আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • ৩০৬ বছরের বিশ্বরেকর্ড ভাঙলেন নাথান

    ৩০৬ বছরের বিশ্বরেকর্ড ভাঙলেন নাথান

    যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার এক তরুণ প্রকৌশল শিক্ষক বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ অধ্যাপক হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছেন। ১৯ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই একটি কলেজে শিক্ষকতা শুরু করে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি। পিপল ম্যাগাজিনের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।

    গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস (জিডব্লিউআর) অনুযায়ী, নাথান থমাস ১৮ বছর ৩৪৬ দিন বয়সে মিয়ামি ডেড কলেজে প্রকৌশল বিষয়ে শিক্ষকতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ অধ্যাপকের স্বীকৃতি পান।
    এর আগে এই রেকর্ডটি টানা ৩০৬ বছর ধরে ধরে রেখেছিলেন কলিন ম্যাকলরিন। তিনি ১৯ বছর বয়সে অধ্যাপক হয়েছিলেন।

    নাথান থমাস বর্তমানে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নারী অধ্যাপক আলিয়া সাবুরের চেয়েও ১৬ দিন কম বয়সে অধ্যাপক হয়েছেন। আলিয়া সাবুর ২০০৮ সালে ১৮ বছর ৩৬২ দিন বয়সে অধ্যাপক হয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন।

    গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের আগস্টে নাথান থমাস মিয়ামি ডেড কলেজে ‘কপ ২২৭০: সি ফর ইঞ্জিনিয়ার্স’ কোর্স পড়ানো শুরু করেন।

    মজার বিষয় হলো, তিনি যেসব শিক্ষার্থীকে পড়াতেন, তাদের অনেকেই ছিলেন তার সমবয়সী। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নাথান বলেন, শ্রেণিকক্ষে সবাই একই উদ্দেশ্যে আসে- শেখার জন্য। সেখানে বয়স খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।

    তিনি বলেন, আমি শুধু আমার কাজটি ভালোভাবে করার চেষ্টা করি এবং যতটা সম্ভব শিক্ষার্থীদের সাহায্য করি। কেউ যদি শেখার জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে, সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    একজন যোগ্য শিক্ষক হিসেবে নাথান তার শিক্ষার্থীদের জটিল কম্পিউটিং ও প্রোগ্রামিং বিষয় পড়ান। নাথানের শিক্ষাজীবনও ছিল ব্যতিক্রমী। মাত্র ১০ বছর বয়সে তিনি মিয়ামি ডেড কলেজে ডুয়াল এনরোলমেন্ট প্রোগ্রামে ভর্তি হন। পরে ১৪ বছর বয়সে ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে স্থানান্তরিত হন।
    পরবর্তী চার বছরের মধ্যে তিনি বৈদ্যুতিক প্রকৌশলে (ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং) স্নাতক ও স্নাতকোত্তর- উভয় ডিগ্রিই সম্মানের সঙ্গে সম্পন্ন করেন।

    প্রকৌশলী পরিবারের সন্তান নাথান জানান, ছোটবেলা থেকেই গণিত তার কাছে সহজ মনে হতো। তিনি বলেন, আমার মা কঠিন বিষয়গুলো খুব সহজভাবে বুঝিয়ে দিতে পারতেন। তখন হয়তো বুঝিনি, কিন্তু পরে উপলব্ধি করেছি, সেটিই আমার শেখার ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।

    শিক্ষকতা সম্পর্কে নাথান বলেন, তার সবচেয়ে ভালো লাগে সেই মুহূর্তটি, যখন কোনো শিক্ষার্থী প্রথমে অসম্ভব মনে হওয়া একটি বিষয় হঠাৎ করেই বুঝে ফেলে। তার মতে, সেই অনুভূতিই শিক্ষকতার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

  • স্তন ক্যানসার নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা

    স্তন ক্যানসার নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা

    বর্তমান ডিজিটাল যুগে তথ্যের কোনো অভাব নেই, তবে সেই তথ্যের কতটা সত্য আর কতটা গুজব, তা যাচাই করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য সচেতনতার ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্যগুলো নারীদের মধ্যে অহেতুক ভীতি ও উদ্বেগের সৃষ্টি করে। স্তন ক্যানসারের মতো সংবেদনশীল বিষয়েও এমন অনেক ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে, যা বছরের পর বছর ধরে নারীরা বিশ্বাস করে আসছেন।

    সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের একটি প্রতিবেদনে ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ড. ক্রিস্টিন লাই স্তন ক্যানসার নিয়ে এমন কিছু বহুল প্রচলিত মিথ বা ভুল ধারণা ভেঙে দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, ভয় কখনো ক্যানসার প্রতিরোধ করতে পারে না, বরং সঠিক ও তথ্যভিত্তিক জ্ঞানই পারে সচেতনতা বাড়াতে। ড. লাইয়ের মতে, ইন্টারনেটে প্রচারিত তথ্যের ওপর অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণের ওপর নির্ভর করা উচিত।

    নিচে স্তন ক্যানসার নিয়ে ড. ক্রিস্টিন লাইয়ের আলোচিত ৮টি ভুল ধারণা ও সেগুলোর প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হলো:

    ১. অন্তর্বাস বা ব্রা পরলে কি ক্যানসার হয়?

    অনেক নারীই মনে করেন দীর্ঘক্ষণ ব্রা পরে থাকা, বিশেষ করে আন্ডারওয়্যার ব্রা বা ব্রা পরে ঘুমানো ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। কিন্তু ড. লাই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, অন্তর্বাসের সাথে ক্যানসারের কোনো বৈজ্ঞানিক যোগসূত্র নেই। ক্যানসার অস্ট্রেলিয়ার তালিকাতেও এটিকে ঝুঁকিমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

    ২. কফি পান ও স্তনের ব্যথা

    অনেকে মনে করেন কফি খেলে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। ক্যাফেইন পানের ফলে কিছু নারীর স্তন কিছুটা নরম বা পিণ্ডাকৃতির মনে হতে পারে, তবে এটি মূলত হরমোনের পরিবর্তনের কারণে হয়, ক্যানসারের জন্য নয়। তাই ক্যানসারের ভয়ে প্রিয় পানীয়টি ছেড়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

    ৩. চিনি কি ক্যানসারের খাবার?

    ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি বড় মিথ হলো, চিনি ক্যানসারকে পুষ্ট করে। ড. লাইয়ের মতে, আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষ গ্লুকোজ বা চিনির ওপর নির্ভর করে চলে। কেবল চিনি বর্জন করলেই ক্যানসার কোষ ধ্বংস করা সম্ভব নয়, কারণ এটি সুস্থ কোষগুলোকেও প্রভাবিত করবে। কার্বোহাইড্রেট বা চিনি নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।

    ৪. সয়াবিন জাতীয় খাবারের প্রভাব

    সয়াবিন, টফু বা সয়া মিল্ক স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়—এমন ধারণা প্রচলিত থাকলেও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ভিন্ন কথা বলছে। সয়াবিনে থাকা উদ্ভিজ্জ ইস্ট্রোজেন শরীরের প্রাকৃতিক ইস্ট্রোজেনের মতো কাজ করে না এবং কিছু গবেষণায় এটি স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক হিসেবেও দেখা গেছে।

    ৫. স্তনের আকার ও ক্যানসার ঝুঁকি

    অনেকে বিশ্বাস করেন স্তনের আকার বড় হলে ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে ড. লাই জানিয়েছেন, স্তন ছোট বা বড় হওয়ার ওপর ক্যানসারের ঝুঁকি নির্ভর করে না। এটি একটি শারীরিক গঠনগত বিষয় মাত্র।

    ৬. আঘাত বা ক্ষত থেকে ক্যানসার

    হঠাৎ কোথাও পড়ে যাওয়া বা গাড়ির সিটবেল্ট থেকে স্তনে কোনো আঘাত পেলে অনেকেই ক্যানসারের ভয় পান। ড. লাই জানান, আঘাতের ফলে স্তনে সাময়িকভাবে কোনো পিণ্ড বা দলা তৈরি হতে পারে যা নিরাময়যোগ্য, তবে এটি ক্যানসারে রূপান্তর হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই।

    ৭. গর্ভপাত বা মিসক্যারেজ

    ১৬টি দেশের প্রায় ৮৩ হাজার নারীর ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভপাতের সাথে স্তন ক্যানসারের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি একটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা যা কেবল মানসিক চাপ বৃদ্ধি করে।

    ৮. আইভিএফ বা প্রজনন চিকিৎসা

    অনেকের ধারণা আইভিএফ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হরমোনগুলো স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ড. লাইয়ের মতে, এই চিকিৎসার সাথে ক্যানসারের ঝুঁকির কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো মেলেনি, তাই যারা আইভিএফ করার কথা ভাবছেন তাদের দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

    শেষ কথা

    ড. ক্রিস্টিন লাইয়ের ভাষায়, ‘আমার লক্ষ্য হলো নারীদের মন থেকে ভয় দূর করা, ভয় বাড়িয়ে দেওয়া নয়’। স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকলে সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং নিয়মিত চেকআপ করানোই সুস্থ থাকার প্রধান উপায়। ভুল তথ্যের মায়াজাল ছিন্ন করে সঠিক জ্ঞানে সচেতন হওয়াই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

  • খুনোখুনি আমার পছন্দ না তাই ইরানের সঙ্গে চুক্তি চাই: ট্রাম্প

    খুনোখুনি আমার পছন্দ না তাই ইরানের সঙ্গে চুক্তি চাই: ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাতের চেয়ে কূটনৈতিক সমঝোতা বা চুক্তির মাধ্যমেই সংকট সমাধান করতে চান তিনি। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা বলেন।

    পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান উত্তেজনা, সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ এবং আসন্ন আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান যে তিনি মানুষ হত্যা করতে চান না, বরং একটি চুক্তিতে পৌঁছানোকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ মধ্যস্থতায় আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে যুদ্ধ হলে তা ইরানের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনত। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং খোদ ইরানের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করার পর এবং একটি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সামরিক অভিযান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

    হরমুজ প্রণালির পূর্ণাঙ্গ উন্মুক্তকরণ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিরস্ত্রীকরণের অগ্রগতির সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়গুলোকে যুক্ত করেছেন ট্রাম্প। তিনি আলোচনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেননি, তবে প্রয়োজন সাপেক্ষে যেকোনো সময় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতিও যে যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে, সে কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

    আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হরমোজ প্রণালির ওপর চলা নিষেধাজ্ঞা দূর করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই ট্রাম্পের এই বক্তব্য এল।

  • ঢালিউডের প্রথম সিনেমা ‘মুখ ও মুখোশ’-এর ৭০ বছর

    ঢালিউডের প্রথম সিনেমা ‘মুখ ও মুখোশ’-এর ৭০ বছর

    বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলক ‘মুখ ও মুখোশ’। ১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট দেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা সবাক চলচ্চিত্রটি মুক্তির মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছিল ঢাকাই চলচ্চিত্রের আনুষ্ঠানিক যাত্রা। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার ৭০ বছর পূর্তি ছিল আজ।

    ৭০ বছর আগে এই দিনে ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে উদ্বোধন করা হয়েছিল বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের পথিকৃৎ ছবি ‘মুখ ও মুখোশ’। উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গর্ভনর শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক। ছবিটি পরিচালনা করেন আবদুল জব্বার খান। এই চলচ্চিত্রের জন্মই হয়েছিল এক চ্যালেঞ্জ থেকে। ১৯৫৩ সালে পূর্ব পাকিস্তানে চলচ্চিত্র নির্মাণের সম্ভাবনা নিয়ে আয়োজিত এক সভায় বলা হয়েছিল, এ অঞ্চলের আর্দ্র আবহাওয়ায় চলচ্চিত্র নির্মাণ সম্ভব নয়। সেই বক্তব্যের প্রতিবাদ করে আবদুল জব্বার খান ঘোষণা দেন– তিনি নিজেই ছবি নির্মাণ করে দেখাবেন। চলচ্চিত্র নির্মাণ সম্পর্কে পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও নিজের লেখা ‘ডাকাত’ নাটক অবলম্বনে চিত্রনাট্য তৈরি করেন তিনি।

    কলকাতা থেকে পুরোনো একটি আইমো ক্যামেরা ও সাধারণ একটি টেপ রেকর্ডার এনে শুরু হয় কাজ। নারীশিল্পীর অভাবে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে অভিনেত্রী খুঁজে নেওয়া হয়। নায়িকা কুলসুম চরিত্রে অভিনয় করেন কলকাতার পূর্ণিমা সেনগুপ্ত, আর পরিচালক নিজেই অভিনয় করেন নায়ক আফজালের ভূমিকায়।

    বুড়িগঙ্গার ওপারের কালীগঞ্জ, লালমাটিয়া, তেজগাঁও, জিঞ্জিরা ও টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে ছবিটির শুটিং সম্পন্ন হয়। ১৯৫৫ সালের ৩০ অক্টোবর শুটিং শেষ হওয়ার পর সম্পাদনা ও প্রিন্টের কাজ করা হয় লাহোরের শাহনুর স্টুডিওতে। প্রথমে ঢাকার পরিবেশকরা ছবিটি মুক্তি দিতে আগ্রহী না হলেও পরে ‘পাকিস্তান ফিল্ম ট্রাস্ট’ ও ‘পাকিস্তান ফিল্ম সার্ভিস’ পরিবেশনার দায়িত্ব নেয়। রূপমহল সিনেমা হলে উদ্বোধনী প্রদর্শনীর পাশাপাশি চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও খুলনাতেও ছবিটি মুক্তি পায়। দর্শকদের উচ্ছ্বসিত সাড়া প্রমাণ করে, বাংলার মাটিতেও চলচ্চিত্র নির্মাণ সম্ভব। আর সেই সাফল্যের মধ্য দিয়েই রচিত হয় বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের নতুন ইতিহাস। ছবিটির সংগীত পরিচালনা করেন সমর দাস। কণ্ঠ দেন মাহবুবা হাসনাত ও আবদুল আলীম, আর নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন গওহর জামিল।

    ‘মুখ ও মুখোশ’-এর ৭০ বছর পূর্ণ হওয়ায় গত ২ আগস্ট চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে শুরু হয় বাংলা চলচ্চিত্রের পোস্টার প্রদর্শনী। প্রদর্শনীতে স্থান পায় বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের পোস্টারের পাশাপাশি ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত দর্শকনন্দিত সিনেমাগুলোর পোস্টারও।

    উদ্বোধনী আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, উপস্থিত ছিলেন ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, শিশুসাহিত্যিক ও প্রযোজক ফরিদুর রেজা সাগর, চলচ্চিত্র নির্মাতা কাজী হায়াৎ, মতিন রহমান, অভিনেতা সোহেল আরমানসহ চলচ্চিত্রাঙ্গনের বিশিষ্টজনরা।

    অনুষ্ঠানে মো. আব্দুস সালাম বলেন, প্রদর্শনীতে থাকা অনেক সিনেমাই তিনি দেখেছেন। বাংলা চলচ্চিত্রের গৌরবোজ্জ্বল অতীতের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ভালো চলচ্চিত্র নির্মাণে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের পাশাপাশি অন্যান্য প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও নির্মাতাদের আরও সক্রিয় হতে হবে। দর্শকদের মানসম্মত সিনেমা উপহার দিতে পারলে তারা অবশ্যই প্রেক্ষাগৃহে ফিরবেন বলেও মনে করেন তিনি।

    চলচ্চিত্র সাংবাদিক আবদুর রহমান বলেন, ১৯৫৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার বাংলা চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে। তবে ২০০০ সালের পর থেকে চলচ্চিত্রশিল্পে ধীরে ধীরে মন্দা নেমে আসে। একসময় দেশে প্রায় ১,৭০০টি সিনেমা হল থাকলেও বর্তমানে টিকে আছে মাত্র ৫০ থেকে ৬০টি। ঈদের মতো বড় উৎসবে সংখ্যাটি সর্বোচ্চ ৮০-এর কাছাকাছি পৌঁছায়।

    তিনি বলেন, বাংলা চলচ্চিত্রের ৭০ বছরের ইতিহাস যেমন গৌরবের, তেমনি বর্তমান সংকটও বাস্তবতা। এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

    চলচ্চিত্র নির্মাতা কাজী হায়াৎ বলেন, সময়ের সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রযুক্তি যেমন বদলেছে, তেমনি বদলেছে দর্শকদের দেখার মাধ্যমও। তবে সিনেমার ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আশাবাদী। তাঁর ভাষায়, “সিনেমা কোনোদিন বিলীন হবে না। যারা একসময় হলবিমুখ হয়েছিল, তারাও এখন আবার সিনেমা দেখতে শুরু করেছে। সরকার যদি সারা দেশে আরও সিনেপ্লেক্স নির্মাণে সহযোগিতা করে, তাহলে বাংলা চলচ্চিত্র নতুন করে ঘুরে দাঁড়াবে।”

  • ওয়াশিংটনে দাবানলে ৬০০ স্থাপনা পুড়ে ছাই

    ওয়াশিংটনে দাবানলে ৬০০ স্থাপনা পুড়ে ছাই

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্পোকেইন এলাকায় ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ৬০০টি স্থাপনা ধ্বংস এবং ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

    অঙ্গরাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শহরে দাবানলে ৮.২ বর্গমাইল এলাকা পুড়লেও ওয়াশিংটন জুড়েই প্রায় ৩৯০ বর্গমাইল এলাকা পুড়ে গেছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় ও ফেডারেল সংস্থাগুলো। দাবানলের তীব্রতা এতটাই বেশি যে একটি ভেটেরানস হাসপাতালের রোগীদেরও সরিয়ে নিতে হয়েছে।

    আবহাওয়া শুষ্ক থাকায় এবং তীব্র বাতাসের কারণে আগামী দিনগুলো আরও চ্যালেঞ্জিং হবে বলে সতর্ক করেছেন সেনেটর মারিয়া ক্যান্টওয়েল। ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনের গভর্নর বব ফার্গুসন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং স্পোকেইনের কনভেনশন সেন্টারে একটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

    ওল্ড ট্রেইলস, ফেয়ারভিউ ও মিডউভিউসহ কয়েকটি সক্রিয় দাবানলের কারণে বিদ্যুৎহীন রয়েছে হাজার হাজার মানুষ এবং ইউটিলিটি লাইন মেরামতের কাজ চলছে।

    এদিকে স্পোকেইন ছাড়াও পশ্চিম আইডাহো ও পূর্ব ওরেগনে বজ্রপাতে সৃষ্ট আরেকটি বিশাল দাবানল গত ১০ দিন ধরে ৫২৫ বর্গমাইল তৃণভূমি পুড়িয়ে দিয়েছে, যা শত শত বাড়ি ও গবাদি পশুর খামারকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ওই অঞ্চলের আবহাওয়া শুষ্ক ও রৌদ্রোজ্জ্বল থাকায় তাপমাত্রা ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হতে পারে।

    পরিস্থিতি বিবেচনায় ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস একাধিক রাজ্যে বায়ুমানের অবনতি, চরম তাপপ্রবাহ এবং রেড ফ্ল্যাগ ফায়ার সতর্কতা জারি করেছে।

  • সীমান্তে ২৫০ চীনা কামান বসাল পাকিস্তান

    সীমান্তে ২৫০ চীনা কামান বসাল পাকিস্তান

    ভারত সীমান্তে নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়াতে ২৫০টি চীনা তৈরি ‘এসএইচ-১৫’ স্বচালিত কামান মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। এসব কামান ট্রাকে বসানো এবং এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সহজে নিয়ে যাওয়া যায়।

    ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের বরাত দিয়ে সোমবার (৩ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছে অপর গণমাধ্যম দ্য হিন্দুস্তান টাইমস।

    ভারতের শীর্ষ গোয়েন্দা সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, পাকিস্তানের পূর্ব সীমান্তে ভারতের মুখোমুখি উত্তর থেকে দক্ষিণ দিক পর্যন্ত প্রধান ক্ষেত্রগুলোতে এই ১৫৫ মিলিমিটারের কামানগুলো বসানো হয়েছে।

    ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের চালানো সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’র পর সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটাই পাকিস্তানের নেয়া সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। ওই বছরের ২২ এপ্রিল পাহালগামে একটি সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারতের সশস্ত্র বাহিনী এই অপারেশন শুরু করেছিল।

    এসএইচ-১৫ কামানের বিশেষত্ব

    চীনের সরকারি অস্ত্র তৈরি প্রতিষ্ঠান ‘নরিনকো’ এই এসএইচ-১৫ মডেলের ১৫৫ মিলিমিটারের স্বচালিত কামানটি তৈরি করেছে। সামরিক তথ্যভিত্তিক প্রকাশনা ‘জেনস’র দেয়া তথ্যানুযায়ী, ছয় চাকার একটি গাড়ির ওপর এই কামানটি বসানো রয়েছে। এর ক্যানভাস বা চার দরজার কেবিনটি পুরোপুরি ঢাকা। এর ছাদে ১২.৭ মিলিমিটারের একটি মেশিনগানও যুক্ত করা আছে। এই কামানে ৪০০ অশ্বশক্তির একটি ডিজেল ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতি টনের জন্য এতে ১৫.৬৮ অশ্বশক্তির পাওয়ার-টু-ওয়েট অনুপাত বা শক্তি এবং ওজনের সামঞ্জস্য রয়েছে।

    এই কামান দিয়ে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত গোলা ছোড়া যায়। এটি ন্যাটোর মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ । অর্থাৎ, কামানটি ন্যাটো জোটের সামরিক মানদণ্ড বা স্পেসিফিকেশন (যেমন: ১৫৫ মিমি স্ট্যান্ডার্ড) মেনে তৈরি। তাই ন্যাটো দেশগুলো যে মাপের গোলা ব্যবহার করে, পাকিস্তান বা চীনের তৈরি এই কামানটি সেই একই মাপে তৈরি হওয়ায় ন্যাটো-স্ট্যান্ডার্ডের যেকোনো গোলা এতে অনায়াসে ব্যবহার করা যাবে।

    নরিনকো জানিয়েছে, এর সর্বোচ্চ পাল্লা নির্ভর করে কী ধরনের গোলা ব্যবহার করা হচ্ছে তার ওপর। তবে তাদের তৈরি বিশেষ বিস্ফোরক রকেট-সহায়ক গোলা ব্যবহার করলে এটি সর্বোচ্চ ৫০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।

    ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, এই কামানে একটি স্বয়ংক্রিয় আগুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং হাইড্রোলিক ব্যবস্থা রয়েছে, যা গাড়িটিকে শক্তভাবে মাটিতে ধরে রাখে। এর ফলে এটি খুব দ্রুত নামানো যায়, প্রতি ৬০ সেকেন্ডে ছয়টি গোলা ছোড়া যায় এবং প্রতিপক্ষ জবাব দেয়ার আগেই দ্রুত নিজের অবস্থান বদলে ফেলা যায়।

    চীন-পাকিস্তান সামরিক সম্পর্ক

    চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে গভীর হতে থাকা সামরিক সম্পর্কেরই প্রমাণ দেয় এ ঘটনা। গত কয়েক বছরে এই সম্পর্ক আরো জোরদার হয়েছে। সম্প্রতি রাওয়ালপিন্ডির এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসীম মুনির বলেন, বেইজিং ও ইসলামাবাদের সম্পর্ক ‘অনন্য ও সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ’। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, ওই অনুষ্ঠানে পাকিস্তানে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত জিয়াং যায়দং, চীনা প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে মেজর জেনারেল ওয়াং ঝোং এবং চীনের দূতাবাসের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচি বজায় রাখতে চলতি বছরের জুনে পাকিস্তান ৬৭.৪৯ বিলিয়ন ডলারের একটি বাজেট প্রস্তাব করে। এতে উন্নয়ন ব্যয় কমিয়ে প্রতিরক্ষা খাতের বাজেট বাড়ানো হয়।

    পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব সংসদে জানান, জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন অর্থবছরে প্রতিরক্ষা খাতে ৩ ট্রিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি বরাদ্দ দেবে সরকার। এটি বিদায়ী বছরের চেয়ে ১৮ শতাংশ বেশি।

    গত বছর ‘অপারেশন সিঁদুর’র পর পাকিস্তান তাদের অস্ত্রাগারে থাকা এই চীনা তৈরি ব্যবস্থার প্রশংসা করেছিল। ভারতের সাথে সংঘর্ষের সময় এটি অসাধারণ কাজ করেছে বলেও দাবি করেছিল তারা।

  • কুস্তিগীরদের যৌন হেনস্তা মামলায় খালাস বিজেপি নেতা

    কুস্তিগীরদের যৌন হেনস্তা মামলায় খালাস বিজেপি নেতা

    বিজেপি নেতা এবং ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ব্রিজ ভূষণ শরণ সিং নারী কুস্তিগীরদের যৌন হেনস্তার মামলা থেকে তাকে মুক্তি দিয়েছে দিল্লির এক আদালত। ছয়জন নারী কুস্তিগীর ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংয়ের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ এনেছিলেন।

    এই মামলাকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সালে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল দিল্লির যন্তর মন্তর। ব্রিজভূষণ শরণ সিংয়ের শাস্তি এবং ফেডারেশন ভেঙে দেয়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন ভিনেশ ফোগাট, সাক্ষী মালিক, বজরঙ পুনিয়াসহ একাধিক আন্তর্জাতিক স্তরে বিখ্যাত ভারতীয় কুস্তিগীর।

    আইন সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশকারী ওয়েবসাইট ‘লাইভ ল’র তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ আদালত ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংয়ের পাশাপাশি এই মামলায় আরেক অভিযুক্ত তথা কুস্তি সংস্থার সাবেক সহ-সচিব বিনোদ তোমরকেও এই মামলা থেকে মুক্তি দিয়েছে।

    আদালতের রায় প্রকাশ্যে আসার পর বিজেপির সাবেক সংসদ সদস্য ব্রিজ ভূষণ শরণ সিং বলেন, ‘আদালত বলেছে, ব্রিজ ভূষণ সিং এবং বিনোদ তোমর, আপনারা দুজনেই সম্মানে সাথে খালাস পেলেন। একেবারে প্রথম দিনই আমি বলেছিলাম যে, যদি আমার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত আসে বা কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে আমি আত্মহত্যা করব। আজ আদালত আমাকে সম্মানের সাথে খালাস দিয়েছেন। এটা আমার এবং আমার অনুরাগীদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। আমি আর কিছু বলব না আজ।’

    অন্যদিকে, মামলার রায় প্রকাশ্যে আসার পর কুস্তিগীর ও কংগ্রেস নেত্রী ভিনেশ ফোগাট অভিযোগ করেছেন যে, শুরু থেকেই ব্রিজ ভূষণ সিংকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছে সরকার।

    এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘শাসক দলের একজন প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে এফআইআর দায়ের করতে আমাদের অনেক সাহসের প্রয়োজন হয়েছে। নিজের ক্ষমতা ও পেশীশক্তি ব্যবহার করে ব্রিজ ভূষণ অনেক মেয়েকে ভয় দেখিয়ে তাদের নাম প্রত্যাহার করতে বাধ্য করেছে।’

