শিরোনাম

  • ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বন্ধের সমঝোতা স্মারকে কী কী থাকছে

    ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বন্ধের সমঝোতা স্মারকে কী কী থাকছে

    ইরানে চলমান সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরান বলছে, তারা নিজেদের জাতীয় স্বার্থ মাথায় রেখেই সমঝোতা করবে। ঠিক এমন সময়ে মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে এক পৃষ্ঠার ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে।

    বুধবার (৬ মে) সূত্রের বরাতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, খুব শিগগিরই সমঝোতা স্বাক্ষর সম্পন্ন হবে। সেটি চূড়ান্ত পর্যায়ের খুব কাছাকাছি। সূত্রের বরাতে এমন খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সও।

    রয়টার্স জানিয়েছে, উভয়পক্ষের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। দ্রুতই একটি এক পৃষ্ঠার মেমোতে সমঝোতা হতে পারে। সেই মেমোতে থাকছে ১৪টি দফা। প্রশ্ন হচ্ছে কি আছে ওই খসড়ায়?

    অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, এই স্মারকটি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করবে এবং একটি বিস্তারিত চুক্তির জন্য ৩০ দিনের আলোচনার সূচনা করবে। ওই চুক্তির লক্ষ্য হবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা।

    অ্যাক্সিওসের তথ্যমতে, ওই ৩০ দিনের সময়ে ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলে আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ধীরে ধীরে তুলে নেওয়া হবে।

    সমঝোতার খসড়া অনুযায়ী, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দেবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে এবং আটকে থাকা কয়েকশ কোটি ডলার অর্থ ছাড় দেবে।

    এক মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, যদি আলোচনা ভেঙে যায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র আবার অবরোধ জোরদার বা সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করতে পারবে। ইতোমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন।

    এরআগে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, আমরা পারস্পরিকভাবে একমত হয়েছি অবরোধ পুরোপুরি বহাল থাকলেও, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হবে—যাতে দেখা যায় চুক্তিটি চূড়ান্ত করে স্বাক্ষর করা সম্ভব কি না।

    তবে চীন সফরকালে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে কিছু না বললেও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, তেহরান ‘ন্যায্য ও সমন্বিত একটি চুক্তি’ প্রত্যাশা করছে। তবে নতুন এই খসড়া যুদ্ধ বন্ধের পথ প্রশমিত করছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

  • জীবননগরে ভুয়া পরিচয়ে চক্ষু চিকিৎসা, অভিযুক্ত ব্যক্তির কারাদণ্ড

    জীবননগরে ভুয়া পরিচয়ে চক্ষু চিকিৎসা, অভিযুক্ত ব্যক্তির কারাদণ্ড

    তাফহিমুল হোসাইনের কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি বা বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন নেই। তবুও নিজেকে চক্ষু বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ভুয়া পরিচয়ে চিকিৎসা প্রদানকারী এক ব্যক্তিকে আটক করে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। একইসাথে তার পরিচালিত একটি বেসরকারি চক্ষু ক্লিনিক সিলগালা করে দিয়েছে প্রশাসন। বুধবার (৬ মে) দুপুরে উপজেলার হাসদহ বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল আলম রাসেল।

    অভিযানে ‘বাইতুল মামুর চক্ষু হাসপাতাল’ নামে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে তাফহিমুল হোসাইন (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

    ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, তাফহিমুল হোসাইনের কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি বা বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন নেই। তবুও নিজেকে চক্ষু বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। তিনি চোখের ছানি অপারেশনসহ বিভিন্ন জটিল চিকিৎসা করার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতেন। এতে না বুঝে প্রতারিত হতেন অসংখ্য সাধারণ মানুষ।

    অভিযানের সময় তাফহিমুল হোসাইনের কাছে বৈধ সনদপত্র, প্রশিক্ষণের প্রমাণ কিংবা বিএমডিসি নিবন্ধন নম্বর চাওয়া হলে তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি অন্য এক নিবন্ধিত চিকিৎসকের বিএমডিসি নম্বর ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা দেয়ার নামে প্রতারণা করছিলেন, যা আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ।

    এসব অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন-২০১০ অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। পাশাপাশি অবৈধভাবে পরিচালিত ক্লিনিকটি তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়।

    দণ্ডপ্রাপ্ত তাফহিমুল হোসাইন ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার বহরমপুর গ্রামের মনিরুজ্জামানের ছেলে বলে জানা গেছে।

    এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ওই ক্লিনিকে ভুয়া চিকিৎসার অভিযোগ ছিল। অনেক রোগী ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে প্রতারিত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা। তবে এতোদিন দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। সাম্প্রতিক এই অভিযানে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানোর দাবি জানিয়েছেন।

    অভিযানে সহযোগিতা করেন জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা: ফাহমিদা আক্তার রুনা ও জীবননগর থানা পুলিশের একটি দল।

    প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভুয়া চিকিৎসক ও অবৈধ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • বরিশালে টানা বৃষ্টি ও জোয়ারে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি

    বরিশালে টানা বৃষ্টি ও জোয়ারে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি

    ‘অতি বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির কারণে বরিশাল বিভাগে বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা ও সহায়তা দেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’ছয় দিনের টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে বরিশাল বিভাগের কৃষি খাতে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। অতি বৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল। এতে এক লক্ষাধিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন মুগডাল চাষিরা।বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল থেকে ৩ মে বিভাগের প্রায় ১৯ লাখ ২২২ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এতে এক লাখ ৮৫৯ জন কৃষক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

    প্রচণ্ড বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় বোরো ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। বাতাসে নুয়ে পড়েছে ৭৫ হাজার ৬১১ হেক্টর জমির ধান। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন চার হাজার ৪৬৩ জন কৃষক। একইভাবে ৭৬ হাজার ৬৮৯ হেক্টর জমির মুগডাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে বিপাকে পড়েছেন ৫৭ হাজার ৮৬৪ জন কৃষক।

    এছাড়া ৭৯০ হেক্টর জমির মরিচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন চার হাজার ৫৭৪ জন কৃষক। ১০ হাজার ৫৯৪ হেক্টর জমির চীনা বাদাম নষ্ট হয়ে ছয় হাজার ৬০৬ জন কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। চার হাজার ৪৪৮ হেক্টর জমির সয়াবিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তিন হাজার ৩৬৬ জন কৃষক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

    গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির ক্ষেতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিন হাজার ১৯৫ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে ১৭ হাজার ২৩২ জন কৃষক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

    এছাড়া আউশ বীজতলা, রোপা আউশ ধান, পাট, পেঁপে, কলা, পান, মিষ্টি আলু, ভুট্টা, তিল ও সূর্যমুখীসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের কৃষক রফিক মিয়া বলেন, টানা বৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে সব শেষ হয়ে গেছে। যে আশা নিয়ে চাষ করেছিলাম, তা এখন পানিতে ভেসে গেছে।

    বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের কৃষক রিয়াজ বলেন, ধান কাটার সময়ের আগেই ক্ষেত ডুবে গেছে। এখন আধাপাকা ধান কাটতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন অনেক কমে যাবে।

    নবগ্রাম ইউনিয়নের কৃষক ইউসুফ মোল্লা বলেন, ছয় দিনের বৃষ্টি আর বাতাসে বোরো ধান একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। নুয়ে পড়া ধান পরিপক্ক হওয়ার আগেই কাটতে হচ্ছে, এতে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।

    বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, ‘অতি বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির কারণে বিভাগে বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা ও সহায়তা দেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

    এদিকে কৃষি খাতের এই ব্যাপক ক্ষতির কারণে খাদ্য উৎপাদনে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন ও প্রণোদনা না দিলে আগামী মৌসুমে চাষাবাদে আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

  • ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ ‘অবৈধ’ : চীন

    ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ ‘অবৈধ’ : চীন

    বেইজিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাথে বৈঠকের সময় চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চালানো যুদ্ধটি ‘অবৈধ’। চীন চলমান চাপ কমানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি। ওয়াং ই বলেন, ‘একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি অপরিহার্য’ এবং এ অঞ্চলটি একটি ‘সঙ্কটপূর্ণ সময়ে’ রয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে সরাসরি বৈঠক প্রয়োজন।

    আরাগচি চীনের ‘দৃঢ় অবস্থানের’ জন্য, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নিন্দা জানানোর জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বেইজিং ‘ইরানের একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হিসেবেই থাকবে। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধকে ‘একটি নির্লজ্জ আগ্রাসন এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেন। আরাগচি আরো বলেন, তেহরান ‘আলোচনায় আমাদের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবে’ এবং শুধুমাত্র ‘একটি ন্যায্য ও ব্যাপক চুক্তি’ গ্রহণ করবে।

  • টাঙ্গাইলে ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার

    টাঙ্গাইলে ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার

    বুধবার সকালে ধানের জমিতে কাজ করতে গিয়ে তারা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এক নারীর লাশ দেখতে পান। পরে বিষয়টি দেলদুয়ার থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক নারীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৬ মে) দুপুরে উপজেলার লাউহাটী ইউনিয়নের সল্পলাড়ু গ্রামে ধলেশ্বরী নদীর পাশ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সকালে ধানের জমিতে কাজ করতে গিয়ে তারা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এক নারীর লাশ দেখতে পান। পরে বিষয়টি দেলদুয়ার থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

    দেলদুয়ার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আজহারুল ইসলাম জানান, নিহত নারীর পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • ইসরাইলের পারমাণবিক কর্মসূচির তথ্য প্রকাশের আহ্বান ৩০ মার্কিন আইনপ্রণেতার

    ইসরাইলের পারমাণবিক কর্মসূচির তথ্য প্রকাশের আহ্বান ৩০ মার্কিন আইনপ্রণেতার

    যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ জন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিকে ইসরাইলের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন। টেক্সাসের কংগ্রেসম্যান হোয়াকিন কাস্ত্রোর নেতৃত্বে পাঠানো এক চিঠিতে তারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে কার্যকর পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ নীতি (নন-প্রলিফারেশন) তৈরি করা সম্ভব নয়, যদি ইসরাইলের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে সরকারি নীরবতা বজায় রাখা হয়।

    চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “ইরানের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি বা সৌদি আরবের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে নীতিনির্ধারণ করতে হলে, চলমান সংঘাতে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষের পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতা সম্পর্কে অস্বচ্ছতা রাখা যৌক্তিক নয়।” আইনপ্রণেতারা আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে অন্যান্য দেশকে পারমাণবিক স্বচ্ছতার মানদণ্ডে বিচার করে, ইসরাইলের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রয়োগ করা উচিত।

    বর্তমানে ইসরাইল তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে কি না—এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করে না। একইভাবে, হোয়াইট হাউসও দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে অস্পষ্ট অবস্থান বজায় রেখেছে।ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা বলেন, কংগ্রেসের সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো মধ্যপ্রাচ্যের পারমাণবিক ভারসাম্য, সম্ভাব্য উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনের পরিকল্পনা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানা। কিন্তু তারা মনে করেন, এ ধরনের তথ্য তাদের দেওয়া হয়নি।

    চিঠিতে তারা ইসরাইলের সম্ভাব্য ওয়ারহেড সংখ্যা, উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা, ডিমোনা স্থাপনায় কী উৎপাদিত হয় এবং ইসরাইলের সামরিক নীতিমালা ও ‘রেড লাইন’ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র কী জানে—এসব তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন। আইনপ্রণেতারা আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ভারত, পাকিস্তান, রাশিয়া, চীন এবং উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে খোলাখুলি স্বীকার করে। তাই ইসরাইলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের স্বচ্ছতা থাকা উচিত বলে তারা মনে করেন।

  • একদলীয় শাসনে ভারত

    একদলীয় শাসনে ভারত

    এক দশকেরও বেশি সময় আগে নরেন্দ্র মোদি যখন দেশ পরিচালনার জন্য প্রথম প্রচারণা শুরু করেন, তখন তিনি কংগ্রেসমুক্ত ভারত গড়ার ডাক দেন। স্বাধীন ভারতের প্রতিষ্ঠাতা দল কংগ্রেস এরপর থেকে দুর্বল হয়ে পড়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর দলটি খুব একটা ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। সেই নির্বাচনে পার্লামেন্টে তাদের আসনসংখ্যা ২০৬ থেকে কমে এক ধাক্কায় মাত্র ৪৪-এ নেমে আসে। দলটি রাজ্য বিধানসভাগুলোতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। এখন মোদির শাসক জোটের দখলে রয়েছে ২১টি রাজ্য। সেখানে কংগ্রেস মাত্র চারটি রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করে।

    কংগ্রেসের পতনের ফলে ভারতজুড়ে আঞ্চলিক দলগুলোই মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি এবং তার হিন্দু জাতীয়তাবাদী এজেন্ডার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়। এসব আঞ্চলিক দলের নেতারা মোদির বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী ও শক্তিশালী ছিলেন দুজন— একজন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তিনি ২০১১ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। আরেকজন এম কে স্ট্যালিন, যিনি ২০২১ সাল থেকে ছিলেন তামিলনাড়ুর দায়িত্বে।

    এ সপ্তাহে মমতা ব্যানার্জী ও স্ট্যালিন উভয়েই নির্বাচনে পরাজিত হন। ফলে মোদি নিজেকে এমন এক ভারতের নেতৃত্বের আসনে দেখতে পাচ্ছেন, যেখানে তার বিরোধীদের কার্যত কোনো রাজনৈতিক ক্ষমতা নেই। বিভিন্ন সময়ে পার্লামেন্টে কংগ্রেসের আসনসংখ্যা বেশি ছিল। কিন্তু এখন মোদি ভারতকে একটি একক নেতার নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রের মতো করে তুলে ধরছেন।

    স্বাধীনতার পর ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু যে ‘ভারত রাষ্ট্রে ধারণা’ তুলে ধরেছিলেন, তা ছিল এই বিশাল দেশের ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির মানবিক বৈচিত্র্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি রাজনৈতিক বহুত্ববাদের আদর্শ। এখন বিজেপির একটি রক্ষণশীল হিন্দু রাষ্ট্র গঠনের শতবর্ষী স্বপ্নের কাছে নেহরুর সেই স্বপ্ন এক অদ্ভুত পরাজিত সত্তা বলেই মনে হচ্ছে।

    বিজেপি সব সময় তার সদস্যদের আদর্শগত অঙ্গীকার নিয়ে গর্ববোধ করে। সারা দেশের হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ করাই দলটির কৌশল। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে দলটি অন্য যেকোনো জাতীয় দলের চেয়ে সাংগঠনিকভাবে বেশি সুশৃঙ্খল। সেই সঙ্গে একটি ব্যবসাবান্ধব খ্যাতিও লাভ করেছে দলটি।

    সমর্থকদের মতে, গত জাতীয় নির্বাচনে ধাক্কা খাওয়ার পর কঠোর পরিশ্রম করে বিজেপি। সেই পরিশ্রমের ফলেই সাম্প্রতিক রাজ্যস্তরের ধারাবাহিক বিজয়গুলো এসেছে। ২০২৪ সালের জুনে যখন ভোট গণনা করা হয়, তখন তাদের জোট মাত্র ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। কারণ সে সময় বিরোধী দলগুলো দীর্ঘস্থায়ী বেকারত্ব এবং বৈষম্য নিয়ে মোদির তীব্র সমালোচনা করে। তবে দুটি আঞ্চলিক দলকে জোট সরকারে অন্তর্ভুক্ত করে বিজেপি ক্ষমতায় থাকতে সক্ষম হয়।

    রাজনৈতিক ভাষ্যকার সুগত শ্রীনিবাসরাজু বলেন, ‘২০২৪ সালে মোদি ছিলেন এক আহত বাঘের মতো। এখন তিনি ঠান্ডা মাথায় প্রতিশোধ নিতে নেমেছেন।’ রাজ্যগুলোতে মোদির এই অগ্রযাত্রা একের পর এক চমক নিয়ে আসে, যার প্রতিটিই বিজেপির পক্ষে যায়। দলটি ২০২৪ সালের অক্টোবরে হরিয়ানায় জয়লাভ করে, যদিও কংগ্রেসের জেতার প্রবল সম্ভাবনা ছিল। এরপর দলটি মহারাষ্ট্রে বিজয় ছিনিয়ে নেয়।

    পরাজিত দলগুলো কারচুপির অভিযোগ তোলে এবং নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে। কংগ্রেস বিভিন্ন অনিয়মের কথা তুলে ধরলেও বিজেপি তা প্রত্যাখ্যান করে।

    ২০২৫ সালে বিজেপি ২৭ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো রাজধানী দিল্লিতে জয়লাভ করে। পরাজিত হন অরবিন্দ কেজরিওয়াল, যিনি ২০১৪ সাল থেকে মোদির উত্থানকে চ্যালেঞ্জ জানানো অল্প কয়েকজন রাজনীতিবিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন।

  • ৪০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনও জিতেছে বিজেপি

    ৪০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনও জিতেছে বিজেপি

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ আসনে সংখ্যালঘু ভোট এত দিন পর্যন্ত ছিল ‘নির্ণায়ক’। কিন্তু এবারের ভোটের ফলাফলে সেই সমীকরণে আমূল বদল ঘটে গেছে। ফলস্বরূপ, ৪০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনও জিতেছে বিজেপি।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজ্যে সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা ২৫ শতাংশের বেশি, এমন ১৪৬টি (ফলতায় ভোট এখনো হয়নি) আসনের মধ্যে তৃণমূল এ বার পেয়েছে ৭৩টি আসন। ২০২১ সালের ভোটে সেই সংখ্যাটা ছিল ১২৯। ওই ১৪৬টি আসনের মধ্যে ৬৬টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি, যেখানে গত ভোটে তারা জিতেছিল মাত্র ১৬টিতে। আবার ওই ১৪৬টি আসনের মধ্যে সংখ্যালঘু ভোটারের হার ৪০ শতাংশের বেশি, এমন ১৭টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি। যেখানে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এমন মাত্র দুটি আসনে জয়ী হয়েছিল তারা।

    ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী রাজ্যে মোট ২৭ শতাংশ মুসলিম। ২৯৪টি বিধানসভার মধ্যে ১৪৬টি বিধানসভা রয়েছে, যেখানে সংখ্যালঘু অংশের ভোট ২৫ শতাংশ বা তার বেশি। এর মধ্যে আবার ৭৪টি বিধানসভায় সংখ্যালঘু ভোট ৪০ শতাংশেরও বেশি। অর্থাৎ, ওই আসনগুলিতে প্রার্থীদের জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন সংখ্যালঘুরা। ৪০ শতাংশেরও বেশি সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছে, এমন আসনের সংখ্যা রাজ্যে সবচেয়ে বেশি মুর্শিদাবাদে। সেখানকার ২২টি বিধানসভা আসনেই সংখ্যালঘু ভোটার ৪০ শতাংশের বেশি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১১টি বিধানসভা আসনে মুসলিম ভোটার ৪০ শতাংশের বেশি। উত্তর ২৪ পরগনায় ৯টি এবং উত্তর দিনাজপুরে ৭টি আসনেও সংখ্যালঘু ভোট ৪০ শতাংশের বেশি। মালদহের ৮টি আসনে মুসলিম ভোটার ৪০ শতাংশের বেশি। নদিয়ায় তেমন আসনের সংখ্যা ৬টি। কলকাতায় বন্দর এবং চৌরঙ্গী বিধানসভা কেন্দ্রেও মুসলিম ভোটার ৪০ শতাংশের বেশি।

    ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জঙ্গিপুর, মুর্শিদাবাদ, নবগ্রাম, বড়ঞাঁর মতো যে সব কেন্দ্রে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা ৪০ শতাংশের বেশি, সেখানেও এ বার জিতেছে বিজেপি। মানিকচক, করণদিঘি, হেমতাবাদের মতো মুসলিম অধ্যুষিত আসনেও একই ছবি। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বেশ কিছু আসনে দেখা গিয়েছে, দু’টি বিষয় সমান্তরাল ভাবে ঘটেছে। এক, তৃণমূলের বাক্সে থাকা সংখ্যালঘু ভোটে থাবা বসিয়েছে সিপিএম, কংগ্রেস, আইএসএফ এবং হুমায়ুন কবীরের দল এজেইউপি। দুই, উল্টোদিকে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে হিন্দু ভোট। পরিসংখ্যান নিয়ে যাঁরা কাজ করেন, তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, হিন্দু ভোটের যে মেরুকরণ এ বার বিধানসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গে ঘটেছে, তা অতীতে কখনও হয়নি। এমনকি, উত্তর এবং পশ্চিম ভারতে বিজেপি-শাসিত যে সব রাজ্য রয়েছে, সেখানকার তুলনায়ও পশ্চিমবঙ্গে এ বারের নির্বাচনে হিন্দু ভোট ঐক্যবদ্ধ হয়েছে অনেক বেশি। অর্থাৎ, এক দিকে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বিভিন্ন জেলায় মুসলিম ভোট বিভাজিত হয়েছে। সমান্তরালভাবে সঙ্ঘবদ্ধ হয়েছে হিন্দু তথা সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট।

  • চূড়ান্ত সমঝোতার পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ

    চূড়ান্ত সমঝোতার পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ

    আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর অবশেষে যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম) চূড়ান্ত করার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে মধ্যস্থতায় জড়িত একটি পাকিস্তানি সূত্র।

    সূত্রটির দাবি, প্রস্তাবিত এই চুক্তিটি একটি এক পাতার নথি হলেও এতে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংঘাত শুরুর পর থেকে এটাই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে অগ্রসর পর্যায়ের সমঝোতা উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সম্ভাব্য এই চুক্তিতে থাকতে পারে: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ, আগামী সপ্তাহগুলোতে আরো বিস্তৃত আলোচনার কাঠামো নির্ধারণ।

    এই পুরো প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করেছে বলে জানা গেছে। দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন ও আলোচনার অগ্রগতি নিশ্চিত করতে দেশটি নীরবে কাজ করে যাচ্ছে।

    তবে এখনো কিছু জটিলতা রয়ে গেছে। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচির সময়সীমা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তবুও সাম্প্রতিক অগ্রগতি এবং কূটনৈতিক তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি সম্ভাবনাময়।

  • ইরানে সামরিক অভিযান সমাপ্ত, বলল হোয়াইট হাউস

    ইরানে সামরিক অভিযান সমাপ্ত, বলল হোয়াইট হাউস

    ইরানে সামরিক অভিযান শেষ হওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

    মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামের যে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, তা শেষ হয়েছে।

    রুবিও বলেন, “ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী। যে লক্ষ্যে আমরা এ অভিযান শুরু করেছিলাম, তা অর্জিত হয়েছে। আমরা এখন ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নিয়ে কাজ করছি।”

    ইরানে নতুন কোনো সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই উল্লেখ তিনি আরো বলেন, ‘(ইরান ইস্যুতে) নতুন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হোক তা আমরা চাইছি না। আমরা শান্তির পথই পছন্দ করি। আমাদের প্রেসিডেন্ট একটি চুক্তি চান। তিনি চান হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া হোক, যেন বিশ্ব ফের আগের অবস্থায় ফিরতে পারে।’

    রুবিও বলেন, ‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কিত প্রশ্নগুলোর সমাধান আলোচনার মাধ্যমেই করা হবে।’

  • নবম পে স্কেলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন কত

    নবম পে স্কেলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন কত

    সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য বড় ধরনের সুসংবাদ আসছে। সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির একটি পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এই সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকুরেদের বেতন বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    তখন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বর্তমান ব্যয় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়নে প্রয়োজন হতে পারে আরও ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা।

    বেসামরিক কর্মচারীদের পাশাপাশি জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্যও বেতন কমিটির প্রতিবেদন প্রস্তুত হয়েছে।

    তিনটি প্রতিবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে তা বাস্তবায়নের রূপরেখা তৈরির জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিই মূলত তিন ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সুপারিশ করবে।

    কমিশনের দেওয়া প্রতিবেদনে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একইভাবে সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই কাঠামোতে ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৮, যা আগে ছিল ১:৯ দশমিক ৪। যদিও বেতন বৃদ্ধির এই বড় পরিবর্তনের মাঝেও বর্তমানের ২০টি গ্রেড বহাল রাখার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন।

    নতুন বেতন কাঠামোতে উচ্চপদস্থ ও নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের মধ্যে বেতনের ব্যবধান বা অনুপাত কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। আগে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ছিল ১:৯.৪, যা নতুন প্রস্তাবে ১:৮-এ নামিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ও সিনিয়র সচিবদের জন্য প্রচলিত ২০টি ধাপের বাইরে আলাদা বিশেষ ধাপ নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হবে।

  • দেশে পৌঁছেছে ১০ ধরনের টিকা

    দেশে পৌঁছেছে ১০ ধরনের টিকা

    হাম-রুবেলা ও ওরাল পোলিওসহ ১০ ধরনের টিকার নতুন চালান দেশে পৌঁছেছে।

    হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নিজে উপস্থিত থেকে টিকার এই চালান গ্রহণ করেন।

    ৬মে (বুধবার) বেলা পৌনে ১২টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টিকার এই নতুন চালান পৌঁছায়।

    হাম-রুবেলা-ওরাল পোলিও ছাড়াও এই চালানে বিসিজি, পেন্টাভ্যালেন্ট, পিসিভি ও টাইফয়েড টিকাও রয়েছে।

    চালান গ্রহণ শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ১৫ লাখ ডোজ হামের টিকা দেশে পৌঁছেছে। আগামীতে টিকার আর কোনো সংকট তৈরি হবে না।

    তিনি আরও বলেন, মাত্র ২৪ দিনের মধ্যে এসব টিকা দেশে আনার ব্যবস্থা করেছে সরকার। আগামী ১০ মে’র মধ্যে হামসহ আরও ১০ ধরনের ১ কোটি ৮ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন দেশে আসবে।

  • জার্মানিতে ভিড়ের মধ্যে গাড়ি চালিয়ে হামলা, বহু হতাহত

    জার্মানিতে ভিড়ের মধ্যে গাড়ি চালিয়ে হামলা, বহু হতাহত

    জার্মানির পূর্বাঞ্চলে লিপজিগ শহরে ভিড়ের মধ্যে গাড়িয়ে চালিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছে। সেই সঙ্গে আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বিবিসি অনলাইন এই তথ্য জানিয়েছে।

    শহরটির মেয়র বার্কহার্ড জাং বলেন, সন্দেহভাজন হামলাকারী ৩৩ বছর বয়সী জার্মান এক নাগরিক। তাকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তার এই হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।

    দেশটির পুলিশ, কেন্দ্রীয় গ্রিমাইস স্টার্বে গাড়ি হামলায় তথ্য নিশ্চিত করেছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলায় ২২ জন আহত হয়েছে। এতে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    স্যাক্সনি রাজ্যের প্রধান মাইকে ক্রিতস্মার বলেন, সন্দেহভাজন হামলাকারী অতীতে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।

    লিপজিগের পুলিশের মুখপাত্র সুসেন লুবেক বলেন, স্থানীয় সময় সাড়ে ৫টা নাগাদ এক ব্যক্তি ভিড়ের মধ্যে গাড়ি চালিয়ে হামলা করে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে এবং দুর্ভাগ্যবশত আমরা কয়েকজনকে হারিয়েছি বলে উল্লেখ করেছেন লুবেক।

    লিপজিগের পাবলিক প্রসিকিউটার অফিস নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। বলা হয়েছে, হামলায় ৬৩ বছর বয়সী এক নারী এবং ৭৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। দুইজনই জার্মানির নাগরিক।

  • পানিতে তলিয়ে গেছে ধান, ঋণে জর্জরিত হাওরের কৃষকেরা

    পানিতে তলিয়ে গেছে ধান, ঋণে জর্জরিত হাওরের কৃষকেরা

    সোমবার দুপুরে রোদ উঠতেই হাওরপারের গ্রামগুলো কিছুটা চাঙা হয়ে ওঠে। গ্রামীণ পাকা–কাঁচা সড়ক, উঁচু ফাঁকা জায়গা যেখানে সুযোগ মিলেছে, সেখানেই রোদে ধান শুকানোর ধুম পড়ে যায়। কেউ সড়কের ওপর, কেউ পলিথিন বা চটের চাটাইয়ে, আবার কেউ খলায় ধান মেলে দিয়েছেন। তবে ধান শুকাতে দিলেও কারও মনে স্বস্তি নেই।

    কৃষকেরা জানান, পানিতে তলিয়ে যাওয়া খেত থেকে যা ধান তোলা গেছে, তা খুবই সামান্য। তোলা ধানের অনেকটাই সময়মতো শুকাতে না পারায় নষ্ট হয়ে গেছে। ধানের দিকে তাকালেই তাঁদের বুক কষ্টে ভরে ওঠে। যেখানে ৩০০ থেকে ৪০০ মণ ধান পাওয়ার কথা, সেখানে এখন খলায় আছে মাত্র ১০–২০ মণ। অনেকেই ধান দিয়ে শোধ করার শর্তে আগাম ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন। এখন সেই ঋণের বোঝা আরও ভারী হয়ে উঠেছে। এতে ঋণ শোধ তো দূরের কথা, বছরের খোরাকিও জুটবে না।

    মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরপারের অন্তেহরি গ্রামের চিত্র সবচেয়ে বেশি খারাপ। পাকা ধানের খেত পানির নিচে, কেটে আনা ধানও রোদ না থাকায় শুকানো যায়নি। অনেক ধান পচে গেছে, কোথাও আবার অঙ্কুর গজিয়েছে। গতকাল বিকেলে অন্তেহরি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, জুমাপুর সড়ক থেকে অন্তেহরি বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ধান ও খড় বিছানো। গ্রামে ফাঁকা জায়গা বলতে কিছু নেই—সবখানেই ভেজা ধান ও খড় শুকানো হচ্ছে। কোথাও যন্ত্রে ধান মাড়াই চলছে। হাওরের দিকে নারী–পুরুষ ছড়িয়ে কাজ করছেন। ধান শুকাতে ব্যস্ত সবাই।

    একটি খলার পাশে দাঁড়িয়ে সুমি রানি দাস বলছিলেন, ‘খলায় এ সময় চাইরবায় (চারপাশে) ধানর গিলা (স্তূপ) থাকে। এখন ধানই নাই।’ তাঁর সঙ্গে থাকা তপন দাস বলেন, ‘খলায় এখন ২০-২৫ মণ ধান আছে। এবার ধান অইছিল খেতে। ২০-২২ মণ ধান অইলোনে কিয়ারও (১ কিয়ার=৩০ শতাংশ)। ২২ কিয়ার করছিলাম। যদি দিন দেয়, তাইলে সাত কিয়ার তোলা যাইব। বড় খলা করছিলাম, ৭০ মণ ধান আটে। ৪০০ থাকি সাড়ে ৪০০ মণ ধান পাওয়ার কথা। ১০০ মণ পাইমু কি না সন্দেহ আছে।’

    স্থানীয় লোকজন জানান, দুশ্চিন্তা শুধু ফলনহানিই নয়, ঋণ শোধ নিয়েও। অনেক কৃষক ৮০০ টাকা মণ দরে ধান দেওয়ার শর্তে আগাম টাকা নিয়েছিলেন। দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য সুদ বা দাদন ছাড়া ঋণের সুযোগ নেই বললেই চলে। ফলে বাধ্য হয়েই এ ধরনের শর্তে ঋণ নিতে হয়। অন্তেহরি গ্রামের সুখেন দাস বলেন, ‘তার চেয়ে রুজি করতাম, ভালা থাকতাম। যেদিন ধান কাটার পরিকল্পনা করছি, শ্রমিক জোগার করছি। অউদিনই এক রাইতে খেতর মধ্যে কোমরসমান পানি।’ এক নারী বলেন, ‘এলাকায় সুদ ছাড়া কেউ টাকা ধার দেয় না।’

    রনি চক্রবর্তী বলেন, ‘চাইর আনাও ধান কাটা অইছে না। ঋণের জ্বালায় প্রায় জনরই বাড়িঘর ছাড়া লাগব। ১৫ বছরর মাঝে এত ক্ষতি অইছে না।’ সুমন দাস আধা পচা ধানের আঁটি মাথায় নিয়ে স্তূপ করছিলেন, আর গান গাইছিলেন। তিনি বলেন, ‘আনন্দে নায় ভাই, মনের জ্বালায় গান গাইরাম। এক লাখ টাকা ঋণ আছে। ভাবছিলাম ২০০ মণ ধান পাইমু। ১০০ মণে ঋণ দিমু। ১০০ মণ থাকব। এখন ধান, খেড় সব গেছে।…এখন গরু বাঁচব, না মানুষ বাঁচব।’

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজারের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন আজ মঙ্গলবার বলেন, জেলার হাওরাঞ্চলে ৩ হাজার ৬৩৮ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে। কাউয়াদীঘি হাওরে ৪০০ হেক্টরের মতো হতে পারে। হাওরে পানি সামান্য বাড়ছে। এক দফা কৃষকের ক্ষতি হয়ে গেছে।

  • পদত্যাগ না করার ঘোষণা মমতার

    পদত্যাগ না করার ঘোষণা মমতার

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর পদত্যাগের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে কড়া অবস্থান জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি! ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

    মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাটে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দলের শীর্ষ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ডেরেক ওব্রায়েন এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

    নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), আর মমতার তৃণমূল কংগ্রেস জিতেছে ৮০টি আসনে। এই ফলাফলের প্রেক্ষিতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় মমতার পদত্যাগের জল্পনা।

    তবে সেই জল্পনাকে একেবারে উড়িয়ে দিয়ে মমতা বলেন, এত দিন আমি চেয়ারে ছিলাম, অনেক কিছু সহ্য করেছি। কিন্তু এখন আমি মুক্ত বিহঙ্গ সাধারণ মানুষ। আর সহ্য করব না। সব অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করব। আমি রাস্তার লোক, রাস্তায় ছিলাম, রাস্তায় থাকব।

  • কোরবানির ঈদের আগে ব্যস্ত লবণ কারখানা

    কোরবানির ঈদের আগে ব্যস্ত লবণ কারখানা

    পশুর চামড়া সংরক্ষণে লবণের প্রয়োজন হয়। তাই কোরবানির ঈদের আগে এর চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। চাহিদা মেটাতে কর্মব্যস্ততা বাড়ে লবণ তৈরির কারখানায়। প্রতিবছরের মতো এবারও এর ব্যতিক্রম নেই। ট্রলার থেকে লবণ নামাতে এবং সেই লবণ পরিষ্কার করে গন্তব্যে পৌঁছাতে বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকেরা। চট্টগ্রাম নগরের আনু মাঝির ঘাট এলাকায় লবণ তৈরির ব্যস্ততায় লবণ চাষীরা।

  • গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে ৩ রুশ কূটনীতিক বহিষ্কার

    গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে ৩ রুশ কূটনীতিক বহিষ্কার

    গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ভিয়েনায় নিযুক্ত রাশিয়ার দূতাবাসের তিন কর্মীকে বহিষ্কার করেছে অস্ট্রিয়া। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কূটনৈতিক স্থাপনাকে ব্যবহার করে গোয়েন্দা তৎপরতা চালানোর অভিযোগে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    অস্ট্রিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের বরাতে আনাদোলু এজেন্সির সোমবারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিয়েনায় রুশ কূটনৈতিক ভবনের ছাদে স্থাপিত সন্দেহজনক নজরদারি সরঞ্জাম নিয়ে তদন্তের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসব অবকাঠামো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর স্যাটেলাইট যোগাযোগে আড়িপাতার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    কর্তৃপক্ষ জানায়, অভিযুক্ত তিনজন এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে কূটনৈতিক দায়মুক্তি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হলেও মস্কো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো সাড়া দেয়নি।পরে তাদের ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা করে অস্ট্রিয়া এবং তারা ইতোমধ্যে দেশ ছেড়ে চলে গেছেন।

    অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিয়াটে মেইনল-রাইসিঙ্গার বলেন, গুপ্তচরবৃত্তির বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কূটনৈতিক দায়মুক্তি ব্যবহার করে গুপ্তচরবৃত্তি চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ভিয়েনায় রুশ তৎপরতা নিয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ২০২২ সালের পর এ পর্যন্ত মোট ১৪ রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে অস্ট্রিয়া, যদিও এখনো প্রায় ২২০ কর্মী বিভিন্ন মিশনে দায়িত্বে রয়েছেন।

  • চীনে আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত ২১

    চীনে আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত ২১

    চীনের হুনান প্রদেশে একটি আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ২১ জন নিহত এবং আরও ৬১ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

    রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা শিনহুয়া জানায়, সোমবার বিকেলে চাংশা শহরে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর প্রায় ৫০০ উদ্ধারকর্মী ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, কারখানার দুটি ব্ল্যাক পাউডার গুদামের কারণে অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। এ পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য তিনটি রোবটও ব্যবহার করা হচ্ছে।বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে, তবে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা স্পষ্ট করা হয়নি।

    চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এ ঘটনার পর দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতে ঝুঁকি শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

  • আবার ট্রাম্পের হুমকি  ইরানকে ‘পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে’

    আবার ট্রাম্পের হুমকি ইরানকে ‘পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে’

    ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজে হামলা চালায় তবে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটিকে ‘পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে’ বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনায় দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে।

    পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে শত্রুতা শুরু হয়েছে। এদিন ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলা চালিয়েছে আর ট্রাম্প জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের সাতটি ছোট নৌকা গুলি করে ডুবিয়ে দিয়েছে। ট্রাম্প ওয়াশিংটনের সামরিক শক্তির কথা তুলে ধরে ফের ইরানকে হুমকি দিয়েছেন।

    তিনি বলেছেন, ‘আগে যা ছিল তার তুলনায় আমাদের কাছে অনেক বেশি আর অনেক উন্নত মানের অস্ত্র ও গোলাবারুদ আছে। আমাদের কাছে সেরা সরঞ্জাম আছে। সারা বিশ্বজুড়ে আমাদের সামগ্রী রয়েছে। বিশ্বজুড়ে আমাদের ঘাঁটি আছে। সবগুলোতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মজুদ করা আছে। আমরা ওই সব সামগ্রী ব্যবহার করতে পারবো আর যদি দরকার হয় করবো।’ এদিকে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ইরনার দেওয়া উদ্ধৃতিতে এক সামরিক সূত্র বলেছে, ‘বেশ কয়েকটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার মার্কিন দাবি মিথ্যা

