অর্থ ও বাণিজ্য

  • সৃজনশীল অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি গঠন

    সৃজনশীল অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি গঠন

    সৃজনশীল অর্থনীতি সংক্রান্ত খাতভিত্তিক রোডম্যাপ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনায় ২৭ সদস্যের ‘ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি’ গঠন করেছে সরকার।

    রোববার (৯ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিতে সংস্কৃতি বিষয়ক, শিল্প, বাণিজ্য এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাকে সদস্য করা হয়েছে।

    এছাড়া ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এবং তথ্য ও সম্প্রচার ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাও কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

    অর্থ, তথ্য ও সম্প্রচার, যুব ও ক্রীড়া, সংস্কৃতি বিষয়ক, শিল্প, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবরা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    এছাড়া বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান, ব্র্যাক, এইচএসবিসি বাংলাদেশ, বেঙ্গল ফাউন্ডেশন এবং শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির প্রতিনিধিদের কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে।

    উদ্যোক্তা, ফ্যাশন ডিজাইনার ও মডেল বিবি রাসেলকে সেক্টর স্পেশালিস্ট হিসেবে সদস্য করা হয়েছে। আরো একজন সেক্টর স্পেশালিস্ট সদস্য হিসেবে এবং অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সামষ্টিক ও টিডিএম) সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি-সংক্রান্ত বিভিন্ন খাতের রোডম্যাপ অনুমোদন এবং সেগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি। একইসাথে আন্তঃমন্ত্রণালয় ও আন্তঃসংস্থার কার্যক্রমে সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবে।

    বিভিন্ন খাতভিত্তিক কমিটির কার্যক্রমও পর্যালোচনা করবে এ কমিটি। পাশাপাশি ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে রোডম্যাপ ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনে কমিটি নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। কমিটির প্রয়োজন অনুসারে সভা অনুষ্ঠিত হবে। অর্থ বিভাগ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে।

  • পোশাকের বাইরে নিউজিল্যান্ডে ওষুধ ও আইটি পণ্যের বাজার চায় বাংলাদেশ

    পোশাকের বাইরে নিউজিল্যান্ডে ওষুধ ও আইটি পণ্যের বাজার চায় বাংলাদেশ

    নিউজিল্যান্ডের বাজারে বাংলাদেশের রফতানি এখনও মূলত তৈরি পোশাকনির্ভর। এই নির্ভরতা কমিয়ে ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি, পাট, চামড়া ও টেকসই বস্ত্রসহ অ-পোশাক পণ্যের বাজার বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে কৃষি-প্রযুক্তি, দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ, সবুজ জ্বালানি ও কোল্ড-চেইন খাতে নিউজিল্যান্ডের বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা চলছে।

    এ লক্ষ্যে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের সরাসরি সংযোগ, ভার্চুয়াল বিটুবি বৈঠক এবং সরকারি পর্যায়ে সমন্বয় বাড়াতে তিনটি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বিজনেস কাউন্সিল গঠন এবং বাণিজ্য মেলা আয়োজনের বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

    সোমবার (১১ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন এসব তথ্য জানিয়েছেন।

    নিউজিল্যান্ড ট্রেড অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজের (এনজেডটিই) সঙ্গে এক বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাব দেওয়া হয়। বৈঠকে এনজেডটিই-এর মার্কেট ম্যানেজার (দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়া) র‍্যাচেল ম্যাকগাকিয়ানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়।

    বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান। প্রতিনিধিদলে ছিলেন যুগ্মসচিব (এফটিএ) মো. ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ এবং উপসচিব (এফটিএ) ফারহানা ইসলাম।

    বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর বিপরীতে নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের রফতানি প্রায় ১৪৭ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের রফতানির বড় অংশই তৈরি পোশাক। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড থেকে বাংলাদেশ মূলত দুগ্ধজাত ও ধাতব পণ্য আমদানি করে।

    এই পরিস্থিতিতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমুখী করতে অ-পোশাক পণ্যের রফতানি বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। বিশেষ করে ফার্মাসিউটিক্যালস, পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, টেকসই বস্ত্র এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য নিউজিল্যান্ডের বাজারে নতুন সুযোগ তৈরিতে এনজেডটিই-এর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

    ওষুধ ও ভ্যাকসিন রফতানিতে আগ্রহ

    বৈঠকে বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মান ও সনদ অনুসরণ করে উৎপাদন করছে। ফলে নিউজিল্যান্ডের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দামে জেনেরিক ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহের সুযোগ রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্য ও ওষুধের বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশ বাড়ানোর আগ্রহ জানানো হয়।

    আইটি খাতেও বাজার খুঁজছে বাংলাদেশ

    বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকেও সম্ভাবনাময় রফতানি ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, দেশে ৬ লাখ ৫০ হাজারের বেশি প্রযুক্তি পেশাজীবী রয়েছেন। এই জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সফটওয়্যার, ফিনটেক এবং ডিজিটাল সেবা খাতে ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।

    শুধু রফতানি নয়, বাংলাদেশে নিউজিল্যান্ডের বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিশেষায়িত পুষ্টিপণ্য, কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস, কৃষি-প্রযুক্তি, উন্নত উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি খাতে নিউজিল্যান্ডের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য থাকা সুযোগ-সুবিধাও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

    বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, নিউজিল্যান্ডের প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে উৎপাদন ও বিনিয়োগের মাধ্যমে শুধু স্থানীয় বাজার নয়, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তর বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ নিতে পারে।

    আলোচনাকে বাস্তব ব্যবসায়িক উদ্যোগে রূপ দিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিনটি পদক্ষেপ দ্রুত নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, এনজেডটিই-এর দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়া দলের সঙ্গে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (BIDA) সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন।

    দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল, আইটি ও চামড়া খাতের রফতানিকারকদের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের সম্ভাব্য ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের ভার্চুয়াল বিটুবি বৈঠকের আয়োজন।

    তৃতীয়ত, নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের (এম এফ এ টি) সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ জোরদার করা।

    এ ছাড়া দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে একটি দ্বিপাক্ষিক বিজনেস কাউন্সিল গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্য মেলা আয়োজন এবং একে অপরের দেশে অনুষ্ঠিত মেলায় অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

    বৈঠকে বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা ও বড় বাজারের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের প্রযুক্তি, কৃষি ও উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনের দক্ষতাকে যুক্ত করে পারস্পরিক লাভজনক অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

  • বিদেশে পড়াশোনার খরচ কার্ডে পরিশোধের সুযোগ

    বিদেশে পড়াশোনার খরচ কার্ডে পরিশোধের সুযোগ

    বিদেশে উচ্চশিক্ষার টিউশন ফি ও অন্যান্য অনুমোদিত শিক্ষাব্যয় পরিশোধে আন্তর্জাতিক ডেবিট, প্রি-পেইড ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, টিউশন ফি এবং অনলাইনে শিক্ষা-সংক্রান্ত বিভিন্ন অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।

    সোমবার (১০ আগস্ট) এই বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো শিক্ষার্থী অথবা তার শিক্ষাব্যয় বহনকারী ব্যক্তির নামে আন্তর্জাতিক ডেবিট, প্রি-পেইড ও ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করতে পারবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন ভর্তি প্ল্যাটফর্মে আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের চাহিদা বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের বিদেশে পড়াশোনার ব্যয় পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ করতে এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

    নতুন ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীর অনুমোদিত শিক্ষাব্যয় পরিশোধের জন্য কার্ডে লেনদেন করা অর্থ প্রচলিত ভ্রমণ কোটার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে না। অর্থাৎ বিদেশে শিক্ষার জন্য অনুমোদিত এই ব্যয় বিদ্যমান ভ্রমণসুবিধার বাইরে আলাদাভাবে বিবেচিত হবে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর নিজের নামে অথবা তার শিক্ষাব্যয় বহনকারী ব্যক্তির নামে এসব কার্ড ইস্যু করা যাবে। কার্ড ইস্যু ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে সংশ্লিষ্ট এডি ব্যাংককে।

    তবে কার্ডটি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শুধু অনুমোদিত শিক্ষা-সংক্রান্ত ব্যয় পরিশোধের জন্য ব্যবহার করা যাবে। এর বাইরে অন্য কোনো কাজে কার্ড ব্যবহার করা যাবে না।

    এছাড়া শিক্ষাব্যয় পরিশোধের সব লেনদেনের যথাযথ রেকর্ড সংরক্ষণ করতে এডি ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্ধারিত পারপাস কোড ব্যবহার করে এসব লেনদেনের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে নিয়মিতভাবে প্রতিবেদন আকারে জমা দিতে হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশে পড়তে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ও টিউশন ফি পরিশোধে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারের সুযোগ আরও বাড়বে। বিশেষ করে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা ব্যবহার করে দ্রুত অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে এই সুবিধা কাজে আসবে।

  • এবার ভঙ্গুর এই রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পালা: প্রধানমন্ত্রী

    এবার ভঙ্গুর এই রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পালা: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের জাঁতাকলে ভঙ্গুর বাংলাদেশ এখন পুনর্গঠনের সময় এসেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসন বাংলাদেশকে একটি ঋণ নির্ভর ও আমদানি নির্ভর ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশসহ সকল ক্ষেত্রে ভঙ্গুর এই রাষ্ট্রটি এবার পুনর্গঠনের পালা। দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রা পথে এসডিজি’র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অনস্বীকার্য।

    তিনি আরও বলেন, এরই অংশ হিসেবে জনগণের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই অবকাঠামো দেশের জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনাকে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি’র সঙ্গে সমন্বিত করেছে।

    টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণ বিষয়ক জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    সোমবার দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিএনপির জননীতি’র দিকে লক্ষ্য করলেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে সব সময় বিএনপির সকল পরিকল্পনা এবং কর্মসূচি জনবান্ধব।

    তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের উন্নয়নে- স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯-দফা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’ এবং বর্তমানে রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা। ঐতিহাসিকভাবে প্রতিটিই মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমডিজি) কিংবা বর্তমানের সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলের (এসডিজি) ভিশন ও মিশনের সঙ্গে খুব বেশি অমিল নেই।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যেভাবে এমডিজি বাস্তবায়নে সাফল্যের পরিচয় দিয়েছিল, এসডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ যথাযথভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলছে। আপনারা লক্ষ্য করবেন, এসডিজি’র প্রতিপাদ্য ‘নো ওয়ান লিভ বিহাইন্ড’ কিংবা ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’ মূলনীতির সঙ্গে বর্তমান সরকারের জননীতিরও মিল রয়েছে।

    তিনি বলেন, সকল শ্রেণি পেশা তথা জনগণের স্বার্থ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নীতি হচ্ছে ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের গৃহীত ‘সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ স্তম্ভ’র মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, জেন্ডার সমতা এবং জলবায়ু সহনশীলতা এবং সুশাসন এসডিজি’র এই মূল অগ্রাধিকারগুলোই প্রতিফলিত হয়েছে।

    তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে থেকে উত্তরণ এবং এসডিজি বাস্তবায়নে অর্জিত অগ্রগতি সুসংহত করতে বর্তমান সরকার ‘পুনরুদ্ধার-পুনর্বাসন-পুনর্গঠন বা রিকোভারি-রিহ্যাবিলিটেশন-রিকন্সট্রাকশন এই থ্রি-আর কৌশল গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে সাময়িক স্থিতিশীলতা থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত রূপান্তর- সবকিছুই একটি সুসংহত নকশায় বাস্তবায়িত হবে।

    তারেক রহমান বলেন, জনগণের রায়ে বর্তমান সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পরদিন থেকেই নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় কৃষক কার্ড, জনস্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা সেবা সহজ করতে ই-হেলথ কার্ডের মতো একাধিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বাস্তবায়ন করে চলছে।

    তিনি বলেন, এর মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষক, স্বল্প আয়ের পরিবার ও ঝুঁকিপূর্ণজনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি ভর্তুকি, কৃষি উপকরণ, আর্থিক সহায়তা এবং স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্পোর্টস কার্ড, সারাদেশে ইমাম মুয়াজ্জিন এবং বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয়গুরুদেরকেও সম্মানী ভাতার আওতায় আনা হয়েছে।

    অর্থাৎ কোনো না কোনো উপায়ে দেশের প্রতিটি শ্রেণি পেশার মানুষের কাছে সরকারের সহায়তা নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    তিনি বলেন, এভাবে চলতি মেয়াদের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে সম্ভাব্য প্রতিটি নাগরিককে সামাজিক সুরক্ষা বলয় এবং আর্থিক সহায়তা কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সুচিন্তিত পথনকশা সরকারের রয়েছে।

    ‘এসডিজি ভিলেজ’ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এবার রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর এই তিনটি গ্রামকে এসডিজি স্থানীয়করণের একটি পাইলট মডেল হিসেবে প্রাথমিকভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, এই গ্রামগুলোতে ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের ঋণ, স্কুল ড্রেস, মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রাম পর্যটন, ওয়ান ভিলেজ-ওয়ান প্রোডাক্ট, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও ইকোট্যুরিজমসহ বিভিন্ন কর্মসূচি একযোগে পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। একইসঙ্গে এর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হবে।

    তিনি বলেন, এই উদ্যোগের সাফল্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সারাদেশের অন্যান্য গ্রামেও এই মডেল সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আশা করি, এসডিজি ভিলেজ বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারকে একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘ডেভেলপমেন্ট মডেল’ হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার একটি দৃষ্টান্তমূলক প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠবে।

    কোনো একক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মাধ্যমে এসডিজি বাস্তবায়ন সম্ভব নয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এর সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত সহযোগিতা।

    তিনি বলেন, আশা করি, তিনদিনের এই সম্মেলনে প্রতিটি সমন্বয়কারী মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের অভীষ্টভিত্তিক অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত এবং সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

    তারেক রহমান বলেন, আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনায় কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। এর একটি হলো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, যেখানে থাকবে অবাধ নির্বাচন, আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা। আরেকটি মানবিক রাষ্ট্র, যেখানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক অধিকার হবে সর্বজনীন। এবং একটি কল্যাণ রাষ্ট্র, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক সুযোগ ও ন্যায্যতা নিশ্চিত থাকবে।

    তিনি বলেন, ২০৩০ সাল নাগাদ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের লক্ষ্যে আসুন আমরা সবাই দৃঢ় সংকল্প নিয়ে কাজ করি।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস. এম. শাকিল আখতার এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

  • আমানতের সুদে উৎসে কর কাটায় ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

    আমানতের সুদে উৎসে কর কাটায় ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

    আমানতের বিপরীতে দেওয়া সুদ বা মুনাফা থেকে আয়কর আইন অনুযায়ী সঠিক হারে উৎসে কর (টিডিএস) কাটার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে কর কর্তনের তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সোমবার (১০ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার লেটার জারি করা হয়। এতে বাংলাদেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে বলা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যাংকের আমানতের বিপরীতে পরিশোধিত সুদ বা মুনাফা থেকে উৎসে কর কর্তন এবং কর্তন করা কর নির্ধারিত সময়ে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখা যাচ্ছে। আইন অনুযায়ী সঠিক হারে কর না কাটার কারণে পরবর্তী সময়ে কর সমন্বয় ও নিরীক্ষা কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি কোনও কোনও ক্ষেত্রে সঠিকভাবে কর কর্তন না করায় সরকার রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১০২ ধারা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকের সঞ্চয়ী, স্থায়ী, মেয়াদি বা অন্য কোনও ধরনের আমানতের বিপরীতে পরিশোধিত সুদ বা মুনাফা থেকে প্রাপকের ধরন অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে উৎসে কর কাটতে হবে।

    এছাড়া আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৪২ ধারা অনুযায়ী, কোনো করদাতা রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ বা ‘প্রুফ অব সাবমিশন অব রিটার্ন’ (পিএসআর) দিতে ব্যর্থ হলে প্রযোজ্য হারের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি হারে উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ করতে হবে।

    নির্দিষ্ট সময়েই কোষাগারে জমা দিতে হবে

    কর্তন করা উৎসে কর নিজেদের হিসাবে ধরে না রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৩-এর ৮ ধারার বিধান অনুযায়ী, অর্থবছরের জুলাই থেকে মে মাসে কোনো কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হলে তা কর্তন বা সংগ্রহের মাস শেষ হওয়ার পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।

    অর্থবছরের জুন মাসের প্রথম থেকে ২০তম দিনের মধ্যে কোনো কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তন বা সংগ্রহের দিনের পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। আর জুন মাসের অন্য যেকোনও দিনে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হলে পরবর্তী দিনেই তা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ব্যাংক কর্তৃক কর্তন করা উৎসে কর কোনোভাবেই নির্ধারিত সময়সীমার বেশি সাধারণ খাতায় (জেনারেল লেজার) বা অন্য কোনও হিসাবে রাখা যাবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সরকারি কোষাগারে জমা নিশ্চিত করতে হবে।

    একই সঙ্গে উৎসে কর কর্তনের তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় বিবরণী ও চালানের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, উৎসে কর কর্তন ও সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে আয়কর আইন, ২০২৩ এবং উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৩-এর অন্যান্য প্রযোজ্য বিধানও যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

    ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

  • অর্থপাচারে জড়িত আরো ৪২ ঋণখেলাপি গ্রুপ

    অর্থপাচারে জড়িত আরো ৪২ ঋণখেলাপি গ্রুপ

    ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বিদেশে অর্থপাচার করেছে, এমন ৪২টি ঋণখেলাপি গ্রুপকে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারটির প্রায় ২২ কোটি ডলার পাচারের তথ্য শনাক্ত করা গেছে। পাচার করা অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো। ইতোমধ্যে বিদেশে থাকা সম্পদ চিহ্নিত ও জব্দ করার জন্য আটটি আন্তর্জাতিক আইনি ও পেশাদার পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

    জানা গেছে, ৪২টি গ্রুপের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৫৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার বা প্রায় ২.৫৫ বিলিয়ন ডলার। ডলারপ্রতি ১২৩ টাকা ৮০ পয়সা হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৩১ হাজার ৫৫৭ কোটি টাকা।

    ৪২টি গ্রুপের মধ্যে অন্যতম হলো—এসবি এক্সিম গ্রুপ, হাবিব গ্রুপ, ইয়াসীর গ্রুপ, এডব্লিউআর গ্রুপ, লিবার্টি গ্রুপ, প্রিমিয়ার গ্রুপ, লস্কর গ্রুপ ও সাদ মুসা গ্রুপ। এরমধ্যে এসবি এক্সিমের দুই কোটি ৬৮ লাখ ডলার, হাবিব গ্রুপের ১৩ কোটি ৪১ লাখ ডলার, ইয়াসীর গ্রুপের প্রায় চার কোটি ডলার এবং এডব্লিউআর গ্রুপের প্রায় দুই কোটি ডলার পাচারের তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে। চার প্রতিষ্ঠানের মোট পাচার করা অর্থের পরিমাণ প্রায় ২২ কোটি ১৯ লাখ ডলার।

    এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার শীর্ষ ১১টি গ্রুপের ব্যাংক লুট, অর্থপাচার, কর ফাঁকি ও অন্যান্য অনিয়ম-জালিয়াতি খুঁজে বের করতে যৌথ তদন্তদল গঠন করে। পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার এবং আলোচিত ১০টি শিল্প গ্রুপের দেশ-বিদেশে থাকা মোট ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এসব শিল্প গ্রুপ হলো—এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ, সামিট গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, প্রিমিয়ার গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ এবং আরামিট গ্রুপ।

    দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) যৌথ তদন্তের ভিত্তিতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিদেশি সম্পদ উদ্ধারে গ্র্যান্ট থর্নটন, বেকার ম্যাকেঞ্জি, পিডব্লিউসি ও ডেলয়েটের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সহায়তা করছে।

    দ্বিতীয় দফায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) ডেটাবেজের তথ্যানুযায়ী, ২০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে, এমন ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিদেশে পাচার করা সম্পদ খুঁজে বের করতে আটটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে—গ্র্যান্ট থর্নটন, আরআই কনসোর্টিয়াম, বেকার ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড পিডব্লিউসি, ডিএলএ পাইপার অ্যান্ড ক্রল, ইওয়াই অ্যান্ড ডেন্টনস, রহমান রাভেল্লি অ্যান্ড ইন্টারপাথ, বিসিজি অ্যান্ড এইচএইচআর এবং অ্যানিমাস অ্যাসোসিয়েটস।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ব্যাংকগুলোর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশে থাকা ঋণখেলাপিদের সম্পদের অবস্থান, ধরন ও পরিমাণ শনাক্ত করছে এসব প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্ট দেশের আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে সম্পদ উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

    জানা গেছে, বিদেশি আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো অগ্রিম ফি বা খরচ নেবে না। তারা বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত ও উদ্ধার করতে পারলে উদ্ধার করা অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে পাবে। অর্থাৎ ‘নো উইন, নো পে’ ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, সিঙ্গাপুর, বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড, হংকং, চীন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ায় এই ৪২টি প্রতিষ্ঠানের অর্থপাচারের প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এসব দেশ থেকে পাচারের অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

    জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তা বলেন, বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগে আগে থেকে ১১টি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে কাজ করছিল বিএফআইইউ। এখন এর সঙ্গে আরো ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিদেশে অর্থপাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

    তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলো ঋণখেলাপি এবং তারা ঋণ পরিশোধ করছে না। তাই তাদের অর্থের একটি অংশ বিদেশে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এজন্য বিদেশে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক বা অর্থের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধান করতে বিদেশি সংস্থাগুলোকে বলা হয়েছে। বিদেশে অর্থের সন্ধান পাওয়া গেলে তা ফ্রিজ করে দেশে ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    বিষয়টির অগ্রগতি নিয়ে গতকাল রোববার বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে ৩৮টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গভর্নর পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম আরো জোরদারের তাগিদ দেন।

    বৈঠক শেষে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে চলে গেছে। এ অর্থ ফেরত আনতে ব্যাংকগুলো কাজ করছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

    তিনি বলেন, পাচার হওয়া কত অর্থ ফেরত আনা যাবে, সেটি পরের বিষয়। তবে যারা অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত, তারা যেন শাস্তি পায়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। এজন্য বিদেশে তাদের থাকা অর্থ ফ্রিজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে এ কাজে বিদেশি আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক তদন্তকারী ও আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশে থাকা সম্পদের অবস্থান, ধরন ও আর্থিক পরিমাণ শনাক্তের কাজ করছে। সম্পদ চিহ্নিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশের আইনানুযায়ী আইনি প্রক্রিয়ায় প্রথমে তা ফ্রিজ বা জব্দ করার ব্যবস্থা করা হবে। পরে আদালতের নির্দেশে সেসব সম্পদ বিক্রি বা নিষ্পত্তির মাধ্যমে পাওয়া অর্থ বাংলাদেশে ফেরত আনার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

    তিনি বলেন, এ উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন পাচার করা জাতীয় সম্পদ উদ্ধারের সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর দীর্ঘদিনের অনাদায়ী বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণও আদায় করা সম্ভব হবে।

  • চুপ্পুর বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

    চুপ্পুর বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

    ঋণের নামে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ও এস আলমসহ মোট ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি।

    সোমবার দুপুরে দুদকের কার্যালয়ে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়।

    অভিযোগে বলা হয়, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড’ নামের একটি দুর্বল প্রতিষ্ঠানের ঋণসীমা জালিয়াতির মাধ্যমে ১০০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়। পরবর্তীতে সেই অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়। অ্যাননটেক্স গ্রুপের ইউনুস বাদলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেডের অনুকূলে অবৈধভাবে ঋণ বরাদ্দ পাইয়ে দিতে ভূমিকা রাখেন ব্যবসায়ী এস আলম। আর তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন, ব্যাংকের সাবেক তিন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল মাওলা, আব্দুল হামিদ মিয়া ও মাহবুব উল আলমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই অনৈতিক কাজের অনুমোদন দিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।

    ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চারটি অডিট ফার্মের মাধ্যমে ঘটনার তদন্ত করে এসব অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছে বলেও দুদকে পাঠানো অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বাণিজ্য ঘাটতি

    তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বাণিজ্য ঘাটতি

    দেশের বাণিজ্য ঘাটতি গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও রপ্তানি আয় কমেছে। ফলে এক বছরে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৩৪ শতাংশ।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫ এ ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২০ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার বা ২ হাজার ৩৯ কোটি ডলার।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশ থেকে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৪৩ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারের। আগের অর্থবছরের তুলনায় রপ্তানি আয় কমেছে ১ শতাংশ। বিপরীতে আমদানি ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারে। এক বছরে আমদানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরের পর এটিই এক বছরে আমদানি বৃদ্ধির সর্বোচ্চ হার।

    খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাণিজ্য ঘাটতির এই বড় বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক খাতের দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এর পেছনে অভ্যন্তরীণ কারণের চেয়ে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবই বেশি। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা শুল্ক, পশ্চিমা দেশগুলোতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় তৈরি হওয়া সংকট এর জন্য দায়ী।

    তারা বলেন, এসব কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা ও নতুন আদেশ কমেছে। ফলে রপ্তানি আয় বাড়েনি। একই সময়ে জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্যের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি আরও বড় হয়েছে।

    তবে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অব পেমেন্টস) বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়নি। এর অন্যতম কারণ রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। এতে চলতি হিসাবের ঘাটতি প্রায় ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়েছে।

    এদিকে গত অর্থবছরে দেশের আর্থিক হিসাবে ৭৮৯ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত হয়েছে। আগের অর্থবছরে এ উদ্বৃত্ত ছিল ৩৫৯ কোটি ডলার। মূলত প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), বিদেশি অনুদান ও বিদেশি ঋণের ওপর ভর করেই আর্থিক হিসাবে এই উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে।

    অন্যদিকে পুরো ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত হয়েছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্যালান্স অব পেমেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হচ্ছে চলতি হিসাব। একটি দেশের বৈদেশিক লেনদেনের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার অন্যতম লক্ষণ হলো চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকা। কিন্তু রেমিট্যান্সে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও বাণিজ্য ঘাটতি বড় হওয়ায় বাংলাদেশের চলতি হিসাব এখনো ঘাটতিতে রয়েছে।

    তাদের মতে, রপ্তানি আয় না বাড়িয়ে শুধু রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভর করে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য ধরে রাখা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারে দেশের পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

  • শার্শা ও বেনাপোলের বাজারে অর্ধেকে নেমেছে কাঁচা মরিচের দাম

    শার্শা ও বেনাপোলের বাজারে অর্ধেকে নেমেছে কাঁচা মরিচের দাম

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোলসহ বিভিন্ন বাজারে কাঁচা মরিচের দাম অর্ধেকে নেমেছে। পাঁচ দিন আগেও এসব বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৮০ টাকায়।

    সারাদেশে কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু করে। গত পাঁচ দিনে ভারত থেকে বেনাপোল দিয়ে ৮০ টন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে।

    সোমবার (৩ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রথম চালানে একটি ভারতীয় ট্রাকে নয় হাজার ২০০ কেজি (৯.২ টন), মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় দ্বিতীয় চালানে তিনটি ট্রাকে ৪২ হাজার ২২০ কেজি (৪২.২২ টন), বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় একটি ট্রাকে ১৪ হাজার কেজি (১৪ টন) এবং শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় একটি ট্রাকে ১৫ হাজর কেজি (১৫ টন) কাঁচা মরিচ বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে।

    এ নিয়ে গত পাঁচ দিনে ৮০.৪২ টন বা ৮০ হাজার ৪২০ কেজি কাঁচা মরিচ বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে।

    মরিচ আমদানিকারক রফিকুল ইসলাম জানান, ভারত থেকে ৩০৫ ডলারে প্রতি টন কাঁচা মরিচ আমদানি করা হচ্ছে। বাংলাদেশী টাকায় প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ আমদানিতে সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ১৩৫ টাকা। সামান্য লাভ রেখে আমরা বাজারে বিক্রি করছি। আমদানি বাড়লে বাজারে মরিচের দাম আরো কমে আসবে। তবে কাস্টমসের নানা জটিলতায় ও পণ্য ছাড়করণে জটিলতার কারণে রাজস্ব বেশি গুণতে হচ্ছে। এতে আমদানিকারকরা লোকসানের মুখে পড়ছেন এবং আমদানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা গেছে, সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ, বিশেষ করে নাসিক থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৬৯ জন ব্যবসায়ী মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) পেয়েছেন এবং সোমবার থেকেই আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

    এদিকে, বেনাপোল বন্দরের কাঁচাবাজারে পাঁচ দিন আগেও প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেলেও আজ রোববার সকাল থেকে দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৮০ টাকায়। বিক্রেতারা আশা করছেন আমদানি বাড়লে দাম কমে ১০০-এর নিচে নেমে আসবে।

    ভারত থেকে আমদানিকৃত কাঁচা মরিচের চালান বন্দরে ঢোকার সাথে সাথে তার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানোই দ্রুত দাম কমে আসছে। এ চালানের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হলো শিমু এন্টারপ্রাইজ এবং বন্দর থেকে খালাস কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে সি অ্যান্ড এফ অ্যাজেন্ট শিমু শিপিং লাইন্স।

    বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক পরিচালক (ট্রাফিক) রুহুল আমিন জানান, মরিচবাহী ট্রাক বন্দরে পৌঁছানোর সাথে সাথেই দ্রুত কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে খালাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সীমান্তের ওপারে আরো কাঁচা মরিচবাহী অনেকগুলো ট্রাক বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।

  • যশোরে ‘সবুজ সোনা’ চন্দনের বাণিজ্যিক বিপ্লব

    যশোরে ‘সবুজ সোনা’ চন্দনের বাণিজ্যিক বিপ্লব

    যশোরের বাগমারা পাড়া বিসমিল্লাহ গ্যারেজ। শহরের ব্যস্ত পরিবেশের ভেতরেই এক বাড়ির একান্নবর্তী পরিবারের তিনটি ছাদে চোখ জুড়িয়ে যায় অসাধারণ সবুজের সমারোহ দেখে। সেখানে ছোট-বড় গামলা আর বিশেষ মাটিতে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে বিরল প্রজাতির গাছ। সাধারণ দর্শনার্থীদের চোখ আটকে যায় একটি বিশেষ উদ্ভিদের কাছে। এটি আর দশটি বনসাই বা সাধারণ গাছ নয়; এটি বিশ্বের অন্যতম দামি এবং ভেষজ গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ ‘শ্বেতচন্দন’।


    এক ছাদ বাগানেই লালন-পালন করা হচ্ছে প্রায় ৩৫০টি দুষ্প্রাপ্য শ্বেতচন্দন গাছ! এ যেন এক নীরব ভেষজ বিপ্লব, যা যশোরকে ছাড়িয়ে পুরো দেশের অর্থনীতিতেই নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে।
    এই অসাধারণ উদ্যোগের পেছনের কারিগর ৪৫ বছর বয়সী সাজ্জাদ হোসেন। স্কুলে পড়ার সময় থেকেই বনসাইয়ের প্রতি তার ঝোঁক ছিল। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে প্রবাস জীবন কাটাতে মালয়েশিয়া গিয়ে এক চীনা ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানে সাজানো বনসাই দেখে অনুপ্রেরণা পান। ২০১০ সালে দেশে ফিরে কৃষিতে নামলেও প্রথমে সফলতা পাননি।


    তবে অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে ২০১৩ সালে তিনি বট, পাকুড় ও অশ্বত্থের চারা দিয়ে বনসাই তৈরি শুরু করেন। এরপর যশোর বন বিভাগের ঝুমঝুমপুর নার্সারি থেকে মাত্র ১০টি শ্বেতচন্দনের চারা সংগ্রহ করেন তিনি। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাবলিক লাইব্রেরির বই-পুস্তক ও ম্যাগাজিন ঘেঁটে নিজেই তৈরি করেন গাছের জন্য উপযুক্ত বিশেষ মাটি।


    গাছের রোগবালাই দূর করতে কেমিক্যাল কীটনাশকের বদলে তিনি ব্যবহার করেন মেহগনি পাতা পচা পানি ও লেবুর রসের পরিবেশবান্ধব মিশ্রণ। সেই ১০টি চারা থেকে আজ তার ছাদ বাগানে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন বয়সের সাড়ে ৩০০ শ্বেতচন্দনের বনসাই এবং নার্সারিতে রয়েছে ২-৩ বছর বয়সী প্রায় ৪,০০০ চারা।


    ধারণা করা হয়, চন্দনের আদি নিবাস ইন্দোনেশিয়ার তিমুর দ্বীপে হলেও ভারতীয় উপমহাদেশে এর ঐতিহ্য বহু প্রাচীন। রামায়ণ, মহাভারত এবং কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রেও (খ্রিস্টপূর্ব-২০০) চন্দনের উল্লেখ পাওয়া যায়।


    বিশ্ববাজারে শ্বেতচন্দনকে বলা হয় ‘সবুজ সোনা’। একটি পরিণত শ্বেতচন্দন গাছ (২০ বছর বয়সী) প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ কেজি কাঠ দেয়, যার প্রতি কেজির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৫ হাজার টাকা। সমাজ বন বিভাগ যশোরের তথ্যমতে, এক একর জমিতে চন্দন চাষে প্রায় ১ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫-২০ বছর পর আয় হতে পারে ৬০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত!
    পেনিসিলিন আবিষ্কারের বহু আগে থেকেই প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে গনোরিয়া রোগের চিকিৎসায় চন্দনের তেল ব্যবহৃত হতো। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ, ব্রঙ্কাইটিস, চর্মরোগ, ঘামাচি, বসন্ত এবং হজমের সমস্যায় এর ব্যবহার প্রাচীন। রূপচর্চায় এর জাদুকরী উপকারিতা তো সর্বজনবিদিত।


    এছাড়া সনাতন ধর্মে পূজা-অর্চনা ও শেষকৃত্যে চন্দন কাঠ অপরিহার্য। মুসলিম ঐতিহ্যে সুগন্ধি আতর তৈরিতে চন্দনের তেল অনন্য উপাদান।
    সম্প্রতি যশোর জেলা বন বিভাগ আয়োজিত বৃক্ষমেলায় প্রথমবারের মতো শ্বেতচন্দন নিয়ে হাজির হন সাজ্জাদ হোসেন। মেলার দর্শনার্থীদের মধ্যেও চন্দন কেনা নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। মেলায় শ্রেষ্ঠ তরুণ উদ্যোক্তার পুরস্কারও জিতে নেন সাজ্জাদ হোসেন।


    যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ছাত্র সবুজ বৈরাগী জানান, মাত্র ৫০ টাকায় ৪৪ দিন বয়সী চারা কিনে তিনি ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ হিসেবে এটিকে দেখছেন। অন্যদিকে অরনিমা নামের এক দর্শনার্থী স্মৃতি এবং ধর্মীয় ভাবাবেগ থেকে কেনা চারাটি ২০ বছর পর নিজের পূজায় ব্যবহারের আশা ব্যক্ত করেন।


    সাজ্জাদ হোসেন বর্তমানে টিস্যু কালচারের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করছেন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেওয়ার জন্য ১৪ বছর বয়সী ২টি বিশেষ চারাসহ মোট ২,০০০টি চারা প্রস্তুত রেখেছেন। সরকারি ভবনের অব্যবহৃত জায়গায় চন্দন রোপণ ও পরিচর্যার দায়িত্ব নিজ কাঁধে নেওয়ার ইচ্ছাও ব্যক্ত করেছেন এই উদ্যোক্তা।


    বাংলাদেশ চন্দন চাষের জন্য অনুকূল হলেও দীর্ঘমেয়াদী পরিচর্যা ও সুরক্ষার অভাবের কারণে গাছটি দেশে কিছুটা বিলুপ্তপ্রায়। যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর এস.এম আইয়ূব হোসেন এবং সহকারী বন সংরক্ষক অমিতা মন্ডল এই খাতের বেশ কিছু দিক তুলে ধরেন। এরমধ্যে-
    ‘দীর্ঘমেয়াদী ধৈর্য ও ঋণ সহায়তা: চন্দন গাছ থেকে প্রথম ৫-৭ বছর কোনো আর্থিক আয় আসে না। তাই তরুণ উদ্যোক্তাদের টিকে থাকতে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ ও সরকারি প্রণোদনা দেওয়া জরুরি’।
    সুরক্ষা ও জাতীয় নীতি: মূল্যবান গাছ হওয়ায় চুরির ঝুঁকি থাকে। তাই উপযুক্ত আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা বলয় গড়ে তোলা প্রয়োজন।


    গবেষণা ও টিস্যু কালচার: জেনেটিক রিসোর্স সংরক্ষণে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চন্দনের ওপর উচ্চতর গবেষণা এবং উন্নত টিস্যু কালচারের সম্প্রসারণ ঘটানো দরকার।
    একটি ছোট্ট চারা-যার আজকের দাম মাত্র ৫০ টাকা, সঠিক পরিচর্যা ও ২০ বছরের ধৈর্য শেষে সেটিই হতে পারে লাখ লাখ টাকার জাতীয় সম্পদ। সাজ্জাদ হোসেনের মতো নিবেদিত প্রাণ উদ্যোক্তারা প্রমাণ করেছেন, সুযোগ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে শ্বেতচন্দনের এই ‘সবুজ সোনা’ বিপ্লব বদলে দিতে পারে বাংলাদেশের সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতি।

  • রিজার্ভ চুরি: ৯৭ বার পেছাল মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ

    রিজার্ভ চুরি: ৯৭ বার পেছাল মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন দিন ধার্য করেন। এই নিয়ে মোট ৯৭ বার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পেছানো হলো।

    আজ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত নতুন তারিখ ধার্য করেন। আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

    ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করা হয়। পরে ওই টাকা ফিলিপাইনে পাঠানো হয়। দেশের অভ্যন্তরে কোনো একটি চক্রের সহায়তায় হ্যাকার গ্রুপ রিজার্ভের অর্থ পাচার করে বলে ধারণা করেন সংশ্লিষ্টরা।

    ওই ঘটনায় একই বছরের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদা অজ্ঞাতানামা ব্যক্তিদের আসামি করে মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ (সংশোধনী ২০১৫)-এর ৪-সহ তথ্য ও প্রযুক্তি আইন-২০০৬-এর ৫৪ ও দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় একটি মামলা করেন। কিন্তু নয় বছরেও রিজার্ভ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।

  • চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

    চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

    চলতি অর্থবছরে দেশের ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যে বাঁশখালী উপজেলায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এ কার্ড পাবে বলে জানান তিনি।

    আজ রোববার দুপুরে বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় ও গৃহহীন ১০০ পরিবারের মধ্যে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারকে আপনারা নির্বাচিত করেছেন। সরকারের দায়িত্ব আপনাদের পাশে থাকা। আমরা বলেছিলাম, সরকার গঠন করতে পারলে ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করব। এক মাসের মধ্যে করেছি। নারীদের স্বাবলম্বী করতে এই উদ্যোগ।’

    তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। বাঁশখালী উপজেলায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এ কার্ড পাবে। এ কার্যক্রম চলমান থাকবে। এর উদ্দেশ্য হলো পরিবারের পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি নারীরাও যাতে পরিবারের হাল ধরতে পারেন এবং মায়েদের হাত শক্তিশালী করা যায়।

    পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঁশখালীর লবণচাষিরাও কৃষক কার্ড পাবেন। আলোচনা করে লবণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

    মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্র বাংলাদেশের বড় সম্পদ। এই সম্পদকে কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা সম্ভব। মাতারবাড়ী থেকে মীরসরাই পর্যন্ত শিল্প-কারখানা স্থাপন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আনোয়ারায় চীনের জন্য জায়গা দেওয়া হয়েছে। সেখানে কয়েক শ শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। এতে চট্টগ্রামের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, বেকারত্ব কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিল-কারখানা না থাকলে কর্মসংস্থান সম্ভব নয়। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা শিল্পায়ন ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের অন্যতম পূর্বশর্ত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    বাঁশখালী হাসপাতাল ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা

    বাঁশখালীর হাসপাতাল আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

    দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। আগামী ১০ বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়নে কী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করার চেষ্টা না করে কারও বিকল্প পরিকল্পনা থাকলে তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করা উচিত।

    ‘পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই’

    দেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এখন জনগণের জন্য কাজ করার এবং দেশ গঠনের সময়। অনেক দেশ বাংলাদেশের পরে স্বাধীন হয়েও পরিশ্রমের মাধ্যমে এগিয়ে গেছে। তাই আর পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই।

    জনগণের জীবনমান ও দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে তাঁর সরকারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির কাছে সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। জনগণ সাথে থাকলে সব কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত শ্রমিকের হাতে পরিণত করে কর্মসংস্থান করা হবে। প্রত্যেক মানুষ কাজের মাধ্যমে নিজের পরিবারের ভাগ্য উন্নয়ন করতে পারবে। সেই বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই।’

    অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১৩ (চন্দনাইশ) আসনের সংসদ সদস্য মো. জসিম উদ্দিন, আনোয়ারার সংসদ সদস্য সাওয়াব জামান নিজাম, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরিসহ বিএনপির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • রপ্তানি আয়ের পাঁচ ভাগের এক ভাগ আনে বিদেশি ব্যাংকগুলো

    রপ্তানি আয়ের পাঁচ ভাগের এক ভাগ আনে বিদেশি ব্যাংকগুলো

    দেশের পণ্য রপ্তানির প্রায় ১৯ শতাংশ সম্পন্ন হচ্ছে বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। ফলে রপ্তানি আয়ের সমপরিমাণ অর্থ আনছে এসব ব্যাংক। অন্যদিকে আমদানির ১৩ শতাংশ হচ্ছে বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে।

    এদিকে দেশের ব্যাংকগুলোর আমানতের বড় অংশ উচ্চ সুদের এবং তা স্থায়ী আমানত। বিদেশি ব্যাংকগুলোর স্থায়ী আমানতের হার ১৬ শতাংশ, দেশের ব্যাংকগুলোতে এমন আমানতই ৪৮ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

    বাংলাদেশে বর্তমানে ৯টি বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই ব্যাংকগুলোর অধীন দেশে ৭০টি শাখা এবং ৫টি উপশাখা রয়েছে। তবে আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার বেশির ভাগ সম্পন্ন করছে বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ। অন্য বিদেশি সাতটি ব্যাংক হলো সিটি ব্যাংক এনএ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, উরি ব্যাংক, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও ব্যাংক আলফালাহ।

    জানা গেছে, দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করা বিদেশি ব্যাংকগুলো সবচেয়ে কম সুদে আমানত পায় আর ঋণের সুদহার অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের মতো। এ ছাড়া আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায় দক্ষতা ও বিস্তৃত ট্রেজারি কার্যক্রমের কারণে এসব ব্যাংক উচ্চ মুনাফা করে থাকে। তবে বিদেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে অর্ধেক ভালো আয় করছে।

    আমানত ও ঋণ পরিস্থিতি

    বিদেশি ব্যাংকগুলোর বিস্তৃত শাখা নেটওয়ার্ক ও ভোক্তা কার্যক্রম না থাকলেও আমানতে ভালো অবস্থানে আছে। যদিও বিদায়ী বছরে আমানত বেড়েছে অল্পই। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদেশি ব্যাংকগুলোর মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ৮৭ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তা কিছুটা বেড়ে ৮৭ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। তবে পুরো ব্যাংকিং খাতের তুলনায় তাদের আমানতের অংশ কমেছে । ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আমানতের বাজারে বিদেশি ব্যাংকগুলোর অংশ ছিল ৪ দশমিক ৬ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যা কমে ৪ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এসেছে।

    বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানতের ধরনে বড় বৈচিত্র্য রয়েছে। দেশের ব্যাংকগুলোর আমানতের বড় অংশ উচ্চ সুদের ও স্থায়ী আমানতের। বিদেশি ব্যাংকগুলোর স্থায়ী আমানতের হার ১৬ শতাংশ, দেশের ব্যাংকগুলোতে এমন আমানত ৪৮ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মোট আমানতের ৩৯ শতাংশ আসে চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে। দেশের ব্যাংকগুলোর এমন আমানতের হার ২৯ শতাংশ। যা তুলনামূলক কম সুদের আমানত।

    এ ছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (আরএফসিডি) ছিল ১৭ শতাংশ, দেশের ব্যাংকগুলোর তা মাত্র ২ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকগুলো মূলত করপোরেট ও প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের ওপর বেশি নির্ভর করে। ফলে তাদের আমানত সংগ্রহের খরচ তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

    এদিকে ২০২৫ সালে বিদেশি ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে সংকোচন দেখা গেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ৫১ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তা ১১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার ১২২ কোটি টাকায়। এর ফলে পুরো ব্যাংকিং খাতে তাদের ঋণের অংশ ৩ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ২ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

    কোথায় বেড়েছে, কোথায় কমেছে

    শিল্প খাতে ২০২৪ সালে বিদেশি ব্যাংকগুলোর ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে হয়েছে ২৪ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা। এসব ব্যাংক মূলত রপ্তানিমুখী উৎপাদনশীল শিল্পে ঋণ দিয়ে থাকে।

    কৃষি ও মৎস্য খাতে বিদেশি ব্যাংকগুলোর ঋণ বেড়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এই খাতে ঋণ ছিল ৭২৬ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দ্বিগুণের বেশি বেড়ে ১ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা হয়েছে।

    ২০২৪ সালে ব্যবসা ও বাণিজ্য খাতে ঋণ ছিল ১৫ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকার, যা ২০২৫ সালে কমে ৯ হাজার ১১০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

    এদিকে বিদেশি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার কিছুটা বেড়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণের হার ছিল ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তা বেড়ে ৫ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে। বিদেশি ব্যাংকগুলোর এত খেলাপি ঋণ মূলত ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের জন্য। কারণ, ব্যাংকটির ৯০ শতাংশের বেশি ঋণ খেলাপি।

    আমদানি-রপ্তানি পরিস্থিতি

    দেশের রপ্তানি ও আমদানি বাণিজ্যে বিদেশি ব্যাংকগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের শেষ ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) এসব ব্যাংকের ৩৭৩ কোটি ডলারের রপ্তানি বিল সংগ্রহ করেছিল। ২০২৫ সালের একই সময়ে তা বেড়ে ৪১২ কোটি ডলার হয়েছে। দেশের রপ্তানি আয়ে তাদের অংশ এখন ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ।

    আমদানির ক্ষেত্রেও তাদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে তারা ৩৮৭ কোটি ডলারের আমদানি বিল পরিশোধ করেছিল। ২০২৫ সালের একই সময়ে তা বেড়ে ৪২৯ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। বর্তমানে দেশের মোট আমদানির ১৩ দশমিক ১ শতাংশ এই ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে হয়। তবে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে তাদের অবদান মাত্র দশমিক ৩ শতাংশ।

    ২০২৪ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে বিদেশি ব্যাংকের নিট মুনাফা ছিল ৩ হাজার ৫৫৭ কোটি টাকা, ২০২৫ সালের একই সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। এদিকে মুনাফা বিদেশে পাঠানোর পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের শেষ ছয় মাসে মুনাফা ও আয় হিসেবে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল ৫৭৭ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই অঙ্ক বেড়ে ১ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা। তবে ডলার–সংকটের কারণে আগে তুলনামূলক কম মুনাফা ও আয় পাঠাতে পেরেছে বিদেশি ব্যাংকগুলো। ২০২৫ সালে আগের মুনাফা ও আয় পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

    মুনাফা কমছে

    এদিকে দেশের অর্থনীতির মন্দাবস্থার প্রভাব পড়েছে দেশের বহুজাতিক ব্যাংকগুলোর ঋণে। সব ব্যাংকের মুনাফা কমে গেছে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ ২০২৫ সালে নিট মুনাফা করেছে ৩ হাজার ২২০ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে মুনাফা করেছিল ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকায়। এদিকে এইচএসবিসির নিট মুনাফা ২৩ শতাংশ কমে গেছে। ২০২৫ সালে ব্যাংকটির নিট মুনাফার পরিমাণ ছিল ৮২৩ কোটি টাকা, ২০২৪ সালে এই মুনাফা ছিল ১ হাজার ৮৬ কোটি টাকা।

    কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন ২০২৫ সালে মুনাফা করে ৫৭৬ কোটি টাকা, ২০২৪ সালে যা ছিল ৬০০ কোটি টাকা। সিটি ব্যাংকএনএ বাংলাদেশ কার্যক্রমের মুনাফা গত বছর কমে দাঁড়িয়েছে ৩২৮ কোটি টাকা, যা ২০২৪ সালে ছিল ৩৮৪ কোটি টাকা। স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ২০২৪ সালে ২৩০ কোটি টাকা মুনাফা করলেও গত বছর কমে হয় ২০৭ কোটি টাকা। হাবিব ব্যাংক ২০২৫ সালে মুনাফা করে ১৮ কোটি টাকা, ২০২৪ সালে যা ছিল ২৪ কোটি টাকা।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিশ্বাস ও সেবার মানের কারণে কম সুদ পেলেও মানুষ বিদেশি ব্যাংকে যাচ্ছে। বৈশ্বিক সেবাকে দ্রুত ধারণ করায় ভালো করপোরেটরা এসব ব্যাংকের গ্রাহক। এ ছাড়া ধনী ও উচ্চ শ্রেণির মানুষ এসব ব্যাংকের আস্থাভাজন গ্রাহক। এর ফলে এসব ব্যাংক উচ্চ মুনাফা করছে। পাশাপাশি অন্য ব্যাংকের এসএমই ও ক্ষুদ্র খাতেও এসব ব্যাংক অর্থায়ন করে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে বিদেশি ব্যাংকগুলো এই দেশে ভালো করছে। তাদের থেকে দেশি ব্যাংকগুলো অনেক সেবা ও কালচারকে গ্রহণ করছে।

  • বিল-রিচার্জে টাকার টান পড়লে মিলবে ডিজিটাল ঋণ, সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা

    বিল-রিচার্জে টাকার টান পড়লে মিলবে ডিজিটাল ঋণ, সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা

    সংসারের ছোটখাটো জরুরি খরচ মেটাতে হঠাৎ টাকার প্রয়োজন হলেও অনেকের হাতে তখন পর্যাপ্ত নগদ থাকে না। বিশেষ করে মাসের শেষ দিকে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি কিংবা মোবাইল ফোনের বিল পরিশোধ অথবা প্রয়োজনীয় রিচার্জ করতে গিয়ে অনেককে পরিচিতজনের কাছ থেকে ধার করতে হয়। কেউ কেউ আবার ক্ষুদ্র ঋণের জন্য ব্যাংক বা অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হন। এবার এই ধরনের ছোট অঙ্কের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে ডিজিটাল মাধ্যমে ঋণের সুযোগ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    নতুন এই ব্যবস্থায় মোবাইল ব্যাংকিং বা ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া যাবে। ঋণ নেওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে পুরো অর্থ পরিশোধ করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ঋণের ওপর কোনো সুদ আরোপ করা হবে না। তবে ঋণের পরিমাণ অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারে সেবামূল্য নেওয়ার সুযোগ থাকবে ব্যাংকগুলোর।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের খসড়া নীতিমালায় ক্ষুদ্র অঙ্কের এই ডিজিটাল ঋণ চালুর কথা বলা হয়েছে। জনসাধারণ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়ার জন্য খসড়াটি প্রকাশ করা হয়েছে। মতামত ও পরামর্শ পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত নীতিমালা জারি করা হবে।

    কেন এই ক্ষুদ্র ঋণের উদ্যোগ

    বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন দ্রুত বাড়লেও এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষ দৈনন্দিন ছোটখাটো প্রয়োজন মেটাতে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে মাসের শেষ দিকে হাতে নগদ টাকা না থাকলে বিদ্যুৎ বা অন্যান্য ইউটিলিটি বিল পরিশোধ কিংবা মোবাইল ফোনে রিচার্জ করা অনেকের জন্য সমস্যার হয়ে দাঁড়ায়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিকল্পিত এই ব্যবস্থা মূলত সেই জায়গাটিই পূরণ করতে চায়। অর্থাৎ গ্রাহকের হাতে তাৎক্ষণিক নগদ টাকা না থাকলেও ডিজিটাল মাধ্যমে অল্প পরিমাণ অর্থ ধার নিয়ে প্রয়োজনীয় বিল বা রিচার্জ করা যাবে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা দেশের নগদবিহীন অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবার ব্যবহার বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

    এটি বড় অঙ্কের ভোগ্যঋণ নয়; বরং দৈনন্দিন জীবনের খুব ছোট ও তাৎক্ষণিক আর্থিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য একটি স্বল্পমেয়াদি ঋণব্যবস্থা। ফলে ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা বা ব্যাংক থেকে প্রচলিত ঋণ নেওয়ার সুযোগ না পাওয়া অনেক মানুষও এর আওতায় আসতে পারেন।

    ৫০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ

    খসড়া নীতিমালায় ঋণের পরিমাণ সর্বনিম্ন ৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঋণের অঙ্ক যত বাড়বে, নির্ধারিত সেবামূল্যও তত বাড়বে।

    প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণে সর্বোচ্চ ৫ টাকা সেবামূল্য; ২৫১ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ১০ টাকা; ৫০১ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত ১৫ টাকা; ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ২৫ টাকা; ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ৩৫ টাকা; ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫০ টাকা সেবামূল্য নেওয়া যাবে।

    অর্থাৎ কেউ সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা ঋণ নিলে ৩০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫০ টাকা পরিশোধ করতে হবে। এর বাইরে কোনো সুদ বা অতিরিক্ত চার্জ নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

    সুদ নেই, তবে সেবামূল্য থাকবে

    প্রস্তাবিত ব্যবস্থার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো—ঋণের ওপর কোনো সুদ নেওয়া হবে না। এর পরিবর্তে ঋণের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত সেবামূল্য নেওয়া যাবে।

    তবে ব্যাংকগুলো ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে পারবে না। অনুমোদিত সেবামূল্যের বাইরে সুদ, জরিমানা, প্রক্রিয়াকরণ ফি কিংবা অন্য কোনো অতিরিক্ত চার্জ নেওয়া নিষিদ্ধ থাকবে।

    এমনকি কোনো গ্রাহক নির্ধারিত ৩০ দিনের আগেই ঋণ পরিশোধ করে দিলে তার কাছ থেকে বাড়তি কোনো আগাম পরিশোধ ফি নেওয়া যাবে না।

    এর ফলে ক্ষুদ্র ঋণের ক্ষেত্রে গ্রাহকের ওপর অতিরিক্ত খরচের চাপ কম থাকবে। একই সঙ্গে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও সেবাটি পরিচালনার একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি হবে।

    পুরো প্রক্রিয়াই হবে ডিজিটাল

    নতুন ব্যবস্থায় ঋণ নিতে গ্রাহককে ব্যাংকের শাখায় গিয়ে কাগজপত্র জমা দিতে হবে না। পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    কাগজে স্বাক্ষরের পরিবর্তে গ্রাহকের জীবমিতিক পরিচয় যাচাই এবং ডিজিটাল সম্মতি নেওয়া হবে। অর্থাৎ গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমেই ঋণের আবেদন, অনুমোদন, অর্থ ছাড় এবং পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে।

    এতে একদিকে যেমন সময় ও কাগজপত্রের ঝামেলা কমবে, অন্যদিকে ছোট অঙ্কের ঋণ দেওয়ার পরিচালন ব্যয়ও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

    জরুরি সময়ে বড় সুবিধা হতে পারে

    ধরা যাক, মাসের শেষ দিকে একজন গ্রাহকের হাতে নগদ অর্থ নেই। অথচ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের শেষ সময় চলে এসেছে। আবার কারও মোবাইল ফোনে জরুরি রিচার্জ প্রয়োজন। এমন পরিস্থিতিতে পরিচিতজনের কাছ থেকে টাকা ধার করা কিংবা কোনো অনানুষ্ঠানিক উৎস থেকে অর্থ নেওয়ার বদলে ডিজিটাল মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় অর্থ পাওয়া যেতে পারে।

    বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য এই সুবিধা তাৎক্ষণিক আর্থিক চাপ সামলানোর একটি বিকল্প তৈরি করতে পারে।

    এ ছাড়া ডিজিটাল লেনদেনের ইতিহাস তৈরি হওয়ার কারণে ভবিষ্যতে গ্রাহকের আর্থিক আচরণ মূল্যায়নের সুযোগও তৈরি হতে পারে। নিয়মিত ঋণ নিয়ে সময়মতো পরিশোধ করলে একজন গ্রাহকের আর্থিক সক্ষমতা ও পরিশোধের অভ্যাস সম্পর্কে ব্যাংকগুলোর কাছে তথ্য জমা হতে পারে।

    নগদ অর্থের ব্যবহার কমানোর সুযোগ

    বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণ বাড়লেও দৈনন্দিন ছোটখাটো লেনদেনে নগদের ব্যবহার এখনো উল্লেখযোগ্য। বিল পরিশোধ ও মোবাইল রিচার্জের মতো প্রয়োজনীয় খরচও যদি ডিজিটাল ঋণের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যায়, তাহলে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা আরও কমতে পারে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যও হচ্ছে একটি আধুনিক ও কম নগদনির্ভর অর্থনীতি তৈরি করা। সেই বিবেচনায় ক্ষুদ্র ডিজিটাল ঋণব্যবস্থা ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিস্তারে নতুন একটি স্তর যোগ করতে পারে।

    এতে শুধু ঋণ নেওয়াই নয়, ঋণ পরিশোধও হবে ডিজিটাল মাধ্যমে। ফলে একজন গ্রাহকের পুরো লেনদেন একটি ডিজিটাল ব্যবস্থার মধ্যে চলে আসবে।

    তবে ঝুঁকিও রয়েছে

    ক্ষুদ্র ঋণ সহজলভ্য হলে এর অপব্যবহারের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে একজন গ্রাহক যদি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বা বারবার ঋণ নিতে থাকেন, তাহলে অল্প অঙ্কের ঋণও একসময় বড় আর্থিক বোঝায় পরিণত হতে পারে।

    কারণ ৫ হাজার টাকা খুব বড় ঋণ না হলেও একই ব্যক্তি যদি নিয়মিত একাধিকবার এই সুবিধা ব্যবহার করেন, তাহলে তার মোট দায় উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।

    এ কারণে ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে গ্রাহকের পরিশোধ সক্ষমতা, আগের ঋণ পরিশোধের ইতিহাস এবং একই সময়ে অন্য কোনো ডিজিটাল ঋণ রয়েছে কি না—এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    একই সঙ্গে গ্রাহক যেন সেবামূল্য, পরিশোধের সময়সীমা এবং ঋণ খেলাপি হলে কী হবে—এসব বিষয় সহজ ভাষায় বুঝতে পারেন, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।

    আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে নতুন সম্ভাবনা

    বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ এখন মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল আর্থিক সেবা ব্যবহার করেন। কিন্তু তাদের অনেকেরই প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত ঋণ পাওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে খুব ছোট অঙ্কের প্রয়োজনের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল।

    সেই জায়গায় ৫০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকার এই ডিজিটাল ঋণব্যবস্থা একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

    কারণ এখানে ঋণের অঙ্ক ছোট, সময়সীমা মাত্র ৩০ দিন এবং আবেদন থেকে অর্থ গ্রহণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াই ডিজিটাল। ফলে ব্যাংক ও গ্রাহক—উভয়ের জন্যই এটি তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে।

