শিরোনাম

  • ইরানের উপর জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা সরাতে শর্ত দিল ফ্রান্স

    ইরানের উপর জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা সরাতে শর্ত দিল ফ্রান্স

    আর্ন্তাজাতিক ডেস্ক:

    ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের আসন্ন আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায় ফ্রান্স। একই সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির শর্তে সন্তুষ্ট না হলে জাতিসংঘের ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সম্মতি দেবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারো। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের।

    শুক্রবার তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে আলোচনায় শুধু পারমাণবিক কর্মসূচিই নয়, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তাদের সমর্থনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

    বারো বলেন, ইরানের কাছ থেকে বড় ধরনের ছাড়ের বিনিময়েই জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ও ভেটোক্ষমতাসম্পন্ন সদস্য হিসেবে ফ্রান্সের সম্মতি ছাড়া এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সম্ভব নয়।

    তার ভাষায়, “ইরানের অবস্থানে মৌলিক পরিবর্তন আনাই আমাদের লক্ষ্য। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হিসেবে এই সংকটের সমাধানে ফ্রান্সের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

    চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে এবং চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আলোচনার বাইরে থাকা ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি এবার পরবর্তী দফার আলোচনার কাঠামো নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী।

  • যুক্তরাষ্ট্র–ইরান চুক্তি সব কূলই হারাচ্ছে নেতানিয়াহু

    যুক্তরাষ্ট্র–ইরান চুক্তি সব কূলই হারাচ্ছে নেতানিয়াহু

    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গদি অনেক দিন ধরেই টালমাটাল। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর দেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।

    চলতি বছরের অক্টোবরে ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন। গত মার্চ মাসেও যুদ্ধবাজ নেতানিয়াহু দম্ভভরে বলেছিলেন, ‘আমরা মধ্যপ্রাচ্যের চেহারা বদলে দিচ্ছি।’

    কিন্তু ইসরায়েলের সেই লক্ষ্য পূরণ হওয়ার অনেক আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন। ওই স্মারকে ইরানের শর্ত মেনে লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের উল্লেখও রয়েছে।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে, ইরানও পাল্টা জবাব দিতে থাকে। ইরান যুদ্ধের মধ্যেই মার্চের শুরুতে দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল ইসরায়েল।

    সে সময় মধ্যপ্রাচ্যকে পাল্টে দেওয়ার যে দম্ভোক্তি নেতানিয়াহু করেছিলেন—দিন যত গড়িয়েছে, তা ক্রমে ফাঁপা বুলিতে পরিণত হয়েছে।

    দুর্নীতির অভিযোগ, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা থেকে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের ইসরায়েলে হামলার সময় জনগণকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে নেতানিয়াহু আগে থেকেই সমালোচনার মুখে রয়েছেন।

    এখন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিচালনা এবং ইসরায়েলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক সামলানোর বিষয় নিয়েও তাঁকে ভোটারদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

    ৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহু এরই মধ্যে অক্টোবরের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। গত সপ্তাহে তিনি তাঁর প্রার্থিতা নিশ্চিত করেন।

    জনমত জরিপ অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট পরাজয়ের পথে রয়েছে। তবে ১৯৯০-এর দশক থেকে ইসরায়েলের পার্লামেন্টারি ব্যবস্থায় নেতানিয়াহু গভীর প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তাই সেখানে তাঁকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে একটি নতুন সরকার গঠন সম্ভব হবে, এমনটা খুব কম ইসরায়েলি বিশ্বাস করেন।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে এই ভালোবাসায় ফাটল দেখা দিয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেনফাইল ছবি: রয়টার্স

    স্থায়ী বিজয় না পাওয়া

    সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন নেতানিয়াহু। এবার নির্বাচনের ফল যা–ই হোক, দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা তিনি। সমর্থকদের কাছে একসময় তিনি ‘কিং বিবি’ নামে পরিচিত ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি বিরোধীদের সীমাহীন ক্ষোভেরও লক্ষ্যবস্তু।

    নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি তাঁকে এমন একজন কঠোর নিরাপত্তাপন্থী নেতা হিসেবে তুলে ধরে, যিনি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিকে ঠেকিয়ে রেখেছেন এবং একই সঙ্গে ইসরায়েলের শত্রু ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে হামলার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

    ২০২৫ সালে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ‘জর্ডান নদীর পশ্চিমে কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র থাকবে না। বছরের পর বছর ধরে আমি বিপুল চাপের মুখেও সেই *** রাষ্ট্র গঠনের বিষয়টি ঠেকিয়ে রেখেছি।’

    যদিও হামাসের হামলার আগেই নিরাপত্তা ব্যর্থতার কারণে নেতানিয়াহুর কট্টরপন্থী ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তবে সেসবের দায় তিনি স্বীকার করেননি। গাজা ও লেবাননে অভিযান তাঁকে সামরিক সাফল্য এনে দিলেও স্থায়ী বিজয়ের দেখা তিনি পাননি।

    বরং তাঁর সামরিক অভিযানের কারণে গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। সেই সঙ্গে ইসরায়েলের সামরিক মৃত্যুর সংখ্যা কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    দেশের অভ্যন্তরে সমালোচকেরা বলেছেন, নেতানিয়াহু গাজা সীমান্তের নিরাপত্তা থেকে নজর সরিয়ে নিয়েছিলেন এবং হামাসকে বাস্তব হুমকি হিসেবে গুরুত্ব দেননি।

    বেশির ভাগ ইসরায়েলি গাজা যুদ্ধকে সমর্থন করেছিলেন। তবে অনেকেই নেতানিয়াহুর যুদ্ধ পরিচালনার কৌশলের বিরোধিতা করেছেন।

    কয়েকজন শীর্ষ জেনারেল এবং জিম্মিদের পরিবারের সদস্যরা নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে বলেছিলেন, এ যুদ্ধ নিয়ে তাঁর স্পষ্ট কোনো কৌশলগত পরিকল্পনা ছিল না।

    ইসরায়েলে উগ্রপন্থী ইহুদিরা হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহ এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ড উদ্‌যাপন করেছেন। যদিও হামাস এখনো গাজার বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ করছে, ইরানের শাসনব্যবস্থাও একই আছে এবং হিজবুল্লাহও লেবাননে সক্রিয়।

    ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস এখনো গাজার প্রায় অর্ধেক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেফাইল ছবি: রয়টার্স

    ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছেন, সেখানে লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের কথা বলা আছে। এর ফলে ইসরায়েলকে এখন হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য হতে হবে।

    এ প্রসঙ্গে নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বলেন, ‘নেতানিয়াহু যুদ্ধ হেরে গেছেন। নেতানিয়াহু কোনো কিছুই অর্জন করতে পারেননি—চূড়ান্ত পরীক্ষার সময় তিনি ভেঙে পড়েছেন।’

    নেতানিয়াহু এই ধরনের সমালোচনার নিন্দা করে বলেছেন, এসব ইসরায়েলের অর্জনকে খাটো করে দেখানোর প্রচারের অংশ।

    ইরান থেকে সম্ভাব্য পারমাণবিক হুমকি নিয়ে সতর্ক করে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা যদি সময়মতো এবং বিপুল শক্তি প্রয়োগ করে পদক্ষেপ না নিতাম—তাহলে আজ আমরা এখানে থাকতাম না।’

  • সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত বেড়ে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ

    সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত বেড়ে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ

    সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিক ও ব্যাংকগুলোর জমা রাখা অর্থের পরিমাণ বা আমানত ২০২৫ সালের তুলনায় ৪১ শতাংশ বেড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক’-এর প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪২ লাখ সুইস ফ্রাঁ (সিএইচএফ), যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা। এটি ইতিহাসে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে ২০২১ সালে সর্বোচ্চ ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ আমানত ছিল।

    সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সুইস ব্যাংকে সামগ্রিক আমানত বৃদ্ধির মূল কারণ বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর জমা অর্থের বড় উল্লম্ফন। ২০২৪ সালে যেখানে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর জমার পরিমাণ ছিল ৫৭ কোটি ৬৬ লাখ ফ্রাঁ, ২০২৫ সাল শেষে তা ৪৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ কোটি ২৭ লাখ ফ্রাঁ। অর্থাৎ মোট জমার ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশই ধরে রেখেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংক।

    অন্যদিকে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশি ব্যক্তিমালিকানাধীন বা একক গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে জমার পরিমাণ প্রায় ১০ শতাংশ কমে গেছে। ২০২৪ সালের ১ কোটি ২৬ লাখ ফ্রাঁর বিপরীতে ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ ফ্রাঁ। তবে সুইস ব্যাংকের এই বার্ষিক রিপোর্টে শুধু বৈধ ও অফিশিয়াল হিসাবের তথ্যই আসে, ফলে বহুল আলোচিত কালো টাকা বা পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ কত, তা এই হিসাব থেকে জানার সুযোগ নেই।

    কর ফাঁকি ও অর্থ পাচার রোধে ২০১৮ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী অটোমেটিক এক্সচেঞ্জ অব ইনফরমেশন (এইওআই) বা স্বয়ংক্রিয় তথ্য বিনিময় প্রথা চালু করেছে সুইজারল্যান্ড। এর আওতায় গ্রাহকের নাম, ঠিকানা, কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) এবং ব্যাংক ব্যালেন্সের তথ্য সংশ্লিষ্ট দেশের কর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০২৫ সালে সুইস ফেডারেল ট্যাক্স অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফটিএ) বিশ্বের ১০১টি দেশের সঙ্গে প্রায় ৩৪ লাখ আর্থিক অ্যাকাউন্টের তথ্য বিনিময় করেছে।

    তবে ওইসিডি গ্লোবাল ফোরাম অন ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অব ইনফরমেশন ফর ট্যাক্স পারপাসেস ২০২৬-এর মে মাসের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, বাংলাদেশ এখনো এই অটোমেটিক এক্সচেঞ্জ অব ইনফরমেশন (এইওআই) চুক্তিতে সই করেনি।

    দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ

    সুইস ব্যাংকে অর্থ রাখার দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন দ্বিতীয়। এই অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি অর্থ রয়েছে ভারতের, প্রায় ৩২০ কোটি সুইস ফ্রাঁ। তবে গত বছরের তুলনায় তাদের জমার পরিমাণ ৮ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে ভারতসহ পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানের জমার পরিমাণ কমলেও বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও মালদ্বীপের জমার পরিমাণ ২০২৫ সালে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অঞ্চলে শতাংশের হিসাবে সবচেয়ে বেশি (৪৮ দশমিক ২ শতাংশ) প্রবৃদ্ধি হয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের।

  • দুই দেশেরই দায়িত্ব পুশ ইন সমস্যা সমাধান করা: ডুজারিক

    দুই দেশেরই দায়িত্ব পুশ ইন সমস্যা সমাধান করা: ডুজারিক

    আলোচনার মাধ্যমে পুশ ইন সমস্যা সমাধান করতে বাংলাদেশ ও ভারতকে আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক। বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ডুজারিক বলেছেন, সীমান্তে ‘পুশ ইন’ সমস্যার সমাধান আলোচনার মাধ্যমে করা উভয় দেশের দায়িত্ব।

    সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন যে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পরিস্থিতির দিকে আবারও দৃষ্টি দেয়া উচিত। আন্তর্জাতিক মহলের মনোযোগ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা, লেবানন, দক্ষিণ সুদান ও হাইতির দিকে থাকলেও, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কয়েক শ নারী ও শিশুর জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শিশুরা ক্ষুধায় কাঁদছে এবং নারীরা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন- এ অবস্থায় জাতিসংঘ মহাসচিব বিষয়টিকে কীভাবে দেখছে।

    এর জবাবে ডুজারিক বলেন, আলোচনার মাধ্যমে এবং মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে এই সমস্যার সমাধান করা উভয় দেশেরই দায়িত্ব।

    এ সময় আরেক প্রশ্নে ওই সাংবাদিক জানতে চান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নবনির্বাচিত সভাপতি একসময় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রোহিঙ্গাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেনটেটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব নেবেন।

    একইসঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিবও অতীতে শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে কি নতুন করে আশাবাদী হওয়া যায়?

    এর জবাবে ডুজারিক বলেন, সাধারণ পরিষদের সভাপতির মূল দায়িত্ব হলো পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করা। ফলে মহাসচিব ও সাধারণ পরিষদের সভাপতির মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সাধারণ পরিষদের বিষয়গুলোই অগ্রাধিকার পাবে। তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলাদা প্রক্রিয়ায় কাজ অব্যাহত রয়েছে।

  • কলকাতাজুড়ে পচা ডিমের নজিরবিহীন চাহিদা

    কলকাতাজুড়ে পচা ডিমের নজিরবিহীন চাহিদা

    পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভোট-পরবর্তী সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের লক্ষ্য করে এক অভিনব উপায়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু হয়েছে, যেখানে ‘পচা ডিম’ হয়ে উঠেছে প্রধান হাতিয়ার। কলকাতার আশেপাশের বাজারগুলিতে হঠাৎ করেই পচা ডিমের চাহিদা ও বিক্রি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় পচা ডিমের খোঁজ করছেন।

    অতীতে যে পচা ডিম সাধারণত মাছের খাবার, শ্যাম্পু কিংবা নিউরোথেরাপির কাজে ব্যবহৃত হতো, তা এখন রাজনৈতিক প্রতিবাদের এক অহিংস অথচ তীব্র অপমানজনক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন যে, এখন কেউ এক ক্রেট ডিম কিনতে এলেই তারা ঠাট্টা করে জিজ্ঞেস করছেন যে এগুলি খাওয়ার জন্য নাকি ছোঁড়ার জন্য নেওয়া হচ্ছে। কিছুদিন আগেই এক ক্রেতা পুরো এক ক্রেট পচা ডিম কিনে নিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন, যাদবপুরের ‘শম্ভু এগ শপ’-এর এক ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকার সম্ভাবনা প্রবল।

    এই পচা ডিম ছোঁড়ার রাজনীতির শুরু হয়েছিল তৃণমূলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়ে, তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে একটি বিক্ষোভের মুখে পড়েন হন এবং তখন তাকে লক্ষ্য করে প্রথম পচা ডিম ছোঁড়া হয়। এরপর থেকেই তৃণমূলের একাধিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে এই ডিম হামলা চালানো হচ্ছে। বলা যায় ্এটি এখন রাজ্য রাজনীতির একটি প্রধান উপাদান হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পরবর্তী সহিংসতা ও হেনস্তায় বিজেপি সরকার সরাসরি মদদ দিয়ে যাচ্ছে। তৃণমূলের দাবি, পুলিশের সামনেই দলটির নেতাদের একের পর এক ডিম মারা হচ্ছে, অথচ পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। এছাড়াও তৃণমূলের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার করে জেলে ভরেছে পুলিশ। পরে আদালতে নেয়ার সময়ই সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশে থাকা বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে তাদের লক্ষ্য করে পচা ডিম ছুঁড়ছে।

  • চুক্তিতে সই ট্রাম্প-পেজেশকিয়ানের

    চুক্তিতে সই ট্রাম্প-পেজেশকিয়ানের

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান গতকাল বুধবার দুই দেশের প্রেসিডেন্টদের স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী চুক্তির পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশ করেছে। যুদ্ধের অবসান ঘটাতে করা এই চুক্তির পরও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান চুক্তির প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে আবারও হামলা শুরু হবে এবং ইরানি কর্মকর্তাদের হত্যা করা হতে পারে। খবর রয়টার্সের।

    ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানে হামলার পক্ষে আগে দেওয়া নিজের অন্তত একটি অবস্থান থেকেও সরে আসেন। তিনি বলেন, তেহরানের হাতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকা ‘অন্যায্য’ হবে না। যদিও এর আগে তিনি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন।

    সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যদি চুক্তি লঙ্ঘন করে, তাহলে আমরা তাদের ওপর ভয়াবহ বোমা হামলা চালাব। আমি সেটা চাই না। আমি চাই তারা চুক্তি মেনে চলুক।’ ইরানের জনগণকে ‘বুদ্ধিমান মানুষ’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকরা আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি আশা করছেন এই প্রক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনবে এবং বৈশ্বিক তেলের দাম কমাতে সহায়তা করবে। এর আগে ট্রাম্প আরও বলেছিলেন, ‘যদি আমার পছন্দ না হয়, যদি তারা ঠিকমতো আচরণ না করে, তাহলে আমরা আবার ফিরে গিয়ে তাদের মাথার ঠিক মাঝখানে বোমা ফেলব।’

    অন্যদিকে, ইরানের নেতারা ট্রাম্পের নতুন হুমকির বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। বরং তাঁরা ঘটনাটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্ত হিসেবে উদ্‌যাপন করেছেন। ইরান এমন কিছু ছবি প্রকাশ করেছে, যাকে ১৯৭৯ সালে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো কোনো মার্কিন ও ইরানি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরিত চুক্তির দলিল বলে মনে করা হচ্ছে।

    ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ‘সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা যা অর্জন করতে চেয়েছিলাম, আলোচনার মাধ্যমে আমরা তার চেয়েও বহু গুণ বেশি পেয়েছি। এর তুলনাই চলে না।’ তিনি জানান, এই চুক্তির অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন আটকে থাকা ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্পদও অবমুক্ত করা হবে।

    এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। যুদ্ধের প্রথম দিনেই ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং একাধিক সামরিক নেতাকে হত্যা করা হয়। পরে সংঘাত দ্রুত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেয়। এতে সাক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই ইরান ও লেবাননের বাসিন্দা। এ ছাড়া যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়েছে, নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হয়েছে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বড় ধরনের খাদ্য সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    ১৪ দফার এই অন্তর্বর্তী চুক্তিতে এপ্রিল মাসে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হয়েছে। লেবাননকেও এর আওতায় রাখা হয়েছে, যাতে দুই পক্ষ চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার সুযোগ পায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ইংরেজি ও ফারসি ভাষায় প্রস্তুত করা স্মারকে ডিজিটাল স্বাক্ষর করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার থেকেই চুক্তিটি কার্যকর হয়েছে।

    ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে ভার্সাই প্রাসাদে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে যোগ দেওয়ার ঠিক আগে ট্রাম্প চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ঐতিহাসিক এই ভার্সাই প্রাসাদেই একসময় সেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।

  • ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় তেহরানের অর্থনৈতিক জয়

    ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় তেহরানের অর্থনৈতিক জয়

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতা ইরানকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা দিয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের সবচেয়ে জটিল মতবিরোধের ক্ষেত্রগুলো ও পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে ইরানকে শেষ পর্যন্ত যে কঠিন ছাড়গুলো দিতে হতো তা আপাতত ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। এটিও ইরানের জন্য অনেকটাই ইতিবাচক।

    সমঝোতা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ তুলে নেবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চূড়ান্ত পারমাণবিক চুক্তি হওয়ার আগেই ইরানকে আবার তেল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হবে। এতে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটে থাকা দেশটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক লাইফলাইন পাবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়ন এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দেশটির অর্থনীতি তীব্র চাপের মুখে ছিল।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের প্রধান অঙ্গীকার হলো আগামী ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা। তবে ওই সময়সীমা শেষে জাহাজ চলাচলে ফি আরোপের সুযোগ সমঝোতায় খোলা রাখা হয়েছে।

    ফ্রান্সের সায়েন্সেস পো’র সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গবেষক নিকোল গ্রায়েভস্কি বলেন, ‘সবদিক বিবেচনায় সমঝোতাটি ইরানের অনুকূলেই বলে মনে হচ্ছে। তুলনামূলকভাবে সীমিত নতুন পারমাণবিক প্রতিশ্রুতি দেওয়ার বিপরীতে তেহরান নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পথে অগ্রগতি অর্জন করেছে। বিশেষত তেল রপ্তানি পুনরুদ্ধারের সুযোগ, অর্থনৈতিক সুবিধা এবং সামরিক চাপ হ্রাস পেয়েছে।

    গ্রায়েভস্কির মতে, যুক্তরাষ্ট্র যেসব কঠিন ছাড় আদায় করতে চেয়েছিল, সেগুলোর বেশিরভাগই ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। যদিও পরবর্তী চুক্তিতে দুই পক্ষের লাভ-ক্ষতির ভারসাম্য বদলাতে পারে, তবে বর্তমান সমঝোতায় তাৎক্ষণিক ও বাস্তব সুবিধা তুলনামূলকভাবে বেশি পেয়েছে ইরান।

    সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। তবে বাস্তবে এসব পদক্ষেপ ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তা সত্ত্বেও চুক্তির খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের গড় দামও কয়েক মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রতি গ্যালন ৪ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।

    তবে ইরানবিরোধী বিশ্লেষকদের একাংশ এই সমঝোতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সাবেক মার্কিন ট্রেজারি কর্মকর্তা এবং ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিজ-এর জ্যেষ্ঠ ফেলো মিয়াদ মালেকি বলেন, ইরানের তেল বাণিজ্য সহজ করতে ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিলের অঙ্গীকার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্রকে দুর্বল করে দিতে পারে।

    অন্যদিকে যারা প্রকাশ্য সংঘাত বা নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে ইরানের সঙ্গে কূটনীতিকে সমর্থন করেন, তারা এই সমঝোতা স্মারকের প্রশংসা করে বলেছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সুযোগ করে দিয়েছে।

    ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিল-এর সভাপতি জামাল আবদি বলেন, এগুলো কোনো ছাড় নয়; বরং দীর্ঘদিনের ব্যর্থ চাপ প্রয়োগের নীতির সংশোধন, যা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধকে অনিবার্য করে তুলেছিল।

    কিছু বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলেছেন, এমন একটি সমঝোতা যদি শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়, তবে কয়েক মাসের যুদ্ধের আগেই কেন তা করা গেল না। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট-এর জ্যেষ্ঠ ফেলো হলি ড্যাগ্রেস বলেন, তিন মাসের যুদ্ধ ছাড়াই এই আলোচনা হতে পারত। হরমুজ প্রণালির মতো বিষয়, যা ঐতিহাসিকভাবেই খোলা ছিল, কূটনীতির মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব ছিল।

    তিনি আরও বলেন, সমঝোতায় সবচেয়ে কঠিন বিষয়গুলো—বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সুনির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ—ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘আমি সন্দিহান যে আগামী ৬০ দিনের আলোচনা কোনো বাস্তব ফল দেবে। এটা কেবল সমস্যাকে ভবিষ্যতের জন্য ঠেলে দেওয়া।’

  • কুড়িগ্রামে বিজিবির অভিযানে গবাদিপশুসহ চোরাচালান পণ্য জব্দ

    কুড়িগ্রামে বিজিবির অভিযানে গবাদিপশুসহ চোরাচালান পণ্য জব্দ

    কুড়িগ্রামের বিভিন্ন সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অভিযানে গবাদিপশু, ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট ও বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে বিজিবির কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়নের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি জানায়, ২৪ ঘণ্টার অভিযানে ২১টি গবাদিপশু, এক হাজার ৬৫ পিস ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট ও বিপুল পরিমাণ কসমেটিক সামগ্রীসহ বেশকিছু চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, সীমান্তে পুশইন প্রতিরোধসহ যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী সব বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) এলাকায় নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তে চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অন্যান্য সীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এসব পণ্য জব্দ করা হয়েছে।

    বিজিবির কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়নের (২২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক বলেন, ‘দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ ও অবৈধ অনুপ্রবেশ দমনে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

  • ৩০০ বিলিয়ন ডলার দেয়াসহ কী আছে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ দফা চুক্তিতে

    ৩০০ বিলিয়ন ডলার দেয়াসহ কী আছে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ দফা চুক্তিতে

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং তা কার্যকর হয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ-এ অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনে অংশ নেয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির ফলে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

    ১৪ দফার এই চুক্তিকে মূলত সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ বলা হচ্ছে। এতে বলা হয়েছে যে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করবে না।

    এছাড়া দেশটির ‘পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের’ জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে, যদিও এতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বাধ্যতামূলক নয়।

    যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং ইসরাইলের মধ্যে সঙ্ঘাত শুরু হওয়ার চার মাস পর এই চুক্তি হলো।ট্রাম্প প্রশাসন এই চুক্তিকে ‘কর্মসম্পাদন’ বা পারফর্ম্যান্সভিত্তিক হিসেবে বর্ণনা করেছে। অর্থাৎ, ইরান নিজ প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করলেই কেবল চুক্তির সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

    যদিও চুক্তির মধ্যে অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েরও সমাধান হয়নি, তবু এর যেসব মূল দিক সম্পর্কে জানা সম্ভব হয়েছে, সেগুলো তুলে ধরা হলো।

    প্রথম দফা : ‘সব ফ্রন্টে’ সঙ্ঘাতের অবসান

    চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা লেবাননসহ ‘সব ফ্রন্টে’ সামরিক অভিযান অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা দেবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছিলেন যে লেবাননের হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের সামরিক অভিযান ইরানের সাথে হওয়া এই চুক্তিকে ভেস্তে দিতে পারে।

    অন্যদিকে, তেহরান বারবার আশা জানিয়েছে যে যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

    ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বুধবার বলেন, লেবাননে ইসরাইলের যেকোনো সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে তা হবে ‘এই সমঝোতার লঙ্ঘন’, আর এর প্রতিক্রিয়ায় ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে’।

    চুক্তিতে আরো বলা হয়েছে, ‘এখন থেকে’ কোনো পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করবে না বা হুমকি দেবে না এবং লেবাননের ‘ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব’ নিশ্চিত করবে।

    নথি অনুযায়ী, চূড়ান্ত এই চুক্তি সঙ্ঘাতের স্থায়ী ‘অবসান’ ঘটাবে।তবে এই দফার নিয়ে ইসরাইল কী প্রতিক্রিয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

    দ্বিতীয় দফা : ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে’ পারস্পরিক সম্মান

    যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সাথে এক টেলিফোন ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের কাছে হুবহু পড়ে শোনানো চুক্তিটিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে’ এবং একে অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপে বিরত থাকবে।

    এই ধারা ইরানের ভিন্নমতাবলম্বী গোষ্ঠীগুলো নেতিবাচকভাবে নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে, ইরানের বিভিন্ন শহরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘সহায়তা আসছে’।

    তৃতীয় দফা : ৬০ দিনের সময়সীমা

    চুক্তির তৃতীয় দফা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও সমঝোতায় পৌঁছানোর অঙ্গীকার করেছে। তবে উভয়পক্ষের সম্মতিতে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।

    দু’দেশের নেতারা সমঝোতা স্মারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করার পর থেকেই ৬০ দিনের এই সময় গণনা শুরু হয়েছে।

    হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বুধবার রাতে ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে জি৭ সম্মেলন পরবর্তী এক নৈশভোজে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান-সংক্রান্ত এই নথিতে স্বাক্ষর করেন।

    হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও এতে স্বাক্ষর করেছেন।

    এর আগে ট্রাম্প এবং ইরানি কর্মকর্তারা এ সপ্তাহের শেষ দিকে জেনেভায় আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে এখন সেটি হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

    চতুর্থ দফা : যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ প্রত্যাহার করবে

    চতুর্থ দফায় বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে আরোপিত নৌ অবরোধ এবং ‘যেকোনো বিঘ্ন বা প্রতিবন্ধকতা’ অপসারণ শুরু করবে।

    চুক্তি এবং ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে এই অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে। এ সময়ে ইরানের বন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে পরিমাণ জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে, তা হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নৌ চলাচলের হারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

    চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ‘ইরানের নিকটবর্তী অঞ্চল’ থেকে নিজেদের সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

    বাস্তবে এর অর্থ হলো, ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর আগে মার্কিন বাহিনীর যে অবস্থান ছিল, দেশটি আবার সেই অবস্থায় ফিরে যাবে।

    পঞ্চম দফা : হরমুজ প্রণালী

    চুক্তির একটি অংশে বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ইরান ‘সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা’ চালিয়ে কোনো ধরনের ফি ছাড়াই হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করবে।

    যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম তীব্রভাবে বেড়ে যায়। তাই প্রণালীটি পুনরায় চালু করা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল।

    নথিতে বলা হয়েছে, কারিগরি ও সামরিক ‘প্রতিবন্ধকতা’ দূর করা এবং মাইন অপসারণ কার্যক্রম বিবেচনায় নিয়ে জাহাজ চলাচল ‘অবিলম্বে’ শুরু হবে।

    এর আগে এক ব্রিফিংয়ে কর্মকর্তারা বারবার স্পষ্ট করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে চলাচলের জন্য কোনো ধরনের ফি নেয়া হবে না।

    দীর্ঘমেয়াদে, ইরান ওমান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সাথে মিলে হরমুজ প্রণালী পরিচালনায় আরো বিস্তৃত একটি কাঠামোগত চুক্তির জন্য কাজ করবে বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে ইরান নিজেদের অধিকার দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে।

    তবে ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালী ব্যবহারের জন্য টোল বা শুল্ক ব্যবস্থা চালু থাকার মতো সিদ্ধান্ত উপসাগরীয় দেশগুলো কখনোই মেনে নেবে না।

    ষষ্ঠ দফা : ইরানের পুনর্গঠনের জন্য অর্থায়ন

    সমঝোতা স্মারকের ষষ্ঠ দফায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক অংশীদাররা ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন (৩০ হাজার কোটি) ডলারের একটি ‘চূড়ান্ত ও পারস্পরিকভাবে সম্মত পরিকল্পনা’ প্রণয়ন করবে।

    চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এই তহবিলের কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় সব লাইসেন্স, ছাড়পত্র ও অনুমোদন দেবে।

    তবে তার মানে এটা না যে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অর্থায়ন করবে।

    এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানকে কিংবা তহবিলে ‘এক পয়সাও’ দিতে হবে না।

    উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, যদি ইরান ‘ভালো আচরণ’ করে, তাহলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন নিয়ে ইরানে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে পারে।

    ট্রাম্প ও প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানকে অর্থ দেবে না। তাদের দাবি, ২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের সাথে ইরানের পারমাণবিক চুক্তির তুলনায় এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

    সপ্তম দফা : নিষেধাজ্ঞার অবসান

    চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে। এর মধ্যে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের আওতায় থাকা নিষেধাজ্ঞা এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফাভাবে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলোও অন্তর্ভুক্ত।

    তবে এই প্রক্রিয়ার সময়সূচি এখনো স্পষ্ট নয়।

    নথিতে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে এ বিষয়ে একটি সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। তবে উভয়পক্ষই বিষয়টি ‘অবিলম্বে’ অগ্রাধিকার দিয়ে পরবর্তী আলোচনায় বিবেচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

    নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’ কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল তেহরানকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে ফেলা।

    অষ্টম দফা : পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার প্রতিশ্রুতি

    ইরান পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহ বা অর্জন না করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি উভয় পক্ষ তেহরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে একমত হয়েছে।

    এই পদার্থ ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি এখনো স্পষ্ট নয়। নথিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী আলোচনায় একটি প্রক্রিয়া ‘পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে’ হবে। তবে ন্যূনতম হিসেবে এটি আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ-এর তত্ত্বাবধানে ‘ডাউনব্লেন্ড’, অর্থাৎ ইউরেনিয়ামের মান বা তীব্রতা হ্রাস করার ব্যবস্থা করা হবে।

    জ্যেষ্ঠ এক মার্কিন কর্মকর্তা একে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘ন্যূনতম মান’ এবং ‘বড় সাফল্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    ট্রাম্প বলেছেন, এই বছরের শুরুতে চালু করা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-এর ৯৯ শতাংশ লক্ষ্যই ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে বিরত রাখা।

    যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তিকে পারফরম্যান্সভিত্তিক হিসেবে বর্ণনা করেছে, তাই সপ্তম দফায় উল্লেখিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ইরানের অষ্টম দফা মেনে চলার ওপর নির্ভর করবে।

    নবম ও দশম দফা : ‘স্থিতাবস্থা’

    এই দু’টি দফায় বলা হয়েছে, পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবস্থাপনা না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রাখবে।

    বাস্তবে এর অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না। একই সময়ে তারা তেল, পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি এবং সংশ্লিষ্ট সেবাসমূহ- যেমন ব্যাংকিং লেনদেন ও পরিবহনের জন্য ওয়েভার বা ছাড়পত্র জারি করবে।

    একাদশ দফা : জব্দকৃত অর্থ

    এই দফাটি আলোচনায় একটি বড় বাধা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

    ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে তাদের জব্দকৃত সম্পদ ফিরিয়ে দিতে হবে, যা দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সহায়তা হিসেবে কাজ করবে।

    নথির একাদশ দফায় বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্র ‘জব্দ বা আটকানো সব অর্থ সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারের সুযোগ করে দেবে’, আর এর প্রক্রিয়া পরবর্তী আলোচনায় নির্ধারণ করা হবে।

    এক মার্কিন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কিছু সম্পদ এমওইউ-পরবর্তী আলোচনার সময় মুক্ত করা হবে, যাতে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবস্থাপনা শুরুর মতো শর্তগুলো মানলে ইরানকে উৎসাহ দেয়া যায়।

    দ্বাদশ থেকে চতুর্দশ দফা : নজরদারি ও চূড়ান্ত আলোচনা

    চুক্তির শেষ কয়েকটি দফায় চুক্তি বাস্তবায়নের কাঠামো ও প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এমন একটি ‘ব্যবস্থা’ গঠন করবে, যা এমওইউ বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ চুক্তির শর্ত মানা হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করবে। তবে বাস্তবে এটি কিভাবে কাজ করবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

    এমওইউ স্বাক্ষরের পর এবং বাস্তবায়ন শুরু হলে উভয় দেশ চূড়ান্ত একটি চুক্তির জন্য আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করবে।

    সবশেষে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হবে।

  • বান্দরবানে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা শুরু

    বান্দরবানে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা শুরু

    ‘করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বান্দরবানে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা ২০২৬।

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে বান্দরবান জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের আয়োজনে বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালকের কার্যালয় প্রাঙ্গনে ফিতা কেটে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো: সানিউল ফেরদৌস।

    পরে উপ-পরিচালকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধনী উপলক্ষে এক সভার আয়োজন করা হয়।

    এ সময় বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন জেলা প্রশাসক মো: সানিউল ফেরদৌস।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো: ওহাবুল ইসলাম খন্দকার সহ বিভিন্ন চাষিরা।

    সভা শেষে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন চাষীর হাতে বিনামূল্যে চারা বিতরণ করেন অতিথিরা।

  • ইরানের ১০ হাজার কোটি ডলার  আটকে আছে কোথায় ?

    ইরানের ১০ হাজার কোটি ডলার আটকে আছে কোথায় ?

    চীন ও ইরাকের ব্যাংক হিসাব থেকে শুরু করে কাতার ও দক্ষিণ কোরিয়ায় আটকে থাকা তহবিল—বিদেশে ইরানের মালিকানাধীন ১০ হাজার কোটি ডলারেরও (১০০ বিলিয়ন ডলার) বেশি অর্থ আটকে রয়েছে। আর ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় এই অর্থ ফিরে পাওয়া তেহরানের অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে সামনে এসেছে।

    দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা, মুদ্রাস্ফীতি ও বছরের পর বছর ধরে চলা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকার ফলে বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার ব্যাপক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইরানি কর্মকর্তারা বিদেশে থাকা তাঁদের সম্পদের অন্তত ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ধাপে ধাপে ছাড় করার দাবি জানাচ্ছেন।

    তেহরানের দাবি, বিদেশে তাদের ১০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ আটকে রয়েছে। অবশ্য বাইরে থাকা এই অর্থের হিসাব ভিন্নও হতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের এই সময় বিষয়টি আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। এই চুক্তির ফলে শেষ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের তেল রপ্তানি আবার শুরু, আটকে থাকা সম্পদ ফেরত এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিচালনার একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো তৈরি হতে পারে।

    চীন সবচেয়ে বড় অংশের অংশীদার

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য হিসাব অনুযায়ী, ইরানের আটকে থাকা সম্পদের সবচেয়ে বড় অংশটি চীনে রয়েছে বলে ধারণা করা হয়, যার পরিমাণ ২ হাজার কোটি ডলার থেকে ৫ হাজার কোটি ডলার। এই অর্থের সিংহভাগই চীনের কাছে বছরের পর বছর ধরে তেল বিক্রির মাধ্যমে জমা হয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন ইরানের সবচেয়ে বড় জ্বালানি ক্রেতা।

    যেহেতু বেশির ভাগ আন্তর্জাতিক জ্বালানি লেনদেন বিশ্বব্যাপী ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে হয়ে থাকে, ফলে ইরানের তেল রপ্তানির অনেক অর্থই নিষেধাজ্ঞার কারণে তেহরানের হাতে আসেনি। জানা গেছে, কিছু তহবিল চীনা পণ্য ও যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে, তবে একটি বিশাল অঙ্কের অর্থ এখনো আটকে রয়েছে।

    ২০১৮ সালের আগে তেল কেনার সঙ্গে যুক্ত শত শত কোটি ডলার আটকে থাকা দেশগুলোর মধ্যে ভারত অন্যতম।

    অর্থ আটকে থাকার কারণ

    বেশির ভাগ তহবিলই ইরানের তেল, গ্যাস এবং বিদ্যুৎ বিক্রি থেকে এসেছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যাংক ও বিভিন্ন দেশের সরকার এই অর্থ তেহরানে স্থানান্তর করতে পারছে না।

    কিছু তহবিল কেবল খাদ্য ও ওষুধের মতো মানবিক পণ্য কেনার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। বেশ কয়েকটি ব্যাংক হিসাবে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে স্থানীয় মুদ্রায় এই অর্থ রাখা হয়েছে।

    এই অর্থ এখন কেন গুরুত্বপূর্ণ

    ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার অংশ হিসেবে ইরান অন্তত ২৪ বিলিয়ন ডলার এখন ফেরত চায়। আটকে থাকা সম্পদ নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের গতি ফেরাতে পারে।

    নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির আলোচনায় এসব আটকে থাকা অর্থ দর–কষাকষির প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

    এই অর্থ ফেরত পেলে তা তেহরানকে তাদের মুদ্রার মান স্থিতিশীল করতে, আমদানিতে অর্থায়ন করতে এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে।

    ইরাক, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া

    ইরানের বিদ্যুৎ ও প্রাকৃতিক গ্যাস কেনার সঙ্গে জড়িত প্রায় ১ হাজার কোটি থেকে ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ইরাকের কাছে আটকে আছে বলে ধারণা করা হয়। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বাগদাদ এই অর্থের বেশির ভাগ অংশ তেহরানে অবাধে স্থানান্তর করতে পারছে না।

    ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া—উভয় দেশের কাছেই প্রায় ৭০০ কোটি ডলার করে আটকে আছে। ২০১৮ সালে ওয়াশিংটন আবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার আগে উভয় দেশই ইরানের অন্যতম বড় তেল ক্রেতা ছিল। সেই অপরিশোধিত তেল কেনার অর্থ পরবর্তী সময় স্থানীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আটকে দেওয়া হয়।

    ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বন্দিবিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে মূলত দক্ষিণ কোরিয়ায় আটকে থাকা প্রায় ৬০০ কোটি ডলার কাতারে স্থানান্তর করা হয়েছিল। এসব তহবিল মানবিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত ছিল। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর এই অর্থ ব্যবহারের নিয়ম আরও কঠোর করা হয়।

    জাপান, ওমান, লুক্সেমবার্গ এবং অন্যান্য দেশেও ছোট অঙ্কের অর্থ আটকে রয়েছে বলে ধারণা করা হয়, যা ইরানের আর্থিক লেনদেনের ওপর কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞা–সংক্রান্ত বিরোধ ও বিধিনিষেধের চিত্র তুলে ধরে।

    এই অর্থ এখন কেন গুরুত্বপূর্ণ

    মুদ্রাস্ফীতি, দুর্বল মুদ্রা এবং বছরের পর বছর ধরে চলা নিষেধাজ্ঞার চাপে হিমশিম খাওয়া অর্থনীতিতে দ্রুত শক্ত বৈদেশিক মুদ্রা (হার্ড কারেন্সি) জোগানোর অন্যতম সহজ উপায় হলো এই আটকে থাকা সম্পদ ফিরিয়ে আনা।

    ওয়াশিংটনের জন্য এসব তহবিল দর–কষাকষির প্রধান এক হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। রয়টার্স গত সপ্তাহে জানিয়েছে, ইরান প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ৬০০ কোটি থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার ছাড় করার জন্য চাপ দিচ্ছিল। মার্কিন আলোচনাকারীরা মানবিক ব্যয় এবং ভবিষ্যতে চুক্তি মেনে চলার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে যুক্ত করে ধাপে ধাপে অর্থ ছাড় করার কথা বলছেন।

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের অংশ হিসেবে ইরানি কর্মকর্তারা জব্দ থাকা অন্তত ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রকাশিত সমঝোতা স্মারকেও ইরানের জব্দ অর্থ উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    বছরের পর বছর ধরে জব্দ অর্থ উদ্ধারে তেহরানের এই চেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হলে এটি তাদের জন্য অন্যতম বড় অর্থনৈতিক পুরস্কার হয়ে উঠতে পারে।

  • শিবচরে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে যুবক নিখোঁজ

    শিবচরে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে যুবক নিখোঁজ

    মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার দ্বিতীয়খন্ড ইউনিয়নের আলমগীর হোসেন মৃধার ছেলে সালমান রনি মৃধা (২৪) শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে নিখোঁজ হন। ৯ দিন পেরিয়ে গেলো কিন্তু এখনো তার সন্ধান মেলেনি। উভয় পরিবারের মধ্যে চলছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ।

    শিবচরে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে ফেরার পথে সালমান রনি মৃধা নামের এক যুবক গত নয় দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং নিখোঁজ যুবকের পরিবার ও এলাকাবাসীর মনে নানা সন্দেহের দানা বাঁধছে। নি‌খোঁজের ঘটনায় স্ত্রী, বাবা-মাসহ পরিবারটিতে এখন চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

    নিখোঁজ সালমান রনি মৃধা শিবচর উপজেলার দ্বিতীয়খন্ড ইউনিয়নের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন মৃধার ছেলে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (৮ জুন) শিবচর উপজেলার সন্ন্যাসীরচর ইউনিয়নের রাজারচর মৌলভীকান্দি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান সালমান রনি মৃধা। সেখানে দুই দিন অবস্থান করার পর গত বুধবার (১০ জুন) তিনি নিজ বাড়ি দ্বিতীয়খন্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু শ্বশুরবাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর তিনি বাড়ি ফিরে আসেননি এবং আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

    ছেলের কোনো সন্ধান না পেয়ে গত শুক্রবার (১২ জুন) শিবচর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন নিখোঁজের বাবা আলমগীর হোসেন মৃধা।

    তবে নিখোঁজের নয় দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো সালমান রনির কোনো খোঁজ না মেলায় বুকফাঁটা আকুতি জানাচ্ছে তার পরিবার। ছেলের অক্ষত প্রত্যাবর্তন চেয়ে প্রশাসনের সুদৃঢ় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

    (01609-939332) এই নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হইলো। সন্ধানদাতাকে উপযুক্ত পুরস্কার প্রদান করা হবে।

    শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, নিখোঁজ যুবককের প‌রিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে শিবচর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জি‌ডি) ক‌রে‌ছেন। তাকে উদ্ধারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

  • ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আল মাসুদ মধু কারাগারে

    ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আল মাসুদ মধু কারাগারে

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝালকাঠি জেলা সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ মধুকে পাঁচটি মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন ঝালকাঠি জেলা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এইচ এম কবির হোসেন।

    গত ১ জুন রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ঝালকাঠি থানার পাঁচটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

    আব্দুল্লাহ আল মাসুদ মধু ঝালকাঠি শহরের পূর্ব চাঁদকাঠি এলাকার আব্দুল মন্নানের ছেলে।

    সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৩০ অক্টোবর ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পান তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক, বিএনপি অফিসে হামলা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ ঢাকার একটি এবং ঝালকাঠি থানার পাঁচটিসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে।

    জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহম্মেদের জানাজায় অংশ নেন আওয়ামী লীগ নেতারা। ধানমন্ডি থানার ১২ নম্বর রোডের তাকওয়া মসজিদে পাশে তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের একত্রিত করে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছিল। দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য মিছিল করে দেশবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে তারা। পুলিশ মাসুদ মধুকে সেখান থেকে আটক করে ধানমন্ডি থানায় নিয়ে যায়।

    এ ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় এসআই মিঠুন সিংহ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আল মাসুদ মধুসহ নামধারী ছয়জনসহ আরো ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। উক্ত মামলার এক নম্বর আসামি মাসুদ মধু। মাসুদ মধুকে সে মামলায় ইতোমধ্যে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এ ঘটনার পর ঝালকাঠি থানায় মাসুদ মধুর সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চায় ধানমন্ডি থানা।

    ঝালকাঠি থানায় পাঁচটি মামলার তথ্য পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে জানিয়ে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান বলেন, ‘ধানমন্ডি থানার একটি মামলায় আব্দুল্লাহ আল মাসুদ মধুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ঝালকাঠিতেও পাঁচটি মামলা রয়েছে। ইতিমধ্যে সেখানে ঝালকাঠির মামলাগুলোতে দৃশ্যমান গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। সেই মামলায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’

  • আশুগঞ্জে সাপের দংশনে গৃহবধূর মৃত্যু

    আশুগঞ্জে সাপের দংশনে গৃহবধূর মৃত্যু

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে বিষাক্ত গোখরো সাপের দংশনে আনোয়ারা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে উপজেলার তারুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত আনোয়ারা বেগম তারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রামপুলিশ মহসিন মিয়ার স্ত্রী।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকাল প্রায় ৭টার দিকে আনোয়ারা বেগম রান্নার জন্য ঘরের এক কোণে রাখা চালের বস্তা থেকে চাল বের করতে যান। এ সময় বস্তার ভাঁজে লুকিয়ে থাকা একটি বিষাক্ত গোখরো সাপ তাকে দংশন করে। তার চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা ছুটে এসে বস্তা সরালে সাপটি বের হয়ে পাশের ঝোপঝাড়ে পালিয়ে যায়।

    পরে স্বজনরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

    নিহতের স্বামী মহসিন মিয়া জানান, সাপ দংশনের পরপরই তিনি ক্ষতস্থানের ওপরের অংশে কাপড় বেঁধে স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

    এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: মো: শাহীন ভূঁইয়া বলেন, সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে আসা জরুরি। রোগীর শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা হয়েছিল। তবে বিষক্রিয়া অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় সব ধরনের চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো যায়নি।

    আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফে মোহাম্মদ ছড়া বলেন, বিষাক্ত সাপের কামড়ে তারুয়া ইউনিয়নের এক গ্রামপুলিশের সহধর্মিণীর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। বর্ষা মৌসুমে গ্রামীণ এলাকায় সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। তাই ঘরবাড়ি, খাদ্যশস্য সংরক্ষণের স্থান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

  • কুমিল্লায় ১ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ৫

    কুমিল্লায় ১ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ৫

    ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ারবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবাসহ পাঁচজনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। জব্দ হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে পদুয়ারবাজার এলাকায় গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে একটি কাভার্ডভ্যান তল্লাশি করে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ইয়াবার চালান জব্দ করা হয়।

    কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো: আনিসুজ্জামান জানান, চৌদ্দগ্রাম এলাকা থেকে একটি প্রাইভেটকারের স্কটের মাধ্যমে ইয়াবার একটি বড় চালান ঢাকার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা প্রাইভেটকারটি আটক করে চালক ও যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তারা স্বীকার করেন, লবণ পরিবহনের আড়ালে একটি কাভার্ডভ্যানে ইয়াবা পাচার করা হচ্ছে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পদুয়ারবাজার এলাকায় কাভার্ডভ্যানটি আটক করা হয়। পরে গাড়িটির গোপন স্থানে রাখা ১৬টি প্যাকেট থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

    আটক ব্যক্তিরা হলেন— কাভার্ডভ্যানের মালিক সিরাজগঞ্জের শিপন শেখ, প্রাইভেটকার চালক রুবেল, যাত্রী সোহেল রানা, কাভার্ডভ্যান চালক মোজাহের শেখ এবং হেলপার সুরুজ হোসেন।

    পুলিশ জানায়, জব্দকৃত ইয়াবার বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

  • চৌগাছায় আবারো পরিত্যক্ত মর্টারশেল উদ্ধার

    চৌগাছায় আবারো পরিত্যক্ত মর্টারশেল উদ্ধার

    চৌগাছা,

    যশোরের চৌগাছায় আবারো পরিত্যক্ত মর্টারশেল উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে উপজেলার ফুলসারা ইউনিয়নের আফরা গ্রামের মাঠ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় মর্টারশেলটি উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে সেটি চৌগাছা থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

    জানা যায়, উপজেলার ফুলসারা ইউনিয়নের আফরা গ্রামের বাসিন্দা নাসির উদ্দিনের (৫০) তার মেহগনি বাগানে কাজ করছিলেন। এ সময় তিনি বাগানের পশ্চিম পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় মর্টারশেলটি দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা চৌগাছা থানায় খবর দেন। চৌগাছা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের দেখানো স্থান থেকে কাদামাটি ও মরিচা ধরা মর্টারশেল সদৃশ বস্তুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

    স্থানীয়দের দাবি, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ওই এলাকায় শত্রুবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সম্মুখযুদ্ধ সঙ্ঘটিত হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত কোনো অবিস্ফোরিত মর্টারশেল মাটির নিচে চাপা পড়েছিল। যা দীর্ঘদিন পর মাটি কাটার পর দৃশ্যমান হয়।

    উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার রুহুল আমিন বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ওই এলাকায় শত্রুবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সম্মুখযুদ্ধ সঙ্ঘটিত হয়েছিল। পরিত্যক্ত মর্টারশেলটি মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের হতে পারে।

    উল্লেখ্য, অতি সম্প্রতি চৌগাছা কপোতাক্ষ নদের ব্রিজ ঘাট এলাকা থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের পরিত্যক্ত একটি মর্টারশেল উদ্ধার করে চৌগাছা থানা পুলিশ।

    চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

    তিনি বলেন, উদ্ধারকৃত বস্তুটি থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বস্তুটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    এ আর

  • বগুড়া অঞ্চলে সর্বোচ্চ গ্রাহক সংগ্রহের স্বীকৃতি পুরস্কার পেলেন নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিসার

    বগুড়া অঞ্চলে সর্বোচ্চ গ্রাহক সংগ্রহের স্বীকৃতি পুরস্কার পেলেন নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিসার

    কৃষি বিষয়ক তথ্য ও প্রযুক্তি কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে কৃষি তথ্য সার্ভিস থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় মাসিক পত্রিকা ‘কৃষি কথা’। এ পত্রিকার গ্রাহক সংগ্রহে অসাধারণ সাফল্যের জন্য বগুড়া অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক গ্রাহক সংগ্রহ করে বিশেষ স্বীকৃতি অর্জন করেছে নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিস।

    ১৪৩২ বঙ্গাব্দে বগুড়া অঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩৯৩ জন গ্রাহক সংগ্রহ করায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: গাজীউল হককে সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।

    গত ১২ জুন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কৃষি তথ্য সার্ভিসের সম্মানিত পরিচালক মো: মসীহর রহমানের নিকট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার গ্রহণ করেন মো: গাজীউল হক।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি, ফসল ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই দমন, কৃষি উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং সরকারি কৃষি সেবা সম্পর্কে সচেতন করতে ‘কৃষি কথা’ পত্রিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

    এ পত্রিকার গ্রাহক বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষি তথ্যকে আরো বেশি সংখ্যক কৃষকের কাছে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিস ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করে। এর ফলেই এ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

    উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, মাঠ পর্যায়ের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা, বিভিন্ন কৃষি সভা, উঠান বৈঠক, মাঠ দিবস এবং প্রযুক্তি প্রদর্শনীর মাধ্যমে ‘কৃষি কথা’ পত্রিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন। ফলে কৃষকদের মধ্যে পত্রিকাটির প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায় এবং গ্রাহক সংখ্যা আশানুরূপভাবে বৃদ্ধি পায়।

    পুরস্কার প্রাপ্তির পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: গাজীউল হক বলেন, ‘এ অর্জন শুধু আমার একার নয়, নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কৃষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। কৃষকদের মাঝে আধুনিক কৃষি জ্ঞান ও প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে আমরা ভবিষ্যতেও কাজ করে যাব।’

    কৃষি সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এ ধরনের স্বীকৃতি মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের কাজের প্রতি আরো উৎসাহিত করবে এবং কৃষি তথ্য ও প্রযুক্তি বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সাথে কৃষকদের মাঝে নির্ভরযোগ্য কৃষি তথ্য পৌঁছে দিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নেও ইতিবাচক অবদান রাখবে।

    নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিসের এ অর্জনে কৃষক, কৃষি উদ্যোক্তা ও স্থানীয় বিভিন্ন মহল সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

  • বাংলাদেশে পুশইন করতে আনা ৯ জনের মধ্যে সরিয়ে নেয়া হলো ২ শিশুসহ মা-বাবাকে

    বাংলাদেশে পুশইন করতে আনা ৯ জনের মধ্যে সরিয়ে নেয়া হলো ২ শিশুসহ মা-বাবাকে

    কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দুটি সীমান্তের শূন্যরেখায় চার দিন ধরে অবস্থান করা পুশইন চেষ্টার শিকার নয়জনের মধ্যে দুই শিশু ও তাদের বাবা-মাকে আর দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয়দের ধারণা, মানবিক কারণে তাদের কোনো এক সময় সরিয়ে নিয়েছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ।

    জানা গেছে, গয়টাপাড়া সীমান্তে দুই শিশু ও এক নারীসহ ছয়জন এবং ইজলামারী ভন্দুরচর সীমান্তে তিন যুবককে গত চার দিন ধরে শূন্যরেখায় অবস্থান করতে দেখা যায়। তবে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে গয়টাপাড়া সীমান্তে গিয়ে স্থানীয়রা দেখতে পান, সেখানে থাকা দুই শিশু ও তাদের বাবা-মা আর নেই।

    স্থানীয়দের দাবি, বুধবার গভীর রাতে বা বৃহস্পতিবার ভোরে শিশু দুটির মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের বাবা-মাসহ সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তবে তাদের কোন দেশে নেয়া হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

    স্থানীয় বাসিন্দা মুস্তাফিজার বলেন, গতকালও গয়টাপাড়া সীমান্তে ছয়জনকে দেখেছি। আজ গিয়ে দেখি দুই শিশু ও তাদের বাবা-মা সেখানে নেই।

    দুই শিশুসহ চারজনকে সরিয়ে নেয়ার পর বর্তমানে গয়টাপাড়া সীমান্তে পুশইন চেষ্টার শিকার দুই যুবক অবস্থান করছেন। অন্যদিকে একই উপজেলার ভন্দুরচর সীমান্তে আরো তিন যুবক এখনো শূন্যরেখায় রয়েছেন। ফলে দুই সীমান্তে বর্তমানে মোট পাঁচজন অবস্থান করছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ওই পাঁচজনকে ঘিরে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি ও বিএসএফ।

    উল্লেখ্য, গত রোববার সকালে রৌমারীর গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে ছয়জন এবং ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে তিনজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। পরে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নিতে বাধ্য হন।

    বিষয়টি জানতে রৌমারী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী মোবাইলফোনে একাধিক বার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    এ বিষয়ে জানতে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • নবীন শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় শাবিপ্রবিতে ছাত্রশিবিরের হেল্প ডেস্ক

    নবীন শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় শাবিপ্রবিতে ছাত্রশিবিরের হেল্প ডেস্ক

    শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন উপলক্ষে সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির শাবিপ্রবি শাখা। নবাগত শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও দিকনির্দেশনা দিতে ক্যাম্পাসে হেল্প ডেস্ক স্থাপন করেছে সংগঠনটি।

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্থাপিত হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে নবীন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন তথ্য, বিভাগ ও ক্যাম্পাস সম্পর্কিত নির্দেশনা দিয়ে সহযোগিতা করা হয়। পাশাপাশি সংগঠনের বিভিন্ন প্রকাশনা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

    এ বিষয়ে শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “নবীন শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে। নতুন পরিবেশে তাদের শুরুটা যেন সহজ ও সুন্দর হয়, সে লক্ষ্যেই আমাদের এই আয়োজন। আমরা চাই, তারা পড়াশোনা, গবেষণা ও নৈতিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে নিজেদের গড়ে তুলুক এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করুক।”

    তিনি আরো বলেন, “শিক্ষার্থীদের যেকোনো যৌক্তিক প্রয়োজন ও সমস্যায় সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে আমরা সবসময় পাশে থাকতে চাই। একটি সুন্দর, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।”

  • যাত্রাবাড়ীতে অবৈধ দখল উচ্ছেদ : মামলা ও জরিমানা

    যাত্রাবাড়ীতে অবৈধ দখল উচ্ছেদ : মামলা ও জরিমানা

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন যাত্রাবাড়ী এলাকায় জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিতকরণ এবং ফুটপাথ ও সড়ক দখলমুক্ত রাখতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ডিএসসিসি’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ফ্লাইওভারের ইনকামিং অংশ থেকে শুরু করে যাত্রাবাড়ী হয়ে কাজলা পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশের ফুটপাথ ও রাস্তার ওপর গড়ে ওঠা সব অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়।

    অভিযান চলাকালে অবৈধভাবে ফুটপাথ ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এ সময় ফুটপাথ ও সড়ক দখলমুক্ত করে জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

  • মুসলিম বিশ্বের টুকরো ইতিহাস

    মুসলিম বিশ্বের টুকরো ইতিহাস

    ১০ জুন : উসমানী খেলাফতের বিরুদ্ধে আরবদের বিদ্রোহ

    ডেক্সনিউজ : ১০ জুন ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দ (৭/৮ শাবান ১৩৩৪ হিজরি) ব্রিটিশদের মদতপুষ্ট মক্কার শরিফ ও আমির হুসাইন ইবনে আলীর নির্দেশে মক্কায় অবস্থানরত উসমানী সেনাঘাঁটির ওপর আক্রমণ করা হয়। ইতিহাসে এ ঘটনাকে উসমানী খেলাফতের বিরুদ্ধে ‘আরব বিদ্রোহ’-এর প্রকৃত সূচনা হিসেবে গণ্য করা হয়, যদিও এই বিদ্রোহে আরবদের একাংশ অংশগ্রহণ করেছিল।১০ জুন : উসমানী খেলাফতের বিরুদ্ধে আরবদের বিদ্রোহ

    ১০ জুন ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দ (৭/৮ শাবান ১৩৩৪ হিজরি) ব্রিটিশদের মদতপুষ্ট মক্কার শরিফ ও আমির হুসাইন ইবনে আলীর নির্দেশে মক্কায় অবস্থানরত উসমানী সেনাঘাঁটির ওপর আক্রমণ করা হয়। ইতিহাসে এ ঘটনাকে উসমানী খেলাফতের বিরুদ্ধে ‘আরব বিদ্রোহ’-এর প্রকৃত সূচনা হিসেবে গণ্য করা হয়, যদিও এই বিদ্রোহে আরবদের একাংশ অংশগ্রহণ করেছিল।১৩ জুন : কায়রোকেন্দ্রিক আব্বাসী খেলাফত প্রতিষ্ঠা

    ১৩ জুন ১২৬১ খ্রিষ্টাব্দ (৫/৬ রজব ৬৫৯ হিজরি) কায়রোভিত্তিক আব্বাসী খেলাফতের প্রথম খলিফা আহমদ আল-মুসতানসিরের শাসন শুরু হয়। তিনি মামলুক সালতানাতের অধীনে প্রতিষ্ঠিত কায়রোর প্রথম আব্বাসী খলিফা ছিলেন।

    আল-মুসতানসির ছিলেন আল মুসতাসিম বিল্লাহর চাচা। ১২৫৮ সালে মঙ্গোল আক্রমণে বাগদাদ পতনের সময় তিনি প্রাণে রক্ষা পান এবং মরুভূমিতে বিভিন্ন বেদুইন গোত্রের মধ্যে আত্মগোপন করে থাকেন। পরবর্তীকালে মামলুকরা মঙ্গোলদের পরাজিত ও প্রতিহত করার পর তিনি কায়রো আসেন। সেখানে বাইবার্স তাকে খলিফার পদে অধিষ্ঠিত করেন। এর মাধ্যমে কায়রোয় আব্বাসী খেলাফতের নতুন ধারার সূচনা হয়।

    ১৬ জুন সুলতান বায়েজিদ প্রথমের : উসমানী খেলাফতের দায়িত্বগ্রহণ

    ১৬ জুন ১৩৮৯ খ্রিষ্টাব্দ (১১/১২ জমাদিউস সানি ৭৯১ হিজরি) বায়জিদের (প্রথম) শাসনকাল শুরু হয়। তিনি ‘ইলদিরিম’ (বজ্র বা বিদ্যুৎ) নামে বেশি পরিচিত ছিলেন। বায়েজিদ ছিলেন মুরাদের (প্রথম) ছেলে। ১৩৮৯ সালের ১৫ জুন কসোভো যুদ্ধে উসমানীদের বিজয়ের পর তার বাবা মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন।

    এ এম

  • মেসিই সর্বকালের সেরা- রোনালদো

    মেসিই সর্বকালের সেরা- রোনালদো

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    লিওনেল মেসির প্রশংসায় এবার মুখ খুললেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোনালদো নাজারিও। আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার (গোট) আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, এখন বিশ্বের উচিত এই বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া।

    ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়েছেন মেসি। ৩৮ বছর বয়সে করা এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। একই সঙ্গে ছাড়িয়ে গেছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওকেও।

    মেসির এই কীর্তির পর রোনালদো নাজারিও বলেন, ‘মেসি প্রতিবার যখন মাঠে নামে তখন সবকিছু যেন নান্দনিক ও ঐতিহাসিক মুহূর্তে রূপ নেয়। পুরো বিশ্বের সামনে সময় এসেছে, লুকোচুরি না করে আমাদের সবাইকে মেনে নেওয়া উচিত মেসিই সর্বকালের সেরা। সে প্রতি মৌসুমেই পারফর্ম করে যাচ্ছে এবং বিশ্বকাপেও। এটা অভুলনীয় এবং ঐতিহাসিক একটি দিন।’

    দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করে চলেছেন মেসি। ক্লাব ফুটবলে অসংখ্য শিরোপা, আটটি ব্যালন ডি’অর, কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে তিনি নিজের ক্যারিয়ারকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। আর ২০২৬ বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত সূচনা করে আবারও প্রমাণ করছেন, বয়স তার জন্য কেবলই একটি সংখ্যা।

    বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসির গোলসংখ্যা এখন ১৬। আর মাত্র একটি গোল করলেই তিনি এককভাবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যাবেন। ফলে আর্জেন্টিনার পরবর্তী ম্যাচগুলোতে নজর থাকবে এই রেকর্ড ভাঙার দিকেও।

  • লন্ডনে এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্সের নাগরিক সংবর্ধনায় হাসনাত আব্দুল্লাহ

    লন্ডনে এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্সের নাগরিক সংবর্ধনায় হাসনাত আব্দুল্লাহ

    সবার জন্য সেবা নিশ্চিতের আগে বিশেষ সুবিধা নেবো না

    ডেক্স নিউজ: দেশের সকল নাগরিকের সমান মর্যাদা ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। রাষ্ট্রের সব সেবা ও সুযোগ-সুবিধা সাধারণ মানুষের জন্য সমভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ব্যক্তিগতভাবে কোনো বিশেষ সুবিধা বা ভিআইপি সংস্কৃতির অংশ না হওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তিনি।

    বুধবার এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য সফর উপলক্ষে গত রবিবার লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল এলাকার মাইদা ব্যাংকুয়েটিং হলে বর্ণাঢ্য নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয় হাসনাত আব্দুল্লাহকে। সেখানে তিনি এমন অঙ্গীকার করেন।

    এ এম

  • সেপটিক ট্যাংকে গ্যাসের বিষক্রিয়ায় দুই শ্রমিকের মৃত্যু

    সেপটিক ট্যাংকে গ্যাসের বিষক্রিয়ায় দুই শ্রমিকের মৃত্যু

    পটুয়াখালীতে সেপটিক ট্যাংকে নেমে বিষাক্ত গ্যাসের বিষক্রিয়ায় দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়নের চৌদ্দবুড়িয়া গ্রামের সিকদারের বাড়ির একটি নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে সেন্টারিংয়ের কাঠ ও বাঁশ খুলতে নেমে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হচ্ছেন—চৌদ্দবুড়িয়া গ্রামের মোহাম্মদ নুহ (২৫) ও একই গ্রামের মোহাম্মদ আশরাফ চৌকিদার ওরফে আশরাফ মোল্লা (৫০)।

    স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সিকদার বাড়ির বাথরুমের জন্য নির্মিত নতুন সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে কাজ করতে নামেন শ্রমিক নুহ ও আশরাফ। প্রথমে নুহ ভেতরে পড়ে যায় এবং তাকে উদ্ধার করতে আশরাফ এগিয়ে গেলে সেও সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে পড়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন সেপটিক ট্যাংকের একটি অংশ ভেঙে দুই শ্রমিককে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু জাফর বলেন, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। মৃত দুই শ্রমিক আশরাফ ও নুহের বাড়ি কমলাপুরের চৌদ্দবুড়িয়া গ্রামে এবং তাদের দুজনের পাশাপাশি বাড়ি। তাদের মধ্যে আশরাফ রাজমিস্ত্রি ও নুহ দিনমজুর বা শ্রমিক ছিল।

    এ ব্যাপারে পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, ওই এলাকার একটি বাড়িতে নতুন সেপটিক ট্যাংকের সেন্টারিং খুলতে গিয়ে ওই দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। প্রথমে একজন ভেতরে পড়ে যায় এবং তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে অপরজনও পড়ে যায়। বিষাক্ত গ্যাসের বিষক্রিয়ায় দুজনেই সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে মারা যান। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি চলছে।

  • বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের মামলায় আসামির যাবজ্জীবন

    বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের মামলায় আসামির যাবজ্জীবন

    চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত মনির হোসেনকে (৩২) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এ রায় ঘোষণা করেন।

    ট্রাইব্যুনালের পিপি মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী বলেন, ‘আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ, আসামির আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। ঘটনার ২৫ দিনের মধ্যে বুধবার আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করা হল।’

    গত ৯ জুন এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে আসামি মনির হোসেনের বিচার শুরুর আদেশ দেন বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমা। ১০ জুন থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। তিন কার্যদিবসের মধ্যে বাদী, ভুক্তভোগী, চিকিৎসকসহ মোট ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়। গত মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষে যুক্তি তর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসে। এর আগে প্রায় দুই সপ্তাহ তদন্তের পর ৪ জুন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। সেখানে আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯ (১) ধারায় ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। শিশুটির ডিএনএ রিপোর্ট গ্রহণ এবং ১৬৪ ধারায় আসামির জবানবন্দি ও ভুক্তভোগী শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করে পুলিশ।

    প্রসঙ্গত, গত ২১ মে বিকেলে নগরের বাকলিয়া এলাকায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে মনির হোসেনের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে আটক করে। থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে উত্তেজিত জনতা ও স্থানীয়রা। বিক্ষুব্ধরা দ্রুত সময়ের মধ্যে মনির হোসেনের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সেসময় বিক্ষোভও করেন। গত ২২ মে বিকেলে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় মনির হোসেন।

    মনির হোসেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকার মিয়াখান নগরে ভাড়া থাকতেন এবং একটি ডেকোরেটর প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।

  • জীবননগরে গৃহবধূ পিংকী হত্যার আসামি ঢাকা থেকে গ্রেফতার

    জীবননগরে গৃহবধূ পিংকী হত্যার আসামি ঢাকা থেকে গ্রেফতার

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সঙ্ঘটিত চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ পিংকী হত্যার আসামি প্রবাসী রাজন হোসেনকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বুধবার (১৭ জুন) সকালে রাজধানী ঢাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে জীবননগর থানা পুলিশ।

    গ্রেফতার রাজন হোসেন উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে। তিনি হত্যাকাণ্ডের দুই মাস আগে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে আসেন। হত্যার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

    নিহত গৃহবধূ পিংকী ডুমুরিয়া গ্রামের প্রান্তিক কৃষক সানোয়ার হোসেনের স্বামী পরিত্যক্তা ও একাধিক বিবাহিতা নারী এবং দুই সন্তানের জননী।

    দুই মাস আগে চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামে ঘুমন্ত অবস্থায় গৃহবধূ ববিতা খাতুন ওরফে পিংকীকে (২৭) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন রাজন। পরে পরিবারের লোকজন তাকে জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

    সেখান তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

    চিকিৎসাধীন অবস্থায় পিংকী পুলিশের কাছে জবানবন্দি দেন যে, তাকে রাজন এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। এ সময় রাজন হোসেনকে সে একটি লাথিও মারে বলে জবানবন্দিতে জানা যায়। মূলত রাজন হোসেনের দেয়া অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় তাকে কুপিয়ে আহত করা হয়।

    আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য মিন্টু রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অপরাধে প্রবাসফেরত রাজন হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা করেন নিহত পিংকীর মামা আনোয়ার হোসেন। মামলার পর থেকে রাজন হোসেন পলাতক ছিলেন। পুলিশ তাকে বুধবার দুপুরে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।

    জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, প্রবাসফেরত যুবক রাজন হোসেন গৃহবধূ ববিতা খাতুন ওরফে পিংকী হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। রাজন হোসেন ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন। তাকে বুধবার সকালে ঢাকায় গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

  • সংসদে মাথা নুইয়ে প্রবেশ করা ইসলাম পরিপন্থী কিনা যাচাইয়ের অনুরোধ

    সংসদে মাথা নুইয়ে প্রবেশ করা ইসলাম পরিপন্থী কিনা যাচাইয়ের অনুরোধ

    সংসদে মাথা নুইয়ে প্রবেশ করা ইসলাম পরিপন্থী কিনা যাচাইয়ের অনুরোধ করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক। বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তিনি এ অনুরোধ জানান।

    জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, আমি পৃথিবীর অনেক দেশের সংসদ দেখেছি। সেখানে মাথা নুইয়ে প্রবেশের নীতি রয়েছে। কিন্তু বিষয়টা কি ইসলাম পরিপন্থী কিনা সেটা আমাদের জানানোর অনুরোধ করছি।এদিকে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের ৭৫টি কারাগারে ধারণক্ষমতার ১ দশমিক ৭ গুণ বন্দি আটক রয়েছে।

    তিনি আজ সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপি দলীয় সদস্য মো. আবুল হাসনাতের টেবিলে উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।

    মন্ত্রী বলেন, ‘৭ জুন পর্যন্ত প্রাপ্তি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ৭৫টি কারাগারে সর্বমোট অনুমোদিত ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৩৬ (পুরুষ ৪৩ হাজার ১০৭ + মহিলা ২ হাজার ২৯) জনের বিপরীতে বর্তমানে ৭৭ হাজার ৪০ জন (পুরুষ ৭৪ হাজার ৩৬ + মহিলা ২ হাজার ৭৭) জন বন্দি আটক আছে, যা ধারণক্ষমতার ১ দশমিক ৭ গুণ।

    এ এম

  • শরীয়তপুরে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন

    শরীয়তপুরে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন

    শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিহত আমির হোসেন সরদার (৪৫) উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের হলইপট্টি এলাকার বাসিন্দা। তিনি পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় ছিলেন।

    গতকাল মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে ইদিলপুর ইউনিয়নের হলইপট্টি ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবারের ছোট ছেলে সোহেল সরদারের কিছু টাকা চুরির অভিযোগ ওঠে চতুর্থ ভাই জুয়েল সরদারের (২৭) বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। বিষয়টি জানার পর বড় ভাই আমির হোসেন সরদার ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি জুয়েল সরদারকে শাসন করতে কয়েকটি চড় মারেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জুয়েল সরদার পেছন থেকে একটি কাঠ দিয়ে আমির হোসেনের মাথায় আঘাত করেন।

    গুরুতর আহত হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

    নিহতের বোন রাশিদা বেগম বলেন, ভাইদের ঝগড়া থামাতে গিয়েই আমার বড় ভাইয়ের প্রাণ গেল। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই। বড় ভাই হিসেবে শাসন করতে গিয়েই আজ তার প্রাণ গেল।

    নিহতের স্ত্রী লাইজু বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ছোট ভাই সোহেল আর মেজ ভাই জুয়েলের মধ্যে টাকা নিয়ে ঝগড়া হয়। আমার স্বামী তখন রাস্তার পাশে বসে মোবাইল দেখছিলেন। পরে বিষয়টি মীমাংসা করতে গেলে জুয়েল ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ পেছন দিক থেকে এসে কাঠ দিয়ে আমার স্বামীর মাথায় আঘাত করে। তখন আমার স্বামী শেষবারের মতো একটা কথাই বলেছিল, ‘আমাকে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নে’।

    গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন বলেন, পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত জুয়েল সরদার পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

    এ,আর,

  • আইফোন চুরির অভিযোগে স্কুলছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা, বিক্ষোভ-ভাঙচুর

    আইফোন চুরির অভিযোগে স্কুলছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা, বিক্ষোভ-ভাঙচুর

    লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক ছাত্রাবাসে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান (১৪) এর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবারের দাবি, আইফোন চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    নিহত মেহেদী উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের রাঘবপুর গ্রামের জিয়াউদ্দিন জিয়ার ছেলে এবং ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির অষ্টম শ্রেণির আবাসিক শিক্ষার্থী।

    প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন কলেজ শাখার এক শিক্ষার্থীর একটি আইফোন হারিয়ে যায়। এ ঘটনায় মেহেদীর বিরুদ্ধে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী তাকে ছাত্রাবাসের একটি কক্ষে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে মারধর করে।

    একাডেমির আবাসিক শিক্ষক মো. ইসমাইল হোসেন জানান, ফোন হারানোর ঘটনায় সন্দেহের জেরে কয়েকজন শিক্ষার্থী মেহেদীকে একটি কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মারধর করা হয়। আমরা খবর পেয়ে তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    তিনি দাবি করেন, ঘটনার পর মৃত্যুর কারণ আড়াল করার উদ্দেশ্যে মেহেদীর মরদেহ গলায় মাফলার পেঁচিয়ে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।

    ইসমাইল হোসেন আরও দাবি করেন, বিক্ষোভ ও ভাঙচুরে প্রতিষ্ঠানের কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    মেহেদীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতেই স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শত শত মানুষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা প্রধান ফটক, অভ্যর্থনা কক্ষসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায়। কয়েকটি যানবাহনেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর গভীর রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    নিহতের চাচা জুয়েল রানা বলেন, ‘আমার ভাতিজা কোনো অপরাধ করেনি। তাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’

    উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমি সাত দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ খন্দকার আবদুল মান্নানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আতিকুর রহমান বলেন, ‘এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। পুলিশ তদন্ত করছে। প্রকৃত সত্য উদঘাটন না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, ‘আবাসিক হল থেকে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

    রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়েছিল। তবে শুধুমাত্র মারধরের কারণেই মৃত্যু হয়েছে কিনা, সেটি এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

    একাডেমি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত ৯ শিক্ষার্থী ছাত্রাবাস ছেড়ে পালিয়ে গেছে। বুধবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মেহেদীর মরদেহ নিয়ে রামগঞ্জ থানার সামনে বিক্ষোভ করেন স্বজন ও স্থানীয়রা। এ সময় তারা দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

  • হিমাগারের ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে রংপুরে মহাসড়ক অবরোধ

    হিমাগারের ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে রংপুরে মহাসড়ক অবরোধ

    আলুচাষি-ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

    বিডি টাইমস ডেস্ক,

    হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। গতকাল বুধবার দুপুরে নগরীর মডার্ন মোড় এলাকায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।

    জেলা আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে পাঁচ শতাধিক চাষি ও ব্যবসায়ী অংশ নেন। এ সময় তারা মহাসড়কে আলু ফেলে প্রতীকী বিক্ষোভও প্রদর্শন করেন। এ সময় বক্তব্য দেন, জেলা আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ বণিক, সহসভাপতি আব্দুন নূর, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আনোয়ার সাদাত, সদস্য সচিব দিল মেরাজুল দুলু প্রমুখ।

  • স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে ছাত্রদল নেতার পদ স্থগিত

    স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে ছাত্রদল নেতার পদ স্থগিত

    সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মাইদুল ইসলাম বাপ্পির সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়েছে।

    গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির-এর সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মাইদুল ইসলাম বাপ্পির সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়েছে।

    গত সোমবার বেরোবি শাখা ছাত্রদল নেতার মাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌতুক ও মাদকের টাকার জন্য নির্যাতন এবং হত্যার হুমকির অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় সভাপতি বারবার লিখিত অভিযোগ করেন তার স্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উম্মে জেবিন।

  • খেলতে গিয়ে নিখোঁজ, পুকুর থেকে উদ্ধার শিশুর ভাসমান লাশ

    খেলতে গিয়ে নিখোঁজ, পুকুর থেকে উদ্ধার শিশুর ভাসমান লাশ

    জামালপুরের বকশীগঞ্জে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর পুকুর থেকে মো: রবিউল ইসলাম (৬) নামের এক শিশুর ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে উপজেলার ৫ নম্বর সদর ইউনিয়নের ঝালরচর পশ্চিমপাড়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    রবিউল ইসলাম ওই গ্রামের মো: আবু সালেকের ছেলে।

    স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিশু রবিউল বাড়ির পাশে খেলাধুলা করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে বাড়ির পার্শ্ববর্তী প্রায় ১০০ গজ দূরে রফিক প্রফেসরের পুকুরে শিশুটিকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান তার মা।

    মায়ের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং তাকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা হওয়ায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

  • হাতিয়ায় বাসের ধাক্কায় বিএনপি নেতা নিহত

    হাতিয়ায় বাসের ধাক্কায় বিএনপি নেতা নিহত

    নোয়াখালীর হাতিয়ায় বাসের ধাক্কায় মো: সোহেল মাহমুদ (৪৫) নামে এক বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৭ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার হরণী ইউনিয়নের সুবর্ণচর-চেয়ারম্যানঘাট সড়কের বয়ারচর মানিক কাউন্টারের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    জানা গেছে, হরনী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সোহেল মাহামুদ মেঘনা নদীর ভাঙনের কারণে পরিবার নিয়ে বর্তমানে সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের ফরেস্ট সিরাজের বাড়িতে বসবাস করছেন।

    বুধবার সকালে তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে চানন্দী ইউনিয়নের নিজ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। যাত্রাপথে হরণী ইউনিয়নের বয়ারচর মানিক কাউন্টার এলাকায় পৌঁছালে একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে যান।

    দুর্ঘটনায় তিনি পেট, হাত ও পায়ে আঘাত পান। পরে তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে দুপুর সোয়া ১২দিকে তার মৃত্যু হয়।

    হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: কবির হোসেন জানান, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি।

  • বাড্ডায় খাল থেকে অজ্ঞাত পরিচয় যুবকের লাশ উদ্ধার

    বাড্ডায় খাল থেকে অজ্ঞাত পরিচয় যুবকের লাশ উদ্ধার

    রাজধানীর বাড্ডা থানাধীন সাতারকুল ইয়াসিন নগর এলাকার একটি খালের পানি থেকে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় (২৫) এক যুবকের পচাগলা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুল আলম জানান, ইয়াসিন নগর খালের কচুরিপানার মধ্যে ভাসমান অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে।

    তিনি আরো জানান, নিহতের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। লাশে আংশিক পচন ধরেছে, তবে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। নিহতের পরনে ছিল কালো জিন্স প্যান্ট ও হাফ হাতা চেক শার্ট।

  • ফ্রান্সের বিশ্ব সাহিত্য অভিধানে কাজী নজরুল ইসলাম

    ফ্রান্সের বিশ্ব সাহিত্য অভিধানে কাজী নজরুল ইসলাম

    জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে স্থান দিয়েছে ফ্রান্সের বিখ্যাত বিশ্ব সাহিত্য অভিধান দিকসিওনের মোঁদিয়াল দে লিতেরাত্যুর। আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ফরাসি জ্ঞানকোষ ও অভিধান প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান লারুস–এর প্রকাশিত তথ্যভাণ্ডারে নজরুলকে বাংলা ভাষার একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    লারুস–এর তথ্য অনুযায়ী, কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম চুরুলিয়া, ১৮৯৯ -মৃত্যু ঢাকা, ১৯৭৭। বাংলা ভাষার একজন কবি এবং তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন “পোএৎ র‍্যবেল্” বা “বিদ্রোহী কবি” নামে। সেখানে তার সাহিত্যকর্মকে দেশপ্রেম, সামাজিক চেতনা ও মানবিক অনুপ্রেরণায় সমৃদ্ধ গীতিকাব্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।বিশ্ব সাহিত্য অভিধানে নজরুলের উল্লেখযোগ্য রচনার উদাহরণ হিসেবে ‘অগ্নিবীণা’ (১৯২২) এবং ‘ভাঙার গান’–এর নাম সংযুক্ত করা হয়েছে।

    কাজী নজরুল ইসলাম সেন্টার, প্যারিস, ফ্রান্সের উপদেষ্টা ও নজরুল গবেষক খোরশেদ আলম পাটোয়ারীর মতে, ইউরোপের একটি স্বীকৃত ও দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক সাহিত্যভিত্তিক জ্ঞানকোষে নজরুলের অন্তর্ভুক্তি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বৈশ্বিক পরিচিতির একটি তাৎপর্যপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

    তিনি বলেন, এটি কেবল একজন কবির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নয়, বরং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ঐতিহ্যের বৈশ্বিক উপস্থিতিকেও নির্দেশ করে।

    কাজী নজরুল ইসলাম সেন্টার, প্যারিস, ফ্রান্সের সভাপতি কবি সোহেল আহমদ বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বাংলাদেশের কবি নন, তিনি বিশ্বমানবতার কবি। অন্যায়, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে তার সাহিত্য আজও তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে।

    তিনি আরও জানান, ফরাসি কমিউনিটির মধ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে আরও ব্যাপকভাবে পরিচিত করতে তাদের সংগঠন ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

    উল্লেখ্য, ফরাসি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান লারুস–এর দিকসিওনের মোঁদিয়াল দে লিতেরাত্যুর বিশ্বজুড়ে সাহিত্য, লেখক ও সাহিত্যধারার ওপর বিস্তৃত তথ্য উপস্থাপনের জন্য পরিচিত।

    এ এম

  • নাটোরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাদকমুক্ত করতে শিক্ষকদের নিয়ে কর্মশালা

    নাটোরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাদকমুক্ত করতে শিক্ষকদের নিয়ে কর্মশালা

    নাটোরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাদকমুক্ত করতে শিক্ষকদের নিয়ে কর্মশালা করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর।

    বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, নাটোর জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক রীফা রাওনাক নীতু।

    প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা শিক্ষা অফিসার মো: রোস্তম আলী হেলালী। মূখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন নাটোর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও যুগান্তর প্রতিনিধি মো: শহীদুল হক সরকার।

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর নাটোর জেলা কার্যালয়ের প্রসিকিউটর মো: রায়হান মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নাটোরের ইসলামিক ফাউন্ডেনের উপ-পরিচালক মো: রিয়াজুল ইসলাম ও পরিদর্শক খন্দকার নাজিম উদ্দিন।

    কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নাটোর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম, মহারাজা জগদিন্দ্রনাথ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের (স্কুল শাখার) সহকারী প্রধান শিক্ষক এম এ সেলীম ও নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাবিবুর রহমান।

    বক্তারা একজন নাগরিক হিসেবে দেশের আগামী প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে বাঁচাতে যার যার অবস্থান থেকে শাসন নয়, সুসর্ম্পক তৈরির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখতে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।

    কর্মশালায় জেলার সাতটি উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা অংশ গ্রহণ করেন। আগামী দিনে এসব অংশগ্রহণকারীদের শিক্ষকরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে মাদক নির্মুলে মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে

  • ইরানকে ঘুষ দিয়েছিলেন ওবামা: ট্রাম্প

    ইরানকে ঘুষ দিয়েছিলেন ওবামা: ট্রাম্প

    ২০১৫ সালের ইরান পরমাণু চুক্তি (জেসিপিওএ) ঘিরে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, ওই চুক্তির অংশ হিসেবে ওবামা প্রশাসন ইরানকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে কার্যত ‘ঘুষ’ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

    ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ওবামার করা জেসিপিওএ চুক্তিতে ইরানকে ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছিল। ব্যাংক থেকে আনা এই অর্থ একটি বোয়িং ৭৫৭ উড়োজাহাজে করে ইরানে পাঠানো হয়।

    ট্রাম্প দাবি করেন, অর্থবাহী বিমানটি তেহরানে পৌঁছানোর পর ইরানিরা সেটিকে স্বাগত জানায় এবং ওই অর্থ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। তার ভাষায়, ওবামা এভাবে অর্থ দিয়ে সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছিলেন। আমি সে পথ অনুসরণ করিনি।

    ইরানের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গেও ট্রাম্প কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, ইরানিরা ওবামাকে নিয়ে হাসাহাসি করেছিল এবং তাকে দুর্বল মনে করেছিল।

    উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ইরান ও বিশ্বশক্তিগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা (জেসিপিওএ) বা পরমাণু চুক্তির মাধ্যমে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা আরোপের বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়। চুক্তিটি নিয়ে শুরু থেকেই সমালোচনামুখর ছিলেন ট্রাম্প এবং ক্ষমতায় এসে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নেন।

  • ইরান-মার্কিন চুক্তি নেতানিয়াহুর জন্য অপমানজনক পরাজয়

    ইরান-মার্কিন চুক্তি নেতানিয়াহুর জন্য অপমানজনক পরাজয়

    ইরনার বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষ করার জন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তির ঘোষণা ইসরায়েলের জন্য তিক্ত আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে যে কারণে তারা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এবং শুক্রবার চুক্তি স্বাক্ষরের পর এর খসড়া প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে তারা।

    ইসরায়েলি গণমাধ্যম এর আগে জানিয়েছিল, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এ কারণে উদ্বিগ্ন যে, লেবানন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যেকোনো চুক্তি তেল আবিবের কার্যকলাপের স্বাধীনতাকে সীমিত করবে।

    ইসরায়েলি বিশ্লেষক ইয়োসি ফ্রেইটার বলেছেন: নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের বিস্তারিত না জানার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ইসরায়েল বিপর্যয়কর কৌশলগত পরাজয়ের মুখে রয়েছে।

    আরেকজন ইসরায়েলি বিশ্লেষক বেন কাসপিট লিখেছেন, নেতানিয়াহু ব্যর্থতার কারিগর এবং তিনি ইরানের হাত থেকে ইসরায়েলকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানোর দাবি করেন, যা তার অসংখ্য মিথ্যার মধ্যে একটি।

    এ প্রসঙ্গে বারাক সারিও লিখেছেন, ট্রাম্পের কাছ থেকে নেতানিয়াহু সবচেয়ে বড় অপমান সহ্য করেছেন এবং ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চুক্তিটি তেল আবিবের জন্য ক্ষতিকর।

    বিশিষ্ট ইসরায়েলি সামরিক বিশ্লেষক ইয়োসি ইয়োশুয়া, বর্তমান পরিস্থিতিকে ২০০৬ সালের দ্বিতীয় লেবানন যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, ইসরায়েলি জনমত আজ মোহভঙ্গ ও পরাজয়ের এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতার সম্মুখীন, যার মাত্রা ইসরায়েলি পূর্ববর্তী সংকটগুলোর চেয়ে অনেক বেশি গভীর। #

  • জাতিগত বাঙালিদের অবৈধভাবে বহিষ্কার, মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে ভারত

    জাতিগত বাঙালিদের অবৈধভাবে বহিষ্কার, মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে ভারত

    ভারতীয় কর্তৃপক্ষ, বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের প্রধানত মুসলিম জাতিগত বাঙালি বাসিন্দাদেরকে কথিত বাংলাদেশি দাবি করে কোনো যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ভারত মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। এক্ষেত্রে ভারত সরকারকে অবৈধ উপায়ে মানুষকে বহিষ্কার করা বন্ধ করতে হবে। ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর কার্যক্রম এবং বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)-এর প্রবেশ ঠেকানোর প্রচেষ্টার কারণে বহু পরিবার দুই দেশের সীমান্তের জিরো লাইনে আটকে পড়েছে। বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষীরা জানিয়েছেন, ১লা জুন ২০২৬ থেকে এ পর্যন্ত তারা বিএসএফের অন্তত ২১টি চেষ্টা ব্যর্থ করেছেন। এ সময়ে শিশুসহ ২০০ জনের বেশি মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে

    এতে আরও বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন- তার ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতির অধীনে শত শত (কথিত) ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’কে আটক করা হয়েছে এবং প্রায় ৫,০০০ জনকে ‘ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।’ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক উপ-পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পরিবারগুলোকে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে বা সীমান্তে আটকে রেখে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। সরকারকে অবৈধ বহিষ্কার বন্ধ করতে হবে এবং নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

    সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা নয়জন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার নিয়ে। এসব মানুষ দেখেছেন যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা রাতে মানুষদের সীমান্তে নিয়ে এসে কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষীরা প্রবেশ করতে না দেয়ায় ভারতীয় বাহিনী পরে তাদের ফিরিয়ে নেয়। বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার একটি ঘটনায় ৫ই জুন প্রায় ১০ জনের একটি দলকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল হোসেন বলেন, তারা প্রায় ৫০ ফুট বাংলাদেশের ভেতরে চলে এসেছিল। পরে দুই দেশের বাহিনী এসে দীর্ঘ সময়ের ‘স্ট্যান্ডঅফ’-এর পর তারা ফিরে যায়। তিনি আরও জানান, ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে প্রায় ৭৫ ঘণ্টা তারা সীমান্তের ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’-এ আটকে ছিল। পরে আলোচনার পর তাদের আবার ভারতের দিকেই ফিরিয়ে নেয়া হয়।

    আরেক ঘটনায় ৬ই জুন ছয়জনের একটি পরিবারকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষীরা তাদের প্রবেশ আটকালেও ভারতীয় বাহিনী তাদের ফেরত নিতে দেয়নি। ফলে পরিবারটি খোলা আকাশের নিচে রাত কাটায়। পরে তাদের আবার ভারতে ফিরতে দেয়া হয়। ৮ই জুন ঠাকুরগাঁও সীমান্তে ১১ জনকে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা জিরো লাইনে আটকে রাখার পর ফেরত নেয়া হয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশি সীমান্ত কর্তৃপক্ষ।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আরও বলছে, মার্চে নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় প্রায় ৯০ লাখ নাম বাদ দেয়া হয়, যা আটক ও বহিষ্কারের হুমকি সৃষ্টি করে। একই ধরনের বিতর্কিত নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া এর আগেও আসাম রাজ্যে লক্ষাধিক মানুষকে রাষ্ট্রহীনতার ঝুঁকিতে ফেলে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সম্প্রতি বলেছেন, অবৈধ অভিবাসীদের সীমান্তের কাছে নিয়ে গিয়ে ‘ঠেলে দেয়া হয়’। এমন পরিবেশ তৈরি হয়েছে যাতে অনেকেই নিজে থেকেই ফিরে যাচ্ছে।

    পঞ্চগড়ের এক জনপ্রতিনিধি হাসিবুর ইসলাম জানান, শিলিগুড়ির একটি পরিবার, যাদের কাছে আধার কার্ড ছিল, তাদেরকে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় আটক করা হয় এবং সীমান্তে পাঠানো হয়। পরে তিন দিন আটকে থাকার পর তাদের আবার ভারতে ফিরতে দেয়া হয়। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, অনেক বাংলাদেশি অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করছে এবং স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনে সহায়তা দেয়া হচ্ছে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, জোরপূর্বক বহিষ্কার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে গ্রহণ করবে না এবং প্রত্যাবাসন অবশ্যই যাচাই ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে হতে হবে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী ভারতকে নাগরিকত্ব ও মানবাধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো মানুষকে খাদ্য, পানি বা চিকিৎসা ছাড়াই সীমান্তে আটকে রাখা নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণের শামিল হতে পারে।

    সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, শিশুদের জোরপূর্বক সীমান্তে ঠেলে দেয়া শিশু অধিকার সনদের লঙ্ঘন। শেষে মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, কারও জাতীয়তা যা-ই হোক না কেন, তাকে দুই সশস্ত্র সীমান্ত বাহিনীর মাঝখানে খোলা মাঠে রাত কাটাতে বাধ্য করা উচিত নয়।

  • ৩০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের অর্ধেকের বেশি অর্থায়ন ইতোমধ্যেই নিশ্চিত

    ৩০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের অর্ধেকের বেশি অর্থায়ন ইতোমধ্যেই নিশ্চিত

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত সমঝোতা কাঠামোর অংশ হিসেবে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ বিনিয়োগ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক চুক্তির আগেই তহবিলের অর্ধেকেরও বেশি অর্থায়ন ইতোমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে।

    সূত্রের দাবি, ‘রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড’ নামে প্রস্তাবিত এই তহবিলের লক্ষ্য হলো ইরানে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং উভয় পক্ষকে একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির দিকে এগিয়ে যেতে অর্থনৈতিক প্রণোদনা দেওয়া।

    তবে এটি কোনো ক্ষতিপূরণ বা পুনর্গঠন সহায়তা কর্মসূচি নয়। তহবিলটি পুরোপুরি বেসরকারি খাতের অর্থায়নে গঠিত হবে এবং এতে কোনো সরকারি অনুদান বা রাষ্ট্রীয় অর্থ থাকবে না।

    সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় আরব দেশ, এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। সম্ভাব্য বিনিয়োগের খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি, পরিবহন, উৎপাদনশিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা।

    এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্রের দাবি, যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির জন্য তেহরান শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল। তবে ওয়াশিংটন সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে। এরপরই বিকল্প হিসেবে বিনিয়োগভিত্তিক এই তহবিলের ধারণা সামনে আসে।

    ইরানি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক দেশগুলো বিভিন্ন উপায়ে এতে অংশ নিতে পারে। এর মধ্যে ঋণ নিশ্চয়তা, ঋণসুবিধা চালু করা কিংবা যুদ্ধক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে সরাসরি অর্থায়ন অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

    সম্ভাব্য পুনর্গঠন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ইস্পাত কারখানা, তেল শোধনাগার, বিমানবন্দর এবং সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য অবকাঠামো।

    সূত্রটি জানিয়েছে, এই তহবিল যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কিংবা বিদেশে জব্দ থাকা ইরানি রাষ্ট্রীয় সম্পদ মুক্ত করার আলোচনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। দুটি বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা আর্থিক প্রক্রিয়া এবং ভিন্ন সময়সূচির আওতায় পরিচালিত হবে।

    সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ৬০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনার কাঠামো তৈরি করা হবে। এই সময়ের মধ্যে তহবিলের প্রশাসকরা সম্ভাব্য ইরানি পক্ষের সঙ্গে প্রকল্প চিহ্নিতকরণ এবং পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ করবেন।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছিলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তির শর্ত পূরণ করলে ইরান ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল থেকে সুবিধা পেতে পারে। এর জন্য তেহরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং কঠোর আন্তর্জাতিক তদারকি ব্যবস্থা মেনে নিতে হবে।

    সূত্রটি আরও জানিয়েছে, তহবিলের ব্যবস্থাপনা কীভাবে হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ চার দশক ধরে নিষেধাজ্ঞার কারণে বৈশ্বিক বিনিয়োগ থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন থাকা ইরানের জন্য এই তহবিল কার্যকর হলে তা দেশটির অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

  • দুইটি মসজিদ জ্বালিয়ে দিলো ইসরাইলি সেটেলাররা

    দুইটি মসজিদ জ্বালিয়ে দিলো ইসরাইলি সেটেলাররা

    অধিকৃত পশ্চিম তীরের কেন্দ্রীয় শহর রামাল্লার উত্তরে অবস্থিত জিলজিলিয়া ও মাজরা আল-নুবানি গ্রামের দুটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে ইসরাইলি সেটেলাররা। সেই সঙ্গে ইসরাইলিরা মসজিদ দুইটির দেয়ালে হিব্রু ভাষায় স্লোগান লিখে দিয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এই

    স্থানীয় সূত্র আনাদোলুকে জানিয়েছে, একদল দখলদার ভোরবেলা জিলজিলিয়ায় হামলা চালিয়ে সেখানকার মসজিদ জ্বালিয়ে দেয়। এতে ওই মসজিদের নারীদের নামাজ পড়ার কক্ষটি পুড়ে যায় এবং মসজিদটির বাইরের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    স্থায়ীয়রা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে জিলজিয়ায় ইসরাইলি দখলদারদের হামলার পরিমাণ বেড়েছে। গত মাসে ইসরাইলি সেটেলাররা সেখানে হামলা চালান এবং ভেড়া চুরি করে নিয়ে গেছেন।

    আনাদোলু জানিয়েছে, আরেক পৃথক ঘটনায় দখলদাররা মাজরা আল-নুবানি গ্রামে হামলা চালায় এবং সেখানে একটি মসজিদ জ্বালিয়ে দেয়। এতে মসজিদের ক্ষতি হয়েছে। দখলদাররা দুইটি মসজিদের দেয়ালেই হিব্রু ভাষায় স্লোগান লিখেছে।

    পশ্চিম তীরে ইসরাইলি দখলদারদের হামলা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। তারা ফিলিস্তিনিদের সম্পত্তি দখল ও লুট করে নিচ্ছে।

  • অযোধ্যায় রাম মন্দির ট্রাস্টের  ২০০ কোটি রুপি তছরুপ

    অযোধ্যায় রাম মন্দির ট্রাস্টের ২০০ কোটি রুপি তছরুপ

    অযোধ্যার রাম মন্দিরকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। মন্দির ট্রাস্টের সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রায় ২০০ কোটি রুপি আত্মসাতের অভিযোগ এনে গতকাল মঙ্গলবার একটি অভিযোগপত্র দায়ের করেছেন ‘ধর্ম সেনা ভারত’-এর প্রধান ও সাবেক করসেবক সন্তোষ দুবে।

    ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রবীণ নেতা এল কে আদভানির সঙ্গে সন্তোষ দুবেও ছিলেন ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলার অন্যতম প্রধান আসামি।

    হিন্দি ভাষায় জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে দুবে উল্লেখ করেন, ‘আবেদনকারী (সন্তোষ দুবে নিজে) প্রায়ই দর্শনের জন্য রাম জন্মভূমি মন্দিরে যান। তিনি প্রায়ই দেখেছেন, ভক্তরা দানবাক্সে সোনা ও রুপার গয়না, সোনা ও রুপার মুদ্রা এবং নগদ অর্থ দান করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ভক্তদের কাছ থেকে প্রতিদিন দানবাক্সগুলোতে নগদ টাকা, মুদ্রা ও গয়না মিলিয়ে ১ কোটি রুপির বেশি মূল্যের অনুদান জমা পড়ছে।’

    সন্তোষ দুবে বলেন, এই অনুদান সংরক্ষণ ও সুরক্ষার দায়িত্ব রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের ট্রাস্টিদের ওপর ন্যস্ত। কিন্তু তাঁরা এ অর্থ নিরাপদে রাখার বদলে আত্মসাৎ করেছেন। দুবে তাঁর এ অভিযোগে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই বানসাল ও অন্য কর্মচারীদের নাম উল্লেখ করেছেন।

    অভিযোগ তদন্তে পলিগ্রাফ পরীক্ষার দাবি

    অভিযোগপত্রে সন্তোষ দুবে দাবি করেছেন, ‘আবেদনকারীর অভিযোগ হলো, ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই বানসাল, অনিল মিশ্র, গোপাল রাও এবং রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নুসহ (চম্পত রাইয়ের গাড়িচালক হিসেবে পরিচিত) ট্রাস্টের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজশে বড় অঙ্কের অর্থ, সোনা ও রুপার গয়না এবং মুদ্রা দানবাক্স থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আত্মসাৎ করা এ অর্থ ও সম্পদের মূল্য ২০০ কোটি রুপির বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

    মন্দিরের তহবিল আত্মসাৎ করার জন্য ট্রাস্টের কর্মকর্তারা হিসাবের খাতায় ভুয়া তথ্য ও জাল সংখ্যা বসিয়েছেন বলেও অভিযোগ তোলেন সন্তোষ দুবে। তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে যে মন্দিরে অনুদান হিসেবে পাওয়া রত্নখচিত গয়না বিক্রি ও কোটি কোটি রুপি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এর মধ্যে কিছু মালামাল সাধারণ চোরদের কাছ থেকে উদ্ধারও করা হয়েছে।’

    এ ঘটনায় উত্তর প্রদেশ পুলিশকে একটি এজাহার বা এফআইআর দায়েরের অনুরোধ জানিয়েছেন সন্তোষ দুবে। তিনি বলেন, ‘ভক্তদের দান করা কোটি কোটি রুপি, সোনা ও রুপার গয়না, মুদ্রা ও মূল্যবান রত্নসামগ্রী উদ্ধার করতে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ন্যায়বিচার ও ধর্মের স্বার্থেই আইনের উপযুক্ত ধারা অনুযায়ী একটি এফআইআর নথিভুক্ত করা উচিত। সেই সঙ্গে তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পলিগ্রাফ পরীক্ষা (মিথ্যা শনাক্তকরণ পরীক্ষা) করা দরকার।’

    মন্দিরের তহবিল তছরুপের এ অভিযোগগুলো সামনে আসার পর বিরোধী দলগুলো উত্তর প্রদেশের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে নিশানা করতে শুরু করেছে। বিশেষ করে সমাজবাদী পার্টি (এসপি) এ দুর্নীতির অভিযোগটি ব্যাপকভাবে তুলে ধরছে।

    গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে উত্তর প্রদেশে বিজেপির শাসন দুর্নীতিতে ডুবে গেছে। তা না হলে এখানে এসআইটি (বিশেষ তদন্ত দল) গঠনের বদলে আইআইটি (ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি) গড়ে উঠত।’

  • ক্যালকুলেটর-হাতঘড়ি নিয়ে এইচএসসি বোর্ডের নতুন সিদ্ধান্ত

    ক্যালকুলেটর-হাতঘড়ি নিয়ে এইচএসসি বোর্ডের নতুন সিদ্ধান্ত

    শিক্ষো ডেস্ক:

    আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় সাধারণ ক্যালকুলেটরসহ নির্ধারিত ৮টি মডেলের সায়েন্টিফিক নন প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবেন পরীক্ষার্থীরা। এছাড়াও ব্যবহার করা যাবে নন প্রোগ্রামেবল কাঁটাযুক্ত হাতঘড়ি।

    বুধবার (১৭ জুন) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    নির্ধারিত মডেলগুলো হলো, এফএক্স-৮২এমএস, এফএক্স- ১০০এমএস, এফএক্স-৫৭০এমএস, এফএক্স-৯৯১এমএস, এফএক্স-৯৯১ইএস, এফএক্স-৯৯১ইএক্স, এফএক্স-৯৯১ইএস প্লাস, এফএক্স-৯৯১সিডাব্লিউ। উল্লেখিত মডেলের ক্যালকুলেটর ছাড়াও শিক্ষার্থীরা সাধারণ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবেন।

    প্রসঙ্গত, এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষা ২ জুলাই শুরু হয়ে শেষ হবে ৮ আগস্ট। আর ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করতে হবে ১৫ আগস্টের মধ্যে। রুটিন অনুযায়ী, শুরুর দিনে বাংলা প্রথম পত্র (আবশ্যিক) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আর ৮ আগস্ট শেষ দিনে ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা – ২য় পত্র, শিশু বিকাশ ২য় পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত দিনে সকাল ১০টায় শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা চলবে। আবার দ্বিতীয় শিফটে বিকেল ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা চলবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই পরীক্ষার কক্ষে পরীক্ষার্থীদের আসন গ্রহণ করতে হবে।

  • ইসরাইল ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্ব নেই: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

    ইসরাইল ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্ব নেই: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

    আর্ন্তজাতকি ডেস্ক

    ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার অস্তিত্বের জন্য ইসরাইলের কাছে ঋণী। তার এই দাবি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। এর আগে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি না থাকলে ইসরাইলের কোনো অস্তিত্বই থাকত না। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন না থাকলে ইসরাইল টিকে থাকতে পারত না।’

    ইসরাইলে দেওয়া এক ভাষণে হাকাবি বলেন, ‘ইহুদি ভিত্তি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্ব থাকত না। যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য এই ভূমির ইতিহাস গূরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’

    হাকাবির এই দাবি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত বার্ষিক জি-৭ সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্প ইসরাইলি নেতৃত্বের তীব্র প্রকাশ্য সমালোচনা করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইসরাইল থাকত না। আমি ছাড়া ইসরাইল থাকত না, কারণ আমি যা করেছি তা করতে অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট ইচ্ছুক ছিলেন না।’

  • লেবাননে যুদ্ধাপরাধ করছে ইসরাইল: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

    লেবাননে যুদ্ধাপরাধ করছে ইসরাইল: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

    যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সতর্ক করে বলেছে, লেবাননে গণহারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির আদেশ দিচ্ছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। সংস্থাটির মতে, এটা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ‘যুদ্ধাপরাধের’ শামিল।

    এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ‘দক্ষিণ লেবাননের কিছু অংশে বেসামরিক নাগরিকদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং তাদের প্রত্যাবর্তনে বাধা দেওয়া অবৈধ স্থানান্তরের শামিল, যা একটি যুদ্ধাপরাধ।’

    বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইসরাইলি সেনাবাহিনী এ ধরনের আদেশের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। ফলে লেবাননজুড়ে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

    অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের উপ-আঞ্চলিক পরিচালক ক্রিস্টিন বেকারলে বলেন, ‘সম্প্রদায়কে উচ্ছেদ করা এবং লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকাকে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য নিষিদ্ধ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা না করে, ইসরাইলি বাহিনীকে অবশ্যই লেবাননের ভূখণ্ড থেকে অবিলম্বে সরে যেতে হবে।’

    সংস্থাটির বিবৃতি অনুসারে, আগের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার একদিন পর, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর ইসরাইলি সামরিক বাহিনী লেবাননের প্রায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ এলাকাকে প্রবেশ-নিষিদ্ধ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে।

    এতে আরো বলা হয়, ২০২৬ সালের ১৭ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র তিন দিন পর, এই সীমাবদ্ধ এলাকাটি দেশের প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয় এবং একে ‘ফরওয়ার্ড ডিফেন্স’ জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এছাড়া, পূর্বে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিকের আবাসস্থল একাধিক গ্রামে বাসিন্দাদের ফিরে না আসার নির্দেশ দেওয়া হয়।

    লেবাননের কর্মকর্তারা বলেন, ২ মার্চ থেকে লেবাননের ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়ে আসছে ইসরাইল। এরপর থেকে ইসরাইলি হামলায় দেশটিকে তিন হাজার ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০লাখের বেশি মানুষ ।

  • ইরান-লেবাননকে সহায়তা দেবে চীন

    ইরান-লেবাননকে সহায়তা দেবে চীন

    যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে ইরান ও লেবাননকে সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহায়তার জন্য বেইজিং মানবিক সহায়তা দেবে।

    চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান রাজধানী বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইরান ও লেবাননের যুদ্ধে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ে চীন গভীরভাবে মর্মাহত।’

    তিনি বলেন, “সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চীন ইরান ও লেবাননকে মানবিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে দেশ দুটির জনগণকে পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহায়তা করার পাশাপাশি অর্থনীতি ও জীবিকার উন্নয়নে সহযোগিতা করা হবে।”

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর এটি দ্বিতীয়বারের মতো তেহরানকে সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিল বেইজিং। এর আগে মার্চ মাসেও চীন ইরানের জন্য মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছিল।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সম্মত হয়েছে। এ চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে বলে জানা গেছে।

    চীনের এই সহায়তা ঘোষণাকে যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় দেশটির সক্রিয় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • মুখে ঘা কেন হয়?

    মুখে ঘা কেন হয়?

    মুখে ঘা কেন হয়

    স্বাস্থ্য ডেস্ক:

    মুখে ঘা বা আলসারের সমস্যায় কমবেশি অনেকেই ভোগেন। দেখতে ছোটখাটো সমস্যা মনে হলেও এটি দৈনন্দিন জীবনে বেশ অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একবার মুখে ঘা হলে কথা বলা, খাবার খাওয়া এমনকি প্রিয় ঝাল খাবার উপভোগ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে দ্রুত আরাম পেতে নানা ধরনের ঘরোয়া ও চিকিৎসা পদ্ধতির আশ্রয় নেন ভুক্তভোগীরা।

    সাধারণত মুখের ঘা এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায়। এ কারণে অনেকেই বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেন না। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবহেলা কখনো কখনো বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।

    ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অনিকেত মুলে জানিয়েছেন, মুখের ঘা সব সময় সাধারণ সমস্যা নাও হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটি শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা গুরুতর কোনো রোগ বা স্বাস্থ্যগত জটিলতার ইঙ্গিত বহন করে। তাই ঘন ঘন মুখে ঘা হওয়া বা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

    মুখে ঘা হওয়ার কারণ: মানসিক চাপ ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে মুখে এ ধরনের ঘা হয়ে থাকে। আবার খাবার খাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত গালে বা জিভে কামড় লাগা, অতিরিক্ত ঝাল বা মশলাযুক্ত খাবার খাওয়া, শরীরে পানির ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন এবং শরীরে ভিটামিন বা পুষ্টির কিছুটা অভাব থাকলেও এ ধরনের ঘা হয়ে থাকে।

    কোন কোন রোগের কারণে এমন হতে পারে: মুখের ভেতরের স্বাস্থ্য অনেক সময় শরীরের ভেতরের বিভিন্ন গুরুতর সমস্যার পূর্বাভাস দিয়ে থাকে। যেমন, বারবার মুখে ঘা হওয়া শরীরে ভিটামিন বি১২, আয়রন বা ফোলেটের মতো প্রয়োজনীয় উপাদানের অভাবের লক্ষণ হতে পারে। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার (ইমিউন ডিজঅর্ডার) সমস্যা থাকলে, মেটাবলিক কন্ডিশন বা অন্য কোনো ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ক্রনিক রোগের সংকেত হিসেবেও মুখে ঘা দেখা দিতে পারে।

    কখন চিকিৎসকের দ্বারস্থ হবেন: এ ব্যাপারে চিকিৎসক অনিকেত জানিয়েছেন- মুখের ঘা যদি দু-এক সপ্তাহের মধ্যে মিলিয়ে যায়, তাহলে ভিন্ন কথা। কিন্তু ঠিক না হয়ে অস্বাভাবিক কিছু দেখা গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়াও কিছু লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। যেমন- মুখের ঘা যদি দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে এবং তা যদি না কমে। আবার ঘা যদি বারবার হতে থাকে বা আকারে বেশ বড় হতে থাকে। ঘা থেকে রক্ত বের হতে থাকলে। এছাড়া ঘা হওয়ার পর যদি ক্রমশ মুখে ব্যথা, খাবার গিলতে অসুবিধা, কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া, জ্বর বা অতিরিক্ত ক্লান্তি দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।সঠিক চিকিৎসা: অনেকেই মুখে ঘা হলে ডাক্তারের কাছে না গিয়ে নিকটস্থ কোনো ফার্মেসি বা দোকান থেকে জেল বা ঘরোয়া টোটকা পালন করেন। এসবে সাময়িক সময়ের জন্য স্বস্তি মিললেও পরিপূর্ণ সুস্থতা পাওয়া যায় না। ফলে পরবর্তীতে সমস্যা জটিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ঘার স্থায়িত্বের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। ঘা ঠিক হওয়ার পরিবর্তে যদি বাড়তে থাকে বা জটিলতা দেখা দিতে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

  • ইরান যুদ্ধে আমেরিকা মাস্কের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে

    ইরান যুদ্ধে আমেরিকা মাস্কের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে

    ইরানের ওপর মার্কিন হামলায় ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ‘গ্রক’ ব্যবহার করা হয়েছিল। মার্কিন সরকারের একটি আইনি নথির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

    বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান ‘এক্সএআই’-এর একটি বিশাল ডেটা সেন্টারে ব্যবহৃত গ্যাস টারবাইন নিয়ে পরিবেশগত মামলার জবাবে মার্কিন বিচার বিভাগ এই তথ্য ফাঁস করে।

    যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, পরিবেশবাদী মামলার কারণে এই ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা হলে তা মার্কিন জাতীয়, অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে। কারণ এই এআই উদ্ভাবনটি সরাসরি মার্কিন যুদ্ধ বিভাগের সামরিক অভিযান পরিচালনা ও সহায়তায় ব্যবহৃত হচ্ছে।

    পেন্টাগনের এআই প্রধান ক্যামেরন স্ট্যানলি আদালতে হলফনামা দিয়ে জানিয়েছেন যে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর এআই-সহায়ক লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণী কর্মসূচি ‘প্রজেক্ট মেভেন’-এ ইতিমধ্যেই গ্রক ব্যবহার করা হচ্ছে।

    তিনি আরো জানান, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন এই প্রজেক্টের মেভেন স্মার্ট সিস্টেমের মাধ্যমে মার্কিন বাহিনী মাত্র ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে দুই হাজার আলাদা আলাদা লক্ষ্যবস্তুতে দুই হাজারেরও বেশি গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করতে সক্ষম হয়।

    এই অভিযানের পেছনে মাস্কের প্রযুক্তি ও বিশেষ ‘গ্রক গভ মডেল’ অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে স্বীকার করে পেন্টাগন কর্মকর্তা গ্রকের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

    অবশ্য এই প্রজেক্টটি শুরুতে অ্যানথ্রপিক কোম্পানির ‘ক্লদ’ মডেল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছিল। কিন্তু শতভাগ স্বয়ংক্রিয় হামলা চালাতে এবং মার্কিন নাগরিকদের ওপর ব্যাপক নজরদারিতে নিজেদের প্রযুক্তি ব্যবহারে অস্বীকৃতি জানালে গত ফেব্রুয়ারির শেষে অ্যানথ্রপিকের সাথে চুক্তি বাতিল করে মার্কিন সরকার।

    এরপর পেন্টাগন গুগল, ওপেনএআই ও এক্সএআই-এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলোর দিকে হাত বাড়ায়। যদিও গুগল ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শত শত কর্মী সামরিক বাহিনীর গোপন অভিযানে এআই ব্যবহারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাছাড়া মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই এআই প্রযুক্তিতে রূপান্তর পুরোপুরি সফল হতে সময় লাগছে। ফলে গত মার্চ মাসেও সরকার স্বীকার করতে বাধ্য হয় যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তখনো ‘ক্লদ’ মডেলের ব্যবহার করা হচ্ছিল।

    এদিকে, কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের অধিকার রক্ষা বিষয়ক সংগঠন এনএএসিপি ক্লিন এয়ার অ্যাক্ট লঙ্ঘনের দায়ে মাস্কের এক্সএআই-এর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, কোনো অনুমতি ছাড়াই ডজন খানেক টারবাইন চালিয়ে কৃষ্ণাঙ্গ প্রধান এলাকাগুলোতে ব্যাপক দূষণ ছড়ানো হচ্ছে । তবে এক্সএআই-এর দাবি, এই টারবাইনগুলো অস্থায়ী ও স্থানান্তরযোগ্য হওয়ায় এগুলো নীতিমালার আওতায় পড়ে না।

    উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইলন মাস্ক গত ফেব্রুয়ারিতে এক্সএআইকে তার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের সাথে যুক্ত করেন, যা গত ১২ জুন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও সম্পন্ন করেছে।

    এ/জেড

  • গরমে মাথাব্যথা বাড়ছে কেন?

    গরমে মাথাব্যথা বাড়ছে কেন?

    গরমের সময়ে মাথাব্যথা অনেকের জন্যই নিত্যদিনের সমস্যায় পরিণত হয়। আবহাওয়ার অস্থিরতা—কখনো তীব্র রোদ, আবার কখনো প্রবল বৃষ্টি—এ সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। কারও রোদে বেরোলেই মাথাব্যথা শুরু হয়, আবার কারও ক্ষেত্রে বৃষ্টিতে ভেজার পর একই উপসর্গ দেখা দেয়। ব্যথা কখনো মাথার এক পাশে, কখনো মাঝখানে, আবার কখনো একদিক থেকে অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তবে অনেকেই বুঝতে পারেন না, এ ব্যথার কারণ সাইনাস নাকি মাইগ্রেন।

    গরমকালে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সাইনাসের সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে প্রচণ্ড গরম ও রোদের প্রভাব মাইগ্রেনের আক্রমণও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই মাথাব্যথার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা জরুরি।

    চিকিৎসকদের মতে, গরমের সময় মাথাব্যথার পেছনে ডিহাইড্রেশনও একটি বড় কারণ হতে পারে। তবে সাইনাস বা মাইগ্রেনে ভোগা ব্যক্তিদের বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। সাইনাসের ক্ষেত্রে মাথাব্যথার পাশাপাশি নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, নাকে জ্বালাপোড়া, এমনকি কখনো নাক থেকে রক্ত পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এছাড়া দাঁত, চোখ ও চোয়ালের হাড়েও ব্যথা অনুভূত হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে অ্যালার্জিজনিত সমস্যা, ত্বকে চুলকানি বা সংক্রমণও দেখা দেয়। কিছু রোগীর জ্বরও হতে পারে।অন্যদিকে মাইগ্রেনের ব্যথার ধরন ভিন্ন। সাধারণত মাথার এক পাশেই তীব্র ও ধকধকে ব্যথা অনুভূত হয়। এই ব্যথা ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। শুধু মাথা নয়, ঘাড় ও মাথার পেছনের অংশেও অস্বস্তি বা যন্ত্রণা ছড়িয়ে পড়ে। এর সঙ্গে বমি বমি ভাব থাকতে পারে এবং আলো সহ্য করতে কষ্ট হয়। অনেক সময় চোখ খুলে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে। কারও ক্ষেত্রে চা-কফি, আবার কারও ক্ষেত্রে ধূমপান বা মদ্যপান মাইগ্রেনের ব্যথা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

  • জিম্বাবুয়েতে ট্রেন-বাস সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৯

    জিম্বাবুয়েতে ট্রেন-বাস সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৯

    জিম্বাবুয়ের দক্ষিণে একটি মালবাহী ট্রেনের সাথে বাসের সংঘর্ষে দুই শিশুসহ নয়জন নিহত এবং আরো ২৫ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    ন্যাশনাল রেলওয়েজ অফ জিম্বাবুয়ের মুখপাত্র অ্যান্ড্রু কানাম্বুরা সাংবাদিকদের বলেন, ‘চিরেডজি জেলার ট্রায়াঙ্গেলের এমবিজি রোডে এই সংঘর্ষটি ঘটে।

    জিম্বাবুয়ের জাতীয় পুলিশের মুখপাত্র পল নায়াথি বলেন, নিহতদের মধ্যে সাতজন প্রাপ্তবয়স্ক ও দুইজন শিশু রয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, পুলিশ এখনো তদন্ত করছে। শিগগিরই আরো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।

    এর আগে, মধ্য জিম্বাবুয়েতে স্কুলছাত্র বহনকারী একটি মিনিবাসে আগুন লেগে সাতজন নিহত হয়। এর এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এই দুর্ঘটনা ঘটল।

  • আর্জেন্টিনার পরের ম্যাচ কবে? প্রতিপক্ষ কারা?

    আর্জেন্টিনার পরের ম্যাচ কবে? প্রতিপক্ষ কারা?

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশনটা দারুণভাবে শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসি করেছেন হ্যাটট্রিক, গড়ে ফেলেছেন অজস্র রেকর্ড। সেই জয়ের পর এবার তাদের সামনে অপেক্ষা করছে গ্রুপ পর্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। আর্জেন্টিনার পরবর্তী ম্যাচ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে, আগামী ২২ জুন। গ্রুপ ‘জে’-র এই ম্যাচে মুখোমুখি হবে টুর্নামেন্টের দুই জয়ী দল। প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনা যেমন আলজেরিয়াকে হারিয়েছে, তেমনি অস্ট্রিয়াও জর্ডানকে ৩-১ গোলে পরাজিত করেছে। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে তারা শুরুতে এগিয়ে গিয়েছিল জর্ডানের বিপক্ষে। এরপর সমতা ফেরায় এশিয়ার দলটি। তবে শেষমেশ আর তাদের বাধা দিতে পারেনি একটি আত্মঘাতী গোল ও মার্কো আর্নাতোভিচের লক্ষ্যভেদে তারা সহজ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে। এই দলটির বিপক্ষেই নিজেদের শেষ ম্যাচটি খেলবে আকাশী সাদারা।বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ২৭ জুন, প্রতিপক্ষ জর্ডান। তবে তার আগে সব নজর এখন অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচে।

  • বাবাকে হারিয়েও বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল হুসেইন

    বাবাকে হারিয়েও বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল হুসেইন

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    জীবনে বহু ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন গল্প লিখলেন ইরাকের ৩০ বছর বয়সি স্ট্রাইকার আয়মান হুসেইন। বুধবার ভোর ৪টায় বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে শক্তিশালী নরওয়ের কাছে ১-৪ গোলে হারলেও দলের একমাত্র গোলটি তারই পায়ে। দল হেরে গেলেও ফুটবলের বড় মঞ্চে রেখে গেছেন কৃতিত্বের ছাপ। ইরাকের প্রধান কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড বলেন, ‘সে এমন একজন খেলোয়াড় যাকে বক্সের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন। আমি তার জন্য খুব খুশি ও গর্বিত।’

    হুসেইন এমন এক ইরাকে বেড়ে উঠেছেন, যেখানে অস্থির সংকটময় পরিস্থিতিতে ফুটবল হয়ে উঠত ঐক্যের সোপান। ইরাকি খেলোয়াড়রা ছিলেন আধা-পেশাদার— দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংকটের কারণে তাদের জর্ডানে গিয়ে টুর্নামেন্ট খেলতে হতো। ওই সংকটে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল জয় উদযাপন করতে গিয়ে আত্মঘাতী বোমা হামলায় কয়েক ডজন মানুষ মারা গিয়েছিল।

    ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত শিয়া-সুন্নি সংঘাতে দেশটিতে গৃহযুদ্ধের মতো রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছিল। এই কঠিন সময়েই তরুণ হুসেইন ব্যক্তিজীবনে দুঃখজনক ঘটনার শিকার হন। ২০০৮ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে তার বাবা— ইরাকি সেনাসদস্য— বাড়ি তৈরির সরঞ্জাম কিনতে বের হলে আল-কায়েদার গুলিতে নিহত হন। এর কয়েক বছর পর হুসেইনের বড় ভাইকে অপহরণ করা হয়— যাঁর খোঁজ আজও পাননি তারা।

    এক সাক্ষাৎকারে হুসেইন বলেন, ‘আমি পরিবারের দেখাশোনা করতে ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু আমার মা রাজি হননি।’ মায়ের উৎসাহেই শেষ পর্যন্ত ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো ইরাককে বিশ্বকাপে পৌঁছে দিয়েছেন গোলমেশিন হুসেইন। ২০১৫ সালে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া এই স্ট্রাইকার এ পর্যন্ত দেশের হয়ে ৩৪টি আন্তর্জাতিক গোল করেছেন।

    তবে বিশ্বকাপ প্রস্তুতিও নির্বিঘ্নে কাটেনি। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর শিকাগোর ও’হেয়ার বিমানবন্দরে প্রায় সাত ঘণ্টা আটক ও জিজ্ঞাসাবাদের শিকার হন তিনি। সেই হেনস্তার জবাব যেন দিলেন মাঠেই— নরওয়ের বিপক্ষে দুর্দান্ত হেডে গোলরক্ষক ওরিয়ান নাইল্যান্ডকে পরাস্ত করে।

    শূন্যে থাকা বলকে গোলে পরিণত করার নিখুঁত কারিগর এই হুসেইন। ইরাকের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তিনি ছিলেন দলের সেরা পারফর্মার। আন্তঃ-কনফেডারেশন প্লে-অফের মাধ্যমে টুর্নামেন্টে পৌঁছানোর পথে তিনি ১২টি গোল করেন— যা তার যেকোনো সতীর্থের করা গোলের দ্বিগুণেরও বেশি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে জ্বলে উঠেছিলেন হুসেইন— মার্চ মাসে গুয়াদালুপে বলিভিয়ার বিরুদ্ধে ২-১-এর জয়সূচক গোলটি তারই, যা ইরাকের বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা নিশ্চিত করে।

    এই গোলমেশিন যদি বর্তমান ফর্ম ধরে রাখতে পারেন, তবে গ্রুপ-আই থেকে পরের পর্বে যাওয়ার স্বপ্ন হয়তো এখনো বাঁচিয়ে রাখতে পারবে ইরাক— যদিও এই গ্রুপে ফ্রান্স এবং সেনেগালও রয়েছে।

  • বল দখলে হিরো, গোল করায় বিগ জিরো!

    বল দখলে হিরো, গোল করায় বিগ জিরো!

    সবার আগে একটা পরিসংখ্যান।
    পুরো ম্যাচে ৭৪ শতাংশ বলের দখল। ৭৬৪টি সফল পাস। প্রতিপক্ষের গোলমুখে আটটি শট। এই পরিসংখ্যান দেখে মনে হবে, ম্যাচটি সহজেই জেতার কথা ছিল স্পেনের।
    কিন্তু কী আফসোস! খেলার ফল কেপ ভার্দে ০, স্পেন ০। এই স্কোরশিটে কেপ ভার্দের নাম আগে থাকছে কারণ স্পেনের মতো শক্তিশালী দলকে গোটা ম্যাচে তারা আটকে রাখতে পেরেছে, এটাই বড় কৃতিত্ব। তাই এই সম্মান তাদের প্রাপ্য।
    বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট হারিয়ে স্পেন আরেকবার জানাল সেই চরম সত্যটা, ফুটবল শুধু বল দখলের খেলা নয়, জায়গা দখলেরও খেলা। আর ঠিক ওইখানেই হেরে গেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
    স্পেনের পয়েন্ট হারানোর কারণ একটাই—অতিরিক্ত বল দখল, কিন্তু রক্ষণ ভাঙার কোনো কার্যকর পরিকল্পনা নেই। টিকি-টাকা ছিল, যাকে বলে চোর-পুলিশ খেলা। কিন্তু ছিল না ভার্টিকাল আক্রমণ, গতির পরিবর্তন কিংবা ডিফেন্স চিরে ফেলার মতো পাস। ফলে পুরো ম্যাচে বল ঘুরেছে স্পেনের পায়ে, কিন্তু গোলের হুমকি তৈরি হয়নি।
    সবচেয়ে বিস্ময়কর পরিসংখ্যানটি স্প্যানিশ স্ট্রাইকার মিকেল ওইয়ারজাবালকে ঘিরে। ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিটে তিনি একবারও বল স্পর্শ করতে পারেননি। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে এমন ঘটনা আর ঘটেনি। এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত রেকর্ড নয়, বরং স্পেনের পুরো আক্রমণভাগের ব্যর্থতার প্রতীক।

    ট্যাকটিক্যাল ভুল কোথায়?
    সমস্যার শুরু স্পেনের আক্রমণ তৈরির পরিকল্পনায়। জানাই ছিল স্পেনের শক্তির কথা মাথায় রেখে কেপ ভার্দে শুরু থেকেই লো ব্লকে ডিফেন্স সাজাবে। দুই ডিফেন্স লাইনের মাঝখানে প্রায় কোনো ফাঁকা জায়গাই ছিল না। কিন্তু সেই ব্লক ভাঙার জন্য যে ধরনের দ্রুত ও ডিরেক্ট আক্রমণের ফুটবল দরকার, স্পেন তার ধারে কাছেও যেতে পারেনি। বরং তারা একের পর এক পাসের পর পাস খেলেছে। বল শুধু নিজেদের কাছেই রেখেছে। দৃশ্যটা এমন, সেন্টার-ব্যাক থেকে মিডফিল্ড, মিডফিল্ড থেকে ফুল-ব্যাক, আবার মাঝমাঠে—বল শুধু একবার উপরে যাচ্ছে আবার নিচে নামছে। কিন্তু প্রতিপক্ষের শেষ ডিফেন্স ভাঙার চেষ্টা তেমন চোখে পড়ল কই।

    প্রমাণ চান?
    জলজ্যান্ত প্রমাণ তো স্ট্রাইকার মিকেল ওইয়ারজাবাল বলে স্পর্শ না করার রেকর্ডেই লেখা! যেন তিনি চলে গিয়েছিলেন বিচ্ছিন্ন কোনো দ্বীপে! মাঠে ছিলেন, কিন্তু ম্যাচে ছিলেন না!
    স্পেনের কৌশলগত বিন্যাসই স্ট্রাইকারকে খেলার বাইরে ঠেলে দিয়েছে। এত বলের দখল থাকার পরও তাকে কার্যকরভাবে বল সরবরাহ করতে পারেনি গোটা দল। হয়তো পরের ম্যাচে স্ট্রাইকার পজিশনে না খেলে নিজেকে মিডফিল্ডার হিসেবে খেলানোর দাবি করতে পারেন!

    টিকি-টাকার পুরোনো রোগ
    এটি নতুন কোনো সমস্যা নয়। ২০১৪ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস ও চিলির বিপক্ষে বলের দখলে এগিয়ে থেকেও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল স্পেন। ২০১৮ বিশ্বকাপে স্বাগতিক রাশিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোয় এক হাজারের বেশি পাস খেলেও টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হয়। ২০২২ বিশ্বকাপে মরক্কোর বিপক্ষে ৭৭ শতাংশ বল দখলে রেখেও একটিও কার্যকর সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ফল, আবারও টাইব্রেকারে বিদায়।
    এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেও সেই একই চিত্র। বল আছে, পাস আছে, নিয়ন্ত্রণ আছে—কিন্তু নেই গোল। একসময় যে টিকি-টাকা স্পেনকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিল, এখন সেটিই যেন তাদের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা। বৃহত্তর অর্থে সমস্যা!
    – কী বুঝলেন?
    টিকি-টাকা শুধু বিশ্বকাপ জেতায় না, প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায়ও করে দেয়!
    বল নয়, দরকার ভাঙন
    আধুনিক ফুটবলে শুধু বলের দখলই সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়। প্রয়োজন গতি, দিক পরিবর্তন, শেষ ডিফেন্স লাইন ভাঙা পাস, থার্ড ম্যান রান এবং ডিফেন্সের পেছনের ফাঁকা জায়গায় আক্রমণ। এই মৌলিক বিষয়গুলোই অনুপস্থিত ছিল স্পেনের খেলায়। স্পেনের ৭৬৪টি পাসের বড় অংশই পরিণত হয়েছে অর্থহীন পরিসংখ্যানে।
    কেপ ভার্দে ভালোই জানত, স্পেন বল রাখার কৌশলই নেবে। তাই তারা ধৈর্য ধরে নিজেদের পোস্টে লো ব্লক কষে অপেক্ষা করেছে। স্পেনকে পাশের পাস খেলতে দিয়েছে, কিন্তু বক্সের সামনে এক ইঞ্চি জায়গাও দেয়নি। স্পেন শট নিয়েছে কিন্তু সেগুলো কেপ ভার্দের ডিফেন্সের দেয়ালে লেগে ফেরত এসেছে। আর যে কয়েকটি পোস্টে যায় সেখানে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে সেগুলো ঠেকিয়ে দেন কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনয়া। গোলশূন্য ড্র ম্যাচের নায়ক যে তিনিই।
    ‘ছোট দল’ বলে কিছু নেই
    ম্যাচ শেষে হতাশ হলেও ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করেছেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে-‘আমাদের এই ম্যাচ জেতা উচিত ছিল। অনেক সুযোগ তৈরি করেছি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সতেজতা এবং নিখুঁত ফিনিশিংয়ের অভাব ছিল। পরের ম্যাচের আগে আরো উন্নতি করতে হবে’।
    কেপ ভার্দের প্রশংসাও করেন স্প্যানিশ কোচ। বললেন, ‘ওরা খুব লো ব্লকে খেলেছে। শারীরিকভাবেও ভীষণ শক্তিশালী ছিল তারা। ফুটবলে এখন আর কোনো ছোট দল বলে কিছু নেই।’

    স্পেনের জন্য সতর্কবার্তা
    গ্রুপ পর্বে স্পেনের সামনে এখন সৌদি আরব ও উরুগুয়ে। নকআউটে যেতে হলে শুধু বলের দখল নয়, গোল করার পথও খুঁজে বের করতে হবে। নইলে টিকি-টাকার পুরোনো অভিশাপ আবারও স্পেনের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ করে দিতে পারে। এই বিশ্বকাপে টপ ফেভারিটের মর্যাদা নিয়েই এসেছে স্পেন। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই হতাশাজনক পারফরম্যান্সে দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি এখন তারা।
    বিশ্বফুটবল অনেকটাই বদলে গেছে। আধুনিক ফুটবলে আনুভূমিক পাসের চেয়ে ভার্টিকাল পাসের গুরুত্বই বেশি। বল ধরে রাখার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙা। স্পেন যদি পরের ম্যাচে সেই বাস্তবতার পথে না হাঁটে তাহলে…‘অদিওস কোপা দেল মুন্ডো’।
    ওটা স্প্যানিশ শব্দ। বাংলায় বিদায় বিশ্বকাপ!

  • মাটির নিচে ফুরিয়ে যাচ্ছে পানি, শুকাচ্ছে বরেন্দ্র

    মাটির নিচে ফুরিয়ে যাচ্ছে পানি, শুকাচ্ছে বরেন্দ্র

    উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ বরেন্দ্রভূমি ধীরে ধীরে ভয়াবহ পানি সংকটের দিকে যাচ্ছে। যে ভূগর্ভস্থ পানি কয়েক দশক ধরে এই অঞ্চলের কৃষিকে টিকিয়ে রেখেছিল, সেই পানির স্তর এখন দ্রুত নেমে যাচ্ছে। অনেক এলাকায় গভীর নলকূপে আর আগের মতো পানি উঠছে না। কোথাও কোথাও ২০০ ফুটেরও বেশি নিচে নেমে গেছে পানির স্তর।

    খাওয়ার পানির জন্য গ্রামবাসীকে শত শত মিটার দূরে যেতে হচ্ছে। সেচের অভাবে অনাবাদি হয়ে পড়ছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। এই পটভূমিতে আজ বুধবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব মরূকরণ ও খরা প্রতিরোধ দিবস।

    দ্রুত নামছে পানির স্তর
    বরেন্দ্র অঞ্চলে তুলনামূলক কম ও অনিয়মিত বৃষ্টি হয়। কয়েক দশকে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করে কৃষি উৎপাদনে বিপ্লব ঘটেছে। আশির দশক থেকে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) হাজার হাজার গভীর নলকূপ স্থাপন করে। ফলে একসময় খরাপ্রবণ এই অঞ্চলে বোরো ধান, গম, ভুট্টা ও বিভিন্ন সবজির আবাদ শুরু হয়। তবে সেই সাফল্যের পেছনে তৈরি হয়েছে বড় সংকট। অতিরিক্ত পানি উত্তোলন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং বৃষ্টি কমে যাওয়ার কারণে ভূগর্ভস্থ পানি প্রতিস্থাপন হচ্ছে না।

    পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ সালে বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির স্তর ছিল ২৬ থেকে ৩০ ফুট নিচে। ১৯৯৪ সালে তা নেমে যায় ৩৫ ফুটে। ২০০৪ সালে ৫১ ফুট এবং ২০১৩ সালে ৬০ ফুটে পৌঁছে। বর্তমানে বহু এলাকায় পানির স্তর ৮০ থেকে ৯০ ফুটেরও নিচে। কোথাও কোথাও ১১৩ ফুটের বেশি খনন করেও পানি মিলছে না।

    সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বরেন্দ্র অঞ্চলের ৮২ শতাংশের বেশি এলাকা পানি সংকটে রয়েছে। উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক, গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশন এবং ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের যৌথ গবেষণায় বলা হয়েছে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দু’দশকের মধ্যে এই অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির মজুত সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছাবে।

    পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় সরকার গত বছর রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫ উপজেলার ৪৭টি ইউনিয়নের এক হাজার ৪৬৯টি মৌজাকে ‘অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন’ এলাকা ঘোষণা করে। এ ছাড়া ৮৮৪টি মৌজাকে ‘উচ্চ পানি সংকটাপন্ন’ এবং এক হাজার ২৪০টি মৌজাকে ‘মধ্যম মাত্রার পানি সংকটাপন্ন’ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে। সরকারি হিসাবে এসব এলাকার আয়তন প্রায় দুই হাজার ৭৮৭ বর্গকিলোমিটার। সেখানে প্রায় ২১ লাখ পাঁচ হাজার মানুষ পানি সংকটে ভুগছে। পানি আইন-২০১৩ অনুযায়ী, এসব এলাকায় খাওয়ার পানি ছাড়া অন্য কোনো কাজে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নলকূপ স্থাপনেও আরোপ করা হয়েছে বিধিনিষেধ। বাস্তবে অনেক এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানি তোলা অব্যাহত রয়েছে

    পানি সংকট এখন শুধু কৃষির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বহু গ্রামে নিরাপদ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। রাজশাহীর তানোরের উচ্চাডাঙ্গা গ্রামে শত শত গভীর নলকূপ অচল হয়ে পড়েছে। ডাসকো ফাউন্ডেশন এক হাজার ৪০০ ফুট গভীর পর্যন্ত খনন করেও ওই গ্রামের অনেক জায়গায় পর্যাপ্ত পানির স্তর পায়নি।

    বাড়ছে সেচ ব্যয়, কমছে উৎপাদন
    পানি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষিতে। রাজশাহীর কৃষানি শব্দরানী বলেন, আগে এক ঘণ্টা সেচের জন্য ৯০ টাকা লাগত, এখন লাগে ১২০ টাকা। সারের দাম বেড়েছে, শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে, তবে ফলন কমেছে। সরকারি নির্দেশনায় সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৪০০ গভীর নলকূপের অনুমতি থাকলেও বাস্তবে ব্যক্তিমালিকানায় হাজার হাজার শ্যালো ও গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, তিন জেলায় ৬২ হাজার শ্যালো টিউবওয়েল ও প্রায় চার হাজার গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। এসব নলকূপের পানি তোলার সক্ষমতা প্রায় ২৮ হাজার গভীর নলকূপের সমান।
    বাংলাদেশে ব্র্যাকের পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি কর্মসূচির প্রধান মোহাম্মদ আলী বলেন, জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে শুধু নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা বাড়ালেই হবে না। এর জন্য পানিসাশ্রয়ী সেচব্যবস্থা, জলবায়ু সহনশীল ফসল, জলবায়ু সহায়ক কৃষি এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ করতে হবে।

    বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. আবুল কাসেম বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের বড় কারণ ব্যক্তিমালিকানাধীন নলকূপের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, এলাকায় সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৪০০টি নলকূপ থাকার কথা। এর মধ্যে বিএমডিএ পরিচালনা করছে আট হাজার ৪০০টি। তবে ব্যক্তিমালিকানায় পরিচালিত নলকূপের সংখ্যা প্রায় ২৮ হাজারে পৌঁছেছে।

    সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির প্রতিস্থাপন নিশ্চিত করতে আমরা একটি প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে দিয়েছিলাম। বর্তমান সরকার বাস্তবায়ন করলে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

  • হালান্ডের জোড়া গোলে নরওয়ের বড় জয়

    হালান্ডের জোড়া গোলে নরওয়ের বড় জয়

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ২৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে দুর্দান্ত শুরু করল নরওয়ে। বস্টনে মঙ্গলবার ‘আই’ গ্রুপের ম্যাচে ইরাককে ৪-১ গোলে হারিয়েছে তারা। জোড়া গোল করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তারকা স্ট্রাইকার এরলিং হালান্ড। বিশ্বকাপে এটিই তার প্রথম গোল, আর প্রথম ম্যাচেই দুটি গোল করে স্মরণীয় করে রাখলেন অভিষেক।

    ম্যাচের ২৯ মিনিটে আন্তোনিও নুসার চমৎকার পাস থেকে ডেভিড মোলার উলফের বাড়ানো বলে কাছ থেকে জালে বল জড়িয়ে নরওয়েকে এগিয়ে দেন হালান্ড। তবে ১০ মিনিটের মধ্যেই সমতায় ফেরে ইরাক। আইমেন হুসেইনের হেডে ম্যাচে ফিরে আসে এশিয়ার দলটি।

    প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে আবারও এগিয়ে যায় নরওয়ে। ইরাক গোলরক্ষক জালাল হাসানের ভুলে গোলটি হলো। ধীরগতিতে তার দিকে আসা ব্যাকপাস ক্লিয়ার করতে দেরি করেন তিনি। তার ক্লিয়ারেন্স হালান্ডের পায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়। সহজ সেই উপহার লুফে নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের গোলসংখ্যা ৫৭-তে নিয়ে যান হালান্ড, মাত্র ৫১ ম্যাচেই।

    দ্বিতীয়ার্ধেও লড়াই চালিয়ে যায় ইরাক। ইব্রাহিম বায়েশের শট শেষ মুহূর্তে ব্লক হয়। আলি আল-হামাদি অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। আকাম হাশিমের দুর্দান্ত ভলিও বার ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।

    এরপর ৭৬ মিনিটে মার্টিন ওডেগার্ডের কর্নার থেকে হেডে নরওয়ের তৃতীয় গোল করেন বদলি ডিফেন্ডার লিও ওস্টিগার্ড। তাতেই জয়ের পথ অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায় স্কান্ডেনেভিয়ান দেশটির।

    হালান্ডের সামনে হ্যাটট্রিকের সুযোগও এসেছিল। কিন্তু এবার জালাল হাসান দারুণ সেভ করে তাকে হ্যাটট্রিক বঞ্চিত করেন।

    অবশ্য ম্যাচের শেষ গোলেও অবদান রাখেন নরওয়েজিয়ান তারকা। তার হেড আইমেন হুসেইনের গায়ে লেগে জালে ঢুকে। রেফারি জানান এটি আত্মঘাতী গোল। এই গোলেই ৪-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে নরওয়ে।
    এই জয়ে গোল ব্যবধানে ‘আই’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে নরওয়ে। সমান তিন পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফ্রান্স, যারা নিজেদের প্রথম ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে। ২২ জুন নিউ জার্সিতে গ্রুপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হবে নরওয়ে ও ফ্রান্স।
    ১৯৯৮ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপ খেলছে নরওয়ে।

  • এমবাপ্পের রেকর্ডে ফ্রান্সের উড়ন্ত শুরু

    এমবাপ্পের রেকর্ডে ফ্রান্সের উড়ন্ত শুরু

    ক্রীড়া ডেস্ক

    প্রথমার্ধে ছিল হতাশা, দ্বিতীয়ার্ধে ছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নসুলভ জবাব। বিরতির পর দুর্দান্ত ফুটবল খেলেই ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স। জোড়া গোল করে ফ্রান্সের হয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও গড়েছেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। সবমিলিয়ে ফ্রান্সের জার্সি গায়ে এই তারকার গোলসংখ্যা এখন ৫৮।

    নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে প্রথম ৪৫ মিনিটে ছন্দহীন ছিল দিদিয়ের দেশমের দল। এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিসে ও দেজিরে দুয়ে—চার তারকাই বারবার নিচে নেমে বল নিতে বাধ্য হচ্ছিলেন। আক্রমণে ধার ছিল না। পুরো প্রথমার্ধে ফ্রান্সের কাটল যেন গুটিয়ে যাওয়া ফুটবল খেলে।

    অন্যদিকে সেনেগালই ছিল বেশি বিপজ্জনক। নিকোলাস জ্যাকসনের শট পোস্টে লাগে, ইসমাইলা সারও বিরতির আগে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। সেই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারার মাশুলই দিতে হয়েছে আফ্রিকার দলটিকে।

    দ্বিতীয়ার্ধে কৌশল বদলান দেশম। অলিসেকে মাঝমাঠে এনে দেম্বেলেকে উইংয়ে পাঠাতেই পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। অলিসের নিখুঁত থ্রু-পাস থেকে এমবাপ্পে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন।

    এরপর বেঞ্চ থেকে নেমে ব্যবধান বাড়ান ব্র্যাডলি বারকোলা। অতিরিক্ত সময়ে ইব্রাহিম এমবায়ে একটি গোল শোধ করলেও শেষ কথা বলেন এমবাপ্পেই। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শটে জোড়া গোল পূর্ণ করেন তিনি।
    এই জোড়া গোলে ফ্রান্সের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন এমবাপ্পে।
    প্রথমার্ধে নিষ্প্রভ, দ্বিতীয়ার্ধে অপ্রতিরোধ্য—ফ্রান্স যেন এক ম্যাচেই দেখাল তাদের দুই রূপ। তবে শেষ ৪৫ মিনিটের ফুটবলই জানিয়ে দিল, এবারের বিশ্বকাপে শিরোপার অন্যতম বড় দাবিদার কেন তারা।

  • মেসির হ্যাটট্রিকে  আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত শুভসুচনা

    মেসির হ্যাটট্রিকে আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত শুভসুচনা

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ক্যানসাস সিটি স্টেডিয়ামে আলজেরিয়ার বিপক্ষে দাপুটে পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করল আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে ভর করে তারা আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ জে-তে শক্ত বার্তা দিয়ে রাখল।

    ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। প্রথম দিকেই মেসি গোলের দেখা পান, তবে সহকারী রেফারির পতাকায় সেই উদযাপন থেমে যায় অফসাইডের কারণে। একই সময়ে আলজেরিয়াও একটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেও তাদের গোলও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। ফলে শুরু থেকেই ম্যাচে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই দলই আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেলতে থাকে।

    এরপর ১৭তম মিনিটে আসে সেই মুহূর্ত। মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পলের কাছ থেকে বল পেয়ে আলজেরিয়ার রক্ষণভাগ ভেঙে এগিয়ে যান লিওনেল মেসি। বক্সের বাইরে জায়গা তৈরি করে বাঁ পায়ের নিখুঁত ও বাঁকানো শটে জাল খুঁজে নেন। লুকা জিদান সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও সেই শট আটকাতে পারেননি। এই গোলেই আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায় এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে নিয়ে নেয়।

    প্রথমার্ধে আলজেরিয়া কিছুটা গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও আর্জেন্টিনার চাপ অব্যাহত থাকে। মাঝমাঠে বল দখল ও দ্রুত পাসিংয়ের মাধ্যমে তারা একের পর এক আক্রমণ তৈরি করতে থাকে। তবে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছিল না। অন্যদিকে আলজেরিয়া রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি মাঝে মাঝে পাল্টা আক্রমণে গেলেও আর্জেন্টিনার ডিফেন্সকে খুব একটা চাপে ফেলতে পারেনি।

    দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি আরও বাড়ে। ৬০তম মিনিটে আর্জেন্টিনা তাদের দ্বিতীয় গোল পায়। এমিলিয়ানো মার্তিনেজের লং বল থেকে শুরু হওয়া আক্রমণে ম্যাক অ্যালিস্টার বক্সের বাইরে থেকে শট নেন। সেই শট আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান ঠিকভাবে সামলাতে ব্যর্থ হন। ঠিক সেই মুহূর্তে বক্সেই দাঁড়িয়ে থাকা মেসি আলতো টোকায় সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।

    এরপর ৭৬তম মিনিটে আসে ম্যাচের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত। নিকোলাস গঞ্জালেসের সঙ্গে দারুণ সমন্বয়ে আক্রমণ গড়ে আবারও বল পান মেসি। বক্সের বাইরে জায়গা তৈরি করে জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। এই গোলের মাধ্যমে ম্যাচ কার্যত শেষ হয়ে যায় এবং আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত হয়ে যায়।

    এই ম্যাচটি লিওনেল মেসির জন্য বিশেষ এক অধ্যায় হয়ে থাকবে। এটি ছিল তার আর্জেন্টিনার হয়ে ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই তিনি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক করেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ১৬ গোল নিয়ে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসের পাশে বসেন।

    এছাড়াও মেসি এই ম্যাচে একাধিক রেকর্ড গড়েছেন। তিনি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সে হ্যাটট্রিক করা খেলোয়াড় হয়েছেন, বিশ্বকাপে ছয়টি ভিন্ন আসরে খেলা প্রথম ফুটবলার হিসেবে নাম লিখিয়েছেন এবং বিশ্বকাপে তার মোট গোল অবদান ২৪-এ পৌঁছে পেলের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছেন। টানা পাঁচ বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার ধারাও তিনি বজায় রেখেছেন।

    সবমিলিয়ে, আর্জেন্টিনার এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়, বরং এটি ছিল মেসির হাত ধরে নতুন এক ইতিহাস লেখা রাত। বয়স ৩৮ হলেও তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন, বড় মঞ্চে তিনি এখনো অপ্রতিরোধ্য।

  • রায়পুরায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ যুবক নিহত, আহত ১০

    রায়পুরায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ যুবক নিহত, আহত ১০

    নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে আবারো দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে অনিক (২০) নামে এক যুবক নিহত হন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত কয়েকজন আহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোরে উপজেলার চরাঞ্চলের নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় স্থানীয় নাজিম উদ্দিন গ্রুপ ও আলাল মুন্সি গ্রুপের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    নিহত অনিক দড়িগাঁ পূর্বপাড়া এলাকার ওসমান মেম্বারের ছেলে এবং নাজিম উদ্দিন গ্রুপের সমর্থক বলে জানা গেছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে এলাকা ছাড়া ছিলেন আলাল মুন্সি ও জবা মেম্বারের অনুসারীরা। মঙ্গলবার ভোরে স্পিডবোটযোগে ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের নিয়ে তারা নিলক্ষা ইউনিয়নে প্রবেশ করে নাজিম উদ্দিনের সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ দ্রুত হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ভোর থেকে শুরু হয়ে কয়েক দফায় সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলতে থাকে এ সংঘর্ষ। এসময় প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলিতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন অনিক। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে স্বজনরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন বকুল মিয়ার ছেলে রাজু (২৮) এবং অহিদ মিয়ার ছেলে মোস্তফা (৬০)। এছাড়া আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে অন্য আহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

    খবর পেয়ে পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

    উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ ডিসেম্বর একই বিরোধকে কেন্দ্র করে নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে কুয়েতপ্রবাসী মামুন মিয়া (২৫) নিহত হন। ওই ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছিলেন। নিহত মামুনও নাজিম উদ্দিন গ্রুপের সমর্থক ছিলেন। ঘটনার পর প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, ওই সংঘর্ষের জের ধরেই আলাল গ্রুপের লোকজনের এলাকায় ফেরাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবারের এ রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটেছে।

    রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশি অভিযান চলছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

    রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার ঘোষ বলেন, “পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”

  • বৈদ্যুতিক পাখায় ধান ওড়াতে গিয়ে প্রাণ হারালেন কৃষক

    বৈদ্যুতিক পাখায় ধান ওড়াতে গিয়ে প্রাণ হারালেন কৃষক

    জামালপুরের বকশীগঞ্জে বৈদ্যুতিক পাখায় ধান ওড়াতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রুপন মিয়া (৩৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের সূর্যনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত রুপন মিয়া সূর্যনগর পূর্ব পাড়া গ্রামের হযরত আলীর ছেলে।

    সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মির্জা সোহেল জানান, আজ দুপুর ১২টার দিকে নিজ বাড়ির আঙিনায় স্ট্যান্ড ফ্যান দিয়ে ধান ওড়ানোর সময় অসাবধানতাবশত বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে পড়ে। পরে পরিবারের লোকজন তাকে গুরুতর অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

  • ময়মনসিংহে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাইভেটকার ছিটকে পড়ল ধানক্ষেতে

    ময়মনসিংহে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাইভেটকার ছিটকে পড়ল ধানক্ষেতে

    ময়মনসিংহ নগরীতে অনুমোদনবিহীন রেলক্রসিংয়ে উঠে পড়া একটি প্রাইভেটকার ট্রেনের ধাক্কায় ছিটকে পাশের ধানক্ষেতে পড়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

    মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর পৌনে ২টার দিকে নগরীর সুতিয়াখালী রেলক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের সাথে প্রাইভেটকারটির সংঘর্ষ হয়।

    ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতার হোসেন জানান, সুতিয়াখালী এলাকায় একটি অনুমোদনবিহীন রেলক্রসিং দিয়ে বরযাত্রী বহনকারী একটি প্রাইভেটকার পারাপারের চেষ্টা করলে ট্রেন প্রাইভেটকারটিকে ধাক্কা দেয়। এতে প্রাইভেটকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের ধানক্ষেতে ছিটকে পড়ে।

    তিনি আরো জানান, দুর্ঘটনায় প্রাইভেটকারটির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ট্রেনটিরও তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

    এদিকে দুর্ঘটনার পরও ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।