তার জন্য কাঁচামালের সরবরাহব্যবস্থা মসৃণ করতে হবে। সেই সঙ্গে নতুন বাজারে রপ্তানির জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে।

    বহুমুখী পাটপণ্যে বড় সম্ভাবনা

    বিশ্বজুড়ে পাটজাত পণ্য, বিশেষ করে বহুমুখী পাটপণ্যের সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা থাকলেও সেই রপ্তানি কম বাংলাদেশের। বিদায়ী অর্থবছর ৭ কোটি ৪৪ লাখ ডলারের বহুমুখী পাটপণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই রপ্তানি তার আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ কম।

    উদ্যোক্তারা বলছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে বহুমুখী পাটপণ্যের বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ক্রয়াদেশ কমেছে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। মূলত জ্বালানির উচ্চ মূল্যের কারণে নিত্যপণ্যের বাইরে অন্যান্য পণ্যের বিক্রি কমে গেছে। তা ছাড়া কাঁচা পাটের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদনে ব্যয় বেড়েছে। সে জন্যও ক্রয়াদেশ কিছুটা কমেছে।

    জানা যায়, বৈশ্বিক বাজারে পাটের তৈরি গৃহসজ্জার পণ্যের চাহিদার পাশাপাশি পাটের তৈরি শপিং ব্যাগ, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, গার্ডেনিং বা বাগান, অটোমোবাইল ও প্যাকেজিংয়ে পাটপণ্যের চাহিদাও বাড়ছে। এ ছাড়া পাটকাঠির তৈরি চারকোলের চাহিদাও রয়েছে চীনসহ বিভিন্ন দেশে।

    জানতে চাইলে বহুমুখী পাটপণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েশনের এমডি মো. রাশেদুল করিম বলেন, ‘পাটের সুতা ও বস্তায় প্রতি টনে খুবই কম মুনাফা করেন আমাদের ব্যবসায়ীরা। ফলে কাঁচা পাটের দাম বেড়ে গেলে মুনাফা ধরে রাখতে হিমশিম খান তাঁরা। পাট খাতের রপ্তানি বাড়াতে হলে বহুমুখী পণ্য উৎপাদন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে চীন, ভারতের মতো কয়েকটি দেশ এগিয়ে গেছে। তাই বহুমুখী পাটপণ্যের রপ্তানি বাড়াতে হলে নতুন নতুন পণ্য উন্নয়নে গবেষণার পাশাপাশি এই খাতে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আসতে হবে। তাহলে দেশীয় উদ্যোক্তারা নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে পারবেন।’

  • ভারতের প্রথম বেসরকারি রকেট উৎক্ষেপণ

    ভারতের প্রথম বেসরকারি রকেট উৎক্ষেপণ

    ভারতের মহাকাশ অভিযানে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে হায়দরাবাদভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্কাইরুট অ্যারোস্পেস। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি ‘বিক্রম-১’ রকেট সফলভাবে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। এটি ভারতের প্রথম বেসরকারিভাবে নির্মিত রকেট, যা অরবিটাল মিশনে সফল হয়েছে।

    শনিবার শ্রীহরিকোটার উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। নির্ধারিত সময় সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে উৎক্ষেপণের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে মিশন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে পরিকল্পিতভাবে কিছু সময়ের জন্য তা স্থগিত রাখা হয়। পরে দুপুর ১২টা ২১ মিনিটে পেলোড সফলভাবে নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপনের মাধ্যমে মিশনের সফলতা ঘোষণা করা হয়। এ সময় ধারাভাষ্যকাররা বলেন, ‘হ্যালো মহাকাশ, আমরা এসে গেছি।’

