আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে কিউবার পাশে থাকব, বলল চীন

    যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে কিউবার পাশে থাকব, বলল চীন

    কিউবায় সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসনের নানা বিকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন খতিয়ে দেখছে—এমন সংবাদের পর ওয়াশিংটনকে সামরিক হুমকি ও একতরফা নিষেধাজ্ঞা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে চীন।

    শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং জানান, বেইজিং পুরো বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছে এবং এ বিষয়ে তাদের অবস্থান আগেই স্পষ্টভাবে জানিয়েছে। মাও নিং আরও বলেন, ‘কিউবায় বহিরাগত হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে এবং দেশটির জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় চীন দৃঢ়ভাবে পাশে থাকবে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করবে বেইজিং।’

    মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের একটি প্রতিবেদনের পরই মূলত চীনের এই বক্তব্য এলো। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা কিউবায় সামরিক অভিযানের কয়েকটি রূপরেখা খতিয়ে দেখেছেন। যার মধ্যে ১০১তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের হাজার হাজার সেনার মাধ্যমে বিমান হামলার একটি পরিকল্পনাও রয়েছে।

    খবরে বলা হয়, সম্ভাব্য সামরিক অভিযান, সেনার প্রয়োজনীয়তা, রসদ সরবরাহ ও এর ঝুঁকি মূল্যায়নে গত জুনের শেষের দিকে প্রাথমিক একটি বৈঠক করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এ ধরনের আক্রমণের কোনো অনুমোদন দেননি এবং চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি।

    সামরিক পদক্ষেপের খসড়া তৈরি করছে ওয়াশিংটন

    ইরান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নজর ও রসদ ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও হাভানার ওপর ওয়াশিংটন যখন চাপ বাড়াচ্ছিল, তখনই এই খসড়া অভিযানের বিষয়টি সামনে আসে।

    মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কিউবায় যুদ্ধবিমান, গোয়েন্দা নজরদারি প্ল্যাটফর্ম ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তর করা বেশ কঠিন। পেন্টাগন অবশ্য কাল্পনিক বা সম্ভাব্য কোনো অভিযান নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে।

    এদিকে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস আলাদা এক প্রতিবেদনে জানায়, এই মুহূর্তে তাৎক্ষণিক কোনো আক্রমণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে না। তবে সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পটি মার্কিন খসড়ায় রাখা হয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেকোনো সময় তার অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন।

    তবে শুধু মুখের কথায় সীমাবদ্ধ না থেকে সামরিক স্তরে এভাবে স্পষ্ট অভিযানের খসড়া তৈরি করা মূল উত্তেজনা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ভেনেজুয়েলা ও ইরানের পর কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে বলে ট্রাম্প এর আগেও বেশ কয়েকবার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

    গত মার্চ মাসে তিনি সরাসরি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘পরবর্তী লক্ষ্য কিউবা।’ এমনকি দেশটি বন্ধুত্বপূর্ণ উপায়ে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে পরে আবার বলেন, ‘তা হয়তো বন্ধুত্বপূর্ণ নাও হতে পারে।’ পরবর্তীতে কিউবার শীর্ষ নেতৃত্বকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে দ্বীপটির কাছে মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের পরামর্শও দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

    অন্যদিকে, গত জুনে গুয়ান্তানামো বে-তে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটি পরিদর্শনের সময় মার্কিন যুদ্ধবিষয়ক সচিব পিট হেগসেথ হাভানাকে কড়া সতর্কবার্তা দেন। তিনি জানান, মার্কিন মূল ভূখণ্ড বা ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম এমন কোনো অস্ত্র যেন কিউবা সংগ্রহ না করে। তেমন কিছু করলে এমন সংঘাতের সৃষ্টি হবে, যা সামলানোর ক্ষমতা কিউবার নেই।

  • সৌদির নেতৃত্বে ১৪ দেশের প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ

    সৌদির নেতৃত্বে ১৪ দেশের প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ

    লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক ও জ্বালানি পরিবহন নিরাপদ রাখতে একটি বহুমুখী প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ নামের এই জোটে বাংলাদেশসহ মোট ১৪টি দেশ একযোগে স্বাক্ষর করেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।

    ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মুখে আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয় বলে জানানো হয়েছে জোটের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে নিরাপদ রাখাই এই প্রতিরক্ষা জোটের মূল লক্ষ্য।

    জোট গঠনের লক্ষ্যে আমন্ত্রণ জানানো ৫১টি দেশের মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাড়াও তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিশর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সুদান ও কমোরোস এই জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান এতে স্বাক্ষর করেনি।


    সৌদি আরবে এই জোটের প্রধান কার্যালয় স্থাপন করা হবে। জোটভুক্ত দেশগুলো নিজেদের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং যৌথ নৌ মহড়া পরিচালনা করবে। তবে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই জোটটি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং এটি নির্দিষ্ট কোনো দেশকে লক্ষ্য করে গঠিত হয়নি। অন্যান্য দেশের জন্যও এই জোটে যোগ দেওয়ার পথ খোলা রাখা হয়েছে। কিছু দেশ অভ্যন্তরীণ আলোচনার পর জোটে যোগ দিবে বলে জানিয়েছে।


    মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্ব বাজারের অর্ধেকের বেশি তেল ও গ্যাস সরবরাহ এখন লোহিত সাগরের এই বিকল্প রুটের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ১০ থেকে ১২ ভাগ পণ্য এবং প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল এই বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই সংকটাপন্ন স্থানে হুথিদের হামলা বন্ধ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই ১৪ দেশের জোট অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • আসছে স্থল অবরোধ

    আসছে স্থল অবরোধ

    ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে দেশটির বিরুদ্ধে এবার স্থল অবরোধ আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। বৃটিশ সংবাদপত্র দ্য টেলিগ্রাফ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

    গত কয়েক মাস ধরে বিমান হামলা ও দীর্ঘ সামরিক চাপ প্রয়োগ করেও তেহরানকে নতি স্বীকার করানো সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও জোরদারের নতুন কৌশল বিবেচনা করছেন।

    জানা গেছে, গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই নেতা ‘সামরিক (কাইনেটিক) ও অসামরিক (নন-কাইনেটিক) উপায়ে’ ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

    প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যাতে তারা সীমান্ত ক্রসিং কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে বা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। এর ফলে ইরানের আমদানি-রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হতে পারে।

    ইসরাইলের সিনিয়র এক কর্মকর্তা দ্য টেলিগ্রাফকে বলেন, ভাবুন তো, যদি স্থলপথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া যায়। ইরান যদি কিছুই আমদানি করতে না পারে এবং কিছুই রপ্তানি করতে না পারে, তাহলে কী হবে?

    এনিয়ে অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন লেফটেন্যান্ট জেনারেল শন ম্যাকফারল্যান্ড বলেন, বাস্তবে এমন অবরোধ কার্যকর করা ‘প্রায় অসম্ভব’ হলেও, যদি ইরানের বাণিজ্যিক সক্ষমতা বন্ধ করা যায়, তবে দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব হবে।
    তার ভাষায়, অর্থনৈতিক চাপই সবচেয়ে কার্যকর পথ, তবে এর সঙ্গে সামরিক উপাদানও থাকতে হবে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের স্থলসীমান্ত বহু দেশের সঙ্গে যুক্ত এবং বিশেষ করে ইরাক তেহরানের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় সব ধরনের সহায়তা বন্ধ করা অত্যন্ত কঠিন হবে।

    সম্ভাব্য এই পরিকল্পনায় ইঞ্চেহ বরুন ও সারাখস সীমান্ত ক্রসিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, যা ইরানকে তুর্কমেনিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
    ইরানের সঙ্গে ইরাক, তুরস্ক, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের স্থলসীমান্ত রয়েছে। ফলে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে এসব দেশের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। তবে প্রতিবেশী কোনো দেশ এ পরিকল্পনায় সহযোগিতা করলে তাদের নিজেদের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি ইরানের পাল্টা সামরিক হামলার ঝুঁকিও তৈরি হবে।
    প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থল ও সমুদ্রপথে অবরোধের মাধ্যমে ইরানের নতুন অস্ত্র সংগ্রহের সক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্য রয়েছে। বর্তমানে চীনের সঙ্গে নতুন সামরিক সহযোগিতা চুক্তির আওতায় বেইজিং থেকে শত শত রকেট লঞ্চার পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।

    প্রায় ৭ কোটি ডলারের ওই চুক্তিতে কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (ম্যানপ্যাডস) ও ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চীন থেকে আসা জাহাজগুলো সাধারণত দক্ষিণ ইরানের বান্দার আব্বাস ও চাবাহার বন্দরে নোঙর করে।
    দ্য টেলিগ্রাফের এক সূত্রের দাবি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বর্তমান কৌশল থেকে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন নতুন বিকল্প খুঁজছেন। সূত্রটি জানায়, ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে উত্তেজনা আরও বাড়ানোর বিভিন্ন উপায় বিবেচনা করছেন তিনি। এই পরিকল্পনা ট্রাম্পের ‘সর্বোচ্চ চাপ’নীতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যার লক্ষ্য তেহরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করে দেয়া।

    তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থল অবরোধের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেয়ে এটি বিভ্রান্তিমূলক কৌশল (রেড হেরিং) হিসেবেও সামনে আনা হয়ে থাকতে পারে, যাতে ইরান প্রকৃত পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিভ্রান্ত হয়।

    গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের নেতৃত্বের ভেতরে মতভেদ রয়েছে। এক পক্ষ অর্থনৈতিক বিপর্যয় নিয়ে উদ্বিগ্ন, অন্য পক্ষ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে।

    একজন ইসরাইলি কর্মকর্তা বলেন, ইরানে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। অনেক পেট্রোলপাম্পে ডিজেল শেষ হয়ে গেছে, দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক বৈঠক ছিল ইতিবাচক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ।
    ইসরাইলি এক কর্মকর্তার দাবি, বৈঠকে ইরানকে ঘিরে তিনটি সম্ভাব্য বিকল্প নিয়ে আলোচনা হয়- কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানো, নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখা, অথবা আবার সামরিক হামলা শুরু করা।

    তবে নেতানিয়াহু কোনো একটি বিকল্পের পক্ষে জোর দেননি। তিনি বলেন, আমরা শুধু নিজেদের জীবন নয়, আপনাদের জীবনও রক্ষা করছি। আমরা বর্বরতার বিরুদ্ধে সভ্যতার লড়াই করছি।

  • ‘আমি ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি’: ফিলিস্তিনি অধ্যাপক

    ‘আমি ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি’: ফিলিস্তিনি অধ্যাপক

    ওষুধ ও চিকিৎসার জন্য রোগীদের সরিয়ে নেওয়ার ওপর ইসরাইলি বিধিনিষেধের কারণে হাজার হাজার ক্যানসার রোগী জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    দক্ষিণ গাজার একটি স্কুলকে রূপান্তর করা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রে। সেই ভবনের সিঁড়ির নিচে একটি ছোট্ট, ঘিঞ্জি জায়গায় ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ে ধীরে ধীরে হেরে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খুলুদ আবু সাহমুদ।

    ১৫টি কেমোথেরাপি সেশনের পর ৩৩ বছর বয়সি এই ফিলিস্তিনি মাকে জানিয়ে দেওয়া হয়, তিনি আর চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারবেন না। কারণ, যুদ্ধবিধ্বস্ত এই ছিটমহলে বর্তমানে যেসব ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো তার ক্যানসারের ধরনের জন্য উপযুক্ত নয়। তিনি দুই সন্তানের জননী।

    মিডল ইস্ট আইকে আবু সাহমুদ বলেন, প্রায় নয় মাস আগে আমার মেয়ের জন্মের পরপরই আমার লিভার ক্যানসার ধরা পড়ে। কিন্তু কয়েকটি কেমোথেরাপি সেশনের পর আমার শারীরিক অবস্থার শুধু অবনতিই হতে থাকে।

    তিনি বলেন, চিকিৎসক আমাকে জানান যে, এই চিকিৎসা আমার শরীর বা অবস্থার জন্য মানানসই নয়। কেমোথেরাপি কখনো আমার ক্যানসার নিরাময় করেনি; এটি কেবল আমার চুল ও নখ ঝরে যাওয়ার কারণ হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই আমার নখের কিছু অংশ খসে পড়ে।

    ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রায় ১০ মাস পরও গাজায় জীবন রক্ষাকারী জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রবেশের ওপর বিধিনিষেধ অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে ক্যানসারের ওষুধ, কেমোথেরাপি, অ্যান্টিবায়োটিক, চেতনানাশক, পরীক্ষাগারের সরঞ্জাম, রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতি এবং সার্জারির বিভিন্ন উপকরণ।

    জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, গত মার্চের মধ্যেই গাজায় প্রায় ৪৬ শতাংশ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ এবং ৬৬ শতাংশ চিকিৎসা সরঞ্জামের মজুত পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়।

    চলতি মাসে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্যানসারের বিশেষ ওষুধের মজুত তলানিতে ঠেকায় স্তন, কোলোরেক্টাল ও গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ক্যানসার, মাথা ও ঘাড়ের টিউমার এবং সারকোমাসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের কেমোথেরাপি চিকিৎসা অনেকাংশেই বন্ধ হয়ে গেছে।

    মন্ত্রণালয় আরও জানায়, গাজার প্রায় ১১ হাজার ক্যানসার রোগীর মধ্যে অন্তত ৪ হাজার জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার মেডিকেল রেফারেল দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা এখনো গাজা ছাড়ার অনুমতির অপেক্ষায় আছেন।

    গাজা সেন্টার ফর ক্যানসারের পরিচালক ড. মোহাম্মদ আবু নাদা বলেন, চরম সংকটের কারণে আমরা মেয়াদোত্তীর্ণ কিছু ওষুধ ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছিলাম। এখন সেগুলোও ফুরিয়ে গেছে। এতে স্পষ্টতই মৃত্যুর হার বাড়ছে।

    আবু নাদা জানান, গাজায় বর্তমানে কেমোথেরাপির ওষুধের যে চরম সংকট চলছে, তা গত কয়েক বছরের মধ্যে ভয়াবহতম।

    উদাহরণস্বরূপ, স্তন ক্যানসারের জন্য আমাদের কাছে যেটুকু ওষুধ অবশিষ্ট আছে, তা বর্তমান রোগীদের জন্যই যথেষ্ট নয়। নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হলে তাদের দেওয়ার মতো কোনো চিকিৎসা আমাদের কাছে নেই।

    প্রচলিত চিকিৎসাপদ্ধতি অনুসরণের বদলে চিকিৎসকেরা এখন বাধ্য হয়ে ক্রমবর্ধমান হারে ‘সিঙ্গেল-ড্রাগ থেরাপি’ বা একটি মাত্র ওষুধের ওপর নির্ভর করছেন।

    আবু নাদা বলেন, এটি পরিষ্কারভাবেই চিকিৎসার কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, পরিস্থিতি আরও খারাপ করে এবং আরও জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। আমরা ইমিউনোথেরাপির ওষুধেরও তীব্র সংকটের মুখোমুখি হচ্ছি, যা আমাদের রোগীদের জন্য ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

    ‘অন্তহীন অপেক্ষা’

    রোগ নির্ণয়ের পরপরই আবু সাহমুদের মেডিকেল রেফারেল অনুমোদন করা হয়েছিল, কারণ তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গাজায় ছিল না। নয় মাস পরও তিনি গাজা ছাড়ার অপেক্ষায় আছেন।

    তিনি বলেন, চিকিৎসকেরা আমাকে বলেছিলেন, আমার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা জর্ডান বা তুরস্কে পাওয়া যায় এবং এখানে থেকে আমার অবস্থার উন্নতির কোনো উপায় নেই। আমি জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরের আশায় নয় মাস ধরে অপেক্ষা করছি।

    মেডিকেল রেফারেলের মাধ্যমে গাজার রোগীরা অধিকৃত পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম, মিসর ও জর্ডানের হাসপাতালগুলোতে গিয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পান, যা গাজায় পাওয়া যায় না।

    যদিও সাধারণত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই রেফারেল ইস্যু ও এর অর্থায়ন করে, তারপরও রোগীদের ইসরায়েল বা মিসরের নিয়ন্ত্রণাধীন ক্রসিংগুলো পার হওয়ার জন্য অনুমতির প্রয়োজন হয়।

    ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় গণহত্যা শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইল চিকিৎসাজনিত রেফারেল এবং গাজা থেকে রোগীদের সরিয়ে নেওয়ার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর ফলে হাজার হাজার গুরুতর অসুস্থ ও আহত ফিলিস্তিনি স্থানীয়ভাবে অপ্রতুল চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির চার মাস পর, ইসরাইল কঠোর নিয়ন্ত্রণের অধীনে চিকিৎসাজনিত কারণে মিসর সীমান্ত দিয়ে রোগীদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য রাফা ক্রসিং আংশিকভাবে খুলে দেয়। এর আওতায় প্রতিদিন মাত্র প্রায় ৫০ জন রোগীকে গাজা ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়—তাও ইসরাইলি অনুমোদনের সাপেক্ষে।

    ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় চার হাজার শিশুসহ ২০ হাজারের বেশি মানুষ জরুরি চিকিৎসাজনিত স্থানান্তরের অপেক্ষায় রয়েছেন।

    ফেব্রুয়ারিতে রাফা ক্রসিং পুনরায় খোলার পর, গত ৩০ জুন পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার ৬৫৫ জন রোগীকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজা ছাড়ার অনুমতির অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় ১ হাজার ৫৭০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

    আবু সাহমুদ বলেন, এই অন্তহীন অপেক্ষার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিনই আমার স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে। আমার আগে আরও অগণিত রোগী স্থানান্তরের অপেক্ষায় রয়েছেন।

    তিনি আরও বলেন, আমি শ্বাসকষ্টে ভুগছি এবং শরীরে তরল জমার কারণে আমার পেট ফুলে গেছে। আমার ওজন অস্বাভাবিকভাবে কমে যাচ্ছে; এ পর্যন্ত প্রায় ২০ কেজি ওজন হারিয়েছি। এমন অনেক সময় যায় যখন পেটে তরল জমার কারণে আমি কিছুই খেতে পারি না; যখনই কিছু খাই, তরলের পরিমাণ বেড়ে যায়।

    পাঁচ বছরের এক ছেলে এবং নয় মাসের এক মেয়ের এই মা জানান, সন্তান জন্মের পর থেকে তিনি ছোট মেয়েটিকে একবার কোলেও নিতে পারেননি।

    তিনি বলেন, আমি আমার সন্তানদের প্রতি কোনো দায়িত্বই পালন করতে পারছি না। অসুস্থতার কারণে আমি শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছি। আমি কখনোই বিছানা ছেড়ে উঠি না এবং বিন্দুমাত্র শারীরিক পরিশ্রমও করতে পারি না। এখন আমি বেশিক্ষণ হাঁটতেও পারি না। সামান্য একটু হাঁটলেই প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে পড়ি। আমি ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

    মেডিকেল স্থানান্তরের অপেক্ষায় থাকা অনেক রোগীর অবস্থারই অবনতি হয়েছে। কারণ, ইসরাইলি হামলা গাজার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে অচল করে দিয়েছে এবং মানুষদের বারবার বাস্তুচ্যুত হয়ে গাদাগাদি করে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে থাকতে বাধ্য করেছে, যেখানে বিশুদ্ধ পানি বা পয়োনিষ্কাশনের তেমন কোনো ব্যবস্থাই নেই।

    আবু সাহমুদ জানান, গণহত্যা শুরু হওয়ার পর নিজের বাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তাকে প্রায় ৩০ বার জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হতে হয়েছে।

    অতি সম্প্রতি তাকে খান ইউনিসের পশ্চিমে মাওয়াসি আল-কারারা এলাকার একটি তাঁবুতে বাধ্য হয়ে আশ্রয় নিতে হয়। সেখানে যাওয়ার পরপরই তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে শুরু করে।

    তিনি বলেন, আমি তাঁবুর জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছিলাম না। সেখানকার পরিবেশ ছিল চরম অস্বাস্থ্যকর এবং আমার আরও ভালো একটি জায়গা দরকার ছিল। তাই আমি আমার বড় বোনের শরণাপন্ন হই।

    আমার বোনও বাস্তুচ্যুত এবং সে আহমেদ বিন আবদুল আজিজ স্কুলের সিঁড়ির নিচে থাকে। তার সঙ্গে গিয়ে ওঠা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিল না। আজ আমাদের দুটি পরিবারের মোট প্রায় ১০ জন মানুষ এখানে একসঙ্গে বাস করছি।

    আমার মতো শারীরিক অবস্থার একজন মানুষের জন্য এই পরিবেশ একেবারেই অনুপযুক্ত। এখানে একজন সুস্থ মানুষের পক্ষে টিকে থাকাই কঠিন, ক্যানসার রোগীর কথা তো বাদই দিলাম।

    তার বিছানার পাশেই রাখা আছে ওষুধের একটি বাক্স, যা ইঁদুর থেকে সাবধানে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। তার পাশেই রয়েছে একটি ব্যাগ, যার ভেতর রয়েছে বছরের পর বছর ধরে পড়াশোনা ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জন করা তার প্রায় ৫০টি একাডেমিক সনদ।

    ক্যানসার তার জীবনের গতিপথ বদলে দেওয়ার আগে পরিবার ও বন্ধুদের কাছে তিনি ‘বইপোকা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

    তিনি বলেন, স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষ করার পর, গাজার ইসলামিক ইউনিভার্সিটি আমাকে তাদের ইতিহাসের প্রথম শিক্ষার্থী হিসেবে সম্মানিত করেছিল, যে কিনা দুই বছরের স্নাতকোত্তর প্রোগ্রাম মাত্র এক বছর চার মাসে শেষ করেছিল।

    এরপর তিনি পিএইচডি শুরু করেন এবং পরে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যক্রম ও শিক্ষাদান পদ্ধতি বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন।

    তিনি বলেন, আমি শিখতে ভালোবাসি। আমার পুরো জীবনটাই শিক্ষার প্রতি নিবেদিত ছিল। আমার স্বপ্ন ছিল একজন অধ্যাপক হওয়ার এবং পিএইচডির পরও আমার একাডেমিক যাত্রা চালিয়ে যাওয়ার। আমি কখনোই শেখা থামাতে চাইনি।

    কিন্তু এই অসুস্থতা আমার কাছ থেকে সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। সবচেয়ে কঠিন অংশ হলো চিকিৎসার জন্য এই অপেক্ষা, যার কোনো শেষ দেখা যাচ্ছে না।

  • বুর্জের চেয়েও উঁচু টাওয়ার নির্মাণ করছে সৌদি

    বুর্জের চেয়েও উঁচু টাওয়ার নির্মাণ করছে সৌদি

    সৌদি আরবের উচ্চাভিলাষী জেদ্দা টাওয়ার প্রকল্প আবারও আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে ভবনটির নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছে টাওয়ারটির কর্তৃপক্ষ।

    গালফ নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, টাওয়ারটির উচ্চতা ৪৩০ মিটারে পৌঁছেছে, যা এর পরিকল্পিত ১,০০০ মিটারেরও বেশি উচ্চতার ৪০ শতাংশের বেশি।

    প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সৌদি বিনিয়োগকারী প্রিন্স আলওয়ালেদ বিন তালাল জানান, নির্মাণকাজ নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে।

    তিনি প্রকৌশলী ও নির্মাণকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। এ সময় তিনি বলেন, আল্লাহর প্রশংসা, কাজ চলছে এবং আমরা বিশ্বের সর্বোচ্চ টাওয়ারটি সম্পন্ন করব।

    জেদ্দা টাওয়ারের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৩ সালে। তবে আর্থিক সংকট এবং ঠিকাদারি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ২০১৮ সালে প্রকল্পটির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক বছর স্থগিত থাকার পর ২০২৫ সালে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু হয়। এরপর থেকে ভবনটির তলা যুক্ত করার কাজ ধারাবাহিকভাবে চলছে।

    সম্পন্ন হলে জেদ্দা টাওয়ার হবে বিশ্বের প্রথম এক কিলোমিটারের বেশি উচ্চতার ভবন। এতে থাকবে বিলাসবহুল আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট, পাঁচতারকা হোটেল, আধুনিক অফিস স্পেস এবং বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যবেক্ষণ ডেকগুলোর একটি। টাওয়ারটি জেদ্দা ইকোনমিক সিটির প্রধান আকর্ষণ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।

    এই বিশাল উন্নয়ন প্রকল্পের আয়তন প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ বর্গফুট, যার লক্ষ্য সৌদি আরবকে আন্তর্জাতিক ব্যবসা, বিনিয়োগ ও বিলাসবহুল পর্যটনের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত করা।

    বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ খলিফা, যার উচ্চতা ৮২৮ মিটার। কিন্তু জেদ্দা টাওয়ারের চূড়ান্ত উচ্চতা ১,০০০ মিটারেরও বেশি হওয়ায় এটি সম্পন্ন হলে বুর্জ খলিফার রেকর্ড ভেঙে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবনের নতুন ইতিহাস গড়বে।

