আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন নেইমার

    আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন নেইমার

    ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়র আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিলের স্বপ্নভঙ্গের পর এবার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা ফরোয়ার্ড।

    মঙ্গলবার(২৮ জুলাই) কোপা সুদামেরিকানায় ভেনেজুয়েলার ক্লাব ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে সান্তোসের ৪-২ গোলের জয়ের পর নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার বিষয়টি নিশ্চিত করেন নেইমার।

    জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়ে নেইমার বলেন, জাতীয় দলের সঙ্গে আমার পথচলা শেষ। আমি ইতিহাস গড়েছি, অনেক ভালো মুহূর্ত পেয়েছি। হলুদ জার্সির জন্য নিজের রক্ত, জীবন সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। কিন্তু এখন আর চালিয়ে যেতে চাই না।

    ২০১০ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ব্রাজিলের সিনিয়র দলে অভিষেক হয় নেইমারের। দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল ও ৫৯টি অ্যাসিস্ট করে ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে জায়গা করে নেন।

    তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি বিশ্বকাপ কিংবা কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণ হয়নি তার। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের বিদায়ের পর থেকেই তার অবসর নিয়ে জোর গুঞ্জন শুরু হয়। শেষ ম্যাচ শেষে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন নেইমার। শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচটিই হয়ে থাকল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়।

    জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর পর এখন ক্লাব ফুটবলে মনোযোগ দিচ্ছেন নেইমার। ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে সান্তোসের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। এই জয়ে কোপা সুদামেরিকানার শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে সান্তোস, যেখানে তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ ইকুয়েডরের মাকারা।

    এদিকে সম্প্রতি তরুণ সতীর্থদের অপমান করেছেন এমন গুঞ্জনও নাকচ করে দিয়েছেন নেইমার। তিনি জানান, ম্যাচ শেষে অধিনায়ক হিসেবে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেছিলেন। কিন্তু সেই বিষয়টিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে সংবাদমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশ করা হয়েছে। সূত্র: গোল ডট কম

  • দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অফিস

    দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অফিস

    আবারো দুঃসংবাদ দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। দেশের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

    বুধবার দেশের সমুদ্র বন্দরসমূহের জন্য জারি করা বিশেষ আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, উত্তর উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে বর্তমানে উত্তর উড়িষ্যা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ ঝাড়খন্ড এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশর উপকূলীয় এলাকায় বায়ু চাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এর প্রভাবে সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার উপর দিয়ে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।’

    সেইসঙ্গে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

    এছাড়া, অপর একটি বিশেষ আবহাওয়া বুলেটিনে বলা হয়, রাজশাহী, পাবনা, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালি, নোয়াখালি, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কি.মি বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

    বুধবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এসব এলাকার নদী বন্দরসমূহকে ১ নম্বর (পুনঃ) ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

  • কাউন্সিলর একরাম হত্যা; ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ সেনা হেফাজতে: আইএসপিআর

    কাউন্সিলর একরাম হত্যা; ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ সেনা হেফাজতে: আইএসপিআর

    কক্সবাজারের টেকনাফে ক্রসফায়ারে কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় অভিযুক্ত হওয়ায় তৎকালীন র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল) মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার (২৭ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টায় তাঁকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়।

    আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি-উদ-দৌলা চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বরিশাল সেনানিবাসের স্টেশন কমান্ডার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২১ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষিত নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তালিকায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের পাশাপাশি তাঁর নামও ছিল।

    এর আগে গত রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একরাম হত্যা মামলায় অভিযোগ দাখিল করা হয়। মামলায় মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। এরই মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ওই পরোয়ানার ভিত্তিতেই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিনকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্ধারিত তারিখে তাঁকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে।

    মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, একরামুল হককে গুলি করে হত্যার সময় ঘটনাস্থলে মিফতাহ উদ্দিন আহমেদসহ অভিযুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন একরামুল হক। তিনি টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। ওই ঘটনার একটি অডিও রেকর্ড ফাঁস হলে তখন দেশজুড়ে আলোচিত হয়।

  • চাপের মুখে পিছু হটছেন শুভেন্দু

    চাপের মুখে পিছু হটছেন শুভেন্দু

    প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের পথে হাঁটতে পারে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার। আসাম ও বিহার সরকার ইতোমধ্যে এ ধরনের সব মামলা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও একই ধরনের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে রাজ্য সচিবালয়ের উচ্চপদস্থ সূত্রে জানা গেছে।

    গত শুক্রবার কলকাতার এসপ্ল্যানেডে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের ডাকা সমাবেশে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীরা প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিলেন।

    সোমবার দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপি জানায়, কেন্দ্রের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষার্থীদের মুক্তি এবং দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহার না হলে দলটি আবারো আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দলটি। এছাড়া মামলায় অভিযুক্তদের আইনি সহায়তা দিতে দেশজুড়ে আইনজীবীদের নিবন্ধনের জন্য একটি ওয়েবসাইট চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। এই উদ্যোগে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কপিল সিব্বল পরামর্শকের ভূমিকা পালন করবেন।

    এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আসাম ও বিহার সরকার পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শুক্রবারের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি। যদিও সচিবালয়ের সূত্র বলছে, সোমবারই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

    এদিকে সোমবার জলপাইগুড়ির এক সমাবেশে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দলীয় নেতাকর্মীদের তথাকথিত ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’-এর বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

    শুক্রবারের সহিংসতার ঘটনায় কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট ও এন্টালি থানায় মোট সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সম্প্রতি বিধানসভায় পাস হওয়া ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস অ্যাক্ট, ২০২৬ বা কথিত ‘অ্যান্টি-গুন্ডা আইন’-এর আওতায় এসব মামলা করা হয়।

    কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালে ভাঙচুরের অভিযোগে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৭০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার শিয়ালদহ থেকে মিছিল শেষে হাজারো শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এসপ্ল্যানেডের ডোরিনা ক্রসিংয়ে জড়ো হলে সেখানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    শনিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, নতুন ‘অ্যান্টি-গুন্ডা আইন’ প্রথমবারের মতো এই ঘটনায় প্রয়োগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতকারীদের এমন কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে, যাতে তাদের পরবর্তী তিন প্রজন্মও তা মনে রাখে।

  • গ্যাস সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চাইলেন তারেক রহমান

    গ্যাস সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চাইলেন তারেক রহমান

    চলমান গ্যাস সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার দুপুরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে এ সহযোগিতা চান তিনি। পরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তার দেশের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে বাংলাদেশের গ্যাস সংকট নিরসনে তার দেশের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

    আজ সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

    জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘হতে পারে এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত একটি স্থাপনা বা কাঠামো, যার মাধ্যমে আমরা আমদানিকৃত এলএনজিকে রিগ্যাসিফাই করছি, কিন্তু এটা তো জনগণের সরকার। জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা এই দায়িত্বটা অনুভব করি, জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে বলেই আমরা প্রাণান্ত করার চেষ্টা করছি এই সমস্যার সমাধানে।’

    তিনি বলেন, ‘সমস্যার গুরুত্ব অনুভব করে প্রধানমন্ত্রী গতকাল (সোমবার) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে একটি পত্র লেখেন, যেটি আজকে আমাদের শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন (মালয়েশিয়া সফরে আছেন) হস্তান্তর করেছেন কুয়ালালামপুরে। আজকে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। বাংলাদেশের এই উদ্ভূত জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তার এবং তার দেশের সহযোগিতা কামনা করেছেন।’

    অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘আনোয়ার ইব্রাহিম প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছেন, তার তরফ থেকে এবং তার দেশের তরফ থেকে- এ সংকট নিরসনে যা কিছু করার সুযোগ রয়েছে, তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার টিমের সঙ্গে কথা বলবেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে প্রধানমন্ত্রীকে (তারেক রহমান) অবহিত করবেন। তারা (মালয়েশিয়া সরকার) দ্রুত ফিডব্যাক দিবেন, যাতে করে বাংলাদেশের মানুষের কষ্ট লাঘবে মালয়েশিয়া এবং মালয়েশিয়া সরকার পাশে থাকতে পারে।’

    তিনি বলেন, ‘এই বার্তাটি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আমি এই কারণে অনুভব করছি যে, মানুষের এই সমস্যা, মানুষের এই কষ্টটা প্রতি মুহূর্তে আমাদেরকে কষ্ট দিচ্ছে এবং বাংলাদেশের মানুষের এই কষ্টে আমরাও সমব্যথী। আমরা ক্ষেত্রবিশেষে আমাদের কথা, আমাদের কষ্ট আরও বেশি কারণ জনগণ আসলে আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে তাদের কষ্ট নিরসনের জন্য।’

    সংকট সমাধানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় দিনরাত কাজ করছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি বিভাগের অন্যান্য সংগঠন পেট্রোবাংলা, আরপিজিসিএল যেমন দিনরাত কাজ কাজ করছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও প্রতি মুহূর্তে ঘটনা সম্পর্কে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং তার তরফ থেকে, তার পক্ষ থেকে যদি কিছু করবার থাকে সেই ব্যাপারে চেষ্টা করছেন। চাহিদা অনুযায়ী কিন্তু গ্যাস সরবরাহ করতে পারছি না। তাহলে চাহিদা এবং সরবরাহের মধ্যে যে গ্যাপটুকু রয়েছে, সে গ্যাপটা মিনিমাইজ করবার জন্য প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কামনা করেছেন।’

    এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়া থেকে আমরা এলএনজি আমদানির সুযোগ নিয়ে কাজ করছি। এটা তো একটা প্রক্রিয়ার ব্যাপার। এই প্রক্রিয়া কত দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা সম্পন্ন করতে পারি, এ ছাড়া বিকল্প কোনো পন্থা আছে কি না, যেখানে তাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে তারা আমাদেরকে সহায়তা করতে পারে, তাদের পরামর্শ দিয়ে আমাদেরকে সহায়তা করতে পারে কিংবা তাদের রিসোর্সেস আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারে— সবকিছুই হতে পারে।’

  • রজনীকান্ত ও বিজয়ের পথে কি হাঁটবেন ধানুশ?

    রজনীকান্ত ও বিজয়ের পথে কি হাঁটবেন ধানুশ?

    দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা ধানুশ রাজনীতিতে আসছেন, এমন গুঞ্জন আলোচনায় এসেছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি অভিনেতা। তবে তাঁর ফ্যান ক্লাবগুলোর সাংগঠনিক কার্যক্রম, জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ এবং সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ড ঘিরে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

    ভক্তদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে ধানুশ তাঁদের সামাজিক কাজে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আজ আপনারা সবাই এখানে একত্র হয়েছেন। এভাবে একসঙ্গে হতে পারাটাই আমাদের শক্তি। এই শক্তিকে একটি স্পষ্ট উদ্দেশ্যে কাজে লাগান এবং মানুষের পাশে দাঁড়ান। আরও জনকল্যাণমূলক কাজ করুন। প্রতিবেশীদের সমস্যাগুলো জানুন, তাঁদের একজন হয়ে পাশে দাঁড়ান এবং সাহায্য করুন।’

    তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে চলচ্চিত্র তারকাদের প্রবেশ নতুন নয়। রজনীকান্ত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনীতিতে আসার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি ‘আধ্যাত্মিক রাজনীতি’র কথা বললেও পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। অন্যদিকে অভিনেতা বিজয়ের রাজনৈতিক দল গঠনের পর দক্ষিণের আরেক বড় তারকা হিসেবে ধানুশকে নিয়েও আলোচনা বাড়ছে।

    ধানুশের রাজনৈতিক ভাবনা নিয়েও নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি এক বক্তব্যের শেষে তিনি ‘ওম নমঃ শিবায়’ উচ্চারণ করায় তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

    রজনীকান্ত ও ধানুশছবি: এক্স

    ধানুশের রাজনীতিতে আসার সম্ভাবনা নিয়ে ৯ জুলাই প্রতিবেদন প্রকাশ করে টাইমস অব ইন্ডিয়া। সেখানে বলা হয়, সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ধানুশের বাবা নির্মাতা কস্তুরি রাজাকে তাঁর ছেলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। এর আগে কস্তুরি রাজা মন্তব্য করেছিলেন, তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কেউ কেউ ভবিষ্যতে রাজনীতিতে আসতে পারেন। তবে ধানুশকে নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।

    কস্তুরি রাজা বলেন, ‘আগেও বলেছি, এই প্রশ্ন ধানুশকেই করা উচিত।’

    একই প্রতিবেদনে ধানুশের ফ্যান ক্লাবের নেতা ও পরিচালক সুব্রামানিয়াম শিবার বক্তব্যও উঠে আসে। ধানুশের ফ্যান ক্লাবের পতাকা ঘিরে তৈরি হওয়া জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এটি নতুন কোনো রাজনৈতিক পতাকা নয়। প্রায় ১৫ বছর ধরে বিয়ে, কান ফোঁড়ানো অনুষ্ঠান, সিনেমার মুক্তিসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এই পতাকা ব্যবহার করে আসছেন ভক্তরা। চলতি বছরের ফ্যান ক্লাব সভার জন্য গাড়িতে ব্যবহারের সুবিধার্থে পতাকার আকার ছোট করে তৈরি করায় অনেকে এটিকে নতুন রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে ধরে নিয়েছেন।

    তামিলনাড়ু রাজ্যের বিধানসভায় বক্তৃতা করছেন মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ছবি: এএনআই

    ধানুশের রাজনীতিতে প্রবেশের গুঞ্জন নিয়ে ক্ষমতাসীন দল ডিএমকে বলেছে, ‘যে কেউ রাজনীতিতে আসতে চাইলে আমরা তাঁকে স্বাগত জানাই। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সবাই অংশ নিতে পারেন।’

    তবে আপাতত ধানুশের মূল মনোযোগ সিনেমাতেই। আগামী কয়েক বছরে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তাঁর বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প। ফলে ফ্যান ক্লাবের তৎপরতা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক জল্পনা বাড়ালেও ধানুশ নিজে এখনো রাজনীতিতে আসার বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেননি।

  • ঋণ শোধ হলো না, দুই ভাই ফিরলেন দুটি কফিনে

    ঋণ শোধ হলো না, দুই ভাই ফিরলেন দুটি কফিনে

    পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন লক্ষ্মীপুরের দুই ভাই ফয়েজ আহমেদ সজীব (২৯) ও ফরহাদ হোসেন সুজন (২১)। কিন্তু প্রবাসের সেই স্বপ্ন সড়ক দুর্ঘটনায় থেমে গেল। সৌদি আরবের দাম্মামে প্রাণ হারানোর পর শেষ পর্যন্ত দুই ভাইকে ফিরতে হলো দুটি কফিনে। তাঁদের একসঙ্গে দাফনের মধ্য দিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো গ্রাম।

    আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামের নিজ বাড়িসংলগ্ন কামারহাট মসজিদ মাঠে তাঁদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয় দুই ভাইকে। শেষবিদায়ে আত্মীয়স্বজন, এলাকাবাসী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

    নিহত ব্যক্তিরা হলেন চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামের খলিফার বাড়ির বাসিন্দা আবদুল মালেকের দুই ছেলে সজীব ও সুজন। বড় ভাই সজীব দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের দাম্মামে খেজুরের ব্যবসা করতেন। চলতি বছরের শুরুতে ছোট ভাই সুজনকে কাজের সহযোগিতার জন্য সৌদি আরবে নিয়ে যান তিনি।

    পরিবার সূত্রে জানা যায়, ১৫ জুলাই রাতে খেজুরবোঝাই একটি পিকআপে করে বাগান থেকে ফেরার পথে তাঁদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাক-লরির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়।

    কাঁদতে কাঁদতে নিহত দুই ভাইয়ের বাবা আবদুল মালেক বলেন, ‘ঋণ করে দুই ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, তারা পরিশ্রম করে সংসারের অভাব ঘুচাবে, ঋণ শোধ করবে। কিন্তু সেই ঋণ এখনো শোধ হলো না। আমার দুই ছেলে আর নাই। এমন হবে, আমি কল্পনাও করি নাই।’

    দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গতকাল সোমবার রাতে তাঁদের লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। শেষবারের মতো একনজর দেখতে শত শত মানুষ ভিড় করেন। আজ জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন।

    লক্ষ্মীপুরের গ্রামের বাড়িতে আজ দুই ভায়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে গ্রামের লোকজন অংশ নেন। আজ সকালে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামের কামারহাট মসজিদ মাঠেছবি: প্রথম আলো

    নিহত সজীবের স্ত্রী ও দুই বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম দুই সদস্যকে হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

    স্থানীয় মানুষের ভাষ্য, সজীব ও সুজন ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, পরিশ্রমী ও সবার প্রিয়। তাঁদের অকালমৃত্যুতে শুধু একটি পরিবার নয়, শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো গনিপুর গ্রামে। জানাজা শেষে সজল চোখে দুই ভাইকে শেষবিদায় জানান স্বজন ও এলাকাবাসী।

    চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, ‘একসঙ্গে দুই ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।’

  • স্ত্রী ও তিন ছেলের সবাই প্রবাসে, নিঃসঙ্গ বৃদ্ধের গলিত লাশ মিলল ঘরে

    স্ত্রী ও তিন ছেলের সবাই প্রবাসে, নিঃসঙ্গ বৃদ্ধের গলিত লাশ মিলল ঘরে

    স্ত্রী আর তিন ছেলের সবাই থাকেন মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে। আবদুর রহমান (৬৫) একাই থাকতেন চট্টগ্রামের চন্দনাইশের গ্রামের বাড়িতে। গতকাল সোমবার ছেলেরা ফোন করে তাঁর সংযোগ পাচ্ছিলেন না। ওই দিন বিকেলে তাঁর ছোট ছেলের স্ত্রী বাবার বাড়ি থেকে খোঁজ নিতে এসে দেখেন, ঘরের দরজা বন্ধ। এলাকার লোকজনের সহায়তায় দরজা খোলার পর দেখা যায়, আবদুর রহমানের পচা-গলা লাশ পড়ে আছে খাটে।

    চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের নগরপাড়া গ্রামের মিয়া সওদাগরের ছেলে আবদুর রহমান নিজেও দুবাইয়ে থাকতেন। দেড় বছর আগে দেশে আসেন তিনি। এরপর আর ফিরে যাননি। বাড়িতে একা থাকতেন, নিজের রান্না নিজে করতেন। গত শুক্রবার শেষবার তাঁকে গ্রামের একটি চা–দোকানে দেখা গিয়েছিল। এরপর গতকাল তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গাউছিয়া কমিটির মানবিক টিমের সহায়তায় তাঁর লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

    পুলিশ জানায়, তিন-চার দিন আগে আবদুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর মরদেহে পচন ধরেছিল। নানা স্থানে পোকা ধরে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। চেহারাও বিকৃত হয়ে গেছে বলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান। পুলিশ জানায়, আবদুর রহমানের স্ত্রী, তিন ছেলে ও বড় ছেলের স্ত্রী দুবাইয়ে থাকেন। তাঁর স্ত্রী দুর্ঘটনায় আহত হওয়ায় তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সোলাইমান ফারুকী বলেন, আবদুর রহমান এলাকায় অনেকটা একা চলাফেরা করতেন। সবার সঙ্গে তেমন যোগাযোগ ছিল না।

    চন্দনাইশ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রিটন মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়ে গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, লাশের চোখে–মুখে পোকা ধরেছে। দুই হাতের চামড়া খুলে পড়েছে। দুর্গন্ধে টেকা যাচ্ছে না। তাঁর মৃত্যু বেশ কয়েক দিন আগে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে রিটন মিয়া বলেন, তিনি গত শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে বাড়ির পাশে চায়ের দোকান থেকে চা খেয়ে গেছেন। এরপর তাঁকে আর বাইরে দেখা যায়নি।

    প্রতিবেশীরা জানান, গত জানুয়ারি মাসে চন্দনাইশের বাড়িতে আবদুর রহমানের মেজ ছেলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর পরিবারের সবাই দুবাইয়ে ফিরে গেলেও আবদুর রহমান যাননি। মেজ ছেলের স্ত্রী দোহাজারীতে নিজের বাবার বাড়িতে থাকেন। সেখান থেকে মাঝেমধ্যে এসে শ্বশুরকে দেখে যান তিনি। গত সোমবার তিনি খোঁজ নিতে এসে আবদুর রহমানকে মৃত অবস্থায় পান।

    পরিদর্শক রিটন মিয়া বলেন, ছোট ছেলের স্ত্রী পুলিশকে জানায়, দুবাই থেকে ছেলেরা বাবাকে বারবার ফোন করে খবর পাচ্ছিলেন না। তাই সোমবার খোঁজ নিতে এসে মেজ ছেলের স্ত্রী শ্বশুরের লাশ দেখতে পান। তিনি স্ট্রোক করেছেন কিনা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে জানা যাবে।

  • ৩৩ মাস ধরে একাকী বন্দি ইমরান খান

    ৩৩ মাস ধরে একাকী বন্দি ইমরান খান

    পাকিস্তানকে কড়া বার্তা জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞের

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে কারাগারে অমানবিক আচরণ বন্ধ করতে ইসলামাবাদ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের নির্যাতনবিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার অ্যালিস জিল এডওয়ার্ডস। একই সময়ে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) তার মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। খবর দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে অ্যালিস জিল এডওয়ার্ডস বলেন, ইমরান খান গত ৩৩ মাস ধরে প্রায় সম্পূর্ণ একাকী বন্দি অবস্থায় একটি ছোট, জানালাবিহীন কক্ষে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারির মধ্যে রয়েছেন।
    তিনি জানান, অনেক সময় টানা দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ইমরান খানকে কোনো ধরনের ব্যায়াম বা অর্থবহ মানবিক যোগাযোগের সুযোগ ছাড়াই রাখা হয়।
    এডওয়ার্ডস বলেন, এটি জাতিসংঘের ‘ম্যানডেলা রুলস’-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আমি পাকিস্তান সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তার জন্য মানবিক কারাবাসের পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হোক।

    ম্যানডেলা রুলস কী?
    জাতিসংঘের ‘ম্যানডেলা রুলস’ বা বন্দিদের সঙ্গে আচরণের ন্যূনতম মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো বন্দিকে দিনে ২২ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় অর্থবহ মানবিক যোগাযোগ ছাড়া একাকী রাখা একাকী কারাবাস হিসেবে বিবেচিত হয়।
    এতে আরও বলা হয়েছে, টানা ১৫ দিনের বেশি একাকী কারাবাস নিষিদ্ধ, কারণ এটি নির্যাতন বা নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অবমাননাকর আচরণের শামিল হতে পারে।
    লিংকডইনে দেয়া এক বিস্তারিত বিবৃতিতে এডওয়ার্ডস আরও বলেন, ইমরান খান প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে যে খবর পাওয়া যাচ্ছে, তা নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন।

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের এক দুর্ঘটনায় হওয়া মেরুদণ্ডের আঘাত এবং ২০২২ সালের নভেম্বরে হত্যাচেষ্টায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ক্ষত যথাযথভাবে চিকিৎসা করা হচ্ছে না।

    এদিকে ইমরান খানের যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ জুলফিকার বুখারি দাবি করেছেন, গত আট মাসেরও বেশি সময় ধরে ইমরান খানকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং কারও সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেয়া হয়নি।

    তিনি বলেন, ইমরান খান ও তার স্ত্রী- উভয়েরই ন্যায্য বিচারের অধিকার এবং বন্দি হিসেবে মৌলিক অধিকার পাওয়ার কথা। তাদের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও সংকটপূর্ণ।
    ইমরান খানের বোন আলিমা খান সাম্প্রতিক দিনগুলোতে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বিভিন্ন শহরে সফর করে ৫ আগস্ট আদিয়ালা কারাগারের উদ্দেশে পদযাত্রার সমর্থন আদায় করছেন। ইমরান খানের কারাবাসের তৃতীয় বছর পূর্তি উপলক্ষে এই কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে পিটিআই।

    তবে পাঞ্জাব সরকার লাহোরে এই মিছিলের অনুমতি দেয়নি। এরপর দলটি আদালতের মাধ্যমে অনুমতি নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আয়োজকদের দাবি, ৫ আগস্ট শুরু হওয়া এই আন্দোলন ইমরান খানের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত চলবে।
    এর আগে এক সমাবেশে আলিমা খান বলেন, যখন বোনদের ন্যায়বিচারের জন্য রাস্তায় নামতে হয়, তখন বুঝতে হবে অন্যায়কারীরা সব সীমা অতিক্রম করেছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নেয়ার কারণেই আমার ভাইকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে এবং মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে।
    ২০২২ সালে সংসদে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ইমরান খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁস এবং সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট অভিযোগসহ একাধিক মামলা হয়েছে।

    তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে এগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন। ইমরান খানের পরিবার ও পিটিআই দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, কারাগারে তার দৃষ্টিশক্তির অবনতি হয়েছে, এমনকি এক চোখে আংশিক দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন এবং তিনি পর্যাপ্ত চিকিৎসাও পাচ্ছেন না।
    তবে পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, ইমরান খানের সঙ্গে কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে না।

  • মুসলিম নেতার প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় গুঁড়িয়ে দিতে চায় ভারত

    মুসলিম নেতার প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় গুঁড়িয়ে দিতে চায় ভারত

    ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের রামপুরে মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০টি ভবনের মধ্যে ৩৮টিই গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রশাসনিক নির্দেশের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাবেক ছাত্ররা। তীব্র গরম উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে অবস্থান ধর্মঘট করছেন তাঁরা। আন্দোলনকারীদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই সংখ্যালঘু এই প্রতিষ্ঠানটিকে নিশানা করেছে উত্তর প্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের বিজেপি সরকার।

    তবে রামপুর জেলা প্রশাসন অভিযোগ করেছে, ভবনগুলো অবৈধভাবে ও নিয়ন্ত্রক নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে নির্মাণ করা হয়েছে। ১৫ জুলাই রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) এক নোটিশে ৫ আগস্টের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এসব ‘অবৈধ’ ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন না ভাঙলে প্রশাসন নিজেই বুলডোজার দিয়ে অভিযান চালাবে এবং তার খরচ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে আদায় করা হবে বলে সতর্ক করা হয়।

