আন্তর্জাতিক সংবাদ

  • রাশিয়ায় হাজারও সেনা ও ড্রোন অপারেটর পাঠাচ্ছে উত্তর কোরিয়া

    রাশিয়ায় হাজারও সেনা ও ড্রোন অপারেটর পাঠাচ্ছে উত্তর কোরিয়া

    রাশিয়ার সামরিক অভিযানে সহায়তা আরো বাড়াতে নতুন করে সেনা পাঠাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। এসব সেনার মধ্যে ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ প্রায় ৪০০ সদস্য রয়েছেন, যারা ইউক্রেনের ভেতরে নজরদারি ও হামলায় ড্রোন ব্যবহারের সক্ষমতা রাখেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা।

    ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা বিভাগের উপপ্রধান মেজর জেনারেল ভাদিম স্কিবিতস্কির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। তার দাবি, বর্তমানে রাশিয়ায় প্রায় ৮ হাজার ৫০০ উত্তর কোরীয় সেনা অবস্থান করছেন। তাদের বেশির ভাগই রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। এ বাহিনীতে প্রায় এক হাজার প্রকৌশলী ও মাইন অপসারণকারী সদস্যও রয়েছেন।

    স্কিবিতস্কি বলেন, উত্তর কোরীয় সেনাদের নতুন এই দলে থাকা প্রায় ৪০০ ড্রোন অপারেটরের অনেকেই আগের মোতায়েনের সময় কিংবা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ড্রোন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তাদের ড্রোন ইউক্রেনের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু পর্যবেক্ষণ ও হামলায় ব্যবহার করা হতে পারে।

    আরো ৫০ হাজার সেনা চাওয়ার সম্ভাবনা

    ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের ধারণা, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আগামী সেপ্টেম্বরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকে আরো ৫০ হাজার সেনা চাইতে পারেন। তবে কিমের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং এমন দাবিকে ‘ভিত্তিহীন ও মনগড়া’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

    স্কিবিতস্কির মতে, উত্তর কোরীয় সেনাদের ইউক্রেনের ভূখণ্ডে সরাসরি যুদ্ধ করার সম্ভাবনা কম। বরং তাদের রাশিয়ার পেছনের সারির অবস্থানগুলো শক্তিশালী করতে ব্যবহার করা হতে পারে। এতে রুশ সেনাদের একটি অংশ ইউক্রেনের সম্মুখভাগে আক্রমণ পরিচালনার জন্য মুক্ত হয়ে যাবে। এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা রাশিয়ায় মোতায়েন বা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।

    ২০২৪ সালে শুরু হয় উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েন

    ইউক্রেনের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে উত্তর কোরিয়ার প্রথম বড় সেনা মোতায়েন শুরু হয় ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে। ইউক্রেনীয় বাহিনীর রাশিয়ার ভূখণ্ডে প্রবেশ ঠেকাতে ওই সেনাদের ব্যবহার করা হয়।

    প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ১০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। তাদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হতাহত হন। ইউক্রেনীয় পক্ষের দাবি, রুশ বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে উত্তর কোরীয় সেনারা ব্যাপকভাবে সম্মুখ আক্রমণ ও উচ্চঝুঁকির কৌশল ব্যবহার করেছিল।

    উত্তর কোরিয়া প্রথমদিকে সেনা পাঠানোর বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি। তবে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে দেশটি প্রথমবারের মতো ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিজেদের সেনাদের অংশগ্রহণের কথা নিশ্চিত করে।

    যুদ্ধে আহত উত্তর কোরীয় সেনারা দেশে ফিরে গিয়ে ড্রোন যুদ্ধসহ আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা নিজেদের সহকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন স্কিবিতস্কি।

    ক্ষেপণাস্ত্র সহায়তাও বাড়ছে

    শুধু জনবল নয়, রাশিয়াকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েও সহায়তা করছে উত্তর কোরিয়া—এমন দাবি করেছে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থা। স্কিবিতস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের আগস্টের আগে উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে অন্তত ১৫০টি কেনএন-২৩ ও কেনএন-২৪ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছিল। এর বাইরে আরো ১২০টি ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।

    এসব ক্ষেপণাস্ত্রের কয়েকটি ইউক্রেনের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যবহার করা হয়েছে। ইউক্রেনের দাবি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার মতো সক্ষমতা তাদের হাতে সীমিত এবং যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও চাপের মুখে রয়েছে।

    স্কিবিতস্কি আরো দাবি করেন, উত্তর কোরিয়া থেকে সরবরাহ করা ক্ষেপণাস্ত্রের আধুনিক সংস্করণের পাল্লা প্রায় ৮০০ কিলোমিটার। তবে এগুলো প্রায়ই লক্ষ্যবস্তু থেকে ১৫ থেকে ১৯ কিলোমিটার দূরে গিয়ে আঘাত হানে। ইউক্রেনে এসব ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহারকে উত্তর কোরিয়া নিজেদের লক্ষ্যভেদ ও বিস্ফোরক বহনের সক্ষমতা উন্নত করার সুযোগ হিসেবেও কাজে লাগাচ্ছে বলে তার দাবি।

    রাশিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনায় উত্তর কোরীয় সদস্য

    ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের দাবি, রাশিয়ার ভোরোনেজ অঞ্চলে প্রায় ৯০ জন উত্তর কোরীয় কর্মী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কার্যক্রমে সহায়তা করছেন। একই সঙ্গে ভোরোনেজ এলাকার বাল্টিমোর বিমানঘাঁটিতে উত্তর কোরিয়া থেকে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্রবাহী অন্তত ১০টি বড় কার্গো বিমান অবতরণ করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

    স্কিবিতস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুলাই ডিনিপ্রো অঞ্চলের রাদুশনে এলাকায় একটি হামলায় ব্যবহৃত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উত্তর কোরিয়ার তৈরি বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ওই হামলায় একই পরিবারের অন্তত চার শিশু নিহত হয় বলে দাবি করেছে ইউক্রেন।

    বিনিময়ে রাশিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র চাইছে পিয়ংইয়ং

    উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে জনবল ও সামরিক সরঞ্জাম দেওয়ার বিনিময়ে উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি চাইছে বলেও জানিয়েছেন স্কিবিতস্কি। তার দাবি, পিয়ংইয়ং রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চেয়েছে। এরই মধ্যে উত্তর কোরিয়া একটি প্যান্টসির-১ ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পেয়েছে।

    রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সামরিক সহযোগিতা গত দুই বছরে দ্রুত গভীর হয়েছে। দুই দেশ প্রায় দুই বছর আগে ন্যাটোর মতো পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। ফলে রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক সহায়তা এখন শুধু সেনা পাঠানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি বিনিময়ের দিকেও বিস্তৃত হচ্ছে।

    এ পরিস্থিতি ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যেও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর ঘোষণা দেওয়ার পর উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

  • গ্যাস সংকটে তলানিতে সারের মজুত

    গ্যাস সংকটে তলানিতে সারের মজুত

    ইরানে আমেরিকা-ইসরাইলের হামলা, কাতারের সার রপ্তানিতে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি না করা এবং গ্যাস-জ্বালানি সরবরাহ সংকটে দেশে সারের মজুতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। চাহিদা অনুযায়ী কারখানায় গ্যাস না পাওয়ায় ইউরিয়া উৎপাদন প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমে গেছে। এতে নিরাপদ সার মজুতের লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ টন থেকে বর্তমান মজুত ক্রমেই তলানিতে নামছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের সার মজুত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এ চিত্র উঠে এসেছে।

    এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সার আমদানিতেও তৈরি হয়েছে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা। এছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিকল্প রুটে মিসরের ইয়ানবু বন্দর হয়ে প্রায় ১২০০ মাইল ঘুরে সার আনতে হচ্ছে। এতে আমদানি ব্যয় ও সময় দুই-ই বাড়ছে। এর সঙ্গে কাতার চুক্তিবদ্ধ না হওয়ায় তিন দেশের পরিবর্তে এখন দুই দেশনির্ভর আমদানিতে সংকট আরো ঘনীভূত হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কৃষকের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিদিন মাঠ পর্যায়ে সার সরবরাহ ও বিতরণ করতে হয়। উৎপাদনে ঘাটতি ও বিলম্বে জাহাজ পৌঁছানো এবং কাতারের পিঠটান—এই তিন কারণে সার সরবরাহ চাহিদায় ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

    এরই পরিপ্রেক্ষিতে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা কমানোর লক্ষ্যে বিকল্প দেশ হিসেবে রাশিয়া, মালয়েশিয়া ও ব্রুনাই থেকে ইউরিয়া সার আমদানির জন্য দরপত্র আহ্বান প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সার আমদানি কার্যক্রম গ্রহণ করতে হলে আরো দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। তখন কিন্তু আমন মৌসুমও শেষ হয়ে যাবে।

    সূত্র জানিয়েছে, চলমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে বীজতলা ও চারা রোপণে আমনের এই ভরা মৌসুমে সার সংকটে ফসল উৎপাদনে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। এসব সংকটের মধ্যে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের নিয়োগ করা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সার ডিলারদের নিয়োগ বাতিল করা হয়। এর বিপরীতে নতুন নীতিমালার আলোকে সরকার নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া শুরু করেছে।

    পুরাতনদের বাদ ও নতুন নিয়োগকে কেন্দ্র করে মাঠ পর্যায়ে সারের মজুত ও বিতরণ নিয়ে একধরনের জট তৈরি হয়েছে। কৃষির মাঠ অফিসের কর্মকর্তাদের দাবি, পুরোনো ডিলাররা বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া দুই ক্ষেত্রেই দাম বস্তাপ্রতি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে কৃষকের ওপর নতুন করে আর্থিক খরচের চাপ তৈরি হয়েছে।

    দাম বৃদ্ধির কারণে শুধু সাতক্ষীরাতেই গত ১৬ আগস্ট পর্যন্ত অন্তত ৩ অসাধু সার ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। একই সময় শেরপুর জেলায় ১৫ ডিলারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ নিয়ে সারা দেশেই একই চিত্র দেখা গেছে।

    এদিকে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সূত্রে জানা গেছে, ৫০ কেজির এক বস্তা টিএসপি সারের দাম ১,৩৫০ টাকা এবং ডিএপি ১০৫০ টাকা সরকার নির্ধারণ করেছে। তবে কৃষকদের অভিযোগ, অনুমোদিত ডিলারদের কাছ থেকে সার না পেয়ে তারা খোলাবাজার থেকে টিএসপি কিনছেন ১,৭০০ থেকে ১,৮০০ টাকায়। আর ডিএপির জন্য তাদের গুনতে হচ্ছে প্রায় ১,৫০০ থেকে ১,৬০০ টাকা।

    রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের কৃষক ওয়ালিউল্লাহর অভিযোগ, দোকানে সার না রেখে গোপনে অন্যত্র মজুত করে পরে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। দুর্গাপুর উপজেলার কৃষক আবির আহম্মেদের অভিযোগ, কৃষি কর্মকর্তা ও ডিলারদের একাংশের যোগসাজশে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। তার দাবি, অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা দিলে অনেক ক্ষেত্রে সার পাওয়া যাচ্ছে।

    এ প্রসঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয়ের (সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ) অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সল ইমাম বৃহস্পতিবার আমার দেশকে বলেন, সার সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছু অনিয়ম ধরা পড়েছে। কোনো এলাকায় চাহিদা কম থাকলে কিছু ডিলার সেই সার অন্য এলাকায় বেশি দামে বিক্রি করছেন। আবার কোনো কোনো ডিলার সরকারি গুদাম থেকে সার উত্তোলন করে নিজস্ব গোডাউন খালি রেখে খুচরা বিক্রেতা বা সাব-ডিলারের মাধ্যমে সার বিক্রির চেষ্টা করছেন। এতে কৃষক ডিলারের দোকানে সার না পেলেও খুচরা পর্যায়ে বেশি দামে পাচ্ছেন।

    এর আগে গত রোববার কৃষি সচিব সেলিম খান রংপুরে মতবিনিময় সভায় বলেছেন, বর্তমানে দেশে সারের কোনো সংকট নেই এবং পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। কৃষকের স্বার্থে সার ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের (সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখা) যুগ্ম সচিব ড. জাহাঙ্গীর আলম গত রোববার আমার দেশকে বলেন, আমন মৌসুমে সারের স্বাভাবিক চাহিদা মেটাতে সরকারি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু নতুন নীতিমালার আলোকে ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পর থেকেই একটি অসাধু গোষ্ঠী ও কিছু ডিলার অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম আতঙ্ক ছড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

    এদিকে রোববার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ বলেছেন, আগামী দুবছরেও দেশে গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের সমাধান হবে না। বিসিআইসির কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যদি বিকল্প হিসেবে দেশের বন্ধ তিনটি সার কারখানা চালু করা না যায়, তাহলে আমনের পাশাপাশি আগামী বোরো মৌসুমে সারের বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হতে পারে। যার প্রভাবে কৃষিতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা ২৬ লাখ ২০ হাজার টন। এর সঙ্গে নিরাপত্তা মজুত হিসেবে ৫ লাখ টন রাখতে হয়। সব মিলিয়ে প্রয়োজন ৩১ লাখ ২০ হাজার টন। বর্তমানে দেশে ইউরিয়া মজুত রয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৩২৯ টন, যা নিরাপদ মজুতের চেয়ে মাত্র ৩২৯ টন বেশি।

    কদিন আগে এ মজুত ছিল প্রায় ৮৫ হাজার টন বেশি। কারণ, আগে যেখানে ১০ শতাংশ উৎপাদন ঘাটতি ছিল, গতকাল বৃহস্পতিবার এই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ।

    জানা যায়, বিদেশ থেকে মোট ১০ লাখ ২৯ হাজার টন ইউরিয়া আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৩ লাখ ২৫ হাজার টন এবং রাশিয়া থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে আরো ১ লাখ ৬০ হাজার টন সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে।

    বিসিআইসির কর্মকর্তারা জানান, দেশে বর্তমানে কয়েকটি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন সক্ষমতা কমে গেছে। ঘোড়াশালের পলাশ ও শাহজালাল সার কারখানা প্রায় ৭০ শতাংশ সক্ষমতায় উৎপাদন করছে। দুটি কারখানা প্রতিদিন এক লাখ টনের ওপরে উৎপাদন করছে।

    বিসিআইসির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মঞ্জুর রেজা আমার দেশকে বলেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আরো কয়েকটি বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এছাড়া আশুগঞ্জসহ কয়েকটি কারখানা চালু করা সম্ভব হলে দেশে সার উৎপাদন বাড়বে এবং আমদানির ওপর চাপ কমবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে।

    তবে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইউরিয়ার পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক হলেও ডিএপি, টিএসপি ও এমওপির মজুত নিরাপদসীমার নিচে রয়েছে।

    মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে ডিএপি মজুত রয়েছে ৩ লাখ ৩৫৩ টন। নিরাপদ মজুতের জন্য প্রয়োজন ৫ লাখ টন। অর্থাৎ, ঘাটতি ১ লাখ ৯৭ হাজার টন। টিএসপির মজুত রয়েছে ৩ লাখ ৪৭৯ টন। নিরাপদ মজুত প্রয়োজন ৪ লাখ টন। ঘাটতি ৯৬ হাজার টন।

    অন্যদিকে এমওপির মজুত রয়েছে ১ লাখ ৬২৩ টন। নিরাপদ সীমা ৩ লাখ টন হওয়ায় ঘাটতি ১ লাখ ৩৯ হাজার টন। এ ঘাটতি দিন দিন বাড়বে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী চলতি মৌসুমে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৫৭ লাখ ১০ হাজার ৭৬২ হেক্টরে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১ কোটি ৮০,৫৭৬ টন।

    বিসিআইসি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী ডিলাররা সরকারি গুদাম থেকে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সার উত্তোলন করেন। এরপর জেলা ও উপজেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির তত্ত্বাবধানে কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত দামে সার বিক্রি করার কথা। ফলে কোনো পর্যায়ে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি হলে সংশ্লিষ্ট মনিটরিং কমিটির নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে যুদ্ধ ও পরিবহন ঝুঁকি থাকায় একাধিক উৎস থেকে সার সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এতে কোনো একটি দেশ বা সরবরাহ রুটে সমস্যা হলেও বিকল্প উৎস থেকে সার আমদানি করা সম্ভব হবে।

    তবে ইউরিয়া সরবরাহে আমদানিনির্ভরতা বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন তারা।

  • নিষেধাজ্ঞা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্ঘাতের সমাধান হবে না: চীন

    নিষেধাজ্ঞা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্ঘাতের সমাধান হবে না: চীন

    যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও চাপ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্ঘাত সমাধানে কোনো ভূমিকা রাখবে না বলে মন্তব্য করেছে চীন। দেশটি সঙ্ঘাত নিরসনে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছে।

    শুক্রবার বেইজিংয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা ও চাপ এই সমস্যার সমাধানে সাহায্য করবে না।’ তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেয়া এবং রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সঙ্কট নিরসনের আহ্বান জানান।

    চীন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে আসছে। দেশটির বক্তব্য, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা উত্তেজনা কমানোর পরিবর্তে পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলে।

    লিন জিয়ানের এ মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি তেহরানের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সীমিত করতে চীনের ওপরও চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

  • আমরা যুদ্ধ শুরু করিনি তাই আগ্রাসন মেনে নেব না

    আমরা যুদ্ধ শুরু করিনি তাই আগ্রাসন মেনে নেব না

    ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী সৈয়দ মজিদ ইবনে আল-রেজা বলেছেন, তার দেশের সশস্ত্র বাহিনী কখনো কোনো যুদ্ধ শুরু করেনি। তবে ইরানের স্বাধীনতা, ভূখণ্ড ও নিরাপত্তার ওপর কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন মেনে নেওয়া হবে না।

    শুক্রবার (২১ আগস্ট) তেহরানের ইমাম খোমেনি মুসাল্লায় জুমার নামাজের আগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

    ইরানিদের ভাষায় ‘রমজান যুদ্ধ’ নামে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে সর্বশেষ সংঘাতে দেশটি আগের ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থান থেকে প্রবেশ করেছে বলে দাবি করেন ইবনে আল-রেজা।

    তিনি বলেন, সর্বশেষ যুদ্ধ ইরানের জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা ছিল। এতে দেশটি প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়লেও জাতীয় আত্মবিশ্বাসের শক্তি প্রদর্শন করেছে।

    ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, এই যুদ্ধ দেখিয়েছে যে নিজেদের সক্ষমতার ওপর আস্থা রেখে, তরুণদের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবং ঐক্যবদ্ধ থাকলে ইরানি জনগণ যেকোনো হুমকি মোকাবিলা করতে পারে।

    তিনি আরও দাবি করেন, পরবর্তী সংঘাতে শত্রুর ঘাঁটিতে প্রবেশ, আঞ্চলিক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং আরও বেশি ক্ষয়ক্ষতি ঘটানোর সক্ষমতা ইরানের বেড়েছে। একই সঙ্গে কৌশল ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ইরানের ‘চমক’ আরও উন্নত হয়েছে।

    ইবনে আল-রেজা বলেন, ইরানের বর্তমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যুদ্ধ করার জন্য নয়, বরং যুদ্ধ ও আগ্রাসন ঠেকানোর জন্য।

    তিনি বলেন, আমরা কখনো কোনো দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরু করিনি এবং ভবিষ্যতেও করব না। তবে ইরানের ভূখণ্ড, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের কোনো চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।

  • ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে সমতা ও সমমর্যাদার: শফিকুর রহমান

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে সমতা ও সমমর্যাদার: শফিকুর রহমান

    রাজশাহীতে জামায়াতে ইসলামীর সদস্য (রুকন) সম্মেলনে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও দলের আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সারা বিশ্ব সফর করতে পারেন, ভারত সফরেও কোনো অসুবিধা নেই। তবে সেই সফর হতে হবে সমতা, সমমর্যাদা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ আর কারও আধিপত্যবাদ মেনে নেবে না।

    আজ শুক্রবার দুপুরে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে রাজশাহী মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    শফিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একই সঙ্গে সরকারপ্রধান ও দলীয় প্রধান। তিনি চাইলে দেশে চলমান চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও ঘুষ-বাণিজ্যের টুঁটি চেপে ধরতে পারেন। তিনি চাইলে এসব বন্ধ হবে। তিনি চাচ্ছেন কি না, সেটিই বড় বিষয়।

    জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এ দেশের মানুষের কাছে একটি আদর্শিক সংগঠনের নাম। মানুষের এই আস্থা অর্জন করতে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মাঝে ইসলামের দাওয়াত এবং আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

    স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে নেতা-কর্মীদের জনমানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করার নির্দেশ দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ভোট যেন কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে নেতা-কর্মীদের সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে।

    সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির সংসদ সদস্য ড. মাওলানা কেরামত আলী। সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডলের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি।

    আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, সহকারী অঞ্চল পরিচালক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম ও রাজশাহী জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আব্দুল খালেক।

  • ইসরাইলপন্থিকে হারিয়ে আফগানপন্থির জয়

    ইসরাইলপন্থিকে হারিয়ে আফগানপন্থির জয়

    সাবেক মার্কিন প্রতিনিধি এরিক সোয়ালওয়েল যৌন হয়রানির অভিযোগে পদত্যাগ করার পর ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের শূন্য আসন পূরণের লক্ষ্যে আয়োজিত বিশেষ রানঅফ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন আয়েশা ওয়াহাব। গত বৃহস্পতিবার রাতে ঘোষিত ফল অনুযায়ী, তিনি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের (কংগ্রেস) সদস্য হিসেবে নির্বাচিত প্রথম আফগান-আমেরিকান হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

    শতভাগ ব্যালট গণনা শেষে দেখা যায়, ডেমোক্রেটিক পার্টির এই প্রার্থী মোট ভোটের ৫৩.১ শতাংশ পেয়েছেন। অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী, ডেমোক্রেটিক দলেরই মেলিসা হার্নান্দেজ পেয়েছেন ৪৬.৯ শতাংশ ভোট।

    উল্লেখ্য, আয়েশা ওয়াহাব পূর্বে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম ও প্রথম আফগান-আমেরিকান সদস্য ছিলেন। তিনি একটি প্রগতিশীল ডেমোক্রেটিক প্ল্যাটফর্ম থেকে নির্বাচন পরিচালনা করেন, যেখানে ফিলিস্তিনের প্রতি তার সমর্থন প্রকাশ পেয়েছিল।

    অন্যদিকে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী মেলিসা হার্নান্দেজ ইসরাইলপন্থি অবস্থান নিয়ে প্রচারণা চালান। মার্কিন ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (এআইপিএসি) থেকে তিনি প্রচারাভিযানে বিপুল আর্থিক সহায়তা পান।

    পলিটিকো’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুলাই মাস থেকে উভয় প্রার্থীর পেছনে যে ৪ মিলিয়ন (৪০ লাখ) ডলার ব্যয় হয়েছে, তার মধ্যে প্রায় ৩.৭ মিলিয়ন ডলারই পেয়েছেন হার্নান্দেজ। কেবল এআইপিএসি থেকেই তার তহবিলে এসেছে প্রায় ৩ মিলিয়ন ডলার।

    এক সাক্ষাৎকারে এই জয় নিয়ে আয়েশা ওয়াহাব বলেন, ‘বাইরে থেকে লাখ লাখ ডলারের অর্থপ্রবাহ, ভুয়া তথ্য ও মিথ্যা বিবরণী সত্ত্বেও আমার নির্বাচনি এলাকার সাধারণ মানুষ সত্যকে চিনতে পেরেছেন এবং আমাকে ভোট দিয়েছেন। এজন্য আমি আমার অঞ্চলের মানুষের প্রতি অত্যন্ত গর্বিত।’

    তবে পরাজয় সত্ত্বেও মেলিসা হার্নান্দেজ আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ের আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ১৪তম ডিস্ট্রিক্টের পুনর্নির্ধারিত মানচিত্র অনুযায়ী নতুন করে প্রায় ২৬,০০০ ভোটার যুক্ত হচ্ছেন। তিনি আশা করছেন, পূর্বে যেখানে তিনি মেয়র ছিলেন, সেই ডাবলিন সিটির ভোটারদের সমর্থন তিনি ফের ফিরে পাবেন এবং ভোটের এই ব্যবধান কমিয়ে আনতে সক্ষম হবেন।

    আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের মধ্যবর্তী মেয়াদে আগামী ৩ নভেম্বর আয়েশা ওয়াহাব ও মেলিসা হার্নান্দেজের মধ্যে ফের প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনুষ্ঠিত হবে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিধ্বস্ত, সব আরোহী নিহত

    যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিধ্বস্ত, সব আরোহী নিহত

    যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় একটি চার্টার বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আটজন নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, বিমানটি অ্যাঙ্কোরেজ থেকে প্রায় ৪৫০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত কেপ নিউনহ্যামের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টা ১৫ মিনিটের দিকে গন্তব্যের কাছাকাছি বিধ্বস্ত হয়।

    ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের আলাস্কা অঞ্চলের প্রধান ক্লিন্ট জনসন বলেন, সিকিউরিটি এভিয়েশন পরিচালিত চার্টার ফ্লাইটটিতে দুজন পাইলট ও ছয়জন যাত্রী ছিলেন।

    আলাস্কান কমান্ড জানিয়েছে, এটি ছিল একটি বেসামরিক ঠিকাদারের পরিচালিত ফ্লাইট, যাতে মোট আটজন আরোহী ছিলেন। পরে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিশ্চিত করে যে কেউ বেঁচে নেই।

    কমান্ডের বিবৃতি অনুযায়ী, বিমানটি কেপ নিউএনহাম বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয়। বিমানবন্দরটি একটি বিমানবাহিনীর রানওয়ে হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং সেখান থেকে লং রেঞ্জ রাডার সাইটে যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে।

  • তারেক রহমানের ভারত সফরের বিবৃতি এক ঘণ্টার মধ্যেই প্রত্যাহার

    তারেক রহমানের ভারত সফরের বিবৃতি এক ঘণ্টার মধ্যেই প্রত্যাহার

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সেটি আবার প্রত্যাহার করে নিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন।
    স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার (২২ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে না।