    প্রকল্পটির নকশা করেছেন বিশ্বের খ্যাতনামা স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান আদরিয়ান স্মিথ+গর্ডন গিল আর্কিটেকচার। কাঠামোগত নকশার দায়িত্বে রয়েছে থর্টন টোমাসেট্টি এবং নির্মাণকাজে অংশ নিচ্ছে সৌদি বিনলাদিন গ্রুপসহ একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান।

    বর্তমান অগ্রগতি অনুযায়ী, নির্মাণকাজের গতি অব্যাহত থাকলে ২০২৮ সালের মধ্যে জেদ্দা টাওয়ার সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে। তখন এটি শুধু সৌদি আরব নয়, বিশ্বের স্থাপত্য ইতিহাসেও নতুন এক মাইলফলক হিসেবে স্থান করে নেবে।

  • পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করবে ভারত সরকার

    পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করবে ভারত সরকার

    বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় কনস্যুলার সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তোলা উচিত। এ ব্যবস্থার আওতায় নিয়মিত ভিসানীতি পর্যালোচনা, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং বৈধ ভ্রমণকারীদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত রাখারও সুপারিশ করা হয়েছে।কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া আরও সীমিত হওয়া এবং নিরাপত্তা–সংক্রান্ত কড়াকড়ি বৃদ্ধি পেলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

    ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক কমিটির নবম প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়নসংক্রান্ত সরকারি জবাবে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি অনুকূলে এলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) যেন নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশে ভিসা কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করে।

    প্রতিবেদনে কমিটি সুপারিশ করেছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় কনস্যুলার সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তোলা উচিত। এ ব্যবস্থার আওতায় নিয়মিত ভিসানীতি পর্যালোচনা, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং বৈধ ভ্রমণকারীদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত রাখারও সুপারিশ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। সরকার কমিটিকে জানিয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত তার মানবিক নীতি অনুসরণ করেছে। তবে ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

  • বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

    বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

    বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য দিনদিন বাড়ছে। এই বাণিজ্য চালিয়ে যেতে মুদ্রা বিনিময়ের পরিমাণও বাড়ছে।

    লেনদেনের সুবিধার্থে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার আজ শুক্রবার বিনিময় হার :

    বৈদেশিক মুদ্রা – বাংলাদেশি টাকা

    মালয়েশিয়ান ১ রিংগিত ৩০ টাকা ৩১ পয়সা

    সৌদির ১ রিয়াল ৩২ টাকা ৮৯ পয়সা

    মার্কিন ১ ডলার ১২৩ টাকা ৩৬ পয়সা

    ইউরোপীয় ১ ইউরো ১৪৪ টাকা ০৩ পয়সা

    ইতালিয়ান ১ ইউরো ১৪৪ টাকা ০৩ পয়সা

    ব্রিটেনের ১ পাউন্ড ১৬৫ টাকা ৬২ পয়সা

    সিঙ্গাপুরের ১ ডলার ৯৬ টাকা ৮০ পয়সা

    অস্ট্রেলিয়ান ১ ডলার ৮৭ টাকা ১৮ পয়সা

    নিউজিল্যান্ডের ১ ডলার ৭২ টাকা ৮১ পয়সা

    কানাডিয়ান ১ ডলার ৮৮ টাকা ১০ পয়সা

    ইউ এ ই ১ দিরহাম ৩৩ টাকা ৭২ পয়সা

    ওমানি ১ রিয়াল ৩২০ টাকা ৫০ পয়সা

    বাহরাইনি ১ দিনার ৩২৮ টাকা ৬৫ পয়সা

    কাতারি ১ রিয়াল ৩৪ টাকা ০১ পয়সা

    কুয়েতি ১ দিনার ৪০২ টাকা ৪৪ পয়সা

    সুইজারল্যান্ডের ১ ফ্রেঞ্চ ১৪৯ টাকা ৯০ পয়সা

    দক্ষিণ আফ্রিকান ১ রান্ড ৭ টাকা ৪৮ পয়সা

    জাপানি ১ ইয়েন ০.৭৮০ টাকা

    ইন্ডিয়ান ১ রুপি ১ টাকা ২৫ পয়সা

  • বিজেপির মুখপাত্রের পদত্যাগ

    বিজেপির মুখপাত্রের পদত্যাগ

    ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অন্যতম পরিচিত মুখ এবং জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনেওয়ালার আকস্মিক পদত্যাগ রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি দলের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক কারণ রয়েছে কিনা, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নিজের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন শেহজাদ পুনেওয়ালা নিজেই। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের পরিচয় পরিবর্তন করেন তিনি। সেখানে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র পরিচয়টি সরিয়ে দেওয়া হলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আজীবন অনুসারী হিসেবে নিজের পরিচয় বহাল রাখেন। পাশাপাশি তিনি নিজের ধর্ম, সাংস্কৃতিক পরিচয় ও আদর্শের কথাও উল্লেখ করেন।

    দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন আলোচনায় বিজেপির অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন শেহজাদ। সরকারের নীতি এবং দলের অবস্থান তুলে ধরতে তিনি নিয়মিত সেখানে অংশ নিতেন। তীক্ষ্ণ বক্তব্য এবং আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক ভাষার কারণে তিনি দ্রুত জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করেন।

    শেহজাদের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল কংগ্রেসের মাধ্যমে। আইনজীবী পেশার পাশাপাশি তিনি দলের তরুণ মুখ হিসেবে পরিচিতি পান। তবে ২০১৭ সালে কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচন নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলে তিনি আলোচনায় আসেন। সে সময় তিনি অভিযোগ করেছিলেন, দলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন নিরপেক্ষ ছিল না এবং পুরো প্রক্রিয়া একটি নির্দিষ্ট নেতৃত্বকে সুবিধা দেওয়ার জন্য পরিচালিত হয়েছে।

    এরপর কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন শেহজাদ। অল্প সময়ের মধ্যেই দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আস্থা অর্জন করে জাতীয় মুখপাত্রের দায়িত্ব পান। এরপর থেকে বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবেই তাকে দেখা গেছে।

    সম্প্রতি একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারের অংশ নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন শেহজাদ। সেখানে তার বক্তব্যে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত ছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। সেই জল্পনার মধ্যেই এলো তার পদত্যাগের ঘোষণা। শেহজাদ পুনেওয়ালা পরিচিত রাজনৈতিক বিশ্লেষক তেহসিন পুনেওয়ালার ছোট ভাই। দুই ভাইয়ের রাজনৈতিক অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই সম্পূর্ণ ভিন্ন। শেহজাদ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তাদের মধ্যে মতাদর্শিক দূরত্ব আরও বেড়ে যায়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সরাসরি আলোচনায় দুই ভাইকে একে অপরের কঠোর সমালোচনা করতেও দেখা গেছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য পারিবারিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলেছে বলে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।

    এদিকে শেহজাদের পদত্যাগ নিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। দলও ব্যক্তিগত কারণের বাইরে অন্য কোনো বিষয় উল্লেখ করেনি। ফলে তার এই সিদ্ধান্ত শুধুই ব্যক্তিগত, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক কারণ রয়েছে- তা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত একজন মুখপাত্রের আকস্মিক পদত্যাগ স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয়। বিশেষ করে এমন সময়ে এই সিদ্ধান্ত এসেছে, যখন বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে বিজেপি বিরোধীদের সঙ্গে তীব্র রাজনৈতিক লড়াইয়ে রয়েছে।

    শেহজাদ ভবিষ্যতে সক্রিয় রাজনীতিতে থাকবেন, নাকি অন্য কোনো ভূমিকায় নিজেকে যুক্ত করবেন- সে বিষয়েও এখনো কিছু জানাননি। ফলে তার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

  • বাংলাদেশে প্রবেশের সময় রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, নিখোঁজ ১৩, উদ্ধার ১৮

    বাংলাদেশে প্রবেশের সময় রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, নিখোঁজ ১৩, উদ্ধার ১৮

    কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ উপকূলে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় একটি রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জেলেরা ১৮ জন রোহিঙ্গাকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। নৌকায় থাকা মাঝিমাল্লাসহ আরও ১৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের দাবি, নিখোঁজদের কেউ কেউ সাঁতরে অন্যত্র উঠেছেন। উদ্ধার হওয়া ১৮ জনকে টেকনাফ-২ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    আজ শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া নৌকা ঘাটসংলগ্ন বঙ্গোপসাগর এলাকায় এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় জেলে এনায়েত জানান, মোট ৩১ জন লোক নিয়ে নৌকাটি শাহপরীরদ্বীপ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছালে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে ডুবে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় জেলেরা তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন।

    সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, মিয়ানমারে সরকারি বাহিনী ও আরাকান আর্মির চলমান সংঘর্ষের কারণে তাঁরা বাংলাদেশে আশ্রয়ের উদ্দেশে পালিয়ে আসছিলেন। শাহপরীরদ্বীপ উপকূলে পৌঁছার পর নৌকাটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে জীবিতদের উদ্ধার করে।

    উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের এক আত্মীয় নুরুল আমিন দাবি করেন, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে মিয়ানমারে গিয়েছিলেন এবং আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তাঁরা পুনরায় বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করলে এই দুর্ঘটনার শিকার হন।

    এ দিকে আজ বিকেল ৫টার দিকে বিজিবি উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের টেকনাফ মডেল থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ বিষয়ে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

  • অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক বসাতে ভারতের তদন্তের মুখে বাংলাদেশ, যোগ হলো আরেক পণ্য

    অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক বসাতে ভারতের তদন্তের মুখে বাংলাদেশ, যোগ হলো আরেক পণ্য

    বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হওয়া পলিইথিলিন টেরেফথালেট (পিইটি) ফিল্মের বিরুদ্ধে অ্যান্টি–ডাম্পিং তদন্ত শুরু করেছে ভারত। পিইটি ফিল্ম মূলত খাদ্য, ওষুধ, প্রসাধনী ও শিল্পপণ্যের মোড়ক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

    তদন্তের অংশ হিসেবে আগামী ৬ আগস্ট ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে মৌখিক শুনানির আয়োজন করেছে দেশটির বাণিজ্য প্রতিকার মহাপরিদপ্তর (ডিজিটিআর)। ডিজিটিআর ভারতের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সংস্থা। বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    ডিজিটিআর ১৩ জুলাই এক চিঠিতে শুনানি আয়োজনের কথা জানিয়েছে। চিঠিতে বাংলাদেশের পাশাপাশি চীন ও থাইল্যান্ড থেকে ভারতে রপ্তানি হওয়া পিইটি ফিল্মের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

    ভারতীয় উৎপাদকদের অভিযোগ আমলে নিয়ে এ শুনানির আয়োজন করা হয়েছে বলে সূত্রগুলো জানায়। বাংলাদেশ, চীন ও থাইল্যান্ড থেকে ডাম্পিং মূল্যে পিইটি ফিল্ম ভারতে রপ্তানি হচ্ছে বলে ভারতীয় উৎপাদকদের অভিযোগ। তাদের দাবি, এতে ভারতীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই এই পণ্যের ওপর অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা উচিত।

    অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক কী

    অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক হলো এমন একটি অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক, যা কোনো দেশ তখন আরোপ করে, যখন ওই দেশের কর্তৃপক্ষের ধারণা হয়, বিদেশি প্রতিষ্ঠান অস্বাভাবিক কম দামে পণ্য বিক্রি করে তাদের দেশের শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

    তদন্তে কী হয়

    তদন্তের এ পর্যায়ে বাংলাদেশের রপ্তানিকারক, ভারতীয় উৎপাদক, আমদানিকারক ও অন্য অংশীজনেরা নিজেদের অবস্থান ও যুক্তি তুলে ধরবেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, আকিজ বায়াক্স ফিল্মস লিমিটেডের পাশাপাশি নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন ও ভারতের আবেদনকারী তিন প্রতিষ্ঠান—চিরিপাল পলি ফিল্মস লিমিটেড, ইস্টার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও ভ্যাকমেট ইন্ডিয়া লিমিটেডকে পক্ষ করা হয়েছে।

    ভারতের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, শুনানিতে অংশ নিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আগেই প্রতিষ্ঠানের নাম, দেশের নাম, দেশের কোড নম্বর, ই–মেইল ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, অফিসের নম্বর ও অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তা বা আইনজীবীদের পরিচয় জমা দিতে হবে। শুনানিতে উপস্থাপিত বক্তব্য পরবর্তী সময়ে লিখিত আকারেও দাখিল করতে হবে।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশের জন্য এই তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পিইটি ফিল্ম দেশের সম্ভাবনাময় রপ্তানি পণ্যগুলোর একটি এবং ভারত এই পণ্যের অন্যতম বাজার। ভারতীয় উৎপাদকদের অভিযোগের ভিত্তিতেই ডিজিটিআর অ্যান্টি–ডাম্পিং তদন্ত শুরু করেছে। তবে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি এবং অভিযোগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও হয়নি।

    জানা গেছে, বর্তমান শুনানির উদ্দেশ্য হলো সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ গ্রহণ করা। প্রথমে মৌখিক শুনানি হবে। এরপর লিখিত বক্তব্য, পাল্টা বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য–উপাত্ত পর্যালোচনা করে তদন্ত এগিয়ে যাবে।

    অ্যান্টি–ডাম্পিং তদন্তের ক্ষেত্রে মৌখিক শুনানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এ পর্যায়ে অংশীজনদের বক্তব্য ও নথিপত্র পর্যালোচনার পর তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরি করে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে ভারত সরকার প্রয়োজন মনে করলে অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করতে পারে। আবার অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ না পেলে তদন্তও শেষ করে দিতে পারে।

    যোগাযোগ করলে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির গত সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা পিইটি ফিল্মের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় তথ্য–উপাত্ত নেব এবং ভারত সরকারকে অনুরোধ করব, তারা যেন এর ওপর অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক আরোপ না করে।’ কবে অনুরোধ করা হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শিগগিরই করব।’

    ডাম্পিং হয়নি, দাবি আকিজের

    বাংলাদেশ থেকে ভারতে পিইটি ফিল্মের অন্যতম রপ্তানিকারক আকিজ বায়াক্স ফিল্মস লিমিটেড। এটি আকিজ বশির গ্রুপের একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান, যা ২০১৯ সালে বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু করে। ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত এ কারখানায় পিইটি ফিল্ম তৈরি হয়। এই ফিল্ম মূলত প্যাকেজিং–শিল্পে ব্যবহৃত প্লাস্টিক ফিল্ম। বর্তমানে এটি দেশের একমাত্র বড় উৎপাদক এবং ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এই পণ্য রপ্তানি করে।

    পিইটি ফিল্মের পাশাপাশি কোম্পানিটি বাইঅ্যাক্সিয়ালি ওরিয়েন্টেড পলিপ্রোপিলিন (বিওপিপি), কাস্ট পলিপ্রোপিলিন (সিপিপি) ও স্ট্রেস ফিল্ম উৎপাদন করে। কোম্পানিটির দাবি, বছরে প্রায় ১০ হাজার টন পিইটি ফিল্ম রপ্তানি করা হয় এবং বাকি উৎপাদন দেশের বাজারে বিক্রি হয়। যাত্রার সময় প্রতিষ্ঠানটি বছরে ৪২ হাজার টনের বেশি উৎপাদন সক্ষমতার কথা জানিয়েছিল।

    যোগাযোগ করলে আকিজ বায়াক্স ফিল্মস লিমিটেডের অন্যতম কর্ণধার শেখ বশিরউদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের রপ্তানি বাজারভিত্তিক এবং কোনো ডাম্পিং হয়নি। শুনানিতে তাঁরা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    ভারতভিত্তিক বেসরকারি বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ওরিয়ন মার্কেট রিসার্চের ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক পিইটি ফিল্মের বাজারের আকার এখন প্রায় ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০৩০ সাল নাগাদ এই বাজার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস রয়েছে।

    পিইটি ফিল্ম বাংলাদেশি পণ্যের বিরুদ্ধে ভারতের প্রথম অ্যান্টি–ডাম্পিং তদন্ত নয়। ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের ওপর অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক বহাল রয়েছে। সম্প্রতি এর মধ্যবর্তী পর্যালোচনা শেষে নতুনভাবে শুল্ক বহালের সুপারিশ করেছে ভারতের ডিজিটিআর। এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া হাইড্রোজেন পারক্সাইডের ওপরও ভারতের অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক কার্যকর রয়েছে।

    অতীতে বাংলাদেশের রহিমআফরোজের ব্যাটারির বিরুদ্ধেও অ্যান্টি–ডাম্পিং ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল ভারত। পরে বিষয়টি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) কাঠামোয় আলোচনায় গেলে ভারত সেই উদ্যোগ থেকে সরে আসে। এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া ফ্লোট গ্লাস ও ফিশিং নেটের বিরুদ্ধেও ভারত অ্যান্টি–ডাম্পিং তদন্ত সম্পন্ন করেছে। ভবিষ্যতে এগুলোর ওপরও অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক আরোপের আশঙ্কা রয়েছে।

    বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও গ্যাস–সংকটের বাস্তবতায় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান উৎপাদন খরচের কম দামে ভারতে কোনো পণ্য রপ্তানি করছে, এমনটি বিশ্বাস করা যায় না। রহিমআফরোজের ব্যাটারি নিয়ে ডব্লিউটিওর কাছে যাওয়ার পর আলোচনা পর্যায়ের ৬০ দিনের মধ্যেই ভারত অভিযোগ তুলে নিয়েছিল। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ডব্লিউটিওর কাছে যাওয়ার আরও উদাহরণ তৈরি করতে পারলে প্রতিকার পাওয়া যাবে বলে আমি আস্থা রাখি।’

  • বিদেশে গ্রেপ্তার হলে উদ্ধারে বিশেষ অভিযান, নেতানিয়াহু

    বিদেশে গ্রেপ্তার হলে উদ্ধারে বিশেষ অভিযান, নেতানিয়াহু

    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইউরোপের কোনো দেশে তিনি গ্রেপ্তার হলে তাঁকে মুক্ত করতে ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনী অভিযান চালাবে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।

    নিজের সামরিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি ওই বাহিনীতে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেছি। এবার চলুন, তাদের একটি নতুন মিশন দেওয়া যাক।’ বিদেশে গ্রেপ্তার হলে তাঁকে উদ্ধারে ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে, এমন ইঙ্গিত দেন নেতানিয়াহু।

    গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। মূলত এ পরোয়ানার প্রেক্ষাপটেই তাঁর এমন মন্তব্য এল। এ ছাড়া সম্প্রতি নিউইয়র্কের মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানি জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিয়ে নেতানিয়াহু নিউইয়র্ক এলে তাঁকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন।

    রোম সংবিধি অনুযায়ী, আইসিসির সদস্যরাষ্ট্রগুলো সাধারণত আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করাসহ যাবতীয় বিষয়ে সহযোগিতা করতে বাধ্য। যদিও এ বাধ্যবাধকতা প্রয়োগের বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে।

    বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ অবশ্য আগেই জানিয়েছে, নেতানিয়াহু তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে তারা আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে।

    তবে এ ধরনের উদ্ধার অভিযান কীভাবে চালানো হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট দেশের অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে এমন সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হলে তা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। এর ফলে বড় ধরনের কূটনৈতিক বিরোধ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    গাজায় জাতিগত হত্যার কারণে নেতানিয়াহু যখন বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন এবং আইসিসির পদক্ষেপের বিষয়ে বিভিন্ন দেশ কীভাবে সাড়া দেবে তা নিয়ে বিতর্ক চলছে, ঠিক তখন তাঁর এ বক্তব্য সামনে এল।

    বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কারণে নেতানিয়াহুর বিদেশ সফর বেশ জটিল হয়ে পড়েছে। পরোয়ানা কার্যকর হতে পারে—এমন ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো এড়িয়ে চলতে এখন তাঁকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে গন্তব্য নির্ধারণ করতে হচ্ছে।

  • কারাকোরামে তুষারধস, নিখোঁজ ১০ আন্তর্জাতিক পর্বতারোহী

    কারাকোরামে তুষারধস, নিখোঁজ ১০ আন্তর্জাতিক পর্বতারোহী

    পাকিস্তানের কারাকোরাম পর্বতমালার ৮ হাজার ৪৭ মিটার উচ্চতার ব্রড পিকে তুষারধসে বিশ্বখ্যাত পর্বতারোহী নির্মল ‘নিমস’ পুরজার নেতৃত্বাধীন একটি আন্তর্জাতিক অভিযাত্রী দলের ১০ সদস্য নিখোঁজ হয়েছেন।

    গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তুষারধসের পর তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে জানিয়েছে দেশটির আলপাইন ক্লাব পাকিস্তান (এসিপি)। নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার ও স্থল উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।

    এসিপি বলছে, নিখোঁজ দলে আছেন হুনজার পাকিস্তানি পর্বতারোহী সোহেল সাখি, নেপালের পাঁচজন পর্বতারোহী, একজন মার্কিন, একজন ওমানি, একজন চীনা এবং আরও একজন বিদেশি পর্বতারোহী। অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন নেপালি বংশোদ্ভূত খ্যাতিমান পর্বতারোহী নির্মল ‘নিমস’ পুরজা।

    অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন নেপালি বংশোদ্ভূত খ্যাতিমান পর্বতারোহী নির্মল পুরজা

    আলপাইন ক্লাবের সদস্য কারার হায়দরি বলেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলেই সরকারি সংস্থা ও উদ্ধারকর্মীদের সহায়তায় হেলিকপ্টার এবং স্থলপথে উদ্ধার অভিযান শুরু হবে।

    জিপিএস তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, তুষারধসে পর্বতারোহীরা প্রায় এক কিলোমিটার নিচে ছিটকে পড়েছেন এবং সম্ভবত তুষারের নিচে আটকা পড়ে আছেন।

    গত বুধবার ব্রড পিকের চূড়ায় ওঠার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল দলটি। আজ শুক্রবারের মধ্যে চূড়ায় পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল তারা।

    এসিপির সাধারণ সম্পাদক আয়াজ শিগরি বলেন, গতকাল ক্যাম্প–৩-এর দিকে যাওয়ার সময় তুষারধসের ঘটনা ঘটে।

    এক বিবৃতিতে আলপাইন ক্লাব জানিয়েছে, নিখোঁজ পর্বতারোহীদের নিরাপদ উদ্ধারের আশা করছে তারা। একই সঙ্গে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবার এবং আন্তর্জাতিক পর্বতারোহী সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।

    গাশেরব্রুম–২ জয় আট সদস্যের

    একই দিনে পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের পর্বতগুলোতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কে–২, গাশেরব্রুম–১ ও ব্রড পিকে ২০০–এর বেশি বিদেশি পর্বতারোহী উঁচু ক্যাম্পগুলোর দিকে অগ্রসর হয়েছেন।

    গতকাল ভোরে আট সদস্যের একটি আন্তর্জাতিক দল ৮ হাজার ৩৫ মিটার উচ্চতার গাশেরব্রুম–২ শৃঙ্গ জয় করেছে। সেভেন সামিট ট্রেকস জানিয়েছে, ভোর ৪টা ৫০ মিনিট থেকে ৫টা ৫ মিনিটের মধ্যে তারা চূড়ায় পৌঁছায়।

    গাশেরব্রুম–২ চূড়া জয় করা দলে ছিলেন ব্রিটিশ–পাকিস্তানি পর্বতারোহী নাদিয়া আজাদ, ব্রাজিলের রোমান আন্দ্রাদে রোমানচিনি এবং নেপালের ছয়জন শেরপা। ওই ছয় শেরপা হলেন লাকপা শেরপা, লাখপা তেম্বা শেরপা, পাসাং তেনজে শেরপা, তাশি শেরপা, নিগমা দোরচি শেরপা ও দাওয়াসাঙ্গে শেরপা। এঁদের মধ্যে পাসাং তেনজে শেরপা অতিরিক্ত অক্সিজেন ছাড়াই আরোহণ করেন।

    এই অভিযানে লাখপা তেম্বা শেরপা তাঁর ১৪তম ও শেষ ৮ হাজার মিটার উচ্চতার শৃঙ্গ জয় করেছেন। অন্যদিকে নাদিয়া আজাদের এটি পঞ্চম ৮ হাজার মিটার উচ্চতার শৃঙ্গ জয়। এর আগে তিনি এভারেস্ট, লোৎসে, অন্নপূর্ণা ও মানাসলু জয় করেছিলেন।

    দলটি অ্যাক্লিমাটাইজেশনের বিভিন্ন ধাপ শেষ করে ২১ জুলাইয়ের পর অনুকূল আবহাওয়ার অপেক্ষায় বেসক্যাম্পে ছিল। পরে বুধবার ক্যাম্প–৩ থেকে তারা চূড়া জয়ের চূড়ান্ত অভিযান শুরু করে।

