অর্থ ও বাণিজ্য

  • এবার লিবিয়ার তেলে ট্রাম্পের চোখ

    এবার লিবিয়ার তেলে ট্রাম্পের চোখ

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে ধরে যুক্তরাষ্ট্রে এনে কারাবন্দি করার পর দেশটির জ্বালানি তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটির তেল বিক্রি করে ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কিন্তু বিপুল এই অর্থ কোথায় বা কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে, সে বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর ট্রাম্পের চোখ এখন লিবিয়ার তেলের দিকে। তিনি তার প্রতিনিধি ও বেয়াইয়ের (মেয়ে টিফানির শ্বশুর) মাধ্যমে লিবিয়ার পূর্ব ও পশ্চিম অংশে ক্ষমতাসীন দুটি সরকারসহ তিনটি রাজনৈতিক পক্ষের শীর্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে দেশটির তেল সম্পদের ওপর মার্কিন ব্যবসায়ীদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন।

    লিবিয়া নিয়ে ট্রাম্পের নতুন করে আগ্রহ দেখানোর নেপথ্যে রয়েছে দেশটির জ্বালানি তেল। এতদিন লিবিয়ার ঘটনাবলিতে ট্রাম্পের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল খুবই সীমিত। কিন্তু হঠাৎ করে এখন এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার পেছনে মূল কারণ হলো একটি হিসাব—২০৩০ সালের মধ্যে লিবিয়ার দৈনিক তেল উৎপাদন দ্বিগুণ করে ৩০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করা হলে তা কনোকোফিলিপস, শেভরনসহ যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কোম্পানিগুলোর জন্য লাভজনক হবে। এসব কোম্পানি লিবিয়ার তেল নিয়ে এরই মধ্যেই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

    ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার আলোকে লিবিয়ার তিনটি প্রধান রাজনৈতিক গোষ্ঠী ক্ষমতার অংশীদারত্ব নিয়ে একটি চুক্তি করেছে গত ১৮ জুন। এই চুক্তির মাধ্যমে ২০২৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারির আগে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনের রূপরেখা তৈরি করা হয়। সংঘাতকবলিত লিবিয়ায় গত ১৮ বছরের মধ্যে এটি এ ধরনের প্রথম চুক্তি। এই চুক্তির কাঠামোটি গত এপ্রিল মাসে গৃহীত ৩০ বিলিয়ন ডলারের ‘একীভূত রাষ্ট্রীয় বাজেট’র ওপর ভিত্তি করে তৈরি। গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় লিবিয়ায় প্রণীত প্রথম একীভূত বাজেট এটা।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আরব ও আফ্রিকাবিষয়ক সিনিয়র উপদেষ্টা এবং মেয়ে টিফানির শ্বশুর মাসাদ বুলোস এই চুক্তি স্বাক্ষরের নেপথ্যে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন। এই চুক্তি স্বাক্ষরের আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রোমে একটি গোপন বৈঠক হয়। এরপর থেকেই এই প্রক্রিয়ার মূল ব্যক্তি হিসেবে কাজ করছেন মাসাদ বুলোস। সাধারণ লিবিয়ানদের মধ্যে এই চুক্তির সফলতা নিয়ে এরই মধ্যেই সংশয় তৈরি হয়েছে। কারণ, দেশটির সুশীল সমাজ, উপজাতি গোষ্ঠীগুলো, বিভিন্ন মিলিশিয়া বাহিনী এবং নারী ও তরুণ সমাজের কোনো প্রতিনিধি রোমের সেই বৈঠকে রাখা হয়নি।

    মাসাদ বুলোস কোনো পেশাদার কূটনীতিক নন। তিনি একজন লেবানিজ-আমেরিকান ব্যবসায়ী। লিবিয়ার জনগণের মন্তব্য হলো—তার প্রধান যোগ্যতা হলো তিনি টিফানি ট্রাম্পের শ্বশুর। লিবিয়ার ব্যাপারে ট্রাম্পের আগ্রহ মূলত দেশটির তেল নিয়ে। তার এই হিসাব-নিকাশটি ন্যাটোর লিবিয়ায় হস্তক্ষেপের সময় দেওয়া ট্রাম্পের সেই পুরোনো বক্তব্যের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিনিময়ে লিবিয়ার তেল বিক্রির আয়ের অর্ধেক যুক্তরাষ্ট্রের পাওয়া উচিত।

    আফ্রিকা মহাদেশে তেলের প্রমাণিত মজুতের সবচেয়ে বড় ভান্ডার রয়েছে লিবিয়ায়। কিন্তু দেশটিতে চলমান সংঘাত ও বিভাজনের কারণে এই তেল সম্পদ ঐক্যবদ্ধভাবে জাতীয় স্বার্থে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। দেশটির জাতীয় তেল কোম্পানি ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশনকে একীভূত করা এবং দলীয় বা গোষ্ঠীগত হস্তক্ষেপ থেকে এটিকে রক্ষা করা গেলে দৈনিক তেল উৎপাদন ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে রাষ্ট্রীয় আয়ও ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

    কিন্তু লিবিয়ার পূর্ব অংশে যুদ্ধবাজ নেতা জেনারেল হাফতারের সমর্থিত সরকার ও পশ্চিম অংশে ত্রিপোলিভিত্তিক জাতিসংঘ সমর্থিত ‘গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল ইউনিটি’ (জিএনইউ) ক্ষমতায় থাকায় এই তেল সম্পদ ভাগাভাগি ও লুটপাট হচ্ছে। জিএনইউয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবদুল্লাহ ইজ্জেদিন দ্য নিউ আরবকে বলেন, দুটি সরকার এক হলে ব্যয় অর্ধেকে নেমে আসবে এবং অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল-ফিতোরি বলেন, ‘লিবিয়া এমন একটি অঞ্চলে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতিটি শহর এক-একটি রাষ্ট্র হয়ে উঠেছে। তার মতে, একটি ঐক্যবদ্ধ সাংবিধানিক কাঠামোই জাতীয় নির্বাচনের একমাত্র পথ, যে নির্বাচনে একটি বৈধ ও স্থায়ী কর্তৃপক্ষ গঠিত হবে।

    ঐক্যবদ্ধ বাজেট প্রণয়নে পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের প্রতিদ্বন্দ্বী সরকার জাতীয় স্বার্থে আপস-মীমাংসায় রাজিও হয়েছিল। লিবিয়ার সিরতে শহরে আফ্রিকায় মার্কিন সামরিক কমান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত ‘ফ্লিন্টলক ২০২৬’ নামের সামরিক মহড়ায়ও উভয় পক্ষের বাহিনী প্রথমবারের মতো একই কমান্ডের অধীনে অংশ নিয়েছে। তবে মূল সমস্যাটি নিহিত রয়েছে নতুন এই চুক্তির কাঠামোর মধ্যেই।

    বুলোসের মধ্যস্থতায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রোমে অনুষ্ঠিত গোপন বৈঠকে খলিফা হাফতারের বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার ও তার ছেলে সাদ্দাম হাফতার এবং জিএনইউয়ের প্রধানমন্ত্রী আব্দুল হামিদ দবেইবেহর ভাতিজা ও উপদেষ্টা ইব্রাহিম দবেইবেহ প্রথমবারের মতো মুখোমুখি আলোচনায় বসেন। সেই বৈঠকের প্রস্তাবে সাদ্দাম হাফতারের নেতৃত্বে নির্বাহী ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন ‘প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল’ গঠনের কথা বলা হয়। পাশাপাশি দবেইবেহ’র নেতৃত্বে একটি ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠন এবং ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী দুই পরিবারের মধ্যে সামরিক কমান্ড ভাগ করার প্রস্তাবও করা হয়।

    মূলত ক্ষমতার শক্ত অবস্থানে থাকা পক্ষগুলোর মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি সমঝোতা তৈরির মাধ্যমে এই উদ্যোগটি নেওয়া হচ্ছে। তাই এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলেও লিবিয়ায় বিরাজমান মূল সমস্যাগুলোর কোনো সমাধান হবে না। লিবীয় বিশ্লেষক আব্দুলসালাম আল-রাজহি বলেছেন, এই চুক্তি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে।

    ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর চুক্তি ও লিবিয়ার তেল

    জাতিসংঘ-সমর্থিত পুনর্মিলন ও মানবাধিকারবিষয়ক ‘স্ট্রাকচার্ড ডায়ালগ’ বা কাঠামোগত আলোচনা প্রক্রিয়ার সদস্য হানিন বুশুশে বলেন, নির্বাহী ক্ষমতাকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে নেওয়া যেকোনো উদ্যোগকে শুধু ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর মধ্যকার রাজনৈতিক সমঝোতা দিয়ে বিচার করলে চলবে না, বরং সাধারণ লিবীয়দের ওপর এর প্রভাবের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে। তিনি ‘দ্য নিউ আরব’কে বলেন, ‘একত্রীকরণ তখনই অর্থবহ হতে পারে, যখন তা বৈধতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি সামগ্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হয়। যদি সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধান না করে শুধু নাম পরিবর্তন বা পদ পুনর্বণ্টনের মধ্যেই এটি সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সমস্যা থেকেই যাবে।’

    রাজনৈতিক সমালোচকদের মতে, জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা করা হলে তা জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন প্রক্রিয়ার বৈধতাকে দুর্বল করবে। নতুন এই চুক্তিতে বৃহত্তর জাতীয় ঐকমত্যের পরিবর্তে ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর মধ্যকার দরকষাকষিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

    রাশিয়া নতুন এই চুক্তিকে সন্দেহের চোখে দেখছে এবং ‘বুলোস উদ্যোগ’কে বার্লিন প্রক্রিয়াকে পাশ কাটানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, আলজেরিয়া ও তিউনিসিয়া বারবার বলছে যে, লিবিয়ায় যেকোনো সমাধানের ক্ষেত্রে অবশ্যই দেশটির নিজস্ব মালিকানা ও নেতৃত্ব থাকতে হবে।

    এরপর কী হতে যাচ্ছে

    ১৮ জুনের চুক্তিটি গত কয়েক বছরের মধ্যে লিবিয়ার ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পথে নেওয়া সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ। একটি সমন্বিত বাজেট বাস্তব রূপ পেয়েছে। যৌথ সামরিক মহড়াও অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের রূপরেখাও কাগজে-কলমে তৈরি আছে। কিন্তু এই উদ্যোগগুলো শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে কি না, তা নির্ভর করছে যে বিষয়ের ওপর তা হলো—চুক্তিটি কি শুধু হাফতার ও দবেইবেহ পরিবারের মধ্যকার সমঝোতা হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি এই দুই পরিবারের বাইরে লিবিয়ার সাধারণ মানুষ নিজেদের বলে মনে করবে? ২০১১ সালে পশ্চিমাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় গাদ্দাফির ক্ষমতাচ্যুতি ও নিহত হওয়ার পর থেকে লিবিয়ার ইতিহাস বলে, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাওয়া সহজ নয়।

    লিবিয়ার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মূল দুর্বলতাগুলো আমলে না নিয়ে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের তেলবাণিজ্যের লক্ষ্য হাসিলে তিনটি পক্ষের মধ্যে সমঝোতা গাজা, লেবানন ও ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণেরই প্রতিফলন। এসব দেশে ওয়াশিংটন সাফল্য ঘোষণা করার পরপরই প্রাথমিক চুক্তিগুলো ভেস্তে গেছে। লিবিয়ায়ও হয়তো তাই ঘটবে। এরই মধ্যে দেশটির বিভিন্ন মহল জোরালোভাবে বলছে, কয়েকটি পরিবারের মধ্যে চুক্তি লিবিয়ার জনগণের পক্ষে কোনো চুক্তি নয়।

  • সৌদির নেতৃত্বে ১৪ দেশের প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ

    সৌদির নেতৃত্বে ১৪ দেশের প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ

    লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি এবং এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক ও জ্বালানি পরিবহন নিরাপদ রাখতে একটি বহুমুখী প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ নামের এই জোটে বাংলাদেশসহ মোট ১৪টি দেশ একযোগে স্বাক্ষর করেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।

    ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মুখে আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয় বলে জানানো হয়েছে জোটের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে নিরাপদ রাখাই এই প্রতিরক্ষা জোটের মূল লক্ষ্য।

    জোট গঠনের লক্ষ্যে আমন্ত্রণ জানানো ৫১টি দেশের মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাড়াও তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিশর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সুদান ও কমোরোস এই জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান এতে স্বাক্ষর করেনি।


    সৌদি আরবে এই জোটের প্রধান কার্যালয় স্থাপন করা হবে। জোটভুক্ত দেশগুলো নিজেদের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং যৌথ নৌ মহড়া পরিচালনা করবে। তবে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই জোটটি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং এটি নির্দিষ্ট কোনো দেশকে লক্ষ্য করে গঠিত হয়নি। অন্যান্য দেশের জন্যও এই জোটে যোগ দেওয়ার পথ খোলা রাখা হয়েছে। কিছু দেশ অভ্যন্তরীণ আলোচনার পর জোটে যোগ দিবে বলে জানিয়েছে।


    মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্ব বাজারের অর্ধেকের বেশি তেল ও গ্যাস সরবরাহ এখন লোহিত সাগরের এই বিকল্প রুটের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ১০ থেকে ১২ ভাগ পণ্য এবং প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল এই বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই সংকটাপন্ন স্থানে হুথিদের হামলা বন্ধ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই ১৪ দেশের জোট অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • আসছে স্থল অবরোধ

    আসছে স্থল অবরোধ

    ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে দেশটির বিরুদ্ধে এবার স্থল অবরোধ আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। বৃটিশ সংবাদপত্র দ্য টেলিগ্রাফ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

    গত কয়েক মাস ধরে বিমান হামলা ও দীর্ঘ সামরিক চাপ প্রয়োগ করেও তেহরানকে নতি স্বীকার করানো সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও জোরদারের নতুন কৌশল বিবেচনা করছেন।

    জানা গেছে, গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই নেতা ‘সামরিক (কাইনেটিক) ও অসামরিক (নন-কাইনেটিক) উপায়ে’ ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

    প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যাতে তারা সীমান্ত ক্রসিং কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে বা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। এর ফলে ইরানের আমদানি-রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হতে পারে।

    ইসরাইলের সিনিয়র এক কর্মকর্তা দ্য টেলিগ্রাফকে বলেন, ভাবুন তো, যদি স্থলপথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া যায়। ইরান যদি কিছুই আমদানি করতে না পারে এবং কিছুই রপ্তানি করতে না পারে, তাহলে কী হবে?

    এনিয়ে অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন লেফটেন্যান্ট জেনারেল শন ম্যাকফারল্যান্ড বলেন, বাস্তবে এমন অবরোধ কার্যকর করা ‘প্রায় অসম্ভব’ হলেও, যদি ইরানের বাণিজ্যিক সক্ষমতা বন্ধ করা যায়, তবে দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব হবে।
    তার ভাষায়, অর্থনৈতিক চাপই সবচেয়ে কার্যকর পথ, তবে এর সঙ্গে সামরিক উপাদানও থাকতে হবে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের স্থলসীমান্ত বহু দেশের সঙ্গে যুক্ত এবং বিশেষ করে ইরাক তেহরানের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় সব ধরনের সহায়তা বন্ধ করা অত্যন্ত কঠিন হবে।

    সম্ভাব্য এই পরিকল্পনায় ইঞ্চেহ বরুন ও সারাখস সীমান্ত ক্রসিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, যা ইরানকে তুর্কমেনিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
    ইরানের সঙ্গে ইরাক, তুরস্ক, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের স্থলসীমান্ত রয়েছে। ফলে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে এসব দেশের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। তবে প্রতিবেশী কোনো দেশ এ পরিকল্পনায় সহযোগিতা করলে তাদের নিজেদের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি ইরানের পাল্টা সামরিক হামলার ঝুঁকিও তৈরি হবে।
    প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থল ও সমুদ্রপথে অবরোধের মাধ্যমে ইরানের নতুন অস্ত্র সংগ্রহের সক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্য রয়েছে। বর্তমানে চীনের সঙ্গে নতুন সামরিক সহযোগিতা চুক্তির আওতায় বেইজিং থেকে শত শত রকেট লঞ্চার পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।

    প্রায় ৭ কোটি ডলারের ওই চুক্তিতে কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (ম্যানপ্যাডস) ও ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চীন থেকে আসা জাহাজগুলো সাধারণত দক্ষিণ ইরানের বান্দার আব্বাস ও চাবাহার বন্দরে নোঙর করে।
    দ্য টেলিগ্রাফের এক সূত্রের দাবি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বর্তমান কৌশল থেকে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন নতুন বিকল্প খুঁজছেন। সূত্রটি জানায়, ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে উত্তেজনা আরও বাড়ানোর বিভিন্ন উপায় বিবেচনা করছেন তিনি। এই পরিকল্পনা ট্রাম্পের ‘সর্বোচ্চ চাপ’নীতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যার লক্ষ্য তেহরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করে দেয়া।

    তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থল অবরোধের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেয়ে এটি বিভ্রান্তিমূলক কৌশল (রেড হেরিং) হিসেবেও সামনে আনা হয়ে থাকতে পারে, যাতে ইরান প্রকৃত পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিভ্রান্ত হয়।

    গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের নেতৃত্বের ভেতরে মতভেদ রয়েছে। এক পক্ষ অর্থনৈতিক বিপর্যয় নিয়ে উদ্বিগ্ন, অন্য পক্ষ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে।

    একজন ইসরাইলি কর্মকর্তা বলেন, ইরানে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। অনেক পেট্রোলপাম্পে ডিজেল শেষ হয়ে গেছে, দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক বৈঠক ছিল ইতিবাচক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ।
    ইসরাইলি এক কর্মকর্তার দাবি, বৈঠকে ইরানকে ঘিরে তিনটি সম্ভাব্য বিকল্প নিয়ে আলোচনা হয়- কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানো, নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখা, অথবা আবার সামরিক হামলা শুরু করা।

    তবে নেতানিয়াহু কোনো একটি বিকল্পের পক্ষে জোর দেননি। তিনি বলেন, আমরা শুধু নিজেদের জীবন নয়, আপনাদের জীবনও রক্ষা করছি। আমরা বর্বরতার বিরুদ্ধে সভ্যতার লড়াই করছি।

  • বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

    বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

    বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য দিনদিন বাড়ছে। এই বাণিজ্য চালিয়ে যেতে মুদ্রা বিনিময়ের পরিমাণও বাড়ছে।

    লেনদেনের সুবিধার্থে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার আজ শুক্রবার বিনিময় হার :

    বৈদেশিক মুদ্রা – বাংলাদেশি টাকা

    মালয়েশিয়ান ১ রিংগিত ৩০ টাকা ৩১ পয়সা

    সৌদির ১ রিয়াল ৩২ টাকা ৮৯ পয়সা

    মার্কিন ১ ডলার ১২৩ টাকা ৩৬ পয়সা

    ইউরোপীয় ১ ইউরো ১৪৪ টাকা ০৩ পয়সা

    ইতালিয়ান ১ ইউরো ১৪৪ টাকা ০৩ পয়সা

    ব্রিটেনের ১ পাউন্ড ১৬৫ টাকা ৬২ পয়সা

    সিঙ্গাপুরের ১ ডলার ৯৬ টাকা ৮০ পয়সা

    অস্ট্রেলিয়ান ১ ডলার ৮৭ টাকা ১৮ পয়সা

    নিউজিল্যান্ডের ১ ডলার ৭২ টাকা ৮১ পয়সা

    কানাডিয়ান ১ ডলার ৮৮ টাকা ১০ পয়সা

    ইউ এ ই ১ দিরহাম ৩৩ টাকা ৭২ পয়সা

    ওমানি ১ রিয়াল ৩২০ টাকা ৫০ পয়সা

    বাহরাইনি ১ দিনার ৩২৮ টাকা ৬৫ পয়সা

    কাতারি ১ রিয়াল ৩৪ টাকা ০১ পয়সা

    কুয়েতি ১ দিনার ৪০২ টাকা ৪৪ পয়সা

    সুইজারল্যান্ডের ১ ফ্রেঞ্চ ১৪৯ টাকা ৯০ পয়সা

    দক্ষিণ আফ্রিকান ১ রান্ড ৭ টাকা ৪৮ পয়সা

    জাপানি ১ ইয়েন ০.৭৮০ টাকা

    ইন্ডিয়ান ১ রুপি ১ টাকা ২৫ পয়সা

  • এস আলমের পর আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক এবার কেডিএসের হাতে

    এস আলমের পর আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক এবার কেডিএসের হাতে

    সরকারের উচ্চপর্যায়ের ইচ্ছায় আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক পরিচালনার ভার আবারও পুরোনো উদ্যোক্তাদের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও নতুন পর্ষদে স্থান পেয়েছেন। পরিচালক নিয়োগের মাত্র দুই দিনের মাথায় বাধ্য হয়ে দুজনকে পর্ষদ থেকে বাদ দিতে হয়েছে।

    নতুন করে পর্ষদ পুনর্গঠনের মাধ্যমে ব্যাংকটির মূল নিয়ন্ত্রণ চলে এসেছে চট্টগ্রামভিত্তিক কেডিএস গ্রুপের হাতে। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে কেডিএস গ্রুপ আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকের পাশাপাশি ন্যাশনাল ব্যাংকের দায়িত্বেও ছিল। এই দুই ব্যাংকেই তাদের সঙ্গে যুক্ত ছিল বিতর্কিত এস আলম গ্রুপ।

    এদিকে পর্ষদ পুনর্গঠনের পরপরই নিযুক্ত পরিচালকদের কয়েকজন নানা অনিয়মে আগে চাকরিচ্যুত ও অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের ব্যাংকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। এমনকি নবগঠিত পর্ষদের প্রথম সভাতেও এসব বিতর্কিত কর্মকর্তার কয়েকজনকে দেখা গেছে। একই সঙ্গে নতুন পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংকটির একজন উপব্যবস্থাপনা পরিচালককে (ডিএমডি) পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে।

    জানতে চাইলে ব্যাংকটির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বদিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর ব্যাংকে ফিরে এসেছি। এখন আমার মূল দায়িত্ব ব্যাংকটিকে পেশাদারির সঙ্গে পরিচালিত করা, যাতে নতুন করে কোনো অনিয়ম না হয়। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে যাঁদের চাকরি গেছে, তাঁদের ফিরিয়ে আনার সুযোগ নেই। নতুন করে অনিয়ম হলে ব্যাংকটি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে। চেয়ারম্যান হিসেবে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করাই আমার প্রধান কাজ।’

    যেভাবে গঠন হলো নতুন পর্ষদ

    আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ওই সময় ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন এস আলমের (সাইফুল আলম) ভাই আবদুস সামাদ লাবু। এস আলম গ্রুপের পাশাপাশি ব্যাংকটিতে সক্রিয় ছিল কেডিএস গ্রুপ। ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ব্যাংকটির পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। গঠন করা হয় স্বতন্ত্র পরিচালনা পর্ষদ। তাতে ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান লংকাবাংলা ফিন্যান্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাজা শাহরিয়ার। এ ছাড়া পর্ষদের অন্য স্বতন্ত্র পরিচালকদের মধ্যে ছিলেন মো. শাহীন উল ইসলাম, মো. আবদুল ওয়াদুদ, এম আবু ইউসুফ ও মোহাম্মদ আশরাফুল হাসান। পর্ষদ পুনর্গঠনের আগপর্যন্ত স্বতন্ত্র পরিচালকেরা ব্যাংকটি পরিচালনা করে আসছিলেন। স্বতন্ত্র পরিচালকদের সময়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে ব্যাংকটিতে নিরীক্ষা করা হয়। এতে বিভিন্ন অনিয়ম উঠে আসে।

    গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর দুটি পক্ষ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নিতে তৎপর হয়ে ওঠে। এরপর কেডিএস গ্রুপ ব্যাংকটির মালিকানা ফেরত চায়। অন্যদিকে আরেকটি পক্ষ তাদের শেয়ারের বিপরীতে পরিচালক পদ দাবি করে। এই পক্ষে ছিলেন সাবেক পরিচালক ও বর্তমান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন (কায়কোবাদ)। সরকারের একটি পর্যায় থেকে দুই পক্ষ থেকে ২ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা যাদের হাতে ছিল, তাদের হাতে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি আগের পাঁচ স্বতন্ত্র পরিচালককেও বহাল রাখা হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংক শেয়ারধারীদের মধ্য থেকে যে ১৪ জনকে পর্ষদে নিয়োগ দেয়, তাঁদের মধ্যে ৬ জনই কেডিএস গ্রুপ ও গ্রুপটির শীর্ষ নেতৃত্বের আত্মীয়স্বজন। তাঁরা হলেন কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, তাঁর ছেলে সেলিম রহমান, খলিলুর রহমানের ভাই আহমেদুল হক, কেডিএস গার্মেন্টসের প্রতিনিধি পরিচালক মাহবুব আহমেদ, কেডিএস টেক্সটাইলের প্রতিনিধি পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও কেওয়াই স্টিল মিলসের প্রতিনিধি মোহাম্মদ শরিফ উদ্দিন তসলিম। এ ছাড়া কেডিএস মালিকদের আত্মীয়রাও নিয়োগ পেয়েছেন।

    পর্ষদে নিয়োগ পাওয়া অন্য পরিচালকদের মধ্যে ব্যাংকটির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বদিউর রহমানও কেডিএস পরিবার–সংশ্লিষ্ট। অন্য পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন সর্বশেষ নির্বাচনে ঢাকা-৭ থেকে জামায়াতের হয়ে নির্বাচন করা মো. এনায়াত উল্লা, রফিকুল ইসলাম, ইমাদুর রহমান, নাজমুল আহসান খালেদ, আনোয়ার হোসাইন, আবদুস সালাম ও লিয়াকত আলী চৌধুরী।

    এ বিষয়ে মো. এনায়াত উল্লা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি বহুদিন পর ব্যাংকের পরিচালক পদ ফিরে পেয়েছি। নতুন করে আর কাউকে অনিয়ম করার সুযোগ দেওয়া হবে না।’

    এদিকে কেডিএস গ্রুপ থেকে পাঁচ পরিচালক নিয়োগ দেওয়া নিয়ে বিতর্ক ওঠায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও মোহাম্মদ শরিফ উদ্দিন তসলিম পদ গ্রহণ করেননি। কারণ, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, এক পরিবার বা গ্রুপ থেকে তিনজনের বেশি পরিচালক থাকার সুযোগ নেই। তাই কেডিএসের দুজন প্রতিনিধি বাদ যাওয়ার পর ব্যাংকটিতে নতুন করে খন্দকার মেজবাহ উদ্দিন আহমেদকে পরিচালক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ‘কয়েকটি ব্যাংক দীর্ঘদিন স্বতন্ত্র পরিচালকদের দিয়ে চলছে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে এভাবেই চলছে। তাই আমরাও চেয়েছিলাম ব্যাংকগুলো ভালো ও প্রকৃত শেয়ারধারীদের হাতে ফিরুক, তবে শুরুটা ভালো হলো না। সরকারের উচ্চপর্যায়ের চাপে বাধ্য হয়ে একটি গ্রুপের হাতে আল-আরাফাহ্‌ ব্যাংকটি তুলে দিতে হয়েছে।’

    পর্ষদের সভার চিত্র

    ১৫ জুলাই আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠন হয়। এর পরদিনই ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান, আর নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন কেডিএসের সেলিম রহমান।

    সভায় উপস্থিত দুজন পরিচালক প্রথম আলোকে বলেন, পর্ষদের সভায় ব্যাংকটি থেকে চাকরিচ্যুত শাহেদ সিদ্দিকীসহ আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা যোগ দেন। ১৯ পরিচালকের সভাটি সর্বোচ্চ ২৫ জনের উপস্থিতিতে হওয়ার কথা ছিল, তবে সভায় উপস্থিত ছিলেন ৪০ জনের বেশি। সভায় কেডিএসের প্রতিনিধিরা ফিরে আসায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের কেউ কেউ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এ সময় স্বতন্ত্র পরিচালকেরা চুপচাপ ছিলেন।

    ব্যাংকটির একাধিক কর্মকর্তা জানান, গত দুই বছরে বিভিন্ন কারণে ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা ব্যাংকে ফিরে আসতে নানাভাবে চাপ তৈরি করেছেন। এ ছাড়া গত দুই বছরে ব্যাংকে নতুন করে যোগ দেওয়া কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন নতুন চেয়ারম্যান, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান। তাঁদের নির্দেশে চাকরি ছেড়েছেন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন।

    এ বিষয়ে ব্যাংকের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বদিউর রহমান বলেন, ‘আমি দুই পক্ষের সম্মতিতে ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছি। পর্ষদ সভার দিন অনেকে দেখা করতে এসেছেন। এ জন্য পরিবেশটা ভালো ছিল না। ডিএমডি নিজের ইচ্ছাতেই পদত্যাগ করেছেন। আমরা কোনো নির্দেশনা দিইনি।’

    কেডিএস পরিবারের যত অনিয়ম

    আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক দুই চেয়ারম্যানের ব্যবহারের জন্য অনিয়ম ও নিয়মবহির্ভূতভাবে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার বিলাসবহুল মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি কেনার তথ্য উঠে আসে আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান কেপিএমজি এবং ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে। তার মধ্যে একজন হলেন কেডিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম রহমান, বর্তমানে তিনি ব্যাংকটির নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান। অপর সাবেক চেয়ারম্যান হলেন আবদুস সামাদ লাবু, তিনি এস আলমের ভাই।