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার প্রস্তুতি হিসেবে পূর্ণাঙ্গ মহড়া থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

    ‘নো চেঞ্জ অব গার্ড সেরেমনি দিস স্যাটারডে’ শিরোনামের ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পূর্ণাঙ্গ মহড়ার কারণে শনিবার রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে চেঞ্জ অব গার্ড অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে না। তবে নয়াদিল্লি কিংবা ঢাকা- কোনো পক্ষই তখন পর্যন্ত তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। এরপরেই দেশটির রাষ্ট্রপতি ভবনের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করা হয়।

    বিকেল ৩টার দিকে ভারতের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে পাঠানো নতুন এক বিবৃতিতে বলা হয়, ২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত ‘নো চেঞ্জ অব গার্ড সেরেমনি দিস স্যাটারডে’ শীর্ষক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করা হলো।
    দিল্লিতে রাষ্ট্রীয় সফরে আসা বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের জন্য রাষ্ট্রপতি ভবনে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়। এটি ভারতের সামরিক ও কূটনৈতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে সাধারণত তিন বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত গার্ড অব অনার, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অতিথির আনুষ্ঠানিক পরিচয়পর্ব থাকে।

  • ফিরে গেলো আব্রাহাম লিংকন

    ফিরে গেলো আব্রাহাম লিংকন

    মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধে অংশ নেওয়া বিমানবাহী মার্কিন রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের কাজ শেষ হয়েছে। প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক ও ক্রু সদস্য নিয়ে রণতরিটি গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগোর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। ৯ মাস ধরে এটি সামরিক অভিযানে মোতায়েন ছিল।

    এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে আব্রাহাম লিংকনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে জাপানে মোতায়েন থাকা বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন।

    যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা আব্রাহাম লিংকনের মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার গত রোববার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত একটি মতামতধর্মী নিবন্ধে রণতরিটির বিদায়ের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। আব্রাহাম লিংকনের উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘শুভযাত্রা। শিগগিরই প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা হবে।’

    ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে আব্রাহাম লিংকনকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জাহাজটিতে নাবিকদের জীবনযাত্রার মান ও নানা সমস্যা নিয়ে বেশ কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

    ইরানের হামলায় বাহরাইনের মানামায় মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ঘাঁটি ধ্বংস হওয়ার পর সরবরাহব্যবস্থায় দেখা দেওয়া সংকটের কারণে এসব সমস্যা তৈরি হয় বলে জানানো হয়েছে। ঘাঁটিটি মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকেন্দ্র ছিল।

    গত বছরের ২১ নভেম্বর সান দিয়েগো থেকে যাত্রা শুরু করেছিল আব্রাহাম লিংকন। এরপর ২৭২ দিনের মধ্যে মাত্র দুবার রণতরিটি সমুদ্রে অবস্থান থেকে বিরতি নিয়েছে। তা ছিল, ডিসেম্বরে গুয়ামে অল্প সময়ের জন্য ও রসদ সরবরাহ নেওয়ার জন্য ওমানে।

    ২৭২ দিনের প্রায় পুরো সময়ই সমুদ্রে কাটিয়েছেন জাহাজটির কয়েক হাজার নাবিক। বিশ্রামের জন্য তাঁদের কোনো ছুটির দিন ছিল না। এখন তাঁদের প্রায় ১৩ হাজার মাইল সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে দেশে ফিরতে হবে। এতে চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ লাগতে পারে।

    ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতারা জাহাজটিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি, পানিদূষণ, পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থার সমস্যা ও নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির কথা উল্লেখ করেছেন। তবে অ্যাডমিরাল কুপার তাঁর মতামতধর্মী নিবন্ধে এসব সমস্যার অনেকগুলো পুরোনো বলে আখ্যায়িত করেন।

    গতকাল এক পোস্টে সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে এবং বুধবার থেকে সেন্ট্রাল কমান্ডের অধীন কার্যক্রম শুরু করেছে। পারস্য উপসাগরের বাইরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনী প্রায় ২০টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রেখেছে। এর মধ্যে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও জর্জ ওয়াশিংটনকে কেন্দ্র করে আছে নৌবাহিনীর দুটি ‘ক্যারিয়ার স্ট্রাইক’ গ্রুপ (সমন্বিত যুদ্ধদল)।

    এ ছাড়া আছে একটি ‘অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি’ গ্রুপ (উভচর অভিযান পরিচালনাকারী দল), যাতে একটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট রয়েছে। আরও আছে কয়েকটি ডেস্ট্রয়ার, যেগুলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আরোপ করা ইরানের বন্দর অবরোধ কর্মসূচি কার্যকর করছে।

  • ট্রাম্প প্রশাসনের পোস্টে নিজের গান, ক্ষুব্ধ গায়িকা

    ট্রাম্প প্রশাসনের পোস্টে নিজের গান, ক্ষুব্ধ গায়িকা

    নিজের গান রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহার করায় আবারও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন সংগীতশিল্পী আরিয়ানা গ্রান্দে। এবার তাঁর ২০২৪ সালের জনপ্রিয় গান ‘উই কান্ট বি ফ্রেন্ডস (ওয়েট ফর ইয়োর লাভ)’ ব্যবহার করা হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের পরিচালিত একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে। বিষয়টি ভালোভাবে নেননি গ্রান্দে।

    বৃহস্পতিবার ‘টিম ট্রাম্প’–এর টিকটক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে ট্রাম্পকে একটি মঞ্চের দিকে হেঁটে যেতে দেখা যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘এটা বিতর্কিত হওয়ার কথা নয়!’ সঙ্গে ব্যবহার করা হয় ট্রাম্প, আরিয়ানা গ্রান্দে ও ‘মাগা’–সংক্রান্ত হ্যাশট্যাগ।

    পোস্টটিতে গ্রান্দের গান ব্যবহার করা হয়েছে দেখে তিনি সরাসরি মন্তব্যের ঘরে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। লেখেন, ‘আমার গান আর কখনো ব্যবহার করবেন না। আর আপনাদের সত্য মিথ্যা।’

    দুই মাসে দ্বিতীয়বার
    ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে গ্রান্দের এমন বিরোধ এবারই প্রথম নয়। মাত্র দুই মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার তাঁর গান রাজনৈতিক পোস্টে ব্যবহৃত হলো, আর প্রতিবারই তিনি এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

    জুনে হোয়াইট হাউস গ্রান্দের আরেকটি গান ‘বাই’–এর একটি সংস্করণ ব্যবহার করেছিল টিকটক ভিডিওতে। সেই ভিডিওতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইস–এর কর্মকর্তাদের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পরাতে দেখা যায়।

    আরিয়ানা গ্রান্দে। রয়টার্স

    সেবারও গ্রান্দে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘এই বর্বর, অমানবিক ও জঘন্য কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমার গান কখনোই ব্যবহার করবেন না।’ এরপর তাঁর দলের উদ্যোগে ওই পোস্ট থেকে গানটির অডিও সরিয়ে দেওয়া হয়।
    তবে এবার ‘উই কান্ট বি ফ্রেন্ডস’কে ঘিরে তৈরি পোস্ট থেকে এখনো গানটি সরানো হয়নি।

    শিল্পীদের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের টানাপোড়েন
    গ্রান্দে একা নন। ট্রাম্প প্রশাসন ও হোয়াইট হাউসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে শিল্পীদের গান ব্যবহার নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

    টেইলর সুইফট ও ব্যাড বানির গানও ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট পোস্ট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সংগীতশিল্পী নোয়া কাহান জুলাইয়ের শেষ দিকে আরও স্পষ্ট ভাষায় আপত্তি জানান। হোয়াইট হাউস তাঁর ‘আমেরিকান কারস’ গানটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ব্যবহার করার পর কাহান লিখেছিলেন, তাঁর গান ট্রাম্প বা তাঁর প্রশাসনের সমর্থনে ব্যবহারের কোনো অনুমতি তিনি কখনোই দেবেন না।

    এ ধরনের ঘটনায় মূল প্রশ্ন হয়ে উঠেছে শিল্পীর গান রাজনৈতিক বার্তা প্রচারে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কি না। গ্রান্দের সাম্প্রতিক মন্তব্যও সেই বিতর্ককে আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

    গ্রান্দের অবস্থান বরাবরই স্পষ্ট
    আরিয়ানা গ্রান্দে এর আগেও বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছেন। এবারও তিনি দীর্ঘ বক্তব্য না দিয়ে মাত্র কয়েকটি বাক্যেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন—তাঁর গান যেন ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত না করা হয়।

    বিশেষ করে ‘উই কান্ট বি ফ্রেন্ডস’ গানটি মূলত সম্পর্ক, বিচ্ছেদ ও আবেগের জটিলতা নিয়ে লেখা। সেই গানকে সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্যের পটভূমিতে ব্যবহার করায় গ্রান্দের আপত্তি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
    এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভ্যারাইটি, তবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    ভ্যারাইটি অবলম্বনে

    আরিয়ানা গ্রান্দে। রয়টার্স

  • চীনে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৯

    চীনে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৯

    চীনের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আরো ১০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

    জুলাই মাসে টাইফুন মায়সাকের প্রভাবে দক্ষিণ চীনের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রবল বৃষ্টি ও ভয়াবহ বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় গুয়াংসি অঞ্চল। সে সময় সেখানে ৩৯ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিল রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

    তবে শুক্রবার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানায়, দুর্যোগে মোট ১৫৯ জন নিহত এবং ১০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। বন্যার ছয় সপ্তাহ পর নতুন করে মৃতের সংখ্যা প্রকাশের কারণ সম্পর্কে সিসিটিভি কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

    সিসিটিভি জানায়, গুয়াংসির নাননিং ও গুইগাং শহরে টাইফুন মায়সাকের পরবর্তী পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন নিয়ে অনুষ্ঠিত পৃথক বৈঠকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই শহরে দুর্যোগে ১৬ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

    বর্তমানে দুই এলাকাই দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের পর্যায়ে পুরোপুরি প্রবেশ করেছে বলেও জানানো হয়েছে।

  • আহত শিক্ষার্থীদের নিয়ে থানায় রাহুলের অবস্থান

    আহত শিক্ষার্থীদের নিয়ে থানায় রাহুলের অবস্থান

    দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে পুলিশের বিরুদ্ধে ‘পেলেট গান’ ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে আবারও উত্তপ্ত ভারতের রাজনীতি। বিক্ষোভে ছররা গুলি আহত এক ছাত্রকে সঙ্গে নিয়ে থানায় অবস্থান নিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।

    তার অভিযোগ, ২০ জুলাইয়ের আন্দোলনের সময়ে ছররা গুলিতে আহত হন সাহিল লোচাব। এ ঘটনায় এফআইর দায়ের এবং ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের দাবি জানান রাহুল। মামলা না হওয়া পর্যন্ত থানা থেকে সরবেন না বলে জানিয়ে দেন তিনি। তার সঙ্গে যোগ দেন কংগ্রেস সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও।

    শুক্রবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সাহিল লোচাবকে সঙ্গে নিয়ে পার্লামেন্ট মার্গ থানায় যান। সেখানে তারা ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশের দপ্তরে গিয়ে আন্দোলনে পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান।

    কংগ্রেসের দাবি, আহত শিক্ষার্থীর হয়ে আগে অভিযোগ জানানো হলেও পুলিশ এফআইআর দায়ের করেনি। তাই এ বার রাহুল নিজে তার সঙ্গে থানায় গিয়ে মামলা নথিভুক্ত করার বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছেন।

    সাংবাদিকদের রাহুল বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার সময় সাহিল ছররা গুলিতে আহত হন। এরপর সাহিলের টি-শার্ট তুলে শরীরের ক্ষতচিহ্ন সংবাদমাধ্যমকে দেখান বিরোধী দলীয় নেতা। তার দাবি, সাহিলের শরীরে দুই শতাধিক পেলেট ও চোখে তিনটি পেলেট রয়েছে।

  • এখনই নয় ট্রাম্পকে কিম

    এখনই নয় ট্রাম্পকে কিম

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের শেষ দিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে পিয়ংইয়ংয়ের শীতল প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে, দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ‘চমৎকার’ হলেও বৈঠকে বসতে ওয়াশিংটনের সামনে কঠিন শর্ত দিতে পারে উত্তর কোরিয়া। খবর রয়টার্সের।

    চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প হঠাৎ করেই দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার পরিসর কমিয়ে দেন। তিনি এসব মহড়াকে উত্তর কোরিয়ার প্রতি ‘বৈরী’ বলে মন্তব্য করেন। বুধবার তিনি বলেন, চলতি বছরের মধ্যেই কিমের সঙ্গে তার বৈঠক হবে বলে তিনি আশা করছেন।

    মার্কিন ও দক্ষিণ কোরীয় কর্মকর্তাদের আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করতে আগ্রহী ট্রাম্প।

    ইরানের সঙ্গে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসানের তাৎক্ষণিক কোনো সম্ভাবনা নেই। এমন পরিস্থিতিতে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের নতুন করে যোগাযোগের উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে পিয়ংইয়ং রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধকে সমর্থন দিতে সেনা, সামরিক সরঞ্জাম ও ক্ষেপণাস্ত্র পাঠিয়েছে।

    সূত্রটি বলেছে, ট্রাম্পের এই কৌশলের প্রতি ব্যক্তিগতভাবে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া কমানোর বিষয়ে সিউলের কর্মকর্তাদের এখনো সংশয় রয়েছে।

    চলতি বছরের শেষ দিকে চীনের শেনজেনে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলনে ট্রাম্পের যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর কোরিয়া নতুন করে আলোচনায় আগ্রহী হলেই ওই অঞ্চলে দুই নেতার বৈঠকের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। তিনি বলেন, ‘উপযুক্ত সময়ে প্রেসিডেন্ট ও কিম জং উন আবার বৈঠক করবেন।’

    তবে উত্তর কোরিয়ার প্রতিক্রিয়া এখন পর্যন্ত খুব একটা উৎসাহব্যঞ্জক নয়। বিশ্লেষকদের মতে, পিয়ংইয়ং স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ট্রাম্প ও কিমের ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এক বিষয় নয়।

    কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ফার ইস্টার্ন স্টাডিজের অধ্যাপক লিম ইউল-চুল বলেন, দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক কখনোই উত্তর কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা বা সামরিক সক্ষমতা জোরদারের স্বার্থকে ছাড়িয়ে যাবে না।

    তার ভাষায়, পিয়ংইয়ং মূলত এই বার্তা দিচ্ছে যে ব্যক্তিগত কূটনীতির সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং তা তাদের কৌশলগত অগ্রাধিকারকে পরিবর্তন করবে না।

    কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার উলচি ফ্রিডম শিল্ড মহড়ার পরিসর কমানোর সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তার দাবি, মহড়াটি চলমান থাকায় তা এখনো আগ্রাসী পদক্ষেপ। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতি এখনো বৈরী রয়েছে।

    তিনি ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে সাম্প্রতিক কোনো যোগাযোগের কথাও অস্বীকার করেছেন। তবে দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ‘চমৎকার’ বলে উল্লেখ করেছেন।

    বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়া পূর্ব উপকূলের দিকে প্রায় ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। বিশ্লেষকদের ধারণা, চলমান যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়ার প্রতিবাদ হিসেবেই এই উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।

    কিম ইয়ো জং এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোকে কোনো ধরনের ‘সদিচ্ছার ইঙ্গিত’ হিসেবে তুলে ধরতে চায়, তাহলে তারা কাঙ্ক্ষিত জবাব পাবে না।

  • স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইউনেস্কো

    স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইউনেস্কো

    তরুণদের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিষয়ে সচেতন করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কো। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ডিজিটাল যোগাযোগ ও তথ্য প্রচারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

    ইউনেস্কোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তরুণরা জীবনের উল্লেখযোগ্য সময় অনলাইনে কাটায়। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তাদের সঙ্গে যোগাযোগ, তথ্য প্রদান ও সচেতনতা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

    গত ১২ থেকে ১৪ আগস্ট তানজানিয়ায় তিন দিনের একটি ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে দেশটির ১৩টি উচ্চ ও তৃতীয় পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী সহপাঠী শিক্ষকরা অংশ নেন। কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে ইউনেস্কোর সঙ্গে বিভিন্ন অংশীদার প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করে।

    প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য, এইচআইভি এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ে সঠিক, আকর্ষণীয় ও তরুণবান্ধব ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির কৌশল শেখানো হয়। পাশাপাশি দায়িত্বশীলভাবে অনলাইনে যোগাযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিশ্লেষণী তথ্য ব্যবহার করে পাঠক ও দর্শকদের আগ্রহ বোঝার বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

    ইউনেস্কো জানিয়েছে, প্রশিক্ষণ শেষে এসব সহপাঠী শিক্ষক নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে তরুণদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পৌঁছে দিতে কাজ করবেন। তাদের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাস্থ্য বিষয়ে আলোচনা বাড়ানো এবং তরুণদের সচেতন ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তরুণরা যেসব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিয়মিত ব্যবহার করে, সেগুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সুস্থতা বিষয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

  • মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় প্রস্তুত হচ্ছে ইরান

    মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় প্রস্তুত হচ্ছে ইরান

    যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর তা মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।

    ইরাকে সফররত গালিবাফ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘নিষ্ঠুর নিষেধাজ্ঞা’ মোকাবিলা করে তা অতিক্রম করার পরিকল্পনা ইরানকে করতে হবে। তিনি বাগদাদের সঙ্গে তেহরানের সহযোগিতা বাড়ানোরও আহ্বান জানান।

    গালিবাফের টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি বলেন, ‘আপনি যদি মুসলিম দেশগুলোর সম্পদ ও কাঁচামালের দিকে তাকান, তাহলে বুঝতে পারবেন যে আমাদের শত্রুরা সেগুলো লুট করতে আসছে, তাই এই পরিস্থিতিতে আমাদের অবশ্যই কঠোর নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা করতে হবে যাতে আমরা এটি কাটিয়ে উঠতে পারি।’

    এর আগে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ঘোষণা দেন, ইরানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ‘সবচেয়ে কঠোর’ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

    ইরাক সফরে থাকা গালিবাফ চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরান ও ইরাকের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারেরও আহ্বান জানিয়েছেন।

  • সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাড়িতে মুফতি আমীর হামজা, জানালেন সমবেদনা

    সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাড়িতে মুফতি আমীর হামজা, জানালেন সমবেদনা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ভারতের কলকাতায় হোটেলের আগুনে নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাড়িতে তার বাবা-মা ও আট বছরের মেয়ের সাথে দেখা করে শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। তিনি কলকাতায় অগ্নিকান্ডে নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাড়িতে যান। এ সময় মুফতি আমীর হামজা দেবাশীষ দত্তের শোক সন্তপ্ত পরিবারের সাথে কথা বলেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের রেখে যাওয়া একমাত্র কন্যাকে স্নেহের মমতায় জড়িয়ে ধরেন। শান্তনা দেন তাকে।

    এ সময় মেয়েটিকে দেখাশোনা ও অন্যান্য দায়িত্ব গ্রহণের ব্যাপারেও মুফতি আমীর হামজা কথা বলেন।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে শহরের আড়ুয়াপাড়ায় সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাড়িতে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করে তাদের খোঁজ খবর নেন তিনি। তিনি কলকাতায় অগ্নিকান্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের পরিবারের সদস্যদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

    এ সময় সংসদ সদস্য আমির হামজা সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, দেখে আসলাম সাক্ষাৎ করে আসলাম। আমাদের সরকারি যেটুকু সাহায্য আছে আমি দেখব। ব্যক্তিগতভাবে মেয়েটির স্কুলের প্রিন্সিপালের সাথে কথা বলে মেয়েটির লেখাপড়ার দায়িত্ব যতটুকু পারা যায় আমরা সর্বোচ্চটা দেখছি। উনাদের পারিবারিকভাবে আমি মাঝে মাঝে খোঁজখবর নেব আমার পিএ কে দিয়ে, আমার যারা পার্সোনাল আছে তাদেরকে দিয়ে। আমরা তো দলমত জাতি-ধর্ম-বর্ণ দেখি না। আল্লাহ আমাদের বের করেছেন মানুষের কল্যাণের জন্য। সুতরাং উনাদের কল্যাণে যতটুকু লাগানো যায় চেষ্টা করব।

    তিনি আরও বলেন, মেয়েটার দায়িত্ব ইনশাল্লাহ দেখছি। দোয়া করেন, উনার জন্য যেন কিছু করতে পারি। মেয়েটার দিকে তাকিয়ে খুব খারাপ লাগছে। মানুষের মরণ আজ হোক কাল হোক বিদায় তো নিতেই হবে। মেয়েটা তো অসহায় হয়ে গেল একেবারে। আমি মেয়েটির স্কুলের প্রিন্সিপালের সাথে কথা বলে যতদূর এখানে পড়া আছে, পড়ার ব্যবস্থা করব। মেয়েটির পাশে থাকার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ।

    প্রসঙ্গত, বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোররাতে ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ও আগুনে পুড়ে নিহত হন নয়জন। এরমধ্যে কুষ্টিয়ার এই পরিবারের চারজন মারা যান।

    কুষ্টিয়া একই পরিবারের চারজন হলেন- কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইন এর কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি দেবাশীস দত্ত (৩৭), তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৫), দুই বছর বয়সী শিশুপুত্র শর্ণশিষ দত্ত এবং দেবাশীসের শ্বশুর কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ার বাসিন্দা আকরাম আলী (৬৪)।

    দৈনিক সম্পাদকীয় কলাম

    অপরদিকে জামায়াতের জেলা সেক্রেটারী এনামুল হকসহ জেলা নেতৃবৃন্দও তার বাড়িতে ছুটে যান। শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।

  • বেন-গভিরের নিন্দায় জার্মান চ্যান্সেলর

    বেন-গভিরের নিন্দায় জার্মান চ্যান্সেলর

    ফিলিস্তিনের গাজায় প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জনকে হত্যার আহ্বান জানানোর ঘটনায় ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ। তিনি বেন-গভিরের বক্তব্যকে অমানবিক ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) বার্লিনে এক সংবাদ সম্মেলনে জার্মান সরকারের উপমুখপাত্র সেবাস্তিয়ান হিলে এ কথা জানান।

    সেবাস্তিয়ান বলেন, ‘চ্যান্সেলর বেন-গভিরের অমানবিক আহ্বানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এগুলো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

    হিলে জানান, গত জুনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ সম্মেলনে মানবিক মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া উগ্রপন্থী রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রস্তুতের বিষয়ে ইইউ নেতারা একমত হয়েছিলেন।

    তিনি বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অনানুষ্ঠানিক ‘জিমনিখ’ বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন। ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ কায়া কালাস এ বিষয়ে সম্ভাব্য পদক্ষেপের প্রস্তাব দেবেন।

    সম্প্রতি এক পডকাস্টে বেন-গভির গাজায় ইসরাইলি হামলা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। তিনি প্রতি রাতে ৩০ থেকে ৪০ জনকে হত্যার কথা বলেন এবং গাজায় ইসরাইলিদের পুনর্বাসনের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন। তার মন্তব্যের পর জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ইউরোপে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

  • ইসরাইলি সেনারাই গুলি করেই হত্যা করেছিলো হিন্দ রজবকে

    ইসরাইলি সেনারাই গুলি করেই হত্যা করেছিলো হিন্দ রজবকে

    গাজায় ২০২৪ সালে পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজব ও তার পরিবারের ছয় সদস্যকে বহনকারী গাড়িতে সেনাদের গুলি চালানোর কথা অবশেষে স্বীকার করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। বুধবার এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, এ ঘটনায় মিলিটারি পুলিশের মাধ্যমে একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    এ খবর দিয়েছে গার্ডিয়ান।
    ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি গাজা সিটিতে ইসরাইলি আক্রমণ থেকে বাঁচতে পালিয়ে যাওয়ার সময় শিশু হিন্দের পরিবারের গাড়িটি হামলার মুখে পড়ে। গাড়ির ভেতর আটকা পড়ে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের সাথে টানা তিন ঘণ্টা ফোনে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিল অবুঝ শিশু হিন্দ। তাকে উদ্ধারে যাওয়া একটি অ্যাম্বুলেন্সেও হামলা চালানো হয়, যাতে দুজন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হন।

    এতদিন ওই এলাকায় সেনা উপস্থিতির কথা অস্বীকার করে আসলেও স্বাধীন তদন্তে ইসরাইলি ট্যাংকের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলে। দীর্ঘ আড়াই বছর পর বুধবার ইসরাইলি বাহিনী স্বীকার করে যে, তাদের সেনারাই গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল।

    হিন্দ রজবের ঘটনা ছাড়াও দক্ষিণ গাজার রাফায় ২০২৫ সালের মার্চে ১৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও ত্রাণকর্মীকে হত্যার ঘটনায় ফৌজদারি তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    হামলার পর বুলডোজার দিয়ে মরদেহ ও গাড়ি গণকবরে মাটিচাপা দিয়েছিল সেনারা। তবে ২০২৪ সালের এপ্রিলে ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের গাড়িবহরে বিমান হামলায় বিদেশি ত্রাণকর্মী নিহতের ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা না নেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ইসরাইল।

    মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ফিলিস্তিনিদের হত্যার ঘটনায় ইসরাইলি বাহিনীর এমন তদন্ত ঘোষণার নজির থাকলেও দোষীদের শেষ পর্যন্ত শাস্তির আওতায় আনা হয় না বললেই চলে।

  • ট্রাম্পের পোস্টে ঐক্য বাড়ে ইরানিদের

    ট্রাম্পের পোস্টে ঐক্য বাড়ে ইরানিদের

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্য ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ইরানি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে। ট্রাম্পের পোস্টের ফলে বিভেদ তৈরি হয় না। বরং এতে উল্টো তারা আরো একতাবদ্ধ হন বলে মন্তব্য করেছেন তেহরানের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ও সাবেক কূটনীতিক আব্বাস খামায়ার।

    আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। খামায়ার জানান, ইরানে তীব্র জ্বালানি সংকটের খবরগুলো অতিরঞ্জিত করে প্রচার করা হচ্ছে। রাজধানী তেহরানে পেট্রোল পাম্পগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লাইনে সর্বোচ্চ আধঘণ্টার বেশি সময় লাগছে না এবং এটি নিতান্তই একটি

    এছাড়া কম দাম ও সহজলভ্যতার কারণে ইরানে মাথাপিছু জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি বলে তিনি উল্লেখ করেন। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে খামায়ার বলেন, সাবেক সর্বোচ্চ নেতা খামেনির জানাজাসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে বিপুল জনসমাগম প্রমাণ করে যে, যেকোনো বহিরাগত চ্যালেঞ্জ ও বিদেশি হামলার মুখে ইরানি সমাজ সবসময় ঐক্যবদ্ধ হয়।

    তিনি দাবি করেন, ট্রাম্পের বক্তব্য ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলো মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বা ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ইরানিদের মাঝে যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল, তা ব্যর্থ হয়ে উল্টো বিপরীত ফল দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা সত্ত্বেও তা কৌশলগত সাফল্যে রূপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

    ওয়াশিংটনের ঘন ঘন লক্ষ্য পরিবর্তনের ঘটনাই তাদের অসংলগ্ন ও বিশৃঙ্খল কৌশলের স্পষ্ট প্রমাণ। এই অদূরদর্শী নীতির কারণে বিশ্ববাসীর চোখে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন এই সাবেক কূটনীতিক।

  • ভারতে ঋণ নিয়ে পড়াশোনা শেষে চাকরি পাচ্ছেন না স্নাতকেরা

    ভারতে ঋণ নিয়ে পড়াশোনা শেষে চাকরি পাচ্ছেন না স্নাতকেরা

    ভারতে ‘নলেজ পার্ক’ বলতে এমন এক পরিকল্পিত অঞ্চলকে বোঝায়, যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষণাকেন্দ্র, তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানি এবং স্টার্ট-আপগুলো একত্রে গড়ে তোলা। জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে কয়েকটি নলেজ পার্ক গড়ে উঠেছে। এ অঞ্চল মূলত অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যানেজমেন্ট কলেজ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য পরিচিত।

    উত্তর ভারতের ‘নলেজ পার্ক থ্রি’ (গ্রেটার নয়ডা এলাকা) তেমনি একটি বড় শিক্ষা কেন্দ্রের অংশ। এটি গড়ে উঠেছিল এমন একটি প্রতিশ্রুতির ওপর—কলেজের ডিগ্রি তরুণ ভারতীয়দের মধ্যবিত্ত জীবনে পৌঁছে দেবে। কিন্তু রাজধানী নয়াদিল্লির কেন্দ্র থেকে দুই ঘণ্টার দূরত্বে গড়ে ওঠা বেসরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের এই এলাকায় পড়তে আসা প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থীর অনেকের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। ডিগ্রির বদলে তাঁদের অনেকের ভাগ্যে জুটছে ঋণ আর একরাশ হতাশা।

    এ এলাকার পাঁচটি নলেজ পার্কে গত এক দশকে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে সন্তানদের পড়াতে পরিবারগুলো তাদের সঞ্চয় শেষ করছে। কিন্তু প্রতিবছর যত শিক্ষার্থী স্নাতক শেষ করছেন, সেই তুলনায় ভালো বেতনের চাকরি তৈরি হচ্ছে অনেক কম।

    উত্তর ভারতের বারানসি শহরের ১৮ বছর বয়সী হর্ষিত রাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিংসহ চাকরি পেতে কাজে লাগতে পারে—এমন সব বিষয় পড়ছেন। নয়ডা ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে তাঁর ডিগ্রি শেষ করতে প্রায় ১৫ হাজার ডলার খরচ হবে। এর মধ্যে সাত হাজার ডলার ব্যাংকঋণ। তাঁর লক্ষ্য মাসে ৮০ হাজার রুপি বা বছরে প্রায় ১০ হাজার ডলার আয় করা। তবে এর অর্ধেক বেতনের চাকরি পেলেও তিনি রাজি হয়ে যাবেন। সে ক্ষেত্রে শুধু পড়াশোনার খরচের সমান অর্থ আয় করতে তাঁর পাঁচ থেকে ছয় বছর চলে যাবে। স্নাতক হওয়ার এক বছর পর তাঁর ঋণের ওপর বছরে ১০ শতাংশ হারে সুদ যোগ হওয়া শুরু হবে। হর্ষিত বলেন, ‘কিছুটা চাপ অনুভব করি। সময়মতো ঋণ পরিশোধ করব কীভাবে?’

    ভারতের তরুণদের মধ্যে এই উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। গত মাসে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক বিক্ষোভের (ককরোচ জনতা পার্টি সিজেপির ডাকে) মুখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার বিরলভাবে পিছু হটতে বাধ্য হয়। প্রকাশ্য বিক্ষোভ এখন কমে এসেছে, কিন্তু যে হতাশা থেকে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা রয়ে গেছে।

    প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় কারচুপির অভিযোগ ঘিরে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। পরে তা ভালো জীবনের পথে তরুণদের সামনে থাকা নানা বাধার বিরুদ্ধে ক্ষোভে পরিণত হয়। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ডাকে শুরু হয় বিক্ষোভ। ভারতের প্রধান বিচারপতি মে মাসে দেশটির বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করে একটি মন্তব্য করেছিলেন। সেই মন্তব্যের ইঙ্গিতেই দলের এই নাম রাখা হয়। তরুণদের অসন্তোষের একটি বড় কারণ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও।

    ভারতে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা প্রায় ১০০ কোটি, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। প্রতিবছর এই সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ করে বাড়ছে।

    যেসব পরিবারের কিছু অর্থ আছে, তাদের কাছে শিক্ষা কম মজুরির কৃষিকাজ ও শ্রমের জীবন থেকে বেরিয়ে আসার কয়েকটি পথের একটি। সবচেয়ে ভালো সুযোগ হলো দেশের অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কোনো একটিতে ভর্তি হওয়া। যাঁরা সেখানে সুযোগ পান না, তাঁদের সামনে বিকল্প হিসেবে থাকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ভারতে বেসরকারি শিক্ষার এই ব্যবসা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরের এক দশকে বেসরকারি কলেজের সংখ্যা তিন গুণ হয়েছে।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৫০ লাখ। এক দশক আগের তুলনায় এটি ৪১ শতাংশ বেশি। উচ্চশিক্ষায় থাকা শিক্ষার্থীদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়েন। উচ্চশিক্ষা যত দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে, সেই গতিতে ভালো চাকরি তৈরি হয়নি।

    আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, ২৫ বছরের কম বয়সী কলেজ স্নাতকদের প্রায় ৪০ শতাংশ বেকার।

    ভারতে মাসে ৫০০ ডলারের বেশি বেতনের নতুন চাকরি বছরে তৈরি হয় মাত্র প্রায় আড়াই লাখ। দেশটির বেশি আয় করা ব্যক্তিদের মধ্যে আরামদায়ক জীবনযাপনের একটি মানদণ্ড হিসেবে এই বেতনকে বিবেচনা করা হয়। এসব চাকরির প্রতিযোগিতায় নামী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকেরা অনেক এগিয়ে থাকেন।

    উদ্যোক্তা ও একটি শিক্ষা ফেলোশিপ কর্মসূচির প্রতিষ্ঠাতা অক্ষয় সাক্সেনা বলেন, ‘তরুণদের কাছে একটি মিথ্যা বিক্রি করা হয়েছে। সেটি হলো, ডিগ্রি পেলেই চাকরি পাওয়া যাবে।’

    ভারতীয় শিক্ষার্থীরা কোচিং সেন্টারে

    ভারতে প্রায় ৫৫০টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। কিন্তু এগুলোর মাত্র এক-দশমাংশকে অভিজাত বা সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

    শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আবেদনকারীদের ৫ শতাংশেরও কম ভর্তির সুযোগ পান। সেখানে বছরে গড় টিউশন ফি ২৫০ ডলারের কম। এসব প্রতিষ্ঠানের একটি ডিগ্রি একজন শিক্ষার্থীকে দেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় চাকরিগুলোর দিকে এগিয়ে দিতে পারে। বাকিদের সামনে থাকে অনেক বেশি ঝুঁকির হিসাব।

    অক্ষয় সাক্সেনার হিসাবে, প্রতিবছর প্রায় চার লাখ শিক্ষার্থী বেসরকারি প্রকৌশল কলেজে পড়ার জন্য ২০ হাজার ডলারের বেশি খরচ করেন। তাঁদের আশা, ডিগ্রি শেষ করে তাঁরা বড় অঙ্কের বেতন পাবেন। কিন্তু এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্নাতকদের বার্ষিক মধ্যম বেতন প্রায় তিন হাজার ডলার। তিনি বলেন, ‘গড়পড়তা একজন স্নাতকের চাকরি পাওয়ার উপযোগিতা মাত্র ২০ শতাংশের মতো।’

    এই অসামঞ্জস্য এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যাকে অক্ষয় সাক্সেনা বলেছেন ‘ভয়াবহ জাতীয় মানসিক সংকট’।

    একসময় প্রকৌশল ডিগ্রিকে ভারতের প্রযুক্তি খাতে ঢোকার নির্ভরযোগ্য পথ মনে করা হতো। তাই এসব ডিগ্রি পাওয়ার জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। ইনফোসিস ও টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেসের মতো কোম্পানি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি সেবা দিয়ে বিশাল ব্যবসা গড়ে তুলেছে। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে এখন এসব চাকরির ভবিষ্যৎও আগের চেয়ে অনিশ্চিত মনে হচ্ছে।

    ভারতের ক্লাউড সফটওয়্যার কোম্পানি জোহো সহপ্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘ভারতে ডিগ্রি নেওয়ার জন্য বড় অঙ্কের ঋণ করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, শিক্ষার নামে তরুণদের ঋণের ফাঁদে ফেলা উচিত নয়।’

    নয়াদিল্লির উপকণ্ঠ নয়ডায় অ্যামিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ক্যাম্পাস। অনেক শিক্ষার্থীর কাছে কম খরচের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুযোগ না পেলে অ্যামিটি বিশ্ববিদ্যালয় বিকল্প হিসেবে আসে। অতুল আনন্দ নিজের রাজ্য বিহারের একটি শীর্ষ সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু দুই বছর আগে একটি গাড়ি দুর্ঘটনার কারণে তিনি সেখানে ভর্তি হতে পারেননি। পরে ঋণ করে অ্যামিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ডিগ্রি ও জীবনযাত্রার খরচ মিলিয়ে তাঁর প্রায় ১৫ হাজার ডলার (১ ডলার সমান ৯৫ দশমিক ৭০ ভারতীয় রুপি) লাগবে। রাজ্য সরকার এ খরচের জন্য তাঁকে চার হাজার ডলার ঋণ দিয়েছে। বাকি অর্থ জোগাতে তাঁর পরিবার সঞ্চয়ের প্রায় শেষ সীমায় পৌঁছেছে।

    অতুলের বাবা গ্রামের একটি স্কুলে গণিত ও হিন্দি পড়ান। নিজের দৈনন্দিন খরচ মেটাতে অতুল রাতে ফ্রিল্যান্স গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ করেন। ভাগ্য ভালো হলে প্রযুক্তি খাতে বছরে ১০ হাজার ডলার বেতনের চাকরি পেতে পারেন বলে তাঁর আশা। তিনি বলেন, ‘আমার স্বপ্ন খুব বড় নয়। আমি ঋণ ও পরিবারের খরচের বোঝা কমাতে চাই।’

    এই পরিস্থিতির মধ্যেই অতুল গত মাসের দিল্লির যন্ত্রর মন্ত্ররে সিজেপির আন্দোলনের শেষ দিনে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য, তিনি আন্দোলনকারী হিসেবে নয়, বরং নিজেদের নানা অভিযোগ জানানোর জন্য সেখানে জড়ো হওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানাতে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো রাজনৈতিক কারণে সেখানে যাইনি।’ তাঁর বন্ধু এম জে বিশ্বাস আন্দোলনকারীদের ঘোষিত দাবির বিষয়ে সন্দিহান ছিলেন। তাঁদের দাবির মূল বিষয় ছিল ভারতের পরীক্ষা নেওয়ার পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনা। বিশ্বাসের মতে, আন্দোলনের পেছনে আরও গভীর একটি কারণ ছিল। আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ক্ষোভ আসলে তোমাদের ভয় ঢাকার মুখোশ। তোমরা সবাই ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব ভীত।’

    অক্ষয় সাক্সেনা ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার সুবিধাপ্রাপ্ত দিকটি কেমন, তা জানেন। তিনি দেশের অভিজাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বোম্বেতে পড়েছেন। পরে তিনি বোস্টন কনসালটিং গ্রুপে যোগ দেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিতে নতুন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সহায়তা করেন। এখন তিনি অবন্তী ফেলোসের মাধ্যমে মেধাবী ও নিম্ন আয়ের শিক্ষার্থীদের অভিজাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়তা করেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে পরীক্ষার প্রস্তুতি ও নিবিড় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

    কিন্তু শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যত আসন আছে, সেখানে ভর্তির চেষ্টা করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি। একইভাবে ভালো চাকরির সংখ্যার তুলনায় স্নাতকের সংখ্যা অনেক বেশি। এর ফলে বেসরকারি শিক্ষার বিশাল একটি খাত পরিবারগুলোর কাছে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ওপরে ওঠার সম্ভাবনা বিক্রি করছে। অথচ সেই সম্ভাবনা দিন দিন কমে যাচ্ছে। অক্ষয় সাক্সেনা বলেন, ‘বাস্তবে কেউই চাকরি পাবে না। মানুষের অসহায়তাকেই অর্থ উপার্জনের উপায় বানানো হবে।’

  • এভারগ্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    এভারগ্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    বিশ্বের সবচেয়ে ঋণগ্রস্ত আবাসন প্রতিষ্ঠান চায়না এভারগ্র্যান্ড গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার চীনের একটি আদালত এ রায় দেন। প্রতিষ্ঠানটির পতনের ফলে চীনের অর্থনীতি ও আর্থিক বাজার কেঁপে ওঠার পাঁচ বছর পর এ রায় এল।

    হুই কা ইয়ান একসময় এশিয়ার শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ছিলেন। এপ্রিলে তহবিলের অপব্যবহার, অর্থ সংগ্রহের নামে প্রতারণা, বেআইনিভাবে জনগণের আমানত গ্রহণ, বেআইনিভাবে ঋণদান, প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সিকিউরিটিজ ইস্যু করা, ঘুষ প্রদানসহ আটটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন তিনি।

    চীনের একসময়কার প্রধান আবাসন প্রতিষ্ঠান এভারগ্র্যান্ড ৩০ হাজার কোটি ডলারের দায়–দেনার অধিকাংশ পরিশোধে ব্যর্থ (ডিফল্ট) হয়েছে। তাদের এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে নিচের দিকে টেনে রাখা আবাসন খাতের সংকটের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ‘আমাদের অর্থের কী হবে’

    চীনের দক্ষিণের শহর শেনঝেনের আদালতে দেওয়া এই রায়ে হুই কা ইয়ানের সব ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁর শূন্য থেকে শিখরে পৌঁছানোর গল্পের সমাপ্তি ঘটল। তবে এতে এভারগ্র্যান্ডের দেশি-বিদেশি পাওনাদারদের আশ্বস্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

    এভারগ্র্যান্ডের অবসায়নকারীরা (লিকুইডেটর) এই রায়ের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। রয়টার্স ইয়ানের আইনি প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। ২০২৩ সালে এভারগ্র্যান্ডের খেলাপি হওয়ার পর চীনা কর্তৃপক্ষ তাঁকে আটক করেছিল। এরপর তাঁকে আর থেকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

    আদালত থেকে প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, দীর্ঘ হাতাযুক্ত নেভি ব্লু কলার শার্ট পরা ৬৭ বছর বয়সী পাকা চুলের ইয়ান দুই কর্মকর্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন এবং আদালত রায় পড়ে শোনাচ্ছেন।

    আদালত এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এভারগ্র্যান্ড গ্রুপ, হেংদা রিয়েল এস্টেট এবং হুই কা ইয়ানের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিপুল অঙ্কের অর্থ ও চরম গুরুতর অনিয়ম জড়িত ছিল। এর ফলে গুরুতর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতি হয়েছে, যা আইন অনুযায়ী কঠোরভাবে শাস্তিযোগ্য।’

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি গ্রুপে এভারগ্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ক্রেতারা নানা মন্তব্য করেছেন। একজন মন্তব্য করেছেন, ‘সব সাধারণ নাগরিককেই মাশুল দিতে হয়েছে।’ আরেকজনের মন্তব্য,‘কারাদণ্ড মূলত তাঁকে রক্ষা করার জন্য। তিনি বাইরে এলে তাঁর জীবন ঝুঁকিতে পড়বে।’ আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘আমাদের অর্থের কী হবে?’

    ইয়ানের শাস্তির পাশাপাশি আদালত জানিয়েছেন, তাঁরা এভারগ্র্যান্ডকে ৮৮২ কোটি ইউয়ান(১৩১ কোটি ডলার) এবং এর প্রধান সহযোগী প্রতিষ্ঠান হেংদাকে ৭০০ কোটি ইউয়ান জরিমানা করেছেন। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির আরও পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তাকে জরিমানা এবং ৬ থেকে ১৮ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, ইয়ান ছাড়া এভারগ্র্যান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত মোট ৫৬ ব্যক্তিকে আজ বৃহস্পতিবার কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    ওয়েলথ-ম্যানেজমেন্ট প্রোডাক্টের শত শত কোটি ডলার ফেরত দিতে কোম্পানির ব্যর্থতার কারণে বিক্ষোভ শুরু হয়। এতে সামাজিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছিল। কারণ, অনেক কম আয়ের সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তাঁদের সঞ্চয় হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিলেন।

    আকাশ থেকে তোলা ছবিতে চীনের হাইনান প্রদেশের দানঝৌতে চায়না এভারগ্র্যান্ড গ্রুপের নির্মিত ৩৯টি ভবন। ৬ জানুয়ারি, ২০২২, হাইনান প্রদেশ

    বছরের পর বছর ঝুলছে এভারগ্র্যান্ডের অবসায়ন প্রক্রিয়া

    মধ্য হেনান প্রদেশের এক গ্রামে দাদির কাছে বেড়ে ওঠা সাবেক ইস্পাত টেকনিশিয়ান ইয়ান ১৯৯৬ সালে এভারগ্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেন। আগ্রাসীভাবে ঋণ নিয়ে বিক্রির দিক থেকে এটিকে চীনের সর্ববৃহৎ আবাসন উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন।

    ফোর্বসের তথ্যমতে, ২০১৭ সালে ইয়ানের নিট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৪৫৩ কোটি ডলার, যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

    হংকংয়ের এক আদালত ২০২৪ সালে এভারগ্র্যান্ডকে অবসায়নের (লিকুইডেশন) নির্দেশ দেন এবং হংকং স্টক এক্সচেঞ্জ গত বছর এটিকে তালিকাচ্যুত করে। এর মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানের পতন ত্বরান্বিত হয়।

    অবসায়নকারীদের মতে, অবসায়নপ্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত পাওনাদারদের ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের দাবির বিপরীতে মাত্র ২৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার মূল্যের সম্পদ বিক্রি করা সম্ভব হয়েছে।

    চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে অবসায়নকারীরা ইয়ান ও তাঁর সাবেক স্ত্রীর অফশোর সম্পদ জব্দ করার জন্য আদালতে লড়াই করছেন, যাতে প্রতিষ্ঠাতা ও অন্যান্য সাবেক কর্মকর্তার পরিশোধ করা ৬০০ কোটি ডলারের লভ্যাংশ ও বেতন উদ্ধার করা যায়।

    ২০২৪ সালে চীনের সিকিউরিটিজ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইয়ানকে ৬৬ লাখ ডলার জরিমানা করেছিল। সিকিউরিটিজ মার্কেট থেকে তাঁকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল। কারণ, তদন্ত করে দেখা গিয়েছিল, এভারগ্র্যান্ডের মূল শাখা আয় বাড়িয়ে দেখিয়েছিল এবং সিকিউরিটিজ জালিয়াতি করেছিল।

  • ইসলাম ধর্ম গ্রহণের গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন কার্লোস

    ইসলাম ধর্ম গ্রহণের গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন কার্লোস

    ব্রাজিলের সাবেক তারকা ফুটবলার রবার্তো কার্লোস এবার মুখ খুললেন। মরক্কোর নাগরিক সুহাইলা আল-তাহিরিকে বিয়ে করার পর তার ইসলাম গ্রহণ নিয়ে অনেক গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। এই গুজবের জবাব দিলেন তিনি নিজেই। সেই খবরকে সরাসরি নাকচ করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি এই ফুটবলার। একই সঙ্গে ইসলামের প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

    সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, ব্রাজিলের মুসলিম সম্প্রদায়ের পরিচিত ব্যক্তি শেখ জিহাদ হামাদার কাছে শাহাদাহ পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেছেন ৫৩ বছর বয়সী কার্লোস। তুরস্কের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির সংসদ সদস্য আলী শাহিনের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।

    আলী শাহিন জানিয়েছিলেন, সাও পাওলোতে শেখ জিহাদ হামাদার সঙ্গে সাক্ষাতের পর কার্লোস ইসলাম গ্রহণ করেছেন। এর সঙ্গে ইসলামি রীতিতে বিয়ের কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়ায় গুঞ্জন আরও জোরালো হয়।

    তবে সৌদি সংবাদমাধ্যম ‘ওকাজ’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কার্লোস পরিষ্কার করে দিয়েছেন, তার ইসলাম গ্রহণের খবর সত্য নয়। তিনি বলেন, ‘ইসলামের প্রতি আমার সর্বোচ্চ সম্মান রয়েছে। আমার স্ত্রীকে নামাজ পড়তে দেখা দারুণ এক অভিজ্ঞতা, তবে আমার ধর্মান্তরিত হওয়ার যে খবর ছড়িয়েছে তা সম্পূর্ণ অসত্য।’

    বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়েও তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির ব্যাখ্যা দিয়েছেন সাবেক এই লেফটব্যাক। তার পরিবারের সদস্যরা ক্যাথলিক হওয়ায় তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী একটি আয়োজন ছিল। একই সঙ্গে তার মরক্কান স্ত্রী ও মুসলিম বন্ধুদের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে ইসলামি রীতিতেও আয়োজন করা হয়।

    কার্লোস বলেন, ‘আমার পরিবারের সদস্যরা ক্যাথলিক। তাদের বিশ্বাসকে সম্মান জানিয়ে যেমন আয়োজন ছিল, তেমনই আমার মরোক্কান স্ত্রী ও তার মুসলিম বন্ধুদের ব্যাকগ্রাউন্ডের কথা মাথায় রেখে সেই ধর্মীয় রীতিও রাখা হয়েছিল।’ কার্লোস স্পষ্ট করেছেন, স্ত্রীর ধর্মের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অর্থ এটা নয় যে তিনি নিজে ধর্ম পরিবর্তন করেছেন।

    সোহাইলা আল তাহিরির সঙ্গে নিজের সম্পর্কের শুরু নিয়েও কথা বলেছেন কার্লোস। ফুটবল-সংক্রান্ত একটি ব্যবসায়িক বৈঠকে তাদের প্রথম পরিচয় হয়। সোহাইলাকে সফল নারী ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করে কার্লোস জানান, প্রায় দুই বছর ধরে তাদের সম্পর্ক। এই সময়ে ব্যক্তিগত ও পেশাগত—দুই ক্ষেত্রেই তাদের বোঝাপড়া আরও গভীর হয়েছে।

    কার্লোসের জন্য এটি তৃতীয় বিয়ে। প্রথম স্ত্রী আলেকজান্দ্রা পিনহেইরোর সঙ্গে ২০০৩ সালে বিচ্ছেদ হয়। সেই সংসারে তার তিন সন্তান। এরপর ২০০৯ সালের জুনে মারিয়ানা লুকনের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। ১৫ বছরের বেশি সময় সংসারের পর ২০২৫ সালের শুরুতে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এই সংসারে কার্লোসের ২টি কন্যাসন্তান রয়েছে। সব মিলিয়ে ৭ জন নারীর গর্ভে কার্লোসের ১১ সন্তান।

    ব্রাজিলের হয়ে ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী কার্লোস ক্লাব ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি আলো ছড়িয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদে। স্প্যানিশ ক্লাবটির হয়ে ১১ মৌসুমে পাঁচ শতাধিক ম্যাচ খেলে জিতেছেন তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও চারটি লা লিগা শিরোপা। ১৯৯৭ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে তার অবিশ্বাস্য বাঁকানো ফ্রি-কিক গোলও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় গোল।

  • যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ছাড়াল ৪০ লাখ কোটি ডলার

    যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ছাড়াল ৪০ লাখ কোটি ডলার

    আন্তর্জাতিক ডস্ক:

    যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন (৪০ লাখ কোটি) ডলার ছাড়িয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে ব্যয় যেভাবে হু হু করে বাড়ছে, সে তুলনায় করছাড়ের কারণে রাজস্ব আদায় অনেক কম হচ্ছে। ফলে এক বড় ধরনের আর্থিক সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ দৈনিক নগদ অর্থ ও ঋণস্থিতি বিবরণী অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সরকারি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক শূন্য ৪৭ ট্রিলিয়ন (৪০ লাখ ৪ হাজার ৭০০ কোটি) ডলার। এর মধ্যে জনগণের কাছে থাকা ট্রেজারি সিকিউরিটিজের পরিমাণ ৩২ দশমিক ২৬৬ ট্রিলিয়ন ডলার ও সরকারের বিভিন্ন সংস্থার ঋণ ৭ দশমিক ৭৮২ ট্রিলিয়ন ডলার।

    মাত্র এক দশকের কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশটির সরকারি ঋণ ছিল ১৯ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার।

    সরকারি ঋণ বৃদ্ধির প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ঘটেছে ট্রাম্প ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে কোভিড-১৯ মহামারির ধাক্কা সামলাতে সরকারের নেওয়া জরুরি ঋণ কর্মসূচির কারণে। বাকি দুই-তৃতীয়াংশ ঋণের জন্য দায়ী এ দুই প্রেসিডেন্টের নেওয়া আর্থিক নীতি এবং দীর্ঘদিনের কর ও ব্যয়ের মধ্যকার কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা।

