আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর :আগামী সপ্তাহেই দিল্লি সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী

    ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর :আগামী সপ্তাহেই দিল্লি সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর ঘিরে বেশ আশাবাদী ভারত। এই ইস্যুতে ঢাকার সঙ্গে জোর আলোচনা চালাচ্ছে নয়াদিল্লি। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে আগামী সপ্তাহের শেষ ভাগে বা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নয়াদিল্লি যেতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    তার এই সফরকে সামনে রেখে ঢাকা ও নয়াদিল্লি উভয় রাজধানীতেই জোর প্রস্তুতি চলছে বলে দুই দেশের কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। কর্মকর্তারাও নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি।

    তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো আজ তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

    এনডিটিভি লিখেছে, সম্ভাব্য এই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দুদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এর মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা গুরুত্ব পেতে পারে।

    সব ঠিক থাকলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটাই হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও এ সফর তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করা হয়।

    সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুদিনের এই সফরটি একটি দ্বিপক্ষীয় কর্মসূচি হিসেবে সাজানো হচ্ছে। তবে সফরের চূড়ান্ত সময়সূচি এখনও নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাকে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস আউটরিচ সেশনেও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।

    মোদি-তারেক প্রথম বৈঠক ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ

    প্রতিবেদন বরাতে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, দিল্লি ও ঢাকা—উভয় পক্ষই নরেন্দ্র মোদি ও তারেক রহমানের মধ্যকার সম্ভাব্য এই প্রথম বৈঠকের দিকে গভীর নজর রাখছে।

    বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতের পক্ষ থেকেও ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন কৌশলগত সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দেয়। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। এরপর থেকে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক দাবিসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে দুদেশের মধ্যে মতভিন্নতা তৈরি হয়েছিল।

    তবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ভারতের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি দুদেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনঃস্থাপনেরও কিছু লক্ষণ দেখা গেছে। এর অংশ হিসেবে গত এপ্রিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফর করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া গত ১০ আগস্ট ঢাকায় তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী, যেখানে দুদেশের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

    প্রধান ইস্যু: শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে যান এবং এরপর থেকেই তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশের একটি ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে দিল্লির কাছে তাকে হস্তান্তরের দাবি জানায়। ভারত অবশ্য জানিয়েছে, এই অনুরোধটি যথাযথ আইনি ও কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    চলতি মাসের শুরুর দিকে শেখ হাসিনা দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়ালি মতবিনিময় করলে এ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত নয়। তবে ভারত সরকার ওই অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

    সূত্র জানিয়েছে, ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বৈঠকেও প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গটি উঠে আসে। সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতি ব্যাহত না করে কীভাবে এই বিরোধপূর্ণ ইস্যুটির সমাধান করা যায়, তা নিয়ে উভয় পক্ষকেই পথ খুঁজতে হবে।

    উভয় দেশের মধ্যে সমাধানের অপেক্ষায় থাকা দীর্ঘদিনের বেশ কিছু বাস্তবভিত্তিক সমস্যাও রয়েছে। আসন্ন আলোচনায় মূলত বাণিজ্য ও ট্রানজিট, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘ অভিন্ন সীমান্ত এবং জোরালো অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায়, রাজনৈতিক সমঝোতা তৈরি হলে তা দ্রুত এই খাতগুলোতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

    আরেকটি বড় ইস্যু হতে পারে অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। ফলে সময় ঘনিয়ে আসায় চুক্তি নবায়নের আলোচনাটি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এছাড়া অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়েও ভারতের কাছ থেকে আরও সহযোগিতা চেয়েছে ঢাকা।

    অন্যদিকে, শুধু দীর্ঘ সীমান্তের কারণেই নয়, বরং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ এবং কৌশলগত অবস্থানের কারণেও বাংলাদেশের সঙ্গে একটি স্থিতিশীল ও সুদৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখা নয়াদিল্লির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    সম্পর্কের নতুন দিগন্তের পরীক্ষা

    সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দুই দেশই যখন তাদের সম্পর্ককে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী, ঠিক তখনই এই সফরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

    যদিও বিশ্লেষকদের মতে, এই একটি মাত্র সফরেই অমীমাংসিত সব সংকটের সমাধান হয়ে যাবে এমনটি ভাবা ঠিক হবে না। শেখ হাসিনার ইস্যু, পানিবণ্টন, বাণিজ্য ও সীমান্ত নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনার প্রয়োজন পড়বে। তবে নরেন্দ্র মোদি ও তারেক রহমানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা দুই দেশের মতপার্থক্য নিরসনে একটি কার্যকর রাজনৈতিক পথ উন্মোচন করতে পারে।

    ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যদি এই সফর হয় তাহলে এর মাধ্যমে তারেক রহমান ঢাকার অবস্থান সরাসরি ভারতের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্যও এটি বাংলাদেশের নতুন সরকারের কাছ থেকে দিল্লির প্রত্যাশাগুলো তুলে ধরার একটি সুযোগ হবে।

    প্রতিবেদন বরাত বলছে, সফরের চূড়ান্ত তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। তবে সবকিছু ঠিক থাকলে, আগামী সপ্তাহে তারেক রহমানের এই দিল্লি সফর হতে পারে ভারত-বাংলাদেশ নতুন রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রথম বড় পরীক্ষা। আপাতত উভয় পক্ষের মূল লক্ষ্য—পরস্পরের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা আবার শুরু করা এবং জটিল সংকটগুলো যেন সার্বিক সম্পর্ককে আটকে না ফেলে, সেই পথ তৈরি করা।

  • ১২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৪৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার

    ১২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৪৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত দেশে ৪৩৫ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৩৫৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। এ সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি আগস্টের প্রথম ১২ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৪৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১০৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সে হিসাবে চলতি আগস্টের প্রথম ১২ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৪২ দশমিক দুই শতাংশ।

    গতকাল ১২ আগস্ট এক দিনেই প্রবাসীরা দেশে ১১ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।

    বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • ভারতের ভোটার তালিকায় বাংলাদেশে প্রধান শিক্ষকের নাম!

    ভারতের ভোটার তালিকায় বাংলাদেশে প্রধান শিক্ষকের নাম!

    শিক্ষা ডেস্ক:

    খুলনার পাইকগাছার খড়িয়া নবারুণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের ভারতীয় নাগরিকত্ব ও ভোটার তালিকায় নাম থাকার অভিযোগ নিয়ে তদন্ত হলেও এখনো তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসনের দপ্তরের প্রতিবেদনে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় তার নাম থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) তাকে শোকজ করে লিখিত জবাবও পেয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ভারতীয় নাগরিকত্ব থাকার পাশাপাশি দীপক চন্দ্র সরকার বাংলাদেশে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন।

    বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ ও একাধিক তদন্ত হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি নিজ প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ২৯ জুন দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘পশ্চিমবঙ্গের ভোটার হয়েও খুলনায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এরপর প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ে নড়েচড়ে বসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। নথিপত্র ও তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাইকগাছা উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের খড়িয়া নবারুণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের নাম পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় রয়েছে। সেখানে তাকে উত্তর বর্ধমানের শক্তিগড় থানার ২ নম্বর বরশুল গ্রামের ১ নম্বর মনমোহন দে রোডের পশ্চিমাংশের বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে তিনি পাইকগাছার লস্কর ইউনিয়নের খড়িয়া ঢেমশাখালী গ্রামের ভোটার। তার বাবা নগেন্দ্র নাথ সরকার ও মা সুমিত্রা রানী সরকার। অভিযোগকারীদের দাবি, দীপক চন্দ্র সরকারের স্ত্রী, মেয়ে, ভাই ও ভাবিসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্যও ভারতের স্থায়ী বাসিন্দা ও ভোটার। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে দীপক চন্দ্র সরকার বলেন, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক এবং নিজে ভারতে ভোটার হননি। প্রাপ্ত অভিযোগের পর পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে উপজেলা রিসোর্স অফিসার মো. ঈমান উদ্দিন ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ সেপ্টেম্বর একটি তদন্ত প্রতিবেদন দেন।

    এরপর ইউএনওর নির্দেশে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজাহান আলীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ জানুয়ারি আরেকটি প্রতিবেদন জমা দেয়। একই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম ছায়েদুর রহমান বিষয়টি নিয়ে আরও একটি তদন্ত করেন। চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে ইউএনও ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী উল্লেখ করেন, ভোটার তালিকা থেকে দীপক চন্দ্র সরকারের ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকত্ব থাকার তথ্য পাওয়া যায়। এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হয়। এ কারণে বিদেশি নাগরিকের এমপিওভুক্ত পদে থাকার বিষয়টি প্রশ্নসাপেক্ষ ও বিতর্কিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এরপর খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজা গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর ও স্পর্শকাতর উল্লেখ করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রতিবেদন পাঠান। প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে নিয়োগে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ১২ জুলাই বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী ও আয়া পদে তিনজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে প্রধান শিক্ষকের ভাইপো ভবেশ সরকার এবং আয়া পদে তার আপন শালিকা লাবনী সরকার নিয়োগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    নিরাপত্তাকর্মী পদে তৎকালীন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য রবীন ঢালীর ভাগ্নে পলাশ কুমার মণ্ডলকে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ করেন। ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ জুলাই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ঝাড়ু মিছিল, মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় নিয়োগপত্র না দিয়ে পরে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ১ সেপ্টেম্বর ওই তিনজনকে বিদ্যালয়ে হাজির করা হয়। এসব নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও করেন স্থানীয় ব্যক্তিরা। তবে প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    বিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রণোদনা অনুদানের পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষক, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী এবং প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দের ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা যথাযথভাবে ব্যয় করা হয়েছে। তবে অবশিষ্ট অর্থের ব্যয়ের ক্ষেত্রে যথাযথ বিল-ভাউচার পাওয়া যায়নি বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা প্রকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তার ভাষ্য, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

    মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (বেসরকারি মাধ্যমিক-১) মো. জাকির হোসেন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারকে ১০ কার্যদিবসের সময় দিয়ে শোকজ করা হয়েছিল। তিনি প্রথম নোটিশের জবাব দেননি। পরে দ্বিতীয় দফায় নোটিশ দেওয়া হলে তিনি লিখিত জবাব দিয়েছেন। দীপক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে জানতে চাইলে মো. জাকির হোসেন বলেন, সংশ্লিষ্ট সব প্রতিবেদন মহাপরিচালকের দপ্তরে উপস্থাপন করা হবে। বিষয়টি পর্যালোচনা করে মহাপরিচালক উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন।

    দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ভারতীয় ভোটার হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকার বলেন, আমি এ দেশের নাগরিক। আমি নিজে ভারতে ভোটার হইনি। কেউ আমাকে ফাঁসানোর জন্য ভারতের ভোটার তালিকায় আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে। বিদ্যালয়ের অনুদানের অর্থ আত্মসাৎ এবং নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। তার দাবি, এসব অভিযোগ সত্য নয়।

  • ট্রাম্পের সেই গোপন ফ্লাইটে কারা ছিলেন?

    ট্রাম্পের সেই গোপন ফ্লাইটে কারা ছিলেন?

    কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এয়ার ফোর্স ওয়ানকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে- এমন হুমকির মুখে গত মাসে তুরস্ক থেকে ফেরার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে গোপনে ছোট একটি সরকারি বিমানে তুলে দেয়া হয়। সেই গোপন ফ্লাইটে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্ররা সঙ্গী হয়েছিলেন বলে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

    সিএনএন বলছে, গোপনে ছোট বিমানে ট্রাম্প ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা তুরস্ক ছাড়লেও এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্পের মন্ত্রীপরিষদের বেশ কয়েকজন সদস্য ছিলেন।
    সেদিন সেই ছোট বিমানটিতে ট্রাম্পের সঙ্গে থাকা সহকারীদের মধ্যে ছিলেন ন্যাটালি হার্প। তিনি একজন নির্বাহী সহকারী, যিনি ট্রাম্পের ভ্রমণের সময় নিয়মিত তার সঙ্গী হন।

    এ ছাড়া হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ, ড্যান স্ক্যাভিনো, ওভাল অফিস অপারেশন্সের পরিচাল্ ওয়াল্ট নটা ট্রাম্পের ছোট বিমানের সঙ্গী ছিলেন। এরা সবাই ট্রাম্পের প্রায় সফরে সঙ্গী হিসেবে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেন।
    সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সি-৩২এ বিমানে সেদিন ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথও ছিলেন।
    তবে সম্ভাব্য হামলার হুমকি থাকা সত্ত্বেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে করেই তুরস্ক ছেড়েছেন।

    সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত ৮ জুলাই তুরস্ক থেকে উড্ডয়নের আগে ট্রাম্প ও তার অল্প কয়েকজন সহযোগী একটি ক্যাটারিং ট্রাকের আড়ালে গোপনে বড় নীল-সাদা প্রেসিডেন্টের বিমান থেকে অপেক্ষাকৃত ছোট ও সাধারণ দেখতে সি-৩২এ বিমানে চলে যান।
    একই সময়ে এয়ার ফোর্স ওয়ান আলাদাভাবে উড্ডয়ন করে। ওই বিমানে ছিলেন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা, হোয়াইট হাউসের কর্মীরা এবং সফরসঙ্গী সাংবাদিকদের দল।


  • ফিলিস্তিনিদের একের পর এক বাড়ি দখলে নিচ্ছে ইহুদি সেটেলাররা

    ফিলিস্তিনিদের একের পর এক বাড়ি দখলে নিচ্ছে ইহুদি সেটেলাররা

    অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বাড়ি অবৈধভাবে দখলে নিচ্ছে ইহুদি বসতি স্থাপনাকারীরা। সর্বশেষ, ইহুদি সেটেলাররা পশ্চিম তীরে তিনটি ফিলিস্তিনি পরিবারের বাড়ি-ঘর দখলে নিয়েছে।
    কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অভিযানের অংশ হিসেবে ইহুদি সেটেলাররা ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের পানি ও বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে।

    বুধবার দক্ষিণ নাবলুসের কুসরা গ্রামে এক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ইসরাইলি সেটেলাররা একটি বাড়ি ঘিরে রেখেছে। ওই বাড়িতে আটকা বাসিন্দারা বলেন, ইসরাইলি বাহিনী এসব সেটেলারদের ছত্রভঙ্গ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
    ইসরাইলি সেটেলারদের কাছে বাড়ি হারানোর শঙ্কায় থাকা আইশা আবু রিদা আল জাজিরাকে বলেন, রোববার এই দখলদারিত্ব শুরু হয়। প্রথমে দখলদাররা তার বাড়ির প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেয়।

    তিনি আরও বলেন, সেটেলাররা আমাদের ঘিরে রাখে কিন্তু আমরা অটল আছি। যাই ঘটুক না কেন আমরা আমাদের বাড়ি ছাড়ব না। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইহুদিরা তাদের বাড়িত পানি ও বিদ্যুতের লাইন কেটে দিয়েছে।
    এদিকে আনাদোলু এজেন্সি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, কুসরার মেয়রকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে রোববার সকাল পর্যন্ত সামরিক অভিযান চলবে।

    লোয়াই রিদি নামে একজন আমেরিকান-ফিলিস্তিনি জানান, ওই গ্রামে তার ভাই কুসাই আবু রিদা এবং ১৮ বছর বয়সী ভাগ্নে আহমেদ ইসরাইলি সেটেলারদের কাছে আটকা পড়ে আছেন।
    যুক্তরাষ্ট্রের টলেডো থেকে লোয়াই আল জাজিরাকে বলেন, তার পরিবার এখন অস্থায়ীভাবে সোলার পাওয়ার ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে আছে এবং গ্রামে তার পরিবারের কাছে অল্প পানি অবশিষ্ট রয়েছে।
    লোয়াই আল জাজিরাকে আরও বলেন, কুসাই তার বাড়ি কোনোভাবেই ছাড়তে চায়না। কারণ সে যদি একবার বাড়ি ছাড়ে তাহলে ইহুদি সেটেলাররা শিগগিরই সেটি দখলে নেবে।

    ইসরাইলি সেনারা এসব সেটেলারদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো পদক্ষেপই নিচ্ছে না বলে অভিযোগ লোয়াইয়ের।
    ইসরাইলি সেটেলমেন্ট ওয়াচডগ পিস নাও জানিয়েছে, পশ্চিম তীরে বর্তমানে ১৪৬টি অবৈধ বসতি রয়েছে। এ ছাড়া সেখানে আরও ছোট আকারে ৩৯০টি চৌকি রয়েছে।

  • মক্কার সামরিক জোট কি ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হয়ে উঠবে?

    মক্কার সামরিক জোট কি ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হয়ে উঠবে?

    সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক চুক্তি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা রাজনীতিতে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। তিন দেশের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা একে অন্যের থেকে আলাদা। ফলে তাদের এই জোটকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

    চুক্তিটির প্রতীকী গুরুত্বও রয়েছে। মুসলিমদের পবিত্র শহর মক্কায় এটি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ফলে অনেকের কাছে এটি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে নতুন নিরাপত্তা সহযোগিতার বার্তা বহন করছে।

    তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে চুক্তির একটি শর্ত নিয়ে। এতে বলা হয়েছে, কোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে সব দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ন্যাটোর গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ৫-এর সঙ্গে এই শর্তের মিল রয়েছে।

    তাই কেউ কেউ এই জোটকে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ বলছেন। তবে এই জোট বাস্তবে ন্যাটোর মতো কার্যকর সামরিক কাঠামো হয়ে উঠবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে।

    তিন দেশের শক্তি এক জায়গায়

    সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে তুরস্ক এই জোটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দেশটির শক্তিশালী সেনাবাহিনী রয়েছে। তাদের যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিও উন্নত।

    অন্যদিকে সৌদি আরবের রয়েছে বিপুল অর্থনৈতিক সক্ষমতা। দেশটি মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়ে থাকে। তুরস্ক থেকেও তারা ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম কিনছে।

    পাকিস্তান আবার পরমাণু শক্তিধর দেশ। দেশটির সেনাবাহিনী চীনা সামরিক সরঞ্জামও ব্যবহার করে।

    এই তিন ধরনের সক্ষমতার সমন্বয়ই নতুন জোটটিকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছে। সামরিক প্রশিক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ব্যয় এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে কে কীভাবে অবদান রাখবে, তা নিয়েও দেশগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    ইরান ও ইসরাইলকে ঠেকানোর হিসাব?

    নতুন জোটটি কি একই সঙ্গে ইরান ও ইসরাইলকে প্রতিরোধের একটি উদ্যোগ—এ প্রশ্নও উঠেছে।

    গাজায় সংঘাত শুরুর পর ইসরাইলের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে সৌদি আরবের উদ্বেগ রয়েছে।

    ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের সময় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি ও তেল স্থাপনায় হামলা হয়েছে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র হামলার শিকার দেশগুলোকে কার্যকর নিরাপত্তা দিতে পারেনি বলে সমালোচনা রয়েছে।

    এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক নিজেদের মধ্যে নিরাপত্তার একটি অতিরিক্ত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইছে বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন। তবে জোটের নেতারা বলছেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়। এর লক্ষ্য সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

    পাকিস্তান ও সৌদি আরব গত বছর যে সামরিক চুক্তি করেছিল, এবারের চুক্তিকে তারই বিস্তৃত রূপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    সৌদি আরবের কৌশল

    সৌদি আরব এই জোটের কেন্দ্রে রয়েছে। দেশটির ভৌগোলিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে আরব উপসাগর, অন্যদিকে লোহিত সাগর। দীর্ঘ সমুদ্রসীমা দেশটিকে কৌশলগত সুবিধা দিয়েছে।

    অর্থনৈতিক শক্তির কারণে সৌদি আরব তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দুই দেশকে নিজেদের নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করতে পারছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

    তবে ন্যাটোর মতো কার্যকর সামরিক জোট তৈরি করতে সময় লাগবে। শুধু চুক্তি করলেই একটি সমন্বিত সামরিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে না।

    সৌদিতে হামলা হলে কী করবে পাকিস্তান-তুরস্ক?

    এই প্রশ্নটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    চুক্তির শর্ত অনুযায়ী একটি দেশে হামলা হলে অন্য দুই দেশ সরাসরি সামরিক সহায়তা দিতে গেলে নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে। কারণ তিন দেশই আগে থেকে ভিন্ন ভিন্ন সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত।

    তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য। পাকিস্তান চীনের সামরিক সরঞ্জামের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল।

    অতীতে সৌদি আরবের ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের অবস্থান ছিল সতর্ক। হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের যুদ্ধে পাকিস্তান সেনা ও বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দিলেও সরাসরি পূর্ণাঙ্গ সামরিক সহায়তা দেয়নি।

    ইরান যখন সৌদি আরবে হামলা চালিয়েছিল, তখনও পাকিস্তান সৌদির পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে যায়নি। এর একটি কারণ ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সীমান্ত রয়েছে।

    এ কারণে নতুন জোটের কার্যকারিতা কাগজে-কলমে নয়, বরং বাস্তব কোনো হামলার পর দেশগুলোর পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে।

    আগেও ‘ইসলামিক ন্যাটো’ গড়ার চেষ্টা হয়েছিল

    সৌদি আরব এর আগেও এমন একটি জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিল।

    বিবিসির নিরাপত্তাবিষয়ক সংবাদদাতা ফ্র্যাঙ্ক গার্ডনারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে সৌদি আরবের উদ্যোগে ৩০টির বেশি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশকে নিয়ে ‘ইসলামিক মিলিটারি কাউন্টার টেররিজম কোয়ালিশন’ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

    এর লক্ষ্য ছিল আন্তদেশীয় সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করা। সৌদি আরবে সদস্যদেশগুলোর অংশগ্রহণে ‘নর্থ থান্ডার’ নামে বড় সামরিক মহড়াও অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

    তখন মধ্যপ্রাচ্যের গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকেরা এই জোটকে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নামে অভিহিত করেছিলেন। কিন্তু পরে এর কার্যক্রম তেমন দৃশ্যমান হয়নি।

    এবারের উদ্যোগের পার্থক্য হলো, এতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত শক্তি—সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক—একসঙ্গে রয়েছে।

    তবে মক্কায় স্বাক্ষরিত চুক্তিতে এমন কোনো স্পষ্ট শর্ত নেই যে সৌদি আরবে হামলা হলে পাকিস্তান ও তুরস্ককে অবশ্যই সেনা পাঠাতে হবে।

    ফলে জোটটি কতটা কার্যকর, তা বোঝার জন্য ভবিষ্যতের কোনো সংকটের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

    পাকিস্তানের জন্য ভারসাম্যের পরীক্ষা

    এই জোটে পাকিস্তানের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    একদিকে পাকিস্তান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে ইরানের সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারে—এমন একটি সামরিক জোটে যোগ দিয়েছে।

    ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কও রয়েছে। এ কারণে ইরানের কাছে পাকিস্তানের একটি কূটনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা আছে।

    আবার মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গেও পাকিস্তানের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। দেশটি ওই অঞ্চল থেকে জ্বালানি আমদানি করে। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক পাকিস্তানি কাজ করেন। তাদের পাঠানো অর্থ পাকিস্তানের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    তাই ইসলামাবাদকে একই সঙ্গে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে হচ্ছে।

    এই কারণে জোটের নেতারা বারবার বলছেন, এটি কোনো দেশের বিরুদ্ধে গঠিত হয়নি। তবে পরিস্থিতি বদলালে পাকিস্তানের জন্য ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

    ভারত, চীন ও ইরানের নজরও থাকবে

    নতুন জোটের প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এশিয়ার কয়েকটি দেশও এর দিকে নজর রাখছে।

    পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে গত কয়েক মাসে একাধিকবার সীমান্তে সংঘর্ষ হয়েছে। ভবিষ্যতে পাকিস্তানে হামলা হলে সৌদি আরব ও তুরস্ক কী করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

    ভারতের সঙ্গেও পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। ভবিষ্যতে আবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে নতুন জোটের সদস্যরা কী ভূমিকা নেবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

    সৌদি আরব ও তুরস্ক সরাসরি ভারতের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে না গেলেও পাকিস্তানকে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি বা অর্থনৈতিক সহায়তা দিতে পারে। এতে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও প্রভাব পড়তে পারে।

    এর সঙ্গে ভারতের ইসরাইলের সঙ্গে সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্কের বিষয়টিও যুক্ত হচ্ছে। একই সময়ে ভারত সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার চুক্তির প্রাথমিক রূপরেখায় স্বাক্ষর করেছে।

    অন্যদিকে পাকিস্তান চীনের কাছ থেকেও যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও নজরদারি প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন সামরিক সহায়তা পেয়ে থাকে।

    ফলে নতুন জোটকে ঘিরে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

    পাকিস্তানের জোটে থাকা যেমন ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে, তেমনি সৌদি আরবের অংশগ্রহণ ইরানের জন্য এবং তুরস্কের অংশগ্রহণ গ্রিসের জন্য উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।

    ন্যাটোর মতো জোট হতে কতটা সময় লাগবে?

    সব মিলিয়ে মক্কায় স্বাক্ষরিত সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোয় একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

    তবে এর প্রকৃত শক্তি নির্ভর করবে কয়েকটি বিষয়ের ওপর। তিন দেশের সামরিক বাহিনী কতটা সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক প্রযুক্তি কীভাবে ভাগ করে নেয় এবং কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে অন্যরা বাস্তবে কী পদক্ষেপ নেয়—এসবই হবে মূল পরীক্ষা।

    ভবিষ্যতে মিসর বা কাতারের মতো দেশ এই কাঠামোয় যুক্ত হলে জোটটির পরিসর আরো বাড়তে পারে। তখন ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নামটি আরো জোরালোভাবে আলোচনায় আসবে।

    কিন্তু আপাতত এটি একটি সম্ভাবনাময় আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্যোগ। ন্যাটোর মতো কার্যকর সামরিক জোটে পরিণত হতে হলে এর সামনে এখনো অনেক পথ বাকি।

  • যশোর সীমান্তে ৬১৭ বোতল ভারতীয় এসকাফ সিরাপ জব্দ

    যশোর সীমান্তে ৬১৭ বোতল ভারতীয় এসকাফ সিরাপ জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    খুলনা ব্যাটালিয়ন (২১ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬১৭ বোতল ভারতীয় নিষিদ্ধ এসকাফ সিরাপ জব্দ করেছে।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে পুটখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    বিজিবি সূত্র জানায়, চোরাচালানবিরোধী নিয়মিত তৎপরতার অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় এসকাফ সিরাপগুলো পড়ে থাকতে দেখে জব্দ করা হয়।

    বিজিবি জানায়, সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এসব সিরাপ জব্দ করা হয়।

    খুলনা ব্যাটালিয়ন (২১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাফিজ ইমতিয়াজ আহসান বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও অন্যান্য চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • আইনজীবী থেকে বিপ্লবী-ফিদেল কাস্ত্রো

    আইনজীবী থেকে বিপ্লবী-ফিদেল কাস্ত্রো

    হাভানা থেকে ওয়াশিংটন—দূরত্ব মাত্র ১৪৫ কিলোমিটার। অথচ এই সামান্য দূরত্বের দুই প্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিল দুই ভিন্ন রাজনৈতিক দর্শন। একদিকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পুঁজিবাদী রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র, অন্যদিকে ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কিউবার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব। মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক বিপ্লবী—ফিদেল কাস্ত্রো।

    ১৯২৬ সালের ১৩ আগস্ট জন্ম নেওয়া ফিদেল কাস্ত্রোর জন্মশতবার্ষিকী আজ ১৩ আগস্ট, বৃহস্পতিবার। ২০১৬ সালের ২৫ নভেম্বর ৯০ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হলেও কিউবার রাজনীতি, লাতিন আমেরিকার বামপন্থী আন্দোলন এবং যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী সংগ্রামের ইতিহাসে তাঁর ছায়া এখনো দীর্ঘ।

    প্রায় পাঁচ দশক কিউবা শাসন করেছেন ফিদেল কাস্ত্রো। এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতায় এসেছেন ১০ জন প্রেসিডেন্ট। কাস্ত্রো তাঁদের প্রত্যেককে অতিক্রম করে ক্ষমতায় থেকেছেন। ২০০৬ সালে অসুস্থতার কারণে ভাই রাউল কাস্ত্রোর হাতে ক্ষমতা তুলে দেন এবং ২০০৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়েন।

    কাস্ত্রোর গল্প অবশ্য প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে শুরু হয়নি। শুরু হয়েছিল এক তরুণ আইনজীবীর ক্ষোভ থেকে।

    মনকাদা থেকে বিপ্লবের শুরু

    পূর্ব কিউবার চিনি উৎপাদনকারী অঞ্চলে বড় হয়েছেন ফিদেল। তাঁর বাবা ছিলেন স্প্যানিশ অভিবাসী; প্রথমে মার্কিন চিনি কোম্পানিতে কাজ করলেও পরে নিজেই বড় খামারের মালিক হন। জেসুইট স্কুলে পড়াশোনার পর হাভানা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান নিয়ে পড়েন ফিদেল।

    ১৯৫২ সালে ফুলজেনসিও বাতিস্তা সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করলে কিউবার গণতান্ত্রিক রাজনীতির পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। তরুণ আইনজীবী ফিদেল তখন সশস্ত্র সংগ্রামের পথ বেছে নেন। ১৯৫৩ সালের ২৬ জুলাই সান্তিয়াগো দে কিউবার মনকাদা সেনা ব্যারাকে হামলা চালান তিনি ও তাঁর অনুসারীরা। অভিযান ব্যর্থ হয়। বহু সঙ্গী নিহত হন। ফিদেল ও তাঁর ভাই রাউল গ্রেপ্তার হন।

    কিন্তু কারাগারই কাস্ত্রোকে জাতীয় রাজনীতির বড় মঞ্চে নিয়ে আসে। আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্যকে তিনি রাজনৈতিক ইশতেহারে পরিণত করেন। সেখানেই উচ্চারিত হয় তাঁর বিখ্যাত প্রত্যয়, ‘ইতিহাস আমাকে মুক্তি দেবে।’

    সাধারণ ক্ষমায় মুক্তি পাওয়ার পর মেক্সিকোতে চলে যান ফিদেল কাস্ত্রো। সেখানে বিপ্লবীদের সংগঠিত করে ১৯৫৬ সালে ‘গ্রানমা’ নামের ইয়টে করে কিউবায় ফিরে আসেন। উপকূলে নামার পর সরকারি বাহিনীর আক্রমণে বিপ্লবীদের বড় অংশ নিহত বা ছত্রভঙ্গ হয়। বেঁচে থাকা যোদ্ধাদের নিয়ে সিয়েরা মায়েস্ত্রা পর্বতে আশ্রয় নেন ফিদেল। সেখানেই শুরু হয় গেরিলা যুদ্ধের নতুন অধ্যায়।

    তিন বছরের লড়াই, তারপর হাভানা

    পাহাড়ে বসে কাস্ত্রো শুধু গেরিলা বাহিনী গড়ে তোলেননি; তৈরি করেছিলেন জনসমর্থনও। বাতিস্তার শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছিল। ১৯৫৯ সালের জানুয়ারিতে বাতিস্তা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। ৮ জানুয়ারি বিপ্লবী ক্যারাভান নিয়ে হাভানায় প্রবেশ করেন কাস্ত্রো। মাত্র ৩২ বছর বয়সে তিনি হয়ে ওঠেন লাতিন আমেরিকার অন্যতম তরুণ শাসক।

    প্রথম দিকে কাস্ত্রো বলেছিলেন, তাঁর লক্ষ্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা নয়। সেই আশ্বাসে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ তাঁর সরকারকে স্বীকৃতিও দিয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়।

    কাস্ত্রো শুরু করেন ব্যাপক অর্থনৈতিক সংস্কার। জমি ও বড় সম্পত্তি পুনর্বণ্টন, বিদেশি মালিকানাধীন সম্পদ জাতীয়করণ এবং রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করা হয়। বাতিস্তা সরকারের সদস্যদের বিচার করা হয়; মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় শত শত মানুষের।

    গণমাধ্যমের ওপরও আঘাত আসে। স্বাধীন সংবাদপত্র বন্ধ হয়ে যায়। রাজনৈতিক বিরোধিতা দমন করা হয়। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক বন্দীর সংখ্যাও ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। কিউবার বহু নাগরিক দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। একই বিপ্লব তাই কারও কাছে মুক্তির প্রতীক আবার কারও কাছে নতুন এক দমনমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার সূচনা।

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুখোমুখি

    কাস্ত্রো যত দ্রুত সোভিয়েত ইউনিয়নের দিকে ঝুঁকতে থাকেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক তত দ্রুত খারাপ হয়। যুক্তরাষ্ট্র কিউবার চিনি কেনা বন্ধ করে দেয়। জবাবে কাস্ত্রো কিউবায় থাকা বিপুল মার্কিন সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেন। এরপর ওয়াশিংটন ব্যাপক বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং ১৯৬১ সালের ৩ জানুয়ারি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়।

    এরপর আসে কিউবার ইতিহাসের সবচেয়ে নাটকীয় অধ্যায়গুলোর একটি। ১৯৬১ সালের ১৬ এপ্রিল কাস্ত্রো আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর বিপ্লবকে সমাজতান্ত্রিক ঘোষণা করেন। পরদিন সিআইএ-সমর্থিত প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিউবান নির্বাসিত ‘বে অব পিগস’-এ আক্রমণ চালায়। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই অভিযান ব্যর্থ হয়।

    কাস্ত্রোর জন্য এটি ছিল বিরাট রাজনৈতিক বিজয়। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত আগ্রাসন প্রতিহত করে তিনি কিউবার বিপ্লবের বৈধতা আরও শক্ত করেন।

    এরপরও কাস্ত্রোকে হত্যার চেষ্টা থামেনি। কিউবার সরকারি হিসাব অনুযায়ী, কাস্ত্রোকে হত্যার জন্য অসংখ্যবার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। এসব দাবির কিছু নিয়ে বিতর্ক থাকলেও কাস্ত্রোকে উৎখাত ও হত্যার জন্য মার্কিন গোপন তৎপরতার বিষয়টি ঠান্ডা যুদ্ধের ইতিহাসে সুপ্রতিষ্ঠিত।

    পৃথিবী যখন পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে

    বে অব পিগসের এক বছর পর দেখা দেয় আরও ভয়ংকর সংকট। ১৯৬২ সালের অক্টোবরে কিউবায় সোভিয়েত পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি কিউবার চারপাশে নৌ অবরোধ ঘোষণা করেন।

    ১৩ দিন ধরে পৃথিবী অপেক্ষা করছিল—যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন কি পারমাণবিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে? শেষ পর্যন্ত নিকিতা ক্রুশ্চেভ ক্ষেপণাস্ত্র সরিয়ে নিতে রাজি হন। সংকটের অবসান ঘটে। কিন্তু কিউবা তখন ঠান্ডা যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক কেন্দ্র।

    বিপ্লব শুধু কিউবার জন্য ছিল না

    ফিদেল কাস্ত্রোর প্রভাব কিউবার সীমানায় আটকে থাকেনি। লাতিন আমেরিকার বহু বিপ্লবী তরুণের কাছে কিউবা হয়ে ওঠে প্রেরণার প্রতীক। কাস্ত্রোর সরকার আফ্রিকার উপনিবেশবিরোধী সংগ্রামেও ভূমিকা নেয়। অ্যাঙ্গোলা, মোজাম্বিক ও দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াইয়ে কিউবান সামরিক সহায়তা পাঠানো হয়। পাশাপাশি উন্নয়নশীল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চিকিৎসক ও শিক্ষক পাঠানো হয়।

    কাস্ত্রোর কিউবা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বড় পরিবর্তন আনে। সর্বজনীন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য ও বাসস্থানের নিশ্চয়তা, নারীর অধিকার ও জাতিগত সমতার ওপর জোর দেওয়া হয়। বিপ্লবের পর ব্যাপক সাক্ষরতা অভিযান চালানো হয়।

    কিউবার চিকিৎসাব্যবস্থা, বিশেষ করে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পায়। কিউবা ক্রীড়াক্ষেত্রেও ছোট দেশের তুলনায় অসাধারণ সাফল্য দেখায়। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তর্জাতিক মিশনও হয়ে ওঠে কিউবার বৈশ্বিক পরিচয়ের অন্যতম অংশ।

    বিপ্লবের অন্ধকার দিক

    কাস্ত্রোর উত্তরাধিকার নিয়ে বিতর্কের সবচেয়ে বড় জায়গা এখানেই। বিপ্লব রাজনৈতিক বহুত্ববাদ সীমিত করে। স্বাধীন সংবাদমাধ্যম বন্ধ হয়। শ্রমিক সংগঠনের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও রাষ্ট্রীয় চাপের মুখে পড়ে। পাড়ায় পাড়ায় ‘বিপ্লবী প্রতিরক্ষা কমিটি’ গড়ে তুলে নাগরিকদের ওপর নজরদারি চালানো হয়। রাজনৈতিক বন্দী ও নির্বাসনের ঘটনাও তাঁর শাসনের কঠিন বাস্তবতা।

    সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও ছিল কাস্ত্রোর নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে তিনি ছিলেন সোভিয়েত সমাজতন্ত্রের নিছক অনুগামী—এমন ব্যাখ্যাও পুরোপুরি যথেষ্ট নয়। স্তালিনের ব্যক্তিপূজা ও দমননীতির সমালোচনা করতেন তিনি; আবার সোভিয়েত সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধেও সব সময় প্রকাশ্যে অবস্থান নেননি।

    কিউবার কঠিন সময়

    ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন কিউবার অর্থনীতিতে ভয়াবহ ধাক্কা হয়ে আসে। কিউবার জন্য শত শত কোটি ডলারের অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য ও ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যায়। ‘বিশেষ সময়’-এর কঠিন অর্থনৈতিক সংকটে কাস্ত্রোকে সীমিত ব্যক্তিগত ব্যবসা ও বিদেশি পুঁজির জন্য কিছুটা জায়গা খুলে দিতে হয়। পরে পর্যটনশিল্পের বিকাশে অর্থনীতি কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ আবার শক্ত হয়। এ সময়ও কাস্ত্রোর স্লোগান বদলায়নি—সমাজতন্ত্রই তাঁর পথ।

    ২০০৬ সালে অসুস্থতার পর কাস্ত্রোর ক্ষমতা কমতে শুরু করে। ২০০৮ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্টের পদ ভাই রাউল কাস্ত্রোর হাতে তুলে দেন। কিন্তু অবসরেও তিনি রাজনীতি থেকে পুরোপুরি সরে যাননি। রাউলকে সমর্থন করেছেন। আর জীবনের শেষ দিকে সবচেয়ে প্রতীকী পরিবর্তনটি দেখেছেন—যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে।

    ২০১৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর ওয়াশিংটন ও হাভানা কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের ঘোষণা দেয়। দীর্ঘ শত্রুতার পর এটি ছিল ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কাস্ত্রো সতর্কভাবে হলেও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। দুই বছর পর, ২০১৬ সালের ২৫ নভেম্বর রাতে ফিদেল কাস্ত্রো মারা যান। বয়স হয়েছিল ৯০।

    ইতিহাসের রায় এখনো অসম্পূর্ণ

    ফিদেল কাস্ত্রোকে এক কথায় বিচার করা সম্ভব নয়। তিনি যেমন বাতিস্তার স্বৈরশাসন উৎখাত করে কিউবার রাজনৈতিক ইতিহাস বদলে দিয়েছিলেন, তেমনি নিজেও গড়ে তুলেছিলেন দীর্ঘস্থায়ী একদলীয় শাসন। তিনি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে এনেছিলেন আবার রাজনৈতিক বিরোধিতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করেছিলেন।

    কাস্ত্রো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ছোট একটি দ্বীপের প্রতিরোধের প্রতীক ছিলেন আবার একই সঙ্গে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে ঠান্ডা যুদ্ধের ভূরাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে পরিণত হয়েছিলেন। তাঁর দীর্ঘ বক্তৃতা ছিল কিংবদন্তির মতো। ১৯৬০ সালে জাতিসংঘে তাঁর ২৬৯ মিনিটের ভাষণ দীর্ঘ সময় বিশ্ব সংস্থার দীর্ঘতম ভাষণের রেকর্ড ধরে রেখেছিল।

    আর মৃত্যুর কয়েক মাস আগে, ২০১৬ সালের এপ্রিলে কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেসে প্রায় ৯০ বছর বয়সী কাস্ত্রো বলেছিলেন—শিগগিরই তিনিও অন্যদের মতো হয়ে যাবেন, কিন্তু কিউবান কমিউনিস্টদের আদর্শ পৃথিবীতে থেকে যাবে।

    সত্যিই, মানুষটি চলে গেছেন। কিন্তু ফিদেল কাস্ত্রো এখনো কিউবার ইতিহাসে এক জীবন্ত প্রশ্ন। একটি ছোট দেশ কি পরাশক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিজের পথ তৈরি করতে পারে?

    কাস্ত্রোর উত্তর ছিল—হ্যাঁ। আর ইতিহাসের পাল্টা প্রশ্ন—বিপ্লব যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় পরিণত হয়, তখন সেই বিপ্লব কি স্বাধীনতা বৃদ্ধি করে, নাকি নতুন ধরনের নিয়ন্ত্রণ তৈরি করে? এই দুই প্রশ্নের মাঝখানেই দাঁড়িয়ে আছে ফিদেল কাস্ত্রোর উত্তরাধিকার। এক শতক পরও তাই তাঁর গল্প শেষ হয়নি।

    কারণ, ফিদেল কাস্ত্রো শুধু একজন মানুষ ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি বিপ্লবের নাম, একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার নাম এবং প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নাকের ডগায় দাঁড়িয়ে থাকা এক অসম রাজনৈতিক লড়াইয়ের নাম।

  • পারমাণবিক হামলা হলে বিশ্বজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলো দখল করা হবে

    পারমাণবিক হামলা হলে বিশ্বজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলো দখল করা হবে

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর দেশের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ ইরান দীর্ঘায়িত করতে পারে বলে জানিয়েছেন তেহরানের একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা। ২০২৯ সালের ২০ জানুয়ারি ট্রাম্পের এ মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাকদি এ তথ্য জানিয়েছেন।

    রেজা নাকদির মতে, এমন পদক্ষেপের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে এ বার্তাই দেওয়া হচ্ছে যে ইরানের ওপর হামলা চালানোর একটি ‘কড়া মাশুল’ রয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রচারমাধ্যম পিবিএস–কে দেওয়া বিরল সাক্ষাৎকারে এ ইরানি জেনারেল বলেন, ‘এই যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, আমাদের অভিজ্ঞতাও তত বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কীভাবে লড়াই করতে হয়, সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য এর আগে আমরা কখনো এমন আসল যুদ্ধ দেখিনি। তবে গত পাঁচ মাসে আমরা সেই কৌশল খুব ভালোভাবেই শিখে নিয়েছি।’

    চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। সেই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের এক বড় অংশ নিহত হন। জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনা এবং অন্যান্য সম্পদের ওপর পাল্টা হামলা শুরু করে।

    ট্রাম্প ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়া পর্যন্ত এ যুদ্ধ টেনে নিয়ে যাওয়াই ইরানের একমাত্র লক্ষ্য কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জেনারেল নাকদি বলেন, ‘আমাদের এমন এক প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেন (ভবিষ্যতে) শত্রু কখনো আমাদের ওপর হামলা চালানোর সাহস না পায় এবং আমরা পুরোপুরি নিরাপদে বসবাস করতে পারি। এর অন্যতম উপায় হলো, আগামী (মার্কিন) প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যন্ত এ যুদ্ধকে টেনে নিয়ে যাওয়া এবং শত্রুকে ক্ষয়িষ্ণু করে ফেলা। ফলে পরে অন্য কেউ যদি ইরানের ওপর হামলার কথা ভাবে, তবে তারা ভালো করেই জানবে যে এর জন্য কত বড় মাশুল গুনতে হবে।’

    ইরানের রাজধানী তেহরানের রাস্তায় যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিলবোর্ডের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন কয়েকজন।

    যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমার হুমকির জবাব

    চলমান এ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আইআরজিসির জেনারেল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এটি শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য একটি ‘মস্ত বড় ভুল’ হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।

    জেনারেল নাকদি বলেন, ‘তারা পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করার ঠিক পরদিন সকালেই বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের যত সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, তার সব কটি দখল করে নেওয়া হবে। আজকের পরিস্থিতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো নয়। বর্তমান বিশ্বের মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন। পৃথিবীর কোনো মানুষই এমন জঘন্য অপরাধ মেনে নেবে না। কারণ, তারা জানে, পরবর্তী সময়ে এ একই ঘটনার শিকার তারাও হতে পারে।’

    ইরান নিজেরা পারমাণবিক বোমা তৈরির কোনো পরিকল্পনা বা সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে কি না, জানতে চাইলে এ জেনারেল স্পষ্ট করে জানান, এর কোনো ‘প্রয়োজনই নেই’।

    নিজের দেশের শক্তির উৎস ব্যাখ্যা করে খামেনির এই সহযোগী বলেন, ‘আমাদের আসল পারমাণবিক বোমা হলো, বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়; যা আমরা জুলুমের বিরুদ্ধে লড়াই করে জয় করেছি। তাই আমাদের পারমাণবিক বোমার কোনো প্রয়োজন নেই। কোনো ধরনের গণহত্যারও প্রয়োজন আমাদের নেই।’

    ইরানিদের ‘যুক্তরাষ্ট্র নিপাত যাক’ (ডেথ টু আমেরিকা) স্লোগানটির তীব্র সমালোচনা করেন মার্কিন রাজনীতিকেরা। এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ইরানি জেনারেল জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের সঙ্গে তাঁদের ‘কোনো শত্রুতা নেই’।

    স্লোগানটির প্রকৃত অর্থ স্পষ্ট করে জেনারেল নাকদি বলেন, ‘“যুক্তরাষ্ট্র নিপাত যাক” বলতে মূলত মার্কিন নেতৃত্ব বা প্রশাসনের ধ্বংস বোঝায়। কারণ, এই কুখ্যাত নেতৃত্ব একটি পরাশক্তি হওয়ার পর এ পর্যন্ত বিশ্বের ৭০টির বেশি দেশে সামরিক আগ্রাসন বা আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করেছে।’

    ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রসঙ্গ

    জেনারেল নাকদি উল্লেখ করেন, তাঁরা শুধু ইরানের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ওপরই নির্ভর করেন না। নিজেদের বাহিনীর শক্তির দর্শন তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ওপর নির্ভরশীল নই। আমরা যদি শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হই, তবে তা আমাদের বিশ্বাসের জোরেই হব। তবে মার্কিন ও জায়নবাদীরা (ইসরায়েলিরা) সব সময় আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা গুনতেই ব্যস্ত থাকে।’

    ইরানি জেনারেল দাবি করেন, তেহরান প্রতিদিন যত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে, তার চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যায় প্রতিদিন নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। ইরান ঠিক কোথায় এসব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা এটি বিভিন্ন উপায়ে করে থাকি। অত্যন্ত সুরক্ষিতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির একাধিক গোপন পদ্ধতি আমাদের জানা আছে। তাই আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, এ যুদ্ধ যদি বছরের পর বছরও চলে, তবে একদম শেষ দিন পর্যন্ত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শত্রুর দিকে ধেয়ে যেতেই থাকবে।’

    যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানি জেনারেল আরও বলেন, ‘যদি কখনো এমন দিন আসে, যখন ইরানের কাছে আর একটিও ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট থাকবে না, ঠিক তখন আমরা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও বেশি বিপজ্জনক ও মারাত্মক হয়ে উঠব।’

    ইরানের রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি সংবলিত ব্যানার।

    যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে কোনো অগ্রগতি নেই

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এ যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের ব্যাপারে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা এখন সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, গত জুনে সম্মত হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তিটি পুনরুজ্জীবিত করা এবং তা কার্যকর করার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের আলোচনায় কোনো ধরনের অগ্রগতি হয়নি।

    গত ১৭ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি ১৪ দফার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। সেই চুক্তির মূল শর্ত ছিল, লেবাননসহ পুরো অঞ্চলের সব ধরনের সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করা এবং ৬০ দিনের মধ্যে উভয় দেশকে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে বাধ্য করা।

    তবে এ উদ্যোগ বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। গত ৮ জুলাই ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করেই ঘোষণা দেন যে এ চুক্তি ‘ভেঙে গেছে’। এর এক সপ্তাহ পর তেহরানও এ সমঝোতা স্মারক স্থগিত করে। এ পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ‘সব ধরনের প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের’ অভিযোগ তোলে ইরান।

    বর্তমানে ওয়াশিংটন অভিযোগ করছে, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী অতি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি তেহরান দিয়েছিল, তা তারা পালনে ব্যর্থ হয়েছে।

    অন্যদিকে তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটন নিজেই তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সম্পূর্ণ সরে এসেছে; যার মধ্যে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার ও ইরানের অবরুদ্ধ ব্যাংক সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ছিল।

  • এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলটের গাঁজা সেবন প্রমানিত

    এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলটের গাঁজা সেবন প্রমানিত

    চলতি মাসের শুরুর দিকে হঠাৎ উচ্চতা কমে নিচে নেমে যাওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটের পাইলটকে ঘিরে তদন্ত হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর গাঁজা সেবনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

    ৪ আগস্ট থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে দিল্লিগামী ফ্লাইটটি ক্রুজিং উচ্চতা থেকে প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে গেলে অন্তত ২৪ জন আহত হন। অবশ্য পরে উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণ করেছে।

    বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, এ ঘটনার পর পাইলটদের ড্রাগ স্ক্রিনিং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পাইলটের প্রথম পরীক্ষার ফল জানার পর বিষয়টি নিশ্চিত করতে আরেকটি মেডিকেল পরীক্ষার প্রয়োজন পড়েছে।

    তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, দ্বিতীয় পরীক্ষার ফলাফলেও গাজা সেবনের বিষয়টি পজিটিভ এসেছে।

    কেবিন ক্রুরা এয়ার ইন্ডিয়ার কাছে এক অভিযোগে দাবি করেছিলেন, পাইলট পুরোপুরি নিজের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন না। এরপর তদন্তকারী কর্মকর্তারা উড়োজাহাজের পাইলটের আচরণ পরীক্ষা করে দেখছেন বলে জানা গেছে। উড়োজাহাজের যেকোনো ফ্লাইটে সাধারণত পাইলটের কাছেই চূড়ান্ত কর্তৃত্ব এবং আইনি দায়িত্ব থাকে।

    এয়ার ইন্ডিয়ার অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট সেফটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি অ্যালার্ট বা সতর্কসংকেত বাজার সময় পাইলট নিজের আসনে ছিলেন না; বরং কো-পাইলটের পেছনে দাঁড়িয়ে উড়োজাহাজের এয়ার-কন্ডিশনিং সিস্টেম নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখন অটো-পাইলট বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং উড়োজাহাজের সামনের অংশ ওপরের দিকে উঠে যায়।

    সে সময় কো-পাইলট উড়োজাহাজ চালাচ্ছিলেন। পরে তিনি উড়োজাহাজের সামনের অংশ নিচের দিকে নামিয়ে আনেন।

    এই কৌশলের কারণে তীব্র নেগেটিভ-জি এক্সকারশন বা ওজনহীন অবস্থার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় উড়োজাহাজটি হঠাৎ নিচের দিকে নেমে যায়। এর ফলে আলগা জিনিসপত্রের পাশাপাশি পাইলট এবং কো-পাইলটও ওপরের দিকে ভাসতে থাকেন।

    পাইলট বলেন, তিনি নিজে ওপরের দিকে ভাসতে থাকেন। একই সময় তিনি ককপিটে বিভিন্ন জিনিসপত্র এবং তাঁর কো-পাইলটকে শূন্যে ভাসতে দেখেন। তিনি কোনাকুনিভাবে কষ্ট করে নিজের আসনে ফিরে যান। সে সময়ই সিটবেল্ট বাঁধার সাইন চালু করেন।

    নিজের আসনে বেল্ট বাঁধার পর পাইলট ‘আই হ্যাভ কন্ট্রোলস’(আমার নিয়ন্ত্রণে আছে) বলে নিম্নমুখী উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন। উড়োজাহাজের গতি ও উচ্চতার ক্ষতি রোধ করে এটিকে স্থিতিশীল করতে পাইলট থ্রোটল সর্বোচ্চ কন্টিনিউয়াস থ্রাস্টে ঠেলে দেন। কিন্তু ততক্ষণে উড়োজাহাজটি প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে গিয়েছিল।

    তদন্তকারী কর্মকর্তারা উড়োজাহাজের সিস্টেমে বড় ধরনের কোনো সমস্যা ছিল কি না, তা–ও পরীক্ষা করছিলেন। ইঞ্জিনিয়ারিং লগ থেকে জানা যায়, উড়োজাহাজের হাইড্রোলিক সিস্টেমে নিম্নচাপের সংকেত দেখা দিয়েছিল।

    হাইড্রোলিক সিস্টেম উড়োজাহাজের ফ্লাইট কন্ট্রোল, ল্যান্ডিং গিয়ার, ব্রেক এবং অন্যান্য ভারী মেকানিক্যাল যন্ত্রাংশ চালনার জন্য চাপযুক্ত তরল ব্যবহার করে থাকে।

    উড়োজাহাজে অটো-পাইলট বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং এলিভেটর ত্রুটির সংকেতও রেকর্ড করা হয়েছিল। এতে দেখা যাচ্ছে, উড়োজাহাজে এর পিচ কন্ট্রোল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পিচ কন্ট্রোলের মাধ্যমে পাইলট বিমানের সামনের অংশ ওঠাতে বা নামাতে পারেন, যা বিমানটি ওপরে উঠবে, নিচে নামবে নাকি সমান্তরালে উড়বে, তা ঠিক করে।

    এয়ার ইন্ডিয়া প্রাথমিক এক বিবৃতিতে বলেছিল, ফ্লাইটটি ‘ক্রুজ অবস্থায় থাকার সময় সাময়িকভাবে ঝাঁকুনির মুখে পড়েছিল, যার ফলে উড়োজাহাজের উচ্চতায় ক্ষণস্থায়ী পরিবর্তন দেখা দেয়। এ বিষয়ে জানতে ‘দ্য ইনডিপেনডেন্ট’ উড়োজাহাজ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো ‘বর্তমানে সব প্রাসঙ্গিক প্রযুক্তিগত, পরিচালনাগত, চিকিৎসা এবং মানব-সম্পর্কিত উপাদানগুলোর সঠিক তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পরীক্ষা করে দেখছে।

    মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে উড়োজাহাজ ও তার বিভিন্ন সিস্টেমের পরীক্ষা, রেকর্ড করা ফ্লাইট ডেটা, প্রাসঙ্গিক পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ–সংক্রান্ত তথ্য, চিকিৎসা–সংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার। কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সব উপাদান ও প্রমাণাদি সম্পূর্ণভাবে পর্যালোচনা করা হবে।

    ঘটনাটি এয়ার ইন্ডিয়ার জন্য নতুন এক ধাক্কা। উড়োজাহাজ সংস্থাটি ইতিমধ্যেই সুরক্ষা-সম্পর্কিত একাধিক তদন্তের মুখে পড়েছে। ২০২৫ সালে তাদের একটি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার দুর্ঘটনায় ২৬০ জন নিহত হওয়ার পর থেকেই এই বেসরকারি বিমান সংস্থাটি ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে রয়েছে। ওই ঘটনার পর একাধিক ত্রুটি নিয়ে তদন্ত শুরু হয় এবং ভারতের বিমান চলাচল খাতে নজরদারি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

  • গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৩৮৯

    গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ হাজার ৩৮৯

    গাজা উপত্যকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় আরও অন্তত একজন ফিলিস্তিনি নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৬০ জন নিহত এবং ৪ হাজার ১৫৪ জন আহত হয়েছে।

    এদিকে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরুর পর এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৩ হাজার ৩৮৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ১ লাখ ৭৪ হাজার ২৬৬ জন।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অব্যাহত হামলায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

  • বিরোধপূর্ণ দ্বীপে পুতিনের সফরের প্রতিবাদ জাপানের

    বিরোধপূর্ণ দ্বীপে পুতিনের সফরের প্রতিবাদ জাপানের

    রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলে নৌ মহড়ার এক দিন পর ইতুরুপ দ্বীপ সফর করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। কুরিল দ্বীপপুঞ্জে এটি পুতিনের প্রথম সরাসরি সফর। এ সফরের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাপান।

    ইতুরুপসহ কুরিল দ্বীপপুঞ্জের কয়েকটি অঞ্চল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে বিরোধ চলছে। এই বিরোধের কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে এখনো আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। জাপান এসব দ্বীপকে ‘উত্তরাঞ্চলীয় ভূখণ্ড’ হিসেবে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে। অন্যদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে দ্বীপগুলো রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

    পুতিনের সফরের পর জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইতুরুপসহ উত্তরাঞ্চলীয় ভূখণ্ড ঐতিহাসিক ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জাপানের নিজস্ব ভূখণ্ড। সেখানে পুতিনের সফরের বিরুদ্ধে জাপান কঠোর প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

    পুতিনের এ সফর এমন সময়ে হলো, যখন একদিন আগে রাশিয়া সুদূর পূর্বাঞ্চলে বড় ধরনের নৌ মহড়া চালিয়েছে। একই সময়ে রাশিয়ার মিত্র উত্তর কোরিয়াও কোরীয় উপদ্বীপের পূর্বদিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। দীর্ঘদিনের ভূখণ্ড বিরোধের মধ্যে পুতিনের এই সফর রাশিয়া ও জাপানের সম্পর্কের নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • ‘যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরো যন্ত্রণাদায়ক করতে চাইছে ইরান’

    ‘যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরো যন্ত্রণাদায়ক করতে চাইছে ইরান’

    রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট ফেলো মাইকেল স্টিফেনস বলেছেন, ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে চাইছে। কারণ তারা বিশ্বাস করে যে অর্থনৈতিক চাপ তাদের সরকারের অস্তিত্বের জন্য কোনো হুমকি নয়।

    যুদ্ধ শুরুর প্রায় ছয় মাস পর, ইরান এখন নিশ্চিত যে যুক্তরাষ্ট্র স্থল অভিযান চালাতে ইচ্ছুক নয়। আল জাজিরাকে স্টিফেনস বলেন, ‘সেই অস্তিত্বের হুমকি আর নেই। তাই তারা যুদ্ধের গতি বাড়াতে চায় এবং সম্ভবত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য যন্ত্রণাটা আরেকটু তীব্র করতে চায়। আর তা করার সেরা উপায় হলো যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করা।’

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারির যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার আগে, ব্যাপকভাবে এই ধারণা প্রচলিত ছিল যে, ডিসেম্বরের শেষভাগ ও জানুয়ারিতে বড় ধরনের বিক্ষোভের মুখে পড়ে ইরান সরকার। কয়েকমাস ধরে চলা অস্থিরতার পর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় ইরান সরকার সহজেই ভেঙে পড়বে বলে ধারণা করা হয়েছিল।

    তিনি বলেন, ‘এখন পরিস্থিতি তেমন বলে মনে হচ্ছে না। শাসনব্যবস্থাকে তাদের ইচ্ছানুযায়ী কাজ করতে বাধ্য করার মতো কোনো উপায় যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আছে কি না, সে বিষয়ে আমি পুরোপুরি নিশ্চিত নই।’

    স্টিফেনসের মতে, ‘বর্তমান অচলাবস্থা ইরানের জন্য কষ্টের, কিন্তু অস্তিত্বের সংকট নয়। আমার মনে হয়, এটাই এখন যুক্তরাষ্ট্রের সমস্যা।’

  • হরমুজ বন্ধ থাকায় জার্মান শিপিং জায়ান্টের ৬০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি

    হরমুজ বন্ধ থাকায় জার্মান শিপিং জায়ান্টের ৬০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি

    মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ কন্টেইনার শিপিং কোম্পানি হ্যাপাগ-লয়েড। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে গ্রুপটির ৬০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। খবর আলজাজিরার।

    জার্মান এই শিপিং জায়ান্টটি বৃহস্পতিবার জানিয়েছে যে, তাদের নীট মুনাফা এক বছর আগের ৩০৬ মিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৮৩ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। তারা আরও জানিয়েছে যে, এশিয়া থেকে শক্তিশালী রপ্তানি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উন্নত চাহিদা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা থেকে সৃষ্ট ক্ষতি আংশিকভাবে পুষিয়ে দিয়েছে।

    প্রণালিটি বন্ধ থাকার কারণে বাঙ্কার, বীমা, স্টোরেজ, রিরুটিং এবং অভ্যন্তরীণ পরিবহনের জন্য অতিরিক্ত খরচের ফলে তাদের লাইনার শিপিং বিভাগে পরিচালন মুনাফা ১৬৭ মিলিয়ন ডলার থেকে কমে ১৫৩ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

  • চরম দুর্ভোগে মার্কিন নৌসেনারা

    চরম দুর্ভোগে মার্কিন নৌসেনারা

    দীর্ঘ ২৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে সাগরে অবস্থান করা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের নাবিকদের জীবনযাপন ও কাজের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী সচিব হাং কাওয়ের কাছে জবাব চেয়েছেন মার্কিন সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল। খবর আনাদোলুর।

    সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সদস্য ব্লুমেনথাল বুধবার এক চিঠিতে জানান, রণতরীটিতে মৌলিক সরঞ্জামের ঘাটতি, পানিদূষণ, প্লাম্বিং সমস্যা, নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি, ডেকে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ডাকব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্নের খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে রণতরীটির উদ্দেশে পাঠানো অনেক কেয়ার প্যাকেজ মাসের পর মাস পথে হারিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    ব্লুমেনথাল জানান, ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো নৌঘাঁটি থেকে যাত্রা করে। প্রাথমিকভাবে সাত মাসের জন্য এই মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং মে মাসে রণতরীটির ফেরার কথা ছিল। তবে পরে এর মোতায়েনের মেয়াদ বাড়ানো হয়। এখন পর্যন্ত ফেরার কোনো তারিখ প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।

    সিনেটরের দাবি, রণতরীটি টানা ২০০ দিনেরও বেশি সময় কোনো বন্দরে না থেমে সাগরে রয়েছে, যা ধারাবাহিকভাবে সাগরে থাকার ক্ষেত্রে একটি রেকর্ড।

    দীর্ঘমেয়াদি এই মোতায়েনের কারণে মার্কিন নৌবাহিনী একই সঙ্গে বিমানবাহী রণতরীগুলোর ওপর বাড়তে থাকা অভিযানের চাপ সামলানো, নাবিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা, সরঞ্জামের প্রস্তুতি বজায় রাখা এবং নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

    ব্লুমেনথাল বলেন, এসব অভিযোগের দ্রুত তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরীগুলোকে যে মাত্রার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদে সেই অভিযানিক গতি বজায় রাখা সম্ভব কি না।

    ইরানকে ঘিরে চলমান মার্কিন সামরিক অভিযান এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি আরও দীর্ঘ হতে পারে—এমন পরিস্থিতিতে লিঙ্কনের দীর্ঘ মোতায়েনকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রশাসন যদি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান বা ওই অঞ্চলে বিমানবাহী রণতরীর বাড়তি উপস্থিতি বজায় রাখতে চায়, তাহলে বর্তমান সামরিক চাহিদা যাতে ভবিষ্যতে নৌবাহিনীর প্রস্তুতিতে সংকট তৈরি না করে, তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—তার ব্যাখ্যা দিতে হবে।

    এ ছাড়া দীর্ঘ সময় মোতায়েন থাকলে বিমানবাহী রণতরীতে কাজের অন্তর্নিহিত ঝুঁকিও বাড়ে বলে সতর্ক করেন ব্লুমেনথাল। নাবিকদের জেট ইঞ্জিন, জ্বালানি, অস্ত্র, ভারী যন্ত্রপাতি ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার আশপাশে কাজ করতে হয়। এর সঙ্গে শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকিও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

  • প্রধানমন্ত্রীর সাথে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিনিধি দলের বৈঠক

    প্রধানমন্ত্রীর সাথে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিনিধি দলের বৈঠক

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ৫০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    সকাল সাড়ে ৯টায় নির্ধারিত সময়ে বৈঠকটি শুরু হয়। এতে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন এক্সিলারেট এনার্জির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ কমার্শিয়াল অফিসার, অলিভার সিম্পসন এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সিনিয়র সভাপতি এবং ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূত (অব.) অতুল কেশপ।

  • কাদের, নাছিম, আরাফাত, পরশ, নিখিল, সাদ্দাম, ইনানের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ

    কাদের, নাছিম, আরাফাত, পরশ, নিখিল, সাদ্দাম, ইনানের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৎকালীন সরকারের সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ও সেতুমন্ত্রী এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)। একই সঙ্গে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ চেয়েছে প্রসিকিউশন।

    আজ বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

    ওবায়দুল কাদের ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। আসামিদের সবাই পলাতক।

    আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ শাস্তি দাবি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

    ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘এ মামলায় সাত আসামিরই অপরাধ গুরুতর। তাদের বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগই আমরা প্রমাণ করতে পেরেছি। চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষকে হত্যা ও আহত করার জন্য তারা দায়ী। তাদের দৃষ্টান্ত শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। কোনো অনুকম্পা না দিয়ে এই সাত আসামির সর্বোচ্চ সাজা চাই। যেন এমন রাজনীতিবিদ দেশে আর জন্ম না নেন।’

    ষষ্ঠ দিনের মতো প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্কে প্রথমেই আইনি দিক তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। এরপর শুরু করেন চিফ প্রসিকিউটর। প্রসিকিউশনের যুক্তি উপস্থাপন শেষে পলাতক আসামিদের পক্ষে সরকারি খরচে নিয়োগ পাওয়া রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম যুক্তিতর্ক শুরু করেন।

    এর আগে, ৪ আগস্ট এ মামলায় প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। প্রথম দিন মামলার সামগ্রিক পটভূমি তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। টানা পাঁচ কার্যদিবসে পর্যায়ক্রমে সাত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও যুক্তি উপস্থাপন করা হয়।

    প্রসিকিউশনের যুক্তি অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন আসামিরা। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে আন্দোলন প্রতিরোধে আহ্বান জানানো, বিভিন্ন বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনাসহ কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা ও কঠোর দমন-পীড়নে ভূমিকা রাখার প্রমাণ হিসেবে দাখিল করা হয় বেশ কয়েকটি ফোনালাপও। একইসঙ্গে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও কয়েকজন আসামির ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয়েছে। আসামিদের এসব কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে বলে উল্লেখ করেছে প্রসিকিউশন।

    গত ২ আগস্ট এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন মোট ২৮ জন। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়।

  • বাংলাদেশের সরকারি ক্রয়চুক্তির তথ্য প্রকাশের আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

    বাংলাদেশের সরকারি ক্রয়চুক্তির তথ্য প্রকাশের আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

    বাংলাদেশে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত চুক্তির তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা বাড়াতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতিমালা অনুসরণ করে বাজেট নথি প্রস্তুত এবং দেশের সর্বোচ্চ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) কার্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্বাধীনতা দেয়ার তাগিদ দিয়েছে ওয়াশিংটন।

    সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর প্রকাশিত ‘২০২৬ ফিসকাল ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট: বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। ১১ আগস্ট মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই বার্ষিক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।


    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অর্থবছর শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হিসাব বিবরণী জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করে আর্থিক স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। একই সঙ্গে আগের সরকারের বাজেটসংক্রান্ত সুপারিশ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পাশাপাশি আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়াতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে।

    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের নির্বাহী বাজেট প্রস্তাব এবং অনুমোদিত বাজেট অনলাইনে প্রকাশ করেছে। বাজেট নথি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ড পুরোপুরি অনুসরণ করে তৈরি না হলেও এতে থাকা তথ্য সামগ্রিকভাবে নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। সরকারের ঋণসংক্রান্ত দায়ের তথ্যও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল। এ ছাড়া বাজেট নথিতে প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে পাওয়া রাজস্বসহ সরকারের পরিকল্পিত আয় ও ব্যয়ের মোটামুটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

    এতে বলা হয়, সরকারের নির্বাহী কার্যালয়গুলোর পরিচালন ব্যয়ের পৃথক ও বিস্তারিত হিসাব বাজেটে তুলে ধরা হয়নি। একইভাবে সরকারের মোট রাজস্ব ও ব্যয়ের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্রও বাজেট নথিতে পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানও প্রতিবেদনে সমালোচনার মুখে পড়েছে।
    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারেনি। এমনকি সরকারের হিসাব পর্যালোচনার ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ই-জিপি বা ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা চালু করলেও এতে জনসাধারণের প্রবেশাধিকার ও তথ্যের সহজলভ্যতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
    আর্থিক স্বচ্ছতা আরও জোরদার করতে বাংলাদেশ সরকারের জন্য বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে রয়েছে, প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের চুক্তি ও লাইসেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে মৌলিক তথ্য জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত চুক্তির তথ্য উন্মুক্ত করা এবং অনুমোদিত বাজেটের সঙ্গে বাস্তব আয়-ব্যয়ের যথাসম্ভব সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা।

    এ ছাড়া সিএজি কার্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্বাধীনতা ও পর্যাপ্ত সম্পদ দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পুরো বছরের বাস্তবায়িত বাজেটে সিএজি যেন সময়মতো ও সরাসরি প্রবেশাধিকার পেয়ে নিরীক্ষা করতে পারে, সেটিও নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নিরীক্ষা প্রতিবেদন যথাসময়ে প্রকাশ করা প্রয়োজন এবং সেসব প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ নিরীক্ষা-ফলাফল, সুপারিশ ও সংশ্লিষ্ট ব্যাখ্যা থাকা উচিত। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা আরও শক্তিশালী হবে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।

  • ইসরাইলি কারাগারে ৪০ ফিলিস্তিনি সাংবাদিক

    ইসরাইলি কারাগারে ৪০ ফিলিস্তিনি সাংবাদিক

    দখলকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে বুধবার(১২ আগস্ট) সকালে সাংবাদিক মুহাম্মদ আওয়াদকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরাইলি বাহিনী।

    এর ফলে ইসরাইলের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪০। বুধবার এক বিবৃতিতে তথ্যটি নিশ্চিত করেছে ফিলিস্তিনি বন্দি সমিতি।

    সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমানে বন্দি থাকা সাংবাদিকদের মধ্যে পাঁচজন নারী সাংবাদিকও রয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় সামরিক আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি বাহিনী মোট ২৫০ জনেরও বেশি সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে। তবে তাঁদের মধ্যে বড় একটি অংশকে পরবর্তীতে মুক্তি দেওয়া হয়।

    ফিলিস্তিনি বন্দি সমিতির দেয়া তথ্যানুযায়ী, গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় ২৬০ জনেরও বেশি সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ফিলিস্তিনের সংবাদকর্মীরা ধারাবাহিকভাবে এমন গ্রেপ্তার ও আক্রমণের শিকার হচ্ছেন।

  • যুদ্ধ বন্ধ ছাড়া খুলবে না হরমুজ  ইরান

    যুদ্ধ বন্ধ ছাড়া খুলবে না হরমুজ ইরান

    পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালী ও ওমান সাগরে নিরাপত্তাহীনতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ীকে করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি। তিনি বলেন, ইরানের ওপর একটি অবৈধ যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র পুরো অঞ্চলকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। এসময় যুদ্ধ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খুলবে না বলেও মন্তব্য করে তিনি।

    তেহরানে চীনের রাষ্ট্রদূত জং পেইউয়ের সঙ্গে বৈঠককালে এসব কথা বলেন রেজায়ি।

    তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে ইরান ও চীনের মধ্যে গঠনমূলক ও স্থিতিশীল সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে একটি কৌশলগত চুক্তি রয়েছে এবং উভয় দেশই সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ও ব্রিকসের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জোটের সদস্য।

    তার মতে, ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো বিস্তারের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ‘রমজান যুদ্ধ’-এর (২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির রমজানে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ আক্রমণ) সময় ইরানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত একটি প্রস্তাবে চীনের সমর্থন না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন রেজায়ি।

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার আচরণ পরিবর্তন এবং ইরানের শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খুলবে না। যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে, ইরানের জব্দ করা অর্থ ফেরত দিতে হবে এবং লেবানন ও গাজাসহ পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। এছাড়াও ইরানের আরও কিছু শর্ত রয়েছে, যা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

    রেজায়ি আরো বলেন, ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের কোনো পথ নিয়ে চুক্তি হলে সেটি প্রণালী অবরোধের বিষয় থেকে আলাদা হবে। দুটি বিষয়কে এক করে দেখা যাবে না। বৈঠকে চীনের রাষ্ট্রদূত ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি ইরান ও চীনকে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার বিরোধিতা করে চীন।

    চীন ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বাড়াতে আগ্রহী বলেও জানান জং পেইউ। তার মতে, ইরানের শক্তির পাশাপাশি বিচক্ষণতা ও প্রজ্ঞাও রয়েছে এবং দেশটি বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম। তিনি আরও বলেন, পশ্চিম এশিয়া ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক জোরদার এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধিকে চীন সবসময় স্বাগত জানায়।

  • চীনের অর্থনীতির রূপকার ঝু রংজি আর নেই

    চীনের অর্থনীতির রূপকার ঝু রংজি আর নেই

    চীনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশটির অভাবনীয় অর্থনৈতিক উত্থানের অন্যতম রূপকার ঝু রংজি মারা গেছেন।

    দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, বেইজিংয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ৯৭ বছর বয়সী এই রাজনীতিক।

    ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত চীনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ঝু রংজি। চীনের অর্থনীতিকে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত কাঠামো থেকে আরও বাজারমুখী ও বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

    সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট লিখেছে, দুর্নীতি দমন, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, আর্থিক ও করব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের মত বড় সংস্কারের সঙ্গেও তার নাম জড়িয়ে আছে।

    বিশেষ করে ২০০১ সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় চীনের যোগদানের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান নীতিনির্ধারক। দীর্ঘ আলোচনার পর ডব্লিউটিওতে প্রবেশের মাধ্যমে চীনা অর্থনীতি আন্তর্জাতিক বাজার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য আরও উন্মুক্ত হয়।

    তার আমলেই চীনে দারিদ্র্য বিমোচন, মধ্যবিত্ত শ্রেণির ব্যাপক বিকাশ এবং বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য বাজার উন্মুক্ত করার মতো ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

    ‘ইকোনমিক জার’

    ঝু রংজিকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রায়ই চীনের ‘ইকোনমিক জার’ হিসেবে বর্ণনা করা হত। ১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকেই তিনি দেশের অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন—প্রথমে উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে, পরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে।

    সে সময় চীনের অর্থনীতি দ্রুত বাড়লেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বাড়তে থাকা ঋণ এবং লোকসানে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছিল। ঝু আর্থিক নীতি আরও কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং অদক্ষ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা বেসরকারিকরণের মাধ্যমে এসব সমস্যা মোকাবিলার উদ্যোগ নেন।

    তবে এসব সংস্কারের সামাজিক মূল্যও ছিল। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের ফলে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক চাকরি হারান। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এ সংখ্যা কয়েক কোটি পর্যন্ত বলা হয়। তবে ঝু ছাঁটাই হওয়া ও বেকার শ্রমিকদের পুনর্বাসন এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপরও জোর দিয়েছিলেন।

    চীনের আর্থিক ব্যবস্থাতেও তিনি বড় পরিবর্তন আনেন। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের ওপর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেন।

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঝুর সময়ে চীন প্রায় ২৭ শতাংশের উচ্চতায় পৌঁছানো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় এবং মুদ্রাব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তন আনা হয়।

    সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট লিখেছে, ১৯৯৭ সালের এশীয় আর্থিক সংকট সামলাতেও ঝু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সে সময় আঞ্চলিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার মধ্যেও চীনের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সরকার সক্রিয় রাজস্ব ও মুদ্রানীতি গ্রহণ করে।

    চীনের সরকারি শোকবার্তায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল রাখায় ঝুর ভূমিকার কথা বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়েছে।

    একই বছর হংকংয়ের ব্রিটিশ শাসন থেকে চীনের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াতেও ঝু ভূমিকা রাখেন।

    ডব্লিউটিওতে চীনের প্রবেশ

    আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঝুর সবচেয়ে বেশি আলোচিত সাফল্যের একটি ছিল ডব্লিউটিওতে চীনের প্রবেশ।

    চীনকে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করতে ১৫ বছর ধরে আলোচনা চলার পর ২০০১ সালে দেশটি ডব্লিউটিওর সদস্য হয়।

    ঝু ওই আলোচনায় নেতৃত্ব দেন এবং দেশের অভ্যন্তরে সংস্কারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল লিখেছে, তার ওই উদ্যোগ দেশীয় রাজনীতিতে বিতর্কও তৈরি করেছিল। সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করতেন, ডব্লিউটিওতে প্রবেশের জন্য চীন অতিরিক্ত ছাড় দিয়েছে।

    তবে পরে চীনের বৈশ্বিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে দ্রুত বিস্তারের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে দেখা হয়।

    কঠোর সংস্কার, স্পষ্টভাষী নেতা

    দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ও আপসহীন সংস্কার নীতির জন্য ঝু একই সঙ্গে প্রশংসা ও সমালোচনা পেয়েছেন।

    তার স্পষ্টভাষী বক্তব্য এবং কখনও সরস, কখনও উত্তেজক বক্তৃতার ধরনও তাকে চীনের অন্য অনেক নেতার তুলনায় আলাদা পরিচিতি দেয়।

    ১৯৯৮ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, সামনে মাইনফিল্ড বা গভীর খাদ থাকলেও তিনি দ্বিধা না করে এগিয়ে যাবেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিজের কাজ করে যাবেন। তার ওই বক্তব্য পরে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।

    সাউথ চায়না মরনিং পোস্ট লিখেছে, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রকাশিত শোকবার্তায় ঝুকে দল ও রাষ্ট্রের ‘একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং অর্থনৈতিক সংস্কারে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা ব্যক্তি’ হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে।

    শোকবার্তায় বলা হয়েছে, তিনি দেশের পরিকল্পিত অর্থনীতি থেকে ‘সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনীতিতে’ রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

    শুরুর জীবন

    ১৯২৮ সালে মধ্য চীনের হুনান প্রদেশের রাজধানী চাংশায় ঝু রংজির জন্ম। ১৯৫১ সালে তিনি বেইজিংয়ের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তড়িৎ প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি পান।

    এরপর রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা সংস্থায় কাজ শুরু করেন। মাও জেদংয়ের আমলের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তার কর্মজীবনও বাধাগ্রস্ত হয়।

    ১৯৫০-এর দশকের শেষ দিকে সরকারের অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনার কারণে তিনি কমিউনিস্ট পার্টি থেকে বহিষ্কৃত হন এবং পরে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় আবারও রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হন। মাওয়ের মৃত্যুর পর ঝু পুনর্বাসিত হন এবং আবার পার্টিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পান।

    ১৯৮৮ সালে তিনি সাংহাইয়ের মেয়র হন। সেখানে তার কাজ তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা দেং শিয়াওপিংয়ের নজরে আসে।

    ১৯৯১ সালে তাকে উপপ্রধানমন্ত্রী করা হয় এবং দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। সাত বছর পর, ১৯৯৮ সালে, তিনি প্রধানমন্ত্রী হন।

    ২০০৩ সালের মার্চে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অবসর নেন ঝু। এরপরও হু জিনতাও ও শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি তিনি সমর্থন অব্যাহত রেখেছিলেন।

    সাউথ চায়না মর্নিং পোাস্ট লিখেছে, ঝু রংজির নেতৃত্বে নেওয়া সংস্কারগুলো পরবর্তী দুই দশকে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চীনের আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার ভিত্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখে। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে চীনের অর্থনৈতিক সংস্কারের ইতিহাসে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটাল।

    আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ঝু রংজি ছিলেন অত্যন্ত সমাদৃত। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার একটি বইয়ের মুখবন্ধে ঝু রংজিকে ‘তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার অধিকারী’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

    তিনি লিখেছিলেন, “আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ এক সংস্কার কর্মসূচির সফল রূপায়ণ করেছেন তিনি।”

  • পাকিস্তান ভাঙার ষড়যন্ত্র করছে ইসরাইল

    পাকিস্তান ভাঙার ষড়যন্ত্র করছে ইসরাইল

    পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকে গোপনে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসরাইলের বিরুদ্ধে। এর উদ্দেশ্য হতে পারে পাকিস্তানের ওপর নতুন ধরনের চাপ সৃষ্টি করা এবং দেশটির ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানকে দুর্বল করা। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও নতুন ভূরাজনৈতিক মেরুকরণের মধ্যে বিষয়টি পাকিস্তানের অখণ্ডতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    তবে ইসরাইলি সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক সমর্থনের ঘোষণা পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি এখনো রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের বক্তব্য এবং আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

    বেলুচিস্তানকে পাকিস্তান থেকে আলাদা করার আন্দোলনের সঙ্গে ইসরাইলের গোপন যোগাযোগ বা সমর্থনের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানবিরোধী বিভিন্ন বেলুচ গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং তথাকথিত ‘স্বাধীন বেলুচিস্তান’ ঘোষণার দাবিকে কেন্দ্র করে বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে।

    গত জুলাইয়ে ‘রিপাবলিক অব বেলুচিস্তান’-এর নামে একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দাবি করা হয়, বেলুচিস্তান পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো অঞ্চলটির প্রায় ৮৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। তবে এ দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা বা রাষ্ট্রও বেলুচিস্তানকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।

    পাকিস্তানের আয়তনে সবচেয়ে বড় প্রদেশ বেলুচিস্তান। খনিজসম্পদ, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং আরব সাগরসংলগ্ন কৌশলগত অবস্থানের কারণে অঞ্চলটির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতার ক্ষেত্রেও বেলুচিস্তানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে অঞ্চলটিকে ঘিরে অস্থিরতা শুধু পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয় নয়; এর সঙ্গে ভারত, চীন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক স্বার্থও জড়িয়ে রয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, বেলুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বঞ্চনা, প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ, নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ এবং নিরাপত্তা অভিযান নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। এসব কারণেই বিভিন্ন সময়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন শক্তিশালী হয়েছে। ফলে বেলুচ সংকটকে শুধু বাইরের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখলে এর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণগুলো আড়ালে থেকে যেতে পারে।

    সম্প্রতি পাকিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। একই সময়ে পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরেও রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশি গণমাধ্যমের স্থানীয় কর্মীদের চলাচল ও রিপোর্টিংয়ের ওপরও নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে পাকিস্তান।

    ইসরাইলের সঙ্গে পাকিস্তানের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। ফিলিস্তিন প্রশ্নে ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলের কঠোর সমালোচক। ‘বৃহত্তর ইসরাইল’ সংক্রান্ত ইসরাইলি বক্তব্যেরও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, এ ধরনের ধারণা আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের নীতির পরিপন্থী এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।

    এই রাজনৈতিক বৈরিতার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের সম্ভাব্য তৎপরতা নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রকাশ্য ও স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত প্রমাণ সামনে আসেনি, যার ভিত্তিতে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে ইসরাইল রাষ্ট্রীয়ভাবে বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনে অর্থ, অস্ত্র বা সামরিক সহায়তা দিচ্ছে।

    তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, পাকিস্তান বর্তমানে একাধিক অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক চাপের মুখে রয়েছে। বেলুচিস্তানে দীর্ঘস্থায়ী বিদ্রোহ, অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা সমস্যা দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

    এই পরিস্থিতিতে বেলুচিস্তান প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। পাকিস্তানকে ঘিরে চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে। ফলে কোনো বহিরাগত শক্তি যদি বেলুচিস্তানের অস্থিরতাকে নিজেদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে, তাহলে পাকিস্তানের জন্য নতুন নিরাপত্তা সংকট তৈরি হতে পারে।

    পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার ক্ষেত্রে তাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বেলুচিস্তানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের কার্যকর সমাধান করা। কারণ অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ যত বাড়বে, বহিরাগত শক্তির জন্য সেই দুর্বলতাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের সুযোগও তত বাড়বে।

    ইসরাইল বেলুচিস্তান আন্দোলনকে গোপনে সমর্থন দিয়ে পাকিস্তান ভাঙার ষড়যন্ত্র করছে—এমন অভিযোগ এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়। তবে বেলুচিস্তানের চলমান অস্থিরতা, স্বাধীনতার দাবি এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ক্রমবর্ধমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা পাকিস্তানের সামনে নতুন ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ তৈরি করেছে।

    ইসলামাবাদের সামনে এখন দ্বৈত চ্যালেঞ্জ—একদিকে বিচ্ছিন্নতাবাদ ও নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা, অন্যদিকে বেলুচিস্তানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অভিযোগের কার্যকর সমাধান। তা না হলে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তির প্রতিযোগিতার নতুন ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে

  • রাশিয়া থেকে ভারত পর্যন্ত রেলপথ: নিরাপত্তা দেবে আফগানিস্তান

    রাশিয়া থেকে ভারত পর্যন্ত রেলপথ: নিরাপত্তা দেবে আফগানিস্তান

    রাশিয়া থেকে ভারত পর্যন্ত প্রস্তাবিত রেলপথের সুরক্ষায় শতভাগ নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। এই রেলপথ চালু হলে সরাসরি ভারত মহাসাগরে পৌঁছানোর সুযোগ পাবে মস্কো।

    আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আরটি বুধবার (১২ আগস্ট) এক খবরে এই তথ্য জানিয়েছে।

    আরটি ইন্ডিয়ার সংবাদ প্রধান রুনঝুন শর্মাকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আফগানিস্তানের অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল রহমান হাবিব বলেন, ‘হাঁ, আফগানিস্তান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থানে রয়েছে। এই প্রকল্প চালু হলে আফগানিস্তানে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি হবে। আমরা এই ধরনের যেকোনো প্রকল্পকে সব সময়ই সমর্থন করি।’

    তিনি স্পষ্ট করেন যে, তাদের ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে ট্রেন যাওয়ার সময় নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি হবে না।

    আরটি ইন্ডিয়ার সংবাদ প্রধান রুনঝুন শর্মাকে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন আফগানিস্তানের অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল রহমান হাবিব |

    কেন এই নতুন রেলপথ?

    রাশিয়া থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত নতুন এই রেললাইনের ধারণাটি প্রথম সামনে আনেন রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী মারাত খুসনুলিন। গত সপ্তাহে তিনি জানান, হরমুজ প্রণালী বা সমুদ্রপথে যেকোনো জটিলতা ও ঝুঁকি এড়াতেই এই বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবছে মস্কো।

    খুসনুলিন জানান, ভারতের সাথে সংযোগ তৈরি করে এমন যেকোনো প্রস্তাবই রাশিয়ার জন্য গ্রহণযোগ্য। এর জন্য তুর্কমেনিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে সম্ভাব্য সব রুট বা পথ খতিয়ে দেখা যেতে পারে।

    আফগানিস্তান প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও এটি একটি চারপাশ স্থলবেষ্টিত দেশ, অর্থাৎ এর নিজস্ব কোনো সমুদ্রবন্দর নেই। ভারত মহাসাগর ও ভারতের সাথে সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ চালু হলে কাবুলের বাণিজ্যিক আয় অনেকটাই বেড়ে যাবে।

    ২০ বছরের যুদ্ধের পর ২০২১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তথা যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য প্রত্যাহারের পর কাবুলের ক্ষমতায় বসে তালেবান। তারা আসার পর থেকে দেশটিতে সার্বিক শান্তি অনেকটাই ফিরে এসেছে।

    রাজনৈতিক ও সামরিক সমীকরণও এখানে বেশ স্পষ্ট। মধ্য এশিয়ায় নিজেদের প্রভাব আরও বাড়াতে গত মে মাসে তালেবান সরকারের সাথে একটি সামরিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে মস্কো।

    অন্যান্য দিক থেকেও এই প্রকল্প বেশ অর্থবহ। ভারত হলো রাশিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা। বর্তমানে এই তেলবাহী জাহাজগুলোকে লোহিত সাগরের বিপজ্জনক ‘বাব-এল-মানদেব’ নৌপথ এবং হরমুজ প্রণালী ও ওমানের সংঘাতপূর্ণ এলাকা পার হয়ে যাতায়াত করতে হয়।

    এর বাইরেও নয়া দিল্লি ও মস্কোর সম্পর্ক বহুদিনের পুরনো বন্ধুত্বের। দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী সামরিক ও প্রতিরক্ষা যোগাযোগ রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে নিজেদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ভারত ও রাশিয়া। নতুন এই সুরক্ষিত রেল যোগাযোগ চালু হলে সেই লক্ষ্য পূরণ অনেক সহজ হবে।

  • ধর্মান্তর ঠেকাতে কঠোর আইন করছে শুভেন্দু

    ধর্মান্তর ঠেকাতে কঠোর আইন করছে শুভেন্দু

    অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) কার্যকরের পর এবার জোরপূর্বক ধর্মান্তর ঠেকাতে কঠোর আইন এবং জমি কেনাবেচায় নতুন বিধিনিষেধ আনার ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাঁকুড়ায় পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের এক পর্যালোচনা সভায় তিনি বলেন, দুটি আইন প্রণয়নের কাজ করছে রাজ্য সরকার। এর একটি ধর্মান্তর নিয়ে, অন্যটি জমি কেনাবেচা সংক্রান্ত।

    শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আনব। এক দেশ, এক আইন। এরপর জোরপূর্বক ধর্মান্তর ঠেকাতে কঠোর আইন করা হবে। একই সঙ্গে জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রেও নতুন আইনি বিধিনিষেধ আনা হবে।’

    তবে প্রস্তাবিত ভূমি আইনে ঠিক কী ধরনের বিধিনিষেধ থাকবে, তা স্পষ্ট করেননি মুখ্যমন্ত্রী। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে জমি বা সম্পত্তি কেনাবেচায় সরাসরি কোনো বাধা দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানাননি তিনি।

    বিজেপির রাজনৈতিক প্রচারে ধর্মান্তর এবং ‘জমি দখলের অভিযান’ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুপ্রবেশের কারণে জনসংখ্যার বিন্যাস বদলে যাচ্ছে এবং স্থানীয় মানুষ জমি হারাচ্ছেন বলেও দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়ে আসছে। এবার সেই রাজনৈতিক বক্তব্যই রাজ্য সরকারের নীতিনির্ধারণের অংশ হয়ে উঠতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    মঙ্গলবারের সভায় বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও বীরভূমসহ বিভিন্ন জেলার সংসদ সদস্য, বিধায়ক, মন্ত্রী, জেলা প্রশাসক এবং প্রায় ৭৫ জন বিডিও উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত কিছু সংগঠন বাঁকুড়া ও জঙ্গলমহলের দরিদ্র মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করছে। এসব সংগঠন অবৈধ ধর্মান্তর এবং মৌলবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    নিজ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তার দাবি, সীমান্তবর্তী জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, অবৈধ ওবিসি তালিকা বাতিল করা হয়েছে, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের ভাতা বন্ধ করা হয়েছে এবং মহররমের সময় তলোয়ার বহন ঠেকানো হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘দুটি কাজ এখনও বাকি। ধর্মান্তর নিয়ে একটি আইন এবং জমি কেনাবেচা নিয়ে আরেকটি আইন। আমি দুটিই করছি।’

    এদিকে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের প্রস্তুতিও এগিয়ে নিচ্ছে রাজ্য সরকার। প্রস্তাবিত বিধি পর্যালোচনার জন্য অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজ্য মন্ত্রিসভা ছয় সপ্তাহ আগে ওই কমিটি গঠনের অনুমোদন দেয়।

    খসড়া বিধি পর্যালোচনা করে সুপারিশ দেওয়ার জন্য কমিটিকে চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। এরপর বিধানসভায় বিলটি উত্থাপন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    গত ২৯ জুন বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রস্তাবিত বিধির আওতায় বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, সম্পত্তির উত্তরাধিকার এবং দত্তক গ্রহণের ক্ষেত্রে অভিন্ন দেওয়ানি কাঠামো চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ধর্মভিত্তিক ব্যক্তিগত আইনের পরিবর্তে এসব ক্ষেত্রে অভিন্ন আইন কার্যকর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে সংবিধানগত সুরক্ষা পাওয়া শ্রেণিগুলোর অধিকার বহাল রাখার কথা বলা হয়েছে।

    আগস্টের চলমান বাজেট অধিবেশনে সংশ্লিষ্ট বিল পাস হলে পশ্চিমবঙ্গ হবে ভারতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করা চতুর্থ রাজ্য। বিজেপির জন্যও এর রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের ইশতেহারে দলটি সরকার গঠনের ছয় মাসের মধ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

    এর মধ্যেই ধর্মান্তর ও জমি কেনাবেচা নিয়ে পৃথক আইন করার ঘোষণা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে কী ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

  • ভারতে ভূমিধসে নিহত ৬

    ভারতে ভূমিধসে নিহত ৬

    ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ের পূর্বাঞ্চলে ভূমিধসে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও চার থেকে পাঁচজন আটকা পড়ে আছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

    কয়েকটি সংস্থার উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। ধ্বংসাবশেষের নিচে জীবিতদের অবস্থান শনাক্ত করতে বিশেষায়িত ভিক্টিম-ডিটেকশন ক্যামেরাও ব্যবহার করা হচ্ছে। খবর এনডিটিভির।

    বৃহানমুম্বাই মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের (বিএমসি) দমকল বাহিনী জানায়, বুধবার (১২ আগস্ট) ভোর ৩টা ৪৮ মিনিটে চেরাগ নগরের ঘাটকোপার এলাকার গাউসিয়া চালে ভূমিধসের ঘটনাটি ঘটে।

    প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছোট একটি পাহাড়ের একাংশ ধসে দুই থেকে তিনটি বাড়িকে চাপা দেয়, এতে অন্তত পাঁচ থেকে ছয়জন আটকা পড়ে।

    বিএমসির মেয়র রিতু তাওডে ঘটনাস্থল পরিবদর্শন করে নিহতদের পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ঊর্ধ্বতন এই পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চার থেকে পাঁচজন এখনও আবর্জনার নিচে আটকা পড়ে আছেন।

    আহত দুই ব্যক্তিকে উদ্ধার করার পর তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের সোহেল আনসারি (১৮) ও মোহাম্মদ আনসারি (১৪) হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের দুজনেই আশঙ্কামুক্ত অবস্থায় রয়েছেন।

    মুম্বাই দমকল বাহিনী, মুম্বাই পুলিশ ও ভারতের জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনী উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছে।

  • মোদিকে কড়া বার্তা সোনিয়ার

    মোদিকে কড়া বার্তা সোনিয়ার

    প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহকে কয়লা খনি বরাদ্দ মামলায় স্বস্তি দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার মামলায় সর্বোচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের সেই নির্দেশ বাতিল করেছে, যার ভিত্তিতে মনমোহন সিংহকে মামলায় তলব করা হয়েছিল। আদালতের এ রায়ের পরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন কংগ্রেস সংসদীয় দলের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী।

    তার দাবি, মনমোহন সিংহের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে যে অভিযোগ ও রাজনৈতিক প্রচার চলেছে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তার অবসান ঘটেছে।

    সোনিয়া গান্ধী বলেছেন, ২০২৬ সালের ২৯ জুলাই ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অথচ উপেক্ষিত দিন হিসেবে থেকে যাবে। কারণ ওই দিনই সুপ্রিম কোর্ট কয়লা খনি বরাদ্দ মামলায় মনমোহন সিংহের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার মামলা বন্ধের প্রতিবেদন গ্রহণ করেছে। নিম্ন আদালত যে সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে মামলায় তলব করেছিল, সর্বোচ্চ আদালত সেটিও বাতিল করে দিয়েছে।

    সোনিয়ার বক্তব্য, মনমোহন সিংহকে ঘিরে যে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার পেছনে ছিল তাকে কলঙ্কিত করার একটি দীর্ঘ প্রচেষ্টা। তার দাবি, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সততা, জবাবদিহি ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আদালতের রায় সেই অভিযোগগুলোর ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

    মনমোহন সিংহের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়েও সরব হয়েছেন সনিয়া। তার মতে, ইতিহাস তাকে একজন শান্ত, নম্র কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই মনে রাখবে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার ১০ বছরের সময়ে দেশের অর্থনীতি, সামাজিক সুরক্ষা ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

    সোনিয়া গান্ধীর বক্তব্যে সরাসরি নিশানায় ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মনমোহন সিংহকে নিয়ে মোদির পুরোনো মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অতীতে যে ধরনের কটূক্তি করা হয়েছিল, তা ভারতীয় সংসদীয় রাজনীতির অন্যতম নিম্নমুখী অধ্যায়। বিশেষ করে ২০১৭ সালে রাজ্যসভায় মোদি মনমোহন সিংহকে লক্ষ্য করে যে মন্তব্য করেছিলেন, তারও সমালোচনা করেছেন সনিয়া।

    এখানেই থামেননি কংগ্রেস নেত্রী। মোদি সরকারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক চাপ তৈরির কাজে ব্যবহার করার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তার দাবি, বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতা চালানো হচ্ছে রাজনৈতিক চাপ তৈরির উদ্দেশ্যে। আবার রাজনৈতিক অবস্থান বদলে ক্ষমতাসীন দলে যোগ দিলে তাদের বিরুদ্ধে চলা অভিযোগের চিত্রও বদলে যাচ্ছে।

    সনিয়ার অভিযোগ, বিরোধী শিবিরে থাকলে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়, ক্ষমতাসীন দলে যোগ দেওয়ার পর তাদেরই অনেকে হঠাৎ স্বচ্ছ হয়ে যান। এই পরিস্থিতিকে তিনি রাজনৈতিক সুবিধাবাদ হিসেবে দেখিয়েছেন।

    মনমোহন সিংহের প্রধানমন্ত্রীত্বের সময়কার অর্থনৈতিক সাফল্যের কথাও তুলে ধরেছেন সনিয়া। তার দাবি, সেই সময়ে দেশের অর্থনীতিতে দ্রুত প্রবৃদ্ধি ঘটেছিল, ব্যক্তিগত বিনিয়োগ ও ভোগব্যয় বেড়েছিল এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠে এসেছিলেন। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার সময়ও ভারত তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

  • মার্কিন যুদ্ধজাহাজে নাবিকদের মধ্যে সংঘর্ষ, ৭ নৌসেনা নিহত

    মার্কিন যুদ্ধজাহাজে নাবিকদের মধ্যে সংঘর্ষ, ৭ নৌসেনা নিহত

    মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে ক্রুদের মধ্যে সংঘর্ষে সাত মার্কিন নৌসেনা নিহত হয়েছেন। ওই ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

    গণমাধমটির বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে রণতরীটি মোতায়েন থাকায় ক্রুদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছিল। তাদের পরিবারের সদস্যরাও রণতরীটির দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন। ওই দীর্ঘ সময়ে থাকার প্রভাব পড়েছে সেনাদের মধ্যে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান ব্র্যাড কুপারের এক উপদেষ্টা রণতরীটিতে যান। সেখানে ক্রুদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তাকে দুয়োধ্বনি দেওয়া হয় এবং তার দিকে পানির বোতল ছোড়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

    পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ক্রুদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে ছুরি ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় সাতজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে ইরানি সূত্রের দাবি।

    রণতরীটির ভেতরের পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো নিশ্চিতকরণ এখনো পাওয়া যায়নি।

    আব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন নিয়ে এরই মধ্যে মার্কিন সামরিক সদস্যদের পরিবারগুলোর উদ্বেগের খবর প্রকাশ পেয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান, সরবরাহ সংকট এবং ক্রুদের মানসিক চাপের কথা উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রণতরীটি ২৬৩ দিন ধরে মোতায়েন রয়েছে এবং টানা ২০৮ দিন সমুদ্রে অবস্থান করেছে। তবে সাত নৌসেনা নিহত হওয়ার দাবিটি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

  • মক্কা চুক্তিতে আরও দেশ চান এরদোগান

    মক্কা চুক্তিতে আরও দেশ চান এরদোগান

    মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় শুধু তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। তিনি আঞ্চলিক আরও দেশকে এই চুক্তির আওতায় আনার প্রত্যাশা করেছেন।

    বুধবার (১২ আগস্ট) আরব সংবাদমাধ্যম আশরাক আল-আওসাতকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এরদোগান বলেন, আমাদের এই লক্ষ্য শুধু তিনটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আমরা এটিকে আরও বিস্তৃত করতে চাই এবং সম্ভব হলে একদিন এই কাঠামোর আওতায় এ অঞ্চলের সব দেশকে নিয়ে আসতে চাই। দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা অর্জনের পথে এটি হবে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা আঞ্চলিক পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে কেবল এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন এরদোগান। তিনি বলেন, এমন ব্যাখ্যা দিলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নীতি ও উদ্দেশ্য যথাযথভাবে বোঝা যাবে না।

    চুক্তিটি কোনো দেশের জন্য হুমকি নয় উল্লেখ করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা চায়—এমন সব ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের অংশগ্রহণের জন্য এই চুক্তি উন্মুক্ত।

    এরদোগান বলেন, এই চুক্তির পেছনে দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। অন্যান্য স্বাক্ষরকারী দেশ ও অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই এ বিষয়ে আলোচনা চলছিল।

    আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা জোরদারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ করার বিষয়ে নিজের আগের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তুরস্ক সেই অনুযায়ী কাজ করে আসছে।

    তিনি বলেন, আঞ্চলিক সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া সমাধান কী ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে, তা তারা জানেন। এ কারণেই তুরস্ক সবসময় এমন নীতি অনুসরণ করেছে, যেখানে আঞ্চলিক দেশগুলোর ইচ্ছা ও সম্মিলিত প্রজ্ঞাই সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রধান ভূমিকা রাখবে।

    এরদোগানের ভাষায়, পরিবর্তিত আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি একটি কৌশলগত সিদ্ধান্তের প্রতিফলন। এটি দৈনন্দিন কোনো ঘটনাপ্রবাহের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নয়।

    নতুন আঞ্চলিক পরিস্থিতির ফল চুক্তি

    এরদোগান বলেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি আঞ্চলিক নতুন পরিস্থিতির ফল এবং এটি দেশগুলোর সম্মিলিত দায়িত্ববোধ থেকে এসেছে।

    তিনি বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেদের সমস্যার দায়িত্ব নিজেরাই নেবে এবং নিজেদের মধ্যেই সমাধান করবে—তুরস্ক সবসময় এই নীতির পক্ষে। এ অঞ্চলের সমস্যাগুলো এ অঞ্চলের নিজেদের পক্ষগুলোর মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে। আমরা বলতে পারি, এখন আমরা সেই পথে প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছি।

    সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর মধ্যে সংহতির প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট করেছে বলে মন্তব্য করেন এরদোগান।

    এরদোগান বলেন, এই চুক্তি তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যকার সহযোগিতার চেয়েও বড় বিষয়। এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বিস্তৃত কাঠামো হিসেবে তৈরি করা হয়েছে এবং শান্তি ও নিরাপত্তা প্রত্যাশী অন্য দেশগুলোর জন্যও এর দরজা খোলা রয়েছে।

    তার মতে, আঙ্কারা এই চুক্তিকে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সংহতির নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখছে।

  • ২৬ ফিলিস্তিনি ভবন গুঁড়িয়ে দিয়ে ইসরাইলি অর্থমন্ত্রীর উচ্ছ্বাস

    ২৬ ফিলিস্তিনি ভবন গুঁড়িয়ে দিয়ে ইসরাইলি অর্থমন্ত্রীর উচ্ছ্বাস

    অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ২৬টি ভবন ভাঙার ইসরায়েলি পদক্ষেপের তীব্র প্রশংসা করেছেন দেশটির অতি-উগ্রপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। উত্তর পশ্চিম তীরে এসব ফিলিস্তিনি অবকাঠামো ধ্বংসের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। খবর আল জাজিরার।

    স্মোট্রিচ বলেন, ‘ইসরাইল রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও বসতি স্থাপন জোরদার করতে এই ধ্বংসযজ্ঞ একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ, যা দেশের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।’

    তবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি নির্মাণকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলে গণ্য করা হয়। সম্প্রতি, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতও (আইসিজে) ফিলিস্তিনের অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরাইলের এমন উপস্থিতি এবং অবৈধ বসতি স্থাপনকে বেআইনি ঘোষণা করে তা দ্রুত প্রত্যাহারের রুলিং দিয়েছে। তা সত্ত্বেও ইসরাইল পশ্চিম তীরে তাদের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি ও নতুন বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে।

  • পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের কোন যুদ্ধজাহাজও নেই- ইরান

    পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের কোন যুদ্ধজাহাজও নেই- ইরান

    পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির চরম পতন ঘটেছে বলে দাবি করেছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র কমান্ডার মোহেব্বি। তিনি বলেছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ যুদ্ধের পূর্বে এই অঞ্চলে প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করলেও বর্তমানে পারস্য উপসাগরে কোনো আমেরিকান যুদ্ধজাহাজ নেই।

    ইরানিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনকে উদ্ধৃত করে প্রেস টিভি জানিয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের মুখপাত্র কমান্ডার মোহেব্বি বলেছেন, রমজান যুদ্ধের আগে এই অঞ্চলে আমেরিকার ৩০ থেকে ৪০টি যুদ্ধজাহাজ ছিল, কিন্তু আজ পারস্য উপসাগরে একটি আমেরিকান যুদ্ধজাহাজও নেই।

    তিনি আরো বলেন, যদি ইরানের বিরুদ্ধে আবারো কোনো হুমকি আসে, তবে লাখ লাখ মাইলজুড়ে দীর্ঘ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, হাজার হাজার বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশাপাশি সমস্ত আমেরিকান ও নন-আমেরিকান সিস্টেম এবং এমনকি ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত বৈশ্বিক অবকাঠামোও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

    কমান্ডার মোহেব্বি বলেন, মার্কিন সামরিক শক্তি একই সাথে একাধিক রণাঙ্গনে যুদ্ধ করার উপর ভিত্তি করে গঠিত এবং ইরানের সাথে যুদ্ধ করতে এসে তাদের অস্ত্র সংখ্যা কমে যাওয়ার ঘটনা প্রশান্ত মহাসাগরের কেন্দ্রস্থলে রাশিয়া ও চীনের মোকাবেলায় আমেরিকার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • কাকা, তুমি খালি বাইরে বাইরে থাকলে কেন: পরশকে কাদের

    কাকা, তুমি খালি বাইরে বাইরে থাকলে কেন: পরশকে কাদের

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় ট্রাইব্যুনালে একটি ফোনালাপ শোনানো হয়। সেখানে যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশকে উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, কাকা, তুমি খালি বাইরে বাইরে থাকলে কেন?

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ উপস্থাপিত ফোনালাপটিতে এরপর ওবায়দুল কাদেরকে শেখ পরশ বলেন, না, আমি আছি তো। আমি বাইরে থাকলেও সার্বক্ষণিক প্রতিটা ঘণ্টায় আমি আপনাদের সঙ্গে আছি।

    এরপর ওবায়দুল কাদের পরশের বাইরে থাকা নিয়ে ইতস্তত করলে পরশ বলেন, আপনি জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন। আমি তো অনেক আগে গেছি। আমি গেছি ২৫ তারিখ। কিন্তু তারপরে প্রত্যেকটা দিন আমি আপনাদের সঙ্গে ছিলাম।

    এরপর ওবায়দুল কাদের তাকে মিছিলে অধিকসংখ্যক উপস্থিতির জন্য বলেন, ফিজিক্যালি থাকাটা…..কালকের র‍্যালিতে ম্যাক্সিমাম যেন প্রেজেন্স থাকে।

    এর উত্তরে পরশ বলেন, হ্যাঁ। আমরা এটা প্রস্তুতি নিচ্ছি। জি, অবশ্যই। এর জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, সে জন্য তোমাকে ফোন করি।

    শেষে শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, না, না। থ্যাংক ইউ। ঠিক আছে। জি, আমি ফোন দিচ্ছি সব জায়গায়। জি, জি, জি, চাচা। আসসালামু আলাইকুম।

    ওবায়দুল কাদের ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন—কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

  • প্রাইমারিতে জিতে নির্বাচনি মনোনয়ন দৌঁড়ে এগিয়ে ইলহান ওমর

    প্রাইমারিতে জিতে নির্বাচনি মনোনয়ন দৌঁড়ে এগিয়ে ইলহান ওমর

    যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক বাছাই নির্বাচনে জয় পেয়েছেন কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন।

    মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে ২০১৮ সাল থেকে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইলহান ওমর। এর আগে তিনি চারবার এই আসন থেকে কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এবার প্রাইমারি নির্বাচনে তিনি ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছেন বলে প্রাথমিক ফলাফলে জানা গেছে।

    মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট ডেমোক্রেটিক পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এই আসনে ইলহান ওমরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জুলি টি লে, আবেনা ম্যাকেঞ্জি, লাটোনিয়া রিভস ও নাট শ্লুটার।

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিষয়ক কঠোর নীতির সমালোচক হিসেবে পরিচিত ইলহান ওমর। গত সাধারণ নির্বাচনে তিনি প্রায় ৫০ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতেও তিনি ১৩ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় পান। এবার প্রাইমারিতে তাঁকে বড় কোনো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হতে হয়নি।

    অন্যদিকে, এই আসনে রিপাবলিকান পার্টির প্রাইমারিতে জন নাগেল ৫২ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হতে পারেন বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    নির্বাচনের আগের দিন সোমবার ইলহান ওমর অভিযোগ করেন, রিচফিল্ডে তাঁর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত একটি টাউন হল সভার বাইরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একজন তদন্তকারীকে দেখা গেছে। এ ঘটনায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, তাঁর অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে ওই কর্মকর্তার উপস্থিতির উদ্দেশ্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

    এর আগে গত জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে একটি টাউন হল অনুষ্ঠানে ইলহান ওমর হামলার শিকার হন। এক ব্যক্তি তাঁর দিকে এগিয়ে এসে তরল পদার্থ ছুড়ে মারেন। পরে সেটি আপেল সিডার ভিনেগার বলে শনাক্ত হয়। হামলার পর ইলহান ওমর বলেছিলেন, তিনি ভয় পাওয়ার বা দমে যাওয়ার মানুষ নন।

    ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে এই জয়ের মধ্য দিয়ে আবারও মিনেসোটার পঞ্চম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হওয়ার পথে এগিয়ে গেলেন ইলহান ওমর।

  • জেন-জির পর ভারতে এবার জেন-আলফার বিক্ষোভ

    জেন-জির পর ভারতে এবার জেন-আলফার বিক্ষোভ

    ভারতের উত্তরপ্রদেশের হামিরপুর জেলায় স্কুলে যাওয়ার জন্য রাস্তা নির্মাণের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা অভিভাবক ও গ্রামবাসীদের সঙ্গে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার হেঁটে জেলা কালেক্টরেটের সামনে অবস্থান নেয়।

    জেন-আলফা বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভারতের স্বাধীনতার পর এখন পর্যন্ত চাঁদুপুর থেকে হামিরপুরের দিকে তাদের গ্রামের জন্য কোনো পাকা রাস্তা তৈরি হয়নি। বর্ষায় কাঁচা রাস্তা পানিতে ডুবে যাওয়ায় স্কুলে যেতে শিক্ষার্থীদের কাদা-পানি পেরোতে হয়। এতে পোশাক নোংরা ও জুতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি যাতায়াতও কঠিন হয়ে পড়ে। রাস্তার অভাবে এক শিক্ষার্থীকে স্কুল ছাড়তেও হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

    ‘কৃষক, ছাত্র ও অসুস্থরা সমস্যায়—চাঁদুপুর-হামিরপুর সড়ক নির্মাণ করো’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা পোস্টার নিয়ে শিক্ষার্থীরা দ্রুত রাস্তা নির্মাণের দাবি জানায়।

    এসডিএম অভিষেক কুমার ও সার্কেল অফিসার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। দ্রুত রাস্তার কাজ শুরুর আশ্বাস পাওয়ার পর বিক্ষোভ প্রত্যাহার করা হয়।

    এদিকে, জেন জি-র প্রতিবাদী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জেন-আলফাদের আন্দোলনের প্রশংসা করেছেন। সংগঠনটি স্বাধীনতা দিবসে গ্রামীণ সরকারি স্কুলগুলোর উন্নয়নে ‘স্কুল ঠিক করো’ নামে একটি প্রচারাভিযান শুরু করার পরিকল্পনা করেছে।

  • ভারতে সরকারিভাবে ২০ রুপি লিটারে গোমূত্র সংগ্রহ শুরু

    ভারতে সরকারিভাবে ২০ রুপি লিটারে গোমূত্র সংগ্রহ শুরু

    ভারতের উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার কৃষকদের কাছ থেকে গোমূত্র সংগ্রহের লক্ষ্যে একটি পাইলট প্রকল্প শুরু করেছে। প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে বুলন্দ শহরের ১৫টি গ্রামে । বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ লিটার গোমূত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে।

    ভবিষ্যতে প্রতি লিটার ২০ রুপি দরে গোমূত্র সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে আদিত্যনাথের সরকারের । গ্রামগুলোতে ২০০ লিটার ধারণক্ষমতার ট্যাঙ্কও বসানো হয়েছে।

    প্রকল্পটির উদ্দেশ্য কৃষকদের অতিরিক্ত আয়, গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থান এবং দুধ না দেওয়া গরুর রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করা।

    প্রকল্পে প্রায় ৩০০ নারী যুক্ত হয়েছেন এবং তাদের এফপিওর শেয়ারহোল্ডার করা হয়েছে। গোমূত্র সংগ্রহে সহযোগিতাকারী নারীরা প্রতি লিটারে দুই রুপি কমিশন পাচ্ছেন।

    সংগৃহীত গোমূত্র কৃষিকাজে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে রাসায়নিক সার ও কৃষি-উপকরণের বিকল্প তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প সফল হলে রাজ্যজুড়ে এটি চালুর জন্য পৃথক নীতি প্রণয়ন করা হবে।

    তবে সমাজবাদী পার্টি এই উদ্যোগকে ‘কেলেঙ্কারি’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেছে, নির্বাচনি তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই সরকার এই প্রকল্প করছে। বিজেপি অবশ্য অভিযোগ খারিজ করে বলেছে, সরকারের প্রতিটি উন্নয়নমূলক প্রকল্পেরই বিরোধিতা করে এসপি।

  • আ.লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি গুজব: তথ্যমন্ত্রী

    আ.লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি গুজব: তথ্যমন্ত্রী

    আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো বিষয়টি সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, এটি গুজবের একটি অংশ।

    বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে আন্তর্জাতিক যুব দিবস অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।

    এ সময় মন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান জটিলতা সমাধানযোগ্য। যে কোনো সমস্যা সমাধানে কাজ করবে দুদেশের সরকার।

    প্রতিটি স্তরে যুব সমাজকে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যুবসমাজের উন্নতিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তরুণরাই একটি দেশ ও জাতির মূল শক্তি। তরুণরাই একটি দেশের জন্য আশীর্বাদ। বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। পৃথিবী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করছে।

    তিনি বলেন, তরুণদের শক্তি একটি দেশের উন্নতিতে ইতিবাচক মাত্রা যোগ করে। বিশ্বব্যাপী যুব সমাজ সবচেয়ে বড় শক্তি।

    একই অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানায়, ঘরে বসে যেন যুব ও নারীরা ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে সেই লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

  • নানকের নিজের মুখে পালানোর গল্প

    নানকের নিজের মুখে পালানোর গল্প

    জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য। দু’বারের সাবেক মন্ত্রী। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ভারতে আত্মগোপনে রয়েছেন। সম্প্রতি তিনি ভারতের আনন্দবাজারের মুখোমুখি হয়েছেন। দলটির পরবর্তী রাজনীতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারে অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে নানা প্রসঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন।

    প্রশ্ন: জাহাঙ্গীর কবির নানক কেমন আছেন আপনি?
    নানক: দেখেন আসলে আমরা রাজনীতি করি। আমরা একটা পরিবার। এই পরিবারটি যখন ভালো না থাকে, তখন আমরা কেউ ভালো থাকি না মানসিকভাবে।

    প্রশ্ন: বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই আপনি আত্মগোপনে রয়েছেন। জীবনে কি এটাই প্রথম আত্মগোপন?
    নানক: অনেক আত্মগোপনের ইতিহাস আছে আমার। আমি স্কুল জীবন থেকে রাজনীতি শুরু করেছি। ১৯৬৯ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন থেকে। ১৯৭১ সালে ভারতে আসা, ট্রেনিং নেয়া। অস্ত্র নিয়ে ভেতরে ঢোকা, মুজিব বাহিনীর সদস্য হিসেবে যুদ্ধ করা, দেশ স্বাধীন করা ইত্যাদি। এরপর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা, সেদিন যে অশুভ শক্তির যাত্রা শুরু হয়েছিল, বাংলাদেশ বা স্বাধীনতা গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি…তখন থেকে কিন্তু আমাদেরকে আত্মগোপনে জীবন কাটাতে হয়েছে। কিন্তু খুব বড় আত্মগোপনে আমাদেরকে যেতে হয়েছে যেমন— খালেদা জিয়ার শাসনামল, অর্থাৎ বিএনপি ও জামায়াতের শাসনামলে। আমরা কাজ করেছি, সংগঠন করেছি, মিটিং করেছি। আবার আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে।

    প্রশ্ন: দীর্ঘ সময় ঘর ছাড়া, দেশের কথা মনে পড়ে? বন্ধু ও পরিজন-পরিবার কাদের কথা সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে আপনার?
    নানক:
    সত্যি কথা বলতে কী—আমরা কর্মী পাগল মানুষ তো। কখনো কখনো আমার বুকটা ফেটে যায়। ১৯৭১ সালে আমি একেবারে পাকিস্তানি পাঞ্জাবী বাহিনীর বিরুদ্ধে ফ্রন্ট ফাইট করেছি। একটা আদর্শিক যুদ্ধ করেছি। সংগ্রাম করেছি। লড়াই করেছি। যা ঘটলো ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে আমাদের চোখের সামনে আমরা একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেখছি যে, বঙ্গবন্ধুর স্ট্যাচু কী অপমানজনকভাবে তারা ভেঙেচুরে চুরমার করেছে। ধানমন্ডি ৩২-কে ভেঙে গুড়িয়ে দিল বুলডোজার দিয়ে। তখন তো প্রশ্ন জাগেই, আমি বেঁচে ছিলাম কেন? বেঁচে আছি কেন বা এই ঘটনা দেখার আগে কেন মৃত্যু হলো না! তারস্বরে আমি চিৎকার করে বলতে পারি যে, এই ঘটনার আগে যদি আমার মৃত্যু হতো, তাহলে সেই মৃত্যু হতো আমার শান্তির মৃত্যু। আমরা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের স্বাধীনতা এনেছি। ওরা স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিল, সেই পরাজিত শক্তি প্রতিশোধ নিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের গলায় জুতার মালা, পায়ের জুতা খুলে গালে পিটানো, এগুলো দেখতে হয়েছে আমাদেরকে। গত দু’বছরে কোনো রাতে আমি ঘুমাতে পারিনি। ভোরবেলা যে আজান দেয়, সেই ফজরের নামাজ পড়ার পরে একটু টায়ার্ড হয়ে শরীর যখন ছেড়ে দেয় তখন ঘুমাতে যাই। এটা মনে পড়ে। আর আরেকটা মনে পড়ে—ছেলেটার কবরের কাছে যেতাম। আমি দুই বছর যাবত যেতে পারছি না। মা-বাবার কবরটার কাছে অনেকদিন যেতে পারি না। এগুলো নিয়ে কোনো দুঃখ নেই। দুঃখ আমার একটি জায়গায়। ৫ আগস্ট যারা ক্ষমতা দখল করেছে—তারা বাংলাদেশবিরোধী, স্বাধীনতাবিরোধী। এরা গণতন্ত্রবিরোধী, এরা মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি। এরা পাকিস্তানের দালাল, পাকিস্তানপন্থী। বাংলাদেশটাকে এখনো মানতে পারেনি। ওরা আবার এটাকে পাকিস্তান বানাতে চায়।

    প্রশ্ন: আপনি কীভাবে প্রাণে বাঁচলেন, কীভাবে ভারতে এলেন, কারা আপনাকে সাহায্য করলেন?
    নানক:
    ৪ আগস্ট দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আমি গণভবনে ছিলাম। আমি চলে আসলাম পরের দিন ফিফথ আগস্ট (৫ আগস্ট)। নেত্রী যখন চলে আসলেন। আমি আসলে প্রায় একেবারে পড়েই গিয়েছিলাম আমার শোয়ার জায়গায়। যখন আমার চৈতন্য উদয় হয়, তখন এক ক্লোজ রিলেশন এয়ারফোর্স, ও আমাকে ফোন করল। বলল যে, স্যার অমুকে ফোন করছে। তখন একটু বোধদয় হয়ে আমি ধরলাম। তো বলল যে, চিন্তা করবেন না, উনি বর্ডার ক্রস করেছেন সেফলি। এই আমি ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেলাম। তারপর তো একের পর শেল্টার চেঞ্জ করছি। ইউজ করার টেলিফোনগুলো ফেলে দিলাম। এরপরে একটি পর্যায়ে বুঝতে পারলাম যে, আমাকে এখন ধরার জন্য তারা মরিয়া হয়ে যাবে। ডিসাইড করে ফেললাম—আই হ্যাভ টু লিভ দ্য কান্ট্রি। আমার জামাই ডাক্তার, ফোন করল যে-বাবা আপনি বেরিয়ে যান। আমি যেভাবে যেভাবে বলব সেভাবে বেরিয়ে যাবেন এবং সেই গাইডটা করেছে মূলত। সে গাইডটা করে নিয়ে এসেছে, বের করে এনেছে। কারণ ৫ আগস্ট তো—আর আমি ১৬ আগস্ট বর্ডার ক্রস করতেছি।

    প্রশ্ন: ১৬ আগস্ট কি কলকাতায় এলেন?
    নানক:
    না না আমি তো ১৬ আগস্ট শিলংয়ে পৌঁছলাম। শিলং থেকে আমি চলে আসলাম মালদাহতে। বিকজ মালদাহতে আমার নাতি-নাতনি, মেয়েরা ওরা গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। সেখান থেকে আমি পরের দিনে চলে আসলাম কলকাতায়।

    প্রশ্ন: নেতাকর্মীদের বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলে আসার কারণে অনেকেই শেখ হাসিনার সমালোচনা করেন। আপনি একজন বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে এই সিদ্ধান্তকে কীভাবে দেখেন?
    নানক:
    ৫ আগস্ট যদি ৩০ মিনিট দেরি করতেন, তাহলে আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ওইদিন গণভবনে থাকা তার ছোট বোন শেখ রেহনাকে নির্মমভাবেই শুধু হত্যা করত না, নৃশংস নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করত। আজকে বেঁচে আছেন বলেই আজ সারা বিশ্ব বিবেক, ১৮ কোটি মানুষের বিবেক মিলে কিন্তু বলছে যে, শেখ হাসিনা ছাড়া এই দেশ পরিচালনা মতো যোগ্য নেতৃত্ব আর দ্বিতীয় কেউ নেই।

    প্রশ্ন: আচ্ছা ভারত সরকার কি আপনাকে কোনো নির্দিষ্ট রক্ষাকবজ দিয়েছে বা নির্দিষ্ট কোনো স্ট্যাটাস মানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে চাপ এলে আপনার পদক্ষেপ কী হবে?
    নানক:
    আমরা তো বিশ্বাস করি—যেকোনো চাপ বাংলাদেশের এই কচুপাতার পানির মতো যারা টলটলায়মান, সেই সরকারের কতখানি চাপ দেয়ার ক্ষমতা আছে? এবং সে চাপ যতই যাই হোক না কেন—এটা সামাল দেয়ার ক্ষমতা ভারত সরকারের আছে।

    প্রশ্ন: সরকার এবং দলের বিপর্যয়ের নেপথ্যে কী কী কারণ থাকতে পারে। মানে যে ভুল আপনারা আর করবেন না, মানে আপনার মূল্যায়ন কি?
    নানক:
    আমরা একটা গভীর ষড়যন্ত্রের, ডিপ স্টেট ষড়যন্ত্রের মধ্যে পড়ে গিয়েছিলাম।

    প্রশ্ন: ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকলেন পরপর টানা। কিছুতেই বুঝতে পারলেন না যে কোথা থেকে এই লিকেজটা হলো?
    নানক:
    না আমরা বুঝতে পারিনি—এ কথা আমি স্বীকার করবো না। আমি যদি কিছুটা টের পেয়ে থাকি, তাহলে আমার নেত্রী—উনিও কিন্তু বুঝতে পেরেছিলেন। উনি বুঝতে পেরেছিলেন বলেই কিন্তু ৬ মাস আগে থেকে বলা শুরু করেছেন যে, আমাকে ক্ষমতা থেকে নামানোর জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে, ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। সাদা চামড়াওলারা এভাবে…কোট আনকোট আমি বলছি—‘সাদা চামড়াওয়ালারা আমাকে ক্ষমতা থেকে নামাতে চায়’। ড. ইউনূস আমার বিরুদ্ধে সরকার পতনের জন্য ষড়যন্ত্র করছে। আমি সাগর পাড়ি দিয়েও ওদিকে যাবো না, বাঙালি যাবে না। দেশবাসীকে কিন্তু উনি ওয়েল ইনফর্ম করেছেন। দলকে উনি ওয়েল ইনফর্ম করেছেন। সতর্ক করেছেন। দেখেন, আমি একটা কথা বলে রাখি—আমাদের যে দলীয় ব্যর্থতা বা দলীয় দুর্বলতার প্রশ্ন থাকতেই পারে আপনাদের কাছে। কারণ পৃথিবীতে অনেক জায়গায় আছে ডিপেস্টেট—এ ধরনের কন্সপাইরেসি করেছে। কোথাও কোথাও সফল হয়েছে, কোথাও কোথাও ব্যর্থ হয়েছে। আমি আপনাকে বলছি—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেদিন এই তথাকথিত কোটাওয়ালারা অর্থাৎ মূলত শিবির দখল করে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে, সেদিন ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি নেত্রীকে ফোন করেছেন। আমি ফোন করেছি প্রধানমন্ত্রীকে। বলেছেন হল ছেড়ে দাও। ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস ছেড়ে দাও। খবরদার কোনো সংঘাতে যাবা না। আমি চাই না কোনো লাশ পড়ুক। কোট আনকোট করে বললাম—আমি এবং আমি দায়িত্ব নিয়েই বললাম যেটা উনি বলেছেন। ৫০ হাজার লোক নিয়ে আমার গণভবন ঘেরাও করে রাখার ক্ষমতা ছিল না! অবশ্যই ছিল। আমাদের জমায়েতের শক্তিতে ওরা হারিয়ে যেত। উনি যদি আমাদেরকে শুধু চোখের ইশারা দিতেন—তাহলে ঢাকা শহরে আমরা পাঁচ থেকে ১০ লক্ষ লোকের জমায়েত করে ফেলতে পারতাম। আমাদের যে বেজলাইনটা আছে-ফ্রম ঢাকা টু মাওয়া, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট এগুলো তো আমাদের বেজলাইন। গাজীপুর শক্ত ঘাঁটি, গাজীপুরকে বলা হয় এনাদার গোপালগঞ্জ। গাজীপুর থেকে এক লক্ষ লোক ঢুকে যেতে পারতো। ঢাকার বুড়িগঙ্গার পার হলে পরে কেরাণীগঞ্জ। আমাদের শক্ত ঘাঁটি। ঢাকার অদূরেই নারায়ণগঞ্জ আমাদের শক্ত ঘাঁটি। ঢাকা থেকে সিলেট যাওয়ার পথেই শক্ত ঘাঁটি নরসিংদী। আমরা সব ফাঁক-ফোকরগুলো বন্ধ করে দিয়ে কিন্তু দখল নিতে পারতাম। সেখানে কিন্তু আরেকটি সম্ভাবনা থাকতো। সেটা ওদের হাতে অস্ত্রের খবর তো আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে, আমাদের নেত্রীর কাছে ছিল।

    প্রশ্ন: কো-ল্যাটারেল ড্যামেজ অনেক বেশি হতে পারতো?
    নানক:
    অনেক অনেক হয়ে যেত। আমরাও কি ছেড়ে দিতাম? নো, আমি বলছি—আমার এই বয়সেও আমি ছাড়তাম না। একটা লাঠি নিয়ে হলেও আমি দাঁড়িয়ে যেতাম। উনি রক্তপাত চাননি। আমরা কি না পারতাম! দিস ইজ আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব না। সম্ভব হয় নাই। আপনি কালকে ভোট দেন, একটা ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট আসুক। একটা একশ পারসেন্ট, ফেয়ার অ্যান্ড ফ্রি ইলেকশন দিক—যদি আমরা টু থার্ড মেজরিটি না পাই…..প্রমাণ হোক জাতিসংঘ বাহিনী আসুক। এসে নির্বাচন করুক। যদি আওয়ামী লীগ টু থার্ড মেজরিটি না পায়—তাহলে আমরা নাকে খত দিয়ে সবাই একসঙ্গে রাজনীতি ছেড়ে দেব।

    প্রশ্ন: কেন ভারত? ওয়াশিংটনে জয় রয়েছেন, শেখ হাসিনার ছেলে রয়েছেন বা উনার লন্ডনেও একবার যাওয়ার কথা হচ্ছিল যে, লন্ডনেও চলে যেতে পারেন। তিনি ভারত কেন ?
    নানক:
    ভারতের ওপর দায়-দায়িত্ব যেটা দিতে চায়—এটি তো সঠিক না। তারা ভারতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তার কারণে, এসএসএফ-এর অফিসার ও বিমান বাহিনীর অফিসার সবাই মিলেই তো তারা দিল্লিতে পৌঁছে দিয়ে গিয়েছেন। কাজেই এখানে ভারতের কী করার ছিল।

    প্রশ্ন: ভারতের তরফ থেকে এই অপারেশনটা লিড কে করেছিল? আপনাদের কাছে কি খবর আছে?
    নানক:
    আমি এটা এখন বলতে পারছি না।

    প্রশ্ন: শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা হয়েছে?
    নানক:
    হ্যাঁ

    প্রশ্ন: কেমন আছেন তিনি?
    নানক:
    আলহামদুলিল্লাহ, খুব ভালো আছেন উনি। আমি অনেক কৃতজ্ঞ ভারত সরকারের প্রতি। যে নিরাপত্তা ওনাকে দেয়া হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর প্রোটোকলই দেয়া হচ্ছে। আমরা যখন জিজ্ঞাসা করি—ইভেন এখনো টেলিফোনে যখন জিজ্ঞাসা করি আপা কেমন আছেন, নেত্রী কেমন আছেন? আমি ভালো আছি তোমরা ভালো আছো কিনা তাই বলো। আমার নিয়ে তোমরা চিন্তা করবে না। বিশ্বাস করেন আপনাকে বলছি—আমি এমনটা খুব রিসেন্ট জিজ্ঞাসা করেছিলাম। বলেন জানো না, এই দুই বছরে আমার (হাসিনা) শুধু দু’দিন নাকে সর্দি লেগেছিল! এই দু’দিনের সর্দি লাগা ছাড়া আজ পর্যন্ত আমার একটি ঔষধও খেতে হয় নাই। ইনশাআল্লাহ। দোয়া করো তোমরা সবাই।

    প্রশ্ন: কলকাতায় নাকি আওয়ামী লীগের অফিস রয়েছে। শীর্ষ নেতারা নাকি সেখানে বৈঠক করেন। খবর বেরিয়েছিল। এটা কি সত্য?
    নানক:
    বিভিন্ন খবর বের হয়। এগুলা মুখরোচক।

    প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবর?
    নানক:
    না না এর কোনো ভিত্তি নেই। হ্যাঁ আমাদের যদি কেউ একটু জায়গা দেয় যে, এখানে এসে বসেন আপনারা। মাঝে মাঝে আইসেন। আমরা যাব না? আমরা তো যাবই। আমরা তো একটা জায়গা পেলে আমরা তো একটু সময় কাটানোর জন্য, অক্সিজেন নেয়ার জন্য যেতেই পারি। কিন্তু অফিস বলতে কোনো জিনিসের অস্তিত্ব নাই এখানে।

    প্রশ্ন: ঢাকা মহানগর উত্তর মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় সংগঠন কীভাবে পরিচালনা করছেন?
    নানক:
    আমি কলকাতায় যে আসলাম—সেদিন থেকেই আমি আমার এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করি। তাদের সুখে-দুঃখে কষ্ট-ক্লেশের আমি ভাগীদার হওয়ার চেষ্টা করি। এটা আমার পুরানো অভ্যাস—সেটা আমি চেষ্টা করেছি। যারা জেলে, গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাদের পরিবারের খোঁজ-খবর রাখা, সুখ-দুঃখের ভাগী হওয়া। এ ক্ষেত্রে আমি না বললে ওর প্রতি অবিচার করা হবে—আমার মেয়েটি, যে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের মা ও শিশুবিষয়ক সম্পাদক, ও খুব বেশি সময় দেয় আমার নির্বাচনী এলাকায়। জেলে যারা গেল, আমাদের কর্মীদের আর্থিক অবস্থা তো ভালো না। তাদের খোঁজখবর রাখা—এ কাজগুলো করছে। আমি আপনাকে বলতে পারি—আমার নেত্রীর নির্দেশে ইন ঢাকা সিটি, এই ঢাকা-১৩ থেকে উই হ্যাভ স্টার্টেড দ্য পসেশন অ্যান্ড আদার থিংস। অনেক গ্রেপ্তার হয়েছেন। কখনো মিছিল, কখনো ওটাকে বলে মশাল মিছিল। ইউ নো এগুলো করতে গিয়ে অনেককে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

    প্রশ্ন: আমার স্পেসিফিক প্রশ্ন—আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ জুলাই আন্দোলনে মোহাম্মদপুরে হত্যাকাণ্ডে আপনি অভিযুক্ত। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আপনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। আপনি নিজে একজন আইনজীবী। আত্মসমর্পণ করবেন, নাকি লড়বেন?
    নানক:
    আমি কৌশলগতভাবে লড়ছি, লড়াই করছি আইনগতভাবে।

    প্রশ্ন: এই যে ৯ জনের হত্যার অভিযোগে আপনি অভিযুক্ত এটা কি সত্যি?
    নানক:
    উদর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপড়ানোর চেষ্টা। যে অভিযোগগুলো আমার কাছে, আমার কাছে আছে—টোটাল মামলার নথি। এর সব জায়গায় বলে গেছে তার নির্দেশে… তার নির্দেশে… তার নির্দেশে…। কিন্তু কোথাও কোনো সাক্ষী বলেননি যে, ওনাকে দেখেছি। তো সপ্তম আসমানে বসে কে নির্দেশ দিল তাকে? কীভাবে মারা গেল, কার গুলিতে মারা গেল—সেটা তো আমার জানার কথা না। আমি কি ওখানে অস্ত্র নিয়ে গুলি করতে গিয়েছি? এরকম কোনো প্রমাণ আছে? দেখাতে পারবে? বলুক। আইন ও আদালত, বিচারালয় যদি আইনের গতিতে চলে আমি আপনাকে বলতে পারি—যত হত্যা মামলা দিয়েছে ইনক্লুডিং আমার নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইসিটি আদালত থেকে শুরু করে। কোনো মামলা টিকবে না। কোনো মামলার অস্তিত্ব থাকবে না।

    প্রশ্ন: আমার দুটো প্রশ্ন খুব সংক্ষিপ্ত। কিন্তু খুব প্রয়োজনীয় প্রশ্ন-ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা দেশে ফিরছেন, আপনি ফিরবেন?
    নানক:
    অবশ্যই আমি, আমরা তো ওনার আগে যাব, পৌঁছবো। পৌঁছাবোই।

    প্রশ্ন: আমার শেষ প্রশ্ন বাংলাদেশের রাজনীতিতে কি আবারও দেখা যাবে জাহাঙ্গীর কবির নানককে?
    নানক:
    বেঁচে থাকলে দেখা যাবে। আমি যাতে মৃত্যুবরণ না করি, দোয়া করবেন।

  • ‘ইউক্রেন যুদ্ধে আরও ৫ লাখ সেনা নামাচ্ছেন পুতিন’

    ‘ইউক্রেন যুদ্ধে আরও ৫ লাখ সেনা নামাচ্ছেন পুতিন’

    ইউক্রেন যুদ্ধে নতুন করে পাঁচ লাখ সেনা সংগ্রহের পরিকল্পনা করছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বরাত দিয়ে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে জেলেনস্কি জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে রাশিয়ার ডুমা বা সংসদীয় নির্বাচনের পরেই এই বিশাল সেনা সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

    প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন যে পুতিন এই যুদ্ধ থামানোর কোনো পক্ষপাতী নন এবং তিনি তার দেশের সাধারণ মানুষকে নিয়ে ভয়ের কারণে এই সেনা সমাবেশ ‘খোলাখুলিভাবে’ করবেন না।

    ইউক্রেনীয় নেতার মতে, এত বিশাল সংখ্যক মানুষকে একসঙ্গে দ্রুত প্রশিক্ষণ দেওয়া রাশিয়ার পক্ষে সম্ভব নয়, যার ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেনার সংখ্যা বেড়ে যাবে। আর এর সরাসরি প্রভাব পড়বে রুশ সেনাদের বড় ধরনের প্রাণহানির শঙ্কার মধ্য দিয়ে।

    এদিকে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার অভ্যন্তরে গভীরে আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ায় এই যুদ্ধ আরও মারাত্মক মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ফ্রন্টলাইন থেকে যুদ্ধ যখন পেছনের দিকে বা সাধারণ জনগণের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, তখন কোনো দেশের জন্য প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায় যুদ্ধ জয় বা পরাজয়ের চেয়ে একটি জাতি হিসেবে তাদের টিকে থাকা।

    এমন পরিস্থিতিতে পুতিন তার শেষ বিকল্প বা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা ভাবতে পারেন। তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর এডিটরস ডেস্ক প্রোগ্রামে কথা বলতে গিয়ে ফিদান এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেন এবং বিষয়টি পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে বলে জানান।

  • সমাবর্তনে প্রধান বিচারপতিকে অতিথি মানবেনা শিক্ষার্থীরা

    সমাবর্তনে প্রধান বিচারপতিকে অতিথি মানবেনা শিক্ষার্থীরা

    ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে হায়দ্রাবাদের বিখ্যাত আইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘নালসার’-এর সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে।

    ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ লিগ্যাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ বা সংক্ষেপে নালসার-এর ২০২৬ সালের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভারতের প্রধান বিচারপতিকে বেছে নেওয়ার বিরোধিতা করে সম্প্রতি কর্তৃপক্ষকে ইমেইল করে একটি আবেদন জমা করেছেন এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। সেই ইমেইলে বলা হয়েছে কর্তৃপক্ষ যেন প্রধান অতিথি নির্বাচনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করেন।

    এই বিষয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি তেলুগু। তারা জানিয়েছেন যে তাদের তরফে ইমেইল পাঠানো হয়েছে যদিও তারা নিজের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।

    ছাত্র-ছাত্রীরা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশ করে এই ইমেইলটি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে নালসার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার রয়েছেন।

    ২৩ জুলাই এই আবেদনটি জমা করা হলেও এর বিষয়ে দেরিতে জানা গিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এই সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি।

    প্রধান অতিথি পুনর্বিবেচনার দাবি

    জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে নালসার বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও অধ্যাপকরা জানতে পারেন যে শিগগিরই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান হতে চলেছে। তাদের প্রশাসনিক দপ্তর থেকে আবেদন করা হয় যে তারা যেন এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করে দেন।

    একজন অধ্যাপক জানিয়েছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের জানিয়েছে সমাবর্তনের তারিখ এখনো নির্দিষ্ট করা হয়নি।

    সেই অধ্যাপক জানালেন, ‘আমরা খবর পেয়েছি যে প্রধান বিচারপতি নিজেই এই অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে আসার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন।’

    বিষয়টির সংবেদনশীলতার কথা মাথায় রেখে শিক্ষার্থী বা শিক্ষক কেউই এই প্রতিবেদনে তাদের নাম প্রকাশ করতে চাননি।

    কর্তৃপক্ষের তরফে শিক্ষার্থীদের জানানো হয়েছে যে প্রধান বিচারপতি এই অনুষ্ঠানে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

    এই বিষয়ে জানার পরেই শিক্ষার্থীদের একাংশ প্রধান বিচারপতিকে প্রধান অতিথি হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনা চেয়ে ইমেইল করেছেন।

    কেন আপত্তি শিক্ষার্থীদের?

    কর্তৃপক্ষকে পাঠানো ইমেইলে শিক্ষার্থীরা লিখেছেন, সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতিকে আমন্ত্রণ জানানোয় তাদের কিছু আপত্তি আছে। ‘যেহেতু সমাবর্তনের তারিখ এখনো চূড়ান্ত নয়, তাই আমরা মনে করি প্রধান অতিথির নাম নিয়ে এখনো বিচার বিবেচনা চলছে এবং এই প্রেক্ষিতে আমাদের বক্তব্যের উপর বিচার করার অবকাশ আছে।’

    একজন শিক্ষার্থী বলেছেন, প্রথমে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরাই এই আবেদন ইমেইল করেছিলেন। পরে এই ইমেইলের সঙ্গে অন্যান্য বিভাগেরও বহু ছাত্রছাত্রী তাদের আপত্তির কথা জুড়ে দেন।

    ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির ডাকে ২০ জুলাই যুবক ও শিক্ষার্থীরা দিল্লিতে সংসদ মিছিল করেন। এই মিছিলে পুলিশের হামলায় ছাত্র ও যুবদের উপর হামলার বিষয়টি উত্থাপন করে বলা হয়েছে, একজন আইনজীবী পুলিশের লাঠিচার্জকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করেছেন।

    সেই আইনজীবী উল্লেখ করেছিলেন, ‘পুলিশি বর্বরতার ভিডিও প্রমাণ রয়েছে। ছাত্ররা যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ করছে যার উপর পুলিশ অত্যাধিক বলপ্রয়োগ করেছে।’

    এই আবেদনের জবাবে প্রধান বিচারপতি প্রথমে মন্তব্য করেছিলেন, ‘আপনারা নিজেদের সময় নষ্ট করবেন না, আমাদের সময়ও নষ্ট করবেন না।’

    নালসার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যুবক ও ছাত্রছাত্রীদের বিষয়ে প্রধান বিচারপতির মন্তব্য ইমেইলে উল্লেখ করে তাদের আপত্তি জানান।

    যদিও এই মন্তব্যের পরে প্রধান বিচারপতি আত্মপক্ষ সমর্থন করে জানিয়েছিলেন, তিনি কেবল ওই আইনজীবীর তাৎক্ষণিক শুনানির আবেদনের বিরোধিতা করে বলেছিলেন আদালতের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে আবেদন করতে।

    যদিও তার ‘সময় নষ্ট করবেন না’ মন্তব্য তার পূর্বে করা ‘ককরোচ’ মন্তব্যের মতোই সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কের জন্ম দেয়।

    প্রসঙ্গত, সংসদ চলো কর্মসূচিতে পুলিশের ‘বাড়াবাড়ির’ বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত পরবর্তীকালে দিল্লি পুলিশের সমালোচনাও করেছেন।

    ‘মূল্যবোধের বিরোধী সিদ্ধান্ত’

    শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পাঠানো ইমেইলে বলা হয়েছে, ‘আইন বিভাগের ছাত্র হিসেবে আমাদের বিবেচ্য বিষয় সীমিত। সমাবর্তন অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যবোধ, সাংবিধানিক অধিকার, ন্যায়বিচার, আবেদনপত্র গ্রহণ এবং আপত্তির আলোচনার প্রতি তার অঙ্গীকারের প্রতীক। এটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে ভাবার একটি সুযোগ।’

    শিক্ষার্থীরা তাদের ইমেইলে লিখেছেন, ‘পুলিশি বর্বরতার অভিযোগ অস্বীকার করেন এমন একজন ব্যক্তির হাত থেকে ডিগ্রি গ্রহণ করা নালসারে আমাদের শেখানো মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে আমরা মনে করি।’

    শিক্ষার্থীরা বলেছেন, তারা বিশ্ববিদ্যালয়কে সমাবর্তনের প্রধান অতিথি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য জোরালোভাবে অনুরোধ জানাচ্ছেন।

    শিক্ষার্থীদের অনুরোধ, ‘এই বিষয়ে ছাত্র প্রতিনিধিদের বা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা করা হোক।’

    কী বক্তব্য নালসার-এর?

    শিক্ষার্থীদের ইমেইল-সংক্রান্ত আপত্তির বিষয়ে বিবিসি নালসার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শ্রীকৃষ্ণ দেবা রাও এবং রেজিস্ট্রার এন বাসন্তীর সঙ্গে ইমেইল ও ফোনে যোগাযোগ করেছিল। তবে তারা এখনো কোনো জবাব দেননি।

    এদিকে, ইংরেজি পত্রিকা দ্য হিন্দু জানিয়েছে যে দোসরা অগাস্ট মুম্বাইয়ে টাটা ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্সেস (সংক্ষেপে টিস নামে পরিচিত)-এর সমাবর্তন অনুষ্ঠানেও প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা ছিল প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানটিও স্থগিত হয়ে গেছে।

    টিস-এর পক্ষ থেকে ৩১ জুলাই ঘোষণা করা হয় যে কিছু অনিবার্য কারণে সমাবর্তন অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে।

  • লাখ টাকা ভাতা নিয়ে ‘খেপ’ খেলা যাবে না

    লাখ টাকা ভাতা নিয়ে ‘খেপ’ খেলা যাবে না

    জাতীয় দলের ফুটবলার হিসেবে সরকারের কাছ থেকে নিয়মিত ক্রীড়া ভাতা পাচ্ছেন খেলোয়াড়রা। দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও তারা পেশাদার চুক্তির অধীন।

    এরপরও অনেকে স্থানীয় পর্যায়ের ‘খেপ’ ম্যাচ খেলতে যান। আর এ নিয়েই এবার প্রশ্ন উঠেছে খেলোয়াড়দের পেশাদার আচরণ ও দায়িত্ববোধ নিয়ে।

    সম্প্রতি জাতীয় দলের কয়েকজন ফুটবলারের বিভিন্ন এলাকার খেপ ম্যাচে অংশ নেওয়ার বিষয়টি এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে। টাঙ্গাইল ও ঝিনাইদহে গিয়ে এমন ম্যাচে জাতীয় দলের বর্তমান খেলোয়াড়দের দেখেছেন বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

    গতকাল রাতে কালশীতে সাংবাদিকদের একটি ফুটবল ম্যাচ দেখতে গিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন সাবেক এই তারকা ফুটবলার।

    যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমার প্রশ্নটা হচ্ছে সেই প্লেয়ারদের কাছে এবং আমি বাফুফের কাছেও প্রশ্নটা রাখব, যেখানে আমরা খেলোয়াড়দেরকে পেশাগত স্বীকৃতি বাবদ ক্রীড়াভাতা প্রদান করছি, সরকার তাদের মাসিক ভাতা দিচ্ছে, তো সেই ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের খেপ খেলতে যাওয়াটা কতটুকু সমীচীন হয়েছে এবং দেশের প্রতি যে একটু আগে বলছিলাম যে কমিটমেন্টের অভাব, যে তার নিজের প্রতি যে কমিটমেন্টের অভাব সেটার কিন্তু বহিঃপ্রকাশ ইতিমধ্যে পেয়েছি।’

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি ব্যস্ততার কারণে এখন পর্যন্ত আমাদের বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সাথে কথা বলতে পারিনি, তবে আমি দ্রুতই তার সাথে হয়তোবা দু–এক দিনের ভেতরে কথা বলব যে যেই খেলোয়াড়েরা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে খেপ খেলেছে, সেই বিষয় নজরে এনে তাদেরকে সতর্ক করা, আমরা প্রথম অবস্থায় সতর্ক করতে চাই, তারপর আমরা হয়তোবা ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তা করব।’

  • ইতিহাস গড়ে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বে ফর্টিস

    ইতিহাস গড়ে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বে ফর্টিস

    ঘরের মাঠে কিরগিজস্তানের মুরাস ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারিয়ে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ফর্টিস এফসি। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ফর্টিসের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন মো. ইব্রাহীম।

    এএফসি মঞ্চে অভিষেক ম্যাচেই এমন সাফল্য পেল বাংলাদেশ ফুটবল লিগের সর্বশেষ মৌসুমের তৃতীয় হওয়া দলটি। ফলে প্রথমবার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলতে নেমেই ইতিহাস গড়ল ফর্টিস।

    ২০২৫-২৬ মৌসুমে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের শিরোপা জেতে বসুন্ধরা কিংস। রানার্সআপ হয় ঢাকা আবাহনী। তবে দুই ক্লাবের ওপর ফিফার নিষেধাজ্ঞা থাকায় এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে খেলার সুযোগ পায় তৃতীয় হওয়া ফর্টিস ও পুলিশ এফসি।

    এরই মধ্যে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে ফর্টিস। রাতে প্রিলিমিনারি রাউন্ডে সিরিয়ার আল ইত্তিহাদের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা রয়েছে তাদের।

    গত মৌসুমের এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্রিলিমিনারি রাউন্ডেও মুরাস ইউনাইটেডের প্রতিপক্ষ ছিল ঢাকা আবাহনী। সেবার ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে মারুফুল হকের দলকে ২-০ গোলে হারিয়ে পরের ধাপে উঠেছিল কিরগিজ ক্লাবটি। এবার অবশ্য বাংলাদেশে এসে জয়ের হাসি নিয়ে ফিরতে পারেনি তারা। ফর্টিসের কাছে হেরে মূল পর্বের টিকিটও হাতছাড়া হয়েছে মুরাসের।

    ম্যাচের ২২ মিনিটে ফর্টিস এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ তৈরি করে। বক্সের বাঁ দিক দিয়ে একক প্রচেষ্টায় আক্রমণে উঠে গোলকিপারকে একা পেয়ে যান পা ওমর বাবু। বাঁ পায়ের শটে মুরাসের গোলরক্ষক কস্তিককে পরাস্ত করলেও বল সাইড পোস্টে লেগে বাইরে চলে যায়।

    বিরতির পর অবশ্য মুরাসই তুলনামূলক বেশি চাপ তৈরি করে। তবে ফর্টিসের শ্রীলঙ্কান গোলরক্ষক সুজন পেরেরা দুই দফায় প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকিয়ে দলকে বিপদমুক্ত রাখেন।

    এরপর ৫২ মিনিটে ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে। পা ওমর বাবুর বাড়ানো থ্রু থেকে বল পেয়ে যান ইব্রাহিম। ডান পায়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের নিচু শটে মুরাসের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। বল গোলরক্ষকের শরীরের নিচ দিয়ে পোস্টে জড়িয়ে গেলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফর্টিস।

    ৫৬ মিনিটে ফর্টিস ব্যবধান দ্বিগুণ করার কাছাকাছি চলে যায়। তবে মুরাসের গোলরক্ষক ওরেস্ট কস্তিক পরপর দুটি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে রাখেন।

    ৭৪ মিনিটে ম্যাচে সমতা ফেরানোর বড় সুযোগ পায় মুরাস। মাদানভ ইসমইলোভিচের শট বক্সের ভেতরে এরিক বিস্তার হাতে লাগায় পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু স্পটকিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন আতাবায়েভ এরবল। তার ডান পায়ের শট সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

    শেষ পর্যন্ত মুরাসের সব আক্রমণ সামলে ১-০ গোলের জয় ধরে রাখে ফর্টিস। এই জয়ের মাধ্যমে প্রথমবার এএফসি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েই চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়ল দলটি।

  • আকাশেই পথ বদল করছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র

    আকাশেই পথ বদল করছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র

    দুশমনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নিখুঁত নজরদারি আর ক্ষেপণাস্ত্ররোধী ঢালকেপুরোপুরি ফাঁকি দিতে নতুন প্রযুক্তির পথ ধরেছে ইরান। দেশটির তৈরি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখন আর আগের মতো নির্দিষ্ট এক বিন্দু থেকে ছুড়ে অন্য বিন্দুতে গিয়ে আছড়ে পড়ার সাধারণ অস্ত্র নয়। বরং উড্ডয়নরত অবস্থাতেই আকাশে নিজেদের গতিপথ নিজে নিজেই বদলে ফেলার ও গন্তব্য পুনর্নির্ধারণ করার এক অভাবনীয় সক্ষমতা অর্জনের ঘোষণা করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী বা আইআরজিসি।

    সোমবার উত্তর ইরানের কাজভিন শহরে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই সামরিক ও প্রযুক্তিক্ষেত্রে অগ্রগতির বিস্তারিত তুলে ধরেন আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মহাবি। দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আইআরজিসির তৈরি নতুন প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শত্রুপক্ষের যেকোনো আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ককে সহজেই ফাঁকি দিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে নিখুঁত আঘাত হানতে পুরোই সক্ষম।

    প্রযুক্তিগত এই উত্তরণকে আধুনিক যুদ্ধকৌশলের এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখছে তেহরান। মহাবি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের পরিচালিত ‘প্রযুক্তি যুদ্ধ’-এর মূল উদ্দেশ্য কেবল প্রতিপক্ষের ইট-পাথরের দালানকোঠা কিংবা যুদ্ধের সামরিক সরঞ্জাম গুঁড়িয়ে দেয়া নয়।

    এর চেয়েও বড় লক্ষ্য হলো শত্রুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং গোটা নিরাপত্তা নেটওয়ার্ককে ভণ্ডুল ও অকার্যকর করে দেয়া। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্মিলিত সামরিক আগ্রাসনের সময়েও শত্রুর শক্তিশালী বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোতে আঘাত হানতে ইরানের এই উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি সাফল্যের সাথে ব্যবহার করা হয়েছিল।

    মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও পারস্য উপসাগরীয় এলাকার মার্কিন দোসরদের অঞ্চলে অবস্থিত ঘাঁটি তেহরানের এই সাম্প্রতিক কৌশলগত সামরিক চাপের মুখে পড়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের ওপর আকস্মিক সামরিক হামলা শুরু করলে পুরো অঞ্চলটিজুড়ে ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়।

    এই আক্রমণের কড়া জবাব হিসেবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালায়। পরবর্তীতে কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে গত এপ্রিলে দুই পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় এবং একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে জুন মাসে এক সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে।

    তবে সমঝোতার সেই উদ্যোগ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। রাজনৈতিক টানাপোড়েনে গত জুলাই মাসে সেই চুক্তি সম্পূর্ণ বানচাল হয়ে যায়। চুক্তি নস্যাৎ হওয়ার পর তেহরান ও ওয়াশিংটন আবারো টানা দুই সপ্তাহ ধরে একে অপরের সামরিক স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি জোরালো হামলা শুরু করে। অবশ্য আলোচনার মাধ্যমে দ্বন্দ্ব সমাধানের আশ্বাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করেই এই বোমাবর্ষণ ও হামলা বন্ধের নির্দেশ দেন।

    এদিকে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধেয়ে যাওয়ার সময় গতিপথ বদলে ফেলার এই আধুনিক ইরানি প্রযুক্তির খবর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে

  • ইসরাইল-ভারত সম্পর্ক গভীরতর হচ্ছে

    ইসরাইল-ভারত সম্পর্ক গভীরতর হচ্ছে

    মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার সাথে সাথে ইসরাইলের সাথে ভারতের সম্পর্ক আরো গভীর হচ্ছে। নিউজলেটার ‘দিস ইজ ইন্ডিয়া’-য় পত্রিকাটির আন্তর্জাতিক বার্তা সম্পাদক ও নিবন্ধকার নিহা মসীহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরেছেন। সেই অনুসন্ধানে প্রকাশ পেয়েছে, ফিলিস্তিনের গাজায় চালানো সামরিক অভিযানে ধ্বংসস্তূপ তৈরি হওয়ার এবং ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পরও ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর প্রধান অস্ত্র সরবরাহ শৃঙ্খলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ভারত।

    ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জানিয়েছে,, ভারতের এই পদক্ষেপ দেশের ঐতিহাসিক পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, কারণ অতীতে দেশটি ফিলিস্তিনি স্বাধীনতার সমর্থক ছিল এবং জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল। ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ এবং দ্য হিন্দু পত্রিকার আন্তর্জাতিক সম্পাদক স্ট্যানলি জনি বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেছেন, দিল্লি ও তেল আবিবের মধ্যকার এই ঘনিষ্ঠতা শুধু কূটনৈতিক বা রাজনৈতিক মাত্রায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি গভীর কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার রূপ নিয়েছে।

    বিগত বছরগুলোতে ভারত মূলত ইসরাইলি অস্ত্রের অন্যতম প্রধান ক্রেতা দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু যৌথ প্রতিরক্ষা উদ্যোগ এবং চুক্তিভিত্তিক অস্ত্র উৎপাদনের মাধ্যমে ভারত এখন সরাসরি ইসরাইলের সমরাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে ‘উল্লেখযোগ্য অবদানকারী’ শক্তি হয়ে উঠেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারি বাণিজ্য ও চালান সংক্রান্ত উপাত্ত পর্যালোচনা করে অ্যামনেস্টি প্রমাণ পেয়েছে, ভারতীয় কারখানা থেকে ইসরাইলের প্রধান প্রধান সামরিক সরবরাহকারী সংস্থাগুলোর কাছে ৩,৯০,৫১৬টি ছোট অস্ত্রের যন্ত্রাংশ, ৫,৬৪,৯৭০টি বিস্ফোরক অর্ডন্যান্সের উপাদান এবং ২৯৮টি সামরিক যানবাহনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাঠানো হয়েছে। এই সরবরাহ নিশ্চিতকারী ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মিউজিশনস ইন্ডিয়া লিমিটেড, ইন্ডিয়া অপটেল লিমিটেড এবং অ্যাডভান্সড ওয়েপনস অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট ইন্ডিয়া লিমিটেডের মতো তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাও রয়েছে। সংস্থাগুলোর এই কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক গণহত্যায় ভারতকে অংশীদার করার ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

    ২০ হাজারের বেশি ভারতীয় শ্রমিককে ইসরাইলের নির্মাণ ও সেবামূলক খাতে পাঠানো হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক মানবতাবাদী আইন লঙ্ঘনের মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে যুক্তরাজ্যসহ অনেক পশ্চিমা দেশ যখন ইসরাইলে অস্ত্র পাঠাতে বিধিনিষেধ জারি করেছে, তখন ভারত সম্পূর্ণ বিপরীত পথ বেছে নিয়েছে। যদিও জাতিসঙ্ঘের আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে যে ইসরাইল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে, তবুও ভারতে কোনো শক্ত রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রতিবাদ দেখা যায়নি। মোদির সমর্থক গোষ্ঠীর মধ্যে হিন্দুত্ববাদ ও জায়োনিজম ভাবাদর্শের এক অভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান রয়েছে, যারা ইসরাইলকে বিশেষ সামরিক ও জাতীয়তাবাদী মডেল হিসেবে বিবেচনা করে।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতানিয়াহুর সাথে কৌশলগত ব্যক্তি সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। ২০১৭ সালে প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইসরাইল সফরের ধারাবাহিকতায় চলতি বছর ইরান আক্রমণের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগেও মোদি ইসরাইলে অবস্থান করছিলেন। তবে আদালতে সাধারণ নাগরিক ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তারা অস্ত্র রপ্তানি বন্ধের আবেদন জানালে সুপ্রিম কোর্ট তা খারিজ করে সরকারের এখতিয়ার বলে রায় দেয়। একইভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব রপ্তানি জাতীয় আইন অনুযায়ী সম্পাদিত হচ্ছে।

    শুধু সামরিক সরঞ্জামই নয়, ২০২৩ সালে ফিলিস্তিনি কর্মীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ হওয়ার পর চুক্তির মাধ্যমে ২০ হাজারের বেশি ভারতীয় শ্রমিককে ইসরাইলের নির্মাণ ও সেবামূলক খাতে পাঠানো হয়েছে।

  • কলম্বিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সাড়ে ১৫ কোটি ডলারের সহায়তা

    কলম্বিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সাড়ে ১৫ কোটি ডলারের সহায়তা

    শক্তিশালী ভূমিকম্পে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় শতাধিক মানুষের মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্র সোমবার দেশটির জন্য ১ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের জরুরি সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছে, ‘আমরা কলম্বিয়ার জনগণের সঙ্গে প্রার্থনায় একাত্ম এবং প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েলাকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত।’

    ওয়াশিংটনের সমর্থনপুষ্ট এই নেতার কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার তিন দিন পর যুক্তরাষ্ট্র এ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে হামের প্রকোপ : টিকা কমাচ্ছেন ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রে হামের প্রকোপ : টিকা কমাচ্ছেন ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্দেশে স্বাক্ষর করেছেন, যেখানে শিশুদের জন্য কম টিকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে এবং মাম্পস, হাম ও রুবেলা (এমএমআর) টিকাগুলো আলাদা করে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

    সোমবার (১০ আগস্ট) ট্রাম্প বলেন, আজ যেসব টিকা দিতে হয়, কয়েক দশক আগে এর মাত্র একটি ক্ষুদ্র অংশ দেওয়া হতো শিশুদের। সেই সময় মানুষ অনেক বেশি সুস্থ ছিল এবং অবশ্যই বর্তমানে যে উচ্চ হারে অটিজম দেখা যাচ্ছে, তা ছিল না।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই এমএমআর টিকার নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছেন। তবে একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই টিকা এবং অটিজমের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই।

    এই নির্দেশে আরও সুপারিশ করা হয়েছে যে, শিশুদের জন্য টিকার সংখ্যা আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস বা এএপি-এর বর্তমান সুপারিশকৃত ১৮টি থেকে কমিয়ে ১১টি করা হোক।

    ট্রাম্পের এই আদেশটি একটি নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করে, কোনো বাধ্যতামূলক নির্দেশ হিসেবে নয়। কারণ স্কুলে উপস্থিতির জন্য প্রয়োজনীয় টিকার বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবর্তে রাজ্য পর্যায়ে নির্ধারণ করা হয়।

    ওভাল অফিসে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসন শিশুদের জন্য ‘সবচেয়ে গুরুতর ও বিপজ্জনক রোগের বিরুদ্ধে মাত্র ১১টি মূল টিকাদান’ সুপারিশকে স্বীকৃতি দিচ্ছে।

    এই নির্দেশ অনুযায়ী সব শিশুর জন্য সুপারিশকৃত টিকাগুলো হলোÑ হাম, মাম্পস, রুবেলা, ডিপথেরিয়া, টিটেনাস, হুপিং কাশি, পোলিও, হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ বি, নিউমোকক্কাল রোগ, হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস এবং ভ্যারিসেলা বা চিকেন পক্স।

    ট্রাম্প বলেন, আমরা সেগুলো কমাচ্ছি। বিষয়টি শুধু এই নয় যে আপনি কম টিকা, অথবা যেমন বলা হয়, কম ‘সুঁইয়ের খোঁচা’ দিচ্ছেন; বরং সেগুলো চিকিৎসকের কাছে বার বার গিয়েই দেওয়া হচ্ছে।

    প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দেন যে এমএমআর টিকা একসঙ্গে দেওয়া হলে তা ‘বেশ প্রাণঘাতী’ হতে পারে। তিনি এটিকে একটি শিশুর শরীরে এক বোতল সোডা ঢেলে দেওয়ার সঙ্গে তুলনা করেন।

    একজন সাংবাদিক ‘প্রাণঘাতী’ দাবির প্রমাণ জানতে চাইলে ট্রাম্প বললেন, আমি যা শুনেছি, কিছু লোক বলে যে বিষয়টি সেরকমই।

    সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশান (সিডিসি)-এর মতে, ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এমএমআর টিকার কারণে জ্বরজনিত খিঁচুনির খুব সামান্য ঝুঁকি থাকে। যাদের গুরুতর অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার মতো স্বাস্থ্যগত সমস্যা রয়েছে, তাদের টিকা নেওয়ার আগে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সাথে পরামর্শ করার উপদেশ দেওয়া হয়।

    সংস্থাটি জানায়, যারা এমএমআর টিকা নেন, তাদের বেশিরভাগেরই এতে কোনো গুরুতর সমস্যা হয় না এবং এই টিকা গ্রহণ করা হাম, মাম্পস বা রুবেলা হওয়ার চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকার মধ্যে বেশি সময়ের ব্যবধান রাখলে শিশুরা সেই সময়ের মধ্যে রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে, অথবা একাধিকবার টিকা নিতে যাওয়ার প্রয়োজন হওয়ায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট মিস করার আশঙ্কা বাড়ে।

    সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসির মতে, সমন্বিত এমএমআর টিকাকে তিনটি পৃথক টিকায় ভাগ করার কোনো উপকারিতা আছে, এমন কোনো প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

    ট্রাম্পের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের (এইচএইচএস) সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র বলেছেন, প্রস্তাবিত পরিবর্তনের লক্ষ্য অভিভাবকদের পছন্দের সুযোগ দেওয়া, শিশুদের টিকার প্রাপ্যতা বন্ধ করা নয়। ২০২৫ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কেনেডি টিকা-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ পরিবর্তন ও শিথিল করার চেষ্টা করে আসছেন।

    গত সপ্তাহে সিএনএনের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন অনুষ্ঠানে ডানা ব্যাশের সঙ্গে ২০ মিনিটের এক উত্তেজনাপূর্ণ সাক্ষাৎকারে কেনেডি বলেন, তিনি কখনোই এমএমআর টিকার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি।

    ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেছেন, এই নির্দেশ কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের শিশুরা আগের টিকাদান সূচির অধীনে সুপারিশকৃত ৭২টি ডোজের তুলনায় অনেক কম টিকা পাবে।

    তবে টিকা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংখ্যা অতিরঞ্জিত। কারণ এতে এমএমআর-এর মতো সমন্বিত টিকাকে একাধিক ইনজেকশন হিসেবে গণনা করা হয়েছে এবং বার্ষিক ফ্লু ও কোভিড-১৯ টিকাও ধরে নেওয়া হয়েছে।

    ফেডারেল সরকারের এই নতুন সুপারিশ বাস্তবায়নের ক্ষমতা নেই। বিদ্যালয়ে উপস্থিতির জন্য যেসব টিকা বাধ্যতামূলক, সেগুলো রাজ্য পর্যায়ে নির্ধারিত হয়।

    আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের প্রেসিডেন্ট ডা. অ্যান্ড্রু রেসিন ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশকে ‘বিপজ্জনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এমন এক সময়ে এটি এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্রে হামের সংক্রমণ ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্বজুড়েও হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। টিকা দিতে দেরি করা বা বাদ দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে যখন হামের বিস্তার অব্যাহত রয়েছে এবং শিশুরা স্কুলে ফিরে যাচ্ছে।

    রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডিও সোমবার ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের সমালোচনা করে একে ‘ভুল’ বলে আখ্যা দেন। চিকিৎসক ক্যাসিডি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, এই পরিবর্তনগুলো করার মতো প্রয়োজনীয় দক্ষতা প্রেসিডেন্টের নেই। টিকা অত্যন্ত নিরাপদ। টিকা কার্যকর। টিকা অটিজমের কারণ নয়।

    এই আইনপ্রণেতা অভিভাবকদের আহ্বান জানান, ভুল তথ্যসম্বলিত একটি নির্বাহী আদেশের বদলে টিকার বিষয়ে আপনার সন্তানের শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ শুনুন।

    বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যদি অটিজমের সঙ্গে শিশুদের টিকার সম্পর্ক রয়েছে এমন অগ্রাহ্য করা ধারণার কারণে অভিভাবকেরা সন্তানদের টিকা না দেন, তাহলে হামের মতো রোগ আবার ফিরে আসার ঝুঁকি তৈরি হবে। একাধিক গবেষণায় এমএমআর টিকা এবং অটিজমের মধ্যে কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

    ডেনমার্কে ২০১৯ সালে একটি উচ্চমানের গবেষণা পরিচালিত হয় ছয় লাখ ৫৭ হাজার ৪৬১ শিশুর ওপর। এতে বলা হয়, তথ্য-উপাত্ত এমএমআর টিকা অটিজম সৃষ্টি করে বা অটিজমের কারণ হতে পারে এমন ধারণা এই গবেষণা সমর্থন করে না।

    নিজেদের ওয়েবসাইটে যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসি সুপারিশ করেছে যে শিশুদের এমএমআর সমন্বিত টিকার দুটি ডোজ দেওয়া উচিত। প্রথম ডোজ ১২ থেকে ১৫ মাস বয়সে এবং দ্বিতীয় ডোজ চার থেকে ছয় বছর বয়সের মধ্যে।

    এএপি’র মতে, যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের কত ঘন ঘন এবং কতগুলো টিকা দেওয়া হবে, তা নির্ভর করে—কোন সময়ে টিকাগুলো তাদের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সবচেয়ে ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারবে এবং কোন সময়ে তারা নির্দিষ্ট কিছু রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি থাকে।

    এএপি বলছে, সুপারিশকৃত টিকাদান বিলম্বিত করা বা বাদ দেওয়ার কোনো চিকিৎসাগত কারণ নেই।

    ট্রাম্পের নির্দেশে টিকায় ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়ামের বিকল্প খোঁজার এবং সেসব বিকল্প আরও নিরাপদ ও কার্যকর কি না তা পরীক্ষা করার কথাও বলা হয়েছে।

    এটি এমন দাবির পর এসেছে যে টিকায় থাকা অ্যালুমিনিয়াম লবণ অটিজম, অন্যান্য স্নায়বিক বিকাশজনিত অবস্থা বা শিশুদের গুরুতর স্বাস্থ্যসমস্যার কারণ হয়। এএপি এসব দাবিকে ‘দীর্ঘদিনের একটি গুজব’ বলে উল্লেখ করেছে এবং বলেছে, গবেষণায় টিকায় থাকা অতি অল্প পরিমাণ অ্যালুমিনিয়াম লবণের সঙ্গে কোনো উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

    মাটি, পানি ও খাদ্যে স্বাভাবিকভাবেই পাওয়া যায় এমন অল্প পরিমাণ অ্যালুমিনিয়াম লবণ বহু দশক ধরে কিছু টিকায় ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

    এএপি-এর মতে, এর ফলে টিকার কম পরিমাণ এবং কম সংখ্যক ডোজ প্রয়োজন হয়।

  • বন্যাবিধ্বস্ত বিপর্যস্ত মানুষের পাশে ভূমি, নিলেন বিশেষ উদ্যোগ

    বন্যাবিধ্বস্ত বিপর্যস্ত মানুষের পাশে ভূমি, নিলেন বিশেষ উদ্যোগ

    চারদিকে শুধু পানি। যেখানে ছিল রাস্তা, সেখানেও এখন বন্যার স্রোত। রাত গভীর হলে সেই পানির ওপরে নেমে আসে ঘন অন্ধকার। বিদ্যুৎহীন সেই রাতগুলোতে দুর্গত মানুষের ভরসা হয়ে উঠেছে ছোট্ট এক টুকরো আলো। সেই আলো পৌঁছে দিতে এবার বন্যাবিধ্বস্ত আসামের মানুষের কাছে ছুটে গেলেন বলিউড অভিনেত্রী ভূমি পেডনেকর।

    ‘ভারত ডিজাস্টার রিলিফ ফাউন্ডেশন’-এর সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকায় গিয়ে দুর্গত পরিবারগুলোর হাতে খাবার, প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও সৌরবাতি তুলে দিয়েছেন অভিনেত্রী। শুধু ত্রাণসামগ্রী বিতরণেই থেমে থাকেননি, কথা বলেছেন দুর্গত মানুষের সঙ্গে, কাছ থেকে দেখেছেন তাদের দুর্ভোগ ও কঠিন বাস্তবতা। সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে সেই অভিজ্ঞতার একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন ভূমি।

    রাতের অন্ধকারে গাড়িতে করে বন্যাবিধ্বস্ত এলাকায় ঢুকতে দেখা যায় তাঁকে। চারপাশে তখন শুধু পানি। গুগল ম্যাপে রাস্তা দেখালেও বাস্তবে সেখানে রাস্তার কোনো অস্তিত্ব নেই। পরিস্থিতি দেখে বিস্মিত ভূমিকে বলতে শোনা যায়, ‘গুগল ম্যাপে দেখাচ্ছে এখানে রাস্তা রয়েছে, কিন্তু চারদিকে শুধু পানি।’ এরপর বন্যাকবলিত পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছে তাদের হাতে তুলে দেন খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী, পাশাপাশি বিতরণ করেন সৌরবাতি।

    রাত তখন প্রায় ১১টা, অথচ চারপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানিতে ডুবে। ভূমি জানান, গত তিন সপ্তাহ ধরে পানির স্তরে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি, বিদ্যুতের সংকটও কাটেনি। ফলে অন্ধকারে বসবাস করা পরিবারগুলোর জন্য সৌরবাতি হয়ে উঠেছে অত্যন্ত জরুরি। শুধু আলো নয়, এই সৌরবাতি দুর্গত মানুষের নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত বলে মনে করেন ভূমি। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারে সাপসহ বিভিন্ন সরীসৃপের ভয় থাকে। তাই ঘরবাড়ি কিংবা অস্থায়ী আশ্রয়ে থাকা মানুষদের জন্য সামান্য আলোও হয়ে উঠছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ভূমির কথায়, ‘পরিস্থিতি খুবই কঠিন। এই পরিস্থিতি বুঝতে হলে আপনাদের এখানে সশরীরে আসতে হবে, নিজের চোখে দেখতে হবে।’ ভিডিওটি প্রকাশ করে ভূমি লিখেছেন, স্বেচ্ছাসেবকরা দুর্গত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন।

    এটাই অবশ্য আসামে ভূমির প্রথম ত্রাণকাজ নয়। এর আগেও বন্যাকবলিত এলাকায় হাঁটুজলে নেমে দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে দেখা গেছে তাঁকে।

    তারকার ব্যস্ত জীবন থেকে কিছুটা সময় বের করে বিপর্যস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে ভূমি পেডনেকর যেন মনে করিয়ে দিলেন– দুর্যোগের সময় সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই সবচেয়ে বড় মানবিকতা। ক্যামেরার সামনে অভিনয়ের পাশাপাশি বাস্তব জীবনে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ, তাই আলাদা করে নজর কেড়েছে।

  • ইরানি এক অপরাজেয় শক্তি: আরাগচি

    ইরানি এক অপরাজেয় শক্তি: আরাগচি

    ইরান বিশ্বের কাছে নিজেদের একটি ‘কঠোর ও অপরাজেয় শক্তি’ হিসেবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে তার এই বক্তব্যের কথা জানানো হয়।

    এক টেলিভিশন সংবাদ সম্মেলনে আরাগচি বলেন, ‘আমি বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এই কথা বহুবার শুনেছি যে—‘আপনারা ইরানিরা এক অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়েছেন; পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘কেউ ভাবতেও পারেনি যে ইরান এভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে।’ এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পেছনে ইসরাইল, পশ্চিমা বিশ্ব এবং আরও কিছু দেশের পূর্ণ সমর্থন ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

  • একমি ল্যাবরেটরিজের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসনিম সিনহা

    একমি ল্যাবরেটরিজের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসনিম সিনহা

    শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ খাতের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তাসনিম সিনহা।

    কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ জানিয়েছে, ১০ আগস্ট থেকে তাঁর এই নিয়োগ কার্যকর হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    ডিএসই জানিয়েছে, একমি ল্যাবরেটরিজের পরিচালনা পর্ষদের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাসনিম সিনহাকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

    কোম্পানি কর্তৃপক্ষের আশা, তাসনিম সিনহার নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতা একমি ল্যাবরেটরিজের ব্যবসার ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি, গুণগত মানের মানোন্নয়ন আর দেশি ও আন্তর্জাতিক বাজারে তার অবস্থান আরও সুসংহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি একমি ল্যাবরেটরিজ ২০১৬ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। শেয়ারবাজারে আজ একমি ল্যাবরেটরিজের শেয়ার সর্বশেষ লেনদেন হয় ৮৩ টাকা ৪০ পয়সা দরে।

    গত বছরের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য কোম্পানিটি ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। সর্বশেষ অনিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৯ টাকা ৪০ পয়সা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যা ছিল ১১ টাকা ৪৮ পয়সা।

    বর্তমানে শেয়ারবাজারে একমি ল্যাবরেটরিজের মোট শেয়ারের সংখ্যা ২১ কোটি ১৬ লাখ ১ হাজার ৭০০। গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত তথ্য অনুসারে, একমি ল্যাবরেটরিজের মোট শেয়ারের ৪০ দশমিক ৩৯ শতাংশ উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। ৩০ দশমিক ৫০ শতাংশ শেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে, ২৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারী আর শূন্য দশমিক শূন্য ২ শতাংশ শেয়ার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে।

  • পুঁতে রাখা ৫ লাখ টাকা এক বছর পর যা হলো

    পুঁতে রাখা ৫ লাখ টাকা এক বছর পর যা হলো

    ভারতের রাজস্থানে চুরি ঠেকাতে জমিতে ৫ লাখ টাকা পুঁতে রেখেছিলেন এক কৃষক। কিন্তু কোথায় টাকা পুঁতে রেখেছেন, তা পরে ভুলে যান তিনি। প্রায় এক বছর পর সেই টাকা খুঁজে পেলেও তখন আর কিছু করার ছিল না। উইপোকায় নষ্ট হয়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে পুরো টাকাই।

    জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে নিজের একটি জমি বিক্রি করে ৫ লাখ টাকা পেয়েছিলেন ওই কৃষক। সেই অর্থ দিয়ে বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল তার। তবে বাড়িতে টাকা রাখলে চুরি হয়ে যেতে পারে কিংবা অপ্রয়োজনীয় খরচ হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে তিনি টাকাগুলো একটি পলিথিনের ব্যাগে ভরে জমিতে গর্ত করে পুঁতে রাখেন।

    কিন্তু মদ্যপানের অভ্যাস ও ভুলে যাওয়ার কারণে ঠিক কোন জায়গায় টাকা রেখেছিলেন, তা মনে করতে পারেননি তিনি। একাধিকবার খোঁজ করেও টাকার সন্ধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত স্ত্রী ও ছেলেদের বিষয়টি জানান।

    প্রথমে পরিবারের সদস্যরা তার কথা বিশ্বাস করতে পারেননি। পরে জমির বিভিন্ন জায়গায় খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করেন তারা। তবে বেশ কিছু চেষ্টা করেও টাকার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

    এরপর বর্ষা মৌসুমে জমিতে চাষাবাদের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় প্রায় এক বছর পর মাটির নিচ থেকে ওই পলিথিনের ব্যাগটি বেরিয়ে আসে। তবে রাতের অন্ধকারে বিষয়টি কারও নজরে পড়েনি।

    পরদিন সকালে জমির বেড়া মেরামতের সময় কৃষকের স্ত্রী ও ছেলে ব্যাগটি দেখতে পান। ব্যাগ খুলতেই তারা হতবাক হয়ে যান। ভেতরে ছিল সেই ৫ লাখ টাকা, যা এক বছর আগে জমিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল। তবে ততদিনে উইপোকায় নোটগুলো ছিঁড়ে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে।

    নষ্ট হয়ে যাওয়া নোটের কোনো মূল্য উদ্ধার করা যায় কি না, সেই আশায় পরিবারের সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত নোটগুলো সংগ্রহ করে স্থানীয় স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (এসবিআই) একটি শাখায় যান। কিন্তু নোটগুলোর অবস্থা দেখে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সেগুলো গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়।

    পরে তারা জেলার এসবিআইয়ের প্রধান শাখায় গেলেও সেখান থেকেও তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে সঞ্চিত ৫ লাখ টাকা ফিরে পাওয়ার আশা নিয়ে শুরু করা পরিবারের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত হতাশাতেই গড়ায়।

  • হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে ৬টিতে

    হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে ৬টিতে

    হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে গতকাল ছয়টিতে নেমে এসেছে। তবে গত ১০ দিনের গড় হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ১১টি জাহাজ এ জলপথ দিয়ে চলাচল করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা কমে আসার মধ্যেই জাহাজ চলাচলে এ পতন দেখা গেছে। খবর রয়টার্স।

    জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্যানুযায়ী, আজ গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৪টা ২০ মিনিট পর্যন্ত চারটি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে দুটি ছিল খালি তেলজাত পণ্যবাহী ট্যাংকার। অন্যদিকে, দুটি জাহাজ প্রণালি দিয়ে বেরিয়ে গেছে। এর একটি ছিল এলপিজি বহনকারী ছোট ট্যাংকার এবং অন্যটি পরিশোধনের পর থাকা অবশিষ্ট ভারি জ্বালানি তেল (রেসিডুয়াল ফুয়েল) বহন করছিল।

    এদিকে সোমবার লোহিত সাগরের বাব এল-মানদেব প্রণালি দিয়ে ২৫টি জাহাজ চলাচল করেছে। গত ১০ দিনের দৈনিক গড় প্রায় ২৪টি জাহাজের তুলনায় এই সংখ্যা মোটামুটি অপরিবর্তিত রয়েছে বলে কেপলারের তথ্যে দেখা গেছে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল শান্তিচুক্তির বিষয়ে ইরানের দেয়া শর্তের জবাবে নিজেদের দাবিগুলো তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করেছেন, বিভিন্ন যুদ্ধ, হামলা ও বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তিদের জন্য ইরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

    সম্প্রতি আবারো যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ ও ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি তুলেলে তেহরান। এর পর ট্রাম্প এ প্রস্তাব দেন। ইরানের দাবিগুলো জুনে স্বাক্ষরিত একটি প্রাথমিক শান্তিচুক্তির শর্তের সঙ্গে অনেকটাই সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তবে ওই চুক্তি পরে ভেঙে যায়।

    ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প বারবার অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। কখনো তিনি সংঘাত আরো বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন, আবার কখনো বলেছেন, শান্তিচুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমাবে ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমাবে ইরান

    ‘মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও কেন্দ্রগুলোতে হামলায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উচ্চ কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে, যা হবে পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।’ এসব ব্যাখ্যা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রখ্যাত তত্ত্ববিদ ও শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন মিয়ারশাইমার।

    মিয়ারশাইমার আরও বলেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার কার্যকর কোনো সমাধান যুক্তরাষ্ট্র বা অঞ্চলের অন্য কোনো দেশের কাছে নেই। বাস্তবতা হলো, এগুলোর আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব ঘাঁটিতেই মারাত্মক ক্ষতিসাধন করেছে বা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছে।

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন বাহিনী পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ঘাঁটিগুলো থেকে সরে গিয়ে প্রথমে জর্ডানে, সেখান থেকে ইসরাইলে (অধিকৃত ভূখণ্ডে) এবং শেষ পর্যন্ত ইউরোপে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে।

    চলমান সংঘাত শেষ হওয়ার পরও ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ক্রমাগত হুমকি এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন বাহিনীর আয়োজক হতে অনীহার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের এই অঞ্চলে ফিরে আসার সম্ভাবনা কম।

    মিয়ারশাইমারের মতে, বর্তমান মার্কিন নীতি তাদের একটি ‘বিধ্বংসী পরাজয়’ নিশ্চিত করেছে। ট্রাম্পের হাতে এখন কোনো ‘কার্ড’ বা কৌশলগত সুবিধা নেই এবং তিনি এই যুদ্ধে হেরে গেছেন। ইরান তার ভৌগোলিক সুবিধা, সামরিক কৌশল এবং মিত্রদের (রাশিয়া ও চীন) সহায়তায় আমেরিকার চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধকে সফলভাবে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে।

  • শেখ হাসিনার ছায়া পেরিয়ে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক কি নতুন পথে?

    শেখ হাসিনার ছায়া পেরিয়ে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক কি নতুন পথে?

    ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে আবারও অস্বস্তির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক। গত সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে হাসিনার দেওয়া বক্তব্য দুদেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

    শেখ হাসিনা, তার ছেলে এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা সংবাদ সম্মেলনে ২০২৪ সালের আগস্টে হওয়া গণঅভ্যুত্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। উল্লেখ্য যে, ওই গণঅভ্যুত্থানেই হাসিনা ও আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হয়।

    তারা দাবি করেন, একটি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক গোষ্ঠী নিজেদের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ইসলামপন্থি উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসীরা অবাধে কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ পাচ্ছে।

    প্রত্যাশিতভাবেই, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের এসব বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের নয়াদিল্লিতে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ভারত সরকারেরও সমালোচনা করেছে ঢাকা।

    বাংলাদেশ সরকার ভারতকে শেখ হাসিনাকে দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোরও আহ্বান জানিয়েছে। বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। তার প্রত্যর্পণের দাবি সোমবার ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকেও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

    এদিকে, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে আসার ইঙ্গিত দেওয়ার পর নয়াদিল্লির জন্য বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। ভারতের নীতিতে এখন একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। একদিকে পুরোনো মিত্রকে পরিত্যাগ করা যাবে না, অন্যদিকে শেখ হাসিনাকেও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর কোনো ধরনের ভেটো দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

    এই ভারসাম্য বজায় রাখা ভারতের জন্য সহজ হবে না। তবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে এমন স্পর্শকাতর সময়ে আরও সতর্ক ও কৌশলী কূটনীতি প্রয়োজন।

    শেখ হাসিনার সবচেয়ে কট্টর সমালোচকদের অনেকেই আবার ভারতবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত। তাদের অভিযোগ, শেখ হাসিনার শাসনামলে সংঘটিত নানা অনিয়ম ও দমন-পীড়নের পেছনে ভারত এবং শেখ হাসিনার প্রতি ভারতের দীর্ঘদিনের সমর্থন দায়ী।

    তাই শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবিতে যারা সোচ্চার, তাদের অনেকেই তাকে ভারতের ঘনিষ্ঠ বা ভারতের ‘প্রক্সি’ হিসেবে দেখেন—এ বিষয়টি নয়াদিল্লি ভালোভাবেই জানে। ফলে ভারত তাদের সঙ্গে আপস করতে পারে না। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে তাদের সহজেই ভারতের অংশীদারে পরিণত করা সম্ভব হবে—এমন কোনো ধারণাও ভারতের থাকা উচিত নয়।

    তবে একই সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কও কোনোভাবেই নষ্ট করার সুযোগ নেই।

    আশার বিষয় হলো, গত কয়েক মাসের ঘটনাপ্রবাহ দেখিয়েছে যে সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি পথ রয়েছে। তারেক রহমানের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুদেশের সম্পর্ককে নতুন করে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। এরপর উভয় দেশের সরকারই সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে।

    তবে এখন সেই অগ্রগতি অনেকটাই নির্ভর করছে ঢাকা ও নয়াদিল্লি শেখ হাসিনার দীর্ঘ ছায়া থেকে বেরিয়ে এসে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও ভবিষ্যতমুখী করতে পারে কি না, তার ওপর।

    দুদেশ যদি এভাবে এগোতে পারে, তাহলে সীমান্তের দুই পাশের উত্তেজনাও কমতে পারে। এই মুহূর্তে কূটনৈতিক জটিলতা এড়াতে স্পষ্ট অবস্থান, সংযম এবং শান্তিপূর্ণ আলোচনাই সবচেয়ে জরুরি।

  • ১৭০০ ফিলিস্তিনির লাশ আটকে রেখেছে ইসরাইল

    ১৭০০ ফিলিস্তিনির লাশ আটকে রেখেছে ইসরাইল

    ভবিষ্যতে বন্দিবিনিময়ের সম্ভাবনা বিবেচনায় প্রায় ১ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনির লাশ ইসরাইল ধরে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইসরাইলের দৈনিক সংবাদপত্র ‘হারেৎস’ মঙ্গলবার দুই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি ইসরাইলের নিরাপত্তাকাঠামোর অভ্যন্তরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের প্রধান ডেভিড জিনি ভবিষ্যতে কোনো ইসরাইলি নাগরিক আটক বা নিখোঁজ হলে সম্ভাব্য বন্দিবিনিময়ের জন্য ফিলিস্তিনিদের মরদেহ আটকে রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীও এই অবস্থানকে সমর্থন করছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে একটি ফিলিস্তিনি অধিকার সংগঠন জানিয়েছিল, ইসরাইল গাজায় নিহত প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ সেদে তেইমান সামরিক স্থাপনায় আটকে রেখেছে।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে অন্তত ১ হাজার ২৫৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি হামলায় ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়েছে।

    ফিলিস্তিনিদের মরদেহ আটকে রাখার বিষয়টি নিহতদের পরিবারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে গভীর মানবিক ও মানসিক সংকটের কারণ হয়ে আছে। স্বজনদের মরদেহ ফেরত দেওয়া এবং যথাযথ ধর্মীয় ও পারিবারিক রীতিতে দাফনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে বিভিন্ন ফিলিস্তিনি অধিকার সংগঠন।

  • কনটেইনারে লুকিয়ে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প!

    কনটেইনারে লুকিয়ে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প!

    গত ৮ জুলাই তুরস্কের আংকারায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠেন। কিন্তু পরে তাকে ক্যাটারিং কনটেইনারের ভেতরে করে ছোট একটি সি-৩২এ উড়োজাহাজে তুলে নেওয়া হয়।

    ওই ছোট উড়োজাহাজটি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে তুরস্ক থেকে তাকে নিয়ে ব্রিটেনে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে এসব তথ্য জানান।

    কয়েকটি মার্কিন গণমাধ্যম জানায়, ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে কাতার থেকে পাওয়া নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানে করে আংকারায় গিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু প্রাণনাশের হুমকির কারণে ছোট একটি সামরিক পরিবহন বিমানে করে তুরস্ক ছাড়েন তিনি।

    মূলত ইরানি সমর্থক গোষ্ঠীর হুমকির কারণেই শেষ মুহূর্তে তাকে উড়োজাহাজ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। আংকারা থেকে ফেরা সেই পুরোনো উড়োজাহাজে থাকা সাংবাদিকদের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

    ওয়াশিংটন পোস্টের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাম্প উড়োজাহাজে ওঠার ঠিক কয়েক মিনিট পর পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ান থেকে একটি ক্যাটারিং ট্রাক নামানো হচ্ছে। ট্রাকটি সেখান থেকে দূরে থাকা ছোট সি-৩২এ উড়োজাহাজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

    উড়োজাহাজ দুটি যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাম্প বড় উড়োজাহাজ থেকে নেমে নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানের দিকে যাচ্ছেন। তবে তিনি কীভাবে পুনরায় বড় উড়োজাহাজে ফিরে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানের মতো এই নতুন উড়োজাহাজে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা, এমনকি ‘ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা’ও নেই।

    তবে হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশন ডিরেক্টর স্টিভেন চুং নতুন উড়োজাহাজের নিরাপত্তার সপক্ষে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান একটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তির উড়োজাহাজ। এটি উচ্চমানের নিরাপত্তাব্যবস্থায় সজ্জিত, যা প্রেসিডেন্ট ও তার কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

  • ইরানকে চাপে ফেলতে নতুন কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের

    ইরানকে চাপে ফেলতে নতুন কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের

    ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ও কূটনৈতিক উদ্যোগে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার পর ফের কঠোর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশলে ফিরছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর পরিবর্তে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা এবং নৌ অবরোধের মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতিকে চাপে রাখার পথ বেছে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

    ইরানের অর্থনীতিতে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কতটা গভীর হয়েছে—এমন পরিসংখ্যান ও তথ্য ট্রাম্পের সামনে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তাদের ধারণা, নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার মাধ্যমে।

    তেহরানকে পরমাণু কর্মসূচি ও অন্যান্য ইস্যুতে ছাড় দিতে বাধ্য করা সম্ভব না হওয়ায় সামরিক হামলার পথ বেছে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তাতেও প্রত্যাশিত রাজনৈতিক ফল না আসায় কূটনৈতিক আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি অন্তর্বর্তী শান্তি সমঝোতার চেষ্টা হলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতপার্থক্য কাটেনি।

    সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। নতুন করে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে আমি এখনই আগ্রহী নই।’ ইরানও জানিয়ে দিয়েছে, শুধু অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই মার্কিন কৌশলকে ব্যর্থতার লক্ষণ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

    হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ আরও জটিল হয়েছে। জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই পথটির ওপর দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

    প্রণালিটি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি করেছে ইরান। ট্রাম্প এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এর ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে এবং তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

    অন্যদিকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করছে। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতার ব্যয়, জ্বালানির দাম এবং মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের ওপর চাপ—সবকিছু মিলিয়ে ওয়াশিংটনের জন্য পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারে ঘাটতি তৈরি হওয়ার বিষয়েও সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান অর্থনৈতিক চাপের কৌশল মূলত সামরিক সংঘাতের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ ইরানকে আলোচনায় বসাতে না পারলে ওয়াশিংটনের সামনে আবার সামরিক পদক্ষেপের প্রশ্নটি ফিরে আসতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের।

  • যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ভিয়েতনামে ইসরাইলি সেনার বিরুদ্ধে মামলা

    যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ভিয়েতনামে ইসরাইলি সেনার বিরুদ্ধে মামলা

    গাজা উপত্যকা ও দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা এবং গণহত্যায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে এক ইসরাইলি রিজার্ভ সেনার বিরুদ্ধে ভিয়েতনামে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বেলজিয়ামের ব্রাসেলসভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিন্দ রজব ফাউন্ডেশন’ (এইচআরএফ) ভিয়েতনাম কর্তৃপক্ষের কাছে এই অভিযোগ দায়ের করে। বার্তা সংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    অভিযুক্ত সেনার নাম মাতান জেরাফি। তিনি ইসরাইলি সংগঠন ‘ইম তিরজু’-র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং ইসরাইলি বাহিনীর ৭৬৯তম ব্রিগেডের ৯২০তম পদাতিক ব্যাটালিয়নে দায়িত্বরত ছিলেন।

    এইচআরএফ এক বিবৃতিতে জানায়, জেরাফি গাজা এবং দক্ষিণ লেবাননে বেসামরিক সম্পত্তি ধ্বংসে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা নিজেই নথিবদ্ধ করেছেন। তথ্যপ্রমাণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারির মধ্যে গাজা শহরের শুজাইয়া ও রিমাল এলাকা এবং মধ্য গাজার বুরেজ ও মাগাজি শরণার্থী শিবিরে বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসে তিনি সরাসরি অংশ নেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের অক্টোবর ও নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তাকে দক্ষিণ লেবাননে স্থানান্তরিত করা হলে সেখানেও তিনি একই ধরণের ধ্বংসযজ্ঞ চালান।

    সংস্থাটি জেরাফির বিরুদ্ধে সরাসরি এবং প্রকাশ্য গণহত্যার উসকানির অভিযোগ এনেছে। জেরাফি গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের বিতাড়িত করার পক্ষে কথা বলেছেন, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলাকে যৌক্তিক দাবি করেছেন এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশের বিরোধিতা করেছেন।

    ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪-এ তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ‘গাজার বেসামরিক নাগরিকরা হামাসের অংশ। আমাদের তাদের প্রতি দয়া করা উচিত নয়।’

    এইচআরএফ-এর মহাপরিচালক দিয়াব আবু জাহজাহ ও লিটিগেশন প্রধান নাটাচা ব্রাক ভিয়েতনামী কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তি অনুসারে জেরাফিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে তদন্ত শুরু করা হোক।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি গাজা শহরে ইসরাইলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজবের নামে এই মানবাধিকার সংস্থাটির নামকরণ করা হয়। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করতে কাজ করে যাচ্ছে এই ফাউন্ডেশনটি।

  • যুদ্ধে ইরান সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে: সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

    যুদ্ধে ইরান সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে: সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

    সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার বলেছেন, যুদ্ধে ইরান এখন সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, ইরানি নেতারা আলোচনায় তাদের অবস্থান এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অর্জিত সুবিধা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। এসপার ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

    সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসপার বলেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থায় জাহাজ চলাচল ফিরিয়ে আনার জন্য ইরানের নতুন শর্তগুলো এটাই প্রমাণ করে, ইরানি নেতারা আলোচনায় তাদের অবস্থান এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অর্জিত সুবিধা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী।

    তিনি আরো বলেন, ‘এ থেকে বোঝা যায়, তারা বিশ্বাস করে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে এবং তারা জিতছে; এবং প্রকৃতপক্ষে তারা জিতছেও। আমরা এখন এই পরিস্থিতিরই সম্মুখীন হচ্ছি।’

    এসপার আরো বলেন, নতুন শর্তগুলো প্রমাণ করে, ইরান ‘আরো সাহসী’ এবং বিশ্বে তার অবস্থান সম্পর্কে আরো আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, তেহরান এই অঞ্চলে তার প্রক্সি বাহিনী ব্যবহার করে শক্তি প্রদর্শন করছে। তার বক্তব্যের অন্য অংশে, তিনি ইরান যুদ্ধের সময় কিছু গোলাবারুদের মার্কিন মজুত হ্রাসের বিষয়ে কথা বলেন এবং বলেন যে ট্রাম্প প্রশাসন উৎপাদন বাড়িয়ে এই ঘাটতির প্রভাব কমানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু কিছু অস্ত্র তৈরি করতে দীর্ঘ সময় লাগে।

  • বিদেশে পড়াশোনার খরচ কার্ডে পরিশোধের সুযোগ

    বিদেশে পড়াশোনার খরচ কার্ডে পরিশোধের সুযোগ

    বিদেশে উচ্চশিক্ষার টিউশন ফি ও অন্যান্য অনুমোদিত শিক্ষাব্যয় পরিশোধে আন্তর্জাতিক ডেবিট, প্রি-পেইড ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, টিউশন ফি এবং অনলাইনে শিক্ষা-সংক্রান্ত বিভিন্ন অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।

    সোমবার (১০ আগস্ট) এই বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো শিক্ষার্থী অথবা তার শিক্ষাব্যয় বহনকারী ব্যক্তির নামে আন্তর্জাতিক ডেবিট, প্রি-পেইড ও ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করতে পারবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন ভর্তি প্ল্যাটফর্মে আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের চাহিদা বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের বিদেশে পড়াশোনার ব্যয় পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ করতে এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

    নতুন ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীর অনুমোদিত শিক্ষাব্যয় পরিশোধের জন্য কার্ডে লেনদেন করা অর্থ প্রচলিত ভ্রমণ কোটার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে না। অর্থাৎ বিদেশে শিক্ষার জন্য অনুমোদিত এই ব্যয় বিদ্যমান ভ্রমণসুবিধার বাইরে আলাদাভাবে বিবেচিত হবে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর নিজের নামে অথবা তার শিক্ষাব্যয় বহনকারী ব্যক্তির নামে এসব কার্ড ইস্যু করা যাবে। কার্ড ইস্যু ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে সংশ্লিষ্ট এডি ব্যাংককে।

    তবে কার্ডটি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শুধু অনুমোদিত শিক্ষা-সংক্রান্ত ব্যয় পরিশোধের জন্য ব্যবহার করা যাবে। এর বাইরে অন্য কোনো কাজে কার্ড ব্যবহার করা যাবে না।

    এছাড়া শিক্ষাব্যয় পরিশোধের সব লেনদেনের যথাযথ রেকর্ড সংরক্ষণ করতে এডি ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্ধারিত পারপাস কোড ব্যবহার করে এসব লেনদেনের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে নিয়মিতভাবে প্রতিবেদন আকারে জমা দিতে হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশে পড়তে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ও টিউশন ফি পরিশোধে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারের সুযোগ আরও বাড়বে। বিশেষ করে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা ব্যবহার করে দ্রুত অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে এই সুবিধা কাজে আসবে।

  • ‘র’ প্রধান পরাগ জৈন ঢাকায়

    ‘র’ প্রধান পরাগ জৈন ঢাকায়

    দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে সরকারি সফরে বাংলাদেশে এসেছেন ভারতের বহিঃগোয়েন্দা গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈন। এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে গতকাল দুপুরে তিনি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

    একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে এই সফরে চার সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পরাগ জৈন। তবে এই সফরের বিষয়ে কোনো দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

    পরাগ জৈন ‘র’ বা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ বা এসপিজির স্পেশাল সেক্রেটারির দায়িত্বে আছেন। ঢাকা সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন অশ্বীন মুকুন্দ কোটনিস, রাহুল নেগি এবং শৈবাল রায় চৌধুরী।

    বাংলাদেশে আসার আগে পরাগ জৈন চীন সফর করেছেন বলেও জানিয়েছে সূত্রটি।

  • কুলাউড়া সীমান্তে বাংলাদেশী নিহত : ৩৬ ঘণ্টায়ও লাশ দেয়নি বিএসএফ

    কুলাউড়া সীমান্তে বাংলাদেশী নিহত : ৩৬ ঘণ্টায়ও লাশ দেয়নি বিএসএফ

    ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কুলাউড়ার আলীনগর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশী যুবক তারা মিয়ার (২০) লাশ ফেরত দেয়নি বিএসএফ।

    সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল ৪টা পর্যন্ত নিহতের লাশ ফেরতের বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি)।

    নিহত তারা মিয়া উপজেলার মুরাইছড়া বস্তির আব্দুল মালেকের ছেলে।

    বিজিবি ও কুলাউড়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাত ৪টার দিকে আলীনগর সীমান্তের ভারতীয় অংশে মাগুরুলী এলাকায় বিএসএফের গুলিতে নিহত হন তারা মিয়া। ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও লাশ ফেরত না দেয়ায় নিহতের পরিবার সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

    এ ব্যাপারে বিজিবি আলীনগর বিওপির কোম্পানি কমান্ডার জানান, লাশ ফেরত আসার বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।

    মুরাইছড়া ক্যাম্পের কমান্ডার সাদেক জানান, বাংলাদেশী যুবক নিহত ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়।

    নিহত যুবক ভারতীয় সীমান্তে ঢুকে পড়লেও তাকে আটক না করে গুলি করে হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজিবি। এদিকে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবি দ্রুত লাশ ফেরত দেয়ার দাবি জানিয়েছে।

    কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, ভারতীয় পুলিশের পক্ষ থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত লাশ ফেরতের ব্যাপারে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

  • মক্কা চুক্তি কাগজে-কলমে লেখা শুধু কালিই !

    মক্কা চুক্তি কাগজে-কলমে লেখা শুধু কালিই !

    তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তিকে আপাতত ‘কাগজে-কলমে লেখা কালির মতো’ বলে মন্তব্য করেছেন নিরাপত্তা নীতি ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ভলফগ্যাং পুস্তাই।
    তিনি বলেছেন, সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হুতির হামলার পরও পাকিস্তানি বা তুর্কি সেনা

    এ ছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলো, বিশেষ করে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময়ও তুরস্কের কোনো সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
    এই বিশ্লেষক জোর দিয়ে বলেন, তিন দেশের কোনো একটিতে যদি বাস্তবে সেনা উপস্থিতি না থাকে, অথবা সৌদি আরবে হামলার ঘটনায় পাকিস্তানি ও তুর্কি সেনারা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত না হন, তাহলে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবে কার্যকর হবে না।

    তার মতে, মাঠপর্যায়ে সেনা মোতায়েন ও পারস্পরিক প্রতিরক্ষার বাস্তব প্রতিশ্রুতি ছাড়া এমন চুক্তি কার্যকর প্রতিরক্ষা জোটে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম।
    গত শুক্রবার মক্কায় সৌদি, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়েছে। এই চুক্তির উল্লেখযোগ্য একটি বিষয় হলো, যেকোনো এক দেশে হামলা মানে সবদেশে হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।