  • বিদেশিদের চাকরিতে যুক্তরাষ্ট্রের ১ লাখ ডলার ফি

    বিদেশিদের চাকরিতে যুক্তরাষ্ট্রের ১ লাখ ডলার ফি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে চাকরি করতে ইচ্ছুক বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ১ লাখ ডলার ফি আরোপের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এ পদক্ষেপ কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, প্রশাসন অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) কর্মসূচির সঙ্গে এ ফি যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

    এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থীরা মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ছাত্র ভিসায় এক থেকে তিন বছর যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগ পান।

    প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণে নির্ভরশীল মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্নাতকদের প্রযুক্তিগত পদে নিয়োগ দেওয়া সিলিকন ভ্যালি ও ওয়াল স্ট্রিটের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

    সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রায় ৪ লাখ ১৯ হাজার বিদেশি নাগরিক ওপিটি কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ছিলেন।

    এর আগে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের এইচ-১বি ভিসা আবেদনের জন্য বছরে ১ লাখ ডলার ফি আরোপের ঘোষণা দিয়েছিল। তবে গত সপ্তাহে একটি মার্কিন আপিল আদালত সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়া স্থগিত রাখে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন ওপিটি ফি আরোপের প্রস্তাবটি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগে আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে।

    হোয়াইট হাউস শেষ পর্যন্ত এটি অনুমোদন দেবে কি না এবং ফি শিক্ষার্থীরা নাকি তাদের সম্ভাব্য নিয়োগকর্তা পরিশোধ করবে, সে বিষয়েও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

  • তেহরান থেকে রিয়াদ: যেভাবে সীমারেখা টেনে দেয় ইসরাইল

    তেহরান থেকে রিয়াদ: যেভাবে সীমারেখা টেনে দেয় ইসরাইল

    ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রকে আরেকটি যুদ্ধে জড়িয়ে দিয়েছে, আর নিজে দর্শকের আসনে বসে মার্কিন করদাতাদের সেই যুদ্ধের খরচ বহন করতে দেখছে। ধারের টাকায় কেনা বোমাগুলো পুড়ছে ছাই হয়ে। ডোনাল্ড ট্রাম্প, বেনিয়ামিনের নেতানিয়াহু উসকানিতে যুদ্ধে পা দেওয়ার আগে যে প্রণালীটি পুরোপুরি উন্মুক্ত ছিল, তা পুনরায় চালুর অজুহাতে পেট্রোল পাম্পে পেট্রোলের দাম এবং মূল্যস্ফীতির চাপে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার চলে যাচ্ছে। এখন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিরাপদ দূরত্বে বসে মার্কিন বাহিনী ও ইরানের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্রের খেলা দেখে মুচকি হাসছেন—যে যুদ্ধের জন্য তিনি বছরের পর বছর ধরে ওয়াশিংটনকে ঠেলে দিয়েছেন।

    এদিকে দেশে মার্কিন সৈনিকদের কফিন এসে পৌঁছাচ্ছে—একটি যুদ্ধের বলি হয়ে, যার সূচনা করেছিল ইসরাইল আর তা বাস্তবায়ন করল মার্কিন সৈন্যরা। অন্যদিকে কংগ্রেসে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিষয়ক সচিব (প্রতিরক্ষামন্ত্রী) পিট হেগসেথ সিনেটের কাছে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য আরো অর্থ বরাদ্দের আবেদন করছেন।

    আইনপ্রণেতাদের এমন একটি যুদ্ধের চেক সই করতে বলা হচ্ছে, যা শুরু করার অনুমোদন তারা কখনো দেননি; যে যুদ্ধের লক্ষ্য ওয়াশিংটন নির্ধারণ করেনি এবং যার সমাপ্তি কখন বা কীভাবে হবে—তার কোনো হিসাবও কারো জানা নেই।

    অন্যদিকে দখলকৃত ফিলিস্তিনে ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ এক আবাসন সম্মেলনে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘ইসরাইলের এই অভিযানে যোগ দেওয়ার কোনো আগ্রহ নেই… ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই সীমাবদ্ধ সংঘাতটিই [পরিস্থিতি] আমাদের [ইসরাইলের] জন্য সবচেয়ে সঠিক ও লাভজনক।” সহজ ভাষায় বললে, আসুন আমরা বসে বসে দেখি আমেরিকানরা মরছে এবং আমাদের যুদ্ধের জন্য মূল্য দিচ্ছে।

    সংগত প্রমাণ, যুক্তরাষ্ট্র যখন এই অঞ্চলজুড়ে নিজের সামরিক ঘাঁটিগুলো রক্ষা করতে গিয়ে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ শেষ করে ফেলছে, তখন ইসরাইল তাদের নিজস্ব ইন্টারসেপ্টরগুলো জমিয়ে রাখছে। ইসরাইল তাদের মজুদ খরচ করছে না। তারা সেই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করছে যখন আমেরিকানদের ভাঁড়ার শূন্য হয়ে যাবে এবং উপসাগরীয় দেশগুলো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে। আর ঠিক তখনই, ইসরাইলি ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হবে এক বহুমূল্য অস্ত্র—যা তারা বিশাল মূল্যের বিনিময়ে ইউএই (সংযুক্ত আরব আমিরাত) এবং বাকি উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে বিক্রি করবে।

    গত রোববার ‘ফক্স নিউজ’-এ সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় নেতানিয়াহু আমেরিকার সামনে ইরান যুদ্ধের লক্ষ্যসমূহ তুলে ধরেন। একজন বিদেশি প্রধানমন্ত্রী আমেরিকান প্রচারমাধ্যমে এসে কার্যত একটি মার্কিন যুদ্ধের শর্ত ও শেষ মুহূর্তের সময়সীমা নির্ধারণ করে দিচ্ছেন—যে যুদ্ধ মার্কিন পাইলটরা লড়ছেন, মার্কিন করদাতারা অর্থায়ন করছেন এবং এখন দৃশ্যত তা ইসরাইলের ইচ্ছাতেই সমাপ্ত হবে। ট্রাম্প যাই চুক্তি করেন বা ওয়াশিংটন যাই সিদ্ধান্ত নিক না কেন, নেতানিয়াহু আগেই আমেরিকাকে জানিয়ে দিয়েছেন যে সেগুলোর কোনো মূল্য নেই। তিনি ইসরাইলের শর্তে যুদ্ধ শেষ করার জন্য স্রেফ অপেক্ষা করছেন না, বরং তিনি সিদ্ধান্তটি চাপিয়ে দিচ্ছেন।

    তবে কেবল আমেরিকার যুদ্ধ নীতিই নয়, কূটনীতি এবং বাণিজ্যও তেল আবিবের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। ওয়াশিংটন যখন সৌদি আরবের সঙ্গে একটি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করল এবং উভয় সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর চুক্তির কালি শুকানোর আগেই—একদিনের মাথায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার অবস্থান থেকে সরে এলেন। তিনি ঘোষণা দিলেন, চুক্তিটি বাস্তবায়নের আগে সৌদি আরবকে অবশ্যই ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে।

    ওয়াশিংটনের নীতি তারা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করে, তা নিয়ে ইসরাইলি কর্মকর্তারা কোনো কূটনৈতিক রাখঢাকও করেন না। ট্রাম্প নতুন শর্ত যোগ করার আগেই ইসরাইলের সংস্কৃতি ও ক্রীড়ামন্ত্রী মিকি জোহর ‘আর্মি রেডিও’-কে বলেছিলেন, ‘ইসরাইল তার রেড লাইনগুলো সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে স্পষ্ট। এ এমন এক সরকারের কথা, যারা বোঝে যে তাদের হাতে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা আছে, তারা রেড লাইন নির্ধারণ করে এবং আমেরিকা তাদের কথা শোনে।

    ‘ইসরাইল আমেরিকার কাছে তাদের ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমার বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে। এগুলো এমন এক সরকারের বক্তব্য, যারা ভালো করেই জানে যে নীতি ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা তাদের হাতেই রয়েছে এবং তারা নির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণ করে দিলে আমেরিকা তা মেনে চলে।

    একটু ভেবে দেখুন, বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশ, অর্থাৎ উপসাগরীয় নিরাপত্তা কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা একটি দেশের সঙ্গে আমেরিকার একটি বাণিজ্যিক ও কৌশলগত চুক্তি নিয়ে একজন ইসরায়েলি মন্ত্রী প্রকাশ্যে রেড লাইনের কথা বলছেন। এই কাঠামোটি ওয়াশিংটন কয়েক দশক ধরে গড়ে তুলেছে। সৌদি চুক্তিটি যে আমেরিকার জ্বালানি ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করে, তাতে কিছু যায় আসেনি। গুরুত্বপূর্ণ ছিল শুধু এই যে, তেল আবিব তখনও এতে স্বাক্ষর করেনি।

    মূল প্রশ্ন এটি নয় যে ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ কৌশল নির্ধারণের চেষ্টা করছে কি না, কিংবা তাদের নেতারা ওয়াশিংটনের জন্য কোনো সীমা বা শর্ত নির্ধারণ করছে কি না। আসল প্রশ্ন হলো—আমেরিকার সমস্ত রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা কেন বিশ্ব ক্ষমতার একমাত্র পরাশক্তি হয়েও একটি কৌশলগতভাবে নগণ্য দেশকে তাদের পররাষ্ট্রনীতির ওপর এমন অসামান্য প্রভাব খাটাতে দিচ্ছেন?

    ইসরাইলি ‘রেড লাইন’-এর কারণেই আমেরিকার ‘ইসরাইল-ফার্স্টপন্থী আনুগত্যকারীরা হঠাৎ করে আবিষ্কার করলেন যে এই চুক্তিটি নাকি পারমাণবিক অস্ত্র প্রসারের ঝুঁকি তৈরি করবে! বহু দশক ধরে তারা ইসরাইলের অঘোষিত পারমাণবিক অস্ত্রাগারকে সমর্থন জুগিয়ে এসেছে, ক্ষমা করেছে বা উপেক্ষা করেছে।

    অথচ একটি বেসামরিক সৌদি পারমাণবিক কর্মসূচির সম্ভাবনাই তাদের মনে নৈতিক ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে। কারণ আসল বিষয়টি কখনোই পারমাণবিক সংঘাত রোধ ছিল না, ছিল কৌশলী ধারাবাহিকতা বা ‘সিকোয়েন্সিং’। সৌদি আরব ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরদিনই তারা সেই বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচকে বৈধ’ বা ‘হালাল’ বলে মেনে নিতে রাজি হতো, কিন্তু তার আগে নয়। অথচ সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির সম্ভাবনা হঠাৎ করেই নৈতিক ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে। বিষয়টি কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ করা ছিল না। এটি ছিল পর্যায়ক্রমের বিষয়। সৌদি আরব ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরের দিনই তারা একটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিকে বৈধতা দিতে রাজি হবে, তার আগে নয়।

    আরব বিশ্বের রাজধানীগুলো যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন একটি সম্পর্ক চায় যা তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করবে, তবে তাদের সম্পর্ক বা ঘনিষ্ঠতাকে ‘ক্ষমতা’ বা ‘প্রভাব’ বলে ভুল করা বন্ধ করতে হবে। বহু বছর ধরে তাদের কৌশল ছিল অর্থ দিয়ে ক্ষমতা কেনা—জারার্ড কুশনারের মতো শক্তিশালী মধ্যস্থতাকারীদের পেছনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঢেলে তাকে ওভাল অফিসের গোপন দরজা হিসেবে ব্যবহার করা।

    কিন্তু কুশনার কোনো নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী নন। তিনি ইসরাইল-প্রথম নীতির একজন প্রবক্তা, যিনি হোয়াইট হাউস-পরবর্তী সময়ে আরব পুঁজির ওপর ভিত্তি করে নিজের সম্পদ গড়ে তুলেছেন এবং ইসরায়েলের পক্ষে মধ্যপ্রাচ্য নীতি নির্ধারণ করেছেন।

    সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এই নির্মম বাস্তবতার শিকার। কুশনার আবুধাবিকে ‘আব্রাহিম আকর্ডস’ -এ রাজি করিয়েছিলেন একটি প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে—ইসরাইলকে সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করলে, বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত আমেরিকান যুদ্ধবিমান—২৩ বিলিয়ন ডলারে পঞ্চাশটি এফ-৩৫—পাওয়া যাবে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সঙ্গে সঙ্গেই তাদের অংশটুকু দিয়ে দেয়—স্বীকৃতি, দূতাবাস, উন্মুক্ত আকাশসীমা। ওয়াশিংটন ইসরাইলকে সেই চুক্তির প্রতিটি সুবিধাই দিয়েছে। কিন্তু সেই যুদ্ধবিমানগুলো কখনোই আসেনি। বছরের পর বছর ধরে ‘প্রযুক্তিগত প্রয়োজনীয়তা’, আটকে থাকা পর্যালোচনা এবং নীরবে চুক্তি পরিবর্তনের পর অবশেষে তা এসেছে।

  • হুতিদের বিরুদ্ধে বড় সামরিক অভিযানে যাচ্ছে সৌদি

    হুতিদের বিরুদ্ধে বড় সামরিক অভিযানে যাচ্ছে সৌদি

    দক্ষিণ লোহিত সাগরে নিজের তেল রপ্তানির ওপর ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দেওয়া অবরোধ ভাঙতে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। মধ্য ইয়েমেনে সমুদ্রপথে এবং সম্ভব হলে স্থলপথে এই অভিযান পরিচালিত হতে পারে বলে ইয়েমেনি সূত্রের বরাতে জানা গেছে।

    ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চল থেকে ইতোমধ্যে সৌদি বাহিনীকে সরিয়ে নিতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, স্থল অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবেই এই সেনা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। একই সময়ে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে বাণিজ্য জাহাজের নিরাপত্তা রক্ষায় একটি বহুজাতিক নৌ জোট গঠনের চেষ্টা জোরদার করেছে রিয়াদ।

    গতকাল বৃহস্পতিবার সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের প্রস্তাবিত বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের সমর্থনে বাংলাদেশ, তুরস্ক, পাকিস্তান, মিসর, সুদান ও জিবুতিসহ ১৪টি দেশ যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। এ ছাড়া লোহিত সাগরের কৌশলগত প্রতিরক্ষায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের প্রভাবশালী দেশ যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালিকে এই জোটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদ।

    উল্লেখ্য, লোহিত সাগরে নৌচলাচল নিরাপদ রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ‘অ্যাসপিডিস’ নামে একটি নৌ-নিরাপত্তা মিশন আগে থেকেই কার্যকর রয়েছে।

    ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ লোহিত সাগরের বিস্তীর্ণ উপকূল বর্তমানে ইরান-সমর্থিত হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত ২০ জুলাই হুতিরা সৌদি জাহাজের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দেয়। তবে সব ধরনের জাহাজের ওপর কর চাপানোর পরিকল্পনার বিষয়টি তারা অস্বীকার করেছে।

    হুতিদের দাবি, সৌদি আরব ইয়েমেনের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিলেই কেবল তারা নিজেদের এই অবরোধ প্রত্যাহার করবে। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে জাতিসংঘ-স্বীকৃত সরকারের পক্ষে সামরিক হস্তক্ষেপ করেছিল সৌদি আরব।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের কারণে আরব উপদ্বীপের অপর পাশে অবস্থিত হরমুজ প্রণালি অচল হয়ে পড়ায় সৌদি তেলের জন্য লোহিত সাগর রুটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে সৌদি অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। তবে বর্তমানে তাদের অর্ধেকেরও বেশি তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ইয়াঙ্কু বন্দরে এনে বাজারজাত করা হচ্ছে।

    সম্প্রতি হুতি বিদ্রোহীরা রিয়াদের বিরুদ্ধে আক্রমণ জোরদার করেছে। গত ২৫ জুলাই তারা সৌদি আরবের ভেতরের কৌশলগত তেল অবকাঠামোতে হামলার দাবি করে। এর আগে সৌদি বিমানবাহিনী ইয়েমেনের হুদাইদাহ বন্দরে হুতি অবস্থানগুলোতে হামলা চালায় এবং লোহিত সাগরে একটি সৌদি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়।

    চলমান পরিস্থিতি সামাল দিতে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক করেছেন। তবে সৌদি আরব স্পষ্ট জানিয়েছে, নিজেদের তেল শিল্প রক্ষায় তারা প্রস্তুত থাকলেও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বাড়াতে চায় না। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বিরোধ এখনো কূটনৈতিক উপায়ে সমাধান সম্ভব বলে মনে করে রিয়াদ।

    একই সঙ্গে ইরাকের তেল অবকাঠামোতে সৌদি তেল স্থাপনায় হামলার জবাবে গত বুধবার ইরাকে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। এতে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন।

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই যৌথ মার্কিন-সৌদি হামলা ইরাক সরকারের সম্মতিতেই হয়েছে, যদিও বাগদাদ এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি।

    ইয়েমেনি সূত্রগুলো জানিয়েছে, মধ্য-দক্ষিণাঞ্চলীয় আল-বায়দা প্রদেশ পুনরুদ্ধারে সৌদি বাহিনী জমায়েত হচ্ছে। ২০২০-২১ সালে অঞ্চলটি দখল করে নিয়েছিল হুতিরা। যদি ওমান ও ইরানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার কোনো সমঝোতা হয়, তবে ইয়েমেনের এই উত্তেজনা কমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • ইরানে টানা ১৪ দিন বিমান হামলার প্রস্তাব দিলেন ট্রাম্পের জেনারেল

    ইরানে টানা ১৪ দিন বিমান হামলার প্রস্তাব দিলেন ট্রাম্পের জেনারেল

    হামলায় চার মার্কিন সেনা নিহতের পর ইরানের বিরুদ্ধে ১০ থেকে ১৪ দিনের তীব্র বিমান হামলার একটি সামরিক প্রস্তাব পর্যালোচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রতিবেদনে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, আলোচনার মধ্যে ‘ট্রাম্প সংঘাত বাড়ানোর মেজাজে রয়েছেন’, তবে এই জবাবের ‘পরিসর কতটা হবে’ তা নিয়ে তিনি এখনও চিন্তাভাবনা করছেন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এই পরিকল্পনাটি উত্থাপন করেছেন। পরিকল্পনাটির মূল কৌশল হলো ‘সর্বাত্মক শক্তি প্রয়োগ’ করে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা অচল করে দেওয়া।

    অ্যাডমিরাল কুপারের মতে, ইরানের হুমকি ‘উল্লেখযোগ্যভাবে নিষ্ক্রিয়’ করতে এবং বর্তমান অচলাবস্থা ভাঙতে ওয়াশিংটনকে অবশ্যই বিমান হামলার তীব্রতা বাড়াতে হবে।

    তিনি যুক্তি দেন, তেহরানের আক্রমণাত্মক সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করতে পারলে পরবর্তীতে মার্কিন বাহিনীকে আর শুধু আত্মরক্ষামূলক অস্ত্রের ওপর নির্ভর করতে হবে না।

    এর আগে কুপারের দেওয়া এক মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছিল, প্রাথমিক বিমান হামলার জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুগুলো ‘প্রায় শেষ হয়ে এসেছে’। ফলে নতুন কোনো কৌশলগত সাফল্য পেতে হলে সর্বাত্মক লড়াইয়ের মাধ্যমে বড় ধরনের সংঘাত বাড়িয়ে তোলা ছাড়া বিকল্প নেই।

    অভ্যন্তরীণ মতদ্বৈধতা ও উদ্বেগ

    তবে সেন্টকম প্রধানের এই পরিকল্পনার বিপক্ষে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন যৌথ বাহিনীর প্রধান জেনারেল ড্যান কেইন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধমূলক মিসাইলের মজুদ কমে যাওয়া’র বিষয়টি তুলে ধরে তিনি হোয়াইট হাউসকে সতর্ক করেছেন।

    কেইন জানান, বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করা অসম্ভব নয়, তবে গোলাবারুদের ঘাটতির কারণে এটি মার্কিন বাহিনী ও আঞ্চলিক মিত্রদের বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলবে।

    এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের খবর ছড়িয়ে পড়লেও পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, অ্যাডমিরাল কুপার এবং জেনারেল কেইন মিশন বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ একমত ও ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন।

  • ‘আপনার নিজের বাড়ি আছে, আমরা আমাদের বাড়িকে মিস করি’ সার্জিও গোরের কাছে  রোহিঙ্গারা

    ‘আপনার নিজের বাড়ি আছে, আমরা আমাদের বাড়িকে মিস করি’ সার্জিও গোরের কাছে রোহিঙ্গারা

    রোহিঙ্গা সংকটের সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং ক্যাম্পের মানবিক অবস্থা সরেজমিনে দেখতে কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শনে আসা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সামনে স্বদেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা। শুক্রবার উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় সার্জিও গোরের গাড়িবহরের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন রোহিঙ্গারা। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘You have your home! We miss our home!’ বাংলায় যার অর্থ, ‘আপনার নিজের বাড়ি আছে, আমরা আমাদের বাড়িকে মিস করি।’ প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে তারা মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি জানান।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশেষ দূতের সফরকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গারা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাবাসনের দাবি তুলে ধরেন। অনেকেই নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা জানান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।

    প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুর রহিম জানান, রোহিঙ্গারা শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি তুলে ধরেন। তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন এবং নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা জানান।

    রোহিঙ্গা নেতা মো. জুবায়ের বলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর ধরে ক্যাম্পে অনিশ্চিত জীবন কাটাচ্ছি। আমাদের একটাই চাওয়া- নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করে নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই। আমরা আর শরণার্থী হয়ে জীবন কাটাতে চাই না।’

    তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞ। কিন্তু কোনো মানুষ চিরকাল নিজের দেশ ছেড়ে অন্যের আশ্রয়ে থাকতে চায় না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে আমরা নিরাপদে আমাদের মাতৃভূমিতে ফিরতে পারি।’

    ক্যাম্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সফরে সার্জিও গোর রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রা, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ ক্যাম্পের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।

    উল্লেখ্য, তিন দিনের সরকারি সফরে বাংলাদেশে আসা মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোর রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান অবস্থা, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এবং প্রত্যাবাসন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনার অংশ হিসেবে উখিয়ার আশ্রয়শিবিরগুলো পরিদর্শন করেন।

  • জর্ডান থেকে মার্কিন সেনা সরানোর দাবি

    জর্ডান থেকে মার্কিন সেনা সরানোর দাবি

    জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিদ্যমান সামরিক সহযোগিতা চুক্তি বাতিল বা অন্তত বিধিনিষেধ আরোপ করার দাবি তুলেছেন দেশটির ১৩০ জনের বেশি বিশিষ্ট নাগরিক। রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শ্রমিক নেতা ও উপজাতীয় প্রতিনিধিরা এক যৌথ বিবৃতিতে সরকারের প্রতি এ আহ্বান জানান।

    বিবৃতিতে বলা হয়, জর্ডান কোনো আঞ্চলিক যুদ্ধের পক্ষ নয়। তাই দেশটির ভূখণ্ডকে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি কিংবা আঞ্চলিক সংঘাতের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। স্বাক্ষরকারীরা মনে করেন, বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে বিদেশি সেনা উপস্থিতি জর্ডানকে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে।

    তারা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২০২১ সালে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিটি দ্রুত পুনর্বিবেচনা করা সময়ের অনিবার্য দাবি। প্রয়োজনে চুক্তিটি বাতিল অথবা এমনভাবে সংশোধন করতে হবে, যাতে জর্ডানের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা ও জাতীয় স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত থাকে।

    এ আহ্বান এমন সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটছে। এ পরিস্থিতিতে জর্ডানে বিদেশি সেনা মোতায়েন নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরে জনমত আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে বলে মত দিয়েছে বিশ্লেষকরা।

    তবে জর্ডান সরকার এর আগে জানিয়েছিল, দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির আওতায় সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম ও যৌথ নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ হিসেবে কাজ করছে এবং এ উপস্থিতি জর্ডানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান রেখেই পরিচালিত হচ্ছে।

  • বৈশ্বিক বাজারের ১২ শতাংশ দখল করতে পারে বাংলাদেশ

    বৈশ্বিক বাজারের ১২ শতাংশ দখল করতে পারে বাংলাদেশ

    নীতিগত সংস্কার, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্পের সক্ষমতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈশ্বিক ম্যান-মেড ফাইবার (এমএমএফ) পোশাক বাজারের ১২ শতাংশ দখল করতে পারে বাংলাদেশ। এতে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে তুলার ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বৈশ্বিক পোশাক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের (বিএফটিআই) এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ব পোশাকশিল্প দ্রুত তুলাভিত্তিক পণ্য থেকে কৃত্রিম তন্তু বা ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক পোশাকের দিকে ঝুঁকছে। এই পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরদারের একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক এমএমএফ পোশাক বাজারের আকার প্রায় ৩৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি রপ্তানি কৌশলের অংশ হিসেবে এ বাজারে উল্লেখযোগ্য অংশীদারত্ব অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

    বিএফটিআইয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সাইফ উদ্দিন আহমেদ গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের জন্য এই পরিবর্তনের সুযোগ হাতছাড়া করার সুযোগ নেই। বৈশ্বিক এমএমএফ বাজারে উল্লেখযোগ্য অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতে পারলে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো এবং দেশের পোশাকশিল্পের দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি আরো শক্তিশালী হবে।

    গবেষণায় বাংলাদেশকে এমএমএফ পোশাক উৎপাদনের একটি আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত করার রোডম্যাপও তুলে ধরা হয়েছে। এতে ধাপে ধাপে নীতিগত সংস্কার, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের বিকাশ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ খাতের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে এমএমএফ কাঁচামালের শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করা, বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) অনুমোদনের প্রক্রিয়া দ্রুত করা, দেশে পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার ও সিনথেটিক সুতা উৎপাদন সম্প্রসারণ, সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

    এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হলেও বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো মূলত তুলাভিত্তিক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। অথচ বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা ক্রমেই সিনথেটিক ও মিশ্র তন্তুর পোশাকের দিকে সরে যাচ্ছে। ফলে এলডিসি-পরবর্তী বাণিজ্য পরিবেশে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে এমএমএফ খাতের সম্প্রসারণ অর্থনৈতিক প্রয়োজন হয়ে উঠেছে।

    ড. সাইফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, শক্তিশালী নীতিগত সহায়তা এবং সমন্বিত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে এমএমএফ উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারবে বাংলাদেশ।

    প্রতিবেদনে এমএমএফ উৎপাদনকারীদের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা সম্প্রসারণ, বিশেষায়িত ঋণ কর্মসূচি চালু, প্রযুক্তি স্থানান্তরে উৎসাহ দেওয়া এবং অ্যাকটিভওয়্যার, স্পোর্টসওয়্যার ও টেকনিক্যাল টেক্সটাইলের মতো উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এতে দেশের রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য আরও বাড়বে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    ড. সাইফ উদ্দিন আহমেদ আশা প্রকাশ করেন, সরকারের প্রণীত রোডম্যাপ সময়মতো বাস্তবায়ন এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে আগামী এক দশকে কৃত্রিম তন্তুর পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিতে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বাজারের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।

  • বেলুচিস্তানে কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে ৩২ শ্রমিক নিহত

    বেলুচিস্তানে কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে ৩২ শ্রমিক নিহত

    পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশের একটি কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৩২ জন খনিশ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো অন্তত ১০ জন শ্রমিক খনির ভেতরে আটকা পড়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটার উপকণ্ঠে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    পাকিস্তান সরকারের খনি পরিদর্শক ঘানি বালুচ জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে খনির ভেতরে বিষাক্ত মিথেন গ্যাস জমে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা খুবই কম বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

    দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা প্রথমে সাতজনের লাশ উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে আরো ২৫ জনের লাশ বের করে আনা হয়।

    প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খনির গভীরে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে এখনো অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    খনি পরিদর্শক ঘানি বালুচ আরো বলেন, খনিতে আটকে পড়া সব শ্রমিককে শনাক্ত না করা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলবে। তবে মিথেন গ্যাস বিস্ফোরণের পর খনির ভেতরে অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমে যাওয়ায় জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এই কারণে উদ্ধারকারীদেরও অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ চালাতে হচ্ছে।

    বেলুচিস্তানের খনি ও খনিজসম্পদবিষয়ক মন্ত্রী শোয়েব নশেরওয়ানি উদ্ধারকাজে প্রাদেশিক সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি প্রতিটি নিহত খনিশ্রমিকের পরিবারকে পাঁচ লাখ পাকিস্তানি রুপি (প্রায় ১ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলার) ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন এবং খনির নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে পাকিস্তান সেন্ট্রাল মাইনস লেবার ফেডারেশন অভিযোগ করেছে, নিরাপত্তায় চরম অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। সংগঠনটি দায়ী ব্যক্তিদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা, খনির নিরাপত্তাবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা এবং নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনকারী কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

    উল্লেখ্য, পাকিস্তানের কয়লাখনি শিল্পে এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা প্রায়শই ঘটে থাকে। বিশেষ করে বেলুচিস্তানের অনেক খনিতে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা, গ্যাস পর্যবেক্ষণ যন্ত্র ও মৌলিক নিরাপত্তা অবকাঠামোর ব্যাপক অভাব রয়েছে। চরম ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশ ও কম মজুরি সত্ত্বেও ব্যাপক বেকারত্ব এবং দারিদ্র্যের কারণে প্রদেশটির হাজার হাজার মানুষ জীবিকার তাগিদে কয়লাখনির বিপজ্জনক কাজের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন।

  • সৌদি আরবে চালু হলো নওমুসলিম কার্ড

    সৌদি আরবে চালু হলো নওমুসলিম কার্ড

    সৌদি আরব এবার ইসলাম গ্রহণে আগ্রহী ব্যক্তিদের জন্য নওমুসলিম কার্ড সেবা চালু করেছে। ইসলাম, দাওয়াহ ও নির্দেশনা মন্ত্রণালয় কর্তৃক চালু করা এই সেবার মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে এবং সবগুলো ধাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে।

    ইসলাম, দাওয়াহ ও নির্দেশনা মন্ত্রী শায়খ ড. আবদুল লতিফ আল শায়খ মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল ‘নবমুসলিম’ কার্ড সেবা চালু করেন। তিনি বলেন, সরকারি সেবাগুলোকে আরও ডিজিটাল করার প্রচষ্টোর অংশ হিসেবে এ সেবা চালু করা হলো।

    কার্ডটি তাওয়াক্কালনা (Tawakkalna) অ্যাপের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। আবেদন অনুমোদিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কার্ডটি অ্যাপে দেখা যাবে। সোদি ডেটা অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অথরিটি (SDAIA)-এর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সহজেই কার্ডটি দেখতে ও এর সত্যতা যাচাই করতে পারবেন।

    কার্ডে একটি কিউআর কোডও থাকবে। যার মাধ্যমে কার্ডের সত্যতা নিশ্চিত করা যাবে এবং এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্যু করেছে কি না, তা যাচাই করা যাবে।

    এই উদ্যোগের মাধ্যমে তথ্যের মানও উন্নত হবে এবং পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত সদ্ধিান্ত গ্রহণে সহায়তার জন্য আরো নির্ভুল প্রতিবেদন ও পরিসংখ্যান তৈরি করা সম্ভব হবে।

  • ভারতে বসে হাসিনা রাজনীতি করতে পারবেনা-মোদি

    ভারতে বসে হাসিনা রাজনীতি করতে পারবেনা-মোদি

    ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছরের শেষ নাগাদ দেশে ফেরার কথা বলার প্রেক্ষাপটে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারতের মাটিতে বসে তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন না। শুক্রবার দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের বক্তব্য তুলে ধরে সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরামাত্রই শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

    ভারতের লোকসভার পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী সংসদীয় কমিটিকে দেওয়া বক্তব্যে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকার আবেদনের বিষয়টি ভারতীয় আইন ও নিয়মমাফিক পর্যালোচনার অধীন রয়েছে।

    কংগ্রেস এমপি শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন এই সংসদীয় কমিটি উল্লেখ করেছে, গুরুতর বিপদ বা প্রাণসংশয়ে পড়া ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার যে হাজার বছরের মানবিক ঐতিহ্য ভারতের রয়েছে, সেই নীতিতেই শেখ হাসিনাকে সেখানে থাকতে দেওয়া হয়েছে।

    তবে কমিটি আরও উল্লেখ করে, এই মানবিক আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত সবসময় একটি কঠোর নীতি মেনে চলে—আর তা হলো, ভারতের মাটিকে ব্যবহার করে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দেওয়া যাবে না।

    ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সর্বশেষ প্রতিবেদনে কমিটি সুপারিশ করেছে, ভারতের উচিত এই নীতিগত ও মানবিক অবস্থান ধরে রাখা এবং একইসঙ্গে পুরো বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে সামাল দেওয়া।

    সংসদীয় এই কমিটি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত স্বাভাবিক করার ওপর জোর দিয়েছে। ভিসা সীমিত থাকার কারণে দুই দেশের সুসম্পর্ক ও সাধারণ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দুই বছর বন্ধ ছিল ভারতীয় পর্যটন ভিসা। এ বছরের ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য আবার ভিসা দেওয়া শুরু করেছে ভারত।

    এদিকে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ এ বছরই শেষ হতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত কোনো বিলম্ব ছাড়াই ঢাকার সাথে আলোচনা শুরু করার তাগিদ দিয়েছে কমিটি। ২০২৬ সালে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া এই চুক্তির নবায়নে নতুন পানিসম্পদ সংক্রান্ত তথ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে এই আলোচনায় পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য সরকারকেও যুক্ত রাখার কথা বলা হয়েছে।

    পাশাপাশি, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষার বিষয়টি ভারতের কূটনৈতিক আলোচনার অন্যতম প্রধান অংশ হিসেবে বজায় রাখার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে স্থায়ী কমিটি।

  • ‘আমি দলে জায়গা পাইনি’ চিরকুট লিখে ভারতীয় নারী ক্রিকেটারের আত্মহত্যা

    ‘আমি দলে জায়গা পাইনি’ চিরকুট লিখে ভারতীয় নারী ক্রিকেটারের আত্মহত্যা

    ভারতে দলে সুযোগ না পেয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক নারী ক্রিকেটার। ভারতের নাগপুরে এই ঘটনাটি ঘটেছে।

    বিদর্ভ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের দলে সুযোগ না পেয়ে ১৭ বছর বয়সী এই নারী ক্রিকেটার আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। ইন্ডিয়া টুডে, টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ বেশ কয়েকটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই খবর দিয়েছে।

    টাইমস অব ইন্ডিয়া তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, মেয়েটির নাম অদিতি চৌখান্ডে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত তরুণীর বাড়ি মহারাষ্ট্রের আকোলায়। ভালো মানের ক্রিকেট প্রশিক্ষণের জন্য দুই বছর ধরে তাঁর মায়ের সঙ্গে নাগপুরে বসবাস করছিলেন। সেখানে একটি ক্রিকেট একাডেমিতে নিয়মিত অনুশীলন করতেন তিনি। তাঁর ভাইও একজন পেশাদার ক্রিকেটার।

    গত বুধবার সকাল সাড়ে ৫টার দিকে নাগপুরের লক্ষ্মীনগর এলাকার একটি বাসা থেকে ওই তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

    ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতে লেখা চিঠি উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। সেখানে লেখা ছিল, ‘আমি দলে জায়গা পাইনি’। চিঠি থেকে পুলিশের ধারণা, দলে সুযোগ না পাওয়ার হতাশাই এই ঘটনার নেপথ্যে কাজ করেছে।

    পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি বিদর্ভের দলে নাম না থাকায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এই ক্রিকেটার। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি চূড়ান্ত তদন্তের পর জানা যাবে।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক সুরতহাল শেষে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।

  • বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনলেন বিরাট-আনুশকা, কী আছে এতে

    বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনলেন বিরাট-আনুশকা, কী আছে এতে

    ভারতের তারকা দম্পতি বিরাট কোহলি ও আনুশকা শর্মা আবারও রিয়েল এস্টেটে বড় বিনিয়োগ করেছেন। মুম্বাইয়ের ভারসোভা এলাকায় একটি বিলাসবহুল আবাসনে প্রায় ১৮ কোটি ২৯ লাখ রুপি মূল্যের নতুন ফ্ল্যাট কিনেছেন তারা।

    ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ফ্ল্যাটটির আয়তন ২ হাজার ৬৪৪ বর্গফুট। বহুতল ভবনের ওপরের দিকের একটি তলায় অবস্থিত এই ফ্ল্যাটের সঙ্গে রয়েছে অতিরিক্ত ৩১৬ বর্গফুট ব্যবহারযোগ্য জায়গা। এছাড়া তিনটি গাড়ি রাখার জন্য নির্দিষ্ট পার্কিং সুবিধাও রয়েছে।

    এর আগে ২০১৬ সালে মুম্বাইয়ের ওরলি এলাকার সমুদ্রঘেঁষা একটি আবাসনের ৩৫তম তলায় ৭ হাজার ১৭১ বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট প্রায় ৩৪ কোটি রুপিতে বুক করেছিলেন বিরাট। চার শয়নকক্ষের সেই ফ্ল্যাটের বুকিং পরে বাতিল করা হয়। ফলে চুক্তিটি বাস্তবায়িত হয়নি।

    নতুন এই ফ্ল্যাটের মাধ্যমে বিরাট-আনুশকার সম্পত্তির তালিকায় আরও একটি সংযোজন হলো। এরই মধ্যে মুম্বাই, গুরুগাঁও ও আলিবাগে তাদের একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি ও জমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করে আসছেন এই তারকা দম্পতি।

    পশ্চিম দিল্লিতে বেড়ে ওঠা বিরাটের গুরুগ্রামের ডিএলএফ ফেজ-১ এলাকায় প্রায় ১০ হাজার বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল বাড়িও রয়েছে। শহরের অন্যতম অভিজাত এলাকায় অবস্থিত বাড়িটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮০ কোটি রুপি। সেখানে ব্যক্তিগত সুইমিং পুল, আধুনিক জিমসহ নানা সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

    ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আলিবাগের আওয়াস সমুদ্রসৈকতের কাছে জিরাড গ্রামে পাঁচ একরের বেশি জমি কেনেন বিরাট ও আনুশকা। জমিটির মূল্য ছিল প্রায় ৩৭ কোটি ৮৬ লাখ রুপি।

    এর আগে ২০২২ সালে আলিবাগেই প্রায় আট একর জমি ১৯ কোটি রুপিতে কিনেছিলেন তারা। পরে সেখানে একটি বিলাসবহুল ভিলা নির্মাণ করেন। সেই ভিলায় রয়েছে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত সুইমিং পুল, বিশেষ নকশার রান্নাঘর, চারটি বাথরুম, জাকুজি, বড় ল্যান্ডস্কেপ বাগান, ছাউনি দেওয়া পার্কিং এবং কর্মীদের থাকার জন্য আলাদা ব্যবস্থা।

  • বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত ইউরোপের ৫৫ দেশের

    বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত ইউরোপের ৫৫ দেশের

    ফিফার বাণিজ্যিক কাঠামোয় বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনার প্রতিবাদে বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপের ৫৫টি ফুটবল ফেডারেশন। বৃহস্পতিবার উয়েফার সদস্য দেশগুলোর এক ভার্চ্যুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি ও দ্য অ্যাথলেটিকসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

    ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সম্প্রতি ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব দেন। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে ফিফার বাণিজ্যিক স্বত্ব ও টুর্নামেন্ট পরিচালনার কার্যক্রম একীভূত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার মূল্যায়নের ওই প্রতিষ্ঠানের একটি অংশের শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহ করতে চায় ফিফা। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের তালিকায় জশুয়া কুশনারের প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটারনাল এর নামও এসেছে।

    শুরু থেকেই এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করে আসছে উয়েফা। ইউরোপীয় ফুটলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির দাবি, ফুটবলের পরিচালনা ও ঐতিহ্যকে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করা উচিত নয়। তাদের মতে, ফুটবলের মূল কাঠামো ও নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ খেলাটির স্বার্থের পরিপন্থী।

    এই অবস্থান থেকেই বৃহস্পতিবারের সভায় উয়েফার ৫৫ সদস্য দেশ আসন্ন বিশ্বকাপ বর্জনের পক্ষে ভোট দেয়।

    বর্তমান সূচি অনুযায়ী, আগামী গ্রীষ্মে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা নারী বিশ্বকাপ। এরপর ২০৩০ সালে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোর যৌথ আয়োজনে বসবে পুরুষদের বিশ্বকাপ। উয়েফার এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দুটি আসরই বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।

    তবে ফিফার প্রস্তাব এখনো সদস্য দেশগুলোর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকি দিয়ে ফিফার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে চায় উয়েফা। এর ফলে প্রস্তাবটি নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনায় নতুন মোড় আসতে পারে।

  • চাঁদার লাখ লাখ টাকা যেভাবে সংগ্রহ করতেন সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

    চাঁদার লাখ লাখ টাকা যেভাবে সংগ্রহ করতেন সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

    ব্যবসায়ী কিংবা প্রবাসীদের মুঠোফোনে হুমকি দেওয়া হতো লাখ থেকে কোটি টাকা চাঁদার জন্য। এরপর বাহকের মাধ্যমে নগদে সংগ্রহ করা হতো চাঁদাবাজির সেই টাকা। চাঁদার টাকা সংগ্রহের জন্য ছিল এলাকাভেদে পৃথক ব্যক্তি। তাঁরা মূলত ইউসুফ নামের এক ব্যক্তিকে চাঁদাবাজির সেই টাকা জমা দিতেন। তিনি এসব টাকা হুন্ডি এবং কয়েকটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিতেন চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের কাছে।

    পুলিশ ও চাঁদাবাজির শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। গত বুধবার সকালে যশোর থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পথে ইমনকে তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইমন পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। বৃহস্পতিবার ইমনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে গত সোমবার সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড় এলাকার ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের নির্মাণাধীন ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা করার পর ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এর আগে ১৩ জুলাই ২ কোটি টাকা চাঁদার জন্য নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিডিএনে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এই দুটি ঘটনার পর মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং ইমনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। যদিও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে চাঁদাবাজিসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন ইমন।

    চাঁদা দাবির আগে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ

    পুলিশ জানায়, চাঁদা চাওয়ার আগে কোনো ব্যক্তির আয়ের উৎস, বর্তমান সম্পদ, নির্মাণাধীন ভবনের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন ইমনের লোকজন। পরিবারের সদস্যদের জীবনবৃত্তান্তও সংগ্রহ করা হয়। তথ্য সংগ্রহের জন্য এলাকাভিত্তিক সোর্স রয়েছে ইমনের।

    তথ্য সংগ্রহের পর চাঁদার জন্য বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করা হয় নির্ধারিত ব্যক্তিকে। কয়েক লাখ টাকা থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হয়। ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের কে কোথায় থাকেন, কী করেন, সব জানানো হয়। দাবি অনুযায়ী চাঁদা না দিলে গুলি করার হুমকি দেন ডেভিড ইমন। নির্ধারিত সময়ে টাকা না পেলে হামলার ঘটনাও ঘটে।

    তথ্য সংগ্রহের পর চাঁদার জন্য বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করা হয় নির্ধারিত ব্যক্তিকে। কয়েক লাখ টাকা থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হয়। ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের কে কোথায় থাকেন, কী করেন, সব জানানো হয়। দাবি অনুযায়ী চাঁদা না দিলে গুলি করার হুমকি দেন ডেভিড ইমন।

    ইমনকে চলতি মাসের শুরুতে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দেওয়া এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তিনি নগরের দক্ষিণ পাহাড়তলীর বড় দিঘিরপাড় এলাকার বাসিন্দা। ইমন গ্রেপ্তার হলেও এখনো ভয়ে রয়েছেন সেই ব্যবসায়ী।

    গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ওই ব্যবসায়ী প্রথম আলোকে বলেন, জুন মাসের শেষের দিকে বিদেশি একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী পরিচয় দিয়ে ডেভিড ইমন তাঁকে ফোন করেন। তাঁর নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবন ও বিভিন্ন ব্যবসার কথা বলে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ইমন। ওই সময় ওই ব্যবসায়ীর ছেলেমেয়েরা কে কোথায় পড়াশোনা করেন, তারও বিস্তারিত বর্ণনা দেন। চাহিদামতো টাকা না দিলে ব্যবসায়ীর কলেজপড়ুয়া বড় ছেলেকে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেন।

    অস্ত্র হাতে ইমনছবি: সংগৃহীত

    ওই ব্যবসায়ী জানান, নিরুপায় হয়ে বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। এর মধ্যে রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছিলেন। কয়েকজনের মাধ্যমে ইমনকে ফোন করা হয়। কিন্তু কারও কথা শুনতে নারাজ ছিলেন ইমন। ইতিমধ্যে নির্মাণাধীন ভবনে হামলা চালানো হয়। মারধর করা হয় নিরাপত্তা প্রহরীকে।

    ওই ব্যবসায়ী বলেন, ‘এরপর আমাকে আবার ফোন করা হয়। চাঁদা দেওয়ার মতো এত টাকা নেই জানিয়ে আমি তাঁকে অনুনয়-বিনয় করে চাঁদা কমানোর অনুরোধ করি। শেষে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা নির্ধারিত হয়। ইমন তখন বলেন, আমার লোকজন নগদে টাকা নেবে। যেখান থেকে বলা হবে, সেখান থেকে নিতে পারবে।’

    ‘তাদের একটি দল তথ্য সংগ্রহ করে, আরেকটি দল নগদ টাকা গ্রহণ করে, আরেকটি হামলা-ভাঙচুর কিংবা গুলিবর্ষণের মতো ঘটনায় জড়ায়। প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা আলাদা দল রয়েছে।’

    কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম

    পরে বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করে ইমনের লোক পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি নগরের অক্সিজেন এলাকায় টাকা নিয়ে যেতে বলেন বলে জানান ওই ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘আমি যেতে রাজি না হওয়ায় একটি অটোরিকশায় করে দুই যুবক বড় দিঘিরপাড়ে আমার বাসার সামনে আসে। নগদ পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে তারা আবার একই গাড়িতে করে চলে যায়।’

    এই ব্যবসায়ীর মতো আরও অন্তত পাঁচজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তাঁরা সবাই নগদে বাহকের কাছে চাঁদার টাকা পরিশোধ করেছেন। তবে নাম প্রকাশ করে এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে তাঁরা রাজি হননি। কারণ জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, ইমন জামিনে বেরিয়ে এলে তাঁদের ক্ষতি করতে পারেন। তা ছাড়া ইমনের অনেক সহযোগী এখনো বাইরে রয়েছেন।

    ইউসুফকে খুঁজছে পুলিশ

    পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় ইমনের লোকজন চাঁদার নগদ টাকা সংগ্রহ করে নিয়ে যেতেন নগরের জিইসি মোড় এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে। সেখানে ইউসুফ নামের এক ব্যক্তিকে জমা দিতেন। পরে তিনি এসব টাকা ইমনের নির্দেশমতো হুন্ডি কিংবা ব্যাংক হিসাবে পাঠাতেন।

    ইমনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য মিলেছে জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, ইউসুফকে ধরার চেষ্টায় রয়েছে পুলিশ। তাঁকে পেলে চাঁদাবাজির টাকা কোথায় যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে।

    চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমন জানিয়েছেন, ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে কৌশল হিসেবে নগদে চাঁদার টাকা নিতেন। এসব টাকা যাঁরা সংগ্রহ করতেন, তাঁরা সাধারণত ওই এলাকার নন। অন্য কোনো এলাকা থেকে এসে চাঁদার টাকা সংগ্রহ করা হতো।

    পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, তাদের একটি দল তথ্য সংগ্রহ করে, আরেকটি দল নগদ টাকা গ্রহণ করে, আরেকটি হামলা-ভাঙচুর কিংবা গুলিবর্ষণের মতো ঘটনায় জড়ায়। প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা দল রয়েছে।

    চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, রিমান্ডে আনার পর ইমনের কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। ইতিমধ্যে পুলিশ তাঁর কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করেছে। চাঁদাবাজি কিংবা হামলার শিকার ভুক্তভোগী লোকজন পুলিশকে এ বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে পারেন।

    ক্রিকেট ছেড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে

    ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তাঁর বাবা মো. মুসা ওমানপ্রবাসী ছিলেন। কয়েক বছর আগে মারা গেছেন।

    স্থানীয় লোকজন জানান, স্কুলে পড়ার সময় থেকেই ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় ইমনের। কাঞ্চননগর থেকে সাইকেলে করে ফটিকছড়ি কলেজ মাঠে এসে অনুশীলন করতেন। পরে নগরের অক্সিজেন মোড়ে খালার বাসায় থেকে নিয়মিত ক্রিকেট প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। খেলতেন চট্টগ্রাম ব্রাদার্স একাডেমিতে। অনুশীলন করতেন কাজীর দেউড়ি স্টেডিয়ামে।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের মাধ্যমে তাঁর দলে যুক্ত হন। সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ গত বছরের ১৫ মার্চ ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী হয়ে ওঠেন ইমন।

    ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন, একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনায় আলোচিত হন মোবারক হোসেন ইমন। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে অন্তত ১৫টি।

    পুলিশের ভাষ্য, ইমন ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন—এমন তথ্য রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তাঁর ছিল। পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া দুজনের একজন ইমন। অন্যজন মোহাম্মদ রায়হান। এর আগে দেশে সন্ত্রাসী দলটির নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি কারাগারে যাওয়ার পর ইমন ও রায়হান দলটির নেতৃত্বে আসেন।

    পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। মোহাম্মদ রায়হান ও ইমন বড় সাজ্জাদের হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছেন।

    গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক দিন আগে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল ইমনের কাছে। এ সময় তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি টাকা নিই এটা ঠিক, তবে সব বড়লোকদের কাছ থেকে।’ সন্ত্রাসের পথ কেন বেছে নিয়েছেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল বড় ক্রিকেটার হব, নয়তো বড়লোক হব। বড়লোক হওয়ার জন্য এই পথে আছি।’

  • ভারতে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন না শেখ হাসিনা: সংসদীয় কমিটিকে মোদি সরকার

    ভারতে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন না শেখ হাসিনা: সংসদীয় কমিটিকে মোদি সরকার

    ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটির মাটি ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন না বলে ভারতীয় সংসদের একটি স্থায়ী কমিটিকে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

    ভারতের সংসদীয় পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের সভাপতিত্বে পরিচালিত কমিটির বৈঠকে বিষয়টি জানানো হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি শেখ হাসিনা চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করার পর এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী এম আসাদুজ্জামান বলেন, শেখ হাসিনা ভারত থেকে দেশে ফিরলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা হতে পারে।

    এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানায়, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকার পাঠানো অনুরোধ ভারতের প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করছে।

    সংসদীয় কমিটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, শেখ হাসিনাকে ভারতে অবস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে দেশটির মানবিক ঐতিহ্য ও সংকটাপন্ন ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার দীর্ঘদিনের নীতির আলোকে। তবে একই সঙ্গে ভারত কঠোরভাবে এ নীতি অনুসরণ করছে যে, তার ভূখণ্ড থেকে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যাবে না।

    ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে সুপারিশ

    ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে সংসদীয় কমিটি সরকারকে মানবিক ও নীতিনিষ্ঠ অবস্থান বজায় রাখার পাশাপাশি এ ধরনের সংবেদনশীল পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনার সুপারিশ করেছে।

    এ ছাড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য দ্রুত স্বাভাবিক ভিসা কার্যক্রম চালুরও আহ্বান জানিয়েছে কমিটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকরণ কমে যাওয়ায় দুই দেশের জনগণের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে এবং তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও প্রভাব ফেলছে।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে পর্যটক ভিসা স্থগিত করার প্রায় দুই বছর পর, ২০২৬ সালের ২৮ জুন বাংলাদেশিদের জন্য আবারও পর্যটক ভিসা চালু করে ভারত।

    গঙ্গা চুক্তি নবায়নে দ্রুত আলোচনার আহ্বান

    ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছর শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ করে সংসদীয় কমিটি ঢাকা-দিল্লির মধ্যে দ্রুত নবায়ন আলোচনা শুরু করার সুপারিশ করেছে।

    কমিটির মতে, চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে হালনাগাদ জলপ্রবাহের তথ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য সরকারের সঙ্গে পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

    সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়টি ভারতের কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অব্যাহতভাবে বিবেচনায় রাখা উচিত।

  • নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তার চান অর্ধেক আমেরিকান

    নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তার চান অর্ধেক আমেরিকান

    ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে তাকে গ্রেপ্তার করা উচিত বলে মনে করেন প্রায় অর্ধেক আমেরিকানতুন একটি ‘ইকোনমিস্ট/ইউগভ’ জনমত জরিপে এমনটি দেখা গেছে।

    জরিপ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা পরোয়ানার ভিত্তিতে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের পক্ষে মত দিয়েছেন ৪৯ শতাংশ মানুষ। এর বিপরীতে ২৭ শতাংশ গ্রেপ্তারের বিরোধিতা করেছেন এবং ২৩ শতাংশ এ বিষয়ে নিশ্চিত নন।

    এর আগে, ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেওয়া নাগরিকদের মধ্যে কমালা হ্যারিসের ভোটারদের ৭৪ শতাংশ নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের সমর্থন করেছেন। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভোটারদেরও প্রায় এক-চতুর্থাংশ (২৩ শতাংশ) তার গ্রেপ্তারের পক্ষে মত দিয়েছেন।

    এই জরিপের ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে, গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের জন্য নেতানিয়াহুকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার যে দাবি—তা এখন ফিলিস্তিনের সমর্থকদের গণ্ডি পেরিয়ে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

    জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন নেতানিয়াহু গাজায় যুদ্ধাপরাধের জন্য দোষী, অন্যদিকে ২৪ শতাংশ এই মতের বিরোধিতা করেছেন। সমান ৪৭ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ড ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

    জরিপে আরও উঠে এসেছে যে, ৪৩ শতাংশ আমেরিকান বিশ্বাস করেন ইসরাইল ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালাচ্ছে, অন্যদিকে ২৪ শতাংশ মনে করেন তা নয়। হ্যারিসের ভোটারদের মধ্যে ৭২ শতাংশ ইসরাইলের আচরণকে গণহত্যা বলে বর্ণনা করেছেন, যার বিপরীতে ট্রাম্পের ভোটারদের মধ্যে এই হার ছিল ২২ শতাংশ।

    গত ২৫ থেকে ২৭ জুলাইয়ের (২০২৬) মধ্যে ১,৫৫৯ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করে ইউগভ।

    গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। আদালত ইসরাইলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধেও একই পরোয়ানা জারি করেছে।

    আমেরিকানদের মধ্যে তাদের সমর্থন ধসের মুখে পড়া ঠেকাতে এবং গাজা সংকটকে নিজেদের মতো উপস্থাপন করতে ইসরাইল যখন মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করছে, তখনই এই জরিপের ফলাফল সামনে এলো।

    চলতি সপ্তাহে পরিচালিত একটি অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) চ্যাটবটগুলো ব্যবহারকারীদের কাছে ইসরাইল ও গাজা সম্পর্কে কী তথ্য দিচ্ছে—তা প্রভাবিত করতে ট্রাম্পের সাবেক ক্যাম্পেইন ম্যানেজার ব্র্যাড পারস্কেলের মালিকানাধীন কোম্পানি ‘ক্লক টাওয়ার এক্স’-কে ৪৬.৫ মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি দিয়েছে ইসরাইল সরকার।

    প্রতিষ্ঠানটি ১০টি ওয়েবসাইট তৈরি করেছে, যেগুলো নিজেদের সংবাদ, গবেষণা বা তথাকথিত ‘ফ্যাক্ট-চেকিং’ উৎস হিসেবে দাবি করে। এগুলো ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে, গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে, ইসরাইলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজবকে হত্যার ঘটনা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করার মতো উপাদান প্রকাশ করে থাকে।

    এই তৎপরতার মূল উদ্দেশ্য হলো ইন্টারনেটকে সুনির্দিষ্টভাবে রচিত ইসরাইলি প্রচারণায় ভরিয়ে দেওয়া, যাতে এআই চ্যাটবটগুলো সেই তথ্যগুলো খুঁজে পায়, সেগুলোর উদ্ধৃতি দেয় বা পরবর্তীতে তা থেকে শিক্ষা নেয়।

    মাইক্রোসফট কোপাইলট, গুগল জেমিনি এবং পারপ্লেক্সিটির মতো এআই পরিষেবাগুলো ইতিমধ্যে ওই ‘ক্লক টাওয়ার’ ওয়েবসাইটগুলোর তথ্য উল্লেখ করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চ্যাটবটগুলো ব্যবহারকারীদের জানায়ওনি যে সাইটগুলো ইসরাইল সরকারের পক্ষ থেকে তৈরি করা হয়েছে।

    নতুন এই জরিপের ফল ইসরাইলের তথ্যভিত্তিক জনমত গঠন ক্যাম্পেইনের মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জের গভীরতাই প্রকাশ করে। এআই, অনলাইন ইনফ্লুয়েন্সার, গণ-মেসেজ, বিজ্ঞাপন এবং কনজারভেটিভ মিডিয়ায় লাখ লাখ ডলার খরচ করার পরও এখন প্রায় অর্ধেক আমেরিকান ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর গ্রেপ্তার চান।

    পরিসংখ্যানগুলো আরো নির্দেশ করে যে, বিশ্বমঞ্চে ইসরাইলের অবস্থান ক্ষুন্ন হওয়াটা কেবল বাজে জনসংযোগের ফল নয়। বরং আমেরিকানদের এক বিশাল অংশ এখন ইসরাইলের সেই আচরণ ও কর্মকাণ্ডকেই সরাসরি প্রত্যাখ্যান করছেন, যা এই প্রচারণাগুলোর মাধ্যমে আড়াল করার চেষ্টা চলছে।

  • ৯৫০ কোটি টাকায় সিঙ্গাপুর থেকে আনা হবে এক কার্গো এলএনজি

    ৯৫০ কোটি টাকায় সিঙ্গাপুর থেকে আনা হবে এক কার্গো এলএনজি

    দেশের গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে সিঙ্গাপুর থেকে এক কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ পদ্ধতিতে কেনা এ গ্যাসের জন্য ব্যয় হবে প্রায় ৯৫০ কোটি টাকা।

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এলএনজি কেনার প্রস্তাবটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

    জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১০৫-এর উপবিধি (৩)-এর দফা (ক) অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ পদ্ধতিতে আগামী ১৫ থেকে ১৬ আগস্ট সরবরাহের জন্য ৪২তম কার্গো এলএনজি কেনা হবে।

    এ লক্ষ্যে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেডকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি ২২ দশমিক ৩৫ মার্কিন ডলার দরে কেনা হবে।

    ক্রয় প্রস্তাব অনুযায়ী, এক কার্গো গ্যাস আমদানিতে সরকারের মোট ব্যয় হবে ৯৪৯ কোটি ৪৩ লাখ ১২ হাজার ১৮৪ টাকা। এ অর্থের মধ্যে অগ্রিম আয়করও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশের পর বৈঠকে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। দেশের বিদ্যমান গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং শিল্প, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খাতে জ্বালানি চাহিদা পূরণে আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ অব্যাহত রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • নিষেধাজ্ঞা’ ফাঁকি দিয়ে ইরানি তেল বিক্রি অব্যাহত

    নিষেধাজ্ঞা’ ফাঁকি দিয়ে ইরানি তেল বিক্রি অব্যাহত

    সব নিষেধাজ্ঞা ও বাধা উপেক্ষা করে বা ফাঁকি দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বহাল রয়েছে ইরানি অপরিশোধিত তেলের গোপন কেনাবেচা।

    আল জাজিরা বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) জানিয়েছে, গত শনিবার ‘হিউম্যানিটি’ নামের ৩৩০ মিটার দীর্ঘ এক বিশাল ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার মালাক্কা প্রণালী ও সিঙ্গাপুর পার হয়। এরপর এটি উত্তর-পূর্ব দিকে ঘুরে মালয়েশিয়া উপকূলের দিকে রওনা দেয় এবং নিজের ডিজিটাল অবস্থান ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বা ‘এআইএস’ সংকেত বন্ধ করে দেয়।

    স্যাটেলাইট ট্র্যাকিংয়ের উপাত্ত অনুযায়ী, দক্ষিণ চীন সাগরে মালয়েশিয়া উপকূল থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে ‘ইস্টার্ন আউটার পোর্ট লিমিটস’ (ইওপিএল) নামের ১,২০০ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত জলসীমায় গিয়ে পৌঁছায় ট্যাংকারটি।

    সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঝসমুদ্রে অবস্থানরত অন্য কোনো জাহাজে তেল স্থানান্তরের প্রস্তুতি নিতেই সংকেত বন্ধ করে আড়ালে চলে যায় হিউম্যানিটি। একে বলা হয় ‘শিপ-টু-শিপ’ স্থানান্তর—যেখানে মাঝসমুদ্রে গোপনে মধ্যস্থতাকারীর জাহাজে জ্বালানি ঢেলে দেয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তেলের চূড়ান্ত গন্তব্য চীন। ইউএস-চীন ইকোনমিক অ্যান্ড সিকিউরিটি রিভিউ কমিশনের তথ্য বলছে, ঐতিহাসিকভাবে ইরান থেকে রপ্তানি হওয়া অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই কিনে নেয়া মূল ক্রেতা চীন।

  • চর্বি কমে গেলেও বাড়তে পারে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি: গবেষণা

    চর্বি কমে গেলেও বাড়তে পারে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি: গবেষণা

    সাধারণভাবে শরীরের মেদ বা চর্বিকে (ফ্যাট) স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মনে করা হয়। অনেকেই ভাবেন, চর্বির পরিমাণ যত কম হবে, শরীর তত বেশি সুস্থ থাকবে।

    অতিরিক্ত ওজন, হৃদরোগ কিংবা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের জন্য অতিরিক্ত চর্বি দায়ী—এ কথা সত্যি হলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন, সব চর্বি ক্ষতিকর নয়। বরং সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য শরীরের নির্দিষ্ট কিছু ভালো বা কার্যকর ফ্যাট টিস্যুর অত্যন্ত প্রয়োজন।

    যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নতুন একটি গবেষণায় দেখা গেছে, শরীর থেকে এই ‘উপকারী’ চর্বি কমে গেলে অজান্তেই বৃদ্ধি পেতে পারে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি। গবেষণাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ডায়াবেটিস শুধু অতিরিক্ত মেদের কারণেই হয় না; বরং কোনো রোগের কারণে উপকারী ফ্যাট টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত বা উধাও হয়ে গেলেও এই রোগ থাবা বসাতে পারে।

    নিচে বিষয়টির বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো। ভালো চর্বি কেন শরীরের জন্য জরুরি?

    আমাদের শরীরের ফ্যাট টিস্যু (অ্যাডিপোজ টিস্যু) কেবল অতিরিক্ত ক্যালরি জমিয়ে রাখে না, এটি একটি সক্রিয় অঙ্গের মতো কাজ করে। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, হরমোন নিঃসরণ এবং প্রদাহ দূর করতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ভালো ফ্যাট সেলগুলো খাবার থেকে আসা অতিরিক্ত মেদ নিরাপদে নিজের মধ্যে জমা রাখে। এর ফলে লিভার, মাংসপেশি বা অগ্ন্যাশয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে ক্ষতিকর চর্বি জমতে পারে না এবং শরীর ইনসুলিনের প্রতি সঠিকভাবে সাড়া দেয়।

    সুস্থ চর্বি কমে গেলে শরীরে কী ঘটে?গবেষকেরা ‘ফ্যামিলিয়াল পারশিয়াল লিপোডিস্ট্রোফি টাইপ ২’ নামের একটি বিরল জিনগত রোগ নিয়ে গবেষণা করেন। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীর থেকে ধীরে ধীরে ভালো চর্বি উধাও হয়ে যায়। ফলে স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন না থাকা সত্ত্বেও তারা ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার এবং রক্তে অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় উপাদানের সমস্যায় ভোগেন।

    রোগীদের ফ্যাট টিস্যু পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, চর্বি কোষগুলো বিলুপ্ত হওয়ার অনেক আগেই তা ক্ষতিগ্রস্ত ও অকার্যকর হতে শুরু করে।

    ফ্যাট সেল ধ্বংস হওয়ার ৩টি ধাপ

    গবেষণায় দেখা গেছে, ফ্যাট সেল ধ্বংস হওয়ার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ কাজ করে:

    ১. ফ্যাট সংরক্ষণে অক্ষমতা: চর্বি কোষগুলো ধীরে ধীরে চর্বি জমা রাখার স্বাভাবিক ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। ২. প্রদাহ সৃষ্টি: ফ্যাট টিস্যুর মধ্যে প্রদাহের সৃষ্টি হয় এবং ইমিউন কোষগুলো অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে ফ্যাট সেলগুলোকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

    ৩. মাইটোকন্ড্রিয়ার অকার্যকারিতা: কোষের শক্তি উৎপাদনকারী কেন্দ্র ‘মাইটোকন্ড্রিয়া’ কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ফলে শক্তির অভাবে ফ্যাট সেলগুলো শুকিয়ে উধাও হয়ে যায়।

    কীভাবে এটি ডায়াবেটিসের দিকে ঠেলে দেয়?

    সুস্থ ফ্যাট সেলগুলো নষ্ট হয়ে গেলে মেদ আর নিরাপদে জমা থাকতে পারে না। তখন এগুলো লিভার ও পেশিতে গিয়ে জমতে শুরু করে, যা ইনসুলিনের স্বাভাবিক কাজে বাধা দেয়। ফলে রক্ত থেকে গ্লুকোজ কোষে প্রবেশ করতে পারে না।

    এ ছাড়া, উপকারী ফ্যাট টিস্যু থেকে নিঃসৃত হরমোন কমতে থাকায় ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়—এমনকি ব্যক্তি শারীরিকভাবে মোটা না হলেও।এতদিন মনে করা হতো ডায়াবেটিস মূলত স্থূলতা এবং অগ্ন্যাশয়ের বিটা সেলের সমস্যার কারণে হয়। তবে এই গবেষণা প্রমাণ করল যে, ভালো ফ্যাট সেলের মান ও কার্যকারিতা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

    ওজন কমানো কি তবে ঝুঁকিপূর্ণ?

    না, সুস্থ উপায়ে ওজন কমানো একদমই ক্ষতিকর নয়। অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তিদের জন্য সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত ঘুমের মাধ্যমে বাড়তি মেদ ঝরানো এখনো ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ প্রতিরোধের সেরা উপায়।

    গবেষণার মূল বার্তা হলো—রোগ বা জিনগত সমস্যার কারণে ফ্যাট সেলের যে ক্ষতি হয় তা প্রতিরোধ করা, সাধারণ স্বাস্থ্যকর ওজন কমানোর প্রক্রিয়াকে নিরুৎসাহিত করা নয়।

  • ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে বহু যুদ্ধবিমান, দফায় দফায় বিস্ফোরণ

    ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে বহু যুদ্ধবিমান, দফায় দফায় বিস্ফোরণ

    ফের উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য। বাজছে যুদ্ধের দামামা। গত শুক্রবার থেকে পাল্টাপাল্টি হামলা স্থগিত থাকার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ফের হামলা শুরু হয়েছে।
    ইরান ইন্টারন্যাশনালের লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে আহভাজ শহরে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সেই সঙ্গে শহরটিতে বহু যুদ্ধবিমানের শব্দও শোনা গেছে।

    বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও- এর বরাতে বলা হয়েছে, শক্তিশালী বিস্ফোরণে শহরটির একটি অংশের বিভিন্ন বাড়ির জানালা ভেঙে পড়েছে।
    স্থানীয় সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, কু-ই রামেজান, সেপিদার এবং বাহোনার জেলা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। সেখানে আইআরজিসির ভবন এবং ৯২তম সাঁজোয়া ডিভিশন ঘাঁটি রয়েছে।

    এ ছাড়া ইরানের কেশম দ্বীপেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর আগে বুধবার মার্কিন বাহিনী জানায়, তারা ইরানে দুই ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালিয়েছে।
    মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ইরানি হামলার জবাবেই যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযান চালিয়েছে।

  • গাজার গণহত্যায় ইসরাইলকে অস্ত্র দিচ্ছে ভারত: অ্যামনেস্টি

    গাজার গণহত্যায় ইসরাইলকে অস্ত্র দিচ্ছে ভারত: অ্যামনেস্টি

    গাজায় চলমান গণহত্যায় ইসরাইলকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ পাঠাচ্ছে ভারত। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অস্ত্র ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ব্যবহার হচ্ছে, তবুও ভারত সরবরাহ বন্ধ করেনি।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় অ্যামনেস্টি। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ভারত থেকে ইসরাইলে পাঠানো ২,৫৯৬টি অস্ত্র, গোলাবারুদ, যন্ত্রাংশ ও সামরিক সরঞ্জামের চালান বিশ্লেষণ করেছে তারা।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় কোম্পানিগুলো ইসরাইলের সামরিক সরবরাহকারীদের কাছে অন্তত ৩ লাখ ৯০ হাজার ৫১৬টি ছোট অস্ত্রের যন্ত্রাংশ, ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৯৭০টি বিস্ফোরক অস্ত্রের উপাদান—যার মধ্যে ড্রোনের ওয়ারহেড ও আর্টিলারি শেলের খোল রয়েছ এবং ২৯৮টি সামরিক যানবাহনের উপাদান সরবরাহ করেছে।

    অ্যামনেস্টির দাবি, বাণিজ্যিক চালানের তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা নিশ্চিত হয়েছে যে এসব পণ্য ইসরাইলের বিভিন্ন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছেছে। যেগুলো পরে দেশটির সেনাবাহিনীর কাছে সরবরাহ করা হয়। যা দিয়ে চালানো হয় গাজায় গণহত্যা।

    এর আগে আল জাজিরাও ভারতের কাস্টমসের ৯১টি রপ্তানি নথি সংগ্রহ করে, যেখানে ২০২৪ সালে ইসরাইলে বোমা ও গ্রেনেড-সংক্রান্ত যন্ত্রাংশ রপ্তানির তথ্য পাওয়া যায়। এসব চালানের ক্রেতাদের মধ্যে ছিল ইসরাইলের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান রাফায়েল এডভান্স ডিফেন্স সিস্টেমস, আইএমআই সিস্টেমস লিমিটেড ও এমসিটি মেটারিয়ালস।

    অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, গাজায় কী ঘটছে তা বিশ্ব প্রতিদিন দেখছে। এরপরও ভারত ইসরাইলের সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারত শুধু অস্ত্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থই নয়। বরং ইসরাইলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করেছে।

    ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত গাজায় সম্ভাব্য গণহত্যা ঠেকাতে ইসরাইলকে ব্যবস্থা নেওয়ার অন্তর্বর্তী আদেশ দেন। এরপর থেকে জাতিসংঘের একাধিক স্বাধীন বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছে।

    Stockholm International Peace Research Institute (SIPRI)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইসরাইলের মোট অস্ত্র রপ্তানির ২৯ শতাংশ গেছে ভারতে, যা দেশটিকে ইসরাইলের অন্যতম বৃহৎ প্রতিরক্ষা ক্রেতায় পরিণত করেছে। একই সময়ে ভারতের অস্ত্র আমদানির ১৫ শতাংশ এসেছে ইসরাইল থেকে।

    ২০২৫ সালের নভেম্বরে দুই দেশ নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে সামরিক, শিল্প ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ঘোষণা দেয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অতীতেও দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

  • মানহানি মামলার রায় বাতিল চান ট্রাম্প

    মানহানি মামলার রায় বাতিল চান ট্রাম্প

    লেখক ই জিন ক্যারলের দায়ের করা মানহানি মামলায় জুরির দেওয়া ৮৩.৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের রায় বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে এই রায় চ্যালেঞ্জ করেছেন তিনি। ট্রাম্পের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগও পৃথকভাবে একই ধরনের আবেদন জমা দিয়েছে।

    ট্রাম্পের আইনজীবীদের মূল দাবি, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বে থাকার সময় ক্যারলকে নিয়ে দেওয়া ট্রাম্পের বক্তব্য ছিল রাষ্ট্রীয় দায়িত্বেরই অংশ। ফলে তিনি এ ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের আইনি দায়মুক্তির সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখেন।

    বিচার বিভাগের ফেডারেল আইনজীবীরা আবেদনে উল্লেখ করেন, শীর্ষ আদালত হস্তক্ষেপ না করলে সরকারি দায়িত্ব পালনের পরিধিতে করা মন্তব্যের জন্য একজন দায়িত্বে থাকা প্রেসিডেন্টকে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার ব্যক্তিগত আর্থিক দায় বইতে হবে।

    আবেদনে ‘ওয়েস্টফল অ্যাক্ট’-এর উল্লেখ করা হয়। এই আইন অনুযায়ী, সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় সংঘটিত নির্দিষ্ট কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ফেডারেল কর্মকর্তারা কিছু দেওয়ানি মামলায় আইনি সুরক্ষা পান।

    ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবীরা ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া ঐতিহাসিক ‘ট্রাম্প বনাম যুক্তরাষ্ট্র’ মামলার রায়ের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। ওই রায়ে প্রেসিডেন্টের ফৌজদারি দায়মুক্তির পরিধি বাড়ানো হয়েছিল। যদিও সেটি মূল সংজ্ঞায় ফৌজদারি মামলার জন্য প্রযোজ্য, ট্রাম্পের আইনজীবীরা সেই একই যুক্তি দেওয়ানি মামলায়ও খাটাতে চাইছেন। তবে নিউইয়র্কের দ্বিতীয় সার্কিট আপিল আদালত গত বছরই এই যুক্তি খারিজ করে দিয়েছিল।

    দীর্ঘ আইনি লড়াই ও জরিমানার ইতিহাস

    এল ম্যাগাজিনের সাবেক কলামিস্ট ই জিন ক্যারল দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দুটি মানহানি মামলা লড়ছেন। ২০১৯ সালে প্রকাশিত ‘হোয়াট ডু উই নিড মেন ফর? আ মডেস্ট প্রপোজাল’ গ্রন্থে তিনি অভিযোগ তোলেন—১৯৯৬ সালে নিউ ইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরের ড্রেসিং রুমে ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণ করেন।

    এই মামলার বিষয়ে ট্রাম্প অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ক্যারল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এই যৌন নিপীড়নের মিথ্যা অভিযোগ সাজিয়েছেন। এই নারী আমার পছন্দের ধরন নন।’

    চলতি বছরের জুনে ৫০ লাখ ডলার জরিমানার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের করা আপিল শুনতে অস্বীকৃতি জানায় সুপ্রিম কোর্ট। এতে সুদ যোগ হয়ে অর্থের পরিমাণ পৌঁছায় প্রায় ৫.৮ মিলিয়ন ডলারে, যা পরিশোধের নির্দেশ দেয় একটি ফেডারেল আদালত।

    এখন ৮৩.৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের বিরুদ্ধে ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের যৌথ এই নতুন আপিল সুপ্রিম কোর্ট শুনানির জন্য গ্রহণ করবে কি-না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

  • মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা প্রতিরোধে সহায়তা করেছে ফ্রান্স-জার্মানি

    মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা প্রতিরোধে সহায়তা করেছে ফ্রান্স-জার্মানি

    জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করেছে জার্মানি ও ফ্রান্সের সামরিক বিমান। ফ্লাইট নেভিগেশন তথ্যের বরাত দিয়ে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি এ খবর জানিয়েছে।

    সংস্থাটি জানায়, এভিয়েশন ট্র্যাকিং সিস্টেমে জর্ডানের আকাশে অন্তত দুটি জার্মান ও ফরাসি বিমানকে মার্কিন বাহিনীকে সহায়তা দিতে দেখা গেছে, যা এই সংক্রান্ত কার্যক্রমের সত্যতা নিশ্চিত করে।

    ফার্স নিউজের বরাতে জানা যায়, নেভিগেশন ডেটায় স্পষ্ট দেখা গেছে যে ওই সামরিক বিমানগুলো জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটির দিকে ইরানের দিকে থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে মাঝপথেই ধ্বংস বা প্রতিহত করতে ওয়াশিংটনকে সাহায্য করেছে।

    প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করতে ব্যর্থ হওয়ার পরই মূলত মার্কিন বাহিনীকে সহায়তায় জার্মানি ও ফ্রান্সের সামরিক বিমানগুলো ময়দানে নামে।

  • জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা, ৩টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের

    জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা, ৩টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের

    ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস দাবি করেছে, তারা জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে।

    ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের কেশম দ্বীপে সম্প্রতি মার্কিন হামলায় একই পরিবারের বাবা-মা ও শিশু নিহত হওয়ার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।

    আইআরজিসির জানিয়েছে, এই হামলায় একটি রানওয়ে ও একটি রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার লক্ষ্যবস্তু করা হয় । ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আরও তিনটি যুদ্ধবিমান ‘গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছে। এছাড়াও, হামলায় বেশ কিছু মার্কিন কর্মকর্তা ও ঘাঁটির কারিগরি ও রক্ষণাবেক্ষণ দলের সদস্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করে আইআরজিসি।

    আইআরজিসি বলেছে, শিশুহত্যাকারী যে বাহিনী মাঝরাতে ঘুমন্ত নিরপরাধ পরিবারগুলোকে নির্মমভাবে হত্যা করে, তাদের জন্য আমাদের এই অঞ্চলে কোনো জায়গা নেই। সংগঠনটি এই হামলাকে ইসলামি ভূমি থেকে শেষ মার্কিন দখলদারকে বিতাড়িত করার সংগ্রামের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

  • কমান্ডারদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি সেনাদের বিদ্রোহ

    কমান্ডারদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি সেনাদের বিদ্রোহ

    ইসরাইলি সেনাবাহিনীর গিভাতি ব্রিগেডের ‘তজাবার’ ব্যাটালিয়নের প্রায় ১০০ জন সেনাসদস্য তাদের কমান্ডারদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে। এসময় তারা তাদের সঙ্গে থাকা অস্ত্র ফেলে রেখে এবং নেগেভ মরুভূমির ‘সদে তেইমান’ ঘাঁটি ছেড়ে চলে গেছে। কমান্ডারদের ওপর ক্ষোভ থেকে আয়োজিত এক প্রতিবাদের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াইনেট’ জানিয়েছে। খবর আলজাজিরা।

    ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্রের মতে, ব্যাটালিয়ন কমান্ডার ব্যাটালিয়নের ‘পুরোনো ও নতুন সেনাদের ঐতিহ্যবাহী বেশ কিছু অস্বাভাবিক ঘটনার’ সঙ্গে জড়িত চিহ্ন বা প্রতীকগুলো সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিলে এই বিরোধের সূত্রপাত হয়।

    ওয়াইনেট জানায়, ‘ব্যাটালিয়নের সেনাদের দাবি অনুযায়ী, অপসারিত প্রতীকগুলো গাজা ও লেবাননে যুদ্ধের সময় তাদের সঙ্গেই ছিল এবং সেগুলো একের পর এক নতুন সেনাদলের হাতে হস্তান্তরিত হয়ে আসছিল। সেনারা এই স্মারকগুলোকে ব্যাটালিয়ন এবং এর ঐতিহ্যের সঙ্গে নিজেদের গভীর আত্মিক যোগাযোগের প্রতীক হিসেবে দেখতেন।’

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘মারিভ’ জানিয়েছে, এই ঘটনার কারণে ব্যাটালিয়নটি গাজায় যে যুদ্ধ অভিযানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তাতে অংশগ্রহণের জন্য অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

    অন্যদিকে ‘ইসরায়েল হায়োম’ পত্রিকা জানিয়েছে, ওই সেনা ও কমান্ডাররা তাদের সামরিক সরঞ্জাম এবং অস্ত্রশস্ত্র ঘাঁটিতেই রেখে কেবল নিজস্ব ব্যক্তিগত ব্যাগ নিয়ে নিজ নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে ঘাঁটি ত্যাগ করেন।

  • ইরানের সাথে সরাসরি সংঘাত থেকে দূরে থাকতে চায় আরব দেশগুলো

    ইরানের সাথে সরাসরি সংঘাত থেকে দূরে থাকতে চায় আরব দেশগুলো

    ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার ভয়াবহ সংঘাত থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ দূরে রাখাই এখন আরব দেশগুলোর একমাত্র মূল লক্ষ্য। উত্তেজনা চরমে উঠলেও মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশই এই যুদ্ধের সরাসরি অংশ হতে চাইছে না। আরাব পারসপেক্টিভস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এবং মিডল ইস্ট কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স-এর গবেষক জাইদুন আলকিনানি এই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলেছেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে যারা এই সামরিক উত্তাপের একদম কাছে রয়েছে, সেই আরব দেশগুলোর একটাই স্পষ্ট অবস্থান—তারা কোনোভাবেই এক পক্ষের বদলে আরেক পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার বিপজ্জনক চক্রে জড়িয়ে নিজেদের অস্তিত্ব ঝুঁকিতে ফেলবে না।

    আল জাজিরা বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) জানায়, আলকিনানির মতে, সংঘাতের কেন্দ্রস্থলে থাকা আরব দেশগুলো দূরত্ব বজায় রাখার প্রাণপণ চেষ্টা করলেও ইরান ও ইসরাইল হাঁটছে ঠিক বিপরীত পথে। নিজেদের মধ্যে তীব্র লড়াই চললেও দুই দেশেরই কৌশলগত লক্ষ্য এক, আর তা হলো এই যুদ্ধকে আরো বিস্তৃত করা এবং একাধিক দেশকে এর ভেতরে টেনে আনা। ইরান চায় পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলো বুঝুক যে তাদের নিরাপত্তার অস্তিত্ব এই সংঘাতের সাথে গভীরভাবে যুক্ত। অন্যদিকে ইসরাইল বিশ্বকে এবং বিশেষ করে ইরানকে এই ভূরাজনৈতিক বার্তা দিতে চায় যে, লেভান্ট বা পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলসহ ‘বৃহত্তর ইসরাইল’ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলো তাদের নিজস্ব সুরক্ষার এলাকা, যেখানে আঘাত হানলে পাল্টা জবাব নিশ্চিত।

    যুদ্ধের আগুন যাতে আর না ছড়িয়ে পড়ে, সেই চেষ্টায় জর্দানসহ আশপাশের প্রতিবেশীরা এখন ঐক্যবদ্ধ। হরমুজ প্রণালী ও নিকটবর্তী অঞ্চলে উত্তেজনা যতই বাড়ুক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো শক্তির প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে পুরো অঞ্চলটি যাতে যুদ্ধের ময়দানে পরিণত না হয়, সেদিকেই সজাগ দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। আরব বিশ্ব এখন যেকোনো মূল্যেই এমন একটি আঞ্চলিক ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কা নস্যাৎ করে দিয়ে নিজেদের ভূখণ্ড ও আকাশসীমা নিরাপদ রাখতে বদ্ধপরিকর।

  • মার্কিন হামলায় আইআরজিসির ৩ সদস্য নিহত

    মার্কিন হামলায় আইআরজিসির ৩ সদস্য নিহত

    ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোরে মার্কিন হামলায় দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। ফার্স নিউজ অ্যাজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।

    আইআরজিসির একটি প্রাদেশিক শাখার বিবৃতির বরাত দিয়ে ফার্স জানায়, জাঞ্জান প্রদেশকে লক্ষ্য করে এ ‘নিষ্ঠুর হামলাটি’ চালানো হয়েছিল।

    এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায় যে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার জবাবে মার্কিন বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে একটি ‘কঠোর হামলা’ সম্পন্ন করেছে।

  • ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গোর ঢাকায়

    ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গোর ঢাকায়

    যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর তিনদিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে এই তথ্য জানানো হয়।

    পোস্টে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘আমার বন্ধু, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গোরকে বাংলাদেশে স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত। তার এই সফর যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।’

    সফরের প্রথম দিনে সার্জিও গোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা করবেন। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার তার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিস্থিতি সরেজমিন দেখার কথা রয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফর, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক যুক্ততা এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে এই সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা।

    গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সার্জিও গোর হচ্ছেন ওয়াশিংটন থেকে ঢাকা সফরকারী যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। এর আগে মার্চে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর এবং মে মাসে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ বাংলাদেশ সফর করেন।

    কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, সার্জিও গোরের সফরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বর্তমান অগ্রাধিকার, আঞ্চলিক কৌশলগত অবস্থান এবং ঢাকা–ওয়াশিংটন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে জুনে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর, একই মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মস্কো সফর এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরের পর বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের মূল্যায়নও এ সফরে প্রতিফলিত হতে পারে। প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বার্তাও তিনি বাংলাদেশের নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরতে পারেন।

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের আগস্টে ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট দপ্তরের সাবেক কর্মকর্তা সার্জিও গোরকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেন। ওই পদে নিয়োগের পর থেকে তিনি ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।

    চলতি বছরের জানুয়ারিতে সার্জিও গোর দিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। নয়াদিল্লিকে কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে রেখে তিনি ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গোরের নেপাল ও শ্রীলঙ্কা সফর সেই আঞ্চলিক কৌশলেরই প্রতিফলন।

  • বহু ভাষাবিদ ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্

    বহু ভাষাবিদ ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্

    যে দেশে গুণের সমাদর নেই, সে দেশে গুণী জন্মাতে পারে না।’ এ কথাটি বাংলাদেশের বিখ্যাত মনীষী ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর। তিনি শুধু বাংলাদেশেরই নন, সমগ্র ভারতবর্ষের বিখ্যাত ভাষাবিজ্ঞানী। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি ভাষাবিজ্ঞানী ও গবেষক। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর জন্ম ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই। জন্মস্থান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনার পেয়ারা গ্রামে।

    ছোটবেলা থেকেই শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বিচক্ষণ ও মেধাবী। ছেলেবেলায় তিনি বাড়িতেই আরবি ও ফার্সি ভাষা শিখে ফেলেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার জন্য প্রথম ভর্তি হন হাওড়া ইংরেজি স্কুলে। ১৮৯৯ সালে বার্ষিক পরীক্ষায় তিনি রৌপ্যপদক অর্জন করেন।

    ১৯০৪ সালে তিনি সাফল্যের সঙ্গে এনট্রান্স পাস করেন। এরপর তিনি কলকাতার বিখ্যাত প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন। ১৯০৬ সালে সাফল্যের সঙ্গে এফএ পাস করেন। এরপর তিনি বাংলাদেশের যশোর জিলা স্কুলে ১৯০৮-০৯ সালে শিক্ষকতা করেন। অতঃপর ১৯০৯-১০ সেশনে কলকাতা সিটি কলেজ থেকে সংস্কৃতে অনার্সসহ বিএ পাস করেন। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ১৯১২ সালে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এমএ পাস করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

    ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ১৯১৫ থেকে ১৯১৯ সাল পর্যন্ত বসিরহাটে আইন ব্যবসা করেন। আইন পেশায়ও তিনি বেশ সুনাম অর্জন করেন। এদিকে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হলে তিনি বাংলা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯২৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের খণ্ডকালীন অধ্যাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

    ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ১৯২৮ সালে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভের জন্য ফ্রান্সের প্যারিসে গমন করেন। তিনি প্রাচীন বৈদিক, পার্সি ও তিব্বতি ভাষায় গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ডক্টরেট ডিগ্রি লাভের পর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন। ১৯৩৭ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান হন। তিনি ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন।

    ১৯৫৫ সালেই ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬১ থেকে ১৯৬৪ সালে ইসলামী বিশ্বকোষ প্রকল্পের অস্থায়ী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলা ভাষার গবেষণামূলক বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন। এগুলো হলো—‘বাঙ্গালা ব্যাকরণ’, ‘ভাষা ও সাহিত্য’, ‘বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত’ ও ‘আঞ্চলিক ভাষার অভিধান’। এছাড়া তার লেখা বইগুলো হলো—‘রকমারি’, ‘পদ্মাবতী’ ও ‘প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে শেষ নবী’। তিনি অনুবাদ করেছেন ‘রুবাইয়াত-ই-ওমর খৈয়াম’ ও ‘দীওয়ানে হাফিজ’। তার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন প্রাইড অব পারফরম্যান্স পদক।ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলা, ইংরেজি, ফার্সি, আরবি, তিব্বতি, ওড়িয়া, অসমীয়া ও উর্দু ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলতে পারতেন। এই বিখ্যাত ভাষাবিজ্ঞানী ১৯৬৯ সালের ১৩ জুলাই ঢাকায় মারা যান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পাউন্ডে মুসা খান মসজিদের পশ্চিম পাশে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র কবর রয়েছে।

  • লোহিত সাগরে জাহাজ ফি নেবে হুতি’

    লোহিত সাগরে জাহাজ ফি নেবে হুতি’

    লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে চলা জাহাজ থেকে ফি আদায়ের পরিকল্পনা করছে হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের এক মন্ত্রী বুধবার এমন তথ্য দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ইরানের পরামর্শে হুতিরা এই পরিকল্পনা সাজাচ্ছে।

    ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-রিয়ানির মতে, এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক উসকানি হতে যাচ্ছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে বিশ্বের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তহবিলের উৎসে পরিণত হবে।

    আল-রিয়ানির এই দাবির বিপরীতে হুতিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    হুতিদের সমর্থনকারী ইরানও যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে ফি আরোপের চেষ্টা চালাচ্ছে। এই বিরোধের জেরে যুদ্ধবিরতি ভেঙে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে হরমুজে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ায় সৌদি আরব তাদের তেল রপ্তানির কার্যক্রম লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী ইয়ানবু বন্দরে স্থানান্তর করে। এরপর হুতিরা সৌদির বন্দরগুলোর ওপর অবরোধের ঘোষণা দেয়।

    মঙ্গলবার লোহিত সাগরে সৌদির একটি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে হুতিরা। রিয়াদ তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। তবে বুধবার ইরাকে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীর ঘাঁটি লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে হামলা করেছে সৌদি আরব।

    অভিযানটির কারণ হিসেবে ওয়াশিংটন ও রিয়াদ জানিয়েছে, এটি মার্কিন বাহিনী আর সৌদির তেল স্থাপনায় হামলার জবাব।

  • কাশ্মীরের ইতিহাস মুছে ফেলতে চায় ভারত?

    কাশ্মীরের ইতিহাস মুছে ফেলতে চায় ভারত?

    জম্মু ও কাশ্মীরের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি গ্রন্থাগারগুলিতে থাকা হাজার হাজার বই যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। আর এ নির্দেশ ঘিরে একটি প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষাবিদ, গবেষক ও লেখকদের একাংশ। কাশ্মীরের ইতিহাস কি নতুন করে আবার লেখা হচ্ছে?

    ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটির প্রশাসন দাবি করেছে, ‘রাষ্ট্রবিরোধী’, ‘বিচ্ছিন্নতাবাদকে উৎসাহিত করে’ বা ‘জাতীয় স্বার্থবিরোধী’ এমন বই চিহ্নিত করে সরিয়ে ফেলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সমালোচকদের অভিযোগ, এর আড়ালে কাশ্মীরের রাজনৈতিক ইতিহাস ও বহুমাত্রিক অতীতকে সরকারি বয়ানের সঙ্গে খাপ খাইয়ে পুনর্লিখনের চেষ্টা চলছে। মিডল-ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গ্রন্থাগারগুলিকে তাদের সংগ্রহে থাকা বইয়ের পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা করার নির্দেশ দেয়। যেসব বইয়ে রাষ্ট্রবিরোধী বা আপত্তিকর বলে বিবেচিত কোনও বক্তব্য, মানচিত্র, ছবি বা তথ্য রয়েছে বলে মনে হবে, সেগুলির তালিকা তৈরি করে সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে।

    প্রশাসনের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে এমন কোনও বই থেকে মুক্ত রাখাই এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য, যা বিচ্ছিন্নতাবাদ, সহিংসতা বা ভারতবিরোধী প্রচারকে উৎসাহিত করতে পারে।

    এই নির্দেশের সূত্রপাত কয়েকটি সরকারি স্কুলের গ্রন্থাগারে থাকা কিছু বইকে ঘিরে। অভিযোগ ওঠে, ওই বইগুলিতে কাশ্মীরকে ‘ভারত-অধিকৃত কাশ্মীর’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা মকবুল ভাটকে ‘শহিদ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ঘটনার পর আট জন শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট তিন প্রকাশককেও গ্রেফতার করা হয়।

    তবে বিতর্ক এখানেই থেমে নেই। শিক্ষাবিদদের আশঙ্কা, প্রশাসনের এই অভিযান কয়েকটি বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, মানবাধিকার, সংঘাত-গবেষণা এবং কাশ্মীরের রাজনৈতিক বিবর্তন নিয়ে লেখা বহু বইও এখন প্রশাসনিক নজরদারির আওতায় চলে এসেছে। তাদের মতে, কোনও বই সরকারি অবস্থানের সঙ্গে না মিললেই তাকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ বলে চিহ্নিত করার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

    মিডল ইস্ট আইকে এক কাশ্মীরি গবেষক বলেছেন, এটি শুধু বই সরানোর বিষয় নয়, এটি ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা। একটি সমাজের অতীতকে বুঝতে নানা দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজন হয়। সেই বহুমাত্রিক ইতিহাসকেই এখন সংকুচিত করা হচ্ছে।

    আর এক শিক্ষাবিদের কথায়, রাষ্ট্র যখন ঠিক করে দেয় কোন বই পড়া যাবে আর কোনটি যাবে না, তখন বিশ্ববিদ্যালয় ও গ্রন্থাগার আর মুক্ত জ্ঞানচর্চার জায়গা থাকে না। সেগুলি ধীরে ধীরে সরকারি বয়ান প্রতিষ্ঠার হাতিয়ারে পরিণত হয়।

  • সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগে টেলিগ্রাম প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে মামলা

    সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগে টেলিগ্রাম প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে মামলা

    টেলিগ্রাম প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগ এনেছে রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি)। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

    বুধবার (২৯ জুলাই) এফএসবি জানিয়েছে, টেলিগ্রাম থেকে এমন কিছু উপাদান সরানো হয়নি, যা রাশিয়ার ভূখণ্ডে নাশকতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, গণহত্যা ও সাইবার প্রতারণার প্রস্তুতি ও সমন্বয়ে ব্যবহার করেছে ইউক্রেনের বিশেষ বাহিনী এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও উগ্রপন্থি সংগঠন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পাভেল দুরভ বা টেলিগ্রামের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    ২০১৩ সালে চালু হওয়া এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামের দাবি, বিশ্বজুড়ে তাদের ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০০ কোটির বেশি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের উভয় পক্ষেই যোগাযোগের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এই প্ল্যাটফর্ম।

    গত কয়েক বছর ধরে রাশিয়া টেলিগ্রামের ব্যবহার সীমিত করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। একই সঙ্গে দেশটি রাষ্ট্রীয় সমর্থিত নিজস্ব মেসেজিং অ্যাপ ম্যাক্স ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছে।

    রাশিয়ায় জন্ম নেওয়া পাভেল দুরভ বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ফ্রান্সের নাগরিক। তিনি রাশিয়ার জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিকনতাকতে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ২০১৪ সালে রুশ কর্তৃপক্ষের চাপের মুখে তিনি নিজের অবশিষ্ট মালিকানা বিক্রি করে দেন।

    এদিকে ফ্রান্সের কর্তৃপক্ষও টেলিগ্রামের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। অভিযোগ, প্ল্যাটফর্মটি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুরোধে পর্যাপ্ত সহযোগিতা করেনি। তবে দুরভ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

  • দেওয়ানি মামলার জট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: আইনমন্ত্রী

    দেওয়ানি মামলার জট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: আইনমন্ত্রী

    দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন থাকা দেওয়ানি মামলার জট নিরসনে সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, দক্ষ ও জনবান্ধব করতে বিভিন্ন সংস্কারমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিভিন্ন অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে মামলার জট কমানো সম্ভব।

    বুধবার রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (জেএটিআই) ‘দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তিতে বিলম্ব নিরসন: বাংলাদেশ ও জাপানের যৌথ অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইন ও বিচার বিভাগ এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর যৌথ উদ্যোগে সেমিনারটির আয়োজন করা হয়।

    আইনমন্ত্রী বলেন, দেশে এখনও এমন বহু দেওয়ানি মামলা রয়েছে, যেগুলো অনেক পুরনো। দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন এসব মামলা বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে এবং বিচারব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। এ বাস্তবতা থেকে উত্তরণে সরকার বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর বিচারসেবা চালু এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও গতিশীল করতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

    তিনি বলেন, জাপানের বিচার মন্ত্রণালয় ও জাইকাসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা বিচারব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা বিচারপ্রক্রিয়ার দক্ষতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের উপ-মহাপরিচালক কাজুনোরি নোসে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জাপানের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।

    সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব সৈয়দ মো. শাফায়েত এবং জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়ের অধ্যাপক ওয়াকাযোনো রেই। সমাপনী বক্তব্য রাখেন আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেমউল কায়েস। সেমিনারে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, আইন মন্ত্রণালয়, জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

  • ১৪ লাখ বছর আগের মানব পদচিহ্ন মিলল কেনিয়ায়

    ১৪ লাখ বছর আগের মানব পদচিহ্ন মিলল কেনিয়ায়

    প্রায় ১৪ লাখ বছর আগের জীবাশ্মে পরিণত হওয়া পদচিহ্ন বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, প্লাইস্টোসিন যুগেই মানুষের প্রাচীন সামাজিক সভ্যতায় নারী ও পুরুষের দায়িত্ব আলাদা ছিল। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বর্তমান কেনিয়ার লেক টারকানার আশপাশের কাদামাটিতে আটজন হোমিনিনের রেখে যাওয়া পদচিহ্ন দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষিত ছিল। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ওই দলটির সদস্যরা সবাই পুরুষ এবং তারা ছিল মানুষের প্রাচীন প্রজাতি প্যারানথ্রোপাস বোইসেইর সদস্য।

    নতুন গবেষণায় আরও জানা গেছে, তাদের উচ্চতা একই এলাকায় বসবাসকারী হোমো ইরেক্টাসের সমান ছিল। কেন শুধুমাত্র পুরুষদের এই দলটি একসঙ্গে বেরিয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে নারী ও শিশুদের কোনো পদচিহ্ন না থাকায় গবেষকদের ধারণা, নির্দিষ্ট কিছু কাজ বা অভিযানে নারী-পুরুষের মধ্যে দায়িত্ব বিভাজন ছিল।

    বর্তমানকালের বৃহৎ বনমানুষদের সমাজেও পুরুষরা দলবদ্ধভাবে এলাকা পাহারা দেওয়া, সীমানা রক্ষা এবং শিকারে অংশ নেয়। গবেষণার সহলেখক ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. নিল রোচ বলেন, আটজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ প্যারানথ্রোপাস বোইসেইর একসঙ্গে চলাচল, যেখানে নারী বা শিশু ছিল না, তা এই প্রজাতির জটিল সামাজিক কাঠামোর ইঙ্গিত দেয়।

    তিনি বলেন, সম্ভবত তারা বড় দলে বসবাস করত। সেখানে পুরুষদের মধ্যে সঙ্গী পাওয়ার প্রতিযোগিতা থাকলেও বিপজ্জনক পরিবেশে নিরাপত্তার জন্য তারা একে অন্যকে সহ্য করত এবং সহযোগিতাও করত। প্যারানথ্রোপাস বোইসেই ছিল অস্ট্রালোপিথেসিন গোষ্ঠীর একটি প্রজাতি, যারা প্রায় ১১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২৫ লাখ বছর আগে পূর্ব আফ্রিকায় বাস করত।

    তারা আধুনিক মানুষের সরাসরি পূর্বপুরুষ না হলেও একই পূর্বসূরি থেকে উদ্ভূত একটি প্রজাতি। পরে তারা ভিন্ন বিবর্তনীয় পথে এগিয়ে গিয়ে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

    এই পদচিহ্ন আবিষ্কারের আগে প্যারানথ্রোপাস বোইসেই সম্পর্কে অধিকাংশ তথ্যই পাওয়া গিয়েছিল তাদের বড় চোয়াল ও দাঁতযুক্ত খুলির জীবাশ্ম থেকে। ঘাড়ের নিচের অংশের শারীরিক গঠন সম্পর্কে খুব কমই তথ্য ছিল। তাদের মোটা হাড়ের গঠন দেখে আগে ধারণা করা হয়েছিল, পুরুষদের গড় উচ্চতা ছিল প্রায় সাড়ে চার ফুট।

    কিন্তু গবেষকরা দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তিতে পদচিহ্ন বিশ্লেষণ করে এবং পায়ের গঠন ও চলাচলের ধরন পর্যবেক্ষণ করে দেখেন, তারা ধারণার তুলনায় অনেক বড় ছিল।

    এসব পদচিহ্নের আকার হোমো ইরেক্টাসের পদচিহ্নের সঙ্গে প্রায় একই রকম, যদিও এতদিন হোমো ইরেক্টাসকে অনেক বড় আকৃতির বলে মনে করা হতো।

    জার্মানির লাইপজিগে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর ইভোল্যুশনারি অ্যানথ্রোপোলজির গবেষক ড. কেভিন হাতালা বলেন, পদচিহ্নের আকার থেকে বোঝা যায়, তাদের দেহের গঠন আধুনিক মানুষের মতো ছিল। উচ্চতা ছয় ফুট পর্যন্ত এবং ওজন প্রায় ৭৫ কেজি হতে পারে।

    তিনি বলেন, এটি আমাদের জন্য বিস্ময়কর ফল। তবে এও সত্য, এই প্রজাতির ঘাড়ের নিচের অংশ সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান খুবই সীমিত ছিল। কারণ এখন পর্যন্ত পাওয়া অধিকাংশ জীবাশ্মই ছিল শুধু খুলি ও দাঁত।

    তার ভাষায়, জীবাশ্ম পদচিহ্নই এমন একমাত্র প্রমাণ, যা বিলুপ্ত কোনো প্রজাতির সামাজিক আচরণ সম্পর্কে সরাসরি ধারণা দেয়। তিনি আরও বলেন, এ থেকে ধারণা করা যায়, তারা বহু পুরুষ সদস্যবিশিষ্ট দলে বাস করত এবং প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের মধ্যে সহযোগিতা তাদের সামাজিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।

    গবেষকরা আশপাশের শিলাস্তরে থাকা আগুনের ছাই বিশ্লেষণ করে পদচিহ্নগুলোর বয়স প্রায় ১৪ লাখ ৩০ হাজার বছর নির্ধারণ করেছেন। মোট ২১টি পদচিহ্ন শনাক্ত করা হয়েছে, যা আটজনের বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জলহস্তী, হরিণ এবং আরও বিভিন্ন প্রাণীর পদচিহ্নও পাওয়া গেছে।

    প্রায় ৫০ বছর আগে স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্টরির গবেষক ড. কে বেহরেন্সমেয়ার প্রথম এই পদচিহ্নের সন্ধান পান। পরে ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য এগুলো বালুর নিচে সংরক্ষণ করা হয়। সম্প্রতি সেগুলো নতুন করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

    ড. বেহরেন্সমেয়ার বলেন, বৈজ্ঞানিকভাবে পদচিহ্নের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এগুলো একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তকে সংরক্ষণ করে রাখে। তিনি বলেন, এ ছাড়া বিচ্ছিন্ন কোনো হাড় বা চোয়ালের তুলনায় মানুষ পদচিহ্নের মাধ্যমে অতীতের জীবাশ্মের সঙ্গে অনেক সহজে সম্পর্ক তৈরি করতে পারে।

    গত কয়েক দশকে পূর্ব টারকানা হ্রদাঞ্চল থেকে এক লাখ বছরেরও বেশি সময়জুড়ে বিস্তৃত শত শত হোমিনিনের পদচিহ্ন পাওয়া গেছে। প্যারানথ্রোপাস বোইসেইর আকার হোমো ইরেক্টাসের সমান ছিল; এই নতুন তথ্য প্রজাতিটি কেন বিলুপ্ত হয়ে গেল, সে বিষয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

    ড. বেহরেন্সমেয়ার বলেন, কাদামাটির ওই এলাকায় দুই প্রজাতির মধ্যে কী ধরনের যোগাযোগ ছিল, তা আমরা বলতে পারি না। তবে আমরা জানি, তারা একই সময়ে সেখানে উপস্থিত ছিল।

    তিনি আরও বলেন, ১৯৭৮ সালে যখন আমরা প্রথম এই পদচিহ্ন খুঁজে পাই, তখন কল্পনাও করিনি যে এটি এত বড় সংগ্রহে পরিণত হবে এবং প্রাচীন মানবগোষ্ঠীর জীবন ও পরিবেশ সম্পর্কে এত বিস্তৃত ধারণা দেবে।

  • প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

    প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

    শিক্ষার্থীদের ওপর কেন অস্ত্র ব্যবহার করা হলো, মোদিকে জবাব দিতে হবে

    ভারতের লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেছেন, ক্যামেরার কোণ পরিবর্তন করে নয়, বরং হৃদয়ের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেই তরুণ প্রজন্মের আস্থা অর্জন করতে হবে।

    মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    প্রিয়াঙ্কা বলেন, নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে জবাব দিতে হবে। তিনি প্রশ্ন করেন, শিক্ষার্থীরা কি সন্ত্রাসী ছিল যে তাদের ওপর লাঠিচার্জ, পেলেট গান ও অস্ত্র ব্যবহার করা হলো?

    তিনি অভিযোগ করেন, সরকার শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের সমাধান না করে একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জবাবে শক্তি প্রয়োগ করেছে। তিনি বলেন, প্রতিটি লাঠির আঘাত শিক্ষার্থীদের চেয়ে সরকারের ভাবমূর্তির বেশি ক্ষতি করেছে।

    রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে আহত এক শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে প্রিয়াঙ্কা বলেন, দেশের তরুণরা এমন একটি ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারাচ্ছে, যেখানে মেধার চেয়ে অনিয়ম বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

    তিনি দাবি করেন, গত এক দশকে ভারতে ১৫২টি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু এখনো কোনো ‘প্রশ্নফাঁস চক্রের’ বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে তিনি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অগ্রাধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, সরকারি শিক্ষায় বিনিয়োগের তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে পরিবারগুলোর ব্যক্তিগত ব্যয় অনেক বেশি।

    এদিকে, কংগ্রেস নেতা কে সি ভেনুগোপালও নিট পরীক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তিনি লোকসভায় ১৯ বছর বয়সি মহারাষ্ট্রের নিট পরীক্ষার্থী অঙ্কিতা সাঙ্গালের রেখে যাওয়া একটি চিঠি পড়ে শোনান। অঙ্কিতা ১১ নম্বরের জন্য কাঙ্ক্ষিত কাট-অফে পৌঁছাতে না পেরে গত ২৫ জুলাই আত্মহত্যা করেন।

    ভেনুগোপাল বলেন, শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার সংখ্যা ২০১৪ সালের ৮ হাজার ৬৮ থেকে বর্তমানে বেড়ে ১৪ হাজার ৪৮৮ হয়েছে। তিনি এটিকে শুধু পরিসংখ্যান নয়, বরং একটি ‘ভয়াবহ সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    প্রিয়াঙ্কা গান্ধী তার বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্যামেরার কোণ নয়, হৃদয়ের কোণ পরিবর্তন করা প্রয়োজন। তার এ মন্তব্যে সংসদে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সরকারি দলের সদস্যরা আপত্তি জানালে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক হয় এবং স্পিকার ওম বিড়লা কিছু মন্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন।

    ভেনুগোপাল আরও বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রের শত্রু নয়। যারা তাদের ওপর হামলার জন্য দায়ী, তাদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

  • মাথার দাম ছিল ১ কোটি

    মাথার দাম ছিল ১ কোটি

    ভারতে মাওবাদীর একমাত্র পলিটব্যুরো সদস্য গ্রেফতার

    ভারতে মাওবাদীদের নিঃশেষ করতে গত এক বছর ধরে দিল্লি সরকার নিরন্তর অভিযান চালিয়ে মাওবাদী সংগঠনের প্রায় সব শীর্ষ নেতা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে হয় নিহত হয়েছেন বা গ্রেফতার হয়েছেন। এনকাউন্টারে নিহত হয়েছেন কয়েক শত মাওবাদী কমান্ডার ও ক্যাডার। তবে দলের একমাত্র জীবিত পলিটব্যুরো সদস্য মিসির বেসরা জঙ্গলে আত্মগোপনে ছিলেন। তার মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল এক কোটি রুপি।

    শেষমেশ মঙ্গলবার ঝাড়খণ্ড থেকে মাওবাদী এই নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার সঙ্গে গ্রেফতার হয়েছে আরও দুই কমান্ডার। মাওবাদী মুক্ত ভারতের লক্ষ্যে এটি বড় সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে।

    পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে, গত প্রায় দুই দশক ধরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল মিসির। সম্প্রতি পুলিশের কাছে খবর আসে শীর্ষ এই মাওবাদী নেতা ঝাড়খণ্ডের পারশনাথ পাহাড় সংলগ্ন জঙ্গলে কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে লুকিয়ে রয়েছেন। এরপরই সিআরপিএফ, গিরিডি ও ধানবাদের পুলিশ একযোগে তল্লাশি শুরু করে।

    মঙ্গলবার রাত ৯টা নাগাদ ধানবাদ-গিরিডি সীমানার জঙ্গলে পালাতে গেলে পুলিশ তাকে সঙ্গীসহ ধরে ফেলে।

    ২০০৭ সালে ঝাড়খণ্ডে একবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল মিসিরকে। তবে ২০০৯ সালে বিহারের লখিসরাই জেলা আদালতে এক মামলায় হাজিরা দেওয়ার জন্য নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। সেই সময় আদালত চত্বরে অতর্কিতে হামলা চালায় মাওবাদীরা। পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া হয় এই মাও নেতাকে। মিসির বেসরা তার আসল নাম হলেও দলে ভাস্কর ও সাগর নামেও পরিচিত ছিলেন।

  • ইসরায়েলে আর কাজ হচ্ছেনা ‘ট্রাম্পকার্ডে’

    ইসরায়েলে আর কাজ হচ্ছেনা ‘ট্রাম্পকার্ডে’

    ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগতভাবে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কথা বলে আসছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি ইসরায়েলিদের বোঝাতে চান, দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তাঁর বিকল্প নেই।

    শৈশব ও কৈশোরের একটা বড় সময় যুক্তরাষ্ট্রে কাটানো নেতানিয়াহু আমেরিকান উচ্চারণে কথা বলার ক্ষেত্রে সাবলীল। বলা হয়ে থাকে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি সম্পর্কে নিজের বিশেষ বোঝাপড়াকে কাজে লাগিয়ে নেতানিয়াহু একের পর এক মার্কিন প্রেসিডেন্টকে প্রভাবিত করে আসছেন। এর মধ্য দিয়ে ইসরায়েল এবং তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক লক্ষ্যগুলোর প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টদের অবিচল সমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা করছেন তিনি।

    একটা সময় মনে হচ্ছিল, অতীতের সব মার্কিন প্রেসিডেন্টের তুলনায় ডোনাল্ড ট্রাম্পই ইসরায়েলের প্রতি, বিশেষ করে নেতানিয়াহুর প্রতি সবচেয়ে বেশি সহানুভূতিশীল। বিশেষ করে ট্রাম্প ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে আগ্রাসনে অংশ নিতে সম্মত হওয়ায় সেই ধারণা আরও জোরালো হয়েছিল। কারণ, তিনিই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    তবে এখন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ স্থবির হয়ে পড়ায়, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের মতামত ছাড়াই ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে ট্রাম্পের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলবিরোধী সমালোচনা তীব্র হওয়ায় সেই ধারণা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলে এখন এমন ধারণা তৈরি হয়েছে, নেতানিয়াহুর ‘ট্রাম্পকার্ড’ আগের মতো আর কাজ না–ও করতে পারে।

    এটি এমন সময় হয়েছে, যখন নেতানিয়াহু নিজেই নানা চাপের মধ্যে আছেন। কারণ, আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে তাঁকে জাতীয় নির্বাচনে লড়তে হবে। একই সঙ্গে নিজ দেশে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় বিচার চলছে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি সংঘাতের ঘটনা এখনো অমীমাংসিত।

    যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসেও নেতানিয়াহুকে নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীর প্রতি তাঁর নমনীয় অবস্থান নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। এমনকি এসব বসতি স্থাপনকারীর হাতে বিচারবহির্ভূতভাবে একজন মার্কিন সিনেটরকে আটক করার ঘটনাও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

    এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়টি বিবেচনা করা এবং সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিতে সম্মত হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন আরও বেড়েছে।

    ইসরায়েলের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও নিউইয়র্কে দেশটির সাবেক কনসাল জেনারেল অ্যালন পিঙ্কাস আল-জাজিরাকে বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করাটাই নেতানিয়াহুর এই ওয়াশিংটন সফরের আসল উদ্দেশ্য। তিনি দাবি করছেন, ঘনিষ্ঠ বন্ধু, সদ্য প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যে যোগ দিতেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন।

    পিঙ্কাস বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, এ সফরের একটি নির্দিষ্ট কর্মসূচি আছে। নেতারা ইরান, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং সৌদি আরবের সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা করবেন।’

    পিঙ্কাস মনে করেন, নেতানিয়াহুর এই সফরের উদ্দেশ্য দুটি। প্রথমত, ইসরায়েলের মিত্র ও সমালোচকদের বোঝানো, ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর সম্পর্ক এখনো আগের মতোই অটুট। দ্বিতীয়ত, নেতানিয়াহু আশা করছেন, তাঁর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলায় তাঁকে ক্ষমা করতে ট্রাম্প আহ্বান জানাবেন।

    বারাক আরও বলেন, ‘এমনও হতে পারে, ট্রাম্প বলবেন, যুদ্ধের সময় নেতানিয়াহু ভালো নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু এখন ইসরায়েলের নতুন নেতৃত্বের সময় এসেছে। এরপর তিনি অন্য ইসরায়েলি রাজনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করে নতুন একজন প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানাতে পারেন।’

  • আজ জাতীয় লিপস্টিক দিবস

    আজ জাতীয় লিপস্টিক দিবস

    বিশ্বজুড়ে আজ ২৯ জুলাই পালিত হচ্ছে জাতীয় লিপস্টিক দিবস। এটি সরকারি ছুটির দিন না হলেও সৌন্দর্যচর্চা, ফ্যাশন ও প্রসাধনী শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কাছে দিনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন প্রসাধনী প্রতিষ্ঠান নতুন পণ্য উন্মোচন, মূল্যছাড় এবং প্রচারমূলক নানা আয়োজন করে থাকে।

    লিপস্টিক দীর্ঘদিন ধরেই শুধু একটি প্রসাধনী নয় বরং আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব ও আত্মপ্রকাশের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ তাদের দৈনন্দিন সাজের অংশ হিসেবে এটি ব্যবহার করেন।

    লিপস্টিকের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ইতিহাসবিদদের মতে, প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায় নারীরা গুঁড়ো করা মূল্যবান পাথর দিয়ে ঠোঁট রাঙাতেন। প্রাচীন মিসরে লাল ঠোঁট ছিল সৌন্দর্য ও সামাজিক মর্যাদার প্রতীক
    । সে সময় নারী-পুরুষ উভয়েই ঠোঁটে রং ব্যবহার করতেন। ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে, মিশরের বিখ্যাত রানি ক্লিওপেট্রাও প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি লাল রঙের ঠোঁটের প্রসাধনী ব্যবহার করতেন।প্রাচীন গ্রিস ও রোমেও ঠোঁট রাঙানোর প্রচলন ছিল। সময়ের পরিবর্তনে বিভিন্ন সমাজে এর জনপ্রিয়তায় ওঠানামা হলেও শেষ পর্যন্ত এটি বিশ্বজুড়ে সৌন্দর্যচর্চার অন্যতম অপরিহার্য অনুষঙ্গ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।

    আধুনিক লিপস্টিকের বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হয় ১৮৮৪ সালে। তখন এটি কাগজে মোড়ানো অবস্থায় বিক্রি হতো। পরে ধাতব আবরণে লিপস্টিক তৈরি হলে ব্যবহার আরও সহজ হয়ে যায়।

    চলচ্চিত্র, ফ্যাশন ও বিজ্ঞাপনের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে লিপস্টিক বিশ্বব্যাপী ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।

    সব রঙের মধ্যে লাল লিপস্টিক এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয়। সৌন্দর্যবিশেষজ্ঞদের মতে, লাল রং আত্মবিশ্বাস, শক্তি ও ব্যক্তিত্বের প্রতীক। তবে বর্তমানে গোলাপি, বাদামি, প্রবাল, বেগুনি এবং ত্বকের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন শেডের লিপস্টিকও সমানভাবে জনপ্রিয়।

    বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, লিপস্টিক কেনার সময় শুধু রং নয়, পণ্যের মান ও উপাদানের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ত্বকের সঙ্গে মানানসই রং নির্বাচন, ঠোঁটের আর্দ্রতা বজায় রাখে এমন লিপস্টিক ব্যবহার, মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসাধনী এড়িয়ে চলা এবং অন্যের ব্যবহৃত লিপস্টিক ব্যবহার না করাই নিরাপদ। পাশাপাশি দিনের শেষে লিপস্টিক ভালোভাবে পরিষ্কার করে ফেলারও পরামর্শ দেওয়া হয়।হাজার বছরের বিবর্তনের ধারায় লিপস্টিক আজ কেবল সাজসজ্জার উপকরণ নয়; এটি ফ্যাশন, সংস্কৃতি, আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্ব প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। তাই জাতীয় লিপস্টিক দিবস শুধু একটি প্রসাধনীকে ঘিরে উদযাপন নয়, বরং সৌন্দর্যচর্চার দীর্ঘ ইতিহাস ও বিবর্তনেরও স্বীকৃতি।

  • চীনের রোবট নিষিদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ

    চীনের রোবট নিষিদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ

    চীনে তৈরি নতুন মানবসদৃশ রোবট আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এ ধরনের রোবটের ‘অগ্রহণযোগ্য ঝুঁকি’ রয়েছে উল্লেখ করে গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে।

    অত্যাধুনিক রোবটের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে আছে—মানবসদৃশ রোবট ও চার পায়ের রোবট। এসব রোবটের অনেকগুলোই চীনে তৈরি। বর্তমানে রোবোটিকস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে।

    যুক্তরাষ্ট্র সরকারের যোগাযোগবিষয়ক নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এফসিসি) ডেটা সেন্টার ও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত পাওয়ার ইনভার্টার আমদানিও নিষিদ্ধ করেছে। সংস্থাটির দাবি, এসব যন্ত্রও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

    ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনের দূতাবাস এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, বাণিজ্যিক ইস্যুকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া এবং ভিত্তিহীন অজুহাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিরোধিতা করে আসছে বেইজিং।

    এফসিসির চেয়ারম্যান ব্রেন্ডান কার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহব্যবস্থাকে নিরাপদ রাখতে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করছি।’

    এফসিসি এসব পণ্যকে তাদের ‘কভার্ড লিস্ট’-এ যুক্ত করেছে। এটি এফসিসির এমন একটি তালিকা, যেখানে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত পণ্য ও সেবাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    এই নিষেধাজ্ঞা শুধু বিদেশে তৈরি নতুন অত্যাধুনিক রোবট এবং পাওয়ার ইনভার্টারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে আগে থেকে এফসিসির অনুমোদন পাওয়া এবং ইতিমধ্যে বাজারে থাকা মডেলগুলোর বিক্রি বা আমদানির ওপর এই সিদ্ধান্তের কোনো প্রভাব পড়বে না।

    এফসিসির আশঙ্কা, বিদেশে তৈরি পাওয়ার ইনভার্টার ব্যবহার করলে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো দূর থেকে সেগুলো বন্ধ করে দিতে পারে, তথ্য চুরি করতে পারে ও নজরদারির করতে পারে। এমনকি বিদেশি সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগুলো সাইবার হামলার মাধ্যমে এসব যন্ত্রের অপব্যবহারও করতে পারে।

    ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস আরও বলেছে, চীনের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে এমন যেকোনো পদক্ষেপের জবাবে বেইজিং ‘প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।’

    তারা সব দেশকে ইতিবাচক ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছে। এ ছাড়া চীনা দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আধিপত্যবাদী মানসিকতা বাদ দেওয়া এবং চীনা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও নিষেধাজ্ঞার হুমকি বন্ধ করার’ আহ্বান জানিয়েছে।

    এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বিবিসি চীনের শীর্ষ রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইউনিট্রি, ইউবি টেক ও অ্যাজিবটের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

    বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের সঙ্গে বাণিজ্যঘাটতি কমানোর চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি এখন কড়া নজরদারির মধ্যে আছে।

    চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় বৈদ্যুতিক গাড়ি রপ্তানিকারক দেশ হওয়া সত্ত্বেও উচ্চ শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশটির বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রবেশ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

    জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা, চীনের সামরিক আধুনিকায়নের গতি কমানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থান ধরে রাখার লক্ষ্যে ওয়াশিংটন চীনের কাছে অত্যাধুনিক মার্কিন সেমিকন্ডাক্টর বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে।

    মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মেধাস্বত্ব চুরির অভিযোগে চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।

    জবাবে চীন সরকার বলেছে, দেশটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির অগ্রগতির বিষয়টি নিজস্ব গবেষণা, প্রচেষ্টা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ফল।

    গত বছর চীন দুর্লভ খনিজ রপ্তানিতে কড়াকড়ি আরোপ করার পর বিশ্বব্যাপী সরবরাহব্যবস্থায় যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি এড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। ইলেকট্রনিকস শিল্পের জন্য এসব খনিজকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়।

    চীনের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো খুব দ্রুত মানবসদৃশ রোবট তৈরি করেছে, যা কারখানা থেকে শুরু করে বাড়িঘরসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়।

    ইলন মাস্কের টেসলা ও বোস্টন ডাইনামিকসের মতো মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর আগেই চীনা কোম্পানিগুলো তাদের রোবট বাজারে এনেছে এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি শুরু করেছে।

  • আবার রাজপথে নামার হুমকি তেলাপোকাদের

    আবার রাজপথে নামার হুমকি তেলাপোকাদের

    ভারতে জেন-জি প্রজন্মের তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি) নেতারা আবারও আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, বিক্ষোভ স্থগিত করার পর গ্রেপ্তার সবাইকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া না হলে তাঁরা আবার রাজপথে নামবেন।

    সিজেপির কয়েক সপ্তাহের টানা আন্দোলনের মুখে সম্প্রতি ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এটি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য বড় এক ধাক্কা ছিল। কারণ, মোদির ১২ বছরের শাসনামলে এর আগে মাত্র একজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন।

    একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় লাখ লাখ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ভারত সরকারের কাছে জবাবদিহির দাবিতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি, যারা সে দেশে ‘তেলাপোকা’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে, ওই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল। তারা শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে। বিক্ষোভে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষও যোগ দেন। নয়াদিল্লির পাশাপাশি দেশের অন্যান্য স্থানেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল।

    আন্দোলনের মুখে শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর সিজেপির আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়। তবে দলটির অভিযোগ, আন্দোলন স্থগিত করার পর দেশজুড়ে ১০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের অনেকের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দেওয়া হয়েছে।

    সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, মোদি সরকার আশ্বাস দিয়েছিল, এখন বা ভবিষ্যতে কোনো বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। এরপরই গত শনিবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

    গত সোমবার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে না আসতে মোদি সরকারকে সতর্ক করেছে সিজেপি। দলটি বলেছে, পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসাম, পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহারে শিক্ষার্থীদের আটকে রাখা হয়েছে বলে তারা খবর পেয়েছে।

    সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘সরকার যদি চুক্তিকে সম্মান না করে এবং আটক বা গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সবাইকে মুক্তি না দেয়, তবে আমরা আবারও আন্দোলন শুরু করতে বাধ্য হব।’

    যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইএসএ) সদস্যরা আলাদা করে বিহারের পুলিশ প্রধানের সঙ্গে দেখা করেছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তি না দিলে আন্দোলন নতুন করে শুরু করার হুমকি দিয়েছেন তাঁরা।

    সোমবার বিহার পুলিশ বলেছে, বিক্ষোভকারীদের কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। রোববার স্থানীয় সময় ৬টার আগে পর্যন্ত করা সব মামলা প্রত্যাহার করা হবে বলেও ঘোষণা দেয় তারা। আইএসএ বলেছে, আসাম সরকারও মামলা প্রত্যাহার করেছে এবং আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তি দিয়েছে।

    বিক্ষোভ চলাকালে ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করতে র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের ছোড়া একটি কাঁদানে গ্যাসের ক্যানিস্টার তুলে আবার ছুড়ছেন এক বিক্ষোভকারী

    তবে গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে ‘আপত্তিকর পোস্টার’ প্রদর্শনের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সোমবার নতুন করে মামলা করেছে। ওই সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিল। রাজ্যের পুলিশ এ পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের অধিকাংশই মুসলিম।

    শুক্রবার অনুষ্ঠিত সমাবেশে মোদির একটি কার্টুনচিত্র হাতে ধরে রাখার অভিযোগে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযোগ দায়ের করেছে। ভারতীয় এই নেতাকে নিয়ে একটি ‘আপত্তিকর ছবি’ পোস্ট করার জন্য অন্য একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোদিকে গালমন্দ করে দেওয়া পোস্টের ওপরও দিল্লি পুলিশ নজরদারি শুরু করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ তিনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মকে ‘আপত্তিকর ভাষা এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য’–সংবলিত পোস্টগুলো সরিয়ে ফেলতে অনুরোধ করেছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেন, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের কনটেন্ট চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়ে গেছে।

    রাজপথে বিক্ষোভের পাশাপাশি বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সরব ছিল। মোদিকে নিয়ে বিদ্রূপাত্মক রিলস এবং মিমে সয়লাব হয়ে গিয়েছিল ইনস্টাগ্রাম। বেশ কয়েকজন সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী দাবি করেছেন, সরকারবিরোধী সমালোচনা করায় তাদের পোস্টগুলো প্ল্যাটফর্মটি থেকে দ্রুত সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    সিজেপি গত সোমবার বলেছে, পুলিশের ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত বিক্ষোভকারীদের আইনি খরচ মেটাতে তারা একটি আইনি তহবিল গঠন করেছে।

    গত মে মাসে ভারতের মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা থেকে এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। ২০ জুলাই বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ সহিংস দমন-পীড়ন চালায়। এমন অবস্থায় আন্দোলন মোদি সরকারের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী একটি গণ–আন্দোলনে রূপ নেয়।

    ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ভারতের সংবিধানে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার দেওয়া হয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে বুড়োদের ওষুধে ভর্তুকি নয়

    যুক্তরাষ্ট্রে বুড়োদের ওষুধে ভর্তুকি নয়

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন মেডিকেয়ার স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির আওতায় ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সি নাগরিকদের জন্য প্রেসক্রিপশনে ওষুধের বিমা পরিকল্পনায় দেওয়া ফেডারেল ভর্তুকি বন্ধ করতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ তথ্য জানিয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে প্রায় আড়াই কোটি প্রবীণ নাগরিকের প্রেসক্রিপশনে দেওয়া ওষুধের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। নিউইয়র্ক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    ট্রাম্প প্রশাসনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, মেডিকেয়ার বিমার প্রিমিয়াম বৃদ্ধি ঠেকাতে ফেডারেল সরকার যে ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার ভর্তুকি দিত, তা চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে বন্ধ হয়ে যাবে।

    যারা বর্তমানে এই ভর্তুকিপ্রাপ্ত পরিকল্পনার আওতায় রয়েছেন, তারা শরৎকালে নতুন প্রিমিয়ামের হার জানতে পারবেন। আগামী নভেম্বরের যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এ সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। কারণ, প্রেসক্রিপশন ওষুধের ব্যয় অনেক অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

    স্বাস্থ্যনীতিবিষয়ক অলাভজনক সংস্থা কেএফএফ জানিয়েছে, ভর্তুকিপ্রাপ্ত একটি পরিকল্পনার গড় মাসিক প্রিমিয়াম প্রায় ৩৬ ডলার।

    ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, ভর্তুকিপ্রাপ্ত পরিকল্পনার আওতাভুক্ত প্রায় এক-চতুর্থাংশ গ্রাহকের প্রিমিয়াম ২০২৭ সালে কমবে অথবা অপরিবর্তিত থাকবে। আরও ৩০ শতাংশের মাসিক প্রিমিয়াম ১০ ডলারের কম বাড়বে।

    ওই কর্মকর্তা জানান, অবশিষ্ট ৪৫ শতাংশ গ্রাহকের মাসিক প্রিমিয়াম ১১ থেকে ২০ ডলার পর্যন্ত বাড়বে।

  • রাশিয়া-পাকিস্তানসহ ২৯ দেশের সঙ্গে চীনের জোট

    রাশিয়া-পাকিস্তানসহ ২৯ দেশের সঙ্গে চীনের জোট

    কৃত্রিম মেধা বা এআই প্রযুক্তি নিয়ে ২৯টি দেশের নতুন সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছে চীন। সংগঠনটির নাম ‘ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কো-অপারেশন অর্গানাইজ়েশন’ বা ওয়াইকো। সম্প্রতি এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। জল্পনা বাড়ছে—এর জেরে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিধাবিভক্ত হবে এআই বিশ্ব।

    চলতি বছরের জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহে কৃত্রিম মেধার শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করে চীন। সাংহাইতে হওয়া সেই অনুষ্ঠানে গঠিত হয় ওয়াইকো জোট। সেখানে হাজির ছিলেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। সংশ্লিষ্ট সংগঠনের জন্ম হতেই এআই নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন প্রেসিডেন্ট শি। একে অত্যন্ত বাস্তব ভূ-রাজনৈতিক বার্তা হিসাবেই দেখা হচ্ছে।

    সাংহাইয়ের সম্মেলনে জিনপিং বলেন, ‘ওয়াইকোর উদ্দেশ্য হলো কৃত্রিম মেধার ক্ষেত্রে সহযোগিতা। এই প্রযুক্তির উপর সুনির্দিষ্ট কোনো রাষ্ট্রের আধিপত্য থাকা উচিত নয়।’ বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে নাম না করে যুক্তরাষ্ট্রকে খোঁচা দিয়েছেন তিনি। অনুষ্ঠানে নিজেদের শক্তি দেখাতে বেশ কিছু অত্যাধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শনও করতে দেখা যায় বেইজিংকে।

    গত কয়েক বছর ধরেই কৃত্রিম মেধার লড়াইতে একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। সাম্প্রতিক সময়ে বেইজিংয়ের এআই মডেলগুলো বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আর তাই কৃত্রিম মেধার ক্ষেত্রে নিজেকে বিশ্বনেতা হিসাবে তুলে ধরার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে চীন। সেখানে এখনও এক নম্বর স্থানটি ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।

    যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কৃত্রিম মেধা মডেলগুলির মধ্যে মূল পার্থক্য হলো খরচ। যে এআই প্রযুক্তি তৈরিতে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করেছে যুক্তরাষ্ট্র, অত্যন্ত সস্তায় সেটা বাজারে আনতে দেখা যাচ্ছে বেইজিংয়ের সংস্থাকে। সব ক্ষেত্রে এই যুক্তি যে প্রযোজ্য, তা একেবারেই নয়। তবে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন এটাই।

    আর তাই সাংহাইয়ের অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট শি বলেন, ‘চীন এআইয়ের ব্যাপারে ঐতিহাসিক অবিচার বন্ধ করার পক্ষপাতী। ওপেন সোর্স থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের কৃত্রিম মেধার মডেলগুলি চলছে। সেই সুযোগ গ্রহণের জন্য ওয়াইকোর সদস্যদের আহ্বান জানাচ্ছি। এই প্রযুক্তির উন্নতি এবং তাতে সবার ন্যায়সঙ্গত অধিকার নিশ্চিত করতে বেইজিং বদ্ধপরিকর।’

    বর্তমানে আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা এবং এশিয়ার বেশ কিছু দেশে চালু আছে চীনের কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তি। আপাতত সেই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা করেছে জিনপিং প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট শি-র কথায়, ‘উন্নত এআই প্রযুক্তির বিকাশ কোনো একটি দেশের একক কৃতিত্ব হওয়া উচিত নয়। বরং একাধিক রাষ্ট্রের যোগদানের মাধ্যমে তাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই ভালো।’

    চীনের অভিযোগ, এআই মডেল সবার সঙ্গে সমানভাবে ভাগ করে নিতে নারাজ যুক্তরাষ্ট্র। মাঝেমধ্যেই জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাত দিয়ে বহু রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিটি ব্যবহারে বাধা সৃষ্টি করে থাকে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের এমন স্বার্থপর নীতির প্রবল বিরোধী বেইজিং। সেই কারণেই ২৯টি বন্ধুরাষ্ট্রকে নিয়ে গঠিত ওয়াইকো জোটকে শক্তিশালী করার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে চীন।

    গত বছরের জুলাইতে প্রথম বার ওয়াইকো গঠনের নকশা প্রকাশ্যে আনেন চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীটিতে রয়েছে রাশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজ়িল, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, সেনেগাল এবং পাকিস্তান। মূলত দক্ষিণ গোলার্ধের প্রায় সমস্ত দেশকে এর অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে বেইজিং।

    ওয়াইকো গঠনে চীনের উদ্যোগী হওয়ার নেপথ্যে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, আগামী দিনে কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তি নিয়ে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক আইন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে জাতিসংঘের। তাতে মার্কিন প্রভাব থাকার সম্ভাবনা ষোলো আনা। ২৯ রাষ্ট্রের এই জোটকে সামনে রেখে সেটাকে আপাতত আটকাতে চাইছে বেইজিং। পাশাপাশি, নিয়মকানুনও নিজেদের মতো করার ইচ্ছা আছে তাদের।

    দ্বিতীয়ত, বেইজিংয়ের শিল্পনীতির বড় অংশ জুড়ে আছে কৃত্রিম মেধা। এই প্রযুক্তির জন্য চাই বিপুল পরিমাণের র‌্যাম ও স্টোরেজ চিপ। এর সিংহভাগ বর্তমানে তৈরি হয় চীনে। তাছাড়া চিপ নির্মাণের অন্যতম কাঁচামাল বিরল খনিজের উপরও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ রয়েছে চীনের। সেই অবস্থা অক্ষত রাখতেই ২৯ রাষ্ট্রের জোট গঠন করেছেন প্রেসিডেন্ট শি, দাবি বিশ্লেষকদের একাংশের।

    তবে কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তির লড়াইতে চীনের থেকে এখনও অনেকটাই এগিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র। এআই-ভিত্তিক হাতিয়ার নির্মাণে জোর দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জেরে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে তীব্র হচ্ছে চিপ-যুদ্ধ। কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তি চালাতে চাই বিশাল বিশাল তথ্যভান্ডার বা ডেটা সেন্টার। এর জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধিরও প্রয়োজন রয়েছে। সেখানে আবার মার্কিন সরকারের থেকে এগিয়ে আছে জিনপিং প্রশাসন।

    বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের থেকে দ্বিগুণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে চীন। শুধু তা-ই নয়, দামের নিরিখে বেইজিংয়ের তড়িৎশক্তি অনেক সস্তা। তবে জটিল প্রযুক্তি রফতানিতে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা জারি করায় এআই উন্নয়নের সূচক চীনে কিছুটা থমকে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন জোট তৈরি করে কৃত্রিম মেধায় প্রেসিডেন্ট শি যে আধিপত্য চাইছেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

    বিষয়টি নিয়ে এরইমধ্যে গণমাধ্যমে মুখ খুলেছেন মার্কিন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের গবেষক অরিন্দ্রজিৎ বসু। তার কথায়, ‘কৃত্রিম মেধা ও সাইবার সুরক্ষা নীতির ক্ষেত্রে বিশ্বকে কোনো একটা দিক বেছে নিতে হবে। হয় তারা আমেরিকার দিকে যাবেন, নয়তো চীন। তৃতীয় পক্ষ হিসাবে থাকা বেশ কঠিন। ওয়াইকো তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।’

  • ইরাকে সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত ২০

    ইরাকে সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত ২০

    ইরাকের পপুলার মবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) জানিয়েছে, দেশটির সাতটি প্রদেশজুড়ে চালানো যুক্তরাষ্ট্র-সৌদির যৌথ হামলায় তাদের অন্তত ২০ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩২ জন।

    পিএমএফ বলেছে, হতাহতের এই সংখ্যা প্রাথমিক, এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। এর আগে নিহতের সংখ্যা আট বলে জানানো হয়েছিল।

    এক বিবৃতিতে তারা জানায়, বাগদাদ, ওয়াসিত, নিনেভেহ, বসরা, কিরকুক, কারবালা ও দিয়ালা প্রদেশে পিএমএফের ঘাঁটিগুলোতে এই হামলা চালানো হয়। হামলায় ভবন, যানবাহন ও সামরিক সরঞ্জামেরও বিভিন্ন মাত্রার ক্ষতি হয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় তাড়া নেই ইরানের

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় তাড়া নেই ইরানের

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর কয়েক দিন ধরে ইরানের আকাশে আর কোনো বিস্ফোরণ বা বিমান হামলার শব্দ শোনা যায়নি। তবে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় ফিরতে তাদের কোনো তাড়া নেই।

    ইরানের দাবি, তারা বর্তমানে কৌশলগতভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। দেশটির সামরিক নেতারা যুদ্ধক্ষেত্রে সাফল্যের কথা তুলে ধরছেন এবং কূটনীতিকেরা যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করছেন যে, ইরান আলোচনায় ফিরতে মরিয়া।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরান মনে করছে বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতি—যেখানে পূর্ণ শান্তিও নেই, আবার পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধও নয়—তাদের জন্য সুবিধাজনক। দেশটির মূল লক্ষ্য হলো কৌশলগত হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি আদায় করা, যা যুক্তরাষ্ট্র এখনো মেনে নিতে রাজি নয়।

    তবে এই অবস্থান ইরানের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় আবার সংঘাত শুরু হতে পারে। পাশাপাশি যুদ্ধ, অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে দেশটির অর্থনীতি আরো দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    ইরানের সামরিক বাহিনীর সাবেক মুখপাত্র রমজান শরিফ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রতিটি পর্যায়ে কৌশলগত পরাজয়ের মুখে পড়েছে’। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিকে যুদ্ধবিরতি বলা যাবে না।

    অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান আলোচনার জন্য বিরতি চেয়েছে এবং দুই দেশ আলোচনা করছে। তবে ইরান তা অস্বীকার করেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বিশ্বাস করছে সময় তাদের পক্ষেই রয়েছে। তারা মনে করছে, দীর্ঘমেয়াদি চাপ সহ্য করার ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় তাদের বেশি এবং শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনই তাদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হবে।

    তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ইরানও বড় ধরনের ঝুঁকি নিচ্ছে। নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার সুযোগ থাকলেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতবিরোধই সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

  • ইসরাইল-আমিরাতের গুপ্ত বৈঠক

    ইসরাইল-আমিরাতের গুপ্ত বৈঠক

    ইরানকে ঘিরে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক গোপন বৈঠক করেছেন ইসরাইল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকর্তারা। তবে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের পূর্বে দেশ দুটি যুক্তরাষ্ট্রেরে সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে বলে জানা গেছে। ইসরাইলের টেলিভিশন চ্যানেল-১২ এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৃতীয় একটি দেশে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও নিরাপত্তার কারণে সেই দেশের নাম প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির সময়েই এ বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয়।

    চ্যানেল-১২ জানায়, বৈঠকে আমিরাতের কর্মকর্তারা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, এ ধরনের সমঝোতা ইরানকে উল্লেখযোগ্য কোনো ছাড় না দিয়েই সময়ক্ষেপণ এবং অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জনের সুযোগ করে দিতে পারে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমন্বিত কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এ ধরনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

    চ্যানেল-১২ পশ্চিমা কয়েকজন কূটনীতিকের বরাত দিয়ে জানায়, উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য কয়েকটি দেশের তুলনায় ইরানের বিষয়ে আমিরাত এখন আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আবুধাবির মতে, তেহরানের বর্তমান নীতিমালা দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত ভিত্তি তৈরি করছে না।

    কূটনীতিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনায় বিলম্ব ঘটানোর ইরানি কৌশলে আমিরাত আস্থা রাখছে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে আবুধাবি ও তেল আবিবের কৌশলগত স্বার্থের মধ্যে আরও বেশি মিল তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

    উল্লেখ্য, ২০২০ সালে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পর থেকে ইসরাইল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা ক্রমাগত জোরদার হয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে গীর্জা কিনে মসজিদ-মাদরাসা বানাচ্ছেন মুসলিমরা

    যুক্তরাষ্ট্রে গীর্জা কিনে মসজিদ-মাদরাসা বানাচ্ছেন মুসলিমরা

    যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের রিচার্ডসনে একটি ব্যাপটিস্ট গীর্জা কিনেছে মুসলিম সংগঠন ‘সালাহউদ্দীন ফিউচার একাডেমি’ (এসএএফএ)। আইনি মামলার জটিলতা সমাধানের পর তারা এই বিশালাকার চার্চ প্রাঙ্গণটিকে একটি ইসলামিক স্কুল, সেমিনারি এবং মসজিদে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

    এসএএফএ একটি কে-১২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তাদের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হলো ‘জ্ঞানকে ইসলামিক রূপদান’—যার মাধ্যমে কমন কোর কারিকুলামের পাশাপাশি কোরআন ও হাদিসের শিক্ষাকে প্রতিটি ক্ষেত্রে সমন্বিত করা হবে।

    জায়গাটি তারা ক্রয় করেছে ‘কোরিয়ান ওয়ার্ল্ড মিশন ব্যাপটিস্ট চার্চ’-এর কাছ থেকে, যা ১৯৯২ সাল থেকে এই সম্পত্তির মালিক ছিল। এই খ্রিষ্টান ধর্মীয় কেন্দ্রটির মূল লক্ষ্য ছিল খ্রিষ্টধর্মের বার্তা প্রচার করা এবং যিশুখ্রিষ্টের অনুসারী তৈরি করা।

    সম্পত্তিটিতে সালাহউদ্দীন ফিউচার একাডেমির পাশাপাশি ‘অথেনটিক ইলম মিশন’ (এআইএম) যৌথভাবে ‘দাওয়াহ একাডেমি অ্যান্ড সেমিনারি’ চালু করতে যাচ্ছে। এটিকে আমেরিকার প্রথম কোনো জাতীয় আবাসিক দাওয়াহ সেমিনারি হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে, যেখানে ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতক ডিগ্রিসহ বিভিন্ন কোর্স করানো হবে।

    সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, আমরা এমন একদল যোগ্য ও নীতিবান নেতৃত্ব গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যারা প্রজ্ঞার সাথে ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং সত্যের সমর্থনে প্রামাণিক অবস্থান তুলে ধরবে।

    চার্চ হস্তান্তর নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ভিডিও বার্তায় এআইএম-এর এক বক্তা মন্তব্য করেন—যে চার্চটি একসময় মুসলিমদের খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত করার প্রশিক্ষণ দিত, আজ সেটিই একটি মুসলিম সংস্থায় পরিণত হতে যাচ্ছে।

    টেক্সাসভিত্তিক স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ডালাস এক্সপ্রেস-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওই চার্চের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে সাফা । অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের অক্টোবরে ৩৮ লাখ (৩.৮ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারে সম্পত্তিটি কেনার জন্য চার্চ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি চুক্তি সই হয় এবং তারা ৩৮ হাজার ডলার অগ্রিম পরিশোধ করে। চলতি মে মাসে হস্তান্তর সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও চার্চ দাবি করে—তাদের যাজক (পাস্টর) বিষয়টি ভুল বুঝে সই করেছিলেন; তিনি ভেবেছিলেন এটি জায়গা বিক্রির কোনো বিজ্ঞাপন বা লিস্টিং চুক্তি।

    এর প্রেক্ষিতে চুক্তি কার্যকর করার দাবি জানিয়ে এবং ১ মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি পদক্ষেপ নেয় সাফা। পরবর্তীতে এপ্রিল মাসে কোনো চূড়ান্ত রায় ছাড়াই মামলাটি নিষ্পত্তি হয় এবং ক্রয়ের পথ সুগম হয়।

    চার্চটি হাতবদলের এমন ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন টেক্সাসে ইসলামের ক্রমবর্ধমান বিস্তার নিয়ে স্থানভেদে বিভিন্ন আলোচনা হচ্ছে। ডেমোগ্রাফিক তথ্যানুযায়ী, টেক্সাসের মোট জনসংখ্যার মাত্র ২ শতাংশ মুসলিম হলেও, জনসংখ্যার দিক থেকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ৫ম বৃহত্তম মুসলিম অধ্যুষিত অঙ্গরাজ্য। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ইসলাম অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল ধর্ম হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

  • ইয়েমেনের হামলায় সৌদি তেল স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি

    ইয়েমেনের হামলায় সৌদি তেল স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি

    ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা আরামকোর বড় ধরনের ক্ষতির দৃশ্য ধরা পড়েছে স্যাটেলাইট বা উপগ্রহ চিত্রে।

    গত সোমবার ধারণ করা ছবিগুলোতে দেখা যায়, লোহিত সাগর উপকূলে অবস্থিত ‘সৌদি আরামকোর’ ইয়ানবু বাল্ক প্ল্যান্টের একটি গোলাকার স্টোরেজ ট্যাংকের চারপাশজুড়ে পোড়া দাগ রয়েছে। যা ইঙ্গিত করে, সাম্প্রতিক হামলায় কেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    তাছাড়া ইয়ানবু ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে অবস্থিত ‘আলহামরানি-ফুকস ব্লেন্ডিং অ্যান্ড গ্রিজ প্ল্যান্ট’-এ আরও মারাত্মক ক্ষতির আলামত মিলেছে। স্যাটেলাইট চিত্রে প্রতিষ্ঠানটির বিশাল একটি অংশজুড়ে অগ্নিকাণ্ডের স্পষ্ট চিহ্ন দেখা গেছে।

    এদিকে, ইয়েমেনের প্রতিরোধ গোষ্ঠীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি সৌদি আরবে দুটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দেওয়ার পরেই এসব ছবি সামনে এলো। তিনি এই হামলাকে সৌদি আরবের ‘নগ্ন ও অপরাধমূলক আগ্রাসনের’ বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    ইয়াহিয়ার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম অভিযানে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের সাহায্যে সৌদির জিজান অঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

  • চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে ইরান

    চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে ইরান

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে কয়েক মাসের সংঘাতের পর আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতে চীনের তৈরি কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র (ম্যানপ্যাডস) কিনছে ইরান। এ বিষয়ে অবগত তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

    সূত্রগুলোর দাবি, ৬০ থেকে ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তিতে ৩০০ থেকে ৪০০টি কিউডব্লিউ-১২ ও এফএন-১৬ ম্যানপ্যাডস কেনা হচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই প্রথম চালান ইরানে পৌঁছাতে পারে। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ খবরকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

    রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেশটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটেই নতুন করে এই অস্ত্র কেনার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম চালান পশ্চিম চীনের উরুমকি থেকে আকাশপথে পাঠানো হবে। এরপর পাকিস্তান হয়ে ইরানে পৌঁছানোর কথা থাকলেও পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) চীন থেকে ইরানে আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্র সরবরাহে দেশটির সম্পৃক্ততার দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

    সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ম্যানপ্যাডস সহজে বহন ও দ্রুত মোতায়েন করা যায়। স্থায়ী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তুলনায় এগুলো শনাক্ত ও ধ্বংস করা কঠিন। পাশাপাশি ড্রোন, হেলিকপ্টার এবং নিচু দিয়ে উড়া যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে সক্ষম।

    এদিকে ইউরোপীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, ইরানের কাছে কিউডব্লিউ-১২, কিউডব্লিউ-১৮ ও কিউডব্লিউ-১৯ সিরিজের ম্যানপ্যাডস বিক্রি নিয়ে আরও কয়েকটি সম্ভাব্য চুক্তি নিয়েও আলোচনা চলছে। এর আগে রয়টার্স জানিয়েছিল, চীনের কাছ থেকে জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয়েও ইরান পৃথক একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছিল।