অর্থ ও বাণিজ্য

  • চুয়াডাঙ্গায় খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল শিশুর

    চুয়াডাঙ্গায় খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল শিশুর

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গার কুতুবপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তানিশা (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের নবীননগর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তানিশা কুতুবপুর ইউনিয়নের নবীননগর গ্রামের শাহিন আলীর মেয়ে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে মায়ের সঙ্গে পাশের বাড়িতে যায় শিশুটি। সেখানে চার্জে থাকা একটি ইজিবাইকে খেলার সময় চার্জিং লাইনের বিদ্যুৎসংযোগে লিকেজ থেকে সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসকের কাছে নিলে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিশুটির মৃত্যুর বিষয়ে তিনি শুনেছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

  • ব্যক্তি ঋণের মেয়াদ বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক

    ব্যক্তি ঋণের মেয়াদ বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক

    অর্থনীতি ডেস্ক:

    ব্যক্তিগত ঋণ ও দীর্ঘস্থায়ী ভোগ্যপণ্য কেনার ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে এ ধরনের ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৮ বছর পর্যন্ত নির্ধারণ করতে পারবে ব্যাংকগুলো। এর আগে এ ঋণের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর।

    বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, ‘কনজিউমার ডিউরেবলস’ বা দীর্ঘস্থায়ী ভোগ্যপণ্য ক্রয়ের ঋণসহ পার্সোনাল লোনের বর্ধিত সীমার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে কনজিউমার ফাইন্যান্সিংয়ের জন্য প্রুডেন্সিয়াল রেগুলেশনের সংশ্লিষ্ট বিধান সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, এ ধরনের ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ ৮ বছরের বেশি হবে না।

    একই সঙ্গে দেশীয় মোটরযান শিল্পের বিকাশে সহায়তার লক্ষ্যে অটো লোনের ক্ষেত্রেও কিছু শর্ত শিথিল করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণভাবে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত অটো লোন নিতে পারবেন। তবে ইলেকট্রিক, হাইব্রিড ও দেশীয়ভাবে উৎপাদিত যানবাহন কেনার ক্ষেত্রে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন।

    এ ছাড়া এসব পরিবেশবান্ধব ও দেশীয়ভাবে উৎপাদিত গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ঋণ-ইকুইটি অনুপাতও শিথিল করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থায়ন করতে পারবে। অন্যদিকে সাধারণ অটো লোনের ক্ষেত্রে আগের মতোই সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ অর্থায়নের সুযোগ থাকবে।

    সার্কুলারে আরো বলা হয়েছে, কনজিউমার ফাইন্যান্সিংয়ের আওতায় ঋণ প্রবৃদ্ধি ব্যাংকের সামগ্রিক ঋণ প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি হতে পারবে না—এ সংক্রান্ত পূর্ববর্তী নির্দেশনাও বাতিল করা হয়েছে।

  • ইলন মাস্ক শেয়ারবাজারে ৩ দিনে হারালেন ৬০০ বিলিয়ন ডলার

    ইলন মাস্ক শেয়ারবাজারে ৩ দিনে হারালেন ৬০০ বিলিয়ন ডলার

    শেয়ারবাজারে দুর্দান্ত অভিষেকের পর টানা তিন দিন ধরে কমছে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি শত শত বিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য হারিয়েছে। ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন কোম্পানিটি প্রথমবারের মতো ইনভেস্টমেন্ট-গ্রেড বন্ড (বিনিয়োগ-যোগ্য বন্ড) বিক্রি করার ঘোষণা দেওয়ার পরই এই ধস নামে। মূলত নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণে বড় ধরনের ঋণ নেওয়ার অংশ হিসেবে এই বন্ড ছাড়ছে কোম্পানিটি।

    গতকাল সোমবার স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ১৬ শতাংশ কমে ১৫৪.৬০ ডলারে নেমে বন্ধ হয়েছে। এটি কোম্পানিটি লেনদেন শুরু করার পর থেকে সর্বনিম্ন স্তর। এর ফলে গত তিন দিনে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম কমেছে মোট ২৩ শতাংশ। এই সময়ের মধ্যে স্পেসএক্স ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাজার মূল্য হারিয়েছে। বর্তমানে কোম্পানিটির মোট বাজার মূলধন ২ ট্রিলিয়ন ডলারের সামান্য ওপরে রয়েছে।

    জোন্সট্রেডিংয়ের প্রধান বাজার কৌশলবিদ মাইকেল ও’রুরকে বলেন, ‘বিক্রেতারা আবার নিয়ন্ত্রণে ফিরে এসেছেন। বিশ্বের যারা এটি কিনতে চেয়েছিলেন, তারা ইতোমধ্যে তা কিনে ফেলেছেন।’

    রেকর্ড ৭৫ বিলিয়ন ডলারের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও ছাড়ার পর স্পেসএক্সের প্রথম দিনগুলোর লেনদেনে ব্যাপক ওঠানামা দেখা গেছে। সাধারণত কম ফ্লোট (লেনদেনের জন্য থাকা শেয়ারের স্বল্পতা) এবং খুচরা বিনিয়োগকারীদের উচ্চ আগ্রহ থাকা নতুন আইপিওগুলোর ক্ষেত্রে এমন অস্থিরতা দেখা যায়। লেনদেনের প্রথম দিনে মোট শেয়ারের মাত্র ৪.২ শতাংশ বাজারে লেনদেনের জন্য উন্মুক্ত ছিল। তবে সোমবারের এই বড় লোকসানের পরও স্পেসএক্স বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম কোম্পানি হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। বর্তমানে এর শেয়ারের দাম আইপিও মূল্য ১৩৫ ডলারের চেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি রয়েছে।

    রকেট, স্যাটেলাইট এবং এআই খাতের এই বৃহৎ প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রথম বন্ড ইস্যু থেকে অন্তত ২০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের চেষ্টা করছে বলে গত সপ্তাহে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে। এ ছাড়া স্পেসএক্স গত সোমবার রিফ্লেকশন এআই নামের একটি এআই স্টার্টআপকে কম্পিউটিং রিসোর্স বা তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা দেওয়ার জন্য কোটি কোটি (মাল্টিবিলিয়ন) ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

    গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইলন মাস্কের এক্সএআই অধিগ্রহণের মাধ্যমে স্পেসএক্স কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের সঙ্গে যুক্ত হয়। এই কারণে তাদের এই লিস্টিং বা তালিকাভুক্তির বিষয়টি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের কৌতূহল ছিল। কারণ তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যানথ্রোপিক পিবিসি এবং ওপেনএআই উভয় কোম্পানিই চলতি বছরের মধ্যে বাজারে আসার পরিকল্পনা করছে। বাজারে আসার সময় তাদের সম্ভাব্য বাজার মূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ভান্ডা রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ইতিহাসের যেকোনো আইপিও-র তুলনায় স্পেসএক্সের (যার আনুষ্ঠানিক নাম স্পেস এক্সপ্লোরেশন টেকনোলজিস কর্পোরেশন) খুচরা বা রিটেইল লেনদেন ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী। এই ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা প্রথম পাঁচ কার্যদিবসে নেট ৪০৫ মিলিয়ন ডলারের শেয়ার কিনেছেন।

  • ডিএসইতে লেনদেন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে

    ডিএসইতে লেনদেন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে

    সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রবিবার পুঁজিবাজারে সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন কমেছে। তবে ডিএসইতে লেনদেন এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

    ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, রবিবার ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৬৩৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে যথাক্রমে ১ হাজার ১৪৮ ও ২ হাজার ১৪৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

    এদিন ডিএসইতে ১ হাজার ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে প্রায় ১৯৫ কোটি টাকা কম। আগের দিন ডিএসইতে ১ হাজার ১৯৭ কোটি ২১ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছিল।

    রবিবার ডিএসইতে ৩৯৬টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৭১টি কোম্পানির, কমেছে ২৯৮টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দর।

    অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১০৪ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৩৫৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

    এদিন সিএসইতে হাত বদল হওয়া ২২৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ৬৯টির, কমেছে ১৩৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর।

    রবিবার সিএসইতে ৩০ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ৫৩ কোটি টাকা কম। আগের দিন সিএসইতে ৮৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছিল।

  • আলিবাবা ডটকমের যাত্রা এবার চট্টগ্রামে

    আলিবাবা ডটকমের যাত্রা এবার চট্টগ্রামে

    বাংলাদেশে আলিবাবা ডটকমের অনুমোদিত চ্যানেল পার্টনার স্প্রিংফিল্ড করপোরেশন চট্টগ্রামে তাদের নতুন অফিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের রপ্তানিকারক, উৎপাদক, সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ীদের জন্য ডিজিটাল বাণিজ্যের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আলিবাবা ডটকমের পাকিস্তান ও বাংলাদেশের জেনারেল ম্যানেজার সামার, গ্লোবাল বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের সিনিয়র স্পেশালিস্ট (চ্যানেল অপারেশন) ভানিয়া, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার ব্রাইস, সার্ভিস ও অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার টিনা, বাংলাদেশ চ্যানেল ম্যানেজার সনোবার মায়রা। এছাড়া স্প্রিংফিল্ড করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফয়েজুল আলম, নির্বাহী পরিচালক শান শাহেদ, পরামর্শক সাজিদ বিন সুলাইমান, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার রেজবী করিম, অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার উম্মা রোকেয়া নিশাসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে স্প্রিংফিল্ড করপোরেশন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের আলিবাবা ডটকমের বৈশ্বিক বিজনেস-টু-বিজনেস (B2B) প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে সহায়তা করবে। বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশ ও অঞ্চলের ক্রেতা-বিক্রেতাদের সংযুক্তকারী এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের পণ্য ও সেবা আরও কার্যকরভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন।

    প্রাথমিকভাবে টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল খাতকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম পরিচালিত হলেও পর্যায়ক্রমে পাট, চামড়া, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, হস্তশিল্পসহ অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্পখাতে এ সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

    বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম অফিস চালুর ফলে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে আরও সহজে প্রবেশের সুযোগ পাবে। এটি দেশের রপ্তানি খাতের বিকাশ, বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে ডিজিটাল ট্রেড বৈশ্বিক ব্যবসার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। তাই বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে হবে।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্প্রিংফিল্ড করপোরেশনের চট্টগ্রাম অফিস উদ্বোধন দেশের রপ্তানি ইকোসিস্টেমকে আরো শক্তিশালী করা, ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে তালিকাচ্যুত হতে পারে বেক্সিমকো ফার্মা

    লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে তালিকাচ্যুত হতে পারে বেক্সিমকো ফার্মা

    বাংলাদেশের একমাত্র কোম্পানি হিসাবে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট মার্কেটে (এআইএম) তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো ফার্মাসিটিউক্যালস। ২০০৫ সালে কোম্পানিটি তালিকাভুক্ত হয়। তালিকাভুক্তির দুই দশক পর তালিকাচ্যুতির বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে বাংলাদেশের অন্যতম ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটি। নিরীক্ষিত আর্থিক হিসাব বিবরণী প্রকাশে ব্যর্থতার কারণে আগামী জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই এআইএম থেকে তালিকাচ্যুত হতে পারে কোম্পানিটি।

    এআইএম বিধি ১৯ অনুযায়ী, কোনো কোম্পানির আর্থিক বছর শেষ হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে নিরীক্ষিত আর্থিক হিসাব বিবরণী প্রকাশ করতে হয়। কিন্তু বেক্সিমকো ফার্মা ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে কোম্পানিটির গ্লোবাল ডিপোজিটরি রিসিপ্ট (জিডিআর) লেনদেন চলতি বছরের ২ জানুয়ারি থেকে স্থগিত রয়েছে।

    এআইএমের বিধি ৪১ ধারায় বলা হয়েছে, ছয় মাস জিডিআর লেনদেন স্থগিত থাকলে কোম্পানিটির তালিকাভুক্তি বাতিল করা হতে পারে। সে হিসাবে আগামী ২ জুলাই জিডিআর লেনদেনের ছয় মাস পূর্ণ হতে চলছে। ফলে বেক্সিমকো ফার্মা তালিকাচ্যুতির বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

    এদিকে তালিকাচ্যুতির ঝুঁকি এড়াতে লন্ডনে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো ফার্মার ছয়জন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে গত সপ্তাহে বৈঠক করে বিষয়টির সম্মানজনক সমাধানের উদ্যোগ নিতে চিঠি দিয়েছে। বিষয়টি স্বীকার করে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মুখপাত্র আবুল কালাম আমার দেশকে বলেন, দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং দেশের ভাবমূর্তি বিবেচনায় নিয়ে বিএসইসি বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে দেখছে। এ জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেক্সিমকো ফার্মার সাধারণ শেয়ার লেনদেন স্বাভাবিক রয়েছে। অবশ্য বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে কোম্পানিটির সাধারণ শেয়ার লেনদেন হলেও লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে সাধারণ শেয়ারের পরিবর্তে জিডিআর লেনদেন হয়ে থাকে।

    প্রসঙ্গত, জিডিআর হলো এমন একটি আর্থিক দলিল, যার মাধ্যমে একটি দেশের কোম্পানির শেয়ার অন্য দেশের শেয়ারবাজারে কেনাবেচা করা যায়। তখন কোম্পানিটির শেয়ার একটি আন্তর্জাতিক ব্যাংকের কাছে জমা রাখা হয়। সেই ব্যাংক শেয়ারের বিপরীতে জিডিআর ইস্যু করে। এরপর বিদেশি বিনিয়োগকারীরা জিডিআর কিনে কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে পারেন, সরাসরি বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে না গিয়েও। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে (এলএসই) বেক্সিমকোর জিডিআর ইস্যু ও পরিচালনার ক্ষেত্রে মূল ট্রাস্টি বা ডিপোজিটরি ব্যাংক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে সিটিব্যাংক এনএ।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি বেক্সিমকো গ্রুপের তিন কোম্পানিতে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। এর মধ্যে বেক্সিমকো ফার্মাও ছিল। অপর কোম্পানি দুটি হলো বেক্সিমকো লিমিটেড ও শাইনপুকুর সিরামিকস। কিন্তু বিএসইসির এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট করে কোম্পানিটি। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বিএসইসির সিদ্ধান্তের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ফলে বিএসইসির সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা স্থগিত হয়ে যায়। আপিল বিভাগ নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করায় চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি বিএসইসির তৎকালীন চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশন সভায় বেক্সিমকো ফার্মাসহ তিন কোম্পানিকে ১২ দিনের মধ্যে পর্ষদ সভা বাস্তবায়নে কোম্পানিগুলোর এমডি, সিএফও এবং কোম্পানির সচিবকে নির্দেশ দেয়। কিন্তু নির্দেশ দেওয়া হলেও সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক হিসাব বিবরণী প্রকাশ নিয়ে জটিলতার অবসান ঘটেনি।

    বিষয়টি জানতে বেক্সিমকো ফার্মার সচিব মোহাম্মদ আসাদ উল্লাহর মতামত জানতে চেয়ে ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

    বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন সাবেক ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেলে গা-ঢাকা দেন সালমান এফ রহমান। এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ওই বছরের ১৩ আগস্ট আটক হয়ে বর্তমানে জেলহাজতে আছেন। কারসাজিসহ নানা কারণে বহুল আলোচিত সালমান এফ রহমানকে আজীবনের জন্য পুঁজিবাজারে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইএফআইসি ব্যাংক গ্যারান্টেড শ্রীপুর টাউনশিপ গ্রিন জিরো কুপন বন্ড ও বেক্সিমকো গ্রিন সুকুকের অর্থ উত্তোলন-সংক্রান্ত নানা অনিয়মের জন্য ১০০ কোটি টাকা জরিমানাও করেছিল রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন বিএসইসি।

    ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত ও অনুমোদনের জন্য কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভা এবং বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) হওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু পর্ষদ গঠন নিয়ে আইনি জটিলতার কারণে বেক্সিমকোর পর্ষদের সভা হচ্ছে না। ফলে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় চলতি বছরের ২ জানুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বেক্সিমকো ফার্মার জিডিআর লেনদেন স্থগিত রয়েছে।

    উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত আসার পর বোর্ড মিটিংয়ের মাধ্যমে আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদিত ও প্রকাশিত হলেই কেবল লন্ডনে আবার লেনদেন চালু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বিএসইসির শীর্ষ এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘এজন্য আগে আদালতের মামলার নিষ্পত্তি দরকার।’

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে কোম্পানিটির মোট ৪৪ কোটি ৬১ লাখ ১২ হাজার ৮৯টি (৪৪৬.১১ মিলিয়ন) শেয়ার বা জিডিআর রয়েছে। লন্ডন এক্সচেঞ্জের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এর মার্কেট ক্যাপিটাল প্রায় ১৮ কোটি ৯৬ লাখ পাউন্ড বা ১৮৯.৬০ মিলিয়ন পাউন্ড। টাকার হিসাবে প্রায় তিন হাজার ১২৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

  • বিনিয়োগকারীদের জন্য অনলাইন  সেবা চালু করছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

    বিনিয়োগকারীদের জন্য অনলাইন সেবা চালু করছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

    বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার লাইসেন্সিং ও অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। বিনিয়োগকারীদের যাতে এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ঘুরতে না হয়, সে জন্য একটি কেন্দ্রীয় অনলাইনভিত্তিক ‘ওয়ান-স্টপ উইন্ডো’ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।

    রোববার সকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (জেবিসিসিআই)-এর এক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন জেবিসিসিআই সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো ভৌত স্থাপনা বা শিল্পকারখানা স্থাপনের অনুমোদন প্রক্রিয়া বাস্তব অবকাঠামোগত কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় তা ১৫ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে শেষ করা সব ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। কারণ এ ধরনের স্থাপনায় নিরাপত্তা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা, পরিবেশগত বিষয়সহ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্থাপনা পরিদর্শন করে চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করবে।

    তবে বিনিয়োগ কার্যক্রম যাতে বিলম্বিত না হয়, সে জন্য সরকার অস্থায়ী বা প্রভিশনাল লাইসেন্স প্রদানের ব্যবস্থা করবে বলে জানান তিনি। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন।

    তিনি আরও বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে অনুমোদন প্রক্রিয়ার সময় কমিয়ে আনার একটি রূপরেখা নির্ধারণ করেছি। এখন খাতভিত্তিক লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ চলছে। কারণ একেক খাতের জন্য একেক ধরনের অনুমোদন ও নথিপত্র প্রয়োজন হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন প্রক্রিয়া যেমন টেক্সটাইল কারখানা স্থাপনের প্রক্রিয়া থেকে ভিন্ন।”

    কারখানা পরিদর্শন ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত করার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পরিদর্শন কার্যক্রম সমন্বয় করা হবে। বিডা পরিদর্শনের তারিখ নির্ধারণ করবে, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একত্র করবে এবং একটি সমন্বিত ব্যবস্থার অধীনে একবারেই পরিদর্শন সম্পন্ন করা হবে। এতে বিনিয়োগকারীদের বারবার বিভিন্ন সংস্থার কাছে যেতে হবে না।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বৈদ্যুতিক যানবাহন বা ইভি প্রসঙ্গেও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জ্বালানিনির্ভরতা কমিয়ে আরও টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হতে চায়। সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট দেখিয়ে দিয়েছে, ডিজেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনৈতিকভাবে ব্যয়বহুল এবং সংকটকালে সরবরাহ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    তিনি বলেন, দেশের যানবাহন ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড প্রযুক্তির দিকে নিতে সরকার আগ্রহী। মন্ত্রিসভায় এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। তবে বাংলাদেশ এখনো পুরোপুরি বৈদ্যুতিক যানবাহনের জন্য প্রস্তুত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার আপাতত প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির আমদানি ও ব্যবহারে বেশি গুরুত্ব দেবে।

    জেবিসিসিআই প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিল্প স্থাপন, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং টেকসই প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী জাপানকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে বিনিয়োগকারী অনলাইনে এক প্ল্যাটফর্মে ক্লিক করেই প্রয়োজনীয় সেবা পাবেন। আমাদের লক্ষ্য হলো সময়, ব্যয় ও জটিলতা কমিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করা।’

    সভায় বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রশংসা করে জেবিসিসিআই নেতৃবৃন্দ বলেন, এ চুক্তির মাধ্যমে দুদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।

  • ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সরকারকে সতর্ক করলেন শফিকুল ইসলাম মাসুদ

    ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সরকারকে সতর্ক করলেন শফিকুল ইসলাম মাসুদ

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেছেন, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হলে দেশের অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়বে। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক কেবলমাত্র একটি গতানুগতিক ধারার ব্যাংক নয়; বরং ইসলামী ব্যাংকের ওপর নির্ভর করে এদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। দেশের অর্থনীতিতে ইসলামী ব্যাংক যেই অবদান রেখেছে সেই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। পতিত এস আলম গ্রুপের মাধ্যমে পাচারের অর্থ ফিরিয়ে আনতে হবে এবং ইসলামী ব্যাংকের ভেতরে থাকা এস আলমের দোসরদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।শুক্রবার জামায়াতে ইসলামী শ্যামপুর জোনের বাছাইকৃত সদস্য (রুকন) শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ড. মাসুদ আরো বলেন, জনগণের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সৎ ও যোগ্য আদর্শিক লোকদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। দেশের অর্থনীতি ব্যবস্থাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে বিরোধীদল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী সরকারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

    তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সরকার দল ও বিরোধীদলকে সমান ভূমিকা রাখতে হয়। জামায়াতে ইসলামী সেই ভূমিকা রেখেই এগিয়ে যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী দেশ ও জাতির যেকোনো প্রয়োজনে সরকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।

    ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও শ্যামপুর জোন পরিচালক সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপির সভাপতিত্বে এবং সহকারী জোন পরিচালক ও কদমতলী মধ্য থানা আমির মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরের বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির।

    আরো বক্তব্য রাখেন মহানগরীর ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা মুফতি মহিউদ্দিন, কদমতলী জোনের সহকারী পরিচালক আব্দুর রহিম জীবন, যাত্রাবাড়ী থানা আমির মাওলানা সাদিক বিল্লাহ প্রমুখ।

  • ব্যাংক খাতে  খেলাপি ঋণ ৪৭ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা

    ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ৪৭ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা

    মার্চ মাস শেষে ব্যাংক খাতে ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজার ৩৮০ কোটি টাকায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

