আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু সোমবার, যেতে পারবেন না যারা

    হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু সোমবার, যেতে পারবেন না যারা

    ২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন আগামীকাল সোমবার (২৭ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে। আর এ নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

    এ সময়ের মধ্যেই হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদেরকে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। ই-হজ সিস্টেমের মাধ্যমে যে কেউ নিবন্ধন করতে পারবেন। অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে হবে।

    সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঘোষিত হজ কার্যক্রমের রোডম্যাপ অনুযায়ী এই সময়সূচি ঘোষণা করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

    হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের অবশ্যই মেয়াদ সম্বলিত পাসপোর্ট থাকতে হবে। জটিল রোগে আক্রান্ত বা শারীরিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিরা হজে যেতে পারবেন না।

    নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ

    সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি যেকোনো মাধ্যমে হজের প্রাথমিক নিবন্ধন করা যাবে। প্রাথমিক নিবন্ধিত ব্যক্তিদেরকে চলতি বছরের ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্যাকেজ মূল্যের অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে হবে। প্রাথমিক নিবন্ধনের পূর্বে হজযাত্রীদের আবশ্যিকভাবে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন করতে হবে।

    যে সকল স্থানে নিবন্ধন করা যাবে

    সরকারি মাধ্যমে ই-হজ সিস্টেমে (hajj.gov.bd) ইউজার তৈরি করে যে কেউ নিজেই নিবন্ধন করতে পারবে। এ ছাড়া, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম অফিস ও ঢাকা হজ অফিসে হজের নিবন্ধন করা যাবে।

    সরকারি মাধ্যমে হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদেরকে সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ভাউচারের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন করতে হবে।

    তবে, বেসরকারি মাধ্যমের হজযাত্রীদেরকে হজ কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে এজেন্সির নির্ধারিত হিসাবে টাকা জমা দিতে হবে। এজেন্সির ব্যাংক হিসাবের তথ্য হজ পোর্টালে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির প্রোফাইলে পাওয়া যাবে।

    যে সকল ব্যক্তি হজে যেতে পারবে না

    ১৫ বছরের কম বয়সী কেউ হজে যেতে পারবে না। এছাড়া, দুরারোগ্য ব্যাধি যেমন: হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, লিভার বা কিডনি রোগ, স্নায়ুবিক বা মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত ও ডিমনেশিয়া রোগী, কেমোথেরাপি বা বায়োলজিক্যাল থেরাপি বা রেডিওথেরাপি নিচ্ছেন-এমন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী হজে যেতে পারবেন না।

    এ ছাড়া জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে এমন সক্রিয় সংক্রামক রোগ যেমন- যক্ষ্মা ও হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্ত ব্যক্তি হজে যেতে পারবে না। গর্ভাবস্থার শেষ দুই মাস ও ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় কোনো মহিলা হজযাত্রী ফিটনেস সনদ পাবে না।

    উল্লেখ্য, প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় হজযাত্রীদেরকে আবশ্যিকভাবে প্রশিক্ষণ ও টিকা গ্রহণের জেলা, হজের ধরণ ও হজ প্যাকেজ নির্বাচন করতে হবে। এ ছাড়া ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ সম্বলিত পাসপোর্ট প্রয়োজন হবে।

  • সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

    সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

    ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আজ রোববার বাংলাদেশ আজাদ পার্টির পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়।

    অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চেয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে এত মানুষ মারা গেলেও রাষ্ট্রের তিন বাহিনীর প্রধান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন নিজেই যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারতেন, কিন্তু সে সময় তিনি কোনো ভূমিকা রাখেননি। ৫ আগস্ট পর্যন্ত আয়নাঘর, গুম-খুন ইত্যাদির বিষয়ে তিনি কোনো প্রতিবাদ করেননি। এসব অপরাধে তার মৌন সম্মতি ছিল, তাই এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।’

    এদিন ট্রাইব্যুনালে ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ আজাদ পার্টির নেতারা জানান, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের সহিংসতা, গুম, খুনসহ বিভিন্ন আলোচিত ঘটনার সময় আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন।

    তারা আরও জানান, আইনজীবীরা প্রায়ই একটি কথা বলে থাকেন- সুপিরিয়র রিসপনসিবিলিটি। অর্থাৎ, একটি গণহত্যার সময় সেখানে রাষ্ট্রের বা দলের সর্বোচ্চ যে ব্যক্তি থাকেন, তার ওপর মূলত ওই অপরাধের দায় বর্তায়। তৎকালীন সময়ের রাষ্ট্রপতিরা তিন বাহিনীর প্রধান হয়েও যারা ফ্যাস্টিস্ট সরকারকে সহায়তা দিয়েছেন, নিরাপত্তা দিয়েছেন, অন্যায়গুলোর প্রতিবাদ করেননি এবং ক্ষমতার সুবিধাভোগী হয়েছেন সেজন্য তারা এসব অন্যায়ের দায় এড়াতে পারে না। এ কারণে বাংলাদেশ আজাদ পার্টির পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    এদিকে, গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করার অভিযোগ এনে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পৃথক একটি অভিযোগ দায়ের করেছে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম। আজ রোববার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ অভিযোগের আবেদন জমা দেন ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস।

  • বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি বাণিজ্য বন্ধ

    বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি বাণিজ্য বন্ধ

    বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে গেট কারপাস জটিলতায় ভারত–বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা গেট কারপাস না করার কারনে শনিবার থেকে আমদানি বানিজ্য বন্ধ রয়েছে। আমদানি বানিজ্য বন্ধ থাকার কারনে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে আটকা পড়েছে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক। যার অধিকাংশই বাংলাদেশের শতভাগ রফতানিমুখী গার্মেন্টস শিল্পের কাচামাল।

    শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল থেকে সিএন্ডএফ এজেন্টের সদস্যরা আমদানি বাণিজ্য বন্ধ রাখে।

    বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি জানান, এত দিন ধরে আমরা কোনো অবৈধ মালামালের দায়ভার না নিয়ে ভারতীয় আমদানিকৃত পন্যবাহী ট্রাকের কারপাস (গেটপাস) দিয়ে গ্রহণ করে আসছি। গতকাল শনিবার কাস্টমস কর্তৃপক্ষ হঠাৎ নির্দেশনা জারি করেন, স্ব-স্ব সিএন্ডএফ এজেন্টের কর্মচারিদের দায়িত্ব নিয়ে ভারতীয় আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাক গ্রহণ করতে হবে। ওই ট্রাকে কোনো অবৈধ মালামাল থাকলে সিএন্ডএফ প্রতিনিধিকে দায়ভার নিতে হবে। এ সংক্রান্ত কোনো দায়ভার কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নেবে না। এ সংক্রান্ত কোনো দায়ভার না নেয়ার শর্তে সিএন্ডএফের পক্ষ থেকে আমরা কোনো গেটপাশ ইশ্যু করছি না। যার কারনে আমদানি বানিজ্য বন্ধ রয়েছে।

    বেনাপোল আমদানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাকদ জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, ভারতীয় ব্যাবসায়ীরা বাংলাদেশে মালামাল রফতানি করেন। তারাই ভালো জানেন পন্যের ভিতরে কি আছে? ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভাররা পথিমধ্যে কোনো অবৈধ মালামাল তুললে তার দ্বায়ভার কোনো সিএন্ডএফ এজেন্ট বা স্টাফরা নিতে পারে না। কাস্টমসের এ ধরনের সিদ্ধান্তের কারনে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি বানিজ্য বন্ধ রয়েছে।

    বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামিম হোসেন জানান, কারপাশ জটিলতার কারনে শনিবার থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে আমদানি বানজ্য বন্ধ রযেছে। তবে রফতানি ও চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্ট যাত্রী পারপার স্বাভাবিক রয়েছে।

  • ধর্মেন্দ্র প্রশ্ন ফাঁসে উত্থান:প্রশ্ন ফাঁসে পতন!

    ধর্মেন্দ্র প্রশ্ন ফাঁসে উত্থান:প্রশ্ন ফাঁসে পতন!

    ভারতে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের আন্দোলন ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি যেভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে, ঠিক তেমনই এক ঘটনা প্রায় তিন দশক আগে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত করেছিল। ১৯৯৭ সালে ওড়িশায় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মাধ্যমেই মূলত রাজনীতির মাঠে বড় পরিচিতি পান তিনি।

    সে সময় ওড়িশার কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী জনকী বল্লভ পট্টনায়কের সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিলেন এবিভিপির ছাত্রনেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান। মাত্র ১৮ বছর বয়সে রাজনীতিতে আসা তরুণ প্রধান উৎকলে নৃবিজ্ঞান নিয়ে পড়ার পাশাপাশি ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যে দুবার এবিভিপির জাতীয় সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

    সে সময় ভুবনেশ্বরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সচিবালয়ের সামনে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেছিলেন তিনি। কিন্তু পুলিশের লাঠিচার্জে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হয়ে তার শরীরের কয়েকটি হাড়ও ভেঙে গিয়েছিল। ক্যাম্পাস রাজনীতির সেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও পুলিশের দমনপীড়ন পেরিয়ে তার এই লড়াকু মানসিকতাই পরবর্তীতে তাকে বিজেপির মূল স্রোতের রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে দেয়।

    ছাত্র রাজনীতির সেই কণ্টকাকীর্ণ পথ থেকেই ধাপে ধাপে এগিয়ে ২০২১ সালে দেশের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পান ধর্মেন্দ্র প্রধান। ওড়িশায় বিজেপির ভিত্তি শক্ত করার পেছনেও তার দীর্ঘ সাংগঠনিক ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যার হাত ধরে ২০২৪ সালে সেখানে দীর্ঘদিনের বিজু জনতা দলের শাসনের অবসান ঘটিয়ে প্রথমবার ক্ষমতায় আসে বিজেপি।

    আর আজ, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই একই ধরনের নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এবং তার জেরে দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের চড়াও হওয়ার পরিস্থিতি ১৯৯৭ সালের সেই পুরোনো ইতিহাসকে ফিরিয়ে এনেছে সামনে। যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে এককালে নিজে রাস্তায় লড়েছিলেন তরুণ ধর্মেন্দ্র প্রধান, আজ শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ঠিক একই ধরনের সংকটের মুখোমুখি হয়ে বিরোধীদের আন্দোলনের জেরে তাকেই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে।

  • চীন-সৌদি পারমাণবিক চুক্তির সুযোগ !

    চীন-সৌদি পারমাণবিক চুক্তির সুযোগ !

    ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়ার শর্তে সৌদি আরবকে দেওয়া ট্রাম্পের পারমাণবিক চুক্তির প্রস্তাব চীন ও পাকিস্তানকে একটি অনন্য সুযোগ এনে দিতে পারে। আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন পাকিস্তানের ফ্রন্টিয়ার কোরের সাবেক কমান্ডার ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল তারিক খান।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ জানান, চুক্তি কার্যকর করতে হলে সৌদি আরবকে অবশ্যই ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ যোগ দিতে হবে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হওয়া এই চুক্তির মাধ্যমে কয়েকটি আরব দেশ ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছিল।

    তারিক খান বলেন, সৌদি আরবের জন্য প্রস্তাবিত পারমাণবিক চুক্তিকে হঠাৎ করেই আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ।

    তার মতে, বেইজিং কোনো রাজনৈতিক শর্ত ছাড়াই সৌদি আরব ও একই সঙ্গে ইরানের জন্যও পারমাণবিক জ্বালানি সহযোগিতার প্রস্তাব দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে পাকিস্তানের জন্য একটি কূটনৈতিক ভূমিকা পালনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    তারিক খান আরো বলেন, ‘পাকিস্তানকে শেষ পর্যন্ত হয় ইরান ও চীনের পক্ষে, নয়তো সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অবস্থান নিতে হতে পারে। যে পক্ষই বেছে নেওয়া হোক না কেন, অপর পক্ষের সম্ভাব্য প্রত্যাখ্যান বা দূরত্ব সৃষ্টির পরিণতি ইসলামাবাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন ও ক্ষতিকর হতে পারে।’

  • যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি সত্ত্বেও মেয়াদ বাড়ল ভলকার তুর্কের

    যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি সত্ত্বেও মেয়াদ বাড়ল ভলকার তুর্কের

    যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইসরাইলের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ শুক্রবার মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে ভলকার তুর্কের মেয়াদ আরও চার বছরের জন্য নবায়ন করেছে।

    জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের প্রস্তাব অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদে ১৪৪টি দেশ পক্ষে, ১০টি বিপক্ষে এবং ১৩টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকার মাধ্যমে তুর্কের মেয়াদ নবায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন মেয়াদ শুরু হবে ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর থেকে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

    রাশিয়ার পক্ষ থেকে তুর্কের মেয়াদ মাত্র কয়েক মাস বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাখার বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে, তা বিপুল ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়। একইভাবে ভোট স্থগিত রাখার যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধও গ্রহণ করা হয়নি।

    জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনা ও সংস্কারবিষয়ক প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত জেফ বার্টোস চার বছরের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তিনি প্রক্রিয়াগত ও নীতিগত—উভয় দিক থেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন এবং অভিযোগ করেন, গুতেরেস পুরো প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করেছেন।

    ভোটের আগে বার্টোস সতর্ক করে বলেন, ‘কোনো ভুল করবেন না: যদি এই পরিষদ পদ্ধতিগত বাড়াবাড়ি, গোপন আঁতাত এবং জাতিসংঘের পদের অপব্যবহার মেনে নেয়, তবে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে জাতিসংঘে তার সম্পৃক্ততা, অংশগ্রহণ এবং অর্থায়ন পুনর্বিবেচনা করবে।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, গুতেরেস তাড়াহুড়ো করে সময়সূচি এগিয়ে নিয়েছেন, যাতে তার দীর্ঘদিনের বন্ধুকে চার বছরের নির্বাহী মেয়াদের সুবিধা দেওয়া যায়।

    তবে, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জেরোম বোনাফোঁ ভলকার তুর্কের প্রশংসা করে তাকে ‘বিবেকের কণ্ঠস্বর’ আখ্যা দেন। তিনি বলেন, প্রথম মেয়াদে তুর্ক ‘দৃঢ়তা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে’ দায়িত্ব পালন করেছেন।

    অস্ট্রিয়ার নাগরিক আইনজীবী ভলকার তুর্ক ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি মানবাধিকারের সর্বজনীনতা এবং আন্তর্জাতিক আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।

    তার মেয়াদকালে তিনি রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসন, গাজা যুদ্ধ, আফগানিস্তান, সুদান, বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং নিকারাগুয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সরব ছিলেন।

    তবে, কিউবা, চীনের শিনজিয়াং অঞ্চলের উইঘুর মুসলিমদের পরিস্থিতি এবং গাজা প্রসঙ্গে সরাসরি ‘গণহত্যা’ শব্দ ব্যবহার না করার কারণে তিনি সমালোচনার মুখেও পড়েছেন। জাতিসংঘের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ও প্রতিবেদক এ ক্ষেত্রে ওই শব্দ ব্যবহার করেছিলেন।

    তুর্কের অবস্থানের কারণে রাশিয়া ও ইসরাইলসহ কয়েকটি দেশের সরকারের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে।

    শুক্রবার রাশিয়া ও ইসরাইলের রাষ্ট্রদূতরা তার মেয়াদ নবায়নের বিরোধিতা করেন। তাদের বক্তব্য ছিল, জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেসের মেয়াদ চলতি বছরের শেষে শেষ হওয়ায় মানবাধিকার কমিশনার নির্বাচনের বিষয়টি তার উত্তরসূরির ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল।

  • রুশ তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা : ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

    রুশ তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা : ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

    রাশিয়ার তিউমেন তেল শোধনাগারে ইউক্রেনীয় ড্রোন আছড়ে পড়ার পর সেখানে ভয়াবহ আগুন ধরে গেছে। শনিবার (২৫ জুলাই) তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে খবরটি নিশ্চিত করেছে।

    তিউমেন অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্ডার মুর জানান, ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা কর্মী পাঠিয়ে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে এবং তিনি নিজেই পুরো পরিস্থিতি তদারকি করছেন। পরবর্তীতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শোধনাগারে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রাতভর রাশিয়ার আরও কয়েকটি স্থানে এই হামলা চালানো হয়েছে।

    মার্কিন সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি দাবি করেন, এই হামলায় রাশিয়ার কিরভ অঞ্চলের রুশ অস্ত্রের সরঞ্জাম সরবরাহে নিয়োজিত একটি কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইসাথে ইয়েকাতেরিনবার্গের একটি সামরিক রসদ সেন্টার এবং রোস্তভ-অন-ডনের একটি জ্বালানি ডিপোতেও আঘাত হানা হয়েছে।

    জেলেনস্কি আরও দাবি করেন, কাস্পিয়ান সাগরে দীর্ঘ পাল্লার হামলায় তারা ‘বড় সাফল্য’ পেয়েছেন। এতে ইরানের সাথে সামরিক পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত কয়েকটি জাহাজ এবং রাশিয়ার একটি যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    চলতি ২০২৬ সালে ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো রাশিয়ার মোট ৩৪টি শোধনাগারের মধ্যে ২৪টিতেই হামলা চালিয়েছে। অক্সফোর্ড ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি স্টাডিজের তথ্য মতে, জুনের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই রাশিয়ার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শোধনাগার অচল হয়ে পড়েছিল।

    রুশ তেল শোধনাগারগুলোতে হামলার তীব্রতা বাড়ায় নিজ দেশের জ্বালানি বাজার স্বাভাবিক রাখতে মাঝে মধ্যেই বেশ কিছু বিধিনিষেধ দিতে বাধ্য হচ্ছে মস্কো। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্বীকার করেছেন যে, ইউক্রেনের এই হামলাই তাদের জ্বালানি সংকটের মূল কারণ। তবে একই সাথে তিনি দাবি করেছেন, পরিস্থিতি এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।

  • জাপানি কোজো-ফিলিস্তিনিদের  ‘আহমদ আল-ইয়াবানি’র’ মৃত্যু

    জাপানি কোজো-ফিলিস্তিনিদের ‘আহমদ আল-ইয়াবানি’র’ মৃত্যু

    ৭৮ বছর বয়সে কোজো ওকামতোর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে অবসান হলো আন্তর্জাতিক প্রতিরোধের এক উত্তাল অধ্যায়ের। ১৯৭২ সালে ইসরাইলের লর্ড বিমানবন্দরে ঐতিহাসিক গেরিলা আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়ে আলোচনায় আসা এই জাপানি বিপ্লবীর জীবনের বেশিরভাগ সময়ই কাটিয়েছেন লেবাননে।

    দীর্ঘ দিন রোগে ভোগের পর বৃহস্পতিবার বৈরুতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এক বার্তায় খবরটি নিশ্চিত করেছে ‘পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন’ (পিএফএলএফ)। বহু বছর ধরে তারাই লেবাননে ওকামতোকে সুরক্ষা ও নিরাপত্তা দিয়ে আসছিল।

    মিডলইস্ট আই শুক্রবার(২৪ জুলাই) জানিয়েছে, ফিলিস্তিনিদের কাছে ‘আহমদ আল-ইয়াবানি’ বা ‘জাপানি আহমদ’ নামে পরিচিত এই যোদ্ধা লেবাননে স্থায়ী হওয়ার পর খুব একটা প্রকাশ্যে আসতেন না। তবে ফিলিস্তিনের মুক্তিসংগ্রামের আন্তর্জাতিক সংহতির এক অনন্য প্রতীক হয়ে ছিলেন তিনি। পিএফএলএফ তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছে, ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ে তিনি ছিলেন আপসহীন এক যোদ্ধা, যিনি কখনো মূল নীতি থেকে পিছু হটেননি।

    ১৯৭২ সালের ৩০ মে জাপানিজ রেড আর্মির সদস্য ওকামতো ও তার দুই সঙ্গী ইউরোপ থেকে বিমানে ইসরাইলের তৎকালীন লর্ড বিমানবন্দরে (বর্তমান বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর) নামেন। সঙ্গে থাকা রাইফেল ও গ্রেনেড নিয়ে আক্রমণ শুরু করলে ২৬ জন নিহত হন।

    পাল্টা হামলায় ওকামতোর দুই সঙ্গী নিহত হন এবং আহত অবস্থায় ওকামতো ইসরাইলি বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। পিএফএলএফ জানায়, ১৯৬৮ সালে বৈরুত বিমানবন্দরে ইসরাইলি হামলার জবাবে এই প্রতিরোধ অভিযান চালানো হয়েছিল।

    ইসরাইলি আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। কারাগারে ১২ বছরের বন্দিজীবনে তাকে চরম নির্যাতন ও নির্জন প্রকোষ্ঠে রাখা হয়। এমনকি হাত পেছনে বেঁধে কুকুরের মতো মেঝে থেকে খাবার খেতে বাধ্য করা হতো। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তিনি মুক্তি পেয়ে লেবাননে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন।

    ১৯৯৭ সালে লেবানন সরকার ওকামতোসহ পাঁচ জাপানিকে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে গ্রেপ্তার করে। ২০০০ সালে বাকিদের টোকিওর হাতে তুলে দিলেও বৈরুত ওকামতোকে হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং তাকে স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি দেয়। বিচারে তিনি নিজেকে সদেভেদে ‘একজন আরব প্রতিরোধ যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।

    ১৯৭১ সালে গঠিত বামপন্থী জাপানিজ রেড আর্মি ফিলিস্তিনি সংগ্রামের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল। ওকামতো শেষ দিন পর্যন্ত লেবাননে ছিলেন। নিজ দেশ ছেড়ে ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানো এই কিংবদন্তিকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরোধকামী মানুষ।

  • শত্রু পূর্ণ আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত অবিরাম হামলা চলবে: ইরান

    শত্রু পূর্ণ আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত অবিরাম হামলা চলবে: ইরান

    ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর লক্ষ্যভিত্তিক ও অবিরাম আক্রমণ শত্রুর পূর্ণ আত্মসমর্পণ না হওয়া পর্যন্ত থামবে না বলে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ বাকের জোলকাদর। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা শনিবার (২৫ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এই খবর জানিয়েছে।

    একটি বার্তায় সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ বাকের জোলকাদর স্পষ্ট জানান, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ও বাতাসে যে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছে, তার প্রতিটিই প্রমাণ করে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা মার্কিন কোনো সামরিক, নিরাপত্তা কিংবা আর্থিক কেন্দ্রকে সঠিকভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

    বার্তাটির শেষ অংশে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের যোদ্ধাদের এই নিরবচ্ছিন্ন ও সুনির্দিষ্ট আক্রমণ মূলত খামেনির বিদ্রোহী ইরানি জাতির ক্ষোভের চাবুক। শত্রু সম্পূর্ণ নতিস্বীকার না করা পর্যন্ত এবং মিনাব ও লামার্দে অন্যায়ের শিকার হওয়া নিষ্পাপ শিশুদের রক্তের প্রতিশোধ না নেওয়া পর্যন্ত এই হামলা অব্যাহত থাকবে।

  • নিহত প্রত্যেক ইরানির জন্য একজন মার্কিন সেনাকে হত্যা করা হবে

    নিহত প্রত্যেক ইরানির জন্য একজন মার্কিন সেনাকে হত্যা করা হবে

    ইরানের একজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার বলেছেন, ‘মার্কিন হামলায় নিহত প্রত্যেক ইরানি বেসামরিক নাগরিকের জন্য একজন মার্কিন সেনাকে হত্যা করা হবে।’ ইরানের সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ-এর প্রতিবেদনে তথ্য জানা গেছে।

    দেশটির সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া সদর দফতরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি বলেছেন, ‘শত্রুর কাছে আমরা যে নিয়মটি কার্যকর বলে প্রমাণ করেছি, তা এই মুহূর্ত থেকে যুদ্ধক্ষেত্রের একটি চূড়ান্ত এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত সমীকরণ। ইরানের প্রত্যেক গর্বিত নাগরিকের শাহাদাতের বিনিময়ে একজন মার্কিন সেনাকে হত্যা করা হবে।’

    মার্কিন বাহিনীকে উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের জন্য জাহান্নামে যাওয়ার বিনামূল্যে ও সরাসরি টিকিট প্রস্তুত করে রেখেছি।’

  • ইরান-মার্কিন যুদ্ধ:কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখন অনিশ্চিৎ

    ইরান-মার্কিন যুদ্ধ:কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখন অনিশ্চিৎ

    ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে শুক্রবার আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তেহরান এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ‘বড় ধরনের সামরিক শাস্তির’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে তিনি একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে একটি কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। দুই সপ্তাহ আগে যুদ্ধবিরতির জন্য করা অন্তর্বর্তী চুক্তি ভেঙে পড়ার পর সংঘাত আবারও তীব্র হয়ে ওঠে। এর জবাবে ইরান প্রতিবেশী আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং সতর্ক করে যে, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীরা ব্যবহার করে- এমন বেসামরিক স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

    সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও সেতুতে হামলা, খার্গ দ্বীপের তেলকেন্দ্র দখলে স্থলবাহিনী পাঠানো এবং ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে পরিচিত ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন। তবে শুক্রবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, নতুন করে বড় ধরনের হামলার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। ট্রাম্প বলেন, আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি। আমার মনে হয় তারা এবার সত্যিই গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করছে। তবে তার মানে এই নয় যে আমরা অবশ্যই কোনো সমঝোতায় পৌঁছাব।

    যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার কৌশল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটি পথ হলো সামরিক অভিযান আরও জোরদার করে তাদের সব সক্ষমতা ধ্বংস করা। আরেকটি, আরও বুদ্ধিমানের কাজ হলো একটি চুক্তিতে পৌঁছানো। তবে তিনি সতর্ক করে যোগ করেন, আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। প্রয়োজনে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে ট্রাম্প জানান, আগামী সপ্তাহে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাবেন। মঙ্গলবার দুই নেতার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান পাঁচ মাসে গড়াবে। পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার হরমুজ প্রণালি এখনও এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু। প্রায় পাঁচ মাসের যুদ্ধে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কাও জোরালো হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত টানা ১৩তম রাতের মতো ইরানে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জুনের শেষ দিকে সংঘর্ষ পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন হামলায় ৫৯ জন নিহত এবং ৬৬৬ জন আহত হয়েছেন। ইরানের সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ যৌথ কমান্ডের প্রধানের বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যম জানায়, প্রতিটি নিহত ইরানির বদলে একজন মার্কিন সেনাকে হত্যা করা হবে। অন্যদিকে এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, ৭ জুলাইয়ের পর থেকে অন্তত ১০০ জন সেনা আহত হয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মোট আহতের সংখ্যা ইতিমধ্যে ৫০০ জনেরও বেশি।

    কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থগিত আলোচনা পুনরায় শুরু করার পথ খুঁজছে পাকিস্তান। এই উদ্যোগে চীনেরও সমর্থন রয়েছে। পাকিস্তানি তিনটি সূত্রের দাবি, চলতি সপ্তাহে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইসকান্দার মোমেনি ইসলামাবাদ সফরের সময় এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। গত ১০ দিনের মধ্যে এটি ছিল তার দ্বিতীয় পাকিস্তান সফর। ওদিকে, হুতিদের হামলার কারণে বেশ কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ পথ পরিবর্তন করে সুয়েজ খাল হয়ে আফ্রিকা ঘুরে এশিয়ার দিকে যাত্রা শুরু করেছে, যা অনেক দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল রুট। শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আগের দিনের তুলনায় চার ডলারের বেশি কমে প্রতি ব্যারেল ৯৬ ডলারের কিছু ওপরে নেমে আসে। এর আগে সৌদি ট্যাংকারে হামলার খবরে দাম ৭ শতাংশ বেড়ে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা মে মাসের পর সর্বোচ্চ।

  • ‘ইত্যাদি’ এবার লক্ষ্মীপুরে

    ‘ইত্যাদি’ এবার লক্ষ্মীপুরে

    লোকজ ইতিহাস, সভ্যতা, সংস্কৃতি, পুরাকীর্তি, অনন্য পর্যটন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের অজানা সব বৈচিত্র্যময় গৌরবগাথাকে দর্শকের সামনে তুলে ধরে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের পর্বের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে নদীঘেরা উপকূলীয় জনপদ লক্ষ্মীপুরকে। স্থানীয় ইতিহাস ও সৌন্দর্যকে উপজীব্য করে মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছিল শতবর্ষ প্রাচীন দালাল বাজার জমিদারের স্মৃতিবহনকারী নবীন কিশোর উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে।

    ইত্যাদির ধারণকে ঘিরে পুরো লক্ষ্মীপুরজুড়ে ছিল উৎসবের আবহ। দুপুরের পর থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে আসতে শুরু করেন দর্শকরা। প্রতিবারের মতো এবারও স্থানীয় জেলা প্রশাসনের মাধ্যমেই দর্শকদের জন্য আমন্ত্রণপত্র বিতরণ করা হয়। দেখতে দেখতে নির্ধারিত সময়ের আগেই অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ কানায়-কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। জেলা সদরে আয়োজিত হলেও দূর-দূরান্তের উপজেলা, এমনকি পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকেও ছুটে এসেছিলেন নানা শ্রেণী-পেশার দর্শক।

    এবারের অনুষ্ঠানে থাকছে দুটি বিশেষ গান। একটিতে কণ্ঠ মিলিয়েছেন লক্ষ্মীপুরের কণ্ঠশিল্পী তানজিনা রুমা এবং ফেনীর কণ্ঠশিল্পী সাজিয়া সুলতানা পুতুল। গীতিকার কবির বকুলের কথায় দরদী সুরে গানটি সৃষ্টি করেছেন আকাশ মাহমুদ।

    অন্যদিকে, প্রতিবারের মতো এবারও থাকছে জেলা-পরিচিতিমূলক নৃত্যগীত। মনিরুজ্জামান পলাশের কথায় গানটির সুর-সংগীতায়োজন করেছেন উজ্জ্বল সিনহা। তানজিনা রুমা ও রাজিবের কণ্ঠে সুরের মূর্ছনায়, এস কে জাহিদের কোরিওগ্রাফিতে মঞ্চ মাতিয়েছেন স্থানীয় নৃত্যশিল্পীরা।

    দর্শকপর্বে লক্ষ্মীপুরকে ঘিরে করা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকের মধ্যে থেকে চারজনকে নির্বাচন করা হয়। তারপর এই নির্বাচিত দর্শকরা তাদের জেলারই কৃতিসন্তান জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিলারা জামানের সঙ্গে অভিনয় করেন।

    পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্টজয়ী প্রথম বাংলাদেশি নারী, লক্ষ্মীপুরের সন্তান নিশাত মজুমদারের একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার। বলেছেন পর্বতারোহণ ও ইত্যাদি নিয়ে তার অনুভূতির কথা।

    প্রতিবারের মতো এবারের পর্বেও থাকছে কয়েকটি অনবদ্য প্রতিবেদন। লক্ষ্মীপুরের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য বিস্তৃত মাঠজুড়ে সয়াবিনের সমারোহ, নারিকেল ও সুপারিগাছের সারি। এসবের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান-স্থাপনার ওপর রয়েছে একটি তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন। শিক্ষা ও উদ্দীপনার অনন্য এক উদাহরণ হিসেবে সেখানকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওপর রয়েছে উদ্দীপনামূলক প্রতিবেদন।

    এ ছাড়াও রয়েছে নদী আর ভাগ্যের সঙ্গে অবিরাম লড়াই করা লক্ষ্মীপুরের এক নিঃস্ব মাঝিকে নিয়ে একটি মানবিক প্রতিবেদন। একসময় নদী যার আয়ের উৎস ছিল, আজ সেই নদীই তাদের নিঃস্ব করেছে।

    এবারের বিদেশি পর্বে রয়েছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-ফেরত সৈনিকদের তৈরি অন্যতম জনপ্রিয় ও চোখধাঁধানো উপকূলীয় পথ বিশ্বের দীর্ঘতম যুদ্ধস্তম্ভ ‘গ্রেট ওশান রোড’।

    থাকছে কাশেম টিভির রিপোর্টার ও নাতির প্রাণবন্ত আলাপ। এ ছাড়াও ইত্যাদির নিয়মিত আয়োজন চিঠিপত্র পর্ব ছাড়াও রয়েছে বেশকিছু সামাজিক অসংগতি ও সমসাময়িক প্রসঙ্গনির্ভর তীক্ষ্ম ও তীর্যক নাট্যাংশ। তৈল টিভি, মুখোশের অন্তরালে, স্ক্রিনবন্দি জীবন, উন্নয়ন প্রতারণা, বিয়ে যন্ত্রণা, সবাই ডাক্তার, ইউটিউব ফিভার, ডিজিটাল চিকিৎসা, খাঁটি সোনা ও নকল সোনাসহ বেশ কয়েকটি নাট্যাংশ।

    এবারের ইত্যাদিতে উল্লেখযোগ্য শিল্পীরা হলেন সোলায়মান খোকা, আজম খান, সুভাশিষ ভৌমিক, আবদুল্লাহ রানা, মীর নাসিমুল ইসলাম সেলিম, জিল্লুর রহমান, আব্দুল আজিজ, বড়দা মিঠু, শরাফ আহমেদ জীবন, হারুন রশিদ বান্টি, আশরাফুল আলম সোহাগ, সুমন পাটোয়ারী, আমিন আজাদ, মুকিত জাকারিয়া, আনন্দ খালেদ, সাইদুর রহমান পাভেল, এমএনইউ রাজু, আনোয়ারুল আলম সজল, আনোয়ার শাহী, জামিল হোসেন, সাবরিনা নিসা, জাহিদ শিকদার, কামাল বায়েজিদ, সাজ্জাদ সাজু, নূরে আলম নয়ন, সুজাত শিমুল, সুবর্ণা মজুমদার, তারিক স্বপন, মুকুল সিরাজ, নজরুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন, সূচনা শিকদার, নিপু, বেলাল আহমেদ মুরাদসহ আরও অনেকে। শিল্প নির্দেশনা ও মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন মুকিমুল আনোয়ার মুকিম।

    আগামী শুক্রবার বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর প্রচার হবে দর্শকপ্রিয় ইত্যাদির এই পর্ব। রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। স্পন্সর করেছে যথারীতি কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড।

  • শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পরও চলবে তেলাপোকাদের আন্দোলন

    শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পরও চলবে তেলাপোকাদের আন্দোলন

    ভারতের ককরোচ বা তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বাধীন ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। ইতিমধ্যে ধর্মেন্দ্র তার পদত্যাগের কথা ঘোষণা দিয়েছেন। তবে সর্বশেষ সিজেপি জানিয়েছে, তাদের আরও তিনটি দাবি রয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    এনিয়ে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেছেন, ধর্মেন্দ্র পদত্যাগ করলেও এখনই তেলাপোকারা (বিক্ষোভকারী) বিক্ষোভস্থল থেকে চলে যাবে না। এনডিটিভি জানিয়েছে, ধর্মেন্দ্রের পদত্যাগের খবরের পর বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে দেয়া প্রথম ভাষণে এমনটাই বলেছেন অভিজিৎ।

    পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সিজেপি লিখেছে, ধর্মেন্দ্রের পদত্যাগ সম্পন্ন, এখন নিটের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১ কোটি রুপি দিতে হবে। বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া যাবে না। তৃতীয় দাবি হলো, র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) এবং দিল্লি পুলিশকে বিক্ষোভকারীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

    এদিকে ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগের খবরে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিজয়-উল্লাস করছেন। সেই সঙ্গে দেশটির অনেক মানবাধিকারকর্মী, পরিবেশবিদসহ বিভিন্ন রাজনীতিবিদ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।
    আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, এটি ভারতের গণতন্ত্রের বড় জয়। এ ছাড়া চলমান এই আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনাম ওয়াংচুকও জানিয়েছেন, এটি গনতন্ত্রের বিজয়।

  • পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিং

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিং

    বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী ভারত

    বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী ভারত। শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেছেন মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

    ব্রিফিংয়ে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ভারতে দু’জন প্রেস কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ। অতীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ভারতবিরোধী পোস্ট নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া জানতে চান ওই সাংবাদিক। জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি যে, একজন নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

    আমরা এখানে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে কাজ করে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কি না। এমন প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ব্রিকস সম্মেলন নিয়ে এই মুহূর্তে আমাদের পক্ষ থেকে জানানো মতো কোনো তথ্য নেই। উপযুক্ত সময়ে এ বিষয়ে ঘোষণা করা হবে।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ব্রিফিংয়ে গৌতম লাহিড়ী নামের এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত শিগগিরই ঢাকা সফরে আসছেন। তিনি কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে জানিয়েছেন? তার সফরের উদ্দেশ্য কী হবে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবগত রয়েছে কিনা? জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সফর প্রসঙ্গে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

    ব্রিফিংয়ে রণধীর জয়সওয়াল কেবল পাকিস্তান, আসিয়ান, সিন্ধুর পানি চুক্তি এবং অন্যান্য বিষয়েই বক্তব্য দেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের অভিযোগ, সিন্ধু পানি চুক্তি, চেনাব নদীর বন্যা, চীন, বাংলাদেশ এবং ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতে নিহত ভারতীয় নাবিকদের প্রসঙ্গ উঠে আসে ।

    আসিয়ান ফোরামে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তান যে অভিযোগ তুলেছে, তা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে নয়াদিল্লি। রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারত ইতিমধ্যেই একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে পাকিস্তানের উত্থাপিত প্রতিটি অভিযোগের জবাব দিয়েছে। তিনি বলেন, ফিতনা আল-হিন্দুস্তানের মতো শব্দ ব্যবহার করে পাকিস্তান ধর্মীয় বয়ানকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করছে।

    সিন্ধুর পানি চুক্তি নিয়ে ভারতের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখপাত্র। তিনি বলেন, পাকিস্তান বিশ্বাসযোগ্য ও স্থায়ীভাবে সীমান্তপাড়ের সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বন্ধ না করা পর্যন্ত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতই থাকবে।
    চীনের সার্বভৌমত্ব ইস্যুতে এক প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, ভারত কখনও চীনের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেনি। বরং ১৯৬৩ সাল থেকে চীন ভারতের জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের কিছু এলাকা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া ভারতের দাবি করা ভূখণ্ডে চীনের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়েও আপত্তি পুনর্ব্যক্ত করেন।

    চেনাব নদীতে পানি ছেড়ে পাকিস্তানে ইচ্ছাকৃতভাবে বন্যা সৃষ্টি করেছে- পাকিস্তানি গণমাধ্যমের এমন অভিযোগও নাকচ করেছে ভারত। জয়সওয়াল বলেন, ২০ থেকে ২৩ জুলাই জম্মু ও আশপাশের উজান এলাকায় ভারী বর্ষণের কারণেই চেনাব নদীর পানি বেড়েছে। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানের লাহোরভিত্তিক ফ্লাড ফোরকাস্টিং ডিভিশন-ও তাদের ২২ জুলাইয়ের বন্যা সতর্কতায় একই ব্যাখ্যা দিয়েছে।

    তার ভাষায়, নদীর পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি ছিল স্বাভাবিক জলবিদ্যাগত প্রতিক্রিয়া, ভারতের কোনো ইচ্ছাকৃত পদক্ষেপের ফল নয়।
    ভারত বন্যা সংক্রান্ত তথ্য গোপন করেছে- এ অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন জয়সওয়াল। তিনি বলেন, ওই সময় নদীর পানিপ্রবাহ এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি, যাতে বিশেষ বন্যা সতর্কতা জারি করার প্রয়োজন হতো।

    তবে মানবিক কারণে, গত বছরের মতো ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হলে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে পাকিস্তানের সঙ্গে বন্যা সংক্রান্ত তথ্য ভাগাভাগি করবে ভারত।
    ভারতে চলমান ছাত্র বিক্ষোভে বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে শেয়ার করার মতো কোনো তথ্য নেই।

  • যুক্তরাষ্ট্রে টিকা নিতে অনীহা:ভয়াবহ হামের প্রকোপের আশঙ্কা

    যুক্তরাষ্ট্রে টিকা নিতে অনীহা:ভয়াবহ হামের প্রকোপের আশঙ্কা

    যুক্তরাষ্ট্রে হামের প্রকোপ চলছে, যা গত ৩৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ। টিকার প্রতি অনীহা বাড়তে থাকায় দেশটিতে রোগটির সংক্রমণও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) গতকাল শুক্রবার বলেছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৩১৮টি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ সংখ্যা ২০২৫ সালের মোট সংক্রমণের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। ওই বছর রেকর্ড ২ হাজার ২৮৯টি সংক্রমণ শনাক্ত এবং দুই শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়।

    আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের সভাপতি অ্যান্ড্রু রেসিন বলেন, ‘আমরা এমন একটি সংকটের মুখোমুখি হয়েছি, যা পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব ছিল। অথচ এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছে শিশুরা।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটিকে কোনোভাবেই আমাদের নতুন স্বাভাবিক বাস্তবতা হিসেবে মেনে নেওয়া উচিত নয়।’

    হামের কারণে সাধারণত জ্বর, শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন উপসর্গ এবং ত্বকে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি আরও গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে। এর মধ্যে আছে নিউমোনিয়া ও মস্তিষ্কে প্রদাহ (এনসেফালাইটিস), যা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত সমস্যা, এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে।

    টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের কারণে ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে হাম নির্মূল হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় টিকাদানের হার কমে যাওয়া এবং জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রতি মানুষের অবিশ্বাস বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে আবার উদ্বেগজনকভাবে হামের সংক্রমণ ফিরে এসেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রে হামের এ প্রাদুর্ভাব এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আগামী দিনগুলোয় আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়বে। সাউথ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মেলিসা নোলান বলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস, অনেক হামের সংক্রমণ শনাক্তই হচ্ছে না।’

    চলতি বছর সাউথ ক্যারোলাইনাতে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। মেলিসা নোলান এএফপিকে বলেন, ‘যেসব মানুষ সন্তানদের টিকা দেন না, সাধারণত চিকিৎসা নিয়েও তাঁদের মধ্যে অনীহা বা দ্বিধা থাকে।’

    যুক্তরাষ্ট্রে হামের টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও অনেক অঙ্গরাজ্যে ধর্মীয় কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিশ্বাসের কারণ দেখিয়ে এ বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সুযোগ আছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকে টিকা না নেওয়ার প্রবণতা উল্লেখজনকভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে টিকা নিয়ে ভুয়া তথ্যের ছড়াছড়ি ও জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রতি মানুষের অবিশ্বাস বেড়েছে।

    উদাহরণ হিসেবে সাউথ ক্যারোলাইনার কথা উল্লেখ করেন নোলান। বলেন, ‘সেখানে এমন অসংখ্য জায়গা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক গ্রুপ ও পেজ আছে, যেখানে মানুষকে শেখানো হয় কীভাবে টিকা না নেওয়ার জন্য আইনি ছাড় পাওয়া যায়।’

    ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটন পোস্ট ও অলাভজনক সংস্থা কেএফএফের একটি যৌথ জরিপ প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, প্রতি ছয় মার্কিন অভিভাবকের একজন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা এবং জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আস্থার অভাবের কারণে সন্তানদের টিকা দিতে চান না বা দেরি করেন।

    বিশেষ করে শ্বেতাঙ্গ ও রক্ষণশীল জনগোষ্ঠীর মধ্যে এ প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষজ্ঞদের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

    নোলানের মতে, এখন যে হামের প্রাদুর্ভাব চলছে, তা সম্ভবত আরও বড় সংকটের সূচনা মাত্র। তাঁর আশঙ্কা, আগামী দিনে হুপিং কাশি এবং টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য অন্য রোগগুলোর সংক্রমণ ক্রমে বাড়তে দেখা যাবে।

  • হামলার পরও মার্কিন উপস্থিতি বাড়াচ্ছে জর্ডান সরকার

    হামলার পরও মার্কিন উপস্থিতি বাড়াচ্ছে জর্ডান সরকার

    মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় তিন দশক ধরে মার্কিন সামরিক অভিযানের জন্য জর্ডান একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে আগ্রাসনের পর সেই জর্ডানকে এখন চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে। সম্প্রতি জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক বাহিনীর ঘাঁটি নিশানা করে দেশটির ওপর হামলা জোরদার করেছে ইরান।

    তবে জর্ডানের আকাশে নিয়মিত সাইরেন বাজতে থাকলেও দেশটি মার্কিন উপস্থিতি সীমিত করার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে জর্ডান সেসব সামরিক কার্যক্রম সংকুচিত করতে পারছে না।

    মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় এই অঞ্চলের অন্যান্য কিছু মার্কিন মিত্র তাদের ভূখণ্ডে সেনা ঘাঁটি তৈরি এবং ওপর দিয়ে বিমান উড্ডয়নের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও জর্ডান এমন কোনো সীমাবদ্ধতা আরোপ করার মতো অবস্থানে নেই।

    ইয়োম বলেন, ১৯৫০-এর দশক থেকে জর্ডান যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যে সহায়তা পেয়ে আসছে, তা অন্য কারও পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়।

    গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আগ্রাসন শুরুর পর, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের ওপর হামলা চালিয়ে প্রতিশোধ নেয়। যুদ্ধের প্রথম কয়েক মাসে ইরান মূলত ইসরায়েল ও উপসাগরে থাকা মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্যবস্তু করেছিল, তবে তারা জর্ডানের দিকেও শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল।

    ইরানের হামলায় বিপদে জর্ডান

    এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উভয় পক্ষই হামলা বাড়িয়েছে এবং ইরান তাদের লক্ষ্যবস্তুর পরিধি আরও বিস্তৃত করেছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত রোববার জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। চতুর্থ ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি জনহীন এলাকায় গিয়ে পড়েছে।

    জর্ডান সরকারকে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের পরিচালক হাসান আলমোমানি বলেছেন, ‘প্রতিবেশীদের আঘাত করার এই ইরানি কৌশলগত তীব্রতার লক্ষ্য হলো ওই প্রতিবেশীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, যার মূল উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ তৈরি করা।’

    শুক্রবার মুওয়াফফাক সালতি ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত এবং তৃতীয় একজন নিখোঁজ হন। সপ্তাহের শুরুতে জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ওপর অন্য তিনটি হামলায় ডজনখানেক মার্কিন সেনা আহত হন এবং বেশ কয়েকটি ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    জর্ডানে মার্কিন সেনা উপস্থিতি প্রতিরক্ষাচুক্তির অংশ বলে উল্লেখ করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা।

    মার্কিন বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে জর্ডানের বিমানঘাঁটিগুলো থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াই, সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় বিদ্রোহী যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ এবং ইরাকে আক্রমণের মতো মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের ঘাঁটি ছিল এই দেশ। একটি সংসদীয় প্রতিবেদন অনুসারে, বর্তমানে দেশটিতে প্রায় চার হাজার মার্কিন সামরিক সদস্য রয়েছেন।

    স্থায়ী মার্কিন উপস্থিতি নিশ্চিত করতে মুওয়াফফাক সালতি এবং অন্য ঘাঁটিগুলোকে মানানসই করে গড়ে তোলা হয়েছে। পেন্টাগনের সাবেক মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বর্তমানে ‘ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির’ সিনিয়র ফেলো গ্রান্ট রামলে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে জর্ডানের অবকাঠামো যথেষ্ট শক্তিশালী। তিনি এটিকে একটি স্থলভিত্তিক বিমানবাহী রণতরীর সঙ্গে তুলনা করেছেন।

    রামলে বলেন, মুওয়াফফাক সালতি তুলনামূলকভাবে দূরবর্তী স্থানে অবস্থিত, যা মার্কিন বাহিনীকে অহেতুক নজরকাড়া এড়িয়ে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেয়। আর জর্ডান উপসাগরীয় দেশগুলোর চেয়ে ইরান থেকে দূরে হওয়ায় জর্ডানে থাকা মার্কিন বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাব দেওয়ার জন্য বেশি সময় পায়।

    মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপদ আশ্রয়

    মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি পর্বে এবং যুদ্ধের শুরুর দিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় আরব দেশ থেকে তাদের কিছু সৈন্যকে জর্ডান এবং প্রতিবেশী ইসরায়েলের তুলনামূলকভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছিল।

    আলমোমানি বলেন, ‘ইরানের যুদ্ধ প্রকাশ করে দিয়েছে, জর্ডান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি বলেন, চলতি বছর ওয়াশিংটন জর্ডানে সামরিক সাহায্য ৫০ কোটি ডলার বাড়িয়েছে।

    জর্ডানের কর্মকর্তারা প্রায়শই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে থাকেন। এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এক ফোনালাপে রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে সংঘাত কমানোর সম্ভাবনার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দেন।

    জর্ডানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা পেট্রার তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুর দিকে জর্ডানের সেনাবাহিনীপ্রধান মেজর জেনারেল ইউসেফ হুনাইতি এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ড্যানিয়েল জিমারম্যান সামরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

    জর্ডান সরকার প্রকাশ্যে ব্যাপক মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিষয়টি খুব কমই আলোচনা করে। জর্ডান ইরানে বিমান হামলা চালানোর জন্য বা ইসরায়েলের পাশাপাশি যুদ্ধ শুরুর জন্য প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেনি। যদিও বিশ্লেষকেরা বলছেন, সরকার শুরু থেকেই এই সংঘাতের তীব্র বিরোধী ছিল।

    জর্ডানের কর্মকর্তারা তাদের ভূখণ্ডে ইরানের হামলার বারবার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং গত সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আইমান সাফাদি বলেছেন, জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে বলে ইরান হামলার যে অজুহাত দেখাচ্ছে, তা মিথ্যা।

  • পে স্কেল নিয়ে নতুন দুঃসংবাদ, বাড়ছে হতাশা

    পে স্কেল নিয়ে নতুন দুঃসংবাদ, বাড়ছে হতাশা

    দীর্ঘ ১১ বছর ধরে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে অপেক্ষায় থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে আবারও আলোচনা তুঙ্গে। গত ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকরের প্রত্যাশা থাকলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ফলে চাকরিজীবীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে।

    নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সম্প্রতি অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে সংস্থাটি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নতুন পে স্কেল সময়ের দাবি। তবে এটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থানই সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

    সরকারের রাজস্ব আয় এখনো প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছায়নি। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতির চাপও রয়েছে। এ অবস্থায় বড় পরিসরে বেতন বৃদ্ধি সরকারি ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি বাজারে অতিরিক্ত অর্থের প্রবাহ মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলেও সংস্থাটির আশঙ্কা।

    আইএমএফ

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হলে তাদের বেতন-ভাতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতার জন্য প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এ খাতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।

    এ ছাড়া ‘জনপ্রশাসন-নিট’ খাতে সংশোধিত বাজেটের তুলনায় অতিরিক্ত ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা সংরক্ষণ করা হয়েছে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য। এ অর্থ সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধিতে ব্যয় করা হবে।

    তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকারি ব্যয় বাড়লেও রাজস্ব আদায় সেই অনুপাতে বাড়ছে না। ফলে একসঙ্গে পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়ন করলে বাজেট ঘাটতি বাড়তে পারে এবং দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতেও তারল্য সংকটের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

    সরকারি সূত্রগুলোও ইঙ্গিত দিচ্ছে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এক ধাপে পুরো পে স্কেল বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে। তাই ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে মূল বেতন (বেসিক) বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা যুক্ত করা হতে পারে।

    এদিকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সম্প্রতি অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে সংস্থাটি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    আইএমএফের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সরকারের রাজস্ব আয় এখনো প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছায়নি। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতির চাপও রয়েছে। এ অবস্থায় বড় পরিসরে বেতন বৃদ্ধি সরকারি ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি বাজারে অতিরিক্ত অর্থের প্রবাহ মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলেও সংস্থাটির আশঙ্কা।

    বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশলই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত হতে পারে।

    এখন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৃষ্টি সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের দিকে।

  • ধর্মেন্দ্রের পদত্যাগের পর বিক্ষোভকারীদের সরাতে যন্তর মন্তরে নিরাপত্তা বাহিনী

    ধর্মেন্দ্রের পদত্যাগের পর বিক্ষোভকারীদের সরাতে যন্তর মন্তরে নিরাপত্তা বাহিনী

    ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ও বিরোধী দলগুলোর ভারতজুড়ে বিক্ষোভের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। আজ শনিবার তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র পাঠান।

    ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের কথা ঘোষণার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য আন্দোলনস্থল যন্তর মন্তরে ঢুকতে শুরু করেছেন। তাঁরা সেখান থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান লিখেছেন, ‘প্রথম দিন থেকেই আমি এর দায়ভার গ্রহণ করেছিলাম। পরিস্থিতি থেকে আমি কখনোই মুখ ফিরিয়ে নিইনি। আমার সংকল্প ছিল, পরীক্ষা মাফিয়াদের কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে দেব না, কিংবা কোনো শিক্ষার্থীর ওপর অন্যায় হতে দেব না।’

    শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ‘যন্তর মন্তরসহ সারা দেশে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি যেন কোনো দেশবিরোধী শক্তি কাজে লাগাতে না পারে, জাতীয় ঐক্য যেন অটুট থাকে, কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেন আইনি জটিলতায় আটকে না পড়ে এবং আমাদের সন্তানেরা যেন তাঁদের সময় পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার গড়ার কাজে মনোযোগ দিতে পারে—এসব বিষয় বিবেচনা করে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।’

    মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রতিবাদে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এক মাসের বেশি সময় ধরে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর ঘিরে শিক্ষার্থীরা তীব্র আন্দোলন করে আসছেন। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে এ আন্দোলন গড়ে উঠেছে। সারা দেশ থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে সমর্থন জানান।

    গতকাল শুক্রবার দুপুরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে সিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠক করেন। সিজেপি তিনটি দাবি উত্থাপন করেছে। এগুলো হলো—শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্টের (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ।

  • পশ্চিমবঙ্গে আদিনা মসজিদের সামনে পূজা, শিবলিঙ্গ স্থাপনের ঘোষণা বিজেপির

    পশ্চিমবঙ্গে আদিনা মসজিদের সামনে পূজা, শিবলিঙ্গ স্থাপনের ঘোষণা বিজেপির

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলায় প্রায় ৬৫০ বছর পুরোনো আদিনা মসজিদকে ঘিরে নতুন করে মন্দির–মসজিদ বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপির এক নেতার নেতৃত্বাধীন উগ্র হিন্দুত্ববাদী একটি সংগঠন মসজিদের বাইরে পূজা–অর্চনা শুরু করায় এ বিতর্কের সূত্রপাত। আগামী সোমবার সেখানে একটি বড় শিবলিঙ্গ স্থাপনেরও পরিকল্পনা করছে তারা।

    ১৩৭৩ সালে সুলতান সিকান্দার শাহ নির্মিত আদিনা মসজিদকে ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ (এএসআই) মধ্যযুগে পুরো ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় মসজিদ হিসেবে বিবেচনা করে। তবে উগ্রবাদী কয়েকটি হিন্দু সংগঠন ও বিজেপির দাবি, এটি শিবের উদ্দেশে নির্মিত প্রাচীন ‘আদিনাথ মন্দিরের’ স্থানে গড়ে তোলা হয়েছিল।

    ‘আদিনাথ পুরাতন শিবমন্দির’ সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং বিজেপির উত্তরবঙ্গ ‘গুড গভর্ন্যান্স উইং’-এর আহ্বায়ক কাজল গোস্বামী বলেন, ‘এই মসজিদে হিন্দু ও বৌদ্ধ মূর্তি রয়েছে। আদিনাথ মন্দির ধ্বংস করে সেখানে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে।’

    সংগঠনটির দাবি, মসজিদটিতে হিন্দু ও বৌদ্ধধর্মের নানা প্রতীক রয়েছে। এমনকি একটি শিবলিঙ্গও রয়েছে। এ বিষয়ে এএসআইয়ের প্রতিবেদন চেয়ে তারা শিগগিরই কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করবে।

    কাজল গোস্বামী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো মন্দিরটি পুনরুদ্ধার করা এবং শিবলিঙ্গটি সেখানে স্থাপন করা।’ এ উদ্দেশ্যে প্রায় ২৮৯ কিলোমিটার দূরের পশ্চিমবঙ্গের তারকেশ্বর থেকে ৩ দশমিক ৬ ফুট উঁচু ও প্রায় দেড় টন ওজনের একটি শিবলিঙ্গ আনা হচ্ছে।

    তবে কাজল গোস্বামী বলেন, ‘আমরা আইন মেনেই কাজ করব। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি চাই না। এএসআই ও পুলিশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তাঁরা বলেছেন, মসজিদের সীমানার বাইরে পূজা করতে।’

    আদিনা মসজিদকে ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ উল্লেখ করে এএসআইয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, সংগঠকদের সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হয়েছে। তিনি বলেন, ‘স্মৃতিস্তম্ভের ভেতরে কোনো কিছুই করতে দেওয়া হবে না। পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আমরাও অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করছি।’ বর্তমানে মসজিদটির ভেতরে কোনো নামাজ হয় না।

    সম্প্রতি মালদহ জেলা পুলিশ এক সতর্কবার্তায় জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কিছু পোস্টের খবর তারা পেয়েছে, যেখানে কয়েকজন ব্যক্তি আদিনা স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে পূজা ও অন্যান্য ধর্মীয় আচার পালনের পরিকল্পনার কথা বলেছেন।

    পুলিশ জানায়, আদিনা কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষিত একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল। ১৯৫৮ সালের প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভ ও প্রত্নস্থল আইন অনুযায়ী এটি সংরক্ষিত। তাই এর ভেতরে কোনো ধর্মীয় আচার বা অননুমোদিত কার্যক্রমের অনুমতি নেই। আইন ভঙ্গ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    গত বছরের ৫ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে হিন্দুত্ববাদী বিজেপিদলীয় রাজ্যসভার সদস্য ও বর্তমান রাজ্য সভাপতি সমীক ভট্টাচার্য বিষয়টি সংসদে তোলেন।

    সংসদে সমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘১৩৭৩ সালে বাংলার সুলতান সিকান্দার শাহ আদিনা মসজিদ নির্মাণ করেন। এটি সেখানে আগে থেকে থাকা হিন্দু ও বৌদ্ধ স্থাপনার উপকরণ ব্যবহার করে নির্মিত হয়েছিল। স্থানীয় জনশ্রুতি ও ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, এখানে আগে শিব ও বিষ্ণুর উদ্দেশে নির্মিত আদিনাথ মন্দির ছিল। মসজিদের ভেতরে থাকা হিন্দু প্রতীক ও স্থাপত্যও সেই দাবিকে সমর্থন করে।’

    সমীক ভট্টাচার্য আরও বলেন, ‘ভারতে হাজারো মন্দির দখলদারদের হাতে ধ্বংস হয়েছিল। আদিনাথ মন্দিরও সেগুলোর একটি। এটি যেকোনো মূল্যে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। আশা করি, ভারত সরকার ও এএসআই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে।’

    বিজেপির রাজ্যসভার সদস্য ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক সভাপতি রাহুল সিনহা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, আদিনা বিতর্কের সঙ্গে অযোধ্যার বাবরি মসজিদ–রামমন্দির বিরোধের মিল রয়েছে। তিনি বলেন, ‘রামমন্দিরের মতো এখানেও একটি মন্দির ধ্বংস করে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল। এ মন্দিরকে ঘিরে মানুষের ধর্মীয় আবেগ রয়েছে। সেই আবেগ উপেক্ষা করা উচিত নয়। সত্য সামনে আসা প্রয়োজন।’

    রাহুল সিনহার দাবি, এখনো আদিনা মসজিদে উল্টো করে বসানো হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘অনেক আগে পর্যন্ত সেখানে পূজা হতো। পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। মন্দিরের জমিও দখল করা হয়েছে।’

    অন্যদিকে সিপিআই (এম)-এর রাজ্য সম্পাদক ও পলিটব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ সেলিম বলেন, এটি বিজেপির পুরোনো রাজনৈতিক কৌশলেরই পুনরাবৃত্তি। তিনি বলেন, ‘বিজেপি বা আরএসএস কোথাও ভিত্তি তৈরি করতে পারলেই প্রথমে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড শুরু করে। এরপর সংঘাত ও বিভাজন সৃষ্টি করে। আদিনা মসজিদ তার সর্বশেষ উদাহরণ।’

    সেলিমের দাবি, আদিনাতেই বিষয়টি থেমে থাকবে না। হুগলি, বর্ধমান, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও একই ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি করা হবে। দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে সেলিম বলেন, ‘আন্দোলনের কাজ মানুষকে এক করা, বিভক্ত করা নয়।’

    এএসআইয়ের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, আদিনা মসজিদ শুধু বাংলার নয়, মধ্যযুগে পুরো ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় মসজিদ ছিল। মসজিদের পেছনের দেয়ালে থাকা শিলালিপি অনুযায়ী, এটি ১৩৭৩ সালে ইলিয়াস শাহী বংশের দ্বিতীয় সুলতান সিকান্দার শাহ নির্মাণ করেন।

    পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর পরই কলকাতা বিমানবন্দর–সংলগ্ন অঞ্চলে ১৩৬ বছরের পুরোনো একটি মসজিদে নামাজ আদায় বন্ধ করে দিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্যের জন্য বিতর্কিত শুভেন্দু অধিকারী বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

    সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ অজুহাত দেখায়, আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তাবিধি অনুযায়ী বিমান ওঠানামার পথ বা রানওয়ে থেকে কোনো অবকাঠামোর দূরত্ব ন্যূনতম ২৪০ মিটার থাকা প্রয়োজন। ‘বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদ’ নামে এই মসজিদ রানওয়ে থেকে ১৬৫ মিটার দূরে অবস্থিত। সে কারণে এটিকে স্থানান্তরিত করা প্রয়োজন।

  • মহেশপুর সীমান্তে ছয়জন পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করলো বিজিবি

    মহেশপুর সীমান্তে ছয়জন পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করলো বিজিবি

    ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ছয়জনকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে ওই চেষ্টা প্রতিহত করেছে।

    শনিবার মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: রফিকুল আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এর আগে, সকাল আনুমানিক ৫টা ১০ মিনিটে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর অধীন সামন্তা বিওপির সীমান্ত পিলার ৫৫/এমপি সংলগ্ন গেটে এ ঘটনা ঘটে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিপক্ষ ৫৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সিঙ্গামোড়া ক্যাম্পের সদস্যরা চারজন পুরুষ ও দুইজন মহিলাসহ মোট ছয়জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা করে। ঘটনাটি সামন্তা বিওপির টহলদলের নজরে আসার সাথে সাথে বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেন। বিজিবির তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় অবস্থানের ফলে বিএসএফের পুশইনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, বর্তমানে ওই ছয়জন ব্যক্তি সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ২০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন। বিষয়টি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে বিএসএফকে অবহিত করা হয়েছে।

    মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: রফিকুল আলম জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশইন এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল, নজরদারি ও অপারেশনাল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

  • গণদাবির পক্ষে কারো ক্ষমতাই চিরস্থায়ী নয়: ককরোচ প্রধান

    গণদাবির পক্ষে কারো ক্ষমতাই চিরস্থায়ী নয়: ককরোচ প্রধান

    ভারতের শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগের খবর প্রকাশের পর যন্তর মন্তরে জড়ো হয়ে আনন্দ উদযাপন করেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং বিপুলসংখ্যক আন্দোলনকারী। এ সময় অভিজিৎ দীপকে বলেন, এটি গণতন্ত্রের বিজয়ের প্রতীক এবং তেলাপোকার শক্তিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।

    একই সঙ্গে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ এবং গত ২০ জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, গণদাবির পক্ষে কারো ক্ষমতাই চিরস্থায়ী নয়।

    অন্যদিকে, সিজেপির সঙ্গে কেন্দ্র সরকারের তৃতীয় দফার বৈঠকের আগেই শনিবার এক্সে নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি জানান, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে কোনো দেশবিরোধী গোষ্ঠী যেন কাজে লাগাতে না পারে, সে বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি।

    পাশাপাশি তিনি বলেন, পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট মাফিয়াদের কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে দেওয়া হবে না এবং এই ঘটনার দায় তিনি শুরু থেকেই নিজের কাঁধে নিয়েছিলেন।

  • জেন-জি আন্দোলনের মুখে ভারতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

    জেন-জি আন্দোলনের মুখে ভারতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

    ভারতে জাতীয় স্তরের বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়ম ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ব্যাপক আন্দোলনের জেরে পদত্যাগ করেছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন।

    শনিবার তৃতীয় দফার বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি ।

    দিল্লির যন্তর মন্তরে এক মাসের বেশি সময় ধরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

    পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে এক্সে দেওয়া বার্তায় ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ‘দেশের তরুণদের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি ও ন্যায্য প্রত্যাশার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। ভারতের নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন বাস্তবায়ন আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের নৈতিক অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রী মহোদয়ের নেতৃত্বে দেশসেবার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

    পদত্যাগের খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই যন্তর মন্তরের আন্দোলনস্থলে উল্লাসে ফেটে পড়েন আন্দোলনকারীরা। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন গত কয়েক দিনে ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়। দেশটির বিরোধী দলগুলোর সমর্থন আন্দোলনকে আরো জোরালো করে তোলে, যার ফলে সরকারকে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হয়।

  • কলকাতায় ব্রাজিলের প্রীতি ম্যাচ নিশ্চিতের পথে, আলোচনায় বাংলাদেশও!

    কলকাতায় ব্রাজিলের প্রীতি ম্যাচ নিশ্চিতের পথে, আলোচনায় বাংলাদেশও!

    ফুটবলপ্রেমীদের জন্য দারুণ এক খবর। ভারতের মাটিতে প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। আর এই ম্যাচটির সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে উঠে আসছে কলকাতার নাম। ‘ইএসপিএন ব্রাজিল’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়েই ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের (সিবিএফ) এবং ভারতীয় আয়োজকদের মধ্যে এই আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের নামও!

    বিশ্বকাপে ভারতীয় সমর্থকদের অভূতপূর্ব উন্মাদনা দেখে মুগ্ধ হয় ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই সমর্থনের ছবিগুলোই মূলত ব্রাজিল দলকে ভারতে আসার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছে। আসন্ন সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অক্টোবরের শুরুর দিকে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে সেলেসাওদের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি ম্যাচ ইতিমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে। আগামী ২৫শে সেপ্টেম্বর টাউন্সভিল এবং ২৯শে সেপ্টেম্বর ব্রিসবেনে এই ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে। তৃতীয় ম্যাচটির জন্য ভারতকে বেছে নিতে আলোচনা চালাচ্ছে সিবিএফ।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই ম্যাচের প্রতিপক্ষ এখনো ঠিক হয়নি। ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর ও কাতারে ম্যাচটি আয়োজনের আলোচনা ছিল। তবে এই মুহূর্তে শুধু ভারতের সঙ্গেই আলোচনা অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়েছে।
    সবকিছু চূড়ান্ত হলে কলকাতার ফুটবলপ্রেমীরা আরও একবার চাক্ষুষ করবেন বিশ্ব ফুটবলের তারকাদের। এর আগে ১৯৭৭ সালে মোহনবাগানের বিপক্ষে নিউ ইয়র্ক কসমসের হয়ে ইডেন গার্ডেনসে খেলেন কিংবদন্তি পেলে। সেই ঐতিহ্যবাহী শহরেই এবার পা রাখতে পারে সেলেসাওরা।

    চলতি বিশ্বকাপটা অবশ্য ভালো কাটেনি ব্রাজিলের। শেষ ১৬তে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় কার্লো আনচেলোত্তির দলকে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র দুর্দান্ত ফর্মে থাকলেও দলকে টিকিয়ে রাখতে পারেননি। ১৯৯০ সালের পর এটিই ব্রাজিলের সবচেয়ে দ্রুততম বিশ্বকাপ বিদায়।

    তবে বিশ্বকাপের ক্ষত ভুলে নতুন শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। নতুন ‘সুপার ফিফা উইন্ডো’-র অধীনে এই ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই আন্তর্জাতিক উইন্ডোটি ১৬ দিন পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে। ফলে দলগুলো কয়েকটি প্রীতি বা প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে।

    বিশ্বকাপ চলাকালীন কলকাতার উত্তরপাড়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন অলিগলি সেজে ওঠে নেইমার ও ভিনি জুনিয়রের ম্যুরালে। কলকাতার মানুষের এই ফুটবল উন্মাদনা নতুন কিছু নয়। যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে, তবে কলকাতার সবুজ ঘাসে খুব শীঘ্রই দেখা মিলবে হলুদ জার্সির সাম্বা তারকাদের।

  • মেসির অবসর নিয়ে নতুন তথ্য আর্জেন্টিনা ফুটবলারের

    মেসির অবসর নিয়ে নতুন তথ্য আর্জেন্টিনা ফুটবলারের

    আর্জেন্টিনা দলে লিওনেল মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সতীর্থ লিয়ান্দ্রো পারেদেস জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ ফাইনালের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দশ নম্বর জার্সিধারী।

    মেসির খুব কাছের মানুষদের একজন পারেদেস। এলএমটেনের জাতীয় দলে দীর্ঘদিনের সতীর্থ বোকা জুনিয়র্সের এই মিডফিল্ডার। পিএসজিতেও দুজন একসঙ্গে খেলেছেন। তাই পারেদেসের মুখ থেকে মেসির অবসর ভাবনার কথা উঠে আসায় তা বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে।

    সাংবাদিকদের পারেদেস বলেন, ‘এটা কষ্ট দেয়, কারণ বিশ্বকাপজুড়েই আমরা বলেছিলাম, আমরা চাইনি মেসি শেষ ম্যাচটি আসুক। আমার মনে হয়, সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে জাতীয় দলের হয়ে সেটিই (বিশ্বকাপ ফাইনাল) ছিল তার শেষ ম্যাচ।’

    তবে পারেদেসের আশা, আপাতত অবসরের বিষয়টি একপাশে রেখে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন মেসি, ‘আশা করি, এমনটা হবে না। আশা করি, সে আরও খেলতে পারবে। সিদ্ধান্তটা তারই হবে। সে যা করলে খুশি থাকবে, সেটাই আমাদের জন্যও আনন্দের হবে।’

    মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখন নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও নিশ্চিত নন পারেদেস। আর্জেন্টিনার হয়ে সাম্প্রতিক সাফল্যের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে সময় প্রয়োজন বলে জানালেন তিনি, ‘আমি জানি না, এটা একটা প্রক্রিয়া। আমাদের বিষয়টি হজম করতে হবে, ভাবতে হবে। তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। অবশ্যই এ নিয়ে আলোচনা করতে হবে।’

    পারেদেস আরও যোগ করেন, ‘অনেকের জন্যই চালিয়ে যাওয়া বা না যাওয়ার সিদ্ধান্ত কঠিন হবে। এটা ছিল সুন্দর, অসাধারণ একটি প্রক্রিয়া। আমরা গুরুত্বপূর্ণ কিছু অর্জন করেছি। এই পর্যায় ধরে রাখা এবং দলকে এভাবে কার্যকর রাখা কঠিন হবে। আমাদের অনেক বিষয় বিবেচনা করতে হবে, কোচের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে এবং শান্তভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

  • বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে: আইনমন্ত্রী

    বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে: আইনমন্ত্রী

    বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসছে বলে উল্লেখ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

    আজ শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ভুক্তভোগীদের ন্যায় বিচারের প্রবেশাধিকার’ বিষয়ক পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    এ সময় আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা বলতে পারি গত কয়েক মাসের সরকারে এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং (বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড) প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসছে। আর এনফোর্স ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স (গুম)-এর ব্যাপারে একটা রিপোর্টেড কেস যখন এসেছে আমরা সেটাকে খুব সিরিয়াসলি নিয়েছি। এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স দেখানোর জন্য আমি ইন্টার্নালি বলেছি।

    আইনমন্ত্রী আরও বলেন, জজ সাহেব যখন মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে না পারেন, তখনই বিচার বিভাগ মুখ থুবড়ে পড়ে। কিন্তু স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যদি ভালো জজ যদি নিয়োগ হয়, ব্যক্তি যদি ভালো হয়, তাহলেই কেবল একটি স্বাধীন ও স্বচ্ছ প্রত্যাশিত বিচার বিভাগ পাওয়া সম্ভব।

    রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা প্রত্যাহারের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি এবং সেটা আমরা চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।

    রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের সাইকেল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছি উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা মনে করছি, আমরা আস্তে আস্তে সব রকম সংস্কারের দিকেই আগাবো। কিন্তু এ জন্য আমাদেরকে একটু সময় দিতে হবে।

    আজকের পরামর্শ সভার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুসারে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। গতকাল ছিল ২৪শে জুলাই। ২৪শে অক্টোবর পর্যন্ত আমাদের হাতে সময় আছে। সুতরাং বিশেষ অধিবেশন ডাকার মতো কোন পরিস্থিতি এখন তৈরি হয়নি।

    তিনি বলেন, যেহেতু সাংবিধানিকভাবেই ১৫ই জুলাই থেকে ৬০ দিনের মধ্যে আমাদের পরবর্তী অধিবেশন হওয়ার কথা। তাই আশা করি, সেই অধিবেশনেই এটা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।

    দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন- এই প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, সেটা সময়ই বলে দেবে।

    মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর সভাপতি ড. তাসনীম সিদ্দিকী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ‘অধিকার’-এর পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিন এলান।

    অধিকার আয়োজিত আজকের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ও আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান।

  • জেন-জি আন্দোলনের মুখে ভারতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

    জেন-জি আন্দোলনের মুখে ভারতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

    ভারতে জাতীয় স্তরের বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়ম ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ব্যাপক আন্দোলনের জেরে পদত্যাগ করেছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন।

    শনিবার তৃতীয় দফার বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি ।

    দিল্লির যন্তর মন্তরে এক মাসের বেশি সময় ধরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

    শনিবার সকালে ককরোচ জনতা পার্টি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণে সরকার রাজি না হলে কোনো আলোচনায় তারা অংশ নেবে না।

    আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলো ছিল—

    • শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

    • আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া।

    • নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ।

    এর আগে শুক্রবার কেন্দ্র সরকার শেষের দুটি দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে কোনো অবস্থান জানায়নি।

    পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে এক্সে দেওয়া বার্তায় ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ‘দেশের তরুণদের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি ও ন্যায্য প্রত্যাশার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। ভারতের নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন বাস্তবায়ন আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের নৈতিক অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রী মহোদয়ের নেতৃত্বে দেশসেবার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

    পদত্যাগের খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই যন্তর মন্তরের আন্দোলনস্থলে উল্লাসে ফেটে পড়েন আন্দোলনকারীরা।নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন গত কয়েক দিনে ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়। দেশটির বিরোধী দলগুলোর সমর্থন আন্দোলনকে আরো জোরালো করে তোলে, যার ফলে সরকারকে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হয়।

  • আজও বন্ধ দিল্লিতে ১৮ মেট্রো স্টেশন

    আজও বন্ধ দিল্লিতে ১৮ মেট্রো স্টেশন

    ককরোচ বা তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) চলমান বিক্ষোভের জেরে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শুক্রবারও ১৮টি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    ডিএমআরসি জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে প্রথমে ১৭টি স্টেশন বন্ধ করা হয়। পরে কয়েক ঘণ্টা পর নিউ দিল্লি মেট্রো স্টেশনও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে মোট বন্ধ স্টেশনের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮টিতে।

    বন্ধ থাকা স্টেশনগুলো হচ্ছে, নিউ দিল্লি, লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চৌক, প্যাটেল চৌক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারাখাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোরবাগ, শিবাজি স্টেডিয়াম এবং ঝান্ডেওয়ালান।

    এ নিয়ে টানা চতুর্থ দিনের মতো দিল্লিতে একাধিক মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। জন্তর মন্তরের কাছে চলমান সিজেপির বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার স্বার্থে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমআরসি।

  • আরেক মুসলিম দেশে হামলার ‘পরিকল্পনা’ ট্রাম্পের

    আরেক মুসলিম দেশে হামলার ‘পরিকল্পনা’ ট্রাম্পের

    এবার পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে সামরিক অভিযান চালানো কথা ভাবছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। দেশটি মালিতে আল-কায়েদাসংশ্লিষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী জামা’আত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল মুসলিমিনের (জেএনআইএম) বিরুদ্ধে হামলা চালাতে পারে। মার্কিন সংবাদপত্র দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    রিপোর্ট, এই পরিকল্পনাটি অনুমোদন পেলে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেয়ার পর এটি হবে অষ্টম দেশ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলা চালাবে।

    মালি পশ্চিম আফ্রিকার একটি মুসলিম প্রধান দেশ। দেশটির প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করেন। এই দেশের রাজধানী বামাকো এবং ঐতিহাসিক শহর টিম্বাকতু ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতির এক প্রাচীন কেন্দ্র।

    জেএনআইএম ২০১৭ সালে আত্মপ্রকাশের পর থেকে একাধিক প্রাণঘাতী হামলা, অপহরণ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। আল-কায়েদার মিত্র সংগঠনটি সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে হামলা বাড়িয়েছে।

    গত মাসে তারা নাইজারের রাজধানীর একটি বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলা চালায়। এছাড়া মালির অভ্যন্তরে জ্বালানি অবরোধ, বিভিন্ন এলাকা অবরুদ্ধ করা এবং সহিংস কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    নিজেকে ‘শান্তির প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে তুলে ধরা এবং ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি’ নীতির কথা বললেও ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে ইরানের সঙ্গে চলমান দীর্ঘ সংঘাতের মধ্যেই মালিতে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

    হামলার এই অনুমোদন মিললে ২০২৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান পরিচালিত দেশগুলোর তালিকায় মালিও যুক্ত হবে।

    এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ইরাক, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা ও ইয়েমেনে হামলার নির্দেশ দিয়েছে।

    এছাড়া ক্যারিবীয় অঞ্চল ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে নৌযানে অভিযান চালিয়ে ২০০ জনের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ মালি?

    মালি আফ্রিকার অন্যতম বৃহৎ স্বর্ণ উৎপাদনকারী দেশ। এছাড়া দেশটিতে বিপুল লিথিয়াম মজুত রয়েছে, যা বিদেশি কোম্পানিগুলোর আগ্রহের কেন্দ্র।

    মালি, বুরকিনা ফাসো ও নাইজার বর্তমানে সামরিক শাসিত দেশগুলোর জোট অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটসের সদস্য।

    সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশগুলো পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক কমিয়ে নিরাপত্তা সহযোগিতার জন্য রাশিয়ার দিকে ঝুঁকেছে।

    কারা সামরিক হামলার পক্ষে?

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, মালিতে জেএনআইএমের বিরুদ্ধে হামলার পক্ষে অবস্থান নেয়া ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সন্ত্রাসবিরোধী বিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালক ও প্রেসিডেন্টের ডেপুটি সহকারী সেবাস্টিয়ান গোরকা।

    তবে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি যে প্রেসিডেন্ট সামরিক পদক্ষেপের অনুমোদনের কথা ভাবছেন।

    হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা ইন্ডিপেনডেন্ট’কে বলেছেন, সাহেল অঞ্চলের দেশগুলো সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সফল হোক, সেটিই যুক্তরাষ্ট্র চায়। তবে মালির অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য তিনি রাশিয়াকে দায়ী করে বলেন, নিরাপত্তা সহযোগী হিসেবে রাশিয়া কার্যকর প্রমাণিত হয়নি।
    তিনি আরও বলেন, আফ্রিকার অন্যান্য দেশও যেন সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় রাশিয়ার ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেয়।

    যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান

    ট্রাম্প প্রশাসন সাহেল জোটভুক্ত দেশ এবং পশ্চিম আফ্রিকার অন্যান্য উপকূলীয় দেশগুলোকে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম ও সেবা কেনার আহ্বান জানিয়েছে।

    একই সঙ্গে মালিকে সহায়তা করতে ন্যাটো এবং আঞ্চলিক মিত্রদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটনের প্রশাসন।

    এদিকে রিপোর্টে বলা হয়েছে, চলতি বছর জেএনআইএম বামাকোসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক হামলা চালিয়েছে। আত্মঘাতী হামলায় দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিহত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এ মাসে মালির সেনাবাহিনী ও রাশিয়ার আফ্রিকা কর্পস বাহিনীর সঙ্গে কয়েক দিন ধরে জেএনআইএমের সংঘর্ষ হয়। এ সময় সংগঠনটি একটি সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত করে এবং একটি গ্রামের বাসিন্দাদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেয়।

    গত সপ্তাহে জেএনআইএম একটি যৌথ সামরিক বহরে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আফ্রিকা কর্পসের সদস্যরা পিছু হটতে বাধ্য হন এবং বহু মালি সেনাকে ফেলে যান। পরে জঙ্গিরা তাদের অনেককে আটক করে হত্যা করে।

    মানবাধিকার পরিস্থিতি

    আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডাটার (এসিএলইডি)তথ্য অনুযায়ী, গত বছর জেএনআইএম ও অন্যান্য জঙ্গিগোষ্ঠীর হামলায় অন্তত ২৩২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হন। অন্যদিকে একই সময়ে মালির সেনাবাহিনী ও রুশ ভাড়াটে বাহিনীর অভিযানে ৯২৫ জন বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে এসিএলইডির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    কৌশল নিয়ে প্রশ্ন

    গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন মালি, বুরকিনা ফাসো ও নাইজারের সামরিক সরকারগুলোর সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও সামরিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। এর লক্ষ্য ছিল, আফ্রিকার খনিজসম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং রাশিয়া ও চীনের প্রভাব মোকাবিলা করা।
    তবে এই কৌশল কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

    সুফান সেন্টারের জ্যেষ্ঠ গবেষক ওয়াসিম নাসর দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’কে বলেন, আরও একবার সামরিক সমাধানের পথ বেছে নিলে সমস্যার সমাধান হবে না। ফ্রান্স ১০ বছর এই কৌশল অনুসরণ করেছে, রাশিয়া পাঁচ বছর ধরে একই চেষ্টা করছে। কিন্তু পরিস্থিতি শুধু আরও খারাপ হয়েছে।

  • তেলাপোকাদের’ চাপে নতি স্বীকার করবে না ভারত সরকার

    তেলাপোকাদের’ চাপে নতি স্বীকার করবে না ভারত সরকার

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কোনো সম্ভাবনা নেই। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সূত্রের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

    সংবাদমাধ্যমটির লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ককরোচ বা তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে চলমান ছাত্র আন্দোলনকারীরা এনইইটি (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন।

    তাদের দাবি, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না। তবে ভারত সরকারও জানিয়েছে কোনোভাবেই শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করবে না।

    সূত্রগুলোর ভাষ্য, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এখন সরকারের বিবেচনায় নেই।
    সরকারের একটি সূত্র এনডিটিভিকে জানিয়েছে, পদত্যাগই সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্ত। কিন্তু জনগণ আমাদের যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, আমরা সেই দায়িত্ব পালন করব।

    ভারত সরকারের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, আন্দোলনের চাপের মুখে শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

    এদিকে শুক্রবার দ্বিতীয় দফায় সিজেপির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। শুক্রবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে সিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং।

    বৈঠকের পর সিজেপি জানিয়েছে যে, তারা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় রয়েছে। সিজেপির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার তাদের দাবির বিষয়ে আগামীকাল বিকেল পর্যন্ত সময় চেয়েছে।

    সিজেপি’র মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, তারা সরকারের কাছে তাদের তিনটি শর্তের তালিকা দিয়েছে। এগুলো হচ্ছে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, নিট পরীক্ষায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের জন্য ১ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো এফআইআর নয়।

  • ইতিহাসের সর্বনিম্ন জনসমর্থনে ট্রাম্প

    ইতিহাসের সর্বনিম্ন জনসমর্থনে ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্তে জনসমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নতুন এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, এ বিষয়ে তার জনপ্রিয়তা ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে এসেছে।

    ওয়াশিংটন পোস্ট পরিচালিত এক জরিপে ট্রাম্পের ইরান-সংঘাত মোকাবিলার ক্ষেত্রে নেট অনুমোদন দাঁড়িয়েছে মাইনাস ৪০। এ ফলাফলকে সিএনএনের প্রধান তথ্য বিশ্লেষক হ্যারি এন্টেন ‘ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত অজনপ্রিয়’ বলে মন্তব্য করেছেন।

    জরিপে আরো উঠে এসেছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে সামরিক অভিযানের প্রতি জনসমর্থন ধারাবাহিকভাবে কমেছে। বর্তমানে এই অভিযানের প্রতি সমর্থনের হার আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, জরিপের এই ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে মার্কিন জনগণের মধ্যে বিরোধিতা ক্রমেই বাড়ছে।

  • জোরপূর্বক শ্রম – বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক

    জোরপূর্বক শ্রম – বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক

    বাংলাদেশসহ প্রায় ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের ওপর নতুন শুল্ক কার্যকর করছে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত জোরপূর্বক শ্রম রোধে ব্যর্থতার অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    কয়েকটি দেশের ওপর ১০ শতাংশ এবং বাকিগুলোর ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাজ্য, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, জাপান, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশও রয়েছে তালিকায়।

    চলতি বছরের শুরুতে অস্থায়ীভাবে আরোপ করা ১০ শতাংশ করের মেয়াদ শেষ হওয়ার দিন, অর্থাৎ শুক্রবার থেকেই এই শুল্ক কার্যকর হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর ক্ষমতায় আসার পর বিশ্ব বাণিজ্যে যে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, এটি তারই সবশেষ সংযোজন।

    চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল যে, জরুরি ক্ষমতার আওতায় ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে যে শুল্ক আরোপ করেছিল, তার আইনি বৈধতা ছিল না।

    এরপর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার প্রধান বাণিজ্য নীতি বাস্তবায়নের জন্য অন্যান্য আইনি পথ খুঁজতে শুরু করেন। গত মাসেই হোয়াইট হাউস ডজনখানেক দেশ থেকে মার্কিন উপকূলে পৌঁছানো পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কের একটি ধারাবাহিক প্রস্তাব দিয়েছিল।

    কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল যে, দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রম মোকাবিলায় পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বৃহস্পতিবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার, ট্রাম্পের নির্দেশ অনুযায়ী জানান যে এই শুল্কগুলো এখন থেকে কার্যকর হবে।

    তার এক বিবৃতিতে বলা হয়, “আজকের এই পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বাণিজ্য বিকৃতির মতো বিষয়গুলোর সংশোধন শুরু করবে, যা সব সময় শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।”

    গ্রিয়ার ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের সেকশন ৩০১ প্রয়োগ করেছেন, যা মার্কিন বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত বা ক্ষুণ্ণ করে এমন অনুশীলনের বিরুদ্ধে মার্কিন বাণিজ্য ব্যবস্থাপনাকে নিয়ন্ত্রণ করে।

    এর আগে চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসন কানাডার পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে ১৯৩০ সালের শুল্ক আইনের সেকশন ৩৩৮ বিধানের আশ্রয় নিয়েছিল।

    বৃহস্পতিবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় জানায় যে, বাণিজ্য অংশীদাররা “জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ” হওয়ার কারণে এই নতুন শুল্কগুলো আরোপ করা হচ্ছে।

    এতে আরও বলা হয়, নতুন এই শুল্কগুলো যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ৬০টি বাণিজ্য অংশীদারের ওপর প্রযোজ্য হবে, যা মার্কিন আমদানির ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পূর্ণ করে।

    কার্যালয়টি জানিয়েছে যে, ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে অন্যান্য দেশের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ অংশ হিসেবে জোরপূর্বক শ্রম দিয়ে তৈরি পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞাকে বাধ্যতামূলক করেছেন।

    যেসব বাণিজ্য অংশীদার দেশ জোরপূর্বক শ্রম দিয়ে তৈরি পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করার বিষয়ে “অঙ্গীকার করেছে এবং কার্যকরভাবে তা বাস্তবায়ন করেছে”, তাদের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে।

    আর যারা তা করেনি, তাদের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ উচ্চ হার প্রযোজ্য হবে, জানিয়েছে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়।

    ১০ শতাংশ শুল্কের আওতায় যেসব দেশ পড়েছে তার মধ্যে আছে- আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, কানাডা, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো এবং যুক্তরাজ্য।

    কমপ ১০ শতাংশ, যদি তারা: (i) জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করে; (ii) পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দেয়; অথবা (iii) এমন একটি আংশিক ব্যবস্থা চালু করে যা নির্দিষ্ট কিছু জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি প্রতিরোধের প্রভাব ফেলে।

    যেসব পণ্য অন্য কোনো ছাড়ের আওতায় পড়ে না, সেসব ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, কোরিয়া এবং সুইজারল্যান্ডের নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের জন্য সেকশন ৩০১ শুল্কের উপযুক্ত হার হবে সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের (এমএফএন) হারের অতিরিক্ত ১০ শতাংশ অথবা ১২.৫ শতাংশ, যার আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে অন্যান্য সব তদন্তভুক্ত অর্থনীতির জন্য ১২.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়েছে।

    গ্রিয়ার তার বিবৃতিতে বলেন, যেসব বাণিজ্য অংশীদার জোরপূর্বক শ্রম দিয়ে তৈরি পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত দ্রুত গ্রহণ করেছে, তাদের দেখে তিনি “উৎসাহিত বোধ করছেন” এবং তাদের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার বিষয়টি দেখতে অপেক্ষা করছেন।

    ট্রাম্পের বিশেষ নীতি

    ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তি দিয়ে আসছেন যে, শুল্ক মার্কিন শ্রমিকদের সুরক্ষা দেয়, উৎপাদন খাতে আরও বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করে এবং মার্কিন অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে।

    গত বছর হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর, বৈশ্বিক বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি বলেছিলেন যে, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের দ্বারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুগের পর যুগ ধরে যে অন্যায় আচরণের শিকার হয়েছে, তা মোকাবিলা করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    কিন্তু গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয় এবং জানায় যে প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদন না নিয়েই তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। ওই সময় কোম্পানিগুলোকে শুল্ক বাবদ পরিশোধ করা কয়েক হাজার কোটি ডলার ফেরতও দেওয়া হয়েছিল।

    তবে, তখন থেকেই আমদানি শুল্ক আরোপের বিকল্প উপায়গুলো খতিয়ে দেখতে শুরু করে হোয়াইট হাউস। যার মধ্যে একটি অস্থায়ী সমাধান হিসেবে এই ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    এদিকে, ব্রাজিল ও কানাডার মতো দেশগুলোর ওপরও বিভিন্ন ধরনের একগুচ্ছ শুল্ক আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি বর্তমানে স্থগিত থাকলেও পাল্টাপাল্টি শুল্ক যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনও।

    অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন যে, উচ্চ শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কফি এবং মাইক্রোওয়েভের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।

    যেহেতু আমদানিকারক কোম্পানিগুলোকেই কর পরিশোধ করতে হয়, তাই সেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই উচ্চমূল্যের মাধ্যমে ক্রেতাদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপিয়ে দেয়।

    শ্রম বিধিমালার মতো বাণিজ্যবহির্ভূত বিষয়ের মাধ্যমে মেক্সিকোর মতো অন্যান্য দেশের ওপরও চাপ সৃষ্টি করতে এই শুল্কগুলো ব্যবহার করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

    এর জবাবে অনেক বাণিজ্য অংশীদার দেশ ইতোমধ্যে সম্ভাব্য আইনি লড়াই অথবা পাল্টা শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে।

    মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি বর্তমানে ১৬টি দেশের ওপর তদন্ত পরিচালনা করছেন- যা মার্কিন আমদানির সিংহভাগ জুড়ে রয়েছে- এবং এই দেশগুলোর বিরুদ্ধে উৎপাদন সক্ষমতা অতিরিক্ত বাড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে, যা চলতি বছরের শেষের দিকে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পথ প্রশস্ত করতে পারে।

    অন্য দেশগুলো কী বলেছে?

