শিরোনাম

  • ইইউ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার সাক্ষাৎ

    ইইউ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার সাক্ষাৎ

    বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে আরও অর্থবহ করা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।

    বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সৌজন্য সাক্ষাতে তারা এসব বিষয়ে আলোচনা করেন। এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের পলিটিক্যাল ফার্স্ট সেক্রেটারি সেবাস্টিন রিগার ব্রাউনও উপস্থিত ছিলেন।

    সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর করা, চলমান সংস্কার কার্যক্রম এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয় গুরুত্ব পায়।

    এছাড়া আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও জোর দেওয়া হয়।উভয়পক্ষ বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ক, উন্নয়ন সহযোগিতা ও অগ্রগতির ধারা ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    এসময় বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

  • সিলেটে অজ্ঞাত বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার

    সিলেটে অজ্ঞাত বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার

    সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুল এলাকায় এক অজ্ঞাত পরিচয় বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১২ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চন্ডিপুল সংলগ্ন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চন্ডিপুল এলাকায় এক ব্যক্তিকে মুমূর্ষ অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা দক্ষিণ সুরমা থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেয়ার পর রাত ১টা ৪০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    বুধবার (১৩ মে) এর সত্যতা নিশ্চিত করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি আশরাফুজ্জামান জানান, বৃদ্ধের বয়স ৭০ এর বেশি। মুমূর্ষ অবস্থায় ভবঘুরে বৃদ্ধকে পুলিশ রাতে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

    তিনি আরো জানান, লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে। মৃতের নাম-পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় শনাক্তে আশেপাশের থানাগুলোতে বার্তা পাঠানো হয়েছে। এছাড়া কেউ মৃত ব্যক্তিকে চিনে থাকলে দক্ষিণ সুরমা থানায় যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

  • নারায়ণগঞ্জে সাড়া ফেলেছে ৭০০ কেজি ওজনের গোলাপি মহিষ

    নারায়ণগঞ্জে সাড়া ফেলেছে ৭০০ কেজি ওজনের গোলাপি মহিষ

    আসন্ন পবিত্র কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জেলার পাইকপাড়া এলাকার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে এখন উৎসবের আমেজ। তবে এ উৎসব কোরবানির ঈদের কেনাবেচার চেয়েও বেশি কিছু। খামারের শত শত পশুর ভিড়ে সবার চোখ আটকে যাচ্ছে একটি বিশেষ প্রাণীর দিকে। ধবধবে সাদা নয়, বরং হালকা গোলাপি আভার এক বিশালকার মহিষ। শুধু রঙের কারণেই নয়, তার রাজকীয় চালচলন আর মাথার লম্বা চুলের স্টাইলের কারণে খামারিরা বেশ পছন্দ করেন। বিরল বৈশিষ্ট্যের কারণে অনেকে মজা করে মহিষটিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প নাম দিয়েছেন।

    বুধবার (১৩ মে) দুপুরে পাইকপাড়া এলাকার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে গিয়ে দেখা মেলে সাড়ে ৩ বছর বয়সী প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এ মহিষটির। এলবিনো জাতের এ মহিষের মাথার সামনের দিকে রয়েছে সোনালি রঙের লম্বা চুল। দেখতে ব্যতিক্রমী এ মহিষটির কথা ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন পাইকপাড়া এলাকায় ভিড় করছেন অসংখ্য মানুষ। খামারে ঢুকে এ মহিষের সাথে ছবি তুলছেন দর্শনার্থীরা।

    খামারের কর্মচারী জুবায়ের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, আমাদের এখানে তুফান, রহমান, ডাকাত বা মাস্তান নামে অনেক গরু আছে। কিন্তু এ মহিষটির জনপ্রিয়তা সবার ওপরে।

    খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, গত বছর কোরবানির ঈদের পর রাজশাহী সিটি পশুর হাট থেকে মহিষটি সংগ্রহ করা হয়েছিল। দীর্ঘ এক বছর বিশেষ যতে লালন-পালনের পর এবার কোরবানির হাটে তোলার আগেই এটি বিক্রি হয়ে গেছে।

    খামারের মালিক জিয়া উদ্দিন মৃধা বলেন, লাইভ ওয়েট হিসেবে প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা দরে মহিষটি মোট ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। ঢাকার এক সৌখিন ক্রেতা এরই মধ্যে মহিষটি কিনে আমাদের খামারেই রেখেছেন। যা ঈদের কয়েক দিন আগে খামার থেকে নিয়ে যাওয়া হবে।

    খামারের পরিচর্যাকারী আহাদ বলেন, প্রতিদিন ২ বেলা সময় মেনে তাকে খাবার দেয়া হয়। খাদ্যতালিকায় আছে ভুট্টা, সয়াবিন, খইল, গমের ভুসি, তিলের খইল, ধানের কুঁড়া, খড় ও সবুজ ঘাস। এ ছাড়া স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে নিয়মিত পরিচর্যাও করা হচ্ছে।

    মহিষটি দেখতে আসা শহরের নিতাইগঞ্জের বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান বলেন, ফেসবুকে গোলাপি মহিষের কথা শুনে দেখতে এসেছি। সত্যি, এমন রঙের মহিষ আগে কখনো দেখিনি।

    মহিষটির গায়ের রং নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে কৌতূহল থাকলেও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বিষয়টিকে সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

    তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ শহরের একটি খামারে গোলাপি রঙের একটি মহিষ আছে বলে শুনেছি। এটি কোনো বিরল জাত নয়। এটি একটি এলবিনো মহিষ। শরীরে রঞ্জক বা মেলানিন পদার্থের অভাব থাকলে প্রাণীর গায়ের রং এমন সাদা বা গোলাপি হয়।

    রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে এবার কোরবানির জন্য ২০০টি পশু প্রস্তুত করা হলেও, আলোচনার সবটুকু আলো কেড়ে নিয়েছে গোলাপি রঙের এই মহিষটি। এখন নারায়ণগঞ্জের মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে।

  • গোবিন্দগঞ্জে জমির সীমানা নিয়ে সংঘর্ষে প্রাণ গেল যুবকের

    গোবিন্দগঞ্জে জমির সীমানা নিয়ে সংঘর্ষে প্রাণ গেল যুবকের

    গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জমির সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুরুতর আহত এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বুধবার (১৩ মে) ভোরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে, মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে উপজেলার নাকাই ইউনিয়নের নাকাইহাট বন্দরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় অন্তত ১১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    নিহত ওই যুবকের নাম আনিছুর রহমান। তিনি নাকাইহাট বন্দর এলাকার নুরুল হক মণ্ডলের ছেলে এবং স্থানীয়ভাবে ফ্লেক্সিলোড ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে নাকাইহাট বন্দরের একটি জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য স্থানীয় সার্ভেয়ার দিয়ে সীমানা মাপার কাজ চলছিল। এ সময় নাকাই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক প্রধান ও তার ভাই আব্দুল মজিদ প্রধানের পক্ষের সাথে সাবেক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহফুজার রহমান মণ্ডলের আত্মীয় শাহ আলমের পক্ষের লোকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

    সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের লোকজন ইটপাটকেল নিক্ষেপে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় একটি হিরো মোটরসাইকেলে আগুন দেয়া হয় এবং একটি বাজাজ ডিসকভার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    এ ঘটনায় অন্তত ১১ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন— ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সায়েম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক প্রধান, আব্দুল মজিদ প্রধান, মানিক প্রধান, মেহেদুল প্রধানসহ আরো কয়েকজন।

    গুরুতর আহতদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ বুধবার ভোরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনিছুর রহমান মারা যান।

    ঘটনার খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    এদিকে, গাইবান্ধা জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) রশীদুল বারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সংঘর্ষের পর থেকে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

  • ভারতে কারাভোগ শেষে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরলেন ২ নারী

    ভারতে কারাভোগ শেষে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরলেন ২ নারী

    ভারতে দুই বছর কারাভোগ শেষে বাংলাদেশী দুই নারীকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে ফেরত পাঠিয়েছে ভারতীয় পুলিশ। মঙ্গলবার (১২ মে) রাত ৯টার দিকে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে তাদের হস্তান্তর করে।

    ফেরত আসা নারীরা হলেন হ্যাপি খান (৪৩) ও মারিয়া হাওলাদর (২৬)। তারা বাগেরহাট জেলার খেজুর বাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা।

    বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) সৈয়দ মোর্তজা আলী জানান, জীবিকার সন্ধানে ২০২৩ সালের মার্চ মাসে তারা দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতের নয়াদিল্লিতে গিয়েছিলেন। সেখানে বাসা বাড়িতে কাজ করার সময় পুলিশের হাতে আটক হন তারা। এরপর অনুপ্রবেশের দায়ে সে দেশের আদালত তাদের দুই বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠায়।

    তিনি আরো জানান, কারাভোগ শেষে ভারতের একটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের দায়িত্ব নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখে। পরে উভয় দেশের দূতাবাসের সহযোগিতায় এবং ভারত সরকারের বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে তারা দেশে ফেরেন।

    ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়। জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামের একটি মানবাধিকার সংস্থা থানা থেকে তাদের গ্রহণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।

    জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার যশোরের ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর শফিকুল ইসলাম জানান, ফেরত আসাদের বেনাপোল পোর্ট থানা থেকে গ্রহণ করে আজ (বুধবার) নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • মুক্তাগাছায় ঘরের তালা ভেঙে ৩৫ লাখ টাকা চুরি, গ্রেফতার ২

    মুক্তাগাছায় ঘরের তালা ভেঙে ৩৫ লাখ টাকা চুরি, গ্রেফতার ২

    ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ব্যবসায়ীর ঘরের তালা ভেঙে ৩৫ লাখ টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১২ মে) ডিএমপি পুলিশের সহযোগিতায় মুক্তাগাছা থানা পুলিশ ঢাকার শাহজাহানপুর এলাকা থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে চুরির ২১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার দু’জন হলেন— মুক্তাগাছার তারাটি ইউনিয়নের বিরাশি (মধ্যপাড়া) গ্রামের মো: সিরাজুলের ছেলে সৌরভ মিয়া (৩০) ও মো: আবুল কালাম কালু মিয়ার ছেলে মো: জনি (২৫)। বুধবার (১৩ মে) তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

    বাদীর অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মুক্তাগাছার বিরাশি গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী মো: আশরাফুল আলমের বাবা আব্দুল মোতালেব জমি কেনার জন্য ৩৫ লাখ টাকা ঘরে রেখে সম্প্রতি হজে চলে যান। আশরাফুলের মায়ের শোবার ঘরে একটি স্টিলের ট্র্যাংকে টাকাগুলো রেখে তালা লাগিয়ে রাখা হয়। গত ১ মে সন্ধ্যার দিকে আশরাফুলের মা মোসা: হাছিনা বেগম ঘরে তালা দিয়ে পাশের বাড়িতে যান। ফিরে এসে দেখেন ঘরের দরজার তালা ও স্টিলের ট্র্যাংকের তালা ভেঙে চোর ৩৫ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে।

    এ ঘটনায় থানায় মামলা করলে পুলিশ তদন্তে নামে। পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে মঙ্গলবার দু’জনকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে।

    গ্রেফতার সৌরভ ও জনির দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার শাহাজাহানপুর থানার এ/২৮ শাহাজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি বিল্ডিংয়ের ৪র্থ তলায় সৌরভ মিয়ার ভাড়া বাসার শোবার ঘরের ভেতর থেকে ১৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। অপরদিকে গ্রেফতার সৌরভের খালা শারমিন আক্তার শিখার বাড়ি ময়মনসিংহ সদরের চর কুষ্টিয়া গ্রামের গোয়াল ঘরের মাচার নিচ থেকে তিন লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

    মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, মামলার পর জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ঘটনাটিকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে মাঠে নামা হয়। ঘটনার সাথে জড়িত দুই চোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চুরির ৩৫ লাখ টাকার মধ্যে তাদের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত ২১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি টাকা উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।

    ওসি আরো জানান, গ্রেফতার দু’জনই পেশাদার ছিনতাইকারী ও চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই ও মাদকসহ একাধিক মামলা বিচারধীন রয়েছে।

  • কে হতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী?

    কে হতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী?

    নিজ দলের ভেতর থেকে ওঠা পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। একই সঙ্গে তিনি বিরোধীদের বলেছেন, তারা চাইলে দলের নিয়ম মেনে আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্ব বাছাইয়ের লড়াই শুরু করতে পারেন।

    লেবার পার্টির বিধি অনুযায়ী, নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ শুরু করতে হলে দলের অন্তত এক-পঞ্চমাংশ এমপির (৮১ জন) সমর্থন প্রয়োজন। এক বা একাধিক প্রার্থী এই পরিমাণ সমর্থন সংগ্রহ করতে পারলে স্টারমারের বিরুদ্ধে ভোট হবে।

    স্টারমারকে পদত্যাগের জন্য ইতোমধ্যে ১০০ জন এমপি প্রকাশ্যে আহ্বান জানিয়েছেন। তবে নেতৃত্ব বদলের জন্য কেউ আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেননি। ধারণা করা হচ্ছে, ৮১ জন এমপির স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে পারবেন- এমন লেবার নেতার সংখ্যা খুব কম। এরপরও সম্ভাব্য তিনজনকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। তারা হলেন- ওয়েস স্ট্রিটিং, অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ও অ্যাঞ্জেলা রেনার।

    বর্তমানে লেবার পার্টির ভেতর দুটি পক্ষ আছে। যারা দ্রুত নেতৃত্বের পরিবর্তন চান, তারা স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পক্ষে। অন্যদিকে, যারা সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতার হস্তান্তর দেখতে চান, তাদের পছন্দ গ্রেটার ম্যানচেস্টারের বর্তমান মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তরুণ ভোটারদের পছন্দ বিবেচনায় সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনারকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    এই তিনজনের মধ্যে স্ট্রিটিং লেবার পার্টির ডানপন্থী ঘরানার নেতা হিসেবে পরিচিত। অপরদিকে বার্নহ্যাম বিভিন্ন জনমত জরিপে ব্রিটেনের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদের আখ্যা পেয়েছেন। তিনি ‘ম্যানচেস্টারিজম’ ধারণার প্রবক্তা। এর মূল বার্তায় ব্যবসাবান্ধব নীতি ও সমাজতন্ত্রের আকাঙক্ষার কথা আছে।

    ব্রিটিশ রাজনীতিতে অ্যাঞ্জেলা রেনারের স্পষ্টভাষী ভাবমূর্তি অনেক তরুণ ভোটারকে আকৃষ্ট করেছে। পুরনো ঘরানার সমাজতন্ত্রী কর্মীদের কাছেও তিনি বেশ জনপ্রিয়। রেনার ম্যানচেস্টারের শহরতলিতে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হয়েছেন। তিনি মাত্র ১৬ বছর বয়সে মা হন। তিনি ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। সেখান থেকেই রাজনীতিতে যুক্ত হন।

  • বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা রাশিয়ার

    বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা রাশিয়ার

    রাশিয়া নতুন একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছেন, পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ‘সারমাত’ বিশ্বের ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ ক্ষেপণাস্ত্র। খবর আল-জাজিরার।

    রুশ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, রাশিয়ার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার সের্গেই কারাকায়েভ পুতিনকে সফল উৎক্ষেপণের বিষয়ে অবহিত করছেন। পুতিন জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ সারমাত ক্ষেপণাস্ত্র আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর কার্যক্রমে যুক্ত হবে।

    টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে পুতিন বলেন, এটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র। তার দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেডের ধ্বংসক্ষমতা পশ্চিমা দেশগুলোর সমমানের ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় চার গুণ বেশি। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, সারমাত সাব-অরবিটাল ফ্লাইট সক্ষমতা রাখে এবং এর পাল্লা ৩৫ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। পুতিন আরও বলেন, এটি বর্তমান ও ভবিষ্যতের সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম।

    পশ্চিমা বিশ্বে ‘সাটান টু’ নামে পরিচিত এই ক্ষেপণাস্ত্রটি পুরোনো সোভিয়েত যুগের ভয়েভোদা ক্ষেপণাস্ত্রের পরিবর্তে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হচ্ছে।

    ২০১১ সালে সারমাত প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও এর উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নানা বাধা আসে। মঙ্গলবারের পরীক্ষার আগে ক্ষেপণাস্ত্রটির মাত্র একটি সফল পরীক্ষা হয়েছিল। ২০২৪ সালে আরেকটি পরীক্ষার সময় বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

  • ভারতে গির্জার তিন নেতাকে গুলি করে হত্যা

    ভারতে গির্জার তিন নেতাকে গুলি করে হত্যা

    ভারতের মণিপুর রাজ্যে অজ্ঞাত সশস্ত্র ব্যক্তিদের গুলিতে তিন গির্জা নেতা নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৩ মে) রাজ্যের কাংপোকপি জেলায় এই হামলার ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

    নিহতরা স্থানীয় থাদৌ ব্যাপ্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (টিবিএ) নেতা ছিলেন। তারা হলেন- মণিপুর ব্যাপ্টিস্ট কনভেনশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেভারেন্ড ভি সিটলহাউ। অপর দুজন হলেন-রেভারেন্ড ভি কাইগোলুন এবং যাজক পাওগোউলেন।

    স্থানীয় সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, চুরাচাঁদপুর জেলার লামকায় একটি টিবিএ সম্মেলনে অংশ নিয়ে দুটি গাড়িতে করে কাংপোকপিতে ফিরছিলেন তারা। পথে সশস্ত্র হামলায় ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন।

    হামলায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজন ধর্মীয় নেতা ও দুই চালক রয়েছেন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর কাংপোকপি ও আশপাশের কুকি-জো অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে ২ নম্বর জাতীয় সড়কে অবরোধ শুরু হয়। এই সড়কটি মণিপুরকে নাগাল্যান্ড ও ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করার অন্যতম প্রধান পথ।

    এ ঘটনায় বিভিন্ন সংগঠন সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। #

  • গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করতে চীনে পৌঁছেছেন ট্রাম্প

    গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করতে চীনে পৌঁছেছেন ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বুধবার সন্ধ্যায় চীনে পৌঁছেছেন। দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীন গেলেন ট্রাম্প। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে ট্রাম্পের এই সফর। তিনি আগামী ১৫ মে পর্যন্ত চীনে অবস্থান করবেন। ট্রাম্পের এই সফরে সঙ্গী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বড় টেক কোম্পানিগুলোর বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা জায়গা পেয়েছেন।

    ওয়াশিংটন ছাড়ার আগে ট্রাম্প বলেন, চীন সফরের মূল আলোচ্য বিষয় হবে বাণিজ্য। তবে ইরান যুদ্ধ নিয়ে দীর্ঘ আলাপ হবে এমনটাও জানান তিনি।
    এদিকে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, ট্রাম্পের চীন সফরের আলোচ্যসূচি বেশ জটিল হবে। কারণ দ্বিপাক্ষিক সম্পন্ন উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য, বাড়তি শুল্ক ও প্রযুক্তির পাশাপাশি তাইওয়ান ও ইরান ইস্যু এবারের আলোচনা গুরুত্ব পেতে পারে। এক্ষেত্রে আলোচনা সফল না হলে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

  • গোপনে ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব

    গোপনে ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব

    সৌদি আরব মধ্য মার্চের শেষ দিকে ইরানের ওপর একাধিক গোপন বিমান হামলা চালিয়েছে। ওই সময়ের আঞ্চলিক সংঘাতে সৌদি ভূখণ্ডে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এসব হামলা হয়। একাধিক সূত্র উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলা ছিল প্রথমবারের মতো কোনো নিশ্চিত ঘটনা যেখানে সৌদি আরব সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এটি উপসাগরীয় অঞ্চলে সৌদি নীতির একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে বিমান হামলা চালায়। এরপর কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) ছয়টি দেশের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এসব হামলায় মার্কিন ঘাঁটি, বেসামরিক এলাকা, বিমানবন্দর এবং তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটে।

    এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সামরিক মিত্র সৌদি আরব নিজেকে আক্রমণের ঝুঁকিতে দেখতে পায়। কারণ মার্কিন নিরাপত্তা ছায়া পুরোপুরি কার্যকর ছিল না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এক পশ্চিমা কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, সৌদি বিমান বাহিনীর হামলাগুলো ছিল প্রতিশোধমূলক পাল্টা আঘাত। একই সময়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানে সামরিক হামলা চালিয়েছে। এই দুই উপসাগরীয় দেশের পদক্ষেপে বোঝা যায়, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য দুই স্তরেই ছড়িয়ে পড়ে। তবে সৌদি আরব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি সরকার ইরানকে হামলার বিষয়ে অবহিতও করেছিল। যার ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ে এবং পরবর্তী পাল্টা প্রতিক্রিয়া নিয়ে সতর্কবার্তা দেয়া হয়। এই বিনিময়ের পর ধীরে ধীরে উত্তেজনা কমানোর একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা তৈরি হয়। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্প পরিচালক আলি ভায়েজ বলেন, সৌদি পাল্টা হামলার পর উত্তেজনা কমানো দুই পক্ষেরই বাস্তববাদী সিদ্ধান্তের প্রতিফলন। তার মতে, এটি বিশ্বাসের ভিত্তিতে নয়, বরং সংঘাত নিয়ন্ত্রণের পারস্পরিক স্বার্থের কারণে হয়েছে, যাতে পরিস্থিতি আরও বড় আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিণত না হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৫-৩১ মার্চের সপ্তাহে সৌদি আরবের ওপর ১০৫টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। কিন্তু ১-৬ এপ্রিলের মধ্যে এই সংখ্যা নেমে আসে ২৫-এর কিছু বেশি। এর আগে ১৯ মার্চ রিয়াদে এক সংবাদ সম্মেলনে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বলেন, প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার অধিকার সৌদি আরব সংরক্ষণ করে। পরবর্তীতে সৌদি আরব ইরানের কয়েকজন কূটনীতিককে দেশ থেকে বহিষ্কারও করে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, দেশটি সবসময় উত্তেজনা কমানো, সংযম এবং স্থিতিশীলতার পক্ষে কাজ করে যাবে। যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য জরুরি

  • ইরানে এক রাতে নয় ভূমিকম্প, বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা

    ইরানে এক রাতে নয় ভূমিকম্প, বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা

    ইরানের রাজধানী তেহরানের পূর্বাঞ্চলে এক রাতের মধ্যে টানা ৯টি মৃদু ভূমিকম্পের ঘটনায় নতুন করে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর আশপাশে জমে থাকা ভূত্বকীয় চাপ ভবিষ্যতে ভয়াবহ দুর্যোগ ডেকে আনতে পারে।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ জানিয়েছে, বুধবার (১৩ মে) রাতে তেহরানের পূর্বদিকে পারদিস এলাকায় এসব কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পগুলো সংঘটিত হয়েছে মোশা ফল্টের কাছাকাছি এলাকায়, যা দেশটির অন্যতম সক্রিয় ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।

    প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ফল্ট রাজধানী তেহরান থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অঞ্চলে মাঝেমধ্যে ছোট কম্পন হলেও একই রাতে ধারাবাহিকভাবে এতগুলো ভূমিকম্প হওয়া অস্বাভাবিক ঘটনা।

    মেহের নিউজের তথ্য অনুযায়ী, একটি ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৬। তবে এতে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ভূকম্প বিশেষজ্ঞ মেহদি জারি বলেন, এই কম্পনগুলো ভবিষ্যতের ঝুঁকি কমাতে ভূগর্ভস্থ শক্তি নির্গমনের ইঙ্গিত কি না, নাকি আরও বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস; তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, তেহরানের ঝুঁকি শুধু সক্রিয় ফল্ট লাইনের কারণেই নয়; ঘনবসতি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং দুর্বল প্রস্তুতিও পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

    তার মতে, তুলনামূলক ছোট ভূমিকম্পও রাজধানীতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। কারণ শহরটির অবকাঠামো অনেক জায়গায় দুর্বল এবং অতিরিক্ত যানজট জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমকে জটিল করে তোলে।

    প্রায় দেড় কোটির বেশি মানুষের বসবাস তেহরানে। শহরটি উত্তর তেহরান, মোশা ও রে; এই ৩টি বড় সক্রিয় ফল্ট লাইনের কাছাকাছি অবস্থান করছে। ইরানি বিশেষজ্ঞরা বহুদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, তেহরানের কাছে শক্তিশালী ভূমিকম্প হলে তা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।

    বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ ইরান এখনো ভুলতে পারেনি ২০০৩ সালের বাম ভূমিকম্পের স্মৃতি। সেই দুর্যোগে ৩০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

  • ইরান: ভাগ ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি সচল

    ইরান: ভাগ ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি সচল

    যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বারবার দাবি করেছে যে ইরানের সামরিক শক্তি ‘গুঁড়িয়ে দেওয়া’ হয়েছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের গোপন মূল্যায়ন প্রতিবেদন বলছে ভিন্ন কথা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখনো বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা রয়েছে দেশটির। গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এ–সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

    নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে, চলতি মে মাসের শুরুতে তৈরি করা ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইরান তার অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির কার্যক্ষমতা ফিরে পেয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির পাশে অবস্থিত ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টিই এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে।

    গোপন প্রতিবেদনের তথ্য জানেন এমন ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে গত ৭ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আগের তুলনায় বর্তমানে (সামগ্রিকভাবে) ইরানের প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ও ভ্রাম্যমাণ উৎক্ষেপণ যন্ত্র (মোবাইল লঞ্চার) অক্ষত রয়েছে।

    হরমুজ প্রণালির কাছে ওমান সাগরের উপকূলে ‘ভেলায়াত-৯০’ সামরিক মহড়া চলাকালে ‘নাসর’ নামের একটি দূরপাল্লার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যে আরও বলা হয়, ইরানজুড়ে মাটির নিচে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ও উৎক্ষেপণ ঘাঁটির প্রায় ৯০ শতাংশই এখন ‘আংশিক বা পুরোপুরি সচল’। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস ইরানের সামরিক সক্ষমতা ফিরে পাওয়ার এ দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী ওয়েলস বলেন, ইরান ভালো করেই বোঝে যে তাদের ‘বর্তমান পরিস্থিতি টেকসই নয়’।

    অলিভিয়া ওয়েলস আরও মন্তব্য করেন, যাঁরা ভাবছেন, ইরান তার সামরিক শক্তি পুনর্গঠন করেছে, তাঁরা হয় বিভ্রান্তিতে আছেন, না হয় ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের হয়ে কথা বলছেন। হামলা চলাকালে ট্রাম্প একের পর এক দাবি করেছিলেন যে এই হামলার ব্যাপকতা অনেক বড় এবং তা ইরানের সামরিক শক্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে। তবে যুদ্ধকালে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংবেদনশীল ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুগুলোতে কমপক্ষে ১০০টি ধাপে ধারাবাহিক পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বারবার বিজয় দাবি করা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণ প্রকাশিত হলেও তিনি তাঁর অবস্থানে অনড় রয়েছেন। গত মাসে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ মুসাভি জানিয়েছিলেন, যুদ্ধবিরতির সময় ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ যন্ত্রের সংখ্যা যুদ্ধের আগের চেয়েও বাড়িয়ে নিয়েছে।

    গত শনিবার মুসাভি বলেন, ইরানের আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তু এবং শত্রুজাহাজগুলোর দিকে তাক করা রয়েছে। চূড়ান্ত নির্দেশ পেলেই বাহিনীগুলো আঘাত হানতে প্রস্তুত।


    আরও পড়ুন · নির্ভরযোগ্য সূত্র:

  • দাম বাড়লো কোরবানির পশুর চামড়ার

    দাম বাড়লো কোরবানির পশুর চামড়ার

    আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়ার নতুন দাম নির্ধারণ করেছে সরকার। এবারের সিদ্ধান্তে লবণযুক্ত গরুর চামড়ায় প্রতি বর্গফুটে ২ টাকা এবং খাসির চামড়ায় ৩ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) বিকেলে সচিবালয়ে কোরবানি সম্পর্কিত বিষয়াদির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ সভা শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই নতুন মূল্য তালিকা ঘোষণা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, এ বছর ঢাকা মহানগরের ভেতরে লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকার বাইরে এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ৫৭ থেকে ৬২ টাকা। গত বছর গরুর চামড়ার দাম ঢাকায় প্রতি বর্গফুট ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা ছিল। সেই হিসেবে এ বছর প্রতি বর্গফুটে দাম ২ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া সারা দেশে খাসির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ব্রিফিংয়ে জানান, কোরবানির পশুর চামড়া যেন অযত্নে নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় লবণ পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চামড়া সঠিক উপায়ে সংরক্ষণের জন্য ইতিমধ্যেই মাংস ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন মাদ্রাসার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং সারাদেশে লবণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

    দেশের চামড়া শিল্পকে রক্ষা এবং অবৈধ পাচার রোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, চামড়া পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকার চায় একটি সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় চামড়া শিল্পকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে। এ সময় তিনি মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যেন কোরবানির চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণে কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা তৈরি না হয়।

  • ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-ছেলে নিহত

    ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-ছেলে নিহত

    ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশের লেমুয়া হাফেজিয়া রাস্তার মাথায় মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় আরো একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতরা হলেন, সোনাগাজী উপজেলার বক্তার মুন্সি বাজার সংলগ্ন রাজাপুর গ্রামের মো: নুরুল হুদার ছেলে নুরুল আলম (৪৬) ও তার ছেলে মোহাম্মদ নীরব (২৫)। নুরুল আলম ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সচালক ছিলেন।

    এছাড়া ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের সিরাজ মিয়ার ছেলে আফজাল হোসেন (৩৫) গুরুতর আহত হন।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনরা জানায়, নুরুল আলম মঙ্গলবার সকালে ভাগ্নে আফজালের মোটরসাইকেলে নিজ ছেলে নিরবসহ লেমুয়ায় বোনের বাড়িতে দাওয়াতে যাচ্ছিলেন। এসময় তাদের মোটরসাইকেলটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লেমুয়া হাফেজিয়া এলাকায় পৌঁছালে রাস্তায় ইউটার্ন নেয়ার সময় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা দাউদকান্দি এক্সপ্রেস বাসের সাথে ধাক্কা লাগে। এতে তারা তিনজনই পিষ্ট হন।

    তাৎক্ষণিক আশপাশের লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নুরুল আলমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত নিরব ও আফজালকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। সেখানে নেয়ার পথে নীরবের মৃত্যু হয়।

    ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, ‘রাতে অ্যাম্বুলেন্সে ডিউটি শেষে নুরুল আলম মোটরসাইকেল করে লেমুয়ায় তার বোনের বাড়িতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। এতে নুরুল আলম ও তার ছেলে নীরবের মৃত্যু হয়।’

    মহিপাল হাইওয়ে থানার ওসি আসাদুল ইসলাম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রথমে একজন এবং পরে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জেনেছি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • টেকনাফে যৌথ অভিযানে গোলাবারুদসহ অস্ত্র উদ্ধার

    টেকনাফে যৌথ অভিযানে গোলাবারুদসহ অস্ত্র উদ্ধার

    কক্সবাজারের টেকনাফে যৌথ অভিযান চালিয়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, হেলমেট ও গোলাবারুদসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড।মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার লেদা লামারপাড়া সংলগ্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাত ১১টার দিকে টেকনাফ কোস্ট গার্ড স্টেশন ও র‍্যাবের সমন্বয়ে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।

    অভিযানে ওই এলাকায় সন্দেহজনক একটি বাড়িতে তল্লাশি করে একটি বুলেট প্রুফ জ্যাকেট, দুটি বুলেট প্রুফ হেলমেট, এক রাউন্ড তাজা গোলা ও একটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।’

    উদ্ধারকৃত আলামত পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য টেকনাফ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, ‘দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।‘

  • জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করলেন মুফতি আবুল হাসান

    জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করলেন মুফতি আবুল হাসান

    সিলেটের জকিগঞ্জ-কানাইঘাট এলাকায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান। মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তিনি জকিগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রী ইউনিয়নের পিয়াইপুর ও বারজানি এলাকার কুশিয়ারা নদীর একাধিক স্পট, বারহাল ইউনিয়নের চক স্লুইস গেইট ও কোনাগ্রাম এলাকার সুরমা নদীর ভাঙন এবং মানিকপুর ইউনিয়নের বাল্লাহ তোপখানা এলাকায় গিয়ে ভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

    এর আগের দিন সোমবার (১১ মে) সুরমা নদীর ভাঙনে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপুর-গৌরিপুর, রামপুর ও গোসাইনপুর এলাকা তিনি পরিদর্শন করেন।

    পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক অবস্থা ঘুরে দেখেন এবং ভাঙনের শিকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলেন।

    তিনি ভুক্তভোগী মানুষের দুঃখ-দুর্দশা ও সমস্যার কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন।

    এ সময় তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে তিনি সব সময় রয়েছেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে ভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে।

    সংসদ সদস্য আরো জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে নদী শাসন ও প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এর ফলে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: মাসুদুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী রনি দাস, পাউবোর জকিগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান ভূইয়া, সহকারী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন ও জকিগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি রহমত আলী হেলালীসহ জকিগঞ্জ উপজেলা খেলাফত মজলিস, যুব মজলিস ও ছাত্র মজলিসের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

  • নাজিরপুরে রেডক্রিসেন্টের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান

    নাজিরপুরে রেডক্রিসেন্টের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান

    পিরোজপুরের নাজিরপুরে রেডক্রিসেন্টের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে নাজিরপুর উপজেলার চৌঠাইমহল আদর্শগ্রামে এ সহায়তা প্রদান করেছেন জেলা রেডক্রিসেন্টের প্রেসিডেন্ট ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন।

    এ সময় প্রায় শতাধিক পরিবারের মধ্যে মহিলা কিডস ও তাবু বিতরণ করা হয়।

    বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপি সদস্য সচিব আবু হাসান খান, যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান টিপু হাজরা, তাওহীদুল ইসলাম, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তানজিদ হাসান শাওন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি মিজানুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শামীম হাসান ও তারেক আব্দুল্লাহ বাপ্পি প্রমুখ।

    জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন এ সময় বলেন, যে সকল পরিবারের বাড়িঘর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের ঘরকে বৃষ্টি থেকে রক্ষা করতে আমরা একটি করে ট্রিপল দিয়েছি। এছাড়াও মা-বোনদের স্বাস্থ্য সচেতনতায় কিছু কিডস সামগ্রী প্রদান করেছি।

  • মানসিক অসুস্থ মা আটকে রেখেছিলেন দুই শিশুকন্যাকে, ৯৯৯ নম্বরে ফোনকলে উদ্ধার

    মানসিক অসুস্থ মা আটকে রেখেছিলেন দুই শিশুকন্যাকে, ৯৯৯ নম্বরে ফোনকলে উদ্ধার

    ফেনীতে নিজ কক্ষের ভেতরে ছুরি হাতে দুই শিশুকন্যাকে (বয়স ১০ বছর ও ২ বছর) আটকে রাখা এক মানসিক অসুস্থ মাকে ঠেকিয়ে শিশুদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে এক প্রতিবেশীর ফোনকলের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১১ মে) রাতে ফেনী সদর থানার মধ্যম মধুপুর এলাকায় এ উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়।

    সোমবার রাতে মধ্যম মধুপুর এলাকার এক বাসিন্দা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে জানান, তার প্রতিবেশী এক নারী মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি তার দুই শিশুকন্যাকে একটি কক্ষে আটকে রেখেছেন এবং হাতে ছুরি নিয়ে তাদের মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন। প্রতিবেশীরা অনেক চেষ্টা করেও ঘরের দরজা খুলতে ব্যর্থ হন। ভেতর থেকে শিশুদের আর্তচিৎকার ও কান্নাকাটি শুনে আতঙ্কিত হয়ে তারা দ্রুত পুলিশের সহায়তা চান।

    ৯৯৯ কল সেন্টার থেকে কলটি গ্রহণ করেন কনস্টেবল জান্নাত এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ফেনী সদর থানা ও ফেনী সদর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনকে অবহিত করেন। পুরো বিষয়টি সমন্বয় করেন ৯৯৯ পুলিশ ডিসপাচার এসআই ইন্দু জ্যোতি রায়।

    সংবাদ পাওয়ার পরপরই ফেনী সদর থানার একটি দল এবং ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে তারা কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মা’কে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ১০ বছর ও দুই বছর বয়সী শিশু দু’টিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

  • প্রযুক্তির যুগে শিক্ষাব্যবস্থার রূপান্তর অপরিহার্য; প্রধানমন্ত্রী

    প্রযুক্তির যুগে শিক্ষাব্যবস্থার রূপান্তর অপরিহার্য; প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাও বদলাতে হবে। জ্ঞান এখন আর একক বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বিভিন্ন বিষয়ের সমন্বয়েই নতুন জ্ঞানের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে।

    মঙ্গলবার (১২ মে) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার রূপান্তর’ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও সঠিক পরিকল্পনা ও মেধার সঠিক ব্যবহার করে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। তিনি বলেন, মেধা পাচার রোধ করে দেশের ভেতরেই মেধা লালন ও বিকাশ করতে হবে। একটি জ্ঞানভিত্তিক ও মেধাভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে শিক্ষা, গবেষণা, সৃজনশীলতা ও যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত দেশের শিক্ষা কারিকুলাম সময়োপযোগী করে ঢেলে সাজানো এখন সময়ের দাবি। নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষা ছাড়া বেকারত্ব নিরসন সম্ভব নয় এবং আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা ছাড়া বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকাও কঠিন হয়ে পড়বে।

    তিনি বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানের উৎকর্ষ অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান এখনো প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি। র‍্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে গবেষণা প্রকাশনা, সাইটেশন ও উদ্ভাবনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব ক্ষেত্রে দেশের অবস্থান কোথায়, তা নিয়ে শিক্ষাবিদদের আরও গভীরভাবে ভাবতে হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু পুঁথিগত শিক্ষা নয়, গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকা কঠিন হবে।

    তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাইরা গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমে পৃষ্ঠপোষকতা করেন। ‘শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ, আর এলামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড’— এই মন্তব্য তুলে ধরে তিনি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত সাবেক শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী বের হলেও উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যেই বেকারত্বের হার বেশি। এর অন্যতম কারণ একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন না করা।

    সরকারপ্রধান বলেন, বর্তমান সরকার প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষা কারিকুলামকে যুগোপযোগী করার কাজ শুরু করেছে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষাকে আধুনিক করতে এপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তারেক রহমান বলেন, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইনোভেটিভ বিজনেস আইডিয়া বাণিজ্যিকীকরণের জন্য প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো ক্যাম্পাসভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি করা। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা চাকরির জন্য অপেক্ষা না করে নিজেরাই উদ্যোক্তা হয়ে অন্যদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে।

    তিনি আরও জানান, সরকার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইনস্টিটিউট’ এবং ‘সায়েন্স পার্ক’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশীদারিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিজ্ঞান মেলা, ইনোভেশন ফেয়ার, প্রোডাক্ট সোর্সিং ফেয়ারসহ দক্ষতা ও প্রযুক্তিভিত্তিক বিভিন্ন আয়োজনকে উৎসাহিত করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু উচ্চশিক্ষা নয়, স্কুল পর্যায় থেকেই কারিগরি ও ব্যাবহারিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

    চতুর্থ শিল্পবিপ্লব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ব এখন এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স ও অটোমেশন, ইন্টারনেট অব থিংস, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, সাইবার সিকিউরিটি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, বিগ ডাটা, ন্যানো টেকনোলজি ও পঞ্চম প্রজন্মের ওয়্যারলেস প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করেছে। এসব প্রযুক্তি যেমন প্রচলিত চাকরির বাজারে পরিবর্তন আনছে, তেমনি নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করছে।

    তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে জ্ঞানের চর্চা আর একক কোনো বিষয়ে সীমাবদ্ধ নেই। এখন ডাটা সায়েন্সের সঙ্গে বায়োলজি কিংবা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে সমাজবিজ্ঞানের সমন্বয় ঘটছে। ফলে জ্ঞানের পরিধি আরও গতিশীল ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে

    বক্তব্যে ব্রিটিশ লেখক ও ডিজিটাল বিজনেস স্ট্র্যাটেজিস্ট টম উইন-এর একটি মন্তব্য উদ্ধৃত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্বের বহুল ব্যবহৃত ট্যাক্সি কোম্পানি উবারের নিজস্ব ট্যাক্সি নেই, ফেসবুক নিজে কনটেন্ট তৈরি করে না, আলিবাবার কোনো মজুত পণ্য নেই এবং এয়ারবিএনবির নিজস্ব রিয়েল এস্টেট নেই। তারা মূলত প্রযুক্তিনির্ভর ‘স্মার্ট ইন্টারফেস’ হিসেবে কাজ করছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর জনগণের আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ বর্তমান সরকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ, জ্ঞানভিত্তিক ও মেধানির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়।

    বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পাবে। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষকে অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে, তবে একই সঙ্গে ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধও ধরে রাখতে হবে।

    এ বিষয়ে শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবীসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

  • ঢাবিতে রাজনৈতিক রদবদল; পদত্যাগের হিড়িক

    ঢাবিতে রাজনৈতিক রদবদল; পদত্যাগের হিড়িক

    নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে শুরু হয়েছে ব্যাপক রদবদল। অল্প সময়ের মধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে ব্যাপক পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়েছে। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খানের পদত্যাগ দিয়ে শুরু হয়ে তা বিস্তৃত হয়েছে উপউপাচার্য, প্রক্টর এবং সহকারী প্রক্টরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্তরে। ধারাবাহিক এই পরিবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে একধরনের অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সূত্রগুলো বলছে, প্রশাসনের এই পুনর্বিন্যাস কেবল ব্যক্তি পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি নতুন ক্ষমতার কাঠামো তৈরির প্রক্রিয়ার অংশ। আর এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে একচেটিয়া রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে।

    নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচদিনের মাথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান পদত্যাগ করেন। ২২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

    তিনি জানান, দায়িত্বের একটি পর্যায় শেষ হয়েছে এবং নতুন নেতৃত্বের জন্য জায়গা করে দেওয়াই সমীচীন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২৭ আগস্ট উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তিনি। তার পদত্যাগের পর নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম।

    প্রশাসনিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী।

    ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর সায়মা হক বিদিশা এই পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তাকে সরিয়ে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন।

    তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পর বিশ্ববিদ্যালয় এখন তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে এবং এই সময়ে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া যৌক্তিক।

    তার পদত্যাগের পর চারুকলা অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাং (ইসরাফিল রতন)-কে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় নিরপেক্ষভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

    এদিকে প্রক্টরের পদত্যাগের পরদিনই সহকারী প্রক্টর শেহরিন আমিন মোনামীও পদত্যাগ করেছেন। সোমবার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার পদ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারকে সরিয়ে নতুন নিয়োগ দেওয়ার আলোচনা চলছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

    শুধু শীর্ষ পর্যায়েই নয়, রেজিস্ট্রার ভবনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ইতোমধ্যে ব্যাপক রদবদল হয়েছে। একাধিক কর্মকর্তা বদলি, পদায়ন এবং নতুন নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হচ্ছে।

    একচেটিয়া রাজনৈতিক মেরূকরণে উদ্বেগ

    এদিকে প্রশাসনের এই ধারাবাহিক পরিবর্তনে একচেটিয়া রাজনৈতিক নিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের অনুসারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে একচেটিয়া স্থলাভিষিক্তের মাধ্যমে রাজনৈতিক মেরূকরণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের একটি অংশ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, যদি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ধারার ব্যক্তিরা ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদগুলোতে আসীন হন, তাহলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এতে সিন্ডিকেটকেন্দ্রিক একটি একমুখী ক্ষমতা কাঠামো গড়ে ওঠার ঝুঁকি তৈরি হবে।

    তাদের মতে, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে বহুমাত্রিক মত, অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিনিধিত্ব থাকা জরুরি। অন্যথায় নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তগুলো পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষাব্যবস্থা ও গবেষণা পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    তবে এসব অভিযোগ নাকচ করেছেন নতুন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী।

    তিনি বলেন, যারা পদত্যাগ করেছেন তারা স্বেচ্ছায় করেছেন এবং কাউকে কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হয়নি।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনে নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে অভিজ্ঞতা, জ্যেষ্ঠতা ও দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক প্রশাসনেরই নিজস্ব কাজের ধরন থাকে। যাদের সঙ্গে কাজ করলে কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা সম্ভব, তাদেরই বেছে নেওয়া হয়।’

  • দালাল ও চাঁদাবাজদের কবলে বাজার; বিরোধী দলীয় নেতা

    দালাল ও চাঁদাবাজদের কবলে বাজার; বিরোধী দলীয় নেতা

    বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মধ্যস্বত্বভোগী ও চাঁদাবাজদের কারণেই দেশের বাজারব্যবস্থায় অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

    মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে রাজধানীর মিরপুর শাহ আলী পাইকারি বাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

    জামায়াত আমির বলেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি তৈরি করা হচ্ছে, যার চাপ সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে।

    বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের জন্য বাজার পরিস্থিতি সহনীয় করতে সংসদে এবং সংসদের বাইরে বিরোধী দল সোচ্চার থাকবে।

  • ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলের গোপন পরিকল্পনা ফাঁস

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলের গোপন পরিকল্পনা ফাঁস

    আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক

    মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে ইসরায়েলের নীলনকশা ফাঁস করেছেন কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আল থানি। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ কোনো আকস্মিক উত্তেজনার ফল নয়। এটি মধ্যপ্রাচ্যকে নতুনভাবে গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি ইসরায়েলি পরিকল্পনার চূড়ান্ত পরিণতি।

    সোমবার (১১ মে) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আল জাজিরার অনুষ্ঠান ‘আল মুকাবালায়’ সাক্ষাৎকারে শেখ হামাদ বলেন, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে তৈরি হওয়া সংকটই সাম্প্রতিক যুদ্ধের সবচেয়ে বিপজ্জনক ফল। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ গঠনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য একটি যৌথ প্রতিরক্ষা জোট গঠনের আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, আমরা এখন পুরো অঞ্চলের বড় ধরনের পুনর্গঠনের সাক্ষী হচ্ছি। বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন আগামী কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

    শেখ হামাদ জানান, গত বছরই তিনি সম্ভাব্য সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন এবং সামরিক হামলা এড়াতে উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

    তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত উসকে দেওয়ার পেছনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ইসরায়েলের একটি ‘কট্টরপন্থী গোষ্ঠী’ কাজ করেছে। ১৯৯০–এর দশকে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের আমল থেকেই নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুদ্ধে জড়ানোর চেষ্টা করে আসছেন।

    তিনি আরও বলেন, আগের মার্কিন প্রশাসনগুলো পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করতে দ্বিধায় ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনকে একটি ‘ভ্রম’ দেখিয়ে রাজি করাতে সক্ষম হন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝাতে সক্ষম হন যে, যুদ্ধটি হবে খুব দ্রুত ও সংক্ষিপ্ত, আর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানি সরকারের পতন হবে।

    শেখ হামাদ বলেন, এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ‘জোরপূর্বক আঞ্চলিক জোট’ এবং ‘গ্রেটার ইসরায়েলের’ ধারণা প্রচার করছেন। ইসরায়েলের ডানপন্থিদের এই পরিকল্পনায় প্রতিবেশী আরব ভূখণ্ড পর্যন্ত দেশের সীমানা সম্প্রসারণের চিন্তা রয়েছে।

  • সোনারগাঁওয়ে মাদক ও অপরাধ নির্মূলে যুব সমাজের প্রচারণা

    সোনারগাঁওয়ে মাদক ও অপরাধ নির্মূলে যুব সমাজের প্রচারণা

    মাদক ও অপরাধ নির্মূলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে দিনভর মাইকিং করে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় যুব সমাজ।গত রোববার রাত থেকে উপজেলার সোনারগাঁও পৌরসভার ষোলপাড়া মানবকল্যাণ ও উন্নয়ন সংগঠনের উদ্যোগে এ সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

    যুব সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা এবং জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

    সংগঠনের পক্ষ ইঞ্জিনিয়ার বাবুল মোল্লা জানান, সন্ধ্যা নামলেই আমাদের এলাকার নির্জন স্থানগুলোতে বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যায়। তারা বিভিন্নভাবে যুব সমাজ ও কর্মজীবী মানুষের হাতে মাদক পৌঁছে দিচ্ছে। মাদকের অর্থের যোগান দিতে গিয়ে অনেকেই চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় যুব সমাজ ‘ষোলপাড়া মানবকল্যাণ ও উন্নয়ন সংগঠন’ এর ব্যানারে মাদক ও অপরাধবিরোধী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। মাইকিং করে জনসচেতনতামূলক বক্তব্য এবং বিভিন্ন স্থানে প্রচারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    বাবুল মোল্লা আরো বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদক ও অপরাধ প্রতিরোধে এগিয়ে এলে যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব। একই সাথে তিনি এলাকায় পুলিশ প্রশাসনের নিয়মিত টহল ও নজরদারি জোরদারের দাবি জানান।

    সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক সোনারগাঁও উপজেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মনির জানান, তরুণদের এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সহায়ক হবে।

    সোনারগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) গোলাম সারোয়ার জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • লৌহজংয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    লৌহজংয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।সোমবার (১১ মে) সকালে উপজেলার লৌহজং হলপট্টি এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে লাশের পরিচয় শণাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

    লৌহজং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: বোরহান-উল- ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করে নয়া দিগন্তকে জানান, সোমবার (১১ এপ্রিল) সকাল ৬টায় লৌহজং হলপট্টি এলাকায় স্থানীয় মুসল্লিরা নামাজ শেষে রাস্তার পাশে লাশটি পড়ে থাকতে দেখে থানা পুলিশকে খবর দেয়।

    খবর পেয়ে লৌহজং থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। নিহতের বয়স আনুমানিক ৫০ থেকে ৫৫ বছর হতে পারে।

    প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, লোকটি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্ত রিপোর্টের পরই জানা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান ।

    এদিকে লাশ পোস্টমর্টেমের জন্য মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায় ।

    এ,আর

  • বাংলাদেশে তুরস্কের বিনিয়োগ বাড়াতে জোর দিচ্ছে বিডা

    বাংলাদেশে তুরস্কের বিনিয়োগ বাড়াতে জোর দিচ্ছে বিডা

    বাংলাদেশে তুরস্কের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। এরই মধ্যে অনেক তুরস্কের বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে এসে বিনিয়োগ সম্ভাবনা যাচাই করছেন এবং স্থানীয় বাজার সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন।

    রোববার বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সকালে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন বাংলাদেশে তুর্কি বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আগ্রহের বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন।বৈঠকে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং বাংলাদেশে তুর্কি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি চলমান বিনিয়োগ আগ্রহকে আরও কার্যকর সম্পৃক্ততার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়।

    রাষ্ট্রদূত রামিস সেন বলেন, দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি খাতের পারস্পরিক সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
    তিনি তুরস্কের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল গাজিয়ানতেপ, দেনিজলি এবং কোকায়েলি-ইজমিতের কথা উল্লেখ করে বলেন, টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতার সুযোগ বুঝতে এসব অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

    বৈঠকে বাংলাদেশে তুর্কি বিনিয়োগের বিদ্যমান আইনি কাঠামো নিয়েও আলোচনা হয়। একই সঙ্গে তুরস্কের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী কোচ গ্রুপের আইগ্যাস এবং আর্চেলিকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেডের সফল বিনিয়োগের উদাহরণ তুলে ধরা হয়। এছাড়া বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্ভাবনা যাচাই করছে এমন আরও কয়েকটি বড় তুর্কি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও বিডা কাজ করছে বলে জানানো হয়।

    বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বাণিজ্য ও সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ— উভয় ক্ষেত্রেই তুরস্ক বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্ভাবনা ও পারস্পরিক মিল বিবেচনায় বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বাড়ার সুযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করে লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবসায়িক আউটরিচ কার্যক্রম পরিচালনায় বিডার তুরস্ক ডেস্ক, বাংলাদেশে তুরস্ক দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাবে।

  • শিবচরে মাদক কারবারিদেরকে ধরিয়ে দিলে পুরস্কারের ঘোষণা হানজালার

    শিবচরে মাদক কারবারিদেরকে ধরিয়ে দিলে পুরস্কারের ঘোষণা হানজালার

    মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় কোনো মাদক কারবারিকে ধরিয়ে দিতে পারলে নগদ অর্থ পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা। রোববার (১০ মে) রাতে সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ ঘোষণা দেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘মাদকের সাথে যদি আমার দলের কেউ জড়িত থাকে কিংবা অন্য কোনো দলের প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত থাকে, কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। কোনো পরিচয়, কোনো দল, কোনো ব্যক্তি বা যত বড় প্রভাবশালী হোক না কেন কিছুই কাজ হবে না। আমি হানজালা ওয়াদা দিচ্ছি, কাউকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। এজন্য মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে শিবচরের প্রতিটি মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। আপনারা যার যার জায়গা থেকে মাদক কারবারিদের ধরিয়ে দিন। কেউ যদি মাদকসহ কাউকে ধরিয়ে দিতে পারে, আমি নিজে তাকে পুরস্কৃত করব, ইনশাল্লাহ। সে পুরস্কার পেয়ে খুশি হবে, আমি এটুকু বলতে পারি।’

  • কেন বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে চাইছেন শুভেন্দু

    কেন বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে চাইছেন শুভেন্দু

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ আর বাংলাদেশের সীমান্তের যে অঞ্চলে কাঁটাতারের বেড়া নেই, সেখানে বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফকে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যটির নতুন মন্ত্রীসভা।

    মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, এটা না করা গেলে পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা পরিবর্তন ও সুরক্ষা প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।শপথ নেওয়ার পরে সোমবারই বসেছিল নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভাপতিত্বে মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠক। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গে ভারত আর বাংলাদেশের মধ্যে থাকা আন্তর্জাতিক সীমান্তের যেসব অংশে এখনও কাঁটাতারের বেড়া নেই, সেই বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফের কাছে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর করে দেওয়া হবে ৪৫ দিনের মধ্যে।

    মন্ত্রীসভার বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী অধিকারী বলেন, আমাদের দেশের সুরক্ষার প্রশ্ন। পশ্চিমবঙ্গের সুরক্ষার প্রশ্ন এবং যে ভাবে জনবিন্যাস বদলে গেছে, আজ প্রথম দিনেই আমরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতর ও বিএসএফকে সীমান্ত সুরক্ষিত করার জন্য জমি ট্রান্সফার প্রক্রিয়ার অনুমোদন দিলাম। ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হলো। ৪৫ দিনের মধ্যে হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে।

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে জানিয়েছিলেন যে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ২,২১৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। তিনি জানান, এর মধ্যে ১,৬৫৩ কিলোমিটার সীমান্ত কাঁটাতার দেওয়া সম্পূর্ণ হয়েছে। তবে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গে ৫৬৩ কিলোমিটার সীমান্ত কাঁটাতার দেওয়া বাকি রয়েছে।ওই ভাষণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার অনুপ্রবেশকারীদের সুরক্ষা দেওয়ার কাজ করছে।

    নির্বাচনী প্রচারকালে অমিত শাহ-র দফতর থেকে এক্স হ্যান্ডেলে লেখা হয়েছিল যে, পশ্চিমবঙ্গে সীমান্ত সুরক্ষিত করতে ৬০০ একর জমির প্রয়োজন, তা বিএসএফকে দিচ্ছে না মমতা ব্যানার্জী, বিজেপি ক্ষমতায় এলেই সেই জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

    বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই তুলছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও একই অভিযোগ তোলেন।

    অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগের ক্ষেত্রে বলে আসছিল যে, সীমান্ত আমাদের বিষয় নয়, কেন্দ্র সরকারের বিষয়। নির্বাচনের আগে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরে বাদ গিয়েছিল প্রায় ৯১ লাখ নাম। কঙ্গনা রানাওয়াত-সহ বহু বিজেপি সংসদ সদস্য দাবি করেছিলেন এই বাদ যাওয়া সবাই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী।

  • অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ করতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী

    অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ করতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী

    দেশের মূলধারার অর্থনীতির বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে সরকার ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ’ ধারণার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনানুষ্ঠানিক খাতের উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং বিশ্বব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত ‘রেইজ’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।অর্থমন্ত্রী বলেন, সমাজের যেসব মানুষ এখনো আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে রয়েছেন, তাদের মূলধারায় যুক্ত করাই সরকারের লক্ষ্য। নাগরিক হিসেবে অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ সবার অধিকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
    তিনি আরও বলেন, শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নয়, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই সরকার নীতি ও কর্মপরিকল্পনা সাজাচ্ছে।অনুষ্ঠানে তিনি জানান, যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে এবং মানদণ্ড পূরণ না হলে কোনও প্রকল্প গ্রহণ করা হবে না।

    পিকেএসএফের কার্যক্রমের প্রশংসা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি অনানুষ্ঠানিক খাত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা সরকার বিবেচনা করবে।
    নারীর অর্থনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পরিবার পরিচালনায় নারীদের সঞ্চয় ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা রয়েছে। এ কারণে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীদের আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এছাড়া কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ডও অর্থনীতিতে নতুন গতিশীলতা তৈরি করবে বলে জানান তিনি।

    স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় এখনো অনেক বেশি, যা আফগানিস্তানের তুলনায়ও বেশি। এটি পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। আগামী বাজেটে এই দুটি খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, দেশের জনসংখ্যার সুবিধা বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার উদ্যোগী।হস্তশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শীতলপাটির মতো পণ্য বিশ্ববাজারে ভালো অবস্থান তৈরি করতে পারেনি পরিকল্পনার অভাবে। ডিজাইন ও আধুনিক বিপণন কৌশল উন্নত করলে এসব পণ্যের মূল্য বহুগুণ বৃদ্ধি সম্ভব।

    সংস্কৃতি ও বিনোদন খাত নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন। মিউজিক ও থিয়েটার শিল্পে বড় সম্ভাবনা থাকলেও যথাযথ পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের অভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে এগোনো যাচ্ছে না।
    ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অন্যান্য দেশ যেভাবে তাদের পণ্য ও সংস্কৃতি বিশ্ববাজারে পৌঁছে দিচ্ছে, বাংলাদেশকেও সেই পথে দ্রুত এগোতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    খেলাধুলাকে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ক্রীড়া খাতে দর্শক উপস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে। তবে এ খাতেও কাঙ্ক্ষিত মনোযোগ দেয়া হয়নি।
    দেশের কামার-কুমার, তাঁতি এবং ক্ষুদ্র শিল্পীদের কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আমরা ‘ওয়ান ভিলেজ ওয়ান প্রোডাক্ট’ (একটি গ্রাম, একটি পণ্য) ধারণাটি বাস্তবায়ন করতে চাই। যেমন; বরিশালের শীতল পাটিকে যদি ডিজাইন সাপোর্ট, স্কিল ডেভেলপমেন্ট এবং অ্যামাজন বা আলিবাবার মতো গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যাওয়া যায়, তবে এটি একটি বড় জিডিপি কন্ট্রিবিউটর হবে।

    সবশেষে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সম্ভাবনাময় প্রতিটি খাতে পরিকল্পিত বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

    পিকেএসএফের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক।

  • পশ্চিমবঙ্গে চারদিনে ৩৪ মুসলিম সম্পত্তিতে হামলা

    পশ্চিমবঙ্গে চারদিনে ৩৪ মুসলিম সম্পত্তিতে হামলা

    আর্জাতিক নিউজ ডেস্ক

    পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী পরিস্থিতিতে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক সহিংসতার চিত্র উঠে এসেছে। নাগরিক অধিকার সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অফ সিভিল রাইটস’ (এপিসিআর)-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর মাত্র চার দিনে (৪ মে থেকে ৭ মে) রাজ্যের অন্তত ৮টি জেলায় মুসলিম সম্প্রদায়ের ৩৪টি সম্পত্তিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

    প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এই সহিংসতা কেবল একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিল না। কোচবিহার থেকে শুরু করে হাওড়া, বারাসাত, মুর্শিদাবাদ, মালদা, বীরভূম এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এমনকি কলকাতা মেট্রো অঞ্চলেও পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় মসজিদ, ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং মুসলিম মালিকানাধীন হোটেলসহ প্রায় ৫৪টি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    এই সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত দুজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কোচবিহারের গোসাইনিমারিতে একটি মসজিদ রক্ষা করতে গিয়ে এক মুসলিম ব্যক্তি নিহত হন। এ সময় হামলাকারীরা উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অনেক এলাকায় সংখ্যালঘুদের এলাকা ছাড়ার হুমকি এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটেছে।

    আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশ্যে মুসলিম মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বারাসাতে দুটি হোটেল পুড়িয়ে দেওয়া ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে মাংসের দোকান বন্ধ রাখতে চাপ সৃষ্টি এবং গবাদি পশুর হাটে হামলার অভিযোগ উঠেছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বুলডোজার মিছিল বের করে আতঙ্ক সৃষ্টির পাশাপাশি বিভিন্ন মুসলিম নামযুক্ত স্থানের নাম পরিবর্তনের চেষ্টাও চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় ও কর্মীদের বাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়।

  • রূপগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ-গোলাগুলিতে আহত ১৬

    রূপগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ-গোলাগুলিতে আহত ১৬

    নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অটোরিকশা সাইড দেয়াকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে উভয় পক্ষের ১৬ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় উভয় পক্ষ একে অপরের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। সোমবার (১১ মে) দুপুরে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বরুনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ আগে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সাইড দেয়া নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলামের ভাই আমিন হোসেনের সাথে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক বিল্লাল হোসেন খাঁর কথা কাটাকাটি হয়। ওই ঘটনায় বিল্লাল হোসেন রূপগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

    পূর্ব নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোমবার দুপুরে বরুনা এলাকায় বিষয়টি মীমাংসার জন্য বিচার সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশে রফিকুল ইসলাম ও বিল্লাল হোসেন তাদের অনুসারীদের নিয়ে উপস্থিত হন।

    বিচার চলার সময় উভয় পক্ষ বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লে একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় বিল্লাল হোসেনের লোকজন বেশ কয়েক রাউন্ড ফাকা গুলিবর্ষণ করে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করে।

    সংঘর্ষ চলাকালে হামলাকারীরা একে অপরের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাট করে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৬ নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, বিল্লাল হোসেন খাঁ ও তার বাহিনী পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং গুলিবর্ষণ করেছে।

    অপরদিকে, বিল্লাল হোসেন খাঁ পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘রফিকুল ইসলামের লোকজনই বিচারে এসে অতর্কিত হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে।’

    রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন জানান, ‘খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

  • গাংনীতে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের মানববন্ধন

    গাংনীতে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের মানববন্ধন

    দেশের ওষুধ শিল্প ও স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করলেও এখনো সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা। পেশাগত সম্মান, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে মেহেরপুরের গাংনীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা।

    গাংনী উপজেলা ফারিয়ার উদ্যোগে মঙ্গলবার সকালে গাংনী শহরের প্রধান সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে অংশ নেন। কর্মসূচিতে তারা বলেন, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে ওষুধ কোম্পানি ও চিকিৎসকদের সমন্বয় রক্ষায় মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এ পেশার মানুষকে নানা অবমূল্যায়ন ও অনিরাপদ কর্মপরিবেশের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, করোনা মহামারির সময় যখন সাধারণ মানুষ ঘরবন্দি ছিল, তখনও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের কাছে ওষুধ এবং চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য পৌঁছে দিয়েছেন। দেশের ওষুধ শিল্পকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এগিয়ে নিতে তাদের অবদান অনস্বীকার্য।

    গাংনী উপজেলা ফারিয়ার সভাপতি মোঃ আলী হোসেন (কনকর্ড ফার্মা) বলেন,
    “মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা কোনো দালাল নন, তারা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের তথ্যবাহক। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে এ পেশাকে অত্যন্ত সম্মানের চোখে দেখা হলেও বাংলাদেশে এখনো যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না।”

    সাধারণ সম্পাদক ইসলাম আলী (বায়ো ফার্মা) বলেন,
    “আমরা চাই কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করা হোক। দেশের স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পরও আমরা ন্যায্য সম্মান থেকে বঞ্চিত।”

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা মোঃ আবুশামা (গ্লোব ফার্মা), সদস্য মোঃ হারুন অর রশিদ (স্কয়ার ফার্মা), সদস্য মোঃ লিটন হোসেন (সোমাটেক ফার্মা), সদস্য মোঃ সোহেল রানা সহ বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা।

    মানববন্ধন শেষে বক্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। তাদের দাবি, স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত এ পেশাকে যথাযথ স্বীকৃতি ও সম্মান দেওয়া হলে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।

  • স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করে প্যাকেটজাত খাবার

    স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করে প্যাকেটজাত খাবার

    দোকানের তাকজুড়ে সারি সারি রঙিন প্যাকেট— বিস্কুট, চিপস, চানাচুর, ইনস্ট্যান্ট নুডুলস, কোমল পানীয়। ব্যস্ত জীবনে এগুলোই যেন সহজ সমাধান— সহজে পাওয়া যায়, দামও নাগালের মধ্যে। প্যাকেটজাত এসব খাবারের ওপর নির্ভরশীলতা শিশু-কিশোর, তথা তরুণ প্রজন্মের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। তৈরি করছে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি।

    অতি প্রসেসড খাবারে থাকে উচ্চমাত্রার পরিশোধিত চিনি এবং ট্রান্সফ্যাট। এগুলো শরীরে প্রবেশের পর ইনসুলিন হরমোনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, যাকে ‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স’ বলা হয়। এটি কেবল ডায়াবেটিসের ঝুঁকিই বাড়ায় না, বরং হার্টের পেশিকে দুর্বল করে দেয়।

    আগ্রাসী বিপণন ও শিশুদের আসক্তি

    বাংলাদেশে অতি প্রসেসড খাবারের প্রসারের পেছনে বড় কারণ হলো, কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী বিপণন কৌশল। বিশেষ করে শিশুদের লক্ষ্য করে তৈরি করা চটকদার বিজ্ঞাপন এবং উপহারের প্রলোভন শিশুদের এ খাবারে আসক্ত করে তুলছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ খাবারগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয় (লবণ, চিনি ও টেস্টিং সল্টের মিশ্রণে), যা মস্তিষ্কে এক ধরনের সাময়িক আনন্দ দেয়। ফলে শিশুরা একবার এ স্বাদ পেলে বাড়িতে তৈরি পুষ্টিকর খাবারের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

    দেশের বাজারে বিপণন করা প্রক্রিয়াজাত প্যাকেট খাবারের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বা ৬১ শতাংশে নিরাপদ মাত্রার চেয়ে বেশি লবণ পাওয়া গেছে। যেখানে প্রতি ১০০ গ্রাম খাবারে সর্বোচ্চ ৭৫০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত লবণ স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ, সেখানে এসব খাবারে নিরাপদ মাত্রার চেয়ে বেশি লবণ পাওয়া গেছে। এসব প্যাকেটজাত খাবারের মধ্যে রয়েছে বিস্কুট, চিপস, চানাচুর, নুডুলস, ইনস্ট্যান্ট স্যুপ, ঝালমুড়ি, আচার, চাটনি ইত্যাদি। এসব খাবারে ব্যবহৃত কৃত্রিম প্রিজারভেটিভ ও কেমিক্যাল হৃদরোগের পাশাপাশি মরণব্যাধি ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এটি আমাদের শিশুদের খাদ্যাভ্যাসে এক নীরব বিপর্যয় ডেকে আনছে। টিফিনে দেওয়া চিপস বা কৃত্রিম জুস তাদের স্থূলতা ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

    ২০২৫ সালের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ পরিচালিত ‘অ্যাসেসমেন্ট অব সল্ট কন্টেন্ট অ্যান্ড লেবেল কমপ্লায়েন্স অব কমনলি কনজিউমড প্রসেসড প্যাকেজড ফুডস অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের (এনএইচএফবি) একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশের বাজারে থাকা প্যাকেটজাত খাবারের প্রায় ৯৭ শতাংশই উচ্চ স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ। উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে মোড়কের গায়ে ‘পুষ্টিগুণ’ বা ‘লবণের মাত্রা’ সংক্রান্ত যে তথ্য

    দেওয়া থাকে, ল্যাবে পরীক্ষার পর তার সত্যতা পাওয়া যায় না। বিশেষ করে ‘সুগার ফ্রি’ বা ‘লো ফ্যাট’ দাবি করা অনেক খাবারেও হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর কেমিক্যালের উপস্থিতি মিলেছে।

    গবেষণায় দেখা যায়, দেশের প্রায় শতকরা ৯৭ ভাগ মানুষ সপ্তাহে অন্তত একবার প্যাকেটজাত খাবার খাচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে এসব পণ্যে উচ্চমাত্রার লবণ রয়েছে। আরো উদ্বেগের বিষয় হলোÑপণ্যের মোড়কে এ তথ্য সব সময় পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকে না।

    প্যাকেটজাত খাবার সুস্বাদু করতে এতে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম বা লবণ ব্যবহার করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, একটি প্যাকেটজাত চিপস বা নুডুলসে যে পরিমাণ লবণ থাকে, তা একজন মানুষের সারাদিনের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। অতিরিক্ত সোডিয়াম সরাসরি রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। উচ্চ রক্তচাপের কারণে হৃৎপিণ্ডকে রক্ত পাম্প করতে দ্বিগুণ পরিশ্রম করতে হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে হার্ট ফেইলিউরের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

    শিশুরা পছন্দ করে এমন এক হাজার প্যাকেটজাত শিশুখাদ্য বেছে নেওয়া হয় এ গবেষণায়। এর মধ্যে ছিল ম্যাকারনি, প্যাকেটজাত পনির, মিনি হট ডগস, কেক, ক্রেকার্স এবং প্যাকেটজাত দই। তবে এক্ষেত্রে কোনো ব্র্যান্ডের নাম উল্লেখ করেননি গবেষকরা।

    গবেষণায় দেখা গেছে, প্যাকেটজাত ১০ ধরনের শিশুখাদ্যে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি লবণ ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিটি প্যাকেটে ২১০ মিলিগ্রাম লবণ ও সোডিয়াম থাকা দরকার। কিন্তু এসব প্যাকেটে রয়েছে ৩৬১ মিলিগ্রাম লবণ ও সোডিয়াম যা সাধারণ পরিমাণের তুলনায় ১ দশমিক ৫ ভাগ বেশি।

    গবেষণায় বলা হয়েছে, মূলত বাংলাদেশে সরকারিভাবে প্রক্রিয়াজাত খাবারে লবণের সর্বোচ্চ কোনো সীমা নির্ধারণ করা নেই। যার ফলে কোম্পানিগুলো তাদের পণ্যে ইচ্ছেমতো লবণ যোগ করে। যদিও মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং প্রবিধানমালা ২০১৭ অনুসারে প্রক্রিয়াজাত খাবারে বিদ্যমান লবণের পরিমাণ মোড়কের লেবেলে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক।

    অতি প্রসেসড খাবার রক্তে ‘হাই সেনসিটিভ সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন’ বা এইচএস-সিআরপির মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ প্রোটিনকে হৃদরোগের অন্যতম বড় পূর্বাভাস হিসেবে ধরা হয়। রক্তে এর উপস্থিতি মানেই হলো, আপনার হৃদযন্ত্র এবং রক্তনালিতে বড় ধরনের অস্থিরতা চলছে, যা যেকোনো মুহূর্তে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক ঘটাতে পারে।

    এ খাবারগুলোকে আকর্ষণীয় রঙ, স্বাদ এবং দীর্ঘস্থায়ী করতে যে ইমালসিফায়ার, প্রিজারভেটিভ এবং কৃত্রিম সুগন্ধি ব্যবহার করা হয়, সেগুলো শরীরের কোষের জন্য অপরিচিত। রক্তে এগুলো মেশার পর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এগুলোকে ‘বহিরাগত আক্রমণকারী’ মনে করে। ফলে রক্তনালির ভেতরে এক ধরনের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি হয়। এ প্রদাহ ধমনীর দেয়ালকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

    হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, আমরা বর্তমানে এক ধরনের খাদ্যবিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের তরুণদের মধ্যে অকাল হার্ট অ্যাটাকের হার বেড়ে যাওয়ার প্রধানতম কারণ হলো, অতি প্রসেসড খাবার এবং শরীরচর্চার অভাব। মানুষ এখন বাড়ির রান্নার চেয়ে প্যাকেটজাত এবং খোলা খাবার বেশি পছন্দ করছে, যা তাদের ধমনীকে ধীরে ধীরে শক্ত বানিয়ে ফেলছে।

    বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাইউম সরকার বলেন, দেশে অনেক প্যাকেটজাত খাবারের গায়ে পুষ্টিমান বা উপাদানের সঠিক তথ্য লেখা থাকে না। লবণের পরিমাণ আড়াল করা হয়, যা সাধারণ মানুষের অজান্তেই তাদের রক্তচাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

    ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, এ বাস্তবতায় একটি সহজ, কিন্তু কার্যকর সমাধান পণ্যের প্যাকেটের সামনের অংশেই স্পষ্টভাবে সতর্কবার্তায় (এফওপিএল) জানিয়ে দেওয়া—কোনো খাদ্যে অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা স্যাচুরেটেড ফ্যাট আছে কি না। বর্তমানে পুষ্টিসংক্রান্ত তথ্য প্যাকেটের পেছনে ছোট অক্ষরে, জটিল সংখ্যায় লেখা থাকে, যা দ্রুত বোঝা প্রায় অসম্ভব। ফলে ভোক্তা অনেক সময় অজান্তেই স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ পণ্য নিরাপদ ভেবে কিনে ফেলেন। এফওপিএল সে জটিলতাকে কমিয়ে সহজ, সরাসরি এবং দৃশ্যমান তথ্য দেয়। বাংলাদেশেও এফওপিএল চালু করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, অতি প্রক্রিয়াজাত খাবারে অতিরিক্ত সোডিয়াম, চিনি, স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্সফ্যাট থাকার কারণে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগসহ নানা অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি আরো বলেন, শিশুদের খাবার কেনার সময় মা-বাবাকে সতর্ক থাকতে হবে। ছোটবেলা থেকে শিশুর খাবারে সোডিয়াম ও চিনির মাত্রা সঠিক পরিমাণে থাকলে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। তাই প্যাকেটের গায়ে পুষ্টির মাত্রা দেখে খাবার কেনার পরামর্শ দেন এ বিশেষজ্ঞ।

    বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় এক কোটি ১০ লাখ মানুষ অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসজনিত কারণে মারা যাচ্ছেন। বাংলাদেশেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনকÑপ্রায় এক কোটি ৩৯ লাখ মানুষ ডায়াবেটিস ও ২৩ দশমিক ৫ ভাগ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন এবং মোট মৃত্যুর বড় অংশই প্রায় ৭১ শতাংশ, ঘটছে এসব অসংক্রামক রোগের কারণে।

    গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, এ অবস্থায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত খসড়া ‘নিরাপদ খাদ্য (মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ, যাতে কোনো পণ্যে অতিরিক্ত চিনি, লবণ (সোডিয়াম), সম্পৃক্ত চর্বি থাকলে প্যাকেটের সামনে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্যাকেটের সামনের একটি সহজ সতর্কবার্তাই হতে পারে সচেতন সিদ্ধান্তের সূচনা।

    গত ১৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ‘উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও ফ্রন্ট অফ প্যাক লেবেলিংয়ের ভূমিকা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় জানানো হয়, দেশে প্রায় ৯৭ শতাংশ মানুষ নিয়মিত প্যাকেটজাত খাদ্য গ্রহণ করেন, তারা খাদ্যের প্রকৃত পুষ্টিমান ও স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না নিয়েই খাদ্য নির্বাচন করেন।

    কর্মশালায় আরো জানানো হয়, বিশ্বে ইতোমধ্যে ৪৪টি দেশ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশকৃত কার্যকর ও ব্যয় সাশ্রয়ী জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ হিসেবে এফওপিএল চালু করেছে, যার মধ্যে ১০টি দেশে এটি বাধ্যতামূলক। এসব দেশে ভোক্তাদের অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ হ্রাস পেয়েছে। তাই একটি ছোট সতর্কবার্তা পুরো খাদ্য ও স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

    প্রগতির জন্য জ্ঞানের (প্রজ্ঞা) নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপসহ অসংক্রামক রোগের প্রকোপ ক্রমবর্ধমান হারে বাড়লেও এ খাতে অর্থ বরাদ্দ অপ্রতুল। টেকসই অর্থায়নের মাধ্যমে কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে উচ্চ রক্তচাপসহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব।

    এ বিষয়ে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর পরিচালক (সিএম) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষের দৈনিক পাঁচ গ্রাম লবণের প্রয়োজন থাকলেও আমরা গড়ে ১০ গ্রামের বেশি গ্রহণ করছি। বিশেষ করে প্যাকেটজাত চিপস বা স্ন্যাকসগুলোতে মোড়কের তথ্যের চেয়েও বেশি লবণ থাকার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, যা উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।’

    তিনি জানান, বিএসটিআই মূলত একটি সার্টিফায়িং অথরিটি হিসেবে বিশেষজ্ঞ কমিটির নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী পণ্য যাচাই করে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা বড় কোম্পানিগুলোকে সাধারণ লবণের পরিবর্তে ‘লো সোডিয়াম সল্ট’ বা পটাশিয়াম যুক্ত লবণ ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন। সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কোম্পানিগুলোকে কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত। এছাড়া হার্ট ফাউন্ডেশনও এ ধরনের স্বাস্থ্যসম্মত পণ্যের প্রসারে আমাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। কেবল আইন দিয়ে নয়, বরং খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে গণমাধ্যমকে আরো জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। চিনি ও লবণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি না হলে অসংক্রামক ব্যাধির এ প্রকোপ কমানো কঠিন হবে।

  • রাজশাহীতে ৪ দফা দাবিতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের মানববন্ধন

    রাজশাহীতে ৪ দফা দাবিতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের মানববন্ধন

    ‘নিজের জমানো টাকা তুলতে পারছি না, দুই বছর ধরে মুনাফাও বন্ধ। সংসার চালাতে ধার-দেনা করতে হচ্ছে।’ এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন একীভূত হওয়া ইসলামী ব্যাংকগুলোর ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। ‘হেয়ারকাট’ বাতিল, পূর্ণ আমানত ও মুনাফা ফেরত এবং স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন করেছেন তারা। রোববার (১০ মে) সকালে নগরীর অলোকার মোড়ে চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ভবনের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক ভুক্তভোগী আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন, রাজশাহী বিভাগ।

    মানববন্ধনে অংশ নেয়া গ্রাহকেরা জানান, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক (এফএসআইবি), গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক (জিআইবি), সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল), এক্সিম ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের পর থেকেই তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

    তাদের অভিযোগ, আমানতের অর্থ উত্তোলনে নানা সীমাবদ্ধতা আরোপের পাশাপাশি ‘হেয়ারকাট’ নামে একটি প্রক্রিয়ায় জমাকৃত টাকার নির্দিষ্ট অংশ কেটে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যা গ্রাহকদের জন্য অমানবিক ও বৈষম্যমূলক।

    মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নওশীন জাহান, মো: আপেল মাহামুদ, তাহমিদুল হক, মো: ফয়সাল কবির ও মাসুদ রানাসহ বিভিন্ন ব্যাংকের গ্রাহকরা।

    তারা বলেন, অনেক পরিবার জমি, বাড়ি বিক্রি, প্রবাসী আয়, পেনশন কিংবা ব্যবসার সঞ্চিত অর্থ এসব ব্যাংকে রেখেছিলেন। সেই টাকার মুনাফার ওপর নির্ভর করেই চলত সংসার, সন্তানের পড়াশোনা ও চিকিৎসা ব্যয়। কিন্তু গত দুই বছর ধরে স্বাভাবিকভাবে টাকা তুলতে না পারায় বহু পরিবার আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে।

    বক্তারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত দুই বছরের মুনাফা কর্তন করে মাত্র ৪ শতাংশ সরকারি অনুকম্পা দেয়ার প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে লাখো আমানতকারী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তারা দাবি করেন, দেশে প্রায় ৭৫ লাখ গ্রাহকের প্রায় তিন কোটি পরিবারের সদস্য এই সঙ্কটের সাথে জড়িত।

    ভুক্তভোগী গ্রাহকরা মানববন্ধন থেকে চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ‘হেয়ারকাট’ বাতিল করে চুক্তি অনুযায়ী পূর্ণ মুনাফাসহ আমানতের টাকা ফেরত দিতে হবে; অন্যান্য তফসিলি ব্যাংকের মতো স্বাভাবিক লেনদেন চালু রাখতে হবে; এফডি, ডিপিএস ও এমটিডিআরের টাকা পূর্ণ মুনাফাসহ পরিশোধ করতে হবে এবং ২০২৬ সালের জন্য ঘোষিত ৯ থেকে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ মুনাফার হার প্রত্যাহার করতে হবে।

    বক্তারা আরো বলেন, সামনে কোরবানির ঈদ। নিজেদের টাকা তুলতে না পারলে বহু পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়বে। দ্রুত দাবি বাস্তবায়ন না হলে রাজশাহীতেও চট্টগ্রামের মতো ব্যাংক শাখায় তালা ও কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করার মতো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।

    মানববন্ধন শেষে এক্সিম ব্যাংকের প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়। পরে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ হয়।

  • যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রস্তাবের জবাব দিল ইরান

    যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রস্তাবের জবাব দিল ইরান

    মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধের জন্য প্রস্তাবিত একটি মার্কিন প্রস্তাবের জবাব পাঠিয়েছে ইরান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ।

    রোববার আইআরএনএ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী আলোচনার প্রথম ধাপে সংঘাত বন্ধের ওপর জোর দেওয়া হবে। ইসলামাবাদ থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক কামাল হায়দার বলেছেন, পাকিস্তান ইরানের জবাব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মার্কিন প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের জবাব পাওয়ার বিষয়টি পাকিস্তানিরা নিশ্চিত করছে।

    তিনি আরও বলেন, বার্তা পাওয়ার পর ওয়াশিংটন থেকে কী প্রতিক্রিয়া আসে, তার ওপরই নির্ভর করছে এই সংঘাত নিরসনের ভবিষ্যৎ। যেহেতু পাকিস্তান সফলভাবে ইরানের এই বার্তা বা জবাবটি গ্রহণ করেছে, তাই এখন পরবর্তী পদক্ষেপগুলোর দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।

  • ৫৪ বছর আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন জাহাজডুবিতে, যখন ফিরলেন বয়স ৮০ পেরিয়েছে

    ৫৪ বছর আগে নিখোঁজ হয়েছিলেন জাহাজডুবিতে, যখন ফিরলেন বয়স ৮০ পেরিয়েছে

    বাড়ির আঙিনায় বৃদ্ধ এক মানুষকে দেখে ভিড় জমে যায়। বৃদ্ধ মানুষটি নিজের পরিচয় দিয়ে বলছিলেন, তিনি এ বাড়িরই সন্তান। স্ত্রী-সন্তান সবাইকে ফেলে গেছেন এখানে। হিন্দি আর ভাঙা বাংলা মিশিয়ে বলা তাঁর কথাগুলো সবার কাছে খুব বিস্ময়কর ঠেকছিল। স্ত্রী, মা–বাবাসহ যাঁদের নাম বলেছেন, তাঁদের কেউই আর বেঁচে নেই। সব বিবরণ দেখে একজন তাঁকে চিনতে পারেন। চিনতে পারলেও বিশ্বাস হচ্ছিল না তাঁরও। এমন গল্প যে রূপকথাকেও হার মানায়। বাড়ির লোকজন জানতে পারে, ৫৪ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া ছৈয়দ আহম্মদ নিজের বাড়িতে ফিরে এসেছেন।

    ছৈয়দ আহম্মদের বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীদিয়া গ্রামে। ৫ মে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। বাড়ির লোকজন তাঁকে মৃত বলেই জানত। স্ত্রী, মা–বাবা তাঁর অপেক্ষায় থেকেই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেছেন। জাহাজের চাকরির জন্য যখন বাড়ি ছাড়েন, তখন তরুণ ছিলেন তিনি। বাড়িতে স্ত্রী আর চার মাস বয়সী ছেলেকে ফেলে গিয়েছিলেন। এখন ৮৩ বছর চলছে তাঁর। বয়সবের ভারে ন্যুব্জ। ছেলে নূর হোসেনও ৫৫ বছরে পা দিয়েছে। বাবা দেখতে কেমন, তা তাঁর স্মৃতিতে থাকার কথা নয়। সে হিসেবে তিনি প্রথমবারের মতো বাবাকে দেখলেন।

    চট্টগ্রামের একটি কার্গো জাহাজে শ্রমিকের কাজ করতেন ছৈয়দ আহম্মদ। ৫৪ বছর আগের এক ঝড়ে জাহাজটি কক্সবাজারের উপকূলের কাছাকাছি কোথাও ডুবে যায়। এর পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তিনি। স্বজনেরাও ধরে নিয়েছিলেন তিনি আর বেঁচে নেই। তবে সেই ধারণা ভেঙে তিনি ফিরেছেন। ছৈয়দ আহমদকে দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষজন ছুটে আসেন। অনেকেই তাঁর কাছে হারিয়ে যাওয়া ও ফিরে আসার গল্প শুনতে চাইছেন।

    ছৈয়দ আহম্মদের এক সৎভাই আবুল খায়ের তাঁকে চিনতে পেরেছেন। বর্তমানে তিনি সেই ভাইয়ের বাসায় রয়েছেন। সেখান থেকেই মুঠোফোনে তিনি শনিবার বিকেলে বলেন, যখন ঝড় শুরু হয়, তখন তাঁদের কার্গো জাহাজটি কক্সবাজারের কুতুবদিয়া এলাকায় ছিল। এরপর জাহাজটি ডুবে যায়। জাহাজে অন্যদের কী পরিণতি হয়েছিল, সেসব তাঁর মনে নেই। শুধু মনে আছে, তিনি দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে ছিলেন। এরপর ভারতীয় নৌবাহিনী তাঁকে উদ্ধার করে। ভারতেই তাঁর চিকিৎসা হয়। এরপর সেখান থেকে ভারতের উত্তর প্রদেশের আগ্রার তাজমহল এলাকায় চলে যান। দেশে ফেরা পর্যন্ত তিনি সেখানেই ছিলেন।

    ছৈয়দ আহম্মদের দাবি, তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট পেয়েছিলেন। হঠাৎ তিনি স্বপ্নে ছেলেকে দেখতে পান। এরপর তিনি দেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন। ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়েই তিনি দেশের আসার চেষ্টা করছিলেন। তবে তাঁর এসব কাগজপত্র চুরি হয়েছে। পরে যশোর সীমান্তে এসে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে নিজের পরিস্থিতির কথা জানালে তারা বাংলাদেশে আসতে সহায়তা করে। এরপর ঢাকা হয়ে নোয়াখালী ও পরে সেখান থেকে হাতিয়ায় পৌঁছে মানুষজনকে জিজ্ঞেস করে নিজের বাড়ি খুঁজে বের করেন।

    ছৈয়দ আহম্মদ জানান, যশোর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর তিনি বিজিবির সহায়তা নেন। তিনি বিজিবিকে প্রথমে ঢাকায় যাওয়ার কথা বলেন। তখন বিজিবি তাঁকে যশোর থেকে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করে তাঁকে ট্রেনে তুলে দেয়। ট্রেন থেকে তিনি কমলাপুরে নামেন। কমলাপুর স্টেশনে উপস্থিত যাত্রীদের নোয়াখালীর সোনাপুর যাওয়ার কথা বললে তাঁরা তাঁকে সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডে যাওয়ার জন্য একটি রিকশায় তুলে দেন। সেখানে গিয়ে তিনি সোনাপুরের বাসে উঠে নোয়াখালী আসেন। সোনাপুর থেকে সিএনজি অটোরিকশায় আসেন হাতিয়ার চেয়ারম্যানঘাট। চেয়ারম্যানঘাট থেকে নদী পার হয়ে নলচিরা ঘাটে যান।

    নলচিরা ঘাটে যাওয়ার পর ছৈয়দ আহম্মদ নিজের এলাকা লক্ষ্মীদিয়ার কথা বলে একটি রিকশা নেন। রিকশা থেকে নামার পর তিনি স্থানীয় লোকজনকে তাঁর ছেলে ও ভাইয়ের পরিচয় দেন। সেই সঙ্গে নিজের পরিচয়ও দেন। শুরুতে ছেলেসহ স্থানীয় লোকজন তাঁকে চিনতে পারছিলেন না। পরে তাঁর ভাই আবু বকরের ছেলে আক্তার হোসেন তাঁর বাবার কাছে শোনা কাহিনির সঙ্গে মিলে যাওয়ায় ছৈয়দ আহম্মদকে তাঁদের বাড়িতে নিয়ে যান।

    দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ভারতে অবস্থানের কারণে ছৈয়দ আহম্মদ নিজের মাতৃভাষাও অনেকখানি ভুলে গেছেন। বেশির ভাগ কথাই বলেন হিন্দিতে। তিনি জানান, দীর্ঘ ৫৪ বছরের মধ্যে বেশির ভাগ সময়ই তাঁর কেটেছে আজমির শরিফে।

    ছৈয়দ আহম্মদের সৎভাই আবুল খায়ের বলেন, ‘ভাই নিখোঁজ হওয়ার সময় আমার বয়স ছিল ১০ থেকে ১১ বছর। তখন তাঁর ছেলে নূর হোসেনের বয়স মাত্র কয়েক মাস। দীর্ঘ সময় ফিরে না আসায় আমরা ধরে নিয়েছিলাম, তিনি আর বেঁচে নেই। এত বছর পর ভাইকে ফিরে পাব, কখনো ভাবিনি। তাঁর মুখও প্রায় ভুলে গিয়েছিলাম। এখন তাঁর কথা শুনে পুরোনো অনেক স্মৃতি মনে পড়ছে।’

    এদিকে জীবনে প্রথমবার বাবাকে কাছে পেয়ে খুশি ছেলে নূর হোসেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জন্মের পর কখনো বাবাকে দেখিনি। এখন তিনি ফিরে এসেছেন, এটা বিশ্বাসই হচ্ছে না।’

    তবে বাবাকে নিজের বাড়িতে রাখতে না পারার অভিযোগও করেছেন তিনি। নূর হোসেনের দাবি, তাঁর চাচাতো ভাইয়েরা ছৈয়দ আহম্মদকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে গেছেন। তাঁর কাছে আসতে দিচ্ছেন না। এ ঘটনায় তিনি হাতিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

    হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন বলেন, ৫৪ বছর পর ফিরে আসা ছৈয়দ আহম্মদকে নিয়ে তাঁর ছেলে একটি জিডি করেছেন। বিষয়টি পারিবারিক। পরিবার চাইলে পুলিশ আইনগত সহায়তা দেবে।

  • যশোরে রেললাইনে উঠে পড়ল ট্রাক, ট্রেনে কাটা পড়ে চালকের মৃত্যু

    যশোরে রেললাইনে উঠে পড়ল ট্রাক, ট্রেনে কাটা পড়ে চালকের মৃত্যু

    যশোরে রেললাইনের ওপর উঠে পড়ে ট্রাক। ট্রেনের ধাক্কায় ট্রাকচালক ছিটকে পড়েন রেললাইনে। ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। আজ রোববার দুপুরে অভয়নগর উপজেলার মশরহাটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত ট্রাকচালক মনোয়ার হোসেন (৬০) ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে পুলিশ জানায়, অভয়নগর উপজেলার মশরহাটি এলাকায় পাশাপাশি যশোর-খুলনা মহাসড়ক ও খুলনা-রাজশাহী রেললাইন। রেললাইনের পাশেই আকিজ রিসোর্সের কয়লার ডাম্প (স্তূপ)। রেলক্রসিংয়ে কোনো গেটম্যান নেই। ট্রেন চলাচলের সময় যানবাহন নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা নেই। রোববার দুপুরে একটি ট্রাক যশোর-খুলনা মহাসড়ক থেকে নেমে পেছন দিকে ধীরে ধীরে রেললাইন পার হয়ে কয়লার ডাম্পে কয়লা লোড করতে যাচ্ছিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ট্রাকটির পেছনের অংশ রেললাইনের ওপর ছিল। এ সময় খুলনা থেকে ছেড়ে আসা চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী মহানন্দা এক্সপ্রেস ট্রেন ট্রাকটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকটি উল্টে যায় এবং চালক মনোয়ার হোসেন ট্রাক থেকে ছিটকে রেললাইনের ওপর পড়েন। ট্রেনে কাটা পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

    নওয়াপাড়া রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার ইয়াসিন আরাফাত বলেন, মশরহাটি এলাকার ওই রেলক্রসিং অবৈধ। মহানন্দা এক্সপ্রেস ট্রেনটি আজ দুপুর ১২টা ২৩ মিনিটে নওয়াপাড়া স্টেশন ছেড়ে যায়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মশরহাটি এলাকায় ওই রেলক্রসিংয়ে ট্রাকের সঙ্গে ট্রেনের ধাক্কা লেগে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

    যশোর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির (জিআরপি) উপপরিদর্শক (এসআই) জ্যোতিষ চন্দ্র বর্মণ বলেন, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

  • এস আলম ফেরার খবরে গ্রাহকদের মধ্যে শঙ্কা

    এস আলম ফেরার খবরে গ্রাহকদের মধ্যে শঙ্কা

    ৫ আগস্ট, ২০২৪ ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বেরিয়ে আসে ব্যাংক খাতের ক্ষতচিহ্ন। প্রকাশ পেতে থাকে ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত চিত্র

    চট্টগ্রামভিত্তিক আলোচিত ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলমসহ হাসিনার আশীর্বাদপুষ্ট অসংখ্য ব্যক্তি এবং ব্যবসায়ী গ্রুপ ঋণের নামে ব্যাংকগুলো থেকে অনৈতিক উপায়ে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ কোটি টাকা। ফলে প্রায় এক ডজনেরও বেশি ব্যাংক আর্থিকভাবে চরম রুগ্ন হয়ে পড়ে। সীমাহীন খেলাপি ঋণ এবং মূলধন ঘাটতির কারণে ভয়াবহ তারল্য সংকটে পড়ে ব্যাংকগুলো।

    শেখ হাসিনা পালানোর পর অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু পদক্ষেপে ব্যাংক খাতের উপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরে আসলেও সম্প্রতি অনেকের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ-২০২৬ পাস হওয়ার পর থেকে এমন আতঙ্ক দেখা যাচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে শর্ত-সাপেক্ষে এস আলমসহ বিতর্কিত ব্যবসায়ী গ্রুপগুলোর ব্যাংকের মালিকানা ফিরে পাওয়ার খবরে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। এস আলম গ্রুপ আবার ফিরছে- এই খবরে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো থেকে আমানতের টাকা তুলে নেওয়ারও প্রবণতা শুরু হয়েছে। এসব গ্রাহকদের ভাষ্য, এস আলম ফিরলে ব্যাংক খাতের অবস্থা আগের মতোই হতে পারে। এতে তারা টাকা ফেরত নাও পেতে পারেন, এজন্য তারা টাকা তুলে নিচ্ছেন।

    মুনিরা শাহরিন নামে একজন গ্রাহক বলেন, “শুনছি নতুন ব্যাংক আইন পাস হইছে। এস আলম নাকি আবার ব্যাংকের মালিকানায় আসবে, এই জন্য টাকা তুলে নেওয়ার চিন্তা করছি। এর আগে অনেক ভোগান্তি পোহাইতে হইছে।”

    ব্যাংক খাত বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের রুগ্ন ব্যাংকিং খাতকে টেনে তুলতে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সবচেয়ে সাহসী পদক্ষেপ ছিল ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫’। এর উদ্দেশ্য ছিল যেসব ব্যাংক লুটপাট ও অব্যবস্থাপনায় দেউলিয়া হয়েছে, সেগুলোকে পুনর্গঠন করা এবং যারা এই ধ্বংসযজ্ঞের জন্য দায়ী, তাদের চিরতরে মালিকানা থেকে সরিয়ে দেওয়া। তবে নতুন সংশোধিত ‘ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ-২০২৬’ অনুযায়ী, রেজুলেশন বা একীভূতকরণের আওতায় যাওয়া কোনো ব্যাংকের তালিকাভুক্তির আগে থাকা শেয়ারহোল্ডাররা চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করে সেই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় পুনরায় গ্রহণ করতে পারবেন।

    এস আলমের দখলকৃত ব্যাংকগুলোর বর্তমান অবস্থা
    এস আলমের দখলকৃত ব্যাংকগুলোর বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণও আকাশছোঁয়া। ব্যাংকগুলো থেকে এস আলম ও তার সহযোগীরা নামে-বেনামে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে লাখ লাখ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। আত্মসাতকৃত এই অর্থের বেশিরভাগই বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি প্রায় ৯৬ দশমিক ২০ শতাংশ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৭০ দশমিক ১৭ শতাংশে, ইউনিয়ন ব্যাংকের খেলাপির হার ৯৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ৯৫ দশমিক ৭০ শতাংশ, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৫১ দশমিক ৬৫ শতাংশ, ন্যাশনাল ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৫২ শতাংশের বেশি। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ ছিল চট্টগ্রামভিত্তিক আলোচিত-সমালোচিত ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলমের হাতে।

    এছাড়া দেশের অন্যতম বৃহৎ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক- ইসলামী ব্যাংক পিএলসিও দখলে ছিলো আলোচিত এই গ্রুপটির। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির মোট ঋণ ছিল ১ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ ব্যাংকের মোট ঋণের অর্ধেকেরও বেশি এখন অনাদায়ী।

    আত্মসাতকৃত টাকার বেশিরভাগই বিদেশে পাচার
    বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে এখন পর্যন্ত এস আলম গ্রুপের ব্যাংকিং খাতে ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়। এই গ্রুপের পাচারের বড় মাধ্যম ছিল ভুয়া এলসি। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করে বিদেশে গ্রুপটির ব্যাংক হিসাবে এসব অর্থ স্থানান্তর করা হয়। অফশোর ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির জন্য ঋণ নিয়ে ইসলামী ব্যাংকে এলসি খোলা হয়। এলসির আওতায় পণ্য দেশে না এনে ১৮ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে পাচার করেন গ্রুপের কর্ণধার এস আলম মাসুদ। পরে ইসলামী ব্যাংক ওই অর্থ গ্রাহকের (এস আলম গ্রুপ) নামে ফোর্স লোন তৈরি করে বিদেশের নেগোশিয়েটিং ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করে। কিন্তু এলসি ওপেন করা ঋণগ্রহীতারা বিপুল অঙ্কের এই টাকা পরিশোধ না করায় পুরো ১৮ হাজার কোটি টাকাই এখন খেলাপি। এর বাইরেও তিনি অফশোর ব্যাংকিংয়ের আওতায় আরও অর্থ পাচার করেন।

    এস আলম গ্রুপের দখল করা ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক থেকে পর্ষদের অনুমোদন না নিয়েই লাখ কোটি টাকার বেশি সরিয়ে নেওয়া হয়। এসব অর্থ বিদেশে এস আলম গ্রুপের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের একটি শাখা থেকেই এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের নামে ঋণ নেওয়া হয়েছে ৭ হাজার কোটি টাকা। শিল্পের কাঁচামাল আমদানির এলসির আড়ালে এসব ঋণের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

  • মেহেরপুরের গাংনীতে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    মেহেরপুরের গাংনীতে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধারনা করা হচ্ছে, পরকীয়া সন্দেহ ও পারিবারিক কলহের জেরে এই আত্মহত্যা। রোববার (১০ মে) গাংনী উপজেলার হেমায়েতপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    গাংনী উপজেলার গজাড়িয়া হেমায়েতপুর গ্রামের আনসার সদস্য ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী সুইটি খাতুন (২৭) পরকীয়া সন্দেহের জেরে আত্মহত্যা করেন বলে জানা গেছে। তিনি নিজ ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

    হেমায়েতপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ অতুল জানান, স্বামী ইসমাইল হোসেন বর্তমানে চট্টগ্রামে কর্মরত। স্ত্রীর চলাফেরা নিয়ে সন্দেহ করে তাকে বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া-আসা করতে নিষেধ করা হয়। এ নিয়ে পারিবারিক উত্তেজনার সৃষ্টি হলে ক্ষোভে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন সুইটি।

    পুলিশ এ ঘটনায় লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘পারিবারিক অশান্তি ও সন্দেহের কারণে এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে, যা সমাজে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে।’

  • ঈদুল আজহা উপলক্ষে সোমবার থেকে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু

    ঈদুল আজহা উপলক্ষে সোমবার থেকে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু

    ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামীকাল সোমবার থেকে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে টিসিবির পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম শুরু হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সোমবার আগারগাঁও এলাকায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
    রোববার টিসিবির উপ-পরিচালক (বাণিজ্যিক) মো. শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
    আদেশে বলা হয়, সারাদেশে ৭২০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে ১১-২১ মে পর্যন্ত ১০ দিন (শুক্রবার ব্যতীত) দৈনিক ট্রাক প্রতি ৪০০ জন সাধারণ জনগণের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবির পণ্যাদি (ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল) বিক্রয়ের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
    ট্রাকসেলের মাধ্যমে প্রায় ২৮ দশমিক ৮০ লাখ উপকারভোগীর কাছে প্রায় ১৩ দশমিক ৯৩৯ মেট্রিক টন পণ্য বিক্রি করা হবে। যে কোনো ভোক্তা ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে পারবেন।
    আদেশে আরও বলা হয়েছে, সরকারি নির্দেশনায় টিসিবির কার্ডধারী নিম্নআয়ের পরিবারের মাঝে ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্যাদি (ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল) বিক্রি কার্যক্রম চলছে।
    পাশাপাশি ঈদ উপলক্ষে প্রতিদিন ঢাকা মহানগরীতে ৫০ (ঢাকা জেলাসহ), চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২০ (চট্টগ্রাম জেলাসহ), অন্য ছয়টি বিভাগীয় শহর এবং সংশ্লিষ্ট জেলায় প্রতিটিতে ১৫ করে এবং অবশিষ্ট ৫৬ জেলায় ১০টি করে ট্রাকে পণ্য বিক্রি করা হবে।
    ভোক্তা প্রতি সর্বোচ্চ বিক্রয় (পরিমাণ) ভোজ্য তেল ২ লিটার প্রতি লিটার ১৩০ টাকা, চিনি ১ কেজি ৮০ টাকা, মসুর ডাল ২ কেজি প্রতি কেজি ৭০ টাকায় বিক্রি করা হবে।

  • বুড়িচংয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল যুবকের

    বুড়িচংয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল যুবকের

    কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শান্ত ইসলাম (২১) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার (১০ মে) দুপুর ২টার দিকে কুমিল্লা-বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া সড়কের ইছাপুরা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শান্ত ইসলাম উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের খাড়াতাইয়া পশ্চিমপাড়ার মরহুম জায়েদ মিয়ার নাতি।

    স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শান্ত ইসলাম মোটরসাইকেলযোগে কুমিল্লার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে ইছাপুরা মোড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে একটি গাছের সাথে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জুবায়ের আহমেদ ও ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ মারুফ জানান, শান্ত ইসলাম ছোটবেলা থেকেই খাড়াতাইয়ায় নানা জায়েদ মিয়ার বাড়িতে থাকত। বুড়বুড়িয়া হাজী মার্কেটে তার একটি চটপটির দোকান ছিল। শান্ত ইসলামের পৈতৃক বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলায়। তার বাবার নাম লাল মিয়া।

    এ বিষয়ে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

  • কোরবানির হাটে জাল নোট ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ নির্দেশনা

    কোরবানির হাটে জাল নোট ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ নির্দেশনা

    আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের কোরবানির পশুর হাটগুলোতে জাল নোটের বিস্তার ঠেকাতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অনুমোদিত সব পশুর হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে ১০ দফা নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    রোববার (১০ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়।

    নির্দেশনা হলো:

    ১. ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন অনুমোদিত পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিনের সহায়তায় অভিজ্ঞ ক্যাশ কর্মকর্তাদের দিয়ে হাট শুরুর দিন হতে ঈদের পূর্ব রাত পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে পশু ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের বিনামূল্যে নোট যাচাই সংক্রান্ত সেবা প্রদান করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত তফশিলি ব্যাংকগুলোর তালিকা এতদসঙ্গে সংযুক্ত করা হলো। এই হাটগুলো সেবা প্রদানের লক্ষ্যে মনোনীত কর্মকর্তাদের নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বরসহ আপনাদের ব্যাংকের সমন্বয়ক হিসেবে মনোনীত একজন উপযুক্ত কর্মকর্তার নাম, পদবী ও মোবাইল নম্বর আগামী ১৭/০৫/২০২৬ তারিখের মধ্যে naima.tanzin@bb.org.bd এবং zarrin.tasnim@bb.org.bd ই-মেইলে পাঠাতে হবে। উল্লেখ্য, আপনাদের ব্যাংকের সমন্বয়কারী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট হাটে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের কার্যাদি মনিটরিং করবেন;

    ২. ঢাকার বাইরে যে সকল জেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিস রয়েছে সেখানে সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভার অনুমোদিত পশুর হাটসমূহে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট অফিসের নেতৃত্বে গৃহীত অনুরূপ ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য আপনাদের সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কার্যালয়/প্রধান শাখাসমূহকে নির্দেশনা প্রদান করতে হবে;

    ৩. বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিস নেই এমন জেলাসমূহের সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও থানা/উপজেলার অনুমোদিত পশুর হাটে বিভিন্ন ব্যাংকের এতদসংক্রান্ত দায়িত্ব বণ্টনের জন্য সোনালী ব্যাংক পিএলসি-এর চেস্ট শাখাগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সোনালী ব্যাংক পিএলসি-এর চেস্ট শাখা কর্তৃক বণ্টনকৃত দায়িত্ব অনুযায়ী আপনাদের ব্যাংকের জেলা/উপজেলা পর্যায়ের শাখাসমূহ যাতে পশুর হাটগুলোতে নোট যাচাই সংক্রান্ত সেবা প্রদান করে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শাখাসমূহকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করতে হবে;

    ৪. হাটে স্থাপিত বুথে নোট কাউন্টিং মেশিনের সাহায্যে নগদ অর্থ গণনাকরণ সুবিধা প্রদান করতে হবে;

    ৫. বুথ স্থাপন কার্যক্রমের সুবিধার্থে ও সহযোগিতার জন্য প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ, জেলা মিউনিসিপ্যালিটি কর্তৃপক্ষ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার/সংশ্লিষ্ট পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও অনুমোদিত হাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইজারাদার এবং সার্বিক নিরাপত্তার জন্য (প্রয়োজনে) সংশ্লিষ্ট পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও আনসার কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে;

    ৬. বুথে নোট যাচাইকালে কোনো জাল নোট ধরা পড়লে এ বিভাগের (তদানীতন DCMPS) ০৪/০৭/২০০৭ তারিখের পরিপত্র নং- জাল নোট: ০১(পুলিশ)/২০০৭-১৯১ এ বর্ণিত নির্দেশনা মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে;

    ৭. বুথে ব্যাংকের নাম ও তার সাথে ‘জাল নোট সনাক্তকরণ বুথ’ উল্লেখপূর্বক ব্যানার/নোটিশ প্রদর্শন করতে হবে;

    ৮. ব্যাংক নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্বলিত ভিডিও চিত্রটি আপনাদের ব্যাংকের শাখাসমূহে ঈদের আগ পর্যন্ত প্রতি কর্মদিবসে গ্রাহকদের জন্য স্থাপিত টিভি মনিটরগুলোতে পুরো ব্যাংকিং সময়ে প্রদর্শন করতে হবে;

    ৯. দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা/কর্মচারীদের এতদসংক্রান্ত দায়িত্ব পালনের জন্য আপনাদের ব্যাংকের প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আর্থিক সুযোগ সুবিধা প্রদান করা যাবে; এবং

    ১০. পবিত্র ঈদ-উল-আজহা সমাপ্তির পরবর্তী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে উপরে বর্ণিত নির্দেশনার সূত্রে আপনাদের কর্তৃক পরিপালিত বিষয়াদির উপর প্রস্তুতকৃত একটি প্রতিবেদন আবশ্যিকভাবে এ বিভাগে পাঠাতে হবে।

    এম.কে

  • ভিয়েনার সরকারি স্কুলে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে

    ভিয়েনার সরকারি স্কুলে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে

    ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার সরকারি স্কুলগুলোতে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শহরের শিক্ষা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি স্কুলের মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৪২ শতাংশই মুসলিম।

    অস্ট্রিয়ান দৈনিক ‘ডাই প্রেস’ এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিয়েনার সরকারি স্কুলগুলোতে মোট প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে মুসলিম শিক্ষার্থীর হার সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে ধর্মীয় পরিচয়হীন শিক্ষার্থী ২৩ শতাংশ, ক্যাথলিক ১৭ শতাংশ এবং অর্থোডক্স খ্রিস্টান ১৪ শতাংশ।

    বেলজিয়াম ভিত্তিক গণমাধ্যম ব্রুসেলস সিগন্যালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি মাধ্যমিক ও পলিটেকনিক স্কুলগুলোতে মুসলিম শিক্ষার্থীর হার আরও বেশি। ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪৯ শতাংশে পৌঁছেছে। এছাড়া ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মুসলিম শিক্ষার্থীর হার প্রায় ৩৯ শতাংশ।

    একীকরণ বিশেষজ্ঞ কেনান গুঙ্গোর বলেন, ২০১৫ সালের পর সিরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরাকসহ বিভিন্ন মুসলিমপ্রধান দেশ থেকে অস্ট্রিয়ায় বড় আকারের অভিবাসনের কারণে এই পরিবর্তন দ্রুত ঘটেছে। তাঁর মতে, এসব অভিবাসী পরিবারের জন্মহার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় স্কুলের শিক্ষার্থী কাঠামোতেও এর প্রভাব পড়ছে।

    তিনি আরও বলেন, আগে অস্ট্রিয়ার অধিকাংশ মুসলিম ছিল তুর্কি বংশোদ্ভূত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরব দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আরব মুসলিম সমাজে ধর্মীয় অনুশীলন তুলনামূলক বেশি রক্ষণশীল হওয়ায় শিক্ষার্থীদের সামাজিক আচরণ ও মূল্যবোধেও এর প্রভাব পড়ছে।

  • ইরানের ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় সংরক্ষণের প্রস্তাব পুতিনের

    ইরানের ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় সংরক্ষণের প্রস্তাব পুতিনের

    রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত পরিবহন ও সংরক্ষণ করতে মস্কো প্রস্তুত। মস্কোতে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে পুতিন এ কথা বলেন। তিনি বলেন, রাশিয়া ২০১৫ সালে ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম স্থানান্তর করেছিল, মস্কো সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি করতে প্রস্তুত।

    সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধে জড়িত সব পক্ষই তেহরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশটির বাইরে স্থানান্তরের বিষয়ে একমত হয়েছিল বলে জানান পুতিন। তিনি বলেন, ‘কিন্তু পরে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান কঠোর করে এবং দাবি করে যে (ইরানের) ইউরেনিয়াম শুধু মার্কিন ভূখণ্ডেই পরিবহন করতে হবে। এরপর ইরানও কঠোর অবস্থানে চলে যায়।’

    মস্কো ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে জানিয়ে পুতিন আরও বলেন, যত দ্রুত সম্ভব এ যুদ্ধ শেষ হবে বলে তিনি আশা করছেন। ইরান তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

  • দিনাজপুরে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে ৪ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ

    দিনাজপুরে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে ৪ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ

    দিনাজপুরে ট্রাক টার্মিনালে টোলের নাম করে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেছেন। পরে টোল আদায় ও চাঁদা বন্ধের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে চার ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেয়া হয়। রোববার (১০ মে) সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ শ্রমিকরা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবরোধ পালন করেন। এ সময় যানজটে দিনাজপুর শহর স্থবির হয়ে পড়ে।

    জানা যায়, এক মাস ধরে দিনাজপুর ট্রাক টার্মিনালে টোলের নামে অবৈধ চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদে দিনাজপুরে শহরের আটটি পয়েন্টে দিনাজপুর জেলার ট্রাক ও মালিক শ্রমিকের যৌথ উদ্যোগে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।

    পরে চার ঘণ্টা পরে দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সুরাহা হয়।

    এদিকে শ্রমিকদের অবরোধ বিষয়ে দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত মোতাবেক নতুন আদেশ না দেয়া পর্যন্ত দিনাজপুর ট্রাক টার্মিনালের সকল টোল আদায় বন্ধ থাকবে। দিনাজপুর পৌরসভার প্রশাসক রিয়াজ উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক আদেশপত্রে টোল আদায় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

  • কামিল পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    কামিল পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত কামিল মাদ্রাসা সমূহের দুই বছর মেয়াদি কামিল (স্নাতকোত্তর) পরীক্ষা-২০২৪-এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। পরীক্ষায় মোট ৮৯ দশমিক ৮২ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।

    এবারের ফলাফলে পরীক্ষার মেধাতালিকায় চূড়ান্ত বর্ষে দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদ্রাসা, ছারছীনা দারুসুন্নত কামিল মাদ্রাসা, ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসা শীর্ষস্থান লাভ করেছে। এছাড়াও প্রথম বর্ষে বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসা, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ঢাকা, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা শীর্ষস্থানে রয়েছে।

    রোববার বেলা ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবু জাফর খান আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম ভাইস-চ্যান্সেলর এর কাছে ফলাফলের কপি হস্তান্তর করেন।

    ফলাফল প্রকাশকালে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অল্প সময়ের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ সম্ভব হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা প্রশংসার দাবিদার।

    এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার এ এস এম মামুনুর রহমান খলিলী, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ফাহাদ আহমদ মোমতাজী, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. জিয়াউর রহমানসহ পরীক্ষা দপ্তরের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

    ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য হলো যথাসময়ে পরীক্ষা গ্রহণ, দ্রুত ও নির্ভুলভাবে ফলাফল প্রকাশ এবং শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো সনদ ও নম্বরপত্র পৌঁছে দেওয়া। তিনি জানান, বর্তমানে এক বছর মেয়াদি কামিল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এ পরীক্ষার ফলাফলও দ্রুত প্রকাশ করা হবে।

    মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে শুধু পরীক্ষা পরিদর্শনই যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, পরীক্ষা গ্রহণে নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। যুগোপযোগী ও আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এ বিষয়ে দেশের সব মাদরাসাকে ইতোমধ্যে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা ও আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই সচেষ্ট থাকবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, আগামী দিনে দ্রুত সময়ে পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশ করার মাধ্যমে সেশনজট শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

    গত ৩ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

    পর্যন্ত সারাদেশের ১৬৭টি কেন্দ্রে এবারের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ও চূড়ান্ত বর্ষ মিলিয়ে মোট ৪২ হাজার ৩৩৯ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ৩৭ হাজার ৬২২ জন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। প্রথম বর্ষে পাসের হার ৮৩ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং চূড়ান্ত বর্ষে ৯৬ দশমিক ১২ শতাংশ।

    পরীক্ষার ফলাফল সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

  • চুয়াডাঙ্গায় ১৩ মে থেকে আম সংগ্রহ শুরু

    চুয়াডাঙ্গায় ১৩ মে থেকে আম সংগ্রহ শুরু

    চুয়াডাঙ্গা জেলায় চলতি মৌসুমে ৩০ হাজার ৮৪২ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৩ মে (৩০ বৈশাখ) থেকে জেলার বিভিন্ন জাতের আম সংগ্রহ শুরু হবে। রোববার (১০ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে আম সংগ্রহের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। সভায় জেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ, আম বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।

    জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) মিঠু চন্দ্র অধিকারী, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) কৃষ্ণ রায়, চুয়াডাঙ্গা জেলা আম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মহলদার, জেলা কৃষি বিপণনের মাঠ ও বাজার পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মামুনুল হাসান এবং সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিছুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলার ২ হাজার ২০৩ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে।

    নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ১৩ মে থেকে আঁটি, গুটি, বোম্বাই, খিরসাপাতি ও গোপালভোগ; ২০ মে থেকে হিমসাগর; ২৫ মে থেকে ল্যাংড়া; ৫ জুন থেকে আম্রপালি (বারি আম-৩); ১৫ জুন থেকে ফজলি; ২০ জুন থেকে হাঁড়িভাঙ্গা; ২২ জুন থেকে ব্যানানা; ৩০ জুন থেকে আশ্বিনা (বারি আম-৪); ৫ জুলাই থেকে কার্টিমন এবং গৌড়মতি (বারি আম-১২) জাতের আম সংগ্রহ শুরু হবে।

    সভায় জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার জানান, কোনো অবস্থাতেই অপরিপক্ব আম বাজারজাত করা যাবে না। এছাড়া আম পাকানো ও সংরক্ষণে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

    তারা আরো জানান, অবৈধ উপায়ে আম পাকানো বা মজুদ করা হলে ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯’ এবং ‘নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩’ অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, “নির্ধারিত সময়সূচির আগে কেউ অপরিপক্ব আম সংগ্রহ করতে পারবেন না। নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

  • ইউক্রেন যুদ্ধ শেষের পথে, কেন বললেন পুতিন

    ইউক্রেন যুদ্ধ শেষের পথে, কেন বললেন পুতিন

    ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হতে চলেছে, এমনটাই মনে হচ্ছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের। মনের সে কথা মুখেও বলেছেন তিনি। আর এর কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি বলেছিলেন, এই যুদ্ধে রাশিয়া বিজয়ী হবে।

    রাশিয়ার ভিক্টরি ডে বা বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার মস্কোর রেড স্কয়ারে সামরিক কুচকাওয়াজে পুতিন ইউক্রেনে লক্ষ্য অর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানিকে হারানোর জাতীয় গৌরবের কথা স্মরণ করে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ‘জয় সব সময় আমাদেরই হয়েছে, আমাদেরই হবে।’ওই কথা বলার কয়েক ঘণ্টা পর ক্রেমলিনে এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেন, ‘আমার মনে হয়, বিষয়টি শেষের দিকে এগোচ্ছে।’রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের দিকে ইঙ্গিত করেই এ কথা বলেন পুতিন। তবে কীভাবে তা শেষ হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।

    ক্রেমলিনে বক্তব্য দেওয়ার সময় পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধের কারণ সম্পর্কে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি ‘গ্লোবালিস্ট’ পশ্চিমা নেতাদের দোষারোপ করে বলেন, ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতনের পর তাঁরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে ন্যাটো পূর্ব দিকে আর সম্প্রসারিত হবে না, কিন্তু পরে তাঁরা ইউক্রেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রভাব বলয়ে আনার চেষ্টা করেন।

    চার বছরের বেশি সময় ধরে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। ইউক্রেনের যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটে যোগ দেওয়ার আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রুশ অভিযানের মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের শুরু হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় উদ্‌যাপনে প্রতিবছর ৯ মে বিজয় দিবস পালন করে রাশিয়া। বার্ষিক এ আয়োজনের মাধ্যমে রাশিয়া ওই যুদ্ধে নিহত ২ কোটি ৭০ লাখ সোভিয়েত নাগরিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।

    এই যুদ্ধ রাশিয়া ও পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্ককে এমন এক গুরুতর সংকটে ফেলেছে, যা ১৯৬২ সালের কিউবার মিসাইল সংকটের পর সবচেয়ে ভয়াবহ বলে বিবেচিত হয়। যুদ্ধের শুরুর দিকে অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, বিশ্ব পারমাণবিক যুদ্ধের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে।

    পুতিন এই যুদ্ধকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত বলেও উল্লেখ করেন।ইউরোপের জন্য নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থার বিষয়ে আলোচনায় নিজে প্রস্তুত বলেও জানান পুতিন। এ ক্ষেত্রে তিনি আলোচনার জন্য পছন্দ করছেন জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর গেরহার্ড শ্রোয়েডারকে।

    রাশিয়ার বিজয় দিবস উপলক্ষে এখন তিন দিনের যুদ্ধবিরতি চলছে। ৯ মে শুরু হওয়া এই যুদ্ধবিরতি ১১ মে শেষ হবে। গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন। ক্রেমলিন বলেছে, এ যুদ্ধ অবসানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় যে শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছিল, তা বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।

  • সাদুল্লাপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু

    সাদুল্লাপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু

    গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বিদ্যুৎচালিত ধান মাড়াই মেশিনে সংযোগ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে জাফর আলী (৪০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১০ মে) সকালে উপজেলার খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়নের পাইকা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত জাফর আলী পাইকা গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে।

    স্বজনরা জানায়, জাফর আলী কৃষি কাজের পাশাপাশি স্থানীয় ঢোলভাঙ্গা বাজারে কাপড়ের দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। রোববার সকালের দিকে ধান মাড়াই করার জন্য মেশিনে বৈদ্যুতিক সংযোগ দিচ্ছিলেন। এ সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তার মৃত্যু হয়।

    এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আতোয়ার রহমান বলেন, ‘ধান মাড়াই মেশিন চালু করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে জাফর আলীর মৃত্যু হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা খুবই বেদনাদায়ক।’

    সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, ‘বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যুর বিষয়ে একটি ম্যাসেজ পেয়েছি। ঘটনাটি দেখা হচ্ছে।’

  • তামিলনাড়ু হবে ধর্মনিরপেক্ষ, আমি হবো ক্ষমতার কেন্দ্র: বিজয়

    তামিলনাড়ু হবে ধর্মনিরপেক্ষ, আমি হবো ক্ষমতার কেন্দ্র: বিজয়

    তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর চেন্নাইয়ে রোববার প্রথমবারের মতো ভাষণ দিয়েছেন থালাপতি বিজয়। এ সময় তিনি নিজেকে ‘কমন ম্যান’ বা সাধারণ মানুষ হিসেবে তুলে ধরেন। নিজের উচ্চ বংশ পরিচয় না থাকার কথা উল্লেখ করে জানান, তৃণমূল থেকে উঠে এসেছেন বলেই মানুষ তাঁকে গ্রহণ করেছে।

    ভাষণে প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষতা, সামাজিক ন্যায়বিচারের নতুন যুগ শুরুর অঙ্গীকার করেন বিজয়। পাশাপাশি বলেন, তিনি মানুষকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধোঁকা দেবেন না। কাজের মূল্যায়নের জন্য জনগণের কাছে থেকে কিছুটা সময়ও চেয়েছেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া ৫১ বছর বয়সী এই মুখ্যমন্ত্রী।

    থালাপতি বিজয় বলেন, ‘আমি ছাড়া ক্ষমতার আর কোনো কেন্দ্র থাকবে না। আমিই হবো ক্ষমতার একমাত্র কেন্দ্র।’ এর মাধ্যমে তিনি বুঝিয়েছেন, তাঁর সরকারের সব নীতির জন্য তিনি নিজে দায়বদ্ধ থাকবেন। ‘ক্ষমতার কেন্দ্র’ এমন বক্তব্যের মাধ্যমে জোট সঙ্গীদের চাপ বা হুকুম তামিল না করার দিকেও ইঙ্গিত দিয়েছেন বিজয়।

    মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় বিজয়কে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের সঙ্গে মিলে কাজ করবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

    বিজয় সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায় টিভিকের বিশ্বস্ত নেতারাই প্রাধান্য পেয়েছেন। তবে রাহুল গান্ধীর কংগ্রেস থেকে কোনো নেতা এই মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। সরকার গঠনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য যখন লড়াই চলছিল, তখন বিজয়ের দলের প্রতি প্রথম সমর্থনের হাত বাড়িয়েছিল কংগ্রেস।

    মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম দিন দুটি নথিতে স্বাক্ষর করেছেন বিজয়। এগুলো হলো সাধারণ মানুষের জন্য ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সুবিধা দেওয়া এবং নারীদের নিরাপত্তার জন্য একটি বিশেষ বাহিনী গঠন করা।

    বিজয় জানিয়েছেন, সরকারের পরবর্তী কাজগুলো শুরু করার আগে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তিনি রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতির ওপর একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের কথা ভাবছেন। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, নতুন মুখ্যমন্ত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ ৬২৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২১৩ কোটি টাকা সেভিংস অ্যাকাউন্টে এবং ১০০ কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (এফডি) হিসেবে বিনিয়োগ করা আছে।

  • কাতার-কুয়েত-আরব আমিরাতে আবারও ড্রোন হামলা

    কাতার-কুয়েত-আরব আমিরাতে আবারও ড্রোন হামলা

    আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক:

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত জোটের মধ্যকার নাজুক যুদ্ধবিরতি নতুন করে উত্তেজনার মুখে পড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, দেশটির দিকে ছোড়া দুটি ইরানি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। এর আগে রাতভর কুয়েতমুখী ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনায় যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

    অন্যদিকে কাতারের উপকূলের কাছে একটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ অজ্ঞাত উৎস থেকে ছোড়া প্রজেক্টাইলে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে আগুন ধরে যায়। এ তথ্য জানিয়েছে ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস। ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে সংস্থাটির বিবৃতি উল্লেখ করা হয়।

    ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর এই সংস্থাটি জানায়, আঘাতের ফলে ছোট আকারের আগুন লাগলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

    গত এক সপ্তাহ ধরে পারস্য উপসাগর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো বারবার হামলার মুখে পড়ছে, যদিও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। পরিস্থিতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক রুটে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এসব হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করা হচ্ছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো স্বীকারোক্তি আসেনি।

  • পাকিস্তানে বোমা হামলায় ১৫ পুলিশ নিহত

    পাকিস্তানে বোমা হামলায় ১৫ পুলিশ নিহত

    পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখওয়া প্রদেশে ভয়াবহ গাড়ি বোমা হামলায় ১৫ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় আছে আরও তিনজন। বিস্ফোরণের পর বন্দুকধারীরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

    বান্নু শহরের উপকণ্ঠে একটি পুলিশ ফাঁড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ কর্মকর্তা সাজ্জাদ খান জানিয়েছেন, বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি দিয়ে হামলা চালানো হলে ফাঁড়ির ছাদ ধসে পড়ে। সে সময় সেখানে থাকা পুলিশ সদস্যরা হতাহত হন।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক কর্মকর্তা জানান, বিস্ফোরণের পর জঙ্গিরা ফাঁড়ির ভেতরে ঢুকে পুলিশ সদস্যদের ওপর গুলি চালায়। পরে সহায়তায় আসা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপরও অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

    পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, হামলায় ড্রোনও ব্যবহার করেছে জঙ্গিরা। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ও অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে নেয়। বান্নুর সরকারি হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছ। ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদীন নামের একটি জোট হামলার দায় স্বীকার করেছে।

    এ হামলার পর পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে জঙ্গিরা পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তবে তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, জঙ্গিবাদ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা।

  • ভিয়েনার সরকারি স্কুলে প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী মুসলিম

    ভিয়েনার সরকারি স্কুলে প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী মুসলিম

    ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার সরকারি স্কুলগুলোতে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শহরের শিক্ষা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি স্কুলের মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৪২ শতাংশই মুসলিম।

    অস্ট্রিয়ান দৈনিক ‘ডাই প্রেস’ এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিয়েনার সরকারি স্কুলগুলোতে মোট প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে মুসলিম শিক্ষার্থীর হার সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে ধর্মীয় পরিচয়হীন শিক্ষার্থী ২৩ শতাংশ, ক্যাথলিক ১৭ শতাংশ এবং অর্থোডক্স খ্রিস্টান ১৪ শতাংশ।

    বেলজিয়াম ভিত্তিক গণমাধ্যম ব্রুসেলস সিগন্যালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি মাধ্যমিক ও পলিটেকনিক স্কুলগুলোতে মুসলিম শিক্ষার্থীর হার আরও বেশি। ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪৯ শতাংশে পৌঁছেছে। এছাড়া ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মুসলিম শিক্ষার্থীর হার প্রায় ৩৯ শতাংশ।

    একীকরণ বিশেষজ্ঞ কেনান গুঙ্গোর বলেন, ২০১৫ সালের পর সিরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরাকসহ বিভিন্ন মুসলিমপ্রধান দেশ থেকে অস্ট্রিয়ায় বড় আকারের অভিবাসনের কারণে এই পরিবর্তন দ্রুত ঘটেছে। তাঁর মতে, এসব অভিবাসী পরিবারের জন্মহার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় স্কুলের শিক্ষার্থী কাঠামোতেও এর প্রভাব পড়ছে।

    তিনি আরও বলেন, আগে অস্ট্রিয়ার অধিকাংশ মুসলিম ছিল তুর্কি বংশোদ্ভূত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরব দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আরব মুসলিম সমাজে ধর্মীয় অনুশীলন তুলনামূলক বেশি রক্ষণশীল হওয়ায় শিক্ষার্থীদের সামাজিক আচরণ ও মূল্যবোধেও এর প্রভাব পড়ছে।

  • ১৮ দিন পর উৎপাদনে ফিরল ডিএপি সার কারখানা

    ১৮ দিন পর উৎপাদনে ফিরল ডিএপি সার কারখানা

    অ্যামোনিয়া সংকট কাটিয়ে ১৮ দিন পর উৎপাদনে ফিরল ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি (ডিএপিএফসিএল)। কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো) চালুর একদিন পর শনিবার (৯ মে) দুপুর ২টার দিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত সার কারখানাটিতে পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মঈনুল হক। তিনি জানান, গত ২ মে বিকেল থেকে কাফকোতে উৎপাদন শুরু হওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এরপর কয়েকদিন ধরে প্রয়োজনীয় অ্যামোনিয়া মজুত এবং কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর শনিবার দুপুর ২টা থেকে পুনরায় উৎপাদন চালু করা হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, কারখানাটি সচল থাকলে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ টন ইউরিয়া উৎপাদন সম্ভব।এর আগে অ্যামোনিয়ার ঘাটতির কারণে গত ১৮ এপ্রিল ডিএপিএফসিএলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

    উল্লেখ্য, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রিত ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ২০০৬ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে ডিএপি সার উৎপাদন শুরু করে।

  • জ্বালানি সংকটে উদ্ভাবনী সমাধান ও সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

    জ্বালানি সংকটে উদ্ভাবনী সমাধান ও সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

    দেশের শিল্পখাতের বিকাশে একসময় সস্তা গ্যাস ও শ্রম বড় শক্তি হিসেবে কাজ করলেও এখন সেই পরিস্থিতি আর নেই। প্রতি বছর দেশীয় গ্যাস উত্তোলন কমছে ১০০ এমএমসিএফ (মিলিয়ন মেট্রিক কিউবিক ফিট) হারে। এমন প্রেক্ষাপটে শিল্প ও কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখতে হলে আমদানিনির্ভর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) পাশাপাশি সৌরশক্তি ও জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির দিকে নজর দেওয়ার বিকল্প নেই।

    বাংলাদেশে জ্বালানির ভবিষ্যত নিয়ে শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমিতি (বিএসআরইএ) ও গ্রিনটেক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এই সভা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তায় গতানুগতিক চিন্তার বাইরে এসে নতুন ও উদ্ভাবনী আইডিয়া নিয়ে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে ল্যান্ড-বেজড এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতির ব্যবহারে আমাদের আরও উদ্যোগী হতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘সমন্বয়ের অভাব আমাদের বড় সংকট। জ্বালানি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) একটি মনিটরিং সেল গঠন করা যেতে পারে। ব্যবসায়ী ও সরকার একসঙ্গে কাজ করলে জ্বালানি সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব।’

    বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ তার বক্তব্যে বর্তমান সংকটের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘শিল্প ও কর্মসংস্থানের জন্য জ্বালানিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২২ সালের পর থেকে আমরা আর সস্তা জ্বালানির সুবিধা পাচ্ছি না। তবে আমাদের ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগোতে হবে।’সরকারের প্রতি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যেমন চাই না শিল্প বন্ধ হোক, সরকারও তা চায় না। সংকট থেকে উত্তরণে আমাদের সুনির্দিষ্ট ও কারিগরি প্রস্তাব নিয়ে সরকারকে বোঝাতে হবে যাতে তারা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নেয়।

  • সরকারকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে : অধ্যাপক গোলাম রসুল এমপি

    সরকারকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে : অধ্যাপক গোলাম রসুল এমপি

    সরকারকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশে ইতিপূর্বে যত গণভোট হয়েছে কোন গণভোট বাতিল করা হয়নি তাহলে এই গণভোট বাতিল করা নিয়ে কেন ধুম্রজাল তৈরী করা হচ্ছে? বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চৌগাছা উপজেলা শাখার রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যশোর জেলা জামায়াতের আমীর ও যশোর ৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল এ কথা বলেন । শনিবার বিকেলে উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোরশেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ। প্রধান অতিথি তার বক্তৃতায় আরো বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়িত হলে দেশে স্বৈরাচারের পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। সময়মত দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অনেক রক্তের বিনিময়ে আমরা নতুন স্বাধীনতা পেয়েছি। এদেশের মানুষ বারবার রক্ত দিয়েছে কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ পায়নি। আমরা যদি দূর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে পারি তাহলে সাধারণ মানুষ মুক্তি পাবে। ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, চৌগাছা ঝিকরগাছার উন্নয়নে আমরা ব্যাপকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। সম্মেলনে আরো বক্তৃতা করেন, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা নুরুজ্জামান, সহকারী সেক্রেটারি সাংবাদিক রহিদুল ইসলাম খান, মাষ্টার কামাল আহমেদ, মাওলানা গিয়াস উদ্দীন,পৌর আমীর মাওলানা আব্দুল খালেক, মাষ্টার ইমদাদুল হক, শ্রমিক নেতা তুহিনুর রহমান প্রমুখ। সম্মেলনে উপজেলার ১০ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন যশোর জেলা আমীর অধ্যাপক গোলাম রসুল। প্রার্থীরা হলেন, ফুলসারা ইউনিয়নে জাহিদুল ইসলাম, পাশাপোল ইউনিয়নে মাওলানা শাহ আলম,ধুলিয়ানী ইউনিয়নে রোকনুজ্জামান,চৌগাছা ইউনিয়নে মাওলানা রুহুল কুদ্দুস, জগদীশপুর ইউনিয়নে মাওলানা আব্দুর রহমান,পাতিবিলা ইউনিয়নে মাওলানা নুরুল ইসলাম, হাকিমপুর ইউনিয়নে হাফেজ আমিন উদ্দীন খান,স্বরুপদাহ ইউনিয়নে মাওলানা গিয়াস উদ্দীন, নারায়ণপুর ইউনিয়নে তুহিনুর রহমান ও সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নে আব্দুল আলিম।

  • চৌগাছায় ১৪০পিচ ইয়াবাসহ আটক ২

    চৌগাছায় ১৪০পিচ ইয়াবাসহ আটক ২

    এম এ রহিম চৌগাছা

    যশোরের চৌগাছায় ১৪০ পিচ ইয়াবাসহ দুই মাদককারবারিকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (৯ মে) দুপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দু’টি মামলায় তাদেরকে আদালতে পাঠান হয়।

    থানা সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে পৌর শহরের চাঁদপুর এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় মারুফ হোসেনকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। আটক মারুফ হোসেন চাঁদপুর গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আতিয়ার রহমানের ছেলে।

    এ দিকে যশোর ডিবি পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় তারা চাঁদপুর গ্রামে সাইফুল ইসলাম ফিকিরকে আটক করা হয়। পরে তার নিকট থেকে ৯০ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ।

    ফিকির পৌর এলাকার চানপুর গ্রামের আজিজ বক্সের ছেলে ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর শাহিনুর রহমান শাহিন হত্যা মামলার আসামি।

    শনিবার দুপুরে আটক আসামিদেরকে আদালতে পাঠান হয়।

    চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

  • আরাকান আর্মির হাত থেকে ১৪ জেলেকে ফিরিয়ে আনলো বিজিবি

    আরাকান আর্মির হাত থেকে ১৪ জেলেকে ফিরিয়ে আনলো বিজিবি

    মিয়ানমারের আরাকান আর্মির হাতে অপহরণের শিকার ১৪ জেলেকে ফিরিয়ে এনেছে বিজিবি। তাদের মধ্যে ১৩ জন বাংলাদেশি ও একজন ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গা।টেকনাফে দায়িত্বরত বিজিবির-২ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, শনিবার বিজিবির একটি প্রতিনিধিদল নাফ নদীর শূন্য লাইনে আরাকান আর্মির কাছ থেকে মোট ১৪ জন জেলেকে গ্রহণ করে টেকনাফ জেটি ঘাটে ফেরত নিয়ে আসে। জেলেদের তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    বিজিবি বলছে, ২০২৫-২০২৬ সালের বিভিন্ন সময়ে বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকজন বাংলাদেশি জেলে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের পানিসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারের পানিসীমায় প্রবেশ করলে তাদেরকে আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে যায়। এরপরে জেলেদের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন ক্যাম্পে স্থানান্তর করা হয় এবং বিভিন্ন মেয়াদে তারা সেখানে আটক অবস্থায় থাকে।

    এ বিষয়ে বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিজিবি সর্বদা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। মানবিক সংকট মোকাবিলায় বিজিবির পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

  • জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করা হচ্ছে: জামায়ত এমপি

    জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করা হচ্ছে: জামায়ত এমপি

    চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেছেন বাঁশখালীর সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম এমপি।

    শনিবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব উন্নয়ন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

    উন্নয়ন কাজের মধ্যে রয়েছে হাসপাতালের বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ এবং আবাসিক ভবন সংস্কার ও মেরামত কাজ। সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসন সুবিধারও উন্নয়ন ঘটবে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিচালক ডা. নাজমা আক্তার, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

    জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট (এইচইডি)। প্রকল্পটির তত্ত্বাবধান করছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্যখাতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ আরও আধুনিক, নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম এমপি বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও জনবল সুবিধা নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

  • পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে শপথ নিলেন পাঁচ মন্ত্রী।

    পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে শপথ নিলেন পাঁচ মন্ত্রী।

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে একই মঞ্চে শপথ নিয়েছেন রাজ্যের পাঁচজন মন্ত্রীও।

    কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আজ শনিবার বসেছিল শপথ অনুষ্ঠান। স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টার কিছু পর রাজ্যপাল আর এন রবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে শপথ পড়ান। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করল বিজেপি।

    মুখ্যমন্ত্রীর পর একে একে শপথ নেন মন্ত্রীরা। তাঁরা হলেন—বিজেপি বিধায়ক দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক ও ক্ষুদিরাম টুডু

    এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। খড়্গপুর সদর থেকে জয়ী হয়েছেন দিলীপ ঘোষ। এ ছাড়া আসানসোল দক্ষিণ থেকে অগ্নিমিত্রা পাল, বনগাঁ উত্তর থেকে অশোক কীর্তনিয়া, বাঁকুড়ার রানিবাঁধ থেকে ক্ষুদিরাম টুডু ও কোচবিহারের মাথাভাঙা থেকে নিশীথ প্রামাণিক জয়ী হয়েছেন। ক্ষুদিরাম টুডু সাঁওতালি ভাষায় শপথ পড়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীসহ বাকিরা বাংলায় শপথবাক্য পাঠ করেন। এই পাঁচ মন্ত্রীর কে কোন দপ্তর সামলাবেন, তা এখনো জানানো হয়নি।

    পশ্চিমবঙ্গের নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন ভারতের বিজেপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিং, শিবরাজ সিং চৌহান ও জেপি নাড্ডাকে শপথ মঞ্চে দেখা গেছে। শপথ শেষে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অভিবাদন জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে ছিলেন উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ, অন্ধ্রপ্রদেশের চন্দ্রবাবু নাইডু, মহারাষ্ট্রের দেবেন্দ্র ফাডনবীশ, আসামের হিমন্ত বিশ্বশর্মা, ত্রিপুরার মানিক সাহা, দিল্লির রেখা গুপ্ত, বিহারের সম্রাট চৌধুরী, উত্তরাখণ্ডের পুষ্কর সিং ধামি প্রমুখ

    আরও ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি, বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীসহ কেন্দ্র ও রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারা। কলকাতা আর দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অনেকে শপথ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন। রাজ্যের সব জেলা থেকে বিজেপির নেতা-কর্মীরাও এসেছেন।