আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • মার্কিন-সৌদি পারমাণবিক চুক্তিতে ইসরাইলে নতুন উদ্বেগ

    মার্কিন-সৌদি পারমাণবিক চুক্তিতে ইসরাইলে নতুন উদ্বেগ

    যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে সৌদি আরবের সঙ্গে একটি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় ভবিষ্যতে সৌদি আরব নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ (এনরিচমেন্ট) সক্ষমতা অর্জনের পথ খুলে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে চুক্তিটি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ইসরাইল।

    বুধবার (২২ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট এবং সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান ‘১২৩ চুক্তি’ নামে পরিচিত পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি এবং একটি দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সুরক্ষা (সেইফগার্ডস) চুক্তিতে সই করেন।

    মার্কিন প্রশাসন চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ না করলেও বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, যৌথ মার্কিন-সৌদি সমীক্ষা শেষে সৌদি আরবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণের পথ তৈরি করবে এই কাঠামো। চুক্তিটি এখন মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

    এক বিবৃতিতে ক্রিস রাইট বলেন, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করবে এবং দুই দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করবে। একই সঙ্গে এতে সর্বোচ্চ পর্যায়ের পারমাণবিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র বিস্তার রোধের মানদণ্ড বজায় রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্ভাব্য সমালোচনার জবাবে বলেন, এমন কোনো চুক্তি করা হবে না যা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি করে। তার ভাষায়, ‘বিশ্বের কোনো দেশের সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র এমন চুক্তি করবে না, যা পারমাণবিক বিস্তারের ঝুঁকি বাড়ায়।’

    তবে চুক্তিতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) অতিরিক্ত প্রোটোকল অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এই প্রোটোকল থাকলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বিস্তৃত পরিদর্শন ও নজরদারির সুযোগ থাকত। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    চুক্তির মেয়াদ হবে ৩০ বছর এবং সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কোম্পানি অংশ নেবে।

    অস্ত্র তৈরির আশঙ্কা

    পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরব যদি নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা অর্জন করে, তাহলে ভবিষ্যতে তা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান অতীতে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে, তাহলে সৌদি আরবও একই পথে হাঁটবে।

    লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার বোলফ্রাস বলেন, এটি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের নীতিতে একটি ‘বিপ্লবাত্মক পরিবর্তন’। তার মতে, সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক নজরদারি নিশ্চিত না করেই সংবেদনশীল প্রযুক্তি হস্তান্তরের পথ তৈরি করা হচ্ছে।

    ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকের শর্ত শিথিল

    বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো শর্ত এতে রাখা হয়নি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ এবং পরে জো বাইডেন প্রশাসন সৌদি আরবকে পারমাণবিক প্রযুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছিল। তবে বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন সেই শর্ত থেকে সরে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কূটনীতিক ড্যান শাপিরো বলেন, ‘এই চুক্তির মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক হাতিয়ার বিনা শর্তেই সৌদি আরবকে দিয়ে দিয়েছে।’ তার মতে, এতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর কৌশলগত লক্ষ্য বাস্তবায়ন আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

    কংগ্রেসে উদ্বেগ

    যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতা চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে সৌদি আরব এই সক্ষমতাকে সামরিক কর্মসূচিতে রূপান্তর করতে পারে।

    ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেসম্যান ব্র্যাড শারম্যান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির বিরোধিতা করছে, অন্যদিকে সৌদি আরবকে একই ধরনের সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ দিচ্ছে। তার ভাষায়, ‘পার্থক্য শুধু এটুকুই যে, এই চুক্তি থেকে মার্কিন কোম্পানিগুলো বিপুল অর্থ আয় করবে।’

    বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টিংহাউস এই চুক্তির অন্যতম বড় সুবিধাভোগী হতে পারে। সৌদি আরবের পরিকল্পিত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

    চুক্তিটি এমন সময়ে হলো, যখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দাবি করছে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখাই তাদের লক্ষ্য। যদিও তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।

  • শিক্ষার্থীদের ‘মাদক মামলায় ফাঁসানোর’ হুমকি মুম্বাই পুলিশের

    শিক্ষার্থীদের ‘মাদক মামলায় ফাঁসানোর’ হুমকি মুম্বাই পুলিশের

    ভারতের মুম্বাইয়ে শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভিডিওটি মুম্বাই কংগ্রেসের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, পুলিশের পোশাক পরা এক সদস্য বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ফের আন্দোলনে এলে মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছেন।

    গত কয়েক দিনে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর ডাকে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্ক, চেম্বুর ও আজাদ ময়দানসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।

    ভাইরাল ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি পুলিশ ভ্যানে কয়েকজন তরুণকে বসিয়ে রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের বিক্ষোভস্থল থেকে আটক করা হয়েছিল। সামনের আসনে বসা এক পুলিশ সদস্য তাদের বাড়ি ফিরে যেতে এবং আর কখনো বিক্ষোভে না আসতে বলেন।

    ভিডিওতে ওই পুলিশ সদস্যকে বলতে শোনা যায়, ‘আবার এখানে দেখা গেলে তোমাদের জীবন শেষ করে দেব।’ এরপর তিনি আরও বলেন, ‘তোমাদের ব্যাগে ৫০-৫০ গ্রাম মাদক রেখে মিথ্যা মামলা দেব, তখন সারাজীবন শেষ হয়ে যাবে।’

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে তার নিজের জীবনও কঠিন হয়ে উঠেছে। ভিডিওটি প্রকাশ করে মুম্বাই কংগ্রেস দাবি করেছে, যদি ঘটনাটি সত্য হয়, তাহলে এটি শুধু শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা নয়, বরং গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। দলটির বক্তব্য, প্রতিবাদ করা কোনো অপরাধ নয়; শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাব জবাবদিহিতার মাধ্যমে দেওয়া উচিত, হুমকি দিয়ে নয়।

    এ ঘটনার পর মুম্বাই পুলিশ ভিডিওটির সত্যতা ও ঘটনার প্রেক্ষাপট তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভিডিওতে দেখা পুলিশের গাড়িচালককে তার বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনে মুম্বাই পুলিশের কৌশল নিয়েও সমালোচনা বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ ডিজিটাল মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের নজরদারি করছে এবং অনেকের বাড়িতে গিয়েও সতর্ক করছে।

    এ ছাড়া, যাদের বিরুদ্ধে আগে মামলা বা আইনি নোটিশ ছিল, তাদের অনেককে স্থানীয় থানার পক্ষ থেকে ফোন করা হয়েছে এবং হোয়াটসঅ্যাপে লাইভ লোকেশন চালু রেখে বাড়িতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    আরও অভিযোগ, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-এর ৩৫(৩) ধারার আওতায় কিছু শিক্ষার্থীকে ভোরবেলায় মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে নোটিশ পাঠিয়ে আগের বিক্ষোভের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হতে বলা হয়েছে।

  • মালিতে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    মালিতে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    আফ্রিকার দেশ মালিতে আল-কায়েদা সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘জেএনআইএম’-এর বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে মার্কিন ট্রাম্প প্রশাসন। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের কাউন্টারটেররিজম বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর সেবাস্তিয়ান গোরকাসহ কয়েকজন কর্মকর্তা সরাসরি অভিযানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

    সামরিক হামলার পরিকল্পনার বিষয়টি মার্কিন প্রশাসন সরাসরি স্বীকার বা অস্বীকার করেনি। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র আফ্রিকান দেশগুলোকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়তে মার্কিন অস্ত্র কেনার পরামর্শ দিচ্ছে এবং ন্যাটো মিত্রদের আঞ্চলিক বাহিনীকে সাহায্য করার আহ্বান জানাচ্ছে।

    পাশাপাশি, মালির নিরাপত্তা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় রাশিয়ার তীব্র সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা জানায়, সন্ত্রাস দমনে রাশিয়া একটি অকার্যকর অংশীদার হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এই বিষয়ে পেন্টাগন কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হলেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, তারা মালির সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানায়। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র জেএনআইএম-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে।

  • ইউক্রেনে অস্ত্র  না দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে রাশিয়ার সতর্কতা

    ইউক্রেনে অস্ত্র না দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে রাশিয়ার সতর্কতা

    ইউক্রেনে ‘অগ্রহণযোগ্য’ অস্ত্র সরবরাহ না বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।

    রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভকে উদ্ধৃত করে বিবৃতিতে বলা হয়, ম্যানিলায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও’র সাথে বৈঠকে ল্যাভরভ ‘কিয়েভ সরকারকে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখা গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে জোর দিয়েছেন।

    এশীয় একটি শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ল্যাভরভ ইউরোপীয় দেশগুলোর ‘অস্থিতিশীলতামূলক নীতির’ নিন্দা জানান।

    তিনি বলেন, এসব দেশ এখনো রাশিয়াকে ‘কৌশলগতভাবে পরাজিত’ করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ল্যাভরভ সংঘাতের ‘রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধান’ খুঁজে বের করতে রাশিয়ার প্রস্তুত থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

    ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের পর ল্যাভরভ ও রুবিও’র মধ্যে এটিই ছিল প্রথম বৈঠক। এ বৈঠক এমন এক সময়ে হলো, যখন ওয়াশিংটনের মনোযোগ ইউক্রেনে মধ্যস্থতার পরিবর্তে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ মোকাবেলার দিকে সরে গেছে।

  • অসুস্থতার কারণে বিরতিতে ককরোচ প্রধান, শিগগিরই ফেরার ঘোষণা

    অসুস্থতার কারণে বিরতিতে ককরোচ প্রধান, শিগগিরই ফেরার ঘোষণা

    ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি জানান, প্রচণ্ড জ্বর ও শরীর ব্যথা সত্ত্বেও ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। সাময়িক বিশ্রামের জন্য ছাঁড় নিলেও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যেই তিনি পুনরায় প্রতিবাদ মঞ্চে ফিরবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। খবর এনডিটিভির।

    কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অভিজিৎ দীপকেসহ অন্যান্য বিক্ষোভকারীরা তাদের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। বুধবার রাতে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে পুলিশের বিরুদ্ধে নৃশংসতার অভিযোগ তোলেন তিনি। অন্যদিকে, পুলিশ দাবি করেছে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে অগ্রসর হওয়ায় জনতা তাদের ওপর পাথর ও বোতল নিক্ষেপ করেছিল।

    এদিকে, প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিতে একটি দ্রুত বিচার আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর এবং এ ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তার এই সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন এনডিএ ও বিজেপির শীর্ষ নেতারা।

  • গলফের উন্নয়নে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনারের সাথে বিপিজিএ সভাপতির বৈঠক

    গলফের উন্নয়নে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনারের সাথে বিপিজিএ সভাপতির বৈঠক

    বাংলাদেশের পেশাদার গলফারদের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রফেশনাল গলফার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএ) সভাপতি ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুছ বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহদ শুহাদা ওথমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন।

    মঙ্গলবার (২২ জুলাই) অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের পেশাদার গলফারদের সার্বিক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ক্রীড়া সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে গলফকে কেন্দ্র করে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আন্তরিকতা ও আগ্রহ প্রকাশ করেন।

    এ সময় বিপিজিএর সেক্রেটারি জেনারেল সিফাত আহমেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

  • আল-আকসায় বেন-গভিরসহ শত শত ইহুদি, জর্ডান ও হামাসের তীব্র নিন্দা

    আল-আকসায় বেন-গভিরসহ শত শত ইহুদি, জর্ডান ও হামাসের তীব্র নিন্দা

    ইহুদি ধর্মীয় উৎসব ‘তিশা বি’আভ’ শুরু হওয়ার পর থেকেই আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে শত শত বসতি স্থাপনকারী অবৈধভাবে প্রবেশ করতে শুরু করে। বুধবার সন্ধ্যায় ইহুদিদের অনুষ্ঠান শুরু হয়। এসময় ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির নিজেও মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন।

    জেরুজালেমের ইসলামিক ওয়াকফ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বসতি স্থাপনকারীদের সংখ্যা ২,৩০০ ছাড়িয়েছে। তারা ইসরাইলি বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার অধীনে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে।

    ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানান, ইসরাইলি বাহিনী আল-আকসার প্রবেশদ্বারগুলোতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে; ফলে বহুসংখ্যক ফিলিস্তিনি মুসুল্লিকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি, শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন মুসুল্লির ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

    জেরুজালেম গভর্নরেটের ফিলিস্তিনি প্রশাসন বেন-গভিরের আল-আকসায় প্রবেশকে একটি ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা জানায়, এটি প্রমাণ করে অতীতে চরমপন্থী ডানপন্থীদের করা এসব কাজের পেছনে এখন ইসরাইল সরকারের প্রত্যক্ষ সমর্থন রয়েছে।

    জর্ডান ও হামাসের তীব্র নিন্দা

    এদিকে আল-আকসা প্রাঙ্গণে ইসরাইলিদের অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জর্ডান ও ফিলিস্তিনের গাজার সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাস।

    জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাষ্ট্রদূত ফুয়াদ মাজালি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ঐতিহাসিক ও আইনি ‘স্ট্যাটাস কো’ (বিদ্যমান অবস্থা) লঙ্ঘন করে। জেরুজালেমে অবস্থিত ইসলামিক ও খ্রিস্টানদের পবিত্র স্থানগুলোতে ইসরাইলের এমন ধারাবাহিক লঙ্ঘন বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে চাপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আম্মান।

    একইভাবে নিন্দা জানিয়ে হামাস বলেছে যে, এই প্রকাশ্য আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়া দখলদার বাহিনী ও তার বসতি স্থাপনকারীদের ওপরেই গিয়ে পড়বে।

    এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানায়, আমাদের দেশের মানুষ এবং প্রতিরোধ বাহিনী আমাদের পবিত্র স্থানগুলোর এই অবমাননার মুখে নিশ্চুপ বসে থাকবে না।

  • প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা স্বীকার করেও শিক্ষামন্ত্রীকে রক্ষা করছেন মোদি

    প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা স্বীকার করেও শিক্ষামন্ত্রীকে রক্ষা করছেন মোদি

    ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দীপকে সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি স্বীকার করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৩৪ দিন সময় লেগেছে। তার এই দীর্ঘসময়ের নীরবতাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন সিজেপির প্রধান। তিনি আরো জানান যে, ব্যাপক প্রতিবাদ এবং পদত্যাগের দাবি সত্ত্বেও সরকার এখনও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে রক্ষা করে চলেছে।

    এর আগে ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের দ্রুত শাস্তির জন্য ‘দ্রুত বিচার আদালত’ গঠনের ঘোষণা দেন নরেন্দ্র মোদি। তবে মোদি সরকারের এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে দিল্লি কাঁপানো ছাত্র আন্দোলনকারীদের সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোদি বলেন, ‘তরুণদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না। যারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করবে, তাদের রেহাই দেওয়া হবে না।’

    সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাস এই উদ্যোগকে সামান্য ‘ব্যান্ড-এইড’ বা সাময়িক মলম দেওয়ার সাথে তুলনা করে বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শূন্য সাজা বা সাজাহীনতার ইতিহাস রয়েছে। তাই কেবল এই আশ্বাসে কাজ হবে না।’ আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।

    এদিকে আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিরোধী দল ভারতীয় সংসদ অচল করে দেয়। দিল্লিতে প্রায় ৫০,০০০ মানুষের বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ চালালেও যন্তর মন্তরে তীব্র গরম ও আর্দ্রতার মধ্যে হাজারো তরুণ অবস্থান ধরে রেখেছেন। মুম্বাই, চেন্নাই, হায়দ্রাবাদসহ দেশটির বিভিন্ন শহরেও এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে।

  • জলবায়ু বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ পাচ্ছে সাড়ে ১২ লাখ ইউরো

    জলবায়ু বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ পাচ্ছে সাড়ে ১২ লাখ ইউরো

    দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা জোরদারে বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে তিন বছর মেয়াদি এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পাবে ১ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ইউরো।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মধ্যে এ দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

    চুক্তিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো: শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং আইওএমের পক্ষে বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম বনডে স্বাক্ষর করেন।

    চুক্তি অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় সাড়ে ১২ লাখ ইউরো)।

    প্রকল্পের আওতায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হবে।

    এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের জলবায়ু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ত করা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

    চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম সোহেল, যুগ্ম সচিব ড. কাজী শাহজাহান, সিনিয়র সহকারী সচিব ড. রাজিবুল আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ফাহমিদা হক খান, আইওএমের ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার আশফাকুর রহমান খান এবং ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট ড. এস এম মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।

  • বালেন্দ্র শাহ নিজেই ভাঙলেন নিজের নিয়ম: বৈঠকে বসছেন চীন-ভারতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে

    বালেন্দ্র শাহ নিজেই ভাঙলেন নিজের নিয়ম: বৈঠকে বসছেন চীন-ভারতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে

    ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রাখতে নিজের কৌশল পরিবর্তন করছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র ‘বালেন’ শাহ। দায়িত্ব নেওয়ার পর কাঠমান্ডুতে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক এড়িয়ে চললেও এবার তিনি ভারত ও চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলাদাভাবে বসতে যাচ্ছেন।

    নেপালের সংবাদমাধ্যম দ্য কাঠমন্ডুর প্রতিবেদনে এসেছে, চলতি সপ্তাহেই ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তব এবং চীনের রাষ্ট্রদূত ঝাং মাওমিংয়ের সঙ্গে বালেন শাহর বৈঠক হতে পারে। দুই প্রতিবেশীকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিতে একই দিনে এই বৈঠকের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    নেপালে জেন-জি আন্দোলনের পর ক্ষমতায় আসা বালেন শাহ এতদিন একক বৈঠকের প্রথা এড়িয়ে যৌথভাবে কূটনীতিকদের সঙ্গে দেখা করতেন। এমনকি এর আগে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা বিশেষ দূতের সাক্ষাতের অনুরোধও তিনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের সঙ্গে আলোচনার পর এবার তিনি বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গেও এককভাবে যোগাযোগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মতে, নেপালের পররাষ্ট্রনীতিতে ভারত ও চীনের গুরুত্ব বিবেচনাতেই তাদের রাষ্ট্রদূতদের দিয়ে এই প্রক্রিয়ার সূচনা করা হচ্ছে।

  • কাশ্মীরজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড়, আটক ২ হাজার

    কাশ্মীরজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড়, আটক ২ হাজার

    পুলিশ সদস্য নিহতের ঘটনায় পর ভারতের কাশ্মীরজুড়ে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। এরই মধ্যে আটক হয়েছেন প্রায় ২ হাজার মানুষ। পুলিশের দাবি, সন্ত্রাসবাদে সহায়তাকারী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

    বুধবার দুপুরে অনন্তনাগের একটি ব্যস্ত বাজার এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন পুলিশ সদস্য আশিক হুসেইন কুরেশি।

    পুলিশ জানায়, ঘটনার পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শ্রীনগরসহ বিভিন্ন জেলায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে শ্রীনগরে প্রায় ৭০০, বুদগামে ২০০, বারামুলায় ১৭৮ ও গান্দেরবালে ১০০ জনকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

  • ‘২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার’

    ‘২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার’

    ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, এ লক্ষ্য অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিকস, ডিজিটাল সেবা, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা ও লজিস্টিকস খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, তৈরি পোশাক খাতের বহুমুখীকরণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপরও জোর দেয়া হচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহী, উন্নয়ন সহযোগী এবং বিভিন্ন খাতের বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

    দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে এসে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়ে সরকারের প্রধান বলেন, নতুন সরকার এমন একটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে দেশীয় ও বিদেশি উভয় ধরনের উদ্যোক্তাই আস্থা নিয়ে বিনিয়োগ করতে পারবেন। কেউ বাংলাদেশে মূলধন বিনিয়োগ করলে সরকারও সময়, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দিয়ে তাদের পাশে থাকবে। এটি শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, সরকারের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার।

    তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের অবদানের প্রশংসা করে বলেন, তাদের বিনিয়োগের ফলে দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়েছে।

    নিজের পেশাগত জীবনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাজনীতিতে প্রবেশের পূর্বে আমি নিজেও একজন ব্যবসায়ী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলাম। আমার সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে আমি শিখেছি- যেকোনো ব্যবসা কেবল উদ্যোক্তার দক্ষতা বা রাজনৈতিক আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে সফল হতে পারে না; ব্যবসার সাফল্যের একটি বড় অংশ নির্ভর করে সরকারের প্রবৃদ্ধি-সহায়ক নীতিমালার ওপর।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও সম্ভাবনার ক্ষেত্র আরও বড়। দ্রুত সম্প্রসারণশীল অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ ও কর্মক্ষম জনশক্তি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনসমর্থনপুষ্ট নির্বাচিত সরকার এই চারটি শক্তি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে সক্ষম।

    সরকারের অর্থনৈতিক লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত এবং বেসরকারি খাতনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। নির্বাচনী ইশতেহারে এই অর্থনৈতিক রূপান্তরের সুস্পষ্ট রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। সরকার শুধু বিদেশি বিনিয়োগ আহ্বান করছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নযাত্রায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদেরও সম্পৃক্ত করতে চায়।

    তিনি জানান, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের আগেই অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রস্তুতি শুরু করেছিল। এ সময় বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়িক সংগঠন, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী ও নীতিনির্ধারকদের মতামত নেয়া হয়। তাদের পরামর্শে উঠে আসে, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হলে বিনিয়োগের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা, ব্যবসাবান্ধব নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলা, করব্যবস্থা সহজ করা, অর্জিত মুনাফা বিদেশে নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা, শক্তিশালী পুঁজিবাজার গড়ে তোলা এবং উন্নত অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি।

    এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আধুনিকায়ন, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা, কর ও ভ্যাট প্রশাসন সহজীকরণ এবং মুনাফা দেশে-বিদেশে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও ঝামেলামুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    একই সঙ্গে পুঁজিবাজারকে আরও গতিশীল করা, স্টার্টআপ খাতে সহায়তা বৃদ্ধি, অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানো, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করা এবং সরকারি সেবার ডিজিটাল রূপান্তরের কাজও এগিয়ে চলছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো, বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শুধু বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নির্ভর করে না; বরং দীর্ঘমেয়াদি আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে অংশীদারত্ব গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রার অংশ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব। একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

  • থাই বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

    থাই বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

    বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদারের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি থাই বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনী ‘টপ থাই ব্র্যান্ডস ২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাওয়াদি, রয়্যাল থাই দূতাবাসের কর্মকর্তারা, থাইল্যান্ডের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা, উদ্যোক্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দীর্ঘদিনের। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন, সংস্কৃতি ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে।

    তিনি বলেন, থাইল্যান্ড বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়লেও এখনো বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিপুল সুযোগ রয়েছে।

    খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ তার কৌশলগত অবস্থান, বড় ভোক্তা বাজার, দক্ষ জনশক্তি এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতির কারণে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, পর্যটন, চামড়া, তৈরি পোশাক, অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, রাবার পণ্যসহ বিভিন্ন খাতে থাই বিনিয়োগকে আমরা স্বাগত জানাই।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ থাইল্যান্ডের বাজারে ওষুধ, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, পাটজাত পরিবেশবান্ধব পণ্য, চামড়াজাত পণ্য ও হালকা প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে আগ্রহী।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনী শুধু পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ নয়, বরং উৎপাদক, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, পরিবেশক, বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরির একটি কার্যকর মাধ্যম।

    তিনি বলেন, ‘টপ থাই ব্র্যান্ডস ২০২৬’-এর মতো আয়োজন দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন সম্পর্ক তৈরি করবে এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটালাইজেশন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তিনি দায়িত্বশীল বিদেশি বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এ ধরনের বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং দেশের শিল্প উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী অংশগ্রহণকারী থাই কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, পরিবেশক ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের থাইল্যান্ডের বাজারে দেশীয় পণ্য রপ্তানির নতুন সুযোগ অনুসন্ধানের আহ্বান জানান।

    তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘টপ থাই ব্র্যান্ডস ২০২৬’ বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবে।

    উল্লেখ্য, রয়্যাল থাই সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উন্নয়ন বিভাগের (ডিআইটিপি) আয়োজনে এবং ঢাকাস্থ রয়্যাল থাই দূতাবাসের বাণিজ্যিক বিষয়ক কার্যালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে থাইল্যান্ডের ৫৭টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী চলবে ২৫ জুলাই পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

  • তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ মোদির

    তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ মোদির

    আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তরফে এই আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমন্ত্রণপত্র ইতোমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
    তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসেছে। আমরা সেটি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাঠিয়েছি।

    আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও বিশেষ আমন্ত্রিত দেশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সম্মেলনে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
    প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বিবেচনায় রয়েছে। এ নিয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

    সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের চলমান পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্নের মুখোমুখি হন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পক্ষে। ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে তাদের জনগণের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখবে বলে ঢাকা আশা করে।

    এ সময় আগামী ৩০ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর সম্ভাব্য ঢাকা সফরের বিষয়েও কথা বলেন তিনি। শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বর্তমান সরকারের আমলে আরও জোরদার হচ্ছে। আসন্ন সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিশেষ করে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে যাবে বলে সরকার আশা করছে।

    এ ছাড়া প্রেসিডেন্টকে ঘিরে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো তথ্য সত্য প্রমাণিত হলে সরকার প্রয়োজনীয় তদন্ত করবে।
    পাসপোর্টের অবনমন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের পাসপোর্টের মান কমেনি। বিভিন্ন দেশে ভিসা-সংক্রান্ত যে সমস্যাগুলো রয়েছে, সেগুলো সমাধানে পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে। অবৈধ অভিবাসন ও জাল কাগজপত্র ব্যবহারের মতো বিষয়গুলোও সমাধানের চেষ্টা চলছে।

  • চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফের ৫ জনকে পুশইনের অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফের ৫ জনকে পুশইনের অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি

    চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক নারী ও শিশুসহ পাঁচজনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক অতিরিক্ত পরিচালক মেজর তোয়াসীন হাবীব হাসান এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। এর আগে, একইদিন ভোর ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    বিজিবি জানায়, ভোর ৪টার দিকে বিজিবির চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধীনস্থ দর্শনা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ৭৬/৪-এস সংলগ্ন এলাকা দিয়ে ৩২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের গেদে ক্যাম্পের সদস্যরা একজন পুরুষ, তিনজন নারী ও এক শিশুকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। বিজিবির টহলদল বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করে এবং ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা প্রদান করে। পরবর্তীতে তাদের সীমান্তবর্তী কাঁটাতারের বেড়া-সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করতে বাধ্য করা হয়। বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের মুখে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিদের নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। ফলে অবৈধ পুশইনের প্রচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের প্রচেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

  • তরবারির জোরে নয়, আরব বণিকদের মাধ্যমে ভারতে এসেছিল ইসলাম

    তরবারির জোরে নয়, আরব বণিকদের মাধ্যমে ভারতে এসেছিল ইসলাম

    ধর্ম ও জীবন

    প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, ৭১২ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধ আক্রমণের মাধ্যমে ভারতে ইসলামের আগমন ঘটেছিল। একে অনেকে তরবারির শক্তির ওপর ভর করে ইসলামের আগমন বলে মনে করেন। তবে আধুনিক ইতিহাসবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীদের অনেকেই এই ধারণার সঙ্গে একমত নন।

    তাদের মতে, ভারতে ইসলামের আগমন কোনো একক ঘটনার ফল নয়। এটি কয়েক শতাব্দী ধরে চলা ঐতিহাসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ার পরিণাম।

    ভারতে ইসলামের প্রসারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল বাণিজ্য। প্রাচীনকাল থেকেই ভারত গোলমরিচের জন্য সারা বিশ্বে পরিচিত ছিল। আরব সাগর শান্ত থাকায় এই সমুদ্রপথে আরব বণিকদের দীর্ঘদিনের প্রভাব ছিল। তারা বর্ষার সময়ে ভারতে আসতেন এবং ব্যবসা শেষে আরবে ফিরে যেতেন।

    বিখ্যাত ইতিহাসবিদ সৈয়দ সুলেমান নদভীর মতে, ইসলামের আবির্ভাবের পর বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ আরবদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। দীর্ঘদিন যোগাযোগের ফলে দক্ষিণ ভারতে ‘মাপ্পিলা মুসলিম’ নামে এক মুসলিম সম্প্রদায়ের বিকাশ ঘটে।

    রাজনীতিবিদ ও লেখক শশী থারুর প্রায়ই উল্লেখ করেন যে, পরিচিত ও বিশ্বস্ত আরব বণিকদের হাত ধরেই মালাবার উপকূলে ইসলাম এসেছিল। কোনো তলোয়ারের জোরে কেরালায় ইসলাম পৌঁছায়নি। দক্ষিণ ভারতে ইসলামের আগমন সম্পর্কে বেশ কিছু তত্ত্ব প্রচলিত আছে।

    প্রথম তত্ত্ব অনুযায়ী, নবী মোহাম্মদ (সা.)-এর জীবদ্দশাতেই প্রাচীন মুজিরিস বন্দর দিয়ে কেরালায় ইসলাম এসেছিল। ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে মালিক বিন দিনারের উদ্যোগে নির্মিত ‘চেরামন জামা মসজিদ’ এই দাবির পক্ষে বড় প্রমাণ। মসজিদটি প্রতিষ্ঠার পেছনে কেরালার হিন্দু রাজা চেরামন পেরুমলের ইসলাম গ্রহণের গল্পও জড়িয়ে আছে।

    প্রফেসর ইলিয়াসের মতে, আরবরা এখানে মূলত গোলমরিচের ব্যবসা করতে এসেছিলেন। তারা বাণিজ্যের পাশাপাশি হিসাব করার পদ্ধতি, ওজন মাপার কৌশল এবং ভালো নৌকা তৈরির প্রযুক্তিও শিখিয়েছিলেন।

    ঐতিহাসিকদের একাংশ ৭১২ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধ ও মুলতান দখল এবং পরবর্তীতে দিল্লির সালতানাত প্রতিষ্ঠাকে রাজনৈতিক সম্প্রসারণ হিসেবে দেখেন।

    তবে আধুনিক গবেষকদের মতে, এই জয়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করা, জোর করে মানুষকে ধর্মান্তরিত করা নয়।

    ভারতে ইসলামের প্রসারে সুফি আন্দোলনও বড় ভূমিকা পালন করেছে। একাদশ শতকের পর চিশতি ও সোহরাওয়ার্দী সিলসিলার সুফি-সন্তরা ভারতের বিভিন্ন অংশে বসতি স্থাপন করেন। তাদের খানকাহ ও দরগাহগুলো আধ্যাত্মিক এবং সামাজিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। আজমেরের খাজা মঈনুদ্দিন চিশতির দরগাহ এর একটি বড় উদাহরণ, যেখানে সব ধর্মের মানুষ আসেন। ইসলামের সাম্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও ন্যায়বিচারের নীতি মানুষকে আকর্ষণ করেছিল।

    ইতিহাসবিদ রিচার্ড ইটনের মতো পণ্ডিতরা আরেকটি নতুন তত্ত্ব দিয়েছেন। তাদের মতে, বাংলা ও পাঞ্জাবের মতো অঞ্চলে ইসলামের বিস্তার মূলত কৃষি উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। মুসলিম শাসকরা সুফি খানকাহ ও মসজিদগুলোকে অনুর্বর জমি দান করতেন। এই প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কৃষি বসতি স্থাপন করলে স্থানীয় কৃষকরা ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক অগ্রগতির অংশ হিসেবে ইসলাম গ্রহণ করেন। সব মিলিয়ে, বাণিজ্য, আধ্যাত্মিকতা, রাজনীতি ও সামাজিক সুযোগের এক দীর্ঘ মিশ্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই অঞ্চলে ইসলামের বিস্তার ঘটেছিল।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • আইসিইতে কমেছে তুলার দর

    আইসিইতে কমেছে তুলার দর

    আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) তুলার দাম কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে ঠেকেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বল রফতানি প্রতিবেদন, ব্যবসায়ীদের মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতা এবং ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। খবর ফাইবার টু ফ্যাশন।

    বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হওয়া চলতি বছরের ডিসেম্বর মেয়াদের চুক্তিতে তুলার দাম ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ কমেছে। পাউন্ডপ্রতি তুলার দাম এখন ৭৯ দশমিক ৩০ সেন্টে নেমে এসেছে। গত দুই সপ্তাহের মধ্যে এটিই তুলার একদিনে সর্বোচ্চ দরপতন। এর ফলে ৬ জুলাইয়ের পর এ প্রথম তুলার দাম ৮০ সেন্টের নিচে নেমে গেল। অন্য মেয়াদের চুক্তিতেও ৫৫-২৮৭ পয়েন্ট পর্যন্ত দাম কমেছে, যা পুরো বাজারজুড়ে একটি বড় মন্দার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

    তুলার এ দরপতনের প্রধান কারণ ছিল মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) সাপ্তাহিক রফতানি প্রতিবেদন। ৯ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহের তথ্যানুযায়ী, দেশটিতে তুলার নিট বিক্রি কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৪ হাজার ৩৬০ বেল-এ (প্রতি বেলে ৪৮০ পাউন্ড বা ২২০ কেজি), যা চলতি বিপণন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন সাপ্তাহিক রেকর্ড। এ ছাড়া আগামী মৌসুমের তুলার রফতানি আদেশও আশানুরূপ হয়নি। বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে একধরনের হতাশা কাজ করছে।

    রফতানি চাহিদা কমার পাশাপাশি ডলারের দরবৃদ্ধিও কৃষি পণ্যের বাজারে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। ইউএস ডলার ইনডেক্স টানা চার কার্যদিবস ধরে বেড়ে প্রায় এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। ডলার শক্তিশালী হওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য মার্কিন তুলা কেনা আরো ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। এতে করে বৈশ্বিক বাজারে এ তুলার প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমে গিয়েছে। এর প্রভাবে গম, ভুট্টা ও সয়াবিনের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও বাজারে প্রভাব ফেলছে। জুনে মার্কিন খুচরা বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। এ ইতিবাচক তথ্য মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড বা বন্ডের মুনাফা বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার কমানোর সম্ভাবনা কমে গেছে, যা ডলারকে আরো শক্তিশালী করেছে।

    যদিও বাজারে সরবরাহ কম থাকার কারণে দাম কিছুটা বাড়তি থাকার কথা ছিল, তবে দুর্বল চাহিদার ধাক্কায় সেই প্রভাব পুরোপুরি ঢাকা পড়ে গেছে। পরবর্তী কার্যদিবসে ডিসেম্বরের চুক্তি দাম আরো কমে ৭৮ দশমিক ৩৮ সেন্টে কেনাবেচা হয়। মার্কিন আবহাওয়া ও চীনের রাষ্ট্রীয় তুলার নিলাম আগামী দিনগুলোয় বাজার স্থিতিশীল করতে পারে কিনা তাই এখন সংশ্লিষ্টরা পর্যবেক্ষণ করছেন।

  • ধর্মেন্দ্রকে কেন বরখাস্ত করছে না মোদি

    ধর্মেন্দ্রকে কেন বরখাস্ত করছে না মোদি

    ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষামন্ত্রীকে ছেঁটে ফেললে আন্দোলনরত ছাত্রসমাজ যদি শান্ত হয়, তিনি পদত্যাগ করলে বিরোধীরা যদি সংসদ সচল রাখে, তাহলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তা মানতে অসুবিধা কোথায়? কেন এই দাবি, যা ছাত্রসমাজ এক মাস ধরে জানিয়ে আসছে, বিরোধীরাও যে দাবিতে সরব হয়েছে, সেটা মানতে প্রধানমন্ত্রীর এত অনীহা কেন? কেন সরকার এই সমঝোতায় রাজি নয়?

    এই প্রশ্নই এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে। আলোচিত হচ্ছে ধর্মেন্দ্র প্রধানের গুরুত্ব নিয়ে। কী এমন শক্তি তাঁর, কেন তিনি এত অপরিহার্য যে তাঁকে অপসারণের দাবি সরকার মানতে চায় না? বিষয়টি একটু খতিয়ে দেখা যাক।

    নরেন্দ্র মোদি সরকারের বৈশিষ্ট্যগুলোর অন্যতম হলো কোনো রকম চাপের কাছে মাথা না নোয়ানো। এই ১২ বছরের শাসনে মোদি সরকারকে সবচেয়ে বেশি বিব্রত করেছে কৃষি আইন। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে তিনটি কৃষি আইন পাস করিয়েছিল মোদি সরকার। কিন্তু দেশজুড়ে লাগাতার আন্দোলন ও দিল্লির সীমান্ত অবরোধের কারণে ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তা প্রত্যাহার করে নেন।

    এই একটি মাত্র নিদর্শন ছাড়া সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অন্য যেসব আন্দোলন হয়েছে, যেমন সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ খারিজ, সিএএ, এনআরসি কিংবা সর্বশেষ ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন—কোনো সিদ্ধান্ত থেকেই সরকার পিছিয়ে আসেনি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং তাঁদের দাবি নিয়েও তাই আগ্রহ জমছে। জল্পনা শুরু হয়েছে ধর্মেন্দ্র প্রধানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে।

    এই সরকারের বৈশিষ্ট্য নিয়ে ২০১৫ সালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এক মন্তব্য করেছিলেন। ললিত মোদি বিতর্ক নিয়ে মন্তব্য করার সময় তিনি বলেছিলেন, ‘এটা এনডিএ সরকার, ইউপিএ সরকার নয়। এখানে বিরোধীরা চাইলেই কাউকে পদত্যাগ করানো হয় না।’

    সেই থেকে বারবার দেখা গেছে, বিরোধীদের দাবি নিয়ে সরকার আলোচনায় রাজি হয়েছে, তদন্তে রাজি হয়েছে, হয়তো নানা রকম ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু একবারের জন্যও কোনো মন্ত্রীকে বরখাস্ত করা হয়নি।

    রেল দুর্ঘটনার জন্য রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণোকে পদত্যাগ করানো যায়নি। এপস্টিন ফাইলে নাম থাকার দরুন হরদীপ সিং পুরিকে ছেঁটে ফেলা হয়নি। মন্ত্রিসভায় রদবদল ঘটানো হয়েছে বিজেপির শর্তে, বিজেপির পক্ষে উপযুক্ত সময়ে, বিরোধীদের দাবির মুখে নয়।

    শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতি ও নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও তাঁদের দাবি মেনে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ছেঁটে ফেললে তাই সেটা হবে মোদি সরকারের চরিত্রবিরোধী। সরকার এখনো এই দাবির মুখে ঝুঁকতে নারাজ। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করে সরকার সংকট মোচনে উদ্যোগী হলে বুঝতে হবে, প্রধানমন্ত্রী দুর্বল হয়ে গেছেন। অন্যান্য ক্ষেত্রেও এটাই হয়ে দাঁড়াবে বিরোধীদের হাতিয়ার। সংগত কারণেই মোদি চান না নিজেকে দুর্বল প্রতিপন্ন করতে।