    ‘আগমন’ নামে পরিচিত এই মিশনের মাধ্যমে বৈশ্বিক উৎক্ষেপণ বাজারে ভারতের বেসরকারি মহাকাশ খাতের আনুষ্ঠানিক প্রবেশ ঘটেছে। একই সঙ্গে স্কাইরুট অ্যারোস্পেস বিশ্বের সেই অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাতারে নাম লেখাল, যারা নিজস্ব প্রযুক্তিতে অরবিটাল রকেট তৈরি ও সফলভাবে উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম হয়েছে।

    সাততলা ভবনের সমান উচ্চতার বহু-ধাপবিশিষ্ট ‘বিক্রম-১’ রকেটটি সম্পূর্ণ কার্বন কম্পোজিট কাঠামোয় নির্মিত। এতে স্কাইরুটের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ত্রিমাত্রিক মুদ্রণ (থ্রিডি প্রিন্টেড) ইঞ্জিন এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কঠিন জ্বালানিচালিত বুস্টার ব্যবহার করা হয়েছে।

    রকেটটি নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথে (এলইও) সর্বোচ্চ ৩৫০ কেজি ওজনের ক্ষুদ্র উপগ্রহ বহনে সক্ষম। প্রথম পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে এটি ৬০ ডিগ্রি কৌণিক অবস্থানে ৪৫০ কিলোমিটার উচ্চতার কক্ষপথ লক্ষ্য করে উৎক্ষেপণ করা হয়।

    ‘বিক্রম-১’-এ গ্রাহা স্পেস, কসমোসার্ভ, ডিকিউবড এবং স্কাইরুটের নিজস্ব ‘স্কোপ’-এর প্রযুক্তি প্রদর্শনী পেলোড বহন করা হয়েছে। এ ছাড়া কসমস ডায়মন্ডসের শিল্পকর্ম ‘কসমিক ব্লুম’ এবং ক্ষুদ্র ভাস্কর্যে স্যার সিভি রমন, ড. বিক্রম সারাভাই ও ড. এপিজে আবদুল কালামের প্রতিকৃতিও মহাকাশে পাঠানো হয়েছে।

    ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির জনক ড. বিক্রম সারাভাইয়ের নামে নামকরণ করা ‘বিক্রম-১’ হলো স্কাইরুটের পরবর্তী বড় পদক্ষেপ। এর আগে ২০২২ সালের নভেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি ‘বিক্রম-এস’ সাব-অরবিটাল রকেটের সফল উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছিল।

    স্কাইরুট অ্যারোস্পেস জানিয়েছে, ‘আগমন’ মিশনের অংশ হিসেবে ‘বিক্রম-১’-এ রকেট নির্মাণে যুক্ত প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ ও দলের সদস্যদের স্বাক্ষরও সংরক্ষণ করা হয়েছে। ভারতের এই ঐতিহাসিক বেসরকারি মহাকাশ অভিযানে অবদান রাখা সবার প্রতি সম্মান জানাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

  • সমাজের নিকৃষ্ট মানুষ আওয়ামী লীগ করে: বিদ্যুৎমন্ত্রী

    সমাজের নিকৃষ্ট মানুষ আওয়ামী লীগ করে: বিদ্যুৎমন্ত্রী

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, সমাজের নিকৃষ্ট মানুষ আওয়ামী লীগ করে। ভদ্রলোক আওয়ামী লীগ করে না। সরকারে থাকার অর্থ এই নয় যে, কেউ বড় কিছু হয়ে গেছে। দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে এবং খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

    শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে সিরাজগঞ্জের মিরপুরে অবস্থিত তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    টুকু বলেন, এক সময় তাঁতের অর্থেই পাকিস্তানের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয়েছিল। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ এ শিল্পকে ধ্বংস করেছে। আওয়ামী লীগ শুধু গত ১৭ বছর নয়, জন্মলগ্ন থেকেই দেশের ক্ষতি করে গেছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে অনেকে নিহত হয়েছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের পতনের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কাউকে ভয়ভীতি দেখানো হয়নি, ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হয়নি এবং দিনে ভোট রাতে গণনা হয়েছে, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠিত হয়েছে।

    তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালে আমি বলেছিলাম, হাসিনা থাকাকালীন দেশে ফিরব না; আমার লাশ ফিরবে। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি পালিয়ে গেছেন, আর আমি দেশে ফিরেছি।

    তাঁতশিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণ নিয়ে নারীরা স্বাবলম্বী হতে পারেন। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে বড় উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ রয়েছে এ খাতে।

    বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।

    এ সময় জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ইয়ামাল কি একলব্য, মেসি কি দ্রোণাচার্য

    ইয়ামাল কি একলব্য, মেসি কি দ্রোণাচার্য

    মহাভারতের একলব্য ও দ্রোণাচার্যের কাহিনিতে ট্র্যাজেডি আছে, আছে কর্তৃত্ব। কিন্তু মহাভারত আমাদের আরেকটি কথাও বলে– সময়ের কাছে দ্রোণাচার্যও অনিশ্চিত, একলব্যও অনিশ্চিত। ইতিহাস কখনও একক বীরের সম্পত্তি নয়। বিশ্বকাপও তাই।

    একুশের সিকি শতাব্দী পার করে তাই প্রশ্নটি শুধু রোমান্টিক নয়, গভীরভাবেই দার্শনিক–লামিনে ইয়ামাল কি একলব্য, আর লিওনেল মেসি কি দ্রোণাচার্য? নাকি উল্টোটা? কিংবা তারা কেউই নন? বিশ্বকাপের আরাধ্য সোনালি ট্রফিটি কি আদৌ কোনো পৌরাণিক উপমার কাছে আত্মসমর্পণ করে?

    বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে লিওনেল মেসি এক দীর্ঘ আলোকবর্তিকা। প্রায় দুই দশক ধরে তিনি কেবল ফুটবলার নন; তিনি এক ভাষা, এক নন্দন, এক শিল্পরীতি। অসংখ্য নবীনের শৈশবের দেয়ালে শোভিত পোস্টারের নাম মেসি। আজকের প্রজন্মের বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামালের ক্ষেত্রেও সেই সত্যের ব্যতিক্রম নেই। ইয়ামালের ফুটবলীয় অভিধানে মেসি একটি অনিবার্য উচ্চারণ।

    মহাভারতের একলব্য দ্রোণাচার্যের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়েও তাঁকেই মানসগুরু মেনেছিলেন। দূর থেকে দেখে, অনুকরণ করে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন। সেই অর্থে ইয়ামালও যেন আধুনিক ফুটবলের এক একলব্য। বার্সেলোনার ঘাসে, ইউরোপীয় ফুটবলের নন্দনতত্ত্বে দীক্ষিত এবং মেসির রেখে যাওয়া শিল্পভাষায় বেড়ে ওঠা তরুণ। ফুটবল তাঁকে শিখিয়েছে, একজন গুরু সব সময় সামনে বসে থাকেন না; অনেক সময় তিনি হয়ে ওঠেন একটি আদর্শ, একটি ছায়া, একটি স্বপ্ন– দূরে অবস্থান করেও। কিন্তু এখানেই তুলনার উপমাটি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

    কারণ দ্রোণাচার্যের সঙ্গে একলব্যের সম্পর্ক ছিল অসম ক্ষমতার সম্পর্ক। সেখানে প্রত্যাখ্যান ছিল, ছিল শ্রেণি ও বর্ণবৈষম্যের নির্মমতা। লিওনেল মেসি কখনও লামিনে ইয়ামালের অগ্রযাত্রার পথে অঙ্গুলি দাবি করেননি। বরং ফুটবলের সৌন্দর্য এখানেই যে, একজন কিংবদন্তি আরেকজন কিংবদন্তির জন্মের জন্য জায়গা করে দেন। মেসির উত্তরাধিকার কোনো সংকীর্ণ উত্তরাধিকার নয়; এটি এমন এক নদী, যা নতুন স্রোতকে স্বাগত জানায়।

    তবুও বিশ্বকাপের প্রসঙ্গে এই উপমা আমাদের অন্য এক জায়গায় নিয়ে যায়। ফুটবলের সবচেয়ে নির্মম সত্য হলো– বিশ্বকাপ কাউকে কিছু পাওনা রাখে না।
    জোহান ক্রুইফ বিশ্বকাপ জেতেননি। ফেরেঙ্ক পুসকাস জেতেননি। পাওলো মালদিনি জেতেননি। রোনালদো নাজারিওর দুটি বিশ্বকাপ আছে, কিন্তু রোনালদিনহোর একটি। আবার আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার একটি গোল তাঁকে অমর করেছে। বিশ্বকাপ সব সময় ন্যায়বিচারের আদালত নয়; এটি অনিশ্চয়তারও সবচেয়ে সুন্দর ক্ষেত্র। হয়তো এই অনিশ্চয়তাই ফুটবলের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্র।

    ২০২২ সালে মেসি বিশ্বকাপ জিতেছেন। এতে ফুটবল তাঁর কাছে ঋণ শোধ করেছে। কিন্তু সত্যি বলতে কী, ফুটবল কারও কাছে ঋণী নয়। যদি তিনি সেই ফাইনালে হেরে যেতেন, তাহলেও তিনি লিওনেল মেসিই থাকতেন। যেমন ২০১৪ সালের পরও তিনি ছিলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা।

    একইভাবে লামিনে ইয়ামাল যদি ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ জিতে যান, তবে তা হবে তাঁর প্রজন্মের এক মহাকাব্যিক ব্যক্তিত্ব। আর যদি কখনও বিশ্বকাপ না-ও জেতেন, তাহলে কি তাঁর শিল্পের মূল্য কমে যাবে? মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর কোনো ভাস্কর্যের মূল্য কি নোবেল পুরস্কার না পাওয়ায় কমে যায়? শিল্পের পরিমাপ সব সময় পুরস্কারে হয় না। ফুটবলও শেষ পর্যন্ত শিল্পেরই এক রূপ।

    না চাইলেও আসলে বিশ্বকাপকে একটি চূড়ান্ত নৈতিক বিচারক বানিয়ে ফেলেছি আমরা। যেন ট্রফিটি নির্ণায়ক, বলে দেয়– কে মহৎ আর কে নয়। অথচ বিশ্বকাপের ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, এটি প্রতিভা, প্রস্তুতি, ভাগ্য, সময়, ইনজুরি, একটি ভুল পাস কিংবা একটি টাইব্রেকারের সম্মিলিত নাট্যমঞ্চ।

    অনেকে বলেন, ইয়ামালই হবেন নতুন মেসি, তারা হয়তো ভবিষ্যতের প্রতি অতি উদার। আবার যারা মনে করেন, মেসির উচ্চতায় পৌঁছানো অসম্ভব, তারাও হয়তো সময়ের সৃজনশীলতাকে মূল্যায়ন করছেন না। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো, পরবর্তী প্রজন্মকে পূর্ববর্তী প্রজন্মের ছায়ায় আটকে রাখা।

    মহাভারতের একলব্য শেষ পর্যন্ত নিজের অঙ্গুলি উৎসর্গ করেছিলেন। কিন্তু আধুনিক ফুটবলের একলব্যদের কোনো অঙ্গুলি কেটে দিতে হয় না। তাদের প্রয়োজন নিজেদের স্বকীয়তার চর্চা করা। কারণ প্রকৃত উত্তরাধিকার নিহিত অনুকরণে নয়, অতিক্রমে।

    তাই ইয়ামাল একলব্য কিনা, মেসি দ্রোণাচার্য কিনা– এটি প্রশ্ন হওয়া উচিত নয়। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, বিশ্বকাপের অনিশ্চয়তা আমাদের কী শেখায়?

    শেখায়– সোনালি সেই ট্রফি গন্তব্য হতে পারে, পরিচয় নয়। বিশ্বকাপ একজন খেলোয়াড়ের জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অলংকার হতে পারে, কিন্তু তাঁর শিল্পের একমাত্র পরিমাপক নয়। মেসি বিশ্বকাপ জিতেও মহান; ইয়ামাল বিশ্বকাপ না জিতেও মহান হতে পারেন। আবার উল্টো ঘটনাও সত্য হতে পারে।

    কারণ ফুটবল শেষ পর্যন্ত মহাভারত নয়, যেখানে পূর্বলিখিত নিয়তি অপেক্ষা করে থাকে। ফুটবল এমন এক মহাকাব্য, যার শেষ পৃষ্ঠাটি এখনও লেখা হয়নি। সেখানে দ্রোণাচার্যও একদিন বিস্মিত হন, আর একলব্যও নিজের ভাষায় ইতিহাস লিখে ফেলেন।

    বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটি সেই অমোঘ সত্যেরই আরেক নাম– অনিশ্চয়তা।

    এম এম খালেকুজ্জামান
    আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
    adv.mmkzaman@gmail.com

    সূত্রঃ দৈনিক সমকাল

  • ২০৩০ সালে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা হতে পারে ২৪০০০ মেগাওয়াট

    ২০৩০ সালে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা হতে পারে ২৪০০০ মেগাওয়াট

    দেশে আগামী পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ চাহিদা ২৪ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। প্রতি বছর এই চাহিদা বাড়লেও সেই বৃদ্ধির গতি ২০৩০ সালে ২৪ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যেই থাকার কথা।

    আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী জরুরি পরিস্থিতি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রকৃত চাহিদার সঙ্গে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা রাখা হয়, যাকে স্পিনিং রিজার্ভ বলা হয়।

    সেই হিসাবেও ২০৩০ সালে দেশের মোট প্রয়োজন ৩০ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা হচ্ছে।

    বাস্তবে বর্তমানে নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলো শেষ হলে এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে এলে সক্ষমতা প্রায় ৩৭ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। যদিও এর মধ্যে কিছু পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাবে। তবু থেকেই যাবে প্রয়োজনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত সক্ষমতা।

    দেশে এখন ৩১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন, যেগুলোর কাজ ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। এসব কেন্দ্রের বেশিরভাগই জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক এবং মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াট।

  • এবার মোদির পদত্যাগ চান ককরোচেরা

    এবার মোদির পদত্যাগ চান ককরোচেরা

    অনির্দিষ্টকালের অনশন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগ দাবি করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকে।

    শনিবার দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে নেয়ার পরই দিপকে এই ঘোষণা দিয়েছেন। তার দাবি, পুলিশ জোর করে সোনম ওয়াংচুককে নিয়ে গেছেন।

    সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক ভিডিওবার্তায় দিপকে বলেন, ‘তারা যদি মনে করে সোনম স্যারকে সরিয়ে নিলে এই আন্দোলন শেষ হয়ে যাবে, তাহলে তারা ভুল করছে। আমরা এখানেই থাকব এবং ২০ জুলাই সংসদের দিকে পদযাত্রা করব।’

    তিনি আরো বলেন, ‘এতদিন আমরা শুধু ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছিলাম। কিন্তু এই নিন্দনীয় ঘটনার পর এখন আমরা নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগও দাবি জানাব।’ সিজেপি এক্স প্ল্যাটফর্মে জানিয়েছে, ‘‘অভিজিৎ দিপকে অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসেছেন।’

    ভারতের নয়াদিল্লিতে অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে নিয়ে গেছে পুলিশ। তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) অভিযোগ করেছে, অনশন কর্মসূচির ২১তম দিনে পুলিশ জোর করে ওয়াংচুককে সরিয়ে নিয়েছে।

    নয়াদিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার ‘এক্স’ প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আদালতের নির্দেশ ও চিকিৎসকদের পরামর্শে তার জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতেই তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

    ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক গত ২৮ জুন থেকে অনশন করছেন। ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে অনশন শুরু করেন তিনি।

    ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছিলেন, দীর্ঘ অনশনের কারণে ওয়াংচুকের ওজন প্রায় ৮.৭ কেজি কমে গেছে এবং তিনি খুব দুর্বল হয়ে পড়েছেন।

  • বেনাপোল বন্দরে ক্রেনফর্কলিফট সঙ্কট :  আমদানি-রফতানি ব্যাহত

    বেনাপোল বন্দরে ক্রেনফর্কলিফট সঙ্কট : আমদানি-রফতানি ব্যাহত

    যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে আমদানি করা ভারী পণ্য। চাহিদার তুলনায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে আমদানি বাণিজ্য। এতে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা, পাশাপাশি স্থবির হয়ে পড়ছে বিভিন্ন শিল্প-কলকারখানা স্থাপন ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড।

    বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের প্রায় ৩০ শতাংশই ভারী পণ্য রয়েছে। এসব পণ্য দ্রুত ও নিরাপদে খালাসের জন্য কমপক্ষে ১২টি ক্রেন এবং ২০টি ফর্কলিফট প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘গ্রেড বেঙ্গল এন্টারপ্রাইজ’-এর কাছে রয়েছে মাত্র ৭টি ক্রেন ও ৮টি ফর্কলিফট। এর মধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় অর্ধেক সময় এসব যন্ত্র অচল থাকে। ফলে জরুরি পণ্য খালাসের জন্য ব্যবসায়ীদের দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

    বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, বাণিজ্যিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে লোকসান এড়াতে অনেক আমদানিকারক বেনাপোল ছেড়ে অন্য বন্দরের দিকে ঝুঁকছেন। এতে বেনাপোল বন্দরের রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

    ভারত-বাংলা ল্যান্ডপোর্ট চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মতিয়ার রহমানও একই হতাশার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘বন্দরের বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন।’

    বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের বন্দরবিষয়ক সম্পাদক মো: মেহেরুল্লাহ বলেন, ‘ক্রেন অচল থাকায় পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। চাহিদার তুলনায় অর্ধেক যন্ত্রপাতি দিয়ে কোনোভাবেই স্বাভাবিক কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়। এতে আমদানি কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে।’

    গত এক যুগ ধরে বন্দরে এই সমস্যা বিদ্যমান থাকলেও সমাধানে কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

    তবে বেনাপোল বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহীদ আলী জানান, অদক্ষ ঠিকাদার পরিবর্তনের জন্য এরইমধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক রুহুল আমিন বলেন, ‘সমস্যা সমাধানে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দ্রুতই নতুন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে এই সঙ্কট নিরসন করা হবে।’

  • বিশ্বকাপের প্রাইজমানিতে নতুন ইতিহাস, চ্যাম্পিয়ন দল কত পাবে

    বিশ্বকাপের প্রাইজমানিতে নতুন ইতিহাস, চ্যাম্পিয়ন দল কত পাবে

    ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ঘোষণা মতোই ৪৮ দলের অংশগ্রহণে এবারের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসরে পরিণত হয়েছে। দল ও ম্যাচ সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে ফিফার আয় এবং রেকর্ড পরিমাণ প্রাইজমানিও।

    দ্য অ্যাথলেটিকের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপের মোট প্রাইজ ফান্ড ৬৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, যা ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। আগামী রোববারের ফাইনালে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যে বিজয়ী দল পাবে ৫ কোটি ডলার, আর রানার্স-আপ দল পাবে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

    তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল পাবে ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার এবং চতুর্থ দল ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। কোয়ার্টার ফাইনাল, শেষ ষোল ও শেষ ৩২ থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলোর জন্যও নির্ধারিত অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অংশ নেওয়া প্রতিটি দল অন্তত ১ কোটি ৫ লাখ ডলার নিশ্চিতভাবে পাচ্ছে।

    ফিফা এই অর্থ সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশনের কাছে হস্তান্তর করে, পরে তারা খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও ফুটবল উন্নয়নে তা বণ্টন করে। এবারের বিশ্বকাপ থেকে ফিফার আয় ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ১৯৮২ সালে প্রথমবার প্রাইজমানি প্রকাশের সময় চ্যাম্পিয়ন ইতালি পেয়েছিল মাত্র ২২ লাখ ডলার। চার দশকের ব্যবধানে সেই অঙ্ক বেড়ে এবার চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য ৫ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

    ফাইনালের পর চ্যাম্পিয়ন, রানার্স-আপ ও তৃতীয় হওয়া দল যথাক্রমে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক পাবে। পাশাপাশি সেরা খেলোয়াড়, গোলরক্ষক ও সর্বোচ্চ গোলদাতাকে ‘গোল্ডেন বল’, ‘গোল্ডেন গ্লাভস’ ও ‘গোল্ডেন বুট’ দেওয়া হবে। তবে এসব ব্যক্তিগত পুরস্কারের সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া হবে না।

  • বেথলেহেমে ফজরের নামাজে বাধা, বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহার

    বেথলেহেমে ফজরের নামাজে বাধা, বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহার

    অধিকৃত পশ্চিম তীরের বেথলেহেমের হুসান গ্রামে ফজরের নামাজে বাধা দিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। একটি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানায়, সৈন্যরা একটি মসজিদে হামলা চালিয়ে নামাজের আজান ও নামাজ আদায়ে বাধা দেয়। পরে মুসল্লিদের মসজিদ থেকে বের করে দেয় দখলদার বাহিনী।

    এরপর তাদের ওপর স্টান গ্রেনেড ও বিষাক্ত কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থাটি আরো জানায়, ইসরাইলি বাহিনী বেথলেহেমের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত আল-আরকুব গ্রামের সব প্রবেশপথ ও ফটকও বন্ধ করে দিয়েছে।

    নাহালিন শহরকে গভর্নরেটের বাকি অংশ থেকে পৃথককারী প্রধান ফটকটি পার হওয়ার সময় তারা শহরটির এক বাসিন্দাকে আক্রমণ করে।

  • ইরানে পানি পরিশোধন পাম্পে হামলা, সংকটে হাজারও মানুষ

    ইরানে পানি পরিশোধন পাম্পে হামলা, সংকটে হাজারও মানুষ

    মার্কিন হামলায় ইরানের জাস্ক কাউন্টির উপকূলীয় বুনজি গ্রামে পানি পরিশোধন পাম্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ২০টি গ্রামে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। চরম সংকটে পড়েছে এসব গ্রামের প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দা।

    হরমোজগান পানি ও পয়োনিষ্কাশন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী হামজেহ পুর মার্কিন হামলাকে ‘ধারাবাহিক অপরাধ ও সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হামলায় বুনজি পরিশোধন কেন্দ্রের সমুদ্র থেকে পানি উত্তোলনের পাম্পিং স্টেশন এবং বিদ্যুৎ সরবরাহকারী ট্রান্সফরমার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

    তিনি আরো বলেন, এর ফলে পানির তীব্র সংকটে পড়েছে ২০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ ।

  • মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের

    মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের

    মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেসব দেশকে ‘পাল্টা জবাবের’ জন্য প্রস্তুত থাকতে সতর্ক করে দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

    আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, এই দেশগুলো যেন তাদের নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য বেসামরিক প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলোকে সক্রিয় করে এবং তাদের সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্যবস্তু থেকে দূরে সরিয়ে নেয়। সংস্থাটি আরো জানায়, এসব দেশের ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, আইআরজিসি কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক রসদ কেন্দ্রে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এতে সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

    আইআরজিসি জানায়, তারা কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে এবং এর রাডার-ব্যবস্থা অকার্যকর করে দিয়েছে। ওই ঘাঁটির একটি অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার এবং একটি ড্রোন স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি।