গত চার মাসে হাম ও উপসর্গে  মৃতের সংখ্যা ৭৫০

প্রতিবেদন:

·

, , ,

দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। শুক্রবার মৃত্যু হয়েছে আরও তিনজনের। এ নিয়ে গত প্রায় চার মাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫০ জনে। একই সময়ে নতুন করে ১২৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ৯০১ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ মারা যাওয়া তিনজন ঢাকা, সিলেট ও বরিশালের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

সরকারি হিসাব বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৩ জন। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫০ জনে।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, হামের উপসর্গে সবচেয়ে বেশি ২৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর রাজশাহী বিভাগে ৮৯, সিলেটে ৮৮, ময়মনসিংহে ৬২, চট্টগ্রামে ৫৩, বরিশালে ৪২, খুলনায় ২৯ এবং রংপুর বিভাগে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯০১ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩১১, চট্টগ্রামে ১৯০, বরিশালে ১১০, সিলেটে ৬৫, ময়মনসিংহে ৫২, খুলনায় ৪৬, রাজশাহীতে ১৭ এবং রংপুর বিভাগে ৯ জন ভর্তি হন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে হামের রোগী ভর্তি হয়েছে ৯২ হাজার ৮৩১ জন। এর মধ্যে ৮৯ হাজার ২৩৪ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে হামের উপসর্গ শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৯ হাজার ৮৯৯ এবং নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৩২৬।

এদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, হাম মোকাবিলায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক, ফিল্ড হাসপাতাল এবং জরুরি আইসিইউ সুবিধা সম্প্রসারণের মতো পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, দেশে বর্তমানে নতুন কোনো হামের জেনোটাইপ ছড়িয়ে পড়ছে কি না, তা জানতে জরুরি ভিত্তিতে জেনোটাইপ শনাক্তকরণ পরীক্ষা চালানো প্রয়োজন।

অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন শিশুদের চিকিৎসায় সরকারি হাসপাতালের আইসিইউর একটি অংশ সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি গুরুতর রোগীদের জন্য হাই-ফ্লো অক্সিজেন সেবার ব্যবস্থা বাড়ানোরও পরামর্শ দেন।

তার মতে, কোভিড-১৯ মহামারির সময় হাই-ফ্লো অক্সিজেন ব্যবস্থার মাধ্যমে বহু রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতেও শিশুদের চিকিৎসায় একই ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতালের এনআইসিইউ ও শিশু হাসপাতালের সক্ষমতাও কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি।

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