  • ইউক্রেনে বিক্ষোভের মুখে সেনাপ্রধানকেও সরিয়ে দিলেন জেলেনস্কি

    ইউক্রেনে বিক্ষোভের মুখে সেনাপ্রধানকেও সরিয়ে দিলেন জেলেনস্কি

    ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফের (সেনাপ্রধান) পদ থেকে ওলেক্সান্দর সিরস্কিকে সরিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। মিখাইলো দ্রাপাতিকে তাঁর স্থলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    টানা ছয় দিন ধরে রাজধানী কিয়েভে বিক্ষোভ চলছে। পরে তা ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে অপসারণের প্রতিবাদে এ বিক্ষোভের শুরু। বিক্ষোভ থেকে সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কির অপসারণের দাবি ওঠে।

    রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে মিখাইলো ফেদোরভ আর ওলেক্সান্দর সিরস্কির বিরোধ সাম্প্রতিক দিনগুলোয় প্রকাশিত হয়ে পড়ে। মূলত এর জেরেই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অপসারণ, বিক্ষোভ। শেষ পর্যন্ত টানা বিক্ষোভের মুখে সেনাপ্রধানকেও সরিয়ে দিলেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি।

    ইউক্রেনে এমন এক সময়ে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, যখন মস্কোর সঙ্গে যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায় পার করছে কিয়েভ। ইউক্রেনে সাম্প্রতিক দিনগুলোয় হামলা জোরদার করেছে রুশ বাহিনী।

    রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ কার্যক্রমে ‘নতুন গতি’ আনতে দ্রাপাতিকে সেনাপ্রধানের পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জেলেনস্কি বলেন, ‘ইউক্রেনের শক্ত অবস্থান ধরে রাখার জন্য আমি ওলেক্সান্দর সিরস্কি এবং আমাদের প্রত্যেক যোদ্ধার প্রতি কৃতজ্ঞ। একই দৃষ্টিভঙ্গির জন্য মিখাইলো দ্রাপাতিকেও ধন্যবাদ।’

    রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সদ্য সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ। গত সপ্তাহে ফেদোরভকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এতে ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

    পদচ্যুত হওয়ার আগে ফেদোরভ প্রকাশ্যে সিরস্কির সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সিরস্কি তাঁর সংস্কার কার্যক্রমে বাধা দিচ্ছেন। ইউক্রেন যদি রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকাতে চায়, তবে এই জেনারেলকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।

  • পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষের ৭০ শতাংশ মুসলিম: সমীক্ষার তথ্য

    পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষের ৭০ শতাংশ মুসলিম: সমীক্ষার তথ্য

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) জেরে যেসব ভোটার ‘বিচারাধীন’ অবস্থায় রয়েছেন, তাঁদের ৭০ শতাংশের বেশি মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি বাঙালি। এ কারণে ধরে নেওয়া যেতে পারে, বাদ পড়া ভোটারের অধিকাংশই বাঙালি মুসলিম। সম্প্রতি এক সমীক্ষার প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ কথা জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠিত গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সবর ইনস্টিটিউট।

    এসআইআরে বাদ যাওয়া ও পশ্চিমবঙ্গের ‘বিচারাধীন’ তালিকায় থাকা ২৭ লাখের বেশি ভোটারের মধ্যে ৭০ দশমিক ১৭ শতাংশ মুসলিম এবং মোট ৫১ শতাংশ নারী। তাঁদের অধিকাংশকেই তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ বা ‘যৌক্তিক অসংগতি’র কারণে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই যৌক্তিক অসংগতির বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে চালু করা হয়েছিল, যার জেরে এত মানুষ ভোট দিতে পারেননি।

    এই ২৭ লাখ মানুষ ছাড়াও আরও প্রায় ৬৪ লাখ ভোটারের নাম ‘সাপ্লিমেন্টারি’ বা অতিরিক্ত তালিকা থেকে বাদ গেছে। এর মধ্যে স্থানান্তরিত, অনুপস্থিত, মৃত বা দ্বৈত (ডুপ্লিকেট) ভোটার বলে তাঁদের নাম কাটা হয়েছে। বর্তমানে এই ৬৪ লাখ ভোটারের তথ্যও নতুন করে বিশ্লেষণের কাজ চলছে।

    গোটা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে সবর ইনস্টিটিউট একটি উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার বা ‘ওপেন ডেটাবেজ’ প্রকাশের কাজ করছে। সাধারণ মানুষের জন্য তৈরি এই ডেটাবেজে ধর্ম ও লিঙ্গ অনুযায়ী সব তথ্য সাজানো থাকবে। এর ফলে সাধারণ নাগরিক ও গবেষকেরা খুব সহজেই বুঝতে পারবেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাতিল হওয়ার ফলে নির্দিষ্ট কোন সম্প্রদায় কীভাবে সমস্যায় পড়েছে।

    পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রকাশিত মুসলিম সমাজের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় বলা হয়েছে, এই তদন্ত জরুরি। কারণ, ২৭ লাখের বেশি মানুষকে ‘অত্যন্ত আপত্তিকর ও অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে’।

    পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    যেমন কোনো দম্পতির ছয়জন বা এর বেশি সন্তান থাকলে তাঁদের নাম সাধারণভাবে বাদ পড়েছে। আবার মা–বাবার নামের বানানে সামান্য অমিল থাকলে বা মা–বাবার সঙ্গে সন্তানের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের কম হওয়ার মতো অদ্ভুত কারণ দেখিয়েও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের তথ্য উঠে এসেছে সবর ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদনে।

    পশ্চিমবঙ্গে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় একেবারে গোড়াতেই প্রায় ৬১ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ‘সাপ্লিমেন্টারি’ তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, মোট প্রায় ৯১ লাখ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে গেছে। এর ফলে গত নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে মোট ভোটারের সংখ্যা ৮ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ কমে যায়। গত বিধানসভা নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৪ লাখ।

    নির্বাচন কমিশন দাবি করেছিল, মূলত মৃত, স্থানান্তরিত বা যাঁদের খুঁজে পাওয়া যায়নি, তাঁদের নামই বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রকৃত চিত্র ছিল অন্য রকম। বহু প্রকৃত ও বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ও হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে এসআইআর ট্রাইব্যুনাল গঠন করে কাজ শুরু হয়।

    নির্বাচন শুরুর আগে এবং হেরে যাওয়ার পরে তৃণমূল কংগ্রেস জোর দিয়ে বলেছে, ভোটার তালিকা থেকে মানুষের নাম বাদ দিয়ে, বিশেষত মুসলিম সমাজের মানুষের নাম বাদ দিয়ে তাদের হারানো হয়েছে।

    অবশ্য বিজেপির তরফে বলা হয়, তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের মতো করে ভোটার তালিকা বানিয়ে এবং তাতে অসংখ্য ভুয়া ভোটারের নাম ঢুকিয়ে গত নির্বাচনে জিতেছিল। এবার তারা সেটা করতে না পারায় হেরে গেছে।

    ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তিনি বিজেপির হয়ে কাজ করছেন বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ। ১০ এপ্রিল ২০২৬

    নির্বাচনপ্রক্রিয়া চলাকালে ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়। এরপর বাতিল হওয়া ভোটারদের প্রায় ৩৪ লাখ আবেদন সেখানে জমা পড়ে। কিন্তু এই ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়ার গতি নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। এত বিশালসংখ্যক মানুষের আবেদন বিবেচনা করতে ঠিক কত দিন সময় লাগতে পারে, সে সম্পর্কে কারও কাছেই কোনো স্পষ্ট উত্তর নেই।

    দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, সংখ্যালঘু–অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেই বেছে বেছে ভোটারদের নাম বেশি কাটা হয়েছে। উপযুক্ত তথ্য–প্রমাণের অভাবে এ নিয়ে জোরালো বক্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি। কিন্তু সবর ইনস্টিটিউটের এ প্রতিবেদন প্রমাণ করছে, নির্দিষ্টভাবে মুসলিমপ্রধান অঞ্চল থেকেই ভোটারদের নাম অন্তত এ নির্বাচনে ছেঁটে ফেলা হয়েছে।

    কারণ হচ্ছে, মুসলিম ভোটারদের বড় অংশই তৃণমূল কংগ্রেসকে এত দিন ভোট দিয়েছে এসেছে। তাই ধরে নেওয়া যেতে পারে, এই ভোট না পাওয়ার কারণেই হেরেছে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক ক্ষমতাসীন দল। এই ভোটাররা কবে ভোটার তালিকায় ফিরবেন এবং ভোট দিতে পারবেন, সে বিষয় এখনো অনিশ্চিত।

  • যন্তর মন্তরে কারা পাঠাচ্ছেন খাবার

    যন্তর মন্তরে কারা পাঠাচ্ছেন খাবার

    ভারতে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ চলছেই। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের অনেক মানুষ তাদের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানাতে কেউ কেউ আবার খাবারদাবার নিয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

    বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সমর্থকেরা অনলাইনে খাবার অর্ডার নেওয়ার অ্যাপ সুইগি ও জোম্যাটোর মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে খাবার ও পানীয় অর্ডার করছেন। এরপর তাঁরা ডেলিভারি কর্মীদের সেগুলো আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বিনা মূল্যে বিতরণ করে দেওয়ার কথা বলছেন।

    অনলাইনে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সুইগির ডেলিভারি কর্মী প্রদীপ কুমার সিং ভারতের বেসরকারি বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেন, যন্তর মন্তর এখন এ ধরনের অর্ডারের নিয়মিত গন্তব্য হয়ে উঠেছে।

    এএনআইকে প্রদীপ কুমার বলেন, ‘একটি অর্ডার আসে। তারপর গ্রাহক বলেন, “ভাই, এগুলো ওখানেই বিতরণ করে দিন। যাঁর প্রয়োজন, তাঁকে দিয়ে দিন।”’ প্রদীপ বলেন, ‘গতকাল আমার কাছে সমুচার একটি অর্ডার এসেছিল। আমাকে বলা হয়েছিল শুধু এখানে এনে সবার মধ্যে বিলিয়ে দিতে। এগুলো নিতে কেউ আসেন না।’

    দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশ থেকেও আন্দোলনকারীদের জন্য খাবার ও পানীয়ের অর্ডার দেওয়া হচ্ছে। মহেন্দ্র কুমার নামের আরেক ডেলিভারি কর্মী বলেন, তিনি এক বিদেশি গ্রাহকের পাঠানো অর্ডারের চা নিয়ে যন্তর মন্তরে আন্দোলনস্থলে এসেছেন।

    মহেন্দ্র কুমার এএনআইকে বলেন, ‘আমি এই অর্ডার নিয়ে এসেছি। এটি ভারতের বাইরে থেকে দেওয়া হয়েছে। আমাকে বলা হয়েছে, “যন্তর মন্তরে গিয়ে আন্দোলনরত ভাইদের দিয়ে দিন।”’

    মহেন্দ্র বলেন, ‘কার পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে, আমি জানি না। শুধু বলা হয়েছে, এখানে যাঁরা আন্দোলন করছেন, তাঁদের চা দিয়ে দিতে।’ জোম্যাটো ও জেপ্টোর আরেক ডেলিভারি কর্মী এই উদ্যোগকে ‘স্টুডেন্ট সার্ভিস’ বলে উল্লেখ করেন।

    এক অজ্ঞাতপরিচয় প্রেরকের নির্দেশনার কথা জানিয়ে ওই কর্মী এএনআইকে বলেন, ‘প্রেরকের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। আমাকে শুধু বলা হয়েছে, “সব বিতরণ করে দিন।” কে অর্ডার করেছেন, আমি জানি না। শুধু বলা হয়েছে সেখানে গিয়ে দিয়ে আসতে। এটা “স্টুডেন্ট সার্ভিস”, এটা শিক্ষার্থীদের জন্য। এটা কার বা এর মধ্যে কী আছে, সেটাও আমি জানি না।’

    ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আয়োজিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশ এখন পর্যন্ত ১০টি এফআইআর দায়ের করেছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, বিক্ষোভ চলাকালে বিভিন্ন ঘটনা এবং আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে নয়াদিল্লির একাধিক থানায় এসব এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

    কর্মকর্তারা বলেন, পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় চারটি, কনট প্লেস থানায় তিনটি এবং মন্দির মার্গ, বারাখাম্বা রোড ও কর্তব্য পথ থানায় একটি করে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায্য চাইলো পাকিস্তান

    যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায্য চাইলো পাকিস্তান

    বৈদেশিক মুদ্রার সংকট মোকাবিলা এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের ‘এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন সাপোর্ট ফ্যাসিলিটি’ বা ‘বিনিময় হার স্থিতিশীলতা সহায়তা তহবিল’ চেয়েছে পাকিস্তান। খবর রয়টার্সের।
    বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, পাক সরকারের এই অনুরোধ অনুমোদিত হলে নগদ অর্থের সংকটে থাকা ইসলামাবাদের অর্থনীতির জন্য এটি বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে তথ্য প্রকাশ্যে এলো।

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে মধ্যস্থতায় ভূমিকা রাখার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের কূটনৈতিক গুরুত্ব কিছুটা বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনসহ বিভিন্ন অংশীদারের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার আশা করছে ইসলামাবাদ।
    সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের কাছে পাঠানো অনুরোধে পাঁচ বছর পর্যন্ত মেয়াদের ১০ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন সাপোর্ট ফ্যাসিলিটি গঠনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
    এই সহায়তা অনুমোদিত হলে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে, রুপির ওপর চাপ কমবে এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের ওপর নির্ভরশীলতাও কিছুটা হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে আইএমএফ কর্মসূচির আওতায় পাক সরকার যে কঠোর রাজস্ব ও মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে, তা বাস্তবায়নেও সহায়ক হবে।
    তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। অন্যদিকে,

    আইএমএফের শর্তে চলছে পাকিস্তান
    বর্তমানে পাকিস্তান আইএমএফের ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকারকে কর বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় কমানো এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে, যা রাজনৈতিকভাবে বেশ অজনপ্রিয়।
    বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন সুবিধা অত্যন্ত বিরল। সাধারণত মার্কিন এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড থেকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে ডলার, কারেন্সি সোয়াপ বা আর্থিক গ্যারান্টি দেয়া হয়। এগুলো ফেডারেল রিজার্ভের স্থায়ী ডলার সোয়াপ ব্যবস্থার থেকে আলাদা এবং সংকটকালে সংশ্লিষ্ট দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
    ২০২৫ সালে আর্জেন্টিনা এ ধরনের একটি সুবিধা পেয়েছিল। এর আগে ২০০২ সালে উরুগুয়ে এবং দীর্ঘদিন ধরে মেক্সিকো এ ধরনের মার্কিন সহায়তার আওতায় রয়েছে।

    ওয়াশিংটনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা
    বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি পাকিস্তানের অনুরোধ অনুমোদন করে, তাহলে তা শুধু অর্থনৈতিক সহায়তাই নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তাও বহন করবে। এতে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও রুপির ওপর চাপ কমবে এবং আইএমএফের কিস্তি কিংবা জরুরি আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতাও কমবে।
    তবে আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা ফিচ সতর্ক করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যাহত হলে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও চাপের মুখে পড়তে পারে।
    দেশটিতে বিদেশি বিনিয়োগ এখনও প্রত্যাশার তুলনায় কম। নীতিগত অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তা ঝুঁকি, অতীতের মুনাফা প্রত্যাবাসনে বিধিনিষেধ এবং সীমিত রপ্তানি সক্ষমতার কারণে বিনিয়োগকারীরা এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
    এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের চেষ্টা করছে পাকিস্তান। ইতোমধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সি, রিয়েল এস্টেট ও খনিজ সম্পদ খাতে দুই

    পাকিস্তান ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়ালের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সীমান্তপারের অর্থ লেনদেনের জন্য স্টেবলকয়েন চুক্তি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের প্রধান ক্রিপ্টো ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
    এছাড়া নিউইয়র্কে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের মালিকানাধীন রুজভেল্ট হোটেল পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রেকো ডিক খনি প্রকল্পসহ বিভিন্ন খাতে মার্কিন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামাবাদ।
    ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক এ প্রকল্পে ১ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের ঘোষণা দিয়েছে।

  • ককরোচ পার্টির সমালোচনা করে তোপের মুখে কঙ্গনা

    ককরোচ পার্টির সমালোচনা করে তোপের মুখে কঙ্গনা

    মোদি সরকারের কোনো প্রকার সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না বলিউড তারকা কঙ্গনা রনৌত। যখনই কোনো বিষয়ে প্রতিবাদ ওঠে, তা নিয়ে অভিনেত্রীর মুখের আগল খুলে যায়। আরও একবার তার প্রমাণ মিলল শিক্ষামন্ত্রী ধমেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে।

    গত সোমবার লোকসভা অভিযানের কর্মসূচি ছিল তাদের। এমনিতেই মাসখানেক ধরে ভারতের দিল্লির যন্তর মন্তরে একই দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির অবস্থানে বসেছে। সেখানে অনশন ধর্মঘটে ছিলেন সোনম ওয়াং চুক। সব মিলিয়ে দিল্লি উত্তপ্ত। এর মধ্যেই মুখ খুলেছেন কঙ্গনা রনৌত। ককরোচ জনতা পার্টি তথা তরুণদের এই প্রতিবাদের সমালোচনা করেছেন একেবারে তাঁর নিজস্ব চেনা কায়দায়।

    এ তথ্যের পাশাপাশি আনন্দবাজারসহ ভারতের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন নিয়ে কঙ্গনার বক্তব্য, কে পদে থাকবেন আর কে থাকবেন না, বিক্ষোভ দেখিয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তা ঠিক করা যায় না।

    সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, জনস্বার্থের সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সঠিক জায়গা হলো সংসদ। নিট প্রশ্ন-ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চলা এই আন্দোলন নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে কঙ্গনা বলেন, ‘সংসদের অধিবেশন এমন একটি জায়গা, যেখানে আমরা সব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারি এবং প্রয়োজনীয় প্রশ্ন তুলতে পারি।’

    বিক্ষোভের জেরে সংসদের কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলেও দাবি কঙ্গনার। তাঁর বক্তব্য, ‘জনগণ ভোট দিয়ে যে সরকারকে নির্বাচিত করেছেন, সেই সরকার কীভাবে কাজ করবে, তা ঠিক করার অধিকার তাদেরই রয়েছে। বিক্ষোভ দেখিয়ে সরকারকে চাপে ফেলা ঠিক নয়। সরকার কীভাবে দেশ চালাবে, তা ঠিক করার অধিকার তাদের রয়েছে। যদি এতই আপত্তি থাকে, তা হলে নিজেরাই নির্বাচনে দাঁড়ান। জানি সেই সাহস কারও নেই। তাই ধীরে ধীরে সবাই বিজেপি এবং সনাতন সংস্কৃতির দিকেই ফিরে আসবেন। কারণ, এটাই আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি।

    বাকি সবই বাইরে থেকে ধার করা।’ এমন বক্তব্যের জেরে আন্দোলনকারীদের রোষানলে পড়েছেন কঙ্গনা। অভিনেত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি নিরপেক্ষ নয় বলেই দাবি করছেন তারা।

  • ‘ধর্মকে ভিত্তি করে বহুমাত্রিক রাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়’

    ‘ধর্মকে ভিত্তি করে বহুমাত্রিক রাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়’

    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই বাংলাদেশের সব ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি, নৃগোষ্ঠী ও জনগোষ্ঠীকে ধারণ করে গড়ে ওঠা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়। এ দর্শন বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিককে সমানভাবে জাতীয় পরিচয়ের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

    বুধবার (২২ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, ভারত উপমহাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও, শুধুমাত্র ধর্মকে ভিত্তি করে একটি বহুমাত্রিক রাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ সেই ঐতিহাসিক বাস্তবতার ধারাবাহিক প্রকাশ।

    তথ্যমন্ত্রী এ সময় মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অনবদ্য ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাহসী সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্ব মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে যুদ্ধকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

    জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও মহান মুক্তিযুদ্ধে তার নেতৃত্ব ইতিহাসের প্রমাণিত উপাদান বলে উল্লেখ করেন তথ্যমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পরও জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়। কেবল ভাষাভিত্তিক পরিচয়ও দেশের সব জনগোষ্ঠীর কাছে সমভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেনি। এ বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নাগরিকভিত্তিক ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর দর্শন উপস্থাপন করেন, যা বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিককে সমান মর্যাদায় একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে।

    জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক- তিনি যে ভাষায় কথা বলুন, যে ধর্ম পালন করুন কিংবা যে নৃগোষ্ঠীরই হোন না কেন- বাংলাদেশি পরিচয়ের মধ্যেই তার মর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত হয়। এ অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয়তাবাদ দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, জাতীয় সংহতি এবং বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে।

    তিনি বলেন, আধুনিক বিশ্বে জাতীয়তাবাদ কেবল ভাষা, ধর্ম কিংবা বর্ণের ভিত্তিতে সংজ্ঞায়িত হয় না; বরং একটি রাষ্ট্রের নাগরিকদের অভিন্ন স্বার্থ, ভূখণ্ড, সাংবিধানিক অঙ্গীকার এবং যৌথ ভবিষ্যৎ নির্মাণের আকাঙ্ক্ষার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনও সেই আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তারই প্রতিফলন।

    কোনো একটি ভাষা বা সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অন্য ভাষা বা সংস্কৃতিকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।

    বাংলাদেশের সব ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস ও নৃগোষ্ঠীর পরিচয়কে সম্মান ও ধারণ করেই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ বিকশিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দর্শনের মাধ্যমেই দেশের প্রতিটি নাগরিক নিজেকে সমানভাবে বাংলাদেশের অংশ হিসেবে অনুভব করতে পারেন।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ জাতীয় ঐক্য ও সংহতির ভিত্তি হিসেবে আজও প্রাসঙ্গিক এবং ভবিষ্যতেও দেশের অগ্রযাত্রায় পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।

    ইউট্যাব জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ। প্রধান আলোচক ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদদীন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউট্যাব, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নাসির আহমাদ।

  • জ্বালানি তেল নিয়ে নতুন বার্তা

    জ্বালানি তেল নিয়ে নতুন বার্তা

    জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী বলেছেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ধরনের সংকট নেই। বর্তমানে দেশে ৩১ দিনের ডিজেল, ৩৬ দিনের অকটেন, ২০ দিনের পেট্রল, ২০ দিনের জেট ফুয়েল এবং ২৫ দিনের ফার্নেস অয়েল মজুদ রয়েছে।

    বুধবার (২২ জুলাই) বিকালে এক জরুরি ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি। কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা থেকেই এমন গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    মনির হোসেন জানান, জ্বালানির আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে আগাম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন এবং আগামী আগস্ট মাসে আরও ২ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে এসে পৌঁছাবে। ফলে জ্বালানি পণ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

    দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে যৌথ সচিব বলেন, বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে দৈনিক ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। এ ঘাটতি বেশ কিছুদিন ধরেই বিদ্যমান। অতীতে গ্যাস অনুসন্ধানে পর্যাপ্ত জোর দেওয়া না হলেও বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে।

    সিএনজি স্টেশনগুলোতে সাম্প্রতিক দীর্ঘ লাইনের বিষয়ে তিনি জানান, একটি এলএনজি ভাসমান টার্মিনালে (এফএসআরইউ) আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গ্যাস সরবরাহে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। কারিগরি টিম ইতোমধ্যে মেরামত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী দুদিনের মধ্যেই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে এবং সিএনজি স্টেশনের সাময়িক চাপ কেটে যাবে।

    মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি আমদানি প্রসঙ্গে মনির হোসেন চৌধুরী জানান, মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রধানত অপরিশোধিত খনিজ তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানি করা হয়। হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার পর থেকে লোহিত সাগর রুট ব্যবহার করে সরবরাহ চালু রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে লোহিত সাগর বন্ধ হয়ে গেলেও বিকল্প রুট ব্যবহারের জন্য আগাম প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

  • ইরান যুদ্ধে ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার খরচ, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে বিতর্ক

    ইরান যুদ্ধে ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার খরচ, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে বিতর্ক

    ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সিনেটের অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির শুনানিতে এ তথ্য জানান।

    হেগসেথ বলেন, সর্বশেষ প্রকাশিত হিসাবের তুলনায় যুদ্ধের ব্যয় প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। তিনি জানান, এই হিসাবের মধ্যে চলতি অর্থবছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সম্ভাব্য ব্যয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    ইরানের বিরুদ্ধে চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কংগ্রেসের আইনপ্রণেতাদের সামনে হাজির হয়ে যুদ্ধের ব্যয় নিয়ে ব্যাখ্যা দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। শুনানিতে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।

    শুনানিতে কয়েকজন সিনেটর যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয়, এর অর্থনৈতিক প্রভাব এবং সামরিক কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সমালোচকদের মতে, ইরানের সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়তে পারে।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিচালনা ও আগামী কয়েক মাসের সম্ভাব্য সামরিক ব্যয় বিবেচনায় নিয়েই ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলারের এই হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে। এত বিশাল ক্ষতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

  • খানকির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর  করলো ইরান

    খানকির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলো ইরান

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স্বার্থে কাজ করার অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। দেশটির বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বিচারিক রায়ের পর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম মেহদি খানকি। তার বিরুদ্ধে একটি ‘বিপ্লববিরোধী সন্ত্রাসী সংগঠনের’ সদস্য হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স্বার্থে অপারেশনাল কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

    ফার্স জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী কারাজ শহরে অভিযান চালিয়ে মেহদি খানকিকে গ্রেফতার করে। অভিযানে তার বাড়ি থেকে একটি অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার করা হয়।

    এর মধ্যে ছিল পিস্তল, গুলি, বিস্ফোরক নিয়ন্ত্রণের রিমোট, হাতে তৈরি গ্রেনেড, কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বিস্ফোরক টিউব এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বোমা।

    ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। পরে সেই রায় কার্যকর করা হয়। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

  • সৌদি আরবের সঙ্গে ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তির অনুমোদন দিলেন ট্রাম্প

    সৌদি আরবের সঙ্গে ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তির অনুমোদন দিলেন ট্রাম্প

    সৌদি আরবের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই চুক্তির ফলে রিয়াদ তাদের বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচির জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টির সঙ্গে যুক্ত দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে বুধবার (২২ জুলাই) এই তথ্য জানা গেছে।

    সূত্রমতে, আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনো ঘোষণা না দেওয়া হলেও বুধবারই এই চুক্তির বিষয়ে জনসমক্ষে ঘোষণা আসার কথা রয়েছে।

    দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রথম প্রকাশিত এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তিটির মেয়াদ হবে ৩০ বছর এবং সৌদি আরবের পরমাণু কর্মসূচির উন্নয়নে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি যুক্ত থাকবে। চুক্তির একটি বিধান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ সমীক্ষার পর মার্কিন কোম্পানিগুলো সৌদি আরবে একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু শিল্পে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের পূর্বে চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে জমা দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, সৌদি আরব ভিয়েনা-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) একটি সদস্য রাষ্ট্র, যা বিশ্বজুড়ে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচিকে উৎসাহিত করে থাকে। মার্কিন পারমাণবিক প্রযুক্তি বিনিময়ের লক্ষ্যে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন উভয়েই এর আগে রিয়াদের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিলেন।

    সর্বশেষ গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্পের সৌদি সফরের ঠিক আগে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট রিয়াদ সফর করেন। সে সময় তিনি তার সৌদি সমকক্ষের সঙ্গে দেশটিতে বাণিজ্যিক পারমাণবিক শক্তি শিল্পের বিকাশের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছিলেন।

  • নির্বাচনে জিতলে আজাদ কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী হতে চাই: নওয়াজ শরিফ

    নির্বাচনে জিতলে আজাদ কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী হতে চাই: নওয়াজ শরিফ

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিএমএল-এন দলের প্রধান নওয়াজ শরিফ বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে তার দল জিতলে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে অনুরোধ করবেন যেন তাকে আজাদ কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী করা হয়।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মুজাফফরাবাদে এক নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি মজা করে এ কথা বলেন। আগামী ২৭ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া এই নির্বাচনের প্রচারণায় তার সঙ্গে ছিলেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ।

    সমাবেশে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে নওয়াজ শরিফ বলেন, আজাদ কাশ্মীর তার কাছে দ্বিতীয় বাড়ির মতো। নির্বাচনে দল জিতলে তিনি প্রতি তিন মাস পর পর এখানে এসে নিজে উন্নয়নের খোঁজখবর নেবেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে সরকার গঠন করতে পারলে এই অঞ্চলের বাজেট দশগুণ বাড়ানো হবে। সেই সঙ্গে মুজাফফরাবাদের মানুষের যাতায়াত ও চিকিৎসার সুবিধার্থে খুব শিগগিরই ১০টি আধুনিক এসি বাস এবং ১৫টি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল দেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

    একই অনুষ্ঠানে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ বলেন, তিনি এখানে শুধু অতিথি হিসেবে আসেননি, বরং জন্মগতভাবে তিনি একজন কাশ্মীরি। রাজনৈতিক বিরোধীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, পিএমএল-এন নির্বাচিত হলে আজাদ কাশ্মীরের মানুষের ভাগ্য বদলে যাবে।

    এ সময় তিনি এলাকার তরুণদের জন্য ২ হাজার শিক্ষাবৃত্তি ও ল্যাপটপ দেওয়ার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি, আজাদ কাশ্মীরের মানুষের জন্য সহজ শর্তে বাড়ি তৈরি এবং এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য নতুন প্রকল্প চালুর কথাও জানান তিনি।

  • জাতিসংঘ মহাসচিব পদে ফিফা সভাপতিকে চান ট্রাম্প

    জাতিসংঘ মহাসচিব পদে ফিফা সভাপতিকে চান ট্রাম্প

    জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে দেখতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে।

    ৫৬ বছর বয়সি ইনফান্তিনো চলতি বছরের বিশ্বকাপ আয়োজনের সূত্রে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। গত ডিসেম্বরে ট্রাম্পকে ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ প্রদানের পর তাদের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিফা প্রধান বিশ্বজুড়ে সমাদৃত একজন ব্যক্তি এবং অভিন্ন লক্ষ্যকে সামনে রেখে মানুষকে একত্রিত করার অসাধারণ সক্ষমতা তার রয়েছে।

    বর্তমানে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আন্তোনিও গুতেরেস। চলতি বছরের ডিসেম্বরেই শেষ হচ্ছে তার বর্তমান মেয়াদ। তবে ইনফান্তিনো নিজে এই পদে আগ্রহী কি না, কিংবা ট্রাম্প এ বিষয়ে তার সঙ্গে কতটা আলোচনা করেছেন—তা স্পষ্ট নয়।

    জাতিসংঘের মহাসচিব হতে হলে প্রার্থীকে প্রথমে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের সুপারিশ পেতে হয়। এরপর সাধারণ পরিষদের অনুমোদনের মাধ্যমে নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়।

    এদিকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল ব্যাশেলেট এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসির নামও আলোচনায় রয়েছে।

  • ওই সব ভিডিও দেখার সময় নেই, বিক্ষোভে লাঠিচার্জ মামলায় ভারতের প্রধান বিচারপতি

    ওই সব ভিডিও দেখার সময় নেই, বিক্ষোভে লাঠিচার্জ মামলায় ভারতের প্রধান বিচারপতি

    ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের ওপর লাঠিচার্জ নিয়ে দায়ের হওয়া মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ করে দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার এই মামলা দেশের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে দ্রুত শুনানির আবেদন জানান এক আইনজীবী। তবে তা শুনতে অস্বীকার করে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।

    আইনজীবীকে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘আমাদের সময় নষ্ট করবেন না। নিজের সময়ও নষ্ট করবেন না।’

    ওই আইনজীবী আদালতকে বলেন, জনগণের স্বার্থেই আন্দোলনকারীরা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। তাকে মাঝপথে থামিয়ে দেশটির প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘থ্যাঙ্ক ইউ ভেরি মাচ’।

    এরপর ওই আইনজীবী কিছু ভিডিও দেখিয়ে পুলিশি নির্যাতনের প্রমাণ দিতে চেয়েছিলেন। তবে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমাদের সময় নেই। আমরা কোনো ভিডিও দেখতে পারব না।’

    মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্টও এই মর্মে কোনো জরুরি শুনানি করতে রাজি হয়নি। পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধে দায়ের মামলা সম্পর্কে দিল্লি হাইকোর্ট বলে দেয়, ‘এসবের মধ্যে আদালতকে টেনে আনবেন না।’

    শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি ও এর সমর্থকরা।

    এই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের করা একটি মন্তব্য থেকেই জন্ম হয় ককরোচ জনতা পার্টির। দেশের বেকার যুব সম্প্রদায়কে ‘তেলাপোকা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

  • শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় শীর্ষস্থান হারিয়ে ১০ নম্বরে যুক্তরাষ্ট্র

    শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় শীর্ষস্থান হারিয়ে ১০ নম্বরে যুক্তরাষ্ট্র

    ২০০৬ সালে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী পাসপোর্ট ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। এই পাসপোর্ট মার্কিন নাগরিকদের এমন এক অবাধ চলাচলের স্বাধীনতা দিত, যা কেবল ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডের সঙ্গে অতুলনীয় ছিল। কিন্তু ২০ বছর পর সেই চিত্র বদলে গেছে। হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট এখন শীর্ষ থেকে ১০ম স্থানে নেমে এসেছে।

    হেনলির সূচক অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরা ১৮০টি দেশে ভিসামুক্ত বা সহজ ভ্রমণসুবিধা পান। ২০০৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৩০টি।

    ২০২৬ সালে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নাগরিকেরা ১৯২টি গন্তব্যে ভিসামুক্ত ভ্রমণ করতে পারেন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—তিন দেশের পাসপোর্টে ১৮৮টি দেশে ভ্রমণের সুবিধা রয়েছে।

    গত দুই দশকে সবচেয়ে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২০০৬ সালের তুলনায় দেশটি ১৫৩টি নতুন গন্তব্যে ভ্রমণ সুবিধা যোগ করেছে। সুইডেন রয়েছে তৃতীয় স্থানে, আর চতুর্থ স্থানে যৌথভাবে রয়েছে বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও স্পেন।

    তালিকার নিচের দিকে রয়েছে আফগানিস্তান। ২০০৬ সালে আফগান নাগরিকেরা মাত্র ১২টি দেশে ভিসামুক্ত সুবিধা পেলেও বর্তমানে তা বেড়ে ২২টিতে দাঁড়িয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শক্তিশালী পাসপোর্ট সাধারণত আন্তর্জাতিক আস্থা, কূটনৈতিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতিফলন। শান্তিপূর্ণ দেশগুলোর অনেকগুলোর পাসপোর্টও বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী তালিকায় রয়েছে।

  • গাড়িভর্তি টাকা নিয়ে যেভাবে পালালেন হাসিনার ফুপাতো ভাই মেয়র খোকন

    গাড়িভর্তি টাকা নিয়ে যেভাবে পালালেন হাসিনার ফুপাতো ভাই মেয়র খোকন

    বৈষম্যবিরোধী তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রাক্কালে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই সেরনিয়াবাত খোকন আব্দুল্লাহর দেশত্যাগকে ঘিরে সামনে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ রয়েছে— পালিয়ে যাওয়ার সময় তিনি গাড়িভর্তি করে প্রায় ১৬ কোটি টাকা সঙ্গে নিয়ে যান। পরে সেই অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর ঘুরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ছেলের কাছে পাঠানো হয়।

    ৪ আগস্ট গভীর রাতে বরিশাল ছাড়লেও ২০২৪ সালের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত তিনি খুলনায় প্রভাবশালী এক বিএনপি নেতার বাসায় অবস্থান করেন। পরে তামাবিল সীমান্ত দিয়ে প্রথমে আসাম ও পরে কলকাতা যান খোকন। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী লুনা আব্দুল্লাহ। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর আর পেট্রোল পাম্প খুলে নিজেকে বিনিয়োগকারী প্রমাণ করে সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার চেষ্টা করছেন তিনি।

    চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো-খুলনায় পালিয়ে থাকা অবস্থায় বিসিসির বেশ কয়েকজন ঠিকাদারের পাওনা প্রায় ২৭ কোটি টাকার চেকে ব্যাক ডেটে সই করেন খোকন। বরিশাল থেকে চেক খুলনায় নিয়ে সই করিয়ে আবার বরিশালে আনার কাজটি করেন খোকনের তৎকালীন এপিএস রুবেল। তাকে সহায়তা করেন বিসিসির প্রকৌশল (সিভিল) ও হিসাব শাখার দুই কর্মকর্তা। তাদের একজন বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদের নেতা। আর চেক সই করার বিনিময়ে মোট বিলের শতকরা ২০ থেকে ৪০ পার্সেন্ট টাকা নেন শেখ মুজিবের ভগিনীপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের পুত্র সাবেক এই মেয়র। টাকা হাতে পাওয়ার পর চেকে সই করেন তিনি।

    আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও কেবল শেখ পরিবারের কোটায় লোকদেখানো নির্বাচন করে মেয়র বানানো হয় খোকনকে। মাত্র ৭ মাসের দায়িত্ব পালনকালে নানাভাবে শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের তদন্ত করছে দুদক।

    ৪ আগস্ট সকালে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে গুলি ছুড়তে গিয়ে গণপিটুনিতে মারা যান বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা টুটুল চৌধুরী। ওই ঘটনায় ভীত হয়ে পড়েন খোকন। রাতে তার আলেকান্দা সড়কের ভাড়া বাসায় ডেকে নেন আওয়ামী লীগ নেতা তৎকালীন এক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগের দুই নেতাকে। তখনই বরিশাল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

    ওই রাতে খোকনের বাসায় থাকা ওই ৩ নেতার একজন জানান, ‘একসঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হলেও যাওয়ার সময় কাউকে কিছু না বলে চুপচাপ চলে যান খোকন। রাত ৩টা নাগাদ বিশেষ একটি বাহিনীর দুটি গাড়ি সামনে পেছনে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যায় সাবেক এই মেয়র ও তার স্ত্রীকে বহনকারী গাড়ি। তার বেড়িয়ে যাওয়ার অন্তত আধা ঘণ্টা পর আমরা জানতে পারি যে তিনি চলে গেছেন। বরিশাল থেকে সোজা খুলনায় গিয়ে ওঠেন সোনাডাঙ্গা এলাকায় শ্যালক মিঠুর বাড়িতে। সেখানে কয়েকদিন থাকার পর আশ্রয় নেন খুলনা বিএনপির প্রভাবশালী এক নেতার বাসায়। আওয়ামী শাসনামলের দীর্ঘ সময় ওই নেতাকে মোংলা বন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্যে সহায়তা করেছিলেন খোকন। তিনি নিজেও ছিলেন মোংলা বন্দর স্টিভেডর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করতেন সমুদ্রগামী জাহাজে। রাতের বাকিটা সময় আমরা ওই বাসায় থেকে খুব ভোরে চলে আসি।’

    ৪ আগস্ট রাত ১২টায় বরিশাল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন খোকন আব্দুল্লাহ। ৩ ঘণ্টা চলে প্রস্তুতি। ওই রাতে তার বাসায় থাকা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘এই ৩ ঘণ্টায় ঘরে থাকা নগদ টাকা আর স্বর্ণালংকার ব্যাগে ভরেন তিনি। তাকে সহায়তা করা তৎকালীন এপিএস রুবেলের কাছে পরে শুনেছি যে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ছিল সেখানে। তবে কোনো কাপড়চোপড় সঙ্গে নেননি তিনি বা তার স্ত্রী। বিপুল অঙ্কের ওই টাকা নিয়েই তারা ওঠেন খুলনায় শ্যালক মিঠুর বাসায়। সেখান থেকে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানো হয় ৫ আগস্টের পর মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যাওয়া এক যুবলীগ নেতার কাছে। মালয়েশিয়া থেকে পরে তা পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরে মেয়র খোকনপুত্র প্রত্যুষের নামে থাকা একাধিক নামসর্বস্ব কোম্পানির হিসাবে। প্রত্যুষ আগে থেকেই মার্কিন নাগরিক।

    যুক্তরাষ্ট্রে টাকা নিতে হলে যেহেতু অর্থের উৎস জানাতে হয়, তাই সিঙ্গাপুরে খোলা নামসর্বস্ব কোম্পানির মাধ্যমে সেখানে টাকা পাঠাতেন খোকন। মেয়র হওয়ার পর থেকে ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত যত টাকা হাতিয়েছেন, তার সিংহভাগ এভাবেই পাচার হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এছাড়া মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্য করে আয় করা অর্থও পাচার হয়েছে সেখানে। তবে শেষ চালানের ১৬ কোটি টাকা পাঠাতে গিয়ে ৩ কোটি খোয়ান তিনি। মালয়েশিয়ায় যার কাছে হুন্ডি করে বাংলাদেশ থেকে টাকা পাঠানো হয়, সিঙ্গাপুরে পাঠানোর ক্ষেত্রে সেখান থেকে ৩ কোটি টাকা মেরে দেন তিনি। এ নিয়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে ঝগড়াও হয় খোকনের।’

    খুলনায় বিএনপি নেতার আশ্রয়ে থেকে চলে তার দেশছাড়ার চেষ্টা। প্রথমে চারবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। সবশেষ অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে সিলেটের তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ঢোকেন ভারতের আসামে। গুয়াহাটি বিমানবন্দর থেকে বিমানে পশ্চিমবঙ্গে। কলকাতার নিউ টাউন অ্যাকশন অ্যারিয়া-১-এর কাছে ভাড়া নেওয়া বাসায় ওঠেন স্ত্রীকে নিয়ে।

    কলকাতায় অবস্থানরত বরিশালের এক আ.লীগ নেতা বলেন, ‘এখানে ১ মাসের জন্য একটি গাড়ি ভাড়া নেন খোকন। গাড়ি ও ড্রাইভার তার বাসাতেই থাকত। ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর এই দম্পতিকে হাত ধরাধরি করে হাঁটতে দেখা গেছে কলকাতার এক্সেস মলে। কলকাতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে থাকা ছেলের কাছে যাওয়ার চেষ্টা শুরু করেন খোকন। ছেলে প্রত্যুষ যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেন হওয়ায় খুব একটা কষ্ট হয়নি তাদের। ডিসেম্বরের শুরুর দিকে স্ত্রীকে নিয়ে কলকাতা থেকে উড়োজাহাজে যুক্তরাষ্ট্র যান খোকন।

    বর্তমানে টেক্সাসে অবস্থানরত বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘ট্রাম্প সরকারের সর্বশেষ গোল্ডেন ভিসা সুযোগের আওতায় খোকন ও তার স্ত্রী প্রায় ১৬ কোটি টাকায় নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা। সেই সুযোগেই টেক্সাসে আছেন তারা। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে কিনেছেন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরসহ একটি পেট্রোল পাম্প। এসব বিনিয়োগ আর ব্যবসা-বাণিজ্য দেখিয়ে চলছে সেখানে তাদের দুজনের নাগরিকত্ব নেওয়ার চেষ্টা। টেক্সাসে প্রত্যুষ সেরনিয়াবাতের নামে আগে থেকেই কেনা ছিল ২টি বাড়ি। তার একটিতে থাকছেন খোকন ও লুনা।’

    কলকাতায় অবস্থানরত কার্যক্রম নিষিদ্ধ বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘খোকন আব্দুল্লাহ মেয়র হয়েছিলেন কেবল টাকা কামাইয়ের জন্য। দায়িত্ব পালনের ৭ মাস তিনি সেটাই করেছেন। হাতিয়ে নিয়েছেন শতকোটি টাকা। সেই টাকায় এখন আয়েশ করছেন যুক্তরাষ্ট্রে। আর আমরা খেয়ে-না-খেয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।’

    এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য খোকন আব্দুল্লাহর প্রচলিত সবকটি নম্বরে কল করা হলেও বন্ধ পাওয়া যায়। দলের কারও সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই বলে জানিয়েছেন তার একসময়কার ঘনিষ্ঠরা।’

  • বৈষম্যহীন ভবিষ্যৎ গড়তে ৩ দফা প্রস্তাব আইসিটি মন্ত্রীর

    বৈষম্যহীন ভবিষ্যৎ গড়তে ৩ দফা প্রস্তাব আইসিটি মন্ত্রীর

    চীনে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড ইন্টারনেট কনফারেন্স ২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বহুপাক্ষিক সাইবার শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা, প্রযুক্তি ও জ্ঞানের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল বৈষম্য দূরীকরণে ৩ দফা দূরদর্শী প্রস্তাব পেশ করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

    বুধবার (২২ জুলাই) চীনের প্রাচীন সিল্ক রোডের ঐতিহাসিক শহর শি’আনের আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে ‘Pooling Intelligence on the Silk Road, Embarking on a Digital Future: Jointly Building a Community with a Shared Future in Cyberspace’ থিম নিয়ে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ইন্টারনেট কনফারেন্স -২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রস্তাব তুলে ধরেন।

    তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী তার বক্তব্যে প্রাচীন সিল্ক রোডের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আজকের এই মূল প্রতিপাদ্য বাংলাদেশের জাতীয় চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে সঙ্গতিপূর্ণ’।

    তিনি জানান, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে ৬৫ শতাংশই তরুণ ও কর্মক্ষম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ এই জনমিতিক লভ্যাংশকে কাজে লাগিয়ে একটি প্রযুক্তি ও বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে ।

    বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের সাফল্য তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে ৯০ শতাংশেরও বেশি মানুষ মোবাইল কানেক্টিভিটির আওতায় এসেছে। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রান্তিক কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় পোর্টাল ও ‘ডি-নথি’র মাধ্যমে দাপ্তরিক কাজকর্ম সম্পন্ন হচ্ছে। ভূমি রেকর্ড থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসেবা ডিজিটালাইজড করায় প্রতিবছর নাগরিকদের কোটি কোটি কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হচ্ছে।

    ফকির মাহবুব আনাম জোর দিয়ে বলেন, ডিজিটাল রূপান্তর কেবল ভৌত অবকাঠামোর বিষয় নয়, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেধারও বিষয়। বাংলাদেশে এআই গবেষণা, ফিনটেক উদ্ভাবন এবং সুবিশাল ডেটা সেন্টার অবকাঠামো গঠনে ব্যাপক বিনিয়োেগর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নদীমাতৃক বাংলাদেশে মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে বন্যার পূর্বাভাস এবং সুনির্দিষ্ট কৃষিকাজের জন্য ড্রোন ব্যবহারের মতো স্থানীয় সমস্যার প্রযুক্তিগত সমাধান তৈরি করা হচ্ছে।

    দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সংযোগস্থলে অবস্থিত বাংলাদেশের জন্য ‘ডিজিটাল সিল্ক রোড’ একটি অর্থনৈতিক জীবনরেখা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, হাই-স্পিড সাবমেরিন ক্যাবল কানেক্টিভিটির মাধ্যমে চীনের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং আসিয়ান অঞ্চলের উৎপাদন নেটওয়ার্কের সঙ্গে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি সংযুক্ত হচ্ছে।

    সম্মেলনে যৌথ অগ্রগতির লক্ষ্যে মন্ত্রী ৩টি মূল স্তম্ভ বা প্রস্তাবনা পেশ করেন:

    ১) দক্ষতা বৃদ্ধি ও জ্ঞান হস্তান্তর: কেবল হার্ডওয়্যারে নয়, বাংলাদেশের তরুণ মেধার বিকাশে বিনিয়োগের আহ্বান। সাইবার বিজ্ঞানী তৈরিতে যৌথ প্ল্যাটফর্ম গঠন।

    ২) সাশ্রয়ী কানেক্টিভিটি: প্রযুক্তি হস্তান্তর সাশ্রয়ী করা এবং বিশ্ব প্রযুক্তি নেতাদের সহযোগিতায় ডিজিটাল বিভাজন রোধ করা।

    ৩) ডিজিটাল পাবলিক গুডস: ডিজিটাল উন্নয়নকে জনকল্যাণমূলক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে আইপি ও ডাটা আর্কিটেকচার বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য উন্মুক্ত করা।

    সাইবার স্পেসের হুমকি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সাইবার অপরাধ, ভুয়া তথ্য ও ডেটা উপনিবেশবাদের মতো ঝুঁকি মোকাবেলায় সাইবার শাসনব্যবস্থাকে বহুমুখী, স্বচ্ছ এবং আন্তর্জাতিক আইনের ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।

    বক্তব্যের শেষে প্রাচীন সিল্ক রোডের ‘আস্থা ও বিশ্বাসের’ নীতি স্মরণ করে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল সুপারহাইওয়েকেও আমাদের সেই একই বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশ সংযোগ, তরুণ শক্তি ও উদ্ভাবনী চেতনা নিয়ে এই যাত্রায় নির্ভরযোগ্য অংশীদার হতে প্রস্তুত’।

    ২১-২২ জুলাই অনুষ্ঠিত এই কনফারেন্সে বিশ্বের ৫২টি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ৮০০ জন অতিথি এবং প্রতিনিধি অংশ নেন। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল বাণিজ্য, সিল্ক রোড ই-কমার্স, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, স্মার্ট স্বাস্থ্যসেবা এবং বৈশ্বিক ডিজিটাল সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

    এছাড়া কোয়ালকম, লেনোভো, জেডটিই, ৩৬০, সুগন, ওয়াটারড্রপ, কিসন টেকনোলজি, পেঙ্গুয়া ফান্ডসহ চীনের এবং বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও ফোরামে অংশ নেন

  • গাজায় ২৪ ঘণ্টায় ১২ জন নিহত, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩,৩০৫

    গাজায় ২৪ ঘণ্টায় ১২ জন নিহত, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩,৩০৫

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলের চলমান সামরিক আগ্রাসনে গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ জন নিহত হওয়ায় গাজায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৩০৫ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯১৮ জন।

    মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় ১২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ১২ জন আহত হয়েছেন। ইসরাইল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজায় ক্রমাহত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভূখণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও সম্প্রসারণ করছে।

    মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বহু ভুক্তভোগী এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় আটকা পড়ে আছেন, কারণ অ্যাম্বুলেন্স ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলগুলো এখনও তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছে না।

  • জনগণের বদলে ২০ বছর ধরে ক্ষেপণাস্ত্রে অর্থ ঢেলেছে ইরান: রুবিও

    জনগণের বদলে ২০ বছর ধরে ক্ষেপণাস্ত্রে অর্থ ঢেলেছে ইরান: রুবিও

    ফিলিপাইনে অনুষ্ঠিত আসিয়ান বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের ফলে ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি দাবি করেন গত ২০ বছর ধরে ইরান জনগণের থেকে বেশি ক্ষেপণাস্ত্রে অর্থ, ব্যয় করেছে। খবর আলজাজিরার।

    যুক্তরাষ্ট্রের হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে—এ বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রুবিও বলেন, “যুদ্ধক্ষেত্রে থাকলে ঝুঁকি থাকবেই।”

    রুবিও আরও দাবি করেন, ইরানের সামরিক অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দেশটির সরকার জনগণের কল্যাণে অর্থ ব্যয় না করে দীর্ঘদিন ধরে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতেই অগ্রাধিকার দিয়েছে।

    তেহরানের হামলা চালানোর ক্ষমতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি আরও বলেন, “আমার মতে, শেষ পর্যন্ত এটি আসলে এটাই প্রমাণ করে যে, গত ২০ বছর ধরে ইরান এই খাতেই তার অর্থ বিনিয়োগ করে আসছে।”

    তিনি আরো বলেন, ‘তাদের সামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু তারা গত ২০ বছর ধরে তাদের প্রতিটি পয়সা দেশের জন্য খরচ না করে, দেশের অস্ত্রধারী গোষ্ঠীগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা করতে এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ব্যয় করেছে।’

  • সৌদিতে মার্কিন পরমাণু প্রকল্প: ট্রাম্পের সম্মতিতে এগোচ্ছে শতকোটি ডলারের চুক্তি

    সৌদিতে মার্কিন পরমাণু প্রকল্প: ট্রাম্পের সম্মতিতে এগোচ্ছে শতকোটি ডলারের চুক্তি

    সৌদি আরবকে বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি গড়ে তুলতে এক ঐতিহাসিক চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৩০ বছর মেয়াদি এ চুক্তির আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে হাজার কোটি ডলারে।

    রিয়াদে অন্য কোনো পরাশক্তিকে সুযোগ না দিয়ে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর আধিপত্য নিশ্চিত করতেই এ পথ বেছে নেয়া হয়েছে। যৌথ পর্যালোচনার ভিত্তিতে সেখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্ল্যান্ট বানানোর সুযোগও পাবে মার্কিন কোম্পানিগুলো।

    পাকিস্তানে ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস বুধবার (২২ জুলাই) জানিয়েছে, রয়টার্সকে দুটি সূত্র বলেছে, কংগ্রেসে পেশ করতে যাওয়া এ চুক্তিতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি ঠেকানোর মতো প্রয়োজনীয় সুরক্ষা শর্ত রাখা হয়নি। রিয়াদের জন্য বাদ দেয়া হয়েছে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’, যা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও ব্যবহৃত জ্বালানি পুনরায় প্রক্রিয়াজাতকরণ বন্ধের নিশ্চয়তা দিত।

    এদিকে, ইরানের বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচির ওপর কঠোর নজরদারি চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। সেখানে রিয়াদের সাথে এ চুক্তিতে জাতিসঙ্ঘ পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ‘অতিরিক্ত প্রোটোকল’ রাখা হয়নি।

    ফলে সেখানে আকস্মিক পরিদর্শনের কোনো পথই খোলা থাকছে না। তেহরানকে যেখানে প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক চাপ ও বৈষম্যের মুখে রাখা হচ্ছে, সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমন দ্বিমুখী পদক্ষেপে আঞ্চলিক নিরাপত্তা আরো ঝুঁকির মুখে পড়ল।

    মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট ও সৌদি জ্বালানি মন্ত্রী আব্দুলআজিজ বিন সালমানের স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত ‘১২৩ চুক্তি’ শিগগিরই মার্কিন কংগ্রেসে পেশ করা হবে। এর মাধ্যমে কোনো ধরনের কঠোর তদারকি ছাড়াই রিয়াদকে পরমাণু জ্বালানি চক্রে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন।

  • এনসিপি সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক; গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও সংস্কার নিয়ে আলোচনা

    এনসিপি সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক; গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও সংস্কার নিয়ে আলোচনা

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম এমপিসহ দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুপুর সাড়ে ১২টায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    মার্কিন প্রতিনিধি দলে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে ছিলেন দূতাবাসের রাজনৈতিক উপদেষ্টা এরিক গিলান এবং রাজনৈতিক সচিব জেমস স্টুয়ার্ট। এনসিপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আন্তর্জাতিক সেলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আলাউদ্দিন মোহাম্মদ এবং আন্তর্জাতিক সেলের সদস্য মনিরা শারমিন ও নাভিদ নওরোজ শাহ।

    বৈঠকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি, গণতান্ত্রিক উত্তরণ, জাতীয় নাগরিক পার্টির রাজনৈতিক দর্শন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় হয়।

    আলোচনার একপর্যায়ে এনসিপি নেতারা সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে জনগণের মধ্যে বিদ্যমান প্রশ্ন ও উদ্বেগের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও তার প্রতিনিধিদল এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন এবং চুক্তিটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আহ্বান জানান। তাদের মতে, এ চুক্তি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং উভয় দেশের জনগণের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।

    এছাড়া গণভোটের রায় এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় এনসিপি নেতৃবৃন্দ গণভোটের রায়কে যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সংবিধান সংশোধন কমিটির মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
    এ সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত রাজনৈতিক সংলাপ, অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    বৈঠক শেষে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং গঠনমূলক সংলাপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • যে ৫ লক্ষণে বুঝবেন কিডনিতে পাথর হয়েছে 

    যে ৫ লক্ষণে বুঝবেন কিডনিতে পাথর হয়েছে 

    লাইফস্টাইল

    এখন বড়দের মতো অনেক তরুণও কিডনির পাথরের সমস্যায় ভোগেন। আবার অনেকে ভোগেন মূত্রথলির পাথরের সমস্যায়। এ ধরনের সমস্যা গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই চিকিৎসা নেওয়া উচিত। কিডনিতে পাথরের লক্ষণ শুরুতেই বুঝতে পারলে লাইফস্টাইল পরিবর্তন করলে অনেকটা ঠিক হয়ে যায়। সমস্যা হলো অনেকেই লক্ষণগুলো অবহেলা করেন। পরে তা জীবনকে নিয়ে যায় হুমকির মুখে।

    কিডনি পাথরের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণের কথা বলা হয়েছে ভারতের গণমাধ্যম ‘নিউজ১৮’-এর একটি প্রতিবেদনে। পরামর্শ দিয়েছেন দিল্লির ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ইউরোলজিস্ট অনিল কুমার বার্ষ্ণেয়।

    প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালা
    যখন কিডনি ও মূত্রাশয়ের সংযোগকারী নালীর মাঝে পাথর আটকে যায়, তখন প্রস্রাবের সময় আপনি ব্যথা অনুভব করতে পারেন। এই অস্বস্তি বেশ বিরক্তিকর হতে পারে। চিকিৎসকরা একে ডিসইউরিয়া বলে থাকেন। সঠিক চিকিৎসা পাওয়ার জন্য এই লক্ষণগুলো আগেই শনাক্ত করা জরুরি।

    প্রস্রাবে রক্ত


    কিডনিতে পাথর হলে প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া একটি সাধারণ লক্ষণ, যা হেমাটুরিয়া নামে পরিচিত। এই রক্ত লাল, গোলাপি বা বাদামী রঙের হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, রক্তকণিকাগুলো এতটাই ছোট হয় যে মাইক্রোস্কোপ ছাড়া দেখা যায় না।


    কিডনিতে পাথর হলে বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়া সাধারণ লক্ষণ। এই উপসর্গগুলো কিডনি এবং পরিপাকতন্ত্রের মধ্যে থাকা আন্তঃসংযুক্ত স্নায়ু থেকে উদ্ভূত হয়। কিডনিতে পাথর থাকলে তা পরিপাকতন্ত্রের এই স্নায়ুগুলোকে সক্রিয় করে তুলতে পারে, যার ফলে পেটে অস্বস্তি হয়। এছাড়াও, তীব্র ব্যথার প্রতিক্রিয়ায় বমি বমি ভাব হতে পারে। এমনকি বমি হতে পারে।


    জ্বর ও কাঁপুনি কিডনি বা মূত্রনালীর সংক্রমণের আরো একটি লক্ষণ। কিডনিতে পাথর হলেও এমনটা হতে পারে। এ লক্ষণগুলো অন্যান্য গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যারও ইঙ্গিত দিতে পারে। জ্বরের সঙ্গে ব্যথা হলে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। এই লক্ষণগুলো দ্রুত শনাক্ত করা গেলে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব।

  • সৌদি আরবে নৌ-অবরোধ ঘোষণা হুথিদের

    সৌদি আরবে নৌ-অবরোধ ঘোষণা হুথিদের

    ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সোমবার সৌদি আরবের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। এ পদক্ষেপ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে নতুন রণাঙ্গন খুলে দিয়েছে এবং লোহিত সাগরের বাব এল-মানদেব প্রণালীসহ আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যপথে বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।

    হুথিদের সশস্ত্র বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সৌদি আরবের ‘অন্যায় ও নিপীড়নমূলক অবরোধ’-এর জবাবে ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতিতে তারা সৌদি জাহাজের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

    এ ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে যখন জর্ডানের এক মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। পেন্টাগন সোমবার তাদের পরিচয় প্রকাশ করেছে। উত্তর ইরাকে ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয়করণের সময় আরেক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে।

    তবে উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরান ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পেয়েছে বলে জানিয়েছে। পাকিস্তানও মধ্যস্থতায় সক্রিয় হয়েছে। গত মাসে স্বাক্ষরিত ভঙ্গুর চুক্তি ধরে রাখতে তেহরান ও ওয়াশিংটন আলোচনা অব্যাহত রেখেছে।

    হুথিদের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সাময়িকভাবে বেড়ে গেলেও পরে আবার কমে আসে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাব এল-মানদেব প্রণালী বন্ধ হলে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ ৭ শতাংশ কমে যেতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেছেন, মার্কিন সেনা হত্যার জন্য ইরানকে বহুগুণ মূল্য দিতে হবে।

    আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

  • ইরান কেন মার্কিন নৌবাহিনী ও ইসরায়েলকে এড়িয়ে চলছে?