    প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৫ জুন ব্যাংকের ৩৭৪তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় তৎকালীন চেয়ারম্যান সেলিম রহমানের জন্য এক কোটি টাকা সীমার মধ্যে একটি গাড়ি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু পর্ষদের অনুমোদন তোয়াক্কা না করে ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে মার্সিডিজ বেঞ্জের একটি গাড়ি কেনা হয়, যা অনুমোদিত সীমার চেয়ে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা বেশি।

    একইভাবে ২০২৩ সালের আগস্টে কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই অপর সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সামাদের জন্য ৩ কোটি ২৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকায় একই মডেলের আরেকটি মার্সিডিজ কেনা হয়। হিসাব গোপন ও অর্থের গতিবিধি আড়াল করতে গাড়ি দুটি ব্যাংকের নিজস্ব নামে নিবন্ধন না করে দুটি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের (এআইবিএল ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড ও এআইবিএল ক্যাপিটাল মার্কেট সার্ভিসেস লিমিটেড) নামে কেনা হয়। টাকা পরিশোধের ক্ষেত্রে ব্যাংকের সাধারণ ‘সাসপেন্স অ্যাকাউন্ট’, ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অ্যাকাউন্ট’ এবং ‘ক্ষতিপূরণ আদায়কৃত হিসাব’ ব্যবহার করা হয়। গাড়ি দুটি কেনার পর মূল ব্যাংক কিংবা সাবসিডিয়ারি কোম্পানির ফিক্সড অ্যাসেট (স্থায়ী সম্পদ) রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং এদের কোনো অবচয়ও হিসাবভুক্ত করা হয়নি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তির কারণে গাড়ি দুটি ইতিমধ্যে ব্যাংকের হেফাজতে আনা হয়েছে। এ ছাড়া জড়িত নির্বাহী ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি এবং অননুমোদিত অর্থ পুনরুদ্ধারে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে এস আলম গ্রুপ যখন ন্যাশনাল ব্যাংক দখল করে, তখন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান। আওয়ামী লীগের পতনের পর তাঁকে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন তাঁকেই আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক করা হয়েছে। ন্যাশনাল ব্যাংকের দায়িত্বে থাকাকালে বিভিন্ন অনিয়মের জন্য একাধিক মামলার আসামি হন তিনি। গত ফেব্রুয়ারিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলও খেটেছেন তিনি।

    একনজরে আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক

    ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকের আমানত গত বছরের ডিসেম্বর শেষে দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা। তখন ব্যাংকটির ঋণ বা বিনিয়োগ ছিল ৫০ হাজার ১২১ কোটি টাকা। ব্যাংকটির ঋণের ১৭ দশমিক ৬১ শতাংশ খেলাপি। গত বছর ব্যাংকটি নিট মুনাফা করেছে ৮৫ কোটি টাকা। উচ্চ খেলাপির কারণে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে শেয়ারধারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি ব্যাংকটি। এতে ব্যাংকটি শেয়ারবাজারে জেড ক্যাটাগরিতে চলে গেছে। সারা দেশে ব্যাংকটির রয়েছে ২২৬টি শাখা। ব্যাংকটিতে কর্মরত রয়েছেন ৫ হাজার ৫৯৩ জন কর্মী।

    সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরী প্রথম আলোকে বলেন, ব্যাংকগুলো শেয়ারধারী পরিচালকেরা পরিচালনা করবেন, এটা স্বাভাবিক। তবে তারা এত দিন কী করেছে, তা জাতি দেখেছে। এ জন্য অনেক আমানতকারী এখন টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। তাই নতুন করে এমন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া ঠিক হবে না, যাঁরা ব্যাংকের জন্য ন্যূনতম ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন। অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া উচিত। বাংলাদেশ ব্যাংক আবার কারও প্রভাবে ব্যবহৃত হলে সেটা হবে জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক।

  • অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক বসাতে ভারতের তদন্তের মুখে বাংলাদেশ, যোগ হলো আরেক পণ্য

    অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক বসাতে ভারতের তদন্তের মুখে বাংলাদেশ, যোগ হলো আরেক পণ্য

    বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হওয়া পলিইথিলিন টেরেফথালেট (পিইটি) ফিল্মের বিরুদ্ধে অ্যান্টি–ডাম্পিং তদন্ত শুরু করেছে ভারত। পিইটি ফিল্ম মূলত খাদ্য, ওষুধ, প্রসাধনী ও শিল্পপণ্যের মোড়ক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

    তদন্তের অংশ হিসেবে আগামী ৬ আগস্ট ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে মৌখিক শুনানির আয়োজন করেছে দেশটির বাণিজ্য প্রতিকার মহাপরিদপ্তর (ডিজিটিআর)। ডিজিটিআর ভারতের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সংস্থা। বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    ডিজিটিআর ১৩ জুলাই এক চিঠিতে শুনানি আয়োজনের কথা জানিয়েছে। চিঠিতে বাংলাদেশের পাশাপাশি চীন ও থাইল্যান্ড থেকে ভারতে রপ্তানি হওয়া পিইটি ফিল্মের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

    ভারতীয় উৎপাদকদের অভিযোগ আমলে নিয়ে এ শুনানির আয়োজন করা হয়েছে বলে সূত্রগুলো জানায়। বাংলাদেশ, চীন ও থাইল্যান্ড থেকে ডাম্পিং মূল্যে পিইটি ফিল্ম ভারতে রপ্তানি হচ্ছে বলে ভারতীয় উৎপাদকদের অভিযোগ। তাদের দাবি, এতে ভারতীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই এই পণ্যের ওপর অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা উচিত।

    অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক কী

    অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক হলো এমন একটি অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক, যা কোনো দেশ তখন আরোপ করে, যখন ওই দেশের কর্তৃপক্ষের ধারণা হয়, বিদেশি প্রতিষ্ঠান অস্বাভাবিক কম দামে পণ্য বিক্রি করে তাদের দেশের শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

    তদন্তে কী হয়

    তদন্তের এ পর্যায়ে বাংলাদেশের রপ্তানিকারক, ভারতীয় উৎপাদক, আমদানিকারক ও অন্য অংশীজনেরা নিজেদের অবস্থান ও যুক্তি তুলে ধরবেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, আকিজ বায়াক্স ফিল্মস লিমিটেডের পাশাপাশি নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন ও ভারতের আবেদনকারী তিন প্রতিষ্ঠান—চিরিপাল পলি ফিল্মস লিমিটেড, ইস্টার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও ভ্যাকমেট ইন্ডিয়া লিমিটেডকে পক্ষ করা হয়েছে।

    ভারতের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, শুনানিতে অংশ নিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আগেই প্রতিষ্ঠানের নাম, দেশের নাম, দেশের কোড নম্বর, ই–মেইল ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, অফিসের নম্বর ও অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তা বা আইনজীবীদের পরিচয় জমা দিতে হবে। শুনানিতে উপস্থাপিত বক্তব্য পরবর্তী সময়ে লিখিত আকারেও দাখিল করতে হবে।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশের জন্য এই তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পিইটি ফিল্ম দেশের সম্ভাবনাময় রপ্তানি পণ্যগুলোর একটি এবং ভারত এই পণ্যের অন্যতম বাজার। ভারতীয় উৎপাদকদের অভিযোগের ভিত্তিতেই ডিজিটিআর অ্যান্টি–ডাম্পিং তদন্ত শুরু করেছে। তবে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি এবং অভিযোগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও হয়নি।

    জানা গেছে, বর্তমান শুনানির উদ্দেশ্য হলো সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ গ্রহণ করা। প্রথমে মৌখিক শুনানি হবে। এরপর লিখিত বক্তব্য, পাল্টা বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য–উপাত্ত পর্যালোচনা করে তদন্ত এগিয়ে যাবে।

    অ্যান্টি–ডাম্পিং তদন্তের ক্ষেত্রে মৌখিক শুনানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এ পর্যায়ে অংশীজনদের বক্তব্য ও নথিপত্র পর্যালোচনার পর তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরি করে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে ভারত সরকার প্রয়োজন মনে করলে অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করতে পারে। আবার অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ না পেলে তদন্তও শেষ করে দিতে পারে।

    যোগাযোগ করলে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির গত সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা পিইটি ফিল্মের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় তথ্য–উপাত্ত নেব এবং ভারত সরকারকে অনুরোধ করব, তারা যেন এর ওপর অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক আরোপ না করে।’ কবে অনুরোধ করা হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শিগগিরই করব।’

    ডাম্পিং হয়নি, দাবি আকিজের

    বাংলাদেশ থেকে ভারতে পিইটি ফিল্মের অন্যতম রপ্তানিকারক আকিজ বায়াক্স ফিল্মস লিমিটেড। এটি আকিজ বশির গ্রুপের একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান, যা ২০১৯ সালে বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু করে। ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত এ কারখানায় পিইটি ফিল্ম তৈরি হয়। এই ফিল্ম মূলত প্যাকেজিং–শিল্পে ব্যবহৃত প্লাস্টিক ফিল্ম। বর্তমানে এটি দেশের একমাত্র বড় উৎপাদক এবং ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এই পণ্য রপ্তানি করে।

    পিইটি ফিল্মের পাশাপাশি কোম্পানিটি বাইঅ্যাক্সিয়ালি ওরিয়েন্টেড পলিপ্রোপিলিন (বিওপিপি), কাস্ট পলিপ্রোপিলিন (সিপিপি) ও স্ট্রেস ফিল্ম উৎপাদন করে। কোম্পানিটির দাবি, বছরে প্রায় ১০ হাজার টন পিইটি ফিল্ম রপ্তানি করা হয় এবং বাকি উৎপাদন দেশের বাজারে বিক্রি হয়। যাত্রার সময় প্রতিষ্ঠানটি বছরে ৪২ হাজার টনের বেশি উৎপাদন সক্ষমতার কথা জানিয়েছিল।

    যোগাযোগ করলে আকিজ বায়াক্স ফিল্মস লিমিটেডের অন্যতম কর্ণধার শেখ বশিরউদ্দীন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের রপ্তানি বাজারভিত্তিক এবং কোনো ডাম্পিং হয়নি। শুনানিতে তাঁরা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    ভারতভিত্তিক বেসরকারি বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ওরিয়ন মার্কেট রিসার্চের ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক পিইটি ফিল্মের বাজারের আকার এখন প্রায় ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০৩০ সাল নাগাদ এই বাজার প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস রয়েছে।

    পিইটি ফিল্ম বাংলাদেশি পণ্যের বিরুদ্ধে ভারতের প্রথম অ্যান্টি–ডাম্পিং তদন্ত নয়। ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের ওপর অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক বহাল রয়েছে। সম্প্রতি এর মধ্যবর্তী পর্যালোচনা শেষে নতুনভাবে শুল্ক বহালের সুপারিশ করেছে ভারতের ডিজিটিআর। এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া হাইড্রোজেন পারক্সাইডের ওপরও ভারতের অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক কার্যকর রয়েছে।

    অতীতে বাংলাদেশের রহিমআফরোজের ব্যাটারির বিরুদ্ধেও অ্যান্টি–ডাম্পিং ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল ভারত। পরে বিষয়টি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) কাঠামোয় আলোচনায় গেলে ভারত সেই উদ্যোগ থেকে সরে আসে। এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া ফ্লোট গ্লাস ও ফিশিং নেটের বিরুদ্ধেও ভারত অ্যান্টি–ডাম্পিং তদন্ত সম্পন্ন করেছে। ভবিষ্যতে এগুলোর ওপরও অ্যান্টি–ডাম্পিং শুল্ক আরোপের আশঙ্কা রয়েছে।

    বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও গ্যাস–সংকটের বাস্তবতায় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান উৎপাদন খরচের কম দামে ভারতে কোনো পণ্য রপ্তানি করছে, এমনটি বিশ্বাস করা যায় না। রহিমআফরোজের ব্যাটারি নিয়ে ডব্লিউটিওর কাছে যাওয়ার পর আলোচনা পর্যায়ের ৬০ দিনের মধ্যেই ভারত অভিযোগ তুলে নিয়েছিল। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ডব্লিউটিওর কাছে যাওয়ার আরও উদাহরণ তৈরি করতে পারলে প্রতিকার পাওয়া যাবে বলে আমি আস্থা রাখি।’

  • হুতিদের বিরুদ্ধে বড় সামরিক অভিযানে যাচ্ছে সৌদি

    হুতিদের বিরুদ্ধে বড় সামরিক অভিযানে যাচ্ছে সৌদি

    দক্ষিণ লোহিত সাগরে নিজের তেল রপ্তানির ওপর ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দেওয়া অবরোধ ভাঙতে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। মধ্য ইয়েমেনে সমুদ্রপথে এবং সম্ভব হলে স্থলপথে এই অভিযান পরিচালিত হতে পারে বলে ইয়েমেনি সূত্রের বরাতে জানা গেছে।

    ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চল থেকে ইতোমধ্যে সৌদি বাহিনীকে সরিয়ে নিতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, স্থল অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবেই এই সেনা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। একই সময়ে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে বাণিজ্য জাহাজের নিরাপত্তা রক্ষায় একটি বহুজাতিক নৌ জোট গঠনের চেষ্টা জোরদার করেছে রিয়াদ।

    গতকাল বৃহস্পতিবার সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের প্রস্তাবিত বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের সমর্থনে বাংলাদেশ, তুরস্ক, পাকিস্তান, মিসর, সুদান ও জিবুতিসহ ১৪টি দেশ যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। এ ছাড়া লোহিত সাগরের কৌশলগত প্রতিরক্ষায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের প্রভাবশালী দেশ যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালিকে এই জোটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদ।

    উল্লেখ্য, লোহিত সাগরে নৌচলাচল নিরাপদ রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ‘অ্যাসপিডিস’ নামে একটি নৌ-নিরাপত্তা মিশন আগে থেকেই কার্যকর রয়েছে।

    ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ লোহিত সাগরের বিস্তীর্ণ উপকূল বর্তমানে ইরান-সমর্থিত হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত ২০ জুলাই হুতিরা সৌদি জাহাজের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দেয়। তবে সব ধরনের জাহাজের ওপর কর চাপানোর পরিকল্পনার বিষয়টি তারা অস্বীকার করেছে।

    হুতিদের দাবি, সৌদি আরব ইয়েমেনের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিলেই কেবল তারা নিজেদের এই অবরোধ প্রত্যাহার করবে। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে জাতিসংঘ-স্বীকৃত সরকারের পক্ষে সামরিক হস্তক্ষেপ করেছিল সৌদি আরব।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের কারণে আরব উপদ্বীপের অপর পাশে অবস্থিত হরমুজ প্রণালি অচল হয়ে পড়ায় সৌদি তেলের জন্য লোহিত সাগর রুটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে সৌদি অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। তবে বর্তমানে তাদের অর্ধেকেরও বেশি তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ইয়াঙ্কু বন্দরে এনে বাজারজাত করা হচ্ছে।

    সম্প্রতি হুতি বিদ্রোহীরা রিয়াদের বিরুদ্ধে আক্রমণ জোরদার করেছে। গত ২৫ জুলাই তারা সৌদি আরবের ভেতরের কৌশলগত তেল অবকাঠামোতে হামলার দাবি করে। এর আগে সৌদি বিমানবাহিনী ইয়েমেনের হুদাইদাহ বন্দরে হুতি অবস্থানগুলোতে হামলা চালায় এবং লোহিত সাগরে একটি সৌদি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়।

    চলমান পরিস্থিতি সামাল দিতে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক করেছেন। তবে সৌদি আরব স্পষ্ট জানিয়েছে, নিজেদের তেল শিল্প রক্ষায় তারা প্রস্তুত থাকলেও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বাড়াতে চায় না। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বিরোধ এখনো কূটনৈতিক উপায়ে সমাধান সম্ভব বলে মনে করে রিয়াদ।

    একই সঙ্গে ইরাকের তেল অবকাঠামোতে সৌদি তেল স্থাপনায় হামলার জবাবে গত বুধবার ইরাকে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। এতে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন।

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই যৌথ মার্কিন-সৌদি হামলা ইরাক সরকারের সম্মতিতেই হয়েছে, যদিও বাগদাদ এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি।

    ইয়েমেনি সূত্রগুলো জানিয়েছে, মধ্য-দক্ষিণাঞ্চলীয় আল-বায়দা প্রদেশ পুনরুদ্ধারে সৌদি বাহিনী জমায়েত হচ্ছে। ২০২০-২১ সালে অঞ্চলটি দখল করে নিয়েছিল হুতিরা। যদি ওমান ও ইরানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার কোনো সমঝোতা হয়, তবে ইয়েমেনের এই উত্তেজনা কমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • কমল নীতি সুদহার, কমবে ব্যাংক ঋণের সুদ

    কমল নীতি সুদহার, কমবে ব্যাংক ঋণের সুদ

    দীর্ঘ ২১ মাস পর নীতি সুদহার বা রেপো রেট কমিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১০ শতাংশ থেকে ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে নীতি সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো আগের তুলনায় কম সুদে অর্থ ধার নিতে পারবে। এতে গ্রাহক পর্যায়েও ঋণের সুদহার কমবে।

    বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মনিটারি পলিসি কমিটির (এমপিসি) ১৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। নতুন সুদহার আগামী ২ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, দেশীয় বিনিয়োগ, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নীতি সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, নীতি সুদহার কমানোর পাশাপাশি স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) রেট ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ শতাংশ করা হয়েছে। তবে স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) রেট ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

    নীতি সুদহার কমানোর মূল লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা।

    উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে ১১ দফা নীতি সুদহার বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করেছিল। এরপর অতিরিক্ত চাহিদা নিয়ন্ত্রণ এবং মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনতে দীর্ঘ সময় ধরে এ হার অপরিবর্তিত রাখা হয়। তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী মূল্যস্ফীতি কমেনি। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশের নিচে নামানোর লক্ষ্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ।

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতিতেও নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। ওই মুদ্রানীতিতে চলতি অর্থবছর শেষে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এমপিসির সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তফা কামাল মুজেরী, বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ফিরদৌসি নাহার, বাংলাদেশ ব্যাংকের চিফ ইকোনমিস্ট ড. মোহাম্মদ আখতার হোসেন এবং নির্বাহী পরিচালক ড. ইমাম আবু সাঈদ উপস্থিত ছিলেন।

  • বৈশ্বিক বাজারের ১২ শতাংশ দখল করতে পারে বাংলাদেশ

    বৈশ্বিক বাজারের ১২ শতাংশ দখল করতে পারে বাংলাদেশ

    নীতিগত সংস্কার, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্পের সক্ষমতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈশ্বিক ম্যান-মেড ফাইবার (এমএমএফ) পোশাক বাজারের ১২ শতাংশ দখল করতে পারে বাংলাদেশ। এতে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে তুলার ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বৈশ্বিক পোশাক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের (বিএফটিআই) এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ব পোশাকশিল্প দ্রুত তুলাভিত্তিক পণ্য থেকে কৃত্রিম তন্তু বা ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক পোশাকের দিকে ঝুঁকছে। এই পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরদারের একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক এমএমএফ পোশাক বাজারের আকার প্রায় ৩৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি রপ্তানি কৌশলের অংশ হিসেবে এ বাজারে উল্লেখযোগ্য অংশীদারত্ব অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

    বিএফটিআইয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সাইফ উদ্দিন আহমেদ গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের জন্য এই পরিবর্তনের সুযোগ হাতছাড়া করার সুযোগ নেই। বৈশ্বিক এমএমএফ বাজারে উল্লেখযোগ্য অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতে পারলে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো এবং দেশের পোশাকশিল্পের দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি আরো শক্তিশালী হবে।

    গবেষণায় বাংলাদেশকে এমএমএফ পোশাক উৎপাদনের একটি আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত করার রোডম্যাপও তুলে ধরা হয়েছে। এতে ধাপে ধাপে নীতিগত সংস্কার, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের বিকাশ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ খাতের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে এমএমএফ কাঁচামালের শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করা, বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) অনুমোদনের প্রক্রিয়া দ্রুত করা, দেশে পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার ও সিনথেটিক সুতা উৎপাদন সম্প্রসারণ, সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

    এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হলেও বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো মূলত তুলাভিত্তিক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। অথচ বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা ক্রমেই সিনথেটিক ও মিশ্র তন্তুর পোশাকের দিকে সরে যাচ্ছে। ফলে এলডিসি-পরবর্তী বাণিজ্য পরিবেশে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে এমএমএফ খাতের সম্প্রসারণ অর্থনৈতিক প্রয়োজন হয়ে উঠেছে।

    ড. সাইফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, শক্তিশালী নীতিগত সহায়তা এবং সমন্বিত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে এমএমএফ উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারবে বাংলাদেশ।

    প্রতিবেদনে এমএমএফ উৎপাদনকারীদের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা সম্প্রসারণ, বিশেষায়িত ঋণ কর্মসূচি চালু, প্রযুক্তি স্থানান্তরে উৎসাহ দেওয়া এবং অ্যাকটিভওয়্যার, স্পোর্টসওয়্যার ও টেকনিক্যাল টেক্সটাইলের মতো উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এতে দেশের রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য আরও বাড়বে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    ড. সাইফ উদ্দিন আহমেদ আশা প্রকাশ করেন, সরকারের প্রণীত রোডম্যাপ সময়মতো বাস্তবায়ন এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে আগামী এক দশকে কৃত্রিম তন্তুর পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিতে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বাজারের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।

  • বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত ইউরোপের ৫৫ দেশের

    বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত ইউরোপের ৫৫ দেশের

    ফিফার বাণিজ্যিক কাঠামোয় বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনার প্রতিবাদে বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপের ৫৫টি ফুটবল ফেডারেশন। বৃহস্পতিবার উয়েফার সদস্য দেশগুলোর এক ভার্চ্যুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি ও দ্য অ্যাথলেটিকসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

    ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সম্প্রতি ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব দেন। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে ফিফার বাণিজ্যিক স্বত্ব ও টুর্নামেন্ট পরিচালনার কার্যক্রম একীভূত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার মূল্যায়নের ওই প্রতিষ্ঠানের একটি অংশের শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার সংগ্রহ করতে চায় ফিফা। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের তালিকায় জশুয়া কুশনারের প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটারনাল এর নামও এসেছে।

    শুরু থেকেই এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করে আসছে উয়েফা। ইউরোপীয় ফুটলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির দাবি, ফুটবলের পরিচালনা ও ঐতিহ্যকে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করা উচিত নয়। তাদের মতে, ফুটবলের মূল কাঠামো ও নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ খেলাটির স্বার্থের পরিপন্থী।

    এই অবস্থান থেকেই বৃহস্পতিবারের সভায় উয়েফার ৫৫ সদস্য দেশ আসন্ন বিশ্বকাপ বর্জনের পক্ষে ভোট দেয়।

    বর্তমান সূচি অনুযায়ী, আগামী গ্রীষ্মে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা নারী বিশ্বকাপ। এরপর ২০৩০ সালে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোর যৌথ আয়োজনে বসবে পুরুষদের বিশ্বকাপ। উয়েফার এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দুটি আসরই বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।

    তবে ফিফার প্রস্তাব এখনো সদস্য দেশগুলোর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকি দিয়ে ফিফার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে চায় উয়েফা। এর ফলে প্রস্তাবটি নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনায় নতুন মোড় আসতে পারে।

  • ৯৫০ কোটি টাকায় সিঙ্গাপুর থেকে আনা হবে এক কার্গো এলএনজি

    ৯৫০ কোটি টাকায় সিঙ্গাপুর থেকে আনা হবে এক কার্গো এলএনজি

    দেশের গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে সিঙ্গাপুর থেকে এক কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ পদ্ধতিতে কেনা এ গ্যাসের জন্য ব্যয় হবে প্রায় ৯৫০ কোটি টাকা।

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এলএনজি কেনার প্রস্তাবটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

    জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১০৫-এর উপবিধি (৩)-এর দফা (ক) অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ পদ্ধতিতে আগামী ১৫ থেকে ১৬ আগস্ট সরবরাহের জন্য ৪২তম কার্গো এলএনজি কেনা হবে।

    এ লক্ষ্যে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেডকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি ২২ দশমিক ৩৫ মার্কিন ডলার দরে কেনা হবে।

    ক্রয় প্রস্তাব অনুযায়ী, এক কার্গো গ্যাস আমদানিতে সরকারের মোট ব্যয় হবে ৯৪৯ কোটি ৪৩ লাখ ১২ হাজার ১৮৪ টাকা। এ অর্থের মধ্যে অগ্রিম আয়করও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশের পর বৈঠকে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। দেশের বিদ্যমান গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং শিল্প, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খাতে জ্বালানি চাহিদা পূরণে আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ অব্যাহত রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • গেল অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ৬৭.৫২ শতাংশ

    গেল অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ৬৭.৫২ শতাংশ

    সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন হার দাঁড়িয়েছে ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশ, যা দেশের ইতিহাসে এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বনিম্ন। সংশোধিত এডিপিতে মোট বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এর বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৭০৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ফলে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো এডিপি বাস্তবায়ন ৭০ শতাংশের নিচে থাকল।

    বৃহস্পতিবার বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত ‘জুলাই-জুন ২০২৬ পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়ন অগ্রগতি’ শীর্ষক মাসিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    আইএমইডির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত পাঁচ অর্থবছর ধরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে বাস্তবায়নের হার ছিল ৯২ দশমিক ৭৪ শতাংশ। পরের বছর তা কমে ৮৫ দশমিক ১৭ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৮০ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা নেমে আসে ৬৮ দশমিক ১৮ শতাংশে। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আরও কমে ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ কয়েক বছরের ব্যবধানে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের হার ২৫ শতাংশের বেশি কমেছে।

    অর্থবছরের শেষ মাস জুনে এডিপির আওতায় ব্যয় হয়েছে ৪০ হাজার ৩০৮ কোটি ১২ লাখ টাকা, যা সংশোধিত বরাদ্দের ১৯ দশমিক ২৯ শতাংশ। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয় হয়েছিল ৪৩ হাজার ১৮৯ কোটি ১০ লাখ টাকা বা ১৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। অর্থাৎ অর্থবছরের শেষ দিকে ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতা থাকলেও আগের বছরের তুলনায় এবার জুনে খরচের পরিমাণ কমেছে।

    প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথমার্ধে অধিকাংশ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি ছিল। পরবর্তী সময়ে অর্থ ছাড় বাড়লেও জমি অধিগ্রহণ, দরপত্র প্রক্রিয়া, প্রকল্পের নকশা পরিবর্তন, সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনে বিলম্ব এবং বৈদেশিক ঋণের অর্থ ছাড়ে ধীরগতির কারণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হয়নি। অনেক প্রকল্পে ঠিকাদারি জটিলতা ও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় বরাদ্দকৃত অর্থও পুরোপুরি ব্যয় করা যায়নি।

    আইএমইডির কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রশাসনিক অস্থিরতা এডিপি বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ওই সময় অনেক প্রকল্প পরিচালক ও ঠিকাদার চলমান উন্নয়ন প্রকল্প থেকে সরে যান। এতে বিভিন্ন উদ্যোগের কাজ ব্যাহত হয় এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বাস্তবায়ন এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। এসব কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়ন আরও কমে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

  • কার্ড থেকে এমএফএসে ‘অ্যাড মানি’ বাস্তবায়নের সময় বাড়ল

    কার্ড থেকে এমএফএসে ‘অ্যাড মানি’ বাস্তবায়নের সময় বাড়ল

    ব্যাংকের কার্ড থেকে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে ‘অ্যাড মানি’ সুবিধাসংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নের সময়সীমা আরও পাঁচ মাস বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার (এমএফএসপি) ও তফসিলি ব্যাংকগুলো আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের সুযোগ পাচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

    নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কার্ড থেকে এমএফএস হিসাবে ‘অ্যাড মানি’ সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পরিচালনাগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হলে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্ড ব্যবহার করে এমএফএস হিসাবে ‘অ্যাড মানি’ করার সুবিধা বন্ধ করে দিতে হবে।

    বর্তমানে গ্রাহকরা ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে এমএফএস অ্যাকাউন্টে অর্থ যোগ করতে পারেন। তবে এ ধরনের লেনদেনে নিরাপত্তা জোরদার, গ্রাহকের পরিচয় যাচাই (কেওয়াইসি) এবং লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন কিছু নির্দেশনা জারি করেছিল। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং কার্যপ্রণালীতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

  • চীনের রোবট নিষিদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ

    চীনের রোবট নিষিদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ

    চীনে তৈরি নতুন মানবসদৃশ রোবট আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এ ধরনের রোবটের ‘অগ্রহণযোগ্য ঝুঁকি’ রয়েছে উল্লেখ করে গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে।

    অত্যাধুনিক রোবটের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে আছে—মানবসদৃশ রোবট ও চার পায়ের রোবট। এসব রোবটের অনেকগুলোই চীনে তৈরি। বর্তমানে রোবোটিকস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে।

    যুক্তরাষ্ট্র সরকারের যোগাযোগবিষয়ক নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এফসিসি) ডেটা সেন্টার ও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত পাওয়ার ইনভার্টার আমদানিও নিষিদ্ধ করেছে। সংস্থাটির দাবি, এসব যন্ত্রও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

    ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনের দূতাবাস এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, বাণিজ্যিক ইস্যুকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া এবং ভিত্তিহীন অজুহাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিরোধিতা করে আসছে বেইজিং।

    এফসিসির চেয়ারম্যান ব্রেন্ডান কার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহব্যবস্থাকে নিরাপদ রাখতে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করছি।’