    তিনি লিখেছেন, ‘কিন্তু অনেক নারী কুস্তিগীর রুখে দাঁড়িয়ে আদালতে ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে গেছেন। আমরা গভীরভাবে মর্মাহত যে, নারী কুস্তিগীরদের আনা যৌন নির্যাতনের অভিযোগে আদালত ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংকে দোষী সাব্যস্ত করেনি।’

    অন্যদিকে, কুস্তিগীর বজরং পুনিয়া বলেছেন, ‘আজকের রায় এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের হাতেই সমস্ত ক্ষমতা, তাদের সবকিছুই আছে। তারা সাক্ষীদের ভেঙে দিয়েছে। আমরা এখন আদালতের বিস্তারিত আদেশ জানার চেষ্টা করছি। কোন ভিত্তিতে তাকে খালাস দেয়া হয়েছে আমরা বুঝতে পারছি না।’

  • চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরছেন ইলিয়াস কাঞ্চন

    চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরছেন ইলিয়াস কাঞ্চন

    যুক্তরাজ্যে ১৫ মাসের বেশি সময়ের চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। আজ সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। খবরটি সমকালকে নিশ্চিত করেছেন নিসচার ভাইস চেয়ারম্যান লিটন এরশাদ।

    তিনি বলেন, ‘রোববার বাংলাদেশ সময় গভীর রাতে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে মেয়ে ও জামাতাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা করেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন ভাই। আজ বিকেল পাঁচটায় তাকে বহনকারী উড়োজাহাজটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা।’

    ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে গত বছরের এপ্রিলে থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানকার হাসপাতাল ও মেয়ে ইমা ইসলামের বাসায় থেকে চলে তার চিকিৎসা। গত বছরের আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের একটি বড় অংশ অপসারণ করলেও ঝুঁকির কারণে পুরো টিউমার সরাতে পারেনি। পরে চিকিৎসক জানান, তার ব্রেন ক্যানসারের কথা।

    পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, সপ্তাহে পাঁচ দিন করে ১২ সপ্তাহের চিকিৎসায় মধ্যে প্রায় ৬০টির বেশি কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে এই অভিনেতাকে। এরপর তিন মাসের প্রথম ধাপের ওরাল থেরাপি শেষ করে তিনি দ্বিতীয় ধাপের আরও তিন মাসের ওরাল থেরাপি নিয়েছেন। তিন ধাপে সব মিলিয়ে মোট শ খানেক কেমোথেরাপি নিয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন।

    লিটন এরশাদ বলেন, ‘দেড় বছরের বেশি সময় ধরে দেশে বাইরে থাকতে থাকতে ইলিয়াস কাঞ্চন ভাই অস্থির হয়ে ওঠেছেন। দেশে ফেরার জন্য তার মন টানছিল। পরিবারকেও বলছিলেন, তৃতীয় ধাপের থেরাপি যেহেতু শেষ হয়েছে, কয়েক মাসের জন্য দেশে ফিরতে চান। কাঞ্চন ভাইয়ের ইচ্ছাতে তাকে দেশে আনা হচ্ছে। তার শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। অবস্থার উন্নতিও খুব একটা নেই। তৃতীয় ধাপের থেরাপি গত ৩০ জুলাই শেষ হয়েছে। এরপর আবার তার নতুন চিকিৎসা শুরু হবে। তার আগে দেশে কিছুদিন কাটাতে চাইছেন।’

    কতদিন দেশে থাকবেন—এ প্রশ্নে লিটন বলেন, ‘ইলিয়াস কাঞ্চন ভাই সম্ববত ৭ থেকে ১০ দিন দেশে অবস্থান করবেন। এরপর আবার যুক্তরাজ্যে যাবেন।’

  • ইসরাইল আসলেই শান্তি চায় না: তুরস্ক

    ইসরাইল আসলেই শান্তি চায় না: তুরস্ক

    ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলাগুলোই আবার প্রমাণ করেছে যে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনো সদিচ্ছা বা মানসিকতা নেই।

    সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ কথা উল্লেখ করেছে।

    বিবৃতিতে তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ‘নেতানিয়াহুর একমাত্র মূল উদ্দেশ্য হলো ফিলিস্তিনিদের তাদের নিজস্ব জন্মভূমি থেকে বাস্তুচ্যুত করা এবং এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার পরিবেশকে নস্যাৎ করা।’

    বিবৃতিতে আরো বলা হয়, নেতানিয়াহু ক্রমাগত এমন সব পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর আঞ্চলিক ভারসাম্যকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলা শান্তি ও মধ্যস্থতার বিভিন্ন প্রচেষ্টাকে তিনি বারবার ভেস্তে দিচ্ছেন।

    উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করে তুরস্ক জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর সম্প্রসারণবাদী ও সামরিক নীতি গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে একটি বড় ধরনের সংঘাতের অঞ্চলে পরিণত করতে চাচ্ছে। তাই তার এই আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিশ্বের আরো দৃঢ়, সংহত ও কঠোর অবস্থান নেওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

    উল্লেখ্য, গাজা উপত্যকায় দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে এবং শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি একটি বড় ধরনের পরিকল্পনা বা রূপরেখা ঘোষণা করে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু এই প্রস্তাব ঘোষণার পরপরই রবিবার গাজাজুড়ে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

  • ভারতে ফের আন্দোলন সমর্থন ককরোচদের

    ভারতে ফের আন্দোলন সমর্থন ককরোচদের

    নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে ভারতের ঝাড়খণ্ডে বিক্ষোভ আরো তীব্র হয়েছে। ১৪তম জেপিএসসি প্রিলিমিনারি পরীক্ষা বাতিল, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও রাজ্যের নিয়োগ ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি তুলেছেন চাকরিপ্রার্থীরা।

    এই দাবিতে রাঁচির জয়পাল সিংমুণ্ডা স্টেডিয়ামে অনির্দিষ্ট কালের অনশন শুরু করেছেন ছাত্রনেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো। এই আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তার পরেই আরো জোরদার হয়েছে বিক্ষোভ।

    প্রশ্নপত্র ফাঁস, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং প্রশাসনিক গাফিলতির মতো যেসব ঘটনার অভিযোগ উঠেছে, তার জের ধরেই এই বিক্ষোভের সূত্রপাত। শিক্ষার্থীদের মতে, এসব ঘটনা বারবার তাদের কেরিয়ারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

    সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার সময় দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো জানান, গত মাসে ১৪ তম জেপিএসসি প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পরই এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। বার্তা সংবাদ এএনআইকে তিনি বলেন, ‘ঠিক এক মাস আগে, ১৪ তম প্রিলিমিনারি টেস্টের (পিটি) ফলাফল ঘোষণার মধ্য দিয়েই এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল। আমরা ৫ জুলাই এই আন্দোলন শুরু করেছিলাম, ৭ জুলাই রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছিলাম ও ৮ জুলাই কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়। এরপর ২০ জুলাই আমরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে প্রমাণ জমা দেই, যার ফলে সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।’

    দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো অভিযোগ করেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভ সত্ত্বেও সরকার ও ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের বিষয়টি যথাযথভাবে সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে।

    সাংবাদিকদের দেবেন্দ্র জানান, মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের কাছে পেশ করা দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি তার অনশন চালিয়ে যাবেন।

  • মুক্তি পেতে যাচ্ছেন ইমরান খান !

    মুক্তি পেতে যাচ্ছেন ইমরান খান !

    পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে স্বাস্থ্যগত কারণে মুক্তি দেওয়া হতে পারে। তবে বিষয়টির রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে আপাতত তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

    পাকিস্তানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র এবং ইমরান খানের পরিবার এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

    আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানায়, ‘পাকিস্তানকে এগিয়ে নিতে হলে এই চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে হবে। কারণ দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেশটির অপূরণীয় ক্ষতি করেছে।’

    পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে তিন বছর ধরে বন্দি রয়েছেন। ২০২৩ সালে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তবে দুর্নীতির কথা বলা হলেও মূলত শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ার কারণেই তাকে কারাবন্দি করা হয় বলে মনে করা হয়।

    আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী, কারাগার থেকে মুক্তির জন্য সাধারণত সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য কারণ দেখাতে হয়। সে ক্ষেত্রে ৭৩ বছর বয়সি ইমরান খানকে স্বাস্থ্যগত কারণে মুক্তি দেওয়া হতে পারে। চলতি বছরের শুরুতে তার চোখে একটি অস্ত্রোপচারও হয়েছিল।

    গত কয়েক মাস ধরে ইমরান খানের সঙ্গে তার স্বজনদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। যোগাযোগ একেবারেই বিচ্ছিন্ন থাকায় পরিবারের সদস্যরা তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এমনকি সম্প্রতি তিনি মারা গেছেন এমন গুজবও ছড়িয়ে পড়েছিল।

    যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য অবজারভারকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইমরান খানের দুই ছেলে সুলায়মান খান ও কাসিম খান বলেন, এখন আর নীরব থাকার কোনো সুযোগ নেই।

    তারা বলেন, ‘আমাদের বাবা সাত মাসের বেশি সময় ধরে বাইরের বিশ্ব থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। দীর্ঘদিনের কারাবাসের ফলে তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে বলে আমাদের আশঙ্কা। তার সঙ্গে নিয়মিত ও স্বাধীনভাবে যোগাযোগের সুযোগ থেকেও আমাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।’

    ইমরান খানের আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা সাইয়েদ জুলফি বুখারি দ্য অবজারভারকে বলেন, ‘ইমরান খানের স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি ঘটছে এবং তার জরুরি ভিত্তিতে যথাযথ চিকিৎসা প্রয়োজন। তাকে একাকী বন্দি করে রাখা হয়েছে। এমনকি তার বোন, পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদেরও দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। সরকার সামান্য দায়িত্বশীল হলেও স্বাস্থ্যগত কারণে তাকে মুক্তি দেওয়া উচিত।’

    এর আগে একই ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে ইমরান খানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ২০১৯ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিরোধের জেরে নওয়াজও দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দি ছিলেন।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ইমরান খানের ক্ষেত্রেও যদি সমঝোতা হয়, তাতে দেশত্যাগ, রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় থাকা এবং কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য না দেওয়ার মতো কঠোর শর্ত থাকতে পারে।

    তবে পাকিস্তানের ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক শেষ পর্যন্ত এমন শর্ত মেনে নেবেন কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

    তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও মানবাধিকার আইনজীবী ক্লাইভ স্ট্যাফোর্ড স্মিথ বলেন, ‘ইমরান খুবই একগুঁয়ে মানুষ। ক্রিকেট মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্ষিপ্রগতির বোলারদের মুখোমুখি হতেও তিনি কখনো হেলমেট পরেননি। ফলে রাজনৈতিক মুক্তির এমন কঠোর শর্ত তিনি মানবেন না বলেই মনে হয়। তবে ব্যক্তিগত বন্ধু হিসেবে আমি চাই তিনি এটি মেনে নিন, কারণ কারাগারে একা একা তার মৃত্যু হোক তা আমি চাই না।’

  • ভয়ে ট্রাম্প  শান্তির কথা বলছে: আনসারুল্লাহ

    ভয়ে ট্রাম্প শান্তির কথা বলছে: আনসারুল্লাহ

    ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলনের রাজনৈতিক ব্যুরোর এক জ্যেষ্ঠ সদস্য বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধী প্রেসিডেন্ট ইরানের সামরিক শক্তির ভয়ে আবারও পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন।

    তাসনিমের বরাতে পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলনের রাজনৈতিক ব্যুরোর জ্যেষ্ঠ সদস্য হিজাম আল-আসাদ ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার অপরাধী ও সন্ত্রাসী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফাঁপা হুমকি এবং বারবার পিছু হটার ঘটনাকে উপহাস করেছেন।

    হিজাম আল-আসাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লেখেন, ‘একটি বাস্তবতা সম্পর্কে অপরাধী ট্রাম্পের উপলব্ধি তাকে ‘শান্তির’ পথে যেতে বাধ্য করেছে । আর এটি হলো, মার্কিন সামরিক পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়েছে, তাদের ঘাঁটিগুলো ধ্বংস হয়েছে এবং বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা কমে গেছে। এর মধ্যেও ইরানের হাতে এখনও ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠী, মার্কিন সম্পদ ও স্বার্থ এবং অঞ্চলটির জ্বালানি অবকাঠামো ও সম্পদের ওপর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করার মতো প্রবল সক্ষমতা রয়েছে।’

    তিনি কটাক্ষ করে আরও জোর দিয়ে বলেন, ‘যখন সংঘাতের মূল্য বেড়ে যায়, তখন হুমকির ভাষা শান্তির ভাষায় রূপান্তরিত হয়।’

  • ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ ভারতের কলঙ্ক: মাহমুদ মাদানী

    ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ ভারতের কলঙ্ক: মাহমুদ মাদানী

    ভারত থেকে ইসরাইলে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ আসআদ মাদানী। তিনি এ ধরনের সরবরাহকে ‘মানবতা ও ভারতের মূল্যবোধের ওপর কলঙ্ক’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা বন্ধের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

    রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের এক বিবৃতিতে মাওলানা মাদানী বলেন, নির্দোষ বেসামরিক নাগরিক, নারী ও শিশুদের নির্বিচার হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে যেসব অস্ত্র, এটি জানা সত্ত্বেও অস্ত্র সরবরাহ করা একটি অপরাধমূলক কাজ, যা গণহত্যায় সহযোগিতার সমতুল্য।

    তিনি আরো বলেন, ‘এটি কেবল আন্তর্জাতিক আইনের নির্লজ্জ লঙ্ঘনই নয়, বরং মানবতা এবং ভারতের মূল মূল্যবোধের সঙ্গে এক গভীর বিশ্বাসঘাতকতা।

    সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ভারতের সরকারি ও বেসরকারি কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইসরাইলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে।

    তবে অভিযোগের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশ থেকে রপ্তানি করা ডুয়াল-ইউজ (সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য) পণ্যগুলো কঠোর আইনগত ও নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার আওতায় অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের দাবি, ভারতের সব ধরনের রপ্তানি কার্যক্রম জাতীয় আইন, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নীতি এবং আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই পরিচালিত হয়।

    মাওলানা মাদানী বলেন, ভারত ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার ও ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে এসেছে। তাই একদিকে নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা বলা এবং অন্যদিকে ইসরাইলে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা ভারতের দীর্ঘদিনের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাতের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসরাইলে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত।

  • কারাগারে কুমির রাখার পরিকল্পনা স্থগিত

    কারাগারে কুমির রাখার পরিকল্পনা স্থগিত

    ইসরাইলের নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত কেতজিওত কারাগারের চারপাশে কুমির রাখার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করে দিয়েছে ইসরাইলি আদালত। দেশটির উগ্র ডানপন্থী নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের পরিকল্পনা অনুযায়ী গাজা থেকে আটক ফিলিস্তিনি বন্দিদের রাখা এই কারাগারের চারপাশে খনন করা পরিখায় কুমির ছাড়ার কথা ছিল। খবর আনাদোলুর।

    ইসরাইলের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম কান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাণী অধিকার সংগঠন ‘লেট দ্য অ্যানিমালস লিভ’ এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আবেদন দাখিল করার পর রোববার সন্ধ্যায় জেরুজালেম জেলা আদালত এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

    বিচারক আভরাহাম রুবিন পরিবেশ সুরক্ষামন্ত্রী ইদিত সিলমানের এক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষকে যেকোনো পদক্ষেপ নিতে নিষেধ করেছেন। সিলমানের ওই সিদ্ধান্তে কুমিরকে ‘পোষা বন্যপ্রাণী’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছিল, যা আইনি কাঠামোয় কুমির স্থানান্তর ও কারাগারে রাখার অনুমতি দিত।

    কান জানায়, বেন-গাভির, সিলমান ও ইসরাইলি কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক আবেদন দাখিলের কয়েক ঘণ্টা পরই এই রায় আসে। এই বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে সিলমানের ১৫ জুলাইয়ের সিদ্ধান্ত, যার লক্ষ্য ছিল কারাগারে ‘প্রতিরোধমূলক ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে কুমির ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া।

    আবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত কুমিরের আইনি মর্যাদা পরিবর্তন করে এবং সুরক্ষিত বন্যপ্রাণী হিসেবে তাদের ওপর প্রযোজ্য নিয়ন্ত্রণ ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থা প্রত্যাহার করে নেয়।

    কান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইলি কারা কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই কারাগারের চারপাশে খাল খননসহ অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু করে দিয়েছিল, এবং জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় এই পাইলট প্রকল্পের জন্য প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ শেকেল (আনুমানিক ৬৯ লাখ মার্কিন ডলার) বরাদ্দ করেছিল।

    ২০২২ সালের শেষদিকে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বেন-গভির ফিলিস্তিনি বন্দিদের আটক পরিস্থিতি কঠোরতর করার তদারকি করে আসছেন, যার মধ্যে রয়েছে অনাহারে রাখা, চিকিৎসা অবহেলা, নির্যাতন ও একাকী বন্দিত্বের মতো নীতি। ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি বন্দি—নারী ও শিশুসহ—ইসরাইলি কারাগারে কঠোর পরিস্থিতিতে আটক রয়েছেন, যাদের মধ্যে বহুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ, যার কারণ হিসেবে অনাহার, নির্যাতন ও চিকিৎসা অবহেলাকে দায়ী করা হয়েছে।

  • সেনাদের কাছে যুদ্ধের কৌশল চাইল মার্কিন বাহিনী

    সেনাদের কাছে যুদ্ধের কৌশল চাইল মার্কিন বাহিনী

    ইরানের বিরুদ্ধে আরো কার্যকর চাপ সৃষ্টি ও ‘শাস্তিমূলক’ পদক্ষেপ নিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী নিজেদের সদস্যদের কাছ থেকেই ‘সৃজনশীল ও প্রচলিত ধারার বাইরে’ নতুন কৌশলের প্রস্তাব চেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) থেকে পাঠানো একটি অভ্যন্তরীণ ই-মেইলকে ঘিরে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে সেন্টকমের গোয়েন্দা শাখার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সামরিক বিশ্লেষকদের উদ্দেশে পাঠানো এক ই-মেইলে লেখেন, ইরানকে চাপ দেওয়া ও শাস্তি দেওয়ার জন্য আমরা নতুন, সৃজনশীল এবং অপ্রচলিত উপায় খুঁজছি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই বার্তার সঙ্গে পরিচিত দুটি সূত্র।

    সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের ‘ক্রাউডসোর্সিং’ পদ্ধতিতে ই-মেইলের মাধ্যমে ধারণা আহ্বান করা অস্বাভাবিক। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে ইরানকে নিজেদের শর্তে আলোচনার টেবিলে আনতে কার্যকর বিকল্পের পরিসর সীমিত হয়ে এসেছে। ফলে বিদ্যমান কৌশল পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে সেন্টকম।

    সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিমোথি হকিন্স এক বিবৃতিতে বলেন, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সবসময়ই উদ্ভাবনী চিন্তা ও কার্যক্রমে বিশ্বাসী। অ্যাডমিরাল কুপার পদমর্যাদা নির্বিশেষে দলের সদস্যদের কাছ থেকে নতুন ধারণা গ্রহণ করে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কার্যক্রম নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ই-মেইল পাঠানোর পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার হুমকি দিলেও পরে সৌদি আরবের যুবরাজসহ আঞ্চলিক নেতাদের আহ্বানে তা স্থগিত করেন।

    গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে এবং তেহরানকে আলোচনায় ফিরিয়ে আনতে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সমঝোতার লক্ষণ দেখা যায়নি।

    পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনসহ কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় নতুন করে হামলার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। এসব স্থাপনায় পারমাণবিক উপাদান বা সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে এসব স্থাপনা গভীর ভূগর্ভে অবস্থিত হওয়ায় শুধু ক্ষেপণাস্ত্র বা বোমা হামলায় সেগুলো ধ্বংস করা কঠিন বলে মনে করছেন সামরিক পরিকল্পনাকারীরা।

    সূত্রগুলোর মতে, স্থাপনাগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করতে হলে স্থলবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু এতে বড় ধরনের সামরিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকি রয়েছে, যা নিতে এখন পর্যন্ত অনাগ্রহী ট্রাম্প। চলমান সংঘাতে ইতোমধ্যে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আরেকটি সূত্র জানায়, ট্রাম্প এমন এক ধরনের প্রতীকী হামলার কথাও বিবেচনা করছেন, যা মূলত ‘আতশবাজির প্রদর্শনী’র মতো হবে। এর উদ্দেশ্য হবে দৃশ্যমান সামরিক সাফল্য দেখিয়ে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসা, যদিও এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার মূল লক্ষ্য অর্জিত নাও হতে পারে।

    এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) সম্প্রতি মূল্যায়ন করেছে, বর্তমান বিমান হামলা ইরানের আলোচনার অবস্থানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারবে না। একই ধরনের মন্তব্য করেছেন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। গত মাসে তিনি আইনপ্রণেতাদের বলেন, বিমান শক্তিরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, যুদ্ধ আরো বাড়ানোর জন্য একাধিক সামরিক পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে রয়েছে। এর মধ্যে এক থেকে দুই সপ্তাহব্যাপী ব্যাপক বিমান হামলার পরিকল্পনাও রয়েছে, যার লক্ষ্য হবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা। তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসা এবং বেসামরিক হতাহতের আশঙ্কার কারণে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত এমন সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন।

    অন্যদিকে স্থলবাহিনী পাঠানো বা ইরানের কৌশলগত খার্গ দ্বীপ দখলের মতো বিকল্প আলোচনায় থাকলেও, তা বাস্তবায়ন করলে ২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারণায় দেওয়া ট্রাম্পের ‘অন্তহীন বিদেশি যুদ্ধে মার্কিন সেনা পাঠাবেন না’ এই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।

    এ পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এমন এক অবস্থার মুখোমুখি, যেখানে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকতে পারে এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে অস্থিতিশীলতা আরো বাড়তে পারে।

    সাম্প্রতিক এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, আমরা জিততে চাই। আমরা তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানব। একসময় তারা বলবে, আমরা আর সহ্য করতে পারছি না।

  • টিকিট সিন্ডিকেট দমনে আইএটিএর কারিগরি সহযোগিতা চায় সরকার

    টিকিট সিন্ডিকেট দমনে আইএটিএর কারিগরি সহযোগিতা চায় সরকার

    বিমানের টিকিট সিন্ডিকেট দমন, বিমান পরিবহন খাতের আধুনিকায়ন ও পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) কারিগরি সহযোগিতা চেয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বাংলাদেশ এয়ারলাইনস টেকনিক্যাল সেন্টারকে (বিএটিসি) আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে আইএটিএ।

    আজ সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে আইএটিএর আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট শেজডন হির সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে আইএটিএর আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের উন্নয়নে আইএটিএ সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। বিশেষ করে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বাংলাদেশ এয়ারলাইনস টেকনিক্যাল সেন্টারকে (বিএটিসি) আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও আধুনিক প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী সংস্থাটি।

    বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, বিমানের টিকিট সিন্ডিকেট দমনে সরকার ইতিমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে আইএটিএর কারিগরি সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার বিমান খাতে যেকোনো ধরনের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

    প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, পরিবেশবান্ধব বিমান পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে বেসামরিক বিমান চলাচল অধ্যাদেশে কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়ে পৃথক ধারা সংযোজন করা হয়েছে। পাশাপাশি টেকসই এভিয়েশন ফুয়েল (এসএএফ) ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া আকাশপথে অপরাধ দমনে মন্ট্রিল প্রটোকল-২০১৪ গ্রহণের প্রয়োজনীয় কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

    বৈঠকে দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক আকাশপথে সংযোগ সম্প্রসারণ, বিমান পরিবহন খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে সরকার ও আইএটিএর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিভিন্ন বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

  • বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ কেন স্থগিত করল পোল্যান্ডের ব্র্যান্ড এলপিপি

    বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ কেন স্থগিত করল পোল্যান্ডের ব্র্যান্ড এলপিপি

    বাংলাদেশে নতুন ক্রয়াদেশ দেওয়া স্থগিত করেছে পোল্যান্ডের পোশাক ব্র্যান্ড এলপিপি। একই সঙ্গে নতুন পণ্য উন্নয়নের কাজও আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। রাশিয়ার ক্রেতা এফইএস রিটেইলের কাছে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক কারখানা ও বায়িং হাউসগুলোর বকেয়া পাওনা নিয়ে বিরোধের জেরে পোলিশ ব্র্যান্ডটি এমন সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানা গেছে।

    দেশের সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারকদের ভাষ্য, রুশ ক্রেতা এফইএস রিটেইলের কাছে বাংলাদেশের কয়েকটি তৈরি পোশাক কারখানা ও বায়িং হাউসের প্রায় চার কোটি মার্কিন ডলার পাওনা রয়েছে। পোলিশ ব্র্যান্ড এলপিপির নিশ্চয়তায় করা বিক্রয় চুক্তির আওতায় তাঁরা রাশিয়ার প্রতিষ্ঠানটির জন্য পণ্য সরবরাহ করেছিলেন।

    জানা গেছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ায় নিজেদের বিক্রয়কেন্দ্র পরিচালনায় জটিলতায় পড়ে এলপিপি। তখন তাদের ঢাকা কার্যালয় রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান এফইএস রিটেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশের কারখানাগুলোকে ক্রয়াদেশ দিতে শুরু করে। এ ক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধের গ্যারান্টিও দেয় এলপিপি। শুরুতে অর্থ পরিশোধে সমস্যা না হলেও গত বছর থেকে এফইএস রিটেইলের কাছে পণ্য সরবরাহের পরও অর্থ পাচ্ছে না বাংলাদেশের কারখানা ও বায়িং হাউসগুলো। এ বিষয়ে কোনো দায় নিতে এলপিপিও অস্বীকৃতি জানায়।

    বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও পাওনা অর্থ না পেয়ে কয়েকজন তৈরি পোশাক কারখানা ও বায়িং হাউসের মালিক আদালতের দ্বারস্থ হন। এরপর গত মাসে অনলাইনে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ ও গার্মেন্ট বায়িং হাউস মালিকদের সংগঠন বিজিবিএর সঙ্গে এলপিপির কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়। তবে সমঝোতার আগে মামলা প্রত্যাহারের শর্ত দিলে বিকেএমইএ ও বিজিবিএর নেতারা তাতে রাজি হননি। ফলে বৈঠকে কোনো সমাধান হয়নি।

    এরপর গত ২১ জুলাই বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিজিবিএকে পাঠানো এক চিঠিতে এলপিপি জানায়, কয়েক মাস ধরে কিছু বাংলাদেশি কারখানার অর্থ পরিশোধ-সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে বিতর্ক চলছে। এসব অর্থ পরিশোধের জন্য তারা চুক্তিভিত্তিক দায়ী পক্ষ নয়। যদিও তারা বিভিন্ন আলোচনায় অংশ নিয়েছে এবং মধ্যস্থতায় আগ্রহ দেখিয়েছে। এ অবস্থায় ধীরে ধীরে বাংলাদেশে তাদের ক্রয়াদেশ কমানো হবে। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতির উন্নতি হলে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিতও দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

    ৩০ জুলাই বাংলাদেশের সরবরাহকারীদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এলপিপি জানায়, বাংলাদেশে তাদের ভবিষ্যৎ সোর্সিং কৌশল পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন ক্রয়াদেশ এবং নতুন পণ্য উন্নয়নের কাজ স্থগিত থাকবে। এ সময়ে তারা অন্যান্য দেশের সোর্সিংয়ের সুযোগ ও উৎপাদন সক্ষমতাও মূল্যায়ন করবে।

    বিজিবিএর সভাপতি আবদুল হামিদ প্রথম আলোকে জানান, তাঁদের সংগঠনের ৯টি প্রতিষ্ঠানের ৪৫ লাখ ডলার পাওনা রয়েছে। সব মিলিয়ে বকেয়ার পরিমাণ প্রায় চার কোটি ডলার। তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ায় ব্যবসা পরিচালনায় সমস্যায় পড়ে এলপিপি সহযোগী হিসেবে এফইএস রিটেইলকে নিয়োগ দেয়। বাংলাদেশের সরবরাহকারীদের সঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ও করিয়ে দেন এলপিপির কর্মকর্তারা। এলপিপির কার্যালয় থেকেই এফইএস রিটেইলের নামে ক্রয়াদেশ দেওয়া হতো এবং অর্থ পরিশোধের গ্যারান্টিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন এলপিপি দাবি করছে, এফইএস রিটেইলের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

    আবদুল হামিদ আরও বলেন, এলপিপি বাংলাদেশ থেকে বছরে প্রায় ৮০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক কেনে। তারা ব্যবসা করুক, সেটিই চান তাঁরা। তবে বিভিন্ন পোশাক কারখানা ও বায়িং হাউসের বকেয়া পরিশোধ না করতে প্রতিষ্ঠানটি একধরনের ধূর্ততার আশ্রয় নিয়েছে।

    বিজিবিএর সভাপতি আরও বলেন, এলপিপি এফইএস রিটেইলের মাধ্যমে ৫০ শতাংশ ছাড়ে বকেয়া পরিশোধের প্রস্তাব দিয়েছিল। ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মূল্যছাড় হলেও আলোচনা হতে পারত। কারণ, ব্যাংকেই তো দেনা রয়েছে ৭৫ শতাংশ অর্থ।

    এনসা ক্লোথিং নামের একটি বায়িং হাউস গত বছরের এপ্রিলে এফইএস রিটেইলের ক্রয়াদেশের বিপরীতে ৫২ হাজার মার্কিন ডলারের ট্রাউজার রপ্তানি করে। দুই মাস পর পণ্যটি রাশিয়ার বন্দরে পৌঁছায়। কিন্তু এফইএস রিটেইল অর্থ পরিশোধ করে পণ্য ছাড় না করায় সেটি এখনো বন্দরে পড়ে আছে। এলপিপির সঙ্গে দেনদরবার করেও বকেয়া না পেয়ে প্রতিষ্ঠানটি গত মাসে বাংলাদেশের হাইকোর্টে মামলা করেছে।

    এনসা ক্লোথিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এনামুল কবির প্রথম আলোকে বলেন, এলপিপি দাবি করছে, গত বছরের এপ্রিলের পর থেকে এফইএস রিটেইলের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ গত বছরের এপ্রিল ও মে মাসে এফইএস রিটেইলের জন্য রপ্তানি করা তৈরি পোশাকের অর্থ পরিশোধ করেছে এলপিপি। তিনি আরও বলেন, যে কারখানাটি এনসা ক্লোথিংয়ের জন্য তৈরি পোশাক সরবরাহ করেছে, সেটি এখন বিপদে আছে। দ্রুত অর্থ না পেলে কারখানাটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

    গত শনিবার বিকেএমইএর বোর্ড সভায়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এলপিপি বাংলাদেশের পোশাক কারখানা ও বায়িং হাউসগুলোর বকেয়া পরিশোধ না করলে ব্র্যান্ডটিকে কালোতালিকাভুক্ত করা হবে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রথম আলোকে বলেন, এলপিপি ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কথা বলে একধরনের হুমকি দিয়েছে। তারা যদি বকেয়া পরিশোধ না করে, তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ (ইইউ) অন্যান্য সব ফোরামে তাদের এই অনৈতিক চর্চার বিষয়ে অভিযোগ জানানো হবে। শুধু এফইএস রিটেইল নয়, এলপিপিও সরাসরি পণ্য নিয়ে অর্থ দিচ্ছে না—এমন অভিযোগও আছে।

  • চিলিতে পা রাখতেই রাজকীয় সংবর্ধনা পেলেন ভোজিনহা

    চিলিতে পা রাখতেই রাজকীয় সংবর্ধনা পেলেন ভোজিনহা

    ২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা। এবার নতুন অধ্যায় শুরু করতে চিলিতে পৌঁছেছেন তিনি। ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কলো-কোলোতে যোগ দিতে সান্তিয়াগোয় পা রাখতেই ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষককে ঘিরে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ।

    সান্তিয়াগো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভোজিনহাকে স্বাগত জানাতে জড়ো হন হাজারো সমর্থক। ব্যানার, পতাকা, ড্রাম আর স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে বিমানবন্দর এলাকা। প্রিয় তারকাকে একনজর দেখতে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করেন সমর্থকেরা।

    সমর্থকদের ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত ভোজিনহা বলেন, ‘এখানে আসতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত। আমার জন্য ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করায় সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। খুব শিগগিরই মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে।’

    গত ২৪ জুলাই কলো-কোলো ভোজিনহাকে দলে ভেড়ানোর ঘোষণা দেয়। যদিও চিলিতে তার আগমন কয়েক দফা পিছিয়ে যায়। ভিসা ও অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত কারণেও সফরের সূচিতে পরিবর্তন আনতে হয়েছিল। এ সময় মরক্কোর ক্লাব আরএস বারকানসহ অন্য কয়েকটি ক্লাবের আগ্রহ নিয়েও নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রোববার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে সান্তিয়াগোয় পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দরে কলো-কোলোর স্পোর্টিং ডিরেক্টর এবং সাবেক তারকা ড্যানিয়েল মোরন ভোজিনহাকে স্বাগত জানান।

    পর্তুগিজ ক্লাব শাভেসের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ফ্রি এজেন্ট হিসেবে নতুন ক্লাবের সন্ধানে ছিলেন ভোজিনহা। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে কেপ ভার্দেকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। টুর্নামেন্টে ১৮টি সেভের পাশাপাশি স্পেনের বিপক্ষে স্মরণীয় ক্লিন শিট রেখে জায়গা করে নেন বিশ্বকাপের সেরা একাদশেও।

    ভোজিনহার আগমনকে সামনে রেখে চিলির ফুটবলেও ঘটেছে বিরল এক ঘটনা। দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষ বিশেষ অনুমতি দিয়ে কলো-কোলোর জার্সির পেছনে তার পারিবারিক নামের পরিবর্তে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ডাকনাম ভোজিনহা ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে।

    কোচ ফার্নান্দো অর্টিজের অধীনে প্রাথমিকভাবে ছয় মাসের চুক্তিতে খেলবেন ভোজিনহা। চুক্তিতে আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।

  • বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও বেড়েছে সোনার দাম

    বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও বেড়েছে সোনার দাম

    আজ সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। তবে সপ্তাহের প্রথম দিনে (পশ্চিমা ও এশিয়ার অনেক দেশে সপ্তাহের প্রথম দিন সোমবার) সোনার দাম বেড়েছে। এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে ইরানের ওপর হামলা থেকে আপাতত বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর আশা, দ্রুতই সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব। এই বাস্তবতায় আজ তেলের দাম কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫ শতাংশের বেশি কমে ৮৩ দশমিক ৩৩ ডলার হয়েছে।

    ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। এর প্রভাবে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার দাম বেড়েছে।

    গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৪টা ৩৭ মিনিটে স্পটমার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৬৮ দশমিক ৫৪ ডলার। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সোনার ফিউচার শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৬৬ দশমিক ৬০ ডলারে ওঠে।

    এদিকে জাপানের ইয়েনকে সমর্থন দিতে দেশটির কর্তৃপক্ষ বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করায় মার্কিন ডলারের ওপর চাপ তৈরি হয়। ফলে ডলারে মূল্য নির্ধারিত সোনা বিদেশি ক্রেতাদের জন্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে। এটাও সোনার দাম বাড়ার অন্যতম কারণ।

    কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার–বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, সপ্তাহের শুরুতে সোনার বাজার ইতিবাচক অবস্থানে আছে। তবে তেলের বাজার ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় দাম যে খুব একটা বাড়বে, তা নয়। অর্থাৎ সোনার বাজারে ইতিবাচক সূচনা হলেও সতর্কতা আছে।

    ট্রাম্প জানিয়েছেন, সোমবার ইরানের সঙ্গে আলোচনা হবে। তবে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য তিনি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেননি। তাঁর এ বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমেছে।

    যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরুর পর থেকে সোনার বাজার চাপে ছিল। যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়লে বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কা আছে। যদিও মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে সোনা ঐতিহ্যগতভাবে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত, সুদের হার বেশি থাকলে সোনার আকর্ষণ কমে যায়। সোনা থেকে সুদ বা নিয়মিত আয় পাওয়া যায় না।

    এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার-সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এর মধ্যে আছে চাকরির শূন্য পদের তথ্য, এডিপির বেসরকারি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন, সাপ্তাহিক বেকারত্ব ভাতার আবেদন ও বহুল প্রত্যাশিত অকৃষি খাতের কর্মসংস্থান–সংক্রান্ত প্রতিবেদন। এসব তথ্যের দিকে বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে।

    টিম ওয়াটারার বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়ে তেলের দাম আবার বাড়লে অথবা যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী হলে সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সোনার দাম তেমন একটা বাড়বে না।

    গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে ভিন্নমত দেওয়া তিন কর্মকর্তা গত শুক্রবার বলেন, স্বল্পমেয়াদি ঋণের সুদের হার দ্রুত না বাড়ালে মূল্যস্ফীতি ফেডের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে আটকে থাকতে পারে।

    স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের বিশ্লেষকেরা গবেষণা নোটে বলেছেন, মৌসুমি চাহিদা বাড়ার আগে স্বল্প মেয়াদে সোনার দাম কিছুটা বাড়বে।

    অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পটমার্কেটে রুপার দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫৮ দশমিক ৪৬ ডলার হয়েছে। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৫০ দশমিক ৬৩ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৯৩ দশমিক ৫০ ডলারে উঠেছে।

  • ইয়েনের পতন ঠেকাতে জাপান-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হস্তক্ষেপ

    ইয়েনের পতন ঠেকাতে জাপান-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হস্তক্ষেপ

    ডলারের বিপরীতে ইয়েনের বিনিময়হার ৪০ বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে সম্প্রতি। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে যৌথভাবে বাজারে হস্তক্ষেপ করে ইয়েন কিনেছে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র। প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না তারা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়। খবর রয়টার্স।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েন ও জাপানের সরকারি বন্ড (জেজিবি) ব্যাপক বিক্রির ফলে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারত। বিশেষ করে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড আরো বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল। এ পরিস্থিতি এড়াতেই দুই দেশ একযোগে পদক্ষেপটি নিয়েছে।

    ২০১১ সালে পূর্ব জাপানে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ইয়েন দুর্বল করতে যৌথ হস্তক্ষেপ করেছিল দেশ দুটি। এর পর এবারই প্রথম জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করল।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বলেন, বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিকে সহায়তা করতে জাপানকে ইয়েনের দর ধরে রাখতে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

    বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়ায় কৌশলগত মিত্র জাপানকে সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রেরও স্বার্থ রয়েছে। কারণ ইয়েনের অতিরিক্ত দুর্বলতা ট্রাম্প আরোপিত শুল্কের প্রভাব অনেকটাই কমিয়ে দেয়।

    জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোয় ইয়েনের দামে অতিরিক্ত অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খল ওঠানামা দেখা গেছে। গত শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে ইয়েন কেনার মাধ্যমে তা মোকাবেলা করা হয়েছে।

    জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতায়ামা সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রয়োজনে আমরা আবারো সমন্বিতভাবে বাজারে হস্তক্ষেপ করব।’

    এ ঘোষণার পর বিনিময়হার ১ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ডলারে ১৫৫ দশমিক ২০ ইয়েনে পৌঁছায়। এটি মে মাসের শুরু থেকে ইয়েনের সর্বোচ্চ অবস্থান এবং গত মাসে স্পর্শ করা প্রায় ১৬৪ ইয়েনের ৪০ বছরের সর্বনিম্ন স্তর থেকে অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

    সোমবারও কর্তৃপক্ষ বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে কিনা—এ প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানান কাতায়ামা।

    জাপানের শীর্ষ কারেন্সি ডিপ্লোমেট আতসুশি মিমুরা বলেন, ‘এই যৌথ হস্তক্ষেপ জাপান-যুক্তরাষ্ট্র জোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।’

    তিনি জানান, সরকার মুদ্রানীতির ক্ষেত্রে ব্যাংক অব জাপান (বিওজে)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখবে, যাতে ইয়েনের দরপতন নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

    মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও শুক্রবারের যৌথ হস্তক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র এমন যৌথ পদক্ষেপে অংশ নিতে প্রস্তুত।

    এসব মন্তব্যের ফলে এখন নজর পড়েছে বিওজের দিকে। গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি সুদহার অপরিবর্তিত রাখলেও সেপ্টেম্বরের বৈঠকেই হার বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।

    মিৎসুবিশি ইউএফজে মরগ্যান স্ট্যানলি সিকিউরিটিজের প্রধান বন্ড কৌশলবিদ নাওমি মুগুরুমা বলেন, মিমুরা ও বেসেন্টের মন্তব্য ব্যাংক অব জাপানের কড়া নীতির সমর্থকদের জন্য ইতিবাচক বার্তা। সেপ্টেম্বরেই সুদহার বাড়ার সম্ভাবনা এখন অনেক বেশি।

    এ প্রত্যাশায় আজ দুই বছরের জাপানি সরকারি বন্ডের ইল্ড বেড়ে ১ দশমিক ৫৪৫ শতাংশে পৌঁছায়, যা ১৯৯৫ সালের পর সর্বোচ্চ।

    দীর্ঘদিন ধরে ইয়েনের দরপতন ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে জাপান। দুর্বল ইয়েনের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ এবং প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির জনপ্রিয়তার ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে।

    এপ্রিলের শেষ থেকে মে মাসের শুরুতে জাপান এককভাবে বাজারে হস্তক্ষেপ করলেও তার প্রভাব ছিল অল্প সময়ের জন্য। জুনে বিওজে ৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ সুদের হার নির্ধারণ করলেও ইয়েনে স্থায়ী শক্তি হয়ে ফেরেনি।

    শুক্রবারের যৌথ হস্তক্ষেপের আগের দিন নিউইয়র্কের বাজারে জাপান প্রায় ৫৮ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে ইয়েন কিনে থাকতে পারে। ব্যাংক অব জাপানের তথ্য থেকে এ ধারণা করা হচ্ছে।

    জাপান-যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ের আরেকটি ইঙ্গিত দিয়ে স্কট বেসেন্ট জানান, আগামী মাসগুলোয় প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের রেপো সুবিধার পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এর মাধ্যমে প্রয়োজনে জাপান সাময়িকভাবে ডলার তারল্য সংগ্রহ করতে পারবে।

    ২০২০ সালে কভিড-১৯ মহামারির সময় চালু হওয়া এ সুবিধা জাপানকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ড বিক্রি না করেই ডলারের তারল্য সংগ্রহের সুযোগ দেয়, যা বাজারে হস্তক্ষেপের সময় অর্থায়নের চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

    তবে অনেক বিশ্লেষকের মতে, যৌথ হস্তক্ষেপের প্রভাব থাকলেও ইয়েন দুর্বল হওয়ার মূল কারণগুলো এখনো রয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে জ্বালানির উচ্চ মূল্য এবং যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সুদহারে বড় ব্যবধান।

    এনএলআই রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ সুশিয়োশি উয়েনো বলেন, যৌথ হস্তক্ষেপের ঘোষণার প্রভাব এককভাবে জাপানের পদক্ষেপের তুলনায় অনেক বেশি। তবে ইয়েন দুর্বল হওয়ার মৌলিক কারণগুলো বদলায়নি। তাই শুধু এ হস্তক্ষেপের কারণে ইয়েনের দর একমুখীভাবে বাড়তে থাকবে—এমনটি আশা করা ঠিক হবে না।

  • রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা, তবু স্বস্তি নেই ডলার বাজারে

    রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা, তবু স্বস্তি নেই ডলার বাজারে

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে ২৮৬ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। আগের মাস এবং আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ অঙ্ক বেশি। তবে জ্বালানি ও সার আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ডলারের বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের দাম বেড়ে ১২৩ টাকা ৮২ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। আগের অর্থবছরের তুলনায় যা ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। এর আগের অর্থবছরে রেমিট্যান্স বেড়েছিল ৬৪২ কোটি ডলার বা ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

    যদিও রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক রয়েছে, তবে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্য উৎসগুলো আশানুরূপ অবস্থানে নেই। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৩৭৬ কোটি ডলার বা ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। একই সময়ে রপ্তানি আয় কমেছে ৮৩ কোটি ডলার বা ২ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।

    সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জ্বালানি ও সার আমদানিতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৯০৩ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪১৫ কোটি ৫৫ লাখ ডলার বেশি। এ ছাড়া সার আমদানিতে ব্যয় বেড়েছে ১০৯ কোটি ডলার।

    অবশ্য ভোগ্যপণ্য, শিল্পের মধ্যবর্তী কাঁচামাল ও তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানিতে ব্যয় কমে যাওয়ায় ডলারের বাজারে চাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাস শেষে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী এই রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডলারের বাজারে সাময়িক চাপ সৃষ্টি হলেও অর্থ পাচার ও হুন্ডি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। পাশাপাশি বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

  • ইরানে বড় হামলা না চালাতে ট্রাম্পকে সৌদির আহ্বান

    ইরানে বড় হামলা না চালাতে ট্রাম্পকে সৌদির আহ্বান

    ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের মধ্যেই সৌদির প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার এক ফোনালাপে তিনি এই আহ্বান জানান।

    মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাতে রোববার (২ জুলাই) আল মায়েদিন নিউজ এজেন্সি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন চাপ প্রয়োগের কৌশল ও সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের অব্যাহত প্রতিরোধের মধ্যে, ট্রাম্প ইরানের বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার পরিকল্পনা প্রকাশ করার পরই বিষয়টি সামনে আসে। তবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো এই হামলার জন্য চূড়ান্ত আদেশ দেননি।

    তবে ট্রাম্পের ইরানের জ্বালানি খাতকে লক্ষ্যবস্তু করার সম্ভাবনা ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দেওয়ার শঙ্কা তৈরি করেছে।

    ট্রাম্পের ইরান পরিকল্পনা নিয়ে স্বচ্ছতা চাইছে রিয়াদ

    সৌদি কর্মকর্তারা এই সম্ভাব্য অভিযান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে ট্রাম্পের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা চেয়েছেন।

    এ বিষয়ে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি নিয়ে সৌদি উদ্বেগ প্রকাশ করছে। ট্রাম্পের কাছে যুদ্ধ নিয়ে কর্মপরিকল্পনার স্পষ্ট বার্তা চেয়েছে।

    এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে সৌদির একটি সূত্র জানায়, বিন সালমান ট্রাম্পকে উত্তেজনা কমাতে এবং হামলার পরিকল্পনা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেছেন। তবে, হোয়াইট হাউস ও ওয়াশিংটনে অবস্থিত সৌদি দূতাবাস এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

    যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান

    যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল কর্তৃক চালানো হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে ইরান। ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা একাধিক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদিকে লক্ষ্য করে বলেন, তেহরান তার সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করতে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলকে সহযোগিতাকারী আঞ্চলিক দেশগুলোকেও সুনির্দিষ্ট ও আনুপাতিক জবাব দেওয়া হবে।

    ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সতর্ক করে বলেন, যেকোনো হামলার জবাবে তেহরানের প্রতিক্রিয়া উপসাগরীয় অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইরান শত্রুর সব ঘাঁটি এবং যেকোনো স্থান থেকে হওয়া হামলার জবাব দেবে।

  • ইরানে কম্পিউটার গেমের জন্য হচ্ছে আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়

    ইরানে কম্পিউটার গেমের জন্য হচ্ছে আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়

    বিশ্বজুড়ে এখন প্রযুক্তির রাজত্ব। সেই পরিবর্তনের হাওয়ায় যোগ দিয়ে কম্পিউটার গেম শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। দেশে প্রথমবারের মতো চালু হতে যাচ্ছে কম্পিউটার গেম সংক্রান্ত বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ইরানের বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ রোববার (১ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ খবর উল্লেখ করেছে। অ্যাকাডেমিক জিহাদের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংস্থাটির শিক্ষা বিষয়ক উপ-পরিচালক মেহেদি বাসোলি।

    দক্ষতা উন্নয়ন ও নতুন দিগন্ত

    মেহেদি বাসোলি জানান, গেম শিল্পের সাথে যুক্ত কর্মীদের দক্ষ করে তোলা এবং এ খাতে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ছড়িয়ে দিতেই এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক তৈরি করা, যা তরুণদের কাজের সুযোগ বাড়াবে।

    শিক্ষা কার্যক্রমের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে অ্যাকাডেমিক জিহাদের শিক্ষা ব্যবস্থা দুই ভাগে পরিচালিত হচ্ছে—উচ্চশিক্ষা এবং স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ। উচ্চশিক্ষার আওতায় ২টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ৫টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। ইতিমধ্যেই স্নাতক শেষ করেছেন ৮ হাজার শিক্ষার্থী। এছাড়া সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা ১৬২টি কেন্দ্রে স্বল্পমেয়াদি বিভিন্ন কোর্স চালু রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সাধারণ কোর্সের বদলে দক্ষতা ও চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে।

    স্বাবলম্বী শিক্ষা খাত ও গবেষক নিয়োগ

    প্রতিষ্ঠানটির অর্থায়নের বিষয়ে তিনি জানান, শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় প্রায় ৮০ শতাংশ অর্থ নিজস্ব আয় থেকে আসে। সরকারি তহবিল থেকে পাওয়া যায় মাত্র ২০ শতাংশের মতো। গত বছরের তুলনায় এ খাতের আর্থিক সাফল্য এবং কোর্সের সংখ্যা দুটোই বেড়েছে। গত বছর সমাজ ও শ্রমবাজারের চাহিদা মেনে ১ হাজার ৩৩৮টি প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনা করা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য খাতের উন্নতির জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে যৌথভাবে কাজ করছে এই প্রতিষ্ঠান। বন্ধ্যত্ব চিকিৎসা এবং মুখ ও দাঁতের যত্নের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে চারটি বিশেষায়িত কর্মগোষ্ঠী গঠন করা হয়েছে।

    পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরির কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। গবেষক ও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু রয়েছে জানিয়ে বাসোলি বলেন, নিয়োগের জন্য এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৪১ জন আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ১৯১ জনের আবেদন বর্তমানে পর্যালোচনাধীন রয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানল

    যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানল

    যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্পোকেন শহরের কাছে একটি দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কর্তৃপক্ষ শনিবার হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য করেছে। এদিকে, অন্যতম ভয়াবহ দাবানল মৌসুম রেকর্ড হওয়ায় অঙ্গরাজ্য জুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

    টানা চতুর্থ বছরের মতো রেকর্ড খরার মধ্যে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এই অঙ্গরাজ্যে দুই লাখ একরেরও বেশি এলাকা আগুনে পুড়ছে।

    গভর্নর বব ফার্গুসন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘রেকর্ড খরা ও তীব্র বাতাস পুরো অঙ্গরাজ্যে বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।’

    তিনি জানান, সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ উন্মুক্ত স্থানে এবং কৃষিকাজে আগুন জ্বালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    পাবলিক ল্যান্ডস কমিশনার ডেভ আপথেগ্রোভ বলেন, ‘এ বছর ইতোমধ্যেই আমাদের রেকর্ডের অন্যতম ব্যস্ত দাবানল মৌসুম চলছে। অথচ আগস্ট মাস মাত্র শুরু হয়েছে।’

    স্থানীয় স্পোকসম্যান-রিভিউ পত্রিকার খবরে বলা হয়, ‘ওল্ড ট্রেইলস’ নামে পরিচিত দাবানলটি শনিবার বিকেলে স্পোকেন নদী অতিক্রম করে শহরের ভেতরে প্রবেশ করে।

    সরকারের সরিয়ে নেয়ার মানচিত্র অনুযায়ী, শহরের উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘গো নাউ’ জারি করা হয়েছে। এতে শহরের সীমানার ভেতরে থাকা হাজারো মানুষকে দ্রুত এলাকা ছাড়তে বলা হয়েছে।

    স্পোকসম্যান-রিভিউ জানায়, স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২০ মিনিট পর্যন্ত আগুনের বিস্তার ৩ হাজার ৫০০ একরের বেশি এলাকায় পৌঁছেছে। শহর কর্তৃপক্ষ কোনো হতাহতের খবর জানায়নি।

    মেজর জেনারেল জেন্ট ওয়েলশ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আজ সূর্য অস্ত যাওয়ার পর এবং আগামীকাল সূর্য ওঠার সময় আমরা হতবাক হয়ে যাব।’

    জরুরি কর্তৃপক্ষ স্পোকেন কনভেনশন সেন্টারে দাবানলে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য একটি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করেছে।

    এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস পূর্ব ওয়াশিংটনের জন্য ‘বিশেষভাবে বিপজ্জনক পরিস্থিতি’ উল্লেখ করে ‘রেড ফ্ল্যাগ অ্যালার্ট’ জারি করে। এতে আবহাওয়াজনিত ঝুঁকিকে ‘চরম’ বলে উল্লেখ করা হয়।

    ওয়াশিংটন ন্যাশনাল গার্ড এক্সে দেয়া এক পোস্টে জানায়, স্পোকেন অঞ্চলে সহায়তার জন্য তারা ‘দ্রুতগতিতে ইউনিট মোতায়েন’ করছে।

  • দিল্লির অনুরোধ উপেক্ষা, মুদ্রায় সেই মানচিত্রই রাখল নেপাল

    দিল্লির অনুরোধ উপেক্ষা, মুদ্রায় সেই মানচিত্রই রাখল নেপাল

    ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ‘বৃহত্তর নেপাল’ মানচিত্র নতুন এক রুপির মুদ্রা থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে নেপাল সরকার। বিরোধী দল ও জনমতের চাপে বৃহত্তর নেপালের মানচিত্র বহাল রাখার সিদ্ধান্তে নয়াদিল্লির কূটনীতি কার্যত ধাক্কা খেল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    নেপালের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নেপাল রাষ্ট্র ব্যাংক (এনআরবি) শনিবার জানিয়েছে, নতুন এক রুপির মুদ্রা বাজারে ছাড়া হবে। তবে মুদ্রার আকার ও ধাতব উপাদানে পরিবর্তন এলেও তাতে আগের মতোই থাকবে বৃহত্তর নেপালের রাজনৈতিক মানচিত্র, যেখানে ভারতের দাবি করা লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ ও কালাপানি অঞ্চলকে নেপালের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

    এনআরবির মুখপাত্র গুরু প্রসাদ পাউডেল বলেন, নতুন নকশা আনুষ্ঠানিকভাবে হাতে না এলেও ব্যাংক নিশ্চিত যে আগের মানচিত্রই বহাল থাকবে। তিনি জানান, নতুন মুদ্রাটি আগের তুলনায় আকারে ছোট ও ওজনে হালকা হবে।

    কেন বিতর্ক?

    ভারত-নেপাল সীমান্ত বিরোধের কেন্দ্র উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড় জেলার কাছে ভারত-নেপাল-চীনের ট্রাই-জংশন সংলগ্ন প্রায় ৩৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা। লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ ও কালাপানি এই তিনটি অঞ্চল নিয়েই দুই দেশের বিরোধ।

    বিরোধের মূল উৎস ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তির ভিন্ন ব্যাখ্যা। নেপালের দাবি, মহাকালী (কালী) নদীর উৎপত্তি লিম্পিয়াধুরা থেকে হওয়ায় ওই তিনটি এলাকা তাদের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে ভারতের দাবি, নদীর উৎপত্তি কালাপানির কাছের একটি ঝরনা থেকে। ফলে তিনটি এলাকাই ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের অংশ।

    ২০২০ সালে নতুন করে উত্তেজনা

    ২০২০ সালের মে মাসে ভারত ধারচুলা থেকে লিপুলেখ পাস পর্যন্ত কৌশলগত সড়ক উদ্বোধন করলে বিরোধ নতুন করে তীব্র হয়। কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ককে নেপাল নিজেদের দাবিকৃত ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে নির্মিত বলে অভিযোগ তোলে।

    এরপর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি সরকার সংশোধিত রাজনৈতিক মানচিত্র প্রকাশ করে, যেখানে কালাপানি, লিপুলেখ ও লিম্পিয়াধুরাকে নেপালের অংশ হিসেবে দেখানো হয়। পরে সেই মানচিত্র সংবিধানসম্মত স্বীকৃতি পায় এবং সরকারি নথি ও প্রচলিত মুদ্রাতেও স্থান পায়। ভারত অবশ্য শুরু থেকেই এই মানচিত্রের বিরোধিতা করে আসছে।

    বালেন্দ্র সরকারের অবস্থান

    ২০২৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ক্ষমতায় আসেন র‍্যাপার থেকে রাজনীতিক হওয়া বালেন্দ্র শাহ। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে তিনি জাতীয়তাবাদী অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। তবে সরকারপ্রধান হওয়ার পর অর্থনীতি, বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা ও সীমান্ত সংযোগকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারতের সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন।

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও দায়িত্ব নেওয়ার পর বালেন্দ্রকে অভিনন্দন জানানোর মাধ্যমে ইতিবাচক বার্তা দেন। একই সময়ে নেপাল চীনের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রাখলেও বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় উচ্চ সুদের ঋণের বদলে অনুদানভিত্তিক সহায়তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি অনুসরণ করছে।

    লিপুলেখ নিয়ে নতুন টানাপোড়েন

    ক্ষমতায় আসার পরই বালেন্দ্র সরকার ভারত ও চীনকে লিপুলেখ গিরিপথ দিয়ে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা আয়োজন না করার আহ্বান জানায়। নেপালের দাবি, ওই গিরিপথ তাদের ভূখণ্ডের অংশ। তবে ভারত জানিয়ে দেয়, ১৯৫৪ সাল থেকেই ওই পথ ব্যবহার করে তীর্থযাত্রা অনুষ্ঠিত হচ্ছে । একই সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে নয়াদিল্লি। সম্প্রতি লিপুলেখ ইস্যুতে চীন ও ব্রিটেনের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করলে ভারত স্পষ্ট জানায়, দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।

    সিদ্ধান্ত বদল

    এরপর গত ২০ জুলাই বালেন্দ্র সরকার বিতর্কিত মানচিত্র সরিয়ে মুস্তাং জেলার মারং গ্রামের ঐতিহাসিক ‘লো ঘিয়াকার মঠ’-এর ছবি নতুন মুদ্রায় যুক্ত করার সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেয়। অনেকেই এটিকে ভারত-নেপাল সম্পর্ক উন্নয়নের কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখেছিলেন, যদিও সরকার একে নিয়মিত মুদ্রা সংস্কারের অংশ বলে ব্যাখ্যা করে।

    কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত দেশটির ভেতরেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। বিরোধী দল ও জনমতের চাপের পর শেষ পর্যন্ত সরকার অবস্থান পরিবর্তন করে। ফলে নতুন এক রুপির মুদ্রাতেও আগের মতোই ‘বৃহত্তর নেপাল’-এর মানচিত্র বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • ইরান যুদ্ধের জেরে তেল কোম্পানির রেকর্ড মুনাফা, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে

    ইরান যুদ্ধের জেরে তেল কোম্পানির রেকর্ড মুনাফা, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে

    ইরান যুদ্ধের কারণে তেল কোম্পানিগুলোর মুনাফা বেড়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তাদের মুনাফা বেড়েছে; যদিও তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কারণে বিশ্বজুড়েই নানা সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

    ওয়াশিংটন পোস্টের সংবাদে বলা হয়েছে, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের দুই বৃহৎ তেল কোম্পানি এক্সনমোবিল ও শেভরনের মোট মুনাফা হয়েছে ২৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৬৫০ কোটি ডলার। তবে এই রেকর্ড আয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্ক বেড়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, জ্বালানির বাড়তি দামের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারা।

    গত শুক্রবার প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে শেভরন জানিয়েছে, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে তাদের নিট মুনাফা হয়েছে ১২ বিলিয়ন বা ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন বা ৯৬০ কোটি ডলার বেশি।

    একই সময়ে এক্সনমোবিলের মুনাফা হয়েছে ১৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৪৫০ কোটি ডলার, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা দ্বিগুণের বেশি।

    শেভরনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাইক ওয়ার্থ বলেন, নিয়ন্ত্রিত বিনিয়োগ, যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড উৎপাদন ও শোধনাগারের উচ্চ সক্ষমতার কল্যাণে এই মুনাফা হয়েছে। এক্সনমোবিলের সিইও ড্যারেন উডস বলেন, সংঘাতের মধ্যেও কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে পরিচালনা করতে পারাই তাদের সাফল্যের মূল কারণ।

    এর আগে গত বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ জ্বালানি কোম্পানি শেল দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তারা জানায়, আগের বছরের তুলনায় মুনাফা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

    নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ কম

    গবেষণাপ্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অতিরিক্ত মুনাফা সত্ত্বেও বড় তেল কোম্পানিগুলো নতুন তেলক্ষেত্র বা খনন প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী নয়। তাদের আশঙ্কা, ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটলে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত কমে যেতে পারে। তখন নতুন বিনিয়োগের অর্থ তুলে আনা কঠিন হবে।

    প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, চলতি বছর গড়ে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ৯০ ডলার থাকলে বৈশ্বিক তেল খাতের অতিরিক্ত মুনাফা ৪২৫ বিলিয়ন বা ৪২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে উঠতে পারে।

    ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের দাম একসময় ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে উঠেছিল। বর্তমানে তা ৯০ ডলারের কাছাকাছি। বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে হয়।

    ভোক্তার ক্ষোভ, রাজনীতিতে চাপ

    যুক্তরাষ্ট্রে এখন প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ৪ ডলারের বেশি। এতে ভোক্তাদের অসন্তোষ বাড়ছে। সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন, এ পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা তেল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।

    ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও শেলডন হোয়াইটহাউস তেল কোম্পানিগুলোর কাছে জানতে চেয়েছেন, তারা যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে কীভাবে লাভবান হয়েছে। সেই সঙ্গে যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে হোয়াইট হাউসে তারা তদবির করেছে কি না, সেটাও জানতে চেয়েছেন দুই সিনেটর।

    ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ব্র্যাড শারম্যান যুদ্ধকালীন অতিরিক্ত মুনাফার ওপর বিশেষ কর আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, ভোক্তাদের হয় কম দামে জ্বালানি দিতে হবে, নয়তো অতিরিক্ত মুনাফার কর থেকে প্রাপ্ত অর্থ জনগণকে ফেরত দিতে হবে।

    তেলশিল্পের জবাব

    তবে তেলশিল্প এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও গ্যাস খাতের সংগঠন আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ডাস্টিন মেয়ার বলেন, বৈশ্বিক তেলবাজার অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও স্বচ্ছ। সেখানে মূল্য কারসাজির সুযোগ নেই।

    এক্সনমোবিলও জানিয়েছে, আগামী চার বছরে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন ও পরিশোধন সক্ষমতা বাড়াতে ৭১ বিলিয়ন বা ৭ হাজার ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা আছে।

    অতিরিক্ত মুনাফায় কর কতটা কার্যকর

    যুক্তরাষ্ট্রে অতিরিক্ত মুনাফার ওপর কর আরোপের ইতিহাস খুব একটা ভালো নয়। ১৯৮০ সালে এ রকম করারোপ করা হয়েছিল, তবে তা থেকে প্রত্যাশিত রাজস্ব আসেনি। অর্থনীতিবিদেরা বলেন, এতে দেশীয় উৎপাদন নিরুৎসাহিত এবং করব্যবস্থা আরও জটিল হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, নতুন করে এ ধরনের করারোপ করা হলে তেল কোম্পানির বিনিয়োগ কমতে পারে। এতে দীর্ঘ মেয়াদে উৎপাদন হ্রাস ও সরবরাহ–সংকটের ঝুঁকি তৈরি হবে। তবে অন্যদের মতে, উৎপাদন কমার পেছনে আরও কিছু কারণ আছে। যেমন পুরোনো তেলক্ষেত্রের সক্ষমতা কমে যাওয়া ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে মানুষের ঝুঁকে পড়া।

    বিশ্লেষকদের ধারণা, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেশি থাকলে আগামী প্রান্তিকেও বড় তেল কোম্পানিগুলো মোটা অঙ্কের মুনাফা করবে। ফলে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, তেল কোম্পানিগুলোর ওপর রাজনৈতিক চাপও তত বাড়তে পারে।

  • গেমের ছলে খুনের মিশন

    গেমের ছলে খুনের মিশন

    ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ ভাড়াটে কিশোর গ্যাং

    ইউরোপজুড়ে ‘ভায়োলেন্স-অ্যাজ-এ-সার্ভিস’ (ভিএএএস) তথা অর্থের বিনিময়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ভয়াবহ চক্র ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও কিশোরদের বিপুল অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে ভাড়াটে খুনি হিসেবে ব্যবহার করছে সংগঠিত অপরাধী চক্র।

    এ খবর দিয়েছে বিবিসি। এসব অপরাধী নেটওয়ার্কের শীর্ষে রয়েছে ‘ফক্সট্রট নেটওয়ার্ক’, যা সুইডেন থেকে পরিচালিত হলেও এর মূল নেটওয়ার্ক বর্তমানে ইরানের সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং কর্তৃপক্ষের সাথে সম্পৃক্ত বলে উঠে এসেছে অনুসন্ধানে। ব্যূরো অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মেসেজিং অ্যাপ ও সামাজিক মাধ্যমে কম্পিউটার গেমের মতো করে কিশোরদের বিভ্রান্ত করা হয় এবং খুনের মিশন দেওয়া হয়।

    এরপর অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তাদের অস্ত্র ও নগদ অর্থের ভৌগোলিক অবস্থান পাঠায় গ্যাংয়ের সমন্বয়কারীরা। ২০২২ সাল থেকে এই ফক্সট্রট নেটওয়ার্ক ইউরোপজুড়ে প্রায় ৩৫টি হত্যাকাণ্ড এবং ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক বিস্ফোরক ও গ্রেনেড হামলার সাথে জড়িত ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

    সম্প্রতি লন্ডনের ওল্ড বেইলির একটি জুরি আদালত ১৮ বছর বয়সী নরওয়েজীয় তরুণ জোহানেস নাটল্যান্ডকে বৃটেনের ভাড়াটে খুনের পরিকল্পনার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে। তদন্তে জানা যায়, তাকে মাত্র ২১ হাজার পাউন্ডের বিনিময়ে বৃটেনে একজনকে হত্যার জন্য পাঠানো হয়েছিল।

    ফক্সট্রট নেটওয়ার্কের সদস্য ‘এজেন্ট ৪৭’ এবং ‘জেনারালেন’ ছদ্মনামের একাধিক গ্যাং লিডার নাটল্যান্ডকে পুরো প্রক্রিয়ায় কম্পিউটার গেমের চরিত্রের মতো পরিচালনা করেছিল। তবে যুক্তরাজ্যের কাউন্টার টেররিজম পুলিশ তাকে সময়মতো গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। ফক্সট্রট গ্যাংয়ের প্রধান রাওয়া মজিদ সুইডেন ও তুরস্ক থেকে পালিয়ে বর্তমানে ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থান করছেন।

    সুইডিশ সম্প্রচার মাধ্যম এসভিটির অনুসন্ধানী সাংবাদিক ডায়াম্যান্ট সালিহু জানান, তেহরানে মুক্তভাবে বসবাসের বিনিময়ে রাওয়া মজিদ এবং তার নেটওয়ার্ক ইরানের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক শত্রুদের আঘাত হানার চুক্তি করেছে। তাদের টার্গেটে রয়েছে ভিন্নমতাবলম্বী, সাংবাদিক ও ইসরাইলি স্থাপনা। ইউকে সরকার ২০২৫ সালের এপ্রিলে মজিদ ও তার ফক্সট্রট নেটওয়ার্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।

    পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউরোপোল এই ধরনের ভাড়াটে কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে ‘ওটিএফ গ্রিম’ নামে ১১টি দেশের একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করেছে। ইউরোপোলের কর্মকর্তা অ্যান্ডি ক্র্যাগ একে কোমলমতি তরুণদের ‘সস্তায় খুনের কাজে ব্যবহার’ বলে উল্লেখ করেন। তদন্তে জানা গেছে, এই অপরাধী চক্র তরুণদের বড় অঙ্কের অর্থের লোভ দেখালেও তারা ধরা পড়লে বা কাজ শেষ হলে কোনো অর্থই প্রদান করে না।

    অতি সম্প্রতি ইরাকে ফক্সট্রটের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক আলী শেহাদ আহমেদ গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে এই ভিএএএস মডেল বর্তমানে অন্যান্য অপরাধী চক্রও গ্রহণ করায় ইউরোপজুড়ে তরুনদের এমন সহিংসতায় জড়ানোর শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

  • মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানিক্ষেত্র ভস্ম করে দেওয়ার হুমকি ইরানের

    মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানিক্ষেত্র ভস্ম করে দেওয়ার হুমকি ইরানের

    ইরান সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রকে যেকোনো ‘বেপরোয়া পদক্ষেপ’ নেওয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি অনুযায়ী যদি মার্কিন বাহিনী ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে আবার হামলা চালায়, তবে কঠোরভাবে তার জবাব দেওয়া হবে।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গতকাল শনিবার তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক টেলিফোন আলাপে এ হুঁশিয়ারি দেন।

    আব্বাস আরাগচির এ হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টা আগে কুয়েতের সেনাবাহিনী দাবি করে, তারা ইরানের ছোড়া ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কুয়েতের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরান ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলেও জানায় তারা।

    পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে কথা বলার সময় আরাগচি বলেন, যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে ইরান দৃঢ় ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে।

    নিজের টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডের’ সম্ভাব্য পরিণতি এবং এর ফলে এ অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা নিয়েও আলোচনা করেছেন তিনি।

    পরে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে আলাপকালে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যেকোনো হামলা বা এ ধরনের পদক্ষেপে আঞ্চলিক কোনো দেশের অংশগ্রহণের জবাবে ইরান ‘সমান প্রতিক্রিয়া’ জানাবে।

    এদিকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গতকাল ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। যুবরাজ ইরান-সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা নিয়ে ‘উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এ নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চান’ বলে একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

    ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম নূরনিউজ গতকাল জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা চালায়, তবে ইরান সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেলক্ষেত্র, পাশাপাশি কাতার ও ইসরায়েলের গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালাবে।

    নূরনিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘সবকিছু পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হবে।’

    আগের দিন শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, তাঁর বিশ্বাস, যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকেরা এখনো ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হবেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই আলোচক দলে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও রয়েছেন।

    তবে ট্রাম্প এ–ও বলেছেন, ইরানের প্রতি তাঁর আস্থা ক্রমশ কমছে। তাঁর অভিযোগ, ইরান বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে। প্রয়োজন হলে তিনি তাদের ওপর আবার আঘাত হানবেন।

    ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে একই অভিযোগ করে আসছে।

  • ইরানে আড়াই হাজারের বেশি শিশু হতাহত হয়েছে: ইউনিসেফ

    ইরানে আড়াই হাজারের বেশি শিশু হতাহত হয়েছে: ইউনিসেফ

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে ইরান ও এর প্রতিবেশী মার্কিন মিত্রদেশগুলোতে হতাহত শিশুর সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়েছে। জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক আবদুল ফোফানা এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    ইউনিসেফের ওয়েবসাইটে গত শুক্রবার প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোয় যুদ্ধের রেশ রয়ে গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিজবাড়ি, বিদ্যালয় আর এলাকা—যেসব জায়গায় শিশুদের সবচেয়ে নিরাপদে থাকার কথা, সেখানেই প্রাণ হারাচ্ছে, পঙ্গু হচ্ছে তারা।

    সবশেষ ইরানের দক্ষিণ উপকূলের কাছে কেশম দ্বীপের একটি আবাসিক ভবনে ৩০ জুলাই মার্কিন হামলায় মা–বাবার সঙ্গে দুই বছরের একটি শিশু নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আহত হয়েছে আরও দুই শিশু—এমনটাই জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

    বিবৃতিতে ইউনিসেফের এই কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে, পুরো অঞ্চলজুড়ে শিশুরা সংঘাতের সবচেয়ে বড় মূল্য চোকাচ্ছে। গত পাঁচ মাসের যুদ্ধে এ অঞ্চলের ছয় দেশে ৪ হাজারের বেশি শিশু নিহত কিংবা আহত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ইরানে হতাহত শিশুর সংখ্যা আড়াই হাজারের বেশি। দেশটিতে চলমান যুদ্ধে ৩৮৬ শিশু নিহত এবং আরও ২ হাজার ১১৭ শিশু আহত হয়েছে।

    ইউনিসেফের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতির স্ক্রিনশট।

    সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোর শিশুদের এমন দুর্ভোগকে স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া উচিত হবে না। কারণ, যে সংঘাত শিশুরা শুরু করেনি এবং যা থামানোর কোনো ক্ষমতাও শিশুদের নেই, সেই সংঘাতের সবচেয়ে ভয়াবহ শিকার শিশুরাই হয়—বলেন আবদুল ফোফানা।

    মধ্যপ্রাচ্যে বিবদমান পক্ষগুলোকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির প্রতি পূর্ণ সম্মান জানিয়ে তা কার্যকর করতে হবে, এখনই সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। যেখানেই থাকুক না কেন, শিশুদের সার্বক্ষণিক সুরক্ষা নিশ্চিতে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে।

  • আসিয়ানে বাংলাদেশের যোগদানের পথ বন্ধ

    আসিয়ানে বাংলাদেশের যোগদানের পথ বন্ধ

    বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের সদস্য হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বাংলাদেশের পাশাপাশি পাপুয়া নিউগিনির জন্যেও কার্যত বন্ধ আন্তর্জাতিক এই জোটে যোগদানের পথ। আসিয়ানের নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন না আসলে এ দুই দেশকে সদস্য করা অসম্ভব বলে জানিয়েছেন জোটের মহাসচিব কাও কিম হোর্ন।

    সম্প্রতি ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত ১০ম আসিয়ান মিডিয়া ফোরামে এ কথা জানান হোর্ন। গত ৩১ জুলাই ইন্দোনেশীয় সংবাদমাধ্যম জাকার্তা গ্লোবের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    তিনি বলেছেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ এবং পাপুয়া নিউগিনি (পিএনজি) আসিয়ানের সদস্য হওয়ার যোগ্যতা পূরণ করে না। মিডিয়া ফোরামে কাও কিম হোর্ন বলেন, তিমুর-লেস্তেকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে আসিয়ানের সম্প্রসারণ কার্যত শেষ হয়েছে।

    তিনি বলেন, আসিয়ান সনদ অনুযায়ী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত স্বীকৃত ১১টি দেশই এ জোটের আওতায় রয়েছে। বাংলাদেশ ও পাপুয়া নিউগিনি এই ভৌগোলিক অঞ্চলের বাইরে অবস্থান করায় তাদের সদস্য হওয়ার সুযোগ নেই।

    সনদে কী বলা আছে

    আসিয়ান সনদই এই জোটের আইনি ভিত্তি নির্ধারণ করে। সেখানে নতুন সদস্য হওয়ার অন্যতম শর্ত হিসেবে উল্লেখ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্বীকৃত ভৌগোলিক অঞ্চলে অবস্থিত হতে হবে।

    কিন্তু ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অংশ। অন্যদিকে পাপুয়া নিউগিনি ওশেনিয়া অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

    কাও কিম হোর্ন বলেন, বাংলাদেশ বা পাপুয়া নিউগিনিকে সদস্য করতে চাইলে প্রথমে আসিয়ান সনদ সংশোধন করতে হবে।

    এ জন্য জোটের সদস্যদেশগুলোর সর্বসম্মত অনুমোদন প্রয়োজন হবে। সনদে ভৌগোলিক সংজ্ঞা পরিবর্তন না হলে বর্তমান ১১টি দেশই আসিয়ানের সদস্য হিসেবে থাকবে বলে জানান তিনি।

  • এবার লিবিয়ার তেলে ট্রাম্পের চোখ

    এবার লিবিয়ার তেলে ট্রাম্পের চোখ

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে ধরে যুক্তরাষ্ট্রে এনে কারাবন্দি করার পর দেশটির জ্বালানি তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটির তেল বিক্রি করে ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কিন্তু বিপুল এই অর্থ কোথায় বা কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে, সে বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর ট্রাম্পের চোখ এখন লিবিয়ার তেলের দিকে। তিনি তার প্রতিনিধি ও বেয়াইয়ের (মেয়ে টিফানির শ্বশুর) মাধ্যমে লিবিয়ার পূর্ব ও পশ্চিম অংশে ক্ষমতাসীন দুটি সরকারসহ তিনটি রাজনৈতিক পক্ষের শীর্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে দেশটির তেল সম্পদের ওপর মার্কিন ব্যবসায়ীদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন।

    লিবিয়া নিয়ে ট্রাম্পের নতুন করে আগ্রহ দেখানোর নেপথ্যে রয়েছে দেশটির জ্বালানি তেল। এতদিন লিবিয়ার ঘটনাবলিতে ট্রাম্পের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল খুবই সীমিত। কিন্তু হঠাৎ করে এখন এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার পেছনে মূল কারণ হলো একটি হিসাব—২০৩০ সালের মধ্যে লিবিয়ার দৈনিক তেল উৎপাদন দ্বিগুণ করে ৩০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করা হলে তা কনোকোফিলিপস, শেভরনসহ যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কোম্পানিগুলোর জন্য লাভজনক হবে। এসব কোম্পানি লিবিয়ার তেল নিয়ে এরই মধ্যেই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে ধরে যুক্তরাষ্ট্রে এনে কারাবন্দি করার পর দেশটির জ্বালানি তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটির তেল বিক্রি করে ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কিন্তু বিপুল এই অর্থ কোথায় বা কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে, সে বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর ট্রাম্পের চোখ এখন লিবিয়ার তেলের দিকে। তিনি তার প্রতিনিধি ও বেয়াইয়ের (মেয়ে টিফানির শ্বশুর) মাধ্যমে লিবিয়ার পূর্ব ও পশ্চিম অংশে ক্ষমতাসীন দুটি সরকারসহ তিনটি রাজনৈতিক পক্ষের শীর্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে দেশটির তেল সম্পদের ওপর মার্কিন ব্যবসায়ীদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন।

    লিবিয়া নিয়ে ট্রাম্পের নতুন করে আগ্রহ দেখানোর নেপথ্যে রয়েছে দেশটির জ্বালানি তেল। এতদিন লিবিয়ার ঘটনাবলিতে ট্রাম্পের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল খুবই সীমিত। কিন্তু হঠাৎ করে এখন এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার পেছনে মূল কারণ হলো একটি হিসাব—২০৩০ সালের মধ্যে লিবিয়ার দৈনিক তেল উৎপাদন দ্বিগুণ করে ৩০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করা হলে তা কনোকোফিলিপস, শেভরনসহ যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কোম্পানিগুলোর জন্য লাভজনক হবে। এসব কোম্পানি লিবিয়ার তেল নিয়ে এরই মধ্যেই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

    ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার আলোকে লিবিয়ার তিনটি প্রধান রাজনৈতিক গোষ্ঠী ক্ষমতার অংশীদারত্ব নিয়ে একটি চুক্তি করেছে গত ১৮ জুন। এই চুক্তির মাধ্যমে ২০২৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারির আগে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনের রূপরেখা তৈরি করা হয়। সংঘাতকবলিত লিবিয়ায় গত ১৮ বছরের মধ্যে এটি এ ধরনের প্রথম চুক্তি। এই চুক্তির কাঠামোটি গত এপ্রিল মাসে গৃহীত ৩০ বিলিয়ন ডলারের ‘একীভূত রাষ্ট্রীয় বাজেট’র ওপর ভিত্তি করে তৈরি। গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় লিবিয়ায় প্রণীত প্রথম একীভূত বাজেট এটা।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আরব ও আফ্রিকাবিষয়ক সিনিয়র উপদেষ্টা এবং মেয়ে টিফানির শ্বশুর মাসাদ বুলোস এই চুক্তি স্বাক্ষরের নেপথ্যে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন। এই চুক্তি স্বাক্ষরের আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রোমে একটি গোপন বৈঠক হয়। এরপর থেকেই এই প্রক্রিয়ার মূল ব্যক্তি হিসেবে কাজ করছেন মাসাদ বুলোস। সাধারণ লিবিয়ানদের মধ্যে এই চুক্তির সফলতা নিয়ে এরই মধ্যেই সংশয় তৈরি হয়েছে। কারণ, দেশটির সুশীল সমাজ, উপজাতি গোষ্ঠীগুলো, বিভিন্ন মিলিশিয়া বাহিনী এবং নারী ও তরুণ সমাজের কোনো প্রতিনিধি রোমের সেই বৈঠকে রাখা হয়নি।

    মাসাদ বুলোস কোনো পেশাদার কূটনীতিক নন। তিনি একজন লেবানিজ-আমেরিকান ব্যবসায়ী। লিবিয়ার জনগণের মন্তব্য হলো—তার প্রধান যোগ্যতা হলো তিনি টিফানি ট্রাম্পের শ্বশুর। লিবিয়ার ব্যাপারে ট্রাম্পের আগ্রহ মূলত দেশটির তেল নিয়ে। তার এই হিসাব-নিকাশটি ন্যাটোর লিবিয়ায় হস্তক্ষেপের সময় দেওয়া ট্রাম্পের সেই পুরোনো বক্তব্যের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিনিময়ে লিবিয়ার তেল বিক্রির আয়ের অর্ধেক যুক্তরাষ্ট্রের পাওয়া উচিত।

    আফ্রিকা মহাদেশে তেলের প্রমাণিত মজুতের সবচেয়ে বড় ভান্ডার রয়েছে লিবিয়ায়। কিন্তু দেশটিতে চলমান সংঘাত ও বিভাজনের কারণে এই তেল সম্পদ ঐক্যবদ্ধভাবে জাতীয় স্বার্থে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। দেশটির জাতীয় তেল কোম্পানি ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশনকে একীভূত করা এবং দলীয় বা গোষ্ঠীগত হস্তক্ষেপ থেকে এটিকে রক্ষা করা গেলে দৈনিক তেল উৎপাদন ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে রাষ্ট্রীয় আয়ও ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

    কিন্তু লিবিয়ার পূর্ব অংশে যুদ্ধবাজ নেতা জেনারেল হাফতারের সমর্থিত সরকার ও পশ্চিম অংশে ত্রিপোলিভিত্তিক জাতিসংঘ সমর্থিত ‘গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল ইউনিটি’ (জিএনইউ) ক্ষমতায় থাকায় এই তেল সম্পদ ভাগাভাগি ও লুটপাট হচ্ছে। জিএনইউয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবদুল্লাহ ইজ্জেদিন দ্য নিউ আরবকে বলেন, দুটি সরকার এক হলে ব্যয় অর্ধেকে নেমে আসবে এবং অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল-ফিতোরি বলেন, ‘লিবিয়া এমন একটি অঞ্চলে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতিটি শহর এক-একটি রাষ্ট্র হয়ে উঠেছে। তার মতে, একটি ঐক্যবদ্ধ সাংবিধানিক কাঠামোই জাতীয় নির্বাচনের একমাত্র পথ, যে নির্বাচনে একটি বৈধ ও স্থায়ী কর্তৃপক্ষ গঠিত হবে।

    ঐক্যবদ্ধ বাজেট প্রণয়নে পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের প্রতিদ্বন্দ্বী সরকার জাতীয় স্বার্থে আপস-মীমাংসায় রাজিও হয়েছিল। লিবিয়ার সিরতে শহরে আফ্রিকায় মার্কিন সামরিক কমান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত ‘ফ্লিন্টলক ২০২৬’ নামের সামরিক মহড়ায়ও উভয় পক্ষের বাহিনী প্রথমবারের মতো একই কমান্ডের অধীনে অংশ নিয়েছে। তবে মূল সমস্যাটি নিহিত রয়েছে নতুন এই চুক্তির কাঠামোর মধ্যেই।

    বুলোসের মধ্যস্থতায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রোমে অনুষ্ঠিত গোপন বৈঠকে খলিফা হাফতারের বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার ও তার ছেলে সাদ্দাম হাফতার এবং জিএনইউয়ের প্রধানমন্ত্রী আব্দুল হামিদ দবেইবেহর ভাতিজা ও উপদেষ্টা ইব্রাহিম দবেইবেহ প্রথমবারের মতো মুখোমুখি আলোচনায় বসেন। সেই বৈঠকের প্রস্তাবে সাদ্দাম হাফতারের নেতৃত্বে নির্বাহী ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন ‘প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল’ গঠনের কথা বলা হয়। পাশাপাশি দবেইবেহ’র নেতৃত্বে একটি ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠন এবং ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী দুই পরিবারের মধ্যে সামরিক কমান্ড ভাগ করার প্রস্তাবও করা হয়।

    মূলত ক্ষমতার শক্ত অবস্থানে থাকা পক্ষগুলোর মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি সমঝোতা তৈরির মাধ্যমে এই উদ্যোগটি নেওয়া হচ্ছে। তাই এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলেও লিবিয়ায় বিরাজমান মূল সমস্যাগুলোর কোনো সমাধান হবে না। লিবীয় বিশ্লেষক আব্দুলসালাম আল-রাজহি বলেছেন, এই চুক্তি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে।

    ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর চুক্তি ও লিবিয়ার তেল

    জাতিসংঘ-সমর্থিত পুনর্মিলন ও মানবাধিকারবিষয়ক ‘স্ট্রাকচার্ড ডায়ালগ’ বা কাঠামোগত আলোচনা প্রক্রিয়ার সদস্য হানিন বুশুশে বলেন, নির্বাহী ক্ষমতাকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে নেওয়া যেকোনো উদ্যোগকে শুধু ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর মধ্যকার রাজনৈতিক সমঝোতা দিয়ে বিচার করলে চলবে না, বরং সাধারণ লিবীয়দের ওপর এর প্রভাবের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে। তিনি ‘দ্য নিউ আরব’কে বলেন, ‘একত্রীকরণ তখনই অর্থবহ হতে পারে, যখন তা বৈধতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি সামগ্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হয়। যদি সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধান না করে শুধু নাম পরিবর্তন বা পদ পুনর্বণ্টনের মধ্যেই এটি সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সমস্যা থেকেই যাবে।’

    রাজনৈতিক সমালোচকদের মতে, জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা করা হলে তা জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন প্রক্রিয়ার বৈধতাকে দুর্বল করবে। নতুন এই চুক্তিতে বৃহত্তর জাতীয় ঐকমত্যের পরিবর্তে ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর মধ্যকার দরকষাকষিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

    রাশিয়া নতুন এই চুক্তিকে সন্দেহের চোখে দেখছে এবং ‘বুলোস উদ্যোগ’কে বার্লিন প্রক্রিয়াকে পাশ কাটানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, আলজেরিয়া ও তিউনিসিয়া বারবার বলছে যে, লিবিয়ায় যেকোনো সমাধানের ক্ষেত্রে অবশ্যই দেশটির নিজস্ব মালিকানা ও নেতৃত্ব থাকতে হবে।

    এরপর কী হতে যাচ্ছে

    ১৮ জুনের চুক্তিটি গত কয়েক বছরের মধ্যে লিবিয়ার ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পথে নেওয়া সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ। একটি সমন্বিত বাজেট বাস্তব রূপ পেয়েছে। যৌথ সামরিক মহড়াও অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের রূপরেখাও কাগজে-কলমে তৈরি আছে। কিন্তু এই উদ্যোগগুলো শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে কি না, তা নির্ভর করছে যে বিষয়ের ওপর তা হলো—চুক্তিটি কি শুধু হাফতার ও দবেইবেহ পরিবারের মধ্যকার সমঝোতা হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি এই দুই পরিবারের বাইরে লিবিয়ার সাধারণ মানুষ নিজেদের বলে মনে করবে? ২০১১ সালে পশ্চিমাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় গাদ্দাফির ক্ষমতাচ্যুতি ও নিহত হওয়ার পর থেকে লিবিয়ার ইতিহাস বলে, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাওয়া সহজ নয়।

    লিবিয়ার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মূল দুর্বলতাগুলো আমলে না নিয়ে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের তেলবাণিজ্যের লক্ষ্য হাসিলে তিনটি পক্ষের মধ্যে সমঝোতা গাজা, লেবানন ও ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণেরই প্রতিফলন। এসব দেশে ওয়াশিংটন সাফল্য ঘোষণা করার পরপরই প্রাথমিক চুক্তিগুলো ভেস্তে গেছে। লিবিয়ায়ও হয়তো তাই ঘটবে। এরই মধ্যে দেশটির বিভিন্ন মহল জোরালোভাবে বলছে, কয়েকটি পরিবারের মধ্যে চুক্তি লিবিয়ার জনগণের পক্ষে কোনো চুক্তি নয়।

  • স্পেন-মরক্কোর সংকটে কলকাঠি নেড়েছে ইসরাইল

    স্পেন-মরক্কোর সংকটে কলকাঠি নেড়েছে ইসরাইল

    সম্প্রতি মরক্কো থেকে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউটায় প্রবেশ করেছিল। এই ঘটনার পেছনে ইসরাইলের হাত থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন স্পেনের এক মন্ত্রী।

    জাতিসংঘে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন শুক্রবার এক্সে একটি পোস্ট করেন। তাতে তিনি লেখেন, ‘স্পেন, যারা ইসরাইলকে জ্ঞান দেওয়ার কোনো সুযোগ হাতছাড়া করে না, তারা এখন তাদের অভিবাসন নীতি নিয়ে সংকটের মুখে সেউটায় জরুরি অবস্থা জারি করেছে।’

    তিনি আরও লেখেন, ‘আমাদের জ্ঞান দেওয়ার আগে হয়তো তাদের বিশ্বকে ব্যাখ্যা করা উচিত, কেন তারা এখনো আফ্রিকায় ঔপনিবেশিক ছিটমহল ধরে রেখেছে।’

    ড্যাননের এই পোস্ট শেয়ার করে স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে মন্তব্য করেন, ‘বেশ, পুরো ব্যাপারটা এখন পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে।’

    স্পেনের অনেক রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষক আগেই অভিযোগ করেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধ এবং গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধের বিরোধিতা করার প্রতিশোধ হিসেবে স্পেনের জন্য সমস্যা তৈরির চেষ্টা করছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র।

    বামপন্থী দল রিপাবলিকান লেফট অব কাতালোনিয়ার সংসদীয় মুখপাত্র গ্যাব্রিয়েল রুফিয়ানও দাবি করেন, এই সংকট আসলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স্বার্থই রক্ষা করছে।

    স্পেনের সাংবাদিক হোসে ভিজনার এদিকে ২০১৯ সালের একটি পুরোনো পোস্ট শেয়ার করেন। এটি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহুর করা একটি পোস্ট, যেখানে সেউটায় বিচ্ছিন্নতাবাদে ইসরাইলের সমর্থনের অভিযোগ তোলা হয়েছিল।

    স্পেনের বিখ্যাত অভিনেতা হাভিয়ের বারদেমও একটি ভিডিও শেয়ার করে অভিযোগ করেন, এই সীমান্ত পারাপারের পেছনে ইসরাইলের হাত রয়েছে।

    পর্তুগালের সাবেক মন্ত্রী ও বিশ্লেষক ব্রুনো মাকায়েস বলেন, ঘটনার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল জড়িত ছিল কি না, তা নিশ্চিত না হলেও ঘটনার পর তারা গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে বর্তমান স্পেন সরকারের বিরুদ্ধে এই ঘটনাকে ব্যবহারের চেষ্টা করছিল তারা।

    মরক্কোর ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত সেউটা স্পেনের একটি অঞ্চল। দেশটির উত্তর উপকূলে আরেকটি স্বায়ত্তশাসিত শহর মেলিয়া। এই দুটি জায়গাই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আফ্রিকার মধ্যে একমাত্র স্থল সীমান্ত।

    স্পেন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই সপ্তাহে মরক্কো থেকে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ সেউটায় প্রবেশ করে, যাদের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার শিশু।

    অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, সীমান্তের বেষ্টনী ঘুরে সাঁতরে ছিটমহলে ঢুকছেন অনেকে। কেউ কেউ সাঁতারের পোশাক পরে ও ভাসমান রিং ব্যবহার করে এই বিপজ্জনক যাত্রা করেন।

    ফ্রান্স জানায়, তারা স্পেনের সাথে তাদের সীমান্তে নজরদারি বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে ইতালি হুমকি দেয়, ইইউর মুক্ত সীমান্ত ব্যবস্থা থেকে স্পেনকে স্থগিত করা হতে পারে।

    তবে শনিবার স্পেন জানায়, প্রায় ৪৮ হাজার অভিবাসী ইতিমধ্যে মরক্কোয় ফিরে গেছে। স্পেনের সেনাবাহিনীর সহায়তায় তাদের ফেরত পাঠানো হয়।

    অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু অভিবাসী সুড়ঙ্গে লুকিয়ে আছেন, আবার কেউ কেউ সেউটার রাস্তায় ঘোরাফেরা করছেন।

    ছিটমহলে পৌঁছাতে গিয়ে অন্তত ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    কী কারণে এই পারাপারের স্রোত শুরু হলো, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। ২০২১ সালের মে মাসে পশ্চিম সাহারা নিয়ে স্পেন ও মরক্কোর কূটনৈতিক বিরোধের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার মরক্কান নাগরিক সেউটায় প্রবেশ করেছিলেন। সে সময় স্পেন অভিযোগ করেছিল, মরক্কো অভিবাসীদের চাপ হিসেবে ব্যবহার করছে। জবাবে মরক্কোর এক মন্ত্রী বলেছিলেন, কূটনৈতিক বিরোধের প্রতিক্রিয়া হিসেবে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা তাদের জন্য যৌক্তিক ছিল।

    কিছু বিশ্লেষক এবার মরক্কোকেও দোষারোপ করছেন। তাদের মতে, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সম্প্রতি আলজেরিয়া সফরে ক্ষুব্ধ হয়েছে মরক্কো সরকার। আলজেরিয়া স্পেনের সবচেয়ে বড় গ্যাস সরবরাহকারী দেশ।

    বার্সেলোনার পম্পেউ ফাব্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লরেনজো গাব্রিয়েলি সেউটায় অভিবাসন নিয়ে গবেষণা করেন। নিউইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলেন, ‘এক দিনে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মরক্কো-স্পেন সীমান্ত পার হওয়া, মরক্কোর সম্পৃক্ততা ছাড়া সম্ভব নয়।’

    সেউটার প্রেসিডেন্ট হুয়ান হেসুস ভিভাস এই অভিবাসনকে স্পেনের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানান।

    স্পেনে মরক্কোর রাষ্ট্রদূত কারিমা বেনইয়াইচ বলেন, ‘আমরা সবসময় সবার জন্য বৈধ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ অভিবাসনকে অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছি।’

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সীমান্ত পারাপার মরক্কো সরকারের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই ঘটেছে।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে ‘বিপর্যয়’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় না থাকলে আমাদের দেশ এমন মাত্রায় আক্রান্ত হবে, যার তুলনায় স্পেনের ঘটনাকে সামান্যই মনে হবে।’

  • ইরান যাওয়ার পথে মরুভূমিতে ১৯ আফগানের মৃত্যু

    ইরান যাওয়ার পথে মরুভূমিতে ১৯ আফগানের মৃত্যু

    ইরানে প্রবেশের চেষ্টার সময় মরুভূমির তীব্র গরমে ও তৃষ্ণায় ১৯ জন আফগান অভিবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। খবর গালফ নিউজের।

    আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নিমরোজ প্রদেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বাদঘিস প্রদেশ থেকে আসা ওই ১৯ জন পুরুষ অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ইরানে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যে তীব্র গরম ও পানির অভাবে তারা মরুভূমিতে আটকা পড়েন এবং তৃষ্ণা ও তাপজনিত কারণে মারা যান।

    নিমরোজের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক হাবিবুল্লাহ এলহাম জানান, নিখোঁজদের সন্ধানে পরিচালিত উদ্ধার অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় নিমরোজের রিগ লালো মরুভূমি থেকে ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    এর আগে নিকটবর্তী ‘মৃত্যুর উপত্যকা’ নামে পরিচিত দাশ্ত-এ মার্গো মরুভূমি থেকে আরও ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। সর্বশেষ ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে ওই দলের ১৯ জন অভিবাসীরই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

    প্রাদেশিক মুখপাত্র আব্দুল মুতাওয়াকিল তাওয়াহিদি জানান, স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দারা দুর্গম ওই এলাকা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে স্থানান্তর করেছেন।

    নিহত অভিবাসীরা সবাই বাদঘিস প্রদেশের একটি নির্দিষ্ট গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। মূলত কাজের সন্ধানে ও উন্নত অর্থনৈতিক জীবনের আশায় তারা দেশত্যাগ করে ইরানে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন। ইরান ও পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী নিমরোজ প্রদেশটি আফগান অভিবাসীদের জন্য অন্যতম প্রধান একটি ট্রানজিট রুট। তবে বিশাল বালিয়াড়ি, বরফাবৃত নয় বরং রুক্ষ ল্যান্ডস্কেপ এবং গ্রীষ্মকালে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি তাপমাত্রা থাকার কারণে এই অঞ্চলের মরুভূমি পারাপার অত্যন্ত বিপজ্জনক।

    মানবাধিকার ও মানবিক সাহায্যকারী সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করে আসছে যে গ্রীষ্মের এই সময়ে মরুভূমি পাড়ি দেওয়ার সময় পানিশূন্যতা, চরম আবহাওয়া এবং অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণে অভিবাসীরা মারাত্মক জীবনঝুঁকির মুখে পড়েন। আফগানিস্তান থেকে অবৈধ ও বিপজ্জনক এই অভিবাসন রুটগুলোর ভয়াবহতারই একটি করুণ উদাহরণ এই ঘটনা।

  • ভিসা জটিলতায় দিল্লিতে আটক ৬ বাংলাদেশি

    ভিসা জটিলতায় দিল্লিতে আটক ৬ বাংলাদেশি

    ভারতের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট স্পেশাল স্টাফের ‘ফরেনার সেল’ পরিচালিত ‘অপারেশন ভিস্তা ১.০’ (ভিসা স্ট্যাটাস ভেরিফিকেশন)-এর অধীনে ৬ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।

    রোববার (২ আগস্ট) ডাবল-এন্ট্রি ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের দায়ে তাদের আটক করা হয় বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

    কর্মকর্তারা জানান, আটককৃত এই ৬ বিদেশি নাগরিক তাদের ডাবল-এন্ট্রি ভিসায় প্রতি সফরে অনুমোদিত সর্বোচ্চ ১৫ দিনের বেশি সময় ধরে ভারতে অবস্থান করছিলেন। সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউসে পরিচালিত এক বিশেষ যাচাইকরণ অভিযানের সময় এই নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

    তাদের পাসপোর্ট, ভিসা এবং ভ্রমণের নথিপত্র যাচাই শেষে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের (এফআরআরও) মাধ্যমে আইনি কার্যক্রম শুরু হয়। এফআরআরও তাদের বিরুদ্ধে ‘রেস্ট্রিকশন অর্ডার’ বা নিষেধাজ্ঞা আদেশ জারি করেছে। এরপর ওই ৬ জনকেই সেবা ধামের ডিটেনশন সেন্টারে (আটক কেন্দ্র) স্থানান্তর করা হয়েছে। দেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখানেই থাকবেন।

    যেভাবে আটক হলেন তারা

    বিদেশি নাগরিকদের ভিসা বিধিমালা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে চলমান প্রয়োগ অভিযানের অংশ হিসেবে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট স্পেশাল স্টাফের ফরেনার সেল এই ‘অপারেশন ভিস্তা ১.০’ শুরু করে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল দিল্লিতে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা বা ভিসার শর্ত লঙ্ঘনকারী বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।

    সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট স্পেশাল স্টাফের ইনচার্জ পরিদর্শক সন্দীপ যাদবের নেতৃত্বে এবং এসিপি (অপারেশনস) পদম সিং রানার তত্ত্বাবধানে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

    অভিযান চলাকালে ফরেনার সেলের একটি দল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের বিভিন্ন হোটেল ও গেস্টহাউসে ব্যাপক তল্লাশি চালায়। নবি করিমের আরাকাশান রোডের একটি হোটেলে পরিদর্শনের সময় ওই ৬ বাংলাদেশি নাগরিককে পাওয়া যায়।

    জিজ্ঞাসাবাদে ওই ৬ জন জানান, তারা বৈধ ডাবল-এন্ট্রি ভিসায় ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং মধ্য দিল্লির ‘সার্থক প্লেস’ হোটেলে অবস্থান করছিলেন। তবে তাদের পাসপোর্ট, ভিসা এবং ইমিগ্রেশন রেকর্ড যাচাই করে দেখা যায়, ওই ভিসার শর্ত অনুযায়ী প্রতিবার সর্বোচ্চ ১৫ দিন থাকার অনুমতি ছিল। কিন্তু তারা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো বৈধ অনুমোদন বা মেয়াদ বৃদ্ধি ছাড়াই এই নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হওয়ার পরও ভারতে অবস্থান করছিলেন।

    সবশেষে নথিপত্র ও ইমিগ্রেশন রেকর্ড যাচাইয়ের পর এফআরআরও ভিসা লঙ্ঘন এবং ভারতে বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান সংক্রান্ত প্রযোজ্য বিধানগুলোর অধীনে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তাদের দিল্লির সরাই রোহিল্লার শাহজাদা বাগের সেবা ধাম ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয় এবং বর্তমানে তাদের ডিপোর্টেশন বা দেশে ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • বিশ্ববাসীর নজর কাড়তে গাজায় এতিম শিশুদের দৌড় প্রতিযোগিতা

    বিশ্ববাসীর নজর কাড়তে গাজায় এতিম শিশুদের দৌড় প্রতিযোগিতা

    চলমান যুদ্ধের মধ্যে মা-বাবাকে হারানো শিশুদের করুণ বাস্তবতার দিকে বিশ্ববাসীর নজর ফেরাতে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় এক বিশেষ দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এতে অংশ নেয় শত শত ফিলিস্তিনি শিশু।

    মানবাধিকার ও ত্রাণ সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়ার্কিং ফর হিউম্যানিটেরিয়ান’-এর উদ্যোগে এই প্রতীকী ম্যারাথনের আয়োজন করা হয়।

    সংস্থাটি জানায়, যুদ্ধে প্রতিদিন বহু শিশু তাদের বাবা-মা কিংবা অভিভাবককে হারিয়ে এতিম হয়ে পড়ছে। চরম অনিশ্চয়তা ও মানবিক সংকটের মুখে পড়া এসব শিশুর দুঃখ-কষ্ট ও সার্বিক দুর্দশার কথা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

    ম্যারাথন চলাকালে শিশু ও আয়োজকদের পক্ষ থেকে অবরুদ্ধ গাজার এতিম শিশুদের সুরক্ষায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরো জোরালো ভূমিকা পালন এবং জরুরি মানবিক সহায়তা এগিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

  • গাজায় নিহত শিশুদের স্মরণে নেদারল্যান্ডসে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

    গাজায় নিহত শিশুদের স্মরণে নেদারল্যান্ডসে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

    ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনে নিহত হয়েছে হাজার হাজার শিশু। তাদের স্মরণে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে নেদারল্যান্ডসে। গত ১ আগস্ট হেগের শেভেনিঙ্গেন সৈকতে শিশুদের হাজার হাজার জোড়া জুতা সারি বেঁধে রাখা হয়।

    সৈকতে রাখা ৭ হাজার জুতা হয়ে ওঠে নিহত শিশুদের জীবনের প্রতীক; তুলে ধরে ইসরাইলের গণহত্যায় মানবিক প্রভাবের গভীরতা। নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে অংশগ্রহণকারীরা দিনভর সেখানে জড়ো হন। আয়োজকদের লক্ষ্য, গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো।

    জাতিসংঘের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় প্রায় ২০ হাজার শিশু নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৪৪ হাজারের বেশি শিশু।

    এছাড়া আরো হাজার হাজার শিশু নিখোঁজ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে তারা।

    অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় পাঁচ বছরের কম বয়সি অন্তত ১ লাখ ৩২ হাজার শিশু তীব্র ক্ষুধার কারণে চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অনাহারে মারা গেছে অনেকে।

  • ইরান যুদ্ধের ‘পরিণতি’ টের পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    ইরান যুদ্ধের ‘পরিণতি’ টের পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করার ঘোষণা দিলেও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের চলমান সংঘাতের দ্রুত অবসান হবে বলে এখনই আশা করা সময়োপযোগী নয়। এমন মন্তব্য করেছেন কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ।

    আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘হয়তো আমরা সংঘাতের সমাপ্তির সূচনার দিকে এগোচ্ছি, কিন্তু এই মুহূর্তে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরছে।’ তার মতে, এই অবস্থান প্রদর্শনের বড় অংশই ‘উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্যের মাধ্যমে’ প্রকাশ পাচ্ছে।

    মাসগ্রেভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন এখন সংঘাতের ‘সরাসরি প্রভাব’ দেশের অভ্যন্তরেই অনুভব করতে শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে পেট্রোলিয়াম ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) মূল্যবৃদ্ধি।

    তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক কিছু সাইবার হামলার পেছনে ইরানের সমর্থন থাকতে পারে—এমন গুঞ্জন রয়েছে। যদি তা সত্য হয়, তবে এই যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও পৌঁছে যাচ্ছে।’ তবে তিনি এ দাবির পক্ষে কোনো নিশ্চিত প্রমাণের কথা উল্লেখ করেননি।

    মাসগ্রেভ আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইরানের সরকার—উভয়ই রাজনৈতিক সময়সূচির বিষয়টি বিবেচনায় রাখছে। তার ভাষায়, ‘নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসছে,’ এবং আগামী অক্টোবর-নভেম্বর সময়কালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।

  • গাজা যুদ্ধে ৭৫ স্বজনকে হারিয়েছে হানিয়ার পরিবার

    গাজা যুদ্ধে ৭৫ স্বজনকে হারিয়েছে হানিয়ার পরিবার

    ইসরাইলের সঙ্গে চলমান গাজা যুদ্ধে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ৭৫ জনের বেশি সদস্যকে হারিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সাবেক রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়ার পরিবার। একই সঙ্গে তাদের বিস্তৃত ‘আল-হাজ্জ’ গোত্রের প্রায় ২৫০ জন সদস্য এই যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন।

    ইসমাইল হানিয়া হত্যাকাণ্ডের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ দাবি করেছেন তার ছেলে আবদুল সালাম হানিয়া।

    সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় ঘরের দেয়ালে ঝোলানো পারিবারিক ছবির দিকে নির্দেশ করে আবদুল সালাম জানান, ছবিতে থাকা স্বজনদের একটি বড় অংশই ইসরাইলি হামলায় শহীদ হয়েছেন। ২০২৪ সালের ১০ এপ্রিল পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন ইসরাইলি বিমান হামলায় ইসমাইল হানিয়ার তিন ছেলে—হাজেম, আমির ও মোহাম্মাদ এবং তাদের সন্তানেরা (হানিয়ার নাতি-নাতনি) নিহত হন।

    বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবদুল সালাম বলেন, ‘বাড়িতে আমার বাবা ছিলেন একজন শিক্ষক, পরামর্শদাতা, রাজনৈতিক নেতা এবং একজন পরম স্নেহশীল বন্ধু। তিনি আমাদের সব সময় সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকার এবং তাদের সেবা করার উপদেশ দিতেন।’

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তেহরানে অবস্থানকালে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ইসমাইল হানিয়া। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ওই হত্যাকাণ্ডে ইসরাইলের সরাসরি জড়িত থাকার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেন।

    সাক্ষাৎকারে ফিলিস্তিনিদের প্রতি তুরস্কের রাজনৈতিক ও মানবিক সমর্থনের ভূয়সী প্রশংসা করেন আবদুল সালাম। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের নেতৃত্বে তুরস্ক আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে।

    গাজায় যুদ্ধবিরতি ত্বরান্বিত করতে মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতা সফল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তার মতে, এই চুক্তির মাধ্যমেই গাজা পুনর্গঠন এবং ইসরাইলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার সম্ভব হবে।

    যুদ্ধের নির্মমতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গাজায় ৩০ হাজারের বেশি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। বিশ্ববাসীর কাছে ফিলিস্তিনের শিশুদের আকুল আবেদন—তাদের হিংস্রতা থেকে বাঁচতে দেওয়া হোক এবং অন্য দেশের শিশুদের মতো পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবন যাপনের সুযোগ দেওয়া হোক।’

    ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরাইলি বাহিনী প্রতিনিয়ত চুক্তি লঙ্ঘন করে চলেছে। কেবল যুদ্ধবিরতির পর থেকেই ইসরাইলি হামলায় আরো ১ হাজার ২২২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪ হাজার ৫৩ জন আহত হয়েছে।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা এই ভয়াবহ যুদ্ধে মোট নিহত ৭৩ হাজার ৩৪৯ জনে পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ১৬২ জন।

  • এরদোয়ানকে চ্যালেঞ্জ করতে ব্যর্থ হলেন দাভুতোগলু

    এরদোয়ানকে চ্যালেঞ্জ করতে ব্যর্থ হলেন দাভুতোগলু

    একসময় তুরস্কের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন আহমেত দাভুতোগলু। এই শিক্ষাবিদ শতাব্দীর শুরুতে দেশটির উচ্চাভিলাষী পররাষ্ট্রনীতি গঠনে সহায়তা করেছিলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ও প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নির্বাচিত হন। কিন্তু পরবর্তীতে, যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিলেন, তারই সমালোচক হয়ে ওঠেন তিনি।

    সম্প্রতি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন দাভুতোগলু। তিনি জানিয়েছেন, বিরোধী ফিউচার পার্টি রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করে দিচ্ছে। একে আত্মসমর্পণ নয়, বরং দেশের ‘দূষিত রাজনৈতিক পরিবেশ’ থেকে নিজেকে দূরে রাখার সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

    একসময় প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন দাভুতওগলু। ‘স্ট্র্যাটেজিক ডেপথ’ তত্ত্বের মাধ্যমে তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনে তিনি দেশটিকে আঞ্চলিক কূটনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন।

    ২০০৯ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। তার সময়ে ‘প্রতিবেশীদের সঙ্গে শূন্য সমস্যা’ নীতির মাধ্যমে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে তুরস্কের কূটনৈতিক উপস্থিতি বাড়ে।

    তবে সিরিয়ার যুদ্ধসহ মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তার পররাষ্ট্রনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। ২০১৬ সালে এরদোয়ানের সঙ্গে ক্ষমতা ও নীতিগত মতপার্থক্যের জেরে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়েন। পরে ২০১৯ সালে ফিউচার পার্টি গঠন করলেও দলটি উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন অর্জন করতে পারেনি।

    বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী রাজনীতির সীমাবদ্ধতা ও স্বাধীন সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলতে ব্যর্থ হওয়ায় দলটি সফল হয়নি। ২০২৩ সালের নির্বাচনে দলটি প্রধান বিরোধী সিএইচপির প্রতীকে নির্বাচন করে পার্লামেন্টে গেলেও এতে নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় আরো দুর্বল হয়।

    রাজনীতিতে ব্যর্থ হলেও দাভুতগলুর বুদ্ধিবৃত্তিক অবদান ও পররাষ্ট্রনীতির দর্শন দীর্ঘদিন আলোচনায় থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এরদোয়ান ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত তার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা ক্ষীণ হলেও, তুরস্কের রাজনীতি ও কূটনীতিতে তার রেখে যাওয়া প্রভাব ভবিষ্যতেও আলোচিত হবে।

  • ইরানে হামলা চালানোর হুমকি দিয়ে বারবার পিছু হটলেন ট্রাম্প

    ইরানে হামলা চালানোর হুমকি দিয়ে বারবার পিছু হটলেন ট্রাম্প

    আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও সামরিক অঙ্গনে ইদানীং জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘ট্যাকো’ শব্দটি। এর পূর্ণরূপ—‘ট্রাম্প অলওয়েজ চিকেনস আউট’ (ট্রাম্প সর্বদাই শেষ মুহূর্তে পিছু হটেন)। বাণিজ্য শুল্ক আরোপের বিষয় হোক কিংবা ইরানের ওপর সামরিক আক্রমণ, ট্রাম্পের বারবার বড় ধরনের হুমকি দেওয়া এবং পরে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পটভূমিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা এই পরিভাষা ব্যবহার করছেন।

    সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অভিযানের হুমকি দিয়েও শেষ মুহূর্তে তা প্রত্যাহার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অতীতে কতবার তিনি ইরানের বিরুদ্ধে এমন ধ্বংসাত্মক হুমকি দিয়ে আবার পিছু হেটেছেন, তার একটি পরিসংখ্যান নিচে তুলে ধরা হলো—

    ২১ মার্চ: বিদ্যুৎকেন্দ্র গুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি

    কৌশলগত হরমুজ প্রণালি ‘পুরোপুরি উন্মুক্ত’ না করলে ইরানের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘ধ্বংস করে দেওয়া’ হবে বলে কড়া হুমকি দেন ট্রাম্প। তবে নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর তিনি শেষ সময়সীমা প্রথমে পাঁচ দিন এবং পরে আরো এক সপ্তাহ বাড়িয়ে দেন।

    ১ এপ্রিল: ‘প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেওয়া’র হুঁশিয়ারি

    হরমুজ প্রণালি নিয়ে চুক্তি না করায় ট্রাম্প ইরানকে বোমা মেরে ‘প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দেন। তবে এরপর তাৎক্ষণিক কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়নি ওয়াশিংটন। এর চার দিন পর সামাজিক মাধ্যমে কড়া ভাষায় ইরানের সমালোচনা করে পোস্ট করেন তিনি।

    ৭ এপ্রিল: ‘সভ্যতা ধ্বংসের’ হুমকি ও পরে যুদ্ধবিরতি

    ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ‘আজ রাতে একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে।’

    তার এমন মন্তব্যে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয় এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো সাধারণ মানুষ গণহত্যার বিষয়ে সতর্ক করে। তবে ঠিক পরদিনই (৮ এপ্রিল) পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে এক ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

    ৪ মে: সামরিক অভিযান ঘোষণা ও স্থগিত

    হরমুজ প্রণালির অবরোধে আটকে থাকা জাহাজগুলো নিরাপদে পার করার লক্ষ্যে ‘অপারেশন প্রজেক্ট ফ্রিডম’ পরিচালনার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তবে এর মাত্র দুই দিন পর নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে তিনি জানান, সমঝোতার সম্ভাবনা যাচাই করতে এই অভিযান সাময়িকভাবে ‘স্থগিত’ রাখা হয়েছে।

    ১১ জুন: দ্বীপ দখলের হুমকি থেকে এক রাতেই ইউ-টার্ন

    ইরানে ‘খুবই কঠোর আঘাত’ হানার হুমকি দিয়ে দেশটির কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ দখল এবং পুরো জ্বালানি খাতের ওপর ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ নেওয়ার কথা বলেন ট্রাম্প। কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানি শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার কথা উল্লেখ করে তিনি হঠাৎ ইউটার্ন নেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এসব ঘন ঘন চরম হুমকি প্রদান এবং পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা সামরিক ময়দানে তার কথার গুরুত্ব কমাবে কি-না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

  • শতবর্ষের রেকর্ড ভাঙল দক্ষিণ কোরিয়ার তাপমাত্রা

    শতবর্ষের রেকর্ড ভাঙল দক্ষিণ কোরিয়ার তাপমাত্রা

    দক্ষিণ কোরিয়ায় এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইয়াংসান শহরে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২৬ মিনিটে তাপমাত্রা ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায় বলে জানিয়েছে দেশটির সরকারি আবহাওয়া সংস্থা।

    এক প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, চলমান তাপপ্রবাহের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ইয়াংসানে। টানা পঞ্চম দিনের মতো সেখানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ছিল।

    দক্ষিণ কোরিয়ার বেশিরভাগ এলাকায় তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি রয়েছে। অনেক শহরেই তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে।

    এর ফলে রোববার দেশটির ২০টিরও বেশি এলাকায় ‘জরুরি তাপপ্রবাহ সতর্কতা’ জারি করা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাড়তে থাকা তাপমাত্রা মোকাবিলায় এ বছর প্রথমবারের মতো এই নতুন সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

    কোনো এলাকায় অনুভূত তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা প্রকৃত তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর পূর্বাভাস থাকলে এই জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়।

    দক্ষিণ কোরিয়ার আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে দেশটিতে বছরে গড়ে ১৯ দিন তাপপ্রবাহ দেখা গেছে। ১৯৭০-এর দশকে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৮ দিন।

    দেশটিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে সেটিকে ‘তাপপ্রবাহের দিন’ হিসেবে ধরা হয়। আর রাতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি থাকলে তাকে ‘ক্রান্তীয় রাত’ বলা হয়।

    বিজ্ঞানীদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহসহ বিভিন্ন চরম আবহাওয়ার ঘটনা আগের তুলনায় আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হয়ে উঠছে।

  • বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগামী সপ্তাহে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা

    বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগামী সপ্তাহে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা

    বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো গভীর করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষ শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৫ জন শীর্ষ নির্বাহী ও ব্যবসায়ী নেতা বাংলাদেশ সফরে আসছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।

    শনিবার (১ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

    মাহদী আমিন জানান, সফররত মার্কিন প্রতিনিধিদল বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দফতরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন। তাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথেও বৈঠকের কথা রয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের কথা জানানো হয়েছে। তারা মনে করে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে এবং গত প্রায় পাঁচ মাসে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে।’

    মুখপাত্র বলেন, ‘বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বহুমাত্রিক সম্পর্ককে আরো গভীর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে কীভাবে এগিয়ে নেয়া যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মার্কিন কোম্পানিগুলো কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে এবং এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কীভাবে নীতিগত সহায়তা দেয়া যায়, সেসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘রফতানি ও আমদানি বাড়ানোর উপায় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। একইসাথে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আরো বেশি মার্কিন বিনিয়োগ নিশ্চিত করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষ শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৫ জন ব্যবসায়ী নেতা বা প্রথম সারির কর্মকর্তা বাংলাদেশ সফরে আসবেন।’

    মাহ্দী আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন ইতোমধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের ভ্রমণ সতর্কতা (ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি) ইতিবাচকভাবে সংশোধিত হওয়াও বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ আরো বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।’

    তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দেশটি থেকে আরো বেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের আশা করছে সরকার, যা দেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে সহায়ক হবে।’

    মাহ্দী আমিন আরো বলেন, ‘বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরও সংবাদমাধ্যমকে একই ধরনের ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্র অতীতের মতোই বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র হিসেবে পাশে থাকবে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি যে আস্থা প্রকাশ করেছে, তা ভবিষ্যৎ সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করবে।

  • ভর্তির সুযোগ না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট হ্যাক করলেন শিক্ষার্থী

    ভর্তির সুযোগ না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট হ্যাক করলেন শিক্ষার্থী

    ভারতের অন্যতম প্রযুক্তি শিক্ষার প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি-কানপুরে (আইআইটি-কানপুর) ভর্তি হতে পারেননি এক শিক্ষার্থী। এ ক্ষোভে আইআইটির দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে হ্যাক করেন। তবে এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে প্রযুক্তিগত দক্ষতা যাচাই করে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবছে আইআইটি-কানপুর।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, শিক্ষার্থীটি আইআইটি কানপুরের নতুন চালু হওয়া ব্যাচেলর অব সাইবার সিকিউরিটি (বি-সাইবার) কোর্সে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু প্রাথমিক বাছাইয়ে স্থান না পাওয়ার পর তিনি আইআইটি কানপুর ও আইআইটি মাদ্রাজের ওয়েবসাইটে অনুপ্রবেশ করেন বলে অভিযোগ। ওয়েবসাইটে তিনি লিখেছিলেন, আমার শুধু একটি ন্যায্য সুযোগ চাই।

    আইআইটি কানপুরের পরিচালক মনীন্দ্র আগরওয়াল বলেন, চলতি শিক্ষাবর্ষে ওই শিক্ষার্থীকে ভর্তি করানো সম্ভব নয়, কারণ ভর্তি কার্যক্রম ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে তাকে ক্যাম্পাসে ডেকে তার কারিগরি দক্ষতা যাচাই করা হবে। তিনি যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারলে আগামী ভর্তি চক্রে সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে তাকে প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা উদ্ভাবনকেন্দ্র সি৩আইহাবে ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও ভাবা হচ্ছে।

    প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীর প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রশংসা করা হলেও অনুমতি ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ গ্রহণযোগ্য নয়। সাইবার নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট দক্ষতা সব সময় নৈতিক ও আইনসম্মত উপায়ে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছে আইআইটি কানপুর।

    আইআইটি কানপুর এ বছর প্রথমবারের মতো ব্যাচেলর অব সাইবার সিকিউরিটি (বি-সাইবার) কোর্স চালু করেছে। প্রচলিত ভর্তি পদ্ধতির পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তায় দক্ষতাকেও এ কোর্সে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

  • একজন ইসরাইলি গাজায় থাকলেও অস্ত্র ছাড়বে না হামাস

    একজন ইসরাইলি গাজায় থাকলেও অস্ত্র ছাড়বে না হামাস

    ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস ও তাদের মিত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো একটি নিরস্ত্রীকরণ রোডম্যাপে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। তবে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য গাজা উপত্যকা থেকে ইসরাইলের পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার, পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিকে কার্যকর অগ্রগতি অপরিহার্য বলে জানানো হয়েছে।

    সাম্প্রতিক এ ঘোষণার পর বিভিন্ন মহলে হামাস সশস্ত্র প্রতিরোধ পুরোপুরি ত্যাগ করেছে এমন আলোচনা শুরু হলেও বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়। হামাসের অবস্থান অনুযায়ী, তারা সরাসরি ইসরাইলের কাছে অস্ত্র সমর্পণে রাজি নয়। বরং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে সেই রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছেই অস্ত্র হস্তান্তরের প্রস্তাব রয়েছে।

    প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসরাইল যদি গাজা থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার করে এবং সেখানে পুনর্গঠন কার্যক্রমে বাধা না দেয়, তাহলে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো ধাপে ধাপে ভারী অস্ত্র সংরক্ষণ ও নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু করবে। ব্যক্তিগত অস্ত্র নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ধীরে ধীরে গাজার প্রশাসনিক কাঠামোর কাছে হস্তান্তর করা হবে।

    তবে এ পরিকল্পনার সফলতা অনেকটাই নির্ভর করছে ইসরাইলের অবস্থানের ওপর। এখন পর্যন্ত ইসরাইলের পক্ষ থেকে গাজা থেকে পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার কিংবা পুনর্গঠনের জন্য কার্যকর কোনো ইতিবাচক সংকেত পাওয়া যায়নি।

    ২০২৫ সালের অক্টোবরে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি বলে বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ রয়েছে। হামাসের দাবি, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী তারা ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে নতুন কোনো হামলা চালায়নি এবং প্রশাসনিক দায়িত্বও জাতীয় প্রশাসনিক কমিটির কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। অপরদিকে, তাদের অভিযোগ, ইসরাইল যুদ্ধবিরতির নানা শর্ত লঙ্ঘন করেছে, গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দিয়েছে এবং সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

    বিশ্লেষণে আরো বলা হয়েছে, হামাস বর্তমানে মূলত দুটি লক্ষ্য সামনে রেখে এই উদ্যোগ নিয়েছে—গাজার সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করা। তবে ইসরাইল যদি এসব শর্ত বাস্তবায়নে অগ্রসর না হয়, তাহলে পরিস্থিতি আবারো সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

    একই সঙ্গে আঞ্চলিক ভূরাজনীতিও এ সংকটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত। বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ঘিরে সম্ভাব্য আঞ্চলিক সংঘাত গাজার পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

    পর্যবেক্ষকদের মতে, হামাসের এই প্রস্তাবকে একদিকে গাজার মানবিক সংকট নিরসনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে এর বাস্তবায়ন পুরোপুরি নির্ভর করবে ইসরাইলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ভবিষ্যৎ অগ্রগতির ওপর।

  • শুভেন্দু প্রতিবেশী হিন্দুরা ভারতে আশ্রয় পাবেন

    শুভেন্দু প্রতিবেশী হিন্দুরা ভারতে আশ্রয় পাবেন

    ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের (সিএএ) সূত্র ধরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘প্রতিবেশী দেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ অনুপ্রবেশকারী নন। তারা শরণার্থী।’ এ আইনে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টানদের শরণার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হলেও মুসলিমদের কথা বাদ দেওয়া হয়েছে।

    বিতর্কিত সিএএ-তে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দুসহ ৬টি ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে দ্রুত নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান রয়েছে, তবে মুসলিমদের এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সমালোচক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই আইন ভারতের সংবিধানের ১৪ অনুচ্ছেদে থাকা ‘আইনের চোখে সমতা’ ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতির পরিপন্থী।

    শনিবার পশ্চিমবঙ্গে ১৬তম ডিজিটাল জনগণনার সূচনা অনুষ্ঠানে এমন কথা বলেন শুভেন্দু অধিকারী।

    অনুপ্রবেশকারী ও শরণার্থীদের মধ্যে ফারাক স্পষ্ট করে দিয়ে শুভেন্দু নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের (সিএএ) ধারার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। বলেন, হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের যেসব মানুষ বাংলাদেশ থেকে এসেছেন, তারা অনুপ্রবেশকারী নন, যথাযথ আইনি কাঠামোয় তারা শরণার্থী।

    তিনি আরও বলেন, ‘ভারত সরকারের ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিয়ম স্পষ্ট। যে সমস্ত শরণার্থী ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪-এর মধ্যে ধর্ম বা প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে এ দেশে এসেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা যাবে না এবং পুলিশও তাদের কোনো হয়রানি করতে পারবে না।’ এরপরই তিনি বলেন, ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা এই রাজ্যে বা দেশে থাকবে না। নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে সতর্কতার সঙ্গে ফেরত পাঠানো হচ্ছে এবং আগামী দিনেও হবে। অনুপ্রবেশকারীদের দেখভাল করার দায়িত্ব ভারতের নয়।’

    এ সময় অতীত ভুলের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, ‘আগের সরকারের আমলে বীরভূমে একটি ত্রুটি ঘটেছিল, যেখানে ভারতীয় নাগরিককে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। যদিও পরে তাকে ফেরানো হয়। আমাদের সরকার নিশ্চিত করবে যাতে এই প্রক্রিয়ায় একজন প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকও বিন্দুমাত্র সমস্যায় না পড়েন।’

  • বিশ্বকাপ ট্রফি বিক্রি করে বিতর্কের মুখে ফ্রান্সের ফুটবলার

    বিশ্বকাপ ট্রফি বিক্রি করে বিতর্কের মুখে ফ্রান্সের ফুটবলার

    রাশিয়া বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্স দলের সদস্য বেঞ্জামিন মেন্দি নিজের কাছে থাকা ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির অফিসিয়াল প্রতিকৃতি বিক্রি করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। বিশ্বকাপজয়ী দলের খেলোয়াড়দের দেওয়া এই স্মারক নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্রীড়া স্মারক নিলাম প্রতিষ্ঠান ‘গোল্ডিন’-এর ‘গ্লোবাল ফুটবল অকশন পার্ট ২’-এ ট্রফিটির রেপ্লিকা বিক্রির জন্য তোলেন মেন্দি। নিলামে এটি ৬২ হাজার মার্কিন ডলারে, অর্থাৎ প্রায় ৫৪ হাজার ইউরোতে বিক্রি হয়।

    বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ স্মারক বিক্রি করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েন ফরাসি এই ডিফেন্ডার। তবে সমালোচনায় বিচলিত না হয়ে স্ন্যাপচ্যাটে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

    মেন্দির ভাষ্য, ট্রফিটি তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি। তাই সেটি রাখবেন নাকি বিক্রি করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একান্তই তার। সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অন্য কারও এ বিষয়ে মন্তব্য করার সুযোগ নেই।

    পরে কিছুটা রসিকতার সুরে তিনি আরও বলেন, ট্রফিটি এতদিন আলমারিতে অযথাই জায়গা দখল করে ছিল। তাই সেটি বিক্রি করে দেওয়ায় তিনি কোনো সমস্যা দেখেন না।

  • বিশ্বের সেরা দশে মেসির এমএলএস, ত্রিশের বাইরে রোনালদোর সৌদি লিগ

    বিশ্বের সেরা দশে মেসির এমএলএস, ত্রিশের বাইরে রোনালদোর সৌদি লিগ

    নতুন মৌসুম শুরুর আগে ধাক্কা খেল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, হোয়াও ফেলিক্সদের সৌদি প্রো লিগ। গ্লোবাল ফুটবল র‍্যাঙ্কিংয়ের হিসেবে বিশ্বের সেরা লিগের তালিকায় ত্রিশের বাইরে চলে গেছে সৌদি আরবের এ লিগ। অন্য দিকে সেরা দশে উঠে এসেছে লিওনেল মেসিদের মেজর লিগ সকার (এমএলএস)।

    ফিফা বিশ্বকাপ শেষে আপাতত নতুন মৌসুম শুরুর অপেক্ষায় এসপিএল। আগামী ১৩ আগস্ট শুরু হবে ২০২৬-২৭ মৌসুমের খেলা। অন্য দিকে বিশ্বকাপের বিরতির পর এরই মধ্যে মাঠে গড়িয়েছে এমএলএসের অসমাপ্ত মৌসুমের খেলা।

    এর মাঝে বিশ্বের ফুটবল লিগগুলোর র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে গ্লোবাল ফুটবল র‍্যাঙ্কিং ওয়েবসাইট। যেখানে ৭৯.৩ পয়েন্ট নিয়ে দশ নম্বরে অবস্থান করছে মেজর লিগ সকার (এমএলএস)। অন্যদিকে ৭৫.১ পয়েন্ট নিয়ে ৩৬ নম্বরে আছে সৌদি প্রো লিগ।

    এছাড়া নির্দিষ্ট ক্লাবের হিসেবে এমএলএসের ক্লাবগুলোর মধ্যে সবার ওপরে আছে মেসির ইন্টার মায়ামি। গ্লোবাল র‍্যাঙ্কিংয়ে ৮৪.৯ পয়েন্ট নিয়ে ৭৯ নম্বরে আছে তারা। আর এসপিএলের ক্লাবগুলোর মধ্যে ৮৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্লোবাল র‍্যাঙ্কিংয়ে ৭৫ নম্বরে আল আহলি।

    রোনালদো-ফেলিক্সদের আল নাসর আপাতত সেরা একশতেও নেই। তারা ৮৩.৪ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে ১১৬ নম্বরে।

    বিশ্বের সেরা লিগের র‍্যাঙ্কিংয়ে বরাবরের মতো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ইংল্যান্ডের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। একমাত্র লিগ হিসেবে নব্বইয়ের বেশি (৯১.৮) পয়েন্ট তাদের।

    এছাড়া চমকে দেওয়ার মতো উন্নতি হয়েছে ইতালিয়ান সিরি আ’র। স্প্যানিশ লা লিগাকে (৮৬) টপকে ৮৬.১ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে উঠে গেছে ইতালির লিগটি। এছাড়া সেরা পাঁচে আছে ফ্রান্সের লিগ ওয়ান (৮৫.৬) ও জার্মানির বুন্দেসলিগা (৮৫.৪)।

    উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে সবশেষ লিগ র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফুটবল হিস্ট্রি এন্ড স্ট্যাটিস্টিকস (আইএফএফএইচএস)। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৬২৬.৭৫ পয়েন্ট নিয়ে ২৭ নম্বরে সৌদি আরবের লিগ। আর ১৭০৭.৭৫ পয়েন্ট নিয়ে ৪৮ নম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের লিগ।

  • তিনি এখনো আইসিসির লক্ষ্যবস্তু নন-ট্রাম্পে

    তিনি এখনো আইসিসির লক্ষ্যবস্তু নন-ট্রাম্পে

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার (৩১ জুলাই) রসিকতা করে বলেছেন, তিনি এখনো আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) লক্ষ্যবস্তু নন।

    এদিকে, তার প্রশাসন এই আদালতের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে এবং সদস্য দেশগুলোকে সংস্থা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

    ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘যাই হোক, এমন কোনো তথ্য নেই যে তারা আমার পেছনে লেগেছে। তবে এমনটা ঘটতেও পারে।’ এ কথা বলার সময় মন্ত্রিসভার সদস্যরা হাসিতে ফেটে পড়েন।

    সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইসিসির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তুলে ধরছিলেন। ট্রাম্প তার বক্তব্যে বাধা দিয়ে বলেন, ‘তিনি আমাকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন না। তিনি বিবি (বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু) এবং আরো কিছু মানুষকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।’

    এখানে তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডাকনাম ব্যবহার করেন। নেতানিয়াহু ২০২৪ সালে আইসিসির জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার আওতায় রয়েছেন।

    জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির বিরুদ্ধে বড় ধরনের কূটনৈতিক প্রচারণা শুরু করে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনার মুখে থাকা এই আদালতের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়া হয় এবং মিত্র দেশগুলোকে সংস্থা থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

    নেদারল্যান্ডের হেগে অবস্থিত আইসিসির সাথে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্ক অত্যন্ত খারাপ। ইতোমধ্যে আদালতের কয়েকজন বিচারকের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

    গত ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি এমন গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করে, যেসব অপরাধের বিচার সংশ্লিষ্ট দেশগুলো নিজেরা করতে ইচ্ছুক নয় বা সক্ষম নয়।

    তবে রুবিও শুক্রবার আইসিসিকে ‘একটি অবৈধ আন্তর্জাতিক সংস্থা’ বলে মন্তব্য করেন।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত প্রতিষ্ঠার চুক্তির অংশীদার নয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দুই দেশই।

    রুবিও বলেন, ‘আমরা তাদের সংস্কার করতে এবং আমাদের কথা শুনতে বলেছিলাম। তারা তা করেনি। তারা অত্যন্ত উদ্ধত। এখন আমরা ওই আদালতকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কার্যক্রম শুরু করেছি।’

    তিনি জানান, পাঁচটি দেশ আইসিসি থেকে সরে গেছে বা সরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে এবং তিনি অন্য দেশগুলোকেও একই পথে যাওয়ার আহ্বান জানান।

    চাদ ও ভেনিজুয়েলা উভয় দেশই সম্প্রতি আইসিসি থেকে নিজেদের প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে।

  • ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানায় বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্য

    ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানায় বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্য

    মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে এখন পুরো বিশ্বের প্রধান সব জ্বালানি কেন্দ্র ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভালো করেই জানে, তাদের আরব মিত্র দেশ এবং ইসরাইলে অবস্থিত কৌশলগত তেল ও গ্যাস অবকাঠামো ইরানি নিখুঁত ও ধ্বংসাত্মক মিসাইলের একদম হাতের নাগালে।

    ৪০ দিনের যুদ্ধের সময় ইরানের সাউথ পার্স কেন্দ্র আক্রান্ত হলে তেহরান কাতারের প্রধান গ্যাস শোধনাগারে হামলা চালায়। ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইটে দ্রুত দুঃখ প্রকাশ করে লিখেছিলেন, ‘এমন ঘটনা আর ঘটবে না।’ কিন্তু বর্তমানে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে অচল করে দেয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

    ইরানের বার্তা সংস্থা ওয়ানা শনিবার (১ আগস্ট) আরো জানিয়েছে, ইরানের চোখ এখন কয়েকটি অতিসংবেদনশীল কৌশলগত সরবরাহ পথের দিকে, যে সব লক্ষ্যে আঘাত হানলে বৈশ্বিক অর্থনীতি স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে। সৌদি আরবের তেলের মূল ভিত্তি ‘গাওয়ার’ তেলক্ষেত্র, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহের ৫ শতাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া ‘আবকাইক’ ও ‘খুরাইস’ শোধনাগার দিয়ে দিনে ৭০ লাখ ব্যারেল তেল প্রক্রিয়াজাত হয়। আবকাইকে ক্ষতি হওয়া মানে বৈশ্বিক সরবরাহ, পেট্রোকেমিক্যাল এবং সুপেয় পানি শোধন ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়া।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘জাকুম’ সামুদ্রিক তেলক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেলের বেশি খনিজ তেল রপ্তানি হয়, যার সাথে যুক্ত রয়েছে ‘রুওয়াইস’ শোধনাগার। বিশ্ব গ্যাসের ২৫ শতাংশ মজুদ রয়েছে কাতারের ‘নর্থ ডোম’ গ্যাসক্ষেত্রে এবং দেশটির ‘রাস লাফান’ থেকে বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ২০ শতাংশ সরবরাহ করা হয়।

    কুয়েতের ‘বুর্গান’ তেলক্ষেত্র অবরুদ্ধ হলে দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, অন্যদিকে বাহরাইনের ‘সিত্রা’ শোধনাগার ও ‘আল-মামির’ স্থাপনা অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।

    এমনকি ইসরাইলের মূল জ্বালানি উৎস ‘লেভিয়াথান’ এবং ‘তামার’ গ্যাসক্ষেত্র দুটিও এখন সরাসরি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানায় রয়েছে। ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) বিমানমহাকাশ বা অ্যারোস্পেস ফোর্সের এই নিখুঁত নিশানা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি উৎপাদন অচল করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এতে হরমুজ প্রণালীকেন্দ্রিক বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা এখন চরম শঙ্কায় পড়েছে।

  • যমজ কনে, যমজ বর, যমজ পুরোহিত, যমজ সহকারী – সম্পন্ন হলো ‘ঐতিহাসিক’ এক বিয়ে

    যমজ কনে, যমজ বর, যমজ পুরোহিত, যমজ সহকারী – সম্পন্ন হলো ‘ঐতিহাসিক’ এক বিয়ে

    কিছু বিয়ে মনে রাখা হয় ফুলের সাজসজ্জার জন্য, আবার কিছু গান-বাজনার জন্য। তবে ভারতের কেরালার চঙ্গনাচেরির একটি বিয়ের অনুষ্ঠান মনে রাখা হবে সম্পূর্ণ এক বিরল দৃশ্যের জন্য, যেখানে বিয়ের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন একজোড়া করে যমজ মানুষ!

    ভারতের কেরালার চঙ্গনাচেরির মেট্রোপলিটন চার্চে যখন বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু হয়, তখন আখিল কে থমাস হাত ধরেন ম্যাগি মেরির এবং আখিলের যমজ ভাই নিখিল কে থমাস পাশে দাঁড়ান ম্যাগির যমজ বোন মারিয়া মেরির পাশে।

    এই ভিন্নধর্মী উদযাপনটি আরও চমৎকার রূপ নেয়, যখন দুজন যমজ পুরোহিত এই ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এবং বেদিতে তাদের সহকারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরও দুজন যমজ কিশোর।

    দুই পরিবারের কাছে এটি কেবল একটি সাধারণ বিয়ে ছিল না; ছিল বহু বছর ধরে লালন করা এক স্বপ্নের বাস্তবায়ন।

    জানা যায়, কেরালার চঙ্গনাচেরির ভেট্টুপারামবিলের বাসিন্দা কুঞ্জুমন থমাস ও জোমোলের যমজ সন্তান আখিল এবং নিখিল। অন্যদিকে, পাঠানমথিট্টা জেলার কুলাথুরের কুম্বুলুভেলিলের বাসিন্দা টমিচান ও মেরিকুটির যমজ কন্যা ম্যাগি এবং মারিয়া।

    অবাক করার বিষয় হলো, বিয়ের পুরোহিতও ছিলেন যমজ। কাঞ্জিরাপল্লী ডায়োসিসের যমজ পুরোহিত ফাদার অ্যান্টো পেঝুমকাট্টিল ও ফাদার আজো পেঝুমকাট্টিল বিয়ে পরিচালনা করেন। অন্যদিকে বেদিতে তাদের সহায়তা করেন আরেক যমজ দুই ভাই জেরন জেমস ও জোহন জেমস।

    বিয়ের গুরুত্বপূর্ণ সব ভূমিকায় যমজদের উপস্থিত থাকাটা কিন্তু আকস্মিক ছিল না। কনেরা নিজেরাই যমজ পুরোহিতদের সন্ধান করছিলেন। অবশেষে যমজদের বিশেষ জমায়েতের জন্য পরিচিত কোঠানাল্লুরের একটি গির্জার মাধ্যমে তারা এই যমজ পুরোহিতদের খুঁজে পান।

    যমজ দুই বোন বলেন, ‘যমজ মানুষদের ঘেরা পরিবেশে বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করা আমাদের ছোটবেলার স্বপ্ন ছিল। আমাদের মা-বাবা এবং পরিবারের সবাই এটিই চেয়েছিলেন। যীশুখ্রিস্ট আমাদের সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন। আমরা যখন ফাদারদের নিমন্ত্রণ জানাই, তারা তৎক্ষণাৎ রাজি হন।’

    বিয়ের অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করে পুরোহিতরাও তাদের বিশেষ অনুভূতির কথা জানান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারা বলেন, ‘যমজদের বিয়ে দেওয়া অত্যন্ত বিশেষ একটি অভিজ্ঞতা, যা আমাদের সারা জীবনের স্মৃতি হয়ে থাকবে। এ ধরনের বিশেষ মুহূর্ত আমাদের ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের কথা মনে করিয়ে দেয়।’

    নিজেরা যমজ হওয়ার স্মৃতিচারণ করে তারা আরও বলেন, ‘ওরা একসঙ্গে জন্মেছে এবং একসঙ্গে একটি নতুন জীবন শুরু করছে। আমরা দুজনও একইভাবে একসঙ্গে যাজকত্বে বা ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিলাম। এটি সত্যিই এক সুন্দর অনুভূতি।’

    কর্মজীবন ও নতুন অধ্যায়

    পেশাগত জীবনে বর আখিল ও নিখিল দুজনেই মার্চেন্ট নেভিতে কর্মরত, অন্যদিকে দুই বোন ম্যাগি ও মারিয়া কর্মরত রয়েছেন তথ্যপ্রযুক্তি খাতে।

    ভিড়ের মাঝে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা যমজ জুটির দুর্লভ ছবিগুলোর উর্ধ্বে উঠে এই বিয়ে একটি সুন্দর বার্তা দিয়ে গেল—জীবনের যাত্রা যতই ভিন্ন হোক না কেন, বিশেষ কিছু সম্পর্কের শুরু একসঙ্গে হওয়া কতটা আনন্দদায়ক হতে পারে। আমন্ত্রিত অতিথি ও পরিবারের সবার জন্য এটি ছিল চিরস্মরণীয় এক বিয়ের অভিজ্ঞতা।

  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গরের বৈঠক: সরকারে আস্থা যুক্তরাষ্ট্রের, বিনিয়োগের ইঙ্গিত

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গরের বৈঠক: সরকারে আস্থা যুক্তরাষ্ট্রের, বিনিয়োগের ইঙ্গিত

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা ব্যক্ত করে দেশের বর্তমান স্থিতিশীল পরিবেশের প্রশংসা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে মার্কিন ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে নতুন করে বিনিয়োগে উৎসাহ দিতে ভ্রমণ সতর্কতা (টুরিস্ট অ্যাডভাইজরি) ইতিবাচকভাবে পুনর্বিবেচনা করার কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

    আজ শনিবার সকালে ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি সার্জিও গর এসব কথা জানান।

    উষ্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, নিরাপত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    বৈঠকে মার্কিন বিশেষ দূত বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে এবং এতে মার্কিন প্রশাসন পূর্ণ আস্থা রাখছে।

    সার্জিও গরউল্লেখ করেন, এই আস্থার প্রতিফলন হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ সতর্কতা ইতিবাচকভাবে সংশোধন করেছে, যা মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ যে এখন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত—এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছাবে।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে আরও বড় আকারের মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বিশেষ করে সয়াবিন, তুলা, গম এবং অন্যান্য কৃষি পণ্যের ওয়্যার হাউজিং বা সংরক্ষণ সুবিধা তৈরিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ কামনা করেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এসব খাতে মার্কিন বিনিয়োগ গড়ে উঠলে একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) তৈরি করা সম্ভব হবে।

    এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে মার্কিন বিনিয়োগের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। সার্জিও গর জানান, আইটি খাতে বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে দেশটি প্যাক্স সিলিকা (PAX Silica) উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার হতে পারে।

    দুই পক্ষই যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) সহযোগিতায় বাংলাদেশে ওষুধ ও খাদ্য পণ্যের পরীক্ষাগার চালুর কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

    বৈঠকে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মার্কিন প্রতিনিধিদল। আগের দিনই সার্জিও গর কক্সবাজারের আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করেন।

    সংকটটি মোকাবিলায় এবং বিপুলসংখ্যক মিয়ানমারের নাগরিককে আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দেওয়ায় সার্জিও গর বাংলাদেশ সরকার ও সাধারণ মানুষের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

    সার্জিও গর জোর দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই ও রাজনৈতিক সমাধান অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি।

    অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে যে পরিমাণ আর্থিক ও মানবিক সাহায্য আসে, তার অর্ধেকেরও বেশি দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই সহযোগিতার জন্য তিনি মার্কিন সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের শীর্ষ প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    বাংলাদেশ পক্ষে বৈঠকে অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন এবং ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।

    মার্কিন প্রতিনিধিদলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনসহ একাধিক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক।

  • ‘আয়নাঘরে’ যারা দেয়াল টেনেছে তাদের বিচারের আওতায় আনছি: চিফ প্রসিকিউটর

    ‘আয়নাঘরে’ যারা দেয়াল টেনেছে তাদের বিচারের আওতায় আনছি: চিফ প্রসিকিউটর

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘আয়নাঘরের’ অনেক আলামত নষ্ট করা হয়েছে, নতুন করে স্থাপনা করা হয়েছে। যারা এসব আলামত নষ্টের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    শনিবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব-১ সদরদপ্তরে অবস্থিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল বা গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্ত সংস্থা যখন কাজ শুরু করে তখন একটা ক্যামোফ্লেক্স তৈরি করা হলো। ভিকটিমদের কথার সঙ্গে বন্দিশালার মিল পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি খুঁজতে গিয়ে তদন্ত সংস্থা দেখল কিছু জায়গায় দেয়াল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তবে সেই দেয়াল সরিয়ে ফেলার পর সেখানে ২৯টি রুমের দেখা মিলল, যা ভয়াবহ। এছাড়াও সেই রুমগুলোর নিচে একটি ডেথ সেল আছে। সেটাও অনেক ভয়াবহ। এ বিষয়ে তৎকালীন অনেকের দায় আছে, সংশ্লিষ্টদের এর ব্যাখ্যা দিতে হবে। পরবর্তীতে যারা দেয়াল টেনে আয়নাঘর ঢেকে দিয়েছে তাদেরও বিচারের আওতায় আনছি।

    তিনি বলেন, র‍্যাব-১ ‘আয়নাঘর’ নামে যে টর্চার সেল ছিল সেটি পরিদর্শন করেছি। সেখানে ভয়াবহ চিত্র দেখেছি। ছোট বড় মোট ২৯টি কামরা রয়েছে। এখানে ভুক্তভোগীদের অত্যন্ত মানবেতরভাবে রাখা হতো।

    এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর তিন বিচারক, প্রসিকিউটর এবং আসামি পক্ষের আইনজীবীরা এই স্থান পরিদর্শন করেন। ট্রাইব্যাুনালে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ সংক্রান্ত মামলার বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহের জন্য এই পরিদর্শনে আসেন তারা।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, যাদের ধরে নিয়ে আসা হতো তাদের দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর রাখা হতো। কামরাগুলো এতটাই ছোট ছিল যে সেখানে শুয়ে থাকার কোনো ব্যবস্থা ছিল না, বসেই দিনের পর দিন, মাসের পর মাস কাটাতে হতো। এভাবেই তাদের উপর নির্যাতন করা হতো। কাউকে দীর্ঘদিন পর মিথ্যা মামলা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হতো। যা প্রসিকিউশনে দেওয়া ভুক্তভোগীদের বর্ণনার সঙ্গে মিল পাওয়া যায়।

    তিনি বলেন, এই সেলে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, বর্তমান সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমানকেও (মীর আহমদ) রাখা হয়েছিল। গুম হওয়া প্রায় ২৫০ ব্যক্তির সন্ধ্যান এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

    আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. তাবারক হোসেন ভূইয়া বলেন, এখানে পরিদর্শন আইন অনুযায়ী হয়েছে। তবে আমরা টিএফআই সেল দেখতে আসিনি। টিএফআই একটি ধারণা, এটি সুনির্দিষ্ট স্থান না।

    পরিদর্শনে মানবাধিকার কর্মী নুর খান লিটন, মায়ের ডাকের সমন্বয়ক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি উপস্থিত ছিলেন। এসময় সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, শুধু ভিন্ন মত ও রাজনীতি করার কারণে মানুষকে গুম করে এখানে নির্দয়ভাবে রাখা হতো।

  • ইরান থেকে বের  হওয়ার পথ খুজছেন ট্রাম্প !

    ইরান থেকে বের হওয়ার পথ খুজছেন ট্রাম্প !

    ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত থেকে উত্তরণে নতুন করে চিন্তাভাবনা করা দরকার বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গত বুধবার নতুন করে ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আরও একবার ‘ভয়াবহ হামলা’র হুমকি দিয়েছেন। তবে হামলার মাধ্যমে তেহরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার কোনো জোরালো লক্ষণ তিনি এখনো দেখাতে পারেননি।

    অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে ঐতিহাসিক শান্তি ফিরিয়ে আনার যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ট্রাম্প সাধুবাদ জানিয়েছিলেন, অস্পষ্ট ভাষায় লেখা সেই সমঝোতা স্মারক এখন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।

    বর্তমান সমীকরণ পাল্টে দেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সামনে যেসব বিকল্প রয়েছে, হোক তা স্থলযুদ্ধে শত শত মার্কিন সেনার জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা কিংবা হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়া—দুটোই তাঁর জন্য তিক্ত অভিজ্ঞতায় রূপ নিয়েছে। ‘উপযুক্ত কোনো পথ খোলা নেই’ কথাটি এখন গতানুগতিক বুলিতে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চিন্তক প্রতিষ্ঠান ‘ডিফেন্স প্রায়োরিটিস’-এর এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক লাইল গোল্ডস্টিন বলেন, ‘আমরা সত্যিই এক গভীর উভয় সংটের মধ্যে পড়েছি।’

    ইরান যুদ্ধের প্রভাব কেবল এতে সরাসরি জড়িত পক্ষগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপজুড়ে এর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নেতিবাচক প্রভাব ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। এর ফলে স্থবির হয়ে পড়া কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে আবার সচল করতে বাইরের পক্ষগুলো ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে।

    হরমুজ প্রণালি যদি অধিকাংশ বেসামরিক জাহাজের চলাচলের অনুপযোগী বা ‘নো-গো জোন’ হয়ে থাকে, তাহলে যুদ্ধের মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব আরও তীব্র হবে। এর ফলে একদিকে যেমন বিশ্বজুড়ে তেলের মজুত ফুরিয়ে আসবে, তেমনি ডিজেল ও সারের মতো জ্বালানি ও কৃষি উপকরণের দামও আকাশচুম্বী হয়ে উঠবে।

    সেই সঙ্গে আসন্ন শীত মৌসুমে ইউরোপে তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) তীব্র সংকটের আশঙ্কাও জোরালো হচ্ছে। বিলাসবহুল পর্যটন ও প্রবাসীদের নিরাপদ স্বর্গরাজ্য হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোর যে ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছিল, এই যুদ্ধ তা ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।

    অন্যদিকে, যুদ্ধের কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউরোপের নড়বড়ে সরকারগুলো এখন জনরোষ ও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রে এ যুদ্ধ ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের গতিপথ নির্ধারণ করে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। বুধবার প্রকাশিত সিএনএন/এসএসআরএসের এক নতুন জনমত জরিপে দেখা গেছে, ইরান পরিস্থিতি ও জ্বালানি তেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের গৃহীত নীতিগুলোর প্রতি জনসমর্থন ৩০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে।

    জনমত জরিপের এ পরিসংখ্যান আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য বিপর্যয়কর হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে এটি ২০২৪ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রাম্প যে ভোটারদের পক্ষে টেনেছিলেন, তাকেও অসার বা প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

    এর মধ্যে একটি হলো, আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠনের এক নতুন ধারণা। এর লক্ষ্য হলো, ইরানসহ উপসাগরীয় দেশগুলো যৌথভাবে এই বাণিজ্যিক রুট পরিচালনা করবে এবং এর বাণিজ্যিক কার্যক্রমগুলো এমনভাবে বিন্যস্ত করবে যাতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়।

    পরিহাসের বিষয় হলো, সংকটের এ সমাধান হয়তো বাতিল হয়ে যাওয়া সেই সমঝোতা স্মারকের মধ্যেই সোজাসুজি বিদ্যমান ছিল। ওই দলিলে ইরান ও ওমানকে আহ্বান জানানো হয়েছিল, তারা যেন পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য উপকূলীয় রাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ‘হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও নৌ-পরিষেবা’র রূপরেখা নির্ধারণ করে।

    কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর অন্য সম্ভাব্য উপায়টি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকেও উন্মোচিত হতে পারে। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে কূটনীতির পরিধি আরও বিস্তৃত করার এই মূল ভাবনা আবারও সামনে আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রধান কারণ হলো, বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির ফলে ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মতো তৃতীয় পক্ষগুলোর অনেক কিছুই হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।

    সাম্প্রতিক দিনগুলোয় প্রকাশ্যে আসা একমাত্র কূটনৈতিক তৎপরতাটি ছিল ইরান ও ওমানের মধ্যে উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনা। ওমানও এই প্রণালির উপকূলে অবস্থিত একটি দেশ। এ আলোচনায় মূলত প্রণালিটি আবার উন্মুক্ত করা হলে সেখানে সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনার সম্ভাব্য উপায়গুলো নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    সিএনএন এ সপ্তাহে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর ট্রানজিট ফি বা পারাপার শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে তেহরানের অবস্থানের বিরোধিতা করেছে ওমান। আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের জন্য ব্যবহৃত প্রণালিগুলোয় অবাধ ও নিরাপদ যাতায়াতের যে বিধান আন্তর্জাতিক আইনে রয়েছে, মূলত সে যুক্তি দেখিয়েই ওমান এ বিরোধিতা করে।

    তবে এ অচলাবস্থা কাটাতে ওমান সরকার একটি সমঝোতামূলক প্রস্তাব তুলে ধরছে, যেখানে সরাসরি শুল্কের পরিবর্তে ‘সামুদ্রিক পরিষেবা’ (ম্যারিটাইম সার্ভিসেস) বাবদ ‘ফি’ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এটি বর্তমান জটিলতা নিরসনে একটি কৌশলগত বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে।

    নিবন্ধটিতে নেদারল্যান্ডের রটারডাম বন্দরে প্রচলিত ফির উদাহরণ টেনে আয়ের একটি সম্ভাব্য রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বিশালাকার ট্যাংকারগুলোকে প্রতি গ্রস মেট্রিক টন পণ্যের জন্য প্রায় শূন্য দশমিক শূন্য ৮ ডলার ‘সাসটেইনেবিলিটি ফি’ দিতে হয়। লেখকদের হিসাব অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরেও একই ধরনের ফি আরোপ করা হলে প্রস্তাবিত নতুন প্রতিষ্ঠানটি বছরে প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ (২৬ মিলিয়ন) ডলার আয় করতে পারবে।

    ধারণাটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হতে পারে, এমনকি ইরান যদি এর চেয়ে অনেক বেশি লভ্যাংশও দাবি করে। কারণ, প্রতি ব্যারেল তেলের দামের সঙ্গে অতিরিক্ত কয়েক ডলার যুক্ত হওয়াও তেলের বাজারের বর্তমান চরম অস্থিতিশীলতার চেয়ে অর্থনৈতিকভাবে অনেক বেশি সাশ্রয়ী। এ অস্থিতিশীলতার কারণে কেবল গত বুধবারেই তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

    নিবন্ধের অন্যতম লেখক এসফান্দিয়ার বাতমাঙ্গেলিদজ মনে করেন, এ ধরনের প্রকল্পের আর্থিক সম্ভাবনার বিষয়ে তেহরান বাইরের অনেকের ধারণার চেয়ে বেশি নমনীয় হতে পারে। তিনি বলেন, ইরান তার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যতটা উদ্বিগ্ন, তাতে হরমুজ প্রণালিতে কেবল ফি আরোপের চেয়ে তাদের সামনে আরও অনেক বড় লক্ষ্য রয়েছে।

    এসফান্দিয়ার বলেন, উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো ধরনের কূটনৈতিক পথ উন্মোচিত হলে তার ফলে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হতে পারে কিংবা ইরানি তেল রপ্তানি আবার অবাধ হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    এসফান্দিয়ার আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, এ সমঝোতা তেহরানকে বড় ধরনের কৌশলগত সুবিধা দেবে। এর মাধ্যমে তারা এ বার্তাই দিতে পারবে যে হরমুজ প্রণালি আর কখনোই যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতিতে ফিরে যাবে না। মূলত এর মধ্য দিয়ে ইরান এটাই প্রমাণ করতে চাইবে, তারা পরাজিত হয়নি, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাতের মধ্যেও তারা নিজস্ব কর্তৃত্ব ও শক্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে সক্ষম হয়েছে।

    তবে লাইল গোল্ডস্টিন মনে করেন, ট্রাম্পের সামনে এখন বিকল্পের এতটাই সংকট যে শত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও একটি সমঝোতায় পৌঁছানোই হয়তো শেষ পর্যন্ত অনিবার্য হয়ে দাঁড়াবে।

    গোল্ডস্টিন বলেন, ‘এটি সম্ভাব্য সব সমঝোতার মধ্যে সবচেয়ে বেদনাদায়ক হতে যাচ্ছে। ঠিক এ কারণেই রাষ্ট্র হিসেবে আমরা এবং বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শক্তি হিসেবে পশ্চিমা বিশ্ব দীর্ঘকাল ধরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতাকে আমাদের অন্যতম মৌলিক আদর্শ হিসেবে দাবি করে এসেছি।’

    অধিকাংশ আধুনিক মার্কিন প্রেসিডেন্টই ইরান ইস্যুতে কূটনৈতিক চাপ জোরালো করতে এত দিন মিত্র দেশগুলোর দ্বারস্থ হতেন। উদাহরণস্বরূপ, ওবামা আমলের পারমাণবিক চুক্তির ক্ষেত্রে কূটনীতির অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি ছিল ইউরোপ। ইরানের সঙ্গে তাদের এমন কিছু কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর যুক্তরাষ্ট্র ছিন্ন করে দিয়েছিল।

    তবে আটলান্টিক পাড়ের দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যে ঐতিহাসিক মৈত্রী (ট্রান্স-আটলান্টিক অ্যালায়েন্স), তার ব্যাপক ক্ষতি করেছেন ট্রাম্প। একের পর এক বাণিজ্যিক শুল্ক আরোপ এবং কটু মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিনের মিত্রদের সঙ্গে প্রায় শত্রুর মতো আচরণ করেছেন।

    এমনকি মিত্র দেশগুলো যে যুদ্ধকে ‘অবৈধ ও অবিবেচনাপ্রসূত’ বলে মনে করে, তা শুরুর আগে ট্রাম্প তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শ করতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। আবার একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক অভিযানে যোগ না দেওয়ায় তিনি সেই মিত্রদেরই তীব্র তিরস্কার করতে ছাড়েননি।

    এর ফলে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল অবস্থানে থাকা ইউরোপীয় নেতাদের এখন ট্রাম্পকে সাহায্য করার খুব একটা তাগিদ বা অনুপ্রেরণা নেই। পাশাপাশি ন্যাটো মিত্রদেরও পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজস্ব সীমাবদ্ধতা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণে সক্ষম নিজেদের শক্তিশালী সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের প্রস্তাব ইউরোপীয় দেশগুলো দিয়েছে ঠিকই। তবে তারা তা দিয়েছে সব শত্রুতা ও যুদ্ধংদেহী তৎপরতা বন্ধ করার শর্তে।

    তবে মধ্যপ্রাচ্যে ইউরোপের যেকোনো উদ্যোগ ওমানের মতোই একই প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে। আর তা হলো, একটি পরাশক্তির অস্থির ও বিভ্রান্তিকর কূটনৈতিক কৌশল, যা মূলত ট্রাম্পের মেজাজ-মর্জির ওপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হয় বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

    ব্রাসেলস-ভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক ‘জার্মান মার্শাল ফান্ড অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস’-এর ডিস্টিংগুইশড ফেলো ইয়ান লেসার বলেন, ‘একটি সুনির্দিষ্ট ও সর্বসম্মত কৌশল বাস্তবায়নে ইউরোপের সহযোগিতা চাওয়া এক বিষয়। কিন্তু বর্তমানে তেমন কোনো ঐকমত্যের কৌশলই নেই। প্রকৃতপক্ষে এ মুহূর্তে আমেরিকার কৌশল ঠিক কী, তা মোটেই স্পষ্ট নয়।’

    মার্কিন উদ্দেশ্য নিয়ে একই ধরনের অবিশ্বাসও কূটনীতিতে বাধার সৃষ্টি করতে পারে। এসফান্দিয়ার বলেন, ‘তেহরানের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আমার আলাপচারিতায় এমন ইঙ্গিত মিলেছে যে ওমান যে প্রস্তাব সামনে এনেছে, তারা তা নাকচ করে দিচ্ছে না।’

    তবে এসফান্দিয়ার আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেখানে উত্তেজনা বাড়িয়েই চলেছে, সেখানে এই মুহূর্তে প্রণালির ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি ইরানকে ভাবিয়ে তুলছে। তাঁর মতে, ‘ইরান সম্ভবত কোনো এক সময় এ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দেবে। সেটি তাদের নিজেদের স্বার্থেই জরুরি। তারা সম্ভবত কোনো আঞ্চলিক কাঠামোর অধীনে এটি করবে। তবে মার্কিনরা তাদের ‘উচিত শিক্ষা’ পেয়েছে, এমনটা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা সে পথে হাঁটবে না।’

    ট্রাম্পের এ যুদ্ধ থামাতে না পারায় ওমানের মতো অন্যান্য উপসাগরীয় রাষ্ট্র ও ইউরোপীয় শক্তিকেও চরম মাশুল দিতে হচ্ছে। ওয়াশিংটন ও তেহরান যদি দ্রুত এই পরস্পরকে উসকে দেওয়া ধ্বংসাত্মক আবর্ত থেকে বেরিয়ে আসতে না পারে, তাহলে অন্যদের হস্তক্ষেপ করা বা তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসা ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকবে না।

  • গভীর রাতে বাথরুমে পাওয়া গেল ৭ ফুট কুমির

    গভীর রাতে বাথরুমে পাওয়া গেল ৭ ফুট কুমির

    ভারতের গুজরাটের আনন্দ জেলায় গত সপ্তাহের শুরুর দিকে এক ভীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছিল একটি পরিবার। গভীর রাতে নিজেদের বাড়ির বাথরুমের ভেতর সাত ফুট লম্বা একটি জলজ্যান্ত কুমির দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।

    বাড়ির মালিক বলভাই চৌহান জানান, গভীর রাতে বাড়ির বাইরে একনাগাড়ে কুকুরের ডাক শুনে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। কী ঘটেছে তা দেখতে ঘর থেকে বের হন। পরে বাথরুমের দরজা খুলতেই বিশালাকার ওই কুমিরের মুখোমুখি হন।

    এ ঘটনায় পুরো পরিবার আতঙ্কে জমে যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অবিলম্বে বন বিভাগে খবর দেওয়া হয়। এরপর বন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় একটি বন্য প্রাণী উদ্ধার ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকদের যৌথ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় এক ঘণ্টার অভিযানের পর কুমিরটিকে নিরাপদে বন্দী করতে সক্ষম হন তাঁরা। পরে সেটিকে কাছের একটি পুকুরে অবমুক্ত করা হয়।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি উদ্ধার অভিযানের ভিডিওতে দেখা যায়, কাপড়চোপড় ও অন্যান্য গৃহস্থালি জিনিসপত্রে ঠাসা একটি ঘিঞ্জি বাথরুম। সেখানে কুমিরটির শরীরে দড়ির ফাঁস লাগিয়ে এবং একটি লম্বা লাঠির সাহায্যে এক ব্যক্তি সেটিকে টেনে বের করার চেষ্টা করছেন। উদ্ধারের পর প্রাণীটিকে নিরাপদ জলাশয়ে ফিরিয়ে নেওয়াই ছিল মূল লক্ষ্য।

    বন কর্মকর্তাদের মতে, বর্ষাকালে এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। ভারী বৃষ্টিতে পানির স্তর বেড়ে যাওয়ার ফলে কুমিরগুলো এদের স্বাভাবিক আবাসস্থল ছেড়ে চলে আসে। মূলত খাবারের সন্ধানে অথবা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে প্রায়ই কাছাকাছি আবাসিক এলাকায় ঢুকে পড়ে এরা।

    কর্মকর্তারা আরও জানান, পার্শ্ববর্তী মালাতাজ গ্রামের একটি পুকুরে ১০০টির বেশি কুমির রয়েছে। ফলে ভারী বৃষ্টি ও বন্যার সময় প্রাণীগুলোর রাস্তাঘাটে বা মানুষের বাড়িঘরে চলে আসার আশঙ্কা অনেক বেশি।

  • ইরানে আজ কালের মধ্যে নতুন হামলা-যুক্তরাষ্ট্র

    ইরানে আজ কালের মধ্যে নতুন হামলা-যুক্তরাষ্ট্র

    যুক্তরাষ্ট্র আজ শনিবার বা আগামীকাল রোববারের মধ্যে ইরানে হামলা করতে পারে। গতকাল শুক্রবার এমন পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তার সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

    তবে ইরানে হামলার নির্দিষ্ট পরিধি ও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। ওই দুই কর্মকর্তা সতর্ক করে এ–ও বলেছেন, এই হামলার পরিকল্পনা বাতিলও হতে পারে।

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলার ইঙ্গিত দেওয়ার পরই এই ঘোষণা এল। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানে মার্কিন হামলা শিগগিরই থামার সম্ভাবনা কম। মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের ওপর খুব শক্তিশালী আঘাত হানতে যাচ্ছি।’

    সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, গতকাল রাতে নতুন করে কোনো হামলার ঘোষণা আসেনি। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডও (সেন্টকম) গত বৃহস্পতিবার ও গতকাল ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো হামলার কথা জানায়নি।

    চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, আগের দিন জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলার চেষ্টার জবাবে তারা ‘এক দফা বড় ধরনের হামলা’ চালিয়েছে।

    ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ট্যাংকার ‘ক্ষেপণাস্ত্র’ হামলার শিকার হয়েছে। এই হামলার জন্য কে দায়ী, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

  • মার্কিন ঘাঁটিতে ১০২ মিলিয়ন ডলারের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

    মার্কিন ঘাঁটিতে ১০২ মিলিয়ন ডলারের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি সামরিক ঘাঁটিতে দেশটির বিমানবাহিনীর একটি এফ-৩৫বি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটেছে। তবে বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার ঠিক আগেই জরুরি প্যারাস্যুট নিয়ে পাইলট সফলভাবে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।

    শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টার কিছুক্ষণ আগে সান দিয়েগোতে অবস্থিত ‘মেরিন ক্রপস এয়ার স্টেশন মিরামার’-এ এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    মেরিন এয়ারক্রাফট উইং থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এক আসনবিশিষ্ট এফ-৩৫বি লাইটনিং-টু মডেলের যুদ্ধবিমানটি ঘাঁটির রানওয়েতে অবতরণের ঠিক পূর্বমুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়। বিমানটিতে আগুন ধরে গেলে দ্রুত ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়ে, যা বেশ কয়েক মাইল দূর থেকেও দেখা যায়।

    সামরিক কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, পাইলট বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার মুহূর্তেই ইজেক্ট করতে সক্ষম হন। পরে উদ্ধারকারী দল তাঁকে স্থানীয় একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায়।

    চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আঘাতের মাত্রা আশঙ্কাজনক নয় এবং পাইলট বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত ও স্থিতিশীল অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

    দুর্ঘটনার সময় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারের রেকর্ড করা অডিও বার্তায় জরুরি সেবা দলকে জানানো হয়, ‘রানওয়ের কাছাকাছি এফ-৩৫ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। পাইলট সফলভাবে ইজেক্ট করেছেন এবং প্যারাস্যুট সক্রিয় হতে দেখা গেছে।’

    দুর্ঘটনার পরপরই বিমানবন্দরে নিয়োজিত ফায়ার সার্ভিসের ফেনা (ফোম) ও স্প্রে ব্যবহার করে বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। একই সঙ্গে বিমানের আশপাশের ঘাসে ছড়িয়ে পড়া আগুনও দ্রুত নিভিয়ে ফেলা হয়।

    দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। বেসামরিক বিমান দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সাধারণত ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড তদন্ত পরিচালনা করলেও, এই সামরিক বিমান দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি নিজস্ব তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল যুদ্ধবিমান

    প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের দাবি অনুযায়ী, ৫০ ফুটেরও বেশি দীর্ঘ এই এফ-৩৫বি লাইটনিং-টু যুদ্ধবিমানকে বিশ্বের অন্যতম সর্বাধুনিক ও শক্তিশালী ‘স্টেলথ’ (রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম) যুদ্ধবিমান হিসেবে গণ্য করা হয়। এই বিমানটি সাধারণ বিমানের মতো স্বাভাবিক রানওয়ে ব্যবহারের পাশাপাশি হেলিকপ্টারের মতো উল্লম্বভাবে (ভার্টিক্যালি) উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারে।

    প্রতিটি এফ-৩৫বি বিমানের নির্মাণ ব্যয় প্রায় ১০ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ১০২ মিলিয়ন ডলার)। মার্কিন মেরিন ক্রপস ছাড়াও যুক্তরাজ্য এবং ইতালির বিমানবাহিনী এই বিশেষ মডেলটি পরিচালনা করে থাকে।

    উল্লেখ্য, দুর্ঘটনাটি যে মিরামার ঘাঁটিতে ঘটেছে, সেখানে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ১৫ হাজার সামরিক কর্মী কর্মরত রয়েছেন।

  • ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ঘাটতি, সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন

    ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ঘাটতি, সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন

    মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক মাসের টানা সংঘাতের কারণে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগনে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার ইন্টারসেপ্টর বা বাধারক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাবিদেরা পাল্টা হামলা বা সামরিক অভিযানের বর্তমান গতি বজায় রাখা সম্ভব কি না, তা নিয়ে পুনর্বিবেচনা শুরু করেছেন।

    মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (সিএসআইএস)–এর সংকলিত তথ্যে দেখা গেছে, সংঘাত শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের মজুত ছিল প্রায় ২ হাজার ৩০০টি। বর্তমানে তা আশঙ্কাজনকভাবে কমে দাঁড়িয়েছে ৮২৭টির নিচে।

    একইভাবে মার্কিন আরেক আধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স’ বা থাডের মজুতও দ্রুত কমেছে। পূর্বে ৪৫২টি থাড মিসাইল মজুত থাকলেও এখন তা কমে ২৭৮টির নিচে নেমে এসেছে।

    সিএসআইএস সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের এই গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি পূরণ করতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত তিন বছর সময় লাগতে পারে। এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলসহ বিশ্বের অন্য কোনো প্রান্তে হঠাৎ নতুন করে সংকট তৈরি হলে সেখানে মার্কিন সামরিক কর্মী ও ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা নিয়ে তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    সংকট কাটাতে পেন্টাগন ২০২৬ অর্থবছরের ৬ হাজার ৭০০ কোটি (৬৭ বিলিয়ন) ডলারের জরুরি তহবিল প্রস্তাব করেছে। সেখান থেকে অন্তত ১ হাজার ৮২০ কোটি (১৮.২ বিলিয়ন) ডলার ব্যয় করা হবে প্যাট্রিয়ট মিসাইল, নৌবাহিনীর টমাহক ক্রুজ মিসাইল এবং থাড ব্যবস্থা পুনরায় সংগ্রহ করার কাজে।

    প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, পেন্টাগনের ২০২৭ অর্থবছরের প্রাথমিক বাজেটে কম খরচের অস্ত্রের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে প্রস্তাবিত মোট অস্ত্রের প্রায় অর্ধেকই রাখা হয়েছে তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যের, যেগুলোর প্রতিটির দাম ৬ লাখ ডলার বা তার নিচে।

  • প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন বিশেষ দূতের বৈঠক

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন বিশেষ দূতের বৈঠক

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর।

    শনিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করা, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়। এছাড়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

    সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের কোনো প্রতিনিধির এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • এবার লিবিয়ার তেলে ট্রাম্পের চোখ

    এবার লিবিয়ার তেলে ট্রাম্পের চোখ

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে ধরে যুক্তরাষ্ট্রে এনে কারাবন্দি করার পর দেশটির জ্বালানি তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটির তেল বিক্রি করে ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কিন্তু বিপুল এই অর্থ কোথায় বা কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে, সে বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর ট্রাম্পের চোখ এখন লিবিয়ার তেলের দিকে। তিনি তার প্রতিনিধি ও বেয়াইয়ের (মেয়ে টিফানির শ্বশুর) মাধ্যমে লিবিয়ার পূর্ব ও পশ্চিম অংশে ক্ষমতাসীন দুটি সরকারসহ তিনটি রাজনৈতিক পক্ষের শীর্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে দেশটির তেল সম্পদের ওপর মার্কিন ব্যবসায়ীদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন।

    লিবিয়া নিয়ে ট্রাম্পের নতুন করে আগ্রহ দেখানোর নেপথ্যে রয়েছে দেশটির জ্বালানি তেল। এতদিন লিবিয়ার ঘটনাবলিতে ট্রাম্পের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল খুবই সীমিত। কিন্তু হঠাৎ করে এখন এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার পেছনে মূল কারণ হলো একটি হিসাব—২০৩০ সালের মধ্যে লিবিয়ার দৈনিক তেল উৎপাদন দ্বিগুণ করে ৩০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করা হলে তা কনোকোফিলিপস, শেভরনসহ যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কোম্পানিগুলোর জন্য লাভজনক হবে। এসব কোম্পানি লিবিয়ার তেল নিয়ে এরই মধ্যেই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

    ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার আলোকে লিবিয়ার তিনটি প্রধান রাজনৈতিক গোষ্ঠী ক্ষমতার অংশীদারত্ব নিয়ে একটি চুক্তি করেছে গত ১৮ জুন। এই চুক্তির মাধ্যমে ২০২৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারির আগে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনের রূপরেখা তৈরি করা হয়। সংঘাতকবলিত লিবিয়ায় গত ১৮ বছরের মধ্যে এটি এ ধরনের প্রথম চুক্তি। এই চুক্তির কাঠামোটি গত এপ্রিল মাসে গৃহীত ৩০ বিলিয়ন ডলারের ‘একীভূত রাষ্ট্রীয় বাজেট’র ওপর ভিত্তি করে তৈরি। গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় লিবিয়ায় প্রণীত প্রথম একীভূত বাজেট এটা।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আরব ও আফ্রিকাবিষয়ক সিনিয়র উপদেষ্টা এবং মেয়ে টিফানির শ্বশুর মাসাদ বুলোস এই চুক্তি স্বাক্ষরের নেপথ্যে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন। এই চুক্তি স্বাক্ষরের আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রোমে একটি গোপন বৈঠক হয়। এরপর থেকেই এই প্রক্রিয়ার মূল ব্যক্তি হিসেবে কাজ করছেন মাসাদ বুলোস। সাধারণ লিবিয়ানদের মধ্যে এই চুক্তির সফলতা নিয়ে এরই মধ্যেই সংশয় তৈরি হয়েছে। কারণ, দেশটির সুশীল সমাজ, উপজাতি গোষ্ঠীগুলো, বিভিন্ন মিলিশিয়া বাহিনী এবং নারী ও তরুণ সমাজের কোনো প্রতিনিধি রোমের সেই বৈঠকে রাখা হয়নি।

    মাসাদ বুলোস কোনো পেশাদার কূটনীতিক নন। তিনি একজন লেবানিজ-আমেরিকান ব্যবসায়ী। লিবিয়ার জনগণের মন্তব্য হলো—তার প্রধান যোগ্যতা হলো তিনি টিফানি ট্রাম্পের শ্বশুর। লিবিয়ার ব্যাপারে ট্রাম্পের আগ্রহ মূলত দেশটির তেল নিয়ে। তার এই হিসাব-নিকাশটি ন্যাটোর লিবিয়ায় হস্তক্ষেপের সময় দেওয়া ট্রাম্পের সেই পুরোনো বক্তব্যের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিনিময়ে লিবিয়ার তেল বিক্রির আয়ের অর্ধেক যুক্তরাষ্ট্রের পাওয়া উচিত।

    আফ্রিকা মহাদেশে তেলের প্রমাণিত মজুতের সবচেয়ে বড় ভান্ডার রয়েছে লিবিয়ায়। কিন্তু দেশটিতে চলমান সংঘাত ও বিভাজনের কারণে এই তেল সম্পদ ঐক্যবদ্ধভাবে জাতীয় স্বার্থে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। দেশটির জাতীয় তেল কোম্পানি ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশনকে একীভূত করা এবং দলীয় বা গোষ্ঠীগত হস্তক্ষেপ থেকে এটিকে রক্ষা করা গেলে দৈনিক তেল উৎপাদন ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে রাষ্ট্রীয় আয়ও ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

    কিন্তু লিবিয়ার পূর্ব অংশে যুদ্ধবাজ নেতা জেনারেল হাফতারের সমর্থিত সরকার ও পশ্চিম অংশে ত্রিপোলিভিত্তিক জাতিসংঘ সমর্থিত ‘গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল ইউনিটি’ (জিএনইউ) ক্ষমতায় থাকায় এই তেল সম্পদ ভাগাভাগি ও লুটপাট হচ্ছে। জিএনইউয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবদুল্লাহ ইজ্জেদিন দ্য নিউ আরবকে বলেন, দুটি সরকার এক হলে ব্যয় অর্ধেকে নেমে আসবে এবং অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল-ফিতোরি বলেন, ‘লিবিয়া এমন একটি অঞ্চলে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতিটি শহর এক-একটি রাষ্ট্র হয়ে উঠেছে। তার মতে, একটি ঐক্যবদ্ধ সাংবিধানিক কাঠামোই জাতীয় নির্বাচনের একমাত্র পথ, যে নির্বাচনে একটি বৈধ ও স্থায়ী কর্তৃপক্ষ গঠিত হবে।

    ঐক্যবদ্ধ বাজেট প্রণয়নে পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের প্রতিদ্বন্দ্বী সরকার জাতীয় স্বার্থে আপস-মীমাংসায় রাজিও হয়েছিল। লিবিয়ার সিরতে শহরে আফ্রিকায় মার্কিন সামরিক কমান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত ‘ফ্লিন্টলক ২০২৬’ নামের সামরিক মহড়ায়ও উভয় পক্ষের বাহিনী প্রথমবারের মতো একই কমান্ডের অধীনে অংশ নিয়েছে। তবে মূল সমস্যাটি নিহিত রয়েছে নতুন এই চুক্তির কাঠামোর মধ্যেই।

    বুলোসের মধ্যস্থতায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রোমে অনুষ্ঠিত গোপন বৈঠকে খলিফা হাফতারের বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার ও তার ছেলে সাদ্দাম হাফতার এবং জিএনইউয়ের প্রধানমন্ত্রী আব্দুল হামিদ দবেইবেহর ভাতিজা ও উপদেষ্টা ইব্রাহিম দবেইবেহ প্রথমবারের মতো মুখোমুখি আলোচনায় বসেন। সেই বৈঠকের প্রস্তাবে সাদ্দাম হাফতারের নেতৃত্বে নির্বাহী ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন ‘প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল’ গঠনের কথা বলা হয়। পাশাপাশি দবেইবেহ’র নেতৃত্বে একটি ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠন এবং ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী দুই পরিবারের মধ্যে সামরিক কমান্ড ভাগ করার প্রস্তাবও করা হয়।

    মূলত ক্ষমতার শক্ত অবস্থানে থাকা পক্ষগুলোর মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি সমঝোতা তৈরির মাধ্যমে এই উদ্যোগটি নেওয়া হচ্ছে। তাই এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলেও লিবিয়ায় বিরাজমান মূল সমস্যাগুলোর কোনো সমাধান হবে না। লিবীয় বিশ্লেষক আব্দুলসালাম আল-রাজহি বলেছেন, এই চুক্তি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে।

    ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর চুক্তি ও লিবিয়ার তেল

    জাতিসংঘ-সমর্থিত পুনর্মিলন ও মানবাধিকারবিষয়ক ‘স্ট্রাকচার্ড ডায়ালগ’ বা কাঠামোগত আলোচনা প্রক্রিয়ার সদস্য হানিন বুশুশে বলেন, নির্বাহী ক্ষমতাকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে নেওয়া যেকোনো উদ্যোগকে শুধু ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর মধ্যকার রাজনৈতিক সমঝোতা দিয়ে বিচার করলে চলবে না, বরং সাধারণ লিবীয়দের ওপর এর প্রভাবের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে। তিনি ‘দ্য নিউ আরব’কে বলেন, ‘একত্রীকরণ তখনই অর্থবহ হতে পারে, যখন তা বৈধতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি সামগ্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হয়। যদি সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধান না করে শুধু নাম পরিবর্তন বা পদ পুনর্বণ্টনের মধ্যেই এটি সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সমস্যা থেকেই যাবে।’

    রাজনৈতিক সমালোচকদের মতে, জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা করা হলে তা জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন প্রক্রিয়ার বৈধতাকে দুর্বল করবে। নতুন এই চুক্তিতে বৃহত্তর জাতীয় ঐকমত্যের পরিবর্তে ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর মধ্যকার দরকষাকষিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

    রাশিয়া নতুন এই চুক্তিকে সন্দেহের চোখে দেখছে এবং ‘বুলোস উদ্যোগ’কে বার্লিন প্রক্রিয়াকে পাশ কাটানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, আলজেরিয়া ও তিউনিসিয়া বারবার বলছে যে, লিবিয়ায় যেকোনো সমাধানের ক্ষেত্রে অবশ্যই দেশটির নিজস্ব মালিকানা ও নেতৃত্ব থাকতে হবে।

    এরপর কী হতে যাচ্ছে

    ১৮ জুনের চুক্তিটি গত কয়েক বছরের মধ্যে লিবিয়ার ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পথে নেওয়া সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ। একটি সমন্বিত বাজেট বাস্তব রূপ পেয়েছে। যৌথ সামরিক মহড়াও অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের রূপরেখাও কাগজে-কলমে তৈরি আছে। কিন্তু এই উদ্যোগগুলো শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে কি না, তা নির্ভর করছে যে বিষয়ের ওপর তা হলো—চুক্তিটি কি শুধু হাফতার ও দবেইবেহ পরিবারের মধ্যকার সমঝোতা হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি এই দুই পরিবারের বাইরে লিবিয়ার সাধারণ মানুষ নিজেদের বলে মনে করবে? ২০১১ সালে পশ্চিমাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় গাদ্দাফির ক্ষমতাচ্যুতি ও নিহত হওয়ার পর থেকে লিবিয়ার ইতিহাস বলে, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাওয়া সহজ নয়।

    লিবিয়ার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মূল দুর্বলতাগুলো আমলে না নিয়ে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের তেলবাণিজ্যের লক্ষ্য হাসিলে তিনটি পক্ষের মধ্যে সমঝোতা গাজা, লেবানন ও ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণেরই প্রতিফলন। এসব দেশে ওয়াশিংটন সাফল্য ঘোষণা করার পরপরই প্রাথমিক চুক্তিগুলো ভেস্তে গেছে। লিবিয়ায়ও হয়তো তাই ঘটবে। এরই মধ্যে দেশটির বিভিন্ন মহল জোরালোভাবে বলছে, কয়েকটি পরিবারের মধ্যে চুক্তি লিবিয়ার জনগণের পক্ষে কোনো চুক্তি নয়।

  • প্রিয়াঙ্কার বিপক্ষে ২১৫ শিক্ষাবিদের চিঠি

    প্রিয়াঙ্কার বিপক্ষে ২১৫ শিক্ষাবিদের চিঠি

    আইআইটি মাদ্রাজের ডিরেক্টর অধ্যাপক ভি. কামাকোটিকে পরোক্ষভাবে ‘গোমূত্র বিশেষজ্ঞ’ বলে মন্তব্য করায় বিপাকে পড়েছেন ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদরা। তার এমন মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সাবেক উপাচার্য ও শিক্ষাবিদেরা। খবর এনডিটিভির।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় ইতিমধ্যে ২১৫ জন শিক্ষাবিদ স্বাক্ষরিত একটি খোলা চিঠিতে প্রিয়াঙ্কার মন্তব্যের নিন্দা জানানো হয়েছে।
    চিঠিতে বলা হয়, আপনি অধ্যাপক ভি. কামাকোটিকে ‘গোমূত্র বিশেষজ্ঞ’ বলে যে মন্তব্য করেছেন বলে জানা গেছে, তাতে আমরা গভীর হতাশা প্রকাশ করছি। এটি ব্যঙ্গাত্মক বা রাজনৈতিক বক্তব্য যাই হোক না কেন, এ ধরনের মন্তব্য একজন ব্যক্তির সীমা ছাড়িয়ে আরও বড় উদ্বেগের জন্ম দেয়।
    ওই চিঠিতে আরও বলা হয়, কোনো শিক্ষাবিদের মতামতকে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে খণ্ডন না করে তাকে একটি অবমাননাকর তকমা দেয়া সংবিধানে বর্ণিত বিজ্ঞানমনস্কতার চেতনাকেই দুর্বল করে।

    শিক্ষাবিদদের ভাষ্য, বিজ্ঞানী, গবেষক ও শিক্ষকদের এমন পরিবেশ প্রয়োজন, যেখানে তারা জনপরিসরে মত প্রকাশ করতে পারবেন, কিন্তু অবজ্ঞাসূচক উপাধির শিকার হবেন না।

    চিঠিতে অধ্যাপক ভি. কামাকোটির একাডেমিক ও গবেষণা অবদানের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। তাতে উল্লেখ করা হয়, তিনি ভারতের অন্যতম শীর্ষ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক। কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে আইআইটি মাদ্রাজ থেকেই এমএস ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
    তার প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা ১৫০টিরও বেশি এবং তিনি ৫০টির বেশি গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন।

    এ ছাড়া তিনি ডিআরডিও একাডেমিক এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড এবং ইন্ডিয়ান ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসোসিয়েশন টেকনো ভিশনারি অ্যাওয়ার্ডসহ একাধিক সম্মাননা পেয়েছেন। ভারতের প্রথম শিল্পমানের মাইক্রোপ্রসেসর তৈরির উদ্যোগেও তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
    দেশটির শিক্ষাবিদদের ভাষায়, নিঃসন্দেহে তিনি দেশের অন্যতম সেরা প্রযুক্তিবিদ। চিঠিতে আরও বলা হয়, ইতিহাসে বহু ধারণা প্রথমে অবাস্তব বলে মনে হলেও পরে বৈজ্ঞানিকভাবে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। আবার একসময় বহুল স্বীকৃত অনেক বিশ্বাসও পরবর্তীতে ভুল বলে প্রমাণিত হয়েছে।

    তারা লিখেছেন, কোনো গবেষকের বক্তব্যের সমালোচনা করুন, তার উপস্থাপিত প্রমাণকে চ্যালেঞ্জ করুন, আরও কঠোর প্রমাণ দাবি করুন- কিন্তু গবেষণা ও শিক্ষাবিদ্যার মর্যাদাকে খাটো করবেন না।

    গত মঙ্গলবার লোকসভায় ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬’-এর ওপর আলোচনায় বক্তব্য দেয়ার সময় প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ওই মন্তব্য করেন।

    যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবে তার বক্তব্য আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক অধ্যাপক ভি. কামাকোটিকে লক্ষ্য করেই করা হয়েছে বলে ব্যাপকভাবে মনে করা হচ্ছে।
    অধ্যাপক কামাকোটি সম্প্রতি দেশটির পরীক্ষা সংস্কারবিষয়ক নতুন টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পান।