অর্থ ও বাণিজ্য

  • প্রকল্প বাস্তবায়নে সংস্কার ও জবাবদিহিতা জোরদার করবে সরকার : জোনায়েদ সাকি

    প্রকল্প বাস্তবায়নে সংস্কার ও জবাবদিহিতা জোরদার করবে সরকার : জোনায়েদ সাকি

    পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো: জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব কমানো, জবাবদিহিতা জোরদার করা, প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন, নির্মাণ খরচের রেট শিডিউল সংশোধন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তদারকি বাড়াতে একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।

    আজ বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক শেষে তথ্য অধিদফতরে (পিআইডি) সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    জোনায়েদ সাকি বলেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় রোধ এবং সরকারি বিনিয়োগকে আরো কার্যকর করার লক্ষ্যে এসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

    তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যবস্থা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে, যেখানে দীর্ঘসূত্রতা, দুর্বল সমন্বয়, দায়িত্বের ওভারল্যাপ এবং জবাবদিহির অভাবের কারণে প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে এবং বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়েছে।

    তিনি জানান, আজকের একনেক সভায় মোট ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে আটটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

    এছাড়া ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষার একটি প্রকল্প পর্যবেক্ষণসহ ফেরত দেয়া হয়েছে। একনেকের সুপারিশ অনুযায়ী সংশোধন করে প্রকল্পটি পরবর্তী সভায় উপস্থাপন করা হবে।

    সাকি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি প্রকল্প বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছেন এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং জনগণের করের অর্থের সর্বোচ্চ সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রকল্পভিত্তিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

    তিনি বলেন, এখন থেকে অনুমোদিত প্রতিটি প্রকল্প এই নির্দেশনা অনুসারেই বাস্তবায়ন করা হবে।

    তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারকেরা প্রকল্প প্রস্তুতি, অর্থায়ন ও বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপ পর্যালোচনা করছেন। কোথায় অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হচ্ছে তা চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং জনগণের প্রতিটি টাকা যেন আরো দক্ষতার সাথে ব্যয় হয়, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।’

    প্রতিমন্ত্রী জানান, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অস্বাভাবিক দীর্ঘ সময় লাগা সরকারের অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয়।

    তিনি উল্লেখ করেন, প্রচলিত নিয়মে একনেকের অনুমোদনের পরও কেবল আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে কার্যাদেশ (ওয়ার্ক অর্ডার) পেতেই দেড় থেকে দুই বছর সময় লেগে যায়। অনেক ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের কাজ দেরিতে শুরু হওয়ায় উন্নয়ন কাজের গতি কমে যায় এবং প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যায়।

    তিনি বলেন, ‘এই দীর্ঘসূত্রতা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং সরকারি বিনিয়োগের প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুফল পেতে বিলম্ব ঘটায়। উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

    সাকি জানান, সরকার তাই প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে এবং দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত বাস্তবায়ন কাঠামো তৈরি করছে।

    তিনি জানান, চলমান প্রকল্প এবং এডিপির ‘গ্রিন পেজ’-এ অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পগুলো ‘রি-স্কোপিং’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রকল্পের বিভিন্ন উপাদান সংযোজন, বিয়োজন, সম্প্রসারণ বা সংকোচন করা হবে।

    এর লক্ষ্য হলো সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার, পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত উন্নয়ন কাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় অগ্রাধিকারের সাথে সরকারি বিনিয়োগকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বর্তমানে চারটি বড় সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

    প্রথমত, পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত উন্নয়ন কাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে, যা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে। এর সারসংক্ষেপ প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর এটি জাতীয় নীতিপত্র হিসেবে প্রকাশ করা হবে।

    দ্বিতীয়ত, প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য একটি ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড তৈরি করা হচ্ছে।

    তৃতীয়ত, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের জন্য দায়ী প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাগুলো পর্যালোচনা করে তা দূর করার সুপারিশ প্রণয়ন করা হচ্ছে।

    এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) ইতোমধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যা বর্তমানে পর্যালোচনাধীন।

    সাকি জানান, প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগে একটি খসড়া নীতিমালাও প্রণয়ন করা হচ্ছে।

    এই নীতিমালায় স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, যোগ্যতাভিত্তিক নির্বাচন এবং পিডিদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

    এ লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ মডিউল ও প্রাতিষ্ঠানিক কোর্স ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করার আশা করছে সরকার।

    চতুর্থত, পরিকল্পনা বিভাগ, আইএমইডি, বাংলাদেশ সরকারি ক্রয় কর্তৃপক্ষ (বিপিপিএ), বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক নাগরিক ডাটাবেজসমূহকে সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করতে ব্যাপক স্বয়ংক্রিয়করণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্মাণকাজের সংশোধিত রেট সিডিউল প্রণয়নে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি ইতোমধ্যে দুই দফা বৈঠক করেছে এবং আগামীকাল আবার বৈঠকে বসবে।

    ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও কেন ব্যয় বেড়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে সাকি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন, ভ্যাট ও করের হিসাবের পরিবর্তন, মূল ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত না থাকা ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তর এবং নতুন পাঁচটি উপাদান সংযোজনের কারণেই ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

    জবাবদিহির বিষয়ে তিনি বলেন, খুলনার রূপসা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে বিলম্বের ঘটনায় মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদন একনেক সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

    সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সম্পন্ন হবে বলে সরকার আশা করছে।

    তিনি বলেন, নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে প্রকল্প বাস্তবায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে, সরকারি জবাবদিহি জোরদার হবে, এডিপি বাস্তবায়নের গতি বাড়বে এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

  • বেতনের টাকা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে কেন, কারণ জানলে চমকে যাবেন

    বেতনের টাকা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে কেন, কারণ জানলে চমকে যাবেন

    একসময় মাসের বেতন দিয়ে পুরো মাসের সংসার চালানো অনেক পরিবারের জন্য সম্ভব হতো। এখন সেই বাস্তবতা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বেতন হাতে পাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই অনেকের ব্যাংক হিসাব প্রায় শূন্য হয়ে যাচ্ছে। মাসের শেষ সপ্তাহ পার করতে ধার, ক্রেডিট কার্ড কিংবা আত্মীয়-স্বজনের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে অসংখ্য পরিবারকে। প্রশ্ন হচ্ছে— একই বেতন পেয়েও কেন মাসের শুরুতেই টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে?

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এর প্রধান কারণ শুধু মূল্যস্ফীতি নয়; বরং দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল বাজার ব্যবস্থাপনা, সরবরাহ ব্যবস্থার অদক্ষতা, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য, উচ্চ সুদহার, স্থবির বিনিয়োগ এবং মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাওয়ার সম্মিলিত প্রভাব।

    টানা চার অর্থবছরেও মূল্যস্ফীতিকে স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে পারেনি সরকার। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমেছে। কিন্তু বাস্তবে বাজারে গিয়ে সাধারণ মানুষ সেই স্বস্তি পাচ্ছেন না।

    চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, সবজি— প্রায় সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি।

    অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতি কমার অর্থ পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়। এর অর্থ হলো—দাম বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে। ফলে বাজারে মানুষ যে দামে পণ্য কিনছেন, তাতে বাস্তব স্বস্তি এখনও আসেনি।

    ১০০ টাকার বাজার এখন ১৪০ টাকারও বেশি

    মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে পরিবারের মাসিক বাজেটে।

    বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গত চার অর্থবছরে ১০০ টাকার যে বাজার করা যেত, এখন সেই একই বাজার করতে খরচ হচ্ছে ১৪০ টাকারও বেশি।

    অন্যদিকে একই সময়ে বেতন বা মজুরি সেই হারে বাড়েনি। ফলে মানুষের প্রকৃত আয় কমে গেছে। কাগজে-কলমে বেতন বাড়লেও সেই অর্থ দিয়ে আগের মতো পণ্য কেনা যাচ্ছে না।

    অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

    কৃষকের কাছ থেকে ২০ টাকা, ঢাকায় ৬০ টাকা দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির অন্যতম কারণ সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা।

    বগুড়ার মহাস্থানগড়সহ দেশের বিভিন্ন কৃষিপ্রধান এলাকা থেকে কম দামে কেনা সবজি রাজধানীতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে কয়েক হাত বদলায়। প্রতিটি ধাপে যুক্ত হয় কমিশন, পরিবহন ব্যয়, গুদাম খরচ, লাভ, কখনও অনানুষ্ঠানিক চাঁদাবাজির ব্যয়ও। ফলে কৃষক যে পণ্য ২০ টাকায় বিক্রি করেন, সেটিই ঢাকায় ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়। শুধু সবজি নয়, চাল, ডিম, মাছ, মুরগি, দুধসহ অনেক পণ্যের ক্ষেত্রেই উৎপাদক ও খুচরা বাজারের দামের ব্যবধান দুই থেকে তিন গুণ পর্যন্ত। অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি বাজার ব্যবস্থাপনার বড় ব্যর্থতা।

    কেন কমছে না বাজারের দাম?

    সরকার কয়েকটি নিত্যপণ্যে শুল্ক কমিয়েছে, আমদানিতে সুবিধা দিয়েছে এবং বাজার তদারকিও বাড়িয়েছে। তবুও কেন দাম কমছে না?

    বিশ্লেষকদের মতে, এর কয়েকটি কারণ রয়েছে। সেগুলো হলো– দীর্ঘ সরবরাহ শৃঙ্খল; অতিরিক্ত মধ্যস্বত্বভোগী; দুর্বল বাজার তদারকি; সীমিত প্রতিযোগিতা

    পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি; উচ্চ সুদহারে ব্যবসার খরচ বেড়ে যাওয়া; আগের বেশি দামে আমদানি করা পণ্যের মজুত।

    এ কারণে সরকারের দেওয়া অনেক সুবিধাই শেষ পর্যন্ত ভোক্তার কাছে পৌঁছাচ্ছে না।

    উচ্চ সুদের আরেক চাপ

    মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার বাড়িয়েছে। এতে ব্যাংক ঋণের খরচ বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঋণের সুদ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে অনেক পণ্যের দাম কমানোর সুযোগ থাকলেও ব্যবসায়ীরা তা পারছেন না।

    অন্যদিকে নতুন বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় কর্মসংস্থানও ধীর হয়ে পড়ছে।

    বেতন শেষ, ভরসা এখন ক্রেডিট কার্ড

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, দেশের ভেতরে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ২০২৬ সালের মে মাসে দেশে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা; যা এক বছরের ব্যবধানে ৩৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ডিপার্টমেন্ট স্টোরে। এটি স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে, মানুষ এখন শুধু বিলাসী কেনাকাটা নয়, দৈনন্দিন বাজার করতেও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করছেন।

    ব্যাংকারদের মতে, মাসিক আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান বাড়ায় অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে ধারনির্ভর জীবনযাপনের দিকে ঝুঁকছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরীর মতে, সাময়িকভাবে ক্রেডিট কার্ড স্বস্তি দিলেও আয় অনুযায়ী ঋণ পরিশোধ সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে এটি বড় আর্থিক ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে।

    দক্ষিণ এশিয়ায় এখনও উচ্চ মূল্যস্ফীতি

    গত জুন মাসে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি ছিল বাংলাদেশে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে যাদের আয় নির্দিষ্ট, কিন্তু ব্যয় প্রতিদিন বাড়ছে, তাদের জন্য সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

    শুধু মুদ্রানীতি দিয়ে সমাধান নয়

    অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু সুদহার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। কার্যকর সমাধানের জন্য প্রয়োজন– কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ; অপ্রয়োজনীয় মধ্যস্বত্বভোগী কমানো; পাইকারি ও খুচরা বাজারে কার্যকর নজরদারি; ডিজিটাল কৃষি বিপণন সম্প্রসারণ; কোল্ড চেইন অবকাঠামো উন্নয়ন; বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি; চাঁদাবাজি ও কৃত্রিম সংকট কঠোরভাবে দমন; উৎপাদন ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা।

    কেন মাসের শুরুতেই বেতন শেষ হয়ে যাচ্ছে?

    অর্থনীতিবিদদের মতে, এর পেছনে কয়েকটি বড় কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। সেগুলো হলো– দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি; বেতনের তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক দ্রুত বৃদ্ধি; নিত্যপণ্যের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি; কৃষক ও ভোক্তার দামের মধ্যে বিশাল ব্যবধান; বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা; উচ্চ সুদে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি; বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে স্থবিরতা এবং প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া।

    স্বস্তি ফিরবে কীভাবে?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরবে না। কৃষক যেন ন্যায্যমূল্য পান, ভোক্তা যেন যুক্তিসংগত দামে পণ্য কিনতে পারেন এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের অস্বাভাবিক মুনাফা কমানো যায়– এমন একটি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

    কারণ কাগজে-কলমে মূল্যস্ফীতি কমলেও যদি বাজারে গিয়ে মানুষ একই দামে চাল, ডিম, মাছ কিংবা সবজি কিনতে বাধ্য হন, তাহলে তাদের কাছে অর্থনীতির কোনও পরিসংখ্যানই স্বস্তির খবর হয়ে ওঠে না।

    বাস্তবতা হলো, আজ অনেক পরিবারের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন আর বেতন কত– তা নয়; বরং সেই বেতন দিয়ে মাসের কতদিন সংসার চালানো সম্ভব।

  • পরিচালক-এমডির অনিয়মের তথ্য গোপনে জানাতে পারবেন ব্যাংক কর্মকর্তারা

    পরিচালক-এমডির অনিয়মের তথ্য গোপনে জানাতে পারবেন ব্যাংক কর্মকর্তারা

    ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বা ইন্টারনাল অডিট ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনায় অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা, কমপ্লায়েন্স ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে আলাদা করা হয়েছে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ আগের চেয়ে আরো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো সব ব্যাংকে হুইসেলব্লোয়ার ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দুর্নীতি বা গুরুতর অনিয়মে জড়িত থাকলে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষকরা সেই তথ্য গোপনে সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা বা পরিচালনা পর্ষদের অনুমতি লাগবে না।

    মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা (ইন্টারনাল কন্ট্রোল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম-আইসিএমএস) নির্দেশনা জারি করেছে। এর মাধ্যমে ২০১৬ সালের ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিপালন (গাইডলাইনস অন ইন্টারনাল কন্ট্রোল অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স ইন ব্যাংকস) নির্দেশনা বাতিল করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, ২০১৬ সালের নির্দেশনা তখনকার তদারকি ব্যবস্থার জন্য উপযোগী ছিল। কিন্তু এখন বাংলাদেশ ব্যাংক ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি (রিস্ক বেইজড সুপারভিশন-আরবিএস) চালু করেছে। তাই নতুন তদারকি ব্যবস্থার সঙ্গে মিল রেখে নির্দেশনা পরিবর্তন করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, নতুন নির্দেশনায় অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা, কমপ্লায়েন্স ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য আলাদা নির্দেশনা থাকবে, এই নির্দেশনায় মূলত অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও কমপ্লায়েন্স কীভাবে পরিচালিত হবে, তা বলা হয়েছে।

    ওই কর্মকর্তা জানান, নতুন নির্দেশনার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও কমপ্লায়েন্সকে আলাদা করা। আগে একজন হেড অব আইসিসি দুই বিভাগের দায়িত্ব পালন করতেন। এখন থেকে হেড অব ইন্টারনাল অডিট ও হেড অব কমপ্লায়েন্স আলাদা ব্যক্তি হবেন এবং তাদের পদমর্যাদাও সমান থাকবে। ফলে নিরীক্ষায় কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে সেটি উপেক্ষা করার সুযোগ কমে যাবে।

    তিনি আরো বলেন, হেড অব ইন্টারনাল অডিট সরাসরি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অডিট কমিটির কাছে রিপোর্ট করবেন। আগে তাকে ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কাজ করতে হতো। এখন তিনি আরো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন।

    নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় পরিচালনা পর্ষদ বা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ধরা পড়লে তা গোপনীয়ভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক তদারকি বিভাগে জানাতে হবে। ২০১৬ সালের নির্দেশনায় এমন বিধান ছিল না।

    এছাড়া প্রতিটি ব্যাংককে অভিযোগ গ্রহণের জন্য হটলাইন, ই-মেইল, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা সিলগালা লিখিত অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে। হুইসেলব্লোয়ারের পরিচয় গোপন রাখতে হবে এবং পর্যাপ্ত তথ্য থাকলে বেনামি অভিযোগও তদন্ত করতে হবে। অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে পদাবনতি, সাময়িক বরখাস্ত বা হয়রানির মতো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    ফরেনসিক, কনকারেন্ট ও ভার্চুয়াল অডিট

    নতুন নির্দেশনায় ফরেনসিক, কনকারেন্ট ও ভার্চুয়াল অডিট চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে জালিয়াতির তদন্ত করে আদালতে ব্যবহারযোগ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে। কনকারেন্ট অডিটে লেনদেন চলার সময়ই নিয়মিত নজরদারি করা হবে। আর ভার্চুয়াল অডিটের মাধ্যমে দূর থেকে নিরাপদভাবে অডিট পরিচালনা করা যাবে।

    প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি

    ব্যাংকগুলোকে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আওতায় বাণিজ্যভিত্তিক অর্থপাচার শনাক্তকরণ, ঋণ ঝুঁকি, বাজার ঝুঁকি, কাউন্টারপার্টি ঝুঁকি, সাইবার নিরাপত্তা ও জালিয়াতি প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।

    সব তফসিলি ব্যাংককে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক পরিবর্তন সম্পন্ন করে নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

  • যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায্য চাইলো পাকিস্তান

    যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায্য চাইলো পাকিস্তান

    বৈদেশিক মুদ্রার সংকট মোকাবিলা এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের ‘এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন সাপোর্ট ফ্যাসিলিটি’ বা ‘বিনিময় হার স্থিতিশীলতা সহায়তা তহবিল’ চেয়েছে পাকিস্তান। খবর রয়টার্সের।
    বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, পাক সরকারের এই অনুরোধ অনুমোদিত হলে নগদ অর্থের সংকটে থাকা ইসলামাবাদের অর্থনীতির জন্য এটি বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে তথ্য প্রকাশ্যে এলো।

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে মধ্যস্থতায় ভূমিকা রাখার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের কূটনৈতিক গুরুত্ব কিছুটা বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনসহ বিভিন্ন অংশীদারের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার আশা করছে ইসলামাবাদ।
    সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের কাছে পাঠানো অনুরোধে পাঁচ বছর পর্যন্ত মেয়াদের ১০ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন সাপোর্ট ফ্যাসিলিটি গঠনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
    এই সহায়তা অনুমোদিত হলে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে, রুপির ওপর চাপ কমবে এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের ওপর নির্ভরশীলতাও কিছুটা হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে আইএমএফ কর্মসূচির আওতায় পাক সরকার যে কঠোর রাজস্ব ও মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে, তা বাস্তবায়নেও সহায়ক হবে।
    তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। অন্যদিকে,

    আইএমএফের শর্তে চলছে পাকিস্তান
    বর্তমানে পাকিস্তান আইএমএফের ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকারকে কর বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় কমানো এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে, যা রাজনৈতিকভাবে বেশ অজনপ্রিয়।
    বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন সুবিধা অত্যন্ত বিরল। সাধারণত মার্কিন এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড থেকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে ডলার, কারেন্সি সোয়াপ বা আর্থিক গ্যারান্টি দেয়া হয়। এগুলো ফেডারেল রিজার্ভের স্থায়ী ডলার সোয়াপ ব্যবস্থার থেকে আলাদা এবং সংকটকালে সংশ্লিষ্ট দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
    ২০২৫ সালে আর্জেন্টিনা এ ধরনের একটি সুবিধা পেয়েছিল। এর আগে ২০০২ সালে উরুগুয়ে এবং দীর্ঘদিন ধরে মেক্সিকো এ ধরনের মার্কিন সহায়তার আওতায় রয়েছে।

    ওয়াশিংটনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা
    বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি পাকিস্তানের অনুরোধ অনুমোদন করে, তাহলে তা শুধু অর্থনৈতিক সহায়তাই নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তাও বহন করবে। এতে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও রুপির ওপর চাপ কমবে এবং আইএমএফের কিস্তি কিংবা জরুরি আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতাও কমবে।
    তবে আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা ফিচ সতর্ক করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যাহত হলে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও চাপের মুখে পড়তে পারে।
    দেশটিতে বিদেশি বিনিয়োগ এখনও প্রত্যাশার তুলনায় কম। নীতিগত অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তা ঝুঁকি, অতীতের মুনাফা প্রত্যাবাসনে বিধিনিষেধ এবং সীমিত রপ্তানি সক্ষমতার কারণে বিনিয়োগকারীরা এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
    এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের চেষ্টা করছে পাকিস্তান। ইতোমধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সি, রিয়েল এস্টেট ও খনিজ সম্পদ খাতে দুই

    পাকিস্তান ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়ালের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সীমান্তপারের অর্থ লেনদেনের জন্য স্টেবলকয়েন চুক্তি করেছে। প্রতিষ্ঠানটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের প্রধান ক্রিপ্টো ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
    এছাড়া নিউইয়র্কে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের মালিকানাধীন রুজভেল্ট হোটেল পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রেকো ডিক খনি প্রকল্পসহ বিভিন্ন খাতে মার্কিন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামাবাদ।
    ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক এ প্রকল্পে ১ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের ঘোষণা দিয়েছে।

  • জ্বালানি তেল নিয়ে নতুন বার্তা

    জ্বালানি তেল নিয়ে নতুন বার্তা

    জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী বলেছেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ধরনের সংকট নেই। বর্তমানে দেশে ৩১ দিনের ডিজেল, ৩৬ দিনের অকটেন, ২০ দিনের পেট্রল, ২০ দিনের জেট ফুয়েল এবং ২৫ দিনের ফার্নেস অয়েল মজুদ রয়েছে।

    বুধবার (২২ জুলাই) বিকালে এক জরুরি ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি। কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা থেকেই এমন গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    মনির হোসেন জানান, জ্বালানির আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে আগাম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন এবং আগামী আগস্ট মাসে আরও ২ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে এসে পৌঁছাবে। ফলে জ্বালানি পণ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

    দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে যৌথ সচিব বলেন, বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে দৈনিক ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। এ ঘাটতি বেশ কিছুদিন ধরেই বিদ্যমান। অতীতে গ্যাস অনুসন্ধানে পর্যাপ্ত জোর দেওয়া না হলেও বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে।

    সিএনজি স্টেশনগুলোতে সাম্প্রতিক দীর্ঘ লাইনের বিষয়ে তিনি জানান, একটি এলএনজি ভাসমান টার্মিনালে (এফএসআরইউ) আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গ্যাস সরবরাহে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। কারিগরি টিম ইতোমধ্যে মেরামত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী দুদিনের মধ্যেই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে এবং সিএনজি স্টেশনের সাময়িক চাপ কেটে যাবে।

    মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি আমদানি প্রসঙ্গে মনির হোসেন চৌধুরী জানান, মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রধানত অপরিশোধিত খনিজ তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানি করা হয়। হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার পর থেকে লোহিত সাগর রুট ব্যবহার করে সরবরাহ চালু রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে লোহিত সাগর বন্ধ হয়ে গেলেও বিকল্প রুট ব্যবহারের জন্য আগাম প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

  • জনগণের বদলে ২০ বছর ধরে ক্ষেপণাস্ত্রে অর্থ ঢেলেছে ইরান: রুবিও

    জনগণের বদলে ২০ বছর ধরে ক্ষেপণাস্ত্রে অর্থ ঢেলেছে ইরান: রুবিও

    ফিলিপাইনে অনুষ্ঠিত আসিয়ান বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের ফলে ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি দাবি করেন গত ২০ বছর ধরে ইরান জনগণের থেকে বেশি ক্ষেপণাস্ত্রে অর্থ, ব্যয় করেছে। খবর আলজাজিরার।

    যুক্তরাষ্ট্রের হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে—এ বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রুবিও বলেন, “যুদ্ধক্ষেত্রে থাকলে ঝুঁকি থাকবেই।”

    রুবিও আরও দাবি করেন, ইরানের সামরিক অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দেশটির সরকার জনগণের কল্যাণে অর্থ ব্যয় না করে দীর্ঘদিন ধরে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতেই অগ্রাধিকার দিয়েছে।

    তেহরানের হামলা চালানোর ক্ষমতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি আরও বলেন, “আমার মতে, শেষ পর্যন্ত এটি আসলে এটাই প্রমাণ করে যে, গত ২০ বছর ধরে ইরান এই খাতেই তার অর্থ বিনিয়োগ করে আসছে।”

    তিনি আরো বলেন, ‘তাদের সামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু তারা গত ২০ বছর ধরে তাদের প্রতিটি পয়সা দেশের জন্য খরচ না করে, দেশের অস্ত্রধারী গোষ্ঠীগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা করতে এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ব্যয় করেছে।’

  • ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক আয় দেশে আনা আরও সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

    ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক আয় দেশে আনা আরও সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

    বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল সেবা রপ্তানি খাতকে আরও গতিশীল করতে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের নিয়মে বড় ধরনের সহজীকরণ এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনায় ব্যক্তি পর্যায়ের সেবা রপ্তানিকারক ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বৈদেশিক আয় দেশে আনা, সংরক্ষণ এবং ব্যবহার-সব ক্ষেত্রেই বাড়ানো হয়েছে নমনীয়তা। ফলে প্রচলিত কাগজপত্রের জটিলতা কমবে, আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে বৈদেশিক আয় আনা সহজ হবে এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    আজ বুধবার এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ডিজিটাল সেবা বাণিজ্যের বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিবান্ধব করা হয়েছে।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে-ফ্রিল্যান্সাররা এখন প্ল্যাটফর্ম স্টেটমেন্ট, ই-মেইল, অনলাইন ইনভয়েস কিংবা অন্যান্য ডিজিটাল যোগাযোগকে বৈদেশিক আয়ের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। অর্থাৎ, প্রচলিত রপ্তানি নথি বা কাগজপত্রের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে যাবে। এতে আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে কাজ করা ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র সেবা রপ্তানিকারকদের জন্য অর্থ দেশে আনতে আর আগের মতো জটিলতার মুখে পড়তে হবে না।

    লেনদেন প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র ছাড়াই গ্রহণ করা যাবে। পাশাপাশি অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডার (ওপিজিএসপি)-এর মাধ্যমে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত অর্থ গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এসব অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

    ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করতে সার্কুলারে ডুয়াল-কারেন্সি ‘ফ্রিল্যান্সার কার্ড’ চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার (এমএফএসপি) এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি)-এর ব্যবহারও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এতে ফ্রিল্যান্সাররা আন্তর্জাতিক আয় গ্রহণ ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে আরও সহজ ও আধুনিক সেবা পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বৈদেশিক মুদ্রা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও বাড়ানো হয়েছে সুযোগ। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সাররা তাদের রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রায় এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটার (ইআরকিউ) আওতায় সংরক্ষণ করতে পারবেন। অন্যদিকে, তথ্যপ্রযুক্তি ছাড়া অন্যান্য সেবা রপ্তানিকারকদের জন্য এ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ শতাংশ। ফলে আন্তর্জাতিক সাবস্ক্রিপশন, সফটওয়্যার, ক্লাউড সেবা কিংবা বিদেশে ব্যবসায়িক ব্যয় নির্বাহে তারা আরও বেশি নমনীয়তা পাবেন।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগ শুধু ফ্রিল্যান্সারদের জন্য লেনদেন সহজ করবে না; বরং বৈদেশিক আয় আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাহিত হতে আরও উৎসাহিত করবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়বে, সেবা রপ্তানির স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিকতা জোরদার হবে এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল সেবা খাত বৈশ্বিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।

  • ঝুঁকিতে যশোর অঞ্চলের তিন হাজার কৃষক

    ঝুঁকিতে যশোর অঞ্চলের তিন হাজার কৃষক

    বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল তুলা। দেশের চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ তুলা আমদানি করতে হয়, যার ফলে ব্যয় হয় কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা। এই আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরকার প্রণোদনার মাধ্যমে তুলা চাষ সম্প্রসারণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নিয়েছে।
    কিন্তু সেই উদ্যোগের মাঠপর্যায়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যশোর অঞ্চলের তুলা চাষিদের দাবি, তাদের চাহিদা ও অভিজ্ঞতাকে উপেক্ষা করে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তুলাবীজ গ্রহণে বাধ্য করা হচ্ছে। এতে চলতি মৌসুমে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
    কৃষকের পছন্দ এক, সরবরাহ আরেক
    তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশ তুলা উন্নয়ন বোর্ডের যশোর জোনের আওতায় মণিরামপুর, ঝাঁপা, যশোর সদর, খাজুরা, ঝিকরগাছা-১ ও ২, কেশবপুর, শার্শা, উলাসী, চৌগাছা, হাকিমপুর, পোড়াপাড়া, চুকনগর, বারোবাজার ও কালীগঞ্জসহ ১৬টি তুলা উৎপাদন ইউনিট রয়েছে। এসব ইউনিটের আওতায় প্রায় তিন হাজার প্রণোদনাপ্রাপ্ত কৃষক এ বছর তুলা আবাদ করবেন।
    কৃষকদের অভিযোগ, তারা সুপ্রিম সিড কোম্পানির ‘হোয়াইট গোল্ড-১’ ও ‘হোয়াইট গোল্ড-২’ জাতের বীজ চাইলেও তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ইস্পাহানি কোম্পানির ‘লাল তীর’ ও ‘বিএম-৪’ ব্র্যান্ডের বীজ।
    একাধিক কৃষকের দাবি, কয়েক বছর আগে লাল তীর ব্র্যান্ডের বীজ ব্যবহার করে প্রত্যাশিত ফলন পাননি। অন্যদিকে চলতি মৌসুমে হোয়াইট গোল্ড জাতের বীজ ব্যবহার করে প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ পর্যন্ত বীজ তুলা উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।
    সরেজমিনে কথা হয় চৌগাছার জগদীশপুর গ্রামের মাসুদ হোসেন, বেড়গোবিন্দপুর গ্রামের হারুন ও বাবলুর রহমান, কোমরপুর গ্রামের আব্দুর রহিম, ঝিকরগাছার রাজাপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম, শিওরদাহ গ্রামের শিমুল হোসেন ও আব্দুর রাজ্জাক, লক্ষ্মীপুর গ্রামের আসাদুজ্জামান ও জাহাঙ্গীর হোসেনসহ একাধিক তুলা চাষির সঙ্গে।
    তাদের অভিযোগ, অঙ্কুরোদগম কম এবং ফলন নিয়ে প্রশ্ন থাকায় তারা লাল তীর ব্র্যান্ডের বীজ নিতে অনাগ্রহী। কিন্তু প্রণোদনার তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কায় প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতেও ভয় পাচ্ছেন অনেকেই।
    কৃষকদের অভিযোগ, যশোর জোনের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান মাঠপর্যায়ের ইউনিট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোম্পানির বীজ বিতরণে চাপ সৃষ্টি করছেন।
    যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
    এদিকে ঝিকরগাছা ইউনিট-১-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদ হোসেন দাবি করেন, কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী লাল তীর ব্র্যান্ডের বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। তার ইউনিটে গত বছর ৪৫০ জন কৃষক তুলা চাষ করলেও এ বছর সেই সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে তিনি জানান।
    চৌগাছা ও হাকিমপুর ইউনিটের কর্মকর্তা আবু সাঈদ জানান, ৫৩০ জন কৃষকের জন্য ৩৫০ কেজি বীজের চাহিদার বিপরীতে এখন পর্যন্ত ১৪৩ কেজি লাল তীর ব্র্যান্ডের চায়না হাইব্রিড বীজ সরবরাহ পেয়েছেন।
    তবে কৃষকদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও বীজ বিতরণ করা হচ্ছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা যা বরাদ্দ পাই, তাই কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করি।’
    উৎপাদন ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা
    এ বছর যশোর অঞ্চলের তিন হাজার কৃষক প্রায় তিন হাজার বিঘা জমিতে তুলা চাষ করবেন। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মণ বীজ তুলা উৎপাদনের। প্রতি বিঘায় গড়ে ১২ থেকে ১৫ মণ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। বাজারে প্রতি মণ বীজ তুলার দাম প্রায় চার হাজার টাকা। সে হিসাবে একজন কৃষক প্রতি বিঘায় ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় করতে পারেন।
    প্রণোদনার আওতায় প্রত্যেক কৃষক ৬০০ গ্রাম তুলাবীজ, সার ও কীটনাশক পান, যার আর্থিক মূল্য প্রায় আট হাজার টাকা।
    কৃষকদের অভিযোগ, ইতোমধ্যে কালীগঞ্জ ও বারোবাজার ইউনিটে বিতর্কিত ৬০ কেজি বীজ বিতরণ করা হয়েছে। একইভাবে অন্য ইউনিটগুলোতেও একই বীজ সরবরাহের প্রস্তুতি চলছে।
    তাদের আশঙ্কা, নিম্নমানের বীজ ব্যবহার করলে উৎপাদন কমে যাবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কৃষক এবং সরকারের তুলা উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যও ব্যাহত হবে।
    অতীতের অভিজ্ঞতা নতুন শঙ্কা
    স্থানীয় প্রবীণ কৃষকরা জানান, ১৯৭৬-৭৭ সালের দিকে যশোর অঞ্চলে তুলা চাষে এক ধরনের বিপ্লব ঘটেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও নীতিগত দুর্বলতার কারণে সেই সম্ভাবনাময় খাত প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়।
    দীর্ঘ বিরতির পর গত কয়েক বছরে আবারও তুলা চাষে আগ্রহ বাড়তে শুরু করেছে। কিন্তু এবার যদি নিম্নমানের বীজ বিতরণের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এই সম্ভাবনাময় খাত আবারও বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
    কর্মকর্তাদের বক্তব্য
    বাংলাদেশ তুলা উন্নয়ন বোর্ডের যশোর জোনের উপ-পরিচালক (ডিডি) মোজাদ্দেল আল শামীমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
    অন্যদিকে যশোর জোনের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সরকার কৃষকদের বিনামূল্যে প্রণোদনার বীজ দেয়। লাল তীর কিংবা সুপ্রিম—কোনো কোম্পানির বীজই খারাপ নয়। সব বীজেরই গুণগত মান ও উৎপাদন ভালো। বীজ আমদানির ক্ষেত্রে সরকারি গেজেট, চাহিদাপত্র ও রেজুলেশনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোনো প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে বীজ সরবরাহ করতে না পারলে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হয়। আমরা সবসময় কৃষকের স্বার্থকেই গুরুত্ব দিই।’
    বিশ্লেষণ
    বাংলাদেশে তুলা উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য বাস্তবায়নে উন্নতমানের বীজ সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকদের অভিযোগ যদি সত্য হয়ে থাকে, তবে তা শুধু কয়েক হাজার কৃষকের ক্ষতির কারণ হবে না; বরং দেশের তুলা উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানি নির্ভরতা কমানোর জাতীয় লক্ষ্যও ব্যাহত হবে।
    অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ফলে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে বীজের গুণগত মান যাচাই, কৃষকের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রণোদনা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। এতে কৃষকের আস্থা যেমন বাড়বে, তেমনি দেশের সম্ভাবনাময় তুলা খাতও টেকসইভাবে এগিয়ে যেতে পারবে।

  • বিশ্ববাজারের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা করবে বিএফটিআই: বাণিজ্যমন্ত্রী

    বিশ্ববাজারের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা করবে বিএফটিআই: বাণিজ্যমন্ত্রী

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বাণিজ্য আইন, অর্থনৈতিক গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটকে (বিএফটিআই) শক্তিশালী জাতীয় ‘থিঙ্কট্যাংক’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতির বাজার পরিস্থিতি, বাণিজ্যিক প্রবণতা, সম্ভাব্য ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে নিয়মিত গবেষণা করবে বিএফটিআই। এসব গবেষণা সরকারের নীতিনির্ধারণ এবং বেসরকারি খাতের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে।

    আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বিএফটিআই সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের ৬৩তম পরিচালনা পর্ষদের সভায় সভাপতির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এ কথা বলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিকে এ তথ্য জানানো হয়।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষায় বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক বাজার ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে গভীর গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যেই বিএফটিআইকে নতুন পরিকল্পনায় আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিয়ে আমাদের কোনো সংকট নেই, প্রয়োজন ছিল দীর্ঘমেয়াদি দিকনির্দেশনার। এখন সেই জায়গায় কাজ শুরু হয়েছে।’

    সভায় বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে মোস্তফা আবীদ খানের নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়।

    সভায় জানানো হয়, দেশের বাণিজ্যনীতি ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন একাধিক গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা পর্যালোচনা, অ্যান্টি-ডাম্পিং, কাউন্টারভেইলিং ও সেফগার্ড ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ এবং বাংলাদেশের চামড়া খাতের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ নিয়ে গবেষণা।

    এ ছাড়া বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের জন্য দেশের এয়ার টিকিটিং বাজারের প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতি নিয়েও গবেষণা চলমান। বাণিজ্য নীতি পর্যালোচনা, আরজেএসসি নিবন্ধন ও রিটার্ন দাখিল, কর-ভ্যাট-কাস্টমস এবং আমদানি-রপ্তানি পদ্ধতি বিষয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

    সভায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান, ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ, বিএফটিআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব ) সাইফ উদ্দিন আহমেদ এবং বিএফটিআই পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • রেমিটেন্সের শীর্ষে সৌদি আরব

    রেমিটেন্সের শীর্ষে সৌদি আরব

    বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) দেশে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স তথা প্রবাসী আয় এসেছে, তার প্রায় ৬২ শতাংশেরই উৎস হলো পাঁচটি দেশ। দেশগুলো হচ্ছে—সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। মূলত এসব দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী ও প্রবাসী বসবাস করায় এগুলো থেকে প্রবাসী আয়ের বড় অংশ আসছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীরা মোট ৩ হাজার ২৭৭ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি দেশ থেকেই এসেছে ২ হাজার ২৫ কোটি ডলার বা প্রায় ৬২ শতাংশ।

    তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে সর্বোচ্চ ৫২৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলার এসেছে সৌদি আরব থেকে, যা মোট আয়ের ১৬ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার আসে যুক্তরাজ্য থেকে। এ তালিকায় সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ৪২৭ কোটি ৮২ লাখ ডলার নিয়ে তৃতীয়, ৩২২ কোটি ডলার নিয়ে মালয়েশিয়া চতুর্থ এবং ২৭৮ কোটি ৯৬ লাখ ডলার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।

    এর বাইরে ওমান, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর ও ইতালি থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছে। এ ৬ দেশ থেকে ১১ মাসে এসেছে প্রায় ৮৮৯ কোটি ডলার, যা মোট প্রবাসী আয়ের ২৭ শতাংশ। সব মিলিয়ে মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশই এসেছে ১১টি দেশ থেকে।

    শুধু মে মাসের হিসাবেও রেমিট্যান্স–প্রবাহ ছিল উল্লেখযোগ্য। ওই মাসে প্রবাসীরা মোট ৩৪৪ কোটি ২৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬৫ কোটি ৯ লাখ ডলার এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৪ কোটি ৬৫ লাখ ডলার এসেছে সৌদি আরব থেকে। আর ৪৬ কোটি ৮১ লাখ ডলার নিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল ইউএই।

    গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের মধ্যে ১০ মাসই এককভাবে প্রবাসী আয়ের শীর্ষ উৎস ছিল সৌদি আরব। তবে মে মাসে সৌদিকে ছাড়িয়ে যায় যুক্তরাজ্য। অর্থবছরের শুরুতে, অর্থাৎ গত বছরের জুলাই মাসে যুক্তরাজ্য থেকে ২৮ কোটি ২৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। পরে তা ধারাবাহিকভাবে বাড়তে বাড়তে মে মাসে ১৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬৫ কোটি ডলারে পৌঁছায়। জুন মাসের রেমিট্যান্সের তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।

    সরকার প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে আয় পাঠাতে উৎসাহ দিয়ে আসছে। এ জন্য ব্যাংকিং মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠালে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। এতে হুন্ডির মতো অবৈধ মাধ্যম নিরুৎসাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি আগের তুলনায় ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে প্রবাসী আয়প্রবাহে।

    তবে আর্থিক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় তিন-পঞ্চমাংশ মাত্র পাঁচটি দেশের ওপর নির্ভরশীল হওয়া অর্থনৈতিক নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে সংবেদনশীল। তাঁদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় অদক্ষ ও আধা দক্ষ শ্রমিক বেশি থাকায় সেখানকার রেমিট্যান্স সব সময় স্থিতিশীল থাকে না। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান তুলনামূলক শক্ত হওয়ায় সেখান থেকে আয় বেশি স্থিতিশীলভাবে আসে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধান এই পাঁচ দেশের অর্থনৈতিক নীতি, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বা শ্রমবাজারে বড় পরিবর্তন এলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। তাই নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া ও দূরপ্রাচ্যের নতুন শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

  • কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের, নতুন করে বাণিজ্যযুদ্ধের শঙ্কা

    কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের, নতুন করে বাণিজ্যযুদ্ধের শঙ্কা

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও মদের ক্ষেত্রে কানাডা ‘বৈষম্যমূলক আচরণ’ করছে—এ অভিযোগ তুলে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    নতুন শুল্কের আওতায় আছে ওয়াইন, হকিস্টিকের মতো ভোক্তাপণ্য ও সিমেন্টের মতো শিল্পপণ্য। তবে জ্বালানি, পটাশ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, মাছসহ কানাডার কয়েকটি প্রধান রপ্তানিপণ্য এ শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে।

    কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা আরও জোরদার করতে তাঁরা প্রস্তুত।

    হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ৩০ দিনের মধ্যে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। এমনিতেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক ভালো নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে কানাডা। তার ওপর নতুন এই শুল্কের ফলে উত্তর আমেরিকার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা আরও বেড়ে যাবে বলেই শঙ্কা।

    যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) আওতায় এ পণ্য আছে কি না, তা এই শুল্ক আরোপের সময় বিবেচনা করা হয়নি। অর্থাৎ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় থাকুক বা না থাকুক, এ শুল্ক দিতেই হবে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে কার্নি বলেন, ‘ইউএসএমসিএর সরাসরি লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র যে একতরফা পদক্ষেপগুলো নিয়ে আসছে, এটি তার সর্বশেষ উদাহরণ।’

    এদিকে কার্নি কানাডার সার্বভৌমত্বের প্রতি ‘হুমকির’ বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার কথা বলেছিলেন, সম্ভবত সে প্রেক্ষাপটে কার্নি এ কথা বলেছেন।

    আগে থেকেই ছিল পাল্টাপাল্টি শুল্ক

    গতকাল সোমবার ঘোষিত শুল্কের আগে থেকেই দুই দেশের মধ্যে নানা ধরনের বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আছে।

    বর্তমানে কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে রেখেছে। এ ছাড়া সফটউডে ৩৫ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে তৈরি গাড়ির যন্ত্রাংশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আদায় করছে ওয়াশিংটন।

    এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও যানবাহনের ওপর ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে কানাডা।

    দাবানলের ধোঁয়া নয়, পুরোনো বিরোধ

    সম্প্রতি কানাডা যে দাবানল হয়েছে, তার ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরেও ছড়িয়ে পড়ে। সে জন্যও শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। গতকাল তিনি যে নির্বাহী আদেশে সই করেছেন, সেখানে অবশ্য দাবানলের উল্লেখ নেই; বরং দেখা গেছে, এ নির্বাহী আদেশে গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও মদ নিয়ে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য বিরোধের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। এতে দুই দেশের চলমান বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাবে—এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

    গাড়ির ক্ষেত্রে ট্রাম্পের অভিযোগ, ইউএসএমসিএর আওতার বাইরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি ও যন্ত্রাংশের ওপর কানাডা কর আরোপ করে। তাঁর দাবি, এটি অযৌক্তিক ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বৈষম্যমূলক। কেননা, অন্য দেশের ক্ষেত্রে একই ধরনের কর আরোপ করা হয় না।

    উত্তর আমেরিকায় গাড়ি উৎপাদনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে নিবিড় সমন্বয় আছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিক আগেই বলেছেন, এ খাতে কানাডার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।

    দুগ্ধ ও পানীয় নিয়েও দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন

    দুগ্ধজাত পণ্য নিয়ে দুই দেশের বিরোধ নতুন নয়। কানাডার সরবরাহ ব্যবস্থাপনার কারণে বিদেশি দুগ্ধপণ্য আমদানি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে হয়। সেই সীমা ছাড়ালে ৩০০ শতাংশের বেশি শুল্ক দিতে হয়।

    অন্যদিকে গত বছর থেকে কানাডার অধিকাংশ প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের মদ কার্যত বর্জন করা হচ্ছে। ওয়াশিংটনের যত অভিযোগ আছে, এটি তার মধ্যে অন্যতম।

    কানাডার প্রাদেশিক নেতারা বারবার বলেছেন, ধাতু ও মোটরগাড়ির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত থেকে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক তুলে নিলে তাঁরাও মার্কিন মদ বর্জন প্রত্যাহার করবেন।

    আলোচনার চেষ্টা চলছে

    কানাডার বাণিজ্যবিষয়ক প্রতিনিধিরা সমঝোতার চেষ্টা করছেন। লক্ষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান শুল্ক কিছু হলেও যদি কমানো যায়। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বিবিসি হোয়াইট হাউস ও কানাডা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

    চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ইউএসএমসিএ চুক্তি বিদ্যমান রূপে নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেয়। কানাডা ও মেক্সিকো চুক্তিটি নবায়নের পক্ষে থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসন পরিবর্তন আনতে চায়। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেই এ চুক্তি হয়েছিল।

    বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এ চুক্তির আওতায় আগামী এক দশক উত্তর আমেরিকার বাণিজ্য পরিচালিত হবে। তবে এর কার্যকারিতা কতটুকু, তা প্রতিবছর পর্যালোচনা করা হবে।

    নতুন আইনের আশ্রয়

    গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আরোপিত আন্তর্জাতিক শুল্ক বাতিল করে দেয়। আদালতের মতে, জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য প্রণীত আইনের আওতায় এই শুল্ক আরোপ করে প্রেসিডেন্ট সীমা লঙ্ঘন করেছিলেন।

    তখন হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, আমদানি শুল্ক আরোপে তারা অন্য আইনের দ্বারস্থ হবে।

    গতকালের নতুন শুল্ক ১৯৩০ সালের ট্যারিফ অ্যাক্টের ৩৩৮ ধারা অনুযায়ী জারি করা হয়েছে। এ ধারা জাতীয় জরুরি অবস্থার পরিবর্তে বাণিজ্যে বৈষম্যমূলক আচরণের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়।

  • আন্তর্জাতিক ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের বড় সাফল্য

    আন্তর্জাতিক ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের বড় সাফল্য

    চীনের শেনঝেন শহরে অনুষ্ঠিত ৯ম আন্তর্জাতিক অর্থনীতি অলিম্পিয়াডে (আইইও) ২০২৬ এ ব্রোঞ্জ পদক, গ্লোবাল চ্যাম্পিয়নশিপ এবং বিশেষ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। অর্থনীতি, অর্থব্যবস্থা ও ব্যবসায়ভিত্তিক বিশ্বের অন্যতম বড় এ প্রতিযোগিতায় ৫৭টি দেশের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

    বাংলাদেশ দলের হয়ে ফারাবিদ বিন ফয়সাল এ ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন। একই প্রতিযোগিতায় জাইফ বিন মোর্শেদ গ্লোবাল চ্যাম্পিয়ন হন। তিনি প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘আইইও ইয়ুথ টক’ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। যোগাযোগ দক্ষতা, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি ও নেতৃত্বের ভিত্তিতে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

    এবার অর্থনীতি শিক্ষায় ধারাবাহিক অবদান, আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ এবং সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডকে (বিডিইও) ‘বিশেষ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি’ দেয় আন্তর্জাতিক অর্থনীতি অলিম্পিয়াড কর্তৃপক্ষ। এ স্বীকৃতিকে বৈশ্বিক অর্থনীতি শিক্ষায় বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    বাংলাদেশ দলের অন্য সদস্যরা হলেন মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের (গুলশান শাখা) ফারিহা তাসনিম, মাস্টারমাইন্ড ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের (ধানমন্ডি শাখা) প্রান্ত ঘোষ এবং স্কলাস্টিকার দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাইয়াদ সালেহীন আহমেদ।

    ৪৮ হাজারের বেশি নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে সারা দেশে একাধিক ধাপে বাছাইয়ের মাধ্যমে জাতীয় দল গঠন করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্ব, জাতীয় ক্যাম্প এবং দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়িক নেতাদের তত্ত্বাবধানে মাসব্যাপী উচ্চতর প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

    বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন আন্তর্জাতিক অর্থনীতি অলিম্পিয়াডের নির্বাহী বোর্ডের সদস্য এবং বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডের নির্বাহী কমিটির সভাপতি মো. আল-আমিন পারভেজ। উপদলনেতার দায়িত্ব পালন করেন সংগঠনটির সম্পাদক রাফিদ আবরার।

    এছাড়া বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডের অ্যাম্বাসেডর মো. মানসুরুল হক এবং মো. আল-আমিন পারভেজ ব্যবসায়িক কেস প্রতিযোগিতার আন্তর্জাতিক বিচারক প্যানেলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    আয়োজকদের মতে, এটি আন্তর্জাতিক অর্থনীতি অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের নেতৃত্বকে আরো শক্তিশালী করেছে।

    বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, ব্র্যাকের চেয়ারম্যান এবং পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াড বর্তমানে দেশে অর্থনীতি ও আর্থিক সাক্ষরতা বাড়ানো এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করার অন্যতম প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।

    পূবালী ব্যাংক পিএলসি ও ব্র্যাক ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে এবং সিটি ব্যাংকের সহযোগিতায় আয়োজিত বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াড ২০২৬ দেশের অর্থনীতি-সচেতন ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিযোগিতার সুযোগ করে দিয়েছে।

    আয়োজকদের মতে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনছে।

    ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক অর্থনীতি অলিম্পিয়াড ২০২৬-এর এ সাফল্য বাংলাদেশের তরুণদের সম্ভাবনার প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি বিশ্বমানের অর্থনীতি শিক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যতের অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়িক নেতৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ইকোনমিকস অলিম্পিয়াডের অঙ্গীকারকে আরো দৃঢ় করেছে।

    আয়োজকদের মতে, এবারের অর্জন অর্থনীতি শিক্ষায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক উপস্থিতিকে আরো শক্তিশালী করেছে এবং বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় সক্ষম তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দেশের অঙ্গীকারকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে।

  • ১১ ব্যাংক ও এক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পিকেএসএফর চুক্তি

    ১১ ব্যাংক ও এক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পিকেএসএফর চুক্তি

    দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোগ অর্থায়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাংকিং খাতের অর্থ পৌঁছে দিতে ১১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ১টি আর্থিক কোম্পানির সঙ্গে ক্রেডিট গ্যারান্টি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। প্রতিষ্ঠানটির বাস্তবায়নাধীন ‘ক্রেডিট এনহ্যাঞ্চমেন্ট স্কিমস’-এর আওতায় পৃথক বারোটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পিকেএসএফ ভবনে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    চুক্তি স্বাক্ষরকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান হলো- ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, কমার্সিয়াল ব্যাংক অব সিলন, ঢাকা ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক এবং দ্য ইউএই-বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইউবিকো)। এই চুক্তির ফলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পিকেএসএফ-এর বিভিন্ন সহযোগী সংস্থাসমূহকে তাদের ক্ষুদ্র উদ্যোগ অর্থায়ন কার্যক্রমে সর্বমোট ২ হাজর ৮০০ কোটি টাকা গ্যারান্টিযুক্ত ঋণ প্রদান করতে পারবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক কোম্পানিগুলো।

    অনুষ্ঠানে পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের বলেন, দেশের স্বল্প আয়ের মানুষদের উদ্যোক্তায় রূপান্তরের যে উদ্যোগ পিকেএসএফ গ্রহণ করেছে, তার সফল বাস্তবায়নে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পৃক্ত করতেই এ স্কিম চালু করা হয়েছে। এই স্কিমের আওতায় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পিকেএসএফ-এর সহযোগী সংস্থাগুলো তা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করবে এবং ঋণের গ্যারান্টি প্রদান করবে পিকেএসএফ।

    পিকেএসএফ-এর নিবিড় তদারকির ফলে ঋণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও যোগ করেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়সংগত প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ব্যাংকিং খাতের অর্থ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে পিকেএসএফ-এর এই স্কিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অনুষ্ঠানে পিকেএসএফ-এর পক্ষে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহম্মদ হাসান খালেদ এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালকবৃন্দ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্রেডিট এনহ্যান্সমেন্ট স্কিমের কার্যক্রম শুরু হয়। বাস্তবায়নের প্রথম বছরে পিকেএসএফ-এর সঙ্গে ১০টি ব্যাংক ও ১টি আর্থিক কোম্পানি চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল। এর মধ্যে ৬টি ব্যাংক ও ১টি আর্থিক কোম্পানি ইতোমধ্যে ২৬টি সহযোগী সংস্থার ক্ষুদ্র উদ্যোগ অর্থায়ন কার্যক্রমে মোট ১,০৮২ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ সম্পন্ন করেছে।

  • আবার ও বাড়লো  স্বর্ণের দাম

    আবার ও বাড়লো স্বর্ণের দাম

    টানা দুই দফা মূল্যহ্রাসের পর দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে বাজুসের চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন মূল্যতালিকা একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

    বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে।

    সংশোধিত মূল্য অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৪৬৮ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮১ হাজার ৬০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৬৬ টাকা প্রতি ভরি।

    সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য কার্যকর থাকবে। তবে অলংকারের নকশা ও মানভেদে মজুরিতে পার্থক্য হতে পারে। পাশাপাশি, স্বর্ণালংকারের বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

    এর আগে, গত ১৪ জুলাই বাজুস সর্বশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করে। সে সময় ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

    চলতি বছরে এ পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ৯২ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৪ বার দাম বেড়েছে, ৪৭ বার কমেছে এবং একবার ভ্যাটে সমন্বয় আনা হয়েছে।

  • ভোলা রক্ষায় ৬৮৫ কোটি টাকার প্রকল্প

    ভোলা রক্ষায় ৬৮৫ কোটি টাকার প্রকল্প

    মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনের কবল থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া এবং মেদুয়া এলাকা রক্ষায় ৬৮৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকার একটি নতুন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য আগামীকাল বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উঠছে। পুরো অর্থই সরকারি তহবিল (জিওবি) থেকে ব্যয় করা হবে। নদীতীর সংরক্ষণ, উপকূলীয় বাঁধ পুনর্বাসন, বাঁধের ঢাল সুরক্ষা এবং পানি নিষ্কাশন অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমানোই প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য।

    তবে মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলাধীন শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষা প্রকল্পটি একনেকে যাওয়ার আগে পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) একাধিক বিষয়ে আপত্তি জানায়। বিশেষ করে মাত্র চার কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণে ৫০৫ কোটি টাকার বেশি ব্যয়কে অত্যধিক বলে মন্তব্য করে ব্যয় পুনঃযাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়।

    পরে কয়েকটি খাত বাদ দিয়ে নামমাত্র কিছু ব্যয় কমিয়ে ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা করা হয়। একই সঙ্গে বাঁধ পুনর্বাসন, ঢাল সংরক্ষণ, পানি নিষ্কাশন কাঠামো নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ও ক্রয় পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংশোধন এনে পুনর্গঠিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়।

    পরিকল্পনা কমিশনের একনেকের জন্য প্রস্তুত করা সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। চলতি বছরের মার্চ থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে।

    কেন প্রয়োজন এই প্রকল্প

    সরকারি নথিতে বলা হয়েছে, মেঘনা নদীর ভাঙনে প্রতি বছর ভোলা জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নদীতে বিলীন হচ্ছে। বর্তমানে ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ও ধনিয়া ইউনিয়ন এবং দৌলতখান উপজেলার মেদুয়া ইউনিয়নের প্রায় চার কিলোমিটার অরক্ষিত অংশে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।

    অন্যদিকে অতিজোয়ার ও ঘূর্ণিঝড়জনিত জলোচ্ছ্বাসে প্রায় ছয় কিলোমিটার মাটির বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পোল্ডারের ভেতরে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করছে। এতে কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাজার, বসতভিটাসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতাও তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে নদীতীর সংরক্ষণ, উপকূলীয় বাঁধ পুনর্বাসন, ঢাল সুরক্ষা এবং দুটি পানি নিষ্কাশন কাঠামো নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    কী কী কাজ হবে

    প্রকল্পের আওতায় চার কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ছয় কিলোমিটার উপকূলীয় বাঁধ পুনর্বাসন, ৫ দশমিক ২০ কিলোমিটার বাঁধের ঢাল সংরক্ষণ এবং দুটি নিষ্কাশন কাঠামো নির্মাণ করা হবে। সরকারের দাবি, এসব কাজ বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৩ হাজার ৮০৪ কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা পাবে। পাশাপাশি প্রায় ২ হাজার ২০০ হেক্টর কৃষিজমি জলাবদ্ধতার হাত থেকে সুরক্ষিত হবে। এছাড়া প্রায় ৬৫ হাজার ৪৭২ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

    ব্যয়ের বড় অংশ নদীতীর সংরক্ষণে

    প্রকল্পের সবচেয়ে বড় ব্যয় ধরা হয়েছে নদীতীর সংরক্ষণ কাজে। মোট ব্যয়ের প্রায় ৭৩ শতাংশই এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পিইসি সভায় এ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সভায় বলা হয়, চার কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণে ৫০৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকার প্রাক্কলন অত্যধিক মনে হচ্ছে। তাই ব্যয় পুনর্বিবেচনা করে কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

    জবাবে পাউবো জানায়, প্রকল্প এলাকায় নদীর স্কাওয়ার গভীরতা মাইনাস ৩৩ মিটার এবং পানির প্রবাহের গতি প্রতি সেকেন্ডে ৩ দশমিক ০৬ মিটার। এ কারণে স্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ৫০ থেকে ৭০ মিটার অ্যাপ্রন এবং প্রতি মিটারে ৯৫ ঘনমিটার ডাম্পিং ভলিউম প্রয়োজন। এর মধ্যে অর্ধেক জিওব্যাগ এবং বাকি অর্ধেক কংক্রিট ব্লক ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। সংস্থাটির মতে, এর চেয়ে কম উপকরণ ব্যবহার করলে স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না।

    আরো যেসব আপত্তি তোলা হয়

    পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পিইসি সভায় শুধু নদীতীর সংরক্ষণ নয়, আরো কয়েকটি বিষয়ে সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়। দৌলতখানের মেদুয়া ইউনিয়নের ৮০০ মিটার বাঁধে কংক্রিট ব্লক ব্যবহার না করে কেবল টার্ফিংসহ মাটির বাঁধ নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়। বাঁধ পুনর্বাসন ও ঢাল সুরক্ষা কাজের ব্যয় পৃথকভাবে দেখাতে বলা হয়। প্রতি ২০০ থেকে ২৫০ মিটার অন্তর প্রয়োজনীয় মাটির পরিমাণ ছক আকারে উপস্থাপনের নির্দেশও দেওয়া হয়।

    এছাড়া পানি নিষ্কাশন কাঠামো নির্মাণের ব্যয় ৩১ কোটি টাকার মধ্যে সীমিত রাখা, মূল্য ও ভৌত কন্টিনজেন্সি মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা নির্ধারণ, প্রকল্প-পরবর্তী বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ৩ কোটি ৬১ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা এবং ক্রয় পরিকল্পনায় পদ্ধতি ও অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

    অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক দাবি

    প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ২০২৩ সালের মে মাসে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম) সম্পন্ন করে। ওই সমীক্ষার সুপারিশের ভিত্তিতেই প্রকল্পটি প্রণয়ন করা হয়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে ১২ শতাংশ ডিসকাউন্ট রেট ধরে প্রকল্পটির নেট প্রেজেন্ট ভ্যালু (এনপিভি) ২২০ কোটি ৫০ লাখ টাকা, বেনিফিট-কস্ট রেশিও (বিসিআর) ১ দশমিক ৫৬ এবং অভ্যন্তরীণ মুনাফার হার (আইআরআর) ১৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ পাওয়া গেছে। তাই পরিকল্পনা কমিশনের মতে, প্রকল্পটি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক। তবে এটি থেকে সরাসরি কোনো আর্থিক আয় হবে না বলে পৃথক আর্থিক বিশ্লেষণ করা হয়নি।

    পরিকল্পনা কমিশনের মত

    পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামো মেঘনার ভাঙন থেকে সুরক্ষা পাবে। একই সঙ্গে উপকূলীয় বাঁধ শক্তিশালী হওয়ায় বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়বে। এসব বিবেচনায় কমিশন প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করেছে।

  • নকল ওয়েবসাইট ও ফেসবুক খুলে ঋণ প্রতারণা, সতর্ক করল এডিবি

    নকল ওয়েবসাইট ও ফেসবুক খুলে ঋণ প্রতারণা, সতর্ক করল এডিবি

    এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) নাম, লোগো এবং কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায়ের প্রতারণা সম্পর্কে জনসাধারণকে সতর্ক করা হয়েছে। প্রতারকেরা এডিবি ও এর কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে নকল ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ, ভুয়া পরিচয়পত্র এবং অন্যান্য প্রতারণামূলক উপকরণ তৈরি করছে।

    এসব তথ্য জানিয়ে আজ সোমবার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন প্রতারণা নিয়ে সতর্ক করেছে এডিবির ঢাকা কার্যালয়।

    কিছুদিন আগে বিশ্বব্যাংকের নাম ব্যবহার করে প্রায় একই ধরনের ঋণ প্রতারণার অভিযোগ উঠেছিল। তখন বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সতর্ক করেছিল।

    ব্যক্তিকে ঋণ ও অনুদান দেয় না এডিবি

    আজ পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এডিবি বলেছে, এডিবি কখনো কোনো ব্যক্তিকে সরাসরি ঋণ, অনুদান, তহবিল বা অন্য কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে না। একইভাবে এডিবি কোনো ব্যক্তির কাছে আর্থিক সহায়তার বিনিময়ে ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য চায় না এবং মোবাইল ব্যাংকিং বা অন্য কোনো মাধ্যমে অর্থ জমা দেওয়ারও অনুরোধ করে না।

    এডিবি আরও বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, প্রতারকেরা এডিবি ও এর কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে নকল ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ, ভুয়া পরিচয়পত্র এবং অন্যান্য প্রতারণামূলক উপকরণ তৈরি করছে। এসবের মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এডিবির কোনো সম্পর্ক বা সম্পৃক্ততা নেই।

    জনসাধারণকে এ ধরনের ভুয়া ঋণের প্রস্তাব সম্পর্কে সতর্ক থাকার এবং এ ধরনের যোগাযোগে কোনো ধরনের সাড়া না দেওয়ার জন্য জোরালোভাবে পরামর্শ দিয়েছে এডিবি। এ ছাড়া এডিবির ঋণ বা আর্থিক সহায়তার নামে কেউ যোগাযোগ করলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করেছে সংস্থাটি।

    এডিবি বলেছে, বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে এডিবি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার এবং বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করে। তাই এডিবির প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে কেউ যদি সরাসরি ব্যক্তিপর্যায়ে ঋণ বা আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেয়, তবে সেটি প্রতারণা হিসেবে বিবেচিত হবে।

  • ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা আয়ে রেকর্ড ফিফার

    ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা আয়ে রেকর্ড ফিফার

    দীর্ঘ লড়াই শেষে স্পেনের জয়ের মাধ্যমে পর্দা উঠেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়াপ্রতিযোগিতা আসরের। জমজমাট এই আয়োজন থেকে রেকর্ড পরিমাণ আয় করেছে এর আয়োজক ফিফা। রেকর্ড ১,৫০০ কোটি মার্কিন ডলার আয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে যাচ্ছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান। বিশ্ব ফুটবলের এই মেগা ইভেন্ট থেকে ধারণার চেয়েও অনেক বেশি অর্থ আয় হয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ফিফা ১১ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। তবে সব হিসাব ছাড়িয়ে আয় বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি শনিবার সদস্য দেশগুলোর অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে নিশ্চিত করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সংবাদের তথ্য অনুযায়ী, আজকের ডলারের বিনিময় হার (১ ডলার = ১২৩.১২ টাকা হিসাবে) অনুযায়ী ফিফার এই মোট আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা।

    আয়ের মূল উৎস টিকিট বিক্রি:

    ফিফা সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিপুল পরিমাণ আয় বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বিশেষ হসপিটালিটি প্যাকেজ এবং টিকিটের বিশাল চাহিদা। বিশেষ করে চড়া দামের ‘সেকেন্ডারি টিকিট মার্কেট’ থেকে আয়ের বড় অংশ এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, সেকেন্ডারি মার্কেটে টিকিট কেনাবেচার সময় ক্রেতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ এবং বিক্রেতার কাছ থেকে আরও ১৫ শতাংশ মোট ৩০ শতাংশ কমিশন আদায় করে ফিফা। ফাইনাল ম্যাচের আগের দিন শনিবারও নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনালের ভিআইপি ও হসপিটালিটি প্যাকেজ ফিফার টিকিট পোর্টালে ট্রফি লাউঞ্জ প্যাকেজ হিসেবে ব্যক্তিপ্রতি সর্বোচ্চ ৩৪,৫০০ ডলারে (প্রায় ৪২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা) বিক্রি হতে দেখা গেছে।

    সদস্য দেশগুলোর লাভ ও ইনফান্তিনোর অবস্থান:

    বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত এই বাম্পার রেভিনিউ বা রেকর্ড রাজস্বের সুবিধা ফিফার সদস্যভুক্ত ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোও পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও তাদের মধ্যে অতিরিক্ত অর্থ কীভাবে বণ্টন করা হবে সেই সম্পর্কিত চূড়ান্ত বিবরণী এখনো তৈরি হয়নি। তবে এই বিশাল আর্থিক সাফল্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে মাসব্যাপী আয়োজিত বিতর্কের পর জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর অবস্থানকে ফুটবল অঙ্গনে আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি শেষ ৩২-এর ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে আমেরিকার স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড স্থগিতের বিষয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের কাছে ফিফা নতিস্বীকার করেছে এমন অভিযোগে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর (এফএ) মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও ২০২৭ সালের মার্চে হতে যাওয়া পরবর্তী ফিফা নির্বাচনে ইনফান্তিনোর পক্ষে এরই মধ্যে ২০০টিরও বেশি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের সমর্থন নিশ্চিত হয়েছে। বিশ্বকাপের অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের সুবাদে অসন্তুষ্ট দেশগুলোও হয়তো প্রকাশ্যে কোনো প্রতিবাদ জানাবে না।

    এই নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সাফল্যের ফলে অদূর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ফের বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পেতে পারে। পরবর্তী খালি থাকা ২০৩৮ সালের বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের জন্য যুক্তরাষ্ট্র আবারও বিড করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একটি অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে ট্রাম্প নিশ্চিত করেন যে, তার দেশ আবারও এটি আয়োজন করতে ইচ্ছুক এবং এবার তারা কানাডা ও মেক্সিকোকে ছাড়া এককভাবে আয়োজনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া ২০২৯ সালের ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়েও ফিফার সাথে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

  • এডিবি’র নামে ভুয়া ঋণের ফাঁদ, সতর্কবার্তা জারি

    এডিবি’র নামে ভুয়া ঋণের ফাঁদ, সতর্কবার্তা জারি

    এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) নাম, লোগো এবং কর্মকর্তাদের ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে ঋণ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে একদল প্রতারক চক্র। এমন পরিস্থিতিতে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক এই দাতা সংস্থা।

    আজ সোমবার ঢাকাস্থ এডিবি’র কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে এডিবি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা কখনোই কোনো ব্যক্তিকে সরাসরি ঋণ, অনুদান, তহবিল বা অন্য কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে না। একইভাবে, কোনো ব্যক্তির কাছে আর্থিক সহায়তার বিনিময়ে ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য চায় না এবং মোবাইল ব্যাংকিং বা অন্য কোনো মাধ্যমে কোনো টাকা জমা দেয়ারও অনুরোধ করে না।

    সাম্প্রতিক সময়ে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, প্রতারকরা এডিবি ও এর কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে নকল ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ, ভুয়া পরিচয়পত্র এবং অন্যান্য প্রতারণামূলক উপকরণ তৈরি করছে। এসবের মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সাথে এডিবির কোনো সম্পর্ক বা সম্পৃক্ততা নেই।

    জনসাধারণকে এ ধরনের ভুয়া ঋণের প্রস্তাব সম্পর্কে সতর্ক থাকার এবং কোনো ধরনের লেনদেন বা যোগাযোগ না করার জন্য জোরালোভাবে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এডিবি’র ঋণ বা আর্থিক সহায়তার নামে কেউ যোগাযোগ করলে বিষয়টি অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করেছে সংস্থাটি।

    বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে এডিবি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার এবং বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করে। তাই এডিবির প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে কেউ যদি সরাসরি ব্যক্তি পর্যায়ে ঋণ বা আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেয়, তবে সেটি নিশ্চিতভাবেই প্রতারণা। এ ধরনের প্রতারণা এড়িয়ে চলার প্রাতিষ্ঠানিক পরামর্শ ও বিস্তারিত তথ্য এডিবির অফিসিয়াল মাধ্যমে চোখ রাখতে বলা হয়েছে।

  • বিশ্বকাপের ধাক্কায় বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতি ১৭ হাজার কোটি

    বিশ্বকাপের ধাক্কায় বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতি ১৭ হাজার কোটি

    ফিফা বিশ্বকাপ মানে শুধু মাঠের লড়াই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বৈশ্বিক অর্থনীতি। গতকাল শেষ হওয়া বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পেদের মতো তারকাদের খেলা দেখতে ব্যস্ত থাকায় বিশ্বব্যাপী উৎপাদনশীলতায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান ইউকেজি’র এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

    বিশ্বকাপের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রায় ১৭ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের উৎপাদনশীলতা নষ্ট হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দুই লাখ কোটি টাকার সমান। তবে এই ক্ষতির ধাক্কা সবচেয়ে বেশি সইতে হয়েছে টুর্নামেন্টের অন্যতম স্বাগতিক দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে। দেশটিতে কেবল উৎপাদনশীলতা হ্রাসের মাধ্যমেই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৭০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা।

    গত ৬ জুলাই শেষ ষোলোর ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে হেরে যুক্তরাষ্ট্র টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার পরদিন দেশটির অফিসগুলোতে হঠাৎ করেই কর্মীদের উপস্থিতি ২৬ শতাংশ কমে যায়। অফিসে এই অনুপস্থিতির হার ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসব ‘সুপার বোল’ ফাইনালের পরের দিনের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি। ওইদিন করপোরেট দুনিয়ায় ক্লায়েন্ট মিটিং, চাকরির সাক্ষাৎকার এবং ব্যবসায়িক বৈঠকের সংখ্যা কমে যায় প্রায় ৩২ শতাংশ।

    অস্বাভাবিক এই কর্মদিবসটির নাম দেওয়া হয় ‘নকআউট টিউসডে’। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচগুলোর দিনেই অফিস পাড়ায় এই অনুপস্থিতি ছিল সবচেয়ে প্রকট। বিশ্বকাপের এই কর্মঘণ্টা ক্ষতি ও অতিরিক্ত যানজট এড়াতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো। জেপি মরগান চেস, গোল্ডম্যান স্যাকস এবং এসঅ্যান্ডপির মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ম্যাচের দিনগুলোতে কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজের সুযোগ করে দেয়।

    এদিকে, আর্জেন্টিনা ও স্পেনের রোমাঞ্চকর ফাইনালের পরদিনও যুক্তরাষ্ট্রের অফিসগুলোতে উপস্থিতি ১.৮৭ শতাংশ কম ছিল। ব্লুমবার্গের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বড় কোনো বৈশ্বিক ক্রীড়া বা বিনোদনমূলক আয়োজনের সময় কর্মক্ষেত্রে এমন প্রভাব পড়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। এর আগে অলিম্পিক গেমস কিংবা ২০২৩ সালে আলোচিত ‘বার্বি’ ও ‘ওপেনহাইমার’ সিনেমা মুক্তির সময়ও বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারে একই ধরনের পতন দেখা গিয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ যেভাবে মার্কিন অর্থনীতি ও করপোরেট উৎপাদনশীলতায় প্রভাব ফেলেছে, তা সাম্প্রতিককালের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

  • খেলাপি ঋণ কমাতে ২৯ ব্যাংককে আলটিমেটাম

    খেলাপি ঋণ কমাতে ২৯ ব্যাংককে আলটিমেটাম

    দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। খেলাপি ঋণের উচ্চঝুঁকিতে থাকা ২৯ ব্যাংকের জন্য পৃথক লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগামী ছয় মাসের মধ্যে যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ২০ শতাংশের বেশি, সেগুলোকে ২০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে হবে। আর যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ২০ শতাংশের নিচে, সেগুলোকে ১০ শতাংশের নিচে নামানোর আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ব্যর্থ হলে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির (এএমসি) কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

    গত ১২ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত খেলাপি ঋণ কমানোর লক্ষ্যে করণীয় নির্ধারণে ২৯ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, খেলাপি ঋণ কমানোর বিষয়ে গভর্নর কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। কারণ, বাংলাদেশের খেলাপি ঋণের হার অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যেকোনো মূল্যে খেলাপি ঋণ কমাতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট খেলাপি ঋণ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করতে হবে। পাশাপাশি নতুন খেলাপি ঋণ সৃষ্টি রোধ, পুনঃতফসিল করা ঋণের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং বড় ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে বকেয়া আদায়ে বিশেষ উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে ।

    গভর্নর আরো নির্দেশনা দিয়েছেন, ব্যাংকের ব্যালান্সশিটে টক্সিক (খারাপ) অ্যাসেট রেখে অনাদায়ী সুদকে আয় হিসাবে দেখিয়ে কোনো লভ্যাংশ বিতরণ করা যাবে না। বারবার পুনঃতফসিল করা ঋণ এক্সিট সুবিধা, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) অথবা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত সমন্বয় করতে হবে। দীর্ঘদিন বিরূপ মানে থাকা শ্রেণিকৃত ঋণ অবলোপনের উদ্যোগ নিতে হবে। বিদ্যমান সার্কুলারের আওতায় থেকেই খেলাপি ঋণ কমাতে হবে। এজন্য কোনো ওয়ান-টু-ওয়ান সার্কুলার দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে নতুন ঋণ বিতরণ বৃদ্ধি এবং ব্যাংকের মূলধনভিত্তি শক্তিশালী করতে মূলধন বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

    কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংকের

    যেকোনো অনিয়মের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গভর্নর। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো অনৈতিক চাপের ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালনের পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

    জানতে চাইলে জনতা ব্যাংকের এমডি মজিবর রহমান বলেন, গভর্নর খেলাপি ঋণ আদায় জোরদারে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য বিভিন্ন নীতিগত সহায়তা ও নমনীয়তা (ফ্লেক্সিবিলিটি) দিয়েছে। এসব সুবিধা কাজে লাগিয়ে অনাদায়ী ঋণ দ্রুত আদায় এবং দীর্ঘদিনের সমস্যাগ্রস্ত ঋণ নিষ্পত্তির মাধ্যমে ব্যাংকের ব্যালান্সশিট পরিচ্ছন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, শুধু বড় ঋণ নয়; কৃষি, পল্লী ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের কাছেও পৌঁছাতে হবে। তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে ঋণ পরিশোধে উৎসাহিত করতে হবে। এ বিষয়ে গভর্নর কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন এবং পরিচালনা পর্ষদকেও এ উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে বলা হয়েছে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, খেলাপি ঋণ আদায়ে এমডিরা আন্তরিক থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদ সহযোগিতা করে না। তাই বোর্ড সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করার জন্য গভর্নরের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    যে ২৯ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেশি

    গত মার্চ শেষে দেশের ২৯ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৭৩.৯৪ শতাংশ, ইসলামী ব্যাংকের ৫০ দশমিক ৫৮ শতাংশ, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ৬৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ, ব্যাংক অব পাকিস্তানের ৯৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ১৪ দশমিক ৫০ শতাংশ, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ৮৪ দশমিক ৪৮শতাংশ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (বিডিবিএল) ৪৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ৪০ দশমিক ৭২ শতাংশ, সোনালী ব্যাংকের ১৭ দশমিক ৮৫শতাংশ এবং পদ্মা ব্যাংকের ৯০ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

    এছাড়া এসবিএসি ব্যাংকের ১৮ দশমিক ৬১ শতাংশ, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ২২ দশমিক ৮০ শতাংশ, বেসিক ব্যাংকের ৬৭ দশমিক ৪০ শতাংশ, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ৩৫ দশমিক ৬২ শতাংশ, আইএফআইসি ব্যাংকের ৬৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ, অগ্রণী ব্যাংকের ৩৯ দশমিক ৬০ শতাংশ, এনআরবিসি ব্যাংকের ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশ

    , এবি ব্যাংকের ৫৪ শতাংশ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ৪৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ, ওয়ান ব্যাংকের ১২ দশমিক ২৩ শতাংশ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) ১৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ, রূপালী ব্যাংকের ৪৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ, ন্যাশনাল ব্যাংকের ৫৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ১৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ, এক্সিম ব্যাংকের ৬৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ, ইউনিয়ন ব্যাংকের ৯৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৯৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৭৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ৯৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ।বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে খেলাপি ঋণ কমানো এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। এ কারণে দুর্বল ব্যাংকগুলোর জন্য পৃথক লক্ষ্য নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    মোট খেলাপি ঋণ

    ব্যাংকিং খাতে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে খেলাপি ঋণের হার। গত বছরের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল চার লাখ ২০ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ২৪ দশমিক ১৩ শতাংশ। চলতি বছরের মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা বা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। একই সময়ে ব্যাংক খাতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) ঘাটতি দাঁড়িয়েছে দুই লাখ পাঁচ হাজার কোটি টাকা।

    দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ

    চলতি বছরের মার্চ শেষে মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ খেলাপি হওয়ায় বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের দেশ। তুলনামূলকভাবে ভারতের খেলাপি ঋণের হার ৩ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ২ দশমিক ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। এছাড়া ভুটানে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ, নেপালে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, মালদ্বীপে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পাকিস্তানে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ।

    কেন বাংলাদেশ শীর্ষে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে বিপুল অর্থ বের করে নেওয়া হয়েছিল, যা এখন খেলাপি ঋণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ঋণ শ্রেণিকরণের নিয়ম কঠোর হওয়ায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরো বেড়েছে। নবায়ন করা অনেক ঋণ আদায় হচ্ছে না। বিভিন্ন অনিয়মের কারণে বহু ঋণ খেলাপি হিসেবে শ্রেণিকরণ করায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরো বেড়েছে এবং সামনের দিনগুলোয় এটি আরো বাড়তে পারে।

    ২০০৯ সালে আওয়ামী সরকার গঠনের সময় দেশে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। এরপর থেকে তা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। অর্থনীতিবিদদের অভিযোগ, তৎকালীন সরকারের ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে বিপুল অর্থ বের করে নিয়েছেন, যার একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে।

    জানা গেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ও বহুল সমালোচিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হওয়া ব্যাংকগুলোর প্রকৃত ঋণচিত্র সামনে আসতে শুরু করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ। একই ভাবে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংকের খেলাপি ঋণও বেড়েছে। এই পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি সরকারি খাতের অগ্রণী ও জনতা ব্যাংক এবং বেসরকারি খাতের আইএফআইসি, ইউসিবি, এনআরবিসি ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের খেলাপি ঋণও বেড়েছে

  • জুলাইয়ের ১৮ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৮০ কোটি ডলার

    জুলাইয়ের ১৮ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৮০ কোটি ডলার

    চলতি (২০২৬-২৭) অর্থবছরের প্রথম ১৮ দিনে দেশে প্রায় ১৮০ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে প্রবাসীরা। এ সময়ে বৈধ পথে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২০ দশমিক ২ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ কোটি ২০ লাখ ডলার বেশি।

    আজ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১ থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ১৭৯ কোটি ৮০ লাখ (এক দশমিক ৭৯ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৪৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, শুধু ১৬ থেকে ১৮ জুলাই- এই তিন দিনেই দেশে এসেছে ১৬ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয়। এর আগে চলতি মাসের প্রথম পাঁচ দিনে এসেছিল ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। মাসজুড়ে ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্সপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় ১৮ দিনের মাথায় মোট প্রবাসী আয় পৌঁছেছে ১৭৯ কোটি ৮০ লাখ ডলারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩০ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা ২০ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সমান।

    অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও প্রণোদনার কারণে প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। এ প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের সম্ভাবনা বাড়ছে: ইউনিডেক্স অ্যাম্বাসেডর

    ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের সম্ভাবনা বাড়ছে: ইউনিডেক্স অ্যাম্বাসেডর

    বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য ইউরোপের বাজারে আরো বিস্তৃতভাবে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আন্তর্জাতিক খাদ্য আমদানিকারক ও পরিবেশক প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ডাচ এক্সপোর্টার্সের (ইউনিডেক্স) অ্যাম্বাসেডর ও অ্যাডভাইজার ফোরকান হায়দার চৌধুরী। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই বেলজিয়ান মনে করেন, আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা, দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং নিয়মিত বাজারসংযোগ বাড়াতে পারলে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা ইউরোপের বাজারে আরও বাড়বে। তিনি জানান, বর্তমানে এই বাজারের আর্থিক মূল্য বছরে শতকোটি টাকারও বেশি।

    তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৮৯ সালে রোল্যান্ড ইয়ানসেন একটি ছোট উদ্যোগ হিসেবে ইউনিডেক্স প্রতিষ্ঠা করেন। শোবার ঘরে একটি ফ্যাক্স মেশিন নিয়ে শুরু হওয়া প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ এথনিক ফুড ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। পারিবারিকভাবে রোল্যান্ড ইয়ানসেনের মসলা আমদানি-রপ্তানির ব্যবসার অভিজ্ঞতা ছিল। তাঁর বাবা ভারত থেকে তেজপাতা, জিরা, হলুদ, মরিচসহ বিভিন্ন মসলা আমদানি করে নেদারল্যান্ডসে এনে সুরিনাম, কুরাসাওসহ বিভিন্ন ডাচ অঞ্চলে রপ্তানি করতেন। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই ইউরোপে বসবাসরত অভিবাসীদের নিজ দেশের খাদ্যপণ্যের চাহিদাকে লক্ষ্য করে ইউনিডেক্সের কার্যক্রম শুরু হয়।

    প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই দুটি খাতে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। একটি এথনিক বাজার, যেখানে বিভিন্ন দেশের গ্রোসারি ও বিশেষায়িত দোকানে পণ্য সরবরাহ করা হয়। অন্যটি মূলধারার খুচরা বাজার, যেখানে বড় সুপারমার্কেট ও রিটেইল চেইনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খাদ্যপণ্য ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

    ফোরকান হায়দার চৌধুরী জানান, নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে ইউনিডেক্স প্রতিষ্ঠাতা রোল্যান্ড ইয়ানসেনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে ২০০৭ সালের অক্টোবরে তিনি ‘কি অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার (ইউরোপ)’ হিসেবে ইউনিডেক্সে যোগ দেন। এর আগে তিনি অন্য একটি বহুজাতিক কোম্পানির সিইও হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ইউনিডেক্সের ‘ডিরেক্টর অব সেলস’ পদে দায়িত্ব পান। তিনি বলেন, “প্রতিষ্ঠানটির সিইও আমাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন, যা এখনও অব্যাহত আছে। পারস্পরিক বিশ্বাসের এই পরিবেশই নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”

    ইউনিডেক্স বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ড্রাই ফুড, পানীয় এবং হিমায়িত খাদ্যপণ্য সংগ্রহ করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করছে। হেলসিংকি থেকে মাল্টা পর্যন্ত বিস্তৃত বাজারে প্রতিষ্ঠানটির সরবরাহ নেটওয়ার্ক রয়েছে। তিনি জানান, পশ্চিম আফ্রিকার ঘানা, নাইজেরিয়া, আইভরিকোস্ট ও সেনেগাল থেকে পাম অয়েল, পাম ক্রিম, কাসাভা ও বিভিন্ন ধরনের ফ্লাওয়ার আমদানি করা হয়। এ ছাড়া নরওয়ে থেকে সল্টেড ফিশ (বাকালাও) এবং চীন থেকে তেলাপিয়া মাছ আমদানি করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিপণন করা হয়।

    বাংলাদেশি পণ্য প্রসারে নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর উদ্যোগে প্রাণ, বিডি ফুড, ইফাদ, ড্যানিশসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য ইউনিডেক্সের মাধ্যমে ইউরোপের বাজারে পৌঁছাতে শুরু করে। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ফ্রোজেন মাছ, বিভিন্ন ধরনের স্ন্যাকস এবং অন্যান্য খাদ্যপণ্যও নিয়মিত আমদানি করা হচ্ছে। ইউনিডেক্স বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় রপ্তানিকারকদের মাধ্যমে এই বাজার ক্রমাগত সম্প্রসারিত করছে। এসব পণ্য এশিয়ানদের বাইরেও ইউরোপে বসবাসরত আরব, আফ্রিকান এবং ইউরোপীয়দের মধ্যে সম্প্রসারিত হচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, নতুন সরবরাহকারী খুঁজে বের করতে তিনি নিয়মিত বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক খাদ্য প্রদর্শনীতে অংশ নেন। দুবাইয়ের গালফ ফুড, জার্মানির আনুগা, ফ্রান্সের সিয়াল এবং থাইল্যান্ডের থাইফেক্স প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করে সম্ভাবনাময় বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হচ্ছে।

    সম্প্রতি ইউনিডেক্স ইউরোপভিত্তিক এশিয়ান ফুড গ্রুপের সঙ্গে একীভূত হয়ে একটি বৃহত্তর ব্যবসায়িক গ্রুপ গঠন করেছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির ক্রয়ক্ষমতা, সরবরাহব্যবস্থা এবং ইউরোপজুড়ে বাজার সম্প্রসারণের সক্ষমতা বহুগুণে বেড়েছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, এই সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের উৎপাদকদের জন্য ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    সম্প্রতি বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর এক সৌজন্য সাক্ষাতের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য ও কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা এবং এ ক্ষেত্রে ইউরোপীয় বাজারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, মন্ত্রীর কথায় বর্তমান নির্বাচিত সরকারের ইতিবাচক মনোভাব প্রতিফলিত হয়েছে।

    ব্যবসায়িক সাফল্যের মূল ভিত্তি হিসেবে তিনি মানবিক সম্পর্ককে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “ব্যবসা শুধু চুক্তি বা আর্থিক লেনদেনের বিষয় নয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সততা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতেই দীর্ঘস্থায়ী ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।”

    তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি আস্থার সম্পর্ক তৈরি করতে পারলে বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের জন্য ইউরোপের বাজারে আরও বড় সম্ভাবনা তৈরি হবে।

  • ভারতে বাড়ছে মন্দিরের অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনা

    ভারতে বাড়ছে মন্দিরের অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনা

    ভারতের বিখ্যাত রামমন্দিরের ভক্তদের দেওয়া অনুদানের অর্থ চুরির ঘটনা তদন্ত করছে দেশটির পুলিশ। এ ঘটনা ধর্মীয় স্থানগুলোর বিশাল অঙ্কের অর্থ ও স্বর্ণ ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

    গত জুনে পুলিশ এই তদন্ত শুরু করে। অযোধ্যার এই হিন্দু মন্দির থেকে অনুদান চুরির অভিযোগে এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ চুরির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ প্রকাশ না করলেও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এর পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি রুপি বা ৩ লাখ ১৪ হাজার মার্কিন ডলার।

    দিল্লির অটোচালক অশোক প্রসাদ কুশওয়াহা জানান, ভক্তরা বিশ্বাস নিয়ে ঈশ্বরের কাজের জন্য তাদের কষ্টার্জিত অর্থ দান করেন। সেখান থেকে চুরি হওয়াটা ব্যক্তিগত ক্ষতির মতো। ভারতের বড় তীর্থস্থানগুলোতে অনুদান নিয়ে এমন কেলেঙ্কারি এবারই প্রথম নয়, এর আগে বদ্রীনাথ মন্দির এবং ৩১ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ থাকা বিশ্বের অন্যতম ধনী ‘তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানম’ ট্রাস্টেও এমন কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে।

    কেরালার সাবরিমলা মন্দিরের সাবেক প্রধান পুরোহিতের নাতি ও হিন্দু সংগঠক রাহুল ঈশ্বর বলেন, ‘মূল সমস্যা হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব।’

    তিনি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে ডিজিটাল হিসাব, সিসিটিভি নজরদারি এবং স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান। রামমন্দিরে গণনা প্রক্রিয়ার দুর্বলতা ও নজরদারির গাফিলতিকে কাজে লাগিয়েই এই চুরি করা হয়েছে।

    ২০২৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই রামমন্দির উদ্বোধন করেন। বর্তমানে এখানে প্রতিদিন গড়ে ৯০ হাজার দর্শনার্থী আসেন এবং নগদ অর্থ, স্বর্ণ ও রুপার গয়না দান করেন।

    এই চুরির ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। কারণ, মন্দিরটি ভারতের দীর্ঘদিনের এক ধর্মীয় বিরোধপূর্ণ জায়গায় নির্মিত হয়েছে। ১৯৯২ সালে সেখানে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর দেশব্যাপী সহিংসতায় ২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হন। ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে জমিটি মন্দির নির্মাণের জন্য দেওয়া হয়। এরপর দেশব্যাপী তহবিল সংগ্রহ অভিযানে প্রায় ৩৪ কোটি ১০ লাখ (৩৪১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার জমা হয়।

  • রাজনীতি এখন পরিণত হয়েছে লাভজনক ব্যবসায়: ডা. ইরান

    রাজনীতি এখন পরিণত হয়েছে লাভজনক ব্যবসায়: ডা. ইরান

    জুলাই পরবর্তী রাজনীতির গুনগত পরিবর্তন না হওয়ায় সৎ ও নিষ্ঠাবান রাজনৈতিকরা রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে মন্তব্য করে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ডাউট-বাটপার, লুটেরা, অর্থপাচারকারী-মানবপাচারকারী, মাদক ব্যবসায়ী ও কালোবাজারি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম এখন সর্বত্রই। যেকোনো মূল্যে অর্থ সম্পদ অর্জনের প্রতিযোগিতার কারণে রাজনীতি এখন পরিণত হয়েছে লাভজনক ব্যবসায়। আমলা কামলা পুঁজিপতিরা রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ করে রাজনৈতিক চরিত্র ধ্বংস করেছে। হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটকারীরা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও অর্থ লুটিয়ে জাতীয় সংসদ সদস্য হয়েছে।

    শনিবার কলেজ এভিনিউস্থ দলীয় কার্যালয়ে বরিশাল জেলা ও মহানগর লেবার পার্টি আয়োজিত প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

    লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. ইরান বলেন, আমরা খাই খাই রাজনীতি ও লুটপাটের গণতন্ত্র চাই না। অর্থ অস্ত্র কালোটাকা পেশীশক্তি হোন্ডা ও গুন্ডার রাজনীতির অবসানের জন্যই ছাত্র শ্রমিক জনতার আন্দোলনের চূড়ান্ত ফসল ৩৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থান। আমরা জীবন দেবো তবুও জুলাই দেবো না। জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য গণভোটের রায় কার্যকর করতে রাজপথে সক্রিয় থাকবে লেবার পার্টি।

    তিনি আরো বলেন, জনগণ একনায়কতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নতুন বন্দোবস্ত চেয়েছে। ও ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের কবর রচনা করেছে। আবু সাঈদ মুগ্ধ আউয়াল মিয়া ও নাঈমরা বস্তাপচা নোংরা রাজনীতি টিকিয়ে রাখতে জীবন উৎসর্গ করেনি। তাই নতুন ধারার রাজনীতি ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে লেবার পার্টিকে সুসংগঠিত করতে হবে।

    বরিশাল মহানগর লেবার পার্টির সভাপতি মো. সোহেল মাহমুদের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট জোহরা খাতুন জুঁই, বাংলাদেশ যুব মিশন আহবায়ক সালমান খান বাদসা। বক্তব্য রাখেন বরিশাল জেলা লেবার পার্টির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শাহাদাত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান হাওলাদার, পটুয়াখালী জেলা লেবার পার্টির আহবায়ক মো. দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার, ঝালকাঠি জেলা লেবার পার্টির সমন্বয়কারী মোহাম্মদ মাসুদ খান, পিরোজপুর জেলা লেবার পার্টির যুগ্ম আহবায়ক মো. ওয়ালি উল্লাহ হাওলাদার, নেছারাবাদ উপজেলা লেবার পার্টির যুগ্ম আহবায়ক মো. সাদেক হোসেন প্রমুখ।

  • বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

    বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

    বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য দিনদিন বাড়ছে। এই বাণিজ্য চালিয়ে যেতে মুদ্রা বিনিময়ের পরিমাণও বাড়ছে।

    লেনদেনের সুবিধার্থে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার আজ শনিবার বিনিময় হার

    বৈদেশিক মুদ্রা – বাংলাদেশি টাকা

    মালয়েশিয়ান ১ রিংগিত ৩০ টাকা ২২ পয়সা

    সৌদির রিয়াল – ৩২ টাকা ৮৯ পয়সা

    মার্কিন ডলার – ১২৩ টাকা ১৬ পয়সা

    ইউরোপীয় ইউরো – ১৪৩ টাকা ৫৫ পয়সা

    ইতালিয়ান ইউরো – ১৪৩ টাকা ৫৫ পয়সা

    ব্রিটেনের পাউন্ড – ১৬৬ টাকা ৩৪ পয়সা

    সিঙ্গাপুরের ডলার – ৯৫ টাকা ৭৩ পয়সা

    অস্ট্রেলিয়ান ডলার – ৮৬ টাকা ৭৪ পয়সা

    নিউজিল্যান্ডের ডলার – ৭২ টাকা ৩১ পয়সা

    কানাডিয়ান ডলার – ৮৭ টাকা ৯১ পয়সা

    ইউ এ ই দিরহাম – ৩৩ টাকা ৬৪ পয়সা

    ওমানি রিয়াল – ৩১৯ টাকা ০৫ পয়সা

    বাহরাইনি দিনার – ৩২৭ টাকা ৮৫ পয়সা

    কাতারি রিয়াল – ৩৩ টাকা ৯৩ পয়সা

    কুয়েতি দিনার – ৪০২ টাকা ০৬ পয়সা

    ইন্ডিয়ান রুপি – ১ টাকা ২৪ পয়সা

    ।

  • পাট রপ্তানি তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

    পাট রপ্তানি তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

    দেশে পাটের সোনালি সময় এখন অতীত। তবু রপ্তানি বাণিজ্যে পাট ও পাটপণ্যের গুরুত্ব কমেনি। টানা চার বছর পাট ও পাটপণ্যের রপ্তানি কমার পর আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫–২৬ অর্থবছরে গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি হয়েছে। যদিও করোনাকালের রেকর্ড রপ্তানি থেকে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে খাতটি।

    এক দশক পাট ও পাটপণ্যের রপ্তানি ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের কাছাকাছি থাকলেও করোনাকালে অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবছরে একলাফে তা ১ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়, যা ১৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তারপর টানা চার বছর খাতটির রপ্তানি কমেছে। তবে সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাট ও পাটপণ্যের রপ্তানি পৌনে ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৮ কোটি মার্কিন ডলার। এই রপ্তানি গত তিন অর্থবছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

    পাটপণ্যের রপ্তানিকারকেরা বলছেন, বন্যার কারণে গত বছর পাট উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে কারণে কাঁচা পাটের দাম বেড়ে যায়। উচ্চ মূল্যের কারণেই অর্থের হিসাবে পাটপণ্যের রপ্তানি বেড়েছে। তবে পরিমাণের দিক থেকে রপ্তানি বাড়েনি। যদিও পরিমাণের দিক থেকেও রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে। সে জন্য কাঁচা পাটের সরবরাহব্যবস্থা মসৃণ করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। গবেষণা ও পণ্যের মান উন্নয়নের পাশাপাশি যৌথভাবে হলেও এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

    বিশ্বে পাট উৎপাদনে বাংলাদেশ দ্বিতীয়। বছরে দেশে ৯০ লাখ বেল পাট উৎপাদিত হয়। পাটপণ্যের রপ্তানি ৫০০ কোটি ডলারে উন্নীত করা সম্ভব বলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। যদিও রপ্তানি বাড়াতে করণীয় বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ সরকারের দিক থেকে দেখা যায়নি।

    রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে কাঁচা পাটের পাশাপাশি পাটের সুতা, বস্তা ও বহুমুখী পাটপণ্য রপ্তানি হয়। এসব পণ্য তুরস্ক, চীন, ভারত, মিসর, উজবেকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), জর্ডান, পাকিস্তান, রাশিয়া ও ইরানসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়ে থাকে। বিদায়ী অর্থবছর কাঁচা পাটের রপ্তানি ১১ শতাংশ কমে ১৩ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। যদিও পরিমাণের দিক থেকে কাঁচা পাটের রপ্তানি কমেছে প্রায় ৭৭ শতাংশ। বিদায়ী অর্থবছরে ৩৮ হাজার টন কাঁচা পাট রপ্তানি হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কাঁচা পাট রপ্তানি হয়েছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার টন।

    বিদায়ী অর্থবছরে পাটের বস্তার রপ্তানি ৫ শতাংশ বেড়ে ১৩ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে; আর পাটের সুতার রপ্তানি ১৮ শতাংশ বেড়ে ৪৯ কোটি ডলার হয়েছে। যদিও পরিমাণের দিক থেকে পাটের সুতার রপ্তানি কমেছে ২ শতাংশ। বিদায়ী অর্থবছরে ৪ লাখ ২৮ হাজার টন পাটের সুতা রপ্তানি হয়। তার আগের অর্থবছর রপ্তানি হয়েছিল ৪ লাখ ৩৮ হাজার টন।

    জানতে চাইলে বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) সভাপতি তাপস প্রামাণিক প্রথম আলোকে বলেন, বিদায়ী অর্থবছর প্রতি মণ কাঁচা পাট ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকায় কিনতে হয়েছে। তার আগের বছরও এর দাম তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা ছিল। মূল্যবৃদ্ধির কারণে ১ হাজার ডলারের পণ্যের দাম বেড়ে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ ডলার হয়েছে। সে কারণে অর্থের হিসাবে রপ্তানি বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, পাটপণ্যের রপ্তানি অনায়াসে দুই-তিন বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। তার জন্য কাঁচামালের সরবরাহব্যবস্থা মসৃণ করতে হবে। সেই সঙ্গে নতুন বাজারে রপ্তানির জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে।

    বহুমুখী পাটপণ্যে বড় সম্ভাবনা

    বিশ্বজুড়ে পাটজাত পণ্য, বিশেষ করে বহুমুখী পাটপণ্যের সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা থাকলেও সেই রপ্তানি কম বাংলাদেশের। বিদায়ী অর্থবছর ৭ কোটি ৪৪ লাখ ডলারের বহুমুখী পাটপণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই রপ্তানি তার আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ কম।

    উদ্যোক্তারা বলছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে বহুমুখী পাটপণ্যের বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ক্রয়াদেশ কমেছে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। মূলত জ্বালানির উচ্চ মূল্যের কারণে নিত্যপণ্যের বাইরে অন্যান্য পণ্যের বিক্রি কমে গেছে। তা ছাড়া কাঁচা পাটের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদনে ব্যয় বেড়েছে। সে জন্যও ক্রয়াদেশ কিছুটা কমেছে।

    জানা যায়, বৈশ্বিক বাজারে পাটের তৈরি গৃহসজ্জার পণ্যের চাহিদার পাশাপাশি পাটের তৈরি শপিং ব্যাগ, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, গার্ডেনিং বা বাগান, অটোমোবাইল ও প্যাকেজিংয়ে পাটপণ্যের চাহিদাও বাড়ছে। এ ছাড়া পাটকাঠির তৈরি চারকোলের চাহিদাও রয়েছে চীনসহ বিভিন্ন দেশে।

    জানতে চাইলে বহুমুখী পাটপণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েশনের এমডি মো. রাশেদুল করিম বলেন, ‘পাটের সুতা ও বস্তায় প্রতি টনে খুবই কম মুনাফা করেন আমাদের ব্যবসায়ীরা। ফলে কাঁচা পাটের দাম বেড়ে গেলে মুনাফা ধরে রাখতে হিমশিম খান তাঁরা। পাট খাতের রপ্তানি বাড়াতে হলে বহুমুখী পণ্য উৎপাদন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে চীন, ভারতের মতো কয়েকটি দেশ এগিয়ে গেছে। তাই বহুমুখী পাটপণ্যের রপ্তানি বাড়াতে হলে নতুন নতুন পণ্য উন্নয়নে গবেষণার পাশাপাশি এই খাতে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আসতে হবে। তাহলে দেশীয় উদ্যোক্তারা নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে পারবেন।’

  • সমাজের নিকৃষ্ট মানুষ আওয়ামী লীগ করে: বিদ্যুৎমন্ত্রী

    সমাজের নিকৃষ্ট মানুষ আওয়ামী লীগ করে: বিদ্যুৎমন্ত্রী

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, সমাজের নিকৃষ্ট মানুষ আওয়ামী লীগ করে। ভদ্রলোক আওয়ামী লীগ করে না। সরকারে থাকার অর্থ এই নয় যে, কেউ বড় কিছু হয়ে গেছে। দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে এবং খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

    শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে সিরাজগঞ্জের মিরপুরে অবস্থিত তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    টুকু বলেন, এক সময় তাঁতের অর্থেই পাকিস্তানের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয়েছিল। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ এ শিল্পকে ধ্বংস করেছে। আওয়ামী লীগ শুধু গত ১৭ বছর নয়, জন্মলগ্ন থেকেই দেশের ক্ষতি করে গেছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে অনেকে নিহত হয়েছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের পতনের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কাউকে ভয়ভীতি দেখানো হয়নি, ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হয়নি এবং দিনে ভোট রাতে গণনা হয়েছে, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠিত হয়েছে।

    তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালে আমি বলেছিলাম, হাসিনা থাকাকালীন দেশে ফিরব না; আমার লাশ ফিরবে। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি পালিয়ে গেছেন, আর আমি দেশে ফিরেছি।

    তাঁতশিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণ নিয়ে নারীরা স্বাবলম্বী হতে পারেন। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে বড় উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ রয়েছে এ খাতে।

    বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।

    এ সময় জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

  • বেনাপোল বন্দরে ক্রেনফর্কলিফট সঙ্কট :  আমদানি-রফতানি ব্যাহত

    বেনাপোল বন্দরে ক্রেনফর্কলিফট সঙ্কট : আমদানি-রফতানি ব্যাহত

    যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে আমদানি করা ভারী পণ্য। চাহিদার তুলনায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে আমদানি বাণিজ্য। এতে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা, পাশাপাশি স্থবির হয়ে পড়ছে বিভিন্ন শিল্প-কলকারখানা স্থাপন ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড।

    বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের প্রায় ৩০ শতাংশই ভারী পণ্য রয়েছে। এসব পণ্য দ্রুত ও নিরাপদে খালাসের জন্য কমপক্ষে ১২টি ক্রেন এবং ২০টি ফর্কলিফট প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘গ্রেড বেঙ্গল এন্টারপ্রাইজ’-এর কাছে রয়েছে মাত্র ৭টি ক্রেন ও ৮টি ফর্কলিফট। এর মধ্যে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় অর্ধেক সময় এসব যন্ত্র অচল থাকে। ফলে জরুরি পণ্য খালাসের জন্য ব্যবসায়ীদের দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

    বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, বাণিজ্যিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে লোকসান এড়াতে অনেক আমদানিকারক বেনাপোল ছেড়ে অন্য বন্দরের দিকে ঝুঁকছেন। এতে বেনাপোল বন্দরের রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

    ভারত-বাংলা ল্যান্ডপোর্ট চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মতিয়ার রহমানও একই হতাশার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘বন্দরের বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন।’

    বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের বন্দরবিষয়ক সম্পাদক মো: মেহেরুল্লাহ বলেন, ‘ক্রেন অচল থাকায় পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। চাহিদার তুলনায় অর্ধেক যন্ত্রপাতি দিয়ে কোনোভাবেই স্বাভাবিক কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়। এতে আমদানি কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে।’

    গত এক যুগ ধরে বন্দরে এই সমস্যা বিদ্যমান থাকলেও সমাধানে কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

    তবে বেনাপোল বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহীদ আলী জানান, অদক্ষ ঠিকাদার পরিবর্তনের জন্য এরইমধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক রুহুল আমিন বলেন, ‘সমস্যা সমাধানে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দ্রুতই নতুন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে এই সঙ্কট নিরসন করা হবে।’

  • ট্রাম্পের মাথার দাম ১২৩ কোটি টাকা ঘোষণা করলো-আইআরআই

    ট্রাম্পের মাথার দাম ১২৩ কোটি টাকা ঘোষণা করলো-আইআরআই

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাথার দাম এক কোটি ডলার ঘোষণা করেছে ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক (আইআরআই)। বর্তমান দর অনুযায়ী (১ ডলার সমান ১২৩.১২ টাকা) এ পুরস্কার প্রায় ১২৩ কোটি ১২ লাখ টাকার সমান।

    ইরানপন্থী সংগঠনটি গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ট্রাম্পকে কেউ হত্যা করতে পারলে তাঁকে পুরস্কার হিসেবে এ অর্থ দেওয়া হবে।

    ট্রাম্পকে অপরাধী হিসেবে উল্লেখ করে এক বিবৃতিতে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স বলেছে, তাদের সদস্য ও সমর্থকদের কাছ থেকে পাওয়া অনুদানের অর্থে এক কোটি ডলার পুরস্কার বরাদ্দ করা হয়েছে। অপরাধী ট্রাম্পকে যে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠী হত্যা করবে—তিনি বা তাঁরা এ পুরস্কার পাবেন।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষ শিশু ও বিজ্ঞানীদের হত্যাকারীকে খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। স্বৈরাচারীরা কখনো শান্তি পাবে না। সম্মানিত মানুষের ক্ষোভ থেকে ওই অপরাধী (ট্রাম্প) নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাবে না।’

    যোদ্ধাদের জন্য প্রতিশোধ নেওয়া ‘বাধ্যতামূলক অঙ্গীকার’ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স। বলা হয়েছে, ‘শহীদদের রক্ত অভিশাপ হয়ে অহংকারীদের সিংহাসন কাঁপিয়ে দেবে; যতক্ষণ না আগ্রাসনকারীরা পরাজিত হয় এবং স্বৈরাচারের দুর্গগুলো ধসে পড়ে।’

    এদিকে গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের বৈঠকে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল–জাইদির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেছেন, ২০২০ সালে ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও ইরাকের মিলিশিয়া নেতা আবু মাহদি আল–মুহান্দিস হত্যায় তাঁর ভূমিকা ছিল।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি ভালোভাবে নেয়নি ইরাকের ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স। মূলত এর পরই সংগঠনটির পক্ষ থেকে ট্রাম্পের মাথার এ দাম ঘোষণা করা হলো।

  • তরবারির জোরে নয়, আরব বণিকদের মাধ্যমে ভারতে এসেছিল ইসলাম

    তরবারির জোরে নয়, আরব বণিকদের মাধ্যমে ভারতে এসেছিল ইসলাম

    প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, ৭১২ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধ আক্রমণের মাধ্যমে ভারতে ইসলামের আগমন ঘটেছিল। একে অনেকে তরবারির শক্তির ওপর ভর করে ইসলামের আগমন বলে মনে করেন। তবে আধুনিক ইতিহাসবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীদের অনেকেই এই ধারণার সঙ্গে একমত নন।

    তাদের মতে, ভারতে ইসলামের আগমন কোনো একক ঘটনার ফল নয়। এটি কয়েক শতাব্দী ধরে চলা ঐতিহাসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ার পরিণাম।ভারতে ইসলামের প্রসারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল বাণিজ্য। প্রাচীনকাল থেকেই ভারত গোলমরিচের জন্য সারা বিশ্বে পরিচিত ছিল। আরব সাগর শান্ত থাকায় এই সমুদ্রপথে আরব বণিকদের দীর্ঘদিনের প্রভাব ছিল। তারা বর্ষার সময়ে ভারতে আসতেন এবং ব্যবসা শেষে আরবে ফিরে যেতেন।

    বিখ্যাত ইতিহাসবিদ সৈয়দ সুলেমান নদভীর মতে, ইসলামের আবির্ভাবের পর বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ আরবদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। দীর্ঘদিন যোগাযোগের ফলে দক্ষিণ ভারতে ‘মাপ্পিলা মুসলিম’ নামে এক মুসলিম সম্প্রদায়ের বিকাশ ঘটে।

    রাজনীতিবিদ ও লেখক শশী থারুর প্রায়ই উল্লেখ করেন যে, পরিচিত ও বিশ্বস্ত আরব বণিকদের হাত ধরেই মালাবার উপকূলে ইসলাম এসেছিল। কোনো তলোয়ারের জোরে কেরালায় ইসলাম পৌঁছায়নি। দক্ষিণ ভারতে ইসলামের আগমন সম্পর্কে বেশ কিছু তত্ত্ব প্রচলিত আছে।

    প্রথম তত্ত্ব অনুযায়ী, নবী মোহাম্মদ (সা.)-এর জীবদ্দশাতেই প্রাচীন মুজিরিস বন্দর দিয়ে কেরালায় ইসলাম এসেছিল। ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে মালিক বিন দিনারের উদ্যোগে নির্মিত ‘চেরামন জামা মসজিদ’ এই দাবির পক্ষে বড় প্রমাণ। মসজিদটি প্রতিষ্ঠার পেছনে কেরালার হিন্দু রাজা চেরামন পেরুমলের ইসলাম গ্রহণের গল্পও জড়িয়ে আছে।

    প্রফেসর ইলিয়াসের মতে, আরবরা এখানে মূলত গোলমরিচের ব্যবসা করতে এসেছিলেন। তারা বাণিজ্যের পাশাপাশি হিসাব করার পদ্ধতি, ওজন মাপার কৌশল এবং ভালো নৌকা তৈরির প্রযুক্তিও শিখিয়েছিলেন।

    ঐতিহাসিকদের একাংশ ৭১২ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধ ও মুলতান দখল এবং পরবর্তীতে দিল্লির সালতানাত প্রতিষ্ঠাকে রাজনৈতিক সম্প্রসারণ হিসেবে দেখেন।

    তবে আধুনিক গবেষকদের মতে, এই জয়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করা, জোর করে মানুষকে ধর্মান্তরিত করা নয়।

    ভারতে ইসলামের প্রসারে সুফি আন্দোলনও বড় ভূমিকা পালন করেছে। একাদশ শতকের পর চিশতি ও সোহরাওয়ার্দী সিলসিলার সুফি-সন্তরা ভারতের বিভিন্ন অংশে বসতি স্থাপন করেন। তাদের খানকাহ ও দরগাহগুলো আধ্যাত্মিক এবং সামাজিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। আজমেরের খাজা মঈনুদ্দিন চিশতির দরগাহ এর একটি বড় উদাহরণ, যেখানে সব ধর্মের মানুষ আসেন। ইসলামের সাম্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও ন্যায়বিচারের নীতি মানুষকে আকর্ষণ করেছিল।

    ইতিহাসবিদ রিচার্ড ইটনের মতো পণ্ডিতরা আরেকটি নতুন তত্ত্ব দিয়েছেন। তাদের মতে, বাংলা ও পাঞ্জাবের মতো অঞ্চলে ইসলামের বিস্তার মূলত কৃষি উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। মুসলিম শাসকরা সুফি খানকাহ ও মসজিদগুলোকে অনুর্বর জমি দান করতেন। এই প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কৃষি বসতি স্থাপন করলে স্থানীয় কৃষকরা ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক অগ্রগতির অংশ হিসেবে ইসলাম গ্রহণ করেন। সব মিলিয়ে, বাণিজ্য, আধ্যাত্মিকতা, রাজনীতি ও সামাজিক সুযোগের এক দীর্ঘ মিশ্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই অঞ্চলে ইসলামের বিস্তার ঘটেছিল।

  • রাশিয়ার তেল কিনলেই ১০০% শুল্ক

    রাশিয়ার তেল কিনলেই ১০০% শুল্ক

    রাশিয়াকে চাপে ফেলতে মস্কোর তেল ও গ্যাস কেনা শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারক দেশের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের একটি সংশোধিত নিষেধাজ্ঞা বিল উত্থাপন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটররা। বিলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন রয়েছে, যা মূলত চীন ও ভারতকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে।

    প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নেতৃত্বে আনা এ বিলটি সংশোধন করে সর্বোচ্চ শুল্কের হার আগের ৫০০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০০ শতাংশ করা হয়েছে। মূল বিলের তুলনায় সংশোধিত বিলে শুল্কের বড় ধরনের হ্রাস এটি। তবে যে দেশগুলো রাশিয়ার মোট গ্যাস রপ্তানির ১৫ শতাংশের কম আমদানি করে, সেগুলোকে এ শুল্কের আওতা থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। ফলে ইউরোপের দেশগুলো লাভবান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বিলটিতে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, ওই দেশগুলোর মোট চাহিদার তুলনায় রাশিয়া থেকে কেনা গ্যাসের পরিমাণ খুবই সামান্য এবং তারা মস্কোর ওপর নির্ভরতা কমাতে ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নিচ্ছে।

    আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, বিলটিতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও আর্থিক খাতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত পুরোনো জাহাজের ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া নৌবহরকে লক্ষ্য করেও নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করা হয়েছে।

    কানেটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল বিলটির খসড়া তৈরিতে প্রয়াত সিনেটর গ্রাহামের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং তাঁর সঙ্গে বেশ কয়েকবার ইউক্রেন সফর করেছেন।

    বিলটি প্রসঙ্গে রিচার্ড ব্লুমেনথাল বলেন, ‘এটি তৈরি করতে আমাদের অত্যন্ত পরিশ্রম এবং কিছু ক্ষেত্রে বেদনাদায়ক আলোচনা ও বিতর্ক করতে হয়েছে। তবে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আনা হয়েছে। ইউক্রেন এখন একটি টার্নিং পয়েন্ট বা সন্ধিক্ষণে রয়েছে। তারা যুদ্ধের ময়দানে পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে নিয়ে আসছে।’

    গত বছর রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারক দেশ ছিল চীন, ফ্রান্স, জাপান, হাঙ্গেরি ও বেলজিয়াম। তবে ১৫ শতাংশের কম গ্যাস কেনার শর্তের কারণে চীনের বাইরে বাকি দেশগুলো এ শুল্কের আওতা থেকে ছাড় পাবে। অন্যদিকে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের শীর্ষ পাঁচ ক্রেতা দেশ হলো চীন, ভারত, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজান।

    রাশিয়ার জ্বালানি কেনার অপরাধে যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও চীন ও ভারতকে আলাদাভাবে শাস্তির আওতায় ফেলার চেষ্টা করেছিল। গত বছর রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন, যদিও পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ভারতের জন্য রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনার যে সাময়িক ছাড় মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ দিয়েছিল, তার মেয়াদ গত ১৭ জুন শেষ হয়েছে। ফলে ভারতের বর্তমান তেল আমদানির বিষয়টি আইনি জটিলতায় পড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

    সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল জানান, শুল্কের চূড়ান্ত হার নির্ধারণ করবে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর। অন্যান্য দেশ যেন রাশিয়ার তেল কেনায় নিরুৎসাহিত হয়, তার ওপর ভিত্তি করেই এ শুল্কের হার ধার্য করা হবে।

    গত শনিবার ৭১ বছর বয়সে সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের আকস্মিক মৃত্যুর পর এ বিল পাসের প্রক্রিয়া আরও গতি পেয়েছে। গ্রাহাম বেঁচে থাকতে এই আইনের মূল চালিকা শক্তি ছিলেন। তাই তাঁর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে দুদলের (ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান) অনেক সিনেটরই এখন বিলটি পাস করতে চান।

    আকস্মিক মৃত্যুর আগে ইউক্রেন সফরের সময় গ্রাহাম ঘোষণা করেছিলেন যে বিলটি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন তিনি।

    বিলটি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেন, ‘বিলটি পাস হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।’ বিলটির পক্ষে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার থাকা গ্রাহামের সম্মানে এটি করা হবে উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘এটি লিন্ডসের সম্মানে করা হচ্ছে। এটি তাঁর স্বপ্নের প্রজেক্ট ছিল। অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে তিনি এটি বেশি চেয়েছিলেন। আপনারা তো জানেনই তিনি এ বিষয়ে কেমন ভাবতেন। তাই বিলটি পাস হওয়ার একটি ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।’

    সিনেটের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিলটির পক্ষে ইতিমধ্যে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলেরই ২৬ জন সিনেটর সহপৃষ্ঠপোষক হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আরও অনেক সিনেটর এতে যোগ দেবেন বলে তাঁরা আশা করছেন।

    রাশিয়ার জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ ভ্লাদিমির মনোমাখ।

    বিলটি পাস হওয়ার বিষয়ে বড় আশা ব্যক্ত করে একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘বিলটি পাসের পথ নিয়ে আমরা বেশ আত্মবিশ্বাসী।’

    রাশিয়াকে দেওয়া এ নিষেধাজ্ঞা বিলটি নিয়ে দুই দলের একদল সিনেটর এবং হোয়াইট হাউস দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আলোচনা ও দর–কষাকষি করেছে। এ সময়ে বেশ কয়েকটি আরও কঠোর প্রস্তাব বিবেচনা করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি প্রস্তাব ছিল—রাশিয়া থেকে তেল, গ্যাস, ইউরেনিয়াম এবং অন্যান্য পণ্য কেনা দেশগুলোর আমদানির ওপর সরাসরি ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা।

  • চট্টগ্রামে বন্যায় ৭ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: অর্থমন্ত্রী

    চট্টগ্রামে বন্যায় ৭ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: অর্থমন্ত্রী

    অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, চট্টগ্রামে বন্যায় প্রায় সাত লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে এক লাখ মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কাজও শুরু হয়েছে।

    আজ শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে চাল, রান্না করা খাবার ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়েছে; পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

    বন্যার কারণে অনেক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য এরই মধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং কিছু সড়কে কাজও শুরু হয়েছে।

    ত্রাণ বিতরণ শেষে অর্থমন্ত্রী পতেঙ্গা থেকে চন্দনাইশের উদ্দেশে রওনা দেন। পরে তিনি সাতকানিয়া, লোহাগড়া ও বাঁশখালীসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করবেন।

    সুত্র: বাসস

  • শান্তিচুক্তি আলোচনা ভেস্তে দিতে অর্থায়ন করছে ইসরায়েল, অভিযোগ ভ্যান্সের

    শান্তিচুক্তি আলোচনা ভেস্তে দিতে অর্থায়ন করছে ইসরায়েল, অভিযোগ ভ্যান্সের

    যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিআলোচনাকে ভেস্তে দেডেন্ট জে ডি ভ্যান্স অভিযোগ করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান ওয়ার জন্য অর্থায়ন করছে ইসরায়েল।

    জনপ্রিয় পডকাস্ট সঞ্চালক জো রোগানের অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ‘আপনারা একটি অত্যন্ত গোপন এবং বিপুল অর্থায়নে পরিচালিত প্রচারণা দেখছেন। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের আলোচনা এবং সম্ভাব্য চুক্তিকে নস্যাৎ করা।’ খবর আল জাজিরার।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘ট্রাম্পের পক্ষে প্রচারণা চালানো এক ব্যক্তি একদল মানুষকে অর্থ দিয়েছেন। আর তিনি নিজেও ইসরায়েল সরকারের নির্দিষ্ট কিছু মহলের কাছ থেকে অর্থ পেয়েছেন। সেই ব্যক্তিরাই এখন আমার বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ চালাচ্ছেন।’

    তবে ভ্যান্সের এই অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফার বিমান হামলায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক প্রদেশে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আহভাজ, খুজেস্তান, হরমুজগান এবং সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় আহভাজের একটি শিশু ক্যানসার হাসপাতাল থেকে জরুরি ভিত্তিতে রোগীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত চলা হামলায় আহভাজ, বন্দর আব্বাস, কেশম ও চাবাহার এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

  • প্রেসিডেন্ট হওয়ারও আগেই খার্গ দ্বীপে নজর ছিল ট্রাম্পের

    প্রেসিডেন্ট হওয়ারও আগেই খার্গ দ্বীপে নজর ছিল ট্রাম্পের

    ইরানে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করার বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি প্রেসিডেন্ট হওয়ার বহু আগে ১৯৮৮ সালেই এটি দখলের চিন্তা করেছিলেন ট্রাম্প।

    পারস্য উপসাগরে ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার (১৫ মাইল) দূরে অবস্থিত ছোট এই দ্বীপটির আয়তন নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

    মার্কিন কর্মকর্তারা একে ইরানের পুরো তেল সরবরাহ ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দ্বীপটির গভীর পানির জেটিগুলো এই অঞ্চলের অল্প কয়েকটি জেটির মধ্যে অন্যতম। কেননা এটি সুপারট্যাঙ্কার ভেড়ানোর সক্ষমতা রয়েছে। ফলে তেল রপ্তানির জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    খার্গ দ্বীপ দিয়ে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়। ফলে এটি দেশটির অর্থনীতির অন্যতম প্রধান প্রাণকেন্দ্র।

    ১৯৮৪ সালের অবমুক্ত একটি সিআইএ নথিতে খার্গ দ্বীপের স্থাপনাগুলোকে “ইরানের তেল ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

    খার্গ দ্বীপ দখলের ধারণা ট্রাম্পের জন্য নতুন নয়। চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার দ্বীপটিতে হামলা চালিয়েছে। এমনকি ১৯৮৮ সালেও, প্রেসিডেন্ট হওয়ার বহু আগে, ট্রাম্প দ্বীপটি দখলের ধারণা নিয়ে কথা বলেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    তবে এ পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে মতভেদ রয়েছে। হোয়াইট হাউসের একাংশের কর্মকর্তাদের মতে, খার্গ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া গেলে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) অর্থনৈতিক সক্ষমতায় বড় আঘাত হানা সম্ভব হবে এবং এতে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

    অন্যদিকে প্রশাসনের আরেকটি অংশ এ ধরনের অভিযানে বিপুলসংখ্যক স্থলসেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাই তারা পরিকল্পনাটি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

  • চলতি মাসেই শুরু হতে পারে দাখিল কার্যক্রম

    চলতি মাসেই শুরু হতে পারে দাখিল কার্যক্রম

    অর্থবছর শুরু হলেও এখনো করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের কার্যক্রম শুরু হয়নি। বিদায়ি অর্থবছরে পাঁচ শ্রেণি ছাড়া ব্যক্তি করদাতার অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চলতি অর্থবছর থেকে ব্যক্তি করদাতার পাশাপাশি করপোরেট প্রতিষ্ঠানেরও অনলাইনে রিটার্ন দাখিল চালু করার কথা রয়েছে। প্রথমবারের মতো অনলাইনে করপোরেট রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম শুরুতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তবে চলতি জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহের দিকে ব্যক্তি করদাতাদার অনলাইনে রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, অনলাইনে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম শুরুর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে এ বছর আগাম রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে প্রণোদনা চালু করায় যত দ্রুত সম্ভব আমরা এটি শুরু করতে চাই। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে চলতি জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

    অনলাইন রিটার্ন দাখিল কার্যক্রমে সফটওয়্যার সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সিনোসিস আইটির চিফ সলিউশন অফিসার (সিএসও) আমার দেশকে বলেন, আয়কর আইনে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে, তার আলোকে সফটওয়্যারেও আপগ্রেডেশন করতে হচ্ছে। আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে আপগ্রেডেশনসহ এনবিআরকে হস্তান্তর করা হবে। এরপর এনবিআর এটি পর্যালোচনা করবে।

    অপরদিকে করপোরেট রিটার্নের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এনবিআরের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় চাহিদা দেওয়া হচ্ছে। সে অনুযায়ী সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের কাজ করতে হবে। যেহেতু এটি নতুন ডেভেলপমেন্ট, সেজন্য কিছুটা সময় লাগবে। কবে নাগাদ এটি সম্পন্ন হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দিনক্ষণ সম্পর্কে এখনই স্পষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে দুই থেকে তিন মাস সময় লেগে যেতে পারে।

    এদিকে, চলতি করবর্ষ থেকে অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে করদাতারা যাতে ব্যাংকের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিটার্নে যুক্ত করতে পারেন, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করছে এনবিআর। এটি বাস্তবায়ন হলে করদাতাকে আলাদাভাবে ব্যাংকের তথ্য রিটার্নে উল্লেখ করতে হবে না। তবে এটি বাধ্যতামূলক করা হবে না বলে এনবিআর কর্মকর্তারা জানান।

    তারা বলেন, করদাতা যদি স্বেচ্ছায় ব্যাংকের তথ্য রিটার্নে দিতে চান, দিতে পারবেন। আবার না দিতে চাইলে ম্যানুয়ালি সেটি রিটার্নে দিতে পারবেন। কোনো কারদাতা যদি তার সব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে না দিয়ে কয়েকটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টের তথ্য দিতে চান সেটিও করতে পারবেন। তবে যেসব করদাতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য দিতে চাইবেন না, তারা নিরীক্ষা ঝুঁকির মধ্যে থাকবেন।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যাংকের চারটি তথ্য রিটার্নে উল্লেখ করতে হয়। এগুলো হচ্ছে—২০২৬ সালের ৩০ জুন অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স, সুদ থেকে আয়, সুদের আয় থেকে কর্তিত উৎসে কর এবং সার্ভিস চার্জ বাবদ কর্তিত অর্থ।

    এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এনবিআরের সঙ্গে জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অ্যাপ্লিকেশন প্রোগামিং ইন্টারফেস (এপিআই) রয়েছে। এর ফলে কোনো করদাতার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করে থাকলে কিংবা গাড়ির মালিকানা থাকলে, তার তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিটার্নে যুক্ত হয়। তবে আগামীতে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সঙ্গে এপিআই করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

    এনবিআরের প্রথম সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা বলেন, সব ধরনের আর্থিক লেনদেনের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিটার্নে যুক্ত করা গেলে কর ফাঁকির পরিমাণ কমবে এবং সরকারের রাজস্ব আহরণ বাড়বে।

    চলতি করবর্ষে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার রিটার্ন দাখিলে ব্যক্তি করদাতা ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের আয়কর রিটার্ন দাখিলে পুরো করবর্ষকে চারটি ভাগে বিভক্ত করেছে এনবিআর। নতুন বিধান অনুযায়ী, ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা যদি ২০২৫-২৬ আয়বর্ষের রিটার্ন চলতি করবর্ষের ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাখিল করেন তাহলে তিনি করছাড় সুবিধা পাবেন। এ সময়ে যিনি আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন তিনি আদায়যোগ্য করের ৫ শতাংশ কিংবা ২৫ হাজার মধ্যে যেটি কম; সেটি পাবেন।

    ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে যেসব ব্যক্তি করদাতা আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন তারা নিয়মিত করদাতা হিসাবে বিবেচিত হবেন। এ সময়ে যারা রিটার্ন দাখিল করবেন তারা করছাড় সুবিধা যেমন পাবেন না, তেমনি জরিমানাও গুনতে হবে না। তবে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ সময়ে যেসব করদাতা রিটার্ন দাখিল করবেন, তাদেরকে জরিমানা গুনতে হবে। জরিমানার পরিমাণ হবে আদায়যোগ্য করের ২ শতাংশ কিংবা তিন হাজার টাকার মধ্যে যেটি সর্বোচ্চ।

    সবশেষ ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিলকারীকে আদায়যোগ্য করের ৫ শতাংশ কিংবা ৫ হাজার টাকার মধ্যে যেটি সর্বোচ্চ তা পরিশোধ করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ে রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ ব্যক্তি খাত করদাতাদের জন্য আগেও জরিমানার বিধান ছিল। বিলম্বের জন্য ১ হাজার টাকা এবং প্রতিদিনের জন্য ৫০ টাকা হারে জরিমানা ধার্য করা ছিল।

    এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বিদায়ী অর্থবছরে ৪০ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেছেন। অনলাইন রিটার্ন দাখিলকারীর বড় অংশই শূন্য রিটার্ন দাখিল করেছেন। অর্থাৎ তারা রিটার্ন দাখিল করলেও কোনো কর দেননি। তারা তাদের আয়কে করমুক্ত সীমার নিচে দেখিয়েছেন। বিগত করবর্ষে করমুক্ত আয়সীমা ছিল সাড়ে তিন লাখ। চলতি করবর্ষে ৫০ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৪ লাখ করা হয়েছে।

    ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার আইনগত প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক ব্যতীত সব ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করে এনবিআর।

  • ইসলামী ব্যাংক গাজীপুর  শাখার গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

    ইসলামী ব্যাংক গাজীপুর শাখার গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

    ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, গাজীপুর সদর শাখার উদ্যোগে গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা, ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করা এবং গ্রাহকদের মতামত গ্রহণের লক্ষ্যে এক গ্রাহক সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বুধবার (১৫ জুলাই) গাজীপুর সদর শাখা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শাখার ব্যবস্থাপক ও শাখা প্রধান মামুনুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং শাখা অপারেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র ঢাকা ইস্ট জোন প্রধান ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ সোলাইমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা ইস্ট জোনের এফএভিপি হুমায়ূন কবীর এবং ইসলামী ব্যাংক গাজীপুর চৌরাস্তা শাখার ব্যবস্থাপক ও শাখা প্রধান মোসলেহ উদ্দিন।

    গ্রাহকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মো. ছাদেকুজ্জামান খান, আব্দুল খালেক সরকার, গেলমান হোসেন, আব্দুস সালাম, কণিকা দাসসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গ্রাহক।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, গ্রাহকরাই ইসলামী ব্যাংকের সবচেয়ে বড় শক্তি ও আস্থার জায়গা। তাদের বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং সহযোগিতার কারণেই নানা প্রতিকূলতা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ইসলামী ব্যাংক আজও দেশের ব্যাংকিং খাতে একটি শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে।

    তিনি বলেন, বিশ্বের এক হাজার শীর্ষ ব্যাংকের তালিকায় স্থান পাওয়া দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ব্যাংক হিসেবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা, শিল্পায়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং হালাল বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের তৈরি পোশাক শিল্প, বিভিন্ন উৎপাদনমুখী খাত এবং বৈধ বিনিয়োগে ইসলামী ব্যাংকের অবদান উল্লেখযোগ্য। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স আহরণেও ব্যাংকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অতীতে কিছু সংকটের সময় অনেক প্রবাসী গ্রাহক সাময়িকভাবে রেমিট্যান্স পাঠানো কমিয়ে দিলেও বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে তারা আবারও ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানো শুরু করেছেন, যা ব্যাংকের প্রতি আস্থারই বহিঃপ্রকাশ।

    ড. মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে অতীতেও নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে, তবে গ্রাহকদের অকুণ্ঠ সমর্থন ও ভালোবাসার কারণে কোনো অপচেষ্টাই সফল হয়নি। ভবিষ্যতেও গ্রাহকদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই ইসলামী ব্যাংকের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে পারবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    তিনি গ্রাহকদের উদ্দেশে আরও ঘোষণা দেন, সম্প্রতি যারা বিভিন্ন কারণে তাদের আমানত উত্তোলন করেছেন, তারা যদি আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পুনরায় সেই অর্থ ইসলামী ব্যাংকে জমা রাখেন, তাহলে ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী তাদের পূর্ণ মুনাফা (প্রফিট) প্রদান করা হবে।

    অনুষ্ঠানে গ্রাহকরা ব্যাংকের বিভিন্ন সেবা, বিনিয়োগ, আমানত, ডিজিটাল ব্যাংকিং এবং গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন। প্রধান অতিথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গ্রাহকদের প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর দেন এবং ভবিষ্যতেও উন্নত, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

    সভাপতির বক্তব্যে শাখা প্রধান মামুনুল ইসলাম বলেন, গ্রাহকদের আস্থা ও সন্তুষ্টিই ইসলামী ব্যাংকের মূল শক্তি। গ্রাহকদের প্রত্যাশা পূরণে আধুনিক, নিরাপদ ও শরিয়াহসম্মত ব্যাংকিং সেবা প্রদানে গাজীপুর সদর শাখা সর্বদা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবে।

    অনুষ্ঠান শেষে ব্যাংকের অগ্রযাত্রায় গ্রাহকদের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

  • মাসে তিনবারের বেশি কাউন্টার থেকে টাকা তুললেই অতিরিক্ত ফি?

    মাসে তিনবারের বেশি কাউন্টার থেকে টাকা তুললেই অতিরিক্ত ফি?

    দেশের ব্যাংকিং খাতে গ্রাহকদের সেবা মাশুলে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)। প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনও গ্রাহক মাসে তিনবারের বেশি ব্যাংকের কাউন্টার থেকে নগদ টাকা উত্তোলন করলে তাকে অতিরিক্ত ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত ফি দিতে হতে পারে। পাশাপাশি আরও ১৪ ধরনের ব্যাংকিং সেবায় নতুন ফি আরোপ বা বিদ্যমান মাশুল বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

    তবে এই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, গ্রাহকদের ওপর অযৌক্তিক আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়— এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষ্য, যেকোনও প্রস্তাব অনুমোদনের আগে এর প্রভাব গভীরভাবে বিবেচনা করা হবে।

    এবিবির প্রস্তাব অনুযায়ী— মাসে তিনবারের বেশি কাউন্টার থেকে নগদ অর্থ উত্তোলনে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত ফি; দীর্ঘদিন অচল থাকা ব্যাংক হিসাব পুনরায় সচল করতে ৫০০ টাকা ফি; ঋণ প্রক্রিয়াকরণ (লোন প্রসেসিং) ফি কয়েক গুণ বাড়ানোর প্রস্তাব; বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবায় নতুন ফি সংযোজন এবং বিদ্যমান চার্জ বৃদ্ধি।

    ব্যাংকারদের দাবি, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে শাখাভিত্তিক সেবার ওপর চাপ কমবে এবং গ্রাহকরা ডিজিটাল ব্যাংকিং, এটিএম ও বিকল্প চ্যানেল ব্যবহারে আরও উৎসাহিত হবেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের অবস্থান

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেছেন, “গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত ফি বা চার্জ আরোপ করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাংকিং সেবার প্রতি অনীহা তৈরি হতে পারে। তাই এই ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব দিক বিবেচনা করবে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে সেবা মাশুলের ওপর নির্ভর না করে ঋণ বিতরণ ও অন্যান্য স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের মাধ্যমে আয় বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    গ্রাহকদের উদ্বেগ

    প্রস্তাবটি সামনে আসার পর সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকিং সেবার খরচও বাড়ানো হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ছোট আমানতকারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং যেসব গ্রাহক এখনও ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে পুরোপুরি অভ্যস্ত নন।

    বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও অনেক শহরতলিতে কাউন্টার থেকেই অধিকাংশ মানুষ নিয়মিত লেনদেন করেন। তাদের জন্য অতিরিক্ত ফি নতুন আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে উৎসাহ নাকি বাড়তি চাপ?

    অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং বিশ্লেষকদের মতে, কাউন্টারে লেনদেন নিরুৎসাহিত করে ডিজিটাল ব্যাংকিং সম্প্রসারণের লক্ষ্য ইতিবাচক হলেও, বিকল্প সেবাগুলো সবার জন্য সহজলভ্য, নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ না হলে শুধু ফি বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হবে।

    তাদের মতে, এটিএম বুথের সংখ্যা বৃদ্ধি, মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের নিরাপত্তা জোরদার এবং গ্রাহকদের ডিজিটাল সেবায় অভ্যস্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার পরই এ ধরনের নীতি কার্যকর করা উচিত। অন্যথায় এটি ব্যাংকিং সেবার ব্যয় বাড়িয়ে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।

    সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি

    এবিবির প্রস্তাবটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া নতুন কোনও ফি বা চার্জ কার্যকর হবে না। তাই গ্রাহকদের আপাতত অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের প্রয়োজন নেই। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানাবে।

  • পূর্বের মালিকদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হলো আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক

    পূর্বের মালিকদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হলো আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক

    আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পূর্বের মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে ১৪ জন উদ্যোক্তা পরিচালক যুক্ত করা হয়েছে।

    বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ করা পাঁচজন স্বতন্ত্র পরিচালক পর্ষদে বহাল থাকবেন।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতি হওয়ার কারণে আগের উদ্যোক্তাদের কাছে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্য যেসব ব্যাংকের বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে, তাদের উদ্যোক্তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু এ ব্যাংকের ক্ষেত্রে চিত্র ভিন্ন। তাই তাদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    ১৪ জন উদ্যোক্তা পরিচালক হলেন- বদিউর রহমান, সেলিম রহমান, আহামেদুল হক, রফিকুল ইসলাম, ইমাদুর রহমান, নাজমুল আহসান খালেদ, খলিলুর রহমান, আনোয়ার হোসাইন, আবদুস সালাম, লিয়াকত আলী চৌধুরী, এনায়েত উল্লা, কেডিএস গার্মেন্টসের প্রতিনিধি পরিচালক মাহবুব আহমেদ, কেডিএস টেক্সটাইলের পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এবং কে, ওয়াই স্টীল মিলের পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক শরিফ উদ্দিন তসলিম।

  • বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার শর্ত শিথিল

    বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার শর্ত শিথিল

    সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার শর্ত শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে এসব প্রতিষ্ঠান তাদের মূল কোম্পানি (প্যারেন্ট কোম্পানি), সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে বিদেশি ঋণ নিতে পারবে।

    বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড), অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইজেড) ও হাইটেক পার্কসহ বিশেষায়িত অঞ্চল এবং এসব অঞ্চলের বাইরে পরিচালিত উৎপাদন ও সেবাখাতের সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণ নিতে পারবে।

    শর্ত অনুযায়ী, এক বছরের কম মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে বিশেষায়িত অঞ্চলের বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ছাড়াই চলতি মূলধনের জন্য সুদমুক্ত ঋণ নিতে পারবে। এছাড়া কাঁচামাল সংগ্রহসহ ব্যবসায়িক প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ বার্ষিক অল-ইন-কস্টে সুদযুক্ত ঋণও নেওয়া যাবে। এসব ঋণ মেয়াদ শেষে এককালীন পরিশোধ করতে হবে এবং সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত রোলওভার করা যাবে।

    এছাড়া এক থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে মূলধনী ব্যয়, যেমন- যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম ও নির্মাণকাজের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ এবং সর্বোচ্চ ৫ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সুদযুক্ত ঋণ নিতে পারবে। পাঁচ বছরের বেশি মেয়াদি ঋণও নেওয়া যাবে, সেখানে সুদ প্রযোজ্য হলে তার বার্ষিক হার হবে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ। তাছাড়া বকেয়া বৈদেশিক ঋণ ইকুইটিতে রূপান্তরের সুযোগও রাখা হয়েছে।

    খাত সংশ্লিষ্টরা বলেন, নতুন এ উদ্যোগ বিদেশি মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য স্বল্প ব্যয়ে বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত করবে এবং বাংলাদেশে আরও বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে।

  • উত্তরাঞ্চলের ২ লাখ ৩০ হাজার কৃষকের ২২৬ কোটি টাকা ঋণ মওকুফ

    উত্তরাঞ্চলের ২ লাখ ৩০ হাজার কৃষকের ২২৬ কোটি টাকা ঋণ মওকুফ

    বিএনপি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী উত্তরাঞ্চলের ২ লাখ ২৯ হাজার ৯৩৩ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ঋণের সুদ ও আসল মওকুফ করা হয়েছে।

    বুধবার (১৫ জুলাই) রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) জনসংযোগ কর্মকর্তা ইফতেখার জাহিদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

    দেশের প্রথম বিশেষায়িত ব্যাংক হিসেবে রাকাব সরকার গঠনের ছয় মাসের এই ঋণ মওকুফ করল। এই বিপুল সংখ্যক কৃষকের কাছে আসল ও সুদ বাবদ পাওনা ছিল ২২৫ কোটি ৭৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। মন্দ ঋণ হিসেবে এসব ঋণ অনেকদিন ধরে পরিশোধ করতে পারছিলেন না কৃষকরা।

    ঘোষণা অনুযায়ী, এসব কৃষকের ১০ হাজার টাকা আসল এবং বকেয়া সুদ মওকুফ করেছে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব)। ঘোষণা অনুযায়ী ১০ হাজার টাকার বেশি ঋণ এ কর্মসূচির আওতায় আসেনি।

    রাকাবের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইফতেখার জাহিদ জানান, উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের আট জেলার ১ লাখ ৭৯ হাজার ২৭৮ জন প্রান্তিক কৃষকের ১৭৮ কোটি ৯২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা এবং রাজশাহী বিভাগের আট জেলার ৫০ হাজার ৬৩৭ জন কৃষকের ৪৬ কোটি ৮১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা ঋণ মওকুফ হয়েছে।

    উত্তরাঞ্চলের এই দুই বিভাগের ২ লাখ ২৯ হাজার ৯৩৩ জন কৃষকের বকেয়া বাবদ ২২৫ কোটি ৭৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা সম্প্রতি সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে রাকাবকে পরিশোধ করা হয়েছে। এরপরই রাকাব ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক এসব কৃষকের ঋণের আসল ১০ হাজার টাকা ও ঋণের সমুদয় সুদ মওকুফ করেছে।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিনের ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত হওয়ায় উপকৃত কৃষকরা কৃষিকাজে নতুন করে বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের আর্থিক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং উত্তরাঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন।

    এদিকে ঋণগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের বকেয়া ঋণ ও সুদ মওকুফ করায় রাকাবের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কৃষকদের কল্যাণে সরকারের নেওয়া এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে রাকাব নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুততম সময়ে এই কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। ভবিষ্যতেও কৃষিবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাকাব কৃষকদের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

    জানা গেছে, রাকাব ছাড়াও অন্যান্য রাষ্ট্রায়াত্ত্ব বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলি ঋণগ্রস্ত কৃষকদের বকেয়া ঋণ ও সুদ মওকুফ প্রক্রিয়া শুরু করবেন।

  • মধ্যপ্রাচ্যের সব সমুদ্রপথ বন্ধ করবে ইরান

    মধ্যপ্রাচ্যের সব সমুদ্রপথ বন্ধ করবে ইরান

    যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সুবিধা দেয়, এমন অন্য সব জ্বালানি রপ্তানির করিডর বন্ধের হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। দেশটির সংবাদমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশ হয়েছে।

    আইআরজিসির এ হুমকির আগে ইরান নতুনভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করেছে।

    আজ বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ‘আঞ্চলিক জ্বালানি রপ্তানির সুবিধা হয় সবাই পাবে, না হয় কেউই পাবে না।’

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরান মূলত ইয়েমেনের মিত্র গোষ্ঠী হুতিদের ব্যবহারে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব–এল–মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার সম্ভাব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি জ্বালানি পরিবহনের পথ ঝুঁকির মুখে পড়বে।

    সংকীর্ণ এই প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের বড় এক অংশ এ পথ দিয়েই সম্পন্ন হয়।

    ইরানের প্রেস টিভির খবরে বলা হয়, গত সোমবার হুতিদের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সৌদি আরব যদি ইয়েমেনে হামলা চালিয়ে যায়, তবে তাঁরা বাব–এল–মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত আছেন। তাঁর দাবি, এমনটি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম বেড়ে ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

    এদিকে সোমবার নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বিমানবন্দরে সৌদি আরব বোমা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ এনে দেশটিতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছেন হুতিরা। এর মধ্য দিয়ে সৌদি আরব ও ইরান–সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর মধ্যে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়।

    হুতিরা এর আগেই প্রমাণ করেছেন যে বাব–এল–মান্দেব প্রণালি বন্ধ করার মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যাহত করার সক্ষমতা তাঁদের আছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর ইরান–সমর্থিত এ গোষ্ঠী লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলা শুরু করেছিল। তাদের দাবি ছিল, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েল–সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো তারা নিশানা করছে।

    হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার সক্ষমতা ‘দুর্বল করতে’ নতুন দফায় দেশটিতে হামলা শুরু হয়েছে বলে মার্কিন বাহিনীর ঘোষণার এক দিন পরই আইআরজিসি নতুন ওই হুমকি দিয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, গত এক সপ্তাহে ইরান সাতটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এতে প্রায় এক ডজন নাবিক নিহত, নিখোঁজ বা আহত হয়েছেন।

    গতকাল মঙ্গলবার রাতে মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা হরমুজ প্রণালির আশপাশ ও ইরানের উপকূলীয় এলাকায় কয়েক ডজন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে বলেছে, টানা সাত ঘণ্টা ধরে এ অভিযান চালানো হয়।

    আইআরজিসি আজ বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অশুভ তৎপরতার অবসান না হওয়া পর্যন্ত’ হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে। ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ প্রতিদিন এ প্রণালি দিয়ে আনা ও নেওয়া করা হতো। আইআরজিসির দাবি, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে তারা বাহরাইনে থাকা মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

  • স্বাস্থ্য খাতের এই নৈরাজ্যের অবসান হউক

    স্বাস্থ্য খাতের এই নৈরাজ্যের অবসান হউক

    সম্পাদকীয়

    আমদানিকৃত কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি শেষ পর্যন্ত ভাঙারির দোকানে কেজি দরে বিক্রয় হইতেছে—ইহার চাইতে হতাশাজনক খবর আর কী হইতে পারে? ইহা কেবল অদূরদর্শিতা নহে, বরং দেশের স্বাস্থ্য খাতের চরম অব্যবস্থাপনা, সীমাহীন দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ের এক জীবন্ত দলিল। সংসদে খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানাইয়াছেন যে, বিগত রাজনৈতিক সরকারের আমলে আমদানিকৃত এই সকল যন্ত্রপাতির সুরক্ষার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা ছিল না।

    আসলে তাহা অপরিকল্পিত উপায়ে কেবল কমিশনভোগীদের পকেট ভারী করিবার হীন উদ্দেশ্যে ক্রয় করা হয়। খুলনা ও ফরিদপুরের সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘকাল পড়িয়া থাকা ১৮ কোটি টাকা মূল্যের দুইটি রেডিওথেরাপি মেশিনের করুণ পরিণতি তাহারই প্রকৃষ্ট প্রমাণ। ইহা ছাড়া দেশের অসংখ্য হাসপাতালে এক্সরে মেশিন আছে অথচ তাহা চালাইবার মতো কোনো টেকনিশিয়ান নাই।

    কোটি টাকা মূল্যের ল্যাবরেটরি মেশিন ধুলার আস্তরণে ঢাকা পড়িয়া আছে অথচ তাহা পরিচালনার জন্য ল্যাব টেকনিশিয়ান নিয়োগ দেওয়া হয় নাই। বৎসরের পর বৎসর এই মূল্যবান যন্ত্রপাতিসমূহ কাঠের বাক্সে বন্ধ অবস্থায় পড়িয়া থাকিয়া একসময় তাহা ব্যবহারের অনুপযোগী ও অকেজো হইয়া যায়।মূলত সরকারি হাসপাতালে টেকনিশিয়ানের কৃত্রিম সংকট ও অচল যন্ত্রের পরিস্থিতি এই জন্য তৈরি করা হয়, যাহাতে বেসরকারি হাসপাতালগুলো তাহা হইতে সুবিধা পাইতে পারে। কেননা সরকারি হাসপাতালের একশ্রেণির ডাক্তার-নার্স-টেকনিশিয়ান ঐসব বেসরকারি হাসপাতালে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করিয়া থাকেন। তাহারা যোগসাজশ করিয়া এইখানে জনগণকে উচ্চমূল্যে পরীক্ষানিরীক্ষা করাইতে বাধ্য করেন। এই অনৈতিক বাণিজ্য বন্ধ হইতে পারে, যদি সরকারি হাসপাতালেরডাক্তার-নার্স-টেকনিশিয়ানদের বেসরকারি হাসপাতালে প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিষিদ্ধ করা হয়। প্রয়োজনে তাহারা বিকালে সরকারি হাসপাতালেই যৌক্তিক হারে অর্থবিনিময়ের মাধ্যমে বাড়তি দায়িত্ব পালন করিবেন; কিন্তু তাহাদের প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দায়িত্ব পালন করিতে দেওয়া যাইবে না। নিয়ম অনুযায়ী তাহারা পারে না। কেননা সরকারি চাকুরিতে প্রবেশে বেসরকারি এমনকি সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করিতে হয়। আর প্রাইভেট এই সকল স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে পার্টটাইম নহে, বরং নিজস্ব ফুলটাইম ও স্থায়ী জনবলনিয়োগ দিতে হইবে, নতুবা তাহাদের লাইসেন্স বাতিল করিতে হইবে। সরকারি হাসপাতালে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আলট্রাসনোগ্রাফি, ইসিজি, অ্যানেসথেশিয়া ও ভেন্টিলেটর মেশিন ইত্যাদি আনা হয়; কিন্তু তাহা বৎসরের পর বৎসর ধরিয়া সিন্দুকবন্দি রাখা অতীব দুঃখজনক। ইহার পাশাপাশি আমাদের পরিকল্পনাহীন কেনাকাটা বন্ধ করিতে হইবে। যে হাসপাতালে বিদ্যুৎ-সংযোগের পর্যাপ্ত ভোল্টেজ বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নাই, সেইখানে উচ্চ প্রযুক্তির আইসিইউ ও স্ক্যানার মেশিন পাঠাইয়া দেওয়া হয়, যাহা অব্যবহৃত অবস্থায় নষ্ট হইতে বাধ্য। কোনো কোনো গ্রামীণ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের কোনো সার্জন নাই, অথচ সেইখানে বহু দিন ধরিয়া আধুনিক অপারেশন থিয়েটারের দামি সরঞ্জামাদি বাক্সবন্দি পড়িয়া আছে। চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রকৃত চাহিদার চাইতেও আমদানিকারক, আমলা ও মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটের অর্থনৈতিক ফায়দা ও বিপুল পরিমাণ আর্থিক কমিশনের লোভও ইহার জন্য দায়ী। তাহা ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিকল্পনা শাখা ও মাঠপর্যায়ের হাসপাতালগুলির মধ্যে কোনো বাস্তবসম্মত সমন্বয় নাই। জনবল না থাকিলেও কেবল বাজেট বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ ও অপচয় করিবার জন্য যন্ত্র ক্রয় করা হয় বলিয়া অভিযোগ রহিয়াছে।এই দিকে কোটি কোটি টাকার যন্ত্র অবহেলায় বিনষ্ট করিবার অপরাধে এযাবৎ কোনো আমলা, ঠিকাদার বা পরিচালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় নাই। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতিই দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়াছে। এই জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ অডিট কমিটি গঠন করিতে হইবে। হাসপাতালের ভৌত অবকাঠামো ও দক্ষ জনবলের সঠিক পরিসংখ্যান ব্যতিরেকে কোনো নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া যাইবে না। ইহা ছাড়া দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালের যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা তদারকির জন্য একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন ডেটাবেজ তৈরি করিতে হইবে, যাহাতে কোন যন্ত্র সচল আর কোনটি অচল—তাহা জনগণের সম্মুখে দৃশ্যমান থাকে। মোট কথা, জনগণের করের টাকায় ক্রয়কৃত সামগ্রী ভাঙারির দোকানে নিঃশেষ হইতে দেওয়া যায় না।

  • দেশে আরও কমল স্বর্ণের দাম

    দেশে আরও কমল স্বর্ণের দাম

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরেক দফা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়েছে সংগঠনটি। এতে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা নির্ধারণ হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বাজুস আরও জানিয়েছে, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এই দাম বহাল থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। এছাড়া স্বর্ণ ও রৌপ্য অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।

    চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ৯১ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৪ বার দাম বেড়েছে, ৪৬ বার কমেছে এবং ১ বার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।

  • ভোমরা স্থলবন্দরে ৯৫০ কো‌টি টাকার বেশি রাজস্ব ঘাট‌তি

    ভোমরা স্থলবন্দরে ৯৫০ কো‌টি টাকার বেশি রাজস্ব ঘাট‌তি

    সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছ‌রে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দ‌রে ৯৫০ কো‌টি টাকার বেশি রাজস্ব ঘাট‌তি হ‌য়ে‌ছে।

    ২ হাজার ৬৪ কো‌টি টাকা ল‌ক্ষ্যমাত্রার বিপ‌রী‌তে এ সময়ে সংগ্রহ হয়েছে ১ হাজার ১১৪ কো‌টি। তবে সং‌শ্লিষ্টরা বল‌ছেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছ‌রের তুলনায় ১৩৪ কো‌টি টাকা বে‌শি রাজস্ব সংগ্রহ হ‌য়ে‌ছে বিদায়ী অর্থবছরে। ভোমরা স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীদের দাবি, চা‌হিদা অনুযায়ী পণ্য আমদা‌নিতে বাধা ও অবকাঠা‌মোগত উন্নয়নের অভাবে কা‌ঙ্ক্ষিত রাজস্ব পা‌চ্ছে না সরকার।

    ভোমরা কাস্টম হাউজের রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা যায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এন‌বিআর) ২০২৫-২৬ অর্থবছ‌রে এ বন্দরের জন্য রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ক‌রে ২ হাজার ৬৪ কো‌টি ৮৯ লাখ টাকা। এর বিপরীতে সংগ্রহ হ‌য়ে‌ছে ১ হাজার ১১৪ কো‌টি ১৬ লাখ টাকা, যা লক্ষ‌্যমাত্রার তুলনায় ৯৫০ কো‌টি ৭৩ লাখ টাকা কম।

    অন‌্যদি‌কে ২০২৪-২৫ অর্থবছ‌রে রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছি‌ল ৯৪৬ কো‌টি ২৩ লাখ টাকা। এর বিপ‌রী‌তে সংগ্রহ হয় ৯৭৯ কো‌টি ৩৫ লাখ টাকা, যা ল‌ক্ষ্যমাত্রার চে‌য়ে ৩৩ কো‌টি ১২ লাখ টাকা বে‌শি।

    বিদায়ী অর্থবছরে ভোমরা স্থলবন্দরের ব্যবসা-বা‌ণিজ্যে মন্দা গে‌ছে বলে জানান বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজে‌ন্ট অ্যা‌সো‌সিয়েশ‌নের সাধারণ সম্পাদক আবু মুছা। তিনি বলেন, ‘অধিকাংশ ব্যবসায়ী লোকসা‌নের ম‌ধ্যে র‌য়ে‌ছেন। এছাড়া ভোমরা বন্দ‌রে পণ্য আমদা‌নি‌তে বৈষম‌্য র‌য়ে‌ছে। এখা‌নে অনু‌মোদন থাকার পরও অনেক পণ্য আমদা‌নি কর‌তে পা‌রেন না ব্যবসায়ী। অথচ পার্শ্ববর্তী বন্দ‌রে সব ধরনের পণ্য আনা যায়। এতে ব্যবসায়ীরা এ বন্দর ব‌্যবহা‌রে আগ্রহ হারা‌চ্ছেন। ফলে ভোমরা স্থলবন্দ‌রের ব্যবসা-বা‌ণিজ্যে ভা‌লো যা‌চ্ছে না, সরকারও কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব অর্জন কর‌তে পার‌ছে না।’

    সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপ‌তি না‌সিম ফারুক খান ব‌ণিক বার্তা‌কে জানান, বন্দ‌রে রাজস্ব ঘাট‌তির পেছনে অন‌্যতম কারণ ভোমরা বন্দ‌রের ব‌্যবসায়ীরা অসম প্রতি‌যো‌গিতার ম‌ধ্যে প‌ড়ে‌ছেন। তি‌নি ব‌লেন, ‘ভার‌তের অধিকাংশ কৃ‌ষিপণ্য আমদা‌নি ক‌রে লোকসা‌নে পড়‌ছেন ব্যবসায়ীদের, এর মূল কারণ দরপতন। ভার‌তের মোকা‌মের মূল‌্য বা দ‌রের তুলনায় বাংলা‌দেশে কম দা‌মে পণ্য বি‌ক্রি হ‌চ্ছে। ফ‌লে ব্যবসায়ীদের লোকসান এড়া‌তে আমদা‌নি বন্ধ কর‌ছেন।’ তবে বন্দরের অবকাঠা‌মোগত উন্নয়ন এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ভা‌রী ক্রেন, ইয়ার্ড ও ওয়্যারহাউজসহ অন্যান্য উন্নত প্রযু‌ক্তি স্থাপন করা গে‌লে সরকা‌রের রাজস্ব আহরণ আরো ক‌য়েক গুণ বাড়বে বলে জানান সাতক্ষীরা চেম্বারের সভাপতি।

    ভোমরা কাস্টম হাউজের দা‌য়িত্বরত ক‌মিশনার মুশ‌ফিকুর রহমান ব‌ণিক বার্তা‌কে ব‌লেন, ‌‘২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ বন্দ‌র দিয়ে আমদা‌নি হ‌য়ে‌ছি‌ল ২০ লাখ ৮২ হাজার ৭২২ টন পণ্য। আর বিদায়ী অর্থবছর হ‌য়ে‌ছে ১৯ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭ টন, যা তার আগের অর্থবছ‌রের তুলনায় ১ লাখ ৯ হাজার ৬৭৫ টন কম। কম প‌ণ্য আমদা‌নি ক‌রেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৩৪ কো‌টি টাকা বে‌শি রাজস্ব সংগ্রহ হয়ে‌ছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘যেকো‌নো বন্দ‌রে রাজস্ব আহরণ মূলত পণ্য আমদা‌নি-রফতা‌নির ওপর নির্ভর ক‌রে। এখা‌নে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের সেবার মানোন্নয়‌নে কাজ কর‌ছেন। ব্যবসায়ীদের যেন হয়রা‌নি বা ক্ষ‌তিগ্রস্ত না হন সে‌দিকে স‌র্বোচ্চ খেয়াল রাখা হয়। একই সঙ্গে স‌ঠিক রাজস্বও যা‌তে পাওয়া যায় সে‌দি‌কেও নজরদারি করা হয়।

  • পূবালী ব্যাংকের ১৪টি ই-বুথ উদ্বোধন

    পূবালী ব্যাংকের ১৪টি ই-বুথ উদ্বোধন

    পূবালী ব্যাংকের রাজশাহী অঞ্চল সম্প্রতি ‘ক্যাশলেস রাজশাহী’ শীর্ষক একটি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ‘লেনদেন হচ্ছে ক্যাশলেস, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।

    এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পূবালী ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘এক দেশ, এক কিউআর লেনদেন’ বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজশাহী অঞ্চলে ১৪টি ইলেকট্রনিক বুথ ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন করা হয়।

    পূবালী ব্যাংকের রাজশাহী অঞ্চল সম্প্রতি ‘ক্যাশলেস রাজশাহী’ শীর্ষক একটি সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ‘লেনদেন হচ্ছে ক্যাশলেস, এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।

    এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পূবালী ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘এক দেশ, এক কিউআর লেনদেন’ বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজশাহী অঞ্চলে ১৪টি ইলেকট্রনিক বুথ ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন করা হয়।

  • গতি হারাচ্ছে বাংলাদেশ, দ্রুত এগোচ্ছে ভিয়েতনাম

    গতি হারাচ্ছে বাংলাদেশ, দ্রুত এগোচ্ছে ভিয়েতনাম

    মতামত

    বিশ্ব পোশাক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণের গতি বাড়লেও সেই প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি দেশের তৈরি পোশাক খাত। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে অংশীদারত্ব কমেছে এবং প্রধান প্রতিযোগী ভিয়েতনাম রপ্তানি মূল্যে বাংলাদেশের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

    বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ। বিপরীতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক গড়ের তুলনায় দেশের প্রবৃদ্ধি প্রায় পাঁচ গুণ কম হয়েছে। অথচ ২০২৪ সালে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সে সময় বিশ্ববাজারের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি হারে রপ্তানি বাড়িয়েছিল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারিত হলেও বাংলাদেশ প্রত্যাশিত সুবিধা নিতে পারেনি।

    ডব্লিউটিওর পরিসংখ্যান বলছে, ধীরগতির এই প্রবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক বাজারে দেশের অংশীদারত্বেও। ২০২৪ সালে যেখানে বাংলাদেশের হিস্যা ছিল ৭ শতাংশ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সেই ধারা উল্টে তা কমে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশে নেমে এসেছে। আগের বছরে যে অগ্রগতি হয়েছিল, তার বড় অংশই এবার হারিয়েছে দেশের পোশাকশিল্প।

    এদিকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম দ্রুত ব্যবধান কমিয়ে আনছে। ডব্লিউটিওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৮ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে ভিয়েতনামের রপ্তানি হয়েছে ৩৭ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার। ফলে দুই দেশের ব্যবধান এখন মাত্র ১ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। অথচ ২০২৪ সালে এই পার্থক্য ছিল ২ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন এবং ২০২৩ সালে ছিল ৪ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার। বাজার অংশীদারত্বের দিক থেকেও দুই দেশের দূরত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের হিস্যা ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ, আর ভিয়েতনামের ৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, রপ্তানি প্রবৃদ্ধির বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী বছরই বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যেতে পারে ভিয়েতনাম।

    ডিপিএ শিল্পের বৈদেশিক অর্থ পাঠানোর নিয়ম শিথিল

    ডব্লিউটিওর তথ্য বিশ্লেষণে আরো দেখা যায়, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক বাজারে পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া। দীর্ঘদিন ধরে চীনের বাজার সংকুচিত হলে এশিয়ার অন্য রপ্তানিকারক দেশগুলো তার সুবিধা পেত। তবে এবার সেই চিত্র বদলে গেছে। চীনের পোশাক রপ্তানি ৪ দশমিক ৯২ শতাংশ কমলেও সেই বাজারের বড় অংশ দখল করছে কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনাম। এ সময় কম্বোডিয়ার প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ। বিপরীতে বাংলাদেশ সেই বাজার দখলের সুযোগ প্রত্যাশিতভাবে কাজে লাগাতে পারেনি।

    বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক এবং বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল আমার দেশকে বলেন, বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণের যে চিত্র দেখা যাচ্ছে তা মূলত চাহিদা বৃদ্ধির কারণে নয়। বরং পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির জন্য হয়েছে। তবে যতটুকু বাজার বেড়েছে তার কাঙ্ক্ষিত হিস্যা সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ দখল করতে পারেনি। চীন থেকে যেসব ক্রয়াদেশ সরে যাচ্ছে তা ধরতে ভিয়েতনাম আমাদের চেয়ে এগিয়ে গেছে কারণ তাদের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), কম লিড টাইম, উন্নত বন্দর ব্যবস্থাপনা এবং নিরবচ্ছিন্ন সাপ্লাই চেইনের মতো শক্তিশালী সুবিধা রয়েছে।

    তিনি বলেন, ভিয়েতনাম দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করলেও বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ভিত্তি এখনো অনেক শক্তিশালী। সরকারের নীতিগত সহায়তা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরো শক্তিশালী করা সম্ভব।

    সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় প্রধান বাজারেই বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ইইউয়ের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-এপ্রিল সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে ৬০৮ দশমিক ৬২ কোটি ইউরোতে নেমেছে, যা এক বছর আগে ছিল ৭৫৪ দশমিক ৪৭ কোটি ইউরো। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওটেক্সার তথ্য বলছে, দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১১ দশমিক ২৪ শতাংশ কমে ২৯৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এপ্রিল মাসে এককভাবে রপ্তানি আয় কমেছে ১৭ দশমিক ২১ শতাংশএদিকে নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সেই লক্ষ্য অর্জনে পোশাক খাতের পাশাপাশি অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

