শিরোনাম

  • রাশিয়ার হামলায় একদিনেই ১৩২০ ইউক্রেনীয় সেনা নিহত

    রাশিয়ার হামলায় একদিনেই ১৩২০ ইউক্রেনীয় সেনা নিহত

    ইউক্রেনে চলমান বিশেষ সামরিক অভিযান এলাকায় রুশ বাহিনীর বিভিন্ন গ্রুপের অভিযানে প্রায় ১ হাজার ৩২০ জন ইউক্রেনীয় সেনাসদস্য নিহত হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) রুশ বার্তা সংস্থা তাস প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘন্টায় এ নিহতের ঘটনা ঘটেছে বলে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

    এদিকে, গত এক সপ্তাহে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ২ হাজার ৩০০টিরও বেশি ড্রোন হামলা, প্রায় ১ হাজার ৫৬০টি নির্দেশিত গাইডেট বোমা হামলা এবং বিভিন্ন ধরনের ১০৮টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ তথ্য জানিয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম ইউক্রেনিফর্ম।

    রুশ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ‘নর্থ’ ব্যাটলগ্রুপের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রায় ২০০ জন, ‘ওয়েস্ট’ ব্যাটলগ্রুপের অভিযানে ১৮০ জনের বেশি, ‘সাউথ’ ব্যাটলগ্রুপের এলাকায় ৮৫ জনের বেশি, ‘সেন্টার’ ব্যাটলগ্রুপের এলাকায় ৩৪০ জনের বেশি, ‘ইস্ট’ দিকের অভিযানে ৪৫৫ জনের বেশি এবং ‘দনেপ্রো’ ব্যাটলগ্রুপের এলাকায় আরও ৬০ জনের মত সেনাসদস্য হতাহত হয়েছে।

    এর পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টায় রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১০টি নির্দেশিত বিমানবোমা, যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত একটি হাইমার্স মাল্টিপল-লঞ্চ রকেট সিস্টেমের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৫২টি ফিক্সড-উইং ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে জানিয়েছে রুশ মন্ত্রণালয়।

    দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১০টি গাইডেট অ্যারিয়েল বোম, যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত একটি হাইমার্স মাল্টিপল-লঞ্চ রকেট সিস্টেমের একটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৫২টি ফিক্সড-উইং মানববিহীন আকাশযান (ইউএভি) ভূপাতিত করেছে।

    রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, বিশেষ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত তাদের বাহিনী মোট ৬৭১টি বিমান, ২৮৪টি হেলিকপ্টার, ক৬৮৪টি ড্রোন, ৬৬১টি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, ২৯ হাজার ৫৫০টি ট্যাংক ও অন্যান্য সাঁজোয়া যুদ্ধযান, ১ হাজার ৭২৭টি মাল্টিপল-লঞ্চ রকেট সিস্টেম, ৩৫ হাজার ১৩৬টি ফিল্ড আর্টিলারি গান ও মর্টার এবং ৬২ হাজার ৮৭৪টি বিশেষ সামরিক যান ধ্বংস করেছে।

    এছাড়াও ইউক্রেনের কথিত ‘সন্ত্রাসী হামলার’ জবাবে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের সামরিক বিমানঘাঁটি এবং সশস্ত্র বাহিনীর কাজে ব্যবহৃত জ্বালানি, জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহন অবকাঠামোর ওপর সমন্বিত হামলা চালিয়েছে বলেও জানিয়েছে মস্কো।

    রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ার ভূখণ্ডে বেসামরিক স্থাপনার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের সন্ত্রাসী হামলার জবাবে রাশিয়ান ফেডারেশনের সশস্ত্র বাহিনী দূরপাল্লার উচ্চ-নির্ভুলতাসম্পন্ন স্থল ও আকাশভিত্তিক অস্ত্র এবং আক্রমণাত্মক ড্রোন ব্যবহার করে সামরিক বিমানঘাঁটি, জ্বালানি, জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহন অবকাঠামোর ওপর সমন্বিত হামলা চালিয়েছে। হামলার সব লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে এবং নির্ধারিত উদ্দেশ্য অর্জিত হয়েছে।

    ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়। তখন থেকে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখনো অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে। এই যুদ্ধে ইউক্রেনের খেরসন, ঝাপোরঝিয়া এবং দনবাস প্রদেশের লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক এলাকা দখল করেছে রুশ বাহিনী।

    এর আগে ২০১৪ সালে সামরিক অভিযান চালিয়ে ক্রিমিয়া দখল করে রাশিয়া। এরপর ক্রিমিয়াতে নামমাত্র গণভোটের মাধ্যমে নিজেদের ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে রাশিয়া।

    চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ৫০ হাজার রুশ সেনা নিহত হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রুশ বাহিনীর হামলায় প্রায় ৫৫,০০০ ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছে।##

  • চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে নারী-শিশুসহ ১০ জন আটক

    চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে নারী-শিশুসহ ১০ জন আটক

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের অভিযোগে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    রোববার (৩১মে) সকাল সাড়ে ৯টায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রোববার ভোর প্রায় ৫টার দিকে সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ সীমান্তের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের সময় তাদের আটক করে বিজিবির বারাদি ক্যাম্পের সদস্যরা।

    আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন ২ জন পুরুষ, ৩ জন নারী এবং ৫ জন শিশু।

    চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাইয়ের কাজ চলছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক আইনানুগ কার্যক্রম শেষে তাদের দর্শনা থানায় সোপর্দের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

    তিনি আরও জানান, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করা হবে। সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পারাপার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • জাতিসংঘের ‘দাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’ পাচ্ছেন বাংলাদেশের ৬ বীর সেনানী

    জাতিসংঘের ‘দাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’ পাচ্ছেন বাংলাদেশের ৬ বীর সেনানী

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    বিশ্বশান্তি রক্ষায় নিজেদের জীবন উৎসর্গকারী বাংলাদেশের ৬ জন বীর সেনানীকে মরণোত্তর ‘দাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’ প্রদান করছে জাতিসংঘ। চলতি বছরের ৫ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ উদযাপনের অংশ হিসেবে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিজ হাতে এই সম্মাননা পদক তুলে দেবেন।

    এ বছর বিশ্বজুড়ে আত্মত্যাগকারী মোট ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর এই আন্তর্জাতিক পদকে ভূষিত করা হচ্ছে। সম্মাননা পেতে যাওয়া এই শান্তিরক্ষীদের মধ্যে ৫৯ জনই গত বছর কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে বাংলাদেশের এই ৬ জন কৃতি সন্তান রয়েছেন।

    মরণোত্তর ‘দাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’ পেতে যাওয়া বাংলাদেশের সেই ছয়জন বীর শান্তিরক্ষী হলেন— প্রাইভেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রাইভেট মো. সবুজ মিয়া, কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, প্রাইভেট মো. মোমিনুল ইসলাম, প্রাইভেট শামীম রেজা এবং প্রাইভেট শান্ত মন্ডল। এই বীর সেনানীরা আব্বেই অঞ্চলে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এবং ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর সেখানে একটি আকস্মিক ড্রোন হামলায় নিহত হন।##

  • সহিংসতায় রূপ নিল পিএসজির বিজয় উচ্ছ্বাস, ফ্রান্সজুড়ে গ্রেপ্তার ৪ শতাধিক

    সহিংসতায় রূপ নিল পিএসজির বিজয় উচ্ছ্বাস, ফ্রান্সজুড়ে গ্রেপ্তার ৪ শতাধিক

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে আর্সেনালকে হারিয়ে প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের (পিএসজি) ঐতিহাসিক শিরোপা জয়ের উচ্ছ্বাস ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে ৪ শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রোববার ভোর পর্যন্ত মোট ৪১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী প্যারিস থেকেই আটক করা হয়েছে ২৮০ জনকে।

    পিএসজির জয়ের পর হাজারো সমর্থক প্যারিসের রাজপথে নেমে উদযাপনে অংশ নেন। তবে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে বিশৃঙ্খলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।

    স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, বিভিন্ন এলাকায় আতশবাজি ও ফ্লেয়ার নিক্ষেপ করা হচ্ছে। কোথাও মোটরসাইকেল ও বৈদ্যুতিক বাইকে আগুন দেয়া হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি দোকান ও স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, সহিংসতায় অন্তত সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। কয়েকটি এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়।

    কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় অন্তত ছয়টি যানবাহন, দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং একটি বাসস্টপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনিয়েজ এসব ঘটনাকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

    উল্লেখ্য, এর আগেও পিএসজির ইউরোপীয় শিরোপা উদযাপনকে ঘিরে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল। সেই সংঘর্ষে দুজন নিহত হন, যাদের মধ্যে একজন ছিলেন ১৭ বছর বয়সী কিশোর।

    এদিকে রোববার রাজধানী প্যারিসে পিএসজি খেলোয়াড়দের নিয়ে বিজয় শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ।##

  • পশ্চিমবঙ্গে হোল্ডিং সেন্টারে আটক ৪০০ জন, বাংলাদেশে পাঠানোর প্রচেষ্টা

    পশ্চিমবঙ্গে হোল্ডিং সেন্টারে আটক ৪০০ জন, বাংলাদেশে পাঠানোর প্রচেষ্টা

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    পশ্চিমবঙ্গে হোল্ডিং সেন্টার চালু হওয়ার পর প্রথম ৭ দিনে রাজ্য প্রশাসন এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জন কথিত ‘বাংলাদেশি’কে আটক করেছে। তাদেরকে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

    পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আটক করা হয়েছে বসিরহাট পুলিশ জেলায়। সেখানে ৩৩৫ জন কথিত অবৈধ অভিবাসীকে আটক রাখা হয়েছে। তাদের রাখা হয়েছে তেঁতুলঘাটি, পাথরশাঁতি, চরঘাট ও সুভাষ নগরের বন্যা ত্রাণকেন্দ্রগুলোতে।

    বসিরহাট ছাড়াও মালদা, মুর্শিদাবাদ ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায়ও কথিত বাংলাদেশি অভিবাসীদের আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া বারুইপুর, বারাসাত, কোচবিহার, জঙ্গিপুর, কৃষ্ণনগর ও বনগাঁ পুলিশ জেলাগুলোতেও আটক ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    এসব হোল্ডিং সেন্টারে নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করেছে রাজ্য প্রশাসন। সূত্রের দাবি, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে আটক ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত এবং নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করা যায়। সূত্রগুলো জানিয়েছে, হোল্ডিং সেন্টারগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    এদিকে কেরালায় কর্মরত চার শ্রমিকও রয়েছেন সেই কথিত অভিবাসীদের মধ্যে, যাঁরা ২৬ মে হাকিমপুর সীমান্ত ফাঁড়িতে পৌঁছেছিলেন। তাঁদের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার একটি আটক কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

    ফোনে কথা বলতে গিয়ে ওই চার যুবকের একজন মতলেব হোসেন বলেন, ‘গতকাল আমাদের বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়া হয়েছে। তাঁরা আমাদের আঙুলের ছাপ ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করেছে। বিএসএফ কর্মকর্তারাও আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। কীভাবে ভারতে প্রবেশ করেছি, কোথায় কাজ করেছি এবং কোথায় থেকেছি, সে বিষয়ে সব তথ্য নিয়েছেন। আমরা তাঁদের সবকিছু জানিয়েছি।##

  • ইরান চুক্তিতে ‘সংশোধনী’ চান ট্রাম্প

    ইরান চুক্তিতে ‘সংশোধনী’ চান ট্রাম্প

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে কয়েকটি ‘সংশোধনী’ আনার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে এক বৈঠকে ট্রাম্প তার দলকে ওই চুক্তির কয়েকটি ধারা পরিবর্তন করতে বলেন।

    আল জাজিরার রোববার (৩১ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সংশোধনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কিত বিষয়গুলো রয়েছে। বর্তমানে চুক্তিতে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার করেছে, তবে এর বাইরে নির্দিষ্ট কিছু ছাড়ের বিস্তারিত নেই।

    একজন ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, ‘এটি মূলত কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত পাবে এবং তার সময়সূচি কী হবে সেসব নির্দিষ্ট করার বিষয়।’

    আরেকটি সূত্র জানায়, ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়টি ঘিরেও পরিবর্তন আনতে চান।

    সূত্রগুলো আরও জানায়, ইরানের প্রতিক্রিয়া পেতে তিন দিন সময় লাগতে পারে। এক ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, ‘সপ্তাহের শুরুতেই আমরা কিছু একটি পাওয়ার আশা করছি।’

    এর আগে, ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের ইরান যাওয়া উচিত হয়নি, তবে ইরানের সক্ষমতা আছে। আমরা যদি ৯ মাস আগে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে তাদের ওপর হামলা না করতাম, তাহলে এখন তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকত এবং পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন হতো। তখন হয়তো ইসরায়েল থাকত না, এমনকি পুরো মধ্যপ্রাচ্য নিয়েই প্রশ্ন উঠে যেত। এরপর তারা কোথায় যেত?’##

  • ইরান যুদ্ধে আমেরিকার জড়ানো উচিত হয়নি: ট্রাম্প

    ইরান যুদ্ধে আমেরিকার জড়ানো উচিত হয়নি: ট্রাম্প

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: ইরান যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর জড়ানো উচিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরান বিষয়ে নিজের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনাকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    সাক্ষাৎকারে ইরাক যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরাকে যা ঘটেছে তা আপনারা দেখছেন। আমরা সেখানে অত্যন্ত খারাপ করেছি। আমরা যা করেছি, তা ছিল খুবই বোকার মতো কাজ।,

    উল্লেখ্য, প্রথমত আমাদের সেখানে (ইরাকে) যাওয়াই উচিত হয়নি।’

    এরপর ইরানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের ইরানে থাকা উচিত হয়নি, তবে ইরানের সেই সক্ষমতা রয়েছে। আমরা যদি ৯ মাস আগে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে তাদের ওপর হামলা না করতাম, তবে এই মুহূর্তে তাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকত। আর তেমনটি হলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো। সম্ভবত তখন আপনারা ইসরাইলকে পেতেন না, এমনকি মধ্যপ্রাচ্যকেও পেতেন না। এরপর তারা সেখান থেকে কোথায় যেত?’

    সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরো দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছা করেই ইরানের সামরিক বাহিনীকে রেহাই দিয়েছে।

    এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের সামরিক বাহিনীকে আমরা এক প্রকার স্পর্শ করিনি, কারণ আমরা মনে করি তাদের সামরিক বাহিনী কিছুটা নরমপন্থি। তাদের অন্যান্য লোকজন রয়েছে যারা নরমপন্থি নয়। আমরা তাদের লক্ষ্যবস্তু করেছি এবং নেতৃত্বের বিভিন্ন স্তরকে সরিয়ে দিয়েছি। তবে তাদের সামরিক বাহিনীকে আমরা আসলে কিছুই করিনি।’

    ট্রাম্প আরো বলেন, ‘মানুষ হয়তো এই কথা শুনে অবাক হবে। কারণ যুদ্ধে এমন কিছু ভুল হয়ে থাকে যেখানে আপনি সবাইকে নিশ্চিহ্ন করে দেন এবং এর ফলে এমন একটি দেশের সৃষ্টি হয় যা হয়তো পরবর্তী ৪০ বছরেও আর পুনর্গঠিত হতে পারে না।’##

  • ৫ তলা ভবন ধস, শতাধিক শিক্ষার্থী হতাহতের শঙ্কা

    ৫ তলা ভবন ধস, শতাধিক শিক্ষার্থী হতাহতের শঙ্কা

    ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির দক্ষিণে একটি পাঁচতলা বাণিজ্যিক ভবন ধসে পড়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় সাকেত মেট্রো স্টেশনের কাছে সাইদুলাজাব এলাকার ওয়েস্টার্ন মার্গে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভবনটিতে একটি কোচিং ইনস্টিটিউট, কয়েকটি ক্যাফে ও অফিস ছিল। একই সঙ্গে ভবনের ওপরের অংশে নির্মাণকাজ চলছিল বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।

    পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন গুরুতর আহত। ধ্বংসস্তূপে আর কেউ আটকা পড়ে আছেন বলে আপাতত মনে হচ্ছে না, তবে নিশ্চিত হতে তল্লাশি চলছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভবনটি ধসে পড়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মানুষের চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। মুহূর্তেই চারদিকে ধুলার মেঘ ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের একটি অংশ পাশের একটি অস্থায়ী টিনশেড ক্যানটিনের ওপর ভেঙে পড়ে, যেখানে শিক্ষার্থীরা খাবার খাচ্ছিলেন।

    দমকল বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তিনজনকে উদ্ধার করে। পরে দমকলকর্মী ও জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

    আহত এক শিক্ষার্থীর বাবা বলবন্ত যাদব জানান, তার মেয়ে নীলম ভবনের পাশের ক্যানটিনে ছিলেন। ভবন ধসে পড়ার সময় সেখানে শতাধিক শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন। নীলমের পা ভেঙে গেছে এবং তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    উদ্ধারকাজে ভারী যন্ত্রপাতি, হাইড্রোলিক কাটার, বিশেষ ক্যামেরা ও প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানী কুকুর ব্যবহার করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে দমকল, এনডিআরএফ, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা কাজ করছেন।

    সেখানকার পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর ভবনটির মালিকানা, নির্মাণকাজের অনুমোদন এবং কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।

  • রামিসা হত্যা মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি চাইবে সরকার

    রামিসা হত্যা মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি চাইবে সরকার

    আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করবে সরকার। রোববার দুপুরে তিনি একথা বলেন।

    এর আগে মন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের বিচার বিভাগ যতটা স্বাধীন, এতটা স্বাধীনতা অন্য অনেক দেশেই দেখা যায় না। সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের পোস্টিং বা শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। সেই স্বাধীনতার ভিন্ন রূপও আমরা অতীতে দেখেছি, যেখানে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগও উঠেছে।

    মামলার দীর্ঘসূত্রতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বিচারক ও আইনজীবীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এই জট তৈরি হয়েছে। এ সময় তিনি রামিসা হত্যা মামলার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।

  • সালাহর নেতৃত্বে মিশরের চূড়ান্ত দল

    সালাহর নেতৃত্বে মিশরের চূড়ান্ত দল

    মোহামেদ সালাহকে অধিনায়ক করে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে মিশর। ২৬ সদস্যের এই দলে চমক হিসেবে ১৮ বছর বয়সী আবদেল করিমকে রেখেছেন কোচ হোসাম হাসান।