  • যুদ্ধের কারনে আত্মহত্যায় ঝুকছে ইসরাইলি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৩.৮ শতাংশ শিক্ষার্থী

    যুদ্ধের কারনে আত্মহত্যায় ঝুকছে ইসরাইলি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৩.৮ শতাংশ শিক্ষার্থী

    ইসরাইলের ভেতরেই এখন ভয়াবহ অস্থিরতা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুদ্ধের প্রভাবে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সাত শতাধিক শিক্ষার্থীর ওপর চালানো এই গবেষণায় উঠে এসেছে যে এদের মধ্যে ৩৩ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থীই এখন আত্মহত্যার কথা ভাবছে। মূলত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের এই অবনতি লক্ষ্য করা গেছে। ইসরাইলি সংবাদপত্র ‘ইসরাইল হাইয়োম’ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে।

    এই পরিস্থিতির পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করা হচ্ছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর রিজার্ভ ডিউটি বা সংরক্ষিত সেনাদের দীর্ঘকালীন দায়িত্ব পালনকে। শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশকে দীর্ঘ সময় ধরে পরিবার ও বন্ধুদের থেকে দূরে রেখে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়েছে দেশটির সরকার। যুদ্ধের ময়দানে ভয়াবহ সব দৃশ্য দেখা, নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা এবং সরকার তাদের ‘ভুলে গেছে’- এমন বোধ থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র মানসিক যন্ত্রণা তৈরি হয়েছে। ফলে তারা বিষণ্ণতা ও একাকীত্বে ভুগছেন। অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, তাদের স্বাভাবিক জীবন পুরোপুরি তছনছ হয়ে গেছে।

    ইসরাইলে আত্মহত্যার ওপর আয়োজিত বার্ষিক এক বিজ্ঞান সম্মেলনে এই গবেষণার তথ্যগুলো উপস্থাপনের কথা রয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ৩৯ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী তীব্র বিষণ্ণতায় ভুগছেন। এই হার সারা বিশ্বের গড় হারের তুলনায় অনেক বেশি। সাধারণত বিশ্বের অন্যান্য দেশে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিষণ্ণতা এবং ১৮ থেকে ২৪ শতাংশের মধ্যে আত্মহত্যার চিন্তা দেখা যায়। কিন্তু ইসরাইলি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যাগুলো আশঙ্কাজনকভাবে বেশি।

    গবেষকরা বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তাহীনতা শিক্ষার্থীদের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। এর সাথে যোগ হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্ধ সমর্থন ও উসকানি, যা যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করছে এবং পরোক্ষভাবে এই তরুণ প্রজন্মের জীবনকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ৭ অক্টোবরের আগে ও পরের পরিস্থিতি তুলনা করে দেখা গেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা কয়েক গুণ বেড়েছে। সামরিক ও রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের বলি হয়ে ইসরাইলের শিক্ষিত সমাজ এখন এক গভীর সঙ্কটের মুখোমুখি

  • পশ্চিমবঙ্গের পটপরিবর্তনে সীমান্তে বাড়ছে উদ্বেগ

    পশ্চিমবঙ্গের পটপরিবর্তনে সীমান্তে বাড়ছে উদ্বেগ

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে ঘিরে উদ্ভূত উত্তেজনা বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে। নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয়ের নিশ্চিত আভাসে রাজ্যজুড়ে সহিংসতা, সঙ্ঘাত এবং বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ‘অনুপ্রবেশ’ বা জোরপূর্বক ‘পুশইন’-এর ঝুঁকি মাথায় রেখে বাংলাদেশের সীমান্তে সতর্কতা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও উত্তর দিনাজপুর জেলার সাথে বাংলাদেশের দিনাজপুর, নওগাঁ, জয়পুরহাট ও রাজশাহী অঞ্চলের সরাসরি সীমান্ত সংযোগ থাকায় এসব এলাকায় ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। হিলি স্থলবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গ শুধু ভারতের একটি রাজ্য নয়; বরং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি একটি কৌশলগত সংযোগস্থল। ভাষা, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতার কারণে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশেও প্রতিফলিত হতে পারে। ফলে নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনা সীমান্ত পরিস্থিতিকে আরো স্পর্শকাতর করে তুলছে।

    নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যু এবং ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক দেখা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯১ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যাদের একটি বড় অংশ মুসলিম। এ বিষয়টি নির্বাচনপূর্ব সময় থেকেই সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলে। বিজেপি তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর পদক্ষেপের অঙ্গীকার করেছে। এ প্রেক্ষাপটে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বক্তব্য- নির্বাচনের পর ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ খুঁজে বের করে বহিষ্কার করা হবে- সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরো বাড়িয়েছে।

    Politics

    নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব:) আশরাফুজ্জামান খান বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়া এবং তাদের অধিকাংশ মুসলিম হওয়ায় মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত সঙ্কট তৈরি হতে পারে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, নতুন আইনি কাঠামোর মাধ্যমে এসব মানুষকে ‘পুশইন’ করে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা হতে পারে, যা রোহিঙ্গা সঙ্কটের মতো আরেকটি জটিল পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে। এ অবস্থায় সীমান্তে বিজিবি, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সমন্বিত নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বিজিবি সূত্র জানায়, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি যাতে সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি না করে, সে জন্য আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সীমান্তে টহল জোরদার, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া বিপুল সংখ্যক মানুষের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়লে সীমান্তবর্তী এলাকায় মানবিক সঙ্কট তৈরি হতে পারে। অতীতে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কিছু মানুষকে জোরপূর্বক সীমান্তের দিকে ঠেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সমালোচনার জন্ম দেয়। নির্বাচনের ফল বিজেপির পক্ষে গেলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।

    ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত রুটগুলো

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও উত্তর দিনাজপুর থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুট রয়েছে। এর মধ্যে মুর্শিদাবাদের লালগোলা হয়ে জলপথে রাজশাহীর সাথে সংযোগ, জলঙ্গী থেকে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সীমান্ত, মালদহের মহাদিপুর হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর এবং উত্তর দিনাজপুরের রাধিকাপুর ও হিলি সীমান্ত উল্লেখযোগ্য। এসব রুটে বৈধ যাতায়াতের পাশাপাশি অনিয়মিত পারাপারের ঝুঁকিও বিদ্যমান, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ বাড়াতে পারে।

    গোয়েন্দা সূত্র জানায়, পশ্চিমবঙ্গে ‘অবৈধ মুসলিম ভোটার’ বিষয়ে নির্দিষ্ট সরকারি পরিসংখ্যান না থাকলেও ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯০ লাখের বেশি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। বিভিন্ন বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, বাদ পড়াদের একটি বড় অংশ মুসলিম, যদিও এ বিষয়ে ভিন্নমতও রয়েছে।

    জনসংখ্যাগত প্রবণতা বিশ্লেষণে দেখা যায়, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে মুসলিম জনসংখ্যার হার গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুরসহ কয়েকটি জেলায় মুসলিম জনসংখ্যা ৫০ শতাংশের বেশি, যা রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। এসব জেলায় ভোটার তালিকা পর্যালোচনার আওতায় থাকা কেসের সংখ্যাও বেশি।

    এ বিষয়ে মেজর জেনারেল (অব:) রোকন উদ্দিন বলেন, প্রায় চার হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য-নদী, জলাভূমি ও দুর্গম এলাকা-সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে জটিল করে তোলে। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে মানবিক ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা উপেক্ষা করা হলে তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় থাকলে সীমান্তে শান্তিশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব।

    সার্বিকভাবে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন শুধু ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত নিরাপত্তা, মানবিক পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

  • কক্সবাজার থেকে খুলনায় ইয়াবা নিয়ে যাওয়ার সময় চট্টগ্রামে পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

    কক্সবাজার থেকে খুলনায় ইয়াবা নিয়ে যাওয়ার সময় চট্টগ্রামে পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

    কক্সবাজার থেকে সংগ্রহ করা ইয়াবা খুলনায় নিয়ে যাওয়ার সময় চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার হয়েছেন এক পুলিশ সদস্য। তাঁর নাম আশিকুল ইসলাম। তিনি খুলনা জেলা পুলিশে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত।

    আজ মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানার শাহ আমানত সেতু এলাকার শহীদ বশরুজ্জামান গোলচত্বরের সামনে থেকে ৫০ হাজার ইয়াবাসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করে বাকলিয়া থানা–পুলিশ। আশিকুল গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের বাবর আলী মুন্সীর ছেলে।

    বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, গোলচত্বর এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে আশিকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে ৫০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    জানতে চাইলে খুলনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অভিযান) আনিসুজ্জামান আজ বিকেলে বলেন, ‘ইয়াবাসহ এক পুলিশ সদস্য চট্টগ্রামে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জেনেছি। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কনস্টেবল আশিকুল ছুটিতে ছিলেন নাকি দায়িত্বরত থাকাকালে চট্টগ্রাম এসেছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

  • কোন কোন মুসলিম প্রার্থী জিতল পশ্চিমবঙ্গে

    কোন কোন মুসলিম প্রার্থী জিতল পশ্চিমবঙ্গে

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে একাধিক মুসলিম প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। বিশেষ করে কলকাতা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগণা, মালদা ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন আসনে মুসলিম প্রার্থীদের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীরাই বেশি সংখ্যক বিজয়ী হয়েছেন। পাশাপাশি আইএসএফ, কংগ্রেস, সিপিএম এবং এজেইউপির কয়েকজন প্রার্থীও জয় পেয়েছেন।

    রাজধানী কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র কসবা বিধানসভা আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী, বিদায়ী বিধায়ক ও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জাভেদ খান আবারও জয় ধরে রেখেছেন। তিনি ২০ হাজার ৯৭৪ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। কলকাতার আরেক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের ফিরহাদ হাকিম ৫৬ হাজার ৪৯০ ভোটে জয়লাভ করেন। মেটিয়াব্রুজ কেন্দ্রেও বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী আবদুল খালেক মোল্লা; তিনি ৮৭ হাজার ৮৭৯ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।

    মুর্শিদাবাদ জেলায় মুসলিম প্রার্থীদের মধ্যে তৃণমূলের শক্তিশালী উপস্থিতি দেখা গেছে। জলঙ্গী কেন্দ্র থেকে বাবর আলি, হরিহরপাড়া থেকে নিয়ামত সেখ, শামশেরগঞ্জ থেকে মুহাম্মদ নূর আলম, ভরতপুর থেকে মুস্তাফিজুর রহমান এবং সাগরদিঘি থেকে বায়রন বিশ্বাস জয়ী হয়েছেন। একই জেলার রেজিনগর ও নওদা কেন্দ্র থেকে এজেইউপি প্রার্থী হুমায়ুন কবীরও বিজয় অর্জন করেছেন।

    উত্তর ২৪ পরগণায় তৃণমূলের আনিসুর রহমান বিদেশ দেগঙ্গা কেন্দ্র থেকে জয় পেয়েছেন। হাড়োয়া থেকে আবদুল মাতিন এবং বসিরহাট উত্তর থেকে তৌসিফুর রহমানও তৃণমূলের হয়ে বিজয়ী হয়েছেন। বসিরহাট কেন্দ্র থেকে জয় পেয়েছেন বুরহানুল মুকাদ্দিম লিটন।

    দক্ষিণ ২৪ পরগণার ভাঙড় কেন্দ্র থেকে আইএসএফের নওসাদ সিদ্দিকী জয়লাভ করে আলোচনায় রয়েছেন। ক্যানিং পূর্বে বাহারুল ইসলাম এবং মগরাহাট পশ্চিমে শামীম আহমেদ তৃণমূলের হয়ে জয় পেয়েছেন।

    মালদার সুজাপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের সাবিনা ইয়াসমিন এবং বীরভূমের হাসন কেন্দ্র থেকে কাজল শেখ বিজয়ী হয়েছেন।

    অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর মধ্যেও কয়েকজন মুসলিম প্রার্থী সাফল্য পেয়েছেন। মুর্শিদাবাদের ফারাক্কা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের মাহাতাব শেখ, রাণীনগর থেকে কংগ্রেসের জুলফিকার আলি এবং ডোমকল কেন্দ্র থেকে সিপিএমের মোস্তাফিজুর রহমান রানা জয়লাভ করেছেন। এছাড়াও রেয়াত হোসেন সরকার (তৃণমূল, ভগবানগোলা), ডা. আবদুল আজিজ (তৃণমূল, লালগোলা), ঈমানি বিশ্বাস (তৃণমূল, সুতি), আখরুজ্জামান (তৃণমূল) এবং নজরুল ইসলাম তৃণমূল-মোথাবাড়ি থেকে জয়লাভ করেছেন।

    সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে মুসলিম অধ্যুষিত ও সংখ্যালঘু ভোটপ্রবণ আসনগুলোতে তৃণমূল কংগ্রেস বড় ধরনের প্রভাব বজায় রাখলেও, কিছু গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে আইএসএফ, কংগ্রেস, সিপিএম ও এজেইউপির উপস্থিতিও চোখে পড়েছে।

  • জবি শিক্ষার্থী হত্যাচেষ্টা মামলায় আফজাল নাছের ৩ দিনের রিমান্ডে

    জবি শিক্ষার্থী হত্যাচেষ্টা মামলায় আফজাল নাছের ৩ দিনের রিমান্ডে

    তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর কোতোয়ালি থানা এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী অনিক কুমার দাসকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্তকৃত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: আফজাল নাছেরের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার একটি আদালত।

    মঙ্গলবার (৫ মে) তাকে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    গত ৩০ মার্চ রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে আফজাল নাছেরকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মিছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পার হয়ে মহানগর দায়রা জজ কোর্টের সামনে আসলে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অতর্কিত গুলিতে আহত হন জবি শিক্ষার্থী অনিক। এরপর অনিককে প্রথমে ন্যাশনাল মেডিক্যালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর ভুক্তভোগী অনিক নিজে ২৫৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন।

  • ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে কাজ চলছে: শিক্ষামন্ত্রী

    ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে কাজ চলছে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আমাদের ৩২ হাজার ৫০০ শিক্ষক হাই কোর্টে আটকে আছে, ওদেরকে ‘প্রমোশন’ দিতে পারছি না। আবার ৩২ হাজার নিতে (নতুন নিয়োগ দিতে) পারছি না। এদিকে ৭৭ হাজার শিক্ষক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে নিতে হবে। কাজ চলছে।

    সোমবার (৪ মে) বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন,

    তিনি আরো বলেন, আদালতে (শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাত নিয়ে) প্রায় ১৩ হাজার মামলা আটকে আছে। এই মামলার জট কীভাবে খুলব? মানে কী করা যাবে বলেন? কিছুটা সময় দেন।

    ১৮০ দিনের মধ্যে শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু হয়ে যাবে আশা প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, টাইম ফ্রেইম হচ্ছে ১৮০ দিনের ভেতরে। সবগুলো দেখবেন যে শুরু হয়ে গিয়েছে। এই শুরু হওয়াটাই হচ্ছে আমাদের প্রথম ধাপ।

    গাছ একবার লাগালে ফল দিতেই থাকবে। আমরা চাচ্ছি যে শুরুতে যেন আমাদের গতিটা বেশি থাকে। আমাদের কর্ম পরিসর যেন অনেক ব্যাপক থাকে। শুরুটা যদি ভালো হয়, তারপর আমরা আস্তে আস্তে শেষের দিকে চাপমুক্ত থাকব।

  • হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

    হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

    ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে বলা হয়, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সতর্কতা উপেক্ষা করার পর জাস্ক দ্বীপের নিকটে এ হামলা ঘটে।

    খবরে বলা হয়েছে, জাহাজটিকে থামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা না মানায় এই হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনতে সোমবার থেকে “প্রজেক্ট ফ্রিডম” শুরু করা হবে।

    মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, এই অভিযানে প্রায় ১৫ হাজার সেনা, ১০০টির বেশি স্থল ও নৌভিত্তিক বিমান, পাশাপাশি যুদ্ধজাহাজ ও ড্রোন মোতায়েন করা হবে।বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিতে এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • ভোট-পরবর্তী অশান্তির মেঘ পশ্চিমবঙ্গে, মমতার বাড়ির সামনে সেনা

    ভোট-পরবর্তী অশান্তির মেঘ পশ্চিমবঙ্গে, মমতার বাড়ির সামনে সেনা

    ২০২৬ সালের ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভাবনীয় ও রক্তক্ষয়ী পট পরিবর্তনের সাক্ষী থাকল। ভোট গণনার প্রাথমিক প্রবণতা থেকেই এটা স্পষ্ট যে, দেড় দশকের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি এক ঐতিহাসিক ও ঝোড়ো জয়ের পথে এগিয়ে চলেছে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিজেপি ১৯২টি আসনে এগিয়ে থেকে ম্যাজিক ফিগার অতিক্রম করেছে, যেখানে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৯৭টি আসনে থমকে আছে।

    তবে এই পরিবর্তনের আবহে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাত। গেরুয়া শিবির জয়ের গন্ধ পেতেই বিভিন্ন জায়গায় বিজয় উল্লাসের পাশাপাশি শাসকদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ সামনে আসছে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনের সামনে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপ থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিতে বাধ্য হয়েছে নির্বাচন কমিশন।

    এই নির্বাচনি ফলাফলের ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই জয় আসলে সুপরিকল্পিত মেরুকরণের ফল। তার দাবি অনুযায়ী, একদিকে যেমন তারা রাজ্যের হিন্দু ভোট এক ছাতার তলায় আনতে সফল হয়েছেন, অন্যদিকে তৃণমূলের চিরাচরিত তুরুপের তাস ‘মুসলিম ভোট ব্যাংক’ এবার পুরোপুরি ধসে গেছে। এই হিন্দু ভোটের অভূতপূর্ব সংহতি উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল পর্যন্ত বিজেপিকে একতরফা লিড এনে দিয়েছে। সন্দেশখালী ইস্যু থেকে শুরু করে সিএএ কার্যকর হওয়া—সবই হিন্দু ভোটারদের মনে নিরাপত্তার প্রশ্ন জাগিয়ে তুলেছিল, যা ব্যালট বাক্সে বিজেপির পক্ষে প্রতিফলিত হয়েছে। অন্যদিকে বাম ও কংগ্রেসের ভোট শেয়ার সামান্য বাড়ায় অনেক আসনেই তৃণমূলের ভোট ভাগ হয়ে গেছে, যা পরোক্ষভাবে গেরুয়া শিবিরের জয়ের পথ প্রশস্ত করেছে।

    তৃণমূলের এই পরাজয়ের নেপথ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মোহভঙ্গ একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে। ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে আইনি জটিলতা এবং মুসলিম ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিলের জেরে লাখ লাখ কর্মপ্রার্থী যুবকের ক্ষোভ শাসকদলের বিরুদ্ধে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অসন্তোষ। রাজ্যের মুসলিম ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এবার তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়ে আইএসএফ কিংবা বাম-কংগ্রেস জোটের দিকে ঝুঁকেছে। মালদা, মুর্শিদাবাদ বা উত্তর দিনাজপুরের মতো সংখ্যালঘু প্রধান জেলাগুলোতে এই ভোট বিভাজন তৃণমূলের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়েছে। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, সরকার সংখ্যালঘুদের কেবল ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করায় এবং তাদের দাবিদাওয়ার চেয়ে দমনমূলক নীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় এই বিদ্রোহ তৈরি হয়েছে।

    নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লাখ নাম বাদ পড়ার বিষয়টিও এই ফলাফলে গভীর প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলোতে যেখানে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি ছিল, সেখান থেকেই সবচেয়ে বেশি নাম বাদ গেছে। এই প্রশাসনিক রদবদল তৃণমূলের ভোটের অঙ্ক গোড়া থেকেই এলোমেলো করে দিয়েছিল। এর পাশাপাশি শিক্ষা ও রেশন বণ্টনের মতো একাধিক নিয়োগ দুর্নীতি এবং শীর্ষ নেতাদের জেলযাত্রা মানুষের মনে সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি করেছিল। রেকর্ড ৯২ শতাংশের বেশি ভোটদানই প্রমাণ করেছিল যে মানুষ এবার পরিবর্তনের লক্ষ্যে মরিয়া ছিলেন। হিন্দু ভোটের মেরুকরণ এবং মুসলিম ভোটের ভাঙন—এ দুই বিপরীতমুখী স্রোতের আবর্তে পড়ে শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপরাজেয় দুর্গ আজ ধূলিসাৎ হওয়ার পথে।

  • ট্রাম্পের সফর সামনে রেখে চালকের আসনে শি জিনপিং

    ট্রাম্পের সফর সামনে রেখে চালকের আসনে শি জিনপিং

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের সময় ঘনিয়ে আসছে। ইরানের সঙ্গে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় পিছিয়ে যাওয়া সফরটি আগামী ১৪-১৫ মে হওয়ার কথা। এই সফরে চালকের আসনে থাকবে চীন এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকরা। দুর্লভ এই মুখোমুখি বৈঠককে পারস্পরিক সম্পর্ক স্থায়ীভাবে জোরদার করার সম্ভাবনা হিসেবে দেখছে বেইজিং। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত চীনের জন্য এক ধরনের কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে। এতে ওয়াশিংটনের দরকষাকষির অবস্থান কিছুটা দুর্বল হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিলো চীনের প্রভাব কমাতে। তারা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নেয়ার পর ইরানে আক্রমণ করে চীনের বলয়কে ছোট করে আনতে চেয়েছিলো।

    কিন্তু ইরান যুদ্ধ এখন তাদের গলার কাঁটা হয়ে দেখা দিয়েছে। যুদ্ধ যত সহজে শেষ হবে ভেবেছিলেন ট্রাম্প, তা না হওয়ায় এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের শক্ত অবরোধ বজায় থাকায় বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষূন্ন হচ্ছে। তারা মিত্রদের আস্থা হারাচ্ছে। এতে চীনকে বিশ্বের অনেক রাষ্ট্র নিরাপদ এবং টেকসই বিকল্প হিসেবে ভাবছে। তবে বেইজিং সতর্ক অবস্থানও বজায় রেখেছে। কারণ, ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন চীনের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।

    বাণিজ্যিক এবং সামরিক ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হবার পরও উভয়দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত বিস্তৃত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান যুদ্ধ ঘিরে সৃষ্টি হওয়া পরিস্থিতি এই বৈঠকের মূল লক্ষ্যকে জটিল করে তুলেছে। চীন ভ্রমণের পর ট্র্রাম্প ফের ইরানে আক্রমণ করলে তা ভুল বার্তা দিতে পারে চীনের মিত্রদের। এছাড়াও হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে চীনের জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে, যা তাদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। চীনের জ্বালানি তেল-গ্যাসের এক তৃতীয়াংশ এই পথ দিয়ে আমদানি করা হয়। অন্যদিকে, ট্রাম্পও এই সফরকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভাবছেন। যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি ভোটারদের সামনে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সাফল্য দেখাতে আগ্রহী। চীনের কাছে কৃষিপণ্য ও বিমান বিক্রির মতো চুক্তি তার পক্ষে ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে ভোটারদেরকে যা রিপাবলিক পার্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

    চীন এই সুযোগে নিজেদের স্বার্থ আদায়ে চাপ বাড়াতে পারে। বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তন, হাই টেক পণ্য রপ্তানিতে বিধিনিষেধ শিথিল এবং চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলো সামনে আনতে পারে বেইজিং। চীনে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন চেম্বার অফ কমার্সের সাবেক সভাপতি এবং ডিজিএ অলব্রাইট স্টোনব্রিজ গ্রুপের অংশীদার ইয়র্গ ভুট’কে ইরান যুদ্ধকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র জয় ছাড়া লড়াই করছে, চীন লড়াই ছাড়া জিতছে। তিনি আরও বলেন, জ্বালানির দামের কারণে (চীনারা) অবশ্যই বাজেভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। কিন্তু একই সাথে, চীন এই পরিস্থিতি থেকে অনেক লাভবানও হচ্ছে।

    তিনি চীনের নবায়নযোগ্য জ্বালানির নীতির কথা তুলে ধরে বলেন, চীন এমন পরিস্থিতির জন্য দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রস্তুত ছিল। রাজনৈতিকভাবেও চীন আলোচনার রুমে একমাত্র পরিপক্ব পক্ষ হিসেবে হাজির রয়েছে। বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলগতভাবে ব্যস্ত করে ফেলেছে, যেখানে চীন নিজেকে স্থিতিশীল শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে।

    ফলে বৈশ্বিক রাজনীতিতে চীনের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে। তবে সাবেক মার্কিন কূটনীতিক উইলিয়াম কেলভিন যিনি এর আগে ২০১৭ সালে ট্রাম্পের চীন সফর আয়োজনে ভূমিকা রেখেছিলো তিনি বলেন, এই সংঘাতের কারণে দুই দেশের শক্তির ভারসাম্যে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কে উভয় পক্ষের মূল অবস্থান অপরিবর্তীত রয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করে অনলাইন সিএনএন। সব মিলিয়ে, আসন্ন শি-ট্রাম্প বৈঠক শুধু দুই দেশের সম্পর্ক নয়, বরং ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

  • মমতার পরাজয় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি বদলে দিতে পারে কেন

    মমতার পরাজয় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি বদলে দিতে পারে কেন

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভোটের গণনায় বেশ বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বিজিপি। শেষপর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস যদি পরাজিত হয়, তবে শক্তিশালী তৃণমূলের জন্য এটি হবে একটি বিরাট ধাক্কা। ৭১ বছর বয়সি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন বাগ্মী রাজনীতিবিদ। তাকে দিদি বলে ডাকা হয়, অগ্নিকন্যাও বলা হয়। ২০১১ সালে তার নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গের ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকারকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়। সেটি ছিল বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সময় গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট সরকার।

    মমতা পশ্চিমবঙ্গে কৃষকদের জমি অধিগ্রহণ করে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের বিরোধিতা করে আন্দোলন করেছিলেন।

    এবারের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা এমন এক লড়াইয়ের মুখোমুখি, যেটিকে অনেকে তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন লড়াই বলে অভিহিত করছেন। তার লড়াকু মনোভাব এবং তৃণমূলের সব ইউনিটের নেতাদের সঙ্গে শক্তিশালী যোগাযোগ রয়েছে।

    কয়েক দশকের বামফ্রন্ট সরকারের অবসান ঘটিয়ে ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২২৭টিতে (এককভাবে ১৮৪টি আসনে) জয়লাভ করে সরকার গঠন করে তৃণমূল। এরপর থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    কিন্তু এবার মমতা বিজেপির পক্ষ থেকে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ও সুসংগঠিত প্রচারণার মুখোমুখি হন, যার ফলে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে পরিণত করে।

    বেশ কয়েকটি এক্সিট পোল হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিল।

    এদিকে বিজেপির তুলনায় তৃণমূল কংগ্রেস পিছিয়ে থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী জানিয়ে দিলেন, তিনি বা তার দল পরাজয় মেনে নিতে এখনও প্রস্তুত নন।

    ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, কাউন্টিং এজেন্টরা কেউ গণনাকেন্দ্র থেকে সরে আসবেন না। তৃণমূল কংগ্রেস এখনো ৭০ থেকে ১০০ আসনে এগিয়ে আছে, যেগুলো দেখাচ্ছে না। নির্বাচনী ফলাফলের নামে ‘গোটাটাই মিথ্যে জিনিস খাওয়াচ্ছে’ বলেও তিনি দাবি করেন। নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ‘ইচ্ছেমতো খেলছে’ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী আরও বলেন, ‘আমি প্রথম থেকেই বলছি। ওদেরগুলো (বিজেপি) আগে দেখাবে, পরে আমাদের (তৃণমূলের) জেতা আসনগুলো দেখাবে।’ ‘সূর্যাস্তের পর’ তৃণমূল ঠিকই জিতবে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। দলের নেতাকর্মী ও গণনাকেন্দ্রে যে এজেন্টরা আছেন তাদের ‘বাঘের বাচ্চার মতো লড়ে যেতে’ও আহ্বান জানান তিনি।

    পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ক্ষমতাসীন তৃণমূল ও বিরোধী বিজেপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। এখন পর্যন্ত ২৯৩ আসনের মধ্যে ২১১টি আসনের প্রাথমিক ফলাফলে বিজেপি ১০৫ আসনে এগিয়ে আছে, আর তৃণমূল এগিয়ে আছে ১০৩টি আসনে।

    শেষপর্যন্ত যদি নির্বাচনে মমতার তৃণমূলের পরাজয় হয়, তবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একটি পরিবর্তনের সূচনা হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

  • আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তান ও ইরানের আলোচনা

    আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তান ও ইরানের আলোচনা

    পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। রোববার (৩ মে) গভীর রাতে ফোনালাপে আরাগচি দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সঙ্কট সমাধানের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের গঠনমূলক ভূমিকা ও আন্তরিক মধ্যস্থতার প্রশংসা করেন।

    এই আলোচনার মূল কেন্দ্রে ছিল পাকিস্তানের শান্তি প্রচেষ্টা এবং আরাগচির দেয়া নতুন শান্তি প্রস্তাবের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া।ইসহাক দার জানিয়েছেন, আলোচনার টেবিল আর কূটনীতিই হলো স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনের একমাত্র পথ।এই আলোচনার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে তেহরানের পক্ষ থেকে দেয়া ১৪ দফার এক নতুন শান্তি প্রস্তাবকে ঘিরে। ইরান জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে তাদের এই প্রস্তাবের জবাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা এখন তেহরান পর্যালোচনা করছে।

    এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সাথে তাদের আলোচনা বেশ ইতিবাচক দিকে মোড় নিচ্ছে, যা সবার জন্যই ভালো ফল বয়ে আনতে পারে।গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে দুই দেশের আলোচনা একরকম থমকে ছিল। তবে এখন আরাগচির দেয়া এই প্রস্তাব নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

    বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ইরানের এই প্রস্তাবে এক মাসের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়া, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেয়া অন্যায্য নৌ-অবরোধ তুলে নেয়া এবং ইরান ও লেবাননে চলমান যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটানো।এই প্রস্তাব তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করার কথা বলা হয়েছে, যাতে ৩০ দিনের মধ্যে পুরো যুদ্ধ পরিস্থিতির সমাপ্তি ঘটে। এরমধ্যে একটি বড় শর্ত হলো- ইসরাইলসহ কোনো পক্ষই আর কারো ওপর হামলা করবে না বলে অঙ্গীকার করবে।

    প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই ইরানের বন্দরগুলো থেকে অবরোধ সরাতে হবে এবং বিনিময়ে সমুদ্রের মাইন সরানোর দায়িত্ব নেবে তেহরান। পরবর্তী ধাপে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নির্দিষ্ট মাত্রায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিলেও ইরান জানিয়েছে যে, তাদের পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস বা পরিকাঠামো ভেঙে ফেলার কোনো প্রশ্নই আসে না। এর বদলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে অবশ্যই ইরান ও তার মিত্রদের ওপর হামলা বন্ধ রাখতে হবে। একইসাথে ইরানের আটকে রাখা অর্থ বা তহবিলগুলোও ধাপে ধাপে ছেড়ে দিতে হবে।সবশেষ ধাপে আরব দেশগুলোর সাথে কৌশলগত সংলাপ এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছে ইরান। পুরো এই প্রক্রিয়ায় জাতিসঙ্ঘ বা আন্তর্জাতিক মহলের চেয়ে আঞ্চলিক দেশগুলোর সদিচ্ছাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

  • গুপ্তহত্যা ও অভ্যুত্থানের শঙ্কায় পুতিন

    গুপ্তহত্যা ও অভ্যুত্থানের শঙ্কায় পুতিন

    গুপ্তহত্যা ও অভ্যুত্থানের আশঙ্কায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নিরাপত্তা ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে ক্রেমলিন। সিএনএনের হাতে আসা একটি ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার শীর্ষ সামরিক ব্যক্তিত্বদের ওপর ধারাবাহিক গুপ্তহত্যা ও অভ্যুত্থানের আশঙ্কার কারণে পুতিনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে এবং তার ঘনিষ্ঠ কর্মীদের বাড়িতে বসানো হয়েছে নজরদারি ব্যবস্থা।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে নিয়মিত সফর করলেও তিনি এ বছর এখন পর্যন্ত একটিও সামরিক স্থাপনা পরিদর্শন করেননি। ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে পুতিন সপ্তাহের পর সপ্তাহ উন্নতমানের বাঙ্কারে কাটান।

    যুদ্ধের অর্থনৈতিক ক্ষতি এখন সুস্পষ্ট—রাশিয়ার প্রধান শহরগুলোতে নিয়মিত মোবাইল ফোন ডেটা বিভ্রাট এমনকি পুতিনপন্থি বুর্জোয়াদেরও ক্ষুব্ধ করছে। এর মানে, শহুরে অভিজাতরাও এখন যুদ্ধের প্রভাব থেকে মুক্ত নন। প্রতিবেদনটিতে মস্কোর অবনতিশীল অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চের শুরু থেকে, ‘ক্রেমলিন এবং স্বয়ং ভ্লাদিমির পুতিন সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের সম্ভাব্য ঝুঁকি, সেই সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে কোনো ষড়যন্ত্র বা অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে দেশটির রাজনৈতিক অভিজাতদের দ্বারা সম্ভাব্য গুপ্তহত্যার প্রচেষ্টায় ড্রোন ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বিগ্ন রয়েছে।’

    কিন্তু সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য তথ্য দেওয়া হয়েছে পুতিনের সাবেক বিশ্বস্ত সহযোগী সের্গেই শোইগুকে নিয়ে। তিনি বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কোণঠাসা হয়ে পড়া এই সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সামরিক উচ্চ কমান্ডের মধ্যে যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। তাকে নিয়েও উদ্বিগ্ন ক্রেমলিন। তিনি অভ্যুত্থানের ঝুঁকির সঙ্গে জড়িত হতে পারেন বলেন মনে করা হচ্ছে। ৫ মার্চ শোইগুয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রুসলান সালিকভকে গ্রেপ্তার করা হয়। একে ‘অভিজাতদের মধ্যেকার অলিখিত সুরক্ষা চুক্তির লঙ্ঘন’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

    পুতিন ২০২৩ সালের জুনে হওয়া একটি অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন। মস্কোর অভিজাত মহলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রায়শই ব্যাপক জল্পনা-কল্পনার বিষয় হয়ে ওঠে, কিন্তু খুব কমই তা প্রকাশ্যে আসে। ইউক্রেনের প্রতি মার্কিন সমর্থন যখন কমছে, তখন ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে ক্রেমলিনে ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও সন্দেহবাতিকের ইঙ্গিত দেওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

    পুতিনকে ঘিরে বিস্তারিত কিছু নিরাপত্তাব্যবস্থার কথা আগেও প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাপক দেহ তল্লাশি, ক্রেমলিনের স্মার্টফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা এবং প্রেসিডেন্টের চলাফেরায় বিধিনিষেধ। পুতিনকে এখনো নিয়মিত জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে; এ সপ্তাহে তিনি চেচেন নেতা রমজান কাদিরভ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

    গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের শেষ দিকে ক্রেমলিনে পুতিনের সঙ্গে শীর্ষ কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। নতুন নিরাপত্তা পদক্ষেপ নেওয়ার এটাও একটা কারণ।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকের সময় চিফ অব দ্য জেনারেল স্টাফ ভ্যালেরি গেরাসিমভ ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিসের (এফএসবি) প্রধান আলেকজান্ডার বর্টনিকভের সমালোচনা করেন তার কর্মকর্তাদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ায়।

    গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘এই উত্তেজনাপূর্ণ বৈঠক শেষে ভ্লাদিমির পুতিন সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান, একটি বিকল্প কার্যপদ্ধতির প্রস্তাব করেন এবং অংশগ্রহণকারীদের এক সপ্তাহের মধ্যে এই সমস্যার সুনির্দিষ্ট সমাধান উপস্থাপনের নির্দেশ দেন।’

    সেই দ্রুত সমাধানের অংশ হিসেবে পুতিন তার নিজস্ব ফেডারেল প্রোটেকশন সার্ভিসের (এফএসও) পরিধি আরো সম্প্রসারণ করেন।

  • হাম উপসর্গে একদিনে সর্বোচ্চ ১৭ জনের মৃত্যু!

    হাম উপসর্গে একদিনে সর্বোচ্চ ১৭ জনের মৃত্যু!

    সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম সন্দেহে একদিনে সর্বোচ্চ ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    সোমবার (৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ৩০২ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৪১ হাজার ৭৯৩ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৫৪ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা পাঁচ হাজার ৪৬৭ জন।

    ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৮ হাজার ৮৪২ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৫ হাজার ১৫১ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ২৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • পে-স্কেল বাস্তবায়নে বাড়ছে ৩৫ হাজার কোটি

    পে-স্কেল বাস্তবায়নে বাড়ছে ৩৫ হাজার কোটি

    আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ধাপে ধাপে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন পে স্কেলের সুপারিশ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে সরকার। সেই লক্ষ্য নতুন বাজেটে বরাদ্দ প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হচ্ছে। বাড়তি অর্থ দিয়ে শুধু নতুন বেতন কাঠামোর মূল বেতনের অর্ধেক বাস্তবায়ন করা হতে পারে। পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম বছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ ও পরের ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ দেয়া হতে পারে। আর ২০২৮-২৯ অর্থবছরে যুক্ত হতে পারে ভাতাগুলো।

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও অর্থ মন্ত্রণালয়বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আহমেদ তিতুমীরের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এমন পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সংকেত পাওয়া গেলে আগামী অর্থবছর থেকে বাস্তবায়ন শুরু হবে।

    নাম না প্রকাশ করার শর্তে অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার গত ২১ এপ্রিল জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ও সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশনের সুপারিশ প্রণয়নে গঠিত আগের কমিটিকে পুনর্গঠন করে। সম্প্রতি ওই কমিটি তাদের মতামত জমা দিয়েছে। কমিটি আর্থিক চাপ বিবেচনায় রেখে নবম পে স্কেল একাধিক ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছে। বেতন কমিশনও একাধিক ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছিল। এ সব সুপারিশের ভিত্তিতে এ বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে অর্থ বিভাগ।

    বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ও জাতীয় বেতন কমিশনের সদস্য ড. এ কে এনামুল হক বলেন, নতুন বেতন কাঠামো একসঙ্গে কার্যকর করলে মুদ্রাস্ফীতির ওপর চাপ বাড়তে পারে। এ কারণে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নই অধিক যুক্তিযুক্ত। তিনি জানান, বাজারে মূল্যস্ফীতির নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে কমিশনও তিন বছরে ধাপে ধাপে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছিল।

    তিনি আরও বলেন, নতুন পে স্কেলের লক্ষ্য কেবল বেতন বৃদ্ধি নয়; বরং সরকারি সেবার মান উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করা। একজন কর্মচারী যদি ন্যূনতম জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে না পারেন, তাহলে তার কাছ থেকে দক্ষতা ও স্বচ্ছতা আশা করা কঠিন। দারিদ্র্যজনিত চাপ থেকে কর্মচারীদের দূরে রাখতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের জন্য সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করে। গত ২২ জানুয়ারি কমিশন সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করে। এতে সর্বনিম্ন ধাপে বেতন আট হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপে ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়।

    পুরো সুপারিশ বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বছরে মোট ব্যয় প্রায় এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

  • বাস্তবায়নের পথে ‘নবম পে স্কেল’

    বাস্তবায়নের পথে ‘নবম পে স্কেল’

    আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের ‘নবম পে স্কেল’ দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গেজেট প্রকাশের দাবিতে ঢাকায় কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সমাবেশ ও আলোচনা সভার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটি।

    বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘নবম পে স্কেল’ ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে তিন বেতন কমিশনের প্রতিবেদন সুপারিশ প্রণয়নে পুনর্গঠিত হওয়া কমিটি। এই সুপারিশ আগামী পহেলা জুলাই থেকে কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

    শনিবার (০২ মে) সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ‘নবম পে স্কেল’ দ্রুত বাস্তবায়নে সমাবেশ ও আলোচনা সভার কথা জানান।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে মে মাসজুড়ে বিভিন্ন জেলায় প্রতিনিধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

    কমিটির ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৮ মে পটুয়াখালী এবং ৯ মে খুলনায় প্রতিনিধি সমাবেশ ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে।

    এ ছাড়া আগামী ১৬ মে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সমাবেশ ও আলোচনাসভা আয়োজন করা হবে।

    সংগঠনটির নেতারা জানান, গত ১১ বছরে দুটি পে স্কেল কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও সরকারি কর্মচারীরা এখনো নতুন কোনো পে স্কেল পাননি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নিম্ন গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অধিকাংশ কর্মচারী ঋণের বোঝায় জর্জরিত এবং মাস শেষে ঋণ পরিশোধের পর যে বেতন হাতে থাকে, তা দিয়ে ১০ থেকে ১৫ দিনের বেশি সংসার চালানো সম্ভব হয় না। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই নতুন করে ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন।

    সংগঠনটির মতে, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ না রাখা হলে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বাড়তে পারে। দেশের উন্নয়নে ২২ লাখ সরকারি কর্মচারী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তাদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সরকার আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়ে ২২ লাখ কর্মচারী পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবে বলে প্রত্যাশা তাদের।

    নানা সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের ৯ম পে স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে তিন বেতন কমিশনের প্রতিবেদন সুপারিশ প্রণয়নে পুনর্গঠিত হওয়া কমিটি।

    এই কমিটির সুপারিশ আগামী পহেলা জুলাই থেকে কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

    জানা গেছে, দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামাঞ্জস্য রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের জন্য গঠিত কমিটি তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে। সুপারিশে আর্থিক চাপ সামাল দিতে কয়েকটি ধাপে নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন করা যেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আসন্ন জুলাই থেকে প্রথম ধাপের সুপারিশ অর্থাৎ মূল বেতন বৃদ্ধিরে বিষয়টি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • শিক্ষার আধুনিকায়নে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’

    শিক্ষার আধুনিকায়নে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’

    মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে দেশের নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত একটি প্রকল্পের অধীনে নির্বাচিত ১৫০টি সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩০০টি নতুন ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যামান ৩০০টি ক্লাসরুমের মৌলিক সংস্কার, রেকর্ডিং রুম, মিটিং রুম এবং একটি কেন্দ্রীয় ডাটা সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জানিয়েছে, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি) কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্পটি চীন সরকারের আর্থিক অনুদান ও কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়ন করা হবে।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ক্লাউড প্রযুক্তিনির্ভর নতুন এ প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের কার্যক্রম আগামী ২০২৬-২৭ অর্থ বছর থেকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রাথমিক ধাপগুলো দ্রুততার সাথে শেষ করার কাজ চলমান রয়েছে।

    এ বিষয়ে মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, ‘দেশের মাধ্যমিক শিক্ষার আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে চীন সরকার ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় চীনা অনুদানে নির্বাচিত সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ স্থাপন করতে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা
    হয়েছে। নির্বাচিত স্কুলের ক্লাসরুমে আধুনিক, সমৃদ্ধ ও বিশ্বমানের সব ধরনের সুবিধা থাকবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী অর্থবছর থেকে এ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করার চিন্তা রয়েছে।’

    মাউশির প্রকল্প প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে দুটি করে ‘ইন্টারেক্টিভ এডুকেশন প্যানেল’ (আইইপি) সরবরাহ করা হবে। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে এই ক্লাসরুমগুলোতে থাকবে স্বয়ংক্রিয় রেকর্ডিং ব্যবস্থা। এর ফলে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পাঠদান ভিডিও আকারে সংরক্ষিত হবে; ক্লাউড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা তা দেখার সুযোগ পাবে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা কিউআর কোড স্ক্যান করে মুহূর্তেই ক্লাসের নোট ও কোর্সওয়্যার সংগ্রহ করতে পারবে।

    দেশের শিক্ষা খাতের ডিজিটাল বিভাজন কমিয়ে ও শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন মাউশির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) প্রফেসর ড. মীর জাহীদা নাজনীন।

    তিনি বলেন, ‘চীন সরকারের অনুদানে প্রস্তাবিত ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে একটি অত্যাধুনিক ডাটা সেন্টার স্থাপন করা হবে। ডাটা সেন্টারের জায়গা নির্ধারণের বিষয়ে আমরা বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলকে (বিসিসি) পত্র দিয়েছি।’

    তিনি আরও জানান, ডাটা সেন্টারের জন্য জায়গা চূড়ান্ত হলে চীন সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া যাবে। প্রকল্পটি ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আমরা পরিকল্পনা কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছি। আশা করছি, ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই এই প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের কাজ শুরু করা যাবে।

    প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী, প্রকল্পের অধীনে নির্বাচিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৩০০টি মাল্টিমিডিয়া স্মার্ট ক্লাসরুম ছাড়াও ১০টি আধুনিক রেকর্ডিং স্টুডিও এবং ৩০টি সরকারি শিক্ষা দপ্তরের জন্য বিশেষ মিটিং রুম স্থাপন করা হবে। মাউশি প্রাঙ্গণে একটি অত্যাধুনিক নেটওয়ার্কিং ও ক্লাউড বেইজড ডাটা সেন্টার স্থাপন করা হবে, যা সারা দেশের স্মার্ট শিক্ষাদান কার্যক্রমকে কেন্দ্রীয়ভাবে সংযুক্ত করবে।

    প্রকল্পের সর্বশেষ অগ্রগতি বিষয়ে মাউশি অধিদপ্তরের গবেষণা ও উদ্ভাবন শাখার গবেষণা কর্মকর্তা মো. সিফাতুল ইসলাম বলেন, ‘প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয় শেষে এখন চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরির কাজ চলছে। এরপর টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল বা টিএপিপি তৈরির কাজ শুরু করা হবে। এটি বাংলাদেশ সরকার এবং চীনা পক্ষ যৌথভাবে প্রণয়ন করবে।’

    সিফাতুল ইসলাম আরও জানান, টিএপিপি প্রণয়নের পর তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই শেষে পরিকল্পনা কমিশনে যাবে। সেখানে পিইসি (প্রজেক্ট ইভালুয়েশন কমিটি) সভায় অনুমোদিত হওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের চূড়ান্ত কার্যক্রম শুরু করবে।

    এর আগে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য চীন সরকার একটি বিশেষজ্ঞ ফার্ম নিয়োগ করেছে। আর এ বিষয়ে সার্বিক তদারকি করে বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। এ ছাড়াও মাউশি থেকে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই তদারকির জন্য একজন কন্টাক্ট পারসন মনোনীত করা হয়েছিল। একই সঙ্গে অধিদপ্তরের ইএমআইএস সেলের সাথে চীনা পর্যবেক্ষক দলের প্রাথমিক কারিগরি আলোচনা সম্পন্ন হয়।

    এদিকে, এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত ১৬ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের প্রস্তাবিত ‘এক শ্রেণিকক্ষ, এক স্মার্ট বোর্ড এবং এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ শীর্ষক কার্যক্রম বাস্তবায়নে অনাপত্তি দেওয়া হয়েছে।

    প্রাথমিকভাবে বগুড়ার বেতগাড়ী মীর শাহ আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং চাঁদপুরের ওবায়দুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে হুয়াওয়ের একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি চাঁদপুর সফর করেছেন বলে জানিয়েছেন গবেষণা কর্মকর্তা মো. সিফাতুল ইসলাম।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব (পরিকল্পনা) তানজিনা শাহরীন বলেন, ‘আগামী অর্থবছর অর্থাৎ জুলাই থেকেই এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করতে চাই। সেই লক্ষ্যেই কাজ চলছে।’
    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এআই ও ক্লাউড প্রযুক্তির এই সংযোজন প্রচলিত মুখস্থ নির্ভর শিক্ষার বদলে শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণধর্মী ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান আহরণে উৎসাহিত করবে, যা ‘আগামী বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

  • সংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ এমপির শফথ

    সংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ এমপির শফথ

    বিডি ডেস্ক:

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়েছেন।

    রোববার (৩ মে) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    সংসদ সচিবালয় জানায়, রাত ৯টায় সংসদ ভবনের পূর্ব ব্লকের লেভেল-১ এ অবস্থিত শপথ কক্ষে এ শপথ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদের স্পিকার নবনির্বাচিত এই নারী জনপ্রতিনিধিদের শপথ বাক্য পাঠ করান। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের এই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ পূর্ণাঙ্গ রূপ পেল।

    এর আগে, গত ৩০ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৪৯ জনের গেজেট প্রকাশ করে।

    বিএনপির ৩৬ নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য (এমপি) হলেন- সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জিবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবীবা, মোসা. সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।

    জামায়াত জোটের ১২ এমপি হলেন- নুরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন্নাহার মুন্নী, নাজমুন নাহার নীলু, মাহফুজা হান্নান, সাজেদা সামাদ, শামছুন্নাহার বেগম, প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ, রোকেয়া বেগম, ডা. মাহমুদা আলম মিতু, তাসমিয়া প্রধান ও প্রকৌশলী মাহবুবা হাকিম।

    এছাড়া স্বতন্ত্র জোটের সুলতানা জেসমিনকে এমপি নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

    এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র শনিবার বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে নুসরাত তাবাসসুমের নাম আইনি প্রক্রিয়া ও আপিলের সময় সংরক্ষণের কারণে গে

    জেট আকারে প্রকাশ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ। ফলে আজ রাতে জাতীয় সংসদে শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেননি তিনি।

  • গণভোট বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিয়েছে সরকার’-বাচ্চু এমপি

    গণভোট বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিয়েছে সরকার’-বাচ্চু এমপি

    নড়াইল প্রতিনিধি

    অবিলম্বে জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কারসহ গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে নড়াইলে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (২ মে) বিকেলে পুরাতন বাসটার্মিনাল চত্বরে মুক্তমঞ্চে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আতাউর রহমান বাচ্চু।

    তিনি বলেন, সরকার জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কারসহ গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে। ভোটের পরে গণভোট বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিয়েছে সরকার। বিএনপির চেয়ারম্যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের সময় জনসভায় গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে কথা বললেও এখন বাস্তবায়নে টালবাহানা করছেন। আমরা আবার কোনো স্বৈরাচার সরকার দেখতে চাই না। জনগণ আর কোনো বৈষম্য দেখতে চায় না। জনগণ আজ হতাশ।

    জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ কায়সারের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন-জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আয়ুব হোসেন খান, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আলমগীর হোসাইন, জামিরুল হক টুটুল, হেমায়েতুল হক হিমু, ড. খান আব্দুস সোবহান, আকিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা আমির হাফেজ আব্দুল্লাহ আল আমিন, পৌর আমির জাকির হোসেন, লোহাগড়া উপজেলা আমির মাওলানা হাদিউজ্জামান, কালিয়া উপজেলা আমির মাওলানা তরিকুল ইসলাম, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ সালাউদ্দিনসহ নেতাকর্মীরা।

    সমাবেশ শেষে গণমিছিল পুরাতন বাস টার্মিনাল চত্বর থেকে শুরু হয়ে রূপগঞ্জসহ শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

  • হাসপাতালেই হাম সংক্রমণ, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা

    হাসপাতালেই হাম সংক্রমণ, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা

    শিশু মো. সানি, বয়স ৯ মাস। শরীরজুড়ে ছোপ ছোপ দাগ ও ফুসকুড়ি। চলছে স্যালাইন। কখনো কখনো শ্বাসকষ্টের জন্য দিতে হচ্ছে অক্সিজেন। এমনকি ক্যানুলা করার জন্য শিশুর মাথার অর্ধেক চুল ফেলে দিতে হয়েছে। সারাক্ষণ কান্নাকাটি করছে। শিশুটির মা মারুফা আক্তার নানাভাবে সান্ত্বনা দিচ্ছেন, কিন্তু কোনোভাবেই কান্না থামছে না। পাশেই দাঁড়ানো বাবা শিশুটির কান্না দেখে নীরব দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছেন। মাঝেমধ্যে তিনিও কোলে নিয়ে কান্না থামানোর চেষ্টা করছেন, তবু থামানো যাচ্ছে না শিশুটিকে। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের (শিশু হাসপাতাল) বিশেষায়িত হাম ওয়ার্ডে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়।

    শিশুটির বাবা ইলিয়াস হোসেন আমার দেশকে জানান, তাদের বাড়ি শরীয়তপুরে। এক মাস আগে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে শিশুটিকে প্রথমে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে শিশু হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করা হয়। তিনি বলেন, ১৫ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর হামের সংক্রমণ দেখা দেয়। এরপর থেকে আমরা এক অন্যরকম যুদ্ধের মধ্যে আছি। এত ছোট বাচ্চা, আবার গুরুতর অসুস্থ। বুকের দুধ পর্যন্ত খাচ্ছে না। যখন কাঁদে, তখন বাবা হিসেবে নিজেকে খুব অসহায় লাগে।

    শুধু এ একটি ঘটনা নয়, শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অন্তত ১০ শিশুর অভিভাবক জানিয়েছেন, তাদের সন্তানরা প্রথমে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছিল, পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অন্য রোগীর সংস্পর্শে এসে হামে আক্রান্ত হয়েছে। এতে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন তারা। এছাড়া আরো অনেক শিশু অন্য রোগের চিকিৎসা নিতে এসে হামের সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছে, ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৬৬ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ১৭ শিশু। জানুয়ারিতে ভর্তি হয়েছিল মাত্র দুই শিশু, ফেব্রুয়ারিতে ছয়, মার্চে ১৩০ শিশু এবং এপ্রিলে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২৮-এ। অর্থাৎ মার্চের তুলনায় এপ্রিলে রোগী ভর্তির হার বেড়েছে ১৫২ দশমিক ৩১ শতাংশ।

    আক্রান্ত শিশুদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ছয় থেকে ৯ মাস বয়সি শিশুÑসংখ্যা ১৫৮, যা মোট আক্রান্তের ৩৩ দশমিক ৯১ শতাংশ। ৯ মাস থেকে দুই বছর বয়সি শিশু ১২৩, ছয় মাসের কম বয়সি শিশু ১০৭, দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সি শিশু ৫৩ এবং পাঁচ বছর বয়সি শিশুর সংখ্যা ২৬। বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৮১ শিশু।

    সরেজমিন দেখা যায়, শিশু হাসপাতালে হামে আক্রান্তদের জন্য আলাদা ‘বিশেষায়িত হাম’ ইউনিট চালু করা হয়েছে। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রসহ (আইসিইউ) মোট ৮০টি শয্যার একটিও খালি নেই। রোগীর চাপ সামলাতে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অধিকাংশ শিশুর বয়স দুই বছরের নিচে। কারো শরীরে স্যালাইন চলছে, কারো নাকে নল, আবার কেউ অক্সিজেন সহায়তায় রয়েছে।

    প্রচণ্ড জ্বর ও ব্যথায় শিশুদের অবিরাম কান্না যেন থামছেই না। পাশে বসে থাকা মা-বাবার চোখে অশ্রু, সন্তানের মাথায় হাত বুলিয়ে কিংবা ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। তবে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে আইসিইউ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। গতকাল দুপুরে আইসিইউয়ের সামনে অপেক্ষা করেও অন্তত পাঁচজন রোগীর স্বজনকে শয্যা না পেয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে। তারা জানান, বাধ্য হয়ে শিশুদের বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে ভর্তি করাতে হয়েছে।

    চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের বাসিন্দা নূরুল ইসলাম বলেন, তার সাত মাসের শিশুকে ১৫ দিন আগে ভর্তি করা হয়। তিনদিন পর অবস্থার অবনতি হয়। মনে হচ্ছিল বাচ্চার প্রাণ বের হয়ে যাবে। চিকিৎসক আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন, কিন্তু সিট খালি ছিল না। অনেক তদবিরের পর তিনদিন পর আইসিইউতে জায়গা পাই। এখনো সেখানে চিকিৎসা চলছে, কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

    মাদারীপুর থেকে আসা আয়েশা বেগম জানান, তার আট মাসের শিশু আবু রায়হান প্রথমে ঠান্ডা-জ্বরে আক্রান্ত হয়, পরে নিউমোনিয়া ধরা পড়ে। অবস্থার অবনতি হলে শিশু হাসপাতালে আনা হয়। এখানে ১৫ দিন পর শরীরে লাল র‍্যাশ ওঠে। চিকিৎসকরা জানান, এটা হাম। এরপর থেকেই হামের চিকিৎসা চলছে। এখন কিছুটা ভালো হলেও পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। তার অভিযোগ, অন্য হামের রোগীর সংস্পর্শ থেকেই তার শিশু আক্রান্ত হয়েছে।

    হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানান, হাম যেহেতু ছোঁয়াচে রোগ, তাই শ্বাস-প্রশ্বাস এবং হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এক রোগী থেকে অন্য রোগীর শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। আর প্রাদুর্ভাব বেশি হওয়ার কারণে পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া সময়মতো টিকা না নেওয়া, অপুষ্টির ঘাটতির কারণেই হামের সংক্রমণ প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে বলেও জানান তারা।

    অন্যদিকে যেসব শিশু হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া কিংবা জন্মগত হৃদরোগে ভুগছে, তাদেরই বেশি মৃত্যু হচ্ছে বলেও জানান চিকিৎসকরা।

    এ বিষয়ে শিশু হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আজহারুল ইসলাম বলেন, বিশেষায়িত হাম ওয়ার্ডে শয্যা বাড়ানো হয়েছে এবং আইসিইউ সুবিধাও রাখা হয়েছে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগী আসায় চাপ বেড়েছে, ফলে সবাইকে শয্যা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবুও সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

    এদিকে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ‘সন্দেহজনক’ হামে আক্রান্ত হয়ে আরো চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যু হয়নি। একই সময়ে ‘সন্দেহজনক’ হামে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ২৪ জন এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৭২ জনের। তাতে সব মিলিয়ে হামের নতুন রোগী এক হাজার ৯৬ জন। এ নিয়ে সরকারি হিসাবে গত ১৫ মার্চ থেকে হাম সন্দেহে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৫। আর এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৪৯ শিশুর। ফলে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৮৪। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

  • মতপ্রকাশে দমন-পীড়ন আর নয়; প্রধানমন্ত্রী

    মতপ্রকাশে দমন-পীড়ন আর নয়; প্রধানমন্ত্রী

    বিডি ডেস্ক:

    কথা বললেই পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে এমনটি আর চলবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, মানুষ যদি কোন সমস্যায় পড়ে তবে যেনো তার সমস্যার কথা বলতে পারে। অনেক হয়েছে মতপ্রকাশে দমন-পীড়ন চলতে দেওয়া যাবেনা। মানুষের স্বাধীণতা থাকতে হবে।

    শনিবার সন্ধ্যায় সিলেট শিল্পকলা একডেমিতে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, একটা কথা বললো, আর পুলিশ এসে ধরে নিয়ে গেলো। ‘নো’- মানুষ এটা চায় না। কেউ যদি কোনো অপরাধ করে তবে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেটা অন্য ব্যাপার।

    তিনি বলেন, আজকে এই রাস্তায় এতো মানুষ ভিড় করলো, তারা তো সবাই বিএনপি করে না, তবু কেনো রাস্তায় নেমে এলো, কারণ মানুষ মনে করে, বিএনপি এখনো সঠিক পথে আছে। তাই মানুষ রাস্তায় নেমে তার সমর্থন জানিয়েছে। কিন্তু এই সমর্থন ধরে রাখতে পরিশ্রম করতে হবে। ছাড় দিতে হবে।

    ছাড় দেওয়ার উদাহরণ টেনে তিনি নেতা-কর্মীদের বলেন, আপনি ক্ষমতাসীন দলে কর্মী এই জিনিসটা মাথায় আনা যাবে না। এটি মাথায় আনলেই বরবাদ হয়ে যাবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। সে নির্বাচনে সব জায়গায় একজন ক্যান্ডিডেট দিতে হবে। তার আগে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, নেতা-কর্মীদের আচরণে জনগন যাতে অসন্তুষ্ট না হয় সেদিকে সবার আগে খেয়াল রাখতে হবে। সবাইকে দলীয় শৃঙ্খলা মেনে চলারও নির্দেশ দেন তিনি।

    সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর সভাপতিত্বে এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী এমপি ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীর সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

    মতবিনিময় সভায় শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী শহিদ উদ্দন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংসদের হুইপ জিকে গৌছ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন মিলন, মিফতাহ সিদ্দিকীসহ সিলেটে বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যগণ, সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • চকরিয়ায় খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে বন্য হাতি, পাকা ধান নিয়ে চিন্তায় কৃষক

    চকরিয়ায় খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে বন্য হাতি, পাকা ধান নিয়ে চিন্তায় কৃষক

    এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাকা ধান রক্ষায় রাত জেগে পাহারা দেন। পাহারা দিতে গিয়ে অনেক সময় বন্য হাতির আক্রমণে অনেক জায়গায় কৃষকদের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। গত এক সপ্তাহ ধরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পাহাড়িয়া এলাকায় খাদ্যের সন্ধানে পাহাড় থেকে নেমে আসছে বন্য হাতি। এরা কখনো দলবেঁধে আবার কখনো দলছুট হয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। এতে এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাকা ধান নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

    শনিবার (২ মে) বিকেল ৪টার দিকে দলছুট হয়ে ডুলহাজারা পূর্ব মাইজপাড়া এলাকার লোকালয়ে ঢুকে পড়ে একটি বন্য হাতি। তবে ধানের কোনো ধরনের ক্ষতি করার আগেই হাতিটিকে তাড়াতে সক্ষম হয় এলাকাবাসী।

    স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর বোরো ধান কাটার মৌসুমে চকরিয়া উপজেলার পাহাড়িয়া, সুরাজপুর, মানিকপুর, ডুলাহাজারা, ফাঁসিয়াখালী, বরইতলী ও হারবাং ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় থেকে বন্য হাতি নেমে আসে। হাতিগুলো পাকা ধান পায়ে পিষ্ট করে ও খেয়ে নষ্ট করে। এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পাকা ধান রক্ষায় রাত জেগে পাহারা দেন। পাহারা দিতে গিয়ে অনেক সময় বন্য হাতির আক্রমণে অনেক জায়গায় কৃষকদের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে।

    আবার কৃষকরাও বন্য হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ফসলি জমির চারদিকে কাঁটাতারে ঘেরা, বিদ্যুতায়িত করে রাখাসহ বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে গিয়ে অনেক বন্য হাতিরও মৃত্যু হয়। আবার সেই বিদ্যুতায়িত তারে আটকা পড়ে অনেক কৃষকের মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে।

    পার্শ্ববর্তী বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা ও আলীকদম উপজেলায় এক শ্রেণির অবৈধ ব্যবসায়ী বনের গাছপালা কেটে ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছেন। তারা বনবিভাগের কর্মীদের সহায়তায় অবাধে বন ধ্বংস করছেন। ফলে বন্য হাতির আবাসস্থল নষ্ট হচ্ছে। আর এ কারণেই বন্য হাতি বসবাসের সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকায় ও খাদ্যের অভাবে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে বলে জানান অভিজ্ঞ মহল।

    ডুলাহাজারার স্থানীয় সংবাদকর্মী মোহাম্মদ শাহ আলম জানান, ডুলাহাজারার পূর্ব মাইজপাড়া এলাকার লোকালয়ে আজ (শনিবার) বিকেল ৪টার দিকে দলছুট একটি বন্য হাতি ঢুকে পড়ে। স্থানীয় লোকজন বিভিন্ন কৌশলে হাতিটিকে তাড়াতে সক্ষম হয়। এ সময় হাতিটি এলাকায় তেমন ক্ষয়-ক্ষতি করেনি।

  • ইরানি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ১৬ মার্কিন ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত

    ইরানি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ১৬ মার্কিন ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত

    ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে অবস্থিত অন্তত ১৬টি মার্কিন ঘাঁটি সামরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী আগ্রাসনের জবাবে ইরানের পাল্টা হামলায় এসব স্থাপনা তছনছ হয়ে যায়।

    স্যাটেলাইট চিত্র, ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন এবং মার্কিন ও উপসাগরীয় সূত্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশ কয়েকটি স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে কিছু সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়ন রয়েছে। কিছু স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে বন্ধ করার মতো অবস্থায়, আবার কিছু কৌশলগত কারণে মেরামতের উপযোগী। ইরানি হামলাগুলো প্রধানত উন্নত রাডার সিস্টেম, যোগাযোগ অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামরিক বিমানকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়।

    জর্ডানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার থাড (THAAD)-এর সঙ্গে যুক্ত রাডার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন ঘাঁটির রাডার স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের একটি বিমান ঘাঁটিতে হামলায় একটি মার্কিন বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি (E-3 Sentry) নজরদারি বিমান ধ্বংস হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    পেন্টাগনের ঘোষিত ব্যয়ের তুলনায় যুদ্ধের প্রকৃত খরচ অনেক বেশি হতে পারে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত কম্পট্রোলার জুলস হার্স্ট তৃতীয় আইনপ্রণেতাদের জানান, ইরানের সঙ্গে এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত মার্কিন করদাতাদের ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। তবে সূত্রগুলো বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং সরঞ্জাম প্রতিস্থাপন যোগ করলে মোট ব্যয় ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

    কংগ্রেসের একজন কর্মকর্তা নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানান, শুধু যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর মেরামতেই প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে।

    মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কংগ্রেসে শুনানির সময় স্পষ্ট করেননি যে অবকাঠামো মেরামতের খরচ সরকারি হিসাবের অন্তর্ভুক্ত কি না। পরে হার্স্ট স্বীকার করেন, বিদেশে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, পুনর্গঠনের সম্ভাব্য ব্যয় ২০২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

    যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ এই সংঘাত সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বাজেট চেয়েছে।

    যুদ্ধের প্রভাব জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা এবং ইরানের বন্দর অবরোধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু এলাকায় গ্যাসোলিনের দাম প্রতি গ্যালন ৮ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।#

  • ইরানের জন্য স্থল পথ খুললো পাকিস্তান

    ইরানের জন্য স্থল পথ খুললো পাকিস্তান

    হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌ-অবরোধ এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর বিধিনিষেধের ফলে করাচি বন্দরে আটকা পড়া হাজার হাজার কন্টেইনার গন্তব্যে পৌঁছাতে ছয়টি স্থল ট্রানজিট রুট খুলে দিয়েছে পাকিস্তান।

    গত ২৫ এপ্রিল পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পণ্য ট্রানজিট আদেশ-২০২৬ জারি করেছে, যা অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে। এই আদেশ অনুযায়ী, তৃতীয় দেশ থেকে আসা পণ্য পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে সড়কপথে পরিবহন করে ইরানে পৌঁছে দেয়া যাবে।

    ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দুই মাস ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার এটি সর্বশেষ সংযোজন। এই পদক্ষেপ নিয়ে ইরান প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি এবং ইসলামাবাদে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস থেকেও তথ্য পাওয়া যায়নি।

    এর মধ্যে গোয়াদর-গাবদ করিডোরটি সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত, যার মাধ্যমে মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে ইরানের সীমান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে, যেখানে করাচি বন্দর থেকে ইরানের সীমান্তে পৌঁছাতে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা সময় লাগত। কর্মকর্তাদের মতে, করাচি বন্দরের খরচের তুলনায় গোয়াদার-গাবদ রুটটি ৪৫ থেকে ৫৫ শতাংশ পরিবহন খরচ কমাতে পারে।

  • মধ্যপ্রাচ্যে সাড়ে ৮ বিলিয়নের অস্ত্র বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রের

    মধ্যপ্রাচ্যে সাড়ে ৮ বিলিয়নের অস্ত্র বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রের

    মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের কাছে ৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েল, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে এসব অস্ত্র বিক্রি করতে যাচ্ছে দেশটি।

    শুক্রবার (০১ মে) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর ৯ সপ্তাহ পর এ সিদ্ধান্ত এসেছে। এছাড়া বর্তমানে কার্যকর নাজুক যুদ্ধবিরতির তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় পেরিয়েছে।

    পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ এসব দেশের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে অস্ত্র বিক্রি প্রয়োজন। এজন্য কংগ্রেসের পর্যালোচনার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    ঘোষণায় বলা হয়, কাতারের কাছে ৪ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলারের প্যাট্রিয়ট বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ সেবা এবং ৯৯২ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারের অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেমস (এপিকেডব্লিউএস) বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কুয়েতের কাছে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের সমন্বিত যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ইসরায়েলের কাছে ৯৯২ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারের এপিকেডব্লিউএস এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ১৪৭ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারের এপিকেডব্লিউএস বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা এবং লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

    পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, কাতার, ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে এপিকেডব্লিউএস বিক্রির প্রধান ঠিকাদার ছিল বিএই সিস্টেমস। অন্যদিকে কুয়েতের কাছে সমন্বিত যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং কাতারের কাছে প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ সেবার ক্ষেত্রে প্রধান ঠিকাদার ছিল আরটিএক্স করপোরেশন ও লকহেড মার্টিন। এছাড়া কুয়েতের চুক্তিতে নর্থরপ গ্রুমানও একটি প্রধান ঠিকাদার হিসেবে যুক্ত ছিল।

    বছরের পর বছর ধরে কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক নিয়ে ওয়াশিংটন সমালোচনার মুখে পড়েছে। মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, এসব দেশে সংখ্যালঘু, সাংবাদিক, ভিন্নমতাবলম্বী, এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায় ও শ্রমিকদের ওপর নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও নির্যাতন রয়েছে। তবে এসব দেশ নিজেদের বিরুদ্ধে আনা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

    ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। বিশেষ করে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কারণে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। এতে কয়েক দশ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে এবং কিছু গবেষক ও জাতিসংঘের একটি তদন্তে এটিকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ইসরায়েল বলছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলায় ১,২০০ মানুষ নিহত হওয়ার পর তারা আত্মরক্ষার জন্যই এই পদক্ষেপ নিয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছে।

  • ইঁদুরের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ অস্ট্রেলিয়া

    ইঁদুরের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ অস্ট্রেলিয়া

    ইঁদুরের উপদ্রবে অতিষ্ঠ অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার সরকার শনিবার জানিয়েছে, ইঁদুরের উৎপাত প্রকট আকার ধারণ করেছে। এর প্রভাব খাদ্য উৎপাদনে পরতে পারে। সংকট মোকাবিলায় তারা খামারগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে চেয়েছে।

    সিডনি থেকে টেলিভিশনে দেওয়া এক মন্তব্যে জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন বলেন, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় ইঁদুরের পরিস্থিতি নিয়ে আমরা স্পষ্টতই উদ্বিগ্ন। এপ্রিল মাসে অস্ট্রেলিয়ার গম কাটার মৌসুম শুরু হয়। এ সময়ে ইঁদুরের উৎপাতও বৃদ্ধি পায়। প্রচুর ফসল নষ্ট করে ফেলে ইঁদুরে। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের ৪র্থ গম উৎপাদনকারী দেশ।

    এর আগে ১৯৯৩ সালে তারা ইঁদুরের ভয়াবহ আক্রমণের শিকার হয়। ইঁদুরগুলো ফসলের পাশাপাশি শূকর, মুরগি এমনকি মানুষকেও আক্রমণ করতে শুরু করে। উৎপাত বাড়ায় সরকারের পক্ষ থেকে খামারিদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ইঁদুর নিধনে আরো শক্তিশালী পদ্ধতি ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে রয়টার্স।

    সরকার উদ্বেগ জানিয়ে বলেছে, ইঁদুরের মহামারী সরকারের জন্য, কৃষকের জন্য এবং পুরো শিল্পের জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে তুলেছে।

  • জার্মানি থেকে ৫০০০ মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র: পেন্টাগন

    জার্মানি থেকে ৫০০০ মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র: পেন্টাগন

    ন্যাটো মিত্র জার্মানি থেকে ৫০০০ সেনা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার এ ঘোষণা দিয়েছে পেন্টাগন। ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইউরোপের মধ্যে মতবিরোধ তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে আরও বলা হয়, এ সপ্তাহের শুরুতে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিক মের্ৎসের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার পর সেনা কমানোর হুমকি দেন ট্রাম্প। মের্ৎস বলেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ‘অপমানিত’ হচ্ছে এবং ওয়াশিংটনের কোনো স্পষ্ট প্রস্থান কৌশল তিনি দেখছেন না।

    পেন্টাগনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জার্মানির সাম্প্রতিক মন্তব্যকে অযৌক্তিক ও অপ্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট এই ধরনের প্রতিকূল মন্তব্যের যথাযথ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। পেন্টাগন জানায়, আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে এই সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হবে। বর্তমানে জার্মানিতে প্রায় ৩৫,০০০ সক্রিয় মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে- যা ইউরোপে সর্বোচ্চ। এই পদক্ষেপের ফলে ইউরোপে মার্কিন সেনার সংখ্যা ২০২২ সালের আগের স্তরে ফিরে যাবে। ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সেনা সংখ্যা বাড়িয়েছিলেন।

    একই কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন চায় ইউরোপ নিজেই তার নিরাপত্তার প্রধান দায়িত্ব নিক। তবে এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই ট্রাম্পের সেই প্রবণতার অংশ হিসেবে দেখছেন, যেখানে তিনি মিত্রদের অবিশ্বস্ততা মনে করলে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখান। গত সপ্তাহে রয়টার্স এক অভ্যন্তরীণ পেন্টাগন ইমেইলের খবর প্রকাশ করে, যেখানে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে যথেষ্ট সমর্থন না দেয়ায় ন্যাটো মিত্রদের শাস্তি দেয়ার বিভিন্ন বিকল্প উল্লেখ ছিল। এর মধ্যে স্পেনকে ন্যাটো থেকে স্থগিত করা এবং ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে বৃটেনের দাবির বিষয়ে মার্কিন অবস্থান পুনর্বিবেচনার কথাও ছিল।

    আরও সেনা প্রত্যাহার হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, ইতালি ও স্পেন থেকেও সেনা সরানোর বিষয়টি তিনি সম্ভবত বিবেচনা করছেন। গত মাসে তিনি স্পেনের ওপর পূর্ণ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার হুমকিও দেন, কারণ দেশটি তাদের ঘাঁটি ও আকাশসীমা ইরানে হামলার জন্য ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। স্পেনে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দুটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। তা হলো রোটা নৌঘাঁটি এবং মোরন বিমানঘাঁটি।

    ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গেও ট্রাম্পের বিরোধ তৈরি হয়েছে। একসময় তার সমর্থক হলেও ট্রাম্প বলেন, মেলোনির সাহসের অভাব রয়েছে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে হতাশ করেছেন। ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করেছেন। কারণ তারা হরমুজ প্রণালিতে নৌবাহিনী পাঠিয়ে সহায়তা করছে না। হরমুজ প্রণালি বিশ্বব্যাপী তেল পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ, যা ইরান সংঘাতের কারণে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

    পেন্টাগনের ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট মিত্রদের বক্তব্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে সহায়তা না করার বিষয়ে তার হতাশা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। চ্যান্সেলর মের্ৎস বলেছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যখন ইরানে হামলা শুরু করে, তখন জার্মানি ও ইউরোপকে আগে থেকে জানানো হয়নি। পরে তিনি ট্রাম্পকে সরাসরি তার সংশয় জানিয়ে দেন। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই জার্মানিতে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমাতে চান।

    জার্মান সামরিক কর্মকর্তারা জানান, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত তাদের জন্য বিস্ময়কর। কারণ একই দিনে পেন্টাগনে তাদের সঙ্গে গঠনমূলক বৈঠক হয়েছিল। তাদের মতে, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করতে জার্মানি অন্যান্য মিত্রদের তুলনায় বেশি ভূমিকা রেখেছে, যেমন ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি এবং আকাশপথ ব্যবহারের অনুমোদন দেয়া। জার্মানিতে ল্যান্ডস্টুলে একটি বড় সামরিক হাসপাতালও রয়েছে। এদিকে ২০২৭ সালের বাজেটে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনাও অনুমোদন করেছে জার্মান সরকার।

  • অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে আইআরজিসির ১৪ সদস্য নিহত

    অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে আইআরজিসির ১৪ সদস্য নিহত

    আন্তর্জাতিক নিউজ যডস্ক:

    উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জানজান প্রদেশে অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ বিস্ফোরণে আইআরজিসির ১৪ সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন দু’জন। বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে,, নিহতরা একটি বিশেষায়িত ইউনিটের সদস্য। তাদের দায়িত্ব ছিল ওই এলাকায় ছড়িয়ে থাকা অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ অপসারণ করা। সংস্থাটি জানায়, এসব অবিস্ফোরিত অস্ত্রের কারণে প্রায় ১২০০ হেক্টর কৃষিজমি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

  • আমতলীতে খাল খনন কাজের উদ্ধোধন করলেন এমপি অলি

    আমতলীতে খাল খনন কাজের উদ্ধোধন করলেন এমপি অলি

    ‘অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খাল খনন প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দু’টি ইউনিয়নের কয়েক হাজার কৃষক উপকৃত হবেন।’

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খাল খনন কর্মসূচির আওতায় বরগুনার আমতলীতে দু’টি খান খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (২ মে) ওই খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মো: মাহমুদুল হোসাইন অলি উল্লাহ।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী, আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মো: হাসনাইন পারভেজ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: মাসুম, কুকুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: বোরহান উদ্দিন মাসুম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো: জালাল উদ্দিন ফকির, সদস্য সচিব তুহিন মৃধা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আমতলী শাখার সভাপতি মাওলানা ওমর ফারুক জেহাদী, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো: কবির ফকির প্রমুখ।

    সংসদ সদস্য মাওলানা মো: মাহমুদুল হোসাইন অলি উল্লাহ বলেন, ‘অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খাল খনন প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দু’টি ইউনিয়নের কয়েক হাজার কৃষক উপকৃত হবেন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠির উন্নয়নেই প্রধানমন্ত্রী কাজ করে যাচ্ছেন।’

    উল্লেখ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর ৪ এপ্রিল কুকুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম কেওয়াবুনিয়া খালের তিন কিলোমিটার খননের জন্য ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা এবং হলদিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া খালের দুই কিলোমিটার খননের জন্য ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা বরাদ্দ দেয়।

    খাল খননে ৩৯৭ জন হতদরিদ্র উপকারভোগী কাজ করবেন। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন উন্নয়ন বাস্তবায়ন কমিটি এ খাল খননে সহায়তা করবেন।

  • সংরক্ষিত নারী আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ রোববার

    সংরক্ষিত নারী আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ রোববার

    গত ৩০ এপ্রিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৪৯ জন সংসদ সদস্যের নাম ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান রোববার (৩ মে) রাত ৯টায় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে (পূর্ব ব্লক, লেভেল-১) অনুষ্ঠিত হবে।

    আজ শনিবার জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এর আগে, গত ৩০ এপ্রিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৪৯ জন সংসদ সদস্যের নাম ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

    প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনগুলোতে রাজনৈতিক দল ও জোটের অনুকূলে বণ্টনকৃত আসনের ভিত্তিতে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তাদের জোট থেকে ৩৬ জন নির্বাচিত হয়েছেন।

    পাশাপাশি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট থেকে ১২ জন এবং ৬ জন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত জোট থেকে একজন নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

    বিএনপি জোট থেকে নির্বাচিতরা হলেন- সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মোসা: ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জিবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবীবা, মোসা: সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, মোসা: সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, মোসা: সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।

    জামায়াত জোট থেকে নির্বাচিতরা হলেন- নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন্নাহার, মোসা: নাজমুন নাহার, মাহফুজা হান্নান, সাজেদা সামাদ, শামছুন্নাহার বেগম, মারদিয়া মমতাজ, রোকেয়া বেগম, মাহমুদা আলম মিতু, তাসমিয়া প্রধান ও মাহবুবা হাকিম।

    এ ছাড়া স্বতন্ত্র জোট থেকে সুলতানা জেসমিন নির্বাচিত হয়েছেন।

    অপর দিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতির মনোনয়নপত্র আজ বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

  • ‘কুমির কীভাবে বাংলাদেশি, ভারতীয়কে আলাদা করবে?’

    ‘কুমির কীভাবে বাংলাদেশি, ভারতীয়কে আলাদা করবে?’

    সীমান্তের নদীবেষ্টিত এলাকাগুলো দিয়ে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে এক বিতর্কিত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার যেখানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানে কুমির ও বিষধর সাপের মতো হিংস্র প্রাণী ছেড়ে দেওয়া হবে। যেটিকে ‘প্রাকৃতিক বাধা’ তৈরির পদক্ষেপ বলা হচ্ছে।

    শরণার্থী ও অভিবাসীদের ঠেকাতে ভারত সরকারের এমন পরিকল্পনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষক ও অধিকার কর্মীরা। উত্তর-পূর্ব এবং পূর্ব ভারতের সীমান্ত রাজ্যগুলো নিয়ে গবেষণা করছেন অংশুমান চৌধুরী। তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। ধরা যাক, বিষধর সাপ বা কুমির ছেড়ে দেওয়া হলো। কিন্তু কে বাংলাদেশি আর কে ভারতীয়- সে পার্থক্য এই প্রাণীগুলো কীভাবে করবে?

    অংশুমান চৌধুরীর মতে, নথিপত্রহীন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এটি চরম নিষ্ঠুরতা। এটি মূলত মানুষের বিরুদ্ধে প্রকৃতি ও প্রাণীকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার একটি নতুন পদ্ধতি। যেটিকে ‘বায়োপলিটিক্যাল’ সহিংসতা বলা যেতে পারে। আলজাজিরাকে অংশুমান চৌধুরী বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দুর্বল জায়গা হলো নদী। মূলত নদীপথে স্থায়ী বেড়া দেওয়া প্রায় অসম্ভব। বিএসএফ-এর এই পুরনো উপলব্ধি থেকেই এমন পরিকল্পনা সামনে এসেছে।

    বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের কিছু অংশ অত্যন্ত দুর্গম এলাকায়। নয়াদিল্লির দাবি, এই দীর্ঘ সীমান্তের বেশ কিছু এলাকায় স্থায়ী বেড়া নির্মাণ করা প্রায় অসম্ভব। গত ২৬ মার্চ ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) এক অভ্যন্তরীণ বার্তায় পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ফ্রন্টের সদর দপ্তরগুলোকে একটি নির্দেশ দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়েছে, সীমান্তের যেসব নদীপথ বেড়াহীন, সেখানে ‘সরীসৃপ মোতায়েনের সম্ভাব্যতা’ যাচাই করতে হবে।

    কিন্তু এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে সীমান্তের দুই পাশের স্থানীয় বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। নদী ওপর নির্ভরশীল সাধারণ মানুষের প্রাণহানির শঙ্কা আছে। এছাড়া কৃত্রিমভাবে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় বড় শিকারি প্রাণী ছেড়ে দিলে তাতে বাস্তুসংস্থান ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ারও ঝুঁকি আছে।

    ‘কুমিরের মুখে ঠেলে দেওয়ার মানে নেই’
    ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার কৌশল ও লিয়াজোঁ প্রধান রথীন বর্মন আলজাজিরাকে বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নদীবেষ্টিত এলাকাগুলোতে কুমির বাস করে না। এই প্রাণীগুলোকে যদি সীমান্তে নিয়ে আসা হয়, তবে সেগুলো টিকে থাকতে পারবে না।

    রথীন বর্মন বলেন, ‘প্রথমত, এই প্রাণীগুলো দ্রুত মারা যাবে। তথাকথিত বিষধর সাপের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।’ সীমান্তের জলাভূমিগুলো প্রায়ই প্লাবিত হয়। ফলে এসব বিষধর সাপ লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ারও শঙ্কা আছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, বিশেষ করে যারা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন তারা প্রাণের ঝুঁকিতে পড়বেন।

    ভারতের মানবাধিকার কর্মী হর্ষ মান্দার বলছেন, এ ধরণের নীতি ভারতীয় রাষ্ট্রের নিষ্ঠুরতাকেই প্রতিফলিত করে। নদীতে থাকা একজন অভিবাসীকে কুমির, সাপ বা বন্দুকের মুখে ঠেলে দেওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে না।

    পরিকল্পনার নেপথ্যে কী?
    ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকাগুলো পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও মিজোরাম রাজ্যের পাশ দিয়ে গেছে। নয়াদিল্লি ইতোমধ্যে প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে। বাকি অংশগুলো মূলত জলাভূমি ও নদীবেষ্টিত এলাকা। সেখানে সীমান্তের উভয় পাশে জনবসতি আছে।

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, নথিপত্রহীন অভিবাসীরা ভারতের জন্য এক বড় হুমকি। তাদের দাবি, এই অভিবাসীদের কারণে ভারতের জনতাত্ত্বিক কাঠামো বদলে যাচ্ছে।

    মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের মতে, মোদি সরকার এই বয়ানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ভারতের ধর্মীয় সংখ্যালঘু, বিশেষ করে দেশটির পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বাঙালি মুসলমানদের হয়রানি করছে। বিভিন্ন সময়ে বিএসএফ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বন্দুকের মুখে ভারতীয় মুসলমানদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার খবর প্রকাশ পেয়েছে।

    ভারতে বর্তমানে নথিপত্রহীন অভিবাসীর সংখ্যা কত, সেটির আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান নেই। মানবাধিকার কর্মী হর্ষ মান্দার বলছেন, নথিপত্রহীন অভিবাসীর সংখ্যা যদি বেড়েও থাকে, তবে ভারতের উচিত ছিল বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের হস্তান্তর করা। কিন্তু ভারত এখন তাদের মোকাবিলায় ‘বিচারবহির্ভূত পদ্ধতি’ বেছে নিয়েছে।

    অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, ভারত সরকার সাধারণ সংখ্যালঘুদেরকে (বিশেষ করে মুসলিমদের) অভিবাসীর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলে; তাদের ওপর অন্যায় আচরণ করার অজুহাত হিসেবে এই নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

    বিশ্বের কোথাও নজির আছে?
    আন্তর্জাতিক সীমানা পাহারা দেওয়ার জন্য প্রাকৃতিক শিকারি প্রাণী মোতায়েন করার কোনো আধুনিক নজির বিশ্বে নেই। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম দফায় প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প এ জাতীয় ধারণা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন বলে জানা যায়।

    তখন বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ট্রাম্প সীমান্তে সাপ বা অ্যালিগেটর (কুমির সদৃশ প্রাণী) ভর্তি পরিখা খননের মতো পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছিলেন। তবে ট্রাম্প এসব প্রতিবেদন অস্বীকার করে বিষয়টিকে ‘ভুয়া খবর’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি তখন বলেছিলেন, ‘আমি সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়ে কঠোর হতে পারি, কিন্তু এতটা কঠোর নই।’

  • অং সান সু চি আবার গৃহবন্দী

    অং সান সু চি আবার গৃহবন্দী

    মিয়ানমারের সাবেক নেত্রী অং সান সু চিকে কারাগার থেকে গৃহবন্দী হিসেবে স্থানান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার সু চির আইনজীবী বলেছিলেন, মিয়ানমার সরকার তার মক্কেলের সাজার মেয়াদ ছয় ভাগের এক ভাগ কমিয়েছে। তবে সু চি তার বাকি সাজা গৃহবন্দী অবস্থায় ভোগ করতে পারবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ২০২১ সালে মিন অং হ্লাইং এক সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। ৮০ বছর বয়সী এই নেত্রী রাজধানী নেপিডোর একটি সামরিক কারাগারে বন্দী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল। ওই সময় থেকে জান্তা সরকারকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন মিন অং হ্লাইং। ৩ এপ্রিল তিনি মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।মিন অং হ্লাইং এক বিবৃতিতে বলেন, সু চির অবশিষ্ট সাজা ‘নির্ধারিত বাসস্থানে’ কাটানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দুজন সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে তার একটি ছবি প্রকাশিত হয়েছে। তবে এই ঘোষণায় আশ্বস্ত হতে পারছেন না সু চির ছেলে কিম অ্যারিস। তিনি বলেন, মা বেঁচে আছেন কি না, তারও কোনো প্রমাণ তার কাছে নেই। প্রকাশিত ছবিটিকে তিনি ‘অর্থহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। কারণ, এটি ২০২২ সালে তোলা।

  • ১১ দেশকে নিয়ে বিশাল সামরিক মহড়ার ঘোষণা ভারতের

    ১১ দেশকে নিয়ে বিশাল সামরিক মহড়ার ঘোষণা ভারতের

    প্রতিবেশী ১১ দেশকে নিয়ে বিশাল সামরিক মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে ভারত। চলতি মাসে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে এ মহড়া চালাবে দেশগুলো। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় সেনাবাহিনী মেঘালয়ের উমরোইতে অবস্থিত ফরেন ট্রেনিং নোডে প্রথমবারের মতো বহুজাতিক সামরিক মহড়া ‘প্রগতি’ আয়োজন করতে যাচ্ছে। আগামী ১৮ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এ মহড়া চলবে। এতে ১১টি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের সামরিক প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। এই মহড়ার লক্ষ্য হলো প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা, পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধি করা এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে আস্থা গড়ে তোলা।

    ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এই উদ্যোগ যৌথ নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি সবার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (জনসংযোগ) বিভাগ জানিয়েছে, এই মহড়া আঞ্চলিক বাহিনীগুলোর মধ্যে সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে।

    টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এই মহড়ায় লাওস, মিয়ানমার, সিশেলস, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, নেপাল, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ভুটান অংশ নিচ্ছে। মহড়ার মূল লক্ষ্য বিদ্রোহ দমন এবং সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম। এতে যৌথ প্রশিক্ষণ ও প্রতিরক্ষা কূটনীতির ওপর জোর দেওয়া হবে। এটি প্রতিবেশী দেশ ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির অংশ, যেখানে সক্ষমতা উন্নয়ন ও যৌথ কার্যক্রম পরিচালনার দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মহড়ার মাধ্যমে ভারতীয় সেনাবাহিনী দ্বিপাক্ষিক প্রশিক্ষণ থেকে সরে এসে বহুপাক্ষিক বা কনসোর্টিয়ামভিত্তিক অংশগ্রহণের দিকে এগোচ্ছে। ওয়ারগেমের পাশাপাশি এই আয়োজনে দুই দিনের শিল্প প্রদর্শনী করা হবে। এতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সক্ষমতা তুলে ধরা হবে এবং আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে শিল্প খাতে অংশীদারিত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।

  • ইরানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়, আইনি জটিলতার মুখে ট্রাম্প

    ইরানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়, আইনি জটিলতার মুখে ট্রাম্প

    আন্তর্জাতিকনিউজ যডস্ক:

    ইরানে হামলা শুরুর দুই মাস পেরিয়ে গেছে। অস্ত্রবিরতি চললেও যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়নি। এ অবস্থায় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সংক্রান্ত সাংবিধানিক নিয়মের মুখোমুখি হতে হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে।

    যুদ্ধের উদ্দেশে একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর নির্বাহী ক্ষমতায় সর্বোচ্চ ৬০ দিন সেনা মোতায়েন রাখতে পারেন। এই সময় শেষ হলে সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে এই সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা। তবে এখনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

    কংগ্রেসের বেঁধে দেওয়া এই সময়সীমার তোয়াক্কা না করার ইঙ্গিত দিয়েছে হোয়াইট হাউস। ফলে নতুন করে হামলার শঙ্কায় বৃহস্পতিবার শেষ রাতের দিকে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছিল ইরান।

    আইআরজিসি ঘনিষ্ঠ বার্তা সংস্থা তাসনিম ও ফার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী তেহরানের কিছু এলাকায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শব্দ শোনা গেছে। প্রায় ২০ মিনিট ধরে ‘ছোট বিমান ও নজরদারি ড্রোন’ লক্ষ্য করে এই ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছিল। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

    ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সময়ে প্রতিনিধি পরিষদে যুদ্ধের মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমোদন নেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন এবং কংগ্রেসের মধ্যে এক ধরনের সাংবিধানিক বিরোধের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

    গত মার্চের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর হামলার বিষয়টি কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিলেন। তখন থেকেই আইন অনুযায়ী ৬০ দিনের সময়সীমা গণনা শুরু হয়। নিয়ম অনুযায়ী, আইনপ্রণেতারা অতিরিক্ত সময়ের অনুমোদন না দিলে প্রশাসনকে হামলা বা যুদ্ধ বন্ধ করতে হয়।

    ডেমোক্র্যাটদের দাবি, প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে নড়বড়ে আইনি অবস্থানের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন। এই সময়সীমা পার হয়ে গেলে তিনি আইনত অপরাধী সাব্যস্ত হবেন। সিনেটে ডেমোক্র্যাটিক দলের নেতা চাক শুমার রিপাবলিকানদের প্রতি যুদ্ধ বন্ধে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ৬০ দিনের এই সময়সীমা পার হওয়ার পর ট্রাম্প ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’ লঙ্ঘন করছেন বলে গণ্য করা হবে।

    তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ। তাদের যুক্তি, যেহেতু গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে এবং কোনো হামলাও হয়নি, সুতরাং ওইদিনই ৬০ দিনের সময়সীমা গণনা বন্ধ হয়ে গেছে। এএফপিকে প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘ওয়ার পাওয়ার রেজোলিউশন’ অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাত যুদ্ধবিরতি কার্যকরের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে। গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আর কোনো গোলাগুলি বা হামলা হয়নি।

  • পেন্টাগন মিথ্যা বলছে, যুদ্ধ ব্যয় ১০০ বিলিয়ন ডলার: ইরান

    পেন্টাগন মিথ্যা বলছে, যুদ্ধ ব্যয় ১০০ বিলিয়ন ডলার: ইরান

    আর্ন্তজাকতক নিউজ যেস্ক:

    ইরানের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের ব্যয় নিয়ে পেন্টাগন মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে বলে দাবি করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ২৮ ফেব্রুয়ারি নেতানিয়াহুর সঙ্গে মিলে ডোনাল্ড ট্রাম্প যে যুদ্ধ শুরু করেছেন, তার প্রকৃত অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্র আড়াল করছে বলে অভিযোগ তার।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি লিখেছেন, ‘নেতানিয়াহুর এই জুয়ায় এখন পর্যন্ত আমেরিকার সরাসরি ১০০ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্র যা দাবি করছে, প্রকৃত খরচ তার চার গুণ বেশি।’

    আরাগচি আরো দাবি করেন, মার্কিন করদাতাদের জন্য এই যুদ্ধের পরোক্ষ খরচ আরো অনেক বেশি।

    তিনি বলেন, ‘প্রতিটি আমেরিকান পরিবারের মাসিক খরচ বর্তমানে ৫০০ ডলার এবং এটি দ্রুত বাড়ছে।’

    ‘ইসরাইল ফার্স্ট’ নীতি সবসময় ‘আমেরিকা লাস্ট’ হিসেবেই প্রমাণিত হয়।’ মূলত যুদ্ধের বিশাল আর্থিক বোঝা সাধারণ আমেরিকানদের ওপর পড়ছে উল্লেখ করে আরাগচি ওয়াশিংটনের বর্তমান নীতিকে কটাক্ষ

  • মার্কিন সংসদীয় শুনানিতে ট্রাম্পের মানসিক সুস্থতা নিয়ে তুমুল বিতর্ক

    মার্কিন সংসদীয় শুনানিতে ট্রাম্পের মানসিক সুস্থতা নিয়ে তুমুল বিতর্ক

    ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আয়োজিত এক সংসদীয় শুনানিতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি সারা জ্যাকসের মধ্যে তুমুল তর্কবিতর্ক হয়েছে। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সারা। পাশাপাশি হেগসেথের সুস্থতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা উচিত কি না তা জানতে চান।

    সারা জ্যাকবস কংগ্রেসে ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান ডিয়েগোর প্রতিনিধি। নিজের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট ও ইউটিউব চ্যানেলে শুনানির প্রশ্নোত্তর পর্বের ৫ মিনিটের একটি ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল হিলে প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির এক বাজেট প্রস্তাবের ওপর এই শুনানি হয়।

    শুনানিতে পিট হেগসেথকে উদ্দেশ্য করে সারা বলেন, এই মুহূর্তে স্যান ডিয়েগোর আড়াই হাজার মেরিন সেনা ইরানের উপকূলে অবস্থান করছে। বহু সেনার পরিবারের পক্ষ থেকে নিয়মিত উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। তারা প্রেসিডেন্টের মানসিক সুস্থতা এবং কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

    প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, নিজের বক্তব্যের সময় সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের কয়েকটি পোস্টের উদ্ধৃতি দিচ্ছেন সারা। এর মধ্যে ছিল অপ্রকাশযোগ্য শব্দ ব্যবহার করে ইরানকে দেওয়া হুমকি। এ ছাড়া, সভ্যতা ধ্বংসের হুমকির কথাও উল্লেখ করেন সারা। এরপর পিট হেগসেথকে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘মিস্টার সেক্রেটারি, আপনি বেশিরভাগ সময় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে থাকেন। আমার ভোটারদের জীবন এখন ঝুঁকিতে। আপনি কি মনে করেন, কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রেসিডেন্ট মানসিকভাবে যথেষ্ট স্থিতিশীল?’

    জবাব দেওয়ার সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ রাগান্বিত স্বরে পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কি গত চার বছরে জো বাইডেনের ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন করেছিলেন?’ সারা জবাব দেন, ‘মিস্টার সেক্রেটারি, জো বাইডেন এখন প্রেসিডেন্ট নন। মিস্টার ট্রাম্প দেড় বছর ধরে ক্ষমতায় আছেন, আমি আপনাকে প্রশ্ন করছি।’

    এরপর হেগসেথ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘কয়েক প্রজন্মের মধ্যে পাওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমান ও দূরদর্শী কমান্ডার-ইন-চিফ হলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট।’

    বিতর্কের এক পর্যায়ে সারা জ্যাকবস ইরান যুদ্ধে কতজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন তা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বর্তমান যুদ্ধে ইতোমধ্যে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩৮০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। এরপর তিনি বলেন, এক সময় উন্মুক্ত থাকা হরমুজ প্রণালি এখন প্রায় বন্ধ। ইরানের শাসকরা এখনো ক্ষমতায় আছেন এবং তাদের কাছে পারমাণবিক সরঞ্জামও আছে।

    পিট হেগসেথকে উদ্দেশ্য করে সারা বলেন, ‘আপনি যদি মনে করেন এটাই জয়ের নমুনা, তবে আপনার মানসিক স্থিতিশীলতা নিয়েও আমাদের প্রশ্ন তোলা উচিত।’ সারা আরও বলেন, ‘হয়তো আপনিই (হেগসেথ) এই ব্যর্থতার জন্য দায়ী এবং প্রেসিডেন্টের উচিত আপনাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবা।’

  • দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা

    দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা

    জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ২০২৬ (NHSPC) নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে নির্দেশনা দিয়েছে। এই প্রতিযোগিতায় আঞ্চলিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রচার-প্রচারণা ও নিবন্ধন কার্যক্রম শনিবার (০২ মে) রাত ১২টার মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছে।

    আগামী ১৬ মে দেশব্যাপী আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। আগ্রহী শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করতে পারবে।

    বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে পাঠানো মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    চিঠিতে বলা হয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)- এর আয়োজনে হাইস্কুল, মাদরাসা, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিষয়টি জানাতে চিঠিটির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন শেষ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • কীভাবে ১১ টন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত করল ইরান

    কীভাবে ১১ টন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত করল ইরান

    আট বছর আগে তেহরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে আসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর থেকে ২২ হাজার পাউন্ড বা ১১ টন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত করেছে ইরান। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পারমাণবিক বোমা তৈরি থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে যুদ্ধ শুরু করার দুই মাস পরেও, ইরানের এই মজুত কোন অবস্থায় আছে, তা নিয়ে রহস্য রয়েই গেছে।

    ইউরেনিয়াম শহর আলোকিত বা ধ্বংস দুটোই করতে পারে। স্বল্প ঘনত্বের ইউরেনিয়াম পারমাণবিক চুল্লি চালাতে পারে। সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উচ্চ ঘনত্বের ইউরেনিয়াম দিয়ে পারমাণবিক বোমা তৈরি করা যায়।

    ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর সমৃদ্ধকরণ ক্রমশ সহজ ও দ্রুত হয়ে ওঠে। ০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে পৌঁছানো যতটা কঠিন, ২০ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশে বা এমনকি ৯০ শতাংশে পৌঁছানো ততটা কঠিন নয়—যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য কাঙ্ক্ষিত মাত্রা।

    ইরান ২০০৬ সালে শিল্প পর্যায়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করে এবং এর উদ্দেশ্যকে শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রতিবেদন থেকে দেখা যায় যে, পরবর্তী কয়েক বছরে এই মজুদ বাড়তে থাকে।

    ২০১০ সালে, ইরান ঘোষণা করে যে তারা ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করবে, যার উদ্দেশ্য গবেষণা চুল্লির জন্য জ্বালানি তৈরি করা। বেসামরিক এবং সামরিক ব্যবহারের মধ্যে এই স্তরটিই হলো সরকারি বিভাজন রেখা। এই ২০ শতাংশ স্তরটি উদ্বেগজনক।

    মজুত ক্রমাগত বাড়তে থাকায়, তৎকালীন ওবামা প্রশাসন তা নিয়ন্ত্রণের জন্য আলোচনা শুরু করে।

    ২০১৫ সালে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ছয়টি দেশ একটি চুক্তিতে পৌঁছায়। এই চুক্তি ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিশুদ্ধতা ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে এবং মজুদের পরিমাণ ১৫ বছরের জন্য সীমিত করে।

    এই চুক্তির অধীনে, তেহরান তাদের মজুতের পরিমাণ ৬৬০ পাউন্ডের নিচে সীমাবদ্ধ করে।

    ২০১৮ সালে ইরানের কাছে পারমাণবিক বোমা তৈরির উপযোগী একটি ইউরেনিয়ামও ছিল না, যখন ট্রাম্প চুক্তিটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন এবং পুনরায় একাধিক কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।

    এরপর ইরান চুক্তির নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি পরিমাণে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে শুরু করে; প্রথমে পশ্চিমা বিশ্বকে চাপে রাখার জন্য স্বল্প মাত্রায় এবং তারপর ২০২১ সালের শুরুতে ট্রাম্পের ক্ষমতা ছাড়ার ঠিক আগে, ২০ শতাংশ পর্যন্ত।

    এরপর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রশাসন পরিত্যক্ত চুক্তিটির কিছু দিক পুনরুদ্ধার করার ব্যর্থ চেষ্টা করেছিল। আলোচনা চলাকালীন, ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে—যা পারমাণবিক বোমার জন্য কাঙ্ক্ষিত গ্রেড থেকে সামান্যই দূরে ছিল।

    ২০২৫ সালে ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দ্রুততম হারে বৃদ্ধি পায়।

    ২০২৫ সালের জুন মাসে ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নাতাঞ্জ ও ফোরদোতে অবস্থিত ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র এবং ইস্পাহানে থাকা ইউরেনিয়াম মজুতের সুড়ঙ্গগুলোতে বোমা হামলা চালায়। এর এক মাস পর, ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করে, যার ফলে দেশটির সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোর ওপর নজরদারি বন্ধ হয়ে যায়।

    সরাসরি পরিদর্শন না হওয়ায় স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ সত্ত্বেও, ১১ টন ইউরেনিয়ামের মজুতের অবস্থান এখনো অনিশ্চিত।

    তেজস্ক্রিয় এবং রাসায়নিকভাবে বিপজ্জনক এই মজুতের কিছু অংশ যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের নিচে লুকানো বা চাপা পড়ে আছে, যার ফলে সেগুলোকে নাগালের বাইরে রাখা বা ধ্বংস করা কঠিন লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এমনকি সেগুলোর অস্তিত্ব নিশ্চিত করাও একটি চ্যালেঞ্জ।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান যদি এই ইউরেনিয়াম খনন করে বেরও করে, তবে তা থেকে যুদ্ধাস্ত্র তৈরি করতে অনেক মাস—সম্ভবত এক বছরেরও বেশি সময় লাগবে। তারা আরো বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় ইরান কোনো আসন্ন পারমাণবিক হুমকি ছিল না।

    ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তি দেখিয়েছে যে মার্কিন স্যাটেলাইটগুলো মাটির গভীরে পুঁতে রাখা ইউরেনিয়ামের ওপর নজর রাখছে। সেইসঙ্গে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এই মজুত তাদের জন্য প্রায় কোনো কাজেই আসবে না।

    তবে বিশ্লেষকরা এই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন, ইরান গত বছর তার ইস্পাহান কেন্দ্রের সংলগ্ন পাহাড়ি সুড়ঙ্গগুলোতে একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র স্থাপন করে থাকতে পারে। ধারণা করা হয়, তেহরান সেখানে তার ইউরেনিয়াম মজুতের সিংহভাগ মজুত করে রেখেছে। তাদের মতে, যদি এটা সত্যি হয়, তাহলে ইরানের একটি গোপন কেন্দ্র থাকার সম্ভাবনা বাড়ে, যেখানে তারা পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য নতুন করে জ্বালানি সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া চালাতে পারে।

  • রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করতে হবে: নাহিদ

    রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করতে হবে: নাহিদ

    বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর অপসারণ এবং তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এই রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে থাকার বা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।’

    বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় সংসদে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব‌্যারিস্টার কায়সার কামাল।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির বক্তব্য আমি শুনিও নাই, পড়িও নাই। সেই বক্তব্য এবং বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়াকে আমরা প্রত্যাখ্যান জানিয়েছিলাম। আমরা খুব স্পষ্টভাবে বলেছিলাম যে, এই রাষ্ট্রপতির অপসারণ প্রয়োজন। তাঁকে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন। এই রাষ্ট্রপতির আর কোনো অধিকার নেই বঙ্গভবনে থাকার, এখানে এসে বক্তব্য দেওয়ার।’

    তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, তাঁর কিছু কুকীর্তির কথা হাউজের সামনে তুলে ধরছি। তিনি দুদকের কমিশনার ছিলেন। তাকে দুদকের কমিশনার করা হয়েছিল তিনটি অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে। এক নম্বর হচ্ছে, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের শাস্তি নিশ্চিত করা। দুই নম্বর, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে ক্লিনচিট দেওয়া এবং তিন নম্বর ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিন সরকারের সময় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে হওয়া দুর্নীতির মামলাগুলোকে বাতিল করে দেওয়া। এমন একজন ব্যক্তিকে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রপতি হিসেবে এখনও মেনে নিচ্ছে।’

    তিনি বলেন, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার ‘ক্যাঙ্গারু আদালতের’ নির্দেশে এই সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর নেতৃত্বে তিন সদস্যের জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিশন অন মাইনরিটি টর্চার ইন ২০০১ হয়েছিল। এই প্রতিবেদন অনুসারে, ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর কয়েক হাজার হিন্দুকে হত্যার জন্য বিএনপির ২৬ হাজার নেতাকর্মীকে দায়ী করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ এই রিপোর্ট দেশে-বিদেশে ফেরি করে নিজেদের ক্ষমতায় থাকাকে পাকাপোক্ত করেছিল। এই রাষ্ট্রপতি ইসলামী ব্যাংকের দুই কোটি আমানতকারীকে পথে বসিয়েছেন। জুলাই গণহত্যার সময় তাঁর ভূমিকা, ফ্যাসিবাদের সাথে তাঁর সংশ্লিষ্টতা সবকিছু আমরা জানি। আমাদের দুর্ভাগ্য, এই দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ, মিথ্যুক, গণহত্যার দোসর এখনও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন চুপ্পু দুদকের কমিশনার থাকাকালীন ফরমায়েশি রায় দিয়েছেন। তিনি ইসলামী ব্যাংক লুণ্ঠনের কারিগর এবং জুলাই গণহত্যার দোসর। এই রাষ্ট্রপতিকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।

    তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্ররা রাষ্ট্রপতির অপসারণ চেয়েছিল। কিন্তু বিএনপি তখন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার দোহাই দিয়ে তাঁর পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। এখন তো নির্বাচিত সরকার, এখন কেন তাঁকে পরিবর্তন করা হচ্ছে না?

  • বাংলাদেশে ভারী বৃষ্টিতে হুমকির মুখে ধানের ফলন

    বাংলাদেশে ভারী বৃষ্টিতে হুমকির মুখে ধানের ফলন

    গ্রীষ্মকাল ধান কাটার মৌসুম৷ এ সময়ে অতি বর্ষণ ও ভারত থেকে আসা পানি বিস্তীর্ণ এলাকাকে বন্যার ঝুঁকিতে ফেলেছে৷

    অবিরাম বৃষ্টি, প্রবল বাতাস এবং বজ্রসহ ঝড় ও বৃষ্টি সত্ত্বেও কৃষকরা তাই ফসল রক্ষার জন্য ছুটে যাচ্ছেন ক্ষেতে৷ হাঁটু-সমান পানিতে হেঁটে আংশিকভাবে ডুবে যাওয়া ফসল কাটছেন তারা৷

    সুনামগঞ্জের এক কৃষক মোহাম্মদ আল আমিন ফসল রক্ষার এ লড়াইয়ের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘‘এখনও যতটুকু দাঁড়িয়ে আছে, সেইটুকুই বাঁচানোর চেষ্টা করছি আমরা৷”

    দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশের প্রধান ফসল ধান৷ হাওর অববাহিকায় বোরো ধান পাকতে শুরু করেছে৷ বন্যা পরিস্থিতি হাওরসহ আরো কিছু এলাকার গ্রামীণ জীবনযাত্রা এবং জাতীয় খাদ্য সরবরাহকে প্রভাবিত করতে পারে৷

    কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির সঙ্গে ভারতের মেঘালয় ও আসাম অঞ্চল থেকে আসা পানির প্রবাহ বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে আকস্মিকভাবে বন্যার ঝুঁকি বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ৷

    স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, সুনামগঞ্জ, সিলেট, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের অনেক এলাকার ফসলের ক্ষেত পানির নীচে তলিয়ে গেছে৷ বেশ কিছু জায়গায় পানির স্রোতে বাঁধ দুর্বল হয়ে গেছে বা বাঁধ উপচে বন্যার পানি ফসলের জমিতে ঢুকে পড়েছে৷ শাকসবজিসহ অনেক ধরনের ফসলের ক্ষতি করেছে ভারী বৃষ্টি৷ এতে খাদ্যের সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা বেড়েছে৷

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী কয়েক দিন আরো বৃষ্টি হতে পারে৷ কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, উজানের অতিরিক্ত পানির প্রবাহ হাওর অববাহিকা জুড়ে আরো ব্যাপক বন্যার শঙ্কা বাড়াতে পারে৷ কৃষি কর্মকর্তারা মনে করেন, এই পর্যায়ে অল্প সময়ের জন্য জলমগ্ন থাকলেও ধানের ফলন অনেক কমতে পারে৷

    ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে রাজধানী ঢাকা ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামসহ দেশের প্রধান শহরগুলোতে ব্যাপক জলাবদ্ধতা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে৷ রাস্তাঘাট জলমগ্ন হওয়ায় যান চলাচল ধীর হয়ে পড়েছে, দৈনন্দিন জীবনযাত্রাও ব্যাহত হয়েছে৷

    বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ প্রায় নিয়মিতই বন্যার ঝুঁকিতে থাকে৷ ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ইনস্টিটিউটের ২০১৫ সালের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এ দেশে বছরে প্রায় ৩৫ লক্ষ মানুষ নদীর পানি বাড়ায় বন্যার ঝুঁকিতে পড়ে৷

    বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম চাল উৎপাদনকারী দেশটিতে উৎপাদিত চালের বেশিরভাগই অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটায়৷ বন্যা বা খরার কারণে ঘাটতি দেখা দিলে সেই ঘাটতি ধান আমদানিও করে বাংলাদেশ৷

  • মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির জন্য মার্কিন পুতুল ঘাঁটি দায়ী: মোজতবা খামেনি

    মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির জন্য মার্কিন পুতুল ঘাঁটি দায়ী: মোজতবা খামেনি

    
    
    
    
    

    মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান অস্থিরতার জন্য ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতিকে দায়ী করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।

    ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপটে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘এটি প্রমাণিত যে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বিদেশিদের উপস্থিতি এবং তাদের আস্তানা গেড়ে থাকাই এই অঞ্চলের নিরাপত্তাহীনতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ।’

    মোজতবা খামেনি বলেন, ‘আমেরিকার এই পুতুল ঘাঁটিগুলোর নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো শক্তি বা সামর্থ্য নেই। সেখানে তারা এই অঞ্চলের তাদের ওপর নির্ভরশীল বা আমেরিকাপন্থীদের নিরাপত্তা দেবে-এমন আশা করা বৃথা।’

    তিনি মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপই মূলত আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতাকে উসকে দিচ্ছে। মূলত আঞ্চলিক দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর বার্তা দিতেই তিনি এই বক্তব্য দিয়েছেন।


    আরও পড়ুন · নির্ভরযোগ্য সূত্র:

  • ইরানে ব্যাপক হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

    ইরানে ব্যাপক হামলার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

    ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের পরিকল্পনার বিষয়ে বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে ব্রিফ করবেন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার। বুধবার (২৯ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে অ্যাক্সিওস এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। এ নিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স হোয়াইট হাউজ ও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কাছে জানতে চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পায়নি।

    সূত্রের বরাতে অ্যাক্সিওস বলছে, সেন্টকম ইরানের ওপর ‘স্বল্প ও শক্তিশালী’ দফায় দফায় হামলার একটি পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে। এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ইরানের অবকাঠামোও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
    রিপোর্টে বলা হয়েছে, নতুন অভিযানের পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালির একটি অংশ দখল করে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য তা পুনরায় খুলে দেয়ার ওপর কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযানে স্থলবাহিনীও জড়িত থাকতে পারে।

    এ ছাড়া ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ সুরক্ষিত করতে যুক্তরাষ্ট্র একটি বিশেষ বাহিনীর অভিযানও চালাতে পারে।

    টানা এক মাসের বেশি সময় ধরে যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে অতর্কিত হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এর জবাবে ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে আক্রমণ শুরু করে তেহরান।

    ইরানে মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় এবং লেবাননেও ইসরাইলের ব্যাপক হামলায় হাজার হাজার হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সেই সঙ্গে ঘরছাড়া হয়েছে লাখ লাখ বাসিন্দা।