আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • অর্থপাচারে জড়িত আরো ৪২ ঋণখেলাপি গ্রুপ

    অর্থপাচারে জড়িত আরো ৪২ ঋণখেলাপি গ্রুপ

    ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বিদেশে অর্থপাচার করেছে, এমন ৪২টি ঋণখেলাপি গ্রুপকে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারটির প্রায় ২২ কোটি ডলার পাচারের তথ্য শনাক্ত করা গেছে। পাচার করা অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো। ইতোমধ্যে বিদেশে থাকা সম্পদ চিহ্নিত ও জব্দ করার জন্য আটটি আন্তর্জাতিক আইনি ও পেশাদার পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

    জানা গেছে, ৪২টি গ্রুপের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৫৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার বা প্রায় ২.৫৫ বিলিয়ন ডলার। ডলারপ্রতি ১২৩ টাকা ৮০ পয়সা হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৩১ হাজার ৫৫৭ কোটি টাকা।

    ৪২টি গ্রুপের মধ্যে অন্যতম হলো—এসবি এক্সিম গ্রুপ, হাবিব গ্রুপ, ইয়াসীর গ্রুপ, এডব্লিউআর গ্রুপ, লিবার্টি গ্রুপ, প্রিমিয়ার গ্রুপ, লস্কর গ্রুপ ও সাদ মুসা গ্রুপ। এরমধ্যে এসবি এক্সিমের দুই কোটি ৬৮ লাখ ডলার, হাবিব গ্রুপের ১৩ কোটি ৪১ লাখ ডলার, ইয়াসীর গ্রুপের প্রায় চার কোটি ডলার এবং এডব্লিউআর গ্রুপের প্রায় দুই কোটি ডলার পাচারের তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে। চার প্রতিষ্ঠানের মোট পাচার করা অর্থের পরিমাণ প্রায় ২২ কোটি ১৯ লাখ ডলার।

    এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার শীর্ষ ১১টি গ্রুপের ব্যাংক লুট, অর্থপাচার, কর ফাঁকি ও অন্যান্য অনিয়ম-জালিয়াতি খুঁজে বের করতে যৌথ তদন্তদল গঠন করে। পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার এবং আলোচিত ১০টি শিল্প গ্রুপের দেশ-বিদেশে থাকা মোট ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এসব শিল্প গ্রুপ হলো—এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ, সামিট গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, প্রিমিয়ার গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ এবং আরামিট গ্রুপ।

    দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) যৌথ তদন্তের ভিত্তিতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিদেশি সম্পদ উদ্ধারে গ্র্যান্ট থর্নটন, বেকার ম্যাকেঞ্জি, পিডব্লিউসি ও ডেলয়েটের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সহায়তা করছে।

    দ্বিতীয় দফায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) ডেটাবেজের তথ্যানুযায়ী, ২০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে, এমন ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিদেশে পাচার করা সম্পদ খুঁজে বের করতে আটটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে—গ্র্যান্ট থর্নটন, আরআই কনসোর্টিয়াম, বেকার ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড পিডব্লিউসি, ডিএলএ পাইপার অ্যান্ড ক্রল, ইওয়াই অ্যান্ড ডেন্টনস, রহমান রাভেল্লি অ্যান্ড ইন্টারপাথ, বিসিজি অ্যান্ড এইচএইচআর এবং অ্যানিমাস অ্যাসোসিয়েটস।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্যাংকগুলোর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশে থাকা ঋণখেলাপিদের সম্পদের অবস্থান, ধরন ও পরিমাণ শনাক্ত করছে এসব প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্ট দেশের আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে সম্পদ উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

    জানা গেছে, বিদেশি আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো অগ্রিম ফি বা খরচ নেবে না। তারা বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত ও উদ্ধার করতে পারলে উদ্ধার করা অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে পাবে। অর্থাৎ ‘নো উইন, নো পে’ ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, সিঙ্গাপুর, বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড, হংকং, চীন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ায় এই ৪২টি প্রতিষ্ঠানের অর্থপাচারের প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এসব দেশ থেকে পাচারের অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

    জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তা বলেন, বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগে আগে থেকে ১১টি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে কাজ করছিল বিএফআইইউ। এখন এর সঙ্গে আরো ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিদেশে অর্থপাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

    তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলো ঋণখেলাপি এবং তারা ঋণ পরিশোধ করছে না। তাই তাদের অর্থের একটি অংশ বিদেশে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এজন্য বিদেশে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক বা অর্থের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধান করতে বিদেশি সংস্থাগুলোকে বলা হয়েছে। বিদেশে অর্থের সন্ধান পাওয়া গেলে তা ফ্রিজ করে দেশে ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    বিষয়টির অগ্রগতি নিয়ে গতকাল রোববার বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে ৩৮টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গভর্নর পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম আরো জোরদারের তাগিদ দেন।

    বৈঠক শেষে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে চলে গেছে। এ অর্থ ফেরত আনতে ব্যাংকগুলো কাজ করছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

    তিনি বলেন, পাচার হওয়া কত অর্থ ফেরত আনা যাবে, সেটি পরের বিষয়। তবে যারা অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত, তারা যেন শাস্তি পায়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। এজন্য বিদেশে তাদের থাকা অর্থ ফ্রিজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে এ কাজে বিদেশি আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক তদন্তকারী ও আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশে থাকা সম্পদের অবস্থান, ধরন ও আর্থিক পরিমাণ শনাক্তের কাজ করছে। সম্পদ চিহ্নিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশের আইনানুযায়ী আইনি প্রক্রিয়ায় প্রথমে তা ফ্রিজ বা জব্দ করার ব্যবস্থা করা হবে। পরে আদালতের নির্দেশে সেসব সম্পদ বিক্রি বা নিষ্পত্তির মাধ্যমে পাওয়া অর্থ বাংলাদেশে ফেরত আনার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

    তিনি বলেন, এ উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন পাচার করা জাতীয় সম্পদ উদ্ধারের সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর দীর্ঘদিনের অনাদায়ী বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণও আদায় করা সম্ভব হবে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুত কমে যাওয়া উদ্বেগ

    যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুত কমে যাওয়া উদ্বেগ

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন দেশটির অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত অস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধি করার আহ্বান জানিয়েছে। কারণ, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে অস্ত্রের মজুত কমে গেছে।

    পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল গত শনিবার এক বিবৃতিতে বলেন, সামরিক বাহিনীর জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় অস্ত্র সরবরাহ করতে প্রতিরক্ষা দপ্তর অস্ত্র ক্রয় বৃদ্ধির তাগিদ দিচ্ছে। এ প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য গত এক সপ্তাহে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    তবে শন পারনেল বলেন, শুধু ইরানের সঙ্গে চলমান পাঁচ মাসের যুদ্ধের কারণেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এর আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডার আধুনিকায়নের একটি বড় উদ্যোগ চলমান ছিল।

    যুক্তরাষ্ট্রের উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিভ ফেইনবার্গ গত বুধবার অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের কাছে একটি চিঠি পাঠান। এতে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম দ্রুত সরবরাহ এবং উৎপাদন বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা জানাতে তাদের সর্বোচ্চ ২১ দিন সময় দেওয়া হয়। ওয়াশিংটন পোস্ট চিঠিটির একটি অনুলিপি পেয়েছে।

    ফেইনবার্গ চিঠিতে লেখেন, বছরের পর বছর ধরে অস্ত্র তৈরির প্রক্রিয়া চালানো আর গ্রহণযোগ্য নয়। এখন থেকে অনেক দ্রুত উৎপাদন করতে হবে এবং উৎপাদনের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করতে হবে।

    আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র–প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুত কমে আসছিল। সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের কারণে সেই মজুতে আরও টান পড়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক—দুই ধরনের অস্ত্রের ঘাটতি তৈরি হলে মার্কিন সেনারা নিরাপত্তাঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

    ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মজুত কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির মিত্ররা এসব প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহারে আরও সতর্ক হতে পারে। যেমন ইরানের ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে মার্কিন বাহিনী কম প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে। এতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন মার্কিন প্রতিরক্ষা ভেদ করে ঢুকে পড়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে।

    অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বৃহস্পতিবার তিনি আবারও দাবি করেন, পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধে অস্ত্রের মজুত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো কৌশলগত সমস্যায় পড়েনি।

    ট্রাম্প নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র আছে, বিশেষ করে কিছু নির্দিষ্ট ধরনের অস্ত্রের মজুত অনেক বেশি। প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্রের বড় চালান তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, প্রতিরক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র তৈরির কারখানা নির্মাণ করছে।

    শনিবার পেন্টাগনের মুখপাত্র পারনেল বলেন, দ্রুত অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়ে ফেইনবার্গের চিঠি পাঠানোর খবরটি সত্য। এই নির্দেশনা ২০২৮ অর্থবছরের বাজেট তৈরিতে কাজে লাগবে, যা অর্থ বরাদ্দের জন্য কংগ্রেসে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষাশিল্পের সক্ষমতা পুনর্গঠনের চলমান উদ্যোগের সঙ্গেও এটি পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    এদিকে মার্কিন কংগ্রেসে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের একটি বিল আটকে আছে। ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সামরিক অভিযান নিয়ে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে পেন্টাগনের বাজেট গত বছরের প্রায় ৯০ হাজার কোটি ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার (১ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার) করার জন্য হোয়াইট হাউস যে অনুরোধ জানিয়েছে, তা নিয়েও তাঁরা আপত্তি করছেন।

    বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, নতুন করে বিপুল অর্থ বরাদ্দ হলেও যুদ্ধের আগের অবস্থায় প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মজুত পরিপূর্ণ করতে অন্তত তিন বছর সময় লাগতে পারে।

    সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ছিল ২ হাজার ৩৩০টি। এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সময় তা কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩০টিতে। সাম্প্রতিক লড়াইয়ের পর মজুত আরও কমে এখন ৭৫৯ থেকে ৮২৭টিতে ঠেকেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় মজুত কমেছে অন্তত ৬৫ শতাংশ।

    থাড প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও কমেছে। যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছিল ৪৫২টি। এপ্রিলে যুদ্ধবিরতির শুরুতে তা কমে ২৩২ থেকে ২৬২টির মধ্যে দাঁড়ায়। পরে আবার মজুতে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র যোগ হওয়ায় এ সংখ্যা ২৩৪ থেকে ২৭৮টিতে দাঁড়িয়েছে। তারপরও যুদ্ধের আগের তুলনায় মজুত অন্তত ৩৮ শতাংশ কম

    চলতি মাসের শুরুতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রাংশের উৎপাদন বাড়াতে প্রতিরক্ষা খাতের বড় দুই প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন ও নর্থরপ গ্রুম্যানের সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।

    সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশ্লেষকদের একজন এবং সাবেক মার্কিন মেরিন কর্মকর্তা মার্ক ক্যানসিয়ান বুধবার আল–জাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এসব ক্ষেপণাস্ত্র খুব বেশি নেই এবং এর ভালো বিকল্পও নেই। প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র শেষ হয়ে গেলে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র সহজেই মার্কিন প্রতিরক্ষা ভেদ করে ঢুকে পড়বে।

  • আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের জন্মদিন আজ

    আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের জন্মদিন আজ

    বাবা-মায়ের আদরের ‘লাল মিয়া’ই এস এম সুলতান

    নড়াইল প্রতিনিধি

    আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০৩তম জন্মদিন আজ। ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন এসএম সুলতান। বাবা মেছের আলী পেশায় ছিলেন রাজমিস্ত্রী। দরিদ্র সংসারে জীবনযুদ্ধ করে বড় হয়েছেন সুলতান। বাবা-মা তাকে আদর করে ডাকতেন ‘লাল মিয়া’ নামে।

    অসুস্থ অবস্থায় ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ‘মাটি ও মানুষের চিত্রশিল্পী’ এসএম সুলতানকে জন্মভূমি নড়াইল শহরের কুড়িগ্রাম এলাকায় সংগ্রহশালা চত্বরে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

    চিত্রশিল্পের মূল্যায়ন হিসেবে এস এম সুলতান ১৯৮২ সালে পেয়েছেন একুশে পদক, ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদক, ১৯৮৪ সালে রেসিডেন্ট আর্টিস্ট স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননাসহ ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ সম্মাননাসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

    চিত্রা নদীর পাড়ের ‘লাল মিয়া’র রঙ তুলিতে দারিদ্র-ক্লিষ্ট ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো ভিন্ন রকম মর্যাদা পেয়েছেন। শ্রমজীবী মানুষগুলোকে এঁকেছেন পেশিবহুল করে। শক্তিশালী ও দৃঢ় মনোবলের অধিকারী হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছেন তারা।

    আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান ছবি আঁকার পাশাপাশি বাঁশি বাজাতে পটু ছিলেন। পুষতেন বিষধর সাপ, বেজি, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণি।

    বরেণ্য এই শিল্পীর মৃত্যুর পর তার বাসভবন ঘিরে গড়ে উঠেছে সুলতান স্মৃতিসংগ্রহশালা, শিশুস্বর্গ, আর্ট কলেজসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড। সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার হরেক রকম ফুলসহ প্রকৃতিঘেরা পরিবেশ সুলতানপ্রেমীদের মুগ্ধ করে সব সময়। এছাড়া শান্ত-স্বচ্ছ প্রকৃতিঘেরা চিত্রা নদীর পাড়ে সুলতানের ভ্রাম্যমাণ শিশুস্বর্গ তথা দ্বিতলা নৌকাটি দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে।

    এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জি জানান, বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০৩তম জন্মদিন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনে নড়াইলে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-কোরআন খতম, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন উৎসব, সুলতানের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি, আর্টক্যাম্প ও শিশু-কিশোরদের চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন, আলোচনা সভা এবং চিত্রশিল্পী অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তারকে ‘এস এম সুলতান সম্মাননা পদক’ প্রদানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপি। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগ অনুষ্ঠানের এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

    এদিকে, সুলতান সংগ্রহশালার উন্নয়নসহ এলাকাটি পর্যটনবান্ধব করতে বিভিন্ন কাজের প্রস্তাবনা জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছেন সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার এই কর্মকর্তা।

  • বিবিসির চোখে ইরান যুদ্ধ

    বিবিসির চোখে ইরান যুদ্ধ

    খননযন্ত্রটি হঠাৎ থেমে যায়। এক শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে কিছু একটা বের করে আনেন। সেটি প্যাঁচানো ধাতু বা ভাঙা কংক্রিট নয়। একটি শিশুর খাতা। পাতাগুলো এখনো অক্ষত, পরিপাটি হাতের লেখায় ভরা। প্রচ্ছদে একটি নাম লেখা—মাহিয়া সালারি। তার বয়স ছিল আট বছর।

    ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পাঁচ মাস পরও খননযন্ত্র দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো এক শিশুর মরদেহ চাপা পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তার মরদেহের সন্ধানে শ্রমিকেরা তল্লাশি চালাচ্ছেন।

    শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে আমাইনে নাদেমির সঙ্গে কথা বলছেন বিবিসির জ্যেষ্ঠ অনুসন্ধানী প্রতিবেদক নওয়াল আল-মাগাফি।

    মিনাবের প্রসিকিউটর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় এখানে ১৫৬ জন নিহত হন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১২০ জনই শিশু।

    শহরজুড়ে দেয়াল, দোকানের শাটার আর রাস্তার ধারের বিলবোর্ডে টাঙানো রয়েছে মৃত মানুষের ছবি। ফলে মিনাব শহরটি যুদ্ধের কারণে সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগ ও কষ্টের অন্যতম প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানিদের ‘নিজেদের ভাগ্যের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু তা ঘটেনি; বরং এই সংঘাত ইরানকে এমনভাবে বদলে দিয়েছে, যা খুব কম মানুষ প্রত্যাশা করেছিলেন। দেশটির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ভ্রমণ করলে যুদ্ধের প্রভাব ইরানের মানুষের জীবনে কতটা পড়েছে, তা স্পষ্ট ধরা পড়ে।

    শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আমাইনে নাদেমির সঙ্গে কথা বলছেন নওয়াল আল-মাগাফি। তাঁদের পেছনে বিদ্যালয়টির ধ্বংসাবশেষ দেখা যাচ্ছেছবি

    তেহরান থেকে বন্দর আব্বাসগামী রাতের ট্রেনটি প্রায় ৯০০ মাইল (১ হাজার ৪৪৮ কিলোমিটার) পথ পাড়ি দিয়ে সেখানে পৌঁছায়। এটি ইরানের রাজনৈতিক কেন্দ্রকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ উপকূল ও হরমুজ প্রণালির সঙ্গে যুক্ত করেছে। ট্রেনটি পাহাড়, মরুভূমি এবং নাতাঞ্জ ও ফোর্দোর পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পেরিয়ে উপসাগরের দিকে যায়।

    ট্রেনে রয়েছেন শিক্ষার্থী, ফুটবলার, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পরিবার। ইরানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এসব মানুষের প্রত্যেকের কাছে যুদ্ধের অর্থের নিজস্ব একটি গল্প রয়েছে।

    চলতি বছরের শুরুতে ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। অনেক বছর ধরে চলা কঠোর নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক সংকট, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি এবং ইরানের নেতৃত্বের প্রতি ক্রমবর্ধমান হতাশা থেকে এ বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল।

    বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক দমন–পীড়ন চালানো হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, এতে কয়েক হাজার মানুষ নিহত ও আরও অনেকে নিখোঁজ হয়েছেন। তবে মোট হতাহতের সংখ্যা কত, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

    এরপর শুরু হয় যুদ্ধ। যুদ্ধের প্রথম কয়েকটি দিন ভীতিকর ছিল জানিয়ে আইনজীবী আজাদেহ বলেন, ‘মানিয়ে নেওয়া প্রত্যেক ইরানির স্বভাবের মধ্যে রয়েছে। আমরা আমাদের জীবন চালিয়ে যাওয়ার, দৈনন্দিন রুটিন বজায় রাখার এবং আশাবাদী থাকার চেষ্টা করেছি।’

    সেপিদেহ (বাঁয়ে) ও আজাদেহ

    বিক্ষোভ ও যুদ্ধের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসতে পারে বলে যাঁরা বিশ্বাস করতেন, তাঁদের বিষয়ে আজাদেহের মতামত জানতে চাইলে তিনি কিছুক্ষণ চুপ থাকেন। এরপর জবাব দিতে শান্তভাবে অস্বীকৃতি জানিয়ে আলাপ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন তিনি।

    ট্রেনের স্লিপার কামরার ভেতরে দ্রুত প্রসঙ্গ পরিবর্তন হয়। পরিবার, কাজকর্ম ও দৈনন্দিন জীবনের নানা বিষয় ঘুরেফিরে আসতে থাকে। তবে রাজনীতির প্রসঙ্গ এলে পরিস্থিতি বদলে যায়। ইরানে প্রকাশ্যে রাজনীতি নিয়ে কথা বলা যে ঝুঁকিপূর্ণ, তা এতে স্পষ্ট।

    আজাদেহের সফরসঙ্গী রূপচর্চাবিশেষজ্ঞ সেপিদেহ অবশ্য কথা বলতে বেশ আগ্রহী। তিনি বলেন, ‘আমি ইরানকে ভালোবাসি। ভীষণ ভালোবাসি। কিন্তু যখন দেখি আমার তারুণ্য ফুরিয়ে যাচ্ছে এবং আমার স্বপ্নগুলো হারিয়ে যাচ্ছে, তখন (দেশ ছেড়ে) চলে যাওয়া ছাড়া আমার আর কোনো উপায় থাকে না।’

    ট্রেনের আরও সামনের দিকে একটি কামরায় বসেছেন দুই তরুণ ফুটবলার। তাঁরা বাড়ি ফিরছিলেন। কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর ঘরোয়া লিগ আবার শুরু হয়েছে। কথা হলো তাঁদের সঙ্গে।

    যুদ্ধের সবচেয়ে বেশি কী মনে আছে, জানতে চাইলে ফুটবলার আবদুল্লাহ বলেন, ‘তারা (যুক্তরাষ্ট্র) শিশুভর্তি একটি স্কুলে হামলা করেছিল…তাদের বয়স ছিল ৭, ৮ ও ৯ বছর। পুরো দেশ শোকে ভেঙে পড়েছিল। জানাজার দিন…সবাই কেঁদেছিল।’

    বন্দর আব্বাস থেকে একটি রাস্তা দুই ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে ভেতরের দিকে মিনাব শহর অভিমুখে চলে গেছে। শহরটি খেজুরগাছ ও বৃহস্পতিবারের জমজমাট বাজারের জন্য পরিচিত। তবে বর্তমানে এখানকার প্রায় প্রতিটি গলি বা রাস্তায় যুদ্ধের প্রভাব স্পষ্ট।

    স্কুলে হামলায় নিহত শিশুদের ছবি এখানকার ভবন ও সড়কের বাতির খুঁটিতে টাঙানো হয়েছে। শহরের প্রান্তে শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এখন ধ্বংসাবশেষ ছাড়া কিছু নয়। কংক্রিটের মেঝেগুলো একটির ওপর আরেকটি ধসে পড়েছে। বিধ্বস্ত শ্রেণিকক্ষ থেকে বাঁকা রড বেরিয়ে আছে। সেখানে এখনো ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে পড়ে আছে মাহিয়া সালারির খাতাটি।

    মাহিয়া তার ছোট ভাই আলীর সঙ্গে স্কুলে ছিল। হামলার কিছুক্ষণ আগে মা তাদের নিয়ে যেতে স্কুলে এসেছিলেন। হামলায় তিনজনই নিহত হন।

    আমাইনে নাদেমি এই স্কুলে ছয় বছর ধরে প্রথম শ্রেণিতে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটিকে আর স্কুল বলা যায় না। এখানে শুধু দেয়ালগুলো দাঁড়িয়ে আছে, যেগুলো থেকে মৃত্যু, শোক আর রক্তের গন্ধ ভেসে আসে।’

    হামলার পর শিক্ষার্থীদের বাবা–মায়েদের খালি পায়ে ভবনটির দিকে ছুটে আসার কথা স্মরণ করে নাদেমি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, সবাই বেরিয়ে গেছে। আমি জানতাম না, তারা সবাই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে।’

    সংলগ্ন একটি সামরিক স্থাপনায় হামলার সময় স্কুলটিতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছিল। কিন্তু এ বিষয়ে পেন্টাগন এখনো স্পষ্ট করে কিছু বলেনি।

    ওই দিন সকালের ঘটনা এখনো চোখে ভাসে উল্লেখ করে রেড ক্রিসেন্টের উদ্ধারকর্মী রেজা বেসারাতি বলেন, ‘আমি এখনো সবকিছু মনে করতে পারি।’

    যেসব ইরানি বাইরের চাপ সরকারকে দুর্বল করতে পারে বলে মনে করতেন, তাঁদের কারও কারও কাছে মিনাব একটি বাঁকবদলের জায়গা হয়ে উঠেছে।

    সরকারের বিরুদ্ধে একসময় রাস্তায় নেমেছিলেন, এমন এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমি যুদ্ধ মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু নিরপরাধ মানুষ হত্যার বিনিময়ে নয়। যুদ্ধ সবকিছু ধ্বংস করে দেয়। এটি ভালো মানুষ আর খারাপ মানুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না।’

    মিনাবের কবরস্থানে সারিবদ্ধ ছোট ছোট কবরের মাঝখান দিয়ে শিশুরা ছোটাছুটি করছে। আর পরিবারগুলো দুপুরের চড়া রোদ থেকে বাঁচতে সেখানে ছায়া খুঁজছে।

    মাসুমেহ মেহরান শেখাবাদি প্রায় প্রতিদিন এখানে আসেন। তাঁর ৯ বছর বয়সী মেয়ে সেতায়েশ ওই হামলায় নিহত হয়েছে।

    শেখাবাদি বলেন, ‘আমি যখন সেখানে পৌঁছাই, তখন শুধু ধোঁয়া আর শিশুদের চুলের গন্ধ। আমি একটি হাত দেখেছিলাম। একটি পা দেখেছিলাম। তাদের শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল।’

    ইরানের রাজধানী তেহরানের আজাদি স্কয়ারে একটি ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থার প্রদর্শনী।

    মিনাবের পশ্চিমে অবস্থিত বন্দর আব্বাস ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক বন্দর এবং হরমুজ প্রণালির মূল প্রবেশদ্বার। মিনাব যেমন এই যুদ্ধে ইরান সরকারের বয়ানের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে, তেমনি বন্দর আব্বাস এমন এক জায়গা, যেখান থেকে সরকার তার শক্তির প্রকাশ ঘটিয়ে থাকে।

    বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবহন করা মোট জ্বালানি তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই সামুদ্রিক করিডরের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ক্ষমতা দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

    বন্দর আব্বাসে ইরানের প্রচলিত নৌবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী—দুটিরই গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি রয়েছে। ফলে শহরটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক নিশানায় পরিণত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ এপ্রিলের মধ্যে এই শহর ও এর আশপাশে অন্তত ৯৬টি মার্কিন হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

    আমি যখন এই এলাকায় পৌঁছাই, তখন সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় জেলেরা নোঙর করে রাখা পণ্যবাহী জাহাজের আশপাশে কাজ করছেন। এসব জাহাজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। কয়েক মাস ধরে চলা অচলাবস্থার কারণে অনেকের রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে।

    তেহরানে ফিরে এসে দেখি, পরিস্থিতি একেবারে ভিন্ন। তখন যুদ্ধের মধ্যে সাময়িক বিরতি চলছিল। এই ফাঁকে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর চার মাস পর তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে লাখো মানুষ অংশ নেন। সরকারি হিসাবমতে, তা কয়েক মিলিয়ন।

    সড়কের দুই পাশে খামেনির ছবি টাঙানো হয়েছে। মাইকে বিপ্লবী সংগীত বাজছে। মানুষের মুখে মুখে ‘আমেরিকার মৃত্যু’ ও ‘ইসরায়েলের মৃত্যু’ স্লোগান ঘুরেফিরে আসছিল। এই জানাজা একই সঙ্গে শোক প্রকাশের মুহূর্ত এবং রাজনৈতিক ঐক্যের একটি সুচিন্তিত প্রদর্শনী।

    জীবনে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক মিছিলে অংশ নেওয়া সুরাইয়া বলেন, ‘আমি এমন অনেক মানুষকে চিনি, যাঁরা সরকারের বিরোধিতা করতেন।…আজ তাঁরা সরকারকে সমর্থন করছেন।’ সুরাইয়ার এই কথায় দেশটির বৃহত্তর জনমতের প্রতিফলন আছে কি না, তা জানা অসম্ভব। এর কয়েক দিন পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে পড়ে।

    যুদ্ধ নিয়ে ইরানজুড়ে একক কোনো ভাষ্য নেই। কেউ মনে করেন, এই যুদ্ধ জাতীয় ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করেছে। আবার কেউ বলেন, এতে মানুষের ওপর দমন-পীড়ন বেড়েছে। কিন্তু চলতি বছরের শুরুতে যে ক্ষোভ থেকে মানুষ রাস্তায় নেমেছিল, তার কোনো সমাধান হয়নি।

    মিনাবের একটি স্কুলের ধ্বংসাবশেষ থেকে হরমুজ প্রণালির ব্যস্ত নৌপথ হয়ে তেহরানের জনবহুল চত্বর—এই পুরো যাত্রা এমন একটি দেশের চিত্র তুলে ধরেছে, যা যুদ্ধের কারণে আমূল বদলে গেছে। যুদ্ধ এখনো চলছে। তাই এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত কী ধরনের উত্তরাধিকার রেখে যাবে, তা নির্ধারণের লড়াইও সমানতালে চলছে।

  • রাশিয়ার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য ধ্বংস করে দিতে চায় ইউক্রেন

    রাশিয়ার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য ধ্বংস করে দিতে চায় ইউক্রেন

    বিশ্বখ্যাত বহুজাতিক প্রযুক্তি ও ই-কমার্স মার্কিন প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের মতো রাশিয়ায় ওয়াইল্ডবেরিজ নামে একটি অনলাইন ব্যবসা গড়ে তুলেছেন তাতিয়ানা কিম। যুদ্ধের সময় দেশটির রাজনীতির সঙ্গেও বেশ ভালোভাবে তাল মিলিয়ে চলেছেন তিনি। তাঁর সাত সন্তানের বাবা সাবেক স্বামীর সঙ্গে তীব্র ব্যবসায়িক বিরোধেও শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছেন। সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে মস্কোর রেড স্কয়ারের কাছে প্রাণঘাতী গোলাগুলিও হয়েছিল।

    অনলাইন কেনাকাটার প্ল্যাটফর্ম ওয়াইল্ডবেরিজের সহপ্রতিষ্ঠাতা তাতিয়ানা কিম রাশিয়ার সবচেয়ে ধনী নারী। তবে যুদ্ধের কারণে এখন তাঁর পুরো ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য হুমকির মুখে পড়েছে। ইউক্রেন বিমান হামলা চালিয়ে তাঁর প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগুলো একের পর এক ধ্বংস করছে।

    রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোয় কয়েক মাস ধরে হামলা চালিয়ে দেশজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরির পর ইউক্রেন এবার ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামগুলোয় হামলা জোরালো করেছে। এখন পর্যন্ত রাশিয়াজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির অন্তত ২৩টি স্থাপনায় হামলা হয়েছে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে প্রায় প্রতি রাতেই এসব স্থাপনায় হামলা চালানো হচ্ছে। এতে কয়েক শ কোটি ডলারের পণ্য পুড়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানটির ৯ জন কর্মীও নিহত হয়েছেন।

    এসব হামলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কারণ, এবারই প্রথম ইউক্রেন কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ধারাবাহিকভাবে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার সাধারণ মানুষের কাছে যুদ্ধের প্রভাব পৌঁছে দিতে চাইছেন। তাঁর আশা, রুশ সমাজে অসন্তোষ ও ভোগান্তি বাড়লে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর যুদ্ধ বন্ধের চাপও বাড়বে।

    ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার মোট খুচরা পণ্য বিক্রির প্রায় ১০ শতাংশই ওয়াইল্ডবেরিজের মাধ্যমে হয়। রুশ সেনাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করায় প্রতিষ্ঠানটি হামলার বৈধ লক্ষ্য বলে মনে করে কিয়েভ।

    গত মাসের শেষ দিকে এক ভিডিও বার্তায় তাতিয়ানা কিম এসব হামলার নিন্দা জানান। তিনি এগুলোকে সন্ত্রাসী হামলা বলে আখ্যা দেন। তাঁর দাবি, ওয়াইল্ডবেরিজে যেসব পণ্য বিক্রি হয়, অ্যামাজন বা চীনের আলিবাবাতেও একই ধরনের পণ্য পাওয়া যায়।

    তাতিয়ানা কিম বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডে কোনো যুক্তি, সাধারণ বোধ বা বিবেচনা নেই, থাকতেও পারে না।’ তাঁর ভাষায়, শত্রুপক্ষ বিপুলসংখ্যক মানুষের মধ্যে চাপ সৃষ্টি, অস্থিতিশীলতা এবং আতঙ্ক তৈরি করতে চাইছে।

    হামলাগুলো ওয়াইল্ডবেরিজের পাশাপাশি রাশিয়ার খুচরা বাজারেও প্রভাব ফেলছে। অথচ এরই মধ্যে দেশটির অর্থনীতি নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে ইউক্রেনে রাশিয়ার চালানো ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের তুলনায় ওয়াইল্ডবেরিজে হামলার ক্ষয়ক্ষতি এখনো অনেক কম।

    রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রাশিয়ার বৃহৎ ব্যাংক সবারইনডেক্সের গবেষণা বিভাগ এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় ওয়াইল্ডবেরিজের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে খাদ্য নয়, এমন পণ্য কেনাকাটা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। এর পেছনে ইউক্রেনের বিমান হামলার প্রভাব রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    মস্কোভিত্তিক ই-কমার্স পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডেটা ইনসাইটের হিসাব অনুযায়ী, ইউক্রেনের হামলায় ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামগুলোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। একই সঙ্গে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি রুবেল বা ৫৯০ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য ধ্বংস হয়েছে।

    ডেটা ইনসাইটের বিশ্লেষক সের্গেই সেমকো বলেন, ‘ওয়াইল্ডবেরিজের সবচেয়ে বড় গুদামগুলো প্রায় শেষ হয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন একটি করে গুদাম পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে।’

    ইউক্রেনের হামলা কত দিন চলবে এবং তাতিয়ানা কিম কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠানের পণ্য সরবরাহব্যবস্থা বদলাতে পারবেন তার ওপর ওয়াইল্ডবেরিজের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে। রুশ সরকারের কাছ থেকে তিনি কতটা সহায়তা আদায় করতে পারেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

    রুশ পরিবারে জন্ম নেওয়া কোরীয় বংশোদ্ভূত তাতিয়ানা কিম ছিলেন ইংরেজির শিক্ষক। ২০০৪ সালে স্বামী ভ্লাদিস্লাভ বাকালচুককে সঙ্গে নিয়ে তিনি ওয়াইল্ডবেরিজ প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে ইউরোপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পোশাক বিক্রি করত প্রতিষ্ঠানটি।

    বছরের পর বছর ধরে ওয়াইল্ডবেরিজ রাশিয়ার ভোক্তা অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। দেশজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৯৫ হাজার পণ্য সংগ্রহ কেন্দ্র চালু হয়। রাশিয়ার অর্ধেকের বেশি মানুষ মাসে অন্তত একবার ওয়াইল্ডবেরিজ থেকে কেনাকাটা করতেন।

    ইউক্রেনে পুতিনের হামলার পর ওয়াইল্ডবেরিজের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। কারণ, যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা অনেক প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার বাজার থেকে সরে যায়।

    ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর সেন্ট পিটার্সবার্গের কাছে ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদাম। ইউক্রেন প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন স্থাপনায় ধারাবাহিকভাবে হামলা চালাচ্ছে

    ২০২৪ সালে তাতিয়ানা কিম একটি রুশ বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওয়াইল্ডবেরিজকে একীভূত করেন। ধারণা করা হয়, রুশ সরকারের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি হয়েছিল। কিমের স্বামী এই চুক্তিকে ‘করপোরেট দখল’ বলে অভিযোগ করেন।

    একপর্যায়ে সশস্ত্র চেচেনদের একটি দল নিয়ে মস্কোয় ওয়াইল্ডবেরিজের কার্যালয়ে হাজির হন কিমের স্বামী বাকালচুক। সেখানে গোলাগুলিতে দুজন নিহত ও সাতজন আহত হন। পরের বছর কিম ও বাকালচুকের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়।

    এত দিনে সেই সংকট কাটিয়ে উঠলেও নতুন করে আরও বড় সংকটের মুখে পড়েছে ৫০ বছর বয়সী কিমের ব্যবসা। ফলে দ্রুত ব্যবসার ধরন বদলানোর চেষ্টা করছেন তিনি।

    ভিডিও বার্তায় তাতিয়ানা কিম বলেন, ওয়াইল্ডবেরিজ পণ্য সরবরাহব্যবস্থা আরও ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং দ্রুত সরবরাহ অবকাঠামো নতুন করে সাজানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার এক অনলাইন পোস্টে তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন অঞ্চলের সরকার ও বিক্রেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকেও বড় ধরনের সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    ওয়াইল্ডবেরিজ এরই মধ্যে ৮০ হাজারের বেশি ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীর জন্য দুই দফায় স্বেচ্ছা আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। ড্রোন হামলায় পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিক্রেতারা যাতে ক্ষতিপূরণ পান, সে জন্য সীমিত পরিসরে বিমার ব্যবস্থাও চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

    রাশিয়ার উপঅর্থমন্ত্রী আলেক্সেই সাজানভ চলতি সপ্তাহে বলেন, ওয়াইল্ডবেরিজের বিক্রেতাদের জন্য সরকারও সহায়তার ব্যবস্থা করছে। এর মধ্যে কর ছাড় এবং নির্দিষ্ট কিছু অর্থ পরিশোধে অতিরিক্ত সময় দেওয়ার মতো সুবিধা থাকবে।

    বিক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও ওয়াইল্ডবেরিজের কর্মীদের মধ্যে এখন নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

    সেন্ট পিটার্সবার্গে ওয়াইল্ডবেরিজের ২৪ বছর বয়সী এক কর্মী নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাঁর এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির গুদামগুলোয় ইউক্রেনের ড্রোন হামলার সময় তিনি অনেক আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন।

    ওই কর্মী যে গুদামে কাজ করতেন সেখানে এবং তাঁর বাড়ির কাছে আরেকটি গুদামে হামলা হওয়ার পর তিনি চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অথচ কাজটি তিনি পছন্দ করতেন।

    ওয়াইল্ডবেরিজের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করা স্বাধীন ব্যবসায়ীরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

    ৪৪ বছর বয়সী কাটেরিনা কোরদিক এশিয়া থেকে তৈরি পোশাক ও অলংকার এনে বিক্রি করতেন। তাঁর ব্যবসা এতটাই ভালো চলছিল, পাঁচ সদস্যের পরিবারের খরচ চালানো সম্ভব হতো।

    গত মাসে মস্কোর কাছে ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামে ইউক্রেনের প্রথম হামলায় কাটেরিনার মজুত করা পণ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নষ্ট হয়ে যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে দামি ছিল হাতে তৈরি অলংকার।

    অন্য জায়গায় কাটেরিনার আরও অনেক পণ্য রাখা ছিল। কিন্তু একের পর এক ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামে হামলা হওয়ায় তিনি সেসব পণ্যও বের করে আনতে পারছিলেন না।

    চলতি সপ্তাহে মস্কোর দক্ষিণে তুলা শহরের একটি ওয়াইল্ডবেরিজ গুদামে হামলা হয়। এতে কাটেরিনার আরও অর্ধেক পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। কাটেরিনা বলেন, প্রায় ২ হাজার পণ্যের মধ্যে এখন মাত্র ১০০টি বিক্রির জন্য আছে। তিনি বলেন, এসব কারণে এত বেশি ভেঙে পড়েছেন, জীবনে প্রথমবারের মতো তাঁকে একজন মনোরোগ চিকিৎসকের সাহায্য নিতে হয়েছে।

    কাটেরিনা বলেন, ‘আপনি যদি এমন একটি দেশে বাস করেন, যেখানে যুদ্ধ চলছে, তবে কোনো একসময় সেই যুদ্ধ আপনার জীবনেও প্রভাব ফেলবে না—এমনটা আশা করাই অস্বাভাবিক।’ তিনি বলেন, তিনি এই পরিস্থিতিকে একটি শিক্ষা হিসেবে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

    তাতিয়ানা কিমকে এখন প্রতিযোগীদের চাপও সামলাতে হচ্ছে। ই-কমার্স খাতের পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, ওয়াইল্ডবেরিজের অনেক বিক্রেতা এখন রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অনলাইন কেনাকাটার প্ল্যাটফর্ম ওজনে চলে যাচ্ছেন। ওজনের পণ্য সরবরাহব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে বেশি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, ইউক্রেন এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিকে আলাদাভাবে লক্ষ্যবস্তু বানায়নি।

    তবে অনেক জায়গায় ওয়াইল্ডবেরিজ এখনো স্বাভাবিকভাবেই চলছে। প্রতিষ্ঠানটির পণ্য সরবরাহব্যবস্থা ও তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো এতটাই উন্নত, কয়েকটি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হলেই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যাবে না বলে মনে করেন ওয়াইল্ডবেরিজের সাবেক এক কর্মকর্তা।

    ইউক্রেন অভিযোগ করেছে, ওয়াইল্ডবেরিজ সামরিক কাজে ব্যবহার করা যায়—এমন বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করছে। এর মধ্যে ড্রোনের যন্ত্রাংশ ও নেভিগেশন সরঞ্জামও রয়েছে। তবে কিম এসব হামলাকে শান্তিপ্রিয় মানুষের ওপর হামলা বলে নিন্দা করেছেন।

    ওয়াইল্ডবেরিজের নিজস্ব নীতিমালাতেই স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি নিষিদ্ধ। তবে রুশ সেনাদের অনেক সমর্থক ও পরিবারের সদস্য এই ওয়েবসাইট থেকে বুলেটপ্রুফ পোশাক, হেলমেটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কিনেছেন বলে জানা যায়। যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়—এমন ড্রোন ও অন্যান্য পণ্যও সেখানে পাওয়া যায়।

    দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ক্যামেরার সরাসরি দৃশ্য দেখে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এমন ড্রোনও আগস্টের শুরুতেও ওয়াইল্ডবেরিজে বিক্রির জন্য ছিল। এসব ড্রোনের মধ্যে বিস্ফোরক বহনের ব্যবস্থা ছিল। ড্রোন নিয়ন্ত্রণে ব্যবহারের জন্য ফাইবার-অপটিক তারের রোলও বিক্রি হচ্ছিল।

    একটি বিজ্ঞাপনে বিস্ফোরক ফেলার ব্যবস্থা থাকা একটি ড্রোন বিক্রির কথা বলা হয়েছিল। বিজ্ঞাপনটির প্রশ্নোত্তর অংশে কয়েকজন ক্রেতা এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আবার কেউ কেউ বেশি পরিমাণে কিনলে ছাড় পাওয়া যাবে কি না, তা জানতে চান। তাঁদের কেউ কেউ কোন রুশ সামরিক ইউনিটের জন্য ড্রোন কিনতে চান, সেটিও উল্লেখ করেন।

    একজন ক্রেতা ইউক্রেনীয় সেনাদের বোঝাতে রাশিয়ায় ব্যবহৃত একটি অপমানজনক শব্দ ব্যবহার করে লেখেন, ‘ড্রোনটি ভালো, ইউক্রেনীয়দের ঘায়েল করা যাবে।’ তবে এসব ড্রোন সত্যিই কেউ কিনেছে বা পাঠানো হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি নিউইয়র্ক টাইমস।

    আরেক সম্ভাব্য ক্রেতা জানতে চান, ড্রোনটি রাশিয়ার তথাকথিত ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ বা ইউক্রেন যুদ্ধের কাজে ব্যবহার করা যাবে কি না। বিক্রেতার উত্তর ছিল, ‘হ্যালো, হ্যাঁ।’

  • সৌদি সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগ্নিকোন্ডে ১৬ বাংলাদেশি নিহত

    সৌদি সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগ্নিকোন্ডে ১৬ বাংলাদেশি নিহত

    সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহত সবাই বাংলাদেশি বলে জানিয়েছে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস।

    রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে ওই শিল্প এলাকায় কারখানাটিতে আগুন লাগে। ঘটনাস্থলে কর্মরত ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা ১৬ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) মোহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী জানান, স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী নিহত ১৬ জনই বাংলাদেশি। অগ্নিকাণ্ডে মরদেহগুলো পুড়ে যাওয়ায় তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে জটিলতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস এখনো উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

    রোববার (৯ আগস্ট) দিবাগত রাতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ও এ তথ্য নিশ্চিত করে।

    দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে স্থানীয় সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও পরবর্তী কার্যক্রম সমন্বয় করা হচ্ছে।

    এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এর আগে দেওয়া এক শোকবার্তায় তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

    মন্ত্রী বলেন, জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের এমন অকাল মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান অপরিসীম।

    তিনি জানান, বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি তাদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • প্রেমের টানে যশোরে তরুণীর বাড়িতে হাজির চীনা যুবক

    প্রেমের টানে যশোরে তরুণীর বাড়িতে হাজির চীনা যুবক

    অনলাইনে পরিচয় মাত্র তিন মাসের। শুরুতে কথাবার্তা সীমাবদ্ধ ছিল বন্ধুত্বের মধ্যেই। তবে সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক আরও গভীর হয়ে ওঠে। দূরত্ব, ভিন্ন সংস্কৃতি কিংবা ধর্ম কোনো কিছুই তাদের বন্ধুত্বে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। সেই বন্ধুত্বের টানেই চীন থেকে যশোরের মনিরামপুরের প্রত্যন্ত হুরগাতী গ্রামে ছুটে এসেছেন ৪২ বছর বয়সী ইউ লিয়াংলিয়াং।

    রোববার(৯ আগস্ট) সকালে ওই গ্রামে তার আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে বাড়িটিতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। অপরিচিত এক বিদেশি নাগরিককে দেখতে স্থানীয় অনেকেই বাড়ির আশপাশে জড়ো হন।

    ইউ লিয়াংলিয়াং পেশায় একজন জাহাজ নির্মাণ প্রকৌশলী। তার জন্ম চীনের শানডং প্রদেশে। পূর্ব উপকূলীয় এই প্রদেশটি পীত সাগর ও বোহাই সাগরের তীরে অবস্থিত। দুই ভাইয়ের মধ্যে ইউ লিয়াংলিয়াং বড়। তার বাবা ইউ সংউই এবং মা কিউই জুয়েজুয়ান। পাসপোর্টে থাকা তথ্য ও ভাষাগত অ্যাপের মাধ্যমে তার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

    জানা গেছে, ‘ওয়ার্ল্ড চ্যাট’ নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ওই তরুণীর সঙ্গে ইউ লিয়াংলিয়াংয়ের পরিচয় হয়। প্রায় তিন মাস ধরে তাদের মধ্যে যোগাযোগ চলছিল। একপর্যায়ে বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে।

    ২০ দিনের সফরে বাংলাদেশে এসে পরিচিত কেউ না থাকায় অনলাইনে পরিচিত ওই তরুণীর সঙ্গে দেখা করতে মনিরামপুরের হুরগাতী গ্রামে আসেন ইউ লিয়াংলিয়াং। লাইভ লোকেশন অনুসরণ করে তিনি ওই তরুণীর বাড়িতে পৌঁছান।

    ইউ লিয়াংলিয়াংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি শুধু বন্ধুত্বের টানেই ওই বাড়িতে আসেননি। পরিবারের সম্মতি পেলে ওই তরুণীকে বিয়ে করার ইচ্ছাও ছিল তার। তবে তরুণীর বয়স কম হওয়ায় তার সেই আশা পূরণ হয়নি।

    এদিকে হঠাৎ করে এক বিদেশি নাগরিক বাড়িতে চলে আসায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে তরুণীর পরিবার। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের নানা কৌতূহল ও আলোচনা নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

    তরুণীর মা বিউটি খাতুন ও দাদি আঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, অনলাইনে পরিচয়ের সূত্র ধরেই বন্ধুত্বের টানে ওই চীনা নাগরিক তাদের বাড়িতে এসেছেন। তবে তার আকস্মিক আগমনে তারা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন।

    ইউ লিয়াংলিয়াংয়ের আকস্মিক আগমনকে কেন্দ্র করে রোববার (৯আগস্ট) সকাল থেকেই হুরগাতী গ্রামের ওই বাড়িতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে কৌতূহল দেখা দেয়। বিদেশি নাগরিককে একনজর দেখতে অনেকেই সেখানে ভিড় করেন।

  • শার্শা ও বেনাপোলের বাজারে অর্ধেকে নেমেছে কাঁচা মরিচের দাম

    শার্শা ও বেনাপোলের বাজারে অর্ধেকে নেমেছে কাঁচা মরিচের দাম

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোলসহ বিভিন্ন বাজারে কাঁচা মরিচের দাম অর্ধেকে নেমেছে। পাঁচ দিন আগেও এসব বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৮০ টাকায়।

    সারাদেশে কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু করে। গত পাঁচ দিনে ভারত থেকে বেনাপোল দিয়ে ৮০ টন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে।

    সোমবার (৩ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রথম চালানে একটি ভারতীয় ট্রাকে নয় হাজার ২০০ কেজি (৯.২ টন), মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় দ্বিতীয় চালানে তিনটি ট্রাকে ৪২ হাজার ২২০ কেজি (৪২.২২ টন), বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় একটি ট্রাকে ১৪ হাজার কেজি (১৪ টন) এবং শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় একটি ট্রাকে ১৫ হাজর কেজি (১৫ টন) কাঁচা মরিচ বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে।

    এ নিয়ে গত পাঁচ দিনে ৮০.৪২ টন বা ৮০ হাজার ৪২০ কেজি কাঁচা মরিচ বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে।

    মরিচ আমদানিকারক রফিকুল ইসলাম জানান, ভারত থেকে ৩০৫ ডলারে প্রতি টন কাঁচা মরিচ আমদানি করা হচ্ছে। বাংলাদেশী টাকায় প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ আমদানিতে সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ১৩৫ টাকা। সামান্য লাভ রেখে আমরা বাজারে বিক্রি করছি। আমদানি বাড়লে বাজারে মরিচের দাম আরো কমে আসবে। তবে কাস্টমসের নানা জটিলতায় ও পণ্য ছাড়করণে জটিলতার কারণে রাজস্ব বেশি গুণতে হচ্ছে। এতে আমদানিকারকরা লোকসানের মুখে পড়ছেন এবং আমদানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা গেছে, সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ, বিশেষ করে নাসিক থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৬৯ জন ব্যবসায়ী মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) পেয়েছেন এবং সোমবার থেকেই আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

    এদিকে, বেনাপোল বন্দরের কাঁচাবাজারে পাঁচ দিন আগেও প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেলেও আজ রোববার সকাল থেকে দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৮০ টাকায়। বিক্রেতারা আশা করছেন আমদানি বাড়লে দাম কমে ১০০-এর নিচে নেমে আসবে।

    ভারত থেকে আমদানিকৃত কাঁচা মরিচের চালান বন্দরে ঢোকার সাথে সাথে তার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানোই দ্রুত দাম কমে আসছে। এ চালানের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হলো শিমু এন্টারপ্রাইজ এবং বন্দর থেকে খালাস কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে সি অ্যান্ড এফ অ্যাজেন্ট শিমু শিপিং লাইন্স।

    বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক পরিচালক (ট্রাফিক) রুহুল আমিন জানান, মরিচবাহী ট্রাক বন্দরে পৌঁছানোর সাথে সাথেই দ্রুত কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে খালাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সীমান্তের ওপারে আরো কাঁচা মরিচবাহী অনেকগুলো ট্রাক বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।

  • নেতৃত্ব দেওয়ার মুরোদ নেই, হুমকি-ধামকিতে ওস্তাদ ইসরাইল

    নেতৃত্ব দেওয়ার মুরোদ নেই, হুমকি-ধামকিতে ওস্তাদ ইসরাইল

    আঞ্চলিক রাজনীতিতে ইসরাইলের সামরিক আধিপত্য স্পষ্ট হলেও, সেই শক্তি প্রতিবেশীদের সম্মতি, আস্থা ও সহযোগিতায় রূপান্তর করতে পারছে না। বরং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক সমালোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্রনির্ভরতার কারণে দেশটির আঞ্চলিক আধিপত্যের ভিত্তি দুর্বল হচ্ছে।

    দার্শনিক আন্তোনিও গ্রামশির ধারণায় ‘ডমিনেশন’ বা আধিপত্য হলো শক্তি প্রয়োগ করে অন্যকে বাধ্য করার সক্ষমতা। বিপরীতে ‘হেজিমনি’ হলো এমন নেতৃত্ব, যা জনগণ ও রাষ্ট্রগুলোর সম্মতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় যেখানে কোনো শক্তিকে মেনে নেওয়া কেবল বাধ্যবাধকতা নয়, বরং স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়।

    এই পার্থক্যকে সামনে রেখে ইসরাইলের বর্তমান অবস্থান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সামরিক সক্ষমতায় দেশটি হয়তো সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে; কিন্তু সেই সামরিক সাফল্য আঞ্চলিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। বরং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও সংঘাত ইসরাইলের বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতার জায়গাটিকে আরো দুর্বল করেছে।

    সামরিক সাফল্য, কিন্তু নেতৃত্বের ঘাটতি

    ২০২৩ সাল থেকে চলমান যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় ইসরাইল হামাসের সামরিক অবকাঠামোর বড় অংশ ধ্বংস করেছে, হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যা করেছে এবং গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার কিছু এলাকায় সামরিক উপস্থিতি প্রতিষ্ঠা করেছে। একই সঙ্গে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচিতে বড় ধরনের আঘাত হানার পাশাপাশি দেশটির সর্বোচ্চ নেতাকেও হত্যা করেছে।

    কৌশলগত এসব সাফল্য ইসরাইলের সামরিক শক্তির ব্যাপকতা তুলে ধরলেও, এগুলো আঞ্চলিক ‘হেজিমনি’ প্রতিষ্ঠার প্রমাণ নয়। বরং এর বিপরীত চিত্রও দেখা যাচ্ছে—ইসরাইলের শক্তি মূলত বাধ্য করার সক্ষমতা হিসেবে কাজ করছে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে স্বেচ্ছায় তার নেতৃত্বের অধীনে সংগঠিত করার ক্ষমতা হিসেবে নয়।

    প্রযুক্তিতে সাফল্য, কিন্তু গভীর মার্কিন নির্ভরতা

    ইসরাইলের উচ্চপ্রযুক্তি খাত দেশটির অর্থনীতির প্রায় ১৭ শতাংশের সমান। গত বছরের প্রথম চার মাসে দেশটির মোট রপ্তানির ৫৭ শতাংশ পর্যন্ত এসেছে এই খাত থেকে। জিডিপির তুলনায় বেসামরিক গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) ব্যয়ের ক্ষেত্রেও ইসরাইল বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি।

    তবে কোনো খাতের আকার বড় হওয়া আর সেই খাতের মাধ্যমে বৈশ্বিক নিয়ম নির্ধারণ করা এক বিষয় নয়। ইসরাইল প্রযুক্তিতে অত্যন্ত দক্ষ হলেও বৃহত্তর বৈশ্বিক প্রযুক্তি ব্যবস্থার নিয়মকাঠামো মূলত অন্য শক্তিগুলোই নির্ধারণ করে।

    সাইবার নিরাপত্তা খাতে অবশ্য ইসরাইলের প্রভাব ব্যতিক্রমী। বিশ্বের শীর্ষ ১০ সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সাতটির গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র ইসরাইলে রয়েছে। ইসরাইলি ক্লাউড সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠান উইজকে গুগল ৩২ বিলিয়ন ডলারে অধিগ্রহণ করেছে। একইভাবে পালো অল্টো নেটওয়ার্কস ইসরাইলি তথ্য নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সাইবারআর্ককে ২৫ বিলিয়ন ডলারে কেনার ঘোষণা দিয়েছে।

    তবে এসব বড় চুক্তিই আবার ইসরাইলের প্রযুক্তিগত অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈপরীত্য সামনে আনে। দেশটির সবচেয়ে সফল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো শেষ পর্যন্ত বৃহত্তর মার্কিন প্রযুক্তি ও পুঁজিবাজার ব্যবস্থার অংশ হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ ইসরাইল সেই ব্যবস্থায় অসাধারণ দক্ষ একটি কেন্দ্র হলেও পুরো ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক নয়।

    শেকেল বৈশ্বিক রিজার্ভ মুদ্রা নয়, তেল আবিব স্টক এক্সচেঞ্জও নাসডাকের মতো মার্কিন বাজারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। একই সঙ্গে ১৯৪৮ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ইসরাইল ১৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা পেয়েছে।

    ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধও এই নির্ভরতার বিষয়টি সামনে এনেছে। যুদ্ধের সময় বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর প্রায় ৪০ দিন বন্ধ থাকলেও আর্থিক বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। এমনকি সক্রিয় আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যেই গুগল-উইজ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা তাই পুরোপুরি স্বনির্ভরতার প্রতিফলন নয়; বরং গভীর আন্তর্জাতিক সংযুক্তির ফল হিসেবেও দেখা যায়।

    সবচেয়ে বড় ঝুঁকি মানবসম্পদে

    ইসরাইলের প্রযুক্তি খাতের জন্য আরো বড় উদ্বেগ হয়ে উঠছে মানবসম্পদ। ২০২৫ সালে প্রায় ৯০ হাজার ইসরাইলি টানা তিন মাস বা তার বেশি সময়ের জন্য দেশ ছেড়ে বাইরে অবস্থান করেছেন বলে তথ্যটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইসরাইলি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্রমবর্ধমান হারে বিদেশে কর্মী নিয়োগ করছে।

    এ প্রবণতা শুরু হয় ২০২৩ সালের অভ্যন্তরীণ বিচারব্যবস্থা সংস্কারকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকটের সময়—গাজা যুদ্ধ শুরুর আগেই। ফলে দেশের সবচেয়ে দক্ষ ও উৎপাদনশীল পেশাজীবীদের একটি অংশের বিদেশমুখী হওয়ার বিষয়টি ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত শক্তির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    এ কারণে ইসরাইলকে একদিকে যেমন আর আগের মতো নিঃশর্ত ‘স্টার্টআপ নেশন’ বলা যাচ্ছে না, অন্যদিকে অর্থনৈতিক পতনের দিকেও দেশটি এগিয়ে যাচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যায় না। বরং দেশটি এমন একটি গভীরভাবে সংযুক্ত, কিন্তু তুলনামূলকভাবে নির্ভরশীল অর্থনীতিতে পরিণত হচ্ছে, যার বিশেষায়িত সক্ষমতার ভিত্তি ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

    সামরিক শক্তির সঙ্গে কমছে বৈধতা

    আঞ্চলিক নেতৃত্বের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো বৈধতা—অন্যরা আপনার শক্তিকে কেবল ভয় থেকে নয়, গ্রহণযোগ্য হিসেবেও মেনে নিচ্ছে কি না। ইসরাইলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বও পুরোপুরি নিজস্ব শক্তির ওপর দাঁড়িয়ে নেই। ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইসরাইলের প্রতিরক্ষায় মার্কিন বাহিনী শত শত ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে এবং পেন্টাগনের থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুদের প্রায় অর্ধেক পর্যন্ত কমে যায়। একই সময়ে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইসরাইলের নিজস্ব অ্যারো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রায় ৮০ শতাংশ মজুত ব্যবহৃত হয়েছে বলে তথ্যটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    অর্থাৎ ইসরাইল অত্যন্ত শক্তিশালী সামরিক প্রতিরোধক্ষমতা অর্জন করেছে, কিন্তু সেটি একটি ব্যয়বহুল মার্কিন নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতরে কাজ করছে। স্বনির্ভর ও অপ্রতিরোধ্য সামরিক শক্তি হিসেবে এর ধারণা তাই প্রশ্নের মুখে পড়ে।

    অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বৈধতার ক্ষেত্রেও ইসরাইলের অবস্থান চাপে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলা, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের তদন্ত—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক ও সমালোচনা বেড়েছে।

    এদিকে ১৫৭টি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে বলে তথ্যটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বিশ্ব জনমতেও পরিবর্তন

    ইসরাইলের বৈধতার সংকট শুধু কূটনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই; জনমতেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ২০২৫ সালের পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২৪ দেশের জরিপে ৬২ শতাংশ উত্তরদাতা ইসরাইল সম্পর্কে নেতিবাচক মত দিয়েছেন, যেখানে ইতিবাচক মত দিয়েছেন মাত্র ২৯ শতাংশ। এমনকি ইসরাইলের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রেও প্রায় ৬০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্কের দেশটির প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে বলে তথ্যটিতে বলা হয়েছে।

    আরব বিশ্বে ইসরাইলের স্বীকৃতি দেওয়ার বিরোধিতা আরো প্রবল। সেখানে ৮৭ শতাংশ মানুষ ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিরোধিতা করেন এবং এক-চতুর্থাংশের বেশি মানুষ ইসরাইলকে অঞ্চলের সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখেন। ফলে সামরিক শক্তি যতই বাড়ুক, সেই শক্তি আঞ্চলিক গ্রহণযোগ্যতায় রূপান্তরিত হচ্ছে না।

    আঞ্চলিক নিয়ম কে নির্ধারণ করছে?

    ইসরাইলের নেতৃত্বের সীমাবদ্ধতা সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে আঞ্চলিক কূটনীতিতে। সৌদি আরব এখনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য একটি অপরিবর্তনীয় পথ ছাড়া ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে রাজি নয়। গাজা যুদ্ধবিরতিও ইসরাইল নিজের শর্তে তৈরি করেনি; বরং তা ইসরাইলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সমঝোতা নিয়ে আলোচনাও ইসরাইলকে পাশ কাটিয়েই এগোচ্ছে।

    আঞ্চলিক কূটনীতিতে মিসর, কাতার, জর্ডান, ওমান, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব দেশের কেউই নিজেদের পররাষ্ট্রনীতি ইসরাইলের ওপর নির্ভরশীল করে গড়ে তোলেনি।

    ফলে ইসরাইলের হাতে আঞ্চলিক প্রক্রিয়া থামিয়ে দেওয়ার বা বাধা দেওয়ার ক্ষমতা থাকলেও, নিজের পছন্দের আঞ্চলিক কাঠামো চাপিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা সীমিত।

    আঞ্চলিক নেটওয়ার্কেও ইসরাইলের সীমাবদ্ধতা

    ইরান যুদ্ধের সময় আঞ্চলিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হাজার হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর মাধ্যমে এক ধরনের আঞ্চলিক সমন্বয়ের চিত্র তুলে ধরেছিল। কিন্তু এই সমন্বয়ের কেন্দ্র ছিল যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল নয়।

    আরব দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের সঙ্গে সহযোগিতা করেছে। ফলে পুরো কাঠামোর সংযোগকারী সেতুটি ওয়াশিংটন—তেল আবিব নয়।

    জ্বালানি ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যায়। মিসরে ইসরাইলি গ্যাস রপ্তানিকে দেশটির আঞ্চলিক গুরুত্বের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়। কিন্তু ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় ইসরাইলের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র প্রায় ৩৩ দিন বন্ধ থাকায় মিসরে বিদ্যুৎ সংকট দেখা দেয় এবং দেশটিকে ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানি করতে হয়।

    অন্যদিকে প্রস্তাবিত ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোরে হাইফাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী বন্দরগুলোর তুলনায় হাইফার সক্ষমতা সীমিত। পাশাপাশি ইসরাইলকে এড়িয়ে বিকল্প বাণিজ্যপথও বাড়ছে।

    আধিপত্য আছে, হেজেমনি নেই

    অর্থনীতি, বৈধতা ও আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক—তিনটি ক্ষেত্রেই একই চিত্র দেখা যায়। ইসরাইলের শক্তি আছে, কিন্তু সেই শক্তির সঙ্গে বৈধতার সামঞ্জস্য নেই। দেশটির আঞ্চলিক উপস্থিতি আছে, কিন্তু প্রতিবেশীদের সঙ্গে এমন স্বতঃস্ফূর্ত সংযুক্তি নেই, যার মাধ্যমে তারা নিজেদের স্বার্থ ইসরাইলকে কেন্দ্র করে সাজাতে আগ্রহী হবে।

    বরং ইসরাইলের চারপাশে নতুন আঞ্চলিক নেটওয়ার্কগুলো যতটা সম্ভব দেশটিকে এড়িয়ে গড়ে ওঠার চেষ্টা করছে। উপসাগরীয় দেশ, ইউরোপ, ভারত, তুরস্ক ও মিসরের মতো শক্তিগুলো ভবিষ্যতে এমন কিছু ভূমিকা নিতে পারে, যা আগে ইসরাইলকে ঘিরে অপরিহার্য বলে মনে করা হতো।

    তবে এর অর্থ এই নয় যে ইসরাইলের পতন অবশ্যম্ভাবী বা তা খুব শিগগিরই ঘটবে। সামরিক আধিপত্য থাকলেও আঞ্চলিক হেজেমনি না থাকা—এমন ব্যবস্থা কয়েক দশকও টিকে থাকতে পারে। বৈধতার সংকট পতনের জন্য প্রয়োজনীয় হতে পারে, কিন্তু একাই তা পতন ঘটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। যতদিন শক্তিশালী কোনো পৃষ্ঠপোষক সেই আধিপত্যের ব্যয় বহন করতে প্রস্তুত থাকবে, ততদিন এই কাঠামো টিকে থাকতে পারে।

    শেষ পর্যন্ত ইসরাইলের ভবিষ্যৎ শুধু তার সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করবে না; বরং নির্ভর করবে প্রতিবেশী দেশগুলো কতটা সমন্বিতভাবে নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারে তার ওপর।

    কারণ সামরিক আধিপত্য ইসরাইলকে শক্তিশালী করেছে, কিন্তু সেই শক্তি এখনো তাকে আঞ্চলিক নেতা বানাতে পারেনি। বরং সামরিক বিজয়ের সঙ্গে সঙ্গে বৈধতার ক্ষয়ও বাড়ছে।

    ইসরাইলের সামরিক আধিপত্য এখনো প্রবল; কিন্তু আঞ্চলিক হেজেমনি বা নেতৃত্বের সঙ্গে সেই আধিপত্যের দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে। ভবিষ্যতে মার্কিন নিরাপত্তা ছাতার প্রভাব কমলে এই ব্যবধান আরও স্পষ্ট হতে পারে—তখন হয়তো দেখা যাবে, মধ্যপ্রাচ্য ইসরাইলকে কেন্দ্র করে সংগঠিত হয়নি; বরং ইসরাইলকে পাশ কাটিয়েই নিজেদের নতুন কাঠামো তৈরি করেছে।

  • ভারতে বাংলাদেশি সন্দেহে কয়েকশ শ্রমিক আটক

    ভারতে বাংলাদেশি সন্দেহে কয়েকশ শ্রমিক আটক

    ‘বাংলাদেশি’ শনাক্ত করার কথিত অভিযানে ভারতের বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত পরিযায়ী শ্রমিককে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে চারটি নাগরিক অধিকার, আইনজীবী ও শ্রমিক সংগঠন। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে নারী-শিশুও রয়েছে বলে দাবি তাদের। কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশ মহাপরিচালক ও বেঙ্গালুরুর পুলিশ কমিশনারের কাছে দায়ের করা অভিযোগে এমন দাবি করা হয়।

    পিপলস ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিজ, অল ইন্ডিয়া লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ফর জাস্টিস, ডোমেস্টিক ওয়ার্কার্স রাইটস ইউনিয়ন ও অল ইন্ডিয়া সেন্ট্রাল কাউন্সিল অব ট্রেড ইউনিয়নসের পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, পুলিশি অভিযানে ‘বেআইনি আটক, মারধর ও অমানবিক আচরণের’ ঘটনা ঘটেছে।

    সংগঠনগুলোর দাবি, শনিবার ভোরে বিভিন্ন বস্তি ও শ্রমজীবী এলাকায় বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে পরিচয়পত্র দেখতে চায় পুলিশ । নথি দেখানোর পরও অনেককে জোর করে আটক করে পুলিশের জিপ বা বাসে তুলে থানা, কনভেনশন সেন্টার, ম্যারেজ হলসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

    অভিযোগ অনুযায়ী, কথিত বাংলাদেশিদের শনাক্ত করার এই অভিযানে ব্যান্ডেপাল্যা এলাকায় দুই শতাধিক, হেব্বাগোডিতে প্রায় ১৫০ জন ও পারাপ্পানা অগ্রহারা এলাকায় ৪০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়। এ ছাড়া ভার্থুর, সোমাসুন্দরাপাল্যা, হোয়াইটফিল্ড, মহাদেবপুরা ও মারাঠাহাল্লি এলাকায়ও বহু মানুষকে আটকের অভিযোগ রয়েছে।

    ভার্থুর থানায় আটক কয়েকজনকে লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগও করেছে সংগঠনগুলো। তাদের দাবি, হেব্বাগোডিতে পুলিশ একটি বসতির দরজা ও সিসিটিভি ভাঙে এবং ৫০টির বেশি মোবাইল ফোন জব্দ করে। বিভিন্ন এলাকায় আটক ব্যক্তিদের ফোন থেকে ব্যক্তিগত বার্তা ও কলের তথ্য পরীক্ষা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

    সংগঠনগুলোর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক নম্বরে ফোন বা কলের তথ্য পাওয়ার ভিত্তিতে কয়েকজনকে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসে পাঠানো হয়েছে। তাদের বক্তব্য, ‘ফোনে অন্য দেশের নম্বর থাকা কোনো ব্যক্তির বিদেশি নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়।’

    অভিযোগকারীরা এই অভিযানকে ‘বেআইনি ও সাংবিধানিকভাবে অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে বলেন, আইনসম্মত প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে আটক করা যায় না।

    আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি, আহতদের চিকিৎসা, পুরো ঘটনার স্বাধীন তদন্ত ও অভিযানে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে চার সংগঠন। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য নথি সংরক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণেরও দাবি জানানো হয়েছে।

  • ইরান যুদ্ধে অস্ত্র নিয়ে চাপে কেন যুক্তরাষ্ট্র ?

    ইরান যুদ্ধে অস্ত্র নিয়ে চাপে কেন যুক্তরাষ্ট্র ?

    ইরানের সঙ্গে মাসের পর মাস ধরে চলা যুদ্ধে ব্যাপক টান পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে। মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত এমন পর্যায়ে নেমে গেছে, যা ওয়াশিংটনের আরেকটি বড় ধরনের যুদ্ধে জড়াতে গেলে শঙ্কায় পড়ে যাবে।

    অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় পেন্টাগন ইউরোপ ও এশিয়া থেকে অস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। একই সঙ্গে মিত্র দেশগুলোর কাছে কিছু অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ বিলম্বিত করা হয়েছে এবং প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোকে উৎপাদন নাটকীয়ভাবে বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুদ্ধে হাজার হাজার ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য নির্ভুল নিশানাভেদী অস্ত্র ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে ইউরোপ ও এশিয়ায় মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর জন্য রাখা অস্ত্রের মজুত থেকেও সরবরাহ নিতে হয়েছে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তারা নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। অস্ত্রের ঘাটতির কারণে ইউরোপ ও এশিয়ার কয়েকটি দেশের কাছে কিছু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহও পিছিয়ে দিতে হয়েছে।

    পেন্টাগন ইউরোপ ও এশিয়া থেকে জাহাজ, বিমান এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, এর ফলে সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ, সেনাদের মনোবল এবং ওই অঞ্চলগুলোতে সামগ্রিক মার্কিন সামরিক শক্তির ওপর একের পর এক প্রভাব পড়ছে।

    এ পরিস্থিতি ইউরোপ ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন প্রতিরোধক্ষমতা বা ‘ডিটারেন্স’ বজায় রাখার সক্ষমতা নিয়ে মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

    ব্যবহার হয়েছে দেড় হাজারের বেশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র

    সবচেয়ে গুরুতর উদ্বেগের একটি হলো ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে। নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ১ হাজার ৫০০টিরও বেশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার সম্পর্কে অবহিত দুই ব্যক্তি জানিয়েছেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এসব ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ১ হাজার ৭০০টিরও কম।

    উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও যুদ্ধে ব্যবহৃত ১ হাজার ৫০০টির বেশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করতে দুই বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে।

    প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকির মুখে থাকা মার্কিন বাহিনী ও মিত্রদের জন্য এই ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    মার্কিন সামরিক সম্পদ মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়ার কারণে অন্যান্য অঞ্চলে মিত্রদের সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, কিছু মার্কিন কর্মকর্তা আশঙ্কা করছেন, অস্ত্রের ঘাটতি অব্যাহত থাকলে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান আমেরিকার প্রচলিত সামরিক প্রতিরক্ষার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।

  • ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয় অবস্থার অবসান চাই’

    ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয় অবস্থার অবসান চাই’

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর সঠিক সময় এখনই বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর দ্রুত সমাপ্তি চেয়েছেন। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুদ্ধ অবসানের একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টার মাঝেই তিনি এই মন্তব্য করলেন।

    শনিবার (৮ আগস্ট) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান জানান, ইরান বর্তমানে একটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য এটিই উপযুক্ত সময়। তিনি বলেন, দেশের ভেতরে এখন একতা ও শক্তি বিরাজ করছে এবং এই যুদ্ধে ইরানকে বিজয়ী ও শক্তিশালী হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

    সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের বিষয়গুলো মোকাবেলায় শুরুতেই ইরান ও ওয়াশিংটনের একটি চ্যানেল তৈরি করা উচিত ছিল বলে তিনি মনে করেন। ওমানের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধান খুঁজে বের করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, খুব শিগগিরই হয়তো ইরান এই ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে।

    প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ওমানের সাথে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জোর চেষ্টা চালাচ্ছে ইরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই তেহরান কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রণালিটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, প্রণালিটির ট্রানজিট ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে ইরান ও ওমান একটি সাময়িক রুট তৈরির বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, যেখানে উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলো তদারকি করবে ইরান এবং বেরিয়ে যাওয়া জাহাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করবে ওমান।

    তবে আরাগচি স্পষ্ট করেছেন যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি অন্যান্য শর্ত পূরণ এবং গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি কোনো আলোচনা হচ্ছে না, বরং কেবল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করা হচ্ছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।

    এদিকে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধের চূড়ান্ত অবসানের ক্ষেত্রে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল নতুন বেশ কয়েকটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে, যা চলমান আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

    কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলগাদর জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন তাদের আচরণ সংশোধন না করা পর্যন্ত প্রণালিটি বন্ধ থাকবে। তাদের দেওয়া ছয়টি শর্তের মধ্যে রয়েছে— ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও অবমাননা বন্ধ করা এবং ইরান ও লেবানন, ফিলিস্তিন, ইয়েমেন ও ইরাকে তাদের মিত্রদের ওপর হামলা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা।

    এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, অঞ্চলটি থেকে মার্কিন নৌ ও বিমান বাহিনী সরিয়ে নেওয়া, চাপিয়ে দেওয়া দুটি যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান, বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের জব্দ করা সম্পদ নিঃশর্তভাবে ফেরত দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে এই শর্তগুলোতে।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে চুক্তি চূড়ান্ত করার পথে বেশ কিছু প্রধান বাধা রয়েছে, যার মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইস্যুটি অন্যতম। ইরান ও ওমানের চুক্তির ফলে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও, এই জলপথের ওপর ইরানের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ও প্রস্তাবিত ফি আরোপের তীব্র বিরোধী যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, জাহাজ চলাচলের নিয়ন্ত্রণকে একটি বড় দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে দেখছে ইরান।

  • ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করলেন নেতানিয়াহু

    ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করলেন নেতানিয়াহু

    গাজা যুদ্ধ অবসানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রস্তাবিত ১৫ দফার শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরাইল। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে সম্পূর্ণরূপে নিরস্ত্রীকরণ না করা পর্যন্ত গাজা উপত্যকা থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

    ইসরাইলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, ইসরাইল এই ১৫ দফার নথিটি পুরোপুরি অস্বীকার করছে। হামাসকে সত্যিকার অর্থে নিরস্ত্রীকরণ না করা পর্যন্ত ইসরাইলি সেনাবাহিনী কোনো ধরনের সেনা প্রত্যাহার কার্যক্রম পরিচালনা করবে না।

    নেতানিয়াহু জোর দিয়ে বলেন, ইসরাইল হামাসের কেবল কাল্পনিক বা লোকদেখানো বিলুপ্তি নয়, বরং প্রকৃত বিলুপ্তি চায়। তিনি জানান, এই বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে ওয়াশিংটনের সাথে তাদের আলোচনা চলছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে বেশ কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি ইসরাইলের জন্য গ্রহণযোগ্য হলেও কিছু বিষয় তাদের কাছে মোটেও গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানান তিনি।

  • নাবালক ও তরুণদের যৌন নির্যাতনের ৬০০ ভিডিওসহ গ্রেপ্তার

    নাবালক ও তরুণদের যৌন নির্যাতনের ৬০০ ভিডিওসহ গ্রেপ্তার

    নাবালক ও তরুণদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ভারতের মহারাষ্ট্রের নান্দুরবার জেলা থেকে ২২ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ২০২২ সাল থেকে ভুক্তভোগীদের ব্ল্যাকমেইল ও শোষণ করে আসছিল ওই অভিযুক্ত। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

    স্থানীয় পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট অশ্বিনী সনাপ জানান, অভিযুক্তের মোবাইল ফোন থেকে ৬ শতাধিক অশ্লীল ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে। ডিভাইসটিতে পাওয়া ভিডিওর মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করে তাদের জবানবন্দি গ্রহণের কাজ শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, এক ব্যক্তি টাকা দিয়ে নাবালকদের প্রলুব্ধ করে তাদের ওপর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন এমন গোপন সংবাদ পাওয়ার পর এই অভিযান চালানো হয়।

    অভিযুক্তের নাম চেতন প্রকাশ কোলি। তার বয়স ২২ বছর এবং সে রাইসিংপুরার বাসিন্দা। তার মোবাইল ফোন তল্লাশি করে প্রচুর অশ্লীল ভিডিও ও ছবি পাওয়া গেছে। ফরেনটিক দল মোবাইল ফোনটি জব্দ করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করেছে এবং অধিকতর পরীক্ষার জন্য সেটি উপর মহলে পাঠিয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে অভিযুক্ত ২০২২ সাল থেকে এসব অপরাধ করে আসছে। উদ্ধার হওয়া ভিডিও ও ছবিগুলোর ওপর ভিত্তি করে ভুক্তভোগীদের সাথে যোগাযোগ করা হবে এবং তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হবে

  • হুথিদের ড্রোন হামলায় সৌদির তেল স্থাপনায় আগুন

    হুথিদের ড্রোন হামলায় সৌদির তেল স্থাপনায় আগুন

    সৌদি আরামকো তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। সৌদি আরবের লোহিত সাগর তীরবর্তী বন্দরনগরী জিজানে এ হামলা চালানো হয়। এতে জ্বালানি শোধনাগারটিতে আগুন লেগে যায়। ইয়েমেনের আল মাসিরাহ টিভি জানিয়েছে, ইয়েমেনের সাদা ও হাজ্জাহ প্রদেশে সৌদি ড্রোন হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।

    এর আগে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, ইয়েমেন সীমান্তবর্তী লোহিত সাগরের বন্দর জিজানের সৌদি আরামকো শোধনাগারের একটি স্থাপনায় ভোরের দিকে লাগা আগুন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা নিভিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছেন। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার মাত্র একদিন পর আরামকো স্থাপনায় এই হামলাকে একটি বড় ধরনের উত্তেজনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। সানাম থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক ইউসুফ মাওরি জানান, আনসারুল্লাহ বা হুথি কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তুরস্ক বা পাকিস্তান যদি ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে কিংবা সৌদির সাথে মিলে কোনো শত্রুতামূলক কার্যকলাপে জড়ায়, তবে তাদের কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।

    এই হামলার মাধ্যমে নতুন প্রতিরক্ষা জোটকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, হুথিরা তাদের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রাখবে এবং সৌদি আরবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ তথা আরামকো তেল স্থাপনা ও তেল পরিবহন অবকাঠামোকে টার্গেট করবে। একই সাথে তারা মারিব, তায়েজ এবং হাদ্রামাউতের পূর্বাঞ্চলীয় গভর্নরেটে সৌদিপন্থী ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর ওপরও হামলা চালানো অব্যাহত রেখেছে। গত ১২ বছর ধরে চলা এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত অদূর ভবিষ্যতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে তা আরও তীব্র আকার ধারণ করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন রাষ্ট্র।

  • মক্কা চুক্তি ইরানকে লক্ষ্য করে নয়, বড় হবে জোট—তুরস্ক

    মক্কা চুক্তি ইরানকে লক্ষ্য করে নয়, বড় হবে জোট—তুরস্ক

    সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিটি ইরান বা অন্য কোনো দেশকে লক্ষ্য করে প্রণয়ন করা হয়নি বলে স্পষ্ট করেছে তুরস্ক।

    গতকাল শনিবার তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’-তে ইরান বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট দেশকে সাধারণ হুমকি বা শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।

    তিনি বলেন, ‘আমরা চুক্তিতে কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ করিনি। যে দেশগুলো এই তিন স্বাক্ষরকারী দেশের ওপর আক্রমণ করবে না, তারা এই চুক্তির লক্ষ্যবস্তু হবে না।’

    এর আগে শুক্রবার (৭ আগস্ট) সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে তুর্কি রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

    চুক্তির শর্তানুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা তিনটি দেশের ওপরই আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে।

    তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই চুক্তিটিকে কারিগরি দিক থেকে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো-র ‘অনুচ্ছেদ ৫’-এর অনুরূপ বলে বর্ণনা করেছেন। তবে এর বাস্তবায়ন বা প্রতিক্রিয়া কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা পরিস্থিতি এবং আক্রান্ত দেশের অনুরোধের ওপর নির্ভর করবে।

    ফিদান ব্যাখ্যা করেন, আক্রান্ত দেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে সহায়তা চাইতে হবে এবং সাহায্য হিসেবে কী প্রয়োজন—যেমন গোয়েন্দা তথ্য, লজিস্টিক সাপোর্ট, গোলাবারুদ নাকি সরাসরি সেনা মোতায়েন—তা নির্দিষ্ট করতে হবে। এই সামরিক সমঝোতা কার্যকর করতে তিনটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সামরিক প্রধানদের নিয়ে যৌথ রাজনৈতিক ও সামরিক কমিটি গঠিত হবে। পাশাপাশি সৌদি আরবে একটি স্থায়ী সচিবালয় স্থাপন করা হবে।

    হাকাম ফিদান জানান, প্রতিরক্ষা শিল্পে পারস্পরিক সহযোগিতা এই চুক্তির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। যৌথ প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং সামরিক প্রযুক্তি ভাগাভাগি নিয়ে তিন দেশের শীর্ষ নেতারা দীর্ঘ আলোচনা করেছেন।

    তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই চুক্তির প্রস্তুতি বিগত দুই বছর আট মাস ধরে চলছিল, ফলে এটি ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সাম্প্রতিক উত্তেজনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নয়।

    তেহরানের প্রতিক্রিয়া ও সংশয়

    আঙ্কারার আশ্বস্তকরণ সত্ত্বেও ইরান এই চুক্তিকে সংশয়ের চোখে দেখছে। ইরানি কর্মকর্তারা নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং সৌদি আরবকে অন্য দেশের সামরিক সহায়তার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

    ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির সদস্য মাহমুদ নাবাবিয়ান বলেন, সৌদি নেতাদের বোঝা উচিত যে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে এই ধরনের চুক্তি তাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করবে না। একই কমিটির আরেক সদস্য ইব্রাহিম রেজাই এই সমঝোতাকে একটি ‘কাগুজে চুক্তি’ বলে অভিহিত করেন।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ সরাসরি চুক্তির নাম উল্লেখ না করলেও আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিজস্ব সামর্থ্যের ওপর নির্ভর করা এবং ‘প্রকৃত ভ্রাতৃত্ব’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা ও প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

    বাড়তে পারে জোটের পরিধি

    আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর নিজস্ব দায়িত্ব নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন হাকান ফিদান। তিনি বলেন, ‘পরাশক্তিগুলোর এ অঞ্চলে আগমন কোনো সমস্যার সমাধান করে না, বরং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।’

    তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইঙ্গিত দেন, এই তিন দেশীয় জোট এখানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আঙ্কারার লক্ষ্য এই উদ্যোগকে আরও সম্প্রসারিত করা। তিনি জানান, অনেক দেশই ইতিমধ্যে এই জোটে যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কিছু প্রযুক্তিগত বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর পর মিসর—যাকে ফিদান ‘স্বাভাবিক অংশীদার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন—এই জোটে যুক্ত হতে পারে।

    চুক্তিটির সুনির্দিষ্ট অনেক সামরিক বিবরণ এখনো প্রক্রিয়াধীন থাকলেও স্থায়ী সচিবালয় গঠন এবং যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়নের পরিকল্পনা থেকে স্পষ্ট যে, এটিকে নিছক একটি কাগুজে ঘোষণা হিসেবে রেখে দিতে চায় না আঙ্কারা, রিয়াদ ও ইসলামাবাদ।

  • ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছে শরীরে, দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছেন বাইডেন

    ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছে শরীরে, দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছেন বাইডেন

    ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে যন্ত্রণাদায়ক দিন পার করছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তাঁর ছোট ছেলে হান্টার বাইডেন সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বাবার ক্যানসারের বিষয়ে নতুন তথ্য জানিয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানা যায়, ওই সাক্ষাৎকারে বাইডেনের প্রেসিডেন্ট থাকার সময়কার কিছু বিতর্কিত ঘটনাও তুলে ধরেছেন তাঁর ছেলে।

    গত শুক্রবার রাতে বিবিসির ‘নিউজনাইট’ অনুষ্ঠানে উপস্থাপক প্যাডি ও’কনেলের সঙ্গে আলাপকালে হান্টার বাইডেন জানান, তাঁর বাবার বর্তমান শারীরিক অবস্থা খুবই দুর্বিষহ। ক্যানসার তাঁকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

    হান্টার বাইডেন বলেন, ‘এটা সত্যিই খুব কঠিন। তাঁকে এভাবে কষ্ট পেতে দেখা সত্যিই দুঃখজনক।’

    হান্টার আরও বলেন, ‘আমার বাবার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আমি শুধু এটুকুই বলব যে, তিনি যদি নিজের কষ্ট নিয়ে আরও একটু অভিযোগ করতেন তবে ভালো হতো, কারণ অবস্থা ভালো নয়। তাঁর ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছে। এটি হাড় এবং শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক।’

    ২০২৫ সালের মে মাসে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাঁর ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। তিনি জানান, নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষার সময় চিকিৎসকেরা তাঁর শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া প্রোস্টেট ক্যানসার শনাক্ত করেছেন। যা সে সময় তাঁর হাড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল।

    ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রায় ১০ মাস পর ক্যানসারের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ওই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাইডেন ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছিলেন। প্রাইমারিগুলোতে তিনি বড় জয় পেয়েছিলেন। তবে তাঁর বার্ধক্য নিয়ে উদ্বেগের জন্ম হচ্ছিল।

    একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে ২০২৪ সালের ২৭ জুন। ওই দিন নির্বাচনী মৌসুমের প্রথম প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখোমুখি হন বাইডেন।

    ট্রাম্প ও বাইডেনের বয়সের ব্যবধান খুব বেশি না হলেও সেদিন মঞ্চে বাইডেনকে তুলনামূলকভাবে অনেকটাই আড়ষ্ট দেখাচ্ছিল। তিনি ছোট ছোট কদমে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন এমনভাবে নিজের পোডিয়ামের দিকে যাচ্ছিলেন। এরপর বক্তব্যের মাঝখানে কথার খেই হারিয়ে ফেলছিলেন।

    একপর্যায়ে জাতীয় ঋণ-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ৮১ বছর বয়সী বাইডেনের কথা জড়িয়ে যায়। তিনি হঠাৎ বলে বসেন, ‘আমরা অবশেষে মেডিকেয়ারকে হারিয়েছি।’

    পরে ঘটনাটি প্রসঙ্গে তাঁর স্ত্রী জিল বাইডেন বলেন, তাঁর স্বামী স্ট্রোক করেছেন বলে আশঙ্কা করেছিলেন তিনি। বাইডেনকে আগে বা পরে কখনো এমন আচরণ করতে দেখেননি বলে জানান জিল। কিন্তু ট্রাম্প বাইডেনের স্বাস্থ্য নিয়ে এই স্থায়ী প্রশ্নগুলোকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে তাঁর নীতিগত সিদ্ধান্তগুলোর বৈধতা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি করতে শুরু করেন।

    ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত জয় পান ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য হোয়াইট হাউসে ফেরেন তিনি। এর আগে ২০২০ সালের নির্বাচনে বাইডেনের কাছে হেরেছিলেন ট্রাম্প।

    এদিকে ডেমোক্রেটদের মনে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে যে, বাইডেন যদি আরও নির্বাচনী লড়াই থেকে আরও আগে সরে দাঁড়াতেন কিংবা প্রার্থীই না হতেন, তাহলে নির্বাচনের ফলাফল ভিন্ন হতে পারত কি না। বিষয়টিতে দলের অভ্যন্তরে বিভাজনেরও জন্ম হয়েছে।

    সাক্ষাৎকারে ও’কনেল হান্টার বাইডেনকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি তাঁর বাবার বহুল আলোচিত ওই বিতর্ক দেখেছিলেন কি না। হান্টার জানান, ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজ বাড়িতে বসে একাই তিনি বিতর্কটি দেখেছিলেন। তিনি বলেন, ‘অন্য সবার মতো আমিও স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম। আমার বাবা মঞ্চে আসার সঙ্গে সঙ্গেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম কোনো একটা সমস্যা হয়েছে। তাঁর চোখেমুখে এমন এক শূন্য দৃষ্টি আমি আগে কখনো দেখিনি।’

    সৎমা জিল বাইডেনের মতো হান্টারও ঘটনাটিকে ব্যতিক্রম হিসেবে দেখেছেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি অনেক বেশি বিস্ময়ের ছিল কারণ এমনটা আগে কখনো ঘটেনি এবং এরপরও ঘটেনি।’

    পরের বছর শনাক্ত হওয়া জো বাইডেনের ক্যানসারই হয়তো বিতর্কে তাঁর পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছিল। হান্টার বলেন, ‘নয় মাস পর তাঁর স্টেজ-৪ প্রোস্টেট ক্যানসার এবং স্টেজ-৪ মেটাস্ট্যাটিক বোন ক্যানসার ধরা পড়ে, যার কোনোটির কথাই আমরা জানতাম না।’

    জো বাইডেনের প্রেসিডেন্সির সময় ছেলে হান্টার বাইডেন নিজেও বহু বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন। হান্টার নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থে বাবার রাজনৈতিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়েছেন বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিলেন রিপাবলিকানরা।

    হান্টার মাদকাসক্তির সঙ্গেও লড়াই করেছেন। ২০২৪ সালের জুনে মাদকাসক্ত অবস্থায় আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অভিযোগে তাঁকে তিনটি গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এ ছাড়া আগ্নেয়াস্ত্রের আবেদনপত্রে নিজের মাদকাসক্তির বিষয়টি গোপন করেও তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। এ ধরনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনা সাধারণত বিরল।

    একই বছর হান্টার ফেডারেল কর ফাঁকির অভিযোগেও দোষ স্বীকার করেন। ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ১৪ লাখ ডলার কর পরিশোধ না করার অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে।

    যদিও জো বাইডেন নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি তাঁর ছেলের অপরাধের জন্য বিশেষ ক্ষমা প্রদর্শন (পার্ডন) করবেন না, কিন্তু প্রেসিডেন্সির শেষ সপ্তাহে এসে তিনি হঠাৎ নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন।

    নিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই মাসেরও কম সময় বাকি থাকতে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর জো বাইডেন লেখেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই আমি বলেছিলাম যে বিচার বিভাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণে আমি হস্তক্ষেপ করব না। এমনকি আমার ছেলেকে বেছে বেছে ও অন্যায়ভাবে অভিযুক্ত করার সময়ও আমি আমার কথা রেখেছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘হান্টারকে ভেঙে ফেলার মাধ্যমে তারা আমাকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেছে, এবং এই পরিস্থিতি এখানেই থেমে যাবে বলে মনে করার কোনো কারণ নেই। এবার অনেক হয়েছে।’

    ছেলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে পারেন এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে জো বাইডেন ২০১৪ সাল থেকে ওই সময় পর্যন্ত হান্টারের নেওয়া যেকোনো পদক্ষেপের জন্য তাঁকে ‘পূর্ণ ও নিঃশর্ত ক্ষমা’ দেন। সে সময় নিজের ভাই জেমস বাইডেনকেও ‘ক্ষমা’ করে দেন জো বাইডেন।

    সাক্ষাৎকারে ও’কনেল হান্টার বাইডেনের সামনে এই প্রসঙ্গটি তুলে ধরেন। উত্তরে হান্টার স্বীকার করেন, এই ক্ষমা প্রথা বিতর্কিত ছিল। তিনি বলেন, ‘এটি কি আমাদের সংবিধানের জন্য ভালো ছিল? মার্কিন জনগণের জন্য ভালো ছিল? আমার বাবার ভাবমূর্তির জন্য ভালো ছিল? কোনো ক্ষেত্রেই নয়। বিষয়টি সহজেই সমালোচনা করা যায় এবং তার যথেষ্ট কারণও আছে। আমি তা অস্বীকার করার ভান করতে পারি না।’

    তবে হান্টার আরও বলেন যে, ট্রাম্পের বিষয়ে তাঁর বাবার আশঙ্কাগুলো সত্যি প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় রাজনৈতিক শত্রুদের ওপর প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসা নেওয়ার ক্ষেত্রে আমার বাবা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঠিক যেমনটা ভেবেছিলেন, ট্রাম্প নিজেকে অবিকল তেমনই প্রমাণ করেছেন।’

  • হালিশহরে মমতার বহরে জুতা-কাদা নিক্ষেপ

    হালিশহরে মমতার বহরে জুতা-কাদা নিক্ষেপ

    পশ্চিমবঙ্গের হালিশহরে সম্প্রতি পুলিশ হেফাজতে এক তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই শনিবার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিরজু কেওটে নামের ওই মৃত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে বিক্ষোভকারীদের মুখে পড়েন তিনি।

    সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িটি ঘিরে ধরেছেন। কেউ কেউ তাঁর গাড়ির ওপর কাদা ছিটিয়ে দিচ্ছেন কেউ আবার কনভয় লক্ষ্য করে পানির বোতল, জুতো ছুড়ে মারছেন। অনেক বিক্ষোভকারী টিএমসি সুপ্রিমোকে ‘চোর’ ও ‘ডাকাতের রানি’ আখ্যা দিয়েও নানা স্লোগান দিচ্ছিলেন।

    ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, পুলিশ হেফাজতে মারধরের কারণে টিএমসি কর্মী বিরজু কেওটের মৃত্যু হয়েছে—পরিবারের এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই বিক্ষোভের সূত্রপাত। স্থানীয় পুলিশের বিরুদ্ধে পিটিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ ওঠায় এলাকায় চরম জনরোষের সৃষ্টি হয়। এই বিতর্কের আবহেই শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে হালিশহরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে নিহতের বাসভবনে পৌঁছানোর আগেই বিক্ষোভকারীরা তাঁর পথ আটকে দিলে তৈরি হয় অচলাবস্থা।

    ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরবর্তীতে নিরাপত্তাকর্মীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়টিকে নিরাপদে ওই এলাকা থেকে বের করে নিয়ে যান, যাতে আর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।

    উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে যাওয়ার পথে এই হামলা চালানো হয়েছে উল্লেখ করে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘পুলিশের সামনেই দুষ্কৃতকারীরা আমার গাড়ি লক্ষ্য করে বড় বড় পাথর ছুড়েছে। হামলা এতটাই তীব্র ছিল যে, গাড়ির জানালা খোলা থাকলে আমার মাথা ফেটে চৌচির হয়ে যেত।’

    পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ তুলে মমতা দাবি করেন, প্রশাসন ও পুলিশ ‘বিজেপিকে সুরক্ষা দেওয়ার কাজ করছে।’

    এদিকে এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য তাঁদের দলের কোনো যোগসাজশ থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, বিজেপি কখনো পাথর ছোড়া, কাদা ছিটানো কিংবা সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ে পাদুকা নিক্ষেপকে সমর্থন করে না। এ ধরনের ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে উল্লেখ করে তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

    পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। বলেন, বিজেপির রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এ জাতীয় আচরণের কোনো স্থান নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক মেয়াদের সমালোচনা করলেও তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেনস্তা করা বা তাদের ওপর কাদা, কালি ও জুতো ছুড়ে মারা দল বা সরকার সমর্থন করে না।

    অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘আমরা এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমর্থন করি না…যদি কেউ নিজেকে বিজেপির সমর্থক দাবি করে এমন কাজ করে থাকে, তবে সে ভুল করছে।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধারে একজন নারী এবং জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিজেপির নাম ভাঙিয়ে যারা এসব করছে, তাদের দলের সঙ্গে যুক্ত থাকা উচিত নয়।’

    টিএমসি কর্মীর মৃত্যু ঘিরে জটিলতা

    দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে পুলিশ হেফাজতে থাকা টিএমসি কর্মী বিরজু কেওটের মৃত্যুকে কেন্দ্র করেই মূলত এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের দাবি, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু নিহতের স্ত্রীর অভিযোগ, হেফাজতে নিয়ে তাঁর ওপর বর্বর নির্যাতন চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

    ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস যেখানে পুলিশি নির্যাতন ও জবাবদিহির প্রশ্ন তুলছে, সেখানে বিজেপি পুরো ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

  • গাজায় একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৯ মরদেহ উদ্ধার

    গাজায় একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৯ মরদেহ উদ্ধার

    ইসরায়েলের হামলায় গাজা নগরের ধসে পড়া একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের অধিকাংশই নারী ও শিশু বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ।

    গতকাল শনিবার ভবনটিতে শেষ হওয়া উদ্ধার অভিযানটি গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা মৃত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার দীর্ঘ ও ধীরগতির প্রচেষ্টার সর্বশেষ উদাহরণ। সেখানে লোকজন হাতে হাতে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। অথচ ভেঙে পড়া কংক্রিট সরিয়ে এ ধরনের উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য ভারী যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়। ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে গাজায় উদ্ধার প্রচেষ্টা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

    উদ্ধার কার্যক্রমের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আবু দান জানান, গাজা নগরের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত ‘কারাম’ ভবনে টানা চার দিন অনুসন্ধান চালানোর পর উদ্ধারকাজ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

    আবু দান বলেন, বিশেষায়িত চিকিৎসাকর্মী ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী দল এখন গাজা নগরের অন্য একটি স্থানে যাবে এবং সেখানে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করবে।

    গাজার সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা বারবার জানিয়েছেন, ইসরায়েলি হামলায় ধসে পড়া ভবনের বিশাল কংক্রিটের স্তূপ সরানোর উপযোগী ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে উদ্ধারকর্মীদের সাধারণ সরঞ্জাম ও কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উপত্যকাজুড়ে এখনো ৮ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ। তাঁরা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হয়।

    মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের ১১ অক্টোবর ইসরায়েলের সঙ্গে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় দেশটির হামলায় অন্তত ১ হাজার ২৫৪ জন নিহত, ৪ হাজার ১২১ জন আহত হয়েছেন। একই সময় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৮০৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

    ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া সংঘাতের পর গাজায় মোট ৭৩ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন।

    গাজা নগরে গত মঙ্গলবার আবু শারিয়া ও আল-হাসাইনা পরিবারের ১১২ সদস্যের গণজানাজা হয়। তাঁদের মরদেহ সাবরা এলাকার একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। ভবনটি ২০২৩ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হয়। এ গণজানাজার পর আরেকটি ভবনে উদ্ধার অভিযানে উদ্ধার করা হয় ওই ১৯ মরদেহ।

  • কিউবায় সরকার বদলের ছক কষছে যুক্তরাষ্ট্র

    কিউবায় সরকার বদলের ছক কষছে যুক্তরাষ্ট্র

    ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন হন্যে হয়ে কিউবার বর্তমান বা সাবেক একজন কর্মকর্তার খোঁজ করছে, যাঁকে হাভানার সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণে রাজি করানো যেতে পারে—যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা এমন তথ্য দিয়েছেন।

    ওই মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার পুরো শাসনব্যবস্থাকে পরিবর্তন না করে বরং বিদ্যমান শাসনব্যবস্থার নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে; ভেনেজুয়েলায় ঠিক যেমনটা ঘটেছে।

    এ জন্য ট্রাম্প প্রশাসন তাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে এমন একজন ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার জন্য বলছে, যিনি ভেনেজুয়েলার দেলসি রদ্রিগেজের মতো ভূমিকা পালন করতে পারবেন।

    গত জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে দেশটির সে সময়ের প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে ধরে নিয়ে যায়, আর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দেওয়া হয় দেলসি রদ্রিগেজকে।

    মার্কিন কর্মকর্তারা দেলসি রদ্রিগেজকে একজন ‘বাস্তববাদী’ নেতা হিসেবে দেখেছিলেন, যিনি নির্বিঘ্নে ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন।

    ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার বিশ্বাস, কিউবাতেও একই ধরনের ‘বাস্তববাদী’ একজন নেতা খুঁজে পাওয়া সম্ভব, যিনি প্রয়োজনে সরকারের দায়িত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন।

    তবে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিষয়ে অবগত ব্যক্তিরা বলেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন হলো, কিউবার বর্তমান পরিস্থিতি ভেনেজুয়েলার চেয়ে ইরানের সঙ্গে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ।

    অর্থাৎ, তাদের ধারণা অনুযায়ী, কিউবায় এমন কোনো ‘বাস্তববাদী’ বিকল্প নেতৃত্ব সহজে খুঁজে পাওয়া বা ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ রদবদল ঘটানো ভেনেজুয়েলার তুলনায় অনেক বেশি কঠিন।

    কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো

    একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার মতে, কিউবার প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো যদি মার্কিন বাহিনীর হাতে আটক হন বা বর্তমান নেতৃত্ব যদি কোনোভাবে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়, তাহলে দেশটির ক্ষমতা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হবেন এমন কর্মকর্তা খুবই কম আছেন।

    বরং কিউবায় যাঁরা অন্তরালে অপেক্ষমাণ সম্ভাব্য উত্তরসূরি, তাঁরা ইরানের মতোই আরও কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করেন।

    ট্রাম্প প্রশাসন কখনো কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছে, আবার কখনো সেই সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়েছে।

    সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় মার্কিন কর্মকর্তারা কিউবার নেতাদের কাছে কিছু দাবি উপস্থাপন করেছেন। কিউবা যদি সেসব বিষয়ে অগ্রগতি দেখাতে পারে, তাহলে কিছু প্রণোদনা বা সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

    ট্রাম্প প্রশাসন চায় কিউবা তার অর্থনীতিকে আরও উদারীকরণ করুক, মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বাজার উন্মুক্ত করুক, যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কিনুক এবং রাশিয়া ও চীনের গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দেশ থেকে বের করে দিক।

    যুক্তরাষ্ট্র কিউবাকে ঠিক কী ধরনের প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে, সে সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য জানা যায়নি। তবে এর মধ্যে আরও বেশি মানবিক সহায়তা প্রদান এবং কিউবার অর্থনীতির ওপর আরোপিত কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রস্তাব রয়েছে বলে জানা গেছে।

    এখন পর্যন্ত অন্তত কিউবা সরকারকে এসব ছাড় দিতে ইচ্ছুক বলে মনে হচ্ছে না। ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে বিকল্প নেতৃত্ব খুঁজে বের করার চেষ্টা তাই আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    যদিও কিউবা এরই মধ্যে বেশ কিছু বড় অর্থনৈতিক সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছে এবং বেসরকারি খাতের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের সুযোগ দিয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি করা পরিবর্তনের তুলনায় যথেষ্ট নয় বলেই মনে হচ্ছে।

    কিউবা সরকারের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে পাঠানো অনুরোধের কোনো জবাব দেননি।

    হোয়াইট হাউসও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কিউবার সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করতে প্রস্তুত। কিন্তু হাভানার সরকারই সেই পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

    তবে ‘বাস্তববাদী’ নেতা খুঁজে না পেলে বিকল্প নেতা হিসেবে হোয়াইট হাউস কাকে বেশি পছন্দ করতে পারে, তা স্পষ্ট নয়।

    ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ

    কিউবা সরকার ফিদেল কাস্ত্রোর ভাইয়ের নাতি অস্কার পেরেজ-অলিভা ফ্রাগাকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে এগিয়ে দিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এবং সরকারি নানা ঘোষণার সময় তাঁকে আরও বেশি দেখা যাচ্ছে। এমনকি তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকেও একটি বিরল সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।

    প্রায় নিশ্চিতভাবেই অস্কার পেরেজ-অলিভা ফ্রাগা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য হবেন না। বরং ট্রাম্প প্রশাসন কাস্ত্রো পরিবারের আরেক সদস্য রাউল জি রদ্রিগেজ কাস্ত্রোকে বিবেচনা করতে আগ্রহী হতে পারে। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর নাতি।

    রাউল জি রদ্রিগেজ কাস্ত্রো দীর্ঘদিন রাউল কাস্ত্রোর ব্যক্তিগত দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করেছেন। তবে তিনি কখনো কোনো সরকারি বা নির্বাচিত পদে দায়িত্ব পালন করেননি।

    এ ছাড়া বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লাসারো আলবের্তো আলভারেজ কাসাসও মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। চলতি বছর সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ কিউবা সফরকালে রাউল জি রদ্রিগেজ কাস্ত্রো এবং লাসারো আলবের্তো আলভারেজ কাসাস—উভয়ের সঙ্গেই সাক্ষাৎ করেছিলেন।

    সিআইএ গোপনে একটি ‘কিউবা টাস্কফোর্স’ গঠন করেছে। এটা ইঙ্গিত দিচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেই পরিবর্তনগুলো চাইছেন, তাঁর প্রশাসন সেগুলো বাস্তবায়নে কিউবা সরকারের ওপর আরও সমন্বিত ও জোরালো চাপ প্রয়োগের পরিকল্পনা কার্যকর করতে শুরু করেছে।

    পাঁচ মাসের বেশি আগে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর সামরিক অভিযান শুরু করেছিল, তখন উভয় দেশের কর্মকর্তারা ইরানে শাসন পরিবর্তনের একটি

    সে সময় ট্রাম্প ইরানে ভেনেজুয়েলার মডেল অনুসরণ করার ধারণা নিয়ে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, ইরান সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে তাদের সরিয়ে দেওয়ার পর তাঁর প্রশাসন এমন একজন নেতাকে খুঁজে বের করবে, যিনি ক্ষমতা গ্রহণ করতে সক্ষম এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক হবেন।

    ট্রাম্প প্রশাসন কাস্ত্রো পরিবারের আরেক সদস্য রাউল জি রদ্রিগেজ কাস্ত্রোর বিষয়ে আগ্রহী হতে পারে। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর নাতি

    জানা যায়, ইসরায়েলের এমন একটি পরিকল্পনা ছিল ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে ঘিরে। ইসরায়েল আহমাদিনেজাদকে আবারও ক্ষমতায় আনার চেষ্টা করার কথা বিবেচনায় নিয়েছিল। মার্কিন সরকারের কয়েকজন কর্মকর্তা ইসরায়েলের এই পরিকল্পনায় সমর্থন দিয়েছিলেন।

    যদিও আহমাদিনেজাদ কোনোভাবেই মধ্যপন্থী নেতা ছিলেন না। প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তিনি ইসরায়েলকে ধ্বংস করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার পর তিনি ধীরে ধীরে ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের কড়া সমালোচক হয়ে ওঠেন। এর ফলে ইসরায়েল তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে শুরু করে এবং তাঁকে সম্ভাব্য নতুন ইরান সরকারের নেতা হিসেবে বিবেচনা করতে থাকে।

    তবে সেই পরিকল্পনা দ্রুতই ভেস্তে যায়। আহমাদিনেজাদ ইসরায়েলের পরিকল্পনা নিয়ে হতাশ ও বিরূপ হয়ে ওঠেন এবং শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাঁকে যে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে রেখেছিলেন, সেখান থেকে চলে যান।

    তাই পেছনে ফিরে তাকিয়ে বলাই যায়, ইরানে শাসন পরিবর্তনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশলটি ভেনেজুয়েলায় নিকোলা মাদুরোকে আটক করে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযানের তুলনায় অনেক কম সুপরিকল্পিত ছিল।

    যুক্তরাষ্ট্র কার্যত কিউবার ওপর একধরনের অবরোধ আরোপ করে রেখেছে, যার ফলে জ্বালানি সরবরাহ প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ায় দ্বীপদেশটি গভীর সংকটে পড়েছে।

    এ ছাড়া নেতৃত্ব পরিবর্তন ঘটাতে ট্রাম্প প্রশাসন কত দূর পর্যন্ত যেতে পারে, সেটিও পরিষ্কার নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এরই মধ্যে রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগপত্র প্রকাশ করেছে।

    এর আগে নিকোলা মাদুরোকে আটক করার জন্য পরিচালিত বিশেষ অভিযানের যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠায়ও মার্কিন সরকার মাদুরোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগপত্রকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছিল।

  • সিএনএনের বিশ্লেষণ

    সিএনএনের বিশ্লেষণ

    মুসলিম সামরিক হেভিওয়েটদের ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি

    ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের উত্তেজনা সৌদি আরবের দিকে এগিয়ে আসায় মুসলিম বিশ্বের দুটি শক্তিশালী সামরিক শক্তিকে পাশে টেনে নিয়েছে দেশটি। শুক্রবার মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি ন্যাটো ধাঁচের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছে।

    চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর ফলে সৌদি আরবের ওপর বড় ধরনের হামলা হলে তুরস্ক ও পাকিস্তানও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো সম্মিলিত প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো এবং তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা। সৌদি আরবের জন্য এটি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা নির্ভরতার পাশাপাশি নতুন একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষাকাঠামো তৈরি করবে। তুরস্ক ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি, আর পাকিস্তান মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ।

    তবে তিন দেশই জানিয়েছে, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে সামরিক জোট বা ধর্মীয় বিভাজন তৈরির উদ্যোগ নয়। ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোকেও এতে যুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    ইরানের সঙ্গে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সীমান্ত থাকায় দুই দেশই যুদ্ধের বিস্তার ঠেকাতে আগ্রহী। অন্যদিকে, ইরান ও তার মিত্রদের হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরব নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে।

    চুক্তির বিষয়ে তেহরান অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির সদস্য ইব্রাহিম রেজায়ি বলেন, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে কাগুজে চুক্তি সৌদি আরবকে নিরাপত্তা দেবে না; যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দীর্ঘদিনের একতরফা নির্ভরতাও সৌদিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি।

    বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই চুক্তি ইরানের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা—সৌদি আরবে বড় ধরনের হামলা হলে সংঘাত আরো বিস্তৃত হয়ে তুরস্ক ও পাকিস্তানকেও যুদ্ধে টেনে আনতে পারে।

  • দুই বছর পর প্রকাশ্যে শামীম ওসমান, করলেন কর্মীসভা

    দুই বছর পর প্রকাশ্যে শামীম ওসমান, করলেন কর্মীসভা

    নারায়ণগঞ্জে ‘খেলা হবে’ স্লোগান দিয়ে রাজনৈতিক মাঠ গরম রাখা সেই শামীম ওসমানকে প্রায় দুই বছর পর আবার প্রকাশ্যে দেখা গেছে। তবে এবার নারায়ণগঞ্জের কোনো মিছিল-মিটিংয়ে নয়, হাজার মাইল দূরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের এক কর্মীসভায়।

    প্রতিপক্ষের উদ্দেশে আক্রমণাত্মক বিভিন্ন মন্তব্য ছুড়ে দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা এই সাবেক সংসদ সদস্যকে নিউইয়র্কের ওই সভায় বক্তব্য দিতে দেখা যায়।

    ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রকাশ্যে তার অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। দুই বছর পরে অবশেষে তাকে প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেখা গেল।

    সভায় নিজের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে অনেকটা আত্মসমালোচনার সুরেই কথা বলেন শামীম ওসমান। তিনি বলেন, ‘আমি ব্যর্থ।’ একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    শামীম ওসমানের বক্তব্যে অবশ্য পুরোনো রাজনৈতিক ‘খেলার’ প্রসঙ্গও ফিরে আসে। তিনি বলেন, কে বড় নেতা আর কে ছোট নেতা—এটি গুরুত্বপূর্ণ নয়; এখন প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ হওয়া।

    নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, অনেক আগেই তিনি দেশে কী হতে যাচ্ছে তা বুঝতে পেরেছিলেন। তার দাবি, তিনি ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখতেন। বিএনপিকে নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি।

    নিউইয়র্কের সভায় শামীম ওসমান দাবি করেন, তার রাজনৈতিক মনোযোগের মূল লক্ষ্য ছিল এমন গোষ্ঠী, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে মানে না। এ প্রসঙ্গে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা গোলাম আজমের নিষিদ্ধ হওয়ার প্রসঙ্গও টেনে আনেন। নিজের কার্যালয়ে দেশের বড় বোমা হামলার ঘটনাও স্মরণ করেন তিনি।

    এরপর আসে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের উত্তাল সময়ের প্রসঙ্গ। শামীম ওসমানের ভাষ্য অনুযায়ী, ২ আগস্ট রাতে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তখন তিনি সেনাবাহিনীকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া, কারফিউ প্রত্যাহার এবং নারায়ণগঞ্জে বড় ধরনের জনসমাবেশ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

    শামীম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জে তার দেড় থেকে দুই লাখ মানুষ জড়ো করার সক্ষমতা ছিল। আশপাশের এলাকাতেও খবর পাঠানোর কথা বলেছিলেন তিনি। তার ভাষ্য, আওয়ামী লীগের শক্তির উৎস ছিল জনগণ। তবে সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধের আশঙ্কায় শেখ হাসিনা রক্তপাত এড়াতে চেয়েছিলেন।

    ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় শামীম ওসমানসহ ওসমান পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে। ওই সময় সংঘর্ষ ও গুলিতে শিশু রিয়া গোপসহ বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হন। এসব ঘটনায় শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগও ওঠে।

    ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির আলোচিত-সমালোচিত এই নেতাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এরপর তিনি দেশ ছাড়েন এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সময়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

    এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শামীম ওসমানসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে বিচার চলমান রয়েছে।

    তবে নিউইয়র্কের কর্মীসভায় শামীম ওসমানের উপস্থিতি নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে, দীর্ঘদিন পর তাকে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে দেখা যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া।

  • যুক্তরাষ্ট্র ক্ষতিপুরণ  না দিলে কোন আলোচনা নয়: ইরান

    যুক্তরাষ্ট্র ক্ষতিপুরণ না দিলে কোন আলোচনা নয়: ইরান

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আলোচনা নয়, শুধু মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা বিনিময় হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, তাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের জন্য ওয়াশিংটন ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরু হবে না।

    আরাগচি বলেন, মধ্যস্থতাকারীরা এখনো আলোচনা পুনরায় শুরু করার উপায় খুঁজছেন। তবে সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের বিষয় সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে বলে মনে করে না তেহরান ।

    তিনি বলেন, ‘আলোচনার ক্ষেত্র তৈরির প্রচেষ্টা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র তার লঙ্ঘনগুলো সংশোধন না করা পর্যন্ত আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।’

  • ৪২ প্রতিষ্ঠানের বিদেশি সম্পদ খুঁজছে ৮ আইনি প্রতিষ্ঠান

    ৪২ প্রতিষ্ঠানের বিদেশি সম্পদ খুঁজছে ৮ আইনি প্রতিষ্ঠান

    শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০ শিল্পগোষ্ঠীর পর এবার ২০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে এমন ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে বিদেশে তাদের সম্পদ অনুসন্ধান করছে আটটি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান। এসব সম্পদ শনাক্তের পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়ায় জব্দ বা অ্যাটাচ করে অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশে থাকা খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের সম্পদের অবস্থান, ধরন ও পরিমাণ শনাক্ত করছে এসব প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে সম্পদ উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

    এ কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্রান্ট থর্নটন, আরআই কনসোর্টিয়াম, বেকার ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড পিডব্লিউসি, ডিএলএ পাইপার অ্যান্ড ক্রল, ইওয়াই অ্যান্ড ডেন্টনস, রহমান রাভেল্লি অ্যান্ড ইন্টারপাথ, বিসিজি অ্যান্ড এইচএইচআর এবং অ্যানিমাস অ্যাসোসিয়েটস।

    জানা গেছে, বিদেশি আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো অগ্রিম ফি বা খরচ নেবে না। তারা বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত ও উদ্ধার করতে পারলে উদ্ধারকৃত অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে পাবে। অর্থাৎ, ‘নো উইন, নো পে’ ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করবে।

    প্রাথমিকভাবে যেসব দেশে পাচার করা অর্থ বা সম্পদ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, সিঙ্গাপুর, বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড, হংকং, চীন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া।

    বিদেশি আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আলোচ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে বিদেশে থাকা সম্পদের অবস্থান, প্রকৃতি ও পরিমাণ শনাক্ত করছে। এরপর সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

    কোনো সম্পদ শনাক্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জব্দ বা অ্যাটাচ করা সম্ভব হলে পরবর্তীতে তা বিক্রি বা নিষ্পত্তির মাধ্যমে পাওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পাওনা পরিশোধে ব্যবহার করা হবে।

    এর আগে প্রথম পর্যায়ে শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০ গ্রুপের পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ কাজে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট ইউনিট এবং আয়কর বিভাগের সংশ্লিষ্ট ইউনিট কাজ করছে। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোও বিদেশি আইনি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিচ্ছে।

  • দেশের পোলট্রি মাংসে মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল: গবেষণা

    দেশের পোলট্রি মাংসে মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল: গবেষণা

    বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের পোলট্রি মুরগির মাংসে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের ‘অবশিষ্টাংশ’ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে নতুন এক গবেষণায়। লন্ডনের রয়েল ভেটেরিনারি কলেজের (আরভিসি) এ গবেষণায় বলা হয়েছে, কিছু নমুনা ছিল, যেখানে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি ছিল আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের চেয়ে বেশি। এই গবেষণায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করেছে বলে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘পোলট্রি নিউজের’ খবরে বলা হয়েছে।

    অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বর্তমানে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাংস উৎপাদনকারী প্রাণীতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধের ব্যবহার এ সমস্যার মূল কারণ। প্রাণীর শরীরে প্রয়োগের পর নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা না করলে জবাই করার পরও মাংসে এসব ওষুধের অংশ থেকে যেতে পারে। এই অবশিষ্ট অংশ মানুষের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

    যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) কঠোর বিধিনিষেধ মেনে চলা হয়। ফলে এসব অঞ্চলে নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল পাওয়ার ঘটনা বিরল। কিন্তু উন্নয়নশীল অঞ্চলে এর প্রকোপ কতটা, সেটা নিয়ে খুব একটা তথ্য নেই। এসব দেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি নিয়ে সচেতনতাও কম।

    এই বাস্তবতা সামনে রেখে গবেষণাটি চালায় রয়েল ভেটেরিনারি কলেজ, যার নেতৃত্বে ছিলেন ভেটেরিনারি ক্লিনিক্যাল ফার্মাকোলজি ও অ্যানেস্থেসিয়ার অধ্যাপক লুডোভিক পেলিগ্যান্ড। এতে বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও যুক্ত ছিলেন। গবেষণার অংশ হিসেবে ২০২১-২২ সালে এসব দেশের ৫৫৮টি মুরগির বুকের মাংসের নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়।

    নমুনা মাংস পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে, যেখানে ৬৯ ধরনের ভেটেরিনারি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ক্ষেত্রে মানা হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানদণ্ড।

    মাংসের নমুনার একটা অংশ নেওয়া হয় বিক্রয়কেন্দ্র থেকে, বাকিটা নেওয়া হয় ফার্ম থেকে। ফার্ম থেকে নেওয়া মুরগিগুলো বিক্রির উপযোগী ছিল। গবেষণায় দেখা গেছে, বেশ কয়েকটি নমুনায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি ছিল নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি।

    কিছু বিক্রয়কেন্দ্রের ৩ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ নমুনায় নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল পাওয়া গেছে। ২০২১ থেকে ২০২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে এই হার ছিল গড়ে শূন্য দশমিক ০৫ থেকে শূন্য দশমিক ০৯ শতাংশ।

    গবেষকরা বলছেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যে হার পাওয়া গেছে, তাতে জবাইয়ের ঠিক আগ মুহূর্তেও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ প্রয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে।

    অধ্যাপক পেলিগ্যান্ড বলেন, “আশা করি, এ গবেষণার মাধ্যমে ভেটেরিনারিতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অবশিষ্টাংশ নিয়ে সচেতনতা বাড়বে এবং স্থানীয় পর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তার উন্নতি হবে।” ওয়ান হেলথ পোলট্রি হাবের মাধ্যমে এ গবেষণায় অর্থায়ন করেছে ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন গ্লোবাল চ্যালেঞ্জেস রিসার্চ ফান্ড।

  • বেনাপোল ইমিগ্রেশন পরিদর্শনে এসবি প্রধান

    বেনাপোল ইমিগ্রেশন পরিদর্শনে এসবি প্রধান

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি নুরুল আমিন।

    শনিবার (৮ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে তিনি বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে পৌঁছান। পরিদর্শনকালে তিনি ইমিগ্রেশন কার্যক্রম, যাত্রীসেবা, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সীমান্ত দিয়ে যাত্রীদের যাতায়াতের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

    এ সময় ইমিগ্রেশন পুলিশের কর্মকর্তারা চেকপোস্টের চলমান কার্যক্রম ও যাত্রীসেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় এসবি প্রধানকে অবহিত করেন।

    পরিদর্শনে তার সঙ্গে ছিলেন যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়েদ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শাখাওয়াত হোসেন ও নাভারন সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আরিফ হোসেন।

    ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে নুরুল আমিন বলেন, বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও বৃহৎ স্থল প্রবেশদ্বার। এখান দিয়ে দেশি-বিদেশি যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে ইমিগ্রেশন পুলিশকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

    তিনি যাত্রী হয়রানি বন্ধ, দ্রুত ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন।

    এসবি প্রধান আরও বলেন, ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো ধরনের অনিয়ম বা যাত্রী হয়রানি বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

    এ সময় আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়। ইমিগ্রেশন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও যাত্রীবান্ধব করার বিষয়েও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।

    পরিদর্শন শেষে ইমিগ্রেশন পুলিশের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন এসবি প্রধান নুরুল আমিন।

    এ সময় বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুর রহমান খান, বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেনসহ ইমিগ্রেশন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • বাংলাদেশি বৃদ্ধকে ধরে যাওয়ার পরে ভারতীয় যুবককে ধরে আনলো স্থানীয়রা

    বাংলাদেশি বৃদ্ধকে ধরে যাওয়ার পরে ভারতীয় যুবককে ধরে আনলো স্থানীয়রা

    পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার বিরাজোত এলাকার তমিজ উদ্দিন (৭৮) নামে এক বাংলাদেশি বৃদ্ধকে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে দীপঙ্কর গোপ (৩৫) নামে ভারতীয় এক নাগরিককে ধরে নিয়ে এসেছে বাংলাদেশের সীমান্তের মানুষজন। এ ঘটনায় বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হলেও বিষয়টি সমাধান হয়নি।

    শনিবার সকালে উপজেলার সাতমেড়া ইউনিয়নের বিরাজোত সীমান্তের মেইন পিলার ৭৪২ এর ১২ নম্বর সাব পিলার এলাকায় বাংলাদেশের আখ খেতে প্রবেশের পর ওই ভারতীয় নাগরিককে ধরে নিয়ে আসে সীমান্তের বাসিন্দা। তার বাড়ি ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ থানায়।

    স্থানীয় জানান, গত বুধবার সকালে বিরাজোত সীমান্তে হারানো গরু খুঁজতে যান বৃদ্ধ কৃষক তমিজ উদ্দিন। পরে সীমান্ত থেকে তাকে ধরে নিয়ে যায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের চাউলহাটি ক্যাম্পের সদস্যরা।

    তমিজ উদ্দীনের ছেলে আজাহার জানান, আমার বাবা কানে কম শুনতে পান, ঠিকমতো চলতেও পারেন না। গরু খুঁজতে সীমান্তের কাছে গেলে তাকে বিএসএফ ধরে নিয়ে যায়।

    এরই জেরে শনিবার সকালে ভারতীয় ওই নাগরিক সীমান্তে চা বাগানে কাজ করার ফাঁকে বাংলাদেশের আঁখ খেতে প্রবেশ করে আঁখ ভাঙার চেষ্টা করলে তাকে ধরে নিয়ে আসে সীমান্ত এলাকার মানুষেরা। স্থানীয়দের দাবি বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত দিলেই ভারতীয় ওই নাগরিককে ফেরত দেওয়া হবে।

  • পে-স্কেল নিয়ে তোড়জোড়, মন্ত্রিসভায় উঠছে প্রস্তাব

    পে-স্কেল নিয়ে তোড়জোড়, মন্ত্রিসভায় উঠছে প্রস্তাব

    বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে আবারও তৎপরতা শুরু হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাবটি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহে অথবা চলতি মাসের শেষ দিঅর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব অনুমোদিত হলে পরবর্তী ধাপে প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে নতুন পে স্কেল ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

    নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এর আর্থিক প্রভাব। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সরকারি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপ বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পে স্কেল বাস্তবায়ন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

    তবে সরকার পুরোপুরি বাস্তবায়ন পিছিয়ে না দিয়ে নিজেদের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় রেখে বিকল্প পথ খুঁজছে। প্রয়োজনে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

    ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে নতুন কোনো জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়নি। এ সময়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিবছর নির্ধারিত হারে ইনক্রিমেন্ট পেলেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে নতুন পে স্কেলের দাবি ক্রমেই জোরালো হয়।

    এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে কমিশন সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।

    প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছিল।

    পরে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২১ এপ্রিল পে স্কেলের সুপারিশগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির পর্যালোচনা ও সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।

    অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়তে পারে। অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়োজন হবে।

    এদিকে নবম পে স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রত্যাশা বাড়ছে। এখন তাদের নজর মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবটি কবে উপস্থাপন করা হবে, অনুমোদনের পর কখন প্রজ্ঞাপন জারি হবে এবং শেষ পর্যন্ত কোন কাঠামোয় নতুন বেতন কার্যকর করা হবে—সেদিকেই।

  • স্ত্রী মশা দমনে ৬ লাখ পুরুষ মশা ছাড়বে যুক্তরাষ্ট্র

    স্ত্রী মশা দমনে ৬ লাখ পুরুষ মশা ছাড়বে যুক্তরাষ্ট্র

    যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মশা দমনে নতুন একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি চালু হয়েছে। এ উদ্যোগের আওতায় প্রায় ৬ লাখ পুরুষ এশিয়ান টাইগার মশা ছাড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব মশার শরীরে থাকে ‘ওলবাকিয়া’ নামের একটি প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া। পুরুষ মশাগুলো মানুষকে কামড়ায় না। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

    এসব পুরুষ মশা যখন এই ব্যাকটেরিয়াবিহীন স্ত্রী মশার সঙ্গে মিলিত হয়, তখন স্ত্রী মশার ডিম আর ফুটে না। ফলে নতুন মশার জন্ম বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে ধীরে ধীরে মশার সংখ্যা কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়।

    মশা নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ‘বি সেফ মসকুইটো কন্ট্রোল’-এর প্রতিষ্ঠাতা টড মন্টগোমারি এ উদ্যোগ নিয়েছেন। গ্রীষ্মের শেষ নাগাদ ওয়াশিংটনের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় প্রায় ৬ লাখ মশা ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে ২৫ জন গ্রাহক এই কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছেন। প্রত্যেকে ১৬ সপ্তাহ ধরে প্রতি সপ্তাহে ১ হাজার ৫০০টি করে পুরুষ মশা পাচ্ছেন।

    মন্টগোমারি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক এলাকায় উষ্ণ ও আর্দ্র দিনের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে রোগ ছড়ানো মশার বংশবিস্তার ও সক্রিয় থাকার সময়ও বাড়ছে। তাই মশা নিয়ন্ত্রণে রাসায়নিক কীটনাশকের বিকল্প খুঁজে বের করা প্রয়োজন।

    এই পদ্ধতি মূলত এশিয়ান টাইগার মশার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। মশাটি যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় প্রজাতি নয়। তবে এটি ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের জীবাণু ছড়াতে পারে। উত্তর ভার্জিনিয়ায় স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর মশাবাহিত রোগ নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে।

    মন্টগোমারি জানান, কীটনাশকের ব্যবহার কমানোই তার উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। তার কয়েকজন গ্রাহকও পরিবার ও পোষা প্রাণীর ওপর রাসায়নিকের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাই তারা মশা নিয়ন্ত্রণে এই বিকল্প পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন।

    ওলবাকিয়া পদ্ধতি অবশ্য নতুন নয়। সিঙ্গাপুরে ২০১৬ সাল থেকে ‘প্রজেক্ট ওলবাকিয়া’ নামে বড় পরিসরে এ ধরনের কর্মসূচি চলছে। সেখানে প্রতি সপ্তাহে এক কোটিরও বেশি পুরুষ মশা ছাড়ার কথা জানা গেছে।

    গবেষণায় দেখা গেছে, ওলবাকিয়াযুক্ত মশা ব্যবহারের মাধ্যমে এডিস ইজিপ্টাই মশার সংখ্যা কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মশা নিয়ন্ত্রণে এই পদ্ধতি নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে।

  • ঝাড়খন্ডে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ, আটক ৮

    ঝাড়খন্ডে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ, আটক ৮

    ভারতের ঝাড়খন্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে চলমান আন্দোলনের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বাসভবনের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) সদস্যরা। শুক্রবার ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয় এবং ৮ থেকে ১০ জন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।

    নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানাতে এবিভিপির ঝাড়খন্ড শাখা এই মিছিলের আয়োজন করে। রাঁচির ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে যাওয়ার কথা ছিল।

    ঝাড়খন্ডের ১৪তম লোকসেবা কমিশনের সিভিল সার্ভিস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। গত ২৫ জুলাই রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে ঝাড়খন্ড লোকসেবা কমিশন ও ঝাড়খন্ড কর্মী নির্বাচন কমিশন সংস্কার মঞ্চের ব্যানারে আন্দোলন শুরু করেন তারা। এরপর টানা দুই সপ্তাহ ধরে পরীক্ষা বাতিল, অনিয়মের স্বাধীন তদন্ত এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলছে।

    আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি, পুরো ঘটনার তদন্ত কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা অথবা ঝাড়খন্ডের বাইরের অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে করতে হবে। পাশাপাশি ঝাড়খন্ড লোকসেবা কমিশন ও ঝাড়খন্ড কর্মী নির্বাচন কমিশনের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সংস্কার এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

    আন্দোলন ঘিরে রাজ্য সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। বিজেপির বিধায়কেরা ঝাড়খন্ড বিধানসভায় বিক্ষোভ করে কেন্দ্রীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগ ও দুর্নীতি দমন ব্যুরোর তদন্তে শিক্ষার্থীদের আস্থা নেই। তবে সরকার বলছে, অভিযোগের তদন্ত এগিয়ে চলছে এবং এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগও নিয়েছে রাজ্য সরকার। শনিবার বিক্ষোভকারী চাকরিপ্রার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসে। সরকার জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের মতামত নিয়ে নিয়োগব্যবস্থায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, তাদের মূল দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

    এরই মধ্যে ছয় বিক্ষোভকারী অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলনকারীরা আগামী ১০ আগস্ট ঝাড়খন্ড বিধানসভা ঘেরাওয়ের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছেন। ফলে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন রাজ্য সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • ৩০ বছর পর এভারেস্টের ‘গ্রিন বুটস’ বাড়ি ফিরছেন !

    ৩০ বছর পর এভারেস্টের ‘গ্রিন বুটস’ বাড়ি ফিরছেন !

    এভারেস্টের চূড়ার কাছাকাছি ৩০ বছর ধরে বরফের নিচে পড়ে থাকা এক মৃত পর্বতারোহীর দেহ এবার হয়তো বাড়ি ফিরতে পারে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (আইটিবিপি) এ জন্য একটি বিশেষ উচ্চতাভূমি উদ্ধারকারী দল খুঁজছে।

    এভারেস্টে পড়ে থাকা ওই মৃতদেহটি পর্বতারোহীদের কাছে ‘গ্রিন বুটস’ নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করা হতো, দেহটি ১৯৯৬ সালে এভারেস্টে নিহত ভারতীয় পর্বতারোহী তেসওয়াং পালজোরের। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উদ্ধারকারী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, দেহটি আসলে আরেক ভারতীয় পর্বতারোহী দর্জে মোরুপের।

    দেহটি এভারেস্টের প্রায় ৮ হাজার ৫০০ মিটার উচ্চতায়, চূড়ার কাছাকাছি একটি পাথরের খাঁজের নিচে পড়ে আছে। সেখানে বছরের পর বছর বরফে জমে থাকা ওই দেহটি এভারেস্টে ওঠার পথে পর্বতারোহীদের জন্য এক ধরনের ভয়াবহ চিহ্ন হয়ে আছে।

    তুষারঝড়ে প্রাণ হারান তিনজন
    ১৯৯৬ সালে এভারেস্টে ওঠার জন্য ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একটি ঐতিহাসিক অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন দর্জে মোরুপ। লক্ষ্য ছিল চীনের নিয়ন্ত্রিত তিব্বতের দিক দিয়ে এভারেস্টের চূড়ায় ওঠা। এটি ছিল ওই দিক দিয়ে প্রথম ভারতীয় অভিযান।

    অভিযানে ছিলেন ছয়জন পর্বতারোহী। তুষারঝড়ের কারণে তিনজন ফিরে আসেন। মোরুপ ও তার দুই সহযাত্রী তেসওয়াং স্মানলা ও তেসওয়াং পালজোর চূড়ার দিকে এগিয়ে যান। তারা ৮ হাজার ৮৪৯ মিটার উচ্চতার চূড়ায় পৌঁছাতেও সক্ষম হন।

    তবে নামার সময় ভয়াবহ তুষারঝড় আঘাত হানে। ওই ঝড়েই তিনজনের মৃত্যু হয়।

    এভারেস্ট অঞ্চলে গত এক শতকে ৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাদের অনেকের দেহ এখনো পাহাড়ে পড়ে আছে। মোরুপের দেহ বলে ধারণা করা ‘গ্রিন বুটস’ও গত ৩০ বছর ধরে সেখানেই পড়ে আছে।

    কীভাবে বদলাল পরিচয়
    দীর্ঘদিন ধরে ‘গ্রিন বুটস’কে তেসওয়াং পালজোরের দেহ বলে মনে করা হতো। কিন্তু ১৯৯৬ সালের অভিযানে বেঁচে যাওয়া সদস্যদের বক্তব্য এবং অভিযাত্রীদের শেষ রেডিও যোগাযোগের অবস্থান বিশ্লেষণ করে এখন ভারতীয় কর্তৃপক্ষের ধারণা, দেহটি দর্জে মোরুপের।

    আইটিবিপির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসিকে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোরুপের পোশাক ও পর্বতারোহণের সরঞ্জাম পরীক্ষা করে দেহটি শনাক্ত করার বিষয়ে কর্মকর্তারা নিশ্চিত হয়েছেন।

    তবে পরিচয় নিশ্চিত করতে দেহটি ভারতে ফিরিয়ে আনার পর ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।

    উদ্ধার করা কতটা কঠিন
    এভারেস্ট থেকে মৃতদেহ উদ্ধার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি কাজ। মোরুপের দেহ যে এলাকায় রয়েছে, সেটি পর্বতারোহীদের ভাষায় ‘ডেথ জোন’। সেখানে তাপমাত্রা নেমে যেতে পারে মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। সমুদ্রপৃষ্ঠের তুলনায় সেখানে অক্সিজেনের পরিমাণও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

    নেপালের বিশিষ্ট পর্বতারোহী তশিরিং জাংবু শেরপা বলেন, আবহাওয়া ও তুষারের পরিস্থিতি উদ্ধার অভিযানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে। এভারেস্টের উত্তর দিক তুলনামূলকভাবে কম ফাটলযুক্ত হলেও সেখানে দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত হেলিকপ্টারে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই।

    পর্বতারোহী গাইড পেম্বা ওংচু শেরপা বলেন, জনপ্রিয় বসন্ত মৌসুমেও ওই দেহ নামিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন। এর জন্য চূড়ায় ওঠার সক্ষমতা থাকা ১০ থেকে ১২ জন পর্বতারোহীর প্রয়োজন হতে পারে।

    মৃতদেহটি এমন উচ্চতা থেকে নামিয়ে প্রথমে হেলিকপ্টারে নেওয়া সম্ভব এমন জায়গায় পৌঁছাতে হবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইয়াক ব্যবহার করার সম্ভাবনাও থাকে। বরফে জমে থাকা দেহ সাধারণ মানুষের তুলনায় কয়েক গুণ ভারী হয়ে যেতে পারে। আবার নিচের উচ্চতায় নামানোর পর দেহ গলতে ও পচতে শুরু করতে পারে।

    ভারতীয় পর্বতারোহী কুনতাল জোইশার বলেন, দেহ নামানোর শুরুর প্রায় এক হাজার মিটার পথই সবচেয়ে কঠিন হতে পারে। খাড়া পাথুরে পথ দিয়ে দেহ নামাতে গিয়ে উদ্ধারকারী শেরপাদের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

    এ ধরনের উদ্ধার অভিযানে বিপুল অর্থও প্রয়োজন হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, তুলনামূলক সহজ উদ্ধার অভিযানেও ৪০ হাজার থেকে ৮০ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

    সেপ্টেম্বরে মরদেহ ফেরানোর লক্ষ্য
    দর্জে মোরুপের দেহ উদ্ধারের অর্থায়ন করছে আইটিবিপি। বাহিনীটি আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে উদ্ধার অভিযান শেষ করতে চায়। এ জন্য উচ্চতাভূমিতে মৃতদেহ উদ্ধারে অভিজ্ঞ শেরপা দল খোঁজা হচ্ছে।

    ভারতে দেহটি ফিরিয়ে আনার পর ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। পরিচয় মোরুপের বলে নিশ্চিত হলে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

    ‘আমি বিশ্বাস করিনি সে মারা গেছে’
    মোরুপের স্ত্রী কনচাক ইয়াংস্কিটের কাছে স্বামীর মৃত্যুর খবর মেনে নেওয়া এত সহজ ছিল না। কারণ, তিনি কখনো তার মরদেহ দেখেননি।

    মোরুপ এভারেস্ট অভিযানে যাওয়ার আগের রাতে স্ত্রীকে বলেছিলেন, তিনি নায়ক হয়ে ফিরবেন এবং দেশের গর্ব হবেন। স্ত্রীকে সন্তানদের যত্ন নিতে এবং দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে যেতে বলেছিলেন তিনি।

    ইয়াংস্কিট বলেন, অভিযানের সময় পাহাড়ে ঝড়ের খবর তিনি পেয়েছিলেন। বাড়িতে স্বামীর জন্য শেষকৃত্যের প্রার্থনাও করা হয়েছিল। কিন্তু তার মন কখনো বিশ্বাস করতে চায়নি যে মোরুপ মারা গেছেন।

    তার ভাষ্য, ‘আমি তার মৃতদেহ দেখিনি। তাই বিশ্বাস করা কঠিন ছিল।’

    মোরুপের পরিবারের কাছে এখন তার কয়েকটি ছবি, পদক ও পুরস্কার এবং চীন সরকারের দেওয়া একটি সনদ রয়েছে। ওই সনদে উল্লেখ আছে, ১৯৯৬ সালের ১০ মে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় মোরুপ এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছেছিলেন।

    মোরুপের ছেলে পাঞ্চক দর্জাই জানিয়েছেন, দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হলে লাদাখের রাজধানী লেহর মার্টিয়ার্স পার্কের কাছে তার বাবার শেষকৃত্য করা হবে। তিনি বলেন, তার বাবা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাই তাকে শহীদ হিসেবে স্মরণ করা উচিত।

    তবে পরিবারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্নটি হবে অন্য কিছু। মোরুপের ছেলে বলেন, তাদের বাড়িতে এভারেস্টে ওঠার সনদের পাশে ‘গ্রিন বুটস’-এর স্মৃতিও সংরক্ষণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

  • রেকর্ডসংখ্যক ভারতীয়কে ফেরত পাঠাল কানাডা

    রেকর্ডসংখ্যক ভারতীয়কে ফেরত পাঠাল কানাডা

    চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসেই ৩ হাজার ৩২৩ জন ভারতীয় নাগরিককে কানাডা থেকে বহিষ্কার করেছে দেশটির সরকার। বছরের বাকি সময়ে এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে এবং এর ফলে গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভারতীয় নাগরিককে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানোর নতুন রেকর্ড তৈরি হতে পারে।

    কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির (সিবিএসএ) সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৩ হাজার ৩২৩ ভারতীয়কে কানাডা থেকে অপসারণ করা হয়েছে। গত পুরো বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে ৩ হাজার ৭৭৯ ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়েছিল, যা তখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ছিল। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই গত বছরের মোট সংখ্যার প্রায় ৮৮ শতাংশে পৌঁছে গেছে।

    ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে কানাডা থেকে বহিষ্কারের ক্ষেত্রে ভারতীয়রাই সবচেয়ে বড় জাতীয়তাগত গোষ্ঠী। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মেক্সিকো—দেশটির ১ হাজার ৫৭৩ নাগরিককে এ সময়ে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

    গত পাঁচ বছর ধরে কানাডা থেকে বহিষ্কারের ক্ষেত্রে মেক্সিকোর নাগরিকরাই সংখ্যায় শীর্ষে ছিলেন। ভারত ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে। তবে ২০২০ সালে সর্বশেষ ভারতীয়রা এই তালিকায় শীর্ষে ছিল। ওই বছর ১ হাজার ৪২৪ ভারতীয় নাগরিককে কানাডা থেকে বহিষ্কার করা হয়।

    সিবিএসএর তথ্য বলছে, ২০২১ সালে কানাডা থেকে ৬০৩ ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়। ২০২২ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৮৬-তে। ২০২৩ সালে ১ হাজার ১৩২ জন এবং ২০২৪ সালে ২ হাজার ৪ জন ভারতীয় নাগরিককে বহিষ্কার করা হয়। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা আরো বেড়ে ৩ হাজার ৭৭৯-এ পৌঁছায়।

    কানাডা বর্তমানে দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থায় বেশ কিছু কঠোরতা আরোপ করছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী বিদেশি কর্মীসহ অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই ভারতীয় নাগরিকদের বহিষ্কারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

    সাধারণত অভিবাসন-সংক্রান্ত নিয়ম না মানা, আশ্রয় বা শরণার্থী আবেদনের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়া, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরো কানাডায় অবস্থান এবং ভিসা জালিয়াতির মতো কারণে ভারতীয় নাগরিকদের ফেরত পাঠানো হয়ে থাকে। তবে বহিষ্কারের কারণ নিয়ে সিবিএসএর আলাদা তথ্যভান্ডার থাকলেও সেখানে দেশভিত্তিক বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয় না।

    এদিকে কানাডায় বর্তমানে যাদের বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলমান, সেই তালিকাতেও ভারতীয়রা সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী। সিবিএসএর তথ্য অনুযায়ী, ৭ হাজার ৬৬৯ ভারতীয় নাগরিক বর্তমানে ‘রিমুভাল ইন প্রগ্রেস ইনভেন্টরি’তে রয়েছেন। অর্থাৎ তাদের কানাডা থেকে অপসারণের প্রক্রিয়া চলমান।

    কানাডায় বহিষ্কারের ক্ষেত্রে মূলত তিন ধরনের রিমুভাল অর্ডার রয়েছে। ‘ডিপারচার অর্ডার’-এর আওতায় কাউকে স্বেচ্ছায় ৩০ দিনের মধ্যে কানাডা ছাড়তে হয়। নির্ধারিত সময়ে না ছাড়লে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘ডিপোর্টেশন অর্ডার’-এ পরিণত হয়। ‘এক্সক্লুশন অর্ডার’-এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য—সাধারণত এক থেকে পাঁচ বছর—কানাডায় পুনঃপ্রবেশ নিষিদ্ধ থাকে। আর ‘ডিপোর্টেশন অর্ডার’ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি স্থায়ীভাবে কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েন, যদি না কানাডা সরকারের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি পান।

    কানাডার চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ভারতীয়দের বহিষ্কারের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফেরত পাঠানো ভারতীয়দের সংখ্যার চেয়েও আড়াই গুণের বেশি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ১ হাজার ২৭৩ ভারতীয় নাগরিককে ভারতে ফেরত পাঠিয়েছে।

    চলতি বছরের শেষ নাগাদ কানাডা থেকে ভারতীয় নাগরিকদের বহিষ্কারের সংখ্যা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • ‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন আবার বন্ধুত্ব চাইবেন, দুটো বিপরীতমুখী: ভারতকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    ‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন আবার বন্ধুত্ব চাইবেন, দুটো বিপরীতমুখী: ভারতকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    সম্প্রতি ভারতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলন করতে দেওয়ার ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, একদিকে ‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন, অন্যদিকে বাংলাদেশের সাথে বন্ধুত্ব রাখতে চাইবেন, দুটো বিপরীতমুখী।

    শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সাদা দল ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আয়োজনে আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পত্রিকায় দেখলাম ভারতের মুখপাত্র বলছেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা যা বলেছেন, তা ভারত সমর্থন করে না। তো ভারত কি তাকে বারবার মিটিং করতে দেওয়াটা সমর্থন করে? এইভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকে না।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ আমরা পারস্পরিক সম্পর্ক রাখব। আমাদের এই পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যে আন্তঃনির্ভরশীলতা আছে, এটিকে আমরা শক্তি হিসেবে মনে করি। আমরা আপনাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। তবে আমরা কখনো আওয়ামী লীগ হতে পারব না।

    তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের স্বার্থকে সমুন্নত রেখে পারস্পরিক সম্মান-মর্যাদা, সমান সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে আমরা আপনাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখব। তার মানে এই নয় আপনারা ‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন আর বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইবেন। দুটো বিপরীতমুখী। আশা করি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ, ভারত সরকার বিষয়টি বুঝবেন।

    তিনি বলেন, এখন বলা হচ্ছে- তারেক রহমান লন্ডনে বসে এবং সালাহউদ্দিন সাহেব ভারতে বসে যদি রাজনীতি করতে পারে, হাসিনার দোষ কী? হ্যাঁ, হাসিনার দোষ আছে। আমরা কেউ ফ্যাসিবাদী ছিলাম না। গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে আমাদের জোরপূর্বক নির্বাসিত করা হয়েছে। এটা হচ্ছে হাসিনার সাথে আমাদের ব্যবধান।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হাসিনার সঙ্গে আমাদের আরও ব্যবধান আছে। ভারতের পার্লামেন্টে জয়শঙ্কর সাহেব বক্তৃতা দিলেন যে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, তিনি যোগাযোগ করেছেন, তিনি পালিয়ে গিয়েছেন এবং এয়ারপোর্টে আপনাদেরই একজন মন্ত্রিপরিষদের সদস্য তাকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। এগুলো আমাদের সঙ্গে ব্যতিক্রম আছে। আমাদের বস্তাবন্দী করে হাত-পা, চোখ বেঁধে তারপর বস্তাসহকারে ওখানে ফেলে দিয়েছে। এই ব্যতিক্রমগুলো আছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা এই দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন। জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৪০০ এরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছেন, সেখানে নারী-শিশুর হার ছিল ১৩-১৪ শতাংশ এবং আসমান থেকে হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে এ দেশের জনগণকে হত্যা করেছেন। এরপরেও কি তাকে ডেমোক্রেটিক কালচারের কোনো নেতা হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ দিতে পারি? এই প্রশ্ন আমার রইল।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, হিটলারের গণহত্যার পর তার দলের বিরুদ্ধে বিচার হয়েছে। আমরা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সংগঠন হিসেবে বিচারের কথা বলেছি। আর্টিকেল ৪৭ অনুসারে সেই আইনটা করা হয়েছে। আইসিটি অ্যাক্টে সেটা আছে। তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি হবে না, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বা স্থায়ী সময়ের জন্য স্থগিত হবে কি হবে না এই বিধানগুলো সেখানে দেওয়া আছে। তাদের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হবে কিনা সেটাও ওখানে বলা আছে সেই আইনে। তদন্ত হচ্ছে, আমরা আশা করব সে তদন্ত শেষ হবে। ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনা এবং তার দোসরদের বিচার চলমান। কিছু বিচার সমাপ্ত হয়েছে, আরও অনেকগুলো এখন ফরমাল চার্জ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারগুলো চলবে।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশে হাসিনার নামে ফাঁসির রায় আছে এবং আরও মামলা চলমান আছে। কিন্তু এই ফ্যাসিস্টের কোনো অনুশোচনা নাই। বাংলাদেশের মানুষের সামনে দুঃখপ্রকাশ করেননি। যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলন করেছে, গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছে, তারা নাকি জঙ্গিবাদী তৎপরতার মধ্য দিয়ে তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করেছে। যদি অপতৎপরতা এবং মিথ্যা বলার কোনো বক্স অফিসে চ্যাম্পিয়ন হতো, সেটা হলো হাসিনার বাক্স।

  • ট্রাম্পকে যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পরামর্শ শীর্ষ মার্কিন জেনারেলের

    ট্রাম্পকে যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পরামর্শ শীর্ষ মার্কিন জেনারেলের

    ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ থেকে উত্তেজনা কমানোর পথ খুঁজতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে পরামর্শ দিয়েছেন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, জেনারেল কেইন আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধ আরও বাড়ালে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও আসতে পারে। বরং ইরানের পাল্টা হামলা আরও বড় আকার নিতে পারে। তিনি মনে করেন, শুধু বিমান হামলা চালিয়ে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে নিতে বাধ্য করা কঠিন হতে পারে।

    সিএনএনের তিনটি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, জেনারেল কেইন বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তাদের মধ্যে সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রয়েছেন।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর একটি পরিকল্পনা নিয়েও জেনারেল কেইনসহ কয়েকজন কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালাতে পারে। উপসাগরীয় কয়েকটি দেশও এমন হামলার আশঙ্কা জানালে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত ওই অভিযান পিছিয়ে দেন।

    এদিকে দীর্ঘ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র ও নির্ভুল হামলার অস্ত্রের মজুত কমে আসায় দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালানো কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

    তবে জেনারেল কেইন একই সঙ্গে সতর্ক করেছেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। কিন্তু এতে যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

    সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন মার্কিন প্রশাসন এমন একটি সমাধান খুঁজছে, যেটিকে ট্রাম্প রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে পারেন এবং একই সঙ্গে কূটনীতির পথও খোলা থাকে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে একটি সম্ভাব্য চুক্তিও রয়েছে।

  • পাকিস্তানি গোয়েন্দা চক্রের ‘হানিট্র্যাপে’ ভারতীয় বিমানবাহিনীর পাইলট গ্রেপ্তার

    পাকিস্তানি গোয়েন্দা চক্রের ‘হানিট্র্যাপে’ ভারতীয় বিমানবাহিনীর পাইলট গ্রেপ্তার

    ভারতের দিল্লি পুলিশ সংবেদনশীল প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত তথ্য ফাঁসের অভিযোগে দেশটির বিমানবাহিনীর এক উইং কমান্ডারকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, তিনি একটি বৃহত্তর গুপ্তচর নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। তার বিরুদ্ধে ভারতের অফিসিয়াল গোপনীয়তা আইনে মামলা করা হয়েছে। খবর ইন্ডিয়া টুডের।

    পুলিশের দাবি, চলতি বছরের ৩০ মে ওই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভারতীয় বিমানবাহিনী কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর দিল্লির একটি আদালত তাকে তিহার কারাগারে পাঠায়। বর্তমানে তিনি বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন এবং গ্রেপ্তারের পর থেকে জামিনের আবেদন করেননি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

    তদন্তকারীদের ভাষ্য, ওই কর্মকর্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে যোগাযোগে জড়ান। পুলিশ সন্দেহ করছে, ওই নারী পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনের একটি কঠিন সময়ের মধ্যে ওই কর্মকর্তার সঙ্গে নারীর যোগাযোগ শুরু হয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পরে অনলাইন চ্যাট ও ভিডিও কলের মাধ্যমে তাদের যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ হয়।

    পুলিশের অভিযোগ, এই যোগাযোগের সময় ওই কর্মকর্তা ডিজিটাল মাধ্যমে সংবেদনশীল নথি ও প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য ওই নারীর কাছে পাঠিয়েছিলেন। তবে ঠিক কী ধরনের তথ্য বা নথি আদান-প্রদান করা হয়েছে, তা প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। তদন্তকারীদের ধারণা, এর মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে।

    ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে একটি নির্দিষ্ট মোবাইল অ্যাপ ইনস্টলের বিষয়ও তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। তদন্তকারীদের দাবি, ওই কর্মকর্তা এক সহকর্মীকে একটি ফোনে অ্যাপটি ইনস্টল করতে বলেছিলেন। অ্যাপটি স্পাইওয়্যার বা রিমোট-অ্যাক্সেস ম্যালওয়্যার হিসেবে কাজ করে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, অবস্থান শনাক্তকরণ বা কথোপকথন নজরদারির সুযোগ ছিল কি না, তা জানতে ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে।

    তদন্তকারীরা এর আগে ওই কর্মকর্তার ওপর নজরদারি চালিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। পরে তাকে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়। এখন তদন্তের অন্যতম লক্ষ্য হলো কথিত তথ্যের প্রকৃত গ্রহীতাদের শনাক্ত করা এবং এর পেছনে কোনো বিদেশি হ্যান্ডলার বা বৃহত্তর গুপ্তচর নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল কি না, তা খুঁজে বের করা।

    মামলায় ৩০ জুলাই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন হওয়ায় তদন্তে উঠে আসা অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচার ও পরবর্তী তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের টার্গেট করা এবং সাইবার প্রযুক্তির মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সম্ভাবনা নিয়ে ঘটনাটি ভারতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তদন্ত সংস্থাগুলো বিদেশি যোগাযোগ, তথ্য পাচারের সম্ভাব্য পথ এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে।

  • ফিলিস্তিনপন্থি মার্কিনিদের ইসরায়েলে প্রবেশের অনুমতি বাতিল

    ফিলিস্তিনপন্থি মার্কিনিদের ইসরায়েলে প্রবেশের অনুমতি বাতিল

    অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা ও তাদের সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন মার্কিন ইহুদি অধিকারকর্মীর ইসরায়েলে প্রবেশের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার মার্কিন ইহুদি সংবাদমাধ্যম দ্য ফরওয়ার্ডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন অধিকারকর্মী স্যাম শেরম্যান অধিকৃত পশ্চিম তীরের মাসাফের ইয়াত্তা এলাকায় সাত সপ্তাহের একটি স্বেচ্ছাসেবী কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছিলেন। সেখানে তিনি ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় কাজ করছিলেন। ওই সময় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তার ভ্রমণ অনুমতি বাতিলের একটি ই-মেইল পান তিনি।

    শেরম্যান জানান, একই সময়ে তার দলের আরও কয়েকজন কর্মীও একই ধরনের ই-মেইল পেয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় ইসরায়েলি সেনা, পুলিশ ও সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীরা তার পাসপোর্টের ছবি তুলেছিলেন।

    তিনি বলেন, তারা মূলত স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলেন এবং তাদের সহায়তা করছিলেন। কিন্তু তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে, যেন সেখানে উপস্থিত থাকাই প্রায় অপরাধ।

    শেরম্যান আরও জানান, অভিজ্ঞ কয়েকজন ইহুদি অধিকারকর্মী তাকে বলেছেন, স্থায়ীভাবে ইসরায়েলে অভিবাসন না করলে ভবিষ্যতে তাকে দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া নাও হতে পারে।

    তবে মার্কিন ইহুদি কর্মীদের ভ্রমণ অনুমতি বাতিলের বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ প্রকাশ করেনি।

    এদিকে, ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনি সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ফিলিস্তিনি নাগরিক ও তাদের সম্পত্তির বিরুদ্ধে ৩ হাজার ৪৮৮টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

    এসব ঘটনার মধ্যে ব্যক্তিদের ওপর হামলা, সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি, নতুন অবৈধ বসতি স্থাপনের ফাঁড়ি তৈরি এবং ফিলিস্তিনি কৃষকদের নিজ জমিতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

  • মক্কা চুক্তিকে স্বাগত জানাল ওআইসি

    মক্কা চুক্তিকে স্বাগত জানাল ওআইসি

    সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সই হওয়া ঐতিহাসিক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’কে স্বাগত জানিয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। শুক্রবার মক্কার আল-সাফা প্রাসাদে আয়োজিত এক শীর্ষ সম্মেলনে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই চুক্তিতে সই করেন।

    তুরস্কের বার্তা সংস্থা ( ৮ আগস্ট) উল্লেখ করা হয়েছে, এই চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়। বরং এ চুক্তি মূলত আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি, স্থায়িত্ব এবং সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার একটি যৌথ নিরাপত্তা উদ্যোগ। চুক্তিটির মূল শর্ত, তিন দেশের কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সে হামলাকে বাকি দেশগুলোর ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। অর্থাৎ, এক দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশগুলোও তার সুরক্ষায় এক হয়ে লড়বে।

    ওআইসির মহাসচিব হিসেইন ইব্রাহিম ত্বাহা চুক্তিটিকে ‘ঐতিহাসিক’ ও ‘গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করে নিজের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘এই চুক্তি আঞ্চলিক এবং পুরো মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার একটি মূল স্তম্ভ হিসেবে কাজ করবে।’

    তিনি আরো যোগ করেন, নিত্যনতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং ওআইসি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সংহতি ও দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্ব জোরদার করতেই এই উদ্যোগ। তিন দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রশংসার পাশাপাশি ত্বাহা আশা প্রকাশ করেন, এই চুক্তি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বড় ভূমিকা রাখবে।

  • ন্যাটোভুক্ত দেশে হামলার ছক পুতিনের?

    ন্যাটোভুক্ত দেশে হামলার ছক পুতিনের?

    পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর যেকোনো একটিতে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া। জোটভুক্ত এসব দেশের সংকল্প ও ঐক্য পরীক্ষা করতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সীমিত আকারে হামলা চালানোর চেষ্টা করতে পারেন। সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে সিএনএন

    মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নে রাশিয়ার সম্ভাব্য উত্তেজনা বৃদ্ধির কয়েকটি পরিস্থিতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে সাইবার হামলা থেকে শুরু করে সীমিত পরিসরের সামরিক অনুপ্রবেশও রয়েছে। এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হতে পারে ন্যাটোর ঐক্য ও ‘আর্টিকেল ৫’-এর প্রতি সদস্যদেশগুলোর অঙ্গীকার পরীক্ষা করা।

    ন্যাটোর আর্টিকেল ৫ অনুযায়ী, জোটের একটি সদস্যের ওপর হামলা সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে রাশিয়া এমন পদক্ষেপ নিতে পারে, যাতে তা ন্যাটোর সম্মিলিত সামরিক প্রতিক্রিয়ার সীমা অতিক্রম না করে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
    পুতিন কীভাবে বা কখন এমন পদক্ষেপ নিতে পারেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে একটি সূত্রের মতে, তিনি সম্ভবত কোনোভাবে উত্তেজনা বাড়াতে বাল্টিক অঞ্চলের দেশগুলো অথবা পোল্যান্ডকে লক্ষ্য করতে পারেন। সাম্প্রতিক এই গোয়েন্দা মূল্যায়নের খবর প্রথম প্রকাশ করে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

    সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর কর্মকর্তারা মনে করছেন যে ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসার কোনো পথ পুতিন যদি না পান, তাহলে তিনি ন্যাটোর বিরুদ্ধে উত্তেজনা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। পুতিনের পরবর্তী পদক্ষেপ বেছে নেয়ার সম্ভাব্য সময়সীমা এখন থেকে আগামী কয়েক বছর পর্যন্ত বিস্তৃত।
    ন্যাটোর জ্যেষ্ঠ সামরিক মুখপাত্র মার্টিন ও’ডনেল গোপন গোয়েন্দা মূল্যায়ন নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে তিনি বলেন, ন্যাটো ‘সব সময় বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তা করছে এবং প্রস্তুতি নিচ্ছে’।

    তিনি আরও বলেন, ন্যাটো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষার জন্য আমরা প্রস্তুত- যা আমরা অব্যাহতভাবে প্রমাণ করে চলেছি।
    গত কয়েক বছরে রাশিয়ার ন্যাটোর ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে গত মে মাসে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের কাছাকাছি একটি বন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালানোর সময় বিস্ফোরক বহনকারী একটি ড্রোন রোমানিয়ার একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানে। এতে দুজন আহত হয়েছেন।

    এর আগে গত সেপ্টেম্বরেও ইউক্রেনে রুশ হামলার সময় একাধিক রুশ ড্রোন পোল্যান্ডের আকাশসীমা লঙ্ঘন করলে ন্যাটোর যুদ্ধবিমান সেগুলো ভূপাতিত করে।
    এ ছাড়া জার্মানির একটি বিমানবন্দরে গত বুধবার রাতে বিস্ফোরকবোঝাই একটি ড্রোন পাওয়া যায়। ইউরোপে অবস্থানরত এক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যায়ন অনুযায়ী ড্রোনটি রাশিয়ার একটি গোয়েন্দা সংস্থার ছিল। ওই কর্মকর্তা জানান, ড্রোনটিতে সামরিক কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক ছিল।

    এনিয়ে জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ডোব্রিন্ট বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, ড্রোন দেখা যাওয়া, ড্রোনের হুমকি হাইব্রিড- এমন বিষয়, যা আমরা অতীতে দেখেছি। তবে বিস্ফোরকসজ্জিত একটি ড্রোন বিমানবন্দরে পাওয়া যাওয়া একটি নতুন ধরনের হুমকির পরিস্থিতি।

    বৃহস্পতিবার ডোব্রিন্ট ইঙ্গিত দেন, ড্রোনটির সঙ্গে ‘বিদেশি শক্তির’ সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
    পরবর্তীতে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মেরৎসের নেতৃত্বাধীন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ শুক্রবার বৈঠক করে বিমানবন্দরের ওই ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেছে।
    রাশিয়ার সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া এবং রুশ দূরপাল্লার অস্ত্রের হামলায় ইউক্রেনে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

    সিএনএন এর আগে তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাডের প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতকারী ক্ষেপণাস্ত্র বা ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার হয়ে গেছে। একইভাবে প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রায় অর্ধেক ইন্টারসেপ্টরও ব্যবহার করা হয়েছে।

    এদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত রাশিয়ার দূরপাল্লার অস্ত্রের হামলায় ইউক্রেনে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা ৬০ শতাংশ বেড়েছে।

    চলতি সপ্তাহে এক রাতে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ও অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইউক্রেনে অন্তত ১৭ জন নিহত এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হন। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই হামলায় ছোড়া কোনো ক্ষেপণাস্ত্রই ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করতে পারেনি।

    বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতকারী ব্যবস্থার মজুত নিয়ে উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য সংঘাতের পরিকল্পনায়ও প্রভাব ফেলছে। এর মধ্যে পুতিনের ন্যাটোর বিরুদ্ধে উত্তেজনা বাড়ানোর সম্ভাবনা কিংবা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধও রয়েছে।

    ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ব্যক্তিগতভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
    ছয়টি সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকেও ট্রাম্প এ বিষয়ে অভিযোগ করেন। তবে বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ ‘গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র’ রয়েছে।
    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়ার সময়েই নতুন এই মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন সামনে এলো।

    রিপোর্টে বলা হয়েছে, মস্কোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের চলমান নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। তবে এসব পদক্ষেপ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পুতিনের সামরিক অভিযান থামাতে পারেনি।

  • যুক্তরাষ্ট্রের এক মাসে সর্বোচ্চ ৫১ হাজার অভিবাসী আটক

    যুক্তরাষ্ট্রের এক মাসে সর্বোচ্চ ৫১ হাজার অভিবাসী আটক

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের দেশজুড়ে অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদারের মধ্যে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) গত মাসে প্রায় ৫১ হাজার মানুষকে আটক করেছে। সংস্থাটির ইতিহাসে এক মাসে এটি সর্বোচ্চ সংখ্যক আটক।

    আইসিই প্রকাশিত তথ্য ও মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৬৪৫ জনকে আটক করেছে সংস্থাটি। এর আগে এক মাসে সর্বোচ্চ গ্রেফতারের রেকর্ড ছিল জুনে, প্রায় ৪৩ হাজার। ফলে টানা দুই মাসে নতুন রেকর্ড তৈরি হলো।

    দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের অভিযান আরও জোরদার করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসকারীদের শনাক্ত করে বহিষ্কারের লক্ষ্যে বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থাকে অভিযান বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে তার প্রশাসন।

    দেশটির বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান জোরদার করা হয়েছে। জর্জিয়ায় বিশেষ অভিবাসনবিরোধী অভিযানে ১ হাজার ২২৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া গত মাসে বিমানবন্দরগুলো থেকেও ৩০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

    আইসিই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, গ্রেফতারের পাশাপাশি বহিষ্কারের সংখ্যাও বেড়েছে। জুনে ডিএইচএস জানায়, চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮৯ জনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    ডিএইচএস এই অভিযানকে প্রয়োজনীয় বলে দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য, অভিবাসন আইন কার্যকর করা এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের দেশ থেকে সরিয়ে দেওয়াই এই অভিযানের উদ্দেশ্য।

    হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন বলেন, ‘আমাদের সম্প্রদায় থেকে অপরাধী অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের এই বাস্তবসম্মত উদ্যোগকে ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক সমর্থন করেন। এসব অপরাধীকে সরিয়ে আমরা আবারও আমেরিকাকে নিরাপদ করছি।’

    তবে সরকারের এই ব্যাপক অভিযান নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক অভিযানে আটক কিছু ব্যক্তির কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না। এমনকি তাদের বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি বা বৈধ প্যারোলের কাগজপত্রও ছিল। এতে অভিবাসী অধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে—এই অভিযান শুধু অপরাধীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে কি না।

    এমনকি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কিছু সমর্থকও মনে করছেন, অভিযান আরও জোরদার করা উচিত। ট্রাম্প-সমর্থক ওভারসাইট প্রজেক্টের প্রেসিডেন্ট মাইক হাওয়েল জানান, গ্রেফতারের সংখ্যা তার প্রত্যাশার তুলনায় এখনও কম। তিনি কর্মস্থলগুলোতেও অভিবাসন আইন প্রয়োগকে এই কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

  • উভয় সংকটে ট্রাম্প!

    উভয় সংকটে ট্রাম্প!

    ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ষষ্ঠ মাসে পদার্পণ করার পর, এই সপ্তাহে একদিকে চরম হুঁশিয়ারি এবং অন্যদিকে জোর কূটনৈতিক তৎপরতার ঘটনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমবর্দ্ধমান চরম কোণঠাসা অবস্থাকেই প্রকাশ্যে এনেছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহে শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুরু করা এই অপ্রিয় যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে গিয়ে এখন চরম বিপাকে পড়েছেন তিনি।

    বর্তমানে ট্রাম্পকে প্রধানত দুটি জটিল বিকল্পের মধ্য থেকে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে—প্রথমত, ওমান ও ইরানের মধ্যে হতে যাওয়া একটি মধ্যবর্তী চুক্তি মেনে নেওয়া, যা তেহরানকে হরমুজ প্রণালির ওপর এমন এক কর্তৃত্ব প্রদান করবে যা যুদ্ধের আগে তাদের ছিল না।

    দ্বিতীয়ত, যুদ্ধের মাত্রা বাড়িয়ে নতুন করে কঠোর সামরিক হামলার যে হুমকি দেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়ন করা, যার পরিণতি হতে পারে আরও দীর্ঘমেয়াদী সংকট।

    বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম বিকল্পটি মেনে নিলে তা হবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ হামলা চালানোর পর তেহরানকে দেওয়া সবচেয়ে বড় ছাড়। এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির তদারকি অন্তত সাময়িকভাবে হলেও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাবে, যা প্রতিরোধ করার অঙ্গীকার করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন।

    অন্যদিকে, বড় ধরনের নতুন বিমান হামলার মাধ্যমে সংকেত পাঠানো রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্পের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে—বিশেষ করে আগামী নভেম্বরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে। তাছাড়া আগের বোমাবর্ষণ যেখানে তেহরানকে নতি স্বীকার করাতে ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে নতুন করে হামলা চালালেও সাফল্য পাওয়ার বাড়তি কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

    ট্রাম্প অবশ্য এই দুই পথের বাইরে গিয়ে বর্তমানের নড়বড়ে ‘স্ট্যাটাস কো’ বা বিরাজমান পরিস্থিতি বজায় রাখার সিদ্ধান্তও নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ বহাল রাখা এবং জাহাজে যেকোনো হামলার জবাবে মাঝে মাঝে প্রতিশোধমূলক আক্রমণ চালানো অব্যাহত থাকবে। কিন্তু এই কৌশলটিও ট্রাম্পকে এমন কোনো সম্মানজনক প্রস্থানের পথ দেবে না, যা মধ্য-এপ্রিলের মধ্যেই যুদ্ধ শেষ হওয়ার প্রাথমিক ধারণার সঙ্গে মেলে।

    ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান—উভয় প্রশাসনের সাবেক মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মধ্যস্থতাকারী অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, ‘ট্রাম্পের সামনে এখন খারাপ বিকল্পের দীর্ঘ তালিকা। তবে তিনি হয়তো এখন এটি উপলব্ধি করতে পেরেছেন যে এই যুদ্ধ অনির্দিষ্টকালের জন্য চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। কোথাও না কোথাও ছাড় দিতেই হবে, আর সেটি হতে পারে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া।’

    তবে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে এক মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যেকোনো ‘সাময়িক’ নৌচলাচল পথ হবে সম্পূর্ণ ‘বাধাহীন’ এবং তা কোনো একপক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না।

    নৌপথে অচলাবস্থা

    মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, বিশ্বজুড়ে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের মাধ্যম এই হরমুজ প্রণালি কোনোভাবেই ইরানের নিয়ন্ত্রণে বা তাদের ফি আদায়ের অধীনে থাকতে পারে না; এটিকে অবশ্যই উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক পানিপথ হিসেবে রাখতে হবে।

    তবে ট্রাম্প এর আগেও যুদ্ধ সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে রুবিওর বক্তব্য খণ্ডন করেছেন এবং বিশ্লেষকদের ধারণা, এবারও তার ব্যতিক্রম নাও হতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের অতিরিক্ত মূল্য, ট্রাম্পের নিজস্ব জনপ্রিয়তা হ্রাস এবং সাধারণ আমেরিকানদের মধ্যে এই যুদ্ধ নিয়ে তীব্র অসন্তোষের কারণে প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক কৌশলের পরিধি ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ট্রাম্পের হুমকি-ধমকি ইরানকে নতি স্বীকার করাতে খুব একটা কাজে আসেনি। বরং বিশ্লেষকদের মতে, এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকেই সবচেয়ে বড় ছাড় দিতে হতে পারে।

    হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করাকে মার্কিন ও ইরানের মধ্যে আলোচনার টেবিলে ফেরার প্রধান শর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওয়াশিংটন চায় এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হোক ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, যা ছিল ট্রাম্পের সামরিক অভিযানের ঘোষিত প্রধান লক্ষ্য।

    তবে ইরান ও ওমানের চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে কিনা—সেটাই এখন মূল প্রশ্ন। ইরানি একটি জ্যেষ্ঠ সূত্র ও আঞ্চলিক দুজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, প্রস্তাবিত শর্ত অনুযায়ী পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজের ওপর তেহরান কিছু তদারকি বা নিয়ন্ত্রণ পাবে। ট্রাম্প জলপথ চালুর চুক্তিকে ‘আসন্ন’ বললেও ইরানি কর্মকর্তারা জানান, অনেক খুঁটিনাটি বিষয় এখনো অমীমাংসিত।

  • ভারতের জেন জি-রা কি সত্যিই বাড়ি কেনা বন্ধ করে দেবে?

    ভারতের জেন জি-রা কি সত্যিই বাড়ি কেনা বন্ধ করে দেবে?

    ভারতে মহামন্দা আসন্ন, আবাসন খাতের পতন নিশ্চিত, চারপাশে আতঙ্ক—জেন জি বা নতুন প্রজন্ম যদি বাড়ি কেনা বন্ধ করে দেয়, তবে অধিকাংশ মানুষই একবাক্যে এমন উত্তর দেবেন। প্রচলিত এই ধারণাটি শুনতে বেশ নাটকীয় শোনালেও ভারতের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে কিন্তু ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠছে।

    মূল প্রশ্নটি আসলে জেন জি আবাসন চাইবে কিনা তা নিয়ে নয়; কারণ তাদেরও মাথার ওপর ছাদ প্রয়োজন। আসল প্রশ্ন হলো—তারা কি সেই বাড়ি তৈরি বা ক্রয় করবে, নাকি ভাড়া থাকবে, অথবা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তিতে বসবাস করবে? কারণ এই তিনটি পথের প্রতিটিই অর্থনীতিতে অর্থ সঞ্চালনের গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে দেয়।

    ভারতের গুরুগাঁওয়ের গ্রেট লেকস ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের অর্থনীতির শিক্ষক ড. ভি পি সিং বিষয়টিকে সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

    তার মতে, জেন জি বাড়ি কিনবে না বলে আবাসন খাতে ধস নামবে—এই ভয় ভিত্তিহীন। কারণ আবাসনের মোট চাহিদা মূলত জনসংখ্যা বৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে, কোনো নির্দিষ্ট প্রজন্মের স্বভাবের ওপর নয়। সব অভিভাবকেরও এত সম্পত্তি নেই যে সন্তানরা তা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়ে যাবে। ফলে থাকার জন্য বাড়ি জেন জি-র লাগবেই।

    তবে স্বত্বাধিকার বা মালিকানা কার হাতে থাকছে, সেটিই অর্থনীতির মূল অনুঘটক।

    ভারতের নতুন প্রজন্ম যদি ক্রয়ের বদলে ভাড়া থাকার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে ঋণের কিস্তির টাকা ব্যাংক কিংবা ডেভেলপারের কাছে না গিয়ে যাবে বাড়িওয়ালার পকেটে। ফলে আবাসন খাতের প্রথাগত অর্থায়ন প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা তৈরি হলেও সার্বিক চাহিদা ধ্বংস হচ্ছে না।

    বাস্তবতা ঢাকতে ডেভেলপারদের নীরবতা

    প্রচারমুখী জরিপ বা মনগড়া বিবৃতির চেয়ে সত্য উঠে আসে ব্যবসায়ীদের আচরণে।

    সম্প্রতি ভারতের শীর্ষস্থানীয় আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে নতুন প্রজন্মের ক্রেতাদের আগ্রহ নিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ও দেশের বৃহত্তম কয়েকটি প্রতিষ্ঠানসহ সবাই এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়। তাদের দাবি, এতে খাতের ‘নেতিবাচক দিক’ উন্মোচিত হতে পারে।

    এমনকি একটি প্রতিষ্ঠান জেন জি ক্রেতাদের জোয়ার এসেছে বলে অন-রেকর্ড দাবি করলেও, বিক্রির প্রকৃত তথ্য-উপাত্ত চাওয়া মাত্রই তারা মন্তব্য প্রত্যাহার করে নেয়। বিশ্লেষকদের মতে, বিক্রির সংখ্যা ভালো থাকলে কোনো প্রতিষ্ঠানই তা লুকাতে চায় না। এই নীরবতাই বলে দেয় তরুণ প্রজন্মের প্রাথমিক আবাসন ক্রয়ের হার বাস্তবে বেশ মন্দা।

    স্বপ্নের বদল ও আর্থিক কৌশলের পরিবর্তন

    উপার্জনের শুরুতে ২০-২২ বছর বয়সে কোনো প্রজন্মই ফ্ল্যাট কেনার সামর্থ্য রাখে না। কিন্তু দেশটিতে এবার চিত্রটি সামান্য ভিন্ন। ভারতে শুধু মেট্রোপলিটন এলাকাতেই নয়, মফস্বল শহরের ২১ বছরের এক তরুণও আজকের দিনে সোশ্যাল মিডিয়ার একই ট্রেন্ডের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফলস্বরূপ, দীর্ঘ মেয়াদী হোম লোনের জালে নিজেদের বাঁধার চেয়ে বর্তমানকে উপভোগ করা—যেমন ভ্রমণ, গ্যাজেট বা লাইফস্টাইলে খরচ করার প্রবণতা বাড়ছে।

    অন্যদিকে থিনক্রেডব্লু সিকিউরিটিজের প্রধান গৌরব উদানি এটিকে বাড়ি কেনার বর্জন হিসেবে দেখছেন না; বরং বলছেন ক্রম পরিবর্তন বা ‘রিসিকুয়েন্সিং’।

    তার মতে, নতুন প্রজন্ম এখন ২৫-২৬ বছরেই দীর্ঘমেয়াদী ইএমআই-এর ফাঁদে পড়ার চেয়ে প্রথমে তরল সম্পদ (যেমন: মিউচুয়াল ফান্ড, শেয়ারবাজার) তৈরিকে প্রাধান্য দিচ্ছে। বাড়িকে একমাত্র বড় বিনিয়োগ না বানিয়ে, তারা এটিকে স্রেফ একটি নিরাপদ আবাসন হিসেবে দেখতে চায়—যা পরবর্তীতে পর্যাপ্ত আর্থিক স্থায়িত্ব আসার পরেই কেনা সম্ভব।

    অর্থনীতিতে সাময়িক ধাক্কা, দীর্ঘমেয়াদে সম্ভাবনা

    প্রথমবার বাড়ি ক্রেতাদের এই বিলম্ব অর্থনীতির তিনটি খাতে চাপ তৈরি করছে:

    ১. নির্মাণ খাতে ধীরগতি: প্রাথমিক বুকিং কমে গেলে নতুন প্রকল্পের কাজ থমকে যায়, যা রড, সিমেন্ট, রঙ শিল্প থেকে শুরু করে দৈনিক মজুরিভিত্তিক নির্মাণ শ্রমিকদের রোজগারে প্রভাব ফেলে।

    ২. রাজস্ব ক্ষতি: আবাসন লেনদেন কমলে রেজিস্ট্রেশন ও স্ট্যাম্প ডিউটি থেকে প্রাপ্ত রাজ্য সরকারের নির্ভরযোগ্য আয় কমে যায়, যা অবকাঠামোগত উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে।

    ৩. ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের ঝুঁকি: নিরাপদ গৃহঋণ বৃদ্ধি না পেলে ব্যাংকগুলো ক্রেডিট কার্ড, পার্সোনাল লোন বা ‘বাই নাউ পে লেটার’-এর মতো ঝুঁকিপূর্ণ খুচরা ঋণের দিকে ঝুঁকতে পারে।

    অর্থ কিন্তু হারিয়ে যাচ্ছে না

    তবে মুদ্রাভীতি বা অর্থনৈতিক ধসের এই চিত্রটি একদিকে ইতিবাচক দিকও নির্দেশ করে। জেন জি প্রজন্ম যদি ডাউন পেমেন্টের টাকা বাঁচিয়ে শেয়ারবাজার, মিউচুয়াল ফান্ড বা ব্যবসায় বিনিয়োগ করে, তবে সেই পুঁজি গায়েব হয়ে যাচ্ছে না। বরং দেশের কর্পোরেট খাতের জন্য তা তুলনামূলক কম খরচের তরল পুঁজি সরবরাহ করছে।

    অতীতে জাপান ও চীন যেভাবে অতিরিক্ত আবাসন-নির্ভর হয়ে অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পড়েছিল, তরুণদের বর্তমান বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগ কৌশল দেশের অর্থনীতিকে সেই একমুখী ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে।

    ভারতের জেন জি-রা শেষ পর্যন্ত বাড়ি কিনবে—তবে কিছুটা দেরিতে এবং তাদের মোট সম্পদের সামান্য অংশ সেখানে ঢেলে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধাক্কায় আবাসন খাতের প্রথাগত ভবিষ্যৎ হয়তো টিকে থাকবে, তবে প্রাথমিক কেনাবেচার টাকা কিভাবে আবাসন, শেয়ারবাজার ও সাধারণ খরচের বাজারে ভাগ হয়ে যাবে—সেই নতুন ব্যবস্থার সঙ্গেই এখন সবাইকে মানিয়ে নিতে হবে।

  • আসাদের কুখ্যাত গোয়েন্দা প্রধানের খোঁজ মিলল মস্কোয়

    আসাদের কুখ্যাত গোয়েন্দা প্রধানের খোঁজ মিলল মস্কোয়

    ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের পতনের পর দামেস্কে সিরিয়ার কুখ্যাত গোয়েন্দাপ্রধান এবং জেনারেল সিকিউরিটি ডিরেক্টরেটের প্রধান হিসসাম লুকিয়ার (যিনি দ্য স্পাইডার নামে পরিচিত) পরিত্যক্ত একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করেছে বিবিসি নিউজ।

    ওই অ্যাপার্টমেন্টে দামি পোশাক, স্বর্ণপদক এবং আসাদের সঙ্গে লুকিয়ার বিভিন্ন ছবি ও করমর্দনের দৃশ্য পাওয়া যায়। এর মাঝেই একটি সাদামাটা নোটবুকে ১৫৫টি হাতের লেখা নাম ও ফোন নম্বর খুঁজে পান সাংবাদিকরা।

    যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা পাওয়া এই গোয়েন্দাপ্রধান সিরিয়ায় ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর নির্যাতন এবং ২০১৫ সালে হোমসে শিশুদের প্রাণ কেড়ে নেওয়া তথাকথিত ঈদ গণহত্যার মতো নৃশংসতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

    আসাদের পতনের পর তিনি রাতারাতি উধাও হয়ে যান, যার ফলে সিরিয়ার সাধারণ মানুষ ও নিখোঁজদের পরিবার বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে এবং সিরিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

    লুকিয়াকে খুঁজে বের করতে লন্ডনে ফিরে নোটবুকের নম্বরগুলো যাচাই করা শুরু করেন সাংবাদিকরা। সামরিক কমান্ডার ও আত্মীয়দের কাছে ফোন করে সাড়া না পেয়ে একজন রিপোর্টার সিরিয়ায় গিয়ে নোটবুকে থাকা চিকিৎসকদের অ্যাপয়েন্টমেন্টের মাধ্যমে খোঁজ নিতে শুরু করেন। এরপর এক অ্যাপার্টমেন্টের প্রহরীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুকিয়ার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী মাহমুদের সন্ধান মেলে।

    মাহমুদ জানান, সরকার পতনের আগের রাতে ক্যাপিটাল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে পালিয়ে গেছেন লুকিয়া। পরবর্তীতে লেবাননের সূত্র ও অ্যাপার্টমেন্টে রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার পুরস্কার এবং নববর্ষের কার্ডের সূত্র ধরে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, লুকিয়া ভিন্ন নামে রাশিয়ান পাসপোর্টে লেবানন হয়ে মস্কোয় পালিয়ে গেছেন।

    তদন্তকারীরা অবশেষে লুকিয়ার একটি রাশিয়ান ফোন নম্বর সংগ্রহ করেন এবং তার পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে কল করে নিশ্চিত হন যে লাইনটিতে লুকিয়াই কথা বলছেন। পরবর্তীতে বিবিসি সরাসরি ওই নম্বরে কল করলে লুকিয়া ফোন ধরে ভয়ের সুরে জানান যে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে কথা বলার মতো ঝুঁকিতে নেই এবং কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারবেন না। পরবর্তীতে দ্বিতীয় আরেকটি সিরিয়ান নম্বর এবং মেসেজিং অ্যাপের সূত্র ধরে বিবিসি নিশ্চিত হয় যে হিসসাম লুকিয়া বর্তমানে মস্কোর উপকণ্ঠে দুটি ভিন্ন উপশহরে লুকিয়ে রয়েছেন।

    রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাকে প্রত্যার্পণ বা কোনো মন্তব্য না পাওয়ায়, হোমস শহরের নিহত শিশু ওয়ায়েলের বাবা মোহাম্মদের মতো যারা ন্যায়বিচারের আশায় আছেন, তাদের জন্য এই আবিষ্কার নতুন হতাশার জন্ম দিয়েছে।

  • আঞ্চলিক বিভক্তির বিরুদ্ধে সতর্ক করলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট

    আঞ্চলিক বিভক্তির বিরুদ্ধে সতর্ক করলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট

    ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তেহরান তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য সংলাপ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। তবে ইরানের সার্বভৌমত্ব বা প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ক্ষুণ্ণ করে এমন কোনো দাবি মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেনি তিনি।

    ইরানের জনগণের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে উন্নত সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক বিভাজন প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

    তার প্রশাসন দেশের নেতৃত্বকে আলোচনায় রাজি হওয়ার জন্য চাপ দিয়েছে এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেন পেজেশকিয়ান।

    রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ জানিয়েছে, পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, ইরান মুসলিম দেশগুলোকে ভাই হিসেবে দেখে। মুসলিম রাষ্ট্রগুলো কেন একে অপরের সঙ্গে সংঘাতে জড়াবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

    ইরানি প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে একত্রিত করতে চাইছে, আর তেহরান তা প্রতিরোধের জন্য কাজ করছে

  • ভারত কি সত্যিই স্বাধীন!

    ভারত কি সত্যিই স্বাধীন!

    রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বিল পাস করেছে মার্কিন সিনেট। এই বিল আইনে পরিণত হলে ভারত ও চীনসহ শীর্ষ রাশিয়ার তেলের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতার ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে পারবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    এই প্রেক্ষাপটে মোদি সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস সংসদ সদস্য ও নেতা পবন খেরা। তিনি প্রয়াগরাজে গণমাধ্যমের কাছে প্রশ্ন তোলেন, ‘ভারত কি সত্যিই স্বাধীন?’

    তিনি বলেন, বিদেশ থেকে এসে যে কেউ ভারতকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করছে; কোন্ দেশ থেকে তেল কেনা যাবে বা কতটুকু কেনা যাবে-সে বিষয়ে নিজেদের শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছে।

    পবন খেরা বলেন, ‘দেশের যারা নিজেদের ‘বিশ্বগুরু’ বলে দাবি করে বেড়ায়, তাদের উচিত এই বিষয়ে জবাব দেওয়া। কিন্তু সংসদে এসে এসব প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার সাহস তাদের নেই, কারণ তারা সবকিছু নিয়ে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে ভয় পায়।’

    রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনার সঙ্গে জড়িত শীর্ষ দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে বিল পাস করেছে মার্কিন সিনেট। এই আন্তর্জাতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে ভারতের স্বাধীন বৈদেশিক নীতি ও সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস দেশটির কেন্দ্র সরকারকে সমালোচনার কাঠগড়ায় দাঁড় করেছে।

  • হরমুজ অবরোধে তেল রপ্তানি কমেছে ৭৫ শতাংশ

    হরমুজ অবরোধে তেল রপ্তানি কমেছে ৭৫ শতাংশ

    হরমুজ প্রণালি অবরোধের কারণে ইরাকের তেল রপ্তানি ৭৫ শতাংশ কমে গেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির তেলমন্ত্রী বাসেম মোহাম্মদ খুদাইর। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রপ্তানিতে এই বড় ধরনের ধস নেমেছে বলে জানান তিনি।

    এক সংবাদ সম্মেলনে ইরাকের তেলমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরাক প্রতিদিন প্রায় ৩৪ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটির তেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

    খুদাইর জানান, বর্তমানে ইরাকে প্রতিদিন প্রায় ২৭ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে রপ্তানি করা হচ্ছে প্রায় ১৫ থেকে ১৭ লাখ ব্যারেল।

    তিনি বলেন, তেল রপ্তানির জন্য ভবিষ্যতে বিকল্প পথ তৈরি করা জরুরি। এ জন্য রপ্তানি অবকাঠামো ও বিকল্প রুট বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

    ইরাকি তেলমন্ত্রী আরো জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরাকি তেল রপ্তানির সুযোগ তৈরি করতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ শুরু হয়নি।

    এদিকে ইরাকে তেল কোম্পানিগুলোর ওপর যেকোনো ধরনের হামলার বিরোধিতা করেছে দেশটির সরকার। খুদাইর বলেন, তেল কোম্পানিগুলো হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে সরকার।

    বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এই নৌপথে অবরোধ বা নিরাপত্তা সংকট তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

  • ইরানের শর্ত মানলেই খুলবে হরমুজ: আইআরজিসি

    ইরানের শর্ত মানলেই খুলবে হরমুজ: আইআরজিসি

    ইরানের শর্ত যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি মেনে নিলেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটির মুখপাত্র সারদার মোহেবি বলেছেন, প্রণালিটি পুনরায় চালুর বিষয়টি ওমানের সঙ্গে চলমান আলোচনার সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পর্কিত নয়।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিমের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    আইআরজিসির মুখপাত্র বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের নির্ধারিত ‘নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও শর্ত’ রয়েছে। এসব শর্ত পূরণ হলেই কেবল গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পুনরায় খুলবে।

    সারদার মোহেবি বলেন, আমাদের কাছে হরমুজ প্রণালি শুধু একটি অর্থনৈতিক নৌপথ নয়; এটি ভৌগোলিক ও কৌশলগত শক্তিরও একটি উপাদান।

    তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের শর্তগুলো ‘পুরোপুরি মেনে নিতে হবে’ এবং আঞ্চলিক আলোচনায় হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।

    মোহেবির ভাষায়, যখনই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত মেনে নেবে, তখনই হরমুজ প্রণালি অবশ্যই খুলে দেওয়া হবে।

    তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান স্পষ্ট করেছে যে, হরমুজ প্রণালি চালুর সিদ্ধান্তকে ওমানের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনা বা সম্ভাব্য কোনো সমঝোতার সঙ্গে এক করে দেখছে না। বরং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইরানের নিজস্ব শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভরসা হারিয়েই মক্কা চুক্তি

    যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভরসা হারিয়েই মক্কা চুক্তি

    সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তনশীল ভূরাজনীতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের পর মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ নিজেদের নিরাপত্তায় নতুন ব্যবস্থার চিন্তাভাবনা করতে বাধ্য হচ্ছে।

    ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে পরিচিত এই চুক্তিটি গতকাল শুক্রবার সৌদি আরবের মক্কা নগরে স্বাক্ষরিত হয়।

    বৈঠক শেষে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই চুক্তির উদ্দেশ্য হলো যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ জোরদার করা। এতে বলা হয়েছে, এই তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তাদের সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।’

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এটি তিনটি দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সব দিক উন্নত করার সুযোগ তৈরি করবে।’

    তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে হাঁটছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

    বাস্তবে এই চুক্তি কেমন রূপ নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই চুক্তি মার্কিন নিরাপত্তা নিশ্চয়তার দীর্ঘস্থায়িত্ব নিয়ে বাড়তে থাকা প্রশ্নগুলোর দিকেই ইঙ্গিত করছে।

    রাইস ইউনিভার্সিটির বেকার ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসির মিডল ইস্ট ফেলো ক্রিস্টিয়ান কোটস উলরিচসেন আল-জাজিরাকে ই–মেইলে জানান, ‘মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এক দশকের বেশি সময় ধরে মার্কিন নিরাপত্তা অংশীদারত্বের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে দিন দিন সংশয় পোষণ করে আসছে।’

    কোটস বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত, যুদ্ধের পরবর্তী পরিচালনা এবং সংকট সমাধানে ঘন ঘন অবস্থান বদলানোর চেষ্টা—এসবই সেই উদ্বেগগুলোকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এসবই নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে বহুমুখী করার প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করেছে।’

    তবে উলরিচসেন আরও যোগ করেন, নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি গড়ে তোলার মূল উদ্দেশ্য সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিস্থাপিত বা বাতিল করা নয়, বরং বাড়তি কৌশলগত ও নীতিগত বিকল্প তৈরি করা।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এখনো এই চুক্তির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, চুক্তিটি ইরান যুদ্ধের বিশৃঙ্খলা শেষে এই তিন দেশের নিজেদের নতুন করে সাজানোর একটি প্রচেষ্টা।

    সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির বিশ্লেষক সিনা তোসি আল-জাজিরাকে বলেন, এটিকে প্রথম বড় ভূরাজনৈতিক সংকেত বলা যেতে পারে। এতে বোঝা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের আগ্রাসনের কারণে আঞ্চলিক ব্যবস্থা নতুন রূপ নিচ্ছে।

    তোসি বলেন, এই চুক্তির গুরুত্ব আনুষ্ঠানিক একটি সামরিক জোটের চেয়েও বেশি কিছু প্রকাশ করছে। আঞ্চলিক দেশগুলো কীভাবে নিজেদের নিরাপত্তা পুনর্মূল্যায়ন করছে, সে বিষয়টিও এই চুক্তির মাধ্যমে উঠে এসেছে।

    তোসি যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের জোটের কথা উল্লেখ করেন। বহু দশক ধরে যৌথ নিরাপত্তা স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে এই দুই দেশ শক্তিশালী সম্পর্ক উপভোগ করে আসছে। তবে এই চুক্তি এমনই ইঙ্গিত দিতে পারে যে সৌদি আরব তার নিরাপত্তা জোটের পরিধি বৃদ্ধি করতে চাইছে।

    সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (মাঝে), তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান (বাঁয়ে) ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কথা বলছেন।

    তোসি ব্যাখ্যা করে বলেন, মূলত ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভর না করে সৌদি আরব তার নিরাপত্তা অংশীদারত্বের পরিধি বৃদ্ধি করছে এবং অঞ্চলভিত্তিক নিরাপত্তাব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করছে বলে মনে হচ্ছে। এটিই শর্তসাপেক্ষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক।

    সংবাদমাধ্যমের খবরে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্ররা ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। কারণ, কোনো আঞ্চলিক সহযোগীদের ওপর এর প্রভাব কেমন পড়বে, তা না ভেবেই গত ফেব্রুয়ারিতে তারা ইরানে আগ্রাসন চালিয়েছিল।

    ইরানি বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার ফলে বেসামরিক নাগরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইরান জ্বালানি ও পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টসহ বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলা চালিয়েছে।

    অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানির মূল পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করার তেহরানের সিদ্ধান্ত স্থানীয় অর্থনীতিতেও ভারী মূল্য চাপিয়ে দিয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক হামলা সত্ত্বেও ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা অনেকটাই বজায় রেখেছে। বিপরীতে ওয়াশিংটন তার মিত্রদের পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা গোলাবারুদ জোগাতে হিমশিম খেয়েছে। কারণ, এই আকাশ প্রতিরক্ষার সিংহভাগই ইসরায়েলে পাঠানো হয়েছিল।

    যুদ্ধ লাগিয়ে দেওয়ার পর সৃষ্ট পরিস্থিতির মধ্যে এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তায় দীর্ঘদিনের ওয়াশিংটন-নির্ভরতা আরও বেশি চাপের মুখে পড়েছে।

    সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অধীনে মধ্যপ্রাচ্য নীতির অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী ব্রেট ম্যাকগার্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘এটি মধ্যপ্রাচ্যে একটি পরিবর্তনশীল ও সম্পূর্ণ নতুন শুরুর অধ্যায়।’

    তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, শুক্রবারের এই নিরাপত্তা চুক্তিকে অন্যান্য দেশের সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা এবং ইরানকে ঠেকানোর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখাই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত।

    ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক ইয়াসমিন ফারুক আল-জাজিরাকে বলেন, ‘এসব দেশ সবই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র। তারা জানে, এমন কোনো কাঠামো নেই, যা যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করতে পারে।’

    ফারুক আরও যোগ করেন, এই চুক্তিকে ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতের দিকে পা বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখা ভুল হবে।

    তিন দেশের নেতার সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অন্য কর্মকর্তারা।

    বিশ্লেষক ফারুক উল্লেখ করেন, ফেব্রুয়ারির শেষভাগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রথম যখন ইরানে আগ্রাসন চালায়, তার পর থেকেই এই তিন দেশই সাধারণত মধ্যস্থতা ও উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়ে এসেছে।

    ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক বলেন, এসব দেশের মধ্যে মিল হলো, তারা কেউ-ই আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে চায় না। এতে চুক্তিটির গুরুত্ব ‘আদর্শগত প্রতিরোধ’-এর কাছাকাছি বলে মনে করেন তিনি।

    ফারুক ব্যাখ্যা করেন, যুদ্ধ শেষে ইরান আরও কঠোর এবং তার লক্ষ্য অর্জনে শক্তি প্রয়োগে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে।

    ফারুক বলেন, এখানে শুধুই প্রতিরোধের বিষয় নয়, বরং কৌশলগত সহযোগিতার ওপর একটি দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিও রয়েছে।

  • ১৪ বছরের ব্যবধানে চিংড়ি রফতানি কমেছে ৬২%

    ১৪ বছরের ব্যবধানে চিংড়ি রফতানি কমেছে ৬২%

    আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চ উৎপাদনশীল ও কম দামের ‘ভেনামি’ জাতের চিংড়ির ক্রমবর্ধমান চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশ এখনো প্রথাগত ‘বাগদা’ চিংড়ির ওপর নির্ভরশীল। ফলে ১৪ বছরের ব্যবধানে দেশের চিংড়ি রফতানি কমেছে প্রায় ৬২ শতাংশ।

    রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি), মৎস্য অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) তথ্যানুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরে দেশ থেকে প্রায় ৫০ হাজার টন চিংড়ি রফতানি হয়েছিল, যার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৫৭ কোটি ডলার। আর সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে মাত্র ১৯ হাজার টনে, যা থেকে আয় হয়েছে ২৮ কোটি ৫৬ লাখ ১০ হাজার ডলার। অর্থাৎ ১৪ বছরের ব্যবধানে চিংড়ির রফতানি কমেছে প্রায় ৩১ হাজার টন বা ৬২ শতাংশ এবং বৈদেশিক মুদ্রার আয় কমেছে ২৮ কোটি ৪৪ লাখ ডলার।

    ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৯ কোটি ৬২ লাখ ৯০ হাজার ডলারের ২৩ হাজার ২৩৮ টন চিংড়ি রফতানি হয়েছিল, যা আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের চেয়ে ৪ হাজার ৭ টন ও ৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার বেশি ছিল। তবে সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আবার বড় পতন ঘটেছে। এক বছরের ব্যবধানে রফতানি কমেছে ৪ হাজার ২৩৮ টন এবং আয় কমেছে ১ কোটি ৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

    সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে মোট ৪৪ কোটি ৩৪ লাখ ২০ হাজার ডলার মূল্যের হিমায়িত মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রফতানি হয়েছে, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৪৪ কোটি ১৫ লাখ ৮০ হাজার ডলারে তুলনায় মাত্র ১৮ লাখ ৪০ হাজার ডলার বা দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি। এ অর্থবছরে ২৮ কোটি ৫৬ লাখ ১০ হাজার ডলারের হিমায়িত চিংড়ি, ৯ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার ডলারের হিমায়িত মাছ এবং ৬ কোটি ৩৬ লাখ ৮০ হাজার ডলারের মৎস্যজাত পণ্য রফতানি হয়। অর্থাৎ মৎস্যজাত পণ্য বাদ দিলে হিমায়িত মাছ রফতানি আয়ের প্রায় ৭৫ দশমিক ২১ শতাংশই এসেছে চিংড়ি থেকে।

    রফতানিকারকরা বলছেন, দেশের চিংড়ি রফতানি মূলত বাগদাকেন্দ্রিক। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে ভেনামি চিংড়ি ছাড়া অন্য চিংড়ির চাহিদা কম। বিশেষত চীন, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, পর্তুগাল, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির মতো দেশে বাগদার সামান্য চাহিদা থাকায় তারা চাহিদা অনুযায়ী তা আমদানি করেন। তবে ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে বাগদা আমদানি প্রতি বছরই কমছে। ভেনামি জাতের চিংড়ির বাজারমূল্য কম ও হেক্টরপ্রতি উৎপাদন বেশি হওয়ায় ইউরোপের বাজারে চাহিদার পাশাপাশি গ্রাহক চাহিদাও বাড়ছে। তবে বাংলাদেশে সুযোগ থাকলেও পুরনো বাগদা চিংড়ি নিয়েই পড়ে আছেন ব্যবসায়ীরা। যদি ভেনামি জাতের চিংড়ির উৎপাদন ও রফতানির উদ্যোগ না নেয়া হয়, তাহলে দেশের চিৎড়ি রফতানি খাত ধ্বংস হয়ে যাবে বলে মনে করছেন তারা।

    রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান এমইউ সি ফুডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্যামল দাস বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বৈশ্বিক বাজারে চিংড়ি রফতানির কর্তৃত্ব অনেক আগেই হারিয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক বাজারে ভেনামি জাতের চিংড়ির চাহিদা বেশি থাকলেও আমরা সেই সুযোগ নিতে পারিনি। বাগদা চিংড়ি রফতানি নিয়েই এখনো পরিকল্পনা চলছে। সরকার এরই মধ্যে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে সেগুলো মাঠে প্রয়োগ না হওয়ায় রফতানিতে খুব বেশি আশার জায়গা তৈরি করতে পারেনি মৎস্য খাত।’ সরকার নজর না দিলে মৎস্য খাতের প্রধান রফতানি পণ্য চিংড়ি শুধু দেশের বাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    ভেনামি চিংড়ি উৎপাদনে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি দেশ উদ্যোগ নিয়েছে, এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া অন্যতম। দেশটির পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের পূর্ব সুম্বা জেলায় প্রায় ২ হাজার ১৫০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করে সরকারিভাবে ওয়াইংগাপু সমন্বিত চিংড়ি চাষ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এ প্রকল্পে বছরে প্রায় ৫২ হাজার টন চিংড়ি উৎপাদন ও সাত হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। প্রকল্পটিতে সরকারের বিনিয়োগ ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন রুপিয়া (ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রা) বা ৩৯ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে চালুর পরিকল্পনা আছে। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন রুপিয়া বা ২২ কোটি ১৪ লাখ ডলারের উৎপাদনমূল্য অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ইন্দোনেশীয় সরকারের।

    অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য অধিদপ্তরের আওতাধীন কক্সবাজার জেলার চকোরিয়া-রামপুরা মৌজায় চিংড়ি জোন হিসেবে ঘোষিত সাত হাজার একর অনাবাদি জমিতে কোনো চিংড়ি উৎপাদন হয় না। জমিগুলো রফতানিকারকদের দীর্ঘমেয়াদে লিজ দিয়ে চিংড়ি চাষের সুযোগ দেয়া হলে দেশের রফতানি চিত্র পুরোপুরি বদলে যেত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    বিএফএফইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তারিকুল ইসলাম জহির বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ইউরোপের বাজারে আমরা যেসব বাগদা চিংড়ি রফতানি করি তার দাম বেশি হওয়ায় সেখানে ভেনামি চিংড়ির চাহিদা বাড়ছে। এ কারণে সেখানে আমরা রফতানিতে পিছিয়ে পড়ছি। অন্যদিকে ছোট আকারের চাকা চিংড়ি (কেজিতে ৩০ পিস) ভারত, ইন্দোনেশিয়া বা ভিয়েতনাম ৪-৫ ডলারে বিক্রি করলেও আমাদের স্থানীয় বাজারে তা ৭ ডলারের বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে দেশীয় চিংড়ির চাহিদা বেশি। সে কারণে আমাদের উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।’

    সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে মৎস্য খাতে ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে। এখন কীভাবে ও কোন প্রক্রিয়ায় অর্থ বরাদ্দ দেয়া হবে সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।’

    বিএফএফইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বলেন, ‘জমি কিনে বিনিয়োগ করার সুযোগ আমাদের নেই। এজন্য সরকার যদি জমি লিজ দেয়, তাহলে আমরা সেখানে বিনিয়োগ করে উৎপাদন বাড়াতে কাজ করব। পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা মাঠ পর্যায়ের চাষীদের সব ধরনের লজিস্টিক সুযোগসহ বিনিয়োগ করবেন এবং চাষীদের নিশ্চয়তা দেয়া হবে তাদের থেকে ব্যবসায়ীরা সেই উৎপাদিত পণ্য কিনে নেবে। এভাবে না হলে চিংড়ি খাতে উন্নতি করা সম্ভব না।’ এছাড়া কক্সবাজারের চিংড়ি চাষের জন্য ঘোষিত সাত হাজার একর জমি প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বরাদ্দ দিলে খাতটি আবারো ঘুরে দাঁড়াবে বলেও দাবি করেন তিনি।

    জানা যায়, দেশে আগে ১২২টি প্রতিষ্ঠান চিংড়ি ও মৎস্য জাতীয় পণ্য রফতানির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এখন তা ৩০-৩৫টিতে নেমে এসেছে। বাকিগুলো হয় বন্ধ হয়ে গেছে বা কারখানা ভাড়া দিয়ে দিয়েছে। এসব কারখানার বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা চার লাখ টনের বেশি ছিল। অন্যদিকে দেশে সব মিলিয়ে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের চিংড়ির চাষাবাদ হয়। ভেনামি চিংড়ির হেক্টরপ্রতি উৎপাদন বাগদার তুলনায় ১০-১২ গুণ বেশি। অথচ দেশে ভেনামি চিংড়ির উৎপাদন এখনো সম্ভব হয়নি। ফলে বড় আকারে বাগদা রফতানির ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশের রফতানি খাত। অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদের কারণে হেক্টরপ্রতি বাগদার উৎপাদনও কমে আসছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশীয় অভ্যন্তরীণ বাজারে ভালো দাম থাকলেও চিংড়িকে বিশ্ববাজারে টিকিয়ে রাখতে সনাতন চাষাবাদ থেকে সরে এসে বৃহৎ পরিসরে সরকারি নীতি প্রণয়ন ও ভেনামি চাষ নিশ্চিত করা জরুরি।

  • ঝাঁজ কমেছে কাঁচামরিচের

    ঝাঁজ কমেছে কাঁচামরিচের

    ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হওয়ায় দিনাজপুরের হিলির পাইকারি ও খুচরা বাজারে কমতে শুরু করেছে কাঁচামরিচের দাম। হিলির পাইকারি বাজারে দেশি কাঁচামরিচ ১৩০ টাকা এবং হিলি স্থলবন্দরের পাইকারি মোকামে আমদানি করা কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে হিলির কাঁচাবাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া যায়।

    ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি বাড়ায় দেশের মোকামগুলোতে কাঁচামরিচের দাম কমেছে। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে।

    হিলি বাজারে কাঁচামরিচ কিনতে আসা দিনমজুর আশিকুল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহে দেশি কাঁচামরিচ কিনেছিলাম ২৫০ টাকা কেজি দরে। সেই কাঁচামরিচ এখন ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভারত থেকে কাঁচামরিচ আসার কারণে দাম কমেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। দাম কমায় আমাদের মতো দিনমজুরদের অনেক সুবিধা হচ্ছে। তবে ১০০ টাকার মধ্যে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ পাওয়া গেলে আমাদের জন্য আরও সুবিধা হতো।হিলি বাজারের কাঁচামরিচ বিক্রেতা বিপ্লব শেখ বলেন, ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির ফলে দেশের মোকামে দাম কমতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় দেশি কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। আমরা কম দামে কিনে কম দামেই বিক্রি করছি। ফলে আগের তুলনায় ক্রেতাও বেড়েছে। ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি অব্যাহত থাকলে দাম আরও কমতে পারে।

    হিলি স্থলবন্দরের কাঁচামরিচ আমদানিকারক শাহাবুল ইসলাম বলেন, দেশের বাজারে কাঁচামরিচের দাম স্বাভাবিক রাখতে সরকার ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা আমদানি অব্যাহত রেখেছি। সরকার আমদানির সময়সীমা বাড়ালে দেশের বাজারে কাঁচামরিচের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির ফলে দেশের বাজারে কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে।

    হিলি কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের তিন দিনে ভারতীয় ২৪টি ট্রাকে ১৭০ মেট্রিক টন কাঁচামরিচ হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে। আমদানি করা কাঁচামরিচ দ্রুত খালাসে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে হিলি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

  • রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বিল পাস

    রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বিল পাস

    আন্তর্জাতকি ডেস্ক:

    রাশিয়া থেকে তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি দেশের ওপর শতভাগ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দিয়ে একটি বিল অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। এই মার্কিন পদক্ষেপের ফলে ভারত, চীনসহ রাশিয়ার তেল–গ্যাসের প্রধান ক্রেতা দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের শুল্ক আরোপের ঝুঁকি তৈরি হলো।

    গত ১১ জুলাই মারা যাওয়া ইউক্রেনের কট্টর সমর্থক ও রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের স্মরণে এই বিলের নামকরণ করা হয়েছে। সিনেটে বিলটি ৮৬–১১ ভোটে পাস হয়।

    লিন্ডসে গ্রাহাম মূলত ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য জোরালো লবিং করে আসছিলেন। উল্লেখ্য, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে পদার্পণ করেছে।

    সিনেটে লিন্ডসে গ্রাহামের স্থলাভিষিক্ত হওয়া তাঁর বোন ডার্লিন গ্রাহাম বলেন, বিলটি ‘রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঠিক দুর্বল জায়গায় আঘাত করবে।’

    সিনেটে ডেমোক্র্যাট সদস্য রিচার্ড ব্লুমেনথাল গ্রাহামের সঙ্গে এক বছরের বেশি সময় ধরে এই বিল পাসের জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের মানুষ ‘একা নন।’

    ভোটের পর এই সিনেটর বলেন, ‘আজ প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউক্রেন থেকে এবং পুতিন মস্কো থেকে এটি দেখছেন। আমি ভাবতে পছন্দ করি যে লিন্ডসে গ্রাহামও ওপর থেকে এটি দেখছেন।’

    নিজের বক্তব্য আরও স্পষ্ট করে ব্লুমেনথাল বলেন, ‘আজ আমরা ইউক্রেনের মানুষকে বলছি, আপনারা একা নন। আর ভ্লাদিমির পুতিনকে বলছি, আপনি ইউক্রেন জয় করতে পারবেন না।’

    বিলটি এখন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদনের জন্য যাবে। ৩১ আগস্ট প্রতিনিধি পরিষদের অধিবেশন আবার শুরু হলে বিলটি নিয়ে সেখানে আলোচনা হবে।

    রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক দলের সমর্থন পাওয়া এই বিলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে রাশিয়ার তেল বা গ্যাস কেনে, বিশ্বের এমন শীর্ষ পাঁচটি দেশের ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় ভারত ও চীন রয়েছে।

    ভারত ও চীনের পাশাপাশি বর্তমানে রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস আমদানির শীর্ষ পাঁচটি দেশের তালিকায় রয়েছে আজারবাইজান, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া।

    তবে যেসব দেশ রাশিয়া থেকে তাদের মোট প্রাকৃতিক গ্যাসের ১৫ শতাংশের কম আমদানি করে এবং সেই আমদানি কমানোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে এই বিলের আওতায় ছাড়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।

    বিলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, দেশটির জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও জ্বালানি প্রকল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

    মস্কো যেসব পুরোনো তেলবাহী জাহাজ পতাকা পাল্টে ব্যবহার করছে, সেগুলোও বিলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার সুযোগ রাখা হয়েছে। এসব জাহাজ ব্যবহার করে রাশিয়া তেল ও জ্বালানি থেকে আয় করা অর্থের ওপর বিদ্যমান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

    জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন হলে নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের ক্ষমতাও হোয়াইট হাউসকে দেওয়া হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসকে নিশ্চিত করতে হবে যে এমন পদক্ষেপ জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন।

    বিলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ১৯৯৬ সালের ইরান নিষেধাজ্ঞা আইনের মেয়াদও ২০৩১ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। ইরানের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারী কোম্পানিগুলোর ওপর আইনটির আওতায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় যুক্তরাষ্ট্র।

  • জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান কমেছে, কী প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে

    জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান কমেছে, কী প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে

    জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান কমেছে। গত মাসে সেখানে কর্মসংস্থান কমেছে ২৩ হাজার। অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস ছিল, জুলাই মাসে ৯৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

    এদিকে জুলাই মাসে কর্মসংস্থান কমলেও একই সময় বেকারত্বের হার সামান্য কমেছে। জুন মাসে যা ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ, জুলাই মাসে তা ৪ দশমিক ১ শতাংশে নেমেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, মার্কিন শ্রমবাজারের প্রভাব বিশ্বের অন্যান্য দেশের অর্থনীতিতেও অনুভূত হবে। খবর সিএনএনের

    কর্মসংস্থানের এই পরিসংখ্যান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার সম্পর্কে বিপরীতমুখী চিত্র পাওয়া যায়। একদিকে নতুন কর্মসংস্থান বৃদ্ধি না পেয়ে উল্টো কমেছে, অন্যদিকে বেকারত্বের হার তুলনামূলক নিম্ন পর্যায়েই রয়ে গেছে। ফলে শ্রমবাজারের প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, জুলাই মাসে কর্মসংস্থানের এই প্রতিবেদন হতাশা ও উদ্বেগজনক। আবার কেউ মনে করছেন, নিয়োগ কমলেও ছাঁটাইও কমছে। অর্থাৎ শ্রমবাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি না হলেও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমে গেছে।

    জুলাইয়ের কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, আগের দুই মাসের পরিসংখ্যান সংশোধন করা হয়েছে। মে ও জুনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে যত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছিল বলে আগে ধারণা করা হয়েছিল, প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে মোট ১ লাখ ৩ হাজার কম ছিল।

    তবে এসব তথ্যের অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের মন্দা বা ব্যাপক ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা আছে। ভোক্তা ব্যয় এখনো অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী খাত। যুদ্ধ, শুল্ক ও দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও মার্কিন অর্থনীতি মন্দায় পড়েনি, যে অর্থনীতির আকার প্রায় ৩১ ট্রিলিয়ন ডলার।

    এদিকে শ্রমবাজারের কিছু দুর্বলতাও দেখা যাচ্ছে। বেকারত্বের হার কমার একটি কারণ হলো, হাজারো মানুষ চাকরি খোঁজা বন্ধ করে দিয়েছেন। তাঁরা আর বেকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন না, অর্থাৎ পরিসংখ্যানে তাঁদের কথা উঠে আসছে না। একই সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত আয়ও চাপের মধ্যে আছে।

    এদিকে অবকাশ ও আতিথেয়তা খাতে জুলাই মাসে কর্মসংস্থান কমেছে। বিশ্বকাপ চলাকালে সাধারণত এ খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কথা, কিন্তু এবার উল্টো চিত্র দেখা গেছে।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিস্তার শ্রমবাজারে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এআইয়ের প্রভাবে কিছু মানুষ প্রযুক্তির প্রভাব থেকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ চাকরি খুঁজছেন কি না, কিংবা এআই ইতিমধ্যে কিছু চাকরি কমিয়ে দিচ্ছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

    কর্মসংস্থানের দুর্বল তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে কী প্রভাব ফেলবে, সেটিও এখনো পরিষ্কার নয়। শ্রমবাজারের নতুন তথ্যের ভিত্তিতে ফেড সুদের হার বাড়ানো বা কমানোর বিষয়ে তার নীতি পরিবর্তন করবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের জুলাইয়ের পরিসংখ্যান পরবর্তী সময়ে আবার সংশোধিত হতে পারে।

    সব মিলিয়ে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির মৌলিক শক্তি এখনো অটুট। তবে জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন, শিশুর যত্নের ব্যয় ও মজুরি বৈষম্যের মতো কাঠামোগত সমস্যার কারণে মানুষের অর্থনৈতিক বাস্তবতা কঠিন হয়ে গেছে।

    সংবাদে বলা হয়েছে, জুলাইয়ের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন থেকে মার্কিন অর্থনীতির পরস্পরবিরোধী চিত্র উঠে এসেছে। অর্থনীতি এখনো বড় ধরনের মন্দায় পড়েনি, কিন্তু শ্রমবাজারে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি যে দুর্বল হয়ে পড়েছে, সেই সংকেত উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

    বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব

    যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি। ফলে সেখানকার অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়বে, এটাই স্বাভাবিক।

    বিশ্লেষকেরা বলেন, জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার প্রভাব দুই রকম হতে পারে। একদিকে মার্কিন শ্রমবাজার দুর্বল হলে মানুষের আয় ও ভোগ ব্যয় কমতে পারে। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি চাহিদা কমবে, ফলে রপ্তানিনির্ভর দেশগুলো চাপে পড়বে। বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

    অন্যদিকে শ্রমবাজার দুর্বল হওয়ায় ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অর্থনীতিতে তারল্য প্রবাহ বৃদ্ধিতে এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে তারা। এতে ডলার দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি উদীয়মান বাজারে পুঁজি প্রবাহ বাড়তে পারে, কমতে পারে বৈদেশিক ঋণের ব্যয়। ফলে এই প্রতিবেদন যেমন বৈশ্বিক চাহিদার জন্য সতর্কবার্তা, তেমনি আর্থিক বাজারের জন্য স্বস্তির সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

  • নিজের ফাঁদে নিজেই আটকা ট্রাম্প!

    নিজের ফাঁদে নিজেই আটকা ট্রাম্প!

    ইরান যুদ্ধে লক্ষ্য অর্জনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার জাতীয় সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এমন দাবি করে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ‘নিজের তৈরি ফাঁদে’ আটকা পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফার যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল তাদের সামরিক ও গণমাধ্যমভিত্তিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। বিশ্ব গণমাধ্যমও ওয়াশিংটনের ব্যর্থতা স্বীকার করে এখন ট্রাম্পের ‘পরাজয়’ এবং যুদ্ধে তার ‘নিজের তৈরি ফাঁদে’ পড়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।

    বিবৃতিতে বলা হয়, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের ‘কৌশলগত অচলাবস্থা’, পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে বিভাজন এবং দেশটির আধিপত্যের দৃশ্যমান অবক্ষয়ের নতুন দিক উন্মোচন করেছে।

    আইআরজিসি বলছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রকৃতপক্ষে বাস্তব পরিস্থিতি ও ইরানের আলোচনার সক্ষমতার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের আত্মসমর্পণের দলিল।

  • অনুমোদন পেল বিশ্বে প্রথম এমআরএনএ ফ্লু টিকা

    অনুমোদন পেল বিশ্বে প্রথম এমআরএনএ ফ্লু টিকা

    করোনা ভাইরাসের টিকার পর এবার ফ্লু সারাতেও আশার আলো দেখাচ্ছে আমেরিকার ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা মডার্নার এমআরএনএ টিকা।

    বিশ্বে প্রথম জিনগত উপাদান মেসেঞ্জার আরএনএ-কে কাজে লাগিয়ে এমন টিকা তৈরি করেছেন গবেষকেরা, যা ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়ার মতো যে কোনও ধরনের ফ্লু ঠেকাতে কাজে আসবে বলে দাবি করা হয়েছে।

    জিনগত উপাদান আরএনএ-কে কাজে লাগিয়ে তৈরি হয়েছিল কোভিডের প্রতিষেধকও। তখনই আশার আলো দেখেছিলেন গবেষকরা।

    তারা জানিয়েছিলেন, এই এমআরএনএ টিকা ভবিষ্যতে ক্যানসারের বিরুদ্ধেও কাজে আসতে পারে। সেই আশা যে খুব একটা ভিত্তিহীন ছিল না, তেমনই ইঙ্গিত মিলল আমেরিকার ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা মডার্নার নতুন একটি টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ফলাফলে।

    মডার্নার তৈরি নতুন ফ্লু টিকায় এমআরএনএ প্রযুক্তির ব্যবহার হয়েছে। এই টিকা তৈরি হয়েছে প্রবীণদের জন্য। মডার্না জানিয়েছে, ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের জন্যই এই টিকা।

    বয়সকালে ইনফ্লুয়েঞ্জা বা নিউমোনিয়ার সংক্রমণ প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। সাধারণ ফ্লু টিকায় সংক্রমণ ঠেকানো যায় না অনেক সময়। তাই মেসেঞ্জার আরএনএ দিয়েই টিকা তৈরি করা হয়েছে, যা শরীরকে আরও বেশি পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে উদ্দীপিত করে।

    বিশ্বে প্রথমবার ফ্লুয়ের টিকা তৈরি হয়েছে এমআরএনএ প্রযুক্তিতে। এখন যে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ক্যানসারের প্রতিষেধক তৈরি করা হচ্ছে। টিকাটির নাম ‘এমফ্লুসিভা’।

    প্রাথমিক ভাবে ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সিদের জন্য টিকাটি অনুমোদন পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সিদের জন্যেও টিকাটির অনুমোদন চাওয়া হয়েছে।

    টিকাটির ট্রায়াল করে দেখা গিয়েছে, সাধারণ ফ্লু টিকার চেয়ে নতুন টিকাটি ভাইরাস ঠেকাতে অনেক বেশি সক্ষম। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের একাধিক প্রজাতির সংক্রমণও এই টিকা ঠেকাতে পারবে বলে দাবি।

    ভারতের দিল্লির এমসের একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, বিশ্বে নিউমোনিয়ায় সব চেয়ে বেশি আক্রান্ত হন পাঁচ বছরের কম বা ৬৫ বছরের বেশি বয়সের মানুষজন।

    তাদের মধ্যেই এই রোগে মৃত্যুর হার বেশি। দেশের যে-কোনও হাসপাতালে আইসিইউয়ের রোগীদের হিসেব নিলে দেখা যাবে, ৬৫-৭০ শতাংশ শয্যায় রয়েছেন নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত বয়স্কেরা।

    তাদের মধ্যে ৩০ শতাংশই ‘ইনভেসিভ নিউমোনিয়া’র রোগী। এতে রোগের জীবাণু রক্ত ও দেহরসের মাধ্যমে শরীরে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে এবং রোগীর সেপসিস হয়ে যায়।

    তাই বয়সকালে নিউমোনিয়া বিপজ্জনক। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, এই টিকাটি কার্যকর হলে প্রবীণদের ভাইরাসঘটিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে।

  • পাকিস্তানে রফতানি হবে বাংলাদেশের আনারস

    পাকিস্তানে রফতানি হবে বাংলাদেশের আনারস

    পাকিস্তানে বাংলাদেশের তাজা আনারস রফতানির অনুমতি দিয়েছে দেশটির সরকার। শুক্রবার (৭ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ইসলামাবাদস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন।

    বাংলাদেশ হাইকমিশন, ইসলামাবাদ, উপ-হাইকমিশন, করাচি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, কৃষি মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে কয়েক বছর যাবৎ ক্রমাগত যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে এ সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে বাংলাদেশ হাই কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    পাকিস্তানে বাংলাদেশের আনারসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পাকিস্তানে বাংলাদেশের আনারস রফতানির সুযোগ তৈরি হওয়ার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে অন্যান্য কৃষিপণ্য ও ফলের আমদানি-রফতানি প্রসার এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির পথ সুগম হয়েছে।

  • উপমহাদেশের প্রভাবশালী ১০ সুফি সাধক

    উপমহাদেশের প্রভাবশালী ১০ সুফি সাধক

    উপমহাদেশে ইসলামের আগমন ও ক্রমবিকাশের সঙ্গে সুফি সাধকদের নিবিড় সম্পর্ক আছে। ভারতবর্ষে রাজনৈতিকভাবে ইসলাম আগমনের বহু আগে সুফি সাধকদের মাধ্যমে ইসলামের আগমন ঘটেছিল।

    মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার পরও সুফিরাই ছিলেন ইসলামের প্রধান ধারক, বাহক ও প্রচারক। ফলে উপমহাদেশের মুসলিম সমাজে সুফি সাধকদের গভীর প্রভাব রয়েছে। নিম্নে উপমহাদেশের প্রভাবশালী ১০ জন সুফি সাধকের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হলো-

    ১. আলী হুজভিরি (রহ.) : ভারতীয় উপমহাদেশের বিখ্যাত সুফি সাধক আলী হুজভিরি (রহ.)। তাঁর পূর্ণ নাম আবুল হাসান আলী ইবনে উসমান জুল্লাবি হুজভিরি (রহ.)। তিনি দাতা সাহেব বা দাতা গঞ্জেবখশ নামেও পরিচিত। তিনি ১০০৯ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান আফগানিস্তানের গজনিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ভারতবর্ষসহ সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় ইসলাম প্রসারে অবদান রাখেন। তাঁর রচিত ‘কাশফুল মাহজুব’ সুফি ধারার গুরুত্বপূর্ণ বই।

    আলী হুজভিরি (রহ.) ইলমে দ্বিন অর্জনের জন্য মক্কা-মদিনা, হিজাজ, কিরমানসহ সমকালীন মুসলিম বিশ্বের বহু দেশ ভ্রমণ করেন। মুহাম্মদ আল খাত্তালি (রহ.)-এর কাছে তিনি আধ্যাত্মিকতার দীক্ষা পান। শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি পাকিস্তানের লাহোরে দ্বিন ইসলামের সেবায় আত্মনিয়োগ করেন। ৮ আগস্ট ১০৭২ খ্রিস্টাব্দে তিনি ইন্তেকাল করেন। লাহোরেই তাঁকে দাফন করা হয়।

    ২. খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি (রহ.) : সুলতানুল হিন্দ খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি (রহ.)-কে উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী সুফি আলেম মনে করা হয়। তিনি ১১৪২ খ্রিস্টাব্দে ইরানের সিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বুখারা, সমরখন্দ ও নিশাপুরের বিখ্যাত আলেমদের কাছ থেকে ইলমে দ্বিন অর্জন করেন। তাঁর আধ্যাত্মিক গুরু ছিলেন খাজা উসমান হারুন (রহ.)। তিনি তাঁর সান্নিধ্যে থেকে দীর্ঘ ২০ বছর আধ্যাত্মিক সাধনা করেন। খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি (রহ.) স্বীয় পীরের নির্দেশে ভারতবর্ষে আগমন করেন। তাঁর প্রচেষ্টায় চিশতিয়া তরিকা ভারতবর্ষের প্রধান সুফিধারায় উন্নীত হয় এবং অসংখ্য মানুষ ইসলামের ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করে। তিনি ১২৩৬ খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকালে করেন এবং ভারতের আজমিরে তাঁকে দাফন করা হয়।

    ৩. বাহাউদ্দিন জাকারিয়া (রহ.) : বাহাউদ্দিন জাকারিয়া (রহ.) ছিলেন প্রভাবশালী সুফি আলেম ও কবি। তিনি বাহাউল হক নামেও পরিচিত। তিনি উপমহাদেশে সোহরাওয়ার্দিয়া সুফিধারা প্রতিষ্ঠা করেন। বাহাউদ্দিন জাকারিয়া (রহ.) ১১৬১ খ্রিস্টাবে পাকিস্তানের পাঞ্জাবে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রচেষ্টায় পাঞ্জাবের বিপুলসংখ্যক মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে। ১২২২ খ্রিস্টাব্দে তিনি মুলতানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সুলতান ইলতুিমস তাঁকে শায়খুল ইসলাম উপাধিতে ভূষিত করেন। সোহরাওয়ার্দি তরিকার প্রতিষ্ঠাতা শিহাবুদ্দিন সোহরাওয়ার্দি (রহ.)-এর কাছে আধ্যাত্মিকতার দীক্ষা লাভ করেন। ১২৬৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি মুলতানে ইন্তেকাল করেন।

    ৪. খাজা নিজামুদ্দিন আউলিয়া (রহ.) : ভারতীয় উপমহাদেশে চিশতিয়া তরিকার উজ্জ্বল প্রদীপ ছিলেন খাজা নিজামুদ্দিন আউলিয়া (রহ.)। তাঁর পূর্ণ নাম সুলতানুল মাশায়েখ মুহাম্মদ বিন আহমদ আলী বাদায়ুনি (রহ.)। তিনি ১২৩৮ খ্রিস্টাব্দে ভারতের উত্তর প্রদেশের বাদায়ুন শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রতিভাবান মেধাবী আলেম। খাজা নিজামুদ্দিন আউলিয়া (রহ.) মাত্র ২০ বছর বয়সে ফরিদুদ্দিন গঞ্জেশকর (রহ.)-এর হাতে বায়াত গ্রহণ করেন। দীর্ঘদিন তাঁর দরবারে অবস্থান করে আত্মিক পরিশুদ্ধি ও খিলাফত লাভ করেন। তিনি দিল্লি অঞ্চলে ইলমে দ্বিন ও মারেফাতের শিক্ষা প্রদান করেন। তিনি ৩ এপ্রিল ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন। তাঁকে দিল্লিতে দাফন করা হয়।

    ৫. শাহজালাল ইয়েমেনি (রহ.) : তাঁর পূর্ণ নাম শাহ মুহাম্মদ জালালুদ্দিন মুজাররদ (রহ.)। তিনি প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে প্রভাবশালী সুফি ছিলেন। ১২৭১ খ্রিস্টাব্দে ইয়েমেনে জন্মগ্রহণ করেন। ৩২ বছর বয়সে ইসলাম প্রচারের জন্য সিলেট অঞ্চলে এসে বসবাস শুরু করেন। তিনি উত্পীড়ক শাসক গৌর গোবিন্দকে পরাজিত করেন এবং সিলেটে প্রথম আজান দেন। তিনি ছিলেন সোহরাওয়ার্দি তরিকার পীর সৈয়দ আহমদ কবির সোহরাওয়ার্দি (রহ.)-এর মুরিদ ও খলিফা। তিনি ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন।

    ৬. নুর কুতবুল আলম (রহ.) : বাংলা অঞ্চলের প্রভাবশালী সুফি সাধক ছিলেন নুর কুতবুল আমল (রহ.)। তিনি প্রাচীন বাংলার হজরত পাণ্ডুয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আলাউল হক (রহ.) ছিলেন সুলতান সিকান্দার শাহের দরবারের বিশিষ্ট আলেম। তাঁর প্রচেষ্টায় বাংলার মুসলমানরা রাজা গণেশের অত্যাচার থেকে রক্ষা পায় এবং গণেশের পুত্র যদু ইসলাম গ্রহণ করে। আলাউদ্দিন হোসেন শাহ নুর কুতবুল আলম (রহ.)-এর মাদরাসা, মসজিদ ও খানকা পরিচালনার জন্য কয়েকটি গ্রাম দান করেন। তিনি চিশতিয়া তরিকার সুফি ও পীর ছিলেন। তিনি ১৪১৫ খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন।

    ৭. খান জাহান আলী (রহ.) : বাংলা অঞ্চলের প্রভাবশালী সুফি ও শাসক ছিলেন খান জাহান আলী (রহ.)। উলুঘ খান ও খান-ই-আজম তাঁর উপাধি। তিনি ১৩৬৯ খ্রিস্টাব্দে দিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দিল্লির বিখ্যাত আলেম ও সুফি শাহ নেয়ামতুল্লাহ (রহ.)-এর কাছে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা লাভ করেন। খান জাহান আলী (রহ.) একজন সেনাপতি ও ধর্ম প্রচারক হিসেবে বাংলায় আগমন করেন। তিনি বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলে খলিফাতাবাদ নামে একটি রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং জনকল্যাণমূলক অনেক কাজ করেন। তিনি বেশ কয়েকটি শহর, মসজিদ, মাদরাসা, খানকা, সরাইখানা, মহাসড়ক ও সেতু নির্মাণ করেন। অসংখ্য দিঘি খনন করে মানুষের সুপেয় পানির কষ্ট দূর করেন। তাঁর উন্নয়ন কর্মের অনেক নিদর্শন এখনো টিকে আছে। তিনি ১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন।

    ৮. মুজাদ্দিদ আলফে সানি (রহ.) : ইমামে রব্বানি মুজাদ্দিদে আলফে সানি (রহ.)-এর পূর্ণ নাম ছিল আবুল বারাকাত বদরুদ্দিন আহমদ সেরহিন্দ। তিনি ১৫৬৪ খ্রিস্টাব্দে ভারতের পাঞ্জাবের সেরহিন্দ নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতাও ছিলেন একজন বিশিষ্ট আলেম ও পীর। তিনি সম্রাট আকবরের দ্বিনে এলাহির বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রাম করেন। এ জন্য তাঁকে দীর্ঘদিন কারাভোগও করতে হয়। আধ্যাত্মিকতার জগতে তিনি নকশাবন্দি তরিকার অনুসারী ছিলেন। দিল্লির বিখ্যাত সুফি আলেম খাজা বাকিবিল্লাহ নকশাবন্দি (রহ.)-এর হাতে বায়াত গ্রহণ করেন এবং খিলাফত লাভ করেন। জ্ঞান সাধনা, আত্মিক পরিশুদ্ধি ও সমাজ সংস্কারে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে মুজাদ্দিদে আলফে সানি তথা দ্বিতীয় সহস্রাব্দের সংস্কারক বলা হয়। তিনি ১০ ডিসেম্বর ১৬২৪ খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন।

    ৯. সৈয়দ আহমদ শহীদ (রহ.) : ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিম ইতিহাসের একজন বৈপ্লবিক পুরুষ, আধ্যাত্মিক সাধক ও যুগসংস্কারক আলেম সাইয়েদ আহমদ শহীদ (রহ.)। তাঁর গড়ে তোলা আন্দোলন তরিকায়ে মুহাম্মদি উপমহাদেশের আজাদি আন্দোলনে প্রাণসঞ্চার করেছিল। সৈয়দ আহমদ শহীদ (রহ.) ১৭৮৬ সালে ভারতের রাইবেরিলিতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পরিবার ধর্মীয় জ্ঞান ও নেতৃত্বের জন্য বিখ্যাত ছিল। তিনি ছিলেন শাহ আবদুল আজিজ দেহলভি (রহ.)-এর বিশিষ্ট শাগরেদ। তিনি ভারতবর্ষে মুসলিম শাসন ফিরিয়ে আনতে খেলাফত প্রতিষ্ঠার প্রতিজ্ঞা করেন। ফলে তিনি একই সঙ্গে শিখ ও ব্রিটিশ শাসকদের শত্রুতে পরিণত হন। আধ্যাত্মিকতার ধারায় তিনি প্রধানত নকশাবন্দি তরিকার অনুসারী ছিলেন। তবে চিশতিয়া ও কাদেরিয়া তরিকার সঙ্গে তিনি সংযুক্ত ছিলেন। ৬ মে ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে শিখদের সঙ্গে এক লড়াইয়ের তিনি ঐতিহাসিক বালাকোট প্রান্তরে শহীদ হন।

    ১০. হাজি এমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কি (রহ.) : তিনি ছিলেন প্রভাবশালী আলেম, সুফি সাধক ও ভারতবর্ষের আজাদি আন্দোলনের অগ্রসেনানী। তিনি ভারতের সাহরানপুরের নানুতা অঞ্চলে ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শাহ মুহাম্মদ ইসহাক (রহ.)-এর শিষ্য এবং চিশতিয়া তরিকার বিশিষ্ট পীর মিয়াজি নুর মুহাম্মদ ঝাঞ্জানযি (রহ.)-এর খলিফা ছিলেন। ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিপ্লবের সময় তিনি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে শামলির যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন। উপমহাদেশের অনেক প্রভাবশালী আলেম তাঁর মুরিদ ছিলেন। যাঁদের মধ্যে রশিদ আহমদ গাঙ্গুহি, কাসেম নানুতবি ও আশরাফ আলী থানভি (রহ.) অন্যতম। ১৮৫৭ সালের বিপর্যয়ের পর তিনি স্থায়ীভাবে মক্কায় হিজরত করেন। ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে মক্কায় তাঁর ইন্তেকাল হয়।

    আল্লাহ তাঁদের সবার কবরকে শীতল করুন। আমিন।

  • দ্য ডিপ্লোম্যাটের নিবন্ধ, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন

    দ্য ডিপ্লোম্যাটের নিবন্ধ, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন

    বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। নতুন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে এই সম্পর্ক। ছাত্র-জনতার প্রবল গণ-আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়ার প্রায় আড়াই বছর পর, আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন শেখ হাসিনা। গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে ভারতীয় ও বিদেশি সাংবাদিকদের উদ্দেশে দেওয়া এক অনলাইন বার্তায় তিনি এ কথা জানান। দেশে ফিরলে কারাবরণ বা মৃত্যুদণ্ডের মতো পরিণতি হতে পারে—এমন শঙ্কা সত্ত্বেও দেশ ও দেশের মানুষের সেবা করার তাগিদ থেকেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

    হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করার সুযোগ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে ঢাকা বলেছে, এই ধরনের আয়োজনের ফলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, সে বিষয়ে আগে থেকেই ভারত সরকারকে সতর্ক করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও এই উন্মুক্ত আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় ঢাকা গভীরভাবে হতাশ।

    শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির দ্বিতীয় বার্ষিকীর দিনেই এমন আয়োজনকে ‘বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি চরম অবমাননা’ বলে আখ্যায়িত করেছে ঢাকা।

    যদিও শেখ হাসিনার এই অনলাইন সংবাদ সম্মেলনের আগেই ভারত বিষয়টি থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখেছিল। তাদের দাবি, ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ায় আয়োজিত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ওই সংবাদ সম্মেলনের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তারা এর অনুমোদনও দেয়নি। তবে ভারতের এই ব্যাখ্যা ঢাকাকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি।

    পটভূমি ও ভারতের অস্বস্তি
    ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে চরম শক্তি প্রয়োগ করেছিলেন শেখ হাসিনা। ওই রক্তক্ষয়ী ধরপাকড়ে এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হন। শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট তিনি পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান। এরপর থেকেই তাকে ভারতের আশ্রয় দেওয়া নিয়ে বাংলাদেশিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ২০২৫ সালের নভেম্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর এই ক্ষোভ আরও বাড়ে।

    ভারতে অবস্থানকালে শেখ হাসিনার বিভিন্ন বিবৃতি ও সাক্ষাৎকার দেওয়ার ঘটনায় ঢাকা বারবার নয়াদিল্লিকে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। এমনকি বিচারের মুখোমুখি করতে তাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার (প্রত্যর্পণ) দাবিও জানিয়েছে ঢাকা। তবে ভারত এখন পর্যন্ত ঢাকার এসব অনুরোধ এড়িয়ে গেছে।

    নয়াদিল্লি মনে করে জোর করে হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো ভারতের জন্য কোনো বিকল্প নয়। তবে তার স্বেচ্ছায় ফেরার সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত করতে পারে। গুঞ্জন রয়েছে, দেশে ফেরার পর হাসিনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে পর্দার আড়ালে কাজ করছে ভারত। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

    শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বেশ উষ্ণ ছিল। তবে তার পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চীনের দিকে ঝুঁকে পড়লে এবং ভারতের উদ্বেগের প্রতি উদাসীনতা দেখালে সেই সম্পর্কে ভাটা পড়ে। অতীতে দিল্লিতে বিএনপিকে ‘ভারতবিরোধী’ মনে করা হলেও, গত ফেব্রুয়ারিতে দলটি ক্ষমতায় আসার পর সম্পর্ক নতুন করে ঢেলে সাজানোর আশা জেগেছিল। এপ্রিলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের নয়াদিল্লি সফরকে আস্থা ফেরানোর উদ্যোগ হিসেবেই দেখা হয়েছিল। তারপরও পাকিস্তান, চীন ও তুরস্কের সঙ্গে বিএনপি সরকারের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতায় ভারত এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

    ৪ হাজার ১০০ কিলোমিটারের দীর্ঘ সীমান্ত থাকায় বাংলাদেশের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভূবেষ্টিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং ওই অঞ্চলের বিদ্রোহ দমনে ঢাকার সহযোগিতা নয়াদিল্লির জন্য অপরিহার্য।

    এসব সমীকরণের কারণেই সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি ও লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে পাঠানো হয়।

    জ্বালানি সংকটের মধ্যে ২০২৬ সালের এপ্রিলে ৪৫ হাজার টন ডিজেল পাঠায় ভারত। সম্পর্ক মেরামতের লক্ষ্যে ঢাকায় নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দিনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগ দেওয়া হয়, এমনকি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার সহজগম্যতা নিশ্চিত করতে তাকে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদাও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত, যদিও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এখনো সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেননি।

    গঙ্গা, তিস্তা ও ভবিষ্যতের রূপরেখা
    দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হতে পারে। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। নদীর বর্তমান পানিপ্রবাহ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় রেখে চুক্তিটি নবায়ন করতে হবে। চুক্তিটি দ্রুত নবায়ন হলে ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক আরও মজবুত হতে পারে।

    বর্তমানে ভারতের কেন্দ্রে এবং পশ্চিমবঙ্গ—উভয় জায়গাতেই বিজেপি ক্ষমতায় থাকায় তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রেও ভারত ও বাংলাদেশ আগের চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে, যা ঢাকার দীর্ঘদিনের দাবি। এর আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই চুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন।

    ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকারের উচিত পার্লামেন্টারি কমিটি অন এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স-এর সুপারিশগুলোও আমলে নেওয়া। গত জুলাইয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ওই কমিটি সরকারকে উন্নয়ন সহযোগিতায় নিজেদের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বাস অর্জনের আহ্বান জানিয়েছিল, যাতে ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ হিসেবে ভারতের অবস্থান সুদৃঢ় হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্দর সম্প্রসারণ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় ‘চীনের ক্রমবর্ধমান পদচারণা’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল কমিটি।

  • পাকিস্তানে ৩ শহরের বাইরে সংবাদ সংগ্রহে বিদেশি গণমাধ্যমে বিধিনিষেধ

    পাকিস্তানে ৩ শহরের বাইরে সংবাদ সংগ্রহে বিদেশি গণমাধ্যমে বিধিনিষেধ

    পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদসহ লাহোর ও করাচির বাইরে সংবাদ সংগ্রহ করতে বিদেশি গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের এখন থেকে আগাম সরকারি অনুমতি নিতে হবে। একই সঙ্গে দেশটিতে কর্মরত সব আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক, এমনকি ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকদেরও সরকারের কাছে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন করতে হবে।

    গত সোমবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের একটি বার্তা গ্রুপে এ-সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা পাঠিয়েছে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বার্তাসংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    নতুন এই নির্দেশনা নিয়ে পাকিস্তানের মানবাধিকার ও গণমাধ্যম সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে দেশটিতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা আরও সংকুচিত হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়বে।
    পাক তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ‘ফরেন মিডিয়া ফ্যাসিলিটেশন গাইডলাইনস ২০২৬’-এ বলা হয়েছে, পাকিস্তানে কর্মরত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সব সাংবাদিককে সরকারের এক্সটার্নাল মিডিয়া উইংয়ে নিবন্ধন করতে হবে। এই নিয়ম ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

    এ ছাড়া ইসলামাবাদ, লাহোর ও করাচির বাইরে সংবাদ সংগ্রহ করতে হলে সংশ্লিষ্ট বিদেশি গণমাধ্যমকে সরকারের কাছ থেকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) নিতে হবে।
    তবে নতুন নির্দেশনা কতটা কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে এবং তা না মানলে সাংবাদিক বা গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

    পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ এবং স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে বিদেশি সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেয়ার অভিযোগ ওঠার পরই নতুন এই নির্দেশনা সামনে এলো। যদিও কাশ্মীরের ওই পরিস্থিতির সঙ্গে নতুন নীতিমালার কোনো সরাসরি সম্পর্ক আছে কিনা, তা জানায়নি পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয়।

    এদিকে এরই মধ্যে নতুন বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে পাকিস্তানের স্থানীয় গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের মতে, প্রায় ২৫ কোটি মানুষের দেশটিতে নিরাপত্তা, পরিবেশ, মানবাধিকারসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা রাজধানী ও বড় শহরগুলোর বাইরে ঘটে। ফলে সেখানে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ সীমিত করা হলে গুরুত্বপূর্ণ অনেক ঘটনা আড়ালে থেকে যেতে পারে।

    পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন (এইচআরসিপি) এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ফরেন মিডিয়া ফ্যাসিলিটেশন গাইডলাইনস ২০২৬’ সাংবাদিকদের কাজ সহজ করার পরিবর্তে সংবাদ সংগ্রহের ওপর আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে। এতে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশের পথে নতুন বাধা তৈরি হবে।
    এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে বর্তমানে বড় শহরগুলোর বাইরে সংবাদ সংগ্রহের জন্য বিদেশি সাংবাদিকদের এনওসি নিতে হয়। তবে এই অনুমতি পেতে অনেক সময় কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত লেগে যায়। ফলে জরুরি পরিস্থিতি বা দ্রুত পরিবর্তনশীল ঘটনাগুলো সময়মতো কাভার করা কঠিন হয়ে পড়ে।

    নতুন নির্দেশনা নিয়ে মন্তব্য জানতে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক্সটার্নাল মিডিয়া উইংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

  • দিল্লিতে হাসিনার সংবাদ সম্মেলন, বক্তব্য সমর্থন করে না ভারত: জয়সওয়াল

    দিল্লিতে হাসিনার সংবাদ সম্মেলন, বক্তব্য সমর্থন করে না ভারত: জয়সওয়াল

    সম্প্রতি ভারতের নয়াদিল্লিতে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি ভার্চুয়ালি কথা বলেছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ঘটনায় ঢাকা গভীর ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানালেও দিল্লির দাবি, ওই সংবাদ সম্মেলনে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না। এমনকি সেখানে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সরকার সম্পর্কে যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, তার কোনোটিই ভারত সরকার সমর্থন করে না।
    শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এসব মন্তব্য করেছেন দেশটির মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

    শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘শেখ হাসিনার ওই সংবাদ সম্মেলনের ক্ষেত্রে সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না। এটি সম্পূর্ণ একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের আয়োজিত অনুষ্ঠান ছিল।’
    তিনি আরও বলেন, ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত সরকার সম্পর্কে শেখ হাসিনা যেসব মন্তব্য করেছেন, সেগুলোর কোনো বক্তব্যই ভারত সরকার সমর্থন করে না।

    এর আগে শেখ হাসিনা যাতে ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে বা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে না পারেন, সে বিষয়ে দিল্লিকে সতর্ক করেছিল ঢাকা।
    বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আগাম অনুরোধ জানানো হয়েছিল যেন শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ভারত সতর্ক থাকে।

    তবে সেই অনুরোধের পরও নয়াদিল্লিতে সরাসরি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেয়ার ঘটনায় গভীর দুঃখ ও তীব্র প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ।

  • জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব  আদালতের রায় মানলেন না ট্রাম্প

    জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব আদালতের রায় মানলেন না ট্রাম্প

    সুপ্রিম কোর্টের রায় উপেক্ষা করেই জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত করতে নতুন দুই নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল বৃহস্পতিবার এ পদক্ষেপ নেন তিনি।

    এ পদক্ষেপ গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে ট্রাম্প আবারও মার্কিন সংবিধানের একটি ধারাকে চ্যালেঞ্জ করলেন, যদিও এ বিষয়ে তাঁর আগের একটি চেষ্টা সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দিয়েছিলেন।

    অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্টের কঠোর অবস্থানের ক্ষেত্রে তাঁর অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার হলো, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার সীমিত করা। হোয়াইট হাউসের মূল লক্ষ্য, কথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা ‘সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ’ বন্ধ করা। এ প্রক্রিয়ায় অন্তঃসত্ত্বা বিদেশি নারীরা সন্তান প্রসবের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করেন।

    গত ৩০ জুন সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পর ট্রাম্প মার্কিন কংগ্রেসকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে গতকাল তিনি নির্বাহী আদেশের পথই বেছে নেন। এমন আদেশের মধ্য দিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারিত হলেও তা কংগ্রেসের পাস করা আইনের মতো শক্তিশালী নয়।

    এর আগে ট্রাম্পের দেওয়া একটি নির্বাহী আদেশ অসাংবিধানিক হিসেবে বাতিল করে দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্ট। সেই আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ বা সাময়িকভাবে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক অভিবাসীকে নিশানা করা হয়েছিল।

    তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, নতুন এ নির্দেশনা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আওতাভুক্ত নয়। কারণ, এবার জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকভাবে চলে আসা নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রমী নিয়মের নতুন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য, নাগরিকত্বের সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য ব্যক্তিদের পরিধি আরও বাড়ানো।

    ওয়াশিংটনের ওভাল অফিসে গতকাল নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার বলেন, ‘এ আদেশে স্বাক্ষরের পর থেকেই বার্থ ট্যুরিজমের চর্চা নিষিদ্ধ করা হলো।’

    জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব–সংক্রান্ত মামলার রায় ঘোষণার দিন (৩০ জুন) ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ভবনের সামনে দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদস্য

    অভিবাসন কমানোর পক্ষে কাজ করা সংস্থা ‘সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজ’ ২০২০ সালের একটি বিশ্লেষণে জানায়, ২০১৬ থেকে ২০১৭ সালের মাঝের এক বছরে ২০ থেকে ২৫ হাজার অন্তঃসত্ত্বা নারী সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন।

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৩৬ লাখ (৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন) শিশু জন্মগ্রহণ করেছিল।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আইনে যাঁদের ‘এলিয়েন এনিমি’ (শত্রু দেশের নাগরিক) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে, তাঁদের সন্তানদের জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারও নির্বাহী আদেশ দুটিতে সীমিত করা হয়েছে।

  • দিল্লিতে হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে কী বলছেন বিশ্লেষকেরা

    দিল্লিতে হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে কী বলছেন বিশ্লেষকেরা

    ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বুধবার ভারতের নয়াদিল্লিতে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তাঁকে নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করতে দেওয়ায় ভারত সরকারের কাছে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

    ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দমনের চেষ্টার সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তিনি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত পলাতক আসামি। দেশে তাঁর দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    দুই বছর ধরে দিল্লিতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অডিও বার্তা দিয়ে আসছেন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ই–মেইলের মাধ্যমে সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন। এই প্রথম দিল্লির কোনো অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে সরাসরি বক্তব্য দিয়েছেন।

    মাইকেল কুগেলম্যান, দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশ্লেষক

    শেখ হাসিনার ঘোষণা নিয়ে বিশ্লেষকদের মত

    সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা চলতি বছরের ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন। দেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার দুই বছর পর তিনি এমন ঘোষণা দেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনা রাজনৈতিকভাবে নিজের গুরুত্ব বজায় রাখা, সমর্থকদের ধরে রাখা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে আবার সক্রিয় করার মরিয়া চেষ্টা হিসেবে এমনটা বলছেন।

    গতকাল বৃহস্পতিবার জাপানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়ার পেছনে তিনটি সম্ভাব্য কারণ তুলে ধরেছেন মাইকেল কুগেলম্যান। তিনি মার্কিন চিন্তক প্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশ্লেষক। তাঁর তুলে ধরা কারণগুলো হচ্ছে—

    প্রথমত, তাঁর (শেখ হাসিনার) ধারণা হতে পারে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীন বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় তাঁর জন্য বেশি অনুকূল। কারণ, অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল। যে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড হয়, সেই রায়ও ওই সরকারের আমলেই হয়েছিল।

    দ্বিতীয়ত, শেখ হাসিনা আদালতে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তাই তিনি আদালতে নিজের অবস্থান তুলে ধরে নিজের নাম কলঙ্কমুক্ত করতে চাইতে পারেন।

    কুগেলম্যানের মতে, সবচেয়ে সহজ ব্যাখ্যাটি হলো তিনি (হাসিনা) রাজনীতি ছেড়ে শুধু বাংলাদেশে ফিরে অবসর জীবন কাটাতে এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করতে চান।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন শেখ হাসিনা সত্যিই দেশে ফিরতে চান।

    ওই নেতার মতে, দলের প্রতি নেতা-কর্মীদের আনুগত্যের প্রতিদান দেওয়ার একটি উপায় হলো তাঁর দেশে ফিরে আসা।

    আওয়ামী লীগের সাবেক জ্যেষ্ঠ নেতা এবং বর্তমানে শেখ হাসিনার কড়া সমালোচক মাহমুদুর রহমান মান্না তাঁর (হাসিনা) দেশে ফেরার ঘোষণাকে নিজের স্বার্থ–সংশ্লিষ্ট হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মধ্যে এমন কিছু নেতা আছেন, যাঁদের জনসমর্থন ও গ্রহণযোগ্যতা আছে। দল নিষিদ্ধ হওয়ার পর সেটিকে আবার ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করার জন্য শেখ হাসিনা তাঁদের কিছুটা সুযোগ দিতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি।’

    মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, ‘তিনি (হাসিনা) দলের স্বার্থে দেশে ফিরবেন, এমন ধারণা অমূলক।’

    ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন সিকদারের মতে, দেশে ফেরার হুমকি দিয়ে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপরও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে চান।

    হাসিনা দেশে ফিরলে কী হতে পারে

    বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ খুব সীমিত থাকবে। তবে তাঁর উপস্থিতি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

    কুগেলম্যান নিক্কেই এশিয়াকে বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে প্রায় নিশ্চিতভাবেই বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার করা হবে। একই সঙ্গে তাঁর প্রত্যাবর্তন সমর্থক ও বিরোধী উভয় পক্ষকেই সক্রিয় করে তুলতে পারে। এতে সহিংস সংঘর্ষের ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে এবং তাঁর বিচারপ্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে সরকারের ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।

    কুগেলম্যানের মতে, ‘তাঁর শুধু দেশে ফিরে আসাটাই রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করার জন্য যথেষ্ট হবে।’

    অধ্যাপক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন সিকদার এএফপিকে বলেন, ‘ভারত থেকে ফেরার পর সরাসরি কারাগারে নেওয়া হলেও বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনাকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয়। তাঁর ফিরে আসাটা রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করবে।’

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারকে চিঠি দিয়েছে। সরকার তাঁর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রস্তুত আছে।

    জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, ‘যে মানুষটিকে আমরা ফিরিয়ে আনতে চাইছি, তিনি নিজেই দেশে ফেরার কথা বলছেন। আমরা প্রস্তুত আছি। তাঁকে আসতে দিন, আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করব।’

    শেখ হাসিনা

    শেখ হাসিনা এমন সময়ে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন, যখন বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের মধ্যকার টানাপোড়েনের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। তবে শেখ হাসিনার বিষয়টি এখনো দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় বিতর্কের কারণ হয়ে আছে।

    বাংলাদেশ সরকার বারবার শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। অন্যদিকে ভারত বলেছে, এ অনুরোধ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে বিএনপির নেতা তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য ভারত তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

    হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল দাবি করেছিলেন, ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে নয়াদিল্লির কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

    জয়সোয়াল বলেন, ‘এর সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ওই অনুষ্ঠানে প্রকাশিত কোনো মতামতকে সরকার সমর্থন করে না।’

    বাংলাদেশের কড়া প্রতিক্রিয়া

    শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো ব্যক্তি যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, সে বিষয়ে ৩ আগস্ট ভারত সরকারের সহযোগিতা চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। এ ধরনের কার্যক্রম বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও সতর্ক করেছিলেন তিনি। ওই দিন ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এ কথা বলেছিলেন।

    শেখ হাসিনা বক্তব্য দেওয়ার পর বুধবার রাতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে ভারত সরকারের প্রতি কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। এতে বলা হয়, ‘পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ। সেখানে তিনি এবং তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও এর জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদ্‌গার করেছেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ।’

    সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানটি আয়োজনের ফলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন যাত্রার প্রচেষ্টায় সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কথা ভারত সরকারকে আগেই জানানো হয়েছিল। এরপরও ভারতের মাটিতে এ আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় ঢাকা গভীর হতাশা প্রকাশ করছে।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এমন একটি দিন, যখন বাংলাদেশের জনগণ জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদ্‌যাপন করছে, সে সময় ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই মতবিনিময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি গুরুতর অপমান।

    প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাতে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ৩ আগস্ট, তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে

    ‘ভারত চাইলে সংবাদ সম্মেলন ঠেকানো যেত’

    মাইকেল কুগেলম্যান নিক্কেই এশিয়াকে বলেন, ‘এই সংবাদ সম্মেলনের ক্ষেত্রে ভারত মাঝামাঝি অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমার মনে হয় না, এই ব্যাখ্যা ঢাকার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।’

    কুগেলম্যানের মতে, ভারত চাইলে এই সংবাদ সম্মেলন ঠেকাতে পারত। তাই বাংলাদেশ সম্ভবত এ ঘটনাকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লির আরেকবার প্রশ্রয় দেওয়ার উদাহরণ হিসেবেই দেখবে।

    ওপি জিন্দাল গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ের অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত নিক্কেই এশিয়াকে বলেন, এমন একসময়ে এই ঘটনা ঘটেছে, যখন প্রায় দুই বছর ধরে টানাপোড়েনের পর বাংলাদেশ ও ভারত ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।

    শ্রীরাধা দত্ত আরও বলেন, ‘পর্যটক ভিসা চালু হলেও দুই দেশের সম্পর্ক এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। সম্পর্কের উন্নতি খুব ধীরগতিতে এগোচ্ছে।’

    তবে শ্রীরাধা দত্ত এটিকে দীর্ঘমেয়াদি ধাক্কা হিসেবে না দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, ‘ভারত ও বাংলাদেশ—দুই দেশই পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে লাভবান হতে পারে।’

    বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কোন দিকে

    দ্য ডিপ্লোম্যাটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের পক্ষে শেখ হাসিনাকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়াটা বাস্তবসম্মত কোনো বিকল্প নয়। তবে তিনি যদি নিজ ইচ্ছায় দেশে ফেরেন, তাহলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান উত্তেজনা কিছুটা কমতে পারে। এমনও গুঞ্জন আছে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত নেপথ্যে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তবে এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি।

    দ্য ডিপ্লোম্যাটের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ছিল উষ্ণ। কিন্তু তিনি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সেই পরিস্থিতি বদলে যায়। বিশেষ করে, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার চীনের দিকে বেশি ঝুঁকেছে এবং ভারতের উদ্বেগের বিষয়গুলোকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি বলে নয়াদিল্লির দাবি।

    গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে গড়ে ওঠার আশা তৈরি হয়। এ প্রেক্ষাপটে গত এপ্রিলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের নয়াদিল্লি সফরকে পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হয়।

    বাংলাদেশের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখা ভারতের জন্য জরুরি। কারণ, দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এ ছাড়া স্থলবেষ্টিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা আরও জোরদার করা এবং ওই অঞ্চলের বিদ্রোহ দমনে ভারত ঢাকার সহযোগিতাও চায়।

    এসব কৌশলগত প্রয়োজনের কথা বিবেচনায় নিয়ে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারত বাংলাদেশের প্রতি বেশ কয়েকটি ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে দেশটি পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি ও লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে পাঠায়।

    চলতি বছরের এপ্রিলে জ্বালানিসংকটের সময় বাংলাদেশে ৪৫ হাজার টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করেছে ভারত। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে তুলতে ঢাকায় নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ সহজ করতে তাঁকে মন্ত্রীর মর্যাদাও দেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য (বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে) ভারতের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এখনো সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেননি।

    ডিপ্লোম্যাটের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ৩০ বছর মেয়াদি ওই চুক্তি চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। চুক্তি নবায়নের সময় বর্তমানে গঙ্গায় পানিপ্রবাহের পরিমাণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দুই দেশের ওপর পড়া প্রভাব বিবেচনায় নিতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত চুক্তিটি নবায়ন করা গেলে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারে।

    ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ—দুই জায়গায় এখন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় থাকায় তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি করার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই চুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন।

    ডিপ্লোম্যাটের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন করে স্বাভাবিক করা এখন জরুরি। তবে তার আগে শেখ হাসিনার অনলাইন সংবাদ সম্মেলনকে ঘিরে যে কূটনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, তা সামাল দিতে নয়াদিল্লিকে পদক্ষেপ নিতে হবে।