    এফসিসি এসব পণ্যকে তাদের ‘কভার্ড লিস্ট’-এ যুক্ত করেছে। এটি এফসিসির এমন একটি তালিকা, যেখানে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত পণ্য ও সেবাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    এই নিষেধাজ্ঞা শুধু বিদেশে তৈরি নতুন অত্যাধুনিক রোবট এবং পাওয়ার ইনভার্টারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে আগে থেকে এফসিসির অনুমোদন পাওয়া এবং ইতিমধ্যে বাজারে থাকা মডেলগুলোর বিক্রি বা আমদানির ওপর এই সিদ্ধান্তের কোনো প্রভাব পড়বে না।

    এফসিসির আশঙ্কা, বিদেশে তৈরি পাওয়ার ইনভার্টার ব্যবহার করলে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো দূর থেকে সেগুলো বন্ধ করে দিতে পারে, তথ্য চুরি করতে পারে ও নজরদারির করতে পারে। এমনকি বিদেশি সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগুলো সাইবার হামলার মাধ্যমে এসব যন্ত্রের অপব্যবহারও করতে পারে।

    ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস আরও বলেছে, চীনের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে এমন যেকোনো পদক্ষেপের জবাবে বেইজিং ‘প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।’

    তারা সব দেশকে ইতিবাচক ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছে। এ ছাড়া চীনা দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আধিপত্যবাদী মানসিকতা বাদ দেওয়া এবং চীনা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও নিষেধাজ্ঞার হুমকি বন্ধ করার’ আহ্বান জানিয়েছে।

    এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বিবিসি চীনের শীর্ষ রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইউনিট্রি, ইউবি টেক ও অ্যাজিবটের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

    বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের সঙ্গে বাণিজ্যঘাটতি কমানোর চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি এখন কড়া নজরদারির মধ্যে আছে।

    চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় বৈদ্যুতিক গাড়ি রপ্তানিকারক দেশ হওয়া সত্ত্বেও উচ্চ শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশটির বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রবেশ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

    জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা, চীনের সামরিক আধুনিকায়নের গতি কমানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থান ধরে রাখার লক্ষ্যে ওয়াশিংটন চীনের কাছে অত্যাধুনিক মার্কিন সেমিকন্ডাক্টর বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে।

    মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মেধাস্বত্ব চুরির অভিযোগে চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।

    জবাবে চীন সরকার বলেছে, দেশটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির অগ্রগতির বিষয়টি নিজস্ব গবেষণা, প্রচেষ্টা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ফল।

    গত বছর চীন দুর্লভ খনিজ রপ্তানিতে কড়াকড়ি আরোপ করার পর বিশ্বব্যাপী সরবরাহব্যবস্থায় যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি এড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। ইলেকট্রনিকস শিল্পের জন্য এসব খনিজকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়।

    চীনের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো খুব দ্রুত মানবসদৃশ রোবট তৈরি করেছে, যা কারখানা থেকে শুরু করে বাড়িঘরসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়।

    ইলন মাস্কের টেসলা ও বোস্টন ডাইনামিকসের মতো মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর আগেই চীনা কোম্পানিগুলো তাদের রোবট বাজারে এনেছে এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি শুরু করেছে।

  • ইবিএলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন আনিস আহমেদ

    ইবিএলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন আনিস আহমেদ

    ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল) পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আনিস আহমেদ। গত সোমবার (২৭ জুলাই) থেকে তার নিয়োগ কার্যকর হয়েছে। এর আগে, তিনি ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী কমিটি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির (আরএমসি) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    আজ বুধবার ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, আনিস আহমেদ সিঙ্গাপুরভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এমজিএইচ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। ২৬টি দেশে পরিচালিত এ গ্রুপের ব্যবসা ফাস্ট ফ্যাশন, ই-কমার্স, অটোমোটিভ ও ইলেকট্রনিকস খাতের সাপ্লাই চেইন সল্যুশন, প্রাইভেট কনটেইনার টার্মিনাল, এয়ারলাইন, গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম, লজিস্টিকস, খাদ্য ও পানীয়ের খুচরা ব্যবসা এবং আর্থিক সেবাখাতে বিস্তৃত।

    তিনি রাইড-শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ‘ওভাই’, ইনস্যুরটেক প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াদা’ এবং আবাসন অ্যাগ্রিগেশন প্ল্যাটফর্ম ‘যাত্রা’রও প্রতিষ্ঠাতা। গত এক দশক ধরে তিনি দেশে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা তৈরিতে কাজ করছেন।

    চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আনিস আহমেদ বলেন, ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি আরো শক্তিশালী করা, ডিজিটাল রূপান্তর এগিয়ে নেয়া এবং গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নে গুরুত্ব দেয়া হবে।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তার নেতৃত্বে ইবিএল দেশের অন্যতম শীর্ষ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করবে।

  • ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কারসাজির সহযোগী চুপ্পুর গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ

    ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কারসাজির সহযোগী চুপ্পুর গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ

    ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কারসাজির অন্যতম হোতা ও ব্যাংক লুটকারী এস আলমের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম।

    সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, এস আলম গ্রুপের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের ব্যাংকিং খাতে যে অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে, তার পেছনে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সহযোগিতা ছিল। তারা দাবি করেন, ব্যাংক খাত ধ্বংসে জড়িত ব্যক্তি ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

    বিক্ষোভকারীরা সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর গ্রেপ্তার, ব্যাংক লুটের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

    কর্মসূচি চলাকালে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ব্যাংক খাতের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান। পরে তারা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল শেষ করেন।

  • নীতি সহায়তা পেতে মামলা প্রত্যাহার বাধ্যতামূলক

    নীতি সহায়তা পেতে মামলা প্রত্যাহার বাধ্যতামূলক

    রপ্তানিমুখী বন্ধ কল-কারখানা চালু করাসহ কৃষি, সিএমএসএমইসহ অন্যান্য খাতের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ বা নীতি সহায়তা দিচ্ছে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ঘোষিত কোনো প্রণোদনা প্যাকেজ কিংবা অন্য কোনো নীতি সহায়তা পেতে হলে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিট পিটিশনসহ সব ধরনের মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি আবেদনকারীকে হলফনামার মাধ্যমে ঘোষণা দিতে হবে যে, এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তার কোনো মামলা অসম্পন্ন নেই।

    বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়িয়ে বেসরকারি বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন নীতি সহায়তা ও প্রণোদনা দিয়ে আসছে। এর আওতায় রপ্তানিমুখী বন্ধ শিল্পকারখানা চালু, কৃষি ও সিএমএসএমই খাতসহ বিভিন্ন খাতের ঋণগ্রহীতাদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, দেখা যাচ্ছে কোনো কোনো গ্রাহক একদিকে এসব প্রণোদনা ও নীতি সহায়তা গ্রহণ করছেন। অন্যদিকে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে রিট পিটিশনসহ বিভিন্ন মামলা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ধরনের পরিস্থিতি ব্যাংকিং খাতে মামলাজট সৃষ্টি করছে।

    এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে, সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত যেকোনো প্রণোদনা প্যাকেজ কিংবা নীতি সহায়তা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারী সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে থাকা সব মামলা প্রত্যাহার হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রত্যাহার করা মামলার তালিকা সংযুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে আবেদনকারীকে হলফনামার মাধ্যমে ঘোষণা দিতে হবে যে, সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে তার কোনো মামলা অনিষ্পন্ন নেই।

  • সরকারি হাসপাতালের দালাল চক্র স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    সরকারি হাসপাতালের দালাল চক্র স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে নেওয়া দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

    বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক গবেষণার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করে বাইরে ক্লিনিকে রোগী পাঠানো, কমিশনের বিনিময়ে টেস্ট করানো ও বাণিজ্যিক চিকিৎসা বন্ধে কঠোর নজরদারি করা হবে। টেন্ডারে অনিয়ম, অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং সরকারি অর্থ অপচয়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণ করা হবে। একই সঙ্গে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে পরীক্ষামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর্মীদের এআই-সমৃদ্ধ কিট সরবরাহ করা হবে।

    অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন ও অনিয়মে পরিচালিত প্রাইভেট ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

  • একদিনের ব্যবধানে আবার কমলো স্বর্ণের দাম 

    একদিনের ব্যবধানে আবার কমলো স্বর্ণের দাম 

    মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

    নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের গহনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনার দাম ২ হাজার ১০০ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ হাজার ৭৫০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এর আগে সোমবার (২৭ জুলাই) একই পরিমাণে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। সে সময় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আগের বাড়ানো মূল্য পুরোপুরি প্রত্যাহার করে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

    শুধু স্বর্ণের নয়, রুপার গহনার দামও কমানো হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার গহনার দাম ৫৯ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৬০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপার গহনার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১১৬ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার গহনার দাম ১১৬ টাকা কমিয়ে ২ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করেছে বাজুস।

  • ১৩ দিনেই ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ ৯ হাজার কোটি টাকা ছাড়াল

    ১৩ দিনেই ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ ৯ হাজার কোটি টাকা ছাড়াল

    রাজস্ব আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় নতুন অর্থবছরের শুরুতেই সরকারের ঋণের চাহিদা বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১৩ দিনে সরকার ব্যাংক খাত থেকে নিট ৯ হাজার ২০৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। ফলে বর্তমানে ব্যাংক খাতে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা।

    খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতি অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, তা কখনোই পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয় না। ফলে সরকারকে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয়। বর্তমানে প্রত্যাশা অনুযায়ী বিদেশি ঋণ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েই সরকারের অর্থায়নের চাহিদা মেটানো হচ্ছে।

    জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১৩ দিনে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৫ হাজার ৪১৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সরকারের ঋণের অবস্থান ছিল ঋণাত্মক ৪ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা। এছাড়া বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে নেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে নেওয়া হয়েছিল ৬ হাজার ১১২ কোটি টাকা। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সরকারের ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৯৯ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এই ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৯৫ হাজার ২১৯ কোটি টাকা।

    এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরেই সরকারের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে রাজস্ব আদায় প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম হয়। ফলে ব্যয় নির্বাহে সরকারকে ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ নিতে হচ্ছে।

    গত অর্থবছরে সরকার ব্যাংক থেকে যে পরিমাণ ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, তার চেয়ে ৩০ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা বেশি ঋণ নিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও পরে সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা করা হয়। তবে পুরো অর্থবছরে সরকার ব্যাংক খাত থেকে মোট ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।

    অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

  • নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে এআইভিত্তিক ডেটা বিশ্লেষণ ব্যবস্থার উদ্যোগ

    নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে এআইভিত্তিক ডেটা বিশ্লেষণ ব্যবস্থার উদ্যোগ

    দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পণ্যের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক ডেটা বিশ্লেষণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা বর্তমানে কৃষি, খাদ্য, শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের সংবেদনশীল পণ্য নিয়ে কাজ করছে। এসব পণ্যের কোনটি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত, কোনটি আমদানিনির্ভর এবং কোনটির ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানির সমন্বয় রয়েছে—তা বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

    মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ই-কমার্স বাস্তবায়ন বিষয়ক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ অনেক সময় সরবরাহ সংকট। কোনো পণ্যের উৎপাদন বা আমদানি উৎসে সমস্যা তৈরি হলে যাতে হঠাৎ সরবরাহ ঘাটতি তৈরি না হয়, সেজন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। কোনো পণ্যের দাম বাড়লে সরকার ভর্তুকি দিয়ে কমাবে কি-না, সেটি ভিন্ন বিষয়। কিন্তু সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে যেন বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি না হয়, সেটি নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

    তিনি বলেন, ডাল, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে স্থানীয় উৎপাদন, মৌসুমি ঘাটতি, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি এবং রপ্তানিকারক দেশগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা নিয়মিত বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো বছর দেশে ডালের উৎপাদন কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে ফসল ঘরে ওঠার আগেই প্রস্তুতি নিতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্বের যেসব দেশ থেকে পণ্য আমদানি করা হয়, সেসব দেশের উৎপাদন পরিস্থিতি ও রপ্তানি সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে।

    তিনি বলেন, আমাদের জানতে হবে—কোন সময়ে কোন পণ্যের ঘাটতি তৈরি হতে পারে, কোন দেশ থেকে কখন আমদানি করলে ভালো হবে এবং কোন বাজারে দাম তুলনামূলক সুবিধাজনক থাকবে।

    এ লক্ষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্‌ম তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই ব্যবস্থা ১০ বছরের বাজার তথ্য, উৎপাদন, আমদানি-রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।

    তিনি বলেন, বর্তমানে এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সভা করতে হয় এবং সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘ সময় লাগে। কিন্তু এআইভিত্তিক ব্যবস্থা চালু হলে কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রয়োজনীয় বিশ্লেষণ পাওয়া সম্ভব হবে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এক সময় একটি তথ্য পেতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করতে হতো এবং আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগতো। এআই ১০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে কয়েক মিনিটের মধ্যে সম্ভাব্য পরিস্থিতি তুলে ধরতে পারবে।

    তিনি জানান, এআই ব্যবস্থা আগাম জানাতে পারবে—কোন সময়ে কোন পণ্যের ঘাটতি তৈরি হতে পারে, কোন দেশ থেকে আমদানি করা সুবিধাজনক হবে, কোন দেশের রপ্তানি সক্ষমতা কতটুকু রয়েছে এবং কখন ক্রয় করলে বাজার সুবিধা পাওয়া যাবে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে সারা বছর গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।

    তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একা এ কার্যক্রম পরিচালনা করবে না। কৃষি, খাদ্যসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে। যেসব সংস্থা এ কার্যক্রমে যুক্ত থাকবে, তারা প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যবহারের সুযোগ পাবে।

    তিনি আরও বলেন, এআই প্রযুক্তির কার্যকারিতা বাড়াতে নির্ভরযোগ্য তথ্যের উৎস নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারি তথ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ওপেন সোর্স ও সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক তথ্য উৎস ব্যবহার করে একটি সমৃদ্ধ ডেটাবেজ তৈরি করা হবে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুরুতে এ ব্যবস্থার উন্নয়নে সময় লাগলেও কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করার পর এটি মানুষের চেয়ে দ্রুত ও কার্যকরভাবে বিশ্লেষণ দিতে সক্ষম হবে।

    তিনি বলেন, দ্রুত ও সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ। এর মাধ্যমে দেশের বাজার ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে।

    সভায় ই-কমার্স খাতের উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর বাজার ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়।

  • তিতাস গ্যাসে ১৩৫ পদে চাকরি

    তিতাস গ্যাসে ১৩৫ পদে চাকরি

    তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসিতে ১৩ থেকে ১৮ গ্রেডে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। মোট পদসংখ্যা ১৩৫। আবেদনের শেষ তারিখ ২১ আগস্ট ২০২৬।

    চাকরির বিবরণ

    ১. পদের নাম: হিসাব সহকারী

    পদসংখ্যা: ৪৯

    শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: ন্যূনতম এইচএসসি পাসসহ (বাণিজ্য) হিসাব/অডিট/অর্থ বিষয়ে কমপক্ষে ৪ বছরের অভিজ্ঞতা।

    গ্রেড ও বেতন স্কেল: (গ্রেড–১৩) ১১,০০০-২৬,৫৯০ টাকা।

    ২. পদের নাম: করণিক

    পদসংখ্যা: ২৮

    শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: ন্যূনতম এইচএসসি পাস এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ১ বছরের অভিজ্ঞতা।

    গ্রেড ও বেতন স্কেল: (গ্রেড–১৬) ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা।

    ৩. পদের নাম: উন্নয়নকারী

    পদসংখ্যা: ৪১

    শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: বিজ্ঞানে এসএসসি পাসসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ১ বছরের অভিজ্ঞতা।

    গ্রেড ও বেতন স্কেল: (গ্রেড–১৬) ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা।

    ৪. পদের নাম: সাহায্যকারী

    পদসংখ্যা: ১৭

    শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: বিজ্ঞানে এসএসসি পাসসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ১ বছরের অভিজ্ঞতা।

    গ্রেড ও বেতন স্কেল: (গ্রেড–১৮) ৮,৮০০-২১,৩১০ টাকা।

    বয়সসীমা

    ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে ১৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে।

    আবেদনের নিয়ম

    পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থীরা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আবেদন ফরম পূরণ করতে পারবেন।

    আবেদনের সময়সীমা

    আবেদনপত্র পূরণ ও পরীক্ষার ফি জমাদান শুরুর তারিখ ও সময়: ২৩ জুলাই ২০২৬, সকাল ১০টা।

    আবেদনপত্র জমাদানের শেষ তারিখ ও সময়: ২১ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৫টা।

    *বিস্তারিত দেখুন তিতাস গ্যাস টি অ্যান্ড ডি পিএলসির ওয়েবসাইট, পেট্রোবাংলার ওয়েবসাইট এবং টেলিটকের ওয়েবসাইটে।

  • শিক্ষায় ঘুষের হাট, ডিজির নেতৃত্বে বদলি বাণিজ্য

    শিক্ষায় ঘুষের হাট, ডিজির নেতৃত্বে বদলি বাণিজ্য

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজধানীর আবদুল গনি রোডের শিক্ষা ভবনটিকে এক সময় সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা- এনএসআই “দুর্নীতির ভবন” বলে আখ্যায়িত করেছিল। কিন্তু শিক্ষায় ঘুষ-দুর্নীতি এখন আর শুধুমাত্র এই ভবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সারাদেশেই এর নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হয়েছে। তবে ভবন থেকেই ঘুষ-দুর্নীতির নেতৃত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা ক্যাডারের বর্তমানে সর্বোচ্চ পদে যিনি আছেন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল স্বয়ং-এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা ছাড়াও বাইরের রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরাও ডিজি সোহেলের ঘুষ কালেকশনের কাজে নিয়োজিত আছেন। অবাক ব্যাপার হলো, অনেক ক্ষেত্রে দালালদের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও ঘুষ লেনদেন হচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য শীর্ষকাগজ-শীর্ষনিউজের হাতে এসেছে। অতীতে আওয়ামী লীগ আমলে যারা শিক্ষাখাতে দালাল হিসেবে কাজ করেছেন অধিকাংশ ক্ষেত্রে এরাই ডিজি খান মইনুদ্দিন সোহেলের অধীনে নিয়োজিত রয়েছেন, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

    মাধ্যমিক স্কুল এবং কলেজ উভয় সেক্টরের জন্য আলাদা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন ডিজি সোহেল। খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল যেহেতু বিএনপির আগের আমলে আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে প্রতিমন্ত্রীর এপিএসের দায়িত্ব পালন করেছেন তাই শিক্ষাখাতের দুর্নীতির ফাঁক-ফোকরগুলো সবই তাঁর জানা। তাছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তিনি অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। মূলতঃ এই সময়ই ঘুষ লেনদেনের দেশব্যাপী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন খান মইনুদ্দিন সোহেল। যা পরবর্তীতে ডিজি (মহাপরিচালক) পদে আসীন হওয়ার পর ব্যাপকভাবে বিস্তৃতি লাভ করে।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে ঘুষকাণ্ডে ভেঙে পড়েছে শিক্ষা খাতের শৃঙ্খলা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে জুনিয়রদের পদায়ন করা হচ্ছে সিনিয়রদের ডিঙিয়ে। ফ্যাসিস্ট চিহ্নিত কর্মকর্তারা এ বিষয়ে অগ্রাধিকার পাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বসানো হচ্ছে পুরনো ফ্যাসিস্টদের! এর মধ্যেই রয়েছে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সদস্য, বঙ্গবন্ধু গবেষক ইত্যাদি।ডিজির ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত পৌঁছেছে
    এসব বদলি বাণিজ্য এবং ঘুষ লেনদেন নিয়ে মাঝেমধ্যে সমস্যাও তৈরি হচ্ছে। কখনো কখনো ঘুষের রেট কমবেশির কারণে অগ্রিম টাকা নিয়েও বদলির কাজ সম্পন্ন করছেন না ডিজি সোহেল। তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, একটি পদের জন্য একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন তিনি। ফলে সবার কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে ঘুষের টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না। এ নিয়ে তদবিরকারী গ্রুপগুলোর সঙ্গে ডিজি সোহেলের মনোমালিন্য, বাক-বিতণ্ডাও হচ্ছে। এমনকি মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত অভিযোগ যাওয়ারও নজির সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, অতি সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে এ রকমের গুরুতর এক অভিযোগ দিয়েছেন মাগুরার যুবদল নেতা নয়ন, যিনি ‘স্লোগান নয়ন’ হিসেবে পরিচিত। অভিযোগটি হলো, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন নিরীক্ষা ও পরিদর্শন অধিদপ্তরের একজন শিক্ষা পরিদর্শকের বদলির আদেশ বাতিল করা নিয়ে। নিরীক্ষা ও পরিদর্শন অধিদপ্তরের শিক্ষা পরিদর্শক মো. সাইফুর রহমান সুমনকে ইতিপূর্বে অন্যত্র বদলি করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকেবদলির আদেশটি জারি হয়। খান মইনুদ্দিন সোহেল তখন শিক্ষামন্ত্রীর পিএস পদে ছিলেন। পরবর্তীতে এই বদলির আদেশ বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সোহেল ২০ লাখ টাকা ঘুষ নেন। সাংবাদিক পরিচয়দানকারী ‘মৃধা’ নামে এক দালালের মাধ্যমে ঘুষের লেনদেনটি হয়। কিন্তু এর আগে সুমনের জায়গায় অন্য আরেকজন কর্মকর্তাকে পদায়ন করেন সোহেল আরও বড় অংকের ঘুষ নিয়ে। ওই কর্মকর্তাকে সরানো যায়নি, তাই শিক্ষা পরিদর্শক সুমনেরও বদলির আদেশ বাতিল করা যায়নি। তবে সুমনের কাছ থেকে নেওয়া ঘুষের ২০ লাখ টাকাও ফেরত দেননি ডিজি খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। এ নিয়ে অনেক চেষ্টা-তদবিরও করেন সুমন। অবশেষে নিজের মাগুরা এলাকার যুবদল নেতা নয়নের সহায়তা চান। যুবদল নেতা নয়ন এ বিষয়ে ডিজি সোহেলের সঙ্গে কথা বলেন একাধিকবার। তাতে ব্যর্থ হয়ে শেষে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেন। অভিযোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা। এতো কিছুর পরও ডিজি খান মইনুদ্দিন সোহেল ঘুষের ওই টাকা ফেরত দেননি। তবে টাকাটা-তো তাঁর পকেটে নেই, তাই দিতে পারছেন না- একথা বলছেন সোহেলের ঘনিষ্ঠরা।বদলি বাণিজ্য ও ঘুষ লেনদেনে অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙেছে
    মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর অর্থাৎ ডিজি অফিসে বদলি বাণিজ্য ও ঘুষ লেনদেনের এখন যেসব কাজ কারবার চলছে তাতে অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে গেছে। শিক্ষা ভবন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ডিজি খান মইনুদ্দিন সোহেল যেভাবে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে ঘুষ লেনদেন জড়িত হয়েছেন এ রকমের পরিস্থিতি অতীতের কোনো ডিজির ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। ছোট-খাটো লেনদেনও তিনি নিজে সরাসরি জড়িত হচ্ছেন। ঘুষ ছাড়া তিনি কোনো কাজেই হাত দেন না। ঘুষ লেনদেনে খান মইনুদ্দিন সোহেলের হাত পেকে গেছে ইতিপূর্বে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর এপিএস থাকাকালেই। মূলত: এ যোগ্যতার কারণেই এবার শিক্ষামন্ত্রীর পদ লাভের পর সোহেলকে পিএস (একান্ত সচিব) পদে নিয়োগ দেন এহছানুল হক মিলন। তাও নিয়ম-নীতি লঙ্ঘন করে। পিএস-এপিএস পদগুলো জনপ্রশাসনের। নিয়ম অনুযায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ই পিএস-এপিএস পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী আ ন হ এহছানুল হক মিলন তা শুনতে রাজি নন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকেই তিনি এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারির ব্যবস্থা করেন। তখনকার শিক্ষা

    সচিব রেহানা পারভীন অবশ্য এ ধরনের অবৈধ অফিস আদেশ জারিতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু যেহেতু তাঁর নিজের চেয়ারও টলটলায়মান তাই মন্ত্রীর ওই অবৈধ নির্দেশ পালনে বাধ্য হন সচিব রেহানা পারভীন। অফিস আদেশটি জারি হয় গত ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। পরবর্তীতে পিএস পদ থেকে তাকে সরাসরি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) করা হয়। কিন্তু ড. সোহেলের এই ডিজি পদে নিয়োগ নিয়েও তখন অনেক নাটকীয়তা তৈরি হয়।

    একেতো, তিনি আগে থেকেই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন। ৫ আগস্ট, ২০২৪-এর পরে পরিচালক (মাধ্যমিক) পদে এসে দেড় বছরে প্রায় ১৭০০ শিক্ষক বদলি করেন। এসব বদলি বাবদ হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় ৫০ কোটি টাকা। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবরও প্রকাশিত হয়েছে। তাছাড়া, শিক্ষা ক্যাডারের তাঁরচেয়ে সিনিয়র ব্যাচের অনেক কর্মকর্তা রয়েছেন। অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (প্রশিক্ষণ) পদ থেকে অবসরে যাওয়া মোহাম্মদ আবদুস সবুরকে চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগের জন্যসুপারিশ করেন বিএনপির মহাসচিব, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি মহাসচিবের সুপারিশটি বেশ কিছুদিন ঝুলে ছিল। শিক্ষাসচিব আবদুল খালেক পূর্ব নির্ধারিত বিদেশ সফরে যাওয়ার প্রাক্কালে বিএনপি মহাসচিবের ওই সুপারিশ অনুযায়ী আবদুস সবুরকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের নথি অনুমোদন করেন। কিন্তু নথিটি মন্ত্রীর দপ্তরে গেলে মন্ত্রী এহছানুল হক মিলন অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন। তিনি নথির প্রস্তাব নাকচ করে শাখায় পাঠিয়ে দেন এবং পিএস ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলকে চলতি দায়িত্বে ডিজি পদে নিয়োগের প্রস্তাব দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন করে নথি উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। তড়িৎ গতিতে সেভাবেই নথি উপস্থাপিত হয়। পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল, মঙ্গলবার) ছুটির দিনে বিশেষ ‘বার্তা বাহক’ এই নথিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠান মন্ত্রী। কিন্তু সোহেলকে ডিজি নিয়োগের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন না করে ফেরত দেন। এতে মন্ত্রী আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেন। প্রধানমন্ত্রী নাকচ করার পরও তিনি একই ব্যক্তি অর্থাৎ পিএস সোহেলকে অতিরিক্ত দায়িত্বে ডিজি পদে নিয়োগের অফিস আদেশ জারি করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ অফিস আদেশটি জারি হয় ১৬ এপ্রিল। এ নিয়ে তখন ব্যাপক কানাঘুষা চলে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সমালোচনা হয়। এর এক সপ্তা পরে ২৩ এপ্রিল তাকে চলতি দায়িত্বে ডিজি করা হয়।

    শিক্ষাখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পিএস থেকে ডিজি পদে নিয়োগ এবং এতো বেপরোয়া ঘুষখোর কর্মকর্তা অতীতে কখনো অধিদপ্তরের ডিজি অর্থাৎ শিক্ষা ক্যাডারের সর্বোচ্চ এই পদে নিয়োগ পাননি। শিক্ষা ক্যাডারের কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনি অত্যন্ত জুনিয়রও বটে। এসব দিক থেকে ডিজি সোহেল অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙেছেন। তাছাড়া ডিজি পদে নিয়োগের পর থেকে খান মইনুদ্দিন সোহেল বদলি বাণিজ্য ও ঘুষের যে নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি করেছেন তাতে অতীতের সকল নজির ছাড়িয়ে গেছে, এতে কারো সন্দেহ নেই। যুবদল নেতা নয়নের অভিযোগের চাক্ষুষ উদাহরণ ইতিমধ্যেই এ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। শীর্ষকাগজের চলতি সংখ্যার আরেকটি আলাদা প্রতিবেদনে ঘুষ সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া ঘুষের রেট নির্ধারণ এবং নেটওয়ার্ক বা দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলা ও এর মাধ্যমে প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনের নতুন নজির তো রয়েছেই।

    ডিজি সোহেলের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতের সংগৃহীত কোটি কোটি টাকার ভাটবাটোয়ারায় মাত্র একটি ক্ষুদ্র অংশ পান ড. সোহেল। বড় একটি অংশ চলে যায় মন্ত্রীর বাসায়। মন্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে সোহেলের পরিচয়-সম্পর্ক রয়েছে এপিএস থাকাকালেই। সেই সূত্রে মন্ত্রীর বাসায় সোহেলের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে বলে জানা যায়।মহাপরিচালক পদে বসে নিজেরই পরিচালক পদের পদায়নগুলো পাল্টে দিলেন!
    ড. খান মইনুদ্দিন সোহেল অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পরিচালক (মাধ্যমিক) থাকা অবস্থায় ডিজি অফিস ছাড়াও ঢাকা শহরের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রত্যেক জেলায় একাধিক শিক্ষক নিয়ে গড়ে তুলেন বদলি বাণিজ্যের নেটওয়ার্ক বা সিন্ডিকেট। অনেক ক্ষেত্রেই কলেজ এবং স্কুল পর্যায়ের সিন্ডিকেট একযোগে কাজ করছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে আলাদা নেটওয়ার্কও রয়েছে। পরিচালক (মাধ্যমিক) পদে থেকেই ঘুষ লেনদেনের একটি অঘোষিত রেট নির্ধারণ করেছেন তিনি। তবে মহাপরিচালক পদে বসার পরে সেই রেট পুরোপুরিভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বলে জানা যায়। যেমন- ঢাকা শহরে প্রধান শিক্ষক স্কুলভেদে ৫-১০ লাখ টাকা, জেলা শিক্ষা অফিসার জেলার গুরুত্ব অনুসারে ৫-১০ লাখ, উপপরিচালক ২০-৩০ লাখ টাকা। সহকারী শিক্ষক ঢাকা শহরে ২-৩ লাখ টাকা, ঢাকার বাইরে ১-২ লাখ টাকা। কলেজের ক্ষেত্রেও তেমনই। কলেজ শিক্ষকদের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ যে কোন দপ্তরের চেয়ারম্যান- দেড় থেকে দুই

    কোটি টাকা, ডিজি পর্যায়ের- দুই কোটি বা তদুর্ধ্ব পরিমাণ, পরিচালক পর্যায়ের পদ এক কোটি, বড় সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ পদ ৩০-৫০ লাখ, আঞ্চলিক পরিচালক পদ ৩০-৪০ লাখ টাকা ইত্যাদি। এছাড়া শিক্ষা ক্যাডারের অন্যান্য পদগুলো ২ লাখ থেকে গুরুত্বভেদে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এই টাকা-তো শুধুমাত্র মহাপরিচালক নেন, দালালরা নেন আরও প্রায় সমপরিমাণ টাকা। বিএনপিপন্থি অর্থাৎ রাজনৈতিক মতাদর্শগত মিল থাকার প্রয়োজন নেই, বরং আগের ক্ষমতাবান আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা অগ্রাধিকার পাচ্ছে। কারণ, তাদের হাতে আছে প্রচুর পরিমাণে টাকা।

    শিক্ষা ক্যাডারের যেসব বদলি-পদায়নের দায়িত্বে রয়েছে মন্ত্রণালয়- সেগুলোও পুরোপুরোই নিয়ন্ত্রণ করছেন ডিজি ড. সোহেল। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিদিন অসংখ্য বদলি-পদায়নের দরখাস্ত জমা পড়ে। এইসব দরখাস্ত গ্রহণ এবং তাতে মার্ক করারও সুব্যবস্থা আছে মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ ব্যক্তিরা এগুলোতে স্বাক্ষর করে সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠান। কিন্তু আদতে এইসব দরখাস্তে কোনো কাজ হয় না। যারা বদলি-পদায়নের ব্যাপারে অতি আগ্রহী তাদেরকে মন্ত্রণালয়ের ভেতর থেকেই বলে দেওয়া হয়, কোথায় বা কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। ডিজি সোহেলই সবকিছুর মূলে এটা মোটামুটি সবাই জানেন। সোহেলের সবুজ সংকেত ছাড়া কোনো বদলির নথি মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপিত বা অনুমোদন হয় না, বলছেন সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পিএস পদে বসেই দুর্নীতির ধরন পরিবর্তন করেছেন ড. সোহেল। শুধু টাকাই নয়, টাকার সঙ্গে আবেদনে মন্ত্রী কিংবা এমপির কাছ থেকে সুপারিশ বাধ্যতামূলক করেছেন তিনি। তবে মন্ত্রী-এমপিদের সুপারিশের বিষয়টা হলো লোক দেখানো। অর্থাৎ মন্ত্রী-এমপিদের সুপারিশের নাম ভাঙিয়ে ডিজি সোহেল দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছেন অধিদপ্তরকে। আদতে বদলির ক্ষেত্রে কোনো দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয় না। টাকা যার বদলি তার। দেশের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় বা কলেজের যে কোনো শিক্ষককে প্রশ্ন করা হলে এর সত্যতা পাওয়া যাবে। বিএনপির নাম ব্যবহার করে মহাপরিচালক সোহেল যা করছেন তা বিএনপির জন্য খুবই অশনিসংকেত। বিগত সরকারের আমলে যেসব শিক্ষক ফ্যাসিস্টের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন তাদের মধ্যে থেকে বেশকিছু শিক্ষককে সোহেল পরিচালক (মাধ্যমিক) থাকা অবস্থায় শাস্তিমূলক বদলি করেছিলেন জনস্বার্থে। কিন্তু তিনি মহাপরিচালক পদে বসার পর ফ্যাসিস্টের সহযোগী ওই শিক্ষকদের প্রায় সবাইকে পূর্বপদে ফিরিয়ে এনেছেন মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে। কাউকে কাউকে আগের চেয়েও আকর্ষণীয় পদায়নের চমক দেখিয়েছেন ডিজি সোহেল। শুধু তাই নয়টাকার বিনিময়ে এই শিক্ষকদের এমন জায়গায় ফিরিয়ে এনেছেন যেখানে তাদের পদায়নের সুযোগ নেই অর্থাৎ ওই বিষয়ের পদ শূন্য নেই। এমন অনেক শিক্ষক আছেন যাদেরকে কয়েক মাস আগে ‘জনস্বার্থে’ বদলি করা হলেও কয়েক মাসের মধ্যেই তাদেরকে ‘অফিস আদেশে’ ফিরিয়ে আনা হয়েছে পূর্বের কর্মস্থলে। এমন কিছু বিতর্কিত শিক্ষককে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বদলি করে আনা হয়েছে, যা সারাদেশের শিক্ষকদের অবাক করেছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়- ময়মনসিংহ জেলা স্কুল থেকে ৩ জন আওয়ামী ফ্যাসিস্ট চিহ্নিত শিক্ষককে কয়েকমাস আগে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু বদলির কয়েক মাসের মধ্যেই তাদের ৩ জনের একজনকে ময়মনসিংহের ফুলপুরে আনা হয়। কয়েকদিন আগে সদ্য বদলি করে আনা ওই শিক্ষকসহ মোহনগঞ্জের ফ্যাসিস্ট সমর্থক আরেক শিক্ষককে ময়মনসিংহ বিদ্যাময়ী স্কুলে বদলি করে আনা হয়েছে। আরও অবাক করার বিষয় হলো, ময়মনসিংহ বিদ্যাময়ী স্কুলের ব্যবসা শিক্ষার একটি শূন্য পদের বিপরীতে একজন মানবিক বিজ্ঞান ও একজন গণিতের শিক্ষককে পদায়ন দেওয়া হয়েছে। একইভাবে টাঙ্গাইল বি. বি. সরকারি বালক/ বালিকা বিদ্যালয়ে একটিও ইংরেজি শিক্ষকের শূন্য পদ না থাকলেও ৪ জন

    ইংরেজি শিক্ষককে এখানে বদলিভিত্তিক পদায়ন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ঢাকা থেকে শেখ রাসেল উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন ফ্যাসিস্ট চিহ্নিত শিক্ষক, যিনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রতিহত করার লক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগের ব্যানার হাতে জাতীয় পতাকা মাথায় বেঁধে লাঠি হাতে শাহবাগে বসে ছিলেন- এই ছবিটি তখন সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। ওই শিক্ষককে ড. সোহেল পরিচালক (মাধ্যমিক) থাকাকালে পার্বত্যঞ্চলে শাস্তিমূলক বদলি করেছিলেন। কয়েকদিন আগে তাকে ধানমণ্ডি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বদলি করে আনা হয়েছে। অর্থাৎ তাকে শেখ রাসেল উচ্চ বিদ্যালয়ের চেয়েও আকর্ষণীয় পদায়নে দেওয়া হয়েছে। কত টাকার বিনিময়ে ডিজি সোহেল এটা করেছেন, এ প্রশ্ন সংশ্লিষ্টদের।

    শিক্ষা ক্যাডারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ হলো পরিচালক, কলেজ ও প্রশাসন। ড. সোহেল মহাপরিচালক পদের দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন দিন আগে ১৩ এপ্রিল এই পদে পদায়নের ব্যবস্থা করেন ফরিদপুরের সরকারি আইনউদ্দীন কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাজমুল হককে। আওয়ামী লীগ আমলে তিনি আইনউদ্দীন কলেজে একনাগাড়ে ১০ বছর ৫ মাস অধ্যক্ষ পদে ছিলেন। অথচ তাকেই পছন্দ সোহেল এবং মন্ত্রীর। সর্বশেষ গত ২৩ জুলাই জাবি ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি এম এম সহিদুল ইসলামকে কোনো কারণ ছাড়াই ডিআইএ’র পরিচালক পদ থেকে সরিয়ে রাজেন্দ্র কলেজেররাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে সংযুক্তি দিয়ে ওএসডি করা হয়েছে। অবশ্য, এর কারণ তো নিশ্চয়ই আছে। তা হলো, নতুন যাকে এই পদে পদায়ন দেওয়া হয়েছে মো. আলফাতুন, তিনি শিক্ষা ক্যাডারের ২০ তম ব্যাচের অর্থাৎ অত্যন্ত জুনিয়র কর্মকর্তা এমনকি আওয়ামীপন্থি হিসেবেও পরিচিত, তাঁর কাছ থেকে পাওয়া গেছে নাকি এককালীন ৫০ লাখ টাকা। এছাড়া প্রতি মাসে পাওয়া যাবে আরও ৫ লাখ টাকা করে। সম্প্রতি শিক্ষা অধিদপ্তরের বেসরকারি কলেজ শাখায় সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ পেয়েছেন মো. ফিরোজ মিয়া। তিনি ৩০তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা। ২০২৪ সালের শিক্ষা ক্যাডার সমিতির আওয়ামীপন্থি প্যানেল থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন তিনি। ‘বঙ্গবন্ধু’কে নিয়ে প্রবন্ধ লিখে বাড়তি সুবিধা নেন তিনি। এর আগে চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল তাকে শিক্ষা প্রশাসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করা হয়। শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে একের পর এক মো. ফিরোজ মিয়ার পদায়নকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। শুধু এগুলোই নয়, এ রকমের অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে।

    লেনদেনের দালাল নেটওয়ার্ক
    খান মইনুদ্দিন সোহেলের বদলি বাণিজ্য ও অর্থ লেনদেনের কাজে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে ইতিপূর্বে সারোয়ার হোসেন, নাজিম উদ্দিন, কাওসার আহমেদ অন্যতম ছিলেন। আর্থিক লেনদেন নিয়ে এদের সঙ্গে সমস্যা বেধে যাওয়ায় নানা অভিযোগ তুলে বিভিন্ন সময়ে তাদেরকে শাস্তিমূলক বদলির ব্যবস্থা করেন সোহেল। শিক্ষা ভবনে বর্তমানে অর্থ লেনদেনে মূল ভূমিকায় রয়েছেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর খোকন রানা, পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) এর পিএ আবদুর রহিম এবং ডিজির পিএ ফরহাদ। ক্ষমতাবান ফরহাদ ইতিপূর্বে অন্তত ৭ জন ডিজির পিএ’র দায়িত্ব পালন করেন। এবং এসব ডিজির কালেক্টর হিসেবেও পরিচিত ছিলেন তিনি। এখন সোহেলের অন্যতম কালেক্টর। ল্যাবরেটরি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাসুদুল হক এবং অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আব্দুল ওহাবও এরমধ্যে রয়েছেন। সরকারি ল্যাবরেটরি উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক হারুন-অর-রশীদের ব্র্যাক ব্যাংকের ধানমণ্ডি শাখার একটি অ্যাকাউন্টে ইতিপূর্বে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ডিজি সোহেলের বদলি বাণিজ্যের টাকা জমা হয়েছে। ব্যাংক অ্যাকউন্টটির নম্বর হলো- ১৫৪৭১০৫০৮২৮৯১০০১। একজন সাবেক শিক্ষক নেতা শীর্ষকাগজ ও শীর্ষনিউজ প্রতিবেদককে এ তথ্য জানিয়েছেন। এই অ্যাকাউন্টটির কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এই শিক্ষক নেতা নিজেও সোহেলের বদলি বাণিজ্যের সিন্ডিকেটে যুক্ত ছিলেন। তিনি জানান, শুধু এই একটি ব্যাংক হিসাবই নয়, এ রকমের আরও অনেকগুলো ব্যাংক হিসাবে সোহেলের বদলি বাণিজের ঘুষ লেনদেন হয়ে থাকে। সিন্ডিকেটের সারাদেশের সদস্যরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই টাকা পাঠান। ব্যাংকে টাকা জমা হওয়ার পরেই কাঙ্ক্ষিত পদায়নের আদেশ জারি করা হয়। বেনামী এসব ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো কোনোটিই ড. সোহেল বেশিদিন ব্যবহার করেন না। দালাল সিন্ডিকেটের সদস্যদের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে তা নিজের ঘুষ লেনদেনের কাজে ব্যবহার করেন।

    শিক্ষক সমিতির সাবেক ওই নেতা জানিয়েছেন, তিনি নিজেও ড. সোহেলকে বদলি বাণিজ্যের অনেক টাকা সংগ্রহ করে দিয়েছেন। গত বছরের ১২ জানুয়ারি ১৩ জন শিক্ষকের পদায়নের জন্য তিনি তখনকার পরিচালক (মাধ্যমিক) ড. খান মইনুদ্দিন সোহেলের ফোনে হোয়াটসঅ্যাপে তালিকা পাঠান। কিন্তু তালিকার ৮ জনের বদলির আদেশ জারি হলেও বাকি ৫ জনের পদায়ন হয়নি। অথচ ড. সোহেল এ বাবদ অগ্রিম টাকা নিয়েছেন। টাকাও ফেরত দেননি। পরে এ নিয়ে সোহেলের সঙ্গে পরিচালকের দপ্তরে তর্কাতর্কি পর্যন্ত হয়। সেই টাকা এখনো ফেরত পাওয়া যায়নি। সেই থেকে তিনি ড. সোহেলের হয়ে আর কাজ করছেন না বলে জানিয়েছেন।

  • সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড

    সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড

    সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর ওরফে এসকে সুর চৌধুরীকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার দ্বিতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আয়েশা নাসরিন এ রায় ঘোষণা করেন।এর আগে এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এস কে সুরকে কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পৌনে ১১টার দিকে তাকে এজলাসে তোলা হয়, রাখা হয় আসামির কাঠগড়ায়। পরে আদালত রায় ঘোষণা করে।উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক এ ডেপুটি গভর্নরকে গ্রেপ্তার করে দুদক। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

  • ১৮ মাসেই চালু হবে চায়না ইকোনমিক জোনের প্রথম কারখানা : বেজা চেয়ারম্যান

    ১৮ মাসেই চালু হবে চায়না ইকোনমিক জোনের প্রথম কারখানা : বেজা চেয়ারম্যান

    আগামী ১৮ মাসের মধ্যেই চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণাধীন চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে (সিইআইজেড) প্রথম কারখানার উৎপাদন দেখতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    বেজা নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই উৎপাদনে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান।

    সোমবার (২৭ জুলাই) চট্টগ্রামের আনোয়ারার বেলচূড়া এলাকায় বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এ কথা জানান বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান।

    অনুষ্ঠানে আশিক চৌধুরী বলেন, ‘গত মাসে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ডেভেলপার কোম্পানির চেয়ারম্যানের সাথে বৈঠক হয়। সেখানে জোনটি চালুর বিষয়ে প্রথমে তিন থেকে পাঁচ বছর সময়ের কথা বলা হলেও প্রধানমন্ত্রী ১৮ মাসের মধ্যে প্রথম কারখানা চালুর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। পরে ডেভেলপার কোম্পানির চেয়ারম্যানও এই সময়ের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।’

    চীনা বিনিয়োগকারীদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিদেশী বিনিয়োগকারীরা আমাদের অতিথি। তারা বিনিয়োগে মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি দেশের হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করবেন। এই জোন দ্রুত চালু হলে এই এলাকার চেহারা বদলে যাবে।’

    স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীকে বিনিয়োগকারীদের পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    যেকোনো সমস্যা সমাধানে সম্মিলিতভাবে কাজ করার তাগিদ দিয়ে বেজা নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দিতে হবে।’

    দেশের অগ্রগতির জন্য বিনিয়োগের বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

  • কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের আম ও আমজাত পণ্যের উৎসব, রপ্তানির সম্ভাবনা তুলে ধরল দূতাবাস

    কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের আম ও আমজাত পণ্যের উৎসব, রপ্তানির সম্ভাবনা তুলে ধরল দূতাবাস

    নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতের আম ও আমভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত পণ্যের প্রদর্শনী ও উৎসবের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। ‘বাংলাদেশ ম্যাঙ্গো ডেলিকেসি’ শীর্ষক এ আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের উৎকৃষ্ট মানের আম, সমৃদ্ধ কৃষি ঐতিহ্য এবং কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরা হয়।

    শনিবার দূতাবাস সংলগ্ন উৎসব কুঞ্জ ব্যাংকুয়েট হলে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সার্ক সচিবালয়ের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারওয়ার। বিশেষ অতিথি হিসেবে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের যুগ্মসচিব গহেন্দ্র রাজভাণ্ডারী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, নেপাল সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, আমদানিকারক, গণমাধ্যমকর্মী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন।

    স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে আম শুধু একটি ফল নয়, এটি দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, কৃষি ও জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি বলেন, উর্বর পলিমাটি ও অনুকূল জলবায়ুর কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম উৎকৃষ্ট আম উৎপাদনকারী দেশ। খিরসাপাত (হিমসাগর), হাড়িভাঙ্গা, ল্যাংড়া, ফজলি, গোপালভোগ, আম্রপালি, আশ্বিনা, কাটিমন, গৌরমতি ও বারি আমসহ বিভিন্ন জাতের আমের আন্তর্জাতিক সুনামের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

    রাষ্ট্রদূত আরও জানান, দেশের বিজ্ঞানীরা দেরিতে ফলনশীল নতুন জাতের বারি আম উদ্ভাবন এবং বিদেশি জাতের সফল অভিযোজনের মাধ্যমে আম গবেষণায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে বেসরকারি খাত আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আমের জুস, নেকটার, পাল্প, জ্যাম, আচার, চাটনি, শুকনো আম, ক্যান্ডি, ফ্রুট বার ও বিভিন্ন মূল্যসংযোজিত পণ্য উৎপাদন করছে।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে সার্ক মহাসচিব মো. গোলাম সারওয়ার বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় আম উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও এ অঞ্চলের আম ও আমজাত পণ্যের রপ্তানি এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এ ধরনের উদ্যোগ কৃষিখাতে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    বিশেষ অতিথি গহেন্দ্র রাজভাণ্ডারী বলেন, এ আয়োজন বাংলাদেশের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তার পরিচয় বহন করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও নেপালের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে। তিনি রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমানের ‘ম্যাঙ্গো ডিপ্লোমেসি’ উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন।

    অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সফল আমচাষি রফিকুল ইসলাম গত ১৫ বছরের আমচাষের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিসেস (GAP) অনুসরণ করে নিরাপদ ও মানসম্মত আম উৎপাদনের বিভিন্ন পদ্ধতি অতিথিদের সামনে উপস্থাপন করেন।

    প্রদর্শনীতে রাজশাহীর মৌসুম-পরবর্তী ফজলি, আম্রপালি, বারি-৪, কাটিমন, গৌরমতি ও আশ্বিনাসহ বিভিন্ন জাতের তাজা আম প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি আমের জুস, আচার, ফ্রুট বার, শুকনো আম, চাটনি, জ্যাম ও জেলিসহ নানা ধরনের প্রক্রিয়াজাত পণ্যও প্রদর্শিত হয়। অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয় আমের কেক, ম্যাঙ্গো স্টিকি রাইস, ম্যাঙ্গো পুডিংসহ বিভিন্ন ডেজার্ট। এছাড়া বাংলাদেশে আম চাষ, দেশের সংস্কৃতি, পর্যটন ও ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

    প্রায় ২৫০ জন অতিথি এ উৎসবে অংশ নেন। আয়োজকদের মতে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে নেপালে বাংলাদেশের আম ও আমজাত পণ্যের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি, দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে অংশীদারত্ব গড়ে তোলা এবং কৃষি ও খাদ্যপণ্যের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। অনুষ্ঠানের শেষে অতিথিদের জন্য ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবারের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়।

  • বিড়ি-সিগারেট বিক্রির আয় নিয়ে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

    বিড়ি-সিগারেট বিক্রির আয় নিয়ে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

    বিড়ি-সিগারেট বিক্রি করে অর্জিত অর্থ ইসলামের দৃষ্টিতে হালাল নাকি হারাম—এমন প্রশ্নের জবাবে বিশিষ্ট ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেছেন, ইসলাম যে বস্তু খাওয়া, পান করা বা ব্যবহার করা নিষিদ্ধ করেছে, সেই বস্তুর বেচাকেনাও বৈধ নয়।

    সম্প্রতি এক অনুসারীর প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি নিজে ধূমপান না করলেও বা ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চললেও কেবল এ কারণে বিড়ি-সিগারেট বিক্রির অর্থ হালাল হয়ে যায় না। তার ভাষায়, কেউ নামাজি, হাজি বা দাড়িওয়ালা হলেও যদি বিড়ি-সিগারেট বিক্রি করেন, তাহলে ওই বিক্রি থেকে অর্জিত আয় বৈধ হবে না।

    তবে তিনি বিষয়টি আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, একটি দোকানে যদি হালাল ও হারাম—উভয় ধরনের পণ্য বিক্রি করা হয়, তাহলে পুরো ব্যবসার আয় হারাম হয়ে যায় না। যে পণ্য ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ, সেগুলোর বিক্রি থেকে অর্জিত লাভ হালাল থাকবে। আর যে পণ্যের বেচাকেনা বৈধ নয়, কেবল সেই অংশের আয়ই হারাম হিসেবে গণ্য হবে।

    উদাহরণ দিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, চাল, ডাল বা অন্যান্য বৈধ পণ্য বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ হালাল। তবে প্রতারণা বা ভেজাল মিশিয়ে বিক্রি করলে সেই উপার্জনও বৈধ থাকবে না।

    তিনি বলেন, দেশি ডালের সঙ্গে নিম্নমানের অন্য ডাল মিশিয়ে বিক্রি করা প্রতারণার শামিল। এ ধরনের ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থও ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ নয়।

    শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, ইসলামে শুধু পণ্যের বৈধতা নয়, ব্যবসায় সততা ও সঠিক পদ্ধতি অনুসরণও হালাল উপার্জনের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

  • ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে দুর্বল করেছে

    ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে দুর্বল করেছে

    ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ও অর্থনৈতিক—উভয় দিক থেকেই উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি। তার দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের কারণে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, অর্থনীতি এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

    সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ম্যাসি লেখেন, ‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে।’

    তিনি অভিযোগ করেন, এ সংঘাতের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা কমেছে, জ্বালানির মজুত হ্রাস পেয়েছে, সামরিক সদস্যদের প্রাণহানি ঘটেছে, ভোক্তা পণ্যের দাম বেড়েছে এবং জাতীয় ঋণের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

    ম্যাসির ভাষ্য, ‘এই প্রশাসন আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিঃশেষ করেছে, তেলের মজুত কমিয়েছে, আমাদের নারী ও পুরুষ সেনাদের মৃত্যুর কোলে ঠেলে দিয়েছে, ভোক্তা পণ্যের দাম বাড়িয়েছে, ঋণ বাড়িয়েছে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদাগুলো উপেক্ষা করেছে—সবই ইসরাইলের জন্য। সব দোষ ওদের।’

    রিপাবলিকান এই আইনপ্রণেতার মন্তব্যকে ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সমালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগেও বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় নিয়ে তিনি একাধিকবার আপত্তি জানিয়েছেন।

    তবে ম্যাসির এসব অভিযোগের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

  • গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সুসংবাদ দিলেন প্রতিমন্ত্রী অমিত

    গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সুসংবাদ দিলেন প্রতিমন্ত্রী অমিত

    তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ সংকট দ্রুত সমাধান করে আগামী সপ্তাহ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

    তিনি বলেছেন, আগামী সপ্তাহে যদি তারা (এক্সিলারেট এনার্জি) যেটা এক্সপেক্টেড, যদি ৫০ শতাংশ সাপ্লাই রিস্টোর করতে পারে, তারপরের সপ্তাহে শতভাগ রিস্টোর করতে পারবে। এটাই এখন পর্যন্ত প্ল্যানিং। তাদের স্টেটমেন্ট অনুযায়ী বলছি, তাদের তথ্যের ওপর কিন্তু দিন-তারিখ সুনির্দিষ্টভাবে আমরা বলছি না। কারণ এর আগেও যে দিন-তারিখ দিয়েছে, বিভিন্ন কারণে সেটা তারা পালন করতে পারেনি।

    সোমবার (২৭ জুলাই) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা জানান।

    অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সরকারের একটি কারিগরি দল এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে কাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দিনে ৫০ থেকে ৫৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ বাড়বে। এর মধ্যে আগামী সপ্তাহে ২৮ থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ শুরু হতে পারে।

    গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরুর বিষয়টি এক্সিলারেটের তথ্যের ভিত্তিতে বলছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, দিন-তারিখ সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। কারণ, এর আগে অ্যাকসিলারেট নির্দিষ্ট করে সময় বললেও নানা কারণে কাজ শেষ করতে পারেনি। এটি কারিগরি বিষয়। তাই আগাম সময় বলা কঠিন।

    জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে কিছু যন্ত্রাংশ আমদানি করার বিষয় আছে। আমদানি খালাসের বিষয় আছে। তারা উড়োজাহাজে করে এগুলো নিয়ে আসবে। এটি দ্রুত খালাসে সরকার দায়িত্ব নেবে। সব প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

    এই সংকটের কারণে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মা-বোনেরা প্রতিদিন সংসারের রান্নার কাজে চ্যালেঞ্জ অনুভব করছেন। শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। সিএনজি স্টেশনে চাপ না থাকায় গণপরিবহনে প্রভাব পড়েছে। বলতে কোনো দ্বিধা নেই, এটি সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের ত্রুটি নয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ত্রুটি, যদিও তারা দেশে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে। তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান দেওয়া যাচ্ছে না। দিতে পারছি না, এটা আমাদের সীমাবদ্ধতা। বারবার দুঃখ প্রকাশ করছি।

    জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। তাই জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে ন্যূনতম কোনো দ্বিধা নেই। সরকারি প্রতিষ্ঠান নয় বলে দায় স্বীকার করব না, বিষয়টি এমন নয়।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, টার্মিনালে আগুন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বয়লার বিস্ফোরণ হয়েছে। এর চেয়ে বড় দুর্ঘটনা হতে পারত। পাশেই একটি এলএনজি–ভর্তি জাহাজ ছিল, যা দ্রুত দূরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    তবে এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে কোনো সংকট নেই দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এলএনজি মজুত করে রাখা হয় না; বরং এলএনজি নিয়ে নিয়মিত জাহাজ আসে। এখনকার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জাহাজ আসার সূচি কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে।

  • এসডিজি অর্জনে ৫ বছরে বাংলাদেশের দরকার আরও ৪২১ বিলিয়ন ডলার

    এসডিজি অর্জনে ৫ বছরে বাংলাদেশের দরকার আরও ৪২১ বিলিয়ন ডলার

    টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের আরও প্রায় ৪২১ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের প্রয়োজন হবে। সম্প্রতি হালনাগাদ করা সরকারের এসডিজি অর্থায়ন কৌশলের পর্যালোচনায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

    আজ রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স অ্যাসেসমেন্ট (ডিএফএ) ও এসডিজি অর্থায়নবিষয়ক জাতীয় ভ্যালিডেশন কর্মশালায়’ অতিরিক্ত অর্থায়নের হিসাব দেওয়া হয়।

    জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কের কার্যালয়ের সহযোগিতায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ওই কর্মশালার আয়োজন করে। আজ ইআরডির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    কর্মশালার মূল উপস্থাপনা প্রদান করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ও বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান। তিনি তাঁর উপস্থাপনায় বাংলাদেশের পরিবর্তিত অর্থায়ন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেন। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি উভয় উৎস থেকে অতিরিক্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করার সম্ভাব্য কৌশল তুলে ধরেন।

    সেলিম রায়হান জানান, ২০২৬-২৭ থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশের অতিরিক্ত ৪২১ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। এ অর্থের সিংহভাগ দেশীয় সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়ন, জলবায়ু অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইআরডিসচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, ‘এসডিজি বাস্তবায়নের অবশিষ্ট সময় অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। একদিকে অর্থায়নের যেমন ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে, তেমনি হাতে সময় সীমিত এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতিও অনিশ্চিত। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্থবহ অগ্রগতি অর্জন করতে সক্ষম হবে।’

    মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী আরও বলেন, ‘এখন আমাদের প্রয়োজন সুস্পষ্ট অগ্রাধিকার নির্ধারণ, সমন্বিত উদ্যোগ এবং কার্যকর বাস্তবায়ন।’

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরজনিয়াক বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

    ক্যারল ফ্লোর-স্মেরজনিয়াক বলেন, বর্তমান বিশ্বে উন্নয়ন অর্থায়নের সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিনিযোগে উৎসাহিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের নিজস্ব উৎস থেকে এসডিজি বাস্তবায়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ইআরডির অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল একটি সমন্বিত ও বাস্তবভিত্তিক অর্থায়ন পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ইউএনডিপির উপ-আবাসিক প্রতিনিধি সোনালি দয়ারত্নে বলেন, অর্থায়নের ঘাটতি পূরণে আরও কার্যকর অর্থায়ন নীতি এবং শক্তিশালী অংশীদারত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন।

    যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) অর্থায়নে পরিচালিত ইউএনডিপি ক্লাইমেট ফাইন্যান্স নেটওয়ার্ক (সিএফএন) কর্মসূচির সহায়তায় আয়োজিত এই কর্মশালার আয়োজন করে। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, ব্যাংকিং খাতের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

  • শ্রম-ঘামে গড়া বাজারে কোটি টাকার অর্থনীতি

    শ্রম-ঘামে গড়া বাজারে কোটি টাকার অর্থনীতি

    সপ্তাহে দুই দিন কোটি টাকার পান-সুপারির বেচাবিক্রি হয় যশোর শহরের বড়বাজারের পাইকারি পানের হাটে। গত ত্রিশ-চল্লিশ বছর ধরে হাজারো মানুষের জীবিকার উৎস এটি। একই সঙ্গে কৃষি-অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যশোরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার চাষিদের পান- সুপারি বিক্রির কেন্দ্রস্থল এই হাট। অথচ দীর্ঘদিনেও এখানে প্রয়োজনীয় বাজার অবকাঠামো গড়ে তোলেনি দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কোনো দপ্তর। ফলে শেড, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা ও শৌচাগার ছাড়াই চলছে এই কোটি টাকার পাইকারি হাট।

    পানচাষিরা জানান, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এখানে বাজার অবকাঠামো বলতে কিছুই নেই। শেড না থাকায় খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি মাথায় করে রাস্তার ওপর বসে পান-সুপারি বিক্রি করতে হয়। নেই পানির ব্যবস্থাও । যানজটের কারণে পান-সুপারি বহনকারী যানবাহন ঠিকমতো বাজারে প্রবেশ করতে পারে না। হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতার এই সমাগম স্থলে নেই কোনো শৌচাগার । অথচ প্রতি হাটবারে খাজনার টাকা গুনতে হয়। একটি মহল প্রতি হাটে অর্ধলক্ষাধিক টাকারও বেশি ‘টোল’ আদায় করে ।


    সরেজমিনে ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দক্ষিণ- পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম এই পাইকারি হাট বসে সপ্তাহে দুই দিন- শনিবার ও বুধবার। এই দুই দিনেই এখানে কোটি কোটি টাকার পান-সুপারি কেনা-বেচা হয়। এলসি পান, সাচি পান, মিষ্টি পান, ঝাল পান, সিলেটি পান, মহেশখালির পান এবং পটুয়াখালীর পান এখানে বিক্রি হয়। যশোর ছাড়াও ঝিনাইদহ, নড়াইল, মাগুরা, হুলনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ জেলা থেকে শত শত পাইকারি ব্যবসায়ী এখানে পান-সুপারি নিয়ে আসেন ।
    জানা গেছে, বিক্রেতা ও উৎপাদকদের বড় একটি অংশ আসেন ঝিনাইদহের মহেশপুর, কোটচাদপুর ও কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে। প্রত্যেক হাটে ৪৫০ থেকে ৫০০ জন পানচাষি সরাসরি মাঠ থেকে উৎপাদিত পান নিয়ে আসেন। পাশাপাশি বহুসংখ্যক ফড়িয়া বা মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ী চাষিদের কাছ থেকে পান সংগ্রহ করে বিক্রি করেন। এ ছাড়া প্রায় ২৫ জন স্থায়ী সুপারি ব্যবসায়ীও এই বাজারকে কেন্দ্র করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।


    হাটটির ব্যবসায়ীরা জানান, সপ্তাহের দুই হাটে কয়েক কোটি টাকার পান ও সুপারি কেনা-বেচা হয়। ভরা মৌসুমে এই বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। ফলে বছরে শতকোটি টাকার বাণিজ্য হয়, যা হাজারো কৃষক, শ্রমিক, পরিবহনকর্মী ও ব্যবসায়ীর জীবিকার উৎস।


    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার দুলারমুন্দিয়া গ্রামের প্রদীপ কুমার ঘোষ বলেন, ‘আমি ৪০ বছর ধরে পান চাষ করছি। যশোরের বাজারে পান নিয়ে এলে ভালো দাম পাওয়া যায় বলেই এত দূর থেকে আসি। তবে অন্য বাজারের তুলনায় এখানে খাজনার হারও বেশি। ক্রেতা ও ফড়িয়া উভয়কেই ‘ঢোপ’প্ৰতি ১৫ টাকা করে খাজনা দিতে হয়, যা আমাদের মতো প্রান্তিক চাষিদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
    ঝিকরগাছার বোধখানা গ্রামের পানচাষি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার তিন বিঘা পানের বরজ আছে। আমি নিয়মিত এই বাজারে পান বিক্রি করি। এখানে দাম ভালো পাওয়া যায়। তবে বড় সমস্যা হলো এই বাজারের অবকাঠামোগত দুর্বলতা। বসার কোনো স্থায়ী জায়গা নেই। মাথার ওপর শেড় বা চালা নেই ৷ শৌচাগার না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা চাষিরা নানা দুর্ভোগে পড়েন। পটুয়াখালী থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান জানান, তিনি প্রায় ৩০ বছর ধরে পান ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। যশোরের এই বাজারে তুলনামূলক কম দামে ভালো মানের পান পাওয়া যায় ।


    হাটটিতে ৪০ বছর ধরে সুপারি ব্যবসা করছেন বিপুল রায়। তিনি বলেন, ‘প্রতি হাটে দেড় থেকে দুই লাখ টাকার সুপারি বিক্রি করি। এই হাটই আমার পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস। সন্তানদের লেখাপড়াসহ সব খরচ এই ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। মাথার ওপর চালা না থাকায় বৃষ্টি হলেই দুর্ভোগ শুরু হয়। গরমের দিনে রোদের তাপে পুড়তে হয়। স্থায়ী শেড না থাকায় ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে।’
    চাষি ও ব্যবসায়ীদের দাবি, দ্রুত আধুনিক বাজার অবকাঠামো ও বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হোক। তাহলে কৃষকদের দুর্দশা যেমন লাঘব হবে, তেমনি সরকারও রাজস্ব আয় করতে পারবে।
    জাতীয় কৃষক খেত মজুর সমিতির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক তসলিম উর রহমান বলেন, পান চাষের সঙ্গে শুধু চাষিরাই নন, খেতমজুর, পরিবহন শ্রমিক, পাটচাষি এবং বিভিন্ন সহযোগী পেশার মানুষও জড়িত। তাই পান খাতকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন ।


    এ ব্যাপারে জাতীয় নাগরিক পার্টির জেলা সমন্বয় কমিটির সদস্য ও জাতীয় কৃষক শক্তির জেলা সংগঠক সালমান হাসান রাজিব বলেন, পান-সুপারির মতো একটি অর্থকরী ফসলের বাজার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন। অথচ এ রকম একটি বাজার গড়ে তোলার দায়িত্ব ছিল কৃ ষি বিভাগের। তিনি বলেন, বাজার কাঠামোর উন্নয়নের দায়িত্ব কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ওপর বর্তায়। বাজারটি যেহেতু যশোর পৌরসভার নিয়ন্ত্রণাধীন, সেহেতু স্থানীয় সরকারের এই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সমন্বয় করে তারা এটি করতে পারত। কিন্তু আমার যতদূর জানা, এই বাজারের সঙ্গে কৃষি-সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তরের কোনো সংযোগই নেই।


    যশোর পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা উত্তম কুণ্ডু বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বাজারটি এখনো ইজারা দেওয়া সম্ভব হয়নি। কেউ যদি পৌরসভার নামে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করে থাকে এবং তার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বাজারটিকে আধুনিক ও সুসংগঠিত করতে স্থায়ী হাটচান্নি ও অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে ।


    কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সিনিয়র কৃষি কর্মকর্তা কিশোর কুমার সাহা বলেন, যশোরের এই বাজারে সপ্তাহে কোটি টাকার বেশি বেচাকেনা হয়। বাজার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের হলেও কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, বাজার বিশ্লেষণ, প্রশিক্ষণ এবং বিপণন-সহায়তা দেওয়ার কাজ কৃষি বিপণন অধিদপ্তর করে থাকে।


    যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, এই বাজার থেকে কৃষক যাতে লাভবান হন, সে ব্যাপারে ভূমিকা রাখা হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
    কৃষি বিভাগের ২০২৬ সালের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, যশোর জেলায় প্রায় ১ হাজার ৪৩ থেকে ১ হাজার ১৫২ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পান চাষ হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পান উৎপাদনে যশোর দেশের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। বর্তমানে জেলায় বছরে প্রায় ৯ হাজার ৬৬৯ দশমিক ৫১ মেট্রিক টন পান উৎপাদিত হচ্ছে। এই উৎপাদন দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে ।

  • অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে কোটি টাকার ব্যাংক হিসাব বেড়েছে ৭ হাজার

    অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে কোটি টাকার ব্যাংক হিসাব বেড়েছে ৭ হাজার

    ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের সময়ে দেশে ১ কোটি টাকা বা তার বেশি আমানত থাকা ব্যক্তি শ্রেণির ব্যাংক হিসাব উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে এমন হিসাবের সংখ্যা ৩৩ হাজার ৬২৯ থেকে বেড়ে ৪০ হাজার ৬৪৫-এ পৌঁছেছে। অর্থাৎ দেড় বছরে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ৭ হাজার ১৬টি কোটি টাকার হিসাব, যা প্রায় ২১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ‘ব্যাংকিং সেক্টর আপডেট’ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যক্তি শ্রেণির কোটি টাকার হিসাবগুলোতে মোট আমানত ছিল ৮৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯১ হাজার ৪০০ কোটি টাকায়।

    অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে স্থবিরতা, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির নিম্নগতি এবং দারিদ্র্যের চাপের মধ্যে এত অল্প সময়ে কোটি টাকার হিসাবের ২১ শতাংশ বৃদ্ধি স্বাভাবিক অর্থনৈতিক প্রবণতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই এ প্রবৃদ্ধির পেছনের কারণ নিয়ে বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন খাতে নতুন প্রভাবশালী গোষ্ঠীর উত্থান ঘটে। চাঁদাবাজি, দখলসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত অর্থের একটি অংশ ব্যাংকে জমা হওয়ায় কোটি টাকার হিসাব বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    তবে সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের মতে, এর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে।
    তিনি বলেন, ‘দুর্বল ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের পর অনেক আমানতকারী তাদের স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ভেঙে তুলনামূলক শক্তিশালী ব্যাংকে স্থানান্তর করেছেন। একই সঙ্গে নগদ অর্থ ব্যাংকে রাখার প্রবণতা এবং নতুন ব্যবসায়ী শ্রেণির উত্থানও কোটি টাকার হিসাব বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।’

    রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন ক্ষমতাকেন্দ্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি দ্রুত সম্পদের মালিক হয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে যাদের হাতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ ছিল, পরিবর্তনের পর তার একটি অংশ নতুন গোষ্ঠীর হাতে যায়। এর প্রভাবও ব্যাংক হিসাব বৃদ্ধিতে পড়তে পারে।’

    অন্যদিকে, মানুষের ঘরে থাকা নগদ অর্থ ব্যাংকে জমা হওয়ার কারণেই কোটি টাকার হিসাব বেড়েছে—এমন ধারণার পক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য খুব বেশি সমর্থন দেয় না। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ব্যাংকের বাইরে জনগণের হাতে নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৮৩ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৩ হাজার ১৮ কোটি টাকায়। অর্থাৎ ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থও একই সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরীর মতে, ক্ষমতার পরিবর্তনের পর নতুন ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী শ্রেণির উত্থান এবং দুর্বল ব্যাংক থেকে আমানত স্থানান্তরের ঘটনাও কোটি টাকার হিসাব বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় বড় অঙ্কের অর্থ ব্যাংকে স্থায়ী আমানত হিসেবে রাখা হয়েছে বলেও তিনি মনে করেন।
    অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশের ১৬টি বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। এছাড়া আরও কয়েকটি ব্যাংকে চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হয়। একই সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে এবং ব্যাংকগুলো সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগে বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠে।

    এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর নজরদারি ও তদারকি জোরদার করেছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কোটি টাকার হিসাব বাড়তে পারে। তবে এর পেছনে অবৈধ বা অপ্রদর্শিত অর্থের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এদিকে, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য সঠিক হলে কোটি টাকার হিসাবের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণ খুঁজে বের করতে প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন।

    ব্যাংকিং খাতের পর্যবেক্ষকদের মতে, কোটি টাকার হিসাব বৃদ্ধি একদিকে যেমন অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক, তেমনি এর পেছনে বৈধ ব্যবসা, আমানত স্থানান্তর, বিনিয়োগের ধীরগতি কিংবা অবৈধ অর্থের প্রবাহ—কোনটি কতটা ভূমিকা রেখেছে, তা স্পষ্ট করতে প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ ও কার্যকর নজরদারি।

  • একবছরে  খেলাপি ঋণের পরিমান দ্বিগুণ হয়েছে

    একবছরে  খেলাপি ঋণের পরিমান দ্বিগুণ হয়েছে

    দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের সংকট আরও গভীর হচ্ছে। বিশেষ করে খুচরা (রিটেইল) ঋণ গ্রাহকদের মধ্যে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। গত একবছরে শ্রেণিকৃত (খেলাপি) ঋণসংবলিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে চলতি বছরের মার্চমাসের শেষে প্রায় ৪৬ লাখে পৌঁছেছে। এর বেশিরভাগই ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণের হিসাব, যা সাধারণ গ্রাহক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ছোট ব্যবসায়ীদের আর্থিক চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ‘ব্যাংকিং সেক্টর আপডেট’ শীর্ষক সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত খেলাপি ঋণ রয়েছে— এমন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫ লাখ ৪৩ হাজার, যা এক বছর আগে একই সময়ে ছিল ২১ লাখ ৬৩ হাজার। অর্থাৎ মাত্র একবছরের ব্যবধানে এ ধরনের খেলাপি হিসাবের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, খুচরা ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে এই অবনতি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, পারিবারিক ঋণের চাপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে স্থবিরতা এবং কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসার আয় কমে যাওয়ায় অনেক গ্রাহক ঋণের কিস্তি পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছেন।

    প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ ব্যাংকিং খাতে তাৎক্ষণিক ঝুঁকি তৈরি করলেও বিপুল সংখ্যক ছোট ঋণ হিসাব খেলাপি হয়ে পড়া অর্থনীতির ভেতরে গভীর আর্থিক দুর্বলতার ইঙ্গিত বহন করে। কারণ এটি সাধারণ মানুষের আর্থিক সক্ষমতা কমে যাওয়ার প্রতিফলন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মোট বকেয়া ঋণের বিপরীতে খেলাপি ঋণের অনুপাতও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে যেখানে এই হার ছিল ২৪ দশমিক ৬ শতাংশ, সেখানে ২০২৬ সালের মার্চ শেষে তা বেড়ে ৩২ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে।

    প্রতিবেদনে ব্যাংকভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত ও ইসলামী ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এসব ব্যাংকে সুশাসনের ঘাটতি ও দুর্বল ঋণ ব্যবস্থাপনার প্রভাব স্পষ্ট। অন্যদিকে, বিদেশি ব্যাংকগুলোতে কঠোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও ঋণ মূল্যায়ন পদ্ধতির কারণে খেলাপি ঋণের হার তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

    বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, ২০১৬ সালের পর প্রতিষ্ঠিত নতুন ব্যাংক এবং বিদেশি ব্যাংক বাদে অধিকাংশ রাষ্ট্রায়ত্ত, বেসরকারি ও ইসলামী ব্যাংকে গত এক বছরে খুচরা ঋণের পরিমাণও বেড়েছে। তবে সেই সঙ্গে বেড়েছে খেলাপি হিসাবের সংখ্যাও।

    খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কুটির শিল্প খাত বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এ খাতে খেলাপি ঋণের হার ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ, যা অন্যান্য খাতের তুলনায় অনেক বেশি।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ব্যবসা, কৃষি ও শিল্প— প্রায় সব খাতেই গত এক বছরে খেলাপি ঋণের হার বেড়েছে। ফলে ব্যাংকিং খাতের সম্পদের গুণগত মান, ঋণ পুনরুদ্ধার এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে শুধু বড় ঋণগ্রহীতাদের নয়, ক্ষুদ্র ও খুচরা ঋণগ্রহীতাদের আর্থিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে ঝুঁকি মূল্যায়ন আরও শক্তিশালী করা এবং নিয়মিত তদারকি বাড়ানো না গেলে ব্যাংকিং খাতে এই চাপ আরও বাড়তে পারে।

  • রপ্তানিতে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য নির্ধারণ, ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা

    রপ্তানিতে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য নির্ধারণ, ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানির লক্ষ্য ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা রপ্তানির লক্ষ্য ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। উভয় খাতেই ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ উপস্থিত ছিলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশের রপ্তানি খাত ঘুরে দাঁড়ানোর বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, বিনিয়োগ সহজীকরণ এবং সরকারি সেবার প্রক্রিয়া সরলীকরণের মাধ্যমে রপ্তানিতে নতুন গতি আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে চলতি বছরের মধ্যেই এফটিএ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শিগগিরই শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশই তৈরি পোশাক খাতনির্ভর। এই নির্ভরতা কমাতে সরকার চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ফুটওয়্যার, শিপবিল্ডিং, শিপ রিসাইক্লিং, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এসব খাতের বিকাশে শিগগিরই সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ওপর কার্যকর শুল্ক কাঠামোয় বাস্তবিক অর্থে নতুন কোনো পরিবর্তন আসেনি। আগের ১০ শতাংশ শুল্কই নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে বহাল রয়েছে। ফলে দেশের রপ্তানিতে নতুন করে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই।

    জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গ্যাস সরবরাহের সীমাবদ্ধতার কারণে শিল্প খাতের উৎপাদন সক্ষমতার একটি অংশ এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। অতিরিক্ত এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপনের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।

    তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের নীতিগত স্থিতিশীলতা, ব্যবসাবান্ধব সংস্কার, নতুন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বৃদ্ধির ফলে আগামী অর্থবছরে নির্ধারিত রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের সামনে এখন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত হয়েছে। ব্যবসা সহজীকরণ, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা দেশের রপ্তানি খাতে নতুন এক ঊর্ধ্বগতির সূচনা করতে চাই।

  • হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু সোমবার, যেতে পারবেন না যারা

    হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু সোমবার, যেতে পারবেন না যারা

    ২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন আগামীকাল সোমবার (২৭ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে। আর এ নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

    এ সময়ের মধ্যেই হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদেরকে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। ই-হজ সিস্টেমের মাধ্যমে যে কেউ নিবন্ধন করতে পারবেন। অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে হবে।

    সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঘোষিত হজ কার্যক্রমের রোডম্যাপ অনুযায়ী এই সময়সূচি ঘোষণা করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

    হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের অবশ্যই মেয়াদ সম্বলিত পাসপোর্ট থাকতে হবে। জটিল রোগে আক্রান্ত বা শারীরিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিরা হজে যেতে পারবেন না।

    নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ

    সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি যেকোনো মাধ্যমে হজের প্রাথমিক নিবন্ধন করা যাবে। প্রাথমিক নিবন্ধিত ব্যক্তিদেরকে চলতি বছরের ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্যাকেজ মূল্যের অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে হবে। প্রাথমিক নিবন্ধনের পূর্বে হজযাত্রীদের আবশ্যিকভাবে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন করতে হবে।

    যে সকল স্থানে নিবন্ধন করা যাবে

    সরকারি মাধ্যমে ই-হজ সিস্টেমে (hajj.gov.bd) ইউজার তৈরি করে যে কেউ নিজেই নিবন্ধন করতে পারবে। এ ছাড়া, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম অফিস ও ঢাকা হজ অফিসে হজের নিবন্ধন করা যাবে।

    সরকারি মাধ্যমে হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদেরকে সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ভাউচারের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন করতে হবে।

    তবে, বেসরকারি মাধ্যমের হজযাত্রীদেরকে হজ কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে এজেন্সির নির্ধারিত হিসাবে টাকা জমা দিতে হবে। এজেন্সির ব্যাংক হিসাবের তথ্য হজ পোর্টালে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির প্রোফাইলে পাওয়া যাবে।

    যে সকল ব্যক্তি হজে যেতে পারবে না

    ১৫ বছরের কম বয়সী কেউ হজে যেতে পারবে না। এছাড়া, দুরারোগ্য ব্যাধি যেমন: হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, লিভার বা কিডনি রোগ, স্নায়ুবিক বা মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত ও ডিমনেশিয়া রোগী, কেমোথেরাপি বা বায়োলজিক্যাল থেরাপি বা রেডিওথেরাপি নিচ্ছেন-এমন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী হজে যেতে পারবেন না।

    এ ছাড়া জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে এমন সক্রিয় সংক্রামক রোগ যেমন- যক্ষ্মা ও হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্ত ব্যক্তি হজে যেতে পারবে না। গর্ভাবস্থার শেষ দুই মাস ও ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় কোনো মহিলা হজযাত্রী ফিটনেস সনদ পাবে না।

    উল্লেখ্য, প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় হজযাত্রীদেরকে আবশ্যিকভাবে প্রশিক্ষণ ও টিকা গ্রহণের জেলা, হজের ধরণ ও হজ প্যাকেজ নির্বাচন করতে হবে। এ ছাড়া ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ সম্বলিত পাসপোর্ট প্রয়োজন হবে।

  • বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি বাণিজ্য বন্ধ

    বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি বাণিজ্য বন্ধ

    বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে গেট কারপাস জটিলতায় ভারত–বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা গেট কারপাস না করার কারনে শনিবার থেকে আমদানি বানিজ্য বন্ধ রয়েছে। আমদানি বানিজ্য বন্ধ থাকার কারনে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে আটকা পড়েছে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক। যার অধিকাংশই বাংলাদেশের শতভাগ রফতানিমুখী গার্মেন্টস শিল্পের কাচামাল।

    শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল থেকে সিএন্ডএফ এজেন্টের সদস্যরা আমদানি বাণিজ্য বন্ধ রাখে।

    বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি জানান, এত দিন ধরে আমরা কোনো অবৈধ মালামালের দায়ভার না নিয়ে ভারতীয় আমদানিকৃত পন্যবাহী ট্রাকের কারপাস (গেটপাস) দিয়ে গ্রহণ করে আসছি। গতকাল শনিবার কাস্টমস কর্তৃপক্ষ হঠাৎ নির্দেশনা জারি করেন, স্ব-স্ব সিএন্ডএফ এজেন্টের কর্মচারিদের দায়িত্ব নিয়ে ভারতীয় আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাক গ্রহণ করতে হবে। ওই ট্রাকে কোনো অবৈধ মালামাল থাকলে সিএন্ডএফ প্রতিনিধিকে দায়ভার নিতে হবে। এ সংক্রান্ত কোনো দায়ভার কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নেবে না। এ সংক্রান্ত কোনো দায়ভার না নেয়ার শর্তে সিএন্ডএফের পক্ষ থেকে আমরা কোনো গেটপাশ ইশ্যু করছি না। যার কারনে আমদানি বানিজ্য বন্ধ রয়েছে।

    বেনাপোল আমদানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাকদ জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, ভারতীয় ব্যাবসায়ীরা বাংলাদেশে মালামাল রফতানি করেন। তারাই ভালো জানেন পন্যের ভিতরে কি আছে? ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভাররা পথিমধ্যে কোনো অবৈধ মালামাল তুললে তার দ্বায়ভার কোনো সিএন্ডএফ এজেন্ট বা স্টাফরা নিতে পারে না। কাস্টমসের এ ধরনের সিদ্ধান্তের কারনে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি বানিজ্য বন্ধ রয়েছে।

    বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামিম হোসেন জানান, কারপাশ জটিলতার কারনে শনিবার থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে আমদানি বানজ্য বন্ধ রযেছে। তবে রফতানি ও চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্ট যাত্রী পারপার স্বাভাবিক রয়েছে।

  • বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার সেবা চালু করছে আকিজ গ্রুপ

    বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার সেবা চালু করছে আকিজ গ্রুপ

    রোগী ও যাত্রী পরিবহনে হেলিকপ্টার ব্যবসায় নামল দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী আকিজ গ্রুপ। করপোরেট, ব্যবসায়িক সফর, পর্যটন ও শিল্প খাত, ব্যক্তিগত যাত্রা এবং চিকিৎসা–সেবার জন্য বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার সেবা চালু করেছে আকিজ গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আকিজ এভিয়েশন লিমিটেড। আজ শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

    আকিজ এভিয়েশনের বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার সেবার মাধ্যমে যাত্রীরা দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর সুবিধা, আধুনিক ও আরামদায়ক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা এবং নির্ভরযোগ্য সেবা পাবেন বলে জানিয়েছে আকিজ এভিয়েশন।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে তিনটি হেলিকপ্টার নিয়ে এই সেবা চালু করেছে আকিজ এভিয়েশন। রোগী পরিবহনের জন্য বেল-৫০৫ মডেলের একটি হেলিকপ্টার এবং যাত্রী পরিষেবার জন্য রবিনসন-৬৬ মডেলের দুটি হেলিকপ্টার যুক্ত করা হয়েছে।

    আকিজ এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানায়, দ্রুত যাতায়াত ও জরুরি প্রয়োজনে দেশের শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের অনেকে এখন হেলিকপ্টার ব্যবহার করছেন। এ ছাড়া দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জরুরি উদ্ধারকাজ, মুমূর্ষু রোগী পরিবহন, জরুরি ভ্রমণ, নাটক কিংবা সিনেমার শুটিং, রাজনৈতিক নেতাদের সফর, বিবাহ অনুষ্ঠানে বরযাত্রী পরিবহন কিংবা ব্যক্তিগত যাতায়াতকে সহজ করতে দেশে এখন হেলিকপ্টারের চাহিদা বেড়েছে। তাই বিশেষ প্রয়োজনে নিরাপদ ও সময়-সাশ্রয়ী যাত্রার জন্য সব সময় পাশে থাকবে আকিজ এভিয়েশন লিমিটেড।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, খুলনা বিভাগের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে বিনা মূল্যে ‘ফ্রি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সেবা’ চালু রয়েছে। আদ্‌-দ্বীন ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে এ হেলিকপ্টার সেবা পরিচালনা করছে আকিজ এভিয়েশন।

  • পে স্কেল নিয়ে নতুন দুঃসংবাদ, বাড়ছে হতাশা

    পে স্কেল নিয়ে নতুন দুঃসংবাদ, বাড়ছে হতাশা

    দীর্ঘ ১১ বছর ধরে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে অপেক্ষায় থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে আবারও আলোচনা তুঙ্গে। গত ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকরের প্রত্যাশা থাকলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ফলে চাকরিজীবীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে।

    নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সম্প্রতি অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে সংস্থাটি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নতুন পে স্কেল সময়ের দাবি। তবে এটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থানই সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

    সরকারের রাজস্ব আয় এখনো প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছায়নি। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতির চাপও রয়েছে। এ অবস্থায় বড় পরিসরে বেতন বৃদ্ধি সরকারি ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি বাজারে অতিরিক্ত অর্থের প্রবাহ মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলেও সংস্থাটির আশঙ্কা।

    আইএমএফ

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হলে তাদের বেতন-ভাতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতার জন্য প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এ খাতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।

    এ ছাড়া ‘জনপ্রশাসন-নিট’ খাতে সংশোধিত বাজেটের তুলনায় অতিরিক্ত ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা সংরক্ষণ করা হয়েছে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য। এ অর্থ সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধিতে ব্যয় করা হবে।

    তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকারি ব্যয় বাড়লেও রাজস্ব আদায় সেই অনুপাতে বাড়ছে না। ফলে একসঙ্গে পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়ন করলে বাজেট ঘাটতি বাড়তে পারে এবং দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতেও তারল্য সংকটের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

    সরকারি সূত্রগুলোও ইঙ্গিত দিচ্ছে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এক ধাপে পুরো পে স্কেল বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে। তাই ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে মূল বেতন (বেসিক) বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা যুক্ত করা হতে পারে।

    এদিকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সম্প্রতি অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে সংস্থাটি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    আইএমএফের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সরকারের রাজস্ব আয় এখনো প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছায়নি। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতির চাপও রয়েছে। এ অবস্থায় বড় পরিসরে বেতন বৃদ্ধি সরকারি ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি বাজারে অতিরিক্ত অর্থের প্রবাহ মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলেও সংস্থাটির আশঙ্কা।

    বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশলই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত হতে পারে।

    এখন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৃষ্টি সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের দিকে।

  • জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার নিরলস কাজ করছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার নিরলস কাজ করছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি বলেছেন, জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেট শহরের যানজট নিরসনে আম্বরখানা থেকে লাক্কাতুরা পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা সিলেটবাসীর জন্য আশীর্বাদস্বরূপ হবে।

    তিনি শনিবার সিলেট সার্কিট হাউসে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত যৌথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

    সড়ক নির্মাণকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হয়ে মন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রধান সড়কগুলোর নির্মাণকাজ এবং চলমান প্রকল্পসমূহ পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

    মন্ত্রী বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আওতায় ৪২টি ওয়ার্ড রয়েছে। এসব ওয়ার্ডের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একাধিক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিলেট শহর আরও আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল নগরীতে পরিণত হবে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সড়ক অবকাঠামোসংক্রান্ত প্রধান সমস্যাগুলোরও সমাধান হবে।

    তিনি আরও বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে শহরের ছড়াগুলো সংরক্ষণ করতে হবে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে এবং বর্ষাকালে বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত খাল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। পানির উৎস থেকে নদী পর্যন্ত প্রাকৃতিক প্রবাহের সুষ্ঠু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
    সভায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    সভা শেষে সাংবাদিকদের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সিলেটের সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নে কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট থেকে ফেঞ্চুগঞ্জ হয়ে মৌলভীবাজারগামী সড়কটি আরও প্রশস্ত করা হবে। একইভাবে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লাক্কাতুরা এবং লাক্কাতুরা থেকে টিবি গেট পর্যন্ত একটি বিকল্প সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।

  • অনেক কেঁদেছিলাম: ভাবনা

    অনেক কেঁদেছিলাম: ভাবনা

    সম্প্রতি ওমরাহ পালন করে দেশে ফিরেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা। যা তিনি নিজেই জানিয়েছেন সামাজিক মাধ্যমে। প্রকাশ করেছেন একাধিক ওমরাহ সফরের ছবিও। এবার ফেসবুকে জানালেন ওমরাহর পেছনের গল্প।

    গতকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) এক পোস্টে ভাবনা লিখেছেন, ‘আমাদের ওমরাহ করতে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা হুট করে হয়। যদিও হুট করে বললে ঠিক হবে কি না। কারণ বাবা-মা সবসময় যেতে চাইতেন। আমিও যেতে চেয়েছি গত তিন বছরে, তবে সত্যি কথা হলো আমি সিদ্ধান্তে অটুট ছিলাম না। কারণ যাব ভেবেছি তারপর আর হয়নি। এবার ঈদের পর ব্যাংককে যাই। তারপর যেদিন ব্যাংককে আমার শেষ রাত পরদিন বাংলাদেশে চলে আসব। জুনের ৬ তারিখ। আমি রাতে অনেক কাঁদছিলাম আর দিয়াকে (আমার বান্ধবী) বলছিলাম আমি আল্লাহর ঘরে যেতে চাই, যত দ্রুত সম্ভব। আমার যেন কিছুতেই মন মানছিল না। মনে হচ্ছিল আমি অনেক কাঁদব আল্লাহর ঘরে গিয়ে। জুনের ২৫ তারিখ আমরা সবাই ওমরাহ করতে রওনা হই।’

    এরপর লিখেছেন, ‘আমি ফেসবুকে ততটুকুই বলি, যতটুকু বলতে চাই। এই কথাটা এজন্যই বললাম যে, আল্লাহ আমাকে তার ঘরে আসার সুযোগ দিয়েছেন। ৬ তারিখ রাত থেকে ২৫ তারিখ, কয়েকদিনের মধ্যেই আমি আল্লাহর মেহমান হতে পেরেছি।’

    নেটিজেনরা অভিনেত্রীর ওমরাহ’র ছবিগুলো দেখে অনেকেই অনেক কথা বলেছেন। যারা সমালোচনা করেছেন তাদের উদ্দেশে ভাবনা লিখেছেন, ‘আমার ওমরাহ নিয়ে আপনারা অনেক উত্তেজিত (সবাই না কিছু মানুষ)। আমার ওমরাহ হবে কি হবে না? আজেবাজে মন্তব্য করা, এটা নতুন কিছু নয়। আপনারা যারা বাজে মন্তব্য করেন তারা সংখ্যায় খুবই কম। তবে এতটুকু আপনারা নিশ্চিত জানেন, আল্লাহ যদি না চায় আপনি কি তার ঘরে যেতে পারবেন?’

    অভিনেত্রীর কথায়, ‘আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ আমাকে অনেক ভালোবাসেন, আল্লাহ তার সব বান্দাদের ভালোবাসেন। জানি না আমার ওমরাহ কবুল হয়েছে কি না। আমি কিছু জানি না। তবে এতটুকু জানি আল্লাহ আছেন। আল্লাহ সব দেখেন। আমার মনে কি আছে, আমার নিয়ত কি আল্লাহ সব বোঝেন। আমি অন্য কাউকে প্রমাণ দেব না আমি কে? আমার আল্লাহ ছাড়া আমি আর কাউকেই কিছু প্রমাণ করতে চাই না।’

    সবশেষে তিনি লিখেছেন, ‘অনেকে বলতে পারেন, ফেসবুকে কেন ওমরাহর ছবি দিলাম। আমি মক্কা-মদিনায় প্রতিটি মুহূর্ত কী কী অনুভব করেছি তা আমি আপনাদের বলতে পারিনি। তবে যারা আমাকে ফলো করে, যারা পজিটিভ মানসিকতার মানুষ তারা আমার এই সময়টা আমাকে দোয়া দিয়েছেন। সে কারণে ছবি দিয়েছি, যাতে আমাকে দেখে আরও কেউ যদি অনুপ্রাণিত হয় সেখানেই আমার সার্থকতা হবে।’

  • সেমিকন্ডাক্টর হতে পারে অর্থনীতির সম্ভাবনাময় পরবর্তী চালিকা শক্তি: প্রধানমন্ত্রী

    সেমিকন্ডাক্টর হতে পারে অর্থনীতির সম্ভাবনাময় পরবর্তী চালিকা শক্তি: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তৈরি পোশাক শিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সম্ভাবনাময় পরবর্তী প্রধান এই চালিকা শক্তিকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকার ইতিমধ্যে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিসহ সর্বাত্মক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।’

    আজ শনিবার রাজধানীর নভোথিয়েটারে ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

    বাংলাদেশকে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে দুই দিনব্যাপী ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট-২০২৬ এর আয়োজন করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যা হবে স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ ও প্রযুক্তিনির্ভর।

    সেমিকন্ডাক্টরকে চতুর্থ ও পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের অন্যতম ভিত্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, ডেটা সেন্টার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, চিকিৎসা প্রযুক্তি, মুঠোফোন থেকে শুরু করে মহাকাশ প্রযুক্তি—সব ক্ষেত্রেই চিপ বা সেমিকন্ডাক্টর অপরিহার্য।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের মধ্যেই বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজারের আকার প্রায় ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে। এই বিশাল বাজারে বাংলাদেশের জন্যও উল্লেখযোগ্য সুযোগ আছে। তাঁর বিশ্বাস, ২০৩০ সালের মধ্যে এ খাত থেকে নির্ধারিত রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।

    সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বিকাশকে শুধু একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়, বরং একটি জাতীয় মিশন হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পমালিক, উদ্যোক্তা এবং প্রবাসী বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

    এ খাতকে ত্বরান্বিত করতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চলতি বাজেটে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর থেকে সব ধরনের কর ও শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সার্ভিসের রপ্তানি আয়ের ওপর নগদ প্রণোদনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

    তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সরকার প্রথমবারের মতো বছরে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ অনুদান বরাদ্দ দিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এর বিতরণপ্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

    বিদেশি ও দেশীয় বিনিয়োগ আকর্ষণে বন্ডেড সুবিধা এবং বিশেষায়িত অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান হাইটেক পার্কগুলোর আধুনিকায়নের পাশাপাশি নতুন একটি বায়োটেক পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

    ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ ঢাকার নভোথিয়েটারেছবি: বাসস

    আন্তর্জাতিক বাজারের কঠিন প্রতিযোগিতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের এগিয়ে যাওয়ার অদম্য ইচ্ছা রয়েছে। আমাদের মেধা, দক্ষ তারুণ্য এবং উদ্ভাবনী শক্তির ওপর ভর করেই আমরা এই লক্ষ্য অর্জন করব। সরকার আপনাদের স্বপ্ন ও অদম্য ইচ্ছাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাধ্যের সবটুকু দিয়ে পাশে থাকবে।’

    প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এই সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন অংশীদারত্ব, গবেষণা উদ্যোগ এবং বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

    অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।

    ‘বৈশ্বিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যৎ নির্মাণ’—প্রতিপাদ্যে দুই দিনের এ সামিটের আয়োজন করেছে সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং সিলিকন রিভার বাংলাদেশ।

    সামিটের পাশাপাশি আয়োজিত বিইএআর ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬-এ ৩৫টি স্টলে শিক্ষার্থী ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তারা সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য ডিপ-টেক উদ্ভাবন প্রদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রী প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।

  • জোরপূর্বক শ্রম – বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক

    জোরপূর্বক শ্রম – বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক

    বাংলাদেশসহ প্রায় ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের ওপর নতুন শুল্ক কার্যকর করছে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত জোরপূর্বক শ্রম রোধে ব্যর্থতার অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    কয়েকটি দেশের ওপর ১০ শতাংশ এবং বাকিগুলোর ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাজ্য, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, জাপান, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশও রয়েছে তালিকায়।

    চলতি বছরের শুরুতে অস্থায়ীভাবে আরোপ করা ১০ শতাংশ করের মেয়াদ শেষ হওয়ার দিন, অর্থাৎ শুক্রবার থেকেই এই শুল্ক কার্যকর হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর ক্ষমতায় আসার পর বিশ্ব বাণিজ্যে যে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, এটি তারই সবশেষ সংযোজন।

    চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল যে, জরুরি ক্ষমতার আওতায় ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে যে শুল্ক আরোপ করেছিল, তার আইনি বৈধতা ছিল না।

    এরপর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার প্রধান বাণিজ্য নীতি বাস্তবায়নের জন্য অন্যান্য আইনি পথ খুঁজতে শুরু করেন। গত মাসেই হোয়াইট হাউস ডজনখানেক দেশ থেকে মার্কিন উপকূলে পৌঁছানো পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কের একটি ধারাবাহিক প্রস্তাব দিয়েছিল।

    কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল যে, দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রম মোকাবিলায় পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বৃহস্পতিবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার, ট্রাম্পের নির্দেশ অনুযায়ী জানান যে এই শুল্কগুলো এখন থেকে কার্যকর হবে।

    তার এক বিবৃতিতে বলা হয়, “আজকের এই পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বাণিজ্য বিকৃতির মতো বিষয়গুলোর সংশোধন শুরু করবে, যা সব সময় শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।”

    গ্রিয়ার ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের সেকশন ৩০১ প্রয়োগ করেছেন, যা মার্কিন বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত বা ক্ষুণ্ণ করে এমন অনুশীলনের বিরুদ্ধে মার্কিন বাণিজ্য ব্যবস্থাপনাকে নিয়ন্ত্রণ করে।

    এর আগে চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসন কানাডার পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে ১৯৩০ সালের শুল্ক আইনের সেকশন ৩৩৮ বিধানের আশ্রয় নিয়েছিল।

    বৃহস্পতিবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় জানায় যে, বাণিজ্য অংশীদাররা “জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ” হওয়ার কারণে এই নতুন শুল্কগুলো আরোপ করা হচ্ছে।

    এতে আরও বলা হয়, নতুন এই শুল্কগুলো যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ৬০টি বাণিজ্য অংশীদারের ওপর প্রযোজ্য হবে, যা মার্কিন আমদানির ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পূর্ণ করে।

    কার্যালয়টি জানিয়েছে যে, ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে অন্যান্য দেশের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ অংশ হিসেবে জোরপূর্বক শ্রম দিয়ে তৈরি পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞাকে বাধ্যতামূলক করেছেন।

    যেসব বাণিজ্য অংশীদার দেশ জোরপূর্বক শ্রম দিয়ে তৈরি পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করার বিষয়ে “অঙ্গীকার করেছে এবং কার্যকরভাবে তা বাস্তবায়ন করেছে”, তাদের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে।

    আর যারা তা করেনি, তাদের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ উচ্চ হার প্রযোজ্য হবে, জানিয়েছে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়।

    ১০ শতাংশ শুল্কের আওতায় যেসব দেশ পড়েছে তার মধ্যে আছে- আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, কানাডা, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো এবং যুক্তরাজ্য।

    কমপ ১০ শতাংশ, যদি তারা: (i) জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করে; (ii) পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দেয়; অথবা (iii) এমন একটি আংশিক ব্যবস্থা চালু করে যা নির্দিষ্ট কিছু জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি প্রতিরোধের প্রভাব ফেলে।

    যেসব পণ্য অন্য কোনো ছাড়ের আওতায় পড়ে না, সেসব ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, কোরিয়া এবং সুইজারল্যান্ডের নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের জন্য সেকশন ৩০১ শুল্কের উপযুক্ত হার হবে সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের (এমএফএন) হারের অতিরিক্ত ১০ শতাংশ অথবা ১২.৫ শতাংশ, যার আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে অন্যান্য সব তদন্তভুক্ত অর্থনীতির জন্য ১২.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়েছে।

    গ্রিয়ার তার বিবৃতিতে বলেন, যেসব বাণিজ্য অংশীদার জোরপূর্বক শ্রম দিয়ে তৈরি পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত দ্রুত গ্রহণ করেছে, তাদের দেখে তিনি “উৎসাহিত বোধ করছেন” এবং তাদের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার বিষয়টি দেখতে অপেক্ষা করছেন।

    ট্রাম্পের বিশেষ নীতি

    ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তি দিয়ে আসছেন যে, শুল্ক মার্কিন শ্রমিকদের সুরক্ষা দেয়, উৎপাদন খাতে আরও বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করে এবং মার্কিন অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে।

    গত বছর হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর, বৈশ্বিক বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি বলেছিলেন যে, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের দ্বারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুগের পর যুগ ধরে যে অন্যায় আচরণের শিকার হয়েছে, তা মোকাবিলা করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    কিন্তু গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয় এবং জানায় যে প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদন না নিয়েই তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। ওই সময় কোম্পানিগুলোকে শুল্ক বাবদ পরিশোধ করা কয়েক হাজার কোটি ডলার ফেরতও দেওয়া হয়েছিল।

    তবে, তখন থেকেই আমদানি শুল্ক আরোপের বিকল্প উপায়গুলো খতিয়ে দেখতে শুরু করে হোয়াইট হাউস। যার মধ্যে একটি অস্থায়ী সমাধান হিসেবে এই ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    এদিকে, ব্রাজিল ও কানাডার মতো দেশগুলোর ওপরও বিভিন্ন ধরনের একগুচ্ছ শুল্ক আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি বর্তমানে স্থগিত থাকলেও পাল্টাপাল্টি শুল্ক যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনও।

    অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন যে, উচ্চ শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কফি এবং মাইক্রোওয়েভের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।

    যেহেতু আমদানিকারক কোম্পানিগুলোকেই কর পরিশোধ করতে হয়, তাই সেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই উচ্চমূল্যের মাধ্যমে ক্রেতাদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপিয়ে দেয়।

    শ্রম বিধিমালার মতো বাণিজ্যবহির্ভূত বিষয়ের মাধ্যমে মেক্সিকোর মতো অন্যান্য দেশের ওপরও চাপ সৃষ্টি করতে এই শুল্কগুলো ব্যবহার করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

    এর জবাবে অনেক বাণিজ্য অংশীদার দেশ ইতোমধ্যে সম্ভাব্য আইনি লড়াই অথবা পাল্টা শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে।

    মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি বর্তমানে ১৬টি দেশের ওপর তদন্ত পরিচালনা করছেন- যা মার্কিন আমদানির সিংহভাগ জুড়ে রয়েছে- এবং এই দেশগুলোর বিরুদ্ধে উৎপাদন সক্ষমতা অতিরিক্ত বাড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে, যা চলতি বছরের শেষের দিকে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পথ প্রশস্ত করতে পারে।

    অন্য দেশগুলো কী বলেছে?

    ব্রাজিলসহ কয়েকটি দেশ এ ঘোষণার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

    ব্রাজিলের সরকার যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপকে ‘অন্যায্য’ এবং ‘খামখেয়ালিপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়কে নিজেদের সুরক্ষাবাদী বাণিজ্য নীতির সমর্থনে ব্যবহার করার জন্য ওয়াশিংটন বেছে নিয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ১২.৫ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়া ব্রাজিল আরও জানিয়েছে, তারা তাদের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে এবং পণ্য বিক্রির জন্য অন্যান্য বাজারও বিবেচনা করবে।

    এর আগে এ মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিল থেকে আমদানি করা আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, চিনি এবং অন্যান্য পণ্যের ওপর পৃথকভাবে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। তবে গরুর মাংস ও কফিসহ কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে অব্যাহতি বহাল রাখা হয়।

    জাপান সরকার শুক্রবার জানিয়েছে, নতুন মার্কিন শুল্ক আরোপের ঘটনায় তারা “দুঃখ প্রকাশ” করছে। তাদের বক্তব্য, জাপানের বাণিজ্য আন্তর্জাতিক নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই পরিচালিত হয়।

    অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ডন ফ্যারেল বলেছেন, এই শুল্ক আরোপ “সম্পূর্ণভাবে অন্যায্য”। তিনি আরও বলেন, তার দেশের পণ্যের ওপর আরোপিত সব শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য তিনি ওয়াশিংটনের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবেন।

    চীন এর আগেও বলেছে যে তারা যেকোনো ধরনের একতরফা শুল্ক আরোপের বিরোধী। একই সঙ্গে দেশটি জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগও অস্বীকার করেছে।

    চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেছেন, “চীনে তথাকথিত কোনো জোরপূর্বক শ্রম নেই এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রভাব খাটানোর অজুহাত হিসেবে এ বিষয়টি ব্যবহার করার আমরা বিরোধিতা করি।” তবে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন বলেছে, চীনে জোরপূর্বক শ্রমের অস্তিত্ব রয়েছে, বিশেষ করে শিনজিয়াং অঞ্চলের মুসলিম জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে।

  • দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে বিশ্বে তেলের মজুত

    দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে বিশ্বে তেলের মজুত

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় বৈশ্বিক তেলের বাজার বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বা পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর গত কয়েক মাসে বিশ্বের তেলবাজার বিভিন্ন বিকল্প সরবরাহপথ ব্যবহার করে বড় ধাক্কা সামাল দিতে সক্ষম হয়েছিল। ফলে ভোক্তাদের ওপর মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির ব্যয় বৃদ্ধির চাপ তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। যুদ্ধের সময় তেলের দাম বাড়লেও তা ২০২২ সালের ১২৮ ডলার বা ২০০৮ সালের বৈশ্বিক মন্দার আগে রেকর্ড ১৪৬ ডলার প্রতি ব্যারেলের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে এবং সেই বিকল্প ব্যবস্থাগুলোও একে একে দুর্বল হয়ে পড়ছে।

    আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটসের বৈশ্বিক কৌশল বিভাগের প্রধান হেলিমা ক্রফট বলেন, সংঘাত এখন অনেক বেশি বিপজ্জনক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এতদিন বাজারে যে ধারণা ছিল যে যেকোনো সংকটেরই বিকল্প পথ খুঁজে পাওয়া যায়। তবে এবার সেই ধারণা বদলে যেতে পারে।

    বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম মে মাসের পর প্রথমবারের মতো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রলের দাম ৪ ডলারের ওপরে এবং ডিজেলের দাম ৫ দশমিক ২০ ডলারের বেশি হয়েছে। বন্ডবাজারও ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    এতদিন সংঘাত এড়িয়ে লোহিত সাগর হয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন সম্ভব হচ্ছিল। তবে এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে।

    ইরানের হামলার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এর ফলে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল বিকল্প পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের পথে সরিয়ে নেয়া হচ্ছিল। কিন্তু এখন সেই পথও ঝুঁকিতে পড়েছে। ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর অবরোধের কারণে বাব আল-মান্দেব প্রণালিও কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

    এর ফলে সৌদি আরবের প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    যদিও সুয়েজ খাল হয়ে বিকল্প পথে তেল পাঠানো সম্ভব, তবে বড় আকারের পূর্ণ বোঝাই তেলবাহী জাহাজ ওই পথ ব্যবহার করতে পারে না। ফলে চার সপ্তাহের একটি যাত্রা আট সপ্তাহ পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে।

    বীমা নিয়েও নতুন সংকট

    সংঘাতের শুরুতে যুদ্ধঝুঁকির কারণে বীমার খরচ বেড়েছিল, কিন্তু জাহাজগুলো অন্তত বীমা পাচ্ছিল। এখন পরিস্থিতি আরও জটিল। ইরান আবারও প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ থেকে ২ ডলার টোল আরোপের পরিকল্পনা করেছে বলে জানা গেছে।

    লয়েডস মার্কেট অ্যাসোসিয়েশন (এলএমএ) জানিয়েছে, কোনো জাহাজ যদি ইরানকে এই টোল দেয়, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট জাহাজের পুরো বীমা বাতিল হয়ে যেতে পারে।

    অন্যদিকে টোল না দিলে ইরান হামলার হুমকি দিচ্ছে। ফলে জাহাজগুলো কার্যত কোনো নিরাপদ বিকল্প পাচ্ছে না।

    রাশিয়াও বাড়াচ্ছে সংকট

    বিশ্লেষকদের মতে, তেলের সংকট এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি তেল শোধনাগার এবং কৃষ্ণ সাগরের ক্যাসপিয়ান পাইপলাইন কনসোর্টিয়ামের টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    এর ফলে রাশিয়ায় জ্বালানির ঘাটতি তৈরি হওয়ায় দেশটি ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করেছে। যুদ্ধের আগে রাশিয়া প্রতিদিন প্রায় ৮ লাখ ব্যারেল ডিজেল রপ্তানি করত, যা বৈশ্বিক ডিজেল সরবরাহের প্রায় ১২ শতাংশ।
    এ ছাড়া কৃষ্ণ সাগরের পাইপলাইনে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক বাজার থেকে প্রতিদিন আরও প্রায় ১৭ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    দ্রুত কমছে বৈশ্বিক মজুত

    বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংকটের সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো বৈশ্বিক তেলের মজুত দ্রুত কমে যাওয়া। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অপরিশোধিত তেলের মজুত ছিল রেকর্ড উচ্চতায়। কিন্তু গত পাঁচ মাসে সেই মজুত প্রায় ১৩০ কোটি ব্যারেল কমে গেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেলভাণ্ডারও ১৯৮৩ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। গত বসন্তের পর থেকে সেখান থেকে ১১ কোটি ৬০ লাখ ব্যারেল তেল ব্যবহার করা হয়েছে।
    একই সঙ্গে দেশটির বাণিজ্যিক তেলের মজুতও পরিচালনাগত সর্বনিম্ন সীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে।

    চীনের মজুতও শেষের পথে

    গত কয়েক মাসে তেলের চাহিদা কিছুটা কম ছিল, কারণ যুদ্ধ শুরুর আগেই চীন বিপুল পরিমাণ তেল মজুত করেছিল। তবে বিশ্লেষকদের মতে, চীন আর বেশিদিন শুধু মজুতের ওপর নির্ভর করতে পারবে না। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে দেশটিকে আবারও বড় পরিসরে তেল আমদানি বাড়াতে হবে।

    তেলের দাম কোথায় যেতে পারে?

    গোল্ডম্যান স্যাকসের তেলবিষয়ক গবেষণা বিভাগের প্রধান ড্যান স্ট্রুইভেনের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে আগামী অক্টোবরের মধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ২০২২ সালের মতো ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের বেশি হতে পারে।

    অন্যদিকে আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটসের হেলিমা ক্রফটের আশঙ্কা আরও বেশি। তার মতে, যদি মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম নতুন রেকর্ড গড়ে ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারও অতিক্রম করতে পারে।

  • ৮০০ কোটি টাকায় জমি ও বহুতল ভবন কিনবে পূবালী ব্যাংক

    ৮০০ কোটি টাকায় জমি ও বহুতল ভবন কিনবে পূবালী ব্যাংক

    ২২ জুলাই অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    তথ্যানুযায়ী, ব্যাংকটি ৯৫ দশমিক ১০ শতাংশ বা ৫৭ দশমিক ৬৪ কাঠা আয়তনের জমির সঙ্গে ‘সুইস টাওয়ার’ নামে ২৬ তলাবিশিষ্ট নির্মাণাধীন ভবন অধিগ্রহণ করবে, যেখানে তিনটি বেজমেন্ট ফ্লোর রয়েছে। ভবনটি রাজধানীর ২০৮, বীর উত্তম মীর শওকত সড়কে (তেজগাঁও লিংক রোড) অবস্থিত।

    এ সম্পদ অধিগ্রহণে ব্যাংকটির মোট ব্যয় হবে ৮০০ কোটি টাকা। এ ব্যয়ের মধ্যে আয়কর অন্তর্ভুক্ত থাকলেও ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত নয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে জমি ও নির্মাণাধীন ভবনটি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে পূবালী ব্যাংক।

    সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ব্যাংকটি। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ ও ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৮ টাকা ৩৮ পয়সা। আগের হিসাব বছরে ইপিএস ছিল ৫ টাকা ৯৯ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫৪ টাকা ৩২ পয়সায়।

    ২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের মোট ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটির পর্ষদ। এর মধ্যে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ ও ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে পূবালী ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৬ টাকা ৭৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬ টাকা ১ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৬ টাকা ৮ পয়সায়।

    ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের মোট ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটির পর্ষদ। এর মধ্যে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ ও ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে পূবালী ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৬ টাকা ৭৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ৪৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৬ টাকা ৩৩ পয়সায়।

    ২০২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে পূবালী ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ৪৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪ টাকা ২৩ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪১ টাকা ৯৬ পয়সায়।

    পূবালী ব্যাংকের সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘এএএ’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-১’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ২০২৬ হিসাব বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস পিএলসি (সিআরআইএসএল)।

    ১৯৮৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পূবালী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৫৬১ কোটি ৭২ লাখ ২০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৫ হাজার ৫০৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৫৬ কোটি ১৭ লাখ ২১ হাজার ৮৪২। এর ৩১ দশমিক ৮৭ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৪ দশমিক ৫৭, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক শূন্য ৫ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৪৩ দশমিক ৫১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

  • বাংলাদেশসহ ৬০ বাণিজ্য অংশীদারের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের

    বাংলাদেশসহ ৬০ বাণিজ্য অংশীদারের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের

    ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-সহ ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদারের পণ্যের ওপর ১০ ও ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে নতুন শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্পের প্রশাসন। আজ থেকে কার্যকর হওয়া এ শুল্কের আওতায় বাংলাদেশও রয়েছে। জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে শিথিলতার অভিযোগ এনে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সময়ে বিশ্বব্যাপী আরোপ করা অস্থায়ী ১০ শতাংশ মার্কিন শুল্কের মেয়াদও শেষ হচ্ছে। খবর রয়টার্স।

    হোয়াইট হাউজের এ পদক্ষেপকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বৈশ্বিক শুল্কব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সর্বশেষ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় জরুরি অবস্থা আইনের আওতায় গত বছর আরোপ করা ট্রাম্পের ১০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত তথাকথিত রেসিপ্রোকাল শুল্ক বাতিল করে দেয় মার্কিন উচ্চ আদালত। ওই শুল্কের উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো।

    গতকাল ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া মোট পণ্যের ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশের ওপর প্রযোজ্য হবে। তবে জ্বালানি তেল-গ্যাস, সার এবং কিছু খাদ্যপণ্যসহ বেশ কিছু পণ্য এর বাইরে থাকবে।

    ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় এ শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। এর ফলে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও যুক্তরাষ্ট্র কার্যত প্রায় সব আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ন্যূনতম শুল্ক বজায় রাখতে পারবে। এছাড়া সেকশন ৩০১ অতীতে আদালতে টিকে যাওয়ায় নতুন শুল্কের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জের ঝুঁকিও তুলনামূলক কম বলে মনে করা হচ্ছে।

    মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেছেন, প্রায় এক শতাব্দী ধরে যুক্তরাষ্ট্রে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং আমরা তা কঠোরভাবে কার্যকর করি। এখন সময় এসেছে আমাদের বাণিজ্যিক অংশীদাররাও একইভাবে ব্যবস্থা নেবে। আজকের পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিকৃত বাণিজ্যচর্চা সংশোধনের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে শ্রমিকদের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে।

    এর আগে গ্রিয়ার জানিয়েছিলেন, যেসব দেশের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বাণিজ্য চুক্তিতে মার্কিন শুল্কের সর্বোচ্চ হার নির্ধারণ করা হয়েছে, নতুন ‘জোরপূর্বক শ্রম’ শুল্ক সেই সীমার ওপরে যাবে না।

    বাংলাদেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক

    চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, ব্রিটেন, কম্বোডিয়া, কানাডা, একুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ হবে।

    অন্যদিকে ইইউ, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ‘মোস্ট-ফেভার্ড-নেশন’ শুল্কের সঙ্গে মিলিয়ে মোট শুল্কহার ১০ অথবা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হবে।

    বাকি ৩৮টি দেশের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে। এর মধ্যে রয়েছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, দেশটি উইঘুর সংখ্যালঘুদের শ্রমশিবিরে আটক রেখে কাজ করায়। যদিও বেইজিং এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

    ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা চীনা কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, গত নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য যুদ্ধবিরতিতে যে ২০ শতাংশ শুল্কহারে সম্মতি হয়েছিল, সেটিই পুনর্বহাল করা হবে। এর বেশি বাড়ানো হবে না। শুক্রবারের নতুন ব্যবস্থা কার্যকরের আগে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে শিল্পপণ্যের ওপর আরোপিত ২৫ শতাংশ শুল্ক বাদ দিলে চীনা পণ্যের ওপর কার্যকর শুল্ক ছিল ১০ শতাংশ।

    ইউএসটিআরের নথিতে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ-সংক্রান্ত তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিবেচনা করা হয়েছে এআরটি (এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড)-এর অধীনে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বাধ্যবাধকতা। একইসঙ্গে জনমত, সাক্ষ্য, সেকশন ৩০১ কমিটি এবং উপদেষ্টা কমিটিগুলোর পরামর্শও বিবেচনা করা হয়েছে। এর পর প্রেসিডেন্টের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী নোটিশের অ্যানেক্স-১ এবং অ্যানেক্স-২, পার্ট এ ও জে অংশে উল্লিখিত ব্যতিক্রম ছাড়া বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিনিধি ।

    আরো বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী বাণিজ্য প্রতিনিধি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, তদন্তে ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত কার্যকলাপ, নীতি ও চর্চা দূর করার লক্ষ্যে নির্ধারিত শুল্কহার, শুল্কের আওতা এবং অব্যাহতিগুলো উপযুক্ত।

    উল্লেখ্য যে নোটিশের অ্যানেক্স-১ এবং অ্যানেক্স-২, পার্ট এ ও জে অংশে কোনো দেশের জন্য আলাদা করে কিছু লেখা নেই। বরং সেখানে যেসব পণ্য ১০ শতাংশ শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে, সেগুলোর তালিকা (এইচটিএসইউএস কোড অনুযায়ী) দেয়া হয়েছে।

    বিভিন্ন দেশের প্রতিবাদ

    নতুন শুল্ক ঘোষণার পরপরই কয়েকটি দেশ এর প্রতিবাদ জানিয়েছে।

    নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ আইদে বলেন, নরওয়ের বিরুদ্ধে এ শুল্ক আরোপের কোনো ভিত্তি নেই। কারণ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য ঠেকাতে আমাদের আগে থেকেই সুস্পষ্ট নিয়ম রয়েছে।

    অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিল এ শুল্ককে অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানায়। চলতি সপ্তাহে ২ হাজার কোটি ডলারের পণ্যের ওপর নতুন ট্রাম্প শুল্কের মুখে পড়া কানাডা তুলনামূলক সংযত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একে ‘একতরফা’ পদক্ষেপ বলে অভিহিত করে।

    ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্র্যাট গভর্নর মওরা হিলিও এ শুল্কের সমালোচনা করে বলেন, ‘এতে ব্যয় বাড়বে, ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা দুর্বল হবে। এর বোঝা বহন করার সামর্থ্য কারো নেই।’

    একই হার, ভিন্ন আইনি ভিত্তি

    ওয়াশিংটনের আইন প্রতিষ্ঠান উইলি রেইনের বাণিজ্য আইনজীবী টিম ব্রাইটবিল বলেন, প্রত্যাশিতভাবেই জোরপূর্বক শ্রমভিত্তিক শুল্ক বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তিতে নির্ধারিত বর্তমান শুল্কহারই মূলত বহাল রাখছে এবং শুক্রবার শেষ হওয়া সেকশন ১২২-এর ১০ শতাংশ শুল্কের জায়গা নিচ্ছে।

    তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ ধারণা নাকচ করে বলেন, সময়, হার ও প্রায় সব আমদানিপণ্যের ওপর প্রযোজ্য হওয়ার কারণে এটি আগের শুল্কের সরাসরি বিকল্প— এমন ধারণা সঠিক নয়।

    তার ভাষ্য, জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় কঠোরভাবে কার্যকর হয়। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো যথাযথ ব্যবস্থা না নিয়ে অন্যায্য বাণিজ্যিক সুবিধা পেয়ে থাকে।

    সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও বর্তমানে বাণিজ্য আইনজীবী রায়ান মেজেরাস বলেন, সেকশন ৩০১ অতীতে আদালতে টিকে থাকায় নতুন শুল্ককে আইনি চ্যালেঞ্জে বাতিল করা আরো কঠিন হতে পারে।

    যেসব পণ্য শুল্কমুক্ত থাকবে

    প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা জানান, জ্বালানি তেল ও গ্যাস, সার, কিছু খাদ্যপণ্য এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সেকশন ২৩২-এর আওতায় আগে থেকেই শুল্কের মুখে থাকা গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার মতো পণ্য নতুন শুল্কের আওতার বাইরে থাকবে।

    এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) শর্ত পূরণকারী পণ্যও শুল্কমুক্ত থাকবে। কারণ উত্তর আমেরিকার সমন্বিত সরবরাহ ব্যবস্থা এবং এসব পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চমাত্রার উপাদান ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।

  • কমেছে সামগ্রিক পোশাক রপ্তানি

    কমেছে সামগ্রিক পোশাক রপ্তানি

    চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানি আয় সামান্য কমেছে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পোশাক রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ৯৩৩ কোটি ৫৭ লাখ ডলারের, যা গত বছরের একই সময়ের এক হাজার ৯৪৫ কোটি ৯৩ লাখ ডলারের তুলনায় শূন্য দশমিক ৬৩ শতাংশ কম। এর মধ্যে ওভেন পোশাক রপ্তানি কিছুটা বাড়লেও নিট পণ্যে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির কারণে সামগ্রিক রপ্তানি কমেছে।

    রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ওভেন পোশাক থেকে রপ্তানি আয় এসেছে ৯১৯ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৯১৩ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। ফলে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে শূন্য দশমিক ৬৮ শতাংশ।

    অন্যদিকে, নিট পোশাক রপ্তানি আয় কমেছে এক দশমিক ৮০ শতাংশ। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন সময়ে নিট পণ্য রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ১৩ কোটি ৫৮ লাখ ডলারের। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ আয় ছিল এক হাজার ৩২ কোটি ১৭ লাখ ডলার।

    মাসভিত্তিক হিসাবে বছরের শুরুতেই পোশাক রপ্তানিতে ধাক্কা দেখা যায়। জানুয়ারিতে মোট আরএমজি রপ্তানি হয়েছে ৩৬১ কোটি ৪৮ লাখ ডলারের, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় এক দশমিক ৩৫ শতাংশ কম। ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি কমেছে ১৩ দশমিক ২১ শতাংশ এবং মার্চে ১৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এ সময় ওভেন ও নিট–দুই ধরনের পোশাকেই রপ্তানি কমেছে।

    তবে এপ্রিল মাসে ঘুরে দাঁড়ায় খাতটি। ওই মাসে মোট পোশাক রপ্তানি ৩১ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে ৩১৪ কোটি ৯ লাখ ডলারে উন্নীত হয়। ওভেন রপ্তানি ৩২ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং নিট পোশাক ৩০ দশমিক ২ শতাংশ বাড়ে।

    এর পরের মাস মে-তে আবার রপ্তানি কমে যায়। এ মাসে মোট আয় হয়েছে ৩৫৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় আট দশমিক ২৯ শতাংশ কম। জুনে অবশ্য প্রবৃদ্ধির ধারায় ফেরে পোশাক রপ্তানি। শেষ মাসে ৩৩৮ কোটি ৭৭ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা এক বছরের ব্যবধানে ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ বেশি। জুনে ওভেন পোশাকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৪ দশমিক ২ শতাংশ, আর নিটে ১৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

    বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আমার দেশকে বলেন, চলতি বছরের প্রথমার্ধে তৈরি পোশাক রপ্তানির সামগ্রিক চিত্রে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। তবে প্রথম ছয় মাসের এই প্রবৃদ্ধি বছর শেষে থাকবে কি না সন্দেহ আছে।

    তিনি বলেন, বিএনপির আগের আমলে ২০০৫ ও ২০০৬ সালের দিকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য তখন বিকেএমইএর সদস্য সংখ্যা ছিল আড়াই হাজার। এরপর দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়ায় শিল্প মালিকদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়, বর্তমানে বিকেএমইএর সদস্য সংখ্যা ৮০০-তে নেমে এসেছে।

    খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বছরের শুরুতে রপ্তানি কমলেও জুনে এসে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। একই সঙ্গে ওভেন পোশাকে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা বাংলাদেশের সক্ষমতার একটি ইতিবাচক দিক। মাত্র শূন্য দশমিক ৬৩ শতাংশ রপ্তানি কমা থেকে বোঝা যায়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নানা অনিশ্চয়তা ও বাজার সংকটের মধ্যেও দেশের পোশাক খাত মোটামুটি স্থিতিশীল অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। সময়মতো পণ্য সরবরাহ, উৎপাদন সক্ষমতা এবং পরিবেশবান্ধব কারখানার কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতাও এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

    তাদের মতে, সামনে চ্যালেঞ্জ অনেক। বিশ্ব অর্থনীতির মন্থর গতি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে চাহিদার দুর্বলতা, বাড়তি উৎপাদন ব্যয় ও জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি ক্রেতাদের কাছ থেকে কম দামে পণ্য সরবরাহের চাপ–রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে বাধা তৈরি করতে পারে। এর সঙ্গে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর শুল্ক সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকে নতুন প্রতিযোগিতার মুখে ফেলবে। এ পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে প্রচলিত পণ্যনির্ভর ব্যবসা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চমূল্যের পোশাক, বৈচিত্র্যময় পণ্য এবং নতুন বাজার তৈরিতে জোর দিতে হবে। এতে একদিকে উৎপাদন দক্ষতা বাড়বে, অন্যদিকে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাও আরো শক্তিশালী হবে।

  • সরকারি প্রাথমিকে আস্থা কমছে!

    সরকারি প্রাথমিকে আস্থা কমছে!

    • এক যুগে শিক্ষার্থী কমেছে ১ লাখ ৩৭ হাজার

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যের বই, উপবৃত্তি, বেতনমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থাসহ নানা সুবিধার পরও কমছে শিক্ষার্থী। শুধু রাজশাহী বিভাগেই গত এক যুগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কমেছে প্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজার শিক্ষার্থী। অন্যদিকে ওই সময়ে শিক্ষার্থী বেড়েছে কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এই পরিবর্তন সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার প্রতি মানুষের আস্থা ও প্রত্যাশার পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

    প্রাথমিক শিক্ষায় সরকারের বিনিয়োগ প্রতি বছরই বাড়ছে। চলতি অর্থবছরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা। এই অর্থ ব্যয় হচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, বিদ্যালয় পরিচালনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, বিনামূল্যের পাঠ্যবই, উপবৃত্তি এবং বিভিন্ন শিক্ষাসহায়তা কার্যক্রমে।

    রাষ্ট্রের এই বিপুল বিনিয়োগের পরও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের। অবশ্য অভিভাবকদের বড় অংশের ভাষ্য, তারা এখন শুধু বিনামূল্যের শিক্ষা নয়; সন্তানের শেখার মান, নিয়মিত পাঠদান, পরীক্ষা, শিক্ষক-অভিভাবক যোগাযোগ এবং ব্যক্তিগত নজরদারিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে বাড়তি খরচ হলেও সন্তানকে পাঠাচ্ছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে রাজশাহী বিভাগের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ছিল ১৩ লাখ ৯ হাজার ৭৫ জন। ২০২৬ সালে সে সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৯৯২ জনে।

    অন্যদিকে একই সময়ে কিন্ডারগার্টেন ও অন্যান্য বেসরকারি প্রাথমিক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী বেড়েছে। ২০১৪ সালে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ছিল ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৯৬৬ জন। ২০২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪ হাজার ৩০ জনে।

    এদিকে সর্বশেষ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগের জনসংখ্যা ২ কোটি ৩ লাখ ৫৩ হাজার ১১৬ জন। ২০১১ সালের জনশুমারিতে এ সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৮৪ লাখ ৮৪ হাজার ৮৫৮ জন। অর্থাৎ এক দশকের ব্যবধানে বিভাগে জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৮ লাখ ৬৮ হাজার।

    অভিভাবকদের দাবি, নিয়মিত ক্লাস, বাড়ির কাজ, পরীক্ষা, ইংরেজি শিক্ষা, শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সন্তানের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তাদের কাছে।

    রাজশাহীর শাহীন স্কুলে ছেলেকে পড়ান সাজু নামের এক অভিভাবক। তিনি বললেন, ‘সন্তানকে প্রাথমিকে পড়ানোর কথা চিন্তাই করতে পারি না। সেখানে আধুনিক শিক্ষার বালাই নেই। ইংরেজিতে দক্ষ করে গড়ে তোলাসহ একজন শিক্ষার্থীকে মানসম্মত পাঠদানের জন্য ভালোমানের বেসরকারি বিদ্যালয়ে পড়ানোর বিকল্প নেই।’

    সরেজমিনে রাজশাহীর বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়েও শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার চিত্র পাওয়া গেছে। পবা উপজেলার কাটাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলতি বছর প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে মাত্র ১০ শিক্ষার্থী। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আশপাশে কিন্ডারগার্টেন গড়ে ওঠার পর অনেক শিক্ষার্থী সরকারি বিদ্যালয় ছেড়ে সেখানে চলে গেছে।

    উপজেলার আকশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও কমেছে শিক্ষার্থী। পাঁচ বছরের ব্যবধানে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী সংখ্যা ৫৫০ থেকে কমে প্রায় ৩৫০ জনে নেমে এসেছে। একই সময়ে বিদ্যালয়ের আশপাশে গড়ে উঠেছে একাধিক কিন্ডারগার্টেন।

    তবে সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমার কারণ নিয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি শিক্ষা কর্মকর্তারা। তাদের মতে, এর পেছনে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন, অভিভাবকদের আর্থসামাজিক অবস্থা, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিস্তারসহ একাধিক বিষয় কাজ করতে পারে। প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক গবেষণা।

    প্রাথমিক শিক্ষার রাজশাহী বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নূর আখতার জান্নাতুল ফেরদৌস বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীর সংখ্যা কেন কমেছে, এটি এক কথায় বলা সম্ভব নয়। এটি নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে গবেষণা হলে বিস্তারিত বলা যাবে।’

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. আকতার বানু বললেন, ‘অভিভাবকরা সন্তানের ভবিষ্যৎ বিবেচনা করেই বিদ্যালয় নির্বাচন করেন। যেখানে তারা বেশি আস্থা পান, সেখানেই সন্তানকে ভর্তি করেন। তাই সরকারি বিদ্যালয়ের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা।’

  • যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মধ্যেই ইরান সফরে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী

    যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মধ্যেই ইরান সফরে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী

    যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান সংঘাতের মধ্যেই দু’দিনের সরকারি সফরে ইরানে গেছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল জাইদি।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) তেহরান পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান ইরানের অর্থমন্ত্রী আলী মাদিনেজাদেহ। পরে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে বৈঠক করেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী।

    ইরানের প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে জাইদি তেহরানে গেছেন বলে ইরাক সরকারের মুখপাত্র হায়দার আব্বুদ জানিয়েছেন।

    সফরকালে জাইদি ওই অঞ্চলের ‘উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা ছাড়াও ইরানের কাছ থেকে গ্যাস আমদানিসহ বেশকিছু বাণিজ্যিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।

  • মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ

    মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ

    ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে বাণিজ্যিকভাবে মালচিং পদ্ধতিতে টমেটোর চাষ শুরু হয়েছে। এ পদ্ধতিতে স্বল্প সময়ে অল্প ব্যয় করে চাষিরা ফসল ঘরে তুলতে পারায় এ চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। এদিকে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করতে সরকারিভাবে সাত জনকে অধিক ফলন পাওয়া যায় প্রদর্শনী প্লট দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন ।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুরে এখন দুই মৌসুমে টমেটোর চাষ হয়ে থাকে। একটি শীতকালীন, আরেকটি গ্রীস্মকালীন। শীতকালীন টমেটোর চাষ আগে থেকেই হয়ে আসছে । অনেক কৃ ষক এ চাষটি করে থাকেন। এসময় মৌসুমের প্রথমে টমেটো বাজারজাত করতে পারলে চাষিরা ভালো দাম পেয়ে থাকে। এরপর আস্তে আস্তে বাজারে টমেটোর আমদানি বেশি হলে দাম কমতে থাকে। সে কারণে চাষিরা ওই সময় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন । অন্যদিকে গ্রীস্মকালীন মৌসুমে গত কয়েক বছর ধরে চাষ শুরু হয়েছে কোটচাদপুরে । এ বছর এ উপজেলায় মাত্র ৭.৫ বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে বারি হাইব্রিড ৮ টমেটোর চাষ হয়েছে। তালসার গ্রামের টমেটো মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষি ফারুক হোসেন বলেন, গত ৫/৬ বছর ধরে আমি শুধু মাত্র টমেটো চাষ করি। বছরে এখন দুই বার টমেটোর চাষ করা যায়। আমি পাশেই শীতের টমেটো চাষ করেছিলাম। উৎপাদনও ভাল ছিল। গত ৩ মাসে আমি ৭ কাঠা জমিতে ৩০/৩৫ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। এখন আবার জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর চারা করছি। আর এটা করা হচ্ছে মালচিং পদ্ধতিতে। এ পদ্ধতিতে চাষ করলে সার, ওষুধ, সেচ কম লাগে। এছাড়া লেবার খরচও কম হয় ।

    কারণ হিসেবে তিনি বলেন, চারা রোপণের আগেই সার, ওষুধ, সেচ দিয়ে মাটি প্রস্তুত করা হয়। এরপর তৈরি করা হয় চারা রোপণের বেড । তারপর পলিথিন দিয়ে তৈরি করা হয় মালচিং বেড। এরপর নিয়মমাফিক স্থানে পলিথিন ছিদ্র করে চারা রোপণ করা হয়ে থাকে। এতে বেডগুলো পলিথিনে ঢাকা থাকায় মাটি সহজে শুকায় না । মাটিতে আর্দ্রতা থাকে । এ জন্য ঘন ঘন সেচ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। এছাড়া একবার মালচিং করতে পারলে ২/৩ বার চাষ করা যায় ওই পদ্ধতিতে। ফলে পরবর্তী চাষের খরচ আরো কমে যায় । তিনি বলেন, মালচিং করা, চারা রোপণ, সার, ওষুধসহ উৎপাদন ব্যয় হবে ১০ হাজার টাকা। আর যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে, আর উৎপাদন ভাল হয় তাহলে ৫০/৬০ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব। যদি কেউ চাষ করতে চান তাদের জন্য আমার পরামর্শ থাকবে, আমি যেভাবে চাষ করেছি, ঠিক সেভাবে চাষ করতে হবে। ওই চাষিরা আমার কাছে এলে আমি তাদের সব ধরনের পরামর্শ ও সহায়তা করবো চাষ করার জন্য।

    কোটচাঁদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন বলেন, এ বছর এ উপজেলায় মাত্র ৭.৫ বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে বারি হাইব্রিড ৮ টমেটোর চাষ হয়েছে। স্বল্প সময়ে অল্প ব্যয় করে চাষিরা ফসল ঘরে তুলতে পারায় এ চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। এছাড়া মালচিং পদ্ধতিতে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করতে এ বছর সরকারিভাবে ৭ জন চাষিকে প্রদর্শনী প্লট দেওয়া হবে ।

    তিনি বলেন, শীত থেকে গ্রীষ্ম মৌসুমের টমেটো উচ্চ মূল্যের হয়ে থাকে। এছাড়া উৎপাদন ভালো হয় । তিনি আরো বলেন, উপযুক্ত পরিচর্যা করতে পারলে বিঘা প্রতি ১০০-১২০ মণ ফলন পাওয়া সম্ভব ।

  • অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে

    অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে

    বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে হলে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প ও কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ছাড়া জাতীয় সম্পদ বাড়ানো সম্ভব নয় এবং সম্পদ সৃষ্টি না হলে টেকসই উন্নয়নও নিশ্চিত করা যাবে না। বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য সম্পদ সৃষ্টির পাশাপাশি তার ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড থটস (সিএএসটি) আয়োজিত ‘জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষায় বাংলাদেশের অর্থনীতি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    সেমিনার শেষে সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড থটস থেকে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনীতির ব্যবচ্ছেদ’ এবং ‘Bangladesh Economy: A Holistic Evaluation’ শীর্ষক দুটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

    সেমিনারে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার আলোকে দেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা, গত দেড় দশকের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, বৈষম্য, কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়।

    ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা হলেই সবাই জিডিপি প্রবৃদ্ধির কথা বলেন। কিন্তু সেই সম্পদ কীভাবে মানুষের মধ্যে বণ্টিত হচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা খুবই কম। অথচ এই দুই বিষয়কে সমান গুরুত্ব না দিলে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়।

    বক্তব্যে ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে প্রথম কাজ হওয়া উচিত নতুন সম্পদ সৃষ্টি, আর তা সম্ভব কর্মসংস্থানের মাধ্যমে। তিনি বলেন, আমার চিন্তাধারা হয়ত অনেকের কাছে পুরোনো মনে হতে পারে। কিন্তু আমি এখনো বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে জব ক্রিয়েশনই একমাত্র কার্যকর পথ। ফ্যামিলি কার্ড কোনো সমাধান নয়; প্রকৃত সমাধান হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

    তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উৎপাদনশীল শিল্প ও কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। গত দেড় দশকে উৎপাদনশীল শিল্পের পরিবর্তে মেগা প্রকল্পকেন্দ্রিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, মেগা প্রকল্পে দুর্নীতির সুযোগ বেশি থাকায় উৎপাদনশীল শিল্পকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

    সরকারি অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ড. মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে ‘স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে বাস্তবতার চেয়ে উন্নয়নের চিত্র বেশি ভালো দেখানো হয়েছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি বিশ্বব্যাংক ও এডিবিসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকেও লিখেছিলেন।

    বিনিয়োগ বোর্ডের সাবেক নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, উৎপাদনশীল শিল্পে প্রবৃদ্ধি অর্জন করা গেলে কর্মসংস্থানও বাড়ে। কৃষিকে শুধু জিডিপিতে অবদানের ভিত্তিতে মূল্যায়ন না করে কর্মসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি বলেন, সরকারের উচিত সব অংশীজনকে নিয়ে জাতীয় সম্পদ বৃদ্ধির কৌশল নির্ধারণ করা। একই সঙ্গে উৎপাদন বাড়াতে গ্যাস-বিদ্যুৎ, অবকাঠামো ও দক্ষ মানবসম্পদ নিশ্চিত করা জরুরি। যে দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট রয়েছে, সেখানে শুধু বিনিয়োগ সম্মেলন করলেই বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না।

    সেমিনারে বক্তব্য রাখেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস অনুষদের ডিন ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম। তিনি বলেন, গত এক দশকে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, সরকারি ঋণ, খেলাপি ঋণ ও আর্থিক খাত নিয়ে তার গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

    তার উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। পুনঃতফসিল, অবলোপন ও আদালতের স্থগিতাদেশে আটকে থাকা ঋণসহ সমস্যাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকা। তিনি পুনঃতফসিল করা ঋণকে ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এতে সমস্যার সমাধান হয় না; বরং প্রকৃত চিত্র আড়াল করা হয়।

    ড. ওয়ারেসুল করিম বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। কিন্তু কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না এবং গার্মেন্টস শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ নিম্ন আয়ের মানুষের আয়ও ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বাড়েনি।

    তিনি বলেন, বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর নামে নেওয়া ২০ হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় তরুণদের জন্য গবেষণার সুযোগ ও গবেষণা তহবিল বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার মতে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা, কম্পিউটার ল্যাব, বিদ্যুৎ ও স্যানিটেশন খাতে বরাদ্দ কমে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

    শিক্ষাখাতে প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প গ্রহণের আগে মৌলিক অবকাঠামো নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক শিক্ষককে ট্যাবলেট দেওয়া বা প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে সিসিটিভি স্থাপনের আগে বিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, বিজ্ঞানাগার, টয়লেট ও প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী নিশ্চিত করা উচিত। একই সঙ্গে শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে প্রযুক্তির পরিবর্তে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, নৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন তিনি।

    ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, কিন্তু কৃষক তার উৎপাদিত ধান, সবজি বা অন্যান্য কৃষিপণ্য আগের মতোই কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। বাজারে ভোক্তা পর্যায়ে দাম বাড়লেও কৃষক সেই সুবিধা পাচ্ছেন না। গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। একইভাবে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বেতনও এখনো অত্যন্ত কম। একজন মুয়াজ্জিনকে সাত হাজার টাকার মতো এবং একজন ইমামকে প্রায় দশ হাজার টাকায় সংসার চালাতে হয়। একই অবস্থা পরিবহন শ্রমিক বা অন্যান্য নিম্ন আয়ের মানুষের। অথচ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে।

    তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ অল্প অল্প করে যে অর্থ ব্যাংকে সঞ্চয় করেন, সেই অর্থ লুটপাট করে কেউ কেউ বিদেশে পাচার করে। আরও দুঃখজনক বিষয় হলো, অনেক ঋণখেলাপিকে সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এবং তারা সংসদে দাঁড়িয়ে ঋণখেলাপিকে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। এটি রাষ্ট্র ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত নেতিবাচক বার্তা।

    গবেষণা খাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যদি সত্যিই দেশের সমস্যার সমাধান করতে হয়, তাহলে তরুণদের গবেষণার সুযোগ তৈরি করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই। বরং গবেষণা তহবিল কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে সরকারবিরোধী বা সমালোচনামূলক গবেষণা নিরুৎসাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড থটসের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. আব্দুর রবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিন্তক ও গবেষক ফরহাদ মজহার, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ, ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ, ওয়েস্টার্ন নরওয়ে ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেসের অধ্যাপক ড. আব্দুল কুদ্দুস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. দ্বীন ইসলাম, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. শিব্বির আহমেদসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও বিশিষ্টজন।

  • বাংলা কিউআরসহ ডিজিটাল লেনদেনে মার্চেন্টের মাশুল তুলে দেওয়ার পরামর্শ আহসান এইচ মনসুরের

    বাংলা কিউআরসহ ডিজিটাল লেনদেনে মার্চেন্টের মাশুল তুলে দেওয়ার পরামর্শ আহসান এইচ মনসুরের

    বাংলা কিউআরসহ সব ধরনের ডিজিটাল লেনদেনে মার্চেন্টের বিদ্যমান মাশুল তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, ক্যাশলেস (নগদবিহীন) ধারণাকে জনপ্রিয় করতে এসব লেনদেন মাশুলহীন করতে হবে। পরে পর্যায়ক্রমে ১০ পয়সা করে মাশুল আরোপ করা যেতে পারে।

    আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বনানীতে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত এক কর্মশালায় আহসান এইচ মনসুর এমন আহ্বান জানান।

    তাৎক্ষণিক লেনদেনের ব্যবস্থা নিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম। এতে সভাপতিত্ব করেন পিআরআই চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার।

    সভায় আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘ডিজিটাল লেনদেনে এখন ১ থেকে ১ দশমিক ১৫ শতাংশ যে মাশুল আছে, তা সরকার ভর্তুকি হিসেবেও দিতে পারে। কারণ, ভারত ও পাকিস্তানে এসব লেনদেনে কোনো মাশুল নেই। তাই আমাদের এই মাশুল শূন্য করে দেওয়া উচিত।’

    প্রবাসী আয়ের জন্য যে প্রণোদনা দেওয়া হয়, সেখানে বরাদ্দ করা টাকা থেকে ডিজিটাল লেনদেনের মাশুলের টাকা জোগান দেওয়ার পরামর্শ দেন সাবেক এই গভর্নর। তাঁর মতে, বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার মতো খরচ হয় প্রবাসী আয়ের প্রণোদনায়। সেখান থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা ডিজিটাল লেনদেনের মাশুলের ভতুকি হিসেবে দিয়ে এটি জনপ্রিয় করা যায়।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, ডিজিটাল লেনদেনে এখন ১০ টাকা বেশি দিতে হয় ১ শতাংশ মাশুল আরোপের কারণে। তাই এই মাশুল কমানোর উচিত বলে মনে করেন তিনি।

    বর্তমানে কী পরিমাণ প্রবাসী আয় অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমে আসে, তা নিয়ে একটি সমীক্ষা করবে পিআরআই। কেন প্রবাসীরা অন্য মাধ্যমে টাকা পাঠান, তা–ও সমীক্ষায় উঠে আসবে। এই সমীক্ষা সম্পর্কে আলোচনা করেন পিআরআইয়ের গবেষণা পরিচালক বজলুল হক খন্দকার ও পরিচালক এম এ রাজ্জাক।

  • আগস্টেই চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’, কারা আগে পাবেন?

    আগস্টেই চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’, কারা আগে পাবেন?

    বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ‘প্রবাসী কার্ড’ আগামী আগস্ট মাসে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করতে যাচ্ছে সরকার। ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুনের মধ্যে মোট ২ লাখ প্রবাসীর হাতে এই কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    প্রথম পর্যায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে ডেবিট কার্ড আকারে এটি বিতরণ করা হবে। পরে ধাপে ধাপে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে কার্ডটি সম্প্রসারণ করা হবে।

    সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রবাসী কার্ড চালুর মূল উদ্দেশ্য হলো বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল পরিচয়ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ব্যাংকিং, সরকারি ও কল্যাণমূলক সেবাগুলো সহজলভ্য করা। একই সঙ্গে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের আরও উৎসাহিত করাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

    কী হবে প্রবাসী কার্ড?
    প্রবাসী কার্ড হবে এক ধরনের স্মার্ট ডিজিটাল পরিচয়পত্র, যা পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন আর্থিক ও সরকারি সেবা গ্রহণের মাধ্যম হিসেবেও কাজ করবে। কার্ডে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করলে কার্ডধারীর প্রয়োজনীয় তথ্য দেখা যাবে। পাশাপাশি একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ডিজিটাল সংস্করণ ব্যবহার করা যাবে, ফলে সবসময় প্লাস্টিক কার্ড বহনের প্রয়োজন হবে না।

    কী কী সুবিধা পাবেন?
    এই কার্ডের বড় একটি দিক হলো এর অর্থনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা। প্রবাসীরা এতে যে সমস্ত বিশেষ সুযোগ-সুবিধা পাবেন-

    • ডুয়েল কারেন্সি ও অনলাইন শপিং: এই কার্ডটিতে আধুনিক ব্যাংকিং পেমেন্ট গেটওয়ে যুক্ত থাকবে। ফলে প্রবাসীরা যে দেশে আছেন, সেখানকার মুদ্রায় এবং বাংলাদেশে টাকায় কেনাকাটা বা খরচ করতে পারবেন। এছাড়া প্রবাসে বসেই পরিবারের সদস্যদের জন্য দেশে নির্দিষ্ট সীমার কেনাকাটা করে দেওয়া যাবে।
    • এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ও ডিসকাউন্ট: বিমানবন্দরে বিশেষ প্রটোকল সেবা, এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহার, উড়োজাহাজের টিকিট ও হোটেলে ডিসকাউন্ট পাবেন কার্ডধারীরা।
    • প্রবাসী সিটি ও আবাসন সুবিধা: বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে গড়ে তোলা ‘প্রবাসী সিটি’ প্রকল্পে আবাসন বা প্লট কেনার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ও বিশেষ সুবিধা পাবেন তারা।
    • বিএমইটি বীমা ও পুনর্বাসন সুবিধা: বিএমইটির বিমা সুবিধা, আর্থিক ক্ষতিপূরণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং রেমিট্যান্সে অতিরিক্ত সরকারি প্রণোদনা বহাল থাকবে।

    কারা আগে পাবেন?
    প্রথম ধাপে যেসব প্রবাসীর জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) নিবন্ধন রয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রবাসী কার্ড দেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করার পর নতুন নিবন্ধনের মাধ্যমে তারা কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন।

    যাদের ইতোমধ্যে বিএমইটি কার্ড রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে নতুন করে নিবন্ধন ফি না-ও লাগতে পারে। তবে নতুন আবেদনকারীদের নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধ করতে হতে পারে।

    কীভাবে বিতরণ করা হবে?
    পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রবাসীদের হাতে কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।

    এদিকে বিদেশে শিক্ষার্থী, নির্ভরশীল বা অন্য ভিসায় গিয়ে পরবর্তীতে কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়েছেন কিন্তু বিএমইটি কার্ড নেই—এমন বাংলাদেশিদেরও ভবিষ্যতে এই কর্মসূচির আওতায় আনার বিষয়ে কাজ করছে সরকার।

  • জলবায়ু বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ পাচ্ছে সাড়ে ১২ লাখ ইউরো

    জলবায়ু বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ পাচ্ছে সাড়ে ১২ লাখ ইউরো

    দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা জোরদারে বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে তিন বছর মেয়াদি এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পাবে ১ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ইউরো।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মধ্যে এ দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

    চুক্তিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো: শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং আইওএমের পক্ষে বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম বনডে স্বাক্ষর করেন।

    চুক্তি অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় সাড়ে ১২ লাখ ইউরো)।

    প্রকল্পের আওতায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হবে।

    এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের জলবায়ু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ত করা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

    চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম সোহেল, যুগ্ম সচিব ড. কাজী শাহজাহান, সিনিয়র সহকারী সচিব ড. রাজিবুল আলম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ফাহমিদা হক খান, আইওএমের ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার আশফাকুর রহমান খান এবং ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট ড. এস এম মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।

  • কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে জিআরআই ও বিজিএমইএ

    কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে জিআরআই ও বিজিএমইএ

    বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে টেকসই ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা জোরদারে ‘ইমপ্রুভিং ট্র্যান্সপারেন্সি ফর সাসটেইনেবল বিজনেস’ (আইটিএসবি) উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ও গ্লোবাল রিপোর্টিং ইনিশিয়েটিভ (জিআরআই)’র মধ্যে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    ২০২৫ সাল থেকে শুরু হওয়া সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় এই চুক্তি বিজিএমইএ ও জিআরআই’র দীর্ঘদিনের আইটিএসবি উদ্যোগকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিল।

    কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিজিএমইএ পোশাক খাতে স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল ব্যবসা পরিচালনার নেতৃত্ব দেবে। এই অংশীদারিত্ব ‘জিআরআই স্ট্যান্ডার্ডস’ ব্যবহার করে ব্যবসার পরিবেশগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবগুলো চিহ্নিত ও প্রকাশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়াবে।

    আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে যুক্ত এ খাতের জন্য বিশ্বস্ত সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখবে।

    আইটিএসবি উদ্যোগটি ছোট, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ সব অংশীদারদের নিয়ে গঠিত একটি সক্ষমতা বৃদ্ধির প্ল্যাটফর্ম। এর অধীনে প্রশিক্ষণ, ওয়েবিনার, কর্মশালা ও সংলাপ আয়োজন করা হবে।

    এছাড়াও, দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো জিআরআই-এর বৈশ্বিক মানদন্ড নির্ধারণী পরিষদের কাছে পোশাক খাতের বাস্তব চিত্র ও পরামর্শ তুলে ধরার সুযোগ পাবে।

    বাংলাদেশে এ উদ্যোগের ট্রেইনিং অ্যান্ড আউটরিচ পার্টনার হিসেবে কাজ করছে ‘দ্য সাসটেইনেবিলিটি নেক্সাস’ (সাসনেক্স)।

    ইতোমধ্যেই ২০২৬ সালের মে ও জুলাই মাসে আয়োজিত কর্মসূচিগুলোতে এ উদ্যোগ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, যেখানে প্রায় ৩০০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। মে মাসের ‘মাস্টারক্লাসে’ পরিবেশ ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে ব্যবহারিক ধারণা দেয়া হয়। এরপর জুলাইয়ের গোলটেবিল বৈঠক ও ‘মাস্টারক্লাস-২’-এ অর্থনৈতিক প্রভাব, রেগুলেটরি লিংক ও বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিকোণ থেকে রিপোর্টের মান মূল্যায়নের ওপর জোর দেয়া হয়।

    এই অংশীদারিত্ব প্রসঙ্গে জিআরআইয়ের চিফ অব স্ট্যান্ডার্ডস, বাস্তিয়ান বাক বলেন, বিজিএমইএ’র সাথে এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশে পোশাক খাতের স্বচ্ছতা ও ইমপ্যাক্ট-ভিত্তিক রিপোর্টিং জোরদার করার একটি বড় পদক্ষেপ। আইটিএসবি উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা ব্যবসায়ী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অংশীদারদের সাথে সরাসরি কাজ করে জিআরআই মানদণ্ডের ব্যবহারিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে আগ্রহী। এর ফলে দেশীয় পোশাক খাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পৌঁছাবে এবং বিশ্ববাজারে এই খাতের জবাবদিহিতা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পাবে।

    বিজিএমইএ’র রেসপন্সিবল বিজনেস হাব ও সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিং সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ওয়াসিম জাকারিয়া বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প পরিবেশগত স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল উৎপাদনে ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক স্বীকৃতি পেয়েছে। এখন আমাদের লক্ষ্য হলো, এ সাফল্যকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সঠিকভাবে পরিমাপ ও প্রকাশ করা। জিআরআই’র সাথে এই যৌথ উদ্যোগ কারখানাগুলোকে আধুনিক সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিংয়ে দক্ষ করে তুলবে।

    এই স্বচ্ছতা কেবল ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাই বাড়াবে না, বরং নিজস্ব ঝুঁকি ও নতুন সম্ভাবনাকে চিহ্নিত করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।

  • ‘২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার’

    ‘২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার’

    ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, এ লক্ষ্য অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিকস, ডিজিটাল সেবা, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা ও লজিস্টিকস খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, তৈরি পোশাক খাতের বহুমুখীকরণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপরও জোর দেয়া হচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহী, উন্নয়ন সহযোগী এবং বিভিন্ন খাতের বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

    দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে এসে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়ে সরকারের প্রধান বলেন, নতুন সরকার এমন একটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে দেশীয় ও বিদেশি উভয় ধরনের উদ্যোক্তাই আস্থা নিয়ে বিনিয়োগ করতে পারবেন। কেউ বাংলাদেশে মূলধন বিনিয়োগ করলে সরকারও সময়, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দিয়ে তাদের পাশে থাকবে। এটি শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, সরকারের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার।

    তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের অবদানের প্রশংসা করে বলেন, তাদের বিনিয়োগের ফলে দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়েছে।

    নিজের পেশাগত জীবনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাজনীতিতে প্রবেশের পূর্বে আমি নিজেও একজন ব্যবসায়ী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলাম। আমার সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে আমি শিখেছি- যেকোনো ব্যবসা কেবল উদ্যোক্তার দক্ষতা বা রাজনৈতিক আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে সফল হতে পারে না; ব্যবসার সাফল্যের একটি বড় অংশ নির্ভর করে সরকারের প্রবৃদ্ধি-সহায়ক নীতিমালার ওপর।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও সম্ভাবনার ক্ষেত্র আরও বড়। দ্রুত সম্প্রসারণশীল অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ ও কর্মক্ষম জনশক্তি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনসমর্থনপুষ্ট নির্বাচিত সরকার এই চারটি শক্তি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে সক্ষম।

    সরকারের অর্থনৈতিক লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত এবং বেসরকারি খাতনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। নির্বাচনী ইশতেহারে এই অর্থনৈতিক রূপান্তরের সুস্পষ্ট রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। সরকার শুধু বিদেশি বিনিয়োগ আহ্বান করছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নযাত্রায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদেরও সম্পৃক্ত করতে চায়।

    তিনি জানান, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের আগেই অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রস্তুতি শুরু করেছিল। এ সময় বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়িক সংগঠন, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী ও নীতিনির্ধারকদের মতামত নেয়া হয়। তাদের পরামর্শে উঠে আসে, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হলে বিনিয়োগের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা, ব্যবসাবান্ধব নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলা, করব্যবস্থা সহজ করা, অর্জিত মুনাফা বিদেশে নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা, শক্তিশালী পুঁজিবাজার গড়ে তোলা এবং উন্নত অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি।

    এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আধুনিকায়ন, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা, কর ও ভ্যাট প্রশাসন সহজীকরণ এবং মুনাফা দেশে-বিদেশে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও ঝামেলামুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    একই সঙ্গে পুঁজিবাজারকে আরও গতিশীল করা, স্টার্টআপ খাতে সহায়তা বৃদ্ধি, অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানো, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করা এবং সরকারি সেবার ডিজিটাল রূপান্তরের কাজও এগিয়ে চলছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো, বন্দর ও লজিস্টিকস অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শুধু বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নির্ভর করে না; বরং দীর্ঘমেয়াদি আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে অংশীদারত্ব গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রার অংশ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব। একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

  • থাই বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

    থাই বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

    বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদারের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি থাই বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনী ‘টপ থাই ব্র্যান্ডস ২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাওয়াদি, রয়্যাল থাই দূতাবাসের কর্মকর্তারা, থাইল্যান্ডের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা, উদ্যোক্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দীর্ঘদিনের। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন, সংস্কৃতি ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে।

    তিনি বলেন, থাইল্যান্ড বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়লেও এখনো বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিপুল সুযোগ রয়েছে।

    খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ তার কৌশলগত অবস্থান, বড় ভোক্তা বাজার, দক্ষ জনশক্তি এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতির কারণে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, পর্যটন, চামড়া, তৈরি পোশাক, অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, রাবার পণ্যসহ বিভিন্ন খাতে থাই বিনিয়োগকে আমরা স্বাগত জানাই।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ থাইল্যান্ডের বাজারে ওষুধ, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, পাটজাত পরিবেশবান্ধব পণ্য, চামড়াজাত পণ্য ও হালকা প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে আগ্রহী।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রদর্শনী শুধু পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ নয়, বরং উৎপাদক, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, পরিবেশক, বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরির একটি কার্যকর মাধ্যম।

    তিনি বলেন, ‘টপ থাই ব্র্যান্ডস ২০২৬’-এর মতো আয়োজন দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন সম্পর্ক তৈরি করবে এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটালাইজেশন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তিনি দায়িত্বশীল বিদেশি বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এ ধরনের বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং দেশের শিল্প উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী অংশগ্রহণকারী থাই কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, পরিবেশক ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের থাইল্যান্ডের বাজারে দেশীয় পণ্য রপ্তানির নতুন সুযোগ অনুসন্ধানের আহ্বান জানান।

    তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘টপ থাই ব্র্যান্ডস ২০২৬’ বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবে।

    উল্লেখ্য, রয়্যাল থাই সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উন্নয়ন বিভাগের (ডিআইটিপি) আয়োজনে এবং ঢাকাস্থ রয়্যাল থাই দূতাবাসের বাণিজ্যিক বিষয়ক কার্যালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে থাইল্যান্ডের ৫৭টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী চলবে ২৫ জুলাই পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

  • দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

    দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরে কাজ করছে। তিনি দেশি ও বিদেশি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ ও ব্যবসা প্রসারের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’ তিনি বলেন, আমাদের বাজেটে বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট প্রণোদনা নিশ্চিত করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে নবায়নযোগ্য শক্তি, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল সেবা, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা এবং লজিস্টিকস।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই বা ফিকি) আয়োজিত এফডিআই সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে আমরা বিশ্ব দরবারে একটি বৃহৎ উৎপাদন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছি। আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পকে বৈচিত্রময় করছি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও দক্ষতায় অগ্রাধিকার দিচ্ছি।

    ‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক এফআইসিসিআই এফডিআই সম্মেলন ২০২৬-জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হয়। এরপরই একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শিত হয়।

    সম্মেলনে বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নতুন করে মূলধন বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি এ উদ্যোগে তাদের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতারও আশ্বাস দিয়েছেন।

    তারেক রহমান বলেন, নতুন ও দূরদর্শী বিএনপি সরকার চায়, আপনারা বাংলাদেশে আসুন, নতুন উদ্যোগ নিন এবং ব্যবসা প্রসারিত করুন।

    তিনি বলেন, দেশীয় উদ্যোক্তা বা বিদেশি বিনিয়োগকারী যাই হোন, বাংলাদেশে মূলধন বিনিয়োগ করলে সরকার প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং সময়োপযোগী নীতিমালার মাধ্যমে আপনাদের পাশে থাকবে। এটি কেবল আশ্বাস নয়, এটি আমাদের সরকারের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে সত্যি। তবে এর পাশাপাশি আমাদের রয়েছে অফুরন্ত সম্ভাবনা ও সুদৃঢ় ভিত্তি। আমাদের রয়েছে একটি দ্রুত বিকাশমান বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, একঝাঁক তরুণ ও পরিশ্রমী মানবসম্পদ, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং নিরঙ্কুশ জনসমর্থনপুষ্ট একটি নির্বাচিত সরকার। এই শক্তিগুলো একত্রিত হয়ে বাংলাদেশকে এক টেকসই ও স্থায়ী সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

    তিনি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য, একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সাথে যুক্ত এবং বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় পরিচালিত অর্থনীতি গড়ে তোলা। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার এই অর্থনৈতিক রূপান্তরের একটি সুস্পষ্ট সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রদান করে।

    তারেক রহমান বলেন, আমরা আপনাদের কেবল বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি না, বরং এই রূপকল্প বাস্তবায়নে আমাদের সঙ্গে বিশ্বস্ত অংশীদার হওয়ারও উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্ণ করেছে। কিন্তু আমাদের অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছিল নির্বাচনের অনেক আগেই। আমরা বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়িক চেম্বার, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী এবং নীতি-নির্ধারকদের কথা গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছি।

    তিনি বলেন, তাদের মূল বার্তাটি ছিল একেবারেই স্পষ্ট। তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন বিনিয়োগের সুদৃঢ় আইনি সুরক্ষা, আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব নিয়ন্ত্রক কাঠামো, সহজীকৃত কর ব্যবস্থা, অর্জিত মুনাফা প্রত্যাহারের নির্বিঘ্ন প্রক্রিয়া, শক্তিশালী পুঁজিবাজার এবং উন্নত অবকাঠামো।

    তারেক রহমান বলেন, তাই আমরা আপনাদের কথাও গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করছি। সে অনুযায়ীই কাজ শুরু করেছি।

    তিনি বলেন, আমরা আমাদের আইনি ও রেগুলেটরি কাঠামোর আধুনিকায়ন করছি। বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করছি। এছাড়া দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা উন্নত করছি। কর ও ভ্যাট প্রশাসনকে সহজ এবং মুনাফা অর্জনের পর তা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াকে ঝামেলামুক্ত করছি।

    একইসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা একটি গতিশীল পুঁজিবাজার গঠন, স্টার্টআপগুলোকে উৎসাহিত, অপ্রয়োজনীয় বিধিমালা ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্য দূর, প্রশাসনিক প্রক্রিয়াসমূহ সহজ এবং সরকারি সেবাসমূহ ডিজিটালাইজড করছি।

    এছাড়া নবায়নযোগ্য শক্তিতে অধিকতর বিনিয়োগের পাশাপাশি বন্দর, লজিস্টিকস অবকাঠামো এবং সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।

    ঢাকার এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রায় ৬শ’ বিশিষ্ট প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। উপস্থিত ছিলেন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী, বহুজাতিক কোম্পানির নির্বাহী কর্মকর্তা, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী নেতা এবং গণমাধ্যমকর্মীগণ।

    সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন এফআইসিসিআই এর সভাপতি এবং বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রুপালী হক চৌধুরী।

    তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কেবল বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে দীর্ঘস্থায়ী ও বিশ্বাসযোগ্য অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর।

    তিনি বলেন, এখানে উপস্থিত প্রত্যেক ব্যবসায়িক নেতাকে সেই সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের অংশ হতে আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা একসঙ্গে এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারি যা হবে সুদৃঢ়, ন্যায়ভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক।

    তারেক রহমান বলেন, আজকের এই মিলনায়তনের দিকে তাকালেই আমি দেখতে পাচ্ছি দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সবচেয়ে প্রতিভাবান করপোরেট প্রধান, সফল বিনিয়োগকারী এবং বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞদের উজ্জ্বল উপস্থিতি। আপনাদের অনেকেই বাংলাদেশকে আপনাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ ও নতুন বিনিয়োগের প্রধান গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

    বিনিয়োগকারীদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের এই উদ্যোগ নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, আধুনিক প্রযুক্তির প্রবর্তন ঘটিয়েছে, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে সমৃদ্ধ করেছে এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অভাবনীয় অবদান রেখে চলেছে। এজন্য আপনাদের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে প্রবেশের আগে আমি নিজেও একজন ব্যবসায়ী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলাম। আমার সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে আমি শিখেছি, যে কোনো ব্যবসা কেবল উদ্যোক্তার দক্ষতা বা রাজনৈতিক আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে সফল হতে পারে না, ব্যবসার সাফল্যের একটি বড় অংশ নির্ভর করে সরকারের প্রবৃদ্ধি-সহায়ক নীতিমালার ওপর।

    তিনি বলেন, আপনাদের সবাইকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও সাফল্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আসুন আমরা একসাথে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাই, নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করি এবং আগামীর বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলি।

    প্রধানমন্ত্রী একটি সমৃদ্ধ ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত বাংলাদেশ গড়ার এই অগ্রযাত্রায় সকলকে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।

    সম্মেলনে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে বিদ্যমান সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতবিনিময় হয়। এছাড়া ‘ফিকি এফডিআই’ প্রতিবেদন উন্মোচন করা হয়। এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করা এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিশ্লেষণ, পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

    সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী ইনভেস্টরস এক্সপো পরিদর্শন করেন। এতে তিনি অংশগ্রহণকারী কোম্পানি ও সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

    সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, এফআইসিসিআই এর সভাপতি এবং বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রুপালী হক চৌধুরী, বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী ও প্রতিনিধিবৃন্দ।

  • ২০৩১ সাল পর্যন্ত বিশেষ সুবিধার অনুমতি পেলো ন্যাশনাল ব্যাংক

    ২০৩১ সাল পর্যন্ত বিশেষ সুবিধার অনুমতি পেলো ন্যাশনাল ব্যাংক

    বাংলাদেশ ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসিকে তাদের মালিকানাধীন প্রস্তাবিত প্রধান কার্যালয় ভবন ‘এনবিএল টুইন টাওয়ার’-এর টাওয়ার-২ বাণিজ্যিক স্থাপনা হিসেবে ইজারা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ জন্য ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর একটি বিধানের প্রয়োগ থেকে ব্যাংকটিকে ৩১ ডিসেম্বর ২০৩১ পর্যন্ত অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ (বিআরপিডি-২) এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১২১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসির মালিকানাধীন ‘এনবিএল টুইন টাওয়ার’ (হোল্ডিং নম্বর: ১/সি/১, বীর উত্তম সি. আর. দত্ত রোড, পান্থপথ, ঢাকা) ভবনের টাওয়ার-২ বাণিজ্যিক স্থাপনা হিসেবে ইজারা দেওয়া যাবে।

    এ জন্য ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ (২০২৩ পর্যন্ত সংশোধিত)-এর ১০ ধারার বিধান ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসির ক্ষেত্রে ৩১ ডিসেম্বর ২০৩১ পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে না।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্তের ফলে ন্যাশনাল ব্যাংক তাদের প্রধান কার্যালয় ভবনের অব্যবহৃত অংশ বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করে ভাড়া থেকে অতিরিক্ত আয় করতে পারবে, যা ব্যাংকের সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও আয় বাড়াতে সহায়ক হবে।

  • তরবারির জোরে নয়, আরব বণিকদের মাধ্যমে ভারতে এসেছিল ইসলাম

    তরবারির জোরে নয়, আরব বণিকদের মাধ্যমে ভারতে এসেছিল ইসলাম

    ধর্ম ও জীবন

    প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, ৭১২ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধ আক্রমণের মাধ্যমে ভারতে ইসলামের আগমন ঘটেছিল। একে অনেকে তরবারির শক্তির ওপর ভর করে ইসলামের আগমন বলে মনে করেন। তবে আধুনিক ইতিহাসবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীদের অনেকেই এই ধারণার সঙ্গে একমত নন।

    তাদের মতে, ভারতে ইসলামের আগমন কোনো একক ঘটনার ফল নয়। এটি কয়েক শতাব্দী ধরে চলা ঐতিহাসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ার পরিণাম।

    ভারতে ইসলামের প্রসারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল বাণিজ্য। প্রাচীনকাল থেকেই ভারত গোলমরিচের জন্য সারা বিশ্বে পরিচিত ছিল। আরব সাগর শান্ত থাকায় এই সমুদ্রপথে আরব বণিকদের দীর্ঘদিনের প্রভাব ছিল। তারা বর্ষার সময়ে ভারতে আসতেন এবং ব্যবসা শেষে আরবে ফিরে যেতেন।

    বিখ্যাত ইতিহাসবিদ সৈয়দ সুলেমান নদভীর মতে, ইসলামের আবির্ভাবের পর বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ আরবদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। দীর্ঘদিন যোগাযোগের ফলে দক্ষিণ ভারতে ‘মাপ্পিলা মুসলিম’ নামে এক মুসলিম সম্প্রদায়ের বিকাশ ঘটে।

    রাজনীতিবিদ ও লেখক শশী থারুর প্রায়ই উল্লেখ করেন যে, পরিচিত ও বিশ্বস্ত আরব বণিকদের হাত ধরেই মালাবার উপকূলে ইসলাম এসেছিল। কোনো তলোয়ারের জোরে কেরালায় ইসলাম পৌঁছায়নি। দক্ষিণ ভারতে ইসলামের আগমন সম্পর্কে বেশ কিছু তত্ত্ব প্রচলিত আছে।

    প্রথম তত্ত্ব অনুযায়ী, নবী মোহাম্মদ (সা.)-এর জীবদ্দশাতেই প্রাচীন মুজিরিস বন্দর দিয়ে কেরালায় ইসলাম এসেছিল। ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে মালিক বিন দিনারের উদ্যোগে নির্মিত ‘চেরামন জামা মসজিদ’ এই দাবির পক্ষে বড় প্রমাণ। মসজিদটি প্রতিষ্ঠার পেছনে কেরালার হিন্দু রাজা চেরামন পেরুমলের ইসলাম গ্রহণের গল্পও জড়িয়ে আছে।

    প্রফেসর ইলিয়াসের মতে, আরবরা এখানে মূলত গোলমরিচের ব্যবসা করতে এসেছিলেন। তারা বাণিজ্যের পাশাপাশি হিসাব করার পদ্ধতি, ওজন মাপার কৌশল এবং ভালো নৌকা তৈরির প্রযুক্তিও শিখিয়েছিলেন।

    ঐতিহাসিকদের একাংশ ৭১২ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধ ও মুলতান দখল এবং পরবর্তীতে দিল্লির সালতানাত প্রতিষ্ঠাকে রাজনৈতিক সম্প্রসারণ হিসেবে দেখেন।

    তবে আধুনিক গবেষকদের মতে, এই জয়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করা, জোর করে মানুষকে ধর্মান্তরিত করা নয়।

    ভারতে ইসলামের প্রসারে সুফি আন্দোলনও বড় ভূমিকা পালন করেছে। একাদশ শতকের পর চিশতি ও সোহরাওয়ার্দী সিলসিলার সুফি-সন্তরা ভারতের বিভিন্ন অংশে বসতি স্থাপন করেন। তাদের খানকাহ ও দরগাহগুলো আধ্যাত্মিক এবং সামাজিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। আজমেরের খাজা মঈনুদ্দিন চিশতির দরগাহ এর একটি বড় উদাহরণ, যেখানে সব ধর্মের মানুষ আসেন। ইসলামের সাম্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও ন্যায়বিচারের নীতি মানুষকে আকর্ষণ করেছিল।

    ইতিহাসবিদ রিচার্ড ইটনের মতো পণ্ডিতরা আরেকটি নতুন তত্ত্ব দিয়েছেন। তাদের মতে, বাংলা ও পাঞ্জাবের মতো অঞ্চলে ইসলামের বিস্তার মূলত কৃষি উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। মুসলিম শাসকরা সুফি খানকাহ ও মসজিদগুলোকে অনুর্বর জমি দান করতেন। এই প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কৃষি বসতি স্থাপন করলে স্থানীয় কৃষকরা ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক অগ্রগতির অংশ হিসেবে ইসলাম গ্রহণ করেন। সব মিলিয়ে, বাণিজ্য, আধ্যাত্মিকতা, রাজনীতি ও সামাজিক সুযোগের এক দীর্ঘ মিশ্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই অঞ্চলে ইসলামের বিস্তার ঘটেছিল।

    সূত্র: বিবিসি বাংলা

  • জ্বালানি নিরাপত্তায় কাঠামোগত সংস্কার ও শুল্ক সমন্বয় জরুরি: বিশ্বব্যাংক

    জ্বালানি নিরাপত্তায় কাঠামোগত সংস্কার ও শুল্ক সমন্বয় জরুরি: বিশ্বব্যাংক

    আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এবং উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় শুল্ক (ট্যারিফ) কাঠামোর বড় ব্যবধানের কারণে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব চাপে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যঁ পেম। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে স্বল্পমেয়াদি স্থিতিশীলতার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কার, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং আঞ্চলিক জ্বালানি বাণিজ্যের ওপর জোর দেওয়া জরুরি।

    বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে এসব কথা বলেন তিনি। কনক্লেভটির আয়োজন করে বণিক বার্তা।

    জ্যঁ পেম বলেন, জ্বালানি কেবল একটি খাতের অগ্রাধিকার নয়; এটি বেসরকারি বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং রাজস্বের টেকসইতার অন্যতম ভিত্তি। সবার কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তবে খাতটি এখনো বড় ধরনের কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাগুলো কতটা গভীর এবং কত দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এর অন্যতম কারণ হলো আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এবং জ্বালানি সরবরাহের ব্যয় ও গ্রাহক পর্যায়ের শুল্কের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ব্যবধান।

    জ্বালানি আমদানির পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে গ্যাসের চাহিদার ৩০ শতাংশ, তেলের ৯৫ শতাংশ এবং কয়লার ৯০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। বৈশ্বিক বাজারে দামের ওঠানামা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন সরাসরি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে সমস্যা শুধু আমদানিনির্ভরতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়া এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন চুক্তির পুরোনো ও ব্যয়বহুল দায়বদ্ধতার সঙ্গেও সম্পর্কিত। এর ফলে রাজস্বের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং আর্থিক দুর্বলতা বাড়ছে। তাই এখনই এমন পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যা খাতটিকে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে আস্থা ফিরিয়ে আনা, রাজস্ব ঝুঁকি কমানো এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের পথ সুগম করবে।

    তিনি আরো বলেন, বিশ্বব্যাংক এ সংকট মোকাবেলায় চারটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে। প্রথমত, আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে জ্বালানি খাত ও শুল্ক (ট্যারিফ) সংস্কার। দ্বিতীয়ত, জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক জ্বালানি বাণিজ্য জোরদার করা। তৃতীয়ত, সবুজ অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং জ্বালানি ব্যবস্থার সহনশীলতা বৃদ্ধি। চতুর্থত, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়িয়ে গ্যাসের ভ্যালু চেইনকে আরও শক্তিশালী করা।

    জ্বালানি খাতের শুল্ক সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে জ্যঁ পেম বলেন, জ্বালানি ভর্তুকি বর্তমানে সামষ্টিক অর্থনীতি ও সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। আমাদের হিসাব অনুযায়ী, এ ভর্তুকির পরিমাণ জিডিপির প্রায় ১ দশমিক ১ শতাংশ। তাই একটি নির্ভরযোগ্য ও পর্যায়ক্রমিক শুল্ক সংস্কার রূপরেখা প্রয়োজন, যাতে শুল্ক সমন্বয়ের সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া হয় এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।

    নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিষয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উৎসের বৈচিত্র্য প্রয়োজন। ভুটান ও নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির মাধ্যমে তুলনামূলক কম খরচে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি সরকারি মালিকানাধীন জমিতে গিগাওয়াট-স্কেলের সোলার পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। বিশেষ করে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, গভীর সমুদ্রবন্দর, অর্থনৈতিক অঞ্চল কিংবা রেলওয়ের মালিকানাধীন জমি এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বলছে, সঠিক নীতিগত দিকনির্দেশনা, বিনিয়োগবান্ধব ট্যারিফ এবং কার্যকর বাস্তবায়ন ব্যবস্থা থাকলে খুব অল্প সময়েই বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ভিয়েতনাম একটি সফল উদাহরণ।