    পরে রাজ্য প্রশাসন এই আদেশের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জহিরুদ্দিন জানিয়েছেন, স্থগিতাদেশের অর্থ এই নয় যে, ভবন ভাঙার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এর অর্থ হলো আরডিএ-এর দেওয়া ৫ আগস্টের ডেডলাইনের মধ্যে ভবন ভাঙা হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় এখন আদালত থেকে এমন এক রায় চাচ্ছে যাতে এই ধ্বংসের আদেশটি সম্পূর্ণ বাতিল বা খারিজ করা হয়।’

    ২০০৩ সালে গঠিত মোহাম্মদ আলী জওহর ট্রাস্টের মাধ্যমে তিন বছর পর এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন সমাজবাদী পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা আজম খান। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আজীবন আচার্য। বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংসের এই আদেশকে ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ বলে অভিহিত করেছেন সমাজবাদী পার্টির সংসদ সদস্য জাভেদ আলী খান। তিনি বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়কে নিশানা করার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। প্রথমত, এটি প্রতিষ্ঠা করেছেন আজম খান। দ্বিতীয়ত, এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মুলায়ম সিং। তৃতীয়ত, এটি উদ্বোধন করেছিলেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব এবং চতুর্থত, এটি একটি সংখ্যালঘু বিশ্ববিদ্যালয়।’

    অন্যদিকে ভবন ভাঙার এই আদেশকে আইনি প্রক্রিয়ার সংগতিপূর্ণ দাবি করে বিজেপির মুখপাত্র রাকেশ ত্রিপাঠী বলেন, ‘কেউ কি অস্বীকার করতে পারবে যে, আজম খান অবৈধ জমিতে এই বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলেছেন? সমাজবাদী পার্টি সরকারের সময়ে তিনি নিজের পদ ও ক্ষমতা ব্যবহার করে অবৈধ জমিতে এই বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলেন এবং অবৈধ ভবন নির্মাণ করেন। আমরা কেবল অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে আইন অনুসরণ করছি, আর তার মানে হলো এই বিশ্ববিদ্যালয় ভেঙে ফেলা উচিত।’

    রামপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও আরডিএ-এর ভাইস চেয়ারম্যান অজয় কুমার দ্বিবেদী জানান, ‘তাদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং তারা লিখিত জবাবও দিয়েছে। জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত ৪০টি ভবনের মধ্যে কেবল ২টি গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। বাকি ৩৮টি ভবনই অবৈধ প্রমাণিত হয়েছে।

    তবে এই দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করে উপাচার্য জহিরুদ্দিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়টি যখন প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন সিংগনখেড়ায় আরডিএ-এর কোনো এখতিয়ার ছিল না। আমরা সরকারি বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদন নিয়ে কোর্স পরিচালনা করছি, যা সব শর্ত পূরণ করলেই কেবল অনুমোদন দেয়।’ আরডিএ-এর এই পদক্ষেপকে শিক্ষার সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘তারা স্বপ্নদ্রষ্টা আজম খানের বিরুদ্ধে একে একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে, যিনি সংখ্যালঘু, গরিব ও পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নতির জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করেছিলেন।’

    ২৫০ একর জুড়ে বিস্তৃত এই ক্যাম্পাসে বর্তমানে ৩ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন, যার প্রায় অর্ধেকই ছাত্রী এবং এক-তৃতীয়াংশের বেশি হিন্দু ধর্মাবলম্বী।

    আইন বিভাগের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী ইকরা বলেন, ‘আমাদের অভিভাবকেরা এখানকার পরিবেশ এবং অন্য যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর সন্তুষ্ট ছিলেন। যদি এই বিশ্ববিদ্যালয় ভেঙে ফেলা হয়, তবে আমাদের মতো মেয়েরা অন্য কোথাও পড়ালেখার দ্বিতীয় কোনো সুযোগ পাবে না। আমাদের অভিভাবকেরা আমাদের অন্য কোথাও পাঠাতে রাজি হবেন না।’

    প্যারামেডিকেলের প্রথম বর্ষের হিন্দু ছাত্রী চাঁদনী দিওয়াকর ধর্মনাস্থ বসে বলেন, ‘তারা হয়তো একে মুসলিমদের বিশ্ববিদ্যালয় বলতে পারে এবং হ্যাঁ, আইনগত মর্যাদার দিক থেকে এটি অবশ্যই একটি সংখ্যালঘু বিশ্ববিদ্যালয়, কিন্তু তার মানে এই নয় যে, এখানে অন্যরা পড়ালেখা করে না। আমি গত এক বছর ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ এবং সংখ্যালঘু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে এক দিনের জন্যও নিজেকে অ-মুসলিম মনে হয়নি।’

    বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র উসামা তাইয়্যব অন্যান্য সফল আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রশ্ন তোলেন, ‘সিজেপির আন্দোলনের পর যদি একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করা যায়, তবে এত শিক্ষার্থী এখানে আন্দোলন করা সত্ত্বেও কেন উত্তর প্রদেশ সরকারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করতে বাধ্য করা যাবে না?’

    আইনের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী উসমান আলী বলেন, ‘অন্যরা যদি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে ফল পেতে পারে, তবে মুসলিম শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ভেঙে ফেলা বন্ধ করার মতো ন্যায্য দাবি আমরা কেন অর্জন করতে পারব না? এর জন্য যদি ত্যাগের প্রয়োজন হয়, আমরা তা দিতে প্রস্তুত।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘পুলিশ আমাদের বাড়িতে আসছে এবং আমাদের অভিভাবকদের পরিণতি ভোগ করার হুমকি দিচ্ছে, কিন্তু আমরা পিছিয়ে যাব না।’

    বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক সাবেক ছাত্র আব্দুল কলিম আনসারি অবাক হয়ে বলেন, ‘এটা বিস্ময়কর যে তারা শিক্ষা সংস্কার নিয়ে কথা বলছে, অথচ একটি সংখ্যালঘু বিশ্ববিদ্যালয় জওহর বিশ্ববিদ্যালয়কে ভেঙে ফেলার নোটিশ দেওয়া হলেও তারা নীরব। এখানকার সমস্ত শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এখন ঝুঁকিতে, আর আমরা জানি না এখান থেকে আমরা কোথায় যাব।’

    এদিকে, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অপূর্বানন্দ ভাঙচুরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন, ‘প্রথমত, তাদের হিন্দু ভোটারদের সামনে প্রভাবশালী মুসলিমদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে একটি প্রদর্শনী বা নাটক তৈরি করা। দ্বিতীয়ত, এই সরকারের পুরো মেয়াদে সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে একটি ধারাবাহিক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এবং তৃতীয়ত, তারা হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে মেলবন্ধন চায় না, যার একটি বড় কেন্দ্র হলো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।’

  • তিন বছর আগের প্রতিরক্ষাচুক্তি অনুমোদন করল কুয়েত

    তিন বছর আগের প্রতিরক্ষাচুক্তি অনুমোদন করল কুয়েত

    তিন বছর আগে পাকিস্তানের সঙ্গে সই হওয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়েছে কুয়েত। দেশটির সরকারি গেজেটে চুক্তিটি প্রকাশের মাধ্যমে কুয়েত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার নতুন কাঠামো কার্যকর হলো।

    কুয়েত টাইমস জানিয়েছে, ২০২৩ সালের জুনে দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া চুক্তিটি গত রোববার সরকারি গেজেট কুয়েত আল-ইয়ুম-এ প্রকাশ করা হয়েছে।

    চুক্তির আওতায় কুয়েত ও পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সামরিক প্রশিক্ষণ, শিক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, রসদ ব্যবস্থাপনা, প্রতিরক্ষাপ্রযুক্তি, গবেষণা, অভিজ্ঞতা বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো হবে। এর লক্ষ্য দুই দেশের সামরিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করা।

    এ ছাড়া সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন, ইলেকট্রনিক যোগাযোগব্যবস্থা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, সামরিক গণমাধ্যম এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমেও সহযোগিতার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    চুক্তি বাস্তবায়ন তদারকিতে দুই দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি যৌথ সামরিক কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি যৌথ সামরিক মহড়া, সরকারি সফর এবং অন্যান্য সহযোগিতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করবে।

    চুক্তিটি পাঁচ বছর কার্যকর থাকবে। এরপর কোনো পক্ষ বাতিলের সিদ্ধান্ত না নিলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে। পাশাপাশি গোপন সামরিক তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং চুক্তি-সংক্রান্ত বিরোধ কূটনৈতিক উপায়ে নিষ্পত্তির বিষয়েও দুই দেশ সম্মত হয়েছে।

    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কুয়েত ও পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এ অনুমোদন দেওয়া হলো। এসব বৈঠকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল।

    উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করছে কুয়েত। সেই ধারাবাহিকতায় এই চুক্তি কার্যকর হলো।

    সম্প্রতি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে কুয়েতও ছিল। তেহরানের দাবি, ওই হামলার লক্ষ্য ছিল উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা। তবে কুয়েতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

  • ইরান যুদ্ধ সমর্থন করেন প্রতি তিনজনে একজন

    ইরান যুদ্ধ সমর্থন করেন প্রতি তিনজনে একজন

    ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার প্রতি মার্কিন নাগরিকদের সমর্থন কমছে। রয়টার্স/ইপসোসের নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি তিন মার্কিন নাগরিকের মাত্র একজন এ যুদ্ধকে সমর্থন করছেন। একই সঙ্গে বেশির ভাগ মানুষের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো স্পষ্ট করে বোঝাতে পারেননি, এ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য কী।

    গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত পরিচালিত এ জরিপে আরও দেখা গেছে, ট্রাম্পের সামগ্রিক জনসমর্থন সামান্য বেড়েছে। বর্তমানে তাঁর জনপ্রিয়তার হার ৩৭ শতাংশ, যা গত মাসের তুলনায় ৩ পয়েন্ট বেশি।

    তবে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানকে অনেকেই অস্পষ্ট মনে করছেন। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিকের মতে, যুক্তরাষ্ট্র কেন এ যুদ্ধে জড়িয়েছে ও তাদের লক্ষ্য কী, সে বিষয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। ট্রাম্পের সমর্থক রিপাবলিকানদের মধ্যেও প্রতি ১০ জনের প্রায় চারজন এ মত দিয়েছেন।

    হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, জনমত জরিপ দেখে ট্রাম্প সিদ্ধান্ত নেন না। তাঁর দাবি, ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্য হলো, ইরানকে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়া।

    জরিপ অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকেই এ যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন ৪০ শতাংশের নিচে রয়েছে। সাম্প্রতিক দশকগুলোর অন্য যুদ্ধের শুরুর সময়কার জনসমর্থনের তুলনায় এটি অনেক কম।

    ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের শুরুতে প্রায় ৭০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক যুদ্ধের পক্ষে ছিলেন। আর ২০০১ সালে আফগানিস্তান যুদ্ধের শুরুতে সমর্থনের হার ছিল প্রায় ৯০ শতাংশ।

    মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে চাপ

    আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ নিয়ে জনঅসন্তোষ ট্রাম্প ও তাঁর রিপাবলিকান পার্টির ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে।

    জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত সাবেক মেরিন সদস্য অ্যালেক্স ওম্যাক বলেন, ‘কেন আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ালাম, সেটাই পরিষ্কার নয়। আমার কোনো ধারণা নেই।’

    অ্যালেক্স বলেন, উপসাগরীয় যুদ্ধে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের ভূমিকা পছন্দ করেই তিনি রিপাবলিকান হয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধের কারণে ট্রাম্পের প্রতি তাঁর সমর্থন কমে গেছে। এ পর্যন্ত এই যুদ্ধে ১৮ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইরান ও লেবাননে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণ গেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। দেশজুড়ে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম এখন চার ডলারের কিছু বেশি, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ছিল প্রায় তিন ডলার।

    রিপাবলিকান দলের রাজনৈতিক বিশ্লেষক অ্যালেক্স কোনান্ট বলেন, যুদ্ধে অর্থনীতির বেহাল দশার কারণে রিপাবলিকানদের জন্য ভোটারদের আস্থা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি কোনো যুদ্ধে জড়াবেন না। শুরুতে তিনি ধারণা দিয়েছিলেন, ইরান যুদ্ধ চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের বেশি চলবে না।

    তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সমালোচনাও বেড়েছে। যদিও ট্রাম্প বারবার বলেছেন, এ যুদ্ধের সঙ্গে ভিয়েতনাম যুদ্ধের কোনো তুলনা চলে না।

    জর্জিয়ার বাসিন্দা রায়ান অ্যান্ডারসন ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের উচিত বিদেশের যুদ্ধ নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো বেশি গুরুত্ব দেওয়া।

    রায়ান বলেন, ‘আমার মনে হয়, আগে দেশের মানুষের সমস্যার দিকে নজর দেওয়া উচিত। (ইসরায়েল) আমাদের মিত্র, ঠিক আছে। কিন্তু এ দেশেই (যুক্তরাষ্ট্র) অনেক মানুষ আছেন, যাঁদের এখন সাহায্য প্রয়োজন।’

    রয়টার্স/ইপসোসের সবশেষ জরিপে ১ হাজার ২৪৬ প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক অংশ নেন। জরিপের ফলাফলে ত্রুটির সম্ভাব্য সীমা ছিল ৩ শতাংশ পয়েন্ট।

  • ফ্রান্সের বক্তব্যের সময় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াকআউট

    ফ্রান্সের বক্তব্যের সময় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াকআউট

    ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ নিয়ে গতকাল সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ফ্রান্সের প্রতিনিধি বক্তব্য দেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকেরা বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান।

    সোমবারের এই ঘটনার দুই দিন আগে জাতিসংঘের মানবাধিকার–বিষয়ক প্রধান ফলকার টুর্কের চার বছরের মেয়াদ নবায়নের প্রস্তাবে ওয়াশিংটনের ভোট না দেওয়াকে ঘিরে মার্কিন ও ফরাসি কর্মকর্তাদের মধ্যে অনলাইনে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছিল।

    জেনেভায় ফ্রান্সের জাতিসংঘ মিশন গত শনিবার লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্র আর ‘মানবাধিকারের আলোকবর্তিকা’ নেই এবং তারা (আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে) বিচ্ছিন্ন হয়ে উত্তর কোরিয়া, নিকারাগুয়া, মালি ও রাশিয়ার সঙ্গে এক কাতারে দাঁড়িয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে এর জবাব দিতে গিয়ে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়ালৎস বলেন, ফ্রান্স এমন এক মানবাধিকার প্রধানকে ভোট দিয়েছে, যিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মতো স্বাধীন ও সার্বভৌম গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে জ্ঞান দিচ্ছেন, অথচ বিশ্বের সবচেয়ে নিকৃষ্ট নিপীড়নকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখছেন।

    বৈঠক বর্জনের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প প্রতিনিধি ড্যান নেগ্রিয়া কাউন্সিলকে বলেন, ফ্রান্স তাদের ‘অবজ্ঞাপূর্ণ ও অসম্মানজনক বক্তব্য’ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তাঁদের প্রতিনিধিদল এভাবে বৈঠক থেকে বেরিয়ে যেতে থাকবে।

    জাতিসংঘে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জেরোম বোনাফোঁ বক্তব্য দেওয়ার সময় বৈঠক বর্জনের বিষয়টি উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, ফ্রান্স জাতিসংঘের স্বাধীনতা এবং কার্যকরভাবে কাজ করার সক্ষমতা বজায় রাখতে কাজ করছে।

    ফিলিস্তিন ও ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সমালোচনা করে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরাগভাজন হয়েছেন ফলকার টুর্ক। তাঁর মেয়াদ নবায়ন করা নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভোটে ১৪৪টি দেশ এর পক্ষে এবং মাত্র ১০টি দেশ বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। ১৩টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সাল থেকে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় অর্থায়ন কমিয়েছেন এবং জাতিসংঘের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ফলকার টুর্কের মেয়াদ পুনর্নবায়নকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ও সম্পৃক্ততা পুনর্মূল্যায়নের হুমকিও দিয়েছিল।

    ওয়াশিংটন ও প্যারিসের মধ্যে ন্যাটোর ব্যয়, বাণিজ্য নীতি এবং ট্রাম্পের ডেনমার্কের অধীন ন্যাটো সদস্যভুক্ত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি নিয়েও বিরোধ রয়েছে।

    ফ্রান্সসহ অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসনে সরাসরি অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ট্রাম্পের ক্ষোভের মুখে পড়েছে।

  • ভারত সীমান্তে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান মোতায়েন চীনের

    ভারত সীমান্তে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান মোতায়েন চীনের

    ভারতের উত্তর সীমান্তে পঞ্চম প্রজন্মের ‘জে-২০ মাইটি ড্রাগন’ স্টিলথ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে চীন। একই সঙ্গে ভারতের সংলগ্ন সীমান্তে অত্যাধুনিক এই যুদ্ধবিমানের সংখ্যা ও সামরিক মহড়া বহুগুণ বাড়িয়েছে বেইজিং।

    উপগ্রহ থেকে পাওয়া সাম্প্রতিক কিছু ছবি বিশ্লেষণ করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানায়, চলতি বছরের জুন ও জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে ভারতের সীমান্তবর্তী দুটি চীনা বিমানঘাঁটিতে অন্তত ১১টি জে-২০ বিমান মোতায়েন করা হয়েছে।

    মহাকাশভিত্তিক ডেটা বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ভ্যান্টরের স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, গত ৯ জুলাই শিনজিয়াংয়ের হোটান বিমানঘাঁটির রানওয়েতে সাতটি জে-২০ বিমান সারিবদ্ধভাবে রাখা ছিল। বেসামরিক ও সামরিক দ্বিমুখী ব্যবহারের উপযোগী এই ঘাঁটি লাদাখের উত্তরে ভারতীয় বিমানবাহিনীর দৌলত বেগ ওল্ডি ঘাঁটি থেকে মাত্র ২৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সীমান্তসংলগ্ন চীনা ঘাঁটিতে একযোগে এত বিপুলসংখ্যক স্টিলথ বিমানের উপস্থিতি এটিই প্রথম।

    একই প্রতিষ্ঠানের সংগৃহীত দ্বিতীয় একটি ছবিতে তিব্বতের দামশুং বিমানঘাঁটির রানওয়েতে আরো চারটি জে-২০ স্টিলথ বিমান দেখা গেছে। অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং থেকে এই ঘাঁটির দূরত্ব মাত্র ৩৪৪ কিলোমিটার।

    প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা নিউ স্পেসের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও যুদ্ধবিমানের সাবেক পাইলট সমীর জোশী বলেন, ‘ভারতের মুখোমুখি এসব সীমান্তঘাঁটিতে ১১টি জে-২০ বিমানের উপস্থিতি প্রমাণ করে, পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ বিমান পরিচালনা চীনের জন্য এখন স্বাভাবিক রুটিনে পরিণত হয়েছে। এটি ভারতীয় বিমান বাহিনীর জন্য একটি স্থায়ী হুমকি।’

    জে-২০ স্টিলথ বিমানের মূল শক্তি হলো এর অতিসূক্ষ্ম রাডার প্রযুক্তি ও বিশেষ নকশা, যার কারণে সাধারণ রাডারে এটি সহজে ধরা পড়ে না। ফলে প্রচলিত যুদ্ধবিমানের তুলনায় এটি বহুগুণ এগিয়ে। ভারতীয় বিমান বাহিনীর বহরে থাকা ফরাসি ‘রাফাল’ অত্যন্ত শক্তিশালী হলেও তা পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ ক্যাটাগরির বিমান নয়।

    বর্তমানে ভারতের নিজস্ব কোনো স্টিলথ ফাইটার নেই। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম স্টিলথ বিমান ‘এএমসিএ’ তৈরির কাজ দ্রুত এগিয়ে চললেও সেনাবাহিনীতে চূড়ান্তভাবে এটি অন্তর্ভুক্ত হতে অন্তত ২০৩৫ সাল লেগে যেতে পারে।

    সামরিকবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়ার জোন’ জানায়, ২০১৯ সালে চীনের কাছে প্রায় ৫০টি জে-২০ বিমান ছিল, যা ২০২২ সালের শেষে ২০০ ছাড়ায়। বর্তমানে চীন বছরে প্রায় ১২০টি জে-২০ তৈরি করতে সক্ষম।

    ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, চীনের বিমান বাহিনীতে প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০টি জে-২০ যুক্ত রয়েছে। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ১ হাজারে পৌঁছাবে।

    ভারতের বিমান বাহিনীর সাবেক উপপ্রধান এয়ার মার্শাল নরমদেশ্বর তিওয়ারি বলেন, ‘বছরে ১২৫টির মতো যুদ্ধবিমান তৈরির ক্ষমতা চীনের বিশাল সামরিক শিল্প সক্ষমতা প্রকাশ করে। একটি পূর্ণাঙ্গ সাপ্লাই চেইনের কারণেই এত দ্রুত উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।’

    ভারত সীমান্তে চীনা জে-২০ বিমানের আগমন অবশ্য নতুন নয়। ২০১৬ সালে তিব্বতের দাওচেং ইয়াদিং এবং ২০২৪ সালের মে মাসে সিকিম সীমান্তের কাছে শিগাতসে ঘাঁটিতেও এই বিমান দেখা গিয়েছিল।

    এর জবাবে ভারত বর্তমানে আমবালা ও হাশিমারায় ৩৬টি রাফাল বিমান পরিচালনা করছে। নৌবাহিনীর জন্য আরো ২৬টি রাফাল কেনার চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং বিমান বাহিনীর জন্য অতিরিক্ত ১১৪টি রাফাল কেনার আলোচনা চলছে। এ ছাড়া ভারতে ২৬০টির বেশি সুখই-৩০এমকেআই এবং কিছু পুরোনো মিরাজ-২০০০ ও মিগ-২৯ বিমান রয়েছে।

    তবে সীমান্তে চীনের নতুন করে এই স্টিলথ বিমান মোতায়েন প্রসঙ্গে এনডিটিভির প্রশ্নের জবাবে কোনো মন্তব্য করেনি ভারতীয় বিমান বাহিনী।

  • কঠিন হলেও চুক্তি বাস্তবায়নে আগ্রহী ওয়াশিংটন-তেহরান

    কঠিন হলেও চুক্তি বাস্তবায়নে আগ্রহী ওয়াশিংটন-তেহরান

    টানা ১৩ দিন সামরিক হামলার পর গত তিন রাত ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলা স্থগিত রয়েছে। সংঘাত থামিয়ে কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরে আসা এবং সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পেরিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোই এখন উভয় পক্ষের মূল লক্ষ্য। তবে চূড়ান্ত সেই চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রথম পদক্ষেপটি নেওয়াটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ওয়াশিংটন চায় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি যেন দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গভাবে বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, তেহরান বিষয়টিকে আলোচনার টেবিলে তাদের অন্যতম বড় দর কষাকষির শক্তি বা প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে দেখছে।

    অবশ্য টানা ১৩ দিনের পাল্টাপাল্টি হামলার পর আপাতত বড় ধরনের হামলা বন্ধ রয়েছে এবং দুই পক্ষই আলোচনায় যুক্ত হয়েছে। তবে পরিস্থিতি সহজ নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন, কূটনৈতিক চেষ্টা ব্যর্থ হলে এবং শেষ পর্যন্ত চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও কঠোর সামরিক অভিযানে ফিরে যাবে। তার এই কড়া হুঁশিয়ারি পুরো আলোচনা প্রক্রিয়ার ওপর এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও চাপ তৈরি করে রেখেছে।

    তবে এটি স্পষ্ট যে, ওয়াশিংটন ও তেহরান—দুই পক্ষই শেষ পর্যন্ত একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়। কিন্তু সেটি বাস্তবায়নে প্রয়োজন প্রচুর কাজ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা।

    উল্লেখ্য, দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মূল উদ্দেশ্য ছিল ৬০ দিনের একটি মধ্যস্থতা পর্ব তৈরি করা, যা প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়ানো যেতে পারে। এই সময়েই আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত চুক্তির খসড়া তৈরি করার কথা। তবে বাস্তবে সেই নির্ধারিত সময়ের ঘড়ি এখনো গণনা শুরুই হয়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে এখনো অনেক কথা এবং সময়ের প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

  • ইরাকে বোমা হামলায় ইউক্রেন জড়িত

    ইরাকে বোমা হামলায় ইউক্রেন জড়িত

    ইরাকের বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হওয়া একাধিক বোমা হামলায় ‘ইউক্রেনীয় সেল’ জড়িত রয়েছে বলে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাসিম আল-আবৌদি এ দাবি করেছেন।

    আরবি ভাষার সংবাদমাধ্যম ‘দাজলা টিভি’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আল-আবৌদি বলেন, নতুন কিছু তথ্য-প্রমাণ ইরাকে ‘ইউক্রেনীয় হস্তক্ষেপের’ দিকে নির্দেশ করছে। কতিপয় ইউক্রেনীয় সেলের সদস্য ইরাকের সরকারি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এসব বোমা হামলা চালিয়েছে।

    তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কারো ওপর দায় চাপানোর আগে এ বিষয়ে আরো তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি।

    তিনি বলেন, ‘কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করার আগে আমাদের আরো বিশদ তদন্ত করতে হবে।’

    ইরাকি এই নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, তারা ইতোমধ্যে একটি ছোট দলকে গ্রেপ্তার করেছেন।

    তিনি বলেন, ‘আমরা অল্প কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তারা ইউক্রেনের হয়ে কাজ করার কথা স্বীকার করেছে। তারা ইরাকের কিছু সরকারি স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছে।’

    তবে গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় কিংবা হামলার সুনির্দিষ্ট বিবরণ নিয়ে তিনি বিশদ কোনো তথ্য দেননি।

    এদিকে ইরাকি কর্মকর্তার এই বিস্ফোরক দাবির বিষয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • বেবি পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি

    বেবি পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি

    মামলা মেটাতে ৫৫০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি জনসন

    যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের উৎপাদিত টেলকম পাউডার ব্যবহার করে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগে দায়ের করা হাজার হাজার মামলা নিষ্পত্তিতে নতুন সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছে জনসন অ্যান্ড জনসন (জে অ্যান্ড জে)। প্রতিষ্ঠানটি সাড়ে ৫০০ কোটি ডলার (৫.৫ বিলিয়ন ডলার) পরিশোধের মাধ্যমে এসব মামলা মেটাতে সম্মত হয়েছে।

    গতকাল সোমবার এ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় এই ফার্মা জায়ান্ট।

    সংস্থাটি জানায়, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য আদালতগুলোতে ঝুলন্ত প্রায় ৬৯ হাজার মামলার সমাধান হবে, যা দেশটিতে টেলক-সংক্রান্ত বকেয়া মামলার প্রায় ৯৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

    তবে চুক্তিটি চূড়ান্ত হতে হলে অঙ্গরাজ্য বা ফেডারেল আদালতে মামলা করা বাদীদের অন্তত ৯৫ শতাংশের সম্মতি প্রয়োজন হবে।

    টেলক মূলত একটি নরম খনিজ পদার্থ। এটি একসময় প্রসাধন সামগ্রী ও শিশুদের ব্যবহারে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় ছিল। তবে ক্যানসারের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে আসার পর থেকে এর ব্যবহার অনেকটাই কমে যায়। ২০২৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) টেলককে ‘মানুষের জন্য ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে’ এমন উপাদানের তালিকায় যুক্ত করে।

    অবশ্য জনসন অ্যান্ড জনসন শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, টেলক ক্যানসার ঘটায়—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবুও বিতর্ক এড়াতে প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এবং ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী টেলকভিত্তিক বেবি পাউডার বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়।

    এর আগে ২০১৬ সালে মার্কিন একটি জুরি বোর্ড ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে মারা যাওয়া এক নারীর পরিবারকে ৭ কোটি ২০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য জে অ্যান্ড জে-কে নির্দেশ দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে টেলক ব্যবহারে ক্যানসারের অভিযোগে এটিই ছিল প্রথম বড় কোনো রায়।

    পরের বছর একটি উচ্চতর আদালত ওই রায়টি বাতিল করেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে যায়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অঙ্গরাজ্যের জুরি বোর্ড বাদী পক্ষের অনুকূলে বিপুল ক্ষতিপূরণের রায় বহাল রাখেন।

    নতুন এই সমঝোতার বিষয়ে জে অ্যান্ড জে-র লিটিগেশন বিভাগের প্রধান এরিক হাস বলেন, ‘এই সমঝোতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিনের আইনি ঝামেলা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে পারবে।’ অন্যদিকের, বাদীদের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবীরাও দীর্ঘ এক দশকের আইনি লড়াই শেষে এই প্রস্তাবিত চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন।

    তবে যুক্তরাষ্ট্রের মামলাগুলো এই সমঝোতার আওতায় আসলেও তা যুক্তরাজ্যের জন্য প্রযোজ্য হচ্ছে না। যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পণ্য দায়বদ্ধতা মামলা হিসেবে সেখানে ৭ হাজারের বেশি সম্ভাব্য বাদী বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

    ২০২৫ সালের অক্টোবরে দায়ের করা যুক্তরাজ্যের এই মামলায় অভিযোগ করা হয়, টেলক ব্যবহারের ফলে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার ও মেসোথেলিওমা হতে পারে—তা জানা সত্ত্বেও জনসন অ্যান্ড জনসন বাজারজাতকরণ চালিয়ে গেছে। তবে যুক্তরাজ্যের হাই কোর্টে বিচারাধীন এই অভিযোগটি বরাবরের মতোই অস্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

  • ইরানের জাহাজে ইউক্রেনের হামলাকে ইতিবাচক বলছে যুক্তরাষ্ট্র

    ইরানের জাহাজে ইউক্রেনের হামলাকে ইতিবাচক বলছে যুক্তরাষ্ট্র

    কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। ঘটনাটিকে ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইউক্রেন নিজের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থও ত্বরান্বিত করেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান র্যান্ড কর্পোরেশনের জ্যেষ্ঠ ফেলো উইলিয়াম কোর্টনি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় ইউক্রেনীয়রা ইরান প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। রাশিয়াকে ড্রোন ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা একটি ইরানি জাহাজে ইউক্রেনের হামলাকে ওয়াশিংটন বেশ ইতিবাচকভাবেই মূল্যায়ন করবে।’

    উইলিয়াম কোর্টনি আরো বলেন, রাশিয়াকে ইরানের ‘শাহেদ’ ড্রোন সরবরাহ করা নিয়ে শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র উদ্বেগ ছিল। বর্তমানে রাশিয়ার একটি কারখানায় শাহেদ ড্রোনের আরও উন্নত সংস্করণ তৈরি হচ্ছে। ফলে ইরানি সরবরাহের ওপর ইউক্রেনের আক্রমণ মার্কিন প্রশাসনকে স্বস্তি দেবে।

    তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনের সরাসরি জড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানান তিনি।

    তার মতে, ‘রাশিয়াকে ড্রোন পাঠানো ঠেকিয়ে ইউক্রেন নিজেদেরই উপকার করেছে। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই মুহূর্তের এক নম্বর শত্রু ইরানের ওপর আঘাত হেনে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক সুসংহত করছে, যা তাদের জন্য ইতিবাচক।’

    কোর্টনি সতর্ক করে আরো বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ পশ্চিমাদের কাছে বেশ অপ্রিয়। তাই ইউক্রেন কোনোভাবেই ইরানের বিরুদ্ধে চলা যুদ্ধে নিজেদের সরাসরি জড়াতে বা অতিরিক্ত তুলে ধরতে চাইবে না।’

    এমন সময়ে এই মন্তব্য এল যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রয়াত মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যে যোগ দিতে ওয়াশিংটন ডিসিতে পৌঁছেছেন। সফরকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গেও তাদের আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেবেনা মালয়েশিয়া

    ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেবেনা মালয়েশিয়া

    যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপ থাকা সত্ত্বেও ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার দীর্ঘদিনের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে মালয়েশিয়া। মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরা কুয়ালালামপুরের সঙ্গে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো সত্ত্বেও নিজেদের এই নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে দেশটি।

    মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামাদ হাসান জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ওয়াশিংটনে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ শাহরুল ইকরাম ইয়াকুবকে তলব করেছিল। সেখানে মালয়েশীয় রাষ্ট্রদূত বিষয়টি স্পষ্ট করে কুয়ালালামপুরের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

    মোহামাদ হাসান বলেন, ইসরাইল নিয়ে মালয়েশিয়ার এই অবস্থান নতুন কোনো বিষয় নয় বা সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার প্রতিক্রিয়াও নয়। বরং শুরু থেকেই একের পর এক মালয়েশীয় সরকার এই সরকারি নীতি অনুসরণ করে আসছে।

    মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বারনামার বরাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটি সব সময়ই মালয়েশিয়ার নীতি হয়ে এসেছে। আমাদের অভিবাসন নীতিতে ইসরাইল রাষ্ট্র বা জায়নবাদী শাসনগোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। এটি দীর্ঘদিনের একটি অটল অবস্থান।’

    মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ হিসেবে মালয়েশিয়ার সঙ্গে ইসরাইলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রতি সংহতি ও সমর্থনের অংশ হিসেবে দেশটি ইসরাইলি পাসপোর্টধারীদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে।

    এর আগে গত ১৫ জুলাই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এক ঘোষণায় ইসরাইলকে স্বীকৃতি না দেওয়ার নীতিতে তার সরকারের শক্ত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এই মন্তব্যের মাধ্যমে দেশটির সেই ঐতিহাসিক অবস্থানেরই পুনর্বিন্যাস ঘটল।

  • হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু

    হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু

    আজ ২৭ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন। ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এ নিবন্ধন কার্যক্রম। এ সময়ের মধ্যে আগামী বছর হজে গমনেচ্ছুদের প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। তবে প্রাথমিক নিবন্ধনের আগে করতে হবে প্রাক-নিবন্ধন। আর এ বছরই ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।

    সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঘোষিত হজ কার্যক্রমের রোডম্যাপ অনুযায়ী এই সময়সূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি যেকোনো মাধ্যমে হজের প্রাথমিক নিবন্ধন করা যাবে। প্রাথমিক নিবন্ধিতদের ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্যাকেজ মূল্যের অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে হবে। প্রাথমিক নিবন্ধনের আগে হজযাত্রীদের আবশ্যিকভাবে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন করতে হবে।

    নিবন্ধন করা যাবে যেখানে

    সরকারি মাধ্যমে ই-হজ সিস্টেমে ইউজার তৈরি করে যে কেউ নিজেই নিবন্ধন করতে পারবে। এছাড়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম অফিস ও ঢাকা হজ অফিসে হজের নিবন্ধন করা যাবে।

    সরকারি মাধ্যমে হজে গমনেচ্ছুদের সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ভাউচারের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন করতে হবে। তবে, বেসরকারি মাধ্যমের হজযাত্রীদের হজ কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে এজেন্সির নির্ধারিত হিসাবে টাকা জমা দিতে হবে। এজেন্সির ব্যাংক হিসাবের তথ্য হজ পোর্টালে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির প্রোফাইলে পাওয়া যাবে।

    হজে যেতে পারবেন না যারা

    ১৫ বছরের কম বয়সি কেউ হজে যেতে পারবে না। এছাড়া দুরারোগ্য ব্যাধি যেমন-হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, লিভার বা কিডনি রোগ, স্নায়বিক বা মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত ও ডিমেনশিয়া রোগী, কেমোথেরাপি বা বায়োলজিক্যাল থেরাপি বা রেডিওথেরাপি নিচ্ছেন এমন ক্যানসার আক্রান্ত রোগী হজে যেতে পারবেন না। এছাড়া জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে এমন সক্রিয় সংক্রামক রোগ যেমন-যক্ষ্মা ও হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্ত ব্যক্তি হজে যেতে পারবেন না। গর্ভাবস্থার শেষ দুই মাস ও ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় কোনো নারী হজযাত্রী ফিটনেস সনদ পাবেন না।

    প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় হজযাত্রীদের আবশ্যিকভাবে প্রশিক্ষণ ও টিকা গ্রহণের জেলা, হজের ধরন ও হজ প্যাকেজ নির্বাচন করতে হবে। এছাড়া, ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ থাকা পাসপোর্ট প্রয়োজন হবে।

  • বেবি পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি

    বেবি পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি

    মামলা মেটাতে ৫৫০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি জনসন

    যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের উৎপাদিত টেলকম পাউডার ব্যবহার করে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগে দায়ের করা হাজার হাজার মামলা নিষ্পত্তিতে নতুন সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছে জনসন অ্যান্ড জনসন (জে অ্যান্ড জে)। প্রতিষ্ঠানটি সাড়ে ৫০০ কোটি ডলার (৫.৫ বিলিয়ন ডলার) পরিশোধের মাধ্যমে এসব মামলা মেটাতে সম্মত হয়েছে।

    গতকাল সোমবার এ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় এই ফার্মা জায়ান্ট।

    সংস্থাটি জানায়, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য আদালতগুলোতে ঝুলন্ত প্রায় ৬৯ হাজার মামলার সমাধান হবে, যা দেশটিতে টেলক-সংক্রান্ত বকেয়া মামলার প্রায় ৯৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

    তবে চুক্তিটি চূড়ান্ত হতে হলে অঙ্গরাজ্য বা ফেডারেল আদালতে মামলা করা বাদীদের অন্তত ৯৫ শতাংশের সম্মতি প্রয়োজন হবে।

    টেলক মূলত একটি নরম খনিজ পদার্থ। এটি একসময় প্রসাধন সামগ্রী ও শিশুদের ব্যবহারে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় ছিল। তবে ক্যানসারের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে আসার পর থেকে এর ব্যবহার অনেকটাই কমে যায়।

    ২০২৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) টেলককে ‘মানুষের জন্য ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে’ এমন উপাদানের তালিকায় যুক্ত করে।

    অবশ্য জনসন অ্যান্ড জনসন শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, টেলক ক্যানসার ঘটায়—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবুও বিতর্ক এড়াতে প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এবং ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী টেলকভিত্তিক বেবি পাউডার বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়।

    এর আগে ২০১৬ সালে মার্কিন একটি জুরি বোর্ড ডিম্বাশয়ের ক্যানসারে মারা যাওয়া এক নারীর পরিবারকে ৭ কোটি ২০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য জে অ্যান্ড জে-কে নির্দেশ দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে টেলক ব্যবহারে ক্যানসারের অভিযোগে এটিই ছিল প্রথম বড় কোনো রায়।

    পরের বছর একটি উচ্চতর আদালত ওই রায়টি বাতিল করেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে যায়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অঙ্গরাজ্যের জুরি বোর্ড বাদী পক্ষের অনুকূলে বিপুল ক্ষতিপূরণের রায় বহাল রাখেন।

    নতুন এই সমঝোতার বিষয়ে জে অ্যান্ড জে-র লিটিগেশন বিভাগের প্রধান এরিক হাস বলেন, ‘এই সমঝোতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিনের আইনি ঝামেলা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে পারবে।’

    অন্যদিকের, বাদীদের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবীরাও দীর্ঘ এক দশকের আইনি লড়াই শেষে এই প্রস্তাবিত চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন।

    তবে যুক্তরাষ্ট্রের মামলাগুলো এই সমঝোতার আওতায় আসলেও তা যুক্তরাজ্যের জন্য প্রযোজ্য হচ্ছে না। যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পণ্য দায়বদ্ধতা মামলা হিসেবে সেখানে ৭ হাজারের বেশি সম্ভাব্য বাদী বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন।

    ২০২৫ সালের অক্টোবরে দায়ের করা যুক্তরাজ্যের এই মামলায় অভিযোগ করা হয়, টেলক ব্যবহারের ফলে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার ও মেসোথেলিওমা হতে পারে—তা জানা সত্ত্বেও জনসন অ্যান্ড জনসন বাজারজাতকরণ চালিয়ে গেছে। তবে যুক্তরাজ্যের হাই কোর্টে বিচারাধীন এই অভিযোগটি বরাবরের মতোই অস্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

  • দামুড়হুদায় মাদকসহ গ্রেফতার ১

    দামুড়হুদায় মাদকসহ গ্রেফতার ১

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় অভিযান চালিয়ে ৪০ বোতল ভারতীয় মাদক ই-স্কাফসহ মো: হাফিজুল হক ওরফে মিঠুন (৩৩) নামে এক মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভোর ৫টা ১০ মিনিটের দিকে দামুড়হুদা থানাধীন মুক্তারপুর গ্রামস্থ চাঁদপুর মোড় সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার মিঠুন দামুড়হুদা উপজেলার মুন্সিপুর (মাঝপাড়া) গ্রামের মো: জালাল বিশ্বাসের ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জনাব শেখ মেসবাহ উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভোর ৫টা ১০ মিনিটের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দামুড়হুদা থানাধীন মুক্তারপুর গ্রামস্থ চাঁদপুর মোড় সংলগ্ন আব্দুল হামীদ নিউ মার্কেটের সামনের পাকা রাস্তায় অভিযান চালিয়ে মিঠুনকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে ৪০ বোতল অবৈধ ভারতীয় ই-স্কাফ উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়।

    গ্রেফতারকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে ওসি মেসবাহ উদ্দিন নিশ্চিত করেছেন।

  • বেবি পাউডার থেকে ক্যানসার: ৫৫০ কোটি ডলারে সমঝোতার প্রস্কাব

    বেবি পাউডার থেকে ক্যানসার: ৫৫০ কোটি ডলারে সমঝোতার প্রস্কাব

    যুক্তরাষ্ট্রে বেবি পাউডারসহ অন্যান্য ট্যালকমযুক্ত পণ্যে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি থাকার অভিযোগে দায়ের করা হাজার হাজার মামলা নিষ্পত্তিতে সাড়ে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় সাড় ৪ বিলিয়ন পাউন্ড) পর্যন্ত পরিশোধের প্রস্তাব দিয়েছে বহুজাতিক হেলথকেয়ার জায়ান্ট জনসন অ্যান্ড জনসন (জে অ্যান্ড জে)।

    দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই বহুল আলোচিত আইনি লড়াই চূড়ান্তভাবে বন্ধ করতেই মার্কিন ভিত্তিক নিউ জার্সির এই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটি ঐতিহাসিক এ সমঝোতার প্রস্তাব এনেছে।

    তবে সংস্থাটি শুরু থেকেই তাদের ট্যালকম-ভিত্তিক পণ্যের কারণে ক্যানসার হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং ইতিমধ্যে তাদের জনপ্রিয় বেবি পাউডারের ফর্মুলায় পরিবর্তন এনেছে।

    গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে জনসন অ্যান্ড জনসনের লিটিগেশন বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিক হাস জানান, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ‘ভিত্তিহীন’। তবে বিষয়টি স্থায়ীভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যেই তারা এই সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে ইচ্ছুক।

    প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, আগামী বছর ৩০০ কোটি ডলার পরিশোধ করবে জনসন অ্যান্ড জনসন এবং ২০২৮ সালের আগে অতিরিক্ত কোনো অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকবে না।

    তবে চুক্তিটি চূড়ান্ত হতে রাজ্য ও ফেডারেল আদালতে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার সম্পর্কিত অন্তত ৯৫ শতাংশ মামলাকারীর প্রতিনিধিত্বকারী আইনি ফার্মগুলোর সম্মতি প্রয়োজন হবে বলে জানায় জে অ্যান্ড জে।

    এরিক হাস বলেন, ‘আদালতে চূড়ান্ত আইনি লড়াই অব্যাহত রাখলে শেষ পর্যন্ত কোম্পানিই জয়ী হতো, ঠিক যেভাবে অতীতের বেশিরভাগ মামলায় জয়ী হয়েছে।’

    তিনি আরও যোগ করেন, এই সমঝোতার ফলে কোম্পানিটি আইনি জটিলতা পেছনে ফেলে মানবজীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও আধুনিক চিকিৎসাসামগ্রী তৈরিতে তাদের মনোযোগ বজায় রাখতে পারবে।

    জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে ট্যালকমভিত্তিক বেবি পাউডার সংক্রান্ত প্রথম মামলা করা হয়েছিল ২০০৯ সালে।

    সম্প্রতি চলতি মাসের শুরুর দিকে একটি ফেডারেল আদালত এক পর্যবেক্ষণে জানায়, স্বতন্ত্র মামলাকারীরা ট্যালকম পাউডারের কারণে সরাসরি তাদের ডিম্বাশয়ের ক্যানসার হয়েছে—এমন প্রমাণ দিতে পারছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

    ট্যালকম হলো প্রাকৃতিক খনিজ উপাদান, যা ম্যাগনেসিয়াম, সিলিকন, অক্সিজেন এবং হাইড্রোজেন সমন্বয়ে গঠিত। মসৃণ অনুভূতির জন্য এটি সাধারণত বেবি পাউডারে ব্যবহার করা হয়।

    তবে মামলাকারী ভোক্তা ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, ট্যালকম উত্তোলনের সময় ক্ষতিকর অ্যাসবেস্টস বা অভ্রের সংস্পর্শে আসায় এর থেকে ক্যানসার সৃষ্টি হয়। ট্যালকম এবং অ্যাসবেস্টস মাটির একই স্তরে পাশাপাশি পাওয়া যায়। অ্যাসবেস্টস ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান হিসেবে স্বীকৃত।

    অবশ্য জে অ্যান্ড জে এই অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, গবেষণায় দেখা গেছে ট্যালকম নিরাপদ, এতে কোনো অ্যাসবেস্টস নেই এবং এটি ক্যানসারের কারণ নয়।

    এর আগে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এবং ২০২২ সালে বিশ্বব্যাপী ট্যালকম-ভিত্তিক বেবি পাউডার উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেয় জে অ্যান্ড জে।

    সে সময় বৈশ্বিক পোর্টফোলিও পর্যালোচনার অংশ হিসেবে সংস্থাটি জানিয়েছিল, তারা সম্পূর্ণ ভুট্টার স্টার্চভিত্তিক বেবি পাউডারে স্থানান্তরিত হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, উত্তর আমেরিকার বাইরে জনসনস বেবি পাউডারে উদ্ভূত যেকোনো আইনি দায়ভার এখন ‘কেনভিউ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর ন্যাস্ত। বিখ্যাত ব্র্যান্ড ‘ব্যান্ড-এইড’, ‘লিস্টারিন’ ও ‘ক্যালপল’-এর মালিক কেনভিউ ২০২২ সালে মূল প্রতিষ্ঠান জে অ্যান্ড জে থেকে আলাদা হয়ে যায়।

  • বিশ্বের সবচেয়ে বড় মরুভূমিতে এক কণাও বালি নেই!

    বিশ্বের সবচেয়ে বড় মরুভূমিতে এক কণাও বালি নেই!

    ‘মরুভূমি’ শব্দটি শুনলেই সাধারণত চোখের সামনে ভেসে ওঠে সাহারা, ডেথ ভ্যালি কিংবা বিস্তীর্ণ বালুকাময় প্রান্তরের ছবি। তবে বাস্তবে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মরুভূমি বালুময় নয়; বরং এটি হাজার হাজার কিলোমিটারজুড়ে বরফে আচ্ছাদিত এক মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকা।

    ভূতাত্ত্বিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, মরুভূমি নির্ধারিত হয় তাপমাত্রা দিয়ে নয়, বরং বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দিয়ে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (নাসা) জানায়, যে অঞ্চলে বছরে প্রায় ১০ ইঞ্চি বা তার কম বৃষ্টিপাত হয়, সেটিকে মরুভূমি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

    সেই সংজ্ঞা অনুযায়ী অ্যান্টার্কটিকা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মরুভূমি। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যান্টার্কটিক প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, মহাদেশটিতে বছরে গড়ে মাত্র ২ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত বা তুষারপাত হয়। ফলে এটি বিশ্বের সবচেয়ে শীতল, সবচেয়ে বাতাসপ্রবণ এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে শুষ্ক অঞ্চলগুলোর একটি।

    আয়তনের দিক থেকেও অ্যান্টার্কটিকা বিশাল। প্রায় ৫৪ লাখ বর্গমাইল বিস্তৃত এই মহাদেশ সাহারা মরুভূমির চেয়েও প্রায় দেড় গুণ বড়।

    অ্যান্টার্কটিকায় বাতাসে উড়তে থাকা তুষার দেখে নতুন তুষারপাত মনে হলেও বাস্তবে তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুরোনো বরফের কণাকে প্রবল বাতাস বারবার উড়িয়ে নিয়ে যায়। নতুন তুষারপাত সেখানে খুবই সীমিত।

    বিস্ময়কর বিষয় হলো, এত কম বৃষ্টিপাতের পরও অ্যান্টার্কটিকা কয়েক কিলোমিটার পুরু বরফের স্তরে ঢাকা। এখানেই সংরক্ষিত রয়েছে পৃথিবীর মোট বরফের প্রায় ৯০ শতাংশ এবং বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ মিঠাপানি।

    চরম শুষ্কতা ও হিমাঙ্কের অনেক নিচের তাপমাত্রার কারণে নাসা প্রায়ই অ্যান্টার্কটিকার পরিবেশের সঙ্গে মঙ্গল গ্রহের তুলনা করে। সংস্থাটি জানায়, মঙ্গলে পাঠানো কিছু রোবটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমও অ্যান্টার্কটিকায় পরিচালিত হয়েছিল, কারণ দুই স্থানের পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্টার্কটিকা প্রমাণ করে যে মরুভূমি মানেই বালু আর প্রচণ্ড গরম নয়। বরং যেখানে দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত কম বৃষ্টিপাত হয়, সেই অঞ্চল তা বরফে ঢাকা হোক বা বালুময় মরুভূমির সংজ্ঞার মধ্যেই পড়ে।

  • মিয়ানমারে বেসামরিক মানুষ মরেছে ৪৫০জন

    মিয়ানমারে বেসামরিক মানুষ মরেছে ৪৫০জন

    মিয়ানমারে নতুন সামরিক নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটিতে বেসামরিক মানুষের ওপর সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন ও বিমান হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্ট (এসিএলইডি)।

    সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, মার্চে সামরিক বাহিনীর কমান্ড কাঠামো পুনর্বিন্যাসের পর থেকে জান্তার দমন-পীড়ন আরো তীব্র হয়েছে। নতুন সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে বিশেষায়িত যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে একই লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক বিমান হামলার কৌশল নিয়মিতভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকেই মিয়ানমার গৃহযুদ্ধে নিমজ্জিত। এ সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় এক লাখ মানুষ নিহত হয়েছে এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছে কয়েক মিলিয়ন মানুষ।

    গত মার্চে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা য়ে উইন উ-কে সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন মিন অং হ্লাইং। এর কয়েকদিন পরই বিরোধী দলগুলোকে নিষিদ্ধ করে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট হন। নতুন সেনাপ্রধানের অধীনে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে বিরল খনিজসম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথসংলগ্ন এলাকায়, সামরিক অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

    এসিএলইডির মতে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে অন্তত এক ডজন গণহত্যার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় ৪৫০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, যার প্রায় ৪০ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলের শুষ্ক অঞ্চল ‘আনইয়ার’-এ।

    প্রতিবেদনে মে মাসের একটি অভিযানের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সে সময় শত শত জান্তা সেনা প্রাচীন বাগান নগরীর বিপরীতে অবস্থিত মিয়িত চে টাউনশিপে অভিযান চালিয়ে অন্তত ৪০ জনকে হত্যা করে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা রয়টার্সকে জানান। ৩৫ বছর বয়সী এক বাসিন্দা, ইয়ে নাউং, দাবি করেন, প্রায় ৭০০ সেনা শহরে ঢুকে বাসিন্দাদের মালামাল লুট করে, মারধর করে এবং পরে হত্যা করে। তবে রয়টার্স স্বাধীনভাবে এসব অভিযোগ যাচাই করতে পারেনি। এসিএলইডির ডেটাবেসে ঘটনাটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং সেখানে অন্তত পাঁচজন নিহত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

    এসিএলইডি বলেছে, ২০২৬ সালে সামরিক বাহিনীর কৌশলে পরিবর্তন এলেও বেসামরিক মানুষের ওপর দমন-পীড়নের মাত্রা একটুও কমেনি; বরং এর ধরন আরও সংগঠিত ও তীব্র হয়েছে।

    এদিকে, মিয়ানমারের রাজনৈতিক রদবদলের পর আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতাও বেড়েছে। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর মিন অং হ্লাইং ইতোমধ্যে প্রতিবেশী ভারত ও চীন সফর করেছেন। তবে এসিএলইডির আশঙ্কা, সামরিক জান্তা ক্ষমতা আরও সুসংহত করার দিকে মনোযোগ দেওয়ায় নিকট ভবিষ্যতে বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ কমার সম্ভাবনা খুবই কম।