    ২০২৫ সালে ব্যাংক খাতের নিট লোকসান এক লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা। ২০২৪ সালেও নিট মুনাফা ছিল ১২ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা। এর আগের বছরগুলোতে সব সময়ই পুরো খাতে মুনাফা ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্যাংক খাতের নিট সুদ আয় ঋণাত্মক ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা। এর মানে আমানতকারীদের যে পরিমাণ সুদ দেয়া হয়েছে, সে তুলনায় ঋণ থেকে আয়ে পরিমাণ কম হয়েছে। আগের বছর ২৯ হাজার ৩৯১ কোটি টাকার নিট সুদ আয় হয়েছিল। অবশ্য সুদ বহির্ভূত আয় ২০২৪ সালের ৬৩ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৮৩ হাজার ১৭১ কোটি টাকা হয়েছে। গত বছর বেতন-ভাতাসহ পরিচালন ব্যয় হয়েছে ৫১ হাজার ৬৩ কোটি টাকা, যা আগের বছর ৪৮ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা ছিল। সব মিলিয়ে ব্যাংক খাতের কর-পূর্ববর্তী লোকসান ছিল এক লাখ ২৪ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা। আর নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা।

  • সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত নজিরবিহীন বৃদ্ধি পেয়েছে।

    সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত নজিরবিহীন বৃদ্ধি পেয়েছে।

    সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে গত বছর বাংলাদেশিদের আমানত জমার পরিমাণ নজিরবিহীন বৃদ্ধি পেয়েছে। সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর মধ্যে ২০২৫ সালেই জমা পড়ে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বেশি। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি)।
    এতে বলা হয়, ২০২৫ সাল নাগাদ ব্যক্তি ও ব্যাংক কর্তৃক সুইস ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশি অর্থের পরিমাণ ৪১% বৃদ্ধি পেয়ে ৮৩৪.২ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ১২,৭৬৩ কোটি টাকা)-তে পৌঁছেছে, যা এযাবৎকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বাংলাদেশি ১২ হাজার ৭৬০ কোটি টাকার বেশি। বর্তমানে এক সুইস ফ্রাঁ বাংলাদেশি ১৫২ টাকার বেশি।

    একইসঙ্গে, এই পরিসংখ্যানটি গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং ২০২৪ সালে রেকর্ডকৃত ৫৯০ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ থেকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
    এর আগে, ২০২১ সালে রেকর্ড ৮৭১.১ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে পৌঁছে। যেটি ছিল দেশের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ।

    সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২১ সালে সুইজারল্যান্ডের শতাধিক ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ৮৭১.১ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে পৌঁছায়। ওই বছর সুইজারল্যান্ডের প্রতি ফ্রাঁ বাংলাদেশের ৯৫ টাকার সমান ছিল। সেই হিসেবে সেখানকার ব্যাংকে ওই বছর বাংলাদেশিদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৮ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা; যা দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ পরিমাণ জমা করা অর্থ। কিন্তু গত বছর আমানতের উল্লম্ফনে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি গ্রাহকদের মোট তহবিলের পরিমাণ ২০২১ সালের সর্বকালের সর্বোচ্চ ৮৭১.১ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁর রেকর্ডের ঠিক নিচে অবস্থান করছে।

    এছাড়া গত বছর সুইস বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের মোট আমানতের ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশই ছিল বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর। যেখানে তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৯৭ দশমিক ৮ শতাংশ; যা ২০২৩ সালের ২০ শতাংশ এবং ২০২১ সালের ৩৫ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি।
    তবে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশের ব্যক্তিগত গ্রাহক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে জমা রাখা আমানতের পরিমাণ ২০২৪ সালের তুলনায় কমেছে। ২০২৪ সালের ১২ দশমিক ৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ থেকে প্রায় ১০ শতাংশ কমে গত বছর বাংলাদেশি ব্যক্তিগত গ্রাহক অ্যাকাউন্টের আমানত ১১.৪ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে নেমেছে।

    অর্থনীতিবিদরা জানান, আশা করা হয়েছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশ থেকে অর্থ পাচার কমবে। কিন্তু সুইস ব্যাংকের এই হিসাব প্রমাণ করে অর্থ পাচার কমেনি। এটি অর্থনীতির জন্য মোটেও ভালো ফল বয়ে আনছে না। এখন দেখার বিষয় বর্তমান সরকার অর্থ পাচার বন্ধের পাশাপাশি পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনতে কী উদ্যোগ নেয়। তা না হলে অর্থ পাচার থামবে না।

  • কাস্টমসের হয়রানি কমলে ব্যবসার খরচ কমবে

    কাস্টমসের হয়রানি কমলে ব্যবসার খরচ কমবে

    বাজেটে শিল্পপণ্যের প্রয়োজনীয় প্যাকেজিং উপকরণ সরবরাহে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করা হয়েছে। এতে আমাদের মতো প্রতিষ্ঠান কিছুটা স্বস্তি পাবে। তবে যেসব উদ্যোক্তা বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করেন, তাঁদের প্রত্যেকে কাস্টমসের হয়রানির শিকার। ১ হাজার মার্কিন ডলারের কোনো পণ্য আমদানি করলে সেই পণ্যের দাম ১ হাজার ৪০০ ডলার ধরে শুল্কায়ন করছে কাস্টমস কর্মকর্তারা। উদ্যোক্তারা সবাই এই হয়রানি থেকে মুক্তি চান। বাজেট বাস্তবায়ন পর্যায়ে এই বিষয়টি থেকে মুক্তি দেওয়া হলে ব্যবসার খরচ কিছুটা কমবে।

    এ ছাড়া বাজেট সুলিখিত; সুপঠিতও মনে হয়েছে। বাজেটে দেশের অর্থনীতির মঙ্গলের জন্য কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের জন্য যা যা দরকার সেগুলোর অনেক কিছুই আছে। তবে সেগুলো বাস্তবায়ন করতে গেলে যে পরিমাণ তহবিল দরকার, সেটি কোথা থেকে আসবে। সেটি সুস্পষ্ট করা হয়নি। দ্রব্যমূল্য সহনীয় করতে অনেক পণ্যে করছাড় দেওয়া হয়েছে। ফলে অর্থায়ন কোথায় থেকে আসবে, সেটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে। কারণ, রাজস্ব আদায় না বাড়লে বাজেট বাস্তবায়ন ঝুঁকিতে পড়বে।

    নির্বাচিত সরকার জনগণের সন্তুষ্টির জন্য বাজেটে ভালো ভালো কথা বলেছে। মানুষের চাহিদা পূরণে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। তবে আমরা ব্যবসায়ীরা বড় বাজেট শুনলেই আঁতকে উঠি। তার কারণ দিন শেষে বড় বাজেট বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ কর আহরণের চাপ ব্যবসায়ীদের ঘাড়ে এসে পড়ে। বিগত সরকারের আমল থেকে বড় বাজেট দেওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে নেওয়া হচ্ছে। অথচ বড় বাজেট অর্জনযোগ্য কি না, সেটি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বাজেট পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। দেশ–বিদেশের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কারণে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যও অর্জিত হয়নি। তারপরও রাজস্ব আদায়ের বড় লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    বাজেটে ব্যবসা সহজ করার বেশ কিছু উদ্যোগের কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। সেগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হলে ব্যবসা–বাণিজ্য সহজ হবে। তবে আমলাতন্ত্রের সংস্কার না আনা গেলে ব্যবসা সহজ করার এসব উদ্যোগ কতটা কার্যকর করা যাবে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

    ঘোষিত বড় বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। সেই ঘাটতি মেটাতে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা দেশের ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করে রেখেছেন অর্থমন্ত্রী। সরকার যদি ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেয়, তাহলে ব্যবসা–বাণিজ্যে গতি ফেরানো কঠিন হবে। তখন বেসরকারি খাত প্রয়োজনীয় ঋণ পাবে না। সরকার ১১–১২ শতাংশ সুদে ঋণ নিলে ব্যাংকগুলো সেটিকে নিরাপদ হিসেবে বিবেচনা করে। তখন ব্যাংকগুলো শিল্পকারখানায় ঋণ দেওয়াকে বরং ঝুঁকিপূর্ণ মনে করবে। তাই সরকারকে ব্যাংক খাত থেকে বিপুল ঋণ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। তা না হলে বেসরকারি খাতে প্রবৃদ্ধি হবে না। ঋণের সুদহারও কমবে না।

  • রিমার্কের তিন মাসব্যাপী ‘ডাবল লাখপতি’ ক্যাম্পেইন শুরু

    রিমার্কের তিন মাসব্যাপী ‘ডাবল লাখপতি’ ক্যাম্পেইন শুরু

    দেশে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের স্কিনকেয়ার বা ত্বক পরিচর্যা, হোমকেয়ার ও কসমেটিকস বা প্রসাধনী পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রিমার্ক এইচবি লিমিটেড সম্প্রতি বিক্রেতাদের জন্য ‘ডাবল লাখপতি’ শীর্ষক একটি ক্যাম্পেইন চালু করেছে। ক্যাম্পেইনটির প্রথম ধাপ আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।

    এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রিমার্ক এইচবি লিমিটেড এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয় এই ক্যাম্পেইনের আওতায় রিমার্কের সারা দেশের তালিকাভুক্ত রিটেইলার বা খুচরা বিক্রেতারা ন্যূনতম ২ হাজার টাকার পণ্য কিনলেই প্রতিবার সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ উপহার জেতার সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া তাৎক্ষণিক ক্যাশব্যাক এবং ফ্রিজ ও টিভিসহ অনেক উপহার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

    রিমার্ক এইচবি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নাজমুল আলম বলেন, ব্যবসায়িক অংশীদারদের সাফল্যকে রিমার্ক সব সময় নিজের সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করে। ‘ডাবল লাখপতি’ ক্যাম্পেইন বিক্রেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সম্মান প্রকাশের একটি উদ্যোগ। তিনি বলেন, রিমার্কের প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা বিক্রেতারা যেন তাঁদের পরিশ্রমের যথাযথ স্বীকৃতি ও পুরস্কার পান, সেটিই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমানে রিমার্ক নিজস্ব অত্যাধুনিক কারখানায় উন্নত প্রযুক্তি ও ফর্মুলেশন ব্যবহার করে পণ্য উৎপাদন করে। এখন যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও ভারতে রিমার্কের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। ২০২৫ সালে পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেছে রিমার্ক।

    কোম্পানির ন্যাশনাল সেলস ম্যানেজার মাইনুল আহসান বলেন, দেশের বাজারে রিমার্কের ধারাবাহিক অগ্রযাত্রায় ব্যবসায়ী ও বিক্রেতাদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্যাম্পেইন তাঁদের নতুন অনুপ্রেরণা জোগাবে এবং বাজারে রিমার্কের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করবে। তিনি বলেন, ডাবল লাখপতি হওয়ার সুযোগের পাশাপাশি ইনস্ট্যান্ট ক্যাশব্যাক ও মূল্যবান উপহার ক্যাম্পেইনটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

  • উত্তরা ব্যাংকের ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন

    উত্তরা ব্যাংকের ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন

    উত্তরা ব্যাংক পিএলসি ২০২৫ সালের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ বা বোনাস শেয়ার এবং ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ হিসেবে অনুমোদন করা হয়।

    সম্প্রতি উত্তরা ব্যাংকের ৪৩তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এই লভ্যাংশ অনুমোদিত হয়। বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। সভায় লভ্যাংশের পাশাপাশি ব্যাংকের লাভ–ক্ষতির হিসাবসহ ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনও অনুমোদন করা হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উত্তরা ব্যাংক এসব তথ্য জানিয়েছে।

    ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন উত্তরা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম। এতে ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ইফতেখারুল ইসলাম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী মো. আবুল হাশেমসহ পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় উপস্থিত শেয়ারহোল্ডাররা ব্যাংকের সার্বিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

    উত্তরা ব্যাংক শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত একটি কোম্পানি। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এই ব্যাংকের প্রতিটি শেয়ার ২১ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনাবেচা হয়েছে। এদিন দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি এই ব্যাংকের শেয়ারের দাম অবশ্য অপরিবর্তিত ছিল, অর্থাৎ বাড়েওনি, কমেওনি।

    ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে উত্তরা ব্যাংকের ২৫০টি পরিপূর্ণ অনলাইন সুবিধাসংবলিত শাখা এবং ৫১টি উপশাখা রয়েছে।

  • রাজশাহীর সিল্ক  দ্রুত ও নিরাপদে পৌঁছে দেবে ডাক বিভাগ

    রাজশাহীর সিল্ক দ্রুত ও নিরাপদে পৌঁছে দেবে ডাক বিভাগ

    দেশের ঐতিহ্যবাহী রেশম পণ্য গ্রাহকদের কাছে দ্রুত, নিরাপদ ও দক্ষতার সাথে পৌঁছে দিতে একসাথে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড, রেশম শিল্প মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ ডাক বিভাগ।

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সভায় রেশম শিল্পের উৎপাদন, বিপণন ও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে ডাক বিভাগের আধুনিক সেবাকে কাজে লাগানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক তৌফিক আল মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তসহ আন্তর্জাতিক বাজারে সিল্ক পণ্য সহজে পৌঁছে দিতে ডাক বিভাগের নেটওয়ার্ককে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

    বক্তারা বলেন, এই উদ্যোগের ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস পাবে এবং রেশম শিল্পের বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রান্তিক উদ্যোক্তারা সরাসরি উপকৃত হবেন।

    সভায় পার্সেল বুকিংয়ের জন্য রাজশাহী জিপিও এবং গুরুত্বপূর্ণ ডাকঘরগুলোতে বিশেষ বুথ স্থাপন, ডিজিটাল ট্র্যাকিং সুবিধাসহ ডাক সেবার মাধ্যমে দ্রুত অভ্যন্তরীণ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং রেশম পণ্যের জন্য মানসম্মত প্যাকেজিং সহায়তা প্রদানের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

    এছাড়া প্রবাসী এবং বিদেশী ক্রেতাদের কাছে রেশম পণ্য সহজে পৌঁছানোর সুবিধার্থে শুল্ক-সংক্রান্ত জটিলতা কমানোর ওপরও জোর দেন অংশগ্রহণকারীরা।

    তৌফিক আল মাহমুদ বলেন, ‘রেশম শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য একটি আধুনিক ও সহজলভ্য সরবরাহ ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।’

    তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডাক ও ই-কমার্স সংক্রান্ত এই সহযোগিতা রেশম পণ্যের বিপণনে নতুন সুযোগের সৃষ্টি করবে।

  • স্বর্ণের দামে বড় পতন

    স্বর্ণের দামে বড় পতন

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ সমন্বয়ে ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। টানা দুই দফা মূল্যবৃদ্ধি ও এক দফা ভ্যাট সমন্বয়ের পর এ নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে।

    সোমবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এই দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।

    নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এর আগে, সবশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন প্রতি ভরিতে মূল্যবান এই ধাতুটির দামে ২ হাজার ৫০৮ টাকা ভ্যাট যুক্ত করা হয়েছে। এতে দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা।

    এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

    এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৭৭ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৩৯ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৩৭ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

  • চালের দামে অস্বস্তিতে ক্রেতা

    চালের দামে অস্বস্তিতে ক্রেতা

    বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক এবং দাম যথেষ্ট স্থিতিশীল রয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অস্বস্তি রয়েছে। ঈদের আগের তুলনায় রাজধানীর বাজারে সবজি, মুরগি ও ডিমসহ বেশির ভাগ পণ্যের দাম কমলেও চাল-আটা, ডালসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে।

    মসলাজাতীয় পণ্যের মধ্যে পেঁয়াজ রসুন আদার দাম স্থিতিশীল থাকলেও হলুদ-মরিচের গুঁড়ার দাম বেড়েছে। সব ধরনের সবজির দাম নিম্নমুখী হলেও সপ্তাহের ব্যবধানে আলুর দাম বেড়েছে। এছাড়া মাছের দামও কিছুটা বাড়তির দিকে।

    সরকারিভাবে চালসহ নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল বলে দাবি করা হলেও খুচরা বাজারে সাধারণ ক্রেতারা এখনো বাড়তি দরের অভিযোগ করছেন। তাদের মতে, পণ্যের দামের এই অস্থিরতা নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ সৃষ্টি করছে। তবে সরকারের কঠোর মনিটরিং এবং বড় ধরনের মজুত পরিস্থিতি বজায় থাকলে বাজারের পরিস্থিতি আরো স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    গতকাল বৃহস্পতিবার কারওয়ানবাজার, বাদামতলী, নয়াবাজার ও কেরানীগঞ্জের বৌবাজারসহ রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এবং মফস্বলের ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। টিসিবির গতকালের দৈনিক বাজার দরের তালিকাতেও চালের দাম বৃদ্ধির উল্লেখ করা হয়েছে।

    গতকাল ইসলামপুর বাদামতলীর মেসার্স ইসলাম রাইস এজেন্সির আমজাদ হোসেন আমার দেশকে বলেন, গত বছর বোরো মৌসুমের পর বড় বড় করপোরেট হাউসগুলো প্রতিযোগিতা করে বাজার থেকে ধান কিনে নিয়ে যা করেছিল, এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ঈদের আগের তুলনায় মিনিকেট চালের দাম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এখন তারা বলছে, বাজারে ধানের সরবরাহ কম ও দাম বেশি। তাই চালের দাম বাড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও।

    কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের হাজী ইসমাইল রাইস এজেন্সির মইন উদ্দিন আমার দেশকে বলেন, মিনিকেট চালের দাম বস্তায় ১০০-১৫০ টাকা, নাজিরশাইল ১৫০-২০০ টাকা এবং আটাশ জাতের চালের দাম ১০০ টাকা বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে পোলাও চালের দাম; বস্তায় ৯০০ টাকার মতো।

    একই মার্কেটের নোয়াখালী রাইস ট্রেডার্সের শাওন আমার দেশকে বলেন, ঈদের আগের তুলনায় আটাশ ৩-৪ টাকা, মিনিকেট ৪-৫ টাকা, নাজিরশাইল ৫-১০ টাকা আর পোলাও চাল ২৫-৩০ টাকা কেজিপ্রতি বেড়েছে।

    দাম বাড়ার কথা জানিয়ে তেজগাঁও এলাকার সবচেয়ে বড় জনতা রাইস এজেন্সিসহ আরো কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে বাজেট ঘোষণার আগেই চালের দাম বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো। দাম বেড়ে যাওয়ার পর এখন স্থিতিশীল রয়েছে।

    কারওয়ান বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ফার্মগেট এলাকার রবিন গোমেজ নামে এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাজারে গিয়ে মন্ত্রীদের কথার বাস্তবতা খুঁজে পাচ্ছি না। সব ধরনের চালের দামই তো বাড়তি। ঈদের পরে পোলাও চালের দাম কেজিতে ২৫ টাকার বেশি বেড়ে যাওয়ার পর বলা হচ্ছে দাম বাড়েনি।

    এদিকে বাদামতলী পাইকারি বাজার ও নয়াবাজারের খুচরা বাজার পরিদর্শনের পর বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সাংবাদিকদের জানান, বাজারে চালের দামে বড় কোনো অস্থিতিশীলতা নেই। বাজারে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে চালের দামে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখিনি। কিছু ক্ষেত্রে মানভেদে ১-২ টাকার হেরফের হতে পারে, যা বাজারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

    মন্ত্রী আরো জানান, বাজার অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে কিছু মিলমালিক বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করেছিলেন। তবে বাজারে সেই উদ্যোগের তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি এবং পরবর্তী সময়ে দাম আবার কমে এসেছে। বাজার মনিটরিং ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী আশ্বস্ত করে বলেন, ‘দেশের খাদ্যশস্যের মজুত সন্তোষজনক। বর্তমানে সরকারের গুদামে প্রায় ২০ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে, যা আমাদের আপৎকালীন লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি।’

    প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, সরকার নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছে। ধান-চাল সংগ্রহের মাধ্যমে সরকারি মজুত বাড়ানো হচ্ছে। ফলে চালের সরবরাহ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রয়োজনে সরকার দ্রুত বাজারে হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

    এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে চাল, ডাল, তেল ও পেঁয়াজসহ অন্তত ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের আশা, এসব পদক্ষেপের ফলে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার নাগালে থাকবে এবং বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।

    চাল ছাড়াও ভোগ্যপণ্যের মধ্যে আটা-ময়দার দামও কেজিতে পাঁচ টাকার মতো বেড়ে বর্তমানে দুই কেজির আটার প্যাকেট ১২০ এবং ময়দা ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চিনির দাম পাঁচ টাকা বেড়ে ১১০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ২০ টাকা বেড়ে ১৭০ টাকা, ছোলা ১০ টাকা বেড়ে ৯৫ টাকা, খেসারি ও বুটের ডাল ১০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকা, দেশি মুগডাল ১০ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকা, মোটা মুগডাল ২০ টাকা বেড়ে ১১০ টাকা, গুঁড়া হলুদ ও মরিচ ১০০ টাকা বেড়ে ৩৫০ ও ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগেই সয়াবিন তেলের দাম বাড়লেও এখনো সরবরাহ ঠিক নেই বলে জানান কারওয়ান বাজারে মুদি ব্যবসায়ী ইমাম উদ্দিন বাবলু। গতকাল কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের আগের তুলনায় কোনো কোনো সবজির দাম অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। বাজার ও এলাকাভেদে কিছুটা দামে পার্থক্য থাকলেও বর্তমানে বেশির ভাগ সবজির দাম ৫০ টাকার মধ্যে রয়েছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে কাঁচা পেঁপের দাম। ঈদের আগের ১০০ টাকার পেঁপে এখন ২০-৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া কাঁচামরিচের দামও কমে ৬০-৮০ টাকা হয়েছে। তবে সবজির মধ্যে আলুর দাম কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে এখন ২৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

    সবজির দাম কমার প্রভাব পড়েছে ডিম ও মুরগির দামেও। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি ১৫০ টাকা, সোনালি মুরগি ২২০-২৪০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। গতকাল ১১০-১২০ টাকা ডজন বিক্রি হয়েছে। তবে পাড়া-মহল্লার দোকানে দাম একটু বেশি।

    সবজি, ডিম ও মুরগির দাম কমলেও প্রকারভেদে মাছের দাম কেজিতে ২০-৪০ টাকা বাড়তি বলে জানিয়েছেন মাছ ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের। তবে বর্ষায় বৃষ্টি হলে মাছের সরবরাহ বেড়ে কিছুদিন পর দাম কমতে পারে বলে জানান তিনি।

  • স্বর্ণের দামে বড় পতন

    স্বর্ণের দামে বড় পতন

    শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং সুদের হার নিয়ে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর অবস্থানের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে।

    শুক্রবার (১৯ জুন) বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩৪ মিনিট পর্যন্ত স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.৮ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১৭৪.৫০ ডলার এবং মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম ১.২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১৯২.৮০ ডলারে নেমে আসে।রয়টার্সকে ট্রাডু ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক নিকোস জাবুরাস বলেন, দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় থাকায় সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে আউন্সপ্রতি দাম ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

    এদিকে, ফেডের সর্বশেষ পূর্বাভাসে চলতি বছর আরও সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গোল্ডম্যান স্যাকস ডিসেম্বরের জন্য স্বর্ণের মূল্য পূর্বাভাস কমিয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯০০ ডলার করেছে, যদিও দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠানটি স্বর্ণের বাজার নিয়ে ইতিবাচক রয়েছে।

    অন্যদিকে, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা, ২১ ক্যারেট ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি শেষ দিকে ইরানের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ওপর হামলা চালানোর পরপরই স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি হয়। যুদ্ধ শুরুর আগে গত ২৮ জানুয়ারি প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৩০৩ ডলারে পৌঁছালেও সবশেষ শুক্রবারে (১২ জুন) তা নেমে এসেছে ৪ হাজার ২৩৫ ডলারে।

  • সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত বেড়ে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ

    সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত বেড়ে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ

    সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিক ও ব্যাংকগুলোর জমা রাখা অর্থের পরিমাণ বা আমানত ২০২৫ সালের তুলনায় ৪১ শতাংশ বেড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক’-এর প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪২ লাখ সুইস ফ্রাঁ (সিএইচএফ), যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা। এটি ইতিহাসে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে ২০২১ সালে সর্বোচ্চ ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ আমানত ছিল।

    সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সুইস ব্যাংকে সামগ্রিক আমানত বৃদ্ধির মূল কারণ বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর জমা অর্থের বড় উল্লম্ফন। ২০২৪ সালে যেখানে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর জমার পরিমাণ ছিল ৫৭ কোটি ৬৬ লাখ ফ্রাঁ, ২০২৫ সাল শেষে তা ৪৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ কোটি ২৭ লাখ ফ্রাঁ। অর্থাৎ মোট জমার ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশই ধরে রেখেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংক।

    অন্যদিকে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশি ব্যক্তিমালিকানাধীন বা একক গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে জমার পরিমাণ প্রায় ১০ শতাংশ কমে গেছে। ২০২৪ সালের ১ কোটি ২৬ লাখ ফ্রাঁর বিপরীতে ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ ফ্রাঁ। তবে সুইস ব্যাংকের এই বার্ষিক রিপোর্টে শুধু বৈধ ও অফিশিয়াল হিসাবের তথ্যই আসে, ফলে বহুল আলোচিত কালো টাকা বা পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ কত, তা এই হিসাব থেকে জানার সুযোগ নেই।

    কর ফাঁকি ও অর্থ পাচার রোধে ২০১৮ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী অটোমেটিক এক্সচেঞ্জ অব ইনফরমেশন (এইওআই) বা স্বয়ংক্রিয় তথ্য বিনিময় প্রথা চালু করেছে সুইজারল্যান্ড। এর আওতায় গ্রাহকের নাম, ঠিকানা, কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) এবং ব্যাংক ব্যালেন্সের তথ্য সংশ্লিষ্ট দেশের কর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০২৫ সালে সুইস ফেডারেল ট্যাক্স অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফটিএ) বিশ্বের ১০১টি দেশের সঙ্গে প্রায় ৩৪ লাখ আর্থিক অ্যাকাউন্টের তথ্য বিনিময় করেছে।

    তবে ওইসিডি গ্লোবাল ফোরাম অন ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অব ইনফরমেশন ফর ট্যাক্স পারপাসেস ২০২৬-এর মে মাসের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, বাংলাদেশ এখনো এই অটোমেটিক এক্সচেঞ্জ অব ইনফরমেশন (এইওআই) চুক্তিতে সই করেনি।

    দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ

    সুইস ব্যাংকে অর্থ রাখার দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন দ্বিতীয়। এই অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি অর্থ রয়েছে ভারতের, প্রায় ৩২০ কোটি সুইস ফ্রাঁ। তবে গত বছরের তুলনায় তাদের জমার পরিমাণ ৮ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে ভারতসহ পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানের জমার পরিমাণ কমলেও বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও মালদ্বীপের জমার পরিমাণ ২০২৫ সালে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অঞ্চলে শতাংশের হিসাবে সবচেয়ে বেশি (৪৮ দশমিক ২ শতাংশ) প্রবৃদ্ধি হয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের।

  • ডিএসইতে সূচকের ঊর্ধ্বগতি, লেনদেন ১১৯৭ কোটি টাকা

    ডিএসইতে সূচকের ঊর্ধ্বগতি, লেনদেন ১১৯৭ কোটি টাকা

    সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের ঊর্ধ্বগতির মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। আজ ডিএসইতে মোট ৩৯৬টি কোম্পানির ৪৩ কোটি ৮৩ লাখ ২৮ হাজার ৩১৩টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল এক হাজার ১৯৭ কোটি ২১ লাখ ১৫ হাজার ২৬৭ টাকা।

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৩৯ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার ৬৬১ দশমিক ৩৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ৩০ দশমিক ৭ পয়েন্ট বেড়ে দুই হাজার ১৪৩ দশমিক ১২ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক (ডিএসইএস) ১৪ দশমিক পাঁচ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ১৫০ দশমিক ৪৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

    লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৭৬টির শেয়ারদর বেড়েছে, ১৮৫টির কমেছে এবং ৩৫টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

    লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো বেক্সিমকো ফার্মা, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, আইপিডিসি, রবি আজিয়াটা, এনসিসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ফিড, বিডি থাই, ব্র্যাক ব্যাংক, বিডি থাই ফুড এবং এপেক্স স্পিনিং।

    দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো ফার্স্ট জনতা মিউচুয়াল ফান্ড, ট্রাস্ট ব্যাংক প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, এলআর গ্লোবাল মিউচুয়াল ফান্ড-১, গ্রিন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড, এপেক্স স্পিনিং, আইএফআইসি ব্যাংক প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, ক্রাউন সিমেন্ট, এবিএল প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, এমবিএল প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড এবং এনসিসি ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড-১।

    অন্যদিকে দর পতনের শীর্ষে ১০ কোম্পানি হলো শ্যামপুর সুগার, বেক্সিমকো লিমিটেড, রিজেন্ট টেক্সটাইল, পিপলস লিজিং, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, বিডি থাই ফুড, আজিজ পাইপস, মেঘনা পেট, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট এবং নিউলাইন।

  • উৎপাদন বাড়িয়ে রাজস্ব আহরণে জোর দেবে সরকার

    উৎপাদন বাড়িয়ে রাজস্ব আহরণে জোর দেবে সরকার

    করের হার বৃদ্ধি না করে উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণ, শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গবেষণা প্রতিষ্ঠান র‍্যাপিড আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    ড. তিতুমীর বলেন, অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদনমুখী শিল্পায়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শিল্প খাতের সম্প্রসারণ ঘটলে নতুন বিনিয়োগ আসবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি ফিরবে। রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রেও করের বোঝা বাড়ানোর পরিবর্তে উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড বিস্তৃত করাই হওয়া উচিত মূল কৌশল।

    তিনি বলেন, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সরকার ধীরে ধীরে উৎপাদনভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পুনরুদ্ধার, পুনর্বহাল ও গতিশীলতার জন্য পুনর্গঠন—এই তিনমুখী কৌশল অনুসরণ করা হচ্ছে।

    অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান, বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে নীতির ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে প্রথমবারের মতো পাঁচ বছরের কর কাঠামোর রূপরেখা বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ ও প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর জন্যও সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

    সরকারি কার্যক্রমের সমালোচনা করার আহ্বান জানিয়ে ড. তিতুমীর বলেন, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গঠনমূলক সমালোচনা প্রয়োজন। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার নীতি বাস্তবায়নে অধিক স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

    রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু করের আওতা বৃদ্ধি কিংবা হার সমন্বয় করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না। পদ্ধতিগত দুর্বলতা দূর করা এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। বর্তমানে আইবাস পদ্ধতি চালু থাকলেও কর অব্যাহতি, ফাঁকি ও জালিয়াতির মতো সমস্যা এখনও পুরোপুরি দূর হয়নি। এ কারণে আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট খাতে পৃথক টাস্কফোর্স গঠন করে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

    আলোচনা সভায় র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক বলেন, সরকারের ‘থ্রি আর’—রিকভারি, রিফর্ম ও রিকনস্ট্রাকশন—ভিত্তিক উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা না গেলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে। আবার মূল্যস্ফীতি কমানোর আগেই প্রবৃদ্ধির ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দিলে মূল্যচাপ আরও বাড়তে পারে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করতে দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ৮ শতাংশ নামমাত্র জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন। তবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা গেলে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধিও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে মুদ্রার অতিরিক্ত অবমূল্যায়ন রোধেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

    তিনি আরো বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সর্বোচ্চ সক্ষমতা প্রয়োগ করলেও আগামী অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় এক লাখ কোটি টাকার ঘাটতি থেকে যেতে পারে। বিদেশি ঋণ সংগ্রহের ক্ষেত্রেও সরকারকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে, কারণ বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়ন সংকুচিত হচ্ছে।

    র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাষ্ট্রীয় দায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠছে। ২০২৫ সালে সুদ পরিশোধে ব্যয় হওয়া অর্থ এনবিআরের মোট রাজস্ব আদায়ের প্রায় ৩৬ শতাংশের সমান ছিল। অন্যদিকে আগামী অর্থবছরে সম্ভাব্য রাজস্ব আয়ের প্রায় ৩১ শতাংশ বিদেশি ঋণের দায় পরিশোধে ব্যয় হতে পারে। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর চাপ আরও বাড়বে।

    শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত নিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষায় বরাদ্দ বৃদ্ধির উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ থাকলেও অনেক সময় তা যথাযথভাবে ব্যয় করা যায় না। এজন্য উন্নয়ন ব্যয় বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

  • জাহাজের ভাড়া পরিশোধে নিয়ম শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক

    জাহাজের ভাড়া পরিশোধে নিয়ম শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক

    দেশীয় শিপিং খাতের সক্ষমতা বাড়াতে লিজ নেওয়া জাহাজের ভাড়া পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর নিয়ম শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো স্থানীয়ভাবে নিবন্ধিত শিপিং কোম্পানির লিজ নেওয়া জাহাজের ভাড়া বাবদ বিদেশে অর্থ পাঠাতে পারবে।

    বৃহস্পতিবার এ–সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, এত দিন এ সুবিধা শুধু স্থানীয় কোম্পানির লিজ নেওয়া উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল। এখন একই ব্যবস্থা সমুদ্রগামী জাহাজের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে।

    সার্কুলার অনুযায়ী, এডি ব্যাংকগুলো নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে লিজ ভাড়ার অর্থ বিদেশে পাঠাতে পারবে। এর মধ্যে রয়েছে—লিজ নেওয়া জাহাজ পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন থাকতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে বাংলাদেশ ব্যাংকে নিয়মিত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে এবং জাহাজ পরিচালনা থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী দেশে আনতে হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশি মালিকানাধীন সমুদ্রগামী জাহাজের সংখ্যা বাড়ানো এবং দেশের শিপিং খাতের সক্ষমতা জোরদার করাই মূল উদ্দেশ্য।

    খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, নতুন এ সিদ্ধান্তে স্থানীয় শিপিং কোম্পানিগুলোর জন্য জাহাজ লিজ নেওয়া সহজ হবে। এতে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়বে, বৈদেশিক মুদ্রা আয় বৃদ্ধি পাবে এবং বিদেশি জাহাজের ওপর নির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়েও এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

  • ব্যাংক খাতে ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার লোকসান

    ব্যাংক খাতে ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার লোকসান

    অর্থনীতি ডেস্ক:

    ব্যাংক খাতের আর্থিক দুরবস্থার প্রভাব পড়েছে প্রধান সব সূচকের ওপর। কয়েকটি ব্যাংক ভালো মুনাফা করলেও তা যেন ধোপে টেকেনি। প্রথমবারের মতো পুরো খাতে বড় লোকসান হয়েছে। ২০২৫ সালে ব্যাংক খাতের নিট লোকসান এক লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা। ২০২৪ সালেও নিট মুনাফা ছিল ১২ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা। এর আগের বছরগুলোতে সব সময়ই পুরো খাতে মুনাফা ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত বার্ষিক আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদন ২০২৫-এ এমন চিত্র উঠে এসেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্যাংক খাতের নিট সুদ আয় ঋণাত্মক ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা। এর মানে আমানতকারীদের যে পরিমাণ সুদ দেওয়া হয়েছে, সে তুলনায় ঋণ থেকে আয়ে পরিমাণ কম হয়েছে। আগের বছর ২৯ হাজার ৩৯১ কোটি টাকার নিট সুদ আয় হয়েছিল। অবশ্য সুদবহির্ভূত আয় ২০২৪ সালের ৬৩ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৮৩ হাজার ১৭১ কোটি টাকা হয়েছে। গত বছর বেতন-ভাতাসহ পরিচালন ব্যয় হয়েছে ৫১ হাজার ৬৩ কোটি টাকা, যা আগের বছর ৪৮ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা ছিল। সব মিলিয়ে ব্যাংক খাতের কর-পূর্ববর্তী লোকসান ছিল এক লাখ ২৪ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা। আর নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা।

    আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদনে ব্যাংকভিত্তিক লাভ-লোকসানের তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে জাতীয় বাজেটের সঙ্গে সরকার প্রকাশিত ‘ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও তথ্যাবলি’ বইয়ে প্রতিটি ব্যাংকের সব সূচকের তথ্য দেওয়া হয়েছে। সে অনুসারে নিট লোকসানের শীর্ষে থাকা ১০ ব্যাংক এক লাখ ৫৪ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকার লোকসান করেছে। এর মধ্যে শীর্ষ পাঁচে রয়েছে একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলো।

    গত বছর ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের নিট ৬৬ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে। সোশ্যাল ইসলামী ৩১ হাজার কোটি, এক্সিম ব্যাংকের ২৮ হাজার ৯০৯ কোটি, গ্লোবাল ইসলামী ১৩ হাজার ১৪৪ কোটি এবং ইউনিয়ন ব্যাংক ৪ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা নিট লোকসান করেছে। লোকসানে এর পরের অবস্থানে থাকা এবি ব্যাংকের ৩ হাজার ৭০৬ কোটি, আইএফআইসির ২ হাজার ৫৬১ কোটি, ন্যাশনালের ২ হাজার ৪৩০ কোটি, প্রিমিয়ারের ৯৯৩ কোটি এবং পদ্মা ব্যাংকের ৯৩০ কোটি টাকা নিট লোকসান হয়েছে।

    চরম দুরবস্থার মধ্যেও কয়েকটি ব্যাংক রেকর্ড মুনাফা করেছে। এ তালিকার শীর্ষে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। ব্যাংকটি গত বছর এক হাজার ৫৮১ কোটি টাকার নিট মুনাফা করেছে। এ ছাড়া সিটি ব্যাংক এক হাজার ৩০৬ কোটি, পূবালী ব্যাংক এক হাজার ৭৯ কোটি, ইস্টার্ন ব্যাংক ৯১০ কোটি এবং প্রাইম ব্যাংক ৮৯০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে গত বছর ১৬টি ব্যাংক লভ্যাংশ দিতে পেরেছিল।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংক খাতের দুরবস্থা কাটাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্ধ কারখানা সচলসহ অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়া হয়েছে। সঠিকভাবে এসব ঋণ বিতরণ হলে ঋণ আদায় বেড়ে দ্রুত ব্যাংক খাতের পরিস্থিতির উন্নতি হবে।সংশ্লিষ্টরা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নানা উপায়ে ঋণ নিয়মিত দেখানো হতো। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নিয়ে খেলাপি ঋণের আসল চিত্র সামনে আনতে শুরু করায় পুরো খাতের চিত্র সামনে এসেছে। খেলাপি ঋণ বেড়ে গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশে উঠেছিল। বিশেষ পুনঃতপশিলের কারণে শেষ তিন মাসে ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা কমে গত ডিসেম্বরে পাঁচ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকায় নামে। মোট ঋণের যা ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ। মূলত লুকানো খেলাপি ঋণ সামনে আনাসহ দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ অনেক বেড়ে যাওয়ায় পুরো খাতের খারাপ অবস্থা সামনে এসেছে। গত বছর রেকর্ড এক লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ পুনঃতপশিল করা হয়। এর পরও ব্যাংক খাতে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বেড়ে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকায় ঠেকেছে। মোট ঋণের যা ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এক বছর আগে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ ছিল ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা।

    প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, খেলাপি ঋণ ব্যাপক বৃদ্ধির ফলে ব্যাংক খাতের সামগ্রিক মূলধন ঘাটতি প্রথমবারের মতো ঋণাত্মক ধারায় চলে গেছে। ব্যাংকগুলোকে যেখানে মোট ঝুঁকিভিত্তিক ঋণের সাড়ে ১২ শতাংশ মূলধন রাখার কথা। গত বছর শেষে তা ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে নেমেছে। আগের বছর শেষেও প্রয়োজনের তুলনায় মূলধন অনেক কম ছিল। তবে তা ছিল ইতিবাচক ৩ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। মূলত ২০টি ব্যাংকের ২ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতির প্রভাবে পুরো খাতে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

    চরম দুরবস্থায় পড়া ব্যাংক খাতের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণার নিয়ম কঠোর করেছে। গত বছরের নির্দেশনার আলোকে ২০২৫ সালের জন্য কোনো ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশ বা তার বেশি হলে ওই ব্যাংক আর লভ্যাংশ দিতে পারেনি। আবার মূলধন কিংবা প্রভিশন ঘাটতিতে থাকা ব্যাংক যত মুনাফাই করুক, লভ্যাংশ দিতে দেওয়া হয়নি। এই নিয়মে এবার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে কেবল ১৬টি লভ্যাংশ দিতে পেরেছে। ২০২৬ সালের জন্য এসব নির্দেশনার পাশাপাশি নতুন দুটি শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এবার পরিশোধিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকার কম হলে ওই ব্যাংক ২০২৬ সালের জন্য নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে না।

  • বাংলাদেশের ইলেকট্রনিকস খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী দ. কোরিয়া

    বাংলাদেশের ইলেকট্রনিকস খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী দ. কোরিয়া

    বাংলাদেশের ইলেকট্রনিকস পণ্য তৈরি ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে জোরালো আগ্রহ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। একই সাথে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরো জোরদারের বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে।

    আজ বুধবার ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত জি-জুন কিম এ আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।

    এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    বৈঠকে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের প্রশংসা করেন।

    তিনি বাংলাদেশের ইলেকট্রনিকস পণ্য তৈরি ও প্রযুক্তি খাতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, উৎপাদনশিল্প এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণেরও আগ্রহ প্রকাশ করেন।

    উভয়পক্ষ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদারের বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

    হুমায়ুন কবির বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন অংশীদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং শিল্প সহযোগিতা আরো জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    তিনি বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগকে স্বাগত জানান। এ ধরনের বিনিয়োগ আরো সহজ করতে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

    বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর উভয়পক্ষ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। একই সাথে বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

  • ইউরোপে তিন মাসে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৯ শতাংশ

    ইউরোপে তিন মাসে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৯ শতাংশ

    বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাজারে চলতি বছরের শুরুতেই বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে এই বাজারে দেশের পোশাক রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পর ইইউভুক্ত দেশগুলোতে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়াতে খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    ইইউর পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ইইউতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ২৬ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫৯ দশমিক ১৬ কোটি ইউরো, যেখানে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ছিল ৫৬৮ দশমিক ৭ কোটি ইউরো। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ১০৯ কোটি ইউরো রপ্তানি আয় কমে গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একক মাস হিসেবে চলতি বছরের মার্চে ইইউতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ২৪ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭০ কোটি ইউরো, যেখানে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ছিল ২১১ কোটি ইউরো। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৪১ কোটি ইউরো রপ্তানি আয় কমে গেছে।

    সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইইউভুক্ত দেশগুলো এই তিন মাসে বিভিন্ন দেশ থেকে দুই হাজার ১০৮ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। এই আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে ১১ দশমিক ৬২ শতাংশ কম। যদিও পরিমাণের দিক থেকে তৈরি পোশাক আমদানি কমেছে আট দশমিক ৩২ শতাংশ। তিন মাসে ৩৩ দশমিক ২ কোটি কেজি তৈরি পোশাক আমদানি করে ইইউভুক্ত দেশগুলো। এর বিপরীতে গত বছরের একই সময়ে আমদানি করেছিল ৩৬ দশমিক ২২ কোটি কেজি তৈরি পোশাক।

    বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই পতনের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি হলো—রপ্তানির পরিমাণ হ্রাস এবং পণ্যের গড় মূল্য কমে যাওয়া। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। একই সময়ে প্রতি কেজি পোশাকের গড় দাম কমেছে ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

    খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় অর্ধেক আসে ইইউ থেকে। তাই এই বাজারে এমন পতন দীর্ঘস্থায়ী হলে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    তারা বলছেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতির পরিবর্তন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত রদবদল এবং বিভিন্ন বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রতিযোগী দেশগুলো এখন ইউরোপীয় বাজারে বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। চীন, ভারত, ভিয়েতনামসহ অন্যান্য রপ্তানিকারক দেশগুলো এই বাজারে অবস্থান শক্ত করতে জোরালো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, যার ফলে প্রতিযোগিতা আরো তীব্র হয়েছে।

    ইইউতে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চীন বরাবরের মতো শীর্ষস্থানে রয়েছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এই অঞ্চলে ৬১৪ দশমিক ৩ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক রপ্তানি করে চীন। এ রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ কম। এই সময়ে চীনের প্রতি কেজি পোশাকের দাম কমেছে ছয় দশমিক ৯৫ শতাংশ। তুরস্ক সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে, যেখানে রপ্তানি আয় কমেছে ১৮ দশমিক ৯২ শতাংশ। এছাড়া ভারত, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়াসহ বেশিরভাগ দেশই নিম্নমুখী প্রবৃদ্ধির মুখে রয়েছে।

  • হরমুজ খুলে দেওয়ায় ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াবে তেলের বাজার: আইইএ

    হরমুজ খুলে দেওয়ায় ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াবে তেলের বাজার: আইইএ

    আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়ার পর বৈশ্বিক তেলের বাজার ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বাজারে সরবরাহ বাড়তে থাকায় ২০২৭ সালে উল্লেখযোগ্য উদ্বৃত্তে পরিণত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

    আইইএর সর্বশেষ মাসিক তেলবাজার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের ফলে বড় ধরনের তেল সরবরাহ সংকট কাটিয়ে ওঠার পথ তৈরি হয়েছে। সংকটের সময় প্রতিদিন ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল উৎপাদন ও সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।

    প্রতিবেদনে আইইএ উল্লেখ করেছে, সমঝোতা কার্যকর থাকলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল উৎপাদন ও রপ্তানি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহারের ফলে ইরানের তেল রপ্তানি পুরোপুরি পুনরায় শুরু করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

    সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, জুনের শুরুতেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে উল্লেখযোগ্য গতি ফিরে এসেছে। ওমান উপসাগরে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তর কার্যক্রম বৃদ্ধির ফলে মে মাসে দৈনিক ৯৬ লাখ ব্যারেলে নেমে আসা তেল প্রবাহ বেড়ে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে।

    তবে আইইএ সতর্ক করে বলেছে, তেল সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছু সময় লাগবে। কারণ প্রধান নৌপথগুলো থেকে মাইন অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সরবরাহ শৃঙ্খল পুনরুদ্ধারের কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে না।

    সংস্থাটির মতে, এসব চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে পারলে বৈশ্বিক তেলবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং সরবরাহ পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হবে।

  • তিন বছরের মধ্যে সুদ পরিশোধ না করলে আয় হিসেবে গণ্য হবে

    তিন বছরের মধ্যে সুদ পরিশোধ না করলে আয় হিসেবে গণ্য হবে

    আয়কর আইন অনুযায়ী কোম্পানিগুলো তাদের বার্ষিক মুনাফা থেকে ঋণের সুদকে ‘ব্যয়’ হিসেবে বাদ দিয়ে নিট মুনাফা দেখায়। এর ফলে কোম্পানিগুলোর করে হিসেবে জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে এটি উপস্থাপন করেন।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর মূল উদ্দেশ্য হলো—কোম্পানিগুলো যেন ঋণের সুদের বিপরীতে বারবার ‘ব্যয়ের’ সুবিধা নিয়ে সরকারকে কর ফাঁকি দিতে না পারে। কোম্পানি সুদের যে ব্যয় দাবি করে, তা তিন বছরের মধ্যে পরিশোধ না করলে সরকার ধরে নেবে—এটি আসলে ব্যয় ছিল না, বরং মুনাফা ছিল। তাই ওই সুদের ওপর এখন কর দিতে হবে।

    এ বিষয়ে এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, অ্যাকাউন্টিংয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অ্যাক্রুয়াল বেসিসে হিসাব করা হয়। কিন্তু আয়কর আইনে যে বিধানটি রয়েছে, সেটা করা হয়েছে কস্ট বেসিসে। এখন নতুন ধারা যুক্ত করে অ্যাকাউন্টিংয়ের ক্ষেত্রে আইএফআরএসের (ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং সিস্টেমের) সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য কোম্পানির ব্যয়ের হিসাবকেও অ্যাক্রুয়াল বেসিসে করা হয়েছে। আয়কর আইনের ইংরেজি ভার্সনে বিষয়টি ঠিকই আছে, কিন্তু বাংলায় অনুবাদ করতে গিয়ে কোনো কারণে মিসিং হয়ে গিয়েছিল। ফলে নতুন করে এ ধারাটি সংযোজন করতে হচ্ছে।

    অ্যাক্রুয়াল ও কস্ট বেসিসে হিসাবের পার্থক্যটি নিচের উদাহরণের মাধ্যমে স্পষ্ট করা যেতে পারে। ধরা যাক, একটি কোম্পানি একটি ব্যাংক থেকে এক কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যার বার্ষিক সুদ ১০ লাখ টাকা।

    অ্যাক্রুয়াল বেসিস : হিসাববিজ্ঞানের নিয়ম (আইএফআরএস) অনুযায়ী, আপনি এই বছর টাকা পরিশোধ না করলেও ওই ১০ লাখ টাকা আপনার চলতি বছরের ‘খরচ’ । কারণ, সুদটি এই বছরেরই এবং কোম্পানি এটি পরিশোধ করতে বাধ্য। তাই আর্থিক বিবরণীতে আপনি ১০ লাখ টাকাই খরচ দেখাবেন।

    কস্ট বেসিস : আয়কর আইন অনুযায়ী, এনবিআর আগে বলত—‘টাকা পকেট থেকে না গেলে (বা পরিশোধ না হলে) সেটি খরচ হিসেবে গণ্য হবে না।’ ফলে কোম্পানি ওই ১০ লাখ টাকা খরচ হিসেবে দেখালেও, ট্যাক্স রিটার্নে এনবিআর ওই খরচটি বাতিল করে দিত এবং ওই টাকার ওপর কর আরোপ করত।

    সমস্যাটি কোথায় ছিল?

    এতে কোম্পানির বইতে একটি বা সময়ের পার্থক্য তৈরি হতো। অ্যাকাউন্টিং বলছে এটা খরচ, কিন্তু ট্যাক্স ল বলছে এটা খরচ নয়। নতুন ধারার অর্থ হলো—এনবিআর এখন বলছে, ‘ঠিক আছে, তোমরা তো অ্যাক্রুয়াল বেসিসে এটাকে খরচ হিসেবে দেখাচ্ছ, আমরা সেটাকে অনুমোদন দেব। কিন্তু এই সুযোগ অনন্তকাল চলতে পারে না।’

    অর্থাৎ, যদি তিন বছর পর্যন্ত সুদ পরিশোধ না করে ওই টাকাটা ঋণের মূলধনের সঙ্গে যোগ করে বা অন্যভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়, তবে সরকার চতুর্থ বছরে এসে সেটিকে আয় হিসেবে গণ্য করে কর দাবি করবে।

  • প্রযুক্তিতে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির দ্বার উন্মোচন

    প্রযুক্তিতে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির দ্বার উন্মোচন

    একুশ শতকের অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে যাচ্ছে সেমিকন্ডাক্টর খাত বা চিপ। মোবাইল, কম্পিউটার থেকে শুরু করে প্রযুক্তি নির্ভরশীল বিশ্বে চিপ এখন কৌশলগত পণ্য। সেই দৌড়ে পা রাখতে যুগান্তকারী এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রযক্তিনির্ভর চিপ তৈরি এ খাতকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে সব ধরনের কর সুবিধা দিয়েছে। ২০৩১ সাল পর্যন্ত এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ট্রিলিয়ন ডলারের এই বৈশ্বিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হওয়ার পথ সুগম করেছে সরকার। সরকারি এই নীতি সহায়তায় পুরোপুরি রপ্তানিমুখী সেমিকন্ডাক্টর খাতের ৬ মিলিয়ন ডলারে থাকা রপ্তানি আয় আগামী ৫ বছরে বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তৈরি পোশাক খাতের পর প্রযুক্তি খাত হতে পারে আরেকটি বড় রপ্তানিমুখী শিল্প।

    আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সেমিকন্ডাক্টর খাতের জন্য আমদানিকৃত উপকরণের ওপর ১ শতাংশের ওপরে কোনো আমদানি শুল্ক, সমুদয় রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর ও আগাম কর সুবিধা স্থগিত রাখা হবে। এরপরই এই সুবিধাগুলো বাস্তবায়নে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নতুন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সরকারের এই প্রণোদনা প্যাকেজটি সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের পূর্ণাঙ্গ ভ্যালু চেইন-ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট ডিজাইন, ইলেকট্রনিক ডিজাইন অটোমেশন (ইডিএ), সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলিং ও টেস্টিং (ওএসএটি) এবং প্যাকেজিং ও ফেব্রিকেশন সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে।

    ইলেকট্রনিক যন্ত্রের অত্যাবশ্যকীয় ক্ষুদ্রাংশ সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের শীর্ষে অবস্থানে রয়েছে তাইওয়ান। এ প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জাপানের ওপরে আছে তাদের নাম। তবে বাজেটে প্রযুক্তি খাতের বড় সুখবর হচ্ছে, সেই তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের নাম। বিদেশি বিনিয়োগ আর্কষণ এবং কর্মসংস্থান ও দেশীয় শিল্পের বিকাশে সরকারের এ উদ্যোগ মাইলফলক হয়ে থাকবে বলেও অভিমত সংশ্লিষ্টদের। তারা বলছেন, বিশ্ববাজারে সেমিকন্ডাক্টরের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বাংলাদেশ এখনো এ খাতে তেমন উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। বর্তমানে স্থানীয়ভাবে চিপ ডিজাইন করে বছরে প্রায় ছয় মিলিয়ন ডলার আয় করছে বাংলাদেশ। প্রাথমিক পর্যায়ে চিপ ডিজাইন ও টেস্টিং খাতে মনোনিবেশ করে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ আয় এক বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব হবে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুয়েটের ইলেট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সহযোগী অধ্যাপক নাদিম চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বিকাশে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। এনবিআর প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট উন্নয়ন, ইলেকট্রনিক ডিজাইন অটোমেশন, আউটসোর্সড সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলি অ্যান্ড টেস্টিং, প্যাকেজিং এবং ফ্যাব্রিকেশন খাতের জন্য ব্যাপক কর ও শুল্ক অব্যাহতি দিয়েছে। সরকারের এই নীতিগত সহায়তা বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। বর্তমানে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্মার্টফোন, ডেটা সেন্টার, অটোমোবাইল, টেলিযোগাযোগ এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি—সব ক্ষেত্রেই সেমিকন্ডাক্টর চিপ অপরিহার্য। ফলে এই শিল্পে অংশগ্রহণ মানে কেবল প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়; বরং উচ্চমূল্যের রপ্তানি, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ সৃষ্টি। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, সফটওয়্যার, পরীক্ষণ সরঞ্জাম এবং উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম আমদানির ক্ষেত্রে কাস্টমস ডিউটি কার্যত ১ শতাংশে সীমিত করা হয়েছে এবং নিয়ন্ত্রক শুল্ক, ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক ও অগ্রিম কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    নাদিম চৌধুরী বলেন, সরকারের এই সুবিধার মাধ্যমে শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক বিনিয়োগ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। এতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ইডিএ সফটওয়্যার যেমন ক্যাডেন্স, সিমেন্সের মতো ডিজাইন টুলসকে এ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। এতে বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক মানের চিপ ডিজাইন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে এবং বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ভ্যালু চেইনে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। এ ছাড়া ডেভেলপমেন্ট প্ল্যাটফর্ম, হার্ডওয়্যার এমুলেশন সিস্টেম, হাইস্পিড অসিলোস্কোপ, ভেক্টর নেটওয়ার্ক অ্যানালাইজার, অটোমেটেডটেস্ট ইকুইপমেন্ট এবং অন্যান্য অত্যাধুনিক পরীক্ষণ সরঞ্জাম আমদানির সুযোগ তৈরি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং শিল্প খাতের গবেষণা ও উন্নয়ন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলেও জানান বুয়েটের এই শিক্ষক।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেমিকন্ডাক্টর খাতের এই প্রণোদনা দেশের জন্য কৌশলগত কয়েকটি সুফল বয়ে আনতে পারে। প্রথমত, বাংলাদেশে ফ্যাবলেস চিপ ডিজাইন কোম্পানি গড়ে ওঠার পথ সহজ হবে। দ্বিতীয়ত, বিদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে গবেষণা ও ডিজাইন সেন্টার স্থাপনে আগ্রহী হবে। তৃতীয়ত, উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন প্রকৌশলী ও গবেষকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। চতুর্থত, দীর্ঘমেয়াদে সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং, টেস্টিং এবং উৎপাদনভিত্তিক শিল্প বিকাশের ভিত্তি তৈরি হবে। বাংলাদেশের তরুণ প্রকৌশলী, বিশ্ববিদ্যালয় এবং উদীয়মান প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। সঠিক বাস্তবায়ন, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন এবং শিল্প একাডেমি সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে আগামী দশকে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। এটি বাংলাদেশের জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গঠনের পথে একটি কৌশলগত বিনিয়োগ এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি শিল্পের ভিত্তিপ্রস্তর বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ম্যাককিন্সির মতে, গ্লোবাল সেমিকন্ডাক্টর বাজার ২১ শতকের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় শিল্প। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ২০৩০ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারে পৌঁছাবে। এরই মধ্যে খাতটি ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হারে ২০২১ সালে ৬০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তৈরি পোশাক শিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টর হতে পারে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বড় রপ্তানি খাত। সরকারের এই রেয়াতি সুবিধা মাইলফলক হয়ে থাকবে।

    জানা গেছে, দেশের ক্ষুদ্র পরিসরের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পটি এরই মধ্যে বিশ্বের দৃষ্টি কেড়েছে। দেশীয় প্রতিষ্ঠানে উল্কাসেমি প্রায় ৩০০ প্রকৌশলী নিয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবন করছে। তারা গুগল, অ্যাপল, ফেসবুকের মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন করছে। আপাতত ডিজাইন পর্যায়ের কাজ করলেও লক্ষ্য উৎপাদনে যাওয়া। এ ছাড়া নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর, প্রাইম সিলিকন, টোটন ইলেকট্রনিকসের মতো কোম্পানি কাজ করছে। এ ছাড়া দেশীয় বড় কোম্পানিগুলো এই বাজারে প্রবেশ করার কাজ শুরু করেছে। ঘরের বাতি, টিভি, ফ্রিজ, ওভেন থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত ব্যবহারের মোবাইল হ্যান্ডসেট—যেখানে যা, তার সবকিছুই প্রযুক্তিনির্ভর।

  • এক মাসে দ্বিগুণ সোনারগাঁও টেক্সটাইলসের শেয়ারের দাম, লেনদেন স্থগিত

    এক মাসে দ্বিগুণ সোনারগাঁও টেক্সটাইলসের শেয়ারের দাম, লেনদেন স্থগিত

    সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই এক মাসে বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হয়ে গেছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সোনারগাঁও টেক্সটাইলসের শেয়ারের দাম। আজ সোমবারও দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। এদিন প্রতিটি শেয়ারের দাম ১০ শতাংশ বা ৮ টাকা বেড়ে হয়েছে সাড়ে ৮৭ টাকা।

    এক মাসের বেশি সময় ধরে কোনো কারণ ছাড়া কোম্পানিটির শেয়ারের একটানা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ঘটনায় আজ বাজারে এটি শেয়ারের লেনদেন তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ডিএসইর পক্ষ থেকে লেনদেন চলাকালে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। ডিএসই জানিয়েছে, আজ লেনদেন শুরুর পর কোম্পানিটির শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হওয়ায় দিনের বাকি সময়ের জন্য লেনদেন স্থগিত করা হয়।

    ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ মে ঢাকার বাজারে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ৩৪ টাকা। আজ লেনদেনের শুরুতে সেই দাম বেড়ে দাঁড়ায় সাড়ে ৮৭ টাকায়। এই সময়ে লেনদেন হয়েছে ২৩ দিন। সেই হিসাবে এক মাসের কিছু বেশি সময়ের ব্যবধানে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম সাড়ে ৫৩ টাকা বা দেড় শ শতাংশের বেশি বেড়েছে। অর্থাৎ ২৩ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে গেছে। এ অবস্থায় আজ লেনদেন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসই।

    ৪ জুন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নেতৃত্ব বদল হয়। সরকার বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেন মাসুদ খানকে। পাশাপাশি আরও তিনজন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই দিনই তাঁরা শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নিয়েই ওই দিন সাংবাদিক সম্মেলনে বিএসইসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসুদ খান ঘোষণা দিয়েছিলেন বাজারের কারসাজিকারকদের বিরুদ্ধে কমিশন রিয়েল টাইম বা প্রকৃত সময়ভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

    সংবাদ সম্মেলনে বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, কারসাজিকারকদের আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও বেশি শাস্তির মুখোমুখি হবে এবং সেটি হবে রিয়েল টাইম–ব্যবস্থা। কারসাজি নিয়ন্ত্রণে জেড শ্রেণিভুক্ত কোম্পানির ওপর শুরু থেকে বিশেষ নজরদারি করা হবে। বিএসইসির সব ধরনের কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা।

    দায়িত্ব গ্রহণের পর বিএসইসির নবনিযুক্ত কমিশন ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে। সেই বৈঠকে নির্দেশনা দেওয়া হয় দুর্বল মানের যেসব কোম্পানির শেয়ারের দাম কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া অস্বাভাবিকভাবে বাড়বে, সেগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে এসব শেয়ারের লেনদেন স্থগিত করে মূল্যবৃদ্ধির কারণ দ্রুততার সঙ্গে খতিয়ে দেখতে হবে। বিএসইসির ওই নির্দেশনার পর দুর্বল মানের যেসব কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটছে, সেসব কোম্পানির শেয়ার লেনদেন তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ডিএসই। তারই অংশ হিসেবে আজ সোনারগাঁও টেক্সটাইলসের লেনদেন স্থগিত করা হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে শ্যামপুর সুগার মিলসের শেয়ারের লেনদেনও তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। অবশ্য পরবর্তী কার্যদিবসে আবার সেই স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হয়।

    বাজার–সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কারসাজি ছাড়া দুর্বল মানের কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। তাই এ ধরনের কোম্পানির শেয়ার থেকে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দিতে তাৎক্ষণিক কিছু ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।

    বস্ত্র খাতের কোম্পানি সোনারগাঁও টেক্সটাইলস লোকসানি একটি কোম্পানি। সর্বশেষ গত জুলাই-মার্চ প্রান্তিকে কোম্পানিটি ৫০ লাখ টাকার বেশি লোকসান করেছে। গত বছরের জুনে সমাপ্ত সর্বশেষ আর্থিক বছর কোম্পানিটির লোকসানের পরিমাণ ছিল ২ কোটি টাকার বেশি। এ কারণে গত অর্থবছর শেষে কোম্পানিটি শেয়ারধারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। বর্তমানে কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে ‘বি’ শ্রেণিভুক্ত।

    ১৯৯৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এই কোম্পানিটি স্বল্প মূলধনি একটি কোম্পানি। এটির পরিশোধিত মূলধন ২৬ কোটি টাকা। আর শেয়ারসংখ্যা ২ কোটি ৬৪ লাখের বেশি, যার ৪০ শতাংশের বেশি রয়েছে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে। ফলে বাজারে এটির লেনদেনযোগ্য শেয়ারের পরিমাণ কম। আর এটিকেই সুযোগ হিসেবে কাজে লাগান কারসাজিকারকেরা। লেনদেনযোগ্য শেয়ার কম থাকায় অল্প কিছু শেয়ার কিনে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটান কারসাজিকারকেরা।

  • বছর শেষে ২৫৮ কোটি টাকার লভ্যাংশ ঘোষণা বার্জারের, কারা কত পাবেন

    বছর শেষে ২৫৮ কোটি টাকার লভ্যাংশ ঘোষণা বার্জারের, কারা কত পাবেন

    শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের মুনাফা এক বছরে ২৭ কোটি টাকা বা পৌনে ৮ শতাংশ বেড়েছে। গত মার্চে সমাপ্ত হিসাব বছর শেষে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭৭ কোটি টাকা। তার আগের বছর এই মুনাফার পরিমাণ ছিল ৩৫০ কোটি টাকা। গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় গত এপ্রিল–মার্চ হিসাব বছরের আর্থিক বিবরণী চূড়ান্ত করা হয়। তাতে কোম্পানিটির মুনাফার এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

    শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে আজ মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন আর্থিক তথ্য জানিয়েছে কোম্পানিটি। সোমবারের একই সভায় সদ্যবিদায়ী হিসাব বছরের জন্য লভ্যাংশও ঘোষণা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি গত এপ্রিল–মার্চ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারধারীদের ৫২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঘোষিত এই লভ্যাংশ অনুযায়ী, কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে একজন শেয়ারধারী সাড়ে ৫২ টাকা করে লভ্যাংশ পাবেন। রেকর্ড তারিখে যাদের হাতে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার থাকবে তারাই এই লভ্যাংশের দাবিদার হবেন। ২০২৫ সালের হিসাব বছর শেষেও কোম্পানিটি শেয়ারধারীদের ৫২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। সেই হিসাবে মুনাফা বাড়লেও লভ্যাংশ বাড়েনি।

    এদিকে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ গত মার্চে সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য যে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে তাতে লভ্যাংশ বাবদ কোম্পানিটিকে বিতরণ করতে হবে প্রায় ২৫৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ কোম্পানিটি উল্লেখিত হিসাব বছরের যে মুনাফা (৩৭৭ কোটি টাকা) করেছে তার প্রায় ৬৮ শতাংশই লভ্যাংশ হিসেবে শেয়ারধারীদের মধ্যে বিতরণ করবে। যার বড় অংশই পাবেন কোম্পানিটির বিদেশি শেয়ারধারীরা। কারণ, তাঁদের কাছেই রয়েছে কোম্পানিটির প্রায় ৯০ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা। সেই মালিকানার বিপরীতে কোম্পানিটির বিদেশি মালিকেরা পাবেন ২৩১ কোটি টাকার লভ্যাংশ। বাকি ১০ শতাংশ শেয়ারের মালিকানার মধ্যে প্রায় ৮ শতাংশ রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে। সেই হিসাবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ হিসেবে পাবেন ২১ কোটি টাকা। আর ব্যক্তিশ্রেণির সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ২ শতাংশ শেয়ার। এই শেয়ারের বিপরীতে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ হিসেবে পাবেন প্রায় সোয়া ৫ কোটি টাকা।

    ঘোষিত লভ্যাংশের আইনগত দাবিদার নির্ধারণের জন্য বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ রেকর্ড তারিখ ঘোষণা করেছে আগামী ৭ জুলাই। ওই দিন যাদের হাতে কোম্পানিটির শেয়ার থাকবে তারাই ঘোষিত লভ্যাংশ পাবেন। আর এই লভ্যাংশ বিতরণ করা হবে আগামী ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএম শেষে। কারণ, এজিএমে শেয়ারধারীদের অনুমোদনের পরই তা বিতরণ করা হবে।

    লভ্যাংশের ঘোষণা ও বছর শেষে মুনাফার তথ্য প্রকাশের পর আজ শেয়ারবাজারে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের শেয়ারের দরপতন হয়েছে। ঢাকার বাজারে বেলা সোয়া ১টা পর্যন্ত কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ১৮ টাকা বা সোয়া ১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪১৫ টাকায়।

  • রফতানির সম্ভাবনায় জোর দিলেন কোল্ড চেইন উন্নয়নে’

    রফতানির সম্ভাবনায় জোর দিলেন কোল্ড চেইন উন্নয়নে’

    রাজশাহীর আমের স্বাদে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত

    বিডি টাইমস ডেস্ক,

    বাংলাদেশের আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত রাজশাহী। সুস্বাদু, রসালো ও সুগন্ধি আমের জন্য দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও জেলার সুনাম রয়েছে। সেই খ্যাতিমান রাজশাহীর আমের স্বাদ নিতে এবার সরাসরি আমের হাটে হাজির হলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন।

    মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বানেশ্বর আম হাট পরিদর্শন করেন তিনি।

    উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এই আমের বাজারে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন আড়ৎ, দোকান ও আমের সংগ্রহকেন্দ্র পরিদর্শন করেন রাষ্ট্রদূত। এসময় তার সাথে ছিলেন মার্কিন দূতাবাসের পলিটিক্যাল কাউন্সেলর Eric Gillan, পলিটিক্যাল অফিসার Charles Besnardসহ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    রাজশাহীর আম মৌসুম মানেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ী, পাইকার ও ক্রেতাদের সমাগম। আর এই মৌসুমে বানেশ্বর হাট হয়ে ওঠে আমের সবচেয়ে বড় বিপণনকেন্দ্রগুলোর একটি। শত শত ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যানে প্রতিদিন দেশের নানা প্রান্তে পাঠানো হয় হাজার হাজার মণ আম।

    এই ব্যস্ত বাজারে এসে রাষ্ট্রদূত বিভিন্ন জাতের আম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেন এবং উৎপাদন, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ ও রফতানির নানা বিষয় সম্পর্কে অবগত হন। সফরের একপর্যায়ে তিনি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কয়েকটি জনপ্রিয় জাতের আমের স্বাদও গ্রহণ করেন।

    পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘রাষ্ট্রদূত হিসেবে রাজশাহীতে এটি আমার প্রথম সফর। এর আগে ২০২০ সালে একবার এসেছিলাম। তবে এবার বিশেষভাবে আমের মৌসুমে এসেছি, কারণ আমি রাজশাহীর আমের স্বাদ নিতে চেয়েছিলাম। এখানে আসতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত।’

    মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৃষিপ্রধান অঙ্গরাজ্য থেকে এসেছেন। ফলে কৃষিপণ্য উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থার প্রতি তার আগ্রহ দীর্ঘদিনের।

    রাষ্ট্রদূতের ভাষায়, ‘কোনো পণ্য যেখানে উৎপাদিত হয়, সেখানে গিয়ে সেটি দেখা ও স্বাদ নেয়ার অভিজ্ঞতার তুলনা নেই। সেখানে সবচেয়ে তাজা, বৈচিত্র্যময় ও সেরা পণ্য দেখার সুযোগ পাওয়া যায়।’

    বাংলাদেশী আমের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, আমেরিকানদের কাছে আম অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ফল। তবে যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত হিমায়িত আম বেশি পাওয়া যায়, যা বিভিন্ন পানীয় ও শেক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

    তিনি বলেন, ‘আমেরিকা আম পছন্দ করে, কিন্তু রাজশাহীর মতো এত তাজা আম পাওয়া সেখানে কঠিন। এখানকার আমের স্বাদ ও সতেজতা সত্যিই অনন্য।’

    রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য রাজশাহীর আমের আন্তর্জাতিক মান ও সম্ভাবনার প্রতি এক ধরনের স্বীকৃতি হিসেবেই দেখছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকরা।

    বাংলাদেশ থেকে আম রফতানির সম্ভাবনা আরো বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামতও দেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি কোল্ড চেইন বা হিমাগারভিত্তিক সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    তিনি বলেন, ‘সারা বছর আম সহজলভ্য রাখতে এবং হিমায়িত আম রফতানি বাড়াতে উন্নত কোল্ড চেইন ব্যবস্থা প্রয়োজন। এতে বাংলাদেশের আম উৎপাদন, সংরক্ষণ ও রফতানির সুযোগ আরো বৃদ্ধি পাবে।’

    কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে দেশের আম উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেলেও পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধা ও আধুনিক সরবরাহ ব্যবস্থা না থাকায় বিপুল পরিমাণ ফল নষ্ট হয়ে যায়। উন্নত কোল্ড স্টোরেজ, প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেজিং ব্যবস্থা গড়ে উঠলে রাজশাহীর আম বৈদেশিক বাজারে আরো শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে।

    রাজশাহীর আম ইতোমধ্যে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে। তবে উৎপাদনের তুলনায় রফতানির পরিমাণ এখনো সীমিত।

    ব্যবসায়ীদের মতে, বিদেশী কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের এমন সফর বিদেশী বাজারে রাজশাহীর আমের পরিচিতি বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

    স্থানীয় আম ব্যবসায়ীরা বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সফর শুধু সৌজন্য সফর নয়; এটি রাজশাহীর আম শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। বিশ্বের বৃহত্তম ভোক্তা বাজারগুলোর একটির প্রতিনিধির আগ্রহ আন্তর্জাতিক ক্রেতাদেরও আকৃষ্ট করতে পারে।

    অন্যদিকে কৃষকদের আশা, রাজশাহীর আমের ব্র্যান্ডিং, রফতানি অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ জোরদার হলে এ অঞ্চলের লাখো মানুষের জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

    মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের বানেশ্বর আম হাট পরিদর্শন নিছক একটি কূটনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং এটি রাজশাহীর কৃষি অর্থনীতি ও আম শিল্পের আন্তর্জাতিক সম্ভাবনার প্রতীক। বিশ্ববাজারে নিরাপদ, সুস্বাদু ও মানসম্মত ফল হিসেবে রাজশাহীর আমের যে সুনাম রয়েছে, তা আরো বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের সফর নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।

    রাজশাহীর বাগান থেকে বিশ্বের বাজারে—এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে এখন প্রয়োজন উন্নত সংরক্ষণ ব্যবস্থা, আধুনিক বিপণন কৌশল এবং রফতানিবান্ধব অবকাঠামো। আর সেই যাত্রাপথে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই সফর নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক বার্তা হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে আরো গতিশীল করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে আরো গতিশীল করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    নবনিযুক্ত বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বাণিজ্য সচিবকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে স্বাগত জানান। তিনি নবনিযুক্ত সচিবকে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।

    মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত পরিচয়পর্বে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব, উপসচিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নবনিযুক্ত সচিবের শক্তিশালী একাডেমিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পূর্বে কাজ করার অভিজ্ঞতা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করবে।

    তিনি বলেন, দক্ষ নেতৃত্ব, সমন্বিত টিমওয়ার্ক এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আগামী দিনে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করবে।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের একাধিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। এসব গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় আরও দক্ষতার সঙ্গে অংশগ্রহণের জন্য এফটিএ টিমকে সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি নতুন দক্ষ জনবল ও বিশেষায়িত দক্ষতা সংযোজন করা হবে।

    আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হলে আরও বড় ও দক্ষ টিম গঠন করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দক্ষতা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়া হবে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন সহযোগী সংস্থাও এ বিষয়ে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

    মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সবার প্রতি ন্যায়সংগত আচরণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মেধাবী ও যোগ্য কর্মকর্তারা তাঁদের দক্ষতা ও সম্ভাবনা পূর্ণভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ পান। কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে যোগ্য ব্যক্তিদের উৎসাহিত করতে হবে।

    তিনি বাণিজ্য সচিবের উদ্দেশে বলেন, আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস, আপনার একাডেমিক ও কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা আপনাকে দক্ষতার সঙ্গে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা দিয়েছে। আপনার নেতৃত্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আগামী দিনে আরও গতিশীল, দক্ষ এবং ফলাফলমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

    নবনিযুক্ত বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা, আগামী অর্থবছরের পরিকল্পনা এবং পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যসমূহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এসময় তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর সংস্থা সমূহের সক্ষমতা, চলমান এগ্রিমেন্ট, পলিসি ও ট্রিটি সম্পর্কে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

    তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রণালয়ের নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।

    আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কৃষি, শিল্প, শ্রম ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যেসব আন্তঃমন্ত্রণালয় বিষয় রয়েছে, সেগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

    বিদেশে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক মিশনগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী এসব মিশনকে আরও লক্ষ্যভিত্তিক ও ফলাফলনির্ভর হতে হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে মিশনগুলোর কর্মদক্ষতা নিয়মিত মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব, উপসচিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোতে বাংলাদেশের ৬ পুরস্কার অর্জন

    চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোতে বাংলাদেশের ৬ পুরস্কার অর্জন

    চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ে শেষ হওয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ইভেন্ট ‘১০ম চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপো এবং ৩০তম চায়না কুনমিং আমদানি-রফতানি মেলা-২০২৬’- এ ছয়টি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অর্জন করেছে বাংলাদেশ, যা দেশের জন্য একটি অন্যতম বড় সাফল্য।

    মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ‘আউটস্ট্যান্ডিং এক্সিবিশন অর্গানাইজার’ পুরস্কার লাভ করেছে।

    কুনমিংয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) রিদওয়ানুর রহমানের উপস্থিতিতে ইপিবির পরিচালক মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেন এবং উপ-পরিচালক মো: রফিকুল ইসলাম এই পুরস্কার গ্রহণ করেন।

    এ বছর বাংলাদেশ চারটি ক্যাটাগরিতে মোট ছয়টি পুরস্কার অর্জন করেছে। এর মধ্যে দেশের তিনটি প্রতিষ্ঠান-আড়ং, সাসটেইনেবল বাংলাদেশ এবং ক্লে ইমেজ ‘বেস্ট এক্সিবিটর’ হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছে। এছাড়া ‘বেস্ট প্যাভিলিয়ন’ ও ‘বেস্ট বুথ ডিজাইন’ ক্যাটাগরিতেও বাংলাদেশ পুরস্কার লাভ করে।

    ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের উপ-মহাপরিচালক সুন মিং সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

    উল্লেখ্য, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ব্যবস্থাপনায় এবং কুনমিংস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সহযোগিতায় গত ১১ জুন কুনমিংয়ের ডিয়ানচি ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে মেলা এবং থিম কান্ট্রি হিসেবে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং চীনের ইউনান প্রদেশের গভর্নর ওয়াং ইউবো।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, আখতার হোসেন এমপি, মো: খালেদ হোসেন মাহবুব এমপি, সুলতানা জেসমিন এমপি, চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো: নাজমুল ইসলাম, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ, কুনমিংয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইপিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    মেলার সাইডলাইন ইভেন্ট ‘বিগ মার্কেট ফর অল: এক্সপোর্ট টু চায়না’-তে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ চীনে বাংলাদেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

    এ বছর বাংলাদেশের রেকর্ডসংখ্যক ১০১ প্রতিষ্ঠানের ১৭৫ জন প্রতিনিধি মেলায় অংশগ্রহণ করেন। বিশ্বের ৬৮টি দেশের প্রায় ২ হাজার ৩০০ প্রদর্শক এ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশ নেন। মেলার দ্বিতীয় দিনে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন করা হয়।

  • পাঁচ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

    পাঁচ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

    জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ৭ হাজার ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৪ হাজার ৫৩৬ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ২ হাজার ৪৬৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

    মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয় মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প তিনটি এবং সংশোধিত প্রকল্প দুটি।

    অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান; শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির; সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন; পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি; পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

    আজকের সভায় অনুমোদিত পাঁচটি প্রকল্প হলো— প্রধানমন্ত্রীর কার্যালযের একটি প্রকল্প ‘Supporting Infrastructure Project for Chinese Economic and Industrial Zone’ প্রকল্প।

    পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তিনটি প্রকল্প: ১. ফেনী জেলাধীন মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ প্রকল্প; ২. ‘করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন’ প্রকল্প; ৩. ‘পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলাধীন তালবাড়িয়া এবং কুমারখালী উপজেলাধীন শিলাইদহ ইউনিয়নের কোমরকান্দি এলাকা রক্ষা (১ম সংশোধন)’ প্রকল্প।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়েরেএকটি প্রকল্প: ‘১০০টি উপজেলায় ১টি (এক) করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন (৩য় সংশোধিত)’ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।

    সভায় মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী কর্তৃক ইতিমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সংবলিত ৪টি প্রকল্প সর্ম্পকে একনেক সভায় অবহিত করা হয়।

    সেগুলো হলো— ১. বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারে বিমানসেনা ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প; ২. নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ সাভার স্থাপন প্রকল্প; ৩. বাংলাদেশ বিমান বাহিনী স্টেশন শমসেরনগর বিদ্যমান বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষাদান সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প এবং ৪. প্যাগোডাভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক ও ক্রিপিটক শিক্ষা কার্যক্রম ৪র্থ পর্যায় প্রকল্প।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্বাহী পরিচালক হলেন আশিকুর রহমান

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্বাহী পরিচালক হলেন আশিকুর রহমান

    বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম অফিসের পরিচালক মোহাম্মদ আশিকুর রহমান ব্যাংকটির নির্বাহী পরিচালক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।

    রোববার (১৪ জুন) তাকে পদোন্নতি দিয়ে প্রধান কার্যালয়ের মানবসম্পদ বিভাগে সংযুক্ত করা হয়।

    আশিকুর রহমান ১৯৯৯ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মজীবন শুরু করেন। কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের ব্যাংকিং সুপারভিশন, সেন্ট্রাল ব্যাংক স্ট্রেনদেনিং প্রজেক্ট (সিবিএসপি), ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট, বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমি ও এসএমই বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

    আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এলায়েন্স ফর ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুসনের (এএফআই) জেন্ডার ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স কমিটিতে ২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মেয়াদে ‘ভাইস চেয়ার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    আশিকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশাগত দক্ষতার অংশ হিসেবে তিনি ‘দি ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ থেকে ডিএআইবিবি এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট থেকে কম্পিউটার এপ্লিকেশন্স বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন। নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পলাশতলী গ্রামে তার জন্ম।

  • বেপরোয়াভাবে শুল্ক–কর আদায় করা হতে পারে, অ্যামচেমের বাজেট আলোচনায় বক্তারা

    বেপরোয়াভাবে শুল্ক–কর আদায় করা হতে পারে, অ্যামচেমের বাজেট আলোচনায় বক্তারা

    আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আদায়ের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। আবার ছয় লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মতও নয়। রাজস্ব লক্ষ্য অর্জনে বেপরোয়াভাবে শুল্ক-কর আদায় করা হতে পারে।

    আজ সোমবার আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত বাজেট আলোচনায় এ কথা বলেন আলোচকেরা।

    বনানীর হোটেল শেরাটনে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির নতুন সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল। এতে অ্যামচেম সদস্য ছাড়াও অর্থনীতিবিদেরা উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় মূল প্রবন্ধ তুলে ধরেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ। তিনি বলেন, রাজস্ব আদায়ের অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। এটা আদায় করতে গিয়ে বেপরোয়া পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

    ব্যয়ের বিষয়ে মাসরুর রিয়াজ বলেন, বাজেটের ৪১ শতাংশ চলে যাবে বেতন–ভাতা, পেনশন, ভর্তুকি ও সুদ পরিশোধে। আবার উন্নয়ন বরাদ্দের একটা বড় অংশ থোক হিসেবে রাখা হয়েছে। থোক বরাদ্দ খরচে স্বচ্ছতার অভাব থাকে।

    প্যানেল আলোচনায় বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাজেটের আকার নিয়ে কথা হচ্ছে। নতুন সরকারের জনগণের প্রতি অনেক প্রতিশ্রুতি আছে। তাই এটি সম্প্রসারণমূলক বাজেট। কিন্তু অর্থায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

    আরেক প্যানেল আলোচক ছিলেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বাজেটে ব্যবসা সহজ করার কথা ছিল। তবে তা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে আরও মনোযোগ দেওয়ার দরকার। কৃষিতে সেভাবে বরাদ্দ বাড়েনি। তবে বর্তমান সরকার আগের যেকোনো সরকার থেকে আমাদের কথা বেশি শুনেছে।’

    প্যানেল আলোচনায় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের (এসসিবি) সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নাসের এজাজ বিজয় বলেন, কীভাবে রাজস্ব আদায় হবে, সেটি বাজেট কাঠামোতে নেই। ব্যাংকের একটি বড় অংশ দুর্বল অবস্থায় আছে। তারল্যসংকট রয়েছে। তাই ব্যাংকঋণনির্ভরতা বাড়লে বেসরকারি খাতে ঋণের সংকট হতে পারে।

    প্যানেল আলোচনা সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সহসভাপতি মেটলাইফ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আলা উদ্দিন আহমদ।

    সমাপনী বক্তব্য দেন অ্যামচেমের কোষাধ্যক্ষ ফিলিপ মরিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রেজা উর রহমান মাহমুদ। তিনি জানান, এবারের বাজেটে অ্যামচেমের ১৮ প্রস্তাবের মধ্যে ৮ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।

  • ২৭ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে বাড়তি খরচ ৫৬ হাজার কোটি টাকা

    ২৭ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে বাড়তি খরচ ৫৬ হাজার কোটি টাকা

    চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ২৭টি মন্ত্রণালয় বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ বেড়েছে ৫৬ হাজার ১১৮ কোটি টাকা।

    ঋণের সুদ, ভর্তুকি, কৃষিঋণ মওকুফ ইত্যাদি খাতেই অর্ধেকের বেশি বাড়তি খরচ করতে হয়েছে। এসব খরচের জন্য বাড়তি টাকা জোগাড় করতে হয়।

    অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর তাঁর সমাপনী বক্তব্যে এ তথ্য জানান।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার গঠনের পর থেকেই আমরা জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বৈশ্বিক অস্থিরতা, অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।’

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে অপচয় কমানো, অগ্রাধিকারহীন খাতে ব্যয় সংকোচন এবং প্রশাসনিক ব্যয়ে মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ভর্তুকি সমন্বয় করতে হয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম, পুরোহিত, মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানীর মাধ্যমে মর্যাদাপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমের জন্য আমরা সম্পূরক বাজেটে ব্যয় এবং ঘাটতি কিছুটা সমন্বয় করেছি।’

    নিট ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব

    চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে সরকারের নিট ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে—এমন তথ্য উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, মূল বাজেটে যেখানে সরকারি নিট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, সেখানে সংশোধিত হিসাবে তা কমে দাঁড়াবে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতি ২ লাখ কোটি টাকা বা জিডিপির ৩ দশমিক ৩ শতাংশ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

    অর্থমন্ত্রী জানান, সংশোধিত বাজেটে ২৭টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ কমানো হয়েছে। এর পরিমাণ ৫৯ হাজার ৩৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

    জাতীয় সংসদে আজ নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) আইন, ২০২৬ উপস্থাপন করা হয়। এতে যে ২৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অতিরিক্ত ব্যয় অনুমোদন চাওয়া হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হচ্ছে অর্থ বিভাগ। এ বিভাগের জন্য বেশি চাওয়া হয়েছে ২৩ হাজার ৬৫৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের জন্য বেশি চাওয়া হয়েছে ১ হাজার ৬৯০ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এ ছাড়া পরিকল্পনা বিভাগের জন্য ১২ হাজার ৪০৮ কোটি এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের জন্য ২২ কোটি টাকা বাড়তি বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

    বাড়তি খরচের কারণ কী

    বরাদ্দ বৃদ্ধির যুক্তি দিতে গিয়ে ব্যাখ্যামূলক স্মারকে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, অভ্যন্তরীণ দেনার সুদ, শেয়ার মূলধন, ভর্তুকি ও প্রণোদনার জন্য বাড়তি অর্থের দরকার পড়েছে। এ ছাড়া সরকারের অগ্রাধিকারমূলক ব্যয়ের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের আসল ও সুদ দিতে বাড়তি অর্থের সংস্থান করতে হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) দুটি এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বহির্ভূত চারটি প্রকল্পের জন্য বাড়তি অর্থের ব্যবস্থা করতে হয়েছে।

  • ব্যাংকিং সেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে : ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসক

    ব্যাংকিং সেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে : ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসক

    ‘আমরা ইসলামী ব্যাংকের জন্য একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বোর্ড গঠন করতে চাই। এ পদক্ষেপের লক্ষ্য ব্যাংকের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।’

    ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির নবনিযুক্ত প্রশাসক মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেছেন, দেশের বৃহত্তম শরিয়াহ-ভিত্তিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটির প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন শক্তিশালীকরণ এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ব্যাংকটির জন্য একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বোর্ড গঠনের প্রচেষ্টা চলছে।

    তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাকে একটি সীমিত সময়ের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব দিয়েছে এবং একটি নিরপেক্ষ বোর্ড গঠন করা অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

    সোমবার (১৫ জুন) দুপুর ১টায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেন, ‘আমরা ইসলামী ব্যাংকের জন্য একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বোর্ড গঠন করতে চাই। এ পদক্ষেপের লক্ষ্য ব্যাংকের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।’

    এ সময় তিনি গ্রাহকদের কোনো দ্বিধাবোধ ছাড়াই তাদের ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং আশ্বাস দেন যে, সমস্ত ব্যাংকিং কার্যক্রম ও লেনদেন স্বাভাবিকভাবেই চলবে।

    ‘পেছনে তাকানোর কোনো সুযোগ নেই’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় সাম্প্রতিক পরিবর্তনের কারণে আমানতকারী ও গ্রাহকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

    গত রোববার (১৪ জুন) ‘ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১’-এর বিধান অনুযায়ী ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যানসহ পুরো পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

    এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আমানতকারী এবং সাধারণ জনগণের স্বার্থ রক্ষার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক আরো ঘোষণা করেছে যে, ‘ব্যাংক কোম্পানী আইন, ১৯৯১’-এর ৪৭(৩) ধারা অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন বোর্ডের সমস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন এবং সমস্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

    ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি পৃথক পদক্ষেপ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একই দিনে ইসলামী ব্যাংকের জন্য দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ ঋণ অনুমোদন করেছে যা প্রতিষ্ঠানটিকে চলমান তারল্য সঙ্কট মোকাবেলা করতে এবং ব্যাংকিং কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।

  • আরো ২৫০০ কোটি টাকা ধার পেল ইসলামী ব্যাংক

    আরো ২৫০০ কোটি টাকা ধার পেল ইসলামী ব্যাংক

    বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা হিসেবে আরো ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পেয়েছে ইসলামী ব্যাংক। তবে পাওয়া অর্থের পুরোটা এখনো ব্যবহার করতে হয়নি বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আলতাফ হুসাইন।

    সোমবার ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, গতকালও আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পেয়েছি।

    সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটি ঘিরে গ্রাহকদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে কমে আসছে বলেও জানান আলতাফ হুসাইন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আতঙ্কে যারা আমানত তুলে নিয়েছেন, তারা আবারও ব্যাংকের ওপর আস্থা রেখে ফিরে আসবেন।

    গ্রাহকদের আস্থা ফেরার ইতিবাচক লক্ষণও দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন ভারপ্রাপ্ত এমডি। তিনি জানান, দেশের একটি বড় শাখা থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, আগের তুলনায় হিসাব বন্ধের (অ্যাকাউন্ট ক্লোজড) সংখ্যা প্রায় ৭৫ শতাংশ কমে গেছে।

    আলতাফ হুসাইন বলেন, এই প্রবণতা গ্রাহকদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসার ইঙ্গিত বহন করে। নতুন পরিস্থিতিতে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ব্যবস্থাপনা কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আলতাফ হুসাইন বলেন, ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী সাবেক চেয়ারম্যান একটি সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেন। সাবেক চেয়ারম্যানকে অপসারণের চিঠি হস্তান্তরের সঙ্গে সঙ্গেই গাড়িটি ফেরত নেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, গ্রাহকদের স্বাভাবিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকের প্রতি আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ লক্ষ্যেই ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট সবাই কাজ করে যাচ্ছে।

    এদিকে ইসলামী ব্যাংকের বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেছেন, এখন পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই। আমানতকারীদের নির্বিঘ্নে লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি ব্যাংকের প্রতি আস্থা রাখার অনুরোধ করেন।

    একই সঙ্গে তিনি জানান, যোগ্য ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনে যাচাই-বাছাই চলছে।

    ইসলামী ব্যাংকের নিরপেক্ষ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের প্রসঙ্গে মোহাম্মদ জহির হোসেন জানান, পূর্ণাঙ্গ বোর্ড হিসেবে পাঁচ সদস্যের একটি বোর্ড গঠন হচ্ছে। যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন আছে। আমরা এখানে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ লোক দিতে চাই, যারা এই ব্যাংকটিকে দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারবেন। আশা করি, খুব শিগগিরই আপনারা একটি সুন্দর ও নিরপেক্ষ বোর্ড পাবেন।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমানে তিনি সীমিত সময়ের জন্য এক সদস্য বোর্ডের দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে ব্যাংকের কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে।

    আমানতকারীদের উদ্দেশে মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেন, পেছনে তাকানোর সুযোগ নেই। নির্বিঘ্নে লেনদেন চালিয়ে যান। ব্যাংকের প্রতি আস্থা রাখুন।

  • মোল্লাহাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘের কর্মচারীর মৃত্যু

    মোল্লাহাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘের কর্মচারীর মৃত্যু

    বাগেরহাটের মোল্লাহাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাইনুল ইসলাম মহিন (৩২) নামে এক ঘের কর্মচারী মারা গেছেন। সোমবার (১৫ জুন) উপজেলার নোনাডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত মাইনুল বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার মগিয়া ইউনিয়নের সোনাকুড় গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি ব্যবসায়ী শেখ হেমায়েত উদ্দিনের নোনাডাঙ্গা এলাকায় ঘেরের বাসায় থেকে ঘেরের দেখভাল করতেন। তিনি এখানে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকালে তিনি ঘেরের পানি দেওয়ার জন্য মেশিন ঠিক করার সময় আকস্মিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    খবর পেয়ে ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হয়ে প্রাথমিক সুরোতহাল প্রতিবেদন করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উদ্ধার বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।মোল্লাহাট থানার ওসি কাজী রমজানুল হক জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাহিন নামে একজনের মৃত্যুর খবর শুনেছি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    এ এম

  • পাঁচ মুরগি থেকে সফল খামারি

    পাঁচ মুরগি থেকে সফল খামারি

    চার বছর আগে নারায়ণগঞ্জ থেকে শখের বশে কেনা পাঁচটি সিল্কি মুরগি দিয়ে শুরু। সেই ছোট্ট শখের খামারই আজ পরিণত হয়েছে দেশি-বিদেশি ২২ প্রজাতির উন্নত জাতের মুরগির সমৃদ্ধ সংগ্রহশালায়। একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতার পাশাপাশি সফল উদ্যোক্তা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নরসিংদীর রায়পুরা পৌর শহরের শ্রীরামপুরের বাসিন্দা মোবারক হোসেন। বর্তমানে তিনি এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য অনুপ্রেরণার নাম। উদ্যোক্তা মোবারক পৌর শহরের শ্রীরামপুরে বসতঘরের পেছনে পরিত্যক্ত নিচু জমিতে মাচা তৈরি করে গড়ে তুলেছেন তার ব্যতিক্রমধর্মী খামার ‘মোল্লা অ্যাগ্রো ফার্ম’। এখানে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও ছোট জাতের মুরগি কলম্বিয়ান লাইট ব্রাহমা ও মালয়েশিয়ান সেরামা।বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, পোল্যান্ড, চীন, মালয়েশিয়া, ভারত ও জাপানের হোয়াইট, ব্ল্যাক টেইল, মলটেড, গোল্ডেন সেব্রাইট, সিলভার সেব্রাইট, বাফ সেব্রাইট, সিল্কি, সেরামা, অস্ট্রলপ, কাদারনাথ, ব্রাহামা, পুলিশ ক্যাপ, হোয়াইট ফ্রিজেল ও পাহাড়ি লাইজ্জাসহ ২২টি প্রজাতির কয়েকশ মুরগি রয়েছে খামারটিতে। এছাড়াও রয়েছে ৫০০ গ্রাম ওজনের বিশেষ জাতের কোয়েল। নানা প্রজাতির শৌখিন ও বাণিজ্যিক মুরগির সমন্বয়ে খামারটি ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। শুধু মুরগি পালনই নয়, ইনকিউবেটর যন্ত্রের মাধ্যমে নিজেই ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদন করেন উদ্যোক্তা মোবারক। খামারে উৎপাদিত শৌখিন প্রজাতির মুরগি অনলাইন ও অফলাইন দুই মাধ্যমে বিক্রি করে তিনি মাসে আয় করেন ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা।

    মোবারক জানান, ১০০-২০০ টাকা করে জমিয়ে আজ থেকে চার বছর আগে ২ হাজার ৫০০ টাকায় পাঁচটি সিল্কি মুরগি কিনে খামার শুরু করি। এখন আমার দুটি খামার রয়েছে। দেশি-বিদেশি ২২ জাতের কয়েকশ শৌখিন জাতের মুরগি আছে দুটি খামারে।

    তিনি আরও বলেন, বেকার যুবকদের জন্য এ ধরনের মুরগি পালন হতে পারে অধিক লাভজনক ও কর্মসংস্থানের বড় মাধ্যম। নতুন উদ্যোক্তাদের আমার খামারে স্বাগত জানাই। তারা আসুক, দেখুক, ভালো লাগলে মুরগি পালনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেব। মোবারকের মুরগির খামার দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকরা আসেন। অনেকেই তার কাছ থেকে মুরগি পালনের আধুনিক কৌশল ও খামার ব্যবস্থাপনার নানা বিষয় শিখছেন। পাশাপাশি এ পেশায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন তারা।

    রায়পুরা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, পৌর শহরের বাসিন্দা মোবারক হোসেন ২০ থেকে ২৫ জাতের বিদেশি মুরগি পালন করছেন। ওইসব মুরগি তিনি অনলাইন ও অফলাইনে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। তার খামারটি দেখে অনেকেই মুরগি পালনে আগ্রহ দেখাচ্ছে। এতে মুরগি পালনে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি বেকারত্ব দূর হবে। আমরা শৌখিন প্রজাতির মুরগি খামারিদের নানা পরামর্শ দিয়ে থাকি। পাশাপাশি মুরগির রোগ প্রতিরোধে কৃমিনাশক ওষুধ প্রয়োগ ও টিকার ব্যাপারে খামারিদের সচেতন করি।

    এ এম

  • গভর্নরের সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক

    গভর্নরের সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। রোববার বিকেল চারটায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এই বৈঠক শুরু হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, ইসলামী ব্যাংকের চলমান সার্বিক পরিস্থিতি ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের হালনাগাদ অবস্থা গভর্নরকে অবহিত করতেই এই সৌজন্য সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়েছে।

    বৈঠকে ইসলামী ব্যাংকের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশ নিয়েছে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব)। তার সঙ্গে রয়েছেন ব্যাংকের দুজন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) এবং ছয়জন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি)।

    তিনি জানিয়েছেন, প্রতিনিধিদল ব্যাংকের চলমান পরিস্থিতি গভর্নরকে অবহিত করবেন।

  • ডিজিটাল মার্কেটিং ও অনলাইন ব্র্যান্ডিং নিয়ে কাজ করছেন কাউসার আহমেদ

    ডিজিটাল মার্কেটিং ও অনলাইন ব্র্যান্ডিং নিয়ে কাজ করছেন কাউসার আহমেদ

    ডিজিটাল মার্কেটিং খাতে কাজের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় রয়েছেন কাউসার। বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক কনটেন্টের মাধ্যমে তিনি অনলাইন অডিয়েন্সের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছেন।

    দেশে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের চাহিদা। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি করছেন অনেক তরুণ। তাদের মধ্যে অন্যতম কাউসার আহমেদ, যিনি ডিজিটাল মার্কেটিং ও অনলাইন ব্র্যান্ডিং নিয়ে কাজ করছেন।

    কাউসার আহমেদ পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ‘MyAdsBD’ বিভিন্ন ব্যবসা ও ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডের ডিজিটাল প্রচারণায় সহায়তা করে থাকে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মভিত্তিক বিপণন কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানোর নতুন সুযোগ তৈরি করছে।

    ডিজিটাল মার্কেটিং খাতে কাজের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় রয়েছেন কাউসার। বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক কনটেন্টের মাধ্যমে তিনি অনলাইন অডিয়েন্সের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছেন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কার্যকর ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছেন।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল অর্থনীতির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগ দেশের তরুণ প্রজন্মকে নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এ খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরিরও সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

    ভবিষ্যতে ডিজিটাল মার্কেটিং ও অনলাইন ব্যবসার পরিধি আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন ধারণা ও সেবার মাধ্যমে কাজ করে যেতে চান কাউসার আহমেদ।

  • বাজেটে অবহেলিত কৃষি

    বাজেটে অবহেলিত কৃষি

    বিএনপি সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট জাতীয় সংসদে ঘোষণা করেছে। বিশাল বাজেট। অনেক খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমি কৃষি খাতের বরাদ্দ কত হয়েছে দেখার জন্য বাজেটে খুঁজেছি। বিস্ময়কর বিষয় হলো কৃষি খাতে বরাদ্দের বিষয়টি পত্রপত্রিকায় এত গৌণভাবে এসেছে যে, টর্চ দিয়ে খুঁজেও বিশেষ কিছু পাওয়া যাচ্ছে না। হ্যাঁ, বাজেট বরাদ্দ অবশ্যই হয়েছে। কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ৪৩ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে, যা দেশের জিডিপির শূন্য ০.৬৩ শতাংশ। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতের জন্য ৩৭ হাজার ১২৬ কোটি টাকা (জিডিপির ০.৬১ শতাংশ) বরাদ্দ ছিল। মোট ৬ হাজার ২০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে। এই বৃদ্ধি খুবই সামান্য। কৃষির এই বরাদ্দ মোট বাজেটের ৩.২ শতাংশ, যা অন্যান্য খাতের তুলনায় সর্বনিম্ন (জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত বাদ দিয়ে)।

    কৃষির নামে বরাদ্দকৃত এই বাজেটে আরো দুটি ভাগীদার আছে। ভাগীদাররা হচ্ছে খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত। অথচ কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তিনটি ভিন্ন ও স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয়, কিন্তু এবারে সরকার কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ গুচ্ছ করে একসঙ্গে করেছে। একজন পূর্ণ মন্ত্রী আছেন, যিনি কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয় দেখছেন, আর একজন প্রতিমন্ত্রী দেখছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। সরকারের বাজেট ঘোষণায় এখনো পরিষ্কার নয়, কৃষি আলাদাভাবে কত বরাদ্দ পাচ্ছে; তেমনি খাদ্য আলাদাভাবে এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ কত পাচ্ছে, তা আমরা এখনো জানি না। তাদের কাজ আলাদা, অতএব তাদের বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ করতে হবে। প্রয়োজনের তুলনায় এই বরাদ্দ সব সময়ের মতো এবারও অপ্রতুল।সরকার খাদ্য মজুত ও সংগ্রহের প্রতি নজর দেয় অনেক বেশি। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে খাদ্যশস্য ধারণক্ষমতা ২৪ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টনে এবং সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা ৪১ লাখ ২৯ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীতকরণের পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খাদ্যশস্য সংগ্রহের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৮ লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টন।

    এখানে তিনটি মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেটা হচ্ছে ৪৩ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাজ খাদ্যফসলসহ সব ধরনের কৃষি ফসলের উৎপাদন বাড়ানো। বড় দাগে এই মন্ত্রণালয়ের মূল দায়িত্ব হচ্ছে খাদ্যফসল বিশেষ করে ধান উৎপাদন করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আমাদের দেশে তিনটি মৌসুমে বছরে প্রায় ৩.৯ কোটি মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হয়। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের হিসাব অনুযায়ী দেশে বার্ষিক ধানের চাহিদা হচ্ছে প্রায় সাড়ে তিন কোটি থেকে তিন কোটি ৮০ লাখ মেট্রিক টন। বন্যা, খরা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে উৎপাদনে ঘাটতি হলে খাদ্য মন্ত্রণালয় চাল আমদানি করে বাজার স্থিতিশীল রাখে। তাদের লক্ষ্য দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং কৃষকদের ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের মূল কাজ খাদ্যফসল বিশেষ করে ধান উৎপাদন নিশ্চিত করার জন্য কৃষকদের সহায়তা করা এবং সেটা করা হয় বিদ্যমান কৃষিনীতি, যা আসলে কৃষির নীতি নয়, বরং ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফুড প্রোডাকশন’। এই কৃষি মূলত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক, গভীর নলকূপ দিয়ে সেচ এবং ধান লাগানো থেকে শুরু করে কাটা পর্যন্ত যন্ত্রের ব্যবহারের ওপর নির্ভরশীল। এই বিকৃত কৃষিব্যবস্থার ত্রুটি এবারের বোরো মৌসুমে দেখা গেছে। ইরানে মার্কিন-ইসরাইলের অবৈধ ও আগ্রাসী যুদ্ধের কারণে সারা দেশে জ্বালানি সংকটের সময়ে বোরো ফসলে ডিজেল সংকটের কারণে সেচ দেওয়া সম্ভব হয়নি; এবং হাওরে অসময়ে বৃষ্টিতে প্রায় পাকা ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এই সময় দ্রুত ধান কাটার জন্য শ্রমিক পাওয়া যায় নি, এমনকি এতদিন কৃষকদের মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া সেই কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিনও কাদায় নামতে পারেনি। হাওরের একটি মাত্র কৃষি ফসল বোরো ধান, কৃষকের চোখের সামনে পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেল। বলাবাহুল্য, হাওরে এখন যে ধান উৎপাদিত হয়, তা অধিকাংশ উচ্চ ফলনশীল ও হাইব্রিড জাতের। বর্তমানে ধানের তিনটি মৌসুমের মধ্যে বোরো মৌসুম থেকে আসে ৫৫ শতাংশ এবং হাওরে মোট বোরো ধানের প্রায় ২০ শতাংশ উৎপাদিত হয়।

    এ বছর হাওরে বোরো ধানের ক্ষতির পরিমাণ পত্রপত্রিকা থেকে জানা গেছে দুই লাখ ১৪ হাজার মেট্রিক টন এবং প্রায় দুই লাখ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কিন্তু বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী কৃষিতে কৃষকের বিপর্যয়সহ টিকে থাকার নানা চ্যালেঞ্জের কথা বেমালুম ভুলে গেলেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য কোনো প্রণোদনা দিলেন না। আফসোস।কৃষিতে বরাদ্দ মানে সার-কীটনাশকে ভর্তুকি দেওয়া, অর্থাৎ বিষ কোম্পানি ও সার কোম্পানির মুনাফা নিশ্চিত করা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি খাতের সম্প্রসারণ ও উৎপাদন খরচ কমানোর লক্ষ্যে সার ও কীটনাশকের ওপর বিদ্যমান সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাট ও কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করছে সরকার। কিন্তু বুঝতে হবে এই সুবিধা কৃষকের জন্য আসছে না, আসছে সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ীদের জন্য। যেখানে সার ও বিষনির্ভর কৃষিব্যবস্থা থেকে সরে আসা কৃষিনীতির প্রধান মেরুদণ্ড হওয়ার কথা ছিল, সরকার তার উল্টোটা সবসময় করে আসছে। সার-কীটনাশকের খরচ আছে অস্বীকার করার উপায় নেই, কিন্তু অন্যান্য খরচও তো আছে। যেমন ধান লাগানো ও ধান কাটার জন্য কৃষিশ্রমিকের খরচ, সেচের পানির খরচ, উৎপাদন-পরবর্তী প্রক্রিয়ার খরচ প্রভৃতি। কিন্তু সেসব খরচের দায় সরকার নিচ্ছে না। তার চেয়েও জরুরি বিষয় হচ্ছে, উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, যা বেশিরভাগ সময় উৎপাদন খরচের চেয়ে কম থাকে এবং তাই কৃষকের দেনা কমে না। খাদ্য আমদানিসহ সরকারের বাণিজ্যনীতি সবসময়ই ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করে এবং সরাসরি কৃষকের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে। অথচ বাজেটে এ বিষয়ে কোনো কথা নেই। ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ করা এবং কৃষক কার্ডের সুবিধা সব কৃষক পাবে, তার কোনো গ্যারান্টি কি আছে?

    তাছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি সমস্যাসহ কৃষির উৎপাদনশীলতা যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সেজন্য সার-কীটনাশকে ভর্তুকির চেয়েও বেশি দরকার কৃষিনীতিকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানো। এই কৃষিব্যবস্থা ১৮ কোটি মানুষের নিরাপদ খাদ্য জোগান দিতে পারছে না। খাদ্যে অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহারে ক্যানসারসহ অসংক্রামক রোগের বিস্তার ঘটছে, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ালেই স্বাস্থ্য পরিস্থিতি উন্নত হবে না, যদি খাদ্য উৎপাদন নিরাপদ করা না হয়।

    জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষির অবদান ক্রমেই কমে আসছে, এখন তা দাঁড়িয়েছে মাত্র ১০.৯ শতাংশে। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর ছিল, যেখানে কৃষির অবদান ছিল ৬২ শতাংশ। কিন্তু দেশ ক্রমে শিল্পায়ন (৩৪ শতাংশ) এবং সেবা খাতের (৫১ শতাংশ) দিকে এগোচ্ছে। শিল্পায়ন বলতে তৈরি পোশাকশিল্পই মূলত বোঝায়, যা আমাদের অর্থনীতিতে স্বল্প মেয়াদে কিছু অর্থের জোগান দিলেও দীর্ঘ মেয়াদে উৎপাদনশীল খাত তৈরি করছে না। কৃষির প্রতি সরকারের মনোযোগের অভাবে জিডিপিতে কৃষির অবদান কমে যাওয়া দ্রুত গতিতে ঘটছে। ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এক দশকে কমেছে ১৭ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ। অর্থাৎ ১০ বছরে পাঁচ শতাংশ অবদান কমে গেছে। কৃষির সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা। কৃষি থেকে উৎখাত হলে তাদের শহরে চলে আসতে হয়। তাদের মেয়েরা যায় গার্মেন্ট কারখানায় আর ছেলেরা যায় প্রবাসে শ্রমিক হয়ে। এই সুযোগও ক্রমে সীমিত হয়ে আসছে।

    কৃষি বরাদ্দের মধ্যে আর এক ভাগীদার হচ্ছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত। এ খাতের মাধ্যমে মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের মতো প্রাণিজ আমিষ সরবরাহ করা হয়। কৃষির মতোই এ খাতের সঙ্গে যুক্ত আছে বিশাল গোষ্ঠী; যেমন জেলে/মৎস্যজীবী, গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালনকারী গরিব নারী এবং লাখ লাখ ছোট খামারি। তারা কী ধরনের বাজেট সুবিধা পাবে, তার কোনো উল্লেখ নেই।

    জিডিপিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের অবদান একত্রে প্রায় ৪.৩ শতাংশ। কর্মসংস্থানের দিক থেকে শ্রমজীবী মানুষের ২৫ শতাংশ এ খাতের সঙ্গে যুক্ত। মৎস্য খাতে প্রায় ১৮ লাখ নিবন্ধিত মৎস্যজীবী আছে। প্রাণিসম্পদে যুক্ত আছে প্রায় ১৪ লাখ খামার, যেখানে প্রায় এক কোটি মহিলা গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালনে নিয়োজিত আছে। এক বিশাল জনগোষ্ঠী এ খাতে যুক্ত হয়েও বাজেটের সময় উপেক্ষিত থাকছে।

    এবার বাজেটে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের ভাগে কত বরাদ্দ হবে, তা জানা যায়নি, তবে গত বাজেটের ৩৯ হাজার ৬২০ কোটি টাকার মধ্যে কৃষিফসল খাতে বরাদ্দ ছিল ২৭ হাজার ২২৪ কোটি টাকা (৬৮ শতাংশ), আর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ছিল মাত্র ৩ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা, মাত্র ৮.৫ শতাংশ ।

    সামগ্রিক বাজেটে কৃষিতে অবহেলা বিপজ্জনক। তার মধ্যে আরো বিশেষভাবে অবহেলিত হচ্ছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত। অথচ দুটো খাত মিলেই শুধু খাদ্যের জোগান দিচ্ছে না, পুষ্টি নিশ্চয়তা এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়েরও প্রধান ক্ষেত্র হয়ে ওঠার সমূহ সম্ভাবনা ধারণ করে।

    কৃষির অবহেলা জনগণের খাদ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তা অনিশ্চিত করে তুলবে—এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। এই অবহেলা দেশের অর্থনীতির জন্যে মঙ্গল বয়ে আনবে না।

    লেখক : অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা

  • ভারতের আপত্তিতে আটকে গেল নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি

    ভারতের আপত্তিতে আটকে গেল নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি

    নেপাল থেকে বাংলাদেশে আরও ২০ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা আপাতত আটকে গেছে। সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতার ঘাটতির অজুহাত দেখিয়ে ভারত এই অনুমোদনের প্রক্রিয়াটি স্থগিত করেছে। ফলে পূর্বনির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী আগামী ১৫ জুন থেকে বাংলাদেশ কেবল ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাবে।

    রোববার (১৪ জুন) নেপালের জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (সিইএ) সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে এই অনুমোদন আটকে দিয়েছে।

    তারা আরও জানান, এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ আমদানির জন্য নতুন করে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সংশোধন বা স্বাক্ষর করতে হবে। একই সঙ্গে নেপাল-ভারত জ্বালানি সচিব পর্যায়ের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হবে।

    সাধারণত বর্ষা মৌসুমে নেপাল তাদের উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ভারত ও বাংলাদেশে রপ্তানি করে থাকে। তবে শীতকালে তারা নিজেরাই ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে

    ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক জেএসসি বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের পাশাপাশি আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ওই বৈঠকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছিল।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (এনইএ) ভারতের এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেডকে (এনভিভিএন) অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানায়। কিন্তু এনভিভিএন পরে জানায় যে, ভারত-বাংলাদেশ ১,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সঞ্চালন লাইনটিতে এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পরিবহনের আর কোনো সুযোগ বা সক্ষমতা নেই।

    এনইএর বিদ্যুৎ বাণিজ্য বিভাগের পরিচালক তর্ক বাহাদুর থাপা বলেন, এবার বাংলাদেশে কেবল ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎই রপ্তানি করা হবে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াটের জন্য ত্রিপক্ষীয় চুক্তি চূড়ান্ত না হলেও, আগের নিয়মে আমরা ভারতের সিইএ-র কাছে এনভিভিএনের মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম। কিন্তু তারা জানিয়েছে যে সঞ্চালন লাইনে নতুন করে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নেওয়ার ক্ষমতা নেই।

    ত্রিপক্ষীয় চুক্তির জটিলতা

    খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই জটিলতা কাটাতে নেপাল ও ভারতের আসন্ন জেএসসি এবং যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) বৈঠকে নতুন সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হবে। তবে এই বৈঠকগুলোর সময়সূচি এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।

    এর আগে ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি জেএসসি বৈঠকে নেপাল ভারতের সঞ্চালন ব্যবস্থা ব্যবহার করে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির নীতিগত অনুমোদন পায়। পরে ওই বছরের ৩ অক্টোবর এনইএ, এনভিভিএন এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়।

    নেপাল থেকে প্রথম দফায় ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর মাত্র ১২ ঘণ্টার জন্য বাংলাদেশে বিদ্যুৎ এসেছিল। এই বিদ্যুৎ নেপালের ঢালকেবার-মুজাফফরপুর ৪০০ কেভি লাইন দিয়ে ভারতে এবং সেখান থেকে বহরমপুর-ভেড়ামারা ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছায়। বর্তমানে নেপালের ত্রিশূলী ও চিলিম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

    বিদ্যুৎ বাণিজ্য ও আর্থিক হিসাব

    নেপাল প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বাংলাদেশের কাছে ৬ দশমিক ৪০ মার্কিন সেন্টে বিক্রি করছে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াটের দামও একই রাখার কথা ছিল। ভারতের সঙ্গে নেপালের বিদ্যুৎ বাণিজ্য ভারতীয় রুপিতে হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে লেনদেন হচ্ছে মার্কিন ডলারে।

    চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে নেপাল ভারত ও বাংলাদেশে মোট ২০ হাজার ৯৯৫ কোটি রুপির বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৩ হাজার ১০৩ কোটি রুপি। নেপাল এ পর্যন্ত দুই দেশে মোট ১,১৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন পেয়েছে।

  • সংকট কাটাতে ইসলামী ব্যাংককে ২৫০০ কোটি টাকা ধার দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

    সংকট কাটাতে ইসলামী ব্যাংককে ২৫০০ কোটি টাকা ধার দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

    টাকার সংকট কাটাতে ইসলামী ব্যাংককে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিশেষ ধার দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ রোববার সকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত নেয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকে থাকা ইসলামী ব্যাংকের চলতি হিসাবে এই টাকা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকটির চেক নিষ্পত্তি আবার চালু হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, নগদ টাকার চাহিদা বেশি তৈরি হয়েছে। টাকা জমা নেই বললেই চলে, সবাই টাকা তুলতে চাইছেন। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে শাখা বন্ধ রাখা ছাড়া বিকল্প থাকবে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে গ্রাহকের আস্থা ফিরে আসে।

    ইসলামী ব্যাংকে চেয়ারম্যানসহ পাঁচ পরিচালকই বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ করা স্বতন্ত্র পরিচালক। পবিত্র ঈদুল আজহার আগে শেষ কর্মদিবস ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। পরে রাত ৯টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক ও নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পর থেকে চেয়ারম্যান অপসারণসহ সাত দফা দাবিতে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে আন্দোলন চলছে।

    জাতীয় সংসদেও ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তুমুল আলোচনা হয়। এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের মধ্যে টাকা তোলার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চায় ইসলামী ব্যাংক।

    আজও অবস্থান কর্মসূচি

    আজ সকালে চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ সাত দফা দাবিতে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে একদল গ্রাহক। চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তাঁরা।

    শেয়ারবাজার থেকে নামে–বেনামে শেয়ার কিনে ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ। অভিযোগ আছে, এতে সহায়তা করে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র–জনতার গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকটি এস আলমের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়। এর পর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরা ব্যাংক পরিচালনা করছেন। এখন ইসলামী ব্যাংকের ৫০ শতাংশের বেশি ঋণ খেলাপি, নামে–বেনামে যার বড় অংশ নিয়েছে এস আলম গ্রুপ।

  • প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়তে নতুন রূপরেখা

    প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়তে নতুন রূপরেখা

    বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিতে এবার প্রযুক্তি খাতের ওপর সবচেয়ে বড় ভরসা রাখছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং টেলিকম খাতকে ‘থ্রাস্ট সেক্টর’ বা বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর লক্ষ্য, প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণ জনগোষ্ঠীকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম মানবসম্পদে রূপান্তর করা।

    সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে জিডিপিতে আইসিটি খাতের অবদান ১ থেকে ২ শতাংশের মধ্যে থাকলেও আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তা ১০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এজন্য ডিজিটাল অবকাঠামো, উদ্ভাবন, গবেষণা, স্টার্টআপ এবং উন্নত প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ ও কর-প্রণোদনার ঘোষণা এসেছে এবারের বাজেটে।

    এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের জন্য ২ হাজার ৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল ২ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের জন্য ২ হাজার ১৪১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ আইসিটি এবং টেলিযোগাযোগ খাতের জন্য সম্মিলিতভাবে মূল বাজেটে সরাসরি বরাদ্দ থাকছে ৪ হাজার ১৯০ কোটি টাকা।

    ৫জি ও দ্রুতগতির ইন্টারনেটের যুগে প্রবেশ : বাজেটে দেশের ৯০ শতাংশ মানুষের কাছে ৫জি প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সারাদেশে ১০০ এমবিপিএস ব্রডব্যান্ড গতি নিশ্চিতের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ‘ন্যাশনাল ফাইবার ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সুলভ মূল্যে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণে সহায়তা করবে।

    সাধারণ মানুষের যোগাযোগ ব্যয় কমাতে প্রতিটি সিম কার্ডের ওপর বিদ্যমান ৩০০ টাকা কর প্রত্যাহারের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি টেলিকম অপারেটরদের রেভিনিউ শেয়ারিং ও লাইসেন্স ফি-সংক্রান্ত উৎস কর তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা খাতটিতে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে ভূমিকা রাখতে পারে।

    এআই, রোবোটিক্স ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রস্তুতি : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এই বাস্তবতায় সরকারি সেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং নগর ব্যবস্থাপনায় এআই ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত বাজেটে স্মার্ট সিটি গঠন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়াতে এআইভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে এআই, সেমিকন্ডাক্টর, রোবোটিক্স, মেশিন লার্নিং এবং বিগ ডাটা অ্যানালাইসিস বিষয়ে বিশেষায়িত গবেষণাগার স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

    ডিজিটাল পরিচয় ও ক্যাশলেস অর্থনীতির পথে : ডিজিটাল সেবাকে আরও সহজ ও নিরাপদ করতে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি, ওয়ান ডিজিটাল ওয়ালেট’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে একজন নাগরিক একক ডিজিটাল পরিচয়ের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণ এবং নিরাপদ আর্থিক লেনদেন করতে পারবেন।

    ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তুলতে পয়েন্ট অব সেলস (পজ) মেশিনের আমদানিতে শুল্ক ও আগাম কর কমানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

    স্টার্টআপ ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বড় প্রণোদনা : প্রযুক্তি উদ্যোক্তা তৈরিতে আগামী অর্থবছরে ৫০০ কোটি টাকার ‘স্টার্টআপ তহবিল’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০৩৫ সাল পর্যন্ত ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা বহাল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

    ফ্রিল্যান্সারদের জন্যও এসেছে বড় স্বস্তি। আইটি ফ্রিল্যান্সিং থেকে অর্জিত আয়ের কর অব্যাহতি সুবিধা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ মওকুফের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    ইলেকট্রনিক্স ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে নতুন সম্ভাবনা : সরকার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়েছে। এজন্য ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন এবং এসএসডি উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের ওপর কর-সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

    বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে চিপ ডিজাইন, টেস্টিং ও প্যাকেজিং খাতে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ২০৩১ সাল পর্যন্ত বড় ধরনের শুল্ক ও কর অব্যাহতির ঘোষণা এসেছে।

    এ ছাড়া গবেষণাকে সরাসরি বাণিজ্যিক সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত করতে ‘রিসার্চ টু মার্কেট’ এবং ‘ইনোভেশন টু মার্কেট’ কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে ২০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে ট্রান্সমিশন ও টেলিকমিউনিকেশন প্রতিষ্ঠান ফাইবার@হোম লিমিটেড-এর চিফ টেকনোলজি অফিসার প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, করছাড়, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং উদ্ভাবনে বিনিয়োগ এই চার স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে এবারের বাজেট বাংলাদেশকে প্রযুক্তিনির্ভর ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে নেবে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে দ্রুত বাস্তবায়ন, দক্ষ জনবল তৈরি এবং নীতিগত ধারাবাহিকতার ওপর।

    এই প্রযুক্তিবিদের মতে, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের জন্য প্রস্তুত করতে সহায়ক হবে। এসব সুবিধা তরুণদের উদ্যোক্তা ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে আরও উৎসাহিত করবে।

  • বছরজুড়ে চাপে থাকবে ভোক্তা ও এনবিআর

    বছরজুড়ে চাপে থাকবে ভোক্তা ও এনবিআর

    আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) রাজস্ব আহরণে বিশাল লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এনবিআরকে আগামী অর্থবছরে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আহরণ করতে হবে। এই লক্ষ্যমাত্রা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা বেশি এবং সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১ লাখ ১ হাজার কোটি টাকা বেশি। বিশেষজ্ঞরা জানান, বাজেটের নীতিগত কাঠামো শক্তিশালী হলেও তা বাস্তবায়নের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল। সম্পদের চেয়ে বাজেটের আকার বড় করা হয়েছে। রাজস্ব আহরণের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তা অনেক বেশি। ফলে অর্থবছর শেষে বিশাল আকারে রাজস্ব আহরণে ঘাটতি থাকবে। অন্যদিকে, বিদ্যমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে এমনিতেই হাঁসফাঁস অবস্থা মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের। তাই বাড়তি করের জোগান দিতে গিয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে তাদের জীবনযাত্রায়। আর মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনার পথনকশা না থাকায় এনবিআরের পক্ষেও লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে। সব মিলিয়ে অর্থবছরজুড়ে সাধারণ মানুষ ও রাজস্ব বোর্ড উভয়কেই চরম চাপে থাকতে হবে।

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সংস্কারের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ বাড়বে। এনবিআরের নীতি বিভাগ এবং বাস্তবায়ন বিভাগ আলাদাভাবে কাজ করবে। দুর্নীতি কমিয়ে আনা হবে। এক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন করা হবে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজস্ব কৌশলই হবে এই বাজেটের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। জিডিপির ৭ শতাংশের নিচে কর-জিডিপি অনুপাত নিয়ে বাংলাদেশ আধুনিক কল্যাণরাষ্ট্র, মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো, জলবায়ু সহনশীলতা এবং শিল্প রূপান্তরে অর্থায়ন করতে পারবে না বাজেট এটি স্বীকার করেছে। পাশাপাশি ডিজিটালাইজেশন, ঝুঁকিভিত্তিক অডিট, করভিত্তি সম্প্রসারণ, করছাড় পর্যালোচনা এবং করনীতি ও কর প্রশাসন পৃথক করার প্রস্তাবও দিয়েছে। এগুলো যুক্তিসংগত সংস্কার। সাফল্য নির্ভর করবে নজরদারিযোগ্য সংস্কারসূচক, স্বচ্ছ কর-ব্যয় হিসাব, প্রণোদনার সময়সীমা এবং কর-ছাড়ের সঙ্গে কর্মসংস্থান, রপ্তানি, প্রযুক্তি হস্তান্তর, উৎপাদনশীলতা ও আঞ্চলিক উন্নয়নের দৃঢ় সংযোগের ওপর।

    এরই মধ্যে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, চলতি অর্থবছরে প্রকৃত রাজস্ব আদায় প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকায় সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। সেখান থেকে আগামী অর্থবছরে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যপূরণ করতে হলে প্রায় ৫৪ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। সিপিডির মতে, কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর ফাঁকি রোধ, করজাল সম্প্রসারণ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া এত বড় প্রবৃদ্ধি অর্জন বাস্তবে সম্ভব নয়।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় যে দুর্বলতা রয়েছে, তা দূর না করে শুধু উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলে বছরের শেষে আবারও রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হবে এবং সরকারকে অতিরিক্ত ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে।

    বাস্তবতা হচ্ছে, অর্থনীতিতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক দুই দিক থেকেই চাপ বাড়ছে এবং পরিস্থিতির শিগগিরই পরিবর্তন হবে এমন লক্ষণও নেই। এমন পরিস্থিতিতে আগামী অর্থবছরের বিশাল এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয় বলে মনে করে অর্থনীতিবিদরা। একই সঙ্গে তারা এনবিআরকে রাজস্ব আহরণে বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রা দেওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি এনবিআরের সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন তারা।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মূল্যস্ফীতির লাগাম টানা যাচ্ছে না। দেশে মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন সীমিত আয়ের মানুষেরা। এমন পরিস্থিতিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনার পথনির্দেশনা দেওয়া হয়নি। এই মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জ নিয়ন্ত্রণে পথনকশা নেই। ফলে এনবিআরের পক্ষে লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হবে। সব মিলিয়ে অর্থবছরের পুরো সময়ই রাজস্ব আহরণে চাপে থাকবে। আগামী অর্থবছরে এনবিআরকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ করতে হবে। বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এ লক্ষ্যমাত্রা অনেকটা অসম্ভবই।

    পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, প্রকৃত রাজস্ব আদায় এই লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুবই কম।

    বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, লক্ষ্যমাত্রা যদি বাস্তবসম্মত না হয়, তখন সেটি বাস্তবায়নও সম্ভব হয় না। আর যখনই এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করা যায় না, তখনই বাজেটের শৃঙ্খলাটা নষ্ট হয়। তখন বাজেটে কোথা থেকে আয় আসবে, কোথায় ব্যয় হবে, এমন অনেক শৃঙ্খলার অভাব দেখা দেয়। আমাদের রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থায় ঐতিহাসিকভাবে ব্যর্থতা-দুর্বলতা রয়েছে। প্রতিবছরই চাহিদা অনুযায়ী একটি উচ্চমাত্রা রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়। কিন্তু সেটি আমরা অর্জন করতে পারি না।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য বাস্তবসম্মত নয়। অতীতের মতো এবারও রাজস্ব আহরণের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে; কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনের বাস্তবভিত্তিক পথনকশা অনুপস্থিত। ফলে কোনোভাবেই এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না। ফলে বাজেট বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

    জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এনবিআরকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করতে হবে। ফলে প্রতিদিন এনবিআরকে ১ হাজার ৬৫৪ কাটি টাকা সংগ্রহ করতে হবে। এর মধ্যে আয়কর আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চেয়ে ৩৭ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা বেশি। মূল্য সংযোজন কর আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চেয়ে ৪০ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা বেশি। এতে সব মানুষের ওপর করের চাপ বাড়বে বলে মনে করে বিশ্লেষকরা।

    এ ছাড়া সম্পূরক শুল্ক আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮২ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা, যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চেয়ে ১৪ হাজার ৩৯ কোটি টাকা বেশি। আমদানি শুল্কের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬১ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চেয়ে ১০ হাজার ৫০১ কোটি টাকা বেশি। রপ্তানি শুল্কের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৯ কোটি টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চেয়ে ২১ কোটি টাকা বেশি। আবগারি শুল্কের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চেয়ে ১ হাজার ১১৯ কোটি টাকা বেশি। অন্যান্য কর আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চেয়ে ১ হাজার ১৪ কোটি টাকা বেশি।

    রাজস্ব আহরণে তিন খাতেই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। মধ্যবিত্তদের ওপর চাপটা থাকবে বেশি। তবে এ চাপ এনবিআরের জন্যও কম নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংস্কার ছাড়াই বিপুল রাজস্ব আদায় বরাবরের মতো এবারও চাপে থাকতে হবে এনবিআরকে। এ ছাড়া বিশাল অঙ্কের রাজস্ব আহরণের জন্য যে ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন, নীতি সংস্কার এবং অন্যান্য সক্ষমতাÑ অনেক বেশি অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করেন তারা।

    বাংলাদেশে কর্মরত মার্কিন ব্যবসায়ীদের সংগঠন আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) মনে করে, রাজস্ব আহরণের বিষয়ে অ্যামচেম বলেছে, ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কর প্রশাসনে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। করের আওতা সম্প্রসারণ এবং ঋণনির্ভরতা কমাতে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে করনীতি প্রণয়ন ও কর প্রশাসনের কার্যক্রম পৃথক করার বিষয়টি পুনর্বিবেচনারও আহ্বান জানিয়েছে অ্যামচেম।

  • স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়ল ৬ হাজার ৫৯০ টাকা

    স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়ল ৬ হাজার ৫৯০ টাকা

    দেশের বাজারে আবারো স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ সমন্বয়ে ভরিতে ৫ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা।

    শনিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এর আগে, সবশেষ গত ১১ জুন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৮ হাজার ৪৩৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

    এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৭৪ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৩৮ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ৩৬ দফা।

  • বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক গভীর ও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার

    বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক গভীর ও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার

    বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক সরকার বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সার্বভৌম, সমতা এবং শান্তি ও সমৃদ্ধির অংশীদারিত্বকে আরও গভীর ও শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    শুক্রবার চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিং এর স্থানীয় একটি হোটেলে চীন-দক্ষিণ এশিয়া এক্সপোর দ্বিতীয় দিনে ‘বাংলাদেশ ডে’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী একথা বলেন।

    খন্দকার মুক্তাদির বলেন, উভয় দেশের জনগণ যাতে বাস্তব ও প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হতে পারে, সে রকম টেকসই সম্পর্ক গড়তে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তারই প্রতিফলন এবারের মেলায় বাংলাদেশের রেকর্ডসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ।

    তিনি বলেন, আজ আমাদের জন্য একটি বিশেষ দিন, কারণ আমরা আতিথেয়তাপূর্ণ ও উষ্ণ শহর কুনমিংয়ে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন করছি। চীনের মাটিতে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন করতে পারা আমাদের দুই দেশের মধ্যকার গভীর বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক আস্থার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা বছরের পর বছর ধরে লালিত ও বিকশিত হয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, আমরা গর্বের সঙ্গে আমাদের দেশকে ‘ডেস্টিনেশন বাংলাদেশ – সম্ভাবনার এক অনন্য ভূমি’ হিসেবে অভিহিত করি। এটি কেবল একটি স্লোগান নয়; বরং একটি উন্মুক্ত আমন্ত্রণ। এ সময় তিনি ইউনানের ব্যবসায়ী সমাজের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাংলাদেশ থেকে অধিক পণ্য আমদানির আহ্বান জানান।

    মেলার দ্বিতীয় দিনেও মন্ত্রী মেলার বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের স্টলসহ সকল দেশের উল্লেখযোগ্য স্টল পরিদর্শন করেন।

    ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপনের অংশ হিসেবে শুক্রবার একই ভেন্যুতে ‘বাংলাদেশ-সোর্সিং উইথ কোয়ালিটি এন্ড কম্পিটিটিবনেস’বিষয়ের উপর সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এত রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ কী নোট স্পীকার হিসেবে বক্তব্য রাখেন। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন চীনে নিযুক্ত কমার্শিয়াল কাউন্সেলর, ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ-চীন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ ফুটওয়্যার এন্ড লেদার গুডস এসোসিয়েশনের প্রতিনিধি। সেমিনারে বাংলাদেশ, চায়নার ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, প্রতিনিধি এবং দুই দেশের সরকারি – বেসরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

    উল্লেখ, ‘১০ম চায়না–সাউথ এশিয়া এক্সপো এবং ৩০তম চায়না কুনমিং আমদানি-রপ্তানি মেলা–২০২৬’ গত ১১ জুন শুরু হয়েছে, যা আগামী ১৬ জুন পর্যন্ত চলবে। এই আন্তর্জাতিক মেলায় বিশ্বের ৬৮টি দেশের প্রায় দুই হাজার ৩০০ প্রদর্শক অংশগ্রহণ করছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ব্যবস্থাপনায় এবং কুনমিংস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সহযোগিতায় এবারের মেলায় বাংলাদেশের রেকর্ডসংখ্যক ১০১টি প্রতিষ্ঠানের ১৭৫ জন প্রতিনিধি অংশ নিয়েছে। বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে দেশের প্রধান রপ্তানি খাতসমূহের পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইলস, ওষুধশিল্প, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী, প্লাস্টিক পণ্য এবং হস্তশিল্প।

    অনুষ্ঠানে আরোও বক্তব্য প্রদান করেন চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম, ইউনান প্রদেশের ভাইস গভর্নর লিউ ইয়াং, ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল লী ঈ, বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ, চীনের কাউন্সিল ফর দ্যা প্রোমোশন ইন্টারন্যাশনাল এর প্রেসিডেন্ট লিউ কী লিন।

    এ সময় কুনমিং এ নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল, বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইপিবি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বাণিজ্যমন্ত্রীর সফরসঙ্গী বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশ ও চায়নার ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো কমল স্বর্ণের দাম

    আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো কমল স্বর্ণের দাম

    মূল্যস্ফীতির চাপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদহার বৃদ্ধির আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে।

    শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ১০মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম শূণ্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৮২ দশমিক ৪৭ ডলারে নেমে আসে। এতে সপ্তাহজুড়ে স্বর্ণের দাম প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমার পথে রয়েছে। তবে আগস্ট ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০৩ দশমিক ৬০ ডলারে পৌঁছেছে।

    বৃহস্পতিবার স্বর্ণের দাম ছয় মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেলেও পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪ হাজার ২১৯ দশমিক ৬৯ ডলারে লেনদেন শেষ করে। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক হামলা বাতিল এবং শিগগিরই শান্তি চুক্তি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়ার বিষয়টি ভূমিকা রাখে।

    বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান মেরেক্সের বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেইর বলেন, বর্তমানে স্বর্ণের বাজার পুরোপুরি ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির খবরে পরিচালিত হচ্ছে।

    তার ভাষায়, ‘বাজার এখন ফেডের যেকোনো বার্তার দিকে নজর রাখবে। যদি তারা সুদহার বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়, তাহলে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ডলারের নিচেও নেমে যেতে পারে।’

    ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে স্বর্ণের দাম প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, জ্বালানি পণ্যের দাম বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদহার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে বাধ্য হতে পারে। এতে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ধরে রাখার আকর্ষণ কমে যায়।

    এদিকে মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদক পর্যায়ের মূল্যসূচক প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি পণ্যের ব্যয় বৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে বার্ষিক মূল্যবৃদ্ধি সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাজারে ডিসেম্বর মাসে ফেডের সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় ৬০ শতাংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

    অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চলতি সপ্তাহান্তেই একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে, যার ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আবার স্বাভাবিক হবে। তবে ইরান জানিয়েছে, কোনো চুক্তির বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

    স্বর্ণভিত্তিক বিশ্বের বৃহত্তম এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড নিউইয়র্কভিত্তিক এসপিডিআর গোল্ড ট্রাস্টের স্বর্ণ মজুতও কমেছে। বুধবার তহবিলটির ধারণকৃত স্বর্ণের পরিমাণ প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৯২৩ দশমিক ৮৯ মেট্রিক টনে নেমে আসে।

    বাজারের অস্থিরতার কথা বিবেচনায় নিয়ে এএনজেড ব্যাংক চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্বর্ণের মূল্য লক্ষ্যমাত্রা ৪০০ ডলার কমিয়ে ৫ হাজার ২০০ ডলার নির্ধারণ করেছে।

    অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৬ দশমিক ৭৮ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭২৫ দশমিক ৯৯ ডলারে উঠলেও সপ্তাহজুড়ে লোকসানের দিকেই রয়েছে। অন্যদিকে প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৯০ দশমিক ১৫ ডলারে পৌঁছেছে এবং সপ্তাহজুড়ে ধাতুটির দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে।

  • ইসলামী ব্যাংকের  আমানতকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান- গভর্নর

    ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান- গভর্নর

    ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের আশ্বস্ত করে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে কিছু নিয়মকানুন ও টুলস আছে, যা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে প্রয়োগ করা হবে। আমানতকারীদের কোনো অসুবিধা হবে না, তারা যেকোনো সময় টাকা তুলতে পারবেন।’

    শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আগামী অর্থবছরের বাজেট পেশ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

    ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘অবৈধ হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ অস্বীকার করে গভর্নর বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকে অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত পাঁচ সদস্যের বোর্ডের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় গত ১৬ই মার্চ তাকে পরিবর্তন করা হয়। এর বাইরে আমরা কোনো বদলি বা প্রমোশনের বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করিনি।’

    তিনি আরও জানান, ঈদের আগের দিন ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান পদত্যাগ করার পর আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিতে হয়েছে। এরপর থেকেই ব্যাংকের পরিবেশ অস্থিতিশীল করার একটি চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

    তবে ব্যাংকটির বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ইসলামী ব্যাংকের ইনভেস্টমেন্ট রেশিও ছিল ৯৩ শতাংশের মতো, যা মার্চে এসে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৭ দশমিক ৯ শতাংশে। নিয়ম অনুযায়ী এটি সর্বোচ্চ ৯২ শতাংশ হওয়া উচিত। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রয়োজনে সহায়তা দেওয়া হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

    ব্যাংক খাতের সামগ্রিক সংস্কারের বিষয়ে মোস্তাকুর রহমান বলেন, ‘ওয়ান থার্ড ডিপোজিট চুরি হয়ে গেছে। এই রকম একটা ব্যাংকিং সিস্টেমকে স্থিতিশীল করতে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা সমস্যাগুলো আমরা পর্যায়ক্রমে সমাধান করছি।’

    দীর্ঘ ১২ বছর ধরে টাকা না পাওয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের জন্য সুখবর দিয়ে গভর্নর জানান, আগামী এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে সমস্যাগ্রস্ত কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) বিষয়ে বিশেষ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে, যার মাধ্যমে ভুক্তভোগী আমানতকারীরা তাঁদের টাকা ফেরত পাবেন।

  • ১৫০ সিসির ঊর্ধ্বে মোটরসাইকেল নিবন্ধনে লাগবে টিআইএন

    ১৫০ সিসির ঊর্ধ্বে মোটরসাইকেল নিবন্ধনে লাগবে টিআইএন

    আগামী অর্থবছরে মোট উন্নয়ন ব্যয় বাড়িয়ে এবং পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক কমিয়ে আনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি ব্যয়ের কাঠামোয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরো বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ১৫০ সিসির ঊর্ধ্বে মোটরসাইকেল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ ঘোষণা দেন।

    ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভূক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার ধরা হয়েছে নয় লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৩.৭ শতাংশ। এটি চলতি অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় এক লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি।

    আগামী অর্থবছরে মোট উন্নয়ন ব্যয় বাড়িয়ে এবং পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক কমিয়ে আনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি ব্যয়ের কাঠামোয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরো বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে।

    প্রস্তাবিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) জন্য তিন লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে তিন লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে পরিচালন ব্যয়সহ অন্যান্য খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ছয় লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।

    সরকার ধীরে ধীরে বাজেটে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করছে। সে অনুযায়ী আগামী অর্থবছরে উন্নয়ন ব্যয় ৩৩.৭০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল ২৭.২৭ শতাংশ। একইসাথে পরিচালন ব্যয়ের অংশ কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে মোট ব্যয়ের ৭২.৭৩ শতাংশ পরিচালন খাতে ব্যয় হলেও আগামী অর্থবছরে তা কমিয়ে ৬৬.৩০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ৫ হাজার টাকা করে বাড়ানোর প্রস্তাব

    খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ৫ হাজার টাকা করে বাড়ানোর প্রস্তাব

    ‘সরকার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নিশ্চিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪,৭৩০টি বীর নিবাস নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।’

    আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা যেমন বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক এর পরিবারকে প্রদেয় ভাতার হার পাঁচ হাজার টাকা করে বৃদ্ধি করে যথাক্রমে ৪০ হাজার, ৩০ হাজার, ও ২৫ হাজার করার প্রস্তাব করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ বরাদ্দের প্রস্তাব করেন তিনি। এ সময় তিনি সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ভাতা ২০ হাজার টাকা অপরিবর্তিত রাখারও প্রস্তাব করেন।

    বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নিশ্চিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪,৭৩০টি বীর নিবাস নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।

    তিনি বলেন, সরকার মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করছে।

    মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য উৎসব ভাতা, বাংলা নববর্ষ ভাতা, চিকিৎসা সেবা ও দাফন অনুদানসহ বিভিন্ন সুবিধা প্রদান অব্যাহত রয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।

    তিনি জানান, এমআইএস পদ্ধতিতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বিত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং জিটুপি প্রক্রিয়ায় সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। যুদ্ধাহত, খেতাবপ্রাপ্ত ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা ইএফটি প্রক্রিয়ায় প্রদান করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ঋণ সুবিধা দেয়া হচ্ছে।

  • মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৭৫১৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

    মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৭৫১৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

    প্রস্তাবিত বাজেটে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পরিচালন খাতে ছয় হাজার ৫২৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ৯৮৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য সাত হাজার ৫১৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় এ প্রস্তাব করেন।

    এর আগে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট ছিল সাত হাজার ৩৩০ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এই বরাদ্দ দাঁড়ায় সাত হাজার ৪৫২ কোটি ১৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা।

    এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পরিচালন খাতে ছয় হাজার ৫২৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ৯৮৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    আগামী অর্থবছরের বাজেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদফতরের জন্য ৬১৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।

  • রেমিট্যান্সে ২.৫ শতাংশ প্রণোদনা থাকছে, আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’

    রেমিট্যান্সে ২.৫ শতাংশ প্রণোদনা থাকছে, আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’

    বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে এসব ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা সহজেই প্রবাসী কল্যাণসেবা, বীমা সুবিধা, ব্যাংকিং সেবা এবং জরুরি সহায়তা গ্রহণ করতে পারবেন।

    একইসাথে বৈধ পথে দেশে অর্থ পাঠাতে উৎসাহ দিতে বিদ্যমান ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা বহাল রাখার কথাও জানিয়েছে সরকার।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে এসব ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    বাজেটে প্রবাসীদের অগ্রাধিকার তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ ও প্রবাসী বাংলাদেশী জনশক্তির সুরক্ষা ও কল্যাণে আমাদের সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রবাসী কর্মীদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার একটি বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড’ প্রবর্তন করছে। প্রবাসী কল্যাণ সেবা, বীমা, ব্যাংকিং সুবিধা এবং জরুরি সহায়তার সাথে কার্ডটি সংযুক্ত করা হবে।’

    তিনি বলেন, ‘বিকল্প শ্রমবাজার হিসেবে আমরা রাশিয়া, পর্তুগাল, রোমানিয়া, ব্রাজিল, গ্রিস, সার্বিয়া, নর্থ মেসিডোনিয়ার মতো দেশগুলোর সাথে ইতোমধ্যে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এছাড়া দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আমরা আবারো মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের শ্রমবাজার খোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।’

    আমির খসরু বলেন, ‘আমাদের সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরের মাসেই প্রবাসীদের পাঠানো মাসিক রেমিট্যান্স ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ। রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশীদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। আমরা আশা করছি এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

    তিনি আরো বলেন, ‘সরকার প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণের ক্ষেত্রে ২ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা অব্যাহত রাখছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক শ্রম বাজারের চাহিদার ভিত্তিতে অকুপেশনভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করছে।’

    অর্থমন্ত্রীর ভাষ্যে, বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে—এমন খাতগুলোর জন্য খাতভিত্তিক কোর্স ও পাঠ্যক্রম চালুর কাজ শুরু করেছে সরকার। এছাড়াও বাজারভিত্তিক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম উন্নয়ন, সার্টিফিকেশন, অ্যাক্রেডিটেশন ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হয়েছে।

  • দেশের পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য সুখবর

    দেশের পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য সুখবর

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকাল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে বাজেট উপস্থাপন শুরু হয়।

    বাজেট অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবীক্রম)। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম বাজেট।

    দেশের পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের জন্যও সুখবর রয়েছে। রপ্তানি আয় থেকে প্রাপ্ত নগদ প্রণোদনার ওপর উৎসে করের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে তা ৫ শতাংশ করা হতে পারে।

    এতে রপ্তানি খাতে অর্থের প্রবাহ বাড়বে। তবে সরকার প্রায় ৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব হারাবে। তৈরি পোশাক খাতসহ প্রায় ৪৩টি খাতে বর্তমানে রপ্তানি প্রণোদনা দেওয়া হয়। এসব খাতে প্রণোদনার হার ০ দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত। অবশ্য রপ্তানি আয়ের বিপরীতে উৎসে কর আগের মতোই এক শতাংশ রাখা হয়েছে।

  • তামাকপণ্য আরও সহজলভ্য হবে, সরকার হারাবে অতিরিক্ত রাজস্ব

    তামাকপণ্য আরও সহজলভ্য হবে, সরকার হারাবে অতিরিক্ত রাজস্ব

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম খুবই সামান্য বাড়ানো হয়েছে এবং বিড়ি, গুল ও জর্দার দাম ও করহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি এবং মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির হিসাব করলে এসব তামাকপণ্যের প্রকৃত দাম কমে যাবে। সিগারেটের মূল্যস্তরের সংখ্যা কমানো, সুনির্দিষ্ট শুল্কের প্রচলনসহ কর কাঠামোয় কোনো ধরনের সংস্কার আনা হয়নি। প্রস্তাবিত বাজেট পাস হলে তামাকের ব্যবহার, তামাক ব্যবহারজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যু বাড়বে এবং সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির সুযোগ হাতছাড়া হবে বলে মনে করে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা)।

    প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্নস্তরের প্রতি প্যাকেট ১০ শলাকা সিগারেটের দাম ২ টাকা বৃদ্ধি করে ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজেট কার্যকর হলে এই স্তরে সিগারেটের দাম বাড়বে মাত্র ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ, যা ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির তুলনায় অনেক কম। ফলে নিম্নস্তরের সিগারেটের প্রকৃত দাম ব্যাপকভাবে কমবে এবং তরুণ ও নিম্ন আয়ের জনগণের মধ্যে কমদামি সিগারেটের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বাড়বে। উল্লেখ্য, বর্তমানে সিগারেট বাজারের প্রায় ৭৫ শতাংশই নিম্নস্তরের দখলে, যার প্রধান ভোক্তা মূলত দরিদ্র ও তরুণ জনগোষ্ঠী।

    প্রস্তাবিত বাজেটে মধ্যম স্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের দাম ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯২ টাকা (১৫ শতাংশ), উচ্চ স্তরে ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা (১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ) এবং প্রিমিয়াম বা অতি উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার দাম ১৮৫ টাকা থেকে ২১০ টাকা (১৩ দশমিক ৫১ শতাংশ) নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দামবৃদ্ধি নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির তুলনায় খুবই সামান্য। তাছাড়া, সিগারেটের করকাঠামোয় কোনো সংস্কার না করায় বর্ধিত দামের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ কোম্পানির পকেটে চলে যাবে এবং বাড়তি মুনাফা তামাক ব্যবসা প্রসারে ব্যবহৃত হবে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি।

    প্রজ্ঞা-আত্মার মতে, তামাকবিরোধীদের প্রস্তাব অনুযায়ী সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্রিত করে প্রতি ১০ শলাকার খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ, সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতি প্রবর্তন অর্থাৎ বিদ্যমান ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্কের সঙ্গে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপ এবং সব ধরনের তামাকপণ্যের দাম বাড়ানো হলে চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে প্রায় চার লাখ অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে।

    প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বিড়ি, জর্দা ও গুলের দাম এবং করহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ফলে এসব পণ্য আরও এক দফা সস্তা ও সহজলভ্য হবে এবং নারী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে। বাজেটে ১০ গ্রাম নিকোটিন পাউচের খুচরা মূল্য ৫০০ টাকা ও ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং ১০ শলাকা হিটেড টোব্যাকোর খুচরা মূল্য ২১০ টাকা ও ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এসব পণ্য নিষিদ্ধের প্রস্তাব করা হলেও সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে তা বিবেচনা করা হয়নি। ফলে জনগণ বাড়তি স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়বে। অন্যান্য পদক্ষেপের মধ্যে, নিকোটিন গ্র্যানুলস ও নিকোটিন পাউচ আমদানিতে ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং তামাকপণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ মনিটর করার জন্য ‘ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস’ পদ্ধতি প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    বাংলাদেশে ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন এবং তামাক ব্যবহারজনিত রোগে বছরে প্রায় ২ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। তামাক ব্যবহারজনিত স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ বছরে ৮৭ হাজার কোটি টাকা। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত বাজেটে তামাকবিরোধীদের সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রাজস্ব বৃদ্ধির সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে প্রজ্ঞা ও আত্মা।

  • বাজেট ২০২৬-২৭: কৃষক কার্ডে ১ হাজার ৬২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

    বাজেট ২০২৬-২৭: কৃষক কার্ডে ১ হাজার ৬২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ঘোষণা করা দেশের ৫৫তম বাজেটে দেশের ১০০ উপজেলায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষক, মৎস্যচাষি, প্রাণিসম্পদ খামারি ও লবণচাষিদের ‘কৃষক কার্ড’ দেয়া হবে। এজন্য কৃষক কার্ড বাবদ ১ হাজার ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    এর আগে গত পহেলা বৈশাখে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ১০টি সেবা পৌঁছে দিতে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি চালু করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ কর্মসূচির প্রি-পাইলটিং হিসেবে দেশের আটটি বিভাগের ১০ জেলার ১১ উপজেলার ১১টি ব্লকে ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষককে কার্ড দেওয়া হয়।

    কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। তার আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।

    প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশ। পাঁচ দশকের বেশি সময়ের এই যাত্রায় দেশের অর্থনীতির পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে উন্নয়ন কর্মসূচি ও রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের আকারও।

    গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট এটি। বিশাল নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রতিগুলো পূরণে দেশের ইতিহাসে এবার সবচেয়ে বড় বাজেট তৈরি করেছে সরকার। টাকার অঙ্কে প্রস্তাবিত এ বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

    বিরাট এ বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ সংগ্রহ করা হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে। বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

    বাজেটের এই বিশাল ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে সরকার।

    প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।

    বিশাল এ বাজেটের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির’ পথে এগিয়ে নেওয়া।

    এ এম

  • আয়কর রিটার্ন দেওয়া যাবে সারা বছর

    আয়কর রিটার্ন দেওয়া যাবে সারা বছর

    আগামী অর্থবছর থেকে সারা বছর আয়কর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পাচ্ছেন করদাতারা। তবে নির্ধারিত সময়ের আগে রিটার্ন দাখিল করলে করছাড়ের সুবিধা পাবেন, আর দেরিতে রিটার্ন দিলে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

    আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে এই ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    অর্থমন্ত্রী প্রস্তাব করেন, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আয়কর রিটার্ন দাখিল করলে করদাতারা পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা—যেটি কম, সেই পরিমাণ করছাড় পাবেন।

    দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) রিটার্ন দাখিল করলে কোনো অতিরিক্ত করছাড় বা জরিমানা থাকবে না। এ সময়ে করদাতাদের শুধু নির্ধারিত কর পরিশোধ করলেই হবে।

    তবে তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) রিটার্ন দাখিল করলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ অথবা ৩ হাজার টাকা—যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

    এ ছাড়া অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) রিটার্ন দাখিল করলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা—যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে।

    করদাতাদের সময়মতো রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করা এবং কর প্রশাসনকে আরও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে এই ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • পচনশীল কৃষিপণ্য রক্ষায় সরকার এক  হাজার হিমাগার তৈরির পরিকল্পনা

    পচনশীল কৃষিপণ্য রক্ষায় সরকার এক হাজার হিমাগার তৈরির পরিকল্পনা

    পচনশীল কৃষিপণ্য সংরক্ষণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এক হাজার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গুদাম (কোল্ডস্টোরেজ) নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, টমেটোসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের উৎপাদন-পরবর্তী অপচয় কমানো এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় নাকি প্রকল্প ছাড়াই দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে—তা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। তবে কৃষি মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দিয়েছে।

    কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কোনো দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের অধীনে না গিয়ে সরাসরি বাজেট বরাদ্দ বা জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ প্রক্রিয়ায় এই কোল্ডস্টোরেজগুলো স্থাপন করা হবে। সম্প্রতি ঈদুল আজহার আগে কৃষি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।ওই বৈঠকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) মহাপরিচালক কৃষিবিদ আবদুর রহিমকে এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যোগাযোগ করা হলে ডিএইর মহাপরিচালক আবদুর রহিম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন। আমার দেশকে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে কোনো প্রকল্প ছাড়াই জরুরি ভিত্তিতে এক হাজার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গুদাম ঘর তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমি দপ্তরের অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে এ বিষয়ে দ্রুত করণীয় নির্ধারণ করব। তিনি আরো জানান, দেশে বর্তমানে চাহিদার তুলনায় সংরক্ষণাগার বা গুদামের সংখ্যা অত্যন্ত কম। ফলে পচনশীল সব উৎপাদিত পণ্য দীর্ঘ সময় টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয় না। এই বাস্তবতায় সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আদেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে চার হাজার পেঁয়াজ সংরক্ষণের মেশিন কেনার প্রস্তুতিও চলছে।কৃষিখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে প্রতি বছর বিভিন্ন কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়লেও সেই অনুপাতে গড়ে ওঠেনি সংরক্ষণ অবকাঠামো। বিশেষ করে আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও মৌসুমি সবজির ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত কোল্ডস্টোরেজ না থাকায় বাজারে একসঙ্গে সরবরাহ বেড়ে যায়। এতে দাম কমে যায় এবং উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হয় কৃষকদের।

    ডিএইর তথ্য অনুযায়ী, দেশে আলুর বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৯০ লাখ টন। এর বিপরীতে বিদ্যমান হিমাগারগুলোর ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৫ লাখ টন। সরকারি হিসাবে, পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে মোট উৎপাদিত আলুর প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যায়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, কেবল আলুই নয়, পেঁয়াজ ও অন্যান্য পচনশীল পণ্যের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে।

    খাতসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এই ঘাটতি মেটাতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) আগ্রহে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নেয়। ‘আলুর বহুমুখী ব্যবহার, সংরক্ষণ ও বিপণন উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় রংপুর বিভাগসহ দেশের ১৬টি জেলায় ৪৫০টি ‘অহিমায়িত মডেল ঘর’ তৈরি করা হয়। সরকারি খরচে একেকটি ঘর নির্মাণে ব্যয় হয় প্রায় দেড় লাখ টাকা। গত অর্থবছর শুধু রংপুর জেলাতেই ৭৫টি অহিমায়িত মডেল ঘরের মধ্যে ৪৫টিতে আলু সংরক্ষণের পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

    তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় এই অহিমায়িত মডেল ঘরগুলো চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। ফলে এক হাজার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নতুন গুদাম ঘর ও চার হাজার পেঁয়াজ সংরক্ষণ মেশিন দ্রুত স্থাপন করা সম্ভব হলে তা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এমনকি কৃষকের পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত হতে পারে।

    এ এম