    খসড়া থেকে চূড়ান্ত নীতিমালার অপেক্ষা

    তবে এখনই এই সুবিধা চালু হচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে খসড়া নীতিমালা নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নিচ্ছে। মতামত ও পরামর্শ পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত নীতিমালা জারি করা হবে।

    চূড়ান্ত নীতিমালায় ঋণ দেওয়ার যোগ্যতা, গ্রাহকের সীমা, ঋণ পরিশোধের পদ্ধতি, তথ্য সংরক্ষণ, গ্রাহক সুরক্ষা এবং ঋণ খেলাপি হলে করণীয়সহ বিভিন্ন বিষয় আরও স্পষ্ট হতে পারে।

    সবকিছু ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ক্ষুদ্র অঙ্কের জরুরি আর্থিক প্রয়োজন মেটানোর ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি ডিজিটাল সেবা হয়ে উঠতে পারে।

    বড় ঋণ নয়, ছোট প্রয়োজনেই নজর

    সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগকে বড় অঙ্কের ঋণ বিতরণের নতুন কোনো কর্মসূচি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি এমন একটি ব্যবস্থা, যার লক্ষ্য মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ছোট কিন্তু জরুরি আর্থিক প্রয়োজন মেটানো।

    হাতে টাকা না থাকলেও যাতে বিদ্যুৎ বিল, অন্যান্য ইউটিলিটি বিল কিংবা মোবাইল রিচার্জ আটকে না থাকে—সেই প্রয়োজন থেকেই এই উদ্যোগের পরিকল্পনা। সুদবিহীন এবং নির্ধারিত সেবামূল্যের এই ঋণব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা গেলে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ার পাশাপাশি ছোট অঙ্কের জরুরি অর্থের জন্য অনানুষ্ঠানিক ধারদেনার ওপর মানুষের নির্ভরতাও কমতে পারে।

    তবে এর সফলতা নির্ভর করবে সহজলভ্যতার সঙ্গে দায়িত্বশীল ঋণ ব্যবস্থাপনা, গ্রাহক সুরক্ষা এবং অতিরিক্ত ঋণগ্রহণ ঠেকানোর কার্যকর ব্যবস্থার ওপর। কারণ ডিজিটাল ঋণের আসল সাফল্য শুধু কত টাকা বিতরণ হলো, তা দিয়ে নয়; বরং কত মানুষ নিরাপদে, স্বচ্ছভাবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এই সুবিধা ব্যবহার করতে পারলেন—তার ওপরই নির্ভর করবে।

  • বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজ টাকায় বিক্রির সুযোগ পেলেন ট্যুর অপারেটররা

    বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজ টাকায় বিক্রির সুযোগ পেলেন ট্যুর অপারেটররা

    বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজ এখন বাংলাদেশি টাকায় বিক্রি করতে পারবেন ট্যুর অপারেটররা। এজন্য ট্যুর অপারেটরদের বিদেশি সেবা প্রদানকারীদের প্রয়োজনীয় অর্থ বৈদেশিক মুদ্রায় পাঠানোরও অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

    নতুন নিয়মে ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব)-এর সদস্য ট্যুর অপারেটররা এই সুবিধা পাবেন। তবে তাদের বিদেশি ট্যুর অপারেটর, হোটেল বা ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বা ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকতে হবে।

    এর ফলে একজন বাংলাদেশি ভ্রমণকারীর কাছ থেকে টাকায় প্যাকেজের মূল্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে আবাসন, পরিবহনসহ ভ্রমণের প্রকৃত খরচ বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করা যাবে।

    নিয়মিত বার্ষিক ভ্রমণ কোটার বাইরে একজন ভ্রমণকারীর জন্য বছরে সর্বোচ্চ ৩ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো যাবে। এ ক্ষেত্রে ভ্রমণকারীর পাসপোর্ট নম্বরের বিপরীতে লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে অন্য কোনো ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে ওই সীমা অতিক্রম করা হয়নি—এমন ঘোষণাও ভ্রমণকারীর কাছ থেকে নিতে হবে।

    তবে ৩ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের প্যাকেজও বিক্রি করা যাবে। সেক্ষেত্রে প্যাকেজের মূল্য আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, বিদেশে অর্থ পাঠানোর আগে ইনভয়েস, চুক্তি, ভ্রমণসূচি, ভ্রমণকারীদের তালিকা এবং টাকায় অর্থ নেওয়ার প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করতে হবে। অর্থ পাঠানোর সাত দিনের মধ্যে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে তথ্য দিতে হবে সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংককে।

    ব্যবসায়ীরা বলছেন, টাকায় বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজ কেনার সুযোগ চালু হওয়ায় গ্রাহকদের জন্য লেনদেন সহজ হবে। পাশাপাশি দেশের বিদেশমুখী পর্যটন ব্যবসা আরও স্বচ্ছ ও প্রাতিষ্ঠানিক হবে।

  • ৪২ প্রতিষ্ঠানের বিদেশি সম্পদ খুঁজছে ৮ আইনি প্রতিষ্ঠান

    ৪২ প্রতিষ্ঠানের বিদেশি সম্পদ খুঁজছে ৮ আইনি প্রতিষ্ঠান

    শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০ শিল্পগোষ্ঠীর পর এবার ২০০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে এমন ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে বিদেশে তাদের সম্পদ অনুসন্ধান করছে আটটি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান। এসব সম্পদ শনাক্তের পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়ায় জব্দ বা অ্যাটাচ করে অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশে থাকা খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের সম্পদের অবস্থান, ধরন ও পরিমাণ শনাক্ত করছে এসব প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে সম্পদ উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

    এ কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্রান্ট থর্নটন, আরআই কনসোর্টিয়াম, বেকার ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড পিডব্লিউসি, ডিএলএ পাইপার অ্যান্ড ক্রল, ইওয়াই অ্যান্ড ডেন্টনস, রহমান রাভেল্লি অ্যান্ড ইন্টারপাথ, বিসিজি অ্যান্ড এইচএইচআর এবং অ্যানিমাস অ্যাসোসিয়েটস।

    জানা গেছে, বিদেশি আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো অগ্রিম ফি বা খরচ নেবে না। তারা বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত ও উদ্ধার করতে পারলে উদ্ধারকৃত অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে পাবে। অর্থাৎ, ‘নো উইন, নো পে’ ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করবে।

    প্রাথমিকভাবে যেসব দেশে পাচার করা অর্থ বা সম্পদ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, সিঙ্গাপুর, বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড, হংকং, চীন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া।

    বিদেশি আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আলোচ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে বিদেশে থাকা সম্পদের অবস্থান, প্রকৃতি ও পরিমাণ শনাক্ত করছে। এরপর সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

    কোনো সম্পদ শনাক্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জব্দ বা অ্যাটাচ করা সম্ভব হলে পরবর্তীতে তা বিক্রি বা নিষ্পত্তির মাধ্যমে পাওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পাওনা পরিশোধে ব্যবহার করা হবে।

    এর আগে প্রথম পর্যায়ে শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০ গ্রুপের পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ কাজে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট ইউনিট এবং আয়কর বিভাগের সংশ্লিষ্ট ইউনিট কাজ করছে। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোও বিদেশি আইনি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিচ্ছে।

  • ভারতের জেন জি-রা কি সত্যিই বাড়ি কেনা বন্ধ করে দেবে?

    ভারতের জেন জি-রা কি সত্যিই বাড়ি কেনা বন্ধ করে দেবে?

    ভারতে মহামন্দা আসন্ন, আবাসন খাতের পতন নিশ্চিত, চারপাশে আতঙ্ক—জেন জি বা নতুন প্রজন্ম যদি বাড়ি কেনা বন্ধ করে দেয়, তবে অধিকাংশ মানুষই একবাক্যে এমন উত্তর দেবেন। প্রচলিত এই ধারণাটি শুনতে বেশ নাটকীয় শোনালেও ভারতের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে কিন্তু ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠছে।

    মূল প্রশ্নটি আসলে জেন জি আবাসন চাইবে কিনা তা নিয়ে নয়; কারণ তাদেরও মাথার ওপর ছাদ প্রয়োজন। আসল প্রশ্ন হলো—তারা কি সেই বাড়ি তৈরি বা ক্রয় করবে, নাকি ভাড়া থাকবে, অথবা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তিতে বসবাস করবে? কারণ এই তিনটি পথের প্রতিটিই অর্থনীতিতে অর্থ সঞ্চালনের গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে দেয়।

    ভারতের গুরুগাঁওয়ের গ্রেট লেকস ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের অর্থনীতির শিক্ষক ড. ভি পি সিং বিষয়টিকে সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

    তার মতে, জেন জি বাড়ি কিনবে না বলে আবাসন খাতে ধস নামবে—এই ভয় ভিত্তিহীন। কারণ আবাসনের মোট চাহিদা মূলত জনসংখ্যা বৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে, কোনো নির্দিষ্ট প্রজন্মের স্বভাবের ওপর নয়। সব অভিভাবকেরও এত সম্পত্তি নেই যে সন্তানরা তা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়ে যাবে। ফলে থাকার জন্য বাড়ি জেন জি-র লাগবেই।

    তবে স্বত্বাধিকার বা মালিকানা কার হাতে থাকছে, সেটিই অর্থনীতির মূল অনুঘটক।

    ভারতের নতুন প্রজন্ম যদি ক্রয়ের বদলে ভাড়া থাকার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে ঋণের কিস্তির টাকা ব্যাংক কিংবা ডেভেলপারের কাছে না গিয়ে যাবে বাড়িওয়ালার পকেটে। ফলে আবাসন খাতের প্রথাগত অর্থায়ন প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা তৈরি হলেও সার্বিক চাহিদা ধ্বংস হচ্ছে না।

    বাস্তবতা ঢাকতে ডেভেলপারদের নীরবতা

    প্রচারমুখী জরিপ বা মনগড়া বিবৃতির চেয়ে সত্য উঠে আসে ব্যবসায়ীদের আচরণে।

    সম্প্রতি ভারতের শীর্ষস্থানীয় আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে নতুন প্রজন্মের ক্রেতাদের আগ্রহ নিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ও দেশের বৃহত্তম কয়েকটি প্রতিষ্ঠানসহ সবাই এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়। তাদের দাবি, এতে খাতের ‘নেতিবাচক দিক’ উন্মোচিত হতে পারে।

    এমনকি একটি প্রতিষ্ঠান জেন জি ক্রেতাদের জোয়ার এসেছে বলে অন-রেকর্ড দাবি করলেও, বিক্রির প্রকৃত তথ্য-উপাত্ত চাওয়া মাত্রই তারা মন্তব্য প্রত্যাহার করে নেয়। বিশ্লেষকদের মতে, বিক্রির সংখ্যা ভালো থাকলে কোনো প্রতিষ্ঠানই তা লুকাতে চায় না। এই নীরবতাই বলে দেয় তরুণ প্রজন্মের প্রাথমিক আবাসন ক্রয়ের হার বাস্তবে বেশ মন্দা।

    স্বপ্নের বদল ও আর্থিক কৌশলের পরিবর্তন

    উপার্জনের শুরুতে ২০-২২ বছর বয়সে কোনো প্রজন্মই ফ্ল্যাট কেনার সামর্থ্য রাখে না। কিন্তু দেশটিতে এবার চিত্রটি সামান্য ভিন্ন। ভারতে শুধু মেট্রোপলিটন এলাকাতেই নয়, মফস্বল শহরের ২১ বছরের এক তরুণও আজকের দিনে সোশ্যাল মিডিয়ার একই ট্রেন্ডের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফলস্বরূপ, দীর্ঘ মেয়াদী হোম লোনের জালে নিজেদের বাঁধার চেয়ে বর্তমানকে উপভোগ করা—যেমন ভ্রমণ, গ্যাজেট বা লাইফস্টাইলে খরচ করার প্রবণতা বাড়ছে।

    অন্যদিকে থিনক্রেডব্লু সিকিউরিটিজের প্রধান গৌরব উদানি এটিকে বাড়ি কেনার বর্জন হিসেবে দেখছেন না; বরং বলছেন ক্রম পরিবর্তন বা ‘রিসিকুয়েন্সিং’।

    তার মতে, নতুন প্রজন্ম এখন ২৫-২৬ বছরেই দীর্ঘমেয়াদী ইএমআই-এর ফাঁদে পড়ার চেয়ে প্রথমে তরল সম্পদ (যেমন: মিউচুয়াল ফান্ড, শেয়ারবাজার) তৈরিকে প্রাধান্য দিচ্ছে। বাড়িকে একমাত্র বড় বিনিয়োগ না বানিয়ে, তারা এটিকে স্রেফ একটি নিরাপদ আবাসন হিসেবে দেখতে চায়—যা পরবর্তীতে পর্যাপ্ত আর্থিক স্থায়িত্ব আসার পরেই কেনা সম্ভব।

    অর্থনীতিতে সাময়িক ধাক্কা, দীর্ঘমেয়াদে সম্ভাবনা

    প্রথমবার বাড়ি ক্রেতাদের এই বিলম্ব অর্থনীতির তিনটি খাতে চাপ তৈরি করছে:

    ১. নির্মাণ খাতে ধীরগতি: প্রাথমিক বুকিং কমে গেলে নতুন প্রকল্পের কাজ থমকে যায়, যা রড, সিমেন্ট, রঙ শিল্প থেকে শুরু করে দৈনিক মজুরিভিত্তিক নির্মাণ শ্রমিকদের রোজগারে প্রভাব ফেলে।

    ২. রাজস্ব ক্ষতি: আবাসন লেনদেন কমলে রেজিস্ট্রেশন ও স্ট্যাম্প ডিউটি থেকে প্রাপ্ত রাজ্য সরকারের নির্ভরযোগ্য আয় কমে যায়, যা অবকাঠামোগত উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে।

    ৩. ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের ঝুঁকি: নিরাপদ গৃহঋণ বৃদ্ধি না পেলে ব্যাংকগুলো ক্রেডিট কার্ড, পার্সোনাল লোন বা ‘বাই নাউ পে লেটার’-এর মতো ঝুঁকিপূর্ণ খুচরা ঋণের দিকে ঝুঁকতে পারে।

    অর্থ কিন্তু হারিয়ে যাচ্ছে না

    তবে মুদ্রাভীতি বা অর্থনৈতিক ধসের এই চিত্রটি একদিকে ইতিবাচক দিকও নির্দেশ করে। জেন জি প্রজন্ম যদি ডাউন পেমেন্টের টাকা বাঁচিয়ে শেয়ারবাজার, মিউচুয়াল ফান্ড বা ব্যবসায় বিনিয়োগ করে, তবে সেই পুঁজি গায়েব হয়ে যাচ্ছে না। বরং দেশের কর্পোরেট খাতের জন্য তা তুলনামূলক কম খরচের তরল পুঁজি সরবরাহ করছে।

    অতীতে জাপান ও চীন যেভাবে অতিরিক্ত আবাসন-নির্ভর হয়ে অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পড়েছিল, তরুণদের বর্তমান বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগ কৌশল দেশের অর্থনীতিকে সেই একমুখী ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে।

    ভারতের জেন জি-রা শেষ পর্যন্ত বাড়ি কিনবে—তবে কিছুটা দেরিতে এবং তাদের মোট সম্পদের সামান্য অংশ সেখানে ঢেলে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধাক্কায় আবাসন খাতের প্রথাগত ভবিষ্যৎ হয়তো টিকে থাকবে, তবে প্রাথমিক কেনাবেচার টাকা কিভাবে আবাসন, শেয়ারবাজার ও সাধারণ খরচের বাজারে ভাগ হয়ে যাবে—সেই নতুন ব্যবস্থার সঙ্গেই এখন সবাইকে মানিয়ে নিতে হবে।

  • হরমুজ অবরোধে তেল রপ্তানি কমেছে ৭৫ শতাংশ

    হরমুজ অবরোধে তেল রপ্তানি কমেছে ৭৫ শতাংশ

    হরমুজ প্রণালি অবরোধের কারণে ইরাকের তেল রপ্তানি ৭৫ শতাংশ কমে গেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির তেলমন্ত্রী বাসেম মোহাম্মদ খুদাইর। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রপ্তানিতে এই বড় ধরনের ধস নেমেছে বলে জানান তিনি।

    এক সংবাদ সম্মেলনে ইরাকের তেলমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরাক প্রতিদিন প্রায় ৩৪ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটির তেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

    খুদাইর জানান, বর্তমানে ইরাকে প্রতিদিন প্রায় ২৭ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে রপ্তানি করা হচ্ছে প্রায় ১৫ থেকে ১৭ লাখ ব্যারেল।

    তিনি বলেন, তেল রপ্তানির জন্য ভবিষ্যতে বিকল্প পথ তৈরি করা জরুরি। এ জন্য রপ্তানি অবকাঠামো ও বিকল্প রুট বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

    ইরাকি তেলমন্ত্রী আরো জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরাকি তেল রপ্তানির সুযোগ তৈরি করতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ শুরু হয়নি।

    এদিকে ইরাকে তেল কোম্পানিগুলোর ওপর যেকোনো ধরনের হামলার বিরোধিতা করেছে দেশটির সরকার। খুদাইর বলেন, তেল কোম্পানিগুলো হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে সরকার।

    বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এই নৌপথে অবরোধ বা নিরাপত্তা সংকট তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

  • চট্টগ্রামে ২০০ বন্ধ কারখানা চালুর মাধ্যমে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে

    চট্টগ্রামে ২০০ বন্ধ কারখানা চালুর মাধ্যমে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চট্টগ্রাম অফিসে গতকাল এক মতবিনিময় সভায় উত্থাপিত এ-সংক্রান্ত একটি কনসেপ্ট পেপারে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। ‘এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য: চট্টগ্রাম অঞ্চলের সম্ভাবনা’ শীর্ষক এ সভায় জানানো হয়, বন্ধ কারখানাগুলোর কারণে এরই মধ্যে প্রায় পাঁচ লাখ কর্মী বেকার হয়ে পড়েছেন এবং প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার খেলাপি ও অবাণিজ্যিক ঋণ জমেছে। তবে জ্বালানি সংকট, দীর্ঘমেয়াদি পুঁজির অভাব এবং দক্ষ অপারেটরের ঘাটতিকে এ খাত পুনরুদ্ধারের প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম অফিসের নির্বাহী পরিচালক মো. হানিফ মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ এবং প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম। সভায় উপস্থাপিত কনসেপ্ট পেপারে চট্টগ্রাম অঞ্চলের সামষ্টিক অর্থনীতি, শিল্পায়ন ও ব্যাংক খাতের প্রধান প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করে তা উত্তরণের রূপরেখা তুলে ধরা হয়। এতে আরো উল্লেখ করা হয়, জাতীয় অর্থনীতিতে দেশের মোট রফতানির ১৮ শতাংশ, আমদানির ২১ শতাংশ, রেমিট্যান্সের ২৮ শতাংশ, মোট আমানতের ১৯ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং মোট ঋণের ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ এ অঞ্চল থেকে জোগান দেয়া হয়।

    সভায় গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এসএমই ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি; ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন এবং ব্লু-ইকোনমি, সামুদ্রিক সম্পদ, আইটি খাত এবং ম্যানমেড ফাইবারে দীর্ঘমেয়াদি ও সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা প্রদান নিশ্চিতের আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি প্রবাসী শ্রমিকদের অদক্ষ হিসেবে না পাঠিয়ে সুনির্দিষ্ট চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ করে বিদেশে প্রেরণ এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের কার্যক্রম জোরদার করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেন। পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেন ত্বরান্বিত করা ও ক্যাশলেস বাংলাদেশ গঠনের জন্য বাংলা কিউআরের সম্প্রসারণ এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে কার্যক্রম গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    গভর্নর বলেন, ‘ব্যাংক খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না।’ ব্যাংকের অনিয়মের বিষয়ে সর্বোচ্চ শাস্তির সুপারিশ করে পরিদর্শন প্রতিবেদন তৈরি করার জন্য তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শকদের নির্দেশনা দেন।

    সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি চাপে থাকবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য আঞ্চলিক কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে হবে।’ পাশাপাশি তিনি আর্থিক ও আয় বৈষম্য কমানোর ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

  • ১৪ বছরের ব্যবধানে চিংড়ি রফতানি কমেছে ৬২%

    ১৪ বছরের ব্যবধানে চিংড়ি রফতানি কমেছে ৬২%

    আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চ উৎপাদনশীল ও কম দামের ‘ভেনামি’ জাতের চিংড়ির ক্রমবর্ধমান চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশ এখনো প্রথাগত ‘বাগদা’ চিংড়ির ওপর নির্ভরশীল। ফলে ১৪ বছরের ব্যবধানে দেশের চিংড়ি রফতানি কমেছে প্রায় ৬২ শতাংশ।

    রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি), মৎস্য অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) তথ্যানুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরে দেশ থেকে প্রায় ৫০ হাজার টন চিংড়ি রফতানি হয়েছিল, যার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৫৭ কোটি ডলার। আর সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে মাত্র ১৯ হাজার টনে, যা থেকে আয় হয়েছে ২৮ কোটি ৫৬ লাখ ১০ হাজার ডলার। অর্থাৎ ১৪ বছরের ব্যবধানে চিংড়ির রফতানি কমেছে প্রায় ৩১ হাজার টন বা ৬২ শতাংশ এবং বৈদেশিক মুদ্রার আয় কমেছে ২৮ কোটি ৪৪ লাখ ডলার।

    ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৯ কোটি ৬২ লাখ ৯০ হাজার ডলারের ২৩ হাজার ২৩৮ টন চিংড়ি রফতানি হয়েছিল, যা আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের চেয়ে ৪ হাজার ৭ টন ও ৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার বেশি ছিল। তবে সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আবার বড় পতন ঘটেছে। এক বছরের ব্যবধানে রফতানি কমেছে ৪ হাজার ২৩৮ টন এবং আয় কমেছে ১ কোটি ৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

    সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে মোট ৪৪ কোটি ৩৪ লাখ ২০ হাজার ডলার মূল্যের হিমায়িত মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রফতানি হয়েছে, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৪৪ কোটি ১৫ লাখ ৮০ হাজার ডলারে তুলনায় মাত্র ১৮ লাখ ৪০ হাজার ডলার বা দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি। এ অর্থবছরে ২৮ কোটি ৫৬ লাখ ১০ হাজার ডলারের হিমায়িত চিংড়ি, ৯ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার ডলারের হিমায়িত মাছ এবং ৬ কোটি ৩৬ লাখ ৮০ হাজার ডলারের মৎস্যজাত পণ্য রফতানি হয়। অর্থাৎ মৎস্যজাত পণ্য বাদ দিলে হিমায়িত মাছ রফতানি আয়ের প্রায় ৭৫ দশমিক ২১ শতাংশই এসেছে চিংড়ি থেকে।

    রফতানিকারকরা বলছেন, দেশের চিংড়ি রফতানি মূলত বাগদাকেন্দ্রিক। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে ভেনামি চিংড়ি ছাড়া অন্য চিংড়ির চাহিদা কম। বিশেষত চীন, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, পর্তুগাল, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির মতো দেশে বাগদার সামান্য চাহিদা থাকায় তারা চাহিদা অনুযায়ী তা আমদানি করেন। তবে ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে বাগদা আমদানি প্রতি বছরই কমছে। ভেনামি জাতের চিংড়ির বাজারমূল্য কম ও হেক্টরপ্রতি উৎপাদন বেশি হওয়ায় ইউরোপের বাজারে চাহিদার পাশাপাশি গ্রাহক চাহিদাও বাড়ছে। তবে বাংলাদেশে সুযোগ থাকলেও পুরনো বাগদা চিংড়ি নিয়েই পড়ে আছেন ব্যবসায়ীরা। যদি ভেনামি জাতের চিংড়ির উৎপাদন ও রফতানির উদ্যোগ না নেয়া হয়, তাহলে দেশের চিৎড়ি রফতানি খাত ধ্বংস হয়ে যাবে বলে মনে করছেন তারা।

    রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান এমইউ সি ফুডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্যামল দাস বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বৈশ্বিক বাজারে চিংড়ি রফতানির কর্তৃত্ব অনেক আগেই হারিয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক বাজারে ভেনামি জাতের চিংড়ির চাহিদা বেশি থাকলেও আমরা সেই সুযোগ নিতে পারিনি। বাগদা চিংড়ি রফতানি নিয়েই এখনো পরিকল্পনা চলছে। সরকার এরই মধ্যে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে সেগুলো মাঠে প্রয়োগ না হওয়ায় রফতানিতে খুব বেশি আশার জায়গা তৈরি করতে পারেনি মৎস্য খাত।’ সরকার নজর না দিলে মৎস্য খাতের প্রধান রফতানি পণ্য চিংড়ি শুধু দেশের বাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    ভেনামি চিংড়ি উৎপাদনে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি দেশ উদ্যোগ নিয়েছে, এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া অন্যতম। দেশটির পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের পূর্ব সুম্বা জেলায় প্রায় ২ হাজার ১৫০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করে সরকারিভাবে ওয়াইংগাপু সমন্বিত চিংড়ি চাষ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এ প্রকল্পে বছরে প্রায় ৫২ হাজার টন চিংড়ি উৎপাদন ও সাত হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। প্রকল্পটিতে সরকারের বিনিয়োগ ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন রুপিয়া (ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রা) বা ৩৯ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে চালুর পরিকল্পনা আছে। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন রুপিয়া বা ২২ কোটি ১৪ লাখ ডলারের উৎপাদনমূল্য অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ইন্দোনেশীয় সরকারের।

    অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য অধিদপ্তরের আওতাধীন কক্সবাজার জেলার চকোরিয়া-রামপুরা মৌজায় চিংড়ি জোন হিসেবে ঘোষিত সাত হাজার একর অনাবাদি জমিতে কোনো চিংড়ি উৎপাদন হয় না। জমিগুলো রফতানিকারকদের দীর্ঘমেয়াদে লিজ দিয়ে চিংড়ি চাষের সুযোগ দেয়া হলে দেশের রফতানি চিত্র পুরোপুরি বদলে যেত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    বিএফএফইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তারিকুল ইসলাম জহির বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ইউরোপের বাজারে আমরা যেসব বাগদা চিংড়ি রফতানি করি তার দাম বেশি হওয়ায় সেখানে ভেনামি চিংড়ির চাহিদা বাড়ছে। এ কারণে সেখানে আমরা রফতানিতে পিছিয়ে পড়ছি। অন্যদিকে ছোট আকারের চাকা চিংড়ি (কেজিতে ৩০ পিস) ভারত, ইন্দোনেশিয়া বা ভিয়েতনাম ৪-৫ ডলারে বিক্রি করলেও আমাদের স্থানীয় বাজারে তা ৭ ডলারের বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে দেশীয় চিংড়ির চাহিদা বেশি। সে কারণে আমাদের উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।’

    সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে মৎস্য খাতে ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে। এখন কীভাবে ও কোন প্রক্রিয়ায় অর্থ বরাদ্দ দেয়া হবে সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।’

    বিএফএফইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বলেন, ‘জমি কিনে বিনিয়োগ করার সুযোগ আমাদের নেই। এজন্য সরকার যদি জমি লিজ দেয়, তাহলে আমরা সেখানে বিনিয়োগ করে উৎপাদন বাড়াতে কাজ করব। পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা মাঠ পর্যায়ের চাষীদের সব ধরনের লজিস্টিক সুযোগসহ বিনিয়োগ করবেন এবং চাষীদের নিশ্চয়তা দেয়া হবে তাদের থেকে ব্যবসায়ীরা সেই উৎপাদিত পণ্য কিনে নেবে। এভাবে না হলে চিংড়ি খাতে উন্নতি করা সম্ভব না।’ এছাড়া কক্সবাজারের চিংড়ি চাষের জন্য ঘোষিত সাত হাজার একর জমি প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বরাদ্দ দিলে খাতটি আবারো ঘুরে দাঁড়াবে বলেও দাবি করেন তিনি।

    জানা যায়, দেশে আগে ১২২টি প্রতিষ্ঠান চিংড়ি ও মৎস্য জাতীয় পণ্য রফতানির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এখন তা ৩০-৩৫টিতে নেমে এসেছে। বাকিগুলো হয় বন্ধ হয়ে গেছে বা কারখানা ভাড়া দিয়ে দিয়েছে। এসব কারখানার বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা চার লাখ টনের বেশি ছিল। অন্যদিকে দেশে সব মিলিয়ে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের চিংড়ির চাষাবাদ হয়। ভেনামি চিংড়ির হেক্টরপ্রতি উৎপাদন বাগদার তুলনায় ১০-১২ গুণ বেশি। অথচ দেশে ভেনামি চিংড়ির উৎপাদন এখনো সম্ভব হয়নি। ফলে বড় আকারে বাগদা রফতানির ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশের রফতানি খাত। অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদের কারণে হেক্টরপ্রতি বাগদার উৎপাদনও কমে আসছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশীয় অভ্যন্তরীণ বাজারে ভালো দাম থাকলেও চিংড়িকে বিশ্ববাজারে টিকিয়ে রাখতে সনাতন চাষাবাদ থেকে সরে এসে বৃহৎ পরিসরে সরকারি নীতি প্রণয়ন ও ভেনামি চাষ নিশ্চিত করা জরুরি।

  • ঝাঁজ কমেছে কাঁচামরিচের

    ঝাঁজ কমেছে কাঁচামরিচের

    ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হওয়ায় দিনাজপুরের হিলির পাইকারি ও খুচরা বাজারে কমতে শুরু করেছে কাঁচামরিচের দাম। হিলির পাইকারি বাজারে দেশি কাঁচামরিচ ১৩০ টাকা এবং হিলি স্থলবন্দরের পাইকারি মোকামে আমদানি করা কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে হিলির কাঁচাবাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া যায়।

    ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি বাড়ায় দেশের মোকামগুলোতে কাঁচামরিচের দাম কমেছে। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে।

    হিলি বাজারে কাঁচামরিচ কিনতে আসা দিনমজুর আশিকুল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহে দেশি কাঁচামরিচ কিনেছিলাম ২৫০ টাকা কেজি দরে। সেই কাঁচামরিচ এখন ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভারত থেকে কাঁচামরিচ আসার কারণে দাম কমেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। দাম কমায় আমাদের মতো দিনমজুরদের অনেক সুবিধা হচ্ছে। তবে ১০০ টাকার মধ্যে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ পাওয়া গেলে আমাদের জন্য আরও সুবিধা হতো।হিলি বাজারের কাঁচামরিচ বিক্রেতা বিপ্লব শেখ বলেন, ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির ফলে দেশের মোকামে দাম কমতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় দেশি কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। আমরা কম দামে কিনে কম দামেই বিক্রি করছি। ফলে আগের তুলনায় ক্রেতাও বেড়েছে। ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি অব্যাহত থাকলে দাম আরও কমতে পারে।

    হিলি স্থলবন্দরের কাঁচামরিচ আমদানিকারক শাহাবুল ইসলাম বলেন, দেশের বাজারে কাঁচামরিচের দাম স্বাভাবিক রাখতে সরকার ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা আমদানি অব্যাহত রেখেছি। সরকার আমদানির সময়সীমা বাড়ালে দেশের বাজারে কাঁচামরিচের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির ফলে দেশের বাজারে কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে।

    হিলি কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের তিন দিনে ভারতীয় ২৪টি ট্রাকে ১৭০ মেট্রিক টন কাঁচামরিচ হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে। আমদানি করা কাঁচামরিচ দ্রুত খালাসে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে হিলি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

  • জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান কমেছে, কী প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে

    জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান কমেছে, কী প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে

    জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান কমেছে। গত মাসে সেখানে কর্মসংস্থান কমেছে ২৩ হাজার। অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস ছিল, জুলাই মাসে ৯৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

    এদিকে জুলাই মাসে কর্মসংস্থান কমলেও একই সময় বেকারত্বের হার সামান্য কমেছে। জুন মাসে যা ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ, জুলাই মাসে তা ৪ দশমিক ১ শতাংশে নেমেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, মার্কিন শ্রমবাজারের প্রভাব বিশ্বের অন্যান্য দেশের অর্থনীতিতেও অনুভূত হবে। খবর সিএনএনের

    কর্মসংস্থানের এই পরিসংখ্যান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার সম্পর্কে বিপরীতমুখী চিত্র পাওয়া যায়। একদিকে নতুন কর্মসংস্থান বৃদ্ধি না পেয়ে উল্টো কমেছে, অন্যদিকে বেকারত্বের হার তুলনামূলক নিম্ন পর্যায়েই রয়ে গেছে। ফলে শ্রমবাজারের প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, জুলাই মাসে কর্মসংস্থানের এই প্রতিবেদন হতাশা ও উদ্বেগজনক। আবার কেউ মনে করছেন, নিয়োগ কমলেও ছাঁটাইও কমছে। অর্থাৎ শ্রমবাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি না হলেও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমে গেছে।

    জুলাইয়ের কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, আগের দুই মাসের পরিসংখ্যান সংশোধন করা হয়েছে। মে ও জুনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে যত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছিল বলে আগে ধারণা করা হয়েছিল, প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে মোট ১ লাখ ৩ হাজার কম ছিল।

    তবে এসব তথ্যের অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের মন্দা বা ব্যাপক ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা আছে। ভোক্তা ব্যয় এখনো অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী খাত। যুদ্ধ, শুল্ক ও দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও মার্কিন অর্থনীতি মন্দায় পড়েনি, যে অর্থনীতির আকার প্রায় ৩১ ট্রিলিয়ন ডলার।

    এদিকে শ্রমবাজারের কিছু দুর্বলতাও দেখা যাচ্ছে। বেকারত্বের হার কমার একটি কারণ হলো, হাজারো মানুষ চাকরি খোঁজা বন্ধ করে দিয়েছেন। তাঁরা আর বেকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন না, অর্থাৎ পরিসংখ্যানে তাঁদের কথা উঠে আসছে না। একই সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত আয়ও চাপের মধ্যে আছে।

    এদিকে অবকাশ ও আতিথেয়তা খাতে জুলাই মাসে কর্মসংস্থান কমেছে। বিশ্বকাপ চলাকালে সাধারণত এ খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কথা, কিন্তু এবার উল্টো চিত্র দেখা গেছে।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিস্তার শ্রমবাজারে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এআইয়ের প্রভাবে কিছু মানুষ প্রযুক্তির প্রভাব থেকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ চাকরি খুঁজছেন কি না, কিংবা এআই ইতিমধ্যে কিছু চাকরি কমিয়ে দিচ্ছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

    কর্মসংস্থানের দুর্বল তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে কী প্রভাব ফেলবে, সেটিও এখনো পরিষ্কার নয়। শ্রমবাজারের নতুন তথ্যের ভিত্তিতে ফেড সুদের হার বাড়ানো বা কমানোর বিষয়ে তার নীতি পরিবর্তন করবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের জুলাইয়ের পরিসংখ্যান পরবর্তী সময়ে আবার সংশোধিত হতে পারে।

    সব মিলিয়ে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির মৌলিক শক্তি এখনো অটুট। তবে জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন, শিশুর যত্নের ব্যয় ও মজুরি বৈষম্যের মতো কাঠামোগত সমস্যার কারণে মানুষের অর্থনৈতিক বাস্তবতা কঠিন হয়ে গেছে।

    সংবাদে বলা হয়েছে, জুলাইয়ের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন থেকে মার্কিন অর্থনীতির পরস্পরবিরোধী চিত্র উঠে এসেছে। অর্থনীতি এখনো বড় ধরনের মন্দায় পড়েনি, কিন্তু শ্রমবাজারে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি যে দুর্বল হয়ে পড়েছে, সেই সংকেত উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

    বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব

    যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি। ফলে সেখানকার অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়বে, এটাই স্বাভাবিক।

    বিশ্লেষকেরা বলেন, জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার প্রভাব দুই রকম হতে পারে। একদিকে মার্কিন শ্রমবাজার দুর্বল হলে মানুষের আয় ও ভোগ ব্যয় কমতে পারে। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি চাহিদা কমবে, ফলে রপ্তানিনির্ভর দেশগুলো চাপে পড়বে। বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

    অন্যদিকে শ্রমবাজার দুর্বল হওয়ায় ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অর্থনীতিতে তারল্য প্রবাহ বৃদ্ধিতে এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে তারা। এতে ডলার দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি উদীয়মান বাজারে পুঁজি প্রবাহ বাড়তে পারে, কমতে পারে বৈদেশিক ঋণের ব্যয়। ফলে এই প্রতিবেদন যেমন বৈশ্বিক চাহিদার জন্য সতর্কবার্তা, তেমনি আর্থিক বাজারের জন্য স্বস্তির সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

  • দুবাইয়ে আ’লীগ নেতাদের সাম্রাজ্য

    দুবাইয়ে আ’লীগ নেতাদের সাম্রাজ্য

    মরুর শহর দুবাইয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের পাহাড়সম সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। তাঁদের নামে অন্তত ৫৩টি ফ্ল্যাট, বাড়ি, ভিলা, হোটেল অ্যাপার্টমেন্ট ও অফিস স্পেস থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য দিয়ে বলেছেন, বুর্জ খলিফা, মারশা দুবাই, ওয়াদি আল সাফা ও কৃত্রিম দ্বীপ পাম জুমেরায় তাঁরা গড়ে তুলেছেন বিলাসবহুল সম্পদের সাম্রাজ্য। আর এসব করেছেন অর্থ পাচারের মাধ্যমে।

    ২০২৩ সালের ৩ এপ্রিল গোল্ডেন ভিসার সুবিধায় দুবাইয়ে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে একটি কমিটি গঠন করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধান কমিটির প্রথম টিম লিডার করা হয় ও সংস্থাটির উপপরিচালক রামপ্রসাদ মন্ডলকে। পরে তাঁকে গোপালগঞ্জে বদলি করা হয়। তিনি জানান, দুবাইয়ে পাচারকারীদের তথ্য সংগ্রহে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চিঠি চালাচালি হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড্ ডিফেন্স স্টাডিজ (সি৪এডিএস) এবং অর্গানাইজড্ ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্টকে (ওসিসিআরপি) চিঠি দিয়ে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত আছে।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশির বিভিন্ন সম্পত্তি কেনার তথ্য ফাঁস করেছিল ওসিসিআরপি। এরপর দুদক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন হাই কোর্ট। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের (লোটাস কামাল) বেয়াইন অর্থাৎ মেয়ে নাফিসা কামালের শাশুড়ি বিলকিস ইকবালের নামে দুবাইয়ে একটি ফ্ল্যাট পাওয়া গেছে। মারশা দুবাই এলাকায় থাকা ফ্ল্যাটটির নম্বর ২২০২-০, যা কিনতে ব্যবহৃত পাসপোর্ট নম্বর বি১২০১০৬০। তবে ২০১৭ সালে নাফিসা কামালের শাশুড়ি বিলকিস মারা যান।

    আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি, প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিফজুল বারী মোহাম্মদ ইকবাল ওরফে এইচ বি এম ইকবালের নামে দুবাইয়ের বুর্জ খলিফায় দুটি ফ্ল্যাটের (নম্বর ২৪১০-০ ও ২০০১-০) সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানে তাঁর একটি কমার্শিয়াল স্পেস (নম্বর ৯১০-০) ও একটি অফিস স্পেসও (নম্বর ১২০১-০) রয়েছে। এ ছাড়া পাম জুমেরায় তাঁর নামে একটি বাড়ি (নম্বর পিজেএফআরসি০৪৭) রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব সম্পদ কিনতে তিনি তিনটি ভিন্ন পাসপোর্ট ব্যবহার করেছেন, নম্বর যথাক্রমে ০৩৩৯৮৪২, এজি৫১২৩৪১৪ ও ই০৬৯২৭৯২। ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর এইচ বি এম ইকবাল, তাঁর স্ত্রী এবং একসময়ের চিত্রনায়িকা আঞ্জুমান আরা শিল্পী ও তাঁদের তিন সন্তানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা (বিএফআইইউ)। আওয়ামী লীগ নেতা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সাবেক এমপি সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামানের নামে মারশা দুবাইয়ে একটি ফ্ল্যাট (নম্বর ২৩০৯-০) এবং পাম জুমেরার আল শাহলায় আরেকটি ফ্ল্যাট (নম্বর ৭০৩-০) পাওয়া গেছে। এসবে তাঁর ছেলে কামরুজ্জামানেরও মালিকানা রয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্র জানান, সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান (সুখন) একসময় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন। ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর তাঁকে বিএনপির সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়, এরপর তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের নামে দুবাইয়ে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। বুর্জ খলিফায় দুটি এবং নাদ আল শিবায় ২৭টি ফ্ল্যাট থাকার তথ্য মিলেছে। এ ছাড়া পলো রেসিডেন্সে তাঁর নামে বাড়ি রয়েছে (নম্বর এ২, ২বি/আর ২৯৩, ১বি/আর ২৯৩), মেরিনা ভিসতা টাওয়ারে দুটি ফ্ল্যাট (নম্বর ১০৬ ও ৩০২), সানরাইজ বে টাওয়ার-১-এ চারটি ফ্ল্যাট এবং পাম জুমেরায় রয়্যাল বে-তে একটি হোটেল অ্যাপার্টমেন্ট (নম্বর ৮০৫)। এসব কিনতে তিনি যে দুটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করেছেন তার নম্বর ডিসি৬০০৪০৭৬ ও বিটি০০১৫৮০৭, যাতে বাংলাদেশি ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ৭ সারসন রোড, পোস্ট অফিস বক্স-৪০০০, চট্টগ্রাম।

    তাঁর ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরীর নামেও পাম জুমেরায় একটি ফ্ল্যাটের (নম্বর ৪৪০৭-০) সন্ধান মিলেছে। এ ছাড়া জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ নেতা ইফজাল আহমেদ চৌধুরীর নামে বুর্জ খলিফায় একটি ফ্ল্যাটের (নম্বর ১৩০৩-০) তথ্য পাওয়া গেছে। জানতে চাইলে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত ডিআইজি বাছির উদ্দিন এই প্রতিবেদককে বলেন, আন্তর্জাতিক একটি সংস্থার কাছ থেকে দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের বিপুল পরিমাণ সম্পদ থাকার তথ্য পাওয়ার পর হাই কোর্টের নির্দেশে তাঁরা তদন্ত শুরু করেন। তবে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করা হয়েছে। অন্যদের নাম-ঠিকানা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমির মোহাম্মদ ফয়সলের নামে বুর্জ খলিফায় একটি হোটেল অ্যাপার্টমেন্ট (নম্বর ১২এ০৪) পাওয়া গেছে। দুবাইয়ে তাঁর একটি ঠিকানাও পাওয়া গেছে-১১৭ আল হাশেমি বিল্ডিং অ্যাপার্টমেন্ট, ২০১ ফিরোজ আল মরার। এটি কিনতে ব্যবহৃত তাঁর বাংলাদেশি পাসপোর্ট নম্বর বিএফ০৮৯৪৮৫১। আমিরাত আইডি প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট দুবাইপ্রবাসী মনোয়ার হোসাইনের সঙ্গে সমাজমাধ্যমে কথা হলে তিনি জানান, বাংলাদেশিদের মধ্যে যাঁরা সম্পদ কিনেছেন, তাঁদের আইডি প্রস্তুতের সময় নামপরিচয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গোপন রাখা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওয়াহিদুজ্জামান বুলবুল বলেন, ‘কেউ যদি দুবাইয়ে বৈধ আয় করে সে আয় দিয়ে সেখানে সম্পদ কেনেন, তাহলে আইনগত কোনো সমস্যা হবে না।’ তবে দুবাই সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো চুক্তি থাকলে তবেই পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। তথ্যানুসন্ধানে দুবাইয়ে ফ্ল্যাট বা বাড়ি থাকার তথ্য মিলেছে আরও কয়েকজনের নামে। এঁদের মধ্যে রয়েছেন ২০১৯ সালে বিশেষজ্ঞ পেশাজীবী শ্রেণিতে পুরস্কারপ্রাপ্ত জুরানচন্দ্র ভৌমিক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী ও মেয়ে শেহতাজ মোনাসি খান, তিতাস গ্যাসের গাজীপুর বিক্রয় অঞ্চলের সাবেক ব্যবস্থাপক সাব্বের আহমেদ চৌধুরীর স্ত্রী রুমানা রিশাত জামান এবং বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক, ভাষাবিজ্ঞানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কালাম মনজুর মোরশেদের মেয়ে মনজুলা মোরশেদ। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘যেসব দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা কঠিন, দুবাই তার মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশ থেকে যেসব প্রক্রিয়ায় অর্থ পাচার হয়, তার সিংহভাগই হয় আমদানি-রপ্তানি চালান জালিয়াতির মাধ্যমে। তা ছাড়া নামে-বেনামে কাগুজে প্রতিষ্ঠানের বহুস্তরিক প্রতারণামূলক ঋণ ও বিনিয়োগ জালিয়াতির মাধ্যমে বিশাল অর্থ পাচারের পাশাপাশি প্রথাগত হুন্ডি তো রয়েছেই। এসব প্রক্রিয়ায় চলমান আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ অপরাধের সবচেয়ে আকর্ষণীয় হিসেবে যেসব গন্তব্য সাম্প্রতিককালে বিকশিত হয়েছে তার অন্যতম হাব হয়ে দাঁড়িয়েছে দুবাই। মনে রাখতে হবে, এরূপ অন্য সব গন্তব্যের মতো বাংলাদেশের পাচারকৃত অর্থ এখন সেসব গন্তব্য দেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগ ও সম্পদ হয়ে দাঁড়িয়েছে; যা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতায় মাত্র এক শতাংশ, তা-ও গড়ে সাত বছর থেকে ১৫-২০ বছরের জটিল প্রক্রিয়ার বিষয়। যদিও কিছু বিরল ব্যতিক্রমও রয়েছে।’

  • ‎এসএমই খাতে ঋণ কমেছে, খেলাপি বেড়েছে

    ‎এসএমই খাতে ঋণ কমেছে, খেলাপি বেড়েছে

    দেশের কুটির, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি থমকে গেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে এ খাতে মোট বকেয়া ঋণ আগের প্রান্তিকের তুলনায় ৫ দশমিক ১৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৮৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকায়। একই সঙ্গে উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে খেলাপি ঋণের হার, যা আগের প্রান্তিকের ২৪ দশমিক ০৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৬ দশমিক ০৪ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সিএমএসএমই ঋণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, “সিএমএসএমই খাত কর্মসংস্থান ও উৎপাদনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। কিন্তু খেলাপি ঋণের উচ্চ হার ব্যাংকগুলোকে নতুন ঋণ বিতরণে নিরুৎসাহিত করছে। কেবল পুনঃঅর্থায়ন তহবিল বাড়ালেই হবে না, ঋণের সুশাসন ও আদায় সক্ষমতা বাড়াতে হবে।”

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ মাস শেষে সিএমএসএমই খাতের ঋণ দেশের মোট ঋণের মাত্র ১৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ, যেখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার লক্ষ্য ২৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা থেকে প্রায় ১০ শতাংশ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে ব্যাংকিং খাত।

    খেলাপি ঋণের চাপ বাড়ছে:

    বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, সিএমএসএমই ঋণের শ্রেণিকৃত বা খেলাপি ঋণের হার এক প্রান্তিকেই ২ দশমিক ০১ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। একই সময়ে সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণের হারও বেড়ে ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশে পৌঁছেছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে যে, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণ পুনরুদ্ধারে চাপ বাড়ছে এবং ব্যাংকগুলোর ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ঋণ পুনরুদ্ধার জোরদার করা, কার্যকর তদারকি এবং টেকসই ঋণ বিতরণ অব্যাহত রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

    বিতরণ বেড়েছে, কিন্তু কমেছে বকেয়া ঋণ:

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৪৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫২ হাজার ১০৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ঋণ বিতরণের পরিমাণ ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং অর্থায়ন পাওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়েছে। তবে একই সময়ে মোট বকেয়া ঋণ কমেছে, যা ঋণ পরিশোধ, শ্রেণিকরণ এবং নতুন ঋণের ধীরগতির প্রভাব নির্দেশ করে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ মাস শেষে সিএমএসএমই খাতের ঋণ দেশের মোট ঋণের মাত্র ১৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ, যেখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার লক্ষ্য ২৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা থেকে প্রায় ১০ শতাংশ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে ব্যাংকিং খাত।

    খেলাপি ঋণের চাপ বাড়ছে:

    বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, সিএমএসএমই ঋণের শ্রেণিকৃত বা খেলাপি ঋণের হার এক প্রান্তিকেই ২ দশমিক ০১ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। একই সময়ে সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণের হারও বেড়ে ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশে পৌঁছেছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে যে, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণ পুনরুদ্ধারে চাপ বাড়ছে এবং ব্যাংকগুলোর ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ঋণ পুনরুদ্ধার জোরদার করা, কার্যকর তদারকি এবং টেকসই ঋণ বিতরণ অব্যাহত রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

    বিতরণ বেড়েছে, কিন্তু কমেছে বকেয়া ঋণ:

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৪৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫২ হাজার ১০৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ঋণ বিতরণের পরিমাণ ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং অর্থায়ন পাওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়েছে। তবে একই সময়ে মোট বকেয়া ঋণ কমেছে, যা ঋণ পরিশোধ, শ্রেণিকরণ এবং নতুন ঋণের ধীরগতির প্রভাব নির্দেশ করে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ মাস শেষে সিএমএসএমই খাতের ঋণ দেশের মোট ঋণের মাত্র ১৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ, যেখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার লক্ষ্য ২৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা থেকে প্রায় ১০ শতাংশ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে ব্যাংকিং খাত।

    খেলাপি ঋণের চাপ বাড়ছে:

    বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, সিএমএসএমই ঋণের শ্রেণিকৃত বা খেলাপি ঋণের হার এক প্রান্তিকেই ২ দশমিক ০১ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে। একই সময়ে সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণের হারও বেড়ে ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশে পৌঁছেছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে যে, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণ পুনরুদ্ধারে চাপ বাড়ছে এবং ব্যাংকগুলোর ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ঋণ পুনরুদ্ধার জোরদার করা, কার্যকর তদারকি এবং টেকসই ঋণ বিতরণ অব্যাহত রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

    বিতরণ বেড়েছে, কিন্তু কমেছে বকেয়া ঋণ:

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৪৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫২ হাজার ১০৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ঋণ বিতরণের পরিমাণ ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং অর্থায়ন পাওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়েছে। তবে একই সময়ে মোট বকেয়া ঋণ কমেছে, যা ঋণ পরিশোধ, শ্রেণিকরণ এবং নতুন ঋণের ধীরগতির প্রভাব নির্দেশ করে।

    বেসরকারি ব্যাংকের দখলে অর্ধেকের বেশি বাজার:

    সিএমএসএমই ঋণের সবচেয়ে বড় অংশ এখনও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে। মোট বকেয়া ঋণের ৫১ দশমিক ৯৫ শতাংশ তাদের দখলে। ইসলামী ব্যাংকগুলোর অংশ ২০ দশমিক ০৮ শতাংশ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের অংশ ১৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

    অন্যদিকে মোট ঋণের তুলনায় সিএমএসএমই ঋণের অনুপাত সবচেয়ে বেশি ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর, যা ২২ দশমিক ৭০ শতাংশ। এরপর রয়েছে বিশেষায়িত ব্যাংক, ২১ দশমিক ১৯ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকের অনুপাত সবচেয়ে কম, মাত্র ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ।

    শীর্ষে ব্র্যাক ব্যাংক:

    চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে সিএমএসএমই ঋণ বিতরণে শীর্ষে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, যারা একাই ৭ হাজার ৪৫৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা বিতরণ করেছে। এরপর রয়েছে পূবালী ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ এবং আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক। পাঁচটি ব্যাংক মিলেই মোট বিতরণের প্রায় ৪০ শতাংশ সম্পন্ন করেছে।

    বাণিজ্য খাতে অতিরিক্ত নির্ভরতা:

    খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট সিএমএসএমই ঋণের ৪৪ দশমিক ৯৩ শতাংশই বাণিজ্য খাতে গেছে, যদিও নিয়ন্ত্রক সীমা সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ। উৎপাদন খাতের অংশ ৩৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ, যা নির্ধারিত ন্যূনতম ৪০ শতাংশের নিচে। সেবা খাতের অংশ ২০ দশমিক ১১ শতাংশ, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে।

  • ১৫ আগস্টের মধ্যেই একীভূত পাঁচ ব্যাংক থেকে সরছেন প্রশাসকরা

    ১৫ আগস্টের মধ্যেই একীভূত পাঁচ ব্যাংক থেকে সরছেন প্রশাসকরা

    বাংলাদেশ ব্যাংক ১৫ আগস্টের মধ্যে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অধীনে থাকা বাকি চারটি ব্যাংক থেকে তাদের নিয়োগ করা প্রশাসকদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন ব্যবস্থাপনার কাছে ব্যাংকটির পুরো পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ব্যাংকটি নিয়মিত ব্যবস্থাপনা কাঠামোর অধীনেই পরিচালিত হবে।

    এর আগে ৩০ জুলাই এক্সিম ব্যাংক থেকে প্রথম প্রশাসক সরিয়ে নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর ধাপে ধাপে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক থেকেও প্রশাসকদের প্রত্যাহার করা হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের পর অস্থায়ীভাবে প্রশাসকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাদের মূল দায়িত্ব ছিল পাঁচটি ব্যাংকের ঋণ, আমানত ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা একীভূত করার কাজ সমন্বয় করা।

    তিনি বলেন, এখন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক দায়িত্ব নিয়েছেন। একই প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকলে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই প্রশাসকদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, পাঁচটি ব্যাংকের কার্যক্রম একীভূত করা এবং নতুন ব্যবস্থাপনার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য প্রশাসকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এই কাজের বেশিরভাগ অংশ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তাই এখন ধাপে ধাপে ব্যাংকের পরিচালনার দায়িত্ব সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থাপনার কাছে দেওয়া হচ্ছে।

    তবে ব্যাংকগুলোর প্রযুক্তিগত একীভূতকরণের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। পাঁচটি ব্যাংকের মূল ব্যাংকিং সফটওয়্যার, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের হিসাব ব্যবস্থার সংযুক্তির কাজ চলছে।

    এ কারণে কিছু কার্যক্রম এখনো আগের ব্যাংকগুলোর নামেই পরিচালিত হচ্ছে। প্রযুক্তিগত একীভূতকরণ শেষ হলে পুরো ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নামেই পরিচালিত হবে।

    কর্মকর্তারা আরও জানান, একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক দায়িত্ব নেওয়ার পর একই প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক রাখার আর কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ দুই পদের দায়িত্বের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।এ কারণেই পর্যায়ক্রমে প্রশাসকদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এক্সিম ব্যাংক থেকে প্রথম প্রশাসক সরানো হয়েছে, কারণ নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওই ব্যাংকের কার্যালয় থেকে প্রধান কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তাই এক্সিম ব্যাংকের দায়িত্ব হস্তান্তর আগে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি চারটি ব্যাংকও ১৫ আগস্টের মধ্যে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থাপনার অধীনে চলে আসবে।

  • বন্ধের পথে থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক বসছে রোববার

    বন্ধের পথে থাকা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক বসছে রোববার

    দুর্বল পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে আগামী রোববার এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রশাসক নিয়োগের দিনই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ স্থগিত করা হবে। একই সঙ্গে ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) চুক্তিও বাতিল করা হবে। সরকার ইতোমধ্যে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    বন্ধ হতে যাওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, আভিভা ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে পিপলস লিজিং ছাড়া বাকি চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রোববার প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। পিপলস লিজিংকে ঘিরে মামলা-সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। এ বিষয়ে আদালতের আদেশ এখনো পাওয়া যায়নি। আগামী সপ্তাহে আদালতের আদেশ পাওয়া গেলে প্রতিষ্ঠানটিতেও প্রশাসক বসানো হবে।

    জানা গেছে, গত বছরের মে মাসে গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ ২০টি এনবিএফআইয়ের নিবন্ধন সনদ বা লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। সে সময় কেন তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়। পরে ২০টির মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানকে প্রথম ধাপে বন্ধের জন্য বেছে নেওয়া হয়, কারণ তাদের জবাব সন্তোষজনক ছিল না। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাকি চারটিকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে তারা পরিস্থিতির উন্নতি করতে না পারলে সেগুলোকেও বন্ধ করা হবে।

    ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সময় পাওয়া চারটি প্রতিষ্ঠান হলো—প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফসি) এবং প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, প্রাথমিকভাবে চারটি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে ৯টি প্রতিষ্ঠানের জন্যই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তিন মাস সময় পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো এ সময়ের মধ্যে ঘুরে দাঁড়াতে ব্যর্থ হলে অতিরিক্ত কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার আওতায় চলে যাবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। শিগগিরই এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে। আর পিপলস লিজিংয়ের ক্ষেত্রে যে আইনি জটিলতা রয়েছে, সেটিও দ্রুত নিষ্পত্তি হবে।

    খেলাপি ঋণ প্রায় শতভাগ

    বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৯৩ শতাংশ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে। তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার ছিল ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

    খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাপক অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণেই এসব প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এত বেড়েছে। উদাহরণ হিসেবে, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের (বর্তমানে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পিকে হালদারের বিরুদ্ধে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

    বর্তমানে বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে মোট আমানতের পরিমাণ ১৬ হাজার ৭৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে পিপলস লিজিংয়ে রয়েছে ৩ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৩ হাজার ১২ কোটি টাকা, আভিভা ফাইন্যান্সে ৫ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা, এফএএস ফাইন্যান্সে ১ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্সে ৪৪৯ কোটি টাকা।

    জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তি আমানতকারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। একজন ব্যক্তি আমানতকারী সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন। পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তি আমানতের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

    বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন বা বন্ধ হলে একজন আমানতকারীর জমা যতই থাকুক না কেন, আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা ফেরত পাওয়া যায়। পরবর্তী ধাপে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঋণ আদায় বা সম্পদ বিক্রি করে আনুপাতিক হারে অর্থ পরিশোধ করা হয়। তবে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা আনতে এসব প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের সরকার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হবে।

    অন্যদিকে, ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সময় পাওয়া চারটি প্রতিষ্ঠানে মোট আমানতের পরিমাণ ২ হাজার ৪০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডে ৬৩৫ কোটি টাকা, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডে ২৬০ কোটি টাকা, বিআইএফসিতে ৫৪০ কোটি টাকা এবং প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেডে ৯৭৬ কোটি টাকা।

  • স্বর্ণের দাম ভরিতে কমেছে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা

    স্বর্ণের দাম ভরিতে কমেছে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি স্বর্ণালংকারের দাম সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে।

    শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ মূল্য কার্যকর হয়েছে। এর আগে গতকাল একদিনেই প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৯ হাজার ৮৫৬ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার সকাল ৯টায় মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালংকারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা। আগের মূল্য ছিল ২ লাখ ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা।

    এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম ২ লাখ ১৯ হাজার ৩৪২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৭৪ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৪৮ টাকা।

    স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা, ২১ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা।

  • একযোগে ৭৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে পাওনা দেবে সরকার

    একযোগে ৭৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে পাওনা দেবে সরকার

    এমপিওভুক্ত ৭৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ পরিশোধ করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ১৫ আগস্ট দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে এই অর্থ পরিশোধ করা হবে। এ জন্য এই খাতে দুই হাজার কোটি টাকা বিশেষ থোক বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে শিক্ষক-কর্মচারীদের শঙ্কা, একসঙ্গে পুরো টাকা তাদের এখনই নাও দেওয়া হতে পারে।
    বর্তমানে অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে এক লাখ ১০ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে। এসব আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রয়োজন ১০ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আগামী ১৫ আগস্ট আয়োজিত কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ থোক বরাদ্দ দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অবসর সুবিধা বোর্ড ও শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট– দুই প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় এককালীন অর্থ বিতরণ কর্মসূচি।

    ২০২২ সাল থেকে কেউ টাকা পাননি
    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সমকালকে বলেন, ২০২২ সাল থেকে অবসর নেওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের কেউই অবসর সুবিধার টাকা পাননি। দীর্ঘদিন ধরে তারা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছিলেন। তাদের দুর্ভোগ লাঘবে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী ১৫ আগস্ট একযোগে ৭৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর পাওনা পরিশোধ করা হবে।

    সচিব জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়কে ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে অবসর সুবিধা বোর্ডের ৭৫ হাজার আবেদনের নিষ্পত্তি হবে। তাদের মধ্যে প্রায় ৪৪ হাজার ব্যক্তি কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থও পাবেন।

    সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক হিসাবে একজন শিক্ষক-কর্মচারী গড়ে পাঁচ লাখ থেকে ছয় লাখ টাকা পাবেন। তবে চূড়ান্ত হিসাব এখনও চলছে। বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা দিন-রাত কাজ করছেন।
    সচিব আরও বলেন, এবার প্রথমবারের মতো আইবাস প্লাস প্লাসের মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হবে। এ জন্য সবার জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে দালালচক্র বা কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ থাকবে না।

    ২০২৩ সালে অবসর, ২০২৬-এও টাকা মেলেনি
    খুলনার ফুলতলা উপজেলার দামোদর মুক্তময়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. শামসুর রহমান ৩৩ বছর ৬ মাস শিক্ষকতা শেষে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবসরে যান। একই মাসে অবসর সুবিধার আবেদন করেন। এরপর প্রায় চার বছর কেটে গেলেও তিনি টাকা পাননি।

    শামসুর রহমান সমকালকে বলেন, ‘জুতোর তলা ক্ষয় হয়েছে, কিন্তু টাকার দেখা পাইনি। অসুস্থ শরীর নিয়ে বারবার ঢাকায় এসেছি। প্রতিবারই বলা হয়েছে, অপেক্ষা করুন।’
    রংপুরের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রবিউল ইসলাম রবি বলেন, ‘সারাজীবন শিক্ষকতা করেছি। এখন চিকিৎসার টাকাটুকুও পাচ্ছি না। শুধু জানতে আসি, কবে টাকা পাব।’
    ময়মনসিংহের শফিকুল ইসলাম বলেন, টাকার আশায় বছর পার হয়ে যাচ্ছে। বয়স হয়েছে, কষ্টও বাড়ছে।

    অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নাজমা আক্তার বলেন, ‘চিকিৎসার জন্য টাকার খুব প্রয়োজন। কিন্তু প্রতিবার এসে শুনি, ফাইল প্রসেসে আছে।’

    পুরো টাকা পাওয়া নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে সংশয়
    সরকার ৭৫ হাজার আবেদন নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীরা বলছেন, আপাতত সরকারের লক্ষ্য মূলত শিক্ষকদের কাছ থেকে কেটে রাখা মূল অর্থ ফেরত দেওয়া; কিন্তু বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্য মুনাফা বা প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়।

    জানা গেছে, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও শিক্ষাসচিব মো. আবদুল খালেক গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তারা পৃথক বেশ কয়েকটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল, ধাপে ধাপে অবসর ও কল্যাণের টাকা পরিশোধ করা, অর্থ সংকটের কারণে আপাতত শিক্ষকদের কাছ থেকে কেটে রাখা মূল টাকা পরিশোধ করা, প্রথমে মূল

    টাকা ও এক বছর পরে বাকি টাকা পরিশোধ করা। তবে প্রধানমন্ত্রী এতে সম্মত হননি। তিনি অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে তীব্র অর্থ সংকটের কারণে আপাতত ২ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দের নির্দেশ দেন।

    তিন বছরে যেভাবে সংকটের তৈরি
    অনুসন্ধানে জানা গেছে, মূলত তিনটি কারণে অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম কার্যত ভেঙে পড়েছে। প্রথমত, চরম অর্থসংকট। দ্বিতীয়ত, তহবিল ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের দুর্বলতা ও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিতর্কিত ব্যাংকে অর্থ বিনিয়োগ। তৃতীয়ত, পরিচালনা কমিটির অকার্যকারিতা এবং সফটওয়্যার জটিলতা।

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের বিপুল অর্থ সরকারি ব্যাংক থেকে সরিয়ে কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকে রাখা হয়। বর্তমানে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সিটিজেনস ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকে প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা আটকে রয়েছে। এই অর্থ ফেরত না পাওয়ায় নগদ প্রবাহে বড় ঘাটতি তৈরি হয়।

    আবেদনের ভয়াবহ জট
    অবসর সুবিধা বোর্ডের সচিব অধ্যক্ষ মো. মোশাররফ হোসেন লিটন সমকালকে জানান, অবসর বোর্ডে বর্তমানে ৬৭ হাজারের বেশি আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে। এসব আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রয়োজন প্রায় ৭ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা।

    কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব অধ্যক্ষ মো. ইউসুফ আলী সমকালকে বলেন, কল্যাণ সুবিধার জন্য প্রায় ৪৩ হাজার আবেদন জমা আছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে এই আবেদন জমা পড়েছে। তিনি জানান, শুধু কল্যাণ ট্রাস্টের ৪৩ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করতে প্রয়োজন ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। অথচ ট্রাস্টের হাতে আছে মাত্র ৬০০ কোটি টাকা।
    অবসর ও কল্যাণ সুবিধার টাকার বড় একটি অংশ নেওয়া হয় শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকেই। এ জন্য চাকরিকালীন তাঁদের মূল বেতনের ৬ শতাংশ টাকা মাসে কেটে রাখা হয়। কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য কাটা হয় মূল বেতনের ৪ শতাংশ। এ ছাড়া সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বছরে ১০০ টাকা (৭০ টাকা অবসরের জন্য ও ৩০ টাকা কল্যাণের জন্য) নেওয়া হচ্ছে। বাকি টাকা সরকার ও চাঁদা জমার সুদ থেকে সমন্বয় করে দেওয়া হয়।

    অবসর সুবিধা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ৬ শতাংশ হারে টাকা কাটার মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৭০ কোটি টাকা আদায় হয়। এফডিআরের লভ্যাংশ হয় প্রতি মাসে আরও ৩ কোটি টাকা। কিন্তু প্রতি মাসে গড়ে অবসর সুবিধার জন্য আবেদন জমা পড়ে ১ হাজার, যা নিষ্পত্তি করতে প্রতি মাসে দরকার ১১৫ কোটি টাকা। এর মানে হলো প্রতি মাসে ৪২ কোটি টাকা ঘাটতি থাকে; বছরে যা ৫০৪ কোটি টাকা।

    সফটওয়্যার বন্ধ, হাতে-কলমে যাচাই
    অর্থসংকটের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত জটিলতাও পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলেছে। বোর্ড কর্মকর্তারা জানান, পুরোনো সফটওয়্যারের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাওয়ায় ডিজিটালভাবে আবেদন যাচাই প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এখন প্রতিটি আবেদন হাতে-কলমে যাচাই করতে হচ্ছে।
    এর ফলে একটি আবেদন নিষ্পত্তিতে আগের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগছে।

    শিক্ষকদের প্রশ্ন, মুনাফার কী হবে
    অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বড় প্রশ্ন, তাদের বেতন থেকে কেটে রাখা অর্থ বহু বছর বিভিন্ন ব্যাংকে বিনিয়োগ করা হয়েছিল। সেই বিনিয়োগ থেকে যে মুনাফা হওয়ার কথা, সেটির কী হবে?
    শিক্ষক সংগঠনগুলোর নেতাদের মতে, ১৫ আগস্টের এই অর্থ বিতরণ কর্মসূচি দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসানে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এতে সামগ্রিক সংকটের একটি অংশের সমাধান হবে মাত্র। কারণ এখনও হাজার হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন। এ জন্য প্রয়োজন কয়েক হাজার কোটি টাকা। আর বিভিন্ন ব্যাংকে আটকে থাকা বিপুল অর্থ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত অবসর তহবিলের ওপর চাপ পুরোপুরি কাটবে না।

    বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মো. জাকির হোসেন সমকালকে বলেন, লক্ষাধিক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কারও চিকিৎসার টাকা নেই, কারও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তিন বছরের বেশি সময় ধরে কেউ অবসর বা কল্যাণের টাকা পাননি। দ্রুত সব পাওনা পরিশোধ করতে হবে। শুধু মূল টাকা নয়, বিধিমালা অনুযায়ী প্রাপ্য পুরো অর্থ দিতে হবে। অন্যথায় শিক্ষক সমাজ তা মেনে নেবে না।

  • চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচন-প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

    চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচন-প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

    চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের সব নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের পারাইরচকে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই সব স্তরের নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি আগস্ট মাসের পরই স্থানীয় সরকার বিভাগ, অর্থ বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে বৈঠকে বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে যে স্থানীয় সরকারের কোন স্তরের নির্বাচনটি আগে অনুষ্ঠিত হবে।

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আদালতের রায় হয়েছে, ফলে তার সরাসরি দেশে ফেরার কোনো সুযোগ নেই। দেশে ফিরলেই তাকে জেলে যেতে হবে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই রায় কার্যকর করা হবে।

    সিলেট নগরীর সুযোগ-সুবিধা ও পরিচ্ছন্নতার প্রশংসা করে মীর শাহে আলম বলেন, দেশের অন্যান্য নগরের তুলনায় সিলেট অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন। খাল খনন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ প্রকল্প বাস্তবায়নে সিলেট সিটি করপোরেশন বেশ ভালো করছে।

    সিসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প সম্পর্কে তিনি জানান, ২০২৪ সালে সিলেট সিটি করপোরেশনের সাথে লাফার্জ সুরমা হোলসিমের (সিমেন্ট) একটি যৌথ প্রকল্প চালু হলেও তা পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি, যা এখন থেকে পুরোপুরি কার্যকর করা হবে। এ প্রকল্পের আওতায় নগরের বর্জ্য পরিশোধন করে প্লাস্টিক অংশ লাফার্জ সুরমা নিয়ে গিয়ে নিজেদের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করবে এবং অবশিষ্ট বর্জ্যকে জৈবসারে রূপান্তর করার পরিকল্পনা সিসিকের রয়েছে।

    পরিদর্শনকালে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এমএ মালেক, সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • আ. লীগের আমলে অর্থ লোপাট, বিপাকে ২ কোটি আমানতকারী: গভর্নর

    আ. লীগের আমলে অর্থ লোপাট, বিপাকে ২ কোটি আমানতকারী: গভর্নর

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক খাতের এক-তৃতীয়াংশ অর্থ লোপাট হওয়ায় প্রায় ২ কোটি আমানতকারী বিপাকে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক আয়োজিত বাংলা কিউআর নিয়ে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    গভর্নর বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়ে গেছে। ব্যাংকিং খাতের এক-তৃতীয়াংশ অর্থ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে যাকে খেলাপি ঋণ বলা হচ্ছে, সেটিকে তিনি প্রকৃতপক্ষে ‘চুরি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের এই পরিস্থিতির কারণে প্রায় ২ কোটি আমানতকারী ভোগান্তিতে পড়েছেন। এমন অবস্থায় ব্যাংকিং খাত সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা কঠিন। বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের হার ৩৬ শতাংশ, যা এ খাতের জন্য বড় ধরনের সংকেত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে ১৮ মাসের বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে গভর্নর বলেন, প্রথম ছয় মাসে বুলেট পেমেন্টের মাধ্যমে ঋণগ্রহীতাদের এক্সিটের সুযোগ দেওয়া হবে। পরবর্তী এক বছরে ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট আইন ও অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন দুটি আগামী সংসদ অধিবেশনেই পাস হতে পারে বলে জানান তিনি।

    বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকার নতুন প্যাকেজ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।

    এ সময় জুলাই যোদ্ধাদের সহায়তায় দেশের প্রতিটি উপজেলায় ৫ হাজার নতুন উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

  • সংস্কার চলছে, সংকট কাটেনি ব্যাংক খাতে

    সংস্কার চলছে, সংকট কাটেনি ব্যাংক খাতে

    ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ব্যাংক খাত জিম্মি ছিল কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠীর হাতে। আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দুই বছর এসব শিল্পগোষ্ঠীর ব্যাংকগুলো থেকে অর্থ লুটপাটের তীব্রতা আরো বেড়ে যায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দেশের ব্যাংক খাতে সংস্কার শুরু করে। সেই ধারাবাহিকতা এখনো চলমান আছে।

    গত দুই বছরে খেলাপি ঋণ কমাতে নীতি সহায়তা, দখল হওয়া ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠন করার পাশাপাশি দুর্বল পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। একইসঙ্গে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার কার্যক্রমেও হাত দিয়েছে।

    নানা সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় দশকে সৃষ্ট খেলাপি ঋণ, মূলধন সংকট, প্রভিশন ঘাটতি ও তারল্য সংকটের ভার এখনো বহন করছে ব্যাংক খাত। তবে গত দুই বছরে রিজার্ভ, ডলার বাজার স্থিতিশীল, রেমিট্যান্স ও আমানত প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে।

    ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত দেড় দশকে রাজনৈতিক প্রভাব, নিয়ন্ত্রণহীন ঋণ বিতরণ এবং অর্থ পাচারের মাধ্যমে ব্যাংক খাতে যে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা অল্প সময়ে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের শুরু করা সংস্কার কার্যক্রম বর্তমান সরকারও অব্যাহত রেখেছে। তবে সংকটের গভীরতা এত বেশি যে এ খাত ঘুরে দাঁড়াতে আরো কয়েক বছর লেগে যাবে। যদি সংস্কার কার্যক্রম চলমান রাখা না যায় তাহলে খাতটি আরো গভীর সংকটে পড়বে।

    জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের ব্যাংক খাত ছিল তীব্র সংকটে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দ্রুত কমছিল, ডলারের বাজার ছিল অস্থির, উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ ছিল অর্থনীতিতে এবং কয়েক ডজন ব্যাংক তীব্র তারল্য সংকটে পড়ে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতেও হিমশিম খাচ্ছিল।

    পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক একের পর এক সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেয়। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু, খেলাপি ঋণ তুলে আনা এবং খেলাপি নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন, দুর্বল ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন প্রস্তাব, দেউলিয়া আইন সংস্কার, অ্যাসেস্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠন প্রস্তাব এবং পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমান সরকারও এসব সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

    রিজার্ভ বেড়েছে ১১ বিলিয়ন

    গত দুই বছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে বাজারে ডলারের স্থিতিশীলতা ফিরেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে দেশের মোট রিজার্ভ ছিল ২৫ বিলিয়ন ডলার। গত জুলাই শেষে তা বেড়ে হয়েছে ৩৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে রিজার্ভ বেড়েছে ১১ বিলিয়ন ডলার।

    এ সময় ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় ডলার বাজার অস্থিতিশীলতা শুরু হয়। অস্থিতিশীল এমন পর্যায় পৌঁছায় যে আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করতে হয়েছিল। আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ডলার বিক্রি করতে হয়। এসব কারণে রিজার্ভের দ্রুত পতন হয়।

    তবে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৫ সালের ১৪ মে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের শর্তানুযায়ী বাজারভিত্তিক মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা চালু করেছে। এই পদক্ষেপ বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে স্থিতিশীল ফেরে। খোলাবাজারের দামের সঙ্গে অফিসিয়াল দামের পার্থক্য কমে আসায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক ঋণদাতারা অর্থছাড় করতে শুরু করেছে।

    রেমিট্যান্স বৃদ্ধি

    গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রতি মাসে যেটি ২ বিলিয়ন ডলারের আশেপাশে ছিল। এখন তা আড়াই থেকে তিন বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

    বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে মোট ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছিল, যা তার আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৬ দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছিল ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে আসে।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ থেকে টাকা পাচারের পথ অনেকটাই সংকুচিত হয়ে এসেছে। এ কারণে বিদেশে হুন্ডি কারবারিদের চাহিদাও কমেছে। কালোবাজারে চাহিদা কমলে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ে। বর্তমানে ব্যাংক খাতে রেমিট্যান্স প্রবাহে যে উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে, এটি তারই প্রভাব।

    আমানতে উচ্চ প্রবৃদ্ধি

    আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিকে ব্যাংকগুলোতে আমানত রাখার প্রবণতা কমে যায়। ওই সময়ে আমানতের প্রবৃদ্ধি ৭ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যেই ছিল। সরকার পরিবর্তনের পর ব্যাংক খাত সংসারের উদ্যোগের ফলে ব্যাংক খাতে আমানতের প্রবৃদ্ধি বেড়ে সাড়ে ১১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তবে এই প্রবৃদ্ধির সুবিধা সব ব্যাংক সমানভাবে পায়নি। তুলনামূলক শক্তিশালী ব্যাংকগুলোতে আমানত বাড়লেও দুর্বল ব্যাংকগুলো এখনো দৈনিক জমার অর্থ দিয়ে দৈনিক উত্তোলনের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। ফলে তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংক থেকে ধার করে তারল্য চাহিদা মেটাতে হচ্ছে।

    মূল্যস্ফীতি কমেছে

    আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ বছরগুলোতে দেশে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল, যার পেছনে অতিরিক্ত টাকা ছাপানো, ডলারের সংকট এবং বড় অঙ্কের ব্যাংক ঋণ প্রধান ভূমিকা রেখেছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। চলতি বছরের জুনে তা কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমেছে। সুদহার কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পলিসি রেট কয়েক ধাপে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করেছে। এতে ব্যাংক ঋণের সুদহারও ঊর্ধ্বমুখী। ফলে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি সর্বনিম্ন।

    খেলাপি ঋণ ঊর্ধ্বমুখী

    ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখনও খেলাপি ঋণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল দুই লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা। একই সময়ে প্রভিশন ঘাটতি ছিল ২৪ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় ব্যাংক খাতের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা আড়াল করা হয়েছিল। খেলাপি ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি এবং জালিয়াতির প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

    অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংকগুলোর প্রকৃত আর্থিক চিত্র প্রকাশ হতে শুরু করে। এর ফলে এতদিন গোপন থাকা বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতির তথ্য সামনে আসে। চলতি বছরের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায়। একই সময়ে প্রভিশন ঘাটতি বেড়ে হয়েছে দুই লাখ ৫ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা।

    এদিকে মূলধন পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের বিপরীতে ব্যাংক খাতের মূলধন পর্যাপ্ততার হার গত বছর ঋণাত্মক দুই দশমিক ৬৪ শতাংশে নেমে গেছে। যেখানে আন্তর্জাতিকভাবে চর্চিত ব্যাসেল-৩ নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর সিআরএআর সর্বনিম্ন ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ থাকার কথা। কার্যকর অর্থনীতির কোনো দেশের ব্যাংক খাতের গড় মূলধন ঋণাত্মক ধারায় চলে যাওয়াকে আধুনিক বিশ্বের বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, খেলাপি কমাতে বিশেষ নীতি সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। এক শতাংশ অর্থ দিয়ে গ্রাহকরা ঋণ পুনঃতফসিল করতে পারে। একই সঙ্গে সুদ মওকুফ করে এক্সিট সুবিধাও দেওয়া হয়। এসব সুবিধা দেওয়া হলেও খেলাপি ঋণ প্রত্যাশিত হারে কমছে না। কারণ বড় অংশের অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে ঋণ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়েছে। খেলাপি ঋণের কারণে প্রভিশন ও মূলধন ঘাটতি বাড়ছে।

    সমস্যাগ্রস্ত ঋণ বেড়েছে

    ব্যাংক খাতে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ আরো বেড়েছে। গত বছর রেকর্ড এক লাখ ৭০ হাজার ৫০৩ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিলের পরও বেশিরভাগ সূচকের অবনতি হয়েছে। বছর শেষে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকায়, যা মোট ঋণের ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এক বছরে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বেড়েছে তিন লাখ ৩১ হাজার ৩৭ কোটি টাকা।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে ব্যাংক খাতের মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকায়। এর মধ্যে খেলাপি হিসেবে দেখানো হয় পাঁচ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। পুনঃতফসিলের পর অনাদায়ী রয়েছে চার লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা। আর অবলোপন করা অনাদায়ী স্থিতি রয়েছে ৮৩ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা।

    এক বছর আগে মোট ঋণ স্থিতি ছিল ১৭ লাখ ১১ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে পুনঃতফসিল করা অনাদায়ী ঋণ তিন লাখ ৪৮ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত ছিল তিন লাখ ৪৬ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা। এছাড়া অবলোপন করে অনাদায়ী ঋণ স্থিতি বেড়ে ২০২৪ সাল শেষে ৬২ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ওই সময় পর্যন্ত বিতরণ করা ঋণের যা ছিল ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা বা ৪৪ দশমিক ২১ শতাংশ।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্দশাগ্রস্ত এসব ঋণের বড় অংশই আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সৃষ্ট। তবে ওই সময় এসব ঋণ কৌশলে নিয়মিত দেখানো হতো। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে প্রকৃত চিত্র দেখাতে শুরু করে। এদিকে অনিয়ম-জালিয়াতিতে সম্পৃক্ত প্রভাবশালী ব্যবসায়ী অনেকেই পালিয়েছেন। কেউ কেউ কারাগারে। ব্যবসায়ীদের খুশি করতে ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগ থেকে একের পর এক সুবিধা দেওয়া শুরু হয়। কখনো নামমাত্র ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিল, কখনো দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় ১২ বছরের জন্য ঋণ নবায়ন কিংবা পুনর্গঠন করা হয়। তবে সেসব ঋণের বড় অংশই এখন খেলাপি হওয়ায় পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। অবশ্য অস্বাভাবিক খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পর গত বছর শেষদিকে বিশেষ সুবিধায় ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়া হয়।

    সংস্কার

    ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকি কমানো, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনরুদ্ধারে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। জানা গেছে, প্রচলিত কমপ্লায়েন্সভিত্তিক তদারকির পরিবর্তে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা, যাতে আগেভাগেই দুর্বলতা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। একই সঙ্গে সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন, দুর্বল পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণ বা অবসানের জন্য ব্যাংক রেজল্যুশন ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এছাড়া দুর্বল ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা, নিয়ন্ত্রক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

    অর্থনীতিবিদদের মতে, গত দুই বছরে ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে খেলাপি ঋণ আদায়, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, মূলধন ঘাটতি পূরণ এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন ছাড়া এই খাতের দীর্ঘমেয়াদি সংকট কাটানো সম্ভব হবে না। তাদের মতে, গণঅভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকাই এখন ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

  • বিষাক্ত খাদ্যে ঝুঁকিতে বাণিজ্যিক পোলট্রি!

    বিষাক্ত খাদ্যে ঝুঁকিতে বাণিজ্যিক পোলট্রি!

    আধুনিক বাণিজ্যিক পোলট্রি খামার ক্যাম্পাইলোব্যাক্টার নামের একটি বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার দ্রুততর করতে পারে। বিষয়টি উঠে এসেছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায়। এই ব্যাকটেরিয়া খাদ্যে বিষক্রিয়া, রক্তে সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে অন্ত্রের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত।

    গবেষণায় দেখা গেছে, গত ৩৫ বছরে বাণিজ্যিকভাবে পালন করা মুরগির মধ্যে ক্যাম্পাইলোব্যাক্টার ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি প্রায় ১০০ গুণ বেড়েছে।

    গবেষকদের মতে, অপর্যাপ্তভাবে রান্না করা বা দূষিত মুরগির মাংসে সাধারণত এই ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়। যুক্তরাজ্যে ব্যাকটেরিয়াজনিত খাদ্যে বিষক্রিয়ার সবচেয়ে বড় কারণও এটি। গত বছর দেশটিতে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ এই সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন।

    বিশেষজ্ঞরা জানান, অধিকাংশ রোগী এক সপ্তাহের মধ্যেই সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে গুরুতর সংক্রমণের ক্ষেত্রে এটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি কিছু গবেষণায় এই সংক্রমণের সঙ্গে অন্ত্রের ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধিরও সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

    ফুড হাইজিন সার্টিফিকেট সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর ক্যাম্পাইলোব্যাক্টার সংক্রমণের কারণে প্রায় ১০০ জনের মৃত্যু হয়। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৬ সালের তুলনায় ডায়রিয়া, বমি ও তীব্র পেটব্যথাসহ এ সংক্রমণের রিপোর্ট হওয়া রোগীর সংখ্যা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে।

    গবেষণার ফলাফল বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস (পিএনএএস)-এ প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শিল্পকারখানার আদলে পরিচালিত বৃহৎ পোলট্রি খামারের পরিবেশে মুরগির মধ্যে এই ব্যাকটেরিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়। ফলে বাজারে পৌঁছানোর আগেই বিপুল সংখ্যক মুরগি সংক্রমিত হতে পারে।

    গবেষকদের ভাষ্য, নিবিড় খামার ব্যবস্থাপনাসহ মানুষের সৃষ্টি করা বিভিন্ন পরিবেশগত পরিবর্তন সংক্রামক রোগের উদ্ভব ও বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    তাদের মতে, এই ঝুঁকি কমাতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পোলট্রি খামারের ব্যবস্থাপনায় উন্নতি আনা এবং মুরগির মাংস সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও ভালোভাবে রান্না করার বিষয়ে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। সূত্র: সামা টিভি অনলাইন

  • আগস্টের প্রথম ৫ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৬০ কোটি ২০ লাখ ডলার

    আগস্টের প্রথম ৫ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৬০ কোটি ২০ লাখ ডলার

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাসের ধারাবাহিকতায় আগস্টের প্রথম পাঁচ দিনেও প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। এ সময় দেশে ৬০ কোটি ২০ লাখ (৬০২ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৩ দশমিক সাত শতাংশ বেশি।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে এ কথা জানানো হয়।

    এদিকে, ৪ ও ৫ আগস্ট এই দুই দিনেই প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে তিন দশমিক ৪৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল দুই দশমিক ৮০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত এক বছরের ব্যবধানে মোট রেমিট্যান্স প্রবাহ ২৩ দশমিক তিন শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় পাঠানোর প্রবণতা অব্যাহত থাকায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ আরো শক্তিশালী হচ্ছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

  • বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া বাণিজ্যে নতুন গতি

    বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া বাণিজ্যে নতুন গতি

    বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল।

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষে বাণিজ্য আলোচনা (Trade Negotiation) সক্ষমতা বৃদ্ধি, গবেষণা সহযোগিতা, শিক্ষা, কৃষি, পশুসম্পদ এবং বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিশেষ করে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO)-এর আইন ও বাণিজ্য আলোচনায় সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে একটি গবেষণা ও স্টাডি সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক পর্যায়ে জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময়ের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সফল বাস্তবায়নে প্রকল্প পরিচালকদের (Project Directors) দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    জবাবে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল জানান, এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে সহযোগিতা করতে অস্ট্রেলিয়া আগ্রহী। তিনি বলেন, অতীতে বিচ্ছিন্নভাবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হলেও এবার আরও পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা চলছে। এসব কর্মসূচিতে বাণিজ্য আলোচনা, আন্তর্জাতিক চুক্তির আইনগত বিষয় এবং নীতিনির্ধারণী দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাকেও এ উদ্যোগে সম্পৃক্ত করার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।

    আলোচনায় বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (LDC) মর্যাদা থেকে উত্তরণ-পরবর্তী বাণিজ্য সুবিধা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ বাজারে প্রবেশাধিকারের বিষয়েও মতবিনিময় হয়। উভয় পক্ষই এ বিষয়ে নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষা, ট্রান্সন্যাশনাল এডুকেশন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগের মতো খাতে সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    তিনি আরও জানান, অস্ট্রেলিয়ার একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা করছে, যা দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া থেকে উচ্চমানের গরুর মাংস বাংলাদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা এবং এ লক্ষ্যে হালাল সার্টিফিকেশন, পশুর ট্রেসেবিলিটি (Traceability) ও আধুনিক লাইভস্টক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষই বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ককে আরও বহুমাত্রিক, টেকসই ও কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

  • ৩ দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: জ্বালানিমন্ত্রী

    ৩ দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: জ্বালানিমন্ত্রী

    গ্যাস সংকট স্বাভাবিক হতে দুই থেকে তিনদিনের মতো সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

    ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘এখনো ফ্রিজিং চলছে এবং এটা শেষ হয়ে গেলে বিকাল থেকে গ্যাস সঞ্চালন আবার শুরু হবে।’

    ‘সঞ্চালন শুরু হয়ে গেলে আস্তে আস্তে আমাদের যেখানে প্রেসার কমে গেছে, সেটা উন্নত হবে। মোটামুটি যে সমস্যার মধ্যে পড়েছি, সেই মতো উত্তোলন করতে পারবো।’—উল্লেখ করেন তিনি।

    এক প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে অন্তত দুই থেকে তিন দিন লাগবে। এটা বন্ধ হওয়ার আগে যেমন ছিলো, তেমনই হবে।’

  • স্কুলে বুলিং ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ

    স্কুলে বুলিং ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীন বাস্তবায়নাধীন ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থীদের শিখন মূল্যায়নের জন্য মোবাইল অ্যাপ, আধুনিক লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস) এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে একাধিক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্রকাশিত প্রকল্পের বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (এপিপি) অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট এতে অনুমোদন দেন মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ।

    বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির আওতায় ১২টি সেবা প্যাকেজে মোট ৩৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে। প্রকল্পের প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন ইউনিটের (পিআইইউ) প্রস্তুত করা এ পরিকল্পনায় ডিজিটাল শিক্ষা, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে দুই বছর মেয়াদি জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়ন কার্যক্রমে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের জন্য একটি আধুনিক লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস) তৈরি করা হবে। আন্তর্জাতিক মানের এ কার্যক্রমের বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৮ সালের ১০ জুন পর্যন্ত।

    এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের শিখনফল মূল্যায়নের জন্য একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরিতে ৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। স্কুলে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, বুলিং প্রতিরোধ ও সচেতনতা বাড়াতে টেলিভিশন বিজ্ঞাপন (টিভিসি) নির্মাণ ও প্রচারে ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধবিষয়ক বিশেষ সমীক্ষা পরিচালনায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

    প্রকল্পের আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহারকে গুরুত্ব দিয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ের মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ মূল্যায়ন এবং আইসিটি প্রশিক্ষণের চাহিদা নিরূপণে ২ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি দেশের ৬৪০টি স্কুল ও মাদ্রাসায় ভোকেশনাল বা কারিগরি কোর্স চালুর পাইলট কার্যক্রম মূল্যায়নে ৮০ লাখ টাকা এবং মাধ্যমিক শিক্ষায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে গবেষণায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা বাড়াতে ডেপুটি টিম লিডার (জাতীয়) নিয়োগে ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিড-টার্ম রিভিউ পরিচালনায় ১ কোটি টাকা, পিআইইউর জন্য তিনটি যানবাহন ভাড়ায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ৩০ (ম্যান-মান্থ) মাস মেয়াদে আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ নিয়োগে ১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে ২৫ অঙ্গরাজ্যের মামলা

    ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে ২৫ অঙ্গরাজ্যের মামলা

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছে দেশটির ২৫টি অঙ্গরাজ্য।

    জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন কিংবা এ ধরনের পণ্য আমদানির অভিযোগে ৬০ বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর ১০ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতে (ইউএস কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড) মামলাটি করা হয়।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, মামলার বাদী অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয়েস, ম্যাসাচুসেটস, ওয়াশিংটন, উইসকনসিন ও পেনসিলভেনিয়া। এ ছাড়া আরও ১৭টি অঙ্গরাজ্য মামলায় যুক্ত হয়েছে। এসব অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রভাব বেশি।

    যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ৫০টি অঙ্গরাজ্য রয়েছে।

    শুল্ক আরোপের পটভূমি

    গত জুলাইয়ে ভারত, কানাডা, জাপান, নরওয়ে, তাইওয়ান, চীনসহ ৫৯টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে এই অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন।

    যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের (ট্রেড অ্যাক্ট অব ১৯৭৪) ৩০১ নম্বর ধারার আওতায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযোগ করা হয়, এসব দেশ ও অঞ্চল জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি করছে বা এ ধরনের পণ্য উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত।

    ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল নতুন শুল্কনীতি ঘোষণা করেন। ওই নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা সব দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ ‘বেইসলাইন শুল্ক’ এবং বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রে ‘পাল্টাপাল্টি শুল্ক’ (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) আরোপ করা হয়।

    ২০২৫ সালজুড়ে চীন, ভারত, কানাডা, মেক্সিকো ও ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক উত্তেজনার সময়ে শুল্ককে অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন ট্রাম্প।

    সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর নতুন বিতর্ক

    ২০২৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতিকে অবৈধ ঘোষণা করেন।

    আদালত বলেছিলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার অ্যাক্ট (আইইইপিএ) আইনটি বিধিবহির্ভূতভাবে ব্যবহার করেছে। তাই ওই আইনের আওতায় আরোপ করা শুল্ক বৈধ নয়।

    এরপর ৭ মে একই আইনের ভিত্তিতে আরোপ করা ‘বেইসলাইন শুল্ক’ও বাতিল ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট।

    অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ

    মামলার পর এক বিবৃতিতে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন যে ৬০ বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে, সেসব দেশ ও অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আসা পণ্যের পরিমাণ মোট আমদানির ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ।

    তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টে হেরে যাওয়ার পরও ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে শুল্ক আরোপের মাধ্যমে মার্কিন পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর কর বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

    লেটিশিয়া জেমস আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট নিজের ইচ্ছামতো কোনো দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারেন না।

    নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলও ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতির সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, জোরপূর্বক শ্রমের বিষয়টিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে আরোপ করা এই শুল্ক সাধারণ ভোক্তাদের ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

    দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক বক্তব্যে হোকুল বলেন, ট্রাম্পের শুল্ক সাধারণ কর্মজীবী মানুষ ও ছোট ব্যবসার পরিবারের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা তৈরি করছে। এর কারণে মুদিপণ্য, গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় জিনিস, নির্মাণসামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছে।

    তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যে স্পষ্ট করেছে যে শুল্ক আরোপের নামে আইন উপেক্ষা করা যাবে না।

    ট্রাম্প প্রশাসনের সাফাই

    অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার আইনগত ক্ষমতা ব্যবহার করে এমন নীতি ও কার্যক্রম বন্ধ করছে, যা মার্কিন বাণিজ্যের ওপর চাপ তৈরি করে।

    তিনি বলেন, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ঠেকাতে বিদেশি দেশগুলোর ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক ও বাণিজ্যের জন্য ক্ষতিকর। এ কারণে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

    দেশাই আরও বলেন, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকেই ৩০১ ধারার শুল্ক একটি আইনগতভাবে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং এখনো তা বহাল রয়েছে।

  • টানা পঞ্চমবার পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় বাংলাদেশ

    টানা পঞ্চমবার পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় বাংলাদেশ

    বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। ডব্লিউটিওর ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিভিউ ২০২৫ অনুযায়ী, বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানি কিছুটা কমলেও শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে চীন। তালিকায় তৃতীয় স্থানে ভিয়েতনাম, চতুর্থ স্থানে ভারত এবং পঞ্চম স্থানে তুরস্ক রয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর বাংলাদেশ ৩৮ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামের তুলনায় এ রপ্তানি প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার বেশি।

    ২০২০ সালে অতিমারি করোনাকালে বাংলাদেশকে টপকে দ্বিতীয় স্থানটি দখল করে নিয়েছিল ভিয়েতনাম। পরের বছর ২০২১ সালে ভিয়েতনামকে পেছনে ফেলে হারানো অবস্থান পুনরুদ্ধার করে বাংলাদেশ। তৃতীয় অবস্থানে চলে যায় ভিয়েতনাম। ২০২৪ সালেও পোশাক রপ্তানিতে তৃতীয় ছিল ভিয়েতনাম। ২০২৫ সালেও একই অবস্থানে রইল দেশটি। পোশাক রপ্তানিতে বরাবরের মতো এবারও প্রথম স্থানে আছে চীন।

    আগের বছরের হিস্যা ছিল ৭ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশে নেমেছে। এ নিয়ে টানা দুই বছর বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের হিস্যা কমল। ২০২৩ সালে হিস্যা ছিল ৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ। ২০২২ সালে ছিল ৭ দশমিক ৯১ শতাংশ, যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

    বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী ভিয়েতনামের হিস্যা গত বছর আরও বেড়েছে। ডব্লিউটিওর তথ্য-উপাত্তে দেখা যায়, গত বছর ভিয়েতনামের হিস্যা দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে ছিল ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ। গত তিন বছরের মধ্যে ২০২৩ সালে দেশটির হিস্যা ছিল ৫ দশমিক ৮১ শতাংশ। অর্থাৎ ধারাবাহিকভাবে তিন বছর ধরে ভিয়েতনামের হিস্যা বাড়ছে। বিপরীতে হিস্যা কমছে বাংলাদেশের।

  • পর্ষদবিহীন ইসলামী ব্যাংকে সিদ্ধান্তে ধীরগতি

    পর্ষদবিহীন ইসলামী ব্যাংকে সিদ্ধান্তে ধীরগতি

    বিতর্কের মুখে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার পর বর্তমানে ব্যাংকটির পর্ষদের দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন। তবে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ, চেয়ারম্যান ও নিয়মিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) না থাকায় বড় ধরনের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন করপোরেট গ্রাহকেরা। এর প্রভাবে অনেক প্রতিষ্ঠানের আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলা, ঋণ নবায়ন এবং চলতি মূলধনের (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) অনুমোদন বিলম্বিত হচ্ছে। যদিও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, সংকট কাটিয়ে উঠতে সতর্কতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ গঠিত হলে কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে এখনো কয়েকশ পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এলসি খোলা এবং চলতি মূলধনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থায়ন পাচ্ছে না। কেউ কেউ এলসি খুলতে গিয়ে বিলম্বের মুখে পড়ছেন। এতে ব্যাংকটির দীর্ঘদিনের ভালো গ্রাহকদের একটি অংশও ব্যবসায়িক ঝুঁকিতে পড়েছেন।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বড় শিল্প উদ্যোক্তা বলেন, ‘আমার চারটি গার্মেন্টস কারখানার বেতন-ভাতা পরিশোধ ও এলসি ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে চার হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছি না। দীর্ঘদিন ধরে যেসব কর্মকর্তা আমার ফাইল দেখতেন, তারাও নিজেদের অসহায় বলে জানাচ্ছেন।’

    তিনি বলেন, ‘এমনিতেই গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ওপর ব্যাংকের সহযোগিতা না পাওয়ায় চাপ আরো বেড়েছে। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে যাবে। বেতন না পেলে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামতে পারেন, যা সরকারের জন্যও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করবে।’

    ব্যাংকটির একাধিক বড় করপোরেট গ্রাহক জানান, বড় অঙ্কের ঋণ, এলসি অনুমোদন কিংবা গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সিদ্ধান্তের জন্য কার্যকর পরিচালনা পর্ষদ ও শীর্ষ নির্বাহীর প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে এসব পদে পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব না থাকায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। ফলে রপ্তানিমুখী ও শিল্প খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবসা পরিচালনায় সমস্যায় পড়ছে। আবার পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ ও নিয়মিত এমডি না থাকায় অনেক উদ্যোক্তাও বড় ধরনের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় রয়েছেন।

    ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন বলেন, ‘ব্যাংকের পরিস্থিতি এখন আগের তুলনায় অনেক ভালো। আমানত (ডিপোজিট) আবার ফিরতে শুরু করেছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তারল্য (ক্যাশ লিকুইডিটি) সহায়তা নিতে হচ্ছে না।’

    করপোরেট গ্রাহকদের এলসি ও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে জটিলতার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এসব কথা ঠিক নয়। প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হচ্ছে। বড় যেসব বিষয় রয়েছে, সেগুলোও আমরা সমাধান করছি। তবে অতিরিক্ত চাহিদা বা সুদ মওকুফের মতো সিদ্ধান্ত এখন নেওয়া সম্ভব নয়। যৌক্তিক যেসব আবেদন আসছে, সেগুলো অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। অযৌক্তিক কোনো দাবি পূরণ করা হবে না। আমার বোর্ডে অযৌক্তিক কিছু হবে না।’

    ইসলামী ব্যাংকের একজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্তমানে ব্যাংকের তারল্য সংকট অনেকটাই কেটে গেছে। পরিচালনা পর্ষদ পূর্ণাঙ্গ না থাকলেও নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সব সিদ্ধান্ত এক সদস্যবিশিষ্ট বোর্ডই অনুমোদন দিচ্ছে। এ জন্য তাকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং তিনি নিয়মিত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।’

    তিনি বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ না থাকায় বাইরে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক। কারণ সাধারণভাবে বোর্ড বলতে একাধিক সদস্যকে বোঝানো হয়। ফলে একজন সদস্য দায়িত্ব পালন করায় কিছু গ্রাহক ও ব্যবসায়িক অংশীদার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দ্বিধায় পড়তে পারেন।’

    ব্যাংকটির একটি শাখার প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যে তারল্য সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে, তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। ওই টাকা দিয়ে নতুন বিনিয়োগ বা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দেওয়া যায় না। ফলে ইচ্ছা করলেই এ অর্থ অন্য খাতে ব্যয় করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত শর্ত মেনেই এ অর্থ ব্যবহার করতে হচ্ছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এগোতে হচ্ছে। একসঙ্গে কয়েকজনকে বড় অঙ্কের অর্থ দিয়ে দিলে হাতে থাকা তারল্য দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে। এরপর যদি কাউন্টারে হঠাৎ গ্রাহকদের চাপ বেড়ে যায়, তখন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে।’

    অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ সময় শীর্ষ নেতৃত্বের শূন্যতা থাকলে একটি ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে করপোরেট গ্রাহকরা দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সেবা প্রত্যাশা করেন। সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা থাকলে তারা বিকল্প ব্যাংকের দিকে ঝুঁকতে পারেন, যা ইসলামী ব্যাংকের ব্যবসার জন্য দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে. মুজেরী বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকে এখনো নিয়মিত বোর্ড ও এমডি নিয়োগ হয়নি। ব্যাংকের স্বার্থে যত দ্রুত সম্ভব পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং একজন নিয়মিত ও দক্ষ এমডি নিয়োগ দিয়ে ব্যাংকটিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। এতে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের আস্থা আরো শক্তিশালী হবে এবং ব্যাংকের কার্যক্রমও স্বাভাবিক গতি ফিরে পাবে। দীর্ঘ সময় পূর্ণাঙ্গ বোর্ড ও নিয়মিত এমডি না থাকলে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম কিছুটা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।’

    নতুন পর্ষদ গঠন কতদূর

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত এলেই প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ ঘোষণা করা হবে।’

    কেন সংকট

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরে জালিয়াতির মাধ্যমে নামে-বেনামে ব্যাংকটি থেকে প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব অনিয়মের তথ্য প্রকাশের পর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ থেকে ব্যাংকটিকে মুক্ত করা হয়। এরপর নানা সংকটের মধ্যেও ব্যাংকটি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে।

    তবে গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান এম. জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। একই দিন রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে স্বতন্ত্র পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে তাকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হলে তার অপসারণসহ সাত দফা দাবিতে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে একদল গ্রাহক আন্দোলন শুরু করেন। জাতীয় সংসদেও বিষয়টি নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তুমুল আলোচনা হয়। পাশাপাশি রাজধানীর দিলকুশায় ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে টানা বিক্ষোভ চলতে থাকে। এর প্রভাবে ব্যাংকটিতে আমানত উত্তোলনের চাপ বেড়ে যায় এবং তারল্য সংকট তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক তারল্য সহায়তা দেয়। পরে পুরো পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন নির্বাহী পরিচালককে পর্ষদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

  • দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ‘সেপা’ চুক্তি সই, ৯৭% বাংলাদেশি পণ্যে শুল্ক সুবিধা

    দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ‘সেপা’ চুক্তি সই, ৯৭% বাংলাদেশি পণ্যে শুল্ক সুবিধা

    দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট—সেপা) সই করেছে বাংলাদেশ। এ চুক্তির আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্য অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা পাবে। বিপরীতে বাংলাদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার ৮৭ শতাংশ পণ্য একই সুবিধার আওতায় আসবে।

    মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দুই দেশের মধ্যে সেপা চুক্তি সই হয়। পরে ‘সেপা নেগোসিয়েশন কনক্লুশন সেরেমনি’ শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির একটি দেশের সঙ্গে এ চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ মাসের মধ্যে এটি প্রথম সেপা চুক্তি। এর ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যে শুল্কমুক্ত ও সুবিধা পাওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়া প্রায় দুই ট্রিলিয়ন (২ লাখ কোটি) ডলারের অর্থনীতির দেশ। দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের সম্ভাবনা তৈরি করবে। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে কৃষিপণ্য, প্লাস্টিক ও খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ সুবিধা পাবে।’

    খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন, যার জন্য বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ জরুরি। সেপার মতো দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে বিনিয়োগের ক্ষেত্র আরও প্রসারিত হবে বলে মনে করেন তিনি।

    দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু বলেন,‘বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ৫৬ বছর আগে টেক্সটাইল খাতের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল। তবে বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতি পণ্য বহুমুখীকরণের দিকে এগোচ্ছে। তাই উভয় দেশকেই আরও বৈচিত্র্যময় পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে যুক্ত হতে হবে।’

    তিনি আরও আশা প্রকাশ করে বলেন, “বাংলাদেশের নতুন সরকার দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। প্রযুক্তি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা (সাপ্লাই চেইন) খাতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে। এ চুক্তির ফলে কোরীয় কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে আরও সহজ ও অনুকূল পরিবেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে।”

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৩৯ কোটি (১.৩৯ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে দেশটিতে রপ্তানি হয় প্রায় ৪৯ কোটি ১৭ লাখ (৪৯১.৭৩ মিলিয়ন) ডলারের পণ্য। বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয় প্রায় ৯০ কোটি ২৯ লাখ (৯০২.৯০ মিলিয়ন) ডলারের পণ্য। ফলে দুই দেশের বাণিজ্যিক লেনদেনে বাংলাদেশের ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৪১ কোটি (৪১১ মিলিয়ন) ডলার।

    উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জুতা, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য এবং সিরামিক। অন্যদিকে, দেশটি থেকে বাংলাদেশে প্রধানত লোহা ও ইস্পাত, শিল্প যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকজাত পণ্য, রাসায়নিক পদার্থ এবং কাগজ ও কাগজজাত পণ্য আমদানি করা হয়।

  • জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এল ৩৫ হাজার কোটি টাকা

    জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এল ৩৫ হাজার কোটি টাকা

    চলতি অর্থবছরের গত জুলাই মাসে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ২৮৬ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৫ হাজার ২১০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ১১ পয়সা ধরে)। এক বছরের ব্যবধানে এই প্রবাহ বেড়েছে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ।আজ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২৮৫ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের ২৪৭ দশমিক ৮০ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। এর আগে বিদায়ী অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৮২ মিলিয়ন ডলার।

    সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বৈধ পথে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৯ মিলিয়ন ডলার, যা এর আগের অর্থবছরের ৩ হাজার ৩২ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলারের চেয়ে ৫২৬ মিলিয়ন ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির পেছনে হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগ, প্রবাসীদের জন্য নগদ প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা বৃদ্ধি এবং বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর সম্প্রসারিত সুযোগকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

  • কুষ্টিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠেছে দুম্বার খামার

    কুষ্টিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠেছে দুম্বার খামার

    একসময় যে উদ্যোগ ছিল কল্পনার বাইরে, সেটিই বাস্তবে রূপ দিয়েছেন কুষ্টিয়ার মিরপুরের দুম্বা খামারি রাকিবুল ইসলাম। মরুভূমির পশু দুম্বা এখন আর শুধু বিদেশের শুষ্ক অঞ্চলের দৃশ্য নয়, দেখা মিলছে কুষ্টিয়ার মাটিতেও। এই অসাধ্যকে সাধ্য করে মরু অঞ্চলের পশু দুম্বা পালনে সফল এবং স্বাবলম্বী হচ্ছেন কুষ্টিয়ার মিরপুরের রাকিবুল।

    মহিষ পালন ছেড়ে মাত্র দুটি দুম্বা দিয়ে শুরু করা খামারে এখন রয়েছে ১৫টি দুম্বা। দেশীয় খাবার ও পরিচর্যায় তুর্কি জাতের এই দুম্বা পালন করে নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছেন তিনি। গরু-ছাগলের মতো দেশীয় প্রাকৃতিক খাবার দিয়েই লালন-পালন করা হচ্ছে এই দুম্বা। বিদেশি পশুর এ খামার দেখতে প্রতিদিনই রাকিবুলের খামারে ভিড় জমাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। বড় পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে দুম্বার খামার গড়ে তোলার স্বপ্ন রাকিবুলের।

    জানা যায়, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সাহেবনগর এলাকার খামারি রাকিবুল ইসলাম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে মহিষ লালন-পালন করা ছেড়ে দেন। পরে কিছুটা সুস্থ হলেও মহিষ পালন করা সম্ভব না হওয়ায় তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে দুম্বা পালনের খবর পান। পরে তিনি ২০২৩ সালে একটি খামার থেকে ২টি দুম্বা কিনে শুরু করেন দুম্বার খামার। অল্প সময়ে পান সফলতাও। দুম্বাগুলো ছিল তুর্কি জাতের। চলতি বছরের মে ও জুন মাসে ৩টি দুম্বা যথাক্রমে দুই লাখ, দেড় লাখ ও এক লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন তিনি। দুম্বার ক্রেতারা বেশিরভাগই কুষ্টিয়া জেলার বাইরের মানুষ।

    Islam

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এক পাশে টিনশেডের একটি বড় ঘর। ঘরের ভেতরে মাচা করে চারপাশ ঘেরা। দুম্বাগুলো সেখানে স্বাভাবিকভাবেই ছোটাছুটি করছে। নিয়মিত দেশীয় প্রাকৃতিক খাবার, ঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রোগ প্রতিরোধ—সবকিছুতেই রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। স্থানীয়দের অনেকেই প্রতিদিন খামারটি দেখতে আসেন, নতুন এই প্রাণী সম্পর্কে জানতে চান এবং অনেকে আগ্রহী হচ্ছেন এমন উদ্যোগে যুক্ত হতে। দুম্বা পালনে রোগবালাই কম ও লাভ বেশি হওয়ায়, অনেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে এ ধরনের খামারে যুক্ত হতে চাচ্ছেন।

    খামারি রাকিবুল ইসলাম বলেন, “আমি আগে মহিষ লালন-পালন করতাম। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যাই। চলাফেরা ঠিকমতো করতে পারতাম না। সেজন্য মহিষ লালন-পালন করা বন্ধ করে দিই। পরে সুস্থ হলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়ে ৩ বছর আগে ২টি দুম্বা কিনে এনে খামার শুরু করি। এর পেছনে পরিশ্রম কম দেওয়া লাগে। বর্তমানে খামারে রয়েছে ১৫টি দুম্বা। গরু-ছাগলের মতো দেশীয় প্রাকৃতিক খাবার দিয়েই লালন-পালন করা হয় এই দুম্বা।”

    তিনি আরও বলেন, “এই খামারে তুর্কি জাতের দুম্বা পালন করা হচ্ছে। আমি নিজে ছাড়াও আমার এই খামারের দুম্বা দেখাশোনার জন্য লোক আছে। খামারে প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা আসেন। তারা দেখেন দুম্বা পালন। কেউ কেউ আবার আগ্রহ দেখাচ্ছেন দুম্বার খামার গড়ে তোলার।”

    তাঁর সহকর্মী ইমদাদুল হক ইমরান বলেন, “দুম্বা জান্নাতি পশু। হযরত ইব্রাহিমের (আঃ) কোরবানির স্মৃতিবিজড়িত এ পশু। আমিও পরিবার নিয়ে দুম্বা পালন শুরু করতে চাই।”

    সাধারণ ভেড়ার চেয়ে আকারে বড়, আকর্ষণীয় গঠন ও পেছনে ভারী চর্বি থাকার কারণে প্রাণীটি দেখার জন্য অনেকে রাকিবুলের খামারে আসেন। দর্শনার্থী মনিরা জানান, “কখনো দুম্বা কাছ থেকে দেখিনি। হুজুরের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখে আমরা খুব আনন্দিত।”

    দুম্বা পালনে আগ্রহী উদ্যোক্তা মিজান জানান, “আমি এখানে সকাল-বিকাল আসি। সব সময় টিভিতে দেখতাম। এখন এই জায়গায় দুম্বা পালন হওয়ায় নিয়মিত দেখতে আসি। তাদের খাবার দেওয়া, পরিচর্যা ও লালন-পালন করা দেখি। আগ্রহ আছে এই বিদেশি জাতের দুম্বা পালনের।”

    জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আল মামুন হোসেন মন্ডল জানান, “শুধু মরুভূমি নয়, দেশীয় আবহাওয়াতেও দুম্বা লালন-পালন সম্ভব; যার দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন রাকিবুল। আমরা সব সময় খামারের খোঁজখবর রাখি। কোনো সমস্যা হলে আমাদের জানালে আমরা তাৎক্ষণাৎ সমাধান করি। নিয়মিত ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়।” এছাড়াও সব ধরনের সহযোগিতাসহ যারা দুম্বা পালনে আগ্রহী, তাঁদের পাশে থাকার কথাও জানান তিনি।

  • জ্বালানি সংকট নিরসনে ৩ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

    জ্বালানি সংকট নিরসনে ৩ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

    দেশের জালানি সংকট মোকাবিলায় সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোসহ তিন নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    সোমবার সচিবালয়ে সৌর বিদ্যুৎসংক্রান্ত সভায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে এসব নির্দেশনা আসার কথা জানান তার উপ প্রেস সচিব হাসান শিপুল।

    তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন। এগুলো হচ্ছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে; সোলার ইনভার্টার উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া সাধারণ মানুষের জন্য সৌর বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও লাভজনক করে তুলতে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক মডেল প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    উপ প্রেস সচিব বলেন, বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবন, পরিকল্পনা কমিশন ভবনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকারি ভবনে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ বাড়বে। এ কারণে তিনি বিভিন্ন সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেন।

    সভায় আরও বলা হয়, ভোক্তাদের মধ্যে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারে আগ্রহ বাড়াতে এর অর্থনৈতিক ও ব্যবহারিক সুবিধাগুলো ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে হবে।

    এ প্রযুক্তির মাধ্যমে এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যান, লিফটসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানো সম্ভব বলে উপস্থাপনায় উল্লেখ করা হয় বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

    সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেগুলো হল-দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে, দেশে সোলার ইনভার্টার উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি সহায়তা দেয়া হবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য সৌর বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য এবং লাভজনক করে তুলতে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক মডেল প্রণয়নের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌর বিদ্যুৎ সংক্রান্ত এক বৈঠকে তিনি নির্দেশনা দেন বলে জানিয়েছেন উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

    তিনি জানান, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে- প্রাথমিক পর্যায়ে বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবন, পরিকল্পনা কমিশন ভবনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি ভবনে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ বাড়বে। এই কারণে তিনি বিভিন্ন সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেন।

    এসময় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও ওয়ালটন গ্রুপ পৃথক উপস্থাপনায় আবাসিক ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপন এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। তাদের উপস্থাপনায় বলা হয়, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয়ের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে। বৈঠকে আরও বলা হয়, ভোক্তাদের মধ্যে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারে আগ্রহ বাড়াতে এর অর্থনৈতিক ও ব্যবহারিক সুবিধাগুলো ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে হবে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যান, লিফটসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানো সম্ভব বলেও উপস্থাপনায় উল্লেখ করা হয়।

    বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী এবং গ্রুপের সোলার ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুত বিভাগের এজিএম তওহিদুল আহাদ, ওয়ালটন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলমসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    ওদিকে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ড। সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানিয়েছে প্রেস উইং। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    প্রেস উইং জানায়, বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে, সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইপিজেডে বৃক্ষরোপণ করা হবে। এ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ইপিজেডে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার বৃক্ষ রোপণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    এছাড়া বৈঠকে বেজার গভর্নিং বোর্ডের ৯ম সভার সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মূল্যায়ন পর্যালোচনা এবং সরকারি মালিকানাধীন অব্যবহৃত শিল্প-সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের করিম জুট মিলস ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলসের জমি ও বিদ্যমান অবকাঠামোকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়। এসব এলাকায় আধুনিক শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়। এছাড়াও বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর আবেদন ও লাইসেন্সের ক্ষেত্রে নির্ধারিত গাইডলাইন অনুসরণ ও নতুন নীতিমালা প্রণয়ন নিয়েও আলোচনা হয়।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শিল্পায়নের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে সবুজ, আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, নৌপরিবহণ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর বর্তমান নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

  • সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনসহ ৩ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

    সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনসহ ৩ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

    জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেগুলো হল-দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে, দেশে সোলার ইনভার্টার উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি সহায়তা দেয়া হবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য সৌর বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য এবং লাভজনক করে তুলতে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক মডেল প্রণয়নের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

    সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌর বিদ্যুৎ সংক্রান্ত এক বৈঠকে তিনি নির্দেশনা দেন বলে জানিয়েছেন উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

    তিনি জানান, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে- প্রাথমিক পর্যায়ে বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবন, পরিকল্পনা কমিশন ভবনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি ভবনে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ বাড়বে। এই কারণে তিনি বিভিন্ন সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেন।

    এসময় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও ওয়ালটন গ্রুপ পৃথক উপস্থাপনায় আবাসিক ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপন এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। তাদের উপস্থাপনায় বলা হয়, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয়ের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে। বৈঠকে আরও বলা হয়, ভোক্তাদের মধ্যে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারে আগ্রহ বাড়াতে এর অর্থনৈতিক ও ব্যবহারিক সুবিধাগুলো ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে হবে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যান, লিফটসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানো সম্ভব বলেও উপস্থাপনায় উল্লেখ করা হয়।

    বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী এবং গ্রুপের সোলার ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুত বিভাগের এজিএম তওহিদুল আহাদ, ওয়ালটন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলমসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    ওদিকে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ড। সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানিয়েছে প্রেস উইং। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    প্রেস উইং জানায়, বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে, সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইপিজেডে বৃক্ষরোপণ করা হবে। এ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ইপিজেডে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার বৃক্ষ রোপণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    এছাড়া বৈঠকে বেজার গভর্নিং বোর্ডের ৯ম সভার সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মূল্যায়ন পর্যালোচনা এবং সরকারি মালিকানাধীন অব্যবহৃত শিল্প-সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের করিম জুট মিলস ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলসের জমি ও বিদ্যমান অবকাঠামোকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়। এসব এলাকায় আধুনিক শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়। এছাড়াও বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর আবেদন ও লাইসেন্সের ক্ষেত্রে নির্ধারিত গাইডলাইন অনুসরণ ও নতুন নীতিমালা প্রণয়ন নিয়েও আলোচনা হয়।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শিল্পায়নের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে সবুজ, আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, নৌপরিবহণ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর বর্তমান নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

  • টিকিট সিন্ডিকেট দমনে আইএটিএর কারিগরি সহযোগিতা চায় সরকার

    টিকিট সিন্ডিকেট দমনে আইএটিএর কারিগরি সহযোগিতা চায় সরকার

    বিমানের টিকিট সিন্ডিকেট দমন, বিমান পরিবহন খাতের আধুনিকায়ন ও পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) কারিগরি সহযোগিতা চেয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বাংলাদেশ এয়ারলাইনস টেকনিক্যাল সেন্টারকে (বিএটিসি) আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে আইএটিএ।

    আজ সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে আইএটিএর আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট শেজডন হির সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে আইএটিএর আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের উন্নয়নে আইএটিএ সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। বিশেষ করে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বাংলাদেশ এয়ারলাইনস টেকনিক্যাল সেন্টারকে (বিএটিসি) আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও আধুনিক প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী সংস্থাটি।

    বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, বিমানের টিকিট সিন্ডিকেট দমনে সরকার ইতিমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে আইএটিএর কারিগরি সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার বিমান খাতে যেকোনো ধরনের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

    প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, পরিবেশবান্ধব বিমান পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে বেসামরিক বিমান চলাচল অধ্যাদেশে কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়ে পৃথক ধারা সংযোজন করা হয়েছে। পাশাপাশি টেকসই এভিয়েশন ফুয়েল (এসএএফ) ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া আকাশপথে অপরাধ দমনে মন্ট্রিল প্রটোকল-২০১৪ গ্রহণের প্রয়োজনীয় কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

    বৈঠকে দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক আকাশপথে সংযোগ সম্প্রসারণ, বিমান পরিবহন খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে সরকার ও আইএটিএর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিভিন্ন বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

  • বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ কেন স্থগিত করল পোল্যান্ডের ব্র্যান্ড এলপিপি

    বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ কেন স্থগিত করল পোল্যান্ডের ব্র্যান্ড এলপিপি

    বাংলাদেশে নতুন ক্রয়াদেশ দেওয়া স্থগিত করেছে পোল্যান্ডের পোশাক ব্র্যান্ড এলপিপি। একই সঙ্গে নতুন পণ্য উন্নয়নের কাজও আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। রাশিয়ার ক্রেতা এফইএস রিটেইলের কাছে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক কারখানা ও বায়িং হাউসগুলোর বকেয়া পাওনা নিয়ে বিরোধের জেরে পোলিশ ব্র্যান্ডটি এমন সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানা গেছে।

    দেশের সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারকদের ভাষ্য, রুশ ক্রেতা এফইএস রিটেইলের কাছে বাংলাদেশের কয়েকটি তৈরি পোশাক কারখানা ও বায়িং হাউসের প্রায় চার কোটি মার্কিন ডলার পাওনা রয়েছে। পোলিশ ব্র্যান্ড এলপিপির নিশ্চয়তায় করা বিক্রয় চুক্তির আওতায় তাঁরা রাশিয়ার প্রতিষ্ঠানটির জন্য পণ্য সরবরাহ করেছিলেন।

    জানা গেছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ায় নিজেদের বিক্রয়কেন্দ্র পরিচালনায় জটিলতায় পড়ে এলপিপি। তখন তাদের ঢাকা কার্যালয় রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান এফইএস রিটেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশের কারখানাগুলোকে ক্রয়াদেশ দিতে শুরু করে। এ ক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধের গ্যারান্টিও দেয় এলপিপি। শুরুতে অর্থ পরিশোধে সমস্যা না হলেও গত বছর থেকে এফইএস রিটেইলের কাছে পণ্য সরবরাহের পরও অর্থ পাচ্ছে না বাংলাদেশের কারখানা ও বায়িং হাউসগুলো। এ বিষয়ে কোনো দায় নিতে এলপিপিও অস্বীকৃতি জানায়।

    বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও পাওনা অর্থ না পেয়ে কয়েকজন তৈরি পোশাক কারখানা ও বায়িং হাউসের মালিক আদালতের দ্বারস্থ হন। এরপর গত মাসে অনলাইনে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ ও গার্মেন্ট বায়িং হাউস মালিকদের সংগঠন বিজিবিএর সঙ্গে এলপিপির কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়। তবে সমঝোতার আগে মামলা প্রত্যাহারের শর্ত দিলে বিকেএমইএ ও বিজিবিএর নেতারা তাতে রাজি হননি। ফলে বৈঠকে কোনো সমাধান হয়নি।

    এরপর গত ২১ জুলাই বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিজিবিএকে পাঠানো এক চিঠিতে এলপিপি জানায়, কয়েক মাস ধরে কিছু বাংলাদেশি কারখানার অর্থ পরিশোধ-সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে বিতর্ক চলছে। এসব অর্থ পরিশোধের জন্য তারা চুক্তিভিত্তিক দায়ী পক্ষ নয়। যদিও তারা বিভিন্ন আলোচনায় অংশ নিয়েছে এবং মধ্যস্থতায় আগ্রহ দেখিয়েছে। এ অবস্থায় ধীরে ধীরে বাংলাদেশে তাদের ক্রয়াদেশ কমানো হবে। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতির উন্নতি হলে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিতও দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

    ৩০ জুলাই বাংলাদেশের সরবরাহকারীদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এলপিপি জানায়, বাংলাদেশে তাদের ভবিষ্যৎ সোর্সিং কৌশল পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন ক্রয়াদেশ এবং নতুন পণ্য উন্নয়নের কাজ স্থগিত থাকবে। এ সময়ে তারা অন্যান্য দেশের সোর্সিংয়ের সুযোগ ও উৎপাদন সক্ষমতাও মূল্যায়ন করবে।

    বিজিবিএর সভাপতি আবদুল হামিদ প্রথম আলোকে জানান, তাঁদের সংগঠনের ৯টি প্রতিষ্ঠানের ৪৫ লাখ ডলার পাওনা রয়েছে। সব মিলিয়ে বকেয়ার পরিমাণ প্রায় চার কোটি ডলার। তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ায় ব্যবসা পরিচালনায় সমস্যায় পড়ে এলপিপি সহযোগী হিসেবে এফইএস রিটেইলকে নিয়োগ দেয়। বাংলাদেশের সরবরাহকারীদের সঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ও করিয়ে দেন এলপিপির কর্মকর্তারা। এলপিপির কার্যালয় থেকেই এফইএস রিটেইলের নামে ক্রয়াদেশ দেওয়া হতো এবং অর্থ পরিশোধের গ্যারান্টিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন এলপিপি দাবি করছে, এফইএস রিটেইলের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

    আবদুল হামিদ আরও বলেন, এলপিপি বাংলাদেশ থেকে বছরে প্রায় ৮০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক কেনে। তারা ব্যবসা করুক, সেটিই চান তাঁরা। তবে বিভিন্ন পোশাক কারখানা ও বায়িং হাউসের বকেয়া পরিশোধ না করতে প্রতিষ্ঠানটি একধরনের ধূর্ততার আশ্রয় নিয়েছে।

    বিজিবিএর সভাপতি আরও বলেন, এলপিপি এফইএস রিটেইলের মাধ্যমে ৫০ শতাংশ ছাড়ে বকেয়া পরিশোধের প্রস্তাব দিয়েছিল। ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মূল্যছাড় হলেও আলোচনা হতে পারত। কারণ, ব্যাংকেই তো দেনা রয়েছে ৭৫ শতাংশ অর্থ।

    এনসা ক্লোথিং নামের একটি বায়িং হাউস গত বছরের এপ্রিলে এফইএস রিটেইলের ক্রয়াদেশের বিপরীতে ৫২ হাজার মার্কিন ডলারের ট্রাউজার রপ্তানি করে। দুই মাস পর পণ্যটি রাশিয়ার বন্দরে পৌঁছায়। কিন্তু এফইএস রিটেইল অর্থ পরিশোধ করে পণ্য ছাড় না করায় সেটি এখনো বন্দরে পড়ে আছে। এলপিপির সঙ্গে দেনদরবার করেও বকেয়া না পেয়ে প্রতিষ্ঠানটি গত মাসে বাংলাদেশের হাইকোর্টে মামলা করেছে।

    এনসা ক্লোথিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এনামুল কবির প্রথম আলোকে বলেন, এলপিপি দাবি করছে, গত বছরের এপ্রিলের পর থেকে এফইএস রিটেইলের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ গত বছরের এপ্রিল ও মে মাসে এফইএস রিটেইলের জন্য রপ্তানি করা তৈরি পোশাকের অর্থ পরিশোধ করেছে এলপিপি। তিনি আরও বলেন, যে কারখানাটি এনসা ক্লোথিংয়ের জন্য তৈরি পোশাক সরবরাহ করেছে, সেটি এখন বিপদে আছে। দ্রুত অর্থ না পেলে কারখানাটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

    গত শনিবার বিকেএমইএর বোর্ড সভায়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এলপিপি বাংলাদেশের পোশাক কারখানা ও বায়িং হাউসগুলোর বকেয়া পরিশোধ না করলে ব্র্যান্ডটিকে কালোতালিকাভুক্ত করা হবে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রথম আলোকে বলেন, এলপিপি ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কথা বলে একধরনের হুমকি দিয়েছে। তারা যদি বকেয়া পরিশোধ না করে, তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ (ইইউ) অন্যান্য সব ফোরামে তাদের এই অনৈতিক চর্চার বিষয়ে অভিযোগ জানানো হবে। শুধু এফইএস রিটেইল নয়, এলপিপিও সরাসরি পণ্য নিয়ে অর্থ দিচ্ছে না—এমন অভিযোগও আছে।

  • অর্থনৈতিক অঞ্চলকে সবুজ শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    অর্থনৈতিক অঞ্চলকে সবুজ শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    শিল্পায়নের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে সবুজ, আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ডের সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) জানান, বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইপিজেডে বৃক্ষরোপণ করা হবে। এ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ইপিজেডে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার বৃক্ষ রোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপ-প্রেস সচিব সুজন মাহমুদ।

    তিনি বলেন, বৈঠকে বেজার গভর্নিং বোর্ডের ৯ম সভার সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মূল্যায়ন পর্যালোচনা এবং সরকারি মালিকানাধীন অব্যবহৃত শিল্প-সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়।

    সভায় নারায়ণগঞ্জের করিম জুট মিলস ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলসের জমি ও বিদ্যমান অবকাঠামোকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হয়।

    এসব এলাকায় আধুনিক শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    এছাড়া বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর আবেদন ও লাইসেন্সের ক্ষেত্রে নির্ধারিত গাইডলাইন অনুসরণ ও নতুন নীতিমালা প্রণয়ন নিয়েও আলোচনা হয় বলে জানান সুজন মাহমুদ।

    সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন উপস্থিত ছিলেন।

  • বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও বেড়েছে সোনার দাম

    বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও বেড়েছে সোনার দাম

    আজ সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। তবে সপ্তাহের প্রথম দিনে (পশ্চিমা ও এশিয়ার অনেক দেশে সপ্তাহের প্রথম দিন সোমবার) সোনার দাম বেড়েছে। এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে ইরানের ওপর হামলা থেকে আপাতত বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর আশা, দ্রুতই সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব। এই বাস্তবতায় আজ তেলের দাম কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫ শতাংশের বেশি কমে ৮৩ দশমিক ৩৩ ডলার হয়েছে।

    ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। এর প্রভাবে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার দাম বেড়েছে।

    গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৪টা ৩৭ মিনিটে স্পটমার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৬৮ দশমিক ৫৪ ডলার। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সোনার ফিউচার শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৬৬ দশমিক ৬০ ডলারে ওঠে।

    এদিকে জাপানের ইয়েনকে সমর্থন দিতে দেশটির কর্তৃপক্ষ বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করায় মার্কিন ডলারের ওপর চাপ তৈরি হয়। ফলে ডলারে মূল্য নির্ধারিত সোনা বিদেশি ক্রেতাদের জন্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে। এটাও সোনার দাম বাড়ার অন্যতম কারণ।

    কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার–বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, সপ্তাহের শুরুতে সোনার বাজার ইতিবাচক অবস্থানে আছে। তবে তেলের বাজার ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় দাম যে খুব একটা বাড়বে, তা নয়। অর্থাৎ সোনার বাজারে ইতিবাচক সূচনা হলেও সতর্কতা আছে।

    ট্রাম্প জানিয়েছেন, সোমবার ইরানের সঙ্গে আলোচনা হবে। তবে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য তিনি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেননি। তাঁর এ বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমেছে।

    যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরুর পর থেকে সোনার বাজার চাপে ছিল। যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়লে বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কা আছে। যদিও মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে সোনা ঐতিহ্যগতভাবে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত, সুদের হার বেশি থাকলে সোনার আকর্ষণ কমে যায়। সোনা থেকে সুদ বা নিয়মিত আয় পাওয়া যায় না।

    এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার-সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এর মধ্যে আছে চাকরির শূন্য পদের তথ্য, এডিপির বেসরকারি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন, সাপ্তাহিক বেকারত্ব ভাতার আবেদন ও বহুল প্রত্যাশিত অকৃষি খাতের কর্মসংস্থান–সংক্রান্ত প্রতিবেদন। এসব তথ্যের দিকে বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে।

    টিম ওয়াটারার বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়ে তেলের দাম আবার বাড়লে অথবা যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী হলে সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সোনার দাম তেমন একটা বাড়বে না।

    গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে ভিন্নমত দেওয়া তিন কর্মকর্তা গত শুক্রবার বলেন, স্বল্পমেয়াদি ঋণের সুদের হার দ্রুত না বাড়ালে মূল্যস্ফীতি ফেডের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে আটকে থাকতে পারে।

    স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের বিশ্লেষকেরা গবেষণা নোটে বলেছেন, মৌসুমি চাহিদা বাড়ার আগে স্বল্প মেয়াদে সোনার দাম কিছুটা বাড়বে।

    অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পটমার্কেটে রুপার দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫৮ দশমিক ৪৬ ডলার হয়েছে। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৫০ দশমিক ৬৩ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৯৩ দশমিক ৫০ ডলারে উঠেছে।

  • বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জে পোশাক খাত

    বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জে পোশাক খাত

    দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক। বিকেএমইএর নেতৃত্বে থাকাকালে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প, বিশেষ করে নিটওয়্যার খাতের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। দেশের রপ্তানি বাণিজ্য, শিল্পনীতি ও ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নেও দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এই উদ্যোক্তা। এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসকের দায়িত্ব ও পোশাকশিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, রপ্তানি সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে ‘আমার দেশ’-এর সঙ্গে কথা বলেছেন মো. ফজলুল হক। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সোহেল রহমান।

    আমার দেশ : এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক হিসেবে আপনার ওপর যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেটাকে কীভাবে দেখছেন?

    ফজলুল হক : ১২০ দিনের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে এফবিসিসিআইয়ের ব্যবসায়ী নেতৃত্ব ফিরিয়ে আনতে সরকার যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা যথাযথভাবে পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ফেডারেশনের সদস্য, ব্যবসায়ী সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।

    আমার দেশ : আপনি যখন বিকেএমইএর সভাপতি ছিলেন, তখনকার পোশাক খাতের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির কী পার্থক্য দেখছেন?

    ফজলুল হক : প্রায় ১৬ বছর আগে দায়িত্ব ছাড়ার সময় দেশের মোট পোশাক রপ্তানি ছিল ১১ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার, এখন তা কয়েকগুণ বেড়েছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে নিটওয়্যার খাতে। শক্তিশালী ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজের কারণে অধিকাংশ ফেব্রিক দেশে তৈরি হয়। ফলে মান নিয়ন্ত্রণ সহজ এবং ওভেনের তুলনায় ২০ থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত লিড টাইম সাশ্রয় করা সম্ভব। তবে রানা প্লাজার পর কমপ্লায়েন্স, নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশের মান উন্নত হওয়ায় উদ্যোক্তাদের ব্যয়ও বেড়েছে।

    আমার দেশ : বর্তমানে পোশাকশিল্পের বড় চ্যালেঞ্জগুলো কী?

    ফজলুল হক : এটিকে শুধু সংকট নয়, বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ বলতে হবে। বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়ছে। উন্নত দেশের ভোক্তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পোশাকের চাহিদা কমছে। দেশের ভেতরে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, উচ্চ সুদ, ডলার সংকট ও জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মন্দা ও অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সম্মিলিত প্রভাবেই রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমেছে।

    আমার দেশ : বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা ও নতুন বাজার সম্প্রসারণে করণীয় কী?

    ফজলুল হক : শুধু শুল্ক নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকলে হবে না। ভারত, ভিয়েতনাম ও চীনের মতো প্রতিযোগী দেশগুলো মূল্য, বিপণন ও সেবায় এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের উৎপাদনশীলতা, মান ও দ্রুত সরবরাহে সক্ষমতা বাড়াতে হবে। নতুন বাজার তৈরিতেও ধারাবাহিক উদ্যোগ প্রয়োজন। বিকেএমইএর সভাপতি থাকাকালে জাপানকে লক্ষ্য করে প্রায় এক বছর সেমিনার, ব্যবসায়িক বৈঠক ও প্রতিনিধি দল বিনিময়ের পর ৬৩ জন জাপানি ক্রেতাকে বাংলাদেশে এনে বিজনেস ম্যাচমেকিং করা হয়েছিল। এর ফলে ওই বাজারে রপ্তানি বেড়েছে। তাই একসঙ্গে অনেক দেশে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ না নিয়ে প্রতি বছর একটি বা দুটি সম্ভাবনাময় বাজারকে লক্ষ্য করে নিয়মিত কাজ করা উচিত।

    আমার দেশ : উচ্চ সুদ, জ্বালানি সংকট ও উৎপাদন ব্যয়ের চাপ কীভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব?

    ফজলুল হক : প্রতিযোগী দেশগুলোর অনেক প্রতিষ্ঠান ৪ থেকে ৫ শতাংশ সুদে ঋণ পেলেও বাংলাদেশে উদ্যোক্তাদের প্রায় ১৫ শতাংশ সুদ দিতে হচ্ছে। এর সঙ্গে আমদানি, পরিবহন ও জ্বালানি ব্যয় যুক্ত হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ না থাকলে সময়মতো উৎপাদন ও সরবরাহ করা কঠিন হয়, যা ক্রেতাদের আস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত, সুদের হার কমানো, বন্দর ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো এবং ব্যবসায়িক জটিলতা কমাতে হবে।

    আমার দেশ : পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কতটা?

    ফজলুল হক : সম্ভাবনা অবশ্যই আছে। তবে সরকার ও উদ্যোক্তা—দুই পক্ষকেই সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। উৎপাদনশীলতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চমূল্যের ও বৈচিত্র্যময় পণ্যে যেতে হবে। এলডিসি উত্তরণের পর শুল্কসুবিধা কমে আসতে পারে। তাই মুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি এখন থেকেই শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সমন্বিত প্রস্তুতি নিতে পারলে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ভবিষ্যতে আরো শক্ত অবস্থানে ফিরতে পারবে।

  • রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা, তবু স্বস্তি নেই ডলার বাজারে

    রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা, তবু স্বস্তি নেই ডলার বাজারে

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে ২৮৬ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। আগের মাস এবং আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ অঙ্ক বেশি। তবে জ্বালানি ও সার আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ডলারের বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের দাম বেড়ে ১২৩ টাকা ৮২ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। আগের অর্থবছরের তুলনায় যা ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। এর আগের অর্থবছরে রেমিট্যান্স বেড়েছিল ৬৪২ কোটি ডলার বা ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

    যদিও রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক রয়েছে, তবে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্য উৎসগুলো আশানুরূপ অবস্থানে নেই। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৩৭৬ কোটি ডলার বা ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। একই সময়ে রপ্তানি আয় কমেছে ৮৩ কোটি ডলার বা ২ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।

    সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জ্বালানি ও সার আমদানিতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৯০৩ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪১৫ কোটি ৫৫ লাখ ডলার বেশি। এ ছাড়া সার আমদানিতে ব্যয় বেড়েছে ১০৯ কোটি ডলার।

    অবশ্য ভোগ্যপণ্য, শিল্পের মধ্যবর্তী কাঁচামাল ও তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানিতে ব্যয় কমে যাওয়ায় ডলারের বাজারে চাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাস শেষে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী এই রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডলারের বাজারে সাময়িক চাপ সৃষ্টি হলেও অর্থ পাচার ও হুন্ডি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। পাশাপাশি বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

  • দিল্লির অনুরোধ উপেক্ষা, মুদ্রায় সেই মানচিত্রই রাখল নেপাল

    দিল্লির অনুরোধ উপেক্ষা, মুদ্রায় সেই মানচিত্রই রাখল নেপাল

    ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ‘বৃহত্তর নেপাল’ মানচিত্র নতুন এক রুপির মুদ্রা থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে নেপাল সরকার। বিরোধী দল ও জনমতের চাপে বৃহত্তর নেপালের মানচিত্র বহাল রাখার সিদ্ধান্তে নয়াদিল্লির কূটনীতি কার্যত ধাক্কা খেল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    নেপালের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নেপাল রাষ্ট্র ব্যাংক (এনআরবি) শনিবার জানিয়েছে, নতুন এক রুপির মুদ্রা বাজারে ছাড়া হবে। তবে মুদ্রার আকার ও ধাতব উপাদানে পরিবর্তন এলেও তাতে আগের মতোই থাকবে বৃহত্তর নেপালের রাজনৈতিক মানচিত্র, যেখানে ভারতের দাবি করা লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ ও কালাপানি অঞ্চলকে নেপালের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

    এনআরবির মুখপাত্র গুরু প্রসাদ পাউডেল বলেন, নতুন নকশা আনুষ্ঠানিকভাবে হাতে না এলেও ব্যাংক নিশ্চিত যে আগের মানচিত্রই বহাল থাকবে। তিনি জানান, নতুন মুদ্রাটি আগের তুলনায় আকারে ছোট ও ওজনে হালকা হবে।

    কেন বিতর্ক?

    ভারত-নেপাল সীমান্ত বিরোধের কেন্দ্র উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড় জেলার কাছে ভারত-নেপাল-চীনের ট্রাই-জংশন সংলগ্ন প্রায় ৩৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা। লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ ও কালাপানি এই তিনটি অঞ্চল নিয়েই দুই দেশের বিরোধ।

    বিরোধের মূল উৎস ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তির ভিন্ন ব্যাখ্যা। নেপালের দাবি, মহাকালী (কালী) নদীর উৎপত্তি লিম্পিয়াধুরা থেকে হওয়ায় ওই তিনটি এলাকা তাদের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে ভারতের দাবি, নদীর উৎপত্তি কালাপানির কাছের একটি ঝরনা থেকে। ফলে তিনটি এলাকাই ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের অংশ।

    ২০২০ সালে নতুন করে উত্তেজনা

    ২০২০ সালের মে মাসে ভারত ধারচুলা থেকে লিপুলেখ পাস পর্যন্ত কৌশলগত সড়ক উদ্বোধন করলে বিরোধ নতুন করে তীব্র হয়। কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ককে নেপাল নিজেদের দাবিকৃত ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে নির্মিত বলে অভিযোগ তোলে।

    এরপর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি সরকার সংশোধিত রাজনৈতিক মানচিত্র প্রকাশ করে, যেখানে কালাপানি, লিপুলেখ ও লিম্পিয়াধুরাকে নেপালের অংশ হিসেবে দেখানো হয়। পরে সেই মানচিত্র সংবিধানসম্মত স্বীকৃতি পায় এবং সরকারি নথি ও প্রচলিত মুদ্রাতেও স্থান পায়। ভারত অবশ্য শুরু থেকেই এই মানচিত্রের বিরোধিতা করে আসছে।

    বালেন্দ্র সরকারের অবস্থান

    ২০২৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ক্ষমতায় আসেন র‍্যাপার থেকে রাজনীতিক হওয়া বালেন্দ্র শাহ। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে তিনি জাতীয়তাবাদী অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। তবে সরকারপ্রধান হওয়ার পর অর্থনীতি, বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা ও সীমান্ত সংযোগকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারতের সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন।

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও দায়িত্ব নেওয়ার পর বালেন্দ্রকে অভিনন্দন জানানোর মাধ্যমে ইতিবাচক বার্তা দেন। একই সময়ে নেপাল চীনের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রাখলেও বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় উচ্চ সুদের ঋণের বদলে অনুদানভিত্তিক সহায়তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি অনুসরণ করছে।

    লিপুলেখ নিয়ে নতুন টানাপোড়েন

    ক্ষমতায় আসার পরই বালেন্দ্র সরকার ভারত ও চীনকে লিপুলেখ গিরিপথ দিয়ে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা আয়োজন না করার আহ্বান জানায়। নেপালের দাবি, ওই গিরিপথ তাদের ভূখণ্ডের অংশ। তবে ভারত জানিয়ে দেয়, ১৯৫৪ সাল থেকেই ওই পথ ব্যবহার করে তীর্থযাত্রা অনুষ্ঠিত হচ্ছে । একই সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে নয়াদিল্লি। সম্প্রতি লিপুলেখ ইস্যুতে চীন ও ব্রিটেনের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করলে ভারত স্পষ্ট জানায়, দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।

    সিদ্ধান্ত বদল

    এরপর গত ২০ জুলাই বালেন্দ্র সরকার বিতর্কিত মানচিত্র সরিয়ে মুস্তাং জেলার মারং গ্রামের ঐতিহাসিক ‘লো ঘিয়াকার মঠ’-এর ছবি নতুন মুদ্রায় যুক্ত করার সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেয়। অনেকেই এটিকে ভারত-নেপাল সম্পর্ক উন্নয়নের কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখেছিলেন, যদিও সরকার একে নিয়মিত মুদ্রা সংস্কারের অংশ বলে ব্যাখ্যা করে।

    কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত দেশটির ভেতরেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। বিরোধী দল ও জনমতের চাপের পর শেষ পর্যন্ত সরকার অবস্থান পরিবর্তন করে। ফলে নতুন এক রুপির মুদ্রাতেও আগের মতোই ‘বৃহত্তর নেপাল’-এর মানচিত্র বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • গেমের ছলে খুনের মিশন

    গেমের ছলে খুনের মিশন

    ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ ভাড়াটে কিশোর গ্যাং

    ইউরোপজুড়ে ‘ভায়োলেন্স-অ্যাজ-এ-সার্ভিস’ (ভিএএএস) তথা অর্থের বিনিময়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ভয়াবহ চক্র ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও কিশোরদের বিপুল অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে ভাড়াটে খুনি হিসেবে ব্যবহার করছে সংগঠিত অপরাধী চক্র।

    এ খবর দিয়েছে বিবিসি। এসব অপরাধী নেটওয়ার্কের শীর্ষে রয়েছে ‘ফক্সট্রট নেটওয়ার্ক’, যা সুইডেন থেকে পরিচালিত হলেও এর মূল নেটওয়ার্ক বর্তমানে ইরানের সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং কর্তৃপক্ষের সাথে সম্পৃক্ত বলে উঠে এসেছে অনুসন্ধানে। ব্যূরো অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মেসেজিং অ্যাপ ও সামাজিক মাধ্যমে কম্পিউটার গেমের মতো করে কিশোরদের বিভ্রান্ত করা হয় এবং খুনের মিশন দেওয়া হয়।

    এরপর অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তাদের অস্ত্র ও নগদ অর্থের ভৌগোলিক অবস্থান পাঠায় গ্যাংয়ের সমন্বয়কারীরা। ২০২২ সাল থেকে এই ফক্সট্রট নেটওয়ার্ক ইউরোপজুড়ে প্রায় ৩৫টি হত্যাকাণ্ড এবং ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক বিস্ফোরক ও গ্রেনেড হামলার সাথে জড়িত ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

    সম্প্রতি লন্ডনের ওল্ড বেইলির একটি জুরি আদালত ১৮ বছর বয়সী নরওয়েজীয় তরুণ জোহানেস নাটল্যান্ডকে বৃটেনের ভাড়াটে খুনের পরিকল্পনার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে। তদন্তে জানা যায়, তাকে মাত্র ২১ হাজার পাউন্ডের বিনিময়ে বৃটেনে একজনকে হত্যার জন্য পাঠানো হয়েছিল।

    ফক্সট্রট নেটওয়ার্কের সদস্য ‘এজেন্ট ৪৭’ এবং ‘জেনারালেন’ ছদ্মনামের একাধিক গ্যাং লিডার নাটল্যান্ডকে পুরো প্রক্রিয়ায় কম্পিউটার গেমের চরিত্রের মতো পরিচালনা করেছিল। তবে যুক্তরাজ্যের কাউন্টার টেররিজম পুলিশ তাকে সময়মতো গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। ফক্সট্রট গ্যাংয়ের প্রধান রাওয়া মজিদ সুইডেন ও তুরস্ক থেকে পালিয়ে বর্তমানে ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থান করছেন।

    সুইডিশ সম্প্রচার মাধ্যম এসভিটির অনুসন্ধানী সাংবাদিক ডায়াম্যান্ট সালিহু জানান, তেহরানে মুক্তভাবে বসবাসের বিনিময়ে রাওয়া মজিদ এবং তার নেটওয়ার্ক ইরানের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক শত্রুদের আঘাত হানার চুক্তি করেছে। তাদের টার্গেটে রয়েছে ভিন্নমতাবলম্বী, সাংবাদিক ও ইসরাইলি স্থাপনা। ইউকে সরকার ২০২৫ সালের এপ্রিলে মজিদ ও তার ফক্সট্রট নেটওয়ার্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।

    পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউরোপোল এই ধরনের ভাড়াটে কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে ‘ওটিএফ গ্রিম’ নামে ১১টি দেশের একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করেছে। ইউরোপোলের কর্মকর্তা অ্যান্ডি ক্র্যাগ একে কোমলমতি তরুণদের ‘সস্তায় খুনের কাজে ব্যবহার’ বলে উল্লেখ করেন। তদন্তে জানা গেছে, এই অপরাধী চক্র তরুণদের বড় অঙ্কের অর্থের লোভ দেখালেও তারা ধরা পড়লে বা কাজ শেষ হলে কোনো অর্থই প্রদান করে না।

    অতি সম্প্রতি ইরাকে ফক্সট্রটের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক আলী শেহাদ আহমেদ গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে এই ভিএএএস মডেল বর্তমানে অন্যান্য অপরাধী চক্রও গ্রহণ করায় ইউরোপজুড়ে তরুনদের এমন সহিংসতায় জড়ানোর শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

  • বাণিজ্যমন্ত্রী–মিয়ানমার রাষ্ট্রদূত বৈঠক, বাণিজ্য বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা

    বাণিজ্যমন্ত্রী–মিয়ানমার রাষ্ট্রদূত বৈঠক, বাণিজ্য বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা

    বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মোয়ের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি, সরাসরি নৌপরিবহন যোগাযোগ, এলএনজি আমদানি ও পারস্পরিক বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও জোরদারে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাণিজ্য, পরিবহন, বিনিয়োগ ও সীমান্ত যোগাযোগ–সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো প্রয়োজনীয় আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে।

    বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্য ও বিদ্যমান সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য আরও বাড়ানো সম্ভব।

    মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত সীমান্ত বাণিজ্য আবার চালুর পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সীমান্ত বাণিজ্য চালু হলে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। প্রয়োজনে প্রাথমিকভাবে সীমিত পরিসরে এ কার্যক্রম শুরু করা যেতে পারে।

    বৈঠকে কৃষিপণ্য, মৎস্যপণ্য, চাল, ওষুধ, হিমায়িত খাদ্যসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে ব্যবসায়ী পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগ (বি-টু-বি) বৃদ্ধিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে এবং টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য দ্রুত অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে গুরুত্ব দেন। বলেন, বাংলাদেশ এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতিতে জোর দিচ্ছে।

    জবাবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত জানান, প্রত্যাবাসনের জন্য পাওয়া তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূলে এলে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

    এ ছাড়া দুই দেশ আরও কিছু বিষয়ে একমত হয়। সেগুলো হলো—নিয়মিত যৌথ কমিটির বৈঠক আয়োজন, পরবর্তী বৈঠক বাংলাদেশে করা ও সরাসরি নৌ ও জাহাজ যোগাযোগ চালুর লক্ষ্যে প্রস্তাবিত চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করা।

    উভয় পক্ষের মতে, সরাসরি নৌ যোগাযোগ চালু হলে পরিবহন ব্যয় ও সময় কমবে। সেই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।

    বৈঠকে বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার ও মিয়ানমার দূতাবাসের কাউন্সিলর মিয়াত লুইন উপস্থিত ছিলেন।

  • এবার লিবিয়ার তেলে ট্রাম্পের চোখ

    এবার লিবিয়ার তেলে ট্রাম্পের চোখ

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে ধরে যুক্তরাষ্ট্রে এনে কারাবন্দি করার পর দেশটির জ্বালানি তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটির তেল বিক্রি করে ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কিন্তু বিপুল এই অর্থ কোথায় বা কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে, সে বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর ট্রাম্পের চোখ এখন লিবিয়ার তেলের দিকে। তিনি তার প্রতিনিধি ও বেয়াইয়ের (মেয়ে টিফানির শ্বশুর) মাধ্যমে লিবিয়ার পূর্ব ও পশ্চিম অংশে ক্ষমতাসীন দুটি সরকারসহ তিনটি রাজনৈতিক পক্ষের শীর্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে দেশটির তেল সম্পদের ওপর মার্কিন ব্যবসায়ীদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন।

    লিবিয়া নিয়ে ট্রাম্পের নতুন করে আগ্রহ দেখানোর নেপথ্যে রয়েছে দেশটির জ্বালানি তেল। এতদিন লিবিয়ার ঘটনাবলিতে ট্রাম্পের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল খুবই সীমিত। কিন্তু হঠাৎ করে এখন এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার পেছনে মূল কারণ হলো একটি হিসাব—২০৩০ সালের মধ্যে লিবিয়ার দৈনিক তেল উৎপাদন দ্বিগুণ করে ৩০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করা হলে তা কনোকোফিলিপস, শেভরনসহ যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কোম্পানিগুলোর জন্য লাভজনক হবে। এসব কোম্পানি লিবিয়ার তেল নিয়ে এরই মধ্যেই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে ধরে যুক্তরাষ্ট্রে এনে কারাবন্দি করার পর দেশটির জ্বালানি তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটির তেল বিক্রি করে ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কিন্তু বিপুল এই অর্থ কোথায় বা কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে, সে বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর ট্রাম্পের চোখ এখন লিবিয়ার তেলের দিকে। তিনি তার প্রতিনিধি ও বেয়াইয়ের (মেয়ে টিফানির শ্বশুর) মাধ্যমে লিবিয়ার পূর্ব ও পশ্চিম অংশে ক্ষমতাসীন দুটি সরকারসহ তিনটি রাজনৈতিক পক্ষের শীর্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে দেশটির তেল সম্পদের ওপর মার্কিন ব্যবসায়ীদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন।

    লিবিয়া নিয়ে ট্রাম্পের নতুন করে আগ্রহ দেখানোর নেপথ্যে রয়েছে দেশটির জ্বালানি তেল। এতদিন লিবিয়ার ঘটনাবলিতে ট্রাম্পের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল খুবই সীমিত। কিন্তু হঠাৎ করে এখন এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার পেছনে মূল কারণ হলো একটি হিসাব—২০৩০ সালের মধ্যে লিবিয়ার দৈনিক তেল উৎপাদন দ্বিগুণ করে ৩০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করা হলে তা কনোকোফিলিপস, শেভরনসহ যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কোম্পানিগুলোর জন্য লাভজনক হবে। এসব কোম্পানি লিবিয়ার তেল নিয়ে এরই মধ্যেই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

    ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার আলোকে লিবিয়ার তিনটি প্রধান রাজনৈতিক গোষ্ঠী ক্ষমতার অংশীদারত্ব নিয়ে একটি চুক্তি করেছে গত ১৮ জুন। এই চুক্তির মাধ্যমে ২০২৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারির আগে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনের রূপরেখা তৈরি করা হয়। সংঘাতকবলিত লিবিয়ায় গত ১৮ বছরের মধ্যে এটি এ ধরনের প্রথম চুক্তি। এই চুক্তির কাঠামোটি গত এপ্রিল মাসে গৃহীত ৩০ বিলিয়ন ডলারের ‘একীভূত রাষ্ট্রীয় বাজেট’র ওপর ভিত্তি করে তৈরি। গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় লিবিয়ায় প্রণীত প্রথম একীভূত বাজেট এটা।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আরব ও আফ্রিকাবিষয়ক সিনিয়র উপদেষ্টা এবং মেয়ে টিফানির শ্বশুর মাসাদ বুলোস এই চুক্তি স্বাক্ষরের নেপথ্যে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন। এই চুক্তি স্বাক্ষরের আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রোমে একটি গোপন বৈঠক হয়। এরপর থেকেই এই প্রক্রিয়ার মূল ব্যক্তি হিসেবে কাজ করছেন মাসাদ বুলোস। সাধারণ লিবিয়ানদের মধ্যে এই চুক্তির সফলতা নিয়ে এরই মধ্যেই সংশয় তৈরি হয়েছে। কারণ, দেশটির সুশীল সমাজ, উপজাতি গোষ্ঠীগুলো, বিভিন্ন মিলিশিয়া বাহিনী এবং নারী ও তরুণ সমাজের কোনো প্রতিনিধি রোমের সেই বৈঠকে রাখা হয়নি।

    মাসাদ বুলোস কোনো পেশাদার কূটনীতিক নন। তিনি একজন লেবানিজ-আমেরিকান ব্যবসায়ী। লিবিয়ার জনগণের মন্তব্য হলো—তার প্রধান যোগ্যতা হলো তিনি টিফানি ট্রাম্পের শ্বশুর। লিবিয়ার ব্যাপারে ট্রাম্পের আগ্রহ মূলত দেশটির তেল নিয়ে। তার এই হিসাব-নিকাশটি ন্যাটোর লিবিয়ায় হস্তক্ষেপের সময় দেওয়া ট্রাম্পের সেই পুরোনো বক্তব্যের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিনিময়ে লিবিয়ার তেল বিক্রির আয়ের অর্ধেক যুক্তরাষ্ট্রের পাওয়া উচিত।

    আফ্রিকা মহাদেশে তেলের প্রমাণিত মজুতের সবচেয়ে বড় ভান্ডার রয়েছে লিবিয়ায়। কিন্তু দেশটিতে চলমান সংঘাত ও বিভাজনের কারণে এই তেল সম্পদ ঐক্যবদ্ধভাবে জাতীয় স্বার্থে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। দেশটির জাতীয় তেল কোম্পানি ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশনকে একীভূত করা এবং দলীয় বা গোষ্ঠীগত হস্তক্ষেপ থেকে এটিকে রক্ষা করা গেলে দৈনিক তেল উৎপাদন ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে রাষ্ট্রীয় আয়ও ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

    কিন্তু লিবিয়ার পূর্ব অংশে যুদ্ধবাজ নেতা জেনারেল হাফতারের সমর্থিত সরকার ও পশ্চিম অংশে ত্রিপোলিভিত্তিক জাতিসংঘ সমর্থিত ‘গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল ইউনিটি’ (জিএনইউ) ক্ষমতায় থাকায় এই তেল সম্পদ ভাগাভাগি ও লুটপাট হচ্ছে। জিএনইউয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবদুল্লাহ ইজ্জেদিন দ্য নিউ আরবকে বলেন, দুটি সরকার এক হলে ব্যয় অর্ধেকে নেমে আসবে এবং অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল-ফিতোরি বলেন, ‘লিবিয়া এমন একটি অঞ্চলে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতিটি শহর এক-একটি রাষ্ট্র হয়ে উঠেছে। তার মতে, একটি ঐক্যবদ্ধ সাংবিধানিক কাঠামোই জাতীয় নির্বাচনের একমাত্র পথ, যে নির্বাচনে একটি বৈধ ও স্থায়ী কর্তৃপক্ষ গঠিত হবে।

    ঐক্যবদ্ধ বাজেট প্রণয়নে পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের প্রতিদ্বন্দ্বী সরকার জাতীয় স্বার্থে আপস-মীমাংসায় রাজিও হয়েছিল। লিবিয়ার সিরতে শহরে আফ্রিকায় মার্কিন সামরিক কমান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত ‘ফ্লিন্টলক ২০২৬’ নামের সামরিক মহড়ায়ও উভয় পক্ষের বাহিনী প্রথমবারের মতো একই কমান্ডের অধীনে অংশ নিয়েছে। তবে মূল সমস্যাটি নিহিত রয়েছে নতুন এই চুক্তির কাঠামোর মধ্যেই।

    বুলোসের মধ্যস্থতায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রোমে অনুষ্ঠিত গোপন বৈঠকে খলিফা হাফতারের বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার ও তার ছেলে সাদ্দাম হাফতার এবং জিএনইউয়ের প্রধানমন্ত্রী আব্দুল হামিদ দবেইবেহর ভাতিজা ও উপদেষ্টা ইব্রাহিম দবেইবেহ প্রথমবারের মতো মুখোমুখি আলোচনায় বসেন। সেই বৈঠকের প্রস্তাবে সাদ্দাম হাফতারের নেতৃত্বে নির্বাহী ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন ‘প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল’ গঠনের কথা বলা হয়। পাশাপাশি দবেইবেহ’র নেতৃত্বে একটি ঐক্যবদ্ধ সরকার গঠন এবং ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী দুই পরিবারের মধ্যে সামরিক কমান্ড ভাগ করার প্রস্তাবও করা হয়।

    মূলত ক্ষমতার শক্ত অবস্থানে থাকা পক্ষগুলোর মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি সমঝোতা তৈরির মাধ্যমে এই উদ্যোগটি নেওয়া হচ্ছে। তাই এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলেও লিবিয়ায় বিরাজমান মূল সমস্যাগুলোর কোনো সমাধান হবে না। লিবীয় বিশ্লেষক আব্দুলসালাম আল-রাজহি বলেছেন, এই চুক্তি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে।

    ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর চুক্তি ও লিবিয়ার তেল

    জাতিসংঘ-সমর্থিত পুনর্মিলন ও মানবাধিকারবিষয়ক ‘স্ট্রাকচার্ড ডায়ালগ’ বা কাঠামোগত আলোচনা প্রক্রিয়ার সদস্য হানিন বুশুশে বলেন, নির্বাহী ক্ষমতাকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে নেওয়া যেকোনো উদ্যোগকে শুধু ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর মধ্যকার রাজনৈতিক সমঝোতা দিয়ে বিচার করলে চলবে না, বরং সাধারণ লিবীয়দের ওপর এর প্রভাবের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে। তিনি ‘দ্য নিউ আরব’কে বলেন, ‘একত্রীকরণ তখনই অর্থবহ হতে পারে, যখন তা বৈধতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি সামগ্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হয়। যদি সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধান না করে শুধু নাম পরিবর্তন বা পদ পুনর্বণ্টনের মধ্যেই এটি সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সমস্যা থেকেই যাবে।’

    রাজনৈতিক সমালোচকদের মতে, জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা করা হলে তা জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন প্রক্রিয়ার বৈধতাকে দুর্বল করবে। নতুন এই চুক্তিতে বৃহত্তর জাতীয় ঐকমত্যের পরিবর্তে ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর মধ্যকার দরকষাকষিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

    রাশিয়া নতুন এই চুক্তিকে সন্দেহের চোখে দেখছে এবং ‘বুলোস উদ্যোগ’কে বার্লিন প্রক্রিয়াকে পাশ কাটানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, আলজেরিয়া ও তিউনিসিয়া বারবার বলছে যে, লিবিয়ায় যেকোনো সমাধানের ক্ষেত্রে অবশ্যই দেশটির নিজস্ব মালিকানা ও নেতৃত্ব থাকতে হবে।

    এরপর কী হতে যাচ্ছে

    ১৮ জুনের চুক্তিটি গত কয়েক বছরের মধ্যে লিবিয়ার ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পথে নেওয়া সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ। একটি সমন্বিত বাজেট বাস্তব রূপ পেয়েছে। যৌথ সামরিক মহড়াও অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের রূপরেখাও কাগজে-কলমে তৈরি আছে। কিন্তু এই উদ্যোগগুলো শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে কি না, তা নির্ভর করছে যে বিষয়ের ওপর তা হলো—চুক্তিটি কি শুধু হাফতার ও দবেইবেহ পরিবারের মধ্যকার সমঝোতা হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি এই দুই পরিবারের বাইরে লিবিয়ার সাধারণ মানুষ নিজেদের বলে মনে করবে? ২০১১ সালে পশ্চিমাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় গাদ্দাফির ক্ষমতাচ্যুতি ও নিহত হওয়ার পর থেকে লিবিয়ার ইতিহাস বলে, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাওয়া সহজ নয়।

    লিবিয়ার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মূল দুর্বলতাগুলো আমলে না নিয়ে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের তেলবাণিজ্যের লক্ষ্য হাসিলে তিনটি পক্ষের মধ্যে সমঝোতা গাজা, লেবানন ও ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণেরই প্রতিফলন। এসব দেশে ওয়াশিংটন সাফল্য ঘোষণা করার পরপরই প্রাথমিক চুক্তিগুলো ভেস্তে গেছে। লিবিয়ায়ও হয়তো তাই ঘটবে। এরই মধ্যে দেশটির বিভিন্ন মহল জোরালোভাবে বলছে, কয়েকটি পরিবারের মধ্যে চুক্তি লিবিয়ার জনগণের পক্ষে কোনো চুক্তি নয়।

  • কাল থেকেই কাঁচামরিচ আমদানি শুরু : কৃষিমন্ত্রী

    কাল থেকেই কাঁচামরিচ আমদানি শুরু : কৃষিমন্ত্রী

    আগামীকাল সোমবার থেকেই কাঁচামরিচ আমদানি কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। এর ফলে, আগামী দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে কাঁচামরিচের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

    আজ রোববার রাজধানীর শান্তিনগর কাঁচাবাজার পরিদর্শনকালে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কথা বলার সময় তিনি এ আশা প্রকাশ করেন। এসময় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো: আব্দুল বারী এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো: আব্দুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।

    পরিদর্শনকালে মন্ত্রীরা বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে নিত্যপণ্যের সরবরাহ, মূল্য এবং সার্বিক বাজার পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

    পরিদর্শন শেষে কৃষিমন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, কাঁচামরিচের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।

    তিনি বলেন, কাঁচামরিচ আমদানির ওপর বিদ্যমান কর (ট্যাক্স) কমানো হচ্ছে এবং কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতিও দেয়া হয়েছে। আগামীকাল থেকেই আমদানি কার্যক্রম শুরু হবে। এর ফলে আগামী দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে কাঁচামরিচের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ভোক্তাদের জন্য বাজারকে সহনীয় রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

    গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা সরেজমিনে যা দেখবেন, তা বস্তুনিষ্ঠভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরবেন। এতে মানুষ সচেতন হবে, বিভ্রান্তি কমবে এবং কেউ বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি বা মূল্য কারসাজির সুযোগ পাবে না।’

    এর আগে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অত্যাবশ্যকীয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় (খাদ্য ও কৃষি) পণ্যের সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণ-সংক্রান্ত সভায় অংশ নেন বাণিজ্যমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী। পরে সেখান থেকে তারা সরেজমিন শান্তিনগর কাঁচাবাজার পরিদর্শনে যান।

    সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল থাকবে এবং সাধারণ ভোক্তারা স্বস্তি পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

  • মাদরাসা শিক্ষার নতুন ডিজি  মোজাম্মেল

    মাদরাসা শিক্ষার নতুন ডিজি মোজাম্মেল

    শিক্ষা ডেস্ক:

    মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে অতিরিক্ত সচিব মো. উবায়দুল হককে। নতুন ডিজির (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন খানকে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।আদেশ মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন খানকে নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদের এবং ” ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট অব মাদরাসাহ এডুকেশন স্কিমের ‘স্কিম পরিচালক’-এর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হলো।

  • এফবিসিসিআইয়ের নতুন প্রশাসক ফজলুল হক

    এফবিসিসিআইয়ের নতুন প্রশাসক ফজলুল হক

    দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)-এর প্রশাসক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিয়েছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সাবেক সভাপতি ও প্লামি ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল হক।

    ব্যবসায়ী মহলের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মকর্তার পরিবর্তে বেসরকারি খাতের একজন উদ্যোক্তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হলো।

    রোববার সকালে রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই ভবনে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে সংগঠনটির পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেন।

    এর আগে গত ২৬ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-১ শাখার এক অফিস আদেশে বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২-এর ১৭ ধারার আওতায় মো. ফজলুল হককে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। আদেশে সংগঠনের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং দেশের শিল্প ও বাণিজ্যের স্বার্থে তাকে এ দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের পর আগামী ১২০ দিনের মধ্যে বাণিজ্য সংগঠন আইন-২০২২, বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা-২০২৫, কোম্পানি আইন-১৯৯৪ এবং এফবিসিসিআইয়ের সংঘস্মারক ও সংঘবিধি অনুসরণ করে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের পর তাদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার নির্দেশ রয়েছে।

    দায়িত্ব গ্রহণের পর মো. ফজলুল হক বলেন, সরকারের দেওয়া দায়িত্ব অনুযায়ী ১২০ দিনের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচিত ব্যবসায়ী নেতৃত্ব ফিরিয়ে আনতে তিনি যথাযথ চেষ্টা করবেন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ফেডারেশনের সদস্য, ব্যবসায়ী সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

    এর আগে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান। গত ২৭ জুন তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রায় দেড় মাস পদটি শূন্য ছিল। এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে তাকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। ১২০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে নির্বাচিত নেতৃত্বের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ থাকলেও আইনি জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে গত ফেব্রুয়ারিতে তার মেয়াদ আরও চার মাস বাড়ানো হয়, যা ২৬ জুন শেষ হয়।

    এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক নিয়োগের প্রক্রিয়াটি শুরু হয় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর। ওই সময় সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদের পদত্যাগের দাবিতে সদস্যদের একাংশ আন্দোলনে নামে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন সভাপতি মাহবুবুল আলম পদত্যাগ করেন। পরে একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সদস্য মো. হাফিজুর রহমানকে প্রশাসক নিয়োগ দেয়।

    মো. ফজলুল হক দেশের তৈরি পোশাক খাতের পরিচিত উদ্যোক্তা। নারায়ণগঞ্জভিত্তিক পরিবেশবান্ধব পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান প্লামি ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এর আগে বিকেএমইএর সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি), বাংলাদেশের সঙ্গেও সম্পৃক্ত রয়েছেন। তৈরি পোশাক শিল্প, রপ্তানি বাণিজ্য, শিল্পনীতি এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন তিনি।

  • ছোট উদ্যোক্তাদের ১ শতাংশ ন্যূনতম করের বোঝা, টিকে থাকার লড়াই কঠিন হবে

    ছোট উদ্যোক্তাদের ১ শতাংশ ন্যূনতম করের বোঝা, টিকে থাকার লড়াই কঠিন হবে

    যেকোনো দেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা হলেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা। কর্মসংস্থান সৃষ্টি থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ে চাহিদার জোগান দেওয়া—সবখানেই তাঁদের বিচরণ।

    কিন্তু সম্প্রতি পাস হওয়া অর্থ আইন, ২০২৬ দেশের এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য এক বড় ধরনের দুঃসংবাদ বয়ে এনেছে। আয়কর আইন, ২০২৩–এর ১৬৩(৬) ধারায় আনা একটি পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও ব্যক্তিগত পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের জন্য আগে বহাল থাকা চার কোটি টাকার বার্ষিক টার্নওভার পর্যন্ত কর অব্যাহতির সুবিধাটি পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে এখন থেকে তাঁদের মোট বিক্রয় বা টার্নওভারের ওপর বাধ্যতামূলকভাবে ১ শতাংশ হারে ন্যূনতম কর আরোপ করা হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে রাজস্ব বাড়ানোর একটি সাধারণ পদক্ষেপ মনে হলেও এর নেতিবাচক প্রভাব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের টিকে থাকার লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলবে।

    আগের কর ব্যবস্থায় নিয়ম ছিল, কোনো উদ্যোক্তার বার্ষিক টার্নওভার যদি চার কোটি টাকার নিচে হয়, তবে তিনি তাঁর প্রকৃত নিট মুনাফার ওপর ভিত্তি করে এবং ব্যক্তিগত করদাতার নির্ধারিত ধাপ (স্তর অনুসারে) অনুযায়ী আয়কর দেবেন। এতে সুবিধা ছিল, কোনো কারণে ব্যবসায়ে লোকসান হলে বা মুনাফা কম হলে করের বোঝাও কম হতো। কিন্তু নতুন বিধানে লাভের চেয়ে বিক্রির অঙ্ককেই বড় করে দেখা হয়েছে। এখন ব্যবসা লাভে চলুক বা লোকসানে, মোট বিক্রির ১ শতাংশ সরকারকে কর হিসেবে দিয়ে দিতে হবে। সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এই নিয়ম সহায়ক হতে পারে, কিন্তু মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় এটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সক্ষমতাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দেবে।

    কর বাড়বে কত

    এই নতুন আইনের প্রভাবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের করের ভার কতটা বেড়েছে, তা সাম্প্রতিক উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে পিলে চমকে ওঠার মতো। উদাহরণস্বরূপ, একজন ব্যবসায়ীর বার্ষিক বিক্রি ৫০ লাখ টাকা এবং সব খরচ বাদে করযোগ্য আয় আড়াই লাখ টাকা (নিট মুনাফা ৫ শতাংশ অনুমান করে), আগের নিয়মে তাঁকে কোনো আয়করই দিতে হতো না। কারণ, আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত আয় ছিল করমুক্ত সীমার ভেতরে। কিন্তু এখন তাঁকে বাধ্যতামূলকভাবে ৫০ হাজার টাকা ন্যূনতম কর দিতে হবে। অর্থাৎ যে ব্যবসায়ী আগে শূন্য কর দিতেন, তাঁকে এখন শুরুতেই বড় অঙ্কের (৫০ হাজার) টাকা গুনতে হবে।

    একইভাবে এক কোটি টাকা টার্নওভার ও পাঁচ লাখ টাকা আয়ের ক্ষেত্রে আগে করের পরিমাণ ছিল মাত্র ১০ হাজার টাকা। কিন্তু নতুন নিয়মে তাঁকে দিতে হবে এক লাখ টাকা। এখানে করের বোঝা একলাফে ৯০০ শতাংশ বৃদ্ধি পে য়েছে। দুই কোটি টাকা বিক্রয় ও ১০ লাখ টাকা আয়ের ক্ষেত্রে আগে কর দিতে হতো ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই লাখ টাকায়। অর্থাৎ কর বেড়েছে প্রায় ১৯৬ শতাংশ।

    তিন কোটি টাকার ব্যবসায়ে আগে যেখানে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা কর ছিল, তা এখন দ্বিগুণ হয়ে তিন লাখ টাকা হয়েছে। এমনকি চার কোটির সামান্য নিচে অর্থাৎ ৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা টার্নওভারের ক্ষেত্রেও করের পরিমাণ প্রায় ৫৫ শতাংশ বেড়ে চার লাখ টাকা হয়েছে। এই অঙ্কগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ব্যবসার আকার যত ছোট, করের বোঝা বৃদ্ধির হার সেখানে তত বেশি।

    ঝুঁকি কী

    নীতিগতভাবে এই পরিবর্তন দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের জন্য বেশ কিছু বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। প্রথমত, এটি ব্যবসায়ীদের মূলধন ক্ষয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে যাঁরা ট্রেডিং বা কম মুনাফার ব্যবসা করেন, যেখানে লাভের হার মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ, সেখানে ১ শতাংশ টার্নওভার কর দেওয়া মানে হলো, তাঁদের মোট মুনাফার অর্ধেক বা তার বেশি সরকারের কোষাগারে জমা দেওয়া।

    কোনো বছর ব্যবসা লোকসানে থাকলে করের টাকা দিতে হবে পকেট থেকে বা ব্যবসা থেকে মূলধন তুলে। এর ফলে সাধারণ উদ্যোক্তারা আয়কর রিটার্ন জমা দিতে চরম অনাগ্রহ প্রকাশ করতে পারেন। তাঁরা মনে করতে পারেন, কর ব্যবস্থার ভেতরে আসার চেয়ে বাইরে থাকাই নিরাপদ।

    দ্বিতীয়ত, এই কর ব্যবস্থা ব্যবসায়ীদের মধ্যে অস্বচ্ছতা ও কর ফাঁকির প্রবণতা বাড়িয়ে দিতে পারে। করের অতিরিক্ত চাপ এড়াতে অনেক ব্যবসায়ী তাঁদের প্রকৃত বিক্রির হিসাব লুকানোর চেষ্টা করবেন। এতে বাজারে আন্ডার ইনভয়েসিং বা প্রকৃত দামের চেয়ে কম দাম দেখানোর প্রবণতা বাড়বে। স্বচ্ছ ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন করার পরিবর্তে ব্যবসায়ীরা নগদ বা ক্যাশ লেনদেন করতে বেশি আগ্রহী হবেন। এর ফলে অর্থনীতিতে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের পরিধি বাড়বে, যা দীর্ঘ মেয়াদে সরকারের ডিজিটালাইজেশন ও কর ফাঁকি রোধের লক্ষ্যকেই ব্যাহত করবে।

    সবশেষে বলা যায়, সরকার অর্থ আইন, ২০২৬–এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করতে অনেকগুলো ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ ধরনের ব্যবসায় ও স্টার্টআপ কোম্পানির বিক্রয়ের ওপর ন্যূনতম কর প্রত্যাহার করেছে, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।

    কিন্তু চার কোটি টাকার নিচে টার্নওভার থাকা প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ওপর এই ১ শতাংশ ন্যূনতম করের বোঝা সরাসরি তাঁদের টিকে থাকার ওপর আঘাত। লোকসানে থাকা অবস্থায়ও কর পরিশোধের বিধানটি মুনাফাকেন্দ্রিক ন্যায়সংগত করনীতির মূল দর্শনের পরিপন্থী। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা যাতে কর ব্যবস্থার মূলধারায় থেকে সততার সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারেন, সে জন্য এ বিধানটি জরুরি ভিত্তিতে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। তা না হলে করের এই বোঝা ক্ষুদ্র শিল্প বিকাশের পথকে রুদ্ধ করে দেবে, যা সামগ্রিকভাবে জাতীয় অর্থনীতির জন্যই ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াবে।

  • প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন বিশেষ দূতের বৈঠক

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মার্কিন বিশেষ দূতের বৈঠক

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর।

    শনিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করা, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়। এছাড়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

    সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের কোনো প্রতিনিধির এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।