  • ১৮ মাসেই চালু হবে চায়না ইকোনমিক জোনের প্রথম কারখানা : বেজা চেয়ারম্যান

    ১৮ মাসেই চালু হবে চায়না ইকোনমিক জোনের প্রথম কারখানা : বেজা চেয়ারম্যান

    আগামী ১৮ মাসের মধ্যেই চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণাধীন চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে (সিইআইজেড) প্রথম কারখানার উৎপাদন দেখতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    বেজা নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই উৎপাদনে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান।

    সোমবার (২৭ জুলাই) চট্টগ্রামের আনোয়ারার বেলচূড়া এলাকায় বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এ কথা জানান বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান।

    অনুষ্ঠানে আশিক চৌধুরী বলেন, ‘গত মাসে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ডেভেলপার কোম্পানির চেয়ারম্যানের সাথে বৈঠক হয়। সেখানে জোনটি চালুর বিষয়ে প্রথমে তিন থেকে পাঁচ বছর সময়ের কথা বলা হলেও প্রধানমন্ত্রী ১৮ মাসের মধ্যে প্রথম কারখানা চালুর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। পরে ডেভেলপার কোম্পানির চেয়ারম্যানও এই সময়ের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।’

    চীনা বিনিয়োগকারীদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিদেশী বিনিয়োগকারীরা আমাদের অতিথি। তারা বিনিয়োগে মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি দেশের হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করবেন। এই জোন দ্রুত চালু হলে এই এলাকার চেহারা বদলে যাবে।’

    স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীকে বিনিয়োগকারীদের পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    যেকোনো সমস্যা সমাধানে সম্মিলিতভাবে কাজ করার তাগিদ দিয়ে বেজা নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দিতে হবে।’

    দেশের অগ্রগতির জন্য বিনিয়োগের বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

  • নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী আইজেনকোট

    নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী আইজেনকোট

    আগামী ২৭ অক্টোবরের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সাধারণ নির্বাচনের আগে ইসরাইলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন।

    ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর সৃষ্ট সংকটের প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের মূল্যায়নের নির্বাচন হিসেবেই এবারের ভোটকে ব্যাপকভাবে দেখা হচ্ছে। এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আইজেনকোটের উত্থান ঘটেছে।

    সম্প্রতি প্রকাশিত চ্যানেল-১২-এর এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, আইজেনকোটের নতুন দল ‘ইয়াশার’ ১২০ সদস্যের নেসেটে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। জরিপে ইয়াশারের জন্য ২৩টি এবং লিকুদের জন্য ২২টি আসনের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

    একই জরিপে ৬৬ বছর বয়সী আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করেছেন ৪৩ শতাংশ উত্তরদাতা। নেতানিয়াহুর পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৪ শতাংশ।

    ৭ অক্টোবরের হামলার পর ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি অপ্রাসঙ্গিক বলে উড়িয়ে দেয়া আইজেনকোট লেবাননে ইসরাইলের অসম মাত্রার সামরিক জবাব দেওয়ার কৌশলেরও অন্যতম প্রবর্তক।

    তিনি ১০ দফা নির্বাচনী কর্মসূচি নিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। তার দাবি, এর মাধ্যমে ইসরাইলের নিরাপত্তা, জাতীয় ঐক্য এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন করা সম্ভব হবে।

    ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরাইলি সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আইজেনকোট ‘দাহিয়া নীতি’ প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বলে কৃতিত্ব দেয়া হয়। লেবাননের রাজধানী বৈরুতের হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি দাহিয়া উপশহরের নাম অনুসারে এ নীতির নামকরণ করা হয়।

    হিজবুল্লাহ যোদ্ধা ও অস্ত্র বেসামরিক বাড়িঘর এবং অবকাঠামোর মধ্যে লুকিয়ে রাখে- এমন ধারণার ভিত্তিতে প্রণীত এ নীতিতে বলা হয়, ইসরাইলের জনবসতিতে দূরপাল্লার হামলা হলে শত্রুপক্ষের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভয়াবহ পাল্টা হামলা চালানো হবে।

    তার বেসামরিক কর্মসূচির শীর্ষে রয়েছে হামাসের ২০২৩ সালের সীমান্তপারের রক্তক্ষয়ী হামলার বিষয়ে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি। ওই হামলার জেরেই গাজা যুদ্ধ শুরু হয়, যা পরে আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেয়। এ ঘটনায় গোয়েন্দা ব্যর্থতার অভিযোগ ওঠে নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে।

    এ ধরনের তদন্ত কমিশন গঠনের দাবিতে কয়েক হাজার ইসরাইলি বহুবার বিক্ষোভ করেছেন। তবে নেতানিয়াহুর জোট সরকার এমন একটি কমিশনের প্রস্তাব দিয়েছে, যার সদস্যদের নির্বাচন করবেন রাজনীতিকরা।

    আইজেনকট আরো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেনাবাহিনীকে আরো শক্তিশালী করা এবং দেশের সীমান্ত সুরক্ষা জোরদারের লক্ষ্যে একটি ‘নতুন দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় নিরাপত্তা নীতি’ প্রণয়ন করবেন।

    এছাড়া তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং স্বাধীন গণমাধ্যম রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    আইজেনকটের নির্বাচনী প্রচারে বলা হয়, ‘এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করব, ইসরাইল একটি ইহুদি, গণতান্ত্রিক, শক্তিশালী, উন্নত এবং নিরাপদ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠবে।’

    তবে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিয়ে তার সামগ্রিক অবস্থান এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

    গাজায় যুদ্ধের সময় তার ছেলে গাল এবং দুই ভাতিজা নিহত হওয়ার পর আইজেনকোটের প্রতি জনসমর্থন তুলনামূলকভাবে বেড়েছে।

    সর্বজনীন সামরিক সেবা চালুর দাবি তার নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এ কারণে কট্টর রক্ষণশীল ইহুদি দলগুলোর সাথে নেতানিয়াহুর জোটের বিরোধিতার সামনের সারিতেও রয়েছেন তিনি।

    জোটসঙ্গীদের সাথে নেতানিয়াহুর এমন একটি আইন এগিয়ে নেওয়ার সমালোচনা করেছেন আইজেনকট, যার মাধ্যমে বহু হারেদি ইহুদি পুরুষকে সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি দেয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এটি এমন একটি সরকার, যা নির্মম যুদ্ধের মধ্যেই সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার পথ বেছে নিয়েছে। অথচ এই দেশের সেরা ছেলে-মেয়েরা সব ফ্রন্টে দায়িত্ব পালন করছে।’

    নেতানিয়াহুর মতো ইসরাইলের অভিজাত পরিবারে নয় আইজেনকোটের, তার জন্ম মরক্কো থেকে আসা অভিবাসী পরিবারে। তিনি দেশের প্রান্তিক এলাকায় বেড়ে উঠেছেন।

    সাম্প্রতিক এক ব্লগে কলামিস্ট নাদাভ আইয়াল লিখেছেন, ‘নেতানিয়াহুর মতো হতে চাওয়া রাজনীতিকদের ভিড়ে আইজেনকোট এক ভিন্ন প্রজন্মের মানুষ। জায়নবাদের ঐতিহ্যগত নিরাপত্তা ভাবনার সাথে তার সংযোগ অনেক বেশি।’

    গবেষক এলোভিৎসের মতে, আইজেনকটের সংযত ব্যক্তিত্বই তার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি হয়ে উঠতে পারে।

    যদিও বিরোধী নেতা ইয়াইর লাপিদ ও নাফতালি বেনেট এখনো প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। বর্তমান জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহুকে পরাজিত করার ক্ষেত্রে তাদের কেউই আইজেনকোটের মতো শক্ত অবস্থানে নেই।

  • মোদিবিরোধী পোস্টের বিরুদ্ধে অভিযানে দিল্লি পুলিশ

    মোদিবিরোধী পোস্টের বিরুদ্ধে অভিযানে দিল্লি পুলিশ

    ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে পরিচালিত নিট আন্দোলনের সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ।

    ইতোমধ্যে একাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মকে এ বিষয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের এই পদক্ষেপে চিহ্নিত করা অধিকাংশ আপত্তিকর ভিডিও, পোস্ট ও মন্তব্য ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

    একটি বিশেষ পুলিশ দল নিয়মিত ডিজিটাল কনটেন্ট নজরদারিতে রাখছে এবং নতুন কোনো বিতর্কিত উপাদান নজর এলেই দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্দেশ দিচ্ছে।

    কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর সিজেপি তাদের আন্দোলন গুটিয়ে নেওয়ার ঠিক এক দিন পরই দিল্লি পুলিশের এই সাইবার অভিযানের খবর সামনে এলো। মে মাসের শুরুতে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন প্রায় ৩৭ দিন ধরে চলার পর গত শনিবার (২৫ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

    শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকার আন্দোলনকারীদের আরও দুটি প্রধান দাবি মেনে নিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে আত্মহত্যা করা নিট পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও আয়োজকদের বিরুদ্ধে রুজু করা সমস্ত এফআইআর বা মামলা প্রত্যাহার করা।

    দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, সরকারের সঙ্গে সমঝোতা হওয়া শর্তগুলো নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়নের আশ্বাস পেয়েই শুভ বুদ্ধির পরিচয় দিয়ে তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেন। সাবেক আপ (এএপি) কর্মী অভিজিৎ দিপকের প্রতিষ্ঠিত এই দলটি গত ২০ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছিল।

    পরবর্তীতে পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুক আন্দোলনে যোগ দিলে তা আরও গতি পায়। গত ২০ জুলাই আন্দোলনকারীদের ‘সংসদ চলো মার্চ’-এর সময় পুলিশি লাঠিচার্জের পর তৈরি হওয়া চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে শান্ত হয় এবং আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।

  • ৫০০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে পদার্পণ করেন মুসলিমরা, জেনে নিন সেই ইতিহাস

    ৫০০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে পদার্পণ করেন মুসলিমরা, জেনে নিন সেই ইতিহাস

    আমেরিকা বা যুক্তরাষ্ট্র প্রজাতন্ত্র হিসেবে গড়ে ওঠার অনেক আগেই দেশটির ইতিহাসের অংশ ছিলেন মুসলমানরা। ১৬০৭ সালে ইংরেজদের জেমিটাউন প্রতিষ্ঠা এবং ১৬২০ সালে পিলগ্রিমদের প্লাইমাউথে পৌঁছানোর কয়েক দশক আগেই ১৫২০ ও ১৫৩০-এর দশকে মরক্কোর এস্তেবান দে দোরান্তেস (এস্তেভানিকো নামে পরিচিত) বর্তমান টেক্সাস, নিউ মেক্সিকো ও অ্যারিজোনার মরুভূমিতে পা রেখেছিলেন।

    মরক্কোর আটলান্টিক উপকূলের আজেমমুরে জন্মগ্রহণকারী এস্তেভানিকোকে দাস হিসেবে স্পেনে এবং পরে মহাসাগর পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়। এক মর্মান্তিক অভিযানে অধিকাংশ মানুষ মারা গেলেও তিনি বেঁচে যান। তিনি বিভিন্ন নেটিভ আমেরিকান ভাষা শেখেন এবং ভবিষ্যৎ যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল পাড়ি দেওয়া প্রথম প্রাচীন পৃথিবীর অধিবাসীদের একজন হয়ে ওঠেন। তার মরক্কোয় জন্ম ও জীবনীসংক্রান্ত তথ্যপ্রমাণ নিশ্চিত করে যে তিনি একজন মুসলিম ছিলেন।

    অধিকাংশ মুসলিম যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন ক্রীতদাস হিসেবে। তাদের মধ্যে অনেকে ছিলেন পশ্চিম আফ্রিকার সেনেগাম্বিয়ান ও সাহেলিয়ান অঞ্চলের, যেখানে শতাব্দী ধরে ইসলামিক চর্চা বিদ্যমান ছিল।

    ধারণামতে, তাদের সংখ্যা ছিল ১০ হাজারেরও বেশি। দাস হিসেবে বন্দি হওয়ার আগেই তাদের অনেকে আরবিতে শিক্ষিত এবং কোরআন ও ইসলামী আইনে দক্ষ ছিলেন। দাসত্ব করা ওমর ইবনে সাইদের আত্মজীবনীর মতো কিছু লিখিত রেকর্ডও রেখে গেছেন তারা।

    তাদের গভীর প্রভাব দেখা যায় আমেরিকান সংস্কৃতি ও সংগীতে। গবেষকদের মতে, আমেরিকার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ‘জ্যাজ’ সংগীতের বিকাশে মুসলিম আমেরিকানরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে শ্যিক্ষেতে কাজ করার সময় দাসদের গাওয়া ‘ফিল্ড হলার’ গান জনপ্রিয় আমেরিকান সংগীতের অন্যতম ভিত্তি ছিল।

    অনেক গবেষক এই গানের সুরের মূল খুঁজে পেয়েছেন পশ্চিম আফ্রিকার দাসদের মধ্যে, যারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলা ইসলামি প্রার্থনার ঐতিহ্য ক্ষেতে বয়ে নিয়ে এসেছিলেন। ‘ফিল্ড হলার’, আজান ও কোরআন তিলাওয়াতের সুর ও ভঙ্গির মধ্যে স্পষ্ট মিল পাওয়া যায়। ১৬৪০-এর দশকে মিসিসিপির একটি কাজের গানের সঙ্গে আজানের সুরগত মিলের বিষয়টি ইতিহাসবিদেরা উল্লেখ করেছেন।

    পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও একজন আমেরিকান মুসলিম বড় ভূমিকা রাখেন। ১৯৬৪ সালে হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন ক্যাসিয়াস ক্লে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে মুহাম্মদ আলি রাখেন। তিন বছর পর ভিয়েতনাম যুদ্ধে যোগ দিতে বলা হলে তিনি ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে তা প্রত্যাখ্যান করেন।

    এর জবাবে তার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের খেতাব কেড়ে নেওয়া হয়, রিংয়ে নামা নিষিদ্ধ করা হয় এবং পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। টানা তিন বছর (২৫ থেকে ২৮ বছর বয়স পর্যন্ত) এই সেরা বক্সারকে রিংয়ে লড়তে দেওয়া হয়নি।

    পরবর্তীকালে তিনি সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হন। ১৯৭১ সালে ‘ক্লে বনাম যুক্তরাষ্ট্র’ মামলায় বিচারকেরা সর্বসম্মতিক্রমে তার সাজা বাতিল করেন। আদালত স্বীকার করে যে, অলির এই সিদ্ধান্ত খাঁটি ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে ছিল। এই রায়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হয় যে আমেরিকার সাংবিধানিক ধর্মীয় সুরক্ষা কেবল খ্রিষ্টান বা ইহুদিদের জন্য নয়, বরং সব ধর্মের মানুষের জন্য প্রযোজ্য।

    যুক্তরাষ্ট্র গঠনে মুসলমানদের তৃতীয় অবদান হলো তাদের নাগরিক সম্পৃক্ততা ও দানশীলতা। ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম হলো জাকাত, যেখানে নিজের সঞ্চিত সম্পদের ২ দশমিক ৫ শতাংশ দরিদ্রদের দান করার নিয়ম রয়েছে। এর পাশাপাশি রয়েছে স্বেচ্ছায় দান বা সদকা।

    ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মুসলিম ফিলানথ্রপি ইনিশিয়েটিভ’-এর গবেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১ শতাংশ হলেও ২০২০ সালে আমেরিকান মুসলমানরা দানকার্যে প্রায় ৪৩০ কোটি ডলার (৪.৩ বিলিয়ন) দিয়েছেন। গড়ে প্রতি দাতা দান করেছেন প্রায় ৩ হাজার ২০০ ডলার, যা তাদের অমুসলিম প্রতিবেশীদের (১ হাজার ৯০০ ডলার) চেয়ে অনেক বেশি।

    এই অনুদানের প্রায় ৮৫ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই থাকে। এর বড় অংশ মসজিদ বা মুসলিম প্রতিষ্ঠানে না গিয়ে দারিদ্র্যবিমোচন, কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলা এবং নাগরিক অধিকার রক্ষায় ব্যয় হয়। ২০২১ সালে প্রদত্ত প্রায় ১৮০ কোটি ডলারের জাকাতের বড় একটি অংশ আত্মীয় বা উপাসনালয়ের বদলে দাতব্য অলাভজনক সংস্থায় দেওয়া হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের এই সময়ে জানা যায়, মুসলমানরা কেবল অতিথি নন, বরং দেশটির ইতিহাস গড়ার অন্যতম অংশীদার ছিলেন।

  • ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে দুর্বল করেছে

    ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে দুর্বল করেছে

    ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ও অর্থনৈতিক—উভয় দিক থেকেই উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি। তার দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের কারণে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, অর্থনীতি এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

    সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ম্যাসি লেখেন, ‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে।’

    তিনি অভিযোগ করেন, এ সংঘাতের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা কমেছে, জ্বালানির মজুত হ্রাস পেয়েছে, সামরিক সদস্যদের প্রাণহানি ঘটেছে, ভোক্তা পণ্যের দাম বেড়েছে এবং জাতীয় ঋণের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

    ম্যাসির ভাষ্য, ‘এই প্রশাসন আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিঃশেষ করেছে, তেলের মজুত কমিয়েছে, আমাদের নারী ও পুরুষ সেনাদের মৃত্যুর কোলে ঠেলে দিয়েছে, ভোক্তা পণ্যের দাম বাড়িয়েছে, ঋণ বাড়িয়েছে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদাগুলো উপেক্ষা করেছে—সবই ইসরাইলের জন্য। সব দোষ ওদের।’

    রিপাবলিকান এই আইনপ্রণেতার মন্তব্যকে ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সমালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগেও বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় নিয়ে তিনি একাধিকবার আপত্তি জানিয়েছেন।

    তবে ম্যাসির এসব অভিযোগের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

  • ভারতে শিক্ষার্থীদের ওপরে একে-৪৭ দিয়ে পুলিশের গুলি

    ভারতে শিক্ষার্থীদের ওপরে একে-৪৭ দিয়ে পুলিশের গুলি

    গত ২৫ জুলাই বিহার বন্‌ধ বা ধর্মঘট চলাকালে সিওয়ান জেলায় বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ওপর একে-৪৭ রাইফেল থেকে গুলি ছোড়ার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এই ঘটনার জেরে বিহারের এক পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

    রাজ্যজুড়ে ডাকা ওই ধর্মঘটে বিভিন্ন জেলায় ছাত্র সংগঠনগুলোর ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা যায়। সে সময় একাধিক স্থানে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও ফুটেজটিকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেয় বিহার পুলিশ সদর দপ্তর। ফুটেজে এক পুলিশ কনস্টেবলকে বিক্ষোভ চলাকালে একে-৪৭ থেকে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। এরপরই অবিলম্বে তাকে বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

    এদিকে, পাটনার জয়প্রভা মেদান্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত তিন বিক্ষোভকারীর অবস্থা এখন স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সি মো. আরিফও রয়েছে। পরিবারের ভাষ্যমতে, আরিফ স্থানীয় একটি দোকানে কাজ করে। তার স্বজনেরা জানান, ধর্মঘটের সময় দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যায় সে, এ সময় তার ঘাড়ে গুলি লাগে। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার করে সফলভাবে গুলিটি বের করতে সক্ষম হয়েছেন এবং তার অবস্থা এখন আশঙ্কামুক্ত।

    বিহারের বিরোধীদলীয় নেতা তেজস্বী যাদব দোষী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি ঘটনার একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে এক পুলিশ সদস্যকে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে দেখা যায়।

    লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও বিষয়টি সামনে এনেছেন। দিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পেলেট গান এবং বিহারে একে-৪৭ ব্যবহারের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সব জায়গায় একই ছক দেখা যাচ্ছে।

    পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই বাহিনীর প্রাথমিক দায়িত্ব এবং প্রতিষ্ঠিত নিয়মনীতির যেকোনো লঙ্ঘন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। তারা আরও জানান, এ ঘটনায় একটি বিস্তারিত বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার পুলিশের প্রোটোকল মেনে করা হয়েছিল কিনা এবং এর জন্য আরও কোনো শাস্তিমূলক বা আইনি ব্যবস্থার প্রয়োজন আছে কিনা, তা এই তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে।

    রাজ্যব্যাপী ধর্মঘটের অংশ হিসেবে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ওইদিন শহরে জড়ো হয়ে গান্ধী ময়দানের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেওয়ার সময় একপর্যায়ে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হলে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে।

  • ভাড়ায় মিলছে ‘প্রেমিক-প্রেমিকা’

    ভাড়ায় মিলছে ‘প্রেমিক-প্রেমিকা’

    ট্যাক্সি, ফিটনেস প্রশিক্ষক বা ফ্রিল্যান্স ডিজাইনার বুক করার মতোই এখন ঘণ্টা হিসেবে ‘বয়ফ্রেন্ড’ ভাড়া করার সেবাও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। একসময় যা কেবল জাপানি নাটকের কল্পকাহিনি বলে মনে হতো, তা এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি ভারতেও বাস্তব ব্যবসায় পরিণত হচ্ছে।
    ফেসবুক গ্রুপ, ইনস্টাগ্রাম পেজ, সঙ্গী খোঁজার অ্যাপ এবং অনলাইন প্রোফাইলভিত্তিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এখন ঘণ্টাপ্রতি নির্ধারিত পারিশ্রমিকে ‘মুভি পার্টনার’, ‘শপিং বাডি’ এমনকি ‘মেডিক্যাল সাপোর্ট কম্প্যানিয়ন’ হিসেবেও সেবা দেয়ার বিজ্ঞাপন দেখা যাচ্ছ।

    জাপানের ‘রেন্টাল পারসন’ অর্থনীতি থেকে যাত্রা
    ‘রেন্ট-এ-বয়ফ্রেন্ড’ ব্যবসার সূচনা একদিনে হয়নি। এর শিকড় রয়েছে ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে জাপানের ‘রেন্টাল পারসন’ অর্থনীতিতে। তখন অর্থের বিনিময়ে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়, শ্রোতা কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে সঙ্গী হিসেবে মানুষ ভাড়া দেয়ার প্রচলন শুরু হয়।

    মূল ধারণাটি ছিল সহজ- বাস্তব জীবনে কোনো সামাজিক পরিস্থিতি অস্বস্তিকর বা জটিল হয়ে উঠলে কয়েক ঘণ্টার জন্য একজন মানুষকে নির্দিষ্ট একটি সামাজিক ভূমিকায় ভাড়া নেয়া।

    বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য সঙ্গী দরকার? ভাড়া করুন। সম্পর্ক ভাঙার পর কাউকে নিজের কথা বলতে চান? বুক করুন একজন শ্রোতাকে। পারিবারিক অনুষ্ঠানে একা যেতে না চাইলে তারও ব্যবস্থা ছিল।
    ২০১০-এর দশকের শুরুতে এসব সেবা ‘রেন্টাল গার্লফ্রেন্ড’ এবং ‘রেন্টাল বয়ফ্রেন্ড’ নামে পরিচিতি পেতে শুরু করে।

    কী এই ‘রেন্টাল বয়ফ্রেন্ড’?
    নামের কারণে অনেকের ভিন্ন ধারণা হতে পারে। তবে এসব সেবা সাধারণত যৌনসেবা হিসেবে প্রচার করা হয় না। গ্রাহক ও সঙ্গী সাধারণত ক্যাফে, পার্ক, জাদুঘর, রেস্তোরাঁ বা শপিং মলে দেখা করেন। অধিকাংশ সংস্থারই কঠোর নিয়ম রয়েছে- কোনো ধরনের যৌন কার্যকলাপ নয়। হোটেল কক্ষে যাওয়া যাবে না। নির্জন স্থানে দেখা করা যাবে না। রাতযাপন করা যাবে না। সব সময় ভদ্র আচরণ করতে হবে।

    এই সেবায় অর্থের বিনিময়ে মূলত পাওয়া যায় সময়, কথোপকথন, মনোযোগ ও সঙ্গ।

    কেন জনপ্রিয় হলো?
    জাপানের সামাজিক সংস্কৃতিতে ভদ্রতা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যের ওপর ব্যক্তিগত সমস্যা চাপিয়ে না দেয়ার প্রবণতা রয়েছে। ফলে অনেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত একটি সম্পর্কের মধ্যে নিজের কথা বলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
    এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে- একা বসবাসকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি, ব্যস্ত কর্মজীবন,শহুরে একাকীত্ব,
    এবং চাপমুক্ত সামাজিক যোগাযোগের চাহিদা।

    ফলে বিষয়টি কৌতূহলের বদলে আধুনিক একাকীত্বের একটি বাস্তব সমাধান হিসেবে দেখা শুরু হয়।

    টোকিওতে একজন রেন্টাল বয়ফ্রেন্ড বুক করতে সাধারণত প্রতি ঘণ্টায় ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার ইয়েন (প্রায় ১ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ ভারতীয় রুপি) খরচ হয়। খাবার, ভ্রমণ ও অন্যান্য কার্যক্রম যুক্ত হলে খরচ আরও বেড়ে যায়।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা
    দীর্ঘদিন এটি জাপানের একটি সীমিত পরিসরের ব্যবসা ছিল। পরে ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মাধ্যমে বিষয়টি বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠে।
    অনেক ভ্রমণবিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা “আমি টোকিওতে একজন বয়ফ্রেন্ড ভাড়া করেছি” শিরোনামে ভিডিও প্রকাশ করেন।

    একজন ইউটিউবার দেখান, কীভাবে তিনি একটি কনভিনিয়েন্স স্টোরে ভাড়াকৃত সঙ্গীর সঙ্গে দেখা করেন, ঘণ্টাপ্রতি প্রায় ১০০ ডলার (প্রায় ৮ হাজার ৫০০ ভারতীয় রুপি) পরিশোধ করেন, একসঙ্গে ছবি তোলেন, হাত ধরে হাঁটেন, দুপুরের খাবার খান এবং সময় ভালো কাটায় বুকিংয়ের সময়ও বাড়িয়ে দেন।
    একটি ভাইরাল ভিডিওতে এক রেন্টাল বয়ফ্রেন্ড জানান, তিনি প্রতি মাসে প্রায় ১০ জন বা তার বেশি গ্রাহকের সঙ্গে দেখা করেন। তাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সদ্য বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া নারী এবং বিবাহিত নারীরাও রয়েছেন।
    এভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এই সেবাকে সামাজিক পরিষেবার পরিবর্তে এক ধরনের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা হিসেবে উপস্থাপন করতে শুরু করে।

    ভারতে যেভাবে ছড়াচ্ছে
    ভারতে জাপানের মতো একই মডেল অনুসরণ করা না হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন মার্কেটপ্লেস এবং বিভিন্ন কম্প্যানিয়নশিপ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই প্রবণতা ছড়িয়ে পড়ছে।

    এনডিটিভি তাদের অনুসন্ধানে দেখেছে, ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে পুরুষরা নিজেদের ‘রেন্টেড বয়ফ্রেন্ড’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে বেড়ানো, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বা সময় কাটানোর জন্য বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন।

    এছাড়া ‘কো-পার্টনার’ নামের একটি ওয়েবসাইট নিজেদের ‘প্রফেশনাল সোশ্যাল সাপোর্ট সার্ভিস’ হিসেবে পরিচয় দেয়। সেখানে ব্যবহারকারীরা প্রোফাইল তৈরি করে নির্দিষ্ট সেবার জন্য নিয়োগ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকেন।

    ওয়েবসাইটটির নির্ধারিত কিছু সেবার মূল্য
    একসঙ্গে সময় কাটানো: ঘণ্টায় ১,৫০০ রুপি, ক্লাবে যাওয়া: ঘণ্টায় ২,০০০ রুপি, সিনেমা সঙ্গী: ঘণ্টায় ২,০০০ রুপি, শপিং সঙ্গী: ঘণ্টায় ২,০০০ রুপি, হাসপাতালে সহায়তা: ঘণ্টায় ২,০০০ রুপি।
    যদিও প্ল্যাটফর্মটি ‘ডেট’ বা ‘বয়ফ্রেন্ড’ শব্দ ব্যবহার না করে সামাজিক সহায়তা ও সঙ্গ হিসেবে সেবাগুলো উপস্থাপন করে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এগুলোকে ব্যাপকভাবে ‘রেন্ট-এ-বয়ফ্রেন্ড’ বা ‘রেন্ট-এ-গার্লফ্রেন্ড’ সেবা হিসেবেই প্রচার করা হচ্ছে।

    আরও প্ল্যাটফর্ম
    ‘নেল’ নামের আরেকটি প্ল্যাটফর্ম চাকরির ওয়েবসাইটের মতো কাজ করছে। সেখানে অনেক ভারতীয় পুরুষ নিজেদের সামাজিক অনুষ্ঠান, কথোপকথন বা বিভিন্ন আড্ডার সঙ্গী হিসেবে নিবন্ধন করেছেন।
    আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট রেন্ট-অ্যা-বয়ফ্রেন্ড’ও একই ধরনের সেবা দিচ্ছে । সেখানে প্রতি ঘণ্টার পারিশ্রমিক সাধারণত ১১ থেকে ১৫ মার্কিন ডলার, এবং ভারত থেকেও বেশ কয়েকটি প্রোফাইল রয়েছে।

    ইনস্টাগ্রামেও বাড়ছে প্রচার
    ইনস্টাগ্রামে অনেকেই এখন নিজেদের রেন্টাল বয়ফ্রেন্ড হিসেবে প্রচার করছেন। কিছু প্রতিষ্ঠানও এ ধরনের সেবার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে।
    ‘রেন্ট ইওর ওন বয়ফ্রেন্ড ইন্ডিয়া’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম পেজে ১০ হাজারের বেশি অনুসারী রয়েছে। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি, কফি ডেট, শপিং, গাড়িতে সেলফি এবং আকর্ষণীয় ক্যাপশনের মাধ্যমে সেবা প্রচার করা হয়েছে।

    কিছু ব্যবহারকারী আবার টিন্ডার প্রোফাইলেও ‘অ্যাভেইলেবল ফর ইভেন্টস’, ‘ট্রাভেল কম্প্যানিয়ন’ এবং ‘পেইড কোম্পানি অনলি’- এর মতো বাক্য ব্যবহার করে নিজেদের সেবা প্রচার করছেন।

    কারা এই সেবা নিচ্ছেন?
    এ ধরনের সেবা প্রদানকারীদের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ রেন্টাল বয়ফ্রেন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বা তরুণ পেশাজীবী, যারা অতিরিক্ত আয়ের জন্য এই কাজ করেন।

    এনডিটিভি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মন্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখেছে, বিশেষ করে শহরের ২০-এর কোঠার নারীদের মধ্যে এই সেবার প্রতি আগ্রহ বেশি। কেউ কনটেন্ট তৈরির জন্য, কেউ কৌতূহলবশত, আবার কেউ সত্যিই একজন সঙ্গী খুঁজতে এই সেবা ব্যবহার করছেন।
    অন্যদিকে সেবা প্রদানকারীরা এটিকে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ হিসেবে দেখছেন। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, সপ্তাহে মাত্র কয়েকটি মুভি পার্টনার বুকিং পেলেই উল্লেখযোগ্য আয় করা সম্ভব।

    একাকীত্বের নতুন ব্যবসা?
    বিশ্লেষকদের মতে, দুই ঘণ্টার জন্য একজন শপিং সঙ্গী বুক করা মানেই প্রেমের সম্পর্ক খোঁজা নয়। অনেকেই এমন শহরে বসবাস করেন, যেখানে বন্ধুদের সময় নেই, পরিবার দূরে থাকে এবং একা খাওয়া এখনও সামাজিকভাবে অস্বস্তিকর বলে মনে করা হয়।

    একইভাবে সিনেমা দেখা বা হাসপাতালে যাওয়ার জন্য একজন সঙ্গীও অনেকের কাছে ব্যবহারিক প্রয়োজন।
    তবে ‘বয়ফ্রেন্ড’ শব্দটি এই সেবায় বাড়তি একটি আবেগের মাত্রা যোগ করে। ভাড়াকৃত সঙ্গীর কাছ থেকে যত্নশীল, ভদ্র, মনোযোগী ও আবেগগতভাবে উপস্থিত থাকার প্রত্যাশা করা হয়।

    বর্তমানে ভারতে এই ব্যবসা এখনও বিচ্ছিন্ন এবং বড় কোনো নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় নয়। বেশিরভাগ সেবাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

    তবু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যে ঘণ্টাপ্রতি সঙ্গ দেয়ার সেবার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে, যা ইঙ্গিত করছে- একসময়ের অদ্ভুত ধারণা এখন ধীরে ধীরে একটি নতুন ‘গিগ ইকোনমি’ বা সেবা-ভিত্তিক ব্যবসায় রূপ নিচ্ছে।

  • প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ভারতের সংসদে কঠোর বিল পেশ

    প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ভারতের সংসদে কঠোর বিল পেশ

    ভারতে প্রশ্নফাঁস বিতর্কে সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল থেকেই দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ। বিরোধীদের হট্টগোলের মাঝেই সরকার লোকসভায় কঠোর পদক্ষেপের লক্ষ্যে সংশোধনী বিল পেশ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জীতেন্দ্র সিংহ। বিলের পোশাকি নাম ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’। বিলটি পেশ হওয়ার পরে তাতে প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য পরামর্শ চাওয়া হয়েছে সাংসদদের কাছ থেকে।

    শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকারীন সরকার আশ্বাস দিয়েছিল, প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইন আনা হবে। সোমবার লোকসভায় পেশ হওয়া বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে দোষীদের ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। সঙ্গে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে প্রস্তাবিত বিলে। তিন মাসের মধ্যে বিচার শেষ করারও প্রস্তাব করা হয়েছে।

    গোটা বিষয়টি ‘লোকদেখানো’ পদক্ষেপ বলে দাবি করেছেন কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ। তার অভিযোগ, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যুক্তিযুক্ত সংস্কার করতে ব্যর্থ হয়েছে বিজেপির সরকার।
    সোমবার অধিবেশনের শুরু থেকেই বিরোধী সাংসদরা প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং ছাত্র-বিক্ষোভে পুলিশের ‘বাড়াবাড়ি’ নিয়ে কেন্দ্রের জবাবদিহি দাবি করেছে। বিরোধীদের হট্টোগোলের জেরে বার বার সংসদের দুই কক্ষেই অধিবেশন বার বার মুলতুবি করতে হয়েছে। ফলে অধিবেশন সংসদের ভিতরে এবং বাইরে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সাংসদেরা। অধিবেশন মুলতুবি থাকাকালীন রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদবেরা একযোগে সংসদ চত্বরে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ছিলেন মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের মহুয়া মৈত্রও।

    জানা গেছে, সংশোধনী বিল নিয়ে সংসদে দীর্ঘ আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। প্রায় ৮-১০ ঘণ্টা ধরে আলোচনা চলতে পারে বলে সূত্রের খবর। তবে বিরোধীদের হট্টগোলের মাঝে দফায় দফায় অধিবেশন মুলতুবি হওয়ায় সংসদে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

    এদিন সংসদে ছাত্রদের উপর লাঠি চার্জ ও প্যালেট গান ব্যবহারের ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে জবাবদিহি করতে হবে বলেদাবি জানিয়ে সুর চড়িয়েছে কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা।
    কংগ্রেস নেতা পবন খেরা বলেন, আন্দোলনে মহিলাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে পুলিশ। সাদা পোশাকে কারা মারল ছাত্রদের। ওরা কি আরএসএসের গুন্ডা? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এর জবাব দিতেই হবে। দিল্লির বুকে পড়ুয়াদের উপর কীভাবে প্যালেট গান চালায় পুলিশ?”
    প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও প্রশ্ন তোলেন, পড়ুয়ারা কি জঙ্গি যে তাদের উপর পুলিশ প্যালেট গান ব্যবহার করছে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এর জবাব না দেয়া পর্যন্ত আমরা থামব না।

  • আরেক ফ্রন্টে যুদ্ধের শঙ্কা

    আরেক ফ্রন্টে যুদ্ধের শঙ্কা

    ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং সৌদি আরবের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। খবর সিএনএনের।
    বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত নতুন একটি যুদ্ধফ্রন্ট খুলে দিতে পারে, যার প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও গুরুতর হতে পারে। চলতি মাসের শুরুতে হুতিরা অভিযোগ করে, ইরানে প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা থেকে ফিরে আসা একটি উচ্চপর্যায়ের হুতি প্রতিনিধিদলকে বহনকারী বিমানকে সানায় অবতরণে বাধা দিতে সৌদি আরব ইয়েমেনের রাজধানী সানার বিমানবন্দরে হামলা চালায়।

    তবে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকার জানায়, ওই হামলা তাদের নিজস্ব বাহিনী চালিয়েছে।
    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের ওই ফ্লাইটের উদ্দেশ্য ছিল ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেন যুদ্ধে জড়ানোর পর প্রথমবারের মতো তেহরান ও সানার মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালু করা, যা বহু বছর ধরে বন্ধ ছিল।
    ওয়াশিংটনভিত্তিক মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের ইয়েমেন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ নাদওয়া আল-দাওসারি ও আরমান মাহমুদিয়ান এক বিশ্লেষণে বলেন, এই পদক্ষেপ ইরানের পরিবর্তিত আঞ্চলিক কৌশলের প্রতিফলন।

    তাদের মতে, তেহরান এখন ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ জোটকে আরও সমন্বিতভাবে ব্যবহার করে সংঘাতের সময়কে নিজেদের প্রভাব বাড়ানো, মাটির বাস্তবতা বদলে দেয়া এবং আঞ্চলিক অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে।
    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হুতিরা সৌদি আরবের সঙ্গে একটি অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি মেনে চলছিল। কিন্তু বিমানবন্দর হামলার পর তারা সেই সমঝোতার সমাপ্তি ঘোষণা করেছে।
    এরপর হুতিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলে ‘অবরোধ’ আরোপের ঘোষণা দেয়। হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে যাওয়ার পর সৌদির তেল রপ্তানির জন্য এই জলপথের গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়।

    পরবর্তীতে হুতিরা দাবি করেছে, তারা দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। সৌদি অন্তত একটি জাহাজে হামলার ঘটনা নিশ্চিত করে এবং এর জবাবে হুথি-নিয়ন্ত্রিত প্রধান বন্দরনগরী হোদেইদাহ-এ বিমান হামলা চালায়।
    এদিকে সোমবার নাসা প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে সৌদির লোহিত সাগর উপকূলে অবস্থিত জাজান তেল শোধনাগারের আশপাশ থেকে বিশাল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি উঠতে দেখা গেছে। এর একদিন আগেই হুতিরা ওই স্থাপনায় হামলার দাবি করেছিল।
    বিশ্লেষকদের মতে, বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে অস্থিরতা তৈরি হলে বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

    এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম, পণ্য পরিবহন ব্যয় এবং বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

  • অস্ত্রের মজুতে টান গুজব বললেন-ট্রাম্প

    অস্ত্রের মজুতে টান গুজব বললেন-ট্রাম্প

    নতুন করে যুদ্ধ শুরুর পর টানা ১৩ দিন ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, তবে আপাতত আলোচনার কথা বলে দেশটি ইরানের ওপর হামলা বন্ধ রেখেছে। এর কারণ হিসেবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর পরবর্তী হামলা চালানোর অনুমতি দেননি।

    গত শুক্রবার ট্রাম্প বলেছেন, কূটনৈতিক পথে উত্তেজনা নিরসনের উপায় খুঁজে পেতে তাঁর দুয়ার খোলা আছে। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষকে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে যেকোনো সময় আবারও হামলা শুরু করতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্র এমন এক সময়ে হামলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যখন মার্কিন সামরিক বাহিনীর গোলাবারুদের মজুত নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

    বিবিসির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়ালৎস বলেছেন, কূটনৈতিক আলোচনার জন্য আরও সময় দিতে চান ট্রাম্প। এ জন্যই তিনি ইরানের ওপর হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছেন।

    এ বিষয়ে অবগত আছেন—এমন মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবারের জন্য পরিকল্পিত বড় সামরিক অভিযানটি স্থগিত রাখা হয়েছে। কারণ, কর্মকর্তারা আকাশ সুরক্ষাব্যবস্থা প্যাট্রিয়টসহ (ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র) অন্যান্য গোলাবারুদের ক্রমহ্রাসমান মজুতের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। তাঁরা আরও বলেছেন, পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ এবং যেকোনো সময় ইরানের ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।

    ওই কর্মকর্তারা আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন হোয়াইট হাউসকে জানিয়েছেন, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে এসেছে।

    তবে প্রতিবেদনে কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার মনে করেন, গোলাবারুদের ঘাটতিতে বড় কোনো সমস্যা হবে না। কারণ, ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলা চালানো হলে দেশটির বিমান হামলা পরিচালনার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

    জেনারেল ড্যান কেইন এবং সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

    তবে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত নিয়ে উদ্বেগ বাতিল করে দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেছেন, ‘বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় আমাদের কাছে অনেক বেশি গোলাবারুদ রয়েছে, আমাদের যতটা প্রয়োজন, তার চেয়েও অনেক বেশি রয়েছে।’

    যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা স্থগিত করার পর গত শুক্রবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের আরও বলেন, ‘একটি সামরিক পথ আছে, যেভাবে আমরা এগোচ্ছি, সেভাবেই চালিয়ে যেতে পারি। এমনকি আমরা হামলার মাত্রা আরও বাড়াতে পারি এবং এতে তাদের (ইরানের) যা কিছু আছে, সবকিছু ধ্বংস করে দেওয়া হবে। অথবা আরও বিচক্ষণ একটি কৌশল আছে—সেটি হলো একটি চুক্তিতে পৌঁছানো। আর তারা (ইরান) চুক্তি করতে চায়।’

  • ওয়েবসাইটে তথ্য বদলাল পেন্টাগন

    ওয়েবসাইটে তথ্য বদলাল পেন্টাগন

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে হতাহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা কমিয়ে দেখানোর অভিযোগের মুখে গতকাল রোববার হতাহতের তথ্য প্রকাশের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছে পেন্টাগন। একই সঙ্গে তারা বলেছে, চলতি মাসে আহত সেনাসদস্যের সংখ্যা আগের হিসাবে যা বলা হয়েছিল, তার চেয়ে বেশি।

    ৭ জুলাই থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি ভাঙতে শুরু করে এবং লড়াই আবার তীব্র হয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের নতুন পদ্ধতির আওতায় ৭ জুলাই–পরবর্তী হতাহতের তথ্য আর ইরান যুদ্ধের মূল তালিকায় রাখা হচ্ছে না। এর বদলে সেগুলো ‘বিদেশে পরিচালিত সামরিক অভিযানে হতাহতের তথ্য’ শিরোনামে আলাদা একটি ওয়েবপেজে প্রকাশ করা হচ্ছে। এতে যুদ্ধে মোট কতজন মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন, তা জানতে এখন দুটি আলাদা ওয়েবপেজের তথ্য যোগ করতে হচ্ছে।

    নতুন ব্যবস্থার আওতায় পেন্টাগনের তথ্যভান্ডার ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেমে (ডিসিএএস) গত সপ্তাহান্তে ইরান যুদ্ধে নিহত চার মার্কিন সেনার তথ্য আবারও যুক্ত করেছে। সম্প্রতি ওয়েবসাইট থেকে এ চার সেনা নিহত হওয়ার তথ্য বাদ দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার এই চার সেনার মৃত্যুর তথ্য মূল তালিকায় নয়, আলাদা একটি বিভাগে রাখা হয়েছে। এই বিষয়ে পেন্টাগন কোনো ব্যাখ্যাও দেয়নি। এই পরিবর্তনের কারণে ৭ জুলাইয়ের পর আহত সেনাসদস্যের সংখ্যা পেন্টাগনের আগের প্রকাশিত হিসাবের তুলনায় ১৪২ জন বেড়েছে।

    হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ৭ জুলাই থেকে আহত মার্কিন সেনাসদস্যের সরকারি সংখ্যা এখন ২০৭। আর ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মোট আহত হওয়ার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২৪–এ। এদিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নিহত মার্কিন সেনাসদস্যের মোট সংখ্যা ১৮ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    গত সপ্তাহে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল দাবি করেছিলেন, ৭ জুলাইয়ের পর থেকে আহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা ১০০–এর কম। তবে এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছিলেন, সেগুলোতে ইরানের একাধিক হামলায় কতজন আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে পেন্টাগন কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

    সে সময় এক বিবৃতিতে পারনেল বলেন, তথ্য গোপনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মনগড়া। যুদ্ধক্ষেত্রে তিনজন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার পর মার্কিন জনগণকে আরও উদ্বিগ্ন করে তুলতেই এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

    গতকাল পেন্টাগনের একজন মুখপাত্রের কাছে হতাহতের নতুন সংখ্যা এবং তথ্য প্রকাশের নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তিনি তখন এই প্রশ্ন হোয়াইট হাউসকে করার পরামর্শ দেন। নিউইয়র্ক টাইমস হোয়াইট হাউস কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার চেষ্টা করেছে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া পাওয়া যায়নি।

    গত সপ্তাহে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা ১৮ থেকে কমিয়ে ১৪ দেখিয়েছে পেন্টাগন। এই পরিবর্তনের পর অনেক সাবেক সেনাসদস্য, সামরিক পরিবারের সদস্য এবং আইনপ্রণেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়।

    ওই সময় কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, সম্প্রতি জর্ডান ও ইরাকে চার মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর তাঁরা নিহত হওয়ায় পেন্টাগন নিহত হওয়ার সংখ্যায় পরিবর্তন আনে।

    পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত প্রেস সেক্রেটারি জোয়েল ভালদেজ গত বৃহস্পতিবার বলেন, ওয়েবসাইটে এই পরিবর্তন ‘অস্থায়ী তথ্যগত ত্রুটি’-এর কারণে হয়েছে। তিনি বলেন, দ্রুত সমস্যাটির সমাধান করা হবে।

    তবে গত শনিবার সকাল পর্যন্ত পেন্টাগনের ওয়েবসাইটে ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা ১৪ দেখানো হচ্ছিল। গতকাল ওয়েবসাইটে ‘বিদেশে পরিচালিত অভিযানে’ নামে নতুন একটি বিভাগ যুক্ত করা হয়। সেখানে অতিরিক্ত চার সেনাসদস্যের মৃত্যুর তথ্য ‘৭ জুলাই, ২০২৬ থেকে বিদেশে পরিচালিত সামরিক অভিযানে হতাহত’ শিরোনামে আলাদাভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

    হতাহতের তথ্য প্রকাশ নিয়ে সমালোচনা বাড়তে থাকায় ডেমোক্র্যাট দলের একদল সিনেট সদস্য বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে চিঠি পাঠান। এতে তাঁরা যুদ্ধে নিহত ও আহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা সম্পর্কে ‘পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত’ তথ্য প্রকাশের দাবি জানান।

    সম্প্রতি জর্ডানে হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার আগের সপ্তাহে ইরানের আরও তিনটি হামলায় কয়েক ডজন সেনা আহত হয়েছিলেন। তবে এসব হতাহতের তথ্য পেন্টাগন তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করেনি। এমন অবস্থায় যুদ্ধে হতাহত সেনাসদস্যদের সংখ্যা সম্পর্কে দেশকে অবহিত করার দায়িত্ব সরকার যথাযথভাবে পালন করেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

    চিঠিতে সিনেট সদস্যরা লিখেছেন, ‘যুদ্ধে কত মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে, সে সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক তথ্য জানার অধিকার মার্কিন জনগণ, কংগ্রেস, সেনাসদস্য এবং তাঁদের পরিবারের আছে। জনসাধারণের জন্য যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, তা থেকে মনে হচ্ছে সংঘাত চলাকালে প্রতিরক্ষা দপ্তর সময়মতো এবং পূর্ণাঙ্গভাবে হতাহতের তথ্য ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করেনি।’

    ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ৬০ দিনের বেশি সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে পারেন না। এ কারণে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ দ্বিতীয়বারের মতো একটি প্রস্তাব পাস করে ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করতে অথবা তা চালিয়ে যাওয়ার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে আহ্বান জানায়। একে ইরান যুদ্ধ নিয়ে উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে বাড়তে থাকা অসন্তোষের আরেকটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • ভ্যান্স ও কেইনের কারণেই হামলা স্থগিত করলেন ট্রাম্প

    ভ্যান্স ও কেইনের কারণেই হামলা স্থগিত করলেন ট্রাম্প

    কুয়েতে নিহত ছয় মার্কিন সেনাসদস্যের মরদেহ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। ৭ মার্চ ২০২৬ছবি: রয়টার্স

    হোয়াইট হাউসে গত শুক্রবার এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানে যুদ্ধ আরও জোরদার করার সম্ভাবনাটি বিবেচনা করছিলেন, তখন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি সম্পর্কে জানে এমন একটি সূত্র এবং এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে এমন তথ্য জানিয়েছেন।

    টানা প্রায় ১৩ দিন প্রতি রাতে ইরানে বোমাবর্ষণের পর গত শুক্রবার রাতে মনে হচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে তাদের সেই অভিযান স্থগিত করেছে। গত শনিবার প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগনের একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, ইরানে অভিযান বর্তমানে ‘স্থগিত’ রয়েছে।

    সূত্রগুলোর মতে, শুক্রবারের বৈঠকে কেইন বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক গোলাবারুদের মজুত এবং অন্যান্য সম্ভাব্য নেতিবাচক পরিণতি নিয়ে উদ্বেগ তুলে ধরেন।

    একটি সূত্র জানায়, কেইন ট্রাম্পকে বলেছিলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রেসিডেন্টের দেওয়া প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন এবং সফল করতে সক্ষম। আবার তিনি এর সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কেও সতর্ক করেন।

    সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সময় যেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল, তার মধ্যে গোলাবারুদের ঘাটতির বিষয়টি ছিল অন্যতম। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত এক ব্যক্তি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার বড় ধরনের অভিযান শুরু করলে ইরানের ভেতরে সাধারণ নাগরিকদের ব্যাপক প্রাণহানি হতে পারে। বৈঠকে এ আশঙ্কার কথাও তুলে ধরা হয়।

    গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানের রাস্তাঘাট, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি দিয়েছিলেন, যা যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে।

    ওই সূত্রের মতে, ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলা হয়েছিল, এমনটা করলে অসংখ্য ইরানির মৃত্যু হতে পারে এবং আরও অনেক মানুষ বিদ্যুৎ বা খাবার ছাড়া চরম কষ্টে ভুগবে।

    আলোচনার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্রের মতে, শুক্রবারের বৈঠকে উঠে আসা অন্যান্য বিস্তৃত উদ্বেগের মধ্যে ছিল—সম্ভাব্য শরণার্থী সংকট, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোতে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা এবং আঞ্চলিকভাবে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা।

    কক্ষে উপস্থিত বেশির ভাগ উপদেষ্টা বলেছিলেন, ট্রাম্প যদি বড় ধরনের কোনো হামলা চালাতে চান, তবে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত ধ্বংসাত্মকভাবে তা করতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট যেন এর সম্ভাব্য দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের পরিণতিগুলো বিবেচনা করেন।

    গোলাবারুদের স্বল্পতার উদ্বেগ, নাকি যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় এই সতর্কবার্তা—কোনটি যুক্তরাষ্ট্রকে ধারাবাহিক রাতের হামলা স্থগিত করতে বাধ্য করেছে বা এই স্থগিতাদেশ সামনেও বজায় থাকবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

    হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেং এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব সময়ই বলে আসছেন, ‘তিনি কূটনৈতিক সমাধান পছন্দ করেন। তবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে বা আমাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়, তাহলে তিনি সব ধরনের পদক্ষেপের পথ খোলা রাখবেন।’

    চেং বলেন, ইরানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়া সফল নিষেধাজ্ঞা এবং তাদের বারবার আগ্রাসনের জবাবে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে টানা ১৩ দিনের হামলার পর ইরানের জন্য বুদ্ধিমত্তার কাজ হবে সমঝোতামূলক চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়া। তা না হলে কী হতে পারে, তা তাদের জানাই আছে।

    জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের এক মুখপাত্র বলেন, ‘চেয়ারম্যান প্রেসিডেন্টকে যেসব গোপনীয় সামরিক পরামর্শ দেন, আমরা সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করি না।’

    সিএনএন এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কার্যালয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে।

    সিএনএন আগেই জানিয়েছিল, এ ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের মূল অস্ত্রাগারের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং ইরানে হামলা অব্যাহত থাকলে তা আরও সংকটে পড়তে পারে।

    গতকাল রোববার জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়ালৎস বলেছেন, ইউক্রেনকে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে সহায়তা দিয়েছে, তাতে তাদের গোলাবারুদের একটি বড় অংশ শেষ হয়ে গেছে।

    ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওয়ালৎস বলেন, ‘ইউক্রেনকে অনেক অস্ত্র দেওয়ায় আমরা একটি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি। তার ওপর হুতিদের বিরুদ্ধেও অনেক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এই অভিযান পরিচালনার সঙ্গে সঙ্গে আমরা আরও সস্তা, দ্রুত ও উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র তৈরি করে নতুন করে আমাদের মজুত গড়ে তুলছি।’

    ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে এই যুদ্ধে জড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন।

    সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন গতকাল রোববার এবিসির ‘দিস উইক’ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আমাদের কখনই এই অর্থহীন যুদ্ধে জড়ানো উচিত হয়নি। এটি এখনই শেষ করা উচিত। আমরা আমাদের ইন্টারসেপ্টরগুলোর (ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী অস্ত্র) মজুত কমিয়ে ফেলেছি, যা ইরানি হামলা ঠেকানো এবং মার্কিন সেনাদের সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। বিশ্বজুড়ে আমরা অন্যান্য সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকিতে থাকা সত্ত্বেও প্রতিদিন এসব গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের অপচয় করছি।’

    গত শুক্রবার মন্ত্রিসভার সদস্য ও শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছেন। তবে তিনি এ–ও বলেন, সামরিক বাহিনী বোমাবর্ষণ অব্যাহত রাখতে পারে অথবা ‘হামলার মাত্রা আরও বৃদ্ধি করতে পারে’। তিনি দাবি করেন, চলমান আলোচনায় ইরানকে আগের চেয়ে ‘বেশি গম্ভীর’ বলে মনে হচ্ছে।

    বিষয়টি সঙ্গে অবগত একটি সূত্র জানায়, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন বিবেচনা করছিল, যুদ্ধের বিস্তার দেখতে কেমন হতে পারে। সূত্রটি জানায়, উপসাগরীয় দেশগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাম্প্রতিক কথোপকথনে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। তবে তারা এটিও স্বীকার করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন বিশেষ সক্ষমতা রয়েছে, যা দিয়ে চাইলে তারা এই সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

    এমনকি ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলার কথা বিবেচনা করছেন বলে জানানোর পরও তিনি গোপনে তাঁর মধ্যস্থতাকারীদের ‘আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার’ নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই উদ্যোগ স্পষ্ট করে, স্থলসেনা সরাসরি না নামিয়ে সীমিত পরিসরে সামরিক হামলা চালানো কতটা কঠিন, তা প্রেসিডেন্ট ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারছেন।

    একাধিক সূত্রের মতে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের বা পেন্টাগনের খুব কম মানুষই বিশ্বাস করতেন, সংঘাত বাড়ানোর এসব পথ ট্রাম্পের জন্য আশানুরূপ ফলাফল এনে দেবে।

    সিএনএন আরও জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই কেইন ও অন্য সামরিক নেতারা ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন, দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুতে টান ফেলতে পারে।

    পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল সিএনএনকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী। প্রেসিডেন্টের পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো স্থানে এবং যেকোনো সময়ে অভিযান চালানোর মতো সব সক্ষমতা তাদের রয়েছে।

    শন পার্নেল বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন কমব্যাট্যান্ট কমান্ডজুড়ে একাধিক সফল অভিযান চালিয়েছি। সেই সঙ্গে আমাদের মানুষ ও স্বার্থ রক্ষায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্রের শক্তিশালী মজুত নিশ্চিত রেখেছি।’

  • পারস্য প্রতিভা : মহাকবি হাফিজ সিরাজী

    পারস্য প্রতিভা : মহাকবি হাফিজ সিরাজী

    সাহিত্য:

    প্রিয়ার গালের একটি তিলের জন্য সমরখন্দ বিলিয়ে দিতে চেয়েছিলেন যিনি, তিনি খাজা শামসউদ্দিন মোহাম্মদ হাফিজ-ই-সিরাজি। পারস্য তথা ইরানের সুফি কবি। চতুর্দশ শতাব্দীর প্রথমভাগে সিরাজ নগরীর মোসল্লা নামক স্থানে তাঁর জন্ম। ইরানের নিশাপুর ছাড়া আর কোন নগরই সিরাজের মত বিশ^জোড়া খ্যাতি লাভ করেনি। ইরানের প্রায় সব শ্রেষ্ঠ কবিরই তীর্থভূমি এই সিরাজ নগরী। ইরানিরা হাফিজকে আদর করে ‘বুলবুল ই সিরাজ’ বলতেন। হাফিজকে তারা শুধু কবি বলেই ভালোবাসেনা, তারা হাফিজকে লিসান-উল-গায়েব’ (অজ্ঞাতের বাণী) ‘তর্জমান উল আসরাব’ (রহস্যের মর্মসন্ধানী) বলে আরো বেশি শ্রদ্ধা করেন। ইরানে হাফিজের সমাধি জ্ঞানী-গুণীদের শ্রদ্ধার স্থান। হাফিজের মৃত্যুর শতবর্ষ পরেও তাঁর কোন জীবনী রচিত হয়নি। কবির জীবনের অধিকাংশ ঘটনা আঁধারে রয়ে গেছে। তাঁর জন্ম মৃত্যুর দিন নিয়ে ইরানেও তাই নানাজনের নানা মত। হাফিজের সম্ভাব্য মৃত্যুর সাল ৭৯১ হিজরি বা ১৩৮৯ খ্রিস্টাব্দ।
    হাফিজের পিতা বাহাউদ্দিন ইস্পাহান নগরী থেকে ব্যবসা উপলক্ষে সিরাজে এসে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু মৃত্যুকালে কিছু রেখে যেতে না পারায় শিশু হাফিজ ও তাঁর মা ঐশ^র্যের কোল থেকে একেবারে দারিদ্র্যের করাল গ্রাসে নিপতিত হন। বাধ্য হয়ে হাফিজকে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অর্থোপার্জন করতে হয়। হাফিজ যে কবিখ্যাতি লাভ করার আগে বিশেষরূপে জ্ঞানার্জন করেছিলেন, তা তাঁর কবিতা পড়েই বোঝা যায়। হাফিজের আসল নাম শামসউদ্দিন মোহাম্মদ। ‘হাফিজ’ তার ‘তখল্লুস’ অর্থাৎ কবিতার ভনিতায় ব্যবহৃত উপনাম। পাঠ্যাবস্থায়ই তিনি স্বভাব দক্ষতায় কবিতা রচনা শুরু করে

    হাফিজ তাঁর জীবদ্দশায় কবিতাসমূহ সংগ্রহ করে যাননি। তাঁর বন্ধু গুল আন্দামই সর্বপ্রথম তাঁর মৃত্যুর পর ‘দিওয়ান’ আকারে হাফিজের সমস্ত কবিতা সংগ্রহ ও সংগ্রন্থিত করেন। হাফিজের পাঁচ শতাধিক কবিতা পাওয়া যায়। তাছাড়া অনেক কবিতা হারিয়ে গেছে।
    হাফিজ ছিলেন উদাসীন সুফি। তাই কবিতা লেখার পরই বন্ধু-বান্ধব কেউ সংগ্রহ না করলে তা হারিয়ে যেত। কিন্তু তাঁর কবিতার অধিকাংশই গজল গান। লেখা হওয়া মাত্র মুখে মুখে গীত হত। ধর্মস্থান থেকে পানশালা পর্যন্ত সর্বত্র তাঁর গান জনপ্রিয়তা লাভ করে। হাফিজের প্রায় সব কবিতা ‘শাখ-ই নবাৎ’ নামক কোনও ইরানি সুন্দরীর স্তবগানে মুখরিত। অনেকে বলেন, এটি হাফিজের দেয়া আদরের নাম।

    তাঁর আসল নাম হাফিজ গোপন করে গেছেন। কোন ভাগ্যবতী এই কবির প্রিয়া ছিলেন, কোথায় ছিল তারঁ ঘর, এ নিয়ে অনেকে অনেক জল্পনা কল্পনা করেছেন। রহস্য সন্ধানীদের কাছে এই হরিণআঁখি সুন্দরী আজও রহস্যের আড়ালে রয়ে গেছেন। হাফিজ যৌবনে হয়ত শরাব-সাকির উপাসক ছিলেন তার পরে তিনি সুফি সাধকরূপে দেশ ও দশের শ্রদ্ধা আকর্ষণ করেন।
    মহাকবি গ্যেটে বলেন- ‘হে হাফিজ তোমার বাণী চিরন্তনের মত মহান। কেননা, তার আদি ও অন্ত নেই। তোমার ভাষা আসমানের গম্বুজের মত একাকী নিজের উপরই স্থিত। তোমার গজলের অর্ধেকটায় বা প্রথম কলিতে কিংবা অন্য কোনও অংশের মধ্যে মোটেও পার্থক্য করা যায় না। কেননা এর সবটাই সৌন্দর্য ও পূর্ণতার নিদর্শন। একদিন যদি পৃথিবীর আয়ু ফুরিয়ে যায়, হে আসমানী হাফিজ আমার প্রত্যাশা যে, একমাত্র তোমার সাথে তোমার পাশে থাকব। তোমার সঙ্গে সরাব পান করব। তোমার মতই প্রেমে আত্মহারা হব। কেননা, এটাই আমার জীবনের গৌরব ও বেঁচে থাকার পাথেয়।কবি হাফিজ সিরাজির কাব্য প্রতিভা ও দর্শন সারা পৃথিবীর কাব্যমোদি ও চিন্তাশীল মনকে যুগে যুগে নাড়া দিয়ে আসছে। পাশ্চাত্য দুনিয়ার মহান কবি ও চিন্তাবিদ গ্যেটে (১৭৩৯-১৮৩২) বলেন, ‘হঠাৎ প্রাচ্যের আসমানী খুশবু এবং ইরানের পথ-প্রান্তর হতে প্রবাহিত চিরন্তন প্রাণ সঞ্জীবনী সমীরণের সাথে পরিচিত হলাম। আমি এমন এক অলৌকিক ব্যক্তিকে চিনতে পারলাম, যার বিস্ময়কর ব্যক্তিত্ব আমাকে আপাদমস্তক তাঁর জন্য পাগল করেছে।’ মহাকবি গ্যেটে হাফিজের প্রতি এতই অনুরক্ত হয়ে পড়েন যে, ‘একটি সময়ের জন্য সবকিছুকে এবং সবাইকে ভুলে যান এবং নিজেকে ফার্সি ভাষার এই কবির ক্ষুদ্র ভক্ত বলে অনুভব করেন। ‘এমনকী তিনি হাফিজের প্রেমানুভূতি ও আধ্যাত্মিক চিন্তাধারায় অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁর বিশ^বিখ্যাত নাট্যকাব্য ফাউস্ট (ঋঅটঝঞ) রচনা করেন। যেটাকে পাশ্চাত্যে দিওয়ান বলা হয়।বাংলা ভাষাভাষী কবি সাহিত্যকদেরও তিনি দারুণভাবে নাড়া দিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তো নিজে ১৯৩২ সালে ইরানের সিরাজ নগরে কবির মাজারে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে এসেছেন। এমনকি কবির পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর কবির অসম্ভব ভক্ত ছিলেন। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে এই ব্যাপারে লিখেছেন, ‘আমি জানি হাফিজের ধর্মীয় দর্শন ও কবিতা আমার পিতাকে যতখানি অভিভূত করত, বৈষ্ণবদের দর্শন ও সঙ্গীত ততখানি করতে পারত না। হাফিজ ছিলেন তাঁর ঐশ^রিক আনন্দ। তিনি নিজে কবিতা লিখতেন না। হাফিজের কবিতাই তাঁর সৃষ্টি আকাক্সক্ষাকে পূরণ করত। উপনিষদ তাঁর ক্ষুধা নিবারণ করত এবং হাফিজ তাঁর তৃষ্ণা মিটাত।’ জানা যায়, পুরো দিওয়ান মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মুখস্ত ছিল।
    গিরিশচন্দ্র সেন, কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, মোহিতলাল মজুমদার, যতীন্দ্র মোহন বাগচী, কান্তিচন্দ্র ঘোষ, হরেন্দ্রনাথ দেব প্রমুখ কবি হাফিজের বহু রুবাইয়াৎ ও গজল অনুবাদ করেছেন। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হাফিজকে মনপ্রাণ দিয়ে ভালবাসতেন যে তাঁর পুত্র বুলবুলের মৃত্যুশয্যায় বসেও তাঁর রুবাইয়াৎ অনুবাদ করেছেন। তিনি ফার্সি থেকে মোট ৭৩টি রুবাই সরাসরি বাংলায় অনুবাদ করেন। যেদিন তিনি অনুবাদ শেষ করেন সেদিন কবি পুত্র বুলবুল প্রাণত্যাগ করেন। কবি তাই বেদনার সঙ্গে লিখেছেন, আমি আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান ও সবচেয়ে প্রিয় সম্পদকে উপঢৌকন দিয়ে সিরাজের বুলবুল কবিকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। ইরানের কবি স¤্রাট হাফিজ বাংলার সুলতান গিয়াস উদ্দিনের আমন্ত্রণে সাড়া দেননি। কিন্তু তিনি আমার আমন্ত্রণে সাড়া না দিয়ে পারতেন না।ফার্সি সাহিত্যের আলোচনা করে লেখা গ্রন্থটি হচ্ছে মোহাম্মদ বরকতুল্লাহর ‘পারস্য প্রতিভা’। এ গ্রন্থে কবি হাফিজের উপর একটি চমৎকার প্রবন্ধ আছে। মুহাম্মদ মুনসুরউদ্দিন লিখেছেন, ‘ইরানের কবি’। অবশ্য এ গ্রন্থে’ ‘শামসুদ্দিন হাফিজ’ নামে যে নিবন্ধটি আছে তা তেমন তথ্যবহুল নয়। বাংলাভাষায় দিওয়ানে হাফিজের বহু অনুবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ড. মুহাম্মদ শহিদুল্লাহর অনুবাদ কর্মটি বাংলা ভাষার এক অসামান্য প্রকাশনা। এ বইয়ের দীর্ঘ উপক্রমণিকাতে তিনি হাফিজকে বাংলা ভাষাভাষীর কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। অন্যদিকে কাজি আকরাম হোসেনের অনুবাদটিও চমৎকার। পশ্চিম বঙ্গের দু’জন আধুনিক কবি যারা প্রগতিবাদী হিসাবেও পরিচিত, শক্তি চট্টোপাধ্যায় ও সুভাষ মুখোপাধ্যায় কবি হাফিজের সাহিত্যেকর্ম অনুবাদ করে এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

    কবির ৬০০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকায় আয়োজিত এক সম্মেলনে জাতীয় অধ্যাপক সৈয়দ আলি আহসান বলেন, ‘কবি হাফিজ আমাদের চিন্তায় ও মননে বহুকাল বিদ্যমান ছিলেন। বাংলা কবিতায় আবার তিনি নতুন করে জাগ্রত হয়েছেন।’ অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতকের বাঙ্গালী মনীষায় হাফিজ ছিলেন অনেক বড় প্রতিভা, অনেক বড় কবি এবং প্রেমিক। কবির কুরআনের ওপর দক্ষতা দেখে সমকালীন একজন পীর মুর্শিদ তাঁকে হাফিজ উপাধিতে ভূষিত করেন।’ এ ব্যাপারে কবি নিজেই লিখেছেন-

    হাফিজ! তোমার চেয়ে সুন্দর
    গান আর দেখিনাই আর কারো
    তোমার মুখের লুকানো কুরআন
    সে তো সুন্দর আরো।’
    কবি ছিলেন একজন প্রেমিক। তিনি তাঁর স্ত্রীর মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে লিখেছেন-
    ‘প্রেয়সী মোর ছিল যে হায়
    পরীর মত অপ্সরী
    পা থেকে তার কেশাগ্রতক
    নিটোল যেন ঠিক পরী।

    কবি তাঁর আদরের সন্তানের মৃত্যুতে শোকাতুর হয়ে লিখেছেন-
    মোর নয়নমনি দিলের মেওয়া
    তার তরে কাঁদে প্রাণ
    হাসতে হাসতে চলে গেল,
    শোকে আমি মুহ্যমান।’
    যদিও এখানে আপন সন্তানের জন্য হাফিজ এ আর্তি ফুটিয়ে তুলেছেন, কিন্তু এ শোকবাণী জগতের সব পুত্রহারা পিতৃ হৃদয়কে নাড়া না দিয়ে পারে না। একটি কথা বলতে ভুলেই গেছি। দিগি¦জয়ী মোঙ্গল বীর তৈমুর লং কবির একটি কবিতা বুঝতে না পেরে কবিকে তলব করেন। কবিতাটি ছিল-
    সেই সিরাজি প্রেমিক যদি জয়
    করে মোর এই হিয়ারে
    তার গালের তিলে বিলিয়ে দেব
    সমরকন্দ আর বুখারারে।

    তৈমুর লং কবির কাছে জানতে চাইলেন এ কবিতা কার? কবি যখন স্বীকার করলেন এ তাঁরই কবিতা, ‘আমি হাজার হাজার সৈন্যের রক্তের বিনিময়ে যা গড়ে তুলেছি, তুমি নারীর গালের কালো তিলের বিনিময়ে তা বিলিয়ে দিতে চাচ্ছ?
    কবি বুঝলেন, যুদ্ধবাজ তৈমুরের মাথায় কাব্যের মহিমা ঢোকার কথা নয়। কবি তাই বিনীতভাবে বললেন, ‘মহামান্য বাদশাহ। এভাবে দান খয়রাত করতে গিয়েই তো আমার আজ এ দীনহীন অবস্থা। আপনি আমার মত করেননি বলেই তো আপনি আজ জগদ্বিখ্যাত স¤্রাট।’ কবি হাফিজের চমৎকার উত্তরে তৈমুর লং খুশি হলেন। তিনি কবিকে সোনার আশরাফি উপহার দিয়ে বিদায় দিলেন।
    কবির দিওয়ানেই হাফিজসহ অন্যান্য গ্রন্থ’ থেকে জানা যায়, তিনি তাঁর যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ আলেম ছিলেন। তিনি ইসলামি আইন শাস্ত্র (ফিকহ), হাদিস, ন্যায়শাস্ত্র (কালাম), তাফ

    সির, ফার্সি সাহিত্য ইত্যাদিতে সুপ-িত ছিলেন। এমনকী তিনি জ্যোতিষ বিজ্ঞানের জ্ঞানও আয়ত্ব করেছিলেন। কবি সিরাজি তাঁর যৌবনকালেই লেখালেখিতে হাত পাকিয়েছিলেন বলে জানা যায়। যাই হোক, কবি তাঁর জীবদ্দশাতেই খ্যাতি ও প্রসিদ্ধি অর্জনে সক্ষম হন যদিও তাঁর সময়টা ছিল সাহিত্য ও কাব্য চর্চার জন্য খুবই খারাপ সময়। কারণ এ সময়টাতেই তাঁর দেশে নানারকম হানাহানি, যুদ্ধবিগ্রহ বিরাজমান ছিল। কবিখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ার পর বিশে^র বিভিন্ন দেশের ভক্তবৃন্দ তাঁকে নিজেদের মধ্যে পাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাতে থাকে। বাগদাদের সর্বগুণান্বিত সুলতান আহমদ বিন আবেস কবি হাফিজকে বাগদাদে পাওয়ার জন্য বারবার আমন্ত্রণ পাঠাতে থাকেন। কিন্তু কবি প্রিয় জন্মভূমি ছেড়ে ওই সময় কোথাও যেতে রাজি ছিলেন না। তাই স¤্রাটের আহ্বানকেও তিনি প্রত্যাখান করেছিলেন।

    ইস্পাহানের শাসনকর্তার মন্ত্রী উম্মাদ বিন মাহমুদ কবিকে দাওয়াত করেছিলেন। কিন্তু কবি এ দাওয়াতও কবুল করেন নি। দাক্ষিণাত্যের বাহমনী সুলতান শাহ মাহমুদ কবি সাহিত্যিকদের অসম্ভব সম্মান করতেন। দেশ বিদেশের কবি সাহিত্যিকদের তিনি নানা সম্মানে সম্মানিত করতেন। এ সময়ে কবি হাফিজ দাক্ষিণাত্যে আসার জন্য ইরাদা করেছিলেন। কিন্তু নানা কারণে তা আর সম্ভব হয়ে উঠেনি। বাঙালিদের জন্য গর্বের বিষয় হল, সে সময়কাল বাংলার শাসনকর্তা গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ কবি সিরাজিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কবি না আসতে পারলেও সে কথা তাঁর কবিতায় লিখে গেছেন। কথিত আছে গিয়াসউদ্দিনের তিনজন প্রিয় দাসী ছিলেন, এদের নাম সরব, গুল ও লালা। সুলতান একদিন এ চরণটি ফাঁদলেন। ‘সাকি হাদিসে সারবো গুলো লাল মিরওয়াদ’ কিন্তু আর পরবর্তী চরণটি পূরণ করতে পারলেন না। সভ্য কবিরাও সুলতানের মনঃপুত কিছু দিতে পারলেন না। তখন সুলতান উক্ত লাইনটি কবি হাফিজ সিরাজির কাছে পাঠিয়ে দিলেন। কবি হাফিজ সিরাজি এর উত্তরে কবিতাটি পূর্ণ করে সুলতানের কাছে পাঠিয়ে দিলেন। কবিতাটি এ রকম-‘সাকি হাদিসে সারবো গোলো
    লালা মিরওয়াদ
    ওইন বাহাস বা সালাসায়
    গোসালা মিরওয়াদ।
    হাফিজ যে শওকে মজলেসে
    সুলতান গিয়াসউদ্দিনের
    খামুস মালো কে কারে তু
    আজ লালা মিরওয়াদ।
    কবিতাটির শেষ দু’লাইনের অর্থ হল-হে হাফিজ সুলতান গিয়াসউদ্দিনের মজলিসে চুপ করে থেকো না, কেননা তাঁর কাজ কান্নার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।’ কবি সিরাজি সুলতান গিয়াসউদ্দিনের আমন্ত্রণ পাওয়ার পর বাংলায় আসার জন্য মনস্থির করেছিলেন বলে জানা যায়, কিন্তু সাইক্লোন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আসতে পারেন নি। আমাদের গর্ব হল কবিকে আমন্ত্রণ জানানোর কারণে বাংলার সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ ইরানের সাহিত্যে অমর হয়ে আছেন।

  • চরম অনিশ্চয়তায় কাশ্মীরের নির্বাচন

    চরম অনিশ্চয়তায় কাশ্মীরের নির্বাচন

    গত জুন মাস থেকে উত্তপ্ত পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর বা আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর (এজেডকে)। বিক্ষোভকারী ও যৌথ বাহিনীর সংঘাত, অবরোধ আর ধর্মঘটে গত কয়েক মাসে অন্তত ৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। দুই সপ্তাহ বন্ধ ছিল ব্যাংকসেবা, মোবাইল ও ইন্টারনেট যোগাযোগও পুরোপুরি বিছিন্ন রয়েছে অধিকাংশ এলাকায়। তীব্র এই অস্থিরতার মধ্যেই অঞ্চলটিতে শুরু হতে যাচ্ছে আইনসভার নির্বাচন। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই নির্বাচন ঘিরে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।

    পাকিস্তানের সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে ‘জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ (জেএএসি)। সংগঠনটির আন্দোলন মূলত সস্তা আটা ও কম দামে বিদ্যুতের দাবিতে শুরু হলেও বর্তমানে তা ৩৮ দফা দাবিতে রূপ নিয়েছে। তবে আন্দোলনের কেন্দ্রে চলে এসেছে একটি মূল বিষয়—আইনসভায় শরণার্থী বা বাস্তুচ্যুত কাশ্মীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বিলুপ্ত করা।

    পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ৪৫ আসনের আইনসভার সাধারণ নির্বাচনকে তিন দফায় ভাগ করা হয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মুজাফফরাবাদ ও শরণার্থীদের ১২ আসনের ভোট ২ আগস্ট এবং আন্দোলনের মূল কেন্দ্র পুঞ্চ বিভাগে আগামী ১০ আগস্ট ভোটগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। তবে জেএএসি নির্বাচনে অংশ না নিয়ে সমর্থকদের ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে।

    সংরক্ষিত ১২ আসন ও আইনি জটিলতা

    আজাদ কাশ্মীরের ৪৫টি নির্বাচিত আসনের মধ্যে ৩৩টি সরাসরি অঞ্চলের বাসিন্দাদের ভোটে নির্ধারিত হয়। বাকি ১২টি আসন ভারতের আওতাধীন কাশ্মীর থেকে এসে পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে বাস করা শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। ১৯৬০ সালে শুরু হওয়া এই ব্যবস্থা ১৯৭৪ সালের অন্তর্বর্তী সংবিধানে স্থায়ী রূপ পায়। সংবিধানে প্রায় ৩ লাখ ৮৯ হাজার শরণার্থী ভোটারের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতে লাহোর, রাওয়ালপিন্ডি ও শিয়ালকোটের মতো পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে এই আসনগুলো বণ্টন করা রয়েছে।

    জেএএসি নেতাদের দাবি, এই ১২ আসন সম্পূর্ণ আজাদ কাশ্মীরের একতিয়ারের বাইরে। এগুলো মূলত ইসলামাবাদকে মুজাফফরাবাদের সরকার গঠনে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ করে দেয়। আন্দোলনকারীদের প্রস্তাব ছিল—কাশ্মীর সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এসব আসন বাদ দিয়ে কাশ্মীর কাউন্সিলে প্রতীকী প্রতিনিধিত্ব দেওয়া হোক। কিন্তু গত ৩ জুন মুজাফফরাবাদে আয়োজিত সর্বদলীয় বৈঠকে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়।

    পরবর্তীতে আজাদ কাশ্মীরের সুপ্রিম কোর্ট জানান, এটি সংবিধান সুরক্ষিত একটি বিষয়। কেবল সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে বর্তমানে মেয়াদ শেষ হওয়ায় সংসদ না থাকায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।

    পর্দার আড়ালের মূল ক্ষমতা কার?

    পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, শরণার্থীরা ঐতিহাসিক কারণে এই অধিকার ভোগ করে আসছেন। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বিক্ষোভকারীদের রাজপথের বদলে ভোটের মাধ্যমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

    তবে স্থানীয় প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুজাফফরাবাদের নির্বাচিত সরকারের হাতে বাস্তবিক কোনো রাজনৈতিক ক্ষমতা নেই।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষক এরশাদ মাহমুদের মতে, পাকিস্তানের আমলাতন্ত্র ও সামরিক বাহিনী আজাদ কাশ্মীরের স্থানীয় নেতৃত্বকে কেবল ‘প্রতীকী’ পর্যায়ে নামিয়ে এনেছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা করার মতো ক্ষমতা এই স্থানীয় নেতৃত্বের নেই।

    ইতোমধ্যে আন্দোলনের অন্যতম নেতা উমর নাজির কাশ্মীরি প্রকাশ্যে জানান, তারা স্থানীয় সরকারের ওপর আস্থা হারিয়ে সরাসরি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। আন্দোলনকারীদের মতে, অঞ্চলের আসল ক্ষমতা ইসলামাবাদের হাতে নয়, বরং রাওয়ালপিন্ডির সামরিক দপ্তরের হাতেই রয়েছে।

    সব মিলিয়ে শরণার্থী আসন ধরে রাখা ও আঞ্চলিক স্বায়ত্ত্বশাসনের দ্বন্দ্বে ভোটের মাঠে চরম উত্তাপ বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের বয়কট ও নিরাপত্তা বাহিনীর কড়াকড়ির মধ্যে এই নির্বাচন কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা পাবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

  • পশ্চিম তীরে ১২০ ফিলিস্তিনি গ্রেপ্তার

    পশ্চিম তীরে ১২০ ফিলিস্তিনি গ্রেপ্তার

    অধিকৃত পশ্চিম তীরে গত দুই দিনে অন্তত ১২০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরাইলি বাহিনী। ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকারবিষয়ক সংগঠন ‘সামিদুন’ (প্যালেস্টাইন সেন্টার ফর প্রিজনার্স অ্যাডভোকেসি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, এক ফিলিস্তিনি পরিবারের জমিতে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ অভিযান চালানো হয়। ওই হামলায় চার ফিলিস্তিনি এবং দুই ইসরাইলি নিহত হন। এর পর থেকেই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ইসরাইলি বাহিনী ব্যাপক আকারে ফিলিস্তিনিদের গ্রেপ্তার শুরু করে।

    মূলত নাবলুস, তুলকারেমে ও হেব্রনে অভিযানের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। এসব এলাকায় সেনাসদস্যরা সাধারণ মানুষের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ঘরবাড়ির মালামাল ভাঙচুর করে। এ সময় মাঠপর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালে আটক ব্যক্তিদের ওপর শারীরিক নির্যাতনও চালানো হয়। সামরিক বাহিনীর সুরক্ষায় সশস্ত্র ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরাও কিছু অভিযানে অংশ নেয়।

    এই গ্রেপ্তার ও অভিযানকে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ‘শাস্তি ও প্রতিশোধমূলক নীতি’র অংশ বলে আখ্যায়িত করেছে সামিদুন।

    অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জরুরি নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংস্থাটি জাতিসংঘ, রেড ক্রস এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

  • ফিলিস্তিনিদের ‘রক্তপ্রবাহ’ দেখতে চায় ইসরাইলি নেতারা

    ফিলিস্তিনিদের ‘রক্তপ্রবাহ’ দেখতে চায় ইসরাইলি নেতারা

    ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতারা। তারা স্লোগান দিচ্ছেন, ‘আমরা রক্তপ্রবাহ দেখতে চাই’, ‘তাল গ্রামকে নিশ্চিহ্ন করো।’

    শুক্রবার ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেৎজালেল স্মোটরিচ পশ্চিম তীরের তাল, ইরাক বুরিন ও বাইত ফুরিক গ্রাম নিশ্চিহ্ন করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ গ্রামের অধিবাসীদের নাবলুস ও তুলকারামের শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দাদের মতো হওয়া উচিত।

    তিনি বলেন, ‘এ লোকদের জায়গা খালি করে দেওয়া উচিত।’ তিনি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানান, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাত থেকে যেন এ অঞ্চলের দায়িত্ব ইসরাইল নেয়।

    ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির বলেন, ‘যত ইহুদি নিহত হয়েছে, তার বদলায় শত্রুদের ভূমি ও ঘরছাড়া করতে হবে।’ গাজায় যেভাবে পুরো বসতিকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে, পশ্চিম তীরেও একই কৌশল বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।

    পশ্চিম তীরের তাল গ্রামে ইসরাইলি সেনা সহায়তায় অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলার মধ্যেই এ আহ্বান এলো। শুক্রবার হামলায় ইসরাইলিদের গুলিতে গ্রামের চার বাসিন্দা নিহত হয়েছেন। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, এক বাসিন্দা ইসরাইলিদের থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে হামলা করতে চেয়েছিল। কিন্তু পরে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

    ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, চলতি বছর এ পর্যন্ত অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীরে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৮৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২১ জন বসতি স্থাপনকারীদের হাতে নিহত হন।

    বেৎজালেল স্মোটরিচের দল রিলিজিয়াস জায়োনিস্ট পার্টির সদস্য জভি সুককত শুক্রবার চ্যানেল ফোরটিনকে সাক্ষাৎকারে বলেন, তাল গ্রামকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা প্রয়োজন। একইদিন ফেসবুক পোস্টে একটি কালো পর্দায় ‘প্রতিশোধ’ লিখে পোস্ট করেন তিনি।

    সশস্ত্র ইসরাইল বসতি স্থাপনকারী দল হিলটপ ইয়ুথের পক্ষ থেকে একই আহ্বান জানানো হয়। মিডল ইস্ট আই গ্রুপটির হোয়াটস অ্যাপ চ্যানেলে ‘তাল গ্রাম নিশ্চিহ্ন করো’ লেখা বার্তা দেখতে পায়।

    এক বার্তায় লেখা হয়, ‘আমরা প্রতিশোধ চাই। কোনো ধরনের বসতি স্থাপন বা আরো বাড়ি তৈরির প্রতিশ্রুতি নয়।’ আরেকটি বার্তায় লেখা হয়, ‘আমরা রক্তপ্রবাহ দেখতে চাই। প্রতিশোধ ছাড়া কিছুতেই শান্তি আসবে না।’

  • কলকাতায় ৬৫৩ বছরের পুরোনো মসজিদে পূজার আয়োজন

    কলকাতায় ৬৫৩ বছরের পুরোনো মসজিদে পূজার আয়োজন

    ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মসজিদ ভাঙা কিংবা মসজিদের মধ্যে মন্দিরের অবস্থানের কথা উল্লেখ করে প্রতিনিয়তই বিদ্বেষ বাড়ছে। দেশের সংখ্যালঘু মুসলিমদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠা এই বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ছে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে। সম্প্রতি কলকাতার পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার পান্ডুয়া এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক আদিনা মসজিদকে ঘিরে হিন্দুত্ববাদীরা তাদের দাবিকে আরো তীব্র করেছে। তাদের দাবি আদিনা মসজিদ নাকি আদিনাথের প্রাচীন শিবমন্দির—আর এই দাবিকে কেন্দ্র করে মসজিদটির কাছাকাছি এলাকায় শিবপূজা ও রুদ্রাভিষেকের আয়োজন করা হয়েছে।

    সোমবার প্রায় ৬৫৩ বছরের পুরোনো এই স্থাপনার ৫০ মিটারের মধ্যে একটি শিবলিঙ্গ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সেখানে আদিনাথের রুদ্রাভিষেকের (হিন্দু ধর্মে দেবাদিদেব মহাদেবের পবিত্র মন্ত্রপাঠ সহকারে জল ও পঞ্চামৃত দিয়ে শিবলিঙ্গ স্নান করানোর একটি বিশেষ পূজা) আয়োজন করা হয়েছে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন।

    সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বর্ষাকালীন অধিবেশনে বিজেপির রাজারহাটের বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারি আদিনা মসজিদকে আদিনাথ মন্দির হিসেবে দাবি করলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

    প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৩৭৩ খ্রিস্টাব্দে সুলতান সিকান্দর শাহ আদিনা মসজিদ নির্মাণ করেন। তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকে স্থাপনাটির বিভিন্ন কারুকাজে শিবসহ হিন্দু দেবদেবীর নিদর্শন রয়েছে—এমন দাবি তুলে একাংশের মানুষ এটিকে প্রাচীন আদিনাথ শিবমন্দির বলে দাবি করে আসছেন।

    এ নিয়ে বর্তমানে আদালতেও মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মসজিদের নিকটবর্তী এলাকায় শিবপূজার আয়োজনকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ উপলক্ষে আশপাশের এলাকাও সাজসজ্জা করা হয়েছে।

    আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা কাজল গোস্বামীর দাবি, স্থাপনাটির বিভিন্ন কারুকাজে আদিনাথ ও অন্যান্য হিন্দু দেবদেবীর উপস্থিতির প্রমাণ রয়েছে। তার ভাষ্য, এটি মূলত একটি প্রাচীন শিবমন্দির, যা পরবর্তীতে মসজিদে রূপান্তর করা হয়।

    স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও একই ধরনের দাবি করে বলেন, প্রত্নতাত্ত্বিক খননের সময় শিব ও দুর্গার মূর্তি উদ্ধার হয়েছে। তাই তারা স্থাপনাটিকে মন্দির হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।

    আদিনাথ শিব মন্দির ও মেলা কমিটির পক্ষ থেকে কাজল গোস্বামী আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা এই দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। আদালতের নির্দেশনা মেনে ভবিষ্যতে শিবলিঙ্গ নির্দিষ্ট স্থানে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্তমানে স্থাপনাটি ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ (এএসআই)-এর অধীনে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    এদিকে, স্তম্ভটিকে ঘিরে দীর্ঘস্থায়ী বিতর্কের একটি অন্যতম বিষয় হলো এর কিছু ব্যাসল্ট পাথরের দেয়াল ও দরজায় খোদাই করা হিন্দু চিত্রকলার উপস্থিতি।

    স্থাপত্য ইতিহাসবিদরা সাধারণত এই খোদাইগুলোকে পূর্ববর্তী কাঠামোর উপকরণ পুনঃব্যবহারের ফল বলে মনে করেন—যা মধ্যযুগীয় নির্মাণে একটি সাধারণ রীতি ছিল—অন্যদিকে পণ্ডিতরা স্মৃতিস্তম্ভটিকে ইসলামি ও দেশীয় স্থাপত্য ঐতিহ্যের সংশ্লেষণ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।

    তবে, পুনঃব্যবহৃত উপকরণগুলোর সঠিক উৎস নিয়ে ইতিহাসবিদ এবং স্থানীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

    নতুন করে আন্দোলন জোরদার হওয়ায় জেলা প্রশাসন স্মৃতিস্তম্ভটির চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

    যদিও হিন্দু সংগঠনটি জানিয়েছে যে এ বছরের আচার-অনুষ্ঠান নিকটবর্তী মন্দিরেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং স্মৃতিস্তম্ভটির ওপর ভবিষ্যতের যেকোনো দাবি শুধুমাত্র বিচারিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমেই উত্থাপন করা হবে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ আবারও শতবর্ষী আদিনা মসজিদকে প্রত্নতত্ত্ব, ইতিহাস, ধর্ম ও রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এক বিতর্কিত আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

    বিজেপি এখন পশ্চিমবঙ্গ শাসন করছে, তাই এই বিবাদটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে, কারণ ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে পরস্পরবিরোধী বয়ান জনমতকে প্রভাবিত করে চলেছে।

    ওই স্থানে প্রস্তাবিত ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মালদা জেলা পুলিশও একটি জনবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জনগণকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই স্মৃতিস্তম্ভটি ১৯৫৮ সালের প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভ এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান ও ধ্বংসাবশেষ আইনের অধীনে সুরক্ষিত। এতে সতর্ক করা হয়েছে যে, অনুমতিবিহীন ধর্মীয় কার্যকলাপ আয়োজন বা এই সুরক্ষিত কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আনার চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতেরও পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আদালতের মাধ্যমে আদিনাথ শিবমন্দির পুনঃপ্রতিষ্ঠার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    তবে আদিনা মসজিদের ঐতিহাসিক পরিচয় ও মালিকানা নিয়ে বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন থাকায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।

  • আন্দোলনকারীদের অধিকাংশই জামায়াতপন্থি মৌলবাদী: শুভেন্দু

    আন্দোলনকারীদের অধিকাংশই জামায়াতপন্থি মৌলবাদী: শুভেন্দু

    ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সহিংসতায় ‘বিদেশি মদদপুষ্ট ইসলামপন্থি মৌলবাদী’ গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনে সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী নন; বরং তারা জামায়াতপন্থি মৌলবাদী, এবং তাদের পেছনে বিদেশি শক্তির সমর্থন ছিল কি না, তা তদন্ত সংস্থাগুলো খতিয়ে দেখবে।

    রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এই ব্যক্তিদের সঙ্গে আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা শিক্ষার্থী নয়, তারা জামায়াতি (ইসলামপন্থি) মৌলবাদী। তাদের পেছনে বিদেশি শক্তির সমর্থন ছিল কি না, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

    গত শুক্রবার নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আয়োজিত বিক্ষোভে বামপন্থি সমর্থিত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।

    এ ঘটনার পর সহিংসতার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাজ্যের সদ্য প্রণীত ‘অ্যান্টি-গুন্ডা’ আইন প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যারা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত, তাদের এমন শাস্তি দেওয়া হবে, যা তাদের পরবর্তী তিন প্রজন্মও মনে রাখবে।

    এর আগে বিধানসভাতেও তিনি দাবি করেছিলেন, বিক্ষোভ থেকে শনাক্ত হওয়া প্রায় ৭০ জনের কেউই শিক্ষার্থী নন এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

    শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ, ওবিসি সনদ সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন, গবাদিপশু জবাই-সংক্রান্ত আইন প্রয়োগ এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপের প্রতি ক্ষোভ থেকেই এই সহিংসতা উসকে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

    বিক্ষোভ চলাকালে এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাও উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল এবং তাদের প্রাণনাশেরও চেষ্টা করা হয়।

    এদিকে কেন্দ্রীয় সরকার সোমবার লোকসভায় পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ উলফের মেন্স) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬ উত্থাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রতিটি রাজ্যে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন, দুই মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করা এবং দোষীদের জন্য ন্যূনতম পাঁচ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৫০ লাখ রুপি জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

    সরকার জানিয়েছে, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এই সংশোধনী আনা হচ্ছে। তবে আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) শনিবার তাদের ৩৬ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। দলটির দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং তাদের অন্যান্য দাবির প্রতি সরকারের সম্মতির পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • স্বামী-সন্তান নিয়ে হঠাৎ কেন ভারতে ফিরলেন প্রিয়াঙ্কা

    স্বামী-সন্তান নিয়ে হঠাৎ কেন ভারতে ফিরলেন প্রিয়াঙ্কা

    বলিউড থেকে অনেক আগেই হলিউডে পাড়ি জমিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। এখন বেশিরভাগ সময় সেখানেই থাকেন তিনি। প্রায় আট বছর পর বলিউড সিনেমায় দেখা যাবে তাকে। তার এই প্রত্যাবর্তন যে বড় মাপের কিছু হতে পারে, তার ইঙ্গিত মিলেছিল আগেই। সিনেমার বেশিরভাগ শুটিং হওয়ার পর হঠাৎ নিজ দেশে পা রাখলেন দেশি গার্ল। স্বামী নিক জোনাস ও মেয়ে মালতি মেরিকে নিয়ে ভারতে পৌঁছান তিনি।

    আজ রোববার বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় তাদের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও হায়দরাবাদ সফর নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি প্রিয়াঙ্কা।

    ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এস এস রাজামৌলি পরিচালিত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘বারাণসী’-এর শুটিংয়ে অংশ নিতে তিনি ভারতে এসেছে।

    বিমানবন্দরে প্রিয়াঙ্কাকে দেখা যায় গাঢ় বাদামি রঙের কো-অর্ড সেট, অফ-শোল্ডার টপ, বেইজ ক্যাপ, কালো সানগ্লাস ও বাদামি ফ্ল্যাট জুতা পরে। অন্যদিকে নিক জোনাস ছিলেন পুরো কালো পোশাকে। তিনি কালো শার্ট ও ট্রাউজারের সঙ্গে চেক ডিজাইনের স্নিকার্স এবং সানগ্লাস পরেছিলেন। তাদের মেয়ে মালতি মেরিকে কোলে নিয়েই বিমানবন্দর থেকে বের হতে দেখা যায় নিককে।

    ‘বারাণসী’ সিনেমার মাধ্যমে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ভারতীয় ভাষার চলচ্চিত্রে ফিরছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। সর্বশেষ ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য স্কাই ইজ পিঙ্ক’-এ অভিনয় করেছিলেন তিনি।

    চলতি মাসে প্রিয়াঙ্কার জন্মদিন উপলক্ষে সিনেমাটিতে তার চরিত্র ‘মন্দাকিনী’-র প্রথম লুক প্রকাশ করা হয়। পোস্টারে কালো পোশাকে হাতে বন্দুক নিয়ে তীব্র অভিব্যক্তিতে দেখা যায় অভিনেত্রীকে।

    সিনেমাটির নাম প্রথম ঘোষণা করা হয় ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর হায়দরাবাদে আয়োজিত ‘গ্লোবট্রটার’ অনুষ্ঠানে। সেখানে উপস্থিত অতিথিদের জন্য বিশেষ ফুটেজও প্রদর্শন করা হয়েছিল। পরে ১৮ জুলাই প্রিয়াঙ্কার জন্মদিনে সেই ঝলক বিশ্বজুড়ে প্রকাশ করা হয়।

    রাজামৌলি পরিচালিত এই সিনেমায় প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করছেন মহেশ বাবু। ছবিটি ২০২৭ সালের ৭ এপ্রিল প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।

    সম্প্রতি ‘হে জোনাস’ পডকাস্টে প্রিয়াঙ্কা জানিয়েছিলেন, বলিউডের গসিপ সম্পর্কে অনেক সময় নিক জোনাস তার চেয়েও বেশি জানেন। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ‘নিক এমন অনেক খবর জানে, যেগুলো আমি নিজেও জানি না। একবার কাউকে আমার শুভেচ্ছা জানাতে বলেছিলাম, তখন সে বলল, না, ওদের তো ব্রেকআপ হয়ে গেছে।’

    নিকও স্বীকার করেন, তিনি নিয়মিত কয়েকটি বলিউড গসিপ অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করেন, যদিও সেগুলোর নাম প্রকাশ করেননি।

    উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথম পরিচয় হয় প্রিয়াঙ্কা ও নিকের। ২০১৭ সালের মেট গালায় প্রথমবার একসঙ্গে প্রকাশ্যে দেখা যায় তাঁদের। ২০১৮ সালে বিয়ের পর ২০২২ সালের জানুয়ারিতে সারোগেসির মাধ্যমে কন্যা মালতি মেরির বাবা-মা হন এই তারকা দম্পতি। সূত্র: এনডিটিভি

  • মার্কিন যুদ্ধবিমান মাটিতেই ধ্বংসের দাবি আইআরজিসির

    মার্কিন যুদ্ধবিমান মাটিতেই ধ্বংসের দাবি আইআরজিসির

    মার্কিন সামরিক বাহিনীর বেশ কিছু যুদ্ধবিমান মাটিতে থাকা অবস্থাতেই ধ্বংস করে দেওয়ার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি)। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়ে এগুলোকে ধ্বংস করা হয় বলে জানায় সংস্থাটি। আইআরজিসির এক মুখপাত্র রোববার ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজকে এই তথ্য জানান। আইআরজিসির মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানের ধারাবাহিক হামলায় এ অঞ্চলের বিভিন্ন ঘাঁটিতে মার্কিন বিমান বাহিনীর ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

    তিনি বলেন, আমাদের হামলায় ১৭টি নজরদারি ও অপারেশনাল ড্রোন, হ্যাঙ্গারের ভেতরে থাকা একটি এফ-১৫ ফাইটার জেটের পাশাপাশি একটি পি-৮ বিমান, একটি সি-১৭ পরিবহন বিমান এবং ৮টি জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে চলমান সংঘাতের মধ্যে আইআরজিসির এই দাবি নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। তবে ইরানের এই দাবির বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন বা মার্কিন সামরিক বাহিনীর তরফ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য বা সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।

  • মার্কিন গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতে টান: হামলা বন্ধ

    মার্কিন গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতে টান: হামলা বন্ধ

    ইরানের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং যৌথ চিফ অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে নিজেদের শঙ্কা তুলে ধরেন তারা। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ট্রাম্প যখন হামলা জোরদার করার নানা দিক বিবেচনা করছিলেন, ঠিক তখনই তারা এই সতর্কবার্তা দেন।

    বৈঠকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি বা মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিশেষভাবে ট্রাম্পের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন জেনারেল কেইন। এই বৈঠকের পরপরই টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা হামলা আপাতত স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন।

    কেইন জানান, প্রেসিডেন্টের নির্দেশিত যেকোনো পদক্ষেপ মার্কিন সামরিক বাহিনী সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম। তবে এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এবং হামলা বাড়ালে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সামগ্রিক সামরিক সক্ষমতার ওপর। মজুত কমে যাওয়া এবং যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার এই উদ্বেগের পরই শুক্রবার রাতে ইরানে নতুন করে কোনো হামলা চালানো হয়নি।

    এই বিষয়ে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেউং এক বিবৃতিতে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবসময়ই কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেন। তবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালি বা মার্কিন মিত্রদের ওপর সন্ত্রাসী তৎপরতা অব্যাহত রাখে, তবে তার কাছে সামরিক সব বিকল্পই খোলা রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, টানা ১৩ দিনের বিধ্বংসী আক্রমণ এবং কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধের পর ইরানের উচিত আলোচনার টেবিলে এসে সমঝোতায় পৌঁছানো। শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প জানান, ইরানের সাথে মার্কিন কর্মকর্তারা সক্রিয়ভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    তিনি বলেন, ইরান ধীরে ধীরে আলোচনার বিষয়ে আরও আন্তরিক হচ্ছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে হামলা আরও জোরদার করা কিংবা আগের মতো চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাও তাদের রয়েছে। সূত্রের খবর, সামরিক হামলার ক্ষেত্র বাড়ানো নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে এখনো নানামুখী পর্যালোচনা চলছে।

    অন্যদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে চরম পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকার এবং সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। স্থলভাগে সেনা না পাঠিয়ে কেবল আকাশপথে হামলা চালিয়ে কাক্সিক্ষত ফলাফল পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলেও নানা প্রশ্ন ও দ্বিধা রয়েছে। স্থল অভিযান পরিচালনা করলে তা আরো বিপর্যয় ডেকে আনার সম্ভাবনাও রয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ শহরে গাইবেন কনা

    যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ শহরে গাইবেন কনা

    জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী দিলশাদ নাহার কনা মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কনসার্টের উদ্দেশে আমেরিকা ট্যুরে গেছেন। তবে কবে, কোথায় গাইবেন, সেসব না জানিয়ে পাড়ি জমান সাতসমুদ্দর তেরো নদীর ওপারে। রেখেছিলেন গোপন। শনিবার সেটি প্রকাশ করলেন। কনা জানান, তার এই ট্যুর আয়োজন করছে দেশি মিউজিক এন্টারটেইনমেন্ট।

    একটি সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ শহরে গান গাইবেন গায়িকা কনা। যেসব শহরে গাইবেন, তার মধ্যে রয়েছে— ইন্ডিয়ানা, মিশিগান, আটলান্টিক সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেসে, ওকলোহামা সিটি, ডালাস, হিউস্টন, শিকাগো, বস্টন, অরল্যান্ডো, ওয়াশিংটন ডিসি, মিয়ামি, আটলান্টা, আবেয়া, অ্যারিজোনা ও নিউইয়র্ক। তার এ কনসার্ট ট্যুর শুরু হচ্ছে ২৫ জুলাই থেকে। আর শেষ হবে আগামী ৩ অক্টোবর। প্রায় তিন মাস ধরে তিনি দেশটির বিভিন্ন শহরে গান শোনাবেন। দেশের শিল্পীদের মধ্যে এটা অন্যতম দীর্ঘ সংগীত সফর বটে।

    আমেরিকা যাওয়ার সামাজিক মাধ্যমে এ সংগীতশিল্পী ঘোষণা দিয়েছেন। সেখানে কনা লিখেছেন— ‘প্রিয় আমেরিকাবাসী, আমি আসছি তোমাদের শহরে। চলো, একসঙ্গে স্মরণীয় কিছু মুহূর্ত উপভোগ করি।’

    এর আগে কনার সর্বশেষ গান প্রকাশ হয়েছে ১১ জুলাই সিএমভির ইউটিউব চ্যানেলে— ‘তোমার হতে চাই’ গানটি। রবিউল ইসলাম জীবনের কথায় গানটির সুর ও সংগীত করেছেন সজীব দাস। গানে কনার সঙ্গে দ্বৈত গেয়েছেনও সজীব। এটি ব্যবহৃত হয়েছে রাফাত মজুমদার রিংকুর নাটক ‘ভালোবাসার গল্প’তে।

  • শাওন-রোকেয়া প্রাচীসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

    শাওন-রোকেয়া প্রাচীসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

    জুলাই বিপ্লবে হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, রোকেয়া প্রাচী ও মাহিয়া মাহিসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করেছে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম (এসডিএফ)।

    রোববার দুপুরে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এই অভিযোগ দাখিল করা হয়।

    সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, জুলাই আন্দোলন চলাকালে বা সংশ্লিষ্ট সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কয়েকজনের ভূমিকা আইনানুগভাবে তদন্ত করা হোক। সংগঠনের প্রকাশিত তালিকায় রয়েছেন ফেরদৌস আহমেদ, মেহের আফরোজ শাওন, রিয়াজ আহমেদ, অরুণা বিশ্বাস, শমী কায়সার, রোকেয়া প্রাচী, মাহিয়া মাহি, নিপুণ আক্তার, তানভীন সুইটি, হৃদি হক, জ্যোতিকা জ্যোতি, সাজু খাদেম, সোহানা সাবা, পিয়া জান্নাতুল, শামীমা তুষ্টি, হিরো আলম, আশনা হাবীব ভাবনা, সাইমন সাদিক, জায়েদ খান, সুজাতা আজিম, আজিজুল হাকিম, চন্দন রেজা, আসাদুজ্জামান নূর, মারিয়া কিসপট্টা, শান্তা ফারজানা মোবিন মেহেদী, সোমা ইসলাম ও আনিস আলমগীর।

    রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম মনে করে, উল্লিখিত ব্যক্তিদের সম্ভাব্য ভূমিকা সম্পর্কে নিরপেক্ষ ও আইনানুগ তদন্ত হওয়া উচিত। সংগঠনটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রতি আহ্বান জানায়, অভিযোগগুলো আইন অনুযায়ী যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে শহীদ ও আহতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।

  • দেশের স্বার্থে ট্রাম্পের সমালোচনা করতেও পিছপা হব না: বার্নহাম

    দেশের স্বার্থে ট্রাম্পের সমালোচনা করতেও পিছপা হব না: বার্নহাম

    দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে প্রয়োজনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করতে পিছপা হবেন না বলে জানিয়েছেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। বিবিসি-র সাংবাদিক লরা কুয়েন্সবার্গের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বার্নহাম জানান, ট্রাম্পের সাথে তার প্রথম যোগাযোগ বেশ ভালো হয়েছে এবং তিনি তাকে বেশ উষ্ণ মনের মানুষ হিসেবে পেয়েছেন।

    তবে ট্রাম্পকে তিনি পুরোপুরি বিশ্বাস করেন কি না—এমন প্রশ্ন দুবার করা হলেও তিনি সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। এর পরিবর্তে তিনি মন্তব্য করেন যে পৃথিবী এখন পরিবর্তনশীল এবং পরিস্থিতির সাপেক্ষেই কেবল সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।

    আগামীকাল সোমবার (২৭ জুলাই) সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচারিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ব্রিটেনের স্বার্থের অনুকূলে না গেলে তিনি ট্রাম্পের সাথে দ্বিমত পোষণ করতে এবং ভিন্ন মত প্রকাশ করতে দ্বিধা করবেন না।

    সাক্ষাৎকারে বার্নহাম আরও উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখাই তার প্রধান শক্তি এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপে তার নিজের উদ্বেগ ছিল বলে জানান তিনি। জাতীয় স্বার্থই যে তার কাছে সর্বাগ্রে—সে কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এই পদের মূল দায়িত্বই হলো যেকোনো মূল্যে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা।

    এদিকে প্রতিরক্ষা খাতের বাজেট নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। জিডিপির ৩ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ দিতে প্রধানমন্ত্রী অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এর আগে তার চ্যান্সেলর জন হিলি ২০৩০ সালের মধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে দেশ নিরাপদ থাকবে না—এমন সতর্কবার্তা দিয়ে পূর্ববর্তী সরকার থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।

    তবে বার্নহামের মতে, তিনি এমন একজন চ্যান্সেলরকে নিয়োগ দিয়েছেন যিনি প্রতিরক্ষা ব্যয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল। তাদের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো চলতি বছরের শেষের দিকে বাজেট উপস্থাপনের আগে প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা সঠিকভাবে অর্থায়ন নিশ্চিত করা। জিডিপির ৩ শতাংশ বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি পূরণের উপায় তারা খুঁজে বের করবেন বলেও জানান তিনি।

  • সৌদিতে ১৫ হাজার অভিবাসী গ্রেফতার

    সৌদিতে ১৫ হাজার অভিবাসী গ্রেফতার

    সৌদি আরবে গত এক সপ্তাহে আইন অমান্য করার অভিযোগে প্রায় ১৫ হাজার অভিবাসীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৬ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে মোট ১৪,৯৭০ জন আইন লঙ্ঘনকারীকে আটক করা হয়।

    এর মধ্যে আবাসন আইনের ৭,৪৩৭ জন, সীমান্ত সুরক্ষা আইনের ৩,৯৯১ জন এবং শ্রম আইনের ৩,৫৪২ জন অপরাধী রয়েছেন।

    এছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরব ঢোকার সময় আরও ১,৬২৬ জনকে আটক করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই ইথিওপিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিক। অবৈধভাবে দেশ ছাড়ার সময় ধরা পড়েছেন ৩৩ জন এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের সাহায্য বা আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন ১৮ জন।

    বর্তমানে ৩০ হাজারেরও বেশি অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং এর মধ্যে ১৩ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অবৈধ অভিবাসীদের সাহায্য করলে ১৫ বছরের জেল এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। সাধারণ মানুষকেও এ ধরনের অপরাধ দেখলে পুলিশকে গোপনে খবর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে সহকারী  শিক্ষক পদে নিয়োগ পাচ্ছে রোবট

    যুক্তরাষ্ট্রে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পাচ্ছে রোবট

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের একটি হাই স্কুলে মানবাকৃতির বা হিউম্যানোয়েড রোবট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সহকারী শিক্ষক চালুর এক উদ্যোগ ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান বুধবার (২৬ জুলাই) এ কথা জানিয়েছে। নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আদিবাসী সেনেকা জনগোষ্ঠীর সংরক্ষিত এলাকা ‘আলেগেনি’তে অবস্থিত সালামানকা হাই স্কুলে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানোর জন্য এই রোবট বসানো হচ্ছে। তবে স্কুল শিক্ষক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে ‘একেবারেই অনুপযুক্ত’ এবং ‘সাংস্কৃতিক বোধহীনতা’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন।

    টরন্টোভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘রিয়েলবোটিক্স’ তৈরি এই ‘স্যালি’ নামের এম-সিরিজের রোবটটি কিনতে কাটারগাস কাউন্টি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের খরচ হয়েছে ৫৭,৫৯০ ডলার। রিয়েলবোটিক্সের দাবি অনুযায়ী, তারাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কোনো স্কুল ডিস্ট্রিক্ট যেখানে এমন রোবট ও এআই সহকারী শিক্ষক বসানো হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের সাথে সরাসরি বার্তালাপ এবং মুখের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে পাঠে সাহায্য করবে।

    তবে বিতর্কের মূল জায়গা অন্যখানে। রিয়েলবোটিক্স প্রতিষ্ঠানটি আগে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবসায় যুক্ত ছিল এবং ২০০৪ সালের এপ্রিলে ১ কোটি ৬৭ লাখ ডলারে সেক্স ডল বা যৌন পুতুল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘সিমুলেক্রা’ কিনে নেয়। যদিও রিয়েলবোটিক্স দাবি করেছে, এই রোবট প্রকল্পের সাথে তাদের আগের ওই ব্যবসার কোনো সম্পর্ক নেই, তবে শিক্ষকদের মধ্যে গভীর দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। সালামানকা টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লেসি পিহলব্ল্যাড জানিয়েছেন, শিক্ষক ইউনিয়ন এই কোম্পানির অতীত ইতিহাস, ডেটা নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা নিয়ে শঙ্কিত। তিনি ক্লাসরুমে প্রযুক্তি কমানোর তাগিদ দিয়ে প্রকল্পটিতে আপাতত স্থগিতাদেশ চেয়েছেন।

    অন্যদিকে নিউ ইয়র্ক স্টেট ইউনাইটেড টিচার্সের সভাপতি মেলিন্ডা পার্সনও একে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যন্ত্রের বদলে মানুষের আন্তরিক স্পর্শ প্রয়োজন। শিশুদের সামনে এমন যন্ত্র বসানো হলে তা শিক্ষকতা পেশাকেই খাটো করে।

    স্কুলটিতে প্রায় ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী আদিবাসী বা নেটিভ আমেরিকান। স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিকল্প শিক্ষক সিয়েরা মে আব্রামস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমেরিকার সব স্কুল ছেড়ে বারবার আমাদের আদিবাসী শিশুদের ওপরই কেন এসব পরীক্ষা চালানো হয়?’ স্থানীয়দের মতে, এই উদ্যোগ আদিবাসীদের অতীতের তিক্ত ইতিহাস ও বোর্ডিং স্কুলের ট্রমার কথাই মনে করিয়ে দেয়।

    নিউ ইয়র্ক স্টেট শিক্ষা দপ্তরও বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। তাদের মুখপাত্র জেপি ও’হারে জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা এবং মূল শিক্ষার দায়িত্বে প্রশিক্ষিত মানব শিক্ষকের বিকল্প হিসেবে যন্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে তারা স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এরপরও রিয়েলবোটিক্স জানিয়েছে, শরৎকাল থেকে সীমিত পরিসরে এটি চালু হবে এবং এটি শিক্ষকদের হটিয়ে দেওয়ার জন্য নয়, বরং প্রযুক্তি শিক্ষার পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।

  • রপ্তানিতে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য নির্ধারণ, ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা

    রপ্তানিতে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য নির্ধারণ, ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানির লক্ষ্য ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা রপ্তানির লক্ষ্য ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। উভয় খাতেই ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ উপস্থিত ছিলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশের রপ্তানি খাত ঘুরে দাঁড়ানোর বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, বিনিয়োগ সহজীকরণ এবং সরকারি সেবার প্রক্রিয়া সরলীকরণের মাধ্যমে রপ্তানিতে নতুন গতি আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে চলতি বছরের মধ্যেই এফটিএ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শিগগিরই শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশই তৈরি পোশাক খাতনির্ভর। এই নির্ভরতা কমাতে সরকার চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ফুটওয়্যার, শিপবিল্ডিং, শিপ রিসাইক্লিং, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এসব খাতের বিকাশে শিগগিরই সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ওপর কার্যকর শুল্ক কাঠামোয় বাস্তবিক অর্থে নতুন কোনো পরিবর্তন আসেনি। আগের ১০ শতাংশ শুল্কই নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে বহাল রয়েছে। ফলে দেশের রপ্তানিতে নতুন করে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই।

    জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গ্যাস সরবরাহের সীমাবদ্ধতার কারণে শিল্প খাতের উৎপাদন সক্ষমতার একটি অংশ এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। অতিরিক্ত এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপনের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।

    তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের নীতিগত স্থিতিশীলতা, ব্যবসাবান্ধব সংস্কার, নতুন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বৃদ্ধির ফলে আগামী অর্থবছরে নির্ধারিত রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের সামনে এখন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত হয়েছে। ব্যবসা সহজীকরণ, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা দেশের রপ্তানি খাতে নতুন এক ঊর্ধ্বগতির সূচনা করতে চাই।

  • ফিলিস্তিনিদের ওপর অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বেড়েছে ৬৩ শতাংশ

    ফিলিস্তিনিদের ওপর অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বেড়েছে ৬৩ শতাংশ

    ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। নিরাপত্তা তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে ইসরাইলি আর্মি রেডিও জানিয়েছে, ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে হামলার সংখ্যা ব্যাপকভঅবে বেড়েছে।

    এতে বলা হয়, চলতি বছরের প্রথমার্ধে ৬৬০টি হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪০৫।

    ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ২৫০ শিশুসহ কমপক্ষে এক হাজার ১৮৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। চলতি বছর এই অঞ্চলে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৮৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ২১ নিহত হয়েছেন জন বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ।

  • অমিত শাহকে চিঠি

    অমিত শাহকে চিঠি

    বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর জবাব চাইলেন রাহুল গান্ধী

    দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ওপর ছররা গুলি ছোড়ার অভিযোগের বিষয়ে জবাব চেয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। রোববার সকালে চিঠিটি তার এক্স অ্যাকাউন্টেও পোস্ট করেন তিনি।

    প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে ২০ জুলাই আয়োজিত সংসদ অভিমুখে পদযাত্রায় শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ছররা গুলি ছোড়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তাতে আহত হন বেশ কয়েক জন বিক্ষোভকারী।

    রাহুলের দাবি, আহত এক বিক্ষোভকারীর চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিতেও ছররা গুলির আঘাতের কথা উল্লেখ রয়েছে। যদিও দিল্লি পুলিশ দাবি করেছে তারা ছররা গুলি ছোড়েনি।

    শনিবার অমিত শাহকে দেওয়া চিঠিতে রাহুল লেখেন, ‘২০ জুলাই শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে যে বর্বরোচিত আঘাত করা হয়েছে, তার জবাব চাইছি।’

    রাহুল বলেন, ‘তারা স্বচ্ছ শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে পথে নেমেছিলেন। তাদের দাবি শোনার পরিবর্তে আঘাত করেছে পুলিশ বাহিনী।’

    তার দাবি, শত শত শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। নারী আন্দোলনকারীদের মারধর করার অভিযোগও তুলেছেন রাহুল।

    দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এ প্রসঙ্গে দুটি প্রশ্ন করেন রাহুল। এক. কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি কি শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ছররা গুলি ছোড়ার অনুমতি দিয়েছিলেন? যদি তিনি না অনুমতি না দেন, তাহলে কে দিয়েছে? দুই. সাধারণ পোশাকে যারা শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করছিলেন, তারা কি পুলিশ, নাকি স্বেচ্ছাসেবী? তাদের কে নিয়োগ দিয়েছেন?

    ছররা গুলিতে আহত সাহিল লোহছাবকে নিয়ে গত শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের সামনে হাজির হয়েছিলেন রাহুল। তিনি ওই যুবকের শরীরের ক্ষত দেখিয়ে বলেছিলেন, ‘সরকার গুলি ছোড়ার কথা অস্বীকার করছে। কিন্তু এই যে তার প্রমাণ!’

  • ১৫ দিনের সংঘাতে ২০০ মার্কিন সেনা নিহত

    ১৫ দিনের সংঘাতে ২০০ মার্কিন সেনা নিহত

    ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১৫ দিনব্যাপী সংঘাতে ২০০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি এমন দাবি করেন।

    তার দাবি, ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা ওয়াশিংটন যা প্রকাশ করেছে, প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি।

    আইআরজিসির দাবি, অপারেশন ভিক্টরি–২-এ আটটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে একটি ঘাঁটির ২০টি স্থাপনা ও বিমান হ্যাঙ্গারে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এসব হামলায় ধ্বংস হয়েছে— ১১টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার, ১৭টি গোয়েন্দা ও অপারেশনাল ড্রোন, একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, একটি পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, একটি সি-১৭ পরিবহন বিমান এবং আটটি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান।

    এর আগে পেন্টাগন জানিয়েছিল, সংঘাতে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। তবে পরে আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যম জানায়, সংশোধিত হিসাবে নিহতের সংখ্যা ১৪। এর মধ্যে কয়েকজনের ছবি ও নাম প্রকাশ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

  • চীনে টাইফুন নউলের, নিরাপদ আশ্রয়ে ৭ লাখ মানুষ

    চীনে টাইফুন নউলের, নিরাপদ আশ্রয়ে ৭ লাখ মানুষ

    চীনের দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী টাইফুন নউল। এর প্রভাবে হংকংসহ গুয়াংডং অঞ্চলে প্রবল বাতাস ও ভারি বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। দুর্যোগের আশঙ্কায় গুয়াংডং প্রদেশ থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৭ লাখ ১৫ হাজারের বেশি মানুষকে।

    চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, রোববার ভোরে গুয়াংডং প্রদেশের হুইদং কাউন্টির উপকূলে টাইফুনটি আঘাত হানে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, চলতি বছরে চীনে আঘাত হানা এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন।

    হংকং অবজারভেটরি জানায়, টাইফুনটির কেন্দ্রের কাছে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছিল। পরে এটি গুয়াংডংয়ের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ধীরে ধীরে দুর্বল হতে শুরু করলেও প্রবল বাতাস ও ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।

    টাইফুনের কারণে হংকংয়ে প্রায় ৩৫০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। গুয়াংডংয়ের উপকূলীয় এলাকায় বহু গাছ উপড়ে গেছে। আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণ গুয়াংডং ও ফুজিয়ান প্রদেশের কিছু এলাকায় আরও ভারি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

  • মার্কিন-ইরান উভয়ই হামলা স্থগিত করল

    মার্কিন-ইরান উভয়ই হামলা স্থগিত করল

    আমেরিকা গত দুই রাত ধরে ইরানে হামলা বন্ধ রাখায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের ওপর পাল্টা আক্রমণ স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাসে পড়তে যাওয়া এই যুদ্ধ ওয়াশিংটন সাময়িকভাবে স্থগিত করার পর এবং মার্কিন অস্ত্রাগারে গোলাবারুদের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেওয়ার খবরের পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা এলো।

    ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, ‘কয়েক দিন আগপর্যন্ত এই হামলা অব্যাহত ছিল। তবে গত দুই রাত ধরে আমেরিকানরা তাদের আক্রমণ বন্ধ রেখেছে। যেহেতু আমাদের কৌশলটি মূলত ছিল বিরোধিতামূলক বা আক্রমণাত্মক পদক্ষেপর জবাবে পাল্টা আঘাত হানা, তাই আমরাও আপাতত আমাদের পাল্টাধাওয়া ও প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান স্থগিত করেছি।’

    কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই সংঘাত একপর্যায়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দেয়। পরবর্তী সময়ে এই যুদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর ছাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি, আঞ্চলিক জাহাজ চলাচল এবং মার্কিন মিত্র গালফ (উপসাগরীয়) দেশগুলোর ওপর হামলায় রূপ নেয়।

    তবে সাম্প্রতিক এই বিরতি নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার আশা জাগিয়েছে। যদিও মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরসহ অন্যান্য আত্মরক্ষামূলক অস্ত্রের সংস্থান বজায় রাখার চাপ থেকেই আমেরিকা এই হামলা স্থগিত রেখে থাকতে পারে।

    সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে, পেন্টাগনের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বর্তমানে “স্থগিত” রয়েছে। যদিও শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রয়োজনে “এর চেয়ে অনেক বড় মাত্রার” হামলার হুমকি দিয়েছেন।

    অন্যদিকে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় সংঘাত আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল ড্যান কেইন সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জেনারেল কেইন ট্রাম্পকে জানান, সামরিক বাহিনী প্রয়োজনীয় অভিযান চালাতে সক্ষম হলেও এর সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

  • ইরানে হামলায় ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না কুয়েত

    ইরানে হামলায় ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না কুয়েত

    ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে কুয়েত। দেশটির সরকার জানিয়েছে, ইরানে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে কুয়েতের ভূখণ্ড, আকাশসীমা কিংবা জলসীমা ব্যবহারের অনুমতি কাউকে দেওয়া হয়নি।

    মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের পর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয় কুয়েত। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনার বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

    ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিক্রিয়ায় কুয়েত ও বাহরাইন গোপনে বিমান হামলা পরিচালনা করে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি মাসের শুরুতে ইরানের কয়েকটি সামরিক স্থাপনা এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের গুদাম লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে এ অভিযানে সহায়তা করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

    এসব দাবির পর যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত কুয়েতের রাষ্ট্রদূত শেখা আল-জেইন আল-সাবাহ ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর সম্পাদকীয় বোর্ডের কাছে একটি চিঠি পাঠান। সেখানে তিনি প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন।

    রাষ্ট্রদূত তার চিঠিতে স্পষ্ট করেন, কুয়েত কোনোভাবেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নেয়নি। একই সঙ্গে তিনি জানান, আক্রমণাত্মক কোনো অভিযান পরিচালনার জন্য কুয়েতের ভূখণ্ড, আকাশসীমা বা জলসীমা ব্যবহারের অনুমতিও কোনো পক্ষকে দেওয়া হয়নি।

    এদিকে, ইরানের মেহর নিউজ কুনার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কুয়েত প্রকাশিত প্রতিবেদনটির তথ্য কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে এ বিষয়ে বাহরাইনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • মসজিদ, গাড়ি ও কৃষিজমিতে আগুন দিল ইসরায়েলি বসতকারীরা

    মসজিদ, গাড়ি ও কৃষিজমিতে আগুন দিল ইসরায়েলি বসতকারীরা

    অধিকৃত পশ্চিম তীরে দুটি মসজিদ, বেশ কিছু গাড়ি ও কৃষিজমিতে ইসরায়েলি বসতকারীরা আগুন দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় অঞ্চলটিতে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে। পশ্চিমতীরের তাল গ্রামের কাছাকাছি এই হামলার ঘটনা ঘটল ইসরায়েলি বসতকারীদের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি নিহত হওয়ার মাত্র দুদিন পর।

    রোববার (২৬ জুলাই) বিবিসি জানিয়েছে, ওই সংঘর্ষের জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, চরমপন্থী ইসরায়েলি বসতকারীদের হামলা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং ইসরায়েল সরকারের উগ্র ডানপন্থী অংশের সমর্থনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

    ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, অধিকৃত পশ্চিমতীরের দুটি গ্রামে রাতভর হামলা চালানো হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর, সম্পদ লুট এবং বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে বিদ্বেষমূলক গ্রাফিতি লেখা হয়।

    কুসরা গ্রামের মেয়র জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বসতকারীরা নির্মাণাধীন একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয়। মেয়র আবদুল আজিম ওয়াদি বলেন, মসজিদের দেয়ালে ‘প্রতিশোধ’ সহ বিভিন্ন স্লোগান লিখে দেওয়া হয়েছে।

    ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, কুসরায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে প্রমাণ সংগ্রহ করবে।

    ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পৃথক একটি ঘটনায় কুর গ্রামে আরেকটি মসজিদে আগুন দেওয়া হয়। হামলাকারীরা এই মসজিদের দেয়ালেও বিভিন্ন স্লোগান লিখে রেখে যায়।

    গত শুক্রবার তাল গ্রামের কাছে সংঘর্ষে হতাহতের পর পশ্চিমতীরের বিভিন্ন গ্রামে ইসরায়েলি বসতকারীদের একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ফিলিস্তিনিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) পশ্চিমতীরে অভিযান চালিয়ে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এসব অভিযানকে ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

    তাল গ্রামের সংঘর্ষের ঘটনায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘শক্তিশালী পদক্ষেপ’ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ফিলিস্তিনির বাড়ি ধ্বংস করার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পশ্চিমতীরে ইসরায়েলি বসতকারীদের হামলা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে এ নিয়ে তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ দেখা দিলেও সহিংসতা কমার লক্ষণ খুব কমই দেখা যাচ্ছে।

    জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমতীরে ১ হাজার ১১৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহত। এর মধ্যে অন্তত ৩৫ জন বসতকারীদের হামলায় নিহত হয়েছেন।

    ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে পশ্চিমতীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর সেখানে ইসরায়েল শত শত বসতি গড়ে তুলেছে। এসব বসতিতে প্রায় ৭ লাখ ইহুদি বসবাস করেন। ফিলিস্তিনিরা পশ্চিমতীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা নিয়ে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছে। আন্তর্জাতিক আইনে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

  • কিশোরকে তুলে নিয়ে হত্যা, জানাজা শেষে অভিযুক্ত ইরানকে পিটিয়ে-কুপিয়ে হত্যা

    কিশোরকে তুলে নিয়ে হত্যা, জানাজা শেষে অভিযুক্ত ইরানকে পিটিয়ে-কুপিয়ে হত্যা

    চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে নাঈম (১৫) নামে এক কিশোরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে নুরুল ইসলাম ইরান (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে উত্তেজিত জনতা। ইরানকে চিহ্নিত মাদক কারবারি বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এ সময় তার বাড়িঘর ও মাদক সেবনের আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি ঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

    শনিবার রাতে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাটেরখীল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইরান ওই এলাকার নুরুল হকের ছেলে। পুলিশ বলছে, তার বিরুদ্ধে হত্যা ও মাদক আইনে চারটি মামলা রয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই রাতে ইরানের কিছু ইয়াবা হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নাঈম ও ইমরান (২০) নামে দুইজনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় ইরান ও তার সহযোগীরা।

    অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। নাঈমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত অবস্থায় বাড়ির সামনে ফেলে রাখা হয়। আর ইমরানকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে তার পরিবারের কাছে টাকা দাবি করা হয়। পরে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার পর তাকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয় বলে পরিবারের দাবি।

    গুরুতর আহত নাঈমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়।

    নাঈমের জানাজা শনিবার বিকেল ৫টার দিকে অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, জানাজার পর মাইকে নাঈমের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ জানানো হয়। এ সময় ইরান কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে চার গ্রামের কয়েকশ মানুষ ইরানকে খুঁজতে বের হন।

    স্থানীয়দের দাবি, রাতে তাকে পাশের একটি বাড়ির গোয়ালঘর থেকে ধরে আনা হয়। রাত ১১টার দিকে উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

    পুলিশ জানায়, ইরানকে হত্যার পর তার বাড়িঘর ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ থাকা কয়েকটি স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। রোববার দুপুরেও মুরাদপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে আলতাপ (৪৫) ও বাদশা (৫০) নামে দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, তারা ইরানের সহযোগী। আলতাপকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আহত বাদশাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    নিহত নাঈমের চাচা মো. ফারুক বলেন, ‘নাঈম দরিদ্র পরিবারের ছেলে। সে ভালো ছেলে ছিল। ইরানের ইয়াবা হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তাকে ও ইমরানকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। নাঈমের নখ ও শরীরের চামড়া তুলে নেওয়া হয়।’

    ইমরানের মা হাসিনা বেগম বলেন, ‘ইরানের লোকজন আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে যায়। অনেক অনুরোধ করেও তাকে ছাড়াতে পারিনি। পরে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার পর তাকে ছাড়িয়ে আনি।’

    হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইমরান বলেন, ‘আমাকে বাড়ি থেকে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয়। আমার সামনে নাঈমকে কুপিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। পরে আমার পরিবারের কাছে টাকা দাবি করা হয়। ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার পর আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

    নিহত ইরানের ছেলে রিফাত বলেন, তাঁদের ২২টি বসতঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘরের মালামাল লুটের পাশাপাশি একটি সিএনজি, দুটি পাওয়ারটিলার, একটি ভ্যান ও তিনটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা এ হামলা ও অগ্নিসংযোগে জড়িত।

    তবে মুরাদপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. এজাহারুল ইসলাম এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে তাঁর সঙ্গে বিএনপির কোনো নেতা-কর্মীর সম্পৃক্ততা ছিল না।

    সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, নাঈম হত্যার ঘটনায় শনিবার থানায় মামলা হয়েছে। পরে নাঈমের জানাজা শেষে উত্তেজিত এলাকাবাসী ইরানকে হত্যা করে। তাঁর বাড়িঘর ও মাদক কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ থাকা কয়েকটি স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    স্থানীয়দের দাবি, ইরান দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা ও মাদক আইনে চারটি মামলা রয়েছে। গত ৮ এপ্রিল সীতাকুণ্ড পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ শামীমকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হত্যার ঘটনাতেও ইরানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।