    বাজেট পর্যবেক্ষণকারী গোষ্ঠীগুলো বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই ঋণের পরিমাণ রেকর্ড ছাড়ানোর আশঙ্কা করছিল। তারা সতর্ক করে বলেছে, আইনপ্রণেতারা যদি এখনই এ বিপজ্জনক পরিস্থিতি সামাল দিতে কঠোর ব্যবস্থা না নেন, তবে দেশটিতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকট নেমে আসবে।

    নিরপেক্ষ গবেষণা সংস্থা কমিটি ফর এ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেটের প্রেসিডেন্ট মায়া ম্যাকগিনিস বলেছেন, ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ শুধু সরকারের খাতা-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে টের পাওয়া যায় এবং ঘুরেফিরে কোনো না কোনোভাবে সাধারণ মানুষের পকেটেই টান পড়ে।

    ম্যাকগিনিস বলেন, সরকার যত বেশি ঋণ নেবে, মূল্যস্ফীতির চাপ তত বাড়বে, বাজেটের অন্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় কমানোর চাপ তৈরি হবে এবং দেশের ভেতরের জরুরি পরিস্থিতি বা বিদেশে অস্থিরতার সময় যুক্তরাষ্ট্র আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

    ম্যাকগিনিস আরও বলেন, ১৯৮১ সালে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল। অথচ ঋণ ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর মাত্র পাঁচ মাসের কম সময়ের মধ্যে এটি ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঘর ছুঁয়েছে। গত ২০ বছরের কম সময়ে দেশটির ঋণের পরিমাণ ৪ গুণ বেড়েছে।

    ট্রাম্প-বাইডেনের আমলে ঋণ বেড়েছে

    যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ বৃদ্ধির পেছনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেনের সময়কার বিভিন্ন নীতির পাশাপাশি দীর্ঘদিনের আয়ব্যয়ের ভারসাম্যহীনতা দায়ী। এর মধ্যে করোনাভাইরাস মহামারির সময় সরকারের বিপুল ব্যয়ও বড় ভূমিকা রেখেছে।

    ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ বেড়েছে ৭ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। এর অর্ধেকের বেশি বেড়েছিল তাঁর মেয়াদের শেষ ৯ মাসে, মহামারি মোকাবিলায় সরকারি ব্যয়ের কারণে।

    ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আরও ৩ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ বেড়েছে; অর্থাৎ দুই মেয়াদ মিলিয়ে তাঁর সময়ে এখন পর্যন্ত সরকারি ঋণ বেড়েছে ১১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার।

    অন্যদিকে জো বাইডেনের চার বছরের মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ বেড়েছিল ৮ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার। তাঁর সময়েও করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং অন্যান্য সরকারি কর্মসূচিতেও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।

    সুদ পরিশোধে বাড়ছে ব্যয়

    যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক সরকারি ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। এর প্রায় ৬০ শতাংশ যায় বাধ্যতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচিতে। এর মধ্যে রয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা, বয়স্কদের স্বাস্থ্যসেবা, নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা এবং সাবেক সেনাসদস্যদের চিকিৎসা।

    এ ছাড়া প্রতিবছর প্রায় ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধে। ঋণের পরিমাণ ও সুদের হার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এ ব্যয়ও বাড়ছে।

    ২০২৫ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যয় ছাড়িয়ে যায়। চলতি ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে সুদ পরিশোধের ব্যয় স্বাস্থ্যসেবা খাতের বড় কর্মসূচি মেডিকেয়ারে ব্যয়ের চেয়ে বেশি হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পর এটিই এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাজেটের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয়ের খাত।

    বাজেট–ঘাটতিও বাড়ছে

    গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি ছিল ৪৩২ বিলিয়ন ডলার। দেশটির ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় বাজেট ঘাটতি।

    শুল্ক থেকে পাওয়া আয় কমে যাওয়া এবং বয়স্কদের সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। চলতি ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট–ঘাটতি পুরো ২০২৫ অর্থবছরের ঘাটতিকে ছাড়িয়ে গেছে। চলতি অর্থবছর শেষ হতে এখনো দুই মাস বাকি।

    যুক্তরাষ্ট্রের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর অবসর ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ও সরকারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জন্ম নেওয়া বড় প্রজন্মটি অবসর নেওয়ায় সামাজিক নিরাপত্তা ও মেডিকেয়ারের মতো কর্মসূচিতে ব্যয় বাড়ছে। কিন্তু বেতন ও আয়কর থেকে সরকারের যে রাজস্ব আসে, তা এসব ব্যয় মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

  • মেলানিয়ার মতোই নাটালি ট্রাম্পকে ভালোবাসেন !

    মেলানিয়ার মতোই নাটালি ট্রাম্পকে ভালোবাসেন !

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও অনুগত সহকারীদের একজন নাটালি হার্প। সম্প্রতি তাঁকে নিয়ে ওয়াশিংটনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, ট্রাম্প নাকি বলেছেন, তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া ও সন্তানদের মতোই নাটালিও তাঁকে ভালোবাসেন।

    ৩৫ বছর বয়সী নাটালি হার্প ট্রাম্পের নির্বাহী সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। ১৬ আগস্ট এক সমাবেশে ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ তাঁর সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রসঙ্গ তোলার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

    অসফ বলেন, ট্রাম্প তাঁর হোয়াইট হাউসের বলরুম তৈরি করতে চান এবং কাতারের আমিরের উপহার দেওয়া উড়োজাহাজে নাটালিকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণ করতে চান।

    এরপরই রিপাবলিকানরা অসফের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র তাঁকে অপমানজনক ভাষায় আক্রমণ করেন।

    সিএনএনের এক নারী সাংবাদিক সিনেটর অসফের মন্তব্য নিয়ে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করার পর তাঁর সঙ্গে হার্পের সম্পর্ক নিয়ে মানুষের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পায়। পরে হোয়াইট হাউসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ওই সাংবাদিককে তিরস্কার করে পোস্ট দেওয়া হয়।

    এর মধ্যেই ট্রাম্পের প্রতি হার্পের গভীর অনুরাগ প্রকাশ করে লেখা কিছু চিঠির পুরোনো তথ্যও আবার সামনে এসেছে। ‘রেজিম চেঞ্জ’ বইয়ে এমন একটি চিঠির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে হার্প লিখেছিলেন, ‘আপনিই আমার কাছে সবকিছু।’

    বইটির লেখক দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ান। গত জুনে প্রকাশিত বইটিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তাঁর কর্মীদের বলেছিলেন, নাটালি হার্প ছাড়া মেলানিয়ার মতো করে তাঁকে ভালোবাসেন—এমন আর কেউ নেই।

    ট্রাম্প নাকি কর্মীদের বলেছিলেন, ‘তোমরা সবাই একসময় চলে যাবে এবং অর্থ উপার্জন করবে। কিন্তু সে (নাটালি) আমাকে কখনো ছেড়ে যাবে না।’

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর হোয়াইট হাউসের সহকারী নাটালি হার্পের সঙ্গে কথা বলছেন

    কীভাবে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হলেন হার্প

    ২০২২ সালে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারে যোগ দেওয়ার আগে নাটালি হার্প ডানপন্থী টেলিভিশন চ্যানেল ওয়ান আমেরিকা নেটওয়ার্কে উপস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন। সেখানে তিনি নিয়মিত ট্রাম্পের পক্ষে কথা বলতেন।

    ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেই তাঁদের পরিচয় হয়েছিল। হার্প দাবি করেছিলেন, ২০১৮ সালে ট্রাম্পের অনুমোদিত একটি আইনের কারণে তিনি হাড়ের ক্যানসারের পরীক্ষামূলক চিকিৎসার সুযোগ পেয়েছিলেন।

    ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারের সময় হার্পের কোনো আনুষ্ঠানিক পদ ছিল না। তবে তিনি একটি বহনযোগ্য প্রিন্টার সঙ্গে নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে ঘুরতেন। ট্রাম্পকে নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর প্রিন্ট করে তাঁর হাতে তুলে দিতেন। এ কারণে তাঁর ডাকনাম হয়ে যায় ‘মানব প্রিন্টার’।

    ২০২৫ সালে ট্রাম্প আবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর হার্প হোয়াইট হাউসে নির্বাহী সহকারী হিসেবে নিয়োগ পান। ট্রাম্পের কাছে পৌঁছাতে চাওয়া বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর জন্য তিনি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবেও কাজ করেন।

    ওভাল অফিসে নাটালিকে প্রায়ই দেখা যায়। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, রাত জেগে ট্রাম্পের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়ার জন্য পোস্ট তৈরিতেও তিনি কাজ করেন।

    ‘রেজিম চেঞ্জ’ বইয়ে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের সাজসজ্জায় ট্রাম্পের সোনালি রঙের পরিবর্তন নিয়ে তিনি যখন কর্মীদের কাছে জানতে চাইতেন, তখন তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকারী হার্প উচ্ছ্বসিত হয়ে ট্রাম্পের প্রশংসা করতেন।

    ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেলানিয়া ট্রাম্প

    নিরাপত্তা ছাড়পত্র নিয়েও প্রশ্ন

    নাটালি হার্পকে নিয়ে আরেকটি বিষয়ও সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এমএস নাউ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়েস্ট উইংয়ের কর্মীদের জন্য নিয়মিত যে নিরাপত্তা যাচাই করা হয়, সেটি ছাড়াই হার্প এক বছরের বেশি সময় ধরে হোয়াইট হাউসে কাজ করছেন।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, অজ্ঞাত কারণে নাটালি একাধিকবার এই নিরাপত্তা যাচাই করাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। এ ধরনের যাচাইয়ের সময় একজন ব্যক্তির আগের বাসস্থান, আর্থিক ইতিহাস, বিদেশি যোগাযোগসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

    পরে ট্রাম্প নিজেই এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন বলে জানা গেছে। এরপর নাটালি নিরাপত্তা যাচাইয়ের আবেদন করেন এবং সম্প্রতি ছাড়পত্রও পান।

    একজন জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রেসিডেন্টের এত কাছাকাছি থাকায় হোয়াইট হাউসের অন্য অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার তুলনায় নাটালির স্পর্শকাতর তথ্য পাওয়ার সুযোগ বেশি।

    তবে হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিব ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, ‘নাটালি হার্পের অন্য সবার মতোই নিরাপত্তা ছাড়পত্র রয়েছে। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একজন অনুগত ও পরিশ্রমী সদস্য।’

    ‘সম্পর্কটি অস্বাস্থ্যকর’

    ট্রাম্পের সঙ্গে নাটালির ঘনিষ্ঠতার খবর ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পও ভালোভাবে নেননি বলে জানা গেছে। হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম সেমাফোরকে বলেছে, ‘ফার্স্ট লেডি এ ধরনের বিষয় পছন্দ করেন না।’

    নাটালির ভাই প্রেস্টন হার্পও তাঁর বোনের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করেছেন। মঙ্গলবার সিএনএনকে তিনি এই সম্পর্ককে ‘অস্বাস্থ্যকর আসক্তি’ বলে বর্ণনা করেন।

    প্রেস্টনের দাবি, ট্রাম্পের আগে অন্য প্রেসিডেন্টদের কাছেও তাঁর বোন চিঠি লিখেছিলেন। ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং হোয়াইট হাউসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশেষে তার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।’

    নাটালি হার্প ও ট্রাম্পের সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশিত এসব তথ্যের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করেছে দ্য টেলিগ্রাফ। তবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে ইসরাইলের হুমকি

    তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে ইসরাইলের হুমকি

    সিরিয়ায় হস্তক্ষেপের ব্যাপারে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ানকে সতর্ক করেছেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ। তিনি অভিযোগ করেছেন, এরদোয়ান তুরস্ককে ‘বিপজ্জনক অভিযানে’ জড়িয়ে ফেলছেন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ইসরাইল তার নিরাপত্তার জন্য কোনো পক্ষকে হুমকি সৃষ্টি করতে দেবে না। তুরস্কের পার্লামেন্টে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘ফাঁকা ও অবাস্তব বক্তব্য’ দেওয়ার পরিবর্তে ইসরাইলের আত্মরক্ষার দৃঢ়তা পরীক্ষা না করাই এরদোয়ানের জন্য ভালো।

    সিরিয়ার পরিস্থিতি ও সেখানে বিভিন্ন দেশের ভূমিকা নিয়ে ইসরাইল ও তুরস্কের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। এর মধ্যেই তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই কঠোর বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • ঘুমন্ত ফিলিস্তিনিদের পুড়িয়ে মারতে বাড়িতে আগুন দিচ্ছে ইসরাইলিরা

    ঘুমন্ত ফিলিস্তিনিদের পুড়িয়ে মারতে বাড়িতে আগুন দিচ্ছে ইসরাইলিরা

    অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণ হেবরন এলাকায় এক ফিলিস্তিনি পরিবারের বাড়িতে আগুন দিয়েছে সশস্ত্র ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা। হামলার সময় পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যম।

    বাড়ির মালিক মোহাম্মদ আল-নাওয়াজা ফিলিস্তিনের বার্তা সংস্থা ওয়াফাকে বলেন, ভোররাতে পাঁচজন সশস্ত্র ও মুখোশধারী বসতি স্থাপনকারী তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। তাদের একজন জানালার কাচ ভেঙে ঘরের ভেতরে দাহ্য পদার্থ ছুড়ে দেয়। এতে বাড়িতে আগুন ধরে যায়।

    ফিলিস্তিনি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কাছের অবৈধ ইসরাইলি বসতি ওতনিয়েল থেকে আসা বসতি স্থাপনকারীরা এ হামলায় জড়িত থাকতে পারে।

    পশ্চিম তীরের দক্ষিণ নাবলুসের কুসরা গ্রামে ফিলিস্তিনিদের কয়েকটি বাড়ি ঘিরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের অবরোধ ১২তম দিনে গড়িয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী বসতি স্থাপনকারীদের সুরক্ষা দিচ্ছে।

    এখনো তিনটি বাড়ি অবরুদ্ধ রয়েছে। এসব বাড়ির বাসিন্দারা বাইরে যেতে বা ভেতরে প্রবেশ করতে পারছেন না। একটি বাড়িকে ইসরাইলি সেনারা সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন গ্রাম পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল আজিম ওয়াদি।

    তিনি আরও জানান, অবরুদ্ধ পরিবারগুলো খাদ্য ও ওষুধের সংকটে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা অবরোধে তাদের মানবিক পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা।

  • মিত্রদের কাছে সাহায্য ভিক্ষা চাইছে যুক্তরাষ্ট্র: ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    মিত্রদের কাছে সাহায্য ভিক্ষা চাইছে যুক্তরাষ্ট্র: ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    ইরানের আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেছেন, পরাজয়ের পর মিত্রদের কাছে সাহায্যের জন্য ‘ভিক্ষা চাইছে’ যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেইসঙ্গে যেসব দেশ ইরানকে সহায়তা বা দেশটির সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করবে তাদের ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি’ ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

    ট্রাম্পের এই হুমকির পর গারিবাদি এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, ‘তারা (যুক্তরাষ্ট্র) দাবি করছে ইরান পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে, সুতোর ওপর ঝুলছে, অথচ তারা তাদের সব মিত্রদের কাছে সাহায্যের জন্য ভিক্ষা চাইছে!’

    তিনি আরো বলেন, ‘সামরিক যুদ্ধ কোনো ফল দেয়নি, তাই এখন তারা পরবর্তী ব্যর্থতার নাম দিয়েছে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’।’

    এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সদ্য ঘোষিত অর্থনৈতিক যুদ্ধ ওয়াশিংটনের জন্য আরেকটি পরাজয় ডেকে আনবে। ট্রাম্পের এই ঘোষণা ইরানিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব আরো গভীর করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    বৃহস্পতিবার মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, ‘তথাকথিত ইকোনমিক ডি-ডে’ প্রকৃতপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সংকট থেকে দৃষ্টি সরানোর একটি কৌশল। দেশটির ঋণ নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং সুদের ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে।’

  • এবার মহারাষ্ট্রের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাইলেন ককরোচ প্রধান

    এবার মহারাষ্ট্রের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাইলেন ককরোচ প্রধান

    ভারতের মহারাষ্ট্রের সরকারি স্কুলগুলোর বেহাল দশা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বরং এবং তাদের চেয়ে মন্ত্রীদের কুকুররা ভালো সুযোগ-সুবিধা পায়।

    গত সপ্তাহে শুরু হওয়া সিজেপির ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি স্কুল পরিদর্শনের পর এসব কথা বলেন দিপকে।

    তার অভিযোগ, রাজ্যের বহু সরকারি স্কুলে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, বেঞ্চ, টয়লেট এবং নিরাপদ যাতায়াতের রাস্তার মতো মৌলিক সুবিধা নেই। কিছু স্কুলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘পশুর চেয়েও খারাপ আচরণ’ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    দিপকে বলেন, ‘এটি শিক্ষার্থীদের জীবনের প্রশ্ন। রাজনৈতিক নেতারা যদি শিক্ষার্থীদের জন্য কিছুই না করেন, তাহলে মানুষ কেন তাদের ভোট দেবে? শুধু হেলিকপ্টারে ভ্রমণ করার জন্য কি মানুষ তাদের ভোট দেয়? মানুষের উচিত তাদের সন্তানরা কী অবস্থায় পড়াশোনা করছে, তা দেখা। এই অবস্থার চেয়ে এসব মন্ত্রীর কুকুরও ভালো সুবিধা পায়।’

    শিক্ষার উন্নয়নে রাজনৈতিক নেতাদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোট চাইতে আসার আগে নেতাদের স্কুলসংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয়, জাতপাত ও সম্প্রদায়ের পতাকা নিয়ে মানুষ যেমন ঘর থেকে বের হয়, তেমনি সন্তানদের স্কুলের স্বার্থেও সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

    ধর্মকে কেন্দ্র করে রাজনীতির সমালোচনা করে দিপকে বলেন, শিশুদের শিক্ষা ও ভবিষ্যতের প্রতি আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তার ভাষায়, ‘তারা সব সময় বলে ধর্ম বিপদে আছে। এত বছরেও যে ধর্ম শেষ হয়নি, সেটি কি তাদের শাসনামলেই শেষ হয়ে যাবে? ধর্ম কোথাও যাবে না, কিন্তু শিশুদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’

    তিনি আরও বলেন, সরকারি স্কুলগুলোর প্রকৃত অবস্থা বুঝতে মন্ত্রী ও বিধায়কদের নিজেদের সন্তানদের এসব স্কুলে পড়ানো উচিত।

    শিক্ষামন্ত্রী দাদা ভুসের পদে থাকা উচিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে দিপকে বলেন, স্কুলগুলোর বর্তমান অবস্থা দেখে তার মনে হচ্ছে শিক্ষামন্ত্রীর ওই পদে থাকা উচিত নয়।

    দিপকের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পরও সরকার সরকারি স্কুলগুলোর উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন করতে পারেনি। এখনও অনেক শিক্ষার্থী টিনের ফুটো ছাদের নিচে এবং পর্যাপ্ত বেঞ্চ ছাড়াই পড়াশোনা করছে।

    তিনি বলেন, ‘১০ বছরেও যদি এসব মৌলিক সমস্যা সমাধান করা না যায়, তাহলে সরকারকে ব্যাখ্যা করতে হবে তারা কী অর্জন করেছে।’

    স্কুলে পৌঁছাতে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবহনের ব্যবস্থারও দাবি জানান তিনি। স্কুলে সাপের কামড়ে শিশুদের মৃত্যুর অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এমন ঘটনা নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের ব্যর্থতাকেই সামনে আনে।

    এর আগে সিজেপির একটি দল যে স্কুল পরিদর্শন করেছিল, সেখানে স্কুল ভবনের পেছনে জমে থাকা আবর্জনা ও পরিত্যক্ত জিনিসপত্রের কারণে সাপের উপদ্রবের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন দিপকে।

    তবে সিজেপির পরিদর্শনের পর কিছু স্কুলে কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

    ২০২৯ সালের নির্বাচনে জেন-জেড প্রজন্ম বড় একটি ভোটশক্তি হয়ে উঠবে উল্লেখ করে দিপকে বলেন, তরুণদের সমস্যাগুলো উপেক্ষা করলে ভবিষ্যতে সরকারকে তাদের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

    সরকারি স্কুলগুলোর অবস্থার উন্নতি না হলে গ্রামজুড়ে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

    এ ছাড়া লাতুরে নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সিবিআই তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন দিপকে। তার অভিযোগ, তদন্তে নিচু পর্যায়ের অভিযুক্তদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, আর প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে।

  • নৌপথে অবাধ চলাচলে হুমকি সহ্য করা হবে না: মিশর

    নৌপথে অবাধ চলাচলে হুমকি সহ্য করা হবে না: মিশর

    মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি বলেছেন, কোনো দেশকেই অবাধ নৌচলাচলের পথে বাধা হতে দেওয়া হবে না, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী, বাব আল-মানদেব এবং লোহিত সাগরে। খবর আলজাজিরার। বৃহস্পতিবার আল-আলামেইনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

    তিনি বলেন, ‘নৌচলাচলের ওপর হুমকি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য একটি সরাসরি হুমকি।’

    আবদেলাত্তি আরো বলেন, নৌ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনবিষয়ক চুক্তির আলোকে গুরুত্বপূর্ণ সব প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

    বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার পাশাপাশি লোহিত সাগর ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

  • ইমরানকে নিয়ে বেকায়দায় সরকার

    ইমরানকে নিয়ে বেকায়দায় সরকার

    এমন রাজনৈতিক বন্দি আছেন, যাদের জীবিত থাকাই শাসকদের আতঙ্কিত করে। আবার এমন শহীদও আছেন, যাদের মৃত্যুর স্মৃতিই শাসকদের ভয় দেখায়। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দেশটির ক্ষমতা কাঠামোর জন্য এক জটিল পরিস্থিতির তৈরি করেছেন—যার অস্তিত্বই এখন শাসকদের অস্বস্তিতে ফেলে, আর কারাগারে তার মৃত্যু ঘটলে সেটি পুরো ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র হয়ে উঠতে পারে।

    পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং সামরিক ছত্রচ্ছায়ায় থাকা দুই রাজনৈতিক পরিবার—শরিফ ও ভুট্টো-জারদারি পরিবার—এখন সেই ফাঁদেই আটকে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে।

    পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ৭৩ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসককে মেডিকেল বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা এবং পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

    একটি স্বাভাবিক সাংবিধানিক রাষ্ট্রে এসব বিষয়কে বিশেষ কোনো ‘স্বস্তি’ বা ছাড় হিসেবে বিবেচনা করা হতো না। এগুলো হতো একজন বন্দির সাধারণ অধিকার। কিন্তু পাকিস্তানে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে চিকিৎসক দেখার অধিকারও এখন সাংবিধানিক অগ্রগতি হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে।

    সরকার রায়ের একটি অংশকে চ্যালেঞ্জ করার চেষ্টা করায় পরিস্থিতির বিদ্রুপ আরো স্পষ্ট হয়েছে। নির্বাচনী প্রকৌশল, রাজনৈতিক মামলা, ব্যাপক দমন-পীড়ন ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকৃতি যেন রাষ্ট্রের জন্য সহনীয়; কিন্তু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া যেন সাংবিধানিক শৃঙ্খলার জন্য বড় হুমকি।

    এর আড়ালে অবশ্য হাস্যকর পরিস্থিতির চেয়েও বড় বিষয় হলো—আতঙ্ক।

    ইমরান খানকে কারাগারে পাঠানোর উদ্দেশ্য ছিল তাকে রাজনৈতিকভাবে ছোট করে দেওয়া। জনসভা, টেলিভিশন ও রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা, মামলার পর মামলা দিয়ে তাকে ব্যস্ত রাখা, তার দলকে দুর্বল করা এবং বিচ্ছিন্নতার মাধ্যমে এমন কিছু অর্জন করা, যা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় সম্ভব হয়নি।

    কিন্তু ফল হয়েছে উল্টো। রাষ্ট্র একজন মানুষকে বন্দি করেছে, আর বন্দিত্ব সেই মানুষটিকেই প্রতীকে পরিণত করেছে। এটাই আসিম মুনিরের জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দুঃস্বপ্ন।

    একজন সুস্থ বন্দিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। কিন্তু দৃশ্যত অসুস্থ হয়ে পড়া একজন বন্দি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগে পরিণত হয়। আর কারাগারে মারা যাওয়া একজন রাজনৈতিক বন্দি ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়। আর ইতিহাস সংসদের চেয়ে অনেক কম বাধ্য।

    বিদেশে আসিম মুনিরকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অংশীদার হিসেবে স্বাগত জানানো হতে পারে, রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে তার ছবি তোলা হতে পারে কিংবা তাকে পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের অপরিহার্য ব্যবস্থাপক হিসেবে দেখা হতে পারে। কিন্তু দেশের ভেতরে প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে বছরের পর বছর কারাগারে রাখতে বাধ্য হওয়া শক্তির আত্মবিশ্বাস নয়, বরং ভয়েরই প্রকাশ।

    ক্ষমতার পদক যত বড় হচ্ছে, রাজনৈতিক কল্পনাশক্তি যেন ততই ছোট হয়ে আসছে।

    ইমরান খানকে মুক্তি দিলে তিনি কারাগারে যাওয়ার আগের সেই রাজনীতিক হিসেবে ফিরবেন না। বরং বয়সে প্রবীণ, শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং আরো বেশি প্রতীকী শক্তি নিয়ে ফিরে আসতে পারেন। তার হাতে থাকবে গণ রাজনীতির সবচেয়ে শক্তিশালী একটি যুক্তি—দেশের পুরো রাষ্ট্রীয় ও দমনমূলক কাঠামোকে একজন মানুষকে ভোটারের কাছে পৌঁছানো থেকে বিরত রাখতে ব্যবহার করা হয়েছিল।

    অন্যদিকে, কারাগারে ইমরান খানের মৃত্যু ঘটলে বিষয়টি আর রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সেটি রাজনৈতিক বিস্ফোরণের রূপ নিতে পারে। মৃত্যু নির্মমভাবে ইতিহাসকে সম্পাদনা করে।

    জীবিত একজন রাজনীতিককে সমালোচনা করা যায়, উপহাস করা যায়, ব্যর্থতার জন্য দায়ী করা যায় কিংবা নির্বাচনে পরাজিত করা যায়। কিন্তু একজন মৃত রাজনৈতিক বন্দিকে স্মৃতি অনেক সময় জটিলতা থেকে মুক্ত করে দেয়। মামলার নথি হারিয়ে যায়, অভিযোগ ঝাপসা হয়ে যায়, আইনি যুক্তি মানুষের স্মৃতি থেকে মুছে যায়।

    শেষ পর্যন্ত থেকে যায় একটি ছবি—বছরের পর বছর রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকার পর, পর্যাপ্ত চিকিৎসার দাবির মধ্যেই একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু।

    প্রতিবাদের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ ব্যাখ্যা বা আইনি ফুটনোট লেখা যায় না। এই কারণেই ইমরান খান জীবিত থাকলেও আসিম মুনিরের জন্য চ্যালেঞ্জ, আবার তার মৃত্যু ঘটলেও সেটি আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

    জীবিত ইমরান খান একজন জনপ্রিয় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। মৃত ইমরান খান হয়ে উঠতে পারেন এমন এক স্থায়ী নৈতিক অভিযোগ, যাকে নিয়ন্ত্রণ করা অনেক বেশি কঠিন। এ ক্ষেত্রে শরিফ ও ভুট্টো-জারদারি পরিবারও দায় এড়াতে পারে না।

    তারা একদিকে গণতন্ত্র ও সাংবিধানিকতার কথা বলবে, অন্যদিকে এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার সুবিধা নেবে, যার স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীকে নিষ্ক্রিয় রাখার ওপর—এই দ্বৈত ভূমিকা তারা অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যেতে পারবে না।

    তারা বেসামরিক কর্তৃত্বের কথা বলে, কিন্তু রাওয়ালপিন্ডির দীর্ঘ ছায়ার নিচে ক্ষমতা পরিচালনা করে। তারা পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়কে উত্তরাধিকারের সম্পত্তির মতো বহন করে, তারপর বিস্মিত হয় কেন জনগণ নির্বাচনি রাজনীতিকে ক্রমেই সামন্ততান্ত্রিক নাট্যমঞ্চ হিসেবে দেখতে শুরু করেছে।

    শরিফরা ক্ষমতা চায়, কিন্তু কে সেই ক্ষমতার নিশ্চয়তা দিচ্ছে তা স্বীকার করার অস্বস্তি এড়াতে চায়। ভুট্টো-জারদারি পরিবার গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের দাবি রাখতে চায়, কিন্তু প্রকৃত গণতান্ত্রিক ঝুঁকি নিতে চায় না।

    ফলে উভয় রাজনৈতিক পরিবারই এমন একটি ব্যবস্থার রাজনৈতিক অংশীদারে পরিণত হয়েছে, যাকে তারা কখনো কখনো সমালোচনা করে, আবার বারবার তার মধ্যেই নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করে।

    এই বাস্তবতায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কেবল চিকিৎসাসংক্রান্ত হস্তক্ষেপ নয়। এটি এমন একটি ব্যবস্থার ভয়াবহ দারিদ্র্যকে প্রকাশ করে, যেখানে মানুষের মৌলিক অধিকারও এখন বিপ্লবী দাবি বলে মনে হয়—কারণ অধিকারবঞ্চনাকেই স্বাভাবিক করে তোলা হয়েছে।

    একটি আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্র একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞকে ভয় পায় না। একটি আত্মবিশ্বাসী সরকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার অধিকার ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ হয় না।

    একটি আত্মবিশ্বাসী সামরিক প্রতিষ্ঠান একজন ৭৩ বছর বয়সী রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে সামলাতে কারাগার, মামলা, তথ্য নিয়ন্ত্রণ এবং বংশানুক্রমিক রাজনৈতিক সহযোগীদের প্রয়োজন বোধ করে না।

    আসিম মুনিরের হাতে সেনাবাহিনী আছে। শরিফদের হাতে মন্ত্রণালয় আছে। ভুট্টো-জারদারিদের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতার নিজস্ব রাজনৈতিক অংশ রয়েছে। তাদের সবার হাতে রয়েছে প্রতিষ্ঠান, নেটওয়ার্ক এবং রাষ্ট্রীয় শক্তি।

    কিন্তু ইমরান খানের কাছে এমন একটি জিনিস রয়েছে, যা কোনো প্রজ্ঞাপন, সাংবিধানিক সংশোধনী কিংবা নিয়োগের মাধ্যমে তৈরি করা যায় না—রাজনৈতিক অর্থ ও প্রতীকী শক্তি।

    তাকে জীবিত রাখলে সেই শক্তি তাদের চ্যালেঞ্জ করবে। তাকে, মুক্তি দিলে সেই শক্তি আবার রাজপথে ফিরে আসতে পারে।

    আর তাকে মরতে দিলে সেই শক্তি হয়তো তাদের সবাইকে ছাড়িয়ে বহু দূর পর্যন্ত বেঁচে থাকবে। এটি কোনো সর্বময় কর্তৃত্বের ছবি নয়। এটি এক ধরনের ফাঁদ।

    রাওয়ালপিন্ডির ক্ষমতাকেন্দ্র এমন একজন বন্দিকে পেয়েছে, যাকে স্বস্তিতে মুক্তি দেওয়া যায় না, নিরাপদে ভেঙে ফেলা যায় না, আবার হারিয়েও ফেলা যায় না।

    আর তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রাজনৈতিক পরিবারগুলোরও একই কঠিন সত্য বুঝতে হবে—

    যখন একটি রাষ্ট্র একজন মানুষের হৃদস্পন্দন এবং সেই হৃদস্পন্দন থেমে যাওয়া—দুটোকেই ভয় পেতে শুরু করে, তখন সেই বন্দিই আর কক্ষের সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তি থাকে না।

  • বিশ্ব মশা দিবস আজ

    বিশ্ব মশা দিবস আজ

    বিশ্ব মশা দিবস আজ। প্রতি বছর ২০ আগস্ট পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হয়। মশাবাহিত রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, এসব রোগের বিস্তার রোধ এবং মশা নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা তৈরিই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য।

    ১৮৯৪ সালে ব্রিটিশ চিকিৎসক প্যাট্রিক ম্যানসন ও ভারতীয় মেডিকেল সার্ভিসের কর্মকর্তা রোনাল্ড রস ম্যালেরিয়া পরজীবী ছড়ানোর ক্ষেত্রে মশার ভূমিকা নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। দীর্ঘ গবেষণার পর ১৮৯৭ সালের ২০ আগস্ট তারা প্রমাণ করেন, অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়া পরজীবী বহন করতে পারে। এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের জন্য পরবর্তীতে রোনাল্ড রস নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। তাদের সেই আবিষ্কারের স্মরণেই ২০ আগস্ট বিশ্ব মশা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

    বাংলাদেশের জন্য দিবসটির গুরুত্ব আরও বেশি। উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া মশার বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল হওয়ায় দেশে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি সবসময়ই রয়েছে। গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১২৬ প্রজাতির মশা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ১৪ থেকে ১৬ প্রজাতির মশার উপস্থিতি পাওয়া যায়।

    বাংলাদেশে মশাবাহিত রোগগুলোর মধ্যে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া ও জাপানিজ এনকেফালাইটিস উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেঙ্গু জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • হরমুজের নিয়ন্ত্রণ সশস্ত্র বাহিনীর হাতে দেয়া হচ্ছে।

    হরমুজের নিয়ন্ত্রণ সশস্ত্র বাহিনীর হাতে দেয়া হচ্ছে।

    ইরানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর সার্বিক ব্যবস্থাপনা, নজরদারি ও পরিদর্শন ব্যবস্থা পুরোপুরি দেশটির নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ এবং সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে আনার একটি নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রস্তাব করা হয়েছে। ইরানের পার্লামেন্ট সদস্য ইব্রাহিম রেজাই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বুধবার (১৯ আগস্ট) জানিয়েছে, কৌশলগত নৌপথে জাহাজ চলাচল, ফি আদায় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় নতুন প্রস্তাবিত খসড়া পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে যেসব জলযানকে শত্রুপক্ষের, গোয়েন্দাগিরিতে জড়িত বা ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, হরমুজ প্রণালীতে সেগুলোর প্রবেশ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হবে।

    প্রস্তাবনার অধীনে, প্রণালীটি দিয়ে যাতায়াতকারী যেকোনো বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজ থেকে ট্রানজিট ফি এবং বিভিন্ন সেবা মাশুল আদায়ের যাবতীয় নিয়মকানুন ও নীতি নির্ধারণের দায়িত্বও দেয়া হবে সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফকে।

    ইরানি আইনপ্রণেতা রেজাই আরো স্পষ্ট করেন, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে যদি ইরানের স্বার্থের কোনো ক্ষতি করা হয়, তবে তার জন্য দায়ী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হরমুজ প্রণালীকে ব্যবহার করেই পাল্টা জবাব দিতে পারবে তেহরান। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের জাহাজের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ কিংবা তাদের জলযান ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার মতো কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে।

  • হরমুজ আমেরিকার হলে ক্যালিফোর্নিয়া ইরানের

    হরমুজ আমেরিকার হলে ক্যালিফোর্নিয়া ইরানের

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে ঘোষণা করার হুমকি দেওয়ার পর ব্যঙ্গাত্মক জবাব দিয়েছে ইরান। ভারতে ইরানের হায়দারাবাদ কনস্যুলেটের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে ক্যালিফোর্নিয়াকে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    ট্রাম্প মঙ্গলবার তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে ছবিটি শেয়ার করেছেন, যেখানে হরমুজ প্রণালির একটি মানচিত্র দেখানো হয়েছে এবং কৌশলগত এই জলপথটিকে বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত করে তার নিচে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ কথাটি লেখা রয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর প্রণালিটিকে মার্কিন ভূখণ্ডে পরিণত করার বিষয়ে তার পূর্ববর্তী মন্তব্যেরই পুনরাবৃত্তি করলেন।

    পরে হোয়াইট হাউস মার্কিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ তাদের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে ট্রাম্পের পোস্টটি পুনরায় পোস্ট করে।

    এর জবাবে, হায়দ্রাবাদে অবস্থিত ইরানের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানচিত্র পোস্ট করা হয়, যেখানে ক্যালিফোর্নিয়াকে নীল রঙে চিহ্নিত করে লেখা ছিল: “ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের নতুন ভূখণ্ড।”

    হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পরই ইরানি কূটনীতিকদের পক্ষ থেকে এই ব্যঙ্গাত্মক মানচিত্র প্রকাশ করা হয়। এর মাধ্যমে মূলত ট্রাম্পের একতরফাভাবে কোনো ভূখণ্ডকে নিজের দেশের অংশ ঘোষণা করার দাবির অসারতা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

    এর আগে শুক্রবার নিউইয়র্কের একটি পুলিশ একাডেমিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ‘শোচনীয়ভাবে হারছে’ এবং দেশটিকে পুরোপুরি পরাজিত করার পর তিনি ‘খুব শিগগির’ হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে ঘোষণা করবেন।

    ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের অংশে পরিণত হয়েছে। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র না চাইলে কোনো জাহাজ ওই জলপথ দিয়ে চলাচল করতে পারবে না।

    তবে ইরান ট্রাম্পের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেছেন, টুইট করে, বিমানবাহী রণতরি পাঠিয়ে কিংবা কোনো আদেশ জারি করে হরমুজ প্রণালি দখল করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, আছে এবং থাকবে।’

    গারিবাবাদি আরো বলেন, ট্রাম্প যেমন ‘পারস্য উপসাগর’ নামটি সঠিকভাবে লিখেছেন, তেমনি শিগগিরই হরমুজ প্রণালি নিয়ে তার ‘ভ্রান্ত ধারণাও’ সংশোধন করা হবে।

    ইরানের পক্ষ থেকে ক্যালিফোর্নিয়াকে ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো মানচিত্র প্রকাশের ঘটনাটি মূলত এই বক্তব্যেরই ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া। তবে এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের দাবিটি বাস্তবে কতটা কার্যকর করা সম্ভব, তা নিয়েও আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

  • মিয়ানমারের বিবৃতি রোহিঙ্গা সংকট জটিল করছে

    মিয়ানমারের বিবৃতি রোহিঙ্গা সংকট জটিল করছে

    মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আবারো ‘বাঙালি’ দাবি করে মিয়ানমার সরকারের সাম্প্রতিক বিবৃতির পর বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের প্রত্যর্পণে মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা হচ্ছে।

    কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, হুট করে মিয়ানমার সরকার সেখানকার রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ উল্লেখ করে এখন কেন এমন বিবৃতি দিল? এর ফলে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ যে চেষ্টা করছে, সেটি বাধাগ্রস্ত হয়ে রোহিঙ্গা সংকট আরো জটিল রূপ নিতে যাচ্ছে কি-না সেই আলোচনাও সামনে আসছে।

    কারণ মিয়ানমার দাবি করেছে, যে জাতিগত নামে (রোহিঙ্গা) তাদেরকে পরিচয় করানো হচ্ছে, সেই নামে কোনো গোষ্ঠী দেশটিতে নেই।

    তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, মিয়ানমার সরকার যে সত্যিকার অর্থে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আগ্রহী নয় সেটি বোঝাতেই ‘বাঙালি’ বিতর্ক অনেকটা হুট করেই সামনে নিয়ে আসা হলো, যা মিয়ানমারের জান্তা সরকারের একটি পুরনো কৌশল বলেই মনে করেন তারা।

    রোহিঙ্গাদের একটি সংগঠনের একজন নেতা বলেছেন, রাখাইনে রোহিঙ্গারা জাতিগত নিধনের শিকার হয়েছে আর এখনকার বাস্তবতা হলো, মিয়ানমারের সরকার ও আরাকান আর্মি কেউই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চায় না।

    তার মতে, মিয়ানমার সরকারের নতুন বিবৃতিতেও সেই বার্তা আছে।

    ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাড়ে সাত লাখের মতো রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়।

    এর আগে ও পরে বিভিন্ন সময় আরও প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখের মতো রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছে।

    পরিস্থিতি আরও জটিল হলো?

    রোহিঙ্গাদের একটি সংগঠন—আরকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন এর সঙ্গে সম্পৃক্ত নূরুল ইসলাম বলছেন, বার্মায় কয়েক বছর আগেও সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, সেই জটিলতাকে আরো তীব্র করে তুলেছে মিয়ানমার সরকার।

    তিনি বলেন, ‘তারা রোহিঙ্গা নিধন করেছে। ফলে তারা স্বীকার করবে কীভাবে। তাদের বিশ্ব সম্প্রদায় দায়মুক্তি দিয়েছে বলে এটি তারা করতে পেরেছে। রোহিঙ্গারা রাখাইনের ও মিয়ানমারের নাগরিক। এটি স্বীকার করে প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার সরকার কখনো সদিচ্ছা দেখায়নি। এবার যা বলা হয়েছে সেটি তারই ধারাবাহিকতা।’

    ১৩৫টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে রোহিঙ্গাদের স্বীকৃতি দেয় না মিয়ানমার। তারা রোহিঙ্গাদের বরাবরই ‘বাঙালি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে।

    গত ২৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানান, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ ৮৯ হাজার।

    কিন্তু মিয়ানমার তাদের বিবৃতিতে বুঝাতে চেয়েছে, বাংলাদেশের এমন দাবিকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছে না। অনেকে মনে করেন, এর মাধ্যমে মিয়ানমার প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তাদের অনাগ্রহের বিষয়টিই আবারো তুলে ধরেছে।

    মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলাম বলছেন, বাঙালি বিতর্কে বাংলাদেশের জড়ানোই ঠিক হবে না।

    তিনি বলেন, ‘বরং বাংলাদেশের অবস্থান হওয়া উচিত যে মিয়ানমারকে তার নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে হবে। কারণ, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ঠেকানোর জন্যই মিয়ানমার সরকার বিবৃতির নামে একটি কৌশল প্রকাশ করেছে।’

    কিন্তু হুট করে এমন কৌশলের কারণ কী হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরে চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডরের কথা এসেছে। মিয়ানমার সরকার প্রকৃত অর্থে সেটি চায় না। নতুন বিতর্কের সেটিও একটি কারণ হতে পারে। কারণ সম্পর্ক সহজ ও স্বাভাবিক না হলে তো করিডরের মতো প্রকল্প নেওয়া যাবে না।’

  • হরমুজ নিয়ে ইরানের কাছে বিশেষ সুবিধা চাইল ইরাক

    হরমুজ নিয়ে ইরানের কাছে বিশেষ সুবিধা চাইল ইরাক

    কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে ইরাককে বিশেষ বিবেচনা বা সুবিধা দেওয়ার জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইরাকি পার্লামেন্টের স্পিকার হাইবাত আল-হালবুসি। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি এ আহ্বান জানান বলে ইরাকি বার্তা সংস্থার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ইরাকের অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে আল-হালবুসি বলেন, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে ইরাক সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অন্যতম। এ অবস্থায় দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে এমন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, যা ইরাকের অর্থনৈতিক স্বার্থকে অক্ষুণ্ণ রাখতে সহায়তা করে।

    ইরাকি স্পিকারের এই আহ্বানের প্রেক্ষিতে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানান, তেহরান ইরাকের সঙ্গে বিশেষ করে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক খাতে সহযোগিতা আরও বাড়াতে আগ্রহী। একই সাথে তিনি দুই দেশের মধ্যে পূর্বে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন চুক্তি বাস্তবায়নে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারেও জোর দেন।

  • চুরির মামলায় জামিন পেলেন অভিনেত্রী রূপা

    চুরির মামলায় জামিন পেলেন অভিনেত্রী রূপা

    ২০২২ সালে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় পকেটমারির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে আলোচনায় এসেছিলেন বাঙালি অভিনেত্রী রূপা দত্ত। এবার মুম্বাইয়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা মূল্যের সামগ্রী চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিন পেয়েছেন তিনি। মুম্বাইয়ের একটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিনেত্রীকে জামিন দিয়েছেন।

    মুম্বাই পুলিশের অভিযোগ, গত ১২ জুলাই ডিম্পল সিঙ্ঘভি নামে এক নারী কোলাবা থানায় চুরির অভিযোগ করেন। তার দাবি, বাবুলনাথ মন্দির থেকে কোলাবার ব্যস্ত এলাকায় যাওয়ার সময় তার পার্স চুরি হয়ে যায়।

    অভিযোগ অনুযায়ী, পার্সে ছিল প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের হিরা বসানো স্বর্ণের ব্রেসলেট, ১০ হাজার টাকা নগদ, ১৫ হাজার টাকা মূল্যের অ্যাপল এয়ারপডস এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথি।

    অভিযোগ পাওয়ার পর কোলাবা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ দাবি করে, রূপা দত্তকে অভিযোগকারীর পিছু নিতে দেখা যায়। পরে ৬ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, তার কাছ থেকে চুরি যাওয়া কিছু সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়েছে।

    দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আর এস ভোঁসলের আদালত ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে রূপা দত্তকে জামিন দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তাকে মামলার প্রমাণ নষ্ট করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়তে পারবেন না।

    তবে রূপা দত্তের আইনজীবী সুনীল পাণ্ডে অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, অভিনেত্রীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে এবং তিনি পরিস্থিতির শিকার।

    এর আগে ২০২২ সালে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় পকেটমারির অভিযোগে রূপা দত্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময়ও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল।

    বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন রূপা দত্ত। জনপ্রিয় বাংলা সিনেমা ‘সাথী’তেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

  • যুদ্ধের মধ্যেও তেল বেচে ইরানের আয় ৭৫০ কোটি ডলার

    যুদ্ধের মধ্যেও তেল বেচে ইরানের আয় ৭৫০ কোটি ডলার

    চলতি ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রি থেকে সাড়ে সাত বিলিয়ন (৭৫০ কোটি) মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে ইরান।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযান এবং আন্তর্জাতিক কঠোর নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই দেশটি এই রাজস্ব অর্জন করতে সক্ষম হলো।

    ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘ফারস’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্জিত সমস্ত বৈদেশিক মুদ্রা ইতিমধ্যেই ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইরান)-এর রিজার্ভে জমা দেওয়া হয়েছে।

    ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ফারস নিউজ বলেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পাওয়া এই আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৫ গুণ বা ৫০ শতাংশ বেশি। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, বিশ্ববাজারে তেলের দরপতন রোধ ও বিকল্প বিপণন ব্যবস্থা জোরদার করার ফলেই এই সফলতা এসেছে।

    ফারস নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই চার মাসে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে, তা দিয়ে আগামী ডিসেম্বর মাসের শেষ পর্যন্ত ইরানি সরকারের যাবতীয় জরুরি পণ্য আমদানি ও প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হবে।

    ২০২৬ সালের শুরুর দিকেই মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। বছরের দুই মাস পার হওয়ার পর, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর ইসরায়েল ও মার্কিন যৌথ সামরিক হামলা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, এই সংঘাতের ফলে ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং তাদের তেল রপ্তানি প্রায় বন্ধ হয়ে পড়বে। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে—সংঘাত সত্ত্বেও দেশটির তেল উত্তোলন ও আন্তর্জাতিক বাজারে তা পৌঁছে দেওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিকল্প উপায়ে তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখাই ইরানের আয় বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।

    ইরানের অর্থনীতি দীর্ঘ দিন ধরেই পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির চাপে রয়েছে। এর মধ্যে সামরিক অভিযানের অতিরিক্ত ব্যয় ইরানের সরকারের ওপর বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছিল। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে এই সাড়ে সাত বিলিয়ন ডলার পৌঁছানোয় সাময়িকভাবে দেশটির জাতীয় মুদ্রা (রিয়াল)-এর ওপর চাপ কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, তেল খাতের এই প্রবৃদ্ধি ইরানের বর্তমান সরকারকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট মোকাবিলায় বড় ধরনের অর্থনৈতিক স্বস্তি দেবে।

  • বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার অভিযোগে ১৭ ইরানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা

    বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার অভিযোগে ১৭ ইরানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, কোম্পানি ও সরকারি সংস্থার ওপর বড় ধরনের সাইবার হামলা চালানোর অভিযোগে ১৭ ইরানির বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিচার বিভাগ মঙ্গলবার জানিয়েছে, এসব হামলার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক গবেষণাসংক্রান্ত তথ্য ও মেধাস্বত্ব চুরি করা হয়েছে। ইরাকি বার্তাসংস্থা শাফাক নিউজ এ খবর জানিয়েছে।

    মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, অভিযুক্তরা যুক্তরাষ্ট্রের ১৪৪টি বিশ্ববিদ্যালয়, অন্যান্য দেশের ১৭৮টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৪২টি কোম্পানি ও সরকারি সংস্থাকে লক্ষ্য করে সাইবার হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ৩১ টেরাবাইটের বেশি একাডেমিক তথ্য ও মেধাস্বত্ব চুরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বলেছে, হামলাগুলোর কিছু ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি), ইরানি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে চালানো হয়েছিল।

    মার্কিন তদন্তকারীরা সাম্প্রতিক আরও কয়েকটি সাইবার হামলার সঙ্গেও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর যোগসূত্রের কথা জানিয়েছেন। গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের প্রায় ৩০টি পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সাইবার হামলা হয়েছিল। এসব হামলায় ইরান-সংশ্লিষ্ট ‘হানজালা’ হ্যাকার গোষ্ঠীর ব্যবহৃত কৌশলের মিল পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়।

    এ ছাড়া মার্চে লস অ্যাঞ্জেলেসের পরিবহন ব্যবস্থায় চালানো একটি সাইবার হামলার ঘটনাও তদন্তে এসেছে। ইসরায়েলি সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান গ্যাম্বিট সিকিউরিটির গবেষকেরা ওই হামলার জন্য ইরানি হ্যাকারদের দায়ী করেছেন।

    তাদের দাবি, হামলায় লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটির ই-মেইল, ব্যাকআপ কপি ও অন্যান্য নথিসহ অন্তত ৭০০ গিগাবাইট তথ্য চুরি করা হয়েছিল।

  • হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিকের নিচে

    হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিকের নিচে

    ইরান যুদ্ধের সময় আরোপিত অবরোধের পর হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলেছে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বেশির ভাগ জাহাজ মালিক এখনো এই জলপথ এড়িয়ে চলছেন। বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্যের বরাত দিয়ে বুধবার রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

    কেপলারের হিসাবে, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী মাত্র ছয়টি জাহাজ চলাচল করেছে। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল নয়টি। গত ১০ দিনের গড় হিসেবে প্রতিদিন প্রায় ১১টি জাহাজ এই প্রণালি ব্যবহার করেছে। ফলে বর্তমানে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

    মঙ্গলবার প্রণালিতে প্রবেশ করা জাহাজগুলোর মধ্যে ছিল একটি খালি সুপারট্যাংকার, দুটি তেলবাহী ট্যাংকার এবং অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজ। এর বিপরীতে দুটি মাঝারি আকারের জ্বালানি ট্যাংকার ও একটি বড় পোস্ট-প্যানাম্যাক্স জাহাজ প্রণালি দিয়ে বেরিয়ে যায়।

    যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে এই জলপথে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

    এদিকে চীনের দুটি বড় শিপিং কোম্পানিও এখনো হরমুজ ও বাব আল-মান্দাব প্রণালি এড়িয়ে চলছে। যুদ্ধের আগে এই দুটি কোম্পানি মিলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীনের আমদানি করা তেলের প্রায় অর্ধেক পরিবহন করত বলে ট্যাংকার ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান ভর্টেক্সা ও একটি শিপব্রোকার জানিয়েছে।

    হরমুজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বক্তব্যেও ভিন্নতা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা করছে না এবং হরমুজ প্রণালি খোলা রয়েছে। তবে ইরানের দাবি, প্রণালিটি এখনো জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ রয়েছে। ফলে জলপথটি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে কি না, তা নিয়ে জাহাজ মালিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

  • ভারতের স্বাধীনতা দিবসে হিন্দু ছাত্রীদের বোরকা নাচ: স্কুল সিলগালা

    ভারতের স্বাধীনতা দিবসে হিন্দু ছাত্রীদের বোরকা নাচ: স্কুল সিলগালা

    উত্তরপ্রদেশের গোন্ডায় ভারতের স্বাধীনতা দিবসের একটি অনুষ্ঠানে হিন্দু ছাত্রীদের বোরকা পরে নাচার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর একটি বেসরকারি স্কুল সিলগালা করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বুধবার কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বাবানজোট এলাকার আউসানি বুজুর্গ গ্রামে অবস্থিত এই স্কুলটিতে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ পরিদর্শন চালায়। পরিদর্শনকালে কর্মকর্তারা জানতে পারেন যে, প্রতিষ্ঠানটি সরকারের কোনো অনুমতি বা স্বীকৃতি ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল।

    জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (বিএসএ) অমিত কুমার সিং জানান, ভিডিওটি নজরে আসার পর তিনি ব্লক শিক্ষা কর্মকর্তা (বিইও) রিয়াজ আহমেদকে বিষয়টি নিয়ে পরিদর্শন করার নির্দেশ দেন।
    রিয়াজ আহমেদের তথ্যমতে, শিক্ষা বিভাগ প্রায় এক সপ্তাহ আগেই স্কুল কর্তৃপক্ষকে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করেই স্কুলটি চালু রাখা হয়।

    পরিদর্শনের সময় অনুমোদনহীনভাবে স্কুলটি চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে কর্তৃপক্ষ স্কুলের ম্যানেজার ও অধ্যক্ষের কক্ষ তালাবদ্ধ করে এবং প্রধান ফটক সিলগালা করে দেয়, যার ফলে স্কুলটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

    রিয়াজ আহমেদ জানান, পরিদর্শন ও সিলগালার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

    কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিলগালা হওয়া স্কুলের নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অমিত কুমার সিং নির্দেশ দিয়েছেন যে, আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের পাশের সরকারি বা অন্যান্য অনুমোদিত স্কুলে ভর্তির ব্যবস্থা করা হবে।

    গত ১৫ আগস্টের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। শিক্ষার্থীরা কেন বোরকা পরে এমন পারফর্ম করেছিল— সেই সম্পর্কিত ঘটনাটি আলোচনার জন্ম দিলেও, কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে তাদের এই প্রশাসনিক ব্যবস্থার মূল কারণ হলো স্কুলটির প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতি বা স্বীকৃতি না থাকা।

    কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখার সাথে সাথে ভিডিওটি এবং এই আয়োজনের পেছনের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • ইরানের সঙ্গে সব বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করেছে আমিরাত

    ইরানের সঙ্গে সব বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করেছে আমিরাত

    ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক যোগাযোগ এবং আর্থিক লেনদেন পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত । মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক আফরা আল হামেলি বলেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের সঙ্গে এসব সম্পর্ক বন্ধ করা হয়েছে।

    আমিরাতের প্রথম সরকারি বিবৃতির প্রায় দুই ঘণ্টা আগে দেশটির বাসিন্দাদের মোবাইলে একটি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি রয়েছে এবং সবাইকে নিকটতম নিরাপদ ভবনে আশ্রয় নিতে হবে। কিছুক্ষণ পর অবশ্য সেই সতর্কতা তুলে নেয়া হয়। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। জুনের একটি ভুল সতর্কবার্তা এবং জুলাইয়ে আমিরাতের ভূখণ্ডে প্রবেশ না করা একটি হামলার সতর্কবার্তার পর এটিই ছিল এ ধরনের প্রথম সতর্কতা।

    ওদিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি এডিএনওসি-এর জ্বালানি বহনকারী ট্যাংকারগুলো গত কয়েক সপ্তাহে বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ২৮শে ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলে ইরানি হামলার সবচেয়ে বড় টার্গেট হয় আমিরাত। প্রায় ৩০০০ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আমিরাতের দিকে নিক্ষেপ করা হয়।

    তবে জুনে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক কার্যকর হওয়ার পর, সেটি পরে ভেঙে গেলেও আমিরাত জানিয়েছিল যে- তাদের ওপর আর হামলা হয়নি। অন্য উপসাগরীয় দেশগুলো অবশ্য হামলার শিকার হয়েছিল।

    মঙ্গলবার আমিরাত অভিযোগ করে যে ইরান উপসাগরে জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, একটি ক্ষেপণাস্ত্র আমিরাতের ভূখণ্ডের জলসীমার বাইরে গিয়ে পড়ে।

    অন্যটি ভূখণ্ডীয় জলসীমার মধ্যে পড়ে। পরবর্তী মূল্যায়নে আমিরাত দাবি করে, দুটি ক্ষেপণাস্ত্রই সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজ লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। ইরান অবশ্য এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আমিরাতের অভিযোগকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এ ধরনের দাবি আঞ্চলিক আস্থা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার জন্য ক্ষতিকর।

  • আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

    আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

    একাধিকবার নির্দেশ দেওয়ার পরও আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার একটি আদালত। আজ বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাকে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে হাজিরা দেওয়ার সময় বেঁধে দিয়েছিলেন বিচারক। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনি উপস্থিত না হওয়ায় কৃষ্ণনগর আদালতের বিচারক দিব্যেন্দু দাস এই পরোয়ানা জারি করেন।

    মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, কৃষ্ণনগরের এই সাংসদের বিরুদ্ধে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন আগে মহুয়া মৈত্র আদালতে যাবেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে কিছু মহিলা ডিম হাতে আদালত চত্বরে জড়ো হন। সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এর পরপরই মহুয়া মৈত্র একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি ওই মহিলাদের বোরখা পরার পরামর্শ দেন, যাতে কেউ তাদের চিনতে না পারে।

    এই ভিডিও বার্তার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ জুন কৃষ্ণনগর আদালতে মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগকারী কৃষ্ণনগরের নাজিরাপাড়া এলাকার বাসিন্দা চয়ন নন্দী দাবি করেন, ‘সাংসদ তার ভিডিও বার্তায় যে বক্তব্য রেখেছেন, তা মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে। একই সঙ্গে এটিকে একটি ধর্মীয় উসকানিমূলক মন্তব্য হিসেবেও উল্লেখ করা হয়, যা উভয় ধর্মের জন্যই অবমাননাকর।’

    মৈত্রের আইনজীবী বিচারকের কাছে আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, তৃণমূলের এই সংসদ সদস্য উপস্থিত হলে আদালত চত্বরের বাইরে তিনি হেনস্তার শিকার হতে পারেন।

    পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মৈত্রের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৭৯ ধারা (নারীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা), ১৯৬ ধারা (বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা উসকে দেওয়া), ২৯৯ ধারা (ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা), ৩৫১ ধারা (অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন) এবং ৩৫৩(২) ধারা (বিদ্বেষমূলক বক্তব্য)-এর অধীনে করা হয়েছে।

    ২০২৫ সালের আগস্টে নদীয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের বিষয়ে কথা বলার সময় মৈত্রের করা এক মন্তব্যের জেরে বিতর্কের সূত্রপাত হয়।

  • চীনের রোবট কোম্পানির শেয়ারের দাম প্রথম দিনেই বাড়ল ৬০০%

    চীনের রোবট কোম্পানির শেয়ারের দাম প্রথম দিনেই বাড়ল ৬০০%

    বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবাকৃতি রোবট নির্মাণ কোম্পানি ইউনিট্রি রোবোটিকস আজ বুধবার সাংহাইয়ের শেয়ারবাজারে যাত্রা শুরু করেছে। লেনদেনের শুরুতেই কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৬০০ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়।

    বহুল প্রত্যাশিত প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওতে চীনা কোম্পানিটির শেয়ার ১ হাজার ১০০ ইউয়ানে (১২০.৬০ পাউন্ড বা ১৬৩.১২ ডলার) লেনদেন শুরু হয়। পরে কিছুটা কমে শেয়ারটির দাম প্রায় ৯০০ ইউয়ানে নেমে আসে।

    বলা হচ্ছে, চীনের রোবটশিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার যে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা, সে ক্ষেত্রে এই তালিকাভুক্তি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। স্টার মার্কেটকে অনেক সময় চীনের ‘ন্যাসডাক’ বলা হয়।

    বিশ্বের রোবট ও রোবট পরিচালনাকারী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মডেলের বাজারে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন যখন মুখোমুখি, ঠিক তখনই শেয়ারবাজারে ইউনিট্রির অভিষেক হলো।

    এটা অবশ্য চীনের মানবাকৃতি রোবট নির্মাণকারী কোম্পানির শেয়ারবাজারে প্রথম তালিকাভুক্তি নয়। তবে মূল ভূখণ্ড চীনে এ ধরনের কোম্পানির এটাই প্রথম তালিকাভুক্তি।

    শিল্পকারখানার স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে ঘরে স্মার্ট ভ্যাকুয়াম ক্লিনার—বিভিন্ন ধরনের রোবট ইতিমধ্যেই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এবার মানুষের মতো দেখতে ও দুই পায়ে হাঁটতে সক্ষম—এমন রোবট নির্মাণে বিপুল বিনিয়োগ আসছে। টেসলা, বিওয়াইডি ও অ্যামাজনের মতো বড় কোম্পানিও এমন রোবট তৈরি করছে। এসব রোবট মানুষের মতো অনেক কাজ করতে পারে।

    দেখা যাচ্ছে, একসময় যে রোবটের কথা সায়েন্স ফিকশন বা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিতে লেখা হতো বা সেই ঘরানার চলচ্চিত্রে দেখা যেত, সেই রোবট এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। ফলে এমন দিন হয়তো দূরে নেই, যখন মানুষের ঘরে সাহায্যকারী হিসেবে মানুষ নয়, রোবটই কাজ করবে। এআইয়ের যুগে এ কল্পনা ভিত্তিহীন নয় বলেই ধারণা করা যায়।

    রোবটশিল্পের জন্য নতুন মানদণ্ড

    শেয়ারবাজারে ইউনিট্রির অভিষেকের বিশেষ তাৎপর্য আছে। এ শিল্পের দ্রুত বিকাশ হচ্ছে। সেই সঙ্গে রোবটশিল্পে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ যে বাড়ছে, এই তালিকাভুক্তি তার বড় নজির।

    বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান রোবোস্ট্র্যাটেজির জ্যাক পিয়ারসনের মতে, ইউনিট্রির তালিকাভুক্তি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য মানবাকৃতি রোবট নির্মাণকারী কোম্পানিতে বিনিয়োগের বিরল সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এটি অন্যদের জন্য মানদণ্ড হয়ে উঠতে পারে।

    পিয়ারসন বলেন, ইউনিট্রির সাফল্যের মধ্য দিয়ে চীনের রোবটশিল্প ‘পরিবর্তনের পর্যায়ে’ পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র বিদেশে তৈরি রোবট আমদানিতে বিধিনিষেধ কঠোর করছে।

    ইউনিট্রির আইপিওর প্রায় তিন বছর আগে অপেক্ষাকৃত ছোট চীনা কোম্পানি ইউবিটেক রোবোটিকস হংকংয়ের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছিল।

    এ বছরের জুলাইয়ে ইউবিটেক বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। কোম্পানিটি এমন কিছু রোবট উন্মোচন করে, চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের ভাষায়, সেগুলো ‘অত্যন্ত বাস্তবসম্মত’। এসব রোবট মানুষের সঙ্গে আবেগপ্রবণ সহায়তা ও দৈনন্দিন যোগাযোগের জন্য তৈরি করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

    ইউবিটেক ও ইউনিট্রির পথ ধরে লেজু রোবোটিকস, এজিবটসহ আরও কয়েকটি রোবট নির্মাণকারী কোম্পানি আগামী কয়েক মাসে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারে।

    তবে শিল্পটি নিয়ে এ আশাবাদের মধ্যেই শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের বাইরে রোবটের চাহিদা নিয়ে সংশয় আছে।

    হ্যারল্ড সো বলেন, ঘরের কাজে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়—এমন পর্যায়ে যেতে রোবটের এখনো কয়েক বছর সময় লাগবে। এর জন্য ব্যাটারির স্থায়িত্ব বাড়ানো, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা ও নির্ভরযোগ্যতার মতো বিষয়ের সমাধান করতে হবে।

    হ্যারল্ডের মতে, শুরুতে কারখানা ও হাসপাতালের মতো জায়গায় রোবটের সবচেয়ে বড় বাজার তৈরি হবে।

    চীন-যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিদ্বন্দ্বিতা

    রোবট ও এআই এখন চীন-যুক্তরাষ্ট্র প্রযুক্তি প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন ক্ষেত্র। দুই দেশই এ শিল্পকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন গত জুলাই মাসে জানায়, জাতীয় নিরাপত্তা ও মার্কিন উৎপাদন খাত সুরক্ষার স্বার্থে চীনে নির্মিত নতুন মানবাকৃতি ও চার পায়ের রোবট আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    বেইজিং এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে। চীনের অভিযোগ, ওয়াশিংটন বাণিজ্যিক বিষয়কে ‘রাজনৈতিকীকরণ’ করছে। এআই মডেল, বৈদ্যুতিক গাড়িসহ অন্যান্য চীনা প্রযুক্তিতেও যুক্তরাষ্ট্র কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

    পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকসের ক্রিস্টিন ওয়ানের মতে, রোবটশিল্পে চীনের আধিপত্যের কারণে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। সেটা হলো, চীনা কোম্পানিগুলো বৈশ্বিক উৎপাদনব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে পড়ছে।

    এর অর্থ হলো, ওয়াশিংটন যতই চেষ্টা করুক না কেন, চীনকে এগিয়ে যাওয়া তার পক্ষে সহজ হবে না।

    ওয়ান আরও বলেন, চীনা সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা কমাতে গিয়ে অনেক দেশের উৎপাদনব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটার ঝুঁকি আছে। ফলে তারাও হয়তো সহজে চীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে চাইবে না।

    এখন পর্যন্ত কারখানার উৎপাদনব্যবস্থা কিংবা ভোক্তা বাজারে পশ্চিমাদের তৈরি রোবট চীনা রোবটের মতো প্রভাব ফেলতে পারেনি।

    যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান রোবট কোম্পানি বোস্টন ডায়নামিকস জানিয়েছে, দুই বছরের মধ্যে গাড়ি কোম্পানি হুন্দাইয়ের কারখানায় মানবাকৃতি রোবট ব্যবহার শুরু হবে। বোস্টন ডায়নামিকসের সিংহভাগ মালিকানা দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাইয়ের হাতে।

    অ্যামাজন ও টেসলার মতো আরও কয়েকটি মার্কিন কোম্পানিও মানবাকৃতি রোবট ব্যবহারের পরিকল্পনা আছে বলে জানিয়েছে।

    এ বছরের শুরুতে ইলন মাস্কের টেসলা জানায়, ক্যালিফোর্নিয়ায় মডেল এস ও মডেল এক্স গাড়ি তৈরির কারখানায় অপ্টিমাস নামের মানবাকৃতি রোবট তৈরিতে ব্যবহার করা হবে।

    অ্যামাজন ২০২৩ সালে তাদের গুদামে মানবাকৃতি রোবট ব্যবহারের পরীক্ষা চালিয়েছিল। কোম্পানিটি জানিয়েছে, পরবর্তী প্রজন্মের রোবটপ্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রয়েছে।

    রোবট–গবেষক ডেভিড সু বলেন, বিষয়টি এখন পরিষ্কার—রোবটপ্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্ব হারিয়েছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রোবট কোম্পানিগুলোর খবর এখন আর তেমন শোনা যায় না। খবরের শিরোনামে এখন চীনের রোবট কোম্পানিগুলোরই আধিপত্য।

    ডেভিড সুর ভাষায়, ‘প্রযুক্তির দুনিয়ায় তারাই এখন আমেরিকার জায়গা দখল করেছে।

  • পাকিস্তানি আকাশসীমায় ভারতীয় বিমানের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ল

    পাকিস্তানি আকাশসীমায় ভারতীয় বিমানের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ল

    আবারও ভারতীয় বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটি (পিএএ) নতুন এক ‘নোটিস টু এয়ারমেন’ (নোটাম) জারি করে এই নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ।

    নতুন নোটাম অনুযায়ী, ১৮ই আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা ২৪শে সেপ্টেম্বর ভোর ৪টা ৫৯ মিনিট (পাকিস্তান স্ট্যান্ডার্ড টাইম) পর্যন্ত বহাল থাকবে। ভারতের নিবন্ধিত সব উড়োজাহাজ, ভারতীয় বিমান সংস্থার বিমান, ভারত লিজ নেয়া উড়োজাহাজ এবং ভারতীয় নাগরিকদের মালিকানাধীন বা পরিচালিত বেসামরিক ও সামরিক উড়োজাহাজের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে।

    পাকিস্তানি আকাশসীমা ভারতীয় বিমানের জন্য প্রথম বন্ধ করা হয় ২০২৫ সালের ২৩শে এপ্রিল। সর্বশেষ নোটামটি হলো এই নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর জন্য জারি করা ১৬তম নোটাম। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে।

    হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলে ভারত। তবে ইসলামাবাদ দৃঢ়ভাবে সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এবং ঘটনার স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানায়। এরপর ২৩শে এপ্রিল ২০২৫ ভারত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দিলে পাকিস্তান ভারতীয় বিমান চলাচলের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ৩০শে এপ্রিল ভারতও পাকিস্তানি বিমান সংস্থার জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়।

    পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় ২০২৫ সালের ৬ ও ৭ মে, যখন ভারত পাকিস্তানের কয়েকটি শহরে বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে পাকিস্তান ‘অপারেশন বুনিয়ানুম মারসুস’ নামে বড় ধরনের পাল্টা সামরিক অভিযান পরিচালনা করে এবং ভারতের একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি ।

    পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, ওই সংঘর্ষে তারা আটটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান, যার মধ্যে তিনটি রাফাল যুদ্ধবিমান ছিল এবং কয়েক ডজন ড্রোন ভূপাতিত করে। প্রায় ৮৭ ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘাতের পর দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।

    দুই দেশের আকাশসীমা বন্ধ রাখার ফলে ভারতের বিমান চলাচল খাতে তুলনামূলকভাবে বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। পাকিস্তানের বিমান চলাচল খাতে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল।

    এর আগে ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধ এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা সংকটের সময়ও পাকিস্তান একই ধরনের আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওই ঘটনাগুলোতেও পাকিস্তানি বিমান সংস্থার তুলনায় ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোকে বেশি পরিচালনাগত সমস্যার মুখে পড়তে হয়।

  • জম্মু-কাশ্মীর ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ

    জম্মু-কাশ্মীর ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ

    জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ভারতের অবস্থানের প্রতি বড় ধরনের সমর্থন জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর। তিনি বলেছেন, কাশ্মীর ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বুধবার (১৯ আগস্ট) জম্মু-কাশ্মীর সফরের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের গর বলেন, কাশ্মীর ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমি প্রথমবারের মতো এই জায়গায় এলাম। এটি অবিশ্বাস্য রকম সুন্দর একটি স্থান।
    ওমর আবদুল্লাহ পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তিনি আরও বলেন, আমাদের খুবই উষ্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। আমরা আমাদের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেয়ার প্রত্যাশা করছি।

    সার্জিও গর একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূতের দায়িত্বও পালন করছেন। ২০২০ সালের মে মাসে পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সেনাদের সংঘর্ষ এবং গত বছরের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর কাশ্মীরে কোনো শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিকের এটিই প্রথম সফর।

    তার এই সফরকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক তৎপরতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগত নানা পরিবর্তন ও উত্তেজনার মধ্যেই গরের কাশ্মীর সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

    এদিন সার্জিও গরের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বলেন, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    তিনি বলেন, আমাদের খুব ভালো বৈঠক হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ পেয়েছি। তবে আলোচনার বিশেষ গুরুত্ব ছিল জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে এবং এই অঞ্চলের জন্য যুক্তরাষ্ট্র কী করতে পারে, তা নিয়ে।

  • আইসিসির প্রেসিডেন্ট ও কৌঁসুলির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

    আইসিসির প্রেসিডেন্ট ও কৌঁসুলির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

    আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রেসিডেন্ট এবং একজন জ্যেষ্ঠ কৌঁসুলির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গতকাল মঙ্গলবার এ ঘোষণা দেন।

    নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ–ভিত্তিক এ আন্তর্জাতিক আদালতের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ধারাবাহিক আক্রমণের অংশ হিসেবেই নেওয়া হলো এই সর্বশেষ পদক্ষেপ।

    যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে ২০০২ সালে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগে আইসিসি গঠিত হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ আদালতের সদস্য নয়।

    আদালতের স্বাগতিক দেশ নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টম বেরেন্ডসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে নেদারল্যান্ডস তার অসম্মতি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের ধারাবাহিক সমর্থনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য তিনি তোমোকো আকানেকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

    টম বেরেন্ডসেন আরও লেখেন, ‘আন্তর্জাতিক আদালত ও ট্রাইব্যুনালগুলোর স্বাধীনভাবে নিজেদের ম্যান্ডেট বা দায়িত্ব পালন করার সুযোগ থাকা উচিত।’

    আইসিসির শীর্ষ বিচারক তোমোকো আকানে গত ডিসেম্বরেই সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা ‘সব ধরনের পরিস্থিতি ও মামলায় আদালতের কার্যক্রমকে দ্রুত স্থবির করে দেবে এবং এর অস্তিত্বকেই বিপন্ন করে তুলবে।’

    নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ভবনের বাইরের দৃশ্য

    আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে অতীতের একটি তদন্ত এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এর জের ধরে গত বছর আদালতের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা, কৌঁসুলি ও বিচারকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ওয়াশিংটন।

    এদিকে নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ জব্দ করা হবে। একই সঙ্গে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে তাঁদের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ হয়ে যাবে, যার সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে কার্যত প্রায় সব ব্যাংকেরই নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। নতুন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ (অর্থ মন্ত্রণালয়) গতকাল একটি সাধারণ লাইসেন্স ইস্যু করেছে। এর আওতায় তোমোকো আকানে এবং আবদুলায়ে সেয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেনগুলো গুটিয়ে নিতে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

    গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে চলতি বছরের জুনে ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেন আইসিসির তিন বিচারক। এ পদক্ষেপকে বেআইনি বলে দাবি করেন তাঁরা।

    এ ছাড়া মানবাধিকার সংগঠনগুলোও দুটি আলাদা মামলায় বলেছে, বিশ্বজুড়ে ঘটে যাওয়া নৃশংসতার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইসিসির সঙ্গে যেসব সংস্থা কাজ করছে, যুক্তরাষ্ট্রের এ তৎপরতা তাদের সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী।

    মার্কো রুবিও গত মাসে বলেছিলেন, আইসিসির কার্যক্রম ব্যাহত করতে মার্কিন প্রশাসন তাদের চেষ্টা আরও জোরদার করবে। এর অংশ হিসেবে অন্য দেশগুলোকে এ সংস্থা ত্যাগ করতে রাজি করানোর জন্য একটি কূটনৈতিক প্রচারণাও চালানো হবে। ইতিমধ্যে অন্তত পাঁচটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছে।

    রুবিওর যুক্তি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা, মাদক বহনের অভিযোগে নৌযানে অভিযান পরিচালনাকারী দল এবং অন্যান্য মার্কিন সামরিক সদস্যদের জন্য এ আদালত এক বড় হুমকি।

    অবশ্য ট্রাম্প নিজেই বলেছেন, এ প্রচারণার লক্ষ্য নিজেকে বিচার থেকে বাঁচানো নয়, বরং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও অন্যদের রক্ষা করা।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত

    যুক্তরাষ্ট্র কখনোই এ আদালতের সদস্য ছিল না। কোনো সদস্যরাষ্ট্র যখন নিজের দেশে ঘটে যাওয়া কোনো নৃশংসতার বিচার করতে অসমর্থ বা অনিচ্ছুক হয়, শুধু তখনই আইসিসি সেখানে নিজের এখতিয়ার খাটায়।

    তবে আইসিসির সংবিধিতে এ-ও বলা আছে যে কোনো সদস্যরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে যদি সদস্য নয় এমন কোনো দেশের নাগরিকও নৃশংস অপরাধ করেন, তবে তাঁর বিচার করার ক্ষমতা এ আদালতের রয়েছে।

  • কলকাতায় অনুষ্ঠান করার জায়গা পেল না ককরোচ জনতা পার্টি

    কলকাতায় অনুষ্ঠান করার জায়গা পেল না ককরোচ জনতা পার্টি

    শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠান করার স্থান না পাওয়ায় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) কলকাতায় নিজেদের পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠান বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করে বলা হয়, ‘অনুষ্ঠানস্থলের মালিকেরা ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতাদের থেকে হুমকি’ পাওয়ার পর গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটায় কলকাতায় তাদের নির্ধারিত অনুষ্ঠান বাতিল করে দেয়।

    এ অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে সিজেপির আলোচনা করার কথা ছিল।

    সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘উত্তর কলকাতার ভারত সভা প্রেক্ষাগৃহে আমাদের পূর্বনির্ধারিত কলকাতার অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে। কারণ, হলের মালিকেরা বিজেপি নেতাদের থেকে হুমকি পেয়েছেন।’

    আরও ছয়টি প্রেক্ষাগৃহ তাদের অনুমতি দিতে অস্বীকার করে এবং তারা ‘রাজ্যের পক্ষ থেকে ব্যাপক চাপের’ কথা উল্লেখ করেছে বলেও নিজের পোস্টে দাবি করেন আশুতোষ রাঙ্কা।

    ভারত সভা হলটির মালিকানা ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের অধীনে। ১৮৭৬ সালে কংগ্রেস পার্টির প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়সহ অন্যদের হাত ধরে এটি একটি সামাজিক-রাজনৈতিক অলাভজনক সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

    ভারত সভা হলের এক কর্মকর্তা ভারতের প্রচারমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সিজেপি আগে থেকে ওই স্থান বুক করেনি।

    প্রেক্ষাগৃহের তরফে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধৃত করে প্রচারমাধ্যমগুলো আরও জানায়, ‘সিজেপি সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা পৌনে ১১টার মধ্যে এসেছিল, কিন্তু আমি তাদের প্রেক্ষাগৃহটি দিতে পারিনি। কারণ, সেখানে অন্য একটি অনুষ্ঠান ছিল, যা তাদের পছন্দের সময়ের মধ্যে শেষ না–ও হতে পারত।’

    বিজেপি কোনো ধরনের হুমকি দিয়েছে কি না, জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি তা অস্বীকার করেন।

    ভারত সভা হল যে থানার অধীনে পড়ে, সেই বউবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাজীব সরকার প্রচারমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পুলিশের কাছে এ ধরনের হুমকির কোনো তথ্য নেই।

    রাঙ্কা তাঁর এক্স পোস্টে লিখেছেন, এ পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে বিজেপি ভয় পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘নিশ্চিতভাবেই বাংলার প্রিয় ককরোচদের সঙ্গে এবার আমাদের যোগাযোগের সুযোগ হাতছাড়া হবে। তবে আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, শিগগিরই একটি অনেক বড় অনুষ্ঠান করা হবে।’

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলার ককরোচরা সরকারি স্কুলগুলোতে তাদের পরিদর্শন অব্যাহত রাখবে এবং সেগুলোর অবস্থা সুসংহত করতে বেঙ্গল সরকারকে বাধ্য করবে, যোগ করেন তিনি।

    একদল দুষ্কৃতকারী বাঁকুড়া জেলার ইন্দাস ব্লকের একটি গ্রামে সিজেপির এক সদস্যের বাবাকে দিন কয়েক আগে পিটিয়ে হত্যা করে। সে ঘটনার জেরেই সিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব দিল্লি থেকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে এসেছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বিজেপির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।

    বিজেপিশাসিত কোনো রাজ্যে সিজেপির এভাবে অনুষ্ঠানস্থল বাতিলের অভিজ্ঞতা এটিই প্রথম নয়। ১৩ আগস্ট নতুন দিল্লির একটি ব্যাঙ্কোয়েট হলে সিজেপি স্বেচ্ছাসেবকদের একটি বৈঠক সংক্ষিপ্ত করে সেটিকে একটি পাবলিক পার্কে স্থানান্তর করতে বাধ্য হয়। সংগঠনের নেতৃত্ব জানিয়েছিলেন, সেবারও হলের মালিকেরা ‘ওপর মহলের চাপের’ কথা উল্লেখ করেছিলেন।

    এমনকি জুলাই মাসে যন্তর মন্তরের প্রতিবাদের আগেও সেখানে মেট্রোস্টেশন বন্ধ রাখা এবং এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত রাখার ঘটনা ঘটেছে।

    পুলিশি আক্রমণের মুখে প্রায় এক লাখ মানুষ সেখানে জড়ো হয়েছিলেন, সিজেপিকেও সভা করার অনুমতি পেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। তার আগে জুনের মাঝামাঝি জয়পুরে পুলিশ প্রথমে সিজেপির সভা করার অনুমতি প্রত্যাহার করে নেয়, পরবর্তী সময়ে কয়েকটি শর্ত সাপেক্ষে সভা করতে দেওয়া হয়।

    সিজেপির নেতৃত্বে দিল্লিতে যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থী ও জেন-জিদের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পর ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। ওই বিক্ষোভের পর সিজেপি জানিয়েছে, তারা একটি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে কাজ করতে এবং সরকারি স্কুলের শিক্ষার অধিকার আদায়ে নেতৃত্ব দিতে আগ্রহী।

  • ট্রাম্পের সহযোগী নাটালি হার্পকে নিয়ে গুঞ্জন?

    ট্রাম্পের সহযোগী নাটালি হার্পকে নিয়ে গুঞ্জন?

    যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে কয়েক সপ্তাহ ধরে জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছেন না। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাঁকে তাঁর স্বামী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে দেখা যায়নি। মেলানিয়া সেসব অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন।

    গত ২৮ জুলাই রিপাবলিকান নেতা এবং মার্কিন সিনেটর প্রয়াত লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যানুষ্ঠানেও মেলানিয়া উপস্থিত ছিলেন না। এর চার দিন আগে, হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্টস ডিনারেও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন।

    গত ২২ জুলাই যখন প্রেসিডেন্ট মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযানে নিহত চারজন মার্কিন সেনাসদস্যের মরদেহ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন, তখনো ফার্স্ট লেডিকে দেখা যায়নি।

    এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেলানিয়া ট্রাম্পকে সর্বশেষ জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল গত ১৯ জুলাই; অর্থাৎ প্রায় এক মাস আগে। সেদিন তিনি স্বামীর পাশে বসে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা উপভোগ করেছিলেন।

    এর আগে গত ১৪ জুন হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত ইউএফসি ফ্রিডম–২৫০ অনুষ্ঠানে মেলানিয়াকে দেখা গেছে। আর ১৩ ফেব্রুয়ারি সামরিক বাহিনীর সদস্য একটি বিশেষ দলকে সম্মাননা জানানোর অনুষ্ঠানে তিনি স্বামী ট্রাম্পের পাশে ছিলেন।

    গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলায় কমান্ডো অভিযান চালিয়ে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে তুলে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার অভিযানে সেনাসদস্যদের ওই বিশেষ দলটি অংশগ্রহণ করেছিল।

    নিউজউইকের করা ছবিভিত্তিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩৪টি অনুষ্ঠানে জনসমক্ষে দেখা গেছে, যার মধ্যে ওপরে উল্লিখিত অনুষ্ঠানগুলোও রয়েছে।

    নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্পের সঙ্গে মেলানিয়া

    অন্যদিকে দ্য ডেইলি বিস্টের হিসাব অনুযায়ী, এ বছর মেলানিয়া ট্রাম্প ৩৮ দিন জনসমক্ষে উপস্থিত হয়েছেন; অর্থাৎ গড়ে প্রায় প্রতি ছয় দিনে একবার তাঁকে জনসমক্ষে দেখা গেছে।

    ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সঙ্গে তুলনা করলে, ফার্স্ট লেডি হিসেবে প্রথম মেয়াদে মেলানিয়াকে এর চেয়ে প্রায় দ্বিগুণসংখ্যক অনুষ্ঠানে জনসমক্ষে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে এনবিসি নিউজ।

    ফার্স্ট লেডির একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছেন, মেলানিয়া ট্রাম্প ‘জনসমক্ষে উপস্থিত হওয়ার চেয়ে কাজের ফলাফলকে বেশি গুরুত্ব দেন।’

    এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ইনডিপেনডেন্ট থেকে হোয়াইট হাউসে যোগাযোগ করা হয়েছিল, কিন্তু কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    ফার্স্ট লেডি বর্তমানে বেশির ভাগ সময় ফ্লোরিডা ও নিউইয়র্কে কাটান বলে জানা গেছে। নিউইয়র্কেই তাঁর ছেলে ব্যারন ট্রাম্প কলেজে পড়াশোনা করছেন। এর আগেও মেলানিয়া দীর্ঘ সময়ের জন্য জনসমক্ষে অনুপস্থিত থেকেছেন।

    নিউজউইকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রায় এক মাস মেলানিয়া ট্রাম্প জনসমক্ষে অনুপস্থিত ছিলেন।

    মেলানিয়া ট্রাম্প যখন লম্বা সময় জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না, ঠিক সে সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সহযোগী নাটালি হার্পকে তাঁর পাশে প্রায় সব সময়ই দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে গুঞ্জনও হচ্ছে।

    গত জুলাই মাসে তুরস্কে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলন শেষে গোপনে একটি সামরিক উড়োজাহাজে চেপে আঙ্কারা ছেড়েছিলেন ট্রাম্প। কর্মকর্তাদের ছোট যে দলটি সামরিক উড়োজাহাজে ট্রাম্পের সঙ্গী হয়েছিল, তাদের মধ্যে ৩৫ বছর বয়সী নাটালি হার্পও ছিলেন।

    অথচ এয়ারফোর্স ওয়ানে করে তুরস্কে যাওয়া ট্রাম্পের সফর সঙ্গীদের বেশির ভাগই সেদিন জানতেন না, ইরানের হামলার আশঙ্কায় ট্রাম্প উড়োজাহাজ পরিবর্তন করছেন। সফরসঙ্গী বেশির ভাগ কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকেরা এয়ারফোর্স ওয়ানে করেই আঙ্কারা ছেড়েছিলেন।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট পরিচালনায় সহায়তা করেন হার্প। তিনি ১১ ও ১৬ আগস্ট ট্রাম্পের সঙ্গে মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারে ভ্রমণ করেছেন।

    ২২ জুলাই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযানে নিহত সেনাসদস্যদের মরদেহ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের অনুষ্ঠানে হার্প প্রেসিডেন্টের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মে মাসে ট্রাম্পের চীন সফরেও হার্প তাঁর সঙ্গে ছিলেন। মেলানিয়া ওই সফরে যাননি।

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নাটালি হার্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।

    নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানের মতে, ট্রাম্প হার্পকে তাঁর সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগীদের একজন মনে করেন এবং বিশ্বাস করেন, হার্প কখনো তাঁকে ছেড়ে যাবেন না।

    হার্পও ট্রাম্পকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন নোট লিখে সেগুলো প্রেসিডেন্টের ‘ব্যক্তিগত বিভিন্ন জায়গায়’ রেখে দেন। এমন একটি নোটে লেখা ছিল, ‘আপনিই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

    হার্পের এক ভাই প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর বোনের সম্পর্ককে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে বর্ণনা করেছেন। ওই ভাইয়ের সঙ্গে হার্পের যোগাযোগ নেই।

    এর আগে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র দ্য ইনডিপেনডেন্টকে বলেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর কর্মী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে যতটা আনুগত্য অর্জন করেছেন, তেমনটা আর কোনো প্রেসিডেন্টই অর্জন করতে পারেননি; এটি আমাদের দেশ ও দেশের জনগণের প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতির প্রমাণ।’

    ওই মুখপাত্র আরও বলেন, ‘নাটালি হার্প হোয়াইট হাউসের একজন অত্যন্ত প্রিয় কর্মকর্তা। আর ভুয়া খবর ছড়ানো সংবাদমাধ্যমের লোকেরা কখনোই বুঝতে পারবেন না, তাঁর মতো এতটা বিশ্বস্ত ও প্রশংসিত হওয়ার অনুভূতি কেমন।’

  • চুয়াডাঙ্গায় অনুপ্রবেশ, ভারতীয় নাগরিক ও দালালসহ আটক ৭

    চুয়াডাঙ্গায় অনুপ্রবেশ, ভারতীয় নাগরিক ও দালালসহ আটক ৭

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর বেনীপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের পর ভারতীয় এক নাগরিকসহ মোট সাতজনকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা ও পুলিশ। এর মধ্যে পাঁচজন সীমান্ত অতিক্রম করে এসেছেন এবং অপর দু’জন তাদেরকে সহযোগিতাকারী স্থানীয় দালাল বলে জানা গেছে।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে বেনীপুর সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর জীবননগর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে স্থানীয় জনতার সহায়তায় তাদের আটক করে জীবননগর থানা পুলিশ।

    আটককৃতদের মধ্যে চার বাংলাদেশী নাগরিক হলেন—বাগেরহাটের শরণখোলার আব্দুস শুকুর খান, সিলেটের শারমিন আক্তার রুমি ও হামিদা এবং চাঁদপুরের নয়ন। আটক অপর ব্যক্তি নিয়ান ভারতের কলকাতার বাসিন্দা বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। এ ছাড়া সীমান্ত পারাপারে সহায়তার অভিযোগে আটক করা হয়েছে দুই স্থানীয় দালাল হাসিবুল ও আসমাউলকে।

    আটককৃত ব্যক্তিরা জানায়, তারা কাজের সন্ধানে ভারতের বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন। সেখানে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষা বাহিনী (বিএসএফ) তাদের আটক করে সীমান্তে নিয়ে আসে এবং ক্যাম্পে রেখে পরবর্তীতে বেনীপুর সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেয় (পুশইন করে)।

    সীমান্ত পার হয়ে জীবননগর শহরের দিকে আসার সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হলে তারা তাদের গতিরোধ করে আটক করেন। খবর পেয়ে জীবননগর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দু’জন সহায়তাকারীসহ মোট সাতজনকে থানায় নিয়ে যায়।

    জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও সীমান্ত পারাপারের বিষয়টি নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • ইরান যুদ্ধের কৌশল বদলাচ্ছেন ট্রাম্প

    ইরান যুদ্ধের কৌশল বদলাচ্ছেন ট্রাম্প

    ইরানের সাথে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিজেদের কৌশল বদলে ফেলার নতুন ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সাথে চলমান সব ধরনের আলোচনা বন্ধের জন্য নিজের শীর্ষ প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাত কমানোর বদলে ইরানকে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার নীতি গ্রহণ করছে ওয়াশিংটন।

    সিএনএন, বুধবার (১৯ আগস্ট) জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে এই বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এতদিন ‘অবিলম্বে কঠোর আঘাত’ করার যে আলোচনা ছিল, সেখান থেকে সরে এসে এখন ইরানকে ‘ধীরে ধীরে শ্বাসরুদ্ধ’ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাথে কোনো ধরনের আলোচনা বা বৈঠক হচ্ছে না বা সময়সূচীও নির্ধারিত নেই।’ সেই সাথে হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে জারি রয়েছে বলে জানান তিনি।

    তবে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত এবং সব মাইন নিষ্ক্রিয় করার দাবি করলেও, বাস্তবে নৌপথটিতে জাহাজ চলাচল এখনও চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পাশাপাশি সেখানে ইরানি হামলার ঘটনাও ঘটছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সমন্বয়ে গঠিত মার্কিন প্রতিনিধি দলকে তেহরানের সাথে আলোচনা বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে চুক্তি করতে অস্বীকৃতি জানানোয় ট্রাম্প এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

    অন্যদিকে, ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য ইরান যে নতুন ব্যবস্থার চেষ্টা করছে, তাতে ট্রাম্প চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ওমান নিরপেক্ষ ভূমিকা না রেখে ইরানের প্রতি পক্ষপাত করছে বলে ওয়াশিংটনের ধারণা। প্রণালী দিয়ে পারাপারকারী জাহাজের ওপর কোনো ধরনের ফি বা শুল্ক আরোপের প্রস্তাব কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন প্রশাসন।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী অনির্দিষ্টকালের জন্য ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রাখতে প্রস্তুত। ইরানের ওপর শীঘ্রই আরও কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আসতে যাচ্ছে। যদিও টানা ছয় মাসের যুদ্ধে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের মজুতে টান পড়েছে এবং দেশে ফিরে আসার রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে, তবুও ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ করার দ্রুত কোনো পথ খুঁজছেন না। মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় হরমুজ প্রণালীর একটি মানচিত্র পোস্ট করে তার ওপর ‘যুক্তরাষ্ট্রের অঞ্চল’ লিখে তিনি নিজেদের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতিরই বার্তা দিয়েছেন।

    ইরানের সাথে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিজেদের কৌশল বদলে ফেলার নতুন ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সাথে চলমান সব ধরনের আলোচনা বন্ধের জন্য নিজের শীর্ষ প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাত কমানোর বদলে ইরানকে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার নীতি গ্রহণ করছে ওয়াশিংটন।

    সিএনএন, বুধবার (১৯ আগস্ট) জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে এই বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এতদিন ‘অবিলম্বে কঠোর আঘাত’ করার যে আলোচনা ছিল, সেখান থেকে সরে এসে এখন ইরানকে ‘ধীরে ধীরে শ্বাসরুদ্ধ’ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাথে কোনো ধরনের আলোচনা বা বৈঠক হচ্ছে না বা সময়সূচীও নির্ধারিত নেই।’ সেই সাথে হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে জারি রয়েছে বলে জানান তিনি।

    তবে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত এবং সব মাইন নিষ্ক্রিয় করার দাবি করলেও, বাস্তবে নৌপথটিতে জাহাজ চলাচল এখনও চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পাশাপাশি সেখানে ইরানি হামলার ঘটনাও ঘটছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সমন্বয়ে গঠিত মার্কিন প্রতিনিধি দলকে তেহরানের সাথে আলোচনা বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে চুক্তি করতে অস্বীকৃতি জানানোয় ট্রাম্প এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

    অন্যদিকে, ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য ইরান যে নতুন ব্যবস্থার চেষ্টা করছে, তাতে ট্রাম্প চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ওমান নিরপেক্ষ ভূমিকা না রেখে ইরানের প্রতি পক্ষপাত করছে বলে ওয়াশিংটনের ধারণা। প্রণালী দিয়ে পারাপারকারী জাহাজের ওপর কোনো ধরনের ফি বা শুল্ক আরোপের প্রস্তাব কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন প্রশাসন।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী অনির্দিষ্টকালের জন্য ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রাখতে প্রস্তুত। ইরানের ওপর শীঘ্রই আরও কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আসতে যাচ্ছে। যদিও টানা ছয় মাসের যুদ্ধে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের মজুতে টান পড়েছে এবং দেশে ফিরে আসার রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে, তবুও ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ করার দ্রুত কোনো পথ খুঁজছেন না। মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় হরমুজ প্রণালীর একটি মানচিত্র পোস্ট করে তার ওপর ‘যুক্তরাষ্ট্রের অঞ্চল’ লিখে তিনি নিজেদের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতিরই বার্তা দিয়েছেন।

    ইরানের সাথে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিজেদের কৌশল বদলে ফেলার নতুন ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সাথে চলমান সব ধরনের আলোচনা বন্ধের জন্য নিজের শীর্ষ প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাত কমানোর বদলে ইরানকে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার নীতি গ্রহণ করছে ওয়াশিংটন।

    সিএনএন, বুধবার (১৯ আগস্ট) জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে এই বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এতদিন ‘অবিলম্বে কঠোর আঘাত’ করার যে আলোচনা ছিল, সেখান থেকে সরে এসে এখন ইরানকে ‘ধীরে ধীরে শ্বাসরুদ্ধ’ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। নিজের ট্রুথ সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাথে কোনো ধরনের আলোচনা বা বৈঠক হচ্ছে না বা সময়সূচীও নির্ধারিত নেই।’ সেই সাথে হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে জারি রয়েছে বলে জানান তিনি।

    তবে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত এবং সব মাইন নিষ্ক্রিয় করার দাবি করলেও, বাস্তবে নৌপথটিতে জাহাজ চলাচল এখনও চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পাশাপাশি সেখানে ইরানি হামলার ঘটনাও ঘটছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সমন্বয়ে গঠিত মার্কিন প্রতিনিধি দলকে তেহরানের সাথে আলোচনা বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে চুক্তি করতে অস্বীকৃতি জানানোয় ট্রাম্প এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

    অন্যদিকে, ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য ইরান যে নতুন ব্যবস্থার চেষ্টা করছে, তাতে ট্রাম্প চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ওমান নিরপেক্ষ ভূমিকা না রেখে ইরানের প্রতি পক্ষপাত করছে বলে ওয়াশিংটনের ধারণা। প্রণালী দিয়ে পারাপারকারী জাহাজের ওপর কোনো ধরনের ফি বা শুল্ক আরোপের প্রস্তাব কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন প্রশাসন।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী অনির্দিষ্টকালের জন্য ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রাখতে প্রস্তুত। ইরানের ওপর শীঘ্রই আরও কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আসতে যাচ্ছে। যদিও টানা ছয় মাসের যুদ্ধে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের মজুতে টান পড়েছে এবং দেশে ফিরে আসার রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে, তবুও ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ করার দ্রুত কোনো পথ খুঁজছেন না। মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় হরমুজ প্রণালীর একটি মানচিত্র পোস্ট করে তার ওপর ‘যুক্তরাষ্ট্রের অঞ্চল’ লিখে তিনি নিজেদের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতিরই বার্তা দিয়েছেন।

  • রাষ্ট্র হিসেবে অস্তিত্ব হারানোর ঝুঁকিতে ইসরাইল

    রাষ্ট্র হিসেবে অস্তিত্ব হারানোর ঝুঁকিতে ইসরাইল

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরো উসকে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোকে যুদ্ধে জড়ানোই ইসরাইলের প্রধান লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা।

    রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার আখমাত স্পেশাল ফোর্সের কমান্ডার ও সেনাবাহিনীর প্রধান সামরিক-রাজনৈতিক অধিদপ্তরের উপপ্রধান আপ্তি আলাউদিনভ বলেন, ধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠবে।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের বুঝতে হবে যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আরো বিস্তৃত হবে। আমি বিশ্বাস করি, এটাই ইসরাইলের মূল লক্ষ্য: সংঘাত যতটা সম্ভব বাড়িয়ে তোলা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও পুরো ন্যাটো জোটকে এর মধ্যে টেনে আনা।’

    তিনি আরো বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত, তারা (ইসরাইল) তাদের শক্তিকে অতি মূল্যায়ন করবে এবং একটি রাষ্ট্র হিসেবে তাদের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যাবে।’

  • আট মাস পর ইমরান খানের সঙ্গে স্ত্রীর প্রথম দেখা

    আট মাস পর ইমরান খানের সঙ্গে স্ত্রীর প্রথম দেখা

    পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান চলতি বছরে প্রথমবারের মতো তার বোন নূরিন নিয়াজি ও স্ত্রী বুশরা বিবির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    দেশটির সুপ্রিম কোর্ট কারাবন্দি ইমরান খানের জন্য প্রতি সপ্তাহে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালতের এ নির্দেশের পর ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান পরিবারের সদস্যরা।

    ২০২৩ সাল থেকে আদিয়ালা কারাগারে বন্দি ইমরান খানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। বর্তমানে আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তিনি ১৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

    ডন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমরানের বোন নূরিন নিয়াজি এ বছর প্রথমবারের মতো তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। তারা প্রায় ১৫ মিনিট কথা বলা সুযোগ পান। কারাগার সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, কারাগারের সম্মেলনকক্ষে তাদের মধ্যে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তারা ইমরানের শারীরিক অবস্থা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

    নূরিন তার ভাইকে সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশের বিষয়েও অবহিত করেন। ওই নির্দেশে ইমরান খানকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের কথা বলা হয়েছিল।

    তবে সাক্ষাতের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের আদেশে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সতর্ক করে বলা হয়েছিল, সাক্ষাতের সুযোগ রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হলে ইমরান খানকে দেওয়া এই সুবিধা প্রত্যাহার করা হতে পারে।

    ইমরানের অন্য দুই বোন আলিমা খান ও উজমা খান এবং তার চাচাতো ভাই কাসিম জামানকে তার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়নি। সাক্ষাতের সুযোগ পাননি তার দলের রাজনৈতিক নেতারাও।

    স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ

    এদিকে মঙ্গলবার কারাগারের একটি সম্মেলন কক্ষে ইমরান খানের স্ত্রী বুশরা বিবিও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে কারাগার সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইমরান খান ও বুশরা বিবির সাক্ষাৎ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট স্থায়ী হয়।

    এর আগে বুশরা বিবি তার সন্তান মুসা ও মুবাশশারা মানেকা এবং তার ননদ মেহরুন্নিসার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাদের এই সাক্ষাৎ প্রায় ৪০ মিনিট স্থায়ী হয়।

    মুসা ও মুবাশশারা বুশরা বিবির প্রথম স্বামীর ঘরের সন্তান। প্রথম বিয়ে বিচ্ছেদের পর তিনি ইমরান খানকে বিয়ে করেন।

    এর আগে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, ইমরান খানকে দুই দিনের মধ্যে চিকিৎসার জন্য শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাকে সেখানে রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়।

  • রকেট প্রযুক্তিতে বড় সাফল্য চীনের

    রকেট প্রযুক্তিতে বড় সাফল্য চীনের

    পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে বড় সাফল্য অর্জন করেছে চীনের একটি বেসরকারি মহাকাশ স্টার্টআপ ল্যান্ডস্পেস। বুধবার প্রথমবারের মতো দেশটির কোনো বাণিজ্যিক রকেটের প্রথম ধাপ উৎক্ষেপণের পর স্থলভাগে সফলভাবে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই ঘটনাকে দেশটির মহাকাশ খাতে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে তুলে ধরেছে।

    ল্যান্ডস্পেসের তৈরি ঝুকু-৩ (Zhuque-3) রকেটটি স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে উত্তর-পশ্চিম চীনের ডংফেং কমার্শিয়াল স্পেস ইনোভেশন পাইলট জোন থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের পর রকেটটির প্রথম ধাপ নির্ধারিত অবতরণ এলাকায় ফিরে গিয়ে সফলভাবে মাটিতে অবতরণ করে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া।

    রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, রকেটের প্রথম ধাপটি মরুভূমির নির্ধারিত অবতরণস্থলের দিকে ধীরে ধীরে নেমে আসে। অবতরণের ঠিক আগে এর ভাঁজ করা পা খুলে যায় এবং রকেটটি নিয়ন্ত্রিতভাবে মাটিতে অবতরণ করে।

    এদিকে রকেটটির দ্বিতীয় ধাপ সফলভাবে হংহু-০৩ স্যাটেলাইটকে নির্ধারিত কক্ষপথে পাঠিয়েছে। পুরো অভিযানকে ‘সম্পূর্ণ সফল’ বলে জানিয়েছে সিনহুয়া।

    যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে প্রথম

    মহাকাশ বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ল্যান্ডস্পেসই প্রথম প্রতিষ্ঠান, যারা কক্ষপথে উৎক্ষেপণযোগ্য শ্রেণির রকেটের বুস্টার নিজস্ব অবতরণ পা ব্যবহার করে স্থলভাগে সফলভাবে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।

    অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককোয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্পদার্থবিদ অধ্যাপক রিচার্ড ডি গ্রিজ এই ঘটনাকে চীনের বাণিজ্যিক মহাকাশ খাতের জন্য বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    তাঁর মতে, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে চীন রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি—দুই খাতের মাধ্যমে রকেট পুনরুদ্ধারের দুটি পৃথক প্রযুক্তি প্রদর্শন করেছে। এর আগে জুলাইয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে তৈরি লং মার্চ-১০বি রকেটের প্রথম ধাপ সমুদ্রভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল।

    ডি গ্রিজের মতে, রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি মহাকাশ খাতের মধ্যে প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চীনকে ভবিষ্যতে কম খরচে আরও ঘন ঘন রকেট উৎক্ষেপণের সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে বড় আকারের স্যাটেলাইট নক্ষত্রমণ্ডল বা মেগা-কনস্টেলেশন স্থাপনের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেটে বাড়ছে চীনের বিনিয়োগ

    চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ‘মহাকাশ স্বপ্ন’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহাকাশ কর্মসূচিতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে। এর পাশাপাশি বাণিজ্যিক মহাকাশ খাতকেও প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

    সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, ঝুকু-৩ রকেটটি চীনের জাতীয় মহাকাশ প্রশাসনের অনুমোদন পেয়েছে। তুলনামূলক কম খরচে বেশি সক্ষমতা নিয়ে এবং ঘন ঘন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের লক্ষ্যেই রকেটটি তৈরি করা হয়েছে।

    রকেটের প্রথম ধাপ সফলভাবে ফিরিয়ে এনে পুনরায় ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জন উৎক্ষেপণের খরচ কমাতে পারে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে চীনের বাণিজ্যিক মহাকাশ খাত ভবিষ্যতে আরও দ্রুত সম্প্রসারণের সুযোগ পেতে পারে।

  • এসএস পাওয়ারকে ৩২ লাখ ডলার ঋণ ছাড়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি

    এসএস পাওয়ারকে ৩২ লাখ ডলার ঋণ ছাড়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি

    বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অনুকূলে অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রার সিন্ডিকেটেড ঋণের অবশিষ্ট অংশ ছাড় করার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রূপালী ব্যাংক পিএলসির অংশ হিসেবে থাকা ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৬১ দশমিক ২৮ মার্কিন ডলার ঋণ ছাড় এবং প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর একটি নির্দিষ্ট বিধান কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    বুধবার (১৯ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। একইসঙ্গে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সার্কুলার লেটার পাঠানো হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অনুকূলে আগে অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রার সিন্ডিকেটেড ঋণে রূপালী ব্যাংক পিএলসির অংশের অবশিষ্ট ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৬১ দশমিক ২৮ ডলার ছাড় করা যাবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে এলসি খোলার ক্ষেত্রেও ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৭কক (৩) ধারার বিধান কার্যকর হবে না।

    তবে এ অনুমতির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এ ধরনের ঋণ সুবিধার বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনও দায় সৃষ্টি হবে না। ভবিষ্যতে রূপালী ব্যাংক এ ঋণের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে কোনও ধরনের আর্থিক সহায়তাও দাবি করতে পারবে না।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বিশেষ বিধানের আওতায় এ অনুমতি দেওয়ার ফলে রূপালী ব্যাংক এসএস পাওয়ার-১-এর অনুকূলে আগে অনুমোদিত সিন্ডিকেটেড ঋণের অবশিষ্ট অর্থ ছাড় করতে পারবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় এলসি খোলার সুযোগ তৈরি হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের জারি করা সার্কুলার লেটারে বলা হয়েছে, ১৯ আগস্ট জারি করা প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ব্যাংক আইনগত ক্ষমতার বিষয়টিও উল্লেখ করেছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১২১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের অনুকূলে রূপালী ব্যাংকের অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রার সিন্ডিকেটেড ঋণের যে অংশ এখনো ছাড় হয়নি, তা ছাড় করার পথ খুলেছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় আমদানি কার্যক্রমের জন্য এলসি খোলার সুযোগও তৈরি হয়েছে।

    তবে ঋণ সুবিধাটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর কোনও আর্থিক দায় থাকবে না— এ বিষয়টি প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ঋণটির ঝুঁকি ও দায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংককেই বহন করতে হবে।

  • ড্রোন হামলার জন্য নতুন জোট গড়তে চায় যুক্তরাষ্ট্র

    ড্রোন হামলার জন্য নতুন জোট গড়তে চায় যুক্তরাষ্ট্র

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় নতুন ধরনের সামরিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ কমানো, ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার হ্রাস এবং কম খরচে ড্রোন ধ্বংসের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই ওয়াশিংটন এ উদ্যোগ নিয়েছে।

    সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরান ও তার মিত্রদের ড্রোন হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তুলনামূলক কম খরচে তৈরি ড্রোন ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি, জাহাজ ও বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো সম্ভব হচ্ছে। অন্যদিকে এসব ড্রোন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনেক ক্ষেত্রে অত্যন্ত ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে।

    ফলে একটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে—কম দামের ড্রোন ধ্বংস করতে কি সব সময় কোটি কোটি ডলারের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা সম্ভব? এই বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি সমন্বিত জোট গড়তে চায়, যেখানে বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি, রাডার ব্যবস্থা, যুদ্ধবিমান, জাহাজ ও আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা একসঙ্গে ব্যবহার করা যাবে। এর মাধ্যমে হামলার তথ্য দ্রুত আদান-প্রদান এবং ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংসের কাজ আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।

    নতুন এই উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুদ নিয়ে উদ্বেগ। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতসহ বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার হচ্ছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত চললে যুক্তরাষ্ট্রের মজুদের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও তার মিত্রদের ড্রোন প্রযুক্তি এখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধরন বদলে দিয়েছে। ছোট ও তুলনামূলক সস্তা ড্রোন একসঙ্গে বড় সংখ্যায় পাঠিয়ে প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যস্ত করে রাখা সম্ভব। এর ফলে আকাশ প্রতিরক্ষার দুর্বল জায়গা খুঁজে বের করাও সহজ হয়।

    এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র শুধু নিজের সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর না করে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে চাইছে। এ ধরনের ব্যবস্থায় ড্রোন প্রতিরোধে বিশেষ প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক জ্যামিং, লেজার ও কম খরচের ইন্টারসেপ্টর ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে।

    তবে এ উদ্যোগের রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বজায় রাখা এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতার বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলাও ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নতুন জোট গঠিত হলে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক মেরুকরণ আরও বাড়তে পারে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করবে, অন্যদিকে ইরানও তার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে।

    ড্রোন এখন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তুলনামূলক কম খরচের অস্ত্র হিসেবে উঠে এসেছে। আর এই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র যৌথ প্রতিরক্ষা জোট গড়ার পথে এগোচ্ছে। ওয়াশিংটনের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো—কীভাবে কম খরচে এবং দ্রুততার সঙ্গে এসব ড্রোন হামলা প্রতিহত করা যায়, একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তার ঠেকানো যায়।

    ১৩ই অগাস্ট মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম ঘোষণা করে যে তারা ‘ফ্যালকন স্ট্রাইক ফোর্স’ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং এই বাহিনীতে যোগদানের জন্য অঞ্চলটির দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানানোর কাজ চলছে। তবে তারা কোনো দেশ বা সম্ভাব্য অংশীদারের নাম প্রকাশ করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগকে মূলত ড্রোন যুদ্ধের পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • ইরানের হামলা মোকাবিলায় ইউরোপকে প্রস্তুত থাকতে বলল ন্যাটো

    ইরানের হামলা মোকাবিলায় ইউরোপকে প্রস্তুত থাকতে বলল ন্যাটো

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ আরো তীব্র করলে ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর কথা বিবেচনা করেছে ইরান—এমন একটি প্রতিবেদনের পর সব সদস্য রাষ্ট্রকে রক্ষায় প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে ন্যাটো।

    বুধবার ন্যাটোর এক কর্মকর্তা বলেন, জোটের কোনো সদস্যের জন্য যে কোনো ধরনের হুমকি দেখা দিলে তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে ন্যাটো।

    তিনি বলেন, ‘চলতি বছরের শুরুতে ইরান থেকে তুরস্কের দিকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র চারটি পৃথক ঘটনায় ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত করেছিল। এতে প্রমাণিত হয়েছে, আমাদের প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী ও কার্যকর।’

    ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা আরও বাড়ালে তেহরান কী ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে, তা নিয়ে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনের পর ন্যাটোর পক্ষ থেকে এ সতর্কবার্তা আসে।

    যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপজুড়ে বিভিন্ন দেশে সামরিক ঘাঁটি ও সেনা মোতায়েন রয়েছে। ফলে ইউরোপে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় সম্ভাব্য ইরানি হামলার আশঙ্কা দেখা দিলে তা ন্যাটোর সদস্যদের নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

  • টেক্সাসে সমান তালে বাড়ছে মুসলিম ও ইসলামবিদ্বেষ

    টেক্সাসে সমান তালে বাড়ছে মুসলিম ও ইসলামবিদ্বেষ

    কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে মুসলিম সম্প্রদায়ের সংখ্যা বাড়ছে, বিশেষ করে ডালাসের আশপাশে। ভালো স্কুল, তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন এবং শক্তিশালী মুসলিম সম্প্রদায়ের কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মুসলিম পরিবারগুলো সেখানে বসতি গড়েছে। ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ এলাকায় গড়ে উঠেছে কয়েক ডজন মসজিদ ও ইসলামিক প্রতিষ্ঠান। তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের এই বিস্তারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অঙ্গরাজ্যটিতে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য, সামাজিক বৈরিতা এবং রাজনৈতিক প্রচারণাও জোরালো হয়েছে।

    বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

    জুনের শুরুর দিকে ভোর হওয়ার আগেই ঘুম থেকে উঠেছিলেন গুলাম কেহার। টেক্সাসের আরভিংয়ে নিজের স্থানীয় মসজিদ ভ্যালি র‍্যাঞ্চ ইসলামিক সেন্টারে দিনের প্রথম নামাজ আদায় করে কয়েক মাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডে দায়িত্ব পালনে যাওয়ার কথা ছিল তার।

    এর আগেও তিনি দায়িত্ব পালনে গিয়েছেন। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। স্ত্রী ও চার সন্তানকে টেক্সাসে রেখে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন।

    টেক্সাসের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মুসলিমবিরোধী বক্তব্য তখন আরও তীব্র হয়ে উঠেছিল এবং সেগুলোর প্রভাব সাধারণ মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে বলে মনে হচ্ছিল। বিভিন্ন মসজিদের মুসল্লি ও ধর্মীয় নেতারা প্রকাশ্যে নামাজ পড়ার সময় কিংবা পার্কে বসে থাকার সময় তাদের উদ্দেশে করা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিজ্ঞতা পরস্পরের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছিলেন।

    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হিউস্টনের একটি বড় ইসলামিক সেন্টারে সন্ত্রাসী হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। কনরো শহরে এক নারী মুসলিম ক্রেতাদের বলেন, তারা ‘এই অঙ্গরাজ্য বা এই দেশে স্বাগত নয়’। ওই মন্তব্যের ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর নারীটি চাকরি হারান। পরে সমর্থকদের কাছ থেকে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পান তিনি।

    ডালাসের উপশহর ম্যাককিনিতেও একটি মসজিদ সম্প্রসারণ নিয়ে উত্তপ্ত সিটি কাউন্সিলের শুনানির সময় এক নারী সাবেক মেয়রের জামার ভেতরে ইসলামবিরোধী বার্তা লেখা কাগজ ঢুকিয়ে দেন।

    ‘এমন পরিবেশে তাদের একা রেখে যাওয়া কিছুটা উদ্বেগের বিষয় ছিল,’ নিজের পরিবারের প্রসঙ্গে বলেন কেহার। ‘বাইরে যেসব কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোই ভয় ধরিয়ে দিচ্ছিল।’

    পরে দায়িত্ব পালনের এলাকায় তার পরিবারকে যত দ্রুত সম্ভব তার সঙ্গে যোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করেন তিনি।

    কেহারের মতো গত কয়েক দশকে টেক্সাসে বসতি গড়া মুসলিমদের সংখ্যা বেড়েছে। ডালাসের দক্ষিণে ‘ডিসোটো হাউস অব পিস’-এর মতো প্রতিষ্ঠানও মুসলিম সম্প্রদায়ের নতুন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে।

    ‘আমেরিকান মুসলিমদের জন্য এটাই থাকার সবচেয়ে ভালো জায়গা,’ বলেন তাম্মাম আলওয়ান। ডেট্রয়েট থেকে আরভিংয়ে চলে আসা এই ব্যক্তি বলেন, ‘আমি প্রার্থনা করেছিলাম—হে আল্লাহ, আমাকে আরভিংয়ে পাঠান।’

    কিন্তু মুসলিম সম্প্রদায় যত বেড়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভও তত বেড়েছে।

    ‘র‍্যাডিক্যাল ইসলাম’ মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি দীর্ঘদিন ধরেই রিপাবলিকান রাজনীতির অংশ। জাতীয় পর্যায়েও এই বক্তব্য আরও তীব্র হয়েছে। মুসলিম রাজনীতিকদের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে জয় এবং মুসলিমদের রাজনৈতিক দৃশ্যমানতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।

    তবে টেক্সাসের রাজনীতিকরা শুধু বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। তারা কিছু মুসলিম প্রতিষ্ঠান ও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অঙ্গরাজ্যের ক্ষমতাও প্রয়োগ করেছেন।

    ২০২৫ সালের শুরুর দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে। পূর্ব প্লানোর ইসলামিক সেন্টার বা এপিকের সদস্যরা ডালাসের পূর্বদিকে প্রায় ৪০০ একর জমিতে মসজিদকেন্দ্রিক একটি আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রকাশ করলে তীব্র বিরোধিতা শুরু হয়। প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয় এপিক সিটি । পরে এর নাম পরিবর্তন করে ‘দ্য মেডো’ রাখা হয়। প্রকল্পটিতে এক হাজারের বেশি বাড়ি, মসজিদ, স্কুল, দোকান, স্বাস্থ্যসেবা ও বিনোদনমূলক স্থাপনা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

    প্রকল্পটি নিয়ে ইসলামবিরোধী প্রভাবক অ্যামি মেকেলবার্গ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা শুরু করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, টেক্সাসের বারবিকিউ রেস্তোরাঁগুলোকে একটি সমন্বিত ‘দখল’-এর অংশ হিসেবে ‘আরব শপিং প্লাজা’ দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। এপিক সিটি নিয়ে তিনি লিখেছিলেন, ‘এভাবেই পশ্চিমা বিশ্বের পতন হয়।’

    তার প্রচারণা টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এরপর অ্যাবট প্রস্তাবিত প্রকল্প ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে রাজ্যীয় তদন্ত শুরু করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনও প্রকল্পটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেন।

    প্রকল্পটির সমালোচকেরা এটিকে ‘শরিয়াহ-নিয়ন্ত্রিত’ বা মুসলিমদের জন্য আলাদা এলাকা হিসেবে তুলে ধরলেও প্রকল্পের উদ্যোক্তারা বলেছেন, এটি সব ধর্ম ও পটভূমির মানুষের জন্য উন্মুক্ত।

    রিপাবলিকান কনভেনশনে শরিয়াহবিরোধী প্রপাগাণ্ডা

    মুসলিমবিরোধী বক্তব্যের বিস্তার টেক্সাসের রিপাবলিকান পার্টির সম্মেলনেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

    জুনে অনুষ্ঠিত টেক্সাস স্টেট রিপাবলিকান কনভেনশনে টেক্সাসকে শরিয়াহমুক্ত রাখার বার্তা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক স্লোগানে পরিণত হয়। একাধিক প্যানেলে মুসলিম ‘আগ্রাসন’ নিয়ে সতর্ক করা হয় এবং শরিয়াহ আইন নিষিদ্ধ করাকে গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়। গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটও সম্মেলনে শরিয়াহ আইন নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানান।

    সম্মেলনস্থলে টেক্সাস হাউসের নতুন ‘শরিয়াহ-মুক্ত ককাস’-এর একটি বুথও ছিল। সেখানে অ্যামি মেকেলবার্গের সংগঠনের পক্ষ থেকেও প্রচারণা চালানো হয়।

    এক নারীর হাতে থাকা একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমার টেক্সাসকে শরিয়াহ আইনে শাসিত করো না। স্বাধীনতা রক্ষা করো। টেক্সাস রক্ষা করো।’

    এরই মধ্যে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের রিপাবলিকান প্রার্থী বো ফ্রেঞ্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘প্রত্যেক মুসলিম চলে না যাওয়া পর্যন্ত আমি থামব না।’

    ২০১৫ থেকেই শরিয়াহবিরোধী রাজনীতি

    টেক্সাসে মুসলিমদের নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০১৫ সালে আরভিংয়ের তৎকালীন মেয়র বেথ ভ্যান ডুইন শরিয়াহ আইনের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসেন। তিনি বর্তমানে কংগ্রেসের সদস্য।

    এর দুই বছর পর, ওয়াশিংটনভিত্তিক কট্টর ডানপন্থী থিঙ্কট্যাঙ্ক সেন্টার ফর সিকিউরিটি পলিসি-র উদ্যোগে আনা একাধিক বিলের অংশ হিসেবে টেক্সাসের রিপাবলিকানরা শরিয়াহবিরোধী আইন পাস করেন।

    এরপর কিছু সময়ের জন্য কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিতে ইসলাম ইস্যুর গুরুত্ব কমে যায়। অভিবাসন, মহামারি ও লিঙ্গ রাজনীতি বেশি গুরুত্ব পায়।

    কিন্তু পরে কট্টর ডানপন্থীদের একটি অংশ নতুন করে এমন একটি বিতর্কিত ধারণা সামনে আনে—ইসলাম কোনো ধর্ম নয়, বরং একটি রাজনৈতিক মতাদর্শ।

    এই ধারণার ওপর ভিত্তি করেই এপিক সিটি নিয়ে নতুন করে প্রচারণা শুরু হয়।

    মুসলিমদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ

    রিপাবলিকান রাজনৈতিক পরামর্শক অ্যান্থনি হোমের মতে, ইসলাম নিয়ে রিপাবলিকান ভোটারদের উদ্বেগ মূলত অবৈধ অভিবাসন নিয়ে তাদের ভীতিরই সম্প্রসারণ। গভর্নর অ্যাবটের বিভিন্ন পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘তিনি যা কিছু করেন, তা জনমত জরিপ দ্বারা চালিত।’

    এদিকে অ্যাবট মুসলিম যাত্রীদের ধর্মীয় অজুর জন্য ব্যবস্থা রাখা টেক্সাসের বিমানবন্দরগুলোর সরকারি অর্থায়ন বন্ধ করার হুমকি দেন। মুসলিমদের একটি ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত একটি ব্যক্তিগত ওয়াটার পার্ক অনুষ্ঠান বাতিলের নির্দেশও দেন তিনি।

    একই সঙ্গে অ্যাবট জাতীয় নাগরিক অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস বা সিএআইআর-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেন। সংগঠনটি আদালতে এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছে।

    মুসলিম নেতাদের অভিযোগ, সিএআইআর-কে লক্ষ্যবস্তু করার পাশাপাশি অন্যান্য ইসলামি প্রতিষ্ঠানকেও রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

  • কলকাতা ও লন্ডনে ১০ বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় জামায়াতের শোক

    কলকাতা ও লন্ডনে ১০ বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় জামায়াতের শোক

    ভারতের কলকাতা ও যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনে পৃথক দুটি ঘটনায় ১০ বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    বুধবার (১৯ আ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই শোক প্রকাশ করেন।

    বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘গত রাত ২টার দিকে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ অন্তত ৯ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মর্মান্তিকভাবে নিহত এবং আরও কয়েকজন দগ্ধ হয়ে আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করছি। ’

    গোলাম পরওয়ার বলেন, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে ভারতে গিয়ে অগ্নিকাণ্ডের মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রিয় দেশবাসীর এভাবে নিহত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও কষ্টদায়ক।

    অপরদিকে, গত ১৭ আগস্ট যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে মাছুম মিয়া (৪০) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘আমি নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং আহত ও নিহতদের পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। মহান রবের নিকট দোয়া করি, তিনি যেন নিহতদের আত্মীয়স্বজনকে তাদের এই অপূরণীয় ক্ষতি ও শোক কাটিয়ে ওঠার তাওফিক দান করেন। ’

    তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ঘটনায় যারা দগ্ধ ও গুরুতর আহত হয়েছেন, আমি তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। একই সঙ্গে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছি, যেন নিহতদের লাশ দ্রুত ও সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরিয়ে আনার যথাযথ ব্যবস্থা করা হয় এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়। ’

  • ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুমকি ইরানের

    ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুমকি ইরানের

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের তীব্রতা আরও ছড়িয়ে পড়লে ইউরোপে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছে ইরান। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে বুলগেরিয়া ও সাইপ্রাসে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনার কথাও উঠে এসেছে বলে ইরানি সরকারের দুই সূত্রের বরাতে জানিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

    এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা কার্যত ভেঙে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেছেন, বর্তমানে তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কোনো আলোচনা চলছে না এবং নতুন করে আলোচনা শুরুরও কোনো পরিকল্পনা নেই। এদিকে বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাত ঘোষণা দিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সব ধরনের ‘বাণিজ্য, বাণিজ্যিক বিনিময় ও আর্থিক লেনদেন’ স্থগিত থাকবে।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র এখন হরমুজ প্রণালি। ট্রাম্প বারবার দাবি করছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি খোলা রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে। কিন্তু বাস্তবে প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো খুবই কম।

    চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলরত একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। ইরানের এক সামরিক মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে ফক্স নিউজ জানিয়েছে, প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা জাহাজগুলোর হালে ‘কয়েকটি সুন্দর গর্ত’ দেখা যেতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযানে সহযোগিতা না করার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্রদের বিরুদ্ধেও কঠোর ভাষা ব্যবহার করছেন ট্রাম্প। ওমানকে তার মধ্যপ্রাচ্য নীতির পথে বাধা সৃষ্টি না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ইউরোপসহ অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।

  • বছরে তিন মাস স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকবেন প্রবীণরা

    বছরে তিন মাস স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকবেন প্রবীণরা

    বছরে তিন মাস অতি উচ্চ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকতে পারেন বাংলাদেশের প্রবীণরা। কেবল বাংলাদেশ নয়, এই তালিকায় ভারত ও পাকিস্তানও রয়েছে। বয়সভেদে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়।

    ভিন্ন বয়সি তিন ধরনের মানুষের ওপর ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উষ্ণায়নের একটি সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা। গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে দক্ষিণ এশিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলের মতো এলাকাগুলোর বয়স্কদের বছরে টানা তিন মাস দিনরাত অসহনীয় তাপমাত্রা সহ্য করতে হতে পারে। যেসব দেশে দারিদ্র্যের হার বেশি এবং ঘর ঠান্ডা রাখার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই, গবেষণায় সেসব দেশকেই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই তালিকায় ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও নাইজারের মতো দেশও রয়েছে। দ্য ল্যানসেট প্ল্যানেটারি হেলথ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি বয়স্কদের স্বাস্থ্যের জন্য প্রচলিত ধারণার চেয়ে বেশি ঝুঁকি তৈরি করছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নেতৃত্বে করা এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলো এমন এক সময়, যখন উত্তর গোলার্ধে তীব্র দাবদাহ চলছে, দাবদাহজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে অনেক মানুষের।

    এ ধরনের গবেষণায় আগে ‘ওয়েট-বাল্ব তাপমাত্রা’ নামের একটি পরিমাপ-পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো। তাতে আর্দ্রতা বিবেচনায় নিয়ে দেখা হতো মানবদেহ তাপ কতটা সহ্য করতে পারে। তবে দ্য ল্যানসেট প্ল্যানেটারি হেলথ-এ প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের গবেষণাগুলো চালানো হয়েছিল মূলত তরুণ ও সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ওপর। তার মানে, বয়স্কদের ঘাম কম হওয়া, হূদ্যন্ত্র তুলনামূলকভাবে দুর্বল হওয়া এবং আগে থেকেই নানা ধরনের শারীরিক অসুস্থতা থাকার বিষয়গুলো আগের গবেষণায় পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি। তাই যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা সাম্প্রতিক কালে পরিচালিত ওয়েট-বাল্ব পরীক্ষায় ৬০ বছরের বেশি বয়সি মানুষের ওপর উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার প্রভাবজনিত তথ্যগুলো ব্যবহার করেছেন। তা করতে গিয়ে সারা বিশ্বের বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে বিবেচনায় নিয়েছেন গবেষকরা। বিভিন্ন মাত্রার বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রেক্ষাপটে ২১০০ সাল নাগাদ তিনটি ভিন্ন বয়সের মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর তাপের প্রভাব কেমন হবে তার একটি মডেল তৈরি করেছেন তারা। গবেষণা প্রতিবেদনের উপসংহারে তারা বলেছেন, অসহনীয় তাপমাত্রা অনেক বড় পরিসরে এবং দীর্ঘ সময় ধরে অনুভূত হবে। এর ফলে আগে যতটা ধারণা করা হতো, তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাক-শিল্পায়ন যুগের তুলনায় বিশ্বের তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে বিশ্ব জুড়ে ৬০ বছরের বেশি বয়সি ২২ শতাংশ মানুষ প্রতি বছর অন্তত এক মাস ধরে অসহনীয় তাপমাত্রা সহ্য করতে বাধ্য হবেন।

    তাপমাত্রা এক ডিগ্রি করে বাড়লে আরো ১০০ কোটি মানুষ এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন এবং সেরকম পরিস্থিতিতে তাদের শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় যতটা তাপ ও আর্দ্রতা সহ্য করতে পারে, তার চেয়ে বেশি তাপ ও আর্দ্রতার মধ্যে আরো প্রায় এক মাস কাটাতে হবে তাদের। এমন পরিস্থিতি এড়াতে তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসারণ কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা। এর পাশাপাশি ভবিষ্যতে তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। দেখা গেছে, তাপজনিত কারণে বেশির ভাগ মৃত্যু হয় ঘরের ভেতরে। তাই বিজ্ঞানীরা মনে কনেন, এয়ার-কন্ডিশনিং এবং ঘর ঠান্ডা রাখার অন্যান্য ব্যবস্থার সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।