শিক্ষা ও সাহিত্য

  • আবার রাজপথে নামার হুমকি তেলাপোকাদের

    আবার রাজপথে নামার হুমকি তেলাপোকাদের

    ভারতে জেন-জি প্রজন্মের তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি) নেতারা আবারও আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, বিক্ষোভ স্থগিত করার পর গ্রেপ্তার সবাইকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া না হলে তাঁরা আবার রাজপথে নামবেন।

    সিজেপির কয়েক সপ্তাহের টানা আন্দোলনের মুখে সম্প্রতি ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এটি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য বড় এক ধাক্কা ছিল। কারণ, মোদির ১২ বছরের শাসনামলে এর আগে মাত্র একজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন।

    একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় লাখ লাখ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ভারত সরকারের কাছে জবাবদিহির দাবিতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি, যারা সে দেশে ‘তেলাপোকা’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে, ওই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল। তারা শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে। বিক্ষোভে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষও যোগ দেন। নয়াদিল্লির পাশাপাশি দেশের অন্যান্য স্থানেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল।

    আন্দোলনের মুখে শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর সিজেপির আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়। তবে দলটির অভিযোগ, আন্দোলন স্থগিত করার পর দেশজুড়ে ১০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের অনেকের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দেওয়া হয়েছে।

    সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, মোদি সরকার আশ্বাস দিয়েছিল, এখন বা ভবিষ্যতে কোনো বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। এরপরই গত শনিবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

    গত সোমবার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে না আসতে মোদি সরকারকে সতর্ক করেছে সিজেপি। দলটি বলেছে, পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসাম, পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহারে শিক্ষার্থীদের আটকে রাখা হয়েছে বলে তারা খবর পেয়েছে।

    সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘সরকার যদি চুক্তিকে সম্মান না করে এবং আটক বা গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সবাইকে মুক্তি না দেয়, তবে আমরা আবারও আন্দোলন শুরু করতে বাধ্য হব।’

    যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইএসএ) সদস্যরা আলাদা করে বিহারের পুলিশ প্রধানের সঙ্গে দেখা করেছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তি না দিলে আন্দোলন নতুন করে শুরু করার হুমকি দিয়েছেন তাঁরা।

    সোমবার বিহার পুলিশ বলেছে, বিক্ষোভকারীদের কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। রোববার স্থানীয় সময় ৬টার আগে পর্যন্ত করা সব মামলা প্রত্যাহার করা হবে বলেও ঘোষণা দেয় তারা। আইএসএ বলেছে, আসাম সরকারও মামলা প্রত্যাহার করেছে এবং আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তি দিয়েছে।

    বিক্ষোভ চলাকালে ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করতে র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের ছোড়া একটি কাঁদানে গ্যাসের ক্যানিস্টার তুলে আবার ছুড়ছেন এক বিক্ষোভকারী

    তবে গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে ‘আপত্তিকর পোস্টার’ প্রদর্শনের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সোমবার নতুন করে মামলা করেছে। ওই সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিল। রাজ্যের পুলিশ এ পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের অধিকাংশই মুসলিম।

    শুক্রবার অনুষ্ঠিত সমাবেশে মোদির একটি কার্টুনচিত্র হাতে ধরে রাখার অভিযোগে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযোগ দায়ের করেছে। ভারতীয় এই নেতাকে নিয়ে একটি ‘আপত্তিকর ছবি’ পোস্ট করার জন্য অন্য একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোদিকে গালমন্দ করে দেওয়া পোস্টের ওপরও দিল্লি পুলিশ নজরদারি শুরু করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ তিনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মকে ‘আপত্তিকর ভাষা এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য’–সংবলিত পোস্টগুলো সরিয়ে ফেলতে অনুরোধ করেছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেন, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের কনটেন্ট চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়ে গেছে।

    রাজপথে বিক্ষোভের পাশাপাশি বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সরব ছিল। মোদিকে নিয়ে বিদ্রূপাত্মক রিলস এবং মিমে সয়লাব হয়ে গিয়েছিল ইনস্টাগ্রাম। বেশ কয়েকজন সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী দাবি করেছেন, সরকারবিরোধী সমালোচনা করায় তাদের পোস্টগুলো প্ল্যাটফর্মটি থেকে দ্রুত সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    সিজেপি গত সোমবার বলেছে, পুলিশের ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত বিক্ষোভকারীদের আইনি খরচ মেটাতে তারা একটি আইনি তহবিল গঠন করেছে।

    গত মে মাসে ভারতের মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা থেকে এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। ২০ জুলাই বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ সহিংস দমন-পীড়ন চালায়। এমন অবস্থায় আন্দোলন মোদি সরকারের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী একটি গণ–আন্দোলনে রূপ নেয়।

    ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ভারতের সংবিধানে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার দেওয়া হয়েছে।

  • ছাত্রলীগ নিয়ে ‘মায়াকান্না’: সাংবাদিকদের সতর্ক করলেন রাকসু ভিপি

    ছাত্রলীগ নিয়ে ‘মায়াকান্না’: সাংবাদিকদের সতর্ক করলেন রাকসু ভিপি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেছেন, আপনারা কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পক্ষ হয়ে অনেকে নিউজ করছেন। তাদের প্রতি অনেক মায়াকান্না দেখিয়েছেন। এই সাংবাদিক এখানে অনেকে আছেন। আমরা তাদের জড়ো করে, এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

    মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাকসু ভিপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সোমবার বিকালে সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীর রাকসু কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।

    সাংবাদিকদের শব্দ প্রয়োগে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, সাংবাদিকরা যে শব্দগুলো ব্যবহার করেন, সেগুলোর বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব। আপনারা কালকে ছাত্রলীগকে ডিফেন্স করে অনেকে নিউজ করেছেন। আপনারা বলছেন- আমরা হামলা করেছি। এটা কোন ধরনের কথা? তারা হামলা করেছে, আমরা প্রতিরোধ করেছি। আপনারা ‘হামলা’ শব্দটি বলতে এত কাপাকাপি করেন কেন?

    বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে হামলায় শিক্ষার্থীদের থেকে সাংবাদিকদের মাথাব্যাথা বেশি উল্লেখ করে রাকসু ভিপি বলেন, আপনারা বলছেন, লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের আমরা বের করে এনেছি, এতে ২০ থেকে ২৫ মিনিট তাদের পড়াশোনা নষ্ট হয়েছে। কিন্তু কোনো শিক্ষার্থী তো আমাদের বলেনি যে, ‘ভাই, আপনারা আমার ২০ থেকে ২৫ মিনিট নষ্ট করে দিয়েছেন। সাংবাদিকরাই বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করেছেন। মনে হচ্ছে, তারা ২৪ ঘণ্টাই পড়াশোনা করে, আর ওই ২০ থেকে ২৫ মিনিট নষ্ট হওয়াই সবচেয়ে বড় বিষয়।

    এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে ছয় দফা দাবি জানিয়ে রাকসু বলেছেন, নারী শিক্ষার্থীকে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি রাকসু ভবনে হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেফতার ও বিচার, প্রশাসনের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তদন্ত, ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার বন্ধ, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অতীতে নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ও ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বিএম নাজমুস সাকিব প্রমুখ।

  • যুক্তরাষ্ট্রে গীর্জা কিনে মসজিদ-মাদরাসা বানাচ্ছেন মুসলিমরা

    যুক্তরাষ্ট্রে গীর্জা কিনে মসজিদ-মাদরাসা বানাচ্ছেন মুসলিমরা

    যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের রিচার্ডসনে একটি ব্যাপটিস্ট গীর্জা কিনেছে মুসলিম সংগঠন ‘সালাহউদ্দীন ফিউচার একাডেমি’ (এসএএফএ)। আইনি মামলার জটিলতা সমাধানের পর তারা এই বিশালাকার চার্চ প্রাঙ্গণটিকে একটি ইসলামিক স্কুল, সেমিনারি এবং মসজিদে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

    এসএএফএ একটি কে-১২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তাদের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হলো ‘জ্ঞানকে ইসলামিক রূপদান’—যার মাধ্যমে কমন কোর কারিকুলামের পাশাপাশি কোরআন ও হাদিসের শিক্ষাকে প্রতিটি ক্ষেত্রে সমন্বিত করা হবে।

    জায়গাটি তারা ক্রয় করেছে ‘কোরিয়ান ওয়ার্ল্ড মিশন ব্যাপটিস্ট চার্চ’-এর কাছ থেকে, যা ১৯৯২ সাল থেকে এই সম্পত্তির মালিক ছিল। এই খ্রিষ্টান ধর্মীয় কেন্দ্রটির মূল লক্ষ্য ছিল খ্রিষ্টধর্মের বার্তা প্রচার করা এবং যিশুখ্রিষ্টের অনুসারী তৈরি করা।

    সম্পত্তিটিতে সালাহউদ্দীন ফিউচার একাডেমির পাশাপাশি ‘অথেনটিক ইলম মিশন’ (এআইএম) যৌথভাবে ‘দাওয়াহ একাডেমি অ্যান্ড সেমিনারি’ চালু করতে যাচ্ছে। এটিকে আমেরিকার প্রথম কোনো জাতীয় আবাসিক দাওয়াহ সেমিনারি হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে, যেখানে ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতক ডিগ্রিসহ বিভিন্ন কোর্স করানো হবে।

    সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, আমরা এমন একদল যোগ্য ও নীতিবান নেতৃত্ব গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যারা প্রজ্ঞার সাথে ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং সত্যের সমর্থনে প্রামাণিক অবস্থান তুলে ধরবে।

    চার্চ হস্তান্তর নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ভিডিও বার্তায় এআইএম-এর এক বক্তা মন্তব্য করেন—যে চার্চটি একসময় মুসলিমদের খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত করার প্রশিক্ষণ দিত, আজ সেটিই একটি মুসলিম সংস্থায় পরিণত হতে যাচ্ছে।

    টেক্সাসভিত্তিক স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ডালাস এক্সপ্রেস-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওই চার্চের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে সাফা । অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের অক্টোবরে ৩৮ লাখ (৩.৮ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারে সম্পত্তিটি কেনার জন্য চার্চ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি চুক্তি সই হয় এবং তারা ৩৮ হাজার ডলার অগ্রিম পরিশোধ করে। চলতি মে মাসে হস্তান্তর সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও চার্চ দাবি করে—তাদের যাজক (পাস্টর) বিষয়টি ভুল বুঝে সই করেছিলেন; তিনি ভেবেছিলেন এটি জায়গা বিক্রির কোনো বিজ্ঞাপন বা লিস্টিং চুক্তি।

    এর প্রেক্ষিতে চুক্তি কার্যকর করার দাবি জানিয়ে এবং ১ মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি পদক্ষেপ নেয় সাফা। পরবর্তীতে এপ্রিল মাসে কোনো চূড়ান্ত রায় ছাড়াই মামলাটি নিষ্পত্তি হয় এবং ক্রয়ের পথ সুগম হয়।

    চার্চটি হাতবদলের এমন ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন টেক্সাসে ইসলামের ক্রমবর্ধমান বিস্তার নিয়ে স্থানভেদে বিভিন্ন আলোচনা হচ্ছে। ডেমোগ্রাফিক তথ্যানুযায়ী, টেক্সাসের মোট জনসংখ্যার মাত্র ২ শতাংশ মুসলিম হলেও, জনসংখ্যার দিক থেকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ৫ম বৃহত্তম মুসলিম অধ্যুষিত অঙ্গরাজ্য। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ইসলাম অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল ধর্ম হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

  • এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণায় জামায়াতের আপত্তি

    এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণায় জামায়াতের আপত্তি

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আলমের নিয়োগ বাতিলেরও দাবি করেছে দলটি।

    বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কমিশনের কাছে ৯ দফা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়ে আসছেন। তাই এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখতে হবে।

    এ ছাড়া, নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মো. সামসুল আলমকে বিএনপি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দাবি করে তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের আহ্বান জানায় জামায়াত। দলটির দাবি, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক নিয়োগ গ্রহণযোগ্য নয়।

    বৈঠকে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের পদধারীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবিও জানায় জামায়াত।

  • এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদন শুরু শিগগিরই

    এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদন শুরু শিগগিরই

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অনলাইন বদলি কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রায় ৯৫ শতাংশ তথ্য সংগ্রহ ও হালনাগাদের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি প্রায় ৫ শতাংশ তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ তথ্য পাওয়া গেলেই আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এ তথ্য জানিয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, অবশিষ্ট তথ্য সংগ্রহের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। তথ্য হালনাগাদ সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলির আবেদন গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে।

    জানা গেছে, শিক্ষকদের বদলির জন্য স্কুল পর্যায়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের তথ্য ইনপুট, ভেরিফিকেশন ও চূড়ান্ত অনুমোদনের সময় শেষ হয় গত ২৫ জুন। উপজেলা বা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের জন্য সময়সীমা ছিল ৫ জুলাই। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের জন্য ১৫ জুলাই নির্ধারণ করা হয়েছিলো।

    কলেজ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের তথ্য ইনপুট, ভেরিফিকেশন ও চূড়ান্ত অনুমোদনের শেষ সময়ও ২৫ জুন শেষ হয়। আঞ্চলিক উপ-পরিচালকের (কলেজ) জন্য ৫ জুলাই এবং আঞ্চলিক পরিচালকদের জন্য ১৫ জুলাই পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছিলো।

    এখন শিক্ষকরা অপেক্ষায় রয়েছেন বদলি আবেদন শুরুর।

  • চাপের মুখে পিছু হটছেন শুভেন্দু

    চাপের মুখে পিছু হটছেন শুভেন্দু

    প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের পথে হাঁটতে পারে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার। আসাম ও বিহার সরকার ইতোমধ্যে এ ধরনের সব মামলা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও একই ধরনের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে রাজ্য সচিবালয়ের উচ্চপদস্থ সূত্রে জানা গেছে।

    গত শুক্রবার কলকাতার এসপ্ল্যানেডে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের ডাকা সমাবেশে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীরা প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিলেন।

    সোমবার দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপি জানায়, কেন্দ্রের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষার্থীদের মুক্তি এবং দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহার না হলে দলটি আবারো আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দলটি। এছাড়া মামলায় অভিযুক্তদের আইনি সহায়তা দিতে দেশজুড়ে আইনজীবীদের নিবন্ধনের জন্য একটি ওয়েবসাইট চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। এই উদ্যোগে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কপিল সিব্বল পরামর্শকের ভূমিকা পালন করবেন।

    এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আসাম ও বিহার সরকার পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শুক্রবারের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি। যদিও সচিবালয়ের সূত্র বলছে, সোমবারই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

    এদিকে সোমবার জলপাইগুড়ির এক সমাবেশে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দলীয় নেতাকর্মীদের তথাকথিত ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’-এর বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

    শুক্রবারের সহিংসতার ঘটনায় কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট ও এন্টালি থানায় মোট সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সম্প্রতি বিধানসভায় পাস হওয়া ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস অ্যাক্ট, ২০২৬ বা কথিত ‘অ্যান্টি-গুন্ডা আইন’-এর আওতায় এসব মামলা করা হয়।

    কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালে ভাঙচুরের অভিযোগে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৭০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার শিয়ালদহ থেকে মিছিল শেষে হাজারো শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এসপ্ল্যানেডের ডোরিনা ক্রসিংয়ে জড়ো হলে সেখানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    শনিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, নতুন ‘অ্যান্টি-গুন্ডা আইন’ প্রথমবারের মতো এই ঘটনায় প্রয়োগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতকারীদের এমন কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে, যাতে তাদের পরবর্তী তিন প্রজন্মও তা মনে রাখে।

  • টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি, যা বলছে সরকারি সংস্থা বিএসটিআই

    টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি, যা বলছে সরকারি সংস্থা বিএসটিআই

    দেশের অধিকাংশ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। সংস্থাটি বলেছে, পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক ও আইনগত যাচাই ছাড়া কোনো ব্র্যান্ড বা টুথপেস্টকে অনিরাপদ বা নিম্নমানের বলে ঘোষণা করাও সঠিক হবে না।

    বিএসটিআই জানিয়েছে, তারা নিজ উদ্যোগে বাজার ও কারখানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দেশি বা বিদেশি স্বীকৃত পরীক্ষাগারে পুনরায় পরীক্ষা করার উদ্যোগ নিয়েছে। যদি পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় যে কোনো পণ্য বাংলাদেশ মান পূরণ করেনি অথবা অনুমোদনহীন উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিএসটিআই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি একটি বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) পরিচালিত গবেষণায় টুথপেস্টের ৩৪টি নমুনার মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়ায় জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

    জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানায় বিএসটিআই। সংস্থাটি বলেছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো ৫ মিলিমিটার বা তার চেয়ে ছোট আকারের ক্ষুদ্র প্লাস্টিকের কণা, যা খালি চোখে সাধারণত দেখা যায় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক একটি উদীয়মান পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত উদ্বেগের বিষয়। মাইক্রোপ্লাস্টিকের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিয়ে এখনো গবেষণা চলমান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক মাইক্রোপ্লাস্টিকের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন রয়েছে, এমনটি মনে করে বিএসটিআই।

    বিভিন্ন দেশ মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালে প্রথম মাইক্রোবিড-ফ্রি ওয়াটার অ্যাক্ট ২০১৫-তে টুথপেস্টসহ ধৌতযোগ্য কসমেটিকস পণ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। ইউরোপীয় আইন মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে উৎপাদনকারীদের ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশেই টুথপেস্টে ইচ্ছাকৃতভাবে সংযোজিত প্লাস্টিকের মাইক্রোবিড ব্যবহার নিষিদ্ধ।

    বিএসটিআই বলেছে, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা প্রভৃতি দেশের স্ট্যান্ডার্ডে বা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মান সংস্থা প্রণীত মানে টুথপেস্ট পণ্যের জন্য মাইক্রোপ্লাস্টিকের কোনো মাত্রা বা ব্যবহার নিষিদ্ধের বিষয় উল্লেখ নেই। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে টুথপেস্টে অনিচ্ছাকৃতভাবে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য কোনো নির্দিষ্ট গ্রহণযোগ্য সীমা বা একক পরীক্ষার পদ্ধতি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

    বিএসটিআই বলেছে, টুথপেস্ট পণ্যের জন্য বাংলাদেশ নির্ধারিত মান (স্ট্যান্ডার্ড) রয়েছে। সেখানে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহারসংক্রান্ত সরাসরি কোনো বিধিনিষেধ না থাকলেও উক্ত স্ট্যান্ডার্ডে টুথপেস্ট উৎপাদনে ব্যবহারযোগ্য ৮১টি উপাদানের তালিকা দেওয়া হয়েছে, যেখানে মাইক্রোপ্লাস্টিক উল্লেখ নেই। বিএসটিআই থেকে সনদ দেওয়ার আগে টুথপেস্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যাচাই করা হয়। ফলে টুথপেস্ট উৎপাদনের ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহারের সুযোগ নেই।

    সংস্থাটি আরও বলেছে, শুধু কোনো পরীক্ষায় প্লাস্টিকজাত কণা পাওয়া গেছে বলেই সেটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করেছে বা সেটি মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। এ জন্য আরও বিস্তারিত পরীক্ষা, কণার ধরন, উৎস, পরিমাণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়ন প্রয়োজন।

    বিএসটিআই ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে গবেষণার পূর্ণাঙ্গ তথ্য, পরীক্ষার পদ্ধতি, পরীক্ষার প্রাথমিক তথ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী ও আমদানিকারকদের কাছ থেকেও কাঁচামাল, পণ্যের উপাদান ও সিনথেটিক পলিমার ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিএসটিআই ইতিমধ্যে বিশেষজ্ঞ, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, পরিবেশ অধিদপ্তর, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর, দন্তচিকিৎসক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং ভোক্তা প্রতিনিধিদের নিয়ে টুথপেস্টের বাংলাদেশ মান পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া গেলে টুথপেস্টে ইচ্ছাকৃতভাবে প্লাস্টিক মাইক্রোবিড ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, উপাদান প্রকাশের বাধ্যবাধকতা এবং পরীক্ষার পদ্ধতি সংযোজনসহ বাংলাদেশ মান হালনাগাদ করা হবে।

  • ঢাবির ২৩১ শিক্ষকের বিচার চেয়ে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি

    ঢাবির ২৩১ শিক্ষকের বিচার চেয়ে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) আওয়ামীপন্থী নীলদলের শিক্ষকদের বিচার চেয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষকরা। সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের কাছে এ স্মারকলিপি দেন তারা।

    এসময় তারা ২৩১ জন নীলদলের শিক্ষকদের তালিকা জমা দেন। তারা হলেন-

    ১. অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. মাকসুদ কামাল — দুর্যোগ বিজ্ঞান ও জলবায়ু সহনশীলতা বিভাগ ২. অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সামাদ — সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ৩. অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার — ফার্মেসি ৪. অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান — ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ৫. অধ্যাপক ড. জীনাত হুদা — সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ৬. অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম — সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ৭. অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান — সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ৮. অধ্যাপক ড. এম. ওয়াহিদুজ্জামান — শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ৯. অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া — খাদ্য ও পুষ্টি ইনস্টিটিউট ১০. অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান — শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ১১. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান — ফলিত রসায়ন বিভাগ ১২. অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মহিত — ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগ ১৩. অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মাহবুব হাসান — বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগ ১৪. অধ্যাপক ড. শিশির ভট্টাচার্য — আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট ১৫. অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম — ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ ১৬. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ আলী — ইতিহাস বিভাগ ১৭. অধ্যাপক আবু হোসাইন মুহাম্মদ আহসান — লোক প্রশাসন বিভাগ ১৮. অধ্যাপক ড. খালেদ মাহমুদ — আইবিএ ১৯. অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. গোলাম রব্বানী — ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ২০. অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রহিম — ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ২১. অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল কবির — আইবিএ ২২. সহযোগী অধ্যাপক ড. নীলিমা আখতার — ইংরেজি বিভাগ ২৩. অধ্যাপক ড. আবু জাফর মো. শফিউল আলম ভূঁইয়া — টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগ ২৪. অধ্যাপক ড. শবনম জাহান — ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ২৫. অধ্যাপক ড. আফজাল হোসেন — ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ২৬. অধ্যাপক ড. এম. বদরুজ্জামান ভূঁইয়া — ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ২৭. অধ্যাপক ড. তাওহিদা রশিদ — আবহাওয়াবিজ্ঞান বিভাগ ২৮. অধ্যাপক ড. আবু শারা শামসুর রউফ — ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি বিভাগ ২৯. অধ্যাপক ড. এম. মাকসুদুর রহমান — ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ ৩০. অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল হক খান — আইবিএ ৩১.

    অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান — অ্যাকাউন্টিং বিভাগ ৩২. অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম আজাদ — মার্কেটিং বিভাগ ৩৩. অধ্যাপক ড. মামুন আল মোস্তফা — রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ৩৪. অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান — ফলিত রসায়ন বিভাগ ৩৫. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির — ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ৩৬. অধ্যাপক ড. সুরাইয়া আখতার — ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ৩৭. অধ্যাপক ড. সবিতা রেজওয়ানা রহমান — মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ ৩৮. সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান — মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ ৩৯. অধ্যাপক ড. কে. এম. সালাউদ্দিন — ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ ৪০. অধ্যাপক ড. মো. আকরাম হোসেন — ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ

    ৪১. অধ্যাপক ড. বিমান কুমার বড়ুয়া — পালি অ্যান্ড বৌদ্ধ স্টাডিজ বিভাগ ৪২. অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসিফ হোসেন খান — কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ৪৩. অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার — গণিত বিভাগ ৪৪. অধ্যাপক ড. অসীম সরকার — সংস্কৃত বিভাগ ৪৫. অধ্যাপক ড. সঞ্চিতা গুহ — সংস্কৃত বিভাগ ৪৬. অধ্যাপক ড. লিটন কুমার সাহা — ফলিত গণিত বিভাগ ৪৭. অধ্যাপক ড. আব্দুল বশির — ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ৪৮. অধ্যাপক মোহাম্মদ আবছার কামাল — আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট ৪৯. সহযোগী অধ্যাপক বিপুল চন্দ্র দেবনাথ — আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট ৫০. অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমান — মার্কেটিং বিভাগ

    ৫১. সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ সোহেল রানা — মনোবিজ্ঞান বিভাগ ৫২. অধ্যাপক ড. মো. আফতাব আলী শেখ — রসায়ন বিভাগ ৫৩. অধ্যাপক ড. মাহমুদা আক্তার — অ্যাকাউন্টিং বিভাগ ৫৪. অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম (রফিক শাহরিয়ার) — শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ ৫৫. অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সামাদ — ফলিত গণিত বিভাগ ৫৬. অধ্যাপক ড. মো. জাভিদ ইকবাল বাঙালী — ফলিত গণিত বিভাগ ৫৭. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউসুফ — আরবি বিভাগ ৫৮. অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ — ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ ৫৯. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়া — উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ ৬০. অধ্যাপক মো. রবিউল ইসলাম — সিরামিক বিভাগ

    ৬১. অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহ মিরান — রসায়ন বিভাগ ৬২. অধ্যাপক ড. মো. আবু বিন হাসান সুজন — রসায়ন বিভাগ ৬৩. সহযোগী অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান — রসায়ন বিভাগ ৬৪. সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইকা আহমেদ — রসায়ন বিভাগ ৬৫. অধ্যাপক ড. এস. এম. আব্দুর রহমান — ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগ ৬৬. অধ্যাপক ড. হাফিজ মো. হাসান বাবু — কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ ৬৭. সহযোগী অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন — ক্রাফট বিভাগ ৬৮. সহকারী অধ্যাপক সুমাইয়া ইকবাল — ক্রিমিনোলজি বিভাগ ৬৯. সহকারী অধ্যাপক সোনাম সাহা — ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ ৭০. অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান — দুর্যোগ বিজ্ঞান ও জলবায়ু সহনশীলতা বিভাগ

    ৭১. অধ্যাপক নিসার হোসেন — অঙ্কন ও চিত্রায়ন বিভাগ ৭২. অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র গাইন — অঙ্কন ও চিত্রায়ন বিভাগ ৭৩. ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুন নবী — অঙ্কন ও চিত্রায়ন বিভাগ ৭৪. অধ্যাপক ড. জেড. এম. পারভেজ সাজ্জাদ — তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ ৭৫. অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন — ফিন্যান্স বিভাগ ৭৬. সহযোগী অধ্যাপক ড. সিমা ইসলাম — গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগ ৭৭. ড. সিদ্ধার্থ দে — গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগ ৭৮. অধ্যাপক ড. আকসাদুল আলম — ইতিহাস বিভাগ ৭৯. সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম — তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ ৮০. সহযোগী অধ্যাপক ড. এস. কে. মামুন মোস্তফা — তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ

    ৮১. সহযোগী অধ্যাপক ড. এম. মনিরুজ্জামান খান — দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ৮২. অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরীন — দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ৮৩. অধ্যাপক মো. ফজলুর রহমান — শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ৮৪. সহযোগী অধ্যাপক ড. এস. এম. নাসিফ শামস — জ্বালানি ইনস্টিটিউট ৮৫. সহযোগী অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম — খাদ্য ও পুষ্টি ইনস্টিটিউট ৮৬. সহকারী অধ্যাপক মো. রেজাউল আজিম — স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট ৮৭. সহকারী অধ্যাপক ফারিহা কাদির — স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট ৮৮. সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইহসান-উল-কবির — স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট ৮৯. সহযোগী অধ্যাপক ড. শওল নাফি শিমুল — স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট ৯০. প্রভাষক মো. আরাফাত হোসেন — লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট

    ৯১. অধ্যাপক ড. সাঈদুর রহমান — আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট ৯২. সহকারী অধ্যাপক ড. শাহজাদী ইমা — আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট ৯৩. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহীন খান — সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ৯৪. অধ্যাপক ড. সুবর্ণা বড়ুয়া — আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগ ৯৫. অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন — আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগ ৯৬. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ — ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ৯৭. সহকারী অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম সানা — ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ৯৮. অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম — ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ৯৯. সহযোগী অধ্যাপক ড. লোপা মুদ্রা মালেক — জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগ ১০০. অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ — আইন বিভাগ

    ১০১. অধ্যাপক ড. শিমা জামান — আইন বিভাগ ১০২. প্রভাষক মো. আজহার উদ্দিন ভূঁইয়া — আইন বিভাগ ১০৩. অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান — আইন বিভাগ ১০৪. অধ্যাপক ড. জামিলা এ. চৌধুরী — আইন বিভাগ ১০৫. অধ্যাপক ড. মুশফিক মান্নান চৌধুরী — ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ১০৬. অধ্যাপক ড. সুমন দাস — ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ১০৭. অধ্যাপক ড. আবুল মনসুর আহমেদ — গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ১০৮. অধ্যাপক ড. কাবেরী গায়েন — গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ১০৯. অধ্যাপক ড. আফরোজা শেলী — নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ১১০. ইমেরিটাস অধ্যাপক

    মো. আবুল হাশেম — ওরিয়েন্টাল আর্ট বিভাগ

    ১১১. প্রভাষক মো. রাকিবুল হাসান — পালি অ্যান্ড বৌদ্ধ স্টাডিজ বিভাগ ১১২. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন — ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ ১১৩. অধ্যাপক ড. কে. এম. সাইফুল ইসলাম খান — ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ ১১৪. ড. মো. মুমিত আল রশিদ — ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ ১১৫. অধ্যাপক ড. ইমরান কবির চৌধুরী — জনস্বাস্থ্য বিভাগ ১১৬. অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ — ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগ ১১৭. অধ্যাপক এমএসটি. রেবেকা সুলতানা — দর্শন বিভাগ ১১৮. অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন — মনোবিজ্ঞান বিভাগ ১১৯. অধ্যাপক ড. ইশতিয়াক এম. সৈয়দ — পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ ১২০. অধ্যাপক ড. রতন চন্দ্র ঘোষ — পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ

    ১২১. অধ্যাপক ড. নীলোফার পারভীন — রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ১২২. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেল্লাল হোসেন — পপুলেশন সায়েন্স বিভাগ ১২৩. সহযোগী অধ্যাপক মো. নাজির হোসেন খান — প্রিন্টমেকিং বিভাগ ১২৪. সহযোগী অধ্যাপক ড. ক্লাইডাস ভক্ত — সংস্কৃত বিভাগ ১২৫. সহযোগী অধ্যাপক নাসিমুল খবির — ভাস্কর্য বিভাগ ১২৬. অধ্যাপক ড. খায়রুল চৌধুরী — সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ১২৭. ড. দেবাশীষ কুমার কুণ্ডু — সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ১২৮. সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মতিয়ার রহমান — পরিসংখ্যান বিভাগ ১২৯. সহযোগী অধ্যাপক ড. সোমা দে — উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ ১৩০. সহযোগী অধ্যাপক ড. হেলাল হোসেন ঢালী — উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ

    ১৩১. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফিরোজ জামান — প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগ ১৩২. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তারেক — অ্যাকাউন্টিং বিভাগ ১৩৩. অধ্যাপক ড. মাহফুজুল হক — অ্যাকাউন্টিং বিভাগ ১৩৪. অধ্যাপক ড. মো. মুশফিকুর রহমান — অ্যাকাউন্টিং বিভাগ ১৩৫. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান — অ্যাকাউন্টিং বিভাগ ১৩৬. অধ্যাপক ড. মো. জামিল শরীফ — অ্যাকাউন্টিং বিভাগ ১৩৭. অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল আলম — নৃবিজ্ঞান বিভাগ ১৩৮. অধ্যাপক ড. মো. রফিউল ইসলাম — নৃবিজ্ঞান বিভাগ ১৩৯. অধ্যাপক ড. মো. সৈয়দ শামসুদ্দিন — ফলিত রসায়ন বিভাগ ১৪০. অধ্যাপক ড. মো. মঈনুল করিম — ফলিত রসায়ন বিভাগ

    ১৪১. অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম — ফলিত গণিত বিভাগ ১৪২. অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল-মারুফ — আরবি বিভাগ ১৪৩. সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ বেলাল হোসেন — আরবি বিভাগ ১৪৪. সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. নাসির উদ্দিন — আরবি বিভাগ ১৪৫. অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর দে — বাংলা বিভাগ ১৪৬. অধ্যাপক বায়তুল্লাহ কাদেরী — বাংলা বিভাগ ১৪৭. সহকারী অধ্যাপক মো. খালেদ বিন আমির — ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ ১৪৮. অধ্যাপক ড. রাদ মুজিব লালন — ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ ১৪৯. অধ্যাপক ড. মিহির লাল সাহা — উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ ১৫০. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাবেদ হোসেন — উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ

    ১৫১. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম — উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ ১৫২. অধ্যাপক ড. জিএম গুলজার হোসেন — রসায়ন বিভাগ ১৫৩. অধ্যাপক ড. মো. মোমিনুল ইসলাম — রসায়ন বিভাগ ১৫৪. অধ্যাপক ড. ইকবাল রউফ মামুন — রসায়ন বিভাগ ১৫৫. এ. বি. এম. নজমুস সাকিব — ক্রিমিনোলজি বিভাগ ১৫৬. সহকারী অধ্যাপক মো. ইমরান হোসেন ভূঁইয়া — ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ ১৫৭. শিশির ভট্টাচার্য (খণ্ডকালীন শিক্ষক) — অঙ্কন ও চিত্রায়ন বিভাগ ১৫৮. অধ্যাপক মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী — অর্থনীতি বিভাগ ১৫৯. সহযোগী অধ্যাপক ড. এম. এল. পলাশ — তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ ১৬০. অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ — তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ

    ১৬১. সহযোগী অধ্যাপক ড. শেখ তানজিলা দীপ্তী — ফিন্যান্স বিভাগ ১৬২. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামসুর রহমান — মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগ ১৬৩. সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ফারুক হোসেন — ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ ১৬৪. অধ্যাপক ড. শারমিন আখতার — ইতিহাস বিভাগ ১৬৫. অধ্যাপক ড. মো. নাসির উদ্দিন মুন্সী — তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ ১৬৬. অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন — আইবিএ বিভাগ ১৬৭. অধ্যাপক ড. মেলিটা মেহজাবীন — আইবিএ বিভাগ ১৬৮. অধ্যাপক ড. মো. রিদওয়ানুল হক — আইবিএ বিভাগ ১৬৯. অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হালিম — শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ১৭০. অধ্যাপক ড. তামান্না সুলতানা — শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ১৭১. ড. তপশ কুমার বিশ্বাস — শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ১৭২. অধ্যাপক ড. আবু তোরাব মো. আব্দুর রহিম — খাদ্য ও পুষ্টি ইনস্টিটিউট ১৭৩. অধ্যাপক ড. শারমিন রুমি আলিম — খাদ্য ও পুষ্টি ইনস্টিটিউট ১৭৪. সহযোগী অধ্যাপক ড. আলী আব্বাস এম. কুরশেদ — খাদ্য ও পুষ্টি ইনস্টিটিউট ১৭৫. সহযোগী অধ্যাপক ড. সুজানা করিম — স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট ১৭৬. সহযোগী অধ্যাপক ড. সুমন আহমেদ — তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউট ১৭৭. অধ্যাপক ড. সবুর আহমেদ — লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট ১৭৮. সহযোগী অধ্যাপক ড. অমল কান্তি দেব — লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট ১৭৯. সহযোগী অধ্যাপক উত্তম কুমার রায় — লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট ১৮০. সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম — সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ১৮১. অধ্যাপক ড. সুবোধ দেবনাথ — আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগ ১৮২. সহকারী অধ্যাপক মৌরি মেহতাজ — আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগ ১৮৩. অধ্যাপক ড. লায়লুফার ইয়াসমিন — আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ ১৮৪. সহযোগী অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান — ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ১৮৫. সহকারী অধ্যাপক এম. ইমামুল হক সরকার (তিতু) — ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ১৮৬. সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম — ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ১৮৭. সহকারী অধ্যাপক ড. কোয়াজি ফারজানা আফরিন — ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ১৮৮. ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম — জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগ ১৮৯. অধ্যাপক ড. রুমানা ইসলাম — আইন বিভাগ ১৯০. সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ মাসুদ রেজা — আইন বিভাগ

    ১৯১. প্রভাষক শাহরিমা তানজিন আরনি — আইন বিভাগ ১৯২. অধ্যাপক ড. সিকদার মনোয়ারে মুর্শেদ — ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ ১৯৩. অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেন — ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ১৯৪. অধ্যাপক মোহাম্মদ মোকবুল হোসেন ভূঁইয়া — ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ ১৯৫. অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান — মার্কেটিং বিভাগ ১৯৬. অধ্যাপক ড. মুবিনা খন্দকার — মার্কেটিং বিভাগ ১৯৭. সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক খান — গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ১৯৮. সহকারী অধ্যাপক মো. মোমিন ইসলাম — আবহাওয়াবিজ্ঞান বিভাগ ১৯৯. অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম — নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ২০০. সহযোগী অধ্যাপক ইঞ্জি. এম. মনজুর হোসেন খান — নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ

    ২০১. অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুল মঈন — অর্গানাইজেশনাল স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ বিভাগ ২০২. সহযোগী অধ্যাপক মো. রাশেদুর রহমান — অর্গানাইজেশনাল স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ বিভাগ ২০৩. সহযোগী অধ্যাপক ড. নীরু বড়ুয়া — পালি অ্যান্ড বৌদ্ধ স্টাডিজ বিভাগ ২০৪. অধ্যাপক ড. সাবের আহমেদ চৌধুরী — শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ ২০৫. সহযোগী অধ্যাপক মারিয়া হোসেন — শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ ২০৬. সহযোগী অধ্যাপক মন্দিরা চৌধুরী — দর্শন বিভাগ ২০৭. অধ্যাপক ড. কাজী হানিয়াম মারিয়া — পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ ২০৮. সহযোগী অধ্যাপক ড. কায়সার আহমেদ রকি — পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ ২০৯. সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান — পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ ২১০.

    অধ্যাপক ড. আলমগীর কবির — পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ

    ২১১. সহযোগী অধ্যাপক এম. রাশেদ আলম ভূঁইয়া — রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ২১২. অধ্যাপক ড. সাদিক হাসান — লোক প্রশাসন বিভাগ ২১৩. অধ্যাপক ড. লাফিফা জামাল — রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ২১৪. অধ্যাপক ড. আবুল কাসেম মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন — সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ২১৫. অধ্যাপক ড. মাহমুদা খাতুন — সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ২১৬. অধ্যাপক ড. মো. হারুন-অর-রশিদ খান — মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগ ২১৭. সহযোগী অধ্যাপক ড. এ. জেড. এম. শফিউল্লাহ — পরিসংখ্যান বিভাগ ২১৮. সহযোগী অধ্যাপক ড. সুদীপ চক্রবর্তী — থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ ২১৯. অধ্যাপক ড. আহমেদুল কবির — থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ ২২০. সহযোগী অধ্যাপক ড. সৌদ আহমেদ — ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ

    ২২১. সহযোগী অধ্যাপক ড. সামশাদ নাওরীন — ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ২২২. অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল ইসলাম — উর্দু বিভাগ ২২৩. অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম — উর্দু বিভাগ ২২৪. সহকারী অধ্যাপক অমিও সৃজন সাম্য — উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ ২২৫. অধ্যাপক ড. ফাজরিন হুদা — বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ ২২৬. প্রভাষক ইনজামাম মাহবুব মজুমদার — বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ ২২৭. সহকারী অধ্যাপক সাদিয়া আফরিন — বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ ২২৮. প্রভাষক দেবাশীষ দাস — বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ ২২৯. প্রভাষক নিলয় রায় —বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ ২৩০. প্রভাষক রহিমা আখতার — বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ ২৩১. অধ্যাপক ড. শারমিন মুসা — প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগ

  • মুসলিম নেতার প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় গুঁড়িয়ে দিতে চায় ভারত

    মুসলিম নেতার প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় গুঁড়িয়ে দিতে চায় ভারত

    ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের রামপুরে মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০টি ভবনের মধ্যে ৩৮টিই গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রশাসনিক নির্দেশের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাবেক ছাত্ররা। তীব্র গরম উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে অবস্থান ধর্মঘট করছেন তাঁরা। আন্দোলনকারীদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই সংখ্যালঘু এই প্রতিষ্ঠানটিকে নিশানা করেছে উত্তর প্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের বিজেপি সরকার।

    তবে রামপুর জেলা প্রশাসন অভিযোগ করেছে, ভবনগুলো অবৈধভাবে ও নিয়ন্ত্রক নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে নির্মাণ করা হয়েছে। ১৫ জুলাই রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) এক নোটিশে ৫ আগস্টের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এসব ‘অবৈধ’ ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন না ভাঙলে প্রশাসন নিজেই বুলডোজার দিয়ে অভিযান চালাবে এবং তার খরচ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে আদায় করা হবে বলে সতর্ক করা হয়।

    পরে রাজ্য প্রশাসন এই আদেশের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জহিরুদ্দিন জানিয়েছেন, স্থগিতাদেশের অর্থ এই নয় যে, ভবন ভাঙার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এর অর্থ হলো আরডিএ-এর দেওয়া ৫ আগস্টের ডেডলাইনের মধ্যে ভবন ভাঙা হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় এখন আদালত থেকে এমন এক রায় চাচ্ছে যাতে এই ধ্বংসের আদেশটি সম্পূর্ণ বাতিল বা খারিজ করা হয়।’

    ২০০৩ সালে গঠিত মোহাম্মদ আলী জওহর ট্রাস্টের মাধ্যমে তিন বছর পর এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন সমাজবাদী পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা আজম খান। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আজীবন আচার্য। বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংসের এই আদেশকে ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ বলে অভিহিত করেছেন সমাজবাদী পার্টির সংসদ সদস্য জাভেদ আলী খান। তিনি বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়কে নিশানা করার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। প্রথমত, এটি প্রতিষ্ঠা করেছেন আজম খান। দ্বিতীয়ত, এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মুলায়ম সিং। তৃতীয়ত, এটি উদ্বোধন করেছিলেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব এবং চতুর্থত, এটি একটি সংখ্যালঘু বিশ্ববিদ্যালয়।’

    অন্যদিকে ভবন ভাঙার এই আদেশকে আইনি প্রক্রিয়ার সংগতিপূর্ণ দাবি করে বিজেপির মুখপাত্র রাকেশ ত্রিপাঠী বলেন, ‘কেউ কি অস্বীকার করতে পারবে যে, আজম খান অবৈধ জমিতে এই বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলেছেন? সমাজবাদী পার্টি সরকারের সময়ে তিনি নিজের পদ ও ক্ষমতা ব্যবহার করে অবৈধ জমিতে এই বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলেন এবং অবৈধ ভবন নির্মাণ করেন। আমরা কেবল অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে আইন অনুসরণ করছি, আর তার মানে হলো এই বিশ্ববিদ্যালয় ভেঙে ফেলা উচিত।’

    রামপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও আরডিএ-এর ভাইস চেয়ারম্যান অজয় কুমার দ্বিবেদী জানান, ‘তাদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং তারা লিখিত জবাবও দিয়েছে। জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মিত ৪০টি ভবনের মধ্যে কেবল ২টি গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। বাকি ৩৮টি ভবনই অবৈধ প্রমাণিত হয়েছে।

    তবে এই দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করে উপাচার্য জহিরুদ্দিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়টি যখন প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন সিংগনখেড়ায় আরডিএ-এর কোনো এখতিয়ার ছিল না। আমরা সরকারি বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদন নিয়ে কোর্স পরিচালনা করছি, যা সব শর্ত পূরণ করলেই কেবল অনুমোদন দেয়।’ আরডিএ-এর এই পদক্ষেপকে শিক্ষার সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘তারা স্বপ্নদ্রষ্টা আজম খানের বিরুদ্ধে একে একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে, যিনি সংখ্যালঘু, গরিব ও পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নতির জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করেছিলেন।’

    ২৫০ একর জুড়ে বিস্তৃত এই ক্যাম্পাসে বর্তমানে ৩ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন, যার প্রায় অর্ধেকই ছাত্রী এবং এক-তৃতীয়াংশের বেশি হিন্দু ধর্মাবলম্বী।

    আইন বিভাগের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী ইকরা বলেন, ‘আমাদের অভিভাবকেরা এখানকার পরিবেশ এবং অন্য যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর সন্তুষ্ট ছিলেন। যদি এই বিশ্ববিদ্যালয় ভেঙে ফেলা হয়, তবে আমাদের মতো মেয়েরা অন্য কোথাও পড়ালেখার দ্বিতীয় কোনো সুযোগ পাবে না। আমাদের অভিভাবকেরা আমাদের অন্য কোথাও পাঠাতে রাজি হবেন না।’

    প্যারামেডিকেলের প্রথম বর্ষের হিন্দু ছাত্রী চাঁদনী দিওয়াকর ধর্মনাস্থ বসে বলেন, ‘তারা হয়তো একে মুসলিমদের বিশ্ববিদ্যালয় বলতে পারে এবং হ্যাঁ, আইনগত মর্যাদার দিক থেকে এটি অবশ্যই একটি সংখ্যালঘু বিশ্ববিদ্যালয়, কিন্তু তার মানে এই নয় যে, এখানে অন্যরা পড়ালেখা করে না। আমি গত এক বছর ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ এবং সংখ্যালঘু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে এক দিনের জন্যও নিজেকে অ-মুসলিম মনে হয়নি।’

    বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র উসামা তাইয়্যব অন্যান্য সফল আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রশ্ন তোলেন, ‘সিজেপির আন্দোলনের পর যদি একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করা যায়, তবে এত শিক্ষার্থী এখানে আন্দোলন করা সত্ত্বেও কেন উত্তর প্রদেশ সরকারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করতে বাধ্য করা যাবে না?’

    আইনের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী উসমান আলী বলেন, ‘অন্যরা যদি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে ফল পেতে পারে, তবে মুসলিম শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ভেঙে ফেলা বন্ধ করার মতো ন্যায্য দাবি আমরা কেন অর্জন করতে পারব না? এর জন্য যদি ত্যাগের প্রয়োজন হয়, আমরা তা দিতে প্রস্তুত।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘পুলিশ আমাদের বাড়িতে আসছে এবং আমাদের অভিভাবকদের পরিণতি ভোগ করার হুমকি দিচ্ছে, কিন্তু আমরা পিছিয়ে যাব না।’

    বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক সাবেক ছাত্র আব্দুল কলিম আনসারি অবাক হয়ে বলেন, ‘এটা বিস্ময়কর যে তারা শিক্ষা সংস্কার নিয়ে কথা বলছে, অথচ একটি সংখ্যালঘু বিশ্ববিদ্যালয় জওহর বিশ্ববিদ্যালয়কে ভেঙে ফেলার নোটিশ দেওয়া হলেও তারা নীরব। এখানকার সমস্ত শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এখন ঝুঁকিতে, আর আমরা জানি না এখান থেকে আমরা কোথায় যাব।’

    এদিকে, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অপূর্বানন্দ ভাঙচুরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন, ‘প্রথমত, তাদের হিন্দু ভোটারদের সামনে প্রভাবশালী মুসলিমদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে একটি প্রদর্শনী বা নাটক তৈরি করা। দ্বিতীয়ত, এই সরকারের পুরো মেয়াদে সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে একটি ধারাবাহিক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এবং তৃতীয়ত, তারা হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে মেলবন্ধন চায় না, যার একটি বড় কেন্দ্র হলো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।’

  • যবিপ্রবির তাপসী রাবেয়া হলে

    যবিপ্রবির তাপসী রাবেয়া হলে

    ছাত্রীদের ক্ষোভ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) মেয়েদের তাপসী রাবেয়া হলের ডাইনিং ব্যবস্থার নানা অনিয়ম ও খাবারের নিম্নমান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আবাসিক ছাত্রীরা। তাদের অভিযোগ, খাবারের মান ও স্বাদ সন্তোষজনক নয়, এছাড়া খাবার পরিবেশনকারীদের আচরণও অমার্জিত। ফলে খাবার নিম্নমানের হলেও মিল রেট (৫০ টাকা) বেশি হওয়ায় অনেকেই নিয়মিত টোকেন কাটতে আগ্রহী নন। এদিকে জুলাই মাস থেকে নূন্যতম ২৫টি টোকেন বাধ্যতামূলক করেছে হল প্রশাসন।

    এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হলের শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, ডাইনিংয়ের খাবারের মান উন্নয়ন ও সেবার মান নিশ্চিত না করে কেবল খাবারের দাম বাড়িয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যায্য নয়।

    এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী বলেন, পড়াশোনা ও পরীক্ষার চাপ সামলাতে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খুবই প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের হলের খাবারের স্বাদ ও মান সন্তোষজনক নয়। অনেক সময় আলু আধাসেদ্ধ থাকে, মুরগির টুকরা খুবই ছোট ও সামান্য দেয়া হয় এবং খাবার মুখে তোলাও কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া যারা খাবার পরিবেশন করে, তাদের ব্যবহার অত্যন্ত খারাপ। আগামী মাস থেকে মিলের মূল্য বাড়ানো হচ্ছে, কিন্তু খাবারের মান উন্নয়নের কোনো নিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে না। আমি মনে করি, খাবারের মান ও স্বাদ ভালো হলে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই টোকেন কাটত।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, সময়মত খাবার পরিবেশন না করা এবং দায়িত্বে থাকা কর্মীদের রূঢ় আচরণ নিয়ে আমি অসন্তুষ্ট। পরীক্ষার সময় নির্ধারিত সময় গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় খাবার প্রস্তুত থাকলেও দেয়া হয় না, আবার কর্মীরাও দেরি করে আসেন। খাবারের স্বাদ ও মানও ভালো নয়। ভাত শক্ত থাকে, আলু ঠিকমত সেদ্ধ হয় না এবং অনেক সময় মেঝেতে খাবার রেখে প্রস্তুত করা হয়। এসব খাবার খেয়ে আমি অসুস্থও হয়েছিলাম। আগামী মাস থেকে খাবারের দাম বাড়ানো এবং বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হচ্ছে। খাবারের মান ভালো হলে বাড়তি দাম দিয়ে খেতে আপত্তি নেই। তবে প্রতিদিন একঘেয়ে, স্বাদহীন ও নিম্নমানের খাবার বাধ্যতামূলকভাবে নেয়া সম্ভব নয়।

    এ বিষয়ে তাপসী রাবেয়া হলের প্রভোস্ট ড. নাজনীন নাহার বলেন, হলে বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীরা থাকেন। সবার খাবারের স্বাদ বা পছন্দ এক হবে না, এটাই স্বাভাবিক। তারপরও আমি সবসময় চেষ্টা করি, রাঁধুনি ও ডাইনিং ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের তদারকিতে রাখতে, যাতে খাবারের মান ভালো থাকে এবং শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্ট হন।

    তিনি আরও বলেন, আরেকটি বড় সমস্যা হলো অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত টোকেন কাটেন না। এতে ডাইনিং পরিচালনায় আর্থিক চাপ তৈরি হয়। অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী টোকেন কাটার কারণে মিল রেটও তুলনামূলক বেশি রাখতে হয়। বিষয়টি সমাধানে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে দেখব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • তিতাস গ্যাসে ১৩৫ পদে চাকরি

    তিতাস গ্যাসে ১৩৫ পদে চাকরি

    তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসিতে ১৩ থেকে ১৮ গ্রেডে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। মোট পদসংখ্যা ১৩৫। আবেদনের শেষ তারিখ ২১ আগস্ট ২০২৬।

    চাকরির বিবরণ

    ১. পদের নাম: হিসাব সহকারী

    পদসংখ্যা: ৪৯

    শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: ন্যূনতম এইচএসসি পাসসহ (বাণিজ্য) হিসাব/অডিট/অর্থ বিষয়ে কমপক্ষে ৪ বছরের অভিজ্ঞতা।

    গ্রেড ও বেতন স্কেল: (গ্রেড–১৩) ১১,০০০-২৬,৫৯০ টাকা।

    ২. পদের নাম: করণিক

    পদসংখ্যা: ২৮

    শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: ন্যূনতম এইচএসসি পাস এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ১ বছরের অভিজ্ঞতা।

    গ্রেড ও বেতন স্কেল: (গ্রেড–১৬) ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা।

    ৩. পদের নাম: উন্নয়নকারী

    পদসংখ্যা: ৪১

    শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: বিজ্ঞানে এসএসসি পাসসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ১ বছরের অভিজ্ঞতা।

    গ্রেড ও বেতন স্কেল: (গ্রেড–১৬) ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা।

    ৪. পদের নাম: সাহায্যকারী

    পদসংখ্যা: ১৭

    শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: বিজ্ঞানে এসএসসি পাসসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ১ বছরের অভিজ্ঞতা।

    গ্রেড ও বেতন স্কেল: (গ্রেড–১৮) ৮,৮০০-২১,৩১০ টাকা।

    বয়সসীমা

    ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে ১৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে।

    আবেদনের নিয়ম

    পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থীরা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আবেদন ফরম পূরণ করতে পারবেন।

    আবেদনের সময়সীমা

    আবেদনপত্র পূরণ ও পরীক্ষার ফি জমাদান শুরুর তারিখ ও সময়: ২৩ জুলাই ২০২৬, সকাল ১০টা।

    আবেদনপত্র জমাদানের শেষ তারিখ ও সময়: ২১ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৫টা।

    *বিস্তারিত দেখুন তিতাস গ্যাস টি অ্যান্ড ডি পিএলসির ওয়েবসাইট, পেট্রোবাংলার ওয়েবসাইট এবং টেলিটকের ওয়েবসাইটে।

  • মিরপুরে দেয়াল ধসে দুইজন নিহত, আহত অন্তত ৬

    মিরপুরে দেয়াল ধসে দুইজন নিহত, আহত অন্তত ৬

    রাজধানীর মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পেছনের সীমানা প্রাচীর ধসে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ছয়জন। মঙ্গলবার দুপুরে লাভ রোড-মন্দির রোড এলাকায় টিসিবির পণ্য বিক্রির সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহতদের একজনের নাম নাছিমা বেগম। তিনি পাশের জনতা হাউজিং এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া ৪০ বছর বয়সী এক পুরুষের মৃত্যু হয়েছে, তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টিসিবির পণ্য সংগ্রহের জন্য কলেজের দেয়ালের পাশে দীর্ঘ লাইনে সাধারণ মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ করেই কলেজের পেছনের সীমানা প্রাচীর ধসে পড়ে। দেয়াল ধসে কয়েকজন নারী-পুরুষ চাপা পড়েন। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। নাছিমা বেগম নামের ওই নারীকে পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। পরে ঢাকা মেডিকেলে এক পুরুষকে মৃত ঘোষণা করা হয়। সেখানে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন আরেক নারী।

    পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার সমকালকে বলেন, দেয়াল ধসে ফুটপাতে পড়লে সাত থেকে আটজন চাপা পড়েন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে এক নারীসহ দুজনের মৃত্যু হয়। তবে তারা টিসিবির পণ্য নেওয়ার জন্য এসেছিলেন কিনা বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। টিসিবির পণ্য বিক্রি হচ্ছিল সড়কে। ওখানে মানুষজন ভিড় করেছিলো। আবার ফুটপাত দিয়েও মানুষজন চলাচল করছিল। দেয়াল ধসে ফুটপাতে থাকা দুইজন মারা যায়। তদন্তে এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

  • রাবির সংঘর্ষের ঘটনা তদন্ত কমিটি

    রাবির সংঘর্ষের ঘটনা তদন্ত কমিটি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সংঘটিত সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করতে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

    সোমবার (২৭ জুলাই) সংঘটিত ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম-২কে আহ্বায়ক করে এ কমিটি গঠন করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. এস এম কামরুজ্জামান।

    কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মো. গোলাম ছাদিক, ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. আসাদুল হক, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম এবং ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এ. নাঈম ফারুকী।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ বলেন, “গতকালের ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন লাইব্রেরি ও অন্যান্য স্থাপনায় কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।”

    তিনি আরও জানান, তদন্ত কমিটি পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় মূলত তিনটি স্থান পরিদর্শন করবে। এগুলো হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, রাকসু ভবন, যেখানে হামলার অভিযোগ উঠেছে এবং প্রক্টর দপ্তর, যেখানে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

    উপ-উপাচার্য বলেন, “তদন্ত কমিটির মূল লক্ষ্য হলো ঘটনার প্রকৃত কারণ ও উৎস অনুসন্ধান করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনাগুলোতে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা যাচাই করা।”

    তিনি জানান, মঙ্গলবার সকালে কমিটির সদস্যরা প্রাথমিক বৈঠক করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত তারা কোনো ভিডিও ফুটেজ বা আলোকচিত্র পর্যালোচনা করেননি। পরবর্তী সময়ে ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

  • নতুন উপাচার্য পেল ৩ বিশ্ববিদ্যালয়

    নতুন উপাচার্য পেল ৩ বিশ্ববিদ্যালয়

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য দিয়েছে সরকার। সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) অধ্যাপক ড. মো. খালেদ উজ্জামানকে নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ‘নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৮ (সংশোধিত ২০২৩)’-এর বিধান অনুযায়ী তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হককে হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় রেললাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

    চুয়াডাঙ্গায় রেললাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

    চুয়াডাঙ্গায় রেললাইনের পাশ থেকে ৭০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতপরিচয় বৃদ্ধার ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করেছে রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি)।

    মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে শহরের ফার্স্ট ক্যাপিটাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রেনে কাটা পড়ে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের রেললাইনে এক বৃদ্ধার লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। সংবাদ পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা ও রেলওয়ে ফাঁড়ি পুলিশের পৃথক দু’টি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে।

    চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) জগদীশ চন্দ্র জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে দুপুর ১টার দিকে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী ‘মহানন্দা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। তার পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি, বয়স আনুমানিক ৭০ বছর।’

    এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের একটি তদন্তকারী দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মৃতের আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) সংগ্রহসহ প্রযুক্তির সহায়তায় তার নাম-পরিচয় শনাক্তকরণ এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছে সংস্থাটি।

    এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা প্রক্রিয়াধীন।

  • শিক্ষায় ঘুষের হাট, ডিজির নেতৃত্বে বদলি বাণিজ্য

    শিক্ষায় ঘুষের হাট, ডিজির নেতৃত্বে বদলি বাণিজ্য

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজধানীর আবদুল গনি রোডের শিক্ষা ভবনটিকে এক সময় সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা- এনএসআই “দুর্নীতির ভবন” বলে আখ্যায়িত করেছিল। কিন্তু শিক্ষায় ঘুষ-দুর্নীতি এখন আর শুধুমাত্র এই ভবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সারাদেশেই এর নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হয়েছে। তবে ভবন থেকেই ঘুষ-দুর্নীতির নেতৃত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা ক্যাডারের বর্তমানে সর্বোচ্চ পদে যিনি আছেন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল স্বয়ং-এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা ছাড়াও বাইরের রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরাও ডিজি সোহেলের ঘুষ কালেকশনের কাজে নিয়োজিত আছেন। অবাক ব্যাপার হলো, অনেক ক্ষেত্রে দালালদের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও ঘুষ লেনদেন হচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য শীর্ষকাগজ-শীর্ষনিউজের হাতে এসেছে। অতীতে আওয়ামী লীগ আমলে যারা শিক্ষাখাতে দালাল হিসেবে কাজ করেছেন অধিকাংশ ক্ষেত্রে এরাই ডিজি খান মইনুদ্দিন সোহেলের অধীনে নিয়োজিত রয়েছেন, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

    মাধ্যমিক স্কুল এবং কলেজ উভয় সেক্টরের জন্য আলাদা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন ডিজি সোহেল। খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল যেহেতু বিএনপির আগের আমলে আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে প্রতিমন্ত্রীর এপিএসের দায়িত্ব পালন করেছেন তাই শিক্ষাখাতের দুর্নীতির ফাঁক-ফোকরগুলো সবই তাঁর জানা। তাছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তিনি অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। মূলতঃ এই সময়ই ঘুষ লেনদেনের দেশব্যাপী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন খান মইনুদ্দিন সোহেল। যা পরবর্তীতে ডিজি (মহাপরিচালক) পদে আসীন হওয়ার পর ব্যাপকভাবে বিস্তৃতি লাভ করে।

    সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে ঘুষকাণ্ডে ভেঙে পড়েছে শিক্ষা খাতের শৃঙ্খলা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে জুনিয়রদের পদায়ন করা হচ্ছে সিনিয়রদের ডিঙিয়ে। ফ্যাসিস্ট চিহ্নিত কর্মকর্তারা এ বিষয়ে অগ্রাধিকার পাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বসানো হচ্ছে পুরনো ফ্যাসিস্টদের! এর মধ্যেই রয়েছে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সদস্য, বঙ্গবন্ধু গবেষক ইত্যাদি।ডিজির ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত পৌঁছেছে
    এসব বদলি বাণিজ্য এবং ঘুষ লেনদেন নিয়ে মাঝেমধ্যে সমস্যাও তৈরি হচ্ছে। কখনো কখনো ঘুষের রেট কমবেশির কারণে অগ্রিম টাকা নিয়েও বদলির কাজ সম্পন্ন করছেন না ডিজি সোহেল। তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, একটি পদের জন্য একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন তিনি। ফলে সবার কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে ঘুষের টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না। এ নিয়ে তদবিরকারী গ্রুপগুলোর সঙ্গে ডিজি সোহেলের মনোমালিন্য, বাক-বিতণ্ডাও হচ্ছে। এমনকি মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত অভিযোগ যাওয়ারও নজির সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, অতি সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে এ রকমের গুরুতর এক অভিযোগ দিয়েছেন মাগুরার যুবদল নেতা নয়ন, যিনি ‘স্লোগান নয়ন’ হিসেবে পরিচিত। অভিযোগটি হলো, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন নিরীক্ষা ও পরিদর্শন অধিদপ্তরের একজন শিক্ষা পরিদর্শকের বদলির আদেশ বাতিল করা নিয়ে। নিরীক্ষা ও পরিদর্শন অধিদপ্তরের শিক্ষা পরিদর্শক মো. সাইফুর রহমান সুমনকে ইতিপূর্বে অন্যত্র বদলি করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকেবদলির আদেশটি জারি হয়। খান মইনুদ্দিন সোহেল তখন শিক্ষামন্ত্রীর পিএস পদে ছিলেন। পরবর্তীতে এই বদলির আদেশ বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সোহেল ২০ লাখ টাকা ঘুষ নেন। সাংবাদিক পরিচয়দানকারী ‘মৃধা’ নামে এক দালালের মাধ্যমে ঘুষের লেনদেনটি হয়। কিন্তু এর আগে সুমনের জায়গায় অন্য আরেকজন কর্মকর্তাকে পদায়ন করেন সোহেল আরও বড় অংকের ঘুষ নিয়ে। ওই কর্মকর্তাকে সরানো যায়নি, তাই শিক্ষা পরিদর্শক সুমনেরও বদলির আদেশ বাতিল করা যায়নি। তবে সুমনের কাছ থেকে নেওয়া ঘুষের ২০ লাখ টাকাও ফেরত দেননি ডিজি খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। এ নিয়ে অনেক চেষ্টা-তদবিরও করেন সুমন। অবশেষে নিজের মাগুরা এলাকার যুবদল নেতা নয়নের সহায়তা চান। যুবদল নেতা নয়ন এ বিষয়ে ডিজি সোহেলের সঙ্গে কথা বলেন একাধিকবার। তাতে ব্যর্থ হয়ে শেষে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেন। অভিযোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা। এতো কিছুর পরও ডিজি খান মইনুদ্দিন সোহেল ঘুষের ওই টাকা ফেরত দেননি। তবে টাকাটা-তো তাঁর পকেটে নেই, তাই দিতে পারছেন না- একথা বলছেন সোহেলের ঘনিষ্ঠরা।বদলি বাণিজ্য ও ঘুষ লেনদেনে অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙেছে
    মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর অর্থাৎ ডিজি অফিসে বদলি বাণিজ্য ও ঘুষ লেনদেনের এখন যেসব কাজ কারবার চলছে তাতে অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে গেছে। শিক্ষা ভবন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ডিজি খান মইনুদ্দিন সোহেল যেভাবে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে ঘুষ লেনদেন জড়িত হয়েছেন এ রকমের পরিস্থিতি অতীতের কোনো ডিজির ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। ছোট-খাটো লেনদেনও তিনি নিজে সরাসরি জড়িত হচ্ছেন। ঘুষ ছাড়া তিনি কোনো কাজেই হাত দেন না। ঘুষ লেনদেনে খান মইনুদ্দিন সোহেলের হাত পেকে গেছে ইতিপূর্বে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর এপিএস থাকাকালেই। মূলত: এ যোগ্যতার কারণেই এবার শিক্ষামন্ত্রীর পদ লাভের পর সোহেলকে পিএস (একান্ত সচিব) পদে নিয়োগ দেন এহছানুল হক মিলন। তাও নিয়ম-নীতি লঙ্ঘন করে। পিএস-এপিএস পদগুলো জনপ্রশাসনের। নিয়ম অনুযায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ই পিএস-এপিএস পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী আ ন হ এহছানুল হক মিলন তা শুনতে রাজি নন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকেই তিনি এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারির ব্যবস্থা করেন। তখনকার শিক্ষা

    সচিব রেহানা পারভীন অবশ্য এ ধরনের অবৈধ অফিস আদেশ জারিতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু যেহেতু তাঁর নিজের চেয়ারও টলটলায়মান তাই মন্ত্রীর ওই অবৈধ নির্দেশ পালনে বাধ্য হন সচিব রেহানা পারভীন। অফিস আদেশটি জারি হয় গত ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। পরবর্তীতে পিএস পদ থেকে তাকে সরাসরি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) করা হয়। কিন্তু ড. সোহেলের এই ডিজি পদে নিয়োগ নিয়েও তখন অনেক নাটকীয়তা তৈরি হয়।

    একেতো, তিনি আগে থেকেই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন। ৫ আগস্ট, ২০২৪-এর পরে পরিচালক (মাধ্যমিক) পদে এসে দেড় বছরে প্রায় ১৭০০ শিক্ষক বদলি করেন। এসব বদলি বাবদ হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় ৫০ কোটি টাকা। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবরও প্রকাশিত হয়েছে। তাছাড়া, শিক্ষা ক্যাডারের তাঁরচেয়ে সিনিয়র ব্যাচের অনেক কর্মকর্তা রয়েছেন। অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (প্রশিক্ষণ) পদ থেকে অবসরে যাওয়া মোহাম্মদ আবদুস সবুরকে চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগের জন্যসুপারিশ করেন বিএনপির মহাসচিব, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি মহাসচিবের সুপারিশটি বেশ কিছুদিন ঝুলে ছিল। শিক্ষাসচিব আবদুল খালেক পূর্ব নির্ধারিত বিদেশ সফরে যাওয়ার প্রাক্কালে বিএনপি মহাসচিবের ওই সুপারিশ অনুযায়ী আবদুস সবুরকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের নথি অনুমোদন করেন। কিন্তু নথিটি মন্ত্রীর দপ্তরে গেলে মন্ত্রী এহছানুল হক মিলন অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন। তিনি নথির প্রস্তাব নাকচ করে শাখায় পাঠিয়ে দেন এবং পিএস ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলকে চলতি দায়িত্বে ডিজি পদে নিয়োগের প্রস্তাব দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন করে নথি উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। তড়িৎ গতিতে সেভাবেই নথি উপস্থাপিত হয়। পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল, মঙ্গলবার) ছুটির দিনে বিশেষ ‘বার্তা বাহক’ এই নথিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠান মন্ত্রী। কিন্তু সোহেলকে ডিজি নিয়োগের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন না করে ফেরত দেন। এতে মন্ত্রী আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেন। প্রধানমন্ত্রী নাকচ করার পরও তিনি একই ব্যক্তি অর্থাৎ পিএস সোহেলকে অতিরিক্ত দায়িত্বে ডিজি পদে নিয়োগের অফিস আদেশ জারি করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ অফিস আদেশটি জারি হয় ১৬ এপ্রিল। এ নিয়ে তখন ব্যাপক কানাঘুষা চলে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সমালোচনা হয়। এর এক সপ্তা পরে ২৩ এপ্রিল তাকে চলতি দায়িত্বে ডিজি করা হয়।

    শিক্ষাখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পিএস থেকে ডিজি পদে নিয়োগ এবং এতো বেপরোয়া ঘুষখোর কর্মকর্তা অতীতে কখনো অধিদপ্তরের ডিজি অর্থাৎ শিক্ষা ক্যাডারের সর্বোচ্চ এই পদে নিয়োগ পাননি। শিক্ষা ক্যাডারের কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনি অত্যন্ত জুনিয়রও বটে। এসব দিক থেকে ডিজি সোহেল অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙেছেন। তাছাড়া ডিজি পদে নিয়োগের পর থেকে খান মইনুদ্দিন সোহেল বদলি বাণিজ্য ও ঘুষের যে নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি করেছেন তাতে অতীতের সকল নজির ছাড়িয়ে গেছে, এতে কারো সন্দেহ নেই। যুবদল নেতা নয়নের অভিযোগের চাক্ষুষ উদাহরণ ইতিমধ্যেই এ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। শীর্ষকাগজের চলতি সংখ্যার আরেকটি আলাদা প্রতিবেদনে ঘুষ সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া ঘুষের রেট নির্ধারণ এবং নেটওয়ার্ক বা দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলা ও এর মাধ্যমে প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনের নতুন নজির তো রয়েছেই।

    ডিজি সোহেলের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতের সংগৃহীত কোটি কোটি টাকার ভাটবাটোয়ারায় মাত্র একটি ক্ষুদ্র অংশ পান ড. সোহেল। বড় একটি অংশ চলে যায় মন্ত্রীর বাসায়। মন্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে সোহেলের পরিচয়-সম্পর্ক রয়েছে এপিএস থাকাকালেই। সেই সূত্রে মন্ত্রীর বাসায় সোহেলের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে বলে জানা যায়।মহাপরিচালক পদে বসে নিজেরই পরিচালক পদের পদায়নগুলো পাল্টে দিলেন!
    ড. খান মইনুদ্দিন সোহেল অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পরিচালক (মাধ্যমিক) থাকা অবস্থায় ডিজি অফিস ছাড়াও ঢাকা শহরের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রত্যেক জেলায় একাধিক শিক্ষক নিয়ে গড়ে তুলেন বদলি বাণিজ্যের নেটওয়ার্ক বা সিন্ডিকেট। অনেক ক্ষেত্রেই কলেজ এবং স্কুল পর্যায়ের সিন্ডিকেট একযোগে কাজ করছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে আলাদা নেটওয়ার্কও রয়েছে। পরিচালক (মাধ্যমিক) পদে থেকেই ঘুষ লেনদেনের একটি অঘোষিত রেট নির্ধারণ করেছেন তিনি। তবে মহাপরিচালক পদে বসার পরে সেই রেট পুরোপুরিভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বলে জানা যায়। যেমন- ঢাকা শহরে প্রধান শিক্ষক স্কুলভেদে ৫-১০ লাখ টাকা, জেলা শিক্ষা অফিসার জেলার গুরুত্ব অনুসারে ৫-১০ লাখ, উপপরিচালক ২০-৩০ লাখ টাকা। সহকারী শিক্ষক ঢাকা শহরে ২-৩ লাখ টাকা, ঢাকার বাইরে ১-২ লাখ টাকা। কলেজের ক্ষেত্রেও তেমনই। কলেজ শিক্ষকদের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ যে কোন দপ্তরের চেয়ারম্যান- দেড় থেকে দুই

    কোটি টাকা, ডিজি পর্যায়ের- দুই কোটি বা তদুর্ধ্ব পরিমাণ, পরিচালক পর্যায়ের পদ এক কোটি, বড় সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ পদ ৩০-৫০ লাখ, আঞ্চলিক পরিচালক পদ ৩০-৪০ লাখ টাকা ইত্যাদি। এছাড়া শিক্ষা ক্যাডারের অন্যান্য পদগুলো ২ লাখ থেকে গুরুত্বভেদে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এই টাকা-তো শুধুমাত্র মহাপরিচালক নেন, দালালরা নেন আরও প্রায় সমপরিমাণ টাকা। বিএনপিপন্থি অর্থাৎ রাজনৈতিক মতাদর্শগত মিল থাকার প্রয়োজন নেই, বরং আগের ক্ষমতাবান আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা অগ্রাধিকার পাচ্ছে। কারণ, তাদের হাতে আছে প্রচুর পরিমাণে টাকা।

    শিক্ষা ক্যাডারের যেসব বদলি-পদায়নের দায়িত্বে রয়েছে মন্ত্রণালয়- সেগুলোও পুরোপুরোই নিয়ন্ত্রণ করছেন ডিজি ড. সোহেল। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিদিন অসংখ্য বদলি-পদায়নের দরখাস্ত জমা পড়ে। এইসব দরখাস্ত গ্রহণ এবং তাতে মার্ক করারও সুব্যবস্থা আছে মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ ব্যক্তিরা এগুলোতে স্বাক্ষর করে সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠান। কিন্তু আদতে এইসব দরখাস্তে কোনো কাজ হয় না। যারা বদলি-পদায়নের ব্যাপারে অতি আগ্রহী তাদেরকে মন্ত্রণালয়ের ভেতর থেকেই বলে দেওয়া হয়, কোথায় বা কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। ডিজি সোহেলই সবকিছুর মূলে এটা মোটামুটি সবাই জানেন। সোহেলের সবুজ সংকেত ছাড়া কোনো বদলির নথি মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপিত বা অনুমোদন হয় না, বলছেন সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পিএস পদে বসেই দুর্নীতির ধরন পরিবর্তন করেছেন ড. সোহেল। শুধু টাকাই নয়, টাকার সঙ্গে আবেদনে মন্ত্রী কিংবা এমপির কাছ থেকে সুপারিশ বাধ্যতামূলক করেছেন তিনি। তবে মন্ত্রী-এমপিদের সুপারিশের বিষয়টা হলো লোক দেখানো। অর্থাৎ মন্ত্রী-এমপিদের সুপারিশের নাম ভাঙিয়ে ডিজি সোহেল দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছেন অধিদপ্তরকে। আদতে বদলির ক্ষেত্রে কোনো দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয় না। টাকা যার বদলি তার। দেশের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় বা কলেজের যে কোনো শিক্ষককে প্রশ্ন করা হলে এর সত্যতা পাওয়া যাবে। বিএনপির নাম ব্যবহার করে মহাপরিচালক সোহেল যা করছেন তা বিএনপির জন্য খুবই অশনিসংকেত। বিগত সরকারের আমলে যেসব শিক্ষক ফ্যাসিস্টের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন তাদের মধ্যে থেকে বেশকিছু শিক্ষককে সোহেল পরিচালক (মাধ্যমিক) থাকা অবস্থায় শাস্তিমূলক বদলি করেছিলেন জনস্বার্থে। কিন্তু তিনি মহাপরিচালক পদে বসার পর ফ্যাসিস্টের সহযোগী ওই শিক্ষকদের প্রায় সবাইকে পূর্বপদে ফিরিয়ে এনেছেন মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে। কাউকে কাউকে আগের চেয়েও আকর্ষণীয় পদায়নের চমক দেখিয়েছেন ডিজি সোহেল। শুধু তাই নয়টাকার বিনিময়ে এই শিক্ষকদের এমন জায়গায় ফিরিয়ে এনেছেন যেখানে তাদের পদায়নের সুযোগ নেই অর্থাৎ ওই বিষয়ের পদ শূন্য নেই। এমন অনেক শিক্ষক আছেন যাদেরকে কয়েক মাস আগে ‘জনস্বার্থে’ বদলি করা হলেও কয়েক মাসের মধ্যেই তাদেরকে ‘অফিস আদেশে’ ফিরিয়ে আনা হয়েছে পূর্বের কর্মস্থলে। এমন কিছু বিতর্কিত শিক্ষককে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বদলি করে আনা হয়েছে, যা সারাদেশের শিক্ষকদের অবাক করেছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়- ময়মনসিংহ জেলা স্কুল থেকে ৩ জন আওয়ামী ফ্যাসিস্ট চিহ্নিত শিক্ষককে কয়েকমাস আগে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু বদলির কয়েক মাসের মধ্যেই তাদের ৩ জনের একজনকে ময়মনসিংহের ফুলপুরে আনা হয়। কয়েকদিন আগে সদ্য বদলি করে আনা ওই শিক্ষকসহ মোহনগঞ্জের ফ্যাসিস্ট সমর্থক আরেক শিক্ষককে ময়মনসিংহ বিদ্যাময়ী স্কুলে বদলি করে আনা হয়েছে। আরও অবাক করার বিষয় হলো, ময়মনসিংহ বিদ্যাময়ী স্কুলের ব্যবসা শিক্ষার একটি শূন্য পদের বিপরীতে একজন মানবিক বিজ্ঞান ও একজন গণিতের শিক্ষককে পদায়ন দেওয়া হয়েছে। একইভাবে টাঙ্গাইল বি. বি. সরকারি বালক/ বালিকা বিদ্যালয়ে একটিও ইংরেজি শিক্ষকের শূন্য পদ না থাকলেও ৪ জন

    ইংরেজি শিক্ষককে এখানে বদলিভিত্তিক পদায়ন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ঢাকা থেকে শেখ রাসেল উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন ফ্যাসিস্ট চিহ্নিত শিক্ষক, যিনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রতিহত করার লক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগের ব্যানার হাতে জাতীয় পতাকা মাথায় বেঁধে লাঠি হাতে শাহবাগে বসে ছিলেন- এই ছবিটি তখন সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। ওই শিক্ষককে ড. সোহেল পরিচালক (মাধ্যমিক) থাকাকালে পার্বত্যঞ্চলে শাস্তিমূলক বদলি করেছিলেন। কয়েকদিন আগে তাকে ধানমণ্ডি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বদলি করে আনা হয়েছে। অর্থাৎ তাকে শেখ রাসেল উচ্চ বিদ্যালয়ের চেয়েও আকর্ষণীয় পদায়নে দেওয়া হয়েছে। কত টাকার বিনিময়ে ডিজি সোহেল এটা করেছেন, এ প্রশ্ন সংশ্লিষ্টদের।

    শিক্ষা ক্যাডারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ হলো পরিচালক, কলেজ ও প্রশাসন। ড. সোহেল মহাপরিচালক পদের দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন দিন আগে ১৩ এপ্রিল এই পদে পদায়নের ব্যবস্থা করেন ফরিদপুরের সরকারি আইনউদ্দীন কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাজমুল হককে। আওয়ামী লীগ আমলে তিনি আইনউদ্দীন কলেজে একনাগাড়ে ১০ বছর ৫ মাস অধ্যক্ষ পদে ছিলেন। অথচ তাকেই পছন্দ সোহেল এবং মন্ত্রীর। সর্বশেষ গত ২৩ জুলাই জাবি ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি এম এম সহিদুল ইসলামকে কোনো কারণ ছাড়াই ডিআইএ’র পরিচালক পদ থেকে সরিয়ে রাজেন্দ্র কলেজেররাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে সংযুক্তি দিয়ে ওএসডি করা হয়েছে। অবশ্য, এর কারণ তো নিশ্চয়ই আছে। তা হলো, নতুন যাকে এই পদে পদায়ন দেওয়া হয়েছে মো. আলফাতুন, তিনি শিক্ষা ক্যাডারের ২০ তম ব্যাচের অর্থাৎ অত্যন্ত জুনিয়র কর্মকর্তা এমনকি আওয়ামীপন্থি হিসেবেও পরিচিত, তাঁর কাছ থেকে পাওয়া গেছে নাকি এককালীন ৫০ লাখ টাকা। এছাড়া প্রতি মাসে পাওয়া যাবে আরও ৫ লাখ টাকা করে। সম্প্রতি শিক্ষা অধিদপ্তরের বেসরকারি কলেজ শাখায় সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ পেয়েছেন মো. ফিরোজ মিয়া। তিনি ৩০তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা। ২০২৪ সালের শিক্ষা ক্যাডার সমিতির আওয়ামীপন্থি প্যানেল থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন তিনি। ‘বঙ্গবন্ধু’কে নিয়ে প্রবন্ধ লিখে বাড়তি সুবিধা নেন তিনি। এর আগে চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল তাকে শিক্ষা প্রশাসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করা হয়। শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে একের পর এক মো. ফিরোজ মিয়ার পদায়নকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। শুধু এগুলোই নয়, এ রকমের অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে।

    লেনদেনের দালাল নেটওয়ার্ক
    খান মইনুদ্দিন সোহেলের বদলি বাণিজ্য ও অর্থ লেনদেনের কাজে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে ইতিপূর্বে সারোয়ার হোসেন, নাজিম উদ্দিন, কাওসার আহমেদ অন্যতম ছিলেন। আর্থিক লেনদেন নিয়ে এদের সঙ্গে সমস্যা বেধে যাওয়ায় নানা অভিযোগ তুলে বিভিন্ন সময়ে তাদেরকে শাস্তিমূলক বদলির ব্যবস্থা করেন সোহেল। শিক্ষা ভবনে বর্তমানে অর্থ লেনদেনে মূল ভূমিকায় রয়েছেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর খোকন রানা, পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) এর পিএ আবদুর রহিম এবং ডিজির পিএ ফরহাদ। ক্ষমতাবান ফরহাদ ইতিপূর্বে অন্তত ৭ জন ডিজির পিএ’র দায়িত্ব পালন করেন। এবং এসব ডিজির কালেক্টর হিসেবেও পরিচিত ছিলেন তিনি। এখন সোহেলের অন্যতম কালেক্টর। ল্যাবরেটরি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাসুদুল হক এবং অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আব্দুল ওহাবও এরমধ্যে রয়েছেন। সরকারি ল্যাবরেটরি উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক হারুন-অর-রশীদের ব্র্যাক ব্যাংকের ধানমণ্ডি শাখার একটি অ্যাকাউন্টে ইতিপূর্বে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ডিজি সোহেলের বদলি বাণিজ্যের টাকা জমা হয়েছে। ব্যাংক অ্যাকউন্টটির নম্বর হলো- ১৫৪৭১০৫০৮২৮৯১০০১। একজন সাবেক শিক্ষক নেতা শীর্ষকাগজ ও শীর্ষনিউজ প্রতিবেদককে এ তথ্য জানিয়েছেন। এই অ্যাকাউন্টটির কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এই শিক্ষক নেতা নিজেও সোহেলের বদলি বাণিজ্যের সিন্ডিকেটে যুক্ত ছিলেন। তিনি জানান, শুধু এই একটি ব্যাংক হিসাবই নয়, এ রকমের আরও অনেকগুলো ব্যাংক হিসাবে সোহেলের বদলি বাণিজের ঘুষ লেনদেন হয়ে থাকে। সিন্ডিকেটের সারাদেশের সদস্যরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই টাকা পাঠান। ব্যাংকে টাকা জমা হওয়ার পরেই কাঙ্ক্ষিত পদায়নের আদেশ জারি করা হয়। বেনামী এসব ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো কোনোটিই ড. সোহেল বেশিদিন ব্যবহার করেন না। দালাল সিন্ডিকেটের সদস্যদের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে তা নিজের ঘুষ লেনদেনের কাজে ব্যবহার করেন।

    শিক্ষক সমিতির সাবেক ওই নেতা জানিয়েছেন, তিনি নিজেও ড. সোহেলকে বদলি বাণিজ্যের অনেক টাকা সংগ্রহ করে দিয়েছেন। গত বছরের ১২ জানুয়ারি ১৩ জন শিক্ষকের পদায়নের জন্য তিনি তখনকার পরিচালক (মাধ্যমিক) ড. খান মইনুদ্দিন সোহেলের ফোনে হোয়াটসঅ্যাপে তালিকা পাঠান। কিন্তু তালিকার ৮ জনের বদলির আদেশ জারি হলেও বাকি ৫ জনের পদায়ন হয়নি। অথচ ড. সোহেল এ বাবদ অগ্রিম টাকা নিয়েছেন। টাকাও ফেরত দেননি। পরে এ নিয়ে সোহেলের সঙ্গে পরিচালকের দপ্তরে তর্কাতর্কি পর্যন্ত হয়। সেই টাকা এখনো ফেরত পাওয়া যায়নি। সেই থেকে তিনি ড. সোহেলের হয়ে আর কাজ করছেন না বলে জানিয়েছেন।

  • জুলাইয়ে অপেক্ষা করতাম, কখন জবির মিছিল আসবে: নাহিদ ইসলাম

    জুলাইয়ে অপেক্ষা করতাম, কখন জবির মিছিল আসবে: নাহিদ ইসলাম

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের ভূমিকা স্মরণ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা যখন জুলাই আন্দোলন করতাম, তখন অপেক্ষা করতাম কখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিছিল আসবে।

    সোমবার (২৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: স্ফুলিঙ্গ থেকে চলমান বিপ্লব’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় ছাত্রশক্তি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

    জুলাই আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূমিকার প্রশংসা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ আছেন, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়া গর্বের। আমরা জুলাইয়ের সকল শহীদ এবং যাদের সামান্য আত্মত্যাগও রয়েছে, তাদের সবাইকে স্মরণ করছি।

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রায় সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। অথচ প্রতিষ্ঠানটি অনেক ক্ষেত্রেই তাদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনেও তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেমন দেশ গঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে অবদান রেখেছে, তেমনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানও ইতিহাসে সমানভাবে স্মরণীয়।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের সমস্ত আন্দোলনের সামনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের। সকলের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে সুনজর দিতে।

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও উন্নত ও আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থান করায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মেধাবী শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশোনার সুযোগ পান। তাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

    আলোচনা সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

    সভায় জুলাইয়ের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র নিহত শহীদ ইকরামুল হক সাজিদের মা আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, আমি আমার সাজিদের গেঞ্জি নিয়ে এখনো ঘুমাই। আমি এখনো জিন্দা লাশের মতো বেঁচে আছি। আমি শহীদের মা হিসেবে এখানে এসেছি।

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অগ্রসেনা ও শহীদদের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে সাহস জুগিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা এমন একটি সমাজ প্রত্যাশা করি, যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না।

    জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. ইমরানুল হক বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ কখনো ভুলে যাওয়া যাবে না। জুলাই যেন বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া এবং বৈষম্য দূর করার প্রেরণা হয়ে থাকে। তিনি বলেন, সাজিদের মতো মৃত্যু কারও ভাগ্যে যেন না জোটে। জগন্নাথ থেকে আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমরা কখনো দ্বিতীয় হব না, আমরা প্রথম হব।

    জবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. নাসির উদ্দিন বলেন, জগন্নাথবাসী নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগকে ফিরতে দেবে না। তিনি শিক্ষাঙ্গনে সহিংস রাজনীতির পুনরাবৃত্তি না হওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

    জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ যোদ্ধা মাহাদী আমিনের বাবা আল-আমিন আন্দোলনের সময়কার স্মৃতিচারণ করে বলেন, যাত্রাবাড়ীতে তার একটি ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল। আন্দোলনের সময় তিনি আন্দোলনকারীদের পানি দিয়ে সহযোগিতা করতেন। পরে তার ছেলে মাহাদীর মাথায় গুলি লাগার পর পরিবারের জীবন আমূল বদলে যায়।

    জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, স্বৈরাচারের পতন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার এবং বেকারত্ব দূর করা ছিল আন্দোলনের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা। তিনি বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়েও সমালোচনা করেন।

    জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, জুলাইয়ের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বৈষম্য দূর করা। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও বক্তব্য দেন।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল-আমিন। তিনি বলেন, অতীতে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় রাজনৈতিক দমন-পীড়নের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে কেউ অন্যায় বা জুলুম করতে চাইলে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    জবি ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রথম দিক থেকেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তবে বিভিন্ন কারণে সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়টির অবদান পর্যাপ্ত গণমাধ্যম কাভারেজ পায়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

    আলোচনা সভাই বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন, শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক নিপীড়ন বন্ধ এবং জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

  • সাড়ে সাত বছরে সড়কে ঝরেছে ৭,৩৬৪ শিক্ষার্থীর প্রাণ

    সাড়ে সাত বছরে সড়কে ঝরেছে ৭,৩৬৪ শিক্ষার্থীর প্রাণ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীদের প্রাণহানি চলছেই। ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত সাড়ে সাত বছরে সড়কে মৃত্যু হয়েছে ৭ হাজার ৩৬৪ জন শিক্ষার্থীর, যা সড়ক দুর্ঘটনায় মোট নিহতের ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ। এ তথ্য সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের।

    প্রতিষ্ঠানটি সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে দেখেছে, নিহতের ৪৫ দশমিক ১৯ শতাংশই ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী। এই বয়সী নিহত শিক্ষার্থীর মোট সংখ্যা ৩ হাজার ৩২৮। তারা স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন ৪ হাজার ৩৬ জন, অর্থাৎ মোট শিক্ষার্থীর ৫৪ দশমিক ৮১ শতাংশ।

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, কম বয়সী শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়া-আসার পথে এবং বাড়ির আশপাশে খেলার সময় অটোরিকশা, বাইক ও পণ্যবাহী যানবাহনের ধাক্কায়–চাপায় নিহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনা গ্রামীণ সড়কে বেশি ঘটেছে।অন্যদিকে ১৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা বাইকের চালক ও আরোহী হিসেবে বেশি নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনা আঞ্চলিক ও মহাসড়কে বেশি ঘটেছে।

    বাইসাইকেল আরোহীরা থ্রি-হুইলার, মোটরসাইকেল ও মালবাহী অনিরাপদ যানবাহনের ধাক্কায় গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কে বেশি নিহত হয়েছেন। অটোরিকশার চাকায় ওড়না বা পোশাক পেঁচিয়ে দুর্ঘটনার মতো ব্যক্তিগত অসতর্কতার কারণেও প্রাণহানি ঘটেছে।

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, দেশের অমিত সম্ভাবনাময় গোষ্ঠী হচ্ছে শিক্ষার্থী। আর কর্মক্ষম গোষ্ঠী হচ্ছেন যুবকেরা। এ দুই শ্রেণির মানুষই সড়কে বেশি মারা যাচ্ছেন। এটা রোধ করা না গেলে ভবিষ্যতের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়।তিনি বলেন, বক্তৃতা করে এর সমাধান করা যাবে না। এর জন্য দরকার টেকসই পরিবহন কৌশল এবং এর কঠোর বাস্তবায়ন। স্বার্থবাদী গোষ্ঠী নিজেদের দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির স্বার্থে সড়কে বিশৃঙ্খলা বজায় রাখে। তাদের চাপের ঊর্ধ্বে উঠে সরকারকে কাজ করতে হবে।

    শিক্ষার্থী মৃত্যুর চিত্র
    রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে, গত সাড়ে সাত বছরে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট মারা গেছেন ৪৮ হাজার ৭১৩ জন।

    যে ৭ হাজার ৩৬৪ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন, তার মধ্যে ৬৯৩ জন ২০১৯ সালে, ৭১৯ জন ২০২০ সালে ও ৯৩৬ জন ২০২১ সালে নিহত হন। গত সাড়ে সাত বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৩৮৫ জন শিক্ষার্থী মারা গেছেন ২০২২ সালে। ২০২৩ সালে শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন ১ হাজার ১৫৩ জন।২০২৪ ও ২০২৫ সালে শিক্ষার্থী মৃত্যু হয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৭৩ ও ১ হাজার ১৪ জন। গত ছয় মাসে ৩৯১ জন শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

    এর বাইরে অসাবধানে রেললাইন পারাপারের সময় ও হেডফোন ব্যবহার করে রেললাইন ধরে হাঁটার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে ১ হাজার ২৩৭ জন শিক্ষার্থী নিহত হন।

    দুর্ঘটনার কারণ ও সুপারিশ
    সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সাতটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ তুলে ধরেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। প্রতিকারে সাতটি সুপারিশও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সড়ক দুর্ঘটনার বড় কারণ সম্পর্কে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেছে, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক এবং অনিরাপদ যানবাহন; সড়ক ব্যবহার বিষয়ে সচেতনতার অভাব; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকা; সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা না থাকা; শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেপরোয়া বাইক চালানোর মানসিকতা; ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা এবং অসুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি।এগুলো দূর করতে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সুপারিশ হচ্ছে: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে বছরে একবার ক্যাম্পেইনের আয়োজন করতে হবে। সরকারি উদ্যোগে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং ক্লাস–পরীক্ষায় সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশ্ন থাকতে হবে। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জীবনমুখী প্রচারণার মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। অনিরাপদ যানবাহনের চলাচল বন্ধ করতে হবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশের সড়কে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

    কোনোভাবেই যেন অপ্রাপ্তবয়স্করা বাইক চালাতে না পারে, সে জন্য আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং পারিবারিক সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ দরকার।

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের বেপরোয়া বাসের চাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন কলেজের দুজন শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় ঢাকাসহ সারা দেশের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। এরপর ৮ বছর পেরিয়ে গেলেও সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সড়ক দুর্ঘটনাও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘমেয়দি কোনো টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে, তা অনেকটা অবৈজ্ঞানিক ও সমন্বয়হীন।প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, সড়ক পরিবহন আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক পরিবহন খাতের স্বার্থবাদী গোষ্ঠী নিজেদের দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির স্বার্থে সড়কে বিশৃঙ্খলা বজায় রাখে। মাঝেমধ্যে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য কমিটি গঠন ও সুপারিশ তৈরি করা হয়। কিন্তু কোনো সুপারিশই আলোর মুখ দেখে না। মূলত কমিটি গঠন ও সুপারিশ তৈরির মধ্যেই সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ঘুরপাক খাচ্ছে। বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি নেই।

  • ঢাবিতে প্রচলিত সান্ধ্য আইন নিয়ে ছাত্রীদের ক্ষো/ভ

    ঢাবিতে প্রচলিত সান্ধ্য আইন নিয়ে ছাত্রীদের ক্ষো/ভ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী হলগুলোতে রাতের নির্ধারিত সময়সীমা, প্রবেশে কড়াকড়ি এবং বিভিন্ন বিধিনিষেধকে কেন্দ্র করে প্রচলিত সান্ধ্য আইনের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। এসব নিয়মকে হয়রানিমূলক ও বৈষম্যমূলক দাবি করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। হলের ছাত্রীদের ন্যায্য প্রবেশাধিকার ও মৌলিক সুবিধাগুলো সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের কাছে তারা একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন।

    সোমবার উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের কার্যালয়ে ‘বৈষম্যহীন নারী হল চাই’ প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে এই স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

    বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল সংসদের সংস্কৃতি সম্পাদক হুমায়রা উপন্যাস বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় ও অবস্থান ভিন্ন হলেও নারীর অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে সবাই একমত হয়েছেন। এ লক্ষ্যেই গত রোববার রাতে ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ায় বিভিন্ন হলের নারী প্রতিনিধিদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    স্মারকলিপিতে তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করা হয়। প্রথমত, বৈধ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে আবাসিক ও অনাবাসিক সব ছাত্রীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীহলে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ছাত্রী হলের মূল ফটকের সময়সীমা বৃদ্ধি করতে হবে এবং বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে যেকোনো সময় লেট গেট দিয়ে হলে প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে হল থেকে বের হওয়ার প্রক্রিয়াও হয়রানিমুক্ত করতে হবে। তৃতীয়ত, প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার শর্তে আবাসিক শিক্ষার্থীদের মা ও বোনদের হলের অভ্যন্তরে, এমনকি রুম পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি দিতে হবে।এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য নিরাপদ, মানবিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব আবাসিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রচলিত সান্ধ্য আইন শিথিল, হলে প্রবেশের সময়সীমা যৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল সিকিউরিটি গেট স্থাপনের দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।

  • বাঙলা কলেজের ছাত্র গুলিবিদ্ধ

    বাঙলা কলেজের ছাত্র গুলিবিদ্ধ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন মানিকদি এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে মো. করিম (১৮) নামে এক কলেজ ছাত্র আহত হয়েছেন। তিনি মিরপুর বাঙলা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী।

    সোমবার (২৭ জুলাই) দিনগত রাত সোয়া ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

    তার বাবা রফিকুল ইসলাম জানান, তারা থাকেন মানিকদি আমতলাতেই। রাতে তিনিই ছেলে করিমকে দোকান থেকে মশার কয়েল কিনে আনতে পাঠিয়েছিলেন। এরপর করিম গলির দোকান থেকে কয়েল কিনে তুহিন নামে এক বন্ধুর সঙ্গে কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে একাই বাসায় ফিরছিল। আমতলা ‘৩২ মালিকের বিল্ডিং’ নামে পরিচিত একটি বাড়ির সামনে দিয়ে সে আসার সময় অন্ধকার থেকেই এলোপাতাড়ি গুলি করা হয়।এতে করিমের দুই পায়ে দুটি গুলিবিদ্ধ হয়।

    পরে স্থানীয় লোকজন বাসায় খবর দিলে তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতাল নিয়ে যাই। পরে সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যালে নেওয়া হয়। রাতেই চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করে তার ডান পা থেকে একটি গুলি বের করেন। বাম পায়ের গুলিটি ঘটনার সময়ই বেরিয়ে গেছে।

    তিনি আরও জানান, রাতেই চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকরা করিমকে বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছেন। এ ঘটনা কারা ঘটিয়েছে, সেটি তাদের জানা নেই। করিমের সঙ্গে এলাকার কারও কোনো দ্বন্দ্ব নেই।

    চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মো. ফারুক জানান, ঘটনাটি ক্যান্টমেন্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করছে।

  • নীরবে শরীরে বাসা বাঁধছে রোগ

    নীরবে শরীরে বাসা বাঁধছে রোগ

    বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস আজ। প্রতি বছর ২৮ জুলাই দিবসটি নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হয়। ভাইরাল হেপাটাইটিস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা নিশ্চিত করা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করাই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য। সাভারের বাসিন্দা ছিদ্দিক হোসেন (৪২) দুই সন্তান আর স্ত্রীকে নিয়ে বেশ সুখেই ছিলেন । বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে চলছিল সংসার। কিন্তু হঠাৎ করেই শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে যান তিনি। নানা পরীক্ষানিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, তিনি হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসে আক্রান্ত। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিলেও দিন দিন অবস্থার অবনতি ঘটে তার।

    তিনি জানান, এক বছর আগেও জানতাম না আমি ভয়াবহ এ রোগে আক্রান্ত। শরীরে কোনো ধরনের লক্ষণ ছিল না। শুধু পেটে মাঝেমধ্যে ব্যথা হতো এবং বমি বমি ভাব হতো। তবে শরীর খুব দুর্বল এবং ক্লান্তি লাগত। এরই মধ্যে আমার লিভার সিরোসিসসহ নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। গত ছয় মাস ধরে চিকিৎসা নিচ্ছি। চিকিৎসা করাতে গিয়ে জমানো টাকা যা ছিল সব শেষ হয়ে গেছে, আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে ধারদেনাসহ গ্রামের বাড়িতে জমিও বিক্রি করেছি। এখন নিয়মিত ওষুধ কেনার সামর্থ্যও নেই।

    শুধু ছিদ্দিক নয়, তার মতো দেশের অধিকাংশ মানুষই জানেন না হেপাটাইটিস কি, কীভাবে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয় কিংবা চিকিৎসা কি। যেহেতু এ রোগের উপসর্গ খুব কম, তাই এতে আক্রান্ত হলেও সহজে ধরা পড়ে না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এটা শরীরের ভেতর নীরবে থেকে যায়, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে সচেতনতার অভাব এবং সময়মতো পরীক্ষা না করানোর কারণে অনেকেই রোগ শনাক্ত হওয়ার আগেই জটিল অবস্থায় পৌঁছে যাচ্ছেন। ফলে দেশে হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাস নীরব ঘাতকে পরিণত হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    চিকিৎসকরা জানান, দেশে অধিকাংশ মানুষ হেপাটাইটিসকে ‘জন্ডিস রোগ’ নামেই চেনেন। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় হেপাটাইটিস হলো ভাইরাসজনিত লিভারের প্রদাহ। হেপাটাইটিসের এ, বি, সি, ডি এবং ই—এ পাঁচটি ধরন রয়েছে। এর মধ্যে হেপাটাইটিস ‘এ’ ও ‘ই’ খাদ্য ও পানিবাহিত, যা থেকে স্বল্পমাত্রার জন্ডিস হয়ে থাকে। তবে এটি সাধারণত চার থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে শরীরে ইমিউন সিস্টেমের (রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা) মাধ্যমে সেরে যায়। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক লিভার ফেইলিউর হতে পারে। তবে হেপাটাইটিস বি ও সি দীর্ঘমেয়াদে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করে এবং লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত।ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর ৫ দশমিক ৭ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় এক কোটির বেশি মানুষ দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসে আক্রান্ত। আর প্রতি বছর হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসজনিত জটিলতায় প্রায় ২৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের হার প্রায় এক শতাংশ, যার সংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ ৬০ হাজার। আবার দেশে সন্তান জন্মদানে সক্ষম প্রায় ১৮ লাখ নারী হেপাটাইটিস বিতে আক্রান্ত। এছাড়া দেশে প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই জানেন না যে, তারা এ রোগে আক্রান্ত। ফলে তারা চিকিৎসার বাইরে থেকে যান এবং অজান্তেই জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েন।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডব্লিউএইচওর ‘গ্লোবাল হেপাটাইটিস রিপোর্ট ২০২৬’ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে প্রায় ২৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষ দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস বি বা সি সংক্রমণে আক্রান্ত ছিলেন। এর মধ্যে ১৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দেখা গেছে, প্রতি বছর গড়ে ১০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় এবং পাঁচ শতাংশেরও কম মানুষ চিকিৎসা পেয়েছেন। লিভার ক্যানসারে শতকরা ৮০ ভাগ ক্ষেত্রে দায়ী বি এবং সি ভাইরাস। এছাড়া উচ্চঝুঁকিতে থাকা ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। হেপাটাইটিস বি ও সি-জনিত মৃত্যুর দিক থেকে শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে রয়েছে—প্রথমে চীন এবং দ্বিতীয় ভারত। আর ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সারা বিশ্ব থেকে হেপাটাইটিস বি, সি ভাইরাস প্রতিরোধ এবং লিভার ক্যানসার নির্মূলের কথা বলা হয়েছে।হেপাটইিটিসে আক্রান্তের দিক থেকে বাংলাদেশ উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লিভার বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ সাঈদুল হক আমার দেশকে বলেন, হেপাটাইটিস কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়, তবে অসচেতনতার কারণে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। অনেকেই দীর্ঘদিন বুঝতে পারেন না যে, তারা হেপাটাইটিস বি বা সিতে আক্রান্ত, কারণ রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত উপসর্গহীন থাকে। বেশিরভাগ রোগী অন্য রোগের পরীক্ষা, গর্ভাবস্থার স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা চাকরির মেডিকেল চেকআপের সময় সংক্রমণের বিষয়টি জানতে পারেন। আবার অনেক রোগী লিভার জটিল আকার ধারণ করার পর, যেমন পেটে পানি আসা, রক্তবমি বা কালো পায়খানার মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসেন।

    তিনি বলেন, নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন, ভ্যাকসিন গ্রহণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে হেপাটাইটিস প্রতিরোধ সম্ভব। বর্তমানে হেপাটাইটিস সি সম্পূর্ণ নিরাময় করা যায় এবং হেপাটাইটিস বি দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে হেপাটাইটিস নির্মূলে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

    বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শাহিনুল আলম বলেন, হেপাটাইটিস বি ও সি মূলত রক্তবাহিত ভাইরাস। অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালন, ব্যবহৃত সুঁই-সিরিঞ্জ, দূষিত ব্লেড বা জীবাণুমুক্ত না করা চিকিৎসা সরঞ্জামের মাধ্যমে এ সংক্রমণ ছড়ায়। তিনি বলেন, অসচেতনতা ও কুসংস্কারের কারণে অনেকেই সময়মতো চিকিৎসা নেন না, ফলে জটিলতা বাড়ে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালেই হেপাটাইটিসের প্রাথমিক পরীক্ষা করা যায় আর বিশেষায়িত কিংবা শহরের হাসপাতালে উন্নত পরীক্ষা ও চিকিৎসা সহজলভ্য। আবার অন্য অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে পরীক্ষার খরচ ও ওষুধের দামও তুলনামূলক কম। তাই তিনি সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

  • ভারতে শিক্ষার্থীদের ওপরে একে-৪৭ দিয়ে পুলিশের গুলি

    ভারতে শিক্ষার্থীদের ওপরে একে-৪৭ দিয়ে পুলিশের গুলি

    গত ২৫ জুলাই বিহার বন্‌ধ বা ধর্মঘট চলাকালে সিওয়ান জেলায় বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ওপর একে-৪৭ রাইফেল থেকে গুলি ছোড়ার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এই ঘটনার জেরে বিহারের এক পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

    রাজ্যজুড়ে ডাকা ওই ধর্মঘটে বিভিন্ন জেলায় ছাত্র সংগঠনগুলোর ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা যায়। সে সময় একাধিক স্থানে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও ফুটেজটিকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেয় বিহার পুলিশ সদর দপ্তর। ফুটেজে এক পুলিশ কনস্টেবলকে বিক্ষোভ চলাকালে একে-৪৭ থেকে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। এরপরই অবিলম্বে তাকে বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

    এদিকে, পাটনার জয়প্রভা মেদান্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত তিন বিক্ষোভকারীর অবস্থা এখন স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সি মো. আরিফও রয়েছে। পরিবারের ভাষ্যমতে, আরিফ স্থানীয় একটি দোকানে কাজ করে। তার স্বজনেরা জানান, ধর্মঘটের সময় দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যায় সে, এ সময় তার ঘাড়ে গুলি লাগে। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার করে সফলভাবে গুলিটি বের করতে সক্ষম হয়েছেন এবং তার অবস্থা এখন আশঙ্কামুক্ত।

    বিহারের বিরোধীদলীয় নেতা তেজস্বী যাদব দোষী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি ঘটনার একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে এক পুলিশ সদস্যকে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে দেখা যায়।

    লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও বিষয়টি সামনে এনেছেন। দিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পেলেট গান এবং বিহারে একে-৪৭ ব্যবহারের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সব জায়গায় একই ছক দেখা যাচ্ছে।

    পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই বাহিনীর প্রাথমিক দায়িত্ব এবং প্রতিষ্ঠিত নিয়মনীতির যেকোনো লঙ্ঘন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। তারা আরও জানান, এ ঘটনায় একটি বিস্তারিত বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার পুলিশের প্রোটোকল মেনে করা হয়েছিল কিনা এবং এর জন্য আরও কোনো শাস্তিমূলক বা আইনি ব্যবস্থার প্রয়োজন আছে কিনা, তা এই তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে।

    রাজ্যব্যাপী ধর্মঘটের অংশ হিসেবে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ওইদিন শহরে জড়ো হয়ে গান্ধী ময়দানের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেওয়ার সময় একপর্যায়ে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হলে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে।

  • নির্যাতন নয়, স্নেহ ভালোবাসায় বিকশিত হোক প্রতিটি শিশু

    নির্যাতন নয়, স্নেহ ভালোবাসায় বিকশিত হোক প্রতিটি শিশু

    আজকের শিশুই আগামীর দেশ ও জাতির প্রকৃত সম্পদ। তারাই মূলত দেশ ও জাতি গঠনের কারিগর। একটি শিশুর জন্মের সঙ্গে শুধু একটি পরিবারের নতুন সদস্যের আগমন ঘটে না; জন্ম হয় একটি জাতির নতুন সম্ভাবনার।

    আজ যে শিশু মায়ের কোলে, আগামীকাল সেই-ই হতে পারে একজন আলিম, শিক্ষক, বিজ্ঞানী, বিচারপতি, চিকিৎসক, উদ্যোক্তা, সাহিত্যিক, রাজনীতিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, এমপি মন্ত্রী, সরকার ও রাষ্ট্র প্রধান কিংবা দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত উন্নত মানবিক চরিত্রের অধিকারী সুনাগরিক।

    তাই শিশুদের নিরাপদ, সুস্থ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার নিশ্চিত করা কেবল পারিবারিক দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্র, সমাজ এবং সমগ্র মানবসমাজের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।

    কিন্তু বাস্তবতা হলো, বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও অসংখ্য শিশু এখনো শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আবেগগত নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। নির্যাতন কেবল দরিদ্র পরিবারের শিশুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বিত্তবান পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র, এমনকি ডিজিটাল জগতেও শিশুরা নানা ধরনের সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছে।

    অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রেই “শাসন”, “শিক্ষা” কিংবা “শৃঙ্খলা”র নামে শিশু নির্যাতনকে বৈধতা দেওয়ার প্রয়াস পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। অন্যথায় নিষ্পাপ ও সম্ভাবনাময় এই শিশুদের উজ্জল ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

    শাসন ও নির্যাতনের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে

    শিশু সন্তানকে সৎ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা প্রতিটি অভিভাবকের প্রধানতম দায়িত্ব ও কর্তব্য। একইভাবে তাদের চরিত্র গঠন ও প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মানিত শিক্ষকগণের ভুমিকা নি:সন্দেহে অপরিসীম।

    তাদেরকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনে শাসন করবেন। তবে শাসনের নামে তাদেরকে অপমান, তুচ্ছতাচ্ছিল্য, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, কোনরূপ ভয় প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

    শাসনের উদ্দেশ্য হলো ভুল সংশোধন, নৈতিক শিক্ষা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ গড়ে তোলা। অপরদিকে নির্যাতনের ফল হলো ভয়, অপমান, আত্মবিশ্বাসহীনতা এবং মানসিক ক্ষত।

    একজন শিশু যদি তার অভিভাবক বা শিক্ষককে সম্মান নয়, বরং ভয় করতে শেখে, তাহলে সেখানে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়। ভয় সাময়িক আনুগত্য সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু তা কখনো সুস্থ ব্যক্তিত্ব গঠনে ইতিবাচক ভুমিকা রাখতে পারে না।

    মানসিক নির্যাতন নীরব কিন্তু ক্ষত অত্যন্ত গভীর

    আমাদের সমাজে শারীরিক আঘাতকে নির্যাতন হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও মানসিক নির্যাতনকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। ক্ষেত্রবিশেষে অবহেলা করা হয়ে থাকে।

    “তুমি কিছুই পারবে না”, “তুমি অন্যদের মতো নও”, “তুমি আমাদের লজ্জা” “ তুমি অথর্ব অকর্মণ্য ইত্যাদি বাক্যের বহুল ব্যবহার শিশুর মনে গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে।

    সবার সামনে অপমান করা, ভাই-বোন বা সহপাঠীর সঙ্গে তুলনা করা, ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করা, শিশুর মতামতকে গুরুত্ব না দেওয়া কিংবা তার প্রতিটি ভুলকে ব্যক্তিত্বের ব্যর্থতা হিসেবে উপস্থাপন করা—এসব আচরণ দীর্ঘমেয়াদে শিশুর আত্মমর্যাদা ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

    অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ আজও শৈশবে শোনা অপমানজনক কথাগুলো ভুলতে পারেন না। শারীরিক আঘাতের ক্ষত একসময় সেরে যায়, কিন্তু মানসিক আঘাত কখনো সখনো সারাজীবন বহন করতে হয়।

    শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে নির্যাতনের নেতিবাচক প্রভাব

    মানুষের মস্তিষ্কের সবচেয়ে দ্রুত বিকাশের সময় হলো শৈশবকাল। এ সময় নিরাপত্তা, ভালোবাসা ও ইতিবাচক সম্পর্ক শিশুর মানসিক বিকাশের ভিত্তি গড়ে তোলে।

    অন্যদিকে দীর্ঘদিন ভয়, অপমান ও সহিংসতার পরিবেশে বেড়ে উঠলে শিশুর শেখার ক্ষমতা, মনোযোগ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক সম্পর্ক এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন এবং পারিবারিক জীবনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    ইসলামের শিক্ষা: দয়া, ভালোবাসা ও মর্যাদা

    ইসলামের মূল শিক্ষা হলো রহমত, ন্যায় ও মানবিকতা। মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুদের প্রতি অসাধারণ স্নেহ, ভালোবাসা, ধৈর্য ও কোমলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

    তিনি শিশুদের সালাম দিতেন, তাদের সঙ্গে খেলতেন, কোলে নিতেন এবং তাদের অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখাতেন। তিনি বলেছেন:

    “যে আমাদের ছোটদের প্রতি দয়া করে না এবং বড়দের সম্মান করে না, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।” (জামে তিরমিজি)

    পবিত্র কুরআনেও আল্লাহ তাআলা ন্যায়, দয়া ও উত্তম আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতা তাই ইসলামের নৈতিক আদর্শের সঙ্গে মোটেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

    আইন ও নৈতিকতার সমন্বয় জরুরি

    শিশুদের সুরক্ষায় যথাযথ আইন প্রণয়ন অপরিহার্য। পাশাপাশি আইন সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি, যথাসম্ভব দ্রুততম সময়ে বিচার কার্যকর করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

    যেখানে শিশু নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়, সেখানে অপরাধীরা উৎসাহিত হয় এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়। পরিবার, বিদ্যালয়, সমাজ ও রাষ্ট্র—সবাইকে শিশু সুরক্ষায় “শূন্য সহনশীলতা” নীতি গ্রহণ করতে হবে।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হোক নিরাপদ আশ্রয়

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে হবে এমন, যেখানে শিশুরা আনন্দ উৎসাহ নিয়ে শিখবে, প্রশ্ন করবে এবং নিজের মধ্যে সুপ্ত প্রতিভা সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ লাভ করবে।শিক্ষকের হাতে যদি ভয়, অপমান বা সহিংসতার উপাদান থাকে, তবে শিক্ষা তার মানবিক উদ্দেশ্য হারায়।

    শিক্ষককে কেবল পাঠদাতা নয়, একজন পথপ্রদর্শক ও চরিত্র নির্মাতা হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে। ইতিবাচক শৃঙ্খলা, সহমর্মিতা এবং ন্যায়সঙ্গত আচরণই শিক্ষার প্রকৃত ভিত্তি।

    ডিজিটাল যুগে নতুন চ্যালেঞ্জ

    আজকের শিশুরা বাস্তব জগতের পাশাপাশি ডিজিটাল জগতেও বেড়ে উঠছে। সাইবার বুলিং, অনলাইন হয়রানি, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপমান—এসবও মানসিক নির্যাতনের আধুনিক রূপ। তাই শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এখন সময়ের দাবি।

    সমাজের করণীয়

    শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। এজন্য—

    * পরিবারে অহিংস ও ইতিবাচক অভিভাবকত্বের চর্চা।

    * শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন।

    * শিশুদের অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা।

    * শিক্ষক, অভিভাবক ও ধর্মীয় নেতাদের প্রশিক্ষণ।

    * শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা।

    * গণমাধ্যমে শিশু অধিকারবিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি।

    * নির্যাতনের প্রতিটি অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

    একটি সভ্য সমাজের প্রকৃত শক্তি তার শিশুদের হাসিতে, তাদের আত্মবিশ্বাসে এবং তাদের নিরাপদ শৈশবে। শিশুদের ওপর শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন শুধু একটি শিশুর ক্ষতি করে না; ক্ষতি করে একটি জাতির ভবিষ্যতের অমিত সম্ভাবনাকে।

    আমাদের মনে রাখতে হবে, শিশুরা দুর্বল নয়; তারা সম্ভাবনার বীজ। সেই বীজকে সহিংসতার আগুনে পোড়ানো নয়, বরং ভালোবাসা, নৈতিক শিক্ষা, নিরাপত্তা ও মর্যাদার আলো-বাতাসে বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দেওয়াই আমাদের দায়িত্ব।

    শিশুকে ভয় নয়, স্বপ্ন দেখাতে হবে; হৃদয়ে ক্ষত সৃষ্টি নয়, ভালোবাসার বীজ বপন করতে হবে ; নির্যাতন নয়, মানবিকতার স্পর্শ দিয়ে আগলে রাখতে হবে। একটি নিরাপদ শৈশবই একটি নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি রচনা করতে পারে।

    লেখক: মো. মুখলেছুর রহমান, সাবেক প্রিন্সিপাল, জামেয়া দ্বীনীয়া ও প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, তা’মিরুল মিল্লাত মাদ্রাসা টঙ্গী শাখা।

  • পারস্য প্রতিভা : মহাকবি হাফিজ সিরাজী

    পারস্য প্রতিভা : মহাকবি হাফিজ সিরাজী

    সাহিত্য:

    প্রিয়ার গালের একটি তিলের জন্য সমরখন্দ বিলিয়ে দিতে চেয়েছিলেন যিনি, তিনি খাজা শামসউদ্দিন মোহাম্মদ হাফিজ-ই-সিরাজি। পারস্য তথা ইরানের সুফি কবি। চতুর্দশ শতাব্দীর প্রথমভাগে সিরাজ নগরীর মোসল্লা নামক স্থানে তাঁর জন্ম। ইরানের নিশাপুর ছাড়া আর কোন নগরই সিরাজের মত বিশ^জোড়া খ্যাতি লাভ করেনি। ইরানের প্রায় সব শ্রেষ্ঠ কবিরই তীর্থভূমি এই সিরাজ নগরী। ইরানিরা হাফিজকে আদর করে ‘বুলবুল ই সিরাজ’ বলতেন। হাফিজকে তারা শুধু কবি বলেই ভালোবাসেনা, তারা হাফিজকে লিসান-উল-গায়েব’ (অজ্ঞাতের বাণী) ‘তর্জমান উল আসরাব’ (রহস্যের মর্মসন্ধানী) বলে আরো বেশি শ্রদ্ধা করেন। ইরানে হাফিজের সমাধি জ্ঞানী-গুণীদের শ্রদ্ধার স্থান। হাফিজের মৃত্যুর শতবর্ষ পরেও তাঁর কোন জীবনী রচিত হয়নি। কবির জীবনের অধিকাংশ ঘটনা আঁধারে রয়ে গেছে। তাঁর জন্ম মৃত্যুর দিন নিয়ে ইরানেও তাই নানাজনের নানা মত। হাফিজের সম্ভাব্য মৃত্যুর সাল ৭৯১ হিজরি বা ১৩৮৯ খ্রিস্টাব্দ।
    হাফিজের পিতা বাহাউদ্দিন ইস্পাহান নগরী থেকে ব্যবসা উপলক্ষে সিরাজে এসে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু মৃত্যুকালে কিছু রেখে যেতে না পারায় শিশু হাফিজ ও তাঁর মা ঐশ^র্যের কোল থেকে একেবারে দারিদ্র্যের করাল গ্রাসে নিপতিত হন। বাধ্য হয়ে হাফিজকে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অর্থোপার্জন করতে হয়। হাফিজ যে কবিখ্যাতি লাভ করার আগে বিশেষরূপে জ্ঞানার্জন করেছিলেন, তা তাঁর কবিতা পড়েই বোঝা যায়। হাফিজের আসল নাম শামসউদ্দিন মোহাম্মদ। ‘হাফিজ’ তার ‘তখল্লুস’ অর্থাৎ কবিতার ভনিতায় ব্যবহৃত উপনাম। পাঠ্যাবস্থায়ই তিনি স্বভাব দক্ষতায় কবিতা রচনা শুরু করে

    হাফিজ তাঁর জীবদ্দশায় কবিতাসমূহ সংগ্রহ করে যাননি। তাঁর বন্ধু গুল আন্দামই সর্বপ্রথম তাঁর মৃত্যুর পর ‘দিওয়ান’ আকারে হাফিজের সমস্ত কবিতা সংগ্রহ ও সংগ্রন্থিত করেন। হাফিজের পাঁচ শতাধিক কবিতা পাওয়া যায়। তাছাড়া অনেক কবিতা হারিয়ে গেছে।
    হাফিজ ছিলেন উদাসীন সুফি। তাই কবিতা লেখার পরই বন্ধু-বান্ধব কেউ সংগ্রহ না করলে তা হারিয়ে যেত। কিন্তু তাঁর কবিতার অধিকাংশই গজল গান। লেখা হওয়া মাত্র মুখে মুখে গীত হত। ধর্মস্থান থেকে পানশালা পর্যন্ত সর্বত্র তাঁর গান জনপ্রিয়তা লাভ করে। হাফিজের প্রায় সব কবিতা ‘শাখ-ই নবাৎ’ নামক কোনও ইরানি সুন্দরীর স্তবগানে মুখরিত। অনেকে বলেন, এটি হাফিজের দেয়া আদরের নাম।

    তাঁর আসল নাম হাফিজ গোপন করে গেছেন। কোন ভাগ্যবতী এই কবির প্রিয়া ছিলেন, কোথায় ছিল তারঁ ঘর, এ নিয়ে অনেকে অনেক জল্পনা কল্পনা করেছেন। রহস্য সন্ধানীদের কাছে এই হরিণআঁখি সুন্দরী আজও রহস্যের আড়ালে রয়ে গেছেন। হাফিজ যৌবনে হয়ত শরাব-সাকির উপাসক ছিলেন তার পরে তিনি সুফি সাধকরূপে দেশ ও দশের শ্রদ্ধা আকর্ষণ করেন।
    মহাকবি গ্যেটে বলেন- ‘হে হাফিজ তোমার বাণী চিরন্তনের মত মহান। কেননা, তার আদি ও অন্ত নেই। তোমার ভাষা আসমানের গম্বুজের মত একাকী নিজের উপরই স্থিত। তোমার গজলের অর্ধেকটায় বা প্রথম কলিতে কিংবা অন্য কোনও অংশের মধ্যে মোটেও পার্থক্য করা যায় না। কেননা এর সবটাই সৌন্দর্য ও পূর্ণতার নিদর্শন। একদিন যদি পৃথিবীর আয়ু ফুরিয়ে যায়, হে আসমানী হাফিজ আমার প্রত্যাশা যে, একমাত্র তোমার সাথে তোমার পাশে থাকব। তোমার সঙ্গে সরাব পান করব। তোমার মতই প্রেমে আত্মহারা হব। কেননা, এটাই আমার জীবনের গৌরব ও বেঁচে থাকার পাথেয়।কবি হাফিজ সিরাজির কাব্য প্রতিভা ও দর্শন সারা পৃথিবীর কাব্যমোদি ও চিন্তাশীল মনকে যুগে যুগে নাড়া দিয়ে আসছে। পাশ্চাত্য দুনিয়ার মহান কবি ও চিন্তাবিদ গ্যেটে (১৭৩৯-১৮৩২) বলেন, ‘হঠাৎ প্রাচ্যের আসমানী খুশবু এবং ইরানের পথ-প্রান্তর হতে প্রবাহিত চিরন্তন প্রাণ সঞ্জীবনী সমীরণের সাথে পরিচিত হলাম। আমি এমন এক অলৌকিক ব্যক্তিকে চিনতে পারলাম, যার বিস্ময়কর ব্যক্তিত্ব আমাকে আপাদমস্তক তাঁর জন্য পাগল করেছে।’ মহাকবি গ্যেটে হাফিজের প্রতি এতই অনুরক্ত হয়ে পড়েন যে, ‘একটি সময়ের জন্য সবকিছুকে এবং সবাইকে ভুলে যান এবং নিজেকে ফার্সি ভাষার এই কবির ক্ষুদ্র ভক্ত বলে অনুভব করেন। ‘এমনকী তিনি হাফিজের প্রেমানুভূতি ও আধ্যাত্মিক চিন্তাধারায় অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁর বিশ^বিখ্যাত নাট্যকাব্য ফাউস্ট (ঋঅটঝঞ) রচনা করেন। যেটাকে পাশ্চাত্যে দিওয়ান বলা হয়।বাংলা ভাষাভাষী কবি সাহিত্যকদেরও তিনি দারুণভাবে নাড়া দিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তো নিজে ১৯৩২ সালে ইরানের সিরাজ নগরে কবির মাজারে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে এসেছেন। এমনকি কবির পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর কবির অসম্ভব ভক্ত ছিলেন। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে এই ব্যাপারে লিখেছেন, ‘আমি জানি হাফিজের ধর্মীয় দর্শন ও কবিতা আমার পিতাকে যতখানি অভিভূত করত, বৈষ্ণবদের দর্শন ও সঙ্গীত ততখানি করতে পারত না। হাফিজ ছিলেন তাঁর ঐশ^রিক আনন্দ। তিনি নিজে কবিতা লিখতেন না। হাফিজের কবিতাই তাঁর সৃষ্টি আকাক্সক্ষাকে পূরণ করত। উপনিষদ তাঁর ক্ষুধা নিবারণ করত এবং হাফিজ তাঁর তৃষ্ণা মিটাত।’ জানা যায়, পুরো দিওয়ান মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মুখস্ত ছিল।
    গিরিশচন্দ্র সেন, কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, মোহিতলাল মজুমদার, যতীন্দ্র মোহন বাগচী, কান্তিচন্দ্র ঘোষ, হরেন্দ্রনাথ দেব প্রমুখ কবি হাফিজের বহু রুবাইয়াৎ ও গজল অনুবাদ করেছেন। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হাফিজকে মনপ্রাণ দিয়ে ভালবাসতেন যে তাঁর পুত্র বুলবুলের মৃত্যুশয্যায় বসেও তাঁর রুবাইয়াৎ অনুবাদ করেছেন। তিনি ফার্সি থেকে মোট ৭৩টি রুবাই সরাসরি বাংলায় অনুবাদ করেন। যেদিন তিনি অনুবাদ শেষ করেন সেদিন কবি পুত্র বুলবুল প্রাণত্যাগ করেন। কবি তাই বেদনার সঙ্গে লিখেছেন, আমি আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান ও সবচেয়ে প্রিয় সম্পদকে উপঢৌকন দিয়ে সিরাজের বুলবুল কবিকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। ইরানের কবি স¤্রাট হাফিজ বাংলার সুলতান গিয়াস উদ্দিনের আমন্ত্রণে সাড়া দেননি। কিন্তু তিনি আমার আমন্ত্রণে সাড়া না দিয়ে পারতেন না।ফার্সি সাহিত্যের আলোচনা করে লেখা গ্রন্থটি হচ্ছে মোহাম্মদ বরকতুল্লাহর ‘পারস্য প্রতিভা’। এ গ্রন্থে কবি হাফিজের উপর একটি চমৎকার প্রবন্ধ আছে। মুহাম্মদ মুনসুরউদ্দিন লিখেছেন, ‘ইরানের কবি’। অবশ্য এ গ্রন্থে’ ‘শামসুদ্দিন হাফিজ’ নামে যে নিবন্ধটি আছে তা তেমন তথ্যবহুল নয়। বাংলাভাষায় দিওয়ানে হাফিজের বহু অনুবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ড. মুহাম্মদ শহিদুল্লাহর অনুবাদ কর্মটি বাংলা ভাষার এক অসামান্য প্রকাশনা। এ বইয়ের দীর্ঘ উপক্রমণিকাতে তিনি হাফিজকে বাংলা ভাষাভাষীর কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। অন্যদিকে কাজি আকরাম হোসেনের অনুবাদটিও চমৎকার। পশ্চিম বঙ্গের দু’জন আধুনিক কবি যারা প্রগতিবাদী হিসাবেও পরিচিত, শক্তি চট্টোপাধ্যায় ও সুভাষ মুখোপাধ্যায় কবি হাফিজের সাহিত্যেকর্ম অনুবাদ করে এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

    কবির ৬০০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকায় আয়োজিত এক সম্মেলনে জাতীয় অধ্যাপক সৈয়দ আলি আহসান বলেন, ‘কবি হাফিজ আমাদের চিন্তায় ও মননে বহুকাল বিদ্যমান ছিলেন। বাংলা কবিতায় আবার তিনি নতুন করে জাগ্রত হয়েছেন।’ অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতকের বাঙ্গালী মনীষায় হাফিজ ছিলেন অনেক বড় প্রতিভা, অনেক বড় কবি এবং প্রেমিক। কবির কুরআনের ওপর দক্ষতা দেখে সমকালীন একজন পীর মুর্শিদ তাঁকে হাফিজ উপাধিতে ভূষিত করেন।’ এ ব্যাপারে কবি নিজেই লিখেছেন-

    হাফিজ! তোমার চেয়ে সুন্দর
    গান আর দেখিনাই আর কারো
    তোমার মুখের লুকানো কুরআন
    সে তো সুন্দর আরো।’
    কবি ছিলেন একজন প্রেমিক। তিনি তাঁর স্ত্রীর মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে লিখেছেন-
    ‘প্রেয়সী মোর ছিল যে হায়
    পরীর মত অপ্সরী
    পা থেকে তার কেশাগ্রতক
    নিটোল যেন ঠিক পরী।

    কবি তাঁর আদরের সন্তানের মৃত্যুতে শোকাতুর হয়ে লিখেছেন-
    মোর নয়নমনি দিলের মেওয়া
    তার তরে কাঁদে প্রাণ
    হাসতে হাসতে চলে গেল,
    শোকে আমি মুহ্যমান।’
    যদিও এখানে আপন সন্তানের জন্য হাফিজ এ আর্তি ফুটিয়ে তুলেছেন, কিন্তু এ শোকবাণী জগতের সব পুত্রহারা পিতৃ হৃদয়কে নাড়া না দিয়ে পারে না। একটি কথা বলতে ভুলেই গেছি। দিগি¦জয়ী মোঙ্গল বীর তৈমুর লং কবির একটি কবিতা বুঝতে না পেরে কবিকে তলব করেন। কবিতাটি ছিল-
    সেই সিরাজি প্রেমিক যদি জয়
    করে মোর এই হিয়ারে
    তার গালের তিলে বিলিয়ে দেব
    সমরকন্দ আর বুখারারে।

    তৈমুর লং কবির কাছে জানতে চাইলেন এ কবিতা কার? কবি যখন স্বীকার করলেন এ তাঁরই কবিতা, ‘আমি হাজার হাজার সৈন্যের রক্তের বিনিময়ে যা গড়ে তুলেছি, তুমি নারীর গালের কালো তিলের বিনিময়ে তা বিলিয়ে দিতে চাচ্ছ?
    কবি বুঝলেন, যুদ্ধবাজ তৈমুরের মাথায় কাব্যের মহিমা ঢোকার কথা নয়। কবি তাই বিনীতভাবে বললেন, ‘মহামান্য বাদশাহ। এভাবে দান খয়রাত করতে গিয়েই তো আমার আজ এ দীনহীন অবস্থা। আপনি আমার মত করেননি বলেই তো আপনি আজ জগদ্বিখ্যাত স¤্রাট।’ কবি হাফিজের চমৎকার উত্তরে তৈমুর লং খুশি হলেন। তিনি কবিকে সোনার আশরাফি উপহার দিয়ে বিদায় দিলেন।
    কবির দিওয়ানেই হাফিজসহ অন্যান্য গ্রন্থ’ থেকে জানা যায়, তিনি তাঁর যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ আলেম ছিলেন। তিনি ইসলামি আইন শাস্ত্র (ফিকহ), হাদিস, ন্যায়শাস্ত্র (কালাম), তাফ

    সির, ফার্সি সাহিত্য ইত্যাদিতে সুপ-িত ছিলেন। এমনকী তিনি জ্যোতিষ বিজ্ঞানের জ্ঞানও আয়ত্ব করেছিলেন। কবি সিরাজি তাঁর যৌবনকালেই লেখালেখিতে হাত পাকিয়েছিলেন বলে জানা যায়। যাই হোক, কবি তাঁর জীবদ্দশাতেই খ্যাতি ও প্রসিদ্ধি অর্জনে সক্ষম হন যদিও তাঁর সময়টা ছিল সাহিত্য ও কাব্য চর্চার জন্য খুবই খারাপ সময়। কারণ এ সময়টাতেই তাঁর দেশে নানারকম হানাহানি, যুদ্ধবিগ্রহ বিরাজমান ছিল। কবিখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ার পর বিশে^র বিভিন্ন দেশের ভক্তবৃন্দ তাঁকে নিজেদের মধ্যে পাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাতে থাকে। বাগদাদের সর্বগুণান্বিত সুলতান আহমদ বিন আবেস কবি হাফিজকে বাগদাদে পাওয়ার জন্য বারবার আমন্ত্রণ পাঠাতে থাকেন। কিন্তু কবি প্রিয় জন্মভূমি ছেড়ে ওই সময় কোথাও যেতে রাজি ছিলেন না। তাই স¤্রাটের আহ্বানকেও তিনি প্রত্যাখান করেছিলেন।

    ইস্পাহানের শাসনকর্তার মন্ত্রী উম্মাদ বিন মাহমুদ কবিকে দাওয়াত করেছিলেন। কিন্তু কবি এ দাওয়াতও কবুল করেন নি। দাক্ষিণাত্যের বাহমনী সুলতান শাহ মাহমুদ কবি সাহিত্যিকদের অসম্ভব সম্মান করতেন। দেশ বিদেশের কবি সাহিত্যিকদের তিনি নানা সম্মানে সম্মানিত করতেন। এ সময়ে কবি হাফিজ দাক্ষিণাত্যে আসার জন্য ইরাদা করেছিলেন। কিন্তু নানা কারণে তা আর সম্ভব হয়ে উঠেনি। বাঙালিদের জন্য গর্বের বিষয় হল, সে সময়কাল বাংলার শাসনকর্তা গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ কবি সিরাজিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কবি না আসতে পারলেও সে কথা তাঁর কবিতায় লিখে গেছেন। কথিত আছে গিয়াসউদ্দিনের তিনজন প্রিয় দাসী ছিলেন, এদের নাম সরব, গুল ও লালা। সুলতান একদিন এ চরণটি ফাঁদলেন। ‘সাকি হাদিসে সারবো গুলো লাল মিরওয়াদ’ কিন্তু আর পরবর্তী চরণটি পূরণ করতে পারলেন না। সভ্য কবিরাও সুলতানের মনঃপুত কিছু দিতে পারলেন না। তখন সুলতান উক্ত লাইনটি কবি হাফিজ সিরাজির কাছে পাঠিয়ে দিলেন। কবি হাফিজ সিরাজি এর উত্তরে কবিতাটি পূর্ণ করে সুলতানের কাছে পাঠিয়ে দিলেন। কবিতাটি এ রকম-‘সাকি হাদিসে সারবো গোলো
    লালা মিরওয়াদ
    ওইন বাহাস বা সালাসায়
    গোসালা মিরওয়াদ।
    হাফিজ যে শওকে মজলেসে
    সুলতান গিয়াসউদ্দিনের
    খামুস মালো কে কারে তু
    আজ লালা মিরওয়াদ।
    কবিতাটির শেষ দু’লাইনের অর্থ হল-হে হাফিজ সুলতান গিয়াসউদ্দিনের মজলিসে চুপ করে থেকো না, কেননা তাঁর কাজ কান্নার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।’ কবি সিরাজি সুলতান গিয়াসউদ্দিনের আমন্ত্রণ পাওয়ার পর বাংলায় আসার জন্য মনস্থির করেছিলেন বলে জানা যায়, কিন্তু সাইক্লোন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আসতে পারেন নি। আমাদের গর্ব হল কবিকে আমন্ত্রণ জানানোর কারণে বাংলার সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ ইরানের সাহিত্যে অমর হয়ে আছেন।

  • অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কা, দুই বোনসহ ৩ জনের মৃত্যু

    অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কা, দুই বোনসহ ৩ জনের মৃত্যু

    কক্সবাজারের রামুতে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশায় থাকা দুই বোনসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তিনজন। তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    আজ সোমবার দুপুর ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। নিহতদের মধ্যে একজন পুরুষ। তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। নিহত দুই বোন হলেন রুবিনা আক্তার ও শাহিনা আক্তার। তারা উখিয়া উপজেলার হরিণমারা এলাকার বাসিন্দা জাফর আলমের মেয়ে।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক একটি মামলার কাজে সকালে কক্সবাজার আদালতে গিয়েছিলেন দুই বোন। কাজ শেষে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন তারা। পথে উপজেলার খুনিয়াপালংয়ের স্কুলপাহাড় এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর দুই বোনের মৃত্যু হয়।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় অটোরিকশাটিতে চালকসহ মোট ছয়জন আরোহী ছিলেন।

    প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল গফুর বলছিলেন, ‘সন্তানদের নিয়ে কোচিংয়ে যাওয়ার পথে আমার চোখের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই একজন মারা যান। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।’

    রামু হাইওয়ে থানার ওসি সুকান্ত চক্রবর্তী জানিয়েছেন, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ।

  • চার দিন পর খুবিতে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু, আন্দোলন অব্যাহত

    চার দিন পর খুবিতে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু, আন্দোলন অব্যাহত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দীর্ঘ চার দিনের অচলাবস্থার পর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) প্রশাসনিক কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তিন দফা দাবি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ক্লাশ ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনের তালা খুলে দেওয়ায় রোববার (২৬ জুলাই) থেকে দাপ্তরিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে।

    শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার পর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনের তালা খুলে দেন। রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলমান তদন্ত ও জরুরি প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখার স্বার্থে শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    অন্যদিকে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রশাসনিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। তবে যৌন হয়রানি এবং বিজয়-২৪ হলের ছাত্রীদের গোপনে ভিডিও ধারণের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের আগে কোনো শিক্ষার্থী ক্লাশ বা পরীক্ষায় অংশ নেবেন না।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন জানান, ২২ জুলাই রাতে বিজয়-২৪ হলে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকসহ প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে প্রশাসন বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা শুরু করে এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

    এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ডিসিপ্লিনে বিভাগীয় প্রধানরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন। এসব সভায় যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবির প্রতি শিক্ষকরা সমর্থন জানান।

    পরে বিকাল সাড়ে ৪টায় উপাচার্যের সভাপতিত্বে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধান, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্টসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করা হয়।

    পরবর্তীতে ওই আলোচনার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনের তালা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের দ্রুত ক্লাশে ফেরার আহ্বান জানিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাসও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

    উল্লেখ্য, দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং বিজয়-২৪ হলের ক্যান্টিনকর্মীর বিরুদ্ধে ছাত্রীদের গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগের বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাশ-পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

    শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে—ভিডিও ধারণের অভিযোগে অভিযুক্ত ক্যান্টিনকর্মী ইমাম হাসানের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট বডিকে জবাবদিহির আওতায় আনা, যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রুবেল আনছার এবং অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা এবং ‘স্পন্দন-২৪’ ক্লাবের নিবন্ধন বাতিল করা

  • ২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক;

    ২৬ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক;

    হাইকোর্টে রিট

    দেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে এমন ৩৪টি টুথপেস্ট পরীক্ষা করে ২৬টিতে ‘ক্ষতিকর’ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনায় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

    সোমবার (২৭ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন এ রিট দায়ের করেন।

    স্বাস্থ্য সচিব, পরিবেশ সচিব, বাণিজ্য সচিব, বিএসটিআই, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

    পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার সংখ্যা ছিল ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত। শিশুদের জন্য তৈরি ছয়টি টুথপেস্টের চারটিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।

    আরও পড়ুনhttps://bdglobaltimes.com/%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%89%E0A6%AA%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%97-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%B0%E0%A7%8B-%E0%A7%AB-%E0%A6%B6/

    এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) নতুন এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকেরা বলছেন, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করছে।

    গবেষকরা জানান, কোনোভাবেই টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে না।‘মাইক্রোপ্লাস্টিকস ইন টুথপেস্ট: সায়েন্টিফিক এভিডেন্স ফর পলিসি অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাকশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণাটি রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর লালমাটিয়ায় ইএসডিওর কার্যালয়ে প্রকাশ করা হয়।

    ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত গবেষণায় ১৯টি প্রধান ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এগুলো বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত।

    দেশে তৈরি ২৫টি নমুনার মধ্যে ২২টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এছাড়া ভারতের পাঁচটি নমুনার একটিতে, থাইল্যান্ডের দুটি নমুনার একটিতে এবং ভিয়েতনামে তৈরি দুটি নমুনার দুটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।

    গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৩৪টি নমুনার ছয়টি ছিল শিশুদের টুথপেস্ট। এর মধ্যে চারটিতে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ১৪০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।

    গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করে ইএসডিওর রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি অ্যাসোসিয়েট ড. ফয়জুন নাহার জানান, খুচরা দোকান, সুপারমার্কেট ও পাইকারি বাজার থেকে নমুনাগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি অব এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজিতে সেগুলো পরীক্ষা করা হয়।তিনি জানান, পরীক্ষা করা টুথপেস্টের ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। আটটি নমুনায় শনাক্তযোগ্য মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।

    কোন টুথপেস্টে কী পরিমাণ

    গবেষণায় সর্বোচ্চ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে ‘মেডিপ্লাস ফ্লোরাইড জেলে’, প্রতি ১০০ গ্রামে ৩২০টি কণা। গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ এই টুথপেস্ট ব্যবহার করেন বলে জানিয়েছেন, যা জরিপে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ব্র্যান্ড।

    মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া অন্য টুথপেস্টগুলোর মধ্যে ‘ক্লোজ আপ রেড হট’ ও ‘ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশে’ প্রতি ১০০ গ্রামে ১৬০টি করে কণা পাওয়া গেছে। ‘কোডোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলাতে ‘(স্ট্রবেরি) ১৪০টি, ‘সিগন্যাল গ্রিন টিতে’ ১২০টি এবং ‘পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট’ ও ‘হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ারে’ ১০০টি করে কণা পাওয়া গেছে।

    ‘সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্টে’ পাওয়া গেছে ৮০টি কণা। ‘পেপসোডেন্ট সেনসিটিভ এক্সপার্ট’, ‘হোয়াইট প্লাস রেড’, ‘হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভ জেল’, ‘সিগন্যাল হোয়াইটেনিং’, ‘মেরিল বেবি’ (স্ট্রবেরি) ও ‘মেডিপ্লাস টিজিপি ফর্মুলায়’ পাওয়া গেছে ৬০টি করে।

    এছাড়া ‘এএম.পিএম. হারবাল’, ‘মেডিপ্লাস ডিএস’, ‘পেপসোডেন্ট জার্মিচেক’, ‘মেরিল বেবি’ (অরেঞ্জ), ‘ম্যাজিক হারবাল’, ‘মেসওয়াক’ ও ‘ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশ স্যাশেতে’ ৪০টি করে কণা পাওয়া গেছে।

    ‘ডেন্টিন জেল’, ‘পেপসোডেন্ট কিডস’ (অরেঞ্জ), ‘ক্লোজআপ লেমন সি সল্ট’, ‘ব্রাশ আপ হোয়াইটেনিং জেল’ ও ‘হোয়াইট প্লাস প্রো সেনসিটিভে’ পাওয়া গেছে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০টি করে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা।

    মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া পণ্যগুলোর মধ্যে ‘কোডোমো আলট্রা শিল্ড ফর্মুলা’ (স্ট্রবেরি), ‘মেরিল বেবি’ (স্ট্রবেরি), ‘মেরিল বেবি’ (অরেঞ্জ) ও ‘পেপসোডেন্ট কিডস অরেঞ্জ’ শিশুদের জন্য তৈরি।

    যে আট নমুনায় পাওয়া যায়নি

    গবেষণায় আটটি নমুনায় শনাক্তযোগ্য মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। এগুলো হলো—‘প্যারোডন্ট্যাক্স এক্সপার্ট গাম কেয়ার’, ‘জেনফ্রেশ’, ‘প্যারাস্যুট জাস্ট ফর বেবি’ (ম্যাঙ্গো), ‘সেনসোডাইন ফ্রেশ জেল’, ‘কোলগেট ম্যাক্সফ্রেশভ’, ‘ক্লোজআপ রেড হট জিঙ্ক ফ্রেশ টেকনোলজি’, ‘কোডোমো (অরেঞ্জ)’ ও ‘কোলগেট অ্যাকটিভ সল্ট’।

    এর মধ্যে ‘কোডোমো অরেঞ্জ’ ও ‘প্যারাস্যুট জাস্ট ফর বেবি’ (ম্যাঙ্গো) শিশুদের টুথপেস্ট।

  • ঢাকা বোর্ডের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জরুরি নির্দেশনা

    ঢাকা বোর্ডের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জরুরি নির্দেশনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের নিয়ে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম আগামী ২ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে এ প্রক্রিয়া চলবে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত।

    সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যানের আদেশক্রমে প্রফেসর ড. মো. মাসুদ রানা খান।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিলম্ব ফি ছাড়া জনপ্রতি রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৬ টাকা। নির্ধারিত সময়ের পর বিলম্ব ফি সহ রেজিস্ট্রেশন করলে অতিরিক্ত ১৪০ টাকাসহ মোট ৩৩৬ টাকা দিতে হবে।

    বোর্ডের দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কেবল ৮ম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরাই নবম শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ পাবে। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বয়সের সীমা ১২ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে হতে হবে। ১২ বছরের কম বা ১৮ বছরের বেশি বয়সি শিক্ষার্থীরা নিবন্ধনের যোগ্য বিবেচিত হবে না।

    রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম নিখুঁত করতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণি শিক্ষকসহ ৩ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনলাইনে তথ্য সাবমিটের আগে বিদ্যালয়ের ভর্তি ফরমের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখার দায়িত্ব থাকবে এ কমিটির ওপর। ভুল তথ্যের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধান ও কমিটির সদস্যগণ যৌথভাবে দায়ী থাকবেন। কোনো অবস্থাতেই রেজিস্ট্রেশনের কাজে শিক্ষার্থীদের নিয়োজিত করা যাবে না।

    শিক্ষার্থীদের বিভাগ নির্বাচনের বিষয়ে বলা হয়েছে, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্মতিক্রমে মানবিক, বিজ্ঞান বা ব্যবসায় শিক্ষা শাখা চূড়ান্ত করা হবে। তবে ৮ম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল বিবেচনা করে বিভাগ বিভাজন করা যেতে পারে।

    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে বা কোনো ধরনের জটিলতা তৈরি হলে তার পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে বহন করতে হবে। এছাড়া ফি জমাদানের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের বোর্ডে আসার প্রয়োজন নেই; সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি পরিশোধের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অনলাইনে ‘eSIF’ পূরণ করা যাবে।

  • এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট

    এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট

    মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে ১০ আগস্ট । সোমবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক এ তথ্য জানান।

    ২০ জুলাই এসএসসির ফল প্রকাশের কথা ছিল, কিন্তু প্রস্তুতি শেষ না হওয়ায় তা পিছিয়ে যায়।

    এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে, পরীক্ষা চলে ২০ মে পর্যন্ত। এরপর ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হয়।

    ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় এ বছর পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি।

  • রাকসুর ৯ মাসে প্রত্যাশা আর বাস্তবতার ফারাক

    রাকসুর ৯ মাসে প্রত্যাশা আর বাস্তবতার ফারাক

    দীর্ঘ ৩৬ বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল। বছরের পর বছর নির্বাচিত ছাত্রনেতৃত্বের অনুপস্থিতির পর শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ছিল, নতুন রাকসু হবে তাদের অধিকার আদায়ের শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম, প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন এবং ক্যাম্পাসের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধানকারী প্রতিষ্ঠান।

    নির্বাচনি প্রচারে আবাসন সংকট নিরসন, পরিবহন ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, প্রশাসনিক ডিজিটালাইজেশন, গবেষণা সহায়তা, হল ডাইনিংয়ের মানোন্নয়ন, নিরাপদ ক্যাম্পাস ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় নয় মাস পর সেই প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে শুরু হয়েছে মূল্যায়ন। কিছু ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি এলেও শিক্ষার্থীদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ অনেক অঙ্গীকার এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

    গত বছরের ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত রাকসু নির্বাচনে ২৩টি পদের মধ্যে ২০টিতে জয় পায় ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’। তাদের নির্বাচনি প্রচারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘৭টি হ্যাঁ, ৭টি না’ এবং ‘১২ মাসে ২৪ সংস্কার’। অন্যদিকে, স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারের ইশতেহারে পূর্ণাঙ্গ আবাসিকতা, হল ডাইনিংয়ের মানোন্নয়ন, আধুনিক মেডিকেল সেন্টার, প্রশাসনিক ডিজিটালাইজেশন এবং পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ছিল। এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাকসু একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক ছাত্র সংসদে পরিণত হবে—এমন প্রত্যাশাই ছিল শিক্ষার্থীদের।

    যেসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি

    দায়িত্ব গ্রহণের ৯ মাসে রাকসু কয়েকটি দৃশ্যমান উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও বিভিন্ন হলের রিডিং রুমে এসি স্থাপন, বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার বসানো, ক্যাম্পাসে ফার্মেসি চালু, নারী উদ্যোক্তা মেলা, থিসিস প্রণোদনা এবং বিদেশি শিক্ষকদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন সেমিনারের আয়োজন।

    এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল নিরাপত্তা, ফ্যাক্ট-চেকিং, অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, ওয়ার্ডপ্রেস ও গবেষণা পদ্ধতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ, বিনামূল্যে আইইএলটিএস প্রস্তুতি, বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি ভেন্যুর ভাড়া কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

    অপূর্ণ রয়ে গেছে যেসব প্রতিশ্রুতি

    তবে রাকসুর আলোচিত অনেক প্রতিশ্রুতিই এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি আবাসন সংকট নিরসন কিংবা অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভাতা চালুর বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। একইভাবে বাসের ট্রিপ ও রুট ব্যবস্থাপনা, মেডিকেল সেন্টারের সংস্কার, অন-ক্যাম্পাস জব এবং পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসি বাস্তবায়নেও দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি।

    এ ছাড়া নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা, নারী শিক্ষার্থীদের অধিকার সুরক্ষা, অপরাধ দমন, মেস নীতিমালা প্রণয়ন, গ্রন্থাগারের আধুনিকায়ন, গবেষণা অনুদান ও বৃত্তি বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া প্রশিক্ষক নিয়োগ, হলগুলোর ইন্টারনেট সমস্যার সমাধান এবং প্রশাসনিক ডিজিটালাইজেশনের মতো প্রতিশ্রুতির বেশিরভাগই এখনো আংশিক বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।

    শিক্ষার্থীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

    রাকসুর কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, ৩৬ বছর পর রাকসু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের অনেক প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু ৯ মাসেও পরিবহন, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা হলের খাবারের মানে দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়নি। ইশতেহারের অনেক প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়িত হয়নি বলে মনে হয়। অন্তত হলের খাবারের মান ভালো হবে, এমন আশা ছিল। কিন্তু সে জায়গায়ও আমরা হতাশ।

    গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী তুষার ইমরান বলেন, ‘রাকসুর কার্যক্রম দেখে মনে হয়েছে, তারা শিক্ষার্থীদের ইশতেহারের চেয়ে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নেই বেশি মনোযোগী। নয় মাসেও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির উল্লেখযোগ্য অংশ বাস্তবায়িত হয়নি।

    প্রশাসনিক ও আর্থিক সীমাবদ্ধতাও বড় চ্যালেঞ্জ

    সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, লালফিতার দৌরাত্ম্যের কারণে অনেক কাজ নির্ধারিত সময়ে করা সম্ভব হচ্ছে না। আগের উপাচার্যের সময়ে অনেক বিষয় এগিয়ে নিয়েছিলাম। নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর সেগুলো আবার নতুন করে শুরু করতে হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘আমার ইশতেহারের অধিকাংশ প্রতিশ্রুতিই দীর্ঘমেয়াদি। আবাসন, মেডিকেল সেবার উন্নয়ন ও শিক্ষক মূল্যায়নের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করা হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য তিন হাজার ৩৭৫ কোটি টাকার একটি বাজেট অনুমোদন হয়েছে, যেখানে সাতটি নতুন হল নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সমস্যার সমাধান হবে।’

    ইশতেহার বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি কোনো অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিইনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অঙ্গ ও দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব হতো।

    শিবির-সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট থেকে নির্বাচিত রাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) এস এম সালমান সাব্বির বলেন, দীর্ঘ ৩৬ বছর পর নির্বাচন হওয়ায় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বুঝে উঠতেই কয়েক মাস সময় লেগেছে। এখনো বিভিন্ন দপ্তরে একই বিষয়ে বারবার যেতে হচ্ছে। পাশাপাশি আর্থিক দিক থেকেও আমরা পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা পাচ্ছি না।

    তিনি আরো বলেন, বাজেট ও স্পন্সরশিপসংক্রান্ত জটিলতার কারণে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ভাতা, পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসি, মেডিকেল সেবার সংস্কার এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ আবাসিক করার মতো বড় উদ্যোগগুলো এখনো শুরু করা যায়নি।

  • এসডিজি অর্জনে ৫ বছরে বাংলাদেশের দরকার আরও ৪২১ বিলিয়ন ডলার

    এসডিজি অর্জনে ৫ বছরে বাংলাদেশের দরকার আরও ৪২১ বিলিয়ন ডলার

    টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের আরও প্রায় ৪২১ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের প্রয়োজন হবে। সম্প্রতি হালনাগাদ করা সরকারের এসডিজি অর্থায়ন কৌশলের পর্যালোচনায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

    আজ রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স অ্যাসেসমেন্ট (ডিএফএ) ও এসডিজি অর্থায়নবিষয়ক জাতীয় ভ্যালিডেশন কর্মশালায়’ অতিরিক্ত অর্থায়নের হিসাব দেওয়া হয়।

    জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কের কার্যালয়ের সহযোগিতায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ওই কর্মশালার আয়োজন করে। আজ ইআরডির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

    কর্মশালার মূল উপস্থাপনা প্রদান করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ও বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান। তিনি তাঁর উপস্থাপনায় বাংলাদেশের পরিবর্তিত অর্থায়ন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেন। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি উভয় উৎস থেকে অতিরিক্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করার সম্ভাব্য কৌশল তুলে ধরেন।

    সেলিম রায়হান জানান, ২০২৬-২৭ থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশের অতিরিক্ত ৪২১ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। এ অর্থের সিংহভাগ দেশীয় সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়ন, জলবায়ু অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইআরডিসচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, ‘এসডিজি বাস্তবায়নের অবশিষ্ট সময় অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। একদিকে অর্থায়নের যেমন ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে, তেমনি হাতে সময় সীমিত এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতিও অনিশ্চিত। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্থবহ অগ্রগতি অর্জন করতে সক্ষম হবে।’

    মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী আরও বলেন, ‘এখন আমাদের প্রয়োজন সুস্পষ্ট অগ্রাধিকার নির্ধারণ, সমন্বিত উদ্যোগ এবং কার্যকর বাস্তবায়ন।’

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরজনিয়াক বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

    ক্যারল ফ্লোর-স্মেরজনিয়াক বলেন, বর্তমান বিশ্বে উন্নয়ন অর্থায়নের সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিনিযোগে উৎসাহিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের নিজস্ব উৎস থেকে এসডিজি বাস্তবায়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ইআরডির অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল একটি সমন্বিত ও বাস্তবভিত্তিক অর্থায়ন পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ইউএনডিপির উপ-আবাসিক প্রতিনিধি সোনালি দয়ারত্নে বলেন, অর্থায়নের ঘাটতি পূরণে আরও কার্যকর অর্থায়ন নীতি এবং শক্তিশালী অংশীদারত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন।

    যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) অর্থায়নে পরিচালিত ইউএনডিপি ক্লাইমেট ফাইন্যান্স নেটওয়ার্ক (সিএফএন) কর্মসূচির সহায়তায় আয়োজিত এই কর্মশালার আয়োজন করে। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, ব্যাংকিং খাতের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৫৮

    ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৫৮

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৪৫৮ জন।

    আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৯৯, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৮, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৫, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৮১, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭৬, খুলনা বিভাগে ৪৮, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৫, রাজশাহী বিভাগে ২৬ ও রংপুর বিভাগে ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৯৮ জন। এর মধ্যে চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৯৯৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, চলতি বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪৩ জনের। এর মধ্যে চলতি মাসে ২৫ জন মারা গেছে। আর জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক ও জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • শুধু চাকরি নয়, কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

    শুধু চাকরি নয়, কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

    শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিভিত্তিক শিল্প, অ্যাগ্রো বিজনেস ও উদ্ভাবনী কৃষি উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য নতুন ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের কৃষি খাতে অপার সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে তরুণরা উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব।

    রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, কৃষিতে পড়াশোনা করলেই সবাইকে শুধু সরকারি চাকরিতে যেতে হবে—এমন নয়। কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যবসা, শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

    মন্ত্রী বলেন, শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই শুধু ডিগ্রি অর্জন নয়, দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটিয়ে নতুন উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে কৃষিকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও উৎপাদনশীল খাতে রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং নতুন প্রযুক্তি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। কৃষির উন্নয়নে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক ও মাঠপর্যায়ের কৃষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষি গবেষণায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে নবীন শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    শেকৃবির উপাচার্য ড. মোঃ আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • হল দখলের রাজনীতি আর ফিরে আসতে দেওয়া হবে না: আখতার হোসেন

    হল দখলের রাজনীতি আর ফিরে আসতে দেওয়া হবে না: আখতার হোসেন

    রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, ৫ আগস্টের পর দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হল দখলের সংস্কৃতিতে ভাটা পড়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখন নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে ও প্রতিবাদ করতে পারছেন। তবে ক্যাম্পাসে নির্যাতন, টর্চার ও বাকস্বাধীনতা হরণের পুরোনো সংস্কৃতি যেন আর ফিরে না আসে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

    রোববার দুপুরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বটতলায় বর্ষা বিপ্লবের স্মৃতিচারণ ও নতুন রাজনৈতিক ধারা বিনির্মাণের লক্ষ্যে ইবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    আখতার হোসেন বলেন, “আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম, তখন কথা বলার পরিবেশ ছিল না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা ছিল জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার শামিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখন নিজেদের অধিকার নিয়ে সরব হতে পারছেন, যা আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়।”

    তিনি বলেন, “জাতীয় ছাত্রশক্তি কখনো হল দখলের রাজনীতি করবে না। বরং কেউ যদি হল দখল করতে আসে, তাহলে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরাই সবার আগে প্রতিবাদে সামনে দাঁড়াবে। শিক্ষার্থীদের হল শিক্ষার্থীদের কাছেই থাকবে এবং ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ থাকবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

    তবে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মাঝেমধ্যে এমন কিছু ঘটনা ঘটছে, যা আবারও ভয় ও অস্থিতিশীলতার পরিবেশ তৈরির আশঙ্কা সৃষ্টি করছে। নির্যাতন, টর্চার ও বাকস্বাধীনতা হরণের মতো পরিস্থিতি যেন আর ফিরে না আসে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

    আলোচনা সভায় সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু)-কে গ্রেপ্তারের দাবিও জানান আখতার হোসেন। তিনি বলেন, “সাহাবুদ্দিন চুপ্পু শুধু ফ্যাসিবাদের একজন প্রতীকই নন, তিনি ব্যাংক লুটের সঙ্গেও জড়িত। ইসলামী ব্যাংক দখল করে এস আলম গ্রুপের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বিদেশে বাড়ি করেছেন এবং স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থাও করেছেন। এমন একজন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির পদে থাকার নৈতিক যোগ্যতা হারিয়েছেন।”

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করেছেন। এছাড়া রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও বিদেশে অবস্থানকালে শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগও তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে তাঁকে আইনের আওতায় আনা উচিত।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার ও যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু। প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান। এছাড়া জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধারা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আলোচনা সভায় অংশ নেন।

  • যুক্তরাষ্ট্রে সহকারী  শিক্ষক পদে নিয়োগ পাচ্ছে রোবট

    যুক্তরাষ্ট্রে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পাচ্ছে রোবট

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের একটি হাই স্কুলে মানবাকৃতির বা হিউম্যানোয়েড রোবট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সহকারী শিক্ষক চালুর এক উদ্যোগ ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান বুধবার (২৬ জুলাই) এ কথা জানিয়েছে। নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আদিবাসী সেনেকা জনগোষ্ঠীর সংরক্ষিত এলাকা ‘আলেগেনি’তে অবস্থিত সালামানকা হাই স্কুলে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানোর জন্য এই রোবট বসানো হচ্ছে। তবে স্কুল শিক্ষক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে ‘একেবারেই অনুপযুক্ত’ এবং ‘সাংস্কৃতিক বোধহীনতা’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন।

    টরন্টোভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘রিয়েলবোটিক্স’ তৈরি এই ‘স্যালি’ নামের এম-সিরিজের রোবটটি কিনতে কাটারগাস কাউন্টি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের খরচ হয়েছে ৫৭,৫৯০ ডলার। রিয়েলবোটিক্সের দাবি অনুযায়ী, তারাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কোনো স্কুল ডিস্ট্রিক্ট যেখানে এমন রোবট ও এআই সহকারী শিক্ষক বসানো হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের সাথে সরাসরি বার্তালাপ এবং মুখের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে পাঠে সাহায্য করবে।

    তবে বিতর্কের মূল জায়গা অন্যখানে। রিয়েলবোটিক্স প্রতিষ্ঠানটি আগে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবসায় যুক্ত ছিল এবং ২০০৪ সালের এপ্রিলে ১ কোটি ৬৭ লাখ ডলারে সেক্স ডল বা যৌন পুতুল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘সিমুলেক্রা’ কিনে নেয়। যদিও রিয়েলবোটিক্স দাবি করেছে, এই রোবট প্রকল্পের সাথে তাদের আগের ওই ব্যবসার কোনো সম্পর্ক নেই, তবে শিক্ষকদের মধ্যে গভীর দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। সালামানকা টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লেসি পিহলব্ল্যাড জানিয়েছেন, শিক্ষক ইউনিয়ন এই কোম্পানির অতীত ইতিহাস, ডেটা নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা নিয়ে শঙ্কিত। তিনি ক্লাসরুমে প্রযুক্তি কমানোর তাগিদ দিয়ে প্রকল্পটিতে আপাতত স্থগিতাদেশ চেয়েছেন।

    অন্যদিকে নিউ ইয়র্ক স্টেট ইউনাইটেড টিচার্সের সভাপতি মেলিন্ডা পার্সনও একে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যন্ত্রের বদলে মানুষের আন্তরিক স্পর্শ প্রয়োজন। শিশুদের সামনে এমন যন্ত্র বসানো হলে তা শিক্ষকতা পেশাকেই খাটো করে।

    স্কুলটিতে প্রায় ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী আদিবাসী বা নেটিভ আমেরিকান। স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিকল্প শিক্ষক সিয়েরা মে আব্রামস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমেরিকার সব স্কুল ছেড়ে বারবার আমাদের আদিবাসী শিশুদের ওপরই কেন এসব পরীক্ষা চালানো হয়?’ স্থানীয়দের মতে, এই উদ্যোগ আদিবাসীদের অতীতের তিক্ত ইতিহাস ও বোর্ডিং স্কুলের ট্রমার কথাই মনে করিয়ে দেয়।

    নিউ ইয়র্ক স্টেট শিক্ষা দপ্তরও বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। তাদের মুখপাত্র জেপি ও’হারে জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা এবং মূল শিক্ষার দায়িত্বে প্রশিক্ষিত মানব শিক্ষকের বিকল্প হিসেবে যন্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে তারা স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এরপরও রিয়েলবোটিক্স জানিয়েছে, শরৎকাল থেকে সীমিত পরিসরে এটি চালু হবে এবং এটি শিক্ষকদের হটিয়ে দেওয়ার জন্য নয়, বরং প্রযুক্তি শিক্ষার পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।

  • অমিত শাহকে চিঠি

    অমিত শাহকে চিঠি

    বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর জবাব চাইলেন রাহুল গান্ধী

    দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ওপর ছররা গুলি ছোড়ার অভিযোগের বিষয়ে জবাব চেয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। রোববার সকালে চিঠিটি তার এক্স অ্যাকাউন্টেও পোস্ট করেন তিনি।

    প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে ২০ জুলাই আয়োজিত সংসদ অভিমুখে পদযাত্রায় শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ছররা গুলি ছোড়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তাতে আহত হন বেশ কয়েক জন বিক্ষোভকারী।

    রাহুলের দাবি, আহত এক বিক্ষোভকারীর চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিতেও ছররা গুলির আঘাতের কথা উল্লেখ রয়েছে। যদিও দিল্লি পুলিশ দাবি করেছে তারা ছররা গুলি ছোড়েনি।

    শনিবার অমিত শাহকে দেওয়া চিঠিতে রাহুল লেখেন, ‘২০ জুলাই শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে যে বর্বরোচিত আঘাত করা হয়েছে, তার জবাব চাইছি।’

    রাহুল বলেন, ‘তারা স্বচ্ছ শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে পথে নেমেছিলেন। তাদের দাবি শোনার পরিবর্তে আঘাত করেছে পুলিশ বাহিনী।’

    তার দাবি, শত শত শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। নারী আন্দোলনকারীদের মারধর করার অভিযোগও তুলেছেন রাহুল।

    দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এ প্রসঙ্গে দুটি প্রশ্ন করেন রাহুল। এক. কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি কি শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ছররা গুলি ছোড়ার অনুমতি দিয়েছিলেন? যদি তিনি না অনুমতি না দেন, তাহলে কে দিয়েছে? দুই. সাধারণ পোশাকে যারা শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করছিলেন, তারা কি পুলিশ, নাকি স্বেচ্ছাসেবী? তাদের কে নিয়োগ দিয়েছেন?

    ছররা গুলিতে আহত সাহিল লোহছাবকে নিয়ে গত শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের সামনে হাজির হয়েছিলেন রাহুল। তিনি ওই যুবকের শরীরের ক্ষত দেখিয়ে বলেছিলেন, ‘সরকার গুলি ছোড়ার কথা অস্বীকার করছে। কিন্তু এই যে তার প্রমাণ!’

  • আইসোলেশনে শাবানা আজমি

    আইসোলেশনে শাবানা আজমি

    বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শাবানা আজমি হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন এ অভিনেত্রী। সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। সে কারণে আগে থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া দেশটিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও অংশ নিতে পারেননি তিনি।

    একটি ছাত্র সংগঠনের আয়োজনে প্রতিবাদসভায় তার উপস্থিত থাকার কথা ছিল। সেখানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন শাবানা আজমি। তবে হঠাৎ সোয়াইন ফ্লু ধরা পড়ায় চিকিৎসক তাকে বাড়ির বাইরে যেতে নিষেধ করেছেন। সংক্রমণ যাতে অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্যই তাকে আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে শাবানা আজমি বলেন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে না পারায় তিনি হতাশ। শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে না পারলেও শিক্ষার্থীদের প্রতি তার সমর্থন সবসময় থাকবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে প্রার্থনা কামনা করেছেন অভিনেত্রী।

    শাবানার অসুস্থতার খবর সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসার পর তার ভক্ত-অনুরাগী ও শুভানুধ্যায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।

    সোয়াইন ফ্লু একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ। এ রোগে সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা ও ক্লান্তির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টও হতে পারে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    উল্লেখ্য, অভিনেত্রী শাবানা আজমি দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিজের মতপ্রকাশ করে আসছেন। ছাত্র আন্দোলন, মানবাধিকার ও নারী অধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাকে সরব হতে দেখা গেছে। এবার অসুস্থতার কারণে ছাত্রদের ওই কর্মসূচিতে অংশ নিতে না পারায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি। এর আগে গত ২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে হাজারো নাগরিকের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন শাবানা আজমি।

  • শিক্ষার্থীদের কাছে চাকরি না খাওয়ার অনুরোধ, বদলি হওয়া শিক্ষকের

    শিক্ষার্থীদের কাছে চাকরি না খাওয়ার অনুরোধ, বদলি হওয়া শিক্ষকের

    শিক্ষা ডেস্ক:

    কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে জলাবদ্ধ পরিবেশে অব্যবস্থাপনার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় পরীক্ষা কমিটিতে সম্পৃক্ত সাত শিক্ষককে স্ট্যান্ড রিলিজ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন কলেজটির শিক্ষার্থীরা।

    পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় কলেজ ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা সাত শিক্ষকের বদলির আদেশ বাতিলের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে ‘সাত শিক্ষক একসঙ্গে বদলি কেন, জবাব চাই’ এবং ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দেন।

    একপর্যায়ে আন্দোলন থেকে বিরত রাখতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যানার নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বদলি হওয়া ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন। তাকে বরগুনা সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে। পরে শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

    এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘আমার চাকরি খাইও না। তোমাদের কাছে আমি মাফ চাই। তোমরা আমাদের কোনো ক্ষতি কইরো না।’

    মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী তানহা ও শান্তা বলেন, এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে। কোনো শিক্ষক তাদের আন্দোলনে উৎসাহ দেননি। তারা বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। সব স্যার সরকারি চাকরিজীবী, বদলি হতেই পারেন। তবে বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

    কলেজের নতুন অধ্যক্ষ মোসাম্মৎ আমেনা বেগম সমকালকে বলেন, কিছু শিক্ষার্থী ব্যানার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে ক্যাম্পাসে এসে সাত শিক্ষকের বদলি বাতিলের দাবি জানায়। তারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেছে। শিক্ষকরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিষয়টি যেহেতু সরকারি সিদ্ধান্ত, তাই তাদের বোঝানো হয়েছে। পরে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি শেষ করে চলে যায়।

    কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে জলাবদ্ধ পরিবেশে চরম অব্যবস্থাপনার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার পর পরীক্ষাকমিটিতে সম্পৃক্ত সাত শিক্ষককে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। তাদের নতুন কর্মস্থল নির্ধারণ করা হয়েছে কক্সবাজার, নোয়াখালী, সিলেট, বরগুনাসহ বিভিন্ন জেলায়।

    গত বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপসচিব মো. আ. কুদ্দুস স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে সাত শিক্ষককে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে। অন্যথায় একই দিন অপরাহ্ন থেকে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।

    বদলি হওয়া শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম (চিওড়া সরকারি কলেজ, কুমিল্লা), গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মালেক (কক্সবাজার সরকারি কলেজ), উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়া (হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজ, নোয়াখালী), ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদার (লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ), রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ নূর উল্লাহ (নবীনগর সরকারি কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া), হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. আল-আমিন (বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ, সিলেট) এবং ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন (বরগুনা সরকারি কলেজ)।

  • ছাত্র ইউনিয়ন থেকে পদত্যাগ করলেন মেঘমল্লার বসু

    ছাত্র ইউনিয়ন থেকে পদত্যাগ করলেন মেঘমল্লার বসু

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক মেঘমল্লার বসু সংগঠন থেকে পদত্যাগ করেছেন।

    একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মাঈন আহমেদও পদত্যাগ করেছেন।শনিবার সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেঘমল্লার বসু ও মাঈন আহমেদের দাখিল করা পদত্যাগপত্র কেন্দ্রীয় সংসদে গৃহীত হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় একই সঙ্গে দুটি রাজনৈতিক সংগঠনের দায়িত্ব পালন করলে সাংগঠনিক মতদ্বৈধতা বা স্বার্থের দ্বন্দ্ব (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) সৃষ্টি হতে পারে। এ বিবেচনায় তারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র জমা দেন।

    এতে আরও বলা হয়, তাদের পদত্যাগের কারণ ও রাজনৈতিক অবস্থান পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় কমিটি পদত্যাগপত্র গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই প্রেক্ষাপট ও সাংগঠনিক বাস্তবতার কারণে কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি নাজিফা জান্নাতকেও ছাত্র ইউনিয়নের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্র ইউনিয়ন জানায়, সংগঠনের আদর্শ ও সাংগঠনিক স্বচ্ছতা রক্ষার স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একাধিক রাজনৈতিক সংগঠনের নীতিনির্ধারণী দায়িত্ব পালন ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক কাঠামো ও নীতির পরিপন্থি।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ছাত্র ইউনিয়ন বিদায়ী নেতাদের দায়িত্ব পালনকালীন অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের সফলতা কামনা করছে। পাশাপাশি সংগঠনটি শিক্ষার অধিকার, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রাম এবং বৈষম্যহীন সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আগের মতোই দৃঢ় প্রত্যয়ে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

  • আন্দোলন প্রত্যাহার করল ককরোচ পার্টি

    আন্দোলন প্রত্যাহার করল ককরোচ পার্টি

    ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর ৩৬ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। শনিবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে সরকার-সিজেপি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগই ছিল আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি।

    সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। সিজেপির নেতারা জানান, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের একাধিক দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় সদিচ্ছার ভিত্তিতে আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সৌরভ দাস বলেন, সরকারের কাছে উপস্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা (এফআইআর) প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া এবং এনইইটি (নিট) প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি মিলেছে।

    তিনি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, সরকার আমাদের দাবিগুলো মেনে নিয়েছে। তাই আমরা সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

    আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর সরকার আমাদের সব দাবি গ্রহণ করেছে। আমাদের দাবিগুলো মৌলিক ছিল, কোনোভাবেই অযৌক্তিক ছিল না।

    আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণার পর দিল্লির যন্তর-মন্তরে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের স্থান ত্যাগের আহ্বান জানায় পুলিশ। গত এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই আন্দোলনের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন, বাজারে ক্রেতা কমে যাওয়া এবং কয়েকটি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছিল।

    সৌরভ দাস জানান, সিজেপি আত্মহত্যাকারী ভুক্তভোগীদের পরিবারকে ১ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী পরিবারগুলোকে সম্মানসূচক সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এছাড়া শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে পাঁচ দফা দাবিপত্রও সরকারের কাছে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রায় চার সপ্তাহ পর আবারো সরকারের সঙ্গে বৈঠক হবে বলে জানান তিনি।

    গত ২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির পর দিল্লিসহ বিভিন্ন বিজেপি-শাসিত ও বিজেপি-সমর্থিত রাজ্যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। সিজেপির দাবি, সরকার এসব মামলাও প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছে।

    সৌরভ দাস বলেন, সরকার আমাদের জানিয়েছে, দিল্লিতে দায়ের হওয়া প্রায় ১৫ থেকে ২০টি এফআইআরের কপি আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে আমাদের দেওয়া হবে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এসব মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

    তিনি আরও জানান, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া এবং এফআইআর প্রত্যাহারের বিষয়ে লিখিত নিশ্চয়তার একটি খসড়া সরকারের কাছে দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক লিখিত নিশ্চয়তা দেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে।

  • ধর্মেন্দ্র প্রশ্ন ফাঁসে উত্থান:প্রশ্ন ফাঁসে পতন!

    ধর্মেন্দ্র প্রশ্ন ফাঁসে উত্থান:প্রশ্ন ফাঁসে পতন!

    ভারতে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের আন্দোলন ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি যেভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে, ঠিক তেমনই এক ঘটনা প্রায় তিন দশক আগে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত করেছিল। ১৯৯৭ সালে ওড়িশায় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মাধ্যমেই মূলত রাজনীতির মাঠে বড় পরিচিতি পান তিনি।

    সে সময় ওড়িশার কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী জনকী বল্লভ পট্টনায়কের সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিলেন এবিভিপির ছাত্রনেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান। মাত্র ১৮ বছর বয়সে রাজনীতিতে আসা তরুণ প্রধান উৎকলে নৃবিজ্ঞান নিয়ে পড়ার পাশাপাশি ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যে দুবার এবিভিপির জাতীয় সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

    সে সময় ভুবনেশ্বরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সচিবালয়ের সামনে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেছিলেন তিনি। কিন্তু পুলিশের লাঠিচার্জে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হয়ে তার শরীরের কয়েকটি হাড়ও ভেঙে গিয়েছিল। ক্যাম্পাস রাজনীতির সেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও পুলিশের দমনপীড়ন পেরিয়ে তার এই লড়াকু মানসিকতাই পরবর্তীতে তাকে বিজেপির মূল স্রোতের রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে দেয়।

    ছাত্র রাজনীতির সেই কণ্টকাকীর্ণ পথ থেকেই ধাপে ধাপে এগিয়ে ২০২১ সালে দেশের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পান ধর্মেন্দ্র প্রধান। ওড়িশায় বিজেপির ভিত্তি শক্ত করার পেছনেও তার দীর্ঘ সাংগঠনিক ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যার হাত ধরে ২০২৪ সালে সেখানে দীর্ঘদিনের বিজু জনতা দলের শাসনের অবসান ঘটিয়ে প্রথমবার ক্ষমতায় আসে বিজেপি।

    আর আজ, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই একই ধরনের নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এবং তার জেরে দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের চড়াও হওয়ার পরিস্থিতি ১৯৯৭ সালের সেই পুরোনো ইতিহাসকে ফিরিয়ে এনেছে সামনে। যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে এককালে নিজে রাস্তায় লড়েছিলেন তরুণ ধর্মেন্দ্র প্রধান, আজ শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ঠিক একই ধরনের সংকটের মুখোমুখি হয়ে বিরোধীদের আন্দোলনের জেরে তাকেই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে।

  • ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির আধুনিক ডিজিটাল আর্কাইভ চালু

    ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির আধুনিক ডিজিটাল আর্কাইভ চালু

    উচ্চশিক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও গবেষণাকে আরো সমৃদ্ধ করতে আধুনিক ডিজিটাল আর্কাইভ চালু করেছে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (ডব্লিউইউবি)। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য উন্মুক্ত এ ডিজিটাল আর্কাইভে একাডেমিক তথ্য ও গবেষণাসামগ্রীর সমৃদ্ধ সংগ্রহ রাখা হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ডিজিটাল আর্কাইভে ৩ হাজারের বেশি ই-বুকের পাশাপাশি দেশী-বিদেশী বিভিন্ন একাডেমিক জার্নাল, গবেষণাপত্র, প্রবন্ধ ও ডিজিটাল প্রকাশনা সংযোজন করা হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা একই প্ল্যাটফর্ম থেকে সহজেই নির্ভরযোগ্য একাডেমিক তথ্য ব্যবহার করতে পারবেন।

    ডিজিটাল আর্কাইভের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো পৃথক ইউজার প্রোফাইল ও লগইন সুবিধা। শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা অ্যাকাউন্টের ব্যবস্থা থাকায় প্রত্যেকে নিজ নিজ প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ ও সহজভাবে এই সেবা ব্যবহার করতে পারবেন।

    বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীরা পাঠ্যক্রম, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন, প্রকল্প ও গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও রেফারেন্স সংগ্রহ করতে পারবে এ প্ল্যাটফর্ম থেকে। একই সাথে আন্তর্জাতিক মানের জার্নাল ও গবেষণা প্রকাশনার মাধ্যমে শিক্ষকদের পাঠদান, কোর্স পরিকল্পনা, গবেষণা ও একাডেমিক তত্ত্বাবধানে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

    এ ছাড়া প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ব্যবস্থাপনা, নেতৃত্ব, দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত জ্ঞানসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকাশনা ব্যবহার করে নিজেদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ পাবেন।

    ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে আধুনিক ডেস্কটপ কম্পিউটারসমৃদ্ধ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত একটি ডিজিটাল আর্কাইভ রুমও স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে নিরিবিলি পরিবেশে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা গবেষণা, তথ্য অনুসন্ধান এবং অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।

    বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, ডিজিটাল আর্কাইভ কেবল একটি তথ্যভাণ্ডার নয়; এটি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চা সম্প্রসারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষাকে আরও সহজলভ্য, গবেষণাকে আরও গতিশীল এবং জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।

  • কুষ্টিয়ায় পুকুরের পানিতে ডুবে কলেজছাত্রের মৃত্যু

    কুষ্টিয়ায় পুকুরের পানিতে ডুবে কলেজছাত্রের মৃত্যু

    কুষ্টিয়ায় বন্ধুদের সাথে গোসল করতে নেমে পুকুরের পানিতে ডুবে কাওসার হোসেন (২৫) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

    শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে ডিসি পার্কের পুকুরে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত কলেজছাত্র কাওসার হোসেন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার ইসলাম পাড়া এলাকার আফসার উদ্দিনের ছেলে। কুষ্টিয়া শহরের উদিবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় বাবা-মায়ের সাথে বসবাস করতেন তিনি। কাওসার কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

    নিহত কলেজছাত্রের বন্ধু শাওন জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারা কয়েকজন বন্ধু ডিসি পার্কের পুকুরে গোসল করতে নামেন। তারা পুকুরের একপাশ থেকে সাঁতরে আরেক পাশে যান। পরে পেছনে তাকিয়ে দেখেন কাওসার পুকুরের মাঝ বরাবর এসে ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ বলে চিৎকার করছে। এ অবস্থায় শাওন দ্রুত গিয়ে বন্ধু কাওসারকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তারা দু’জনেই তলিয়ে যান। এরপর শাওন বন্ধুকে ছেড়ে পানির উপরে উঠে আসেন।

    খবর পেয়ে কুষ্টিয়ার ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা উদ্ধার কাজ চালিয়ে কাওসারের লাশ উদ্ধার করেন।

    কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো: ওয়াদুদ হোসেন জানান, পুকুরে ডুবে নিখোঁজের সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী উদ্ধার কার্যক্রমের পর কাওসারকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

  • দুই নারী শহীদের উপাখ্যান

    দুই নারী শহীদের উপাখ্যান

    ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবময় ও স্বতঃস্ফূর্ত গণবিপ্লব। এটি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে গ্রামীণ জনপদ পর্যন্ত দেশের সর্বস্তরের, সব ধর্মের মানুষকে এক কাতারে দাঁড় করিয়েছিল স্বৈরশাসক হাসিনার পতনের দাবিতে। আর সর্বস্তরের মানুষের জেগে ওঠার এই লড়াইয়ে নারীদের বলিষ্ঠ অংশগ্রহণ ছিল অনস্বীকার্য। তাদের অকুতোভয় অংশগ্রহণ আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। জুলাই বিপ্লবে নারীদের অবদান ছিল বহুমাত্রিক। শুরু থেকেই তারা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং আন্দোলনে সহযোদ্ধা ভাইদের আড়াল করে রাখাসহ নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আন্দোলনকে বেগবান করতে সহায়তা করেছেন। স্বৈরাচারীর ‘দেখামাত্র গুলি’ নীতি এতটাই নির্মম ছিল যে, তা যেমন রাজপথের লড়াকু তরুণীদের স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল, তেমনি ঘরের নিরাপদ বারান্দা কিংবা ছাদে অবস্থানরত নিষ্পাপ শিশু ও

    মা-বোনদেরও প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। ২৪-এর ডিসেম্বর মাসে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আমরা ১০ জন নারী শহীদের পরিচয় জানতে পারি। তারা হলেন— মায়া ইসলাম (৬০), শাহিনুর বেগম (৫৫), নাছিমা আক্তার (২৪), মেহেরুন নেছা (২২), লিজা আক্তার (২১), সুমাইয়া আক্তার (২০), নাঈমা সুলতানা (১৯), নাফিসা হোসেন মারওয়া (১৭), রিতা আক্তার (১৭) ও রিয়া গোপ (৬)। তাদের মধ্য থেকেআজ আমরা দুজন নারী শহীদের বীরত্বগাথা ও অবিস্মরণীয় অবদান তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

    নাঈমা সুলতানা

    জুলাইয়ের প্রথম নারী শহীদ ১৬ বছর বয়সি নাঈমা সুলতানা। সে ছিল মাইলস্টোন স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নাঈমাদের পরিবার উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের একটি বাসায় ভাড়া থাকত। বাবা ছিলেন একজন পল্লী চিকিৎসক। তিনি গ্রামের বাড়ি ও ঢাকার মধ্যে যাতায়াত করতেন। শুধু নাঈমার পড়াশোনার জন্যই মা সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় থাকতেন।

    নাঈমার অবসর কাটত আঁকাআঁকি করে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরুতে সে বাসায় বসে খাতায় নানা স্লোগানসংবলিত প্রতিবাদী ছবি এঁকে সময় কাটিয়েছে। মারা যাওয়ার আগের দিন, ১৮ জুলাই ২০২৪, উত্তরায় পুলিশের গুলিতে প্রায় ৩০ জন ছাত্র-জনতা নিহত হন। ওইদিন রাতে নাঈমা আন্দোলনের পোস্টার আঁকছিল এবং মায়ের সঙ্গে গল্প করছিল। একপর্যায়ে সে মাকে বলল, ‘আম্মু, ধরো আমি যদি আন্দোলনে গিয়ে মারা যাই, তুমি মানুষকে কী বলবা?’ মাকে জবাব দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে আবার নিজেই বলে উঠল, ‘বলবা যে শহীদ হয়েছে। আমার মেয়ে শহীদ হয়েছে।’

    ১৯ জুলাই ২০২৪, শুক্রবার। তাদের বাসা থেকে একটু দূরে উত্তরা আধুনিক মেডিকেলের সামনে ছাত্র-জনতার সঙ্গে পুলিশ এবং তাদের সহযোগী ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে অস্ত্রধারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও কিছু পুলিশ আশপাশের গলিতে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। আনুমানিক বিকাল ৪টার দিকে নাঈমা তার রুমে বসে ‘বয়কট ছাত্রলীগ’, ‘কোটা সংস্কার চাই’সহ নানা স্লোগানসংবলিত প্রতিবাদী পোস্টার রঙিন কালিতে আঁকছিল। একটু পর বাসার সামনে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে সে দৌড়ে বারান্দায় আসে। তার বাসার নিচে তখন আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে পুলিশ গুলি ছুড়ছিল। সে হাতে থাকা মোবাইলে ভিডিও অন করে নিচের দিকে তাক করতেই তাকে লক্ষ্য করে পুলিশ গুলি ছোড়ে। গুলির আঘাতে মুহূর্তেই মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে নাঈমা।

    নাঈমার মাথার এক পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। মেঝেতে তার মস্তিষ্কের অংশ ছিটকে পড়ে। গুলি লাগার সঙ্গে সঙ্গে ‘মা’ বলে চিৎকার করে ওঠে নাঈমা। পেছনের রুমে থাকা মা ও বড় বোন তার চিৎকার শুনে দৌড়ে বারান্দায় এসে দেখেন, নাঈমা মেঝেতে লুটিয়ে পড়েছে। মাথা থেকে রক্ত ঝরছে। সারা বারান্দায় ছড়িয়ে গেছে তার রক্ত। মেয়ের এ অবস্থা দেখে মা জ্ঞান হারান। বোনের কান্নার আওয়াজে আশপাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ও নিচে থাকা ছাত্ররা এসে নাঈমাকে ধরে উত্তরা আধুনিক মেডিকেলে নিয়ে যান। কিন্তু তার আগেই পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেয় নাঈমা।

    সেদিন রাতেই নাঈমার মরদেহ নেওয়া হয় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার আমুয়াকান্দা গ্রামে, তাদের গ্রামের বাড়িতে। পথে পুলিশের নানা হয়রানির শিকার হতে হয় পরিবারকে। মরদেহ কোথা থেকে এসেছে, কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, কোথায় নেওয়া হচ্ছে—এমন নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাদের। পরদিন সকাল সাড়ে ৯টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় নাঈমাকে। মাইলস্টোনের মেধাবী ছাত্রী নাঈমা পড়ালেখায় খুব ভালো ছিল। প্রতিদিন তার ডায়েরি লেখার অভ্যাস ছিল। বড় বোন প্রতিবছর জন্মদিনে কীভাবে তাকে সারপ্রাইজ দেন এ কথাও পাওয়া যায় নাঈমার ডায়েরিতে। বেঁচে থাকলে সে এ বছর ২৫-এ জুলাই ১৭ বছরে পা রাখত। জুলাইয়েই মায়ের কোলজুড়ে পৃথিবীতে এসেছিল নাঈমা, সেই জুলাইয়েই তাকে হারালো। প্রতিবছর জুলাই এলে তার পরিবারের দুঃসহ যন্ত্রণা আরো বেড়ে যায়।

    রিতা আক্তার

    রিতা আক্তার, বয়স মাত্র ১৭ বছর। স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হয়ে দরিদ্র বাবা-মায়ের অভাব-অনটন ঘোচাবে। কিন্তু স্বপ্নপূরণের আগেই তাকে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হলো। জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুনট ইউনিয়নের তালখুর গ্রামে রিতাদের বাড়ি। বাবা আশরাফ আলী একজন রিকশাচালক, মা রেহেনা বিবি গৃহিণী। তিন ভাই-বোনের মধ্যে রিতা ছিল মেজো। বড় ভাই খুব বেশি পড়াশোনা করেননি; তিনি দিনমজুরের কাজ করেন। ছোট ভাই মাত্র প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়েছে। পড়াশোনায় ভালো হওয়ায় রিতাই ছিল পরিবারের একমাত্র আশা-ভরসা।

    অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবা-মা অদম্য রিতাকে বাল্যবিয়ে দিতে চাইলে সে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, সে বিয়ে করতে চায় না। বড় হয়ে ডাক্তার হতে চায়। বাবা-মাকে উপার্জন করে খাওয়াতে চায়। পরিবারের হাল ধরতে চায়। তাই মেয়েকে ভালোভাবে পড়াশোনার সুযোগ করে দিতে বাবা-মা সাধ্যমতো সব চেষ্টা করেছেন। মা রেহেনা বাসাবাড়িতে কাজ করে যে আয় করতেন, সেই টাকা দিয়েই মেয়ের পড়ালেখার খরচ চালাতেন।

    গ্রামের মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করার পর উচ্চমাধ্যমিকে শহুরে প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করানোর জন্য বাবা সপরিবারে ঢাকায় আসেন। মিরপুর দুয়ারীপাড়া সরকারি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি করান মেয়েকে। মেয়ের পড়ালেখার সুবিধার জন্য কলেজের পাশেই মিরপুর-২ এইচ ব্লকে কম ভাড়ায় একটা ছোট্ট বাসা ভাড়া নেন। বাবা মিরপুর এলাকায় রিকশা চালাতেন। আর মা বাসাবাড়িতে কাজ করতেন।

    ৫ আগস্ট সকালে বাবা-মা তাদের কাজে বের হন। এ সুযোগে রিতা বেলা ১১টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যায়। দুপুরে মা ঘরে ফিরে দেখেন, মেয়ে নেই। তিনি খুঁজতে বের হন। আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও মেয়েকে কোথাও পাননি। সন্ধ্যা পর্যন্ত মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের মর্গে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

    এক মেডিকেল থেকে আরেক মেডিকেলে দৌড়াদৌড়ি করে রাত ১০টার পর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মেয়ের মরদেহ খুঁজে পান তারা। গায়ের জামাকাপড় দেখে মেয়েকে শনাক্ত করেন। আহত রিতাকে মেডিকেলে নিয়ে আসা ব্যক্তিদের কাছ থেকে পরিবার জানতে পারে, তার মাথার এক পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বের হয়ে গিয়েছিল। তাকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে নিয়ে আসার পর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা মেলেনি; চিকিৎসা দিতে বিলম্ব হয়। চিকিৎসকরা যখন রিতার চিকিৎসা শুরু করেন, ততক্ষণে সে আর বেঁচে ছিল না। পরদিন মেয়ের মরদেহ নিয়ে বাবা-মা গ্রামের বাড়িতে চলে যান। গ্রামের কবরস্থানে রিতাকে দাফন করা হয়।

    ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমেও সক্রিয় ছিল রিতা। ইসলামি গান, হামদ ও নাতে রাসুলবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে কয়েকবার প্রথম হয়েছে সে। শিক্ষকদেরও স্বপ্ন ছিল, রিতা একদিন অনেক বড় হবে। মেধাবী এই ছাত্রী আদর্শ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। কিন্তু অকালেই ঝরে গেল আরেকটি ফুল।

  • বিশ্বস্ত কাউকে রাষ্ট্রপতি পদে চায় বিএনপি

    বিশ্বস্ত কাউকে রাষ্ট্রপতি পদে চায় বিএনপি

    বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য কাউকে রাষ্ট্রপতি পদে বসাতে চায় ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। এক্ষেত্রে দলটি আমলা অথবা শিক্ষকের বদলে বেছে নিতে পারে দলের অভিজ্ঞ কোনো রাজনীতিককেই। ক্ষমতাসীন দলটির নেতাদের পর্যবেক্ষণ— রাজনৈতিক সংকটময় মুহূর্তে চাপ নিতে পারেন, এমন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তির বাইরে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করে অতীতে তারা পড়েছিলেন সংকটের মুখে। দলের নেতারা উদাহরণ টানলেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের। তারা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে বিএনপির নিয়োগ করা রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন বিদায় নিয়েছিলেন চাপের মুখে। এতে করে পথ প্রশস্ত হয়েছিল ওয়ান ইলেভেনের। যার ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ এক রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে যায় বিএনপি। অতীতের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এবার অত্যন্ত সতর্ক বিএনপি।

    দলটির জ্যেষ্ঠ নেতৃত্ব পর্যায়ে অভিমত, যিনি দলের প্রতি বিশ্বস্ত, দলের নীতি-আদর্শ-দর্শন ধারণ করেন, রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সংকটে পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম— রাষ্ট্রপতি হিসেবে এমন ব্যক্তিকেই বেছে নেওয়া উচিত। তারা বলছেন, সবকিছু বিচার-বিবেচনা করে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানই সে সিদ্ধান্ত নেবেন।

    পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গতকাল শুক্রবার পদত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতির এই হঠাৎ পদত্যাগের ক্ষেত্রে জানা গেছে, সরকারের কাছ থেকে ‘সবুজসংকেত’ পেয়েই তিনি পদত্যাগ করেছেন। সরকার চাইছিল যে তিনি পদত্যাগ করুক। কেননা, গত কয়েক মাস রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সরকারের সম্পর্কে এক ধরনের শিথিলতা তৈরি হয়, যেটা দৃশ্যমানও হয়।

    সাধারণত প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর থেকে ফেরার পর রাষ্ট্রপতিকে তার সফরের বিষয়ে অবহিতের রেওয়াজ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২১ থেকে ২৬ জুন মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম বিদেশ সফর। দেশে ফিরে ২৭ জুন তিনি জাতীয় সংসদে সফরের অর্জন নিয়ে কথা বলেন। তবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বা অন্য কোনোভাবে সফরের ফল তাকে অবহিত করেছেন— এমন কোনো তথ্য বঙ্গভবন কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রকাশ করেনি। তাই অনেকেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের দূরত্ব তৈরি হওয়ার কথা বলছিলেন।

    বিএনপির ভেতর থেকে কেউ কেউ বলছেন, গত মে মাসে রাষ্ট্রপতি (সদ্য সাবেক) মো. সাহাবুদ্দিন যখন চিকিৎসার জন্য লন্ডন যান, তখন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার ফোনালাপ হয়। এরপর গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মারফতে ওই ফোনালাপের বিষয়টি সরকারের কাছে চলে আসে, যেটাকে গুরুত্বসহকারে আমলে নেয় সরকার। এরপরই মূলত সরকার থেকে তাকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়। বিএনপি নেতাদের ধারণা, সেই সূত্র ধরেই মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। যদিও মো. সাহাবুদ্দিন ওই ফোনালাপের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে এটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেছেন।

    অনেকের ধারণা, ওই ফোনালাপই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের অন্যতম কারণ। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করেছেন যে মো. সাহাবুদ্দিনের ওপর তাদের যে আস্থা ছিল, ওই ফোনালাপের মধ্য দিয়ে চিড় ধরেছে তাতে। তবে এটাও ঠিক, মো. সাহাবুদ্দিন নিজেও শারীরিকভাবে অসুস্থ। পদত্যাগপত্রে সেটি তিনি উল্লেখও করেছেন।

    সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। বিএনপি নেতারা বলছেন, সংসদের আগামী অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবে। জানা গেছে, আগামী সেপ্টেম্বরে সংসদের পরবর্তী অধিবেশন বসতে পারে। এ অবস্থায় ক্ষমতাসীন দলটি মনে করছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য তাদের হাতে যথেষ্ট সময় রয়েছে।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপির জ্যেষ্ঠ চার নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান। তবে কেউ কেউ বলছেন, তাদের বাইরে থেকেও চমক আসতে পারে। সেটি একান্তই নির্ভর করছে তারেক রহমানের ওপর।

    জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. নূরুল ইসলাম মনি আগামীর সময়কে বললেন, ‘জাতীয় সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। সংসদের আগামী অধিবেশনে সেটি হতে পারে।’

    এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বললেন, ‘সংসদের একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন বসতে হয়। সে হিসেবে সেপ্টেম্বরের ১৫ তারিখের মধ্যে অধিবেশন বসতে হবে। এতে করে হাতে এখনো যথেষ্ট সময় আছে।’

    ‘রাষ্ট্রপতি পদে দল কাকে মনোনয়ন দেবে, সেই সিদ্ধান্ত পুরোপুরিই বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর নির্ভর করছে। এক্ষেত্রে তিনি দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে হয়তো কথা বলবেন’— যোগ করেন নূরুল ইসলাম মনি।

  • ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৩৯

    ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৩৯

    সাস্থ্য ডেস্ক:

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৩৯ জন । এর আগের দিন শুক্রবার কারো মৃত্যু হয়নি তবে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১৮১ জন। এই নিয়ে চলতি মাসের ২৫ দিনে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৬ হাজার ৫৩৬ জনে। আর মৃত্যু হয়েছে ২২ জনের।

    শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে বিভিন্ন হাসপাতালে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৮৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৭৫ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৭৭ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৬ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৯ জন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৬ জন, রংপুর বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩০ জন এবং সিলেট বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজন ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ৪১৬ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু হয়েছে ৪০ জনের এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৬৪০ জনে। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন এবং জুলাইয়ে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর এবার ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৮২০ জন বরিশাল বিভাগে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ নারী ।

  • শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পরও চলবে তেলাপোকাদের আন্দোলন

    শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পরও চলবে তেলাপোকাদের আন্দোলন

    ভারতের ককরোচ বা তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বাধীন ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। ইতিমধ্যে ধর্মেন্দ্র তার পদত্যাগের কথা ঘোষণা দিয়েছেন। তবে সর্বশেষ সিজেপি জানিয়েছে, তাদের আরও তিনটি দাবি রয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    এনিয়ে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেছেন, ধর্মেন্দ্র পদত্যাগ করলেও এখনই তেলাপোকারা (বিক্ষোভকারী) বিক্ষোভস্থল থেকে চলে যাবে না। এনডিটিভি জানিয়েছে, ধর্মেন্দ্রের পদত্যাগের খবরের পর বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে দেয়া প্রথম ভাষণে এমনটাই বলেছেন অভিজিৎ।

    পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সিজেপি লিখেছে, ধর্মেন্দ্রের পদত্যাগ সম্পন্ন, এখন নিটের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১ কোটি রুপি দিতে হবে। বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া যাবে না। তৃতীয় দাবি হলো, র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) এবং দিল্লি পুলিশকে বিক্ষোভকারীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

    এদিকে ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগের খবরে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিজয়-উল্লাস করছেন। সেই সঙ্গে দেশটির অনেক মানবাধিকারকর্মী, পরিবেশবিদসহ বিভিন্ন রাজনীতিবিদ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।
    আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, এটি ভারতের গণতন্ত্রের বড় জয়। এ ছাড়া চলমান এই আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনাম ওয়াংচুকও জানিয়েছেন, এটি গনতন্ত্রের বিজয়।

  • ধর্মেন্দ্রের পদত্যাগের পর বিক্ষোভকারীদের সরাতে যন্তর মন্তরে নিরাপত্তা বাহিনী

    ধর্মেন্দ্রের পদত্যাগের পর বিক্ষোভকারীদের সরাতে যন্তর মন্তরে নিরাপত্তা বাহিনী

    ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ও বিরোধী দলগুলোর ভারতজুড়ে বিক্ষোভের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। আজ শনিবার তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র পাঠান।

    ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের কথা ঘোষণার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য আন্দোলনস্থল যন্তর মন্তরে ঢুকতে শুরু করেছেন। তাঁরা সেখান থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান লিখেছেন, ‘প্রথম দিন থেকেই আমি এর দায়ভার গ্রহণ করেছিলাম। পরিস্থিতি থেকে আমি কখনোই মুখ ফিরিয়ে নিইনি। আমার সংকল্প ছিল, পরীক্ষা মাফিয়াদের কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে দেব না, কিংবা কোনো শিক্ষার্থীর ওপর অন্যায় হতে দেব না।’

    শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ‘যন্তর মন্তরসহ সারা দেশে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি যেন কোনো দেশবিরোধী শক্তি কাজে লাগাতে না পারে, জাতীয় ঐক্য যেন অটুট থাকে, কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেন আইনি জটিলতায় আটকে না পড়ে এবং আমাদের সন্তানেরা যেন তাঁদের সময় পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার গড়ার কাজে মনোযোগ দিতে পারে—এসব বিষয় বিবেচনা করে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।’

    মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রতিবাদে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এক মাসের বেশি সময় ধরে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর ঘিরে শিক্ষার্থীরা তীব্র আন্দোলন করে আসছেন। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে এ আন্দোলন গড়ে উঠেছে। সারা দেশ থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে সমর্থন জানান।

    গতকাল শুক্রবার দুপুরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে সিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠক করেন। সিজেপি তিনটি দাবি উত্থাপন করেছে। এগুলো হলো—শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্টের (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ।

  • নির্বাচন কমিশনের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত, নির্বাচিত ২৭২০

    নির্বাচন কমিশনের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত, নির্বাচিত ২৭২০

    বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও এর আওতাধীন মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে নিয়োগের জন্য অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। ১০ জুলাই ২০২৬ তারিখে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নির্বাচিত প্রার্থী ২ হাজার ৭২০ জন। এই প্রার্থীরা ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য মনোনীত হয়েছেন।

    প্রার্থীদের জন্য পরবর্তী নির্দেশনাবলি

    লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ব্যবহারিক পরীক্ষার তারিখ, সময় ও স্থান পরবর্তী সময় আবেদনকারীর মুঠোফোন নম্বরে এসএমএসের (SMS) মাধ্যমে জানানো হবে। এ ছাড়া ফলাফল–সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে।

    ফলাফল দেখুন এখানে https://asset.ecs.gov.bd/media/uploaded_files/notices/2026/07/3167fcab-6b03-401a-a09e-abcccd17a5ba.pdf

  • গণদাবির পক্ষে কারো ক্ষমতাই চিরস্থায়ী নয়: ককরোচ প্রধান

    গণদাবির পক্ষে কারো ক্ষমতাই চিরস্থায়ী নয়: ককরোচ প্রধান

    ভারতের শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগের খবর প্রকাশের পর যন্তর মন্তরে জড়ো হয়ে আনন্দ উদযাপন করেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং বিপুলসংখ্যক আন্দোলনকারী। এ সময় অভিজিৎ দীপকে বলেন, এটি গণতন্ত্রের বিজয়ের প্রতীক এবং তেলাপোকার শক্তিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।

    একই সঙ্গে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ এবং গত ২০ জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, গণদাবির পক্ষে কারো ক্ষমতাই চিরস্থায়ী নয়।

    অন্যদিকে, সিজেপির সঙ্গে কেন্দ্র সরকারের তৃতীয় দফার বৈঠকের আগেই শনিবার এক্সে নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি জানান, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে কোনো দেশবিরোধী গোষ্ঠী যেন কাজে লাগাতে না পারে, সে বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি।

    পাশাপাশি তিনি বলেন, পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট মাফিয়াদের কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে দেওয়া হবে না এবং এই ঘটনার দায় তিনি শুরু থেকেই নিজের কাঁধে নিয়েছিলেন।

  • জেন-জি আন্দোলনের মুখে ভারতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

    জেন-জি আন্দোলনের মুখে ভারতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

    ভারতে জাতীয় স্তরের বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়ম ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ব্যাপক আন্দোলনের জেরে পদত্যাগ করেছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন।

    শনিবার তৃতীয় দফার বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি ।

    দিল্লির যন্তর মন্তরে এক মাসের বেশি সময় ধরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

    পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে এক্সে দেওয়া বার্তায় ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ‘দেশের তরুণদের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি ও ন্যায্য প্রত্যাশার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। ভারতের নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন বাস্তবায়ন আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের নৈতিক অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রী মহোদয়ের নেতৃত্বে দেশসেবার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

    পদত্যাগের খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই যন্তর মন্তরের আন্দোলনস্থলে উল্লাসে ফেটে পড়েন আন্দোলনকারীরা। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন গত কয়েক দিনে ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়। দেশটির বিরোধী দলগুলোর সমর্থন আন্দোলনকে আরো জোরালো করে তোলে, যার ফলে সরকারকে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হয়।

  • পাঠদানের অনুমোদন বাতিলের মুখে ৬২১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

    পাঠদানের অনুমোদন বাতিলের মুখে ৬২১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দির্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি না করায় দেশের ৬২১টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। কেনো এসব প্রতিষ্ঠানের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত এবং পাঠদান পরিচালনার অনুমোদন বাতিল বা প্রত্যাহার করা হবে না তা আগামী সাত দিনের মধ্যে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে এসএসসি ভোকেশনাল শিক্ষাক্রমে ৪৪৩ টি এবং দাখিল ভোকেশনাল শিক্ষাক্রমে ১৭৮ টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানদেরকে জানানো হয়েছে।

    বলা হয়, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমের যেসব প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ দিন যাবৎ শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে না সে সকল প্রতিষ্ঠানকে আগামী ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিতসহ প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন কেন বাতিল/প্রত্যাহার করা হবে না মর্মে গত ২২ জুলাইয়ের মধ্যে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য ওয়েব সাইটে নোটিশ প্রদান করা হয়। কিন্তু এই বিষয়ে কিছু প্রতিষ্ঠানের ব্যাখ্যা পাওয়া গেলেও, বাকি প্রতিষ্ঠান অদ্যবধি কোনো প্রকার ব্যাখ্যা প্রদান করেননি।

    আরও বলা হয়, তালিকাভুক্ত যেসব প্রতিষ্ঠান অদ্যাবধি ব্যাখ্যা প্রদান করেননি তাদেরকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে উল্লিখিত বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

    কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, পাঠদান ও স্বীকৃতি প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৪ এর উপবিধি ৪.২, ৪.৪ এবং ৫.৪ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের ভর্তি, ফলাফল, অবকাঠামো, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, ব্যবস্থাপনা কমিটি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, লাইব্রেরি, পাঠদানের অনুমতি প্রদানকালে আরোপিত এবং অন্যান্য প্রযোজ্য শর্তাবলি পূরণে ব্যর্থ হলে সরকারের অনুমোদনক্রমে বোর্ড প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি বাতিল বা প্রত্যাহার করতে পারবে।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা দেখুন এখানে…

  • এইচএসসির ৫ বিষয়ের পরীক্ষার্থীদের নতুন নির্দেশনা

    এইচএসসির ৫ বিষয়ের পরীক্ষার্থীদের নতুন নির্দেশনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বৈরি আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত দিনে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা এইচএসসি ও সমমানের পাঁচ বিষয়ের পরীক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। পুনঃপরীক্ষায় অংশ নিতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে নিজ নিজ পরীক্ষাকেন্দ্রে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে।

    শনিবার (২৫ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জেসমিন তাসলিমা বানু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া অন্যান্য সব শিক্ষা বোর্ডের যেসব পরীক্ষার্থী বৈরি আবহাওয়ার কারণে গত ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তারা পুনঃপরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।এ নির্দেশনা পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্র, যুক্তিবিদ্যা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অফিস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ের পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

    আন্তঃশিক্ষা বোর্ড আরও জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোকে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের তথ্য আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে জরুরি ভিত্তিতে পাঠাতে হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • ১৩ জুলাই অনুপস্থিত শিক্ষার্থীরাই  পরীক্ষা দিতে পারবেন: শিক্ষামন্ত্রী

    ১৩ জুলাই অনুপস্থিত শিক্ষার্থীরাই পরীক্ষা দিতে পারবেন: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    গত ১৩ জুলাইয়ের পরীক্ষাগুলো আবার নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, গত ১৩ জুলাই যারা পদার্থবিজ্ঞান-হিসাববিজ্ঞান-যুক্তিবিদ্যা বিষয়ে পরীক্ষা দিতে পারেননি, তারা নিবন্ধন করে পরীক্ষা দিতে পারবেন

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ১৩ জুলাই অনুপস্থিত শিক্ষার্থীরাই শুধু এ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

    যাদের পরীক্ষা খারাপ হয়েছে, তারা সুযোগ পাবেন কি না—এমন প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘না। এটা তো সম্ভব না। যারা দিয়েছে, তাদের আর পরীক্ষা দিতে হবে না। প্রশ্নে ভুল ছিল, সেটাতে আমরা সবাইকে নম্বর দিয়ে দিচ্ছি তো। এরপর আর কোনো কথা নেই।’

    গত ১৩ জুলাই দেশের ৫৯ জেলায় (চট্টগ্রামের ৫ জেলা বাদে) এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেওয়া হয়। ভারি বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে ওই দিন পরীক্ষা নেওয়ায় তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়।

    এ নিয়ে ১৪ জুলাই সারা দেশে আন্দোলনে নামেন পরীক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী।

  • জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে: মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন

    জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে: মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন

    জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। রাজধানীতে আয়োজিত এক আর্ট প্রতিযোগিতায় তিনি বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে—অন্যথায় সরকারকে এর চড়া মূল্য দিতে হবে।

    শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর উত্তরার আইইএস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপন কমিটি, উত্তরা আয়োজিত জুলাই শহীদদের স্মরণে ‘তুলিতে জুলাই’ শীর্ষক আর্ট প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    জুলাই শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা ও জুলাই উদযাপন কমিটি, উত্তরার আহ্বায়ক রোকেয়া বেগম এমপির সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব কামরুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ আশরাফুল হক, জামাল উদ্দিন, ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, ইব্রাহিম খলিল, মাজহারুল ইসলাম, আবু বকর সিদ্দিক, গাজী মনির হোসাইন, ইসরাফিল হোসেন, সুরুজ্জামান, জাকির হোসাইন, তাহমিদ হুজাইফা, তালহা জোবায়ের সজিব ও ইমরান হোসাইনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

    মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের প্রতীক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে একটি নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক ব্যর্থতা, সদিচ্ছার অভাব এবং ক্ষমতার প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণের কারণে সেই অর্জন আজ ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    তিনি আরও বলেন, জুলাইকে কোনোভাবেই ভূলুণ্ঠিত হতে দেওয়া যাবে না। এটি ব্যর্থ হলে দেশ ও জাতিসত্তার অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

    সরকারের উদ্দেশে সেলিম উদ্দিন বলেন, নেতিবাচক রাজনীতি পরিহার করে ইতিবাচক রাজনৈতিক চর্চায় ফিরে আসা প্রয়োজন। অন্যথায় ইতিহাস সরকারকে ক্ষমা করবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সংবিধানের ব্যাখ্যা দিয়ে সনদ বাস্তবায়ন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে এবং এ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তার দাবি, এ ধরনের অবস্থান পরিহার করে অবিলম্বে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা উচিত।

  • জেন-জি আন্দোলনের মুখে ভারতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

    জেন-জি আন্দোলনের মুখে ভারতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

    ভারতে জাতীয় স্তরের বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়ম ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ব্যাপক আন্দোলনের জেরে পদত্যাগ করেছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন।

    শনিবার তৃতীয় দফার বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি ।

    দিল্লির যন্তর মন্তরে এক মাসের বেশি সময় ধরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

    শনিবার সকালে ককরোচ জনতা পার্টি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণে সরকার রাজি না হলে কোনো আলোচনায় তারা অংশ নেবে না।

    আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলো ছিল—

    • শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

    • আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া।

    • নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ।

    এর আগে শুক্রবার কেন্দ্র সরকার শেষের দুটি দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে কোনো অবস্থান জানায়নি।

    পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে এক্সে দেওয়া বার্তায় ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ‘দেশের তরুণদের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি ও ন্যায্য প্রত্যাশার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। ভারতের নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন বাস্তবায়ন আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের নৈতিক অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রী মহোদয়ের নেতৃত্বে দেশসেবার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

    পদত্যাগের খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই যন্তর মন্তরের আন্দোলনস্থলে উল্লাসে ফেটে পড়েন আন্দোলনকারীরা।নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন গত কয়েক দিনে ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়। দেশটির বিরোধী দলগুলোর সমর্থন আন্দোলনকে আরো জোরালো করে তোলে, যার ফলে সরকারকে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হয়।

  • তেলাপোকাদের’ চাপে নতি স্বীকার করবে না ভারত সরকার

    তেলাপোকাদের’ চাপে নতি স্বীকার করবে না ভারত সরকার

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কোনো সম্ভাবনা নেই। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সূত্রের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

    সংবাদমাধ্যমটির লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ককরোচ বা তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে চলমান ছাত্র আন্দোলনকারীরা এনইইটি (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন।

    তাদের দাবি, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না। তবে ভারত সরকারও জানিয়েছে কোনোভাবেই শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করবে না।

    সূত্রগুলোর ভাষ্য, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এখন সরকারের বিবেচনায় নেই।
    সরকারের একটি সূত্র এনডিটিভিকে জানিয়েছে, পদত্যাগই সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্ত। কিন্তু জনগণ আমাদের যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, আমরা সেই দায়িত্ব পালন করব।

    ভারত সরকারের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, আন্দোলনের চাপের মুখে শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

    এদিকে শুক্রবার দ্বিতীয় দফায় সিজেপির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। শুক্রবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে সিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং।

    বৈঠকের পর সিজেপি জানিয়েছে যে, তারা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় রয়েছে। সিজেপির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার তাদের দাবির বিষয়ে আগামীকাল বিকেল পর্যন্ত সময় চেয়েছে।

    সিজেপি’র মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, তারা সরকারের কাছে তাদের তিনটি শর্তের তালিকা দিয়েছে। এগুলো হচ্ছে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, নিট পরীক্ষায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের জন্য ১ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো এফআইআর নয়।

  • শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে কেন সরব হলেন আলিয়া ভাট?

    শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে কেন সরব হলেন আলিয়া ভাট?

    শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন নিয়ে অবশেষে মুখ খুলতে শুরু করেছেন বলিউডের একাধিক তারকা। নিট পরীক্ষাকে ঘিরে বিতর্ক এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ধীরে ধীরে বড় আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন তারকাদের নীরবতা নিয়ে সমালোচনা চললেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পর কয়েকজন অভিনেতা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

    সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার রাতে শিক্ষার্থীদের সংকট নিয়ে কথা বলেন সালমান খান। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানান অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। তার বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ২৬ দিন ধরে চলা আন্দোলন গত ২০ জুলাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংসদ অভিমুখে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জের পাশাপাশি কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। এরপর থেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়।

    এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আলিয়া ভাট বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। তবে একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের দৃঢ় অবস্থান তাকে আশাবাদীও করেছে।

    অভিনেত্রীর ভাষায়, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন শুধু একটি পরীক্ষার দাবি বা ব্যক্তিগত সমস্যাকে কেন্দ্র করে নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাদের ভবিষ্যৎ, পরিবারের স্বপ্ন এবং দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম। তার মতে, আন্দোলনকারীরা নিজেদের অধিকারের পাশাপাশি একটি পুরো প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন।

    শিক্ষার্থীদের সাহস ও দৃঢ়তার প্রশংসা করে আলিয়া আরও বলেন, তাদের অটল অবস্থান সমাজের সামনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন তুলে ধরেছে। যাদের হাতে দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠার কথা, তাদের কথা কি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে শোনা হচ্ছে এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

    শেষে শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ভবিষ্যত তাদেরই। তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীদের প্রতি আলিয়া ভাটের প্রকাশ্য সমর্থনকে অনেকেই তাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে দেখছেন।

  • ভারতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ নিয়ে টেন্ডুলকারের বার্তা

    ভারতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ নিয়ে টেন্ডুলকারের বার্তা

    প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে ভারতজুড়ে চলমান বিক্ষোভ ইস্যুতে বার্তা দিয়েছেন ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার। সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি বেলন, এমন একটি স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে কোনো ছাত্রছাত্রীর যেন মনে না হয় কঠোর পরিশ্রমের মূল্য দেওয়া হয়নি।

    কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলা আন্দোলন নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও, সততা, পরিশ্রম ও মেধার গুরুত্বের ওপরে জোর দিয়েছেন শচীন। বাবার শেখানো মূল্যবোধের কথা তুলে ধরে শচীন লেখেন, ‘আমার বাবা একজন অধ্যাপক ছিলেন। বহু ছাত্রছাত্রীর শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক ছিলেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই আমাকে একটি শিক্ষা দিয়েছিলেন— ব্যর্থ হওয়া মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু প্রতারণা নয়। কখনো শর্টকাট বেছে নেবে না।’

    ভারতের এই প্রাক্তন ক্রিকেটারের মতে, এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তোলা উচিত, যেখানে ফলাফলের চেয়ে পরিশ্রমকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং মেধাই হবে সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি।

    শচীন বলেন, ‘সমাজের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য হিসেবে আমাদের দায়িত্ব সংস্কৃতি গড়ে তোলা। যদি পরিশ্রমের বদলে শুধু ফলাফলকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তা হলে মানুষ মেধার বদলে শর্টকাটই খুঁজবে। আজ যদি ছাত্রছাত্রীরা মনে করে যে তাদের কঠোর পরিশ্রমের মূল্য দেওয়া হয়নি, তা হলে তাদের হতাশ হওয়া স্বাভাবিক। ভবিষ্যতে যাতে কোনো ছাত্রছাত্রীকে এমন পরিস্থিতির শিকার না হতে হয়, সেটা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।’

  • ডিউটিতে গিয়ে নিজের ছেলের লাশ উদ্ধার করলেন পুলিশ বাবা

    ডিউটিতে গিয়ে নিজের ছেলের লাশ উদ্ধার করলেন পুলিশ বাবা

    কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজের ১০ বছরের ছেলে মোহাম্মদ তুহিনের লাশ উদ্ধার করতে হলো কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার গাড়িচালক পুলিশ সদস্য শামসুল হককে।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ শহরের জনতা স্কুল রোড এলাকায় সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের চাপায় তুহিন নিহত হয়।

    নিহত মোহাম্মদ তুহিন গাইটাল জনতা স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা শামসুল হক কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় গাড়িচালক পুলিশ সদস্য হিসেবে কর্মরত।

    থানা সূত্রে জানা গেছে, সকালে জনতা স্কুল রোড এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে থানার একটি টহলদল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। টহলদলের গাড়িটি চালাচ্ছিলেন শামসুল হক। ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধারের সময় তিনি জানতে পারেন, নিহত শিশুটি তারই ছেলে তুহিন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে গাইটাল এলাকার বাসা থেকে সাইকেল নিয়ে জনতা স্কুল রোড এলাকায় ঘুরতে বের হয়েছিল তুহিন। এ সময় একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ডিউটি অফিসার তানিয়া নাজনীন জানান, সকালে থানায় ফোন করে দুর্ঘটনার খবর দেয়া হয়। ফোনে জানানো হয়, সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাকের চাপায় এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। তবে তখনও নিহত শিশুটির পরিচয় জানা যায়নি।

    কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আবুল কালাম ভূঞা জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে নেয়া হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ট্রাকের চালক পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।