    মিশরের আক্রমণভাগে আরও আছেন ম্যানচেস্টার সিটির ফরোয়ার্ড ওমর মারমুশ।

    বিশ্বকাপের মূল আসর মাঠে নামার আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ হিসেবে আগামী ৬ জুন ওহাইওতে শক্তিশালী ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে মিশর।

    এরপর আগামী ১৫ জুন সিয়াটলে ইউরোপীয় জায়ান্ট বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে মিশরের বিশ্বকাপ অভিযান। গ্রুপ ‘জি’তে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ হলো নিউজিল্যান্ড এবং ইরান।

    গোলকিপার

    মোহামেদ এল-শেনাওয়ি, মোস্তফা শোবেইব, এল-মাহদি সোলাইমান ও মোহামেদ আলা।

    ডিফেন্ডার

    মোহামেদ আবদেলমোনেম, মোহামেদ হানির, ইয়াসের ইব্রাহিম, হোসাম আবদেলমাজিদ, আহমেদ ফাত্তুহ, তারেক আলা, রামি রাবিয়া, হামদি ফাথি ও করিম হাফেজ।

    মিডফিল্ডার

    মোহামেদ সালাহ, মারওয়ান আতিয়া, আহমেদ মোস্তাফা, মাহমুদ হাসান, ইমাম আশুর, মোস্তাফা আবদেল রউফ, মোহান্নাদ লাশিন, হাইথাম হাসান, মাহমুদ সাবের, ইব্রাহিম আদেল ও নাবিল এমাদ

    ফরোয়ার্ড

    ওমর মারমুশ ও হামজা আবদেল করিম।

  • আদ-দ্বীনে ৬ নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

    আদ-দ্বীনে ৬ নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

    বিডিটািইমস ডেস্কঃ রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে ৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিআইডির কর্মকর্তারা রয়েছেন।

    আজ বুধবার আদ-দ্বীন হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এ তথ্য জানান।

    জানা গেছে, তদন্ত কমিটিকে ৭২ ঘন্টার মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড ও এনআইসিইউ’র কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, চিকিৎসায় অবহেলার কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে মনে হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি কারিগরি ত্রুটির কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

    এরইমধ্যে কারিগরি ত্রুটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কাজ শুরু করেছে সিআইডির বিশেষজ্ঞ দল।

  • দেশবাসীকে শুভেচ্ছা

    দেশবাসীকে শুভেচ্ছা

    ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হোক ঈদুল আজহা: প্রধানমন্ত্রী

    বিডিটােইমস ডেস্কঃ দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    ‘পবিত্র ঈদুল আজহা’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘ত্যাগের পরাকাষ্ঠা, তাকওয়ার মহিমান্বিত পথনির্দেশনা এবং আত্মশুদ্ধির অনন্য বার্তা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বছর ঘুরে আবারও বিশ্ব মুসলিমের দুয়ারে হাজির পবিত্র ঈদুল আজহা। আমি পবিত্র ঈদুল আজহার এই শুভক্ষণে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে জানাই ঈদ মুবারক। বিশ্ববাসীকে জানাই পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মুসলমান পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনের জন্য প্রস্তুত। ইসলামের মহিমান্বিত এই উৎসব শুধু একটি আনন্দ উৎসবই নয়, বরং তা স্রষ্টার প্রতি গভীর বিশ্বাস, আত্মনিবেদন এবং ত্যাগের এক চিরন্তন বার্তা বহন করে। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর অটল ইমান, নিঃশর্ত আনুগত্য এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই দিবসকে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কাছে মহিমান্বিত ও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

    তিনি বলেন, ‘পবিত্র ঈদুল আজহায় আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের ত্যাগ কবুল করেন। আমাদের মাতৃভূমিসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্ব ও মানবজাতির জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা দান করেন।’

    একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে শান্তি, সম্প্রীতি এবং নিরাপত্তার জন্যও মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

    তারেক রহমান বলেন, ‘ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হোক এই পবিত্র ঈদুল আজহা। আল্লাহ আমাদের কুরবানি ও ইবাদত কবুল করে নিন। আল্লাহর অশেষ রহমত ও বরকতে আমাদের জীবন ভরে উঠুক শান্তি ও সমৃদ্ধিতে।’ বাসস

  • যমুনা সেতুর আগে তীব্র যানজট, ২৫ কিলোমিটারে থেমে থেমে চলছে যানবাহন

    যমুনা সেতুর আগে তীব্র যানজট, ২৫ কিলোমিটারে থেমে থেমে চলছে যানবাহন

    ঈদ যাত্রায় ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর অংশে স্বস্তি মিললেও টাঙ্গাইলে যমুনা সেতু এলাকার আশপাশে যানজটে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন ঘরমুখী মানুষ। আজ বৃহস্পতিবার বেলা তিনটা পর্যন্ত যমুনা সেতু থেকে টাঙ্গাইল শহর বাইপাস পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে থেমে থেমে চলছে যানবাহন। তবে গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকায় দুপুরের পর থেকে তেমন যানজট নেই।

    যমুনা সেতু এলাকার যানজট নিরসনের জন্য বেলা ১১টা থেকে বেলা দেড় পর্যন্ত উভয় লেন দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন পার করানো হয়েছে। এরপর শুধু উত্তরবঙ্গগামী লেন দিয়ে সেখানকার যানবাহন চলতে দেওয়া হয়েছে।

    আজ সকাল ৯টার দিকে মহাসড়কটিতে দেখা যায়, যানবাহনের দীর্ঘ সারি। এক জায়গাতেই বাস–ট্রাক স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মহাসড়কের সদর উপজেলার বিক্রমহাটিতে যানজটে আটকে থাকা ট্রাকচালক মোতাহার হোসেন জানান, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এখানে দাঁড়িয়ে আছেন। ঢাকা থেকে রাত ১১টায় রওনা হয়েছিলেন। পুরো রাস্তাতেই এভাবে যানজটে আটকে থাকতে হয়েছে।

    কালিহাতী উপজেলার পৌলী এলাকায় যানজটে আটকে থাকা সিরাজগঞ্জের নজরুল ইসলাম জানান, তিনি মালয়েশিয়া থেকে রাত ১২টায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমেছেন। এরপর ভাড়া করা ট্যাক্সিতে সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। ৯ ঘণ্টা লেগেছে টাঙ্গাইল পর্যন্ত আসতে।

    যানজটে দুর্ভোগের মাত্রা বেড়ে যায় সকালের বৃষ্টির কারণে। ট্রাকে আরোহীদের ভিজে দুর্ভোগ পোহাতে দেখা যায়। টাঙ্গাইল শহর বাইপাস এলাকায় ট্রাকে আরোহী সাভারের পোশাক কারখানার শ্রমিক ফজলু মিয়া বলেন, ‘সারা রাত যানজটে কষ্টে আছি। এর মধ্যে বৃষ্টিতে ভিজে কাহিল হয়েছি।’

    যানজটের কারণে নারী যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেশি পোহাতে হয়। শৌচাগার ব্যবহারের জন্য মহাসড়কের আশপাশের বাড়িতে যেতে হচ্ছে তাঁদের।
    যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে ১৭ থেকে ১৮ হাজার যানবাহন প্রতিদিন পারাপার হয়। কিন্তু ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার পর তিন গুণের বেশি যানবাহন চলাচল করছে।

    টোল প্লাজা সূত্র জানায়, যানজট নিরসনের জন্য দুই দফায় পৌনে চার ঘণ্টা সেতুর উভয় লেন দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন পাড় করানো হয়। ভোর ৪টা ৩৫ থেকে সকাল ৬টা ৪০ পর্যন্ত ২ ঘণ্টা ৫ মিনিট এবং রাত ১২টা ১০ মিনিটে থেকে ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট উভয় লেন দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন পার করানো হয়। এতে চাপ কিছুটা কমে। কিন্তু পরে আবার চাপ বাড়তে থাকে। পরে বেলা ১১টা থেকে আবার উভয় লেন দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী যান পার করানো শুরু করা হয়।

    গাজীপুরের মহাসড়কে স্বস্তি

    গত দুই দিনের তীব্র যানজট ও দুর্ভোগ কাটিয়ে আজ দুপুরের পর থেকে স্বস্তি ফিরেছে গাজীপুরের মহাসড়কে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর অংশে বর্তমানে বড় কোনো যানজট, অনেকটাই ফাঁকা হয়ে এসেছে মহাসড়ক।

    গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত গাজীপুরের দুই মহাসড়কে ঘরমুখী মানুষের ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়। এতে দীর্ঘ যানজটের পাশাপাশি দেখা দেয় পরিবহনসংকট। বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের প্রায় ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার এলাকায় রাতভর যানজট ছিল। কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।

    তবে বুধবার বেলা ১১টা পর্যন্ত যানবাহনের চাপ থাকলেও দুপুরের পর পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হতে শুরু করে। মহাসড়কে যানবাহন চলাচল এখন অনেকটাই স্বস্তিদায়ক।
    গত দুই দিনে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির কেন্দ্র ছিল ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকা। বুধবার দুপুরে সরেজমিন সেখানে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। চিরচেনা যানজট নেই, নেই পরিবহনের সংকটও। যাত্রীরা সহজেই পছন্দের পরিবহনে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন।

    যাত্রী কবির হোসেন বলেন, ‘আজ চন্দ্রায় এসে দেখছি কোনো যানজট নেই; বরং যাত্রীর চেয়ে পরিবহনই বেশি। এখানে সমস্যা না থাকলেও যমুনা সেতুর আগে কিছুটা যানজট আছে বলে শুনেছি।’

    রাজশাহীগামী হিমাচল পরিবহনের চালক কামরুল ইসলাম বলেন, গতকাল যে চাপ ছিল, আজ তার দশ ভাগের এক ভাগও নেই। গতকাল ১০ মিনিটেই গাড়ি যাত্রীতে পূর্ণ হয়ে গেছে। আজ এক ঘণ্টা পার হলেও গাড়ি ভর্তি হচ্ছে না।

    আজ ঘরমুখী মানুষ অনেকটাই স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন বলে জানান নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম। তিনি বলেন, এরপরও চন্দ্র এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।

  • লেবাননে ইসরায়েলের হামলা জোরদার, বহু মানুষ নিহত

    লেবাননে ইসরায়েলের হামলা জোরদার, বহু মানুষ নিহত

    দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক ইসরায়েলি হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়েছেন। এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

    লেবানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন শিশুও রয়েছে।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা হেজবুল্লাহর শতাধিক অবকাঠামো ও যোদ্ধাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলের মাঝামাঝিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিকে সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    এর আগে সোমবার নেতানিয়াহু বলেছিলেন, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলা আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

    মঙ্গলবার নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল “লেবাননে তাদের অভিযান আরও বিস্তৃত করছে।”

    তিনি বলেন, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বড় আকারে স্থল অভিযান চালাচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে। একই সঙ্গে, উত্তর ইসরায়েলের জনগণকে হেজবুল্লাহর হামলা থেকে রক্ষা করতে তারা “নিরাপত্তা অঞ্চল” আরও শক্তিশালী করছে।

    এখানে “নিরাপত্তা অঞ্চল” বলতে সীমান্ত সংলগ্ন কিছু এলাকাকে বোঝানো হচ্ছে, যেটিকে ইসরায়েল নিজেদের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি দুই পক্ষই বারবার লঙ্ঘন করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনাও হুমকির মুখে পড়েছে।

    ইসরায়েল প্রতিদিনই দক্ষিণ লেবাননে বিমান ও কামান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, হেজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় রকেট ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে, দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকায় ইসরায়েলি সেনার উপস্থিতিও রয়েছে।

    স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিমান হামলার লক্ষ্য ছিল লেবাননের বেকা উপত্যকার মাশগারা গ্রাম এবং দক্ষিণ লেবাননের বুর্জ আল-শামালি এলাকা।

    দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিউফোর্ট দুর্গের কাছেও কয়েকটি হামলা হয়েছে। প্রায় ৯০০ বছরের পুরোনো এই দুর্গটিকে জাতিসংঘের সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেসকো এ অঞ্চলের সবচেয়ে ভালোভাবে সংরক্ষিত মধ্যযুগীয় দুর্গগুলোর একটি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

    সোমবার এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ইরান-সমর্থিত শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহর হামলার জবাবে ইসরায়েল তাদের হামলার সংখ্যা ও তীব্রতা আরও বাড়াবে।

    তিনি বিশেষভাবে ফাইবার-অপটিক ড্রোনের কথা উল্লেখ করেন, যেগুলো ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ, সেগুলোকে সহজে শনাক্ত করা যায় না।

    তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানব।”

    এই ঘোষণার পর হেজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পর অনেক বাসিন্দাকে এলাকা ছেড়ে পালাতে দেখা যায়। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পরিবারগুলো রাস্তায় বের হয়ে পড়লে সড়কে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।

    লেবাননের রাজধানী বৈরুতকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু না করা হলেও সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান।

    বিবিসি প্রায় ৫০টি স্থানে কয়েক ডজন হামলার তথ্য পেয়েছে।

    লেবানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় দক্ষিণের শহর আরব সালিমের একটি বাড়িতে হামলায় এক ব্যক্তি ও তার স্ত্রী নিহত হন। এছাড়া কাওতারিয়েত এল রেজ গ্রামেও ইসরায়েলি হামলায় আরও দু’জন নিহত হয়েছেন। রাতভর হামলায় মাশগারা এলাকার কয়েকটি বাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়।

    লেবানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপ থেকে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন নারী ও দু’টি শিশুও রয়েছে। এছাড়া আরও ১৫ জন আহত হয়েছেন।

    আহতদের মধ্যে ছিল মোহাম্মদ নামের এক শিশুও। ভিডিওতে দেখা যায়, গভীর রাতে উদ্ধারকর্মীরা মরিয়া হয়ে ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন। ধ্বংসস্তূপের ফাঁক দিয়ে শিশুটির ছোট দু’টি হাত বাইরে বেরিয়ে ছিল। পরে ধুলা-মাটিতে ঢাকা সাত বছরের শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

    “ঘুম থেকে উঠে আমার মনে হচ্ছিল আমি নড়াচড়া করতে পারছি না। পাশে শুধু অন্ধকার ছিল,” হাসপাতালের বেডে শুয়ে পরিবারের সদস্যদের পাশে নিয়ে বিবিসিকে বলছিল মোহাম্মদ।

    “যারা আমাকে উদ্ধার করছিল, তাদের শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। আমাকে বের করতে তাদের অনেক সময় লেগেছে।”তার মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা ছিল। হাত ও পায়েও কাটা ও আঁচড়ের দাগ দেখা যাচ্ছিল। যখন ক্ষেপণাস্ত্রটি তাদের বাড়িতে আঘাত হানে, মোহাম্মদ তখন নিজের বিছানায় ঘুমিয়ে ছিল। ওই হামলায় তার বাবা ও দুই বোন নিহত হন।

    মাশগারা এখন একেবারে জনশূন্য শহরের মতো মনে হচ্ছে। রাস্তায় খুব কম গাড়ি চলাচল করছে। মাঝে মাঝে কয়েকটি গাড়ি আমাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আমরা কারা, তা দেখে নিচ্ছে। চারপাশে যেন জীবনের কোনো চিহ্ন নেই।

    যেসব স্থানে রাতভর হামলা হয়েছিলো, পৌরসভার সদস্য আহমাদ আমাদের সেইসব স্থানে নিয়ে যান। ভেঙে পড়া বাড়ি ও দোকানপাট দেখে জায়গাটিকে যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত একটি জনপদ মনে হচ্ছিল।

    আহমাদ বলেন, “আমি হেজবুল্লাহর সদস্য নই। কিন্তু গ্রামের সবাই প্রতিরোধের পক্ষে। আর শত্রুপক্ষ (ইসরায়েল) কাউকেই ছাড় দিচ্ছে না।”

    এরপরই যুদ্ধবিমানের শব্দে আহমাদের কথা থেমে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং আমাদেরকে দ্রুত সরে যেতে হয়।

    পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, আমরা যেখানে ছিলাম, তার খুব কাছাকাছি একটি সড়কেই বড় ধরনের বিস্ফোরণ হয়েছে।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পরে মাশগারা এলাকার আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করে। তারা দাবি করে, সেখানে “হেজবুল্লাহর অবকাঠামো” লক্ষ্য করে কয়েকটি হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে “সন্ত্রাসী তৎপরতা” শনাক্ত করা হয়েছিল। ওই হামলায় “সন্ত্রাসীরা” নিহত হয়েছেন।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, রাতভর দক্ষিণ লেবাননে হেজবুল্লাহর ব্যবহৃত ৯০টির বেশি অস্ত্র গুদাম, নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, নজরদারির জায়গা ও অন্যান্য স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।

    মঙ্গলবার সকালে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করে। তারা হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ১৭ এপ্রিল কার্যকর হওয়া ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তোলে।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র কর্নেল আভিচাই আদরাই বলেন, হেজবুল্লাহ বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় এই ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া ইসরায়েলি বাহিনীর সামনে আর কোনো উপায় ছিল না।

    অন্যদিকে, হেজবুল্লাহ জানিয়েছে যে ইসরায়েলের “যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের” জবাবে তারা উত্তর ইসরায়েলের তিনটি ব্যারাক ও একটি সামরিক পোস্টে হামলা চালিয়েছে।

    মূলত, গত রোববার দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধে একজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর হামলা আরও জোরদারের নির্দেশ দেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

    এর ফলে গত দোসরা মার্চ সংঘাত শুরুর পর থেকে হেজবুল্লাহর হামলায় দক্ষিণ লেবাননে নিহত ইসরায়েলি সেনার সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে।

    এছাড়া, একজন বেসামরিক ঠিকাদারও নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে লেবানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একই সময়ে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে অন্তত তিন হাজার ১৮৫ জন নিহত হয়েছেন।

  • হজের খুতবা

    হজের খুতবা

    ঐক্য পরিপন্থী কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    মক্কা মুকাররমার আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরায় এবার হজের খুতবা দিয়েছেন মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল হুজাইফি। খুতবায় তিনি মুসলমানদেরকে ঐক্য পরিপন্থী কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

    সৌদি আরবের স্থানীয় সময় আজ (৯ জিলহজ) আরাফাতের ময়দানে অবস্থানরত হাজীগণের উদ্দেশে খুতবা প্রদানকালে শায়খ হুজাইফি এ আহ্বান জানান। এ সময় তিনি বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করুন এবং তাকওয়া অবলম্বন করুন। হে ঈমানদারগণ! অঙ্গীকার পূর্ণ করুন।’

    এ সময় তিনি আরো বলেন, তাকওয়া অবলম্বন করা ঈমানদারদের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তায়ালার সাথে কাউকে শরিক করা যাবে না। তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করা যাবে না। তাওহিদের ওপর আমল করা ঈমানদারদের বৈশিষ্ট্য। ঈমানদারদের সামনে যখন আল্লাহর আয়াত ও নির্দশনসমূহ পেশ করা হয়, তখন তাদের অন্তর কোমল হয়ে যায়।

    শায়খ হুজাইফি বলেন, মহানবী সা: আল্লাহর সর্বশেষ রাসূল। তিনি খাতামুন নবিয়্যিন।

    হজযাত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মুসলমানদের প্রতিটি বিপদে ধৈর্যের পথ অবলম্বন করা উচিত। ধৈর্যশীলদের জন্য আল্লাহ তায়ালা মহাপ্রতিদানের ওয়াদা করেছেন। (মুসল্লিগণ!) আপনারা, সবসময় সত্য কথা বলুন এবং মিথ্যা থেকে বিরত থাকুন। বিদআত ও গিবত থেকেও দূরে থাকুন।

    তিনি আরো বলেন, আপনারা সর্বক্ষণ মাগফেরাতের দোয়া করতে থাকুন, আল্লাহ তায়ালার জিকির ও ইবাদতে মশগুল থাকুন। নামাজ কায়েম করুন। আল্লাহ তায়ালার নেয়ামতের শোকর আদায় করে তা থেকে উপকৃত হোন।

    মসজিদে নববী সা:-এর প্রবীণ এই ইমাম বলেন, যেসব জাতি জুলুম করেছে এবং অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে, তাদের থেকে নেয়ামত ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। আল্লাহ ও বান্দার সম্পর্কই মুক্তির মাধ্যম। হে ঈমানদারগণ! নিজেদের রবের সাথে সম্পর্ক সুদৃঢ় রাখুন। হজের সময় সব ধরনের ঝগড়া-বিবাদ থেকে বিরত থাকতে হবে।

    তিনি বলেন, তাকওয়া অবলম্বনকারীদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে। আজকের দিনে বেশি বেশি দোয়া করতে হবে। এমন সব কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে, যা ঐক্যের ক্ষতি করে। হাজীরা যেন সর্বোত্তমভাবে হজের আনুষ্ঠানিকতাগুলো আদায় করেন।

    খুতবা চলাকালে দোয়া করে মসজিদে নববী সা:-এর ইমাম বলেন, হে আল্লাহ! মুসলমানদের অবস্থার ওপর রহম করুন। আপনিই দোয়া কবুলকারী। হে আল্লাহ! আমাদের গুনাহগুলো মাফ করে দিন। হে আল্লাহ! মুসলমানদের অবস্থা ভালো করে দিন। হে আল্লাহ! আমাদের আমল কবুল করুন। হে আল্লাহ! আমাদের হেদায়েত দান করুন।

    লাখো হাজী আরাফাতের ময়দানে খুতবা শ্রবণ করেন এবং খুতবায় মুসলিম উম্মাহকে শান্তি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মানের বার্তা দেয়া হয়। পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের সমস্যা-সঙ্কটগুলোর জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। খুতবার পর হজযাত্রীরা মসজিদে নামিরায় জোহর ও আসরের নামাজ একসাথে আদায় করেন। ##

  • বাংলাদেশিদের আর জামাই আদর করা হবে না-শুভেন্দু অধিকারী

    বাংলাদেশিদের আর জামাই আদর করা হবে না-শুভেন্দু অধিকারী

    ভারত বাংলাদেশিদের আর জামাই আদর করবে না বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    মঙ্গলবার নদিয়া, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কর্মকর্তাদের নিয়ে কল্যাণীতে এক প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

    শুভেন্দু দাবি করেন, রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার হাকিমপুর চেকপয়েন্টে বিপুল সংখ্যক ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ জড়ো হয়েছেন।

    তাদের উদ্দেশে তিনি হিন্দিতে বলেন, জলদি জলদি ভাগো, নেহি তো জো করনা হ্যায় সরকার করেগা।

    এ সময় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের’ উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তাদের জেলে বসিয়ে খাইয়ে জনগণের টাকা নষ্ট করতে চাই না। তারা ভারতীয়দের, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ক্ষতি করছে। আইন আগে থেকেই ছিল, কিন্তু ভোটব্যাংকের রাজনীতির কারণে কিছু মানুষ তা ব্যবহার করেনি। আমি শুধু একটাই কথা বলব, তাড়াতাড়ি পালাও। তাড়াতাড়ি পালাও। আমাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের ভাগ আর আমরা দেব না।’

    শুভেন্দু বলেন, ‘আমরা পুলিশকে বলে দিয়েছি, জেলে পাঠাতে হবে না। আইনে নেই। সরাসরি পুলিশ নেবে এবং বিএসএফের হাতে তুলে দেবে। দেশের পয়সায় খাবে, ওষুধ দেওয়া হবে, জামা কাপড় পরবে কেন। জামাই নাকি! জলদি জলদি ভাগো!

    এরআগে, কথিত ‘বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা’ অনুপ্রবেশকারীদের আটক রাখার জন্য ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রত্যেক জেলায় ‌‘আটক শিবির’ বা ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ দেয় শুভেন্দু অধিকারী নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও গত এক বছরে একই ধরনের আটক শিবির তৈরি করা হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে এই উদ্যোগ বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবারই প্রথম নেওয়া হয়।##

  • ঐতিহাসিক নবী সুলাইমান মসজিদ দখল করল ইসরাইল

    ঐতিহাসিক নবী সুলাইমান মসজিদ দখল করল ইসরাইল

    আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

    অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসলামিক ওয়াকফ পরিচালিত মুসলমানদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় নিদর্শন নবী সুলাইমান (আ)-এর সমাধিস্থল দখলের আদেশ জারি করেছে ইসরাইল। মঙ্গলবার ২৮ একর জমি অধিগ্রহণ করার ঘোষণা দেয় ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। এই জমির মধ্যেই ফিলিস্তিনি শহর বেইত ইক্সা এবং ঐতিহাসিক নবী সুলাইমান মসজিদ অবস্থিত।

    ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি ইউনিটের অধীনস্থ বেসামরিক প্রশাসন জানায়, এলাকাটি ‘জনস্বার্থে’ দখল করা হচ্ছে।

    ইসরাইল বলছে, নবী সোলাইমান (আ)-এর সমাধির প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটি সংরক্ষণের জন্য তারা একটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেবে।

    কিন্তু ফিলিস্তিনি বিশ্লেষকরা বলছেন যে, এই পদক্ষেপটি ‘ইহুদীকরণ’-এর আরো একটি উদাহরণ। সোলাইমান (আ) ইহুদি, খ্রিস্টান এবং মুসলিম ঐতিহ্যে গুরুত্বপূর্ণ একজন নবী। সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা

    বাইজেন্টাইন যুগে, সম্রাট জাস্টিনিয়ান সেই স্থানে একটি গির্জা নির্মাণের আদেশ দিয়েছিলেন যেখানে সোলাইমান (আ) কে সমাহিত করা হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়।

    স্থানটি জেরুজালেমের ৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে একটি পাহাড়ের চূড়ায়, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮৮৫ মিটার উপরে অবস্থিত। এরপর মুসলিম শাসকরা সোলাইমান (আ) এর স্মরণে সেই স্থানে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেন।

    এখন সেখানে যে মসজিদটি রয়েছে, তাতে আইয়ুবী ও মামলুক আমলের স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এর মধ্যে একটি সমাধিও রয়েছে, যা মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী সোলাইমান (আ) এর কবর।

    মানচিত্র, সীমান্ত, বসতি এবং জেরুজালেম শহর বিষয়ক বিশেষজ্ঞ খলিল তুফাকজি মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ‘এগুলো ইসলামিক ওয়াকফ [ধর্মীয় দান], আলামি পরিবারের একটি বংশানুক্রমিক ওয়াকফ।’

    ১৯৬৭ সালে ইসরাইল পশ্চিম তীর দখল করার পর থেকে, তারা নবী সোলাইমান (আ) এর সমাধিস্থল এলাকায় ক্রমান্বয়ে পরিবর্তন এনেছে।

    এর মধ্যে রয়েছে ভূগর্ভস্থ সেই কক্ষে একটি সিনাগগ নির্মাণ, যেখানে সোলাইমান (আ) এর সমাধি রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়।

    সময়ের সাথে সাথে, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ মুসলিমদের প্রার্থনার স্থানের আকার কমিয়ে দিয়েছে এবং ক্রমবর্ধমানভাবে স্থানটির স্থাপনাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।##

  • দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

    দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

    পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলমানদেরকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ শুভেচ্ছা জানান।

    পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ত্যাগের পরাকাষ্ঠা, তাকওয়ার পথনির্দেশনা আর আত্মশুদ্ধির বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে আবারও এসেছে পবিত্র ঈদুল আজহা। এই উৎসব শুধু আনন্দের নয়, এটি স্রষ্টার প্রতি গভীর বিশ্বাস, আত্মনিবেদন আর ত্যাগের এক চিরন্তন বার্তা বহন করে।

    হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর অটল ঈমান ও সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এই দৃষ্টান্তই ঈদুল আজহাকে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কাছে এত মহিমান্বিত ও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

    প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, এই পবিত্র দিনে তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছেন, দেশ ও বিশ্বের সকল মুসলমানের ত্যাগ যেন কবুল হয়, এবং সমগ্র মানবজাতির জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয়।

    পোস্টের শেষে তিনি দোয়া করেন, ‘আল্লাহ আমাদের কোরবানি ও ইবাদত কবুল করে নিন। তাঁর অশেষ রহমত ও বরকতে আমাদের জীবন ভরে উঠুক শান্তি ও সমৃদ্ধিতে।

  • লোহাগড়ায় কাশিপুর চেয়ারম্যান প্রার্থী আতিকুলের ঈদ উপহার

    লোহাগড়ায় কাশিপুর চেয়ারম্যান প্রার্থী আতিকুলের ঈদ উপহার

    নড়াইল প্রতিনিধি

    পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে ৪০০ সুবিধাবঞ্চিত ও স্বল্প আয়ের মানুষের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান প্রার্থী আতিকুল ইসলাম মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে নড়াইল-ঢাকা মহাসড়কের এড়েন্দা বাসস্ট্যান্ড খেলার মাঠে এ ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন। এর মধ্যে রয়েছে-সেমাই, চিনি, ১০ কেজি চাল, তেল, আলু, পেয়াজ ও রসুন।

    উপহার সামগ্রী পেয়ে খুশি স্বল্প আয়ের মানুষেরা। ঈদের আগে এমন মানবিক কাজের প্রশংসা করেন উপকারভোগীরা।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন-ভয়েস অফ ইনসাফ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম, কালিয়া আলিম মাদরাসার উপাধ্যক্ষ নওশের আলী, হোমিওচিকিৎসক ইব্রাহিম শিকদার, সরদার শামীম আহমেদ, আব্দুর রহিম, কায়েস আহমেদ ইসহাক, মোহাম্মদ তাফহিমসহ অনেকে।

  • গরম ও হামের ঝুঁকিতে শিশুদের ঈদযাত্রা

    গরম ও হামের ঝুঁকিতে শিশুদের ঈদযাত্রা

    নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা- ঈদ এলেই চিরচেনা এই প্রথা অনুসরণ করে গ্রামের পথ ধরেন অনেক শহরবাসী। ছুটিতে ঘরে যাওয়া আর পাড়াপড়শি ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার আনন্দ কেউ সহজে হাতছাড়া করতে চান না।

    তবে এবার ছোট শিশুদের অভিভাবকদের এমন ঈদযাত্রায় বের হওয়া নিয়ে সতর্কবার্তা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, তীব্র গরম ও হামের প্রাদুর্ভাবের এই সময়ে বাচ্চাদের সুরক্ষার স্বার্থে জনসমাগম এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

    আমাদের দেশে ঈদযাত্রার সময় বাস, লঞ্চ কিংবা ট্রেন- সব পরিবহনেই থাকে গাদাগাদি ভিড়। সামাজিক দূরত্ব তো দূরের কথা, গাড়ির ছাদে চড়েও মানুষ বাড়ি ফেরে। এমন পরিস্থিতিতে যাতায়াতে চরম ছোঁয়াচে হাম রোগে আক্রান্ত হওয়ার ব্যাপক আশঙ্কা রয়েছে।

    এছাড়া, প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে শিশু হামে আক্রান্ত হলে সেখানে তাৎক্ষণিক সঠিক চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগও সীমিত। সেই সঙ্গে বর্তমানে চলছে গরমের মৌসুম। ফলে যেসব পরিবারে ছোট বাচ্চা আছে, তাদের এবার সম্ভব হলে ঈদে বাড়ি যাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

    ৫ বছরের কম বয়সীদের ভ্রমণ না করাই উত্তম

    সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বেনজীর আহমেদ বলেন, চরমভাবাপন্ন বৈরী আবহাওয়ায় ছোট বাচ্চাদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা বড়দের মতো কাজ করে না। ফলে তারা সহজেই সর্দি-কাশিসহ নানান গরমজনিত রোগে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বর্তমানে এমন আবহাওয়ার ওপর দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব চলছে। যার ফলে কোনো এলাকাই এখন বাচ্চাদের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ নয়। তাই সার্বিক সুরক্ষার স্বার্থে এই ঈদে পাঁচ বছর বা তার কম বয়সী ছোট বাচ্চাদের নিয়ে ভ্রমণ না করাই উত্তম।

    তিনি সতর্ক করেন যে ভ্রমণকালে বা প্রত্যন্ত কোনো স্থানে গিয়ে শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ দেখা দিলে সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে ভালো চিকিৎসার অভাব ঘটতে পারে। সঠিক সময়ে দ্রুত চিকিৎসা না পেলে হামের নানান জটিলতা থেকে শিশুর জীবনশঙ্কা পর্যন্ত দেখা দিতে পারে। সুতরাং, বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জটিলতা এড়াতে এমন বাচ্চাদের মা-বাবাকে এই সময়ে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকা উচিত।

    বাইরে বের হলেই পরতে হবে মাস্ক

    এদিকে বাসার বাইরে, গ্রামের বাড়ি বা লোকসমাগমে গেলে শিশুদের মাস্ক পরিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ।

    তিনি বলেন, বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে রোগের সংক্রমণঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। হামে মৃত্যুর ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামী কয়েকদিন পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ থাকতে পারে।

    ঈদের ছুটি ঘিরে শিশুদের অপ্রয়োজনে বাইরে নিয়ে ঘোরাফেরা এবং পার্ক, রেস্তোরাঁ বা জনসমাগমস্থলে না নেওয়ার পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক। তবে বিশেষ প্রয়োজনে বাইরে নিয়ে গেলে শিশুদের মাস্ক পরানোসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শহর কিংবা গ্রাম- সব জায়গাতেই সবাইকে সমানভাবে সতর্ক থাকতে হবে।

    অধ্যাপক আব্দুল্লাহ জানান, কোনো শিশুর সামান্য জ্বর, সর্দি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলেও তা অবহেলা করা উচিত নয়। অনেক রোগী দেরিতে হাসপাতালে আসায় ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিলে এই ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। ছোট শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা চিকিৎসকদেরও গভীরভাবে ব্যথিত করে উল্লেখ করে তিনি শিশুদের সুরক্ষায় পরিবার ও অভিভাবকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ দেন।

    টিকা দিলেও শতভাগ নিশ্চয়তা নেই

    শুধু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাই নন, স্বাস্থ্যখাতের অভিভাবক হিসেবে স্বয়ং স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ঈদ সামনে রেখে গণপরিবহনে বাড়তি ভিড় ও অবাধ যাতায়াতে হামের সংক্রমণ ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।

    সচিবালয়ে শনিবার (২৩ মে) এক অনুষ্ঠানে অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ এবং সংস্পর্শ ও শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে যেসব শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে বা সম্প্রতি সুস্থ হয়েছে, তাদের ঈদের সময় জনাকীর্ণ স্থান কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে না নেওয়ার জন্য আমি অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।’

    তিনি স্পষ্ট করে জানান, টিকা দিলেই যে রোগ থেকে সুরক্ষার ১০০ শতাংশ নিশ্চয়তা দেওয়া যায় তা নয়। ভাইরাসের তীব্রতা বেশি হলে দু-একটি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে। তাই এই মুহূর্তে সামাজিক দূরত্ব ও পারস্পরিক সচেতনতাই হলো প্রধান প্রতিরোধ।

    হাম পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ১০৩ জনের প্রাণ গেছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে প্রাণহানির সংখ্যা ৪৪২। এছাড়া, একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে আট হাজার ৬২২ জন এবং সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৮১৩। উল্লেখিত সময়ে হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ৫০ হাজার ৫৫৮ জনকে এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৪৬ হাজার ২১৪ জন।

    বিভাগভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, নিশ্চিত হামে সবচেয়ে বেশি ৫০ রোগী মারা গেছে ঢাকায়। এছাড়া, বরিশালে ১৯, চট্টগ্রামে ১০, সিলেটে তিন এবং ময়মনসিংহ ও রাজশাহীতে দুজন করে মৃত্যুবরণ করেছে। সন্দেহজনক হামেও সবচেয়ে বেশি ১৭৪ জনের মৃত্যু ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এরপর ৮০ জন মারা গেছে রাজশাহীতে। সেই সঙ্গে সিলেটে ৫০, চট্টগ্রামে ৪২, ময়মনসিংহে ৩৭, বরিশালে ৩২, খুলনায় ২১ ও রংপুরে ছয়জন প্রাণ হারিয়েছে।

  • শিক্ষা সনদের সমমান নিশ্চিত করা হচ্ছে

    শিক্ষা সনদের সমমান নিশ্চিত করা হচ্ছে

    দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশিদের কর্মক্ষেত্রে ব্যাপক সম্ভাবনা সৃষ্টির জন্য সরকার শিক্ষার্থীদের সনদের সমমান নিশ্চিত করছে। একইসঙ্গে টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে আন্তর্জাতিক চাহিদা অনুযায়ী কোর্স ও কারিকুলাম প্রণয়ন করা হচ্ছে।

    সোমবার (২৫ মে) বিকেলে সরকারের ‘১০০ দিন পূর্তি’ উপলক্ষে প্রেস কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এ তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতির পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এবং দক্ষতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরি। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের প্রতিটি জেলায় পর্যায়ক্রমে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর লক্ষ্যে শীর্ষস্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় চলমান রয়েছে, যা শিগগিরই কার্যকর করা হবে।

    উপদেষ্টা মাহদী আমিন আরো জানান, এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মূল উদ্দেশ্য হলো তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যক্তির কার্যকর সংযোগ স্থাপন, ক্যারিয়ার সার্ভিস দেয়া, কাউন্সেলিং ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, এবং বাজারের চাহিদার সঙ্গে কর্মসংস্থানের যোগানকে সমন্বিত করা। প্রবাসে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন দূতাবাসকে ডিমান্ড ম্যাপিংয়ের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো কোন দেশে কী ধরনের দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর চাহিদা রয়েছে তা নির্ধারণ করে আমাদের টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে সে অনুযায়ী কোর্স ও কারিকুলাম প্রণয়ন করা। পাশাপাশি সনদের সমমান নিশ্চিত করা হচ্ছে, যাতে দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশিদের কর্মক্ষেত্রে ব্যাপক সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়।

  • ২৪ ঘন্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু

    ২৪ ঘন্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু

    হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে, আর একটি শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে গত ৭১ দিনে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা ৫৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৫৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামে ৮৭ শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এই হিসাব ২৪ মে সকাল আটটা থেকে আজ ২৫ মে সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ের।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে যে ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ৭ শিশুই ঢাকা বিভাগের। এ ছাড়া সিলেট বিভাগে তিন জন, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে দুই জন করে এবং ময়মনসিংহে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

    শেষ ২৪ ঘণ্টায় হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১২৭ জন। এই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৭ শিশু। তাদের মধ্যে ৪২৭ শিশুই ঢাকা বিভাগের। এরপর আছে চট্টগ্রাম (২০৮), বরিশাল (১২৮) ও খুলনা (৯৫)। গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৪০৫ জন হাসপাতাল থেকে ছুটিও পেয়েছে।

    গত ১৫ মার্চ দেশে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৭১ দিনে মোট হাম রোগীর সংখ্যা ৬৪ হাজার ৯৪০ জন। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫১ হাজার ৫৮৫ জন। মোট হাম শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৭১৯ জনের। এ ছাড়া ৭১ দিনে হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছে ৪৭ হাজার ৬১৯ জন।

  • ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া নিলেই ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার

    ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া নিলেই ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার

    পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাগা আদায়ের অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।

    আজ সোমবার (২৪মে) দুপুরে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল ও গাবতলী পশুর হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

    ডিএমপি কমিশনার বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে রাজধানীজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত প্রতিটি পশুর হাটে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

    ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদের আগে লাখো মানুষ ঢাকা ছাড়ছেন। তাদের যাত্রা নিরাপদ ও যানজটমুক্ত রাখতে বাস, লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশনগুলোতে পুলিশ কন্ট্রোল রুম ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী বাস টার্মিনাল, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও কমলাপুর রেলস্টেশনে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, যাত্রী হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ঠেকাতে ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকার প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলো যানজটমুক্ত রাখার কাজ চলছে।

    গাড়িতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রত্যেক টার্মিনালে আমাদের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। বিআরটিএ ভিজিল্যান্স টিমও মাঠে রয়েছে। কোনো অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমাদের নজরে এলেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • ট্রাম্পকন্যাকে হত্যার নীলনকশা

    ট্রাম্পকন্যাকে হত্যার নীলনকশা

    র্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২০২০ সালে মার্কিন হামলায় ইরানি কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে তিনি এ পরিকল্পনা করেছিলেন।

    নিউইয়র্ক পোস্টের বরাতে আল আরাবিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩২ বছর বয়সী ইরাকি নাগরিক মোহাম্মদ বাকের সাদ দাউদ আল সাদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে হত্যার ‘অঙ্গীকার’ করেছিলেন। এমনকি তার কাছে ফ্লোরিডার বাড়ির একটি নকশাও ছিল।

    নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, আল-সাদি সোলাইমানির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে ট্রাম্প পরিবারের সদস্যদের টার্গেট করছিলেন। সোলাইমানি ছিলেন ইরানের কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান। তিনি ২০২০ সালে বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হন।

    ওয়াশিংটনে ইরাকি দূতাবাসের সাবেক উপ-সামরিক অ্যাটাশে এন্তিফাধ কানবার বলেন, সোলাইমানির মৃত্যুর পর আল সাদি ইভাঙ্কা ট্রাম্পকে হত্যার কথা বলেছিলেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আল সাদি আরবি ভাষায় একটি হুমকিমূলক বার্তার সঙ্গে ফ্লোরিডার একটি আবাসিক এলাকার মানচিত্র পোস্ট করেছিলেন। এ এলাকাতেই ইভাঙ্কা ট্রাম্প ও তার স্বামী জ্যারেড কুশনারের বাড়ি রয়েছে।

    গত ১৫ মে তুরস্কে আল সাদিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে ১৮টি হামলা ও হামলার চেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে তাকে কাতায়েব হিজবুল্লাহ ও ইরানের আইআরজিসির কথিত অপারেটিভ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এছাড়া আমস্টারডাম, লন্ডন, টরন্টো, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসে মার্কিন ও ইহুদি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতা থাকার অভিযোগ রয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, আল সাদি আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগের আড়াল হিসেবে একটি ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবহার করতেন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি আল-সাদির আইনজীবীও কোনো মন্তব্য করেননি।

  • জাল টাকা ঠেকাতে পশুর হাটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা জোরদার

    জাল টাকা ঠেকাতে পশুর হাটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা জোরদার

    ডিবি পুলিশ ও র‌্যাব ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাটে জাল টাকা ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি, চেকপোস্ট ও জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় সাদা পোশাকের গোয়েন্দা, সিসিটিভি মনিটরিং ও মোবাইল টিম মোতায়েন থাকবে।

    আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর প্রতিটি পশুর হাটে জাল টাকা প্রতিরোধে তৎপরতা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    পশুর হাটগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক ও পুলিশের পক্ষ থেকে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন বসানো হবে। কোরবানির পশু কেনাবেচায় জাল নোটের বিস্তার ঠেকাতে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো: শফিকুল ইসলামকে বলেন, ‘জাল টাকা প্রতিরোধে পুলিশ ঢাকা মহানগরীতে তৎপর রয়েছে। সম্প্রতি টঙ্গী ও গুলিস্তান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৪ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ। এছাড়া ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর প্রতিটি পশুর হাটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বুথ থাকবে।’

    ডিএমপির তথ্যমতে, ঈদকে সামনে রেখে একটি চক্র রাজধানীর বাজারগুলোতে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ ও র‌্যাব বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামসহ চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

    কোরবানির পশু কেনার সময় কোনো নোট নিয়ে সন্দেহ হলে ক্রেতারা হাটে স্থাপিত পুলিশের বুথে গিয়ে বিনামূল্যে তা পরীক্ষা করাতে পারবেন।

    র‌্যাবের মুখপাত্র উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতাদের ভোগান্তি রোধে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নগদ লেনদেন এড়িয়ে ক্যাশলেস বা কার্ডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধে উৎসাহিত করা হচ্ছে। জাল টাকা শনাক্ত ও প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখাসহ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের পশুর হাটগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে র‌্যাব। রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ পশুর হাট, সড়ক ও মহাসড়কে টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

    এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, পশুর হাটে অজ্ঞানপার্টি, মলমপার্টি, চুরি-ছিনতাই ও সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিতে মোবাইল টিম এবং সিসিটিভি মনিটরিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

    তিনি জানান, মহাসড়কে পশুবাহী যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে র‌্যাব।

    ডিএমপি’র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, এ বছর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার পশুর হাটগুলোতে পুলিশের বুথ থাকবে। সেখানে সিটি করপোরেশন, ব্যাংক ও পুলিশের পক্ষ থেকে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন সরবরাহ করা হবে।

    তিনি বলেন, হাটে জাল নোট চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করতে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাবে। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ পশুর হাট, প্রবেশপথ ও সড়কে থাকবে কড়া নিরাপত্তা, টহল ও সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ। একইসাথে পশুর হাটকে কেন্দ্র করে সড়ক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

    পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বলেন, রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে জাল টাকা প্রতিরোধে সিআইডির একাধিক টিম প্রস্তুত রয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করা গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    এদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ঈদ উপলক্ষে রাজধানীতে ২৮টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

    A M

  • গাংনীতে ৩২ দুঃস্থকে ১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা অনুদান প্রদান

    গাংনীতে ৩২ দুঃস্থকে ১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা অনুদান প্রদান

    রাশিদুল ইসলাম বোরহান, গাংনী (মেহেরপুর)

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় মাননীয় সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে ৩২ জন দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা অনুদান বিতরণ করা হয়েছে।

    রবিবার (২৪মে) বিকাল ৪টায় গাংনী উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ নাজমুল হুদা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন, গাংনী উপজেলা জামায়াতের আমীর মোঃ রবিউল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম এবং পৌর জামায়াতের আমীর মোঃ আহসানুল হক।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা অসহায় ও দুস্থ মানুষের কল্যাণে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পরে প্রধান অতিথি উপকারভোগীদের হাতে অনুদানের টাকা তুলে দেন।

  • ইউক্রেনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি পুতিনের

    ইউক্রেনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি পুতিনের

    ইউক্রেনের দখলকৃত পূর্বাঞ্চলে একটি ছাত্রাবাসে হামলার অভিযোগ করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ ঘটনায় পাল্টা প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শনিবার (২৩ মে) বিবিসি-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রাশিয়া-সমর্থিত স্থানীয় গভর্নর জানিয়েছেন, লুহানস্ক অঞ্চলের স্টারোবিলস্ক শহরে রাতভর চালানো ওই হামলায় ১০ জন নিহত এবং ৩৮ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া আরও ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, স্টারোবিলস্কে রাশিয়ার অভিজাত রুবিকন ড্রোন ইউনিটের সদর দপ্তরে হামলা চালানো হয়েছে। তবে সেটিই রাশিয়ার উল্লেখ করা ভবন কি না, সে বিষয়ে তারা কিছু বলেনি।

    পুতিন জানিয়েছেন, ওই এলাকার আশপাশে কোনো সামরিক স্থাপনা, গোয়েন্দা সংস্থার কার্যালয় বা সংশ্লিষ্ট কোনো অবকাঠামো ছিল না। শুক্রবার ক্রেমলিনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমাদের বিমান প্রতিরক্ষা বা ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থার কারণে গোলাবারুদ ভবনটিতে আঘাত করেছে—এমন দাবির কোনো ভিত্তি নেই।

    তিনি রুশ সামরিক বাহিনীকে প্রতিশোধের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট জানান, ইউক্রেন তিন দফায় মোট ১৬টি ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা চালায়শনিবার ভোরে রুশ কর্মকর্তারা জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরনগরী নভোরোসিস্কের একটি তেল ডিপোতে আগুন লাগে। এতে দুইজন আহত হন। দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলের সদর দপ্তর জানায়, কয়েকটি কারিগরি ও প্রশাসনিক ভবনে আগুন ধরে যায় এবং ড্রোনের টুকরো একটি জ্বালানি টার্মিনালে পড়ে। আহত দুজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া ড্রোন হামলায় আনাপা শহরের কয়েকটি ব্যক্তিগত বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়।

    ইউক্রেনের সেনাবাহিনী শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল স্টারোবিলস্কে রুবিকন ইউনিটের সদর দপ্তর। তারা অভিযোগ করে, এই বিশেষ ড্রোন ইউনিটটি নিয়মিতভাবে ইউক্রেনের বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামোর ওপর হামলা চালিয়ে আসছে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইউক্রেনীয় বাহিনী আন্তর্জাতিক মানবিক আইন, যুদ্ধের আইন ও রীতিনীতি কঠোরভাবে মেনে শুধুমাত্র সামরিক অবকাঠামো ও সামরিক কাজে ব্যবহৃত স্থাপনাগুলোতেই হামলা চালাচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসনের দখলকৃত এলাকায় রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবির সদর দপ্তরে হামলা চালানো হয়েছে। এতে প্রায় ১০০ জন রুশ দখলদার নিহত বা আহত হয়েছে। রাশিয়ার সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ক্রেমলিনপন্থী একটি টেলিগ্রাম চ্যানেল বড় ধরনের ড্রোন হামলার পর হতাহতের খবর দিয়েছে।

  • সমকামিতার সমালোচনা করায় সেনেগালের প্রধানমন্ত্রী বরখাস্ত

    সমকামিতার সমালোচনা করায় সেনেগালের প্রধানমন্ত্রী বরখাস্ত

    সেনেগালের প্রেসিডেন্ট বাসিরু দিওমায়ে ফায়ে কয়েক মাসের রাজনৈতিক উত্তেজনার পর প্রধানমন্ত্রী ওসমান সোনকোকে বরখাস্ত করেছেন এবং সরকার ভেঙে দিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সোনকোর পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি সমকামিতা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে, এক আকস্মিক অধ্যাদেশের মাধ্যমে এ খবর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানানো হয়। পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটি ইতোমধ্যে ব্যাপক ঋণের বোঝার মধ্যে থাকায় ঘটনাটি রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়িয়েছে।

    সোনকো সম্প্রতি পশ্চিমা বিশ্বের তীব্র সমালোচনার জবাবে বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো অন্য দেশের ওপর সমকামিতার ‘চাপ’ তৈরি করার চেষ্টা করছে। সমকামিতার অপরাধের জন্য শাস্তি কঠোর করার একটি নতুন আইন সেনেগালে পাশ হওয়ায়, সোনকো এই মন্তব্য করেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে বরখাস্ত করা হয়।

    তিনি ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের সমালোচনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘যদি তারা এই পথ বেছে নেয়, সেটা তাদের সমস্যা। এ বিষয়ে আমাদের শিক্ষার প্রয়োজন নেই।’

    প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তা ওমর সাম্বা অধ্যাদেশটি পড়ে শোনান এবং জানান, প্রেসিডেন্ট ফায়ে সোনকোকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছেন, যার ফলে সরকারের অন্যান্য মন্ত্রীরাও পদত্যাগ করেছেন। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা এখনও ঘোষণা করা হয়নি। বরখাস্ত হওয়ার পর সোনকো সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আজ রাতে আমি কুয়ের গরগুইয়ে শান্তিতে ঘুমাব।’ কুয়ের গরগুই সোনকোর নিজ এলাকা, যা ডাকারের মধ্যে অবস্থিত। এ সময় তার শত শত সমর্থক তার বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন।

    প্রেসিডেন্ট ফায়ে মূলত সোনকোর সমর্থনের ওপর ভর করে ক্ষমতায় এসেছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে সোনকোই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সবচেয়ে সম্ভাবনাশীল ব্যক্তি ছিলেন, তবে মানহানির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেননি। সোনকো এবং ফায়ে একসময় পাস্তেফ পার্টি গঠন করেছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে দুর্নীতি রোধ এবং অর্থনীতি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রথম ধাপের ভোটেই তারা জয়লাভ করেন।

    সেনেগালের তরুণদের মধ্যে সোনকো ব্যাপক জনপ্রিয়, বিশেষ করে তাঁর প্যান-আফ্রিকান মনোভাব এবং সাবেক ঔপনিবেশিক ফ্রান্সের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তরুণদের আকৃষ্ট করে। তবে সব ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট ফায়ের হাতে থাকায়, তিনি চাইলে অধ্যাদেশের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে সরাতে পারেন।

    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী দুইজনের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠেছে। গত মে মাসে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ফায়ে প্রকাশ্যভাবে সোনকোর একক আধিপত্যের সমালোচনা করেন। সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নতুন প্রশাসন বিশাল ঋণের বোঝার মধ্যে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, সেনেগালের ঋণের পরিমাণ মোট জিডিপির ১৩২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা সাব-সাহারা আফ্রিকার মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

    সম্প্রতি পার্লামেন্টে পাশ হওয়া একটি নতুন বিলের মাধ্যমে ২০২৯ সালের নির্বাচনে সোনকো অংশগ্রহণ করতে পারবে। এই আইনি সংস্কার পূর্বের নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়েছে, যা মানহানির মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তিদের নির্বাচনে দাঁড়াতে বাধা দিত।

  • ইরান যুদ্ধে মার্কিন ‘রিপার’ ড্রোনের ২০ শতাংশ ধ্বংস।

    ইরান যুদ্ধে মার্কিন ‘রিপার’ ড্রোনের ২০ শতাংশ ধ্বংস।

    যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির চালকবিহীন ড্রোন ‘এমকিউ-৯ রিপার’ বহরে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। ইরানের সাথে চলমান সংঘাতে মার্কিন বিমানবাহিনীর মোট রিপার ড্রোন বহরের প্রায় ২০ শতাংশই ধ্বংস হয়ে গেছে। ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরান এ পর্যন্ত প্রায় ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) মার্কিন ডলার মূল্যের এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ধ্বংস করেছে, যা যুদ্ধপূর্ববর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মজুদে থাকা মোট ড্রোনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। এর মধ্যে বেশ কিছু ড্রোনকে আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। আবার অনেকগুলো ড্রোন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়ে মাটিতেই ধ্বংস হয়েছে।

    এমকিউ-৯ রিপার মূলত একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল নজরদারি ড্রোন, যা একই সাথে হেলফায়ার মিসাইল বা গাইডেড বোমার মতো ভারী অস্ত্র বহন ও নিখুঁত হামলা চালাতে সক্ষম। ব্লুমবার্গের জানায়, চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩০টি রিপার ড্রোন হারিয়েছে। এই সংখ্যাটি চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন ‘কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস’-এর দেওয়া তথ্যের (২৪টি) চেয়েও বেশি। ড্রোনের এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুদ্ধের সামগ্রিক ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    চলতি মে মাসে রয়টার্সকে দেওয়া পেন্টাগনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার তথ্যমতে, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধের ব্যয় ইতোমধ্যে প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।এই প্যাটার্ন ম্যাপিংয়ের পেছনে রাশিয়ার প্রত্যক্ষ সহযোগিতা থাকতে পারে বলে ধারণা করছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা চুক্তির অংশ হিসেবে রাশিয়া মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সেনাদলের স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহ করে ইরানকে সাহায্য করে আসছে। মূলত ইরান নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ব্যবস্থার পাশাপাশি রুশ ও চীনা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি মিশ্রণ ব্যবহার করছে।

    গত এপ্রিল মাসে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর মাত্র কয়েকদিন আগে ইরান একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিল, যা ওয়াশিংটনকে চরম নাটকীয় পরিস্থিতির মুখে ফেলে দেয়।

    এর আগে, ২০২৫ সালের জুনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালালে দুই দেশের মধ্যে পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হয়। মিডল ইস্ট আই-এর পূর্ববর্তী এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেই যুদ্ধের পরই চীন ইরানকে অত্যাধুনিক সারফেস-টু-এয়ার (ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য) মিসাইল ব্যাটারি সরবরাহ করেছিল। বেজিং ও মস্কোর এমন কৌশলগত সহায়তায় শক্তিশালী হয়ে ওঠা ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন মার্কিন বিমানবাহিনীর জন্য এক বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে

  • হাম উপসর্গে আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু

    হাম উপসর্গে আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু

    হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মোট ৫১২ শিশুর মৃত্যু হলো।

    গত একদিনে সারাদেশে আরও এক হাজার ৯৬৭ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। আজ শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১৩ শিশুর মধ্যে একজনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়। বাকি ১২ শিশু হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। এরমধ্যে বরিশালে হাম শনাক্ত হওয়া এক শিশু এবং হামের উপসর্গে আরও এক শিশুসহ ২ জন; ঢাকায় হামের উপসর্গে ৪, সিলেটে ৪, চট্টগ্রামে ২ ও ময়মনসিংহে হামের উপসর্গে এক শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম এবং হামের বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মারা গেল ৫১২ শিশু। এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও এক হাজার ৯৬৭টি শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট ৬২ হাজার ৫০৭ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে তীব্র জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় ৪৯ হাজার ৩৮৯ শিশু। হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর এ পর্যন্ত ৪৫ হাজার ১১টি শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে বাকি শিশুরা চিকিৎসাধীন।

    চিকিৎসকরা শিশুদের সুরক্ষায় দ্রুত হামের টিকা নিশ্চিত করার এবং কোনো লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

  • ইরান যুদ্ধ: তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

    ইরান যুদ্ধ: তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

    ইরানে চলমান সামরিক পরিস্থিতির কারণে তাইওয়ানের জন্য নির্ধারিত প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও এক সিনেট শুনানিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ওই শুনানিতে হাং কাও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানে পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথ সামরিক অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ ও অস্ত্র মজুত নিশ্চিত করতে চায়। এ অভিযানের কোডনাম ‘এপিক ফিউরি’। তিনি বলেন, আমাদের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় মজুত নিশ্চিত করতে সাময়িক বিরতি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন প্রয়োজন মনে করলে বিক্রি পুনরায় চালু হবে। তবে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অস্ত্র বিক্রিতে কোনো পরিবর্তন বা স্থগিতের বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানেন না।

    দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছে চীন। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের কথাও একাধিকবার উল্লেখ করেছে। স্থগিত হওয়া এই ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র, বিশেষ করে লকহিড মার্টিনের পিএসি-৩ এবং সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। কয়েক মাস ধরেই এ প্যাকেজটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

    সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প এ বিষয়ে সরাসরি অবস্থান না নিয়ে বলেন, তাইওয়ানের অস্ত্র বিক্রি চীনের সঙ্গে আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দরকষাকষির উপাদান হতে পারে। তিনি আরো জানান, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বেইজিং সফরের সময় শি জিনপিং ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলো তাইওয়ান। পরে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি শি’র সঙ্গে তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি খুব বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন।

    এদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে সরাসরি তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের সঙ্গে কথাও বলতে পারেন, যা দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক রীতির বাইরে এবং এতে চীনের ক্ষুব্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত ডিসেম্বরেও যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের জন্য ১১ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন করলে চীন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়।

  • এবার ঈদুল আজহায় মুসলিমদের ছুটিতে কোপ শুভেন্দুর

    এবার ঈদুল আজহায় মুসলিমদের ছুটিতে কোপ শুভেন্দুর

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালের শুরুতে প্রকাশিত ছুটির তালিকায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে দুই দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছিল তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তবে রাজ্যটিতে সরকার পরিবর্তনের পর সেই সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনল নতুন বিজেপি সরকার। শনিবার জারি করা এক নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এবার ঈদুল আজহায় একদিনই সরকারি ছুটি থাকবে। আগামী ২৮ মে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিক সংস্কারে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি সরকারি দফতরে কর্মসংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতেও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। সরকারি পরিষেবা দ্রুত ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে নিশ্চিত করতে অপ্রয়োজনীয় ছুটি ও গাফিলতির সংস্কৃতি কমানোর ওপর জোর দিচ্ছে নতুন সরকার। এছাড়া সরকারি কর্মীদের অফিসে উপস্থিতির সময়ও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ঈদুল আজহার ছুটি কমানোর সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক শৃঙ্খলার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, বছরের শুরুতেই সাধারণত সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে প্রকাশিত তালিকায় ২৬ ও ২৭ মে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে শনিবার অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পি কে মিশ্র নতুন নির্দেশনা জারি করে জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের ছুটির তালিকার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবার একদিনের ছুটি কার্যকর করা হচ্ছে। এদিকে নতুন এই সিদ্ধান্তের পর সরকারি কর্মীদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, ভবিষ্যতে দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটির ক্ষেত্রেও কি কোনো কাটছাঁট হতে পারে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে গুলি, হামলাকারীসহ নিহত ৫

    যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে গুলি, হামলাকারীসহ নিহত ৫

    যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগোতে একটি মসজিদ ও ইসলামিক স্কুল কমপ্লেক্সে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই ঘটনাটিকে একটি বর্ণবাদী ও ঘৃণা-প্রসূত অপরাধ বা ‘হেইট ক্রাইম’ হিসেবে সন্দেহ করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

    সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াল জানিয়েছেন, সোমবার সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার ‘ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগো’ বা আইসিএসডিতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারী দুজনও পরে নিজেদের গুলিতে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ঘটনাস্থলটি একটি ইসলামিক সেন্টার হওয়ায় বিষয়টি কোনোভাবেই হালকা করে দেখা হচ্ছে না। পুলিশ প্রধান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত অন্য কোনো তথ্য-প্রমাণ না মিলছে, ততক্ষণ একে বর্ণবাদী অপরাধ হিসেবেই বিবেচনা করছে পুলিশ।

    সন্দেহভাজন হামলাকারী দুজনের বয়স আনুমানিক ১৭ ও ১৯ বছর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াল আরো জানান, নিহতদের মধ্যে একজন ছিলেন ওই ইসলামিক সেন্টারের নিরাপত্তারক্ষী। হামলা রুখতে এবং এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা যেন আরো বড় বিপর্যয় বা গণহত্যোয় রূপ না নেয়, তা নিশ্চিত করতে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন।

    নিহত তিনজনের সকলেই প্রাপ্তবয়স্ক। ঘটনার শুরুতে সান ডিয়েগো পুলিশ বিভাগ সেখানে একজন সক্রিয় বন্দুকধারী থাকার কথা জানিয়ে সতর্কবার্তা দিলেও পরে জানায় যে হুমকি ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়েছে।

    এই ভয়াবহ ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মসজিদের ইমাম তাহা হাসান। তিনি আইসিএসডিকে এমন এক মিলনমেলা হিসেবে বর্ণনা করেন যেখানে মুসলিম এবং অমুসলিম- সবাই একসাথে জড়ো হন, প্রার্থনা করেন, শিক্ষা নেন এবং আনন্দ উৎসব ভাগাভাগি করেন।

    ইমাম তাহা হাসান আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, একটি এবাদতের কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে এমন হামলা চালানো অত্যন্ত জঘন্য এবং মারাত্মক আপত্তিকর। আমাদের এই ইসলামিক সেন্টারটি শুধুই একটি পবিত্র এবাদতের জায়গা। এদিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়িয়ে সান ডিয়েগোর মেয়র টড গ্লোরিয়া জোর দিয়ে বলেছেন, এই শহরে ঘৃণার কোনো স্থান নেই।

    স্থানীয় মুসলিমদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের প্রার্থনা আপনাদের সাথে আছে। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, এই শহরে আপনারা যেন নিরাপদ বোধ করতে পারেন তার জন্য যা যা করা দরকার আমরা সব করব। এই সংবেদনশীল সময়ে আমাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং স্থানগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের সম্পদের কমতি রাখা হবে না। সান ডিয়েগোর ডাউনটাউন বা মূল শহরের উত্তরে অবস্থিত ক্লেয়ারমন্ট আবাসিক এলাকায় এই ইসলামিক সেন্টারটি অবস্থিত।

  • ট্রাম্পের ক্ষতিপূরণ তহবিল নিয়ে বিতর্ক

    ট্রাম্পের ক্ষতিপূরণ তহবিল নিয়ে বিতর্ক

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত নতুন ক্ষতিপূরণ তহবিলকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এই তহবিল প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের সুবিধা দেওয়ার একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ।

    যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সোমবার জানায়, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় টার্গেট করা হয়েছে এমন কিছু ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ দিতে ১৭৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। সমালোচকদের ভাষায়, এটি একটি গোপন রাজনৈতিক তহবিল, যা ট্রাম্পের রাজনৈতিক মিত্রদের উপকৃত করবে।

    এই উদ্যোগ ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কৌশলের প্রতিফলন বলে মনে করেন অনেকে। ওরেগনের ডেমোক্র্যেট সিনেটর রন ওয়াইডেন অভিযোগ করে বলেন, এটি ডানপন্থীদের রাজনৈতিক সহিংসতার জন্য তৈরি একটি বিশাল গোপন তহবিল।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম বিতর্কিত পদক্ষেপ হয়ে উঠতে পারে এই তহবিল। একই সঙ্গে এটি রিপাবলিকান পার্টির জন্যও নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে

  • মধ্যপ্রাচ্য ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর মাথার দাম নির্ধারণ করছে ইরান

    মধ্যপ্রাচ্য ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর মাথার দাম নির্ধারণ করছে ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকোম) শীর্ষ কমান্ডার ব্র্যাড কুপারের মাথার দাম নির্ধারণ করতে যাচ্ছে ইরান। দেশটির সংসদে শিগগিরই এ বিষয়ে ভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

    ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি জানান, “ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা ব্যবস্থা” শিরোনামে একটি বিল প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে ট্রাম্প বা নেতানিয়াহু ও শীর্ষ কমান্ডার ব্র্যাড কুপারের মাথার দাম ৫০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৪৩.৫ মিলিয়ন পাউন্ড) পুরস্কার দেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

    ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, ফেব্রুয়ারিতে সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে লক্ষ্য করে হওয়া হামলার জন্য ট্রাম্প, নেতানিয়াহু এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দায়ী। এ ঘটনার জবাবে “প্রতিরোধ ও পাল্টা ব্যবস্থা” গ্রহণ করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন আজিজি।

    জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের আরেক সদস্য মাহমুদ নাভাবিয়ান বলেন, “যে ব্যক্তি ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে জাহান্নামে পাঠাবে”, তার জন্য পুরস্কার নির্ধারণের বিষয়ে সংসদ শিগগিরই ভোট দেবে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর সামরিক হামলা পুনরায় শুরু হলে তার জবাব হবে “বিধ্বংসী”।

    বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত এই পুরস্কার আইন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। কারণ, এতদিনের ধর্মীয় ফতোয়া বা রাজনৈতিক হুমকিকে এবার আনুষ্ঠানিক সংসদীয় পদক্ষেপে রূপ দেওয়ার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।

    এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান যদি তার বিরুদ্ধে কোনো হত্যাচেষ্টা চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র “অত্যন্ত কঠোর” জবাব দেবে এবং প্রয়োজনে ইরানকে “পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন” করে দেওয়া হবে।এদিকে “ব্লাড কভেন্যান্ট” নামের একটি প্রচারণা দাবি করেছে, ট্রাম্পকে হত্যার উদ্দেশ্যে তারা ইতোমধ্যে ২৭ মিলিয়ন ডলারের বেশি তহবিল সংগ্রহ করেছে।


    আরও পড়ুন · নির্ভরযোগ্য সূত্র:

  • ‘চিকেনস নেকের’ মহাসড়কের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় সরকারের।

    ‘চিকেনস নেকের’ মহাসড়কের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় সরকারের।

    ভারতের স্ট্র্যাটেজিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিমবঙ্গের ‘শিলিগুড়ি করিডোর’ বা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত সরু ভূখণ্ডের অনেকটা জমি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে হস্তান্তর করল রাজ্য সরকার।

    পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্য সচিবের জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এক বছর ধরে টালবাহানা করলেও নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই ‘যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য’ ওই অঞ্চলের সাতটি সড়ক ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অব ইন্ডিয়া ও ন্যাশনাল হাইওয়েজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন লিমিটেডের হাতে তুলে দিয়েছে।

    এতদিন পর্যন্ত রাজ্য সরকারের পূর্ত দপ্তরের হাতেই এই সড়কগুলো দেখভালের দায়িত্ব ছিল। এই সাতটি সড়কের মধ্যে পাঁচটিই সরাসরি শিলিগুড়ি করিডোরের মধ্যে দিয়ে গেছে। এখন এই হস্তান্তরের ফলে রাস্তাগুলোর সম্প্রসারণ, মেরামতির কাজ দ্রুত শুরু হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    আর সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে রাস্তার সম্প্রসারণ হলে ওই অঞ্চলে সড়কপথে সামরিক অভিযান অনেক সহজ এবং দ্রুত হবে।

    ভৌগোলিক দিক থেকে চিকেন্স নেকের অবস্থান ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনটি আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে অবস্থিত এই ভূখণ্ডটি সবচেয়ে সরু যেখানে – তার দৈর্ঘ্য মাত্র ২২ কিলোমিটার। এই ‘চিকেন্স নেক’ নেপাল, বাংলাদেশ ও ভূটান সীমান্তের খুব কাছাকাছি অবস্থিত।

    এই সরু ভূখণ্ডটি উত্তর-পূর্বের সেভেন সিস্টারস বা সাতটি রাজ্যের সঙ্গে বাকি দেশকে জুড়ে রেখেছে। এই অঞ্চলটির লাগোয়া সিকিমের উত্তরে রয়েছে আরেক প্রতিবেশী দেশ চীন। বিশেষজ্ঞরা জাতীয় সুরক্ষার দিক থেকেও এই পদক্ষেপকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন।

    ২০১৭ সালে ভূটান-চীন-ভারত তিন দেশের সীমানা যেখানে মিশেছে, সেই ডোকলামে সামরিক সংকটের পর থেকেই এই অঞ্চলের রাস্তা সম্প্রসারণ করা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্তরে চিন্তা-ভাবনা চলছিল।

  • রাশিয়ার কাছে ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে চায় ইরান

    রাশিয়ার কাছে ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে চায় ইরান

    ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করতে চায় বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের গণমাধ্যম আল হাদাথ। ফাঁস হওয়া একটি নথির বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো তেহরানের সবশেষ শান্তি প্রস্তাবের অংশ হিসেবে বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে।

    আল হাদাথের সোমবারের প্রতিবেদনটি ইংরেজিতে প্রকাশ করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্র মালিকানাধীন গণমাধ্যম আরটি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইরান দীর্ঘ সময়ের জন্য তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত রাখতে প্রস্তুত। তবে শর্ত হলো- তাদের উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

    আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) হিসাব অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে ৪০০ কেজির (৬০ শতাংশ) বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আছে। সাধারণত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য ৯০ শতাংশ বা এর বেশি মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের প্রয়োজন হয়।

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের অবসান ঘটাতে মস্কো শুরু থেকেই সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়ে আসছে। বিশেষ করে ইরানের ইউরেনিয়াম নিজেদের ভূখণ্ডে সংরক্ষণের আগ্রহও দেখিয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা শুধু প্রস্তাবই দেইনি, ২০১৫ সালে এ ধরনের প্রস্তাব সফলভাবে বাস্তবায়নও করেছিলাম।’

    সোমবার মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, তেহরানের সবশেষ প্রস্তাবটি ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছে। কারণ, তারা আগের প্রস্তাবটিতে নামমাত্র পরিবর্তন করে তা নতুন প্রস্তাব হিসেবে পাঠিয়েছে।

    স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা শুরুর সময় থেকেই ট্রাম্প দাবি করছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ওয়াশিংটনের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। গত সপ্তাহে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইউরেনিয়ামের মজুত হাতে পেলে তিনি মানসিকভাবে স্বস্তি পাবেন।

  • মস্কোয় ইউক্রেনের ৫০০ ড্রোন হামলায় নিহত ৩, এক বছরের সবচেয়ে বড় আঘাত

    মস্কোয় ইউক্রেনের ৫০০ ড্রোন হামলায় নিহত ৩, এক বছরের সবচেয়ে বড় আঘাত

    রাশিয়ার রাজধানী মস্কোকে রাতভর পাঁচ শতাধিক ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। স্থানীয় ও সামরিক কর্মকর্তাদের বরাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস রোববার (১৭ মে) এই তথ্য জানিয়েছে।

    তাস জানিয়েছে, মস্কোর ওপর এই আক্রমণ গত এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় হামলা। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত তিনজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও অনেকে।

    মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, মস্কোর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত খিমকিতে রোববার ভোররাতে একটি বাড়িতে ড্রোন হামলা হলে একজন নারী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া সেখানে ধ্বংসাবশেষের নিচে আরেকজন আটকে পড়েছেন।
    তিনি আরও বলেন, মস্কোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মিতিসচিতে ড্রোন হামলার ফলে ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুইজন নিহত হয়েছেন। হামলায় মস্কোতে মোটে ১২ জন আহত হয়েছেন।

    রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর ৫৫৬টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। সোবিয়ানিন জানান, শুধুমাত্র মস্কোর দিকে আসা ১২০টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।

    তাসের খবরে বলা হয়েছে, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে সুবোতিনো গ্রামে একটি বাড়িতে আগুন ধরেছে। এতে চারজন দগ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া ইস্ত্রা শহরে বেশ কয়েকটি ভবন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    এ ছাড়া রাশিয়ার ব্যস্ততম বিমানবন্দর শেরেমেতিয়েভোর প্রাঙ্গণে ড্রোনের কিছু অংশ পড়েছে। তবে এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
    অন্যদিকে রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, রাতভর রাশিয়া ২৮৭টি ড্রোন ছুড়েছে। এতে অন্তত নয়জন আহত হয়েছে।

