অর্থ ও বাণিজ্য

  • ব্যাংকিংয়ের ১৪ সেবায় নতুন ফি আদায়ের প্রস্তাব

    ব্যাংকিংয়ের ১৪ সেবায় নতুন ফি আদায়ের প্রস্তাব

    দেশের ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে ১৪টি নতুন খাতে ফি বা চার্জ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। বর্তমানে যেসব সেবা বিনামূল্যে দেওয়া হয় বা কোনো ধরনের চার্জ নেই, সেসব সেবাতেও ফি আরোপ করতে চায় ব্যাংকগুলোর সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)। একই সঙ্গে বিভিন্ন সেবায় বিদ্যমান চার্জও বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এবিবি এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদন হলে আমানতকারী, ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও ঋণগ্রহীতাদের ব্যাংকিং ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাবে।

    এবিবির প্রস্তাবে দেখা গেছে, বর্তমানে ১৪টি সেবায় কোনো ধরনের চার্জ নেই, সেসব সেবায় নতুন করে ফি আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ, ঋণ প্রক্রিয়াকরণ, ঋণপত্র (এলসি), ব্যাংক গ্যারান্টি, ডিমান্ড ড্রাফট, পে-অর্ডার, সলভেন্সি সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন সেবার বিদ্যমান চার্জও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

    ১৪ খাতে চার্জ আরোপের প্রস্তাব

    প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমানে নিষ্ক্রিয় (ডরম্যান্ট) ব্যাংক হিসাব পুনরায় চালু করতে কোনো ফি নেওয়া হয় না। এ সেবার জন্য ৫০০ টাকা ফি নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে এবিবি। চলমান ঋণের ক্ষেত্রে প্রতি বছর বকেয়া ঋণের সর্বোচ্চ ১ শতাংশ, তবে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ ব্যবস্থাপনা বা মনিটরিং ফি নেওয়ার সুযোগ চাওয়া হয়েছে। আমদানিকারকদের জন্য বায়ার্স ক্রেডিটের ব্যবস্থা করে দেওয়ার বিপরীতে ১ শতাংশ ফি, বড় করপোরেট ঋণ ও ট্রেড ফাইন্যান্সে ডিল স্ট্রাকচারিং ফি হিসেবে ১ শতাংশ এবং ঋণের সুদের বাইরে অতিরিক্ত ঝুঁকি প্রিমিয়াম বাবদ আরো ১ শতাংশ ফি নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি নগদ বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রির ক্ষেত্রে ২ শতাংশ কমিশন আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।

    বর্তমানে ব্যাংক কাউন্টার থেকে যতবার ইচ্ছা নগদ অর্থ উত্তোলনে কোনো চার্জ নেই। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, মাসে তিনবার পর্যন্ত উত্তোলন বিনামূল্যে করা যাবে। চতুর্থ থেকে দশমবার পর্যন্ত প্রতিবার ১০০ টাকা এবং দশমবারের বেশি উত্তোলনে প্রতিবার ৩০০ টাকা ফি প্রস্তাব করা হয়। ব্যবসায়িক হিসাব থেকেও বর্তমানে নগদ উত্তোলনে কোনো সীমা বা চার্জ নেই। এবিবির প্রস্তাব অনুযায়ী, মাসে ২০ বার পর্যন্ত উত্তোলন বিনামূল্যে করা যাবে। ২১ থেকে ৫০ বার পর্যন্ত প্রতিবার ১০০ টাকা এবং ৫০ বারের বেশি উত্তোলনে প্রতিবার ১৫০ টাকা ফি প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে ব্যবসায়ীদের লেনদেন ব্যয় বাড়বে।

    এছাড়া ঋণপত্র (এলসি) খোলার আবেদন গ্রহণে ১০০ টাকা, বিদেশি ঋণপত্রের নথি প্রক্রিয়াকরণে সর্বোচ্চ ২০ মার্কিন ডলার এবং স্থানীয় ঋণপত্রে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা চার্জ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। নথি অনুমোদন বা সত্যায়নের জন্য সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা এবং সক্রিয় ঋণপত্র বাতিল করতে ৫০০ টাকা ফি নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে বছরে একটি ও ছয় মাসে একটি ব্যালেন্স কনফারমেশন সার্টিফিকেট বিনামূল্যে দেওয়া হয়। নতুন প্রস্তাবে এ সেবার জন্য ৩০০ টাকা ফি নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে ডিমান্ড লোন ও কন্টিনিউয়াস লোন মেয়াদপূর্তির আগেই পরিশোধ করলে কোনো চার্জ দিতে হয় না। এবিবি এ ক্ষেত্রে অবশিষ্ট ঋণের ১ শতাংশ হারে আগাম নিষ্পত্তি ফি আরোপের প্রস্তাব করেছে।

    এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কোনো গ্রাহকের অনুকূলে ফাইল অনুমোদনের ক্ষেত্রে খরচ আদায়ের সুযোগও চাওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, রিটেইল গ্রাহকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ দেড় হাজার টাকা এবং করপোরেট গ্রাহকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চার্জ নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

    যেসব খাতে বিদ্যমান চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব

    নতুন চার্জ আরোপের পাশাপাশি বর্তমানে যেসব সেবায় ফি রয়েছে, সেগুলোর হারও বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে এবিবি। বর্তমানে সঞ্চয়ী হিসাবে গড় স্থিতি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে কোনো হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ফি দিতে হয় না। এবিবি এ সীমা কমিয়ে ৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করেছে। একই সঙ্গে ৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত গড় স্থিতির ক্ষেত্রে মাসে ১৫০ টাকা এবং ২৫ হাজার টাকার বেশি হলে ৩০০ টাকা ফি নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।

    ঋণ খাতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ঋণ প্রক্রিয়াকরণ ফি সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ। তা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। একইভাবে ঋণ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনের ফি বর্তমান শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে সিএমএসএমই ও কৃষি ঋণকে এ সীমার বাইরে রাখার সুপারিশ রয়েছে। ঋণ আগাম পরিশোধের ক্ষেত্রেও চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে অবশিষ্ট ঋণের শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ হারে চার্জ নেওয়া হলেও তা বাড়িয়ে ২ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

    এছাড়া ঋণপত্র (এলসি) সংশোধন ফি সর্বোচ্চ ৭৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে দেড় হাজার টাকা, ব্যাংক গ্যারান্টি কমিশনের সর্বোচ্চ হার শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং ন্যূনতম কমিশন ১ হাজার টাকা থেকে ২ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তাছাড়া সলভেন্সি সার্টিফিকেটের ফি ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা, চেক রিটার্ন ফি ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা, স্টপ পেমেন্ট ফি ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা এবং পে-অর্ডার ইস্যু ফি সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। ব্যালেন্স কনফারমেশন সার্টিফিকেটের জন্যও ৩০০ টাকা ফি নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    যা বলছে এবিবি

    বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো চিঠিতে এবিবি বলেছে, ব্যাংকিং সেবার পরিধি বৃদ্ধি, পরিচালন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি, প্রযুক্তিনির্ভর সেবার সম্প্রসারণ এবং গ্রাহকসেবা বজায় রাখার ক্রমবর্ধমান ব্যয় বিবেচনায় বর্তমান চার্জ কাঠামো পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন। তাই প্রস্তাবিত ‘শিডিউল অব চার্জেস’ দেশের সব ব্যাংকের জন্য সর্বোচ্চ চার্জসীমা হিসেবে অনুমোদনের অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে পরিচালন ব্যয়, প্রযুক্তি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি বছর সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ সমন্বয়ের সুযোগ রাখার প্রস্তাবও দিয়েছে এবিবি।

  • সরকারি ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৮৮ হাজার কোটি

    সরকারি ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৮৮ হাজার কোটি

    রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। খেলাপি ঋণ কমিয়ে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার।

    রবিবার (১২ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় তথা প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৩তম কার্যদিবসে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান।

    স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত ৩১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি ডাটাবেইজে রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি ব্যাংকের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব প্রস্তুত করা হয়েছে।

    ব্যাংকগুলো হলো—অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, জনতা ব্যাংক পিএলসি, রূপালী ব্যাংক পিএলসি, সোনালী ব্যাংক পিএলসি, বেসিক ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে খেলাপি ঋণের উচ্চ হার কমানো জরুরি। এ লক্ষ্য বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

    তিনি জানান, স্বল্পমেয়াদে খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকগুলোর জন্য শ্রেণিকৃত ঋণ রেজল্যুশন স্ট্র্যাটেজি সংক্রান্ত গাইডলাইন প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন হালনাগাদের কাজ চলছে।

    মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় ব্যাংকিং খাতে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড (আইএফআরএস-৯) বাস্তবায়ন, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণের জামানত মূল্যায়ন, কৃষিঋণ পুনঃতফসিল নীতিমালা হালনাগাদ, খেলাপি ঋণ আদায়ে কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা এবং নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারীদের জন্য বিদ্যমান প্রণোদনা নীতিমালা উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একজন ঋণগ্রহীতার জন্য পুরো ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ গ্রহণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, অর্থঋণ আদালতের বিচারক প্যানেলে অভিজ্ঞ ব্যাংকার অন্তর্ভুক্তি, রিটের মাধ্যমে ঋণ আদায় কার্যক্রম দীর্ঘসূত্রতা ঠেকানো এবং বেসরকারি খাতে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠনে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

    অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকগুলোর কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় ‘আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সংশোধনী আইন প্রণয়ন এবং নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট আইন সংশোধনের মাধ্যমে চেক জালিয়াতি ও চেক ডিজঅনার মামলার বিচার আরও কার্যকর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    তার ভাষ্য, শক্তিশালী আইনি কাঠামো, স্বচ্ছ রেজল্যুশন প্রক্রিয়া এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার মাধ্যমে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে।

  • পাট নেবে পাকিস্তান, আসবে খাদ্য পণ্য

    পাট নেবে পাকিস্তান, আসবে খাদ্য পণ্য

    দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্কের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। উভয় দেশের মধ্যে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল এবং পাটের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও কৃষিপণ্য আমদানি-রপ্তানি সহজ করতে সরকারি পর্যায়ে একটি বড় ধরনের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে যাচ্ছে।


    সম্প্রতি বাংলাদেশের শিল্প মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব পাকিস্তান (টিসিপি)-এর চেয়ারম্যান আসিম আজিম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে একটি পাকিস্তানি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরকালে এই বৈঠকে অংশ নেয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির এবং ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।


    পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন-এর সাথে আলাপকালে টিসিপি চেয়ারম্যান আসিম আজিম সিদ্দিকী জানান, পাকিস্তান বাংলাদেশে চাল, মসুর ডাল, ছোলা, সার, ভোজ্যতেল এবং অন্যান্য কৃষিপণ্য রপ্তানি করতে অত্যন্ত আগ্রহী। অন্যদিকে, পাকিস্তানের শিল্প খাতে বাংলাদেশের উন্নত মানের পাট এবং পাটজাত পণ্যের বিপুল চাহিদা রয়েছে।তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আইনি কাঠামো মেনে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে বাংলাদেশে পণ্য সরবরাহে সহায়তা করার প্রস্তাবও দিয়েছে পাকিস্তান। বৈঠকে উভয় পক্ষই পাকিস্তান-বাংলাদেশ যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে এবং বাণিজ্য প্রতিনিধি দল বিনিময় বাড়াতে সম্মত হয়েছে।

    টিসিপি চেয়ারম্যান বলেন, “আমাদের এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদার করা, খাদ্য সরবরাহে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং শিল্প খাতের অংশীদারিত্বকে সম্প্রসারিত করা।”বৈঠকে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য শক্তিশালী বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা গেলে দুই দেশের জন্যই বিনিয়োগ ও ব্যবসার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

    মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তৈরি, শিল্পায়ন ত্বরান্বিতকরণ এবং বাণিজ্য সহজীকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছে। এই সংস্কার প্রক্রিয়া দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে আরও প্রসারিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারসহ দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বব্যাপী সরবরাহ চেইনের বর্তমান চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে এই উদ্যোগটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। পাকিস্তানের উদ্বৃত্ত কৃষি উৎপাদন বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান খাদ্যের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। বিশেষ করে চাল এবং ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে এটি বাংলাদেশের আমদানির উৎসকে আরও বহুমুখী করবে। বিপরীতভাবে, বাংলাদেশের পাটজাত পণ্য পাকিস্তানের টেক্সটাইল ও প্যাকেজিং শিল্পের জন্য সাশ্রয়ী ও কার্যকর সমাধান হতে পারে।

    প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকটি সই হলে দুই দেশের মধ্যকার আমলাতান্ত্রিক ও পদ্ধতিগত জটিলতা অনেকটাই দূর হবে। সরকারিভাবে সরাসরি বাণিজ্য চ্যানেল চালু হওয়ার ফলে লেনদেন আরও মসৃণ ও দ্রুত হবে, যা বাজারে পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    খাদ্য ও কৃষি খাতের এই সমঝোতা কেবল পণ্য আদানপ্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ এখন বাণিজ্যকে আরও সাশ্রয়ী ও দক্ষ করতে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ে কাজ করবে। তা হলো- পণ্যের ওপর শুল্কের হার কমিয়ে এনে আমদানি-রপ্তানি খরচ হ্রাস করা, দুই দেশের গুণগত মানদণ্ডের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা যাতে পণ্য খালাসে সময় কম লাগে এবং সরাসরি নৌ বা বিমান যোগাযোগের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা আরও উন্নত করা।

    এই উদ্যোগটি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। উভয় দেশই এখন তাদের প্রথাগত সম্পর্কের বাইরে গিয়ে কৃষি এবং হালকা শিল্পে একটি স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহ চেইন গড়ে তুলতে চায়। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই সমঝোতা স্মারকটি আনুষ্ঠানিকভাবে সই হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দুই দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ভলিউম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে।

  • বাস্তবে মিলছে না বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সিট সুবিধা

    বাস্তবে মিলছে না বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সিট সুবিধা

    ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ কমানো এবং আটকে থাকা অর্থ ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি এককালীন ‘এক্সিট’ সুবিধা চালু করলেও বাস্তবে এর সুফল পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর একটি বড় অংশ এখনো আবেদন গ্রহণ, সুদ মওকুফ কিংবা নিষ্পত্তির বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থানে আসেনি।

    অনেক ব্যাংক ঝুঁকি, পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন, আর্থিক ক্ষতি এবং ভবিষ্যতে খেলাপির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে এ সুবিধা কার্যকরে অনীহা দেখাচ্ছে। এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিন।

    অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু সুদ মওকুফ বা এককালীন নিষ্পত্তির সুযোগ দিলেই হবে না। দীর্ঘদিনের মন্দা, উচ্চ সুদের চাপ, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং নগদ অর্থের সংকটে কয়েক শ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।

    এসব প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করতে সহজ শর্তে নতুন অর্থায়নের ব্যবস্থা না করলে খেলাপি ঋণ আদায়ও সম্ভব হবে না।

    গত ২৯ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সার্কুলার জারি করে জানায় ৩০ জুন ২০২৬ ভিত্তি তারিখে মন্দ ও ক্ষতিজনক মানে শ্রেণিকৃত ঋণগুলো এককালীন ‘এক্সিট’ সুবিধার আওতায় আনা যাবে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন এবং ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে এ সুবিধা দেওয়া হবে। যোগ্য ঋণগ্রহীতাকে এককালীন পুরো বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে হবে এবং প্রতিটি আবেদন ব্যাংক পৃথকভাবে বিবেচনা করবে।

    তবে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে যেসব ঋণ সম্পূর্ণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে, সেগুলো এ সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি কৃষিঋণ এবং কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের ঋণও এ সুবিধার আওতায় আসবে না। ব্যাংকাররা বলছেন, বহুদিন ধরে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ আদায়ে এই উদ্যোগ কার্যকর হতে পারে। এতে ব্যাংকগুলো নগদ অর্থ ফেরত পাবে এবং নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতাও বাড়বে। তবে কোনো গ্রাহককে সুবিধা দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই ও তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের জটিলতার কথা তুলে ধরছেন ব্যাংকাররা। তাদের দাবি, সার্কুলারে বেসরকারি ব্যাংকের ঋণে সুদ মওকুফের বিষয়টি স্পষ্ট নয়। প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রতি ত্রৈমাসিকে ঋণের ওপর সুদ যোগ হয়ে তা নতুন মূলধনের (প্রিন্সিপাল) অংশে পরিণত হয়। বছরের পর বছর এভাবে সুদ মূলধনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, যা ব্যাংক আয় হিসেবে দেখিয়েছে। সেই আয়ের ওপর সরকারকে করও পরিশোধ করা হয়েছে এবং শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশও দেওয়া হয়েছে। ফলে ইতোমধ্যে আয় হিসেবে গণ্য হওয়া সুদের অংশ এখন মওকুফ করা বা ফেরত দেওয়া ব্যাংকের পক্ষে বাস্তবে সম্ভব নয় বলে মনে করছেন অনেক ব্যাংকার। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের যুক্তি, বর্তমানে অধিকাংশ খেলাপি শিল্প উদ্যোক্তার হাতে এককালীন ঋণ পরিশোধের মতো অর্থ নেই। অর্থ থাকলে তারা আগে নিজেদের বন্ধ কারখানাই চালু করতেন। তাদের মতে, ব্যবসা সচল না হলে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাও তৈরি হবে না। তাই ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল থেকে নতুন ঋণের ব্যবস্থা করা হলে কারখানা চালুর মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়বে।

    শিল্প পুলিশ ও উদ্যোক্তা সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট, উচ্চ সুদহার, অতিরিক্ত উৎপাদন ব্যয় এবং অর্থায়নের অভাবে ৫ শতাধিক শিল্পকারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এসব কারখানা বন্ধ হওয়ার ফলে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন। শুধু তৈরি পোশাক খাতেই প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। অন্যান্য খাতের হিসাব যুক্ত করলে এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি হবে। এ পরিস্থিতিতে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর জন্য সরকার ২০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রাক-অর্থায়ন স্কিম গঠন করেছে। ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য ব্যবহার করে পরিচালিত এ তহবিলের লক্ষ্য হলো আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ এবং কার্যকর মূলধনের সংকটে থাকা শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানকে নতুন অর্থায়ন দেওয়া, যাতে তারা পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে পারে। এ বিষয়ে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বন্ধ কারখানার মালিকদের হাতে টাকা থাকলে তারা কারখানাই চালু করত। তাই শুধু এককালীন সুদ মওকুফ করে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দিলে সমস্যার সমাধান হবে না। উৎপাদন ও কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল থেকে সহজ শর্তে নতুন ঋণ দিতে হবে। এই তহবিল থেকে অর্থায়ন পেলে অনেক বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান আবার উৎপাদনে ফিরতে পারবে এবং ব্যাংকের খেলাপি ঋণও ধীরে ধীরে আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

    মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী এককালীন এক্সিট সুবিধার আবেদন এলে সেগুলো যথাযথভাবে যাচাইবাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসারেই গ্রাহককে এককালীন ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই এককালীন এক্সিট সুবিধার নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো ব্যাংকগুলো যেন কোনো ধরনের জটিলতায় না পড়ে গ্রাহকদের এ সুবিধা দিতে পারে। পাশাপাশি যেসব উদ্যোক্তা বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করতে চান, তারা ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল থেকেও ঋণ নিতে পারবেন। প্রয়োজনে এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, সেটিও বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যবেক্ষণ করবে।

    গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আটকে থাকা ঋণের অর্থ উদ্ধার, ব্যাংকিং খাতে তারল্য বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণসংক্রান্ত মামলার জট কমাতে এটি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে কিছু নীতিগত বিষয় ও প্রায়োগিক জটিলতা রয়েছে। সেগুলোর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হলে নীতিমালাটি আরও কার্যকর হবে বলে তিনি মনে করেন।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, খেলাপি ঋণ কমাতে এককালীন এক্সিট সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও শুধু ঋণ নিষ্পত্তির সুযোগ দিয়ে কাক্সিক্ষত ফল মিলবে না। বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরুজ্জীবিত করতে দ্রুত নতুন অর্থায়ন নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও ব্যাংক ঋণ আদায় তিন ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

  • শিক্ষার চেয়ে ঋণ পরিশোধেই ব্যয় হচ্ছে বেশি অর্থ: ইউনেস্কো

    শিক্ষার চেয়ে ঋণ পরিশোধেই ব্যয় হচ্ছে বেশি অর্থ: ইউনেস্কো

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বিশ্বের নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর শিক্ষা ব্যবস্থা এক চরম সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার শিক্ষা হলেও, এই দেশগুলোতে এখন শিক্ষার পেছনে ব্যয়ের চেয়ে ঋণের সুদ পরিশোধেই বেশি অর্থ চলে যাচ্ছে।

    জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।

    ইউনেস্কোর ‘পলিসি পেপার অন রিস্টোরিং ফিসক্যাল স্পেস টু সেভ এডুকেশন’ শীর্ষক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী এখন মানসম্মত শিক্ষা লাভের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মূল কারণ, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ঋণ পরিশোধের পেছনে সরকারি ব্যয়ের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে। ফলে এসব দেশের সরকার সামাজিক উন্নয়নের চেয়ে ঋণের কিস্তি শোধ করাকে বেশি অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য হচ্ছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে শিক্ষাব্যয়ের ৩ দশমিক ৩ গুণ ব্যয় হচ্ছে ঋণ পরিশোধে। বর্তমানে গ্লোবাল সাউথের ১১৩টি দেশে ঋণ পরিশোধের ব্যয় শিক্ষার পেছনে মোট সরকারি বরাদ্দকে ছাড়িয়ে গেছে। এসব দেশে বিশ্বের প্রায় ৬১০ কোটি মানুষ বসবাস করে।

    ২০১৫ সালে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জনকারী বাংলাদেশ বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে চূড়ান্তভাবে গ্র্যাজুয়েশন বা মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। অবশ্য সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সরকারের পক্ষ থেকে এই গ্র্যাজুয়েশন প্রক্রিয়াটি আরও তিন বছর পিছিয়ে দেয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করা হয়েছে। উন্নয়নের এই যাত্রাপথের মধ্যেই দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে একটি বড় উদ্বেগের জায়গা তৈরি করেছে ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিশোধের চাপ, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে শিক্ষা খাতের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বরাদ্দে।

    চলতি অর্থবছরের বাজেট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষায় বরাদ্দের চেয়ে ঋণ পরিশোধেই সরকারের তিন গুণেরও বেশি অর্থ ব্যয় হবে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। অপরদিকে সরকারি তথ্য ও প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে নতুন করে কোনো ঋণ না নিলেও কেবল আগের নেয়া ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ বাবদ প্রায় ৪ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে সরকারকে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সালামের মতে, সরকার যখন বিশাল অংকের বৈদেশিক বা অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিশোধে ব্যস্ত থাকে, তখন স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য খাতগুলোতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হয় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে। তবে তিনি মনে করেন, ঋণ পরিশোধের চাপ সামলাতে গিয়ে শিক্ষার বাজেট কমানো কোনো বাধ্যতামূলক বিষয় নয়। সরকার চাইলে অন্য কোনো খাতের খরচ কমিয়েও শিক্ষার বরাদ্দ পুরোপুরি বজায় রাখতে পারে। কারণ শিক্ষা খাতের ব্যয়টি হলো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। এর মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে রাষ্ট্র তার অর্থনৈতিক অবস্থানের সহজে উন্নয়ন ঘটাতে পারে।

    বর্তমানে সরকার শিক্ষাকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবেই বিবেচনা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার যদি রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায়, তাহলে ভবিষ্যতেও এ অগ্রাধিকার অব্যাহত রাখতে হবে। ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে যদি কোনো খাতে ব্যয় কমাতেই হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে শিক্ষা খাতকে এ ধরনের বিবেচনার বাইরে রাখতে হবে।

    ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের পর থেকে গড়ে ঋণ পরিশোধের জন্য অতিরিক্ত ১ ডলার বরাদ্দের বিপরীতে প্রকৃত শিক্ষা ব্যয় দশমিক ২৮ ডলার করে

    হ্রাস পেয়েছে। এ নেতিবাচক প্রভাবের কারণে ২০১৫ সালের পর থেকে বিশ্বের অধিকাংশ দেশই তাদের শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়াতে ব্যর্থ হয়েছে। ইউনেস্কোর প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বের ১৩৭টি দেশ আন্তর্জাতিকভাবে সম্মত শিক্ষা অর্থায়নের ন্যূনতম মানদণ্ড অর্জন করতে পারছে না। ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি-৪ অর্জনের জন্য নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো বর্তমানে বার্ষিক ৯৭ বিলিয়ন ডলারের স্থায়ী অর্থায়ন ঘাটতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।

    ইউনেস্কোর মতে, এ সংকটের পেছনে আরেকটি বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে অভ্যন্তরীণ ঋণ। ঐতিহাসিকভাবে কেবল বৈদেশিক ঋণ নিয়ে আলোচনা হলেও বর্তমানে অভ্যন্তরীণ ঋণ শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য আরো বেশি ক্ষতিকর হয়ে উঠেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অভ্যন্তরীণ ঋণের মেয়াদ সাধারণত কম হয় এবং সুদের হার থাকে অত্যন্ত চড়া। বর্তমানে মোট ঋণ পরিশোধের প্রায় ৬২ শতাংশই হলো অভ্যন্তরীণ ঋণ এবং ১০১টি দেশ তাদের মোট ঋণ পরিশোধের অর্ধেকেরও বেশি অর্থ ব্যয় করছে দেশের ভেতরের বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ঋণদাতাদের পেছনে।অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতার সবচেয়ে বড় অংশটি যাবে অভ্যন্তরীণ খাতের ট্রেজারি বন্ড ও বিলের মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ পরিশোধে। এর পরিমাণ ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে একক অর্থবছরে সর্বোচ্চ। এ সময় প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র ম্যাচিউর বা মেয়াদোত্তীর্ণ হবে। এর বাইরে কেবল ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদ আগামী অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণের কিস্তি (আসল) বাবদ পরিশোধ করতে হবে ৩৭৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে সামনের অর্থবছরে সরকারের ঋণ পরিশোধের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৪ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকায়।

  • পাকিস্তানের জনসংখ্যা বৃদ্ধি তৈরি করছে ‘নীরব সংকট’

    পাকিস্তানের জনসংখ্যা বৃদ্ধি তৈরি করছে ‘নীরব সংকট’

    পাকিস্তানের দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যা এখন আর কেবল আদমশুমারির পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং জাতীয় অর্থনীতির জন্য একটি মারাত্মক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, টেকসই নগর পরিকল্পনা, পরিবেশবান্ধব সবুজ জ্বালানি এবং প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ না নিলে দেশটির আগামী প্রজন্ম বিশুদ্ধ বাতাস, নিরাপদ পানি এবং সুস্থ জীবনযাত্রার অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

    আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান বর্তমানে তীব্র জনসংখ্যা বৃদ্ধির সংকটে থাকা অন্যতম শীর্ষ দেশ। বিপুল জনসংখ্যার চাপে দেশটির সীমিত সম্পদের ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়ছে, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য এবং জনস্বাস্থ্যকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসংখ্যার চাহিদা এবং প্রাপ্ত সম্পদের মধ্যকার এই ক্রমবর্ধমান ব্যবধান পাকিস্তানকে একটি ‘নীরব সংকটে’র দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সুপরিকল্পিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না থাকলে খাদ্য, পানি, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের সংকট ভবিষ্যতে আরও তীব্র আকার ধারণ করবে।

    শহরগুলোর দ্রুত ও অপরিকল্পিত বিস্তার প্রধান শহর এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোর ওপর অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। কোনো সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া আবাসন প্রকল্প গড়ে ওঠায় তীব্র যানজট, গণপরিবহনের সংকট এবং বায়ু দূষণ দেশটিতে চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    একই সঙ্গে শহুরে জনগোষ্ঠী পানির অভাব, দুর্বল ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং সাশ্রয়ী ও সুপরিকল্পিত আবাসনের তীব্র সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে।

    পরিকাঠামো ও নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির গতির চেয়ে শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি বেশি হওয়ায় এই সমস্যাগুলো দিন দিন আরও প্রকট হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি কেবল একটি অর্থনৈতিক সংকট নয়, এটি পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি।

    অতিরিক্ত যানবাহন, নির্মাণকাজ, বর্জ্য উৎপাদন এবং জ্বালানির উচ্চ চাহিদা বায়ু মান নষ্ট করছে এবং পরিবেশের অবক্ষয় ঘটাচ্ছে। পানি সংকট এবং দুর্বল স্যানিটেশন ব্যবস্থার কারণে ঘনবসতিপূর্ণ ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকাগুলোতে রোগব্যাধির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে।

    এদিকে, বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বক্তৃতায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি দেশটির তরুণ প্রজন্মকে মূল্যবান জাতীয় সম্পদ এবং দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

    তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির জন্য তরুণদের শিক্ষা, পেশাগত দক্ষতা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে বিনিয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি। জনসংখ্যাভিত্তিক এই সম্ভাবনাকে পাকিস্তানের জাতীয় সমৃদ্ধি এবং অর্থপূর্ণ মানব উন্নয়নে রূপান্তর করতে হবে।

  • অমুসলিম রাষ্ট্রে নিষিদ্ধ হলো ইসরাইলি পণ্য

    অমুসলিম রাষ্ট্রে নিষিদ্ধ হলো ইসরাইলি পণ্য

    আয়ারল্যান্ডের পার্লামেন্ট ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমের অবৈধ ইহুদি বসতি এলাকায় উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার একটি বিল অনুমোদন করেছে। টাইমস অব ইসরাইলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

    এই বিল পাসের মাধ্যমে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইসরাইলের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোর বিষয়ে কঠোর বাণিজ্যিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল ডাবলিন। বিলটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আয়ারল্যান্ডের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে পাঠানো হবে।

    ‘ইসরাইলি বসতি’ শীর্ষক এই বিলের আওতায় ইসরাইলের স্বীকৃত সীমানার বাইরের আবাসিক, কৃষি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে উৎপাদিত পণ্য আয়ারল্যান্ডে প্রবেশ করতে পারবে না। আয়ারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম দেশ হিসেবে এমন নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করলেও গত অক্টোবরে স্পেন এ ধরনের আমদানি বিধিনিষেধের একটি প্যাকেজ বাস্তবায়ন করেছে।

    অর্থনৈতিক দিক থেকে আয়ারল্যান্ডের এই আমদানি নিষেধাজ্ঞা মূলত প্রতীকী এবং এর প্রভাব খুবই সামান্য। কারণ, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ওই সব অঞ্চল থেকে আয়ারল্যান্ডে আমদানিকৃত ফল, শাকসবজি ও কাঠের মতো পণ্যের মোট বাণিজ্য মূল্য এক মিলিয়ন ইউরোর (১১ লাখ ডলার) চেয়েও কম ছিল।

    তবে ডাবলিনের বিরোধী রাজনীতিকরা বিলটির সমালোচনা করে বলেছেন, এতে সেবাক্ষেত্রের বাণিজ্যকে অন্তর্ভুক্ত না করে শুধু পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় এটি যথেষ্ট কার্যকর হবে না। এর জবাবে সরকার যুক্তি দিয়েছে যে, সেবাক্ষেত্রে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আইনি দিক থেকে পণ্যের চেয়ে বেশি জটিল, তাই আইনটি কার্যকর করার আগে এটিকে পুরোপুরি নিশ্ছিদ্র করা প্রয়োজন।

    ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলার পর গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের অন্যতম কট্টর সমালোচক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে আয়ারল্যান্ড। ২০২৪ সালে তারা একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। এর পরপরই ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার আয়ারল্যান্ডের ‘চরম ইসরাইলিবিরোধী নীতির’ অভিযোগ তুলে ডাবলিনে ইসরাইলের দূতাবাস বন্ধের নির্দেশ দেন।

  • আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার

    আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার

    বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। এই বর্ধিত বাণিজ্যিক লেনদেনকে সচল রাখতে ওঠানামা করছে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার।

    দেশীয় বাজারে মার্কিন ডলারসহ আন্তর্জাতিক প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ওঠানামা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী আজকের (১১ জুলাই ২০২৬) মুদ্রা বিনিময় হারের একটি সার্বিক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো—

    মুদ্রার নাম বাংলাদেশি টাকা

    ইউএস ডলার : ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা
    ইউরো : ১৪০ টাকা ২২ পয়সা
    পাউন্ড : ১৬৪ টাকা ৪৪ পয়সা
    কানাডিয়ান ডলার : ৮৬ টাকা ৬৭ পয়সা
    অস্ট্রেলিয়ান ডলার : ৮৫ টাকা ১১ পয়সা
    চাইনিজ ইয়েন : ১৮ টাকা ০৪ পয়সা
    সিঙ্গাপুরি ডলার : ৯৪ টাকা ৯২ পয়সা
    ভারতীয় রুপি : ১ টাকা ২৮ পয়সা

    মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত : ৩০ টাকা ২৯ পয়সা
    সৌদি রিয়াল : ৩২ টাকা ৮৬ পয়সা
    কাতারি রিয়াল : ৩৩ টাকা ৮৪ পয়সা
    কুয়েতি দিনার : ৩৯৮ টাকা ১৬ পয়সা
    আরব আমিরাতের দিরহাম : ৩৩ টাকা ৫৭ পয়সা

    *মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে।

    আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিং এবং প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহ ইতিবাচক থাকায় খোলাবাজার ও অফিশিয়াল রেটের মধ্যকার ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। বিগত এক মাসে ডলারের গড় বিনিময় হার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে, যা আমদানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক।

  • বস্ত্র খাতে বেড়েছে প্রণোদনা

    বস্ত্র খাতে বেড়েছে প্রণোদনা

    বস্ত্র খাতের ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের জোরালো দাবি ও দেনদরবারের মুখে অবশেষে বড় ধরনের সুখবর দিল সরকার। দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত তৈরি পোশাকশিল্পের প্রতি বিশেষ নজর দিয়ে এবার নগদ সহায়তার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হচ্ছে।

    রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পে দেশি সুতা বা কাপড় ব্যবহারে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তার হার বর্তমানের ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

    বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও অভ্যন্তরীণ নানান চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা বস্ত্র খাতের জন্য সরকারের এ সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ইতিবাচক ও সময়োপযোগী একটি বড় প্রণোদনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদেরা। সরকারের এ নতুন সিদ্ধান্তের ফলে দেশি বস্ত্রকলগুলো যেমন চাঙা হবে, তেমন তৈরি পোশাক রপ্তানিতেও নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চূড়ান্ত নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রপ্তানিকারকদের এ নতুন সুযোগ ও বাড়তি প্রণোদনা নেওয়ার আগে অবশ্যই দেশি উৎস থেকে সুতা বা কাপড় সংগ্রহের সুনির্দিষ্ট প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে। নতুন এ বর্ধিত সুবিধা চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। এর আগে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে জরুরি সাক্ষাৎ করে।

    বৈঠকে বিটিএমএ নেতারা দেশি সুতা ও কাপড়ের ব্যবহার উৎসাহিত করতে এবং এ খাত টিকিয়ে রাখতে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য নগদ সহায়তা বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করাসহ মোট ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। ব্যবসায়ীদের যুক্তি ছিল, দেশি সুতা ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে দেশের অভ্যন্তরীণ শিল্প আরও শক্তিশালী এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

    বস্ত্র খাতের অতীত পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আড়াই বছর আগেও স্থানীয় সুতা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানির বিপরীতে ৪ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেওয়া হতো। তবে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এবং আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এ সহায়তার হার কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছিল। এর মাত্র ছয় মাস পর সেই সহায়তা আরও কমিয়ে মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়।

    ফলে দেশি সুতা ও কাপড়ের ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।

  • হামলা-সমঝোতা ব্যর্থ-এখন কি করবেন ট্রাম্প?

    হামলা-সমঝোতা ব্যর্থ-এখন কি করবেন ট্রাম্প?

    গত ১৭ জুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে ইরানের সঙ্গে একটি প্রাথমিক চুক্তি করেন। এই চুক্তির আগে তিনি ও তার সহযোগীরা বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি আবার জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে আবার তেল বিক্রি করার সুযোগ দেবে, যাতে ইরান শত শত কোটি ডলার উপার্জন করতে পারে।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ধারণা ছিল, বহু বছর ধরে নিষেধাজ্ঞায় থাকা ইরান যখন আবার তেল বিক্রি করে বিপুল অর্থ পাবে, তখন তারা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার এই সুবিধা হারাতে চাইবে না এবং শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে।

    ট্রাম্পের ধারণা ছিল, বহু বছর ধরে নিষেধাজ্ঞায় থাকা ইরান যখন আবার তেল বিক্রি করে বিপুল অর্থ পাবে, তখন তারা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার এই সুবিধা হারাতে চাইবে না এবং শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে।

    তিনি বলেছিলেন, ‘এটা ইরানের জন্য খুব ভালো চুক্তি। তারা বারবার হামলার শিকার হয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।’ কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।

    চুক্তির এক মাসও পার হয়নি, এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালির কাছে তিনটি জাহাজে হামলা হয়েছে। এরপর ট্রাম্প ইরানকে তেল বিক্রির যে অনুমতি দিয়েছিলেন, তা বাতিল করে দেন। যুক্তরাষ্ট্র দুই রাত ধরে ইরানের ১৭০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়। এখন দুই দেশের মধ্যে নতুন আলোচনা হওয়ারও কোনো সময়সূচি ঠিক করা নেই।

    অর্থাৎ, ট্রাম্পের আগের দুটি পরিকল্পনা—বোমা হামলা ও চুক্তি—দুটিই ব্যর্থ হয়েছে। এখন তার নতুন কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, সেটিও পরিষ্কার নয়।

    এখন যুক্তরাষ্ট্র আবার আগের মতো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক হামলার পথেই ফিরছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ‘যদি তারা জাহাজে হামলা করে, তাহলে আমরা তাদের ওপর কঠোর হামলা চালাব।’

    কিন্তু অনেক বিশেষজ্ঞ প্রশ্ন তুলছেন—আগেও যখন নিষেধাজ্ঞা ও হামলা কাজ করেনি, এবার কেন করবে? সাবেক মার্কিন কূটনীতিক রিচার্ড হাস বলেন, ‘আমরা এখন এমন এক অবস্থায় আছি, যেখানে কোনো ভালো কৌশল দেখা যাচ্ছে না।’

    তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যত বেশি ইরানে হামলা করছে, ইরান তত বেশি উপসাগরের তেল ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা করছে। আর যুক্তরাষ্ট্র এখন এসব স্থাপনা পুরোপুরি রক্ষা করতে পারছে না।

    তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রথমে ভেবেছিলেন বোমা মেরে ইরানের সরকার বদলে ফেলবেন। পরে ভেবেছিলেন, বোমা মেরে ইরানকে আত্মসমর্পণ করানো যাবে। কিন্তু কোনোটাই সফল হয়নি।

    এরপর ট্রাম্প ইরানকে তেল বিক্রির সুযোগ দিয়ে সম্পর্ক ভালো করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেটিও ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের ভেতরেও এখন বড় ধরনের রাজনৈতিক বিভক্তি রয়েছে।

    সাম্প্রতিক হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তার জানাজায় অনেক মানুষ সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির দিকে পাথর ছোড়া হয় এবং তাকে ‘সমঝোতাকারী’ বলে গালি দেওয়া হয়। এমনকি তার মৃত্যু কামনা স্লোগানও দেওয়া হয়।

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকেও বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে নিরাপত্তারক্ষীরা সরিয়ে নিতে বাধ্য হন।

    তবে ট্রাম্প সাধারণত এসব অভ্যন্তরীণ বিভক্তির কথা বলেন না। তিনি এমনভাবে কথা বলেন যেন ইরানের সব সিদ্ধান্ত একদল নেতা সহজেই নিয়ে থাকে। এখনো যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় এবং ভবিষ্যতে আবার আলোচনা হতে পারে।

    কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যাগুলো শুধু প্রযুক্তিগত নয়; এগুলো পুরোপুরি রাজনৈতিক। তাই প্রশাসনের নিচের দিকের কর্মকর্তারা এগুলোর সমাধান করতে পারবেন না।

    সবচেয়ে বড় বিরোধের একটি হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। ইরান তাদের পারমাণবিক জ্বালানি রেখে দিতে পারবে, নাকি তা অন্য কোথাও পাঠাতে হবে- নতুন চুক্তিতে তা পরিষ্কারভাবে বলা হয়নি।

    ২০১৫ সালের ওবামা সরকারের চুক্তিতে ইরান তাদের পারমাণবিক জ্বালানির ৯৭ শতাংশ ছেড়ে দিয়েছিল। ট্রাম্প চান না এমন কোনো চুক্তি করতে, যাতে তিনি ওবামার চেয়ে কম কিছু পান।

    আরেকটি বড় সমস্যা হলো হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। চুক্তিতে লেখা ছিল, ইরান সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে যাতে জাহাজ নিরাপদে চলতে পারে।

    কিন্তু দুই দেশ এই কথার অর্থ আলাদাভাবে বুঝেছে। যুক্তরাষ্ট্র ভেবেছিল, ইরান শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। ইরান ভেবেছে, তারা ঠিক করবে কোন পথে জাহাজ চলবে এবং ভবিষ্যতে সেই পথ ব্যবহার করতে অর্থও নেবে।

    এরপর মার্কিন নৌবাহিনী ওমানের কাছের অন্য একটি পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল করাতে শুরু করলে ইরান কিছু জাহাজে গুলি চালায়। ফলে এখন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল অনেক কমে গেছে।এতে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে ঘোষণা করেন যে এই চুক্তি এখন আর কার্যকর নয়।

    তবে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, চুক্তি ভঙ্গ করেছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র নয়। কারণ তাদের মতে, চুক্তি কার্যকর থাকবে কি না, তা ইরানের আচরণের ওপর নির্ভর করছিল। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আবার আগের জায়গায় ফিরে এসেছে।

    ট্রাম্প বুঝতে পারছেন, শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। অন্যদিকে, ইরানিও বিশ্বাস করেন যে কূটনৈতিক আলোচনা শুধু সময়ক্ষেপণের একটি উপায়; পরে আবার যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল হামলা চালাতে পারে।

  • দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি, কেন বেশি

    দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি, কেন বেশি

    চলতি অর্থবছরেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি গড় মূল্যস্ফীতি থাকবে। এমন পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এডিবি বলছে, এ বছর বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি হতে পারে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

    এডিবির এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক জুলাই সংস্করণে মূল্যস্ফীতির এই পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি। সেখানে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের জন্য ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর গড় মূল্যস্ফীতির যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তাতে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি হবে।

    এডিবি বলছে, দেশে পেট্রোলিয়াম, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের প্রভাব পরিবহন, পরিষেবা ও অন্যান্য ভোক্তাপণ্যের দামে পড়তে থাকবে, যা মূল্যস্ফীতি কমার গতি ধীর করবে।

    বাংলাদেশে টানা তিন মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি আছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সবশেষ হিসাবে, গত জুনে মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। গত মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির পরে অর্থাৎ আগের ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি।

    এমন পরিস্থিতিতে এডিবির পূর্বাভাস হলো চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৮ শতাংশ।

    ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়। এসব দেশ পরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেও বাংলাদেশ সেভাবে পারেনি। টানা চার বছর ধরে বাংলাদেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে।

    প্রতি মাসে মূল্যস্ফীতি হিসাব করা হয়। ১২ মাসের মূল্যস্ফীতি দিয়ে পুরো বছরের গড় চিত্র দেখানো হয়। এতে ওই বছরের মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি কেমন ছিল, তা জানা যায়।

    মূল্যস্ফীতি জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলে

    মূল্যস্ফীতি বাড়লে সীমিত ও মধ্য আয়ের মানুষের কষ্ট বাড়ে। আয় না বাড়লে তাদের সংসার চালানের খরচ বেড়ে যায়। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়েছে। ফলে বাজারে শাকসবজি, মাছ ও মাংসের দাম বেড়েছে। তবে চালের দামও বাড়তি।

    গত জুনে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৬ ও জাতীয় গড় মজুরি হার ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। এর মানে হলো, যত মূল্যস্ফীতি হয়েছে, এর চেয়ে মজুরি কম বেড়েছে। ফলে বাজার থেকে পণ্য কিনতে ভোগান্তি বাড়ছে।

    মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধি বা আয় বৃদ্ধি কম হলে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ে। প্রকৃত আয় কমে যায়। মূল্যস্ফীতির তুলনায় আয় না বাড়লে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয় কিংবা খাবার, কাপড়চোপড়, যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে কাটছাঁট করতে হয়।

    অন্য দেশে মূল্যস্ফীতি কত

    এডিবির পূর্বাভাস অনুসারে, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের পরে পাকিস্তানে সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি হতে পারে। ওই দেশে মূল্যস্ফীতি হতে পারে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। আফগানিস্তানের মূল্যস্ফীতি হতে পারে সাড়ে ৫ শতাংশ। আর শ্রীলঙ্কার মূল্যস্ফীতি হতে পারে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। ভারত, ভুটান ও মালদ্বীপের মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস হলো ৪ শতাংশ। আর নেপালের জন্য পূর্বাভাস হলো ৫ শতাংশ।

    ২০২৩ সালের দিকে শ্রীলঙ্কার ৭৩ শতাংশ ও পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতি ৫১ শতাংশ পর্যন্ত ওঠেছিল। তখন ওই দুটি দেশ নানা ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সফল হয়।

    বাংলাদেশে কেন বেশি

    বাংলাদেশে কেন গড় মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে, এর ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি দেশে পেট্রোলিয়াম, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের প্রভাব পরিবহন, পরিষেবা ও অন্যান্য ভোক্তাপণ্যের দামে পড়তে থাকবে। কারণ, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির দ্বিতীয় দফার প্রভাব, বিনিময় হার সমন্বয়ের প্রভাব এবং খাদ্য ও সেবা খাতে অব্যাহত মূল্যস্ফীতি কমার গতি ধীর করবে।

    এডিবি বলছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে এবং ব্যক্তিগত ভোগব্যয় সীমিত করছে। দুর্বল রপ্তানি ও আমদানির মাঝারি প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক চাহিদার দুর্বলতা ও বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরবরাহের দিক থেকে রপ্তানিমুখী উৎপাদন খাত উচ্চ জ্বালানি মূল্য, বৈদেশিক বাজারে দুর্বল চাহিদা ও কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতার কারণে চাপে থাকবে। অন্যদিকে সারের ঘাটতির কারণে কৃষি খাত ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তবে রেমিট্যান্সনির্ভর পারিবারিক আয়ের কারণে সেবা খাত প্রবৃদ্ধিতে কিছুটা সহায়তা করবে।

  • হরমুজ প্রণালি বিশ্ব অর্থনীতির নতুন নিয়ন্ত্রক

    হরমুজ প্রণালি বিশ্ব অর্থনীতির নতুন নিয়ন্ত্রক

    মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি বড় সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে কোনো না কোনো ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা কাজ করে। কখনো তা জ্বালানি সম্পদ, কখনো সীমান্ত, আবার কখনো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। বর্তমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় সেই কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ এখন শুধু সামরিক সংঘাতের ক্ষেত্র নয়; বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অন্যতম প্রধান উপাদান।

    হরমুজ প্রণালি আরব উপসাগরকে ওমান উপসাগর এবং ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। প্রতিদিন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। ফলে এ পথের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়া মানেই বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হওয়া। আর তার প্রভাব পড়ে শিল্প উৎপাদন, পরিবহন, খাদ্যপণ্য এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর।

    ইরানের জন্য হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন ধরেই একটি কৌশলগত সম্পদ। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপের মুখে এ প্রণালিই তেহরানের সবচেয়ে কার্যকর চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার। প্রণালিতে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো কিংবা জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে ইরান আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করে; কিন্তু এ কৌশলের একটি বড় সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। একই পথ দিয়ে ইরানের নিজের তেল রপ্তানিও পরিচালিত হয়। ফলে হরমুজে অস্থিরতা যত বাড়ে, ততই ইরানের অর্থনীতিও ক্ষতির মুখে পড়ে।

    অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করাকে তারা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তার অপরিহার্য শর্ত হিসেবে দেখে। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের আওতায় হরমুজ প্রণালিতে কোনো রাষ্ট্রের একক নিয়ন্ত্রণ বা জাহাজ চলাচলের ওপর অতিরিক্ত শর্ত আরোপের বিরোধিতা করে ওয়াশিংটন। ফলে প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মতপার্থক্য কেবল সামরিক নয়, আন্তর্জাতিক আইন ও ভূরাজনীতির প্রশ্নেও গভীর।

    এই সংকটে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর অবস্থানও অত্যন্ত জটিল। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিকল্প পাইপলাইনের মাধ্যমে কিছু তেল রপ্তানির ব্যবস্থা করলেও সেই সক্ষমতা হরমুজের বিকল্প হতে পারে না। কাতারের প্রায় পুরো এলএনজি রপ্তানিই এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। ওমান একদিকে প্রণালির ভৌগোলিক অংশীদার, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার পক্ষপাতী। ফলে অঞ্চলটির প্রতিটি রাষ্ট্র অর্থনৈতিক স্বার্থ ও কূটনৈতিক ভারসাম্যের মধ্যে সমন্বয় করার চেষ্টা করছে।

    সংকটের সবচেয়ে বড় অভিঘাত পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতে সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পায়, শিল্প উৎপাদনের খরচ বেড়ে যায়, মূল্যস্ফীতি ত্বরান্বিত হয়। সামুদ্রিক বীমার ব্যয়ও কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের খরচ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে আমদানি-নির্ভর দেশগুলো অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ছে।

    বিশেষ করে এশিয়ার অর্থনীতিগুলো এই পরিস্থিতিতে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। চীন তার আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের বড় অংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে সংগ্রহ করে এবং ইরানি তেলের অন্যতম বৃহৎ ক্রেতা। জাপানও মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা জ্বালানির জন্য এই পথের ওপর নির্ভরশীল। ইউরোপের অনেক দেশও একইভাবে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার মুখোমুখি। ফলে হরমুজে অস্থিরতা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নয়, এটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

    তবে আলোচনায় তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পেলেও সার বাজারে এর প্রভাব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বের সামুদ্রিক সার বাণিজ্যের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিচালিত হয়। সরবরাহ ব্যাহত হলে সারের দাম বেড়ে যায়, কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে। এর প্রভাব তাৎক্ষণিক নয়, বরং পরবর্তী মৌসুমের ফসল উৎপাদন পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল ও খাদ্য আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এটি উদ্বেগজনক।

    বাংলাদেশের মতো জ্বালানি ও খাদ্য আমদানিনির্ভর অর্থনীতিও এই সংকট থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সার আমদানির খরচ বেড়ে গেলে দেশের উৎপাদন ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির ওপর তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। অর্থাৎ হরমুজে সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হবে, তার অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া তত বেশি অনুভূত হবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেও।

    বর্তমান বাস্তবতা বলছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধের সহজ সমাধান নেই। একদিকে ইরান এই প্রণালিকে তার কৌশলগত প্রভাবের প্রধান উৎস হিসেবে ধরে রাখতে চায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যনির্ভর দেশগুলো অবাধ নৌচলাচলের নীতি থেকে সরে আসতে প্রস্তুত নয়। ফলে একটি রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

    বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি কেবল যুদ্ধ নয়, বরং দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা। বাজার যুদ্ধের চেয়েও বেশি ভয় পায় অনিশ্চয়তাকে। হরমুজ প্রণালি যদি দীর্ঘ সময় অস্থিতিশীল থাকে, তবে এর প্রভাব শুধু জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বিশ্ব বাণিজ্য, কৃষি, শিল্প উৎপাদন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়েও এর দীর্ঘ ছায়া পড়বে। তাই হরমুজ এখন শুধু একটি সমুদ্রপথ নয়, বরং বর্তমান বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

  • বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম

    বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম

    যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিতে দেরি হচ্ছে। এতে জ্বালানি তেলের সরবরাহে সংকট অব্যাহত থাকলেও ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও অন্যান্য অর্থনৈতিক উদ্বেগের কারণে বিশ্বব্যাপী তেলের চাহিদা কমার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর জেরে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে গেছে।

    যুদ্ধের আগে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশই এই প্রণালি দিয়ে যেত।

    ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৭২ ডলার বা ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৭৬ দশমিক ৩০ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪৪ ডলার বা ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ০৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

    এর আগে বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গত ১৯ জুনের পর এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২২ জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল।

    ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বৃহস্পতিবার উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। এতে তিন সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধবিরতি চুক্তি নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে।

    ম্যাকোয়ারি গ্রুপের গ্লোবাল এনার্জি স্ট্র্যাটেজিস্ট বিকাশ দ্বিবেদী এক নোটে বলেছেন, আমরা আশা করছি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে তৈরি হওয়া এই উত্তেজনা খুব বেশি দিন স্থায়ী হবে না। কারণ, উভয় দেশই এখন বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে সীমাবদ্ধ।

    তেহরানসহ অন্যান্য প্রতিপক্ষের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত কাতার বাণিজ্যিক জাহাজে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং আবারও কূটনীতির পথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। তুরস্ক ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা এড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।

    মার্কিন ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস-এর বিশ্লেষকেরা এক প্রতিবেদনে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার পর প্রথম ১০ দিনের মধ্যে পারস্য উপসাগর থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ প্রাক-যুদ্ধকালীন সময়ের ৮০ শতাংশের ওপরে পৌঁছেছিল। আটকে থাকা ট্যাংকারগুলো তড়িঘড়ি করে পারস্য উপসাগর ছাড়ার কারণেই এমনটা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি ট্যাংকারগুলোতে নতুন করে হামলার কারণে তা স্বাভাবিক সময়ের ৭০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে।

  • কৃষকের কষ্টের ধানে মিলারের চড়া মুনাফা

    কৃষকের কষ্টের ধানে মিলারের চড়া মুনাফা

    দেশে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। সরকারি গুদামেও গড়ে তোলা হয়েছে পর্যাপ্ত মজুত। মূল্য সহনীয় রাখতে বাজেটে চালের শুল্ক-কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবু বাজারে কমছে না চালের দাম। বছরের পর বছর দৃশ্যমান মিলার সিন্ডিকেটে এক প্রকার অস্বস্তিকর অবস্থা বিরাজ করছে।পরিস্থিতি এমন-হাড়ভাঙা পরিশ্রম ও ঘাম ঝরিয়েও ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না কৃষক। অথচ সেই ধান থেকেই চাল বিক্রিতে মোটা অঙ্কের মুনাফা করছেন অসাধু চক্র। মিলগেট থেকে পাইকারি হয়ে খুচরা বাজারে চালে দামের ব্যবধান করা হচ্ছে দ্বিগুণ। এতে দেশের মানুষ চড়ামূল্যে চাল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ সেই অর্থের ভাগ মিলছে না কৃষকের কপালে। যুগান্তরের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এমন চিত্র।

    বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ধান থেকে উৎপাদিত চালের পাশাপাশি কুঁড়া, তুষ, খুদ ও ভাঙা চাল বিক্রি করেও বিপুল পরিমাণে অর্থ আয় করছেন মিলাররা। অথচ বাজারে চালের দামে তার কোনো প্রভাব নেই। এতে মাঠে কৃষক ও বাজারে ঠকছেন ভোক্তা। মাঝখানে ফুলেফেঁপে উঠছে সেই অতিমুনাফালোভী চক্র। এসবের অভিযোগ থাকলেও যেন কার্যকর কোনো পদক্ষেপে নেই।

    খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য মতে (৫ জুলাই), বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারিভাবে দেশে ধান, চাল ও গমের নিরাপদ মজুত গড়ে তোলা হয়েছে। সরকারি গুদামে মোট মজুত ২২ লাখ ৫২ হাজার ৮১৫ টন খাদ্যশস্য। এর মধ্যে ফ্লোটিং চাল ৪ হাজার ৭৭২ টনসহ মোট চালের মজুত গড়ে তোলা হয়েছে ১৭ লাখ ৯৫ হাজার ৯৬৯ টন। পাশাপাশি ধানের মজুত ৩ লাখ ৩১ হাজার ১৮৩ টন। সঙ্গে গম ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩২৭ টন মজুত রাখা হয়েছে। এর পরও দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে মিলাররা।

    সিরাজগঞ্জের তাড়াশ অঞ্চলের কৃষক আব্দুল আলিম যুগান্তরকে বলেন, এক বিঘা জমিতে ধান আবাদে বর্গাসহ ২৫ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়। সেখানে বর্গা খরচই দিতে হয় বছরে ১৫ হাজার টাকা। কীটনাশক কিনতে ব্যয় হয় ৩-৪ হাজার টাকা।

    দিনমজুরদের দিতে হয় ৫০০০ টাকা। সেচে খরচ পড়ে ৩ হাজার টাকা। সবমিলে এক বিঘা জমিতে ধান আবাদে খরচ পড়ে যায় ২৫-২৭ হাজার টাকা। তবে বর্তমান বাজারে এক মন ধানে ২০০-৩০০ টাকা লোকসান দিয়ে ১১০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। মিলাররা সিন্ডিকেট করে ধানের বাজারে নৈরাজ্য করছে। আমরা কৃষকরা কষ্ট করে ঘাম ঝরিয়ে ধান আবাদ করলেও লাভ হচ্ছে না। আর সেখানে মিলাররা ধান নিয়ে চাল তৈরি করে অতিমুনাফা করছে।

    কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) তথ্য মতে, কৃষকরা এক মন ধান বিক্রি করছে ১০০০-১১০০ টাকা। এই এক মন ধান দিয়ে ২৫ কেজি চাল হয়। ৫০ কেজির ধানের মূল্য দাঁড়ায় ২২০০ টাকা। সেক্ষেত্রে মিল পর্যায়ে মিনিকেট নামের অবৈধ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ কেজির বস্তা ৩৩০০ টাকা। দেখা যায় মিলাররা আনুসাঙ্গিক খরচ ও লাভ রেখে ৫০ কেজির বস্তায় ১১০০ টাকা বেশি দরে বিক্রি করছে। আর মিল পর্যায়ে ৩৩০০ টাকা বস্তা মিনিকেট পাইকারিতে ৩৪০০ ও খুচরায় ৪০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেক্ষেত্রে কৃষক পর্যায়ের ধান থেকে মিলের চাল পাইকারি ও খুচরা পর্যায় হয়ে ক্রেতার কাছে প্রায় দ্বিগুণ দাম হয়ে যাচ্ছে।

    কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, কৃষক থেকে শুরু করে মিল, পাইকারি ও খুচরা মোট ৪ হাত ঘুরে ক্রেতার কাছে চাল পৌঁছায়। সেখানে ধান থেকে চাল উৎপাদন খরচ, পরিবহণ খরচ মিলে ২২০০ টাকার চাল সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা বিক্রি করলে ক্রেতার ভোগান্তি পোহাতে হয় না। তবে মিল থেকেই বড় ব্যবধানে চাল বিক্রি হচ্ছে, আর পাইকারি ও খুচরায় এই দাম আরও বেড়ে যাচ্ছে। আর এই বাড়তি ব্যয়ের বোঝা ভোক্তাকেই বহন করতে হচ্ছে। যা নজরদারি করা দরকার।

    তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেটে চালসহ ৬৩টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর কমানো হলেও তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব বাজারে দেখা যায়নি। বাজার তদারকি সংস্থাগুলোর কার্যকর নজরদারির অভাবে নিত্যপণ্যের বাজারে চালসহ অন্য পণ্যের মূল্য সহনীয় করা যাচ্ছে না। তাই অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

    নওগাঁ, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মিল পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিল পর্যায়ে নাজিরশাইল ২৫ কেজির বস্তা মাসের ব্যবধানে ২০০ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা পাইকারি পর্যায়ে ২১০০ টাকা ও খুচরায় ২৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিআর ২৮ জাতের চাল মিল পর্যায়ে ৫০ কেজির বস্তায় ১০০ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি হচ্ছে ২৬০০ টাকায়। পাইকারি পর্যায় এই চাল ২৭০০ ও খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৩২০০ টাকা।

    কাওরান বাজারের আল্লাহর দান রাইস এজেন্সির মালিক সিদ্দিকুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, মিল পর্যায়ে সব ধরনের চালের দাম বেশি। মিল মালিক সিন্ডিকেট করে চালের দাম বাড়িয়ে রেখেছে। কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে ধান কিনলেও মিলাররা বাড়তি মুনাফা করে। মিল থেকে সেই চাল পাইকারি ও খুচরা পর্যায় যেতে প্রায় দ্বিগুণ দাম হয়ে যায়। যা দেশের সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হচ্ছে।

    তিনি জানান, হঠাৎ করেই মিল মালিকরা এক মাস ধরে পোলাও চালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়েছে। ৫০ কেজির বস্তা পোলাও চাল মিলে বিক্রি হচ্ছে ৮ হাজার ৩০০ টাকা। যা এক মাস আগেও মিলে ৬৬০০ টাকা ছিল। যার ফলে এই চাল খুচরা পর্যায়ে ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যা আগে ১৫০ টাকা ছিল। দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৪০ টাকা।

    জানতে চাইলে তদারকি সংস্থা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক পর্যায়ের এক ডজন কমকর্তা যুগান্তরকে বলেন, চালের বাজারে মূল্য সহনীয় রাখতে তদারকি অব্যাহত আছে। আমরা খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় রেখেও অভিযান পরিচালনা করি। সব মিলে মিল থেকে শুরু করে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে। অনিয়ম পেলে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • নামের আগে ‘হাজি’ বা ‘আলহাজ’  কি ইসলামে বৈধ? আলেমরা কি বলেন

    নামের আগে ‘হাজি’ বা ‘আলহাজ’ কি ইসলামে বৈধ? আলেমরা কি বলেন

    হজ পালন শেষে নামের আগে ‘হাজি’ বা ‘আলহাজ’ উপাধি ব্যবহার করা নিয়ে সমাজে প্রচলিত একটি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিয়েছেন আলেমরা। তাদের মতে, ইসলামে ইবাদতের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, কোনো সামাজিক উপাধি বা পরিচিতি নয়।

    ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের একটি হিসেবে হজকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে গণ্য করে। হজ মানুষকে আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ ও আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ আনুগত্যের শিক্ষা দেয়। তবে হজ পালনকারীকে নামের আগে বিশেষ উপাধি ব্যবহার করতে ইসলামে বাধ্যতামূলক কোনো বিধান নেই।

    বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘হাজি’ শব্দের অর্থ হজ পালনকারী ব্যক্তি এবং ‘আলহাজ’ শব্দটিও একই অর্থ বহন করে। কিন্তু আরবি ভাষা বা ইসলামী পরিভাষায় একাধিক হজের ভিত্তিতে আলাদা উপাধি ব্যবহারের কোনো প্রমাণ নেই।

    আলেমরা আরও বলেন, সব ইবাদতের মূল ভিত্তি হলো নিয়ত। কেউ যদি উপাধি পাওয়ার উদ্দেশ্যে হজ পালন করেন বা হজের পর মানুষের কাছে বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাশা করেন, তবে তা ইবাদতের আন্তরিকতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

    ইসলামী দৃষ্টিতে আত্মপ্রশংসা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী, নিজেকে পবিত্র বা বিশেষ মর্যাদার দাবিদার হিসেবে উপস্থাপন না করাই উত্তম।

    সাহাবায়ে কেরামের জীবনে হজ পালন থাকলেও তাঁদের নামের আগে কোনো ধরনের উপাধি ব্যবহারের প্রচলন ছিল না বলে ইতিহাসে পাওয়া যায়।

    তবে আলেমরা এটিও উল্লেখ করেন, সম্মান বা পরিচয়ের অংশ হিসেবে কেউ কাউকে ‘হাজি সাহেব’ বলে ডাকলে তা সরাসরি নিষিদ্ধ নয়। কিন্তু এটিকে স্থায়ী উপাধি হিসেবে গ্রহণ করা বা না ডাকলে অসন্তুষ্ট হওয়া অনুচিত।

    সবশেষে বলা হয়েছে, হজের প্রকৃত সফলতা কোনো উপাধিতে নয়, বরং তাকওয়া, বিনয় এবং আল্লাহর আনুগত্যে পরিবর্তনের মধ্যেই নিহিত।

  • একীভূত গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক থেকে ২০ লাখ টাকা তুলতে রাষ্ট্রপতিকে বিশেষ অনুমতি

    একীভূত গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক থেকে ২০ লাখ টাকা তুলতে রাষ্ট্রপতিকে বিশেষ অনুমতি

    একীভূত পাঁচটি ব্যাংকের আমানত উত্তোলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের আরোপ করা সীমার বাইরে বিশেষ অনুমতি পেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। চিকিৎসার প্রয়োজন বিবেচনায় গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকে থাকা তার হিসাব থেকে ২০ লাখ টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত মে মাসের শেষ দিকে রাষ্ট্রপতি গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের গুলশান করপোরেট শাখার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আবেদন করেন। আবেদনে তিনি চিকিৎসা ও পারিবারিক ব্যয়ের জন্য নিজের হিসাব থেকে ৩০ লাখ টাকা উত্তোলনের অনুমতি চান। পরে গত ১৬ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক ২০ লাখ টাকা উত্তোলনের অনুমতি দেয়।

    ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিমের আওতায় থাকা পাঁচটি একীভূত ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য অর্থ উত্তোলনের সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। স্কিম কার্যকর হওয়ার পর সাধারণভাবে একজন আমানতকারী সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা তুলতে পারেন। পরে যাদের জমার পরিমাণ দুই লাখ টাকার বেশি, তারা প্রতি তিন মাস পর সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা করে তুলতে পারবেন। তবে গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনায় প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের সুযোগ রয়েছে। যদিও অনেক আমানতকারী অভিযোগ করছেন, প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও তারা এই বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন না।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আমার দেশকে বলেন, রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন চিকিৎসার জন্য অর্থ উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে আবেদন করেছিলেন। পাঁচটি ব্যাংকের আমানত পরিশোধের বিষয়টি ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিমের আওতায় পরিচালিত হলেও রাষ্ট্রপতির পদমর্যাদা ও অবস্থান বিবেচনায় তাকে ২০ লাখ টাকা উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    আরিফ হোসেন খান বলেন, জটিল রোগে আক্রান্ত আমানতকারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার সুযোগ রয়েছে। ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে এর আগেও কয়েকজন আমানতকারীকে বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

  • ১১ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ২৪ বিলিয়ন ডলার

    ১১ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ২৪ বিলিয়ন ডলার

    দেশের রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। একই সময়ে আমদানি ব্যয় বেড়েছে। রপ্তানির তুলনায় আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২,৩৯৮ কোটি ডলার বা ২৩ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার। এই ঘাটতি তার আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি। ওই সময়ে ঘাটতি ছিল ১৯ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংক ১১ মাসের (জুলাই-মে) বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য (ব্যালান্স অব পেমেন্ট—বিওপি) সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে দেশ থেকে রপ্তানি হয়েছিল ৪০৮৭ কোটি ৩০ লাখ ডলারের পণ্য। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছে তিন হাজার তিন কোটি ৯০ লাখ ডলারের পণ্য। এ সময়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ২ শতাংশে।

    রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সাত শতাংশ কমে ৪ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

    গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে রপ্তানি কমলেও আমদানি বেড়েছে ৬ দশমিক ৩০ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে আমদানি ব্যয় হয়েছিল ছয় হাজার ২৫ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৪০২ কোটি ৩০ লাখ ডলারে।

    তবে রপ্তানি আয়ে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হলেও রেমিট্যান্সে বড় প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৭৫০ কোটি ৬০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২৭৭ কোটি ডলারে, যা তার আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৯ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

    রেমিট্যান্সে বড় প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও রপ্তানি আয় ঋণাত্মক থাকার কারণে চলতি হিসাবের (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) ঘাটতি রয়ে গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩০ কোটি ডলার। যদিও তার আগের অর্থবছরের একই সময়ে ঘাটতি ছিল সাত কোটি ডলার।

    এদিকে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও প্রথম ১১ মাসে সার্বিক বিওপিতে উদ্বৃত্ত রয়েছে ৪০১ কোটি ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে ১১৫ কোটি ডলারের ঘাটতি ছিল। ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট বা রাষ্ট্রের আর্থিক হিসাবেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে যেখানে আর্থিক হিসাবে ৫৭ কোটি ডলারের ঘাটতি ছিল, গত অর্থবছরের একই সময়ে সেখানে উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৪১৬ কোটি ডলারে। মূলত প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), বিদেশি অনুদান ও ঋণের ওপর ভর করে আর্থিক হিসাবে এই উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে।

  • আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার

    আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার

    বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। এই বর্ধিত বাণিজ্যিক লেনদেনকে সচল রাখতে ওঠানামা করছে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার।

    দেশীয় বাজারে মার্কিন ডলারসহ আন্তর্জাতিক প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ওঠানামা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী আজকের (০৮ জুলাই ২০২৬) মুদ্রা বিনিময় হারের একটি সার্বিক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো—

    মুদ্রার নাম বাংলাদেশি টাকা

    ইউএস ডলার : ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা
    ইউরো : ১৪০ টাকা ১৮ পয়সা
    পাউন্ড : ১৬৪ টাকা ০২ পয়সা
    কানাডিয়ান ডলার : ৮৬ টাকা ৫০ পয়সা
    অস্ট্রেলিয়ান ডলার : ৮৫ টাকা ১১ পয়সা
    চাইনিজ ইয়েন : ১৮ টাকা ০৫ পয়সা
    সিঙ্গাপুরি ডলার : ৯৪ টাকা ৯৯ পয়সা
    ভারতীয় রুপি : ১ টাকা ২৯ পয়সা
    মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত : ৩০ টাকা ৩৩ পয়সা
    সৌদি রিয়াল : ৩৩ টাকা ১২ পয়সা
    কাতারি রিয়াল : ৩৩ টাকা ৮১ পয়সা
    কুয়েতি দিনার : ৩৯৮ টাকা ৫৬ পয়সা
    আরব আমিরাতের দিরহাম : ৩৩ টাকা ৬৪ পয়সা

    *মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে।

    আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিং এবং প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহ ইতিবাচক থাকায় খোলাবাজার ও অফিশিয়াল রেটের মধ্যকার ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। বিগত এক মাসে ডলারের গড় বিনিময় হার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে, যা আমদানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক।

  • বিশ্বব্যাংকের পরবর্তী নির্বাহী পরিচালক আবদুর রহমান খান

    বিশ্বব্যাংকের পরবর্তী নির্বাহী পরিচালক আবদুর রহমান খান

    বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের পরবর্তী নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। বর্তমানে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব শরীফা খান।

    সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হলে বিশ্বব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে আবদুর রহমান খানের নিয়োগ সংক্রান্ত ফাইলের অনুমোদন দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

    বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদে সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব করেন। ঋণ, অনুদান, উন্নয়ন প্রকল্প, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রম সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেন তিনি। অন্যদিকে বিকল্প নির্বাহী পরিচালক নির্বাহী পরিচালকের অনুপস্থিতিতে তার দায়িত্ব পালন করেন এবং পরিচালনা পর্ষদের কার্যক্রমে সহায়তা করেন।

  • ইরানে মার্কিন বাহিনীর শক্তিশালী বিমান হামলা

    ইরানে মার্কিন বাহিনীর শক্তিশালী বিমান হামলা

    আর্ন্তজআতক ডেস্ক:

    হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে ইরানে ধারাবাহিক সামরিক হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

    যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বুধবার থেকে এই অভিযান শুরু করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেসামরিক নাগরিকদের পরিচালিত বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ইরানকে “ভারী মূল্য” দিতে বাধ্য করতেই এ হামলা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

    যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, সোমবার ও মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনটি ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর আগে মঙ্গলবার এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছিলেন, ইরানের এসব কর্মকাণ্ডের “পরিণতি ভোগ করতে হবে” এবং হামলাগুলোকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন।

    তবে ট্যাংকারে হামলার দায় স্বীকার করেনি ইরান।

    সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানের হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সংস্থাটির দাবি, “ইরানের প্রদর্শিত আগ্রাসন অযৌক্তিক, বিপজ্জনক এবং যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।”

    এদিকে, কাতার ও সৌদি আরবও হামলার নিন্দা জানিয়েছে। দুই দেশই বলেছে, হরমুজ প্রণালির ভেতর বা আশপাশ দিয়ে চলাচলের সময় তাদের দেশের একটি করে ট্যাংকার হামলার শিকার হয়েছে।

    এর আগে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত তেল নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা একটি ছাড় বাতিল করে।

  • এশিয়ার ক্রেতাদের জন্য তেলের দামে নজিরবিহীন মূল্যছাড় সৌদির

    এশিয়ার ক্রেতাদের জন্য তেলের দামে নজিরবিহীন মূল্যছাড় সৌদির

    এশিয়ার বাজারে নিজেদের অপরিশোধিত তেলের দাম গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় অঙ্কের কমিয়েছে বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব। তবে এত বড় ছাড়ের পরও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের তুলনায় সৌদির তেল এখনও ব্যয়বহুল রয়ে গেছে।

    ফলে এশিয়ার ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সৌদির তেল কেনার ব্যাপারে তেমন একটা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। সোমবার (৬ জুন) রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি সৌদি আরামকো তাদের ফ্ল্যাগশিপ ‘আরব লাইট’ ক্রুডের অফিশিয়াল সেলিং প্রাইস আগামী আগস্ট মাসের জন্য এক ধাক্কায় ব্যারেল প্রতি ১১ ডলার কমিয়েছে। নতুন এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ওমান ও দুবাইয়ের গড় দামের চেয়ে ১.৫০ ডলার কমে। একই সঙ্গে অপর চারটি গ্রেডের তেলের দামও ব্যারেল প্রতি ১১ ডলার করে কমানো হয়েছে।

    বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার ফলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজের চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে এবং তেলের লোডিং পুনরায় সচল হয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণেই বিশ্ববাজারে তেলের দামে আকস্মিক পতন ঘটেছে।

    এর আগে মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়, কারণ বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশই এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে ৬০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় এশিয়ার বাজারে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে। ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানি এখন চীনের স্বাধীন শোধনাগারগুলোর বাইরেও তাদের পুরোনো এশীয় ক্রেতাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি, ইরাকের সোমো এবং কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনও ক্রেতা আকর্ষণের জন্য তেলের দামে ব্যাপক ছাড় দিচ্ছে।

    বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভরটেক্সার বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়ায়, বিশেষ করে চীনে তেলের দুর্বল চাহিদা এবং ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের কারণে বিক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, যা বাজারকে সম্পূর্ণ ক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গেছে।

    এশিয়ার বিভিন্ন শোধনাগার এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সূত্রগুলো জানাচ্ছে, আগস্ট মাসে লোড হতে যাওয়া সৌদি তেলের দাম অন্যান্য উপসাগরীয় গ্রেডের চেয়ে এখনও ব্যারেল প্রতি কয়েক ডলার বেশি পড়বে। এর বড় একটি কারণ হলো পারস্য উপসাগরের ভেতর থেকে তেল পরিবহনের উচ্চ জাহাজ ভাড়া এবং ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখনও বেশ ভঙ্গুর। ফলে পারস্য উপসাগরের ভেতরে প্রবেশ করে তেলবাহী জাহাজ চার্টার করার খরচ অনেক বেশি। ভারতের একটি শোধনাগারের সূত্র জানায়, তারা অন্যান্য কোম্পানির তেল আরও অনেক কম দামে পাচ্ছেন, তাই সৌদির তেল বেশি দামে কেনার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

    অন্য এক ব্যবসায়ী জানান, আবুধাবির আপার জাকুম ক্রুড ওমানের সোহার বন্দরে জাহাজ থেকে জাহাজে স্থানান্তরের জন্য দুবাই রেটের চেয়ে ৬ থেকে ৮ ডলার কমে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে সৌদির রাস তানূরা বন্দর থেকে তেল লোড করতে জাহাজ ভাড়াই ডাবলের চেয়ে বেশি পড়ে যাচ্ছে।

    হিসাব অনুযায়ী, উপসাগরের ভেতর থেকে তেল আনা বাইরের চেয়ে ব্যারেল প্রতি প্রায় ১৫ ডলার বেশি ব্যয়বহুল। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সৌদি আরব এখনই কোনো মূল্য যুদ্ধে জড়াতে চাচ্ছে না। তারা কৃত্রিমভাবে তেলের দাম ধরে রাখার চেষ্টা করছে। এক তেল ব্যবসায়ী মন্তব্য করেছেন যে সৌদিরা ভালো করেই জানে তাদের তেলের দাম এখন বেশি, তবুও তারা দাম ধরে রেখেছে।

    বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বাজার পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে দাম আরও না কমালে এশিয়ার বাজারে বড় ধরনের মার্কেট শেয়ার হারাতে পারে সৌদি আরামকো।

  • ঘুষের দায়ে চীনা কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

    ঘুষের দায়ে চীনা কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

    প্রায় ৩২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (২.২ বিলিয়ন ইউয়ান) ঘুষ গ্রহণের দায়ে চীনের এক সাবেক সরকারি কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। পূর্বাঞ্চলের চাংঝৌ শহরের আদালত সোমবার এ রায় ঘোষণা করে। খবর বিবিসির।

    দণ্ডপ্রাপ্ত ইয়াং ইউলিন (৬৯) ১৯৯৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নানজিং শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। আদালতের রায় অনুযায়ী, তিনি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রকৌশল প্রকল্প, জমি হস্তান্তর এবং অর্থায়নের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের ঘুষ ও মূল্যবান সামগ্রী গ্রহণ করেন।

    ঘুষ গ্রহণের পাশাপাশি ইয়াংকে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থ পাচারের অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, তার অপরাধ ছিল অত্যন্ত গুরুতর এবং এর ফলে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে বহু ক্ষতি হয়েছে।

    চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ইয়াংয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামরিক বাহিনী, ব্যাংকিং খাত এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে আসছে বেইজিং।

    চীনে আর্থিক অপরাধে মৃত্যুদণ্ড তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও, ১ বিলিয়ন ইউয়ানের বেশি অর্থ জড়িত গুরুতর দুর্নীতির মামলায় এ ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়। এর আগে ২০২১ সালে সাবেক আর্থিক কর্মকর্তা লাই শিয়াওমিন এবং ২০২৪ সালে ইনার মঙ্গোলিয়ার সাবেক কর্মকর্তা লি জিয়ানপিংকে বড় অঙ্কের ঘুষ ও আত্মসাতের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

    রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইয়াং ইউলিন আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং শেষ বক্তব্যে অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন। তবে তদন্তে সহযোগিতা করলেও তার অপরাধের মাত্রা এতটাই গুরুতর ছিল যে, আদালত শাস্তি কমানোর কোনো সুযোগ দেখেনি।

  • সরকারি হাসপাতালে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিনা মূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা

    সরকারি হাসপাতালে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিনা মূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা

    দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিনা মূল্যে এনএস১ পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখা থেকে গত রোববার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    প্রজ্ঞাপন বলা হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সম্মতির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ের জন্য এনএস১ পরীক্ষা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিনা মূল্যে করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

    প্রজ্ঞাপনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    এদিকে, বর্ষা আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ আবার বাড়তে শুরু করেছে। মশাবাহিত এই রোগে চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে মোট ৭ হাজার ১১০ জন। এর মধ্যে ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ নারী। এ বছর ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

    ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

    সারাদেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে সরকার প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে সারাদেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্যে প্রতিযোগিতা রয়েছে। বেসরকারি খাতের স্বাস্থ্যসেবার মান তুলনামূলকভাবে ভালো হলেও সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থা কিছুটা পিছিয়ে আছে। তবে এই ব্যবধান কমিয়ে আনতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।

    আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও জানান, চলতি বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সংগ্রহের পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতের উদ্যোক্তাদেরও উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ রাখা হয়েছে।

    তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

  • কাটছাঁট হচ্ছে নবম পে স্কেল

    কাটছাঁট হচ্ছে নবম পে স্কেল

    অর্থনীতি ডেস্ক:

    আর্থিক সংকটের কারণে নবম পে স্কেলের আগের সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কমে গেছে। রাজস্ব আয়ের চাপ, বাজেট ঘাটতি, ঋণ পরিশোধের দায় এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোয় কাটছাঁটের পথে এগোচ্ছে সরকার।

    অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বিভিন্ন গ্রেডের মূল বেতন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত ভাতাসহ কয়েকটি সুযোগ সুবিধা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। আগে সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা পুরোপুরি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নেই।

    সূত্র আরও জানায়, বিশেষ করে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের বেতন ও ভাতা তুলনামূলক বেশি বাড়তে পারে। অন্যদিকে ১ থেকে ১০ম গ্রেডের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম রাখার সুপারিশ করতে পারে সচিব কমিটি।যদিও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নে সফটওয়্যার, হিসাবরক্ষণ, পেনশন পুনর্নির্ধারণ এবং বেতন সমন্বয়ের মতো কিছু প্রযুক্তিগত জটিলতা রয়েছে। এসব সমস্যা কীভাবে কমিয়ে আনা যায়, সে বিষয়েও কাজ করছে সচিব কমিটি। এরই মধ্যে সচিবালয়ে সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে পুনর্গঠিত সচিব কমিটির পঞ্চম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে পে স্কেলের বিষয়টি তড়িঘড়ি নয়; বরং নির্ধারিত প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এগিয়ে নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি জুলাই মাসের শেষ নাগাদ সচিব কমিটি তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিতে পারে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং এবং সবশেষে গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়েই কার্যকর হবে নবম পে স্কেল।

  • বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম

    বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম

    বিশ্ববাজারে সপ্তাহের প্রথম দিন সোমবার অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে। মূলত দুটি কারণে আজ দাম কমেছে।

    বিষয়টি হলো, ওপেক ও সহযোগী দেশগুলো আগস্ট থেকে তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রধান উৎপাদক দেশগুলোর রপ্তানি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

    পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আজ তেলের দাম কমেছে।

    সোমবার সকালে এ প্রতিবেদন লেখার সময় ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে ৭১ দশমিক ৭০ ডলারে নেমে আসে। আগের কার্যদিবসে ব্রেন্টের দাম শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ বেড়েছিল।

    একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ২৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৬৮ দশমিক ৪২ ডলারে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাজার বন্ধ থাকায় শুক্রবার ডব্লিউটিআইয়ের আনুষ্ঠানিক নিষ্পত্তিমূল্য নির্ধারিত হয়নি।

    গত সপ্তাহজুড়ে এই দুই ধরনের তেলের দাম প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে দাম নিম্নমুখী ছিল। এ সময় বিনিয়োগকারীরা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনার অগ্রগতি এবং উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি পুনরুদ্ধারের গতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন।

    রোববার ওপেক, রাশিয়াসহ মিত্রদেশগুলো আগস্ট থেকে দৈনিক উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা আরও ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে জুন ও জুলাইয়েও একই পরিমাণ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

    তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে এ উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৌদি আরব, কুয়েত ও ইরাকের মতো প্রধান ওপেক সদস্যদের উৎপাদন ও রপ্তানি সীমিত হয়ে পড়ে।

    বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান আইজির বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে মোটামুটি মিলেছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ওপেক ছেড়ে যাওয়ার পর এবং যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে উৎপাদন এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় নির্ধারিত কোটাও বাস্তবে পূরণ হচ্ছে না। তাই আপাতত এসব লক্ষ্যমাত্রার খুব বেশি গুরুত্ব নেই।

    সংযুক্ত আরব আমিরাত গত ১ মে থেকে ওপেক ছাড়ে। এদিকে ইরান যুদ্ধের সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া সরবরাহ পুনরায় চালু করতে শুরু করেছে উপসাগরীয় সদস্যদেশগুলো। একই সঙ্গে তারা রপ্তানিও বাড়াচ্ছে।

    রয়টার্সের জরিপে দেখা গেছে, জুনে ওপেকের তেল উৎপাদন আগের মাসের তুলনায় দৈনিক ৩৩ লাখ ব্যারেল বেড়ে ১ কোটি ৯৪৩ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধারের ঘটনা এটি।

    তথ্য অনুযায়ী, জুনে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানি মে মাসের তুলনায় দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি বেড়ে ১ কোটি ব্যারেল অতিক্রম করেছে। তবে যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এই রপ্তানি এখনো প্রায় ৪০ শতাংশ কম।

    এদিকে শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, জুনে রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দরগুলো থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। জুলাইয়েও এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটি অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।

  • জুলাইয়ের প্রথম পাঁচ দিনে রেমিট্যান্স  ৩৮.১ শতাংশ বেড়েছে

    জুলাইয়ের প্রথম পাঁচ দিনে রেমিট্যান্স ৩৮.১ শতাংশ বেড়েছে

    চলতি ২০২৬ সালের জুলাই মাসের প্রথম পাঁচ দিনে বাংলাদেশে ৫৬ কোটি ৭০ লাখ (৫৬৭ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা ২০২৫ সালের জুলাই মাসের একই সময়ের ৪১ কোটি ১০ লাখ (৪১১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের তুলনায় ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।

    আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৬ সালের ৫ জুলাইই প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশে ২১ কোটি ৯০ লাখ (২১৯ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই রেমিট্যান্স প্রবাহের এ শক্তিশালী ধারা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক ইতিবাচক প্রবণতাকেই প্রতিফলিত করছে।

  • দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ৩ হাজার ২২৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।

    সোমবার দুপুর ১২টায় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এই দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।

    বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এর আগে, সবশেষ গত শুক্রবার ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

    এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৮৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৪৩ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৪৩ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।

  • ঋণখেলাপিকে   এলসি খোলার অনুমতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

    ঋণখেলাপিকে এলসি খোলার অনুমতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

    ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের করপোরেট গ্যারান্টর হওয়া সত্ত্বেও আব্দুল মোনেম সুগার রিফাইনারি লিমিটেডকে ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিনে আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার বিশেষ অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সুবিধার আওতায় আগামী ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৭কক(৩) ধারার বিধান কার্যকর হবে না।

    সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১২১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এ সুবিধার আওতায় দেওয়া ঋণের কারণে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো ধরনের আর্থিক ক্ষতি সৃষ্টি করা যাবে না। এছাড়া ভবিষ্যতে এ ঋণ সুবিধার বিপরীতে কোনো ব্যাংক সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা দাবি করতে পারবে না।

    ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, খেলাপি ঋণের জামিনদাররাও খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হন। ফলে তারা নতুন ঋণ সুবিধা বা এলসি খোলার সুযোগ পান না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনের ফলে প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ওই বিধান আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত শিথিল থাকবে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল মোনেম সুগার রিফাইনারি রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকে আব্দুল মোনেম লিমিটেডের একটি খেলাপি ঋণের করপোরেট গ্যারান্টর। আব্দুল মোনেম লিমিটেডই আব্দুল মোনেম গ্রুপের প্রধান প্রতিষ্ঠান।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫ সালের মার্চের তথ্য অনুযায়ী, অগ্রণী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি), ডাচ্-বাংলা ব্যাংকসহ ২৪টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আব্দুল মোনেম লিমিটেডের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৯৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু অগ্রণী ব্যাংকের পাওনাই প্রায় ৪৫৫ কোটি টাকা। গত বছরের আগস্টে প্রতিষ্ঠানটি এসব ঋণ বিশেষ শর্তে পুনর্গঠনের আবেদন করেছিল।

    এরপর গত ৭ জুন শতভাগ নগদ মার্জিনে এলসি খোলার বিশেষ সুবিধা চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে আবেদন করা হয়।

    শোধনাগার কর্তৃপক্ষ আবেদনে উল্লেখ করে, অপরিশোধিত চিনি আমদানির জন্য একাধিক আন্তর্জাতিক চুক্তি কার্যকর রয়েছে। সময়মতো এলসি খুলতে না পারলে প্রতিদিন প্রায় ২৩ হাজার মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ গুনতে হতে পারে। পাশাপাশি দেশে বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকটি চিনি শোধনাগার পূর্ণ সক্ষমতায় চালু থাকায় আমদানি ব্যাহত হলে বাজারে চিনির সরবরাহেও ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

    বর্তমানে বিক্রয়চুক্তির আওতায় শোধনাগারটি আবুল খায়ের লিমিটেড পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত চিনি ‘স্টারশিপ সুগার’ ব্র্যান্ড নামে বাজারজাত করা হচ্ছে। তবে মালিকানা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি।

  • জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশে

    জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশে

    অর্থনীতি ডেস্ক:

    মে মাসের তুলনায় জুনে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে। মূলত খাদ্যদ্রব্যের দামের নিম্নগতির কারণেই এই কমতি এসেছে।
    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯.১৬ শতাংশ, যা মে মাসে ছিল ৯.৪২ শতাংশ।খাদ্য মূল্যস্ফীতি মে মাসের ৯ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে জুনে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ভোক্তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে এনেছে।
    অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিও মে মাসের ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ থেকে সামান্য কমে জুনে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এতে বোঝা যায়, অর্থনীতির অন্যান্য খাতে মূল্যচাপ এখনো উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে।

  • প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইলেন চিত্রনায়িকা

    প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইলেন চিত্রনায়িকা

    বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন চিত্রনায়িকা পলি। অভিযোগ তোলেন নির্বাচনে তাকে হারানোর জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে এবং পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অর্থের প্রভাব ছিল স্পষ্ট।

    গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত শিল্পী সমিতির নির্বাচনে শিবা শানু-জয় চৌধুরী প্যানেল থেকে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন পলি। এ পদে বিজয়ী হয়েছেন পারভেজ চৌধুরী আবির। তিনি পেয়েছেন ২৭২ ভোট, আর পলি পেয়েছেন ১৪৪ ভোট।

    নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর গুলশানে নিজ বাসায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পলি বলেন, ‘আমাকে হারানোর জন্য লাখ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। আমি শুরু থেকেই বলে আসছি, প্রকৃত শিল্পীরা কখনো টাকা ছিটিয়ে নির্বাচন করেন না। এবারের নির্বাচনে প্রকৃত শিল্পীরাই হেরেছেন। রোজিনা আপা, নূতন আপা, রিনা খান আপা, মুক্তির মতো প্রকৃত শিল্পীরা পরাজিত হয়েছেন। তাদের সঙ্গে আমিও রয়েছি।’

    নির্বাচনে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলে তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পলির ভাষ্য, ‘যারা টাকা দিয়েছে এবং যারা টাকা নিয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হোক। আমি ঢাকা-১৭ আসনের একজন ভোটার। দেশের জনগণের ভোটেই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, সেখানে আমারও একটি ভোট রয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমি এই ঘটনার বিচার চাই।’

    নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রসসঙ্গে পলি জানান, এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না তার। তবে শিবা শানু-জয় চৌধুরী প্যানেলের প্রার্থী সনি রহমানের অনুরোধে তিনি নির্বাচনে অংশ নেন।

    বলেন, ‘আমাকে প্যানেলে নেওয়ার পর থেকেই নানা ধরনের নাটক শুরু হয়। শুরুতে একজন নায়িকাকে প্যানেলে নেওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়, পরে শুরু হয় চাঁদাবাজি। নির্বাচনী খরচের কথা বলে আমার কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়। আমি প্রথমে তিন লাখ টাকা দিই। পরে শিল্পীদের বিভিন্ন সহযোগিতার জন্য আরও দুই লাখ টাকা খরচ করি। এটি ভোট কেনার জন্য নয়, বিভিন্ন হেল্পারের খরচ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। নায়িকা জলি নিজেও আমাকে জানিয়েছে, সেও টাকা এনে দিয়েছে।’

    সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে পলি বলেন, ‘যে দেশে ১৫ বছর পর একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে, সেখানে শিল্পী সমিতিতে কেন সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না? যারা নির্বাচনে টাকা ছিটিয়ে নোংরামি করেছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। প্রয়োজন হলে রিমান্ডে নিয়ে তদন্ত করা হোক, যাতে প্রকৃত সত্য সবার সামনে আসে।’

    সবশেষে নায়িকা বলেন, ‘এখন শিল্পী সমিতির ওই চেয়ার নিয়ে আমার কোনো আগ্রহ নেই। আমি শুধু চাই সত্যটা প্রকাশ হোক। তা না হলে প্রকৃত শিল্পীরা ফাইটার ও নাচের শিল্পীদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে প্রকৃত শিল্পীরা আর শিল্পী সমিতির নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী হবেন না।’

  • সামুদ্রিক বাণিজ্য পুনরায় শুরু করল ইরান-কাতার

    সামুদ্রিক বাণিজ্য পুনরায় শুরু করল ইরান-কাতার

    প্রায় পাঁচ মাস স্থগিত থাকার পর ইরান ও কাতারের
    মধ্যে সামুদ্রিক বাণিজ্য পুনরায় শুরু হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) দোহায়
    নিযুক্ত ইরানের বাণিজ্যিক উপদেষ্টা আব্বাস আবদোলখানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে
    এ তথ্য জানান।

    গত মাসে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে চার মাসব্যাপী সঙ্ঘাতের পর শত্রুতার অবসানের ঘোষণা দেয়া হয় এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সামুদ্রিক চলাচলে ফিরে আসার নির্দেশ দেয়া হয়। তবে উপসাগরে প্রবেশ ও প্রস্থান নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে।


    আবদোলখানি বলেন, দোহায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এবং কাতারি কর্তৃপক্ষের
    মধ্যে সমন্বয়ের পর ইরানের দায়ের বন্দর এবং কাতারের আল-রুওয়াইস বন্দরের
    মধ্যে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে।


    বিপরীত দিকে অবস্থিত এই দু’টি বন্দর মূলত আঞ্চলিক বাণিজ্যের জন্য ব্যবহৃত
    হয়। যুদ্ধের সময় দায়ের বন্দরটি বেশ কয়েকবার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।

  • ৫০০ কোটি ডলারের বাণিজ্যের লক্ষ্যে একমত পাকিস্তান-তুরস্ক

    ৫০০ কোটি ডলারের বাণিজ্যের লক্ষ্যে একমত পাকিস্তান-তুরস্ক

    পাকিস্তান ও তুরস্ক সুখে-দুঃখে একে অপরের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ৫০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। শনিবার ইস্তাম্বুলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান। এ খবর দিয়েছে অনলাইন

    সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রেসিডেন্ট এরদোগান পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ এবং তার প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, তাদের আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় স্থান পেয়েছে। এরদোগান বলেন, আমরা সব সময় একে অপরের পাশে থাকি। তিনি দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তুর্কি প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এটি বিশ্বশান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শান্তি, সমৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে পাকিস্তানের প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেন। এরদোগান জানান, তার সঙ্গে শেহবাজের আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, পাকিস্তান ও তুরস্কের সম্পর্ক গভীর, ঐতিহাসিক এবং দীর্ঘস্থায়ী। শেহবাজ বলেন, যুদ্ধ কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে তুরস্ক পাকিস্তানের পাশে থেকেছে। তিনি জানান, ইস্তাম্বুলে আয়োজিত বিজনেস ফোরামে তুরস্কের ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে এবং উভয় দেশই ৫০০ কোটি ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সঙ্গে বৈঠকের আগে ইস্তাম্বুলে পাকিস্তান-তুরস্ক বিজনেস-টু-বিজনেস (বি২বি) সম্মেলনে বক্তব্য দেন শেহবাজ শরিফ। তিনি বলেন, তুরস্ক পাকিস্তানের শক্তিশালী ও আন্তরিক মিত্র এবং আমাদের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। শেহবাজ বলেন, এই সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে উঠেছিল খিলাফত আন্দোলনের সময়। তিনি স্মরণ করেন, আলী ভ্রাতৃদ্বয়সহ উপমহাদেশের মুসলমানরা তুরস্কের স্বাধীনতা সংগ্রামে সমর্থন জানিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি কঠিন সময়ে তুরস্ক পাকিস্তানের পাশে থেকেছে। শেহবাজের ভাষ্য, প্রেসিডেন্ট এরদোগানের আন্তরিক সমর্থনের কারণেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পেরেছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এখন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে এবং শান্তির এই সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।

  • ৯৬ বার পেছাল রিজার্ভ চুরি মামলার তদন্ত  দাখিলের সময়

    ৯৬ বার পেছাল রিজার্ভ চুরি মামলার তদন্ত দাখিলের সময়

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৯ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত। এ নিয়ে ৯৬ বার পেছাল প্রতিবেদন দাখিলের দিন।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রোকুনুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    এদিন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় নতুন ওই দিন ধার্য করে আদালত।

    ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করা হয়। পরে ওই টাকা ফিলিপাইনে পাঠানো হয়। দেশের অভ্যন্তরের কোনো একটি চক্রের সহায়তায় হ্যাকার গ্রুপ রিজার্ভের অর্থ পাচার করে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ওই ঘটনায় একই বছরের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদা বাদী হয়ে অজ্ঞাতানামাদের আসামি করে মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) সহ তথ্য ও প্রযুক্তি আইন, ২০০৬-এর ৫৪ ও ৩৭৯ ধারায় একটি মামলা করেন। বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মামলাটি তদন্ত করছে।

  • ইসলামী ব্যাংকের ‘গ্রাহকসেবা মাস’ শুরু

    ইসলামী ব্যাংকের ‘গ্রাহকসেবা মাস’ শুরু

    ‘কল্যাণমুখী ব্যাংকিংয়ের অগ্রযাত্রায় গড়ি আগামীর বাংলাদেশ’ স্লোগান সামনে রেখে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ‘গ্রাহকসেবা মাস’ শুরু করেছে। ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. আলতাফ হুসাইন ১ জুলাই ২০২৬, বুধবার ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে প্রধান অতিথি হিসেবে এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন।

    অনুষ্ঠানে অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মজুমদার বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড. এম কামাল উদ্দীন জসিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মজনুজ্জামান।

    অনুষ্ঠানে ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. মাহবুব আলম, মাহমুদুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম, মুহাম্মদ সাঈদ উল্লাহ ও মো. মাকসুদুর রহমানসহ প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ব্যাংকের সব জোনপ্রধান, শাখাপ্রধান ও উপশাখা ইনচার্জ ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আলতাফ হুসাইন বলেন, বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের সব শাখা, উপশাখা, এজেন্ট আউটলেট এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। রেমিট্যান্স গ্রাহকেরাও নির্বিঘ্নে সেবা গ্রহণ করছেন। যেসব গ্রাহক হিসাব বন্ধ করে অর্থ উত্তোলন করেছিলেন, তাদের অধিকাংশই ইতোমধ্যে ব্যাংকের ওপর আস্থা রেখে ফিরে এসেছেন। এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রত্যাবর্তন আমাদের প্রতি তাদের দীর্ঘদিনের বিশ্বাসেরই সুস্পষ্ট প্রতিফলন।

    তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক একটি শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও সুদৃঢ় আর্থিক প্রতিষ্ঠান। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সুশাসন ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে নিরলসভাবে কাজ করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

  • বিএসইসি’র সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালো ডিএসই

    বিএসইসি’র সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালো ডিএসই

    দেশের স্টক এক্সচেঞ্জগুলোকে স্বাধীনভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণের মানদণ্ড নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ক্ষমতা প্রদানের বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (ডিএসই)।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এ সংক্রান্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসইসি’র এই পদক্ষেপকে দেশের পুঁজিবাজারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করে এটি বাজারের দক্ষতা বৃদ্ধি করবে ও বাংলাদেশের শেয়ারবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে সাহায্য করবে বলে জানিয়েছে ডিএসই।

    এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গত ১ জুলাই সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯-এর ধারা ২০ক-এর অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ যুগান্তকারী আদেশ জারি করেছে।

    এ আদেশের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের যথাযথ সুরক্ষা, বাজারে সুষ্ঠু, কার্যকর ও স্বচ্ছ লেনদেন নিশ্চিতকরণ, সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখা এবং দেশের পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়ন সহজতর করার লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি. (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি. (সিএসই)-কে নিজস্ব প্রবিধান ও নীতিমালা অনুযায়ী বাজার নিয়ন্ত্রণ প্যারামিটারসমূহ স্বাধীনভাবে নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

    নতুন আদেশ অনুযায়ী, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) প্রাসঙ্গিক প্রবিধান, নীতিমালা এবং পরিচালনগত প্রয়োজনীয়তার আলোকে বাজার পরিচালনার বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ প্যারামিটার নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ক্ষমতা পাবে। তবে, এসব প্যারামিটারে কোনো পরিবর্তন আনা হলে সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জকে তা অবিলম্বে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-কে অবহিত করতে হবে এবং বাজারের সব অংশগ্রহণকারীর কাছে পরিবর্তনের বিষয়ে যথাযথভাবে প্রচার ও অবহিতকরণ নিশ্চিত করতে হবে।

    বিএসইসি বলেছে, এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো বিনিয়োগকারী সুরক্ষা জোরদার করা, একটি সুশৃঙ্খল লেনদেন পরিবেশ বজায় রাখা এবং দেশের পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়নে সহায়তা করার জন্য ন্যায্য, দক্ষ ও স্বচ্ছ লেনদেনকে উৎসাহিত করা।

  • ৪ আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে আমানত পরিশোধের শেষ সুযোগ, ব্যর্থ হলে ব্যবস্থা

    ৪ আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে আমানত পরিশোধের শেষ সুযোগ, ব্যর্থ হলে ব্যবস্থা

    ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৫-এর ধারা ১৫ অনুযায়ী চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে পুনর্গঠন এবং আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ তিন মাসের বিশেষ সময় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অকার্যকর অবস্থা থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় কার্যকর (ভায়েবল) অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পরিচালনা পর্ষদের অঙ্গীকারের ভিত্তিতে এ সময়সীমা দেয়া হয়েছে।

    নির্ধারিত এই তিন মাসের মধ্যে শর্তগুলোর যেকোনো একটি বা একাধিক পূরণে ব্যর্থ হলে ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৫-এর বিধান অনুযায়ী ব্যাংক রেজুলেশন বিভাগ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় রেজুলেশন কার্যক্রম শুরু করবে।

    বিশেষ সময় পাওয়া চারটি প্রতিষ্ঠান হলো : প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফসি) এবং প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব পরিচালনা পর্ষদ ও স্পন্সর শেয়ারহোল্ডারদের মাধ্যমে নতুন মূলধন সংযোজন এবং প্রয়োজনীয় তারল্য নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে নিজস্ব সম্পদ ও সম্পত্তি বিক্রি, বকেয়া ঋণ আদায় এবং খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল বা নিষ্পত্তির মাধ্যমে শ্রেণিকৃত ঋণের হার কমিয়ে এনে সাধারণ ও ব্যক্তিগত আমানতকারীদের আমানত পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে।

  • ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারে দাম কমল ৩৫৭ টাকা

    ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারে দাম কমল ৩৫৭ টাকা

    ভোক্তা পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের বিদ্যমান দাম থেকে ৩৫৭ টাকা কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

    নতুন মূল্য অনুযায়ী, ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ৮৮৫ টাকা থেকে কমিয়ে এক হাজার ৫২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রমনায় কমিশনের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ নতুন এ দাম ঘোষণা করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের সদস্য মো: মিজানুর রহমান, মো: আব্দুর রাজ্জাক, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) শাহিদ সারওয়ার উপস্থিত ছিলেন।

    এ সময় চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, আরামকোর জুলাই মাসের সৌদি সিপির ভিত্তিতে এলপিজির দাম কমানো হয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী, অটো গ্যাসের দাম ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা থেকে ১৬ টাকা ৫৩ পয়সা কমিয়ে প্রতি লিটার ৭০ টাকা ৪০ পয়সা করেছে বিইআরসি। তবে সরকারি এলপিজির দাম ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

    তিনি জানান, এলপিজি ৫.৫ কেজি, ১২.৫ কেজি, ১৫ কেজি, ১৬ কেজি, ১৮ কেজি, ২০ কেজি, ২২ কেজি, ২৫ কেজি, ৩০ কেজি, ৩৩ কেজি, ৩৫ কেজি ও ৪৫ কেজি ধারণক্ষমতার সিলিন্ডারে বাজারজাত করা হয়। এখন থেকে বিইআরসি’র গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডারের দাম হবে যথাক্রমে ৭০০ টাকা, এক হাজার ৫৯১ টাকা, এক হাজার ৯১০ টাকা, দুই হাজার ৩৭ টাকা, দুই হাজার ২৯১ টাকা, দুই হাজার ৫৪৬ টাকা, দুই হাজার ৮০১ টাকা, তিন হাজার ১৮৩ টাকা, তিন হাজার ৮১৯ টাকা, চার হাজার ২০১ টাকা, চার হাজার ৪৫৬ টাকা এবং পাঁচ হাজার ৭২৯ টাকা।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২ জুন থেকে কার্যকর হওয়া এলপিজি’র দাম ছিল যথাক্রমে ৮৬৪ টাকা, এক হাজার ৯৬৩ টাকা, দুই হাজার ৩৫৬ টাকা, দুই হাজার ৫১৩ টাকা, দুই হাজার ৮২৭ টাকা, তিন হাজার ১৪১ টাকা, তিন হাজার ৪৫৫ টাকা, তিন হাজার ৯২৭ টাকা, চার হাজার ৭১২ টাকা, পাঁচ হাজার ১৮৩ টাকা, পাঁচ হাজার ৪৯৭ টাকা এবং সাত হাজার ৬৮ টাকা।

    এদিকে প্রতি টন প্রোপেন ৫৮০ মার্কিন ডলার এবং বিউটেন ৬০০ মার্কিন ডলারে বিক্রির নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • বর্জ্য থেকে জ্বালানি

    বর্জ্য থেকে জ্বালানি

    তথ্য প্রযুক্তি ডেস্ক:

    জনসংখ্যা বৃদ্ধি, দ্রুত নগরায়ণ এবং শিল্পায়নের ফলে বাংলাদেশে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হচ্ছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন শহর ও পৌর এলাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার টন গৃহস্থালি, বাণিজ্যিক ও শিল্পবর্জ্য জমা হচ্ছে। এসব বর্জ্যের বড় অংশ উন্মুক্ত স্থানে ফেলে রাখা হয়, যা পরিবেশ দূষণ, দুর্গন্ধ, জলাবদ্ধতা ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদাও ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বাস্তবতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও গুরুত্ব পাচ্ছে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন প্রযুক্তি, যা একদিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা কমাতে পারে, অন্যদিকে বিকল্প জ্বালানির নতুন উৎস হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে বর্জ্যকে আর সমস্যা হিসেবে নয়, বরং মূল্যবান সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। এতে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সহজ হবে।

    কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

    বর্জ্য থেকে জ্বালানি প্রযুক্তি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্যকে ব্যবহার করে বিদ্যুৎ, তাপশক্তি অথবা জ্বালানি উৎপাদন করা হয়। গৃহস্থালি বর্জ্য, খাদ্যবর্জ্য, কৃষিজ অবশিষ্টাংশ, পশুর বর্জ্য এবং শিল্পকারখানার কিছু বর্জ্য এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। বর্তমানে অধিকাংশ বর্জ্য ভাগাড়ে ফেলে রাখা হয়, যার ফলে মিথেনসহ ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত হয়। মিথেন গ্রিনহাউস গ্যাস হিসেবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর। বর্জ্যকে জ্বালানিতে রূপান্তর করা গেলে এই পরিবেশগত ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতাও হ্রাস পেতে পারে।

    কীভাবে জ্বালানি উৎপাদন হয়

    বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো বর্জ্য পুড়িয়ে তাপশক্তি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন। এছাড়া জৈব বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন এবং বিশেষ প্রক্রিয়ায় বর্জ্যকে তরল বা গ্যাসীয় জ্বালানিতে রূপান্তরের প্রযুক্তিও ব্যবহৃত হচ্ছে। খাদ্যবর্জ্য, গবাদিপশুর বর্জ্য এবং কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে উৎপাদিত বায়োগ্যাস রান্না, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্পকারখানায় ব্যবহার করা যায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে এসব প্রযুক্তি সফলভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।

    বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনা

    বাংলাদেশে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হয়। রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা এবং অন্যান্য শহরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব বর্জ্যের একটি বড় অংশ জ্বালানি উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা সম্ভব। গ্রামাঞ্চলে গবাদিপশুর বর্জ্য ব্যবহার করে বায়োগ্যাস উৎপাদনের উদ্যোগ ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় সফল হয়েছে। একইভাবে শহুরে বর্জ্য ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে একদিকে বর্জ্যের পরিমাণ কমবে, অন্যদিকে নতুন জ্বালানি উৎস তৈরি হবে।

    পরিবেশ সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা

    বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের অন্যতম বড় সুবিধা হলো পরিবেশ দূষণ কমানো। উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য জমে থাকলে বায়ু, মাটি ও পানিদূষণের ঝুঁকি তৈরি হয়। এছাড়া বর্জ্য থেকে উৎপন্ন মিথেন গ্যাস জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম কারণ। বর্জ্যকে পরিকল্পিতভাবে জ্বালানিতে রূপান্তর করা গেলে এসব ক্ষতিকর প্রভাব কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণও হ্রাস পেতে পারে, যা পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

    বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন শুধু পরিবেশগত নয়, অর্থনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। এতে নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। বর্জ্য সংগ্রহ, বাছাই, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে বহু মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা

    যদিও বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের সম্ভাবনা অনেক, তবুও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, বর্জ্য সঠিকভাবে পৃথক্‌করণ এবং সংগ্রহের ব্যবস্থা এখনো পর্যাপ্ত নয়। অনেক ক্ষেত্রে জৈব ও অজৈব বর্জ্য একসঙ্গে মিশে যাওয়ায় প্রক্রিয়াজাতকরণ কঠিন হয়ে পড়ে। দ্বিতীয়ত, আধুনিক প্রযুক্তি স্থাপন এবং পরিচালনার জন্য বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন। এছাড়া দক্ষ জনবল, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনারও প্রয়োজন রয়েছে।

    সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে জনসচেতনতার ওপর। পরিবার, প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পকারখানাকে বর্জ্য পৃথক্‌করণে উৎসাহিত করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমেও এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে, যাতে মানুষ বর্জ্যকে শুধু ফেলার বস্তু হিসেবে নয়, বরং সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে শেখে।

    ভবিষ্যতের সম্ভাবনাবিশ্বজুড়ে টেকসই জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে। একই সঙ্গে পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন প্রযুক্তি একটি কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব সমাধান হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশেও সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। এতে একদিকে শহর ও গ্রাম হবে আরো পরিচ্ছন্ন, অন্যদিকে জ্বালানির নতুন উৎস সৃষ্টি হবে। ভবিষ্যতে টেকসই উন্নয়ন ও সবুজ অর্থনীতি গঠনের পথে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

  • পাবনায় মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট স্বামী-স্ত্রী মৃত্যু

    পাবনায় মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট স্বামী-স্ত্রী মৃত্যু

    পাবনা সদরে পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার আতাইকুলা থানার কুচিমোরা উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    মৃতরা হলেন ওই গ্রামের বাসিন্দা সবদুল প্রামাণিক (৩৫) ও তার স্ত্রী আশা খাতুন (২৫)।

    আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মুজিবুর রহমান ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    মৃতদের পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি জানান, তাদের বাড়ির পাশের পুকুরের ওপর দিয়ে যাওয়া একটি বৈদ্যুতিক তার একটি সরু বাঁশের লাঠি দিয়ে ঠেকনা দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়েছিল। সন্ধ্যায় ওই দম্পতি পুকুরে মাছ ধরার সময় হঠাৎ তারটি বাঁশের লাঠি থেকে পিছলে সরাসরি পানিতে পড়ে যায় এবং তারা দু’জনই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।

    পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি লক্ষ করে বিদ্যুৎ লাইনের প্রধান সুইচ বন্ধ করে দেন এবং ওই দুইজনকে পানি থেকে টেনে তোলেন। ততক্ষণে তাদের মৃত্যু হয়।

    ওসি মুজিবুর রহমান আরো জানান, ঘটনার পর পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়নি। তবে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    এ,আর

  • ভাইয়ের প্রতারণায় ২ কোটি টাকা হারানোর অভিযোগ প্রবাসী ভাইয়ের

    ভাইয়ের প্রতারণায় ২ কোটি টাকা হারানোর অভিযোগ প্রবাসী ভাইয়ের

    ফেনীর দাগনভূঞায় দক্ষিণ আফ্রিকাপ্রবাসী আবুল মনছুর আহাদ অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ ১৪ বছরের কষ্টার্জিত দুই কোটি ১৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭৯ টাকা তার মেজো ভাই আত্মসাৎ করেছেন।

    বুধবার ফেনী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ তুলে ধরেন।

    মনছুর আহাদ উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ আবদুল নবী গ্রামের বাসিন্দা খায়েজ আহমদের ছেলে।

    লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি ফাস্টফুড ব্যবসা পরিচালনা করে উপার্জিত সব সঞ্চয় দেশে পাঠিয়েছেন। তার মেজো ভাই ওমর আলম ফরহাদের প্রতি বিশ্বাস রেখে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ পাঠান। দেশে ফিরে তার জন্য ফ্ল্যাট, জায়গা এবং ব্যবসার জন্য হাইস গাড়ি কিনে দেয়ার আশ্বাসও দেয়া হয়েছিল।

    তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালে দেশে ফিরে দেখেন তার পাঠানো অর্থ দিয়ে ভাই নিজের নামে ফ্ল্যাট, ব্যবসা ও ওষুধের দোকান গড়ে তুলেছেন। কিন্তু তাকে কোনো সম্পদের মালিকানা কিংবা টাকার হিসাব দেয়া হয়নি। বারবার হিসাব চাইলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়।

    আবুল মনছুর আহাদের দাবি, তিনি তার ভাইয়ের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে ৬২ লাখ ৮০ হাজার ১৪৮ টাকা এবং এনএ কনস্ট্রাকশনের হিসাবে ১ কোটি ৫৫ লাখ ১৩ হাজার ৭২৫ টাকাসহ মোট ২ কোটি ১৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭৯ টাকা পাঠিয়েছেন।

    তিনি আরো জানান, দেশে ফেরার আগে তার হাতে লেখা টাকার হিসাবের একটি চিরকুট ভাইয়ের ছেলে খোরশেদ আলমের কাছে রেখে আসেন। দেশে ফিরে সেই হিসাবও তাকে দেয়া হয়নি। বরং পাওনা টাকা ও হিসাব চাইতে গেলে তাকে পৈত্রিক বাড়িতে যেতে নিষেধ করা হয় এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন।

    আবুল মনছুর আহাদ বলেন, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়-স্বজন ও বিভিন্ন মহলের মাধ্যমে একাধিকবার বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো প্রতিকার পাননি। পরে বাধ্য হয়ে তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি অর্থহীন, অসুস্থ ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

    সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আবুল মনছুর আহাদ বলেন, ‘প্রবাসে জীবনের সোনালী সময়গুলো পরিবারের সুখের জন্য উৎসর্গ করেছি। আজ সেই কষ্টের উপার্জনের হিসাব চাইতে গিয়ে আমি অসহায় হয়ে পড়েছি। আমি শুধু আমার কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত চাই, এর বেশি কিছু নয়।’

  • প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রথম বছরে ক্রিপ্টো থেকে ট্রাম্পের আয় ১০০ কোটি ডলারের বেশি

    প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রথম বছরে ক্রিপ্টো থেকে ট্রাম্পের আয় ১০০ কোটি ডলারের বেশি

    ২০২৫ সালে ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক লেনদেন থেকে ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টদের প্রতিবছর যে বাধ্যতামূলক বার্ষিক আর্থিক বিবরণী দিতে হয়, সেই বিবরণীতে ট্রাম্প এই তথ্য দিয়েছেন।

    ৯২৭ পৃষ্ঠার এই আর্থিক বিবরণীতে ট্রাম্প জানান, দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক দিন আগে চালু করা ট্রাম্প মিম কয়েন থেকে রয়্যালটি বাবদ ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় হয়েছে। তবে চালুর পর থেকে ওই কয়েনের মূল্য অনেকটাই কমে গেছে।

    ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল থেকে তাঁর আয় হয়েছে ৫০ কোটি ডলারের বেশি। এই ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেছেন ট্রাম্পের পুত্র ও ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সন্তানেরা।

    এ ছাড়া রিয়েল এস্টেট ও ট্রাম্প-ব্র্যান্ডের বিভিন্ন পণ্য থেকেও ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও কয়েক লাখ ডলার আয় করেছেন। তবে তিনি প্রেসিডেন্ট পদ থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, হোয়াইট হাউস তা অস্বীকার করেছে।

    ট্রাম্পের সর্বশেষ আর্থিক বিবরণীতে উল্লেখিত আয়ের পরিমাণ ২০২৪ সালের আগের বিবরণীর তুলনায় অনেক বেশি। ২০২৪ সালে তিনি ৬০ কোটি ডলারের বেশি আয়ের তথ্য দিয়েছিলেন।

    তবে হোয়াইট হাউস বারবার জোর দিয়ে বলছে, ট্রাম্প তাঁর ব্যবসাগুলো ছেলেদের পরিচালিত ট্রাস্টে রেখেছেন। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত হচ্ছে না।

    হোয়াইট হাউসের উপপ্রেস সচিব আনা কেলি বলেন, প্রেসিডেন্ট গর্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিশ্বের ক্রিপ্টো রাজধানী’ হিসেবে গড়ে তুলছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট কিংবা তাঁর পরিবার কখনো স্বার্থের সংঘাতে জড়ায়নি—এবং ভবিষ্যতেও জড়াবে না।’

    আনা আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের সব পদক্ষেপই আমেরিকান জনগণের সর্বোচ্চ স্বার্থ সংরক্ষণে নেওয়া হয়। এর উল্টোটা দাবি করা তথাকথিত সাংবাদিকেরা ডেমোক্র্যাট ও পুরোনো ধারার গণমাধ্যমের বহুদিনের পুরোনো ও মিথ্যা বক্তব্যই পুনরাবৃত্তি করছে।’

    ট্রাম্প নিজেও বলেছেন, তিনি ফেডারেল স্বার্থসংঘাত আইনের আওতায় পড়েন না। একসময় ট্রাম্প ক্রিপ্টোকারেন্সির সমালোচনা করতেন। তিনি বিটকয়েনকে ‘প্রতারণা’ ও দুর্যোগপ্রবণ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।

    মঙ্গলবার প্রকাশিত বিবরণীতে দেখা যায়, ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে ট্রাম্পের যে আয়, সেটা তাঁর রিয়েল এস্টেট ব্যবসার আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। এই রিয়েল এস্টেট ব্যবসা থেকেই তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।

    এ ছাড়া ট্রাম্প মার–ই–লোগো ক্লাব থেকে প্রায় ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং ট্রাম্প ন্যাশনাল ডোরাল মিয়ামি গলফ ক্লাব থেকে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার আয় করেছেন। নিউ জার্সির ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাব বেডমিনস্টার, ফ্লোরিডার জুপিটার ও স্কটল্যান্ডের ট্রাম্প টার্নবেরি গলফ ক্লাব থেকেও তিনি ৩ কোটি ডলারের বেশি করে আয় করেছেন।

    আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, অন্যান্য ব্যবসা থেকেও ট্রাম্প কয়েক মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। এর মধ্যে আছে ট্রাম্প-ব্র্যান্ডের ঘড়ি থেকে ৪৭ লাখ ডলার রয়্যালটি। এ ছাড়া ট্রাম্প-ব্র্যান্ডের বাইবেল, জুতা, সুগন্ধি ও গিটার থেকেও আয় এসেছে।

    এদিকে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পও ২০২৫ সালের আয় বিবরণীতে নিজের আয় উল্লেখ করেছেন। গত বছর মুক্তি পাওয়া তাঁকে নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রের ‘লাইসেন্স চুক্তি’ থেকে তিনি ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার আয় করেছেন।

    এ ছাড়া এনএফটি বিক্রি থেকে মেলানিয়া আরও ৬০ লাখ ডলার আয় করেছেন। এনএফটি হলো অনলাইনে বিক্রি হওয়া ডিজিটাল ছবি।

    বিভিন্ন আইনি মামলার নিষ্পত্তি থেকে মোট ৮ কোটি ৬৫ লাখ ডলার আয়ের কথাও জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্যে রয়েছে এবিসির বিরুদ্ধে মামলা থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার, সিবিএস ও সিবিএস ইন্টারঅ্যাকটিভ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার, মেটা থেকে ২ কোটি ৪৫ লাখ ডলার, ইউটিউব থেকে ২ কোটি ২০ লাখ ডলার ও এক্স থেকে ৮০ লাখ ডলার।

    হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ওই অর্থের বেশির ভাগই ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি অথবা ওয়াশিংটন ডিসি এলাকার পার্ক রক্ষণাবেক্ষণে নিবেদিত অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে যাবে।

    ফোর্বস ম্যাগাজিনের তালিকা অনুযায়ী, ট্রাম্পের মোট সম্পদের পরিমাণ এখন প্রায় ৬০০ কোটি ডলার, ২০২৪ সালে যা ছিল ২৩৩ কোটি ডলার। অন্যদিকে ব্লুমবার্গের বিলিয়নিয়ার সূচকে তাঁর সম্পদের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৭৬০ কোটি ডলার।

    হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর ট্রাম্প ক্রিপ্টোশিল্পের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থান নিয়েছেন, যদিও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটাল টোকেন ইস্যু করছে।

    ক্রিপ্টোর বিকাশে ট্রাম্প এই খাতবান্ধব বেশ কিছু ব্যক্তিকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিয়েছেন। আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউএস সিকিউরিটিস অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের প্রধানকেও ক্রিপ্টোশিল্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

    ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে দায়িত্ব নেওয়ার পর পল অ্যাটকিন্স তাঁর পূর্বসূরির কঠোর নিয়ন্ত্রণনীতি থেকে সরে এসে সংস্থাটির অবস্থান শিথিল করেছেন। গত জুলাইয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প জিনিয়াস অ্যাক্ট আইনে স্বাক্ষর করেন, যার লক্ষ্য ‘ডিজিটাল সম্পদের বাজারে আমেরিকাকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

    ৯০০ পৃষ্ঠার বেশি ট্রাম্পের বার্ষিক এই আর্থিক বিবরণী তাঁর পূর্বসূরিদের তুলনায় অনেক বড়। জো বাইডেন তাঁর মেয়াদের শেষ বছর আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন মাত্র ১১ পৃষ্ঠার।

  • ডলার বেচে সোনা কিনতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো

    ডলার বেচে সোনা কিনতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো

    আগামী এক দশকে ডলারভিত্তিক রিজার্ভ কমানোর পরিকল্পনা করছে বিশ্বের অনেক কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেখা যাচ্ছে, ডলার রিজার্ভ বাড়ানোর চেয়ে কমানোর বিষয়ে আগ্রহী বেশির ভাগ কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তারা এখন সোনাসহ অন্যান্য মুদ্রায় রিজার্ভ বাড়াতে চায়।

    এমন প্রবণতা এই প্রথম দেখা গেল বলে জানিয়েছে লন্ডনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান অফিশিয়াল মনিটারি অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস ফোরাম (ওএমএফআইএফ)।

    এমন সময় এই জরিপের ফল প্রকাশিত হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে শুল্ক আরোপের নানা পথ খুঁজছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছেই।

    গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত এই জরিপ চলতি বছরের মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে পরিচালিত হয়। এতে বিশ্বের ৭৪টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক অংশ নেয়। ২০২৩ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম ডলার রিজার্ভ কমানোর প্রবণতা বাড়ানোর প্রবণতা ছাড়িয়ে গেল।

    বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ‘ডি-ডলারাইজেশন’ বা ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর যে প্রবণতা শুরু হয়েছে, এটি তার আরেকটি বড় ইঙ্গিত। এর অর্থ হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনে ডলারের ব্যবহার কমে যাওয়া। ফলে মুদ্রাটির চাহিদা ও মূল্য—উভয়ের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।

    মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগান চেজের তথ্যানুসারে, গত বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ডলারের হিস্যা দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

    ওএমএফআইএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর ডলারে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবেশের চেয়ে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিই বেশি প্রভাব ফেলেছে। বিশ্বব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে ফেলতে যুক্তরাষ্ট্রের যে ভূমিকা, তা–ও বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ পোর্টফোলিওতে এখনো ডলারের আধিপত্য আছে, নিকট ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। গত ৫ বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মোট বরাদ্দের প্রায় ৫৮ শতাংশই ডলারে রয়েছে।

    তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ধীরে ধীরে ডলারনির্ভরতা কমিয়ে ইউরো ও চীনের রেনমিনবির দিকে ঝুঁকছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় সব কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে, রেনমিনবি রিজার্ভে বৈচিত্র্য আনতে সহায়ক।

    অন্যদিকে দুই-তৃতীয়াংশ ব্যাংক বলেছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ইউরোর ব্যবহার আগের চেয়ে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। গত বছর যেখানে এই হার ছিল ৪৩ শতাংশ, এবার তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৬৭ শতাংশ। দীর্ঘমেয়াদে ইউরো রিজার্ভ বাড়াতে চায় ২৯ শতাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক, গত বছর যা ছিল ২২ শতাংশ।

    ডয়েচে বুন্দেস ব্যাংকের বাজারবিষয়ক মহাপরিচালক কারস্টেন স্ট্রোবর্ন প্রতিবেদনে বলেছেন, ২০২৫ সালে ইউরোভিত্তিক আন্তর্জাতিক ঋণের পরিমাণ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এ ছাড়া গ্রিন বন্ডের (এমন একধরনের ঋণপত্র, যার মাধ্যমে তোলা অর্থ পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়।) প্রধান মুদ্রা এখন ইউরো।

    এ ছাড়া বিকল্প মুদ্রা হিসেবে সিঙ্গাপুরি ডলার, দক্ষিণ কোরিয়ার ওন ও দক্ষিণ আফ্রিকার রান্ডের প্রতিও আগ্রহ বাড়ছে।

    সোনার চাহিদা বাড়ছে

    ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সোনার চাহিদা বেড়েছে। রেকর্ডসংখ্যক কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, তারা সোনায় বিনিয়োগ বাড়াতে চায়, যদিও গত ১ বছরে সোনার দাম ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

    বাস্তবতা হলো বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর রিজার্ভে এখন সোনার হিস্যা সবচেয়ে বেশি। টানা কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বিপুল পরিমাণে সোনা কেনা এবং গত দুই বছরে দাম প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার ফলে রিজার্ভ সম্পদ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডকে (ট্রেজারি) ছাড়িয়ে গেছে সোনা।

    ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শেষে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মোট রিজার্ভ সম্পদের ২৭ শতাংশ ছিল সোনা, ১ বছর আগে ছিল যা ছিল ২০ শতাংশ। এই সময়ে রিজার্ভ হিসেবে মার্কিন ট্রেজারির হিস্যা ২৫ থেকে কমে ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে রিজার্ভ হিসেবে ইউরোর হিস্যা ১৫ শতাংশে স্থির আছে।

    ওএমএফআইএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক মুদ্রাব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিয়ে সংশয় বেড়ে যাওয়ায় এই পরিবর্তন ঘটছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সম্পদ ব্যবস্থাপনার কৌশলের মূল ভূমিকায় এখন সোনা।

    জরিপে ৫১ শতাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোনায় বিনিয়োগ বাড়ানোর কারণ হিসেবে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ করেছে, ২০২৪ সালের তুলনায় যা ১১ শতাংশ বেশি।

  • আজ বন্ধ থাকবে ব্যাংকের লেনদেন

    আজ বন্ধ থাকবে ব্যাংকের লেনদেন

    ব্যাংক হলিডে উপলক্ষে বুধবার (১ জুলাই) দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে গ্রাহক পর্যায়ের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে বন্ধ থাকবে শেয়ারবাজারের লেনদেনও।

    তবে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সব তফশিলি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ শাখা সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। এসব কার্যালয়ে শুধু প্রশাসনিক ও হিসাবসংক্রান্ত কাজ পরিচালিত হবে। গ্রাহকদের কোনো ধরনের ব্যাংকিং সেবা দেওয়া হবে না।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধান অনুযায়ী প্রতি বছর ১ জুলাই এবং ৩১ ডিসেম্বর ‘ব্যাংক হলিডে’ পালন করা হয়। এ দুই দিনে গ্রাহক পর্যায়ের লেনদেন বন্ধ রেখে ব্যাংকগুলো অভ্যন্তরীণ হিসাব-নিকাশ, আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে।

  • কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য’

    কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য’

    জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, দেশের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রান্তিক কৃষকদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।

    তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং কৃষকের জীবনমানের উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে কৃষিসেবা আরও কার্যকর করা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা সম্প্রসারণে সরকার বদ্ধপরিকর।

    মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রান্তিক কৃষকদের ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় কৃষকদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    সাক্ষাৎকালে ডেপুটি স্পিকার প্রতিনিধিদলের বক্তব্য শোনেন। তিনি এলাকার রাস্তা, সেতু-কালভার্ট নির্মাণ, নদীভাঙন রোধ, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, বৈষম্য দূরীকরণ এবং কৃষক কার্ড প্রাপ্তির বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

    তিনি বলেন, কৃষকের উন্নয়ন মানেই দেশের উন্নয়ন। তাই কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইন, নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে জাতীয় সংসদ ও সরকার সর্বদা সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করবে। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং উৎপাদিত ফসল সহজে বাজারজাতকরণে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

    এর আগে সোমবার বিকালে দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রান্তিক কৃষকদের একটি প্রতিনিধিদল তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। এ সময় তারা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে হারভেস্টার সরবরাহ, সার ও উন্নতমানের বীজের সহজলভ্যতা, সেচসুবিধার সম্প্রসারণ, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণসহ কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা এবং কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার বিষয় ডেপুটি স্পিকারের কাছে তুলে ধরেন।

    এ এম

  • গ্রাহকদের জন্য স্মার্টফোন সাশ্রয়ী করতে বাংলালিংকের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

    গ্রাহকদের জন্য স্মার্টফোন সাশ্রয়ী করতে বাংলালিংকের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

    ধানমন্ত্রী তারেক রহমান গ্রাহকদের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে স্মার্টফোন পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে বাংলালিংক কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আজ সোমবার বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভেয়নের চেয়ারম্যান অগি ফাবেলা তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এই আহ্বান জানান।

    জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময়ে ডিজিটাল সেবাকে আরও সহজলভ্য করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

    এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বাংলালিংক কর্তৃপক্ষকে আরও সাশ্রয়ী মূল্যে স্মার্টফোন গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান, যেন সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের হাতে স্মার্টফোন পৌঁছে যায়। একই সঙ্গে ইন্টারনেটের মূল্য আরও কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করারও আহ্বান জানান তিনি।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ভেয়নের বোর্ড সদস্য মিশেল সোয়েটিং এবং বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইওহান হেনড্রিক মার্টিনাস বুসে।

  • যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

    যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

    যেকোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যানকে জাতীয় অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষিকে সহায়তা দেওয়া এবং উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়নে যেকোনো মূল্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।’

    আজ সোমবার দুপুরে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, ‘নদী, খাল ও সেচ অবকাঠামোয় বড় ধরনের বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের দীর্ঘদিনের পানি ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।বিশেষ করে রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের মানুষের অন্যতম বড় উদ্বেগের বিষয় পানি। সংসদ সদস্যরা নিয়মিত পদ্মা ও তিস্তা নদী নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। আমরা এসব সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছি।’

    সারা বছর কৃষির জন্য পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে কৃষিসহ অন্যান্য খাতে তা ব্যবহার করা হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজের মাধ্যমে বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করা হবে। যেন পুরো শুষ্ক মৌসুম এবং বছরের অন্যান্য সময় কৃষি ও প্রয়োজনীয় খাতে সেই পানি সরবরাহ করা যায়।’

    ‘দীর্ঘদিন ধরে সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তঃনদী সংযোগের অভাবে বাংলাদেশ ভুগছে। এর ফলে অনেক নদীর নাব্যতা হারিয়ে গেছে এবং বিভিন্ন এলাকায় সেচ ও পানির সংকট তৈরি হয়েছে’, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ‘আমি এমন এলাকা পরিদর্শন করেছি, যেখানে বর্ষায় চারদিকে পানি থাকলেও অল্প দূরের কৃষকরা পানির অভাবে জমিতে সেচ দিতে পারেন না।তবে এই সমস্যা সমাধানে দেশব্যাপী নদী ও খাল খনন এবং পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’

    আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘পানি প্রবাহ, সেচ ব্যবস্থা এবং বন্যা ব্যবস্থাপনা যাতে উন্নত করা যায় এ লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি চলছে। গত তিন মাসে প্রায় ৯শ’ কিলোমিটার খাল খনন বা পুনঃখনন করা হয়েছে।’

    কৃষকদের জন্য সরকারের সহায়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারের অন্যতম প্রথম সিদ্ধান্ত ছিল ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ এবং তার সুদ মওকুফ করা। এতে প্রায় ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন।’

    কৃষকদের সরাসরি সহায়তা দেওয়ার জন্য সরকার বিশেষ কৃষক কার্ড চালু করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৪৩ লাখ কৃষক এই কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা এবং অন্তত ১০টি অতিরিক্ত সেবা পাবেন। আমরা কৃষকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছি।’

    যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠানো এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সেবার পরিধি বাড়াতে সরকার কাজ করছে।’

    এর অংশ হিসেবে প্রবাসীদের বিভিন্ন সেবা সহজলভ্য করতে এবং বিদেশে তাঁদের ভোগান্তি কমাতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য নয়, জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

    দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, দুর্বল পরিকল্পনা ও অবহেলার কারণে দেশের জ্বালানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানকে অবহেলা করে বিদেশি কোম্পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি করা হয়েছে।তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার এখন জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে আমদানি নির্ভরতা কমানো যায়।’

    মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংকটের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ পরিস্থিতি আবারও প্রমাণ করেছে যে আমদানি নির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। সরকারের বৃহত্তর লক্ষ্য হলো এমন একটি শক্তিশালী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তোলা, যা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।’

    শিক্ষা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, শিক্ষিত ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন জনগোষ্ঠীই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তবে আগের শাসনামলে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করা হয়েছিল। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে শিক্ষা খাতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।

    এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। বাজেট এ অধিবেশনে প্রথমে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং পরে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখেন।

  • আবার কমলো স্বর্ণের দাম

    আবার কমলো স্বর্ণের দাম

    দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়েছে।

    সোমবার সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।

    সংস্থাটি জানায়, সোমবার সকালে বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির বৈঠকে এ দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণালঙ্কারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা। এর আগে, এর দাম ছিল ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা।

    এছাড়া ভ্যাটসহ ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা।

    স্বর্ণের দাম কমানো হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা।

  • কমছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর

    কমছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অনুযায়ী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, ডেন্টাল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর করপোরেট করহার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তন অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের করহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, শিক্ষার মান উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি শিক্ষা খাতকে সহায়তা করার লক্ষ্যেই এই কর ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    নতুন করহার: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও তথ্যপ্রযুক্তি-ভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের করহার কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

    শর্ত সহজ হচ্ছে: নতুন অর্থবছরে কর কমানোর ক্ষেত্রে আগের তুলনায় শর্ত শিথিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠান: ইউজিসি অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এই সুবিধার আওতায় আসবে।

    খাতের দাবি: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে কর কমানো বা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিল।

  • করমুক্ত আয়সীমা হচ্ছে ৪ লাখ টাকা

    করমুক্ত আয়সীমা হচ্ছে ৪ লাখ টাকা

    মূল্যস্ফীতির দীর্ঘস্থায়ী চাপের মধ্যে সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে চার লাখ টাকা করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এর ফলে যাদের বার্ষিক বেতনভিত্তিক আয় ছয় লাখ টাকার কম (বেতনের এক-তৃতীয়াংশ করমুক্ত সুবিধাসহ), তাদের আয়কর দিতে হবে না।

    একই সঙ্গে ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ট্যাক্সপেয়ার্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) জমা দেওয়ার বিধানও প্রত্যাহারের চিন্তাভাবনা হচ্ছে। অর্থ বিল-২০২৬ পাসের আগে শেষ সময়ে এসে বিভিন্ন অংশীজন ও ব্যবসায়ীদের আপত্তির মুখে প্রস্তাবিত বাজেটে এসব সংশোধনী আনার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার।

    নিয়মিত কর দিয়ে জমি-ফ্ল্যাটের প্রকৃত মূল্য প্রদর্শনের নতুন বিধানও বাতিল করা হচ্ছে। পাশাপাশি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় লভ্যাংশ আয়ের ওপর আগের মতোই ২০ শতাংশ করহার বহাল রাখা হচ্ছে।

    একই সঙ্গে খুচরা ব্যবসায়ী পর্যায়ে একক ভ্যাট হার বসানোর চিন্তা থেকেও আপাতত সরে আসছে সরকার। এ ছাড়া বাজেটে আরো কিছু পরিবর্তন আসছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র। পরিবর্তনগুলো হবে অর্থবিল পাসের মাধ্যমে।

    জাতীয় সংসদে মঙ্গলবার অর্থবিল-২০২৬ পাসের আগে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) শেষ মুহূর্তে এসব সংশোধনী আনছে বলে দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

    অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছিল। এবার মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান করমুক্ত আয়সীমা আরো ২৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে চার লাখ টাকা করার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। অর্থাৎ এক বছরে করমুক্ত সীমা বেড়েছে মোট ৫০ হাজার টাকা।

  • ‘প্যাকেজ ভ্যাটে ভ্যাট আরোপ থেকে সরে আসছে সরকার

    ‘প্যাকেজ ভ্যাটে ভ্যাট আরোপ থেকে সরে আসছে সরকার

    ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপর নির্দিষ্ট হারে ভ্যাট বহুল আলোচিত ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ আরোপের প্রস্তাব থেকে সরে আসছে সরকার। তবে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চলতি হিসাব খোলা, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন বা বিকাশ-নগদের মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে ব্যবসা শনাক্তকরণ নাম্বারের (বিআইএন) বাধ্যবাধকতা বহাল থাকছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    বর্তমানে বছরে ৫০ লাখ টাকা বা তার বেশি টার্নওভার থাকা খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধন নিতে হয় এবং এর নিচের প্রতিষ্ঠানগুলো ভ্যাটের আওতার বাইরে রয়েছে। তবে নতুন বাজেট প্রস্তাবে আগামী ১ জুলাই থেকে টার্নওভারের পরিমাণ নির্বিশেষে সব খুচরা ব্যবসাকে ভ্যাটের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছিল।

    এই প্রস্তাবের পর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। তারা আশঙ্কা করেন, এতে পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং ভ্যাট কর্মকর্তাদের হয়রানির ঝুঁকি বাড়বে।

    সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অর্থ বিলটি আজ অর্থ আইন হিসেবে পাস হওয়ার আগেই অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংশ্লিষ্ট বিধান বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

    একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবটি বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি অনেক মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাধারণ ভ্যাটব্যবস্থার পরিবর্তে প্যাকেজ ভ্যাটের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। এসব বিবেচনাতেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে।

  • আহসান হাবিব এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান

    আহসান হাবিব এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আহসান হাবিব। এর আগে তিনি এনবিআরের সদস্য এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের তথ্য জানানো হয়।

    ১৫তম বিসিএস (ট্যাক্সেশন) ক্যাডারের কর্মকর্তা আহসান হাবিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। এছাড়া বিসিএস পরীক্ষায়ও তিনি তার ব্যাচে প্রথম স্থান অধিকার করেন।

    কর্মজীবনে তিনি কর অঞ্চল-১৫-এর কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সিআইসির মহাপরিচালক থাকাকালে কর ফাঁকি ও আর্থিক অনিয়মসংক্রান্ত বেশ কয়েকটি আলোচিত অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করেন। অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম ‘উল্কাগেমস’ থেকে বকেয়া কর আদায়ের উদ্যোগেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

  • শেয়ারবাজারে বড় উত্থান : ১,৩৭১ কোটি টাকার লেনদেন

    শেয়ারবাজারে বড় উত্থান : ১,৩৭১ কোটি টাকার লেনদেন

    সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক ও লেনদেন- উভয় ক্ষেত্রেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

    ডিএসইর বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, রোববার মোট ৩৯৪টি কোম্পানির ৪৪ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার ৭৮২টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট হাতবদল হয়েছে। এতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৭১ কোটি ৩ লাখ ৮২ হাজার ৬৩৮ টাকা।

    দিন শেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৬৬ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৭১৯ দশমিক ৭৬ পয়েন্টে অবস্থান করে। ডিএসই-৩০ সূচক ৩১ দশমিক ৪১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ১৬২ দশমিক ৫৭ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ১৩ দশমিক ৩১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৫৬ দশমিক ৯৬ পয়েন্টে পৌঁছেছে।

    লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২১৩টির শেয়ারদর বেড়েছে, ১৩৩টির কমেছে এবং ৪৮টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

    লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো বেক্সিমকো ফার্মা, এনসিসি ব্যাংক, আইটিসি, ডমিনেজ স্টিল, আইপিডিসি, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, বিডি থাই, স্কয়ার ফার্মা এবং আরো একটি বেক্সিমকো ফার্মা সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটি।

    দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো- বেক্সিমকো ফার্মা, দেশ গার্মেন্টস, ইন্দো-বাংলা ফার্মা, ফারইস্ট নিটিং, ক্রাউন সিমেন্ট, মিনেজ স্টিল, ইন্ট্রা লিজিং, আইটিসি, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, মিডল্যান্ড ব্যাংক।

    দর কমার ক্ষেত্রে শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো- ড্যাফোডিল কম্পিউটারস, সিএপিএম আইবিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, ন্যাশনাল ফিডস, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, এসকে ট্রিমস, তুংহাই ইন্ডাস্ট্রিজ, জেনারেশন নেক্সট, রিজেন্ট টেক্সটাইল।

  • বাংলাদেশে ৯.২১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব চীনা ১২ প্রতিষ্ঠানের

    বাংলাদেশে ৯.২১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব চীনা ১২ প্রতিষ্ঠানের

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরকালে তার সাথে বৈঠকের পর জ্বালানি, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, উৎপাদন ও শিক্ষা খাতে বাংলাদেশে ৯.২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে চীনা ১২টি কোম্পানি।

    গত ২৫ জুন বেইজিংয়ে ১২টি কোম্পানির প্রধান নির্বাহী এবং ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎকালে এই বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলো পেশ করেন।

    বৈঠকে উপস্থিত থাকা বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী পরিচালক আশিক চৌধুরী শনিবার জানান, নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে, যা বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে।

    তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ এবারই প্রথম পাঁচ বছরের একটি ট্যাক্স আউটলুক (কর রূপরেখা) উপস্থাপন করেছে। যা সম্ভাব্য বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসকে তুলে ধরেছে।

    বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুযায়ী, সাংহাই এসইউএস এনভায়রনমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড বাংলাদেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ (ডব্লিউটিই) প্ল্যান্ট উন্নয়নে ৮৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব করেছে।

    চীন ফিউচার অ্যানার্জি গ্রুপ হোল্ডিং লিমিটেড গ্যাস ক্ষেত্র অনুসন্ধান ও উন্নয়নের জন্য ২৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছে। চীন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি) মোংলা পোর্ট ইকোনমিক জোন উন্নয়ন ও পরিচালনার জন্য ৬৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছে, যার মধ্যে বন্ডেড ওয়ারহাউস সুবিধা এবং লজিস্টিকস অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি প্রায় ৫০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    এ ছাড়া, শেনজেন কাইফা টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেড বৈদ্যুতিক স্মার্ট মিটার তৈরিতে ২৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব করেছে। এসএফ এক্সপ্রেস ই-কমার্স এবং রফতানি শিল্পকে সহায়তা করতে মোংলায় কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস এবং বন্ডেড ওয়ারহাউস সুবিধার জন্য ১৮০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। হুয়াক্সিন টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি কো. লিমিটেড রিসাইকেলড তুলা ও সুতা উৎপাদন সম্প্রসারণ, সিলিন্ড্রিক্যাল লিথিয়াম ব্যাটারি তৈরি এবং পায়রা বন্দর শিল্পাঞ্চলে একটি ২০০ মেগাওয়াট ক্যাপটিভ সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য ১৯০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছে।

    ঝংক্সিন এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন গ্রুপ পায়রা বন্দর শিল্পাঞ্চলে ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং নিষ্কাশন শিল্প প্রকল্প স্থাপনের জন্য একক বৃহত্তম পরিবেশগত বিনিয়োগ হিসেবে ১.৬৫ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব করেছে।

    সিআরআরসি জিয়ান কো. লিমিটেড বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) সাথে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে একটি রোলিং স্টক অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্টে ১৯০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব করেছে। সিচুয়ান রোড অ্যান্ড ব্রিজ গ্রুপ কো. লিমিটেড ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রকল্পে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে।

    চীন কেপাই এডুকেশন গ্রুপ ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর ধারণক্ষমতা সম্পন্ন একটি আধুনিক জীবনমুখী বিশ্ববিদ্যালয় এবং কারিগরি শিক্ষা শিল্প পার্ক প্রতিষ্ঠার জন্য ২৭০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব করেছে। চীন শানডং ঝংক্সিন ফার্মাসিউটিক্যাল কো. লিমিটেড বাংলাদেশে বৃহৎ পরিসরে চীনা ভেষজ চাষ শিল্প গড়ে তুলতে ১৯০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছে।

  • ব্যাংকগুলোর ক্যামেলস রেটিং বন্ধ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

    ব্যাংকগুলোর ক্যামেলস রেটিং বন্ধ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

    দেশের ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্বাস্থ্য ও সক্ষমতা মূল্যায়ন পদ্ধতি ক্যামেলস রেটিং ব্যবস্থা বন্ধ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। এখন থেকে ব্যাংকগুলোর সার্বিক ঝুঁকি ও ব্যবস্থাপনা মূল্যায়ন করতে কম্পোজিট রিস্ক রেটিং (সিআরআর) ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। নতুন এই ব্যবস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিস্ক বেসড সুপারভিশন (আরবিএস) বা ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি কাঠামোর অংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    এতদিন ব্যাংকগুলোর মূলধন পর্যাপ্ততা, সম্পদের গুণগত মান, ব্যবস্থাপনা, আয়, তারল্য এবং বাজার ঝুঁকির সংবেদনশীলতা—এ ছয়টি সূচকে একটি ব্যাংকের অতীত ও বর্তমান আর্থিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে ক্যামেলস রেটিং করা হতো। ব্যাংকের সামগ্রিক আর্থিক স্বাস্থ্য মূল্যায়নের অন্যতম মানদণ্ড ছিল এই পদ্ধতি।

    ক্যামেলস রেটিংয়ে ব্যাংকগুলোকে এক থেকে পাঁচ পর্যন্ত স্কোর দেওয়া হতো। এর মধ্যে এক মানে সবচেয়ে ভালো এবং পাঁচ মানে সবচেয়ে দুর্বল বা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংক। এই রেটিং পুরোপুরি গোপন রাখা হতো। কেবল সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছেই তা জানানো হতো।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ক্যামেলস পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা ছিল—এটি মূলত ব্যাকওয়ার্ড লুকিং বা অতীতভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা। অর্থাৎ, কোনো ব্যাংক গত তিন বা ছয় মাসে কী ধরনের ব্যবসা করেছে কিংবা তাদের আর্থিক প্রতিবেদনের অবস্থা কেমন ছিল, তার ভিত্তিতেই রেটিং নির্ধারণ করা হতো। ফলে ভবিষ্যতে কোনো ব্যাংক সংকটে পড়ার ঝুঁকি থাকলেও তা এই রেটিংয়ে আগেভাগে ধরা পড়ত না।

    এর পরিবর্তে চালু হওয়া কম্পোজিট রিস্ক রেটিং (সিআরআর) হবে ফরওয়ার্ড লুকিং বা ভবিষ্যৎমুখী মূল্যায়ন পদ্ধতি। এটি শুধু ব্যাংকের বর্তমান আর্থিক অবস্থাই মূল্যায়ন করবে না, বরং ভবিষ্যতে কী ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে এবং সেই ঝুঁকি মোকাবিলার মতো আর্থিক সক্ষমতা ব্যাংকটির আছে কি না, তাও আগাম মূল্যায়ন করবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নথিতে বলা হয়েছে, ক্যামেলস ও অন্যান্য সমান্তরাল রেটিং ব্যবস্থা চালু থাকলে কাজের পুনরাবৃত্তি হয়, তদারকি কর্মকর্তাদের সময় নষ্ট হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে দুই পদ্ধতির ফলাফলে অমিল দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই পুরো তদারকি প্রক্রিয়াকে আরো সমন্বিত ও কার্যকর করতে ক্যামেলস রেটিং বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, নতুন তদারকি ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরেও বড় ধরনের প্রশাসনিক পুনর্গঠন করা হয়েছে। তদারকি ও অভিযোগ-সংক্রান্ত কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস করে ১৭টি নতুন ব্যাংক সুপারভিশন বিভাগ গঠন করা হয়েছে এবং আগের কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

    অভ্যন্তরীণ নথিতে আরো বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যেমন—ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক, পাকিস্তানের স্টেট ব্যাংক এবং ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে ক্যামেলস পদ্ধতির পরিবর্তে ভবিষ্যৎমুখী ঝুঁকিভিত্তিক রেটিং ব্যবস্থা চালু করেছে।

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নতুন সিআরআর ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো ব্যাংকে বড় ধরনের সংকট তৈরির আগেই সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য আগাম সতর্কবার্তা বা আর্লি ওয়ার্নিং সিগন্যাল হিসেবে কাজ করবে। ফলে ব্যাংকিং খাতের তদারকি আরো কার্যকর হবে এবং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

    নতুন এই কাঠামোকে দূরদর্শী বলে মনে হলেও ব্যাংকিং বিশ্লেষকদের মতে, এর সাফল্য কাঠামোর ডিজাইনের চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ করার সদিচ্ছার ওপর বেশি নির্ভর করবে।

    ক্যামেলস রেটিং মূলত তার নির্ভরযোগ্যতা হারিয়েছিল। কারণ অনেক ব্যাংক খেলাপি ঋণ লুকিয়ে, খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) না রেখে এবং মূলধন ঘাটতি বজায় রেখেও তদারকি সূচকগুলোয় কৃত্রিমভাবে ভালো ফলাফল দেখাত। আর বাংলাদেশ ব্যাংক ক্যামেলস রেটিং মূল্যায়ন করত এবং তারা এসব কারসাজির বিষয় জেনেও চুপ ছিল। পাশাপাশি এসব কারসাজির বিষয়ে কোনো অর্থপূর্ণ শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়নি।

    বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেই বারবার ব্যাংকগুলোকে প্রভিশন ও মূলধন সংরক্ষণের শর্ত শিথিল করে দিয়েছে। নামমাত্র ডাউন পেমেন্টে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করার সুযোগ দিয়ে এবং পরিদর্শনে গুরুতর অনিয়ম চিহ্নিত হওয়ার পরও বড় কোনো জরিমানা না করে নীতিগত ছাড় দিয়ে আসছিল। এসব ছাড়ের কারণে আর্থিকভাবে সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোও তাদের প্রকৃত অবস্থার চেয়ে নিজেদের অনেক বেশি ভালো হিসেবে জাহির করার সুযোগ পেত, যা তদারকি রেটিংয়ের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রতিনিয়ত প্রশ্ন তুলত।

    ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই দুর্বলতাগুলো আরো স্পষ্টভাবে সামনে আসে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তথ্যেই দেখা যায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ ব্যাংকগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা মোট ঋণের ৬০ শতাংশের সমান।

  • এডিপি বাস্তবায়ন ১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

    এডিপি বাস্তবায়ন ১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

    চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন নেমে এসেছে ১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। এ সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে বরাদ্দের মাত্র ৪৮ দশমিক ২৩ শতাংশ। ফলে অর্থবছর শেষ হতে চললেও অর্ধেক অর্থও খরচ করতে পারেনি মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো।

    গতকাল বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

    আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এক হাজার ৩৫৯টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সংশোধিত এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ আট হাজার ৯৩৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিলও রয়েছে। জুলাই-মে সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে এক লাখ ৭৬৩ কোটি টাকার কিছু বেশি।

    গত অর্থবছরের একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের পরিমাণ ছিল এক লাখ ১১ হাজার ৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। সেই হিসাবে এবার ব্যয় কমেছে প্রায় ১০ হাজার ২৪২ কোটি টাকা। এর আগের অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ ছিল এক লাখ ৪৬ হাজার ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তার আগের ২০২২-২৩ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে ব্যয় ছিল যথাক্রমে এক লাখ ৪৬ হাজার ২১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ও এক লাখ ৩৮৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

    আইএমইডির হিসাব অনুযায়ী, গত দেড় দশকে জুলাই-মে সময়ে গড়ে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে। এবার সেই হার নেমে এসেছে ৫০ শতাংশের নিচে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অগ্রগতি। এমনকি করোনাকালে লম্বা সময় লকডাউনে থাকার বছরও এর চেয়ে বেশি হারে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

    মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক বাস্তবায়ন চিত্রও হতাশাজনক। সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, যার বাস্তবায়ন হার মাত্র ১২ দশমিক ২৩ শতাংশ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন হয়েছে ১৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ২০ দশমিক ৪৫ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতের অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ বাস্তবায়ন করেছে ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ২৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এছাড়া সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রাপ্ত ১৫ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বাস্তবায়ন হারে আরো পিছিয়ে আছে। এর মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৩৫ দশমিক ১৮ শতাংশ, রেলপথ মন্ত্রণালয় ৪২ দশমিক ৪৬ শতাংশ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ৪৬ দশমিক ২৩ শতাংশ।

    অন্যদিকে উন্নয়ন ব্যয়ে শীর্ষে রয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। মূলত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের অগ্রগতির কারণে মন্ত্রণালয়টির বাস্তবায়ন হার দাঁড়িয়েছে ৮৩ দশমিক ৩৩ শতাংশে। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ৮২ দশমিক ৫৩ শতাংশ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ৭৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ৭২ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয় ৬৮ দশমিক ৪১ শতাংশ বরাদ্দ ব্যয় করেছে।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, ক্রয়প্রক্রিয়ায় বিলম্ব, বৈদেশিক সহায়তা ছাড়ে জটিলতা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার পাশাপাশি প্রকল্প পরিচালনায় দক্ষ জনবলের ঘাটতি এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। বিপুল বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও অনেক সংস্থা নির্ধারিত সময়ে অর্থ ব্যয় করতে পারছে না।

    তাদের মতে, এডিপি বাস্তবায়নের নিম্ন হার শুধু উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে ধীর করে না, বরং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবকাঠামো সম্প্রসারণেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই প্রকল্প অনুমোদন, অর্থ ছাড় ও বাস্তবায়ন ব্যবস্থায় দক্ষতা এবং জবাবদিহি বাড়াতে হবে।

    অর্থবছরের শেষ মাসে ব্যয় বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হলেও সামগ্রিক বাস্তবায়ন হার খুব বেশি বাড়ার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে টানা কয়েক বছর ধরে এডিপি বাস্তবায়নে দুর্বলতার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

  • বাংলাদেশকে ১১০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

    বাংলাদেশকে ১১০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

    অর্থনীতি ডেস্ক:

    খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জীবিকা সুরক্ষা এবং বৈশ্বিক সার ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে জরুরি সহায়তা হিসেবে প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা) দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। শুক্রবার দুটি পৃথক প্রকল্পের আওতায় এ অর্থায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    বিশ্বব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে খাদ্য, সার ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সীমিত আর্থিক সক্ষমতার কারণে বাংলাদেশে ক্ষুদ্র কৃষক, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে

    বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেসমে বলেন, এই সহায়তার মাধ্যমে ধান উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা, মানুষের জীবিকা ও কর্মসংস্থান রক্ষা এবং জরুরি সেবা অব্যাহত রাখতে সহায়তা করা হবে।

    অনুমোদিত অর্থের মধ্যে ‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি প্রজেক্ট’-এর আওতায় ৩০ কোটি ডলার (প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা) দেওয়া হবে। এই অর্থ দিয়ে ২০২৬ সালের জুলাই-অক্টোবরের আমন মৌসুম এবং ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বোরো মৌসুমে প্রয়োজনীয় সার আমদানিতে সহায়তা করা হবে।

    বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট সারের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি আমদানিনির্ভর। প্রকল্পের আওতায় ৬ লাখ মেট্রিক টন গুরুত্বপূর্ণ সার আমদানির অর্থায়ন করা হবে, যার অর্ধেক ইউরিয়া। এতে প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর জমিতে ক্ষুদ্র কৃষকদের ধান উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সহায়তা মিলবে।

    প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার ও বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ সুলেমান কৌলিবালি বলেন, দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে আমন ও বোরো মৌসুম থেকে। এছাড়া দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফলে সারের সরবরাহ ব্যাহত হলে তা শুধু খাদ্য নিরাপত্তাই নয়, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য পরিস্থিতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

    অন্যদিকে ‘কনটিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় ৭১ কোটি ৩০ লাখ ডলার (প্রায় ৮ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা) দেওয়া হবে। এ অর্থ দ্রুত ছাড় করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নগদ সহায়তা ও জীবিকা পুনরুদ্ধার কর্মসূচিতে ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের মতো জরুরি সেবা সচল রাখতে জ্বালানি খাতে ব্যয় করা হবে। প্রকল্পটির অর্থ ৩০ জুনের মধ্যে ছাড় করা হবে।

    বিশ্বব্যাংকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ লেসলি জিন ইউ করদেরো বলেন, বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে এই সহায়তা দ্রুত অর্থপ্রাপ্তির সুযোগ তৈরি করবে। এর ফলে মানুষ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থানকে অর্থনৈতিক ধাক্কা থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।

  • চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষার্থী ও বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষার্থী ও বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় পৃথক ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জুবায়ের হোসেন (১৬) নামে এক শিক্ষার্থী ও বজ্রপাতে নাজমুল হোসেন (২৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

    এর মধ্যে জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলায় বাড়ির গ্রিলে বিদ্যুতায়িত হয়ে জুবায়ের হোসেনের মৃত্যু হয়েছে।

    নিহত জুবায়ের আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাঙবাড়ীয়া ইউনিয়নের বগাদী গ্রামের হাফিজুল ইসলামের ছেলে। সে চলতি বছর ভোগাইল-বগাদী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ফলপ্রার্থী ছিল।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ির গ্রিলে হাত দিলে জুবায়ের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    স্থানীয়রা বলছেন, বৈদ্যুতিক তারের লিকেজ থেকে বাড়ির গ্রিল বিদ্যুতায়িত হয়েছিল। অসাবধানতাবশত গ্রিলে হাত দিলে জুবায়ের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়।

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: আফরিনা ইসলাম বলেন, ‘নিথর অবস্থায় ওই কিশোরকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত পাওয়া যায়। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছিল।’

    অপর ঘটনায় জেলার দামুড়হুদা উপজেলায় মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে কৃষক নাজমুল হোসেনের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে রুদ্রনগর মাঠে পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত নাজমুল হোসেন উপজেলার রুদ্রনগর গ্রামের জসীম উদ্দীনের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে পাওয়ার টিলার নিয়ে নিজের জমি চাষ দিতে যায় নাজমুল হোসেন। দুপুর ২টার দিকে বজ্রসহ বৃ‌ষ্টি শুরু হয়। এ সময় মা‌ঠে কাজ কর‌ছি‌লেন নাজমুল হোসেন। মাঠেই বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন তিনি।

    পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন বলেন, কৃষিকাজ করার সময় বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

  • পে স্কেলের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে সচিব কমিটির পাঁচ সিদ্ধান্ত

    পে স্কেলের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে সচিব কমিটির পাঁচ সিদ্ধান্ত

    দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছেন। জনপ্রশাসন-সংক্রান্ত পে কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার পর নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সচিব কমিটির বৈঠকে নতুন এ বেতনকাঠামো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

    নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি ও মূল্যস্ফীতির বিষয়টি মাথায় রেখে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও বেতনবৈষম্য দূরীকরণকে এ বৈঠকের মূল এজেন্ডা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জনপ্রশাসন খাতের সুপারিশগুলো নিয়ে চূড়ান্ত মতৈক্যে পৌঁছানো গেলেও বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। এ দুটি খাতের সুপারিশ নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে বেতন কত শতাংশ বাড়বে কিংবা নতুন পে স্কেল কত ধাপে কার্যকর করা হবে—এসব বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বৈঠকে অংশ নেওয়া সদস্যরা।

    অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অবসরোত্তর ছুটিতে (এলপিআর) থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নবম পে স্কেলের সুবিধার আওতায় অন্তর্ভুক্ত হবেন।

    সূত্রে জানা গেছে, সরকার আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকর করার চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির কারণে কর্মচারীদের হাতে বর্ধিত বেতন পৌঁছাতে দুই-তিন মাস সময় লাগলেও ১ জুলাই থেকেই তা কার্যকর হবে এবং পরবর্তী সময়ে বকেয়া বা অ্যারিয়ার্স হিসেবে সেই অর্থ প্রদান করা হবে।

    প্রাথমিক পরিকল্পনায় তিন ধাপে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও কর্মচারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এখন মাত্র দুই ধাপে পুরো পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর্থিক চাপ বিবেচনায় ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রথম ধাপেই ৬০ শতাংশ সুবিধা প্রদানের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য প্রথম ধাপে ৪০ শতাংশ বর্ধিত বেতন প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।

    এছাড়া ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের গ্রেডভিত্তিক বৈষম্য দূর করতে একটি বিশেষ রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। মূল বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সংগতি রেখে বাড়িভাড়া ও চিকিৎসাভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে জোর দেওয়া হয়েছে।

    পে স্কেল ঘোষণার পর যেন কোনো আইনি বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা না দেয়, সেজন্য আইনি ভেটিং এবং বিধিমালা সংশোধনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে।

    অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সচিব কমিটির সভায় পে কমিশনের জনপ্রশাসন-সংক্রান্ত সুপারিশ চূড়ান্ত হলেও বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর সুপারিশ নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা যায়নি। তবে এ দুই সংস্থার ব্যাপারে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। শিগগির বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তাবনাও চূড়ান্ত করা হবে। এজন্য আরো একটি সভা হতে পারে।

    বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এখন প্রশাসনিক ও আইনি ধাপগুলো সম্পন্ন করে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষায় সংশ্লিষ্টরা।

  • ইরান যুদ্ধের আগের অবস্থায় জ্বালানি তেলের দাম

    ইরান যুদ্ধের আগের অবস্থায় জ্বালানি তেলের দাম

    ইরান যুদ্ধ ঘিরে কয়েক মাসের অস্থিরতার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।

    হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশায় তেলের দাম দ্রুত কমছে। এর ফলে ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ইরান যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থানে ফিরে এসেছে।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আগামী আগস্ট মাসে সরবরাহের চুক্তিভিত্তিক ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ১ দশমিক ২২ ডলার বা ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৭২ দশমিক ৫২ ডলারে নেমে এসেছে।

    অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ দশমিক ০২ ডলার বা ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৬৯ দশমিক ৩২ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে। উভয় চুক্তির ক্ষেত্রেই তেলের এই দাম গত ২৭ ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন।

    বাংলাদেশের হিসাব অনুয়ায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল প্রতি ব্যারেল (১ ব্যারেল সমান প্রায় ১৫৯ লিটার) বিক্রি হচ্ছে ৮ হাজার ৭০২ টাকা (১ ডলার সমান ১২০ টাকা ধরে)। অর্থাৎ, প্রতি লিটার অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম পড়ছে প্রায় ৫৪ টাকা ৭৩ পয়সা।

    এর মাধ্যমে দুই ধরনের তেলের দামই ২৭ ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। রয়টার্স বলছে, আগস্টের ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সেপ্টেম্বরের দামের তুলনায় কম ছিল।

    সেপ্টেম্বরে বিক্রির জন্য চুক্তিতে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ছিল ৭৩ দশমিক ৫৯ ডলার। বিশ্লেষকদের মতে, সেপ্টেম্বরের দামের তুলনায় আগস্টে সরবরাহযোগ্য তেলের দাম কমে যাওয়াটা স্বল্পমেয়াদে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    বুধবার (২৪ জুন) এক ফোরামে মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল এখন ইরান যুদ্ধ পূর্ববর্তী স্বাভাবিক অবস্থার কাছাকাছি পৌঁছেছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২০ মিলিয়ন (২ কোটি) ব্যারেল তেল এই প্রণালি পার হয়েছে। তবে প্রণালিটি সম্পূর্ণ মাইনমুক্ত করতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগার কারণে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা দেরি হবে।