শিরোনাম

  • সিদ্ধিরগঞ্জে লেকে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু

    সিদ্ধিরগঞ্জে লেকে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু

    নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেকে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল কয়েক ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে তাদের লাশ উদ্ধার করে।

    শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে বার্মা স্ট্যান্ড সংলগ্ন নাভানা সিটির সামনে দক্ষিণ কদমতলী কাশেমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন মো: রাশেদুজ্জামান (২২), তার শ্যালক মো: গালিব (১৮) ও শ্যালিকা মোসা: সুরাইয়া (১২)।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে রাশেদুজ্জামান, তার শ্যালক গালিব ও শ্যালিকা সুরাইয়া ডিএনডি লেকে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে তারা পানিতে তলিয়ে যান। পরে তাদের খুঁজে না পেয়ে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেন।

    খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় প্রথমে রাশেদুজ্জামান ও গালিবের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে সুরাইয়ার লাশও উদ্ধার করা হয়।

    নিহত রাশেদুজ্জামানের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার মনাগ গ্রামে। তার বাবার নাম দেলোয়ার।

    স্বজনরা জানান, জীবিকার তাগিদে কাজের সন্ধানে তিনি গত সপ্তাহে ঢাকায় এসেছিলেন।

    অন্যদিকে গালিব ও সুরাইয়ার বাড়ি কালিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে। তাদের বাবা আকরাম। বর্তমানে তারা দক্ষিণ কদমতলী কাশেমপাড়ায় অ্যাডভোকেট জালাল সাহেবের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।

    সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, ‘পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনজনই সাঁতার জানতেন। তারপরও কীভাবে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

    পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান শেষে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • নলডাঙ্গায় দিনব্যাপী ছাত্রশিবিরের শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত

    নলডাঙ্গায় দিনব্যাপী ছাত্রশিবিরের শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত

    নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় বাছাইকৃত কর্মীদের নিয়ে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে দিনব্যাপী শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শনিবার (১৩ জুন) উপজেলার হালতির বিল এলাকায় এক রিসোর্টে এ শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান সম্পাদক মাহমুদুল হাসান।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নলডাঙ্গা উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক ড. মো: জিয়াউল হক জিয়া।

    এ সময় বক্তারা গুরুতর বক্তব্য প্রদান করেন।

    বক্তারা বলেন, ‘জনশক্তির ভেতরের নৈতিক ত্রুটি দূর করে আদর্শ চরিত্র গঠন করতে হবে। ব্যক্তিজীবনে ইসলামের নৈতিক ও ধর্মীয় বিধানসমূহ কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় কৌশলগত যোগ্যতা বৃদ্ধি করা করতে হবে। একসাথে থাকা, খাওয়া ও ইবাদত করার মাধ্যমে কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও একতা সুদৃঢ় করতে হবে। আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের পাশাপাশি ইসলামী শিক্ষার এক যুগোপযোগী সমন্বয় সাধন করা এবং নকলপ্রবণতা থেকে মুক্ত থাকতে হবে।’

    বক্তারা আরো বলেন, ‘ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি, ভারসাম্যপূর্ণ জীবন গঠন এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে। সাংগঠনিক প্রজ্ঞা, নেতৃত্ব দেয়ার দক্ষতা এবং কৌশলগত যোগ্যতা বাড়ানো। ছাত্রদেরকে কেবল শিক্ষায় শিক্ষিত নয়, বরং একজন আদর্শবান, চরিত্রবান ও সৎ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’

    অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াত মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জামায়াতের থানা সেক্রেটারি ডা: ফজলুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মো: আলী আল মাসুদ মিলন। শিবিরের বর্তমান জেলা সভাপতি মো: জাহিদ হোসেন।

    শিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি নাজমুল ইসলাম, শিবিরের সাবেক থানা সভাপতি হাফেজ আব্দুল বারিক, শিবিরের বর্তমান থানা সভাপতি মো: তারেক রহমান, থানা সেক্রেটারি মো: আব্দুর রহমানসহ প্রমুখ।

  • গফরগাঁওয়ে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    গফরগাঁওয়ে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে পারিবারিক কলহের জেরে সালেহা বেগম (৩২) নামের এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

    শনিবার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার রাওনা ইউনিয়নের খারুয়া বড়াইল গ্রামের স্বামীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে।

    নিহত সাদ্দাম মিয়ার স্ত্রী এবং দুই ছেলে-মেয়ে জননী সে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছু দিন ধরেই পরিবারে অশান্তি চলছিল। এরই একপর্যায়ে সালেহা বেগম অভিমান করে শনিবার সকালে স্বামী-সন্তানরা বাড়ির বাইরে চলে যাওয়ার পর নিজ বসতঘরে আড়ার সাথে দড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয়। ছেলে তানভীর (৭) ঘরে এসে মাকে ঝুলন্ত দেখে চিৎকার দিলে বাড়ি লোকজন দৌঁড়ে আসে।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠিয়েছে।

    গফরগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ স ম আতিকুর রহমান জানান, সকালে খবর পেয়ে আমরা নিহতের লাশ উদ্ধার করি। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।

  • সিলেটে মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল

    সিলেটে মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল

    হাজার হাজার শোকার্ত মানুষের শ্রদ্ধা ভালবাসায় সিক্ত হয়ে চির বিদায় নিলেন সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রবীণ নেতা মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী।

    শনিবার (১৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় সিলেটের কানাইঘাটে তার প্রতিষ্ঠিত জামেয়া ইসলামিয়া ইউসুফিয়া ফাজিল মাদরাসা মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন মরহুমের একমাত্র ছেলে নাজমুস সাকিব চৌধুরী।

    জানাজায় কানাইঘাট-জকিগঞ্জ উপজেলার হাজার হাজার শোকাহত মানুষজন ছাড়াও সিলেট নগরীর শত শত মানুষ অনেক দূরের পথ মাড়িয়ে জানাজায় শরীক হোন। জানাজা শেষে নিজের প্রতিষ্ঠিত মাদরাসা ক্যাম্পাসে তাকে দাফন করা হয়।

    জানাজা-পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সংসদ সদস্য এ টি এম আজাহারুল ইসলাম, সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও খেলাফত মজলিসের নেতা মুফতি মাওলানা আবুল হাসান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও মরহুমের জামাতা ডক্টর এনামুল হক চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ও সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।

    জানাজায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ আল হোসাইন, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমদ, সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির নুরুল ইসলাম বাবুল, সিলেট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার, কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুন রশীদ, কানাইঘাট উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কামাল উদ্দিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

    মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বেশ কিছুদিন আগে তাকে সিলেট ইবনে সিনা হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (১২ জুন) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

    মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি ৮০-৯০ দশকে দীর্ঘদিন সিলেট জেলা জামায়াতের আমিরের দায়িত্বও পালন করেছেন।

  • ৫ বছর ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস পাবেন নড়াইলের কাশিপুর ইউনিয়নবাসী!

    ৫ বছর ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস পাবেন নড়াইলের কাশিপুর ইউনিয়নবাসী!

    ‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য’-এই চিরন্তন বাণীর জীবন্ত উদাহরণ হলেন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নবাসী। এলাকার গরীব ও অসহায়সহ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য পাঁচ বছর ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স (বিনামূল্য) সার্ভিস চালু করলেন কাশিপুর ইউনিয়নের গিলাতলা গ্রামের ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম। এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগে খুশি ইউনিয়নবাসী।

    শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে কাশিপুর ইউনিয়নের এড়েন্দা হাট চত্বরে ফিতা কেটে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের উদ্বোধন করে তরুণ উদ্যোক্তা আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই সার্ভিসের (ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স) পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এনে দ্রুতই এলাকায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবার আয়োজন করব। এর আগে ঈদুল আযহার সময় ইউনিয়নের সুবিধাবঞ্চিত ৪০০ মানুষের মাঝে ১০ কেজি করে চাল, তেল, সেমাইসহ বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করেছি। এলাকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমার ভালোলাগা ও ভালোবাসা।’

    উদ্বোধন উপলক্ষে কাশিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট বিতরণ, বোর্ড স্থাপনসহ অ্যাম্বুলেন্সযোগে প্রচারণাও করা হয়েছে। এছাড়া দু’টি হটলাইন নাম্বার-০১৩৩১-৫০১০৭৮ এবং ০১৯৭৪-৪১৫৫৭৪ চালু করা হয়েছে।

    ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের মাধ্যমে নড়াইলের কাশিপুর ইউনিয়নের সব গ্রামের মানুষ রোগী নিয়ে ঢাকা, যশোর, খুলনা, নড়াইলসহ দেশের যে কোনো সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে যেতে পারবেন। আবার হাসপাতাল থেকে রোগী নিয়ে আসতে পারবেন বিনামূল্যে।

    গিলাতলা গ্রামের মতিয়ার রহমান মোল্যা, ইয়াসিন মোল্যা, পদ্মবিলা গ্রামের আব্দুল কাদের এবং কাশিপুর গ্রামের শহিদুল্লাহসহ ইউনিয়নবাসী জানান, এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ আগে কখনো দেখেননি তারা। এতে সবার মাঝে দারুণ সাড়া পড়েছে। অসুস্থতার সময়ে বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা সত্যিকার অর্থে পরম পাওয়া। এতে অসহায় রোগীরা উপকৃত হবেন।

    এদিকে, শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও দু’দিন আগে থেকেই এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ তথ্য জানিয়ে হিউম্যান রাইটস নড়াইল জেলা শাখার সহসভাপতি সোহেল রানা বলেন, ‘গত শুক্রবার কাশিপুর যুবসঙ্ঘের আয়োজনে ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা সমর্থকদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচে কিফায়েত নামে একজন খেলোয়াড়ের পা ভেঙ্গে যায়। তাৎক্ষণিক লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে চিকিৎসকরা জানান, তাকে ঢাকায় নিতে হবে। এ সময় আমরা অ্যাম্বুলেন্সের জন্য দৌড়াদৌড়ি করি। এরপর আতিকুল ভাইয়ের বিনামূল্যের অ্যাম্বুলেন্স সেবার মাধ্যমে কিফায়েতকে ঢাকায় নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এ সেবা পেয়ে খুশি ইউনিয়নবাসী।

    এদিকে আতিকুল ইসলামের ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের প্রশংসা করে কাশিপুর ইউনিয়ন পরিবার-পরিকল্পনা পরিদর্শক মশিউর রহমানসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ বলেন, অবশ্য এটি একটি প্রশংনীয় উদ্যোগে। মানুষ বিপদে পড়লে বা অসুস্থ হলে সবচেয়ে অসহায় বোধ করেন। এ মুহূর্তে এমন অ্যাম্বুলেন্স সেবা পেলে রোগীর পরিবার বিশ্বস্ত বা নির্ভরতার জায়গা খুঁজে পান। তাই আতিকুল ভাইয়ের মতো এমন মানবিক কাজে সমাজের অন্যান্য সামর্থ্যবানদেরও এগিয়ে আসা উচিত। এতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা উপকৃত হবেন। বিভিন্ন ধরণের সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

  • দপ্তরে পাওয়া গেল ১২ লাখ ইউরোর অলংকার, আবার তদন্তের মুখে স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

    দপ্তরে পাওয়া গেল ১২ লাখ ইউরোর অলংকার, আবার তদন্তের মুখে স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

    সিন্দুকে বিলাসবহুল ঘড়ি ও অলংকার পাওয়া যাওয়ার পর নতুন করে তদন্তের মুখে পড়তে চলেছেন স্পেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হোসে লুই রদ্রিগেজ জাপাতেরো। দুর্নীতি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আগে থেকেই তদন্ত চলছিল।

    জাপাতেরো একজন সমাজতন্ত্রী নেতা, ২০০৪ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি স্পেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশটিতে এখনো তাঁর দল সোশ্যালিস্ট ওয়ার্কার্স পার্টি ক্ষমতায় এবং দলের ভেতর তিনি এখনো প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হন।

    ২০২১ সালে স্প্যানিশ বিমান সংস্থা প্লাস আলট্রাকে সরকারি আর্থিক সহায়তা (বেইল আউট) দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি প্লাস আলট্রাকে আর্থিক সহায়তা পাইয়ে দিতে প্রভাব খাটিয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে।

    এই তদন্তের অংশ হিসেবে গত মাসে কর্তৃপক্ষ তাঁর দপ্তরে অভিযান চালায়। স্প্যানিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখান থেকে কর্তৃপক্ষ প্রায় ১২ লাখ ইউরো মূল্যের নেকলেস, ব্রেসলেট, আংটি ও কানের দুল উদ্ধার করেছে।

    জাপাতেরোর মুখপাত্র লুই আরোয়ো বলেছেন, অলংকারগুলোর বিষয়ে তিনি (জাপাতেরো) বিচারকের সামনে ব্যাখ্যা দেবেন।

    স্প্যানিশ গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, উদ্ধার অলংকারগুলো সোনা, নীলকান্তমণি ও পান্না দিয়ে তৈরি, যেগুলোর উৎস জাম্বিয়া বা থাইল্যান্ড।

    তদন্তকারীরা বলছেন, জাপাতেরো সেখানে পাওয়া অলংকারগুলোর ওপর শুল্ক পরিশোধের প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। এখন তাঁর বিরুদ্ধে কর ফাঁকি এবং চোরাচালানের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে।

    এএফপির খবরে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সহযোগীরা সে সময় মূল্যবান ওই সব সামগ্রীকে পারিবারিক উত্তরাধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানিয়েছিলেন।

    এ বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে চলতি মাসের শেষের দিকে জাপাতেরোকে আদালতে তলব করা হয়েছে। অতীতে স্পেনের আরও কয়েকজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দুর্নীতির মামলায় সাক্ষ্য দিতে আদালতে তলব করা হয়েছিল, তবে দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক তদন্তের আওতায় আনা হলো।

    প্লাস আলট্রা মামলায় জাপাতেরোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২০২১ সালে বিমান সংস্থাটির জন্য ৫ কোটি ৩০ লাখ ইউরোর সরকারি বেইল আউট নিশ্চিত করতে নিজের প্রভাব খাটিয়েছিলেন এবং এর বিনিময়ে কমিশন গ্রহণ করেছিলেন।

    জাপাতেরো সব সময়ই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, প্লাস আলট্রা থেকে তিনি কখনো কোনো অর্থ গ্রহণ করেননি।

    কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৌশলগত কোম্পানিগুলোকে সহায়তা করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি সরকারি তহবিলের আওতায় এই বেইল আউট অনুমোদন করা হয়েছিল। দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে গত মাসে পুলিশ মাদ্রিদে সোশ্যালিস্ট ওয়ার্কার্স পার্টির সদর দপ্তরে অভিযান চালায় এবং বেশ কয়েকটি নথি জব্দ করে।

    দলের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতার বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে। পাশাপাশি একজন শীর্ষ ব্যবসায়ীর বাড়িতেও অভিযান পরিচালিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের স্ত্রী, ভাইসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁরা সবাই কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

  • আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা ও দাফনের অনুষ্ঠান সূচি জানাল ইরান

    আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা ও দাফনের অনুষ্ঠান সূচি জানাল ইরান

    ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্য ও দাফন প্রক্রিয়া আগামী জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এক যৌথ বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সী এই শীর্ষ নেতা নিহত হন। যুদ্ধের কারণে তখন তার শেষকৃত্য স্থগিত করা হলেও, আগামী জুলাই মাসে ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেষকৃত্য ও দাফন অনুষ্ঠানের সূচি:

    ৪ ও ৫ জুলাই: রাজধানী তেহরানে একটি বিদায়ী (বিদায় সম্ভাষণ) অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

    ৬ জুলাই: তেহরানে মূল জানাজা ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে।

    ৭ জুলাই: পবিত্র শহর কোমে আরেকটি জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

    ৯ জুলাই: উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পবিত্র নগরী মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে আরেকটি জানাজা শেষে তাকে সমাহিত বা দাফন করা হবে।

    প্রয়াত এই নেতার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে দাফন করা হচ্ছে। তেহরানের উপ-মেয়র মোহাম্মদ আমিন তাভাকোলি-জাদেহ জানিয়েছেন, রাজধানী তেহরানের এই শেষকৃত্য অনুষ্ঠানটি অন্তত ২৪ ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে এবং এতে ১৫ থেকে ২০ মিলিয়ন (দেড় থেকে দুই কোটি) মানুষ অংশ নিতে পারেন বলে কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে।

    আলী খামেনির মৃত্যুর পর মার্চ মাসের শুরুতে তার ছেলে মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

  • বিশ্বের ৫৬% বেসামরিক মানুষ মৃত্যুর জন্য দায়ী ইসরায়েল

    বিশ্বের ৫৬% বেসামরিক মানুষ মৃত্যুর জন্য দায়ী ইসরায়েল

    ২০২৫ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বেসামরিক মৃত্যুর একটি বড় অংশ ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে ঘটেছে। ‘এক্সপ্লোসিভ উইপনস মনিটর’ নামের সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ওই বছরে ৬৫টি দেশে মোট ২২ হাজার ৬০০ বেসামরিক মানুষ নিহত হন। এর মধ্যে ৫৬ শতাংশ মৃত্যুর জন্য ইসরায়েলি অভিযানকে দায়ী করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের তুলনায় বেসামরিক মৃত্যুর সংখ্যা ২১ শতাংশ কমেছে। কিছু এলাকায় যুদ্ধবিরতি থাকায় এই কমতি দেখা গেছে। তবে সংস্থাটি বলছে, মোট সংখ্যা এখনো খুবই বেশি এবং উদ্বেগজনক।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিমান থেকে নিক্ষেপ করা অস্ত্র সবচেয়ে বেশি ক্ষতির কারণ হয়েছে। এসব হামলায় বেসামরিক মানুষ ও সাধারণ অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে কঙ্গো, ইথিওপিয়া, ইরান, ইরাক, লেবানন, মিয়ানমার, ফিলিস্তিন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, ইউক্রেন ও ইয়েমেন।

    এ ছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকাংশ হামলা করেছে বিভিন্ন দেশের সরকারি সেনাবাহিনী। পাশাপাশি কিছু হামলা করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী। স্কুল, হাসপাতাল এবং মানবিক সহায়তা কেন্দ্রেও বহু হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও ঝুঁকিতে ফেলেছে।

  • বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক কীভাবে এত সম্পদের মালিক হলেন ?

    বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক কীভাবে এত সম্পদের মালিক হলেন ?

    বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার (এক ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক) হলেন ইলন মাস্ক। স্পেসএক্সের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির (আইপিও) পর তিনি কাগজে-কলমে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হন।

    স্পেসএক্স তাদের আইপিওতে প্রতি শেয়ারের মূল্য ১৩৫ ডলার নির্ধারণ করেছে। এর মাধ্যমে ৫৫ কোটি ৫৬ লাখ ক্লাস-এ শেয়ার বিক্রি করে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে, যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    এই মূল্যায়নে স্পেসএক্সের মোট বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার। নাসডাকে ‘SPCX’ টিকার নামে লেনদেন শুরু হলে এটি বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে পরিণত হবে।

    ট্রিলিয়ন ডলার মানে হলো এক হাজার বিলিয়ন ডলার। ১ সংখ্যার পর ১২টি শূন্য বসালে হয় এক ট্রিলিয়ন। যাকে বাংলায় বলা যেতে পারে এক লাখ কোটি।

    বেশ কিছু সময় ধরে মাস্ক বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ছিলেন, অথবা অন্তত সেই অবস্থানের কাছাকাছি ছিলেন। ফোর্বস-এর মতে, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে তিনি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে অর্ধ-ট্রিলিয়ন ডলার (৫০০ বিলিয়ন) নিট সম্পদ অর্জন করেন।

    এক মাস পরে, টেসলার শেয়ারহোল্ডাররা তার জন্য একটি রেকর্ড গড়া পারিশ্রমিক প্যাকেজ অনুমোদন করেন, যার সম্ভাব্য মূল্য এক ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে জানানো হয়েছিল।

    কিন্তু ২০২৬ সালের জুনে, তার রকেট নির্মাতা ও স্যাটেলাইট অপারেটর কোম্পানি স্পেসএক্স- যেটির মালিকানায় এক্স, গ্রক এবং স্টারলিংকও রয়েছে, সেটি পাবলিক হওয়ার পর মাস্কের নিট সম্পদ বিলিয়ন থেকে ট্রিলিয়ন পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

    তবে তিনি শুধু বিপুল সম্পদের জন্যই পরিচিত নন। স্পেসএক্স-এর প্রধান হিসেবে তিনি তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সমসাময়িক নানা বিষয় থেকে মানবজাতির ভবিষ্যৎ পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে মতামত প্রকাশ করেছেন।

    সাম্প্রতিক বছরগুলোয় রাজনীতিতে তার সম্পৃক্ততা বেড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জয়ী হতে সহায়তা করা, যা কিছু বিনিয়োগকারীর অসন্তোষের কারণও হয়েছে।

    তার মতামত এবং এক্স কীভাবে জনমত ও আলোচনাকে প্রভাবিত করছে, তা নিয়ে সরকারপ্রধান ও রাজনীতিবিদদের সমালোচনার মুখেও পড়েন।

    ইলন মাস্কের জন্ম কোথায়?

    দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় জন্ম নেওয়া মাস্ক ছোটবেলা থেকেই ব্যবসায়িক দক্ষতার পরিচয় দেন। তিনি ভাইয়ের সঙ্গে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঘরে তৈরি চকলেট ইস্টার ডিম বিক্রি করতেন এবং ১২ বছর বয়সে নিজের প্রথম কম্পিউটার গেম তৈরি করেন।

    তিনি তার শৈশবকে কঠিন বলে উল্লেখ করেছেন, যা বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ, স্কুলে বুলিং বা হয়রানি এবং অ্যাসপারগার সিনড্রোম-এর কারণে সামাজিক সংকেত বোঝার অসুবিধার কারণে প্রভাবিত ছিল।

    সুযোগ পাওয়ামাত্র তিনি পড়াশোনার জন্য বাড়ি ছাড়েন। প্রথমে কানাডা, তারপর যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান, যেখানে তিনি পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি ও পদার্থবিদ্যায় পড়েন।

    ২০১০ সালে ম্যারি ক্লেয়ার ম্যাগাজিনে লেখা একটি প্রবন্ধে, তার প্রথম স্ত্রী জাস্টিন মাস্ক, যার সঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচিত হন এবং ২০০০ সালে বিয়ে করেন, লিখেছিলেন, বিপুল অর্থ উপার্জনের আগেই মাস্ক ছিলেন ‘না-কে কখনও মেনে না নেওয়া একজন মানুষ’।

    প্রতিযোগিতা এবং আধিপত্য বিস্তারের ইচ্ছা, যা তাকে ব্যবসায় সফল করেছে, ঘরে ফেরার পরও তা থেমে যেত না, বলেছিলেন জাস্টিন। তিনি জানান, বিয়ের নাচের সময় মাস্ক তাকে বলেছিলেন, ‘এই সম্পর্কে আমিই আলফা’, অর্থাৎ ইলন মাস্ক নিজেকেই প্রধান বা প্রভাবশালী মনে করেছেন।

    সম্পদ তৈরি করলেন কীভাবে?

    স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যার স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার পর মাস্ক দ্রুতই তা ছেড়ে দেন এবং ১৯৯০-এর দশকে দুটি প্রযুক্তি স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠা করেন।

    এর মধ্যে ছিল একটি ওয়েব সফটওয়্যার কোম্পানি এবং একটি অনলাইন ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান, যা পরে পেপ্যালে পরিণত হয় এবং ২০০২ সালে ই-বে’র এর কাছে ১.৫ বিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়।

    তিনি সেই অর্থ বিনিয়োগ করেন স্পেসএক্সে যা নাসার তুলনায় কম খরচে বিকল্প তৈরির লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত। একইসঙ্গে তিনি অর্থ বিনিয়োগ করেন টেসলায়, যেখানে তিনি ২০০৮ সালে প্রধান নির্বাহী হন।

    এই দুই কোম্পানি তাদের নিজ নিজ শিল্পে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে, যদিও মাঝে মাঝে এগুলো আর্থিক সংকটের কাছাকাছিও পৌঁছেছিল।

    ইলন মাস্কের অন্যান্য ব্যবসায়িক উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে সামাজিক মাধ্যম টুইটার অধিগ্রহণ।

    তার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো এক্স-কে একটি ‘সবকিছুর অ্যাপ’ হিসেবে গড়ে তোলা যা বিভিন্ন ধরনের সেবা এক জায়গায় এনে দেবে। তবে বিভিন্ন অনুমান অনুযায়ী, মাস্ক যখন কিনছিলেন তখন কোম্পানিটির মূল্য ৪৪ বিলিয়ন ডলার ছিল যা এখন ৯.৪ বিলিয়নে নেমেছে।

    কিছু প্রতিষ্ঠান প্ল্যাটফর্মটি ছেড়ে যায়। বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, মাস্কের নেতৃত্বে এক্স-এ ঘৃণামূলক বক্তব্য বেড়েছে এবং কিছু প্রতিষ্ঠান এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে চায় না।

    তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতেও আগ্রহী। চ্যাটজিপিটি- এর মূল কোম্পানিতে প্রাথমিক বিনিয়োগকারী ছিলেন মাস্ক, তবে ২০১৮ সালে পৃথক হয়ে যান এবং ২০২৩ সালে এক্সএআই প্রতিষ্ঠা করেন, যার লক্ষ্য ‘মহাবিশ্বের প্রকৃত স্বরূপ বোঝা’।

    ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ওপেনএইআই এবং এর প্রধান স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেন, অভিযোগ করেন যে প্রতিষ্ঠানটি তার অলাভজনক ও ওপেন সোর্স ভিত্তি থেকে সরে গেছে। তবে ২০২৬ সালের মে মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার এক জুরি তার মামলা খারিজ করে দেয়।

    সাংবাদিক ক্রিস স্টকেল ওয়াকার বলেন, আমি কখনোই পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারি না যে তিনি আগামীকাল কী করতে চান তা জানেন। তিনি মূলত অন্তর্দৃষ্টির ওপর নির্ভর করে এগিয়ে যান।

    ২০১৫ সালের একটি জীবনীতে লেখক অ্যাশলি ভ্যান্স তাকে ‘বিতর্কপ্রবণ সবজান্তা’ এবং ‘প্রচুর অহংবোধসম্পন্ন’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাকে নাচের ক্ষেত্রে ‘অস্বস্তিকর’ এবং বক্তা হিসেবে ‘অনিশ্চিত’ও বলা হয়েছে।

    গণমাধ্যমে তাকে কখনও ‘উন্মাদ প্রতিভা’, কখনও ‘এক্স-এর বড় ট্রোল’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। তিনবার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে ইলন মস্কের। এর মধ্যে ব্রিটিশ অভিনেত্রী টালুলাহ রাইলির সঙ্গেই বিচ্ছেদ হয়েছে দু’বার। মাস্ক নিজের ত্রুটি সম্পর্কে অবশ্য বেশ খোলামেলা।

    ২০২২ সালে টেড-এ এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যদি আমার পাপগুলো তালিকাভুক্ত করেন, তাহলে আমি পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ মানুষ মনে হব। কিন্তু আমি যা ভালো কাজ করেছি সেগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে, এগুলোকে অনেক বেশি অর্থবহ মনে হয়।

    মাস্কের নিট সম্পদের পরিমাণ কত?

    ব্যক্তিগত নানা বৈপরীত্য ইলন মাস্কের বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে তিনি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে অর্ধ-ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি নিট সম্পদ অর্জন করেন বলে জানিয়েছিল ফোর্বস।

    তিনি সম্পদের দিক থেকে গুগল-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেইজ ও সের্গেই ব্রিন, ওরাকলের ল্যালি এলিসন, অ্যামাজনের জেফ বেজোস এবং ফেসবুকের মার্ক জাকারবার্গের মতো ধনকুবেরদের চেয়েও সামনে এগিয়ে রয়েছেন।

    স্পেসএক্স পাবলিক কোম্পানি হওয়ায় তার সম্পদ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলস্বরূপ, ব্লুমবার্গ এবং ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী মাস্কের নিট সম্পদ এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে।

    ব্লুমবার্গের হিসাবে বর্তমানে তার সম্পদের পরিমাণ এক দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন। তবে তার সম্পদের বড় অংশ স্পেসএক্সের শেয়ারের সঙ্গে যুক্ত, ফলে শেয়ারের দাম কমে গেলে তার ট্রিলিয়নেয়ার মর্যাদা পরিবর্তিত হতে পারে।

    টেসলা থেকেও তিনি বিপুল অর্থ পেতে পারেন, যদি নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করেন, যার মধ্যে রয়েছে কোম্পানির মূল্য আটগুণ বৃদ্ধি, ১০ লাখ এইআই রোবট বিক্রি এবং এক কোটি ২০ লাখ টেসলা গাড়ি বিক্রি।

    ২০২৪ সাল জুড়ে মাস্ক টেসলার কাছ থেকে ৫৬ বিলিয়ন ডলারের একটি পারিশ্রমিক প্যাকেজ নিয়ে আইনি লড়াইয়ে লিপ্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ডেলাওয়্যারের একজন বিচারক দ্বিতীয়বারের মতো তার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন, কিন্তু ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ডেলাওয়্যার সুপ্রিম কোর্ট প্যাকেজটি পুনর্বহাল করে।

    মাস্ক ডিজিটাল মুদ্রারও সমর্থক এবং টানেল নির্মাতা দ্য বোরিং কোম্পানিসহ আরও বেশ কয়েকটি ছোট কোম্পানিতে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।

    তিনি নিজেকে একজন ‘কাজপাগল’ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করেন, প্রায়শই বলেন যে তিনি শুধু অর্থ উপার্জনের জন্য ব্যবসা করেন না।

    তার বন্ধু এবং টেসলার বিনিয়োগকারী রস গার্বার বলেন, “ইলন কেবল তখনই কোনো বিষয়ে জড়িত হন, যখন তিনি মনে করেন যে সেটি কোনো কারণে… সমাজ বা মানবতার স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    মাস্কের রাজনৈতিক মতাদর্শ কী?

    ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া মাস্ক দীর্ঘদিন নিজেকে ‘অর্ধেক ডেমোক্র্যাট, অর্ধেক রিপাবলিকান’, ‘রাজনৈতিকভাবে মধ্যপন্থি’ এবং ‘স্বতন্ত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    তিনি বারাক ওবামা, হিলারি ক্লিনটন এবং অনিচ্ছাসত্ত্বেও জো বাইডেনকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন করেছেন এবং ২০২৪ সালে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দেন।

    তিনি ডেমোক্র্যাটদের বিভিন্ন নীতি, যেমন অর্থনীতি, অভিবাসন এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমালোচনা করেন।

    ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ‘ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট ইমার্জেন্সি’ পরিচালনার দায়িত্ব পান। এই উদ্যোগটি সরকারি ব্যয়ে ব্যাপক কাটছাঁট করে, যা নিয়ে বিতর্ক হয়। তবে পরে কর ও ব্যয় সংক্রান্ত বিরোধ থেকে ট্রাম্প ও মাস্কের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ সৃষ্টি হয়।

    ২০২৫ সালের ২৮ মে মাস্ক হোয়াইট হাউস ছাড়ার ঘোষণা দেন এবং কিছুদিন পর তাদের সম্পর্কের ইতি ঘটে। যদিও পরে কিছুটা সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। সাম্প্রতিক সময়ে মাস্ক যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতেও আগ্রহ দেখিয়েছেন।

    তিনি এক্স-কে ব্যবহার করে বিভিন্ন বিষয়ে স্যার কিয়ের স্টারমারের লেবার সরকারের সমালোচনা করেছেন। আবার ডানপন্থি কিছু নেতার সঙ্গেও নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন। তার নানা মন্তব্য বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যদের সমালোচনার মুখে পড়েছে।

    এদিকে, অতীতে মাস্ক তার ব্যবসাগুলোকে দাতব্য কাজের একটি রূপ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, কারণ এগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের মতো মানবিক সমস্যার সমাধানে কাজ করে। তবে পরে তিনি জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে তার অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করেন।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও তিনি সতর্কতা প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, এটি মানবজাতির ভবিষ্যতের জন্য হুমকি হতে পারে। তিনি বলেন, এআই-এর অগ্রগতি এবং জন্মহার হ্রাস একসঙ্গে ‘মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়ার’ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

    ইলন মাস্কের কতজন সন্তান?

    ইলন মাস্কের ১৪ সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম স্ত্রীর গর্ভে ছয় জন, কানাডিয় সংগীতশিল্পী ক্লেয়ার এলিস বুশে বা গ্রাইমসের সঙ্গে তিন সন্তান, নিউরোলিংক নির্বাহী শিভন জিলিসের সঙ্গে চার সন্তান এবং ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাশলি সেইন্ট ক্লেয়ারের থেকে এক সন্তান। জিলিসের সঙ্গে যমজ সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর তিনি লিখেছিলেন, ‘জনসংখ্যা সংকট মোকাবিলায় আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি’।

    অন্যদিকে সেইন্ট ক্লেয়ার, যিনি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সন্তানের জন্মের কথা জানান, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মাস্কের কোম্পানি এক্সএআই-এর বিরুদ্ধে মামলা করেন, অভিযোগ করেন যে গ্রক ব্যবহার করে তার যৌনতাযুক্ত ডিপফেক তৈরি করা হয়েছে।

  • ডিগ্রি পর্যন্ত অবৈতনিক হচ্ছে নারী শিক্ষা

    ডিগ্রি পর্যন্ত অবৈতনিক হচ্ছে নারী শিক্ষা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নারীদের শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী তথা নারীদের পিছিয়ে রেখে কোনোভাবেই দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারী শিক্ষার প্রসার ও তাদের আত্মনির্ভরশীল করতে ডিগ্রি (স্নাতক) পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অবৈতনিক অবৈতনিক করা হবে, পাশাপাশি রেজাল্ট অনুযায়ী বৃত্তি প্রদান করা হবে।

    শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজার সদরে পাতলী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সমাবেশে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোটের কালি শুকানোর আগেই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে বর্তমান সরকার।

    নারী শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নারীরা শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী না হলে দেশ এগোবে না, এ লক্ষ্যেই ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থা অবৈতনিক করা হবে, পাশাপাশি রেজাল্ট অনুযায়ী বৃত্তি প্রদান করা হবে।

    এছাড়া গ্রামীণ মায়েদের স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, চিকিৎসা ব্যবস্থার অনেক বিষয়ের ওপর আগের সরকার ট্যাক্স বসিয়েছিলো, বর্তমান সরকার বাজেটে ট্যাক্স তুলে নিয়েছে।তিনি জানান, চিকিৎসা ব্যয় কমানোর জন্য অনেকে ক্ষেত্রে ট্যাক্স তুলে নেয়া হয়েছে। জুলাই মাস থেকে হৃদরোগ, কিডনি রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় অর্ধেকে নামবে।

  • ভারতের নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ

    ভারতের নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ

    ভারত সরকার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠকে দেশটির পরবর্তী সেনাপ্রধান (চিফ অব আর্মি স্টাফ) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। বর্তমানে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভাইস চিফ অব আর্মি স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    শনিবার (১৩ জুন) ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক ঘোষণায় জানায়, আগামী ৩০ জুন ২০২৬ থেকে এই নিয়োগ কার্যকর হবে। বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর অবসরের পর ধীরাজ শেঠ দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। খবর টাইমস অফ ইন্ডিয়ার।

    দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ন্যাশনাল ডিফেন্স একাডেমির সাবেক শিক্ষার্থী এবং আর্মার্ড কোরের কর্মকর্তা ধীরাজ শেঠ প্রায় চার দশকের সামরিক অভিজ্ঞতা নিয়ে সেনাপ্রধানের দায়িত্বে আসছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও কৌশলগত পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    সামরিক জীবনে তিনি মরুভূমি অঞ্চলে একটি রেজিমেন্ট, পশ্চিমাঞ্চলে একটি ব্রিগেড এবং জম্মু ও কাশ্মীরে একটি সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান স্ট্রাইক ফরমেশন সুদর্শন চক্র কোর এর কমান্ডার ছিলেন। এছাড়া দিল্লি এরিয়ার জেনারেল অফিসার কমান্ডিং হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ধীরাজ সেঠ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ড এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ড উভয়েরই নেতৃত্ব দিয়েছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইতিহাসে খুব কম কর্মকর্তাই দুটি পৃথক অপারেশনাল কমান্ড পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন।

    ভারতীয় সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন কর্মসূচিতেও ধীরাজ শেঠের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে নতুন প্রযুক্তি এবং ভবিষ্যৎ যুদ্ধক্ষেত্রের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সামরিক সক্ষমতার সমন্বয় সাধনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

    পেশাগত সামরিক শিক্ষার ক্ষেত্রেও তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি হায়ার কমান্ড কোর্স ও ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। পাশাপাশি ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কোর্সেও অংশগ্রহণ করেছেন।

  • পরীক্ষার ফি নেয়া হবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

    পরীক্ষার ফি নেয়া হবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা পরিচালনার ব্যয় মেটাতে শ্রেণিভেদে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত হারে ফি নেয়ার নির্দেশনার কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রধান শিক্ষককে স্লিপ বরাদ্দ দেওয়া হয়। তা দিয়ে অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা আয়োজন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক সময় শিক্ষকদের পকেট থেকে টাকা খরচ করতে হয়। তাই শিক্ষকদের ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় না করে (শিক্ষার্থীদের থেকে) নির্ধারিত সীমার মধ্যে এ অর্থ নেওয়া যেতে পারে।

    শনিবার (১৩ জুন) বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কার্যালয়ে এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গার্ল গাইডস হলদে পাখি সম্প্রসারণে পাখি ও প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে এ সম্মেলন হয়।

    সচিব জানান, তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০ টাকা, চতুর্থ শ্রেণির জন্য ৪০ টাকা ও পঞ্চম শ্রেণির জন্য ৫০ টাকা করে পরীক্ষা ফি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এটি কোনো অন্যায় কাজ নয়, কারণ শিক্ষকদের ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করে পরীক্ষা নেওয়া বাস্তবসম্মত নয়।

    তিনি বলেন, বর্তমানে স্লিপের বরাদ্দ সীমিত হলেও ভবিষ্যতের জন্য এই বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এবং আগামী অর্থবছরে বিদ্যালয়গুলো তুলনামূলক বেশি অর্থ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    পরীক্ষা ফি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে উল্লেখ করে গণশিক্ষা সচিব বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজন হলে আমি নিজেই ব্যাখ্যা দেবো। বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এর চেয়ে বেশি হারে পরীক্ষা ফি নেওয়ার উদাহরণ রয়েছে। শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না দিয়ে পরীক্ষার মতো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাস্তবভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’

    সম্মেলনে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার কাজী জেবুন্নেছা বেগমের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (পরিকল্পনা) ছাইফুল ইসলাম, গার্লস গাইড অ্যাসোসিয়েশনের হলদে পাখি কমিশনার বেলা রাণী সরকার, ডেপুটি জাতীয় কমিশনার (প্রোগ্রাম) অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন আহমেদ, রাজধানী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের আঞ্চলিক কমিশনার আনজুমান আরা, ইয়াসমিন আক্তার বানু ও রওশন আরা খান।

  • আমিরাত থেকে হাজার কোটি ডলার পাচ্ছে ইরান

    আমিরাত থেকে হাজার কোটি ডলার পাচ্ছে ইরান

    বিশেষ শর্তে ইরানের জন্য কয়েকশ কোটি ডলারের তহবিল ছাড়তে রাজি হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। যুদ্ধ বন্ধে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যখন সমঝোতা আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, ঠিক তখনই এ খবর সামনে এলো। সংশ্লিষ্ট চারটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে ইরানের তেল বিক্রির হাজার হাজার কোটি ডলার আটকে আছে। কূটনীতিকরা বলছেন, চলমান এই আলোচনার মাধ্যমে আটকে থাকা সেই বিপুল পরিমাণ অর্থও ছাড় করা হতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে কয়েক সপ্তাহজুড়ে চলা যুদ্ধের মধ্যে দফায় দফায় আমিরাতে হামলা চালায় তেহরান। তখন বারবার আহ্বান সত্ত্বেও হামলা থেকে সরে আসেনি ইরান।

    দুটি আঞ্চলিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত মোট ১ হাজার কোটি (১০ বিলিয়ন) ডলার ইরানকে ছাড়তে রাজি হয়েছে। ৩০০ কোটি (৩ বিলিয়ন) ডলারের বেশি অর্থ ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।

    সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের যে অর্থ ছেড়ে দেবে, তার মোট পরিমাণ দুই হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলার হতে পারে। তারা আরও জানায়, ইরান আর হামলা করবে না, এমন শর্তেই এ অর্থ ছাড়বে আরব আমিরাত। ইতোমধ্যে প্রথম কিস্তির ৩০০ কোটি (৩ বিলিয়ন) ডলার ইতোমধ্যে দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

  • এমপিওর দাবিতে আমরণ অনশন

    এমপিওর দাবিতে আমরণ অনশন

    শিক্ষা ডেস্ক:

    স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোর এমপিও দ্রুত বাস্তবায়ন এবং চূড়ান্ত অনুমোদনপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বেতন ছাড়ের দাবি জানিয়ে লাগাতার কর্মসূচির পর আমরণ অনশনে বসেছেন সংশ্লিষ্ট মাদরাসার শিক্ষকেরা।

    শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শরীরে কাফনের কাপড় জড়িয়ে ৬ষ্ঠ দিনের মতো এ কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

    অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষক কল্যাণ কমিটির ব্যানারে গত রোববার সকাল থেকে এ অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন এ শিক্ষকেরা।

    কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক মাওলানা শামসুল হক আনছারী এবং সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব হাফেজ মাওলানা মুফতি আব্দুল হান্নান হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সমন্বয়ক মাওলানা শেখ নজরুল ইসলাম মাহবুব, মো. গোলাম আজম, মাওলানা আব্দুর রহমান শাজাহান, শিক্ষক পরিষদের সভাপতি মো. নুরুননবী, মহাসচিব মো. শামছুল আলম প্রমুখ।

    আন্দোলনরত শিক্ষক নেতারা বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তির আলোকে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের নীতিমালা অনুযায়ী গত ৩ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত এমপিও আবেদন করা হয়। কিন্তু প্রায় ১০ মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা এমপিওভুক্ত করা হয়নি। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন কর্মসূচি পালন করে যাব।

    মাদরাসার এ শিক্ষক নেতাদের অভিযোগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক শূন্য পদে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেতন ছাড়ের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হলেও মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এখনো কোনো শিক্ষকের বেতন ছাড় করেনি। এতে প্রায় ১ হাজার ৬৯০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা ছাড়া মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

    শিক্ষক নেতারা আরও বলেন, ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দের অধ্যাদেশের আওতায় আলিয়া মাদরাসা শিক্ষার প্রাথমিক স্তরের অনুমোদন দেওয়া হয় এবং ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোকে স্বীকৃতি দেয়। পরে ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দে এসব মাদরাসার শিক্ষকদের ভাতা দেওয়া শুরু হয় এবং ২০০১ খ্রিষ্টাব্দেশিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে পাঠ্যপুস্তক ও উপবৃত্তি চালু করা হয়।

    এ শিক্ষকদের দাবি, ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে সরকার ২৬ হাজার ১৯টি রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করলেও একটি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাও জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্ত করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা চাকরির নিরাপত্তা ও আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

    অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক কল্যাণ কমিটির পক্ষ থেকে এমপিও দ্রুত বাস্তবায়ন এবং চূড়ান্ত অনুমোদনপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জানুয়ারি থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত অনুদান অবিলম্বে ছাড় করার জোর দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান ধর্মঘটসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা

    বি. এ

  • ‘জয় শ্রীরাম’ না বলায়

    ‘জয় শ্রীরাম’ না বলায়

    পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম ফেরিওয়ালাকে কুপিয়ে হত্যা

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ায় আকবর নামের এক মুসলিম ফেরিওয়ালাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শুধু দাড়ি থাকার কারণে কিছু লোক তাকে ‘জয় শ্রী রাম’ বলতে বাধ্য করত। এ থেকে ছড়িয়ে পড়ে বিদ্বেষ। বিদ্বেষ থেকে এ ধরনের কাজ ঘটতে পারে বলে আমার আশঙ্কা । তবে পুলিশ এই ঘটনায় ধর্মীয় বিদ্বেষের কোনো ভূমিকা থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

    দ্য ওয়্যার এক প্রতিবেদনে জানায়, গত ৯ জুন ৪৭ বছর বয়সী আকবর মণ্ডলকে হত্যা করা হয়। নিহত আকবরের ২০ বছর বয়সী ছেলে জুলফিকার বলেন,ধর্মীয় রাজনীতির কারণেই আমার বাবাকে খুন হতে হয়েছে।’

    এই এলাকাটি সাধারণত ‘জঙ্গলমহল’ নামে পরিচিত। অতীতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আন্দোলনের কেন্দ্রস্থল ছিল এই অঞ্চল।

    দারিদ্র্যের কারণে জুলফিকার পড়াশোনা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন এবং তার বাবার মতোই পুরুলিয়া জেলার বন্দওয়ান অঞ্চলে হকার হিসেবে কাজ করতেন। তিনি বলেন, এই ঘটনা তার পরিবার ও গ্রামকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

    জুলফিকার জানান, ৯ জুন সকালে আকবর তার ঠেলাগাড়িতে করে স্টিলের বাসনপত্র ফেরি করছিলেন। এমন সময় তাকে হঠাৎ সুপুরদিহি গ্রামের একটি বাড়িতে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আকবরের অপরিচিত এক ব্যক্তি তাকে আক্রমণ করে। জুলফিকার বলেন, লোকটি প্রথমে আকবরকে লাঠি দিয়ে পেটায়। এরপর তিনি আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে কুড়াল দিয়ে আঘাত করা হয়। জুলফিকার আরো জানান, তিনি জানতে পেরেছেন যে আকবরকে ছুরিকাঘাতও করা হয়েছিল।

    জুলফিকার বলেন, ‘ওই দিন দুপুর নাগাদ বান্দওয়ান থানার একজন কর্মকর্তা আমাকে ফোন করে বলেন, আপনার বাবাকে খুন করা হয়েছে। অবিলম্বে বান্দওয়ান হাসপাতালে চলে আসুন।’

    সেই সময় জুলফিকার অন্য একটি গ্রামে গৃহস্থালীর জিনিসপত্র ফেরি করছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি হাসপাতালে গিয়ে আমার বাবার লাশ দেখতে পেলাম। তার মাথা থেতলে দেওয়া হয়েছিল। দৃশ্যটি ছিল ভয়াবহ। তার প্রায় পুরো শরীর রক্তে ভেজা ছিল। চিকিৎসকরা আমাকে বলেছিলেন যে আকবর মণ্ডলকে হাসপাতালে আনার অনেক আগেই তিনি মারা গিয়েছিলেন।’ ঘটনার যথাযথ তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন জুলফিকার।

  • হাম ও হামের উপসর্গে ৩ মাসে ৬৪৮ জনের মৃত্যু

    হাম ও হামের উপসর্গে ৩ মাসে ৬৪৮ জনের মৃত্যু

    দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হাম-সংশ্লিষ্ট উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪৮ জনে।

    শনিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে ৬৩ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭৬৩ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯২ শিশু। একই সময়ে হাম সন্দেহে মারা গেছে আরও ৫৫৬ জন। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪৮ জনে।

    একই সময়ে দেশে নিশ্চিত হাম আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০ হাজার ২৪৮। আর সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা ৮৪ হাজার ৮৯৯।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৫ মার্চের পর থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৯ হাজার ৬০৬ জন। এদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৬৫ হাজার ৮৫২ জন।

  • ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১

    ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১

    ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে মিন্দানাও দ্বীপে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১তে পৌঁছেছে।

    শনিবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জিএমএ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনো উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে আহত ১ হাজার ২২১ জনে দাঁড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

    দেশটির সিভিল ডিফেন্স অফিস (ওসিডি) জানায়, ভূমিধস ও ভবনের ধ্বংসাবশেষের নিচে আটকে পড়া মানুষদের খুঁজে বের করতে উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রম চলছে। তবে বারবার আফটারশক, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে আরো কয়েকটি লাশ উদ্ধার হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়েছে।

    দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া ও তথ্য পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (ড্রোমিক) জানিয়েছে, মিন্দানাও অঞ্চলে ভূমিকম্পে প্রায় ৫ লাখ ৫৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে প্রায় ৯ হাজার ৩৯৩ জন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। এ ছাড়া ৫৪ হাজার ২৭৪ জন আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের বাড়িতে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছেন।

    প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, ভূমিকম্পে ৮ হাজার ৮৬৫টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ৩৬ হাজার ৬৯১টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে মিন্দানাও উপকূলের কাছে আঘাত হানে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার এই ভূমিকম্প। এতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বাড়িঘর, স্কুল, হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষতি হয়।

    জেনারেল সান্তোস সিটি ও সারাঙ্গানি প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে। দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এসব এলাকায় দুর্যোগজনিত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

  • যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত: শেহবাজ শরিফ

    যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত: শেহবাজ শরিফ

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনার ভিত্তিতে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই একটি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই ইলেকট্রনিকভাবে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করা হতে পারে। এরপর আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

    শেহবাজ শরিফ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান।

    তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, এই ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে।”

  • ভারতে বিমান বিধ্বস্তে নিহত ৫ সদস্যের পরিচয় প্রকাশ

    ভারতে বিমান বিধ্বস্তে নিহত ৫ সদস্যের পরিচয় প্রকাশ

    ভারতের আসাম রাজ্যের জোরহাট বিমানঘাঁটিতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর (আইএএফ) একটি এএন-৩২ পরিবহন বিমান দুর্ঘটনায় পাঁচ সদস্য নিহত হয়েছেন। শনিবার অবতরণের সময় টুইন-ইঞ্জিনবিশিষ্ট টার্বোপ্রপ বিমানটি বিধ্বস্ত হলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

    ভারতীয় বিমানবাহিনী এক বিবৃতিতে এ ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেছে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন প্রশান্ত সিং, শুভম কুমার, জিতেন্দ্র শর্মা, খেমারাম কুমাওয়াত এবং দানিশ আলম। বিবৃতিতে বলা হয়, তারা কর্তব্যরত অবস্থায় দেশের সেবায় সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন।

    দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে একটি কোর্ট অব ইনকোয়ারি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে ভারতীয় বিমানবাহিনী। তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার পেছনের কারণ নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

    বিমানঘাঁটি থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য ও দৃশ্যে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার পর বিমানটি রানওয়ের ওপর দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। ধ্বংসাবশেষ রানওয়ের আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী ও জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন।

    এএন-৩২ দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় বিমানবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পরিবহন বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দুর্গম ও পার্বত্য অঞ্চলে রসদ সরবরাহ, মালামাল পরিবহন এবং বিভিন্ন ধরনের অপারেশনাল সহায়তা মিশনে বিমানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

  • সাদুল্লাপুরে ঘোড়া জবাই করে গরুর গোশত বলে বিক্রির চেষ্টা, গ্রেফতার ৬

    সাদুল্লাপুরে ঘোড়া জবাই করে গরুর গোশত বলে বিক্রির চেষ্টা, গ্রেফতার ৬

    গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার একটি রাইচ মিলের পরিত্যক্ত চাতালের কক্ষে গোপনে ছয়টি গোড়া জবাই করার অভিযোগ উঠেছে। এসব গোশত গরুর হিসেবে বিক্রির চেষ্টায় জড়িত ছয়জনকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশ সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতার মধ্যে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

    শুক্রবার (১২ জুন) সকালের দিকে উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের খোর্দ্দ রসুলপুরে (মোংলা বন্দর) ঘটনা ঘটে।

    গ্রেফতারকৃতরা হলেন মোমিনুর রহমান, মিন্টু মিয়া, হৃদয় হোসেন, রাজিব হোসেন, মামুন মিয়া ও জোবায়দুর রহমান। তাদের বাড়ি বিভিন্ন জেলায়।

    স্থানীয়রা জানায়, খোর্দ্দ রসুল পুরের মোংলা বন্দরের মরহুম ফজলু মাস্টারের ছেলে খাইরুল ইসলামের চাতালে গোপনে ছয়টি ঘোড়া জবাই করে। এসব ঘোড়ার গোশত গরুর গোশত হিসেবে বিক্রির চেষ্টা করছিলেন। এসময় ঘটনাটি টের পেয়ে জড়িতদের আটক করে পুলিশে খবর দেয়া হয়।

    এছাড়া বিক্ষুব্ধ জনগণ চাতালের টিনের বেড়া ভাঙচুর করেছে। এসময় ঘটনা স্থলে পুলিশ এসে জনতার উত্তেজিত পরিস্থিতি শান্ত করে।

    এদিকে, ঘটনা স্থলে ছুটে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান, ওসি এ কে এম হাবিবুর রহমান হাবিব, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদ হাসান শুভ ও সদস্য নুরুন্নবী প্রধানসহ অনেকে।

    এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম হাবিবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া হয়। পরিস্থিতি শান্ত করার পর ইউএনও মহোদয় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন।

    সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে দুজনকে ছয় মাসের ও চারজনকে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করাসহ প্রত্যেকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।’

  • ছাত্রশিবির নেতা জিসান নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগ, দ্রুত উদ্ধারের দাবি

    ছাত্রশিবির নেতা জিসান নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগ, দ্রুত উদ্ধারের দাবি

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিমের সাবেক সভাপতি জিসান আহমেদ প্রধান দীর্ঘ ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তাকে দ্রুত ও নিরাপদে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে ছাত্রশিবির।

    শুক্রবার (১২ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ দাবি জানান।

    বিবৃতিতে তারা বলেন, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল মসজিদে এশার নামাজ শেষে বের হওয়ার পর থেকে জিসান আহমেদ প্রধান নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনার পরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় শুক্রবার ভোরে পরিবারের সদস্যরা পুনরায় থানায় যান। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সকাল ৯টায় তারা পুলিশের সাথে সাক্ষাৎ করতে সক্ষম হন।

    নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, জিসানের সন্ধান ও উদ্ধারে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার প্রত্যাশা থাকলেও পুলিশের আচরণে তারা হতাশ ও উদ্বিগ্ন।

    বিবৃতিতে আরো বলা হয়, একটি চক্র জিসানকে অপহরণ করে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করছে। অপহরণকারীরা যে ফোন নম্বর ব্যবহার করছে, সেটি এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং ওই নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য প্রশাসনকে সরবরাহ করা হয়েছে। এরপরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করে সংগঠনটি।

    ছাত্রশিবিরের নেতারা জানান, সংগঠনের পক্ষ থেকে পুলিশ সদর দপ্তর, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং র‌্যাবের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতার দাবি জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।

    বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের ঘটনা উদ্বেগজনক। আমরা অবিলম্বে জিসান আহমেদ প্রধানকে অক্ষত ও নিরাপদ অবস্থায় উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।”

    বিবৃতিটি পাঠান বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ।

  • নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণ: চিকিৎসাধীন নারীর মৃত্যু

    নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণ: চিকিৎসাধীন নারীর মৃত্যু

    নারায়ণগঞ্জের মদনপুরে গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে দগ্ধ একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মধ্যে সুলতানা আক্তার (৪২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (১২ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান সাংবাদিকদের জানান, সুলতানা আক্তারের শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।

    তিনি আরো জানান, বর্তমানে আলী আহমদ মান্নান ৩০ শতাংশ, ছেলে সিয়াম ৭৭ শতাংশ এবং মেয়ে মিমি ৪১ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। পথচারী শিশু হযরত আলীর শরীরের ৮ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মদনপুরের ছোটবাগ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    দগ্ধরা হলেন— সবজি ব্যবসায়ী আলী আহমদ মান্নান (৫০), তার স্ত্রী গার্মেন্টসকর্মী সুলতানা আক্তার (৪২), ছেলে কলেজশিক্ষার্থী সিয়াম (১৯), মেয়ে স্কুলশিক্ষার্থী মিমি (৯) এবং পথচারী শিশু হযরত আলী (৮)।

    দগ্ধদের স্বজনরা জানান, পরিবারটি মদনপুরের একটি একতলা বাড়িতে ভাড়া থাকত। বাসার গ্যাসের চুলার লাইনে লিকেজ থাকায় আলী আহমদ মান্নান নিজেই সেটি মেরামত করেন। পরে তার স্ত্রী রান্নার জন্য চুলা জ্বালানোর কিছুক্ষণ পরই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে দম্পতি, তাদের দুই সন্তান এবং পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া এক শিশু দগ্ধ হয়।

    পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন।

  • দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবেশের সময় জাল ভিসাসহ ৯ বাংলাদেশি আটক

    দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবেশের সময় জাল ভিসাসহ ৯ বাংলাদেশি আটক

    জাল ভ্রমণ নথি ও ভিসা ব্যবহার করে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় ৯ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে দক্ষিণ আফ্রিকার কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার দক্ষিণ আফ্রিকার ওআর তাম্বো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁদের আটক করে দেশটির সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (বিএমএ)।

    দক্ষিণ আফ্রিকার সংবাদমাধ্যম আইউইটনেস নিউজ জানিয়েছে, বিএমএ—এর কর্মকর্তারা বলেছেন—কর্মকর্তারা ভ্রমণকারীদের নথিপত্রে অসঙ্গতি শনাক্ত করার পর তাঁদের থামিয়ে দেন। পরে যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, আটক হওয়া ৯ জনের কাছেই দক্ষিণ আফ্রিকার জাল ভিসা রয়েছে। এসব ভিসা ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকমিশন থেকে ইস্যু করা হয়েছে বলে দেখানো হয়েছিল।

    ঘটনার পর ওই নয়জনকে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    বিএমএর মুখপাত্র মেমে মোগোৎসি এক বিবৃতিতে বলেন, আটক হওয়া ৯ জনের মধ্যে তিনজন নারী। তাঁরা সাধারণ বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভ্রমণ করছিলেন। অন্যদিকে ছয়জন পুরুষ প্রথমে জাল ভারতীয় পাসপোর্ট উপস্থাপন করেন। তবে পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদ ও নথি যাচাইয়ের সময় ওই ছয়জন তাঁদের বাংলাদেশি পাসপোর্টও দেখান।

    বিএমএ জানিয়েছে, জাল নথিগুলোর উৎস শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের মতে, ঘটনাটি সীমান্ত নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক জাল নথি চক্রের সম্ভাব্য কার্যক্রম নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে।

  • সন্তান জন্মদানে সক্ষম ‘নারীর সংকট’ ধসিয়ে দিতে পারে চীনের পরাশক্তি হওয়ার স্বপ্ন

    সন্তান জন্মদানে সক্ষম ‘নারীর সংকট’ ধসিয়ে দিতে পারে চীনের পরাশক্তি হওয়ার স্বপ্ন

    দীর্ঘদিন ধরে ধেয়ে আসা জনসংখ্যাগত বিপর্যয় এখন সরাসরি আঘাত হানতে শুরু করেছে চীনের অর্থনীতি ও বাজারে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান মার্টিন ক্যাপিটালের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও রড ডি. মার্টিন সম্প্রতি দাবি করেছেন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিটি এমন এক বিপজ্জনক বিন্দু অতিক্রম করেছে, যেখান থেকে আর ফিরে আসা সম্ভব নয়। তাঁর মতে, চীনের এই জনসংখ্যার সংকট এখন ‘গাণিতিকভাবে অপরিবর্তনশীল’ এবং এটি সময়ের ব্যবধানে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ভোক্তা বাজার এবং বিশ্বমঞ্চে পরাশক্তি হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে ধূলিসাৎ করে দেবে।

    চীনের সরকারি তথ্য বলছে, প্রায় ১৪০ কোটি (১.৪ বিলিয়ন) জনসংখ্যার সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছানোর পর ইতিমধ্যেই দেশটির জনসংখ্যা সংকুচিত বা কমতে শুরু করেছে। এখন প্রতি বছর জন্মের চেয়ে মৃত্যুর হার বেশি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জন্মহার কমে যাওয়ার গতি ছিল ভয়াবহ। ২০১০-এর মাঝামাঝিতেও চীনে প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশু জন্মাত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে এক কোটিরও নিচে। এটি গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের ইতিহাসে সর্বনিম্ন জন্মহার।

    বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, জনসংখ্যা হ্রাসের এই গতি ভবিষ্যতে আরও ত্বরান্বিত হবে। জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড পপুলেশন প্রসপেক্টস-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ হিসাব বজায় থাকলেও ২১০০ সালের মধ্যে চীনের জনসংখ্যা বর্তমানের তুলনায় প্রায় অর্ধেক হয়ে যেতে পারে।

    রড ডি. মার্টিন এই পরিস্থিতিকে সাময়িক কোনো সমস্যা হিসেবে দেখছেন না। তাঁর মতে, এটি একটি স্থায়ী কাঠামোগত ভাঙন। মার্টিনের এই গাণিতিক তত্ত্বের মূলে রয়েছে ১৯৮০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বেইজিংয়ের কঠোরভাবে চাপিয়ে দেওয়া ‘এক সন্তান নীতি’। জনসংখ্যাবিদরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছিলেন, এই নীতি উর্বরতার হারকে নামিয়ে দিয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে সংকুচিত করেছে এবং লিঙ্গ নির্বাচনে গর্ভপাতের কারণে নারী-পুরুষের অনুপাতে বিশাল বৈষম্য তৈরি করেছে। পুত্রসন্তানের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহের কারণে লাখ লাখ কন্যাসন্তান পৃথিবীতে আসতেই পারেনি। এই কৃত্রিম বৈষম্যই এখন সরাসরি আঘাত হানছে চীনের শ্রমবাজার, বিয়ে এবং নতুন পরিবার গঠনের ক্ষেত্রে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্টিন লিখেছেন, বর্তমানে যাঁদের সন্তান জন্মদানের বয়স, তারা নিজেরাই সেই ‘এক সন্তান নীতি’র সময় জন্ম নেওয়া সংকুচিত প্রজন্ম। প্রতিটি প্রজন্ম তার আগের প্রজন্মের ঘাটতিকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। আপনি এমন নারীদের ওপর ভর্তুকি বা প্রণোদনা দিতে পারবেন না, যাদের জন্মই হয়নি।

    বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার প্রতিবেদনে চীনকে এখন পূর্ব এশিয়ার ‘আলট্রা-লো ফার্টিলিটি’ বা অতি-নিম্ন জন্মহারের দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টার ও জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২১০০ সালের মধ্যে চীনের জনসংখ্যা কমে মাত্র ৬৩ কোটি ৩০ লাখে নামতে পারে। আর মার্টিনের মতো অতি-শঙ্কাবাদী বিশ্লেষকদের মতে, এই শতাব্দীর শেষে চীনের জনসংখ্যা মাত্র ৩০ কোটিতে ঠেকবে—যা এর সর্বোচ্চ চূড়ার চেয়ে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ কম।

    বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় চিন্তার বিষয় হলো, এই জনসংখ্যা হ্রাস চীনের প্রবৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ বাজারকে গ্রাস করবে। একসময়ের তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী এবং কম নির্ভরশীল জনসংখ্যার ওপর ভর করে চীন সস্তা উৎপাদন ও অবকাঠামোগত বিপ্লব ঘটিয়েছিল। সেই সোনালি দিন বা ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ এখন শেষ।

    চীনে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ইতিমধ্যেই সর্বোচ্চ চূড়া পার করে এখন ক্রমাগত কমছে। বিপরীতে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী অবসরপ্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে, কর্মক্ষম মানুষের তুলনায় নির্ভরশীল মানুষের অনুপাত চীনে ঊর্ধ্বমুখী।

    এর সামষ্টিক অর্থনৈতিক ফলাফলকে মার্টিন সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে—‘একটি সংকুচিত কর্মীবাহিনী, ধসে পড়া করদাতার সংখ্যা, অবসরপ্রাপ্তদের বোঝা এবং একটি ফাঁকা হয়ে যাওয়া ভোক্তা বাজার। এটি কেবল একটি জনসংখ্যাগত সংকট নয়, এটি আসলে চীনের পরাশক্তি হওয়ার স্বপ্নের সমাধি।’

    এদিকে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেইজিং জন্মনিয়ন্ত্রণের সব বিধি-নিষেধ তুলে নিয়েছে, বড় পরিবার গঠনে উৎসাহিত করছে এবং বাবা-মাকে নানাবিধ সহায়তা দিচ্ছে। সি চিনপিংয়ের সরকার দম্পতিদের নগদ অর্থ বোনাস, আবাসন ও শিক্ষা উপবৃত্তি, মাতৃত্বকালীন ছুটি বৃদ্ধি এবং এমনকি জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর ওপর থেকে কর ছাড়ের সুবিধা বাতিল করার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।

    কিন্তু এত সব সরকারি প্রচারণাও তরুণদের মন গলাতে পারেনি। চীনের শহুরে তরুণদের ওপর করা জরিপ বলছে—অতিরিক্ত আবাসন খরচ, শিক্ষা খাতে তীব্র প্রতিযোগিতা, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং ডে-কেয়ারের অভাবে তারা বিয়ে ও সন্তান নিতে ভয় পাচ্ছে। ফলে এটি এখন আর কোনো নীতিগত বাধা নয়, বরং চীনের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর ভেতরেই এই অনীহা গেঁথে গেছে, যা সহজে সমাধান করা অসম্ভব।

    চীনের এই জনসংখ্যাগত মোড় পরিবর্তন বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড় ধরনের ওলটপালট ঘটাবে। প্রথমত, প্রবৃদ্ধির সীমা। সংকুচিত কর্মীবাহিনীর কারণে চীনের জিডিপি প্রবৃদ্ধি একটি নির্দিষ্ট সীমায় আটকে যাবে, ফলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো চীনের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ইতিমধ্যেই কমিয়ে দিয়েছে।

    দ্বিতীয়ত, ভোগ্যপণ্যের বাজার ধস। নতুন পরিবার গঠন ও জন্মহার কমলে আবাসন খাত, শিক্ষা এবং সাধারণ ভোগ্যপণ্যের বাজারে বড় ধাক্কা লাগবে।

    তৃতীয়ত, সাপ্লাই চেইন স্থানান্তর। শ্রমিকের অভাব ও মজুরি বৃদ্ধির কারণে বিশ্বের বড় বড় কোম্পানিগুলো তাদের উৎপাদন কারখানা চীন থেকে সরিয়ে ভারত, ভিয়েতনাম, মেক্সিকো এবং আফ্রিকার মতো তরুণ জনগোষ্ঠীর দেশগুলোতে নিয়ে যাচ্ছে।

    চতুর্থত, ভূরাজনীতি। সামরিক ও প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টেক্কা দেওয়া চীনের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ, একটি বয়োবৃদ্ধ ও অর্থনৈতিকভাবে চাপে থাকা দেশের পক্ষে বিশাল প্রতিরক্ষা ব্যয় ধরে রাখা এবং আমেরিকার সঙ্গে ব্যবধান ঘোচানোর মতো প্রযুক্তিগত বিনিয়োগ বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। রড মার্টিনের ভাষায়—‘জনমিতিই হলো নিয়তি’।

  • নবাবগঞ্জে স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী আইডিয়া প্রদর্শনীর উদ্বোধন

    নবাবগঞ্জে স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী আইডিয়া প্রদর্শনীর উদ্বোধন

    দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী অধ্যাপক ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিধান কান্তি হালদার।

    এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটিজ স্মার্ট ক্লাব (EESSC) ও এসইএসডিপির উদ্যোগে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর, ঢাকার সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, নবাবগঞ্জ, দিনাজপুর।

    অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প ও স্টার্টআপ ধারণা তুলে ধরার মাধ্যমে বিজ্ঞানমনস্ক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রজন্ম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

  • রাজধানীতে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কাইল্যা পলাশ’ গুলিবিদ্ধ

    রাজধানীতে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কাইল্যা পলাশ’ গুলিবিদ্ধ

    রাজধানীর হাতিরঝিলে রামপুরা টিভি সেন্টার এলাকায় তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে কাইল্যা পলাশকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    আজ শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    হাতিরঝিল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানান, পলাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) রয়েছেন।

    আহতের ভাই আল আমিন জানান, দুপুরে পলাশ জুম্মার নামাজ শেষে রয়েল মিষ্টির দোকানের সামনের রাস্তায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে করে দুই যুবক এসে আকস্মিকভাবে পলাশের মাথা লক্ষ্য করে গুলি করে। এরপর তারা পালিয়ে যায়।

    তিনি আরো জানান, পলাশের মাথায় দুটি গুলি লেগেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাসপাতালে আনার পরপরই তাকে জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা তার জীবন বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ঘটনার পেছনে স্থানীয় সন্ত্রাসী ‘কাইল্যা মাসুদের’ নাম উঠে এসেছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার এবং ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে রামপুরা থানা পুলিশ ও ডিবির একাধিক টিম মাঠে নেমেছে।

  • সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে রাজশাহীতে হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ

    সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে রাজশাহীতে হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ

    ভারতে মুসলিম নির্যাতন, গণহত্যা, মসজিদ-মাদরাসা ধ্বংস, সীমান্তে অবৈধ পুশইন, গাইবান্ধায় মূর্তি নির্মাণের প্রতিবাদ এবং বিতর্কিত সংগঠন ‘হেযবুত তওহীদ’কে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধকরণের দাবিতে রাজশাহীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে হেফাজতে ইসলাম।

    শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজ শেষে নগরীর সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট এলাকা থেকে হেফাজতে ইসলাম রাজশাহী মহানগর ও জেলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জিরোপয়েন্টে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের এখন আর ঘুমিয়ে থাকার সময় নেই, সবাইকে জেগে উঠতে হবে। পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারত বর্তমানে ইসরাইলের মতো আচরণ শুরু করেছে। সেখানে মুসলমানদের ওপর যে নির্মম অত্যাচার চালানো হচ্ছে, তার প্রতিবাদ করার এখনই উপযুক্ত সময়।’

    ভারতের মোদি সরকারের সমালোচনা করে তারা বলেন, ‘সে দেশে মুসলমানদের নিয়ে তামাশা করা হচ্ছে, মসজিদ-মাদরাসা ভাঙচুর করা হচ্ছে এবং সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই অবৈধ পুশইন এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।’

    বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা ভেবেছিলাম দেশ সংস্কার হবে। কিন্তু বর্তমানে সংস্কারের নামে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কালো আইন প্রণয়নের চেষ্টা চলছে, যা তৌহিদী জনতা মেনে নেবে না।’

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তারা বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের এত বছর পরেও আমাদের সীমান্তে বিজিবিকে আধুনিক অস্ত্র দেয়া হয়নি। ৫০ বছর আগের খেলনা অস্ত্র দিয়ে ভারতের আগ্রাসন থেকে দেশকে রক্ষা করা যাবে না। বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে সীমান্তের বিজিবি সদস্যদের হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র তুলে দিতে হবে।’

    বক্তারা আরো বলেন, ‘চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে যেসব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ানো হয়েছে, তা অনতিবিলম্বে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে হবে। পূর্ববর্তী সরকারের মতো লুটপাট চালালে দেশের জনগণ তা প্রতিহত করবে।’

    গাইবান্ধায় মূর্তি নির্মাণের মাধ্যমে তৌহিদী জনতার অনুভূতিতে আঘাত হানা হয়েছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, “হেযবুত তওহীদ বাংলাদেশে একটি বিতর্কিত ও সমালোচিত ধর্মভিত্তিক সংস্কারবাদী সংগঠন। এই সংগঠনটি মুসলমানদের ঈমান-আকিদা ধ্বংস করছে এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। তাই অবিলম্বে রাষ্ট্রীয়ভাবে একে নিষিদ্ধ করতে হবে। একই সাথে হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী ‘ইসকন’ কর্তৃক দেশের বিভিন্ন স্থানে মূর্তি স্থাপন কঠোর হস্তে বন্ধ করতে হবে।”

    দাবি আদায় না হলে আগামীতে আরো কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

    বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর খেলাফতে মজলিসের সভাপতি মুফতি জমির হোসেন জমিরী, সহ-সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ তালহা, যুববিষয়ক সম্পাদক মীর ফরহাদ, হেফাজতে ইসলামের রাজশাহী জেলার যুববিষয়ক সম্পাদক মুফতি কামরুজ্জামান, সদস্য হাফেজ মাওলানা হোসায়েন আহমেদ দেওয়ান এবং ছাত্রবিষয়ক সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ।

  • খসড়া চুক্তিতেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়ছে না ইরান

    খসড়া চুক্তিতেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়ছে না ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য খসড়া চুক্তির অধীনেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম শুক্রবার (১২ জুন) এমন তথ্য জানিয়েছে।

    ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, বর্তমানে চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় থাকা খসড়া নথির ‘সামগ্রিক কাঠামো’ অনুযায়ী ইরান হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা অন্য কারও কাছে হস্তান্তরের কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার আগে যে পরিস্থিতি ছিল, তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়েও কোনো অঙ্গীকার করা হয়নি।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইরান খুব সীমিত সংখ্যক জাহাজকে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি জানিয়ে দিয়েছে, প্রণালি অতিক্রম করার আগে সব জাহাজকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর অনুমতি নিতে হবে।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত নতুন হামলা বাতিল করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই স্বাক্ষর হতে পারে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, কোনো চুক্তির বিষয়ে দেশটি এখনো ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি’।

    শুক্রবার (১২ জুন) ইরানের বার্থা সংস্থা মেহের নিউজের আলোচক দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে যে নথি প্রকাশ করেছে, সেটিকে তারা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় থাকা খসড়া চুক্তির পাঠ বলে দাবি করেছে।

    মেহেরের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তি কার্যকর হলে লেবাননসহ সব যুদ্ধক্ষেত্রে সংঘাতের অবসান ঘটবে। পাশাপাশি ইরানের জব্দ হয়ে থাকা ২৪ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ছাড় করা হবে ও তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।

    খসড়ায় ইরানের তেল ও পেট্রোরসায়ন পণ্য বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার বিষয়ও রয়েছে। পাশাপাশি ১৩ এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

    মেহর বার্তা সংস্থা বলেছে, খসড়ায় যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ইরানকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের পুনর্গঠনের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা উপস্থাপনের কথাও বলা হয়েছে।

    সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ইরানের জব্দ অর্থের অন্তত অর্ধেক ছাড় না হওয়া পর্যন্ত, তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত না হওয়া পর্যন্ত এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত আলোচনা শুরু হবে না।

    ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিরোধের অন্যতম প্রধান বিষয়। যুক্তরাষ্ট্র বহুদিন ধরে দাবি করে আসছে, তেহরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা ত্যাগ করতে হবে এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত বিদেশে পাঠাতে হবে।

    অন্য এক প্রতিবেদনে সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, ইরান কেবল তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই আলোচনা করবে এবং তা হবে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের মৌলিক নীতির কাঠামোর মধ্যেই।

    সংস্থাটি আরও বলেছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংরক্ষণের অধিকারকে ইরান অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। চূড়ান্ত চুক্তিতেও এই বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হবে।

  • পশ্চিমাদ নীতি নিয়ে জয়শঙ্করের তোপ, রুশ তেল কেনার পক্ষে সাফাই

    পশ্চিমাদ নীতি নিয়ে জয়শঙ্করের তোপ, রুশ তেল কেনার পক্ষে সাফাই

    আন্তর্জাতিক সংবাদ:

    পশ্চিমা দেশগুলোর ‘দ্বিমুখী নীতি’র কড়া সমালোচনা করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। একই সঙ্গে তিনি রাশিয়া থেকে তেল কেনার সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। খবর এনডিটিভির।

    ফিনল্যান্ড সফরে বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি রাশিয়ার তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বারবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও তা শিথিল করার নীতিকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন।
    ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। ওই পরিস্থিতিতে ভারত রাশিয়ার অন্যতম প্রধান তেল ক্রেতায় পরিণত হয়।
    ফিনল্যান্ডের কুলতারান্তায় অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে জয়শঙ্কর বলেন, সেই সময় জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে যুক্তরাষ্ট্রই ভারতকে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার পরামর্শ দিয়েছিল।
    ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনাকে ‘অতিরিক্ত সহানুভূতি’ হিসেবে দেখানোর অভিযোগ তোলেন এক সাংবাদিক। এর জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, ভারত মূলত মূল্য ও সহজলভ্যতার ভিত্তিতেই তেল আমদানি করে।

    তার ভাষায়, সেই সময় বাজারে রাশিয়ার তেলই সবচেয়ে সহজলভ্য ছিল, কারণ ইউরোপীয় দেশগুলো পশ্চিম এশিয়ার তেল বেশি কিনছিল, যা ভারতের ঐতিহ্যগত সরবরাহ উৎস ছিল। ফলে পরিবর্তিত পরিস্থিতিই ভারতকে নতুন উৎসের দিকে যেতে বাধ্য করে।
    রাশিয়াকে ‘নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী’ হিসেবে উল্লেখ করে জয়শঙ্কর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নীতির ধারাবাহিক পরিবর্তনের সমালোচনা করেন এবং বিষয়টিকে অতিরিক্ত নৈতিকতার চশমায় না দেখার আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, রুশ তেল কেনার কারণে প্রথমে শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, পরে আবার তা শিথিল করা হয়েছে। তাই এখানে কোনো মহৎ নীতি আছে— এমন ভান করার প্রয়োজন নেই।
    গত বছর ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল, যার মধ্যে ২৫ শতাংশ ছিল রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে আরোপিত অতিরিক্ত শাস্তিমূলক শুল্ক। পরে তা কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়।

    এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে যুক্তরাষ্ট্র কিছু ক্ষেত্রে রুশ তেল পরিবহনের ওপর শিথিলতা দেয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
    ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত থাকবে— মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বা ছাড়ের শর্ত যাই হোক না কেন।
    বিদেশনীতি প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর আরও বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিমুখী নীতি অনুসরণ করে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ইউরোপীয় দেশ এমন রাষ্ট্রে অস্ত্র বিক্রি করে, যেগুলো পরে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়, অথচ ভারত কখনোই ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করেনি।

  • এপস্টেইনের যৌন কেলেঙ্কোরি

    এপস্টেইনের যৌন কেলেঙ্কোরি

    বৈবাহিক জীবনের টানাপড়েন, পরকীয়ার কথা স্বীকার করেন বিল গেটস

    মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা ও মার্কিন ধনকুবের বিল গেটস জানিয়েছেন, দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল না।

    এপস্টেইন তার দাতব্য তহবিলের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে না পারায় তিনি নিজেই একপর্যায়ে তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। গত বুধবার মার্কিন কংগ্রেসের ‘হাউস ওভারসাইট কমিটি’র মুখোমুখি হয়ে এক রুদ্ধদ্বার শুনানিতে এসব কথা বলেন বিল গেটস।

    এপস্টেইনকাণ্ডের তদন্তের অংশ হিসেবেই স্বেচ্ছায় কমিটিতে হাজির হয়ে নিজের জবানবন্দি দেন তিনি। জবানবন্দিতে বিল গেটস তার বৈবাহিক জীবনের টানাপড়েন ও পরকীয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, এপস্টেইন তার ব্যক্তিগত জীবনের দুর্বলতাকে পুঁজি করে তাকে ব্ল্যাকমেইল বা চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছিল। তবে শুনানিতে অংশ নেয়া কমিটির সদস্যরা মন্তব্য করেছেন, এপস্টেইন মূলত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্য তৈরি করে নিজের ক্ষমতা ও প্রভাব জাহির করতে পছন্দ করত। বিল গেটসও ছিলেন তার সেই ‘বন্ধু সংগ্রহের’

    ‘প্রতিটি মুহূর্তের জন্য আমি অনুতপ্ত’: নিজের প্রারম্ভিক বক্তব্যে বিল গেটস স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কখনোই এপস্টেইনকে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে দেখেননি এবং এমন কোনো আভাসও পাননি।

    গেটস বলেন, আমি কখনোই তার ব্যক্তিগত দ্বীপ, খামারবাড়ি কিংবা ফ্লোরিডার বাসভবনে যাইনি। আমি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নই। সে হয়তো আমার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে চেয়েছিল, কিন্তু আমার তাতে কোনো আগ্রহ ছিল না। তিনি আরও যোগ করেন, এপস্টেইনের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তের জন্য আমি অনুতপ্ত। তার সঙ্গে দেখা করাটা আমার ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।

    তবে মার্কিন আইন মন্ত্রণালয় প্রকাশিত লাখ লাখ পৃষ্ঠার নথিতে বিল গেটসের নাম হাজারো বার এসেছে এবং বেশ কিছু ছবিতেও তাকে এপস্টেইনের সঙ্গে দেখা গেছে। এমনকি এপস্টেইনের ব্যক্তিগত জেটে ভ্রমণ করার কথাও স্বীকার করেছেন গেটস।

    পরকীয়া ও ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা: তদন্ত নথিতে উঠে আসা এপস্টেইনের কিছু খসড়া ইমেইলে বিল গেটসের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চাঞ্চল্যকর কিছু দাবি করা হয়েছে। সেখানে অভিযোগ করা হয়, এপস্টেইন গেটসের জন্য রুশ নারীদের মাধ্যমে বিশেষ সাক্ষাতের ব্যবস্থা করেছিল এবং গেটস একপর্যায়ে যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হলে তাকে ওষুধ জোগাড় করে দিয়েছিল।

    গেটস এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, দুই রুশ নারীর সঙ্গে তার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। গেটস বলেন, এপস্টেইন আমার সেই পরকীয়ার তথ্য এবং এর সঙ্গে আরও কিছু মিথ্যা যোগ করে আমাকে তার ফাঁদে ফেলার জন্য চাপ দিচ্ছিল।

    এপস্টেইনের সঙ্গে পরিচয় যেভাবে: কমিটিকে বিল গেটস জানান, ২০১১ সালে গ্লোবাল হেলথ ইনিশিয়েটিভের জন্য ফান্ড বা তহবিল সংগ্রহের আলোচনার সূত্র ধরে এপস্টেইনের সঙ্গে তার চেনা-জানা শুরু হয়। এর তিন বছর আগেই অবশ্য ফ্লোরিডায় যৌন ব্যবসার অভিযোগে দণ্ডিত হয়েছিল এপস্টেইন।

    গেটস জানান, তিনি শুরুতেই পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন যে তার ফাউন্ডেশনে এপস্টেইনের কোনো ভূমিকা থাকবে না। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে এপস্টেইন সম্ভাব্য দাতাদের একটি দলের সঙ্গে গেটসের বৈঠক করিয়ে দিলেও সেখান থেকে কোনো অর্থ আসেনি। গেটস বলেন, যখন বুঝলাম সে শুধু ফাঁকা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তখন আমি তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ ও দেখা-সাক্ষাৎ বন্ধ করে দিই।

    কমিটির ডেমোক্রেট সদস্য রবার্ট গার্সিয়া সাংবাদিকদের বলেন, বিল গেটস জানতেন যে এপস্টেইন একটি ভয়াবহ অপরাধে দণ্ডিত, তা সত্ত্বেও তিনি নিজের ফাউন্ডেশনের জন্য টাকা তুলতে তার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। অন্যদিকে, রিপাবলিকান সদস্য টিম বারচেট মন্তব্য করেন, বিল গেটসকে শুনানির সময় বেশ বিপর্যস্ত দেখাচ্ছিল।

    শত কোটি ডলারের মালিক হওয়ার পরও তাকে দেখে বেশ ‘নুয়ে পড়া’ মনে হয়েছে। কমিটির সদস্যরা প্রশ্ন তোলেন, তথ্যপ্রযুক্তির দুনিয়ার অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তিত্ব হয়েও বিল গেটস কীভাবে এপস্টেইনের মতো একজন বিতর্কিত মানুষের অতীত ব্যাকগ্রাউন্ড বা অপরাধের ইতিহাস সম্পর্কে এতটা উদাসীন ও কৌতুহলহীন ছিলেন? যা কি না আগে থেকেই সবার জানা ছিল।

  • রামপুরায় শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশকে গুলি

    রামপুরায় শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশকে গুলি

    রাজধানীর হাতিরঝিল থানার রামপুরা টিভি সেন্টার এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ (৫০)কে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা।

    একমাস আগে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান পলাশ। শুক্রবার (১২ জুন) দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পূলিশ সূত্রে জানা যায়, পলাশ ওরফে ‘কাইল্লা পলাশ’ হাতিরঝিল রামপুরা এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত।

    ২০০২ সালের ২৯ মে রামপুরায় যুবদল নেতা মিজানকে গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনায় বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন পলাশকে।

    পরে উচ্চ আদালত তাঁর সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

    রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শুক্রবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে নামাজ পড়ে বাসায় ফিরছিলেন পলাশ। আজ পলাশের বাসায় মিলাদ ছিল। রামপুরা থানাধীন রয়েল মিষ্টির দোকানের সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তার মাথায় দুটি গুলি লাগে। গুলিবিদ্ধ পলাশকে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। কারা, কেন পুলাশের ওপর হামলা করেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    এর আগে, গত বছরের ১০ নভেম্বর রাজধানীর সূত্রাপুরে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুনকে (৫৫)। এ ছাড়া, চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল নিউমার্কেট এলাকায় গুলিতে নিহত হন আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নঈম আহমেদ টিটন।

    বি. এ

  • কি আছে খার্গ দ্বীপে, এত লোভ কেন ট্রাম্পের

    কি আছে খার্গ দ্বীপে, এত লোভ কেন ট্রাম্পের

    ইরানের ওপর পরিকল্পিত হামলা বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, মার্কিন বাহিনী অদূর ভবিষ্যতে খার্গ দ্বীপ দখল করবে।

    কঠোর সামরিক নিয়ন্ত্রণের কারণে ‘নিষিদ্ধ দ্বীপ’ নামে পরিচিত খার্গ দ্বীপটিতে ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত করা হয়।

    বুশেহর বন্দর থেকে ৫৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে ১৫ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থিত খার্গ দ্বীপটি ইরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড।

    গত সপ্তাহে মার্কিন গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, খার্গ মাত্র ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৪-৫ কিলোমিটার প্রস্থের হওয়ায়, খার্গের চারপাশের গভীর জলরাশি একে একটি প্রাকৃতিক ভৌগোলিক সুবিধা প্রদান করে।

    এই গভীরতার কারণে বিশাল সুপারট্যাঙ্কারগুলো এখানে নিরাপদে নোঙর করতে পারে। বিশেষ কেরে এশীয় বাজারের জন্য অপরিশোধিত তেল বোঝাই করা যায়, যার প্রধান আমদানিকারক হলো চীন।

    ক্রমাগত উন্নত হতে থাকা এই ইরানি তেল টার্মিনালগুলোর তেল বোঝাই করার সক্ষমতা দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল বলে জানা গেছে। যদিও বর্তমান জাতীয় রপ্তানি দৈনিক প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেলের মধ্যে ঘোরাফেরা করে।

    খার্গের ওপর যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে উত্তেজনা অনেক বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন হামলা তেহরানকে উপসাগরীয় অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে উস্কে দিতে পারে এবং এতে তেলের দাম আরো বেড়ে যাবে। ইরান যুদ্ধ ইতোমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তামাক কোম্পানির সিএসআর কার্যক্রম নিষিদ্ধে নির্দেশনা

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তামাক কোম্পানির সিএসআর কার্যক্রম নিষিদ্ধে নির্দেশনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তামাক কোম্পানি কর্তৃক সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির (সিএসআর) আওতায় কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন নিষিদ্ধকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ব্যবস্থা নিয়ে তার তথ্য আগামী ১৫ জুন বিকেল ৪টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর জন্যও বলা হয়েছে।

    শুক্রবার (১২ জুন) কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। চিঠিটি সব আঞ্চলিক পরিচালক ও কারিগরির সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে পাঠানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, ‘ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর ধারা ৫(৩)-এর বিধান প্রতিপালন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। এ সংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়নের তথ্য আগামী ১৫ জুন বিকেল ৪টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তথ্য সফটকপি (নিকশ ফন্টে) এবং হার্ডকপি (পিডিএফ আকারে) [dte.ad2@gmail.com](mailto:dte.ad2@gmail.com) ই-মেইলে পাঠাতে হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের চিঠি এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের চিঠি সংযুক্ত করা হয়েছে।

    বি. এ

  • চীনের সমুদ্রসীমায় ‘গুপ্তচর কচ্ছপ-মাছ’

    চীনের সমুদ্রসীমায় ‘গুপ্তচর কচ্ছপ-মাছ’

    চীনের সমুদ্রসীমায় বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ‘গুপ্তচর কচ্ছপ’ ও ‘গুপ্তচর মাছ’ ব্যবহার করে নজরদারি চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়। বেইজিংয়ের দাবি, সমুদ্রে চলমান একটি ‘অদৃশ্য গোপন যুদ্ধের’ অংশ হিসেবে এসব প্রাণীর শরীরে বিশেষ সেন্সর সংযুক্ত করে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

    শুক্রবার চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইচ্যাটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, বিদেশি গোয়েন্দা ও তথ্যসংগ্রহকারী সংস্থাগুলো বিভিন্ন ধরনের আধুনিক নজরদারি যন্ত্র ব্যবহার করে চীনের সমুদ্রসীমা থেকে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করছে। এসব তথ্যের মাধ্যমে পানির নিচের মানচিত্র তৈরি করা হচ্ছে, যা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, চীনা জলসীমায় এমন কিছু বড় সামুদ্রিক প্রাণী শনাক্ত করা হয়েছে, যাদের শরীরে সেন্সর সংযুক্ত ছিল। ‘গুপ্তচর কচ্ছপ’ ও ‘গুপ্তচর মাছ’ নামে উল্লেখ করা এসব প্রাণী পানির তাপমাত্রা, লবণাক্ততা এবং সমুদ্রস্রোতের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বিদেশে পাঠাচ্ছিল বলে দাবি করেছে মন্ত্রণালয়। তবে কোথায় এসব প্রাণী পাওয়া গেছে কিংবা কোন দেশ বা সংস্থা এগুলো ব্যবহার করেছে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।

    সামুদ্রিক প্রাণীকে গোয়েন্দা কাজে ব্যবহারের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে ২০২৩ সালে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, রাশিয়া কৃষ্ণসাগরে তাদের সেভাস্তোপোল নৌঘাঁটির নিরাপত্তা জোরদারে প্রশিক্ষিত ডলফিন মোতায়েন করেছে। ওই ডলফিনগুলোকে শত্রুপক্ষের ডুবুরি শনাক্ত ও প্রতিরোধের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় আরও দাবি করেছে, তারা বিদেশি একটি সামুদ্রিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের স্থাপন করা কিছু ভাসমান বয়া শনাক্ত করেছে, যেগুলো আবহাওয়া ও শব্দ-সংক্রান্ত সেন্সর দিয়ে সজ্জিত ছিল। এসব যন্ত্রের মাধ্যমে চীনা সাবমেরিনের শব্দগত স্বাক্ষর (অ্যাকোস্টিক সিগনেচার) তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছিল।

    এ ছাড়া সমুদ্রের ঢেউ ও সৌরশক্তিচালিত নতুন ধরনের ‘ওয়েভ গ্লাইডার’ ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করেছে বেইজিং। তাদের অভিযোগ, এসব যন্ত্র সামরিক কাজে ব্যবহারযোগ্য সামুদ্রিক পরিবেশগত তথ্য এবং জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য বিদেশে পাঠানোর কাজে নিয়োজিত।

    দক্ষিণ চীন সাগর, পূর্ব চীন সাগর এবং তাইওয়ান প্রণালিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই গুপ্তচরবৃত্তি ও সামরিক নজরদারির অভিযোগ তুলে আসছে চীন। বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত ও বিরোধপূর্ণ জলসীমা হিসেবে পরিচিত এসব অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা নিয়ে উত্তেজনা প্রায়ই দেখা যায়।

    গত বছরও চীন দাবি করেছিল, সমুদ্রতলের নিচে এমন কিছু গোপন ‘বাতিঘর’ বা নেভিগেশন ব্যবস্থা শনাক্ত করা হয়েছে, যা বিদেশি সাবমেরিনকে পথনির্দেশ দিতে এবং সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের প্রস্তুতি সহজ করতে ব্যবহৃত হতে পারে।

    চীনা গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশের জলসীমায় সন্দেহজনক নজরদারি যন্ত্র শনাক্ত বা উদ্ধার করতে পারলে জেলেদের ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ ইউয়ান পর্যন্ত আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়।

  • উদ্ভাবনের পথে ভূল হবে, থেমে গেলে চলবে না-ডা. ফরিদ

    উদ্ভাবনের পথে ভূল হবে, থেমে গেলে চলবে না-ডা. ফরিদ

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    ছোট ছোট স্বপ্নই একদিন বড় স্বপ্ন দেখার পথ তৈরি করে। মানুষ একদিনে হাঁটতে শেখে না। ধীরে ধীরে হাঁটতে শিখেই দৌড়াতে শেখে। তাই ভুলকে ভয় না পেয়ে সেখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

    চৌগাছা স্টার্টআপ সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া প্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বর্ক্তৃতায় স্থানীয় সংসদসদ্য ডা. ফরিদ এসব কথা বলেন।
    তিনি বলেন, বিজ্ঞান মুখস্থ করার বিষয় নয়। বিজ্ঞান বুঝতে পারলে তা অনেক সহজ হয়ে যায়। নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে গেলে ভুল হবেই। তবে ব্যর্থতায় ভেঙে পড়লে চলবে না।

    ডা. ফরিদ বলেন, বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন প্রায় ১০ হাজার বার ব্যর্থ হওয়ার পর বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার করতে সক্ষম হন। আজকে আমরা যাদের খুদে বলছি তাদের ধারাবাহিক চেষ্টা অব্যহত থাকলে একদিন জগদীশ চন্দ্র বসু, আইনস্টাইন, নিউটন, ইবনে সিনা ও এরিস্টটলের মতো মহান বিজ্ঞানী ও দার্শনিক তৈরি করবে।

    অভিভাবক ও শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিশুরা ভুল করবেই। তবে তাদের থামিয়ে দেওয়া যাবে না। নিজেদের মতো করে কাজ করার স্বাধীনতা দিতে হবে।
    তিনি আরও জানান, শিশুদের উদ্ভাবনকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে সরকার বিপুল অর্থ বরাদ্দ রেখেছে। সম্ভাবনাময় প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

    শুক্রবার (১২ জুন) চৌগাছা উপজেলা মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম। সঞ্চালনা করেন একাডেমিক সুপারভাইজার নাসরিন সুলতানা।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিএম মুনীব, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাব্বির হুসাইন, চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ পিপিএম, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম বজলুর রশিদ, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামাল আহমেদ, প্রেসক্লাব চৌগাছার সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

    অনুষ্ঠানে উপজেলার ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের সায়েন্স স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে।

    প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে তরিকুল ইসলাম পৌর কলেজ। দ্বিতীয় হয় চৌগাছা সরকারি কলেজ। তৃতীয় স্থান পায় চৌগাছা সরকারি শাহাদৎ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

    তবে ফলাফল ঘোষণার পর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের অভিযোগ, উন্নত চিন্তনশীল প্রজেক্ট থাকার পরেও একটি প্রতিষ্ঠানের অনেক নিম্ন মানের প্রজেক্ট প্রদর্শনী করে পুরস্কৃত করা হয়েছে। তাদের প্রজেক্ট বাইরের থেকে কিনে এনে প্রদর্শন করার অভিযোগও করেন। এতে প্রকৃত উদ্ভাবকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে বলে তারা মনে করেন। ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

    এর আগে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিরা সুলতানা মুন্নি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প পরিদর্শন করেন এবং তাদের উৎসাহ প্রদান করেন।

    বি. এ

  • হোয়াইট হাউসকে আরিয়ানার হুঁশিয়ারি, ‘বর্বর কাজে’ আমার গান ব্যবহার করবেন না

    হোয়াইট হাউসকে আরিয়ানার হুঁশিয়ারি, ‘বর্বর কাজে’ আমার গান ব্যবহার করবেন না

    মার্কিন পপ তারকা আরিয়ানা গ্রান্ডে তার গান ব্যবহার করে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি প্রচার না করার জন্য কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

    চলতি সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের অফিশিয়াল টিকটক অ্যাকাউন্ট থেকে দেশের অভিবাসন নীতি নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটিতে ফেডারেল এজেন্টদের মানুষকে গ্রেফতার ও হাতকড়া পরাতে দেখা যায়, যার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসেবে গ্রান্ডের ২০২৪ সালের জনপ্রিয় গান ‘বায়’ ব্যবহার করা হয়েছিল।

    এই ভিডিওর নিচে মন্তব্য করে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন গ্র্যামি বিজয়ী এই গায়িকা। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মন্তব্য ঘরে তিনি লেখেন, ‘অনুগ্রহ করে এই বর্বর, অমানবিক ও জঘন্য ধৃষ্টতার সঙ্গে আমার গান কখনো জড়াবেন না।’

    গায়িকার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, তার লিগ্যাল টিম যত দ্রুত সম্ভব ভিডিওটি থেকে গানটি সরিয়ে ফেলার জন্য আইনি ও প্রযুক্তিগত উপায়গুলো খতিয়ে দেখছে।

    এদিকে আরিয়ানার এমন মন্তব্যের পর হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন বেশ চড়া সুরে পাল্টা জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা শেষবারের মতো একটা কথাই বলব: আসল বর্বর, অমানবিক ও জঘন্য বিষয় হলো সেই সমস্ত অপরাধী অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা, যারা নিরীহ আমেরিকান নাগরিকদের আহত ও হত্যা করেছে।’

    উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আরিয়ানা গ্রান্ডের রাজনৈতিক মতবিরোধ এবারই প্রথম নয়। গত বছরও তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। সে সময় ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট শেয়ার করে তিনি ট্রাম্পের ভোটারদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিলেন—ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর তাদের জীবনের মান আদৌ উন্নত হয়েছে কিনা।

    বর্তমানে নিজের দ্বিতীয় মেয়াদে দেশ পরিচালনা করা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয়। তার কমিউনিকেশন টিমের সদস্যরা প্রায়শই ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চিত্র তুলে ধরতে বিভিন্ন জনপ্রিয় গান ব্যাকগ্রাউন্ডে ব্যবহার করে ছোট ছোট ভিডিও তৈরি করেন।

    এর আগে ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযান, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক তৎপরতা এবং ভেনিজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতারের মতো ঘটনা চিত্রায়িত করা ভিডিওগুলোতেও বিভিন্ন হিট গান ব্যবহার করা হয়েছিল।

  • ইনজুরিতে বিপর্যস্ত মরক্কো, ব্রাজিল

    ইনজুরিতে বিপর্যস্ত মরক্কো, ব্রাজিল

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর আগেই জোড়া ধাক্কা খেয়েছে মরক্কো। ইনজুরির কারণে এরই মধ্যে বিশ্বকাপ দলে দুটি পরিবর্তন করেছে মরক্কো। উইঙ্গার আবদে এজালজুলি ও ডিফেন্ডার নায়েফ অগার্ড বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই দল থেকে ছিটকে গেছেন।

    রিয়াল বেটিসের ফরোয়ার্ড এজালজুলি গত সপ্তাহে নরওয়ের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচে হাঁটুর ইনজুরিতে পড়েন। ফিফার আপডেট তালিকা অনুযায়ী তার পরিবর্তে মরক্কো দলে ডাক পেয়েছেন এ্যাঙ্গার্সের আমিনে সাবাই।

    অন্যদিকে মার্সেইর সেন্টার-ব্যাক অগার্ড ঊরুর অস্ত্রোপচারের কারণে মার্চের পর থেকে আর মাঠে নামতে পারেননি। তাকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি মরক্কো। যে কারণে টুর্নামেন্টের আগেই অগার্ডের পরিবর্তে মারওয়ানে সাদানেকে দলে ডাকা হয়েছে।

    যদিও এ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি মরক্কোর টিম ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি ইনজুরি আক্রান্ত দুই সতীর্থের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন। পিএসজি তারকা হাকিমি লিখেছেন, ‘ফুটবল অনেক সময় নিষ্ঠুর হতে পারে। প্রথম দিন থেকে তুমি দলকে যা দিয়েছো তার জন্য ধন্যবাদ। আমরা সবাই তোমাদের জন্য লড়াই করবো। আমরা তোমাদের ভালোবাসি।’

    শনিবার (১৩ জুন) দিবাগত রাতে গ্রুপ-সি’র প্রথম ম্যাচে নিউ জার্সিতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে মরক্কো।

    বি. এ

  • যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি রোববার সই হতে পারে জেনেভায়

    যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি রোববার সই হতে পারে জেনেভায়

    মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক আগামী রোববারের মধ্যে স্বাক্ষরিত হতে পারে। আজ শুক্রবার একজন পশ্চিমা কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। চুক্তি সইয়ের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে এগিয়ে রয়েছে সুইজারল্যান্ডের জেনেভার নাম।

    ওই কর্মকর্তা জানান, স্মারকের ভাষা চূড়ান্তের কাজ এখনো চলছে। লেবাননে চলমান যুদ্ধকেও এই চুক্তিতে রাখার দাবিতে অনড় রয়েছে ইরান।

    আগামীকাল শনিবারের মধ্যে চুক্তির ভাষা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নিজ নিজ দেশের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ চুক্তিতে সই করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, চুক্তির শর্ত চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ায় ইরানে নতুন হামলা বাতিল করছেন তিনি। তাঁর ভাষ্যমতে, ‘আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের একটি বড় সমাধানে পৌঁছেছি।’

    আজ ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে মনে হচ্ছে, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তেহরান তাদের অধিকাংশ দাবি আদায় করে নিচ্ছে।

    চুক্তি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব জ্বালানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত থেকে এটাই ট্রাম্পের একমাত্র অর্জন বলে মনে হচ্ছে।

    একজন শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তা আজ রয়টার্সকে জানান, চুক্তির খসড়ায় ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, কোটি কোটি ডলারের আটকে রাখা সম্পদ ছাড় এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে হামলা বন্ধের বিষয় থাকবে।

    প্রাথমিক চুক্তিতে পারমাণবিক ইস্যু থাকবে না। তা পরবর্তী আলোচনার জন্য তোলা থাকবে।

    ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে, সেটি নিশ্চিত করতে চায় ওয়াশিংটন। কিন্তু তেহরান বারবার দাবি করে আসছে, এমন কোনো অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা তাদের নেই।

    নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ সম্পদ ছাড় এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ—এই তিনটি বিষয় ইরানের মূল দাবি। এ সবকিছুর বিনিময়ে তেহরান ওয়াশিংটনকে কী দিতে পারে, সে বিষয়ে ইরানের উল্লিখিত কর্মকর্তা কিছু বলেননি। অন্যদিকে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    ইরানের বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ জানিয়েছে, চুক্তির শর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আরও কিছু বিষয়ে ছাড় দিতে রাজি হয়েছে। যেমন ইরানের চারপাশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং বিধ্বস্ত ইরানি অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করা।

    মেহরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অন্তত ৩০ হাজার কোটি ডলারের পরিকল্পনা জমা দিতে হবে।

  • বিশ্বকাপ ধরে রাখতে যে অভিশাপ কাটাতে হবে আর্জেন্টিনার!

    বিশ্বকাপ ধরে রাখতে যে অভিশাপ কাটাতে হবে আর্জেন্টিনার!

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণীর চেষ্টা নতুন কিছু নয়। আধুনিক সময়ে সুপার কম্পিউটার থেকে শুরু করে বিশ্লেষক, জ্যোতিষী এবং সাধারণ ভক্ত—সবাই নিজেদের মতো করে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়নের নাম অনুমান করেন।

    এরই মধ্যে জার্মান অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ইয়োআখিম ক্লেমেন্ট গত তিনটি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন সঠিকভাবে অনুমান করে আলোচনায় উঠে এসেছেন। তার মতে, ফুটবলে জয়-পরাজয়ের বড় একটি অংশ নির্ভর করে ভাগ্যের ওপর। কোনো ম্যাচে ফর্ম, রেফারির সিদ্ধান্ত বা বলের সামান্য ব্যবধানও ফল বদলে দিতে পারে।

    তিনি আরও বলেন, বিশ্বকাপে শীর্ষ দলগুলোর মধ্যেও সাফল্যের নিশ্চয়তা নেই, কারণ এখানে অপ্রত্যাশিত ঘটনার ভূমিকা অনেক বড়।

    সীমিত চ্যাম্পিয়ন ক্লাব

    বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত অংশ নিয়েছে ৮৪টি দেশ, কিন্তু ট্রফি জিততে পেরেছে মাত্র ৮টি দেশ— আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, স্পেন এবং উরুগুয়ে।

    ফাইনালে উঠেছে মোট ১৩টি দেশ। সবচেয়ে বেশি ফাইনাল খেলেছে জার্মানি (৮ বার), এরপর ব্রাজিল (৭ বার) এবং আর্জেন্টিনা ও ইতালি (৬ বার করে)।

    ২০১০ সালে স্পেন সর্বশেষ নতুন দল হিসেবে বিশ্বকাপ জেতে, যা দেখায় শিরোপা জেতা ক্লাব কতটা সীমিত ও কঠিন।

    নেদারল্যান্ডসের ব্যর্থতা ও নতুন সম্ভাবনা

    তিনবার ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারেনি নেদারল্যান্ডস। তবে ক্লেমেন্টের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপে তারা শিরোপা জয়ের অন্যতম দাবিদার হতে পারে।

    অন্যদিকে আফ্রিকা ও এশিয়া থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র দুইবার সেমিফাইনালে পৌঁছেছে—২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া এবং ২০২২ সালে মরক্কো।

    ভৌগোলিক সুবিধার প্রভাব

    বিশ্বকাপ ইতিহাস বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিজ মহাদেশের বাইরে গিয়ে শিরোপা জেতা খুবই কঠিন। এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়বার এমন ঘটনা ঘটেছে—ব্রাজিল (১৯৫৮, ১৯৯৪, ২০০২), স্পেন (২০১০), জার্মানি (২০১৪) এবং আর্জেন্টিনা (২০২২)।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশ, আবহাওয়া, ভ্রমণ ক্লান্তি এবং দর্শক সমর্থন—সব মিলিয়ে আয়োজক মহাদেশের দলগুলো বাড়তি সুবিধা পায়।

    বিশ্বকাপ র‍্যাঙ্কিংয়ের ‘অভিশাপ’

    ১৯৯২ সালে ফিফা র‍্যাঙ্কিং চালুর পর থেকে দেখা গেছে, বিশ্বকাপ শুরুর সময় এক নম্বর র‍্যাঙ্কিংয়ে থাকা কোনো দল এখনো ট্রফি জিততে পারেনি।এটি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জন্য উদ্বেগের বিষয় হতে পারে, কারণ তারা বর্তমানে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে রয়েছে।

    ধারাবাহিক চ্যাম্পিয়ন হওয়া কত কঠিন

    বিশ্বকাপ ইতিহাসে মাত্র দুইবার কোনো দল টানা দুইবার শিরোপা জিতেছে—ইতালি (১৯৩৪, ১৯৩৮) এবং ব্রাজিল (১৯৫৮, ১৯৬২)।

    ২০০২ সালের পর দেখা গেছে, আগের বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নদের মধ্যে বেশিরভাগই পরের আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে।

    বিদেশি কোচদের ব্যর্থতা

    বিশ্বকাপে বিদেশি কোচ নিয়োগ এখন সাধারণ বিষয় হলেও এখন পর্যন্ত কোনো বিদেশি কোচের অধীনে কোনো দল বিশ্বকাপ জিততে পারেনি।

    ২০২৬ আসরে ৪৮ দলের মধ্যে ২৭টির কোচই বিদেশি হতে পারেন। এর মধ্যে ব্রাজিলের দায়িত্বে কার্লো আনচেলত্তি এবং ইংল্যান্ডের দায়িত্বে টমাস টুখেল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ক্লাব সংযোগের অদ্ভুত পরিসংখ্যান

    আরেকটি চমকপ্রদ তথ্য হলো—গত বহু বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা দলগুলোর মধ্যে প্রায় সবসময়ই জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ অথবা ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলানের কোনো না কোনো খেলোয়াড় ছিলেন।

    ১৯৮২ সালের পর খুব কমবারই এমন হয়েছে যেখানে এই দুই ক্লাবের কোনো খেলোয়াড় ছাড়াই কোনো দল বিশ্বকাপ জিতেছে।

    ২০২৬ বিশ্বকাপ: নতুন ইতিহাসের অপেক্ষা

    ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো—মিলিয়ে আয়োজন করবে আসরটি। দল সংখ্যা বাড়িয়ে করা হচ্ছে ৪৮টি।

    নতুন দল হিসেবে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলবে কুরাসাও, কেপ ভার্দে, জর্ডান ও উজবেকিস্তান।

    সব মিলিয়ে পরিসংখ্যান বলছে—অতীতের অনেক ধারা ভাঙার সম্ভাবনা থাকলেও, বিশ্বকাপে শিরোপা জেতা এখনো সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর একটি।

    বি. এ

  • বিশ্বকাপে দেখা যাবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মহারণ?

    বিশ্বকাপে দেখা যাবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মহারণ?

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের পর্দা ইতোমধ্যেই উঠেছে। শিরোপার লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত ফুটবলের পরাশক্তিরা। তবে উপমহাদেশের কোটি সমর্থকের চোখ সবচেয়ে বেশি থাকবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার দিকে। বিশ্বমঞ্চে এই দুই দলের সম্ভাব্য লড়াই নিয়ে আগ্রহও তুঙ্গে।

    বিশ্বকাপে নিজেদের অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল আগে। মরক্কোর বিপক্ষে সেলেসাওদের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল ভোর ৪টায়। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা মাঠে নামবে ১৭ জুন, আলজেরিয়ার বিপক্ষে। দুই দলই টুর্নামেন্টে অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী। ফলে যত দিন তারা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকবে, ততই বাড়বে সম্ভাব্য এক মহারণের অপেক্ষা।

    প্রশ্ন হলো, এই বিশ্বকাপে কি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মুখোমুখি দেখা হতে পারে?

    টুর্নামেন্টের ড্র অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা রয়েছে জে গ্রুপে এবং ব্রাজিল সি গ্রুপে। দুই দলই যদি নিজ নিজ গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করে নকআউট পর্বের সব বাধা পেরোয়, তাহলে সেমিফাইনালে দেখা হতে পারে তাদের। একইভাবে দুই দল যদি গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবেও পরের ধাপে যায় এবং সফলভাবে এগিয়ে আসে, তাহলেও শেষ চারে মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।অন্যদিকে একটি দল যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন এবং অন্যটি রানার্সআপ হয়, তাহলে তাদের সম্ভাব্য সাক্ষাৎ হতে পারে ফাইনালে। তবে দুই দলই যদি সেরা তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল হিসেবে নকআউটে ওঠে, সেক্ষেত্রে তাদের সম্ভাব্য লড়াইয়ের পর্যায় নির্ভর করবে নকআউট ড্রয়ের ওপর।

    গ্রুপ পর্বে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পেয়েছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল স্কালোনির দলের প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। অন্যদিকে ব্রাজিলকে খেলতে হবে মরক্কো, স্কটল্যান্ড ও হাইতির বিপক্ষে। বিশেষ করে মরক্কো, যারা সর্বশেষ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলেছিল, তাদের বিপক্ষে শুরুতেই কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হবে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যদের।

    বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত চারবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে। সেই ম্যাচে ডিয়েগো ম্যারাডোনার অসাধারণ পাস থেকে ক্লাউদিও কানিজিয়ার করা গোলে ব্রাজিলকে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় করেছিল আর্জেন্টিনা।

    দুই দলের প্রথম বিশ্বকাপ সাক্ষাৎ ১৯৭৪ সালে। জার্মানি বিশ্বকাপে সেই ম্যাচে ২-১ গোলে জয় পায় ব্রাজিল। ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে তাদের লড়াই গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয়। এরপর ১৯৮২ সালের স্পেন বিশ্বকাপে ব্রাজিল ৩-১ গোলে জয় তুলে নেয়।

    বিশ্বকাপে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে এগিয়ে ব্রাজিল। চার ম্যাচে তাদের জয় দুটি, আর্জেন্টিনার একটি। বাকি একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। এবারও ফুটবলপ্রেমীরা অপেক্ষায়, বিশ্বকাপের মঞ্চে আরেকটি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা মহারণ দেখার।

  • ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক জিসান প্রধান নিখোঁজ

    ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক জিসান প্রধান নিখোঁজ

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি ও সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জিসান প্রধান নিখোঁজ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে দাউদকান্দি মডেল মসজিদে এশার নামাজ আদায়ের পর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

    পরিবার ও সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ২৯ মিনিট পর্যন্ত তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে সর্বশেষ কার্যক্রম দেখা যায়। এর পর থেকে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং দলীয় নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি।

    এই ঘটনায় জিসান প্রধানের বড় ভাই অ্যাডভোকেট রাসেল আহাম্মেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

    অ্যাডভোকেট রাসেল আহাম্মেদ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে তার বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু এশার নামাজের পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টও ডিঅ্যাকটিভ দেখা যাচ্ছে। আমরা থানায় অভিযোগ করেছি। এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।’

    দাউদকান্দি উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান আরিফ বলেন, ‘জিসান বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে দাউদকান্দিতে আসেন এবং মডেল মসজিদে এশার নামাজ আদায় করেন। পরে তাঁর উপজেলার বিরবাগগোয়ালী গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি আর বাড়িতে পৌঁছাননি। আমরা প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছি।’

    দাউদকান্দি মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা (পরিদর্শক) মো. সামছুল আলম প্রধান বলেন, ‘আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তাঁর অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’

    নিখোঁজের ঘটনায় পরিবার ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।

  • চীনে নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে বিরোধীদলীয় নেতার সমবেদনা

    চীনে নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে বিরোধীদলীয় নেতার সমবেদনা

    চীনে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শানডং ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির বাংলাদেশি শিক্ষার্থী তৌফিক আহমাদ স্পর্শের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

    শুক্রবার বাদ জুমা রাজধানীর কচুক্ষেত-ভাষানটেক এলাকায় অবস্থিত তাদের বাসভবনে গিয়ে এই সমবেদনা জানান তিনি।

    এ সময় তিনি নিহতের মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।


    সাক্ষাৎকালে তিনি মরহুম তৌফিক আহমাদ স্পর্শের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি আহত অপর বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

    উল্লেখ্য, গত ৩১ মে রাত প্রায় ৯টার দিকে চীনে এক মর্মান্তিক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তৌফিক আহমাদ স্পর্শ নিহত হন, এসময় অপর একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আহত হন।

    বি. এ

  • খুলনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা

    খুলনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা

    খুলনার দক্ষিণ লবনচর এলাকায় গাজী রফিক (৪৫) ওরফে ঢাকাইয়া রফিক নামে এক বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লবনচরার দশগেট এলাকায় নিজ বাসার অদূরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    নিহত গাজী রফিক দক্ষিণ লবনচরা মাথাভাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা ও রতন গাজীর ছেলে। তিনি বটিয়াঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য হিসেবে দলীয় রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত ছিলেন।

    পরিবার ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, রফিকের বড় ছেলে অভিমানে কয়েকদিন আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। শুক্রবার সকালে ছেলেকে খুঁজতে বের হন রফিক। একপর্যায়ে তাকে না পেয়ে বাড়ির পেছনের একটি ফাঁকা স্থানে বসে ছিলেন। এ সময় অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজন দুর্বৃত্ত সেখানে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিটি তার তলপেটে বিদ্ধ হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

    গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে স্বজন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    খবর পেয়ে খুলনা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন। হত্যার কারণ, পূর্বশত্রুতা কিংবা রাজনৈতিক কোনো বিরোধ এ ঘটনার পেছনে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কেএমপির সহকারী কমিশনার (সিটিএসবি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ অবস্থান করছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

    বি. এ

  • পিয়ংইয়ংয়ে ড্রোন পাঠিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টর ৩০ বছর জেল

    পিয়ংইয়ংয়ে ড্রোন পাঠিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টর ৩০ বছর জেল

    সিউলে বিশেষ প্রসিকিউটরদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিজের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পর্যালোচনার শুনানিতে অংশ নিতে আদালতে পৌঁছান দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল। ৯ জুলাই, ২০২৫ছবি: রয়টার্স

    দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে সামরিক ড্রোন পাঠানোর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আজ শুক্রবার তাঁকে এ সাজা দেওয়া হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ এ তথ্য জানিয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইউন সুক-ইওল দেশে সামরিক শাসন জারির চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। সেই সামরিক শাসন জারির একটি অজুহাত তৈরি করতেই তিনি পিয়ংইয়ংয়ে ড্রোন পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগ আনা হয়।

    সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ইউন সুক-ইওলকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও শত্রুকে সহায়তার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। আদালত বলেছেন, ২০২৪ সালের অক্টোবরে উত্তর কোরিয়ার আকাশসীমায় ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনার শুরু থেকেই ইউন এ ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন।

    তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউন। তাঁর আইনজীবীরা দাবি করেন, তিনি এই ড্রোন অভিযানের আদেশ এবং পরে এর অনুমোদনও দেননি। এটি সামরিক শাসন জারির চেষ্টার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল না। বরং উত্তর কোরিয়া থেকে মাসের পর মাস ময়লা-আবর্জনাভর্তি বেলুন পাঠিয়ে যে উসকানি দেওয়া হচ্ছিল, এটি ছিল তারই একটি জবাব।

    এর আগে গত এপ্রিলে সরকারি কৌঁসুলিরা ইউনের জন্য ৩০ বছরের কারাদণ্ডের আর্জি জানিয়েছিলেন। দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক এ রক্ষণশীল নেতা একসময় দেশটির প্রধান সরকারি কৌঁসুলি ছিলেন। তাঁর জারি করা সামরিক শাসনের আদেশ এশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি দক্ষিণ কোরিয়াকে দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকটে ফেলে দেয়। অভিশংসনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ইউনের বিরুদ্ধে একের পর এক আদালতের রায় আসছে। সর্বশেষ রায়টি সেই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হলো। সামরিক শাসন জারির চেষ্টার মাধ্যমে রাষ্ট্রদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত ইউন সুক-ইওলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন।

    গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার সাংবিধানিক আদালত ইউনের অভিশংসন আদেশ বহাল রাখলে তিনি প্রেসিডেন্টের পদ হারান। ফলে দেশে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তাতে জয়ী হন উদারপন্থী বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ুং। বর্তমানে কারাগারে থাকা ইউন সুক-ইওল নিম্ন আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন।এ/জেড

  • আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নয়, প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে

    আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নয়, প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে

    আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নয়, প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন আইনজীবী শিশির মনির ।

    শুক্রবার সকালে এক ফেসবুক পোস্টে লাইসেন্স বাতিল আদেশের কপি সংযুক্ত করে তিনি এ দাবি করেন ।

    তিনি দাবি করেন, গত ৪ জুন দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২ অনুযায়ী হাসপাতালটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে হাসপাতালটির লাইসেন্স নম্বর HSM 4310059 উল্লেখ করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়।

    শিশির মনিরের দাবি, উক্ত লাইসেন্স নম্বরটি হাসপাতালের নয়, এটা প্যাথলজি সেন্টারের লাইসেন্স। হাসপাতালের লাইসেন্স নম্বরটি হলো HSM 4310058। হাসপাতালটি পরিচালনার জন্য সরকার দুটি লাইসেন্স জারি করেছে। যার মধ্যে একটি হাসপাতাল, অন্যটি প্যাথলজি ল্যাবরেটরির জন্য।

    ফেসবুক পোস্টে হাসপাতাল ও প্যাথলজির লাইসেন্স সংযুক্ত করে তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ (সরকার) কোনটার লাইসেন্স বাতিল করল। সেটা তারাই ভালো বলতে পারবে। এটা তাদের অবহেলা না কি ইচ্ছাকৃত? অবহেলা হলে কেমন ধরনের অবহেলা? বিচারের ভার আপনাদের ওপর রইল।

    এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান বলেন, আমরা আদেশে স্পষ্টতই উল্লেখ করে দিয়েছি হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হলো। এগুলো করে কোনো লাভ হবে না। আমরা আগামীকাল গিয়ে দেখবো। আর আদেশে সংশোধন করার প্রয়োজন হলে সেটাও পরে করা হবে।

    এর আগে গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, হাসপাতালটিকে দেওয়া শোকজ নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২ এর ১১(২)(খ) ধারা অনুযায়ী হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে বর্তমানে হাসপাতালটি লাইসেন্সবিহীন। তাই লাইসেন্সবিহীন হাসপাতালে কোনো রোগীর চিকিৎসা নেওয়া উচিত নয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স বাতিলের আদেশে বলা হয়, গত ২৭ মে হাসপাতালে এক ওয়ার্ডে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত এক তদন্ত কমিটির রিপোর্টে ওয়ার্ডে অক্সিজেন স্বল্পতা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে এ মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালটির লাইসেন্স কেন বাতিল হাবে না এ মর্মে একটি শোকজ নোটিশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নোটিশের জবাব দিতে তাদের ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হলেও আরো ৪৮ ঘণ্টার সময় চেয়ে আবেদন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে গত ৯ জুন শোকজ নোটিশের লিখিত জবাব দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যে জবাব ও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক না হওয়ায় দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২ এর ১১(২) (খ) ধারা অনুযায়ী হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়।

    উক্ত অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপিল করার আইনি সুযোগ রয়েছে।

    বি. এ

  • মরক্কো ম্যাচে থাকছেনা নেইমার!

    মরক্কো ম্যাচে থাকছেনা নেইমার!

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    আগামী রোববার ভোরে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হেক্সা (ষষ্ঠ শিরোপা) জয়ের মিশন শুরু করতে যাচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।

    তবে মাঠের লড়াই গড়ানোর আগে সেলেসাও শিবিরে নেমে এসেছে চরম দুঃসংবাদ। প্রথম ম্যাচ তো বটেই, বিশ্বকাপের শুরুর দিকে দলের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমার জুনিয়রের খেলা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র অনিশ্চয়তা।


    ফরাসি জনপ্রিয় ফুটবল সংবাদমাধ্যম ফুটমেরকাতো এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ডান পায়ের কাফ মাসলের চোট থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠার প্রক্রিয়াটি আগের চেয়ে আরো বেশি জটিল হয়ে পড়েছে। ফলে ৩৪ বছর বয়সি এই ফরোয়ার্ড এখনো দলের সঙ্গে স্বাভাবিক অনুশীলনে ফিরতে পারেননি।

    গত ১৭ মে ব্রাজিলের ঘরোয়া লিগে সান্তোসের হয়ে খেলার সময় এই চোট পান নেইমার। পরবর্তী সময়ে ব্রাজিলের জাতীয় দলের মেডিকেল টিম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানিয়েছিল, তার সেরে উঠতে অন্তত তিন সপ্তাহ সময় লাগবে।বর্তমানে বিশ্বকাপের দলটি নিউ জার্সিতে নিবিড় অনুশীলন করলেও নেইমার এখনো মূল দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি। তাকে একা একা জিম এবং সাইক্লিং করে ফিটনেস ফিরে পাওয়ার লড়াই করতে হচ্ছে। ফুটমেরকাতোর রিপোর্ট অনুযায়ী, পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় জটিলতা দেখা দেওয়ায় মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের উদ্বোধনী ম্যাচে নেইমারের মাঠে নামার সম্ভাবনা এখন শূন্যের কোঠায়।


    দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর অনেক আলোচনা-সমালোচনার মধ্য দিয়ে কোচ কার্লো আনচেলত্তি এবার নেইমারকে বিশ্বকাপের দলে ডেকেছিলেন। নেইমার নিজেও তার এই চতুর্থ বিশ্বকাপকে ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে বেশ আবেগী বার্তা দিয়েছিলেন। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তার এই ইনজুরি কোচের কৌশলগত পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে বাধ্য করছে।


    প্রথম ম্যাচে নেইমারকে না পাওয়া গেলেও ব্রাজিল ভক্তদের জন্য কিছুটা আশার বাণী শুনিয়েছে দলের মেডিকেল টিম। একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রথম ম্যাচ মিস করলেও গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোয় তাকে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


    হেক্সা জয়ের মিশন শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে দলের সেরা তারকার এই অনুপস্থিতি নিঃসন্দেহে ব্রাজিলের জন্য বড় একটি ধাক্কা। এখন দেখার বিষয়, নেইমারকে ছাড়া কোচ কার্লো আনচেলত্তি মরক্কোর বিপক্ষে কেমন রণকৌশল সাজান।

    বি. এ

  • বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হলেন ইলন মাস্ক

    বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হলেন ইলন মাস্ক

    বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হলেন শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। তার মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স প্রাথমিক শেয়ার বিক্রির (আইপিও) মাধ্যমে রেকর্ড ৭৫ বিলিয়ন বা ৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে। যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    স্পেসএক্স প্রতি শেয়ার ১৩৫ ডলার দরে ৫৫ কোটি ৫৬ লাখ ক্লাস-এ শেয়ার বিক্রি করে এই অর্থ সংগ্রহ করেছে। এই মূল্য নির্ধারণের ফলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার।

    ‘এসপিসিএক্স’ প্রতীকে নাসডাকে লেনদেন শুরু হলে স্পেসএক্স বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর একটি হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইপিও-সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, তালিকাভুক্তির পর মাস্কের কাছে প্রায় ৮৪ কোটি ৯৫ লাখ ক্লাস-এ শেয়ার এবং ৫৫৭ কোটি ক্লাস-বি শেয়ার থাকবে। এর মাধ্যমে তিনি কোম্পানির মোট ভোটিং ক্ষমতার ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করবেন। আইপিও মূল্যে, কাগজে-কলমে মাস্কের ঘোষিত স্পেসএক্স হোল্ডিংয়ের মূল্য প্রায় ৮৬৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।

  • খুলনা সিটি হাসপাতালের মুমূর্ষু ৭ রোগীকে নেওয়া হলো আদ-দ্বীনে

    খুলনা সিটি হাসপাতালের মুমূর্ষু ৭ রোগীকে নেওয়া হলো আদ-দ্বীনে

    খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে লাগা আগুন আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ১২টায় নিয়ন্ত্রণে আসে। রাত আড়াইটার মধ্যে এ হাসপাতালের ২৫০ এর বেশি রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে উদ্ধার কাজও সম্পন্ন করেছেন।

    হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডে হাসপাতালের কোনও রোগীর ক্ষতি হয়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সব রোগীকে নিরাপদ রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    হাসপাতালে ২৫০ এর বেশি রোগী ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে ক্রিটক্যাল অবস্থায় থাকা ৭ রোগীকে আদ-দ্বীন হাসপাতালে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ইসলামী হাসপাতাল, গাজী মেডিক্যালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীদের দ্রুততার সঙ্গে সরিয়ে নেওয়া হয়। হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। কর্তৃপক্ষের আলোচনা চলছে। ক্ষতি নিরূপণ ও কারণ অনুসন্ধান চলছে।

    খুলনা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আরিফ উল ইসলাম বলেন, ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। সাড়ে ১০টা নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আর সম্পূর্ণ আগুন নির্বাপণ শেষ হয় রাত ১২টায়। আগুনে কোনও হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। উদ্ধার কাজ রাত ৩টার মধ্যে সম্পন্ন হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভবনে আগুন লাগে। আগুনের ধোঁয়া গোটা ভবনে ছড়িয়ে পড়লে রোগী ও স্বজনরা আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন। অনেকে নিচে নেমে আসেন। আর অনেকে ভবনের ওপরের দিকে যান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দ্রুত সময়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

    বি. এ

  • বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী

    বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ের ৫ শতাংশ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে অধ্যয়নের সুযোগ দেওয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে বলে প্রস্তাবিত বাজেটে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষায় মোট ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। গত অর্থবছরের চেয়ে এই বাজেট প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বেশি। এ খাতে গতবছর বাজেট ছিল ৪৬ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা।

    মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ১০ প্রকল্পের মধ্যে মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষক ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদে শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও নতুন এমপিও প্রদান, ৫ শতাংশ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে অধ্যয়নের সুযোগ এবং অনগ্রসর এলাকার ১ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস প্রদান করা হবে।

    এ ছাড়াও এ প্রকল্পের আওতায় মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে ৪ হাজার নতুন অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ, অনগ্রসর এলাকায় ৫০০টি নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হবে।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাবনা করেন অর্থমন্ত্রী। শিক্ষায় মোট বাজেট ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। যা মোট জিডিপির ২ শতাংশ। প্রাথমিকে ৪৬ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা ও কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৮ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা।

    বি. এ

  • পাঁচশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের পরিকল্পনা

    পাঁচশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের পরিকল্পনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নতুন অর্থবছরে অনগ্রসর এলাকায় ৫০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করবে সরকার। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এ অর্থবছরে ১০টি প্রকল্প বা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রস্তাবনা বাজেটে এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষায় মোট ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। গত অর্থবছরের চেয়ে এই বাজেট প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বেশি। এ খাতে গতবছর বাজেট ছিল ৪৬ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা।

    মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ১০ প্রকল্পের মধ্যে মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষক ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদে শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও নতুন এমপিও প্রদান, ৫ শতাংশ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে অধ্যয়নের সুযোগ এবং অনগ্রসর এলাকার ১ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস প্রদান করা হবে।

    এ ছাড়াও এ প্রকল্পের আওতায় মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ৪ হাজারটি নতুন ভবন নির্মাণ, অনগ্রসর এলাকায় ৫০০টি নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হবে।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাবনা করেন অর্থমন্ত্রী। শিক্ষায় মোট বাজেট ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। যা মোট জিডিপির ২ শতাংশ। প্রাথমিকে ৪৬ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা ও কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৮ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা।

  • শিগগিরই ইবতেদায়ি মাদরাসার এমপিও নীতিমালা

    শিগগিরই ইবতেদায়ি মাদরাসার এমপিও নীতিমালা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ইবতেদাায় মাদরাসার এমপিও নীতিমালা আলাদা করে করা হবে। কার্যক্রম শুরুর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। খুব শিগরিই নীতিমালা করে ফেলা হবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

    বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    সূত্র জানায়, মাদরাসার এমপিও নীতিমালা দ্রুত করার ওপর জোর দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ইতোমধ্যে তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবকে নীতিমালা করতে নির্দেশনা দিয়েছেন।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সংক্রান্ত আলোচনা হয়েছে। পরে জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    বি. এ

  • ১০ জেলায় ঝড়ের আভাস

    ১০ জেলায় ঝড়ের আভাস

    দেশের ১০ জেলায় ৬০ কিলোমিটার বেগে শক্তিশালী ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    শুক্রবার (১২ জুন) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানা গেছে।

    এতে বলা হয়েছে—ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট জেলার ওপর দিয়ে পূর্ব অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

    এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    বি. এ

  • চেক প্রজাতন্ত্রকে হারাল দক্ষিণ কোরিয়া

    চেক প্রজাতন্ত্রকে হারাল দক্ষিণ কোরিয়া

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ম্যাচের প্রথমার্ধে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে শক্ত অবস্থায় থেকে শেষ করেছিল দক্ষিণ কোরিয়া। তবে দ্বিতীয়ার্ধে লিড নেয় চেক। কিন্তু পিছিয়ে থেকে ঘুরে দাঁড়ায় এশিয়ার দেশটি। দুই গোল দিয়ে চেকিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শুভ সূচনা করল দক্ষিণ কোরিয়া।

    বৃহস্পতিবার (১২ জুন) মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৯ মিনিটে এগিয়ে যায় চেক প্রজাতন্ত্র। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে দুই গোল করে নিজেদের জয় নিশ্চিত করে কোরিয়া।

    বি. এ

  • ৯৬ বছর পর বিশ্বমঞ্চে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ে

    ৯৬ বছর পর বিশ্বমঞ্চে মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ে

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৬ বিশ্বকাপের ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে বাংলাদেশ সময় শনিবার সকাল ৭টায় লস অ্যাঞ্জেলেসে দক্ষিণ আমেরিকার দল প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে মৌরিসিও পোচেত্তিনোর শিষ্যরা। আর তাতে ৯৬ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুদল। সবশেষ ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে একমাত্র সাক্ষাতে ৩-০ গোলের জয় পেয়েছিল মার্কিনিরা। একই গ্রুপে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও তুরস্ক। নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করতে হলে দুদলের জন্যই ইতিবাচক শুরু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    তিন আয়োজক দেশের একটি যুক্তরাষ্ট্র এবার ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখছে। বাছাইপর্ব খেলতে না হওয়ায় বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য প্রায় দুই বছর সময় পেয়েছেন কোচ মৌরিসিও পোচেত্তিনো। তবে প্রস্তুতির সময় শেষ, এখন প্রতিটি ম্যাচই পরীক্ষার। বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে জার্মানির কাছে ২-১ গোলে হারলেও তার আগে সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী বার্তা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ফিফা র‌্যাংকিংয়ের ১৬ নম্বরে থাকা দলটি এবার খেলছে নিজেদের ১২তম বিশ্বকাপ। ২০০২ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠাই বিশ্বকাপে তাদের সেরা সাফল্য, যদিও সর্বশেষ তিন আসরেই তারা নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে।অন্যদিকে, দীর্ঘ বিরতির পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে ফিরেছে প্যারাগুয়ে। ২০১০ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে তারা। কনমেবল বাছাইপর্বে ষষ্ঠ হয়ে টিকিট নিশ্চিত করে গুস্তাভো আলফারোর দল। বিশ্বকাপের আগে দারুণ ছন্দে রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। সর্বশেষ চার ম্যাচের তিনটিতে জয় পেয়েছে তারা, যার মধ্যে নিকারাগুয়ার বিপক্ষে ৪-০ গোলের বড় জয়ও রয়েছে। আলফারোর অধীনে আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলে হারানোও তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে ইতিহাস প্যারাগুয়ের পক্ষে নয়। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আটবারের মধ্যে মাত্র একবার জয়ের দেখা পেয়েছে তারা। এছাড়া আয়োজক দেশের বিপক্ষে খেলা আগের দুই ম্যাচের কোনোটিতেই জয় পায়নি লা আলবিরোজারা।দলীয় শক্তির দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভরসা ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ, ফোলারিন বালোগুন, ওয়েস্টন ম্যাককেনি ও টাইলার অ্যাডামসদের ওপর। প্রথম ম্যাচে তিন ডিফেন্ডারের রক্ষণভাগ নিয়ে মাঠে নামতে পারেন যুক্তরাষ্ট্র কোচ পোচেত্তিনো। অভিজ্ঞ অধিনায়ক টিম রিম থাকবেন রক্ষণভাগের নেতৃত্বে। গোড়ালির চোট কাটিয়ে সদ্য অনুশীলনে ফেরা ক্রিস রিচার্ডসের খেলা এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে মাইলস রবিনসন কিংবা মার্ক ম্যাকেঞ্জির একজন শুরুর একাদশে থাকতে পারেন। মাঝমাঠে টাইলার অ্যাডামস, ওয়েস্টন ম্যাককেনি ও মালিক টিলম্যানের ওপর থাকবে বড় দায়িত্ব। আক্রমণে ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনকে সহায়তা করবেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ। গত মৌসুমে মোনাকোর হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৯ গোল করেছেন বালোগুন।অন্যদিকে, প্যারাগুয়ের প্রধান অস্ত্র হতে পারেন মিগেল আলমিরন, হুলিও এনসিসো ও টনি সানাব্রিয়া। বিশেষ করে বাছাইপর্বে চার গোল করে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন সানাব্রিয়া। সান্ডারল্যান্ডের সেন্টার-ব্যাক ওমর আলদেরেতে এবং অধিনায়ক গুস্তাভো গোমেজের নেতৃত্বে শক্তিশালী ব্যাকফোর নিয়ে মাঠে নামবে তারা। দলের সেরা ফুটবলার হুলিও এনসিসো নিকারাগুয়ার বিপক্ষে ম্যাচে হালকা চোট পেলেও এই ম্যাচে খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। আক্রমণভাগে মিগেল আলমিরন ও দিয়েগো গোমেজের সঙ্গে একক স্ট্রাইকার হিসেবে খেলবেন টনি সানাব্রিয়া। রক্ষণভাগের দৃঢ়তা এবং সেট-পিস নির্ভর ফুটবলের জন্য পরিচিত প্যারাগুয়ে স্বাগতিকদের চমকে দিতে চাইবে। আর যুক্তরাষ্ট্র চাইবে নিজেদের সমর্থকদের সামনে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশনের শুভ সূচনা করতে।
    সব মিলিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে দুই ভিন্ন ধারার ফুটবল দর্শনের লড়াই, যেখানে প্রথম ম্যাচের তিন পয়েন্টই দুদলের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।

  • মুসলিম গণিতবিদের নাম থেকে  ‘অ্যালগরিদম’

    মুসলিম গণিতবিদের নাম থেকে ‘অ্যালগরিদম’

    আধুনিক জীবনে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা একটি শব্দ ‘অ্যালগরিদম’। অনেকের কাছেই শব্দটি এখন এক নেতিবাচক বা ভীতিজাগানিয়া অর্থ বহন করে। আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী দেখব, পড়ব বা শুনব-তা নির্ধারণে সাহায্য করে এই অ্যালগরিদম। এর ফলে মানুষের নিজস্ব রুচি ও পক্ষপাতিত্ব আরো দৃঢ় হয় এবং তৈরি হয় আদর্শিক একঘেয়েমি বা ‘ইকো চেম্বার’।

    শব্দটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বোঝা যায় ভ্যাটিকানের একটি পদক্ষেপে। পোপ লিও চতুর্দশ তার প্রথম বিশ্বপত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে আলোচনা করেছেন, যেখানে ‘অ্যালগরিদম’ শব্দটি এসেছে ১৯ বার।

    কিন্তু বহুল ব্যবহৃত এই শব্দের উৎপত্তি কীভাবে? শব্দের উৎস ও ব্যবহার নিয়ে তৈরি জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল ‘রবওয়ার্ডস’-এর সঞ্চালক ও সাংবাদিক রব ওয়াটস জানান, অ্যালগরিদম শব্দটির উৎপত্তি মূলত নবম শতকের একজন পার্সিয়ান (পারস্যের) গণিতবিদের নাম থেকে। তার নাম মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিজমি।

    ওয়াটস বলেন, ‘আমরা যখন অ্যালগরিদম শব্দটি ব্যবহার করি, তখন মূলত আল-খাওয়ারিজমি নামের ল্যাটিন রূপটিকেই উচ্চারণ করি।’ তবে দ্বাদশ শতাব্দী পেরিয়ে শব্দটির আজকের রূপে পৌঁছানোর পথটি বেশ আঁকাবাঁকা ছিল। আধুনিক ‘অ্যালগরিজম’ শব্দটি ল্যাটিন ‘অ্যালগোরিজমাস’ থেকে ফরাসি অ্যালগরিজম (algorisme) ও ইংরেজি অ্যালগরিজম (algorism) হয়ে এসেছে। বর্তমান রূপে আসার আগে এটি ‘অ্যারিথমেটিক’ বা পাটিগণিত শব্দের সঙ্গেও কিছুটা মিশ্রিত হয়ে গিয়েছিল।

    কে ছিলেন মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি?

    আল-খাওয়ারিজমি কেবল একজন গণিতবিদই ছিলেন না, একাধারে তিনি ছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও ভূগোলবিদ। বর্তমান উজবেকিস্তানের আরাল সাগরের দক্ষিণ অঞ্চলে তার জন্ম। সেই অঞ্চলের নাম ছিল খাওয়ারিজম, যা থেকে তার নামের এই অংশের উৎপত্তি।

    তবে গণিতেই তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তার বিখ্যাত বই ‘দ্য কম্পেনডিয়াস বুক অন ক্যালকুলেশন বাই কমপ্লিশন অ্যান্ড ব্যালেন্সিং’-এর মাধ্যমে তিনি গাণিতিক সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি বা অ্যালগরিদমিক প্রক্রিয়া পরিচয় করিয়ে দেন। এছাড়া পশ্চিমে হিন্দু-আরবি সংখ্যা পদ্ধতির (শূন্যের ধারণাসহ) প্রসার এবং বীজগণিত বা ‘অ্যালজেব্রা’র ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন তিনি।

    পিটজার কলেজের বিজ্ঞান ইতিহাসের ইমেরিটাস অধ্যাপক জুডি গ্র্যাবাইনার বলেন, ‘দ্বাদশ শতকে ইউরোপে প্রাচীন জ্ঞানচর্চার পুনর্জাগরণ ঘটলে এই বইটি একাধিকবার ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয়।’

    অষ্টম শতকে ইসলামি বিজ্ঞান ও গণিতের সোনালী যুগে ‘আল’ (আরবিতে ‘নির্দিষ্টবাচক’ শব্দ) দিয়ে শুরু হওয়া আরো অনেক শব্দ ইংরেজিতে জায়গা করে নেয়। যেমন-অ্যালকোহল, অ্যালকালি, অ্যালকেমি এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানের আলটায়ার, অলকায়েড ও আলদেবারানের মতো নক্ষত্রের নাম।

    গাণিতিক রেসিপি

    জ্যোতির্বিদ্যা ও রসায়নের পথ ধরে অ্যালগরিদম শব্দটির প্রবেশ ঘটে আধুনিক কম্পিউটিংয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানার সফটওয়্যার প্রকৌশলী বিল ওয়েস্ট্রিকের মতে, ‘অ্যালগরিদম আসলে কোনো কাজ সম্পন্ন করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা বা নিয়মের সেট।’

    এটিকে কেক তৈরির রেসিপির সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘রেসিপিতে উপাদানগুলো নির্দিষ্ট ক্রমানুসারে মেশাতে বা নির্দিষ্ট সময় ধরে নাড়তে বলা হয়। কেন তা করা হচ্ছে তা না বুঝলেও নির্দেশনা মানলে একটি ভালো কেক তৈরি সম্ভব।’

    মিলওয়াকি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান সুসান ম্যাকরয় জানান, আধুনিক কম্পিউটারের অনেক আগেই ব্যবসা, জরিপ ও নৌ-যান চালনার মতো ক্ষেত্রে অ্যালগরিদম অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল। ১৭০০ শতকের শেষের দিকে সমুদ্রের বুকে সেক্সট্যান্ট (দিগন্ত ও নক্ষত্রের মধ্যকার কৌণিক দূরত্ব মাপার যন্ত্র) ব্যবহার করে অবস্থান নির্ণয়ে অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হতো। ১৯৫০-এর দশকে ডাচ কম্পিউটার বিজ্ঞানী এডসগার ডাইকস্ট্রা ‘ডাইকস্ট্রাস অ্যালগরিদম’ তৈরি করেন, যা দুটি স্থানের মধ্যকার সংক্ষিপ্ততম দূরত্ব খুঁজে বের করে এবং আজকের ডিজিটাল ম্যাপিং বা জিপিএস (জিপিএস স্যাটেলাইট) প্রযুক্তির মূল ভিত্তি। এমনকি চাঁদে মানুষ পাঠাতেও অ্যালগরিদম সাহায্য করেছিল।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষকে একক ও পক্ষপাতদুষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির দিকে ঠেলে দেওয়া এই ‘অমানবিক’ অ্যালগরিদম নিয়ে পোপের উদ্বেগ হয়তো যথার্থ। তবে এটিও সত্য যে, শত শত বছর ধরে এই অ্যালগরিদমই মানুষকে পথ খুঁজে পেতে সাহায্য করে আসছে।

    সূত্র:সূত্র: এনপিআর

    বি.এ

  • সোনারগাঁওয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ, চুনা কারখানার মালিকের কারাদণ্ড ও জরিমানা

    সোনারগাঁওয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ, চুনা কারখানার মালিকের কারাদণ্ড ও জরিমানা

    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিয়ে গ্যাস চুরির দায়ে এক চুনা কারখানার মালিককে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে আঞ্চলিক বিক্রয় বিভাগ সোনারগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ শনাক্ত ও বিচ্ছিন্ন করতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযানকালে সোনারগাঁও পৌরসভার ইছাপাড়া এলাকায় অবস্থিত একটি চুনা কারখানায় অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কারখানাটির মালিক মেসার্স প্রান্ত ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো: আবু বক্কর (২৬) কে আটক করা হয়।

    তদন্তে জানা যায়, তিনি অনুমোদনহীন সংযোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস ব্যবহার করে আসছিলেন, যা রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরির শামিল। এ অপরাধে তাকে বাংলাদেশ গ্যাস আইন, ২০১০-এর ১২(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

    নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুহা তাবিল ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

    নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুহা তাবিল বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ গ্যাস চুরি ও অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    অভিযানে সংশ্লিষ্ট গ্যাস বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের সময় ওই এলাকার কয়েকটি অবৈধ গ্যাস সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়।

  • বকশীগঞ্জ সীমান্তে আটকে থাকা বৃদ্ধকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর

    বকশীগঞ্জ সীমান্তে আটকে থাকা বৃদ্ধকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর

    জামালপুরের বকশীগঞ্জ সীমান্তে আটকে থাকার এক দিন পর শূন্যরেখায় উদ্ধার হওয়া বৃদ্ধ ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে পরিবারের পক্ষ ছোট ভাই ভবানী চন্দ্র বর্মনের কাছে ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনকে হস্তান্তর করে বিজিবি ও থানা পুলিশ।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন, জামালপুর ৩৫ বিজিবির ধানুয়া কামালপুর কোম্পানি কমান্ডার বিল্লাল হোসেনসহ ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনের পরিবারের সদস্যরা।

    এর আগে, একইদিন সকালে বকশীগঞ্জ উপজেলার রামরামপুর সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ থানা হেফাজতে নেয়া হয় ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনকে।

    ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনের ভাই ভবানী বর্মন বলেন, দুই মাস আগে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর চান্দলাই গ্রাম থেকে আমার ভাই ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মন (৬৮) নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে পাওয়া যায়নি।

    উল্লেখ্য, বুধবার (১০ জুন) সকালে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার রামরামপুর সীমান্তের ১০৮২ পিলারের কাছ দিয়ে ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনকে জোর করে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ সদস্যরা। কিন্তু বিজিবি ও স্থানীয় এলাকাবাসীর বাধার কারণে পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এ নিয়ে সীমান্তে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়।

    পরে বৃহস্পতিবার তাকে শূন্যরেখা থেকে উদ্ধারের পর থানায় সোপর্দ করে বিজিবি। আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে অবশেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয় বৃদ্ধ ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনকে।

  • বাজেট ২০২৬-২৭: কৃষক কার্ডে ১ হাজার ৬২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

    বাজেট ২০২৬-২৭: কৃষক কার্ডে ১ হাজার ৬২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ঘোষণা করা দেশের ৫৫তম বাজেটে দেশের ১০০ উপজেলায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষক, মৎস্যচাষি, প্রাণিসম্পদ খামারি ও লবণচাষিদের ‘কৃষক কার্ড’ দেয়া হবে। এজন্য কৃষক কার্ড বাবদ ১ হাজার ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    এর আগে গত পহেলা বৈশাখে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ১০টি সেবা পৌঁছে দিতে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি চালু করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ কর্মসূচির প্রি-পাইলটিং হিসেবে দেশের আটটি বিভাগের ১০ জেলার ১১ উপজেলার ১১টি ব্লকে ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষককে কার্ড দেওয়া হয়।

    কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। তার আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।

    প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশ। পাঁচ দশকের বেশি সময়ের এই যাত্রায় দেশের অর্থনীতির পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে উন্নয়ন কর্মসূচি ও রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের আকারও।

    গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট এটি। বিশাল নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রতিগুলো পূরণে দেশের ইতিহাসে এবার সবচেয়ে বড় বাজেট তৈরি করেছে সরকার। টাকার অঙ্কে প্রস্তাবিত এ বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

    বিরাট এ বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ সংগ্রহ করা হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে। বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

    বাজেটের এই বিশাল ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে সরকার।

    প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।

    বিশাল এ বাজেটের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির’ পথে এগিয়ে নেওয়া।

    এ এম

  • বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় সিগারেট জব্দ, আটক ১

    বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় সিগারেট জব্দ, আটক ১

    মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলস্থ ৪৬ বিজিবির অভিযানে তিন হাজার ৩৮৪ প্যাকেট ভারতীয় অবৈধ সিগারেটসহ এক মাদককারবারিকে আটক করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বিভিন্ন বিওপি থেকে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ২৪ ঘণ্টা কঠোর নজরদারি করা হয়। এর আওতায় সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি নিয়মিত ও বিশেষ টহল, গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক নজরদারি, পুশইন প্রতিরোধ ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (১০ জুন) রাতে কুলাউড়া উপজেলার মুড়াইছড়া ও দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত অভিযানে বিজিবির একটি টহল দল একজন চোরাকারবারিকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে তিন হাজার ৩৮৪ প্যাকেট অবৈধ ভারতীয় সিগারেট জব্দ করা হয়।

  • শৈশবে নিখোঁজ, ৫৮ বছর পর বাড়ি ফিরলেন দুলাল

    শৈশবে নিখোঁজ, ৫৮ বছর পর বাড়ি ফিরলেন দুলাল

    বচাঁদপুরের মতলব উত্তরের ষাটনল ইউনিয়নের কালিপুর চৌধুরী বাড়িতে ঘটেছে এক বিরল পুনর্মিলনের ঘটনা। যা স্থানীয়ভাবে এখন আলোচিত প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় ৫৮ বছর আগে শৈশবে নিখোঁজ হওয়া দেলোয়ার হোসেন দুলাল চৌধুরী অবশেষে ফিরে পেয়েছেন তার জন্মপরিচয়, পরিবার এবং শেকড়ের ঠিকানা।

    পারিবারিক সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৬৯ সালের দিকে পাঁচ-ছয় বছর বয়সে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন দুলাল। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি নারায়ণগঞ্জ হয়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি এলাকায় পালক পরিবারের আশ্রয়ে বড় হন। পালক পরিবারে তিনি স্নেহ-ভালোবাসার মধ্যেই বেড়ে ওঠেন, তবে প্রকৃত পরিচয় অজানাই থেকে যায়।

    বহু বছর পর পারিবারিক আত্মপরিচয়ের খোঁজ শুরু করেন তার ছেলে ইমাম হোসাইন আকিব। সামাজিক বাস্তবতা ও পরিচয় সঙ্কটের প্রশ্ন থেকেই শুরু হয় সেই অনুসন্ধান। একপর্যায়ে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে একটি সাধারণ পারিবারিক আলোচনায় বাবার স্মৃতি থেকে উঠে আসে কিছু অস্পষ্ট সূত্র। নদী, লঞ্চঘাট, কালিপুর বাজার এবং একটি নাম। সেই স্মৃতির সূত্র ধরেই শুরু হয় দীর্ঘ অনুসন্ধান।

    প্রযুক্তির সহায়তায় গুগল ম্যাপ, স্থানীয় ইতিহাস ও এলাকাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয় মেঘনা নদীর তীরবর্তী চাঁদপুর অঞ্চলের একটি এলাকা। এরপর স্থানীয় সাংবাদিক ও গবেষকদের সহায়তায় কালিপুর চৌধুরী বাড়ির সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়।

    কালিপুরে পৌঁছানোর পর দুলাল চৌধুরীর শৈশবের স্মৃতির সাথে এলাকার পুরনো নিদর্শনগুলো মিলতে শুরু করে। বয়োজ্যেষ্ঠরা নিশ্চিত করেন যে বাড়ির পুরানো গেট, খালপথ, আমগাছ ও লবণ তোলা ঘাট নামে পরিচিত একটি স্থান বহু বছর আগে সত্যিই ছিল। একইসাথে জানা যায়, এক সময় দুলাল নামের একটি শিশু নিখোঁজ হয়েছিল, যার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

    সবশেষে পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাতের পর রক্তের সম্পর্কের মিল সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হয়। বিশেষ করে জীবিত ভাই মুকুল চৌধুরীর সাথে দেখা হলে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ ৫৮ বছরের বিচ্ছেদ মুহূর্তেই কান্না, আবেগ ও আনন্দে ভেঙে পড়ে পুরো পরিবার।

    বর্তমানে দেলোয়ার হোসেন তার নিজ পরিবারে ফিরে আত্মীয়দের সাথে আবার যুক্ত হয়েছেন। এই ঘটনাকে পরিবার ও স্থানীয়রা একদিকে যেমন দীর্ঘ অপেক্ষার সমাপ্তি, অন্যদিকে তেমনি এক বিস্ময়কর মানবিক পুনর্মিলন হিসেবে দেখছেন।