    ইরান কেন মার্কিন নৌবাহিনী ও ইসরায়েলকে এড়িয়ে চলছে?

    যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানে হামলার মাত্রা বাড়াচ্ছে, তখন তেহরানও পাল্টা জবাব দিচ্ছে। তারা উপসাগরীয় দেশ এবং জর্ডানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হানছে। কিন্তু নিজেদের উপকূলের কাছে থাকা মার্কিন নৌবহর ও ইসরায়েলকে এড়িয়ে চলছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এর উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধের পরিধি না বাড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ তৈরি করা। ওয়াশিংটন ইরানের রেলস্টেশন, বিদ্যুৎকেন্দ্র, টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং পানি শোধনের অবকাঠামোতে আঘাত হানছে। জবাবে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কুয়েত ও বাহরাইনের বেসামরিক বিমানবন্দর, পানি ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালাচ্ছে।

    এই কৌশলের পেছনে যুক্তি আছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। 0প্রশ্ন হলো ইরান কেন এবারও প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে?

    তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক আতিফেহ তাগিয়ানির যুক্তি হলো- যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় দেশগুলো, বিশেষ করে কুয়েতকে ব্যবহার করে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে। গত মার্চ-এপ্রিলে প্রথম দফা যুদ্ধের সময় ইরানি কর্মকর্তারা বলেছিলেন, মার্কিন অভিযানগুলো উপসাগরীয় দেশের ভূখণ্ডে থাকা সামরিক ঘাঁটি থেকে পরিচালিত হচ্ছে। এবারও তারা একই যুক্তি দিচ্ছেন।

    অজ্ঞাত স্থান থেকে উপসাগরীয় দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে আইআরজিসি।

    এমন বক্তব্যের কারণে তেহরান ও প্রতিবেশীদের মধ্যে দূরত্ব আরও বেড়েছে। কারণ উপসাগরীয় দেশগুলো বারবার বলেছে, তারা নিজেদের ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেবে না।

    আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাগিয়ানি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী- যে দেশ থেকে হামলা হবে, সেই দেশের বিরুদ্ধে পাল্টা আঘাত হানার অধিকার ইরানের আছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌযানগুলো ইচ্ছা করেই ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো টার্গেট করছে। কারণ, ওয়াশিংটন এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে শত্রুতা আরও বাড়াতে চায়। সেটি হলে ইরানিদের জন্য পাল্টা জবাব দেওয়া কঠিন হয়ে যাবে।

    ইরান ‘ভয়ে’ আছে
    তাগিয়ানির মন্তব্যকে পুরোনো ‘প্রোপাগান্ডা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল-শায়জি। তিনি বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে হচ্ছে- এই দাবি আর গ্রহণযোগ্য বা বাস্তবসম্মত নয়।

    কারণ সব আঘাত আসছে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমানবাহী রণতরী জর্জ ডব্লিউ বুশ ও আব্রাহাম লিংকন থেকে। সেগুলো ইরানি উপকূলের ১৫০ কিলোমিটারের বেশি দূরে নয়। আল-শায়জির মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহারের বিষয়ে ইরানিরা কোনো প্রমাণও দেখাতে পারেনি।

    কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপকের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের ওপর যুদ্ধ বন্ধের চাপ বাড়ানোর সম্ভাবনা কম। কারণ, ট্রাম্প এই যুদ্ধ শুরু করার আগে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করেননি এবং আগে সম্মত হওয়া কোনো বিষয়ও মানেননি।

    ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কুয়েত বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন কর্মকর্তারা।

    কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুল্লাহ বন্দর আল-ওতাইবিও আল-শায়জির মূল্যায়নের সঙ্গে একমত। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কেউই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ চায় না। দুই পক্ষই যাচাই-বাছাই করে কিছু লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করছে।

    আল-ওতাইবি বলেন, নিজেদের জন্য ‘নরকের দরজা’ খুলে যাওয়ার ভয়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের নৌসম্পদে হামলা এড়িয়ে যাচ্ছে। বরং তারা উপসাগরীয় দেশগুলোর মাধ্যমে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ প্রয়োগের কৌশল নিয়েছে। যদিও সেটা আর খুব একটা কার্যকর নয়।

    নির্বাচিত লক্ষ্যবস্তু
    ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকে পরিচালিত মার্কিন জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানেও ইরান হামলা করছে না। এর কারণ হিসেবে আল-ওতাইবি বলেন, তেহরান যুদ্ধের পরিধি বাড়াতে চায় না। উপসাগরীয় দেশগুলোকে টার্গেট করে তারা বরং অভ্যন্তরীণ জনমতকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছে।

    আল-ওতাইবি জানান, ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সম্প্রতি মাসকাট সফর করেন। এর একদিন পরই ইরান ওমানে হামলা করেছে। এটা দুই দেশের আলোচনার ব্যর্থতাকে তুলে ধরে। পাশাপাশি তেহরানের একটি ইচ্ছাকেও তুলে ধরে। সেটি হলো- তারা হরমুজ প্রণালির ওপর পুরো নিয়ন্ত্রণ চায়, ওমানের সঙ্গে ভাগাভাগিতে রাজি নয়।

    নতুন করে মার্কিন হামলা শুরুর পর ইয়েমেনের হুতিরা এখন পর্যন্ত সংঘাত থেকে দূরে আছে। তারা লেবাননে হিজবুল্লাহর মতো ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে চাইছে। আল-ওতাইবির মতে, এর ফলে তেহরানের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।

  • মোদিজি, দেশটা আপনার বাপের নয়: কেজরিওয়াল

    মোদিজি, দেশটা আপনার বাপের নয়: কেজরিওয়াল

    শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন আম আদমি পার্টির (এএপি) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ভারতের মানুষ স্বৈরশাসকদের ঐতিহাসিক শিক্ষা দিতে পারে।

    কেজরিওয়াল বলেন, ‘একটু আগে মোদি সরকারের পুলিশ একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। তাতে বলা হয়েছে, গতকালের (সোমবার) প্রতিবাদে যারা অংশ নিয়েছিল, তাদের সবার বিরুদ্ধে এফআইআর (লিখিত অভিযোগ) করা হবে।’

    সংবাদ সম্মেলনে কেজরিওয়াল বলেন, ‘মোদিজি, এই দেশ আপনার বাপের নয়; এটি ১৪০ কোটি মানুষের। হুমকি দেওয়া বন্ধ করুন, অন্যথায় এ দেশের মানুষ আপনাকে এমন শিক্ষা দেবে যে, একনায়কের শোচনীয় পরিণতির কথা ইতিহাস মনে রাখবে।’

    কেজরিওয়ালের সংবাদ সম্মেলনের আগে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এক প্রতিবেদনে জানায়, অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশ পাঁচটি এফআইআর দায়ের করেছে। শহরের শান্তি নষ্ট করার পেছনে কোনো বড় ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    এফআইআরগুলোতে দাঙ্গা, সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা এবং কর্তব্যরত সরকারি কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। সূত্রের খবর, তদন্তকারী দল সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে। এর মধ্যে চেহারা শনাক্তের প্রযুক্তি সংবলিত ক্যামেরার ফুটেজও আছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা সরকারি সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি করেছে। ১৫ থেকে ২০টি সরকারি গাড়ি এবং অন্যান্য সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করা হয়েছে। জড়িত অভিযোগে আটক করা হয়েছে প্রায় ৭০ জন বিক্ষোভকারীকে।

    উল্লেখ্য, সোমবার দিল্লিতে সংসদ ভবন অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এতে কয়েক হাজার তরুণ ও শিক্ষার্থী অংশ নেন। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রবেশিকা পরীক্ষায় (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্ত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ওই কর্মসূচি পালন করা হয়। পুলিশ বাধা দিতে গেলে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়।

  • ইরানের পাহাড়ি এলাকায় বিমান হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র

    ইরানের পাহাড়ি এলাকায় বিমান হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র

    ইরানের পশ্চিমাঞ্চলের লোরেস্তান প্রদেশের খোররামাবাদের পার্বত্য এলাকায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি এ হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আইআরআইবি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, খোররামাবাদ শহরের আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত একটি স্থাপনায় এ হামলা চালানো হয়। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। খবর আনাদোলু এজেন্সির। এ হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

    গত সপ্তাহ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা জোরদার করেছে। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।

    উল্লেখ্য, গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে সেই সমঝোতার পরও দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • ছাগলের জন্য ৩১ ফুটের টাওয়ার!

    ছাগলের জন্য ৩১ ফুটের টাওয়ার!

    পৃথিবীতে কত কী ঘটে!

    এই যেমন ছাগলের জন্যও নাকি বানানো হয়েছে একটি টাওয়ার!

    শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ছোট্ট শহর উইন্ডসরে সত্যিই এমন এক ব্যতিক্রমী স্থাপনা দাঁড়িয়ে আছে। ৩১ ফুট উঁচু ইটের এই টাওয়ারটি দূর থেকে যেন রূপকথার কোনো দুর্গ। কিন্তু এর বাসিন্দা মানুষ নয়, একদল সানেন জাতের ছাগল। অদ্ভুত এই নির্মাণশৈলী আর অভিনব ধারণার কারণে ‘টাওয়ার অব বা-গোট’ এখন স্থানীয় আকর্ষণ ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে।

    ‘টাওয়ার অব বা-গোট’ এখন স্থানীয় আকর্ষণ ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে।টাওয়ারটির নির্মাতা কৃষক দম্পতি ডেভ ও মার্সিয়া জনসন। প্রায় পাঁচ হাজার হাতে তৈরি ইট দিয়ে গড়া এই স্থাপনায় রয়েছে ২৭৬ ধাপের সর্পিল পথ। বাইরের ঘুরপথ বেয়ে ছাগলগুলো অনায়াসে ওপরে উঠে যায়, আর ভেতরের ছোট ছোট কক্ষে রাত কাটায়। তবে এই টাওয়ারের গল্প শুরু হয়েছিল আরও আগেই। নব্বইয়ের দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার একটি ওয়াইনারিতে ছাগলের জন্য তৈরি একই ধরনের একটি টাওয়ারের ছবি দেখে অনুপ্রাণিত হন ডেভ। সেই ছবিই তাঁকে নিজের খামারে এমন একটি টাওয়ার নির্মাণের স্বপ্ন দেখায়। মজার বিষয় হলো, তখন তাঁর খামারে একটি ছাগলও ছিল না! টাওয়ার তৈরি শেষ হওয়ার পরই তিনি ১১টি সানেন ছাগল কিনে আনেন।

    পাহাড়ি স্বভাবের ছাগলের জন্য বিশেষ নকশা
    প্রশ্ন জাগতেই পারে, ছাগলের জন্য এত আয়োজন কেন? এর উত্তর লুকিয়ে আছে তাদের স্বভাবেই। সানেন ছাগলের আদি নিবাস সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ি অঞ্চল। প্রকৃতিগতভাবেই তারা উঁচু জায়গায় উঠতে ভালোবাসে। পাহাড়ে বাস করার এই স্বভাব তাদের নিরাপদ থাকতে এবং চারপাশ পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করত। সমতল কৃষিজমিতে সেই সুযোগ না থাকায় জনসন দম্পতি ছাগলগুলোর জন্য কৃত্রিমভাবে এমন একটি উঁচু পরিবেশ তৈরি করেন।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পরিবেশ প্রাণীদের মানসিক চাপ কমায়, একঘেয়েমি দূর করে এবং তাদের স্বাভাবিক আচরণ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
    টাওয়ার নির্মাণের সময়ও ঘটেছিল মজার এক ঘটনা। ছবির মাপ দেখে নির্মাণ করতে গিয়ে টাওয়ারটি পরিকল্পনার চেয়ে বড় হয়ে যায়। ফলে এটি অনিচ্ছাকৃতভাবেই বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ছাগল টাওয়ারে পরিণত হয়। এমনকি অতিরিক্ত ইটও আনাতে হয়েছিল, যদিও শুরুতে উদ্দেশ্য ছিল বাড়ি তৈরির পর বেঁচে যাওয়া ইট ব্যবহার করা!

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পরিবেশ প্রাণীদের মানসিক চাপ কমায়।

    আজ এই টাওয়ার শুধু ছাগলের আবাস নয়, বরং পর্যটকদেরও আকর্ষণ করে। দর্শনার্থীরা এসে ছাগলগুলোর টাওয়ারে ওঠানামা দেখেন, ছবি তোলেন, তাদের আদর করেন। একসময় নিছক শখ থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্প এখন প্রাণীর কল্যাণ, সৃজনশীল কৃষি এবং গ্রামীণ পর্যটনের এক অনন্য উদাহরণ। প্রমাণ করে, একটু ভিন্নভাবে ভাবতে পারলেই সাধারণ একটি খামারও হয়ে উঠতে পারে অসাধারণ।

    সূত্র: অ্যাটলাস অবস্কিউরা, নাইনটি নাইন পারসেন্ট ইনভিসিবল

  • আর মিছিল নয়  তেলাপোকাদের

    আর মিছিল নয় তেলাপোকাদের

    জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) তিনি দেশজুড়ে একটি ত্রুটিমুক্ত ও নির্ভুল (ফুলপ্রুফ) পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। খবর রয়টার্সের।
    এর আগে সোমবার যুব নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা আন্দোলনের সমর্থকদের সঙ্গে সংসদ অভিমুখে মিছিলের সময় দেশটির পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে।
    রিজিজুর ভাষ্য, মোদি বলেছেন যে যুবসমাজের ভবিষ্যৎ যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং এমন একটি নির্ভুল পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।

    প্রশ্নপত্র ফাঁসে ক্ষোভ, সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ
    দেশটিতে গত মে মাসে অনুষ্ঠিত মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, এ ঘটনার কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যাও করেছেন।
    তারই পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবাদে সোমবার হাজারো তরুণ-তরুণী সংসদ ভবনের দিকে মিছিল করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
    দিল্লি পুলিশের দাবি, সংঘর্ষে অন্তত ১৮০ জন আহত হন। এর মধ্যে ১১৮ জন পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী এবং ৬০ জন বিক্ষোভকারী রয়েছেন।
    অন্যদিকে, নিজেদের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে পরিচয় দেয়া আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের দাবি, ১৫০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    আর মিছিল নয়
    মঙ্গলবার সিজেপি জানায়, তারা সরকারবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাবে, তবে আপাতত সংসদ অভিমুখে আর কোনো মিছিল করবে না। কারণ, তাদের আশঙ্কা, আবারও পুলিশি হামলার মুখে পড়তে হতে পারে।

    সোনম ওয়াংচুককে ঘিরেও উত্তেজনা
    এবারের এই আন্দোলনটি নতুন গতি পায় পরিবেশবাদী ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনের পর। তিনি গত ২৮ জুন অনশন শুরু করেন। পরে শনিবার পুলিশ তাকে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

    সরকারের সঙ্গে আলোচনা, তিন দফা দাবি
    সিজেপির দাবি, সোমবার দুই নেতার সঙ্গে বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা তাদের দাবিগুলো নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য সময় চেয়েছেন। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলো হলো, সোনম ওয়াংচুকের মুক্তি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে আত্মহত্যা করা প্রায় এক ডজন শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের পরিবারকে এক কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ প্রদান।

  • কুয়েতের বিদ্যুৎকেন্দ্র-পানি শোধনাগারে ইরানের মুহুর্মুহু হামলা

    কুয়েতের বিদ্যুৎকেন্দ্র-পানি শোধনাগারে ইরানের মুহুর্মুহু হামলা

    টানা চতুর্থ দিনের মতো সোমবার কুয়েতের একাধিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্টে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
    কুয়েতের বিদ্যুৎ, পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এসব হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানি হামলার কারণে কয়েকটি স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। তবে দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।

    দেশটির মন্ত্রণালয় আরও জানায়, হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো মেরামতের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
    তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা সেবায় কী ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি কুয়েত।
    টানা ১০ম রাতের মতো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন হামলার জেরে উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে ইরান।

  • নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে আসবেন : গ্রেপ্তার হবেন না-ট্রাম্প

    নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে আসবেন : গ্রেপ্তার হবেন না-ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফরে এলে তাঁকে কোনোভাবেই গ্রেপ্তার করা হবে না। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এ বিষয়ে এখনো আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন বলে মন্তব্য করার পর সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে লেখেন, ‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে কোনোভাবেই, কোনো পরিস্থিতিতেই গ্রেপ্তার করা হবে না।’ যদিও পোস্টে তিনি মামদানির নাম উল্লেখ করেননি, তবে ইরান যুদ্ধের সময় ইসরায়েলের সহায়তার প্রশংসা করেন।

    এর আগে, ২০২৪ সালে গাজা যুদ্ধ চলাকালে কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেদারল্যান্ডসের হেগভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে ইসরায়েল আইসিসির এখতিয়ার স্বীকার করে না এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে।

    শনিবার সম্প্রচারিত নিউইয়র্ক টাইমসের ভিডিও পডকাস্ট ‘দ্য ইন্টারভিউয়ে’ নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, নগরীর আইন বিভাগ বর্তমানে সক্রিয়ভাবে পর্যালোচনা করছে, আইন তাদের কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দেয়। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্থান হেগে। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী, যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত অভিযোগ এনেছে।’

    প্রতি বছর সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহু ঐতিহ্যগতভাবে নিউইয়র্ক সফর করেন।

    মামদানির বক্তব্যের জবাবে রোববার এক্সে প্রকাশিত এক পোস্টে ইসরায়েল আইসিসিকে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ বা পক্ষপাতদুষ্ট আদালত আখ্যা দিয়ে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে ‘ভুয়া’ বলে উল্লেখ করে। পোস্টে আরও বলা হয়, ‘মামদানি মনে হচ্ছে নিজের ভুলভ্রান্তি থেকে জনসাধারণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নিতে এবং ইহুদি রাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র গণতান্ত্রিক দেশের নেতার ওপর আক্রমণ করতে আগ্রহী।’

    ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) আন্তর্জাতিক এখতিয়ার রয়েছে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের বিচার করার। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই আদালতের সদস্য নয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণকারী মামদানি মেয়র নির্বাচনী প্রচারণার সময় বলেছিলেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্ক সিটিতে এলে তিনি পুলিশকে তাঁকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেবেন।

    এদিকে, গত নভেম্বর নির্বাচনে জয়ের অল্প কিছুদিন পরই তৎকালীন মেয়র-নির্বাচিত মামদানি ও ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে এক অপ্রত্যাশিতভাবে সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক করেন, যদিও এর আগে তাঁরা পরস্পরের বিরুদ্ধে কটূক্তি বিনিময় করেছিলেন।

  • বিশ্ববাজারের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা করবে বিএফটিআই: বাণিজ্যমন্ত্রী

    বিশ্ববাজারের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা করবে বিএফটিআই: বাণিজ্যমন্ত্রী

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বাণিজ্য আইন, অর্থনৈতিক গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটকে (বিএফটিআই) শক্তিশালী জাতীয় ‘থিঙ্কট্যাংক’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতির বাজার পরিস্থিতি, বাণিজ্যিক প্রবণতা, সম্ভাব্য ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে নিয়মিত গবেষণা করবে বিএফটিআই। এসব গবেষণা সরকারের নীতিনির্ধারণ এবং বেসরকারি খাতের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে।

    আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বিএফটিআই সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের ৬৩তম পরিচালনা পর্ষদের সভায় সভাপতির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এ কথা বলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিকে এ তথ্য জানানো হয়।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষায় বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক বাজার ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে গভীর গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যেই বিএফটিআইকে নতুন পরিকল্পনায় আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিয়ে আমাদের কোনো সংকট নেই, প্রয়োজন ছিল দীর্ঘমেয়াদি দিকনির্দেশনার। এখন সেই জায়গায় কাজ শুরু হয়েছে।’

    সভায় বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে মোস্তফা আবীদ খানের নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়।

    সভায় জানানো হয়, দেশের বাণিজ্যনীতি ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন একাধিক গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা পর্যালোচনা, অ্যান্টি-ডাম্পিং, কাউন্টারভেইলিং ও সেফগার্ড ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ এবং বাংলাদেশের চামড়া খাতের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ নিয়ে গবেষণা।

    এ ছাড়া বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের জন্য দেশের এয়ার টিকিটিং বাজারের প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতি নিয়েও গবেষণা চলমান। বাণিজ্য নীতি পর্যালোচনা, আরজেএসসি নিবন্ধন ও রিটার্ন দাখিল, কর-ভ্যাট-কাস্টমস এবং আমদানি-রপ্তানি পদ্ধতি বিষয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

    সভায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান, ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ, বিএফটিআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব ) সাইফ উদ্দিন আহমেদ এবং বিএফটিআই পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • নিজেই ভাংছেন নিজের  তৈরি নিয়ম

    নিজেই ভাংছেন নিজের তৈরি নিয়ম

    কাঠমান্ডুতে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে একান্ত বা দ্বিপক্ষীয় বৈঠক না করার যে নিয়ম এত দিন ধরে নিজে মেনে চলছিলেন, চলতি সপ্তাহে তা ভাঙতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ।

    প্রধানমন্ত্রীর সহকারী এবং কূটনৈতিক সূত্রগুলো দ্য পোস্ট-এর কাছে নিশ্চিত করেছে যে প্রধানমন্ত্রী ভারত ও চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করতে যাচ্ছেন। বৈঠকের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা না হলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে চলতি সপ্তাহেই এই বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারের প্রথম ১০০ দিন পূর্ণ করার পরপরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

    নেপালের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক চর্চায় এক বড় পরিবর্তন এনে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এককভাবে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিলেন শাহ। এর পরিবর্তে তিনি গত ৯ এপ্রিল এবং ২৬ মে কাঠমান্ডুতে দায়িত্বরত রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে যৌথভাবে বৈঠক করেন। নেপালি কূটনীতিক, পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকদের কাছে তাঁর এই পদক্ষেপ কূটনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছ ও সমতাভিত্তিক পদ্ধতি হিসেবে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল।

    এর একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল ৬ জুলাই থেকে নেপালে তিন দিনের সফরে আসা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দার সঙ্গে তাঁর বৈঠকটি।

    এমনকি দেশের অভ্যন্তরীণ অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) সঙ্গেও এর আগে বৈঠক এড়িয়ে চলতেন শাহ। তবে সম্প্রতি তিনি ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, শিল্পপতি এবং রপ্তানিকারকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

    প্রধানমন্ত্রীর এক সহকারী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দুই সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছেন। আমরা এখন এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে তাঁর বিদেশি রাষ্ট্রদূত এবং কূটনীতিকদের সঙ্গেও আলোচনা করা উচিত। নেপালের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারের কথা বিবেচনা করলে আমাদের দুই প্রতিবেশী ভারত ও চীনের রাষ্ট্রদূতদের দিয়ে এটি শুরু করাটাই স্বাভাবিক।’

    নয়াদিল্লি ও বেইজিং—উভয়ই যে নেপালের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ, তা প্রমাণ করতে শাহ একই দিনে ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তব এবং চীনের রাষ্ট্রদূত ঝাং মাওমিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বলে সূচি নির্ধারিত হয়েছে।

    গত ২৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর শাহ শুরুতে নেপাল সফরে আসা মার্কিন সরকারের শীর্ষ কূটনীতিকদের সঙ্গেও দেখা করতে রাজি হননি। কাঠমান্ডুতে মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সমীর পল কাপুর এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ জানানো হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

    এমনকি নেপাল সফরের সময় মার্কিন জনকূটনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট সারাহ বি রজার্সও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাননি। অতীতে দেখা গেছে, নেপালের নতুন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীরা দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা সরকারি বাসভবনে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এককভাবে সাক্ষাৎ করতেন।

  • মেজর (অব.) মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ

    মেজর (অব.) মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ

    শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে ২৩ জুলাই হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।

    এর আগে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম তাঁকে হাজির করতে আবেদন করেন।

    পরে চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের বলেন, মোজাফফর হোসেনের মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল। তিনি ভারতে আসা-যাওয়া করতেন। তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গেও জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তাই তাঁকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে হাজির করার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনাল সে আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

  • ভারতে প্রথমবারের মতো ডেঙ্গু টিকার অনুমোদন

    ভারতে প্রথমবারের মতো ডেঙ্গু টিকার অনুমোদন

    ভারতে প্রথমবারের মতো ডেঙ্গু টিকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দেশটির ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল (ডিসিজিআই) সম্প্রতি তাকেদা বায়োফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডিয়ার তৈরি ডেঙ্গুর টিকা ‘কিউডেঙ্গা’ বাজারজাতকরণের অনুমোদন দিয়েছে। কোম্পানিটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    সে ক্ষেত্রে কিউডেঙ্গা ভারতে বাজারজাতকরণের অনুমোদন পাওয়া ডেঙ্গুর প্রথম টিকা হতে যাচ্ছে। ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সী ব্যক্তিরা দুই ডোজের এই টিকা নিতে পারবেন। তিন মাসের ব্যবধানে দুটি ডোজ গ্রহণ করতে হবে। এই টিকা ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই সুরক্ষা দিতে সক্ষম।

    কোম্পানির দাবি, আগে কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকুক বা না থাকুক, কিউডেঙ্গা টিকা নেওয়া যাবে এবং টিকা দেওয়ার আগে ডেঙ্গু সংক্রমণ হয়েছে কি না, তা জানতে কোনো প্রাক্‌-টিকাদান পরীক্ষার (প্রি-ভ্যাকসিনেশন স্ক্রিনিং) প্রয়োজন নেই।

    এমন সময়ে এই টিকার অনুমোদন এল, যখন ভারতে ডেঙ্গু একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত দুই দশকে দেশটিতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১১ গুণ বেড়েছে। বিশ্বব্যাপী ডেঙ্গুর মোট রোগীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ভারতীয়।

    বিভিন্ন মডেলভিত্তিক গবেষণায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, প্রকৃত সংক্রমণের সংখ্যা সরকারি হিসাবে প্রকাশিত সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি।

    ভারতে কিউডেঙ্গার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে তাকেদার বৈশ্বিক ক্লিনিক্যাল উন্নয়ন কর্মসূচির তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে। এ কর্মসূচির আওতায় ফেজ–১, ফেজ–২ ও ফেজ–৩-এর মোট ১৯টি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালিত হয়েছে, যেখানে ডেঙ্গুপ্রবণ ও ডেঙ্গু-অপ্রবণ অঞ্চলের ২৮ হাজারের বেশি ব্যক্তি অংশ নিয়েছেন।

    ফেজ–৩–এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ডেঙ্গুপ্রবণ আটটি দেশের ২০ হাজারের বেশি ব্যক্তি অংশ নেন।

    তাকেদার তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ১২ মাস পর পরীক্ষাগারে নিশ্চিত (ভাইরোলজিক্যালি কনফার্মড) ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকাটির কার্যকারিতা ছিল ৮০ দশমিক ২ শতাংশ। আর ডেঙ্গুজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি প্রতিরোধে ১৮ মাস পর এর কার্যকারিতা ছিল ৯০ দশমিক ৪ শতাংশ।

    এ ছাড়া সাড়ে চার বছর পর্যন্ত ফলোআপ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডেঙ্গুজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি প্রতিরোধে টিকাটির কার্যকারিতা ছিল ৮৪ দশমিক ১ শতাংশ। আর সাত বছর পর্যন্ত ফলোআপে ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই ডেঙ্গু রোগ এবং ডেঙ্গুজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি প্রতিরোধে টিকাটি দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা দিয়েছে।

    ভারতে এই অনুমোদনের পক্ষে ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সী অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে পরিচালিত একটি ফেজ–৩ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফলও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

    ওষুধ কোম্পানির দাবি, ওই গবেষণায় দেখা গেছে, শিশু, কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে টিকাটি নিরাপদ, সহনীয় এবং শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা সৃষ্টি করতে সক্ষম।

    ভারতের কলকাতার একটি ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কেন্দ্রে এক রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করছেন একজন সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী

    তাকেদা জানিয়েছে, কিউডেঙ্গা এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের ৪৩টি দেশে অনুমোদন পেয়েছে। সরকারি–বেসরকারি টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে এ পর্যন্ত টিকার ৩ কোটি ২০ লাখের বেশি ডোজ বিতরণ করা হয়েছে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ডেঙ্গুর উচ্চ সংক্রমণ রয়েছে—এমন ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকায় কিউডেঙ্গা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। এ ছাড়া টিকাটি ডব্লিউএইচওর প্রি-কোয়ালিফিকেশনও অর্জন করেছে।

    বর্তমানে কিউডেঙ্গা ব্রাজিলের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার সরকারি টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমেও এটি পাওয়া যাচ্ছে।

    কোম্পানিটি জানিয়েছে, ভারতে টিকাটি পরিকল্পিতভাবে সরবরাহ ও সহজলভ্য করতে তারা দেশটির নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, জনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং স্বাস্থ্যসেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।

  • ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করবেন ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি-বিচারকরা

    ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করবেন ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি-বিচারকরা

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের আটকে রাখার গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তিনজন বিচারক। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), র‍্যাব ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এই কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনের জন্য প্রসিকিউশনের করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই সম্মতি দেন।

    যে তিনজন বিচারক পরিদর্শন করবেন তারা হলেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার, বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে আবেদনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত স্বৈরাশাসনের আমলে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া অনেক গুমের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের জেআইসি অথবা টিএফআই হিসেবে পরিচিত ‘আয়নাঘর’ নামের গোপন জায়গায় আটকে রাখা হতো।

    সুনির্দিষ্ট পরিদর্শনের জায়গাগুলোর কথা জানিয়ে তিনি তুলে ধরেন, ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে ডিজিএফআই কমপ্লেক্সের একটি কেন্দ্র, র‍্যাব-১-এর একটি টিএফআই সেল এবং ডিবি কার্যালয়ের বন্দিশালাসহ এ ধরনের কেন্দ্রগুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখার জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শনের আইনি বৈধতা প্রসঙ্গে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের নজির তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর জানান, দেশের প্রচলিত আইনের ৫৩৯-বি ধারা এবং রোম স্ট্যাটিউটের রুল ৭ ও রুল ৭৩ অনুযায়ী মামলার স্বার্থে বিচারকদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের বিধান রয়েছে। এর আগে রুয়ান্ডা ও যুগোস্লাভিয়া ট্রাইব্যুনালেও বিচারকরা সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিচারিককাজে তা মেমোরেন্ডাম হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।

    চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, ট্রাইব্যুনাল আবেদনটি মঞ্জুর করেছেন এবং বিচারকরা দিন-তারিখ নির্ধারণ করে অপরাধস্থল হিসেবে পরিচিত এই বন্দিশালাগুলো পরিদর্শনে যাবেন। পরিদর্শনের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নোটিস দেওয়া হবে এবং আসামিপক্ষের কেউ চাইলে তাদের সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে এই পরিদর্শন কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

  • রেমিটেন্সের শীর্ষে সৌদি আরব

    রেমিটেন্সের শীর্ষে সৌদি আরব

    বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) দেশে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স তথা প্রবাসী আয় এসেছে, তার প্রায় ৬২ শতাংশেরই উৎস হলো পাঁচটি দেশ। দেশগুলো হচ্ছে—সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। মূলত এসব দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী ও প্রবাসী বসবাস করায় এগুলো থেকে প্রবাসী আয়ের বড় অংশ আসছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীরা মোট ৩ হাজার ২৭৭ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি দেশ থেকেই এসেছে ২ হাজার ২৫ কোটি ডলার বা প্রায় ৬২ শতাংশ।

    তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে সর্বোচ্চ ৫২৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলার এসেছে সৌদি আরব থেকে, যা মোট আয়ের ১৬ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার আসে যুক্তরাজ্য থেকে। এ তালিকায় সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ৪২৭ কোটি ৮২ লাখ ডলার নিয়ে তৃতীয়, ৩২২ কোটি ডলার নিয়ে মালয়েশিয়া চতুর্থ এবং ২৭৮ কোটি ৯৬ লাখ ডলার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।

    এর বাইরে ওমান, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর ও ইতালি থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছে। এ ৬ দেশ থেকে ১১ মাসে এসেছে প্রায় ৮৮৯ কোটি ডলার, যা মোট প্রবাসী আয়ের ২৭ শতাংশ। সব মিলিয়ে মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশই এসেছে ১১টি দেশ থেকে।

    শুধু মে মাসের হিসাবেও রেমিট্যান্স–প্রবাহ ছিল উল্লেখযোগ্য। ওই মাসে প্রবাসীরা মোট ৩৪৪ কোটি ২৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬৫ কোটি ৯ লাখ ডলার এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৪ কোটি ৬৫ লাখ ডলার এসেছে সৌদি আরব থেকে। আর ৪৬ কোটি ৮১ লাখ ডলার নিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল ইউএই।

    গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের মধ্যে ১০ মাসই এককভাবে প্রবাসী আয়ের শীর্ষ উৎস ছিল সৌদি আরব। তবে মে মাসে সৌদিকে ছাড়িয়ে যায় যুক্তরাজ্য। অর্থবছরের শুরুতে, অর্থাৎ গত বছরের জুলাই মাসে যুক্তরাজ্য থেকে ২৮ কোটি ২৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। পরে তা ধারাবাহিকভাবে বাড়তে বাড়তে মে মাসে ১৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬৫ কোটি ডলারে পৌঁছায়। জুন মাসের রেমিট্যান্সের তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।

    সরকার প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে আয় পাঠাতে উৎসাহ দিয়ে আসছে। এ জন্য ব্যাংকিং মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠালে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। এতে হুন্ডির মতো অবৈধ মাধ্যম নিরুৎসাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি আগের তুলনায় ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে প্রবাসী আয়প্রবাহে।

    তবে আর্থিক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় তিন-পঞ্চমাংশ মাত্র পাঁচটি দেশের ওপর নির্ভরশীল হওয়া অর্থনৈতিক নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে সংবেদনশীল। তাঁদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় অদক্ষ ও আধা দক্ষ শ্রমিক বেশি থাকায় সেখানকার রেমিট্যান্স সব সময় স্থিতিশীল থাকে না। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান তুলনামূলক শক্ত হওয়ায় সেখান থেকে আয় বেশি স্থিতিশীলভাবে আসে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধান এই পাঁচ দেশের অর্থনৈতিক নীতি, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বা শ্রমবাজারে বড় পরিবর্তন এলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। তাই নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া ও দূরপ্রাচ্যের নতুন শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

  • ইরানি হামলায় দুই সপ্তাহে ১০০ মার্কিন সেনা হতাহত

    ইরানি হামলায় দুই সপ্তাহে ১০০ মার্কিন সেনা হতাহত

    ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে গত দুই সপ্তাহে প্রায় ১০০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। একই সময়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে।

    মঙ্গলবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানায়, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং একটি রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই দিনে হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজ অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হলে জাহাজের নাবিকেরা সেটি ত্যাগ করে লাইফবোটে আশ্রয় নেন।

    কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডান জানিয়েছে, তারা হামলা প্রতিহত করতে নিজেদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, আহত সেনাদের অধিকাংশই সামান্য মাত্রার কনকাশনে (মাথায় আঘাতজনিত সমস্যা) আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তাদের ৯৬ শতাংশ ইতোমধ্যে দায়িত্বে ফিরে গেছেন। ইরানি হামলায় সেনা হতাহতের তথ্য গোপন করার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, পেন্টাগন কোনো তথ্য আড়াল করেনি।

    এদিকে, গত এক সপ্তাহে জর্ডান ও ইরাকে দায়িত্ব পালনকালে তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। টানা ১০ রাত ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পরও হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের প্রভাব কমেনি। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়। এর মধ্যে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করায় আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

    হুথিদের এক কর্মকর্তা জানান, ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের অবরোধের প্রতিবাদে লোহিতসাগরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত বাব আল-মান্দেব প্রণালি সৌদি জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে। যদিও এই অবরোধ কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

    অতীতে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে হুথিরা বিভিন্ন জাহাজে হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ব্যাহত করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। তবে সৌদি আরবের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ওই জলপথে নৌ চলাচল অব্যাহত রাখবে।

    এদিকে, সংঘাত নিরসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তর সফর করেছেন। তবে গত মাসে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা ভেঙে পড়ায় নতুন কোনো সমাধান হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

    চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে উভয় পক্ষের হামলায় বেসামরিক অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৮ মার্কিন ডলারের ওপরে লেনদেন হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় মূল্য ৪ ডলারে পৌঁছেছে।

    এদিকে, যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজ অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার একাধিক প্রতিবেদন তারা পেয়েছে। জাহাজটির ক্রুরা নিরাপদে লাইফবোটে আশ্রয় নিয়েছেন এবং এখন পর্যন্ত কোনো পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

  • ব্রিটেনের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    ব্রিটেনের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাজ্যের কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের সুযোগ চায় যুক্তরাষ্ট্র। এই মর্মে ব্রিটেনের নতুন সরকারের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন চাপ সৃষ্টি করছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর ‘আরএএফ ফেয়ারফোর্ড’ এবং ভারত মহাসাগরের ‘দিয়েগো গার্সিয়া’ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি অব্যাহত রাখতে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে অনুরোধ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সোমবার অ্যান্ডি বার্নহ্যাম যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তার সঙ্গে ফোনালাপে ট্রাম্প বিষয়টি তোলেন।

    এর আগে যুক্তরাজ্যের কিয়ার স্টারমারের সরকার শুরুতে দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি থেকে মার্কিন বি-টু বোমারু বিমান পরিচালনার অনুমতি দেয়নি। তবে পরবর্তী সময়ে অবস্থান বদলে কেবল প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ এবং ‘ইরানের সামরিক সক্ষমতা খর্ব করার’ লক্ষ্যে মার্কিন বাহিনীকে ওই ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছিল লন্ডন।

  • কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের, নতুন করে বাণিজ্যযুদ্ধের শঙ্কা

    কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের, নতুন করে বাণিজ্যযুদ্ধের শঙ্কা

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও মদের ক্ষেত্রে কানাডা ‘বৈষম্যমূলক আচরণ’ করছে—এ অভিযোগ তুলে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    নতুন শুল্কের আওতায় আছে ওয়াইন, হকিস্টিকের মতো ভোক্তাপণ্য ও সিমেন্টের মতো শিল্পপণ্য। তবে জ্বালানি, পটাশ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, মাছসহ কানাডার কয়েকটি প্রধান রপ্তানিপণ্য এ শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে।

    কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা আরও জোরদার করতে তাঁরা প্রস্তুত।

    হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ৩০ দিনের মধ্যে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। এমনিতেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক ভালো নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে কানাডা। তার ওপর নতুন এই শুল্কের ফলে উত্তর আমেরিকার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা আরও বেড়ে যাবে বলেই শঙ্কা।

    যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) আওতায় এ পণ্য আছে কি না, তা এই শুল্ক আরোপের সময় বিবেচনা করা হয়নি। অর্থাৎ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় থাকুক বা না থাকুক, এ শুল্ক দিতেই হবে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে কার্নি বলেন, ‘ইউএসএমসিএর সরাসরি লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র যে একতরফা পদক্ষেপগুলো নিয়ে আসছে, এটি তার সর্বশেষ উদাহরণ।’

    এদিকে কার্নি কানাডার সার্বভৌমত্বের প্রতি ‘হুমকির’ বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার কথা বলেছিলেন, সম্ভবত সে প্রেক্ষাপটে কার্নি এ কথা বলেছেন।

    আগে থেকেই ছিল পাল্টাপাল্টি শুল্ক

    গতকাল সোমবার ঘোষিত শুল্কের আগে থেকেই দুই দেশের মধ্যে নানা ধরনের বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আছে।

    বর্তমানে কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে রেখেছে। এ ছাড়া সফটউডে ৩৫ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে তৈরি গাড়ির যন্ত্রাংশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আদায় করছে ওয়াশিংটন।

    এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও যানবাহনের ওপর ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে কানাডা।

    দাবানলের ধোঁয়া নয়, পুরোনো বিরোধ

    সম্প্রতি কানাডা যে দাবানল হয়েছে, তার ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরেও ছড়িয়ে পড়ে। সে জন্যও শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। গতকাল তিনি যে নির্বাহী আদেশে সই করেছেন, সেখানে অবশ্য দাবানলের উল্লেখ নেই; বরং দেখা গেছে, এ নির্বাহী আদেশে গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও মদ নিয়ে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য বিরোধের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। এতে দুই দেশের চলমান বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাবে—এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

    গাড়ির ক্ষেত্রে ট্রাম্পের অভিযোগ, ইউএসএমসিএর আওতার বাইরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি ও যন্ত্রাংশের ওপর কানাডা কর আরোপ করে। তাঁর দাবি, এটি অযৌক্তিক ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বৈষম্যমূলক। কেননা, অন্য দেশের ক্ষেত্রে একই ধরনের কর আরোপ করা হয় না।

    উত্তর আমেরিকায় গাড়ি উৎপাদনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে নিবিড় সমন্বয় আছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিক আগেই বলেছেন, এ খাতে কানাডার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।

    দুগ্ধ ও পানীয় নিয়েও দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন

    দুগ্ধজাত পণ্য নিয়ে দুই দেশের বিরোধ নতুন নয়। কানাডার সরবরাহ ব্যবস্থাপনার কারণে বিদেশি দুগ্ধপণ্য আমদানি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে হয়। সেই সীমা ছাড়ালে ৩০০ শতাংশের বেশি শুল্ক দিতে হয়।

    অন্যদিকে গত বছর থেকে কানাডার অধিকাংশ প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের মদ কার্যত বর্জন করা হচ্ছে। ওয়াশিংটনের যত অভিযোগ আছে, এটি তার মধ্যে অন্যতম।

    কানাডার প্রাদেশিক নেতারা বারবার বলেছেন, ধাতু ও মোটরগাড়ির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত থেকে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক তুলে নিলে তাঁরাও মার্কিন মদ বর্জন প্রত্যাহার করবেন।

    আলোচনার চেষ্টা চলছে

    কানাডার বাণিজ্যবিষয়ক প্রতিনিধিরা সমঝোতার চেষ্টা করছেন। লক্ষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান শুল্ক কিছু হলেও যদি কমানো যায়। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বিবিসি হোয়াইট হাউস ও কানাডা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

    চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ইউএসএমসিএ চুক্তি বিদ্যমান রূপে নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেয়। কানাডা ও মেক্সিকো চুক্তিটি নবায়নের পক্ষে থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসন পরিবর্তন আনতে চায়। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেই এ চুক্তি হয়েছিল।

    বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এ চুক্তির আওতায় আগামী এক দশক উত্তর আমেরিকার বাণিজ্য পরিচালিত হবে। তবে এর কার্যকারিতা কতটুকু, তা প্রতিবছর পর্যালোচনা করা হবে।

    নতুন আইনের আশ্রয়

    গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আরোপিত আন্তর্জাতিক শুল্ক বাতিল করে দেয়। আদালতের মতে, জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য প্রণীত আইনের আওতায় এই শুল্ক আরোপ করে প্রেসিডেন্ট সীমা লঙ্ঘন করেছিলেন।

    তখন হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, আমদানি শুল্ক আরোপে তারা অন্য আইনের দ্বারস্থ হবে।

    গতকালের নতুন শুল্ক ১৯৩০ সালের ট্যারিফ অ্যাক্টের ৩৩৮ ধারা অনুযায়ী জারি করা হয়েছে। এ ধারা জাতীয় জরুরি অবস্থার পরিবর্তে বাণিজ্যে বৈষম্যমূলক আচরণের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়।

  • আন্তর্জাতিক ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের বড় সাফল্য

    আন্তর্জাতিক ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের বড় সাফল্য

    চীনের শেনঝেন শহরে অনুষ্ঠিত ৯ম আন্তর্জাতিক অর্থনীতি অলিম্পিয়াডে (আইইও) ২০২৬ এ ব্রোঞ্জ পদক, গ্লোবাল চ্যাম্পিয়নশিপ এবং বিশেষ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। অর্থনীতি, অর্থব্যবস্থা ও ব্যবসায়ভিত্তিক বিশ্বের অন্যতম বড় এ প্রতিযোগিতায় ৫৭টি দেশের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

    বাংলাদেশ দলের হয়ে ফারাবিদ বিন ফয়সাল এ ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন। একই প্রতিযোগিতায় জাইফ বিন মোর্শেদ গ্লোবাল চ্যাম্পিয়ন হন। তিনি প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘আইইও ইয়ুথ টক’ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। যোগাযোগ দক্ষতা, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি ও নেতৃত্বের ভিত্তিতে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

    এবার অর্থনীতি শিক্ষায় ধারাবাহিক অবদান, আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ এবং সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডকে (বিডিইও) ‘বিশেষ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি’ দেয় আন্তর্জাতিক অর্থনীতি অলিম্পিয়াড কর্তৃপক্ষ। এ স্বীকৃতিকে বৈশ্বিক অর্থনীতি শিক্ষায় বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    বাংলাদেশ দলের অন্য সদস্যরা হলেন মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের (গুলশান শাখা) ফারিহা তাসনিম, মাস্টারমাইন্ড ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের (ধানমন্ডি শাখা) প্রান্ত ঘোষ এবং স্কলাস্টিকার দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাইয়াদ সালেহীন আহমেদ।

    ৪৮ হাজারের বেশি নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে সারা দেশে একাধিক ধাপে বাছাইয়ের মাধ্যমে জাতীয় দল গঠন করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্ব, জাতীয় ক্যাম্প এবং দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়িক নেতাদের তত্ত্বাবধানে মাসব্যাপী উচ্চতর প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

    বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন আন্তর্জাতিক অর্থনীতি অলিম্পিয়াডের নির্বাহী বোর্ডের সদস্য এবং বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডের নির্বাহী কমিটির সভাপতি মো. আল-আমিন পারভেজ। উপদলনেতার দায়িত্ব পালন করেন সংগঠনটির সম্পাদক রাফিদ আবরার।

    এছাড়া বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডের অ্যাম্বাসেডর মো. মানসুরুল হক এবং মো. আল-আমিন পারভেজ ব্যবসায়িক কেস প্রতিযোগিতার আন্তর্জাতিক বিচারক প্যানেলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    আয়োজকদের মতে, এটি আন্তর্জাতিক অর্থনীতি অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের নেতৃত্বকে আরো শক্তিশালী করেছে।

    বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, ব্র্যাকের চেয়ারম্যান এবং পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াড বর্তমানে দেশে অর্থনীতি ও আর্থিক সাক্ষরতা বাড়ানো এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করার অন্যতম প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।

    পূবালী ব্যাংক পিএলসি ও ব্র্যাক ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে এবং সিটি ব্যাংকের সহযোগিতায় আয়োজিত বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াড ২০২৬ দেশের অর্থনীতি-সচেতন ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিযোগিতার সুযোগ করে দিয়েছে।

    আয়োজকদের মতে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনছে।

    ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক অর্থনীতি অলিম্পিয়াড ২০২৬-এর এ সাফল্য বাংলাদেশের তরুণদের সম্ভাবনার প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি বিশ্বমানের অর্থনীতি শিক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যতের অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়িক নেতৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডের অঙ্গীকারকে আরো দৃঢ় করেছে।

    আয়োজকদের মতে, এবারের অর্জন অর্থনীতি শিক্ষায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক উপস্থিতিকে আরো শক্তিশালী করেছে এবং বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় সক্ষম তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দেশের অঙ্গীকারকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে।

  • হিনা-শিল্পা দ্বন্দ্বে নতুন মোড়, ‘লক আপ ২’ ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে

    হিনা-শিল্পা দ্বন্দ্বে নতুন মোড়, ‘লক আপ ২’ ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে

    নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘লক আপ’ সিজন ২-এ বড় চমক নিয়ে হাজির হতে পারেন অভিনেত্রী হিনা খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে তার অংশগ্রহণের জোর গুঞ্জন ছড়িয়েছে। আর তাতেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রতিযোগী শিল্পা শিন্ডের সঙ্গে তার পুরোনো দ্বন্দ্ব।

    ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া ফোরামসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী পর্বগুলোতে বিশেষ অতিথি হিসেবে হিনা খান ও উরফি জাভেদ শোতে যোগ দেবেন। যদিও এখনো বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি নির্মাতারা।

    হিনা ও শিল্পার বিরোধ নতুন নয়। ‘বিগ বস ১১’-এ অংশ নেওয়ার সময় থেকেই তাদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। সম্প্রতি সেই বিতর্ক আবারও সামনে আসে, যখন ভরতি সিংয়ের পডকাস্টে শিল্পা স্বীকার করেন যে, প্রযোজক সঞ্জয় কোহলির সঙ্গে আইনি বিরোধ চলাকালে তিনি তার বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন।

    শিল্পার এই স্বীকারোক্তির পর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান হিনা। তিনি লেখেন, ‘কোনো বিরোধে জিততে নিজের লিঙ্গ পরিচয় ব্যবহার করে কারও ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা অত্যন্ত লজ্জাজনক। এর বিরুদ্ধে মানুষ যে প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং বিচার চাইছে, সেটাই স্বাভাবিক। আমি সত্যিই হতবাক।’

    হিনা আরও দাবি করেন, এই ঘটনায় প্রকৃত ভুক্তভোগী ছিলেন সঞ্জয় কোহলি। একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, অভিযোগের পরও কেন ওই প্রযোজক আবার শিল্পার সঙ্গে কাজ করেছিলেন। তার ভাষায়, ‘শেষ পর্যন্ত হাসির পাত্র তো আমরাই।’

    এরপর পরোক্ষভাবে হিনাকে নিশানা করেন শিল্পা শিন্ডে। তিনি হিনার ক্যানসারের চিকিৎসা এবং বাবার মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘মানুষ কবে যে আমার নাম ব্যবহার করে প্রচার পাওয়া বন্ধ করবে, জানি না। চলন্ত ট্রেনে উঠতে যাবেন না, আঘাত পাবেন। প্রচার পাওয়ার জন্য আপনার নিজের অসুস্থতা আছে, পরিবারের সদস্যের মৃত্যুর ঘটনাও আছে। তাহলে শিলপা শিন্ডেকে কেন দরকার? আপনি তো আগেই যথেষ্ট প্রচার পেয়েছেন।’

    হিনা যদি সত্যিই ‘লক আপ ২’-এ হাজির হন, তাহলে বহুদিনের এই দ্বন্দ্ব নতুন মোড় নিতে পারে বলেই মনে করছেন দর্শকরা। তবে তাদের মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। সূত্র: এনডিটিভি

  • ট্রাম্পের সঙ্গে রোমেরো হাত না মোলানোর কারণ

    ট্রাম্পের সঙ্গে রোমেরো হাত না মোলানোর কারণ

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের পর আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে করমর্দন না করে তাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

    নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে রৌপ্যপদক গ্রহণের জন্য খেলোয়াড়রা মঞ্চে ওঠেন। সে সময় পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    আর্জেন্টিনার বেশির ভাগ খেলোয়াড় আনুষ্ঠানিকতা মেনে মঞ্চে উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে করমর্দন করেন। তবে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হাত না মিলিয়ে তাকে পাশ কাটিয়ে চলে যান। টেলিভিশনের ক্যামেরায় ধরা পড়া সেই মুহূর্তের ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর রোমেরোর এই আচরণ নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। কেউ তার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ এটিকে অসৌজন্যমূলক আচরণ বলে সমালোচনা করেছেন।

    কেন করমর্দন করেননি?

    রোমেরো কেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে করমর্দন করেননি, সে বিষয়ে তিনি এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি। ফলে তার এই সিদ্ধান্তের কারণ নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি কোনো ধরনের তর্ক-বিতর্ক বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না করে ট্রাম্পকে পাশ কাটিয়ে মঞ্চ অতিক্রম করেন।

    এ ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ রোমেরোর সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ এটিকে অসৌজন্যমূলক আচরণ হিসেবে সমালোচনা করেছেন। তবে রোমেরো নিজে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা না দেওয়ায় তার উদ্দেশ্য বা অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

    মাঠের মতোই আপসহীন

    বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রোমেরোর এই আচরণ তার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়ার আগে ইতালির ক্লাব আতালান্তায় খেলেছেন তিনি। সেখানে দৃঢ়, আগ্রাসী এবং লড়াকু ডিফেন্ডার হিসেবে নিজের পরিচিতি গড়ে তোলেন। পরে কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা দলের রক্ষণভাগের অন্যতম ভরসায় পরিণত হন।

    ২০২৬ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয় ফাইনালে ওঠার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রোমেরো। তবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরে লিওনেল মেসিদের টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়নি।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি মূলত খেলোয়াড়দের অর্জন উদযাপনের জন্য হলেও ট্রাম্পের উপস্থিতির কারণে সেখানে রাজনৈতিক মাত্রা যোগ হয়। আর সেই প্রেক্ষাপটে রোমেরোর করমর্দন না করার ঘটনাই রাতের সবচেয়ে আলোচিত দৃশ্যগুলোর একটি হয়ে ওঠে।

    কেউ এটিকে অসম্মানজনক বলতে পারেন, তবে প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্মান জোর করে আদায় করা যায় না। রোমেরো বিশ্বের কোটি দর্শকের সামনে নিজের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আসা সমালোচনাও মেনে নিয়েছেন।

    ফাইনালে হারের হতাশার মধ্যেও তিনি কোনো কথা না বলেই নিজের নীতির প্রতি অটল থাকার বার্তা দিয়েছেন।

  • মেসিকে ছাড়াই দেশে ফিরে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেল আর্জেন্টিনা

    মেসিকে ছাড়াই দেশে ফিরে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেল আর্জেন্টিনা

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙে রানার্সআপ হয়েই দেশে ফিরেছে আর্জেন্টিনা। তবে দলের সঙ্গে ছিলেন না অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ব্যক্তিগত কারণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে গেছেন বলে জানিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।

    সোমবার (স্থানীয় সময়) বুয়েনস আইরেসের এজেইজা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন কোচ লিওনেল স্কালোনির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা দল। বিমানবন্দরে তাদের জন্য ছিল লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং সামরিক ব্যান্ডের আয়োজন। বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও খেলোয়াড়দের স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন এএফএর কর্মকর্তারাও।

    তবে সবার নজর ছিল লিওনেল মেসিকে ঘিরে। কিন্তু বিমান থেকে নামতে দেখা যায়নি আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে। এএফএ আগেই জানিয়েছিল, স্কোয়াডের কয়েকজন সদস্য দলের সঙ্গে দেশে ফিরবেন না। মেসির পাশাপাশি আরও কয়েকজন ফুটবলার যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে গেছেন।

    বৃষ্টি ও শীত উপেক্ষা করে এজেইজা বিমানবন্দরের বাইরে এবং জাতীয় দলের অনুশীলন কেন্দ্রের আশপাশে ভিড় করেন হাজারো সমর্থক। আকাশি-সাদা পতাকা ও ছাতা হাতে তারা করতালি আর স্লোগানে রানার্সআপ দলকে স্বাগত জানান। বিশ্বকাপ হাতছাড়া হলেও খেলোয়াড়দের প্রতি সমর্থকদের ভালোবাসায় কোনো ঘাটতি ছিল না।

    এর আগে বিশ্বকাপ ফাইনালের পরপরই বুয়েনস আইরেসের ঐতিহাসিক ওবেলিস্ক চত্বরে জড়ো হয়েছিলেন হাজারো সমর্থক। আতশবাজি, গান আর করতালিতে দলকে অভিনন্দন জানানো হলেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এক পর্যায়ে উচ্ছৃঙ্খল কিছু সমর্থকের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান, টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় অন্তত ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

    স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙেছে আর্জেন্টিনার। তবুও দেশে ফেরার পর দলের প্রতি সমর্থকদের উষ্ণ অভ্যর্থনা স্পষ্ট করে দিয়েছে, শিরোপা হাতছাড়া হলেও স্কালোনির দল এখনও কোটি আর্জেন্টাইন সমর্থকের হৃদয়ের দল।