  • পাসে সেরা স্পেন, ফিনিশিংয়ে ফ্রান্স

    পাসে সেরা স্পেন, ফিনিশিংয়ে ফ্রান্স

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    স্পেনের কাছে বেলজিয়ামের হারের পর নিশ্চিত হয়ে গেছে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর সেমিফাইনাল লাইনআপ। শেষ চারে মুখোমুখি হচ্ছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ফর্মে থাকা দুই পরাশক্তি—ফ্রান্স ও স্পেন। বেলজিয়াম গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া বলেই দিয়েছেন, এই ম্যাচে যে জিতবে, বিশ্বকাপ যাবে তার কাছেই। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে তাই এই ম্যাচটি রূপ নিয়েছে ফাইনালের আগে ফাইনালে। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগে পরিসংখ্যানে কোন দল এগিয়ে?
    ফিফার তথ্য অনুযায়ী, পাস আদান-প্রদানের দিক থেকে স্পেনের রাজত্ব স্পষ্ট। প্রথম ছয় ম্যাচে স্প্যানিশরা মোট ৪ হাজার ৭৫টি পাস দিয়েছে, যার অর্থ প্রতি ম্যাচে তাদের গড় পাস ৬৭৯ দশমিক ২টি। অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রতি ম্যাচের গড় পাস ৫৬১ দশমিক ৫টি। অর্থাৎ ফ্রান্সের চেয়ে ২১ শতাংশ বেশি পাস খেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখে স্পেন। পাস সফলতার হারেও স্পেন (৯১ শতাংশ) সামান্য ব্যবধানে ফ্রান্সের (৯০ শতাংশ) চেয়ে এগিয়ে।
    তবে বল পজিশনে স্পেন এগিয়ে থাকলেও, আক্রমণের কার্যকারিতা ও ফিনিশিংয়ে সেরা দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত দুদলই সমান ১১০টি করে শট নিয়েছে। কিন্তু ফ্রান্সের ৪৭টি শট লক্ষ্যে ছিল, যার মধ্যে ১৬টিই গোলে পরিণত হয়েছে। বিপরীতে, স্পেনের ৪০টি শট লক্ষ্যে ছিল এবং তারা গোল করতে পেরেছে ১১টি।
    আক্রমণের কৌশলে স্পেন মূলত ক্রসের ওপর বেশি নির্ভর করে। প্রতি ম্যাচে তারা গড়ে ২৪.৩টি ক্রস করে, যেখানে ফ্রান্সের ক্রসের গড় ১৬.৫টি। শৃঙ্খলার দিক থেকেও ফরাসিরা কিছুটা এগিয়ে। ফ্রান্স এখন পর্যন্ত ৫৯টি ফাউল ও ৪টি হলুদ কার্ড পেয়েছে, যেখানে স্পেনের ফাউল ৬৮টি ও হলুদ কার্ড ৫টি। অবশ্য সেমিফাইনালের আগে কার্ডের হিসাব মুছে যাওয়ায় কোনো খেলোয়াড়ই নিষেধাজ্ঞায় পড়ছেন না।
    মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে দুই বছর আগের ইউরো সেমিফাইনালের স্মৃতি স্পেনকে আত্মবিশ্বাস দেবে, যেখানে ফ্রান্সকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল লামিন ইয়ামালরা। সব মিলিয়ে, স্পেনের পাসিং ফুটবলের বিপক্ষে ফ্রান্সের নিখুঁত ফিনিশিংয়ের এই মহালড়াইয়ে মাঠের কৌশলে যে দল স্নায়ু ধরে রাখতে পারবে, তারাই কাটবে ফাইনালের টিকিট।

  • নৃত্যানুষ্ঠান: নাচের ছন্দে ও তালে হবে বর্ষা উদ্‌যাপন

    নৃত্যানুষ্ঠান: নাচের ছন্দে ও তালে হবে বর্ষা উদ্‌যাপন

    নাচের ছন্দে ও তালে বর্ষা উদ্‌যাপন করবে অর্থী আহমেদ ড্যান্স একাডেমি। ১৭ জুলাই ঢাকার চারুকলার বকুলতলায় আয়োজন করা হবে বর্ষার নৃত্য উৎসব ‘ঘনঘটা ২’। অর্থী আহমেদ ড্যান্স একাডেমির সঙ্গে অনুষ্ঠানটির যৌথ আয়োজনে থাকছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। নির্দেশনা দিচ্ছেন নৃত্যশিল্পী অর্থী আহমেদ। এ বছর একুশে পদক পাওয়ার পর এটি হতে যাচ্ছে অর্থী আহমেদ নির্দেশিত প্রথম প্রযোজনা।

    গত বছর একই স্থানে ‘ঘনঘটা’ আয়োজন করেছিল অর্থী আহমেদ ড্যান্স একাডেমি। অর্থী আহমেদের নির্দেশনায় অংশ নিয়েছিলেন ১৮ থেকে ৭০ বছর বয়সী ১১০ শিল্পী। বছর ঘুরে এবারও একই স্থানে আয়োজন করা হচ্ছে বর্ষার নৃত্য উৎসব ‘ঘনঘটা ২’।

    ১৭ জুলাই বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে শুরু হবে আয়োজন। খোলা আকাশের নিচে আয়োজিত এই পরিবেশনায় অংশ নেবেন ৩ থেকে ৭০ বছর বয়সী ৩০০ জনের বেশি শিল্পী। তাঁদের মধ্যে আছেন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী, গবেষক, সাংবাদিক, শিক্ষক, সমাজকর্মী, গৃহিণী ও শিক্ষার্থীসহ নানা পেশার, নানা শ্রেণির মানুষ।

    আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘনঘটা শুধু একটি নৃত্য প্রযোজনা নয়, বরং এটি নতুন করে শুরু করার উৎসব; যেখানে বয়স কোনো বাধা নয়, আর মনের ভেতরে চেপে রাখা স্বপ্নকে ডানা মেলতে দেওয়া হয়। বর্ষার দিনটিকে বরণ করে নিতে আমাদের সঙ্গে যোগ দিন। ছাতাটি ঘরে রেখেই আসুন, তার বদলে সিক্ত হোন বৃষ্টির গান, নাচ ও কবিতায়।

    আয়োজকেরা আরও জানিয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক সময়ের বন্যা পরিস্থিতি মাথায় রেখে অনুষ্ঠানস্থলে থাকবে জাগো ফাউন্ডেশনের ডোনেশন বুথ। যেখানে আগত অতিথিরা বন্যার্তদের সহায়তায় সরাসরি ডোনেশন দিতে পারবেন।

    অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে দর্শকদের সাদা, নীল বা সবুজ রঙের শাড়ি-পাঞ্জাবি পরে আসার অনুরোধ জানিয়েছে আয়োজকেরা।

  • রাম মন্দিরে চুরিকে ‘সামান্য বিষয়’ বললেন অনুপম খের

    রাম মন্দিরে চুরিকে ‘সামান্য বিষয়’ বললেন অনুপম খের

    অযোধ্যার রাম মন্দিরে দানের অর্থ চুরির ঘটনা নিয়ে অভিনেতা অনুপম খেরের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের জেরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফের আলোচনায় উঠে এসেছে প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দীন শাহের একটি পুরোনো ভিডিও। ২০২০ সালের ওই সাক্ষাৎকারে অনুপম খেরের রাজনৈতিক মতাদর্শের তীব্র সমালোচনা করে তাঁকে ‘জোকার’ বলে সম্বোধন করেছিলেন নাসিরুদ্দীন শাহ।

    সম্প্রতি ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনুপম খের রাম মন্দিরের অর্থ চুরির ঘটনাকে মোগল আমলের কথিত মন্দির ধ্বংস ও লুণ্ঠনের সঙ্গে তুলনা করেন। চুরির এই ঘটনাকে তিনি একটি ‘খুবই সামান্য বিষয়’ বলে অভিহিত করার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে নাসিরুদ্দীন শাহের পুরোনো মন্তব্যটি ব্যাপকভাবে শেয়ার হতে শুরু করে।

    নাসিরুদ্দীন শাহ আসলে কী বলেছিলেন?

    ২০২০ সালের ওই সাক্ষাৎকারে নাসিরুদ্দীন শাহকে চলচ্চিত্র জগতের এমন ব্যক্তিদের নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যারা সরকারের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্তের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

    জবাবে নাসিরুদ্দীন শাহ বলেছিলেন, ‘যারা প্রতিবাদ করছেন, তাদের সংখ্যা সরকারের সমর্থকদের চেয়ে কম।’

    অনুপম খেরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সেসময় যোগ করেন, ‘অনুপম খেরের মতো মানুষ অত্যন্ত সোচ্চার। আমার মনে হয় না তাঁকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়ার কোনো প্রয়োজন আছে। তিনি একজন জোকার। এনএসডি (ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা) এবং এফটিআইআই (ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া)-তে তাঁর সমসাময়িক যে কেউ তাঁর এই চাটুকারিতার স্বভাবের কথা নিশ্চিত করতে পারবেন। এটি তাঁর রক্তে, তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না।’

    অনুপম খেরের তৎকালীন প্রতিক্রিয়া

    সেসময় নাসিরুদ্দীন শাহের এই মন্তব্যের জবাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেছিলেন অনুপম খের। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, নাসিরুদ্দীন শাহের চলচ্চিত্র জগতের সহকর্মীদের সমালোচনা করার একটি দীর্ঘ অভ্যাস রয়েছে।

    ভিডিও বার্তায় অনুপম খের বলেন, ‘আমি আপনার সম্পর্কে কখনো কোনো খারাপ কথা বলিনি, তবে আজ বলব। এত কিছু অর্জন করার পরও আপনি আপনার সারা জীবন হতাশায় কাটিয়ে দিয়েছেন। আপনি যদি দিলীপ কুমার সাহেব, অমিতাভ বচ্চন, রাজেশ খান্না, শাহরুখ খান এবং বিরাট কোহলির মতো মানুষদের সমালোচনা করতে পারেন, তবে আমি নিশ্চিত যে আমি খুব সঠিক পথেই আছি।’

    নাসিরুদ্দীন শাহের ব্যক্তিগত জীবনকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, ‘তাঁদের কেউ আপনার বক্তব্যকে কখনো গুরুত্ব সহকারে নেননি। কারণ আমরা সবাই জানি যে বছরের পর বছর ধরে আপনি যে ধরনের মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করছেন, তার কারণে আপনি কোনটি সঠিক আর কোনটি ভুল তা বুঝতে পারেন না।’

    রাম মন্দিরের চুরি নিয়ে কী মন্তব্য করেছিলেন অনুপম খের?

    সম্প্রতি ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অনুপম খেরকে যখন অযোধ্যা রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে টাকা চুরির ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন তিনি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এটিকে নগণ্য বলে দাবি করেন।

    তিনি বলেন, ‘মোগলরা যখন আমাদের মন্দির ধ্বংস করেছিল, তখন মন্দির লুণ্ঠন করা হয়েছিল। যখন ব্রাহ্মণদের হত্যা করা হয়েছিল, মন্দিরের ধনসম্পদ লুট করা হয়েছিল এবং মন্দিরের ভেতরে নারীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল, সেটি ছিল অনেক বড় ট্র্যাজেডি। আমরা যদি সেই বেদনা কাটিয়ে উঠতে পারি, তবে এই চুরির ঘটনাটি অত্যন্ত সামান্য বিষয়।’

    চলতি সমালোচনাকে লক্ষ্য করে তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ এটিকে অনেক বড় ইস্যু বানাচ্ছে। তারা বলছে মন্দিরে লুণ্ঠন হয়েছে…এমন সব শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে। লুণ্ঠন তো তখন হয়েছিল যখন মোগল শাসকেরা আমাদের মন্দির ধ্বংস করেছিল, ব্রাহ্মণদের হত্যা করে তাঁদের পৈতা ওজন করেছিল। আমরা যদি তা কাটিয়ে উঠতে পারি, তবে এই সাধারণ চুরির ঘটনাটি খুবই তুচ্ছ বিষয়।’

    উল্লেখ্য, অনুপম খেরকে আগামীতে ‘শ্রী রাম ভূমি’ চলচ্চিত্রে দেখা যাবে। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করছেন কামাখ্যা নারায়ণ সিং, যিনি সম্প্রতি ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’ পরিচালনা করে আলোচনায় এসেছেন। চলচ্চিত্রটিতে অনুপম খেরের পাশাপাশি অভিনয় করছেন ঋত্বিক ভৌমিক এবং অমৃতা খানভিলকর। এ ছাড়া মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তাঁর অভিনীত ‘খোসলা কা খোসলা ২’ সিনেমাটি।

  • দেশে জ্বালানি তেল মজুত আছে ৩৪ দিনের

    দেশে জ্বালানি তেল মজুত আছে ৩৪ দিনের

    হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা বাংলাদেশকেও ফেলেছে উদ্বেগে। যদিও দেশে বর্তমানে প্রায় ৩৪ দিনের জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে, তবু তেল ও এলএনজির দাম বেড়ে গেলে আমদানি ব্যয় এবং ভর্তুকির চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে সরকার।

    গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর শুধু জ্বালানি তেল এবং এলএনজি বেশি দামে আমদানি করে কম দামে বিক্রির কারণে প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকা লোকসান দেয় সরকার। এর মধ্যে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত শুধু তেল আমদানিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) লোকসান দিয়েছে ২১ হাজার কোটি টাকা। বাকি টাকা লোকসান হয়েছে এলএনজি আমদানিতে। এখন ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে বাংলাদেশ আবারও বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকার টু সরকার (জি-টু-জি) প্রক্রিয়ায় ১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল কেনার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত হয়ে আছে। এ ব্যাপারে সরবরাহকারী কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা শেষ হয়েছে। ওই সমঝোতা অনুযায়ী উন্মুক্ত দরপত্রের চেয়ে ৭০০ কোটি টাকা কম প্রিমিয়ামে (জাহাজ ভাড়া) তেল সরবরাহ করতে রাজি হয়েছে ৪-৫টি কোম্পানি।

    অন্যদিকে, দীর্ঘ মেয়াদি চুক্তির আওতায় গত মার্চ মাস থেকে কোনো কোম্পানি এলএনজি সরবরাহ করছে না। পেট্রোবাংলা স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনছে। এখন আগামী দিনে স্পট মার্কেট থেকেই এলএনজি কিনতে হবে বাংলাদেশকে।

    পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) একেএম মিজানুর রহমান রোববার যুগান্তরকে বলেন, হরমুজ বন্ধ থাকলে তেল এবং এলএনজির দাম বাড়বে। এটা বাংলাদেশের জন্য চিন্তার। গত মাসে যুদ্ধবিরতির কারণে এলএনজির দাম অনেক কমে এসেছিল। এখন বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম কী হয় সেটা দেখার বিষয়।

    প্রসঙ্গত, মার্চে স্পট মার্কেটে বাংলাদেশকে প্রতি ইউনিট এলএনজি ২৮ ডলার দিয়ে কিনতে হয়েছে। যুদ্ধবিরতির কারণে গত সপ্তাহ বাংলাদেশ সেই এলএনজি কিনেছে ১৬ থেকে ১৭ ডলারে। হরমুজ বন্ধ হওয়ার পর আজ (সোমবার) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের বেচাকেনা শুরু হবে। তখন কী দামে তেল বিক্রি হয় সেটি দেখার বিষয়। গত শুক্রবার সর্বশেষ ব্র্যান্ড ক্রুড প্রতি ব্যারেল ৭৬ দশমিক ১০ ডলারে বিক্রি হয়েছে। মার্চ-এপ্রিলে যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এটির দাম ১১৪ ডলারের বেশি উঠেছিল।

    জি-টু-জির আওতায় ১৬ লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল, অকটেন, ফার্নেস অয়েল এবং জেট ফুয়েল কেনার জন্য গত ২০ জুন সিঙ্গাপুরে ১০টি সরবরাহকারী কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা বৈঠক হয়েছিল। জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের নিয়ম অনুযায়ী ওই ১০ কোম্পানির সঙ্গে শুধু জাহাজ এবং অন্যান্য খরচ অর্থাৎ প্রিমিয়াম নিয়ে দরকষাকষি হয়েছে। সেই বৈঠকে ভারতের কোম্পানি আইওসিএল সর্বপ্রথম ১০ ডলারের নিচে অর্থাৎ ৯ দশমিক ৫ ডলার প্রিমিয়ামে তেল ডিজেল সরবরাহ করতে রাজি হয়। এরপর সেই দরে ইউনিপেক, পেট্রো চায়নাসহ কয়েকটি কোম্পানি তেল সরবরাহ করার নিশ্চয়তা দেয়। গত জুন থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত সরকার উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে চারটি কোম্পানির কাছ থেকে জ্বালানি তেল কিনছে। সেখানে প্রিমিয়াম দেওয়া হয়েছে সাড়ে ১৩ ডলারের বেশি।

    ওই সমঝোতা বৈঠকে উপস্থিত একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, সিঙ্গাপুরের বৈঠকে ১০ কোম্পানির মধ্যে ৯ কোম্পানি ১৪ ডলারের বেশি প্রিমিয়াম দাবি করেছিল। পরে ভারতের কোম্পানি কম প্রিমিয়ামে তেল দিতে রাজি হলে বাকিরাও একই প্রিমিয়ামে তেল দিতে রাজি হয়। যুদ্ধের কারণে তেল পরিবহণে এখন অনেক খরচ। এক সেন্ট কম প্রিমিয়াম মানে দেশের ৮২ লাখ টাকা সাশ্রয়। সেই হিসাবে ১৬ লাখ টনে এবার উন্মুক্ত দরপত্রের চেয়ে ৭০০ কোটি টাকা পরিবহণ খরচ বা প্রিমিয়াম সাশ্রয় হয়েছে।

    বিপিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত চার মাসে তেলের ভতুর্কি হিসাবে সরকার এক টাকাও বিপিসিকে দেয়নি। সংস্থাটি ইস্টার্ন রিফাইনারি-২ প্রকল্প এবং অন্যান্য প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা টাকা তেল আমদানিতে খরচ করেছে। এতে করে বিপিসির হিসাব থেকে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ২১ হাজার কোটি টাকা তেল আমদানি করতে বেশি খরচ বা লোকসান দিতে হয়েছে। এ ব্যাপারে বিপিসি বারবার সরকারকে ভর্তুকি দিতে চিঠি দিলেও এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি অর্থ বিভাগ থেকে।

    বিপিসির ট্যাংকিতে রোববার পর্যন্ত ৪ লাখ ১৪ হাজার টন ডিজেল আছে। যা দিয়ে ৩৪ দিন চলবে। অকটেনও আছে ৪০ দিনের মতো। বিপিসির আমদানি সূচি অনুযায়ী এই মাসে আরও ৮-১০টি ডিজেলবাহী জাহাজ আসার কথা। যুদ্ধের পর ৩০ হাজার টনের পরিশোধিত ডিজেল কিনতে বিপিসিকে বিল দিতে হয়েছে ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের মতো। কিন্তু এখন সেই বিল ৩ কোটি ২০ লাখ ডলারে নেমে এসেছে।

    জ্বালানি বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেছেন, গত মার্চে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার আগেভাগে ডিপোগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। জ্বালানি বিভাগ মনে করে, এবার তেল নিয়ে তেমন কোনো সমস্যা হবে না।

  • বাতিল হচ্ছে ৬ মার্চেন্ট ব্যাংকের নিবন্ধন সনদ 

    বাতিল হচ্ছে ৬ মার্চেন্ট ব্যাংকের নিবন্ধন সনদ 

    নির্ধারিত নিট মূলধনের শর্ত পূরণে দীর্ঘদিন ব্যর্থ হওয়া এবং আর্থিক সক্ষমতার ঘাটতির কারণে দেশের ছয়টি মার্চেন্ট ব্যাংকের নিবন্ধন সনদ (রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট) বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংকের নিট মূলধন ঘাটতির কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত এবং ব্যাখ্যা তলবের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যেসব মার্চেন্ট ব্যাংকের নিবন্ধন সনদ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে, সেগুলো হলো— ফাস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড; ইম্পেরিয়াল ক্যাপিটাল লিমিটেড; এনডিবি ক্যাপিটাল লিমিটেড; রিভারস্টোন ক্যাপিটাল লিমিটেড; হাল ক্যাপিটাল লিমিটেড এবং রুটস ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

    বিএসইসির একাধিক কমিশন সভার সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কমিশনের মতে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সক্ষমতার ন্যূনতম শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি এবং অনেক ক্ষেত্রেই কার্যক্রম অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে।

    বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, ‘নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত আর্থিক সক্ষমতার শর্ত প্রতিটি মার্চেন্ট ব্যাংকের জন্য বাধ্যতামূলক। যেসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে নির্ধারিত নিট মূলধন বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দুটি প্রতিষ্ঠানের নিট মূলধন ঘাটতির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    তদন্ত ও ব্যাখ্যা তলব

    নিট মূলধন ঘাটতির কারণ অনুসন্ধানে ইউনিক্যাপ ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড এবং জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের বিরুদ্ধে পৃথক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এসব তদন্ত পরিচালনা করবে বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ।

    অন্যদিকে, ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের নিট মূলধন ঘাটতির বিষয়ে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যাখ্যা ও নিট মূলধন বৃদ্ধির অগ্রগতি পরবর্তী কমিশন সভায় উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    কী বলে বিধিমালা

    সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্চেন্ট ব্যাংকার ও পোর্টফোলিও ম্যানেজার) বিধিমালা, ১৯৯৬ অনুযায়ী, কোনো মার্চেন্ট ব্যাংকের নিট মূলধন পরিশোধিত মূলধনের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ হতে হবে। নির্ধারিত সীমার নিচে নিট মূলধন নেমে গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কমিশন ব্যাখ্যা তলব, কার্যক্রম পর্যালোচনা কিংবা নিবন্ধন বাতিলসহ প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নিতে পারে।

    বাজারে কী বার্তা দিচ্ছে

    বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিট মূলধনের ন্যূনতম শর্ত পূরণে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বিএসইসির এই পদক্ষেপ পুঁজিবাজারের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক শৃঙ্খলা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে। পাশাপাশি তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত আর্থিক অবস্থাও স্পষ্ট হবে।

    বর্তমানে দেশে বিএসইসির নিবন্ধনপ্রাপ্ত মার্চেন্ট ব্যাংকের সংখ্যা ৬৬টি। এর আগে প্রসপেক্টাসে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগে সিএপিএম অ্যাডভাইজরির নিবন্ধন সনদ বাতিলের কার্যক্রমও শুরু করেছে কমিশন।

  • আবারো কমলো স্বর্ণের দাম

    আবারো কমলো স্বর্ণের দাম

    দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

    নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
    বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার সকাল ৯টায় সংগঠনটির মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে স্বর্ণ ও রুপার নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

    নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালঙ্কারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। এর আগে, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা।

    স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৬০৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হবে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা।

  • সরকারের আর্থিক সংস্কার ও রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতার প্রশংসা আইএমএফের

    সরকারের আর্থিক সংস্কার ও রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতার প্রশংসা আইএমএফের

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকারের আর্থিক সংস্কার ও রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতার প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর প্রতিনিধি সম্মান জানিয়েছে। আইএমএফের সাথে বাংলাদেশের আগামী দিনের নতুন কর্মসূচির ভিত্তি ও সিকোয়েন্সিং নিয়ে এবং নীতিমালার সার্বিক দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    সোমবার মন্ত্রণালয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বাংলাদেশ ও হংকং বিষয়ক মিশন প্রধান ইভো ক্রজনার এর সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, আইএমএফের সাথে নতুন কর্মসূচি কোন ভিত্তির ওপর পরিচালিত হবে, তা পরিষ্কার করা হয়েছে এবং প্রস্তাবিত ভিত্তিসমূহের ওপর তারা সম্পূর্ণ একমত পোষণ করেছেন। সংস্কার কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে ধাপে ধাপে পরিবর্তনগুলো আনা হবে। রাতারাতি বা ওভারনাইট কোনো বড় পরিবর্তন সম্ভব নয় এবং আইএমএফ এ বিষয়ে সহমত প্রকাশ করেছে।

    তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কোন সংস্কার কখন করা প্রয়োজন, সেই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ক্রমান্বয়ে পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। আইএমএফ এই সিকোয়েন্সিংয়ের নীতিতে সায় দিয়েছে। এছাড়া একটি রাজনৈতিক সরকারের জনকল্যাণমূলক দায়বদ্ধতা এবং রেসপন্সিবিলিটিকে আইএমএফ বিশেষভাবে সম্মান জানিয়েছে। দেশের মানুষের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখেই অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হবে।

    মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের চার মাসের মেয়াদে আর্থিক খাতের সংস্কার, শেয়ারবাজার ও ক্যাপিটাল মার্কেটের উন্নয়ন এবং রাজস্ব আদায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতিতে আইএমএফ প্রতিনিধিদল সন্তোষ প্রকাশ করেছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাত্র চার মাসে ট্যাক্স আদায়কে একটি বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ইতিবাচক ধারা বজায় রেখে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত আরও বাড়াতে সরকারের প্রস্তাবনাসমূহ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

    ভর্তুকি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, এখনই সুনির্দিষ্ট ডিটেইলস বা শর্ত নিয়ে আলোচনা হয়নি। মূলত নতুন কর্মসূচির মূল ভিত্তি তৈরি নিয়ে কথা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত আলোচনার টেবিলে সকল বিষয়গুলো আসবে।

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও জানান, এই আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের বার্ষিক সভায় এ বিষয়ে পরবর্তী আলোচনা হবে। বর্তমান সরকারের সংস্কারমুখী পারফরম্যান্সে আইএমএফ সন্তুষ্ট এবং এই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই আগামী দিনের নতুন প্রোগ্রাম চূড়ান্ত করা হবে।

  • উচ্চ খেলাপি ঋণের ব্যাংক বন্ধ করা হচ্ছে না কেন

    উচ্চ খেলাপি ঋণের ব্যাংক বন্ধ করা হচ্ছে না কেন

    দেশের ব্যাংক খাত এখন উচ্চ খেলাপি ঋণের চাপে জর্জরিত। কিছু ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার ৮০ শতাংশেরও বেশি। এত উচ্চহারে খেলাপি ঋণ থাকা সত্ত্বেও এসব ব্যাংক কীভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং কেন সেগুলোকে অবসায়ন বা বন্ধের প্রক্রিয়ায় নেওয়া হচ্ছে না এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

    গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকে এসব প্রশ্ন তোলে আইএমএফের প্রতিনিধিদল। নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করতে পাঁচ দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছেন সংস্থাটির প্রতিনিধিরা। সফরের প্রথম দিন সকালে গভর্নর ও তার টিমের সঙ্গে উদ্বোধনী বৈঠকের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে পৃথক বৈঠক হয় তাদের। আইএমএফের বাংলাদেশ মিশনপ্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে প্রথম দিনের বৈঠক হয়।

    বৈঠকসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, খেলাপি ঋণ কমানো, ব্যাংক রেজল্যুশন, ইসলামি ব্যাংকিং, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা এবং নতুন ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

    সূত্র জানায়, এদিন বিকাল সাড়ে ৪টায় ব্যাংক রেজল্যুশন বিভাগ এবং ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে ব্যাংকিং খাত সংস্কারের রূপরেখা, অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ (একিউআর), দুর্বল ব্যাংকের শ্রেণিবিন্যাস, রেজল্যুশন কৌশল, রেজল্যুশন ফান্ড এবং একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি ব্যাংকের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ নিষ্পত্তি কাঠামো এবং ব্যাংক রেজল্যুশন আইন বাস্তবায়নের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে কেন একিউআরের আওতায় আনা হচ্ছে না, সে বিষয়ে জানতে চেয়েছে আইএমএফ। একই সঙ্গে আর্থিকভাবে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে কেন এখনো রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়া হয়নি, সে প্রশ্নও তোলে সংস্থাটি।

    তিনি বলেন, যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৮০ শতাংশের বেশি, সেগুলো কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং এত দুর্বল অবস্থার পরও কেন অবসায়ন বা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়নিÑএ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে আইএমএফ। তবে বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব দেওয়া হয়নি।

    দিনের দ্বিতীয়ার্ধে ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টের (বিআরপিডি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ব্যাংক খাতের চলমান ও পরিকল্পিত আইনগত সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে খেলাপি ঋণ নিষ্পত্তির কাঠামো, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এএমসি) গঠন, সমস্যাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা, দেউলিয়াত্ব আইন এবং আদালতের বাইরে ঋণ পুনর্গঠনব্যবস্থার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। একই বৈঠকে ইসলামি ব্যাংকিং খাতের আইনগত সংস্কার, আইএফআরএস-৯ এবং ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ১৮এ ধারা নিয়েও আলোচনা হয়।

    বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, আইএফআরএস-৯ বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং খেলাপি ঋণ (এনপিএল) নিষ্পত্তির জন্য প্রণয়নাধীন গাইডলাইন নিয়ে আইএমএফ বিস্তারিত জানতে চায়। বাংলাদেশ ব্যাংক আইএমএফকে জানিয়েছে, আইএফআরএস-৯ বাস্তবায়নের নির্দেশনা ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে। আর এনপিএল রেজল্যুশন গাইডলাইন তৈরির কাজ চলছে, যা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।

    এদিন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগের সরকারের নেওয়া আইএমএফ ঋণ কর্মসূচি ছিল ‘সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী’। দেশের মানুষের অর্থনৈতিক স্বার্থরক্ষা করেই আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি করা হবে।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল চিন্তা টাকা পাওয়া নয়, দেশের স্বার্থরক্ষা করা। দেশের মানুষের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে আইএমএফের সঙ্গে কোনো কর্মসূচিতে সরকার যাবে না।’

    নতুন কর্মসূচির আওতায় সরকার তিন বছর মেয়াদে ৪০০-৪৫০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার আশাবাদী। অর্থ পাওয়া গেলে তা সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বৈদেশিক অর্থায়নের চাপ মোকাবিলায় ব্যবহার করা হবে।

    ঋণের জন্য গত ৯ জুন আইএমএফকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেন অর্থমন্ত্রী। সেখানে বলা হয়েছে, আগের কর্মসূচি গ্রহণের সময়কার অর্থনৈতিক ও নীতিগত বাস্তবতা এখন আর নেই। দেশীয় রাজনৈতিক অর্থনীতি, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং নতুন চ্যালেঞ্জের কারণে কিছু সংস্কার বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে সরকার সংস্কার কর্মসূচি থেকে সরে আসতে চায় না; বরং দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করতে চায়।

    ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আইএমএফের কাছ থেকে ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচিতে চুক্তি করেছিল। পরে ২০২৫ সালের জুনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ওই কর্মসূচির আকার বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়। অনুমোদিত ওই কর্মসূচির আওতায় পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ মোট ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে। তবে ষষ্ঠ কিস্তির অর্থছাড় নিয়ে প্রায় এক বছর আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি। পরে উভয়পক্ষের সম্মতিতে আগের ঋণ কর্মসূচিটি বাতিল করা হয়।

  • যুদ্ধের কারণে বেড়েছে তেলের দাম, কমেছে এশিয়ার শেয়ার সূচক

    যুদ্ধের কারণে বেড়েছে তেলের দাম, কমেছে এশিয়ার শেয়ার সূচক

    সপ্তাহের শুরুটা বিশ্ববাজারের জন্য স্বস্তির হলো না। উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার খবরের সঙ্গে ইরানের দাবি, হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ খবরে মুহূর্তেই চাঙা হয়ে ওঠে তেলের বাজার, চাপের মুখে পড়ে শেয়ারবাজার।

    আজ সোমবার সকালে এশিয়ার বেশির ভাগ শেয়ারসূচক নিম্নমুখী। সেই সঙ্গে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা।

    ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব পড়ে মুদ্রা ও বন্ডবাজারেও। এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের খোঁজ করেন। ডলারের দাম বেড়ে যায়, সঙ্গে বাড়ে মার্কিন সরকারি বন্ডের সুদহার।

    বাজারে এখন ধারণা, মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি নতুন করে বেড়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভকে আবারও সুদহার বাড়াতে পারে। এমন সময় ফেডের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ মঙ্গলবার এই প্রথম মার্কিন কংগ্রেসে বক্তব্য দেবেন। তাঁর বক্তব্যের দিকে তাকিয়ে আছে বিশ্ববাজার।

    এদিকে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের জুন মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশিত হওয়ার কথা। জ্বালানির দাম আগের কয়েক সপ্তাহে কিছুটা কমে আসায় মূল্যস্ফীতিও হয়তো সামান্য কমতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করায় সেই স্বস্তি বেশি দিন টিকবে না।

    আজ সোমবার সকালে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম একলাফে ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ১১ ডলারে উঠেছে। কয়েক দিন আগেও এর দাম ছিল ৭০ দশমিক ১৪ ডলার। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৪ দশমিক ৩৭ ডলারে উঠেছে।

    হরমুজ প্রণালি ঘিরে উদ্বেগের মধ্যেই মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ২০টি জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে প্রণালি পার করানো হয়েছে। তবে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, এই পথে চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

    এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের বড় নজর এখন করপোরেট পরিসংখ্যানের দিকে। মঙ্গলবার থেকে বড় বড় মার্কিন ব্যাংক চলতি প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। এর পরপরই নেটফ্লিক্স ও জেনারেল ইলেকট্রিকের মতো প্রতিষ্ঠানও আয়ের তথ্য প্রকাশ করবে।

    অনেকের আশা, কোম্পানিগুলোর ভালো মুনাফার খবরে বাজারের উদ্বেগ কিছুটা হলেও কমতে পারে।

    বিনিয়োগ ব্যাংক সিটির বিশ্লেষকেরা অবশ্য এখনো প্রযুক্তি খাত নিয়ে আশাবাদী। তাঁদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) শেয়ারে অস্থিরতা থাকলেও এই খাতে ভালো মুনাফা হচ্ছে। সেই সঙ্গে এসব কোম্পানির মূল্যায়ন ভালো। এসব কারণে এই খাতের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা অক্ষুণ্ন আছে।

    তবে দিনের শুরুতে শেয়ারবাজারে সেই আশাবাদের প্রতিফলন দেখা যায়নি। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও নাসডাক ফিউচার নিম্নমুখী ছিল। ইউরোপের প্রধান সূচকগুলোর ফিউচারও নিম্নমুখী। জাপানের নিক্কেই সূচক টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো বড় পতনের মুখে পড়েছে। জাপান ছাড়া এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শেয়ারবাজারের এমএসসিআই সূচকও নেমে যায়।

    তেলের দাম কত বাড়বে

    গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় নেমে এসেছিল। এরপর তেলের দাম ধীরে ধীরে বাড়ছিল। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে প্রথম দফা হামলা চালানোর আগে যে দাম ছিল, আজ সোমবার মূল্যবৃদ্ধির পর তেলের দাম সেই তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ বেশি।

    অস্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান এক্সঅ্যানালিস্টসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান তেলবিশ্লেষক মুকেশ সহদেব মনে করেন, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় আগস্ট ও সেপ্টেম্বরজুড়ে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারের ওপরে থাকবে।

    গত শনিবার গ্রাহকদের উদ্দেশে দেওয়া এক নোটে সহদেব বলেন, এ সময়ের মধ্যে তেলের দামে মাঝেমধ্যে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যেতে পারে, তবে তা এই সীমার মধ্যেই থাকবে।

    সহদেব আরও বলেন, দূরপাল্লার জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে শোধনাগারগুলোকে কয়েক সপ্তাহ আগেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সে কারণে তারা ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর তাৎক্ষণিক নির্ভরতা কিছুটা হ্রাস করেছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনায় সেই প্রবণতা আরও জোরালো হবে।

    অস্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান আইজির বাজার–বিশ্লেষক ফ্যাবিয়েন ইয়িপও মনে করেন, সাম্প্রতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও তেলের দাম যে আবার ১০০ ডলার চাড়িয়ে যাবে, তেমন সম্ভাবনা কম।

    আজ প্রকাশিত এক নোটে ফ্যাবিয়েন ইয়িপও বলেন, জুন মাসে তেলের দাম যে যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে গেল, তার পেছনে বাজারের ধারণা ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা যতই নাজুক হোক, তা টিকে থাকবে। তবে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় প্রমাণিত হয়েছে, সে ধারণার ভিত্তি কতটা ভঙ্গুর ছিল।

    এদিকে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বন্ডবাজারেও। যুক্তরাষ্ট্রের দুই বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ২০২৫ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। ফলে ডলার আরও শক্তিশালী হয়েছে।

    বন্ডের সুদহার বেড়ে যাওয়ায় সোনার আকর্ষণ কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ১ শতাংশের বেশি কমে ৪ হাজার ৭৬ ডলারে নেমে এসেছে।

  • নতুন অর্থবছরের ১১ দিনেই রেমিট্যান্সে ১১.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

    নতুন অর্থবছরের ১১ দিনেই রেমিট্যান্সে ১১.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

    রোববার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৯ থেকে ১১ জুলাই—এই তিন দিনেই দেশে এসেছে ১৯ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এতে মাসের প্রথম আট দিনের তুলনায় রেমিট্যান্সের গতি আরও জোরালো হয়েছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নতুন অর্থবছরের শুরুতে রেমিট্যান্সের এই ইতিবাচক প্রবণতা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে আরও স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় পরিশোধ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং টাকার বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স দীর্ঘদিন ধরেই অন্যতম প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার উৎস। তৈরি পোশাক রপ্তানির পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ দেশের চলতি হিসাবের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ডলারের সংকট এবং আমদানি ব্যয়ের চাপের মধ্যে রেমিট্যান্স অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে। ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে দ্রুত অর্থ পৌঁছে দেওয়া, প্রণোদনা সুবিধা, ডিজিটাল লেনদেনের সম্প্রসারণ এবং হুন্ডি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নজরদারি বৃদ্ধির ফলে প্রবাসীদের একটি বড় অংশ এখন আনুষ্ঠানিক চ্যানেল ব্যবহার করছেন।

    মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিতে নিয়মিত বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাচ্ছেন। শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মী বিদেশে যাওয়ার প্রবণতাও দীর্ঘমেয়াদে রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাড়লেই হবে না; এই অর্থ উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ নিশ্চিত করাও জরুরি। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ যদি শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, কৃষি এবং অবকাঠামো উন্নয়নে আরও বেশি ব্যবহৃত হয়, তাহলে তা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বহুগুণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    ব্যাংকাররা বলছেন, বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ একসঙ্গে শক্তিশালী থাকলে ব্যাংকগুলোর ডলার ব্যবস্থাপনায় চাপ আরও কমবে। এতে এলসি নিষ্পত্তি, জ্বালানি ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
    বিশ্লেষকদের মতে, নতুন অর্থবছরের শুরুতে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রণোদনা অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন বাজার সৃষ্টি, দক্ষ কর্মী পাঠানো এবং প্রবাসীদের জন্য ব্যাংকিং সেবা আরও সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করা প্রয়োজন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বরাবরই বলে আসছেন, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রেমিট্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রবাসীদের বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংককে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্য দ্রুত ও নিরাপদ অর্থ স্থানান্তর ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জুলাই মাসের প্রথম ১১ দিনের প্রবৃদ্ধি যদি পুরো মাসজুড়ে বজায় থাকে, তাহলে মাস শেষে রেমিট্যান্স প্রবাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হতে পারে। এতে দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য আরও শক্তিশালী হবে এবং রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

  • ফ্যাসিস্ট আমলের  দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মসূচি থেকে বের হচ্ছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

    ফ্যাসিস্ট আমলের দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মসূচি থেকে বের হচ্ছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

    রোববার (১২ জুলাই) রাজধানীতে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। এ সময় নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে আইএমএফের ১২ সদস্যের একটি মিশন অর্থ মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করছিল। চলতি সপ্তাহজুড়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করবে এ মিশন।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে হলে সব খাতেই পরিবর্তন আনতে হবে, সেই ধারাবাহিকতায় নতুন ভিসা নীতিও তৈরি করা হচ্ছে। একটি দেশের ভিসা নীতিই বলে দেয় দেশটি কতটা সহজগম্য, নাকি সেখানে ঢুকতে অনেক প্রতিকূল অবস্থা বিরাজ করছে। আধুনিক ভিসা নীতির দরকার আছে, সে কারণে রিভাইজ করা হচ্ছে। এর ফলে পর্যটন, বিনিয়োগ বাড়াতে ভিসা নীতির বড় ভূমিকা আছে।’

    আইএমএফের চলমান কর্মসূচি থেকে বের হওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আইএমএফের সাথে আওয়ামী লীগ আমলের প্রোগ্রাম দেশের স্বার্থবিরোধী ছিল, না হলে আমরা সেখান থেকে বের হলাম কেন! আগের প্রোগ্রামের অনেকগুলো শর্ত ছিল, যেগুলো একটি নির্বাচিত সরকার হিসেবে আমরা মনে করি দেশের জনগণের জন্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই আগের প্রোগ্রাম থেকে বেরিয়ে এসে আমরা নতুন প্রোগ্রামে যাচ্ছি।

    মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির জন্য, জনগণে স্বার্থে যে ধরনের প্রোগ্রাম প্রয়োজন সেটি নেওয়া হবে। কিস্তির টাকা নিয়ে আমাদের কোনো চিন্তা নেই, যে প্রোগ্রামে যাবো সেটিতে দেশের স্বার্থ সংরক্ষিত হবে কিনা সেটিই চিন্তা। কিস্তির টাকার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে প্রোগ্রামে যাব সেটি দেশ ও মানুষের স্বার্থ সংরক্ষিত হবে কিনা সেটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

  • হরমুজ প্রণালিতে ‘সেবা ফি’ দিতে সম্মত ইউরোপ

    হরমুজ প্রণালিতে ‘সেবা ফি’ দিতে সম্মত ইউরোপ

    বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে টোল আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা। টোল বাধ্যতামূলক নাকি স্বেচ্ছাধীন হবে, আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন কী বলে এবং প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—এসব প্রশ্নে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, ওমানসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে। তবে ইউরোপের দেশগুলো ‘নেভিগেশন ফি’ অর্থাৎ জাহাজ চলাচলে পরিষেবার বিনিময়ে ‘ফি’ দেওয়ার একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে।

    ইরান বলছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে নির্দিষ্ট ‘ফি’ দিতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানকে অবিলম্বে এই প্রণালি উন্মুক্ত করে দিতে হবে। সেই সঙ্গে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে, এই পথে চলাচলকারী কোনো জাহাজে তারা হামলা চালাবে না। এদিকে ইউরোপ বলছে, টোল আরোপ হতে পারে, তবে তা বাধ্যতামূলক হবে না। অন্যদিকে ইরান একতরফাভাবে টোল আরোপ করুক, তা চায় না ওমান।

    হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এই প্রণালি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানে আগ্রাসন শুরুর পর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তেহরান খুবই কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে সক্ষম হয়। কার্যত এখনো কৌশলগত এই বৈশ্বিক জলপথের নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতেই রয়ে গেছে।

    যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের লক্ষ্যে গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়। এর লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা এবং সব ধরনের সংঘাতের অবসান ঘটানো। চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও নৌ পরিষেবা কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নির্ধারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সঙ্গে ইরান ও ওমানের আলোচনার কথা রয়েছে।

    কে কী বলছে

    হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ‘নেভিগেশন ফি’ আদায়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে—এমন কয়েকটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইউরোপের দেশগুলো। তবে তাদের শর্ত হলো হরমুজ প্রণালিতে এ ধরনের টোল কোনোভাবেই বাধ্যতামূলক হতে পারবে না। এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘের সমুদ্র পরিবহনবিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) সমর্থন থাকতে হবে।

    যুক্তরাজ্যের উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি গতকাল শনিবার বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে টোল বাধ্যতামূলক করা হলে তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য বিপর্যয়কর হবে। তবে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য বলেছেন, মালাক্কা প্রণালি, ইংলিশ চ্যানেলসহ বিশ্বের অনেক প্রাকৃতিক জলপথে জাহাজ চলাচলে নির্দিষ্ট সেবার বিনিময়ে অর্থ আদায় করা হয়। এ ধরনের ব্যবস্থা আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃত।

    প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু সেবা দেওয়া হলে তার জন্য স্বেচ্ছাধীন অর্থ আদায় ব্যবস্থার পক্ষে ওমান। এর মাধ্যমে ইরানও কিছু অর্থ পেতে পারে, তবে সেটি একতরফা বাধ্যতামূলক টোল হিসেবে নয়। ওমানের লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালিকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় রেখে পরিচালনা করা, যেখানে জাহাজ চলাচল অবাধ থাকবে। এ লক্ষ্যে তেহরানকে একটি প্রস্তাবও দিয়েছে তারা।

    যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, হরমুজ প্রণালি খোলা আছে বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিক ইরান। পাশাপাশি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের অঙ্গীকার করতে হবে দেশটিকে। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের নেতৃত্বের কাছে একটি বার্তা পাঠানোর কথাও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে তেহরানকে প্রকাশ্যে এই ঘোষণা দিতে বলা হয়েছে যে হরমুজ প্রণালি খোলা আছে এবং তারা আর বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালাবে না।

    হরমুজ প্রণালি কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে আলোচনা করতে শনিবার ওমান সফরে গেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, যুদ্ধ বন্ধে দেড় মাসের বেশি সময় ধরে চলা আলোচনার অংশ এটি। ইরান বলছে, ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালি পরিচালনা করবে তারা। আর চলাচলকারী জাহাজগুলোকে দিতে হবে ‘সার্ভিস ফি’।

    ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের সমুদ্রবিষয়ক নিরাপত্তাবিশেষজ্ঞ জেনিফার পার্কার মনে করেন, হরমুজে চলাচলকারী জাহাজ থেকে কেবল ‘ফি’ আদায় নয়, বরং এর মাধ্যমে প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখাই তেহরানের মূল লক্ষ্য। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে তিনি বলেন, কিছু ছাড় পেলে ইরান হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেবে—যুক্তরাষ্ট্রের এ ভাবনা থেকে সরে এসে বিষয়টি নতুন করে ভাবতে হবে। কোনো প্রতিশ্রুতি, অর্থনৈতিক ছাড়, এমনকি সামরিক অভিযান চালালেও হরমুজ প্রণালি নিয়ে তেহরানের অবস্থান বদলানো যাবে না।

  • আইএমএফের সঙ্গে আগের ঋণ কর্মসূচি ‘জনস্বার্থবিরোধী’: অর্থমন্ত্রী

    আইএমএফের সঙ্গে আগের ঋণ কর্মসূচি ‘জনস্বার্থবিরোধী’: অর্থমন্ত্রী

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে আগের সরকারের নেওয়া ঋণ কর্মসূচিকে ‘সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী’ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দেশের মানুষের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করেই আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি করা হবে।

    আজ রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ কথাগুলো বলেন অর্থমন্ত্রী। এ সময় নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে আইএমএফের ১২ সদস্যের একটি মিশন অর্থ মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করছিল। চলতি সপ্তাহজুড়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করবে এ মিশন।

    দিনভর আজ মিশনটির আটটি নির্ধারিত বৈঠক ছিল। এর মধ্যে বেলা ১টায় একটি ছিল অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে। তবে জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের জানাজায় অংশ নিতে যাওয়ায় ওই বৈঠক বাতিল করা হয় বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

    আইএমএফের বাংলাদেশ মিশনপ্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে আজ দিনের প্রথম বৈঠকটি হয় অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সঙ্গে। এরপর অর্থ বিভাগের কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিদের কাছে নিজেদের নীতি পরিকল্পনা উপস্থাপন করে আইএমএফ মিশন।

    অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বের হওয়ার সময় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আরও বলেন, ‘আমাদের মূল চিন্তা টাকাপাওয়া নয়, দেশের স্বার্থ রক্ষা করা। দেশের মানুষের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে আইএমএফের সঙ্গে কোনো কর্মসূচিতে সরকার যাবে না।’

    আগের সরকারের নেওয়া আইএমএফের ঋণ কর্মসূচিকে ‘সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী’ উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘একটি নির্বাচিত সরকার হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের এবং দেশের অর্থনীতির স্বার্থ সুরক্ষিত রাখাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। জনগণের অর্থনৈতিক স্বার্থ নিশ্চিত করে আইএমএফের সঙ্গে এমন একটি নতুন কর্মসূচিতে আমরা যাচ্ছি। যে কর্মসূচিতেই যা–ই না কেন, সেখানে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ শতভাগ সংরক্ষিত থাকবে।’

    নতুন কর্মসূচির আওতায় সরকার তিন বছর মেয়াদে ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ পাওয়ার আশাবাদী। অর্থ পাওয়া গেলে তা সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বৈদেশিক অর্থায়নের চাপ মোকাবিলায় ব্যবহার করবে বাংলাদেশ। ঋণের জন্য গত ৯ জুন আইএমএফকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এতে বলা হয়, আগের কর্মসূচি গ্রহণের সময়ের অর্থনৈতিক ও নীতিগত বাস্তবতা এখন আর নেই। দেশীয় রাজনৈতিক অর্থনীতি, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং নতুন চ্যালেঞ্জের কারণে কিছু সংস্কার বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে সরকার সংস্কার কর্মসূচি থেকে সরে আসতে চায় না, বরং দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করতে চায়।

    ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আইএমএফের কাছ থেকে ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণের চুক্তি করেছিল। ২০২৫ সালের জুনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই ঋণের আকার বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলার করা হয়। অনুমোদিত ওই ঋণ কর্মসূচির আওতায় পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ মোট ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে। তবে ষষ্ঠ কিস্তির অর্থছাড় নিয়ে প্রায় এক বছর ধরে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি। এরই মধ্যে উভয় পক্ষ মিলে কর্মসূচিই বাতিল করে দিয়েছে।

    নতুন ভিসা নীতির কাজ চলছে

    আজ অর্থমন্ত্রী নতুন ভিসা নীতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে বিদ্যমান ভিসা নীতি আধুনিক করা হবে। এটি নিয়ে কাজ চলছে। এতে বিদেশি পর্যটক, বিনিয়োগকারী ও দক্ষ জনশক্তির বাংলাদেশে আসা সহজ হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগও বাড়বে।

    নতুন ভিসা নীতির ঘোষণা অবশ্য আসে ২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে। ওই বৈঠকে ২০০৬ সালের ভিসা নীতি সংশোধন করে নতুন নীতিমালার খসড়া উপস্থাপন করা হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি ওই দিন জানিয়েছিলেন, খসড়াটি পরিমার্জনের জন্য অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    নতুন ভিসা নীতির লক্ষ্য হচ্ছে বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থান সহজ করা, বিদেশি বিনিয়োগ ও ব্যবসা উৎসাহিত করা, পর্যটন খাতের বিকাশ, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর নিশ্চিত করা, জাতীয় নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং আধুনিক ও সেবামুখী অভিবাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা।

    আজ যেসব বিষয়ে আলোচনা

    আজকের বৈঠকগুলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সম্ভাব্য দ্বিতীয় সহনশীলতা ও টেকসই সুবিধা (আরএসএফ) কর্মসূচি। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ কর্মসূচির প্রস্তুতি, সম্ভাব্য কাঠামো ও শর্ত নিয়ে বেলা ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি আগের সরকারের সময়ে নেওয়া প্রথম আরএসএফ কর্মসূচির আওতায় সংস্কার বাস্তবায়নের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়েছে।

    বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বৈঠকগুলোয় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ও মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য, রাজস্ব আহরণের পরিকল্পনা, ভর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), বড় উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা এবং অর্থায়নের উৎস নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

    এ ছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছর ও মধ্য মেয়াদে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির ব্যয়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো একীভূত করার পরিকল্পনা, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, নতুন নিয়োগ, জনবলকাঠামো এবং বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির সূত্র হচ্ছে আইএমএফের সঙ্গে আলোচ্য বিষয়।

  • ২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ এফডিআই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের : আঙ্কটাড

    ২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ এফডিআই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের : আঙ্কটাড

    ২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রবৃদ্ধিতে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এ সময় দেশে এফডিআই প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেড়ে ১৭৮ কোটি মার্কিন ডলারে (১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন) পৌঁছেছে।

    জাতিসঙ্ঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাডের ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট ২০২৬’-এ এ তথ্য উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে এফডিআই প্রবাহ ছিল ১২৩ কোটি মার্কিন ডলার (১ দশমিক ২৩ বিলিয়ন), যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১৭৮ কোটি মার্কিন ডলারে (১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন)। বৈশ্বিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জপূর্ণ থাকা সত্ত্বেও এ প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান আস্থার প্রতিফলন।

    প্রতিবেদনটি এমন এক সময় প্রকাশিত হয়েছে, যখন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বাণিজ্য অনিশ্চয়তা এবং উচ্চ অর্থ ব্যয়ের কারণে বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রবাহ অসম অবস্থায় রয়েছে।

    এ প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের শক্তিশালী এফডিআই প্রবৃদ্ধি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    যদিও মোট স্থায়ী মূলধন গঠনে এফডিআইয়ের অংশ তুলনামূলকভাবে কম, তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির মডেলের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে দেশীয় বিনিয়োগ এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

    আঙ্কটাড জানিয়েছে, উন্নয়নশীল অঞ্চলগুলোর মধ্যে ২০২৫ সালেও উন্নয়নশীল এশিয়া বিশ্বের প্রধান বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। এ অঞ্চলে এ সময় মোট ৬৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এফডিআই এসেছে।

    বাংলাদেশের এ সাফল্য এশিয়ার অর্থনীতিগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক আগ্রহের বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রবণতারই প্রতিফলন।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা দুই বছর পতনের পর ২০২৫ সালে বৈশ্বিক এফডিআই ৬ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

    এ পুনরুদ্ধারের পেছনে ডিজিটাল অবকাঠামো, উৎপাদন শিল্প, জ্বালানি রূপান্তর প্রযুক্তি এবং অন্যান্য কৌশলগত খাতে বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎপাদনশিল্প, সেবা, অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আরো ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার, প্রতিযোগিতামূলক কর্মশক্তি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার ভবিষ্যতে এফডিআই প্রবৃদ্ধির জন্য শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে।

    অর্ধ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি জিডিপি, শিল্পায়ন ও সংযোগ ব্যবস্থায় ধারাবাহিক অগ্রগতির ফলে বাংলাদেশ ক্রমেই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্ব পাচ্ছে।