আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • ভারত সম্পর্কে কোন দেশের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন, কী ভাবছেন বাংলাদেশিরা

    ভারত সম্পর্কে কোন দেশের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন, কী ভাবছেন বাংলাদেশিরা

    বিশ্বের ৩৬টি দেশের গড়ে ৪৫ শতাংশ মানুষের মধ্যে ভারতকে নিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। ৪১ শতাংশ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ভারতের অনুকূলে নয়। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টার ৩৬টি দেশের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

    এ বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মে পর্যন্ত জরিপটি চালানো হয়। গবেষণাপ্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ মানুষের মধ্যে ভারত সম্পর্কে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বেশি। ইউরোপ আর লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশেও তা বাড়ছে।

    অন্যদিকে আফ্রিকার দেশগুলোর মানুষের মধ্যে মোটাদাগে ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক। আর প্রতিবেশী দেশগুলোর মানুষের মধ্যে ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি মিশ্র। যেমন শ্রীলঙ্কার বেশির ভাগ মানুষের মধ্যে ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। আবার পাকিস্তানের চিত্রটা ঠিক উল্টো। বাংলাদেশের অর্ধেকের বেশি মানুষের ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক নয়।

    পিউ রিসার্চের জরিপ অনুযায়ী, ভারত সম্পর্কে কোন দেশের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন, আসুন দেখে নিই

    উত্তর আমেরিকা

    যুক্তরাষ্ট্র থেকে জরিপে অংশ নেওয়া ৫০ শতাংশ মানুষের ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক নয়। কানাডায় এ হার ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে কানাডার ৫১ শতাংশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ শতাংশ মানুষের মধ্যে ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।

    পিউ রিসার্চ জানিয়েছে, মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ২০০৮ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের পর থেকে তা দ্রুত কমতির দিকে রয়েছে। ওই বছর ৫১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ভারতের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথা জানিয়েছিলেন।

    মূলত রিপাবলিকান ও রিপাবলিকান-সমর্থকদের তুলনায় ডেমোক্র্যাট ও ডেমোক্র্যাট-সমর্থক স্বতন্ত্রদের মধ্যে ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকার সম্ভাবনা বেশি। ৬৫ বছর ও তার বেশি বয়সী মার্কিন নাগরিকেরা ভারতের প্রতি বেশি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। আর ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এ হার ৪২ শতাংশ।

    বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রভাব সম্পর্কে জরিপে অংশ নেওয়া মার্কিন নাগরিকদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। অর্ধেকেরও বেশি (৫৪ শতাংশ) বলেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় তা আগের মতোই আছে। ৩০ শতাংশ বলেছেন, ভারতের বৈশ্বিক প্রভাব জোরদার হয়েছে। আর ১৩ শতাংশের মতে, ভারতের প্রভাব দুর্বল হয়ে পড়ছে।

    ইউরোপ

    ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের মানুষের মধ্যে ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বেশ ভালো। দেশটি থেকে জরিপে অংশ নেওয়া ৭১ শতাংশ মানুষ ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে ২৪ শতাংশের।

    অন্যদিকে জার্মানির ৬৩ শতাংশ, ইতালির ৫৬ শতাংশ, সুইডেনের ৫৫ শতাংশ, ফ্রান্সের ৫০ শতাংশ, নেদারল্যান্ডসের ৪৯ শতাংশ, হাঙ্গেরির ৪০ শতাংশ, গ্রিসের ৩৯ শতাংশ এবং পোল্যান্ড ও স্পেনের ৩৭ শতাংশ মানুষের ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক।

    আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য

    ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বেশ মধুর। দেশটির ৬০ শতাংশ মানুষ ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে ২৯ শতাংশের। অধিকৃত পশ্চিম তীর বা পূর্ব জেরুজালেমে অধিবাসীদের মাত্র ১৮ শতাংশের ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক।

    তুরস্ক থেকে জরিপে অংশ নেওয়া ৭২ শতাংশের ভারত সম্পর্কে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। দেশটির মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষ ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন।

    দক্ষিণ আফ্রিকার ৩৮ শতাংশ ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক এবং ৪৬ শতাংশ নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। অন্যদিকে কেনিয়ার ৭১ শতাংশ, ঘানার ৫০ শতাংশ, নাইজেরিয়ার ৪৭ শতাংশ মানুষের ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বেশ ইতিবাচক।

    লাতিন আমেরিকা

    ব্রাজিলের ৩৭ শতাংশ, কলম্বিয়ার ৩৬ শতাংশ, মেক্সিকোর ৩০ শতাংশ, পেরুর ২৯ শতাংশ, চিলির ২৫ শতাংশ ও আর্জেন্টিনার ২৪ শতাংশ মানুষের মধ্যে ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।

    এশিয়া–ওশেনিয়া

    জাপান ও থাইল্যান্ড থেকে জরিপে অংশ নেওয়া ৫৫ শতাংশ মানুষের ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বেশ ইতিবাচক। সিঙ্গাপুরে এই হার ৫১ শতাংশ। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার ৫০ শতাংশ, ফিলিপাইনের ৪৯ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার ৪৪ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ার ৪৪ শতাংশ এবং মালয়েশিয়ার ৪১ শতাংশ মানুষের ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।

    প্রতিবেশী দেশগুলো

    ভারত সম্পর্কে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মাত্র তিনটিতে জরিপ করা হয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে ঐতিহাসিক বৈরিতা রয়েছে। এর প্রভাব দেখা গেছে জরিপেও। জরিপে অংশ নেওয়া মাত্র ৭ শতাংশ পাকিস্তানি বলেছেন, ভারত সম্পর্কে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক। অন্যদিকে ৯১ শতাংশ পাকিস্তানির ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক।

    শ্রীলঙ্কায় চিত্রটা উল্টো। দেশটির মাত্র ১১ শতাংশ মানুষের ভারত সম্পর্কে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। অন্যদিকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথা জানিয়েছেন ৭৯ শতাংশ মানুষ। ২০২৪ সালে তা ৬৫ শতাংশ ছিল।

    বাংলাদেশের অর্ধেকের বেশি (৫১ শতাংশ) মানুষের ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক নয়। আর ৪২ শতাংশ ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথা জানিয়েছেন। পিউ রিসার্চ জানিয়েছে, এর আগে বাংলাদেশে সর্বশেষ ২০২৪ সালে একটি জরিপ চালানো হয়েছিল। তখনকার তুলনায় ভারতের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির হার ১৫ শতাংশ কমেছে। এমনকি ওই সময় জরিপে অংশ নেওয়া ২৪ শতাংশ মতামত দিতে চাননি। সেটাও এবারের জরিপে মাত্র ৭ শতাংশে নেমে এসেছে।

    মতাদর্শভেদে দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা

    পিউ রিসার্চ জানিয়েছে, কয়েকটি দেশে রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মতামতে ভিন্নতা রয়েছে। যেমন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ডানপন্থীদের তুলনায় বামপন্থী মতাদর্শের মানুষদের ভারত সম্পর্কে বেশি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতে দেখা গেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রে জরিপে অংশ নেওয়া ৫৪ শতাংশ উদারপন্থী ও ৪০ শতাংশ রক্ষণশীল মানুষের ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। অন্যদিকে কানাডায় জরিপে অংশ নেওয়া ৫৮ শতাংশ বামপন্থী ও ৪৫ শতাংশ ডানপন্থীর ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক।

    ইসরায়েলে চিত্রটা আবার পুরোপুরি বিপরীত। বামপন্থী ইসরায়েলিদের ৪৬ শতাংশ ভারত সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। দেশটির ডানপন্থীদের মধ্যে এ হার ৬৮ শতাংশ।

  • ইরানের ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের পাইলটরা আটক কাতারে

    ইরানের ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের পাইলটরা আটক কাতারে

    ইরানি পাইলটদের আটক করে রাখার দাবি অস্বীকার করেছে কাতার। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ বছরের শুরুর দিকে ইরানি পাইলটরা কাতারের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা সাড়া দেননি।

    কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লিখেছেন, পরে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল ওই পাইলটদের একজনের মরদেহের সন্ধান পায়। মরদেহ হস্তান্তরের সমন্বয়ের জন্য ইরানের সঙ্গে যোগাযোগও করা হয়েছে।

    মুখপাত্র আরও বলেন, কাতার তাদের অভিযানের বিস্তারিত পর্যালোচনা করতে তেহরানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে, তাতে এখনো ইরান সাড়া দেয়নি।

    এ নিয়ে আল–জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি শনিবার ইরানি কর্মকর্তাদের ‘বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে’ বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি নিশ্চিত করে বলেন, কাতারি বাহিনী জীবিত কোনো পাইলট বা ক্রুকে আটক করে রাখেনি।

    মাজেদ আল-আনসারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘ইরানি পাইলটদের আটক করে রাখার বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া দাবি আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। একই সঙ্গে এ সময়ে, যখন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে নানা উদ্যোগ চলছে, তখন এ ধরনের বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে আমরা বিস্মিত।’

    মাজেদের এই বক্তব্যের আগে তেহরান তাদের পাইলটদের মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। ইরানের ফারস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) কাছে পাঠানো এক চিঠিতে দাবি করেছেন, মার্চে তাদের এসইউ-২৪ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর তিন পাইলট জাভেদ সালেহি, আবদোলমাজিদ দাশতিয়ান ও ওমরান বেহরাভেশিয়ান জীবিত অবস্থায় কাতারের হাতে আটক হন।

    জেনারেল বাঘেরজাদেহ চিঠিতে আরও লেখেন, ওই পাইলটদের ছয় মাস ধরে আটক করে রাখা হয়েছে, কারও সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তাঁদের পরিবার কিংবা কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। তিনি এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানবিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।

    এর আগে ইরান বলেছিল, কাতারে একটি অভিযানে যাওয়ার পর তাদের একজন পাইলট নিহত এবং অন্যরা নিখোঁজ হয়েছেন। কিন্তু তাঁদের আটক করার অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আগে কখনো প্রকাশ্যে আনা হয়নি।

    দোহা নিশ্চিত করেছে, গত মার্চে বিনা অনুমতিতে একাধিক যুদ্ধবিমান কাতারের আকাশসীমায় প্রবেশের পর কাতারের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী সেগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে সেগুলোকে সতর্ক করেছিল। কিন্তু সতর্কবার্তার কোনো জবাব না পাওয়ায় কাতারি বাহিনী যুদ্ধবিমানগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

    পরে কাতারের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল ইরানি পাইলট মাজিদ কাজেমির মরদেহ উদ্ধার করে। তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাতার সমন্বয়ও করেছে।

    শনিবার মাজেদ বলেন, কাতার আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া এক পাইলটের মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে সমন্বয় করতে ইরানি পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

    কাতারের কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এ ছাড়া এপ্রিল মাসে পরিচালিত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের বিস্তারিত জানাতে একটি ইরানি দলকে কাতার সফরের আমন্ত্রণও জানানো হয়, তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ এখনো ওই আমন্ত্রণে সাড়া দেয়নি।’

    কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে হামলার সময় ইরানি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এই বিমানঘাঁটিটি ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক স্থাপনা। এখানে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সদস্যরা অবস্থান করেন।

    মার্চের শুরুতে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তারা দুটি ইরানি সুখোই সু-২৪ বোমারু বিমান ভূপাতিত করেছে। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর উপসাগরীয় দেশ ইরানি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার কথা জানানোর ক্ষেত্রে সেটি ছিল প্রথম ঘটনা।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করে। ইরানও পাল্টা জবাব দেয়। উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে পাল্টাপাল্টি হামলার ওই ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে, তার মধ্যেই ইরানি যুদ্ধবিমান দুটি ভূপাতিত হয়।

    প্রাথমিক মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের উদ্যোগে গত এপ্রিলে হওয়া যুদ্ধবিরতিতে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও জুনে শান্তি কাঠামো নিয়ে আলোচনা ভেঙে যায়। এর ফলে হরমুজ প্রণালির কাছে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ এবং আঞ্চলিক জাহাজ চলাচল ও অবকাঠামোতে নতুন করে হামলা শুরু হয়।

    এই বিরোধের পরও কাতার গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

  • বাংলাদেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতে ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে ম্যাক্স

    বাংলাদেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতে ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে ম্যাক্স

    বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা ও উন্নয়নকে সামনে রেখে বড় বিনিয়োগ করবে ম্যাক্স গ্রুপ।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে চীনভিত্তিক সৌর ফটোতিল্টাইক প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রোনার্জি আয়োজিত ‘অ্যাস্ট্রোনার্জি ও ওয়ার্ল্ড ফিউচার ২০২৬–বাংলাদেশ রোডশো’ অনুষ্ঠানে ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর এ ঘোষণা দেন।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে সৌরবিদ্যুতের বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে চিন্তাভাবনা করছে। দেশজুড়ে সোলার ছাদ এবং সোলার সেচের মতো পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকারি পর্যায়ে জোর আলোচনা চলছে। এ ধারাবাহিকতায় আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশে ১০,০০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। সৌরবিদ্যুতের এই বিশাল বাজারে অংশীদার হিসেবে যুক্ত হতে ২০ কোটি টাকার সরঞ্জাম অর্ডার করেছে ম্যাক্স গ্রুপ, যা খুব শীঘ্রই দেশে এসে পৌঁছাবে।

    তিনি আরো বলেন, ম্যাক্স গ্রুপ এবং আন্তর্জাতিক সোলার খাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ব্লু কার্বন’ যৌথভাবে এ বিষয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা বাংলাদেশের সোলার মার্কেটে ‘ম্যাক্স ব্লু কার্বন’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। পাওয়ার সেক্টরে ম্যাক্স গ্রুপের দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। বর্তমানে আমাদের একটি ১৬৫ মেগাওয়াটের গ্যাস-ভিত্তিক কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট চালু রয়েছে এবং আমরা ইপিসি ঠিকাদার হিসেবেও কাজ করছি। এছাড়া ম্যাক্সের নিজস্ব ফ্যাক্টরিতে কোনো স্টোরেজ বা ব্যাটারি ছাড়াই সফলভাবে প্রায় ২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার সোলার সিস্টেম স্থাপনের অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান।

    চীনা প্রযুক্তি ও গুণগত মান প্রসঙ্গে ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, ভালো মানের চীনা পণ্য কিনলে ক্রেতার অভিজ্ঞতা কখনোই খারাপ হয় না। রেলওয়ে ও সড়কপথের বড় বড় ইপিসি চুক্তি ও অন্যান্য ব্যবসায়িক খাতে চীনা অংশীদারদের সাথে কাজ করার দীর্ঘ ও ইতিবাচক অভিজ্ঞতা রয়েছে। ভালো চীনা কোম্পানি নির্বাচন করা হলে কাজের মান সবসময়ই চমৎকার হয়। সৌরবিদ্যুৎ খাতে যারা কাজ করতে আগ্রহী, তাদের তিনি অ্যাস্ট্রোনার্জি এবং ভবিষ্যতে বাজারে আসতে যাওয়া ‘ম্যাক্স ব্লু কার্বন’-এর ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ বাংলাদেশের শিল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিতিতে অ্যাস্ট্রোনার্জির নতুন সোলার মডিউল ‘এন৭ প্রো’ উন্মোচন করা হয়।

    এছাড়া অ্যাস্ট্রোনার্জির এই অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য সেরা পরিবেশক, কৌশলগত অংশীদার এবং সেরা সৌর প্রকল্প বিভাগগুলোতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও প্রতিনিধিদের সম্মাননা প্রদান এবং বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনাকে আরও দৃঢ় করতে একটি কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

  • মানসিক অসুস্থতায় থাকা ৫ হাজার সেনা নিয়ে ফিরে যাচ্ছে আব্রাহাম

    মানসিক অসুস্থতায় থাকা ৫ হাজার সেনা নিয়ে ফিরে যাচ্ছে আব্রাহাম

    যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২৬৬ দিন অভিযানে থাকার পর দেশে ফিরতে যাচ্ছে। এর মধ্যে অন্তত ২০০ দিন এটি সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি হাং কাও এ কথা জানিয়েছেন।

    দীর্ঘ সময় ধরে রণতরিটির মোতায়েন থাকা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর নাবিকদের মধ্যে মনোবল কমে যাওয়া ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সমস্যার খবর প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য ও জাহাজটিতে কর্মরত নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা।

    হাং কাও বলেন, পরিকল্পিত পালাবদলের অংশ হিসেবে রণতরিটি শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাহাজের নাবিকদের কল্যাণ ও নিরাপত্তাই অগ্রাধিকার।

    হাং কাও বলেন, মিশনের প্রয়োজনেই লিংকনের মোতায়েনের সময় বাড়ানো হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের মোতায়েন কঠিন। আর যুদ্ধ অভিযান সেটিকে আরও কঠিন করে তোলে।

    দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনে উদ্বেগ

    সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের মধ্যে মার্কিন অভিযানকে সহায়তা করতে আব্রাহাম লিংকনকে পশ্চিম এশিয়ায় (মধ্যপ্রাচ্য) পাঠানো হয়। যুদ্ধটি এখন ষষ্ঠ মাসে পড়েছে। রণতরিটি ২৫০ দিনের বেশি সময় ধরে মোতায়েন রয়েছে।

    গত ২০০ দিনের বেশি সময়ে রণতরিটি কোনো বন্দরে নোঙর করেনি।

    হাং কাও বলেন, মোতায়েনের সময় জাহাজের নাবিকদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তাজা খাবারের সরবরাহ না থাকায় খাবারের তালিকায় পরিবর্তন আনতে হয়েছে। আবার অভিযান নিয়ে হুমকি বেড়ে গেলে বাড়িতে ফোন করার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

    নৌ সেক্রেটারি বলেন, মোতায়েনের সময় অল্পসংখ্যক নাবিক মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যার জন্য চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।

    সিএনএন জানিয়েছে, গত মাসে রণতরিটি থেকে এক নাবিক পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পরে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করা হয় এবং চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেন। ওই নাবিক পরে দায়িত্বে ফিরেছেন, নাকি তাঁকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

    মার্কিন নৌবাহিনীর নাবিকেরা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরির ফ্লাইট ডেকে ইলেকট্রনিক অ্যাটাক স্কোয়াড্রন ১৩৩–এর একটি ইএ–১৮জি গ্রোলার যুদ্ধবিমান টেনে নিচ্ছেন। ছবিটি ৩০ জুলাই ২০২৬–এ তোলা

    হাজারো অভিযান পরিচালনা

    আব্রাহাম লিংকন গত বছরের নভেম্বরে সান ডিয়েগোতে অবস্থিত নিজ ঘাঁটি থেকে যাত্রা শুরু করে। পরে এটিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন করা হয়।

    হাং কাও বলেন, মোতায়েনের সময় রণতরিটি ১০ হাজারের বেশি উড্ডয়ন অভিযান পরিচালনা করেছে এবং ১৫ লাখ পাউন্ডের গোলাবারুদ নিক্ষেপ করেছে। তিনি আরও বলেন, মার্কিন বিমানবাহী রণতরিগুলোর মধ্যে এই জাহাজের নাবিকদের মোতায়েন রাখার হার অন্যতম সর্বোচ্চ।

    হাং কাও বলেন, ‘এতে কোনো সন্দেহ নেই যে আমাদের তরুণ নারী–পুরুষদের সক্ষমতার শেষ সীমা পর্যন্ত ঠেলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁরা কখনো ভেঙে পড়েননি।’

    তবে এই শীর্ষ কর্মকর্তা স্বীকার করেন, দীর্ঘ সময়ের যুদ্ধ অভিযান অনিশ্চয়তা ও নানা ধরনের বিঘ্ন তৈরি করে। সামরিক নেতৃত্বকে তাই অভিযানের প্রয়োজন ও সেনাসদস্যদের কল্যাণের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হয়।

    তবে যুদ্ধজাহাজটির নাবিক ও মেরিন সেনাদের ‘ভুক্তভোগী’ হিসেবে বর্ণনা করতেও আপত্তি জানান হাং কাও। তিনি বলেন, অভিযানজুড়ে তাঁরা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন।

    হাং কাও বলেন, ‘তাঁদের (মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্য) নিরাপত্তা ও সুরক্ষাই সব সময় প্রথম অগ্রাধিকার। রণতরিটি দেশে ফেরার পর এর নাবিকদের জন্য “বীরোচিত অভ্যর্থনা”র আয়োজন করা উচিত।’

    প্রসঙ্গত, সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমস, এনবিসি নিউজসহ বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর দায়িত্ব পালন শেষে কবে নাগাদ দেশে ফেরা যাবে, তা নিয়ে অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে থাকা যুদ্ধজাহাজটির নাবিক ও সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্যের চরম অবনতি ঘটেছে। সেই সঙ্গে তাঁদের মধ্যে আত্মহত্যার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাবিকদের পরিবার ও সহকর্মীরা।

    এই উদ্বেগের কথা সরাসরি মার্কিন নৌবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরেছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। সান ডিয়েগোতে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত এক উত্তপ্ত টাউন হল সভায় হাং কাও ও অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সামনে পরিবারের সদস্যরা এ ক্ষোভ উগরে দেন। কর্মকর্তারা তাঁদের বক্তব্যের কোনো সরাসরি জবাব দেননি।

    সভায় নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য ও আত্মহত্যার ঝুঁকি নিয়ে পরিবারের সদস্যরা যে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, সে বিষয়ে নৌবাহিনী ঠিক কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা–ও সুনির্দিষ্টভাবে জানানো হয়নি।

    তবে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, রণতরিটিতে পরামর্শক, চ্যাপলিন (ধর্মীয় শিক্ষক), বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, অন্যান্য জরুরি সহায়তাসহ মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক বা ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

    মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। ছবিটি ১০ মার্চ ২০২৬–এ তোলা

    পরিবারের সদস্য ও নাবিকদের অভিযোগ, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে থাকা প্রায় পাঁচ হাজার সেনাসদস্য চরম খাদ্য ও পানিসংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চিঠি বা ডাক যোগাযোগে বিঘ্ন এবং একটানা দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, যেখানে বিশ্রামের সুযোগ মেলাই ভার।

    বর্তমানে নাবিক ও ক্রুদের মনোবল এতটাই ভেঙে পড়েছে যে তাঁরা সামনে কোনো বন্দরে বিশ্রামের সুযোগও চান না; বরং যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরতে চান। এক নাবিকের আকুতি, ‘এ মুহূর্তে আসলে আমাদের আর কোনো প্রত্যাশা নেই। আমরা শুধু বাড়ি ফেরার একটি সুনির্দিষ্ট তারিখ চাই।’

  • ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধে লেভিটের পদত্যাগ

    ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধে লেভিটের পদত্যাগ

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট পদত্যাগ করেছেন বলে দাবি করেছে দক্ষিণ আফ্রিকায় ইরানের দূতাবাস। তবে এ দাবি ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস।

    পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম সামা টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেভিটের পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ দাবি করে ইরানের দূতাবাস। একই পোস্টে লেভিটের একটি ছবিও প্রকাশ করা হয়।

    ইরানের দূতাবাসের দাবি, নিরাপত্তা হুমকির মুখে ট্রাম্প নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেও অন্য কর্মকর্তাদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছেন। এ কারণে লেভিট ট্রাম্পের ওপর আস্থা হারিয়েছেন বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়।

    ধারণা করা হচ্ছে, তুরস্ক থেকে ফেরার সময় ট্রাম্পকে গোপনে একটি ছোট সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়ার খবরের দিকেই ইরানের ওই পোস্টে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    তবে ইরানের দূতাবাসের এ অভিযোগকে ‘সরাসরি মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস।

    মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, তুরস্ক সফরের সময় লেভিট ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন না। ফলে ট্রাম্পকে গোপনে অন্য একটি বিমানে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় লেভিট জড়িত ছিলেন—এমন খবরও তারা নাকচ করেছেন।

    ট্রাম্প লেভিটের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তার পদত্যাগের পেছনে ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিরোধ ছিল—ইরানের দূতাবাসের এমন দাবির কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

  • বন্যায় যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি অবস্থা জারি

    বন্যায় যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি অবস্থা জারি

    যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে টানা ভারি বৃষ্টি ও ঝড়ের পর ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। হোয়াইট রিভারের পানি বিপৎসীমার অনেক ওপরে উঠে নোবেলসভিল ও ইন্ডিয়ানাপোলিসের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কর্মকর্তারা এটিকে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যাগুলোর একটি বলে বর্ণনা করেছেন।

    স্থানীয় সময় শনিবার রাতে নোবেলসভিল এলাকায় হোয়াইট রিভারের পানি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এরপর ইন্ডিয়ানাপোলিসের উত্তরাঞ্চলেও নদীর পানি ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। প্লাবনের আশঙ্কায় নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

    ইন্ডিয়ানার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও ঝড়ের ঘটনায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কোথাও গাছ ভেঙে প্রাণহানি ঘটেছে, আবার কেউ বন্যার পানির স্রোতে ভেসে গেছেন। জরুরি উদ্ধারকর্মীরা বিপদগ্রস্ত মানুষকে উদ্ধার এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

    কয়েক দিনের টানা ভারি বর্ষণে ইন্ডিয়ানার বিভিন্ন এলাকায় নদী ও খালের পানি দ্রুত বাড়তে থাকে। কোথাও কোথাও মাত্র দুই দিনে ১১ ইঞ্চির বেশি বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে হোয়াইট রিভারসহ বিভিন্ন নদীর পানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে যায়।

    ইন্ডিয়ানাপোলিসে অন্তত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মার্কিন জাতীয় আবহাওয়া সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, এটি শতবর্ষে একবার দেখা দিতে পারে এমন মাত্রার বন্যার কাছাকাছি পৌঁছেছে। বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর, সড়ক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে।

    পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইন্ডিয়ানার গভর্নর জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। পরে ফেডারেল সহায়তার জন্য অনুরোধ করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জরুরি দুর্যোগ ঘোষণা অনুমোদন করেন। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে বিভিন্ন জরুরি সংস্থা কাজ করছে।

    হোয়াইট রিভারের পানি ধীরে ধীরে কমার অপেক্ষায় থাকলেও নতুন বৃষ্টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ নদী ও প্লাবিত এলাকার কাছাকাছি না যাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়দের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

  • যুদ্ধ শুরু করেছে ট্রাম্প, মূল্য দিচ্ছি আমরা

    যুদ্ধ শুরু করেছে ট্রাম্প, মূল্য দিচ্ছি আমরা

    ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কূটনৈতিক অবসান ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমন উদ্বেগের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি উপসাগরীয় মিত্রদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। মার্কিন গণমাধ্যমের বরাতে আনাদোলু এ তথ্য জানিয়েছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে একজন উপসাগরীয় কর্মকর্তা বলেন, ‘ট্রাম্প এই যুদ্ধ শুরু করেছেন, আর আমরা তার মূল্য দিচ্ছি।’ তিনি আরো বলেন, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ক্ষোভ এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

    আরব ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে, কয়েকমাসের সংঘাত এবং ইরান ও তার মদদপুষ্ট বাহিনীর অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত এবং বাহরাইন ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান সমালোচক হয়ে উঠেছে।

    প্রতিবেদন অনুসারে, কিছু উপসাগরীয় রাষ্ট্র ইতোমধ্যে দেশগুলোর ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক স্থাপনা রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।

    তবে, এই অঞ্চলের একজন পশ্চিমা কূটনীতিক সতর্ক করে বলেছেন যে, এই ঘটনাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি মনোভাবের কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নির্দেশ করে না। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের আগেও মার্কিন বাহিনীকে খুব একটা উৎসাহের সঙ্গে স্বাগত জানায়নি দেশগুলো।

    কূটনীতিকটি বলেন, ‘এটা ছিল অনেকটা এক প্রয়োজনীয় মন্দ বিষয়। আর এখন এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।’

    এই অস্বস্তি এমন এক সময়ে দেখা দিয়েছে, যখন ট্রাম্প কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতির কথা বলে ইরানের বিরুদ্ধে আরো কঠোর পদক্ষেপের হুমকি দিয়েও পরে তা থেকে সরে এসেছেন, অথচ ওয়াশিংটন ও তেহরান এখনও এই সংঘাতের অবসানে কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি।

    অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এই মূল্যায়ন প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটন তার আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছে। এর পাশাপাশি ট্রাম্পের সঙ্গে সকল উপসাগরীয় অংশীদারদের সঙ্গে অসাধারণ সম্পর্ক রয়েছে।

    উপসাগরীয় দেশগুলো এই সংঘাত নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে, যার মধ্যে কিছু দেশ প্রাথমিকভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত বিজয়ের সম্ভাবনাকে সম্ভাব্য উপকারী হিসেবে দেখেছিল। তবে, কর্মকর্তাদের মতে, কোনো স্পষ্ট সমাধান ছাড়াই যুদ্ধ চলতে থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে।

    ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা সত্ত্বেও, উপসাগরীয় দেশগুলো সামরিক সরঞ্জাম, গোলাবারুদ এবং গোয়েন্দা তথ্যসহ নিরাপত্তা সহায়তার জন্য ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরশীল।

    গত তিন মাস ধরে ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে নিরাপদ নৌপথ নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে এবং তেহরান বলছে যে, নিরাপত্তার পূর্ণ পুনরুদ্ধার ও স্বাভাবিক বাণিজ্যিক নৌচলাচল মার্কিন সামরিক কার্যকলাপ বন্ধের ওপর নির্ভরশীল।

  • যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ পরাজিত করতে চাই ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ পরাজিত করতে চাই ইরান

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনীকে ‘সম্পূর্ণ পরাজিত’ করার আগ পর্যন্ত পিছু হটবে না ইরানের সেনাবাহিনী। ১৯৯০ সালে ইরাক থেকে ইরানি যুদ্ধবন্দিদের প্রত্যাবর্তনের বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ অঙ্গীকার করে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রতিরোধের ঐতিহ্য ইরানের এক নতুন প্রজন্মের কাছে হস্তান্তরিত হয়েছে, যারা বিশ্বের সবচেয়ে সুসজ্জিত সামরিক বাহিনী হিসেবে বর্ণিত শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল।’

    এতে বলা হয়, ‘শত্রু আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত’ ইরান দেশের ন্যায্য অধিকার আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাবে। ফার্স নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে প্রকাশিত এই বিবৃতিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি জনগণের সমর্থনের প্রশংসা এবং এই অঞ্চলে আগ্রাসন ও আধিপত্য বিস্তারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করা হয়।

  • অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুততম টেস্ট জয়ী দ্বিতীয় দল এখন বাংলাদেশ

    অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুততম টেস্ট জয়ী দ্বিতীয় দল এখন বাংলাদেশ

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দলটি ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে চলমান দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে।

    প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বিশাল লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৪ রানে গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। ফলে জয়ের জন্য মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য পায় সফরকারীরা। প্রথম ইনিংসে শতক করা তানজিদ হাসান তামিম মাত্র পাঁচ বল খেলে শূন্য রানে ফিরে গেলেও কোনো বিপদ হয়নি। মাত্র ১৪ দশমিক ২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।

    এই ঐতিহাসিক জয়ের ফলে গত ৩০ বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জেতা এশিয়ার মাত্র দ্বিতীয় দল হলো বাংলাদেশ। এর আগে এই সময়ে কেবল ভারতই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিতেছিল। পাকিস্তানের সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া জয় এসেছিল ১৯৯৫ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে।

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জিততে পাকিস্তানকে সপ্তম প্রচেষ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। ভারতকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল নিজেদের ১২তম টেস্ট পর্যন্ত। সেখানে বাংলাদেশ মাত্র তৃতীয় টেস্টেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয়ের কীর্তি গড়েছে।

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জিততে বাংলাদেশের চেয়ে কম ম্যাচ লেগেছে কেবল ইংল্যান্ডের।

    ডারউইনে রোববারের স্মরণীয় জয়ের আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে মাত্র দুটি টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। দুটি ম্যাচই হয়েছিল ২০০৩ সালের জুলাইয়ে। দুটিতেই ইনিংস ব্যবধানে জয় পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জিততে যে কয়টি ম্যাচ লেগেছে…

    ইংল্যান্ড — ২ ম্যাচ, ১৮৭৭ সালে ৪ উইকেটে জয়

    বাংলাদেশ — ৩ ম্যাচ, ২০২৬ সালে ৯ উইকেটে জয়

    দক্ষিণ আফ্রিকা — ৩ ম্যাচ, ১৯১১ সালে ৩৮ রানে জয়

    ওয়েস্ট ইন্ডিজ — ৫ ম্যাচ, ১৯৩১ সালে ৩০ রানে জয়

    পাকিস্তান — ৭ ম্যাচ, ১৯৭৭ সালে ৮ উইকেটে জয়

    নিউজিল্যান্ড — ৭ ম্যাচ, ১৯৮৫ সালে ইনিংস ও ৪১ রানে জয়

    ভারত — ১২ ম্যাচ, ১৯৭৭-৭৮ সালে ২২২ রানে জয়

    শ্রীলঙ্কা — এখনো জিততে পারেনি

    জিম্বাবুয়ে — এখনো জিততে পারেনি

    বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ে বড় অবদান রেখেছেন পেসার হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে তিনি ৬ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি দ্বিতীয় ইনিংসেও অস্ট্রেলিয়ার তিন ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান।

    অন্যদিকে দ্বিতীয় ইনিংসে স্পিন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ ৬৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন।

    তবে পাঁচ উইকেট নেওয়ার আগে ব্যাট হাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন মেহেদী। সাত নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ১৫৪ বলে ৬৫ রান করেন তিনি। এর আগে তানজিদ হাসান তামিম ১৯৭ বলে ১০১ এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ১২৬ বলে ৮৪ রান করেন।

  • শেখ হাসিনা ক্ষমতায় টিকে থাকতে দিল্লিকে সব উজাড় করে দিয়েছিলেন: রিজভী

    শেখ হাসিনা ক্ষমতায় টিকে থাকতে দিল্লিকে সব উজাড় করে দিয়েছিলেন: রিজভী

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় চিরদিন টিকে থাকার জন্য পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের দিল্লির কাছে সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

    তিনি বলেছেন, তারা দেশের সার্বভৌমত্বকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে। শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকতেই তিনি এত রক্ত ঝরিয়েছেন, কাউকে পাত্তা না দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করেছেন।

    রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’-এর ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘জুলাইয়ের চেতনা ও আগামী বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন রিজভী।

    তিনি আরও বলেন, দুঃশাসনের নানা চিত্র ছিল—রিমান্ড, গুম, খুন এমন কোনো অপরাধ নেই যা শেখ হাসিনা করেননি। ফ্যাসিস্ট হিসেবে শেখ হাসিনার সঙ্গে পৃথিবীর অন্য কোনো ফ্যাসিস্টের মিল নেই। হিটলারসহ বিশ্বের অন্য ফ্যাসিস্টদের মধ্যে কিছুটা হলেও দেশপ্রেম ছিল; তারা চেয়েছিল তাদের দেশকে বিশ্বের সেরা হিসেবে প্রমাণ করতে। কিন্তু শেখ হাসিনা চেয়েছেন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিক্রি করে হলেও ক্ষমতায় টিকে থাকতে। এ জন্যই তিনি জনগণের ওপর সব ধরনের অত্যাচার চালিয়েছেন।

    শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে রিজভী বলেন, ফেরারি পাখিরা কখনও ফেরে না, শেখ হাসিনাও আর ফিরতে পারবেন না। তবে তিনি ফিরতে পারতেন, যদি তাকে জোর করে দেশ থেকে বের করা হতো। লেনিন ফিরেছিলেন, ইমাম খোমেনি ফিরেছিলেন; কারণ তারা দেশের টাকা পাচার করেননি, প্লট নেননি, ব্যাংকের টাকা মেরে খাননি। এ জন্যই তারা ফিরতে পেরেছিলেন। তবে আমাদের মধ্যে ঐক্য না থাকলে ফ্যাসিবাদ অন্য কোনো রূপে ফিরে আসার চেষ্টা করতে পারে।

    আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান জানাতে হলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যাকে বৈশ্বিক মানদণ্ডে এগিয়ে নিতে হবে। সে লক্ষ্যেই আমরা ‘কোয়ালিটি এডুকেশন’, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’, ভাষা শিক্ষা এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-সহ আধুনিক সব প্রযুক্তি কীভাবে শিক্ষাব্যবস্থায় যুক্ত করা যায়, সে বিষয়েও আমরা কাজ করছি।

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইন।

    অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক সমন্বয় দপ্তরের পরিচালক মো. আমিনুল আকতার ও ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক নাজিম উদ্দীন আহমেদ।

  • আকাশ প্রতিরক্ষায় ইরানের নতুন কৌশল

    আকাশ প্রতিরক্ষায় ইরানের নতুন কৌশল

    ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় একটি নতুন বিমান প্রতিরক্ষাকাঠামো তৈরি করেছে তেহরান। এর আওতায় কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ নেটওয়ার্ক, প্রশিক্ষণ এবং যুদ্ধকৌশলে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়।

    ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে ইরানের এক কর্মকর্তা এসব কথা বলেন। তিনি জানান, আগের সংঘাতগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। তার দাবি, এর মাধ্যমে ইরান প্রচলিত বা ‘ক্লাসিক্যাল’ আকাশ প্রতিরক্ষা মডেল থেকে সরে এসে আরো সমন্বিত একটি কাঠামোর দিকে এগিয়েছে।

    তিনি বলেন, নতুন কাঠামোর আওতায় যুদ্ধকৌশল, সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিগত কার্যপ্রণালিতে পরিবর্তনের পাশাপাশি আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কে তথ্য সংগ্রহ, আদান-প্রদান ও ব্যবহারের পদ্ধতিতেও সংস্কার করা হয়েছে।

    তিনি দাবি করেন, এসব পরিবর্তনের ফলে সংঘাত চলাকালে ইরান তাদের আরো বেশি সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে।

  • হাসিনার প্রত্যর্পণ: সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত

    হাসিনার প্রত্যর্পণ: সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত

    ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতই নেবে বলে জানিয়েছেন দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা। তবে বিষয়টি নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনা চলছে এবং প্রত্যর্পণের বিষয়ে বর্তমান কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার পথ খোঁজা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

    দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতের কাছে যে অনুরোধ জানিয়েছে, সেটি ভারতের আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

    ভারতের একজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বা কূটনৈতিকভাবে নেওয়া হবে না। ভারতের আদালতই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আদালতের প্রক্রিয়ায় মূলত দেখা হবে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না।

    আরেক ভারতীয় কর্মকর্তা বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বাংলাদেশের অনুরোধকে ঢাকা-নয়াদিল্লির বর্তমান কূটনৈতিক আলোচনার বাইরে আলাদাভাবে দেখা সম্ভব নয়। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এর আগে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রত্যর্পণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুরোধের বিষয়ে বলেছিলেন, বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ যে অনুরোধ করেছে, তার সঙ্গে ২০১৩ সালে দুই দেশের মধ্যে হওয়া প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্রও দেওয়া হয়েছে।

    ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। গত দুই বছর ধরে তিনি নয়াদিল্লির একটি গোপন স্থানে নিরাপত্তা ও আশ্রয়ে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লি থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ব্যাপারে তার দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান।

    আওয়ামী লীগের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন সংসদ সদস্যের দাবি, ভারতে অবস্থান করেও শেখ হাসিনা দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। মাঝে মাঝে দলীয় নেতাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকও করছেন। তাদের ভাষ্য, ৭৮ বছর বয়সি শেখ হাসিনা বছরের শেষ দিকে ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনা করছেন।

    শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ মূলত ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করছে। ওই রায়ে শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

    তবে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, ভারতে প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে ওই রায়কে বিভিন্ন দিক থেকে চ্যালেঞ্জ করা হবে। তাদের অন্যতম যুক্তি হবে, রায়টি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেওয়া হয়েছে। ওই সময় সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস।

    ভারত ও বাংলাদেশ ২০১৩ সালে প্রত্যর্পণ চুক্তি সই করে। চুক্তিতে কোনো ব্যক্তি অপরাধে অভিযুক্ত, দোষী সাব্যস্ত বা আদালতের দেওয়া সাজা কার্যকর করার জন্য প্রয়োজন হলে তাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে দুই দেশের দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে।

    তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসম্পন্ন অপরাধের ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণের সুযোগ না রাখার বিধানও রয়েছে। একই সঙ্গে হত্যা, হত্যাকাণ্ড, হামলা, আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার এবং হত্যায় প্ররোচনাসহ ১২ ধরনের অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে না বলে চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।

    এ ছাড়া ভারতের ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইনেও বিদেশে পালিয়ে থাকা আসামিকে ফেরত দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে।

    আইন অনুযায়ী, প্রত্যর্পণের অনুরোধ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পরীক্ষা করতে পারে এবং একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়া গেলে ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যর্পণের সুপারিশ করতে পারেন। অন্যদিকে, অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিকভাবে যথেষ্ট প্রমাণ না থাকলে ওই ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

    দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলেছে, ফলে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি এখন কেবল দুই দেশের সরকারের কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, ভারতের আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়াও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • তারেক রহমানের দিল্লি সফর বাতিল করল ঢাকা

    তারেক রহমানের দিল্লি সফর বাতিল করল ঢাকা

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা আপাতত বাতিল হয়ে গেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছে, ‘এই সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।’

    ঢাকায় রোববার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম।

    এর আগে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো আভাস দিয়েছিল, আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি দুই দিনের সফরে ভারত যেতে পারেন তারেক রহমান।

    মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম বলেছেন, ‘দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ঘাতকদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি। বাংলাদেশ এই জবাবের অপেক্ষায় আছে।’

    প্রসঙ্গত, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা ভারতীয় লোকসভার স্পিকার দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

    এছাড়া ভারতের দিক থেকে আরও একটি আমন্ত্রণ ছিল। সেটি হলো, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে ব্রিকসের যে সম্মেলন হবে, সেখানে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাতের পর এসব আমন্ত্রণের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, তারা তখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।

    কিন্তু এর মধ্যেই দুই দেশের সংবাদমাধ্যমে কর্তৃপক্ষের সূত্রকে উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে দিল্লি সফরে যেতে পারেন বলে খবর বেরিয়েছিল।

    রোববার দুপুরে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ‘উভয় দেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে পরস্পরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছে।’

    ‘তবে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা গত ৫ আগস্ট নতুন দিল্লিতে যেভাবে প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন, তাতে এই প্রক্রিয়ার পরিবেশ বিনষ্ট হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছি। আমরা মনে করি, এই সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।’

    শহীদুল করিম বলেন, ‘দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ঘাতকদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি। বাংলাদেশ এই জবাবের অপেক্ষায় আছে।’

    ‘এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে প্রতিবেশীসহ অন্যান্য সকল দেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে আমরা আমাদের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ (বাংলাদেশ প্রথম) নীতি অব্যাহত রাখব।’

  • রাবিতে ভারতীয় মাদকসহ ছাত্রদল নেতা আটক

    রাবিতে ভারতীয় মাদকসহ ছাত্রদল নেতা আটক

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিব হাসানকে ৭ পিস ভারতীয় নিষিদ্ধ মাদক ‘ট্যাপেন্টাডল’সহ আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যায় রাজশাহী নগরীর মিজানের মোড় এলাকা থেকে তাকে আটক করে মতিহার থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাজশাহী নগরীর মিজানের মোড়ে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। সেখান থেকেই তাকে আটক করা হয়। সেখানে তার কাছে ৭ পিস ভারতীয় মাদক ট্যাপেন্টাডল পাওয়া যায়।

    রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। ছাত্রদল সবসময় মাদকমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়তে বদ্ধপরিকর। এখনও নিশ্চিত নই, মাদক তার নিজের কাছে ছিল নাকি তার বন্ধুদের কাছে ছিল। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে, তাহলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী মাদক নেওয়া ও ক্রয় বিক্রয় করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ও যেহেতু মাদক নিয়ে ধরা পড়েছে, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ওর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা প্রশাসনকে জানিয়ে দিয়েছি।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে মতিহার থানার ওসি গোলাম কবির বলেন, হাসিব মাদকসহ আটক হয়েছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

  • ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৪৭

    ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৪৭

    ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। শনিবার ভোরে আঘাত হানা ভূমিকম্পে শত শত বাড়িঘর ও বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খবর আনাদোলুর।

    রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনতারার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (বিএনপিবি) জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২৪ জন মাংগারাই রিজেন্সিতে, ১৭ জন ইস্ট মাংগারাইয়ে, তিনজন সিক্কায়, একজন নাগাদায় এবং একজন এনদেতে মারা গেছেন।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ১৫৭টি বাড়ি মারাত্মকভাবে, ৪১টি মাঝারিভাবে এবং ১৪৮টি বাড়ি সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ৮৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১৮টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, পাঁচটি উপাসনালয় ও ছয়টি সরকারি কার্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা (বিএমকেজি) কয়েকটি এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।

    উদ্ধারকারী দলগুলো আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে খাবারসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে বিএনপিবি। ভূমিকম্পের পর নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রায় ২ হাজার মানুষকে।

    যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার সকাল ৫টা ৫৮ মিনিটে ফ্লোরেস অঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে।

    মূল ভূমিকম্পের পর ১১১টি আফটার শক অনুভূত হয়েছে, যার মধ্যে একটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ১। শক্তিশালী কম্পনে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় আশ্রয় নেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

    এদিকে শনিবার উত্তর সুমাত্রা প্রদেশের পেমাতাংসিয়ান্তারের কাছে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

    এ ছাড়া শনিবার সুলাওয়েসিতে ৫ দশমিক ৮ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। জার্মানির জিএফজেড হেলমহোলৎস সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ৭২ কিলোমিটার। তবে ইন্দোনেশিয়ার বিএমকেজি এর মাত্রা ৬ দশমিক ২ এবং গভীরতা ৪৪ কিলোমিটার বলে জানিয়েছে।

    ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত। ভূমিকম্পপ্রবণ এই অঞ্চলে সক্রিয় ভূ-চ্যুতি ও অসংখ্য আগ্নেয়গিরি থাকায় দেশটিতে প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়ে থাকে।

  • আফগান শিক্ষার্থীদের মেডিকেল পড়াশোনা স্থগিত করল পাকিস্তান

    আফগান শিক্ষার্থীদের মেডিকেল পড়াশোনা স্থগিত করল পাকিস্তান

    শিক্ষা ডেস্ক:

    পাকিস্তানে আফগান শিক্ষার্থীদের মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল (পিএমডিসি)।

    পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন করে আফগান শিক্ষার্থী ভর্তি এবং ইতোমধ্যে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    পিএমডিসির জারি করা সরকারি চিঠির বরাতে আফগানিস্তানভিত্তিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম খামা প্রেস এ তথ্য জানিয়েছে।

    নথি অনুযায়ী, পাকিস্তানের মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে অধ্যয়নরত আফগান শিক্ষার্থীদের আফগানিস্তানে ফিরে যেতে হবে। একই সঙ্গে মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষাক্রমে আফগান শিক্ষার্থীদের নতুন ভর্তি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।

    এ ছাড়া পাকিস্তানের এক মেডিকেল বা ডেন্টাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে আফগান শিক্ষার্থীদের স্থানান্তর বা মাইগ্রেশনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    কাউন্সিল জানায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীতিগত নির্দেশনা এবং ২০২৬ সালের ৩০ জুলাই পিএমডিসির নেওয়া সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বিষয়টিকে জাতীয় নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং দেশের সব মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।

    চিঠি অনুযায়ী, যেসব আফগান শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন, তাদের স্নাতক সম্পন্নের বিষয়টি এবং পাকিস্তান ত্যাগের তথ্য নথিভুক্ত ও নিশ্চিত করতে হবে।

    পিএমডিসি জানিয়েছে, এ নির্দেশনা সারা দেশে প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাকেন্দ্রের মধ্যে এটি সীমাবদ্ধ নয়; বরং সব সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এর আওতাভুক্ত।

    নথি অনুযায়ী, মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত আফগান শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত তথ্য তিন দিনের মধ্যে পিএমডিসির কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।

    কাউন্সিল আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, তথ্য দিতে বিলম্ব, নির্দেশনা না মানা কিংবা তথ্য গোপন করাকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হবে। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

    পিএমডিসির এ সিদ্ধান্তে পাকিস্তানে পেশাগত মেডিকেল ও ডেন্টাল ডিগ্রি অর্জনে অধ্যয়নরত আফগান শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারেন। বিশেষ করে যারা পড়াশোনার মাঝপথে রয়েছেন, তাদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কোর্স শেষ করার আগেই পাকিস্তান ছাড়তে হতে পারে।

    পিএমডিসি পাকিস্তানে মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষা নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষার মান বজায় রাখার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনগত নিয়ন্ত্রক সংস্থা। দেশটির মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের কাউন্সিলে নিবন্ধন এবং ভর্তি-সংক্রান্ত নিয়মকানুন মেনে চলার বিষয়টিও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক।

  • চীনের শুল্ক ফাঁকিতে সহায়তা করেছে ৪০টির বেশি দেশ: হোয়াইট হাউস

    চীনের শুল্ক ফাঁকিতে সহায়তা করেছে ৪০টির বেশি দেশ: হোয়াইট হাউস

    যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক এড়াতে চীনকে সহায়তা করেছে ৪০টির বেশি দেশ। এসব দেশের মাধ্যমে চীনা পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। লক্ষ্য ছিল, তুলনামূলক কম হারে আমদানি শুল্ক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য বিক্রি করা। হোয়াইট হাউসের প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

    যেসব দেশ চীনকে সহায়তা করেছে, সেই তালিকায় কানাডা, ভারত, মেক্সিকো, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশ আছে। হোয়াইট হাউসের দাবি, এসব দেশের মাধ্যমে চীন কয়েক হাজার কোটি ডলারের মার্কিন শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে।

    হোয়াইট হাউসের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো বলেন, এর ফলে যেমন ‘মার্কিন কর্মসংস্থানে’ প্রভাব পড়েছে, তেমনি হাজার হাজার কোটি ডলারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।

    তবে ওয়াশিংটনের চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ‘বাণিজ্যযুদ্ধে কেউ জয়ী হয় না।’ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ ও চীনা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহারের বিরোধিতা করেন।

    তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পণ্য পাঠানো নিয়ে কোনো একতরফা পদক্ষেপ বা চুক্তি যেন অন্য দেশের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে বিষয়েও সতর্ক করেছেন ওই মুখপাত্র।

    এদিকে বাণিজ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত আছে। এর মধ্যে কয়েক সপ্তাহ পর ওয়াশিংটনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করার কথা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।

    হোয়াইট হাউসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, ৩০ বিলিয়ন বা ৩ হাজার কোটি ডলার থেকে প্রায় ৩০ হাজার কোটি ডলারের পণ্য বেশি শুল্কের আওতাভুক্ত দেশ থেকে কম শুল্কের আওতাভুক্ত দেশের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।

    এই প্রক্রিয়া ‘ট্রান্সশিপমেন্ট’ নামে পরিচিত। এর অর্থ হলো, পণ্য চূড়ান্ত গন্তব্যে যাওয়ার পথে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পাঠানো। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীন কম শুল্কের আওতাভুক্ত দেশগুলোকে ব্যবহার করে এই পদ্ধতির মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে।

    হোয়াইট হাউসের দাবি, চীন তৃতীয় দেশকে মধ্যবর্তী গন্তব্য হিসেবে ব্যবহার করেছে। সেই সঙ্গে পণ্যের মোড়ক পরিবর্তন করে প্রকৃত উৎপত্তিস্থল আড়াল করেছে। ফলে এসব পণ্য কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ঢুকেছে। প্রতিবেদনে এ প্রক্রিয়াকে ‘কাগজপত্রের মাধ্যমে প্রতারণা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চীনের শুল্ক ফাঁকি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।

    সিঙ্গাপুর ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক চ্যাং পাও লির মতে, এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য আলোচনায় ওয়াশিংটনের দর-কষাকষির অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।

    লি বিবিসিকে বলেন, চীন তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে মার্কিন বাজারে প্রবেশের সুযোগ ধরে রেখেছে, যুক্তরাষ্ট্র এই যুক্তি দিতে পারে। ভবিষ্যতে বড় বাণিজ্য চুক্তি হলে সরাসরি চীনা রপ্তানির পাশাপাশি তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পণ্য পাঠানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।

    তবে চ্যাং বলেন, বাণিজ্যপ্রবাহের এই পরিবর্তনের কিছু অংশ বৈধও হতে পারে। উৎপাদন অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়া বা সরবরাহব্যবস্থার পুনর্গঠনের কারণে এমন পরিবর্তন ঘটতে পারে। ফলে চীনের সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যেসব দেশ গভীরভাবে যুক্ত, সেই দেশগুলো ঝুঁকি ও বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

    ২০২৫ সালের মে মাসে দুই দেশের আলোচনার পর বেশির ভাগ শুল্ক আরোপ স্থগিত করা হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্য বিধিনিষেধ অব্যাহত আছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র চীনের মানবাকৃতির রোবটের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। তার জেরে চীন যুক্তরাষ্ট্রে ড্রোন রপ্তানিতে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।

    ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ট্রাম্প ১৫৭টি দেশের পণ্যে পাইকারি হারে শুল্ক আরোপ করেন। তাঁর যুক্তি ছিল, এই শুল্কের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যেমন কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা সম্ভব, তেমনি অর্থনীতিও শক্তিশালী করা সম্ভব। পরে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ওই শুল্কের বিরুদ্ধে রায় দিলেও বিকল্প আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করে নতুন শুল্ক আরোপ অব্যাহত রেখেছেন ট্রাম্প।

  • ইলন মাস্কের বার্ষিক আয় টেসলার কর্মীদের চেয়ে ২৫ লাখ গুণ বেশি

    ইলন মাস্কের বার্ষিক আয় টেসলার কর্মীদের চেয়ে ২৫ লাখ গুণ বেশি

    ২০২৫ সালে টেসলার সিইওর পারিশ্রমিক হিসেবে ইলন মাস্ক ১৫ হাজার ৮০০ কোটি ডলার আয় করেন। টেসলার গড় কর্মীর আয়ের চেয়ে তা ২৫ লাখ গুণ বেশি।

    গত বছর টেসলার মোট রাজস্ব ছিল ৯ হাজার ৪০০ কোটি ডলার, অর্থাৎ মাস্কের পারিশ্রমিক তার চেয়ে বেশি।

    বাস্তবতা হলো, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও কর্মীদের বেতন ব্যবধান আরও বেড়েছে। ২০২৫ সালে সিইওরা গড়ে তাঁদের কোম্পানির মধ্যম সারির কর্মীর চেয়ে ৩১২ গুণ আয় করেছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর জোট এএফএল-সিআইও বেতনবৈষম্য নিয়ে এই হিসাব দিয়েছে। সিইও ও কর্মীদের বেতন ব্যবধান কীভাবে বাড়ছে, প্রতিবেদনে সেই বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

    এএফএল-সিআইওর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অ্যামাজনের সিইও অ্যান্ডি জ্যাসি কোম্পানির একজন গড় কর্মীর চেয়ে ৫১ গুণ বেশি আয় করেছেন। ম্যাকডোনাল্ডসের সিইও ক্রিস কেম্পচিনস্কির আয় প্রতিষ্ঠানটির গড় কর্মীর চেয়ে ১ হাজার ৮২ গুণ বেশি।

    ২০২৪ সালে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সিইওদের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান ছিল ২৮৫ গুণ।

    শ্রমিক সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, বেতনবৈষম্য এতটা বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। সিইওরা যদি নিজেদের পারিশ্রমিক বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দেন, তাহলে কোম্পানির স্থিতিশীলতা বা সামগ্রিক অর্থনীতির বিষয়ে তাঁদের মনোযোগ কমে যেতে পারে।

    এএফএল-সিআইও প্রতিবেদনে বলেছে, সিইওদের অতিরিক্ত পারিশ্রমিকের কারণে অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সিইওরা নিজেদের বেতন সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে স্বল্পমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেবেন—এমন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এমনকি তাতে কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও; অর্থাৎ ব্যক্তিগত মুনাফার বিষয়টি মুখ্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

    হিসাবের মধ্যে মাস্কের প্রভাব

    সিইও হিসেবে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের বেতন–ভাতা অন্য সবার চেয়ে বেশি। কিন্তু ২০২৫ সালে ইলন মাস্ক বিপুল পারিশ্রমিক পেলেও গত বছর টেসলার রাজস্ব ৩ শতাংশ কমেছে। গাড়ি বিক্রি কমেছে প্রায় ৯ শতাংশ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনে মাস্কের অংশগ্রহণের কারণে অনেক ভোক্তা টেসলা বর্জন করায় বিক্রি কমে যায়।

    গত বছর টেসলার ১১টি গাড়ি প্রত্যাহার করতে হয়েছে। মোট প্রায় ৭ লাখ ৪৫ হাজার গাড়ি বাজার থেকে তুলে নেওয়া হয়। টেসলার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স, রকেট কোম্পানি স্পেসএক্সসহ আরও বিভিন্ন কোম্পানিতে মাস্কের বিনিয়োগ আছে।

    গত জুন মাসে যখন শেয়ারবাজারে স্পেসএক্সের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও ছাড়া হয়, তখন অল্প সময়ের জন্য ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়।

    এএফএল-সিআইও প্রতিবেদন অনুসারে, সিইওদের গড় আয় ৩১০ কোটি ডলার। ২০২৫ সালে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকভুক্ত কোম্পানিগুলোর সিইওদের গড় বার্ষিক পারিশ্রমিক ১ হাজার ৭০০ শতাংশ বেড়ে ৩১০ কোটি ডলারে উঠে যায়।

    তবে ইলন মাস্ককে বাদ দিলে চিত্রটি অনেকটাই বদলে যায়। ২০২৪ সালে সিইওদের বার্ষিক গড় পারিশ্রমিক ছিল প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। ২০২৫ সালে তা ২১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ২ কোটি ২৮ লাখ ডলার। এক দশক আগে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ কোম্পানির সিইওদের গড় পারিশ্রমিকের তুলনায় যা প্রায় দ্বিগুণ।

    শিল্পভেদে বেতন ব্যবধানেও বড় পার্থক্য

    শিল্পভেদে সিইও ও কর্মীদের আয়ে বড় পার্থক্য আছে। দেখা গেছে, উৎপাদন খাতে এই ব্যবধান সবচেয়ে বেশি। এ খাতের একজন সিইও গড়ে বার্ষিক ৬৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার আয় করেছেন। বিপরীতে একজন কর্মীর গড় আয় ছিল ৯৩ হাজার ডলারের কিছু বেশি; অর্থাৎ তাঁদের আয়ের ব্যবধান ১১ হাজার শতাংশের বেশি। এ খাতে টেসলায় যে বড় ব্যবধান আছে, বেতন ব্যবধানের অনুপাত বৃদ্ধিতে তার বড় ভূমিকা আছে।

    দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যবধান ছিল শিল্প, বিনোদন ও অবসর খাতে। এই খাতের সিইওদের বার্ষিক গড় আয় ২ কোটি ৪৬ লাখ ডলার, যেখানে মধ্যম সারির কর্মীর আয় প্রায় ২৫ হাজার ডলার। এএফএল-সিআইওর হিসাবে, সিইও ও কর্মীর পারিশ্রমিকের ব্যবধান ছিল ১ হাজার ৫৭ অনুপাত ১।

    কফি চেইন স্টারবাকসেও বড় ধরনের বেতন ব্যবধান আছে। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মীর গড় আয় ছিল ১৭ হাজার ২৭৯ ডলার।

    অন্যদিকে স্টারবাকসের সিইও ব্রায়ান নিকল গত বছর ৩ কোটি ডলারের বেশি পারিশ্রমিক পেয়েছেন। স্টারবাকসের সিইও ও মধ্যম সারির কর্মীর আয়ের ব্যবধান ১ হাজার ৭৯৪ অনুপাত ১।

    এএফএল-সিআইওর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অ্যামাজনের সিইও অ্যান্ডি জ্যাসি কোম্পানির একজন গড় কর্মীর চেয়ে ৫১ গুণ বেশি আয় করেছেন। ম্যাকডোনাল্ডসের সিইও ক্রিস কেম্পচিনস্কির আয় প্রতিষ্ঠানটির গড় কর্মীর চেয়ে ১ হাজার ৮২ গুণ বেশি।

    ট্রাম্পের আয় বেড়েছে ২৫৪ শতাংশ

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরে যে আয় করেছেন, এএফএল-সিআইওর প্রতিবেদনে তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ট্রাম্পের আয় আগের বছরের তুলনায় ২৫৪ শতাংশ বেড়েছে। গত বছর তাঁর আয় হয়েছে প্রায় ২২০ কোটি ডলার।

    এর বড় অংশ এসেছে ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসা ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল ও মিমে কয়েন বিক্রি থেকে।

    এএফএল-সিআইওর হিসাবে, ২০২৫ সালে ট্রাম্পের আয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যম সারির কর্মীর আয়ের প্রায় ৪৩ হাজার ১৫৪ গুণ বেশি।

  • টানা দ্বিতীয়বার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে গেলেন না রাহুল

    টানা দ্বিতীয়বার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে গেলেন না রাহুল

    ভারতে এবার নিয়ে টানা দু’বছর লালকেল্লার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে গেলেন না কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খারগে এবং বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।

    গত ২০২৪ সালেও রাহুলের বসার জায়গা নিয়ে বড় বিতর্ক হয়েছিল। বিরোধী দলনেতা হিসেবে তার সামনের সারিতে বসার কথা থাকলেও, তাকে পিছনের দিকে বসতে দেওয়া হয়েছিল। কংগ্রেস একে সরাসরি ‘অপমান’ বলেছিল। যদিও সরকারের দাবি ছিল, অলিম্পিক খেলোয়াড়দের সম্মান জানাতে ও জায়গা দিতেই এমনটা করা হয়েছিল। এই বছরও তাদের না যাওয়াকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলেছেন বিজেপি নেতা গিরিরাজ সিং।

    বর্তমানে সরকার ও বিরোধীদের সম্পর্ক খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। সদ্য শেষ হওয়া সংসদের বাদল অধিবেশনেও এর প্রভাব দেখা গেছে। ওই অধিবেশনে দু’পক্ষের ঝামেলায় তেমন কোনো কাজই হয়নি। শুধু ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী’ আইন নিয়েই ঠিকমতো আলোচনা হয়েছে।

    এমনকী, অধিবেশন শেষ হওয়ার পর স্পিকার ওম বিড়লার ডাকা প্রথাগত চা-চক্রও বয়কট করে কংগ্রেস, তৃণমূল এবং সমাজবাদী পার্টি।

  • ইসরাইলি হামলায় ঘর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন সিরিয়াবাসী

    ইসরাইলি হামলায় ঘর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন সিরিয়াবাসী

    দক্ষিণ সিরিয়ার দারা প্রদেশের একটি গ্রামে বেসামরিক মানুষের বসতিতে গুলি চালিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।

    সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইল নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে ওই গুলি চালানো হয় বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

    সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-ইখবারিয়ার খবরে বলা হয়েছে, দারা প্রদেশের গ্রামীণ এলাকা মারিয়াহ গ্রামের কয়েকটি অংশে বেসামরিক মানুষের বাড়িঘর লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।

    গুলির শব্দ ও হামলার কারণে গ্রামের কিছু বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

    এরপর ইসরাইল ১৯৭৪ সালের বিচ্ছিন্নকরণ চুক্তি অকার্যকর ঘোষণা করে। একই সময়ে তারা সিরিয়ার বাফার জোন বা নিরাপত্তা বেষ্টনী এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয়।

    এর পর থেকে দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরাইলি বাহিনীর বিভিন্ন ধরনের অভিযান ও হামলা অব্যাহত রয়েছে।

  • বিজেপি সরকার না হলে আমি তৃণমূলেই থাকতাম: রচনা ব্যানার্জি

    বিজেপি সরকার না হলে আমি তৃণমূলেই থাকতাম: রচনা ব্যানার্জি

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনে বিজেপির বিজয়ের পর অনেকের মতো তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়েছেন টলিউড অভিনেত্রী ও ভারতের লোকসভার সংসদ সদস্য (এমপি) রচনা ব্যানার্জি। তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার বিষয়ে নানা জন নানা কারণ বললেও রচনা বললেন, বিজেপি না জিতলে তিনি তৃণমূলেই থাকতেন।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের খবরে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চুঁচুড়ার বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগের ‘ভারতমাতার পূজা’য় অংশ নেন এমপি রচনা। সেখানে দলবদলের কারণ স্পষ্ট করে হুগলি থেকে নির্বাচিত এ এমপি বলেন, ‘অনেক কাজ করেছি। আরও তিন বছর এমপি আছি। আরও কিছু কাজ করতে হবে। আমি বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম বুঝি না। মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে মিলে সেই কাজ করব।’

    ‘অনেক কাজ করেছি। আরও তিন বছর এমপি আছি। আরও কিছু কাজ করতে হবে। আমি বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম বুঝি না। মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে মিলে সেই কাজ করব।’

    রচনার দাবি এমপি হওয়ার পর প্রথম প্রথম নাকি তিনি সাধারণ মানুষের জন্য কোনো কাজ করার সুযোগ পাননি। তখন নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে কেন্দ্রের ‘আর্থিক বঞ্চনা’র কথা বলতেন। রচনা বলেন, ‘আমি অনেকের কাছে গিয়েছি। বলাগড়ের নদী ভাঙন থেকে রেল সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি।

    তিনি বলেন, কেন্দ্র-রাজ্য দড়ি টানাটানির সমস্যা থেকে রেহাই পেতে ডবল ইঞ্জিন সরকারের দরকার রয়েছে। না হলে উন্নয়ন কার্যত অসম্ভব।

    এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঢালাও প্রশংসাও করেন রচনা। তার দাবি, এই অল্প সময়ের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে যথেষ্ট ভালো কাজ করেছেন শুভেন্দু।

    চব্বিশের লোকসভা ভোটে ‘দিদি নম্বর ওয়ান’-এর সেটে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতির প্রসঙ্গও তোলেন রচনা। তিনি বলেন, ‘আমি সাধারণ মেয়ে নই। মমতা বুঝেছিলেন, তাই তিনি ‘‘দিদি নম্বর ওয়ান’’-এর সেটে গিয়েছিলেন। উনি জানতেন, আমি আসব না। লকেটের বিরুদ্ধে আমাকে কেন প্রার্থী করা হয়েছিল? তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা আছে।’

    অকপট রচনা বলেন, ‘বিজেপি সরকার না হলে আমি তৃণমূলেই থাকতাম।’

    ‘আরবানা’ বিতর্ক নিয়েও মুখ খোলেন রচনা। আফসোসের সুরে তিনি বলেন, ‘আমাকে এক এমপি আক্রমণ করেছিলেন। তাই জবাব দিয়েছি। একটা ছোট ফ্ল্যাটে থাকতাম। স্বপ্ন দেখতাম আরবানায় থাকার। মা-বাবাকে রাখার। সেই স্বপ্নপূরণ হয়েছে। আগে কোনো দিন কাউকে বলিনি। আমিও গড়িয়াহাট থেকে কাপড় কিনি। আমার মা গড়িয়ায় থাকেন। আমার মন্তব্য নিয়ে বন্ধুরা কিছু বলেনি। তবে কিছু লোক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছে। এখন মনে হয়, আরবানা মন্তব্য না করলেই ভালো হতো।’

  • পাকিস্তান কেন ভারতের ১ দিন আগে স্বাধীনতা দিবস পালন করে?

    পাকিস্তান কেন ভারতের ১ দিন আগে স্বাধীনতা দিবস পালন করে?

    ১৯৪৭ সালে একই ব্রিটিশ ইন্ডিপেনডেন্স অ্যাক্টের অধীনে জন্ম হলেও প্রতিবেশী দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস পালনের তারিখ ভিন্ন। ভারত প্রতিবছর ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করলেও পাকিস্তান তা পালন করে একদিন আগে, অর্থাৎ ১৪ আগস্ট।

    ভারতের স্বাধীনতার তারিখ হিসেবে ১৫ আগস্ট বেছে নেওয়া হয়েছিল মূলত তৎকালীন শেষ ভাইসরয় লর্ড লুই মাউন্টব্যাটেনের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণের স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে তিনি ক্ষমতা হস্তান্তরের তারিখটি বেছে নেন।

    মূলত ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তাবিত সময়সীমা ১৯৪৮ সালের জুন পর্যন্ত হলেও, কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের মধ্যকার তীব্র বিরোধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মাউন্টব্যাটেন নির্ধারিত সময়ের এক বছর আগেই তড়িঘড়ি করে ১৯৪৭ সালের আগস্টে ক্ষমতা হস্তান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।

    অন্যদিকে, পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস একদিন আগে পালিত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ প্রশাসনিক ব্যস্ততা ও মাউন্টব্যাটেনের সময়সূচি। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট করাচিতে পাকিস্তানের স্বাধীনতার ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়, যেখানে মাউন্টব্যাটেন উপস্থিত ছিলেন।

    পরদিন ১৫ আগস্ট তাকে নতুন দিল্লির স্বাধীন ভারতে নতুন গভর্নর জেনারেল হিসেবে শপথ নিতে হতো। একই দিনে দুই দেশের রাজধানীতে সশরীরে উপস্থিত থাকা অসম্ভব হওয়ায় করাচির মূল অনুষ্ঠানটি ১৪ আগস্ট সম্পন্ন করা হয় এবং ১৯৪৮ সাল থেকে পাকিস্তান এই তারিখটিকেই তাদের স্বাধীনতা দিবস হিসেবে গ্রহণ করে।

    এছাড়াও, পাকিস্তানের ১৪ আগস্ট পালনের পেছনে কিছু ধর্মীয় তাৎপর্য তুলে ধরা হয়। কিছু ইতিহাসবিদের মতে, ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট ছিল হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পবিত্র রমজান মাসের ২৭তম রাত (লাইলাতুল কদর), যা মুসলিম অধ্যুষিত দেশটির কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।

  • সামরিক-রাজনৈতিক সংকটের চক্রে আটকে পড়ছেন ট্রাম্প

    সামরিক-রাজনৈতিক সংকটের চক্রে আটকে পড়ছেন ট্রাম্প

    ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ষষ্ঠ মাসে পদার্পণ করার পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও সামরিক জটিলতা অপ্রতিরোধ্য গতিতে বাড়ছে। ব্যাপক বিমান হামলা এবং কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তেহরানকে নতিস্বীকার করানো সম্ভব হয়নি। রণক্ষেত্রের লড়াই ছাড়িয়ে এ সংকট এখন ছড়িয়ে পড়েছে ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, সামরিক নীতি এবং প্রশাসনিক নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার গভীরে।

    সিএনএনের একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে মার্কিন প্রশাসনের ওপর আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া চাপ তীব্র হয়ে উঠছে। সম্প্রতি তুরস্ক সফরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য হুমকির মুখে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে গোপনে অন্য বিমানে সরিয়ে নেওয়ার তথ্য ফাঁস হলে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

    এই গোপন বিমান বদলের ঘটনাটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও সফরসঙ্গীদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এতে ট্রাম্প প্রশাসনের ইরানের সামরিক শক্তি ধসে পড়েছে সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের দাবি ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে। পাশাপাশি এটি ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ওয়াশিংটনকে উপহাসের পাত্রে পরিণত করেছে।

    যুদ্ধের স্থায়িত্ব ট্রাম্পের ধারণার চেয়ে অনেক দীর্ঘায়িত হওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের রণকৌশলে বড় ধরনের পঙ্গুত্ব দেখা দিয়েছে। যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই চালালে অস্ত্র সংকটের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। বর্তমানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যতম প্রধান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাডের প্রায় ৮০ শতাংশ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র শেষ হয়ে গেছে। আবার একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ইরান যুদ্ধে কৌশলগত নজরদারি এবং নির্ভুল লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ব্যবহৃত এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন বহরের প্রায় এক-চতুর্থাংশ হারিয়েছে ওয়াশিংটন।

    অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনেও রিপাবলিকান পার্টির মিত্ররা এখন যুদ্ধ বন্ধের জোর দাবি জানাচ্ছেন। হাউস স্পিকার মাইক জনসন বলেছেন, ‘আমাদের এটি দ্রুত শেষ করতে হবে।’ ফক্স নিউজের উপস্থাপক লরা ইনগ্রাহাম থেকে শুরু করে ট্রাম্প সমর্থক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা সতর্ক করে বলেছেন, অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধ সব সময়ই ভয়াবহ রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে আসে।

    অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌ অবরোধ কৌশল

    সরাসরি বিমান হামলা চালিয়ে বা স্থল অভিযানের ঝুঁকিতে না গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এখন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন এক দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নিশ্চিত করেছেন, মার্কিন নৌবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে পর্যায়ক্রমে জাহাজ অদলবদল করে ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ ইরানের ওপর সমুদ্র অবরোধ বজায় রাখার সক্ষমতা রাখে। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের বাণিজ্যিক বন্দরগুলো দিয়ে পণ্য আনা-নেওয়া পুরোপুরি বন্ধ রাখা এবং তেহরানের বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের প্রধান পথ অবরুদ্ধ করা।

    তবে মার্কিন এই কঠোর ব্যবস্থার মুখোমুখি দাঁড়িয়েও তেহরান কোনো ধরনের আপস করতে অস্বীকার করেছে। ইরানের পার্লামেন্টারি কমিটি হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন, ইসরায়েলি ও শত্রুভাবাপন্ন দেশের নৌযান নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং বাজেয়াপ্ত ইরানি সম্পদ ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত এই জলপথ স্বাভাবিক হতে দেওয়া হবে না। ইরানের নীতিনির্ধারকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা এই অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।

    হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির দুটি তেলবাহী জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। আমিরাত সরকার এ ঘটনাকে সরাসরি ইরানি হামলা হিসেবে অভিযুক্ত করেছে। এ ছাড়া ইউকেএমটিওর প্রতিবেদনে জানা গেছে, এ পর্যন্ত প্রণালিটিতে ৫০টিরও বেশি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

  • চারজনকে পুশইন চেষ্টা বিএসএফের, প্রতিহত করল বিজিবি

    চারজনকে পুশইন চেষ্টা বিএসএফের, প্রতিহত করল বিজিবি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তের চাপাতলা এলাকায় বিএসএফ কর্তৃক চারজনকে পুশইন চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি। শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই চারজন সীমান্তের ১৫০ গজ ভিতরে ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছে।

    ঝিনাইদহ বিজিবি ৫৮ ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান জানান, দুপুরে বিএসএফের মাহেন্দ্রা ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্তের ৬১/১২ আর পিলারের নিকট গেট খুলে চারজনকে পুশইনের চেষ্টা করে। এদের মধ্যে ২ জন পুরুষ, ১ জন নারী এবং ১ জন শিশু রয়েছে।

    বিষয়টি কুসুমপুর বিওপির টহল দলের নজরে আসলে তারা বাধা দেয়। সে সময় ওই চারজন ভারতের ১৫০ গজ অভ্যন্তরে কলাবাগানের মধ্যে অবস্থান নেয়। বর্তমানে তারা সেখানে অবস্থান করছে। বিষয়টির তীব্র প্রতিবাদ জানানোসহ বিএসএফকে অবগত করা হয়েছে।

  • ভারতের সঙ্গে সীমান্ত চুক্তির দলিল হারিয়ে ফেলেছে নেপাল

    ভারতের সঙ্গে সীমান্ত চুক্তির দলিল হারিয়ে ফেলেছে নেপাল

    ভারতের সঙ্গে সীমান্তসংক্রান্ত বিরোধের আইনি ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত ১৮১৬ সালের ঐতিহাসিক ‘সুগৌলি চুক্তি’র মূল দলিল নেপালের কাছে আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারছে না দেশটির সরকার। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় ইঙ্গিত দিয়েছেন, ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তির মূল স্বাক্ষরিত দলিলটি সরকারের হেফাজতে রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

    নেপালের জাতীয় আর্কাইভে কিছু কাগজপত্র থাকলেও সরকারের বিভিন্ন বিভাগে অনুসন্ধানের পরও চূড়ান্ত ও মূল সনদটির অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

    পার্লামেন্টে শিশির খানাল বলেন, ‘আমাদের কাছে চুক্তিপত্রটি রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নেপাল সরকারের কাছে কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই। জাতীয় আর্কাইভে নির্দিষ্ট কিছু চুক্তির দলিল রাখার রেকর্ড দেখা গেলেও সেগুলোই যে আসল এবং মূল সনদপত্র, তা নিয়ে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।’

    এর আগে ২০১৯ সালে নেপালের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ গাওয়ালী দাবি করেছিলেন, চুক্তির অনুলিপি বা কপিগুলো নেপালের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

    ১৮১৪ থেকে ১৮১৬ সাল পর্যন্ত চলা অ্যাংলো-নেপাল যুদ্ধের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে ১৮১৬ সালে এই সুগৌলি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এটিই নেপালের আধুনিক ভৌগোলিক সীমানার মূল আইনি ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পক্ষে লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্যারিস ব্র্যাডশ ও নেপালের রাজা গিরবাণ যুদ্ধ বিক্রম শাহের পক্ষে রাজগুরু গজরাজ মিশ্র এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

    তবে সুগৌলি চুক্তিটি ছিল ভারতের স্বাধীনতার আগের সময়ের একটি দলিল। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় পররাষ্ট্র সম্পর্ক মূলত অন্যান্য দলিলের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে সীমান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে সুগৌলি চুক্তিটি এখনো মৌলিক ভিত্তি হিসেবে রয়ে গেছে। বর্তমানে ভারত-নেপাল সীমান্তব্যবস্থা ১৯৫০ সালের ‘ভারত-নেপাল শান্তি ও মৈত্রী চুক্তি’ এবং যৌথ দ্বিপক্ষীয় ওয়ার্কিং গ্রুপের কারিগরি দলিলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

    বর্তমানে দুই দেশের সীমানাকেন্দ্রিক মূল বিরোধ গ্রেটার হিমালয়ের কালাপানি অঞ্চল নিয়ে, যা ভারতের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে অবস্থিত। ২০১৯ সালে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন মানচিত্র প্রকাশ করলে নেপাল তাতে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানায়। কাঠমান্ডুর দাবি অনুযায়ী, ওই অঞ্চল তাদের সুদূরপশ্চিম প্রদেশের দারচুলা জেলার অংশ হিসেবে চিহ্নিত।

    ভারত ও চীনের মধ্যে লিম্পিয়াধুরা-লিপুলেখ পাস দিয়ে বাণিজ্যপথ পুনরায় চালুর সমঝোতা হওয়ার পর থেকে ভারত-নেপাল সীমান্ত বিরোধ নতুন করে তীব্র রূপ নেয়। নেপাল দাবি করে আসছে—লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা ও কালাপানি তাদের ভূখণ্ড। অন্যদিকে ভারতের অবস্থান হচ্ছে, এই অঞ্চলগুলো তাদের নিজেদের উত্তরাখন্ড রাজ্যের অংশ।

    চলতি বছরের জুনে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ দাবি করেন, ভারতের বিরুদ্ধে নেপালের ভূখণ্ড দখলের অব্যাহত অভিযোগের মধ্যেই হিমালয়ের কোলঘেঁষা এই দেশ নিজেরাও বিভিন্ন স্থানে ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে।

    তবে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরে জানায়, লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ, কালাপানিসহ বিতর্কিত সীমান্ত এলাকা নিয়ে কাঠমান্ডুর আনুষ্ঠানিক অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমেই এই অমীমাংসিত সীমান্ত সমস্যাগুলো নিরসন করা হবে বলে জানানো হয়। পরে নেপালের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, তারা সমস্যাটি দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত সমাধান চায় এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী।

    সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেন, ‘নেপাল অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে আমাদের প্রতিবেশী দুই দেশের সমৃদ্ধিকে স্বাগত জানায়। সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক সুবিধা এবং একে অপরের বৈধ স্বার্থ ও উদ্বেগের প্রতি সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে নেপাল দুই দেশের সঙ্গেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করতে চায়।’

  • মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ‘মিথ্যার’ ওপর নির্ভরশীল, দাবি ইরানের

    মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ‘মিথ্যার’ ওপর নির্ভরশীল, দাবি ইরানের

    ৎইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলেছেন যে ওয়াশিংটনের শাসনব্যবস্থা এবং পররাষ্ট্রনীতি সম্পূর্ণভাবে ‘মিথ্যার’ ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

    ইরান এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মার্কিন নীতির সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি বিখ্যাত রুশ ঔপন্যাসিক ফিওদর দস্তয়ভস্কির কালজয়ী উপন্যাস ‘দ্য ব্রাদার্স কারামাজভ’-এর প্রসঙ্গ টেনে আনেন।

    মার্কিন আন্তর্জাতিক নীতির চরম সমালোচনা করে বাঘাই বলেন, ওয়াশিংটনের পুরো নীতিগত কাঠামোই এখন অতিরিক্ত মাত্রায় মিথ্যাচারের ওপর নির্ভরশীল। এই প্রসঙ্গে তিনি দস্তয়েভস্কির একটি বিখ্যাত উক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, যে ব্যক্তি নিজের কাছে মিথ্যা বলে এবং নিজের সেই মিথ্যাই বিশ্বাস করে, সে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় যখন সে তার নিজের ভেতরের বা চারপাশের কোনো সত্যকেই আর আলাদা করতে পারে না।

    এই সাহিত্যিক উদ্ধৃতির মাধ্যমে ইরানি মুখপাত্র মূলত বোঝাতে চেয়েছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমাগত মিথ্যাচার করতে করতে এমন এক বিভ্রান্তিকর অবস্থায় উপনীত হয়েছে, যেখানে তারা নিজেরাই এখন আর বাস্তব সত্য ও মিথ্যার মধ্যে কোনো পার্থক্য করতে পারছে না।

  • ইরানকে হারানোমাত্র হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ঘোষণা

    ইরানকে হারানোমাত্র হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ঘোষণা

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে ‘সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করার’ পরপরই তিনি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে ঘোষণা করবেন। গতকাল শুক্রবার নিউইয়র্কে এক সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প এ কথা বলেছেন। তাঁর এমন বক্তব্যে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয় তেহরান। ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, গুরুত্বপূর্ণ এ সামুদ্রিক নৌপথটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে ইরান তাঁর দাবি নাকচ করে দিয়েছে।

    গতকাল নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের একটি পুলিশ একাডেমিতে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানকে খুব বাজেভাবে পরাজিত করা হচ্ছে। ইরানকে পুরোপুরি পরাজিত করার পর শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে ঘোষণা করব।’ এরপর তিনি আরও বলেন, ‘এটা সত্য।’

    পরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প মজা করে এ কথা বলেছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন থেকে এমনটা জানা গেছে।

    ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি আজ শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, ইরানের আছে এবং ইরানেরই থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের নির্দেশেই শুধু এ প্রণালি বন্ধ হবে বা খুলবে।’

    ট্রাম্প গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন। জবাবে তেহরান হরমুজ প্রণালির বড় এক অংশে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ জ্বালানির পাশাপাশি অন্যান্য পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অচলাবস্থা চলছে। ইরান এ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের বড় একটি অংশে প্রবেশাধিকার সীমিত করে রেখেছে। অন্যদিকে ইরানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করার চেষ্টায় ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে রেখেছে মার্কিন নৌবাহিনী।

    গতকাল সমর্থক ও পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘অবরোধ আমাদের নিয়ন্ত্রণে। আমরা না চাইলে কোনো জাহাজই যেতে পারবে না।’

  • যুক্তরাষ্ট্রে গুলিতে ৫ জন নিহত

    যুক্তরাষ্ট্রে গুলিতে ৫ জন নিহত

    যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের উত্তরাঞ্চলে বন্দুকধারীর গুলিতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তির খোঁজে পুলিশ ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানোর পর তাঁর মরদেহ খুঁজে পেয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে মিশিগান অঙ্গরাজ্য পুলিশ এ তথ্য দিয়েছে।

    পুলিশ বলেছে, এ গুলির ঘটনায় এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক।

    অঙ্গরাজ্য পুলিশ বলেছে, স্থানীয় সময় বেলা প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটে গুলির খবর পেয়ে মিশিগানের মিসাউকি কাউন্টির একটি বাড়িতে পুলিশ সদস্যদের পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে তারা তিনজনকে মৃত এবং চতুর্থ একজনকে আহত অবস্থায় পান।

    পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম ৩৯ বছর বয়সী চ্যাড হিকম্যান। পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তিনি পালিয়ে যান। এরপর তাঁকে ধরতে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। তল্লাশির সময় তদন্তকারীরা দ্বিতীয় একটি বাড়িতে আরও একজনের মরদেহ খুঁজে পান।

    পরে পুলিশ সদস্যরা হুইটলক লেকের কাছে একটি বনাঞ্চলের পাশে হিকম্যানের গাড়িটি শনাক্ত করেন। পুলিশ বলেছে, সেখানে হিকম্যান এবং আরও একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

    পুলিশের বিবৃতিতে লেফটেন্যান্ট অ্যাশলি মিলার বলেন, ‘এ ঘটনা কমিউনিটির জন্য হৃদয়বিদারক এবং এতে জড়িত তদন্ত কর্মকর্তাদের জন্যও অত্যন্ত কঠিন।’ পুলিশ নিহত ব্যক্তিদের নাম, বয়স বা লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করেনি।

  • যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শতাংশ ড্রোন ধ্বংস হয়েছে

    যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শতাংশ ড্রোন ধ্বংস হয়েছে

    ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের গুরুত্বপূর্ণ দূরপাল্লার গোলাবারুদ এবং আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মজুত অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছে।

    গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত দ্য ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আগ্রাসন শুরুর পর শুরু হওয়া যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ১৩০ কোটি ডলারেরও বেশি দামের এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনে ক্ষয়ক্ষতি বা ধ্বংস হয়েছে। এই পরিমাণ যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের মজুত থাকা মোট ড্রোন বহরের প্রায় ২৫ শতাংশ।

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর সহযোগীরা ইরানের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দাবি করলেও এই প্রতিবেদন স্পষ্ট করে দিয়েছে, কীভাবে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এখনো কার্যকর রয়েছে।

    গত মে মাসে প্রকাশিত ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনে ড্রোন ধ্বংসের পরিমাণ যুদ্ধপূর্ব মজুতের ২০ শতাংশ বলা হয়েছিল। ওয়াশিংটন পোস্টের এই প্রতিবেদনে ধ্বংস হওয়া এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের সংখ্যা তার চেয়ে কিছুটা বেশি দেখানো হয়েছে।

    এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের মূল্য তার সেন্সর, রাডার এবং যুদ্ধাস্ত্রের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তিন কোটি ডলার থেকে পাঁচ কোটি ডলারের মধ্যে হয়ে থাকে। মার্কিন বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এই চালকবিহীন আকাশযানটি নজরদারি, পর্যবেক্ষণ এবং লক্ষ্যভিত্তিক নিখুঁত হামলার জন্য উচ্চ উচ্চতার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।

    এটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা বহন করতে সক্ষম।

    ড্রোনটি তুলনামূলকভাবে কম উচ্চতায় এবং ধীরগতিতে ওড়ে, যা এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনটিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং ইয়েমেন ও ইরাকে তাদের আঞ্চলিক সহযোগীদের সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে সক্ষম।

    হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি ড্রোনটি প্রায়ই ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এই প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রায় পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে থাকে।

    ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি এই জলপথে একটি ‘ইস্পাতের প্রাচীর’ সমতুল্য নৌ অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছেন।

    ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে মার্কিন অস্ত্র ও গোলাবারুদের যে ঘাটতি দেখা দিয়েছে, সেই তালিকায় এমকিউ-৯ রিপার অন্যতম।

    পেন্টাগন জেনারেল অ্যাটমিক্সের তৈরি এই রিপার ড্রোনটি ধাপে ধাপে বাদ দিচ্ছে। এর বদলে আরও সস্তা সশস্ত্র নজরদারি ড্রোন বহর আনার পরিকল্পনা করছে, যা ঝাঁক বেঁধে তাদের লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ করতে সক্ষম।

    যুক্তরাষ্ট্র তার অত্যাধুনিক দূরপাল্লার যুদ্ধাস্ত্রের মজুত নিঃশেষ করে ফেলেছে।

    ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ৮৫০টিরও বেশি টোমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও এক হাজারের বেশি প্যাট্রিয়ট ও টার্মিনাল হাই অ্যালটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

    ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য ইরান যুদ্ধের কারণে মার্কিন অস্ত্রের মজুতে ঘাটতির প্রতিবেদন নাকচ করে দিয়ে।

    ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-এর সময় মার্কিন যুদ্ধ বিভাগের পরিচালন ব্যয় মেটাতে এবং অস্ত্রের সরবরাহ আবার পূরণ করতে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের কাছে ৬ হাজার ৭০০ কোটি ডলারেরও বেশি অতিরিক্ত তহবিলের অনুরোধ জানিয়েছে।

    ৬ আগস্ট মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ট্রাম্প ওয়াশিংটনের মারাত্মক গোলাবারুদ সংকটের বিষয়ে যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে কথা বলেন। ট্রাম্প তাঁকে বলেন, এই ঘাটতিই ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর প্রশাসনের সাময়িকভাবে হামলা স্থগিত রাখার অন্যতম কারণ।

  • ইরান যুদ্ধে পাঠানো ৫ হাজার মার্কিন সেনা আত্মহত্যার ঝুঁকিতে

    ইরান যুদ্ধে পাঠানো ৫ হাজার মার্কিন সেনা আত্মহত্যার ঝুঁকিতে

    মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর দায়িত্ব পালন শেষে কবে নাগাদ ফেরা যাবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পাঠানো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর নাবিক ও সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্যের চরম অবনতি ঘটেছে। একই সঙ্গে তাঁদের মধ্যে আত্মহত্যার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নাবিকদের পরিবার ও সহকর্মীরা।

    সম্প্রতি এ উদ্বেগের কথা সরাসরি মার্কিন নৌবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরেছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। সান ডিয়েগোতে অনুষ্ঠিত এক উত্তপ্ত টাউন হল সভায় নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি হাং কাও এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সামনে তাঁরা এ ক্ষোভ উগরে দেন। সভায় উপস্থিত দুই নাবিকের স্ত্রী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    সান ডিয়েগোর ওই সভায় আনুমানিক ২০০ জন উপস্থিত ছিলেন। সেখানে অংশ নেওয়া এক নাবিকের স্ত্রীর ভাষ্য, সভার দিনই তিনি তাঁর স্বামীর কাছ থেকে একটি বার্তা পান। অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি কর্মকর্তাদের জানান, তাঁর স্বামী তাঁকে লিখেছেন যে ‘তিনি আশা করেন আগামীকাল যেন তাঁর আর ঘুম না ভাঙে।’

    ওই নারী আরও জানান, সভায় উপস্থিত নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই সুনির্দিষ্ট বা আবেগঘন বক্তব্যের কোনো সরাসরি জবাব দেননি। তবে জাহাজে থাকা নাবিকদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী, চ্যাপলিন (ধর্মীয় শিক্ষক) এবং চিকিৎসকদের পর্যাপ্ত সুবিধা রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেন তাঁরা।

    একই সঙ্গে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুদ্ধজাহাজটিতে আরও বেশি মানসিক স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ পাঠানোর কাজ চলছে বলে জানান নৌবাহিনীর সেই কর্মকর্তারা।

    গত সপ্তাহের সভায় যে উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে, তার সঙ্গে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় নাবিক ও তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে সামরিক সংবাদমাধ্যম ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’-এর কাছে ব্যক্ত করা মতামতের হুবহু মিল রয়েছে।

    বর্তমানে কর্মরত নাবিক ও তাঁদের পরিবারের সাক্ষাৎকার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রু সদস্যদের ডজনখানেক মন্তব্য ও পোস্ট থেকে এ সংকটের গভীরতা স্পষ্ট। তাঁদের বিবরণ অনুযায়ী, চরম ক্লান্তি ও মনোবল ভেঙে পড়ায় নাবিকেরা প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন। এর মধ্যে আত্মহত্যার চিন্তার মতো গুরুতর বিষয় যেমন রয়েছে, তেমনি অন্তত একজন ক্রু সদস্যকে জাহাজ থেকে সাগরে ঝাঁপ দেওয়া থেকে বিরত রাখার ঘটনাও ঘটেছে।

    নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অস্বাভাবিক ও অত্যন্ত কঠিন এক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এ যুদ্ধজাহাজের নাবিকেরা। মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের অধীন ৪০ দিন ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধাভিযানে অংশ নিতে হয়েছে তাঁদের। সব মিলিয়ে সমুদ্রে টানা ২৫০ দিন পার করার এক নজিরবিহীন ধকল সামলাচ্ছেন তাঁরা।

    বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের ফ্লাইট ডেক থেকে উড্ডয়নের জন্য একটি এমএইচ-৬০আর সি হক হেলিকপ্টার প্রস্তুত করছেন এক নাবিক।

    গত নভেম্বরে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েনের উদ্দেশ্যে এ বিমানবাহী রণতরি সান ডিয়েগো ত্যাগ করেছিল। তবে পরে সেটিকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে কোনো ধরনের বন্দরবিরতি বা যাত্রাবিরতি ছাড়াই সমুদ্রে রেকর্ডসংখ্যক দিন পার করে আট মাসের বেশি সময় ধরে মোতায়েন রয়েছে যুদ্ধজাহাজটি।

    ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান সফল করতেই ক্রুদের এ দীর্ঘ সময় পার করতে হয়েছে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, গত মে মাসে এ মিশন শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা বাড়ানো হয়েছে। তবে কবে নাগাদ তাঁরা ফিরতে পারবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করেনি মার্কিন প্রশাসন।

    সভায় মানসিক স্বাস্থ্য ও আত্মহত্যার ঝুঁকি নিয়ে পরিবারের সদস্যরা যে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, সে বিষয়ে নৌবাহিনী ঠিক কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানানো হয়নি। তবে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রণতরিটিতে পরামর্শক, চ্যাপলিন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, অন্যান্য জরুরি সহায়তাসহ মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক বা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। খাদ্য-পানির সংকট, বাড়ি ফিরতে চান ৫ হাজার সেনা

    মার্কিন নৌবাহিনী গত সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘নাবিকদের মানসিক সুস্থতা পর্যবেক্ষণ ও বজায় রাখার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রতিনিয়ত মূল্যায়ন বা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে যাচ্ছে।’

    এদিকে প্রতিশোধ বা আইনি জটিলতার আশঙ্কায় এ প্রতিবেদনের জন্য সাক্ষাৎকার দেওয়া নাবিকদের স্ত্রী, পরিবারের অন্য সদস্য ও কর্তব্যরত নাবিকদের নাম-পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করা হয়েছিল। ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’সেই অনুরোধের প্রতি সম্মান দেখিয়েছে।

    পরিবারের সদস্য ও নাবিকদের অভিযোগ, আব্রাহাম লিংকন যুদ্ধজাহাজে থাকা প্রায় ৫ হাজার সেনাসদস্য চরম খাদ্য ও পানিসংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চিঠি বা ডাক যোগাযোগে বিঘ্ন এবং একটানা দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, যেখানে বিশ্রামের সুযোগ মেলাই ভার।

    ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের হ্যাঙ্গার বে-তে একটি এফ/এ-১৮ই সুপার হর্নেট যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ করছেন নাবিকেরা।

    সাধারণত সাগরে থাকাকালীন নাবিকদের একঘেয়েমি ও ক্লান্তি দূর করতে নিয়মিত বিরতিতে বন্দরে যাত্রাবিরতি বা ‘পোর্ট কল’ দেওয়া হয়। তবে মোতায়েনের দীর্ঘ সময়ে আব্রাহাম লিংকনের ক্রুরা এমন কোনো স্বাভাবিক সুযোগ পাননি বললেই চলে।

    মার্কিন নৌবাহিনীর নিয়ম অনুযায়ী, রসদ সংগ্রহ, জাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ ও ক্রুদের বিশ্রামের জন্য সাধারণত প্রতি ৩০ থেকে ৪৫ দিন পরপর বিমানবাহী রণতরিগুলো কোনো না কোনো বন্দরে নোঙর করতে হয়।

    যুদ্ধজাহাজটিতে থাকা এক নাবিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পুরো মোতায়েনজুড়ে আমরা কোনো বিরতি ছাড়াই জানপ্রাণ দিয়ে কাজ করে গেছি।’ অথচ মোতায়েনের শুরুতে বিভিন্ন বন্দরে যাওয়া এবং বিশ্রামের আশায় সবার মনোবল বেশ চাঙা ছিল বলে তাঁর মন্তব্য।

    বর্তমানে ক্রুদের মনোবল এতটাই ভেঙে পড়েছে যে তাঁরা সামনে কোনো বন্দরে বিশ্রামের সুযোগও চান না; বরং যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফেরার স্বার্থে যেকোনো বিরতি ত্যাগ করতে তাঁরা রাজি। সেই নাবিকের আকুতি, ‘এই মুহূর্তে আসলে আমাদের আর কোনো প্রত্যাশা নেই। আমরা শুধু বাড়ি ফেরার একটি সুনির্দিষ্ট তারিখ চাই।’

    নাবিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করা সামরিক জীবনেরই অংশ। তবে সেটি তাঁরা মেনে নিলেও অনেকেরই অভিযোগ, শারীরিক ও মানসিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনা না করেই এ যুদ্ধজাহাজের ক্রুদের অস্বাভাবিক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে টানা যুদ্ধাভিযান চালাতে বাধ্য করা হচ্ছে।

    গত জুলাই মাসে এক চিন্তিত অভিভাবক ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’–কে দেওয়া এক চিঠিতে লেখেন, ‘আমার ছেলে বর্তমানে ওই যুদ্ধজাহাজে আছে। সে এবং তার সহকর্মীরা একটু স্বস্তি পেতে প্রতিনিয়ত জাহাজ থেকে সাগরে ঝাঁপ দেওয়ার কথা ভাবছে, এটি শোনা একজন বাবার জন্য অত্যন্ত কষ্টের।’

    নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে এই অভিভাবক আরও বলেন, ‘আমরা রাতে ঘরের নরম বিছানায় আরামে ঘুমাই, অথচ আমাদের প্রিয়জনেরা ওখানে যুদ্ধ করছে। তারা আসলে কিসের জন্য জীবন বাজি রাখছে, সেটিও তাদের কাছে স্পষ্ট নয়।’

    বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের ফ্লাইট ডেক থেকে উড্ডয়ন করছে একটি এফ/এ-১৮ই সুপার হর্নেট যুদ্ধবিমান।

    জাহাজে থাকা একাধিক নাবিক জানিয়েছেন, কিছুদিন আগে এক ক্রু সদস্যকে জাহাজ থেকে সাগরে ঝাঁপ দেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছিল। এক নাবিকের ভাষ্য, ‘আমাদের এখানে এমন ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে দায়িত্বরত প্রহরীদের এক নাবিককে সাগরে লাফ দেওয়া থেকে আটকাতে হয়েছিল।’ ঘটনাটি পুরো জাহাজের লাউডস্পিকারে ঘোষণার মাধ্যমে সব ক্রুকে জানানো হয়েছিল বলে তাঁদের দাবি।

    তবে এই সুনির্দিষ্ট ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও মার্কিন নৌবাহিনী সরাসরি কোনো জবাব দেয়নি। কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্নের উত্তরে বাহিনী জানিয়েছে, ‘কর্তৃপক্ষ সব সময়ই পরিবারগুলোর কথা শুনতে, সেনাসদস্যদের পাশে দাঁড়াতে এবং আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের লক্ষ্য নিরাপদে ও সফলভাবে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সম্পদ বা সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

    নাবিক, তাঁদের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন, এর আগে আব্রাহাম লিংকন যুদ্ধজাহাজে খাবার রেশন করে দেওয়া, তীব্র পানির সংকট এবং টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে কাপড় লন্ড্রি করতে না পারার মতো বড় সমস্যা তৈরি হয়েছিল। তবে এখন সেসব সমস্যার বড় অংশই সমাধান হয়েছে এবং চিঠি বা ডাক যোগাযোগের ব্যবস্থাও ক্রমান্বয়ে উন্নত হচ্ছে বলে তাঁদের মত।

    গত জুলাইয়ের শুরুতে ওমানের একটি বন্দরে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির কারণে যুদ্ধজাহাজটিতে নতুন করে রসদ সরবরাহের সুযোগ হয়। ফলে দীর্ঘ কয়েক মাস পর ক্রুরা তাজা ফলমূল ও শাকসবজি পান বলে জানান এক নাবিক। তবে সে সময় অনেক নাবিককে জাহাজ থেকে নামার অনুমতি দেওয়া হলেও তাঁদের বন্দর এলাকার একটি সুরক্ষিত সীমানার মধ্যেই আটকে রাখা হয়েছিল।

    এর আগে গত ডিসেম্বরেও ‘আব্রাহাম লিংকন’ গুয়াম দ্বীপে একটি সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করেছিল। কিন্তু জাহাজে থাকা অনেক নাবিকই সেই সময় তীরে নামার সুযোগ পাননি বলে জানান তাঁদের স্ত্রীরা।

    সেনাসদস্যদের জন্য নিয়মিত বন্দরবিরতির অভাব, ডাক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ঘাটতি নিয়ে এক নাবিকের স্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘নিজের মানুষের (নাবিক) এই অবস্থা দেখাটা দিন দিন অসম্ভব হয়ে উঠছে।’ অসহায়ত্ব প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি চোখের সামনে আমার স্বামীকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে দেখছি। মনে হচ্ছে, তারা যেন সব আশাই হারিয়ে ফেলছে।’

    নৌবাহিনী অবশ্য তাদের জবাবে উল্লেখ করেছে যে লিংকন যুদ্ধজাহাজটি বর্তমানে অত্যন্ত বৈরী ও যুদ্ধসংক্ষুব্ধ এক পরিবেশে দায়িত্ব পালন করছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী রসদ সরবরাহ কেন্দ্রগুলো সামরিক সংঘাতের কারণে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

    এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন বাহিনী রসদ সরবরাহের ক্ষেত্রে মিশনের জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয়গুলো অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এর তালিকায় প্রথমে খাবার, তারপর স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী ও সবশেষে চিঠি বা ডাকের স্থান। নৌবাহিনীর দাবি, যুদ্ধজাহাজ থেকে আসা সাম্প্রতিক প্রতিবেদন নিশ্চিত করছে যে সেখানে পরিষ্কার পানি, সচল শীতাতপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও প্রতিবেলার খাবারে দুটি আমিষের ব্যবস্থা রয়েছে। রসদ সরবরাহের এ প্রবাহ দিন দিন আরও উন্নত হচ্ছে।

    গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত দুটি সভার (একটি সশরীর ও অন্যটি অনলাইনে) একটিতে নেভাল এয়ারফোর্সেসের কমান্ডার ভাইস অ্যাডমিরাল ডগলাস ভেরিসিমো, নেভাল সারফেস ফোর্সেসের কমান্ডার ভাইস অ্যাডমিরাল জোসেফ কাহিলসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ভারপ্রাপ্ত নৌ সেক্রেটারি হাং কাও সশরীর উপস্থিত থাকলেও ভিডিও কলে যুক্ত ছিলেন না।

    সভায় অংশ নেওয়া এক নারী কাও, ভেরিসিমো ও কাহিলকে সরাসরি উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনারা আমাদের এবং নেতৃত্বের মধ্যকার বিশ্বাসের জায়গাটি সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন।’

    সামরিক সংবাদমাধ্যম ‘ইউএসএনআই নিউজ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ১৬২ দিনের একটি মোতায়েন শেষে ঘরে ফেরার এক বছরের কম সময়ের মধ্যে সান ডিয়েগোর নিজস্ব বন্দর থেকে প্রশান্ত মহাসাগরে মোতায়েনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল লিংকন। কিন্তু এর পরপরই রণতরিটিকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয় এবং গত জানুয়ারি মাসে সেটি সেখানে পৌঁছায়। সেই থেকে আজ অবধি যুদ্ধজাহাজটি আরব সাগরেই অবস্থান করছে।

    ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের হ্যাঙ্গার বে-তে একটি এমএইচ-৬০আর সি হক হেলিকপ্টারের রক্ষণাবেক্ষণ করছেন এক নাবিক। ২৬ জুলাই ২০২৬। যুদ্ধজাহাজটিতে থাকা নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য ও বসবাসের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তুলে ধরেছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরাছবি: মার্কিন নৌবাহিনী

    সামরিক নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা আব্রাহাম লিংকন কবে দেশে ফিরবে সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলে জানান নাবিকদের স্ত্রীরা।

    বিভিন্ন গবেষণায়ও দেখা গেছে, লিংকন যুদ্ধজাহাজের নাবিক এবং তাঁদের পরিবারের বর্ণনা করা এ পরিস্থিতিগুলো সমুদ্রে থাকা সেনাসদস্যদের জন্য তীব্র মানসিক চাপের অন্যতম প্রধান কারণ।

    একাডেমিক জার্নাল ‘মিলিটারি মেডিসিন’-এ ২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মোতায়েনকালে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্রাম নিতে না পারা এবং মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগই নাবিকদের সবচেয়ে বেশি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে।

    বিমানবাহী রণতরি, ডেস্ট্রয়ার এবং উভচর যুদ্ধজাহাজে কর্মরত ৯৫৬ জন নাবিকের ওপর পরিচালিত এ সমীক্ষায় আরও উঠে আসে যে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে জটিলতা এবং মানসিক চাপ কমানোর সুযোগের অভাবও তাঁদের বড় উদ্বেগের কারণ।

    নৌবাহিনীতে দীর্ঘ ২০ বছর দায়িত্ব পালন করা ও চারবার মোতায়েন হওয়া অবসরপ্রাপ্ত চিফ পেটি অফিসার থমাস নাটজম্যান জানান, একটি মোতায়েন কবে শেষ হবে, তা না জানাটা নাবিকদের ওপর প্রচণ্ড মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে কাটানোর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে নাটজম্যান বলেন, ‘সেখানে কোনো সোম, মঙ্গল বা বুধবার নেই; প্রতিটি দিনই যেন একটি দিন। আপনি আপনার সাধ্যমতো ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করেন।’

    সংকটের জায়গাটি উল্লেখ করে নাটজম্যান বলেন, ‘সমস্যা হলো, আপনি যখন অনেক লম্বা সময় সমুদ্রে থাকবেন, তখন মনোবল ধরে রাখার চেষ্টা একটা সময় এসে থমকে যাবে…আর ঠিক সেখান থেকেই মানসিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে শুরু করবে।’

  • বাহরাইনের ঘাঁটি ধ্বংসেই ‘আব্রাহাম লিংকন’ রণতরীতে যত সংকট

    বাহরাইনের ঘাঁটি ধ্বংসেই ‘আব্রাহাম লিংকন’ রণতরীতে যত সংকট

    ইরানের সাথে যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এ তীব্র খাদ্য ও রসদ সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘ সাড়ে আট মাসেরও বেশি সময় ধরে টানা সাগরে থাকায় বিমানবাহী এই রণতরীটির পাঁচ হাজার নৌসেনার মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে।

    নিউ ইয়র্ক টাইমস শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রথম দিকেই বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটিতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। যৌথ মার্কিন-ইসরাইলি হামলার জবাবে চালানো ইরানের এই হামলায় ঘাঁটিটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর বহুল ব্যবহৃত প্রধান লজিস্টিক বা রসদ সরবরাহ কেন্দ্রটি ধ্বংস হয়ে যায়।

    বাহরাইন ঘাঁটি ধ্বংস হওয়ার পর পেন্টাগন অল্টারনেটিভ পরিকল্পনা হিসেবে মালদ্বীপের দক্ষিণে অবস্থিত দ্বীপ ডিগো গার্সিয়ার ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়। ওমান উপসাগরে যুদ্ধরত দুটি বিমানবাহী রণতরী থেকে প্রায় ২,২০০ মাইল দূরে এই দ্বীপটি অবস্থিত। বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর দুটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের মধ্যে থাকায় এই দূরবর্তী দ্বীপ ব্যবহার ছাড়া মার্কিনদের বিকল্প ছিল না। দীর্ঘ দূরত্বের কারণে সময়মতো রসদ পৌঁছাতে না পারায় বিমানবাহী রণতরীতে এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।

    এই চরম রসদ সংকট ও নৌসেনাদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আমেরিকার ডেমোক্র্যাটিক দলের আইনপ্রণেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিনিধি মাইক লেভিনও প্রকাশ করেছেন নাবিকদের পরিবারের চরম উদ্বেগের কথা।

    তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, বিমানবাহী রণতরী ‘লিংকন’ খুব শিগগিরই দেশে ফিরবে এবং সেটির স্থলাভিষিক্ত করা হবে ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’-কে। মার্কিন রণতরীগুলোর মোতায়েন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প জবাব দেন, ‘না, এটি মোটেও বেশি দীর্ঘ নয়।’ প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও হরমুজ প্রণালী অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরুদ্ধ রাখার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

    উল্লেখ্য, যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ডিগো গার্সিয়া ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১ মার্চ সীমিত প্রতিরক্ষামূলক কাজের কথা বলে তিনি অনুমতি দেন। ইরানের বার্তা সংস্থা ওয়ানা বা অন্যান্য সূত্র মতে, মার্কিন বাহিনীর ব্যবহারের কারণে গত ২০ মার্চ ইরানও এই দ্বীপ লক্ষ্য করে দুটি মাঝারি পাল্লার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল।

  • ব্রিটিশদের ১০৯ বছর আগে দেওয়া ঋণের টাকা সুদসহ ফেরত চায় ভারতীয় পরিবার

    ব্রিটিশদের ১০৯ বছর আগে দেওয়া ঋণের টাকা সুদসহ ফেরত চায় ভারতীয় পরিবার

    সেটা ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়। ব্রিটিশ বাহিনীর হয়ে যুদ্ধরত ভারতীয় সৈন্যদের ভরণপোষণের জন্য তহবিল সংগ্রহ করছিল সরকার। হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের এক ব্যবসায়ী। সরকারকে ‘ধার’ দিয়েছিলেন ৩৫ হাজার টাকা।

    দীর্ঘ ১০৯ বছর পরে তার পরিবার যুক্তরাজ্যের সরকারের কাছে সেই অর্থ সুদসহ ফেরত চেয়েছে। ওই পরিবার দাবি করেছে, তাদের পূর্বপুরুষ জুম্মালাল রুঠিয়া যে ব্রিটিশ সরকারকে এই অর্থ ঋণ দিয়েছিলেন, তার প্রয়োজনীয় দলিলপত্র তাদের কাছে আছে। চৌঠা জুন ১৯১৭ তারিখে দেওয়া একটি শংসাপত্রই ৩৫ হাজার টাকার এই আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ বলে দাবি করেছে রুঠিয়া পরিবার।

    পরিবারটির দাবি, এই অর্থ ভোপাল এজেন্সিতে কর্মরত ব্রিটিশ সরকারের এক কর্মকর্তার মাধ্যমে সরকারকে দেওয়া হয়েছিল। এই দাবির পরে যুক্তরাজ্যের ডেট ম্যানেজমেন্ট দপ্তর বা ডিএমও পরিবারটির কাছ থেকে এ বিষয় সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চেয়ে পাঠিয়েছে।

    যেভাবে সামনে এল এ ঘটনা

    জুম্মালাল রুঠিয়ার প্রপৌত্র গৌতম রুঠিয়া জানিয়েছেন, ব্রিটিশ কর্মকর্তারা এ ঘটনার আরো বিস্তারিত মূল্যায়ন করবেন বলে সে দেশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছেন। এছাড়া পরিবারটির কাছ থেকে আরও কিছু তথ্য চেয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে।

    গৌতম রুঠিয়া ফোনে বিবিসিকে বলেছেন, ‘দেখুন, আমরা ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে একটি ইমেইল পেয়েছি, যেখানে বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য কিছু তথ্য চাওয়া হয়েছে। তারা আরও বলেছে যে বিষয়টি তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। যাচাইয়ের জন্য তাদের যা যা তথ্য প্রয়োজন, আমরা তা পাঠিয়ে দিচ্ছি।’

    তবে, ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত করেনি যে তারা পরিবারটির দাবি গ্রহণ করবে কি না। নথিপত্রের এই অনুরোধ বর্তমানে দাবি যাচাই প্রক্রিয়ার একটি অংশ।

    জুম্মালালের নাতি এবং গৌতমের বাবা বিনয় রুঠিয়া বলেন, ব্রিটিশ সরকারের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় পরিবারটি খুবই উচ্ছ্বসিত।

    ‘কয়েক মাসের মধ্যে এই প্রথম আমরা যুক্তরাজ্যের সরকারের কাছ থেকে সাড়া পেয়েছি। আমাদের আশা জেগেছে। বিষয়টি টাকার ঊর্ধ্বে। আমাদের কাছে এটি আমাদের পৈতৃক ঐতিহ্যের বিষয়।’

    পরিবারটি এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে এই নথির বিষয়ে জানতে পারে বলে জানিয়েছেন বিনয় রুঠিয়া।

    তিনি বলেন, ‘এই বছরের শুরুতে, আমরা অন্য একটি মামলার জন্য পুরোনো নথি ঘাঁটতে গিয়ে ব্রিটিশ সরকারকে দেওয়া একটি ঋণসংক্রান্ত এই নথি খুঁজে পাই। এরপর আমরা একজন আইনজীবীর মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করি।’

    কেন একজন ভারতীয়র কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়েছিল ব্রিটিশ সরকারকে?

    পরিবারের ভাষ্যমতে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ে জুম্মালাল রুঠিয়া এই টাকা ব্রিটিশ সরকারকে দিয়েছিলেন।

    আমরা যখন বিনয় রুঠিয়াকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করি, তিনি বলেন, ‘প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ভারতীয় সৈন্যরাও ব্রিটিশ সরকারের পক্ষে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। তখন ব্রিটিশ সরকার সৈন্যদের ভরণপোষণের জন্য তহবিল সংগ্রহ করছিল। এই সূত্রে আমার দাদু, জুম্মালাল, যুদ্ধে যাওয়া ভারতীয় সৈন্যদের খরচের জন্য এই অর্থ ব্রিটিশ সরকারকে দিয়েছিলেন।’

    পারিবারিক নথিপত্রে ঋণ গ্রহণের তারিখ হিসেবে চৌঠা জুন, ১৯১৭ উল্লেখ আছে।

    জুম্মালালের পরিবার এটিকে যুদ্ধকালীন ঋণ বলে দাবি করেছে। অর্থাৎ, এই ঋণ সাধারণ ব্যাংক ঋণের মতো নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শোধ করতে হয়।

    গৌতম রুঠিয়া বলেন, ‘যদি এটি একটি ব্যাংকিং নথি হতো, তাহলে পরিশোধের জন্য পাঁচ বছর বা দশ বছরের মতো একটি সময়সীমা উল্লেখ করা থাকত। কিন্তু এটি ছিল একটি যুদ্ধকালীন ঋণ, অর্থাৎ যুদ্ধের জন্য দেওয়া ঋণ। যুদ্ধ কত দিন চলবে বা কখন শেষ হবে, তা নিশ্চিত ছিল না।’

    ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এখন রুঠিয়া পরিবারের পারিবারিক নথিপত্র, বংশতালিকা, পুরোনো সনদপত্র, ঋণের পরিমাণ এবং সেই সময়ের ফর্ম সম্পর্কে তথ্য চেয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবারটি।

    গৌতম রুঠিয়ার মতে, কর্তৃপক্ষ যাচাই করে দেখতে চায় যে, ১৯১৭ সালে যে পরিবার টাকা দিয়েছিল এবং যে পরিবার এখন তা দাবি করছে, তারা একই পরিবার কি না।

    ৩৫ হাজার টাকার মূল্য এখন কত?

    রুঠিয়া পরিবার ১৯১৭ সালে দেওয়া ৩৫ হাজার টাকার বর্তমান মূল্যও হিসাব করছে।

    গৌতম রুঠিয়ার মতে, পরিবারটি তাদের আর্থিক দাবিতে সুদ, আসল, চক্রবৃদ্ধি সুদ এবং অন্যান্য খরচ অন্তর্ভুক্ত করবে।

    তিনি বলেন, ‘আমরা সব টাকাই দাবি করব। ৩৫ হাজার হলো আমাদের দেওয়া ঋণের আসল, তার সঙ্গে যোগ হবে সুদ, চক্রবৃদ্ধি সুদ এবং উদ্ভূত যেকোনো খরচ।’

    ‘এই সবকিছু হিসাব করার পর আমরা আজকের বাজারে টাকার অর্থমূল্যের সঙ্গে তুলনা করব।’

    অর্থাৎ বর্তমান মুদ্রাস্ফীতিজনিত আর্থিক হিসাবও এই দাবিকৃত টাকার অঙ্কে যোগ হতে চলেছে।

    এই হিসাবটা এখনো হওয়া বাকি, তাই ১০৯ বছর পর এই কথিত ঋণের বিনিময়ে তারা কত টাকা দাবি করবে, পরিবারটি এখনো তা স্থির করেনি।

    ২২০ কোটি পাউন্ড ইতোমধ্যেই পরিশোধ করেছে ব্রিটেন

    বিনয় রুঠিয়া দাবি করেছেন ২০১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার প্রথম বিশ্বযুদ্ধের জন্য নেওয়া বিভিন্ন ঋণের মোট ২২০ কোটি পাউন্ড পরিশোধ করেছে।

    তিনি খোঁজখবর নিয়ে জানতে পেরেছেন যে, ‘২০১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার প্রথম বিশ্বযুদ্ধের জন্য নেওয়া ঋণের অনেকটা অংশই পরিশোধ করেছে। এই ঋণগুলো ১৯১৭ সাল নাগাদই নেওয়া হয়েছিল।’

    ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে দেওয়া সরকারের এক জবাব অনুযায়ী, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সম্পর্কিত সরকারের প্রায় ২২০ কোটি পাউন্ডের বকেয়া ঋণ ছিল। এর কয়েক শতাংশ ছিল যুদ্ধকালীন ঋণ, যা ২০১৫ সালের ৯ই মার্চ পরিশোধ করা হয়। আরও ১০ লাখ পাউন্ড ছিল একটি কনসোলিডেটেড ঋণ এবং একটি কনভার্শন ঋণ, যা ২০১৫ সালেই পরিশোধ করা হয়েছিল।

    ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দেওয়া আরেকটি জবাব অনুযায়ী, কনসোলিডেটেড ঋণের ৪ শতাংশ এবং যুদ্ধকালীন ঋণের ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশে জারি করা সরকারি বন্ড। সেই সময়ে জারি করা মোট যুদ্ধকালীন বন্ডের প্রায় ৯৯ শতাংশই ছিল এই দুটি বন্ড।

    তবে, ২০১৫ সালে ব্রিটেনের এই পুরোনো ঋণগুলো পরিশোধ করা হলেও ১৯১৭ সালে জুম্মালাল রুঠিয়ার দেওয়া ৩৫ হাজার টাকাও এই বন্ডগুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল কি না তা এখনো প্রমাণ সাপেক্ষ।

    কে ছিলেন এই জুম্মালাল রুঠিয়া?

    পরিবারের ভাষ্যমতে, জুম্মালাল রুঠিয়া সেই সময়ে এলাকার একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ছিলেন।

    তার নাতি, বিনয় রুঠিয়া জানান যে, জুম্মালাল রুঠিয়ার প্রায় তিন হাজার গরুসহ একটি গোশালা ছিল।

    পরিবারের কাছে জুম্মালাল রুঠিয়ার একটি পুরনো ছবি এবং সেই সময়ে তার ব্যবহৃত গাড়ির একটি ছবিও রয়েছে।

    পরিবারটি জানায় যে তাদের পুরোনো ব্যবসা ও পরিবার সম্পর্কিত অন্যান্য নথিও রয়েছে।

    বিনয় রুঠিয়া বলেন, ‘এগুলো ছাড়াও আমার দাদুর একটি বিশাল ব্যবসা ছিল। তিনি সে সময়ে আফিম চাষও করতেন। তার একটি রোলস রয়েস গাড়ি ছিল। সুতরাং, তিনি ঋণ দিয়েছিলেন কি না, তা প্রশ্ন নয়। তার কাছে টাকা ছিল এবং ঋণের নথিও রয়েছে। প্রশ্ন হলো, এ বিষয়ে ব্রিটিশ সরকার কী পদক্ষেপ নেবে।’

    ঋণ দেওয়ার প্রায় দুই দশক পর, ১৯৩৭ সালে শেঠ জুম্মালাল রুঠিয়া মারা যান। প্রায় ১০ বছর পর, ১৯৪৭ সালে, ব্রিটিশ সরকার ভারত ছেড়ে যায়। পরিবারটির দাবি, এই অর্থ কখনও পরিশোধ বা নিষ্পত্তি করা হয়নি।

    নথিপত্র এখনো যাচাই হওয়া বাকি

    আপাতত ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ পরিবারটির দাবি মেনে নেয়নি। কারণ, পরিবারটির কাছে চাওয়া নথি ও তথ্য যাচাই করতে হবে।

    তথ্য যাচাই করে ১৯১৭ সালে দেওয়া ৩৫,০০০ টাকা সংক্রান্ত নথিগুলো ব্রিটিশ সরকারের নথিপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।

    পরিবারটি অবশ্য এক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ এবং আরবিট্রেশনের পথেও হাঁটতে পারে বলে জানিয়েছে।

    বিনয় রুঠিয়ার মতে, মূল নথিগুলো যাচাই হওয়ার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন তারা।

    ১০৯ বছরের পুরনো এই ঘটনায় পরিবারটি বর্তমানে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের তরফে অনুরোধ করা নথিগুলো সরবরাহ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

  • ভারতে ১৭ দিন পানি ও বিদ্যুৎহীন  ৫০০ মুসলিম পরিবার

    ভারতে ১৭ দিন পানি ও বিদ্যুৎহীন ৫০০ মুসলিম পরিবার

    পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমবিদ্বেষ বেড়েই চলেছে। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই বৈষম্য আরও বেড়েছে বলেও । গত ১৭ দিন ধরে কলকাতার মুসলিম অধ্যুষিত একটি এলাকায় বন্ধ রয়েছে সুপেয় পানি সরবরাহ। ল্যাম্পপোস্টেও নেই বিদ্যুৎ সংযোগ।

    কলকাতা সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাশীপুর জেটিসংলগ্ন জ্যোতিনগর কলোনিতে দেখা দিয়েছে এই নাগরিক দুর্ভোগ। স্থানীয়দের দাবি, এলাকার সিংহভাগ বাসিন্দা সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের হওয়ায় তাদের সুপেয় পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। একাধিকবার কলকাতা সিটি করপোরেশন ও প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ তাদের।

    জানা গেছে, জ্যোতিনগর কলোনির অধিকাংশ বাসিন্দাই দিনমজুর। নিম্নবিত্ত শ্রেণির হওয়ায় তাদের দুর্ভোগ নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। কিছু ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরলেও দীর্ঘ ১৭ দিন ধরে সুপেয় পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।

    তবে এর নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা স্পষ্ট করে জানাতে পারেননি ভুক্তভোগীরা। যদিও তারা বারবার ক্ষমতাসীন বিজেপি ও দলটির কট্টরপন্থি অংশের দিকে অভিযোগের তীর ছুড়েছেন। সমস্যা সমাধানের আশায় বিজেপি নেতাদের দ্বারে দ্বারে গিয়েও তেমন কোনো সমাধান মেলেনি বলে দাবি তাদের। তবে কিছু ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু হয়েছে।

    জ্যোতিনগর কলোনিতে প্রায় ৫০০ সংখ্যালঘু পরিবার রয়েছে। তাদের কেউ ৫০-৬০ বছর, আবার কেউ ৭০ বছর ধরে বংশপরম্পরায় সেখানে বসবাস করছেন। গত ১৭ দিন ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম সংকটে পড়েছেন তারা। অনেকেই কলোনির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গঙ্গা থেকে পানি সংগ্রহ করে রান্নার কাজে ব্যবহার করছেন। বিভিন্ন স্থান থেকে দূষিত পানি গঙ্গায় পড়ায় সেই পানি গোসল ও রান্নার কাজে ব্যবহার করে পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    বাসিন্দাদের দাবি, কলোনিতে থাকা পাঁচটি পানির কলের সরবরাহ বন্ধ করে মূলত বস্তি উচ্ছেদের ফন্দি আঁটছে সিটি কর্পোরেশন। তবে এ বিষয়ে কলকাতার স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো সংবাদ প্রকাশে অনীহা দেখিয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের। বিজেপি নেতৃত্বও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নয় বলে দাবি করা হয়েছে।

    সম্প্রতি রাজ্যে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর কাশীপুর-বেলগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে জয়লাভ করেছেন বিজেপির রিতেশ তিওয়ারি। তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, সংখ্যালঘুরা তাকে ভোট দেননি। তাই সংখ্যালঘুদের জন্য তিনি কোনো কাজ করবেন না। বিধায়কের এমন বক্তব্য স্থানীয়দের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

  • মার্কিন বাহিনীকে নতজানু হতে বাধ্য করেছে ইরান: আইআরজিসি

    মার্কিন বাহিনীকে নতজানু হতে বাধ্য করেছে ইরান: আইআরজিসি

    ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার মেজর জেনারেল আহমদ ভাহিদি বলেছেন, মার্কিন সেনাবাহিনীকে নতজানু হতে বাধ্য করেছে ইরান।

    নিরাপত্তা বাহিনীর উদ্দেশে লেখা একটি খোলা চিঠিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। চিঠিটি সেপাহ নিউজে প্রকাশিত হয়েছে। চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘ইরান বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে অস্ত্রসজ্জিত সেনাবাহিনীকে নতজানু করেছে।’

    গত সপ্তাহে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল করেন। নবনিযুক্ত বেশ কয়েকজন সামরিক নেতার মধ্যে জেনারেল আহমদ ভাহিদি একজন।

  • ‘ট্রাম্পকে নিয়ে খেলছে ইরান’

    ‘ট্রাম্পকে নিয়ে খেলছে ইরান’

    যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা মার্ক গিন্সবার্গ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনি চাপ বাড়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিয়ে ‘খেলছে’ ইরান।

    আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি কোনো কৌশলের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং দেশের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে বেশি প্রভাবিত করছে।

    গিন্সবার্গ বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং দেশে তার ক্রমশ কমতে থাকা জনপ্রিয়তা সামাল দিতে যা প্রয়োজন, সেটিই করবেন।’

    তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তেহরান ভালোভাবেই অবগত এবং ইরান দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়ে এগোতে প্রস্তুত।

    গিন্সবার্গ বলেন, ‘এখানে জনমত জরিপগুলো ইরানিরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ইরানের এই শাসকগোষ্ঠী শেষ ইরানির মৃত্যু পর্যন্ত টিকে থাকতে চায়। জনগণের ওপর যতই শাস্তি বা চাপ নেমে আসুক, তারা ক্ষমতা ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর।’

    তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্রমশ বিরক্ত হয়ে উঠছে। তবে ট্রাম্পের জন্য সমস্যা হলো, তিনি কোনোভাবেই পরাজয় স্বীকার করার মতো অবস্থায় নেই।

    গিন্সবার্গের মতে, তেহরান অতীতের একটি পরিচিত পরিণতির ওপরই বাজি ধরছে।

    তিনি বলেন, ‘ইরানিরা মূলত ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয়কে নিয়েই খেলছে।’ তার মতে, তেহরানের হিসাব হলো, শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন তার দাবিগুলো থেকে সরে আসবে এবং পরিণতিতে ইরান নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেয়ে যাবে।

  • ইরানের সামরিক শক্তি পুনর্গঠনের গতি দেখে হতবাক ইসরাইল

    ইরানের সামরিক শক্তি পুনর্গঠনের গতি দেখে হতবাক ইসরাইল

    গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান যেভাবে দ্রুত তার সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে, তাতে ইসরাইলি সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বিস্মিত হয়েছেন।

    জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের পর ইরান দ্রুত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন আক্রমণাত্মক সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে। ইসরাইলি কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরান প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত নতুন অস্ত্র তৈরি করছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের কাছে প্রায় ১ হাজার ৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর আগে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৫০০-তে পৌঁছায়।

    মার্কিন গোয়েন্দারাও মে মাসে জানিয়েছিলেন, ইরান তাদের পূর্বাভাসের চেয়ে দ্রুত সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে। চীন ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রয়োজনীয় উপাদান সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে বলেও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে।

    এদিকে, দীর্ঘ পাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে জানা গেছে। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বিমান হামলার ওপর বেশি নির্ভর করতে হতে পারে।

    তবে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, যুদ্ধের সময় ইরানের সামরিক সক্ষমতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। ইরানের পুনর্গঠন প্রচেষ্টা তারা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের মূল্যায়ন ও প্রস্তুতি হালনাগাদ করছে।

  • আগামী শিক্ষাবর্ষেই যুক্ত হচ্ছে খেলাধুলা

    আগামী শিক্ষাবর্ষেই যুক্ত হচ্ছে খেলাধুলা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেন, তরুণসমাজকে মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত করতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।

    যুবকদের কর্মসংস্থান হলে সামাজিক অপরাধ কমে আসবে। সরকার খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ শুরু করেছে। যেখানেই খালি জায়গা থাকবে সেখানেই খেলার মাঠ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হবে।

    গতকাল শুক্রবার ঢাকায় এফডিসিতে আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। আয়োজনে সহযোগিতা করেছে কেয়ার বাংলাদেশ ও এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজেস বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, গত ১৭ বছরে দক্ষতা বৃদ্ধির নামে দুর্নীতির আখড়া তৈরি করে বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিগত সরকার যেসব ভুল করেছে বর্তমান সরকার সেই ভুল করবে না। প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে যুবসমাজকে কর্মক্ষম করে গড়ে তোলা হবে।

    তিনি বলেন, ডিগ্রি নিয়ে যুবকরা যাতে বেকার হয়ে ঘরে বসে না থাকে, তারা যাতে বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলতে পারে, সেই ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার।

    হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বিগত শাসনামলে চাকরির বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা হয়নি। সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। এতে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দিনে দিনে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান সরকার কর্মমুখী শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশে ও বিদেশের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে।

    ‘দক্ষ যুবশক্তি গড়ে তুলতে সরকারের চেয়ে বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা বেশি গুরুত্বপূর্ণ’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকদের পরাজিত করে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকরা বিজয়ী হন। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন, ড. এস এম মোর্শেদ, কেয়ার বাংলাদেশের পরিচালক রওনক জাহান এবং এসওএসের ডেপুটি ন্যাশনাল ডিরেক্টর মো. মাসুদ রানা। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হয়।

  • দেবের থেকে পিছিয়ে জিৎ!

    দেবের থেকে পিছিয়ে জিৎ!

    ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে বড়পর্দায় মুক্তি পেতে চলেছে টালিউড মেগাস্টার জিতের বায়োপিক ধর্মী সিনেমা ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’। তবে এ সিনেমা মুক্তির ঠিক আগমুহূর্তে টালিউডের চিরপরিচিত দেব-জিৎ রেষারেষি উসকে সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করলেন প্রযোজক রানা সরকার।

    অভিনেতা জিতের নতুন সিনেমার অগ্রিম বুকিংয়ের গতিকে খোঁচা দিতেই এক বছর আগের দেব ও শুভশ্রী অভিনীত ‘ধূমকেতু’ সিনেমার হাউসফুল অগ্রিম বুকিংয়ের স্ক্রিনশট শেয়ার করে বিতর্ক তৈরি করলেন এ প্রযোজক।

    সামাজিক মাধ্যমে ‘ধূমকেতু’ সিনেমার টিকিটের চাহিদা তুলে ধরে জিতের ভক্ত-অনুরাগীদের উসকে দিয়ে রানা সরকার লিখেছেন, ‘টজিদ্দার ফ্যানদের একটু উৎসাহ দেওয়ার জন্য এ পোস্ট…। এক বছর আগে ১৪ আগস্ট (সিনেমা) রিলিজের দুদিন আগে ১২ আগস্ট এটি ছিল ধূমকেতুর আগাম বুকিং দুটি সিনেমা প্লেক্সে, কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাতের আগাম বুকিং খুলে গেছে, তাড়াতাড়ি করুন জিৎ ভক্তরা, প্রমাণ করুণ জিৎ সেরা।’

    এই পোস্টের মাধ্যমে প্রযোজক স্পষ্ট বোঝাতে চান যে, মুক্তির মুখে জিতের নতুন সিনেমার টিকিট বিক্রির গতি দেবের পুরোনো রেকর্ড ভাঙা ‘ধূমকেতু’-র অগ্রিম বুকিংয়ের তুলনায় পিছিয়ে।

    রানার এ উসকানিমূলক তুলনার কড়া সমালোচনা করেন জিতের ক্ষুব্ধ ভক্তরা। এভাবে এক তারকার সিনেমার সঙ্গে অন্য তারকার তুলনা টেনে খাটো করাকে ‘পরপীড়ক বিকৃত মানসিকতা’ বলে তোপ দাগেন জিতের এক অনুরাগী। তিনি কমেন্ট বক্সে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন— আপনি কি এসব করে খুব মজা পান? এ রকম স্য়াডিস্ট মেন্টালিটি কেন?

    তবে ট্রল বা ভক্তদের ক্ষোভের মুখেও পিছু হটেননি রানা সরকার। সেই কটাক্ষের উত্তর দিতে গিয়ে জিতের ভক্তদের উদ্দেমৈ আরও একটি বিস্ফোরক মন্তব্য ছুড়ে দেন তিনি। প্রতিবাদকারী অনুরাগী ও জিতের ফ্যান ক্লাবের উদ্দেশে প্রযোজক পাল্টা লেখেন— কী, চ্যালেঞ্জ একসেপ্ট করবে না?’ দেব বনাম জিৎ— এই দ্বৈরথ বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে বরাবরের। স্বাধীনতা দিবসেও মুখোমুখি লড়াইয়ে নামবার জল্পনা তৈরি হয়েছিল দুই তারকার। তবে গত মাসেই নিজের আসন্ন সিনেমা ‘বাইক অ্য়াম্বুলেন্স দাদা’র মুক্তি অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেন দেব।

    যদিও জিৎ জানিয়েছেন— এ ব্যাপারে তার সঙ্গে দেবের কোনো কথা হয়নি। পুরোটাই নাকি দেব ও নন্দী মুভিজের সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে দেবের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্তরে তার কোনো মনোমালিন্য নেই বলেও জানান জিৎ।

    রানা সরকারের এই উত্তর যেন চলতি বক্স অফিস লড়াইয়ে নতুন আগুনে ঘি ঢেলে দিল। প্রযোজক বুঝিয়ে দিতে চেয়েছেন— একে সস্তা তুলনা না ভেবে সুস্থ প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করুক অনুরাগী মহল। সব মিলিয়ে স্বাধীনতা দিবসের বক্স অফিস যুদ্ধের আগে দেব-জিতের এই ভার্চুয়াল রেষারেষি এখন তুঙ্গে!

  • মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের অবস্থান ছিল ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে: মতিউর রহমান আকন্দ

    মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের অবস্থান ছিল ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে: মতিউর রহমান আকন্দ

    ‘মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ নয়, বরং ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে’ জামায়াতের অবস্থান ছিল বলে মন্তব্য করেছেন দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে আয়োজিত এক প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, “যুদ্ধ জয়ের পর স্বাধীন দেশের কাছে আত্মসমর্পণ না করে ভারতীয় বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করা ছিল ষড়যন্ত্রের নীলনকশার বাস্তবায়ন। এ কারণে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অধীনে যুদ্ধ করতে জামায়াত প্রস্তুত ছিল না।”

    তিনি বলেন, “দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে জামায়াত প্রস্তুত রয়েছে।”

    দেশের স্বার্থে দলটির নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    প্রতিনিধি সম্মেলনে বিএনপির সমালোচনা করে মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, “খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে ড. কামাল হোসেনের জোটে গিয়ে নির্বাচন করতে চাওয়া বিএনপি এখন জামায়াতকে ‘গুপ্ত’ বলে।”

    তিনি বলেন, “যারা জামায়াতকে ‘গুপ্ত’ বলছে, তারাই হারিয়ে যাবে।”

    ইসলামি আন্দোলনকে বিদায় করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এ সময় তিনি জামায়াতের নেতা-কর্মীদের কেন্দ্রভিত্তিক মজবুত সংগঠন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। আসন্ন নির্বাচনে যাতে কেউ ভোট ডাকাতি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান তিনি।

  • যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘ থেকে বের করে আনতে লবি নিয়োগ করেছিল ইসরায়েল

    যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘ থেকে বের করে আনতে লবি নিয়োগ করেছিল ইসরায়েল

    কট্টরপন্থী এক ইসরায়েলি থিংকট্যাংক যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘ থেকে বের আনার এক প্রস্তাব কার্যকর করার জন্য ওয়াশিংটনে একটি বড় লবিং প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি এ প্রচারের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং কংগ্রেসের সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের লবিং-সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করে হারেৎজ জানিয়েছে, মিসগাভ ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড জায়নিস্ট স্ট্র্যাটেজি মার্কারি পাবলিক অ্যাফেয়ার্স নামে একটি প্রতিবেদন প্রচারের দায়িত্ব দিয়েছে। প্রতিবেদনটির সহ-লেখক সাবেক ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত গিলাদ এরদান এবং মিসগাভের নির্বাহী পরিচালক আশের ফ্রেডম্যান।

    ‘ফ্রম ইউএন ব্যুরোক্রেসি টু আমেরিকান গ্লোবাল লিডারশিপ’—শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘ থেকে প্রত্যাহারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নিজেদের স্বার্থ এগিয়ে নিতে ওয়াশিংটনের উচিত জাতিসংঘের বিকল্প বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবস্থা গড়ে তোলা বা সেগুলোর মাধ্যমে কাজ করা। হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিসগাভ এক মাসের জন্য মার্কারিকে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার বিষয়ে চুক্তি করেছিল। এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২৪ জুলাই।

    লবিং চুক্তি অনুযায়ী, মার্কারির দায়িত্ব ছিল কংগ্রেসের সদস্য ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রতিবেদনটি বিতরণ করা এবং এর দুই লেখককে কংগ্রেস ও ট্রাম্প প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করে দেওয়া। এই প্রচারের আওতায় কংগ্রেসের উভয় কক্ষকে লক্ষ্য করা হয়। এর মধ্যে ছিল পররাষ্ট্রবিষয়ক, সশস্ত্র বাহিনী এবং অর্থ বরাদ্দসংক্রান্ত কমিটিও। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এনএসসি), পররাষ্ট্র দপ্তর, জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের মিশন এবং হোয়াইট হাউসের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেটকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল বলে হারেৎজ জানিয়েছে।

    লবিং কার্যক্রমের দ্বিতীয় ধাপে মিসগাভের প্রতিনিধিদের জন্য তিন দিনের একটি ওয়াশিংটন সফরের পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। ওই সফরে আইনপ্রণেতা, প্রশাসনের কর্মকর্তা, নীতিবিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন থিংকট্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের কথা ছিল। মিসগাভ জানিয়েছে, এই ব্যবস্থা ছিল সীমিত পরিসরের এবং এর উদ্দেশ্য ছিল ফ্রেডম্যানকে ওয়াশিংটনে স্বল্পমেয়াদি সফরের সময় নীতিনির্ধারকদের কাছে গবেষণাটির ফলাফল তুলে ধরতে সহায়তা করা।

    এই লবিং কার্যক্রম এমন এক সময়ে চালানো হয়েছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে বৃহত্তর পরিসরে সরে যাওয়ার নীতি অনুসরণ করছে। একই সময়ে ইসরায়েলের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও বজায় রয়েছে। তবে গাজা ও লেবাননের সংঘাত অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত উদ্যোগ নিয়ে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলি সরকারের মধ্যে মতবিরোধও বাড়ছে।

    প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে, জাতিসংঘ কাঠামোগতভাবে অর্থবহ কোনো সংস্কার করতে অক্ষম। এতে জাতিসংঘকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করারও অভিযোগ করা হয়েছে। হারেৎজের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেখকেরা লিখেছেন, ‘ইসরায়েলের প্রতি জাতিসংঘের আচরণের চেয়ে কোথাও সংস্থাটির রাজনীতিকরণ ও দ্বৈত মানদণ্ড এত স্পষ্ট নয়।’

    প্রতিবেদনটিতে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএকেও টার্গেট করা হয়েছে। গাজা ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলে সংস্থাটির কার্যক্রম নিয়ে ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছে।

    উল্লেখ্য, গিলাদ এরদান ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। ওই সময়ের একটি অংশে তিনি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রেও ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। জাতিসংঘে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সংস্থাটি এবং এর মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের অন্যতম প্রধান সমালোচকে পরিণত হন। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলা এবং পরবর্তী গাজা যুদ্ধের পর তিনি জাতিসংঘ ও গুতেরেসের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সমালোচনা আরও জোরালো করেন।

    ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনেস্কো এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নেন। একই সঙ্গে তিনি ইউএনআরডব্লিউএ-এর অর্থায়ন বন্ধ করেন এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকেও যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প আরও ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ও অর্থায়ন পর্যালোচনার পর দেওয়া ওই নির্দেশের আওতায় জাতিসংঘ ব্যবস্থার ৩১টি সংস্থাও ছিল।

    লবিংয়ের এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন এজেন্টস রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের আওতায় প্রকাশ করা হয়েছে। এই আইনের অধীনে বিদেশি কোনো পক্ষের হয়ে নির্দিষ্ট ধরনের রাজনৈতিক বা প্রচারমূলক কার্যক্রম পরিচালনাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন করতে হয় এবং তাদের কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে হয়।

    মিসগাভ জানিয়েছে, মার্কারি কংগ্রেস ও প্রশাসনের উপদেষ্টাদের সঙ্গে প্রায় পাঁচটি বৈঠকের ব্যবস্থা করেছিল। এসব বৈঠকে ফ্রেডম্যান প্রতিবেদনটির ফলাফল উপস্থাপন করেন। প্রতিষ্ঠানটি আরও জোর দিয়ে জানিয়েছে, মার্কারির সঙ্গে তাদের এখন আর কোনো সম্পর্ক নেই। মিসগাভ আরও বলেছে, প্রতিবেদনটির মূল বিষয় ছিল জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তারা যেসব ইসরায়েলবিরোধী, আমেরিকাবিরোধী এবং পশ্চিমবিরোধী কর্মকাণ্ড বলে মনে করে, সেগুলোর পর্যালোচনা। প্রতিবেদনে জাতিসংঘের কিছু সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন নতুন করে মূল্যায়নের সুপারিশও করা হয়েছে।

    লবিং কার্যক্রমকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার যে কোনো ইঙ্গিত প্রত্যাখ্যান করে মিসগাভ নিজেদের ‘স্বাধীন, পেশাদার গবেষণা প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। হারেৎজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মিসগাভ প্রায় ৭০ লাখ ইসরায়েলি শেকেল (প্রায় ২৩ লাখ ডলার) অনুদান পেয়েছে। এই অর্থের বেশির ভাগই এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি অলাভজনক সংস্থার মাধ্যমে, তবে ওই অর্থের মূল দাতাদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।

  • ভারতের জায়গায় ফিফা আসিয়ান কাপে খেলতে চায় বাংলাদেশ

    ভারতের জায়গায় ফিফা আসিয়ান কাপে খেলতে চায় বাংলাদেশ

    সুযোগটা হঠাৎই এসেছে বাংলাদেশের সামনে। ফিফার অর্থায়নে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠেয় আসিয়ান কাপের অংশ হওয়ার পথে বাংলাদেশ। মূলত ভারতের সরে দাঁড়ানোতেই খুলেছে এই দরজা। শেষ মুহূর্তে পাওয়া আমন্ত্রণ গ্রহণের ব্যাপারে আজ ইতিবাচক সিদ্ধান্তের দিকেই এগিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

    আজ বিকেলে জাতীয় দল কমিটির বিশেষ সভায় টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় উপস্থিত কমিটির সদস্যরা বাংলাদেশকে আসিয়ান কাপে পাঠানোর ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছেন। এখন ফিফার নিশ্চয়তার অপেক্ষা।

    বাংলাদেশের জন্য এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা, এ নিয়ে বাফুফেকে বাড়তি আর্থিক চাপ নিতে হচ্ছে না। আয়োজকদের পক্ষ থেকেই অংশগ্রহণকারী দলগুলোর যাতায়াত ও আবাসনের খরচ বহন করা হবে। টুর্নামেন্টের জন্য দলগুলোকে অর্থও দেওয়া হবে।

    ফিফার অর্থায়নে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় হবে টুর্নামেন্টের ডিভিশন-১। অংশগ্রহণকারী ৮ দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রুপে চারটি করে দল। ভারতের জায়গায় বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ খেলবে।

    এই টুর্নামেন্টের ফরম্যাটেও রয়েছে ভিন্নতা। গ্রুপ পর্ব শেষে দুই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি খেলবে ফাইনালে। শুধু শিরোপার লড়াইয়েই শেষ নয় প্রতিযোগিতা। দুই গ্রুপের রানার্সআপ দল খেলবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। দুই গ্রুপের তৃতীয় হওয়া দলগুলো মুখোমুখি হবে পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। আর গ্রুপে চতুর্থ হওয়া দল দুটি খেলবে সপ্তম স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। তাই টুর্নামেন্টে চারটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ।

    ৩ অক্টোবর কলকাতায় ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলবে ভারত। সেই ম্যাচকে সামনে রেখে আসিয়ান কাপ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করেছে তারা। ফলে ফিফার নতুন এই টুর্নামেন্টে ভারতের ফাঁকা জায়গায় বাংলাদেশের জন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে।

  • ইন্দোনেশিয়ায় ৭৫০ সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা

    ইন্দোনেশিয়ায় ৭৫০ সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা

    চলতি বছরের শেষ নাগাদ ৭৫০ টিরও বেশি অলাভজনক ও অনুৎপাদনশীল রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার নজিরবিহীন ঘোষণা দিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের গত ৩০ বছরের অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে একটি বিশেষ ‘অ্যাডহক’ আদালত গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

    আজ শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার পার্লামেন্টে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

    ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রেসিডেন্ট প্রাবোও তাঁর ভাষণে অভিযোগ করেন, দেশে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এমন অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেগুলো মূলত ‘অনুৎপাদনশীল’। এগুলো বছরের পর বছর ধরে লোকসান গুনলেও তা আড়াল করতে কাগজে-কলমে ভুয়া মুনাফা দেখিয়ে আসছিল।

    তিনি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হয়তো ৩০০ বা ৪০০টি হবে। কিন্তু পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এই সংখ্যা ১ হাজার ৭৪ টি।’ তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকেই রাষ্ট্রের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা না রেখে নিজেদের মতো পরিচালিত হচ্ছিল।

    উল্লেখ্য, গত বছর রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুরক্ষায় ‘দানান্তারা’ নামে একটি সার্বভৌম সম্পদ তহবিল গঠন করে ইন্দোনেশিয়া। ওই তহবিলের মাধ্যমে জাতীয় সম্পদ ও প্রতিষ্ঠানের হিসাব পর্যালোচনা করতে গিয়েই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের বিপুল এই সংখ্যা প্রকাশ পায়।

    প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘অনুৎপাদনশীল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অনেক বেশি। তারা সব সময় লোকসান করছে, অথচ মুনাফা দেখাচ্ছে। এসব মুনাফা আসলে কাগজে-কলমে তৈরি করা।’

    প্রেসিডেন্ট জানান, রাষ্ট্রীয় খাতের এই ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ২৯০টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানের মোট সংখ্যা ৩০০-র মধ্যে নামিয়ে আনা হবে।

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা ৭৫০ টির বেশি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেব। কেবল সেগুলোই রাখা হবে, যেগুলো প্রকৃতপক্ষে উৎপাদনশীল।’

    এই পুরো উদ্যোগকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় করপোরেট পুনর্গঠনগুলোর একটি’ বলে বর্ণনা করেন প্রেসিডেন্ট।

    ইন্দোনেশিয়া সরকারের হিসাব মতে, পরিচালনা পর্ষদের বেতন-ভাতা হ্রাস, ভবন ও গাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক ভ্রমণ কাটছাঁট করার মাধ্যমে ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ ট্রিলিয়ন ইন্দোনেশীয় রুপিয়াহ (প্রায় ২.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) পরিচালন ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে। চলতি বছরে সরকারের লক্ষ্য হলো এই সাশ্রয়ের পরিমাণ ৭০ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহর ওপরে নিয়ে যাওয়া।

    রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রুখতে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গত ৩০ বছর ধরে এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের ভূমিকা তদন্তের জন্য একটি বিশেষ ‘অ্যাডহক’ আদালত গঠনের প্রস্তাব পার্লামেন্টে পেশ করেছেন প্রেসিডেন্ট। তবে কঠোর ব্যবস্থার পাশাপাশি একটি নমনীয় পথও খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রাবোও। তিনি আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, যেসব কর্মকর্তা বা ব্যবস্থাপক নিজেদের অনিয়ম ও ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত হবেন, তাঁদের জন্য যেন একটি ‘বিশেষ সাধারণ ক্ষমা’ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।

  • ভোমরা বন্দরে আমদানি–রপ্তানি কমেছে

    ভোমরা বন্দরে আমদানি–রপ্তানি কমেছে

    ভোমরা স্থলবন্দরে আগের মতো কর্মচাঞ্চল্য কমেছে। পণ্যবাহী ট্রাক আসা–যাওয়া কমেছে। কাজের অপেক্ষায় থাকা শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েছে। আমদানি–রপ্তানি কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা হতাশ।

    সাতক্ষীরা জেলা শহর থেকে মাত্র ১৭ কিলোমিটার দূরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ভোমরা স্থলবন্দর। বন্দরের ওপারেই ভারতের ঘোজাডাঙ্গা স্থলবন্দর।

    গত রোববার (৯ আগস্ট) সরেজমিনে ভোমরা স্থলবন্দরে দেখা যায়, ভারত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাক একে একে বন্দরে ঢুকছে। পণ্য খালাস, পরিবহন ও কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে ব্যস্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

    ভোমরা বন্দর সড়কের পাশে হ্যান্ডলিং শ্রমিকদের কার্যালয়ের সামনে বসে ছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। কাজের অপেক্ষায় তাঁরা অনেকটা অলস সময় কাটাচ্ছেন। অপেক্ষায় থাকা আজিজুল ইসলাম বলেন ‘এখন কাজের অবস্থা খুবই খারাপ। তার ওপর মজুরিও কম। সংসার চলে না। অনেক শ্রমিক কাজের খোঁজে অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছেন। আগে যেভাবে আমদানি-রপ্তানি হতো, এখন আর তা হয় না।’

    শুধু হ্যান্ডলিং শ্রমিক নন, বন্দরের বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত সিঅ্যান্ডএফ কর্মীদেরও একই সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে। ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা বলেন, কিছুদিন আগেও বন্দরের ব্যবসায়িক কার্যক্রম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছিল। এতে অনেক কর্মী বেকার হয়ে পড়েন।

    আবু মুসার মতে, ভোমরা বন্দরে সব ধরনের পণ্য আমদানির সুযোগ থাকলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে অনেক পণ্য এ বন্দর দিয়ে আনা সম্ভব হয় না।

    বাণিজ্য কমেছে, রাজস্ব লক্ষ্য বেড়েছে

    ২০২৬–২৭ অর্থবছরে এ বন্দরের জন্য ২ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। জুলাইয়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৯৮ কোটি টাকা। এ ধারা চলতে থাকলে বছর শেষ লক্ষ্যের ৫০ শতাংশও পূরণ হবে না।

    ভোমরা কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে ভোমরা কাস্টম হাউসের রাজস্ব লক্ষ্য ছিল ২ হাজার ৬৫ কোটি টাকা। আদায় হয়েছে ১ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। ঘাটতি ছিল প্রায় ৯৫১ কোটি টাকা।

    ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে ২০ লাখ ৮২ হাজার ৭২২ টন পণ্য আমদানি হয়েছিল। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে আমদানি কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭ টনে। এক বছরে কমেছে ১ লাখ ৯ হাজার ৬৭৫ টন।

    রপ্তানিতে পতন আরও বড় হয়। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ভোমরা দিয়ে ভারতে ১৯ হাজার ৮৯টি ট্রাকে ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৯৯ টন পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এসব পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ১ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা।

    এর আগের অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ২৮ লাখ ৬ হাজার টন পণ্য। আয় হয়েছিল ৩ হাজার ৪০৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এক বছরে রপ্তানি কমেছে ১০ লাখ ২৫ হাজার ৯০১ টন। রপ্তানি আয় কমেছে ১ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা।

    কারণ কী

    এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী, শুল্ক কর্মকর্তা, আমদানি–রপ্তানির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, মূলত অবকাঠামোসংক্রান্ত অসুবিধার কারণেই ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি–রপ্তানি কমেছে।

    সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি নাসিম ফারুক খান বলেন, ভারত থেকে আমদানি করা কিছু কৃষিপণ্যের বাজারদর কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা লোকসানের শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি বন্দরে ভারী ক্রেন, পর্যাপ্ত ইয়ার্ড ও আধুনিক গুদাম সুবিধার ঘাটতিও বাণিজ্যের বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    নাসিম ফারুক খান আরও বলেন, অবকাঠামোগত দিক থেকে ভোমরা বন্দরের তুলনায় ভারতের ঘোজাডাঙা বন্দরের অবস্থা অনেক দুর্বল। কিন্তু দুই দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য বন্দর ব্যবস্থাপনা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য রয়েছে। এ জন্য অনেক ব্যবসায়ী এই বন্দর ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

    কাস্টম হাউসের কমিশনার মুশফিকুর রহমানের মতে, ব্যবসায়ীদের সেবার মান উন্নয়ন, হয়রানি কমানো এবং দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করতে কাস্টমস কাজ করছে।

    সম্প্রতি ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার কথাও জানান মুশফিকুর রহমান। সেখানে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যৌক্তিক সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

  • ভারত সফরে যাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

    ভারত সফরে যাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফর করবেন। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ইরানের সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    হিন্দুস্থান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেজেশকিয়ানের ভারত সফরকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাশিয়ার কাজানে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। সে সময় দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

    ২০২৪ সালে ইরান ব্রিকসের পূর্ণ সদস্য হয়। একই সময়ে মিশর, ইথিওপিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও জোটটিতে যোগ দেয়। ২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়া সদস্য হওয়ায় ব্রিকসের পূর্ণ সদস্যসংখ্যা বর্তমানে ১১টি।
    এর আগে গত জুনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে ভারত সফর করেন।

    নয়াদিল্লিতে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে আরাঘচি বলেন, বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভারতের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিতিশীল পরিস্থিতি প্রশমনে ভারত আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    ইরান সশস্ত্র সংঘাতের কোনো ভবিষ্যৎ দেখে না উল্লেখ করে আরাঘচি বলেন, চলমান সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। তার মতে, আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতাই সংকট সমাধানের একমাত্র কার্যকর পথ।
    ভারতের মধ্যস্থতার ব্যাপারে তেহরানের আগ্রহও স্পষ্ট করেন তিনি। আরাঘচি বলেন, ভারতের যেকোনো গঠনমূলক ভূমিকা আমরা স্বাগত জানাব।

    সেই সময় আরাঘচি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও বৈঠক করেন। সেখানে তিনি বাণিজ্যিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলো ইরানের ওপর আস্থা রাখতে পারে বলে জানিয়েছিলন।

    ২০২৬ সালে ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে ভারত। এ বছর ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে। চলতি বছরের শুরুতে ব্রাজিলের কাছ থেকে ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব নেয় ভারত।

  • নিম্নচাপের প্রভাবে ঝড়ের আভাস

    নিম্নচাপের প্রভাবে ঝড়ের আভাস

    স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, পশ্চিমবঙ্গের উপকূল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত স্থল নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে ঝাড়খণ্ড ও এর কাছাকাছি গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এছাড়া নিম্নচাপটির প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, সমুদ্রবন্দর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

    এদিকে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

    ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত নৌযানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

  • বাদাখশানে বিস্ফোরণে মেয়র নিহত

    বাদাখশানে বিস্ফোরণে মেয়র নিহত

    আফগানিস্তানের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় বাদাখশান প্রদেশের মেয়র হাবিব উর রহমান মনসুর বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন। গত দুই সপ্তাহে এ অঞ্চলে হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে নিহত হওয়া তালেবান প্রশাসনের দ্বিতীয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তিনি।

    প্রাদেশিক রাজধানী ফয়জাবাদে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে গাড়িতে থাকা অবস্থায় বিস্ফোরণে নিহত হন হাবিব উর রহমান মনসুর। আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তবে হামলার ধরন বা কারা এর সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

    আজ শুক্রবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও হাবিব উর রহমানের নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন। ওই কর্মকর্তা বলেছেন, প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কথা বলার অনুমতি না থাকায় তিনি পরিচয় প্রকাশ করতে চান না।

    তালেবান ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পঞ্চম বার্ষিকী পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর দ্রুত দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান।

    হাবিব উর রহমান নিহত হওয়ার দুই সপ্তাহ আগে বাদাখশানের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক জাবিহুল্লাহ আমিরিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। স্থানীয় এক এলাকা থেকে ফয়জাবাদে যাওয়ার পথে বন্দুকধারীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমিরির নিরাপত্তারক্ষীরা সঙ্গে সঙ্গে হামলাকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। এতে একজন নিহত হন ও অন্যজনকে আটক করা হয়।

    তবে দুটি হামলার কোনোটিরই উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

    ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কাবুলে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হন আফগানিস্তানের শরণার্থীবিষয়ক মন্ত্রী খলিল হাক্কানি। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজউদ্দিন হাক্কানির চাচা ছিলেন। সিরাজউদ্দিন হাক্কানি তালেবানের ভেতরে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্কের নেতৃত্ব দেন।

    এর আগে ২০২৩ সালের জুনে বাদাখশানের ডেপুটি গভর্নর নিসার আহমদ আহমাদি গাড়িবোমা বিস্ফোরণে নিহত হন। একই হামলায় তাঁর গাড়িচালকও নিহত হন। সে সময় ইসলামিক স্টেটের আঞ্চলিক শাখা ইসলামিক স্টেট ইন খোরাসান প্রভিন্স (আইএস–কে) ওই হামলার দায় স্বীকার করেছিল।

    ডেপুটি গভর্নরের মৃত্যুর কয়েক দিন পর তাঁর স্মরণসভায়ও আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়। ওই হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হন। আইএস–কে এই হামলারও দায় স্বীকার করেছিল।

    ২০২৩ সালের মার্চে উত্তরাঞ্চলীয় বালখ প্রদেশের গভর্নরও তাঁর কার্যালয়ে বোমা হামলায় নিহত হন।

  • চীনের ম্যাগলেভ ট্রেনে মাত্র ৫ সেকেন্ডে ৮০০ কিলোমিটার গতি

    চীনের ম্যাগলেভ ট্রেনে মাত্র ৫ সেকেন্ডে ৮০০ কিলোমিটার গতি

    চীনের একটি পরীক্ষামূলক বুলেট ট্রেন মাত্র ৫ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতি তুলে নিজের আগের বিশ্ব রেকর্ড ভেঙেছে। এ সাফল্য অতি উচ্চগতির যোগাযোগব্যবস্থার পথ আরও সুগম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    হুবেই প্রদেশের দুংহু ল্যাবরেটরির মাত্র এক কিলোমিটার দীর্ঘ একটি পরীক্ষামূলক ট্র্যাকে এ ভারী ম্যাগলেভ ট্রেনটি স্থির অবস্থা থেকে মাত্র ৫ দশমিক ৩ সেকেন্ডে ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছায়।

    ম্যাগলেভ ট্রেনের মূল বৈশিষ্ট্য হলো, এটি চৌম্বক শক্তি ব্যবহার করে রেললাইনের ঠিক কিছুটা ওপরে ভেসে থাকে। ফলে ট্রেনের সঙ্গে লাইনের কোনো ঘর্ষণ হয় না। লাইনের চারপাশে থাকা কয়েলের মাধ্যমে তৈরি হওয়া চৌম্বক তরঙ্গ ট্রেনটিকে সামনের দিকে তীব্র গতিতে এগিয়ে নেয়।

    চীনা গবেষকেরা দেখিয়েছেন, ট্রেনটি শুধু যে এ অতি উচ্চগতিতে পৌঁছাতে পারে তা-ই নয়, বরং স্বয়ংক্রিয় ব্রেকিং সিস্টেম বা ব্রেক ব্যবস্থার মাধ্যমে এটিকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রেখে থামানোও সম্ভব।

    শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতিতে ছুটে যাওয়ার পর ট্রেনটি মাত্র ২০০ মিটারের ব্যবধানে ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ মসৃণভাবে থেমে যায়।

    গত ছয় মাসের মধ্যে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো একই ট্রেন স্বল্প দূরত্বের ম্যাগলেভ গতিবৃদ্ধির বিশ্ব রেকর্ড ভাঙল।

    ১ দশমিক ১ টন ওজনের এ ট্রেন প্রথম পরীক্ষা করা হয়েছিল ২০২৫ সালের জুন মাসে। সে সময় এটি সাত সেকেন্ডে ঘণ্টায় প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিল।

    চীনের জিয়াংসু প্রদেশের নানতোং এলাকায় একটি উচ্চগতির ট্রেন

    পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে ম্যাগলেভ ট্রেনটি গতি বৃদ্ধির সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনে যথাক্রমে ঘণ্টায় প্রায় ৭০০ কিলোমিটার ও ৭৯৮ কিলোমিটার গতি অর্জন করে নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙে।

    চীনের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি পরীক্ষামূলক চালনার মাধ্যমে গবেষকেরা উচ্চক্ষমতার বিদ্যুৎ সরবরাহ, তড়িৎ-চৌম্বকীয় প্রপালশন (সামনে এগিয়ে নেওয়ার প্রযুক্তি), উচ্চগতির লেভিটেশন নিয়ন্ত্রণ (ভেসে থাকার প্রযুক্তি) এবং জরুরি ব্রেক ব্যবস্থাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ক্ষমতার পরীক্ষা নিয়েছেন।

    বর্তমানে চীন ও জাপানজুড়ে চলাচলকারী ম্যাগলেভ ট্রেনগুলো ঘণ্টায় প্রায় ৩২০ কিলোমিটার গতিতে চলে। অন্যদিকে, বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির বাণিজ্যিক ম্যাগলেভ ট্রেন হলো চীনের ‘ফুক্সিং’, যার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩৫০ কিলোমিটার।

    চীনের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব ডিফেন্স টেকনোলজির গবেষকেরাও অতি উচ্চগতির ম্যাগলেভ ট্রেন তৈরি করছেন। তাঁদের একটি পরীক্ষায় ট্রেনটি মাত্র দুই সেকেন্ডে ঘণ্টায় ৬৯৭ কিলোমিটার গতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

    ঠিক এ মুহূর্তে এ প্রযুক্তির ট্রেনটি মানুষের যাতায়াতের উপযোগী না হলেও গবেষকদের আশা, এর মূল নীতিগুলো একসময় রকেট ও ফাইটার জেট বা যুদ্ধবিমান উৎক্ষেপণব্যবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

    একই সঙ্গে চীনা বিজ্ঞানীরা স্বল্প চাপ বা বায়ুশূন্য টিউবের ভেতর ট্রেন চালানোর জন্য অনুরূপ অতি উচ্চগতির ম্যাগলেভ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন। তবে এ প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও অবকাঠামোগত খরচ, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও দীর্ঘ দূরত্বজুড়ে নিখুঁতভাবে লাইন বা ট্র্যাক নির্মাণের মতো বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

  • ইরান বদলে দেবে বিশ্ব ক্ষমতার সমীকরণ

    ইরান বদলে দেবে বিশ্ব ক্ষমতার সমীকরণ

    ইরানের শর্ত পূরণ না হলে যুদ্ধকে প্রতিরক্ষামূলক পর্যায় থেকে আক্রমণাত্মক পর্যায়ে নেওয়ার কৌশল নিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তার এ কৌশল বিশ্বে ক্ষমতার সমীকরণ বদলে দেবে বলে মন্তব্য করেছেন খামেনির উপদেষ্টা ও সহযোগী মোহাম্মদ মোখবের। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি মন্তব্য করেন।

    গত ৩০ এপ্রিল এক বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির বিষয়ে ইরান তার কর্মপন্থার নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে।

    মোখবের বলেন, হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন পরিস্থিতি এবং উপসাগরীয় মিত্রদের সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা এ পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করেছে।

    তিনি জানান, ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধ ও আগ্রাসনের স্থায়ী অবসান, ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার, ক্ষতিপূরণ প্রদান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও ইরানের জব্দ সম্পদ নিঃশর্তে অবমুক্ত করা।

    মোখবের আরো বলেন, উপসাগরে মিত্রদের সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের অক্ষমতার কারণে ওয়াশিংটনের সামরিক নিশ্চয়তা ছাড়াই হরমুজকেন্দ্রিক নতুন অর্থনৈতিক-নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই হবে অঞ্চলের জন্য সবচেয়ে টেকসই পথ।

  • ‘লালা’র ভয়ে যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি অবস্থা

    ‘লালা’র ভয়ে যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি অবস্থা

    গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় ‘লালা’ মোকাবিলায় প্রস্তুতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। ঝড়টি সপ্তাহান্তে তীব্র বাতাস, বন্যা ও ভূমিধসের কারণ হতে পারে।

    জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থানরত ঝড়টি বর্তমানে আরো শক্তিশালী হচ্ছে। হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের বিগ আইল্যান্ডের কাছে পৌঁছানোর সময় এটি হারিকেনে রূপ নিতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    বর্তমানে ঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৫০ মাইল (৮০ কিলোমিটার)। তবে দমকা বাতাসের গতি আরো বেশি।

    আবহাওয়া দপ্তর আরো জানিয়েছে, বিগ আইল্যান্ডের কোনো কোনো এলাকায় ঝড়টির প্রভাবে ২৫ ইঞ্চি (৬৩ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার) পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে।

    ঝড়ের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় হাওয়াইয়ের গভর্নর জশ গ্রিন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। এর ফলে প্রয়োজন হলে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় দ্রুত অর্থ, সরঞ্জাম ও জনবল ব্যবহারের পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

    গভর্নর গ্রিন বলেন, ‘গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় লালা আমাদের অঙ্গরাজ্যের জন্য, বিশেষ করে হাওয়াই দ্বীপের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করেছে। প্রয়োজনীয় জায়গায় যাতে দ্রুত সম্পদ ও সহায়তা পৌঁছানো যায়, সেজন্য আমরা এখনই ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘সবাইকে নিজ নিজ বাড়িঘর নিরাপদ করার, প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহের, পরিবারের জরুরি পরিকল্পনা পর্যালোচনা করার এবং নির্ভরযোগ্য সরকারি সূত্রের সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করার আহ্বান জানাচ্ছি। এই ঝড়কে গুরুত্বের সঙ্গে নিন এবং একে অন্যের খোঁজখবর রাখুন।’

    প্রায় দুই লাখ ১০ হাজার মানুষের বসবাস হাওয়াই দ্বীপে। জনসংখ্যার দিক থেকে এটি হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ। সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা ওহাউ দ্বীপে, যেখানে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বসবাস করে।

    ঝড়টি ঠিক কোন পথে এগোবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি উপকূলের কাছাকাছি সমুদ্রে অবস্থান করতে পারে।

    ২০১৮ সালের পর হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে সরাসরি আঘাত হানা কোনো গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় এটিই প্রথম হতে পারে।

    এ বছর এল নিনো আবহাওয়াজনিত ঘটনা বিশেষভাবে শক্তিশালী। এর ফলে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা বাড়ছে এবং ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা এ অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয় হারিকেন মৌসুমের পূর্বাভাস দিয়েছেন।

    বিজ্ঞানীরা নিয়মিত সতর্ক করে আসছেন, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলোর ঘনত্ব ও তীব্রতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

  • তীব্র গরমে পাকিস্তানে খেজুর শ্রমিকদের নাভিশ্বাস

    তীব্র গরমে পাকিস্তানে খেজুর শ্রমিকদের নাভিশ্বাস

    পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সিন্ধু প্রদেশে খেজুরের মৌসুম শুরু হয় জুলাইয়ে। এ সময় প্রদেশটির তাপমাত্রা নিয়মিত ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠে যায়। প্রচণ্ড গরমে খেজুর সংগ্রহ ও সেদ্ধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা।

    শ্রমিকরা সূর্য ওঠার আগেই কাজ শুরু করেন। দিনের কাজ কয়েকটি ছোট পালায় ভাগ করে নেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই গরম তাদের কাবু করে ফেলে।

    খেজুরগাছ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা খাইরপুর জেলায় শ্রমিকদের কঠিন রুটিনের মধ্যে রয়েছে গাছ থেকে ফল সংগ্রহ ও সেদ্ধ করা। দেশটির অর্ধেকেরও বেশি খেজুর উৎপাদন হয় এই জেলায়। এখানকার হাজারো কৃষক ও মৌসুমি শ্রমিকের জীবিকা এ খাতের ওপর নির্ভরশীল।

    এক দশকেরও বেশি সময় ধরে খেজুর সংগ্রহের কাজ করছেন ইদরিস। তিনি বলেন, এখন এই গরম ‘অসহনীয়’ হয়ে উঠেছে। তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর সময় এএফপিকে ইদরিস বলেন, ‘আগে গরমের তীব্রতা কম ছিল। এখন গরম অনেক বেশি তীব্র। দিনগুলো অত্যন্ত গরম। এ কারণে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ি।’

    একাধিক শ্রমিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, তারা প্রায়ই হিটস্ট্রোক, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ও জ্বরে ভোগেন। ইদরিস বলেন, ‘গরমে অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে যাই। এরপর আবার কাজে ফিরে আসি।’

    জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান অন্যতম। অথচ বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে দেশটির অবদান এক শতাংশেরও কম।

    দেশটিতে তাপপ্রবাহের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ধরনও অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ভয়াবহ বন্যারও শিকার হচ্ছে পাকিস্তান। এর মধ্যে ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পানিতে তলিয়ে যায়। লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। এতে সিন্ধু প্রদেশ বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    দিনের সবচেয়ে বেশি গরম এড়াতে শ্রমিকরা রাত প্রায় ২টায় খেজুরবাগানে কাজ শুরু করেন। পরে বিরতি নিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যান।

    ইদরিস বলেন, শারীরিকভাবে কঠিন এ কাজ করে তিনি দিনে প্রায় এক হাজার দুশো পাকিস্তানি রুপি আয় করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা খেজুর সংগ্রহ করি। ট্রলিতে করে এখানে নিয়ে আসি। এরপর আগুনের ওপর সেগুলো সেদ্ধ করা হয়। পরে বাইরে রোদে শুকাতে দেওয়া হয়।’

    বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম খেজুর উৎপাদনকারী দেশ পাকিস্তান। শিল্প খাতের হিসাব অনুযায়ী, দেশটি সাধারণত বছরে ১২ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের খেজুর রপ্তানি করে।

    খেজুরচাষি শাহনওয়াজ ফুলপোতো এক হাজার ৫০০টিরও বেশি খেজুরগাছের মালিক। তিনি বলেন, পরিবর্তিত আবহাওয়ার কারণে ভারী মৌসুমি বৃষ্টিপাত খেজুরের ফলন ব্যাহত করেছে। এতে আর্থিক ক্ষতিও হয়েছে। তবে আপাতত প্রধান চ্যালেঞ্জ গরম। তিনি বলেন, ‘প্রতি বছরই তাপমাত্রা বাড়ছে। আমরা প্রতি বছরই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দেখতে পাচ্ছি।’

  • বিশ্ব এখন পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে উত্তর কোরিয়ার

    বিশ্ব এখন পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে উত্তর কোরিয়ার

    যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার আসন্ন যৌথ সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটি অভিযোগ করেছে, এ ধরনের মহড়া কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং বিশ্বকে পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে।

    উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ শুক্রবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রের বক্তব্য প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সামরিক সহযোগিতা ক্রমেই একটি ‘পারমাণবিক জোটে’ পরিণত হচ্ছে। এর জবাবে নতুন মাত্রার হুমকির বিপরীতে নতুন মাত্রার প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে পিয়ংইয়ং।

    আগামী ১৭ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’। মহড়ায় ড্রোন হামলা, জিপিএস ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং সাইবার হামলা মোকাবিলার প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

    যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ বাহিনী কমান্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, আধুনিক যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা এবং উত্তর কোরিয়ার পরিবর্তিত সামরিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এবারের প্রশিক্ষণ সাজানো হয়েছে। মহড়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় ১৮ হাজার সেনাসদস্য অংশ নেবেন। তাদের সঙ্গে দেশটিতে অবস্থানরত প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনার সদস্যরাও যুক্ত থাকবেন।

    এদিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সেনাদের অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা উত্তর কোরিয়া নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে কাজে লাগাতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের এই বৃহৎ সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি পরপর দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে। সর্বশেষ বুধবার দেশটি কোরীয় উপদ্বীপের পূর্ব উপকূলের সমুদ্রের দিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। পিয়ংইয়ং জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের জবাবে তারা নিজেদের পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে। উত্তর কোরিয়ার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সীমা কমিয়ে এনে বিশ্বকে আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

  • মরিচ-ডিমে স্বস্তি চড়া সবজির বাজার

    মরিচ-ডিমে স্বস্তি চড়া সবজির বাজার

    টানা কয়েক সপ্তাহের বাড়তি দামের পর রাজধানীর কাঁচাবাজারে কাঁচা মরিচ ও ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি বাড়ায় এবং দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় মরিচের দাম কমেছে। তবে বেশির ভাগ সবজির দাম এখনো চড়া। আগাম শীতকালীন সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ২০০ টাকায়।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর মালিবাগ, রামপুরা ও কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

    ব্যবসায়ীরা জানান, বন্যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মরিচের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গত কয়েক সপ্তাহ বাজারে কাঁচা মরিচের সংকট দেখা দেয়। এতে দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। তবে ভারত থেকে আমদানি বাড়ার পর সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। শুক্রবার রাজধানীর খুচরা বাজারে মানভেদে কাঁচা মরিচ ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

    ডিমের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতি ডজনে প্রায় ১০ টাকা কমে ফার্মের লাল ডিম ১৪০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে পাড়া-মহল্লার দোকানে এখনো ডজনপ্রতি ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

    এদিকে বেশির ভাগ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজির মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। টমেটো ও গাজর ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, বেগুন ও করলা ৮০ থেকে ১২০ টাকা, পটল, ঢেঁড়শ ও শসা ৬০ টাকা এবং ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে প্রতিটি লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা। আর নতুন শিম বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা কেজি দরে।সবজির পাশাপাশি মাছ-মাংসের বাজারেও তেমন স্বস্তি নেই। ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    মাছের বাজারে চাষের পাঙাস ২২০ থেকে ২৫০ টাকা এবং রুই-কাতলা ৩৪০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    কারওয়ান বাজারে বাজার করতে আসা এক বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, “কাঁচা মরিচের দাম কমেছে, এটা স্বস্তির। তবে অন্যান্য সবজি, মাছ ও মাংসের দাম এখনো বেশি। বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা দরকার।”

    ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারে কিছু পণ্যের দাম কমলেও খুচরা বাজারে তার প্রভাব পুরোপুরি পড়েনি। ফলে বাজারে স্বস্তি ফিরলেও তা এখনো সীমিত পর্যায়ে রয়েছে।

  • ইরান নয়, তেলের দাম কমানোই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: যুক্তরাষ্ট্র

    ইরান নয়, তেলের দাম কমানোই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: যুক্তরাষ্ট্র

    ইরানের পারমাণবিক ইস্যুর চেয়ে তেলের দাম কমানোই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, বলছে যুক্তরাষ্ট্র।

    ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার চেয়েও এই যুদ্ধে মার্কিনিদের জন্য তেল ও গ্যাসের দাম কম রাখাই এখন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

    ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘আমি জানি, আজ তেলের দাম কমেছে এবং সংঘাতের শুরুর দিকের সর্বোচ্চ দামের তুলনায় এখন তা অনেকটাই কম।’

    তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো—সারা দেশের মানুষের জন্য তেল ও গ্যাসের দাম সাশ্রয়ী রাখা।’

    ভ্যান্স আরো বলেন, ‘এরপর, অবশ্যই দ্বিতীয় লক্ষ্য হলো—ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।’

  • যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে অজু স্টেশন, নারী-পুরুষের জন্য আলাদা ব্যবস্থা

    যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে অজু স্টেশন, নারী-পুরুষের জন্য আলাদা ব্যবস্থা

    যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর ডালাস-ফোর্ট ওর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের শৌচাগারে মুসলিম যাত্রীদের অজুর সুবিধার্থে বিশেষ ফুট ওয়াশ স্টেশন স্থাপন বা পা ধোয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ টার্মিনাল ডি-এর শৌচাগারে এসব অজু স্টেশন স্থাপনের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক অজুর স্থান তৈরি করা হবে।

    টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব লাইসেন্সিং অ্যান্ড রেগুলেশনের নথি অনুযায়ী, গত ৩১ জুলাই প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় পুরুষদের শৌচাগারে একটি এবং নারীদের শৌচাগারে একটি করে বিশেষ অজু স্টেশন বসানো হবে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ মার্কিন ডলার। তবে এর অর্থায়ন বিমানবন্দরের নিজস্ব তহবিল থেকে নয়; প্রকল্পটি ব্যক্তিগতভাবে অর্থায়ন করা হচ্ছে।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাধারণ শৌচাগারের বেসিনে পা ধোয়ার কারণে অনেক সময় মেঝে ভিজে ও পিচ্ছিল হয়ে যায়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে এবং বেসিনের ক্ষতিও হতে পারে। নতুন অজু স্টেশন স্থাপনের মাধ্যমে শৌচাগার পরিষ্কার ও নিরাপদ রাখা সহজ হবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে এ ধরনের নিচু বেসিন ও আন্তধর্মীয় প্রার্থনার স্থান রয়েছে। শিকাগোর ও’হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও এর মধ্যে অন্যতম।

    তবে এই উদ্যোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এর সমালোচনা করলেও অন্যরা বলছেন, এটি কোনো ধর্মীয় মতাদর্শ প্রচারের উদ্যোগ নয়; বরং আন্তর্জাতিক যাত্রীদের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে শৌচাগারের পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা।

  • পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস বৈশ্বিক শান্তির ওপর গুরুত্বারোপ

    পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস বৈশ্বিক শান্তির ওপর গুরুত্বারোপ

    নানা আয়োজনে ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছে পাকিস্তান। রাজধানী ইসলামাবাদে ৩১ ও প্রাদেশিক রাজধানীগুলোতে ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিনের সূচনা হয়। করাচিতে মাজার-ই-কায়েদে অনুষ্ঠিত হয় গার্ড পরিবর্তন অনুষ্ঠান। স্বাধীনতা দিবসে স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব ।

    দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি তার বার্তায় স্বাধীনতাকে শুধু ঐতিহাসিক অর্জন নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি অর্থনীতি শক্তিশালী করা, তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত এবং আফগানিস্তানের মাটি থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ করেন।

    দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, গত আড়াই বছরে পাকিস্তান অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। তিনি জানান, গত দুই বছরে প্রবাসী আয় ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি, উদ্ভাবন, শিল্প ও কৃষির টেকসই উন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধিকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

    তিনি আরো বলেন, পানির প্রতিটি ফোঁটা পাকিস্তানের জন্য ‘রেড লাইন’। ভারত সঠিক পথে ফিরে না এলে দেশটিকে সরাসরি জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। সেইসঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি, কাশ্মীর সমস্যার কূটনৈতিক সমাধান এবং ফিলিস্তিন ও কাশ্মীরের জনগণের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন তিনি।

    স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় ঐক্য, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজনৈতিক দল ও সর্বস্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

  • লাখ লাখ লোক নিয়ে রাস্তায় নামার হুশিয়ারী আফ্রিদির

    লাখ লাখ লোক নিয়ে রাস্তায় নামার হুশিয়ারী আফ্রিদির

    পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে না দিলে ২০ লাখ লোক নিয়ে রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি।

    বৃহস্পতিবার আদিয়ালা কারাগারের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। আফ্রিদি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইমরানের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া না হলে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০ লাখ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ইসলামাবাদের দিকে পদযাত্রা করা হবে।

    আফ্রিদি বলেন, ‘২৭ সেপ্টেম্বরের আগে আমি শেষবারের মতো আদিয়ালায় এসেছি। সরকার নিজে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করলেই কেবল আমি আবার ফিরে আসব।’

    ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে চাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় গতকাল আফ্রিদির নামও ছিল। তবে কারাগারের পরিস্থিতি দেখে তার মনে হয়েছে, ইমরানের সঙ্গে তাকে দেখা করতে দেওয়ার কোনো ইচ্ছা কর্তৃপক্ষের নেই।

    দেশজুড়ে সড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি

    বৈঠকের অনুমতি না দিলে পিটিআইয়ের ‘ডি-চক’ প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে দেশজুড়ে সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেন আফ্রিদি।

    দলীয় কর্মীদের জাতীয় ও পিটিআইয়ের পতাকা হাতে রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিতে বলেন তিনি। আফ্রিদির ভাষ্য, এই প্রতিবাদের মাধ্যমে জানানো হবে যে ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতার সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, তা মেনে নেওয়া যায় না।

    পিটিআইয়ের গণমাধ্যম শাখার তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন শহরে এরই মধ্যে প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছে। দলীয় কর্মীরা বিভিন্ন মোড়ে গিয়ে ইমরানের পক্ষে স্লোগান দিয়েছেন।

    আফ্রিদি বলেন, পিটিআইয়ের অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরনের আন্দোলন শুরু হবে। আগামী রোববার বান্নুতে রাজপথে একটি কর্মসূচি আয়োজনের কথাও জানান তিনি।

    ‘২৭ সেপ্টেম্বর ‘দুঃস্বপ্ন’ হবে’

    ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিতে ২০ লাখের বেশি মানুষ অংশ নেবে বলে দাবি করেছেন আফ্রিদি।

    তিনি বলেন, এই তারিখটি কর্তৃপক্ষের জন্য একটি ‘দুঃস্বপ্ন’ হয়ে উঠবে। পিটিআইয়ের এই নেতা বলেন, মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ রয়েছে। বুধবার স্বল্প সময়ের নোটিশে খাইবার জেলায় বিপুলসংখ্যক সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

    আফ্রিদি বলেন, পাকিস্তান ও পিটিআইয়ের পতাকা বহনকারী প্রত্যেক ব্যক্তিকেই ইমরান খানের সমর্থক হিসেবে গণ্য করা হবে। তিনি আরো বলেন, পাকিস্তানের জনগণ তাদের সমস্যার সমাধান চায়।

    তার দাবি, কেবল ইমরান খানই এসব সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করতে পারেন। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ

    পিটিআইয়ের ধারাবাহিক প্রতিবাদ এবং ইমরানের সঙ্গে দেখা করার দাবির মধ্যেই আফ্রিদির এই হুঁশিয়ারি এল।

    গত মঙ্গলবার ইসলামাবাদ হাইকোর্ট পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে এবং গতকাল দলীয় নেতাদের সঙ্গে ইমরানের বৈঠকের ব্যবস্থা করতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

    তবে আফ্রিদির দাবি, গত কয়েক মাস ধরে এ ধরনের আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করা হয়নি। রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, তিনজন বিচারকের আদেশ রয়েছে, যাতে সপ্তাহে দুবার ইমরানের সঙ্গে বৈঠকের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই আদেশ কার্যকর করা হচ্ছে না।

    আফ্রিদি বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের জন্য আদালতে আবেদন করেছি, কিন্তু আদালত অসহায়। সে ক্ষেত্রে প্রতিবাদ জানানোর সব অধিকার আমাদের রয়েছে।’

    ‘সরকারি দপ্তর অকার্যকর’

    আফ্রিদি দাবি করেন, এমনকি সরকারের মন্ত্রীরাও স্বীকার করছেন যে দেশ ও এর শাসনব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

    তার মতে, এটি সরকারের ব্যর্থতার প্রমাণ। তিনি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলো বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানান।

    আফ্রিদির ভাষ্য, এসব প্রতিষ্ঠান যদি কার্যকরভাবে কাজই না করে, তাহলে এগুলো চালু রেখে জনগণের অর্থ অপচয় করার কোনো অর্থ নেই।

    তিনি বলেন, ‘এমনকি প্রধানমন্ত্রীও বলেছিলেন, তিনি বৈঠকের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে আমাকে জানাবেন। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়গুলো যদি অকার্যকরই হয়ে থাকে, তবে সরকারের উচিত সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া। কারণ, এগুলো জনগণের অর্থ অপচয় করছে। সাধারণ মানুষ কর দেয়, আর সেই টাকা এদের পেছনে খরচ হয়।’

    আফ্রিদি আরো বলেন, ‘এমনকি মন্ত্রীরাও বলছেন যে ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে

  • বিশ্বনেতারা ঘুমের জন্য কতটা সময় পান?

    বিশ্বনেতারা ঘুমের জন্য কতটা সময় পান?

    একটি দেশ পরিচালনার কাজ নিশ্চিতভাবেই ৯-৫টার চাকরি নয়। গভীর রাতের দীর্ঘ আলোচনা, সাতসকালের ব্রিফিং, টাইমজোনের পরোয়া না করে আসা জরুরি পরিস্থিতি কিংবা বৈঠক, ভাষণ ও সফরের দীর্ঘ তালিকা তো আছেই। এ অবস্থায় কোনো বিশ্বনেতা আসলে ঘুমানোর জন্য কতটা সময় পান?

    বিশ্বনেতাদের ঘুমানোর এই প্রসঙ্গ সামনে এসেছে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির এক স্বীকারোক্তির পর। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এমন কিছু রাত গেছে, যখন একেবারেই ঘুম হয়নি।

    গত মাসে এক সরকারি ছুটির দিন তাকাইচি এক্সে দেওয়া পোস্টে লিখেন, ‘অবশেষে টানা পাঁচ ঘণ্টা ঘুমানোর সুযোগ পেয়েছি।’ এটিকে বিরল হিসেবে উল্লেখ করে তাকাইচি জানান, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে প্রতি রাতে তাঁর স্বাভাবিক ঘুমের পরিমাণ শূন্য থেকে বড়জোর তিন ঘণ্টায় দাঁড়িয়েছে।

    তাকাইচি এই তথ্য প্রকাশের পর জাপানের দীর্ঘদিনের এক উদ্বেগ আবার সামনে এসেছে। দেশটিতে বাড়তি কর্মঘণ্টা এবং অতিরিক্ত কাজের চাপে মৃত্যুর ঘটনা, কয়েক দশক ধরে জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা কি সত্যিই রাজনৈতিক নেতাদের মনোবল ও নিষ্ঠার প্রমাণ? নাগরিকদের জীবনকে প্রভাবিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারপ্রধানদের অপর্যাপ্ত ঘুম কি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে?

    কোন দেশের সরকারপ্রধানরা কত ঘণ্টা ঘুমান, সে তথ্য তাদের সাক্ষাৎকার ও প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া যায়। এতে দেখা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা ঘুমানোর সময় পান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে কম ঘুমানো একজন মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করে আসছেন।

    ২০১৭ সালে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি সাধারণত রাতে চার বা পাঁচ ঘণ্টা ঘুমান। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) সে সময় জানায়, ট্রাম্প মাঝরাত বা রাত ১টা পর্যন্ত কাজ করতেন। আবার ভোর ৫টার দিকে জাগতেন।

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্দেশিত সময়ের চেয়ে অনেকটাই কম ঘুমান। ২০১৯ সালে বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমারের উপস্থাপনায় এক অনুষ্ঠানে মোদি জানান, তিনি ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা ঘুমান। তবে এই সময়ে তাঁর গভীর ঘুম হয়।

    ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ রাতে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা ঘুমান। এই তথ্যটি তাঁর প্রেসিডেন্ট হওয়ার শুরুর দিকে প্রকাশ করেছিল ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। ওই সময়কার অন্য প্রতিবেদনগুলোতে মাখোঁর সম্পর্কে বলা হয়, তিনি গভীর রাত পর্যন্ত কাজ এবং সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতেন।

    সাবেক বিশ্বনেতাদের মধ্যে কয়েকজনের ঘুমের তথ্য জানা গেছে। ২০১৬ সালের এক প্রতিবেদনে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছিল, বারাক ওবামা সাধারণত ৫ ঘণ্টা ঘুমান। রাতে পরিবারের সঙ্গে খাবার খাওয়ার পর তিনি আরও কয়েক ঘণ্টা একাকী কাজ করতেন। এ সময় তিনি ব্রিফিংয়ের কাগজপত্র পড়া, লেখা ও পরবর্তী দিনের প্রস্তুতি নিতেন।

    ঘুমের বিষয়ে জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের একটি উক্তি বেশ আলোচিত। স্বল্প ঘুমের কারণে তিনি নিজেকে উটের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কেল বলেছিলেন, ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকলে তিনি টানা কাজ করতেন। এরপর ঘুমাতেন। অর্থাৎ, অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে ঘুমের যে ঘাটতি হতো তা তিনি পরে পুষিয়ে নিতেন।

    দুই যুগের বেশি সময় আগে যখন স্মার্টফোনের আধিপত্য, ২৪ ঘণ্টার খবর এবং রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখার প্রবণতা ছিল না, তখনও নিজেকে কম ঘুমানো মানুষের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন মার্গারেট থ্যাচার। ১৯৮৯ সালে ‘দ্য সান’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘সত্যি বলতে আজকাল ৪ ঘণ্টার বেশি ঘুমানোটা আমার কাছে খুব কঠিন মনে হয়।’

  • তেহরান ও ইসলামাবাদের স্বার্থ একই সূত্রে গাঁথা: পেজেশকিয়ান

    তেহরান ও ইসলামাবাদের স্বার্থ একই সূত্রে গাঁথা: পেজেশকিয়ান

    ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের স্বাধীনতার ৭৯তম বার্ষিকী উপলক্ষে এক অভিনন্দন বার্তায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ইরান ও পাকিস্তান এই দুই জাতির অভিন্ন স্বার্থ ও ভাগ্য আগের চেয়েও বেশি ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং এই বাস্তবতা নিবিড় সমন্বয় ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাকে দ্বিগুণ করে তুলেছে।

    ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, পাকিস্তানের স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া অভিনন্দন বার্তায় মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফকে সম্বোধন করে এই উপলক্ষটিকে পাকিস্তানের মহান জাতির অর্জনসমূহকে স্মরণ করার একটি মূল্যবান সুযোগ এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ও ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ও কৌশলগত সম্পর্ককে গভীর করার পথে একটি নতুন সন্ধিক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করেছেন।

    ইরানের প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, নিঃসন্দেহে, দুই দেশের মধ্যকার গভীর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক, সভ্যতামূলক এবং জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উজ্জ্বলতর দিগন্ত উন্মোচনের জন্য একটি মূল্যবান সম্পদ। ইরান ও পাকিস্তান- এই দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ ও ভাগ্য আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং এই বাস্তবতা তেহরান ও ইসলামাবাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতর সমন্বয় ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাকে দ্বিগুণ করে দিয়েছে।

    এই বিষয়টির ওপর জোর দিয়ে পেজেশকিয়ান আরো বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক আরো জোরদার করার দৃঢ় সংকল্পের ওপর জোর দিচ্ছে এবং পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধার আলোকে এবং বিদ্যমান ব্যাপক সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক শক্তিশালী করতে ও দুই জাতির অভিন্ন স্বার্থ সুরক্ষিত করতে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

  • ভারতে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের’ ডাক দিলেন ওয়াংচুক

    ভারতে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের’ ডাক দিলেন ওয়াংচুক

    ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব বাছাইয়ের পদ্ধতিতে ‘শান্তিপূর্ণ বিপ্লবের’ আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সমাজকর্মী ও শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুক। ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত ও ‘সম্মানজনক রাষ্ট্রে’ পরিণত করতে মৌলিক পরিবর্তন জরুরি বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

    স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক ‘ভারতের দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের’ আহ্বান জানান। এ জন্য দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারেন—এমন ‘নিঃস্বার্থ, নির্ভীক, চরিত্রবান ও যোগ্য’ নারী-পুরুষকে খুঁজে বের করে মনোনীত করার জন্য নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

    ওয়াংচুক জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তিনি অসুস্থ ছিলেন। ওই সময়টিকে তিনি ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার কাজে ব্যবহার করেছেন। এশিয়ার কয়েকটি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ভারতের অগ্রগতির তুলনা করে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বর্তমান গতিপথ অব্যাহত থাকলে উন্নয়নের লক্ষ্যে ভারত পিছিয়ে পড়তে পারে।

    তিনি বলেন, ‘আমরা যদি মাথাপিছু জিডিপির কথা বলি এবং এ ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে ২০৪৭ সালে আমরা উন্নত দেশ তো হতেই পারব না, এমনকি বিশ্ববাজারে মুখ দেখানোর মতো অবস্থাতেও থাকব না।’

    তিনি ভারতের ভবিষ্যৎকে-এর শিক্ষা ব্যবস্থার শক্তির সাথেও যুক্ত করেছেন এবং বলেছেন যে জাতীয় অগ্রগতি শিক্ষাগত উন্নতির চেয়ে দ্রুত হতে পারে না। তিনি বলেন, ‘যতদিন শিক্ষা পিছিয়ে থাকবে, ততদিন দেশের ভবিষ্যৎও পিছিয়ে থাকবে।’

    ওয়াংচুক সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রতিবাদের মাধ্যমে পরিবর্তনের জন্য যারা আন্দোলন করেছেন তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করেছেন। তবে নতুন নেতৃত্বের অধীনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে—এমন প্রত্যাশার পক্ষে এখনো খুব বেশি কারণ দেখছেন না বলে জানান।

    দেশ পরিচালনার বৃহত্তর প্রশ্নে ওয়াংচুক বলেন, ভারতের সমস্যার জন্য কোনো একটি রাজনৈতিক দলকে দায়ী করা যায় না। বিভিন্ন দলের সরকারও বিভিন্ন সময়ে ভিন্নমতের প্রতি একই ধরনের আচরণ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি বলেন, ‘তাই বিষয়টি শুধু কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যাপার নয়।’ তার উদ্বেগ মূলত ভারত কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সেই বৃহত্তর প্রশ্নকে ঘিরে বলেও জানান তিনি।

    ২০১২-১৩ সালের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের পর ভারতের রাজনৈতিক অস্থিরতার কথাও উল্লেখ করেন ওয়াংচুক। তার মতে, ওই আন্দোলনের ফলে সরকার পরিবর্তন হলেও দুর্নীতি ও অবিচারের অবসান হয়নি।

    তিনি বলেন, ‘কিন্তু আজ, ১২ বছর পর দুর্নীতি ও অবিচার নতুন রূপ নিয়েছে।’ আগের তুলনায় সমস্যাটি আরও বড় ও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    ওয়াংচুকের মতে, সমস্যার মূল দুর্বলতা রয়েছে রাজনৈতিক নেতৃত্ব বাছাইয়ের পদ্ধতিতে।

    তিনি বলেন, ‘দেশে আমাদের বড় ধরনের পরিবর্তন দরকার, বিপ্লব দরকার—একটি শান্তিপূর্ণ বিপ্লব, যাতে আমরা সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে পারি। কারণ সবচেয়ে বড় ঘাটতি হলো নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে। নেতৃত্ব সঠিক না হওয়া পর্যন্ত পুরো দেশই ভুল পথে থাকবে।’

    নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলাগুলো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ওয়াংচুক। গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগে অভিযুক্ত নেতাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে তার এই সমালোচনা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা বিরোধীদের লক্ষ্য করে নয় বলেও স্পষ্ট করেন।

    তিনি বলেন, ‘আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা বিরোধীদের কথা বলছি না, আমি দেশের কথা বলছি।’

    এবার এই উদ্বেগকে আরও বিস্তৃত জাতীয় আলোচনায় পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছেন ওয়াংচুক। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সঙ্গে পরামর্শ করে ‘সেরা মেধাবীদের’ একত্রিত করে দেশের কী পরিবর্তন প্রয়োজন, তা নিয়ে আলোচনা করতে চান তিনি।

    তবে তার আহ্বান শুধু শিক্ষাবিদ বা বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ‘নিঃস্বার্থ, নির্ভীক, চরিত্রবান ও যোগ্য’ নারী-পুরুষদের খুঁজে বের করে প্রতিটি অঞ্চল থেকে অন্তত একজনের নাম প্রস্তাব করার জন্য নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    ওয়াংচুক বলেন, ‘দূরবর্তী লাদাখে বসে আমি জানি না তারা কারা বা কোথায় আছেন। তাই দেশের এবং আপনার অঞ্চলের এমন অন্তত একজনের নাম প্রস্তাব করে আপনারা সাহায্য করতে পারেন।’

    তিনি জানান, ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও শহর সফর করে মানুষের পরামর্শ সংগ্রহ করতে চান। পাশাপাশি দেশের প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের একটি নতুন ‘মানচিত্র’ তৈরিতে সহায়তা করতে পারেন—এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করতে চান তিনি।

    ভিডিও বার্তার শেষদিকে ওয়াংচুক ‘ভারতের দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু করার’ আহ্বান জানান। তার এই বার্তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া এবং আঞ্চলিক ভাষায় অনুবাদ করে প্রচারের জন্যও নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

    ওয়াংচুকের এই বার্তা তার সাম্প্রতিক শিক্ষা ও সুশাসনকেন্দ্রিক প্রচারণাকে আরও বিস্তৃত করেছে। এবার তিনি শিক্ষা ও প্রশাসনের নির্দিষ্ট সমস্যার বাইরে গিয়ে ভারতের রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় বৃহত্তর সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন।

  • কলকাতার বহু মসজিদে জুমার আজান শোনা যায়নি, আতঙ্কে মুসলিমরা

    কলকাতার বহু মসজিদে জুমার আজান শোনা যায়নি, আতঙ্কে মুসলিমরা

    পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘু মুসলমানদের পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। একসময় কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী শহরগুলোতে জুমার দিন মসজিদে জায়গা না হলে রাস্তায় নামাজ পড়তেন অগণিত ধর্মপ্রাণ মানুষ। কিন্তু বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার সেই পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, এখন সরাসরি মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেওয়ার মতো গুরুতর ঘটনাও সামনে আসছে। এর জেরে শুক্রবার কলকাতা ও সংলগ্ন বহু মসজিদে জুমার আজান শোনা যায়নি। আজানের ধ্বনি না পৌঁছানোয় বহু মুসল্লি ঠিকমতো নামাজেও যোগ দিতে পারেননি। সব মিলিয়ে চারদিকে এক অজানা আতঙ্ক ও হতাশার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

    এদিন কলকাতার পার্ক সার্কাসের এক ইমামের কণ্ঠে এই করুণ পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র ফুটে ওঠে। চরম অসহায়তার সুরে তিনি বলেন, ‘মাইক কেড়ে নিয়ে আমাদের ওপর নানাভাবে জুলুম করা হচ্ছে। আমরা সব সহ্য করব, কারণ আমাদের আর কিছু করার নেই। শনিবার (১৫ আগস্ট) আমাদের স্বাধীনতা দিবস। আমি সবাইকে অনুরোধ করছি, সবাই নিজের বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করুন। না হলে এই সরকার মুসলমানদের গায়ে খুব সহজেই দেশদ্রোহীর তকমা সেঁটে দেবে।’ তার এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যায়, রাজ্যের মুসলিম নাগরিকদের মধ্যে বর্তমানে কতটা ভীতির সঞ্চার হয়েছে।এরইমধ্যে মসজিদের মাইক খুলে নেওয়ার এই বিতর্কিত বিষয়টি গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে এ-সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি হয়। আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের লিখিত নোটিশ ছাড়াই শুধু মৌখিক নির্দেশে পুলিশের সহায়তায় রাজ্যের প্রায় ৪ হাজার মসজিদের মাইক খুলে নেওয়া হয়েছে। তিনি বিচারপতি ভগবতী প্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেঞ্চের পুরোনো রায়ের প্রসঙ্গ টেনে সব মসজিদে পুনরায় মাইক লাগানোর অনুমতির আবেদন জানান। পাশাপাশি, ধর্মীয় আচার পালনের ক্ষেত্রে কেন এমন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করা হবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তিনি জানান, শুধু হুগলির চাঁপদানি থেকেই অন্তত ১০০টি মসজিদের পক্ষ থেকে এমন আবেদন আসতে পারে।

    অন্যদিকে, রাজ্যের অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল (এএজি) আদালতে এই মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই পাল্টা প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে মাইক খোলার কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি এবং কোন পুলিশ কর্মকর্তা এমন নির্দেশ দিয়েছেন, তার কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ বা নাম মামলাকারী দিতে পারেননি। এ ছাড়া, ৪ হাজার মাইক খোলার অভিযোগ উঠলেও কোনো ইমাম নিজে থেকে এগিয়ে এসে মামলা করেননি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এএজি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী নির্দেশ না দিয়ে রাজ্যকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার সুযোগ দেওয়া হোক।

    পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জানতে চান, ঠিক কোন জেলার কোন কোন মসজিদ থেকে মাইক খোলা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য আদালতে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি, আজান দেওয়ার ক্ষেত্রে মাইক ব্যবহারের শব্দবিধি মানা হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। আগামী ১৮ আগস্ট মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। তার আগে রাজ্যকে নিজেদের অবস্থান জানানোর নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

    এই তীব্র আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে গত সপ্তাহে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একটি মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উসকে দিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, সরকার কোনো নতুন আইন আনছে না; বরং ২০২০ সালের হাইকোর্টের নির্দেশিকাই কার্যকর করছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ধর্মীয় স্থান বলতে মন্দির ও মসজিদ—উভয়ই বোঝায় এবং সেই অনুযায়ী ৪২০০টি মসজিদ ও ১০৯৬টি মন্দির থেকে মাইক খোলা হয়েছে।

    কিন্তু সরকারের এই পরিসংখ্যানে বিন্দুমাত্র আশ্বস্ত হতে পারছেন না সংখ্যালঘু সমাজ। তারা জানান, এই পদক্ষেপ আসলে স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনে বাধা দেওয়ার একটি সুকৌশলী প্রয়াস মাত্র। সব মিলিয়ে এক দমবন্ধ করা ভয়ের আবহে শনিবার স্বাধীনতা দিবস পালন করতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মুসলিম নাগরিকরা।