    ব্রাজিলসহ কয়েকটি দেশ এ ঘোষণার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

    ব্রাজিলের সরকার যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপকে ‘অন্যায্য’ এবং ‘খামখেয়ালিপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়কে নিজেদের সুরক্ষাবাদী বাণিজ্য নীতির সমর্থনে ব্যবহার করার জন্য ওয়াশিংটন বেছে নিয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ১২.৫ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়া ব্রাজিল আরও জানিয়েছে, তারা তাদের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে এবং পণ্য বিক্রির জন্য অন্যান্য বাজারও বিবেচনা করবে।

    এর আগে এ মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিল থেকে আমদানি করা আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, চিনি এবং অন্যান্য পণ্যের ওপর পৃথকভাবে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। তবে গরুর মাংস ও কফিসহ কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে অব্যাহতি বহাল রাখা হয়।

    জাপান সরকার শুক্রবার জানিয়েছে, নতুন মার্কিন শুল্ক আরোপের ঘটনায় তারা “দুঃখ প্রকাশ” করছে। তাদের বক্তব্য, জাপানের বাণিজ্য আন্তর্জাতিক নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই পরিচালিত হয়।

    অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ডন ফ্যারেল বলেছেন, এই শুল্ক আরোপ “সম্পূর্ণভাবে অন্যায্য”। তিনি আরও বলেন, তার দেশের পণ্যের ওপর আরোপিত সব শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য তিনি ওয়াশিংটনের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবেন।

    চীন এর আগেও বলেছে যে তারা যেকোনো ধরনের একতরফা শুল্ক আরোপের বিরোধী। একই সঙ্গে দেশটি জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগও অস্বীকার করেছে।

    চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেছেন, “চীনে তথাকথিত কোনো জোরপূর্বক শ্রম নেই এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রভাব খাটানোর অজুহাত হিসেবে এ বিষয়টি ব্যবহার করার আমরা বিরোধিতা করি।” তবে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন বলেছে, চীনে জোরপূর্বক শ্রমের অস্তিত্ব রয়েছে, বিশেষ করে শিনজিয়াং অঞ্চলের মুসলিম জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে।

  • গণমাধ্যমের খবর ‘মিথ্যা’: ভারতের প্রধান বিচারপতি

    গণমাধ্যমের খবর ‘মিথ্যা’: ভারতের প্রধান বিচারপতি

    ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত দুই দিন আগে বলেছিলেন, আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের ভিডিও দেখার মতো সময় তাঁর নেই। দুই দিন পর তিনি দাবি করছেন, ছাত্র আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের ঘটনায় করা আবেদনটি তালিকাভুক্ত করতে (শুনানির দিন ধার্য করতে) তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলে গণমাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’।

    ‘লাইভ ল’সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি দাবি করেছেন, এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে কোনো রিট পিটিশনই করা হয়নি।

    পুলিশি নির্যাতনের মধ্যে চলমান এই আন্দোলনে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক বিশেষ চরিত্রে পরিণত হয়েছেন। মে মাসে তাঁর দেওয়া একটি বক্তব্য তরুণসমাজকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। তিনি বলেছিলেন, ‘কিছু তরুণ আরশোলার মতো ঘুরে বেড়ায়, যাদের কোনো কর্মসংস্থান নেই এবং পেশাগত জগতেও কোনো জায়গা নেই। এর জের ধরে অনেকটা কটাক্ষ করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) গঠিত হয়।’

    এই দল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে কয়েক মাস ধরে নরেন্দ্র মোদি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। তারা যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। ২২ জুলাই সংসদ ভবন অভিমুখী তাদের পদযাত্রায় প্রায় ৭৫ হাজার মানুষ যোগ দিয়েছিলেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়। সেই সময়ে পুলিশ শিক্ষার্থী নির্বিচারে লাঠিপেটা করে। কাঁদানে গ্যাস শেল ছুড়ে এবং পেলেট গান ও পেরেকযুক্ত লাঠি ব্যবহার করে তাদের ওপর চড়াও হয়।

    ২২ জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের নির্যাতনকে চ্যালেঞ্জ করে আবেদন জানানো আইনজীবী নরেন্দ্র মিশ্রকে প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, ‘আমাদের সময় নষ্ট করবেন না এবং আপনার সময়ও নষ্ট করবেন না।’

    আইনজীবী যখন বলেন, পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ভিডিও রয়েছে, তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ভিডিওর প্রতি আমাদের কোনো আগ্রহ নেই; আমাদের এগুলো দেখার সময় নেই।’

    ঠিক দুই দিন পর আজ ২৪ জুলাই শুক্রবার প্রধান বিচারপতি বলছেন, কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা ছাড়া কেবল একটি স্মারকলিপিকে রিট পিটিশন হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

    প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত তাঁর মন্তব্য নিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বেপরোয়া’ বলে অভিহিত করেছেন।

    ‘লাইভ ল’-এর তথ্যমতে, প্রধান বিচারপতি বলেন, গত দুই দিনে সম্পূর্ণ মিথ্যা একটি বক্তব্য ছড়ানো হয়েছে, মামলাটি নাকি দায়ের করা হয়েছিল। সংবাদমাধ্যম কোনো দায়িত্ব না নিয়ে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করেছে, প্রধান বিচারপতি মামলাটি তালিকাভুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

    সূর্য কান্ত দাবি করেন, ‘আজ শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত একটি পাতাও জমা পড়েনি। ওটা কেবল একটি স্মারকলিপি ছিল…যা ওই মিশ্র বা কেউ একজন পাঠিয়েছিলেন। আমি কীভাবে একটি স্মারকলিপিকে রিট পিটিশন হিসেবে বিবেচনা করতে পারি? আর মানুষ এসব নিয়ে বেপরোয়া সংবাদ প্রকাশ শুরু করে দিল।’

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবীণ আইনজীবী শোয়েব আলম যখন শুনানির জন্য অন্য একটি বিষয় উল্লেখ করেন, তখন প্রধান বিচারপতি এ মন্তব্য করেন।

    বেশির ভাগ গণমাধ্যম মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে তাঁর অনীহার চেয়ে তাঁর মৌখিক মন্তব্যের ওপরই বেশি জোর দিয়েছিল।

    এক দিন আগে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সকালে বলেছিলেন, বেলা তিনটার মধ্যে যদি সুপ্রিম কোর্ট মেট্রোস্টেশন খুলে দেওয়া না হয়, তবে শীর্ষ আদালত এতে হস্তক্ষেপ করবেন। গতকাল কর্তৃপক্ষ ১৭টি মেট্রোস্টেশন বন্ধ করে দিয়েছিল, যা কেবল আন্দোলনকারীদেরই নয়, সাধারণ কর্মজীবী ও সেবাদাতাদেরও চরম ভোগান্তিতে ফেলেছিল।

    সংবিধানবিশেষজ্ঞ আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি দুষ্যন্ত দাভে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব করণ থাপারকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেছেন, প্রধান বিচারপতির ওই মন্তব্য ছিল দায়িত্বজ্ঞানহীন ও সংবেদনহীন।

  • মধ্যপ্রাচ্যের কোন দেশের পরমাণু কর্মসূচি কীভাবে গড়ে উঠেছে?

    মধ্যপ্রাচ্যের কোন দেশের পরমাণু কর্মসূচি কীভাবে গড়ে উঠেছে?

    যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব ৩০ বছর মেয়াদি একটি পারমাণবিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন উপসাগরীয় দেশটিকে পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

    গত বুধবার মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট ও সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী আবদুল আজিজ বিন সালমান পারমাণবিক সহযোগিতাবিষয়ক ‘১২৩ চুক্তি’তে সই করেন। এর মধ্য দিয়ে চুক্তিটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।

    এ চুক্তি মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বিদেশে পারমাণবিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের অনুমতি দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু শক্তি আইনের অনুচ্ছেদ ১২৩-এর অধীন মার্কিন সরকার এ ধরনের চুক্তিগুলো করে থাকে।

    সৌদি–মার্কিন চুক্তির অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর বেশির ভাগই আপাতত অজানা। তবে কিছু বিশ্লেষক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, ইতিমধ্যে অস্থির হয়ে ওঠা মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতা রোধ করার মতো পর্যাপ্ত সুরক্ষাব্যবস্থা এ চুক্তিতে রয়েছে কি না তা নিয়ে।

    যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব উভয় দেশই পারমাণবিক অস্ত্রবিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) স্বাক্ষরকারী। তবে পারমাণবিক অস্ত্রবিস্তার রোধে কাজ করা ‘আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা’ (আইএইএ) এই দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে জড়িত ছিল না। তাই এ চুক্তির ক্ষেত্রে সুরক্ষা বিধিনিষেধ কীভাবে প্রয়োগ করা হবে তা অস্পষ্ট। এ ছাড়া সৌদি আরব নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ার্স গ্রুপের (এনএসজি) সদস্য নয়। পারমাণবিক উপাদান ও প্রযুক্তির রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে কাজ করা ৪৮টি দেশের একটি গোষ্ঠী এটি। ফলে দেশটি কীভাবে মূল পারমাণবিক প্রযুক্তি ও ইউরেনিয়াম পাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

    তবে এ চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান বেশ কয়েকটি পারমাণবিক কর্মসূচির সর্বশেষ সংযোজন মাত্র, যার অনেকগুলোই বেসামরিক। এসব কর্মসূচি সম্পর্কে আর যা জানা যায়:

    যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব কিসে সম্মত হয়েছে

    চুক্তিতে ঠিক কী রয়েছে তা অস্পষ্ট। তবে একটি দ্বিপক্ষীয় সুরক্ষা চুক্তি হিসেবে এটি আশা করাই যায় যে সৌদির পারমাণবিক কর্মসূচি বেসামরিক চুল্লির চাহিদার সীমার মধ্যে থাকবে। এ ছাড়া এ কর্মসূচি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী বা তার কাছাকাছি স্তরে পৌঁছাবে না। বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে মার্কিন পরিদর্শকদের মাধ্যমে তদারকির একটি প্রক্রিয়া এ চুক্তিতে থাকতে পারে।

    বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের এমন কোনো দেশের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাবে না, যা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি করে।’

    ওয়েস্টিংহাউসের মতো পারমাণবিক চুল্লি প্রস্তুতকারক মার্কিন কোম্পানিগুলো এ চুক্তি থেকে লাভবান হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    চুক্তিটি এখন পর্যালোচনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পেশ করা হবে। এটি রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় রাজনৈতিক দলের আইনপ্রণেতাদের কাছ থেকে বিরোধিতার সম্মুখীন হতে পারে। তবে বিরোধিতাকারী আইনপ্রণেতারা সংখ্যাগরিষ্ঠ হবেন না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ৯০ দিনের পর্যালোচনার সময়সীমা শেষে চুক্তিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়ে যাবে।

    মধ্যপ্রাচ্যে কোন দেশগুলোর পারমাণবিক কর্মসূচি রয়েছে

    ২০২৫ সালে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় এক দিনের বিমান হামলা চালিয়ে দেশটির বিরুদ্ধে ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধে যোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

    এরপর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই দুই মিত্র প্রতিপক্ষ ইরানের বিরুদ্ধে আরেকটা যুদ্ধ শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এর পেছনে অন্যতম কারণ ছিল দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা। তবে তেহরান বারবার জোর দিয়ে বলে এসেছে যে তারা শুধু বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি বজায় রাখছে।

    ১৯৫৩ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডুইট ডি আইজেনহাওয়ার ‘শান্তির জন্য পরমাণু’ কর্মসূচি চালু করেন। এটির মূল লক্ষ্য ছিল, পারমাণবিক প্রযুক্তিকে যুদ্ধের বদলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চিকিৎসার মতো ভালো কাজে ব্যবহার করা। এ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় ১৯৫৭ সালে ইরান তার প্রথম পারমাণবিক কাজ শুরু করে। আর বিশ্বের কোনো দেশ যেন এ প্রযুক্তি দিয়ে পারমাণবিক বোমা বানাতে না পারে, তার নজরদারি ও তদারকির জন্য ওই বছর আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘আইএইএ’ গঠন করা হয়। ইরান ১৯৭৪ সালে এনপিটিতেও স্বাক্ষর করে।

    ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সে সময় জার্মান কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে নির্মিত হয়েছিল। তবে ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে আইএইএ শনাক্ত করে, ইরান পাকিস্তানের সাহায্যে নাতাঞ্জ, ইস্পাহান, ফোর্দোয় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণ করেছে। ফলে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাজ করছে বলে অভিযোগ ওঠে।

    এমন প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কয়েক বছর ধরে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পাশাপাশি সাইবার হামলা চালানো এবং পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের হত্যার মাধ্যমে ইরানকে লক্ষ্যবস্তু বানায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

    ২০০৩ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধের প্রথম দিন মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত) ফতোয়া জারি করে ঘোষণা করেন যে তাঁর দেশ পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহ করবে না।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মেয়াদে ২০১৫ সালে ইরান ‘জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ)’ নামে একটি পারমাণবিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তিতে তেহরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ মাত্র ৩ শতাংশের কিছু বেশিতে সীমিত রাখতে সম্মত হয়, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী চুল্লির জন্য যথেষ্ট; কিন্তু পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক কম।

    ইরান আইএইএকে তার পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতেও অভূতপূর্বভাবে প্রবেশের অনুমতি দেয়। এটি আজ পর্যন্ত কোনো দেশে আইএইএর পাওয়া সবচেয়ে নিবিড় তদারকি সুবিধা বলে মনে করা হয়। আইএইএ এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বারবার এ সিদ্ধান্তে পৌঁছায়, ইরান চুক্তি মানছে এবং কম মাত্রার সমৃদ্ধকরণ বজায় রেখে চলেছে।

    কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে ২০১৮ সালে দাবি করেন যে চুক্তিটি অস্পষ্ট এবং এটি ইসরায়েলের জন্য হুমকি তৈরি করছে। এ অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসে এবং ইরানের ওপর আবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। জবাবে ইরানও বৃদ্ধি করতে শুরু করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা।

    ২০২৫ সালের জুনে আইএইএর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা ৪০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম মজুত করেছে, যা অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধকরণের কাছাকাছি। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধ শুরু করে।

    ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ২০২৫ সালের মার্কিন বোমাবর্ষণে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। আগস্টে জাতিসংঘও ইরানের ওপর আবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তা সত্ত্বেও গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল আবার ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করেছে।ইসরায়েল

    ইসরায়েল তার পারমাণবিক অস্ত্র আছে কি না, জানাতে অস্বীকার করে। তবে তারা মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র উন্নত পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী দেশ বলে মনে করা হয়। এ বিষয়ে দেশটির নীতি অত্যন্ত অস্পষ্ট।

    ইসরায়েল এনপিটি স্বাক্ষরকারী নয়। ফলে আইএইএ তাদের সক্ষমতা মূল্যায়ন করতে পারে না। ১৯৮০-এর দশক থেকে ইসরায়েল সংস্থাটির কাছে বিশদ তথ্য জমা দিতে সরাসরি অস্বীকার করে আসছে।

    গবেষণাপ্রতিষ্ঠান নিউকেসিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভ (এনটিআই)-এর মতে, ১৯৬০-এর দশক থেকে ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে এবং তাদের পারমাণবিক ওয়ারহেড প্রায় ৯০টি। ইসরায়েলের কাছে আরও ৩০০টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য পর্যাপ্ত ইউরেনিয়াম ও প্লুটোনিয়াম মজুত রয়েছে।

    ধারণা করা হয়, ১৯৭৯ সালে বর্ণবাদী শাসনামলের দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে মিলে ইসরায়েল তার পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল। দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্র হলো দক্ষিণ ডিমোনা শহরের কাছে অবস্থিত শিমন পেরেস নেগেভ নিউক্লিয়ার রিসার্চ সেন্টার। ১৯৫৭ সালে ফ্রান্সের সহায়তায় এ কেন্দ্র তৈরি করা হয়।

    ইসরায়েল দাবি করে, ডিমোনা চুল্লিটি বেসামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। তবে ১৯৮০ সালে একজন ইসরায়েলি তথ্য ফাঁসকারী ওই কেন্দ্র থেকে গণমাধ্যমের কাছে নথিপত্র এবং ছবি প্রকাশ করে, যা ইসরায়েলের উন্নত পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পর্কে দীর্ঘদিনের সন্দেহ সত্য বলে প্রমাণ করে। ২০২৫ সালের স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, ডিমোনা কেন্দ্রের সম্প্রসারণ কাজ চলছে। এমনকি যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাচ্ছিল, তখনো।

    সংযুক্ত আরব আমিরাত

    সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০০৯ সালে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ‘১২৩ চুক্তি’ স্বাক্ষর করে তাদের সম্পূর্ণ বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি শুরু করে। দেশটি জানায় যে তারা দেশীয় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ব্যবহৃত জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করবে না; যা পারমাণবিক বোমা তৈরির প্রয়োজনীয় উপাদান। দেশটি এনপিটিও স্বাক্ষরকারী।

    বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হলো আমিরাতের পারমাণবিক অবকাঠামোর মূল কেন্দ্র। ২০১২ সালে এ বিশাল কেন্দ্রটি নির্মিত হয় এবং এতে দক্ষিণ কোরিয়ার নকশা করা চারটি চুল্লি রয়েছে, যা মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহার করে।

    প্ল্যান্টটি তৈরি করতে এবং স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে মার্কিন বিশেষজ্ঞরাও জড়িত ছিলেন। বারাকাহ প্রায় ৫,৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। আমিরাতের বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় এক-চতুর্থাংশ এটি। আইএইএর এ কেন্দ্রে পূর্ণ প্রবেশাধিকার রয়েছে এবং রিয়েল-টাইম ক্যামেরা অ্যাক্সেসের মাধ্যমে তারা সেখানকার কার্যক্রম নজরদারি করতে পারে।

    তুরস্ক

    তুরস্কের নিজস্ব কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নেই। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মকর্তারা তাঁদের অবস্থান পরিবর্তন করছেন বলে মনে হচ্ছে।

    ন্যাটো মিত্র তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। নিজস্ব পারমাণবিক বোমা না থাকায় দেশটি সম্ভাব্য শত্রুদেশের আক্রমণ বা হুমকি থেকে বাঁচতে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের এ পারমাণবিক ব্যবস্থার ওপরই নির্ভর করে আসছে। তুরস্কও এনপিটি স্বাক্ষরকারী দেশ।

    তুরস্ক আক্কুয়ু পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে তার বেসামরিক পারমাণবিক অবকাঠামো বজায় রেখেছে। কেন্দ্রটি রাশিয়া নকশা করেছে ও রক্ষণাবেক্ষণ করে। এটি ৪,৮০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, যা দেশটির মোট বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রায় ১০ শতাংশ।

    ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, তাঁর দেশ পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারে, যা এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

    বিশ্লেষকেরা বলেছেন, তুরস্ক তাদের বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি সম্প্রসারণ শুরু করতে পারে। তবে কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কৌশলগতভাবে অস্পষ্টতা বজায় রেখেছে। ২০২৫ সালের ইরান যুদ্ধের সময় পরিচালিত ‘রিসার্চ ইস্তাম্বুল’-এর একটি জরিপে দেখা গেছে, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৭১ শতাংশ পারমাণবিক অস্ত্রের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

    মিসর

    এনপিটি স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে মিসরও বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করার জন্য একটি সম্পূর্ণ বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি বজায় রেখেছে। দেশটির আল-দাবা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বর্তমানে রাশিয়ার মাধ্যমে নির্মাণাধীন রয়েছে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে এটি ৪,৮০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। তুরস্কের মতোই মিসরও তাদের ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানির ক্ষেত্রে রাশিয়ার তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

    চিকিৎসা গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় আইসোটোপ উৎপাদনের জন্য মিসরের গবেষণা চুল্লিও রয়েছে। মিসর ১৯৬০-এর দশকে প্রেসিডেন্ট গামাল আবদেল নাসেরের অধীন ইসরায়েলের মোকাবিলায় গোপনে একটি সামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করেছিল, তবে তা ব্যর্থ হয়।

    ইরাক

    ১৯৭০-এর দশকে প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের অধীন ইরাক গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করে বলে জানা যায়। দেশটি ফ্রান্সের কাছ থেকে ওসিরাক চুল্লি কিনে বাগদাদের কাছে তুওয়াইথা পারমাণবিক গবেষণাকেন্দ্রে স্থাপন করে।

    ১৯৮০–এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ইরান ওই চুল্লিতে হামলা চালায় এবং এক বছর পর ইসরায়েল এতে বোমাবর্ষণ করে। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রও এ কেন্দ্রে হামলা চালায়। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাকে আক্রমণের পর আইএইএ নিশ্চিত করে যে পারমাণবিক কর্মসূচিটি ধ্বংস হয়েছে।

    সাম্প্রতিক সময়ে দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎবিভ্রাট দূর করতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ইরাক চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে অংশীদারত্বের চেষ্টা করেছে।

    পাকিস্তান

    মধ্যপ্রাচ্যের ঠিক পাশেই পাকিস্তান তার প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে মোকাবিলার জন্য উন্নত পারমাণবিক অস্ত্রের একটি বড় মজুত গড়ে তুলেছে। ভারতের যেখানে প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার না করার নীতি রয়েছে, সেখানে পাকিস্তানের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরে অস্পষ্ট।

    স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি)-এর মতে, পাকিস্তানের ১৭০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে বলে মনে করা হয়। বিপরীতে ভারতের রয়েছে ১৯০টি। বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত সংঘাতের পর পাকিস্তান তার পারমাণবিক কর্মসূচি সম্প্রসারিত করেছে বলে তারা বিশ্বাস করেন। পাকিস্তান বা ভারত কেউই এনপিটিতে স্বাক্ষর করেনি।

    ১৯৫০-এর দশকে আইজেনহাওয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির অংশ ছিল পাকিস্তানও। তবে ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর ভারতের সঙ্গে তিনটি যুদ্ধে জড়িয়ে ১৯৭০-এর দশকে দেশটি পারমাণবিক অস্ত্রের পেছনে ছুটতে শুরু করে। ভারত নিজেও একই সময় পারমাণবিক পরীক্ষা শুরু করে।

    পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো সে সময় ঘোষণা করেন, ‘আমরা ঘাস খাব, এমনকি ক্ষুধার্ত থাকব, তবু নিজস্ব পারমাণবিক বোমা বানিয়ে ছাড়ব।’

    পারমাণবিক কর্মসূচিটি ছিল মূলত পদার্থবিজ্ঞানী আবদুল কাদের খানের নেতৃত্বে তৈরি। তিনি নাইজার থেকে ইউরেনিয়াম সংগ্রহের নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করেছিলেন। পাকিস্তানের অতি-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদিত হয় এর কাহুটা ও গাদওয়াল কেন্দ্রে।

    পাকিস্তান ইরান, লিবিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক প্রযুক্তি এবং অস্ত্র ভাগাভাগি করেছে। ২০০৩ সালে নিজের দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ হওয়ার পর লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি আইএইএর কাছে তাঁর দেশের পারমাণবিক অবকাঠামো সমর্পণ করেছিলেন।

  • স্টার সিনেপ্লেক্সে একসঙ্গে মুক্তি পেল ৪ আন্তর্জাতিক সিনেমা

    স্টার সিনেপ্লেক্সে একসঙ্গে মুক্তি পেল ৪ আন্তর্জাতিক সিনেমা

    সিনেমাপ্রেমীদের জন্য এই সপ্তাহান্তে থাকছে একসঙ্গে চারটি ভিন্নধর্মী আন্তর্জাতিক ছবি। শুক্রবার থেকে ঢাকার স্টার সিনেপ্লেক্সে দেখা যাবে হরর, মনস্তাত্ত্বিক সাসপেন্স, বিজ্ঞান কল্পকাহিনিনির্ভর অ্যানিমেশন ও কনসার্ট চলচ্চিত্র চার ঘরানার চার সিনেমা। মাল্টিপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শুক্রবার মুক্তি পাচ্ছে ‘এভিল ডেড বার্ন’, ‘প্যাসেঞ্জার’, ‘টাইম হোপার্স: দ্য সিল্ক রোড’ এবং বিলি আইলিশ অভিনীত কনসার্ট চলচ্চিত্র ‘হিট মি হার্ড অ্যান্ড সফট: দ্য ট্যুর’।

    একই দিনে এত ভিন্ন ঘরানার ছবি মুক্তি পাওয়ায় দর্শকদের সামনে পছন্দের সুযোগও তৈরি হয়েছে বেশ কয়েকটি। যারা ভৌতিক অভিজ্ঞতা খুঁজছেন, তাদের জন্য রয়েছে ‘এভিল ডেড বার্ন’। রহস্য ও সাসপেন্স পছন্দ করা দর্শকদের জন্য ‘প্যাসেঞ্জার’। পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখতে চাইলে বেছে নেওয়া যেতে পারে অ্যানিমেশন ছবি ‘টাইম হোপার্স: দ্য সিল্ক রোড’। আর বিলি আইলিশের ভক্তদের জন্য রয়েছে বিশেষ কনসার্ট অভিজ্ঞতা।

    ‘এভিল ডেড বার্ন’: ভয়ংকর প্রত্যাবর্তন

    জনপ্রিয় ‘এভিল ডেড’ ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন ছবি ‘এভিল ডেড বার্ন’ পরিচালনা করেছেন সেবাস্তিয়ান ভানিচেক। ছবির সঙ্গে প্রযোজক হিসেবে যুক্ত আছেন স্যাম রাইমি ও রব ট্যাপার্ট। গল্পে দেখা যায়, স্বামীকে হারানোর পর এক তরুণী আশ্রয়ের সন্ধানে স্বামীর পরিবারের সদস্যদের কাছে একটি প্রত্যন্ত বাড়িতে যান। সেখানে পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের আবহ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। রহস্যময় ও অভিশপ্ত ‘বুক অব দ্য ডেড’ সক্রিয় হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। পরিবারের সদস্যরা একে একে ভয়ংকর শক্তির প্রভাবে বদলে যেতে থাকেন।সুহেইলা ইয়াকুব, হান্টার ডুহান ও লুসিয়ান বুকানন অভিনীত ছবিটিতে রক্তাক্ত দৃশ্য, অন্ধকার পরিবেশ ও ভৌতিক আতঙ্কের সমন্বয় দেখা যাবে।

    ‘প্যাসেঞ্জার’: গাড়ির ভেতরেই শুরু অশুভ আতঙ্ক

    আন্দ্রে ওভ্রেডাল পরিচালিত ‘প্যাসেঞ্জার’ এক তরুণ দম্পতির গল্প। দৈনন্দিন ব্যস্ততা থেকে দূরে থাকতে তারা ভ্যান নিয়ে দীর্ঘ ভ্রমণে বের হন। কিন্তু পথেই ঘটে যায় এমন এক ঘটনা, যা তাদের পুরো যাত্রাকে বদলে দেয়। একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর তারা আহত এক ব্যক্তিকে সাহায্য করেন। এরপর ধীরে ধীরে তাদের মনে হতে থাকে, দুর্ঘটনাস্থল থেকে শুধু ওই মানুষটিকেই তারা সঙ্গে আনেননি তাদের গাড়িতে যেন আরও কিছু উঠে এসেছে। অদৃশ্য সেই অশুভ উপস্থিতিকে ঘিরেই শুরু হয় আতঙ্ক, সন্দেহ ও বাঁচার লড়াই। ছবিতে অভিনয় করেছেন জ্যাকব সিপিও, লু লোবেল ও মেলিসা লিও।

    ‘টাইম হোপার্স: দ্য সিল্ক রোড’: ইতিহাস বাঁচানোর অভিযানে চার শিক্ষার্থী

    শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি পরিবারের সবার জন্য উপযোগী অ্যানিমেশন ছবি ‘টাইম হোপার্স: দ্য সিল্ক রোড’। গল্পের শুরু ভবিষ্যতের ২০৫০ সালে। চার মেধাবী শিক্ষার্থী একটি সময়ভ্রমণ যন্ত্রের মাধ্যমে অনিচ্ছাকৃতভাবে চলে যায় অতীতের ৮২৫ খ্রিষ্টাব্দের বাগদাদে।

    সেখানে তারা জানতে পারে, এক দুষ্ট রসায়নবিদ সময়ভ্রমণের প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ইতিহাস থেকে বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারগুলো মুছে ফেলার পরিকল্পনা করছে। এরপর চার শিক্ষার্থীকে জড়িয়ে পড়তে হয় এক রোমাঞ্চকর অভিযানে। মানবসভ্যতার জ্ঞান ও ইতিহাস রক্ষাই হয়ে ওঠে তাদের প্রধান লক্ষ্য।

    বিলি আইলিশের কনসার্ট এবার বড় পর্দায়

    বিলি আইলিশের ভক্তদের জন্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে পারে ‘হিট মি হার্ড অ্যান্ড সফট: দ্য ট্যুর’। এটি প্রচলিত অর্থে শুধু একটি কনসার্ট রেকর্ডিং নয়। ছবিটি নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে জেমস ক্যামেরনের ত্রিমাত্রিক ধারণপ্রযুক্তি।

    চলচ্চিত্রটিতে বিলি আইলিশের বিশ্বভ্রমণ কনসার্টের ম্যানচেস্টার পর্বের পরিবেশনা তুলে ধরা হয়েছে। ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তি ও ডলবি সাউন্ডের কারণে দর্শকেরা বড় পর্দায় কনসার্টের আবহ আরও কাছ থেকে অনুভব করতে পারবেন। ছবিতে থাকছে ‘বার্ডস অব আ ফেদার’ ও ‘লাঞ্চ’-এর মতো জনপ্রিয় গানও। স্টার সিনেপ্লেক্সের মিডিয়া বিভাগের প্রধান মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক মানের নতুন সিনেমা বাংলাদেশের দর্শকদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা সব সময়ই থাকে তাদের। একই দিনে চার ভিন্ন ঘরানার ছবি মুক্তি পাওয়ায় দর্শকেরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী সিনেমা বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। হরর, রহস্য, অ্যানিমেশন কিংবা সংগীত এই চার ভিন্ন স্বাদের ছবির মধ্যে শুক্রবার বড় পরয়ে প্রবাসী বাংলা ভাষাভাষী শ্রোতাদের গান শোনাবেন এই কিংবদন্তি শিল্পী।

  • দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে বিশ্বে তেলের মজুত

    দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে বিশ্বে তেলের মজুত

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় বৈশ্বিক তেলের বাজার বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বা পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর গত কয়েক মাসে বিশ্বের তেলবাজার বিভিন্ন বিকল্প সরবরাহপথ ব্যবহার করে বড় ধাক্কা সামাল দিতে সক্ষম হয়েছিল। ফলে ভোক্তাদের ওপর মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির ব্যয় বৃদ্ধির চাপ তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। যুদ্ধের সময় তেলের দাম বাড়লেও তা ২০২২ সালের ১২৮ ডলার বা ২০০৮ সালের বৈশ্বিক মন্দার আগে রেকর্ড ১৪৬ ডলার প্রতি ব্যারেলের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে এবং সেই বিকল্প ব্যবস্থাগুলোও একে একে দুর্বল হয়ে পড়ছে।

    আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটসের বৈশ্বিক কৌশল বিভাগের প্রধান হেলিমা ক্রফট বলেন, সংঘাত এখন অনেক বেশি বিপজ্জনক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এতদিন বাজারে যে ধারণা ছিল যে যেকোনো সংকটেরই বিকল্প পথ খুঁজে পাওয়া যায়। তবে এবার সেই ধারণা বদলে যেতে পারে।

    বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম মে মাসের পর প্রথমবারের মতো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রলের দাম ৪ ডলারের ওপরে এবং ডিজেলের দাম ৫ দশমিক ২০ ডলারের বেশি হয়েছে। বন্ডবাজারও ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    এতদিন সংঘাত এড়িয়ে লোহিত সাগর হয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন সম্ভব হচ্ছিল। তবে এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে।

    ইরানের হামলার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এর ফলে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল বিকল্প পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের পথে সরিয়ে নেয়া হচ্ছিল। কিন্তু এখন সেই পথও ঝুঁকিতে পড়েছে। ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর অবরোধের কারণে বাব আল-মান্দেব প্রণালিও কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

    এর ফলে সৌদি আরবের প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    যদিও সুয়েজ খাল হয়ে বিকল্প পথে তেল পাঠানো সম্ভব, তবে বড় আকারের পূর্ণ বোঝাই তেলবাহী জাহাজ ওই পথ ব্যবহার করতে পারে না। ফলে চার সপ্তাহের একটি যাত্রা আট সপ্তাহ পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে।

    বীমা নিয়েও নতুন সংকট

    সংঘাতের শুরুতে যুদ্ধঝুঁকির কারণে বীমার খরচ বেড়েছিল, কিন্তু জাহাজগুলো অন্তত বীমা পাচ্ছিল। এখন পরিস্থিতি আরও জটিল। ইরান আবারও প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ থেকে ২ ডলার টোল আরোপের পরিকল্পনা করেছে বলে জানা গেছে।

    লয়েডস মার্কেট অ্যাসোসিয়েশন (এলএমএ) জানিয়েছে, কোনো জাহাজ যদি ইরানকে এই টোল দেয়, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট জাহাজের পুরো বীমা বাতিল হয়ে যেতে পারে।

    অন্যদিকে টোল না দিলে ইরান হামলার হুমকি দিচ্ছে। ফলে জাহাজগুলো কার্যত কোনো নিরাপদ বিকল্প পাচ্ছে না।

    রাশিয়াও বাড়াচ্ছে সংকট

    বিশ্লেষকদের মতে, তেলের সংকট এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি তেল শোধনাগার এবং কৃষ্ণ সাগরের ক্যাসপিয়ান পাইপলাইন কনসোর্টিয়ামের টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    এর ফলে রাশিয়ায় জ্বালানির ঘাটতি তৈরি হওয়ায় দেশটি ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করেছে। যুদ্ধের আগে রাশিয়া প্রতিদিন প্রায় ৮ লাখ ব্যারেল ডিজেল রপ্তানি করত, যা বৈশ্বিক ডিজেল সরবরাহের প্রায় ১২ শতাংশ।
    এ ছাড়া কৃষ্ণ সাগরের পাইপলাইনে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক বাজার থেকে প্রতিদিন আরও প্রায় ১৭ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    দ্রুত কমছে বৈশ্বিক মজুত

    বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংকটের সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো বৈশ্বিক তেলের মজুত দ্রুত কমে যাওয়া। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অপরিশোধিত তেলের মজুত ছিল রেকর্ড উচ্চতায়। কিন্তু গত পাঁচ মাসে সেই মজুত প্রায় ১৩০ কোটি ব্যারেল কমে গেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেলভাণ্ডারও ১৯৮৩ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। গত বসন্তের পর থেকে সেখান থেকে ১১ কোটি ৬০ লাখ ব্যারেল তেল ব্যবহার করা হয়েছে।
    একই সঙ্গে দেশটির বাণিজ্যিক তেলের মজুতও পরিচালনাগত সর্বনিম্ন সীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে।

    চীনের মজুতও শেষের পথে

    গত কয়েক মাসে তেলের চাহিদা কিছুটা কম ছিল, কারণ যুদ্ধ শুরুর আগেই চীন বিপুল পরিমাণ তেল মজুত করেছিল। তবে বিশ্লেষকদের মতে, চীন আর বেশিদিন শুধু মজুতের ওপর নির্ভর করতে পারবে না। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে দেশটিকে আবারও বড় পরিসরে তেল আমদানি বাড়াতে হবে।

    তেলের দাম কোথায় যেতে পারে?

    গোল্ডম্যান স্যাকসের তেলবিষয়ক গবেষণা বিভাগের প্রধান ড্যান স্ট্রুইভেনের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে আগামী অক্টোবরের মধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ২০২২ সালের মতো ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের বেশি হতে পারে।

    অন্যদিকে আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটসের হেলিমা ক্রফটের আশঙ্কা আরও বেশি। তার মতে, যদি মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম নতুন রেকর্ড গড়ে ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারও অতিক্রম করতে পারে।

  • অতিরিক্ত মদ্যপানে সৌদি প্রিন্সের মৃত্যু

    অতিরিক্ত মদ্যপানে সৌদি প্রিন্সের মৃত্যু

    লন্ডনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে সৌদি আরবের ২৯ বছর বয়সী যুবরাজ আবদুল্লাহ বিন ফাহাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুলআজিজ বিন জালাউই আল সৌদের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শেষে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এনিয়ে বৃটেনের এক আদালতের তদন্তে বলা হয়েছে, অ্যালকোহল, মাদক এবং প্রেসক্রিপশনের ওষুধ একসঙ্গে গ্রহণের ফলে তার মৃত্যু হয়েছে। আদালত এ ঘটনাকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুহিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

    বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর লন্ডনের কেনসিংটনে অবস্থিত ম্যারিয়ট হোটেলের একটি কক্ষের বাথরুমের মেঝেতে অচেতন অবস্থায় যুবরাজ আবদুল্লাহকে পাওয়া যায়। কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পরিচ্ছন্নতাকর্মী দরজা খুলে তাকে দেখতে পান এবং জরুরি সেবায় খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্যারামেডিকরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
    ইনার ওয়েস্ট লন্ডন করোনার আদালতের তদন্তে সিদ্ধান্ত হয়, একাধিক মাদক ও ওষুধ গ্রহণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। সহকারী করোনার জিন হারকিন রায়ে উল্লেখ করেন, এটি আত্মহত্যা নয়; বরং দুর্ঘটনাবশত ঘটে যাওয়া মৃত্যু।

    টক্সিকোলজি পরীক্ষায় যা পাওয়া গেছে
    আদালতে জানানো হয়, যুবরাজ আবদুল্লাহ ওই সালের ১৯ নভেম্বর এক সপ্তাহের জন্য ম্যারিয়ট হোটেলে উঠেছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মৃত্যুর আগের রাতে তিনি সিগারেট খাওয়ার জন্য বাইরে গিয়ে পরে একাই হোটেলে ফিরে আসেন। তদন্তকারীরা তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাননি।
    টক্সিকোলজি পরীক্ষায় তার রক্তে প্রতি ১০০ মিলিলিটারে ২২২ মিলিগ্রাম অ্যালকোহল পাওয়া যায়, যা ইংল্যান্ডে বৈধ মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর সীমার প্রায় তিন গুণ। এছাড়া তার শরীরে প্রাণঘাতী মাত্রার গামা-হাইড্রক্সিবিউটিরেট , গাঁজার উপাদান, উদ্বেগ কমানোর ওষুধ আলপ্রাজোলাম (জ্যানাক্স) এবং আরও কিছু অ্যান্টি-অ্যাংজাইটি ওষুধের উপস্থিতি শনাক্ত হয়।
    ময়নাতদন্তে তার শরীরে কোনো তীব্র বা দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অসুস্থতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আদালতে জানানো হয়, অ্যালকোহল ও একাধিক মাদকদ্রব্যের সম্মিলিত প্রভাবে তার হৃদ্যন্ত্র বিকল হয়ে মৃত্যু ঘটে।

    আগে থেকেই চিকিৎসাধীন ছিলেন
    তদন্তে আরও জানা যায়, যুবরাজ আবদুল্লাহ আগে থেকেই অ্যালকোহলের অপব্যবহার ও প্রেসক্রিপশনের ওষুধের ওপর নির্ভরশীলতার জন্য চিকিৎসা নিয়েছিলেন। তিনি লন্ডনের রোহ্যাম্পটনের প্রায়োরি ক্লিনিকে ডিটক্সিফিকেশন কর্মসূচি সম্পন্ন করেন। পরে মার্সিসাইডের রেইনফোর্ড হল পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসা চালিয়ে যান।

    পরামর্শক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ভিক্টোরিয়া চামোরো আদালতে জানান, চিকিৎসায় যুবরাজ ভালো সাড়া দিয়েছিলেন এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার সময় তাকে আত্মহত্যার ঝুঁকিতে মনে করা হয়নি। যদিও পরে তিনি নির্ধারিত ফলো-আপ অ্যাপয়েন্টমেন্টে উপস্থিত হননি।
    সহকারী করোনার জিন হারকিন বলেন, তদন্তে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যা থেকে বোঝা যায় যুবরাজ নিজের জীবন শেষ করতে চেয়েছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়নি এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততারও কোনো ইঙ্গিত মেলেনি।

    সৌদি রাজপরিবারের ঘোষণা
    সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানায়, ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর সৌদি রাজকীয় আদালত এক বিবৃতিতে যুবরাজ আবদুল্লাহর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি সৌদি আরবের বাইরে মৃত্যুবরণ করেছেন। পরে রাজধানী রিয়াদের ইমাম তুরকি বিন আবদুল্লাহ মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

    এদিকে তারুদান্ত প্রেস যুবরাজ আবদুল্লাহকে সৌদি রাজপরিবারের একজন শান্ত, ভদ্র ও সবার শ্রদ্ধাভাজন সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি নীরবে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখতেন এবং জনসম্মুখে না এলেও তার দাতব্য কাজের জন্য পরিচিত ছিলেন।

  • দ্রুতই ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি পুনর্নির্মাণ করছে ইরান

    দ্রুতই ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি পুনর্নির্মাণ করছে ইরান

    কয়েক মাস ধরে একের পর এক বিমান হামলার পরও নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক অবকাঠামো দারুণ দক্ষতায় পুনর্নির্মাণ করছে ইরান। ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, সেতু থেকে শুরু করে কারখানা ও বন্দর—সবই দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনছে ইরান। ইসরাইল ও পশ্চিমা কর্মকর্তা এবং স্যাটেলাইট ছবির বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এতে বলা হয়, ইরানের এমন চমকপ্রদ পুনর্নির্মাণ ক্ষমতা ও দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো দেখে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ইসরাইলি কর্মকর্তারা।

    তুরস্কের বার্তা সংস্থা শুক্রবার (২৪ জুলাই) জানিয়েছে, স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, গত মার্চে পশ্চিম ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির টানেলের মুখ ও রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেখানে নতুন রাস্তা ও প্রবেশপথ তৈরি করা হয়েছে। ইসরাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি সেতু মাত্র কয়েক দিনেই মেরামত করেছে ইরানি কর্মীরা। এছাড়া জুলাইয়ের শুরুর ছবিতে কাশপিয়ান সাগরের বন্দার আনজালি বন্দরে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের সাথে যুক্ত শিপইয়ার্ড পুনর্নির্মাণের ছবি উঠে এসেছে।

    ইসরাইলের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাবেক কমান্ডার রান কোচাভ স্বীকার করেছেন, ইরান খুব দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি সামলে ক্ষেপণাস্ত্রের ভাণ্ডার আবারো পূর্ণ করে ফেলেছে। তাদের শিল্প উৎপাদন ও পুনর্নির্মাণ ক্ষমতা অত্যন্ত প্রভাবশালী। মার্কিন বিশ্লেষক তাল ইনবার জানান, ‘ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শেষ হয়ে গেছে বলে যে তথ্য ছড়ানো হয়েছিল তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।’

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সেনাবাহিনী ‘একেবারে তছনছ’ এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির যন্ত্র ‘ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া’র দাবি করলেও বাস্তবে হতাশা প্রকাশ করছেন ইসরাইলি সামরিক কর্মকর্তারা। এক ইসরাইলি কর্মকর্তা উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, ‘ইরান সব কিছু আবারো নতুন করে তৈরি করছে, আমি সত্যিই খুব চিন্তিত।’ অন্য এক কর্মকর্তা জানান, বেশিরভাগ বিমান হামলায় ভূগর্ভস্থ ঘাঁটির কেবল প্রবেশপথ ধসেছিল, ভেতরের মূল অংশ অক্ষত থাকায় তারা সহজেই অস্ত্র উদ্ধার করে সুরঙ্গ পথ খুলে ফেলেছে।

    দেজফুল ও কেরমানশাহর ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং তেহরানের কাছে রাজা শিমি ইন্ডাস্ট্রিজেও পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে। সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক জিম ল্যামসন জানান, জটিল যন্ত্রাংশ তৈরিতে কিছুটা সময় লাগলেও ইরানের ভূগর্ভস্থ ভাণ্ডারে যে বিপুল রসদ জমানো আছে, তা দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই তারা শত শত নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরি করে ফেলতে পারবে।

  • বিশ্বকাপের অবৈধ সম্প্রচারের অভিযোগে প্রায় ৩ হাজার ওয়েবসাইট বন্ধ

    বিশ্বকাপের অবৈধ সম্প্রচারের অভিযোগে প্রায় ৩ হাজার ওয়েবসাইট বন্ধ

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ অবৈধভাবে সম্প্রচার রোধে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে যৌথ অভিযানে প্রায় ৩ হাজার ওয়েবসাইট বন্ধ বা জব্দ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) জানিয়েছে, কপিরাইট লঙ্ঘন ও ডিজিটাল পাইরেসির বিরুদ্ধে পরিচালিত এই অভিযান বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে পরিচালিত হয়।

    ডিওজের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এক হাজারের বেশি ডোমেইন বন্ধ করা হয়েছে। একই সংখ্যক ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়েছে কলম্বিয়ায়। এছাড়া আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর, পেরু, ব্রাজিল ও ডোমিনিকান রিপাবলিকেও আরও ৮৩০টি ওয়েবসাইটের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    ‘অপারেশন অফসাইডস’ এবং ‘অপারেশন রেড কার্ড’ নামে পরিচালিত এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষ অংশ নেয়।

    যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস কো-অর্ডিনেশন সেন্টারের (এনআইপিআরসিসি) পরিচালক ইভান জে. আরভেলো বলেন, অনুমতি ছাড়া বিশ্বকাপের ম্যাচ সম্প্রচার শুধু মেধাস্বত্ব আইন লঙ্ঘনই নয়, এটি অপরাধী চক্রগুলোকেও আর্থিকভাবে শক্তিশালী করে।

    ডিওজে জানায়, গত মাসের শেষ পর্যন্ত অবৈধ বিশ্বকাপ স্ট্রিমিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৪০০টি ওয়েবপেজ বন্ধ করা হয়েছিল। পরবর্তী অভিযানে আরও শত শত ওয়েবসাইট ও ডোমেইন বন্ধ বা জব্দ করা হয়েছে।

    ডিওজের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এ. টাইসেন ডুভা বলেন, ‘বিশ্বকাপের অবৈধ সম্প্রচারে ব্যবহৃত এক হাজারেরও বেশি ডোমেইন জব্দ করা প্রমাণ করে যে, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা এবং ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সফল আয়োজন নিশ্চিত করতে প্রশাসন দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

    ডিজিটাল পাইরেসি প্রতিরোধে কাজ করা সংস্থা অ্যালায়েন্স ফর ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট (এসিই)-এর চেয়ারম্যান চার্লস রিভকিন বলেন, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক সরাসরি সম্প্রচারিত আসরকে লক্ষ্য করে পাইরেসি নেটওয়ার্কগুলো খুব দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে।

    অভিযানে ফিফা, বিআইএন মিডিয়া গ্রুপ, এনবিসি ইউনিভার্সাল, আলটিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ (ইউএফসি) এবং ওয়ার্নার ব্রাদার্সও সহযোগিতা করেছে। সম্প্রচারস্বত্ব বিক্রি থেকেই ফিফার আয়ের বড় একটি অংশ আসে।

    কলম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে, অভিযানের সময় ‘লস সিবেরইনফিলত্রাদোস’ নামে পরিচিত একটি সাইবার অপরাধী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিশ্বকাপের ম্যাচে প্রবেশাধিকার অর্জন ও তা বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    এছাড়া অবৈধ স্ট্রিমিংয়ের পাশাপাশি কলম্বিয়ায় জাল ক্রীড়া পোশাকের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী তল্লাশি ও জব্দ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিওজে জানিয়েছে, নকল ক্রীড়া সামগ্রী উৎপাদন ও বিতরণের অভিযোগে দেশটিতে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

    কর্তৃপক্ষ বলছে, অবৈধ স্ট্রিমিং ও নকল পণ্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের আন্তর্জাতিক সমন্বিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, যাতে ক্রীড়া সম্প্রচার শিল্পের মেধাস্বত্ব ও বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।

  • বিশ্বকাপ শেষে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন একঝাঁক তারকা

    বিশ্বকাপ শেষে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন একঝাঁক তারকা

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুধু নতুন চ্যাম্পিয়ন কিংবা রোমাঞ্চকর ম্যাচের জন্যই স্মরণীয় হয়ে থাকবে না বরং আন্তর্জাতিক ফুটবলের এক যুগের অবসানের সাক্ষীও হয়ে থাকবে এই আসর। বিশ্বকাপ শেষে ব্রাজিলের নেইমার, জার্মানির ম্যানুয়েল নয়্যার, আর্জেন্টিনার নিকোলাস ওতামেন্দি, মেক্সিকোর গিয়ের্মো ওচোয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের একাধিক অভিজ্ঞ ফুটবলার জাতীয় দলের জার্সিকে বিদায় জানিয়েছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপ, মহাদেশীয় শিরোপা ও অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেওয়া এই তারকারা নিজেদের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে নতুন প্রজন্মের জন্য জায়গা ছেড়ে দিলেন।

    ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার ২০১৪ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত অভিষেকের পর দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় জাতীয় দলের অন্যতম ভরসা ছিলেন। তবে ইনজুরির কারণে এবারের বিশ্বকাপে তার খেলার সুযোগ সীমিত ছিল। নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের বিদায়ের ম্যাচে মাত্র ৫৫ মিনিট খেলেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। ম্যাচ শেষে নেইমার বলেন, ‘সবকিছুর শুরু হয়েছিল মেটলাইফ স্টেডিয়ামে, আর এখানেই শেষ হলো। এখন সব শেষ।’ ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ তাকে ‘অসাধারণ প্রতিভাবান ফুটবলার’ বলে অভিহিত করে বলেন, তার বিদায় ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের জন্য দুঃখের মুহূর্ত।

    জার্মানির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার ২০১০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেন এবং ২০১৪ সালে জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম নায়ক ছিলেন। ইউরো ২০২৪-এর পর অবসর নিলেও এবারের বিশ্বকাপের আগে সিদ্ধান্ত বদলে দলে ফেরেন। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারে হারের পর ২৩তম ও শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানেন তিনি। পরে নয়্যার বলেন, ‘শেষটা তিক্ত হলেও ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার কোনো আক্ষেপ নেই।’

    চেক প্রজাতন্ত্রের স্ট্রাইকার প্যাট্রিক শিক প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেললেও দল গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। শেষ ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা পরই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ জাতীয় দলের সঙ্গে আমার অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।’ চেক ফুটবল ফেডারেশন তার অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

    মেক্সিকোর অভিজ্ঞ গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়া, যিনি ২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছিলেন, এবারের আসরে সীমিত সময় খেললেও শেষ ম্যাচে সতীর্থদের কাছ থেকে বিশেষ সম্মান পান। বিদায়বার্তায় তিনি বলেন, ‘মেক্সিকোর হয়ে খেলতে পারা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান।’

    আলজেরিয়ার অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজ ১২ বছর পর আবার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পান। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুই গোল করলেও শেষ পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে শেষ ৩২ থেকেই বিদায় নেয় আলজেরিয়া। অবসরের ঘোষণা দিয়ে মাহরেজ বলেন, ‘নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করা সবসময়ই আমার স্বপ্ন ছিল।’

    ইকুয়েডরের সর্বোচ্চ গোলদাতা এনার ভ্যালেন্সিয়া ২০১৪ ও ২০২২ বিশ্বকাপে ছয় গোল করলেও এবারের আসরে আর গোলের দেখা পাননি। মেক্সিকোর বিপক্ষে বিদায়ের পর তিনি জানান, জাতীয় দলের হয়ে এটাই ছিল তার শেষ ম্যাচ। ইকুয়েডর ফুটবল ফেডারেশন তাকে দেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে অভিহিত করেছে।

    ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের অন্যতম স্তম্ভ নিকোলাস ওতামেন্দিও বিশ্বকাপের আগেই জানিয়েছিলেন, এটিই হবে তার শেষ আসর। ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে বেশিরভাগ ম্যাচ খেললেও এবার শিরোপা ধরে রাখতে পারেননি। বিদায়বার্তায় তিনি বলেন, ‘এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। এরপর থেকে আমি শুধু একজন সমর্থক।’

    অস্ট্রিয়ার অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড মার্কো আরনাউটোভিচ নিজের প্রথম ও শেষ বিশ্বকাপেই দুটি গোল করেন। স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘অস্ট্রিয়ার হয়ে খেলাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। এখন থেকে দ্বিতীয় পরিবারের সঙ্গে আর দেখা হবে না এটাই সবচেয়ে কষ্টের।’

    সেনেগালের তারকা সাদিও মানে ২০১৮ বিশ্বকাপে খেললেও চোটের কারণে ২০২২ বিশ্বকাপ মিস করেছিলেন। এবারের বিশ্বকাপ শেষে তার অবসরের খবর প্রকাশ পেলেও সেটির সত্যতা নিয়ে কিছু প্রশ্ন রয়েছে। তবুও সেনেগাল ফুটবল মহলে তার অবদানকে সর্বোচ্চ সম্মান জানানো হয়েছে।

    স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক ক্রেইগ গর্ডন ২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর ৮৪টি ম্যাচ খেলেছেন। প্রথম বিশ্বকাপে মাঠে নামার সুযোগ না পেলেও বিশ্বকাপ শেষে ক্লাব ও আন্তর্জাতিক দুই ধরনের ফুটবল থেকেই অবসরের ঘোষণা দেন তিনি।

    আইভরি কোস্টের মিডফিল্ডার জ্যঁ মিশেল সেরি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলে ১১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি অবসরের ঘোষণা দিলে সতীর্থ ও অধিনায়ক ফ্রাঙ্ক কেসিয়েসহ অনেকে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

    বিশ্বকাপ শেষে একসঙ্গে এতগুলো অভিজ্ঞ ফুটবলারের বিদায় আন্তর্জাতিক ফুটবলে একটি যুগের সমাপ্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী দিনে নতুন প্রজন্মের ফুটবলাররা জাতীয় দলের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেও, নেইমার, নয়্যার, ওচোয়া কিংবা ওতামেন্দিদের স্মরণীয় অবদান ফুটবল ইতিহাসে দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ইরানের না

    যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ইরানের না

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলমান লড়াইয়ের মধ্যেই তেহরানকে নতুন করে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির মধ্যস্থতায় দেওয়া এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।

    শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক ইরানি ও ইরাকি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে, সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর তেহরান সফরকালে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদি যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাব নিয়ে যান।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের দেওয়া প্রস্তাবটির বিস্তারিত বিবরণ জানা যায়নি। তবে ইরানি কর্মকর্তারা এটিকে এই মুহূর্তে বিদ্যমান একমাত্র প্রস্তাব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তেহরান প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে, কারণ এতে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত সমস্যাগুলোর কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান রাখা হয়নি।

    তবে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, বিষয়টি ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

    ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর তেহরান সফর

    গত মে মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদির প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ইরান সফর। সফরকালে তিনি এক উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রীপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারের প্রচেষ্টা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

    ইরানি কর্মকর্তারা জানান, বৈঠকে পূর্বে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর বাস্তবায়ন ছাড়াও উভয় সরকার বাণিজ্য, জ্বালানি, পরিবহন ও আঞ্চলিক ইস্যুতে বৃহত্তর সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে।

    ইরানের গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, আল-জাইদি ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেছেন।

    বৃহত্তর সংঘাতের শঙ্কা ও সামরিক পরিস্থিতি

    নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন যদি তেহরান বা দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তবে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের সম্ভাবনা বিবেচনা করে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরানি কর্মকর্তারা।

    দু’জন ইরানি কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, এ ধরনের কোনো হামলা চালানো হলে তেহরান সমগ্র অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে দিতে বাধ্য হবে। এর অংশ হিসেবে সরাসরি ইসরাইলের তেল আবিবকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীকে কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানানো হতে পারে।

    এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী শুক্রবার ভোরে টানা ১৩তম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

    অন্যদিকে বুধবার ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এসব ধারাবাহিক হামলায় দেশে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে হামলায় আরও অন্তত ৫৯২ জন আহত হয়েছেন।

  • বাংলাদেশসহ ৬০ বাণিজ্য অংশীদারের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের

    বাংলাদেশসহ ৬০ বাণিজ্য অংশীদারের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের

    ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-সহ ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদারের পণ্যের ওপর ১০ ও ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে নতুন শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্পের প্রশাসন। আজ থেকে কার্যকর হওয়া এ শুল্কের আওতায় বাংলাদেশও রয়েছে। জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে শিথিলতার অভিযোগ এনে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সময়ে বিশ্বব্যাপী আরোপ করা অস্থায়ী ১০ শতাংশ মার্কিন শুল্কের মেয়াদও শেষ হচ্ছে। খবর রয়টার্স।

    হোয়াইট হাউজের এ পদক্ষেপকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বৈশ্বিক শুল্কব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সর্বশেষ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় জরুরি অবস্থা আইনের আওতায় গত বছর আরোপ করা ট্রাম্পের ১০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত তথাকথিত রেসিপ্রোকাল শুল্ক বাতিল করে দেয় মার্কিন উচ্চ আদালত। ওই শুল্কের উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো।

    গতকাল ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া মোট পণ্যের ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশের ওপর প্রযোজ্য হবে। তবে জ্বালানি তেল-গ্যাস, সার এবং কিছু খাদ্যপণ্যসহ বেশ কিছু পণ্য এর বাইরে থাকবে।

    ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় এ শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। এর ফলে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও যুক্তরাষ্ট্র কার্যত প্রায় সব আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ন্যূনতম শুল্ক বজায় রাখতে পারবে। এছাড়া সেকশন ৩০১ অতীতে আদালতে টিকে যাওয়ায় নতুন শুল্কের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জের ঝুঁকিও তুলনামূলক কম বলে মনে করা হচ্ছে।

    মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেছেন, প্রায় এক শতাব্দী ধরে যুক্তরাষ্ট্রে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং আমরা তা কঠোরভাবে কার্যকর করি। এখন সময় এসেছে আমাদের বাণিজ্যিক অংশীদাররাও একইভাবে ব্যবস্থা নেবে। আজকের পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিকৃত বাণিজ্যচর্চা সংশোধনের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে।

    এর আগে গ্রিয়ার জানিয়েছিলেন, যেসব দেশের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বাণিজ্য চুক্তিতে মার্কিন শুল্কের সর্বোচ্চ হার নির্ধারণ করা হয়েছে, নতুন ‘জোরপূর্বক শ্রম’ শুল্ক সেই সীমার ওপরে যাবে না।

    বাংলাদেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক

    চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, ব্রিটেন, কম্বোডিয়া, কানাডা, একুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ হবে।

    অন্যদিকে ইইউ, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ‘মোস্ট-ফেভার্ড-নেশন’ শুল্কের সঙ্গে মিলিয়ে মোট শুল্কহার ১০ অথবা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হবে।

    বাকি ৩৮টি দেশের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে। এর মধ্যে রয়েছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, দেশটি উইঘুর সংখ্যালঘুদের শ্রমশিবিরে আটক রেখে কাজ করায়। যদিও বেইজিং এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

    ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা চীনা কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, গত নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য যুদ্ধবিরতিতে যে ২০ শতাংশ শুল্কহারে সম্মতি হয়েছিল, সেটিই পুনর্বহাল করা হবে। এর বেশি বাড়ানো হবে না। শুক্রবারের নতুন ব্যবস্থা কার্যকরের আগে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে শিল্পপণ্যের ওপর আরোপিত ২৫ শতাংশ শুল্ক বাদ দিলে চীনা পণ্যের ওপর কার্যকর শুল্ক ছিল ১০ শতাংশ।

    ইউএসটিআরের নথিতে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ-সংক্রান্ত তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিবেচনা করা হয়েছে এআরটি (এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড)-এর অধীনে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বাধ্যবাধকতা। একইসঙ্গে জনমত, সাক্ষ্য, সেকশন ৩০১ কমিটি এবং উপদেষ্টা কমিটিগুলোর পরামর্শও বিবেচনা করা হয়েছে। এর পর প্রেসিডেন্টের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী নোটিশের অ্যানেক্স-১ এবং অ্যানেক্স-২, পার্ট এ ও জে অংশে উল্লিখিত ব্যতিক্রম ছাড়া বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিনিধি ।

    আরো বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী বাণিজ্য প্রতিনিধি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, তদন্তে ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত কার্যকলাপ, নীতি ও চর্চা দূর করার লক্ষ্যে নির্ধারিত শুল্কহার, শুল্কের আওতা এবং অব্যাহতিগুলো উপযুক্ত।

    উল্লেখ্য যে নোটিশের অ্যানেক্স-১ এবং অ্যানেক্স-২, পার্ট এ ও জে অংশে কোনো দেশের জন্য আলাদা করে কিছু লেখা নেই। বরং সেখানে যেসব পণ্য ১০ শতাংশ শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে, সেগুলোর তালিকা (এইচটিএসইউএস কোড অনুযায়ী) দেয়া হয়েছে।

    বিভিন্ন দেশের প্রতিবাদ

    নতুন শুল্ক ঘোষণার পরপরই কয়েকটি দেশ এর প্রতিবাদ জানিয়েছে।

    নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ আইদে বলেন, নরওয়ের বিরুদ্ধে এ শুল্ক আরোপের কোনো ভিত্তি নেই। কারণ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য ঠেকাতে আমাদের আগে থেকেই সুস্পষ্ট নিয়ম রয়েছে।

    অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিল এ শুল্ককে অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানায়। চলতি সপ্তাহে ২ হাজার কোটি ডলারের পণ্যের ওপর নতুন ট্রাম্প শুল্কের মুখে পড়া কানাডা তুলনামূলক সংযত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একে ‘একতরফা’ পদক্ষেপ বলে অভিহিত করে।

    ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্র্যাট গভর্নর মওরা হিলিও এ শুল্কের সমালোচনা করে বলেন, ‘এতে ব্যয় বাড়বে, ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা দুর্বল হবে। এর বোঝা বহন করার সামর্থ্য কারো নেই।’

    একই হার, ভিন্ন আইনি ভিত্তি

    ওয়াশিংটনের আইন প্রতিষ্ঠান উইলি রেইনের বাণিজ্য আইনজীবী টিম ব্রাইটবিল বলেন, প্রত্যাশিতভাবেই জোরপূর্বক শ্রমভিত্তিক শুল্ক বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তিতে নির্ধারিত বর্তমান শুল্কহারই মূলত বহাল রাখছে এবং শুক্রবার শেষ হওয়া সেকশন ১২২-এর ১০ শতাংশ শুল্কের জায়গা নিচ্ছে।

    তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ ধারণা নাকচ করে বলেন, সময়, হার ও প্রায় সব আমদানিপণ্যের ওপর প্রযোজ্য হওয়ার কারণে এটি আগের শুল্কের সরাসরি বিকল্প— এমন ধারণা সঠিক নয়।

    তার ভাষ্য, জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় কঠোরভাবে কার্যকর হয়। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো যথাযথ ব্যবস্থা না নিয়ে অন্যায্য বাণিজ্যিক সুবিধা পেয়ে থাকে।

    সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও বর্তমানে বাণিজ্য আইনজীবী রায়ান মেজেরাস বলেন, সেকশন ৩০১ অতীতে আদালতে টিকে থাকায় নতুন শুল্ককে আইনি চ্যালেঞ্জে বাতিল করা আরো কঠিন হতে পারে।

    যেসব পণ্য শুল্কমুক্ত থাকবে

    প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা জানান, জ্বালানি তেল ও গ্যাস, সার, কিছু খাদ্যপণ্য এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সেকশন ২৩২-এর আওতায় আগে থেকেই শুল্কের মুখে থাকা গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার মতো পণ্য নতুন শুল্কের আওতার বাইরে থাকবে।

    এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) শর্ত পূরণকারী পণ্যও শুল্কমুক্ত থাকবে। কারণ উত্তর আমেরিকার সমন্বিত সরবরাহ ব্যবস্থা এবং এসব পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চমাত্রার উপাদান ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।

  • মোদির আশ্বাস ফাঁপা প্রতিশ্রুতি- কেজরিওয়াল

    মোদির আশ্বাস ফাঁপা প্রতিশ্রুতি- কেজরিওয়াল

    প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘোষণাকে ‘ফাঁপা প্রতিশ্রুতি’ বলে কটাক্ষ করেছেন ভারতের আম আদমি পার্টির (এএপি) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল ।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছিলেন, প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানসহ একটি বিল আগামী সপ্তাহে সংসদে পেশ করা হবে। সেইসঙ্গে এ ধরনের মামলার জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি । এর পরিপ্রেক্ষিতেই কেজরিওয়াল এই মন্তব্য করেন।

    একটি ভিডিও বার্তায় কেজরিওয়াল বলেন, ‘গত রাতে ১২টার সময় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, সোমবার সংসদে একটি বিল আনা হবে, যার মাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের মামলায় দ্রুত বিচার আদালত গঠন করা হবে। এই আশ্বাস কতটা ফাঁপা, তা গতকালই প্রমাণ হয়ে গিয়েছে।’

    কেজরিওয়াল বলেন, ‘২০২৪ সালের নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের মূল হোতাকে সিবিআই আদালতে নির্দোষ ঘোষণা করেছে।’

    তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘যদি এ ধরনের তদন্তই করতে হয়, যদি আদালতে দেখানোর মতো কোনো প্রমাণই না থাকে, তাহলে দ্রুত বিচার আদালতের (ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট) নাটক কেন?’

    দিল্লির সাবেক এ মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করে আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যের মধ্যেই ত্রুটি রয়েছে।

  • ভারতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ নিয়ে টেন্ডুলকারের বার্তা

    ভারতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ নিয়ে টেন্ডুলকারের বার্তা

    প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে ভারতজুড়ে চলমান বিক্ষোভ ইস্যুতে বার্তা দিয়েছেন ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার। সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি বেলন, এমন একটি স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে কোনো ছাত্রছাত্রীর যেন মনে না হয় কঠোর পরিশ্রমের মূল্য দেওয়া হয়নি।

    কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলা আন্দোলন নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও, সততা, পরিশ্রম ও মেধার গুরুত্বের ওপরে জোর দিয়েছেন শচীন। বাবার শেখানো মূল্যবোধের কথা তুলে ধরে শচীন লেখেন, ‘আমার বাবা একজন অধ্যাপক ছিলেন। বহু ছাত্রছাত্রীর শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক ছিলেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই আমাকে একটি শিক্ষা দিয়েছিলেন— ব্যর্থ হওয়া মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু প্রতারণা নয়। কখনো শর্টকাট বেছে নেবে না।’

    ভারতের এই প্রাক্তন ক্রিকেটারের মতে, এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তোলা উচিত, যেখানে ফলাফলের চেয়ে পরিশ্রমকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং মেধাই হবে সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি।

    শচীন বলেন, ‘সমাজের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য হিসেবে আমাদের দায়িত্ব সংস্কৃতি গড়ে তোলা। যদি পরিশ্রমের বদলে শুধু ফলাফলকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তা হলে মানুষ মেধার বদলে শর্টকাটই খুঁজবে। আজ যদি ছাত্রছাত্রীরা মনে করে যে তাদের কঠোর পরিশ্রমের মূল্য দেওয়া হয়নি, তা হলে তাদের হতাশ হওয়া স্বাভাবিক। ভবিষ্যতে যাতে কোনো ছাত্রছাত্রীকে এমন পরিস্থিতির শিকার না হতে হয়, সেটা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।’

  • মামদানি ও তার স্ত্রীকে হত্যার হুমকি

    মামদানি ও তার স্ত্রীকে হত্যার হুমকি

    ইসরাইলি বিরোধী অবস্থানের কারণে নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানি ও তার স্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। রোলিং স্টোনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মামদানি জানান, ইসরাইল ও গাজা যুদ্ধ নিয়ে জনসমক্ষে মন্তব্য করার পর তাদেরকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। তবে কে বা কারা এই হুমকি দিয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।

    তিনি বলেন, ‘মৃত্যুর হুমকির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা কঠিন। তবে যখন আপনি সবার অধিকারের পক্ষে দাঁড়াতে প্রস্তুত থাকেন, তখন তার পরিণতি ভোগ করতেও প্রস্তুত থাকতে হবে।’

    মামদানি আরো বলেন, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার সদস্য থাকাকালীনও তিনি একই ধরনের হুমকির মুখে পড়েছিলেন। সে সময় ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা দেওয়ার সমালোচনা এবং ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার বিরোধিতা করার কারণে তিনি হুমকি পেয়েছিলেন বলে জানান।

    মামদানি জানান, মেয়র হওয়ার আগেই এসব হুমকি শুরু হয়েছিল এবং দায়িত্ব নেওয়ার পরও তা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, ইসরাইল ও গাজা ইস্যুতে নিজের অবস্থানের কারণে তার স্ত্রীও সমালোচনা ও হুমকির শিকার হয়েছেন।

    দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া আলাদা সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কথা উল্লেখ করে মামদানি বলেন, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দ্য হেগে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়া উচিত।

    পরে মামদানি স্পষ্ট করে বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার স্বাধীন আইনি ক্ষমতা নিউইয়র্ক সিটির নেই। তিনি জানান, এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার দায়ভার যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের ওপরই বর্তাবে।

  • ভারতের বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের শরীরে ছররা গুলি, পুলিশের অস্বীকার

    ভারতের বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের শরীরে ছররা গুলি, পুলিশের অস্বীকার

    ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আয়োজিত বিক্ষোভকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, বিক্ষোভ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছররা গুলি (পেলেট) ব্যবহার করেছে। এ দাবির পক্ষে একটি সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা নথিতে একাধিক আহতের শরীরে পেলেটের আঘাতের উল্লেখ পাওয়া গেছে। তবে দিল্লি পুলিশ এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ২০ জুলাই পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিল করে সিজেপি। দলটির অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে পুলিশ অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লির সফদরজং হাসপাতালের চিকিৎসা নথিতে ২৮ বছর বয়সী এক আন্দোলনকারীর ডান কনুই ও পিঠে পেলেটের আঘাতের কথা উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ক্ষতস্থানের চারপাশের চামড়া কালচে হয়ে গেছে, ব্যথা রয়েছে এবং শরীরের ভেতরে ছররার টুকরো আটকে আছে। ওই ব্যক্তিকে ২০ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

    অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছে এমন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।

    এনডিটিভির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ), যা সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) একটি বিশেষ ইউনিট, প্রয়োজন হলে পেলেট গান ও শক ব্যাটন ব্যবহার করে থাকে। বিক্ষোভের দিন দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি আরএএফও ঘটনাস্থলে মোতায়েন ছিল। তবে এ ঘটনায় পেলেট গান ব্যবহারের বিষয়ে সিআরপিএফ কোনো মন্তব্য করেনি।

    ভারতে প্রথম ২০১০ সালে কাশ্মীরের সহিংসতা দমনে পেলেট গান ব্যবহার করা হয়। পরে তা বন্ধ করা হলেও ২০১৬ সালে হিজবুল মুজাহিদিন নেতা বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর শুরু হওয়া বিক্ষোভে আবারও এ অস্ত্র ব্যবহার করা হয়।

    পেলেট গানে একটি কার্তুজ থেকে শত শত ধাতব বা রাবারের ছোট ছররা উচ্চগতিতে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে এবং কোমরের নিচের অংশ লক্ষ্য করে এটি ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে।

    এদিকে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক ভিডিওবার্তায় জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি বিল আগামী সপ্তাহে সংসদে উত্থাপন করা হবে।

    শুক্রবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, সরকারের উচিত প্রথমে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং যদি সত্যিই পেলেট ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

    অন্যদিকে দ্য হিন্দুতে প্রকাশিত এক নিবন্ধে কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন দমনে কেন্দ্রীয় সরকার অযৌক্তিক কঠোরতা দেখিয়েছে। তিনি ২০ জুলাইয়ের ঘটনাকে গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর আঘাত এবং একটি ‘কলঙ্কজনক অধ্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করেন। সেদিন বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের ফলে বহু মানুষ আহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বিক্ষোভে আহতদের মধ্যে সাহিল লোচাব নামে এক কিশোরের ডান চোখে পেলেট বিদ্ধ হওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। দিল্লি পুলিশের তথ্যমতে, আহত ৬০ জনের তালিকায় তার নাম রয়েছে। এনডিটিভি জানায়, তার চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং আরও একটি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। প্রথমে তাকে লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিকেল কলেজ, পরে সফদরজং হাসপাতাল এবং শেষ পর্যন্ত এইমস ট্রমা সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়।

    সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের তথ্যে বলা হয়েছে, সাহিলের মুখ, গলা, বুক, ডান কাঁধ ও হাতে একাধিক পেলেটের আঘাত রয়েছে। চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, একটি ছররা তার ডান চোখের কর্নিয়ায় গুরুতর ক্ষতি করেছে এবং আরেকটি ডান ফুসফুসের পাশাপাশি হৃদপিণ্ডের চারপাশের টিস্যুতেও পাওয়া গেছে।

    এ ছাড়া গুরুগ্রামের ২৫ বছর বয়সী শেখ মনসুরিও আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার নাক, কপাল, দুই চোখ ও গালে মোট সাতটি পেলেটের আঘাত লেগেছে। তাকে লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়, যেখানে তার প্রাথমিক অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।

  • সিআইয়ের স্থাপনায় ইরানের নির্ভুল হামলা

    সিআইয়ের স্থাপনায় ইরানের নির্ভুল হামলা

    ম্যানিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর এক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের বৈঠকে আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ।

    তবে বৈঠকটি এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হয়, যখন নতুন কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতে ইরানের হামলায় রাশিয়া প্রকাশ্যে যা স্বীকার করেছে তার চেয়েও বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের মার্কিন সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলার খবর প্রথম প্রকাশ্যে আসে ইরানের যুদ্ধের শুরুর দিকে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তৃতীয় দিনে সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সিআইএ স্টেশন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

    এরপর ৬ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সেনা সদস্য ও সামরিক বিমানের অবস্থান শনাক্ত করতে তেহরানকে সহায়তা করছিল মস্কো।

    সবশেষ বুধবার রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসে অবস্থিত সিআইএর স্থাপনাসহ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের ড্রোন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সম্ভাব্য রুশ সম্পৃক্ততার তদন্ত শুরু করেছে। তাদের মতে, হামলাগুলোর কার্যকারিতা ও নির্ভুলতা রাশিয়ার সহায়তার ইঙ্গিত দিতে পারে।

    প্যারিসের সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চের সহকারী অধ্যাপক নিকোল গ্রায়েভস্কির মতে, ইরানের হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে রাশিয়ার ভূমিকা থাকার সম্ভাবনা বাস্তবসম্মত।

    আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের আশঙ্কা আগেও ছিল। কারণ ইরানের সাম্প্রতিক অনেক হামলাই অতীতের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত ও নিখুঁত।’

    তিনি বলেন, ‘ইরানের নিজস্ব মহাকাশভিত্তিক সক্ষমতা খুব শক্তিশালী নয়, যেখানে রাশিয়ার সক্ষমতা অনেক বেশি। সামরিক মানের পর্যাপ্ত উপগ্রহও ইরানের নেই। তাই ধারণা করা যায়, এ বিষয়ে তারা রাশিয়ার সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতায় পৌঁছেছে।’

    তবে তিনি উল্লেখ করেন, লক্ষ্য নির্বাচন ও তথ্য সংগ্রহে ইরানের নিজস্ব মানব গোয়েন্দা (হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স) নেটওয়ার্কও রয়েছে, যা অনেক সময় গুরুত্ব পায় না।

    ইরানকে রাশিয়ার সমর্থন

    যুদ্ধ ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মস্কো ও তেহরানের সামরিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার হয়েছে।

    অনেক বিশ্লেষক দুই দেশের সম্পর্ককে পশ্চিমাবিরোধী স্বার্থভিত্তিক ‘সুবিধাবাদী জোট’ হিসেবে দেখলেও গ্রায়েভস্কি এ মূল্যায়নের সঙ্গে একমত নন।

    তিনি বলেন, ‘দুই দেশই মনে করে তারা বৈশ্বিক পর্যায়ে একই ধরনের হুমকির মুখে রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর তাদের সহযোগিতা আরো গভীর হয়েছে, আর সাম্প্রতিক সময়ে তা আরো বেড়েছে। এখন তারা একে অপরের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল।’

    ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর ইরান মস্কোকে শাহেদ ড্রোন ও ফাতেহ-১১০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে। এর ফলে দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হয়।

    গত বছর উভয় দেশ ২০ বছরের সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি সই করে, যেখানে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করা হয়।

    তবে সে সময় রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই রুদেঙ্কো দেশটির পার্লামেন্টে বলেন, এই চুক্তির অর্থ ‘ইরানের সঙ্গে সামরিক জোট গঠন বা পারস্পরিক সামরিক সহায়তার বাধ্যবাধকতা নয়’।

    এদিকে অভিযোগ রয়েছে, রাশিয়া কোমেটা-এম নামে একটি অ্যান্টি-জ্যামিং নেভিগেশন ব্যবস্থা সরবরাহ করে ইরানের শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের নির্ভুলতা বাড়াতে সহায়তা করেছে।

    মস্কোর কৌশলগত স্বার্থ

    গ্রায়েভস্কির মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত কিছুটা হলেও রাশিয়ার কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করছে। কারণ এতে ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ সরে যাচ্ছে এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

    তিনি বলেন, ‘রাশিয়া একে নতুন বৈশ্বিক ব্যবস্থার লড়াই হিসেবে দেখে। তারা একে এমন এক ধারাবাহিক পরিণতি হিসেবে দেখছে যা যুক্তরাষ্ট্রের পতনের কারণ হতে পারে।’

    তার ভাষায়, ‘রাশিয়া অবশ্যই চায় না ইরান পরাজিত হোক। তাই তারা একদিকে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একা লড়তে দিচ্ছে। অন্যদিকে কঠিন এই সময়ে টিকে থাকার মতো প্রয়োজনীয় সহায়তাও নিশ্চিত করতে চাইছে।’

    সাম্প্রতিক হামলা

    সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা আরো তীব্র হয়েছে। গ্রায়েভস্কির মতে, রাশিয়ার গোয়েন্দা সহায়তার চেয়ে ইরানের নিজস্ব কৌশলই যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারিণে বেশি প্রভাব ফেলছে বলে প্রমাণিত হচ্ছে।

    তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার সহায়তা ইরানের জন্য কোনো মৌলিক পরিবর্তন এনে দেয়নি। ইরানের নিজস্ব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আগেই ছিল এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে তা গড়ে তুলেছে। তবে রাশিয়ার সহযোগিতা তাদের সক্ষমতাকে আরো কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং প্রতিযোগিতায় বাড়তি সুবিধা এনে দিয়েছে।’

  • কুষ্টিয়া সীমান্তে ৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি

    কুষ্টিয়া সীমান্তে ৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি

    কুষ্টিয়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক আটজনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    শুক্রবার ভোর ৫টা ১০ মিনিটের দিকে বিজিবির কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধীন জয়পুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ১৫২/১-এস সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিপক্ষ ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চর মেঘনা ক্যাম্পের সদস্যরা অজ্ঞাতনামা দুইজন পুরুষ, চারজন নারী ও দুইজন ট্রান্সজেন্ডারসহ মোট আটজনকে নদীপথে সাঁতার কেটে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি টহলরত বিজিবি সদস্যদের নজরে এলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেন। বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের মুখে ওই ব্যক্তিরা নদীপথেই পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

    কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা প্রতিহত করতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক রয়েছে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

  • ইরান-সৌদি ‘গোপন সমঝোতা’, নেপথ্যে পাক সেনাপ্রধান?

    ইরান-সৌদি ‘গোপন সমঝোতা’, নেপথ্যে পাক সেনাপ্রধান?

    সৌদি আরবকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা করতে গোপনে তেহরান ও রিয়াদের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি-সদৃশ সমঝোতা করাতে মধ্যস্থতা করেছে পাকিস্তান। ইসরাইলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরাইল চাঞ্চল্যকর এক রিপোর্টে এমন দাবি করেছে।
    রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই সমঝোতার বিনিময়ে ইরানের তেল গোপনে পাকিস্তানে রপ্তানির ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে সহায়তা করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের মধ্যস্থতায় গত মার্চের শেষ দিকে এই সমঝোতা হয়েছে। সেই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায় চলছিল।

    যৌথ তেল পরিবহন উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে মধ্যস্থতা
    বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনজন কর্মকর্তার বরাতে টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, আসিম মুনির ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান আহমাদ বাহিদির সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত একটি তেল পরিবহন উদ্যোগের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়টি সামনে এনে এই সমঝোতায় মধ্যস্থতা করেন।
    রিপোর্টে দাবি করা হয়, গত বছরের শেষ দিক থেকে এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে নীরবে ইরান থেকে পাকিস্তানে তেল পরিবহন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিটি দুই সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে যুক্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি বন্দর অবরোধের মধ্যেও তাদের জন্য বিপুল আর্থিক সুবিধা তৈরি করেছে।

    সমঝোতার পর সৌদির ওপর হামলা কমে যায়
    যুদ্ধের প্রথম মাসে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ বারবার ইরানের হামলার মুখে পড়ে। তবে সমঝোতা হওয়ার পর সৌদি আরবের ওপর হামলা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এ তথ্য দিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের একজন কূটনীতিক, একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেকজন কর্মকর্তা।
    তবে প্রায় তিন মাস কোনো উল্লেখযোগ্য হামলা না হওয়ার পর গত সপ্তাহান্তে ইরান সৌদি আরবের দিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
    এরপর আসিম মুনির আইআরজিসি প্রধান আহমাদ বাহিদিকে সতর্কবার্তা পাঠান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মুনির জানান যে, এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে তাদের যৌথ তেল পরিবহন উদ্যোগের কার্যক্রম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এরপর থেকে সৌদির দিকে ইরানের আর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়নি।

    কেন সক্রিয় ছিল পাকিস্তান?
    প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধে পাকিস্তান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছে। একই সঙ্গে সৌদির সঙ্গে পাকিস্তানের একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে- দুই দেশের যেকোনো একটির ওপর আগ্রাসনকে উভয় দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
    এ ছাড়া সৌদির সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং রিয়াদকে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ইসলামাবাদের ওপর আরও নির্ভরশীল করে তোলার আগ্রহও পাকিস্তানের ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এ কারণেই আসিম মুনির এই মধ্যস্থতায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

    সমালোচনার মুখে সমঝোতা
    মধ্যপ্রাচ্যের এক কূটনীতিক এই সমঝোচনার সমালোচনা করে বলেছেন, এটি কার্যত এমন একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে, যা চলমান যুদ্ধে হামলার লক্ষ্যবস্তু না হওয়ার বিনিময়ে ইরান আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছে যে অর্থ বা সুবিধা দাবি করছে, তাকে এক ধরনের “মুক্তিপণ” হিসেবে বৈধতা দিয়েছে।
    তবে গোপন এই সমঝোতার বিষয়ে পাকিস্তান, সৌদি আরব কিংবা ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • দুই কারণে আটকে আছে নতুন পে স্কেল

    দুই কারণে আটকে আছে নতুন পে স্কেল

    অর্থনৈতিক চাপ, রাজস্ব ঘাটতি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সতর্ক অবস্থানের কারণে বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সরকারের বিবেচনায় রয়েছে একবারে পুরো বেতন-ভাতা না বাড়িয়ে দুই ধাপে পে স্কেল কার্যকর করার পরিকল্পনা। প্রথম ধাপে মূল বেতন (বেসিক) বৃদ্ধি এবং পরবর্তী ধাপে বিভিন্ন ভাতা সমন্বয়ের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

    বর্তমান বিধান অনুযায়ী, প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা পুনর্বিবেচনার কথা থাকলেও গত এক দশকে নতুন কোনো পে স্কেল ঘোষণা করা হয়নি। এ কারণে নতুন সরকারের উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন অর্থনীতি ও জনপ্রশাসন বিশ্লেষকরা। যদিও প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হলে এই বিপুলসংখ্যক কর্মচারী নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আসবেন।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।

    তবে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বর্তমান রাজস্ব আহরণের পরিস্থিতিতে এই অর্থের সংস্থান কঠিন হওয়ায় ঘাটতি বাজেটের ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে।

    এদিকে আইএমএফের আশঙ্কা, একসঙ্গে বড় অঙ্কের বেতন বৃদ্ধি বাজারে অতিরিক্ত অর্থপ্রবাহ সৃষ্টি করতে পারে, যা মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ ফেলবে। পাশাপাশি প্রত্যাশিত হারে রাজস্ব আদায় না বাড়ায় দেশীয় ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

    এ পরিস্থিতিতে নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের আইনি, আর্থিক ও প্রশাসনিক দিকগুলো নিয়ে কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

    মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি ইতোমধ্যে কমিশনের সুপারিশ এবং অষ্টম জাতীয় পে স্কেলের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা পর্যালোচনা করে একাধিক বৈঠক করেছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আরও দুই থেকে তিনটি কারিগরি বৈঠকের পর কমিটি তাদের চূড়ান্ত খসড়া মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠাবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী আগস্টের প্রথম কিংবা দ্বিতীয় সপ্তাহে নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ হতে পারে।

    যদিও গেজেট প্রকাশে কিছুটা সময় লাগতে পারে, তবুও বর্ধিত বেতন ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা বর্ধিত বেতনের পাশাপাশি বকেয়া অর্থও একসঙ্গে পাবেন।

  • সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন স্পিকার

    সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন স্পিকার

    রাষ্ট্রপতি পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের গুঞ্জনের মধ্যে সফর সংক্ষিপ্ত করে কাল শুক্রবার দেশে ফিরছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংসদ সচিবালয়ের সূত্র জানিয়েছে, আগামীকাল থাই এয়ারওয়েজে ১২টা ১০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন তিনি।

    গত ১৯ জুলাই চিকিৎসার জন্য ব্যাংকক সফরে যান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী ২৬ জুলাইয়ের জন্য ফিরতি টিকিট কাটা ছিল। কিন্তু সফরসূচি সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবার দেশে ফিরতে স্পিকারকে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে অনুরোধ করা হয়েছে বলে সংসদ সচিবালয়ের সূত্রে জানা গেছে।

    সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সফর সূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ জুলাই স্পিকারের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে তাঁকে দ্রুত দেশে ফিরতে অনুরোধ করা হয়েছে। সে কারণে তিনি শুক্রবারই দেশে ফিরবেন।’

    কি কারণে দ্রুত দেশে ফিরছেন স্পিকার এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, গতকাল থেকেই বিভিন্ন গুঞ্জন (রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ) শুনছি। সে কারণে হয়তো সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন। আশা করি সবকিছু কালকেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।

    বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সে ক্ষেত্রে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করলেও, সংবিধানের ১২৩ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক।

  • এবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক, মোদিকে নতুন সতর্কবার্তা

    এবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক, মোদিকে নতুন সতর্কবার্তা

    প্রায় এক মাস ধরে দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থকরা। এরপরও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি পূরণ না হওয়ায় এবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। শুক্রবারের এই কর্মসূচিতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

    বৃহস্পতিবার সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা দেশজুড়ে কর্মসূচির ডাক দিয়ে বলেন, দিল্লির বাইরেও আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে হবে। প্রতিটি শহর ও গ্রামে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করতে হবে। চলুন এই বিক্ষোভকে জাতীয় স্তরে নিয়ে যাই। অনুগ্রহ করে ২৪ জুলাই (শুক্রবার) সারা দেশের প্রতিটি শহর ও গ্রামে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করুন।

    এদিকে আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দাবিও বৃহৎ পরিসরে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে অভিজিত বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি উপেক্ষা করা হলে বিক্ষোভ আরও বাড়বে। সরকার ব্যবস্থা না নিলে এই আন্দোলন শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

    অভিজিত বলেন, ‘মোদিজিকে আবারও অনুরোধ করছি, আপনি ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করুন। না হলে বিষয়টা আপনার পদত্যাগের দাবি পর্যন্ত গড়াবে।’

    শিক্ষামন্ত্রীকে অযোগ্য ও ব্যর্থ উল্লেখ করে অভিজিত বলেন, একজন মন্ত্রীকে বাঁচানোর চেয়ে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর স্বার্থ আগে দেখা উচিত। ছাত্রছাত্রীর চেয়ে একজন অযোগ্য মন্ত্রী বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেন না। যদি ব্যর্থ ও অযোগ্য মন্ত্রীকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, তাহলে মনে রাখবেন, ভারতের নির্বাচনে কেউ আপনাদের ভোট দেবে না।

    এক বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে। ছবি: এএফপি

    পরিস্থিতির অবনতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা বলেছেন, সরকার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আরেক দফায় আলোচনা করতে প্রস্তুত। বৈঠকের স্থান হিসেবে তিনি নিজের অফিস কিংবা বাসভবনের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে সিজেপির পক্ষ থেকে এর আগে বলা হয়েছিল, পরবর্তী দফার আলোচনা হয় বিক্ষোভস্থলে, নয়তো কোনো নিরপেক্ষ জায়গায় করতে হবে।

    পরিস্থিতি উত্তপ্ত
    বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে চারটার দিকে দিল্লির সংসদ মার্গ-টলস্টয় লেন এলাকায় বেশ উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখেছেন হিন্দুস্থান টাইমসের সাংবাদিকরা। সেখানে বিক্ষোভকারী ও পুলিশ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। উভয়ের মাঝে কেবল দড়ির ব্যারিকেড ছিল। এক পর্যায়ে পুলিশের দিকে বোতল ছোড়া হলে উত্তেজনা বাড়ে।

    আন্দোলন দমাতে দিল্লির মধ্যাঞ্চলে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের সময়সীমাও বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এই অঞ্চলে মধ্যরাত পর্যন্ত ইন্টারনেট বন্ধ রাখতে মোবাইল অপারেটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে নিজের বাসভবনে বৈঠকের ডাক দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের বরাত দিয়ে হিন্দুস্থান টাইমস জানিয়েছে, বৈঠকে অন্য বিরোধী দলগুলোর নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা। তবে এর আগেই রাহুলের বাসভবনের সামনে র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

    সম্ভাব্য বাজে পরিস্থিতি এড়াতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লেখার কথা জানিয়েছেন সমাজকর্মী আন্না হাজারে। বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর যাতে বলপ্রয়োগ না করা হয়, সেজন্য তিনি মোদিকে চিঠি লিখেছেন।

    আন্না হাজারে বলেন, সহিংসতা দিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। সহিংসতা কাজ আরও বাড়িয়ে দেবে।

  • দিল্লির বিক্ষোভস্থলে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ

    দিল্লির বিক্ষোভস্থলে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ

    আন্তর্জাাতিক ডেস্ক:

    কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চলমান যুব আন্দোলনের মধ্যে দিল্লির কেন্দ্রীয় অংশে, বিশেষ করে আন্দোলনস্থল ও এর আশপাশের এলাকায় মোবাইল ডেটা (ইন্টারনেট) সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বৃহস্পতিবার এ

    সংস্থাটির সঙ্গে কথা বলা দুটি সূত্রের দাবি, ভারত সরকার টেলিযোগাযোগ কোম্পানিগুলোকে দিল্লির সংশ্লিষ্ট এলাকায় মোবাইল ডেটা পরিষেবা স্থগিত রাখতে নির্দেশ দিয়েছে।
    এদিকে শুক্রবার (২৪ জুলাই) দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ বা তেলাপোকা জনতা পার্টি (সিজেপি)। মূলত তাদের নেতৃত্বেই এই আন্দোলন চলছে।

    বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে সিজেপি এই তথ্য জানিয়েছে।
    এ ছাড়া দলটি আবারও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি জানিয়েছে। এদিন সিজেপি ভারতের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে নাগরিকদের বিক্ষোভে অংশ নেয়ার আহ্বান করে।
    দলটির লক্ষ্য, চলমান আন্দোলনকে একটি সর্বভারতীয় গণআন্দোলনে রূপ দেয়া।

  • সিকিমে সুড়ঙ্গ থেকে ২২ শ্রমিকের লাশ উদ্ধার, অভিযান অব্যাহত

    সিকিমে সুড়ঙ্গ থেকে ২২ শ্রমিকের লাশ উদ্ধার, অভিযান অব্যাহত

    ভারতের সিকিম রাজ্যের নামচি জেলায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণাধীন একটি সুড়ঙ্গে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২ জনে দাঁড়িয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পর্যন্ত উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ২২ শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করেছেন। এখনো নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে দিনরাত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।

    এর আগে সোমবার দুপুরের কিছুক্ষণ পর নির্মাণাধীন সুড়ঙ্গের ভেতরে হঠাৎ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিলার ভেতরে জমে থাকা দাহ্য গ্যাস বেরিয়ে এসে বিস্ফোরণের সৃষ্টি করে। বিস্ফোরণের পর মুহূর্তেই সুড়ঙ্গ ধসে পড়ে এবং বিষাক্ত ধোঁয়ায় ভরে যায় পুরো এলাকা। সে সময় ভেতরে ২৫ শ্রমিক কাজ করছিলেন। তারা সবাই সুড়ঙ্গের গভীরে আটকা পড়েন।

    রাজ্য সরকারের এক কর্মকর্তা জানান, বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সুড়ঙ্গের ভেতরের প্রতিকূল পরিবেশ, ধসে পড়া পাথর এবং বিষাক্ত গ্যাসের কারণে অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তারপরও নিখোঁজদের খুঁজে বের করার সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

    সিকিম সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে এবং উদ্ধারকাজে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে।

    এ পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া লাশগুরোর মধ্যে আটজনের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। তাদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার চারজন রয়েছেন। এ ছাড়া পাঞ্জাব, উত্তরাখণ্ড, আসাম ও সিকিমের একজন করে শ্রমিকের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জেলার কয়েকজন শ্রমিকও ওই প্রকল্পে কাজ করছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    দুর্ঘটনার পর নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। প্রত্যেক নিহত শ্রমিকের নিকটাত্মীয়কে পাঁচ লাখ রুপি দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে চার লাখ রুপি এবং আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার রুপি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রীও নিহতদের স্বজনদের জন্য দুই লাখ রুপি এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন।

    প্রকল্প কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শিলার ভেতরে আটকে থাকা দাহ্য গ্যাস হঠাৎ বেরিয়ে এসে বিস্ফোরণ ঘটায়। এর ফলে ঘন ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাসে সুড়ঙ্গ ভরে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে শ্রমিকরা বেরিয়ে আসার সুযোগ পাননি।

  • শ্রেণিকক্ষ থেকে কবরস্থানে ১২০ শিশু

    শ্রেণিকক্ষ থেকে কবরস্থানে ১২০ শিশু

    ইরানের স্কুলে ভয়াবহ মার্কিন হামলার হৃদয়বিদারক গল্প

    দক্ষিণ ইরানের ছোট শহর মিনাবের শাজারে তাইয়্যেবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কয়েক মাস পরও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে সেদিনের বিভীষিকা ভুলতে পারছেন না শিক্ষক আমিনেহ নাদেমি।
    ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের এই হামলায় ১২০ শিশুসহ মোট ১৫৬ জন নিহত হয়েছেন। মিনাব প্রসিকিউটরের কার্যালয় হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছে।

    মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় স্কুল
    ৩৩ বছর বয়সী শিক্ষক আমিনেহ নাদেমি বলেন, সেদিনও অন্য দিনের মতোই ক্লাস শুরু হয়েছিল। রমজান মাস হওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রথমে নামাজকক্ষে কোরআন তিলাওয়াত করে। এরপর তিনি প্রথম শ্রেণির ছাত্রীদের ফারসি বর্ণমালার নতুন একটি অক্ষর শেখাতে শুরু করেন। ঠিক তখনই ইরানের বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধের প্রথম হামলা শুরু হয়।
    স্কুল কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করে এবং অভিভাবকদের সন্তানদের নিয়ে যেতে বলা হয়। আমিনেহ জানান, তার ১৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে তখন মাত্র পাঁচজন শ্রেণিকক্ষে ছিল। হঠাৎ একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর তিনি শিশুদের নিতে ফিরে যান।

    তিনি বলেন, আমি বের হওয়ার ঠিক মুহূর্তেই একটি ক্ষেপণাস্ত্র স্কুলে আঘাত হানে। আমার মাথায় এবং শিশুদের মাথায় আঘাত লাগে। আমরা সবাই ছিটকে পড়ি।
    এরপর পুরো শ্রেণিকক্ষ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। শ্বাস নেয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর পুরো ভবন ধসে পড়ে। আমার আর শিশুদের শরীর থেকে রক্ত ঝরছিল, বলেন তিনি।
    ধোঁয়া কিছুটা সরে গেলে আহত শিশুদের নিচে থাকা লোকজনের কাছে নামিয়ে দেন তিনি। পরে ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে স্কুলের ফটকে গিয়ে দেখেন, অসংখ্য অভিভাবক খালি পায়ে ছুটে এসেছেন। তখনও তিনি বুঝতে পারেননি যে অধিকাংশ মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন।

    নিহতদের মধ্যে শিক্ষক ও বহু শিক্ষার্থী
    ছয় বছর ধরে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করা আমিনেহ জানান, হামলায় তার প্রথম শ্রেণির ছাত্রী আদ্রিনা, দ্বিতীয় শ্রেণির ফাতেমেহ, ষষ্ঠ শ্রেণির একাধিক শিক্ষার্থী, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক এবং কোরআনের শিক্ষক নিহত হন।

    উদ্ধারকর্মীদের হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা
    ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির উদ্ধারকর্মী রেজা বাশারাতি বলেন, হামলার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি জানান, আমরা ভেবেছিলাম হয়তো কাউকে জীবিত পাওয়া যাবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কাউকেই জীবিত পাইনি।

    রেজার ভাষ্য, অনেক মরদেহ এতটাই বিকৃত ছিল যে শুধু হাত, পা বা শরীরের খণ্ডিত অংশ পাওয়া গেছে। অনেক পরিবার সন্তানদের জুতা বা পোশাক দেখে তাদের শনাক্ত করেছে।
    তিনি বলেন, আমার এক আত্মীয় বারবার বলছিলেন, আমার ছেলেকে খুঁজে দাও। কিন্তু আমি বলতে পারিনি যে তার ছেলে আর বেঁচে নেই। আমরা সবাই কাঁদছিলাম।

    তদন্তে কী উঠে এলো
    হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই প্রথমে এ ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করেন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং মার্কিন বাহিনী কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় না।

    তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে যে মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার পুরোনো তথ্যের কারণে স্কুলটিকে আইআরজিসির সামরিক স্থাপনার অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
    বিশেষজ্ঞদের ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্কুলের পাশের আইআরজিসি কমপ্লেক্সে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছিল। একই সঙ্গে স্যাটেলাইট চিত্রে স্কুল এবং পাশের কয়েকটি ভবনেও হামলার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
    অন্যদিকে, ঐতিহাসিক স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, ২০১৬ সাল থেকে স্কুলটি আইআরজিসি কমপ্লেক্স থেকে আলাদা দেয়াল দিয়ে বিচ্ছিন্ন ছিল এবং এর নিজস্ব প্রবেশপথ ও খেলার মাঠ ছিল। এছাড়া এটি একটি স্কুল- এ তথ্যও হামলার আগেই অনলাইনে প্রকাশ্যে ছিল।
    মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ জানায়, তদন্ত এখনও চলমান এবং এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

    মোজা দেখে শনাক্ত করা হয় ৯ বছরের শিশুকে
    ধ্বংসপ্রাপ্ত ওই বিদ্যালয় থেকে অল্প দূরেই রয়েছে কবরস্থান, যেখানে নিহত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অনেককে দাফন করা হয়েছে। প্রতিদিন সেখানে যান মাসুমেহ মেহরান শেখাবাদি। তার নয় বছরের মেয়ে সেতায়েশ ওই হামলায় নিহত হয়।
    তিনি বলেন, স্কুল বলে কিছুই আর ছিল না। চারদিকে শুধু ধোঁয়া, শিশুদের চুল, একদিকে হাত, অন্যদিকে পা পড়ে ছিল। সবাই টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছিল।

    মাসুমেহ জানান, পরদিন ভোর পর্যন্ত মেয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরে মেয়ের ক্রিম রঙের মোজা দেখে তার মরদেহ শনাক্ত করা হয়। তিনি বলেন, সেতায়েশ বড় হয়ে শিক্ষক হতে চেয়েছিল। সে ঘরে পুতুল সাজিয়ে বলত- ‘আমি তোমাদের শিক্ষক।’

    শোকের সঙ্গে ক্ষোভ
    এই হামলাকে ইরান সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বারবার তুলে ধরছে। এমনকি আলোচক বহনকারী একটি বিমানের নামও রাখা হয়েছিল ‘মিনাব-১৬৮’, যা নিহতের আগের সরকারি সংখ্যার প্রতি ইঙ্গিত।
    স্থানীয়দের মতে, এ হামলা ইরানের মানুষের মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করেন, এটি যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ বেসামরিক ট্র্যাজেডিগুলোর একটি।
    মেয়ের কবরের পাশে বসে মাসুমেহ বলেন, এই শিশুদের অপরাধ কী ছিল? তাদের হাতে কি অস্ত্র ছিল? তাদের হাতে ছিল শুধু পেন্সিল, বই, খাতা আর স্কুলব্যাগ। তারা যুদ্ধ করতে যায়নি, তারা শুধু শিখতে গিয়েছিল।

  • যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মধ্যেই ইরান সফরে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী

    যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মধ্যেই ইরান সফরে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী

    যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান সংঘাতের মধ্যেই দু’দিনের সরকারি সফরে ইরানে গেছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল জাইদি।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) তেহরান পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান ইরানের অর্থমন্ত্রী আলী মাদিনেজাদেহ। পরে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে বৈঠক করেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী।

    ইরানের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে জাইদি তেহরানে গেছেন বলে ইরাক সরকারের মুখপাত্র হায়দার আব্বুদ জানিয়েছেন।

    সফরকালে জাইদি ওই অঞ্চলের ‘উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা ছাড়াও ইরানের কাছ থেকে গ্যাস আমদানিসহ বেশকিছু বাণিজ্যিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।

  • শয়তানের ‘ওয়াসওয়াসা’ বনাম সত্যের আবাবিল

    শয়তানের ‘ওয়াসওয়াসা’ বনাম সত্যের আবাবিল

    মিনার রশীদ

    মোটামুটি ৭৩/৭৪ সালের দিকে চারপাশকে বোঝার মতো বুদ্ধি হয়ে গেছে। তখন গ্রামের মসজিদের ইমাম ছিলেন আমাদের পাশের বাড়ির এক দাদা। আরবি খুতবার শেষদিকের একটি বাক্যে ইমাম সাহেব পাকিস্তানের নামটি উচ্চারণ করতেন। এর পরপরই ইয়া ফিলিস্তিন, ইয়া কাশ্মীর—এই দুটো শব্দও উচ্চারণ করতেন। গ্রামের সাধারণ মানুষ যেহেতু এগুলোর অর্থ বুঝতেন না। তাই ইমাম সাহেব এগুলো পড়লেও কোনো বালামুসিবতে পড়েননি!

    পরে বুঝেছি ইমাম সাহেব পাকিস্তান আমলে যে খুতবার কিতাবটি কিনেছিলেন, সেখান থেকেই খুতবাটি পড়তেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার অনেক পরেও পাকিস্তানের কল্যাণ কামনায় প্রতি শুক্রবার দোয়া করে গেছেন—বুঝে বা না বুঝে!

    তখন চতুর্দিকে রক্ষীবাহিনী তথা ফজলু কমান্ডারদের দুর্দান্ত প্রতাপ। ভয়ংকর সত্যটি হলো—যিনি ১০০ মাইল দূর থেকে পাকিস্তানি মিলিটারির আওয়াজ শুনতেন—সেই তিনি একই বৃহত্তর ময়মনসিংহের মধ্যেই অবস্থান করছিলেন! অগত্যা আমাদের ইমাম সাহেব যদি বাংলায় এই খুতবা পড়তেন—তবে বৃহত্তর ময়মনসিংহের ফজলু কমান্ডারের কাছে এই খবর পৌঁছাতে সময় লাগত না।

    এই ফজলু কমান্ডার বর্তমান সংসদে দাঁড়িয়ে কথিত পুলিশ হত্যার বিচার চাওয়ার সাহস দেখাচ্ছেন! এর একটি সুন্দর জবাব অবশ্য আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় দিয়েছেন! তিনি বলেছেন, জুলাইয়ে গণপ্রতিরোধের মুখে নিহত হওয়া পুলিশের যদি বিচার করতে হয়, তবে ৭১-এ মুক্তিবাহিনীর হাতে নিহত পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বা রাজাকার হত্যার বিচারও করতে হবে। খুবই যৌক্তিক কথা—এই কথাগুলো আমরা কিছুদিন ধরে বলে আসছি। সেই কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের মুখে শুনে যারপরনাই ভালো লেগেছে! মন্ত্রী মহোদয়গণ, এভাবে ফজলু কমান্ডার ও নিলুফার মনিদের ব্যূহ অতিক্রম করে পাবলিকের কথাগুলো শুনতে চেষ্টা করুন!

    গত কয়েক সপ্তাহে লক্ষ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের কিছু আওয়ামীপন্থি গণমাধ্যম (মোজা বাবুর ৭১ টিভি, সন্তোষ শর্মার কালবেলা প্রমুখ) বেলুচিস্তানের ঘটনাবলিকে অস্বাভাবিক গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করছে। কখনো শিরোনামে, কখনো টকশোতে, কখনো বিশ্লেষণের মোড়কে। দেখে মনে হতে পারে, বেলুচিস্তানের ভবিষ্যৎই যেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জাতীয় উদ্বেগ হয়ে পড়েছে! এরাই আবার ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের খবরকে পারলে ব্ল্যাকআউট করে দিচ্ছে! এই ৭১ টিভি ও কালবেলারা কখনোই কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামীদের নিয়ে কোনো কথা বলে না, শিখদের স্বাধীন খালিস্তান নিয়ে কোনো কথা লেখে না, সেভেন সিস্টার্সের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো নিয়ে কোনো কথা বলে না, যদিও বেলুচিস্তানের চেয়েও সেখানকার মানুষের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন আরো তীব্র এবং আরো সংকটপূর্ণ!

    প্রশ্ন হলো—কেন?

    একটি ব্যাখ্যা হতে পারে, পাকিস্তানকে রাজনৈতিকভাবে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা ইন্ডিয়ার দীর্ঘদিনের একটি রাজনৈতিক বয়ানের অংশ। সেই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের যেকোনো অভ্যন্তরীণ সংকটকে বড় করে দেখানো ইন্ডিয়ার গণমাধ্যমের কাছে রাজনৈতিকভাবে আকর্ষণীয় হতে পারে। তবে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের একটি অংশ কেন এই কাজটি করছে?

    আন্তর্জাতিক রাজনীতি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেটি হওয়া উচিত তথ্য, ইতিহাস, আমাদের নিজেদের আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং তার আলোকে অন্যদের অবস্থানের সাপেক্ষে!

    বেলুচিস্তান একটি জটিল ভূরাজনৈতিক অঞ্চল। সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদ, নিরাপত্তা, মানবাধিকার, প্রাকৃতিক সম্পদ, চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) এবং আন্তর্জাতিক শক্তির প্রতিযোগিতা—সবকিছু মিলেই বাস্তবতা গড়ে উঠেছে। এখানে যদি আমরা কথা বলতে চাই, তবে তা হতে হবে নিজেদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থের আলোকে!

    বেলুচিস্তানের জনগণকে বরং আমাদের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীরা এখন প্রকাশ্যেই স্বীকার করছেন যে বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে নয়—বরং পাকিস্তানকে ভাঙতেই তার দাদি শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী এই সহযোগিতা করেছিলেন! এরপর আমাদের জটিল ও ভয়ানক কৃতজ্ঞতাবোধে আটকে ৫৫ বছর যেভাবে শোষণ ও নির্যাতন করেছে, সেই জাজ্বল্যমান ইতিহাস থেকেও তাদের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত! দেখলাম, সেখানেও এক মহিলাকে শেখ মজিব বানানোর পাঁয়তারা করা হচ্ছে!

    পাকিস্তানের শাসকরা এবং ইন্টেলেকচুয়াল সমাজ বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে লেসন নিতে পারেন। বেলুচিস্তান জনগণের সত্যিকারের কনসার্নগুলো যথাযথ অ্যাড্রেস করুন। দোয়া করি, ভুট্টো, ইয়াহিয়া খান ও টিক্কা খানের মতো হঠকারী নেতৃত্ব যেন বেলুচিস্তানকে ঘিরে গড়ে না ওঠে! বেলুচিস্তান যেন কোনোভাবেই আরেক বাংলাদেশ না হয়—সেই কামনা করি!

    মধ্যপ্রাচ্যের পুরুষ মানুষদের নিয়ে অদ্ভুত অদ্ভুত গল্প পশ্চিমা মিডিয়ায় ছড়িয়ে আছে। এর মধ্যে একটা গল্প হলো, সেখানকার কোনো মহিলা হোস্টেলে আগুন লাগলে আটকে পড়া মেয়েদের উদ্ধার করতে পুরুষ ফাইয়ার ফাইটাররা প্রবেশ করতে পারবেন না। অর্থাৎ আগুনে পুড়ে মরুক, তবু পরপুরুষের স্পর্শ যেন মেয়েদের শরীরে না লাগে। বাঙালি এলিট সুশীলরা তাদের বিশেষ চেতনার ফতোয়া দিয়ে আমাদের এমনভাবেই ভূরাজনৈতিকভাবে পঙ্গু করে রাখতে চান! ইন্ডিয়া যদি আমাদের রংপুর বিভাগ এবং চট্টগ্রাম বিভাগ দখল করার প্রকাশ্য হুমকিও দেয়, তবু পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটির স্মরণ বা তাদের নাম নেওয়া মহাপাপ হবে। এ কারণেই চেতনার এক বরকন্দাজ পাকিস্তানের নাম নিলে কোমলমতি শিশুদের দাঁত ব্রাশ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন!

    এ কারণেই সংখ্যা অনেক গুণ বাড়িয়ে ৩০ লাখ শহীদ এবং ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বয়ানটি আমাদের গেলানো হয়েছে! দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকান অ্যাটমিক বোমা খেয়েও জাপান আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে পারবে—আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে তা করতে পারব না—বাঙালির জন্য এটি কবিরা গোনাহ!

    রনিদের চোখে আমরা কেন পাকিস্তানি উজবুক?

    বাংলাদেশের রাজনীতি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে যে কয়টি গিরগিটি জাতীয় প্রাণী রয়েছে, এর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি অন্যতম।

    তিনি কখনো কাদের মোল্লার উস্তাভাজার গল্প শুনিয়ে জামায়াতের অন্তরের অন্তস্তলে ঢুকে পড়েন, কখনো মাওলানা সাঈদীর সুর অনুকরণ করে সংসদে কথা বলে তৌহিদী জনতাকে সিক্ত করেন। মাঝখানে বিএনপির টিকিটে সংসদ নির্বাচন করেছেন! এখন আবার আওয়ামী লীগের অন্যতম উদ্ধারকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন!

    ইদাণীং কয়েকজন কথিত ‘সিনিয়র সাংবাদিক’ এবং হাইব্রিড ও অরিজিনাল ব্রিডের কয়েকজন বিএনপি নেতা-নেত্রী শেখ হাসিনাকে প্রাসঙ্গিক বানানোর কাজে হাত দিয়েছেন। জুলাই শহীদ আবু সাঈদ এবং হাদিকে দেশের জনগণ ভুলে যাচ্ছে, এ রকম একটা প্রচারণা শুরু করেছিলেন। তার বলার স্টাইল দেখে মনে হলো মি. আজাজিল একধরনের ওয়াসওয়াসা শুরু করেছেন! সিনিয়র সাংবাদিক নামধারী আরো কয়েকজনের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হলো—এই কজনকে দেখা মাত্রই জাতিকে সুরা নাসটি পড়া উচিত। কারণ ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্ধর্ষ, হাজার হাজার মানুষের খুনি, বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার তছরুপকারী এক সাইকোপ্যাথ মহিলাকে ফিরিয়ে আনার ফন্দি এরা শুরু করেছেন!

    নতুন ভার্সনের মি. আজাজিলদের ওয়াসওয়াসা সম্পর্কে সচেতন করায় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে আমাকে ‘পাকিস্তানি উজবুক’ বলে অভিহিত করেন।

    মুজতবা আলী পণ্ডিত মশায় গল্পের পণ্ডিতজি যে ঘৃণাভরা দৃষ্টিতে তার ছাত্রের দিকে তাকাতেন—এর চেয়েও হেয়দৃষ্টিতে আমার দিকে বোধ হয় তাকালেন। আমি এত নগণ্য যে আমার নামটিও শুনেননি। কিন্তু নাম না শোনলেও আমি যে ‘পাকিস্তানি উজবুক’ সেটি জেনে গেছেন। অথচ নয়া দিগন্তে যে জায়গায় আমার উপসম্পাদকীয় কলাম ছাপা হতো, সেই একই জায়গায় তার কলামটিও ছাপা হতো! আমার তখনকার কোনো কোনো লেখার প্রশংসাও করেছিলেন!

    যায়যায়দিন শফিক রেহমানের হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ায় আমরা কয়েকজন তখন অনেকটা বাস্তুচ্যুত রিফিউজির মতো নয়া দিগন্তে লেখা শুরু করেছি! এর মধ্যে শফিক রেহমান নিজে এবং বিবিসির সিরাজুর রহমানও ছিলেন। সিরাজুর রহমান একবার কষ্ট নিয়ে আমাকে বলেছিলেন—দীর্ঘদিন বিবিসিতে সাংবাদিকতা করার পরেও, বিশেষ করে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বিবিসি বাংলা বিভাগ থেকে একটা ভূমিকা থাকার পরেও দেশের কথিত এলিট বা ব্রাহ্মণ শ্রেণির কাগজগুলোয় আমার লেখা ছাপায় না!

    নয়া দিগন্তে আমরা যে কারণে রিফিউজি হয়েছিলাম, সেখানে আরেকটু ভিন্ন কারণে রিফিউজি হয়েছিল কাদের সিদ্দিকী ও গোলাম মাওলা রনি। এই কারণটিও বেশ কৌতূহলোদ্দীপক! জাতীয়তাবাদী ও ইসলামি ঘরানার রাজনৈতিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক প্ল্যাটফর্মগুলো আওয়ামী বলয় থেকে হঠাৎ খসে পড়া রাজনৈতিক তারকাদের জন্য আকর্ষণীয় রিফিউজ সেন্টার হিসেবে কাজ করে! আরেকটু পরিষ্কার করে বললে বলা যায় যে, এ ক্ষেত্রে বিএনপির রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মটি যেমন আদর্শ রিফিউজ—তেমনি জামায়াতের মিডিয়া প্ল্যাটফর্মটি!

    আওয়ামী লীগ থেকে খসে পড়ার পর ড. কামাল হোসেন, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর প্রমুখ নেতা ২০১৮ সালে এসে বিএনপির প্ল্যাটফর্মে জামাই আদরে বরিত বা গৃহীত হন। তাদের ভাবখানা তখন গরিব শ্বশুরের (বিএনপি) মহাদামি জামাই। বিএনপি তাদের আপ্যায়ন নিয়ে সারাক্ষণ তটস্থ থাকে। পরিস্থিতি এমন হয়ে পড়ে যে, ২০১৮ সালের নির্বাচনে ড. কামাল হোসেন এবং তার সঙ্গীরা জাতীয়তাবাদী শক্তির মূল নেতা বনে যান। পরিস্থিতি তখন বিএনপির জন্য এতটাই সঙ্গীন হয়ে পড়ে যে, ড. কামাল হোসেন তো দূরের কথা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর তাদের নতুন শ্বশুর বা শাশুড়ির নামটি নিতেও সংকোচবোধ করেছেন। একটি শুকনো হাসি দিয়ে বিএনপি তখন সব মেনে নিয়েছে!

    দেশের মিডিয়ায় শোরগোল উঠল আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই আইনবিদ দেশের ভেতরে এবং বাইরে ‘ফাটাফাটি’ অবস্থা সৃষ্টি করে ফেলবেন। তার এই ‘ফাটাফাটি’ ডাইলেমা সৃষ্টির জন্যই বোধহয় ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে বিশাল মিছিল সহকারে পাহারা দিয়ে কাঁঠাল রানির জেলখানায় রেখে আসা হয়! তিনি বিশেষ ভাব সহকারে দলবল নিয়ে গণভবনে আলোচনার জন্য গেলেন! কিন্তু সেখানে গিয়ে আলোচনার পরিবর্তে প্রাক্তন আওয়ামী লীগারদের স্মৃতিচারণের প্রীতি সমাবেশে পরিণত হয়! দেখা যায়, ড. কামাল হোসেনই একা নন, বিএনপির পক্ষ থেকে যারা গিয়েছেন, তারাও প্রাক্তন লীগার হিসেবে সেই স্মৃতিচারণায় অংশগ্রহণ করেন! কাজেই যে শক্ত রাজনৈতিক দরকষাকষির স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল—তার কিছুই হয়নি।

    সেদিনই স্পষ্ট হয়ে পড়ে ২০১৮-এর নির্বাচনের সম্ভাব্য ফল কী হবে! তবে এ রকম রাত্রিবেলায় ব্যালট পেপারে সিল মেরে ছয়-সাতটি আসন ধরিয়ে দেবে—সেটি কস্মিনকালেও ড. কামাল হোসেন কিংবা তার বিএনপিদলীয় ভক্তরা ঘুণাক্ষরেও মালুম করতে পারেননি!

    আওয়ামী লীগ শুধু রাজনৈতিক শত্রুদের তুমুলে ধ্বংস করে না—সুযোগ পেলে ড. কামাল হোসেনের মতো অবিশ্বস্ত সঙ্গীদেরও জীবনের তরে বসিয়ে দেয়।

    আওয়ামী লীগের হাতে শত্রু ও মিত্ররা এ রকম বারবার প্রতারিত হলেও একই বেলতলায় যাওয়ার জন্য প্রলুব্ধ হচ্ছেন বিএনপির সেই অতি উৎসাহী গ্রুপটি। তারা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য (দক্ষিণপন্থার হুমকি কমানোর জন্য) একটা মাইল্ড লীগকে একটু ঠ্যাক দেওয়ার সুযোগ দিতে চান। কিন্তু একটু ঠ্যাক দেওয়ার ফুরসত নিয়ে মাচাসহ যে বন্যার পানিতে পুরো জাতিকে হাবুডুবু খাওয়াবে—সেই হিসাব বোধ হয় কষছেন না। আদি রসের আধিক্য থাকায় শফিক রেহমানের দিনের পর দিন কলামের সেই বিখ্যাত চুটকিটি আর উল্লেখ করলাম না! বিভিন্ন সিম্পটম দেখে তাই মনে হচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়া বলে গেছেন, সাপকে বিশ্বাস করা যায় কিন্তু আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করা যায় না!

    আজ পর্যন্ত ছাত্রদলের সব কেন্দ্রীয় সভাপতি বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হতে না পারলেও কিংবা সেভাবে মূল্যায়িত হতে না পারলেও প্রায় একহালি প্রাক্তন ছাত্রলীগ সভাপতি জায়গা করে নিয়েছেন। শুধু জায়গা করে নেওয়া নয়। বরং তারা পুরো দলকেই নাক ধরে নাকানি-চুবানি খাওয়ানো শুরু করেছেন বলে অনুমিত হচ্ছে! এদের মধ্যে আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৪ এলাকা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান। বাকি কয়েকজনও বিএনপিতে বসে লীগের রাজনীতি শুরু করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শেখ হাসিনা কিংবা লীগ আবার ফিরে এলে এদের সবাই বিশেষভাবে পুরস্কৃত হবেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

    অন্যদিকে জামায়াত নেতাদের বলিষ্ঠ আর্থিক ও নৈতিক চরিত্রের যে ধারণা পোষণ করতাম—সেখানেও হোঁচট খেয়েছি। সত্তরোর্ধ্ব এক সিনিয়র নেতা যিনি আবার মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জামায়াতের ৭১-এর ভূমিকাকে কিছুটা স্বস্তিজনক জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলেন—তিনিও (নাতনির বয়সি) নারী-সংক্রান্ত জটিলতায় জড়িয়ে গেছেন! দেখা যাচ্ছে, প্রথম একটা ভিডিওতে ঘটনার আকস্মিকতায় নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাচ্ছেন কিন্তু অন্য একটি ভিডিওতে ওনার প্রথম স্ত্রী স্বামীর ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করে যাচ্ছেন! ভদ্রমহিলা এতে কতটুকু সফল হবেন, তা মালুম হচ্ছে না!

    ওপরে বর্ণিত এই ওয়াসওয়াসা জিনরূপী ইবলিশ দেওক কিংবা মানুষরূপী ইবলিশ দেওক—তাকে জব্দ করার জন্য সত্যের আবাবিল পাখির মতো সিটিজেন জার্নালিস্টরা দাঁড়িয়ে গেছেন! এদের একটা অংশ দেখলাম ঝাঁকে ঝাঁকে গিয়ে গোলাম মাওলা রনির পেজে হানা দিয়েছেন ।

    এ পর্যন্ত তার পেজে এক হাজার মন্তব্যকারী এবং আমার পেজে আটশ মন্তব্যকারীর ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ তার এই ভূমিকার নিন্দা জানিয়েছেন এবং আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন। সত্যের এই আবাবিলদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি! আমাদের রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় এবং প্রশাসনিক নেতৃত্ব নিজেদের নফসের দুর্বলতায় বিপথগামী হলে এই আপনারাই তাদের সঠিক পথে রাখতে পারবেন বলে আমার বিশ্বাস। একটি জ্ঞানভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক সমাজ গড়তে এই শক্তি সত্যিই আমাদের আশাবাদী করে তুলছে।

    লেখক : কলামিস্ট

  • বাড়ি থেকে পালিয়ে আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন তেলাপোকাদের

    বাড়ি থেকে পালিয়ে আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন তেলাপোকাদের

    ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ গণআন্দোলনে অংশ নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থী ও তরুণরা। তাদের অনেকেই রাতভর ট্রেন বা বাসে ভ্রমণ করে দিল্লিতে পৌঁছেছেন, এমনকি পরিবারের আপত্তির আশঙ্কায় কাউকে কিছু না জানিয়েই।

    সোমবারের ‘চলো সংসদ’ আন্দোলনের পর যন্তর মন্তরে দেখা যাচ্ছে বেশ হৃদয়স্পর্শী নানা চিত্র। মুম্বাই এবং প্রয়াগরাজ (ইউপি) থেকে আসা বেশ কয়েকজন কিশোর-তরুণ পরিবারকে কোনো কিছু না জানিয়ে বা বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছে।

    প্রয়াগরাজ পূর্বে এলাহাবাদ নামে পরিচিত এই নগরী থেকে ১৫ বছর বয়সী রাজ চার দিন আগে না জানিয়েই বাড়ি থেকে বের হয়ে আসে। পরনের এক কাপড়েই সে আন্দোলনস্থলে অন্যদের সাহায্য করছে। আন্দোলনস্থলে সহবিক্ষোভকারীদের ঠান্ডা পানীয় বিতরণ করতে করতে রাজ বলেন, আমি ব্যাগ নিয়ে আসিনি, কারণ বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছি। পরিবার টের পেলে আমাকে আসতেই দিত না।’

    প্রয়াগরাজের অন্য এক তরুণী তার পরিচয় লুকাতে মুখে মাস্ক ব্যবহার করছেন এবং নিজের পরিচয় লুকিয়ে রেখেছেন। তিনি জানান, তার বাবা, গ্রামের মানুষ এবং আত্মীয়দের অনেকেই ক্ষমতাসীন বিজেপি দলের সমর্থক। তাই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে তারা বিরোধিতা করবেন বলে আশঙ্কা করছেন। কারণ তার পরিবার ও গ্রামের অনেকেই সমর্থক।

    এদিকে মুম্বাই থেকে আসা এক কিশোরী ট্রেনে চেপে দিল্লিতে এসে আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। বাবা-মা তাকে পকেটমানি বন্ধের হুমকি দিয়ে বাড়ি ফিরতে বললেও সে জানিয়েছে, নিজের অধিকারের জন্য লড়াই করবে এবং প্রয়োজনে কাজ করে স্বাবলম্বী হবে।

    আন্দোলনকারীরা বিপ্লবি ভগত সিং, বি আর আম্বেদকর, চন্দ্রশেখর আজাদ, সাবিত্রীবাই ফুলে এবং জ্যোতিরাও ফুলের ছবি ও নীতি সামনে রেখে প্রতিবাদ করছেন।

    বিশেষভাবে নজর কেড়েছে ১৯২৯ সালে কারাগারে ভগত সিংয়ের অনশন কর্মসূচির উল্লেখ থাকা একটি ব্যানার। সে সময় ভগত সিং ও বটুকেশ্বর দত্ত বলেছিলেন, তাদের উদ্দেশ্য ছিল ‘বধিরদের শুনতে বাধ্য করা’, কাউকে হত্যা করা নয়। ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানটি বর্তমান প্রজন্মের কাছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

    সোমবার সংসদের দিকে মিছিল চলাকালে, সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে একটি কালো ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ টি-শার্ট পরে বিক্ষোভকারীদের পাশে হাঁটেন, এ সময় হাজার হাজার তরুণ বিক্ষোভকারী একই স্লোগান দিচ্ছিল।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক পোস্টে ১৯ বছর বয়সী রোহিনী কুমার নামে এক নিট পরীক্ষার্থীর খোঁজ চাওয়া হয়েছিল। যন্তর মন্তরের আন্দোলনস্থলে ছবি আঁকার জন্য পরিচিত রোহিনী ২০ জুলাই থেকে নিখোঁজ বলে জানানো হয়েছিল। পরে আরেকটি পোস্টে জানানো হয়, তাকে খুঁজে পাওয়া গেছে।

    অন্যদিকে, সিলামপুরের ৩৩ বছর বয়সী এক আন্দোলনকারীর বন্ধু রিজওয়ান দাবি করেন, প্রায় এক মাস ধরে অনশনরত ওই ব্যক্তিকে সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়।

  • ট্রাম্পের মতো আর কোন কোন রাষ্ট্রনায়কেরা যৌন কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছিলেন

    ট্রাম্পের মতো আর কোন কোন রাষ্ট্রনায়কেরা যৌন কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছিলেন

    যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টদের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই একাধিকবার যৌন কেলেঙ্কারি ও ফৌজদারি অপরাধের দায়ে সরাসরি আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে।

    তবে ইতিহাসের পাতায় তাকালে দেখা যায়, ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে থেকে যৌন কেলেঙ্কারিতে জড়ানো বা আইনি মারপ্যাঁচে পড়া রাষ্ট্রনায়কদের তালিকা বেশ দীর্ঘ। তাঁদের কেউ হারিয়েছেন ক্ষমতা, কেউ ভোগ করেছেন কঠোর কারাদণ্ড, আবার কেউ তীব্র বিতর্কের মধ্যেও রাজনৈতিকভাবে টিকে গেছেন।

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো কয়েকজন প্রভাবশালী রাষ্ট্রনায়কের ব্যক্তিগত জীবনের কেলেঙ্কারি এবং এর আইনি ও রাজনৈতিক পরিণতি নিচে তুলে ধরা হলো।

    ডোনাল্ড ট্রাম্প

    ডোনাল্ড ট্রাম্প

    যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠলেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে তাঁকে ‘ভদ্রলোক’ প্রমাণের হিড়িক পড়ে যায়। তবে সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন-সংক্রান্ত এফবিআইয়ের যেসব নতুন নথি প্রকাশ করেছে, তাতে ট্রাম্পের সেই সাধু ভাবমূর্তি ধরে রাখা কঠিন।

    নথিতে এক অজ্ঞাতনামা নারী দাবি করেছেন, ১৯৮০-এর দশকে যখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৩ থেকে ১৫ বছর, তখন এপস্টিন তাঁকে ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর ট্রাম্প নাকি তাঁকে জোর করে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিলেন। ২০১৯ সালের এই জবানবন্দি এত দিন নথিতে কালো কালিতে ঢেকে রাখার চেষ্টা চললেও শেষ রক্ষা হয়নি।

    অবশ্য হোয়াইট হাউস একে ‘মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত’ দাবি করেছে। ট্রাম্পের সমর্থকেরা প্রায় ২০ বছর আগের একটি ফোনালাপ সামনে এনেছেন, যেখানে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তিনি শুরুতেই জানতেন এপস্টিন একজন ‘অসভ্য’ মানুষ। ২০০৪ সালে মার-এ-লাগো ক্লাবের কর্মচারী ভাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করায় ট্রাম্প নাকি এপস্টিনকে লাথি মেরে বের করে দিয়েছিলেন। যদিও আশির ও নব্বইয়ের দশকে তাঁদের মাখামাখি অন্য কথাই বলে।

    যৌন কেলেঙ্কারি ও ফৌজদারি অপরাধের দায়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টদের মধ্যে একমাত্র ট্রাম্পই দোষী সাব্যস্ত হন। ২০২৩ সালে লেখক ই জিন ক্যারলকে যৌন নির্যাতনের দায়ে আদালত ট্রাম্পকে ৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করে।

    এ ছাড়া ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে পর্নো তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসের মুখ বন্ধ রাখতে ‘হাশ মানি’ বা গোপন অর্থ দেওয়ার তথ্য লুকাতে ব্যবসায়িক নথি জালিয়াতির মামলায় ট্রাম্প ৩৪টি ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নিউইয়র্ক সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হুয়ান মার্চেন ট্রাম্পকে এই মামলা থেকে ‘শর্তহীন অব্যাহতি’ দেন। বিচারক জানান, প্রেসিডেন্ট হিসেবে আসীন হতে যাওয়ায় শাসনতান্ত্রিক সুরক্ষার কারণে তাঁকে কোনো সাজা দেওয়া সম্ভব নয়।

    বিল ক্লিনটন

    বিল ক্লিনটন (যুক্তরাষ্ট্র)

    মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধানদের যৌন কেলেঙ্কারির কথা উঠলে বিল ক্লিনটনের নাম আসে সবার আগে। ১৯৯৮ সালে হোয়াইট হাউসের ২২ বছর বয়সী ইন্টার্ন মনিকা লিউনস্কির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এই কেলেঙ্কারির মূল সূত্রপাত হয়েছিল ১৯৯৪ সালে আরকানসাসের সরকারি কর্মচারী পলি জোন্সের দায়ের করা একটি যৌন হয়রানির মামলা থেকে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, পলি জোন্সের মামলায় জবানবন্দি দেওয়ার সময় ক্লিনটন শপথের অধীনে দাঁড়িয়ে মনিকা লিউনস্কির সঙ্গে কোনো ধরনের ‘যৌন সম্পর্ক’ থাকার কথা অস্বীকার করেছিলেন। কিন্তু মনিকার সেই বিখ্যাত নীল পোশাকে লেগে থাকা দাগের সঙ্গে ক্লিনটনের ডিএনএ হুবহু মিলে যায়। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের এই অকাট্য ফরেনসিক প্রমাণ এবং স্বাধীন কাউন্সেল কেনেথ স্টারের জেরার মুখে অবশেষে ক্লিনটন তাঁর গোপন সম্পর্কের কথা স্বীকার করতে বাধ্য হন।

    শপথের অধীনে দাঁড়িয়ে এই মিথ্যাচারের অভিযোগে ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ ক্লিনটনকে অভিশংসিত করে। তবে ১৯৯৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিনেটে ভোটাভুটির মাধ্যমে তিনি পদ রক্ষা করতে সক্ষম হন। তবে আদালত অবমাননা ও মিথ্যা সাক্ষ্যের অপরাধে ক্লিনটনকে জরিমানা করেন বিচারক সুসান ওয়েবার। পরে ১৯৯৮ সালের নভেম্বরে ক্লিনটন ৮ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বিনিময়ে পলি জোন্সের সঙ্গে আদালতের বাইরে মামলাটি রফা করেন।

    মোশে কাৎসাভ (ইসরায়েল)

    যৌন অপরাধের দায়ে ক্ষমতার সর্বোচ্চ চূড়া থেকে সরাসরি কারাগারে যাওয়ার সবচেয়ে বড় উদাহরণ ইসরায়েলের অষ্টম প্রেসিডেন্ট মোশে কাৎসাভ। ২০০০ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কাৎসাভের বিরুদ্ধে ২০০৬ সালে প্রথম যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।

    বিবিসির আর্কাইভ থেকে জানা যায়, ২০০৬ সালে কাৎসাভ নিজেই অ্যাটর্নি জেনারেল মেনাহেম মাজুজের কাছে অভিযোগ করেন যে এক নারী কর্মী তাঁকে ব্ল্যাকমেল করছেন। কিন্তু তদন্ত শুরু হতেই দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায়। ওই নারী কর্মী অভিযোগ করেন, ১৯৯৮ সালে কাৎসাভ তাঁকে দুইবার ধর্ষণ করেছিলেন। পরবর্তী সময় প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের আরও দুই নারী কর্মী তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন।

    যুক্তরাজ্যের দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৭ সালে কাৎসাভকে একটি সহজ আপস মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নিজেকে সম্পূর্ণ নিষ্কলঙ্ক প্রমাণ করার দম্ভ দেখিয়ে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং আদালতের মুখোমুখি হন।

    দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে তেল আবিব জেলা আদালতের তিন বিচারকের প্যানেল কাৎসাভকে দুই দফায় ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালত তাঁর জবানবন্দিকে ‘মিথ্যাচারে পরিপূর্ণ’ উল্লেখ করে ঐতিহাসিক রায় দেয়, যখন কোনো নারী ‘না’ বলেন, তার অর্থ শুধুই ‘না’। ২০১১ সালে তাঁকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

    সিলভিও বারলুসকোনি

    সিলভিও বারলুসকোনি (ইতালি)

    ইতালির চারবারের প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনি তাঁর বর্ণাঢ্য, অসংযমী ও বিতর্কিত ব্যক্তিগত জীবনের জন্য সারা বিশ্বে পরিচিত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারিটি ‘রুবিগেট’ নামে পরিচিত।

    ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ সালে বারলুসকোনির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তিনি তাঁর বিলাসবহুল প্রমোদতরি ও প্রাসাদে ‘বুঙ্গা বুঙ্গা’ নামের যৌন পার্টি আয়োজন করতেন। সেখানে করিমা এল মারুগ (ডাকনাম রুবি দ্য হার্টস্টিলার) নামের এক ১৭ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক মরক্কোর কিশোরীকে অর্থ দিয়ে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। শুধু তা-ই নয়, রুবি চুরি করার অপরাধে মিলান পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলে প্রধানমন্ত্রী বারলুসকোনি স্বয়ং পুলিশ স্টেশনে ফোন করে তাঁকে মুক্ত করেন। সে সময় তিনি পুলিশকে মিথ্যা বলেছিলেন যে রুবি হলেন মিসরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের নাতনি।

    ২০১৩ সালে মিলানের একটি নিম্ন আদালত ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার দায়ে বারলুসকোনিকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে ২০১৪ সালে উচ্চ আদালত এই রায় বাতিল করে দেন। আদালত জানান, রুবি যে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন, বারলুসকোনি তা জানতেন—এমন কোনো অকাট্য প্রমাণ পুলিশ হাজির করতে পারেনি।

    জ্যাকব জুমা

    জ্যাকব জুমা (দক্ষিণ আফ্রিকা)

    দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমাও তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে এক বিশাল যৌন কেলেঙ্কারির মুখোমুখি হয়েছিলেন। ২০০৫ সালের শেষ ভাগে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন এক পারিবারিক বন্ধুর মেয়ে।

    মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সে সময়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারী ফেজেকিলে এনতসুকেলা কুজওয়েও (যিনি ছদ্মনাম ‘খুয়েজি’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন) ছিলেন একজন এইচআইভি পজিটিভ সমাজকর্মী। খুয়েজির বাবা জুডসন কুজওয়েও ছিলেন জুমার রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, যিনি বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় জুমার সঙ্গে রবেন দ্বীপে ১০ বছর বন্দী ছিলেন। জুমার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি নিজের জোহানেসবার্গের বাড়িতে খুয়েজিকে ধর্ষণ করেন। তবে জুমার দাবি ছিল, সম্পর্কটি সম্মতির ভিত্তিতে হয়েছিল।

    ২০০৬ সালের মে মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার আদালত জুমাকে খালাস দেয়। তবে মামলার শুনানির সময় জুমার দেওয়া একটি জবানবন্দি বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি করে। জুমা আদালতে স্বীকার করেন যে তিনি জানতেন খুয়েজি এইচআইভি পজিটিভ, কিন্তু মিলনের পর এইডস সংক্রমণ এড়াতে তিনি স্রেফ ‘গোসল’ করেছিলেন। এই মন্তব্য দক্ষিণ আফ্রিকার এইডস অ্যাকটিভিস্টদের চরম ক্ষুব্ধ করে।

    জুমা ২০০৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট হন। তবে খুয়েজি জুমার অন্ধ সমর্থকদের অব্যাহত হুমকি ও লাঞ্ছনার মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন এবং ২০১৬ সালে নেদারল্যান্ডসে নির্বাসিত অবস্থায় মারা যান।

    ফারনান্দো লুগো (প্যারাগুয়ে)

    প্যারাগুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফারনান্দো লুগোর কেলেঙ্কারিটি ছিল একাধারে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক। লুগো ছিলেন রোমান ক্যাথলিক চার্চের একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় বিশপ, যাঁকে প্যারাগুয়ের গরিব মানুষ ‘দরিদ্রদের বিশপ’ বলে ডাকত। তিনি ২০০৬ সালে চার্চের পদ ছেড়ে রাজনীতিতে নামেন এবং ২০০৮ সালে দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

    কাতারের সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতায় বসার মাত্র কয়েক মাসের মাথায় প্যারাগুয়ের রাজনীতিতে ঝড় ওঠে। ভিভিয়ানা কারিলো নামের ২৬ বছর বয়সী এক নারী লুগোর বিরুদ্ধে তার সন্তানের পিতৃত্বের দাবিতে মামলা করেন।

    কারিলোর দাবি ছিল, তিনি যখন ১৬ বছরের কিশোরী ছিলেন এবং লুগো যখন বিশপ হিসেবে তাঁর পালক মায়ের বাড়িতে থাকতেন, তখন থেকেই তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক ছিল। এই দাবির মুখে ২০০৯ সালের এপ্রিলে লুগো প্রকাশ্যে স্বীকার করেন যে তিনি ওই নারীর দুই বছরের সন্তানের বাবা। এর পরপরই আরও দুই নারী দাবি করেন, তাঁদের সন্তানদের বাবা লুগো।

    একজন ক্যাথলিক বিশপের এমন কেলেঙ্কারি প্যারাগুয়ের রক্ষণশীল সমাজে তীব্র আঘাত হানে। তাঁর নৈতিক অবস্থান পুরোপুরি ধসে পড়ে। এই নৈতিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ২০১২ সালের জুনে প্যারাগুয়ের সিনেট এক সংক্ষিপ্ত রাজনৈতিক অভিশংসনের মাধ্যমে লুগোকে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে অপসারণ করে।

    ফরাসি প্রেসিডেন্টদের গোপন জীবন

    ফ্রান্সের রাজনীতিতে নেতাদের ব্যক্তিগত জীবনকে সাধারণত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ না করার একটি ঐতিহাসিক আইন ও ঐতিহ্য রয়েছে। ফরাসি দেওয়ানি বিধির ৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা একটি আইনি অধিকার। তবে কিছু রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষেত্রে এই ব্যক্তিগত জীবন রাষ্ট্রীয় অর্থের অপব্যবহারের স্তরে পৌঁছে গিয়েছিল।

    ফ্রান্সের জাতীয় দৈনিক ল্য মঁদ -এর এক বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, সাবেক ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রঁসোয়া মিতেরাঁ তাঁর দীর্ঘ ৩০ বছরের প্রেমিকা অ্যান পিঞ্জোর গর্ভে জন্ম নেওয়া কন্যাসন্তান মাজারিন পিঞ্জোর জন্য দীর্ঘ ২০ বছর রাষ্ট্রীয় খরচ বহন সম্পূর্ণ গোপন রেখেছিলেন।

    মাজারিন ও তাঁর মাকে পাহারা দিতে ফরাসি এলিট সিকিউরিটি ইউনিটের একটি বিশেষ দল সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকত। শুধু তা-ই নয়, মাজারিনের অস্তিত্ব যাতে কোনো সাংবাদিক প্রকাশ করতে না পারেন, সে জন্য মিতেরাঁ বেআইনিভাবে বহু সাংবাদিক ও লেখকের ফোনে আড়ি পাতার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ১৯৯৪ সালে প্যারিস ম্যাচ ম্যাগাজিন মাজারিনের ছবি প্রকাশ করার পর ফরাসি জনগণ প্রথম এই সত্য জানতে পারে।

    ২০১৪ সালে তৎকালীন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের একটি গোপন সম্পর্কের ছবি ফাঁস করে ফরাসি ম্যাগাজিন ক্লোজার। ছবিতে দেখা যায়, ওলাঁদ হেলমেট পরে সাধারণ স্কুটারে চড়ে অভিনেত্রী জুলি গায়ের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন। এই ঘটনা ফাঁসের পর ওলাঁদের অফিশিয়াল পার্টনার ও ফ্রান্সের ফার্স্ট লেডি ভ্যালেরি ট্রাইয়েরউইলারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভেঙে যায়, যা ফ্রান্সে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।

    জন এফ কেনেডি ছবি: ন্যাশনাল আর্কাইভ

    জন এফ কেনেডি (যুক্তরাষ্ট্র)

    মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম ক্যারিশম্যাটিক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির ব্যক্তিগত জীবন ছিল রহস্য ও কেলেঙ্কারিতে ঘেরা। তাঁর জীবদ্দশায় মার্কিন সংবাদমাধ্যম ঐতিহ্যগত নীরবতা বজায় রাখলেও তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত নথিতে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

    অবমুক্ত করা মার্কিন গোয়েন্দা ফাইলের ভিত্তিতে লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কেনেডির জীবনে সবচেয়ে বিপজ্জনক সম্পর্কটি ছিল জুডিথ ক্যাম্পবেল এক্সনারের সঙ্গে। ১৯৬০ সালে বিখ্যাত গায়ক ফ্রাঙ্ক সিনাত্রা জুডিথের সঙ্গে কেনেডির পরিচয় করিয়ে দেন। তবে জুডিথ একই সময়ে শিকাগোর কুখ্যাত মাফিয়া ডন স্যাম জিয়ানকানা এবং গ্যাংস্টার জন রোজেলিরও প্রেমিকা ছিলেন।

    মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের অবমুক্ত করা ঐতিহাসিক ফাইল অনুযায়ী, সংস্থার তৎকালীন ডিরেক্টর জে এডগার হুভার যখন জুডিথের ফোনের কললিস্ট পরীক্ষা করেন, তখন দেখেন জুডিথ একই সঙ্গে মাফিয়া ডন জিয়ানকানা এবং হোয়াইট হাউসের অফিশিয়াল নম্বরে ফোন করছেন। ১৯৭৫ সালে মার্কিন সিনেটের চার্চ কমিটির কাছে জুডিথ জবানবন্দি দিয়ে স্বীকার করেন যে তিনি কেনেডি ও মাফিয়া ডন জিয়ানকানার মধ্যে ব্যক্তিগত কুরিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। ১৯৬০ সালের নির্বাচনে শিকাগোর ভোট নিজেদের পক্ষে আনতে কেনেডি মাফিয়াদের টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ নথি জুডিথের মাধ্যমে পৌঁছে দিয়েছিলেন। এ ছাড়া কিউবার শাসক ফিদেল কাস্ত্রোকে হত্যা করার জন্য সিআইএ ও মাফিয়াদের যে যৌথ পরিকল্পনা ছিল, তাতেও জুডিথ মধ্যস্থতাকারী ছিলেন।

  • জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হতে লড়াইয়ে ৬ প্রার্থী, এগিয়ে কে?

    জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হতে লড়াইয়ে ৬ প্রার্থী, এগিয়ে কে?

    দুই মেয়াদে টানা এক দশক দায়িত্ব পালনের পর চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর জাতিসংঘের (ইউএন) মহাসচিবের পদ ছাড়বেন আন্তোনিও গুতেরেস। তার উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে বর্তমানে রয়েছেন ছয়জন প্রার্থী। তবে যিনি নির্বাচিত হবেন, তাকে এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিতে হবে যখন জাতিসংঘের কার্যকারিতা, প্রভাব এবং আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক

    জাতিসংঘের ভাষ্য অনুযায়ী, মহাসচিবের দায়িত্ব হলো একই সঙ্গে কূটনীতিক, অধিকারকর্মী, শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং প্রধান নির্বাহী (সিইও) হিসেবে কাজ করা। এই পদধারী জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যক্রম তদারকি করেন। নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান দায়িত্ব আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা।

    মহাসচিব নির্বাচনে নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশের ভিত্তিতে ভোট দেয় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। তবে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য- চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র- ভেটো ক্ষমতা রাখায় এই পদে নির্বাচিত হওয়ার পথ অত্যন্ত কঠিন।

    মিশেল ব্যাশেলেট (চিলি)
    চিলির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট মিশেল ব্যাশেলেট (২০০৬–২০১০ এবং ২০১৪–২০১৮) এবার জাতিসংঘের প্রথম নারী মহাসচিব হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২০১৬ সালে গুতেরেসের কাছে একাধিক নারী প্রার্থী পরাজিত হওয়ার পরও তিনি আশাবাদী।
    ৭৪ বছর বয়সী ব্যাশেলেট চলতি বছরের শুরুতে বলেন, ভদ্রভাবে বললে বলতে হয়, তখন হয়তো বিশ্ব প্রস্তুত ছিল না। এখন কি প্রস্তুত? আমি আশা করি, হ্যাঁ। তিনি বলেন, একজন নারী মহাসচিব নির্বাচিত হলে তা বিশ্ববাসীর জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা এবং বহু মানুষের জন্য আশার প্রতীক হবে।

    ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ছিলেন। এ সময় তিনি বহু গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক ইস্যুতে কাজ করেছেন।
    নিরাপত্তা পরিষদের অচলাবস্থা দূর করার কোনো ‘জাদুকরী সমাধান’ তাঁর কাছে নেই বলে স্বীকার করলেও, নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকেই তিনি সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন।

    রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি (আর্জেন্টিনা)
    আর্জেন্টিনার কূটনীতিক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি তার কর্মজীবনের বড় অংশ কাটিয়েছেন পারমাণবিক ও আণবিক জ্বালানি খাতে। ২০১৯ সালে তিনি জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক হন।
    বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে গ্রোসি মনে করেন, এই খাতে তার অভিজ্ঞতা একটি বড় সুবিধা। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জেনেভা সলিউশন্স’কে তিনি বলেন, আপনি যে পৃথিবীতে বাস করছেন, সেটিকে বুঝতে হবে।

    গ্রোসি জাতিসংঘের চলমান ইউএন৮০ সংস্কার উদ্যোগকে সমর্থন করেন। তার মতে, নতুন করে সবকিছু গড়ে তোলার প্রয়োজন নেই; বরং বিভিন্ন সংস্থার একীভূতকরণ এবং একই ধরনের একাধিক কাঠামো কমিয়ে ব্যয় হ্রাস করা উচিত।

    মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা (ইকুয়েডর)
    স্পেনে জন্ম নেয়া মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা ইকুয়েডরের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ৬১ বছর বয়সী এই কূটনীতিক একজন কবি, প্রাবন্ধিক এবং টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি আমাজন অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করেছেন।

    এছাড়া তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
    বৃটেনের দ্য অবজারভার পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমানে জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আর্থিক সংকট। তার ভাষায়, জাতিসংঘকে সংস্কার করতে হবে, রূপান্তর ঘটাতে হবে, নইলে টিকে থাকা কঠিন হবে। এস্পিনোসা আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা এবং ইউরোপের আর্থিক ও কূটনৈতিক সহায়তার ওপর জোর দিতে চান।

    রেবেকা গ্রিনস্প্যান (কোস্টারিকা)
    কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যান বর্তমানে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনের (আঙ্কটাড) মহাসচিব। ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে ইউক্রেনীয় শস্য রপ্তানি অব্যাহত রাখতে যে চুক্তি হয়েছিল, তা আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবায়নে তার ভূমিকা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়।
    গ্রিনস্প্যানের মতে, জাতিসংঘকে আরও সাহসী হতে হবে। লন্ডনে চ্যাথাম হাউস আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমলাতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বভাবগতভাবে ঝুঁকি নিতে চায় না। কিন্তু নতুন ধারণা বাস্তবায়ন করতে হলে ঝুঁকি নিতেই হবে।
    তিনি নিরাপত্তা পরিষদে বিশেষ করে আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার আরও বেশি প্রতিনিধিত্বের পক্ষেও মত দিয়েছেন।

    ম্যাকি সাল (সেনেগাল)
    ৬৪ বছর বয়সী ম্যাকি সাল ২০১২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সেনেগালের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এর আগে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
    তার শাসনামলে সেনেগালে উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও দ্বিতীয় মেয়াদে বিরোধী নেতা উসমান সোনকো’কে কারাবন্দি করার ঘটনায় বিক্ষোভ শুরু হলে তার জনপ্রিয়তা কমে যায়। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার ব্যর্থ চেষ্টা আরও প্রাণঘাতী বিক্ষোভের জন্ম দেয়, যা তাকে নিজ দেশে বিতর্কিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
    প্রথমদিকে সেনেগালের বর্তমান সরকার তার প্রার্থিতাকে সমর্থন না করলেও গত মাসে অবস্থান পরিবর্তন করে তার পক্ষে সমর্থন ঘোষণা করে।

    ক্যারোলিন রদ্রিগেজ বার্কেট (গায়ানা)
    সবশেষে প্রার্থিতার ঘোষণা দেন ক্যারোলিন রদ্রিগেজ বার্কেট। জুনের মাঝামাঝি তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যোগ দেন। বর্তমানে তিনি জাতিসংঘে গায়ানার স্থায়ী প্রতিনিধি। এর আগে তিনি জাতিসংঘে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন এবং গায়ানার পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ছিলেন। তিনি আমেরিকার আদিবাসী জনগোষ্ঠী আমেরিন্ডিয়ান সম্প্রদায়ের সদস্য এবং এ সম্প্রদায়সংশ্লিষ্ট সরকারি দায়িত্বও পালন করেছেন।

    গায়ানার প্রেসিডেন্ট ইরফান আলী তার প্রার্থিতার লক্ষ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, রদ্রিগেজ বার্কেটের লক্ষ্য হলো বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা, জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম করে তোলা, অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সমসাময়িক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘকে আরও সক্ষম করে তোলা।

  • ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক ‘তেলাপোকাদের’

    ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক ‘তেলাপোকাদের’

    ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নফাঁসসহ বিভিন্ন ইস্যুতে শুক্রবার (২৪ জুলাই) দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ বা তেলাপোকা জনতা পার্টি (সিজেপি)। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে সিজেপি এই তথ্য জানিয়েছে।

    একই সঙ্গে দলটি আবারও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি জানিয়েছে। এদিন সিজেপি ভারতের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে নাগরিকদের বিক্ষোভে অংশ নেয়ার আহ্বান করে। দলটির লক্ষ্য, চলমান আন্দোলনকে একটি সর্বভারতীয় গণআন্দোলনে রূপ দেয়া।

    এদিকে এরইমধ্যে নিটের প্রশ্নফাঁস ইস্যুর সঙ্গে জড়িতদের ‘দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি’ দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তরুণদের মঙ্গল ও উজ্জ্বল ভবিষ্যত।’ তবে মোদির এই অঙ্গীকারের পরেও কোনোভাবেই থামছে না তেলাপোকাদের আন্দোলন।
    রাজধানী দিল্লির যন্তরমন্তরে সিজেপির বিক্ষোভে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ছাত্র-যুবদের যোগদান বেড়ে চলছিল। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ শিক্ষার্থীদের জমায়েতে অংশ নিচ্ছেন।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকার সতর্কতা হিসেবে প্রচুর পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী নিয়োগ করেছে। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে বুধবার রাতে উত্তপ্ত হয়েছিল দিল্লির যন্তরমন্তর চত্বর।
    বৃহস্পতিবার সকালে সেখানকার পরিস্থিতি খানিক থমথমে। তবে ভিড় ক্রমশ বাড়ছে মানুষের। ‘নিরাপত্তাগত কারণে’ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশন।