আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • কলকাতায় আগুনে পুড়ে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

    কলকাতায় আগুনে পুড়ে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার নিউ মার্কেটের পাশে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এতথ্য জানিয়েছে।

    মঙ্গলবার দিবাগত রাত ভোর ৩টার দিকে হোটেলটির চতুর্থ তলায় আগুন লাগে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কলকাতা পুলিশ ও দমকল বাহিনী। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এরই মধ্যে হোটেলের একটি অংশ পুড়ে যায় এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

    এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আগুনের ধোঁয়ায় অনেকে অচেতন হয়ে পড়েন। তাদের কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

    পুলিশ ও দমকল বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, হোটেলের একটি এসি থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

    এদিকে আনন্দবাজার জানায়, মঙ্গলবার রাতে ওই হোটেলে যখন সবাই ঘুমাচ্ছিলেন, তখন আগুন লাগে। অনেকেই হোটেলে আটকে পড়েন। ওই বহুতলের প্রবেশপথ বা বাইরে বার হওয়ার রাস্তা একই। তবে সেটা সঙ্কীর্ণ। আবাসিকদের দাবি, হোটেলে কোনও আপৎকালীন প্রস্থান গেট ছিল না। কেউ কেউ বাথরুমে ঢুকে পড়েন। সেখানকার জানলা ভেঙে বার হওয়ার চেষ্টা করেন তারা। দমকলবাহিনী এসে ওই বিল্ডিংয়ে থাকা আবাসিকদের উদ্ধার করে।

    হোটেলে থাকাদের মধ্যে দু’জন মঙ্গলবার রাতে রামপুরহাট থেকে এসেছিলেন। দুই বন্ধু। তাদের মধ্যে ইজাজ আহমেদ নামে এক জন জানান, তারা ওই ভবনের চারতলায় অন্য গেস্ট হাউসে ছিলেন। সাড়ে ১২টা নাগাদ খাওয়া সেরে ঘুমান। রাত ২টো ১৫ মিনিট নাগাদ দুই মহিলার আর্তনাদ শুনে তাদের ঘুম ভাঙে। তারা দরজা খুলতেই ঘরে ধোঁয়া ঢুকে যায়। তারা জানায়, ‘ঘর থেকে বেরিয়ে যে বারান্দা, তা খুব সরু। ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল ঘরে।’

    নিউ মার্কেটের ওই ভবনের একদম উপরের তলায় এক পরিবার থাকত। তাদেরকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই পরিবারের এক মহিলা জানান, তাদের যখন নীচে নামানো হয়, তখন আগুন নিবে গেছে। তার অভিযোগ, হোটেল কর্তৃপক্ষদের বার বার অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা লাগাতে বলা হয়েছে। কিন্তু কেউ নিয়ম মানেনি। প্রশাসনকে অভিযোগ জানিয়েও লাভ হয়নি।

  • ১৭ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৩ হাজার কোটি টাকা

    ১৭ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৩ হাজার কোটি টাকা

    আগস্ট মাসের প্রথম ১৭ দিনে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ১৮৮ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। যা দেশীয় মুদ্রায় ২৩ হাজার ২১০ কোটি ১০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে)।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন

    তার দেওয়া তথ্য মতে, সোমবার (১৭ আগস্ট) প্রবাসী আয় এসেছে এক হাজার ২০৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা। গত বছরের আগস্ট মাসের প্রথম ১৭ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪২ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৩২ দশমিক ৬০ শতাংশ।

    চলতি অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত) সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত দেশে ৪৭৪ কোটি ৬০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ আয়ের পরিমাণ ছিল ৩৯০ কোটি ২০ লাখ ডলার। অর্থাৎ গত অর্থবছরের তুলনায় এ বছর একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২১ দশমিক ৬০ শতাংশ।

  • রাজস্ব নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ: প্রধানমন্ত্রী

    রাজস্ব নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ: প্রধানমন্ত্রী

    রাজস্ব নিয়ে জনগণের মধ্যে থাকা বিভ্রান্তি দূর করাই সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে সরকার। তবে প্রয়োজনীয় খাতে অবশ্যই ব্যয় করা হবে। যার যা কাজ সেটি ঠিকভাবে করলেই দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।’

    তিনি বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য সামনে এগিয়ে যাওয়া, অতীতে ফিরে যাওয়া নয়। সেজন্যই আমরা সকলকে নিয়ে সামনে বাড়তে চাই। আমাদেরকে যদি সামনে এগোতে হয় তাহলে আমাদেরকে সকলকে একত্রিত কাজ করতে হবে, একত্রে যেতে হবে।’

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যৌথভাবে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সম্মেলনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন।

    দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ফাঁকি রোধ এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজনীয় রাজস্ব আদায়ের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

  • বিশ্বের অন্যতম এআই হাব হবে তুরস্ক

    বিশ্বের অন্যতম এআই হাব হবে তুরস্ক

    বিশ্বের অন্যতম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) হাব হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে ২০২৬–২০৩০ সাল মেয়াদি নতুন কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে তুরস্ক। প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা অর্জন এবং কৌশলগত বিভিন্ন খাতে এআইভিত্তিক উদ্ভাবনী সমাধানের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান ২০২৬–২০৩০ সালের তুরস্ক এআই অ্যাকশন প্ল্যানসংক্রান্ত সার্কুলারে স্বাক্ষর করেন। পরে তা দেশটির সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়। শিল্প ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে প্রণীত এ কর্মপরিকল্পনায় প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব ও টেকসই ডিজিটাল রূপান্তরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের এআই-ভিত্তিক উন্নয়নের নতুন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    কর্মপরিকল্পনাটি চারটি মূল ধাপকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে—সচেতনতা তৈরি, ব্যবহার, উৎপাদন এবং ব্যবস্থাপনা। এর মাধ্যমে একটি নির্ভরযোগ্য ও শক্তিশালী এআই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে দেশটি।

    ৫ কোটি নাগরিককে এআই প্রশিক্ষণ

    পরিকল্পনার আওতায় আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের ৮১টি প্রদেশের ৫০ লাখ নাগরিককে এআই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১০ হাজার উচ্চপর্যায়ের এআই বিশেষজ্ঞ এবং ১ লাখ এআই প্রয়োগকারী পেশাজীবী তৈরির জন্য জাতীয় প্রতিভা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

    সরকার অন্তত ২ হাজার সরকারি ডেটাসেট প্রস্তুতের পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীদের অধিকার সুরক্ষায় এআই ব্যবহারের জন্য আইনগত ও নৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    বাড়ানো হবে কম্পিউটিং সক্ষমতা

    ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির ডেটা সেন্টারগুলোর মোট স্থাপিত কম্পিউটিং সক্ষমতা ১ গিগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গবেষক, স্টার্টআপ ও ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোকে এআই-ভিত্তিক গবেষণা ও উদ্ভাবনে সহায়তা দিতে ২ কোটি জিপিইউ-আওয়ার বরাদ্দের পরিকল্পনাও রয়েছে।

    এ ছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের বিনিয়োগ বাজেটের অন্তত ২ শতাংশ এআই প্রকল্পে ব্যয় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিংসহ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে ইতোমধ্যে এআইভিত্তিক পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু করা হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য ক্যাম্পাসে সহজলভ্য জ্বালানি ও অবকাঠামোর সুবিধা কাজে লাগিয়ে এআই গ্রোথ জোন প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে। দেশীয় উদ্যোগে অর্থায়নের জন্য একটি এআই গবেষণা তহবিল ও গ্রোথ ফান্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তুরস্কের ডেভেলপারদের নিজস্ব খাতভিত্তিক ভাষা মডেল এবং রোবটিক প্রযুক্তি তৈরি ও আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানিতে উৎসাহিত করা হবে।

    ১০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য

    নতুন কর্মপরিকল্পনায় বেসরকারি খাতের নেতৃত্বে অন্তত ১০ বিলিয়ন ডলারের এআই ও ডেটা সেন্টার বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে তুরস্ক। পাশাপাশি ওসিইডি, জি২০ ও জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে এআই-সংক্রান্ত আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির।

    আঞ্চলিক পর্যায়েও এআই সহযোগিতা বাড়াতে তুর্কি ভাষাগোষ্ঠীর দেশগুলোর জন্য একটি অভিন্ন বৃহৎ ভাষা মডেল (এলএলএম) তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অন্তত পাঁচটি অগ্রাধিকার খাতে নিয়ন্ত্রক ‘স্যান্ডবক্স’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

    তুরস্কের শিল্প ও প্রযুক্তিমন্ত্রী মেহমেত ফাতিহ কাচির বলেছেন, এআই এখন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের নতুন নির্ধারক হয়ে উঠছে। তাই এই বৈশ্বিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে তুরস্ক দর্শকের ভূমিকায় না থেকে অগ্রণী ভূমিকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    তিনি বলেন, নিজস্ব মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিশ্বাসযোগ্য এআই পণ্য ও সেবা তৈরি এবং কৌশলগত বিভিন্ন খাতে সেগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহারের সক্ষমতা গড়ে তুলতে চায় তুরস্ক। এর মাধ্যমে দেশের কল্যাণের পাশাপাশি মানবজাতির সামগ্রিক কল্যাণে এআইয়ের সম্ভাবনাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজে লাগানোর লক্ষ্য রয়েছে দেশটির।

  • ঢাকায় ২০০ ইভি বাস কিনছে সরকার, নারীর জন্য ১০০: সড়কমন্ত্রী

    ঢাকায় ২০০ ইভি বাস কিনছে সরকার, নারীর জন্য ১০০: সড়কমন্ত্রী

    ঢাকার গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে পরিবেশবান্ধব ও যাত্রীবান্ধব করতে ২০০টি বৈদ্যুতিক বাস (ইভি বাস) কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ১০০ বাস নারীর জন্য বিভিন্ন রুটে পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

    মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে বিআরটিসি আয়োজিত ‘মহিলা বাস সার্ভিস (পিংক বাস)’ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    সড়কমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী এসব বাস সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেনা হবে। প্রকল্পের মাধ্যমে বাস কেনার ক্ষেত্রে অনুমোদন, টেন্ডারসহ আন্তর্জাতিক ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অন্তত দেড় বছর সময় লাগতে পারে। দ্রুত পরিবেশবান্ধব গণপরিবহণ চালুর লক্ষ্যেই সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় মোট ১৩টি রুটে ১৪টি নতুন বাস চালু করা হচ্ছে। ঢাকায় ১০টি রুটে ১০টি বাস, চট্টগ্রামে দুটি এবং বগুড়ায় দুটি রুটে দুটি দ্বিতল বাস চলবে। ভবিষ্যতে বাসের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি রুটের পরিধিও আরও সম্প্রসারণ করা হবে।

    তিনি আরও বলেন, ফসিল ফুয়েলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে ইভি বাস এখন অত্যন্ত জরুরি। ঢাকায় মাল্টিমোডাল যোগাযোগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও এসব বাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    শেখ রবিউল আলম বলেন, নারী যাত্রীদের শুধু বাসে ওঠার পর নয়, অপেক্ষার সময় এবং বাস থেকে নামার সময়ও নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব পরিবেশ দিতে হবে। বাসে ওঠা-নামার সময় হয়রানি, অস্বস্তি কিংবা অনিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি হলে নারীদের গণপরিবহণ ব্যবহারে আগ্রহ কমে যায়। তাই নারীদের জন্য নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

    তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। রাষ্ট্র বিনির্মাণ ও অর্থনীতিতে নারীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। নারীরা যাতে তাদের সক্ষমতা রাষ্ট্রের প্রয়োজনে কাজে লাগাতে পারেন, সে জন্য নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    বিআরটিসির বর্তমান ব্যবস্থাপনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, সংস্থাটি বর্তমানে ৫০০টির বেশি বাস পরিচালনা করছে এবং মোট বাসের সংখ্যা এক হাজার ২০০-এর কাছাকাছি বা তারও বেশি। বর্তমানে বিআরটিসি লোকসানে নেই, বরং ব্রেক-ইভেন অবস্থায় রয়েছে। তবে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা, অপারেশন ও সেবার মানে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

    নারীদের জন্য চালু করা বাসসেবা যাতে অতীতের বিভিন্ন উদ্যোগের মতো কয়েক মাস পর বন্ধ হয়ে না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার কথাও বলেন মন্ত্রী।

    তিনি বলেন, আজ যে সেবা চালু হচ্ছে, দুই মাস পর এর মান আরও বাড়াতে হবে। প্রতিদিন ব্যবস্থাপনার উন্নতি করে সেবাকে আরও নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব করতে হবে। এই উদ্যোগকে শুধু উদ্বোধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। সেবাটি ধরে রাখা, টেকসই করা, সমৃদ্ধ করা এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রস্তুত রয়েছেন।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আব্দুল লতিফ মোল্লা।

  • অঞ্চলিক অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়তে?

    অঞ্চলিক অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়তে?

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত ক্রমেই আঞ্চলিক রূপ নিচ্ছে। এ ছাড়া, ইরানের অর্থনীতিকে অবরোধ করতে যুক্তরাষ্ট্র যে হাতিয়ার ব্যবহার করছে, একই হাতিয়ার এখন ইরান ব্যবহার করছে দুনিয়ার বিরুদ্ধে।’

    এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যসহ আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও অবসরপ্রাপ্ত রোমানিয়ার নৌবাহিনীর কর্মকর্তা আলেক্সান্দ্রু হুদিস্তেনু।

    আজ জাজিরা মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) জানিয়েছে, হুদিস্তেনু বলেন, ‘যুদ্ধটি এখনো একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও গোটা অঞ্চলই মূলত সংঘাতের মধ্যে রয়েছে।’

    তিনি বলেন, ইয়েমেনের হাউছিরা লোহিত সাগর পর্যন্ত সংঘাতের ক্ষেত্র সম্প্রসারিত করেছে এবং সৌদি আরবগামী জাহাজ চলাচলের ওপর হুমকি দিয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে কাস্পিয়ান সাগরেও হামলা হয়েছে। এর মাধ্যমে এই বিস্তৃত অঞ্চল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রের সাথে এক ধরনের যোগসূত্র তৈরি হয়েছে।

    হুদিস্তেনুর মতে, ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধের ফলে যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, তা অন্য অঞ্চলগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে নতুন করে সংঘাতের জন্ম দিতে পারে। এর ফলে তৈরি হতে পারে ‘অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতার একটি পরিস্থিতি’।

    তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিকে নতুন নিরাপত্তা বাস্তবতা হিসেবে বর্ণনা করা ভুল হবে না।

    হুদিস্তেনু আরো বলেন, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র যে সামরিক পদক্ষেপগুলো নিয়েছে, সেগুলো পরিস্থিতির মূল জটিলতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। এ কারণে ওয়াশিংটন এখন নিজেদের বিকল্পগুলো পুনর্মূল্যায়নের জন্য ‘কৌশলগত বিরতি’ নিয়েছে।

    তার ভাষায়, সক্রিয় হামলার পর্যায় শুরুর পর ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করাই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

    তবে এর মধ্যেই তৈরি হয়েছে নতুন ঝুঁকি। হুদিস্তেনু বলেন, ‘ইরানের অর্থনীতিকে অবরোধ করতে যুক্তরাষ্ট্র যে হাতিয়ার ব্যবহার করছে, একই হাতিয়ার এখন ইরান ব্যবহার করছে দুনিয়ার বিরুদ্ধে।’

  • শর্ত পূরণ না হলে খুলবেনা হরমুজ

    শর্ত পূরণ না হলে খুলবেনা হরমুজ

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাথে করা অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন ইরানের সংসদের স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।

    আল জাজিরা মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) গালিবাফের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সমঝোতা স্মারকে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খুলবে না। এর মধ্যে রয়েছে নৌ অবরোধ তুলে নেয়া, ইরানের জব্দ থাকা সম্পদ ছাড় করা এবং তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

    গালিবাফ আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে সব ধরনের হুমকি ও সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি সমঝোতা স্মারকে আমেরিকা যেসব অন্যান্য শর্তে সম্মত হয়েছে, সেগুলোও বাস্তবায়ন করতে হবে।

    তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই: অবরোধ তুলে নেয়া, জব্দ থাকা সম্পদ ছাড় করা, তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সব ফ্রন্টে হুমকি ও সামরিক অভিযান বন্ধ করা এবং সমঝোতা স্মারকে আমেরিকা যেসব অন্যান্য শর্তে সম্মত হয়েছে—এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খোলা হবে না।’

  • ভারতের সামরিক ব্যর্থতাকে সাফল্য হিসেবে দেখানো হয়েছে

    ভারতের সামরিক ব্যর্থতাকে সাফল্য হিসেবে দেখানো হয়েছে

    ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে তৈরি তথ্যচিত্রকে ‘বলিউডধাঁচের’ প্রচারণামূলক ভিডিও আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআর।

    সংস্থাটি বলেছে, গত বছরের সামরিক ব্যর্থতাকে সফল অভিযান হিসেবে তুলে ধরতেই তথ্যচিত্রটি তৈরি করা হয়েছে।

    পাকিস্তানে ইংরেজি দৈনিক দ্য ডন মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা বিবৃতির বরাত দিয়ে জানায়, ‘মারকা-ই-হক’–এর এক বছরেরও বেশি সময় পরও ভারত কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। ব্যর্থ অভিযানকে পরাজয় হিসেবে স্বীকার না করে ভারত ইতিহাসকে নিজেদের পছন্দমতো রঙে রাঙানোর চেষ্টা করছে।

    গত বছরের ২২ এপ্রিল পাহালগামে হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে শুরু হওয়া স্বল্পস্থায়ী সামরিক সংঘাত ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের পর যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হয়। পাকিস্তান এই সংঘাতকে ‘মারকা-ই-হক’ বা ‘সত্যের যুদ্ধ’ নামে অভিহিত করে। ২০২৫ সালের ৭ মে পাকিস্তানে ভারতের হামলাকে নয়াদিল্লি ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে অভিহিত করেছিল।

    আইএসপিআর বলেছে, ভারতীয় নির্মাতারা ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর একটি নাটকীয়, রঙচঙে ও তথ্যগতভাবে ভুল বিবরণ তৈরি করেছে। এতে ভারতের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের বক্তব্য যুক্ত করা হয়েছে। নির্বাচিত সাক্ষাৎকার, আবেগঘন বর্ণনা এবং বলিউডধাঁচের দৃশ্যায়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত তথ্য ও সামরিক অভিযানের ফলাফল বদলে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, তথ্যচিত্রে ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল সেনাপ্রধানের বক্তব্যের সাথে ২২ এপ্রিলের পাহালগাম হামলার ইচ্ছাকৃত যোগসূত্র দেখানো হয়েছে, যা ‘শূন্য থেকে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দাঁড় করানোর’ চেষ্টা।

    আইএসপিআর আরো প্রশ্ন তোলে, ভারত যদি দাবি করে থাকে যে পাহালগাম হামলার তিন অভিযুক্তকে ২৮ জুলাই হত্যা করা হয়েছিল, তাহলে ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুরে’ কাদের শাস্তি দেয়া হয়েছিল?

    পাকিস্তানের দাবি, ‘শতভাগ মিশন সফল’ হওয়ার ভারতীয় বক্তব্যও সামরিক বাস্তবতার সাথে সাংঘর্ষিক। আইএসপিআর বলেছে, সংঘাতে পাকিস্তানের বাহিনী ভারতের আটটি সামরিক বিমান ভূপাতিত করে এবং পরে ‘অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুস’-এর মাধ্যমে ২৬টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।

    সংস্থাটি আরো বলেছে, যুদ্ধ বন্ধ হয়েছিল দুই দেশের সামরিক অপারেশনসের মহাপরিচালকদের যোগাযোগ ও সমঝোতার মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় সংঘাতের অবসানকে একতরফা ভারতীয় বিজয় হিসেবে দেখানো বাস্তবতার সাথে সাংঘর্ষিক।

    আইএসপিআর-এর ভাষ্য, ‘কোনো পরিমাণ চলচ্চিত্রনির্ভর পুনর্নির্মাণ যুদ্ধক্ষেত্রের পরাজয়কে স্বঘোষিত বিজয়ে পরিণত করতে পারে না।’ পাকিস্তান আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও ভবিষ্যতে যেকোনো সামরিক হঠকারিতার ‘দৃঢ়, সিদ্ধান্তমূলক ও আনুপাতিকের চেয়েও কঠোর’ জবাব দেয়া হবে বলে সতর্ক করেছে।

  • পুতিনবিরোধী নেতাকে ১১ বছরের কারাদণ্ড

    পুতিনবিরোধী নেতাকে ১১ বছরের কারাদণ্ড

    রাশিয়ার সুপরিচিত যুদ্ধবিরোধী রাজনীতিবিদ এবং লিবারেল দল ‘ইয়াব্লোকো’-র উপপ্রধান লেভ শ্লোসবার্গকে ১১ বছর এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে পস্কোভ শহরের একটি আদালত।

    রুশ সশস্ত্র বাহিনীকে ‘কলঙ্কিত’ করা এবং তাদের সম্পর্কে ‘মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর’ অভিযোগে ৬৩ বছর বয়সি এই নেতাকে এই সাজা দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তার বিভিন্ন মন্তব্যের জেরে এই মামলা করা হয়েছিল।

    রায় প্রত্যাখ্যান করে শ্লোসবার্গ জানান, রাজনৈতিক ও নাগরিক অবস্থান বজায় রাখার জন্যই তাকে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি তিনি ইউক্রেন যুদ্ধে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং রাজনৈতিক আলোচনার আহ্বান জানান। তার দল ইয়াব্লোকো এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে।

    এদিকে, এই রায়ের ঠিক আগেই রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট আগামী সেপ্টেম্বরের সংসদ নির্বাচনে ইয়াব্লোকো দলের অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া একমাত্র নিবন্ধিত দল ছিল এটি।

    বর্তমানে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী অন্য সব দলই রুশ সামরিক অভিযানকে সমর্থন করছে। দীর্ঘ প্রায় ২৭ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আমলে যুদ্ধকালীন সেন্সরশিপ আইন দিয়ে দেশের ভেতরে যেকোনো ধরনের ভিন্নমত ও বিরোধী স্বর কঠোরভাবে দমন করা হচ্ছে।

  • ফেনীতে ২২ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি সানগ্লাস জব্দ

    ফেনীতে ২২ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি সানগ্লাস জব্দ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফেনীর ফুলগাজী সীমান্তে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২২ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ইউভি সানগ্লাস ও শাড়ি জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    মঙ্গলবার সকালে চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করা হয়।

    ৪ বিজিবি ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। একইসাথে সীমান্তে মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিহত, সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং যেকোনো ধরনের সীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি সর্বদা সজাগ, সতর্ক ও তৎপর রয়েছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘সীমান্ত নিরাপত্তা সুরক্ষা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিজিবি ভবিষ্যতেও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সাথে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।’

  • রংপুরে প্রবাসীর বাড়িতে ভয়াবহ ডাকাতি, ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট

    রংপুরে প্রবাসীর বাড়িতে ভয়াবহ ডাকাতি, ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রংপুরের পীরগাছায় এক প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা বলে বাড়ির মালিকদের অভিযোগ। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে এরই মধ্যে ১ জনকে গ্রেফতার করেছে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে উপজেলার ইটাকুমারী ইউনিয়নের পূর্ব পাড়া গ্রামে যুক্তরাষ্ট্র-প্রবাসী ফজলে এলাহী রিপন এবং ফজলে রাব্বী রাসেলের বাড়িতে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম পাশের পকেট গেটের উপরের দেয়াল টপকিয়ে দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে।

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে- দুর্বৃত্তরা শাবল দিয়ে আলমারি ভেঙে ফেলেছে। বাড়ির লোকজন জানিয়েছেন, তাতে থাকা প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণ এবং নগদ টাকা লুট করা হয়েছে। এ সময় আসবাবপত্র ও পোশাক তছনছ অবস্থায় দেখা যায়।

    খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিবদর্শন করেছেন পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক, ওসি (তদন্ত) আমিরুল ইসলামসহ পুলিশের সদস্যরা। এ সময় তারা প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেন এবং কাজের নারীসহ আশেপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। রাতেই এ ঘটনায় থানায় মামলা করেন প্রবাসীদ্বয়ের চাচা আব্দুল খালেক সুলতান। এ ঘটনায় রাতেই স্থানীয় মনু মিয়া নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

    প্রবাসী ফজলে রাব্বী রাসেল জানান, ‘আমরা দুই ভাই আমেরিকা প্রবাসী রেমিট্যান্সযোদ্ধা। পড়াশোনার কারণে স্ত্রী ও সন্তানরা রংপুর শহরে থাকে। সম্প্রতি আমরা রংপুরে এসেছি। আমাদের আগামী শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুই ভাইয়ের আমেরিকায় ফিরতি ফ্লাইট। সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত ১০টায় এলাকা থেকে ফোন আসে বাসায় ডাকাতি হয়েছে। সাথে সাথেই আমরা রংপুর থেকে এসে দেখি ঘরের আলমারি শাবল দিয়ে ভাঙ্গা। আমরা এর দ্রুত পদক্ষেপ চাই।

    বর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে রাতেই আসেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, এটা খুবই ভয়ানক ঘটনা। ওরা দুই ভাই রেমিট্যান্সযোদ্ধা। কিন্তু ওদের বাড়িতে এটা হবে কল্পনাই করা যায় না। যারা চুরি করেছে তারা জানাশোনা লোক বলে আমার মনে হয়।

    রংপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, ‘ঘটনাটি শোনার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। প্রবাসীদের বিষয়ে আমরা খুবই সিরিয়াস। এ বিষয়ে যতদ্রুত সম্ভব আমরা চেষ্টা করবো মালামাল উদ্ধার করতে।

    রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম জানান, ‘প্রবাসীরা আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখে। তাদের বাড়িতে এ ধরনের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। সে হিসেবে পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

  • অরক্ষিত তাঁবুতে বাস করছেন ৮ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি

    অরক্ষিত তাঁবুতে বাস করছেন ৮ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি

    গাজা উপত্যকায় ২১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তারা চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এর মধ্যে ৮ লাখ ৬৭ হাজারেরও বেশি মানুষ অস্থায়ী তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে এসব তাঁবু এখন আর বসবাসের উপযোগী নেই। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের বরাতে এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।

    শীত এগিয়ে আসায় ওই দপ্তর সোমবার এক আসন্ন মানবিক বিপর্যয়ের বিষয়ে সতর্ক করেছে। তারা উল্লেখ করেছে, তাঁবুতে বসবাসকারীদের মধ্যে পাঁচ লাখেরও বেশি শিশু রয়েছে।

    অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় অবিলম্বে ক্রেন, আবহাওয়ারোধী তাঁবু, তাপ নিরোধক উপকরণ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় আশ্রয় সামগ্রী ঢোকার অনুমতি দিতে হবে। এ বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

    এদিকে, চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কারণে গাজায় খাবার, পানি ও চিকিৎসাসেবার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সাহায্য সংস্থাগুলো বারবার এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে।

    মিডিয়া অফিসের আগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া হামলায় ইসরায়েলি বাহিনী গাজার ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করেছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এটি পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে।

    আরও পড়ুন:

  • মক্কা চুক্তি নাকি মুসলিম ন্যাটো?

    মক্কা চুক্তি নাকি মুসলিম ন্যাটো?

    যেকোনো একটি সদস্যদেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা জোটের সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে—পারস্পরিক প্রতিরক্ষার এই বিশেষ অঙ্গীকারটি পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর বিখ্যাত ‘৫ নম্বর অনুচ্ছেদ’-এর কথা মনে করিয়ে দেয়। গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে সই হওয়া ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’-তে ঠিক এই প্রতিশ্রুতিই দেওয়া হয়েছে।

    এই ধারার কারণে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ এই চুক্তিকে ‘মুসলিম ন্যাটো’ হিসেবে অভিহিত করতে শুরু করেছেন। তবে এই চুক্তির মাধ্যমে কি সত্যিই তেমন কোনো জোট বাস্তব রূপ পাচ্ছে?

    দীর্ঘ এক বছরের আলোচনার পর চূড়ান্ত হওয়া এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে সই করেছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিন দেশের যৌথ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করা এই চুক্তির মূল লক্ষ্য।

    ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে পবিত্র শহরে এই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্বের পাশাপাশি এক বিশাল প্রতীকী তাৎপর্যও তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য তথা মুসলিম বিশ্বের সামরিক ভারসাম্যে এই চুক্তি কতটা প্রভাব ফেলবে, তা বুঝতে হলে এর পেছনের সমীকরণগুলো বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

    যুদ্ধের ছায়ায় এই জোটের জন্ম

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও তেল অবকাঠামোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। এর ফলে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে যায়।

    পরিস্থিতি সামলাতে বিকল্প পথ হিসেবে লোহিত সাগরের বন্দরগুলোর ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয় রিয়াদ। ফলে ইয়ানবু বন্দর দিয়ে সৌদি তেলের রপ্তানি দৈনিক ১ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল থেকে বেড়ে প্রায় ৩৫ লাখ ব্যারেলে ওঠে।

    ঠিক এই স্পর্শকাতর রুটেই আঘাত হেনেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। গত ২০ জুলাই তারা সৌদি আরবের ওপর নৌ-অবরোধ ঘোষণা করে। চুক্তি সইয়ের দুই দিন পর, ৯ আগস্ট ইরান-সমর্থিত হুতিরা জাজানে সৌদি আরামকোর একটি শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে।

    এসব দিক বিবেচনায় চুক্তিটি কোনো কাল্পনিক ভবিষ্যৎ হুমকির বিরুদ্ধে নয়। আঞ্চলিক সংঘাত ও নিরাপত্তা-ঝুঁকি বৃদ্ধির মধ্যে এ চুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশীদার তিন দেশের সম্মিলিত সামরিক সক্ষমতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার সমীকরণ।

    মার্কিন সুরক্ষা নিয়ে গভীর হতাশা

    এই চুক্তির অন্যতম চালিকা শক্তি হলো মার্কিন সুরক্ষার ওপর রিয়াদের হতাশা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরার এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের দেওয়া নিরাপত্তাব্যবস্থা যখন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো রক্ষা করতে পারছিল না, তখনই বিকল্প প্রতিরক্ষার তাগিদ তৈরি হয়।

    ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে সরাসরি নিরাপত্তা সহযোগিতার এই উদ্যোগকে কিছু বিশ্লেষক উপসাগরের ‘প্ল্যান বি’ হিসেবে দেখছেন। আগে নিরাপত্তার প্রয়োজনে ওয়াশিংটনই ছিল উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রধান ভরসা। এখন সেই নির্ভরতা কমিয়ে আঙ্কারা, রিয়াদ ও ইসলামাবাদের মধ্যে সরাসরি নিরাপত্তা অংশীদারত্ব গড়ে তোলার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।

    তবে অনেকে একে ‘মুসলিম ন্যাটো’ বললেও এখনই ন্যাটোর মতো কোনো কঠোর সামরিক জোট তৈরি হচ্ছে না। কারণ, ন্যাটোর মতো এখানে কোনো একক অভিন্ন শত্রু নেই। সৌদির প্রধান চিন্তা ইরানকে নিয়ে; তুরস্কের মূল অগ্রাধিকার সিরিয়া ও পূর্ব ভূমধ্যসাগর; মিসরের নজর গাজা ও লোহিত সাগরের দিকে এবং পাকিস্তানের প্রধান প্রতিপক্ষ হলো ভারত।

    কিংস কলেজ লন্ডনের প্রতিরক্ষা গবেষণা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. অ্যান্ড্রেয়াস ক্রিগ মনে করেন, কোনো একক সাধারণ শত্রু না থাকায় ন্যাটোর মতো কঠোর কাঠামোর চেয়ে এখানে একটি নতুন ও নমনীয় ‘হাব অ্যান্ড স্পোক’ মডেল গড়ে ওঠার সম্ভাবনাই বেশি।

    সে অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে কেন্দ্রের ‘হাব’ বা মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করবে সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের পারস্পরিক শক্তিশালী সমঝোতা। অন্যদিকে কুয়েত, বাহরাইন বা কাতারের মতো অপেক্ষাকৃত ছোট উপসাগরীয় দেশগুলো সরাসরি কোনো বড় সামরিক দায়বদ্ধতায় না জড়িয়ে এই শক্তিশালী কেন্দ্রের সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন বিশেষায়িত দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে ‘স্পোক’ বা শাখা হিসেবে যুক্ত থাকবে।

    লক্ষ্য কি কেবলই ইরান

    চুক্তির পর এরদোয়ান বলেছেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছেন, এই কাঠামো সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন ভিন্ন কথা।

    জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে এই চুক্তির বাইরে রাখার বিষয়টি তেহরানকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা নিরাপত্তা-সমীকরণের ইঙ্গিত দেয়। তেহরানও এই নতুন নিরাপত্তা কাঠামোকে উদ্বেগের সঙ্গে দেখছে। এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই চুক্তি সৌদির নিরাপত্তার দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা দেবে না।

    একই চিত্র দেখা গেছে লোহিত সাগরেও। গত ৩০ জুলাই সৌদি নেতৃত্বে গঠিত ১৪ দেশের নৌ প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ থাকলেও ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সই করেনি। ইরানকেও দূরে রাখা হয়েছে। কাগজে-কলমে দুটি উদ্যোগের লক্ষ্য আলাদা মনে হলেও ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টিই এখানে সবচেয়ে বড় সমীকরণ হিসেবে কাজ করছে।

    আবুধাবি ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে একটি স্নাইপার রাইফেলের নিশানা পরখ করছেন এক দর্শনার্থী। আবুধাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত।

    দিল্লির কপালে চিন্তার ভাঁজ

    এই চুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। হংকংভিত্তিক ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’–এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সৌদি অর্থায়নে তুরস্কের তৈরি উন্নত সামরিক প্রযুক্তি পাকিস্তানের হাতে গেলে তা দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ বাড়াতে পারে বলে ওই বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

    তা ছাড়া তুরস্ক কাশ্মীর ইস্যুতে সবসময় পাকিস্তানের পাশে থাকে, যা দিল্লির জন্য উদ্বেগের আরেকটি বড় কারণ। তুরস্ক ও পাকিস্তানকে সঙ্গে নিয়ে সৌদির এই নতুন সামরিক মেরুকরণ ‘ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর’ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও নতুন ভূরাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে।

    ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, নয়াদিল্লি চুক্তিটির জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব পর্যালোচনা করছে।

    এর আগে ৬ আগস্ট ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করেন। দুই নেতা ভারত-ইসরায়েল বিশেষ কৌশলগত অংশীদারত্বের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

    পাকিস্তানের দোটানা

    কাগজে-কলমে এই চুক্তি যতই শক্তিশালী দেখাক, বাস্তবে এর প্রয়োগ অত্যন্ত কঠিন। ‘মিডল ইস্ট মনিটর’-এর এক বিশ্লেষণে পাকিস্তানের এই ঐতিহাসিক দোটানার পেছনের কারণগুলো তুলে ধরা হয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক থাকলেও ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত এবং পাকিস্তানের উল্লেখযোগ্য শিয়া জনগোষ্ঠীও ইসলামাবাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা-সমীকরণ।

    ইরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ানো পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ মেলে ২০১৫ সালে, যখন ইয়েমেন যুদ্ধের সময় রিয়াদ সেনা ও বিমান সহায়তা চাইলেও পাকিস্তানের সংসদ সর্বসম্মতভাবে ‘নিরপেক্ষ’ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

    মক্কা চুক্তির ‘যৌথ প্রতিরক্ষা’ বা ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের মতো কঠিন প্রতিশ্রুতি এখন পাকিস্তানকে এক নতুন অগ্নিপরীক্ষায় ফেলেছে। ভবিষ্যতে সৌদির তেল অবকাঠামো আক্রান্ত হলে পাকিস্তান কি ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে, নাকি ২০১৫ সালের মতো নিরপেক্ষতার নীতিতে অনড় থাকবে? এই প্রশ্নের উত্তরই শেষ পর্যন্ত মক্কা চুক্তির কার্যকারিতা ও সীমাবদ্ধতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

  • যুক্তরাষ্ট্র নাকি চীন—এআইকে বেছে নিতে হবে

    যুক্তরাষ্ট্র নাকি চীন—এআইকে বেছে নিতে হবে

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বেশ কিছু দেশকে যেকোনো একটি পক্ষ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে আসা ট্রাম্প প্রশাসনের একটি অভ্যন্তরীণ খসড়া চিঠি ও এক মার্কিন কর্মকর্তার কাছ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। খসড়ায় দেশগুলোকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, তারা যদি বেইজিংয়ের নেতৃত্বাধীন এআই উদ্যোগে যোগ দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বাদ পড়তে পারে।

    বেইজিংয়ের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার মধ্যে গত বছর ‘প্যাক্স সিলিকা’ নামের একটি উদ্যোগ চালু করে ওয়াশিংটন। এর লক্ষ্য ছিল এআই মডেল, সেমিকন্ডাক্টর ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহব্যবস্থা নিরাপদ করা।

    কাজাখস্তানসহ প্রায় ২৪টি দেশ এই উদ্যোগে যোগ দিয়েছে। কাজাখস্তান গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের বড় উৎস। দেশটি একই সঙ্গে চীনের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগেও যোগ দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াও প্যাক্স সিলিকার সদস্য।

    মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৈরি খসড়া চিঠিটি গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের এআই অপরচুনিটি স্টেটমেন্ট নামের একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করা ৩৫টি দেশের উদ্দেশে লেখা হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে প্যাক্স সিলিকার সদস্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এআই নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী দেশগুলো রয়েছে।

    দেশগুলোকে পক্ষ বেছে নিতে চাপ দিয়ে অত্যাধুনিক এআই তৈরির দৌড়ে চীনকে প্রয়োজনীয় সম্পদ থেকে বঞ্চিত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি মনে করে, সামরিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্য বিস্তারে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    গত জুলাইয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএআইসিও) নামের একটি প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থা প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। দ্রুত পরিবর্তনশীল এই খাতে মার্কিন প্রভাব মোকাবিলায় চীন তাদের প্রযুক্তি ও সহযোগিতার কাঠামো সম্প্রসারণ করছে।

    এখন পর্যন্ত কাজাখস্তানই একমাত্র দেশ, যে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের উভয় উদ্যোগে যোগ দিয়েছে। বিষয়টি ওয়াশিংটনের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের খসড়া চিঠিতে দেশগুলোকে এআইয়ের বিষয়ে ‘সুচিন্তিতভাবে পক্ষ বেছে নেওয়ার’ আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘সবকিছুর অংশ হওয়ার অর্থ কোনো কিছুরই অংশ না হওয়া। প্যাক্স সিলিকা ঘোষণায় সই করা মানে কেবল সদস্য হওয়া নয়, বরং এটি একটি প্রতিশ্রুতি।’

    চিঠিতে সরাসরি চীনের নাম উল্লেখ না করে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন কোনো সমান্তরাল জোটে যুক্ত থেকে এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা সম্ভব নয়।

    যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কবে চিঠিটি পাঠাবে বা পাঠানোর আগে এতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে কি না, রয়টার্স তা নিশ্চিত হতে পারেনি। খসড়াটিতে কোনো তারিখ দেওয়া হয়নি।

    মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। অন্যদিকে ওয়াশিংটনে নিয়োজিত চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, তারা বাণিজ্য ও প্রযুক্তি ইস্যুকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার বিরোধী। দূতাবাসের এক মুখপাত্র বলেন, ‘এ ধরনের পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে এআইয়ের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং কারও স্বার্থ রক্ষা করবে না।’ কাজাখস্তানের দূতাবাসও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ‘দুই নৌকায় পা রাখা চলবে না’

    প্যাক্স সিলিকা চুক্তির লক্ষ্য হলো মার্কিন মিত্র ও অংশীদারদের যৌথ প্রকল্প ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা। এর চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হলো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, এআই মডেল ও সেমিকন্ডাক্টর চিপের ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের ওপর নির্ভরতা কমানো।

    প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের লড়াই এখন এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো মার্কিন কোম্পানির মালিকানাধীন (প্রোপ্রাইটারি) ব্যবস্থার বিপরীতে চীনের ‘ওপেন-ওয়েট’ এআই মডেলগুলো দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। প্রসঙ্গত, ওপেন-ওয়েট এআই মডেল বলতে এমন প্রযুক্তিকে বোঝায়, যার প্রশিক্ষিত প্যারামিটার বা ‘ওজন’ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। ফলে এগুলো ডাউনলোড করে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার বা পরিবর্তন করা যায়।

    স্বয়ংক্রিয়ভাবে হ্যাক করার সক্ষমতাসহ এআইয়ের ক্ষমতা যেভাবে বাড়ছে, তাতে এর শক্তি ও ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে বিচার-বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, বেইজিং তাদের শীর্ষস্থানীয় কিছু এআই মডেলে বিদেশিদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার কথা ভাবছে। এতে চীনের কঠোর জাতীয় নিরাপত্তানীতির প্রতিফলন ঘটছে।

    গত জুনে কাজাখস্তান প্রথম মধ্য এশীয় দেশ হিসেবে প্যাক্স সিলিকায় যোগ দিলে যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখে। দেশটির কাছে উন্নত প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ সম্পদের বিশাল ভান্ডার রয়েছে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুরু করা শুল্কযুদ্ধের জবাবে চীন তাদের খনিজ সম্পদের ওপর আধিপত্যকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের দেশে এবং মিত্রদের কাছ থেকে এসব খনিজ সংগ্রহের চেষ্টা জোরদার করেছে।

    মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, প্যাক্স সিলিকার সদস্যরা এআই-সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ পায়। আর এআই অপরচুনিটি স্টেটমেন্টে সই করা দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘অভিন্ন লক্ষ্য’ ও ‘ভবিষ্যৎ ভাবনা’র বিষয়ে প্রতীকীভাবে একমত হয়েছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘একই সঙ্গে দুই দিকে থাকতে পারবে না’—দেশগুলোকে এটি স্পষ্ট করে দিতেই চিঠিটি খসড়া করা হয়েছে।

    ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘কোনো দেশ একই সঙ্গে চীনের নেতৃত্বাধীন এআই জোটে যোগ দিয়ে কীভাবে আমাদের ইকোসিস্টেমের নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে নিজেদের দাবি করতে পারে, তা বোঝা কঠিন।’

  • পশ্চিমবঙ্গে পরপর তিন খুন ঘিরে উত্তেজনা

    পশ্চিমবঙ্গে পরপর তিন খুন ঘিরে উত্তেজনা

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বাঁকুড়ায় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) এক কর্মীর বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ওই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) শীর্ষ নেতা আশুতোষ রাঙ্কা রাজ্য সরকারকে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং স্থানীয় পুলিশের ওপর চাপ বজায় রাখতে তাঁরা আপাতত বাঁকুড়া জেলাতেই অবস্থান করছেন তিনি।

    পাশাপাশি রাঙ্কা পুরো ঘটনার একটি আদালতের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্ত, নিহতের পরিবারের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা এবং নিহত ব্যক্তির স্মৃতিতে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিদ্যালয় স্থাপনেরও দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ প্রশাসনের দাবি, ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিবারটির অভিযোগ, সিজেপির কর্মীর বৃদ্ধ বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

    পশ্চিমবঙ্গ গত সপ্তাহান্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে খুনের ঘটনায় রাজ্যে কিছুটা রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। গত শনিবার রাতে নদীয়া জেলায় বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা ৫৪ বছর বয়সী আনিসুর রহমান এবং তাঁর ২৩ বছর বয়সী ছেলে আবু সুফিয়ানকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

    পরিবারের অভিযোগ, এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের হাত। গত রোববার এই ঘটনায় পুলিশ স্থানীয় হরনগর পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান ফাতেমা বিবি এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী সাহেব আলী মণ্ডল ও মিঠু শেখকে গ্রেপ্তার করেছে। ঠিক এই সময়ই অর্থাৎ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় একের পর এক তাণ্ডব চলার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভার সাবেক ডেপুটি স্পিকার আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় আত্মহত্যা করেন।

    এই চারটি মৃত্যুর জেরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি উত্তাল হয়ে উঠেছে। ক্ষমতাসীন বিজেপি স্বাভাবিকভাবেই এসব খুনের দায় এড়াতে পারে না; কারণ, তারা রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে। কিন্তু বিরোধী পক্ষ সরকারকে খুব একটা কোণঠাসা করতে পারেনি। কারণ, প্রধান বিরোধী মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে।

    এ ছাড়া বাকি তিন বিরোধী অর্থাৎ সিপিআইএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট, কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ঋতব্রতপন্থী অংশ এখনো ঘর গুছিয়ে উঠতে পারেনি। ফলে বিজেপির ওপর চাপ খুব একটা বাড়েনি। তবে পরপর এতগুলো খুন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রবল উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

    বাঁকুড়ার ঘটনা

    পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়ায় কথা বলছেন সিজেপির নেতা আশুতোষ রাঙ্ক

    ককরোচ জনতা পার্টির নেতা আশুতোষ রাঙ্কা দিল্লি থেকে সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ইন্দাসের কারিশুন্ডা গ্রামে এসে পৌঁছান এবং বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মারা যাওয়া মোহাম্মদ মাফিকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন।

    দুদিন আগে নিজের বাড়িতেই নির্মমভাবে পেটানোর পর মাফিকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী। তাঁদের আসার ও এই ঘটনা নিয়ে আন্দোলনে নামার কারণ, নিহত মাফিকের ছেলে আবদুল হাফিজ সিজেপির সদস্য। দিল্লিতে সিজেপির প্রতিবাদ চলাকালে তিনি সক্রিয়ভাবে কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন।

    রাঙ্কা জানিয়ে দেন, ১০ দিনের মধ্যে সব অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত আইনি ধারায় কঠোর সাজা দিতে হবে এবং ইন্দাস থানার পুলিশ কর্মীদের ভূমিকা নিয়েও আদালত-পর্যবেক্ষিত নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। কারণ, পুলিশ প্রশাসন পরিবারটির পাশে সঠিকভাবে দাঁড়ায়নি।

    নিহত মাফিকের পরিবার রাজ্য সরকারের আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং মাফিকের ছেলে আবদুল হাফিজ তাঁর বাবার স্মরণে একটি আন্তর্জাতিক মানের স্কুল গড়ে তোলার দাবি তুলেছেন।

    হাফিজের কথায়, শিক্ষা প্রসারের মাধ্যমে এ ধরনের স্কুল তৈরি হওয়াই হবে তাঁর বাবার প্রতি সঠিক শ্রদ্ধাঞ্জলি। এই দাবিকে সমর্থন জানিয়ে সিজেপি নেতা রাঙ্কা ঘোষণা করেন, তাঁরা হাফিজকে আর্থিক সহায়তা দেবেন এবং রাজ্যজুড়ে ‘স্কুল ঠিক করো’ আন্দোলন গড়ে তুলবেন, একই সঙ্গে সময়সীমার মধ্যে আসামিরা গ্রেপ্তার না হলে জেলা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করারও হুঁশিয়ারি দেন।

    নদীয়া জেলার ঘটনা

    এরই মধ্যে নদীয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া তৃণমূল নেত্রীসহ তিনজনকে শারীরিক পরীক্ষার পর আদালতে পেশ করে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে চায়। আদালত তাঁদের ৯ দিনের পুলিশি রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    শনিবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ কংগ্রেসের নদীয়া জেলা সম্পাদক আনিসুর রহমান তাঁর ছেলে, পেশায় আইনজীবী আবু সুফিয়ানকে নিয়ে গাড়িতে বাড়ি ফিরছিলেন। একটি রেলওয়ে আন্ডারপাসের কাছে তাঁদের গাড়ি আটকে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয় এবং পরে গাড়ি থেকে টেনে বের করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁদের হত্যা করা হয়।

    তদন্তের শুরুতেই পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ইঙ্গিত দিয়েছে, এই জোড়া হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ফল। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অতুল ভি এই তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার খবর নিশ্চিত করেছেন।

    তবে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য কী এবং এর পেছনে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা নিয়ে এখনই মন্তব্য করা তড়িঘড়ি হয়ে যাবে বলে তিনি জানান।

  • হাসপাতালেই চলবে ইমরানের চিকিৎসা

    হাসপাতালেই চলবে ইমরানের চিকিৎসা

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে আদালতের পক্ষ থেকে এ নির্দেশ দেওয়া হলো। এর আগে পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি দাবি করেছিলেন, ইমরান খানের চিকিৎসা প্রতিবেদন ‘উদ্বেগজনক’।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আলভি বলেন, তিনি কয়েকজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে ইমরানের মেডিকেল প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেছেন।

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবেদনে ইমরানের উদ্বেগ ও মানসিক চাপের মাত্রা, হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া এবং উচ্চ রক্তচাপ সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয়।

    ইমরানের ঘুমের সমস্যার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি বলেও জানান আলভি। তবে তিনি যে ওষুধগুলো সেবন করছেন, সেগুলো দেখে ঘুমের সমস্যার বিষয়টি বোঝা যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    আরিফ আলভি বলেন, তিনি ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে ইমরান খানকে চেনেন।

    তার মতে, ইমরানের দুর্বলতার জায়গা কখনোই মানসিক চাপ ছিল না। কিন্তু বর্তমানে সেই চাপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রায় তিন বছরের কারাবাস ও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতার কারণে তার ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়েছে, এটি তারই প্রমাণ বলে মন্তব্য করেন আলভি।

    ইমরানের হৃৎস্পন্দন প্রতি মিনিটে ৫৪ বার বলেও উল্লেখ করেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। চিকিৎসকেরা এটিকে স্বাভাবিক বললেও ইমরানের ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।

    ইমরানের হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে অবিলম্বে ২৪ ঘণ্টার হল্টার মনিটর ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন আলভি। একই সঙ্গে প্রতিদিন নিয়মিত তার রক্তচাপ পর্যবেক্ষণেরও দাবি জানান তিনি।

    আলভি আরো বলেন, ইমরান খানকে এখনই হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন। সেখানে স্বাধীন একটি চিকিৎসক প্যানেলের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা হওয়া উচিত। সরকারি নিয়োগ করা চিকিৎসকদের ওপর ইমরানের পরিবার ও পাকিস্তানের জনগণের এককভাবে আস্থা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এদিকে ইমরানের পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করতে না পারা এবং তার কাছে পর্যাপ্তভাবে পৌঁছানোর সুযোগ না থাকা নিয়ে একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। তার স্বাস্থ্য নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগ আরো বেড়েছে। আদালতের সর্বশেষ নির্দেশের পর তাকে হাসপাতালের পরিবেশে চিকিৎসা দেওয়া হবে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • মূত্রথলি থেকে বের হলো ৩.১ কেজি পাথর

    মূত্রথলি থেকে বের হলো ৩.১ কেজি পাথর

    শ্রীলঙ্কায় এক ব্যক্তির মূত্রথলি থেকে ৩ দশমিক ১ কেজি ওজনের একটি ‘দানবাকৃতির’ পাথর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করেছেন চিকিৎসকেরা। তাদের দাবি, এটি অস্ত্রোপচারে অপসারণ করা সবচেয়ে বড় মূত্রথলির পাথর।

    গত সপ্তাহে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ত্রিনকোমালি জেনারেল হাসপাতালে ৫৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির অস্ত্রোপচার করা হয়। পাথরটির ওজন প্রায় পূর্ণ মেয়াদের একটি নবজাতক শিশুর সমান। আকারেও এটি ছিল উটপাখির ডিমের মতো- দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭ সেন্টিমিটার।

    চিকিৎসকেরা জানান, ওই ব্যক্তি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। চিকিৎসা চলাকালে তার প্রস্রাব করতে সমস্যা হচ্ছে বলে চিকিৎসকদের নজরে আসে। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার মূত্রথলিতে পাথরের উপস্থিতি ধরা পড়ে।

    অস্ত্রোপচারের নেতৃত্ব দেওয়া চিকিৎসক প্রহালাহান বালাকৃষ্ণান বলেন, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা মূত্রথলির পাথরের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড়। তিনি জানান, অস্ত্রোপচারের পর রোগী ‘খুব ভালো’ আছেন।চিকিৎসকদের ধারণা, পাথরটি ওই ব্যক্তির মূত্রথলিতে প্রায় পাঁচ থেকে ১০ বছর ধরে ছিল। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তার অন্যান্য শারীরিক সমস্যারও চিকিৎসা চলছে।

    কীভাবে তৈরি হয় মূত্রথলির পাথর
    মূত্রে থাকা বিভিন্ন খনিজ পদার্থ জমে স্ফটিকের মতো শক্ত হয়ে গেলে মূত্রথলিতে পাথর তৈরি হয়। সাধারণত মূত্রথলি পুরোপুরি খালি না হলে সেখানে ঘন মূত্র জমে থাকে। এ অবস্থায় খনিজ পদার্থগুলো স্ফটিকে পরিণত হয়ে ধীরে ধীরে পাথরের আকার নিতে পারে।

    খুব ছোট পাথর বালুকণার মতো হতে পারে এবং অনেক সময় নিজে থেকেই শরীর থেকে বের হয়ে যায়। তবে এক সেন্টিমিটারের বেশি বড় পাথর প্রস্রাবের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। চার সেন্টিমিটারের বেশি আকারের মূত্রথলির পাথরকে সাধারণত বিশাল পাথর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

    আগের রেকর্ড কত ছিল
    গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে ব্রাজিলে এক রোগীর মূত্রথলি থেকে ১ দশমিক ৯ কেজি ওজনের একটি পাথর

    অপসারণ করা হয়েছিল। সেটির দৈর্ঘ্য ছিল ১৭ দশমিক ৯ সেন্টিমিটার।

    শ্রীলঙ্কায় অপসারণ করা নতুন পাথরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৩ দশমিক ১ কেজি। এ কারণে চিকিৎসকেরা এটিকে মূত্রথলির পাথর অপসারণের ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড বলে দাবি করছেন।

  • ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তলানিতে!

    ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তলানিতে!

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। রয়টার্স ও ইপসোস এর জনমত জরিপে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রতি সমর্থন ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে। এটি তার বর্তমান মেয়াদে সর্বনিম্ন হার। একই জরিপে ৬৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

    ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িয়ে পড়া এবং এর ফলে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন কমছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ মনে করেন, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ নেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। এমনকি রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও এ বিষয়ে সমর্থন পুরোপুরি নেই।

    চার দিন ধরে পরিচালিত এই অনলাইন জরিপে ১ হাজার ১৬৬ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। জরিপের ভুলের আশঙ্কা ৩ শতাংশ অর্থাৎ জরিপের ফল ৩ শতাংশ পর্যন্ত কম বা বেশি হতে পারে। আগস্টের শুরুতে রয়টার্স ও ইপসোসের জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদন ছিল ৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ অল্প সময়ের মধ্যেই তা আরও ২ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে।

    ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার আরেকটি বড় কারণ হয়ে উঠেছে জীবনযাত্রার ব্যয়। যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যে চাপ তৈরি হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম বেড়েছে। এতে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

    অন্যদিকে, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে এই জনসমর্থন কমে যাওয়া রিপাবলিকানদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ডেমোক্র্যাটরা এখন কিছুটা বেশি জনসমর্থন পাচ্ছে। অভিবাসন নীতিতে রিপাবলিকানদের যে বড় সুবিধা ছিল, সেটিও অনেকটা কমে এসেছে।

    জরিপের ফলাফল বলছে, ট্রাম্পের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু বিরোধী দল নয়; নিজের নীতির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া অসন্তোষও। বিশেষ করে যুদ্ধ, জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় আগামী নির্বাচনে তার দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

  • কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ : জাপান-রাশিয়ার দেড়শ বছরের বিরোধ

    কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ : জাপান-রাশিয়ার দেড়শ বছরের বিরোধ

    রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফরকে কেন্দ্র করে জাপান ও রাশিয়ার মধ্যে ফের উত্তেজনা বেড়েছে। পুতিনের সফরের প্রতিবাদে জাপান কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মস্কো জাপানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।

    জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি পুতিনের এ সফরকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। জাপানের দাবি, কুরিল দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণাঞ্চলের চারটি দ্বীপ তাদের নিজস্ব ভূখণ্ড। অন্যদিকে রাশিয়া এসব দ্বীপকে নিজেদের কুরিল দ্বীপপুঞ্জের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে।

    রাশিয়া ও জাপানের মধ্যকার এ বিরোধ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিক থেকে চলে আসছে। যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন জাপানের কাছের চারটি দ্বীপ দখল করে নেয়। জাপানে এগুলো ‘উত্তরাঞ্চলীয় ভূখণ্ড’ নামে পরিচিত হলেও রাশিয়ার কাছে এগুলো কুরিল দ্বীপপুঞ্জের অংশ।

    বিরোধপূর্ণ দ্বীপগুলো শুধু ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক কারণেই গুরুত্বপূর্ণ নয়। এসব এলাকার আশপাশে রয়েছে সমৃদ্ধ মৎস্যসম্পদ এবং মূল্যবান খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা। পাশাপাশি দ্বীপগুলোর অবস্থান রাশিয়ার জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো ওখোৎস্ক সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত এবং রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    পুতিনের এই সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার পর প্রথমবারের মতো দ্বীপগুলো সফর করলেন। এর আগে সাবেক রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ কয়েকবার সেখানে গিয়েছিলেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার ওপর জাপানের নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক এমনিতেই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে পুতিনের কুরিল সফর পুরোনো ভূখণ্ড বিরোধকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। ফলে ১৫০ বছরেরও বেশি পুরোনো এই দ্বীপ বিরোধ আবারও জাপান-রাশিয়া সম্পর্কের বড় বাধা হয়ে উঠেছে।

  • এবার মোদি সরকারের বিরুদ্ধে নতুন লড়াই, উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ

    এবার মোদি সরকারের বিরুদ্ধে নতুন লড়াই, উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ

    ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে আলোচিত ‘ককরোচ’ বা ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন এবার সরকারি স্কুলগুলোর দুরবস্থা নিয়ে নতুন কর্মসূচি শুরু করেছে। তবে এই কর্মসূচি শুরুর মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে এক আন্দোলনকর্মীর বাবার মৃত্যুর ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

    ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি নামের এই চাপসৃষ্টিকারী সংগঠন সম্প্রতি ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে ভূমিকা রাখার দাবি করে। ৩৭ দিনের অবস্থান কর্মসূচির পর দেশজুড়ে সরকারবিরোধী তরুণদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে গত জুলাইয়ে তিনি পদত্যাগ করেন।

    এবার সংগঠনটির নতুন কর্মসূচির নাম ‘ফিক্স দ্য স্কুলস’। এর আওতায় সমর্থকদের নিজ নিজ এলাকার সরকারি স্কুল পরিদর্শন করে সেখানকার অবস্থা যাচাই করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে নিরাপদ পানীয় জল, কার্যকর শৌচাগার, বিদ্যুৎ, ব্যবহারযোগ্য শ্রেণিকক্ষ, স্কুলের নিরাপত্তা, মধ্যাহ্নভোজ এবং শিক্ষকদের উপস্থিতির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    গত ১৩ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান ২৬ বছর বয়সী আবদুল হাফিজ। ওই স্কুলেই একসময় পড়াশোনা করেছিলেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, স্কুল পরিদর্শনের কয়েক ঘণ্টা পর স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা তার বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় হাফিজ ও তার বাবা মোহাম্মদ মাফিক আহত হন। দুই দিন পর ৫১ বছর বয়সী মাফিক মারা যান।

    তবে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতৃত্ব হামলাকারীদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছে এবং ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। বাবার মৃত্যুর পরও আবদুল হাফিজ জানিয়েছেন, উন্নত শিক্ষার দাবিতে তাদের আন্দোলন বন্ধ হবে না।

    সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, শুধু ভালো স্কুলের দাবি জানানোর কারণে মানুষের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

    এদিকে রাজস্থানের আলওয়ার জেলায় স্কুলে অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার ও পানীয় জলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন সংগঠনের এক নেতা। স্থানীয় কর্মকর্তারা পরে এসব দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানান।

    তবে রাজস্থান সরকার সরকারি স্কুলে বহিরাগতদের প্রবেশ এবং ছবি বা ভিডিও ধারণের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তার কথা উল্লেখ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও আন্দোলনকারীরা এটিকে তাদের কর্মসূচি ঠেকানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

    শিক্ষাবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের অনেক সরকারি স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও শিক্ষার নিম্নমানের মতো সমস্যা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন এসব বিষয়কে নতুন করে জাতীয় আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

    তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংগঠনটির কর্মীরা রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হওয়ায় তারা হামলা ও সহিংসতার ঝুঁকিতে রয়েছেন। তা সত্ত্বেও সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, বাধা যতই আসুক সরকারি স্কুলগুলোর জবাবদিহি ও সংস্কারের দাবিতে তাদের আন্দোলন চলবে।

  • ইরান চুক্তিতে বাধা দিলে ওমানে বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্পের

    ইরান চুক্তিতে বাধা দিলে ওমানে বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্পের

    হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তিতে ওমান ‘বাধা দিলে’ দেশটিতে বোমা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে তেহরানকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। যুদ্ধটি এখন ক্রমেই তার জন্য রাজনৈতিক বোঝা হয়ে উঠছে।

    ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে। প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের অচলাবস্থার কেন্দ্রে রয়েছে এই বিষয়। ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    জ্বালানির দামে ব্যাপক ওঠানামা এবং যুদ্ধ নিয়ে জনমতের বিরোধিতার কারণে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানরা চাপের মুখে রয়েছে। ফলে, প্রায় ছয় মাসের অচলাবস্থার অবসানে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে।

    ইরান ও ওমানের মধ্যে প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান আলোচনার প্রসঙ্গে ফক্স নিউজের সাংবাদিক ট্রে ইংস্টকে ট্রাম্প বলেন, ‘ওমান যদি পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, আমরা তাদের ওপর ভয়াবহ বোমা হামলা চালাব।’

    উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ওমান ট্রাম্পের মন্তব্যের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

    প্রণালিটি দিয়ে ভবিষ্যতে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা নিয়ে তেহরান ও মাসকাট কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা করছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, দুই পক্ষ একটি যৌথ ঘোষণা নিয়ে কাজ করছে।

    হরমুজের উত্তর পাশে ইরানের উপকূল। আর দক্ষিণ পাশে ওমান।

    প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার পর তাদের মধ্যে এ আলোচনা শুরু হয়।

    ইংস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের বিবরণ অনুযায়ী, ট্রাম্প আরও বলেছেন, ‘ইরানের উচিত আত্মসমর্পণের জন্য সাদা পতাকা ওড়ানো।’

    প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেলেও ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, হরমুজের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে।

    শুক্রবার তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডের অংশ ঘোষণা করবেন। জবাবে ইরান বলেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহনপথ ‘ইরানেরই থাকবে।’

    ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজকে উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশসহ বিভিন্ন পণ্য এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো।

    যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন প্রচেষ্টায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস এবং বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগে বাধ্য করার বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে তেহরান প্রণালিটির ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করছে।

    যুদ্ধটি জনপ্রিয় না হওয়া এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা সত্ত্বেও ট্রাম্প বলেন, তিনি চুক্তিতে পৌঁছাতে তাড়াহুড়ো করছেন না।

    ইংস্টকে তিনি জানান, তার প্রশাসন ও ইরানের বিপ্লবী গার্ডের কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি একটি গোপন যোগাযোগের পথ রয়েছে।

    তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘তারা ভালো পোকার (দর কষাকষিতে) খেলোয়াড়, কিন্তু তারা মারা যাচ্ছে।’

    ‘কূটনীতির পূর্ণ ব্যবহার’

    মিত্র দেশগুলো আলোচনার জন্য চাপ অব্যাহত রাখার সময় ট্রাম্পের এ মন্তব্য এলো।

    তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান ফোনে ট্রাম্পের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে আলোচনা করেছেন।

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে ‘কূটনীতির পূর্ণ ব্যবহার’ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন এরদোগান। শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় আঙ্কারা সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।

    সংঘাতের কেন্দ্রীয় উত্তেজনার বিষয় হয়ে রয়েছে হরমুজ প্রণালি।

    সংকীর্ণ এই জলপথ উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করেছে। যুদ্ধের শুরুর দিকে প্রণালিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের দাম বেড়ে যায়। সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় বড় আমদানিকারক দেশগুলো সতর্ক করে দেয়।

    ইরান হরমুজে জাহাজ চলাচল সীমিত রাখার পাশাপাশি ইয়েমেনে তাদের মিত্র হুথিরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বন্দরগুলোর ওপর সমান্তরাল নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছে।

    তেল রপ্তানির জন্য এটিই সৌদি আরবের একমাত্র বিকল্প সমুদ্রপথ।

    ইরান প্রণালিতে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ এবং পারাপারের জন্য ফি আদায় করতে চায়। যুদ্ধের আগে তারা এমন ক্ষমতা প্রয়োগ করত না। ওয়াশিংটন এর তীব্র বিরোধিতা করছে।

    হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তাদের জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, এতে ট্রাম্পের জন্য আরেকটি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

  • ইরান সংকটে জড়িয়ে এবার কিমের দিকে ঝুঁকছেন ট্রাম্প

    ইরান সংকটে জড়িয়ে এবার কিমের দিকে ঝুঁকছেন ট্রাম্প

    ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের জটিল পরিস্থিতির মধ্যেই এবার পুরোনো পরিচিত মুখ উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিমের সঙ্গে নিজের ‘খুব ভালো সম্পর্কের’ কথা উল্লেখ করে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

    রোববার ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তার যোগাযোগের উদ্যোগে সাড়া দিয়েছেন। তবে কিম কী ধরনের বার্তা দিয়েছেন বা দুই নেতার মধ্যে নতুন কোনো বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।

    ট্রাম্পের এই অবস্থান দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। যৌথ সামরিক মহড়াকে তিনি ব্যয়বহুল ও উত্তর কোরিয়ার প্রতি ‘বৈরীতার ইঙ্গিত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে দক্ষিণ কোরিয়া সমর্থন না দেওয়ায়ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

    ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও কিম জং উনের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। সে সময় দুই নেতা একাধিকবার বৈঠক করলেও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের বিষয়ে কোনো স্থায়ী চুক্তি হয়নি।

    বর্তমানে পরিস্থিতি আরও জটিল। উত্তর কোরিয়া রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করেছে এবং সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। এ অবস্থায় কিমের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ সফল হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বিশ্লেষকদের মধ্যে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে ব্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উত্তর কোরিয়া নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক পথ খোলার চেষ্টা ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার মতো ঘনিষ্ঠ মিত্রকে অসন্তুষ্ট করে কিমের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের জন্য কতটা ফলপ্রসূ হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

  • বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান আবার ভারতের অংশ হবে

    বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান আবার ভারতের অংশ হবে

    একদিন এমন সময়ও আসবে, যখন পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান আবার ভারতের অংশ হবে। এ জন্য ভারতীয়দের শুধু একটু ধৈর্য ধরতে হবে। রায়পুরের স্বামী বিবেকানন্দ বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ভারতের বিতর্কিত যোগগুরু রামদেব এসব মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে। ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমার ভাবনা হচ্ছে, গণতন্ত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও তা সংবিধান ও নৈতিকতার সীমার মধ্যে থাকা উচিত।

    রামদেব বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দুরা যে নির্যাতন ও অবিচারের শিকার হয়েছে, তা মানবসভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিষ্ঠুরতর ঘটনাগুলোর মধ্যে পড়ে।

    দেশে যেসব ধর্মীয় পরিবর্তন ঘটেছে, অন্তত ভবিষ্যতে যেন কাউকে নির্যাতনের শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। ভারতে হিন্দু, মুসলিম বা খ্রিষ্টান—কোনো ধর্মই হুমকির মুখে নেই। হুমকির মুখে রয়েছে ভারতের সম্মান ও মর্যাদা। আমি চাই যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়াসহ বিশ্বের প্রতিটি দেশেই ভারত যেন সমান সম্মান পায়।

  • ইসলাম গ্রহণের পাঁচ মাসেই কুরআন হাফেজ

    ইসলাম গ্রহণের পাঁচ মাসেই কুরআন হাফেজ

    ইসলাম গ্রহণের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করে সৌদি আরবের মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন মুখস্থ, তিলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতায় বুরুন্ডির প্রতিনিধিত্ব করছেন দেশটির তরুণ পেন্ট্রা বুশিমা আমিন।

    ৬ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে ১৯ আগস্ট (৬ রবিউল আউয়াল) পর্যন্ত চলা এ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের পবিত্র কুরআন মুখস্থ, তিলাওয়াত ও তাফসির বিভাগে ১৩৩টি দেশের ৩৩৪ জন নারী ও পুরুষ প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছেন। আয়োজকদের মতে, এটি প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক অংশগ্রহণ।

    এই বিষয়ের আরও খবর:

    মাত্র ১৪ বছর বয়সে এক মুসলিম বন্ধুর আহ্বানে ইসলাম সম্পর্কে জানতে শুরু করেন পূর্ব আফ্রিকার দেশ বুরুন্ডির পেন্ট্রা। ইসলামের মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও জীবনাদর্শ তাকে গভীরভাবে আকৃষ্ট করে। একপর্যায়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তার সিদ্ধান্তে অনুপ্রাণিত হয়ে বাবা-মা ও এক বোনসহ পরিবারের আরও চার সদস্য ইসলাম গ্রহণ করেন।

    ইসলাম গ্রহণের পরপরই পবিত্র কুরআন মুখস্থ করার যাত্রা শুরু করেন পেন্ট্রা। অদম্য আগ্রহ, কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে মাত্র পাঁচ মাসে সম্পূর্ণ কুরআন হিফজ করেন তিনি। পরে নিয়মিত পুনরাবৃত্তি ও অনুশীলনের মাধ্যমে হিফজ ও তিলাওয়াত আরও শুদ্ধ ও দৃঢ় করেন।

    আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীসহ যেসব মন্ত্রী-উপদেষ্টা সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন না এরপর বুরুন্ডির একটি জাতীয় কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রায় ৫০০ প্রতিযোগীর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন পেন্ট্রা। এ সাফল্যের সুবাদে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন মুখস্থ, তিলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতায় বুরুন্ডির প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান তিনি।

    এবারের প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের ৩৩৪ জন নারী ও পুরুষ প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছেন। পবিত্র মসজিদুল হারামে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন পেন্ট্রা।

    আরও পড়ুন: গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ভয়াবহ দুর্নীতির তথ্য সত্ত্বেও ৩৫ কোটি টাকায় প্রধান প্রকৌশলী তিনি জানান, ইসলাম গ্রহণের মাত্র এক বছরের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাফেজদের সঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়ানোর সুযোগ পাওয়া তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। তিনি কুরআন ও কুরআনের খাদেমদের প্রতি সৌদি আরবের নেতৃত্বের পৃষ্ঠপোষকতার প্রশংসা করেন এবং এমন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আয়োজনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

    আন্তর্জাতিক ইসলামি সংবাদ সংস্থা আইকিউএনএ ও সৌদি প্রেস এজেন্সির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পেন্ট্রা বুশিমা আমিনের এই অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে। ইসলাম গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই কুরআন হিফজ সম্পন্ন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার এই অর্জন কুরআনের প্রতি ভালোবাসা, অধ্যবসায় ও নিষ্ঠার অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • ঘুমের মধ্যে মারা গেছেন অভিনেত্রী অনন্যা রাজ

    ঘুমের মধ্যে মারা গেছেন অভিনেত্রী অনন্যা রাজ

    ভারতীয় অভিনেত্রী অনন্যা রাজ মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৩৫ বছর। ‘থাগ্গেদে লে’, ‘৭ আওয়ার্স টু গো’ ও ‘ঘোস্ট’সহ বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। খবর বলিউড হাঙ্গামার

    অনন্যার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ১৫ জুলাই ভোরে ঘুমের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর প্রায় এক মাস পর গত রোববার তাঁর পরিবারের সদস্যরা অনন্যার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বিষয়টি জানান।

    বিবৃতিতে পরিবারের সদস্যরা লিখেছেন, ‘অত্যন্ত কষ্টের সঙ্গে জানাচ্ছি, ১৫ জুলাই ভোরে অনন্যা মারা গেছে। ঘুমের মধ্যেই শান্তিপূর্ণভাবে তার মৃত্যু হয়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সে শারীরিক ও মানসিক অস্বস্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। সেসব কাটিয়ে ওঠার জন্য একজন যোদ্ধার মতো লড়াই করেছে সে।’

    মৃত্যুর খবর প্রকাশের পাশাপাশি অনন্যার শেষকৃত্যের কয়েকটি ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছে তাঁর পরিবার। তাঁকে ‘দৃঢ়চেতা মেয়ে’ হিসেবে উল্লেখ করে পরিবারের সদস্যরা বলেন, অনন্যা নিজের জীবন নিজের মতো করে, ‘রানির মতো’ বাঁচতেন।

    অনন্যা রাজ। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    পরিবারের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘তোমার অনুপস্থিতি আমরা গভীরভাবে অনুভব করব। সবাইকে অনুরোধ করছি, তাঁর আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করুন। এই কঠিন সময়ে আমরা গোপনীয়তা ও নীরবতা বজায় রাখতে চাই।’

    অনন্যা রাজ শুধু সিনেমাতেই অভিনয় করেননি। বিভিন্ন সংগীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মিউজিক ভিডিওতেও তাঁকে দেখা গেছে। টি-সিরিজ, জি মিউজিক ও টাইমস মিউজিকের মতো প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেছেন তিনি। ‘দ্য ফাইনাল এক্সিট’ও তাঁর অভিনীত সিনেমাগুলোর একটি।

    তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পরিবার বিস্তারিত কিছু জানায়নি। শুধু জানিয়েছে, মৃত্যুর আগে এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি শারীরিক ও মানসিক অস্বস্তির সঙ্গে লড়াই করছিলেন।
    অনন্যার মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর তাঁর অনুরাগী ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এ সময়ে গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • চাপের মুখে ইরান তার নীতি পরিবর্তন  করে না: বাকায়ি

    চাপের মুখে ইরান তার নীতি পরিবর্তন করে না: বাকায়ি

    ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ইসলামাবাদ সমঝোতার ৬০ দিনের সময়সীমা সোমবার শেষ হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেন, ‘প্রথমত, এমন কোনো বিষয়ই নেই। সমঝোতায় ৬০ দিনের কোনো সময়সীমার কথা উল্লেখ করা হয়নি।’

    তিনি আরো বলেন, ‘ইরান এমন কোনো পক্ষ নয় যে, চাপ বা নির্ধারিত সময়সীমার মুখে তার নীতি পরিবর্তন করবে। আমরা জাতীয় স্বার্থ ও নিজেদের মূল্যায়নের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।’

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন খবরের বিষয়ে তিনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে রয়েছে এবং কাতারও এ বিষয়ে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সমস্যাটা মূলত মধ্যস্থতাকারী নিয়ে নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি ও অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত।

    বাকায়ি আরো বলেন, কাতারে আটক তিন ইরানি পাইলটের ভাগ্য ও বর্তমান অবস্থা স্পষ্ট করার জন্য তেহরান নিয়মিতভাবে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, কাতারের কাছে ইরানের দাবি হলো- এই পাইলটদের বর্তমান অবস্থা স্পষ্ট করতে হবে।

  • ‘মক্কা চুক্তিতে’ উচ্ছ্বসিত ট্রাম্প, বললেন ‘ওয়াও’

    ‘মক্কা চুক্তিতে’ উচ্ছ্বসিত ট্রাম্প, বললেন ‘ওয়াও’

    মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সই হওয়া এই চুক্তিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার এবং দেশগুলোর নিজেদের প্রতিরক্ষার সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। খবর সৌদি গেজেটের।

    রোববার (১৬ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান সম্প্রতি এবং অবশেষে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করায় আমি খুবই আনন্দিত।

    তিনি আরও বলেন, এটি দেখাচ্ছে, কীভাবে মধ্যপ্রাচ্য একত্রিত হচ্ছে এবং কীভাবে দেশগুলো শেষ পর্যন্ত আরও কার্যকরভাবে নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম হবে।
    তিন দেশের নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানিয়ে ট্রাম্প চুক্তিটিকে “বড়, সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ- ওয়াও!” বলে উল্লেখ করেন।

    কী আছে এই চুক্তিতে?
    গত ৭ আগস্ট মক্কার আল-সাফা প্রাসাদে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এর মাধ্যমে তিন দেশের মধ্যে সম্মিলিত প্রতিরক্ষা এবং আরও বিস্তৃত নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতার জন্য একটি ত্রিপক্ষীয় কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

    চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।
    চুক্তিটির মূল বিষয় হলো পারস্পরিক প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি। এর আওতায় তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিনটি দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা

    এর পাশাপাশি দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সামরিক ও নিরাপত্তা সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রতিরোধক্ষমতা আরও জোরদার করার লক্ষ্য নেয়া হয়েছে।
    তবে সৌদি আরব জোর দিয়ে জানিয়েছে, এই চুক্তির প্রকৃতি প্রতিরক্ষামূলক। এটি কোনো সামরিক জোট বা অক্ষ গঠন কিংবা কোনো সাম্প্রদায়িক বা ধর্মীয় জোট তৈরির উদ্যোগ নয়।

  • ভূতের ভয়ে হোস্টেল ছাড়ল ৬০০ শিক্ষার্থী

    ভূতের ভয়ে হোস্টেল ছাড়ল ৬০০ শিক্ষার্থী

    ভারতের মহারাষ্ট্রের অমরাবতী জেলায় একটি সরকারি আবাসিক স্কুলের প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী হঠাৎ হোস্টেল ছেড়ে চলে গেছে। কয়েকজন ছাত্রীকে ‘ভূতে ধরেছে’- এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর এই ঘটনা ঘটেছে। খবর এনডিটিভির।
    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিকলধারা তালুকের ডোমা গ্রামের ওই আদিবাসী আবাসিক স্কুলটি উত্তর মহারাষ্ট্রের আদিবাসী অধ্যুষিত মেলঘাট অঞ্চলে অবস্থিত। মুম্বাই থেকে ৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরের ওই স্কুলে বর্তমানে ৮১০ জন ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে বলে রোববার কর্মকর্তারা জানান।

    ঘটনার সূত্রপাত ২২ জুলাই। ওই দিন চার ছাত্রী হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। তারা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে কাঁদছিল এবং হাসছিল। কর্মকর্তাদের ধারণা, মানসিক চাপের কারণে এমন আচরণ হয়ে থাকতে পারে।
    তবে ঘটনাটি ঘিরে দ্রুত গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে ওই ছাত্রীদের ‘ভূতে ধরেছে’। এরপর কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী ‘ভূতুড়ে’ হোস্টেলটি ছেড়ে চলে যায়। হোস্টেলটি মহারাষ্ট্রের আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের অধীনে পরিচালিত।
    হোস্টেলের একটি সূত্র জানায়, কয়েকজন ছাত্রী দাবি করেছিল, তারা নূপুরের ঝনঝন শব্দ শুনতে পেয়েছে।

    আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ডোমার আবাসিক স্কুলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি দল পাঠানো হয়েছিল। তার ভাষ্য, ছাত্রীদের শারীরিক উপসর্গের সঙ্গে অতিপ্রাকৃত কোনো ঘটনার সম্পর্ক নেই। বরং এটি মানসিক চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি নির্বাচিত হিস্টেরিয়ার মতো পরিস্থিতি হতে পারে।
    কর্তৃপক্ষের তৈরি একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকজন ছাত্রীর অস্বাভাবিক আচরণের পর ঘটনাটি নিয়ে নানা ধরনের ধারণা ছড়িয়ে পড়েছে। পরবর্তী সময়ে গ্রামের কয়েকজন নারীর মধ্যেও একই ধরনের মানসিক উপসর্গ দেখা দেয়।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিশ্বাস রয়েছে যে ওই আশ্রম স্কুলের জায়গায় আগে একটি ‘মহুয়া’ গাছ ছিল এবং সেখানে আত্মারা বাস করত। স্কুল কর্তৃপক্ষ গাছটি কেটে ফেলার পর আত্মারা ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর ‘অত্যাচার’ করছে- এমন বিশ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।
    আরেকটি প্রচলিত ধারণা হলো, আশ্রম স্কুলের পেছনে স্থানীয় দেবতার একটি মন্দির রয়েছে। স্কুলের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ওই মন্দিরের জায়গাকে প্রভাবিত বা দখল করায় দেবতা অসন্তুষ্ট হয়েছেন।

    এ ছাড়া তৃতীয় একটি কারণও স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুলের কাছের একটি মাঠে এক আদিবাসী যুবকের মৃত্যু হয়েছিল। পরে তার আত্মা ‘ভূত’ হয়ে স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিরক্ত করছে- এমন ধারণাও তৈরি হয়।
    কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুসংস্কার, ভয়, মানসিক চাপ এবং আত্মা-সংক্রান্ত স্থানীয় বিশ্বাসই পরিস্থিতিকে অস্বাভাবিক করে তুলেছে।
    অন্ধবিশ্বাস দূরীকরণে কাজ করা মহারাষ্ট্র অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূলন সমিতির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করে তাদের কাউন্সেলিং করেছেন। তারা ঘটনাটিকে কুসংস্কারের দৃষ্টিতে না দেখে বৈজ্ঞানিকভাবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

    অমরাবতীর সংসদ সদস্য বলবন্ত ওয়ানখাড়েও শিক্ষার্থীদের ভয় না পেয়ে আবার ক্লাসে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় চৌধুরী জানান, ছাত্রীদের কাউন্সেলিং করে তাদের স্কুলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, কয়েকজন ইতোমধ্যে ফিরে এসেছে।

  • ‘সমঝোতা চুক্তির’ মেয়াদ শেষ, এখন কী হবে?

    ‘সমঝোতা চুক্তির’ মেয়াদ শেষ, এখন কী হবে?

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে করা সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ সোমবার (১৭ আগস্ট) শেষ হয়েছে। উভয় পক্ষই গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলায়, সমঝোতাটি বাড়ানোর বিষয়ে কোনো পক্ষই আগ্রহী- এমন লক্ষণ খুব কমই দেখা যাচ্ছে।
    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শনিবার টেলিগ্রামে দেয়া এক পোস্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে আমরা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।

    তবে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রেখেছেন। আরাঘচি জানান, হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌ-চলাচল পথ নির্ধারণের জন্য ইরান ও ওমান আলাদাভাবে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি সম্ভব হবে কেবল একটি রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানো গেলে।
    অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার নিউইয়র্কে সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার ঘোষণা দিতে পারে।

    কী ছিল সমঝোতা স্মারকে?
    ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত হয় সমঝোতা স্মারকটি। পাকিস্তানের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিরল উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর এটি স্বাক্ষরিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল, তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটানো। ওই যুদ্ধে হাজারো মানুষ নিহত হয় এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক চলাচল, বিশেষ করে বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস রপ্তানি, মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

    ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়গুলো পরবর্তী সময়ে আলোচনার জন্য রেখে সমঝোতাটি তাৎক্ষণিকভাবে তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক সমাধানের পাশাপাশি লেবাননে ইসরাইলের হামলা বন্ধের পথও খুঁজতে চেয়েছিল।
    সমঝোতায় বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান “সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ঘোষণা” দেবে। পাশাপাশি একটি চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

    জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ওই চূড়ান্ত চুক্তিকে অনুমোদন করবে এবং পারস্পরিক সম্মতিতে সময় বাড়ানোর সুযোগ রেখে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে তা সম্পন্ন করার কথা ছিল।
    চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে ৩০ দিনের মধ্যে নৌ অবরোধ তুলে নিতে হতো। চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার পর ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন বাহিনী সরিয়ে নেয়ার কথা ছিল। পাশাপাশি ইরানের পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য কমপক্ষে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি প্যাকেজ নিয়ে কাজ শুরু করার কথা ছিল ওয়াশিংটনের।
    এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানি তেল রপ্তানির জন্য ছাড় এবং তেহরানকে জব্দ থাকা অর্থ ব্যবহারের সুযোগ দেয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।

    অন্যদিকে, ইরানের দায়িত্ব ছিল হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণ করা এবং ৬০ দিন ধরে জাহাজগুলোকে “কোনো ধরনের ফি ছাড়াই” চলাচলের সুযোগ দেয়া।
    তেহরান আরও পুনর্ব্যক্ত করেছিল যে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করবে না। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় বসার কথাও ছিল। এসব বিষয়ের বিস্তারিত একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে উল্লেখ করার কথা ছিল, যা জাতিসংঘের সমর্থন পেত।

    সমঝোতাটি কি সফল হয়েছিল?
    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রকাশিত সমঝোতার ভাষ্যে কিছু পার্থক্য থাকলেও, স্বাক্ষরের পর থেকেই মূল বিরোধ দেখা দেয় আরও মৌলিক বিষয় নিয়ে- এটি আদৌ যুদ্ধবিরতি ছিল, নাকি আরও স্থায়ী কোনো চুক্তি; এবং কোন পক্ষের কী কী দায়িত্ব ছিল।

    সমঝোতাটি পুরোপুরি কার্যকর ছিল কিনা, তা নিয়েও দ্রুত বিরোধ তৈরি হয়। ২৭ জুনের মধ্যে ট্রাম্প ওই অঞ্চলে ইরানের হামলাকে সমঝোতার “বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন” বলে অভিহিত করেন।
    ইরান পাল্টা দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা সমঝোতা স্মারকের প্রথম ধারা লঙ্ঘন করেছে।

    এনিয়ে গত ৭ জুলাই ট্রাম্প বলেন, সমঝোতা “শেষ হয়ে গেছে”। এরপরও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়ে যায়। তেহরান যেগুলোকে বেসামরিক অবকাঠামো বলে দাবি করেছে, সেগুলোতেও হামলা হয় এবং অন্তত ৫০ জন নিহত হন।
    ইরানি কর্মকর্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সব প্রতিশ্রুতি “লঙ্ঘন ও স্থগিত” করেছে। ফলে তেহরানও নিজেদের সব প্রতিশ্রুতি স্থগিত করেছে। এরপরও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করেনি। এমনকি ইরানের পুনর্গঠনের জন্য অর্থ দেয়ার বিষয়টিকেও ট্রাম্প উপহাস করেছেন।
    বরং তিনি বলেছেন, তেহরানকে গত ৫০ বছরে নিহত বিক্ষোভকারীদের পরিবারের পাশাপাশি “রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমা ও বিভিন্ন সংঘাতে” নিহত ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

    হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টিও বাস্তবায়িত হয়নি। বরং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র- দুই পক্ষই এখনো দাবি করে আসছে, প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে।
    চলতি সপ্তাহের শুরুতে পেন্টাগন জানায়, হরমুজ প্রণালিতে পানামার পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজে যুক্তরাষ্ট্র গুলি চালিয়েছে। মার্কিন দাবি, জাহাজটি ইরানের বিরুদ্ধে তাদের আরোপ করা নৌ অবরোধ “লঙ্ঘন করেছে”।
    তেহরানের ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেসের অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশম আল জাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার শর্ত মেনে না চলায় যুদ্ধবিরতি বন্ধ হয়ে যায় এবং সমঝোতা অকার্যকর হয়ে পড়ে।

    তার মতে, ইরান বিশেষ করে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড়েনি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেনি, নৌ অবরোধ তুলে নেয়নি এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহার নিশ্চিত করেনি।
    তিনি বলেন, এখন আনুষ্ঠানিকভাবে, কাগজে-কলমে বলা হচ্ছে যে সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে।

    এখন কী হতে পারে?
    সোমবার সমঝোতার মেয়াদ শেষ হলেও এর প্রকৃত অর্থ কী, তা নির্ভর করছে আপনি কোন পক্ষকে জিজ্ঞেস করছেন তার ওপর।ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি শুক্রবার বলেন, ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি ছিল “যুদ্ধের অবসান, যুদ্ধবিরতি নয়”।

    ইরানি স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সি (আইএসএনএ)-কে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা লঙ্ঘন করে হামলা অব্যাহত রাখায় “বাড়ানোর মতো কোনো ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিই ছিল না।”

    ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোয় সাম্প্রতিক রদবদলও ভবিষ্যৎ আলোচনায় তেহরানের আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে ইরান সহজে ছাড় দিতে চাইবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
    চলতি মাসের শুরুতে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) সাবেক প্রধান মোহসেন রেজাইকে দেশের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নতুন প্রধান করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক ও বেসামরিক কার্যক্রমের মধ্যে আরও ভালো সমন্বয় নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।


    খোশচেশমের মতে, রেজাইয়ের নিয়োগসহ সাম্প্রতিক নেতৃত্ব পরিবর্তনগুলো দেখাচ্ছে যে “ইরান মনে করছে, তারা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।”
    তার ধারণা, নতুন করে আলোচনা শুরু হলে ইরান আরও বেশি দাবি নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসবে। এসব দাবির মধ্যে গাজায় যুদ্ধের অবসান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইয়েমেনের ওপর অবরোধ তুলে নেয়া এবং এমনকি ইসরাইলের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দাবিও থাকতে পারে।

    অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি এবং অর্থনৈতিক চাপের বিষয়ে ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের বক্তব্য ক্রমেই কঠোর হচ্ছে। শুক্রবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে হরমুজ প্রণালিকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করার পরিকল্পনা করছে।


    তিনি বলেন, ইরানকে পরাজিত করা শেষ হলে খুব শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করব। এ ছাড়া মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও শুক্রবার বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে এমন কিছু পদক্ষেপ নেয়া হবে, যা “এর আগে কখনো দেখা যায়নি।”
    তবে ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর আরও চাপ প্রয়োগ করতে চাইলে ট্রাম্পের হাতে খুব বেশি বিকল্প অবশিষ্ট নেই বলে মনে করেন ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক স্টিমসন সেন্টারের বিশিষ্ট ফেলো বারবারা স্লাভিন।

    তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে গেছে, কৌশলগত তেলের মজুতও ফুরিয়ে এসেছে এবং বিমানবাহী রণতরীসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম পরিকল্পিত সময়ের চেয়ে কয়েক মাস বেশি সমুদ্রে মোতায়েন রাখা হয়েছে। ফলে সামরিকভাবে নতুন করে চাপ সৃষ্টির সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে সীমিত।

    অর্থনৈতিক চাপের ক্ষেত্রেও ইরান দেখিয়ে দিয়েছে যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের যাতায়াত ব্যাহত করে তারাও অর্থনৈতিক ক্ষতি করতে পারে বলে জানান স্লাভিন। তিনি বলেন, ইরান এখানে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তারা স্পষ্টতই ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ক্ষুব্ধ, কারণ তাদের দৃষ্টিতে জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের প্রতিশ্রুতিগুলো যুক্তরাষ্ট্র পূরণ করেনি।

    তারা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির ওপর এবং ডনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
    স্লাভিনের মতে, শেষ পর্যন্ত ইরান সম্ভবত যুদ্ধের জন্য ক্ষতিপূরণ পাবে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর বড় ধরনের নিয়ন্ত্রণ অর্জন করবে। তার ধারণা, এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত একটি চুক্তির মাধ্যমেই মিটবে- সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর, যখন ওই চুক্তির ভোটের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা কম থাকবে।

    এদিকে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ শনিবার তেহরানে সাংবাদিকদের বলেন, সমঝোতা স্মারকে ইরান যে ছাড়গুলো আদায় করেছে, সেগুলো “গর্ব ও বিজয়ের উৎস”।
    তিনি বলেন, আমি সম্পূর্ণ দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি, সামরিক ও রাজনৈতিক- উভয় দিক থেকেই আমরা এই যুদ্ধে সত্যিকার অর্থে বিজয়ী হয়ে বেরিয়ে এসেছি।


  • টেস্ট বিশ্বকাপের ফাইনালের দৌড়ে বাংলাদেশ, বাদ পাকিস্তান

    টেস্ট বিশ্বকাপের ফাইনালের দৌড়ে বাংলাদেশ, বাদ পাকিস্তান

    বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার লড়াই থেকে ছিটকে গেছে পাকিস্তান আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আছে বাংলাদেশসহ ৭টি দল। তবে প্রত্যেকের সামনে আলাদা সমীকরণ।

    পয়েন্টের শতাংশ অনুযায়ী শীর্ষে থাকা দুটি দল টেস্ট বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলে। কার সামনে কী অঙ্ক তা দেখে নেওয়া যাক।

    ১) অস্ট্রেলিয়া (পয়েন্ট ৮৪, পয়েন্টের শতাংশ ৭৭.৭৮)

    সবচেয়ে ভাল জায়গায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তাদের বাকি আর ন’টি ম্যাচ। তার মধ্যে পাঁচটি জিতলেই ফাইনালে ওঠার পাকা প্যাট কামিন্সদের।

    ২) দক্ষিণ আফ্রিকা (পয়েন্ট ৩৬, পয়েন্টের শতাংশ ৭৫.০০)

    দ্বিতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকারও বাকি রয়েছে ন’টি টেস্ট। তার মধ্যে ছ’টি জিততে হবে টেম্বা বাভুমাদের।

    ৩) নিউজিল্যান্ড (পয়েন্ট ৫২, পয়েন্টের শতাংশ ৭২.২২)

    প্রথম বার চ্যাম্পিয়ন নিউ জ়িল্যান্ডের সামনে রয়েছে আটটি ম্যাচ। তার মধ্যে পাঁচটি জিতলে আরও এক বার ফাইনালে উঠবে তারা।

    বাংলাদেশ (পয়েন্ট ৪০, পয়েন্টের শতাংশ ৬৬.৬৭)

    অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম টেস্টে হারিয়ে নিজেদের সুযোগ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। বাকি ন’টি টেস্টের মধ্যে সাতটি জিততে হবে তাদের।

    ৪) বাংলাদেশ (পয়েন্ট ৪০, পয়েন্টের শতাংশ ৬৬.৬৭)

    অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম টেস্টে হারিয়ে নিজেদের সুযোগ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। বাকি ন’টি টেস্টের মধ্যে সাতটি জিততে হবে তাদের।

    ৫) ভারত (পয়েন্ট ৫২, পয়েন্টের শতাংশ ৪৮.১৫)

    শুভমন গিলদের বাকি রয়েছে ন’টি টেস্ট। তাঁদেরও অন্তত সাতটি টেস্ট জিততে হবে। নইলে আরও এক বার ব্যর্থ হতে হবে ভারতকে।

    ৬) শ্রীলংকা (পয়েন্ট ২০, পয়েন্টের শতাংশ ৪১.৬৭)

    বাকি আটটি ম্যাচের মধ্যে পাঁচটি জিততে হবে তাদের। ড্র করতে হবে দু’টি। একটির বেশি টেস্ট হারলেই শ্রীলঙ্কার সুযোগ শেষ।

    ৭) ইংল্যান্ড (পয়েন্ট ৩৮, পয়েন্টের শতাংশ ২৪.৩৬)

    বাকি সব টেস্ট জিততে হবে ইংল্যান্ডকে। তবেই তাদের ফাইনাল খেলার সুযোগ থাকবে।

    এই সাত দেশের নিজেদের মধ্যে খেলা রয়েছে। ফলে এক দল জিতলে অপর দল হারবে। তাই পরিসংখ্যান প্রতি ম্যাচের পরেই বদলে যাবে।

  • ওমানে ব্যাপক বোমা হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    ওমানে ব্যাপক বোমা হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    হরমুজ প্রণালিতে ইরানি জাহাজের ওপর মার্কিন অবরোধের পথে ওমান বাধা দিলে দেশটিতে বোমা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    টেলিফোনে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, ওমান যদি পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে আমরা তাদের ওপর ব্যাপক বোমা হামলা চালাব।


    এদিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরানের ওপর চাপ বাড়াতেই এই অবরোধ কার্যকর করা হচ্ছে। তবে চলমান সংঘাতের সমাধানে তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়, তিনি কোনো তাড়াহুড়োর মধ্যে নেই।


    ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ প্রায় ছয় মাস ধরে চললেও এখনো এর কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না। দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

    এই সংঘাতের ফলে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহনও ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও রাজনীতিতেও।


    আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে জ্বালানি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির ওপর রাজনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • চাকরি বাঁচাতে এআইর সঙ্গে লড়ছেন চীনের কর্মীরা

    চাকরি বাঁচাতে এআইর সঙ্গে লড়ছেন চীনের কর্মীরা

    সারা বিশ্বের মতো চীনেও দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। চালকবিহীন ট্যাক্সি থেকে চলচ্চিত্র নির্মাণ—বিভিন্ন খাতে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। বিভিন্ন খাতের মতো এর প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থানেও।

    চালকবিহীন ট্যাক্সিতে আয় কমেছে ট্যাক্সিচালকদের

    চীনের উহান শহরের ৪৫ বছর বয়সী ট্যাক্সিচালক ইয়াও শিননংয়ের অভিজ্ঞতা এর একটি উদাহরণ। ২০২২ সালে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান বাইদু শহরে ‘অ্যাপোলো গো’ নামের চালকবিহীন ট্যাক্সি চালু করে। এরপর ইয়াওয়ের আয় প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যায়। চলতি বছরের মার্চে অ্যাপোলো গোর কয়েকটি গাড়ি হঠাৎ রাস্তায় থেমে যায়। এতে যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে পড়েন। তদন্তের জন্য কয়েক মাস উহানের সড়ক থেকে এসব গাড়ি সরিয়ে নেওয়া হয়।

    উহানে চালকবিহীন ট্যাক্সি চালুর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে ট্যাক্সিচালকদের বিক্ষোভও হয়েছিল। তবে এতে কতজন অংশ নিয়েছিলেন, তা স্পষ্ট নয়। কারণ, বিক্ষোভের খবর দ্রুত সেন্সর করা হয়।

    গিগ অর্থনীতির ওপরও চাপ

    চীনে এআইয়ের বিস্তার এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন দেশটির শ্রমবাজার আগেই দুর্বল হয়ে পড়েছে। আবাসন খাত ও শিক্ষা খাতের মতো একসময় বড় কর্মসংস্থানের উৎস থাকা শিল্পগুলো সংকটে পড়েছে। অনেক কর্মী আয় ধরে রাখতে রাইড হেইলিং ও অন্যান্য গিগ কাজে যুক্ত হয়েছেন।

    একটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের হিসাবে, চলতি বছর চীনে নমনীয় বা অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানে থাকা মানুষের সংখ্যা ৩২ কোটি ছাড়াতে পারে। ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১৬ কোটি। অর্থাৎ চীনের মোট কর্মশক্তির প্রায় ৪৪ শতাংশ এ ধরনের কাজে যুক্ত হতে পারেন।

    এআই নিয়ে সরকারের অবস্থানে পরিবর্তন

    চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনে বলেন, ‘এআইকে অভিন্ন সমৃদ্ধি ও সবার নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি হতে হবে।’

    তবে এআইয়ের কারণে কর্মসংস্থানে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও এখন সতর্ক হচ্ছে চীন সরকার।

    চাকরি হারাচ্ছেন সাদা–কলারের কর্মীরাও

    এআইয়ের প্রভাব শুধু ট্যাক্সিচালকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এআইয়ের কারণে চাকরি হারানো শ্বেত–কলার কর্মীদের নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

    সম্প্রতি দেশটির কয়েকটি আদালতের রায়ে এআইয়ের কারণে চাকরি হারানো কর্মীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    তবে অনেক কর্মীর আশঙ্কা, চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগেই তাঁদের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে এআই।

    আসছে সময়ে কী হবে

    বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের সরকার এআইয়ের কারণে চাকরি হারানোর প্রভাব নিয়ন্ত্রণে বেশি সক্ষম।

    সরকার চাইলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্টসংখ্যক কর্মী নিয়োগের নির্দেশ দিতে পারে। এমনকি এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থান রক্ষার নীতি চাপিয়ে দিতে পারে বেইজিং। তবে কর্মীদের জন্য এই সুরক্ষা কত দ্রুত আসবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তথ্যসূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান

  • প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ জানালেন ক্রাউন প্রিন্স সালমান

    প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ জানালেন ক্রাউন প্রিন্স সালমান

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের এইচ. বিন আবিয়াহ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এই আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন।

    প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন এ তথ্য জানিয়েছেন।

  • ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

    ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

    নতুন বছর শুরু হতে এখনও প্রায় চার মাস বাকি। তবে এরই মধ্যে ২০২৭ সালের ক্যালেন্ডার ঘিরে আগ্রহ বাড়ছে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে। বিশেষ করে, পবিত্র রমজান কবে শুরু হতে পারে এবং ঈদুল ফিতর কোন দিনে পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।

    জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গাণিতিক হিসাবের ভিত্তিতে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ করেছে জর্ডান নিউজ।

    তবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করায় রমজান ও ঈদুল ফিতরের চূড়ান্ত তারিখে একদিন এদিক-সেদিক হতে পারে।

    মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব রাজ্যের হিজরি ক্যালেন্ডারের ওয়েবসাইট স্পষ্ট করেছে যে, ১৪৪৮ হিজরির রমজান মাস ২০২৭ সালের প্রথম তৃতীয়াংশের মধ্যে পড়বে এবং আগামী বছর রমজান শুরুর সম্ভাব্য দিনটি হতে পারে ৮ ফেব্রুয়ারি। ক্যালেন্ডারে দিনটি সোমবার পড়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের পবিত্র রমজানের নতুন চাঁদ দেখা যাবে শনিবার, যা ১৪৪৮ সালের শাবান মাসের ২৯ তারিখের সঙ্গে মিলে যায়। এর ফলে হিজরি বর্ষের অষ্টম মাসটি (৩০ দিন) পূর্ণ হবে এবং ৭ ফেব্রুয়ারি (রোববার) তা শেষ হবে। আর এর পরদিন ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে।

    এ ছাড়া ২০২৭ সালের পবিত্র ঈদুল ফিতরের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৪৪৮ হিজরি সনের রমজান মাস ২৯ দিন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যা আগামী বছরের ৮ মার্চ (সোমবার) শেষ হতে পারে। ফলে এর পরদিন ৯ মার্চ (মঙ্গলবার) পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রথম দিন হতে পারে।

  • হামাস নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করলেন ট্রাম্প জামাতা

    হামাস নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করলেন ট্রাম্প জামাতা

    ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার জন্য প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে হামাসের নেতাদের সঙ্গে মিসরে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক তাঁর দূত জ্যারেড কুশনার। ইসরায়েল অবশ্য ট্রাম্পের ঘোষিত ওই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে।

    গতকাল রোববার আল-জাজিরাকে বৈঠকের বিষয়টি জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি একটি সূত্র। তিনি বলেন, বৈঠকে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের নেতারা গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিষয়গুলো কুশনারকে জানিয়েছেন। এ সময় কুশনার বলেছেন, গাজার বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে না।

    বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেক কর্মকর্তা আল-জাজিরাকে বলেন, মিসরের আলামেইন শহরে হামাস ও কুশনারের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সেগুলো কীভাবে যাচাই করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়।

    ওই কর্মকর্তা বলেন, পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে গাজায় যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা, এ উপত্যকা পরিচালনার সব দায়িত্ব গাজার জন্য গঠিত জাতীয় কমিটির কাছে হস্তান্তর শুরু করা এবং ভবিষ্যতে গাজা প্রশাসনে হামাসের কোনো ভূমিকা না রাখা।

    ওই সূত্র বলেছে, হামাসকে গাজার শাসনক্ষমতা এবং সব অস্ত্র ও সামরিক অবকাঠামো ছেড়ে দিতে হবে। গাজা আর কখনো ইসরায়েলের জন্য ‘সন্ত্রাসের’ উৎস হবে না।

    বৈঠকে হামাসের রাজনৈতিক নেতা খলিল আল-হায়াও উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, বৈঠকে মিসরের গোয়েন্দাপ্রধান হাসান রাশাদ, কাতারের কূটনীতিক আলি আল-থাওয়াদি ও তুরস্কের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও ছিলেন।

    ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য গঠিত শান্তি পর্ষদের (পিস বোর্ড) দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ এবং পর্ষদের সদস্য সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারও কুশনারের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেন।

    ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা নিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, তা কমাতেই কুশনার ইসরায়েল ও মিসর সফর করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের এ পরিকল্পনাকে ইসরায়েলের জন্য ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন।

    ইসরায়েলকে গাজা পরিকল্পনা মানতে বাধ্য করার আহ্বান

    গতকাল এক বিবৃতিতে হামাস বলেছে, বৈঠকে ট্রাম্পের পরিকল্পনা গ্রহণ করার বিষয়টি স্পষ্ট করেছে তারা। গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী ও এর নিশ্চয়তাদাতা দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা জানানো হয়েছে।

    হামাস বলেছে, তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপের শর্তগুলো পুরোপুরি মেনে চলেছে। তবে ইসরায়েল এ ধাপ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। তারা বরং স্থল অভিযান বাড়িয়ে মানবিক সংকট আরও গভীর করেছে এবং প্রকাশ্যে পরিকল্পনাটি প্রত্যাখ্যান করেছে।

    হামাস মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো ও শান্তি পর্ষদের প্রতি নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে প্রথম ধাপের সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বাধ্য করা, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বন্ধ করা, হত্যাকাণ্ড ও সামরিক অভিযান থামানো এবং ট্রাম্পের পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে সম্মত হয়ে তা বাস্তবায়নের সময়সূচি তৈরির আহ্বান জানিয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে হামাসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এড়িয়ে চলেছে। ওয়াশিংটন হামাসকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবেও তালিকাভুক্ত করে রেখেছে। তবে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধের আশায় ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে হামাসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে আগের তুলনায় বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে।

    রয়টার্স জানিয়েছে, হামাস নেতা খলিল আল-হায়া গতকাল মিসরের গোয়েন্দাপ্রধান হাসান রাশাদের সঙ্গেও আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন।

    হামাসের সঙ্গে বৈঠকের পর মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে বৈঠক করেন কুশনার।

    মিসরের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় বলেছে, ওই বৈঠকে গাজা ছাড়াও দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আল-সিসি দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন ও অভিন্ন স্বার্থের বিভিন্ন বিষয়ে চলমান সহযোগিতার প্রশংসা করেন। কুশনারও মিসরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের প্রশংসা করে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সিসির ভূমিকায় কৃতজ্ঞতা জানান।

    ইসরায়েল গাজা নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করায় গতকাল এর নিন্দা জানিয়েছেন মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। তাঁরা ইসরায়েলের সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন শান্তি প্রচেষ্টা ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

    ইসরায়েল ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ বন্ধ করে দিলে এর পুরো দায় দেশটিকেই নিতে হবে বলে সতর্ক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে পরিকল্পনাটি মেনে চলতে বাধ্য করতে ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি সংকটের দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানই দীর্ঘ মেয়াদে স্থিতিশীলতা আনতে পারে। শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যেকোনো ধরনের বাধা দ্রুত মোকাবিলার জন্য শান্তি পর্ষদের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

    ইসরায়েলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আজ সোমবার কুশনার ও শান্তি পর্ষদের দূত ম্লাদেনভের নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। গাজায় হামাস যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হত্যাকাণ্ড বন্ধে ওয়াশিংটনের দাবি তোলা নিয়ে ইসরায়েল উদ্বিগ্ন বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

  • বিহারে মন্দিরে পিষ্ট হয়ে নিহত ৭

    বিহারে মন্দিরে পিষ্ট হয়ে নিহত ৭

    ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় বিহার রাজ্যের একটি মন্দিরে আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) পদদলিত হয়ে সাতজন নিহত ও অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

    অন্যদিকে, বিহারের ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে পশ্চিমবঙ্গের তীর্থযাত্রীদের একটি আবাসিক হোটেলে আগুন লেগে কমপক্ষে সাতজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

    বিহারের লাখিসরাই জেলার অশোক ধাম মন্দিরের কাছে সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। শ্রাবণ মাসের তৃতীয় সোমবার হাজার হাজার ভক্ত প্রার্থনা করতে ওই মন্দিরে জড়ো হয়েছিলেন।

    হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে শ্রাবণ মাসটি শিবের উপাসনার জন্য উৎসর্গীকৃত এবং এ সময় উপবাস, প্রার্থনা ও বর্ষাকালীন বিভিন্ন উৎসব পালিত হয়।

    সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য বেশ কিছু মানুষকে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক কর্মকর্তা শৈলেন্দ্র কুমার। তিনি বলেন, পদদলনের কারণ এখনো তদন্ত করা হচ্ছে।

    প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মন্দির প্রাঙ্গণের বাইরে একটি বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যায়। এতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে ভক্তরা পালানোর চেষ্টা করলে এ ঘটনা ঘটে।

    শৈলেন্দ্র কুমারের বরাতে প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) খবরে বলা হয়, হুড়োহুড়ি করে এগিয়ে আসা মানুষের চাপে ব্যারিকেডের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। এতে অনেকে পড়ে গেলে তাদের ওপর অন্যরা পড়ে যান এবং পদদলনের ঘটনা ঘটে।

    অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার মন্দিরনগরী তারাপীঠে আজ ভোর সাড়ে ৪টার দিকে চারতলা একটি হোটেলের নিচতলায় আগুন লাগে। তখন বেশিভাগ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানিয়েছে পিটিআই।

    খবরে বলা হয়, হোটেলের অনেক অতিথিই তারাপীঠে প্রার্থনা করতে আসা তীর্থযাত্রী ছিলেন। সেখানে একটি বড় মন্দির কমপ্লেক্সে শিবের একটি মন্দিরও রয়েছে।

    বেশ কিছু সময় পর দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। সেখান থেকে আহতদের হাসপাতালে নেয়া হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজন দগ্ধ হওয়ার চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, অন্যরা ধোঁয়া শ্বাসের সাথে গ্রহণ ও শ্বাসরোধজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

    হোটেল কর্তৃপক্ষ সংবাদ সংস্থাটিকে জানায়, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার একটি বৈদ্যুতিক উপাদানে আগুন লাগার পর অভ্যর্থনা এলাকার কাছে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হ‌ওয়া যায়নি।

    ধর্মীয় উৎসবের সময় ভারতে এ ধরনের পদদলনের ঘটনা তুলনামূলকভাবে সাধারণ। বড় বড় ধর্মীয় সমাবেশে কখনো কখনো লাখ লাখ মানুষ সীমিত জায়গায় জড়ো হন, যেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকে না।

    গত বছরের জানুয়ারিতে মহাকুম্ভ উৎসবের সময় নদীতে স্নান করতে গিয়ে পদদলনের ঘটনায় কমপক্ষে ৩০ জন নিহত হন। মহাকুম্ভকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

    ২০১৩ সালে মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের একটি মন্দিরে হিন্দু ধর্মীয় উৎসবে অংশ নেয়া তীর্থযাত্রীরা একটি সেতু ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ওই ঘটনায় পদদলিত হয়ে এবং নিচের নদীতে ডুবে কমপক্ষে ১১৫ জন নিহত হন।

  • ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের ভুয়া দাবির যাত্রাপথ : ভারত থেকে বিশ্বে ছড়াল

    ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের ভুয়া দাবির যাত্রাপথ : ভারত থেকে বিশ্বে ছড়াল

    ভারতের একটি এক্স অ্যাকাউন্টে ছড়ানো একটি ভুয়া পোস্ট থেকেই ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির ঘোষণা দিয়েছে—এমন মিথ্যা দাবি ছড়িয়ে পড়ে ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে। পরে সেই ভুয়া উদ্ধৃতি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণেও উঠে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক রাজনীতিক ও ফক্স নিউজও তা প্রচার করে।

    দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ৫ আগস্ট সকালে ভারতের একটি অজ্ঞাত এক্স অ্যাকাউন্টে দাবি করা হয়, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের কমান্ডার বলেছেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পরমাণু অস্ত্র থাকা পর্যন্ত ইরানও পরমাণু অস্ত্র তৈরির আকাঙ্ক্ষা ছাড়বে না। কিন্তু ওই বক্তব্যের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করেছে—এমন প্রমাণও নেই।

    ভুয়া উদ্ধৃতিটি ইসরাইলি কয়েকটি অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটির একটি টেলিভিশন চ্যানেল সেটিকে ইরানের পরমাণু বোমা তৈরির প্রথম প্রকাশ্য ঘোষণা হিসেবে প্রচার করে। ওই দিন সন্ধ্যায় উদ্ধৃতিটি নেতানিয়াহুর বক্তব্যেও জায়গা করে নেয়। তিনি জেরুজালেমের মাউন্ট হার্জেলে এক অনুষ্ঠানে ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির আকাঙ্ক্ষার কথা উল্লেখ করেন।

    যুক্তরাষ্ট্রেও দ্রুত পৌঁছে যায় সেই ভুয়া দাবি। জাতিসংঘে ট্রাম্প প্রশাসনের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ উদ্ধৃতিটি পুনঃপ্রচার করেন। ফ্লোরিডার রিপাবলিকান সিনেটর রিক স্কটও তা শেয়ার করেন। ফক্স নিউজের উপস্থাপক ও অতিথিরাও এটিকে ইরানের কথিত পরমাণু উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন।

    দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদির নামে চালানো ওই উদ্ধৃতি এমন একটি প্রচারণার অংশ, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনীতিক ও সংবাদমাধ্যমকে বিভ্রান্ত করতে সক্ষম হয়েছে। কে উদ্ধৃতিটি তৈরি করেছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এর উদ্দেশ্য ছিল নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের এই দাবিকে জোরালো করা যে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং দেশটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ প্রয়োজনীয়।

    ক্লেমসন বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া ফরেনসিকস হাবের গবেষক ড্যারেন এল. লিনভিল, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ও প্রচারণার বিস্তার পর্যবেক্ষণ করেন, বলেন, ‘এই উদ্ধৃতিটি শান্তি আলোচনা বানচাল করার জন্যই স্পষ্টভাবে তৈরি করা হয়েছিল।’

    ইরানের পরমাণু কর্মসূচি গত তিন দশক ধরে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও কূটনীতির অন্যতম বড় বিষয়। তবে ইরানি কর্মকর্তারা বরাবরই বলে আসছেন, তাদের পরমাণু কর্মসূচির লক্ষ্য বেসামরিক, সামরিক নয়। দেশটির পরমাণু কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা অবশ্য এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই ভুয়া পোস্টটিকে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে মিথ্যার বন্যার একটি উদাহরণ’ বলে আখ্যা দেন। তিনি এর জন্য ইসরাইলকে দায়ী করলেও কোনো প্রমাণ দেননি।

    ভুয়া দাবিটির প্রথম চিহ্ন পাওয়া যায় ভারতের ওই এক্স অ্যাকাউন্টে। প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার অনুসারীর অ্যাকাউন্টটি আগে থেকেই মিথ্যা ও ইসলামবিদ্বেষী তথ্য ছড়ানোর জন্য তথ্য যাচাইকারীদের সমালোচনার মুখে ছিল। ভুয়া উদ্ধৃতির সাথে ওয়াহিদির একটি ছবি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি কার্টুনধর্মী মাশরুম মেঘের ছবিও দেয়া হয়েছিল। পোস্টের ইংরেজি লেখায় বানান ও ব্যাকরণগত ভুল ছিল।

    দুই ঘণ্টা পর ভারতের আরেকটি এক্স অ্যাকাউন্ট একই উদ্ধৃতি হিন্দিতে প্রকাশ করে। ইসরাইলের স্বাধীন তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান বোদকিম প্রজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, ওই অ্যাকাউন্ট এক সপ্তাহ আগেও ভাহিদির নামে একই ধরনের আরেকটি ভুয়া উদ্ধৃতি প্রকাশ করেছিল। এরপর ইসরাইলের প্রভাবশালী ‘মোসাদ কমেন্টারি’ অ্যাকাউন্টে পোস্ট হওয়ার পর দাবিটি দ্রুত আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। অ্যাকাউন্টটির নাম ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থার নামের সাথে মিললেও সংস্থাটির সাথে এর কোনো পরিচিত সম্পর্ক নেই।

    এরপর মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে ইসরাইলের চ্যানেল ১৪-এর ইংরেজি পোস্টে উদ্ধৃতিটি প্রকাশিত হয়। নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহুও সেটি নিয়ে পোস্ট করেন। তিন ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তার বাবার ভাষণে ভুয়া উদ্ধৃতিটি উঠে আসে। নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা আজ ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের কমান্ডার ভাহিদিকে ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির ইচ্ছা বজায় রাখার কথা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করতে শুনেছি।’

    ওয়াশিংটনে প্রথমে দাবিটি ব্যাপক সাড়া ফেলে। মাইক ওয়াল্টজ লিখেছিলেন, ইরান ‘অবশেষে বহু বছর ধরে যা স্পষ্ট ছিল, তা স্বীকার করছে’। পরে অবশ্য সংশয় দেখা দেয়। ওয়াল্টজের পোস্টটি কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই এক্স থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। ফক্স নিউজও পরে জানায়, উদ্ধৃতিটি ‘যাচাইহীন ও ভুল’।

    ক্লেমসন বিশ্ববিদ্যালয়ের লিনভিল এই ঘটনাকে ‘ন্যারেটিভ লন্ডারিং’-এর একটি আদর্শ উদাহরণ বলেছেন—যে কৌশলে একটি মিথ্যা তথ্য প্রথমে কয়েকটি উৎসে ছড়ানো হয় এবং পরে এত বেশি জায়গায় পুনরাবৃত্তি করা হয় যে সেটিই সত্য বলে মনে হতে থাকে। তাঁর ভাষায়, ‘এটি একটি সহজ প্রচারণা। কিন্তু সহজ প্রচারণাও অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।’

    পুরো ঘটনাটিকে বিশেষজ্ঞরা ‘ন্যারেটিভ লন্ডারিং’ বা তথ্যের চরিত্র বদলের এক ক্লাসিক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি সাধারণ মিথ্যা পোস্ট ঘুরেফিরে মূলধারার গণমাধ্যম হয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিকদের টেবিলে পৌঁছে যায়, এই ঘটনা তারই এক বাস্তব উদাহরণ।

  • শিগগির জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন, এগোচ্ছে গণমাধ্যম কমিশনেরও কাজ

    শিগগির জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন, এগোচ্ছে গণমাধ্যম কমিশনেরও কাজ

    সরকারের ১৮০ দিনের মতবিনিময়

    জনপ্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে শিগগিরই ‘জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। একই সঙ্গে প্রশাসনে আগের সরকারের দলীয় প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ‘মব কালচার’কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকেরা।

    আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র ‘শাপলা’য় সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তারা।

    জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠনে কিছুটা সময় লাগছে জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, সংস্কার কার্যক্রমকে কার্যকর করতে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আগে যথাযথভাবে প্রস্তুত করা প্রয়োজন। প্রশাসনের ভেতরে থাকা বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত ও দূর করার পরই সংস্কার কমিশনকে কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে চান তারা। তিনি বলেন, প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কমিশনকে যারা সহযোগিতা করবেন, তাদের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও প্রস্তুতি দরকার। এসব কাজ শেষ করে শিগগিরই কমিশন গঠন করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে জনপ্রশাসন সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সরকার সেই লক্ষ্য থেকে সরে আসেনি। বরং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইতিমধ্যে সংস্কারের কিছু কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, আগের সরকারের দলীয় প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গা থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়া ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে। তবে প্রশাসন সংস্কারের নামে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, যাতে দেশ ও জাতির ক্ষতি হয়-এমনটাও স্পষ্ট করেন তিনি। প্রশাসনকে দীর্ঘদিনের দলীয়করণের প্রভাব থেকে বের করে আনতে হবে বলেও জোর দিয়ে বলেন তিনি।

    ইসমাইল জবিউল্লাহ আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জনপ্রশাসন সংস্কার নিয়ে যে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল, সেটিও তারা পর্যালোচনা করেছেন। খুব শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কারের আনুষ্ঠানিক কমিশন গঠন করা হবে।

    ‘মব কালচার’ সহ্য করা হবে না

    অনুষ্ঠানে ‘মব কালচার’ প্রসঙ্গে ইসমাইল জবিউল্লাহ এটিকে অনভিপ্রেত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের আইন অনুযায়ীই দেশ পরিচালিত হবে এবং কোনো ধরনের মব কালচার সহ্য করা হবে না। তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমানে মব কালচার নেই বললেই চলে। সরকার এ বিষয়ে জনগণকে আশ্বস্ত করতে চায়।

    এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী বলেন, মব কালচারের মাত্রা অনেক কমে গেছে। দেশে আইনের শাসন যত শক্তিশালী হবে, মব কালচারও তত কমে আসবে।

    গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কাজ এগোচ্ছে

    মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আরেক প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কাজ এগিয়ে চলছে। তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে মতবিনিময়ে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশের প্রশংসা করেছেন। এই ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গণমাধ্যম কমিশন গঠনের বিষয়ে সরকারও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সেই বৈঠকের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। পরবর্তী ধাপে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনার একটি খসড়া তৈরি করার পর সেটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

    সরকারের ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রথম পর্যায়ের সময়টি নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়নের চেয়ে আগের সরকারের রেখে যাওয়া ‘ধ্বংসস্তূপ’ মেরামত করে নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতেই বেশি ব্যয় হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার ১ হাজার ৮২৫ দিনের জন্য জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ১৮০ দিন ধ্বংসস্তূপ মেরামতের কাজে ব্যয় হয়েছে। মেয়াদের পরবর্তী সময়ে পরিকল্পনাগুলো আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    চলতি অর্থবছরেই ৫ স্থানীয় নির্বাচন

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের পাঁচটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, এসব নির্বাচন আয়োজন করতে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনও প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রস্তুতি শেষ হলে সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হবে।

    সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বের আগে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন সাফল্যের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহাদী আমিন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনও বক্তব্য দেন।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এস এম আব্দুল আউয়ালসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

  • বর্তমান আঞ্চলিক যুদ্ধের জন্য ইসরাইল দায়ী : তুরস্কের প্রেসিডেন্ট

    বর্তমান আঞ্চলিক যুদ্ধের জন্য ইসরাইল দায়ী : তুরস্কের প্রেসিডেন্ট

    তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান বর্তমান আঞ্চলিক যুদ্ধের জন্য ইসরাইলকে দায়ী করেছেন। এ সময় সিরিয়ার প্রতি তুরস্কের সমর্থন অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন তিনি।

    আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরাইলকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের মূল কারণ ও সূচনাকারী হিসেবে উল্লেখ করেন এরদোগান।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা জানিয়েছে, এরদোগান তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা’ প্রতিরক্ষা চুক্তি প্রসঙ্গে বলেন, এই চুক্তি শুধু তিনটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মিসরসহ অন্যান্য দেশও চাইলে এতে যোগ দিতে পারবে।

    ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আঙ্কারা ‘সম্পূর্ণভাবে’ এই অঞ্চলে যুদ্ধের বিরোধী এবং শান্তির পক্ষে অবস্থান করছে।

    এরদোগান আরো বলেন, ইসরাইলই এই যুদ্ধের প্রধান কারণ ও প্রধান পক্ষ এবং তেল আবিব সবসময় যুদ্ধের পথকে উৎসাহিত করেছে। এর ফলে এই অঞ্চলের দেশগুলোকে ব্যাপক মূল্য দিতে হয়েছে।

  • সার্কভুক্ত দেশগুলোর শিশু ক্যানসার রোগীর ৭০ শতাংশই ভারতে

    সার্কভুক্ত দেশগুলোর শিশু ক্যানসার রোগীর ৭০ শতাংশই ভারতে

    দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) ৮টি সদস্য দেশের মধ্যে রেকর্ড হওয়া মোট শিশু ক্যানসার রোগীর প্রায় ৭০ শতাংশই ভারতের। চিকিৎসা বিষয়ক বিখ্যাত সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট রিজিওনাল হেলথ – সাউথইস্ট এশিয়া’-তে প্রকাশিত এক নতুন জনসংখ্যা ভিত্তিক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর এনডিটিভির।

    গবেষণায় ২০২২ সালের ‘গ্লোবোক্যান’-এর তথ্যের ভিত্তিতে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভূটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় শিশুদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যুর হার বিশ্লেষণ করা হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে সার্ক অঞ্চলে আনুমানিক মোট ৩৭,৭১৬টি শিশু নতুন করে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে কেবল ভারতেই শনাক্ত হয়েছে ২৫,৯৩৯টি শিশু, যা পুরো অঞ্চলের মোট আক্রান্তের ৬৮.৮ শতাংশ।

    দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্থানে থাকা পাকিস্তানে আক্রান্তের সংখ্যা ৭,৮৪১ জন (২০.৮ শতাংশ)।

    তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, কেবল বিপুল জনসংখ্যার কারণেই ভারতের এই আধিপত্য নয়। বয়সভিত্তিক ক্যানসারের হার এবং মৃত্যুহারের মধ্যে দেশভেদে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে, যা মূলত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সক্ষমতা, দ্রুত ক্যানসার শনাক্তকরণ ও সঠিক চিকিৎসার সুযোগের বৈষম্যকে নির্দেশ করে।

    সার্কভুক্ত দেশগুলোতে শিশু ক্যানসারের চিত্র (২০২২):

    গবেষণার প্রাক্কলন অনুযায়ী সার্ক অঞ্চলে ২০২২ সালে ৩৭,৭১৬ জন নতুন আক্রান্তের পাশাপাশি প্রায় ১৭,৬৯৮ জন শিশু মৃত্যুবরণ করেছে।

    আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা-র মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় ক্যানসার নজরদারি ব্যবস্থা এখনো সব জায়গায় সমান নয়। তবে ভারতে এটি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ভারতের চেন্নাইভিত্তিক প্রথম ডেডিকেটেড শিশু ক্যানসার রেজিস্ট্রি জানিয়েছে, ২০২২-২৩ সালে প্রতি ১০ লাখ শিশুর মধ্যে ১৩৬ জন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছে এবং চিকিৎসা গ্রহণে দুই বছর বেঁচে থাকার হার ছিল ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ।

    সার্ক অঞ্চলের ৮টি দেশেই শিশুদের ক্ষেত্রে ‘লিউকেমিয়া’ (রক্তের ক্যানসার) সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে, যা মোট আক্রান্তের ৩৫ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ‘সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম’ বা স্নায়ুতন্ত্রের টিউমার, যা প্রায় ১২ শতাংশ কেসের জন্য দায়ী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৈশ্বিক তথ্যের সঙ্গেও এই বিন্যাস হুবহু মিলে যায়।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শিশুদের ক্যানসার প্রাপ্তবয়স্কদের ক্যানসারের থেকে বেশ আলাদা।

    জীবনযাত্রার ধরণ বা অসচেতনতার কারণে শিশুদের ক্যানসার হয় না এবং সাধারণ স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে এটি আগেভাগে প্রতিরোধ করাও সম্ভব নয়। ফলে কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই এর মূল প্রতিষেধক।

    মৃত্যুহারে এত বড় ব্যবধানের কারণ কী?

    গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ‘মর্টালিটি-টু-ইনসিডেন্স রেশিও’ বা আক্রান্তের বিপরীতে মৃত্যুর হারের ব্যবধান।

    সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে এই অনুপাত শ্রীলঙ্কায় সবচেয়ে কম (০.৩০), আর আফগানিস্তানে সবচেয়ে বেশি (০.৫৭)। অর্থাৎ শ্রীলঙ্কায় শনাক্ত হওয়া শিশুদের মধ্যে মৃত্যুর হার অনেক কম, কিন্তু আফগানিস্তানে অনেক বেশি। বিশেষ করে স্নায়ুতন্ত্রের টিউমারের ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার মারাত্মক। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যবধানই প্রমাণ করে যে দেশগুলোর চিকিৎসা অবকাঠামো এবং বিশেষায়িত সেবার ক্ষেত্রে কতটা বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, উন্নত দেশগুলোতে ক্যানসারে আক্রান্ত ৮০ শতাংশের বেশি শিশু পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলেও নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এই হার এখনো ৩০ শতাংশের নিচে। দেরিতে শনাক্তকরণ, ভুল চিকিৎসা, আর্থিক অসচ্ছলতা, চিকিৎসা মাঝপথে ছেড়ে দেওয়া এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেই মৃত্যুর ঘটনা বেশি ঘটছে।

    গবেষকরা ভারতের জন্য দুটি বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন—প্রথমত সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ এবং দ্বিতীয়ত প্রান্তিক পর্যায়ে চিকিৎসা সেবা পৌঁছানো।

    প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে গবেষকরা সার্ক অঞ্চলে আন্তঃদেশীয় সহযোগিতা বাড়ানো, দেশভিত্তিক শক্তিশালী ক্যানসার রেজিস্ট্রি স্থাপন করা এবং লিউকেমিয়াসহ বিভিন্ন ক্যানসারের ক্ষেত্রে একটি মানসম্মত ও সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করার ওপর জোর দিয়েছেন।

    শিশুদের ক্যানসার কি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য?

    হ্যাঁ, সময়মতো শনাক্ত করা গেলে এবং সঠিকভাবে চিকিৎসা দিলে শিশুদের অধিকাংশ ক্যানসারই পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কেমোথেরাপি, অস্ত্রোপচার, রেডিয়েশন ও আধুনিক থেরাপির মাধ্যমে শিশুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা যায়।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী শিশু ক্যানসারে বেঁচে থাকার হার অন্তত ৬০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সাউথ এশিয়ায় বর্তমান চ্যালেঞ্জ হলো—একটি শিশুর বেঁচে থাকা যেন কেবল সে কোন দেশে জন্মেছে বা পরিবার চিকিৎসা খরচ চালাতে পারছে কিনা, তার ওপর নির্ভর না করে। ভৌগোলিক ও আর্থিক বাধা পেরিয়ে সবার জন্য উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।

  • ইউরোপে বিমান চলাচলের প্রাণকেন্দ্র ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর

    ইউরোপে বিমান চলাচলের প্রাণকেন্দ্র ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর

    ইউরোপের বিমান চলাচল খাতে অন্যতম শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছে তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর। উদ্বোধনের আট বছরেরও কম সময়ের মধ্যে যাত্রী পরিবহন, কার্গো হ্যান্ডলিং এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে বিমানবন্দরটি এখন ইউরোপের প্রতিষ্ঠিত বড় বিমানবন্দরগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে।

    চলতি বছরের জুলাইয়ে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর দিয়ে ৮১ লাখ ৫০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেছেন। একই সময়ে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরের যাত্রীসংখ্যা ছিল প্রায় ৭৯ লাখ। ফলে এক মাসের হিসাবে ইউরোপের ব্যস্ততম বিমানবন্দর হিসেবে হিথ্রোকে ছাড়িয়ে গেছে ইস্তাম্বুল।

    ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়া বিমানবন্দরটি শুরু থেকেই ব্যাপক সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে নির্মাণ করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি ইউরোপ ও বিশ্বের অন্যতম প্রধান বিমান চলাচল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

    বিমানবন্দরটির দ্রুত উত্থানের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তুরস্কের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, জাতীয় বিমান সংস্থা তার্কিশ এয়ারলাইন্স-এর বিস্তৃত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এবং বড় পরিসরে বিমানবন্দরটির অবকাঠামো নির্মাণ।

    ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার সংযোগস্থলে অবস্থান হওয়ায় ইস্তাম্বুলকে আন্তর্জাতিক ট্রানজিট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছেন বিপুলসংখ্যক যাত্রী। তুরস্কের কর্মকর্তাদের হিসাবে, ইস্তাম্বুল থেকে চার ঘণ্টার উড়ান দূরত্বের মধ্যে ৬৭টি দেশের প্রায় ১৫০ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব।

    প্রযুক্তিগত দিক থেকেও বিমানবন্দরটি নতুন সক্ষমতা দেখিয়েছে। ইউরোপে প্রথমবারের মতো এখানে এমন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে একই সময়ে তিনটি বিমান রানওয়ে ব্যবহার করে উড্ডয়ন বা অবতরণ করতে পারে। এতে বিমান চলাচলের সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি অপেক্ষার সময়ও কমেছে।

    কার্গো পরিবহনেও ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর দ্রুত এগিয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিমানবন্দরটির কার্গো পরিবহন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১০ লাখ টনের বেশি হয়েছে। এতে ইউরোপের ব্যস্ততম কার্গো বিমানবন্দর হিসেবে ফ্রাঙ্কফুর্টকে পেছনে ফেলেছে ইস্তাম্বুল।

    এ ছাড়া শহরের সঙ্গে সরাসরি মেট্রো সংযোগ চালু হওয়ায় যাত্রীদের যাতায়াতও সহজ হয়েছে। ভবিষ্যতে চতুর্থ রানওয়ে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে বিমানবন্দরটির সক্ষমতা বছরে ২০ কোটি যাত্রী পর্যন্ত বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত সম্প্রসারণ, আধুনিক অবকাঠামো এবং তুরস্কের ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর ইউরোপের বিমান চলাচলের নতুন শক্তিকেন্দ্র হয়ে উঠছে।

  • চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই বন্ধুর মৃত্যু, লাশ আনলেন অপর বন্ধু

    চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই বন্ধুর মৃত্যু, লাশ আনলেন অপর বন্ধু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরেছে গাজীপুরের দুই বন্ধুর লাশ।

    কলকাতার এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তাদের মৃত্যু হয়। পরে ভারতে সাথে থাকা অপর এক বন্ধু আইনি প্রক্রিয়া শেষে ১৬ আগস্ট রাতে দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে লাশ দুটি দেশে ফিরিয়ে আনেন।

    মৃত ব্যক্তিরা হলেন—গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ফুলবাড়িয়া এলাকার মো: হাবিবুর রহমান (৫৮) এবং কালীগঞ্জ এলাকার বিল্লাল মাঝি (৫০)।

    ইমিগ্রেশন ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন চিকিৎসার জন্য দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যান হাবিবুর রহমান ও বিল্লাল মাঝি। সেখানে তারা কলকাতার এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৯ আগস্ট রাত ৯টা ১৫ মিনিটে লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত বিল্লাল মাঝি মারা যান। এর পরদিন ১০ আগস্ট রাত ৭টা ৪৭ মিনিটে স্ট্রোকজনিত জটিলতায় হাবিবুর রহমানের মৃত্যু হয়।

    দুই বন্ধুর মৃত্যুর পর ভারতে প্রয়োজনীয় ইমিগ্রেশন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন সাথে থাকা তাদের অপর বন্ধু মো: আবু নাহিদ (৪৫)।

    পরে গত ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে লাশ দুটি এসে পৌঁছায়। সেখানে বিজিবি ও বিএসএফের সহযোগিতায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের উপপরিদর্শক (এসআই) মো: তারিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সমস্ত আইনি ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লাশ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

  • গাজায় প্রতিরাতে ৩০-৪০ জন হত্যার ডাক বেন-গভিরের, পদত্যাগ চাইলেন মার্কিন সিনেটর

    গাজায় প্রতিরাতে ৩০-৪০ জন হত্যার ডাক বেন-গভিরের, পদত্যাগ চাইলেন মার্কিন সিনেটর

    গাজায় প্রতিরাতে ৩০ থেকে ৪০ জনকে হত্যার আহ্বান জানানোয় ইসরাইলের উগ্রপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের পদত্যাগ দাবি করেছেন মার্কিন সিনেটর জ্যাকি রোজেন। তিনি বেন-গভিরের মন্তব্যকে ‘ভয়াবহ ও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে বর্ণনা করেন।

    সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ডেমোক্র্যাট সিনেটর রোজেন বলেন, নিরপরাধ বেসামরিক মানুষদের বিরুদ্ধে সহিংসত কর্মকাণ্ডের পক্ষে যারা কথা বলেন, তাদের কোনো সরকারি পদে থাকা উচিত নয়। তাই বেন-গভিরকে পদত্যাগ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    রোজেন একই সঙ্গে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি বেন-গভিরের মন্তব্যের নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নেতানিয়াহুর উচিত বিশ্বকে স্পষ্টভাবে জানানো যে এ ধরনের বক্তব্য সরকারের অবস্থান নয়।

    সম্প্রতি এক পডকাস্টে বেন-গভির গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানে প্রতিরাতে ৩০ থেকে ৪০ জনকে হত্যার করতে উদ্ধুদ্ধ করেন।

    বেন-গভিরের এ বক্তব্য ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে এবং তার পদত্যাগের দাবিও জোরালো হয়েছে।

  • বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যের তালিকায় মদিনার ৩৫ পণ্য

    বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যের তালিকায় মদিনার ৩৫ পণ্য

    সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলের ৩৫টি ঐতিহ্যবাহী খাদ্য ও কৃষিপণ্য আন্তর্জাতিক খাদ্য ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এসব পণ্যকে ‘আর্ক অব টেস্ট’ নামের বৈশ্বিক উদ্যোগে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি কুলিনারি আর্টস কমিশন। দেশটির মোট ১৮০টি পণ্য এখন এই বৈশ্বিক খাদ্য ঐতিহ্য উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত।

    ‘আর্ক অব টেস্ট’ হলো স্লো ফুড ফাউন্ডেশনের একটি অনলাইন তালিকা। এর লক্ষ্য হলো বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা বা ঐতিহ্যবাহী খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ, স্থানীয় উৎপাদকদের সহায়তা এবং জীববৈচিত্র্য ও খাদ্যসংস্কৃতিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকিয়ে রাখা।

    মদিনার তালিকাভুক্ত পণ্যের মধ্যে রয়েছে আল-আইস গম, আল-আইস বার্নি খেজুর, হাসাউই পুদিনা, আল-ফিকরা পাহাড়ি মধু, হুমুস, শুরেক রুটি, বালসাম, বাঁধাকপি ও নবক ফলসহ আরও বিভিন্ন স্থানীয় পণ্য।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব পণ্যের সঙ্গে মদিনা অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী খাদ্যাভ্যাসের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক তালিকায় অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে এসব পণ্যের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরও তুলে ধরা সম্ভব হবে।

    এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয় কৃষক ও উৎপাদকরাও উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়বে।

    কুলিনারি আর্টস কমিশনের মতে, ঐতিহ্যবাহী খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত জ্ঞান, পদ্ধতি ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ করাও এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মদিনার সমৃদ্ধ কৃষি ও খাদ্য ঐতিহ্য তুলে ধরা সম্ভব হবে।

    সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক তালিকায় মদিনার ৩৫টি পণ্যের অন্তর্ভুক্তি সৌদি আরবের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতি ও কৃষিপণ্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে নতুন সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • তরুণদের মন জয়ে ব্যর্থ মোদি

    তরুণদের মন জয়ে ব্যর্থ মোদি

    ভারতের তরুণদের ‘ককরোচ’ বা ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপির জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ছাত্র আন্দোলনের চাপে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, উপনির্বাচনে পরাজয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণদের মন জয়ের ব্যর্থ চেষ্টা—সব মিলিয়ে বিজেপিকে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    ভারতে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতাসীন বিজেপির রাজনৈতিক কৌশলে চাপ সৃষ্টি করেছে। টানা সাত সপ্তাহের আন্দোলনের মুখে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। এর পরপরই কয়েকটি উপনির্বাচনে বিজেপির পরাজয় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    বেকারত্ব, চাকরির পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ থেকে তরুণদের মধ্যে এই আন্দোলনের বিস্তার ঘটে। ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে গত মে মাসে ইনস্টাগ্রামে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে ওঠে। পরে সেটিই ছাত্র ও তরুণদের আন্দোলনের অন্যতম প্রতীকে পরিণত হয়। আন্দোলন শুধু দিল্লিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি; ভারতের বিভিন্ন শহরে এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে।

    উপনির্বাচনে ধাক্কা

    আগস্টের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত তিনটি উপনির্বাচনের মধ্যে দুটিতে হেরেছে বিজেপি। এর মধ্যে বিহারের ব্যাংকিপুর আসনে দলটির পরাজয় বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। প্রায় তিন দশক ধরে বিজেপির দখলে থাকা এই আসন হাতছাড়া হওয়াকে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু উপনির্বাচনের ফল দেখে বিজেপির শক্তি কমে গেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো এখনই ঠিক হবে না। ভারতের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিজেপি এখনো শক্তিশালী এবং নির্বাচনীভাবে অত্যন্ত সংগঠিত দল।

    তরুণদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা

    তরুণদের ক্ষোভকে গুরুত্ব দিয়ে বিজেপিও নতুনভাবে তাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা শুরু করেছে। মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেছেন। ইনস্টাগ্রাম ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে তরুণদের আকৃষ্ট করতে নতুন ধরনের প্রচারণাও চালাচ্ছে দলটি।

    উত্তর প্রদেশে তরুণদের জন্য বিশেষ যোগাযোগ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজেপির এসব প্রচারণা অনেক ক্ষেত্রে উল্টো সমালোচনা ও হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, একসময় বিজেপি যেভাবে নিজের রাজনৈতিক বার্তা সহজে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারত, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সেই প্রভাব এখন আগের মতো নেই। ইনস্টাগ্রামের মতো বিকেন্দ্রীভূত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলটির প্রচলিত প্রচারণা কৌশল কার্যকর হচ্ছে না।

    পুরোনো কৌশলও কাজ করছে না

    বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের দেশবিরোধী, বিদেশি অর্থায়নপুষ্ট বা ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে তুলে ধরার পুরোনো রাজনৈতিক কৌশল এবার তেমন কার্যকর হয়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    এই আন্দোলনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—এতে বিভিন্ন ধর্ম, জাতপাত ও সামাজিক শ্রেণির তরুণরা অংশ নিয়েছেন। এমনকি বিজেপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত উচ্চবর্ণের হিন্দু তরুণদেরও আন্দোলনে দেখা গেছে।

    ফলে আন্দোলনটিকে কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা সামাজিক গোষ্ঠীর আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    বিজেপির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

    বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন বিজেপির ক্ষমতা হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে দুর্বল করেনি, কিন্তু সরকারের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতায় প্রশ্ন তুলেছে।

    বিজেপি এখনো ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক দলগুলোর একটি। তবে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বেকারত্ব, শিক্ষা, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনে বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হতে পারে।

    আন্দোলনের সঙ্গে যুক্তদের একাংশ বলছে, শুধু একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ তাদের লক্ষ্য নয়। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, জাতপাত, সাম্প্রদায়িকতা এবং নারীবিরোধী রাজনীতিসহ দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার পরিবর্তন চান তারা।

    তবে বিজেপি তার হিন্দুত্বভিত্তিক রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসবে—এমন সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বরং আগামী নির্বাচনে ধর্মীয় পরিচয় ও হিন্দুত্বের রাজনীতিকেই আরও জোরালোভাবে সামনে আনার চেষ্টা করতে পারে দলটি।

    সব মিলিয়ে, ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন বিজেপির ক্ষমতার ভিত ভেঙে দিয়েছে—এ কথা বলার সময় এখনো আসেনি। তবে ভারতের তরুণ সমাজের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ যে মোদি সরকারের সামনে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে, তা আর অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

  • আমরা চিন্তাও করিনি, ইরান আমাদের ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করে দেবে: মার্কিন জেনারেল

    আমরা চিন্তাও করিনি, ইরান আমাদের ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করে দেবে: মার্কিন জেনারেল

    যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান মাইক মুলেন সংবাদমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, তারা ভাবতেই পারেননি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে ইরান ধ্বংস করে দিতে পারবে।

    তিনি বলেন বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করা একটি প্রচলিত বিষয়। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন মন্তব্য করেন যে বিমানবাহী রণতরীগুলোর মোতায়েন এখনো যথেষ্ট দীর্ঘ সময়ের জন্য নয়, তখন জবাবে মুলেন বলেন, এত দীর্ঘ সময় ধরে এ ধরনের মোতায়েন জাহাজের কর্মীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

    রোববার রাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের ‘দিস উইক’ অনুষ্ঠানে মুলেন এ কথা বলেন। ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিরক্ষা অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, `আমার মনে হয়, আমরা স্পষ্টতই আশা করিনি এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো- যেখানে আগে আমাদের সেনারা অবস্থান করত- তা ধ্বংস হয়ে যাবে এবং নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।’

    এদিকে, পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে সমর্থন করার জন্য দীর্ঘমেয়াদি মিশনে মোতায়েন করা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘আব্রাহাম লিংকন’-এর সরবরাহ ব্যবস্থার সংকটজনক পরিস্থিতি নিয়ে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর এবং এর কর্মীদের আত্মহত্যা সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন সামনে আসার পর, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বেশ কয়েকজন সদস্য এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দাবি করেছেন।

    ‘আব্রাহাম লিংকন’ বিমানবাহী রণতরীতে প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সদস্য রয়েছে। এর মিশন ২১ নভেম্বর শুরু হয় এবং পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী যুদ্ধকে সমর্থন করার জন্য এর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

  • জুলাই হত্যা: কাদেরসহ ৭ জনের রায় যে কোনো দিন

    জুলাই হত্যা: কাদেরসহ ৭ জনের রায় যে কোনো দিন

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। যে কোনো দিন রায় ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে যুক্তি-পাল্টা যুক্তি খণ্ডন সম্পন্ন করে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষ।

    এদিন প্রথমে আইন নিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন ঘিরে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বৈঠকে মানুষ মারার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করা হয়। এ মামলায় দাখিল করা বিভিন্ন অডিও-ভিডিওতে এসবের প্রমাণ উঠে এসেছে। এছাড়া আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফলশ্রুতিতে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নির্বিচারে গুলি চালিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়। প্রসিকিউশনের এসব কথার জবাব দেন ওবায়দুল কাদের, নাছিম ও আরাফাতের পক্ষে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী এম হাসান ইমাম।

    তিনি দাবি করেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় শুট অ্যাট সাইটের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আমার তিনজন মক্কেল কোনো কমান্ডিং পজিশনে ছিলেন না। কমান্ড রেসপনসেবলিটিতে একজনকেই আমি দায়ী করি। অতএব আমার মক্কেলরা কাউকে মারেননি বা মারার নির্দেশও দেননি।

    এরপর ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক ও যুবলীগ সভাপতি-সম্পাদকের পক্ষে যুক্তি খণ্ডন করেন ইশরাত জাহান।

    এই আইনজীবীর দাবি, চব্বিশের জুলাই আন্দোলন দমনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে তার চার মক্কেল তথা সাদ্দাম, ইনান, পরশ ও নিখিলের নাম আসেনি। নেতৃত্ব দিয়েছেন অন্যরা। এছাড়া অধীনস্ত নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ব্যর্থ হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

    এ সময় কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চান ট্রাইব্যুনাল। জবাবে আইনজীবী ইশরাত জাহান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের শুরু থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত বিশৃঙ্খলা চলছিল। ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল না।

    তিনি বলেন, বারবার নারীদের আহত হওয়ার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এ মামলায় কোনো নারী সাক্ষী আনা হয়নি। সাক্ষ্যপ্রমাণেও এমন কিছু দেখাতে পারেনি। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা সন্দেহ রয়েছে।

    নিজের চার মক্কেলের খালাস চেয়ে ইশরাত বলেন, শুধুমাত্র রাজনীতি করার কারণে আন্দোলন ঘিরে কিছু কথা উচ্চারণ করেছেন আমার মক্কেলরা। একইসঙ্গে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। এছাড়া প্রসিকিউশনের দাখিলকৃত কোনো ভিডিওতেই তাদের হাতে লাঠিসোঁটা ছিল না। এককথায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রমাণ দেখাতে পারেনি প্রসিকিউশন। এজন্য আমি চারজনেরই খালাস প্রার্থনা করছি।

    আসামিপক্ষের যুক্তি শেষে পাল্টা যুক্তি খণ্ডন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজের ব্যাখ্যা দিয়ে এ মামলার আসামিদের অপরাধ তুলে ধরেন। আন্দোলন দমনে নেমে একজন লোক মারা গেলেও আসামিরা অপরাধী বলে গণ্য হবেন বলে আইনি যুক্তি দেখান তিনি।

    এর আগে, ১২ আগস্ট সাত আসামিরই সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে যুক্তিতর্ক শেষ করে প্রসিকিউশন। এ মামলায় সব আসামির অপরাধ গুরুতর বলে ব্যাখ্যা দিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান, তাদের বিরুদ্ধে আনা ৪টি অভিযোগই প্রমাণ করতে পেরেছে প্রসিকিউশন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষকে হত্যা ও আহত করার জন্য তারা দায়ি। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। কোনো অনুকম্পা না দেখিয়ে সাত আসামির সর্বোচ্চ সাজা চান তারা।

    গত ৪ আগস্ট এ মামলায় প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। প্রথম দিন মামলার সামগ্রিক পটভূমি তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এরপর টানা পাঁচ কার্যদিবসে সাত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও যুক্তি উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

    মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।

    গত ২ আগস্ট এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দেন মোট ২৯ জন সাক্ষী।

    চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন একই আদালত।

  • ককরোচ স্বেচ্ছাসেবকের বাবা হত্যায় প্রতিবাদের ঝড়, খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি

    ককরোচ স্বেচ্ছাসেবকের বাবা হত্যায় প্রতিবাদের ঝড়, খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি

    পশ্চিমবঙ্গে সরকারি স্কুলের পরিস্থিতি পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) এক স্বেচ্ছাসেবকের বাবার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

    সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, আমাদের চুপ করানো বা ভয় দেখানো যাবে না। আমরা উন্নত স্কুলের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব। সিজেপি আব্দুল ও তার পরিবারের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। আমরা তার বাবার মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। আমাদের সিজেপি দল বাংলায় যাবে এবং নিশ্চিত করবে যে আব্দুল ও তার পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়।

    দলটির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাসও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘আমরা আব্দুলের জন্য খুব উদ্বিগ্ন। তার বাবা বিজেপির গুন্ডাদের হাতে মারা গেছেন। তার অপরাধ কী ছিল? সে তার স্থানীয় সরকারি স্কুলের একটি সামাজিক নিরীক্ষা করার পরিকল্পনা করেছিল। আব্দুল, পুরো সিজেপি পরিবার তোমার সাথে আছে। ওই গুন্ডাদের বিচারের আওতায় না আনা পর্যন্ত আমরা বিশ্রাম নেব না!’

    সিজেপির আরো অভিযোগ, হামলার পর কোনো মেডিকো-লিগ্যাল মামলা শুরু করা হয়নি এবং প্রাথমিকভাবে কোনো এফআইআরও দায়ের করা হয়নি। তারা মফিকের মৃত্যুর কারণ, হামলার ঘটনা এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে কথিত ব্যর্থতা—সবকিছু নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

    এ ঘটনায় ইন্দাস থানাকে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং হাফিজ ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি সিজেপির জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটির একটি প্রতিনিধি দল সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বে হাফিজ ও তার পরিবারের প্রতি সংহতি জানাতে এবং ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার দাবি জানাতে পশ্চিমবঙ্গ সফর করবে।

    সিজেপির ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকারি স্কুল পরিদর্শন করার পর ২৫ বছর বয়সী স্বেচ্ছাসেবক শেখ আবদুল হাফিজের ওপর হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় গুরুতর আহত হন তার বাবা মফিক। শনিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    সিজেপির বিবৃতি অনুযায়ী, গত ১৩ আগস্ট বাকুড়া জেলার করিসুন্দা এলাকায় নিজের গ্রামের একটি সরকারি স্কুলে গিয়ে অবকাঠামোর পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন হাফিজ। সিজেপি অভিযোগ করেছে যে, সেদিন সন্ধ্যায় স্থানীয় বিজেপি কর্মী হিসেবে চিহ্নিত সশস্ত্র ব্যক্তিরা জোর করে হাফিজের বাসভবনে প্রবেশ করে।

    বিবৃতি অনুসারে, হাসপাতাল থেকে রেকর্ড করা একটি ভিডিওতে হাফিজ অভিযোগ করেছেন যে, একজন স্কুল শিক্ষক তার পৌর পরিদর্শনের বিষয়ে রাজনৈতিক কর্মীদের জানিয়েছিলেন, যার ফলে পরবর্তী হামলাটি ঘটে।

    পরে হামলাকারীরা হাফিজকে স্কুলের দুরবস্থা তুলে ধরার জন্য ক্ষমা চেয়ে এবং বাইরের প্ররোচনায় তিনি এসব করেছেন—এমন বক্তব্য দিয়ে একটি ভিডিও ধারণ করতে চাপ দেন। হাফিজ এতে রাজি না হলে তার পরিবারের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছে সিজেপি। এতে হাফিজের ঘাড়ে গুরুতর আঘাত লাগে এবং তার বাবা মফিক মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পান।

    হামলার পর হাফিজ হাসপাতাল থেকে তার আঘাতের বিবরণ দিয়ে একটি ভিডিও রেকর্ড করেন এবং ক্রমাগত নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে কলকাতায় পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তার বাবা পরে ১৫ আগস্ট আঘাতজনিত কারণে মারা যান।

  • আল-আকসায় দেড় শতাধিক ইসরাইলি বসতির প্রবেশ

    আল-আকসায় দেড় শতাধিক ইসরাইলি বসতির প্রবেশ

    অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদ চত্বরে ইসরাইলি পুলিশের পাহারায় দেড় শতাধিক ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী প্রবেশ করে ধর্মীয় আচার ও প্রার্থনা সম্পন্ন করেছে।

    ১৯৬৭ সাল থেকে চলে আসা আন্তর্জাতিক ও ঐতিহাসিক চুক্তি অনুযায়ী, অমুসলিমদের জন্য এই পবিত্র স্থানটিতে শুধু প্রবেশের অনুমতি থাকলেও যেকোনো ধরনের ধর্মীয় প্রার্থনা পরিচালনা করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।

    ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের মাধ্যমে পূর্ব জেরুজালেম দখল করার পর ইসরাইল অঞ্চলটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ করে নেয়, যদিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কখনোই এই পদক্ষেপকে স্বীকৃতি দেয়নি। আল-আকসা চত্বরটি বিশ্বের তিনটি প্রধান আব্রাহামীয় ধর্মের মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পবিত্র স্থান।

    বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে এটি ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান, যার ভেতরে ঐতিহাসিক ডোম অব দ্য রক ও আল-আকসা মসজিদ অবস্থিত। ইসলাম ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী এখান থেকেই মহানবী (সা.) মিরাজে গমন করেছিলেন। অন্যদিকে, ইহুদি ধর্মে এই স্থানটিকে ‘টেম্পল মাউন্ট’ বলা হয় এবং তাদের প্রাচীন উপাসনালয়ের ঐতিহাসিক অবস্থানের কারণে এটি তাদের কাছেও সবচেয়ে পবিত্র তীর্থস্থান হিসেবে গণ্য হয়।

  • ভারতের স্বাধীনতা উদযাপনে জয়া আহসান, কটাক্ষ শ্রীলেখার

    ভারতের স্বাধীনতা উদযাপনে জয়া আহসান, কটাক্ষ শ্রীলেখার

    নারীদের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা এবং সমমর্যাদার বার্তা দিতে কলকাতায় আয়োজিত হয় ‘ফ্রিডম বিয়ন্ড মিডনাইট’ শীর্ষক পদযাত্রা। ভারতের স্বাধীনতা দিবস ছিল গতকাল শনিবার। এ উপলক্ষে ১৪ আগস্ট রাতে অনুষ্ঠিত নারীদের এই আয়োজনে টালিউডের নারী শিল্পীদের সঙ্গে অংশ নেন বাংলাদেশের অভিনেত্রী জয়া আহসান।

    পশ্চিমবঙ্গের সংবাদ দ্য ওয়াল-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই পদযাত্রায় অংশ নেন প্রায় ৫ হাজার নারী। উপস্থিত ছিলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, চৈতি ঘোষাল, ইন্দ্রাণী হালদার, ইমন চক্রবর্তী, পৌষালী বন্দ্যোপাধ্যায়, লাজবন্তী রায়, ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়, মৌবনী সরকার, মুমতাজ সরকার, রিচা শর্মার মতো তারকারাও।

    এ পদযাত্রায় জয়াকে হাঁটতে দেখে অনেকেই ভ্রু কুঁচকেছেন। অনেকেই আবার করছেন সমালোচনা। টালিপাড়ার অন্যতম ঠোঁটকাটা অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র তাদেরই একজন। জয়া আহসানকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন তিনি। নবমিতা বসুর একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন তিনি। সেখানে লেখা আছে, ‘জয়া আহসান কবে থেকে ভারতীয় হয়ে উঠল, প্লিজ জানাবেন। আজন্ম আমি জেনে এসেছি- ১৫ আগস্ট ভারতবর্ষ স্বাধীন হয়েছিল? আর কদিন আগে অবধি “দিপু দাস হত্যাকাণ্ড” নিয়ে ভারতবর্ষ তোলপাড় হয়েছিল। রিসেন্টলি দিলীপ ঘোষ মহাশয় ভারতীয় মুসলমান গোষ্ঠীকে নামাজ পড়তে হলে পাকিস্তান চলে যাওয়ার সাজেশন অবধি দিয়েছেন। জয়া আহসান হচ্ছেন সনাতনী, পিউর, আদি ও আসল ভারতীয়। নেতাজির পূর্বপুরুষ। আমার উত্তর চাই কেন? জয়া আহসান থেকে তাসলিমা নাসরিন, তা হলো- তাদের জন্মভূমির কাছে দেশদ্রোহী।’

    আর পোস্টটি শেয়ার করে শ্রীলেখা লিখেছেন, ‘ধর্ম… ধান্দা… ও দেশপ্রেম…। বাকিরা দেশদ্রোহী…। হিংটিংছট।’

  • উ. কোরিয়া-রাশিয়ার সম্পর্ক আরো দূড় হচ্ছে- কিম ও পুতিন

    উ. কোরিয়া-রাশিয়ার সম্পর্ক আরো দূড় হচ্ছে- কিম ও পুতিন

    উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। জাপানি ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তির বার্ষিকী উপলক্ষে পরস্পরকে পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তায় তারা এ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

    রোববার (১৬ আগস্ট) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আত্মসমর্পণের ৮১তম বার্ষিকী উপলক্ষে পুতিনের পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তার জবাব দেন কিম জং উন।

    পুতিন তার বার্তায় বলেন, সোভিয়েত সেনাদের জাপানের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে উঠেছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ভবিষ্যতেও আরও বিস্তৃত হবে।

    জবাবে কিম জং উন দুই দেশের যৌথ সংগ্রামের ইতিহাস ও দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে সম্পর্ক আরও উন্নয়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    সামরিক সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ

    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পিয়ংইয়ং ও মস্কোর সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সমর্থন দিতে উত্তর কোরিয়া সেনা ও অস্ত্র সরবরাহ শুরু করার পর দুই দেশের ঘনিষ্ঠতা আরও বেড়েছে।

    কোরীয় যুদ্ধের পর এটি কোনো বিদেশি সংঘাতে উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় সম্পৃক্ততা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতা সম্প্রসারণে দক্ষিণ কোরিয়া এবং পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগও বৃদ্ধি পেয়েছে।

    এদিকে মুক্তি দিবসের বার্ষিকী উপলক্ষে রাশিয়ার নৌবাহিনীর জাহাজ পালাদা শনিবার উত্তর কোরিয়ার ওনসান বন্দরে সৌহার্দ্য সফরে পৌঁছায়। কেসিএনএ জানায়, উত্তর কোরিয়ার স্থানীয় কর্মকর্তারা এবং রুশ দূতাবাসের প্রতিনিধিরা জাহাজটিকে স্বাগত জানান।

    সংলাপের আহ্বান দক্ষিণ কোরিয়ার

    অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং মুক্তি দিবসের অনুষ্ঠানে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নতুন করে সংলাপ শুরুর আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, দুই কোরিয়ার মধ্যে সংঘাত এড়াতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরিবর্তে একটি স্থায়ী শান্তি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

    উল্লেখ্য, ১৯৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধ যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে শেষ হলেও কোনো শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। ফলে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।

    লি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ আলোচনায় উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হতে পারে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সিউলের সংলাপের প্রস্তাবগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে পিয়ংইয়ং। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে তারা বারবার ‘উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড’ বলে সমালোচনা করে আসছে।

  • মার্কিন সেনাকে বন্দি বা হত্যায় ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার ইরানের

    মার্কিন সেনাকে বন্দি বা হত্যায় ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার ইরানের

    ইরানের ভূখণ্ডে আগ্রাসন চালানো মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বন্দি বা হত্যা করতে পারলে ৩০ হাজার ডলার (প্রায় ৩৩ লাখ টাকা) পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল আমীর হাতামি। রোববার (১৬ আগস্ট) তিনি এই অনন্য উদ্যোগের কথা প্রকাশ করেন, যা ইরানের সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে অর্থায়ন করা হবে।

    ইরানের বার্তা সংস্থা ওয়ানা জানায়, মেজর জেনারেল হাতামি দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর সদস্যদের উৎসাহিত করতে এই পুরস্কার তহবিল গড়ে তোলার কথা বলেছেন।

    মেজর জেনারেল হাতামি জানান, ইরানের প্রতি ভালোবাসায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সাধারণ মানুষের দেওয়া সহযোগিতায় এই অর্থ তহবিল গঠন করা হয়েছে। ইরানের সীমানায় অনধিকার প্রবেশকারী বা আক্রমণকারী কোনো মার্কিন সেনাকে জীবিত আটক অথবা নিকেশ করতে পারলে যেকোনো ইরানি বাহিনীর সদস্যকে জনগণের পক্ষ থেকে এই ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার হিসেবে দেয়া হবে।

    ইরানের ভূখণ্ড ও সামরিক নিরাপত্তার ওপর মার্কিন সম্ভাব্য পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। সেনা প্রধানের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইরানি উত্তেজনার পারদ আরো বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

  • রাশিয়া-ইউক্রেন পাল্টাপাল্টি হামলা

    রাশিয়া-ইউক্রেন পাল্টাপাল্টি হামলা

    রাশিয়া ও ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রোববার ব্যাপক ড্রোন হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলছে। দক্ষিণ রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলের গভর্নর জানিয়েছেন, রাতভর ইউক্রেনের চালানো হামলায় ওই এলাকায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

    গভর্নর ইউরি স্লিউসার বলেন, হামলায় বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুটি বনাঞ্চলে আগুনও ছড়িয়ে পড়ে। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাতভর রাশিয়ার চালানো হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

    ইউক্রেন জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ১০০টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ইউক্রেনে রাজধানীতে বিমান হামলার সতর্কতা সকাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

    অন্যদিকে, মস্কোর মেয়র জানিয়েছেন রাতভর মস্কোতে ৬০০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা হয়েছে। এই হামলাকে সাম্প্রতিক সময়ে চালানো সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা হিসেবে অভিহিত করেছে মস্কোর মেয়র।

  • শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চীনা পণ্যের প্রবেশে ৪০টির বেশি দেশকে দায়ী করল যুক্তরাষ্ট্র

    শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চীনা পণ্যের প্রবেশে ৪০টির বেশি দেশকে দায়ী করল যুক্তরাষ্ট্র

    এসব দেশের মধ্যে রয়েছে কানাডা, মেক্সিকো ও জাপান। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব দেশের মাধ্যমে চীনা পণ্য ঘুরিয়ে বা নতুন পরিচয়ে মার্কিন বাজারে প্রবেশ করে। এতে অতিরিক্ত শুল্ক এড়ানোর সুযোগ পায় দেশটি। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

    হোয়াইট হাউজের এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি এ অভিযোগ করা হয়। প্রতিবেদনের নাম দেয়া হয়েছে ‘দ্য গ্রেট ট্রান্সশিপমেন্ট স্ক্যাম’। এতে বলা হয়, চীনা পণ্য অন্য দেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর প্রক্রিয়ার কারণে প্রায় ৬ হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্য শুল্ক ফাঁকির ঝুঁকিতে রয়েছে। অন্য মার্কিন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে হোয়াইট হাউজ জানায়, এ ধরনের পণ্যের পরিমাণ ৪ হাজার কোটি থেকে ৩০ হাজার ৩০০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্রে এভাবে পণ্য স্থানান্তরকে ‘ট্রান্সশিপমেন্ট’ বলছেন অনেকে। সহজভাবে বললে, চীন থেকে কোনো পণ্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে না পাঠিয়ে আগে অন্য একটি দেশে নেয়া হয়। পরে সে দেশ থেকে পণ্যটি যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। এতে পণ্যের উৎস বা উৎপাদনস্থল নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। ফলে চীনের জন্য নির্ধারিত অতিরিক্ত শুল্ক এড়ানো সম্ভব হয়।

    প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউজের বাণিজ্য ও উৎপাদন নীতি দপ্তর। দপ্তরটির প্রধান পিটার নাভারোর ভাষ্য, ‘২০১৮ সালে চীনের ওপর প্রথম শুল্ক আরোপের পর থেকেই বেইজিং অত্যন্ত জটিল পদ্ধতিতে এ ধরনের পণ্য স্থানান্তর করছে। গত বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের পর এ প্রবণতা আরো বেড়েছে।’

    নাভারোর দাবি, বিভিন্ন দেশের শুল্ক হারে বড় পার্থক্য তৈরি হওয়ায় পণ্য অন্য দেশের মাধ্যমে পাঠানোর প্রবণতা বাড়ছে। এতে চীনের পণ্য কম শুল্কের দেশে পাঠিয়ে পরে যুক্তরাষ্ট্রে নেয়া হচ্ছে।

    হোয়াইট হাউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের পাশাপাশি বেশি শুল্কের মুখে পড়া অন্য দেশগুলোও একই কৌশল অনুসরণ করতে পারে। নাভারো বিশেষভাবে ভারত ও ভিয়েতনামের কথা উল্লেখ করেছেন। তার আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশগুলোর ওপর শুল্ক বাড়ালে তারাও একই ধরনের পণ্য স্থানান্তরের পথ বেছে নিতে পারে।

    প্রতিবেদনটি প্রকাশের প্রায় ছয় সপ্তাহ পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফরের কথা রয়েছে। এর আগে মে মাসে বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্বাগত জানিয়েছিলেন শি জিনপিং। ফলে নতুন অভিযোগটি দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনায় নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন কূটনীতিবিদরা।

    সম্প্রতি মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হে লিফেংয়ের সঙ্গে এক ফোনালাপে বিরল মৃত্তিকা বা রেয়ার আর্থের রফতানি নিয়ে উদ্বেগ জানান। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীন এসব গুরুত্বপূর্ণ খনিজের রফতানি কমিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি ঠিকমতো পালন করছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, পণ্য স্থানান্তরের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি ঠেকাতে নতুন প্রযুক্তিও ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। নাভারো জানান, মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন সংস্থা ‘ডিটেকটিভ বর্ডার’ নামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একটি ব্যবস্থা ব্যবহার শুরু করছে। এর মাধ্যমে আমদানি করা পণ্যের গঠন ও প্রকৃতি আরো ভালোভাবে শনাক্ত করা হবে। একই সঙ্গে শুল্কের জন্য পণ্যের সঠিক লেবেলিং নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।

  • ‘হরমুজ ইরানের ছিল, আছে এবং থাকবে’—তেহরান

    ‘হরমুজ ইরানের ছিল, আছে এবং থাকবে’—তেহরান

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া জবাবে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ‘ইরানি ছিল, ইরানি আছে এবং ভবিষ্যতেও ইরানিই থাকবে।’

    সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই জ্বালানি নৌপথটিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবে।

    ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি এক এক্স (টুইটার) পোস্টে ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরুর পর কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেওয়া এই প্রণালিটি ‘কেবলমাত্র ইরানের নির্দেশেই খোলা বা বন্ধ করা হবে’।

    তিনি আরও লেখেন, ‘ট্রাম্প বলেছেন যে ইরান পরাজিত হওয়ার পর তিনি হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণা করবেন। কোনো টুইট, এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার কিংবা প্রশাসনিক নির্দেশ দিয়ে হরমুজ প্রণালি দখল করা যায় না। এ পর্যন্ত আপনারা যে কৌশলগত ও বড় ধরনের পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছেন—একবার অন্তত সেই বাস্তবতাকে স্বীকার করুন।’

    তবে ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা পরবর্তীতে স্পষ্ট করেন যে ট্রাম্প মূলত রসিকতা করে ওই কথাটি বলেছিলেন।

    এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দাবি করেছিলেন যে, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে এবং মার্কিন নৌঅবরোধ এমন এক ‘ইস্পাতের প্রাচীর’ গড়ে তুলেছে যা ভেদ করার ক্ষমতা ইরানের নেই।

    অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন যে, গোয়েন্দা তথ্যের ব্যর্থতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র বারবার ভুল হিসাব-নিকাশ করছে এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে এবার তারা আরও বড় ধরনের ভুল ধারণায় ভুগছে।

    উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধ শুরু হয়। ওই হামলায় ইরানের দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ৮৬ বছর বয়সি আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হন, যার জবাবে মার্কিন ও ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে পালটা হামলা চালায় ইরান।

  • এক বছরের ওমরাহ ভিসায়ও নতুন শর্ত সৌদির

    এক বছরের ওমরাহ ভিসায়ও নতুন শর্ত সৌদির

    একাধিকবার প্রবেশের সুযোগ থাকা ওমরাহ ভিসাধারীদের জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সৌদি আরব। এক বছরের জন্য বৈধ এই ভিসা থাকলেও প্রতিবার সৌদি আরবে গিয়ে ওমরাহ পালনের আগে অনুমোদিত সেবা প্যাকেজ বুকিং এবং ওমরাহর অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক বলে জানিয়েছে দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়।

    রোববার (১৬ আগস্ট) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে নতুন এ নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে।

    মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ভিসাধারীদের নুসুক প্ল্যাটফর্মে অনুমোদিত ওমরাহ সেবা প্রদানকারীর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সেবা প্যাকেজ কিনতে হবে। পাশাপাশি সৌদি আরবে যাওয়ার আগে নুসুক অ্যাপের মাধ্যমে ওমরাহ পালনের অনুমতিও নিতে হবে।

    জুলাইয়ে চালু হওয়া একাধিকবার প্রবেশের এই ওমরাহ ভিসা ইস্যুর তারিখ থেকে ৩৬৫ দিন পর্যন্ত বৈধ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে ভিসাধারীরা একাধিকবার সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে ভিসার পুরো মেয়াদে সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৯০ দিন সৌদিতে অবস্থান করা যাবে।

  • দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রতীক ইয়াসুকুনি মন্দিরে যাননি জাপানের প্রধানমন্ত্রী

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রতীক ইয়াসুকুনি মন্দিরে যাননি জাপানের প্রধানমন্ত্রী

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আত্মসমর্পণের ৮১ তম বার্ষিকীতে বিতর্কিত ইয়াসুকুনি মন্দিরে যাননি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। তবে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমির মন্দিরটি পরিদর্শন ঘিরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। দক্ষিণ কোরিয়াও ইতিহাসের বেদনাদায়ক অধ্যায় স্মরণ করে জাপানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সতর্কতার বার্তা দিয়েছে।

    টোকিওর ইয়াসুকুনি মন্দিরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত প্রায় ২৪ লাখ জাপানিকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। তাঁদের মধ্যে ১৪ জন যুদ্ধাপরাধীও রয়েছেন। এ কারণে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে মন্দিরটি জাপানি সামরিকতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চীন, কোরিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল দখল করে নিয়েছিল জাপান।

    রোববার (১৬ আগস্ট) যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি আগে আত্মসমর্পণ দিবসে মন্দিরটি পরিদর্শনের প্রতিশ্রুতি দিলেও এবার সেখানে যাননি। তাঁর এই পদক্ষেপ চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়ার ইঙ্গিত দেখছেন বিশ্লেষকেরা। তবে গতকাল শনিবারের (১৫ আগস্ট) ভাষণে তিনি এশিয়ায় জাপানের যুদ্ধকালীন আগ্রাসন ও নির্যাতনের কথা উল্লেখ করেননি এবং এর জন্য অনুশোচনাও প্রকাশ করেননি।

    অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী কোইজুমি মন্দিরে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান। তাঁর সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের আরও তিন নেতা সেখানে শ্রদ্ধাঞ্জলিও রাখেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাপানি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই সফরের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযোগ করেছে, এর উদ্দেশ্য যুদ্ধাপরাধীদের দায় পুনর্বিবেচনা করা, জাপানের যুদ্ধাপরাধ আড়াল করা এবং ইতিহাস বিকৃত করে দেশটির সামরিকীকরণ ত্বরান্বিত করা।

    বেইজিং জাপানকে ‘গভীর আত্মসমালোচনা’ করার এবং সামরিকতন্ত্র থেকে দূরে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

    দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বলেন, দুই দেশের অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতা এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাসের যন্ত্রণায় এখনো যারা ভুগছেন, তাঁদের প্রতি সম্মান রেখেই নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

    এদিকে সম্রাট নারুহিতো যুদ্ধের ভয়াবহতা আর কখনো ফিরে না আসার আশা প্রকাশ করেছেন। অতীতের দিকে গভীর অনুশোচনা নিয়ে তাকিয়ে যুদ্ধের সময়কার দুর্ভোগের স্মৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

  • এবার পশ্চিম তীর দখলের পথে ইসরায়েল, মোতায়েন করছে পুলিশ

    এবার পশ্চিম তীর দখলের পথে ইসরায়েল, মোতায়েন করছে পুলিশ

    ইসরায়েল পশ্চিম তীরে সেনাবাহিনীর পরিবর্তে বেসামরিক পুলিশ বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পদক্ষেপকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

    ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ গত শুক্রবার জানিয়েছেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে বেসামরিক বিষয়সংক্রান্ত আইন প্রয়োগের ক্ষমতা সেনাবাহিনীর কাছ থেকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য তিনি সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। কাৎজের দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনার আওতায় পুলিশকে ‘বেসামরিক বিষয়গুলো মোকাবিলা ও সমাধানের জন্য একটি উপযুক্ত বাহিনী প্রতিষ্ঠা’ করতে হবে। অন্যদিকে সেনাবাহিনী কেবল “ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসবাদ” মোকাবিলা এবং সীমান্ত ও বসতিগুলোর সুরক্ষায় মনোযোগ দেবে।

    কাৎজ বলেন, পশ্চিম তীরে বেসামরিক বিষয় তদারকির দায়িত্ব পুলিশের ওপর দেওয়াই যুক্তিসংগত। কারণ, ‘ইসরায়েল রাষ্ট্রের অন্য সব জায়গায়’ পুলিশই এ ধরনের দায়িত্ব পালন করে। তবে এই ঘোষণা দেওয়ার আগে সেনাবাহিনী কিংবা পুলিশের সঙ্গে কোনো সমন্বয় করা হয়নি। যদিও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োম শুক্রবার জানিয়েছে, সেনাবাহিনী এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে এবং কয়েক সপ্তাহ ধরেই এমন পরিবর্তনের জন্য চাপ দিয়ে আসছিল।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পুলিশবাহিনীর তত্ত্বাবধানকারী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও জানতেন না যে, এ বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হতে যাচ্ছে। বেন-গভির এখনো পরিকল্পনাটি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে বসতি স্থাপনকারী নেতাদের অন্য কয়েকজন এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

    পশ্চিম তীরের বিনইয়ামিন আঞ্চলিক পরিষদের প্রধান ইসরায়েল গানজ বলেন, কাৎজের ঘোষণার পর অসলো চুক্তি বাতিল এবং অধিকৃত ভূখণ্ডে ‘পূর্ণ ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব’ প্রতিষ্ঠা করা উচিত। গানজ বলেন, ‘অস্থায়ী ব্যবস্থাপনা থেকে সরে এসে এখন ইসরায়েলি আইন পুরোপুরি প্রয়োগের সময় এসেছে।’

    সেনাবাহিনীর অনুরোধ

    ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াই নেট জানিয়েছে, শুক্রবারের এই ঘোষণার পেছনে রয়েছে সেনাপ্রধান আইয়াল জামিরের অনুরোধ। পশ্চিম তীরে সেনাবাহিনীর কাজের চাপ কমানোর জন্য তিনি এই অনুরোধ করেছিলেন। দুই সপ্তাহ আগে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভাকে জামির জানিয়েছিলেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সেনাবাহিনীর দায়িত্ব ক্রমাগত বাড়ছে। কারণ, ‘শিগগিরই নতুন বসতি প্রতিষ্ঠিত হবে।’

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্ত্রীদের উদ্দেশে জামির বলেছিলেন, ‘কয়েকজন মানুষ বসতিগুলোর বদনাম করছে বলে তাদের পেছনে ছুটে বেড়ানো আইডিএফের (ইসরায়েলি সেনাবাহিনী) সেনাদের জন্য অসহনীয়।’

    এখানে তিনি ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়গুলোকে সন্ত্রস্ত করার অভিযোগে অভিযুক্ত বসতিস্থাপনকারীদের কথা উল্লেখ করেন। জামির বলেন, সেনাবাহিনী ‘পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতায় কাজ করছে’, কিন্তু এ ধরনের দায়িত্ব পালন থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সরে আসাই যথাযথ।

    শুক্রবার ওয়াই নেটকে দেওয়া এক বক্তব্যে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, পশ্চিম তীরে ‘নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে কর্তৃত্বের বিভাজন’ পর্যালোচনার জন্য সেনাবাহিনী ‘অভ্যন্তরীণ ও প্রাথমিক পর্যায়ের স্টাফ-লেভেলের কাজ’ পরিচালনা করছে।

    কাৎজের বিবৃতিতে পুরো পশ্চিম তীরের কথা বলা হয়েছে। সেখানে পশ্চিম তীরের এরিয়া এ ও বি-এর মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয়নি। এই দুই এলাকায় অসলো চুক্তির আওতায় বেসামরিক বিষয়গুলো ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করে। অন্যদিকে এরিয়া সি-তে ইসরায়েল বেসামরিক কর্তৃত্ব প্রয়োগ করে। ইসরায়েল কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিম তীরকে নিজেদের ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত করেনি। ১৯৬৭ সাল থেকে অঞ্চলটি ইসরায়েলি সামরিক দখলের অধীনে রয়েছে। তবে গত এক বছরে ইসরায়েলি সরকার এমন একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে, যেগুলো বিশেষজ্ঞদের মতে কার্যত বা ‘ডি-ফ্যাক্টো সংযুক্তির’ সমতুল্য।

    এর মধ্যে রয়েছে পশ্চিম তীর পরিচালনায় বেসামরিক সংস্থাগুলোর ভূমিকা সম্প্রসারণ এবং যেসব ক্ষেত্রে ঐতিহ্যগতভাবে সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখত, সেসব ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর ভূমিকা কমিয়ে আনা। ইসরায়েলি ও আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে পশ্চিম তীরে দখলদার কর্তৃপক্ষ হিসেবে সেনাবাহিনীই দায়িত্ব পালন করে এবং বেসামরিক বিষয়সহ সেখানে আইন প্রয়োগের ক্ষমতাও সেনাবাহিনীর হাতে রয়েছে।

    বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধি

    পশ্চিম তীরজুড়ে বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার মধ্যেই কাৎজের এই ঘোষণা এসেছে। সপ্তাহের শুরুতে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা নাবলুসের দক্ষিণে অবস্থিত কুসরা গ্রামে ফিলিস্তিনি বাড়িঘর অবরুদ্ধ করে।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানালেও শুক্রবার পর্যন্ত বসতিস্থাপনকারীরা ওই এলাকায় অবস্থান করছিল। গত সপ্তাহে ওয়াই নেটের প্রবীণ সামরিক প্রতিবেদক রন বেন-ইশাই বলেছিলেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং শিন বেত—তিনটি সংস্থাই ‘আইন প্রয়োগ করতে অক্ষম।’ তাঁর ভাষায়, উগ্রপন্থী বসতিস্থাপনকারীদের একটি ছোট দল কার্যত ‘পশ্চিম তীরে সার্বভৌম’ হয়ে উঠেছে। তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনী কেবল ‘তাদের এবং তাদের খেয়ালখুশির নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।’

    শুক্রবার বেন-ইশাই বলেন, কাৎজের ঘোষণা ‘ডি-ফ্যাক্টো সংযুক্তির’ সমতুল্য। তিনি একই সঙ্গে এই পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। বেন-ইশাই বলেন, পশ্চিম তীরে বেসামরিক কর্তৃত্ব গ্রহণ করার মতো পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ কর্মকর্তাও ইসরায়েলি পুলিশের নেই।

  • দলীয় কার্যালয় থেকে মমতার সাবেক মন্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

    দলীয় কার্যালয় থেকে মমতার সাবেক মন্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও সাবেক মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ সূত্র বলেছে, আজ রোববার সকালে রাজ্যের বীরভূম জেলায় নিজ দল তৃণমূল কংগ্রেসের একটি কার্যালয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ পাওয়া গেছে।

    আশিসের বাড়ির কাছে রামপুরহাটের হাততলা পাড়ায় ওই দলীয় কার্যালয়ের অবস্থান। পুলিশ সূত্র বলেছে, সেখান থেকে একটি কথিত সুইসাইড নোটও উদ্ধার করা হয়েছে।

    পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। কী পরিস্থিতিতে আশিসের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উদ্ধার হওয়া কথিত সুইসাইড নোটটির বিষয়বস্তু খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

    তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ২০০১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় রামপুরহাটের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনি বিধানসভার ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারে স্কুলশিক্ষা, কৃষিসহ বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন।

    ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও আশিস প্রার্থী হিসেবে রামপুরহাট থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে বিজেপির প্রার্থী ধ্রুব সাহার কাছে তিনি ২৪ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।

    দলীয় সূত্র বলেছে, নির্বাচনে হারের পর আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনীতিতে তেমন সক্রিয় দেখা যায়নি।

    বীরভূমে দলীয় নেতা অনুব্রত মণ্ডল জেলা সভাপতি থাকাকালে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের একজন প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। এমন এক সময়ে তাঁর মৃত্যুর ঘটনা ঘটল, যখন চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে এবং দলটির ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটেছে। কয়েকজন সাবেক বিধায়ক ও নেতা দুর্নীতিসংক্রান্ত তদন্ত ও গ্রেপ্তারের মুখোমুখি হয়েছেন।

    আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় আত্মহত্যা করেছেন কি না, পুলিশ তা তদন্ত করছে। আত্মহত্যা করে থাকলে কী কারণে তিনি এমন চরম সিদ্ধান্ত নিলেন, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    কথিত সুইসাইড নোটে আশিস বারবার দাবি করেছেন, তিনি কোনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। দলের অন্যায়কে মেনে নিতে না পারলেও তিনি কখনো প্রতিবাদ করতে পারেননি।

    তৃণমূল নেতা আরও লিখেছেন, ছাত্রাবস্থায় থেকে তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কোনো দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হননি। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদকও হয়েছিলেন তিনি। রাজনীতিতে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে, কিন্তু শত্রুতা হয়নি। সারা জীবন এক পয়সাও কাজের বিনিময় গ্রহণ করেননি।

    আশিস লিখেছেন, তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন সংস্থায় তাঁর তেমন কোনো ক্ষমতা ছিল না। তাঁকে ছোট করতে অনেক কিছু করা হয়েছে। সভায় যোগ দেওয়া ছাড়া আর কোনো দায়িত্ব ছিল না। টেন্ডার কমিটিতেও রাখা হয়নি তাঁকে। ‘আমাকে অপমান করার জন্য যা করা হয়েছে, তাকে আমি ধিক্কার জানাই। তাই আমার বংশের ছেলেদের রাজনীতি না করার পরামর্শ দিচ্ছি। ওরা ওদের নিজ কাজে জড়িয়ে থাকুক।’

    আশিস আরও লিখেছেন, ‘শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। কোনো দিন ক্লাস ফাঁকি দিইনি। বিশেষ ক্লাস নিয়েছি। অনেককে বিনা পয়সায় পড়িয়েছি। ওদের প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছি।’ তবে তিনি তাঁর সঙ্গে রাজনীতিতে যুক্ত কারও বিরুদ্ধে কোনো কথা লেখেননি।

    ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও উদ্ধার হওয়া কথিত সুইসাইড নোটের তথ্য সম্পর্কে আরও যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে।

  • মসজিদ রক্ষায় লড়েছিলেন এক পায়ে:পুরস্কৃত করল সৌদি

    মসজিদ রক্ষায় লড়েছিলেন এক পায়ে:পুরস্কৃত করল সৌদি

    যখন নেপালে একজন প্রতিবন্ধী মুসলিম ব্যক্তির একটি মসজিদ রক্ষার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, তখন তিনি হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি যে তার এই সাহসিকতার মুহূর্তটিই তাকে শেষ পর্যন্ত উমরাহ পালনের জন্য মক্কায় নিয়ে যাবে।

    ঘটনাটি জানুয়ারির শেষের দিকের, যখন ব্যাপকভাবে প্রচারিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক পায়ে ভর দিয়ে, ক্রাচ ও লাঠি হাতে এক মুসলিম ব্যক্তি নেপালের রওতাহাট জেলার একটি মসজিদে হামলা ঠেকাতে একদল উচ্ছৃঙ্খল লোকের মুখোমুখি হয়েছেন।

    এই ভিডিওটি সারা বিশ্বের মুসলিমদেরকে বিশেষভাবে নাড়া দেয়, তখন থেকে সৌদি আরবের কয়েকজন এক্টিভিস্ট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকর্মী এই ভাইরাল ভিডিওর পেছনের মানুষটিকে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেন।

    অবশেষে তাদের অনুসন্ধান সফল হয়, যা রামপুরের বাসিন্দা নেপালি শেখ রহেমুল্লাহর জন্য এক অবিস্মরণীয় যাত্রার দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়। তিনি কখনো ভাবেননি যে তিনি কখনো উমরাহ পালন করবেন এবং তার সাহসিকতার জন্য সম্মানিত হবেন কিংবা এমন এক সাহায্যের প্রস্তাব পাবেন যা তার জীবনকে বদলে দিতে পারে।

    ২০২৬ সালের ৫ই আগস্ট, মসজিদ রক্ষায় তার অবস্থানের প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ সৌদি দাতা ও আয়োজকদের পৃষ্ঠপোষকতায় ৩২ বছর বয়সী রাহেমুল্লাহ তার বাবা-মায়ের সঙ্গে মক্কায় উমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে পৌঁছান। মক্কায় অবস্থানকালে সৌদি নাগরিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উপহার ও আন্তরিক আতিথেয়তায় স্বাগত জানান।

    রাহেমুল্লাহর ওমরাহ পালনের উদ্যোগের পাশাপাশি তার হারানো পায়ের জন্য কৃত্রিম অঙ্গ দেওয়ার দায়িত্বও নিয়েছে বাদার অ্যাসোসিয়েশন। ফলে সৌদি সফরটি শুধু ওমরাহ পালনের সুযোগই নয়, তার জীবনে নতুন সম্ভাবনার দরজাও খুলে দিয়েছে।

    তার এক সঙ্গী আরব নিউজকে সৌদি আরবে এসে তার আনন্দ এবং যারা তার সাথে যোগাযোগ করেছেন সেই সৌদিদের প্রতি কৃতজ্ঞতার কথা জানান।

    ভারতের কেরালার তরুণ মুসলিম কনটেন্ট নির্মাতা মোহাম্মদ রাফি সৌদি আরবে রাহেমুল্লাহ ও তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং সফরকালে তাদের সঙ্গ দেন। আরব নিউজকে তিনি বলেন, কয়েকজন সৌদি ভাইয়ের সহযোগিতায় রাহেমুল্লাহ ওমরাহ পালনের সুযোগ পেয়েছেন।

    তিনি আরব নিউজকে বলেন: ‘প্রথমত আল্লাহর কৃপায় এবং তারপর বেশ কয়েকজন সৌদি ভাইয়ের বদৌলতে, রহেমুল্লাহ উমরাহ পালন করতে পেরেছেন।

    ‘মক্কা ও মদিনায় তিনি এবং তার পরিবার যে আতিথেয়তা পেয়েছেন, তার জন্য তিনি (খুবই) খুশি।’

    তিনি আরও বলেন: “আমি নিশ্চিত যে তিনি এই ভ্রমণটি কখনও ভুলবেন না। উমরাহ পালনের সময় তার আনন্দ ছিল অবর্ণনীয়, এবং তার গল্পটি ছিল সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক, যা ধৈর্য, দৃঢ়তা এবং বিশ্বাসের এক মূর্ত প্রতীক।

    রাফি বলেন, মক্কা ও মদিনায় পাওয়া আতিথেয়তায় রাহেমুল্লাহ ও তার পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত। এই সফর তিনি কখনো ভুলবেন না বলেও মন্তব্য করেন রাফি।

    তার ভাষায়, রাহেমুল্লাহর ওমরাহ পালনের আনন্দ ছিল বর্ণনাতীত। তার পুরো ঘটনাটি ধৈর্য, দৃঢ়তা ও ঈমানের এক অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

    গত ১৪ আগস্ট রাহেমুল্লাহ ও তার পরিবার নেপালের উদ্দেশে সৌদি আরব ছাড়েন। সঙ্গে নিয়ে যান মক্কা-মদিনার স্মৃতি এবং সৌদি দাতা ও এই সফরের সঙ্গে জড়িত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।