আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • রোবট-ডুব দেবে, সাঁতার কাটবে আর উড়বে আকাশে

    রোবট-ডুব দেবে, সাঁতার কাটবে আর উড়বে আকাশে

    যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) গবেষণাগারে ৩০০ ডলার মূল্যের ডানা ঝাপটানো এমন একটি রোবট তৈরি হয়েছে, যা একই সঙ্গে আকাশে উড়তে ও পানির নিচে সাঁতার কাটতে পারে।

    হালকা ওজনের এ রোবট ভবিষ্যতে সমুদ্রের ওপর নজরদারি এবং চূড়ান্তভাবে সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষায় ব্যবহার করা যাবে বলে আশা করছেন এটির উদ্ভাবক।

    আকাশে ও পানিতে—উভয় মাধ্যমে চলতে সক্ষম এ রোবট তৈরিতে গবেষকেরা পেট্রেলস, পাফিনস ও অন্যান্য ডুবুরি পাখির শারীরিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা করেছেন। এসব পাখি তাদের ডানা ব্যবহার করে বাতাস ও পানি—দুই মাধ্যমেই নিজেদের এগিয়ে নিয়ে যায়।

    গবেষণায় এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে যাওয়ার সময় ওই পাখিদের শরীরের জটিল গতিশীলতা কীভাবে কাজ করে, তা–ও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে গবেষক দলটি।

    এ গবেষণার প্রধান লেখক এবং এমআইটির যন্ত্রকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাফায়েল জুফেরি বলেন, ডুবুরি পাখিদের ডানা এবং তারা কীভাবে একই সঙ্গে ওড়ে ও সাঁতার কাটে, তা নিয়ে আগে গবেষণা হয়েছে। তবে কেউ কখনো এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ চলমান রোবটে রূপান্তর করার উপায় খুঁজে পাননি।

    রাফায়েল জুফেরি জানান, তাঁদের দল ডুবুরি পাখিদের নিয়ে করা আগের সব গবেষণাপত্র পর্যালোচনা করেছে। বিভিন্ন পাখির ডানা বাতাস ও পানিতে মিনিটে কতবার ঝাপটায় এবং ডানার বিস্তারের সঙ্গে এর কী সম্পর্ক, তা তারা একটি মানচিত্রে রূপ দেয়। পাখিদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, আকার যত বড় হয়, ডানা ঝাপটানোর গতি তত কম হয়।

    এ ধারণার ওপর ভিত্তি করেই গবেষকেরা ব্যাটারিচালিত মোটরযুক্ত ২৫০ গ্রাম (৯ আউন্স) ওজনের একটি ‘ফ্ল্যাপিং এরিয়াল-অ্যাকুয়াটিক ভেহিকেল’ (এফএএভি) বা ডানা ঝাপটানো আকাশ-জলযান তৈরি করেন। রোবটটির নাইলনের তৈরি ডানা এবং লেজে পানিপ্রতিরোধী ন্যানোকণা বা ন্যানোপার্টিকেলের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে।

    বাহ্যিকভাবে যেমনই মনে হোক না কেন, এফএএভি রোবটটি হুবহু প্রকৃতির অনুকরণে তৈরি নয় বলে জোর দিয়েছেন রাফায়েল জুফেরি। এর পেছনে কারণ হলো বাতাস ও পানির ঘনত্বের বিশাল পার্থক্য। তাপমাত্রা, চাপ ও আর্দ্রতার ওপর ভিত্তি করে পানি বাতাসের চেয়ে কয়েক শ গুণ বেশি ঘন হতে পারে।

    পানিতে ডুব দেওয়া পাখির ডানা পানির নিচে আংশিকভাবে ভাঁজ হয়ে যায়। এতে ডানা একবার ঝাপটানোর সময় কতটা ওপরে ও নিচে ওঠানামা করে, সেই বিস্তার কমে। সেই সঙ্গে পানির বাধাও কমে এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি তৈরি হয়।

    রোবটের ক্ষেত্রে একই কাজ করতে গেলে আরও অন্তত চারটি অতিরিক্ত জোড়া বা জয়েন্টের প্রয়োজন হতো। ফলে এর প্রকৌশল নকশা আরও জটিল এবং ওজন অনেক বেড়ে যেত। এ জটিলতা এড়াতে গবেষক দলটি এমন এক ধরনের ডানা তৈরি করেছে, যা পাখির ডানার মতো সংকুচিত হয় না। তবে এর নমনীয়তা ডুবুরি পাখির চেয়ে অনেক বেশি। এ নমনীয়তাই ডানা ঝাপটানোর বিস্তার কমিয়ে আনে।

    জুফেরি বলেন, রোবটটি নিজে বুঝতে পারে না যে সে পানিতে আছে, নাকি বাতাসে। এটি এমনভাবে প্রোগ্রাম করা, যাতে চারপাশের মাধ্যম যা–ই হোক, এটি প্রতি সেকেন্ডে নির্দিষ্ট গতিতে ডানা ঝাপটানোর চেষ্টা চালিয়ে যায়।

    গতি ও সক্ষমতা পরীক্ষা

    এ রোবট বাতাসে প্রতি সেকেন্ডে ৬ মিটারের কিছু বেশি (ঘণ্টায় ১৩ দশমিক ৪ মাইল) গতিতে উড়তে পারে। অন্যদিকে পানির নিচে এর সাঁতার কাটার গতি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১ মিটার (ঘণ্টায় ২ দশমিক ২ মাইল)।

    তাত্ত্বিকভাবে, একবার ব্যাটারি চার্জ করলে এটি ৬ কিলোমিটার (৩ দশমিক ৭ মাইল) উড়তে বা ২ কিলোমিটার (১ দশমিক ২ মাইল) সাঁতার কাটতে সক্ষম। তবে এই দীর্ঘ দূরত্বের বিষয়টি এখনো পরীক্ষা করে দেখা হয়নি।

    ম্যাসাচুসেটসের একটি পানির ট্যাংক এবং পরে সুইজারল্যান্ডের লেক জেনেভায় টানা এক বছর ধরে এ রোবটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করেছে এমআইটির গবেষণাগার। এ দীর্ঘ পরীক্ষার বড় অংশজুড়েই ছিল রোবটটি কত ডিগ্রি কোণে পানিতে ডুব দেবে এবং পানি থেকে আকাশে ডানা মেলবে, তার নিখুঁত পরিমাপ করা।

    ২০১৯ সালে ভূমধ্যসাগরের পানিতে একটি ড্রোন ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ডের (ডব্লিউডব্লিউএফ) এক বিজ্ঞানী

    গবেষকেরা দেখেছেন, পানিতে প্রবেশের জন্য ৭০ ডিগ্রি কোণ সবচেয়ে আদর্শ। জুফেরি জানান, বর্তমান সংস্করণের রোবটটি মৃদু তরঙ্গ ও হালকা বাতাসে কাজ করতে পারলেও প্রতিকূল বা উত্তাল আবহাওয়ায় কার্যকর নয়।

    যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ওশানোগ্রাফি সেন্টারের প্রকৌশলবিজ্ঞান বিভাগের পরিচালক মাটেন ফারলং নতুন এ উদ্ভাবন সম্পর্কে বলেন, ‘প্রকৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে এটি সত্যিই একটি চমৎকার নকশা।’

    একই সঙ্গে ফারলংয়ের মূল্যায়ন, ‘বাতাস ও পানি—উভয় মাধ্যমে কার্যকরভাবে চলতে সক্ষম একটি যান তৈরি করা বেশ বড় ধরনের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। এ দুই মাধ্যমের সফল সমন্বয় নিশ্চিত করা নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য প্রকৌশলগত সাফল্য।’

    ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে ব্যবহারের পরিকল্পনা

    সমুদ্র বা স্থলভাগ—যেকোনো স্থান থেকেই এ রোবট উৎক্ষেপণ করা সম্ভব বলে ধারণা করছেন রাফায়েল জুফেরি। তিনি জানান, নির্দিষ্ট কোনো রুটে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওড়ার জন্য রোবটটিকে আগে থেকেই প্রোগ্রাম করে দেওয়া যাবে। এরপর সেটি উড়াল দিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে পানির নিচে ডুব দেবে এবং প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করবে।

    জুফেরি আরও বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ বা বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে এ রোবটগুলো ব্যবহার করার ধারণাটি আমার বেশ পছন্দ।’ উদাহরণ হিসেবে রোবটটির সাহায্যে ক্ষতিকর শৈবাল আক্রান্ত এলাকা, আগ্নেয়গিরির হ্রদ বা হিমশৈলের কাছাকাছি এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহের মতো কাজের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

  • কূটনীতির নামে ট্রাম্প নাটক মঞ্চস্থ করছেন: ইরান

    কূটনীতির নামে ট্রাম্প নাটক মঞ্চস্থ করছেন: ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘কূটনীতির নামে বারবার নাটক মঞ্চস্থ করছেন’ বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও দেশটির প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ইরানে হামলার নির্দেশ দিয়ে সেটি স্থগিত করেছেন—বারবার ট্রাম্পের এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গালিবাফ এ অভিযোগ করেন।

    গতকাল বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই অভিযোগ করেন ইরানের স্পিকার। কয়েক দিন আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির মূল কাঠামো তৈরি হয়ে গেছে। সে কারণেই তিনি ইরানের ওপর সর্বশেষ হামলার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন।

    তবে গালিবাফ এ দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার সামরিক হুমকি থেকে সরে আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে অবস্থান বদলাচ্ছে। চাপ সৃষ্টি করে ইরানকে নতি স্বীকার করানোর এই কৌশল ব্যর্থ হয়েছে।

    গালিবাফ লেখেন, ‘বড় ধরনের হামলা আসছে… থাক, দরকার নেই, তারা আলোচনা করতে চায়—এই একই নাটক বারবার মঞ্চস্থ হচ্ছে।’

    গালিবাফ আরও বলেন, ‘হুমকি, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা আর ভুয়া তথ্যকে চাপ সৃষ্টির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা একটি ব্যর্থ কৌশল।’

    ইরানের স্পিকার আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবতা মেনে নিক এবং যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করুক।

    গত শনিবার ট্রাম্প ইরানে বড় ধরনের একটি সামরিক হামলার পরিকল্পনা বাতিল করেন। তাঁর দাবি, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ হামলা না চালানোর অনুরোধ জানিয়েছে। কারণ, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা খুব ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে।

    ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সম্ভাব্য চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান ঘটবে।

    এদিকে হরমুজ প্রণালি আবার চালু করতে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। তেহরানের দাবি, উভয় পক্ষ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে এবং একটি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে।

    বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে যুদ্ধের আগে অবাধে জাহাজ চলাচল করত। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান কার্যত প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়। এখন তেহরান বলছে, প্রণালির যেসব অংশ ইরান ও ওমানের জলসীমার মধ্যে পড়েছে, সেগুলোর ওপর তাদের সার্বভৌম অধিকার রয়েছে।

    হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দামও বেড়েছে।

    গতকাল হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ খুব শিগগির শেষ হবে বলে তিনি মনে করেন। যুদ্ধ শেষ হলে জ্বালানির দামও কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, খুব শিগগির যুদ্ধ শেষ হবে। তারা (ইরান) আর বেশি দিন এভাবে টিকে থাকতে পারবে বলে মনে হয় না।’ তিনি আরও বলেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় তিনি নিজেও যুক্ত আছেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমার মনে হয়, সবকিছু ভালোভাবেই এগোচ্ছে।’

    তবে ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন যুদ্ধ চালানোর জন্য তাঁদের প্রস্তুতি রয়েছে। ট্রাম্প কয়েক মাস ধরে যুদ্ধ শেষের কাছাকাছি দাবি করলেও ইরানের অবস্থান ভিন্ন।

  • মেহেরপুর সীমান্তে ৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

    মেহেরপুর সীমান্তে ৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেহেরপুরের গাংনী এলাকা সীমান্ত দিয়ে পাঁচজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক প্রতিরোধে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে ধলা সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, ধলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ১৩৫/৪-এস থেকে প্রায় ১৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে ধলা মাঠ এলাকায় বিএসএফের ১১ ব্যাটালিয়নের বুড়িপোতা ক্যাম্পের সদস্যরা অজ্ঞাত পরিচয়ের চার পুরুষ ও এক নারীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। বিজিবির কঠোর অবস্থান ও প্রতিরোধের কারণে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

    ধলা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার নিজাম উদ্দীন শিকদার বলেন, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। কোনোভাবেই অবৈধ পুশইন করতে দেওয়া হবে না। বর্তমানে সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা হলে তারাও বিজিবির সঙ্গে থেকে তা প্রতিহত করবেন।

  • খুলে ফেলছে মসজিদের মাইক

    খুলে ফেলছে মসজিদের মাইক

    শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণের নামে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মসজিদগুলো থেকে মাইক খুলে ফেলার প্রতিবাদে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন স্থানীয় ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়ার (এনসিপিআই) তিনজন বিধানসভা মুসলিম সদস্য।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিল্লিতে অমিত শাহর সাথে তাদের এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তারা দাবি করেন, শব্দদূষণ রোধে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা যেন সব ধর্মের ক্ষেত্রেই সমানভাবে কার্যকর হয়, শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে এর জন্য টার্গেট করা উচিৎ নয়

    সাক্ষাতে যাওয়া তিন সংখ্যালঘু এমপি হলেন- আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং সাবেক ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান। স্বল্প সময়ের বৈঠকে তারা রাজ্যে মসজিদ থেকে মাইক খুলে ফেলার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে উত্থাপন করেন।

    বৈঠক শেষে আবু তাহের স্পষ্ট জানান, সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন তখনই তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে, যখন তা সব ধর্মের আচার-অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। দুর্গাপূজা বা কালীপূজার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম বলবৎ হলে তাদের কোনো আপত্তি নেই।

    তিনি বলেন, কিন্তু বেছে বেছে শুধুমাত্র মুসলিমদের টার্গেট করে মসজিদ থেকে মাইক নামানোর ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং বেদনাদায়ক।

    সূত্রের খবর, সাক্ষাৎকালে অভিযোগ শোনার পর অমিত শাহ এই বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

    উল্লেখ্য, রাজ্য শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের পুরনো নির্দেশিকা এবং সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো উপাসনালয়ে উচ্চস্বরে লাউডস্পিকার বাজানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই নির্দেশিকা মেনেই সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে একাধিক মসজিদ থেকে মাইক খোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

    তবে পুলিশের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই ‘স্বেচ্ছাচারী’ আচরণের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে আইএসএফ এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিও এই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

  • বাংলাদেশসহ ১৪ দেশের প্রতিরক্ষা জোটের প্রধান কমান্ডার নিয়োগ

    বাংলাদেশসহ ১৪ দেশের প্রতিরক্ষা জোটের প্রধান কমান্ডার নিয়োগ

    বাংলাদেশেসহ ১৪ দেশ নিয়ে গঠিত একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের কমান্ডার নিয়োগ দিয়েছে সৌদি আরব। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরিকে এর কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    বাব আল-মানদেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌচলাচলের নিরাপত্তা রক্ষায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আল-শেহরি যৌথ নৌ প্রতিরক্ষার তত্ত্বাবধান, সদস্য রাষ্ট্র ও অন্যান্য সামুদ্রিক জোটের সাথে সমন্বয় ও জোটের সনদের অধীনে বিভিন্ন মিশন পরিচালনা করবেন।

    বাংলাদেশ, বাহরাইন, কমোরোস, জিবুতি, মিশর, জর্ডান, কুয়েত, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, সোমালিয়া, সুদান, তুরস্ক ও ইয়েমেন ৩০ জুলাই এই জোট গঠনের ঘোষণা দেয়। সৌদি বিবৃতিতে বলা হয়, আরো অনেক দেশ জোটে যোগদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে; কিছু দেশ ইতোমধ্যে যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছে এবং অন্যরা প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিক যোগদানের আগে ঘোষণাপত্র ও সনদে স্বাক্ষর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    সৌদি এই মন্ত্রণালয় জোটটিকে ‘উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক জোট’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, যেসব দেশ এর লক্ষ্য ও নীতিমালার সঙ্গে একমত, তাদের সবাইকে স্বাগত জানানো হবে। নতুন সদস্যপদের আবেদনও নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে।

    আগামী ১২ ও ১৩ আগস্ট জোটের একটি পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে এবং আরও দেশকে এতে যুক্ত করার পথ তৈরি করা হবে।

    জোট গঠনকারী ১৪ দেশ জানিয়েছে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ এবং জ্বালানি সরবরাহের রুট সুরক্ষিত রাখাই এই জোটের মূল লক্ষ্য। ভারত মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগরের মধ্যে সংযোগকারী এই সামুদ্রিক করিডর বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই

    তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই

    তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি অনুসারে, এই প্রতিরক্ষা চুক্তির লক্ষ্য হলো একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে এই অঞ্চলে ও এর বাইরে শান্তি, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতার প্রসার ঘটানো।

    এর আগে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল যে, সৌদি আরবে তিন দেশের নেতাদের দ্বারা এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ও সৌদি আরব পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে। চলতি বছরের এপ্রিলে ওই চুক্তির আওতায় পাকিস্তান সৌদি আরবে যুদ্ধবিমান ও সামরিক সদস্য মোতায়েন করে। দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান সৌদি আরবকে সামরিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে, আর অর্থনৈতিক সংকটে সৌদি আরবও বারবার পাকিস্তানকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে।

  • শ্রীপুরে কাঁঠাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিস্কুট, বাজারে ব্যাপক চাহিদা

    শ্রীপুরে কাঁঠাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিস্কুট, বাজারে ব্যাপক চাহিদা

    আব্দুস সাত্তারের দীর্ঘদিনের শখ বিদেশ ভ্রমণ। গত বছর চীন সফরে গিয়ে তিনি কাঁঠাল থেকে তৈরি বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য দেখে অনুপ্রাণিত হন। দেশে ফিরে প্রতিবছর অবহেলায় নষ্ট হওয়া কাঁঠালের মূল্য সংযোজনের বিষয়টি নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। সেই চিন্তা থেকেই এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে কাঁঠালের বিস্কুট উৎপাদনের উদ্যোগ নেন। আর পরীক্ষামূলক উৎপাদনেই বাজিমাত করলেন তিনি।

    গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা পৌর এলাকার বৈরাগীরচালা গ্রামের মোহতাহিনা ফুড কারখানায় এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদিত এই বিস্কুট অনলাইন ও অফলাইন—উভয় বাজারেই ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। উৎপাদনের শুরুতেই এই চাহিদা দেখে আগামী মৌসুমে উৎপাদন আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন আব্দুস সাত্তার।

    আব্দুস সাত্তার জানান, চলতি মৌসুমে প্রায় ৫০০টি কাঁঠাল ব্যবহার করে বিস্কুট তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি বিস্কুটে প্রায় ২০ শতাংশ কাঁঠালের পাল্প ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে বিস্কুটে কাঁঠালের স্বাদ ও প্রাকৃতিক সুগন্ধ বজায় থাকে, যা প্রচলিত বিস্কুটের তুলনায় ভিন্ন। বর্তমানে ৮০০ গ্রাম ওজনের একটি প্যাকেট ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘এবার সীমিত পরিসরে কাঁঠালের বিস্কুট উৎপাদন শুরু করেছি। আগামী মৌসুমে কাঁঠাল দিয়ে আরও বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।’

    শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বলেন, ‘কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহার বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক। বর্তমানে দেশে কাঁঠাল দিয়ে প্রায় ৫২ ধরনের খাদ্যপণ্য তৈরি হচ্ছে এবং এর অনেকগুলো বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। উদ্যোক্তা আব্দুস সাত্তারের এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। প্রয়োজন হলে কৃষি বিভাগ থেকে তাঁকে সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে।’

    স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কাঁঠালের মতো মৌসুমি ফলের এ ধরনের মূল্য সংযোজনমূলক উদ্যোগ কৃষকদের উৎপাদিত ফলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে এটি দেশীয় খাদ্যশিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বারও খুলে দিতে পারে।

  • মেটাকে ৭০ হাজার কোটি টাকা জরিমানা, কেন?

    মেটাকে ৭০ হাজার কোটি টাকা জরিমানা, কেন?

    শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যর্থতার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটাকে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার বা ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার জরিমানা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। টাকার হিসাবে যেটা প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা।

    নিউ মেক্সিকোর এক বিচারক বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন।

    এটি শিশু নিরাপত্তা ইস্যুতে মেটার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আর্থিক দণ্ড। এর আগে একই মামলায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছিল। ফলে মামলাটিতে মেটার মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪২ মিলিয়ন ডলার।

    নিউ মেক্সিকোর বিচারক ব্রায়ান বিডশিড মেটাকে একটি ‘জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির তৈরি ক্ষতি অনেকটা বায়ুদূষণের মতো। এই অর্থ ভবিষ্যতে শিশুদের ক্ষতি কমানোর কাজে ব্যবহারের জন্য একটি তহবিলে জমা রাখতে হবে।

    মেটার মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে রয়েছে ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও থ্রেডস।

    বিচারক বিডশিড মেটাকে একটি কারখানার সঙ্গে তুলনা করেন। তার ভাষ্য, মেটার পণ্য হলো বিজ্ঞাপন ও কনটেন্ট, আর শিশুদের মানসিক ক্ষতি ও যৌন নিপীড়নের ঝুঁকি হলো সেই দূষণ, যা নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

    মেটার একজন মুখপাত্র আদালতের রায়ের সঙ্গে দ্বিমত জানিয়ে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে। তিনি দাবি করেন, ব্যবহারকারীদের নিরাপদ রাখতে মেটা নিয়মিত কাজ করছে এবং অনলাইনে কিশোরদের সুরক্ষায় তাদের কার্যক্রমের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি আত্মবিশ্বাসী।

    শিশুদের ক্ষতিকর কনটেন্টে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ

    নিউ মেক্সিকোর এই মামলা শুরু হয় ২০২৩ সালে। রাজ্যটির আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো শিশুদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। একই সঙ্গে যৌন বিষয়বস্তু ও যৌন অপরাধীদের সংস্পর্শে আসার সুযোগ তৈরি করেছে।

    মামলার প্রথম ধাপে আদালত দেখতে পান, মেটা নিউ মেক্সিকোর ‘আনফেয়ার প্র্যাকটিসেস অ্যাক্ট’ বারবার লঙ্ঘন করেছে।

    আদালতের মতে, মেটার সুপারিশভিত্তিক অ্যালগরিদম তরুণ ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকর কনটেন্ট ও ঝুঁকিপূর্ণ যোগাযোগের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

    মেটার অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীরা কোন কনটেন্ট দেখবেন, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্বাচন করে।

    দ্বিতীয় ধাপের রায়ে বিচারক বলেন, মেটার কার্যক্রম ‘জনদুর্ভোগ’ পর্যায়ের ক্ষতি তৈরি করেছে। অর্থাৎ এমন একটি সমস্যা, যা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

    তিনি লিখেছেন, কারখানার বিষাক্ত দূষণ যেমন সাধারণ মানুষের বিশুদ্ধ বাতাস পাওয়ার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত করে, তেমনি মেটার প্ল্যাটফর্মের ক্ষতিকর প্রভাব শুধু অনলাইনেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি শিশু, পরিবার, স্কুল, হাসপাতাল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার ওপরও প্রভাব ফেলে।

    জরিমানার অর্থ যাবে চিকিৎসা ও সচেতনতায়

    আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মেটাকে যে তহবিল গঠন করতে হবে, তা শিশুদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে ব্যবহার করা হবে।

    এর মধ্যে প্রায় ৪২০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হবে মেটার প্ল্যাটফর্মের কারণে সৃষ্ট ক্ষতির চিকিৎসায়। এ অর্থ শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় ক্লিনিক্যাল ও আচরণগত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে ব্যবহার করা হবে।

    আরেকটি অংশ ব্যবহার করা হবে সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক প্রশিক্ষণে। বিশেষ করে শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজনিত শিশু ক্ষতি মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

    শিশু ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন বিধিনিষেধ

    আদালত মেটাকে আরো কয়েকটি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে—

    • ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো ব্যবহারকারীকে প্রাপ্তবয়স্কদের কাছে সুপারিশ করা যাবে না।

    • কোনো প্রাপ্তবয়স্ক যেন অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীকে বার্তা পাঠাতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

    • অপ্রাপ্তবয়স্কদের নগ্ন ছবি পাঠানো বা গ্রহণ বন্ধ করতে হবে।

    • শিশু যৌন নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের জন্য ‘একবারের অপরাধেই নিষেধাজ্ঞা’ নীতি চালু করতে হবে।

    এ ছাড়া ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য আরো কিছু নিয়ম চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

    • তাদের জন্য ‘লাইক’ সংখ্যা দেখানো বন্ধ করা।

    • রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত প্রতিদিন পুশ নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা।

    • সাধারণ শিক্ষাবর্ষে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত (সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া) নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা।

    ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে মাসে সর্বোচ্চ ৯০ ঘণ্টা ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করা।

    মেটার বিরুদ্ধে আরো মামলা

    শিশু নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মেটার বিরুদ্ধে হাজারো মামলা চলছে। নিউ মেক্সিকোর মামলার পাশাপাশি চলতি বছর লস অ্যাঞ্জেলেসেও একই ধরনের একটি মামলায় মেটা হেরেছে।

    আগামী সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ায় মেটার বিরুদ্ধে আরেকটি বড় বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩৬ অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে শিশুদের গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন।

  • হাসিনাকে ষড়যন্ত্রের সুযোগ দেওয়ায় ভারতের তীব্র নিন্দা জানাল জামায়াত

    হাসিনাকে ষড়যন্ত্রের সুযোগ দেওয়ায় ভারতের তীব্র নিন্দা জানাল জামায়াত

    ভারতে বসে সংবাদ সম্মেলনে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড ও ষড়যন্ত্রের সুযোগ দেওয়ায় দেশটির সরকারের ভূমিকার তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    শুক্রবার (৭ আগস্ট) জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে ভারতের এহেন আচরণকে শিষ্টাচারবহির্ভূত ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নিয়মনীতির চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন।

    বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে সমমর্যাদার ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্মানজনক কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সব দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু দিল্লিতে বসে হাসিনার মতো একজন দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকা এবং সেই ষড়যন্ত্র বন্ধে বাংলাদেশের কূটনৈতিক আহ্বানকে ভারত সরকার আমলে না নিয়ে তাকে আশ্রয় দেওয়া অব্যাহত রাখা আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন। আমরা ভারত সরকারের এমন কূটনৈতিক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, হাসিনার নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিস্ট সরকার বিগত সাড়ে ১৬ বছর বাংলাদেশের মানুষের ওপর চরম জুলুম-নির্যাতন, হত্যা, খুন ও গুম চালিয়েছে। সবশেষ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে দেশপ্রেমিক জনগণের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে। এই গণহত্যায় প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিহত এবং ৩০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এরপরও তাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার একাধিকবার ভারত সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু সেই আহ্বান উপেক্ষা করে পলাতক হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ভারত সরকার মূলত বাংলাদেশের পরিবর্তে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। একই সঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বন্দি বিনিময় চুক্তিও উপেক্ষা করা হচ্ছে। আমরা প্রত্যাশা করি, ভারত সরকার তার অবস্থান সংশোধন করবে এবং দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেবে।

    তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি পালিত হলেও বর্তমান সরকার খুনি হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে পালিয়ে থেকে দেশ ও দেশের জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার সুযোগ পাচ্ছে খুনি হাসিনা। পলাতক হাসিনাকে দেশে ফেরত আনতে বর্তমান সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করে দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের সহযোগিতা নিতে হবে। সরকার যদি কূটনৈতিক শৈথিল্য প্রদর্শন করে, তাহলে জনগণের কাঠগড়ায় সরকারকে কঠোর জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।

    গোলাম পরওয়ার বলেন, চব্বিশের অভ্যুত্থানে হাজারো প্রাণ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে কোনো ফ্যাসিবাদ কায়েম, পুরোনো ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান, বিকাশ কিংবা আড়ালে-আবডালে কোনো তৎপরতা চালানোর সুযোগ বিপ্লবীরা দেবে না।

    খুনি হাসিনা ভারতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের যে ছায়া ফেলতে চায়, তা সফল হবে না। আমরা বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনগণকে সদা সজাগ থেকে ফ্যাসিস্টদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষে পুরোনো ফ্যাসিবাদের শিকড় উপড়ে ফেলে নব্য ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ঐক্যবদ্ধ, ইনসাফপূর্ণ, দুর্নীতিমুক্ত এবং সবার জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এগিয়ে আসার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

  • ফ্যাসিবাদের পাশে থাকবে কি না, সিদ্ধান্ত নিতে হবে ভারতকেই-শামা ওবায়েদ

    ফ্যাসিবাদের পাশে থাকবে কি না, সিদ্ধান্ত নিতে হবে ভারতকেই-শামা ওবায়েদ

    পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক উন্নত হোক, সেটিই দুই দেশের সরকার ও জনগণের প্রত্যাশা। তবে ভারতের মাটিতে অবস্থান করে একজন সাজাপ্রাপ্ত স্বৈরাচার এবং আওয়ামী লীগের নেতারা যদি ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান এবং ভারত সরকার তা বন্ধ না করে, তাহলে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তার ভাষ্য, ভারতকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করবে কি না।

    বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে এবং কূটনৈতিক ভাষায় ভারতের কাছে বাংলাদেশের উদ্বেগ জানানো হয়েছে। এর আগেও একই বার্তা একাধিকবার দেওয়া হয়েছে।

    তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, পানিবণ্টন, সীমান্তসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সহযোগিতা ও সংলাপ অব্যাহত রাখতে হবে। তবে শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত ভারত সরকারকেই নিতে হবে।

    ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, সরকারে-সরকারে সম্পর্ক বহুমাত্রিক। একটি ইস্যুর কারণে অন্য সহযোগিতা থেমে থাকতে পারে না। জ্বালানি, পানিবণ্টন, সীমান্তসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চলবে।

    তবে জুলাইয়ের শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ভারতকে আরও সংবেদনশীল হতে হবে। আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক ‘জঙ্গিবাদ’ প্রসঙ্গ উত্থাপনের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, দলটি অতীতের মতো এখনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জঙ্গিবাদের ন্যারেটিভ সামনে আনার চেষ্টা করছে। ক্ষমতায় থাকাকালে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে এলে আওয়ামী লীগ জঙ্গিবাদের প্রসঙ্গ তুলে সেগুলো আড়াল করার চেষ্টা করত। বিদেশে অবস্থান করেও তারা একই কৌশল অনুসরণ করছে।

    তিনি আরও মন্তব্য করেন, বর্তমানে বাংলাদেশে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ও বিরোধী দল রয়েছে। তাই দেশে জঙ্গিবাদ নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মনোযোগ আকর্ষণের উদ্দেশ্যেই আওয়ামী লীগ এসব প্রচারণা চালাচ্ছে। মানবাধিকার নিয়ে আওয়ামী লীগের বক্তব্যের সমালোচনা করে শামা ওবায়েদ বলেন, আওয়ামী লীগের মুখে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের কথা অত্যন্ত হাস্যকর।

    তিনি ইলিয়াস আলীসহ অসংখ্য মানুষের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং জুলাই-আগস্টে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন করেন, তখন মানবাধিকার কোথায় ছিল।

    তার ভাষ্য, দল-মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ। গত ১৭ থেকে ১৮ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি তারা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

    ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে আগ্রহী। তবে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না, তা তার সময়সূচি ও ব্যস্ততার ওপর নির্ভর করবে।

    ভারতকে পাঠানো বাংলাদেশের কূটনৈতিক বার্তার জবাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক বার্তা পাঠিয়েছে। এখন ভারতের জবাবের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

  • বিমানবন্দরে ভিআইপি-সিআইপিসহ সবাইকে তল্লাশির নির্দেশ

    বিমানবন্দরে ভিআইপি-সিআইপিসহ সবাইকে তল্লাশির নির্দেশ

    ভিআইপি ও সিআইপি ব্যক্তিসহ সবার ক্ষেত্রে বিমান চলাচল নিরাপত্তা বিধি সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশি থেকে কাউকে অব্যাহতি দেওয়া যাবে না।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (ক্যাব) সদর দপ্তরে পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএসসি) প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।

    মন্ত্রী বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা বিষয়ক দেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ও সমন্বয়কারী সংস্থা এনসিএসসির ১৩তম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

    বাংলাদেশের আসন্ন আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) নিরাপত্তা নিরীক্ষার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ নিরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গে দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। যেসব ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ আসতে পারে, সেসব বিষয়ে আইসিএও’র মানদণ্ড শতভাগ অনুসরণ নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নির্দেশ দেন।

    আফরোজা খানম আরও বলেন, যাত্রীদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশি যাত্রীদের সেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

    সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন প্রতিরোধে সরকার অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপন করবে।

    তিনি বলেন, প্রায় তিন বছর পর এনসিএসসির সভা হয়েছে। তাই এর সিদ্ধান্তগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আন্তরিক হতে হবে।

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে ন্যূনতম প্রয়োজনীয়তার চেয়ে বেশি সংখ্যায় স্ক্যানারসহ নিরাপত্তা সরঞ্জাম সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি বিমান চলাচল নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

    সভায় বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে ছিল বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান জোরদার করা, জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন, আইসিএওর নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ।

    কমিটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা, আন্ডার ভেহিকল স্ক্যানিং সিস্টেম (ইউভিএসএস)-এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং দেশের সব বেসামরিক বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সংকট ব্যবস্থাপনা জোরদারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্বারোপ করে।

    এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় যানজট, অননুমোদিত জনসমাগম, ভিক্ষাবৃত্তি এবং অবৈধ লাগেজ মোড়ানোর কার্যক্রম প্রতিরোধে ক্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার, বিমানবন্দর ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের সুপারিশ করা হয়।

    যাত্রীসেবা উন্নত করা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিমানবন্দরের সামগ্রিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করে কমিটি।

  • ভারতে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

    ভারতে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

    ভারতের দিল্লির যন্তর মন্তরে সাম্প্রতিক আন্দোলনের পর ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) দেশব্যাপী জনসংযোগ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে।

    দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) নিজের শহর ছত্রপতি সম্ভাজীনগরে ‘ক্যায়া বোলতি পাবলিক’ নামে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

    মানুষের সমস্যাগুলো বোঝার উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচি দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    চলতি বছরের জুন-জুলাইয়ে নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন শুরু করে সিজেপি। ২৫ জুলাই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর সেই আন্দোলন শেষ হয়।

    বৃহস্পতিবার দীপকের সাথে দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা ভবিষ্যৎ কৌশল তুলে ধরেন।

    দীপকে বলেন, তাদের প্রচারে শিক্ষা অগ্রাধিকার পাবে। তার দাবি, স্কুল, কলেজ ও কোচিংয়ের বেতন বেড়ে যাওয়ায় বহু পরিবারের পক্ষে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    তিনি আরো বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা কমছে এবং ক্ষোভ বাড়ছে।

    ‘সকালে মানুষ এক দলকে ভোট দেয়, সন্ধ্যায় সেই জনপ্রতিনিধি অন্য দলে চলে যান। কোথাও ভোট এক সরকারের পক্ষে পড়ে, কিন্তু পরে অন্য সরকার গঠিত হয়। তা না হলে ইডি-সিবিআই ব্যবহার করে দল ভাঙা হয়। এভাবে চলতে থাকলে তা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক,’ বলেন তিনি।

    দীপকে নির্বাচন কমিশন ও বিচারব্যবস্থার জবাবদিহিতার প্রশ্নও তোলেন। তার অভিযোগ, ‘আগে ভোটার সরকার বেছে নিত, এখন সরকার ঠিক করছে কে ভোট দেবে। সাধারণ মানুষের মামলার শুনানি বিলম্বিত হলেও প্রভাবশালীদের ক্ষেত্রে দ্রুত, এমনকি মধ্যরাতেও শুনানি হয়।’

    ঝাড়খণ্ডে জেপিএসসি ও জেএসএসসি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, দলটি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে রয়েছে। একটি প্রতিনিধি দল রাঁচিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে দেখা করবে এবং পরে দলের শীর্ষ নেতারাও সেখানে যাবেন।

    দেশব্যাপী প্রচার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দীপকে বলেন, কোনো সংগঠনের নিজস্ব অ্যাজেন্ডা থাকা জরুরি, তবে জনগণের মতামতও জানতে হবে। তার দাবি, যন্তর মন্তরের আন্দোলনে অংশ নেয়া মানুষই শিক্ষা ইস্যুর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন ও বিচারব্যবস্থা নিয়েও কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন। তাই আরো বিস্তৃত জনপরামর্শের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

  • হাসিনাকে ভারত এই সুযোগ কেন দিল, প্রশ্ন বিএনপির

    হাসিনাকে ভারত এই সুযোগ কেন দিল, প্রশ্ন বিএনপির

    বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির শীর্ষপর্যায়ের নেতাদের অনেকে।

    দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ কেন দিল—এটি আমাদের প্রশ্ন।’

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিয়ে আছেন। সেই প্রসঙ্গে টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত তাকে আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু সেখানে আশ্রয়ে থেকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন; তাকে সরাসরি গণমাধ্যমে কথা বলা সুযোগ দেওয়া হলো।’

    ‘বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে ভারতে থাকা শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার কেন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর এই সুযোগ দিলে’—এই প্রশ্নও রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    পাঁচই আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে নয়াদিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অডিও কলে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। সেই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও দিয়েছেন।

    এ ব্যাপারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। সরকারি দল বিএনপির নেতৃত্বের মাঝেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বলে দলটির নেতাদের অনেকে বলছেন।

    বাংলাদেশে জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের জন্য শেখ হাসিনা দুঃখপ্রকাশ বা ক্ষমা চাইবেন কি না, নয়াদিল্লির সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সেই প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন তিনি।

    ওই সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকা তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে একপক্ষকে ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে; একপক্ষ দায়মুক্তি পেলে অন্যপক্ষেরও সে অধিকার আছে।

    দুই বছর আগে গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত দলটির নেতাদের কোনো অনুশোচনা না থাকায় বাংলাদেশে বর্তমানে সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে আসছে।

    বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে তারা (আওয়ামী লীগ সরকার) গণহত্যা চালিয়েছে। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেনি বা ক্ষমা চায়নি। এমনকি তাদের কোনো অনুশোচনা নেই।’

    ‘বরং তারা ভারতে আশ্রয় নিয়ে থেকে বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালাচ্ছে। জনগণ তাদের প্রতি ক্ষুব্ধ,’ মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    দুই বছর আগে শেখ হাসিনার শাসনের পতন হলে সে সময় গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত কোনো সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান এনে ওই অধ্যাদেশ যুক্ত করা হয়েছিল।

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর এই সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী প্রস্তাব সংসদে পাস করে। ফলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থেকে যায়।

    নয়া দিল্লির সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা তাদের দলের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান।


    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলটির ব্যাপারে বিচার হবে। সংশ্লিষ্ট আইনে সেই বিধান যুক্ত করা হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘বিএনপি নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে চায় না। কিন্তু আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়। তারা তো (আওয়ামী লীগ) আদালতে যায়নি। আদালত থেকেই যে সিদ্ধান্ত আসবে, সেভাবেই সরকার কাজ করবে।’

    একইসাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য হচ্ছে, ‘জনগণও বিচার করবে। জুলাই আন্দোলনে তারা (আওয়ামী লীগ সরকার) গণহত্যা চালিয়েছে। তাদের দীর্ঘ শাসনে বিরোধী দল ও মতের মানষকে দমন-পীড়ণ চালিয়েছে; গুম, খুন করেছে। ফলে তাদের প্রতি জনগণের কোনো আস্থা নেই এবং তাদের ব্যাপারে জনগণও বিচার করবে।’

    এদিকে, ভারতের নয়া দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হতে পারেন, এমন খবর যখন আলোচনায় আসে, তখনই বাংলাদেশের বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

    গত সোমবার ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা দিল্লিতে শেখ হাসিনা যাতে রাজনৈতিক কার্যক্রম না চালায়, সেজন্য ভারত সরকারের সহযোগিতা চান।

    একই দিনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ভারত সরকারকে এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করতে আহ্বান জানান।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিকে ঘিরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন, দুই দেশের সম্পর্ককে স্বাভাবিক করার চেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

    এছাড়া এরপর মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশনা তুলে ধরে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য বিবরণীতে শেখ হাসিনার বক্তব্য বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রচার না করতে অনুরোধ করা হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছিলেন।

    যদিও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সংবাদ সম্মেলনটি বেসরকারিভাবে আয়োজন করা হচ্ছে। এরসাথে ভারত সরকারের সম্পর্ক নেই। এবং সেখানে যে বক্তব্য আসবে, তা ভারত সরকার সমর্থন করে না।

    কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে প্রতিক্রিয়া দেখানোর পরও নয়া দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে এবং তাতে শেখ হাসিনা সরাসরি বক্তব্য ও প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন।

    বিএনপি সরকারের একাধিক সূত্র বলছে, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে যে বক্তব্যই দেওয়া হোক না কেন, তাদের সমর্থন ছাড়া নয়া দিল্লিতে এ ধরনের সংবাদ সম্মেলন করা সম্ভব নয় বলে তারা মনে করেন।

    আর সেকারণে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে ও দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্য থেকেও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া এসেছে।

  • পোশাক শিল্পে গ্যাস সংকট, আন্তর্জাতিক বাজার হারাতে পারে বাংলাদেশ

    পোশাক শিল্পে গ্যাস সংকট, আন্তর্জাতিক বাজার হারাতে পারে বাংলাদেশ

    বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প আবারও এক কঠিন পরীক্ষার মুখে। বৈশ্বিক বাজারে দীর্ঘদিনের প্রতিযোগিতা, মূল্যচাপ, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও ক্রেতাদের কঠোর কমপ্লায়েন্সের চাপ সামলে যখন নতুন প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল দেশের সবচেয়ে বড় রফতানি খাত, ঠিক তখনই তীব্র গ্যাস সংকট শিল্পকে নতুন এক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

    শিল্প উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠা না গেলে ক্ষতি শুধু কয়েক সপ্তাহের উৎপাদন বা কিছু রফতানি চালানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। সময়মতো পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা নষ্ট হতে পারে, আর সেই আস্থা হারালে বহু বছরের পরিশ্রমে গড়ে ওঠা বাজারের একটি অংশ প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    বর্তমানে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে অনেক কারখানায় উৎপাদন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। কোথাও কোথাও উৎপাদন আরও বেশি হারে কমেছে, আবার কিছু ডাইং ও প্রসেসিং ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধও রাখতে হয়েছে। বিশেষ করে গাজীপুর, সাভার, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের শিল্পকারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে তুলনামূলকভাবে পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয়।

    আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের উদ্বেগ বাড়ছে

    বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও রিটেইলার তৈরি পোশাক সংগ্রহ করে। এইচঅ্যান্ডএম, ইন্ডিটেক্স, মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার, প্রাইমার্ক, গ্যাপ, ওয়ালমার্ট, নাইকি, লেভিস, পিভিএইচ, নেক্সট, ম্যাঙ্গো, টার্গেট, আমেরিকান ঈগলসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর অনেকেই বর্তমানে বাংলাদেশের উৎপাদন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

    গ্যাস সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে পণ্য উৎপাদন ও শিপমেন্ট সম্ভব হবে কি না—এ প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের প্রধান উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। অনেক ক্রেতা ইতোমধ্যে কারখানাগুলোর কাছে ই-মেইলে সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে চেয়েছেন। কেউ কেউ উৎপাদন সক্ষমতার তথ্য, বিদ্যুৎ ও জেনারেটর ব্যবহারের রেকর্ড সংগ্রহ করছেন। এমনকি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কমপ্লায়েন্স টিম সরাসরি কারখানা পরিদর্শন করেও বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করছে।

    শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্রেতারা এখন শুধু মৌখিক আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন। তারা জানতে চাইছেন, সংকট কতদিন থাকবে, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা পরিকল্পনা কী এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে কী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    বিজিএমইএ ও বায়ার্স ফোরামের জরুরি বৈঠক

    এই প্রেক্ষাপটে ঢাকায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সংগঠন বায়ার্স ফোরাম বাংলাদেশ–এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

    বৈঠকে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে জানানো হয়, মহেশখালীর বিকল ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) আগামী ৬ থেকে ৭ আগস্টের মধ্যে মেরামত সম্পন্ন হতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে গ্যাস সরবরাহের উন্নতি শুরু হবে এবং ৮ আগস্টের পর শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতির উন্নতির আশা করা হচ্ছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ১৪ আগস্টের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ অনেকটাই স্বাভাবিক হতে পারে।

    বিজিএমইএ আরও অনুরোধ জানায়, যেসব কারখানা এই সংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এক থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত শিপমেন্ট বিলম্বের সুযোগ যেন ক্রেতারা কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে বিবেচনা করেন।

    সবচেয়ে বড় সংকট উৎপাদন নয়, আস্থার

    বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেছেন, গ্যাস সংকটের কারণে পোশাক কারখানাগুলোর উৎপাদন গড়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে গেছে। কোথাও উৎপাদন ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

    তার মতে, আর্থিক ক্ষতির চেয়েও বড় উদ্বেগ হলো আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখা।
    কারণ, অতিরিক্ত উৎপাদন ব্যয় কোনো না কোনোভাবে সমন্বয় করা সম্ভব হলেও সময়মতো পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হলে ক্রেতারা সহজেই বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারেন। একবার কোনো ব্র্যান্ড অন্য দেশে সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুললে সেই বাজার পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

    ডাইং ও ফিনিশিং খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত

    গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় আঘাত লেগেছে ডাইং, ওয়াশিং ও ফিনিশিং খাতে। এই প্রক্রিয়াগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চচাপের গ্যাস অপরিহার্য। কিন্তু অনেক শিল্পাঞ্চলে যেখানে অন্তত ১৫ পিএসআই চাপ প্রয়োজন, সেখানে গ্যাসের চাপ নেমে এসেছে ১ থেকে ৩ পিএসআই, অনেক সময় শূন্যের কাছাকাছি।

    ফলে বয়লার সচল রাখা যাচ্ছে না, ডাবল ডাইং, কমপ্যাক্টিং, ফিনিশিং ও স্টিমিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন ধাপ ব্যাহত হচ্ছে। এতে আধা-প্রস্তুত কাপড় জমে যাচ্ছে, উৎপাদন চক্র দীর্ঘ হচ্ছে এবং পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা ধীর হয়ে পড়ছে।

    শিল্প উদ্যোক্তাদের ভাষায়, শুধু সেলাই কারখানা সচল থাকলেই হবে না; ডাইং ও ফিনিশিং বন্ধ থাকলে শেষ পর্যন্ত শিপমেন্ট সময়মতো দেওয়া সম্ভব নয়।

    বিকল্প জ্বালানির খরচ বাড়াচ্ছে উৎপাদন ব্যয়

    গ্যাসের অভাবে অনেক কারখানাকে ডিজেলচালিত জেনারেটর, এলপিজি বা সিএনজির মতো ব্যয়বহুল বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
    এতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের দাম আগেই নির্ধারিত থাকে। ফলে এই অতিরিক্ত ব্যয় উদ্যোক্তাদেরই বহন করতে হচ্ছে, যা অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

    নারায়ণগঞ্জে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ

    নারায়ণগঞ্জের পোশাক ও নিটওয়্যার শিল্পে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, জেলার প্রায় ১ হাজারের বেশি রফতানিমুখী কারখানা গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হতে পারছে না।

    অনেক ডাইং কারখানা কার্যত বন্ধ। অনেক প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কমে গেছে। কিছু কারখানায় মাত্র কয়েক ঘণ্টা উৎপাদন চালানো সম্ভব হচ্ছে।

    বিকেএমইএর নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে আরও বহু ডাইং কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে শুধু উৎপাদন নয়, হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

    আন্তর্জাতিক বাজার হারানোর বাস্তব ঝুঁকি

    বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক পোশাক বাজারে এখন প্রতিযোগিতা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।ভিয়েতনাম, ভারত, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো নতুন ক্রয়াদেশ আকর্ষণে সক্রিয়। ফলে বাংলাদেশ যদি ধারাবাহিকভাবে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারে, তাহলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকতে পারে।

    পোশাক শিল্পে একটি অর্ডার হারানো মানেই শুধু একটি চালান হারানো নয়; অনেক ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্কও ঝুঁকির মুখে পড়ে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন শুধু কম দামের পণ্য চান না; তারা নির্ভরযোগ্য সরবরাহ, সময়নিষ্ঠ শিপমেন্ট এবং স্থিতিশীল উৎপাদন পরিবেশকে সমান গুরুত্ব দেন। তাই জ্বালানি নিরাপত্তা এখন বাংলাদেশের রফতানি সক্ষমতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচকে পরিণত হয়েছে।

    বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বর্তমানে পোশাক খাতের সবচেয়ে বড় সংকট উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখা। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের প্রধান শক্তি হলো নির্ধারিত সময়ে মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহ করার সক্ষমতা। গ্যাস সংকটের কারণে যদি সেই সক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে এর প্রভাব কয়েক সপ্তাহের উৎপাদন ক্ষতির চেয়েও অনেক বেশি হবে।

    তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো এখন তাদের সরবরাহ ব্যবস্থায় ঝুঁকি কমানোর কৌশল অনুসরণ করছে। কোনও একটি দেশে উৎপাদনে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে তারা খুব দ্রুত বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকে পড়ে। ভিয়েতনাম, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া কিংবা পাকিস্তানের মতো প্রতিযোগী দেশগুলো সেই সুযোগ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ফলে সময়মতো শিপমেন্ট দিতে না পারলে শুধু একটি অর্ডার নয়, ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্কও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

    মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা শুধু কম দামের পণ্য খোঁজেন না; তারা উৎপাদনের ধারাবাহিকতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সময়নিষ্ঠ ডেলিভারিকে সমান গুরুত্ব দেন। তাই গ্যাস সংকটকে শুধু জ্বালানি সমস্যার দৃষ্টিতে দেখলে হবে না। এটি এখন বাংলাদেশের রফতানি প্রতিযোগিতা, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে দেশের বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

    তিনি আরও বলেন, স্বল্পমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলোকে সময়মতো গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে নিয়মিত ও স্বচ্ছ যোগাযোগ বজায় রাখা জরুরি। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে নতুন এলএনজি অবকাঠামো, স্থলভিত্তিক গ্যাস সংরক্ষণ ব্যবস্থা, জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। কারণ বিশ্ববাজারে আস্থা হারানো খুব সহজ, কিন্তু সেই আস্থা পুনরুদ্ধার করতে অনেক বছর সময় লাগে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে তাই জ্বালানি নিরাপত্তাকে এখন জাতীয় অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    দীর্ঘমেয়াদি সমাধান ছাড়া ঝুঁকি কাটবে না

    শিল্পমালিকদের মতে, সাময়িকভাবে এলএনজি টার্মিনাল মেরামতের মাধ্যমে বর্তমান সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী সমাধান জরুরি।

    তারা নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল দ্রুত স্থাপন, স্থলভিত্তিক এলএনজি সংরক্ষণাগার নির্মাণ, গ্যাস সরবরাহ অবকাঠামোর আধুনিকায়ন এবং শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।

    তাদের মতে, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প শুধু দেশের প্রধান রফতানি খাত নয়; এটি কোটি মানুষের কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্যতম ভিত্তি। সেই খাত যদি জ্বালানি অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা হারাতে শুরু করে, তাহলে এর প্রভাব শুধু শিল্পেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; পুরো অর্থনীতির ওপরই তার দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    বর্তমান সংকট তাই কেবল একটি জ্বালানি সমস্যা নয়; এটি বাংলাদেশের রফতানি সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক সুনাম এবং বৈশ্বিক বাজারে অবস্থান ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এখন দ্রুত, কার্যকর ও টেকসই সমাধানই নির্ধারণ করবে—বাংলাদেশ বিশ্ব পোশাক বাজারে তার শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে পারবে, নাকি দীর্ঘদিনের অর্জিত বাজারের একটি অংশ প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে হারাতে শুরু করবে।

  • এক রাতে ইউক্রেনের ৬০৫ ড্রোন ধ্বংসের দাবি রাশিয়ার

    এক রাতে ইউক্রেনের ৬০৫ ড্রোন ধ্বংসের দাবি রাশিয়ার

    ইউক্রেনের ৬০৫টি ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংসের দাবি করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বুধবার রাতভর মস্কো, কৃষ্ণ সাগরসহ রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ড্রোন হামলা প্রতিহত করা হয়।

    ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার পর বৃহস্পতিবার সকালে রাশিয়ার শহর ইয়ারোস্লাভলের আকাশে কালো ধোঁয়া দেখা যায়। অঞ্চলের গভর্নর মিখাইল এভরায়েভ জানান, গত রাতে এই এলাকায় সবচেয়ে বড় আকারের হামলা চালানো হয়। ইউক্রেনের ৯২টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। ইয়ারোস্লাভলে রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম তেল শোধনাগার অবস্থিত।

    এদিকে, ইউক্রেনের বালাক্লিয়া শহরে রাশিয়ার হামলায় তিনজন নিহত ও সুমিতে ১২ জন আহত হয়েছেন।

  • হাতিকে শর্তসাপেক্ষ জামিন দিল ভারতের আদালত

    হাতিকে শর্তসাপেক্ষ জামিন দিল ভারতের আদালত

    হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন ভারতের ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর রাজ্যের অটোচালক বিজয় হোলকার। পরবর্তীতে হত্যার কারণে হাতিটিকে কারাগারে পাঠানো হয়। অবশেষে শর্ত সাপেক্ষে হাতিটিকে জামিন দিয়েছে ভারতের আদালত।

    সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, অটোচালক বিজয় হোলকারের মৃত্যুর পর ঘাতক হাতিটিকে শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। জেলা ও দায়রা আদালতের আদেশ অনুযায়ী, হাতিটিকে আপাতত শহরেই নজরবন্দি করে রাখা হ

    তবে চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত গজরাজকে ইনদওর ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। আদালত হাতিটির বিষয়ে বেশ কিছু শর্তও আরোপ করেছে। এটিকে শহর জুড়ে ঘোরানো, ধর্মীয় শোভাযাত্রা বা কোনও জনসমাবেশে উপস্থিত থাকার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। যে কোনও অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে বন বিভাগ এর গতিবিধির উপর সর্বক্ষণ নজর রাখবে।

    এই মামলায় হাতিটির মাহুত (হাতির চালক) উমেশ গোস্বামী এবং মালিক সন্দীপ নির্মোহীর জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে গিয়েছে। ফলস্বরূপ দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে হাজতে পাঠানো হয়েছে। এই মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে আরও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে খবর। বন বিভাগ শুধু ঘটনার পরিস্থিতিই নয়, হাতিটির মালিকানা সম্পর্কিত নথিপত্রও খতিয়ে দেখছে। হাতিটিকে নিয়ম মেনে পরিবহণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছিল কি না, তা নির্ধারণ করতে স্থানান্তকরণের নথি ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    তদন্ত চলাকালীন উঠে এসেছে, হায়দরাবাদ থেকে ফেরার পথে নান্দেদের কাছে হাতিটির আচরণে পরিবর্তন লক্ষ করা গিয়েছিল। যে ট্রাকে করে আনা হচ্ছিল, সেটির টায়ার ফুটো হয়ে যায়। এর পর হাতিটি ট্রাকে উঠতে অস্বীকার করে এবং আক্রমণাত্মক আচরণ করতে শুরু করে। হাতিটি ট্রাকে উঠতে রাজি না হওয়ায় প্রায় ১৫ দিন ধরে হাঁটিয়ে সেটিকে উজ্জৈনে আনা হয়েছিল। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে এই দীর্ঘ ও কঠিন যাত্রা হাতিটির আচরণে প্রভাব ফেলেছিল এবং সে আগের চেয়ে বেশি খিটখিটে হয়ে উঠেছিল।

    গত মাসের ২৫ তারিখে হাতিটিকে তার মাহুত রাস্তায় ঘোরাতে নিয়ে বেরোয়। হাতিটিকে গুড় খাওয়াতে গিয়েছিলেন ৪৯ বছরের বিজয়। হঠাৎ হাতিটি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। বিজয়কে শুঁড় দিয়ে পেঁচিয়ে ধরে। সজোরে মাটিতে ছুড়ে ফেলে দেয়। বিজয়কে ছুড়ে ফেলার পর হাতিটি তাঁর বুকের উপর পা তুলে দেয়। গুরুতর আহত হন প্রৌঢ়। আশপাশে থাকা লোকজন তাকে হাতির কবল থেকে মুক্ত করে দ্রুত জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিজয়ের পরিবার তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

  • লেবাননে সাংবাদিক হত্যা করে যুদ্ধাপরাধ করেছে ইসরাইল: এইচআরডব্লিউ

    লেবাননে সাংবাদিক হত্যা করে যুদ্ধাপরাধ করেছে ইসরাইল: এইচআরডব্লিউ

    চলতি বছরের শুরুতে লেবাননের সাংবাদিক আমাল খলিলকে হত্যা এবং তার ক্যামেরাম্যান জয়নাব ফারাজকে আহত করা ইসরাইলি বিমান হামলা ছিল ‘পরিকল্পিত’ এবং তাই এটি ‘যুদ্ধাপরাধকে বলছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। খবর আলজাজিরার।

    লেবাননের সংবাদমাধ্যম আল আখবারের সাংবাদিক খলিল ২২শে এপ্রিল দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসনের বিষয়ে প্রতিবেদন করার সময় দক্ষিণের শহর আত-তিরিতে নিহত হন।

    এইচআরডব্লিউ বলেছে, লেবাননে জাতিসংঘ মিশন এবং রেড ক্রসের অনুরোধসহ বিভিন্ন প্রমাণে দেখা গেছে যে, ইসরাইলি বাহিনী জানত সাংবাদিকরা সেই ভবনে ছিলেন যেখানে ইসরায়েল হামলা চালিয়েছিল।

    মানবাধিকার সংস্থাটি আরও প্রকাশ করেছে যে, ইসরাইলি বাহিনী যখন উদ্ধারকারী দলগুলোকে সাংবাদিকদের অবস্থানে পৌঁছাতে বাধা দেয়, খুব সম্ভবত খলিল তখনও জীবিত ছিলেন।

    এইচআরডব্লিউ-এর রামজি কাইস এক বিবৃতিতে বলেন, সংগৃীত তথ্য থেকে এটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানত, অথবা তাদের এটি জানা স্বাভাবিক ছিল, যে ফারাজ ও খলিল বেসামরিক নাগরিক ছিলেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা তাদের ওপর হামলা চালায় এবং এরপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্যারামেডিকদের তাদের উদ্ধার করতে বাধা দেয়।

  • মোসাদের ২১ ভাড়াটে সৈন্য আটক

    মোসাদের ২১ ভাড়াটে সৈন্য আটক

    ইরানের দক্ষিণ-পূর্ব কেরমান প্রদেশে দেশটির গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের ধারাবাহিক গোয়েন্দা-অভিযানে জায়নবাদী ইসরাইলি গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

    মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সামরিক ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের সংবেদনশীল এবং গোপনীয় কেন্দ্রগুলো থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সন্ত্রাসী মোসাদের কাছে পাঠাতো।

    মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দা বাহিনী প্রদেশটিতে চারজন সশস্ত্র অপরাধীকেও শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি ও বেসরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে বেশ কিছু অস্ত্র, যুদ্ধ ও শিকারের গোলাবারুদ উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

  • ৩০৬ বছরের রেকর্ড ভেঙা কে এই কনিষ্ঠ অধ্যাপক?

    ৩০৬ বছরের রেকর্ড ভেঙা কে এই কনিষ্ঠ অধ্যাপক?

    শিক্ষা ডেস্ক:

    যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ১৮ বছর বয়সি তরুণ নাথান থমাস বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ কলেজ অধ্যাপক হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছেন।

    গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্টে মাত্র ১৮ বছর ৩৪৬ দিন বয়সে নাথান ফ্লোরিডার ‘মিয়ামি ডেড কলেজ’-এ শিক্ষক পদে নিযুক্ত হন।

    নাথান একজন অসাধারণ মেধাবী প্রকৌশল শিক্ষার্থী। তিনি মাত্র ১০ বছর বয়সে ‘ডুয়াল-এনরোলমেন্ট’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে কলেজে ভর্তি হন এবং ১৪ বছর বয়সে ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে স্থানান্তরিত হন। এরপর মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তিনি তড়িৎ প্রকৌশলে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

    নাথানের আগে পুরুষদের মধ্যে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ অধ্যাপক হওয়ার রেকর্ডটি দীর্ঘ ৩০৬ বছর ধরে স্কটিশ গণিতবিদ কলিন ম্যাকলরিনের দখলে ছিল, যিনি ১৭১৭ সালে ১৯ বছর বয়সে অধ্যাপক হয়েছিলেন।

    এ ছাড়া নারী-পুরুষ মিলিয়ে আগের রেকর্ডধারী আলিয়া সাবুরের চেয়ে নাথান ১৬ দিন ছোট। আলিয়া ২০০৮ সালে ১৮ বছর ৩৬২ দিন বয়সে সর্বকনিষ্ঠ নারী অধ্যাপক হওয়ার কীর্তি গড়েছিলেন। বর্ত

    মানে নাথান মিয়ামি বিশ্ববিদ্যায়ালের ‘স্কুল অব ল’-তে ‘জুরিস ডক্টর’ ডিগ্রির জন্য পড়াশোনা করার পাশাপাশি অনলাইনে কোর্স পড়াচ্ছেন। ২০২৮ সালে তার এই আইন বিষয়ক ডিগ্রি সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।

    নাথান জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তিনি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত খাতের ওপর জোর দিয়ে মেধা স্বত্ব আইন নিয়ে কাজ করতে চান।

    গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের সঙ্গে আলাপকালে নাথান বলেন, প্রকৌশল বিদ্যা তাকে জটিল সমস্যাগুলোকে ছোট ছোট ও সুসংগঠিত অংশে ভাগ করে সমাধান করতে শিখিয়েছে। আইন সংক্রান্ত পড়াশোনাতেও তিনি একই পদ্ধতি প্রয়োগ করছেন।

  • ২ কারণে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বারবার ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ভ্যান্স

    ২ কারণে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বারবার ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ভ্যান্স

    ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের ‘সঠিক অবসান’ ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা সব ধরনের হাতিয়ার ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

    বুধবার (৫ আগস্ট) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এই সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক—সব ধরনের কৌশলই কাজে লাগাবে।

    ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কেন বারবার হোঁচট খেতে হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স দুটি কারণ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রথমত, ইরানিরা চরম একগুঁয়ে জাতি। দ্বিতীয়ত, তাদের শাসনব্যবস্থা বেশ বিভক্ত।

    তিনি আরও বলেন, তাদের শাসনকাঠামোর ভেতরে এমন অনেকেই আছেন, যারা চান যুদ্ধটা শেষ হোক। আবার এমন অনেক উন্মাদ ও কট্টরপন্থি আছেন, যারা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চান।

    ভ্যান্স বলেন, আমাদের কাজ হলো এসব বাধা পেরিয়ে মার্কিন জনগণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জন্য সেরা ফলাফলটি বের করে আনা।

    এই সংঘাতের একটি সমাধান আসবে বলে আশাপ্রকাশ করলেও ভ্যান্স সতর্ক করে বলেন, প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল হবে এবং লক্ষ্যে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগবে—তবে আমরা সফল হব। এ সময় তিনি আরও জানান যে, তেলের দাম কমে আসবে এবং তা স্থিতিশীল থাকবে।

    মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে পারবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র আরও শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে। তবে এই সংকটকে একটি সঠিক সমাধানে রূপ দিতে আমরা সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক—আমাদের হাতে থাকা সব হাতিয়ারই ব্যবহার করব।

    এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বুধবার লাস ভেগাসের এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, সামরিক পদক্ষেপে যাওয়ার চেয়ে তিনি ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। তিনি বলেন, আমি বরং একটি চুক্তি করতে চাই, কারণ আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না। তবে কূটনীতি ব্যর্থ হলে বলপ্রয়োগের পথও যে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খোলা রয়েছে, সেই হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন তিনি।

    গত ১৮ জুন ওয়াশিংটন এবং তেহরান একটি রূপরেখা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল এবং চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনাও শুরু করেছিল। তবে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে নৌ চলাচলের নিশ্চয়তা নিয়ে মতবিরোধের জেরে শেষ পর্যন্ত সেই আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে।

    গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের অভ্যন্তরে হামলা চালানো হলে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর জবাবে জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতসহ বেশ কয়েকটি আরব দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করে তেহরান।

  • কার্টার থেকে ট্রাম্প কেউই বুঝতে পারেনি ইরানকে ?

    কার্টার থেকে ট্রাম্প কেউই বুঝতে পারেনি ইরানকে ?

    সোমবার ট্রাম্প ক্ষোভের সঙ্গে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে ইরান অবিশ্বাস্য রকম প্রতারণাপূর্ণ আচরণ করছে। তেহরানের প্রতিপক্ষকে বুঝতে তার যে কতটা বেগ পেতে হচ্ছে, এটি তারই সর্বশেষ প্রমাণ।

    ট্রাম্প নিজেকে প্রতিপক্ষকে মূল্যায়ন করতে এবং তাদের দুর্বলতার সুযোগ নিতে ওস্তাদ মনে করেন। কিন্তু ইরানের নেতারা তাকে রীতিমতো বোকা বানিয়ে ছেড়েছেন। গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তারা (ইরান) কেবল আমাকে রাগিয়েই দেয়।

    মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য সামনে হয়তো আরও হতাশা অপেক্ষা করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি নতুন চুক্তি হয়তো কাছাকাছি, কিন্তু ইরান সেখানে টোল আদায়ের দাবিতে অনড়, যা ট্রাম্প অগ্রহণযোগ্য বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

    ইরানের সঙ্গে একটি অনুকূল চুক্তিতে পৌঁছাতে ট্রাম্পের ব্যর্থতা কেবল যুদ্ধক্লান্ত ভোটারদের কাছে তার রাজনৈতিক ক্ষতিই করেনি, বরং এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ঘিরে চলমান সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতি এবং মার্কিন ভোক্তাদের ক্ষতির মুখে ফেলে তেলের বাজারকেও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

    ট্রাম্পই যে প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইরানকে বুঝতে হিমশিম খাচ্ছেন, তা নয়। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে তার পূর্বসূরিদের প্রায় প্রত্যেকেই ইরানের রহস্যময় ক্ষমতার কাঠামো এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের মানসিকতা বোঝার চেষ্টা করেছেন।

    তাদের বেশিরভাগই ব্যর্থ হয়েছেন; কেউ কেউ তো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর এক বিরল ব্যতিক্রম ছিলেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, যার ২০ মাসের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফসল ছিল ২০১৫ সালের ইরান পরমাণু চুক্তি। ওবামা এটিকে বড় অর্জন মনে করলেও, রিপাবলিকান ও কিছু ডেমোক্র্যাট নেতার সমালোচনা ছিল যে, ইরান মধ্যপন্থার ভান করে তাকে একটি ত্রুটিপূর্ণ চুক্তির ফাঁদে ফেলেছে।

    তবে কয়েক দশক ধরে ইরানকে নিয়ে কাজ করা সিআইএ-এর সাবেক বিশ্লেষক ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কর্মকর্তা কেনেথ পোলক বলেন, ট্রাম্প হয়তো সেই প্রেসিডেন্ট যিনি ইরানের নেতৃত্বকে সবচেয়ে কম বুঝেছেন।

    পোলক আরও বলেন, অনেক দিক থেকেই ইরানকে নিয়ে আমেরিকার হতাশার চূড়ান্ত রূপ হলেন ট্রাম্প। তিনি যেমন ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী ছিলেন, তেমনি তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শক্তিও প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু তিনি দেখেছেন, এর কোনোটিই তাকে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য এনে দেয়নি।

    ট্রাম্প প্রায়ই এমনভাবে কথা বলেন যেন ব্যাপক শক্তি প্রয়োগ করলেই দ্রুত চুক্তি হয়ে যাবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এক বিমান হামলায় প্রায় ৪০ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, ট্রাম্প ইরানের জনগণকে তাদের সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি তখন এমনও বলেছিলেন যে, এরপর তিনি নিজেই ইরানের পরবর্তী নেতা বেছে নেবেন।

    বিমান হামলায় আরও অনেক ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তাও নিহত হন। কিন্তু সেখানে কোনো গণঅভ্যুত্থান ঘটেনি। উলটো ইরানের কট্টরপন্থি সরকার আরও কঠোর অবস্থান নেয়। মার্চ মাসে তারা খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেয়। মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করেন, তিনি তার বাবার চেয়েও বেশি অনমনীয় এবং পারমাণবিক বোমা অর্জনের বিষয়ে আরও বেশি আগ্রহী।

    ছোট খামেনি অগ্রহণযোগ্য পছন্দ হবেন বলে ট্রাম্প যে প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছিলেন, ইরান তা স্রেফ উপেক্ষা করেছে। এমনকি ট্রাম্পের সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাবেও সাড়া দেননি নতুন খামেনি।

    এরপরও ট্রাম্প বড় পরিবর্তনের আশা ছাড়েননি। এপ্রিলের শেষের দিকে তিনি বলেন, ইরান যদি একটি চুক্তি করে, তবে তারা খুব ভালো অবস্থানে যেতে পারে। ইরান মৃত্যু ও আতঙ্কের ওপর নির্ভরশীল কোনো দেশ না হয়ে একটি বৈধ দেশে পরিণত হতে পারে।

    ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, হরমুজ প্রণালি এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো বিষয় নিয়ে তারা ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন, যদিও তারা তার মূল দাবিগুলোর অনেকগুলোই প্রত্যাখ্যান করেছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-বিদ্বেষের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থায়, কেউই আমেরিকার সঙ্গে বৃহত্তর কোনো সমঝোতার প্রতি আগ্রহ দেখায় না।

    ট্রাম্প কয়েক মাস ধরে ইরানের সঙ্গে যেভাবে দেনদরবার করছেন, তাতে তিনি যে দেশটির সরকার ব্যবস্থাকে খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন, তার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সংঘাত চলাকালে ট্রাম্প প্রতিনিয়তই খামেনি এবং তার মন্ত্রীদের সম্পর্কে নিজের মূল্যায়ন পরিবর্তন করেছেন। তিনি কখনো তাদের পাগল, কখনো যুক্তিবাদী, কখনো খুব চালাক আবার কখনো পুরোপুরি উন্মাদ বলে আখ্যায়িত করেছেন। ট্রাম্প এক অর্থে সেই একই হতাশার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, যা তার পূর্বসূরিদেরও ভুগিয়েছে।

    ওয়াশিংটনের ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক পরিচালক সুজান ম্যালোনি বলেন, কয়েক দশক ধরেই মার্কিন নীতিনির্ধারকরা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের আদর্শিক প্রতিশ্রুতি এবং গভীরভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাওয়া ক্ষমতার কাঠামোকে ধারাবাহিকভাবে অবমূল্যায়ন করে আসছেন।

    ম্যালোনি জানান, একটি বড় সমস্যা হলো শীর্ষ ইরানি নেতাদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের সরাসরি যোগাযোগের চরম অভাব। কোনো মার্কিন কর্মকর্তা কখনোই ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি, সদ্য প্রয়াত আলী খামেনি বা তার ছেলের সঙ্গে দেখা করেননি।

    ম্যালোনি আরও বলেন, যুদ্ধ সম্ভবত ইরানের ধর্মীয় ও সামরিক নেতৃত্বের ক্ষমতাকে আরও সুসংহত করেছে, যার ফলে কোনো কার্যকর বিকল্প ক্ষমতার কেন্দ্র অবশিষ্ট নেই।

    ইরানের আধা-গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় (যেখানে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট সর্বোচ্চ নেতার নিরঙ্কুশ ধর্মীয় কর্তৃত্বের অধীনে থাকে) মাঝে মাঝে এমন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এসেছেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পক্ষপাতী ছিলেন। কিন্তু ওয়াশিংটন যখনই ওই নেতাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে, তার ফল বেশিরভাগ সময়ই হতাশার হয়েছে।

    উভয় দলের প্রেসিডেন্টদের আমলেই কাজ করা মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতির অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব ডেনিস রস বলেন, মনে হয় আমরা তাদের যতটা বুঝি, ইরানিরা আমাদের তার চেয়ে অনেক ভালো বোঝে।

    ১৯৮০ সালে প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার তেহরানের মার্কিন দূতাবাস থেকে জিম্মি হওয়া ৫২ জন আমেরিকানকে মুক্ত করার লক্ষ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে গোপন আলোচনার অনুমোদন দেন।

    কার্টারের ডায়েরি থেকে দেখা যায়, বর্তমান ট্রাম্পের মতোই তিনিও ইরানের রাজনৈতিক কলকাঠি নাড়ানো এবং শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের খুঁটিনাটি নিয়ে মেতে থাকতেন। ১৯৮০ সালের শুরুর দিকে কার্টার ভেবেছিলেন জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে তিনি একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পেরেছেন (যার বিনিময়ে ইরানের বাজেয়াপ্ত কোটি কোটি ডলার ফেরত দেওয়া এবং তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার মার্কিন প্রতিশ্রুতি ছিল)।

    কিন্তু কার্টার যাকে একটি তিক্ত হতাশা বলে অভিহিত করেছিলেন, সেই ঘটনা ঘটে যখন খোমেনি এই প্রস্তাব বাতিল করে দেন। এতে মার্কিন কর্মকর্তা এবং খোমেনির নিজের অধস্তনরাও অবাক হয়েছিলেন। কার্টার শেষ পর্যন্ত একটি জিম্মি উদ্ধার অভিযানের নির্দেশ দেন যা ব্যর্থ হয়। পরে তিনি ক্ষমতা ছাড়ার শেষ দিন একটি চুক্তির মাধ্যমে আমেরিকানদের মুক্ত করেন।

    পাঁচ বছর পর, প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান তার সহকারীদের এক ইরানি অস্ত্র ব্যবসায়ীর বার্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। ওই বার্তায় দাবি করা হয়েছিল, বয়োবৃদ্ধ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের মধ্যপন্থি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী হবেন।

    পরে রিগ্যান যাকে কৌশলগত উন্মোচন বলে আখ্যা দিয়েছিলেন, তার অংশ হিসেবে তিনি লেবাননে বন্দি আমেরিকান জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে ইরানের কাছে গোপনে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেন। এটি পরে ইরান-কন্ট্রা কেলেঙ্কারি নামে পরিচিতি পায়, কারণ অস্ত্র বিক্রির এই টাকা কংগ্রেসের অগোচরে নিকারাগুয়ার একটি কট্টর কমিউনিস্ট-বিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠীর (কন্ট্রা) কাছে পাঠানো হয়েছিল।

    এই ঘটনা ফাঁস হয়ে গেলে রিগ্যানের প্রেসিডেন্সি ব্যাপক কেলেঙ্কারির মুখে পড়ে। বেশ কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা দোষ স্বীকার করেন বা অপরাধের দায়ে দণ্ডিত হন; রিগ্যানের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা আত্মহত্যারও চেষ্টা করেন।

    ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের এই চেষ্টা আসলে একটি মরীচিকা ছাড়া আর কিছুই ছিল না। তেহরানে কোনো বন্ধুত্বপূর্ণ ও উদারপন্থি নেতার দেখা মেলেনি এবং সিআইএ বিশ্বাস করত যে অস্ত্র ব্যবসায়ী এই সবকিছুর সূত্রপাত করেছিল, সে একজন প্রতারক ছিল। রিগ্যান মূল ঘটনাগুলো জানার কথা অস্বীকার করে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ক্ষমা চান, তবে ইরানি মধ্যপন্থিদের আকৃষ্ট করার তার মূল লক্ষ্যকে তিনি সমর্থন করেছিলেন।

    ১৯৯৭ সালে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সামনে একটি বড় সুযোগ আসে, যখন সংস্কারপন্থি প্রার্থী মোহাম্মদ খাতামি ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। খাতামি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্কের আহ্বান জানান এবং এমনকি জিম্মি সংকটের জন্য দুঃখও প্রকাশ করেন। এটি ছিল সত্যিই একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।

    ক্লিনটনও এর ইতিবাচক সাড়া দেন। তিনি ইরানি পেস্তা ও কার্পেট আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন এবং ইরানের ঐতিহাসিক কিছু ক্ষোভকে স্বীকৃতি দিয়ে সুর নরম করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেডেলিন অলব্রাইট এমনকি ১৯৫৩ সালে ইরানের প্রধানমন্ত্রীকে (যিনি পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত তেল শিল্প জাতীয়করণ করেছিলেন) উৎখাতে সিআইএ-এর সমর্থনের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমাও চান।

    কিন্তু শক্তিশালী কট্টরপন্থিরা খাতামির উদার দৃষ্টিভঙ্গির বিরোধিতা করেন, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই পুনর্মিলন তাদের পশ্চিমাবিরোধী আদর্শের ভিত্তির জন্য বড় হুমকি ছিল। অলব্রাইটের ওই ভাষণের কয়েকদিন পরই আলী খামেনি (যিনি ১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যুর পর সর্বোচ্চ নেতা হন) তার কথাগুলো পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেন এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংলাপের যেকোনো সম্ভাবনা নাকচ করে দেন।

    কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের ইরান বিষয়ক বিশেষজ্ঞ করিম সাজাদপুরের মতে, খাতামি পরে ব্যক্তিগতভাবে বলেছিলেন যে খামেনি বিশ্বাস করতেন ইরান কখনই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি স্থাপন করতে পারবে না।

    কেবলমাত্র ওবামাই ইরানের সঙ্গে একটি বড় কূটনৈতিক চুক্তি (২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি) করতে সক্ষম হয়েছিলেন। যেখানে অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহারের বিনিময়ে ১৫ বছরের জন্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়।

    ওবামা প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা আশা করেছিলেন যে, আরেকজন মধ্যপন্থি ইরানি নেতা হাসান রুহানির সঙ্গে হওয়া এই চুক্তি হয়তো সম্পর্ক উন্নয়নের প্রথম ধাপ হবে। কিন্তু তা হয়নি। খামেনি চুক্তিতে অনুমোদন দিলেও বিষয়টিকে আর এগিয়ে নেওয়ার কোনো ইচ্ছা দেখাননি; সমালোচকরা তখন বলেছিলেন, এর মাধ্যমে তাদের সেই সতর্কবার্তাই প্রমাণিত হলো যে রুহানি আসলে খাতামিরই আরেক রূপ হবেন।

    যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করা যায় না বলে ইরান যে সন্দেহ করতো, তা শিগগিরই সত্যি প্রমাণিত হয়। ২০১৮ সালে ট্রাম্প পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে আসেন এবং চুক্তির আগের চেয়েও কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেন।

    এর জবাবে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি আরও ত্বরান্বিত করে, যা শেষ পর্যন্ত গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের শুরু করা যুদ্ধের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এক ভয়াবহ সংঘাতের দিকে নিয়ে যায়।

    ডেনিস রস বলেন, এরপর থেকে ইরান প্রতিনিয়ত ওয়াশিংটনকে পাশ কাটিয়ে তাদের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকছে। ট্রাম্পের যুদ্ধ শেষ করার স্পষ্ট তাড়াহুড়ো তাদের কাজকে আরও সহজ করে দিয়েছে।

    রস বলেন, তারা আমাদের এই তাড়াহুড়োকে নিজেদের দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। আমাদের দেখে সবসময় মনে হয় আমরা যেন দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য তাগিদে ভুগছি। তারা এই নীতির ওপর কাজ করে যে, সময় আমাদের চেয়ে তাদের স্বার্থেই বেশি কাজে লাগে।

  • কালান্দিয়া শরণার্থী শিবিরে  ৬০ ফিলিস্তিনি গ্রেফতার

    কালান্দিয়া শরণার্থী শিবিরে ৬০ ফিলিস্তিনি গ্রেফতার

    ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স সোসাইটি জানিয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের কালান্দিয়া শরণার্থী শিবিরে চলমান অভিযানের দ্বিতীয় দিনে আজ ৬০ জন ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করেছে ইসরাইলি বাহিনী। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের শিকার হওয়া এসব ফিলিস্তিনিদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

    সংস্থাটির বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, চলমান এই অভিযানের সময় ফিলিস্তিনিদের চরম মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পাশাপাশি নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবে বেঁধে রাখার ঘটনা ঘটেছে।

    এছাড়াও ইসরাইলি বাহিনী সাধারণ মানুষকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করেছে এবং বসতবাড়ি ও জিনিসপত্র ব্যাপক মাত্রায় ধ্বংস করেছে।

    ফিলিস্তিনের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, গত দুই দিন ধরে ওই শিবিরে চলা অভিযানে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর হামলার কারণে অন্তত ১৬ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।

  • ওমানের সঙ্গে চুক্তি

    ওমানের সঙ্গে চুক্তি

    হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকছে

    ইরান ও ওমানের মধ্যে প্রস্তাবিত একটি চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করা জাহাজগুলোর ওপর চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ পেতে পারে তেহরান।

    বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক দুই কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে তা ইরানের জন্য বড় কূটনৈতিক সাফল্য বয়ে আনবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটানোর বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ চুক্তির আলোচনা চলছে। তবে সম্ভাব্য এ চুক্তি নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি ওয়াশিংটন।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়ে খুব দ্রুতই সমঝোতা হতে যাচ্ছে। কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, বিশ্বের অতি গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে দেওয়ার বিষয়ে তাঁরা কখনোই রাজি হবেন না।

    প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলে মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের প্রভাব আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে ধরা হবে। যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব জাহাজ অবাধে চলাচল করত এবং কোনো ধরনের ফি দিতে হতো না।

    বৃহত্তর কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলছে। প্রণালিটির উত্তর অংশ ইরান এবং দক্ষিণ অংশ ওমানের নিয়ন্ত্রণে। ইরান জানিয়েছে, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, উপসাগরে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য জাহাজগুলোকে ইরানের জলসীমা দিয়েই চলাচল করতে হবেউপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্কবার্তা

    এদিকে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করে জানিয়েছে, তার ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে পুরো অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানো হবে।

    বিষয়টি সম্পর্কে অবগত পাঁচটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে সামরিক হামলা থেকে বিরত রাখতেই ইরান এমন বার্তা দিচ্ছে।

    একটি উপসাগরীয় দেশের এক সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, ‘ইরানের বার্তা ছিল একেবারে স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবকাঠামোয় হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হানবে তারা।’

    বর্তমানে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে তেহরানের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে।

    হরমুজ প্রণালির কাছে আটকে থাকা কিছু জাহাজ।

    এদিকে লাস ভেগাসে এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এখনো কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিতে চান। তিনি বলেন, ‘আমি চুক্তি করতে চাই। কারণ, আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না। কিন্তু একটা সময় হয়তো সেটি করতেই হবে।’

    ইরানের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করার পর ইরানে ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, যুদ্ধে তাদের ১৮ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।এখনো অমীমাংসিত কয়েকটি বিষয়

    রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা ইরানি ও আঞ্চলিক সূত্রগুলো বলেছে, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। একই সঙ্গে তারা ট্রাম্পের এ দাবির সঙ্গে একমত নয় যে শিগগিরই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার চুক্তি হবে।

    আঞ্চলিক একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কোনো না কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়ার বিষয়ে ইতিমধ্যে ছাড় দেওয়া হয়েছে।’

    আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘তবে নিয়ন্ত্রণ বলতে ঠিক কী বোঝানো হবে, সেটি এখনো নির্ধারিত হয়নি। উপসাগরীয় দেশগুলো চাইছে, জাহাজ তল্লাশির দায়িত্ব আঞ্চলিক দেশগুলোর হাতে থাকুক এবং কোনো ফি আদায় করা হলে তা যেন বাধ্যতামূলক না হয়।’

    ইরানের জ্যেষ্ঠ একজন কর্মকর্তা জানান, তেহরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে পণ্যের মূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত ফি আদায় করতে চায়। ওমান প্রায় ৩ শতাংশ ফি প্রস্তাব করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের ফি আরোপের বিরোধিতা করছে।

    ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকবে। তবে উপসাগর থেকে বের হওয়া জাহাজের ক্ষেত্রে ইরানের ভূমিকা কী হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত বিষয়।

    ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে বলেন, ‘এ ব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে বাণিজ্যিক জাহাজ উপসাগরে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় ইরানের জলসীমা ব্যবহার করে।’ তিনি আরও বলেন, ওমানের সঙ্গে আলোচনায় মৌলিক সমঝোতা হয়েছে এবং তা এখন চূড়ান্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে।

    ঘারিবাবাদি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের কাছে বার্তা পাঠিয়েছে যে জুনের মাঝামাঝি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের প্রতিশ্রুতিতে তারা পুরোপুরি ফিরে যেতে প্রস্তুত। ওই সমঝোতায় সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করার কথা ছিল।

    ঘারিবাবাদি বলেন, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার জন্য এটিই অন্যতম শর্ত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান তিনি।

    যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মাধ্যমে এ যুদ্ধ শেষ হবে এবং দেশটির নেতৃত্ব কে দেবেন, সেটিও যুক্তরাষ্ট্র ঠিক করবে।

    কিন্তু নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনমতের বিরোধিতার মুখে এখন ট্রাম্পের ওপর সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার চাপ বাড়ছে।

    জুলাই মাসে টানা দুই সপ্তাহের বিমান হামলাসহ যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক অভিযান হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করতে পারেনি। এদিকে মার্কিন সেনা কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, দূরপাল্লার কিছু গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে আসছে।

    গত মঙ্গলবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় পুরো মজুতই ব্যবহার করে ফেলেছে।

  • আল–সাইয়েদকে ঠেকাতে কাঁড়ি কাঁড়ি ডলার খরচ করবে ইসরাইল

    আল–সাইয়েদকে ঠেকাতে কাঁড়ি কাঁড়ি ডলার খরচ করবে ইসরাইল

    যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী বাছাইয়ে (প্রাইমারি) বড় ধাক্কা খেয়েছে প্রভাবশালী ইসরায়েলপন্থী লবিং গোষ্ঠী আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (আইপ্যাক)। সংগঠনটি তাদের সমর্থিত প্রার্থী হ্যালি স্টিভেন্সের পেছনে ব্যাপক অর্থ ঢাললেও তিনি পরাজিত হয়েছেন।

    তবে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারিতে তাদের প্রার্থীর পরাজয়ের পরও আইপ্যাক থেমে নেই। এখন নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের পক্ষে আবারও কয়েক কোটি ডলার খরচের পরিকল্পনা করছে সংগঠনটি।

    প্রাইমারিতে আইপ্যাকের সুপার প্যাক ‘ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট’ কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্সের পক্ষে ৩ কোটি ২০ লাখ ডলার ব্যয় করেছিল। লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের কড়া সমালোচক আবদুল আল–সাইয়েদকে হারানো। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ইতিহাস গড়ে তিনি এই আসনে ডেমোক্রেটিক পার্টির হয়ে নির্বাচনে প্রার্থিতার মনোনয়ন পেয়ে যান।

    আইপ্যাকের নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলা ছয় ব্যক্তি নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, সংগঠনটির অনেক বড় দাতা মনে করছেন, সাধারণ নির্বাচনেও আল–সাইয়েদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা উচিত। সে ক্ষেত্রে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের পক্ষে কয়েক কোটি ডলার খরচ করা হতে পারে।

    আইপ্যাকের মুখপাত্র ডেরিন সাউসা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের সদস্যরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। নভেম্বরে ভোটাররা যেন আবদুল আল–সাইয়েদ ও তাঁর চরমপন্থী ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেন, সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করব।’

    তবে আইপ্যাকের সুপার প্যাক ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্টের মুখপাত্র প্যাট্রিক ডর্টন বলেন, সাধারণ নির্বাচনে অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জুনের শেষে সংগঠনটির হাতে প্রায় আট কোটি ডলার ছিল।

    বড় পরিবর্তনের পথে আইপ্যাক

    সাধারণ নির্বাচনে একজন রিপাবলিকান প্রার্থীকে প্রকাশ্যে সমর্থন করলে সেটি হবে আইপ্যাকের জন্য বড় পরিবর্তন। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটি নিজেদের দুই দলের কাছেই সমানভাবে গ্রহণযোগ্য বলে দাবি করে এসেছে। ২০২২ সালের আগে তারা ফেডারেল নির্বাচনে সরাসরি অর্থও ব্যয় করত না।

    তবে আইপ্যাকের অনেক সমর্থকই আল–সাইয়েদকে বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন। কারণ, তাঁর নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল ইসরায়েলের সমালোচনা। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, নির্বাচিত হলে ইসরায়েলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধের পক্ষে তিনি ভোট দেবেন।

    রিপাবলিকান জুইশ কোয়ালিশনের রাজনৈতিক পরিচালক স্যাম মার্কস্টেইন বলেন, ‘আমাদের চুপ করে থাকতে বলা বা ভদ্র থাকার সময় শেষ। আমরা ভয় পাব না, অপপ্রচারেও থামব না। জিততে যা প্রয়োজন, আমরা তা–ই করব।’

    স্যাম আরও বলেন, ‘ভালোবাসা পাওয়ার চেয়ে সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকাই আমাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

    আবদুল আল–সাইয়েদ বিজয়ী হওয়ার পর দেওয়া ভাষণে ইহুদি ভোটারদের প্রতিও সমর্থনের বার্তা দেন। একই সঙ্গে তিনি প্রাইমারিতে আইপ্যাকের ভূমিকার সমালোচনা অব্যাহত রাখেন।

    আবদুল আল–সাইয়েদ বলেন, ‘ইহুদি ধর্মাবলম্বী আমার সব ভাই–বোনকে, কিংবা অন্য যেকোনো ধর্মের মানুষকে, এমনকি কোনো ধর্মে বিশ্বাস না করা মানুষকেও আমি বলতে চাই—আপনাদের নিরাপত্তার প্রতি আমার যে অঙ্গীকার, সেটি আমার নিজের মেয়েদের নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকারের মতোই দৃঢ়।’

    আইপ্যাকের সঙ্গে যোগাযোগ আছে, ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান পার্টির এমন কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, নভেম্বরে সাধারণ নির্বাচনে সংগঠনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রাজনৈতিক কমিটি মাইক রজার্সের পক্ষে কয়েক কোটি ডলার ব্যয় করতে পারে।

    প্রাইমারির আগে আইপ্যাকের নেতাদের সঙ্গে কথা বলা ছয় ব্যক্তি জানিয়েছেন, শুরু থেকেই তাঁদের ধারণা ছিল, আল–সাইয়েদ সাধারণ নির্বাচনে মনোনয়ন পেলে তাঁর বিরুদ্ধে আবারও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করবে আইপ্যাক।

    রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স নিজেকে বরাবরই ইসরায়েলের দৃঢ় সমর্থক হিসেবে তুলে ধরেছেন।

    অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, ডেমোক্র্যাট প্রাইমারিতে আইপ্যাকের বিপুল অর্থ ব্যয় শেষ পর্যন্ত উল্টো ফল দিয়েছে। কারণ, জনমত জরিপে আল–সাইয়েদের অবস্থান ক্রমেই শক্ত হচ্ছিল। তিনি নির্বাচনী প্রচারে আইপ্যাকের অর্থ ব্যয়ের বিষয়টিকেই প্রতিদ্বন্দ্বী হ্যালি স্টিভেন্সের বিরুদ্ধে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন।

    তবে আইপ্যাকের নেতারা ব্যক্তিগত আলোচনায় এ নিয়ে কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেননি। সংগঠনটির সঙ্গে যোগাযোগ থাকা কয়েকজন জানান, শুরু থেকেই এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছিল।

    নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিকে আইপ্যাক–ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বড় দাতা সংগঠনটির সমালোচনা না করে বরং তাদের সমর্থিত প্রার্থী হ্যালি স্টিভেন্স ও গণমাধ্যমের সমালোচনা করেন। শেষ পর্যন্ত খুব অল্প ভোটের ব্যবধানেই জয় পান আবদুল আল–সাইয়েদ।

    দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে আইপ্যাক দাবি করে এসেছে, ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান—উভয় দলের রাজনীতিকদের জন্যই ইসরায়েলকে সমর্থন করা রাজনৈতিকভাবে লাভজনক। তবে এখন পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে।

    ডেমোক্র্যাটদের অনেক প্রাইমারিতে ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই এখন প্রার্থীদের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে।

    সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মিশিগানের প্রায় অর্ধেক ডেমোক্র্যাট ভোটারের আইপ্যাক সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। বিপরীতে মাত্র ১২ শতাংশ ভোটার সংগঠনটিকে ইতিবাচকভাবে দেখেন।

    এদিকে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও ইলিনয়ের আসনগুলোয় ডেমোক্রেটিক পার্টির ইসরায়েলের সমালোচক প্রার্থীরা প্রাইমারিতে জয় পাচ্ছেন। ফলে আগামী কংগ্রেসে ইসরায়েল নিয়ে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি প্রশ্ন তোলা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এ পর্যন্ত তিনটি নির্বাচনী ধাপে অংশ নিয়ে আইপ্যাকের সুপার প্যাক বেশ কয়েকটি নির্বাচনে হেরেছে। তবে এত বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেও এবারই প্রথম পরাজয়ের মুখে পড়ল সংগঠনটি। আবার ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান প্রার্থীর সাধারণ নির্বাচনের লড়াইয়ে তারা মাত্র একবার অর্থ ব্যয় করেছে।

    সেই নির্বাচনে পিটসবার্গের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য সামার লির বিরুদ্ধে প্রায় ১২ লাখ ডলার ব্যয় করেছিল আইপ্যাকের সুপার প্যাক ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি সহজেই তাঁর রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করেন।

    এ বছরের নির্বাচনে মেইনের রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সের পক্ষেও প্রচারে নামার বিষয়টি বিবেচনা করেছিল আইপ্যাক। তবে সংগঠনটির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের ধারণা, মেইন ও মিশিগান—দুই জায়গাতেই একসঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করার সম্ভাবনা কম।

    এরই মধ্যে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ক্যালিফোর্নিয়ার একটি কংগ্রেসনাল আসনে ডেমোক্রেটিক পার্টির দুই প্রার্থীর লড়াইয়ে ১২ লাখ ডলার ব্যয়ের ঘোষণা দিয়েছে আইপ্যাক।

    মিশিগানের নির্বাচনই প্রথম নয়, এর আগেও আইপ্যাকের অর্থ ব্যয় নির্বাচনী ইস্যু হয়ে উঠেছিল।

    এ বছর ইলিনয়ের ডেমোক্র্যাট প্রাইমারিতে আইপ্যাক–সমর্থিত কয়েকটি রাজনৈতিক কমিটি অঙ্গরাজ্যের সিনেটর লরা ফাইনের পক্ষে প্রায় ৪৪ লাখ ডলার ব্যয় করে। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ইভানস্টনের মেয়র ড্যানিয়েল বিস প্রচারজুড়েই আইপ্যাকের সমর্থন পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে লরা ফাইনের সমালোচনা করেন।

    ড্যানিয়েল বিস নিজেও ইহুদি। ইসরায়েলের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। এরপরও তিনি সেই প্রাইমারিতে জয়ী হন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, কংগ্রেসে নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল নীতি পরিবর্তনের পক্ষে কাজ করবেন।

    মিশিগানে প্রাইমারির শেষ দিকে জনমত জরিপে নিজের স্পষ্ট এগিয়ে থাকার আভাস পেয়ে আবদুল আল–সাইয়েদ প্রকাশ্যেই আইপ্যাককে সাধারণ নির্বাচনেও তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ ব্যয়ের চ্যালেঞ্জ জানান।

    আল–সাইয়েদ বলেন, ‘আইপ্যাক, যদি আমার কথা শুনে থাকো, তাহলে সাধারণ নির্বাচনেও এসো। তোমাদের অর্থ খরচ করো। দরকার হলে আরও খরচ করো। আমি খুশি মনে তোমাদের অর্থ নষ্ট করব। তারপর আমরা আসল কাজ শুরু করব—দেশ পরিচালনা এবং এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজা যে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি কি অন্য একটি দেশের স্বার্থে পরিচালিত হবে?’

    অন্যদিকে আইপ্যাকের সমালোচক ও তুলনামূলক উদারপন্থী ইসরায়েল–সমর্থক সংগঠন জে স্ট্রিটের সভাপতি জেরেমি বেন–আমি বলেন, আইপ্যাকের সুপার প্যাক যদি সরাসরি মাইক রজার্সকে সমর্থন করে, তাহলে সেটি হবে রাজনৈতিকভাবে বড় ভুল।

    জেরেমি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা বুঝতে না পারা এবং সময়ের পরিবর্তন উপলব্ধি না করা আমাকে ক্ষুব্ধও করে, আবার হতাশও করে।’

    মিশিগান রিপাবলিকান পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান রন ওয়াইজার চলতি নির্বাচনে ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্টকে ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার অনুদান দিয়েছেন।

    রন ওয়াইজারের মতে, আইপ্যাকের উচিত মাইক রজার্সের পক্ষে অর্থ ব্যয় করা। তিনি বলেন, ‘এর প্রথম কারণ, আমি একজন রিপাবলিকান। দ্বিতীয় কারণ, আমি আর এমন কোনো কণ্ঠস্বর শুনতে চাই না, যারা ইসরায়েলে অর্থায়ন বন্ধ করার কথা বলে বা গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রীদের মতো এ ধরনের অবস্থান নেয়।’

  • আগস্টের প্রথম ৫ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৬০ কোটি ২০ লাখ ডলার

    আগস্টের প্রথম ৫ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৬০ কোটি ২০ লাখ ডলার

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাসের ধারাবাহিকতায় আগস্টের প্রথম পাঁচ দিনেও প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। এ সময় দেশে ৬০ কোটি ২০ লাখ (৬০২ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৩ দশমিক সাত শতাংশ বেশি।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে এ কথা জানানো হয়।

    এদিকে, ৪ ও ৫ আগস্ট এই দুই দিনেই প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে তিন দশমিক ৪৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল দুই দশমিক ৮০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত এক বছরের ব্যবধানে মোট রেমিট্যান্স প্রবাহ ২৩ দশমিক তিন শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় পাঠানোর প্রবণতা অব্যাহত থাকায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ আরো শক্তিশালী হচ্ছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

  • ধর্ষণে অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন এমপি!

    ধর্ষণে অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন এমপি!

    বৃটেনে শিশু ধর্ষণ ও মানবপাচারের অভিযোগে পুলিশের জামিনে থাকা পাকিস্তানের সাবেক রাজ্য মন্ত্রী রুখসার আহমেদ আবারও রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন করেছেন। অভিযোগের তদন্ত চলমান থাকলেও তিনি পাকিস্তান শাসিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের সাম্প্রতিক আইনসভা নির্বাচনে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন।

    ২০২১ সালে নিজের আসন হারানোর পর প্রায় পাঁচ বছর আইনসভার বাইরে ছিলেন রুখসার আহমেদ। চলতি বছরের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)-এর প্রার্থী হিসেবে জয় লাভ করেছেন।

    রুখসার এর আগে ২০০৬ থেকে ২০১১ এবং ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আজাদ কাশ্মীর আইনসভার সদস্য ছিলেন। এ সময় তিনি একাধিকবার মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

    ৬২ বছর বয়সী রুখসার আহমেদকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ম্যানচেস্টার বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ১৯৯০-এর দশকে ম্যানচেস্টারের রাশহোলম এলাকায় একটি শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রের অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ধর্ষণ ও পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি কুখ্যাত গ্রুমিং গ্যাংয়ের সদস্য ছিলেন তিনি।

    অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরে পুলিশের জামিনে মুক্তি দেয়া হয়। তবে গত মাসে জামিনের শর্ত অনুযায়ী ম্যানচেস্টারের একটি থানায় হাজির হওয়ার কথা থাকলেও তিনি সেখানে উপস্থিত হননি। তার আইনজীবীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অসুস্থতার কারণে তিনি বিমানে ভ্রমণ করতে পারেননি।

    কিন্তু একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে তাকে পাকিস্তানের মিরপুর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা যায়।

    বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ ২০২৪ সালে রুখসারের বিদেশ ভ্রমণের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আবেদন করেছিল। তবে আদালত সে সময় সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি।
    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রুখসার আহমেদের ১৭ হাজারেরও বেশি অনুসারী রয়েছে। চলতি বছরের মে মাসেও তাকে ম্যানচেস্টারের রাশহোলম এলাকায় দেখা গেছে। তিনি একসময় ম্যানচেস্টারের জনপ্রিয় ‘কারি মাইল’ এলাকার কাছে অবস্থিত ‘গুজ্জর প্যালেস’ নামের একটি রেস্টুরেন্টের মালিক ছিলেন।
    তদন্তকারীরা অন্তত দুই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকাকালে রুখসার আহমেদ তাদের ধর্ষণ ও মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অভিযোগগুলো ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকের, যখন রুখসারের বয়স ছিল প্রায় ২০ বছর।

    পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে তাকে আবারও হাজিরা দিতে বলা হতে পারে। তিনি উপস্থিত না হলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হতে পারে। প্রয়োজন হলে বৃটেনে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে, যা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

    এদিকে পিএমএল-এনের আজাদ কাশ্মীর শাখার এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, তিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রুখসার আহমেদকে চেনেন। তবে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও মানবপাচারের মতো গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে আগে কিছু জানতেন না।

    তিনি বলেন, আমরা শুধু শুনেছিলাম, ১৯৯০-এর দশকে ম্যানচেস্টারে তিনি কিছু গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে এত গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনো ধারণা ছিল না। এদিকে অভিযোগের বিষয়ে রুখসার আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

  • বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া বাণিজ্যে নতুন গতি

    বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া বাণিজ্যে নতুন গতি

    বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল।

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষে বাণিজ্য আলোচনা (Trade Negotiation) সক্ষমতা বৃদ্ধি, গবেষণা সহযোগিতা, শিক্ষা, কৃষি, পশুসম্পদ এবং বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিশেষ করে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO)-এর আইন ও বাণিজ্য আলোচনায় সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে একটি গবেষণা ও স্টাডি সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক পর্যায়ে জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময়ের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সফল বাস্তবায়নে প্রকল্প পরিচালকদের (Project Directors) দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    জবাবে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল জানান, এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে সহযোগিতা করতে অস্ট্রেলিয়া আগ্রহী। তিনি বলেন, অতীতে বিচ্ছিন্নভাবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হলেও এবার আরও পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা চলছে। এসব কর্মসূচিতে বাণিজ্য আলোচনা, আন্তর্জাতিক চুক্তির আইনগত বিষয় এবং নীতিনির্ধারণী দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাকেও এ উদ্যোগে সম্পৃক্ত করার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।

    আলোচনায় বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (LDC) মর্যাদা থেকে উত্তরণ-পরবর্তী বাণিজ্য সুবিধা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ বাজারে প্রবেশাধিকারের বিষয়েও মতবিনিময় হয়। উভয় পক্ষই এ বিষয়ে নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষা, ট্রান্সন্যাশনাল এডুকেশন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগের মতো খাতে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    তিনি আরও জানান, অস্ট্রেলিয়ার একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা করছে, যা দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া থেকে উচ্চমানের গরুর মাংস বাংলাদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা এবং এ লক্ষ্যে হালাল সার্টিফিকেশন, পশুর ট্রেসেবিলিটি (Traceability) ও আধুনিক লাইভস্টক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষই বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ককে আরও বহুমাত্রিক, টেকসই ও কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

  • সাত মাস খোঁজ নেই ইমরান খানের!

    সাত মাস খোঁজ নেই ইমরান খানের!

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রধান ইমরান খানের দুই ছেলে কাসিম খান ও সুলেমান ইসা খান তাদের বাবার স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, গত সাত মাস ধরে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ ইমরান খানের পরিবারের সদস্য, আইনজীবী এবং চিকিৎসকদের তার সঙ্গে দেখা করতে দিচ্ছে না।

    ইমরান খানের গ্রেপ্তারের তৃতীয় বার্ষিকীতে লন্ডন থেকে সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কাসিম ও সুলেমান বলেন, আমাদের কাছে বাবার কোনো আপডেট নেই। কারণ তার পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক এবং আইনজীবীদের সাত মাস ধরে তার সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না।

    এদিকে বুধবার (৫ আগস্ট) পাকিস্তানজুড়ে হাজারো পিটিআই সমর্থক বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবির মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
    ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান খান। এরপর ২০২২ সালে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৩ সালে দুর্নীতি ও রাষ্ট্রের গোপন তথ্য ফাঁসসহ একাধিক মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে পাঠানো হয় ইমরান খানকে।

    তবে ইমরান খান ও তার সমর্থকদের দাবি, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার তাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে রাখতেই এসব পদক্ষেপ নিয়েছে।
    ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ইমরান খান সরকারবিরোধী বড় বড় সমাবেশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় তার সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে। যদিও সেনাবাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

    পরবর্তীতে দেশটির সরকার পিটিআই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালায় এবং দলটিকে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দেয়া হয়।
    ভিসা নিয়ে জটিলতার অভিযোগ

    এদিন সাক্ষাৎকারে কাসিম ও সুলেমান জানান, তারা বাবার সঙ্গে দেখা করতে পাকিস্তানে যেতে চান । তবে প্রতিবার গণমাধ্যমে কথা বলার পরই তাদের জন্য পাকিস্তানে প্রবেশ আরও কঠিন হয়ে যায়।
    কাসিম বলেন, আমরা যেতে চাই, চেষ্টা করছি। কিন্তু কিছুই এগোচ্ছে না। আমাদের ভিসা না দেয়ার কোনো কারণ নেই।

    তবে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় সিএনএনকে জানায়, কাসিম ও সুলেমানের কাছে ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড ফর ওভারসিজ পাকিস্তানিজ (এনআইসিওপি) রয়েছে। তাই তাদের পাকিস্তানে প্রবেশের জন্য ভিসার প্রয়োজন নেই। মন্ত্রণালয়ের দাবি, এ বিষয়ে তাদের অভিযোগ বিভ্রান্তিকর এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
    এর জবাবে দুই ভাই বলেন, তাদের এনআইসিওপি কার্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং তা নবায়ন করা হয়নি। তবে এ বিষয়ে সরকার কোনো মন্তব্য করেনি।

    অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের উদ্বেগ
    মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে পাকিস্তান সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে, ইমরান খান ও বুশরা বিবির পরিবারের সদস্য এবং আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাতের অধিকার নিঃশর্তভাবে পুনর্বহাল করতে হবে। সংস্থাটি আরও বলেছে, তাদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং আইনবহির্ভূত একাকী বন্দিত্বের অবসান ঘটাতে হবে।
    পাকিস্তান সরকার অবশ্য এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইমরান খানকে সাত মাস যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে বা তার পরিবারের সদস্য, আইনজীবী ও চিকিৎসকদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি- এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

    সরকারের দাবি, কারা কর্তৃপক্ষের নথি অনুযায়ী ইমরান খান সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২১ মার্চ তার এক ছেলের সঙ্গে কথা বলেছেন। ফলে তার সঙ্গে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ ছিল- এমন অভিযোগ সঠিক নয়।
    তবে কারা বিধিমালা, আদালতের নির্দেশনা এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে সাক্ষাতের বিষয়টি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। পাক সরকার আরও জানায়, ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি নিয়মিত চিকিৎসা, ওষুধ ও স্বাস্থ্যপর্যবেক্ষণের সুবিধা পাচ্ছেন।

    সরকারের দাবি অনুযায়ী, ইমরান খানকে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন বন্দির জন্য নির্মিত একটি সাত সেলের বিশেষ কম্পাউন্ডে রাখা হয়েছে।
    বিবৃতিতে বলা হয়, সেখানে রয়েছে ৫৭ ফুট দীর্ঘ করিডর, ৩৫দ্ধ৩৭ ফুটের একটি লন, বিছানা, গদি, চারটি বালিশ, কম্বল, টেবিল-চেয়ার, স্যানিটেশন সুবিধা এবং ব্যায়ামের সরঞ্জাম। পাক সরকারের ভাষ্য, এই ব্যবস্থা কোনোভাবেই বিচ্ছিন্নতা, অবহেলা বা শাস্তিমূলক পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    ইমরান খানের সঙ্গে সরকারের কোনো সমঝোতার সম্ভাবনা আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে সুলেমান বলেন, তার বাবা অন্য রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত না করে কোনো সমঝোতায় যাবেন না।

    অন্যদিকে কাসিম বলেন, এ মুহূর্তে কিছু বলা কঠিন। তারা আমাদের কোনো স্বাস্থ্য প্রতিবেদনও দেখাচ্ছে না। ফলে তার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে কি না, সেটিও আমরা জানি না।

    তিনি আরও বলেন, আমি চাই, যাদের হাতে ক্ষমতা রয়েছে তারা পাকিস্তানে কী ঘটছে, সেদিকে নজর দিন। শুধু আমরা ছেলে হিসেবে নয়, ৩৫ কোটি মানুষের পক্ষ থেকেও বলছি- যারা তাকে সমর্থন করেন এবং আবার দেশের নেতৃত্বে দেখতে চান। অথচ কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে।

  • পুতিনের পাশে কিম, যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সেনা

    পুতিনের পাশে কিম, যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সেনা

    ইউক্রেনের ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ টানা পাঁচ বছর ধরে চলছে। এতে উভয় পক্ষের বহু হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে তবে যুদ্ধ বন্ধে এখন পর্যন্ত কোনো লক্ষণ নেই। উল্টো দেশ দুইটির মধ্যে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ছে। এরইমধ্যে এই যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সম্পৃক্ততা বাড়ছে।

    ইউক্রেনের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা দাবি করেছেন যে, সেনা ও অস্ত্র পাঠানোর পর এবার একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটও রাশিয়ায় মোতায়েন করেছে পিয়ংইয়ং।
    কোরীয় যুদ্ধের (১৯৫০-এর দশক) পর এটিই কোনো যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় সামরিক সম্পৃক্ততা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ইউক্রেনীয় কর্মকর্তার দাবি, নতুন এই ইউনিটে অন্তত ৯০ জন উত্তর কোরীয় সেনাসদস্য রয়েছেন। তাদের রাশিয়ার ভোরোনেজ অঞ্চলে মোতায়েন করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
    গত জুলাইয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছিলেন, রাশিয়া আরও ৩০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা আনার পরিকল্পনা করছে এবং তাদের গ্রহণের জন্য ভোরোনেজে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত করছে। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।

    কত সেনা পাঠিয়েছে উত্তর কোরিয়া?
    ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ দিকে উত্তর কোরিয়া ১০ থেকে ১২ হাজার সেনা রাশিয়ায় পাঠিয়েছে।
    ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি জানান, সে সময় রাশিয়ায় ১২ হাজারেরও বেশি উত্তর কোরীয় সেনা অবস্থান করছিল।
    পরবর্তী সময়ে ইউক্রেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে উত্তর কোরীয় সেনার সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজারে পৌঁছায়।
    ইউক্রেনের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা চলতি মাসে জানান, বর্তমানে কুরস্কে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ উত্তর কোরীয় সেনা রয়েছে। তবে তারা এখন সরাসরি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নিচ্ছে না।

    ২০২৫ সালের এপ্রিলে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে যে, উত্তর কোরীয় সেনারা কুরস্কে ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল।
    রাশিয়া কুরস্ক পুনর্দখলের দাবি করার পর দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা উত্তর কোরীয় সেনাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। অন্যদিকে পিয়ংইয়ং জানায়, নেতা কিম জং উনের নির্দেশেই সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল।

    আরও কী ধরনের জনবল পাঠানোর ঘোষণা?
    ২০২৫ সালের জুনে রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সচিব সের্গেই শোইগু জানান, উত্তর কোরিয়া কুরস্কে ১ হাজার মাইন অপসারণ বিশেষজ্ঞ (স্যাপার) এবং ৫ হাজার সামরিক নির্মাণকর্মী পাঠাবে। তাদের দায়িত্ব হবে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় মাইন অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্র্নিমাণে সহায়তা করা।
    একই মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার ব্রিফিংয়ের বরাত দিয়ে দেশটির আইনপ্রণেতারা জানান, উত্তর কোরিয়া রাশিয়ায় আরও জনবল পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে। পাশাপাশি তারা রাশিয়াকে গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। এর বিনিময়ে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও সামরিক প্রযুক্তিগত সহায়তা পাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
    তবে অতিরিক্ত প্রকৌশলী, মাইন অপসারণকারী বা নতুন সেনারা ইতোমধ্যে রাশিয়ায় পৌঁছেছেন কি না, কিংবা তারা যুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন কি না- তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    কী কী অস্ত্র দিয়েছে উত্তর কোরিয়া?
    ইউক্রেন ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে লাখ লাখ আর্টিলারি ও মর্টারের গোলা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, দূরপাল্লার কামান এবং মাল্টিপল-লঞ্চ রকেট সিস্টেম (এমএলআরএস) সরবরাহ করেছে।
    রয়টার্স ও যুক্তরাজ্যভিত্তিক ওপেন সোর্স সেন্টারের যৌথ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত রুশ পতাকাবাহী চারটি কার্গো জাহাজ উত্তর কোরিয়ার রাজিন বন্দর ও রাশিয়ার বন্দরের মধ্যে ৬৪টি যাত্রা সম্পন্ন করেছে। এসব জাহাজে প্রায় ১৬ হাজার কনটেইনার গোলাবারুদ পরিবহন করা হয়েছে।

    ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় গোলাবারুদের প্রায় অর্ধেকই উত্তর কোরিয়া সরবরাহ করছে। ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা (জিইউআর) জানিয়েছে, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি থেকে উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে প্রায় ৪০ লাখ আর্টিলারি শেল দিয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের শুরু পর্যন্ত তারা ১৪৮টি কেএন-২৩ ও কেএন-২৪ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে।

    কেন রাশিয়াকে সহায়তা করছে উত্তর কোরিয়া?
    ২০২৪ সালের জুনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পিয়ংইয়ং সফরের সময় তিনি ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন একটি সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি সই করেন। ওই চুক্তিতে কোনো একটি দেশ বাইরের আগ্রাসনের শিকার হলে অপর দেশ সহযোগিতা করবে- এমন একটি ধারা রয়েছে।

    উত্তর কোরিয়া বলছে, চুক্তির আওতায় মিত্র দেশকে সহায়তা করতেই তারা সেনা পাঠিয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে কিম জং উন বলেন, একটি “ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্রের” প্রতিরক্ষায় অংশ নেয়া উত্তর কোরিয়ার সার্বভৌম অধিকারের বৈধ প্রয়োগ।
    বিশ্লেষকদের মতে, এই সহযোগিতার মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া বৈদেশিক মুদ্রা, তেল, অর্থনৈতিক সহায়তা, রুশ সামরিক প্রযুক্তি এবং বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে।

    এছাড়া উত্তর কোরীয় সেনারা ড্রোন যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, আর্টিলারি সমন্বয় এবং আধুনিক যুদ্ধকৌশলের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। একই সঙ্গে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের কার্যকারিতাও বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে মূল্যায়নের সুযোগ মিলছে।

    যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা বলছে, উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েন এবং রাশিয়ায় অস্ত্র সরবরাহ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘন করছে।
    পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কারণে ২০০৬ সাল থেকে উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞার আওতায় অন্য দেশগুলো উত্তর কোরীয় সামরিক প্রশিক্ষক, উপদেষ্টা বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সামরিক বা আধাসামরিক প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে আশ্রয় দিতে পারে না।
    ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ওয়াশিংটন উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার কয়েকটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যারা মস্কোকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়াও দুই দেশের অবৈধ সামরিক সহযোগিতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

    অন্যদিকে ন্যাটো সতর্ক করে বলেছে, উত্তর কোরিয়া, চীন ও ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক শুধু ইউরোপ নয়, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল ও উত্তর আমেরিকার নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।

  • ঢাকার প্রতিক্রিয়া; দিল্লিতে হাসিনার বক্তব্য: সার্বভৌমত্বের অবমাননা

    ঢাকার প্রতিক্রিয়া; দিল্লিতে হাসিনার বক্তব্য: সার্বভৌমত্বের অবমাননা

    ভারতে পলাতক মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃতুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে গণমাধ্যমে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল বুধবার বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, ওই অনুষ্ঠানে হাসিনা ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদ্গারমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে আগেই ভারত সরকারকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও এ ধরনের আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা ঢাকা গভীর দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করেছে।

    এতে বলা হয়, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বাংলাদেশের জনগণ যখন শহীদদের স্মরণ করছে, ঠিক সেই দিন ভারতীয় মাটিতে শেখ হাসিনার এ ধরনের গণমাধ্যমে উপস্থিতি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি গুরুতর অসম্মান।

    বিবৃতিতে আরো বলা হয়, জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শিশু-সহ নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড অস্বীকার করে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা ইতিহাসের গতিপথ উল্টে দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করছেন। তবে বাংলাদেশের জনগণ অতীতের মতো এবারও এমন প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা করবে।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশের জনগণ দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ যে দেশ আর কখনো ফ্যাসিবাদের অন্ধকারে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কখনোই অন্য কোনো রাষ্ট্রের অধীনস্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে না। একই সঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনা ও তার সহযোগীদের বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আর কোনো স্থান নেই।

    বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক, পারস্পরিক লাভজনক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ।

    তবে ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দিতে বাংলাদেশের একাধিক অনুরোধের বিষয়ে ভারত সরকারের কাছ থেকে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বরং তাকে প্রকাশ্যে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে নয়াদিল্লি বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। এটি দুই দেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর।

  • ‘কিফায়াতুল মুগতাযি’-এর প্রকাশনা উপলক্ষে আন্তর্জাতিক ইলমি সেমিনার অনুষ্ঠিত

    ‘কিফায়াতুল মুগতাযি’-এর প্রকাশনা উপলক্ষে আন্তর্জাতিক ইলমি সেমিনার অনুষ্ঠিত

    বিশিষ্ট হাদিসবিশারদ ও গবেষক মাওলানা আব্দুল মতিন রচিত ‘কিফায়াতুল মুগতাযি ফি শারহি জামে তিরমিযি’-এর ১৭ খণ্ডের পূর্ণাঙ্গ প্রকাশনা উপলক্ষে রাজধানীতে আন্তর্জাতিক ইলমি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান আলেম, মুহাদ্দিস, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ সেমিনারে গ্রন্থটির গবেষণামূল্য, আন্তর্জাতিক গুরুত্ব এবং হাদিসশাস্ত্রে এর অবদান তুলে ধরা হয়।

    বুধবার ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে মুআসসাসা ইলমিয়্যাহ বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘হাদিস অনুসরণে সালাফের কর্মপন্থা: প্রসঙ্গ জামে তিরমিযি ও কিফায়াতুল মুগতাযি’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। হাজারো আলেম, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে মিলনায়তন পরিণত হয় এক ব্যতিক্রমধর্মী ইলমি সমাবেশে।

    সেমিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস মাওলানা মুফতি আবুল কাসেম নোমানী। তিনি বলেন, “বহু বছরের নিরলস পরিশ্রম ও গবেষণার ফল এই গ্রন্থ। জামে তিরমিযি–এর ব্যাখ্যা রচনার মাধ্যমে লেখক এমন একটি কাজ সম্পন্ন করেছেন, যা উম্মাহর জন্য দীর্ঘদিন উপকারী হয়ে থাকবে।” তিনি আরও বলেন, কুরআন-সুন্নাহর খেদমতে নিবেদিত এ ধরনের গবেষণাকর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মূল্যবান সম্পদ এবং আল্লাহ তাআলা যেন এ গ্রন্থকে উম্মাহর জন্য কবুল করেন।

    সভাপতির বক্তব্যে শায়খুল হাদিস, লেখক ও গবেষক মাওলানা আবুল বাশার বলেন, প্রায় তিন দশকের নিবিড় সাধনা ও গবেষণার মাধ্যমে রচিত এই গ্রন্থ হাদিসশাস্ত্রে বাংলাদেশের এক অনন্য অবদান। তিনি বলেন, “হাদিস পাঠদান ও গবেষণার ক্ষেত্রে এ গ্রন্থ নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং দরসের মান ও পদ্ধতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।”

    স্বাগত বক্তব্যে মুআসসাসা ইলমিয়্যাহ বাংলাদেশের পরিচালক শায়খ তাহমিদুল মাওলা জানান, গ্রন্থটির প্রথম চার খণ্ড প্রকাশের পর থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। তিনি বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট আলেম মুফতি হোসাইন কাদুদিয়া গ্রন্থটির উচ্চ প্রশংসা করেছেন। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে আরব বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনার সমমানের মুদ্রণ ও সম্পাদনার মাধ্যমে গ্রন্থটি প্রকাশ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    গ্রন্থের রচয়িতা, জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া মোহাম্মদপুর ঢাকার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল মতিন বলেন, “এটি আনন্দের নয়; বরং শুকরিয়া ও দোয়ার মজলিস।” তিনি জানান, ২০০১ সালে জামে তিরমিযি–এর দরসদান শুরু করার পর থেকেই এ গ্রন্থের গবেষণাকাজ শুরু হয়। ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মূল রচনা সম্পন্ন হলেও এর পেছনে রয়েছে প্রায় ২৬ বছরের গবেষণা, হাজারো গ্রন্থ অধ্যয়ন এবং অসংখ্য নির্ঘুম রাতের শ্রম। তিনি এ কাজে সহযোগিতার জন্য বিশেষভাবে মাওলানা আব্দুল মালেকসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং গ্রন্থটি উম্মাহর জন্য কল্যাণকর হওয়ার দোয়া কামনা করেন।

    সেমিনারে ‘হাদিস অনুসরণে সালাফের কর্মপন্থা: প্রসঙ্গ জামে তিরমিযি ও কিফায়াতুল মুগতাযি’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক। তিনি বলেন, জামে তিরমিযি–এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মতভিন্নতার মধ্যেও ইলমি শিষ্টাচার ও আদবের সংরক্ষণ, যা এ ব্যাখ্যাগ্রন্থেও অত্যন্ত সুন্দরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

    জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়ার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা আব্দুল গাফফার বলেন, প্রায় ২৬ বছরের গবেষণার ফসল এই গ্রন্থ। একটি শব্দের ব্যাখ্যার জন্যও লেখক শত শত মূল গ্রন্থ পর্যালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে হাদিস গবেষণার ইতিহাসে এ গ্রন্থ বাংলাদেশের এক গৌরবময় অবদান হিসেবে বিবেচিত হবে।

    দক্ষিণ আফ্রিকার আলেম শায়খ ইসহাক বানা, সিলেটের প্রবীণ মুহাদ্দিস মাওলানা শফিকুল হক সুরাইঘাটি, মক্কার আলেম ড. শায়খ আব্দুল আজিজ আলহাজ এবং দারুল উলুম দেওবন্দের শুরা সদস্য শায়খ হাসান মাহমুদ রাজস্থানী বক্তব্যে গ্রন্থটির গবেষণামূল্য, পূর্ণাঙ্গতা ও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, জামে তিরমিযি–এর পূর্ণাঙ্গ আরবি ব্যাখ্যাগ্রন্থ হিসেবে এটি সমকালীন হাদিসচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

    এ ছাড়া মালিবাগ জামিয়ার শায়খুল হাদিস মাওলানা আবু সাবের আব্দুল্লাহ, ফরিদাবাদ মাদ্রাসার প্রধান মুফতি আবু সাঈদ, আকবর কমপ্লেক্সের প্রধান মুফতি দিলাওয়ার হোসাইনসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আলেম-উলামা বক্তব্য দেন।

    অনুষ্ঠানে হাদিস গবেষণার ধারা বিস্তারে নির্বাচিত ১০০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে ‘কিফায়াতুল মুগতাযি’-এর ১৭ খণ্ডের পূর্ণাঙ্গ সেট বিনামূল্যে তুলে দেওয়া হয়।

    সবশেষে বিশিষ্ট আলেম, সিনিয়র মুহাদ্দিস এবং জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া ঢাকার মুহতামিম মাওলানা মাহমুদুল হাসান দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। তাঁর দোয়ার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক এ ইলমি সেমিনারের সমাপ্তি ঘটে।

    উল্লেখ্য, ‘কিফায়াতুল মুগতাযি ফি শারহি জামে তিরমিযি’ একজন বাংলাদেশি আলেমের কলমে রচিত জামে তিরমিযি–এর পূর্ণাঙ্গ আরবি ব্যাখ্যাগ্রন্থ। ১৭ খণ্ডে প্রকাশিত এ গ্রন্থকে হাদিস গবেষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে আখ্যায়িত করছেন দেশ-বিদেশের বহু আলেম, গবেষক ও ইসলামী শিক্ষাবিদ।

  • ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর অতর্কিত হামলা, নিহত ১৭

    ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর অতর্কিত হামলা, নিহত ১৭

    ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়ান বাহিনী। এতে এখন পর্যন্ত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার (৫ আগস্ট) বিবিসির অনলাইন প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।এমন প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকলে হয়তো অনেকে বাঁচত।
    তিনি বলেন, বুধবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এসব হামলায় আবাসিক ভবন, রেলওয়ে স্টেশন এবং গুদামঘর লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এতে আরও ৪৪ জন আহত হয়েছে।

    তিনি এই হামলাকে চলতি বছরের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
    সাম্প্রতিক সময়ে জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টরের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে আবেদন করে আসছেন। তবে এখন পর্যন্ত এতে ট্রাম্পের সবুজ সংকেত মেলেনি।

    এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা কিয়েভ এবং এর আশেপাশের অঞ্চলের লজিস্টিক হাব এবং সরবরাহ সেন্টারে হামলা চালিয়েছে।
    এ ছাড়া ইউক্রেনের তিনটি কার্গো জাহাজে হামলার দাবি করেছে রাশিয়া। এসব জাহাজে অস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জারের চালান যাচ্ছিল বলে জানায় রুশ মন্ত্রণালয়।
    কিয়ভ মেয়র ভিতালি ক্লিতসকো বলেছেন, হামলায় কারণে ভবনের ধবংস্তুপে বেশ কয়েকজন আটকে পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, কিয়েভ শহরে একজন নিহত এবং আরও ১৬ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া অন্যান্য অঞ্চলগুলোতে আরও ১৬ জন নিহত হয়েছেন।এতে আরও বলা হয়, হামলার কারণে বুধবার অন্তত পাঁচটি অঞ্চলে আগুন নেভানো হয়েছে। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম টেলিগ্রামে বলেছে, রাশিয়া ২৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং চারটি জাহাজ- বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র রাজধানী কিয়েভে ছুড়েছে।
    এ ছাড়া বুধবার রাতেই ১১৫টি ড্রোন ছুড়েছে বলে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।প্রায় পাঁচ বছর ধরে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ চলছে। এতে উভয় পক্ষের বহু হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে যুদ্ধ বন্ধে এখন পর্যন্ত কোনো লক্ষণ নেই।

  • যশোরে ১ কোটি ১০ লাখ টাকার স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক

    যশোরে ১ কোটি ১০ লাখ টাকার স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক

    যশোরে ভারতে পাচারের সময় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা মূল্যের ৫টি স্বর্ণের বারসহ ফারুক নামে এক পাচারকারীকে আটক করেছে বিজিবি। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের লাউজানি গাজীর দরগাহ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

    আটক ফারুক কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মোবারকপুর গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে।

    যশোর ৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির একটি টিম যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে গাজীর দরগাহ এলাকায় অবস্থান নিয়ে গাড়ি তল্লাশি করছিলো। এসময় বেনাপোলগামী একটি বাস থেকে ফারুক নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এসময় তার দেহ তল্লাশি করে ৫২৯.৬৪ গ্রাম ওজনের ৫টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।

    তিনি আরো জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক জানায় সে স্বর্ণের বারগুলো ঢাকা থেকে সংগ্রহ করে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের জন্য নিয়ে যাচ্ছিলো। জব্দকৃত স্বর্ণের বাজারমূল্য ১ কোটি ১০ লাখ ৪৭ হাজার ২৩১ টাকা। আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    এ,আর

  • শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকর চায় পরিবার

    শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকর চায় পরিবার

    জুলাই শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো: মকবুল হোসেন ও মা মনোয়ারা বেগমসহ পরিবারের সদস্য এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট সবাই এই হত্যা মামলার রায় আদালতে দ্রুত কার্যকর হতে দেখতে চান।

    তারা বর্তমান সরকার এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রতি তাদের দৃঢ আস্থা প্রকাশ করেছেন যে, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং রায়গুলো বাস্তবায়িত হবে।

    সারাদেশে ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন এবং তার বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপিত হওয়ার এক সাক্ষাৎকারে তারা এই আশা প্রকাশ করেন।

    আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তারা বলেন, আবু সাঈদকে হারানোর পর পরিবারের সদস্যদের মনে কোনো শান্তি ও সুখ নেই।

    বিচার শেষে আবু সাঈদের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন ও সাধারণ মানুষের মনে শান্তি আসতে পারে।

    রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাবানপুর গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া আবু সাঈদ ছয় ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিলেন। তার তিন বোন রয়েছেন।

    ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই, শহরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিআরইউআর) ১ নম্বর গেটের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়টির অন্যতম ছাত্র সমন্বয়কারী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন।

    তার শাহাদাত তাৎক্ষণিকভাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে উজ্জীবিত করে এবং এটিকে দেশব্যাপী ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে পরিণত করে, যা তীব্র জনরোষের মুখে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনাকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছাড়তে বাধ্য করে।

    আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আইসিটি’র রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে বর্তমান সরকারের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে তার বাবা মো: মকবুল হোসেন বলেন, ‘তার প্রিয় পুত্র আবু সাঈদ পুরো পরিবার ও তাদের আত্মীয়-স্বজনের জন্য আশার আলো ছিল।’

    তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদের শাহাদাতের দুই বছরেরও বেশি সময় কেটে গেছে। আবু সাঈদকে ছাড়া বেঁচে থাকা আমার ও আমার পরিবারের জন্য এখনো খুব কঠিন। পুলিশের গুলিতে আমার পরিবারের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে।’

    ভারাক্রান্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার মৃত্যুর আগে আমি আমার ছেলের হত্যাকারী এবং জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের অন্য সব শহীদদের হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে দেখতে চাই।’

    আবু সাঈদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তার মা মনোয়ারা বেগম বলেন, আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আইসিটি’র রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তার বাবা, ভাই, বোনসহ পরিবারের সদস্যরা এবং তিনি নিজে আর এই যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছেন না।

    তিনি অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আদালতের রায় কার্যকর এবং জুলাই শহীদদের অন্য সব হত্যা মামলার বিচার বর্তমান সরকার শিগগিরই সম্পন্ন করবে।’

    আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হোসেন তার ভাইয়ের হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং অন্যান্য সব জুলাই শহীদদের হত্যা মামলার বিচার দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দেয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

    আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী বলেন, আমার ভাই আবু সাঈদ আমাদের বাড়ির উঠোনে চিরনিদ্রায় শায়িত। যখনই ভাইয়ের কবর দেখি, আমার চোখে পানি চলে আসে।

    এই কথা বলতে বলতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

    তিনি বলেন, আমার পরিবারের সদস্যদের মতো আমিও আশা করি যে বর্তমান সরকার দ্রুত আবু সাঈদ হত্যা মামলার আইসিটির রায় কার্যকর করবে এবং জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যান্য সব শহীদ হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন করে তাদের আত্মীয়দের জ্বলন্ত হৃদয়কে শান্ত করবে।

    বিআরইউআর-এর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক ছাত্র সমন্বয়ক মো: রহমত আলী বলেন, ‘আমরা আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ন্যায়বিচার এবং এই হত্যা মামলায় আইসিটি রায়ের দ্রুত বাস্তবায়ন চাই।’

    আবু সাঈদের সহযোগী ছাত্র সমন্বয়কারী এবং বিআরইউআর-এর বাংলা বিভাগের ছাত্র শামসুর রহমান সুমন বলেন, আবু সাঈদকে হত্যার দুই বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। বুলেটের সামনে হাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদের দৃশ্যটি জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘আইসিটি প্রায় চার মাস আগে আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছে। আমরা আশা করি, খুব শিগগিরই আইসিটির রায় কার্যকরের মাধ্যমে জুলাই হত্যাকাণ্ড মামলার বিচারকার্যের মাইলফলকটি চিহ্নিত হবে।’

    যেহেতু বর্তমান সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত, তাই শামসুর রহমান দৃঢভাবে বিশ্বাস করেন যে বর্তমান সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের অন্য সব শহীদের বিচার সম্পন্ন করা এবং আদালতের রায় কার্যকর করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।

    কেবল তখনই আমার শহীদ ভাই আবু সাঈদ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের আত্মা শান্তি পাবে, যখন ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এবং সেদিনটি হবে জাতির জন্য প্রকৃত আনন্দের দিন।

    শামসুর রহমান বলেন, ‘কেবলমাত্র ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলেই আমার শহীদ ভাই আবু সাঈদ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের আত্মা শান্তি পাবে এবং সেদিনটি হবে জাতির জন্য প্রকৃত আনন্দের দিন।’

  • আপনি কেন দেশে এসেছেন, উত্তরে মীর কাশেম আলী বলেন

    আপনি কেন দেশে এসেছেন, উত্তরে মীর কাশেম আলী বলেন

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আমি মীর কাশেম আলীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম আপনি কেন ফেরত আসলেন? উত্তরে তিনি বলেছিলেন, আমি ফিরে না আসলে, আমার ছেলেটাকে ধরে নিয়ে যাবে। মীর কাশেম আলী আমার বন্ধু ছিলেন। আমরা এক সাথে কাশেমপুর কারাগারে জেল খেটেছি।

    বুধবার দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অনুষ্ঠানে প্রতিবাদ জানানো ব্যক্তিদের বক্তব্যও আমি মনোযোগ দিয়ে শুনেছি। জুলাই আন্দোলনে সামনে ও পেছনে থেকে যারা সমন্বয় করেছেন, তাদের অবদানও স্মরণ করি। প্রধানমন্ত্রী যদি দীর্ঘদিন নির্বাসনে না থাকতেন, তাহলে হয়তো আরও সুসংগঠিতভাবে আন্দোলন পরিচালনা করা সম্ভব হতো। সে সময় মাঠের অধিকাংশ নেতৃত্ব কারাগারে, গুম বা আত্মগোপনে ছিলেন। তবুও জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ স্বৈরাচারের পতন ঘটে।

    নিজের বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আয়নাঘরে ৬১ দিন থাকার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। সেখানে একজন মানুষ ২৪ ঘণ্টাও থাকতে পারবে না। তিনি মীর কাসেম আলীর পরিবারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, স্বৈরাচার কেবল ব্যক্তিকে নয়, পরিবারকেও ধ্বংস করেছে। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি বলেন, যদি আমরা বলতে শুরু করি— জুলাই কার, তাহলে জুলাই কারও থাকবে না।

    তিনি বলেন, পৃথিবীর বহু জাতি শত বছর সংগ্রাম করেও স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেনি। বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে। এটি নিউটনের আপেলের মতো হঠাৎ পড়ে যাওয়া কোনো ঘটনা নয়; দীর্ঘ প্রস্তুতি, ত্যাগ ও সংগ্রামের ফসল। তাই এ অর্জনকে কখনো দলীয়করণ করা যাবে না।

  • দিল্লিতে স্থগিত হলেও ঝাড়খন্ডে চলছে জেন-জি আন্দোলন

    দিল্লিতে স্থগিত হলেও ঝাড়খন্ডে চলছে জেন-জি আন্দোলন

    পরীক্ষায় নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে গত মাস থেকে ভারতের ঝাড়খণ্ডে লাগাতার অনশন কর্মসূচি পালন করছেন হাজার হাজার জেন-জি শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থী। দিল্লির ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) আন্দোলন স্থগিত হওয়ার পরপরই শুরু হওয়া এই আন্দোলনটি গত ২৯ জুলাই থেকে রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

    বিশেষ করে ১৪তম জেপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন আন্দোলনকারীরা। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আরও পাঁচজন শিক্ষার্থী আমরণ অনশনে যোগ দিলে এই আন্দোলনের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যায়। শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক আন্দোলনের পর থেকেই এই অনশন কর্মসূচি শুরু হয়।

    তার উপর সম্প্রতি সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করায় এই প্রতিবাদ দেশজুড়ে আরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

    বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিলের সূচি:

    এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ছাত্র ও সামাজিক সংগঠন একাধিক কর্মসূচির ডাক দিয়েছে:

    ৬ আগস্ট: ঝাড়খণ্ড ক্রান্তি মোর্চা’র মিছিল।

    ৭ আগস্ট: সর্বভারতীয় ছাত্র সমিতি এবং অন্যান্য সামাজিক সংগঠনের যৌথ প্রতিবাদ।

    ১০ আগস্ট: কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাব বা হস্তক্ষেপ ছাড়া সাধারণ ও স্বতন্ত্র শিক্ষার্থীদের আয়োজনে প্রতিবাদ মিছিল।

    দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘নিট’ প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া সিজেপি এখন রাঁচির আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে জানান, তিনি আন্দোলনকারী ছাত্রনেতাদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছেন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘জেপিএসসি এবং জেএসএসসি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত ঝাড়খণ্ডের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। সিজেপি ঝাড়খণ্ডের সকল শিক্ষার্থীর পাশে আছে এবং তাদের যৌক্তিক দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে।’

    বর্তমানে এই আন্দোলন সারা দেশ থেকেই ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন শহর থেকে সাধারণ মানুষ অনলাইন ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমে আন্দোলনস্থলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্য খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠাচ্ছেন। এ ছাড়া অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ঝাড়খণ্ড শাখা অলবার্ট এক্কা চকে রাজ্য স্তরের বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।

    শিক্ষার্থীদের এই ক্ষোভের বিষয়ে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নিজের বক্তব্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ঝাড়খণ্ড পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য রাজ্য সরকার অপেক্ষা করছে।

    প্রথমবারের মতো আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নেবে। আমি আমার সিদ্ধান্ত আগেভাগে জাহির করতে পারি না, তবে সবাই জানে আমি যে দায়িত্বই নিই না কেন, তা শেষ করি। এসআইটি দিনরাত কাজ করছে। আমরা তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছি। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থী ও রাজ্যবাসীকে জানিয়ে দেওয়া হবে।’

    জেন-জি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো সরকারি প্রতিনিধিদল আলোচনায় বসবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণে যা কিছু প্রয়োজন, তার সবই করা হবে। একই সঙ্গে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকে তাদের সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।

  • সমঝোতা হলেও বন্ধ থাকবে হরমুজ

    সমঝোতা হলেও বন্ধ থাকবে হরমুজ

    ওমানের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো সমঝোতা হলেও হরমুজ প্রণালি তাৎক্ষণিকভাবে খুলে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি।

    বুধবার (৫ আগস্ট) একটি অবহিত সূত্রের বরাতে আইআরআইবি জানায়, হরমুজ প্রণালিতে ভবিষ্যতে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা কেবল তেহরান ও মাসকাটের মধ্যে হচ্ছে। এ আলোচনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পর্ক নেই।

    সূত্রটি জানায়, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা হলেও এর অর্থ এই নয় যে প্রণালিটি সঙ্গে সঙ্গে খুলে দেওয়া হবে।

    প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, তেহরানের ভাষায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘লঙ্ঘন’ অব্যাহত থাকলে, ওমানের সঙ্গে সমঝোতা হলেও হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে।

    ওই সূত্রের ভাষ্য, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়া নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণের পরিবর্তন এবং তাদের কথিত লঙ্ঘন সংশোধনের ওপর।

    এর আগে ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ বন্ধ করলে হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌ-চলাচল করিডর নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে তেহরান। সংবাদবিশ্লেষণ

    ইরানের কর্মকর্তারা বারবার অভিযোগ করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হুমকির মাধ্যমে এই আলোচনা প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে এবং সমঝোতা বিলম্বিত করছে।

  • সৌদির ৮ তেলবাহী ট্যাংকারে  হামলা

    সৌদির ৮ তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা

    ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী দাবি করেছে, সামুদ্রিক অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সৌদি আরবের আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে।

    হুথিদের সামরিক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, সর্বশেষ হামলায় ‘ওয়াফা’ নামের একটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। তার দাবি, হামলাটি ‘নির্ভুলভাবে’ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

    তিনি বলেন, এই হামলা ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর ঘোষিত সামুদ্রিক অবরোধ কার্যকর করার অংশ। গত ২২ জুলাই অবরোধ শুরুর পর এ নিয়ে সৌদি আরবের মোট আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে।

    হুথি মুখপাত্র আরো দাবি করেন, একই সময়ে লোহিত সাগর ও আরব সাগরে সৌদি আরবের মোট ২৯টি তেলবাহী ট্যাংকারকে গন্তব্যে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং সেগুলোকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।

  • সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী হবে শতাব্দীর ঐতিহাসিক পরিবর্তন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী হবে শতাব্দীর ঐতিহাসিক পরিবর্তন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী এ শতাব্দীর একটি ঐতিহাসিক সাংবিধানিক পরিবর্তন হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন।

    বুধবার ৫ আগষ্ট রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বুধবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে বিভাজনের রাজনীতি নয়, বরং জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা প্রয়োজন। জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সে লক্ষ্যেই সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে চলছে।

    তিনি আরও বলেন, “আমরা এই জুলাইকে নিয়ে রাজনীতি কেন করব?… একটা স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির পরে আমরা যদি বলি, ‘জুলাই কার, জুলাই কার?’ তাহলে জুলাই আমাদের কারোরই থাকবে না। এই অবস্থা থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে।”

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পৃথিবীর অনেক জাতি শতবর্ষ সংগ্রাম করেও স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেনি। কিন্তু বাংলাদেশ এমন একটি ঐতিহাসিক সময়ের মধ্য দিয়ে গেছে, যেখানে কয়েক সপ্তাহেই যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে।

    ভ্লাদিমির লেনিনের একটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোনো কোনো দশক আছে যেখানে কিছুই ঘটে না, আবার কোনো কোনো সপ্তাহ আছে যেখানে কয়েক দশকের ইতিহাস রচিত হয়। আমরা সেই ইতিহাসের সাক্ষী।’

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি হিসেবে দেখার বিরোধিতা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই আমাদের সবার। বাংলাদেশের ১৮ কোটি, ২০ কোটি মানুষের, সবার। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা কেউ কেউ হয়তো নেতৃত্ব দিয়েছি, কিন্তু সামনের সারিতে যারা শহিদ হয়েছেন, তারাই আসল জুলাই যোদ্ধা, আসল নেতা। তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করাই হবে আমাদের জন্য ফরজ।’

    তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রথম বৈঠক ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সব রাজনৈতিক পক্ষকে এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    তার ভাষায়, ‘জুলাই জাতীয় সনদের প্রত্যেকটা অক্ষর বাস্তবায়ন করা হবে, আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।’

    সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই হচ্ছে অ্যামেন্ডমেন্ট। প্রত্যেকটা অ্যামেন্ডমেন্ট হচ্ছে এক একটি সংস্কার।… সেটা গ্রহণ করতে হবে পার্লামেন্টে।’

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংস্কার কমিশন বা রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি বাস্তব পরিবর্তনের জন্য সংসদে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী গ্রহণ করা প্রয়োজন। এটি হবে শতাব্দীর সবচেয়ে ঐতিহাসিক সংশোধনী। যেটার প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের শহিদরা শহিদ হয়েছেন, যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, যার জন্য আমরা সংগ্রাম করেছি…তাকে আমি বৃথা যেতে দেব না।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন আগামী সংসদে উত্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, ‘গুম কমিশন আমরা অধ্যাদেশ পাস করি নাই, কিন্তু গুমের ওপর প্রতিকার ও গুম প্রতিরোধ আইন নিয়ে এসেছি। আগামী পার্লামেন্টে আসবে ইনশাআল্লাহ।…সিস্টেমেটিক এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সের জন্য মৃত্যুদণ্ডসহ কড়া শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।’

    জুলাই আন্দোলনের পটভূমি তুলে ধরে তিনি বলেন, এই গণঅভ্যুত্থান ৩৬ দিনের কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ফল।

    তিনি আরও বলেন, ‘এই মুক্তির মন্দিরের সোপান এক দিনে নির্মিত হয়নি। এই সোপান নির্মিত হয়েছে ২০০৯ থেকে শুরু করে ২০২৪ পর্যন্ত।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও গণতন্ত্রকামী মানুষ গুম, খুন, নির্যাতন ও মামলার শিকার হয়েছেন। সেই ইতিহাস বাদ দিয়ে জুলাইকে ব্যাখ্যা করা যাবে না।

    তিনি আরও বলেন, ‘কোনো আন্দোলন রক্তাক্ত হবে কি হবে না, সেটা সাধারণ মানুষ নির্ধারণ করে না। সেটা নির্ধারণ করে দিয়েছে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা। আমাদের ছেলেরা-মেয়েরা শূন্য হাতে প্রতিবাদ করেছে, শহিদ হয়েছে, তারপর গণঅভ্যুত্থান হয়েছে।’

    জুলাইয়ের চেতনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘৭১-এর চেতনাকে বিক্রি করতে করতে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা দিল্লিতে গিয়ে বসে আছে।…আমরা যেন জুলাইয়ের এই চেতনাকে কোনোদিন অসম্মান না করতে হয়, সেই রকম রাজনীতি করি।’

    জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক বন্ধুদের প্রত্যাশা কী, আইনজীবীদের প্রত্যাশা কী, বিশেষজ্ঞদের মতামত কী—সবাইকে নিয়ে আমরা এমন একটি সংবিধান সংশোধনী আনতে চাই, যেটা নিয়ে আমরা অনেক বছর চলতে পারব। কারণ বারবার জুলাই আসে না, বারবার ৭১ আসে না, বারবার বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান হবে না।’

    জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের পুনর্বাসনের বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আহতদের ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী পৃথক শ্রেণিবিন্যাস করে সহায়তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যারা এখনও তালিকাভুক্ত হতে পারেননি, তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

    আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে বিচার সুগম করার জন্য কনস্টিটিউশন আর্টিকেল ৪৭-এর অনুসরণে আমরা আইন সংশোধন করেছি।…ব্যক্তির মতো সংগঠনেরও বিচার করা যায়। আদালত নির্ধারণ করবে আওয়ামী লীগের পরিণতি কী হবে।’

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা এক্সিকিউটিভ অর্ডারে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই। কিন্তু বিচারিক প্রক্রিয়ায় অবশ্যই আদালত নির্ধারণ করবে আওয়ামী লীগের কী হবে।…ইনশাআল্লাহ, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে এবং তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ গণহত্যাকারী কোনো মাফিয়া শক্তিকে এই দেশে রাজনীতি করার জন্য আর অনুমতি দেবে না।’

    শেষে তিনি বলেন, ‘আমরা পরস্পর তর্ক করব, বিতর্ক করব। জাতীয় সংসদে সরকারি দল-বিরোধী দল বাহাস করব। কিন্তু যখন আওয়ামী লীগের প্রশ্ন আসবে, তখন সমগ্র জাতি এক থাকবে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি জীবন্ত সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। ‘কোনো সরকার যাতে ফ্যাসিবাদী আচরণ না করে, সেই জন্য জুলাই জাদুঘর রেখে এসেছি। ওখানে গিয়ে সবাই শিক্ষা নিয়ে আসবে। সেটাকে আমরা জীবন্ত জাদুঘর হিসেবে রেখে দেব।’

  • জুলাই সংবর্ধনা বয়কট এনসিপির

    জুলাই সংবর্ধনা বয়কট এনসিপির

    জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে হট্টগোলের ঘটনার পর এবার অনুষ্ঠান বয়কট করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা।

    বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

    অনুষ্ঠানে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বক্তব্য দেওয়ার পর দলটির নেতারা অনুষ্ঠান বয়কট করে বেরিয়ে যান।

    এ সময় আখতার হোসেনের সঙ্গে ছিলেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, মুনিরা শারমিনসহ দলটির আরও কয়েকজন নেতা।

    এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রদর্শিত ভিডিও ডকুমেন্টারিতে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানার, ৯ দফা এবং ১ দফা ঘোষণার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়নি। এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্যও উপস্থাপন করা হয়নি।

    তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সারা দেশে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদে তারা এই অনুষ্ঠান বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    এর আগে, জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। ডকুমেন্টারি প্রদর্শনের পর উপস্থিত আহত জুলাইযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের একাংশ ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করলে অনুষ্ঠানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মঞ্চ থেকে একাধিকবার শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়।

  • শহীদ আবু সাঈদ ছাড়া ডকুমেন্টারি হতে পারেনা; ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

    শহীদ আবু সাঈদ ছাড়া ডকুমেন্টারি হতে পারেনা; ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

    ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, যে ডকুমেন্টারিতে শহীদ আবু সাঈদের ছবি নেই, সেটা কোনো ডকুমেন্টারি নয়। বিপ্লবের প্রতীক শহীদ আবু সাঈদের কোনো ছবি না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক।

    বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

    হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘২৭ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধ করেছি এবং এখন ৮২ বছর বয়সে বাংলাদেশের জনগণের শাসন ও গণতন্ত্রকে চিরস্থায়ী করার জন্য প্রয়োজনে আরো একবার লড়াই করবো।’

    ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জাতীয় অনুষ্ঠানে এমন হট্টগোল দুঃখজনক ও লজ্জার। জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণে এই অনুষ্ঠানে যা দেখলাম, তা দুঃখজনক। যে প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়েছে, তাতে অসঙ্গতি আছে। এজন্য দুঃখপ্রকাশও করা হয়েছে। তারপরও বিষয়টি নিয়ে বিশৃঙ্খলা কাম্য নয়।’

    হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জুলাই যোদ্ধাদের অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। তাদের যদি অধিকার আদায়ের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ঘুরতে হয়, তাহলে সেটি লজ্জাজনক।’

    তিনি বলেন, ‘এই সরকারের মূল দায়িত্ব হলো জুলাই যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে তাদের জন্য কাজ করা।’

  • জুলাই হত্যাকাণ্ডের দুই বছরে রায় মাত্র ছয় মামলার

    জুলাই হত্যাকাণ্ডের দুই বছরে রায় মাত্র ছয় মামলার

    জুলাই বিপ্লবের দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। এ সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। এ পর্যন্ত ছয় মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এসব মামলায় গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ৬১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

    দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো শহীদ ওয়াসিম, মীর মুগ্ধ, গোলাম নাফিজ ও আসহাবুল ইয়ামিনসহ আলোচিত অনেক হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয়নি। এছাড়া অসংখ্য মামলার তদন্ত এখনো ঝুলে আছে। বিচার বিলম্বিত হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার, আহত জুলাইযোদ্ধা ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে বেড়েছে উদ্বেগ আর হতাশা। ন্যায্য সময়ের মধ্যে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। সরকারের কাছে দ্রুত সময়ে বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

    ট্রাইব্যুনাল রেজিস্টার সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দুই ট্রাইব্যুনালে জুলাই হত্যাকাণ্ডের সাত মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। এসব মামলায় শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকসহ ৬১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    কুষ্টিয়ায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে করা মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ। এছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে করা মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছে।

    যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ কর্মকর্তা ইমাম হোসেন তায়িম হত্যা মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে করা মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। শহীদ ওয়াসিম ও শহীদ মীর মুগ্ধ হত্যার ঘটনায় করা দুটি চার্জ গঠন শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া দুই ট্রাইব্যুনালে মিসকেস হিসেবে ৪৬ মামলা তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে।

    প্রসিকিউশন সূত্রে গেছে, জুলাই বিপ্লবে সারা দেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৫৯০ মামলার মধ্যে ১০৯টি যাচাই-বাছাই শেষে তদন্তের জন্য তদন্ত সংস্থায় পাঠানো হয়েছে।

    দুবছরে বিচারের সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, একটি মামলার শুরুতে তদন্তে উল্লেখযোগ্য সময় ব্যয় হয়। এরপর প্রতিটি মামলায় ২০ জনের বেশি সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষেই তা রায়ের পর্যায়ে যায়। যে ছয় মামলার রায় হয়েছে, আমি মনে করি অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে এবং স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে বিচারকাজ শেষ হয়েছে। আরো তিন মামলার রায় আগামী মাসে হতে পারে।

    তিনি বলেন, আমাদের এখানে বিগত আমলের গুম ও নির্যাতনের বেশ কয়েকটি মামলার বিচার চলছে। তবে আমরা জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। আগামী এক বছরের মধ্যে আমরা যেন জুলাই হত্যাকাণ্ডের সব মামলা তদন্ত ও বিচার শেষ করতে পারি, সে প্রতিশ্রুতি নিয়ে আমরা এগোচ্ছি।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমি মনে করি অসংখ্য মামলার মধ্যে যেগুলো আমাদের ট্রাইব্যুনালে হওয়া উচিত, সেগুলো এখানে হবে। আর যেগুলো নিম্ন আদালতে হলে ভালো হবে, সেগুলো সেখানে হওয়া উচিত। আমরা কাউকেই ছাড় দেব না; আবার কাউকে ন্যায়বিচার থেকেও বঞ্চিত করব না।

    তিনি আরো বলেন, আমরা সারা দেশে জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৫৯০ অভিযোগের মধ্যে ১০৯টি যাচাই-বাছাই শেষে তদন্ত সংস্থায় পাঠিয়েছি। বিচারের বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার জায়গা থেকে কাজ করছি। আশা করছি বিচারপ্রার্থীদের প্রত্যাশিত সময়েই বিচারকাজ সম্পন্ন করতে পারব।

    স্বৈরশাসন টিকিয়ে রাখতে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে বর্বরতম পথ বেছে নেয় ফ্যাসিস্ট হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী সরকার। হাসিনার সরাসরি নির্দেশে পুলিশ, বিজিবি এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মারণাস্ত্র এবং দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সাধারণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের নির্বিচার গুলি ও হামলায় এক হাজার ৪০০ জন শহীদ হন এবং কয়েক হাজার ছাত্র-সাধারণ মানুষ গুরুতর আহত হন। এতে ৫৩৭ জন তাদের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। এর মধ্যে ৪৪ জন চিরদিনের জন্য দুচোখের দৃষ্টি হারান এবং এক চোখের দৃষ্টি হারান ৪৯৩ জন।

    জুলাই বিপ্লবে মুক্তিকামী ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন হলে এই গণহত্যার বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারকে চেয়ারম্যান করে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। এরপর চাপ বাড়লে গত বছরের ৮ মে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ গঠন করা হয়। দুই ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত তিনটি করে ছয় মামলার রায় হয়েছে। এসব মামলায় সাজা হয়েছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৬১ জনের। প্রথম রায় হয় গত বছরের ১৭ নভেম্বর।

    সারা দেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের ওই মামলায় ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি হাসিনা-কামালের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে শহীদ ও আহত পরিবারের মধ্যে বণ্টন করা নির্দেশ দেওয়া হয়।

    একই ট্রাইব্যুনাল রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায়ে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পুলিশের তিন সাবেক কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজনের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ওই ছয় শহীদ পরিবারে বণ্টনেরও আদেশ দেওয়া হয়।

    রামপুরায় ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি ও দুজনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় একই ট্রাইব্যুনাল গত ২৮ জুন হাবিবুর রহমানসহ পুলিশের তিন সাবেক কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড, একজনকে যাবজ্জীবন ও একজনকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়।

    সাভারের আশুলিয়ায় গুলি করে হত্যা ও লাশ পোড়ানো মামলার রায়ে ট্রাইব্যুনাল-২ চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড, সাতজনকে যাবজ্জীবন ও দুজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেয়। রাজসাক্ষী হওয়ায় ক্ষমা পান পুলিশের সাবেক এএসআই আবজালুর রহমান। এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আশুলিয়ার সাইফুল ইসলামের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে শহীদ পরিবারের মধ্যে বণ্টনের আদেশ দেওয়া হয়।

    জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় এই ট্রাইব্যুনাল ৯ এপ্রিল পুলিশের সাবেক দুই কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং বেরোবির সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়। এই ট্রাইব্যুনাল কুষ্টিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলার রায়ে ৩০ জুন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়।

    ছয় মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত ৬১ আসামির মধ্যে ৪০ জনই বর্তমানে পলাতক। কারাগারে আছেন ২১ জন। এর মধ্যে হাসিনাসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৫ আসামির মধ্যে ১১ জনই পলাতক।

  • বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে সৌদি আরবের বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

    বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ খাতে সৌদি বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ খাতে সৌদি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ দুই দেশের জন্যই লাভজনক হবে।

    মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ওয়ালিদ এল-খেরেইজির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    বৈঠকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেন।

    প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, বৈঠকে সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এল-খেরেইজি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারে সৌদি আরব আন্তরিকভাবে আগ্রহী।

    তিনি বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে সহযোগিতা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সৌদি সরকারের আগ্রহের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।

    এছাড়া সৌদি আরবের উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

    শাহরিয়ার পামির জানান, সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা ও দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। বর্তমান সরকার সৌদি আরবের সঙ্গে একটি কৌশলগত, বহুমাত্রিক ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায়।

    জবাবে সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, সি-ফুড, ট্রপিক্যাল ফুড, কৃষিভিত্তিক শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী।

    বৈঠকের শেষে সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানান।

    প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সুবিধাজনক সময়ে সৌদি আরব সফরের আশা প্রকাশ করেন বলে সহকারী প্রেস সচিব জানান।

    সৌদি প্রতিনিধি দলে ছিলেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুলাইমান বিন আবদুল আজিজ আল-ইয়াহইয়া, কনস্যুলার বিষয়ক উপমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আল-শাম্মারি, মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ইসা, বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ বিন আবিয়াহ এবং দেশটির পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

    বাংলাদেশের পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

  • পাকিস্তানে আল জাজিরার ওয়েবসাইট বন্ধ

    পাকিস্তানে আল জাজিরার ওয়েবসাইট বন্ধ

    পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে (পিওকে) সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং নির্বাচন-সংক্রান্ত আন্দোলনে দেশটির সরকারের কঠোর দমন-পীড়ন নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ওয়েবসাইটে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
    যদিও পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়নি, তবে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তের বহু ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন, তারা আল জাজিরার ইংরেজি ভাষার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারছেন না। এদিকে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আল জাজিরার প্রতিবেদনকে “বাছাই করা” এবং “ভুল উপস্থাপন” বলে অভিযোগ করেছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পাক মন্ত্রণালয় জানায়, মুজাফফরাবাদের কয়েকটি নির্বাচিত ভোটকেন্দ্র থেকে পরিকল্পিতভাবে প্রতিবেদন তৈরি করে আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের (এজেকে)নির্বাচন ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছে আল জাজিরা।
    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ে ধারণ করা দৃশ্য এবং বাছাই করা ব্যক্তিদের বক্তব্য ব্যবহার করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, এ ধরনের “ইয়েলো জার্নালিজম” বা অতিরঞ্জিত সংবাদ পরিবেশন কেবলমাত্র সেইসব বাহ্যিক শক্তির উদ্দেশ্য পূরণ করছে, যারা নির্বাচনকে অবৈধ প্রমাণ করতে এবং এজেকে’র জনগণের গণরায়কে দুর্বল করতে চায়।

    উল্লেখ্য, পাকিস্তান তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলকে “আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর (এজেকে)” নামে উল্লেখ করে। অন্যদিকে ভারতের অবস্থান হলো, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের পুরো অঞ্চলই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এসব অঞ্চলের একটি অংশ পাকিস্তান অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে।

    সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ
    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বিষয়ক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সংবাদ সংগ্রহের ওপর চলমান দমন-পীড়নের তীব্র সমালোচনা করেছে।
    এক্সে দেয়া এক পোস্টে সিপিজে জানায়, চলমান বিক্ষোভের মধ্যে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। ইন্টারনেট বন্ধ, টেলিযোগাযোগে বিঘ্ন, সংবাদ সংগ্রহে বিধিনিষেধ এবং সাংবাদিকদের আটক ও নিখোঁজ হওয়ার খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
    সংগঠনটি পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের প্রতি অবিলম্বে সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ, তথ্যপ্রবাহ স্বাভাবিক করা এবং স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

    সাংবাদিক নিখোঁজের অভিযোগ
    সিপিজে বিশেষভাবে স্বাধীন সাংবাদিক রাজি তাহির এবং তার সহকর্মী মুহাম্মদ সাইফের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির দাবি, গত ১ আগস্ট ইসলামাবাদে তাদের কার্যালয় থেকে পুলিশের পোশাক পরা ব্যক্তিরা দুজনকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাদের অবস্থান অজানা।
    সিপিজে বলেছে, তারা যদি রাষ্ট্রের হেফাজতে থাকেন, তবে পাকিস্তান সরকারকে তা স্বীকার করতে হবে, আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে এবং বিনা কারণে আটক থাকলে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
    এছাড়া কাশ্মীরি সাংবাদিক রাজা ইকরামকেও ১ আগস্ট ইসলামাবাদে আটক করা হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

    সিপিজের দাবি, কাশ্মীর-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর আল জাজিরার প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা উল্লেখ করেছে, গত ৫ জুন থেকে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় আংশিক ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট এবং কঠোর টেলিযোগাযোগ বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

  • আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের নাম পাল্টে ফেলল নাউরু

    আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের নাম পাল্টে ফেলল নাউরু

    প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র নাউরুর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন থেকে দেশটির নতুন নাম নাওয়েরো প্রজাতন্ত্র। স্থানীয় ভাষার উচ্চারণ ও বানানের সঙ্গে মিল রেখেই এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

    নাওয়েরোর প্রেসিডেন্ট ডেভিড অ্যাডিয়াং বলেন, ‘দেশের আন্তর্জাতিক পরিচিতিমূলক সংকেত বা কোডও বদলানো হবে। এত দিন দেশটির নাগরিকদের নাউরুয়ান বলা হলেও এখন থেকে তাঁদের দিই—নাওয়েরো নামে ডাকা হবে।’

    সরকার বলেছে, এ পরিবর্তনের মাধ্যমে নাওয়েরো তার ঐতিহ্যবাহী নামেই ফিরে গেল। বিদেশিদের উচ্চারণের সুবিধার জন্য এত দিন আন্তর্জাতিকভাবে ‘নাউরু’ নামটি ব্যবহার করা হতো। তবে স্থানীয় মানুষের কাছে দেশটির নাম সব সময়ই ছিল ‘নাওয়েরো’।

    চলতি বছরের জানুয়ারিতে পার্লামেন্টে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দেন প্রেসিডেন্ট অ্যাডিয়াং। তিনি বলেন, ‘এ পরিবর্তনের মাধ্যমে আমাদের ঐতিহ্য, ভাষা ও জাতীয় পরিচয়কে আরও যথাযথভাবে সম্মান জানানো হবে।’ পরে প্রয়োজনীয় দুই দফা ভোটে প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।

    নাওয়েরোতে মাত্র ১২ হাজার মানুষের বসবাস। জনসংখ্যার দিক থেকে এটি বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ। এর আগে রয়েছে টুভালু ও ভ্যাটিকান সিটি। নাওয়েরো একসময় জার্মানির উপনিবেশ ছিল। পরে ছিল অস্ট্রেলিয়া প্রশাসনের অধীন। ১৯৬৮ সালে দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে।

    ১৯৭০-এর দশকে ফসফেট খনির কারণে নাওয়েরো বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠে। তবে সেই শিল্প ধসে পড়ায় ১৯৯০-এর দশকে দেশটি মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে যায়।

    বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর একটি নাওয়েরো। এ কারণে নাগরিকত্বের বিনিময়ে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করে মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার তহবিল গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

    প্রেসিডেন্ট অ্যাডিয়াং বলেছেন, নাম পরিবর্তন জাতীয় গৌরবের নতুন সূচনা করবে। শুরুতে এ বিষয়ে গণভোটের পরিকল্পনা থাকলেও পরে দীর্ঘ আলোচনার পর সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, গণভোটের প্রয়োজন নেই।

    সরকারের ভাষ্য, নাওয়েরো নামটি কখনো হারিয়ে যায়নি। এটি মানুষের পরিচয়, জাতীয় প্রতীক ও স্থানীয় ভাষায় দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সংবিধানেও এ নামের স্বীকৃতি রয়েছে।

    এ পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ঔপনিবেশিক অতীতের পরিচয় থেকে সরে এসে ঐতিহ্যবাহী নাম গ্রহণ করা দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হলো নাওয়েরো। এর আগে ২০১৮ সালে সোয়াজিল্যান্ড নাম বদলে এসওয়াতিনি এবং ২০২২ সালে তুরস্ক আন্তর্জাতিক পরিসরে তুর্কিয়ে নাম ব্যবহার শুরু করে।

    নাম পরিবর্তনের ফলে নাওয়েরোর জাতীয় উড়োজাহাজ ও জাহাজের নামেও পরিবর্তন আনা হবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে নতুন নামকে স্বীকৃতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে নাওয়েরো সরকার। জাতিসংঘসহ অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সরকারি ওয়েবসাইটেও দেশটির নতুন নাম এরই মধ্যে নাওয়েরো হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • গাজায় বেসামরিক মানুষ হত্যার নিন্দা জাতিসংঘের

    গাজায় বেসামরিক মানুষ হত্যার নিন্দা জাতিসংঘের

    গাজা উপত্যকায় বেসামরিক মানুষ হত্যার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে অবরুদ্ধ এই অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

    জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উপমুখপাত্র ফারহান হক বলেছেন, ‘আমরা বেসামরিক মানুষের সব হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাই।’

    তিনি জানান, গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে ইসরাইলি হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে এটি এক মাসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা।

    ফারহান হক শুক্রবার আল-আকসা হাসপাতালের কাছে একটি চিকিৎসাসামগ্রীর গুদামে ইসরাইলি হামলার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ওই হামলায় গুদামটি ধ্বংস হয়েছে বলে জানানো হয়।

    তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনায় কখনো হামলা চালানো বা এগুলোকে সামরিক কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়।’

    জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা গাজায় চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট নিয়েও উদ্বেগ জানান। তিনি বলেন, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ইনসুলিন এবং হৃদ্‌রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধসহ বিভিন্ন চিকিৎসা উপকরণের মজুত কমে যাচ্ছে।

    ফারহান হক আরো বলেন, হাত পরিষ্কার রাখা ও সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যালকোহলভিত্তিক জীবাণুনাশকও এখন প্রায় পাওয়া যাচ্ছে না।

    তিনি জানান, সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় আরো অনেক চিকিৎসাসামগ্রী গাজায় প্রবেশের জন্য ইসরাইলের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

    গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বারবার চিকিৎসাকেন্দ্র ও জরুরি সেবার অবকাঠামো সুরক্ষার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

  • সামরিক শক্তি বাড়ানোকে জরুরি ভাবছে জাপান

    সামরিক শক্তি বাড়ানোকে জরুরি ভাবছে জাপান

    চীন, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়া থেকে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে জাপানের সামরিক সক্ষমতা আরও দ্রুত শক্তিশালী করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি।

    মঙ্গলবার প্রকাশিত জাপানের বার্ষিক প্রতিরক্ষা শ্বেতপত্রের ভূমিকায় তিনি বলেন, ‘আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও বেশি জরুরি ও সংকটপূর্ণ মনোভাব নিয়ে জাপানকে তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার ও আধুনিকায়ন করা অপরিহার্য।’

    তিনি বলেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শুধু চীন ও উত্তর কোরিয়াই তাদের সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে না, বরং চীন-রাশিয়া এবং রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সামরিক সহযোগিতাও আরও জোরদার হচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, জাপানকে ঘিরে চীনের সামরিক তৎপরতা ক্রমেই বাড়ছে এবং তা তথাকথিত ‘প্রথম দ্বীপমালা’ (ফার্স্ট আইল্যান্ড চেইন) ছাড়িয়ে ‘দ্বিতীয় দ্বীপমালা’ (সেকেন্ড আইল্যান্ড চেইন) পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।

    এতে ২০২৫ সালের কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চীনের বিমানবাহী রণরির তৎপরতা এবং জুন ও জুলাই মাসে দুই দফায় চীনা সামরিক বিমানের জাপানি বিমানের অত্যন্ত কাছাকাছি চলে আসার ঘটনা।

    শ্বেতপত্র অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এক বছরে জাপানের যুদ্ধবিমান ৫৯৫ বার জরুরি ভিত্তিতে উড্ডয়ন করেছে। এর মধ্যে ৩৬৬ বার চীনা এবং ২১৪ বার রুশ বিমানের গতিবিধির প্রতিক্রিয়ায় অভিযান পরিচালিত হয়। আগের বছর এ সংখ্যা ছিল ৭০৪, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় বেশি।

    জাপান ইতোমধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি, এশিয়ায় নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্প্রসারণ, দূরবর্তী দ্বীপগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন, পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন এবং অস্ত্র রপ্তানির নিয়ম শিথিল করার পদক্ষেপ নিয়েছে।

    তবে শ্বেতপত্রে সতর্ক করে বলা হয়েছে, দেশটির প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতের সীমাবদ্ধতা ভবিষ্যতে অস্ত্র সংগ্রহ ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী কোইজুমি জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে জাপান-যুক্তরাষ্ট্র জোটের ‘অটুট’ সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি ফিলিপাইন, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতাও জোরদার করা হচ্ছে, যাতে ‘অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক’ গড়ে তোলা যায়।

    তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত আরও জটিল হয়ে উঠছে। তাই পুরো ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।’

    এদিকে, জাপানের এই সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির তাইওয়ান-সংক্রান্ত মন্তব্যের পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও অবনতি হয়েছে। বেইজিংয়ের অভিযোগ, জাপান আবারও ‘নতুন সামরিকতন্ত্রের’ পথে এগোচ্ছে।

  • ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে ২৫ অঙ্গরাজ্যের মামলা

    ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে ২৫ অঙ্গরাজ্যের মামলা

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছে দেশটির ২৫টি অঙ্গরাজ্য।

    জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন কিংবা এ ধরনের পণ্য আমদানির অভিযোগে ৬০ বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর ১০ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতে (ইউএস কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড) মামলাটি করা হয়।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, মামলার বাদী অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয়েস, ম্যাসাচুসেটস, ওয়াশিংটন, উইসকনসিন ও পেনসিলভেনিয়া। এ ছাড়া আরও ১৭টি অঙ্গরাজ্য মামলায় যুক্ত হয়েছে। এসব অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রভাব বেশি।

    যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ৫০টি অঙ্গরাজ্য রয়েছে।

    শুল্ক আরোপের পটভূমি

    গত জুলাইয়ে ভারত, কানাডা, জাপান, নরওয়ে, তাইওয়ান, চীনসহ ৫৯টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে এই অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন।

    যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের (ট্রেড অ্যাক্ট অব ১৯৭৪) ৩০১ নম্বর ধারার আওতায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযোগ করা হয়, এসব দেশ ও অঞ্চল জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি করছে বা এ ধরনের পণ্য উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত।

    ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল নতুন শুল্কনীতি ঘোষণা করেন। ওই নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা সব দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ ‘বেইসলাইন শুল্ক’ এবং বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রে ‘পাল্টাপাল্টি শুল্ক’ (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) আরোপ করা হয়।

    ২০২৫ সালজুড়ে চীন, ভারত, কানাডা, মেক্সিকো ও ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক উত্তেজনার সময়ে শুল্ককে অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন ট্রাম্প।

    সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর নতুন বিতর্ক

    ২০২৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতিকে অবৈধ ঘোষণা করেন।

    আদালত বলেছিলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার অ্যাক্ট (আইইইপিএ) আইনটি বিধিবহির্ভূতভাবে ব্যবহার করেছে। তাই ওই আইনের আওতায় আরোপ করা শুল্ক বৈধ নয়।

    এরপর ৭ মে একই আইনের ভিত্তিতে আরোপ করা ‘বেইসলাইন শুল্ক’ও বাতিল ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট।

    অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ

    মামলার পর এক বিবৃতিতে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন যে ৬০ বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে, সেসব দেশ ও অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আসা পণ্যের পরিমাণ মোট আমদানির ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ।

    তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টে হেরে যাওয়ার পরও ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে শুল্ক আরোপের মাধ্যমে মার্কিন পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর কর বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

    লেটিশিয়া জেমস আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট নিজের ইচ্ছামতো কোনো দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারেন না।

    নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলও ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতির সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, জোরপূর্বক শ্রমের বিষয়টিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে আরোপ করা এই শুল্ক সাধারণ ভোক্তাদের ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

    দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক বক্তব্যে হোকুল বলেন, ট্রাম্পের শুল্ক সাধারণ কর্মজীবী মানুষ ও ছোট ব্যবসার পরিবারের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা তৈরি করছে। এর কারণে মুদিপণ্য, গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় জিনিস, নির্মাণসামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছে।

    তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যে স্পষ্ট করেছে যে শুল্ক আরোপের নামে আইন উপেক্ষা করা যাবে না।

    ট্রাম্প প্রশাসনের সাফাই

    অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার আইনগত ক্ষমতা ব্যবহার করে এমন নীতি ও কার্যক্রম বন্ধ করছে, যা মার্কিন বাণিজ্যের ওপর চাপ তৈরি করে।

    তিনি বলেন, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ঠেকাতে বিদেশি দেশগুলোর ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক ও বাণিজ্যের জন্য ক্ষতিকর। এ কারণে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

    দেশাই আরও বলেন, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকেই ৩০১ ধারার শুল্ক একটি আইনগতভাবে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং এখনো তা বহাল রয়েছে।

  • যুদ্ধ ছড়াতে চায় না ইরান: পেজেশকিয়ান

    যুদ্ধ ছড়াতে চায় না ইরান: পেজেশকিয়ান

    ইরান তার সীমান্ত রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে চলমান যুদ্ধ আরো বিস্তৃত করার কোনো ইচ্ছা দেশটির নেই বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    জাতীয় পরিবার চিকিৎসা ও রেফারেল ব্যবস্থা পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পেজেশকিয়ান। এ সময় তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানকে অভ্যন্তরীণ শক্তি ও জাতীয় ঐক্যের দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

    তিনি বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে আমাদের এমন একটি সমাজ গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে, যেখানে শত্রু লোভ দেখানোর সুযোগ না পায়, অনুপ্রবেশ করতে না পারে এবং এই সামাজিক কাঠামোকে বিভক্ত বা ধ্বংস করতে না পারে।’

    পেজেশকিয়ান আরো বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় জনগণের ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ।

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তার এই মন্তব্য এলো। তেহরান এর আগে বারবার জানিয়েছে, তারা নিজেদের ভূখণ্ড ও স্বার্থ রক্ষায় পদক্ষেপ নেবে। তবে আঞ্চলিক সংঘাত আরো ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য তাদের নেই।

  • ইরান-ইরাক সম্পর্ক সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে

    ইরান-ইরাক সম্পর্ক সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে

    ইরাকের সঙ্গে ইরানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

    সোমবার রাতে ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফে এ মন্তব্য করেন তিনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ তার বক্তব্য প্রকাশ করেছে। আরাগচি বলেন, ‘সৌভাগ্যক্রমে ইরাকি সরকারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বর্তমানে সর্বোত্তম অবস্থায় রয়েছে।’

    তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর তেহরান সফরে দুই দেশের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, তেহরান ও বাগদাদের সহযোগিতা শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। অভিন্ন বিভিন্ন ইস্যুতে সমন্বিত অবস্থানের পাশাপাশি অর্থনীতি ও নিরাপত্তা খাতেও দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা রয়েছে।

    সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ইরান ও ইরাকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে অঞ্চলটির কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্যে ভারতের সংশ্লিষ্টতা নেই: নয়াদিল্লি

    হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্যে ভারতের সংশ্লিষ্টতা নেই: নয়াদিল্লি

    ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানটির সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই।

    আগামী ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব আয়োজিত অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে ভারত সরকারের অবস্থান জানতে নয়াদিল্লির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিল বাংলাদেশ।

  • টানা পঞ্চমবার পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় বাংলাদেশ

    টানা পঞ্চমবার পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় বাংলাদেশ

    বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। ডব্লিউটিওর ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিভিউ ২০২৫ অনুযায়ী, বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানি কিছুটা কমলেও শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে চীন। তালিকায় তৃতীয় স্থানে ভিয়েতনাম, চতুর্থ স্থানে ভারত এবং পঞ্চম স্থানে তুরস্ক রয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর বাংলাদেশ ৩৮ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামের তুলনায় এ রপ্তানি প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার বেশি।

    ২০২০ সালে অতিমারি করোনাকালে বাংলাদেশকে টপকে দ্বিতীয় স্থানটি দখল করে নিয়েছিল ভিয়েতনাম। পরের বছর ২০২১ সালে ভিয়েতনামকে পেছনে ফেলে হারানো অবস্থান পুনরুদ্ধার করে বাংলাদেশ। তৃতীয় অবস্থানে চলে যায় ভিয়েতনাম। ২০২৪ সালেও পোশাক রপ্তানিতে তৃতীয় ছিল ভিয়েতনাম। ২০২৫ সালেও একই অবস্থানে রইল দেশটি। পোশাক রপ্তানিতে বরাবরের মতো এবারও প্রথম স্থানে আছে চীন।

    আগের বছরের হিস্যা ছিল ৭ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশে নেমেছে। এ নিয়ে টানা দুই বছর বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের হিস্যা কমল। ২০২৩ সালে হিস্যা ছিল ৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ। ২০২২ সালে ছিল ৭ দশমিক ৯১ শতাংশ, যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

    বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী ভিয়েতনামের হিস্যা গত বছর আরও বেড়েছে। ডব্লিউটিওর তথ্য-উপাত্তে দেখা যায়, গত বছর ভিয়েতনামের হিস্যা দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে ছিল ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ। গত তিন বছরের মধ্যে ২০২৩ সালে দেশটির হিস্যা ছিল ৫ দশমিক ৮১ শতাংশ। অর্থাৎ ধারাবাহিকভাবে তিন বছর ধরে ভিয়েতনামের হিস্যা বাড়ছে। বিপরীতে হিস্যা কমছে বাংলাদেশের।

  • মান খারাপ হওয়ায় ভারতের ১১,৫০০ টন চাল ফেরত পাঠাল বাংলাদেশ

    মান খারাপ হওয়ায় ভারতের ১১,৫০০ টন চাল ফেরত পাঠাল বাংলাদেশ

    ভারত থেকে আসা ১১ হাজার ৫০০ টন সেদ্ধ চালের একটি চালান বাংলাদেশ গ্রহণ করেনি। বিষয়টি নিয়ে ভারতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই চালান প্রত্যাখ্যানের পেছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন ভারতের সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য মহলের অনেকে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু বিজনেসলাইনের খবরে বলা হয়, চালানটি গত ২১ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। এরপর চালের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে ২২ জুলাই চালানটির যে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা পরীক্ষার পর মানবদেহের জন্য নিরাপদ বা ‘মানুষের খাওয়ার উপযোগী’ বলে সনদ দেওয়া হয়। চালটি ছিল বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত সরকার টু সরকার চুক্তির আওতায় আনা।চাল খাওয়ার উপযোগী বলে সনদ পাওয়ার পর জাহাজটিকে চাল খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়। ২৩ ও ২৪ জুলাই চালের একটি অংশ খালাস করা হয়। খালাস করা চালের কিছু অংশ ঢাকার তেজগাঁও, হালিশহর ও দেওয়ানহাটের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণাগারে (সিএসডি) পাঠানো হয়। এর পাশাপাশি কিছু চাল জয়দেবপুরের স্থানীয় সংরক্ষণাগারেও পাঠানো হয়।

    এরপর, গত ২৫ জুলাই তেজগাঁও ও হালিশহরের কর্মকর্তারা জানান, ‘চালের মান ভালো নয় এবং এটি মানুষের খাওয়ার উপযোগী নয়।’ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিষয়টি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জানানো হয়।

    ভারতীয় চাল নিয়ে বাংলাদেশ হঠাৎ করে কেন সমস্যায় পড়ল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের ব্যবসায়ীরা। এক ভারতীয় ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর বাংলাদেশে চাল সরবরাহ করে আসছি। গত বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশ যখন পাকিস্তান থেকে চাল কিনতে গিয়েছিল এবং সেটি ব্যয়বহুল বলে মনে হয়েছিল, তখন তারা আবার আমাদের কাছেই ফিরে আসে। এখন তারা খেলায় নেমেছে।’

    আরেক ব্যবসায়ী বলেন, এ ধরনের ‘রাজনৈতিক খেলা’ আরও কিছুদিন চলতে পারে। তিনি বলেন, ‘কিন্তু এখন যখন একটি এল নিনো বছর চলছে এবং এর স্থায়িত্ব আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে, তখন এ ধরনের রাজনীতির জন্য বাংলাদেশকে বড় মূল্য দিতে হতে পারে।’ বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় ব্যবসায়ীরা নিজেদের নাম প্রকাশ করে মন্তব্য করতে চাননি।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমভি এইচটি পাইওনিয়ার নামের জাহাজটি থেকে মাত্র ৩ হাজার ৫০০ টন চাল খালাস করা হয়েছে। বাকি চাল খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়নি। প্রথম ভারতীয় ব্যবসায়ী বলেন, ‘পুরো চালানটিই এখন ভারতে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।’ তবে তিনি মনে করেন, এই একটি চালান প্রত্যাখ্যানের কারণে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না।

    এদিকে, ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এই সরকার টু-সরকার চাল আমদানির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এক ভারতীয় রপ্তানিকারক একটি বহুজাতিক কোম্পানির মজুত থেকে চাল সংগ্রহ করেছিলেন। তৃতীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে খাদ্য অধিদপ্তরের ভেতরে থাকা কিছু সংস্থাকে ঘিরে, যারা শেখ হাসিনা সরকারের আমলে একচেটিয়া বা একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল।

    তাঁর দাবি, ওই প্রতিষ্ঠানের বিরোধীরা এখন একজোট হয়ে তাদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে। আর এর পরোক্ষ শিকার হয়েছে ভারতীয় চালের এই চালান।প্রসঙ্গত, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত ১৩ লাখ ৬০ হাজার টন বাসমতী নয়, এমন জাতের চাল রপ্তানি করেছে। এর বেশির ভাগই ছিল সেদ্ধ চাল। এসব চালের মোট রপ্তানি মূল্য ছিল ৫৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ৮ লাখ ৯ হাজার টন নন-বাসমতী চাল রপ্তানি করেছিল, যার মূল্য ছিল ৩৫৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। চলতি অর্থবছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে ভারত ১ লাখ ৬০ হাজার টন চাল রপ্তানি করেছে। এর মোট মূল্য ছিল ৮ দশমিক ১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

  • নবম শ্রেণি পর্যন্ত স্মার্টফোন নিষিদ্ধ করল পর্তুগাল

    নবম শ্রেণি পর্যন্ত স্মার্টফোন নিষিদ্ধ করল পর্তুগাল

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানো, সাইবার বুলিং কমানো এবং বিদ্যালয়ের সামাজিক পরিবেশ উন্নত করতে নবম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুল চলাকালে স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে পর্তুগাল সরকার।

    সোমবার (৩ আগস্ট) দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, পরীক্ষামূলকভাবে এ নিষেধাজ্ঞা চালুর পর শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর যোগাযোগ বেড়েছে। এছাড়া বিরতির সময় শিক্ষার্থীরা মোবাইলের বদলে খেলাধুলা ও সহপাঠীদের সঙ্গে বেশি সময় কাটাচ্ছে।

    তবে স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী বা শিক্ষকের অনুমোদিত শিক্ষামূলক কাজে স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশও স্কুলে স্মার্টফোন ব্যবহারে একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

  • মালয়েশিয়ায় নিজেদের মধ্যে মারামারিতে ৩ বাংলাদেশি নিহত

    মালয়েশিয়ায় নিজেদের মধ্যে মারামারিতে ৩ বাংলাদেশি নিহত

    মালয়েশিয়ার নেগ্রি সেম্বিলান রাজ্যের লিঙ্গিতে সহকর্মীদের মধ্যকার সহিংস সংঘর্ষে তিন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত এবং আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

    সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে তামান লিঙ্গির একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনার পর পর অভিযান চালিয়ে জড়িত সন্দেহে ৪০ বছর বয়সি এক বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে।

    নেগ্রি সেম্বিলান রাজ্যের পুলিশ প্রধান দাতুক আলজাফনি আহমদ জানান, বিকেল আনুমানিক ৪টা ১৫ মিনিটে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পারে পুলিশ। খবর পেয়েই লিঙ্গি থানা পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুয়া মাঙ্গিস এস্টেট থেকে আরও দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত তিনজনের শরীরে একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানায়নি মালয়েশীয় পুলিশ। আহত বাংলাদেশি বর্তমানে রেম্বাউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত সকলেই একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন এবং একই বাসায় বসবাস করতেন। হত্যা মামলা (দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা) দায়ের করে ঘটনার মূল কারণ ও পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

  • আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

    আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

    দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ ভারতের উজান এলাকায় আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদ-নদীর পানি দ্রুত বেড়ে নতুন করে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য পানি বৃদ্ধির কারণে সিলেট, সুনামগঞ্জ, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা এবং জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

    পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীতীরবর্তী নিচু এলাকাগুলোতে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

    অন্যদিকে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে ধরলা নদীর পানিও সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

    বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি বাড়ার প্রবণতা থাকতে পারে। এতে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

    এদিকে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি আগামী দুই দিন প্রায় স্থিতিশীল থাকলেও পরবর্তী তিন দিনে তা বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া সোমেশ্বরী, কংস ও ভুগাই নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নেত্রকোণার কিছু এলাকায় সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। ভুগাই ও কংস নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছালে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণার নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যা দেখা দিতে পারে।

    বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং ভারতের উজান এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • এক বছরের মধ্যে জুলাই হত্যা মামলার বিচার শেষ হবে: চিফ প্রসিকিউটর

    এক বছরের মধ্যে জুলাই হত্যা মামলার বিচার শেষ হবে: চিফ প্রসিকিউটর

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলাগুলোর বিচার আগামী এক বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। বিচারপ্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে এবং কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করা হবে না বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেনমঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এখন পর্যন্ত ছয়টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। আরও দ্রুত বিচার শেষ করা সম্ভব হলেও এতে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

    তিনি জানান, বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ২০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলা আগামী এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য প্রসিকিউশন কাজ করছে। পাশাপাশি আপিল শুনানির প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

    শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তিনি কোথায় বক্তব্য দিচ্ছেন বা দিচ্ছেন না, সেটি ট্রাইব্যুনালের মূল বিষয় নয়। আদালতের রায় কার্যকর করতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়াই ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব। তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলে রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব হতে পারে।

    বাছাই করে আসামি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে তদন্ত করেন এবং প্রসিকিউশন তদন্তে কোনো হস্তক্ষেপ করে না। তদন্তে কোনো ঘাটতি বা অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তা পুনঃতদন্তের জন্য ফেরত পাঠানো হয়।

    চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, সারা দেশে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ৫০৯টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে যেসব মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলাগুলোর বিচার আগামী এক বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। বিচারপ্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে এবং কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করা হবে না বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এখন পর্যন্ত ছয়টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। আরও দ্রুত বিচার শেষ করা সম্ভব হলেও এতে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

    তিনি জানান, বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ২০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলা আগামী এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য প্রসিকিউশন কাজ করছে। পাশাপাশি আপিল শুনানির প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

    শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তিনি কোথায় বক্তব্য দিচ্ছেন বা দিচ্ছেন না, সেটি ট্রাইব্যুনালের মূল বিষয় নয়। আদালতের রায় কার্যকর করতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়াই ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব। তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলে রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব হতে পারে।

    বাছাই করে আসামি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে তদন্ত করেন এবং প্রসিকিউশন তদন্তে কোনো হস্তক্ষেপ করে না। তদন্তে কোনো ঘাটতি বা অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তা পুনঃতদন্তের জন্য ফেরত পাঠানো হয়।

    চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, সারা দেশে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ৫০৯টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে যেসব মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।

  • স্কুলের সামনে ৩০ সেকেন্ডে ৩৪ ছুরিকাঘাত, শিক্ষিকা নিহত

    স্কুলের সামনে ৩০ সেকেন্ডে ৩৪ ছুরিকাঘাত, শিক্ষিকা নিহত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের ফরিদাবাদে এক শিক্ষিকাকে প্রকাশ্যে ৩৪ বার ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মাত্র ৩০ সেকেন্ডের এই হামলার ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ফরিদাবাদের একটি বেসরকারি স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত শিক্ষিকাকে দ্রুত আল ফালাহ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।

    নিহত শিক্ষিকার নাম সন্ধ্যা (২৯)। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত অমিতকে (২১) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, চিৎকার শুনে বাইরে এসে তারা দেখতে পান, মুখোশধারী এক যুবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিক্ষিকার ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালাচ্ছে।

    ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত স্কুলে প্রবেশ করে শিক্ষিকাকে বাইরে আসার ইঙ্গিত দেয়। তিনি বাইরে আসার পর হামলাকারী তার গলা চেপে ধরে টেনে নিয়ে মুখ, ঘাড়, বুক ও পেটে একের পর এক ছুরিকাঘাত করেন। এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা ঠেকাতে এগিয়ে এলে তাকেও ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান হামলাকারী।

    পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কোট গ্রামের বাসিন্দা অমিত দীর্ঘদিন ধরে সন্ধ্যাকে উত্ত্যক্ত করছিলেন। কয়েকদিন আগে শিক্ষিকার দায়ের করা ইভটিজিংয়ের অভিযোগের পর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেও তিনি প্রতিশোধের পরিকল্পনা করছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে অমিত ওই হত্যাকাণ্ড প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ঘটানোর কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। হত্যার কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এল ৩৫ হাজার কোটি টাকা

    জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এল ৩৫ হাজার কোটি টাকা

    চলতি অর্থবছরের গত জুলাই মাসে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ২৮৬ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৫ হাজার ২১০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ১১ পয়সা ধরে)। এক বছরের ব্যবধানে এই প্রবাহ বেড়েছে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ।আজ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২৮৫ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের ২৪৭ দশমিক ৮০ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। এর আগে বিদায়ী অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৮২ মিলিয়ন ডলার।

    সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বৈধ পথে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৯ মিলিয়ন ডলার, যা এর আগের অর্থবছরের ৩ হাজার ৩২ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলারের চেয়ে ৫২৬ মিলিয়ন ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির পেছনে হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগ, প্রবাসীদের জন্য নগদ প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা বৃদ্ধি এবং বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর সম্প্রসারিত সুযোগকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

  • বায়ুদূষণে ক্ষয়, হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় সম্রাট হুমায়ুনের সমাধিসৌধ

    বায়ুদূষণে ক্ষয়, হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় সম্রাট হুমায়ুনের সমাধিসৌধ

    চারশত পঞ্চান্ন বছরের এক ধ্রুপদী মহাকাব্য, যে প্রেমের স্থাপত্য রচনা করা করেছিলেন এক প্রেমময়ী সম্রাজ্ঞী। তবে সেই অমর কীর্তি কি আজ ইতিহাসের পাতা ছেড়ে মিশে যাচ্ছে দিল্লির বিষাক্ত বাতাসে? বলছি মোগল সম্রাট হুমায়ুনের ঐতিহাসিক সমাধিসৌধের কথা।

    তাজমহল যদি হয় স্ত্রীর প্রতি স্বামীর ভালোবাসার অমর নিশান, তবে দিল্লিতে দাঁড়িয়ে থাকা এই সমাধিসৌধটি হলো স্বামীর প্রতি স্ত্রীর এক গভীর অনুরাগের চিহ্ন। সম্রাজ্ঞী বেগা বেগম সাড়ে চারশত বছর আগে লাল বেলেপাথর আর শুভ্র মার্বেল পাথরে ফুটিয়ে তুলেছিলেন ভারত উপমহাদেশের প্রথম বিশাল বাগান-সমাধিসৌধ। অথচ কালের পরিক্রমায় সেই ঐতিহাসিক বিস্ময় আজ নিভৃত কান্নায় বুক ভাসাচ্ছে। দিল্লির বাতাস এখন আর নিছক বাতাস নেই, তা যেন রূপ নিয়েছে এক অদৃশ্য এসিডে।

    আইআইটি-রুরকি এবং আইআইটি-কানপুরের সাম্প্রতিক এক যৌথ গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে এক নির্মম সত্য। দূষণের বিষাক্ত থাবায় ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যাচ্ছে বিশ্ব ঐতিহ্যের এই অমূল্য নিদর্শন। গবেষণার তথ্য বলছে, বাতাসে ভেসে থাকা সালফার ডাই-অক্সাইড, ধূলিকণা আর আর্দ্রতার সাথে বিষাক্ত রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে তৈরি করছে জিপসাম। আর সেই জিপসামের সাথে যানবাহনের কালো ধোঁয়া, ইটভাটার কালি আর ধাতব কণা মিলে এই লাল পাথরের ওপর তৈরি করেছে এক ভয়ংকর কুচকুচে কালো আস্তরণ।

    যে অংশগুলো বৃষ্টির সরাসরি স্পর্শ পায় না, সেখানে এই বিষাক্ত আস্তরণ জমেছে সবচেয়ে পুরু হয়ে। এটি কেবল বাহ্যিক কোনো দাগ নয়; এই ডাইনি আস্তরণ ভেতর থেকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দিচ্ছে চার শতকের প্রাচীন বেলেপাথরকে, যা স্মৃতিস্তম্ভটিকে ঠেলে দিচ্ছে চিরতরে মুছে যাওয়ার মুখে।

    তাজমহলকে বাঁচাতে আগ্রায় ইঞ্জিনচালিত গাড়ি চলাচলে কত বিধিনিষেধ, কত শত কঠোর প্রহর! অথচ যার অলঙ্করণ আর জ্যামিতিক নকশাকে অনুকরণ করে তৈরি হয়েছিল পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্য তাজমহল, সেই হুমায়ুনের সমাধিসৌধ ক্ষয়ের পথে দিল্লির বিষাক্ত ধোঁয়াশার রাজত্বে। পরিবেশবান্ধব পরিবহন আর সময়মতো বৈজ্ঞানিক সংরক্ষণের ছোঁয়া না পেলে, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে টিকে থাকা এই ভালোবাসার স্মৃতি হয়তো অকালেই হারিয়ে যাবে ইতিহাসের নিকষ কালো অন্ধকারে।

    সূত্র: এনডিটিভি