অর্থ ও বাণিজ্য

  • বাজেট: সঞ্চয়পত্র-ডিপিএসসহ ৯ খাতে বিনিয়োগে দারুণ সুযোগ

    বাজেট: সঞ্চয়পত্র-ডিপিএসসহ ৯ খাতে বিনিয়োগে দারুণ সুযোগ

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকাল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে বাজেট উপস্থাপন শুরু হয়।

    বাজেট অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবীক্রম)। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম বাজেট।

    পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। এরপর স্পিকার অর্থমন্ত্রীকে বাজেট উত্থাপন করার জন্য আহ্বান জানান।

    বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। সঞ্চয়পত্র, ডিপিএস, জীবন বীমার প্রিমিয়ামসহ বর্তমানে ৯টি খাতে বিনিয়োগ করলে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতারা বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত পেয়ে থাকেন।

    মোট আয়ের দশমিক ০৩ শতাংশ; মোট অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ কিংবা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা- এ তিনটির মধ্যে যেটি কম, সেটি রেয়াত হিসেবে চূড়ান্ত কর থেকে বাদ দেওয়া হয়। আগামী বছর অনুমোদিত বিনিয়োগ সীমা ১৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ লাখ টাকা করা হয়েছে। হিসেব মতে, প্রতি এক লাখ টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে ৫ হাজার টাকা কম ছাড় পাবেন করদাতা।

  • আনোয়ারায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কলেজছাত্রের মৃত্যু

    আনোয়ারায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কলেজছাত্রের মৃত্যু

    চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় সুপারি গাছ কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আব্দুল হান্নান শাহ (২২) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের উত্তর গুয়াপঞ্চক শাহ বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আব্দুল হান্নান শাহ ওই এলাকার আব্দুল গফ্ফার শাহ’র ছেলে। তিনি আনোয়ারা সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষা উপলক্ষে ছুটিতে বাড়িতে ছিলেন হান্নান। বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির পাশের একটি সুপারি গাছ কাটতে ওঠেন তিনি। একপর্যায়ে গাছটির পাশের বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহতের ফুফাত ভাই মো: ইমরান হোসাইন জানান, হান্নান তার চাচাত ভাইয়ের দোকানে থাকতেন। পরীক্ষা উপলক্ষে কয়েকদিনের জন্য বাড়িতে এসেছিলেন। বৃহস্পতিবার পরীক্ষা না থাকায় সকালে সুপারি গাছ কাটতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।

    আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বিদ্যুৎস্পৃষ্ট অবস্থায় এক যুবককে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • বাংলাদেশ ও এআইআইবির মধ্যে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বাজেট সহায়তা ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত

    বাংলাদেশ ও এআইআইবির মধ্যে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বাজেট সহায়তা ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত

    বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব মো: আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকী এবং এআইআইবির পক্ষে পাবলিক সেক্টর ক্লায়েন্টস ডিপার্টমেন্ট রিজিয়ন-১-এর মহাপরিচালক রজত মিশ্র চুক্তিতে সাক্ষর করেন।

    বাংলাদেশ সরকার ও এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) মধ্যে স্ট্রেনদেনিং ইকোনমিক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড গভর্ন্যান্স প্রোগ্রাম (এসইএমজিপি)-সাবপ্রোগ্রাম ২-এর আওতায় ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজেট সহায়তা ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    গতকাল এ ঋণচুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব মো: আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকী এবং এআইআইবির পক্ষে পাবলিক সেক্টর ক্লায়েন্টস ডিপার্টমেন্ট রিজিয়ন-১-এর মহাপরিচালক রজত মিশ্র চুক্তিতে সাক্ষর করেন।

    বুধবার (১০ জুন) ইআরডি’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ অর্থায়ন এআইআইবির ইমার্জেন্সি রেসপন্স সাপোর্ট ফেসিলিটির আওতায় বিবেচিত ৭৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পলিসি-বেজড লেনডিং (পিবিএল) প্যাকেজের একটি অংশ। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিকূলতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সঙ্ঘাতের কারণে সৃষ্ট বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা এবং জরুরি সরকারি ব্যয় ও বৈদেশিক অর্থায়নের চাহিদা পূরণে এ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

    ইআরডি জানায়, এআইআইবির এ অর্থায়ন সহায়তা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। এর মধ্যে রয়েছে সামাজিক খাতে স্থিতিশীলতা ও ব্যয় বজায় রাখতে সহায়তা, চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার ও রাজস্ব সংগ্রহের প্রচেষ্টা এগিয়ে নেয়া, জনগণের জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সামাজিক ও অবকাঠামোগত ব্যয় নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে উদ্ভূত বাহ্যিক অভিঘাত মোকাবেলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে শক্তিশালী সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে স্ট্রেনদেনিং ইকোনমিক ম্যানেজমন্টে অ্যান্ড গভর্ন্যান্স প্রোগ্রাম (এসইএমজিপি)-সাবপ্রোগ্রাম ২-এর আওতায় এ অর্থায়ন প্রদান করা হয়েছে।

    এ কর্মসূচিতে এআইআইবির পাশাপাশি এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) যৌথ অর্থায়ন করছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

  • ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

    ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

    ‘প্রতি কেজি ৮২ টাকা ৫৪ পয়সা দরে মসুর ডাল কেনা হবে। সংরক্ষণ ও বিতরণ সুবিধার্থে ৫০ কেজির বস্তায় এ ডাল সরবরাহ করা হবে।’

    বাজার দর স্থিতিশীল রাখতে এবং সারাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে মোট ৮২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল সংগ্রহের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

    বুধবার (১০ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৬তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।

    কর্মকর্তারা জানান, প্রতি কেজি ৮২ টাকা ৫৪ পয়সা দরে মসুর ডাল কেনা হবে। সংরক্ষণ ও বিতরণ সুবিধার্থে ৫০ কেজির বস্তায় এ ডাল সরবরাহ করা হবে।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি উত্থাপন করে। একটি উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে রাজশাহীর পবা উপজেলার দাউকান্দির ভেড়াপোড়া বাজারে নাবিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে অবস্থিত নাবিল নাবা ফুডস লিমিটেডকে এ কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে।

    কর্মকর্তারা আরো বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখা, অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে সরকারের চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ ডাল সংগ্রহ করা হচ্ছে।

  • পাট গবেষণা ইনসটিটিউটের ‘জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫’ অর্জন

    পাট গবেষণা ইনসটিটিউটের ‘জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫’ অর্জন

    পরিবেশ সংরক্ষণ, দূষণ রোধ, গবেষণা এবং পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও প্রচারে যারা/যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করে, তা মূল্যায়ন করতেই সরকার প্রতিবছর ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে এই সম্মানজনক পদক প্রদান করে থাকে।

    পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে অসাধারণ অবদানের জন্য বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনসটিটিউট ‘জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫’ অর্জন করেছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় গত ৭ জুন এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

    ‘জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫’ অর্জন করায় বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনসটিটিউটের (বিজেআরআই) মহাপরিচালক ড. নার্গীস আক্তার কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন।

    সেইসাথে তিনি বিজেআরআইয়ের সকল স্তরের বিজ্ঞানী/কর্মকর্তা এবং কর্মচারীগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই অর্জনে বিজেআরআই পরিবার গর্বিত।

    ‘জাতীয় পরিবেশ পদক নীতিমালা-২০১২ (সংশোধিত ২০১৯)’ অনুযায়ী প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ‘পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন’ শ্রেণিতে স্থান পেয়েছে বিজেআরআই। পুরস্কার হিসেবে বিজেআরআই পাবে ২২ ক্যারেট মানের দুই তোলা ওজনের স্বর্ণের বাজার মূল্য, ৫০ হাজার টাকার চেক, একটি সম্মানসূচক ক্রেস্ট এবং সনদপত্র।

    বিজেআরআই’র প্রকাশনা কর্মকর্তা মো: মুবতাসিম ফুয়াদ জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ, দূষণ রোধ, গবেষণা এবং পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও প্রচারে যারা/যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করে, তা মূল্যায়ন করতেই সরকার প্রতিবছর ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে এই সম্মানজনক পদক প্রদান করে থাকে।

  • ছাদবাগানে মরুর গোলাপ

    ছাদবাগানে মরুর গোলাপ

    আকাশ সাহার মাসে আয় ১৫-২০ হাজার টাকা

    ডেক্স নিউজ: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ছাদবাগানে বিরল প্রজাতির এডোনিয়াম (মরুর গোলাপ) চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন এক যুবক। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির পাশাপাশি শখের বশে ছাদবাগান শুরু করে বর্তমানে সফল উদ্যোক্তা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আকাশ সাহা। ১ হাজার ৮০০ বর্গফুট আয়তনের বাড়ির ছাদে তিনি গড়ে তুলেছেন দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতি ও রঙের এডোনিয়াম ফুলের পাশাপাশি রয়েছে বিরল প্রজাতির অসংখ্য ফুল ও শৌখিন গাছ। এডোনিয়াম গাছের আদি নিবাস দক্ষিণ আফ্রিকার মরু অঞ্চল হলেও বর্তমানে বাংলাদেশের আবহাওয়ায় এটি ভালোভাবে বেড়ে উঠছে। এডোনিয়ামের ইংরেজি নাম ‘ডেজার্ট রোজ’। সরেজমিন দেখা যায়, আকাশ সাহার ছাদবাগানে সাদা, হলুদ, গোলাপি, কমলা, মেরুন, বেগুনি ও নানা বর্ণের এডোনিয়াম ফুল ফুটে রয়েছে। ফুলগুলোর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থী ও ক্রেতারা ভিড় করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছয় বছর আগে শখের বসে মাত্র ২০টি অবেসাম (obesum) জাতের এডোনিয়াম গাছ দিয়ে আকাশ সাহা ছাদবাগানের যাত্রা শুরু করেন। থাইল্যান্ড থেকে সংগ্রহ করা ওই গাছগুলোর পেছনে তখন খরচ হয়েছিল দুই থেকে তিন হাজার টাকা। এরপর দীর্ঘ ছয় বছরের শ্রম, ঘাম ও যত্নে তিনি গড়ে তুলেছেন এই সমৃদ্ধ বাগান। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে কয়েক হাজার গাছ। আকাশ সাহা নিজেই ফুল থেকে বীজ সংগ্রহ এবং সেই বীজ থেকে চারা উৎপাদন করেন। তার ছাদবাগানে বর্তমানে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার বিভিন্ন প্রজাতি ও রঙের ফুলগাছ রয়েছে। প্রতি মাসে এডোনিয়ামসহ বিভিন্ন ফুলের চারা বিক্রি করে তিনি গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করছেন। আকাশ সাহার স্ত্রী ঐশি সাহা বলেন, আমাদের ছাদবাগানে এখন অসংখ্য মরুর গোলাপ গাছ ও চারা রয়েছে। আমরা বিভিন্ন স্থান থেকে এসব গাছ সংগ্রহ করেছি। এছাড়া আরও অনেক ধরনের ফুল ও শৌখিন গাছ রয়েছে। প্রতিদিন সকাল-বিকাল আমরা বাগানের পরিচর্যা করি। এটা আমাদের বাড়তি আনন্দ দেয়। বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ বাগান দেখতে এবং চারা কিনতে আসে। এডোনিয়াম গাছের তুলনামূলক কম পানি ও পরিচর্যা লাগে, তবে ফুলগুলো দেখতে খুবই সুন্দর। গাছের চারা কিনতে আসা আল আমিন বলেন, ‘অনলাইনে এই বাগানের খবর পেয়ে আমি সরাসরি দেখতে এসেছি। এখানে মরু অঞ্চলের অনেক প্রজাতির ফুলগাছ রয়েছে। বাগানটি দেখে খুব ভালো লেগেছে। আমি কয়েকটি গাছ কিনতে এসেছি। আমিও নিজের ছাদবাগানটি আকাশ সাহার মতো সাজাতে চাই। ছাদবাগান সম্পর্কে আকাশ সাহা বলেন, শুরুতে পরিবার ও আত্মীয়স্বজন অনেকেই এটাকে পাগলামি মনে করতেন। তবে শখের বশে শুরু করা কাজটি এখন বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে। অনেক পরিশ্রম ও যত্ন করে বাগানটি গড়ে তুলেছি। এখন কাছের ও দূর-দূরান্তের মানুষ বাগান দেখতে ও চারা কিনতে আসেন। তিনি আরও বলেন, এডোনিয়াম মরুর উদ্ভিদ হলেও এর জন্য বিশেষ ধরনের মাটি তৈরি করতে হয়। মাটি তৈরিতে বালু, ধানের চিটা, কোকোপিট, হাড়ের গুঁড়া, কয়লা, ভার্মি কম্পোস্ট ও ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা হয়। প্রতি মাসে গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার চারা বিক্রি করি। আমার বাগানে বর্তমানে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ২৫ হাজার টাকা মূল্যের গাছ রয়েছে। গরম যত বাড়ে, এডোনিয়াম গাছে তত বেশি ফুল ফোটে। সাধারণত সারা বছরই কিছু না কিছু ফুল থাকে। তবে শীতকালে গাছগুলো সুপ্ত অবস্থায় চলে যায় এবং পাতা ঝরে পড়ে। অতিরিক্ত বৃষ্টি ও পানিতে ফুলের ক্ষতি হয়। এবার গাছগুলোতে রিপটিং ও পুলিং করা হয়েছে, তাই প্রচুর ফুল আসবে বলে আশা করছি। এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভীর রহমান বলেন, বোয়ালমারী কৃষিতে সমৃদ্ধ একটি উপজেলা। এখানকার উদ্যোক্তারা নতুন নতুন উদ্যোগ নিয়ে সামনে আসছেন। আকাশ সাহা তার ছাদবাগানে এডোনিয়াম বা মরুর গোলাপ চাষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, এডোনিয়াম চাষের প্রচলন আমাদের এলাকায় খুব বেশি নেই। বোয়ালমারীর মাধ্যমে ফরিদপুরে এ চাষের আরও বিস্তার ঘটবে বলে আশা করছি। বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম রকিবুল হাসান বলেন, আকাশ সাহার মতো সফল উদ্যোক্তাদের পাশে থাকতে উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মকভাবে কাজ করবে।

    এ এম

  • আমের বাম্পার ফলন হতাশ কৃষক

    আমের বাম্পার ফলন হতাশ কৃষক

    উৎপাদনে শীর্ষে রপ্তানি তলানিতে

    বাংলাদেশের আম স্বাদে ও গন্ধে যে কোনো ক্রেতাকে সহজেই আকৃষ্ট করে। প্রতিবছরই আম চাষ বাড়ছে, বাড়ছে উৎপাদনও। তবে বাড়ছে না রপ্তানি। উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম হলেও রপ্তানি তলানিতে। দেশে দেশে আমকেন্দ্রিক শিল্পের প্রসার ঘটলেও আমাদের দেশ তার ধারে-কাছেও নেই। কৃষি বিভাগ বলছে, বাংলাদেশের আমের বাজার ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। শুধু রপ্তানি সহজ হলে তা ২৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। তবে রপ্তানি বাড়াতে হবে। শুধু সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মানসম্মত ও নিরাপদ আম রপ্তানি করে শীর্ষে উঠে আসা সম্ভব। শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশ হওয়ার পরও ৪ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশের হিস্যা নগণ্য। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদন থেকে শুরু করে বিমানবন্দর পর্যন্ত যথাযথ ব্যবস্থাপনা পরিপালন না করলে রপ্তানির এ সুযোগ কাজে লাগানো যাবে না।কয়েক বছর ধরেই রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলায় রপ্তানিযোগ্য বিপুল পরিমাণ আম উৎপাদিত হচ্ছে। কিন্তু সরকারের বিদ্যমান নীতির কারণে রপ্তানি বাড়ছে না। পূরণ হচ্ছে না রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রাও। যেটুকু রপ্তানি হয় তাতে চাষিরা উপকৃত হচ্ছেন না। রাজশাহী অঞ্চলের চাষিদের আরও অভিযোগ, ঢাকার রপ্তানি সিন্ডিকেটের পেটে যাচ্ছে পুরো মুনাফা। ঢাকার সিন্ডিকেট চাষি পর্যায় থেকে আম না কিনে আড়ত থেকে আম কিনে বিদেশে পাঠাচ্ছে। মানসম্মত আম না যাওয়ায় বিদেশে বাংলাদেশি আমের বাজার তৈরি হচ্ছে না।

    কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ মৌসুমে দুই লাখ ৫ হাজার ২০৫ হেক্টর বাগান থেকে আম উৎপাদিত হয় ২৬ লাখ ৬২ হাজার ৫৮৩ টন। ২০২৫-২৬ মৌসুমে উৎপাদন কমে ২৫ লাখ ৩৮ হাজার ৯৮৭ টনে দাঁড়ায়। চলতি ২০২৬-২৭ মৌসুমে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৬ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯৮ টন। এর আগে ২০২২-২৩ মৌসুমে দেশে সর্বোচ্চ ২৮ লাখ ৬৭ হাজার ৬৭৮ টন আম উৎপাদিত হয়েছিল।

    বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিদেশে রাজশাহীর আমের বিপুল চাহিদা আছে। আন্তর্জাতিক বাজারে আম রপ্তানিতে জায়গা পেতে হলে বাগান থেকে ফল সংগ্রহ, নির্দিষ্ট মানে সংরক্ষণ, প্যাকেজিং ও পরিবহণ সুবিধা থাকা জরুরি যা এখনো গড়ে ওঠেনি। রাজশাহী আঞ্চলিক ফল গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রিদওয়ানুল কারিম জানান, আম রপ্তানির ক্ষেত্রে নির্ধারিত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড রয়েছে। রপ্তানি আমে দাগ না থাকা ও সঠিক কৌশলে ফ্রুট ব্যাগিং করা প্রয়োজন। আমে পোকা থাকা চলবে না। আমকে থার্মাল হাউজে জীবাণুমুক্ত করাও দরকার পড়ে। গ্যাপ (গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্রাকটিস) সনদ লাগে। চাষিরা এসব ঝামেলা পোহাতে পারেন না। তিনি বলেন, আমপ্রধান এলাকায় রপ্তানি উপযোগী অবকাঠামো তৈরি করা জরুরি। এসব নিয়ে কাজ হচ্ছে। সর্বোপরি সরকারি সহায়তাও খুব প্রয়োজন।

    রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনকারী চাঁপাইনবাবগঞ্জের রফিকুল ইসলাম বলেন, বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আম রপ্তানি না বাড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে বাগান থেকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ঢাকায় আম পাঠাতে শীতাতপ ভ্যানের অভাব ও বিপুল পরিবহণ খরচ। বাগান থেকে ঢাকায় ও বিদেশ পর্যন্ত এক কেজি আমের পরিবহণ খরচ প্রায় ৮৫০ টাকা। আমরা রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন করতে সক্ষম হলেও রপ্তানির সব ধাপ অতিক্রম করা অনেক কঠিন। রপ্তানি বাড়াতে হলে সবকিছু সহজ করতে হবে।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের আরেক উদ্যোক্ত মুনজের আলম মানিক বলেন, অতীতে চেষ্টা করেছি রপ্তানির জটিল ধাপগুলো অতিক্রমের। কিন্তু কাজটা বিদ্যমান নীতি ব্যবস্থায় সহজ নয়। রপ্তানির ক্ষেত্রে অন্যতম সমস্যা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের কোল্ড চেইন সুবিধার অভাব, গ্যাপ সনদের স্বল্পতা, উন্নত প্যাকেজিং, প্রমিতকরণ ও পর্যায়িতকরণ ব্যবস্থার ঘাটতি, উচ্চ পরিবহণ ব্যয় এবং ফাইটোস্যানিটারি শর্ত পূরণের জটিলতা বাংলাদেশের আম রপ্তানিতে বড় বাধা।

    জানা গেছে, আম রপ্তানিতে উৎসাহদানে ‘রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্প’ নামের একটি প্রকল্প চলছে কয়েক বছর ধরে। এই প্রকল্পের আওতায় রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনে চাষিদের প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা দেওয়া হয়ে থাকে। দেওয়া হয় হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ। প্রকল্পের আওতায় ‘উত্তম কৃষিচর্চা’ (গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্রাকটিস) বা গ্যাপ নামের কর্মসূচি আছে। এর আওতায় আম উৎপাদন, ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি এবং পরিবেশবান্ধব কলাকৌশল চাষিদের শিক্ষা দেওয়া হয়। এছাড়া চাষিদের সঙ্গে রপ্তানিকারকদের সংযোগ স্থাপন ও সহায়তা প্রদান করা হয়। এর পরও রপ্তানিতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না।

    তথ্য বলছে, বর্তমানে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের ৩৮টি দেশে আম রপ্তানি হয়। চাষিরা বাড়তি খরচ করে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন করলেও রপ্তানির সুযোগ পাচ্ছেন না। এ বছরও আম রপ্তানির অর্ধেক লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না। ফলে চাষিদের হতাশা থেকেই যাচ্ছে। চাষিরা বলছেন, এ বছরও ৩০ হাজার টন রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদিত হয়েছে। এর বিপরীতে লক্ষ্যমাত্রা মাত্র ৫ হাজার টন।

    জানা গেছে, ২০১৬-১৭ মৌসুমে আম রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩০৯ টন। এর পাঁচ বছর পর আম রপ্তানির পরিমাণ বেড়ে হয় ১ হাজার ৭৬৭ টন। ২০২২-২৩ মৌসুমে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ১০০ টন আম যায় বিদেশে। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আম রপ্তানি কমে হয় ১ হাজার ৩২১ টন। ২০২৪-২৫ মৌসুমে আম রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ৫ হাজার মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হলেও রপ্তানি হয় ২ হাজার ১২১ টন। বিশ্ববাজারে রপ্তানি হওয়া আমের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মার্কেট শেয়ার মাত্র ১ শতাংশেরও কম।

    জানা গেছে, এবারও চাঁপাইনবাবগঞ্জ দেশের শীর্ষ আম উৎপাদনকারী জেলা। এখানে ৩৭ হাজার ৪৯৮ হেক্টর বাগান থেকে ৪ লাখ ৬৯ হাজার টন আম উৎপাদন হচ্ছে। এবার এ জেলা থেকে ২৫০ টন আম বিদেশে যাবে। আম উৎপাদনে এগিয়ে যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী জেলা নওগাঁ। নওগাঁর ৩০ হাজার ৩২১ হেক্টর বাগানে এবার ৩ লাখ ৮৭ হাজার টন আম ফলনের আশা আছে। নওগাঁ থেকে এবার ১০০ টন আম বিদেশে যাবে। গত কয়েক বছরে নওগাঁ থেকে ২৫০ টন পর্যন্ত আম বিদেশে গেছে। এবার রাজশাহীর ১৯ হাজার ৪৬২ হেক্টর বাগান থেকে ২ লাখ ৫৬ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক পাপিয়া রহমান জানান, রাজশাহীতে আমের ফলন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হবে। কিছু আম রপ্তানিও হবে। অন্যদিকে অঞ্চলের আরেক জেলা নাটোরেও আম চাষ বাড়ছে। এই জেলার ৫ হাজার ৬৯৩ হেক্টরে ৬৮ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও উৎপাদন বেশি হবে বলে কৃষি বিভাগ আশা করছ।

    এ এম

  • ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভুল তথ্য

    ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভুল তথ্য

    অর্থনীতি ডেস্ক:

    জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংকের পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প (আরডিএস) নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদনের বড় গরমিল পাওয়া গেছে। সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন, এই প্রকল্পের আওতায় ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে এবং এর মধ্যে একটি বড় অংশের কোনো হদিস নেই। তবে ব্যাংকের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, আরডিএস প্রকল্পের মোট ঋণ স্থিতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবির তিন ভাগের এক ভাগেরও কম।

    মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প (আরডিএস) ইসলামী ব্যাংকের একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প আছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আগে ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। ৫ আগস্টের পর নির্বাচনী বৈতরণি পার হওয়ার জন্য আরও ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, যেসব টাকার কোনো হদিস নেই।

    তবে ইসলামী ব্যাংকের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই দাবির সঙ্গে বাস্তব চিত্রের কোনো মিল নেই। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে আরডিএস প্রকল্পের মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে এই ঋণ স্থিতি ছিল ৬ হাজার ৭১২ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরে এই খাতে ঋণ বেড়েছে মাত্র ৭৭ কোটি টাকা বা ১ দশমিক ১৪ শতাংশ।

    প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, বিতরণকৃত এই ঋণের সিংহভাগই আদায় হচ্ছে এবং খেলাপি ঋণের পরিমাণ অত্যন্ত সামান্য। মোট ঋণের মধ্যে খেলাপি হয়ে পড়েছে মাত্র ২৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা। গত বছর শেষে এই খাতের ঋণ আদায়ের হার ছিল ৯৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, যা ২০২৪ সাল শেষে ছিল ৯৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরডিএস প্রকল্প শুরুর পর থেকে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ৩৫ হাজার ৩৫২টি গ্রামের ১৭ লাখ ৭৫ হাজার পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় ঋণ দেওয়া হয়েছে।

  • বাজেটে দাম কমতে পারে যেসব পণ্যের

    বাজেটে দাম কমতে পারে যেসব পণ্যের

    অর্থনীতি ডেস্ক:

    আগামী বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকাল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট উত্থাপন করা হবে। জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট পেশ করবেন। এ বাজেট পাস হলে এটি হবে দেশের ৫৫তম এবং বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট।আসন্ন বাজেটে এবার স্বস্তি মিলতে পারে গৃহিনীর জন্য। এবার বেশ কিছু কিচেন পণ্যের দাম কমতে পারে বাজেটে।

    কমতে পারে যেসব পণ্যের দাম

    দাম কমতে পারে ব্লেন্ডার, জুসার, মিক্সার, গ্রাইন্ডার, ইলেক্ট্রিক কেটলি, আয়রন, রাইস কুকার, মাল্টি কুকার, প্রেসার কুকারের পাশপাশি সমজাতীয় পণ্য ইলেক্ট্রিক কুকার, ইন্ডাকশন কুকার, ইনফ্রারেড কুকার, ওয়াটার পিউরিফায়ার ও ওয়াটার হিটার/গিজারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য।

    বাজেটে কম্পিউটার ব্যবহাকারীরাও পাবেন সুখবর। আসন্ন বাজেটে দাম কমতে পারে কম্পিউটার, প্রিন্টার, মনিটরের। এছাড়া দাম কমতে পারে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির প্রয়োজনীয় ১৫ পণ্যের।

    চিকিৎসা পণ্যেও দাম কমতে পারে বাজেটে। এই তালিকায় রয়েছে কিডনি ডায়লাইসিস ফিল্টার।

    এর বাইরে দাম কমতে পারে স্বর্ণালঙ্কারেও। আসন্ন বাজেটে স্বর্ণালঙ্কার বিক্রিতে ৫ শতাংশ উৎসে কর কমে হবে দশমিক ৫ শতাংশ।

  • বাড়ছে না বিড়ির দাম

    বাড়ছে না বিড়ির দাম

    অর্থনীতি ডেস্ক:

    আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিড়ির মূল্য এবং এর ওপর প্রযোজ্য করহার অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান।

    জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরার এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। সংসদ সদস্য তার প্রশ্নে বিড়ির ওপর সুনির্দিষ্ট হারে কর বৃদ্ধি, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জের হার পুনর্মূল্যায়ন এবং বিড়ির খুচরা মূল্য আরও বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিলেন।

    জবাবে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার আসন্ন বাজেটে বিড়ির ক্ষেত্রে বিদ্যমান মূল্য এবং কর কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন না আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে গত বছরের ন্যায় আগামী অর্থবছরেও বিড়ির বর্তমান দাম ও করহার বহাল থাকছে।

  • বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপির সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর মি. এরিক গিলান এবং রাজনৈতিক কর্মকর্তা হারমানোশি বার্নার্ড। অত্যন্ত আন্তরিক, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে সাক্ষাৎ হয়েছে।বৈঠকে নির্বাচন-পরবর্তী দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় বাজেট, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বিভিন্ন দিকসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।

    এছাড়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের বিকাশ, সুশাসন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

    বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা টিমের সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।

  • একনেকে

    একনেকে

    ১০ প্রকল্প অনুমোদন

    অর্থনীতি ডেস্ক:

    জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রায় ৩ হাজার ৮৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে নতুন ৫টি, সংশোধিত ৩টি এবং মেয়াদ বৃদ্ধির ২টি প্রকল্প।

    মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান।

    পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত ১০ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হবে ৩ হাজার ৮১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয় হবে ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

    অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রকল্প হলো চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে কক্সবাজারের ঈদমনি পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আওতায় প্রকল্পটির মাধ্যমে আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া (ঈদমনি) আঞ্চলিক মহাসড়ককে যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীত করা হবে।

    এ ছাড়া পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘বরিশাল সেচ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় নেওয়া হয়েছে ‘সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ’ প্রকল্প। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতায় ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন নির্মাণ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতায় দেশের ৩৩টি জেলার সার্কিট হাউস এবং ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিফট সংযোজনের প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে অনুমোদন পেয়েছে ‘বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ প্রকল্প-২’।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘ঢাকা সিএমএইচে ক্যানসার সেন্টার নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় দুটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এগুলো হলো—‘মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট’ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন এবং দেশের ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন।

    এ ছাড়া বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে।

    সভায় ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ছয়টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করা হয়। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ৩০টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন উন্নয়ন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও যানজট নিরসন, ডাকসেবার সম্প্রসারণ, ঢাকা সেনানিবাসে অবকাঠামো সম্প্রসারণ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায় এবং খুলনায় পাইকগাছা কৃষি কলেজ স্থাপন প্রকল্প।সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এমডি ও চেয়ারম্যান নিয়োগ

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এমডি ও চেয়ারম্যান নিয়োগ

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এমডি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার, কাজি শায়রুল হাসানকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

    সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার ও চেয়ারম্যান কাজি শায়রুল হাসানকে যোগদানের তারিখ থেকে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হলো।

    চিঠিতে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী আবেদুর রহমান সিকদারকে নিয়োগের বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য ব্যাংকের পর্ষদ চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করা হয়েছে।

  • বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য রফতানি হয় : বাণিজ্যমন্ত্রী

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য রফতানি হয় : বাণিজ্যমন্ত্রী

    কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের খাদ্যপণ্যের রফতানি আরো সম্প্রসারিত হবে এবং বৈশ্বিক বাজারে দেশের অবস্থান আরো সুদৃঢ় হবে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশসমূহসহ বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে রফতানি করা হচ্ছে। বৈদেশিক বাজারে এসব পণ্যের চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশের রফতানি খাতকে আরো শক্তিশালী করছে।

    আজ সোমবার সংসদে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সরকারি দলের সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের বিকাশের ফলে বাংলাদেশে উৎপাদিত নানা ধরণের খাদ্যপণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে স্থান করে নিয়েছে। বর্তমানে এসব পণ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কানাডা, ভারত, নেদারল্যান্ডস এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে নিয়মিত রফতানি করা হচ্ছে।

    মন্ত্রী জানান, রফতানিযোগ্য খাদ্যপণ্যের তালিকায় রয়েছে চা, বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, ফলমূল, পান পাতা, তৈলবীজ, চিনি, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ভোজ্য তেল, বিভিন্ন ধরনের কোমল পানীয় এবং সাদা ও হিমায়িত মাছ।

    তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কারণে বাংলাদেশের খাদ্য পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বিদেশী বাজারে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সাথে রফতানি বাজার বহুমুখীকরণ এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানের উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, খাদ্য ও কৃষিভিত্তিক পণ্যের রফতানি বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। সরকার রফতানিকারকদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান, পণ্যের মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে।

    তিনি আশা প্রকাশ করেন, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের খাদ্যপণ্যের রফতানি আরো সম্প্রসারিত হবে এবং বৈশ্বিক বাজারে দেশের অবস্থান আরো সুদৃঢ় হবে।

  • জামায়াত ছায়া বাজেট প্রকাশ করবে মঙ্গলবার

    জামায়াত ছায়া বাজেট প্রকাশ করবে মঙ্গলবার

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সামনে রেখে ‘ছায়া বাজেট’ প্রকাশ করবে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।

    মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এই ছায়া বাজেট উপস্থাপন করবে দলটি।

    জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, ‘ছায়া বাজেট’ প্রকাশের সংবাদ সম্মেলনে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির শফিকুর রহমানসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

    গত শুক্রবার জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক এনসিপির পক্ষ থেকেও একটি ‘ছায়া বাজেট’ উপস্থাপন করা হয়। এতে দেশের অর্থনীতিকে ১২ খাতে ভাগ করে ৭১টি প্রস্তাব দেয় দলটি।

  • প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকা কমল স্বর্ণের দাম

    প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকা কমল স্বর্ণের দাম

    ঈদের আমেজ কাটতে না কাটতেই দেশের বাজারে আবারও কমল স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৪৮২ টাকা পর্যন্ত কমানোর ঘোষণা দিয়েছে।

    শনিবার সকাল ১০টা থেকে এই নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে বাজুস। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের বা পিওর গোল্ডের মূল্য হ্রাস পাওয়ার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন থেকে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ কিনতে খরচ পড়বে ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা।

    এছাড়া অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও বেশ কমেছে। এখন থেকে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৩ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৪ টাকায় বিক্রি হবে। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকা।

    এর আগে গত ২ জুন ঈদের পর প্রথম দফায় স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। সেই সময় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা।

    চলতি বছরে এই নিয়ে মোট ৭১ বারের মতো স্বর্ণের দাম ওঠানামা করল। এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ৩৭ বার এবং কমানো হলো ৩৪ বার।

  • বিশ্বকাপ ফুটবল দেখাতে এবার খরচ হবে ৭৩ কোটি টাকা

    বিশ্বকাপ ফুটবল দেখাতে এবার খরচ হবে ৭৩ কোটি টাকা

    ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা থেকে এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখানোর সম্প্রচারস্বত্ব কিনছে সরকার। ফিফা থেকে কোনো দরপত্র ছাড়া অর্থাৎ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জন্য এ স্বত্ব কেনা হচ্ছে। এতে মোট খরচ হচ্ছে ৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আগেরবারের চেয়ে এবার খরচ কমল ২৫ কোটি টাকা।

    আজ রোববার জাতীয় সংসদের মন্ত্রিসভা কক্ষে অর্থনৈতিক বিষয়–সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রথমে বিষয়টির নীতিগত অনুমোদন হয়। এরপর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ফিফা থেকে সরাসরি সম্প্রচারস্বত্ব কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। উভয় বৈঠকেই সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    বৈঠক শেষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপন করা এ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়। ১১ জুন শুরু হচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে জমজমাট এ আসর। এটি বিশ্বকাপের ২৩তম আসর, যা ২০২৬ সালের ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে। উত্তর আমেরিকার কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র—এ তিন দেশের ১৬টি শহরে যৌথভাবে এ আয়োজন করা হচ্ছে।

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সূত্র জানা গেছে, বিটিভিতে বিশ্বকাপের সব খেলা দেখানোর জন্য সব ধরনের স্বত্ব কেনা হচ্ছে ৩৮ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারে। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৭ পয়সা দরে হিসাব করে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ঠিক করেছে ৪৭ কোটি ২৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), করসহ এতে মোট খরচ হবে ৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ফলে কোনো ধরনের কেব্‌ল নেটওয়ার্ক বা স্যাটেলাইট সংযোগ ছাড়াই বিটিভিতে এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    আগের বারের অর্থাৎ ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রচারস্বত্ব কিনতে বিটিভি অনেক জটিল প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছিল। সেবার এ স্বত্ব কেনা হয়েছিল ৯৮ কোটি টাকায়। বিটিভির কাছে তা বিক্রি করেছিল তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোম্পানি।

  • চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ ১৭.৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে

    চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ ১৭.৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে

    ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৬ জুন পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ৩৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২৮ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার।

    চলতি অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৬ জুন পর্যন্ত প্রবাসী বাংলাদেশিরা ৩৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন (৩ হাজার ৩৪৪ কোটি) মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি।

    আজ রোববার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৬ জুন পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ৩৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২৮ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার।

    ২০২৬ সালের ৪ থেকে ৬ জুনের মধ্যে প্রবাসীরা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ২০ কোটি ৩২ লাখ মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে প্রবাসী কর্মীদের অব্যাহত অবদানের প্রতিফলন।

    জুন মাসের প্রথম ছয় দিনে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৬৮ কোটি ৩৪ লাখ ডলার। যদিও আগের বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৮৬ কোটি ২৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার, তবু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সারা অর্থবছরজুড়ে রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির কারণে সামগ্রিক চিত্র অত্যন্ত ইতিবাচক।

    অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। এটি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে, আমদানি ব্যয় মেটাতে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করছে।

    সর্বশেষ এ পরিসংখ্যান আবারো প্রমাণ করেছে যে, রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এটি লাখো পরিবারের জীবনযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিচ্ছে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সহনশীলতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।

  • মাওলানা আব্দুল হালিম

    মাওলানা আব্দুল হালিম

    ইসলামী ব্যাংক ধ্বংসের ষড়যন্ত্র আমরা রুখে দেব না

    ডে ক্স নিউজ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেছেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ব্যাংক ডাকাত এস আলমের হাতে তুলে দিয়ে ইসলামী ব্যাংককে আবারও ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে বর্তমান সরকার। আমরা এই ষড়যন্ত্র সফল হতে দেব না।

    তিনি রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক মঞ্চ আয়োজিত ‘ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, আর্থিক নিরাপত্তা ও গ্রাহকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।ইসলামী ব্যাংক ধ্বংসের নানা ষড়যন্ত্র চলছে জানিয়ে মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, বিএনপি সরকার এই ধ্বংসের নেতৃত্ব দিক, দেশের মানুষ তা চায় না। তিনি বলেন, ‘ব্যবসা হালাল ও সুদ হারাম’ এই মডেল প্রতিষ্ঠার জন্যই ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই ব্যাংকের ৩ কোটি গ্রাহককে হালকাভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই।

    তিনি সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হলে সরকার বা কারও জন্য সুখকর হবে না। ইসলামী ব্যাংককে ধ্বংস করে অন্যকে সুবিধা দেবেন—এটা আমরা গ্রাহকেরা মেনে নেব না। ব্যাংক খাতকে রাজনীতিকরণ করা যাবে না। আমরা ব্যাংকের নিরাপত্তা ও সুন্দর বন্দোবস্ত চাই। ইসলামী ব্যাংক রক্ষায় গ্রাহকেরাই আন্দোলন করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ড. ফয়জুল হক বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকার আর পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের কর্মকাণ্ডের মধ্যে কোনো পার্থক্য খুঁজে পাচ্ছি না। এই সরকারের সময়েও যেভাবে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের রক্ত ঝরাতে হচ্ছে, তা লজ্জার বিষয়। এটা জুলাই বিপ্লবকেও প্রশ্নবিদ্ধ করার শামিল। তিনি সরকারকে হঁশিয়ার করে বলেন, ইসলামী ব্যাংক দখল করলে এর মধ্য দিয়েই আপনাদের পতন হবে।

    লে. কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কোনো ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। এই ব্যাংক আমাদের ব্যাংক, এটা আমাদের সিদ্ধান্তেই চলবে।

    নাগরিক মঞ্চের প্রধান সমন্বয়কারী আহসান উল্লাহ শামীমের সভাপতিত্বে ও মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন, লে. কর্নেল (অব.) ফরিদুল আকবর, অ্যাডভোকেট মঈন উদ্দিন, অধ্যাপক ড. আবু হানিফ খান, ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান, কর্নেল (অব.) আবু ইউসুফ জুবায়ের, জাগপা নেতা আসাদুর রহমান খান, নৌ কমান্ডার (অব.) সিদ্দিকুর রহমান, মেজর (অব.) হারুন অর রশীদ, ড. ফরিদ উদ্দিন, শরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

    এ এম

  • বাজেট অধিবেশন শুরু

    বাজেট অধিবেশন শুরু

    শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন। রোববার বর্তমান সরকারের প্রথম এই বাজেট অধিবেশন শুরু হয় বেলা ৩টায়। আগামী ১১ জুন আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করা হবে। বাজেট অধিবেশন ঘিরে সংসদে সোচ্চার হচ্ছে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য।

    পাশাপাশি পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির আমেজ কাটিয়ে পূর্বঘোষিত বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজপথেও ফের সক্রিয় হচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্য। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবির সঙ্গে বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ইসলামী ব্যাংকে বিতর্কিত ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান নিয়োগসহ সাম্প্রতিক বিষয়গুলো যুক্ত হবে তাদের আন্দোলন কর্মসূচিতে। জোটগত ছাড়াও আলাদাভাবে শরিক দলগুলো চলমান জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রতিবাদ-বিক্ষাভে সোচ্চার থাকবে বলে জানা গেছে।

    সূত্রমতে, সম্প্রতি বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীসহ সব মহানগরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে জামায়াতে ইসলামী। ওই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়ে গত বুধবার বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছিলেন, এ কর্মসূচি কোনো দলের নয়, এটি ১৮ কোটি মানুষের। দলের জন্য নয়, জনগণের জন্য দাবি নিয়ে রাস্তায় নামবে জামায়াতে ইসলামী। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থে জামায়াত শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করবে।

    এদিকে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গত বুধবার রাজধানীতে বিক্ষোভ করে। গতকাল শনিবার রাজধানীতে একই বিষয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে খেলাফত মজলিস। এছাড়া আজ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রাজধানীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। অন্যান্য দলও বক্তব্য-বিবৃতির মাধ্যমে সরকারের জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে।

    জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নে গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে গত ৩০ এপ্রিল লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক ও প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিভাগীয় শহরগুলোয় সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। ঘোষণা অনুযায়ী ঈদের আগে গত ১৬ মে রাজশাহীতে প্রথম সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পর্যায়ক্রমে ১৩ জুন চট্টগ্রাম, ২০ জুন খুলনা, ২৭ জুন ময়মনসিংহ, ১১ জুলাই রংপুর, ১৮ জুলাই বরিশাল এবং ২৫ জুলাই সিলেটে সমাবেশ করবে জোটটি।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছিলেন, সমাবেশের পাশাপাশি শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের, যার মাধ্যমে আন্দোলনের পক্ষে জনমত গড়ে তোলা হবে। পরে অক্টোবরে ঢাকায় মহাসমাবেশ করা হবে বলেও জানান তিনি।

    এর আগে গত ১৬ এপ্রিল ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোয় গণমিছিল করে ১১ দলীয় জোট।

  • চুয়াডাঙ্গায় ঝড়ের রাতে বিদ্যুৎহীন সদর হাসপাতাল, মোবাইলের আলোয় চিকিৎসা; তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ

    চুয়াডাঙ্গায় ঝড়ের রাতে বিদ্যুৎহীন সদর হাসপাতাল, মোবাইলের আলোয় চিকিৎসা; তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গায় ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে মোবাইল ফোনের টর্চের আলোয় চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

    বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত ৮টার দিকে হাসপাতালের এমন চিত্র চোখে পড়ে, যা জরুরি স্বাস্থ্যসেবার মান ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

    জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শুরু হওয়া ঝড়-বৃষ্টির পর চুয়াডাঙ্গা শহর ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর আলমডাঙ্গার নান্দাবারে বজ্রপাত ও ঘোড়ামারা ব্রিজ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়।

    হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নতুন ভবন পুরোপুরি অন্ধকারে নিমজ্জিত। পুরোনো ভবনে জেনারেটর চালু থাকলেও নতুন ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়নি। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করে। পরে নতুন ভবনে জেনারেটর চালু করা হলেও জরুরি বিভাগের কক্ষে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়নি।

    এ অবস্থায় কাটা-ছেঁড়া ও আহত রোগীদের চিকিৎসা দিতে চিকিৎসকদের মোবাইল ফোনের টর্চের আলো ব্যবহার করতে দেখা যায়। অন্তত চারজন রোগীকে টর্চের আলোয় সেলাই ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, একটি জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এমন পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মতো স্বাভাবিক দুর্যোগ মোকাবিলায় হাসপাতালের প্রস্তুতি ও জেনারেটর ব্যবস্থাপনা নিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

    এ বিষয়ে জানতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার-এর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে হাসপাতালের এমন অব্যবস্থাপনা ও জরুরি বিভাগের বিদ্যুৎ সংকট সম্পর্কে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    ঝড়ের রাতে বিদ্যুৎহীন হাসপাতালে মোবাইলের আলোয় চিকিৎসা দেওয়ার ঘটনায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে হাসপাতালের জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ ও জেনারেটর ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর এবং জবাবদিহিমূলক করা হোক।

  • বিদ্যুৎচালিত এম্বুলেন্সের পরিকল্পনা করছে সরকার

    বিদ্যুৎচালিত এম্বুলেন্সের পরিকল্পনা করছে সরকার

    প্রাথমিক ও সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশীয় প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎচালিত অ্যাম্বুলেন্স তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

    শনিবার (৬ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, জনগণের জন্য দ্রুত ও আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটি উপজেলাকে মডেল হিসেবে ধরে প্রকল্পটি শুরু করা হবে।

    তিনি আরও জানান, পরিকল্পনার আওতায় গ্রাম থেকে উপজেলা, উপজেলা থেকে জেলা এবং জেলা থেকে রাজধানী—এই তিন স্তরে অ্যাম্বুলেন্স সেবা উন্নয়নের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    সরকারের লক্ষ্য হলো দেশীয়ভাবে অ্যাম্বুলেন্স উৎপাদনের মাধ্যমে আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং কম খরচে আধুনিক চিকিৎসা পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

    সভায় বিশেষজ্ঞরা জানান, স্থানীয়ভাবে তৈরি অ্যাম্বুলেন্সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, অক্সিজেন সাপোর্টসহ জরুরি সেবার সুবিধা সংযোজন করা হবে। দেশের ভৌগোলিক ও সড়ক পরিস্থিতি বিবেচনায় এসব যানবাহনের নকশা করা হবে।

    সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্যসেবা সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

  • জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ

    জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ

    দফায় দফায় জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাইতুল মোকাররমের উত্তর গেইট থেকে মিছিল বের হয়। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেয়। মূল্যবৃদ্ধি জনবিরোধী ও গণবিরোধী আখ্যা দিয়ে দলটি অবিলম্বে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

    বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সংবাদ সম্মেলন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম জুন থেকে কার্যকর।

  • ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বাড়ছে না বিদ্যুতের দাম

    ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বাড়ছে না বিদ্যুতের দাম

    বিদ্যুতের ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের জন্য দাম বাড়ছে না। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এ ঘোষণা দিয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষের কথা বিবেচনা করে বিদ্যুৎ বিভাগের অনুরোধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    এর আগে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর দিনই আবাসিকের নিচের স্তরে দুই ধাপের বর্ধিত দাম প্রত্যাহারের আবেদন করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। ৫০ ইউনিট ব্যবহারকারী (লাইফলাইন) ও প্রথম ধাপে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত আগের দাম বহাল রাখার আবেদন করা হয়। আবার শূন্য থেকে ২০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন একটি স্ল্যাব চালুর কথাও আবেদনে বলা হয়।

    পিডিবির নতুন আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিইআরসির এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, এখন কমিশন নতুন একটি আদেশ দেবে। এতে সরকারের ভর্তুকি কিছুটা বাড়লেও প্রান্তিক গ্রাহকেরা উপকৃত হবেন।

    বিদ্যুৎ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিইআরসি পুনর্নির্ধারিত ট্যারিফে বিদ্যুৎ বিভাগের অনুমোদনক্রমে পিডিবি কর্তৃক পাঠানো প্রান্তিক (লাইফলাইন) গ্রাহকদের জন্য প্রস্তাবিত ট্যারিফের প্রতিফলন ঘটেনি—যা বিদ্যুৎ বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

    বিদ্যুৎ বিভাগ মনে করে, এর ফলে প্রান্তিক গ্রাহকেরা (লাইফলাইন), বিশেষ করে, নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে। ফলে তাদের জীবনযাত্রার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

    দেশের নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির জন্য বর্তমান সরকার সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে প্রান্তিক গ্রাহকদের জন্য পুনর্নির্ধারিত ট্যারিফ সরকারের গৃহীত নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে পুনর্নির্ধারিত ট্যারিফ পর্যালোচনা করে প্রান্তিক গ্রাহকদের (লাইফলাইন) জন্য পিডিবি কর্তৃক গত ৩ মে পাঠানো প্রস্তাবের আলোকে পুনর্নির্ধারণের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ হতে বিইআরসিকে অনুরোধ করে পত্র পাঠানো হয়েছে।

  • গাংনীতে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের মানববন্ধন, ৭ দফা দাবি উত্থাপন

    গাংনীতে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের মানববন্ধন, ৭ দফা দাবি উত্থাপন


    ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন অনিয়ম, লুটপাটের অভিযোগ এবং ব্যাংকের সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে মেহেরপুরের গাংনী বাসস্ট্যান্ড চত্বরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল ১০টায় ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম, গাংনী-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে প্রায় শতাধিক গ্রাহক অংশগ্রহণ করেন। এসময় তারা বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন এবং ব্যাংক খাতে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে অতীতে যেসব অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা।

    মানববন্ধন থেকে গ্রাহকরা ৭ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগ, সাবেক এমডি ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহাল, লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে অপসারণ, ব্যাংক রেজল্যুশন অ্যাক্টের ১৮(ক) ধারা বাতিল, এস আলম গ্রুপের দখল করা মালিকানা ও দেশে থাকা সম্পদ বিক্রি করে লুট হওয়া অর্থের সমন্বয়, এস আলম যাতে ভবিষ্যতে কোনো ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে ফিরতে না পারে তা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংক লুটের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা।

    বক্তারা বলেন, গ্রাহকদের স্বার্থ ও দেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। অন্যথায় তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।

    মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সমাপ্ত করেন।

  • টার্নওভার ভিত্তির পরিবর্তে আসছে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট

    টার্নওভার ভিত্তির পরিবর্তে আসছে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট

    বার্ষিক টার্নওভার ৩০ থেকে ৫০ লাখ টাকা হলে সে প্রতিষ্ঠানের জন্য ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধনের পরিবর্তে ‘তালিকাভুক্তির সনদ’ নিতে হয় এবং টার্নওভারের ওপর ৪ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদান করতে হয়। কিন্তু ৩০ লাখের নিচে টার্নওভারের প্রতিষ্ঠানের জন্য ভ্যাট নিবন্ধন বা ‘তালিকাভুক্তির সনদ’ কোনোটাই নিতে হয় না। এর ফলে ৩০ লাখের নিচে টার্নওভারের কোনো প্রতিষ্ঠানকে কোনো ধরনের ভ্যাট দিতে হয় না। আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে টার্নওভারের এ সীমা তুলে দিয়ে প্রায় সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টার্নওভারের ৪ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপ করা হবে। ভ্যাটের পরিমাণ মাসিক এক হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ফলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে বছরে ভ্যাট বাবদ ১২ হাজার থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, আমাদের দেশে দোকানদাররা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যে (এমআরপি) পণ্য বিক্রি করে থাকেন। এসব খুচরা মূল্যের সঙ্গে ব্যবসায় কমিশনের পাশাপাশি ভ্যাটও যুক্ত থাকে। ফলে ক্রেতাদের কাছ থেকে তারা ভ্যাট নিচ্ছেন। কিন্তু সব দোকানদার সে ভ্যাট সরকারের কোষাগারে দিচ্ছেন না। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আমরা এখনই সে ভ্যাট নিতে চাচ্ছি না। কিন্তু যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ‘তালিকাভুক্তির সনদ’ প্রয়োজন হয়, সেসব প্রতিষ্ঠানকে আমরা ভ্যাটের আওতায় আনতে চাচ্ছি। এজন্য বর্তমানে ৩০ থেকে ৫০ লাখ টাকার নিচে টার্নওভারের সীমা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব থাকবে। টার্নওভার যাই থাকুক না কেন, তালিকাভুক্তির সনদ নেওয়া প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট দিতে হবে। ৪ শতাংশ টার্নওভার ভ্যাটের পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট প্রদান করবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।

    এনবিআর সূত্র জানায়, কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে যদি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হয় কিংবা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস দিয়ে থাকে কিংবা ট্রেড লাইসেন্স নিতে হয় কিংবা কোনো ট্রেড বডির সদস্য হতে হয়, তাহলে তার জন্য তালিকাভুক্তির সনদ নিতে হবে। আর এসব সনদ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভার ৩০ লাখের নিচে হলেও তাকে ভ্যাট দিতে হবে।

    এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে ভাড়ার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। সুনির্দিষ্ট ভ্যাট পরিশোধ করলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ভাড়ার ওপর এ ভ্যাট আর পরিশোধ করতে হবে না। অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট ভ্যাটের সঙ্গে ভাড়ার ভ্যাটও যুক্ত থাকবে।

    যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভার ৫০ লাখ টাকার বেশি, সেসব

    প্রতিষ্ঠানের জন্য ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক ও টার্নওভারের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট পরিশোধ করতে হয়।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট চালু হওয়ার পর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। কিন্তু ৩৫ বছরে মাত্র আট লাখের মতো প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় এসেছে। এর মধ্যে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠান ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করে থাকে। আগামী অর্থবছরে ২০ লাখ প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে এনবিআর।

  • চেয়ারম্যানের পর বিএসইসিতে তিন কমিশনার নিয়োগ

    চেয়ারম্যানের পর বিএসইসিতে তিন কমিশনার নিয়োগ

    বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসাবে মাসুদ খানের নিয়োগের পর তিন কমিশনার নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

    এরা হলেন— ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের এমডি নাফিজ আল তারিক, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাহিদ মাহতাব ও আশা ইন্টারন্যাশনালের ফাইনান্স ডিরেক্টর তানভীর হাবিব রহমান। বৃহস্পতিবার পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চার বছরের জন্য তাদের এ নিয়োগ দেওয়া হয়।

    এর আগে বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদসহ চার মু. মোহসীন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ ও মো. সাইফুদ্দিন পদত্যাগ করেন।

  • সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি শুরু

    সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি শুরু

    ‘ছুটি শেষে আজ বুধবার সকাল থেকে বন্দরের সকল কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যিক পণ্যবাহী ট্রাকের যাতায়াত শুরু হয়েছে এবং বন্দরে কর্মব্যস্ততা ফিরে এসেছে।’

    পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা আট দিন বন্ধ থাকার পর সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।

    বুধবার (৩ জুন) সকাল থেকে বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের জনসংযোগ কর্মকর্তা টিপু সুলতান জানান, সোনামসজিদ আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপ এবং সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত ২৬ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত বন্দরের সকল ধরনের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে এ সময় পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ ব্যবস্থায় ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো খোলা ছিল।

    তিনি আরো জানান, ছুটি শেষে আজ বুধবার সকাল থেকে বন্দরের সকল কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যিক পণ্যবাহী ট্রাকের যাতায়াত শুরু হয়েছে এবং বন্দরে কর্মব্যস্ততা ফিরে এসেছে।বাসস

  • খুরশীদ আলমকে অপসারণের দাবিতে গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভ

    খুরশীদ আলমকে অপসারণের দাবিতে গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভ

    ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমকে অপসারণের দাবিতে রাজধানীতে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন গ্রাহকেরা। সচেতন গ্রাহক ফোরামে ব্যানের এ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভ মিছিল ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়।

    বুধবার বেলা ১১টায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ শুরু হয়।

    গ্রাহক ফোরামের সভাপতি নুরুন নবি মানিক বলেন, ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদে খুরশীদ আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাকে জুলাই আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মীরা তাড়িয়ে দিয়েছিল। কারণ তিনি আগের সরকারের সময় আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত ছিলেন। তাই এমন একজন ব্যক্তিকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান করলে তিনি ব্যাংকের জন্য হুমকি তৈরি করবেন।

    তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় ব্যাংক। ব্যাংকটি ধ্বংস হয়ে গেলে দেশের অর্থনীতিও ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই সরকারকে পরামর্শ দিতে চাই যে, ব্যাংকটি যেন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়, এজন্য নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করা হচ্ছে। এই ব্যাংক যাদের মাধ্যমে সমৃদ্ধ লাভ করেছিল, ব্যাংকের ম্যানেজমেন্টে তাদের দায়িত্ব দেওয়া হোক।

    তিনি আরও বলেন, এই ব্যাংকে আগেও যাকে চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তিনিও গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা করেননি।

    এর আগে গত সোমবার ও গতকাল একই দাবিতে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

    সোমবার দিনের বেলায় আন্দোলনের মুখে ইসলামী ব্যাংকের পূর্বনির্ধারিত পর্ষদ সভা সশরীরে অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। পরে রাতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় পর্ষদের পাঁচজন সদস্য অংশ নেন। সেখানে এমডি ওমর ফারুক খানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে।

    গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করার পর রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    এর পর থেকেই তার নিয়োগের বিরোধিতা করে বিভিন্ন ব্যানারে কর্মসূচি পালন করে আসছেন একদল গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার। সেই ধারাবাহিকতায় টানা তৃতীয় দিনের মতো আজও ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

  • এলপিজির দাম কমলো

    এলপিজির দাম কমলো

    অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্কঃ

    মঙ্গলবার (২ জুন) এক বার্তায় এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন এ মূল্য আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকেই কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়।

    তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম ভোক্তাপর্যায়ে কমেছে। ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৫৫ টাকা কমিয়ে নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮৮৫ টাকা, যা আগে ছিল ১৯৪০ টাকা।

    মঙ্গলবার (২ জুন) এক বার্তায় এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন এ মূল্য আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকেই কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়।

    এছাড়া প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমিয়ে ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    সর্বশেষ ১৯ এপ্রিল ১২ কেজিতে ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তার ১৭ দিন আগে ২ এপ্রিল ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১৭২৭ টাকা করেছিল বিইআরসি। অর্থাৎ দুই দফায় ১২ কেজিতে ৫৯৯ টাকা বাড়ানো হয়।

  • তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার কোটি টাকা

    তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার কোটি টাকা

    অর্থনীতি ডেস্কঃ

    আবারও খেলাপি ঋণ বেড়েছে। গত তিন মাসে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ৩১ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ কোটি টাকা, যা ওই সময়ের বিতরণ করা ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ।

    চলতি বছরের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। বর্তমানে ব্যাংক খাতে মোট ঋণ স্থিতি ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা।

  • মে মাসে রেমিট্যান্স এসেছে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার

    মে মাসে রেমিট্যান্স এসেছে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার

    চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩২ হাজার ৭৫৬ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে প্রাপ্ত ২৭ হাজার ৫০৬ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১৯.০৯ শতাংশ বেশি।

    ২০২৬ সালের মে মাসে প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রায় সাড়ে তিন বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    সোমবার (১ জুন) প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে মোট রেমিট্যান্স এসেছে তিন হাজার ৪২৫ দশমিক ০৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ে প্রাপ্ত দুই হাজার ৯৬৯ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১৫.৩৪ শতাংশ বেশি।

    রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে এবং সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

  • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.৭৭ বিলিয়ন ডলার

    বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.৭৭ বিলিয়ন ডলার

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪.৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম-৬) পদ্ধতি অনুসারে, বাংলাদেশের নিট রিজার্ভ বর্তমানে ৩০.১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    সোমবার (১ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বাসস

  • ইসলামী ব্যাংকের এমডিকে অনলাইনে বোর্ড মিটিং করতে চাপ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর

    ইসলামী ব্যাংকের এমডিকে অনলাইনে বোর্ড মিটিং করতে চাপ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর

    ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের যোগদানের উদ্দেশ্যে পরিচালনা পর্ষদের সভা ডেকেছিল ব্যাংকটি। তবে গ্রাহকদের আন্দোলনের মুখে সেই সভাটি হয়নি। তবে ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অনলাইনে সভা করার অনুমতি নিয়েছেন। সেটিও গ্রাহকদের চাপে করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ উঠেছে অনলাইনে এমডিকে সভা করার চাপ দিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    সোমবার বিকেলে এমডির অফিসে অবস্থান করে দেখা গেছে, কিছু পুলিশ কর্মকর্তা এমডিকে অনলাইনে সভা করার জন্য বলে। তবে এর প্রতিবাদে গ্রাহকেরা এমডির কক্ষের সামনে বিক্ষোভ করতে থাকে। তবে এখন পর্যন্ত সভাটি করতে পারেনি ব্যাংকটি।

    সেখানে গ্রাহক ফোরামের নেতারা সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ ও ডিবির কর্মকর্তারা অনলাইনে সভা করার জন্য এমডিকে চাপ প্রয়োগ করছেন। ঠিক একইভাবে ২০১৭ সালে ব্যাংকটি দখল করা হয়েছিল। তাদের চেষ্টা প্রতিহত করা হবে বলে তারা ঘোষণা দেন।

    ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি আলতাফ হুসাইন বলেন, গ্রাহকদের দাবিকে সম্মান জানিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নেয়ার পরও অনলাইনে বোর্ড মিটিং থেকে বিরত থেকেছি।

  • বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আবারও সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকবে মার্কেট

    বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আবারও সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকবে মার্কেট

    বিদ্যুৎ সাশ্রয় কার্যক্রম জোরদার করতে দেশের সব শপিংমল, মার্কেট ও দোকান আবারও সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সব ধরনের বিলবোর্ডের আলোকসজ্জা সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। এছাড়া চলমান ও অনুষ্ঠিতব্য মেলা, বাণিজ্য মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শেষ করতে হবে।
    সোমবার বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়র ও প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    বিদ্যুৎ বিভাগের আদেশে বলা হয়, এর আগে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে শপিংমল, মার্কেট ও দোকান সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর ছিল। তবে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধার্থে সাময়িকভাবে সেই সময়সীমা রাত ১০টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।

    নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঈদ উপলক্ষে দেয়া বিশেষ সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ায় ১লা জুন থেকে আবারও আগের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। ফলে রাত ১০টার পরিবর্তে সব শপিংমল, মার্কেট ও দোকানকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে কার্যক্রম শেষ করতে হবে।

    আদেশে আরও বলা হয়, বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয় নিশ্চিত করতে সব ধরনের বিলবোর্ডের বাতি সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। একই সময়সীমা দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত মেলা, বাণিজ্য মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সব প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনাটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।

  • আন্দোলনে নয়, আইন মেনেই ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে

    আন্দোলনে নয়, আইন মেনেই ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে

    আন্দোলনে নয়, আইন মেনেই ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

    আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

    আরিফ হোসেন খান বলেন, যে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিক্ষোভ প্রদর্শন ও মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ায় প্রতিকার চাওয়ার সুযোগও আছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো আবেগ, চাপ বা আন্দোলনের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ ও আইনগত বিধান অনুসারেই সিদ্ধান্ত নেবে।

    তিনি বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি ব্যাংকের পরিচালক হতে পারেন না। ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকে একজন ব্যক্তির তিন কোটি টাকার খেলাপি ঋণ থাকার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে উঠে আসা বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী খেলাপি অবস্থায় কারও পরিচালক পদে থাকার সুযোগ নেই এবং নিয়োগের আগে এসব বিষয় যাচাই করা বাধ্যতামূলক।

    ইসলামী ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্য ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় ব্যাংকের বোর্ড সভা সরাসরি না করে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ভবনের বাইরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হলেও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট-কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিংবা কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। ব্যাংক কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনের সময় কোনো রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়লে তা সরাসরি গভর্নরকে জানাতে বলা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে গভর্নর নিজেই বিষয়টি মোকাবিলা করবেন।

    আরিফ হোসেন খান বলেন, কোনো ব্যাংককে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করা সঠিক নয়। কোনো ব্যাংক যদি একটি বিশেষ রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে ওঠে, তাহলে তা ব্যাংকটির স্থায়িত্ব ও টেকসই পরিচালনার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

  • পদ্মা ও যমুনা সেতু থেকে  প্রায় ৬৪ কোটি টাকা টোল আদায়

    পদ্মা ও যমুনা সেতু থেকে প্রায় ৬৪ কোটি টাকা টোল আদায়

    বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ রোববার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    ঈদুল আজহার সময়ে পদ্মা ও যমুনা সেতু পারাপারকারী যানবাহন থেকে গত ১০ দিনে প্রায় ৬৪ কোটি টাকা টোল আদায় করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

    বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ রোববার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঈদে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে গৃহীত সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ফলে পদ্মা সেতুতে মোট টোল আদায় হয়েছে ৩৬ কোটি ১১ লাখ ৯৫ হাজার ৯০০ টাকা। ২১ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত ১০ দিনে পারাপার হওয়া ৩ লাখ ১৮ হাজার ৫১৫টি যানবাহন থেকে এই টোল আদায় হয়েছে।

    একইভাবে যমুনা সেতুতে ২১ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত ১০ দিনে ৩ লাখ ৬১ হাজার ৪৮২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং মোট টোল আদায় হয়েছে ২৭ কোটি ৬৮ লাখ ৫৪ হাজার ৯০০ টাকা।

    সেতু কর্তৃপক্ষের দেয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, পদ্মা ও যমুনা সেতুর কার্যকর ব্যবস্থাপনার ফলে ঈদুল আজহার ছুটিতে থাকা যাত্রীদের জন্য সড়কপথে নিরাপদ, মসৃণ ও শান্তিপূর্ণ ভ্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।

    সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ এক বিবৃতিতে বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে নিরলসভাবে কাজ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীও ঈদযাত্রায় সার্বক্ষণিক মনিটরিং করেছেন। এর ফলে ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা আরো স্বস্তিদায়ক ও সুশৃঙ্খল হয়েছে। বাসস

  • মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর পুলিশের হামলা, আহত অর্ধশত

    মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর পুলিশের হামলা, আহত অর্ধশত

    ইসলামী ব্যাংকের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত বিতর্কিত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত গ্রাহকদের ওপর বেপরোয়া হামলা চালিয়েছে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ, জলকামান ব্যবহার এবং টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত অর্ধশত গ্রাহক আহত হয়েছেন

    সোমবার (১ জুন) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ হামলা চালানো হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিতে থাকেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ শুরু করে এবং বেপরোয়াভাবে জলকামান ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে।

    পুলিশের লাঠিচার্জের আঘাতে অনেকের মাথা ফেটে রক্তাক্ত হন। আহত অনেক গ্রাহক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    পুলিশি অভিযানের পর বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেও কিছু সময় পর আবারো প্রধান কার্যালয়ের আশপাশে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন।

    আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাদের কর্মসূচি ছিল শান্তিপূর্ণ। তবে কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই পুলিশ তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান এস আলম গ্রুপের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। তার নিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকে পুনরায় অনিয়ম ও লুটপাটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণেই তারা চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন।

    এদিকে ঘটনার পর ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, কয়েকশ আন্দোলনকারী ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় অবরোধ করলে মতিঝিলের ব্যাংকিং ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল এবং যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল। তাদের বারবার সরে যেতে অনুরোধ করা হলেও তারা পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন।

    তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেডসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ ঘটনায় পুলিশের এসি (পেট্রোল) মতিঝিলসহ অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

    উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে বরখাস্ত হওয়া মো. খুরশীদ আলমকে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তবে এ নিয়োগের পর থেকেই ব্যাংকের একাংশ গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

    গ্রাহকদের দাবি, বিতর্কিত ও রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে শীর্ষ পদে নিয়োগ দিলে দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকটি নতুন করে আস্থার সঙ্কটে পড়তে পারে। তাই তারা নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

  • দেড় মাসের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

    দেড় মাসের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

    ভোক্তাপর্যায়ে জ্বালানি তেলের মূল্য ফের বাড়িয়েছে সরকার। জুন মাসের জন্য পেট্রল-অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর আগে গত ১৮ এপ্রিলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

    রোববার এক বার্তায় এ তথ্য জানায় বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস/বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তাপর্যায়ে বিক্রয়মূল্য ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা,পেট্রল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকায় পুনর্নির্ধারণ করা হলো। যা আগামীকাল (১ জুন) থেকে কার্যকর হবে।

    সবশেষ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের গত ১৮ এপ্রিলের প্রজ্ঞাপন অনুসারে ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেলের দাম বাড়িয়ে প্রতি লিটার ১১৫ টাকা ও অকটেন ১৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া প্রতি লিটার পেট্রল ১৩৫ টাকা ও কেরোসিন ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

  • ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের ওপর পুলিশি হামলা ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা

    ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের ওপর পুলিশি হামলা ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা

    রোববার (১ জুন) এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ইসলামী ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষা এবং নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত সাধারণ গ্রাহকদের ওপর পুলিশ বলপ্রয়োগ করেছে। তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে গ্রাহকদের দাবির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন।

    ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত গ্রাহকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস, জলকামান ব্যবহার এবং গুলি চালানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

    বিবৃতিতে তিনি বলেন, সকালে ঢাকার মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে গ্রাহকরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলেন। তাদের দাবি ছিল ব্যাংকের আমানতকারী ও গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা করা। কিন্তু পুলিশ কোনো উসকানি ছাড়াই আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ারগ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, পুলিশি অভিযানে বহু আমানতকারী আহত হয়েছেন এবং তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বলপ্রয়োগ মানবাধিকারের পরিপন্থী।

    তিনি আরো বলেন, ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের ব্যাংকিং খাতে অতীতে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম ও বিতর্কের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ নিয়ে গ্রাহকদের আপত্তিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ব্যাংক জনগণের আমানতের ওপর পরিচালিত হয়। তাই আমানতকারীদের উদ্বেগ ও মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

    এছাড়া ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ বিষয়ে গ্রাহকদের উত্থাপিত অভিযোগ ও আপত্তি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।

  • ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর পুলিশের হামলা

    ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর পুলিশের হামলা

    ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে গ্রাহকদের মানববন্ধনে পুলিশ হামলা চালিয়েছে। পিুলিশের হামলায় ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারি গ্রাহকরা। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান ব্যবহার ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে। এতে অর্শতাধিক গ্রাহক আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রথমে গ্রাহকরা শান্তিপূর্ভাবে মানববন্ধন করে । এতে পুলিশ বাধা দেয়। পরে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গ্রাহকেরা জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ অভিযান শুরু করে। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জলকামান ও টিয়ার শেল ব্যবহার করে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।

    আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশের ধাওয়া ও লাঠিচার্জে অর্শতাধিক গ্রাহক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনকে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

    আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলেন। তাদের আশঙ্কা, ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের কারণে অতীতে যেসব অনিয়ম ও বিতর্কের অভিযোগ উঠেছিল, সেগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। এ কারণেই তারা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছিলেন।

    পুলিশ আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার পরও তাদের একটি অংশ পুনরায় ব্যাংকের আশপাশে অবস্থান নেয়। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ব্যাংকপাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, আমরা সকালে থেকে আন্দোলনকারীদের সরে যেতে বলেছি। যেহেতু এখানে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ অন্যান্য ব্যাংক রয়েছে। তাদের ভালোভাবে বুঝিয়ে বলা হয়েছে। বলার পরও সরে না যাওয়াতে বলপ্রয়োগে বাধ্য হয়েছি।

  • সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল কৃষকের

    সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল কৃষকের

    মেহেরপুরের গাংনীতে কৃষি জমিতে সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শহিদুল ইসলাম (৬০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৩১ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাংনী উপজেলার মড়কা বাজার সংলগ্ন মাঠে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত শহিদুল ইসলাম উপজেলার বানিয়াপুকুর গ্রামের মৃত শাহাদাত মণ্ডলের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মড়কা বাজারে শহিদুল ইসলামের একটি মিল রয়েছে। পাশাপাশি তিনি নিকটবর্তী মাঠে চাষাবাদ করতেন। সকালে জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য বৈদ্যুতিক সেচ পাম্প চালু করতে গেলে তিনি বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে গুরুতর আহত হন। পরে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. বুধা দীপ্ত দাস বলেন, শহিদুল ইসলামকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। যারা তাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন, তারা সবাই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে, ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ বলা সম্ভব নয়।

    গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার দাস জানান, প্রাথমিকভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে, ঘটনাস্থলে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর কোনো সুস্পষ্ট আলামত পাওয়া যায়নি।

    তিনি বলেন, স্ট্রোকজনিত কারণেও শহিদুল ইসলামের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। নিহত শহিদুল ইসলাম এর আগে দুইবার স্ট্রোক করেছিলেন বলেও জানা গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • চামড়া শিল্পকে আরো শক্তিশালী ও রপ্তানিমুখী করার লক্ষ্য সরকারের

    চামড়া শিল্পকে আরো শক্তিশালী ও রপ্তানিমুখী করার লক্ষ্য সরকারের

    বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন,কোরবানির চামড়ার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশের চামড়া শিল্পকে আরও শক্তিশালী ও রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য।

    তিনি বলেন , জুলাই মাসের মধ্যে চামড়া খাতের উন্নয়ন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।

    শুক্রবার বিকালে রাজধানীর লালবাগের পোস্তায় কোরবানির কাঁচা চামড়া ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

    খন্দকার মুক্তাদির বলেন, সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ, ব্যবসায়ী-আড়তদারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং মসজিদ-মাদ্রাসাভিত্তিক সংরক্ষণ কার্যক্রমের ফলে এবারের কোরবানির অধিকাংশ চামড়া ব্যবহার উপযোগী অবস্থায় সংগ্রহ করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশাবাদী।

    মন্ত্রী বলেন, “গতকাল আমিনবাজার এবং আজ পোস্তা ও সাভারের হেমায়েতপুর আড়ত পরিদর্শনে গিয়ে দেখেছি ব্যবসায়ীদের হাতে বিপুল পরিমাণ চামড়া এসেছে এবং সেখানে লবণ মাখানোর কার্যক্রম চলছে। কোরবানির সব চামড়া একসাথে ঢাকায় আসে না, স্বাভাবিকভাবে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগে। তবে এবার সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, বিসিক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা আমাদের লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারবো বলে বিশ্বাস করি।”

    চামড়া সংরক্ষণে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “বর্তমানে তাপমাত্রা তুলনামূলক সহনীয় থাকায় পরিস্থিতি ভালো আছে। তবে ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চামড়া নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কোরবানির চার থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে সঠিকভাবে পরিষ্কার করে লবণ মাখাতে পারলে চামড়া তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব।”

    তিনি বলেন, “চামড়া কিনে ব্যবসায়ীরা তা পরবর্তী শিল্প প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করেন। কাঁচা চামড়া থেকে ওয়েট ব্লু, এরপর ক্রাস্ট লেদার এবং পরে ফিনিশড লেদার তৈরি হয়। সেই চামড়া দিয়েই জুতা, স্যান্ডেল, বেল্টসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করা হয়। তাই সময়মতো লবণ না মাখালে সেই চামড়ার কোনো ব্যবহারিক মূল্য থাকে না।”

    চামড়া পাচার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রতিবছর চামড়া পাচারের অভিযোগ শোনা যায়। আমরা চাই না দেশের একটি চামড়াও পাচার হোক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

    সাভারের চামড়া শিল্পনগরী ও সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরের পরও অনেক ট্যানারি পুরোপুরি কার্যক্রম চালু করতে পারেনি। সিইটিপির কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এগুলো সমাধান করে আরও বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পারলে দেশের সব চামড়া শিল্পায়নের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

    তিনি জানান, বর্তমানে সিইটিপির প্রকল্পগত সক্ষমতা দৈনিক ২৫ হাজার কিউবিক মিটার হলেও বাস্তবে তা ১৪ থেকে ১৮ হাজার কিউবিক মিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এ সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

    চামড়ার গুণগত মান উন্নয়নে জবাই ও স্কিনিং প্রক্রিয়াকে আধুনিকায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “পশুর শরীর থেকে চামড়া ছাড়ানোর কাজটি দক্ষতার সঙ্গে করতে হয়। সঠিকভাবে স্কিনিং করা না হলে চামড়ার মান নষ্ট হয়ে যায়। আমরা পুরো প্রক্রিয়াটিকে আধুনিক ও মেকানাইজড করার পরিকল্পনা করছি।”

    মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে চামড়াজাত পণ্যের বাজার ও রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা। এর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরেও চামড়াজাত পণ্যের বিশাল বাজার রয়েছে।

    তিনি বলেন, “সরকার ইতোমধ্যে মাদ্রাসা ও বিভিন্ন সংগ্রহকেন্দ্রে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করেছে। বিসিক ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এসব লবণ বিতরণ করা হয়েছে যাতে কোরবানির চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা যায় এবং পরবর্তীতে শিল্পে ব্যবহার উপযোগী থাকে।”

    এসময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান , বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব ) মো. আবদুর রহিম খান ,বিসিকের মহাপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ টেনার্স এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • সাভারে ট্যানারিতে তিন দিনে সাড়ে ৫ লাখ চামড়া সংগ্রহ

    সাভারে ট্যানারিতে তিন দিনে সাড়ে ৫ লাখ চামড়া সংগ্রহ

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরীতে তিন দিনে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেছেন ট্যানারি মালিকরা। এছাড়া ট্যানারির বাইরের আড়তদাররা আরও প্রায় এক লাখ কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ করেছেন।

    শনিবার দুপুরে বিসিক চামড়া শিল্পনগরীর নির্বাহী প্রকৌশলী মেহরাজুল মাঈয়ান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, ঈদের দিন বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করে শনিবার সকাল পর্যন্ত তিনদিনে মোট সাড়ে পাঁচ লাখ কাঁচা চামড়া ট্যানারিগুলোতে প্রবেশ করেছে।

    মেহরাজুল জানান, শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৭১২টি ট্রাক চামড়া নিয়ে ট্যানারিগুলোতে প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ১১ হাজার ৫৪০টি গরু ও মহিষের এবং ১৬ হাজার ১৩৬টি ছাগল ও ভেড়ার চামড়া।

    সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের হরিণধরায় বিসিক শিল্পনগরীর ট্যানারিগুলোতে আজ শনিবার সকালেও ট্রাকে কাঁচা চামড়া প্রবেশ করতে দেখা গেছে। ঈদের দিন দুপুরের পর থেকেই রাজধানী ঢাকা এবং এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কাঁচা চামড়াবোঝাই যানবাহনগুলো এই চামড়া শিল্পনগরীতে আসতে শুরু করে। পরে এসব কাঁচা চামড়া সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করেন ট্যানারি মালিকরা, যা শনিবারও অব্যাহত ছিল। সংগ্রহ করা চামড়াগুলো লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করতে দেখা গেছে শ্রমিকদের।

    বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত মিতালী ট্যানারির সেলেক্টার মানিক জানান, তাদের ট্যানারিতে প্রায় ২০ হাজার কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই চামড়াগুলোই এখন পরিষ্কার করে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে নষ্ট না হয়ে যায়।

    ট্যানারি মালিক ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকার বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং মৌসুমি ব্যবসায়ীরা তাদের সংগ্রহ করা কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সরাসরি সাভারের এই শিল্পনগরীতে নিয়ে আসেন। এসব কাঁচা চামড়া যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য ট্যানারিগুলোতে দ্রুত লবণ দিয়ে প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বৈজ্ঞানিক উপায়ে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

  • রংপুরে বোরো ধানের দামে ধস, খরচই উঠছে না কৃষকের

    রংপুরে বোরো ধানের দামে ধস, খরচই উঠছে না কৃষকের

    রংপুর বিভাগের হাটগুলোতে বোরো ধান প্রতি মণ ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে—যেখানে উৎপাদন খরচ মণপ্রতি ৯২০ থেকে ৯৫০ টাকা; ভালো ফলনের মৌসুমে নগদ অর্থের প্রয়োজনে কৃষকেরা দ্রুত ধান ছাড়ছেন, প্রতিবেদন করেছে ডেইলি স্টার (২৬ মে)। ঈদ সামনে রেখে এই দামের ধসে উত্তরাঞ্চলের শস্যভাণ্ডারে উৎসবের আমেজ ম্লান হয়ে পড়েছে।

    লালমনিরহাটের দুরাকুটি হাটে আট মণ ধান নিয়ে এসেছিলেন ৬৫ বছর বয়সী কৃষক মনসুর আলী, আশা ছিল প্রতি মণ ১,০০০ থেকে ১,০৫০ টাকায় বিক্রি করবেন। প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর তিনি ৮১০ টাকায় বিক্রি করেন। গত বছর একই হাটে তিনি ১,০৫০ টাকা দরে ধান বিক্রি করেছিলেন।

    “মাঠে ফসল দেখে মন খুশিতে ভরে যায়, কিন্তু হাটে এসে দাম দেখে শুধু হতাশা,” বলেন মনসুর। তিনি এ বছর ১০ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছেন, ইতোমধ্যে সাত বিঘা কেটেছেন। বিঘাপ্রতি ফলন ২২ মণ—গত মৌসুমের তুলনায় বিঘায় প্রায় এক মণ বেশি।

    আদিতমারি উপজেলার শালমারা গ্রামের ৬০ বছর বয়সী নবীন চন্দ্র বর্মণও একই দশায়। এ মৌসুমে ১৬ বিঘায় বোরো চাষ করে মণপ্রতি প্রায় ৯৫০ টাকা খরচের বিপরীতে তাঁকে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় ধান ছাড়তে হয়েছে। গত বছর একই ধান বিক্রি হয়েছিল ১,০৫০ টাকায়; এরপর খরচ বেড়েছে, অথচ দাম কমেছে। “আগে জানলে ধান নিয়ে হাটে আসতাম না,” বলেন তিনি।

    রংপুর সদরের গোপীনাথপুর গ্রামের ৫৫ বছর বয়সী আতোয়ার রহমানের বেলায়ও খরচ আর বাজারমূল্যের ফারাকটা একইরকম। মণপ্রতি ৯২০ টাকা উৎপাদন খরচের বিপরীতে তিনি ৩০ মণ ধান বিক্রি করেছেন মাত্র ৮০০ টাকা দরে। ২০ বিঘা জমিতে চাষ করে এর মধ্যে ১৫ বিঘা ফসল ঘরে তুলেছেন।

    পাইকাররা ডেইলি স্টারকে বলেছেন, গুদামে গত মৌসুমের পুরনো স্টক জমে থাকায় তাঁরা সীমিত পরিমাণে ধান কিনছেন। “পুরনো স্টক শেষ হলে পুরোদমে ধান কেনা শুরু করব,” বলেন লালমনিরহাটের পাইকার সোলায়মান আলী। রংপুরের আরেক পাইকার সুনীল চন্দ্র সেন—যিনি নিজেও কৃষক—জানিয়েছেন, গুদামে জায়গা না থাকায় কম দামে কিনতে হচ্ছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) জানিয়েছে, এ মৌসুমে রংপুর বিভাগের আট জেলায়—লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, নীলফামারী ও ঠাকুরগাঁও—মোট ৬,৮৩,৭৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪১ লাখ টন। রংপুর বিভাগীয় খাদ্য বিভাগ অনুযায়ী, সরকার এ বছর কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ৭১,৪৮৩ টন ধান এবং মিলারদের কাছ থেকে ২,৪৬,২৪৬ টন চাল কেনার পরিকল্পনা করেছে। সরকারি ক্রয়মূল্য কেজিপ্রতি ৩৬ টাকা—যা খোলাবাজারের দামের চেয়ে বেশি—তবে পরিমাণ সীমিত এবং কেবল কৃষি অফিসের তালিকাভুক্ত কৃষকদের কাছ থেকেই কেনা হয়, ফলে বেশিরভাগ কৃষক এতে ধান বেচতে পারেন না।

    শুধু রংপুরেই নয়—এই বোরো মৌসুমে সারা দেশেই শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে আর ধানের দাম কমেছে; অনেক কৃষক বিঘাপ্রতি ২৫,০০০ থেকে ২৬,০০০ টাকা উৎপাদন খরচই তুলতে পারছেন না, প্রতিবেদন করেছে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। সরকারের সারা দেশের ক্রয় পরিকল্পনা—কেজিপ্রতি ৩৬ টাকায় ৫ লাখ টন—মোট ফসলের সামান্য অংশই ছুঁতে পারে।

    পীরগাছা উপজেলার চৌধুরাণী গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী আক্কেল আলীর কাছে ফলন আর দামের এই ব্যবধান এবারের ঈদকেই বদলে দিয়েছে। “এই বছর আমাদের ঘরে ঈদ নেই,” ডেইলি স্টারকে বলেন তিনি। “ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছি না, তাই আমরা সবাই গভীরভাবে মর্মাহত।”

  • যুদ্ধবিরতি অনিশ্চিত, অস্থির  বিশ্ব জ্বালানি বাজার

    যুদ্ধবিরতি অনিশ্চিত, অস্থির বিশ্ব জ্বালানি বাজার

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা ঘিরে নতুন অনিশ্চয়তা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার কারণে আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে বিশ্ব জ্বালানি বাজার। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।

    জুলাই সরবরাহের ব্রেন্ট তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে যুক্তরাষ্ট্র সময় অনুযায়ী সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রায় ১০০ দশমিক ১২ ডলারে পৌঁছায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঊর্ধ্বগতির প্রধান কারণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বাড়তে থাকা উদ্বেগ ও চলমান সামরিক পরিস্থিতি।

    ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ছেলে মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আর কোনো নিরাপদ আশ্রয় থাকবে না। তার এই সতর্কবার্তার কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন বাহিনী ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর দুটি মাইন বসানো নৌযানে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলা চালায়।

    ওয়াশিংটনের দাবি, ওই স্থাপনাগুলো মার্কিন বাহিনী ও আঞ্চলিক নৌ চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিল। তবে ইরান অভিযোগ করেছে, এই হামলা যুদ্ধবিরতির সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে এবং তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, কোনো আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে।

    হরমুজ প্রণালি বিশ্ব তেল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ যেখানে দিয়ে প্রতিদিন প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয়। এই পথ ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    এদিকে ওমান উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণের খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। যদিও জাহাজে থাকা সবাই নিরাপদ আছে, তবুও এ ঘটনায় তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা নতুন করে সামনে এসেছে।

    এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বার্তা ও সামরিক পদক্ষেপের কারণে সেই আশাবাদ দ্রুত ম্লান হয়ে গেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বৈশ্বিক তেলের বাজারে সরবরাহ-চাহিদার চেয়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাই দামের ওপর বেশি প্রভাব ফেলছে।


    আরও পড়ুন · নির্ভরযোগ্য সূত্র:

  • আজ সীমিত পরিসরে ব্যাংক খোলা

    আজ সীমিত পরিসরে ব্যাংক খোলা

    পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৫ থেকে ৩১ মে টানা সাত দিনের ছুটিতে দেশের ব্যাংকগুলো বন্ধ থাকলেও বিশেষ প্রয়োজনে আজ মঙ্গলবার সীমিত পরিসরে কিছু ব্যাংকের শাখা খোলা থাকছে। তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং আমদানি-রফতানি কার্যক্রম সচল রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    এই শাখাগুলোতে অফিস কার্যক্রম চলবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। আর গ্রাহক লেনদেন করা যাবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত।

    গত ১৮ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড এনালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) এই বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে।

    এতে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত ছুটির ধারাবাহিকতায় ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ব্যাংক বন্ধ থাকবে। তবে টানা ছুটির মধ্যেও পোশাক শিল্প খাতের শ্রমিকদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধে ব্যাংকিং কার্যক্রম সচল রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

    সার্কুলার অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের পোশাক শিল্পসংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখাগুলো ২৫ ও ২৬ মে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

    এ ছাড়া দেশের সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকার ব্যাংক শাখা, উপশাখা ও বুথগুলোতে আগের মতোই সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা সেবা চালু থাকবে। ঈদের ছুটির সময়ও (ঈদের দিন ছাড়া) আমদানি-রফতানি সংশ্লিষ্ট সীমিত ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, ছুটির দিনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত ভাতা পাবেন।

  • সম্ভাবনা থাকলেও পিছিয়ে বাংলাদেশের চামড়াশিল্প

    সম্ভাবনা থাকলেও পিছিয়ে বাংলাদেশের চামড়াশিল্প

    বিশ্ববাজারে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা বাড়লেও সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ। কাঁচামালের সহজলভ্যতা, তুলনামূলক কম শ্রম ব্যয় ও দীর্ঘদিনের শিল্পভিত্তি থাকা সত্ত্বেও দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় এই রপ্তানি খাত কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি।

    পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থতা, সাভারের ট্যানারি শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) অকার্যকারিতা, অর্থায়ন সংকট ও নীতিগত দুর্বলতায় শিল্পটি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা হারাচ্ছে।

    রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে চামড়া, চামড়াজাত পণ্য ও ফুটওয়্যার রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৯৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আয় ছিল ৯৩ কোটি ২৫ লাখ ডলার। যদিও প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়েছে, বিশ্লেষকদের মতে সম্ভাবনার তুলনায় তা অত্যন্ত কম।

    বিশ্বে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি ডলারের চামড়ার বাজার রয়েছে। সেই হিসাবে বাংলাদেশ মাত্র এক শতাংশ বাজার ধরতে পারলেও বছরে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি রপ্তানি আয় সম্ভব ছিল।

    ইউরোপ-আমেরিকার বাজার হাতছাড়া

    সাভারের ট্যানারি শিল্পনগরীতে এখনো আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশ ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি। ফলে অধিকাংশ ট্যানারি লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সনদ পাচ্ছে না। এই সনদ ছাড়া ইউরোপ, আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার বড় ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশি চামড়া কিনতে আগ্রহ দেখায় না।

    বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন আহমেদ আমার দেশকে বলেন, আগে ইউরোপ, আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়া ছিল বাংলাদেশের বড় ক্রেতা। এখন চীন ছাড়া বড় বাজার নেই। অথচ চীনা ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ থেকে কম দামে চামড়া কিনে এলডব্লিউজি সনদের সুবিধা নিয়ে বেশি দামে ইউরোপ-আমেরিকায় বিক্রি করছে। এতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

    তিনি বলেন, আমাদের সিইটিপি পুরোপুরি কার্যকর না থাকায় এলডব্লিউজি সনদ মিলছে না। এর কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ক্ষতি হচ্ছে। সময়োপযোগী পরিকল্পনা না থাকায় সংকট দীর্ঘ হয়েছে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বাজার দখলে চীন, পাকিস্তান, ভারতসহ অন্যান্য দেশ আমাদের ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

    বিডার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও আন্তর্জাতিক সনদের অভাবে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের সম্ভাব্য রপ্তানি আয় হারাচ্ছে। বর্তমানে দেশের মাত্র চারটি ট্যানারি এলডব্লিউজি সনদ পেয়েছে, যার কোনোটিই সাভার শিল্পনগরীর ভেতরে নয়।

    এক যুগেও কার্যকর হয়নি সিইটিপি

    পরিবেশ দূষণ কমাতে ২০০৩ সালে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সরিয়ে সাভারে স্থানান্তর প্রকল্প নেওয়া হয়। দুই বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্পটি শেষ হতে প্রায় দুই দশক লেগে যায়। এ সময় ব্যয় ১৭৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ১৫ কোটি টাকায়।

    তবে এত বড় বিনিয়োগের পরও সাভারের শিল্পনগরী এখনো পুরোপুরি পরিবেশসম্মত হয়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, সিইটিপির নকশাগত ত্রুটি শুরু থেকেই ছিল। প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য শোধনের সক্ষমতা থাকলেও উৎপাদিত বর্জ্যের পরিমাণ প্রায় ২৮ হাজার ঘনমিটার। কোরবানির মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার ঘনমিটারে।

    সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়, ক্রোমিয়াম পৃথকীকরণ ইউনিট পুরোপুরি কার্যকর নয়। ফলে অপরিশোধিত বর্জ্য ধলেশ্বরী নদীতে গিয়ে পড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করছে।

    শিল্প মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, গত দুই বছরে সিইটিপিতে কিছু সংস্কার করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ইতালীয় প্রতিষ্ঠান এখন কারিগরি মূল্যায়ন করছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে স্থায়ী সমাধানের রূপরেখা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    কোরবানির চামড়া বিক্রি হচ্ছে পানির দরে

    প্রতি বছর ঈদুল আজহায় দেশে প্রায় এক কোটি পশুর চামড়া সংগ্রহ হয়। অথচ এই বিপুল কাঁচামালের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না মৌসুমি ব্যবসায়ী ও এতিমখানা-মাদরাসাগুলো। এক সময় যে গরুর চামড়া এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা অনেক এলাকায় ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় নেমে এসেছে।

    ব্যবসায়ীরা বলছেন, চামড়ার প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যয় ও লবণের খরচ অনেক সময় বিক্রয়মূল্যের চেয়েও বেশি হয়ে যাচ্ছে। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে সংগ্রহকারীদের। ফলে অনেক সময় ক্ষোভে চামড়া ফেলে দিচ্ছেন সংগ্রহকারীরা।

    লবণের দাম বাড়ায় নতুন সংকট

    একটি বড় গরুর চামড়া সংরক্ষণে ৭ থেকে ১০ কেজি লবণ লাগে। কিন্তু সম্প্রতি লবণের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংরক্ষণ ব্যয়ও বেড়েছে। ৭৪ কেজির প্রতি বস্তা লবণ এখন বিক্রি হচ্ছে ৯৩০ থেকে ৯৫০ টাকায়, যা কয়েক মাস আগেও ছিল ৬৮০ থেকে ৭০০ টাকা।

    চামড়া ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারে লবণের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্যানারিগুলোর বকেয়া পরিশোধে বিলম্বও ব্যবসায়ীদের সংকটে ফেলছে।

    চামড়ার আড়তদারদের দাবি, লবণ ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। প্রতিটি চামড়ার পেছনে শুধু পরিবহন খরচই ৪০০ টাকার বেশি পড়ে। তার সঙ্গে বাড়তি লবণ খরচ যুক্ত হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে। ট্যানারিগুলো বকেয়া টাকা সময়মতো দেয় না। আবার লবণের দামও বাড়ছে। ফলে ছোট ব্যবসায়ীরা টিকে থাকতে পারছেন না।

    ঋণ কমছে, বিনিয়োগও থমকে

    বাংলাদেশ ব্যাংক চামড়া ব্যবসায়ীদের দ্রুত ঋণ বিতরণের নির্দেশ দিলেও বাস্তবে ব্যাংকগুলো আগের মতো আগ্রহ দেখাচ্ছে না। খেলাপি ঋণের হার বাড়ায় অর্থায়ন কমে গেছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে চামড়া খাতে এক হাজার ৮০০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ হলেও গত বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১২৫ কোটি টাকায়। ব্যবসায়ীদের মতে, সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ছাড়া এই খাতে নতুন বিনিয়োগ সম্ভব নয়।

    আলাদা বোর্ড গঠনের দাবি

    চামড়া শিল্পের উন্নয়নে একটি স্বতন্ত্র ‘জাতীয় চামড়া বোর্ড’ গঠনের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, নীতিগত সমন্বয়, আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ, পরিবেশগত সনদ অর্জন, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও অর্থায়ন ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নেতৃত্বের অভাবে খাতটি পিছিয়ে পড়ছে।

    এ ছাড়া এলডব্লিউজি সনদ জটিলতা কাটাতে ট্যানারিগুলোতে পৃথক ইটিপি স্থাপন, দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সুবিধা এবং স্থানীয় বাজার সম্প্রসারণে স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য চামড়ার জুতা ও ব্যাগ ব্যবহারের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

    ব্যবসায়ীদের সংশয়

    সরকার চামড়া শিল্পকে অগ্রাধিকার রপ্তানি খাত হিসেবে দেখার কথা বললেও ব্যবসায়ীদের মতে, শুধু মৌসুমি উদ্যোগে সংকট কাটবে না। সাভারের সিইটিপিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, এলডব্লিউজি সনদ নিশ্চিত করা, কেমিক্যাল আমদানিতে শুল্ক কমানো, সহজ অর্থায়ন ও রপ্তানি প্রণোদনা বাড়ানো ছাড়া শিল্পটিকে ঘুরে দাঁড় করানো সম্ভব নয়।

    তাদের মতে, তৈরি পোশাক খাতের পর দ্বিতীয় বৃহৎ রপ্তানি খাত হওয়ার সক্ষমতা থাকলেও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত সংকটে সম্ভাবনাময় এই শিল্প আজ দিশাহারা।

    সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ বিষয়ে বলেছেন, চামড়া শিল্পকে সরকার অগ্রাধিকার রপ্তানি খাত হিসেবে দেখছে। কোরবানির সময় চামড়া সংরক্ষণে লবণ সরবরাহ, প্রশিক্ষণ ও দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছ

  • এশিয়ার বাজারেও কমলো তেলের দাম

    এশিয়ার বাজারেও কমলো তেলের দাম

    বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতনের প্রভাব পড়েছে এশিয়ার বাজারে। সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমার খবরে তেলের দামের পাশাপাশি এশিয়ার প্রধান শেয়ার বাজারগুলোতেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে।

    সোমবার (২৫ মে) এশিয়ার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ৩৬ মার্কিন ডলারে নেমে আসে। পরে এশিয়ার বাজারে এর দাম আরও কমে ৯৭ দশমিক ৯০ ডলারে দাঁড়ায়, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কম।

    একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও ৫ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ৯৯ ডলারে নেমে আসে। তবে সরকারি ছুটির কারণে সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের জ্বালানি ও আর্থিক বাজার বন্ধ ছিল।

    এদিকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।

    তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালি আবার পুরোপুরি চালু করা হবে। বিশ্বের মোট খনিজ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

    হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর সম্ভাবনায় এশিয়ার শেয়ারবাজারে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। জাপানের প্রধান শেয়ারসূচক নিক্কেই-২২৫ প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৬৫ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো শিল্পোন্নত দেশগুলো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ফলে এ অঞ্চলের অস্থিরতায় তাদের অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়ে। সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির খবর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশাবাদ তৈরি করেছে।


    আরও পড়ুন · নির্ভরযোগ্য সূত্র:

  • সিলেটে চা বাগানে অনিদিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু

    সিলেটে চা বাগানে অনিদিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু

    ডেক্স নিউজ : বকেয়া বেতন, রেশন, পূজার উৎসব বোনাসসহ ৭ দফা দাবীতে হবিগঞ্জের ৪টি চা বাগান অনিদিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে চা শ্রমিকরা।

    আজ সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের দেউন্দি, লালচান, মৃতিঙ্গা ও মাধবপুরের নোয়াপাড়া চা বাগানে কর্মবিরতি শুরু শ্রমিকরা।

    চা শ্রমিকরা জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে নিয়মিত তলবি (সাপ্তাহিক বেতন) পাচ্ছেন না ৪ বাগানের শ্রমিকরা। ফলে বাগানের প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক চরম সংকটে পড়েছেন। পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন শ্রমিকরা। এতে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে বাগানজুড়ে। ফলে শ্রমিকদের বেতন, ঈদ বোনাস ও অন্যান্য সুবিধা পরিশোধ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

    এদিকে, গত ৬ মে বিভাগীয় শ্রম দপ্তর শ্রীমঙ্গলে মালিক,শ্রমিক ও শ্রম অধিদপ্তরের ত্রিপাক্ষিক একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।এতে সিদ্ধান্ত হয় দ্রুত শ্রমিকদের সকল বকেয়া পরিশোধ করার জন্য। এছাড়াও বর্ষা শুরু আগে জরাজীর্ণ ঘর সংস্কার, শ্রম আইন অনুযায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা করা,বকেয়া বেতন, রেশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও সাপ্তাহিক তলব প্রদান করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্ত মালিকপক্ষ সিদ্ধান্ত পূরণ না করায় দেঊন্দি কোম্পানির ৪টি বাগানের শ্রমিকরা আজ থেকে কর্মবিরতি শুরু করে। সকাল থেকে শ্রমিকরা বাগান ও ফ্যাক্টরিতে না গিয়ে নাট্য মন্দিরের অবস্থান নেন।

    এ ব্যাপারে দেউন্দি চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আপন সাঁওতাল বলেন – দেউন্দি কোম্পানির অধীনে ৪টি বাগান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চা শ্রমিকরা অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। মালিকপক্ষ ২০২২ সাল থেকে শুধু সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

    এমনকি গত ৬ তারিখ শ্রীমঙ্গলে সভার সিদ্ধান্তও তারা বাস্তবায়ন করেনি। তাই বাধ্য হয়ে শ্রমিকরা আজ থেকে অনিদিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে। আমাদের ৭ দফা দাবি না মানা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।

    এ এম

  • ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা

    ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা

    বন্ধ কলকারখানা চালু, কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, রপ্তানিমুখীকরণ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ অর্থনীতি চাঙা করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা দেবে ব্যাংকগুলো এবং ১৯ হাজার কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ।

    এ ঋণের গ্রাহক পর্যায় সুদহার হবে সাত শতাংশ । সরকার ছয় শতাংশ সুদ ভর্তুকি দেবে। এর মাধ্যমে দেশে ২৫ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।গতকাল শনিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেন। দুপুর আড়াইটায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কনফারেন্স হলে এ সংবাদ সম্মেলন হয়। এতে গভর্নর এ বিশেষ তহবিলের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

    গভর্নর বলেন, গত তিন বছরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে কমেছে। আগে যেখানে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ, পরে তা ৪ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসে। বর্তমানে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, সিরামিক, তথ্যপ্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।

    তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে চাপ বেড়েছে, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে, অর্থপাচারের ঘটনা ঘটেছে এবং আমানতকারীদের আস্থা কমে গেছে। উচ্চ সুদের কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও ব্যবসা সম্প্রসারণে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এ বিশেষ স্কিম নেওয়া হয়েছে।

    কোন খাতে কত তহবিল

    ৪১ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের মধ্যে বন্ধ শিল্পকারখানা ও সেবা খাতে দেওয়া হবে ২০ হাজার কোটি টাকা। সিএমএসএমই খাতে পাঁচ হাজার কোটি টাকা, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ১০ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানি বহুমুখীকরণে তিন হাজার কোটি টাকা এবং উত্তরবঙ্গকে কৃষি হাব হিসেবে গড়ে তুলতে তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব ১৯ হাজার কোটি টাকা তহবিলের মধ্যে রপ্তানি খাতের জন্য প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিটে পাঁচ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে। কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে দুই হাজার কোটি টাকা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে এক হাজার কোটি টাকা, গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এক হাজার কোটি টাকা, হিমায়িত মাছ ও মাছ রপ্তানি খাতে দুই হাজার কোটি টাকা, পরিবেশবান্ধব বা গ্রিন বিনিয়োগে এক হাজার কোটি টাকা, বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য এক হাজার কোটি টাকা, স্টার্টআপ খাতে ৫০০ কোটি টাকা এবং সৃজনশীল অর্থনীতি বা ক্রিয়েটিভ ইকোনমিতে ৫০০ কোটি টাকা থাকছে। সৃজনশীল অর্থনীতির এ ৫০০ কোটি টাকা সিএসআরের আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক খরচ করবে।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বন্ধ কলকারখানা চালুর পাশাপাশি কৃষি খাত, পোশাক, সিএমএসএমই ও পরিবেশবান্ধব, সৃজনশীল অর্থনীতি (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি) খাতে ঋণ ও অর্থায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

    করোনার সময় প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ নিয়ে নয়ছয় হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে তা খেলাপি হয়েছে। নতুন প্যাকেজের ঋণ নিয়ে নয়ছয় ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেএ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, আগে এ ধরনের তহবিল থেকে দেখা যেত, একটা গ্রুপ অনেক বেশি টাকা নিয়ে যাচ্ছে। এবার ওই ধরনের সুযোগ নেই। অনেক কড়াকড়ি করা হয়েছে। অতীতের খারাপ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি আমরা হব না। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের এ তহবিল থেকে ঋণ পাওয়ার সুযোগ নেই।

    তিনি বলেন, এ স্কিমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা মূলত রিফাইন্যান্সিংয়ের। ব্যাংক যখন নিশ্চিত হবে যে কোনো গ্রাহক প্রকৃতপক্ষে ঋণ পাওয়ার উপযুক্ত, তখনই তাকে ঋণ দেবে এবং পরবর্তী সময়ে সে ঋণের বিপরীতে রিফাইন্যান্স সুবিধা দেওয়া হবে। পুরো স্কিমে সরকার কেবল ছয় শতাংশ সুদ ভর্তুকি দিচ্ছে। ব্যাংক খাতের অর্থ দিয়েই এই প্রণোদনা প্যাকেজ চলবে। এ উদ্যোগে নতুন করে টাকা ছাপানো বা বাজারে অতিরিক্ত অর্থ সরবরাহের কোনো সুযোগ নেই।

    গভর্নর বলেন, ব্যাংক খাত থেকে পাঁচ লাখ কোটি চুরি হয়ে গেছে। ভদ্রভাবে এটাকে খেলাপি বলা হয়। আসলে এটা খেলাপি না। চুরির এসব টাকা পাচার হয়ে গেছে। এসব অর্থ ফেরত আনা অনেক সময়সাপেক্ষ। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চুরি হওয়া সম্পদের প্রোপার ডকুমেন্ট নেই। অর্থ ফেরত আনতে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। টাকা উদ্ধারে মানি কোট আইন করা হচ্ছে। আইন পাস হলে দ্রুত কাজ করা সম্ভব হবে।

    একক গ্রাহক ঋণসীমা বাড়ানো সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন প্রায় ৪০ শতাংশ হয়েছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দামও বেড়েছে। ফলে আগে যে পরিমাণ ঋণে একটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সক্ষমতা বজায় রাখা সম্ভব ছিল, বর্তমানে তা আর সম্ভব হচ্ছে না। তাই একক গ্রাহক ঋণসীমা বাড়ানো হয়েছে। ব্যাংকগুলো নিজস্ব যাচাই-বাছাই ও ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ঋণ বিতরণ করবে।

    সুদ কত, কারা পাবে

    বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানান, এ তহবিলের ঋণে সরকার ছয় শতাংশ সুদ ভর্তুকি হিসেবে দেবে। আর গ্রাহকরা সাত শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন। যেসব ব্যাংকের অতিরিক্ত তারল্য আছে, তাদের থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১০ শতাংশ সুদে তহবিল সংগ্রহ করবে। এর মধ্যে সরকার সুদ ভর্তুকি দেবে ছয় শতাংশ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক চার শতাংশ।

    এম কে

  • সৌদি বাজারে রপ্তানি বাড়াতে  প্রস্তাব -বাণিজ্যমন্ত্রী

    সৌদি বাজারে রপ্তানি বাড়াতে প্রস্তাব -বাণিজ্যমন্ত্রী

    বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বিদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে যে নামটি প্রতিনিধিত্ব করা হয়, সেটি হলো বাংলাদেশ। সঙ্গতকারনে দেশের ভাবমূর্তি, রপ্তানি সক্ষমতা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

    আজ রোববার সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির একটি প্রতিনিধিদল বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দপ্তরে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এসব কথা বলেন।খন্দকার মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো তৈরি পোশাক খাতনির্ভর। তবে সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, পাটপণ্য, খাদ্যপণ্য এবং সৌদি ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী তৈরি পোশাক রপ্তানির বড় সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে খাতভিত্তিক পরিকল্পনা নিতে হবে।

    প্রবাসী কর্মীদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিদেশে কাজ করতে যাওয়া মানুষ অনেক ত্যাগ স্বীকার করেন। তাঁদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে ব্যক্তি, পরিবার ও দেশ—সবাই উপকৃত হবে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ বাংলাদেশের জন্য বড় সম্পদে পরিণত হতে পারে।

    প্রতিনিধিদলের উদ্দেশে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোন খাতে কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, কোথায় নীতিগত সহায়তা দরকার এবং কোথায় আর্থিক বা খাতভিত্তিক সহযোগিতা দরকার—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিতে হবে। বাস্তবসম্মত প্রস্তাব পেলে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

    বৈঠকে সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আশরাফুল হক চৌধুরী বলেন, সৌদি আরবের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবার জন্য বড় ধরনের রপ্তানি ও বাণিজ্য সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে ২০২৭ সালের মধ্যে সৌদি আরবে বাংলাদেশের রপ্তানি ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব।

    প্রতিনিধিদল জানায়, সৌদি ভিশন ২০৩০, ওয়ার্ল্ড এক্সপো এবং বিশ্বকাপকে সামনে রেখে শিক্ষা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, গ্রিন টেকনোলজি, পরিবেশ, মরুভূমি বনায়ন, কৃষি ও খাদ্য খাত এবং ক্ষুদ্রঋণভিত্তিক অর্থায়নের মতো খাতে বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও খাতভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

  • পদত্যাগ করেছেন ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান

    পদত্যাগ করেছেন ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান

    ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেছেন। রোববার তিনি পরিচালনা পর্ষদ বরাবর পদত্যাগ করার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে তা জমা দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক সূত্রে তথ্য জানা গেছে।

    ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদকে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরে তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। তবে গত বছরের জুলাইতে ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ পদত্যাগ করার পর ব্যাংকের নতুন স্বতন্ত্র পরিচালক হিসাবে ইসলামী ব্যাংকের বোর্ডে বসেন জুবায়দুর রহমান। তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্বেও পান। ১০ মাস পর আজ তিনিও পদত্যাগ করেছেন।১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এম জুবায়দুর রহমান। পরে তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার থেকে ফিন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি করেন।

    তিনি স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্ক এবং ইতালির ইউনিভার্সিটি অব বোকোনিতে অধ্যাপনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়, আরবানা শ্যাম্পেইন এবং রাশিয়ার মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং স্কলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    অধ্যাপক জুবায়দুর রহমান ঢাকার জেডএনআরএফ ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেস (জুমস)-এর প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চ্যান্সেলর। বিশ্ব ব্যাংকের এই সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির বিভিন্ন দেশে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে স্বতন্ত্র উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন।

  • আরব আমিরাতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা

    আরব আমিরাতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন ধরেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষের বরাতে রোববার (১৭ মে) এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা ডন।
    আবুধাবি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং তেজস্ক্রিয়তার মাত্রায় কোনো প্রভাব পড়েনি।

    আবু ধাবির মিডিয়া কার্যালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেছে, ড্রোন হামলার কারণে আল দাফরা অঞ্চলের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরের সীমানার বাইরে একটি জেনারেটরে আগুন লাগে। এই ঘটনায় আবুধাবি কর্তৃপক্ষ দ্রুত সাড়া দেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    এতে তেজস্ক্রিয় ঝুঁকি বা কেন্দ্রের কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি বলে পোস্টে বলা হয়েছে।
    দেশটির ফেডারেল অথরিটি ফর নিউক্লিয়ার রেগুলেশন নিশ্চিত করেছে যে, অগ্নিকাণ্ডে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা বা গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমে কোনো প্রভাব পড়েনি, সব ইউনিটই স্বাভাবিকভাবে সচল আছে।

    তবে দেশটিতে সর্বশেষ এই হামলা কারা চালিয়েছে- তা নিয়ে এখন পর্যন্ত কিছু বলা হয়নি।
    গত ৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও আরব আমিরাতের ওপর দফায় দফায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে আসছে আমিরাত।

  • ১৪টি তেলবাহী জাহাজ এসেছে, আরো ৫টি আসছে

    ১৪টি তেলবাহী জাহাজ এসেছে, আরো ৫টি আসছে

    জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে চলতি মে মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে ১৪টি তেলবাহী জাহাজ এসেছে। এছাড়া এ মাসে আরো পাঁচটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে।

    বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্যমতে, এই ১৯টি জাহাজে জ্বালানির পরিমাণ হলো- ৩ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ৬৭ হাজার টন জেট ফুয়েল, ২৬ হাজার ৫০০ টন অকটেন এবং ৭৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল।

    বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন্স) মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইন আজ শুক্রবার বাসসকে বলেন, এখন পর্যন্ত ১৪টি তেলবাহী জাহাজ দেশে এসেছে। এ মাসের বাকি দিনগুলোতে আরো পাঁচটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করবে।

    তিনি জানান, আগামী জুন মাসের জন্য এখন পর্যন্ত পরিশোধিত (ফিনিশড) ও অপোরিশোধিত তেলবাহী (ক্রুড অয়েল) ১৬টি জাহাজ নিশ্চিত করা হয়েছে।

    জাহিদ হোসাইন বলেন, দেশের চাহিদা মেটাতে সরকার নিয়মিতভাবে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত তেল আমদানি করছে। আজও একটি তেলবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করার কথা রয়েছে।

    বিপিসি জানায়, চলতি মাসে ডিজেল, জেট ফুয়েল, অকটেন ও অপরিশোধিত তেলবাহী বিভিন্ন জাহাজ চট্টগ্রামে এসেছে। জ্বালানি তেল আমদানি সরকার ও বিপিসির একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আগামী জুন মাসের জন্যও ১৬টি জাহাজ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে।

    এছাড়া ‘এমটি ফসিল’ নামে একটি জাহাজ ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে গত সোমবার চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করেছে।

    বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজটি ২৩ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে।

    এর আগে, গত ৬ মে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ কুতুবদিয়া চ্যানেলে পৌঁছায়। বাসস

  • রিজার্ভ সংকটে ভারতে বাড়ল জ্বালানির দাম

    রিজার্ভ সংকটে ভারতে বাড়ল জ্বালানির দাম

    আন্তর্জাতিক সংবাদঃ

    ভারতে দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকার পর অবশেষে বাড়ানো হলো জ্বালানির দাম। শুক্রবার দেশটির সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি তিন রুপি এবং সিএনজির দাম কেজিপ্রতি দুই রুপি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং রুপির অবমূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পেট্রোলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে লিটারপ্রতি ৯৭ রুপি ৭৭ পয়সা, যা আগে ছিল ৯৪ রুপি ৭৭ পয়সা। একইভাবে ডিজেলের দাম ৮৭ রুপি ৬৭ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৯০ রুপি ৬৭ পয়সা। তেল শিল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মুম্বাইয়ে পেট্রোলের দাম এখন ১০৬ রুপি ৬৮ পয়সা এবং চেন্নাইয়ে ১০৩ রুপি ৬৭ পয়সা। ডিজেলের দাম মুম্বাইয়ে ৯৩ রুপি ১৪ পয়সা, কলকাতায় ৯৫ রুপি ১৩ পয়সা এবং চেন্নাইয়ে ৯৫ রুপি ২৫ পয়সায় পৌঁছেছে।

    ভারত সরকার ২০২২ সালের এপ্রিলের পর থেকে জ্বালানির দাম বাড়ানো এড়িয়ে চলছিল। বরং ২০২৪ সালের মার্চে লোকসভা নির্বাচনের আগে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি দুই রুপি কমানো হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সেই স্থিতিশীলতা ধরে রাখা কঠিন করে তুলেছে।

    চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারত গড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৬৯ ডলারে অপরিশোধিত তেল আমদানি করলেও পরবর্তী মাসগুলোতে সেই দাম বেড়ে ১১৩ থেকে ১১৪ ডলারে পৌঁছায়। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত অপরিশোধিত তেল আমদানিতে প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। আমদানি ব্যয়ের তালিকায় এরপরেই রয়েছে ইলেকট্রনিক পণ্য, যার পরিমাণ ১১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার, এবং স্বর্ণ আমদানি সাত হাজার ২০০ কোটি ডলার।

    বর্তমানে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে প্রায় ৬৯ হাজার কোটি ডলার। তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় এই রিজার্ভ যথেষ্ট নয়। রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার সাবেক ডেপুটি গভর্নর মাইকেল দেবব্রত পাত্র সম্প্রতি এক প্রবন্ধে বলেছেন, শক্তিশালী অর্থনৈতিক অবস্থান নিশ্চিত করতে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অন্তত এক লাখ কোটি ডলারে উন্নীত করা প্রয়োজন।

    তার মতে, এক বছরের মধ্যে পরিশোধযোগ্য বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের সম্ভাব্য অর্থ প্রত্যাহার ঠেকাতে আরো ৬০ থেকে ৬৫ হাজার কোটি ডলার রিজার্ভ দরকার হতে পারে।

    বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে ভারতীয় রুপি এশিয়ার দুর্বলতম মুদ্রাগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। সংঘাত শুরুর সময় প্রতি ডলার কিনতে যেখানে ৯১ রুপি লাগত, এখন সেখানে খরচ হচ্ছে প্রায় ৯৫ রুপি। ফলে আমদানি ব্যয় আরো বেড়ে গেছে।

    বিবিসি বাংলা

  • কোরবানির চামড়া সংরক্ষণে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

    কোরবানির চামড়া সংরক্ষণে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

    পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে উল্লেখ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

    তিনি বলেন, “কোরবানির একটি চামড়াও যেন নষ্ট না হয়— এবিষয়ে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেছেন। আমরা এটিকে একটি জাতীয় দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি।”

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় কমিশনার, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত দিকনির্দেশনামূলক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, কোরবানির চামড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে দেশের চামড়া শিল্প, রপ্তানি আয় এবং এতিমখানা, মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংসমূহের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু সামান্য অসচেতনতার কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়। এ পরিস্থিতি রোধে সরকার এবার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।

    ঈদের আগে বাকি দুই জুমায় দেশের সকল মসজিদে খতিব ও ইমামগণ যেন খুতবা ও বক্তব্যে চামড়া সংরক্ষণের গুরুত্ব এবং সঠিক পদ্ধতিতে চামড়া ছাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন, তাহলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকদের তত্ত্বাবধানে মাদ্রাসা, এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে তা যেন সফল হয় সেদিকে নজর রাখতে বিভাগীয় কমিশনারদের প্রতি আহ্বান জানান।

    এছাড়াও বিভাগীয় কমিশনারদের বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন এবং জেলা প্রশাসকদের প্রশিক্ষণ-পরবর্তী মাঠপর্যায়ে সক্রিয় তদারকির নির্দেশ দেন। সিটি কর্পোরেশন প্রশাসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি চামড়া সংরক্ষণ কার্যক্রমও যেন সমন্বিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

    সভায় জানানো হয়, কাঁচা চামড়ার গুণগত মান রক্ষায় সরকার ইতোমধ্যে দেশব্যাপী মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের জন্য ১৭ কোটির অধিক টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা এবং জেলা পর্যায়ে ৭৫ হাজার টাকা করে মোট ২ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

    চামড়া সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩ লাখ পোস্টার ও ৮ লাখ লিফলেট বিতরণ করা হবে। টেলিভিশন, রেডিও, জাতীয় পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমেও প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে। ঈদের তিন দিন আগে থেকে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সচেতনতামূলক তথ্যচিত্র প্রচার করা হবে।

    সভায় গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—

    • কোরবানির ২ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে সঠিকভাবে চামড়ায় লবণ প্রয়োগ।
    • প্রতি গরুর চামড়ায় ৮ থেকে ১০ কেজি এবং প্রতি ছাগলের চামড়ায় ৩ থেকে ৪ কেজি লবণ ব্যবহার।
    • বায়ু চলাচলসমৃদ্ধ স্থানে চামড়া সংরক্ষণ।
    • স্থানীয় পর্যায়ে ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত চামড়া সংরক্ষণে উৎসাহ প্রদান।
    • পশুর হাটে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ।
    • অপপ্রচার ও চামড়া বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ।
    • সড়ক ও মহাসড়কের পাশে পশুর হাট না বসানো এবং কোরবানির বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. মাহবুবুর রহমান সভা পরিচালনা করেন। সভায় বিভাগীয় কমিশনার, সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকগণ নিজ নিজ এলাকার পরিকল্পনা ও মতামত তুলে ধরেন।

    সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা যদি পরিকল্পনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ এ বছর একটি চামড়াও নষ্ট হবে না এবং দেশের এই মূল্যবান সম্পদ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।”এএস

  • একক গ্রাহক ঋণসীমার শর্ত শিথিল করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

    একক গ্রাহক ঋণসীমার শর্ত শিথিল করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

    অর্থ ও বাণিজ্য সবাদঃ

    ব্যাংকের একক গ্রাহকের ঋণসীমার শর্ত শিথিল করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে একটি ব্যাংক একজন গ্রাহককে মোট মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ ফান্ডেড ঋণ দিতে পারবে। আগে যা ছিল ১৫ শতাংশ। তবে কোনো অবস্থাতে ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড দু’টো মিলে ২৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। পাশাপাশি ব্যাংকের বৃহৎ ঋণের পরিমাণও আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে। আগামী ৩০ জুন ২০২৮ সাল পর্যন্ত এ নির্দেশনা কার্যকর থাকবে।

    বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

    নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নন-ফান্ডেড এক্সপোজারের ক্ষেত্রে কনভার্সন ফ্যাক্টর ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, ব্যাংকগুলো মোট নন-ফান্ডেড ঋণের ২৫ শতাংশ হিসাব করে তাদের বৃহৎ ঋণ সীমা নির্ধারণ করতে পারবে। এই সুবিধা ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

    এরপর ধাপে ধাপে কনভার্সন ফ্যাক্টর বাড়ানো হয়েছে। ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এটি ৩০ শতাংশ, ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ৪০ শতাংশ এবং ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আগের বিধান পুরোপুরি কার্যকর হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, একজন গ্রাহক একটি ব্যাংকের মূলধনের ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড মিলিয়ে ২৫ শতাংশ ঋণ নিতে পারবে। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ ফান্ডেড ও ১০ শতাংশ নন-ফান্ডেড। আগে কেউ ১৫ শতাংশের বেশি ফান্ডেড ঋণ দিতে পারতো না। এখন কেউ চাইলে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত দিতে পারবে। তবে সেক্ষেত্রে নন-ফান্ডেড কোনো ঋণ দিতে পারবে না। যদি কেউ ২০ শতাংশ ফান্ডেড নেয় তখন ৫ শতাংশ নন-ফান্ডেড দেওয়া যাবে।

    উদহারণ তিনি আরও বলেন, আগে নন-ফান্ডেড ১০০ টাকার এলসি ৫০ টাকা ধরে ফান্ডেড ঋণে কনভার্ট করা যেতো। এখন তা ২৫ টাকা ধরে করতে পারবে। এটার বিভিন্ন ধাপ দেওয়া হয়েছে।

    বৃহৎ ঋণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণের সঙ্গে ব্যাংকের মোট ঋণ ও অগ্রিমের কত শতাংশ পর্যন্ত বড় আকারের ঋণ দেয়া যাবে সেটি পুনর্নির্ধারণ করে দিয়েছে।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, বর্তমানে শ্রেণীকৃত ঋণের পরিমাণ ৩ শতাংশ পর্যন্ত একটি ব্যাংক তার মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বড় আকারের ঋণ দিতে পারে। নতুন নিয়মে ১০ শতাংশ পর্যন্ত শ্রেণীকৃত ঋণ থাকলে বড় আকারের ঋণ দেয়া যাবে মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৫০ শতাংশ। একইভাবে বর্তমানে ৩ শতাংশের বেশি কিন্তু ৫ শতাংশ পর্যন্ত শ্রেণীকৃত ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকের মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৪৬ শতাংশ বৃহৎ ঋণ দেয়া যায়। নতুন নিয়মে ১০ শতাংশের বেশি কিন্তু ১৫ শতাংশের কম বা সমপরিমাণ শ্রেণীকৃত ঋণ থাকলে সেক্ষেত্রে বৃহৎ ঋণের পরিমাণ হবে ব্যাংকের মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৪৬ শতাংশ।

    বর্তমানে ৫ শতাংশের বেশি কিন্তু ১০ শতাংশ পর্যন্ত শ্রেণীকৃত ঋণ থাকলে ব্যাংকের মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃহৎ ঋণ দেয়া যায়। পুনর্নির্ধারিত নিয়মানুসারে ১৫ শতাংশের বেশি কিন্তু ২০ শতাংশের কম বা সমান শ্রেণীকৃত ঋণ থাকলে ব্যাংকের মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বড় আকারের ঋণ দেয়া যাবে। এছাড়া বিদ্যমান সার্কুলার অনুসারে ১০ শতাংশের বেশি কিন্তু ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শ্রেণীকৃত ঋণ থাকলে সেক্ষেত্রে ব্যাংকের মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃহৎ ঋণ দেয়ার বিধান ছিল। নতুন নিয়মে ২০ শতাংশের বেশি কিন্তু ২৫ শতাংশের কম বা সমপরিমাণ শ্রেণীকৃত ঋণ থাকলে বৃহৎ ঋণের পরিমাণ হবে ব্যাংকের মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৩৮ শতাংশ।

    বর্তমানে ১৫ শতাংশের বেশি কিন্তু ২০ শতাংশের কম শ্রেণীকৃত ঋণ থাকলে একটি ব্যাংক তার মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বড় আকারের ঋণ দিতে পারে। আর নতুন নিয়মানুসারে ২৫ শতাংশের বেশি কিন্তু ৩০ শতাংশের কম বা সমপরিমাণ শ্রেণীকৃত ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকের বৃহৎ ঋণের পরিমাণ হবে তার মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৩৪ শতাংশ। আর শ্রেণীকৃত ঋণ ৩০ শতাংশের বেশি থাকলে সেক্ষেত্রে বড় আকারের ঋণ দেয়া যাবে ব্যাংকের মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত। তবে যা-ই হোক মোট বৃহৎ ঋণের পরিমাণ যেকোনো সময়ে ব্যাংকের মূলধনের ৬০০ শতাংশের বেশি হবে না। আগে যা ছিল ৪০০ শতাংশ।

  • প্রযুক্তিনির্ভর টেক্সটাইল শিল্পে  অংশীদারত্ব জোরদারের আহ্বান – বাণিজ্যমন্ত্রীর

    প্রযুক্তিনির্ভর টেক্সটাইল শিল্পে অংশীদারত্ব জোরদারের আহ্বান – বাণিজ্যমন্ত্রীর

    বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পকে আরো টেকসই, পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে চীনের বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ-চীন গ্রিন টেক্সটাইল এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, চীনের শিল্পায়ন, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। তিনি চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে অর্থবহ বিনিয়োগের আহ্বান জানান, যাতে উভয় দেশের জন্য ‘উভয়ের লাভজনক’ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

    খন্দকার মুক্তাদির বলেন, চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চীনা প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি বন্ধ রাষ্ট্রীয় মিল-কারখানা পুনরুজ্জীবন, পাটখাতের আধুনিকায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং সবুজ শিল্পায়নে চীনা বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে বিশ্বের সর্বাধিক সংখ্যক সবুজ সনদপ্রাপ্ত পোশাক কারখানা রয়েছে, যা দেশের উদ্যোক্তাদের পরিবেশ সচেতনতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। পানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করে টেক্সটাইল শিল্পকে আরো প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই করতে হবে।

    মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ-চীন যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ ধরনের প্রদর্শনী প্রযুক্তি বিনিময়, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং টেকসই শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

    এছাড়া বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) পরিচালক শাহ রায়ীদ চৌধুরী, বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, বাংলাদেশ গার্মেন্ট বাইং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিবিএ) সভাপতি আব্দুল হামিদ পিন্টু, সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: ফয়েজুল আলম, চাইনিজ এন্টারপ্রাইজ ইন বাংলাদেশের সভাপতি হান কুন এবং ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশের সহসভাপতি লিসা লু বক্তব্য দেন।

    পরে বাণিজ্যমন্ত্রী এক্সপোর বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

    আয়োজকরা জানান, সবুজ টেক্সটাইল শিল্পের বিশেষায়িত এ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ ও চীনের খ্যাতনামা টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস কোম্পানি, বিনিয়োগকারী, প্রযুক্তিবিদ ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।

    প্রদর্শনীতে পরিবেশবান্ধব ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য টেক্সটাইল প্রযুক্তির প্রদর্শনের পাশাপাশি সেমিনার ও প্যানেল আলোচনায় দুই দেশের শীর্ষ উদ্যোক্তারা অংশ নিচ্ছেন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী আগামী ১৬ মে শেষ হবে। ইউএনবি

  • প্রযুক্তিনির্ভর টেক্সটাইল শিল্পে  অংশীদারত্ব জোরদারের আহ্বান – বাণিজ্যমন্ত্রীর

    প্রযুক্তিনির্ভর টেক্সটাইল শিল্পে অংশীদারত্ব জোরদারের আহ্বান – বাণিজ্যমন্ত্রীর

    বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পকে আরো টেকসই, পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে চীনের বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ-চীন গ্রিন টেক্সটাইল এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, চীনের শিল্পায়ন, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। তিনি চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে অর্থবহ বিনিয়োগের আহ্বান জানান, যাতে উভয় দেশের জন্য ‘উভয়ের লাভজনক’ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

    খন্দকার মুক্তাদির বলেন, চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চীনা প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি বন্ধ রাষ্ট্রীয় মিল-কারখানা পুনরুজ্জীবন, পাটখাতের আধুনিকায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং সবুজ শিল্পায়নে চীনা বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে বিশ্বের সর্বাধিক সংখ্যক সবুজ সনদপ্রাপ্ত পোশাক কারখানা রয়েছে, যা দেশের উদ্যোক্তাদের পরিবেশ সচেতনতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। পানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করে টেক্সটাইল শিল্পকে আরো প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই করতে হবে।

    মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ-চীন যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ ধরনের প্রদর্শনী প্রযুক্তি বিনিময়, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং টেকসই শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

    এছাড়া বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) পরিচালক শাহ রায়ীদ চৌধুরী, বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, বাংলাদেশ গার্মেন্ট বাইং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিবিএ) সভাপতি আব্দুল হামিদ পিন্টু, সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: ফয়েজুল আলম, চাইনিজ এন্টারপ্রাইজ ইন বাংলাদেশের সভাপতি হান কুন এবং ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশের সহসভাপতি লিসা লু বক্তব্য দেন।

    পরে বাণিজ্যমন্ত্রী এক্সপোর বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

    আয়োজকরা জানান, সবুজ টেক্সটাইল শিল্পের বিশেষায়িত এ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ ও চীনের খ্যাতনামা টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস কোম্পানি, বিনিয়োগকারী, প্রযুক্তিবিদ ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।

    প্রদর্শনীতে পরিবেশবান্ধব ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য টেক্সটাইল প্রযুক্তির প্রদর্শনের পাশাপাশি সেমিনার ও প্যানেল আলোচনায় দুই দেশের শীর্ষ উদ্যোক্তারা অংশ নিচ্ছেন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী আগামী ১৬ মে শেষ হবে। ইউএনবি