  • ৩ দিনের চীন সফরে কী পেলেন ট্রাম্প

    ৩ দিনের চীন সফরে কী পেলেন ট্রাম্প

    চীনে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্র ফিরে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই সফর তার দ্বিতীয় মেয়াদের ক্ষমতায় আসার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সফর শেষে ট্রাম্প কী নিয়ে ফিরলেন সেটিই বোঝার চেষ্টা করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আল জাজিরা।

    শুক্রবার (১৫ মে) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প চেয়েছিলেন ইরানের তেল ও গ্যাসের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন যেন তেহরানের ওপর নিজেদের প্রভাব খাটায়। তার ধারণা ছিল, বেইজিংকে চাপ দিয়ে ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে আনা যেতে পারে। এমনকি হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে পরিচালিত কার্যক্রমেও চীনকে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে বলে তিনি মনে করেছিলেন।

    গত রাতে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও দ্রুত এই যুদ্ধের অবসান চান বলে তিনি বিশ্বাস করেন।তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করেছে। বেইজিংয়ের বক্তব্য, এই যুদ্ধ কখনোই শুরু হওয়া উচিত ছিল না এবং আর সংঘাত নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানে পৌঁছানো দরকার।

    চীন সফর শেষে ট্রাম্প আশা করছেন, বেইজিং হয়তো ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা আলোচনায় ভূমিকা রাখবে। তবে বাণিজ্য ইস্যুর মতো এখানেও এখন পর্যন্ত এমন কোনো লিখিত সমঝোতা নেই, যা থেকে বোঝা যায় চীন সরাসরি মধ্যস্থতায় নামছে।

    যদিও এই সফরে ট্রাম্পকে বিশেষ সম্মান দেখিয়েছে চীন। প্রেসিডেন্টের জন্য ছিল ব্যতিক্রমধর্মী আতিথেয়তা। তিনি সফর শেষ করেছেন ঝংনানহাই কমপ্লেক্সে, যা চীনের ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।অত্যন্ত গোপনীয়, রহস্যময় এবং বিশ্বের সবচেয়ে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থাপনাগুলোর একটি এই কম্পাউন্ডে বসবাস করেন শি জিনপিং এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতারা।

    চীনা কমিউনিস্ট পার্টির বাইরের খুব কম মানুষই সেখানে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং নেদারল্যান্ডসের রাজা।

    ট্রাম্পকে সম্মানিত ও গুরুত্বপূর্ণ অনুভব করানো ছিল চীনের বৃহত্তর কৌশলের অংশ। ভবিষ্যৎ সম্পর্কের পরিবেশ তৈরি করতেই এমন আয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।চীনের সরকারি সামাজিক মাধ্যমগুলোতে এই সফরকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরা হলেও বিস্তারিত খুব কমই জানানো হয়েছে।অবশ্য এটিই চীনের স্বাভাবিক কূটনৈতিক ধরন। শি জিনপিং সাধারণত খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করেন না।

    বেইজিংয়ের দৃষ্টিতে এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলা। সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও বৈরিতা কমিয়ে আগামী তিন বছরের জন্য একটি নতুন কাঠামো তৈরি করার চেষ্টা করেছে চীন।

    জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য তদারকির জন্য একটি বোর্ড অব ট্রেড গঠনের বিষয়েও আলোচনা করেছে।তবে এ নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তা সত্ত্বেও, ট্রাম্প মনে করছেন তিনি এই সফরে নিজের অনেক লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছেন।তিনি চীনের কাছে আরও বিমান বিক্রির বিষয়টি জোর দিয়ে তুলেছেন। ট্রাম্পের দাবি, বোয়িং দুইশ উড়োজাহাজ সরবরাহের একটি চুক্তি পেতে যাচ্ছে।

    এছাড়া আগামী তিন বছরে চীনে আরও বেশি কৃষিপণ্য রপ্তানির আশাও করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে কয়েক বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব অর্জন ট্রাম্পের জন্য বড় সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

    ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত করার বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে। এ কারণেই সফরে তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বড় কোম্পানির প্রতিনিধিরাও ছিলেন। সব মিলিয়ে, চীনে প্রায় চল্লিশ ঘণ্টার সফরকে সফল বলেই মনে করছেন ট্রাম্প।

    তবে এটিই দুই নেতার শেষ বৈঠক নয়। চলতি বছরে আরও অন্তত তিনটি বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি হবে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে, আর সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটন ডিসিতে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয় সফর।

  • ইরানসহ আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিয়ে আগ্রাসনবিরোধী চুক্তির প্রস্তাব সৌদি আরবের

    ইরানসহ আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিয়ে আগ্রাসনবিরোধী চুক্তির প্রস্তাব সৌদি আরবের

    মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এবং ইরানকে নিয়ে আগ্রাসনবিরোধী একটি চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। ইউরোপে স্নায়ুযুদ্ধের সময় উত্তেজনা কমাতে করা ১৯৭০–এর দশকের একটি চুক্তির আদলে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

    সৌদি আরবের এই উদ্যোগ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমর্থন পেয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই উদ্যোগকে সমর্থন করবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

    সৌদি আরব মূলত ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক হেলসিংকি অ্যাকর্ডসকে মডেল হিসেবে ধরে এই নতুন চুক্তির খসড়া তৈরি করছে। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইউরোপের সীমানাকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। একই সঙ্গে সব পক্ষ মানবাধিকার রক্ষা এবং অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক ও মানবিক বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে একমত হয়েছিল

    আরব এক কূটনীতিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের জন্য এমন একটি চুক্তিকে ‘বেশির ভাগ আরব ও মুসলিম দেশের পাশাপাশি ইরানও’ স্বাগত জানাবে। তবে ইরান এর আগে উপসাগরীয় দেশগুলোকে তাদের অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিল।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা কমাতে পারে, এমন যেকোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করবে ইসরায়েল। এ ছাড়া কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো এই চুক্তিতে কীভাবে সমাধান করা হবে, তা–ও পরিষ্কার নয়।

    তেহরান এই জলপথের ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে চায় এবং সেখানে জাহাজ চলাচলের জন্য নিজস্ব টোল ব্যবস্থাও চালু করেছে।যুদ্ধ শুরুর আগে সৌদি আরব ও অন্য উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের ওপর হামলা না করতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, যুদ্ধের ফলে ইরান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটির ইসলামি শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

    মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও এই আশঙ্কার প্রতিফলন দেখা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের পরও ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত প্রায় অক্ষত রয়েছে এবং দেশটির সরকারের পতনের কোনো লক্ষণ নেই।

    যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপসাগরীয় দেশগুলো বিভক্ত হয়ে পড়েছে। যুদ্ধ এড়ানোর চেষ্টা করা সত্ত্বেও ইরান থেকে হাজার হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হতে হয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোকে। বিপরীতে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিতে এসব দেশকে চাপ দিয়ে আসছে। #

  • বিশ্বের সবচেয়ে ঘৃণিত দেশ ইসরাইল!

    বিশ্বের সবচেয়ে ঘৃণিত দেশ ইসরাইল!

    ‘নিরা ডেটা’ তাদের ‘২০২৬ গণতন্ত্র ও দেশ সম্পর্কিত ধারণা’ গবেষণার অংশ হিসেবে নতুন এক বৈশ্বিক জরিপ প্রকাশ করেছে। জরিপ অনুসারে, ইসরাইলকে এখন বিশ্বের সবচেয়ে ঘৃণিত দেশ হিসেবে দেখা হয়। নেতিবাচক বা ঘৃণিত দেশের তালিকায় প্রথম পাঁচটি দেশের তালিকায় রয়েছে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র।

    অন্যদিকে সবচেয়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচিত পাঁচটি দেশ হলো— সুইজারল্যান্ড, কানাডা, জাপান, সুইডেন ও ইতালি। গবেষণার ফলাফলে ‘গ্লোবাল কান্ট্রি পারসেপশনস ২০২৬’ র‍্যাঙ্কিং-এর একেবারে তলানিতে স্থান পেয়েছে ইসরাইল। জরিপটি ৪৬ হাজার ৬৬৭ জন উত্তরদাতার ওপর করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে ১২৯টি দেশ ও তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে কিভাবে দেখা হয়, তা মূল্যায়ন করার জন্য মূলত গবেষণাটি করা হয়েছে।

    গাজায় গণহত্যা, ফিলিস্তিনিদের গণ-বাস্তুচ্যুতি, ফিলিস্তিনের মুসলিমদের অনাহারে রাখা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার মধ্যে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার আরো একটি লক্ষণ হলো এই ফলাফল। মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসঙ্ঘের বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক আদালতগুলো দখলদার ইসরাইল কর্তৃক আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের বিষয়ে সতর্ক করায় দেশটির বৈশ্বিক ভাবমূর্তি ধসে পড়েছে।

    গাজায় দখলদার ইসরাইলের আক্রমণের জেরে দেশটির মর্যাদার এই পতন ঘটেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইল ৭৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে, গাজার বেশিরভাগ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করেছে, প্রায় সমগ্র জনগোষ্ঠীকে বাস্তুচ্যুত করেছে এবং এমন সব শর্ত আরোপ করেছে, যেগুলোকে জাতিসঙ্ঘের বিশেষজ্ঞ ও গবেষকরা গণহত্যামূলক বলে বর্ণনা করেছেন।

    বিশ্বব্যাপী মর্যাদার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরও নাটকীয় পতন ঘটেছে। আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বের সবচেয়ে নেতিবাচকভাবে বিবেচিত দেশগুলোর মধ্যে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। এক্ষেত্রে রাশিয়া ও চীন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। মাত্র দুই বছরে ৩৮ পয়েন্ট হারানোর কারণে নেট পারসেপশন স্কোর ২০২৪ সালের +২২ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে -১৬ শতাংশে নেমে এসেছে।

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। এর মধ্যে ছিল ন্যাটো মিত্রদের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন, আগ্রাসী শুল্ক আরোপ, গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত হুমকি, ইউক্রেনের জন্য সাহায্য হ্রাস এবং ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সঙ্ঘাতে ওয়াশিংটনের ভূমিকা। সমীক্ষায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রকে এখন রাশিয়া ও ইসরাইলের পর বিশ্বের একটি প্রধান হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, জরিপে নির্বাচন, বাকস্বাধীনতা, রাজনৈতিক বহুত্ববাদ, নাগরিক শিক্ষা, ক্ষমতার পৃথকীকরণ, আইনের শাসন, সরকারি স্বচ্ছতা ও শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের মতো বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন করার মাধ্যমে নাগরিকদের কাছে সরাসরি জানতে চাওয়া হয়, তারা গণতন্ত্রকে কিভাবে অনুভব করে।

  • স্থানীয় নির্বাচন ইংল্যান্ডে শতাধিক মুসলিম কাউন্সিলর নির্বাচিত

    স্থানীয় নির্বাচন ইংল্যান্ডে শতাধিক মুসলিম কাউন্সিলর নির্বাচিত

    সর্বশেষ অনুষ্ঠিত যুক্তরাজ্যের স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনে ইসলামপন্থি ও ফিলিস্তিন এজেন্ডার সঙ্গে যুক্ত ৫৭৪ জন প্রার্থী বিজয় অর্জন করেছেন। ইংল্যান্ডে ১০০টিরও বেশি আসন নিশ্চিত করেছেন স্বতন্ত্র মুসলিম প্রার্থীরা। এ নির্বাচনে সব মিলিয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন পাঁচ হাজার ৬৬ জন।

    হেনরি জ্যাকসন সোসাইটির (এইচজেএস) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের স্থানীয় পরিষদগুলোতে নির্বাচিত প্রতি ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে ১ জনেরও বেশি মুসলিম এজেন্ডা নিয়ে প্রচার চালিয়েছেন।

    এইচজেএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, যদিও তাদের সবাই মুসলিম ছিলেন না, তবে তাদের কর্মসূচি সুস্পষ্টভাবে ইসলামের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এসব প্রার্থী সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এরা সবাই ক্রমাগত ও সুস্পষ্টভাবে মুসলিমদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলীকে তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডার কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে প্রচার চালিয়েছেন।

    মুসলিমপন্থি বিজয়ীদের মধ্যে ১৩২ জন স্বতন্ত্র, ৩৫০ জন গ্রিন পার্টির, ৮৪ জন লেবার পার্টির সদস্য এবং ছয়জন লিবারেল ডেমোক্র্যাট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

    ৫৭৪ জন প্রার্থীর মধ্যে একজন হলেন মোহাম্মদ সুলেমান, তিনি নিউক্যাসল থেকে গ্রিন পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ল্যাম্বেথের গ্রিন পার্টির প্রার্থী সাইকা আলী, অনলাইনে ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্য পোস্ট করে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তারপরও তিনি নির্বাচিত হয়েছেন।

    ম্যানচেস্টারের গ্রিন পার্টির প্রার্থী শামস সৈয়দ বলেছিলেন, গাজা ছাড়া রাজনীতিতে তার কোনো আগ্রহ নেই। তিনিও নির্বাচিত হয়েছেন।সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ব্রিটেনের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ মুসলিম। ইংল্যান্ডে মুসলিমদের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। তুলনামূলকভাবে, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসে জনসংখ্যার মাত্র প্রায় ২ শতাংশ মুসলিম। ২০২১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, উত্তর আয়ারল্যান্ডে এই সংখ্যা মাত্র ০.৬ শতাংশ।

    যুক্তরাজ্যে মুসলিম জনসংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। ২০০১ সালের আদমশুমারিতে জনসংখ্যার মাত্র ২ দশমিক৭ শতাংশ নিজেদের মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল। অন্যদিকে ২০১১ সালের আদমশুমারিতে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বাসিন্দা নিজেদের ইসলাম ধর্মাবলম্বী হিসেবে পরিচয় দেন।

  • ইরান নিয়ে ধৈর্য হারাচ্ছি -ট্রাম্প

    ইরান নিয়ে ধৈর্য হারাচ্ছি -ট্রাম্প

    চীনে সফরত অবস্থায় ইরান ইস্যুতে কড়া হুঁশিয়ার বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান ইস্যুতে তিনি ধৈর্য হারিয়ে ফেলছেন।

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনা ও আরব আমিরাত উপকূলের কাছে ইরানি বাহিনীর হাতে জাহাজ জব্দের খবর প্রকাশের পর এমন হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    গতকাল হোয়াইট হাউজ জানায়, বেইজিংয়ে বৈঠকে ট্রাম্প এবং শি হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ আছে। এতে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।

    বৃহস্পতিবার রাতে ফক্স নিউজে ট্রাম্পের দেয়া সাক্ষাৎকার প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে ট্রাম্প বলেছেন, আমি আর বেশি ধৈর্য ধরব না। তাদের একটি সমঝোতায় আসা উচিত। ইরানের গোপন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মজুতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, আসলে, এটা পেলে আমার ভালোই লাগবে। শুধুমাত্র জনসংযোগের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এটি সুরক্ষিত করা প্রয়োজন।

    পরবর্তী সময়ে শুক্রবার ভোরে বেইজিং থেকে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান চলবে।এদিকে ট্রাম্পের এসব বার্তার পর ইরানের পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি বলেন, পুরোপুরি বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে অভিযান চলবে।

  • বিশ্ব ভারতের ঐতিহাসিক কামাল মওলা মসজিদকে মন্দির ঘোষণা

    বিশ্ব ভারতের ঐতিহাসিক কামাল মওলা মসজিদকে মন্দির ঘোষণা

    ভারতের মধ্যপ্রদেশে ভোজশালা কমপ্লেক্সের বিতর্কিত স্থানকে সরস্বতীর মন্দির হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার হিন্দু আবেদনকারীদের পক্ষে রায় দিয়েছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট।

    বিচারপতি বিজয় কুমার শুক্লা ও বিচারপতি অলোক আওয়াস্থির বেঞ্চ এ রায় দেয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ভোজশালায় একটি সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র এবং সরস্বতীর মন্দির ছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।

    আদালত বলেছে, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি যে এই স্থানে হিন্দু পূজার ধারাবাহিকতা কখনো বিলুপ্ত হয়নি। ঐতিহাসিক সাহিত্য থেকে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় যে, বিতর্কিত এলাকাটির চরিত্র ছিল ভোজশালা, যা পরমার রাজবংশের রাজা ভোজের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সংস্কৃত শিক্ষার কেন্দ্র ছিল।’

    আদালত মুসলিম সম্প্রদায়কে জেলায় একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য পৃথক জমি বরাদ্দের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে।

    হিন্দু সম্প্রদায় ভোজশালাকে রাজা ভোজ নির্মিত সরস্বতীর মন্দির বলে মনে করে। অন্যদিকে মুসলিম পক্ষ দাবি করে যে এই স্থানটি বহু শতাব্দী ধরে কামাল মওলা মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ২০০৩ সালের এএসআই চুক্তি অনুসারে, হিন্দু ও মুসলমানরা যথাক্রমে মঙ্গলবার ও শুক্রবার এখানে প্রার্থনা করে থাকেন।

    হিন্দু পক্ষ এই আদেশকে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করে এবং কমপ্লেক্সটিতে উপাসনার একচেটিয়া অধিকার দাবি করে। হাইকোর্ট ২০২৪ সালের ১১ মার্চ এএসআইকে ভোজশালা মন্দির-কামাল মওলা মসজিদ কমপ্লেক্সের একটি বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল। এএসআই সেই বছরের ২২ মার্চ সমীক্ষা শুরু করে এবং ৯৮ দিনব্যাপী একটি বিস্তারিত সমীক্ষার পর আদালতে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ধারের পরমার রাজাদের শাসনামলের একটি বিশাল কাঠামো এই মসজিদেরও আগে নির্মিত হয়েছিল এবং বর্তমান বিতর্কিত কাঠামোটি মন্দিরের পুনর্ব্যবহৃত অংশ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। হিন্দু পক্ষের দাবি, এএসআই এর বৈজ্ঞানিক জরিপের সময় প্রাপ্ত মুদ্রা, ভাস্কর্য এবং শিলালিপি প্রমাণ করে যে এই চত্বরটি মূলত একটি মন্দির ছিল।তবে, মুসলিম পক্ষ আদালতে যুক্তি দিয়েছে যে এএসআই এর জরিপ প্রতিবেদনটি পক্ষপাতদুষ্ট ছিল এবং হিন্দু আবেদনকারীদের দাবিকে সমর্থন করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল।

  • সিলেটে হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি আরো ৭৪ শিশু

    সিলেটে হাম উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি আরো ৭৪ শিশু

    সিলেটে থামছে না হামের প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে সিলেটে কোনো মৃত্যু না হলেও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরো ৭৪ শিশু। এছাড়া এ সময়ে ল্যাব পরীক্ষায়ও কারো হাম নিশ্চিত হয়নি। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাব পরীক্ষায় কারো হাম শনাক্ত না হলেও হাম উপসর্গে আরো ৭৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে ১৪ মে পর্যন্ত ল্যাব পরীক্ষায় প্রমাণিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৪৮। এর মধ্যে হবিগঞ্জে ১৬ জন (রুবেলা দু’জন), মৌলভীবাজারে ১৬ জন, সুনামগঞ্জে ৭৪ জন ও সিলেট জেলার রোগী ৪২ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২৫ জন, ওসমানী মেডিক্যাল হাসপাতালে ২২ জন, রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল হাসপাতালে একজন, পার্ক ভিউ মেডিক্যাল হাসপাতালে দু’জন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে দু’জন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৩ জন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে তিনজন ভর্তি হয়েছে।

    বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২৯৩ জন সন্দেহজনক হাম রোগী। তাদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে সর্বোচ্চ ৯৯ জন, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৬১ জন, সিলেট উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দু’জন, আল হারামাইন হাসপাতালে একজন, লায়ন্স শিশু হাসপাতালে ১০ জন, রাগীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছয়জন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে চারজন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ছয়জন, পার্কভিউ হাসপাতালে চারজন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দু’জন, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দু’জন, আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাতজন, বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চারজন, দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাতজন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচজন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫২ জন, জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন, ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৪ জন ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১২ জন শিশু ভর্তি রয়েছে।

    এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা: নুরে আলম শামীম জানান, সিলেটে হাম উপসর্গে রোগীর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। তবে টিকা কার্যকর হতে শুরু করলে হামের প্রকোপ কমে আসবে। ২০ মে পর্যন্ত টিকা ক্যাম্পেইন চলবে। শিশুদের হামের টিকা নিশ্চিত করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

  • কুমিল্লায় বড় ভাইয়ের দায়ের কোপে ছোট ভাই খুন

    কুমিল্লায় বড় ভাইয়ের দায়ের কোপে ছোট ভাই খুন

    কুমিল্লা সদর দক্ষিণে স্ত্রীর ঘুমে ব্যাঘাত ঘটার জেরে বড় ভাই মোরশেদের (৪০) দায়ের কোপে ছোট ভাই ফয়সাল (৩৫) খুন হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বড় ভাইকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) উপজেলার পশ্চিম জোড়কানন ইউনিয়নের গোয়ালগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    নিহত ফয়সাল ওই গ্রামের মরহুম রাজা মিয়ার ছেলে। অভিযুক্ত মোরর্শেদ তার আপন বড় ভাই।

    স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, স্থানীয় একটি ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন অভিযুক্ত মোরশেদের স্ত্রী। বুধবার দিবাগত রাতে তিনি নাইট শিফটের ডিউটি করে বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি ফিরে ঘুমাতে যান।

    সকালে ঘরের পাশে শিশুরা হই হুল্লোড় করলে মোরশেদ ঘর থেকে বের হয়ে স্ত্রীর ঘুমে ব্যাঘাত হচ্ছে বলে তাদের বকা দেন। এ সময় ছোট ভাই ফয়সাল বড় ভাইকে নিষেধ করলে দুই ভাইয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তারা দু’জনই বাড়ি থেকে বের হয়ে যান।

    দুপুর দেড়টার দিকে দুই ভাই বাড়ি ফিরলে আবারো বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তারা। এক পর্যায়ে মোরশেদ ঘর থেকে দা নিয়ে এসে ছোট ভাই ফয়সালকে কোপ দিলে তিনি গুরুতর আহত হন।

    স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পুলিশ নিহতের লাশ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

    এ ঘটনায় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে স্থানীয় সুয়াগাজী বাজারে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মোরশেদকে আটক করা হয়।

    থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান ওসি।

  • কোরবানির চামড়া সংরক্ষণে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

    কোরবানির চামড়া সংরক্ষণে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

    পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে উল্লেখ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

    তিনি বলেন, “কোরবানির একটি চামড়াও যেন নষ্ট না হয়— এবিষয়ে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেছেন। আমরা এটিকে একটি জাতীয় দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি।”

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় কমিশনার, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত দিকনির্দেশনামূলক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, কোরবানির চামড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে দেশের চামড়া শিল্প, রপ্তানি আয় এবং এতিমখানা, মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংসমূহের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু সামান্য অসচেতনতার কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়। এ পরিস্থিতি রোধে সরকার এবার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।

    ঈদের আগে বাকি দুই জুমায় দেশের সকল মসজিদে খতিব ও ইমামগণ যেন খুতবা ও বক্তব্যে চামড়া সংরক্ষণের গুরুত্ব এবং সঠিক পদ্ধতিতে চামড়া ছাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন, তাহলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকদের তত্ত্বাবধানে মাদ্রাসা, এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে তা যেন সফল হয় সেদিকে নজর রাখতে বিভাগীয় কমিশনারদের প্রতি আহ্বান জানান।

    এছাড়াও বিভাগীয় কমিশনারদের বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন এবং জেলা প্রশাসকদের প্রশিক্ষণ-পরবর্তী মাঠপর্যায়ে সক্রিয় তদারকির নির্দেশ দেন। সিটি কর্পোরেশন প্রশাসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি চামড়া সংরক্ষণ কার্যক্রমও যেন সমন্বিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

    সভায় জানানো হয়, কাঁচা চামড়ার গুণগত মান রক্ষায় সরকার ইতোমধ্যে দেশব্যাপী মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের জন্য ১৭ কোটির অধিক টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা এবং জেলা পর্যায়ে ৭৫ হাজার টাকা করে মোট ২ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

    চামড়া সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩ লাখ পোস্টার ও ৮ লাখ লিফলেট বিতরণ করা হবে। টেলিভিশন, রেডিও, জাতীয় পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমেও প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে। ঈদের তিন দিন আগে থেকে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সচেতনতামূলক তথ্যচিত্র প্রচার করা হবে।

    সভায় গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—

    • কোরবানির ২ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে সঠিকভাবে চামড়ায় লবণ প্রয়োগ।
    • প্রতি গরুর চামড়ায় ৮ থেকে ১০ কেজি এবং প্রতি ছাগলের চামড়ায় ৩ থেকে ৪ কেজি লবণ ব্যবহার।
    • বায়ু চলাচলসমৃদ্ধ স্থানে চামড়া সংরক্ষণ।
    • স্থানীয় পর্যায়ে ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত চামড়া সংরক্ষণে উৎসাহ প্রদান।
    • পশুর হাটে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ।
    • অপপ্রচার ও চামড়া বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ।
    • সড়ক ও মহাসড়কের পাশে পশুর হাট না বসানো এবং কোরবানির বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. মাহবুবুর রহমান সভা পরিচালনা করেন। সভায় বিভাগীয় কমিশনার, সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকগণ নিজ নিজ এলাকার পরিকল্পনা ও মতামত তুলে ধরেন।

    সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা যদি পরিকল্পনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ এ বছর একটি চামড়াও নষ্ট হবে না এবং দেশের এই মূল্যবান সম্পদ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।”এএস

  • একক গ্রাহক ঋণসীমার শর্ত শিথিল করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

    একক গ্রাহক ঋণসীমার শর্ত শিথিল করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

    অর্থ ও বাণিজ্য সবাদঃ

    ব্যাংকের একক গ্রাহকের ঋণসীমার শর্ত শিথিল করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে একটি ব্যাংক একজন গ্রাহককে মোট মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ ফান্ডেড ঋণ দিতে পারবে। আগে যা ছিল ১৫ শতাংশ। তবে কোনো অবস্থাতে ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড দু’টো মিলে ২৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। পাশাপাশি ব্যাংকের বৃহৎ ঋণের পরিমাণও আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে। আগামী ৩০ জুন ২০২৮ সাল পর্যন্ত এ নির্দেশনা কার্যকর থাকবে।

    বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

    নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নন-ফান্ডেড এক্সপোজারের ক্ষেত্রে কনভার্সন ফ্যাক্টর ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, ব্যাংকগুলো মোট নন-ফান্ডেড ঋণের ২৫ শতাংশ হিসাব করে তাদের বৃহৎ ঋণ সীমা নির্ধারণ করতে পারবে। এই সুবিধা ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

    এরপর ধাপে ধাপে কনভার্সন ফ্যাক্টর বাড়ানো হয়েছে। ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এটি ৩০ শতাংশ, ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ৪০ শতাংশ এবং ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আগের বিধান পুরোপুরি কার্যকর হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, একজন গ্রাহক একটি ব্যাংকের মূলধনের ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড মিলিয়ে ২৫ শতাংশ ঋণ নিতে পারবে। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ ফান্ডেড ও ১০ শতাংশ নন-ফান্ডেড। আগে কেউ ১৫ শতাংশের বেশি ফান্ডেড ঋণ দিতে পারতো না। এখন কেউ চাইলে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত দিতে পারবে। তবে সেক্ষেত্রে নন-ফান্ডেড কোনো ঋণ দিতে পারবে না। যদি কেউ ২০ শতাংশ ফান্ডেড নেয় তখন ৫ শতাংশ নন-ফান্ডেড দেওয়া যাবে।

    উদহারণ তিনি আরও বলেন, আগে নন-ফান্ডেড ১০০ টাকার এলসি ৫০ টাকা ধরে ফান্ডেড ঋণে কনভার্ট করা যেতো। এখন তা ২৫ টাকা ধরে করতে পারবে। এটার বিভিন্ন ধাপ দেওয়া হয়েছে।

    বৃহৎ ঋণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণের সঙ্গে ব্যাংকের মোট ঋণ ও অগ্রিমের কত শতাংশ পর্যন্ত বড় আকারের ঋণ দেয়া যাবে সেটি পুনর্নির্ধারণ করে দিয়েছে।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, বর্তমানে শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ ৩ শতাংশ পর্যন্ত একটি ব্যাংক তার মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বড় আকারের ঋণ দিতে পারে। নতুন নিয়মে ১০ শতাংশ পর্যন্ত শ্রেণীকৃত ঋণ থাকলে বড় আকারের ঋণ দেয়া যাবে মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৫০ শতাংশ। একইভাবে বর্তমানে ৩ শতাংশের বেশি কিন্তু ৫ শতাংশ পর্যন্ত শ্রেণীকৃত ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকের মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৪৬ শতাংশ বৃহৎ ঋণ দেয়া যায়। নতুন নিয়মে ১০ শতাংশের বেশি কিন্তু ১৫ শতাংশের কম বা সমপরিমাণ শ্রেণীকৃত ঋণ থাকলে সেক্ষেত্রে বৃহৎ ঋণের পরিমাণ হবে ব্যাংকের মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৪৬ শতাংশ।

    বর্তমানে ৫ শতাংশের বেশি কিন্তু ১০ শতাংশ পর্যন্ত শ্রেণীকৃত ঋণ থাকলে ব্যাংকের মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃহৎ ঋণ দেয়া যায়। পুনর্নির্ধারিত নিয়মানুসারে ১৫ শতাংশের বেশি কিন্তু ২০ শতাংশের কম বা সমান শ্রেণীকৃত ঋণ থাকলে ব্যাংকের মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বড় আকারের ঋণ দেয়া যাবে। এছাড়া বিদ্যমান সার্কুলার অনুসারে ১০ শতাংশের বেশি কিন্তু ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শ্রেণীকৃত ঋণ থাকলে সেক্ষেত্রে ব্যাংকের মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃহৎ ঋণ দেয়ার বিধান ছিল। নতুন নিয়মে ২০ শতাংশের বেশি কিন্তু ২৫ শতাংশের কম বা সমপরিমাণ শ্রেণীকৃত ঋণ থাকলে বৃহৎ ঋণের পরিমাণ হবে ব্যাংকের মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৩৮ শতাংশ।

    বর্তমানে ১৫ শতাংশের বেশি কিন্তু ২০ শতাংশের কম শ্রেণীকৃত ঋণ থাকলে একটি ব্যাংক তার মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বড় আকারের ঋণ দিতে পারে। আর নতুন নিয়মানুসারে ২৫ শতাংশের বেশি কিন্তু ৩০ শতাংশের কম বা সমপরিমাণ শ্রেণীকৃত ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকের বৃহৎ ঋণের পরিমাণ হবে তার মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৩৪ শতাংশ। আর শ্রেণীকৃত ঋণ ৩০ শতাংশের বেশি থাকলে সেক্ষেত্রে বড় আকারের ঋণ দেয়া যাবে ব্যাংকের মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত। তবে যা-ই হোক মোট বৃহৎ ঋণের পরিমাণ যেকোনো সময়ে ব্যাংকের মূলধনের ৬০০ শতাংশের বেশি হবে না। আগে যা ছিল ৪০০ শতাংশ।

  • পহেলা জানুয়ারিই বই বিতরণ

    পহেলা জানুয়ারিই বই বিতরণ

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, অবশ্যই শিক্ষার্থীদের পহেলা জানুয়ারি বই দেয়া হবে। জানুয়ারির ৭ তারিখে এসএসসি পরীক্ষা এর আগেই আমরা বই বিতরণ কার্যক্রম শেষ করবো। শিক্ষার্থীরা নতুন বইয়ের গন্ধ নেবেন। বই পড়বেন। পরীক্ষার মাঝে মাঝেই ক্লাসও হবে।

    বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে এ কথা জানান তিনি।

    এসময় ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার তারিখ জানানো হয়। এ অনুযায়ী পরীক্ষা শুরু হবে আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি। আর ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের ৬ ফেব্রুয়ারি এ পরীক্ষা শেষ হবে। প্রস্তাবিত রুটিন অনুযায়ী ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করতে হবে ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে। একইসঙ্গে এইচএসসি ২০২৭ এর প্রস্তাবিত রুটিনও দেয়া হয়। এ অনুযায়ী পরীক্ষা শুরু হবে আগামী বছরের ৬ জুন। শেষ হবে ১৩ জুলাই। ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করতে হবে ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে।

    শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, আপনারা বলছেন শিক্ষায় ব্যাপক পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন কিন্তু আমি দেখতে পাচ্ছি না। শিক্ষায় পরিবর্তন আসতে অনেক সময় লাগবে। আমরা কাজ করছি আপনারা ধীরে ধীরে অনেক পরিবর্তন দেখতে পাবেন।

  • স্কুল ফিডিং: যাচাই করে খাবার নিতে নির্দেশ

    স্কুল ফিডিং: যাচাই করে খাবার নিতে নির্দেশ

    ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ প্রকল্পের ফিডিং কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়নে নতুন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এখন থেকে প্রধান শিক্ষককে খাবারের মান যাচাই করে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে বুঝে নিতে হবে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের ত্রুটিপূর্ণ খাবার সরবরাহ করলে তা না নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক চিঠিতে এ তথ্য জানা গেছে। চিঠিটি বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে পাঠানো হয়েছে। অফিসাররা তাদের আওতাধীন প্রকল্পভুক্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের এ চিঠি পৌঁছে দিয়ে আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে ‘প্রকল্পভুক্ত সকল প্রধান শিক্ষকের কাছে পত্র পাঠানো হয়েছে’ প্রতিবেদন অধিদপ্তরে পাঠাবেন।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে জানা যায়, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঁচা বনরুটি, পঁচা ডিম, আকারে ছোট ও পঁচা কলা বিতরণসহ নানা প্রকার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে মানসম্মত খাদ্য সরবরাহে ঘাটতির কারণে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়াসহ কোমলমতি শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে খাদ্যের মান নিশ্চিত করা জরুরি।

    খাদ্যের মান যাচাইয়ে যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে- খাদ্য গ্রহণ ও বিতরণের পূর্বে সরবরাহ করা খাদ্যের মান ও পরিমাণ স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী সঠিক আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে; নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে (কল অফ বা কার্যাদেশ অনুযায়ী) খাদ্য গ্রহণ ও বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে; খাদ্যদ্রব্যের ধরণ অনুযায়ী বিদ্যালয় পর্যায়ে উপযুক্ত সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে খাদ্যের গুণগত মান বজায় থাকে; বিশেষ করে বনরুটি তাজা, নরম ও সঠিকভাবে মোড়কজাত কিনা পরীক্ষা করতে হবে; প্যাকেজিং অক্ষত, ছিঁড়ে যাওয়া বা আর্দ্রতা মুক্ত এবং পচন, ফাঙ্গাস বা দুর্গন্ধমুক্ত হতে হবে।

    প্যাকেটের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং নেট ওজন (১২০ গ্রাম) উল্লেখ আছে কিনা তা যাচাই করতে হবে; ডিম ফাটা, দুর্গন্ধযুক্ত ও পিচ্ছিলতা বা দৃশ্যমান দূষণ আছে কিনা দেখতে হবে; কলা দাগ বা পোকামুক্ত হতে হবে, বেশি পাকা বা পঁচা কলা গ্রহণ বা বিতরণ করা যাবে না; ইউএইচটি মিল্ক ও ফর্টিফাইড বিস্কুটের ক্ষেত্রে প্যাকেজিং অক্ষত, প্যাকেটের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং নেট ওজন উল্লেখ আছে কিনা তা যাচাই করতে হবে।

  • মে মাসের ১৩ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহে ৩৭.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

    মে মাসের ১৩ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহে ৩৭.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

    চলতি মে মাসের প্রথম ১৩ দিনে দেশে ১৭৪ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৭.৫ শতাংশ বেশি। গত বছরের এই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ১২৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার।

    বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে জানা গেছে, বুধবার (১৩ মে) এক দিনেই ১৩ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

    এদিকে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৩ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স প্রবাহ দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ১০৭ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৫৮০ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। এ হিসেবে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহে ২০.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। বাসস

  • ইউরোপ বার্তা শুনেছে—ন্যাটো প্রধান

    ইউরোপ বার্তা শুনেছে—ন্যাটো প্রধান

    ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় মিত্রদের সীমিত সমর্থন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে হতাশার কথা বলেছেন, সেটির ব্যাপারে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দ্য নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশনের (ন্যাটো) মহাসচিব মার্ক রুট।

    বুধবার (১৩ মে) রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টে অনুষ্ঠিত নাইন সামিট ও নর্ডিক অ্যালাইজ সামিট শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের হতাশা নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া দেন ন্যাটো প্রধান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আমার বার্তা হলো, ইউরোপ তাদের বার্তাটি শুনেছে এবং এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে। আমরা এ নিয়ে একসঙ্গে কাজ করছি। সংবাদ সম্মেলনে রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুশোর দান এবং পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোৎস্কি উপস্থিত ছিলেন।

    মার্ক রুট বলেন, ইউরোপীয় মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো বাস্তবায়নে দুটি ক্ষেত্রে কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় প্রতিশ্রুতি পূরণ এবং হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য মাইন অপসারণ অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। তিনি আরও বলেন, ন্যাটো ৩.০ মানে আরও শক্তিশালী ইউরোপ ও আরও শক্তিশালী ন্যাটো। আর শক্তিশালী ইউরোপ ও ন্যাটো মানেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বিত শক্তি।

    রুটের বক্তব্যের সমর্থনে রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুসর দান বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো ন্যাটোয় সমানুপাতিক অবদান নিশ্চিত করার পথে এগোচ্ছে। ট্রাম্পের ‘বার্ডেন শেয়ারিং’ বা দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে আপত্তির পর ইউরোপ এ বিষয়ে আরও সচেতন হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ইউরোপ বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। আমরা ইতোমধ্যেই ন্যাটো ৩.০-এর পথে রয়েছি। ৩.৫ প্লাস ১.৫ শতাংশ ব্যয়ের লক্ষ্য ২০৩৫ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে এবং আমরা সে লক্ষ্য পূরণের ধারাবাহিকতায় আছি।

    এর আগে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের আচরণ নিয়ে হতাশ হয়ে ট্রাম্প জার্মানি থেকে পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের পর ইউক্রেনে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত থাকবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। এ অবস্থায় ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সদস্য দেশগুলো নিজেদের ভূখণ্ডে মার্কিন সেনা মোতায়েনের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে তৎপরতা শুরু করেছে।

  • আইনজীবীর পোশাকে হাইকোর্টে মমতা !

    আইনজীবীর পোশাকে হাইকোর্টে মমতা !

    বৃহস্পতিবার সকালে বেলা ১১টার কিছু আগে হঠাৎ হাইকোর্ট চত্বরে যান তৃণমূলনেত্রী। আইনজীবীদের মতো কালো শামলা পরে আদালত চত্বরে হাজির হন তিনি। বৃহস্পতিবার ভোট-পরবর্তী অশান্তির একটি মামলার শুনানি ছিল প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে। সেখানে শুনানি করেন তিনি বলে জানান ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার।

    নির্বাচনের আগে গিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টে। এবার নির্বাচনের পর হাইকোর্টে হাজির হলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবার তাকে দেখা গেল আইনজীবীর বেশে। হাইকোর্ট চত্বরে তিনি পৌঁছালে তাকে ঘিরে উৎসুক সমর্থকদের ভিড় জমে।

    হাইকোর্ট চত্বরের বাইরে মমতার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সঙ্গে লিখেছে, ‘আরও একবার তিনি দেখিয়ে দিলেন, কেন তিনি বাকিদের চেয়ে আলাদা। দরকারের সময়ে কখনো তিনি পশ্চিমবাংলার মানুষকে একা ছেড়ে দেন না। সত্য, ন্যায়বিচার এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের জন্য লড়াই তিনি থামান না। অতুলনীয় সাহস এবং প্রত্যয়কে সঙ্গী করে তিনি বারবার ঘৃণার রাজনীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।’

    এদিকে প্রধান বিচারপতির এজলাসে তৃণমূলনেত্রী মমতা বলেন, “প্রথম বার কলকাতা হাইকোর্টে সওয়াল করছি। ১৯৮৫ সালে বার কাউন্সিলে আমার নাম নথিভুক্ত হয়। তার পর থেকে সদস্যপদ রিনিউ করেছি। ভোটের পরে শিশু, নারী, মুসলিম কাউকে রেয়াত করা হচ্ছে না। বিবাহিত মহিলাদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন এসব অভিযোগ আসছে। ঘর, বাড়ি লুট করছে, আগুন জ্বালাচ্ছে। পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আদালতের অনুমতি পেলে এই অভিযোগগুলো অতিরিক্ত হলফনামায় উল্লেখ করব। রাজ্যের মানুষকে বাঁচান। এটা কোনো বুলডোজার রাজ্য নয়। এটা পশ্চিমবঙ্গ, প্লিজ রাজ্যবাসীকে বাঁচান।”

  • ঢাকার সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট স্থগিত করলো এয়ার ইন্ডিয়া

    ঢাকার সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট স্থগিত করলো এয়ার ইন্ডিয়া

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সংকটে পড়েছে ভারতের বিমান খাত। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকাসহ ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন রুটে আগামী জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রতি মাসে প্রায় ৪০০ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া। এনডিটিভি অনলাইন এই তথ্য জানিয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিল করে যাত্রীদের বিভ্রান্তিতে ফেলার চেয়ে আগেভাগেই এই যৌক্তিক সমন্বয় করা হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়ার নতুন সূচি অনুযায়ী, এশিয়ার মধ্যে মুম্বাই-ঢাকা রুটের সরাসরি ফ্লাইট সাময়িকভাবে পুরোপুরি স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি দিল্লি থেকে ঢাকা, কাঠমান্ডু, কলম্বো, ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর ও সিঙ্গাপুর রুটের ফ্লাইটের সংখ্যা সাপ্তাহিকভবে কমিয়ে আনা হয়েছে।

    নেটওয়ার্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং যাত্রীদের শেষ মুহূর্তের ভোগান্তি কমাতেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে দাবি সংস্থাটির।
    তবে এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, সীমিত এই কার্যক্রমের মধ্যেও তারা প্রতি মাসে এক হাজার ২০০-এর বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
    সংস্থাটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উত্তর আমেরিকার রুটে দিল্লি-শিকাগো ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া দিল্লি-সান ফ্রান্সিসকো রুটে সাপ্তাহিক ফ্লাইট ১০টি থেকে কমিয়ে ৭টি করা হয়েছে। দিল্লি-টরন্টো রুটে জুলাই পর্যন্ত সাপ্তাহিক ফ্লাইট ১০টি থেকে কমিয়ে ৫টি করা হবে, তবে আগস্ট থেকে আবার দৈনিক ফ্লাইট চালু হবে।

    পাশাপাশি, দিল্লি-ভ্যাঙ্কুভার রুটে সাপ্তাহিক ফ্লাইট ৭টি থেকে কমিয়ে ৫টি করেছে এয়ার ইন্ডিয়া। ইউরোপীয় রুটে দিল্লি-প্যারিস রুটে সাপ্তাহিক ফ্লাইট ১৪টি থেকে কমিয়ে ৭টিতে আনা হয়েছে।

    এ ছাড়া কোপেনহেগেন, মিলান, ভিয়েনা, জুরিখ ও রোম রুটেও ফ্লাইটের সংখ্যা কিছুটা কমানো হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় দিল্লি-মেলবোর্ন ও দিল্লি-সিডনি রুটে দৈনিক ফ্লাইটের পরিবর্তে সপ্তাহে চারটি ফ্লাইট পরিচালিত হবে।
    তবে দিল্লি-সাংহাই এবং চেন্নাই-সিঙ্গাপুর ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর, হো চি মিন সিটি, হ্যানয় ও ঢাকা রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে।

    এনডিটিভি জানিয়েছে, এয়ার ইন্ডিয়া দিল্লি-কাঠমান্ডুতে জুলাই ও আগস্টে সাপ্তাহিক ফ্লাইট ৪২টি থেকে কমে ২১টিতে নেমে আসবে। দিল্লি-মালে রুটও সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে সংস্থাটি।

    সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের জন্য বিকল্প ফ্লাইটে পুনঃবুকিং, বিনামূল্যে ভ্রমণের তারিখ পরিবর্তন অথবা সম্পূর্ণ অর্থ ফেরতের সুবিধা রাখা হয়েছে। সহায়তার জন্য এয়ার ইন্ডিয়ার ২৪ ঘণ্টার কন্টাক্ট সেন্টার ও ডিজিটাল সেবা চালু থাকবে।

  • পশ্চিমবঙ্গে  প্রকাশ্য পশু জবাই নিষিদ্ধ

    পশ্চিমবঙ্গে প্রকাশ্য পশু জবাই নিষিদ্ধ

    পশ্চিমবঙ্গে রাস্তাঘাট বা প্রকাশ্য স্থানে পশু জবাই করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুধু সরকার অনুমোদিত কসাইখানাতেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে বলে বুধবার সরকারি এক নির্দেশে বলা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত নিয়ম না মানলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

    এ মর্মে বুধবার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। মূলত গরু, মহিষ, বলদ, বাছুর সহ বিভিন্ন গবাদি পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে একাধিক শর্ত আরোপ করা হয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, পশু জবাই দেয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পুরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির পাশাপাশি সরকারি পশুচিকিৎসকের যৌথ শংসাপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পশুর বয়স, শারীরিক অবস্থা ও সক্ষমতা খতিয়ে দেখেই সেই শংসাপত্র দেয়া হবে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট পশুর বয়স কমপক্ষে ১৪ বছর হতে হবে।

    এছাড়া পশুটি বার্ধক্য, আঘাত, বিকৃতি বা অন্য কোনও দুরারোগ্য রোগে স্থায়ীভাবে অক্ষম কিনা, তাও পরীক্ষা করে দেখতে হবে। সরকারি নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর শাস্তির কথাও বলা হয়েছে।

    দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি এক হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা জেল ও জরিমানা দুই সাজাই একসঙ্গে হতে পারে। ১৯৫০ সালের সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় এই ধরনের অপরাধ আদালত গ্রাহ্য হিসেবেই বিবেচিত হবে বলেও জানানো হয়েছে

  • কূটনৈতিক চাপের মধ্যেই বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু ইরানের

    কূটনৈতিক চাপের মধ্যেই বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু ইরানের

    ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ আসরের পর্দা উঠছে ১১ জুন, যেখানে প্রথমবারের মতো ৪৮ দল অংশ নেবে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই আসরকে সামনে রেখে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল।

    তবে এবারের বিশ্বকাপ অভিযানে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং লজিস্টিক নিরাপত্তা ইস্যু।

    ১৩ মে (বুধবার) তেহরানের ঐতিহাসিক এঙ্গেলাব স্কোয়ারে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে জাতীয় দলকে বিদায় জানানো হয়। হাজারো সমর্থকের উপস্থিতিতে দলের নতুন জার্সি এবং একটি থিম সং উন্মোচন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র আবেগ দেখা যায়। কেউ কেউ এই সফরকে শুধুই ফুটবল হিসেবে দেখলেও, অনেকের কাছে যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের অংশগ্রহণকেই এক ধরনের প্রতীকী সাফল্য হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

    রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ জানায়, বিশ্বকাপের মূল পর্বের আগে কন্ডিশনিং ক্যাম্প করতে ইরান দল আগামী ১৮ মে তুরস্কের আনতালিয়ার উদ্দেশে রওনা দেবে। সেখানে তারা দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে, যার মধ্যে ২৯ মে গাম্বিয়ার বিপক্ষে একটি ম্যাচ চূড়ান্ত হয়েছে। এছাড়া টুর্নামেন্ট শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রেও একটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

    কূটনৈতিক জটিলতার কারণে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তারা ভিসা ও যাতায়াত সংক্রান্ত সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন বলেও জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে ফিফা দুঃখ প্রকাশ করে আলাদা বৈঠকের আশ্বাস দিয়েছে।

    ফেডারেশন প্রধান মেহদি তাজ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো রাজনৈতিক বিরোধ নেই এবং ইরান বিশ্বকাপে যাচ্ছে যোগ্যতা অর্জনের ভিত্তিতে। তিনি আরও বলেন, ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে ও চার্টার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে।

    আসন্ন বিশ্বকাপে ইরানকে গ্রুপ ‘জি’-তে বেলজিয়াম, মিশর ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে দেখা যাবে।

    তাদের প্রথম ম্যাচ ১৬ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, এরপর ২১ জুন বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে দলটি। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক চাপ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, এমন প্রতিকূলতা অনেক সময় ইরান দলের মধ্যে আরও ঐক্যবদ্ধ ও লড়াকু মনোভাব গড়ে তুলবে।

  • ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়িত আমিরাত: আরাগচি

    ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়িত আমিরাত: আরাগচি

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানে “সরাসরি জড়িত” ছিল।

    বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস বৈঠকে এ অভিযোগ তোলেন তিনি। ইরানের আধা-সরকারি মেহর বার্তা সংস্থার বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে আমিরাতের প্রতিনিধির বক্তব্যের জবাবে আরাঘচি এই মন্তব্য করেন।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঐক্যের স্বার্থে তিনি প্রথমে নিজের বক্তব্যে আমিরাতের নাম উল্লেখ করেননি। তবে তার দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু হওয়ার পরও আমিরাত কোনো নিন্দা জানায়নি এবং আগ্রাসনের ঘটনায় তারা সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল। তবে আমিরাতের পক্ষ থেকে এ অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

    বেজিংয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠকে ট্রাম্প সম্ভবত ইরানের সাথে এই ব্যয়বহুল ও জনপ্রিয়তাহীন যুদ্ধ বন্ধে চীনের সহায়তা চাইবেন। ২০১৭ সালের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট চীন সফরে গেলেন।

    তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প যেমনটা চাইছেন শির কাছ থেকে তেমন সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম। এক মাস আগে দায়সারা একটা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও কূটনীতিতে তেমন কোনো কাজ হয়নি। এই যুদ্ধ হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ পাল্টে দিয়েছে, যার চড়া মাশুল দিতে হচ্ছে জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজারকে।

    ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোকে একজোট হয়ে নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

  • ‘হিলাল-ই-ইমতিয়াজ’ সম্মানে ভূষিত শহীদ আফ্রিদি

    ‘হিলাল-ই-ইমতিয়াজ’ সম্মানে ভূষিত শহীদ আফ্রিদি

    পাকিস্তানের ক্রিকেট কিংবদন্তি ও সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘হিলাল-ই-ইমতিয়াজ’-এ ভূষিত হয়েছেন। ক্রীড়াক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

    পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ভবনে (আইওয়ান-এ-সদর) আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি আফ্রিদির হাতে এ পদক তুলে দেন।

    ২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক সাফল্যে আফ্রিদির অসামান্য ভূমিকার কথা এ সম্মাননায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেট এবং ‘ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডস’-এ তার নেতৃত্বের অবদানের স্বীকৃতিও দেওয়া হয়েছে এ পদকের মাধ্যমে।

    সম্মাননা গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন আফ্রিদি। তিনি লেখেন, রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে এ সম্মাননা গ্রহণ করা তার জন্য অত্যন্ত গর্বের। এটি কেবল তার একার অর্জন নয় বরং পুরো পাকিস্তানি জাতির অর্জন।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সাধারণ মানুষের ভালোবাসা, প্রার্থনা এবং অকুণ্ঠ সমর্থনেরই প্রতিফলন এ পদক। উদার মনের এই ক্রিকেটার এ সম্মাননা উৎসর্গ করেছেন পাকিস্তানের বীর শহীদদের প্রতি।

    তিনি বলেন, ‘দেশের জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের ত্যাগের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে আমি এ পদক উৎসর্গ করছি’।সবশেষে তিনি পাকিস্তানের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করেন।

  • হরমুজ খুলতে একমত ট্রাম্প-শি

    হরমুজ খুলতে একমত ট্রাম্প-শি

    জ্বালানির অবাধ প্রবাহের জন্য হরমুজ প্রণালি অবশ্যই উন্মুক্ত রাখতে হবে। সেই সঙ্গে এই জলপথে কোনো টোলও আদায় করা যাবে না বলে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্মত হয়েছেন । বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুই ঘণ্টা ধরে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠক শেষে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুই নেতা বৈঠকে এ বিষয়ে একমত হয়েছেন ।

    বৈঠক কেমন হয়েছে- সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প শুধু এক শব্দে বলেছেন, চমৎকার। দ্বিতীয় এক প্রশ্নকারী জানতে চান তিনি তাইওয়ান নিয়ে কথা বলেছেন কি না। এর জবাবে ট্রাম্প তার আগের কথার ধারাবাহিকতায় বলেন, চমৎকার জায়গা, অবিশ্বাস্য, চীন খুব সুন্দর।

    এরপর আবার তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি তাইওয়ান নিয়ে কথা বলেছেন কি না, সেই সময় ট্রাম্প সরাসরি সামনে তাকিয়ে থাকেন, শিও একইভাবে সামনে তাকিয়ে থাকেন।

    দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এই প্রথম চীন সফর করছেন ট্রাম্প। গতকাল বুধবার রাতে তিনি বেইজিং পৌঁছালে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়।এর আগে ২০১৭ সালের নভেম্বরে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেও বেইজিং ঘুরে যান। তার ওই সফরের পর মার্কিন কোনো প্রেসিডেন্ট আর দেশটিতে যাননি।

  • আইসিসির মাসসেরা ক্রিকেটার নাহিদ রানা

    আইসিসির মাসসেরা ক্রিকেটার নাহিদ রানা

    নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে এপ্রিল মাসের আইসিসি প্লেয়ার অব দ্য মান্থ নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পেসার নাহিদ রানা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে এই ডানহাতি পেসার মোট ৮ উইকেট শিকার করেন। এর আগের মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষেও তিনি সমান ৮ উইকেট নিয়ে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন।

    এই প্রথমবারের মতো আইসিসির মাসসেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পেলেন নাহিদ। এর মাধ্যমে গত বছরের পর আবারও কোনো টাইগার ক্রিকেটার এই সম্মান অর্জন করলেন।

    পুরস্কার পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় নাহিদ জানান, নিউজিল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ভালো পারফরম্যান্স করে আইসিসির মাসসেরা হওয়া তার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। ঘরের মাঠে এমন সাফল্য সিরিজটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    সিরিজের শুরুতে প্রথম ওয়ানডেতে কিছুটা খরুচে হলেও দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান এই পেসার। ওই ম্যাচে তিনি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয়বার পাঁচ উইকেট শিকার করেন। এরপর তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতেও গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে বড় অবদান রাখেন তিনি। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে সিরিজসেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতে।