শিক্ষা ও সাহিত্য

  • ফিডিং কর্মসূচি: সব স্কুলের শিক্ষার্থী উপস্থিতির তথ্য পাঠানোর নির্দেশ

    ফিডিং কর্মসূচি: সব স্কুলের শিক্ষার্থী উপস্থিতির তথ্য পাঠানোর নির্দেশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ফিডিং কর্মসূচির আওতায় থাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর জুন ও জুলাই মাসের গড় শিক্ষার্থী উপস্থিতির তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ক্রমিক, বিদ্যালয়ের নাম, প্রধান শিক্ষকের নাম, প্রধান শিক্ষকের মোবাইল নম্বর, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের সর্বশেষ শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা পাঠাতে হবে। এক্সেল ও পিডিএফ ফরমেটে নির্ধারিত ইমেইলে ১৩ আগস্টের মধ্যে এই তথ্য পাঠাতে হবে।

    সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। এ চিঠি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সব উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি নামের প্রকল্পের আওতায় দেশের ৮টি বিভাগের ৬২টি জেলার প্রকল্পভুক্ত ১৫০টি উপজেলার, উপজেলা ভিত্তিক সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিদ্যালয় ক্রমিক, বিদ্যালয়ের নাম, প্রধান শিক্ষকের নাম, প্রধান শিক্ষকের মোবাইল নম্বর, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা, জুন ও জুলাই মাসের গড় উপস্থিতি সংযুক্ত নির্ধারিত এক্সেল শিটে সঠিকভাবে এন্ট্রি করা প্রয়োজন। তথ্যের সঠিকতা ও যথাসময়ে তথ্য পাঠানো অত্যাবশ্যক কেননা এ তথ্যের ওপর ভিত্তিকরে তার উপজেলার খাদ্য সরবরাহের পরবর্তী কল অব নোটিশ, কার্যাদেশ দেয়া হবে।

    উল্লেখ্য, পাঠানো এক্সেল শিটে ফন্ট হবে (NikoshBan), ফন্ট সাইজ ১২, মার্জিন ৪ দিকে হাফ ইঞ্চি, A4 সাইজ ল্যান্ডস্কেপ। এক্সেল শিটের রো, কলাম, কলাম নম্বর, মার্জিন, ফন্ট ও ফন্ট সাইজ পরিবর্তন করা যাবে না। ১ থেকে ১৭ নং কলামের তথ্য অবশ্যই পূরণ করতে হবে এবং শতকরা হারের ঘরে সংখ্যার পরে শতাংশ (%) চিহ্ন ব্যবহার করা যাবে না।

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পিটিআই সংযুক্ত পরীক্ষণ বিদ্যালয় ছাড়া অন্য কোনো বিদ্যালয় তালিকাভুক্ত করা যাবে না।

    এমন অবস্থায় নির্দেশনা অনুসরণ করে উপজেলার তথ্য এক্সেল শিটে এন্ট্রি করে, এক্সেল ও পিডিএফ ফরমেটে আগামী ১৩ আগস্টের মধ্যে আবশ্যিকভাবে ইমেইল (gpsfpdpe@gmail.com) এবং WhatsApp Group (School Feeding UEO 150) এর মাধ্যমে পাঠানোর জন্য তাকে অনুরোধ করা হলো।

  • ছাত্রদলকে নিয়ন্ত্রণ না করলে পরিণতি হবে ভয়াবহ; শিবির

    ছাত্রদলকে নিয়ন্ত্রণ না করলে পরিণতি হবে ভয়াবহ; শিবির

    ছাত্রদল যেভাবে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস শুরু করেছে, তা অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণ করা না হলে এই সরকারের পরিণতি আওয়ামী লীগের চেয়েও ভয়াবহ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বক্তারা।

    তারা বলেন, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে গণহত্যার বিচার এবং জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে তাদের মাঠে দাঁড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও গণহত্যার বিচার দীর্ঘসূত্রতায় ফেলে দিয়েছে।

    বক্তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিষয় আড়াল করার জন্য ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে।

    বুধবার সকালে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, সব গণহত্যার বিচার নিশ্চিতকরণ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়াসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে’ আয়োজিত ছাত্র গণজমায়েতে তারা এসব কথা বলেন।

    সমাবেশে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গতকাল ক্যাম্পাসগুলোতে যারা হামলা চালিয়েছে, তারা প্রকৃত ছাত্র নয়; বরং তারা ছাত্রসন্ত্রাসী ও বহিরাগত। ছাত্রদল ক্যাম্পাসগুলোতে যাদের দিয়ে কমিটি করেছে, তাদের অনেকের ছাত্রজীবন ১৫ থেকে ২০ বছর আগেই শেষ হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, এসব ‘আদুভাই’ দিয়ে ক্যাম্পাসের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ও কেরাণীগঞ্জ থেকে ভাড়া করা সন্ত্রাসীদের ক্যাম্পাসে আনা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়ায় সশস্ত্র হামলা এবং রাতে ঘুমন্ত শিক্ষার্থী ও ঢাকা গ্রাফিক্স আর্টস কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগও করেন তিনি।

    শিবির সভাপতি বলেন, ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের লাগাম টানা না হলে এবং বিএনপির বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণ করা না হলে রাজপথে তাদের সন্ত্রাস প্রতিহত করা হবে।

    তিনি আরও বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে সহনশীলতার পরিচয় দেওয়া হচ্ছে। বারবার তাদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্ত রাখার আহ্বান জানানো হচ্ছে। কিন্তু পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, পূর্বের ফ্যাসিবাদী বন্দোবস্ত ফিরিয়ে আনতে তারা ক্যাম্পাসগুলোতে আবারও হল দখল, গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি চালু করতে চায়।

    তিনি প্রধানমন্ত্রীকে এই ‘সন্ত্রাসী দলের’ লাগাম টেনে ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে ইসলামী ছাত্রশিবির ছাত্রজনতাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সহনশীলতাকে দুর্বলতা মনে না করার আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি বলেন, গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখা যায়নি এবং ক্যাম্পাসগুলোতেও তাদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল না।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বারবার অবহিত করা হলেও এবং ডিএমপি কমিশনার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধের আশ্বাস দিলেও হামলাকারীদের হাতে চাপাতি, গ্রিজ, কোদাল ও রিভলভার দেখা গেছে। তাদের পাশে পুলিশ অবস্থান করেছে এবং ছাত্রলীগকে যেভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছিল, পুলিশ বাহিনী আবারও নব্য ফ্যাসিবাদের আশ্রয়দাতায় পরিণত হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

    তিনি বলেন, প্রতিটি ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। এরপর কোনো ক্যাম্পাসে রক্তপাত হলে এর দায়ভার সরকারকে নিতে হবে। জাতীয় রাজনীতি উত্তপ্ত হলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রতিটি রক্তবিন্দুর জবাব নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

    জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আমরা ভেবেছিলাম বিএনপির সুবুদ্ধির উদয় হয়েছে এবং এবার শিক্ষাঙ্গনে শান্তি ফিরে আসবে। সেখানে মেধার চর্চা ও গবেষণা হবে এবং আলোকিত মানুষ তৈরি হবে। কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে, ক্যাম্পাসগুলো দখল করে পুনরায় চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিতে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, শিক্ষার এই পরিবেশ জুলাই বিপ্লবের ফসল। ইসলামী ছাত্রশিবির প্রতিটি শিক্ষাঙ্গনের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে নিজেদের চরিত্র ও আদর্শের মাধ্যমে ছাত্রদলকে পরাজিত করেছে এবং ছাত্রসমাজের সমর্থন পেয়েছে। এই রাজনৈতিক ও আদর্শিক পরাজয়কে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েই ছাত্রদল সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি সরকারকে অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। অন্যথায় জনগণ সরকারকে তা বাস্তবায়নে বাধ্য করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি পুলিশের আইজিপি ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের উদ্দেশে অভিযোগ করে বলেন, গতকাল পুলিশের উপস্থিতিতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী, গুন্ডা ও বহিরাগতরা ‘হায়নার মতো’ হামলা চালিয়েছে।

    তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের আগের আইজি ও কমিশনারের পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, তারাও একই ধরনের কাজ করেছিলেন, কিন্তু শেখ হাসিনা তাদের রক্ষা করতে পারেননি।

    তিনি আরও বলেন, ভারতের সেবাদাস শেখ হাসিনা জনতার আন্দোলনের মুখে কীভাবে পালিয়ে গিয়েছিলেন, সেই ইতিহাস বর্তমান সরকারের জানা আছে। জানা না থাকলে তা জেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সেই পরিণতি স্মরণে থাকলে এত দ্রুত এসব কর্মকাণ্ডে জড়ানোর কথা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম এমপি বলেন, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে ভালো করেই চেনে। তারা জানে বলেই গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল।

    তিনি অভিযোগ করেন, ইসলামী ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে চলমান গণঅভ্যুত্থানকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ইসলামী ছাত্রশিবির ধৈর্য, সাহসিকতা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে চলমান গণআন্দোলন এগিয়ে নিয়ে শেখ হাসিনার পতন ত্বরান্বিত করাকে একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের বিরোধের মূল কারণ মেধার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা নয়; বরং ছাত্রদল টেন্ডারবাজি করতে চায় এবং ছাত্রশিবির তা করতে দিতে চায় না।

    তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টই এর ফয়সালা হয়ে গেছে। নতুন করে টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে ছাত্রদের মন জয় করা যাবে না এবং মেধা ও কোটার ভিত্তিতে কোনো হল তো দূরের কথা, একটি আসনও দখল করতে দেওয়া হবে না।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের ক্যাম্পাস দখলের পরিকল্পনা শুধু ছাত্রশিবিরকে বের করে দেওয়া নয়; বরং ক্যান্টিনে বিনা মূল্যে খাওয়া এবং ক্যান্টিনগুলোকে দেউলিয়া করার পরিকল্পনাও এর অংশ।

    ৫ আগস্ট বিজয় উৎসব পালনের দিনে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে দাঁড়ানো বাংলাদেশ, বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য লজ্জার বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে কথা বলার পরিবর্তে বাধ্য হয়ে তারেক রহমানকে নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি তারেক রহমানকে ছাত্রদলকে নিয়ন্ত্রণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ছাত্রদলকে সামলানো না হলে ছাত্রলীগ যেমন আওয়ামী লীগের পতন ত্বরান্বিত করেছে, এই ছাত্রদলও তারেক রহমানের রাজনৈতিক পতন আরও দ্রুত নিশ্চিত করতে পারে।

    ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় আয়োজিত ছাত্র গণজমায়েতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর শাখার নেতারা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এতে সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।

  • স্কুলে বুলিং ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ

    স্কুলে বুলিং ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীন বাস্তবায়নাধীন ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থীদের শিখন মূল্যায়নের জন্য মোবাইল অ্যাপ, আধুনিক লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস) এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে একাধিক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্রকাশিত প্রকল্পের বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (এপিপি) অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট এতে অনুমোদন দেন মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ।

    বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির আওতায় ১২টি সেবা প্যাকেজে মোট ৩৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে। প্রকল্পের প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন ইউনিটের (পিআইইউ) প্রস্তুত করা এ পরিকল্পনায় ডিজিটাল শিক্ষা, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে দুই বছর মেয়াদি জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়ন কার্যক্রমে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের জন্য একটি আধুনিক লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস) তৈরি করা হবে। আন্তর্জাতিক মানের এ কার্যক্রমের বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৮ সালের ১০ জুন পর্যন্ত।

    এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের শিখনফল মূল্যায়নের জন্য একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরিতে ৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। স্কুলে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, বুলিং প্রতিরোধ ও সচেতনতা বাড়াতে টেলিভিশন বিজ্ঞাপন (টিভিসি) নির্মাণ ও প্রচারে ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধবিষয়ক বিশেষ সমীক্ষা পরিচালনায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

    প্রকল্পের আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহারকে গুরুত্ব দিয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ের মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ মূল্যায়ন এবং আইসিটি প্রশিক্ষণের চাহিদা নিরূপণে ২ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি দেশের ৬৪০টি স্কুল ও মাদ্রাসায় ভোকেশনাল বা কারিগরি কোর্স চালুর পাইলট কার্যক্রম মূল্যায়নে ৮০ লাখ টাকা এবং মাধ্যমিক শিক্ষায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে গবেষণায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা বাড়াতে ডেপুটি টিম লিডার (জাতীয়) নিয়োগে ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিড-টার্ম রিভিউ পরিচালনায় ১ কোটি টাকা, পিআইইউর জন্য তিনটি যানবাহন ভাড়ায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ৩০ (ম্যান-মান্থ) মাস মেয়াদে আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ নিয়োগে ১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • সুরমা নদীভাঙনে বিলীন স্কুল-মসজিদ, আতঙ্কে হাজারো মানুষ

    সুরমা নদীভাঙনে বিলীন স্কুল-মসজিদ, আতঙ্কে হাজারো মানুষ

    সুনামগঞ্জের ছাতক সদর ইউনিয়নের বাউসা-কেশবপুর গ্রামে সুরমা নদীর ভয়াবহ ভাঙন যেন থামছেই না। একের পর এক বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে শতবর্ষী পূর্ব বাউসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এবং বাউসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। প্রতিদিনই নতুন করে ভাঙছে নদীর পাড়, আর সেই সাথে ভেঙে পড়ছে মানুষের স্বপ্ন, স্মৃতি ও ভবিষ্যৎ।

    স্থানীয়দের ভাষায়, এটি শুধু নদীভাঙন নয়—এ যেন একটি জনপদের ধীরে ধীরে মৃত্যুর গল্প। বর্ষা এলেই সুরমা নদী ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। প্রবল স্রোত আর তীব্র ঢেউয়ের আঘাতে নদীতীরের মাটি ধসে পড়ে নদীর বুকে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই ভাঙনে বাউসা ও কেশবপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে চলে গেছে। অথচ স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই নতুন নতুন এলাকা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

    গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দারা জানায়, যে স্থানে আজ নদীর উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে, কয়েক বছর আগেও সেখানে ছিল সবুজ ধানের ক্ষেত, ফলের বাগান, শিশুদের খেলার মাঠ, মানুষের বসতঘর এবং গ্রামের ঐতিহ্যবাহী মসজিদ। এখন সেখানে শুধু অথৈ পানি আর নদীর গর্জন।

    স্থানীয় কৃষকরা জানায়, একসময় নিজেদের জমিতে চাষাবাদ করে স্বচ্ছলভাবে সংসার চালাতেন। কিন্তু নদী তাদের সব কেড়ে নিয়েছে। জমি হারিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে কেউ দিনমজুর, কেউ রিকশাচালক, আবার কেউ শহরে গিয়ে শ্রম বিক্রি করে পরিবার চালাচ্ছেন। পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি হারিয়ে অনেক পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

    সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি। শতবর্ষের ইতিহাস বহনকারী পূর্ব বাউসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় এলাকাবাসী গভীরভাবে মর্মাহত। একইভাবে বাউসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হারিয়ে যাওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

    স্থানীয়রা বলেন, একটি বিদ্যালয় শুধু একটি ভবন নয়; এটি একটি গ্রামের ভবিষ্যৎ গড়ার কারখানা। আর একটি মসজিদ শুধু নামাজের স্থান নয়; এটি মানুষের বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনের প্রতীক। সেই দু’টি স্থাপনাই আজ নদীর গর্ভে হারিয়ে গেছে।

    এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীতীরবর্তী সড়কের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের চলাচল ভয়াবহ দুর্ভোগে পড়েছে।

    স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।

    স্থানীয়দের অনেকেই আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, আমরা আর আশ্বাস চাই না, চাই স্থায়ী সমাধান। আমাদের ঘরবাড়ি, মসজিদ, বিদ্যালয় ও কৃষিজমি রক্ষায় এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। নয়তো অচিরেই বাউসা-কেশবপুর গ্রামের নাম শুধু মানচিত্রে থাকবে, বাস্তবে থাকবে না।

    এই ভাঙনের চিত্র যেন সুরমা নদীরও এক নীরব আর্তনাদ। মনে হয় নদী যেন নিজেই মানুষের কাছে আকুতি জানাচ্ছে—আমি তো জীবন দিতে এসেছিলাম। আমার জলেই তোমাদের ফসল হতো, নৌকা চলত, মাছ মিলত, জনপদ গড়ে উঠেছিল। কিন্তু অব্যবস্থাপনা, অপরিকল্পিত হস্তক্ষেপ আর অবহেলায় আজ আমি নিজেই ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছি। আমি ভাঙতে চাই না, আমাকে সঠিকভাবে বাঁচাও। আমার দুই তীর রক্ষা করো, তাহলেই তোমাদের ঘরবাড়ি, বিদ্যালয়, মসজিদ ও ভবিষ্যৎও রক্ষা পাবে।

    স্থানীয়দের মতে, নদীভাঙন শুধু জমি বা স্থাপনা ধ্বংস করছে না; এটি এলাকার শিক্ষা, অর্থনীতি, ধর্মীয় জীবন, সামাজিক স্থিতি এবং মানুষের মানসিক নিরাপত্তাকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রতিদিন ভাঙনের শব্দ শুনে আতঙ্কে রাত কাটান নদীতীরের মানুষ। কখন যে নিজের ঘরটিও নদীতে তলিয়ে যাবে, সেই ভয় তাদের প্রতিনিয়ত তাড়া করে বেড়ায়।

    এলাকাবাসীর দাবি, জরুরি ভিত্তিতে সুরমা নদীর তীর রক্ষায় টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ, নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ভাঙনকবলিত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে।

    একই সাথে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা ও জনবসতি রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

    এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহি উদ্দিন নদীভাঙনের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সুরমা নদীর ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে এবং করণীয় বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

    এখন বাউসা-কেশবপুরের মানুষের একটাই প্রত্যাশা—আর কোনো আশ্বাস নয়, দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ। কারণ প্রতিটি নতুন বর্ষা, প্রতিটি নতুন ঢেউ তাদের জন্য নিয়ে আসে নতুন আতঙ্ক। আজ যদি কার্যকর উদ্যোগ না নেয়া হয়, তবে হয়তো আগামী প্রজন্ম শুধু গল্পেই শুনবে—সুরমার তীরে একসময় বাউসা-কেশবপুর নামে একটি জনপদ ছিল।

  • কঠিন পরীক্ষায় তরুণ নেতা ইব্রাহিম ত্রাওরে

    কঠিন পরীক্ষায় তরুণ নেতা ইব্রাহিম ত্রাওরে

    মাত্র ৩৮ বছর বয়সী সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে আফ্রিকার অন্যতম আলোচিত নেতা হয়ে উঠেছেন। ২০২২ সালের এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর সমর্থকদের কাছে তিনি জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও বিদেশি প্রভাবের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

    তবে দেশের বাইরে তার জনপ্রিয়তা বাড়লেও নিজ দেশ বুরকিনা ফাসোয় তার শাসন নিয়ে প্রশ্নও বাড়ছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিধিনিষেধ, অব্যাহত নিরাপত্তা সংকট এবং জাতীয় পুনর্জাগরণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা পরিবর্তন আনতে পারবে—এসব বিষয় এখন তার নেতৃত্বের বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    এপ্রিল মাসে ত্রাওরে বুরকিনা ফাসোর জনগণকে ‘গণতন্ত্র ভুলে যেতে’ বলেছিলেন। তার যুক্তি ছিল, দেশ এখন গণতান্ত্রিক পর্যায়ে নয়, বরং একটি বিপ্লবী সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

    এই মন্তব্যের পর তার সরকার সামরিক নেতৃত্বাধীন রূপান্তরকাল আরো বাড়ায় এবং রাজনৈতিক দলগুলো বিলুপ্ত করে। এতে স্পষ্ট হয়, দ্রুত বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর তার সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার নয়।

    ত্রাওরের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি এবং দেশের অভ্যন্তরের বাস্তব পরিস্থিতির এই পার্থক্যই এখন তার নেতৃত্বের অন্যতম বড় প্রশ্ন।

    কেন জনপ্রিয় ত্রাওরে?

    বুরকিনা ফাসোর বাইরেও ত্রাওরের জনপ্রিয়তা রয়েছে। আফ্রিকার অনেক দেশে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ, অর্থনৈতিক নির্ভরতা এবং জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক অভিজাতদের বিরুদ্ধে যে অসন্তোষ রয়েছে, ত্রাওরে সেই অনুভূতিকে কাজে লাগিয়েছেন।

    ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর তিনি বুরকিনা ফাসো থেকে ফরাসি সেনা প্রত্যাহার করেন, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেন এবং স্থানীয় শিল্প ও কৃষিকে গুরুত্ব দেন।

    তার সরকার অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতাকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছে। সাহেল অঞ্চলের অন্যান্য সামরিক সরকারগুলোর মতো বুরকিনা ফাসোও পশ্চিমা নিরাপত্তা অংশীদারদের থেকে দূরে সরে নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলছে।

    ত্রাওরের বক্তব্যে প্রায়ই উঠে আসে দেশটির সাবেক বিপ্লবী নেতা থমাস সাঙ্কারার উত্তরাধিকার। ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত বুরকিনা ফাসোর শাসক থাকা সাঙ্কারা আফ্রিকায় সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ও আত্মনির্ভরতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত।

    সমর্থকদের দাবি, ত্রাওরে দেশের জাতীয় গর্ব ফিরিয়ে এনেছেন এবং বাইরের শক্তির ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

    নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও বেকন কনসালটিং লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা কবির আদামু আল–জাজিরাকে বলেন, ‘বুরকিনা ফাসোয় যা ঘটছে, তা হলো জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতার সঙ্গে কার্যকারিতার সম্পর্কের পরিবর্তন।’

    তার মতে, ত্রাওরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কার্যকারিতার চেয়ে সার্বভৌমত্বের ধারণার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়ে পুনর্গঠন করেছেন।

    কী পরিবর্তন এনেছেন ত্রাওরে?

    ত্রাওরে তার সার্বভৌমত্বের বার্তাকে নীতিতে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তার সরকার স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো, কৌশলগত খাতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ এবং বিদেশি অংশীদারদের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

    সরকারের দাবি, কৃষিতে বিনিয়োগ বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে চাল ও ভুট্টার মতো খাদ্যশস্য উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত শিল্প বিকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া অবকাঠামো প্রকল্প এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতে দেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    সরকার সমর্থকদের মতে, এসব উদ্যোগ অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ভিত্তি তৈরি করছে এবং দেশের সম্পদ দেশের উন্নয়নে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করছে।

    নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সরকার ‘ভলান্টিয়ার্স ফর দ্য ডিফেন্স অব দ্য হোমল্যান্ড’ কর্মসূচিও সম্প্রসারণ করেছে। এটি একটি বেসামরিক বাহিনী, যা নিরাপত্তা রক্ষায় সেনাবাহিনীকে সহায়তা করে।

    নিরাপত্তা পরিস্থিতি

    এটাই ত্রাওরের নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

    ক্ষমতায় আসার সময় তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলা করবেন। কিন্তু বুরকিনা ফাসো এখনো সাহেল অঞ্চলের অন্যতম সহিংসতাপ্রবণ দেশ।

    আল-কায়েদা ও আইএসের সঙ্গে যুক্ত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বছরের পর বছর ধরে দেশটির বড় অংশে প্রভাব বিস্তার করেছে।

    ২০২২ সালের পর সেনাবাহিনী দেশজুড়ে অভিযান জোরদার করেছে এবং সরকার বিভিন্ন শহর ও কৌশলগত এলাকা পুনর্দখলের দাবি করেছে।

    তবে ঘানার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মুস্তাফা বাতুরে সাল্লামা আল–জাজিরাকে বলেন, ত্রাওরের প্রেসিডেন্সি শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি কতটা উন্নত হয়েছে, তার ওপর।

    তিনি বলেন, বুরকিনা ফাসো এখনো আল-কায়েদার সাহেল শাখা জামা’আত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) এবং আইএসের পশ্চিম আফ্রিকা শাখার হুমকির মুখে রয়েছে।

    সাল্লামার মতে, দেশটিতে লাখো মানুষ মানবিক সহায়তার প্রয়োজনের মধ্যে রয়েছে। ২০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি নিরাপত্তা দাবির স্বাধীন যাচাইও কঠিন হয়ে পড়েছে।

    সাংবাদিক, গবেষক ও মানবিক সহায়তাকারী সংস্থাগুলোর প্রবেশাধিকার সীমিত হওয়ায় পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র জানা আরো কঠিন হয়ে উঠেছে।

    রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ

    ত্রাওরের সরকার ধীরে ধীরে সামরিক রূপান্তরকাল থেকে ক্ষমতা আরো কেন্দ্রীভূত করার পথে এগোচ্ছে বলে সমালোচনা রয়েছে।

    জানুয়ারিতে দেশটির কর্তৃপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলো বিলুপ্ত করে এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত করে। সরকারের যুক্তি ছিল, জাতীয় সংকটের সময়ে এসব কর্মকাণ্ড বিভাজন তৈরি করছে।

    এর আগে সামরিক রূপান্তরকাল বাড়ানো হয়, যা বেসামরিক শাসনে ফেরার প্রক্রিয়াকে আরো পিছিয়ে দেয়। ফলে ত্রাওরের সামনে এখন দুটি বড় চ্যালেঞ্জ—একদিকে নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলা, অন্যদিকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও জনগণের প্রত্যাশার মধ্যে ভারসাম্য রাখা।

  • ৮ ব্র্যান্ডের স্কিন ক্রিমে মাত্রাতিরিক্ত মার্কারি, মারাত্মক ঝুঁকিতে কিডনি-স্নায়ুতন্ত্র ও অনাগত শিশু

    ৮ ব্র্যান্ডের স্কিন ক্রিমে মাত্রাতিরিক্ত মার্কারি, মারাত্মক ঝুঁকিতে কিডনি-স্নায়ুতন্ত্র ও অনাগত শিশু

    দেশের বাজারে অবৈধভাবে বিক্রি হওয়া একাধিক ত্বক ফর্সাকারী (ফেয়ারনেস) ক্রিমে ভয়াবহ মাত্রার বিষাক্ত ধাতু মার্কারির উপস্থিতি পেয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। সংস্থাটির পরীক্ষায় ৮টি ব্র্যান্ডের স্কিন ক্রিমে বাংলাদেশ মানদণ্ডে অনুমোদিত মাত্রার বহু গুণ বেশি মার্কারি শনাক্ত হয়েছে। এসব প্রসাধনী বিক্রি, বিতরণ, মজুদ ও ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএসটিআই।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসটিআই জানায়, বাজার থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করে এসব উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ মান (বিডিএস-১৩৮২) অনুযায়ী প্রসাধনীতে মার্কারির সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রা ১.০০ পিপিএম হলেও পরীক্ষায় কয়েকটি পণ্যে এর চেয়ে শতগুণেরও বেশি মার্কারি পাওয়া গেছে।

    বিএসটিআই জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাজারে বিভিন্ন বিদেশি ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমের বিক্রি বেড়েছে। এসব পণ্যের বড় একটি অংশ বৈধভাবে আমদানি না হয়ে যাত্রীদের লাগেজ কিংবা চোরাইপথে দেশে প্রবেশ করছে। ফলে এসব পণ্যের মান ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের সুযোগ থাকছে না। এ অবস্থায় বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা চালায় সংস্থাটি।

    পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, পাকিস্তানের এস.জে. এন্টারপ্রাইজের চাঁদনি হোয়াটেনিং ক্রিমে ১২০.৩৯ পিপিএম মার্কারি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পাকিস্তানের ক্রিয়েটিভ কসমেটিকসের ডিউ বিউটি ক্রিমে ১২৩.৩৭ পিপিএম, নুর এন্টারপ্রাইজের নুর হোয়াটেনিং ক্রিমে ৮২.৭৬ পিপিএম, লোয়া ইন্টারন্যাশনালের নাভিয়া হোয়াটেনিং ক্রিমে ৭৯.৭০ পিপিএম এবং নাভিয়া বিউটি ক্রিমে ৫৯.৮২ পিপিএম মার্কারি শনাক্ত হয়েছে।

    এ ছাড়া পাকিস্তানের কিউসিআই কোম্পানির নিউ ফেস বিউটি ক্রিমে ৪৪.৭২ পিপিএম, গৌরি কসমেটিকস প্রাইভেট লিমিটেডের গৌরি বিউটি ক্রিমে ৫৬.৯৩ পিপিএম এবং চীনের জিএলডিজেবি (হারবিন) কসমেটিকস কোম্পানির ন্যাচারাল পার্ল স্কিন ক্রিমে ৬৭.৪৯ পিপিএম মার্কারি পাওয়া গেছে।

    বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, ‘‘জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনও ধরনের আপসের সুযোগ নেই। ভোক্তার জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাই বিএসটিআইয়ের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত প্রসাধনী উৎপাদন, আমদানি কিংবা বাজারজাতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

    তিনি জানান, বাজারে নিরাপদ পণ্য নিশ্চিত করতে বিএসটিআই নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ, বাজার তদারকি, সার্ভিল্যান্স এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে।

    একই সঙ্গে ভোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘অজ্ঞাত উৎস বা অনুমোদনহীন ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম কেনা ও ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রসাধনী কেনার আগে অবশ্যই বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ও পণ্যের বৈধতা যাচাই করতে হবে। কোনও সন্দেহজনক পণ্য সম্পর্কে তথ্য থাকলে তা বিএসটিআইকে জানানোরও আহ্বান জানান তিনি।

    কেনবিপজ্জনকমার্কারি?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কারি একটি অত্যন্ত বিষাক্ত ভারী ধাতু। দীর্ঘদিন মার্কারিযুক্ত স্কিন ক্রিম ব্যবহার করলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এতে ত্বক অস্বাভাবিকভাবে পাতলা হয়ে যায়, স্থায়ী দাগ, অ্যালার্জি ও বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ দেখা দিতে পারে।

    শুধু ত্বকই নয়, শরীরে ধীরে ধীরে জমতে থাকা মার্কারি কিডনির মারাত্মক ক্ষতি, স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতা এবং স্মৃতিশক্তি ও শারীরিক সক্ষমতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে এই বিষাক্ত উপাদান অনাগত শিশুর স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত করার ঝুঁকি তৈরি করে।

    এ কারণে বিএসটিআই সংশ্লিষ্ট ৮টি ব্র্যান্ডের স্কিন ক্রিম ব্যবহার না করার পাশাপাশি অবৈধভাবে আমদানি হওয়া প্রসাধনী কেনা থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

  • ছাত্রদলের হামলায় আহত শিবির নেতার অবস্থা আশঙ্কাজনক

    ছাত্রদলের হামলায় আহত শিবির নেতার অবস্থা আশঙ্কাজনক

    ঢাকা কলেজ ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেকের ওপর হামলা করেছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে দুপুর দেড়টায় ক্যাম্পাসে মিছিল করে কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

    ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক মোহম্মদ মামুন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কলেজের গ্যালারি-২তে শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় আয়োজন করা হয়েছিল। অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেক ভাইয়ের নেতৃত্বে ৫/৬ গ্যালারি ডেকেরেশনের কাজ করছিল। এমন সময় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পারভেজ মোশারফের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এসে অতর্কিত আব্দুল মালেক ভাইসহ অন্যান্যদের মারধর করে।

    তিনি আরও বলেন, আব্দুল মালেক ভাইয়ের মাথায় আঘাত করে গুরুতর আহত করেছে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা। তাকে চিকিৎসার জন্য পপুলার মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়েছে। ভাইয়ের চিকিৎসা চলছে।

    ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ইলিয়াস বলেন, ‘সকাল থেকে ক্যাম্পাসে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা চলছিল আর ছাত্রদলের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে। বড় ধরনের সংঘর্ষের কোনো ঘটনার খবর এ পর্যন্ত আমার কাছে জানা নেই। তবে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের এক শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।’

  • হাসপাতালে শিবির-ছাত্রশক্তি নেতাদের ওপর ছাত্রদলের হামলা

    হাসপাতালে শিবির-ছাত্রশক্তি নেতাদের ওপর ছাত্রদলের হামলা

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মী এবং জকসু নেতাদের ওপর হামলার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রদল।

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) নেতারা অভিযোগ করেছেন, মঙ্গলবার বিকালে পুরান ঢাকার জনসন রোডে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি শিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাদের ওপর আকস্মিক হামলা চালান ছাত্রদল নেতারা।

    তারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের সামনে হামলা হলেও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

    এর আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) এবং অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

    মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রবেশ করতে গেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন জকসুর প্রতিনিধিরা।

    এ ঘটনায় জকসু সহসভাপতি (ভিপি) মো. রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানা ও আইনবিষয়ক সম্পাদক ফারুক, জবি ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ গুরুতর আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

    জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরাণীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন, মেডিকেল সেন্টারের সুযোগ-সুবিধা ও চিকিৎসাসেবা উন্নয়নসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি প্ল্যাকার্ডে তুলে ধরে ইউজিসি চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তার সামনে এসব দাবি তুলে ধরতে জকসু প্রতিনিধিরা প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশের চেষ্টা করেন।

    তবে প্ল্যাকার্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে প্রবেশের সময় তাদের বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে জকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্ল্যাকার্ড কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলা এবং তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জকসুর প্রতিনিধিরা।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলামসহ নেতারা অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করতে গেলে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বাধা দেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. কে এ এম রিফাত হাসান পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে তাকে ধাক্কা দেন ছাত্রদল আহ্বায়ক নিজে।

    এ সময় ছাত্রদল নেতা হিমেল বলেন, ‘এই দরজা বন্ধ করো। দ্রুত গেট আটকাও।’ পরে গেট আটকে দেওয়া হয়।

    জকসু নেতাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো ইউজিসি চেয়ারম্যানের সামনে তুলে ধরতেই তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের সেই কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং সরাসরি হামলা চালানো হয়।

    জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফ ফেসবুকে লেখেন, ‘প্রক্টর ছাত্রদল হয়ে গেছে, নাকি ছাত্রদল প্রক্টরের ভূমিকায়? আমন্ত্রণ জানিয়েও অডিটোরিয়ামে প্রবেশে বাধা। ধাক্কাধাক্কি করা শুধু ছাত্রদলের দ্বারাই সম্ভব।’

    এ বিষয়ে জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলা এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে প্রক্টর অফিস ও ছাত্রদলের ক্যাডাররা। এছাড়া জকসুর প্রতিনিধিদের ধাক্কা দেওয়া হয়েছে।’

  • নবম শ্রেণি পর্যন্ত স্মার্টফোন নিষিদ্ধ করল পর্তুগাল

    নবম শ্রেণি পর্যন্ত স্মার্টফোন নিষিদ্ধ করল পর্তুগাল

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানো, সাইবার বুলিং কমানো এবং বিদ্যালয়ের সামাজিক পরিবেশ উন্নত করতে নবম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুল চলাকালে স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে পর্তুগাল সরকার।

    সোমবার (৩ আগস্ট) দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, পরীক্ষামূলকভাবে এ নিষেধাজ্ঞা চালুর পর শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর যোগাযোগ বেড়েছে। এছাড়া বিরতির সময় শিক্ষার্থীরা মোবাইলের বদলে খেলাধুলা ও সহপাঠীদের সঙ্গে বেশি সময় কাটাচ্ছে।

    তবে স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী বা শিক্ষকের অনুমোদিত শিক্ষামূলক কাজে স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশও স্কুলে স্মার্টফোন ব্যবহারে একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

  • এবার ঢাকা আলিয়ায় ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ

    এবার ঢাকা আলিয়ায় ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজধানীর ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় হল দখলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হল দখলকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বিকেলের দিকে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। শুরুতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পরে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা পাল্টা অবস্থান নিয়ে প্রাঙ্গণের নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।

    সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের দেশীয় অস্ত্র হাতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং মুখোমুখি অবস্থান নিতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতেও দেশীয় অস্ত্র হাতে সংঘর্ষে জড়ানোর দৃশ্য দেখা গেছে। এসব ভিডিওতে কয়েকজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে সহপাঠীরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

    তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের সঠিক সংখ্যা ও পরিচয় জানা যায়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

    ঘটনার পর পুলিশ ক্যাম্পাসে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, বর্তমানে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও ক্যাম্পাসে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

    এ ঘটনায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

  • ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে: সারজিস

    ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে: সারজিস

    ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

    মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    স্ট্যাটাসে সারজিস লেখেন, ছাত্রদল যত তাড়াতাড়ি ছাত্রলীগ হবে, তাদের পরিণতি তত তাড়াতাড়ি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে।

    এর আগে, আজ (মঙ্গলবার) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠান চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

  • ঢাকা কলেজে ছাত্রদল-শিবির ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া

    ঢাকা কলেজে ছাত্রদল-শিবির ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া

    ঢাকা কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে ঢাকা কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেকসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে দুপুর দেড়টায় ক্যাম্পাসে মিছিল করে কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

    এ বিষয়ে ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক মোহম্মদ মামুন বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কলেজের গ্যালারি-২ তে শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেক ভাইয়ের নেতৃত্বে ৫/৬ গ্যালরি ডেকেরেশনের কাজ করছিলেন। এমন সময় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পারভেজ মোশারফের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এসে মালেক ভাইসহ অন্যান্যদের মারধর করে।’

  • স্কুলের সামনে ৩০ সেকেন্ডে ৩৪ ছুরিকাঘাত, শিক্ষিকা নিহত

    স্কুলের সামনে ৩০ সেকেন্ডে ৩৪ ছুরিকাঘাত, শিক্ষিকা নিহত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের ফরিদাবাদে এক শিক্ষিকাকে প্রকাশ্যে ৩৪ বার ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মাত্র ৩০ সেকেন্ডের এই হামলার ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ফরিদাবাদের একটি বেসরকারি স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত শিক্ষিকাকে দ্রুত আল ফালাহ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।

    নিহত শিক্ষিকার নাম সন্ধ্যা (২৯)। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত অমিতকে (২১) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, চিৎকার শুনে বাইরে এসে তারা দেখতে পান, মুখোশধারী এক যুবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিক্ষিকার ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালাচ্ছে।

    ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত স্কুলে প্রবেশ করে শিক্ষিকাকে বাইরে আসার ইঙ্গিত দেয়। তিনি বাইরে আসার পর হামলাকারী তার গলা চেপে ধরে টেনে নিয়ে মুখ, ঘাড়, বুক ও পেটে একের পর এক ছুরিকাঘাত করেন। এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা ঠেকাতে এগিয়ে এলে তাকেও ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান হামলাকারী।

    পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কোট গ্রামের বাসিন্দা অমিত দীর্ঘদিন ধরে সন্ধ্যাকে উত্ত্যক্ত করছিলেন। কয়েকদিন আগে শিক্ষিকার দায়ের করা ইভটিজিংয়ের অভিযোগের পর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেও তিনি প্রতিশোধের পরিকল্পনা করছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে অমিত ওই হত্যাকাণ্ড প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ঘটানোর কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। হত্যার কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • জবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ঘিরে সংঘর্ষ, হামলার অভিযোগ

    জবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ঘিরে সংঘর্ষ, হামলার অভিযোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, অস্থায়ী আবাসন প্রকল্প চালু ও মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) প্রতিনিধিরা।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিলনায়তনে প্রবেশে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে জকসু প্রতিনিধি ও জবি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষ হয়। এ সময় প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলা ও হামলার অভিযোগ ওঠে।

    জকসু নেতারা দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি শান্তিপূর্ণভাবে উপস্থাপন করতে গিয়েই তারা বাধার মুখে পড়েন। তবে এ বিষয়ে ছাত্রদলের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪৪ ধারা

    বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪৪ ধারা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাসে শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের ঘোষিত পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে ক্লাস ও পরীক্ষা যথারীতি চলবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান।

    তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মিছিল, মিটিং ও সমাবেশের ওপর ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    এর আগে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রংপুর মহানগর শাখা বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে লালবাগ চত্বর থেকে আবু সাঈদ চত্বর পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেয়।

    অন্যদিকে, রংপুর মহানগর ছাত্রদল বিকেল ৪টায় আবু সাঈদ চত্বর পার্কের মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভার কর্মসূচি ঘোষণা করে। সংগঠনটির সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রবি মহানগরের সব ইউনিটের নেতাকর্মীদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান।

    উল্লেখ্য, সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনীতে টানানো ব্যানারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, চেয়ার ছোড়াছুড়ি এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।

  • পিঁপড়া যেভাবে মিষ্টির খোঁজ পায়

    পিঁপড়া যেভাবে মিষ্টির খোঁজ পায়

    ফিচার

    চা বানানোর সময় সামান্য চিনির দানা নিচে পড়ে যাওয়া কিংবা মিষ্টির গুঁড়ো টেবিলের কোণে জমতে না জমতেই কোথা থেকে যেন হাজির হয় সারি সারি পিঁপড়ার দল। কোনো জ্যামিতিক নিখুঁত মাপে তারা একদম পৌছে যায় নির্দিষ্ট সেই খাবারের উৎসে। কিন্তু মেঝের অদৃশ্য সেই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র খাবারের কণা পিঁপড়ারা কীভাবে এত দ্রুত ও নিখুঁতভাবে খুঁজে পায়—তা নিয়ে অনেকের মনেই দীর্ঘদিনের কৌতুহল রয়েছে।

    গবেষকদের মতে, পিঁপড়ারা তাদের মাথায় থাকা বিশেষ অ্যান্টেনা বা শুঁড়ের সাহায্যে মেঝের স্পর্শ ও বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক পরিবর্তন অনুভব করতে পারে। মানুষের অগোচরে থাকা এসব ঘ্রাণ ও রাসায়নিক সংকেত তারা সহজেই ধরে ফেলে।

    অসাধারণ ঘ্রাণশক্তি ও জিনগত ক্ষমতা

    রান্নাঘরে যে পিঁপড়ার আগমন ঘটে, তা কোনো একক প্রজাতির নয়। গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রায় সব প্রজাতির পিঁপড়াই খাদ্য অনুসন্ধানে নির্দিষ্ট কিছু ধারাবাহিক ধাপ অনুসরণ করে।

    ভারতে পরিচালিত একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশটিতে ৮০০-র বেশি প্রজাতির ও উপপ্রজাতির পিঁপড়া রয়েছে, যার মধ্যে মানববসতিতে অন্তত ৩৪ প্রজাতির পিঁপড়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়।

    পিঁপড়ার খাদ্য অনুসন্ধানের মূল কারিগর তাদের ‘অ্যান্টেনা’। গবেষণায় দেখা গেছে, পিঁপড়ার জিনোমে বিপুল পরিমাণ গন্ধ-সংবেদনশীল জিন রয়েছে।

    ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটির এক গবেষণা সায়েন্স জার্নাল পিএলওএস জেনেটিক্স-এ প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়, অন্যান্য পোকামাকড়ের তুলনায় পিঁপড়ার শরীরে ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি ঘ্রাণগ্রাহক বা স্মেল রিসেপ্টর থাকে। মানুষের কাছে যা সাধারণ একটি রান্নাঘর, পিঁপড়ার কাছে তা অগণিত রাসায়নিক তথ্যের এক সমৃদ্ধ ক্ষেত্র।

    বিশেষ ‘টেস্ট রিসেপ্টর’ ও সার্চ ইঞ্জিন

    ২০২১ সালে ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত ফায়ার অ্যান্টের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় জানা যায়, পিঁপড়ার খাবারের তালিকায় থাকা মিষ্টি উপাদানের সঙ্গে তাদের অ্যান্টেনায় থাকা স্বাদগ্রাহক (টেস্ট রিসেপ্টর) এবং সামনের পায়ের এক অনন্য সম্পর্ক রয়েছে।

    পিঁপড়াদের কলোনিতে টিকে থাকতে এবং শক্তি জোগাতে সুগার বা মিষ্টিজাতীয় উপাদানের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু মিষ্টির গন্ধ বাতাসে খুব বেশি ছড়ায় না। এ জন্য পিঁপড়ার শরীরে থাকা বিশেষ অ্যাটোমিক ব্যবস্থা কাজ শুরু করে। তাদের শুঁড়ে থাকা টেস্ট রিসেপ্টর খাবারে স্পর্শ করা মাত্রই চিনির ক্ষুদ্রতম কণাকেও সনাক্ত করতে পারে। বিজ্ঞানীরা পিঁপড়ার এই টেস্ট রিসেপ্টরকে একটি প্রাকৃতিক ‘সার্চ ইঞ্জিন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    প্রাকৃতিকভাবে তৈরি ‘জিপিএস’ ও ফেরোমোন সংকেত

    খাবারের খোঁজ মেলার পর সেখানে কীভাবে পিঁপড়ার পুরো কলোনি হাজির হয়—তার উত্তর লুকিয়ে আছে ‘ফেরোমোন’ নামক একধরনের রাসায়নিক পদার্থের মধ্যে।

    মার্কিন কৃষি গবেষণা পরিসেবা এবং ২০০৯ সালে ফিজিওলজিকাল অনটোলজি জার্নালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যখন কোনো দূরদর্শী স্কাউট পিঁপড়া খাবারের সন্ধান পায়, তখন সে কলোনিতে ফিরে যাওয়ার সময় মেঝেতে একটি রাসায়নিক পথের রেখা বা ‘ট্রেইল’ এঁকে দিয়ে যায়।

    কীটতত্ত্ববিদদের মতে, এই ফেরোমোন অনেকটা আধুনিক যুগের ‘জিপিএস’ বা গুগল ম্যাপসের মতো কাজ করে। রাসায়নিকের এই নির্দিষ্ট পথ অনুসরণ করেই সারি বেঁধে অন্যান্য পিঁপড়ারা সঠিক জায়গায় গিয়ে পৌঁছায়।

    গোয়ার ‘ফরেস্ট ইকোলজি রিসার্চ সেন্টার’-এর বিজ্ঞানীরা জানান, পিঁপড়ার সম্পূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা নির্ভর করে এই রাসায়নিক সংকেত ও স্পর্শের ওপর। অ্যান্টেনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে পিঁপড়ার পক্ষে বেঁচে থাকাই অসম্ভব হয়ে পড়ে। মূলত অসাধারণ ঘ্রাণভিত্তিক জিনগত বৈশিষ্ট্য, প্রাকৃতিক সার্চ ইঞ্জিনসম শুঁড় এবং নিখুঁত রাসায়নিক জিপিএস ব্যবস্থার যৌথ সক্ষমতা ব্যবহার করেই পিঁপড়ারা ঘরের যেকোনো কোণে থাকা মিষ্টির কণা সহজে শনাক্ত করতে পারে।

  • চৌগাছা সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য, প্রশাসনে অচলাবস্থা

    চৌগাছা সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য, প্রশাসনে অচলাবস্থা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    যশোরের চৌগাছা সরকারি শাহাদৎ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। সাধারণ ও বিএম শাখা মিলিয়ে উপজেলার অন্যতম বড় এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে। এরই মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কাজে দেখা দিয়েছে নানা জটিলতা।

    ১৯২৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়টি পরে এমপিওভুক্ত হয়। চৌগাছা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বিদ্যালয়টি ২০১৮ সালে সরকারিকরণ করা হয়। সর্বশেষ প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর অবসরে যাওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে।

    এর আগে ২০১৮ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম। এরপর থেকে তিনি আর নিয়মিত বিদ্যালয়ে ফিরতে পারেননি। বর্তমানে তিনি অর্ধেক বেতনে ছুটিতে রয়েছেন।

    চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সাইদুল ইসলাম বাবুকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে তিনিও গুরুতর অসুস্থ। নিজের খরচে একজন খণ্ডকালীন শিক্ষক রেখে কোনোভাবে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। ফলে চলাফেরা থেকে শুরু করে দাপ্তরিক কাজেও অন্য শিক্ষকদের সহযোগিতা নিতে হচ্ছে তাঁকে।

    বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবি, প্রধান শিক্ষকসহ তিনটি শিক্ষক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। সরকারিকরণের পর এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ নেই। অন্যদিকে সরকার থেকেও নতুন শিক্ষক দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি অফিস সহকারী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদও শূন্য রয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে সকালের সমাবেশে উপস্থিত ছিল দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে নিয়মিত শৃঙ্খলা ও তদারকির ঘাটতিও চোখে পড়ে।

    সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সাংবাদিক আসাদুজ্জামান ও প্রভাষক আজিজুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। নির্ধারিত সময়ে ক্লাস শুরু হলেও অনেক শিক্ষার্থী ইচ্ছেমতো বিদ্যালয় ত্যাগ করে। ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় তারা দিনের বাকি সময় বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র, হোটেল ও রেস্তোরাঁয় কাটায়। প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে নিয়মিত ক্লাসও হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।

    বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত একজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান তারা।

    এ বিষয়ে প্রেসক্লাব চৌগাছার সভাপতি অধ্যক্ষ আবু জাফর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার এবং বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ডা. জিল্লুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়টির প্রশাসনিক নেতৃত্ব কার্যত শূন্য হয়ে পড়েছে। সহকারী প্রধান শিক্ষকও অসুস্থ থাকায় শ্রেণি কার্যক্রম, একাডেমিক তদারকি ও প্রশাসনিক কাজ স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

    তারা বলেন, চৌগাছার অন্যতম প্রাচীন ও সুনামধন্য এই সরকারি বিদ্যালয় থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এমন একটি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষা প্রশাসনের উচিত বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত একজন যোগ্য প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া।

    তাদের মতে, স্থায়ী নিয়োগে সময় লাগলে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে অন্য কোনো সরকারি বিদ্যালয় থেকে একজন জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষককে বদলি করে এনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। এতে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদান স্বাভাবিক হবে। শিক্ষার স্বার্থে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

    ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইদুল ইসলাম বলেন, “আমি শুধু দায়িত্বের চেয়ার পেয়েছি। প্রশাসনিক কোনো দায়িত্ব বুঝে পাইনি। এমনকি অফিসের আলমারির চাবিও আমাকে দেওয়া হয়নি। আমার শারীরিক অবস্থায় প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর বিদ্যালয় পরিচালনা করা সম্ভব নয়।”

    তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অন্য কোনো সরকারি বিদ্যালয় থেকে একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে বদলি করে এনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার অনুরোধও করা হয়েছে।

    সহকারী প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “প্রধান শিক্ষক থাকতেই আমি অসুস্থ হয়েছি। এরপর থেকেই আর বিদ্যালয়ে যাওয়া হয়নি। বিদ্যালয়ের কোনো কিছুই আমার কাছে নেই। তাছাড়া বিদ্যালয়ের অফিস বুঝে নেওয়ার দায়িত্ব বর্তমান প্রধান শিক্ষকের।”

    উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম বজলুর রশিদ বলেন, বিদ্যালয়ের অফিস ও শ্রেণি কার্যক্রম কিছুটা এলোমেলো আছে। বিদ্যালয়টিতে একজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি। তবে কবে প্রধান শিক্ষক পাওয়া যাবে, তা এখনই সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ে দ্রুত একজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

  • ৩০৬ বছরের বিশ্বরেকর্ড ভাঙলেন নাথান

    ৩০৬ বছরের বিশ্বরেকর্ড ভাঙলেন নাথান

    যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার এক তরুণ প্রকৌশল শিক্ষক বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ অধ্যাপক হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছেন। ১৯ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই একটি কলেজে শিক্ষকতা শুরু করে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি। পিপল ম্যাগাজিনের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।

    গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস (জিডব্লিউআর) অনুযায়ী, নাথান থমাস ১৮ বছর ৩৪৬ দিন বয়সে মিয়ামি ডেড কলেজে প্রকৌশল বিষয়ে শিক্ষকতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ অধ্যাপকের স্বীকৃতি পান।
    এর আগে এই রেকর্ডটি টানা ৩০৬ বছর ধরে ধরে রেখেছিলেন কলিন ম্যাকলরিন। তিনি ১৯ বছর বয়সে অধ্যাপক হয়েছিলেন।

    নাথান থমাস বর্তমানে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নারী অধ্যাপক আলিয়া সাবুরের চেয়েও ১৬ দিন কম বয়সে অধ্যাপক হয়েছেন। আলিয়া সাবুর ২০০৮ সালে ১৮ বছর ৩৬২ দিন বয়সে অধ্যাপক হয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন।

    গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের আগস্টে নাথান থমাস মিয়ামি ডেড কলেজে ‘কপ ২২৭০: সি ফর ইঞ্জিনিয়ার্স’ কোর্স পড়ানো শুরু করেন।

    মজার বিষয় হলো, তিনি যেসব শিক্ষার্থীকে পড়াতেন, তাদের অনেকেই ছিলেন তার সমবয়সী। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নাথান বলেন, শ্রেণিকক্ষে সবাই একই উদ্দেশ্যে আসে- শেখার জন্য। সেখানে বয়স খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।

    তিনি বলেন, আমি শুধু আমার কাজটি ভালোভাবে করার চেষ্টা করি এবং যতটা সম্ভব শিক্ষার্থীদের সাহায্য করি। কেউ যদি শেখার জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে, সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    একজন যোগ্য শিক্ষক হিসেবে নাথান তার শিক্ষার্থীদের জটিল কম্পিউটিং ও প্রোগ্রামিং বিষয় পড়ান। নাথানের শিক্ষাজীবনও ছিল ব্যতিক্রমী। মাত্র ১০ বছর বয়সে তিনি মিয়ামি ডেড কলেজে ডুয়াল এনরোলমেন্ট প্রোগ্রামে ভর্তি হন। পরে ১৪ বছর বয়সে ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে স্থানান্তরিত হন।
    পরবর্তী চার বছরের মধ্যে তিনি বৈদ্যুতিক প্রকৌশলে (ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং) স্নাতক ও স্নাতকোত্তর- উভয় ডিগ্রিই সম্মানের সঙ্গে সম্পন্ন করেন।

    প্রকৌশলী পরিবারের সন্তান নাথান জানান, ছোটবেলা থেকেই গণিত তার কাছে সহজ মনে হতো। তিনি বলেন, আমার মা কঠিন বিষয়গুলো খুব সহজভাবে বুঝিয়ে দিতে পারতেন। তখন হয়তো বুঝিনি, কিন্তু পরে উপলব্ধি করেছি, সেটিই আমার শেখার ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।

    শিক্ষকতা সম্পর্কে নাথান বলেন, তার সবচেয়ে ভালো লাগে সেই মুহূর্তটি, যখন কোনো শিক্ষার্থী প্রথমে অসম্ভব মনে হওয়া একটি বিষয় হঠাৎ করেই বুঝে ফেলে। তার মতে, সেই অনুভূতিই শিক্ষকতার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

  • জাবি ছাত্রশিবিরের ‘জুলাই আপরাইজিং’ মিনি ম্যারাথন

    জাবি ছাত্রশিবিরের ‘জুলাই আপরাইজিং’ মিনি ম্যারাথন

    ‘জুলাই মোদের ধমনিতে টগবগ করবে আমৃত্যু’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ‘জুলাই আপরাইজিং রান ২০২৬’ শীর্ষক মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘রান অ্যাগেইনস্ট ফ্যাসিজম’ স্লোগানে আয়োজিত এ মিনি ম্যারাথনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

    সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ম্যারাথনটি শুরু হয়ে জীববিজ্ঞান অনুষদ, এম এম হল, ক্যাফেটেরিয়া, ছাত্রী হলসমূহ ও চৌরঙ্গী হয়ে পুনরায় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।

    ম্যারাথন শেষে জাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং পার্শ্ববর্তী সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলের মানুষের অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৫ জুলাই ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগকে প্রতিরোধ, ২০ জুলাই কারফিউ ভেঙে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ৫ আগস্টের পরও সাভার-আশুলিয়ার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে এ অঞ্চলের মানুষের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

    তিনি আরও বলেন, সেই আত্মত্যাগ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে আমরা ‘জুলাই আপরাইজিং রান ২০২৬’ আয়োজন করেছি। ‘রান অ্যাগেইনস্ট ফ্যাসিজম’ প্রতিপাদ্য নিয়ে এই মিনি ম্যারাথনের মাধ্যমে আমরা চাই, নতুন বাংলাদেশে যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে। এই ম্যারাথন সবার মধ্যে দেশপ্রেম, জুলাইয়ের চেতনা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী মনোভাবকে আরও শক্তিশালী করবে। শহীদ ও গাজীদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করে একটি আদর্শ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের অগ্রযাত্রায় এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

    শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জুলাই আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে শত শত শহীদ এবং আমাদের ত্যাগের বিনিময়ে আজকে আমরা এই জুলাই পেয়েছি সেই জুলাই এবং আগস্ট মাসকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং যুগে যুগে যারা ফ্যাসিস্ট হতে চায় তাদের একটা বার্তা দেওয়ার জন্যই মূলত আমাদের আজকে এই আয়োজন। এজন্য যারা আমাদের এই আয়োজনের সাড়া নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন সবাইকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পক্ষ থেকে আন্তরিক মোবারকবাদ এবং ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

    তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করি, ছাত্রশিবির জুলাইকে যেভাবে ধারণ করে বাংলাদেশের শহীদ পরিবারকে ছাত্রশিবির যেভাবে ধারণ করে তাদের সেই চেতনাকে আমরা বুকে ধারণ করে আগামীর বাংলাদেশ পুনর্নির্মাণ করব। জুলাই যে আকাঙ্ক্ষা ছিল সেই আকাঙ্ক্ষাকে আমরা বাস্তবায়ন করার জন্য এই জুলাইকে কখনো আমরা ম্যারাথনের মধ্য দিয়ে, কখনো মিছিল মিটিংয়ের মধ্য দিয়ে আমরা এই জুলাইকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেব।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, আমরা জুলাই ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছি। এখানে দেশের কাঠামোগত একটি পরিবর্তন আমরা চেয়েছিলাম। আমরা চেয়েছিলাম রাষ্ট্রের যে গুরুত্বপূর্ণ অর্গানস গুলো রয়েছে-জুডিশিয়ারি, এডমিনিস্ট্রেশন, ডিফেন্স ফোর্স রাষ্ট্রের সব জায়গাগুলো অটোনোমাসলি ফাংশন করবে। বাংলাদেশের করাপশন বন্ধ হবে, ট্রান্সপারেন্সি ইনসিওর করা সম্ভব হবে। কিন্তু জুলাইয়ের পরে আমরা দেখেছি শুধু ক্ষমতার হাত বদল হয়েছে, কার্যত কোনো সংস্কার বা পরিবর্তন হয়নি। যে কথাগুলো বলে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার ক্ষমতায় আসীন হয়েছিল সেই নিজের সঙ্গেই নিজেরা আবার প্রতারণা করছে। তিনি আরও বলেন, আমরা চাই যে, এ সরকার যে রক্তের উপরে দাঁড়িয়ে এসেছে, যে ত্যাগের বিনিময়ে এ সরকার গঠিত হয়েছে, তারা সেই ত্যাগের মূল্যায়ন করবে। অন্যথায় এই তরুণ সমাজ তাদের বিরুদ্ধে আবার দাঁড়িয়ে যাবে। আমরা বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে চাই। বাংলাদেশের প্রতিটা অর্গানসকে আগামী নতুন বাংলাদেশের জন্য কাজে লাগাতে চাই। উন্নত একটি বিশ্বে আমরা নিজেদেরকে যেন সেভাবে দেখতে পাই সে আশা রাখছি। সকলকে আজকে এই রানের অংশগ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ।

  • এমবাপ্পেকে ঢাকায় আনার পরিকল্পনা

    এমবাপ্পেকে ঢাকায় আনার পরিকল্পনা

    দেশব্যাপী আয়োজিত ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে ফ্রান্সের তারকা ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঢাকায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একইসঙ্গে প্রতিযোগিতাকে সফল করতে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে ফুটবল দল গঠনের আহ্বান জানান তিনি। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে কোনো প্রতিষ্ঠান দল গঠন না করলে তাদের এমপিও সুবিধা স্থগিত রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

    সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ’ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতার স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি। সভায় আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় দেশব্যাপী এ ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়। দেশের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অংশগ্রহণ করবে।

    আগামী সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। সভায় উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও কর্মকর্তারা।

    সভায় জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলার প্রসার ঘটানো, প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করা, আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ছেলে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি করে এবং মেয়েদের জন্য নির্ধারিত অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। সভাপতির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম ক্রীড়া আয়োজন। এটি শিক্ষার্থীদের মেধা, মননশীলতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলা ও দলগত মনোভাব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও যাতে সমান সুযোগ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরতে পারে, সে লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হচ্ছে। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী এই প্রতিযোগিতা আয়োজনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের তাদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

    সভাশেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, আমরা চাই দেশজুড়ে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হোক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলে এসেছেন, আগামী শিক্ষা ব্যবস্থা এমন হবে যেখানে আমাদের শিক্ষার্থীদের মেধা, মননশীলতা এবং সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। সে লক্ষ্যেই ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় একযোগে দেশব্যাপী সারা বছরজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে।

  • ভারতে ফের আন্দোলন সমর্থন ককরোচদের

    ভারতে ফের আন্দোলন সমর্থন ককরোচদের

    নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে ভারতের ঝাড়খণ্ডে বিক্ষোভ আরো তীব্র হয়েছে। ১৪তম জেপিএসসি প্রিলিমিনারি পরীক্ষা বাতিল, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও রাজ্যের নিয়োগ ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি তুলেছেন চাকরিপ্রার্থীরা।

    এই দাবিতে রাঁচির জয়পাল সিংমুণ্ডা স্টেডিয়ামে অনির্দিষ্ট কালের অনশন শুরু করেছেন ছাত্রনেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো। এই আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তার পরেই আরো জোরদার হয়েছে বিক্ষোভ।

    প্রশ্নপত্র ফাঁস, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং প্রশাসনিক গাফিলতির মতো যেসব ঘটনার অভিযোগ উঠেছে, তার জের ধরেই এই বিক্ষোভের সূত্রপাত। শিক্ষার্থীদের মতে, এসব ঘটনা বারবার তাদের কেরিয়ারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

    সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার সময় দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো জানান, গত মাসে ১৪ তম জেপিএসসি প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পরই এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। বার্তা সংবাদ এএনআইকে তিনি বলেন, ‘ঠিক এক মাস আগে, ১৪ তম প্রিলিমিনারি টেস্টের (পিটি) ফলাফল ঘোষণার মধ্য দিয়েই এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল। আমরা ৫ জুলাই এই আন্দোলন শুরু করেছিলাম, ৭ জুলাই রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছিলাম ও ৮ জুলাই কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়। এরপর ২০ জুলাই আমরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে প্রমাণ জমা দেই, যার ফলে সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।’

    দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো অভিযোগ করেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভ সত্ত্বেও সরকার ও ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের বিষয়টি যথাযথভাবে সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে।

    সাংবাদিকদের দেবেন্দ্র জানান, মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের কাছে পেশ করা দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি তার অনশন চালিয়ে যাবেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় সাপের দংশনে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গায় সাপের দংশনে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় নিজ ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় সাপের দংশনে আব্দুল্লাহ (১২) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। সাপে কাটার পর দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে কবিরাজের কাছে ভুল চিকিৎসা ও সময় অপচয় করায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    রোববার (২ আগস্ট) রাতে উপজেলার আইলহাঁস ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত আব্দুল্লাহ ওই গ্রামের আল আমিন জোয়ার্দ্দারের ছেলে এবং স্থানীয় ঘোলদাঁড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় আব্দুল্লাহকে একটি বিষধর সাপ দংশন করে। তবে অন্ধকার থাকায় পরিবার নিশ্চিত হতে পারেনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়লে সে যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে। এ সময় স্বজনরা তাকে তড়িঘড়ি করে গ্রামের এক কবিরাজের কাছে নিয়ে যান। ওই কবিরাজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই সাপে কাটেনি বলে দাবি করেন।

    যন্ত্রণা আরো বাড়লে তাকে দ্বিতীয় আরেক কবিরাজের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান না পেয়ে একপর্যায়ে শিশুটিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। হাসপাতালে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    অসচেতনতা ও কুসংস্কারের কারণে সময়মতো হাসপাতালে না নেয়াতেই এমন মৃত্যু ঘটেছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

  • ৫ আগস্ট উপলক্ষে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মসূচি ঘোষণা

    ৫ আগস্ট উপলক্ষে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মসূচি ঘোষণা

    আগামী ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন উপলক্ষে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রচনা, আবৃত্তি এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভার আয়োজন করতে বলা হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

    সোমবার (৩ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। এ চিঠি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান আর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকে পাঠানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চিঠির মর্মানুযায়ী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ পালন উপলক্ষে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রচনা, আবৃত্তি এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং এর তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

  • পরীক্ষা নয়, এবারও ফলের ভিত্তিতে একাদশে ভর্তি

    পরীক্ষা নয়, এবারও ফলের ভিত্তিতে একাদশে ভর্তি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই আগামী শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। আগের মতোই কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ এবং মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

    আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে এ বিষয়ে প্রস্তাব হিসেবে পাঠানো হয়েছে। সোমবার দুপুরে এসব তথ্য জানান আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।

    তিনি বলেন, এবারও একাদশে ভর্তি প্রক্রিয়ায় তেমন পরিবর্তন আসছে না। গতবারের মতো ফল বা নম্বরের ভিত্তিতে ভর্তির নিয়ম রেখে আমরা নীতিমালার খসড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি।

    আগামী ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হবে। প্রথমে ২০ জুলাই ফল প্রকাশের কথা থাকলেও শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রস্তুতি শেষ না হওয়ায় তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা চলতি শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হবেন।

    উচ্চমাধ্যমিক কলেজ-মাদ্রাসাগুলোতে ফলের ভিত্তিতে ভর্তি কার্যক্রম চললেও নটর ডেম কলেজ, হলিক্রস কলেজের মতো চার্চ পরিচালিত কলেজগুলোতে বেশ কয়েক বছর আগে দেওয়া আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    সারা দেশের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোয় একাদশ শ্রেণিতে আসন রয়েছে ২৬ লাখের বেশি। অন্যদিকে এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি। ফলে বরাবরের মতো এবারও একাদশ শ্রেণির বিপুলসংখ্যক আসন ফাঁকা থাকবে।

  • আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট উদ্বোধন করলেন সেনাপ্রধান

    আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট উদ্বোধন করলেন সেনাপ্রধান

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট (এআইআইআর)-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। সোমবার রাজধানীর জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্প এলাকায় প্রতিষ্ঠিত আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের শুভ উদ্বোধন করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

    একই অনুষ্ঠানে তিনি ভিডিও টেলিকনফারেন্স (ভিটিসি)-এর মাধ্যমে বরিশাল, সাভার, বগুড়া, সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও যশোরে প্রতিষ্ঠিতব্য আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটগুলোর ভিত্তিপ্রস্তরও উন্মোচন করেন।

    অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিভিন্ন মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার মাধ্যমে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও মানবসম্পদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বর্তমান সময়ের চাহিদা বিবেচনায় আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে জ্ঞান, নৈতিকতা, নেতৃত্বগুণ ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক গড়ে তোলার লক্ষ্যেই আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

    প্রতিষ্ঠানটিতে ক্যামব্রিজ কারিকুলামভিত্তিক ইংরেজি মাধ্যমের আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতির পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে বলে জানানো হয়।

    বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট শিক্ষা, আদর্শ এবং ধর্মীয়-নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশের একটি উৎকৃষ্ট কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। এখানকার শিক্ষার্থীরা কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জ্ঞান, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ আদর্শ নাগরিক হিসেবে দেশ ও জাতির কল্যাণে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তুলতেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেনাসদরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারগণ, বিভিন্ন ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি), ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • গাংনীর করমদি মাদ্রসায় জাল স্বাক্ষরে ছেলে ভাগ্নে ভাস্তে সহ ৫জনকে নিয়োগের পর বেতনের চেষ্টা তদবির

    গাংনীর করমদি মাদ্রসায় জাল স্বাক্ষরে ছেলে ভাগ্নে ভাস্তে সহ ৫জনকে নিয়োগের পর বেতনের চেষ্টা তদবির

    মেহেরপুরের গাংনীতে জাল স্বাক্ষর করে ছেলে ভাগ্নে ও ভাইস্তে সহ ৫ জনকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে করমদি দারুচ্ছুন্নাহ নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপার আবু জাফরের বিরুদ্ধে।

    মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি ও সদস্য সচিব সহ কয়েকজনের জাল স্বাক্ষর করে নিয়োগ দেওয়ার পর তাদের বেতন করার জন্য নানা ভাবে শিক্ষা অফিসারের কাছে তদবির ও চাপ প্রয়োগ করছে মাদ্রাসা সুপার আবু জাফর ও তার শ্যালক আওয়ামীলীগ নেতা করমদি দারুচ্ছুন্নাহ নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আব্দুল মান্নান।

    এদিকে জালিয়াতির ঘটনায় কেন এমপিও বন্ধ করা হবে না পত্র প্রাপ্তির তিন কর্ম দিবসের মধ্যে উক্ত বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও প্রমাণক সহ লিখিত দিতে মাদ্রাসা সুপার আবু জাফরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার।

    নিয়োগের কাগজপত্র যাচাই করে দেখা গেছে,২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে সুপার আবু জাফরের ছেলে ইয়াসির আরাফাতকে ল্যাব সহকারী,ভাগ্নে ও তার শ্যালক আওয়ামীলীগ নেতা করমদি দারুচ্ছুন্নাহ নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আব্দুল মান্নানের মেয়ে সাদিয়া মান্নানকে মায়াকে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর,ভাইয়ের ছেলে মনিরুল ইসলামকে নিরাপত্তা প্রহরী,রোজিনা খাতুনকে আয়া ও মাসুমকে পরিচ্ছণ্নতা কর্মী পদে নিয়োগ দিয়েছে। তবে কোথায়, কখন ও কিভাবে পরীক্ষা হয়েছে সে বিষয়ে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সহ সংশ্লিষ্টদের কেউই কিছু জানেন না। নিয়োগপ্রাপ্তরা ২৩ অক্টোবর কাগজে কলমে যোগদান করেছে। তবে জাল স্বাক্ষর ও ভুয়া কাগজপত্রের কারনে কারোর বেতন ভাতা হয়নি। এবিষয়ে নিয়োগপ্রাপ্তরা কোন কথা বলতে রাজি হয়নি।

    এর আগে দুটি অপ্রচলিত পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে স্থানীয়রা স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ বানিজ্য বন্ধে মহাপরিচালক সহ বিভিণ্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

    করমদি পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা সুজন মাহমুদ বলেন, নিয়োগের বিষয়ে জানতে গ্রামের একাধিক মানুষ মাদ্রাসায় গেলেও সুপার কোনো তথ্য দেননি। বিভিন্ন আয়া ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে পদে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়ে নিয়োগ দিয়েছে বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে। তবে সুষ্ঠ তদন্ত করলে সুপার আবু জাফরের নিয়োগ সহ নানা অনিয়ম বের হয়ে আসবে।
    করমদি মাঠপাড়ার রাসেল মাহমুদ জানান, তিনি একটি পদের জন্য যোগাযোগ করেছিলেন। কমিটির সভাপতি আব্দুল মান্নান তার কাছে ১২ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। সে টাকা দিতে না পারায় অন্য একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
    নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সচিব মোছা. শামসুন্নাহার বলেন, ফলাফল শিটে থাকা স্বাক্ষরটি তার নয়। পরীক্ষা কবে, কোথায় ও কীভাবে হয়েছে সে সম্পর্কে তার জানা নেই।
    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদ্রাসার কয়েকজন সহকারী শিক্ষক জানান, প্রতিষ্ঠানে এখন পর্যন্ত বৈধভাবে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি, তবে নিয়োগের নামে স্বাক্ষর জাল করে আত্নীয় করন ও অবৈধ টাকা লেনদেন হয়েছে।
    মাদ্রাসায় সুপার আবু জাফর জানান, নিয়োগ বৈধভাবে দেয়া হয়েছে। এবিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি তিনি।

    মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল মান্নান বলেন নিয়োগ নিয়ে সাংবাদিকদের মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই।
    গাংনী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মনিরুল ইসলাম জানান, নিয়োগ সম্পন্ন ভুয়া ও জালস্বাক্ষরে হয়েছে। এছাড়া ডিজির যিনি প্রতিনিধি ছিলেন তার আদেশর বাতিল করেছে অধিদপ্তর। এছা শিক্ষা অফিসার হিসেবে তিনি কিছুই জানে না তবুও বেতন বিলে স্বাক্ষরের জন্য তদবির ও চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করছেন। জালিয়াতির ঘটনায় গত ২৩/০৫ ২০২৬ ইং তারিখে মাদ্রাসা সুপার আবু জাফরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।

    নোটিশে বলা হয়েছে মাদ্রাসায় পাঁচ জন কর্মচারী নিয়োগের বিষয়ে মাদ্রাসা অধিদপ্তর কর্তৃক ডিজি মহোদয়ের প্রতিনিধি মনোনয়নের পত্রটি স্থগিত হওয়া সত্বেও কিভাবে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করলেন? নিয়োগ পরীক্ষায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল সীটে মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির কোন স্বাক্ষর নেই। তারপরও কিভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেন? বিধি বহির্ভূতভবে নিয়োগ প্রদান করে এমপিও প্রাপ্তির জন্য আবেদন করেছেন। এটা কিভাবে সম্ভব? বিধি বহির্ভূত ভাবে নিয়োগ প্রদান ও এমপিও এর জন্য আবেদন করেছেন। এমন বিধিবহির্ভূত কর্মের জন্য কেন আপনার এমপিও বন্ধ করা হবে না পত্র প্রাপ্তির তিন কর্ম দিবসের মধ্যে উক্ত বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও প্রমাণক সহ লিখিত দিতে বলেছেন। তিন কর্মদিবস পার হলেও তিনি কোন উত্তর দেননি বরং বিভিণ্ন ভঅবে বেতন করানোর জন্য তদবির করছেন। কারন দর্শানোর জবাব না দেওয়ার ঘটনায় ব্যস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

    মহাপরিচালকের প্রতিনিধি সহকারী পরিচালক অর্থ মোহাম্মদ শুকুর আলম মজুমদার বলেন,তিনি কোন পরীক্ষার ফলাফল শীটে স্বাক্ষর করেননি। তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।

  • নিখোঁজের ৩ দিনেও খোঁজ মেলেনি মারুফের

    নিখোঁজের ৩ দিনেও খোঁজ মেলেনি মারুফের

    নিখোঁজের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও খোঁজ মেলেনি শিশু শিক্ষার্থী মারুফ আলমের (১৩)।

    সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের চন্দ্রপুর (কোনারবাড়ি) গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আছির আলম ও সামিয়া বেগম দম্পতির ছেলে মারুফ চন্দ্রপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    মারুফের বাবা জানান, গত ৩১ জুলাই শুক্রবার সকালে তার বাবার দোকান খুলে কিছুক্ষণ দোকানে থাকে। এরপর তার বাবা দোকানে আসলে মারুফকে জুম্মার নামাজের জন্য বাড়ি পাঠিয়ে দেন। দুপর ২টার দিকে তার নতুন বাড়ি থেকে পার্শবর্তী চন্দ্রপুর স্কুলে একটি খেলা দেখতে যায় মারুফ। স্কুলের খেলা শেষ হলেও সে আর বাড়ি ফিরেনি।

    গত ৩১ জুলাই শান্তিগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয় পরিবারের পক্ষ থেকে।

    পরিবারসূত্রে জানা যায়, তার গায়ের রং শ্যামলা, উচ্চতা ৪ ফুট ৩ ইঞ্চি, নিখোঁজের দিন গায়ে ছিল গোলাপী রংয়ের শার্ট ও জিন্সের প্যান্ট। মারুফ আলমের সন্ধান পেলে, শান্তিগঞ্জ থানায় ও তার পিতার ০১৭৮০৭৯৫০৭১ অথবা ভাই এর ০১৪০৮-০৭৩৫১৬ নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

    এ ব্যাপরে জানতে চেয়ে শান্তিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ওলিউল্লাহকে মুঠোফোন কল দিলে তিনি বলেন, ‘নিখোঁজের পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। আমরা খুব গুরুত্ব দিয়ে নিখোঁজের সন্ধানে কার্যক্রম চলমান রেখেছি।’

  • চায়ের দোকানে খাতা দেখছিলেন পরীক্ষক, জব্দ ৪০০ উত্তরপত্র 

    চায়ের দোকানে খাতা দেখছিলেন পরীক্ষক, জব্দ ৪০০ উত্তরপত্র 

    শিক্ষা ডেস্ক:

    অফিস কিংবা বাসায় নয়, একেবারে প্রকাশ্যে অরক্ষিত অবস্থায় চায়ের দোকানে বসে এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা দ্বিতীয় পত্রের খাতা দেখছিলেন ইকবাল হোসেন (সোহান) নামে এক পরীক্ষক। খাতা মূল্যায়নে তার সাথে ছিলেন কয়েকজন বন্ধুও। খবর পেয়ে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা ৪০০টি খাতা জব্দ করেন ওই পরীক্ষকের কাছ থেকে।

    শনিবার রাতে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে তোলপাড়া চলছে শিক্ষাবোর্ড অভ্যন্তর ও পরীক্ষকদের মধ্যে। অভিযুক্ত পরীক্ষক ইকবাল হোসেন (সোহান) সিলেট মেট্রোসিটি উইমেন্স কলেজের প্রভাষক।

    রোববার মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব সমকালকে জানিয়েছেন, চায়ের দোকানে খাতা দেখার অভিযোগে একজন শিক্ষককে নিয়ে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা এসেছিলেন। তারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। ডায়রিতে অরক্ষিত অবস্থায় চারশ খাতা শিক্ষকের কাছ থেকে উদ্ধারের কথা বলা হয়।

    এদিকে চায়ের দোকানে বসে খাতা জব্দের ঘটনায় কলেজ পরিদর্শককে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করবে। পাশাপাশি রোববার ওই পরীক্ষককে শোকজের চিঠি তার প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    শিক্ষাবোর্ড ও স্থানীয় দোকান ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফজলুল হকের চায়ের দোকানে বসে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন ইকবাল হোসেন সোহান। সাথে তার কয়েকজন বন্ধু ছিলেন, যারা সাবেক সাস্টিয়ান। এর মধ্যে একজন ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি আইরিন লিনজা। তারাও খাতা মূল্যায়ন করছিলেন বলেন জানা গেছে।

    আগের দিন শুক্রবার রাতেও তাঁরা দোকানে বসেছিলেন বলে দোকানি ফজলুল হক জানিয়েছেন। তিনি জানান, দোকান লাগানোর সময় তারা ভেতরে পেপার দেখছিলেন। শিক্ষকরা এসে খাতার বস্তাসহ একজনকে নিয়ে যান।

    জানা গেছে, দোকানে বসে খাতা দেখা হচ্ছে- এমন তথ্য পেয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে চায়ের দোকানে হাজির হন শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিনসহ তিন কর্মকর্তা। প্রথমে দুই কর্মকর্তা দোকানে প্রবেশ করে পরীক্ষক ছাড়াও আরও তিনজনকে দেখতে পান। এর মধ্যে একজন মেয়ে ছিলেন। পরে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ভেতরে প্রবেশ করলে একজন সটকে পড়েন। সত্যতা পেয়ে পুলিশে খবর দেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। পুলিশ খাতাগুলো জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি জিডি করে খাতাগুলো নিজেদের জিম্মায় নেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন সমকালকে জানিয়েছেন, চায়ের দোকানে খাতা দেখা অবস্থায় পরীক্ষককে পাওয়া যায়। তার কাছ থেকে ৪০০ খাতা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষককে শোকজ ও তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি তিন কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দেবে।

  • ইরানে কম্পিউটার গেমের জন্য হচ্ছে আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়

    ইরানে কম্পিউটার গেমের জন্য হচ্ছে আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়

    বিশ্বজুড়ে এখন প্রযুক্তির রাজত্ব। সেই পরিবর্তনের হাওয়ায় যোগ দিয়ে কম্পিউটার গেম শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। দেশে প্রথমবারের মতো চালু হতে যাচ্ছে কম্পিউটার গেম সংক্রান্ত বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ইরানের বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ রোববার (১ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ খবর উল্লেখ করেছে। অ্যাকাডেমিক জিহাদের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংস্থাটির শিক্ষা বিষয়ক উপ-পরিচালক মেহেদি বাসোলি।

    দক্ষতা উন্নয়ন ও নতুন দিগন্ত

    মেহেদি বাসোলি জানান, গেম শিল্পের সাথে যুক্ত কর্মীদের দক্ষ করে তোলা এবং এ খাতে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ছড়িয়ে দিতেই এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক তৈরি করা, যা তরুণদের কাজের সুযোগ বাড়াবে।

    শিক্ষা কার্যক্রমের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে অ্যাকাডেমিক জিহাদের শিক্ষা ব্যবস্থা দুই ভাগে পরিচালিত হচ্ছে—উচ্চশিক্ষা এবং স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ। উচ্চশিক্ষার আওতায় ২টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ৫টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। ইতিমধ্যেই স্নাতক শেষ করেছেন ৮ হাজার শিক্ষার্থী। এছাড়া সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা ১৬২টি কেন্দ্রে স্বল্পমেয়াদি বিভিন্ন কোর্স চালু রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সাধারণ কোর্সের বদলে দক্ষতা ও চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে।

    স্বাবলম্বী শিক্ষা খাত ও গবেষক নিয়োগ

    প্রতিষ্ঠানটির অর্থায়নের বিষয়ে তিনি জানান, শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় প্রায় ৮০ শতাংশ অর্থ নিজস্ব আয় থেকে আসে। সরকারি তহবিল থেকে পাওয়া যায় মাত্র ২০ শতাংশের মতো। গত বছরের তুলনায় এ খাতের আর্থিক সাফল্য এবং কোর্সের সংখ্যা দুটোই বেড়েছে। গত বছর সমাজ ও শ্রমবাজারের চাহিদা মেনে ১ হাজার ৩৩৮টি প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনা করা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য খাতের উন্নতির জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে যৌথভাবে কাজ করছে এই প্রতিষ্ঠান। বন্ধ্যত্ব চিকিৎসা এবং মুখ ও দাঁতের যত্নের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে চারটি বিশেষায়িত কর্মগোষ্ঠী গঠন করা হয়েছে।

    পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরির কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। গবেষক ও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু রয়েছে জানিয়ে বাসোলি বলেন, নিয়োগের জন্য এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৪১ জন আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ১৯১ জনের আবেদন বর্তমানে পর্যালোচনাধীন রয়েছে।

  • সেক্যুলার দল করলে ‘কওমিত্ব’ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, জামায়াত করলে কেন হবে, প্রশ্ন উসামার

    সেক্যুলার দল করলে ‘কওমিত্ব’ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, জামায়াত করলে কেন হবে, প্রশ্ন উসামার

    ইসলামিক স্কলার ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রুকন মুফতি আলী হাসান উসামা বলেছেন, ‘জামায়াতের আকিদা খারাপ বলে যে দাবি করা হয়, তা নির্জলা মিথ্যাচার। জামায়াত একটা রাজনৈতিক দল। দেওবন্দি, মাদানি, আজহারিসহ বহু শিক্ষাধারার লোক এতে রয়েছে। হানাফি, লা মাজহাবি, সুন্নি, তাবলিগিসহ বহু মাসলাকের লোক এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। এমনকি কৃষ্ণ নন্দিও জামায়াতের এমপি প্রার্থী হয়েছেন। সুতরাং কোনো সুনির্দিষ্ট আকিদাকে জামায়াতের সব নেতাকর্মীর আকিদা বলে চালিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।’

    আমার দেশ অনলাইনে ‘কওমি শিক্ষার্থীদের জামায়াতে যোগদানে উদ্বিগ্ন হেফাজত’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।

    রোববার আমার দেশকে মুফতি উসামা বলেন, ‘আকিদা যার যার, দ্বীন কায়েমের রাজনীতি সবার। জামায়াত কখনো বলে না, আমরা মওদুদির আকিদা পোষণ করি। জামায়াতের গঠনতন্ত্রেই আছে, কুরআন ও সহিহ হাদিসে নির্দেশিত আকিদাই হবে জামায়াতের আকিদা। এরপরও জামায়াতের বিরোধিতা মূলত আদর্শিক নয়; বরং রাজনৈতিক। তারা এসব অপপ্রচারের মাধ্যমে সেক্যুলারদের থেকে বিভিন্ন সুবিধা লাভ করে।’

    তিনি বলেন, ‘কওমি একটি শিক্ষাধারা; কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম ‘কওমি’ নয়। কওমিতে পড়াশোনা করে যে কেউ যেকোনো রাজনৈতিক দল করতে পারেন। এ জন্য কওমি আকাবির আল্লামা আতাহার আলী খানসহ অনেকে বিএনপি করেছেন এবং ধানের শীষ নিয়ে এমপিও হয়েছেন। জাতীয় মসজিদের সাবেক খতিব, কওমি বোর্ড আল-হাইয়াতুল উলয়ার শীর্ষ নেতা এবং গওহরডাঙ্গা মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা রুহুল আমিন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন এবং ড. আবু রেজা নদবি এমপিও হয়েছিলেন।’

    মুফতি উসামা বলেন, ‘সেক্যুলারিজম সুস্পষ্ট কুফর। এরপরও সেক্যুলার দল করলে যদি ‘কওমিত্ব’ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তাহলে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ইসলামি রাজনৈতিক সংগঠন জামায়াত করলে কেন ‘কওমিত্ব’ যাবে?’

    উসামা আরো বলেন, ‘দেওবান্দিয়াত কোনো দলের নাম নয়। তাওহিদ, সুন্নাহ ও ইলায়ে কালিমাতুল্লাহর নাম দেওবান্দিয়াত। আমি দেওবন্দি ছিলাম, আছি এবং চিরকাল থাকব ইনশাআল্লাহ। আমি একাধিক কওমি মাদরাসার শিক্ষক ও পরিচালক ছিলাম। সহিহ বুখারি, তিরমিজি, মিশকাত, ফাতাওয়া শামি-সহ বহু গ্রন্থের দারস দান করেছি। আগামীতেও কওমি মাদরাসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার নিয়ত রয়েছে। যার কারণে কেউ জোর করে কওমি থেকে খারেজ করে দেওয়ার সুযোগ নেই। এই ঠিকাদারিও কাউকে দেওয়া হয়নি। যারা কওমির নাম বেচে ঠিকাদার সেজে বিএনপিকে বাংলাদেশের কংগ্রেস ভেবে পদলেহন করে এবং এর মাধ্যমে পার্থিব স্বার্থ অর্জনের ধান্ধা করে, বর্তমান সচেতন তরুণ প্রজন্ম তাদের লাল কার্ড দেখাবে।’

    আমার দেশের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘কওমি ঘরানার কয়েকজন সুপরিচিত আলেম এরই মধ্যে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। শোনা যাচ্ছে, একই পথে হাঁটছেন বিভিন্ন কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। এমন পরিস্থিতিতে গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর আহ্বানে কওমি ঘরানার সাতটি ইসলামি দলের নেতাদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।’

    ‘বৈঠকে শিক্ষার্থীদের জামায়াতে যোগদানের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে স্বীকার করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী বলেন, আমাদের বৈঠকের এজেন্ডায় এটা ছিল না। কিন্তু প্রসঙ্গক্রমে আলোচনা হয়েছে। জামায়াতের সাথে আমাদের আলেমদের জোট থাকায় শিক্ষার্থীরা সেই দলের প্রতি ঝুঁকে পড়ছেন। এ জন্যই হেফাজতের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। কেননা অনেক আলেম এখনো জামায়াতে ইসলামীকে হকপন্থিদের ইসলামী দল মনে করেন না।’

    ‘তিনি আরো বলেন, কওমি তরুণদের একটা অংশ বিএনপির দিকেও ঝুঁকে পড়ছেন। সেই দলে যোগও দিচ্ছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সেই বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এই বিষয়ে অবশ্যই আলোচনার দাবি রাখে।’

  • ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ৪২৩

    ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ৪২৩

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৪২৩ জন।

    রোববার (২ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৫৪, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৯, ঢাকা বিভাগে ১৫৪, খুলনা বিভাগে ৮১, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৬, রাজশাহী বিভাগে ২৯, রংপুর বিভাগে ১৬ ও সিলেট বিভাগে চারজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    লতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১৬ হাজার ১০৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, চলতি বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৫৬ জনের। এর মধ্যে চলতি মাসে ২ জন মারা গেছে। আর জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক, জুনে ১৩ জন ও জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা শুরু ১২ ডিসেম্বর

    ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা শুরু ১২ ডিসেম্বর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষা আগামী ১৯ ডিসেম্বর শনিবার, বিজ্ঞানের ১২ ডিসেম্বর শনিবার, ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের পরীক্ষা ২৬ ডিসেম্বর শনিবার, চারুকলা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা (সাধারণ জ্ঞান ও অঙ্কন) আগামী ২২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার এবং ‘আইবিএ ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা ৫ ডিসেম্বর শনিবার অনুষ্ঠিত হবে।রোববার (২ আগস্ট) ঢাবির নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন।

    আইবিএ ইউনিট’ ছাড়া সব ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে বারোটা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। আইবিএ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ‘চারুকলা ইউনিট’ এবং ‘আইবিএ ইউনিট’ ব্যতীত অন্য ৩টি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ঢাকাসহ ৮টি বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম আগামী ১১ নভেম্বর দুপুর ১২টায় শুরু হবে। ২৫ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম শেষ হবে।

    সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অনলাইন ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ৫টি ইউনিটের মাধ্যমে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ইউনিটগুলো হচ্ছে- ‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট’, ‘বিজ্ঞান ইউনিট’, ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট’, ‘চারুকলা ইউনিট’ এবং ‘আইবিএ ইউনিট’।

    বিভাগীয় কেন্দ্রগুলো হচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

    সভায় চারুকলা ইউনিট এবং আইবিএ ইউনিট ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৬০ নম্বরের MCQ এবং ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। চারুকলা ইউনিটের পরীক্ষায় ৪০ নম্বরের MCQ এবং ৬০ নম্বরের অঙ্কন পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষায় ৭০ নম্বরের MCQ এবং ৩০ নম্বরের বর্ণনামূলক পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। চারুকলা ইউনিটের MCQ পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট এবং অঙ্কন/লিখিত পরীক্ষার জন্য ৬০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আইবিএ ইউনিটের MCQ পরীক্ষার জন্য ৯০ মিনিট এবং বর্ণনামূলক পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

    অন্যান্য ইউনিটের MCQ পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট এবং লিখিত পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষায় মোট ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। এরমধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ এবং মাধ্যমিক/সমমান এবং উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষার ফলের ওপর থাকবে ২০ নম্বর।

    ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীদের ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে ২০২১ থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মাধ্যমিক/সমমান এবং ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

    পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) ‘বিজ্ঞান ইউনিট’-এর জন্য মাধ্যমিক/সমমান এবং উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষার জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৮ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.৫ থাকতে হবে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের মানবিক ও বাণিজ্য শাখার শিক্ষার্থীরাও এই ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে।

    ‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট’-এর জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞান ও বাণিজ্য শাখার শিক্ষার্থীরাও এই ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল বিজ্ঞান শাখার জন্য ন্যূনতম ৮.০, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.৫ এবং বাণিজ্য শাখার জন্য ন্যূনতম ৭.৫, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে।

    ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট’-এর জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞান ও মানবিক শাখার শিক্ষার্থীরাও এই ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল বিজ্ঞান শাখার জন্য ন্যূনতম ৮.০, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.৫ এবং মানবিক শাখার জন্য ন্যূনতম ৭.৫, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে।

    ‘চারুকলা ইউনিট’-এর জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৬.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে।

    সভায় ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষায় বিজ্ঞান ইউনিটের ক্ষেত্রে ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার্থীদের কারিকুলাম অনুযায়ী আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।সভায় ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ক্লাস ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ মার্চ শুরুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

  • ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা বিভাগীয় শহরে, আবেদন শুরু ১১ নভেম্বর

    ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা বিভাগীয় শহরে, আবেদন শুরু ১১ নভেম্বর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম আগামী ১১ নভেম্বর দুপুর ১২টায় শুরু হবে। ২৫ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম শেষ হবে।

    রোববার (২ আগস্ট) ঢাবির নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন।সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অনলাইন ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ৫টি ইউনিটের মাধ্যমে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ইউনিটগুলো হচ্ছে- ‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট’, ‘বিজ্ঞান ইউনিট’, ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট’, ‘চারুকলা ইউনিট’ এবং ‘আইবিএ ইউনিট’।

    সভায় ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সময়সূচি অনুযায়ী ‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৯ ডিসেম্বর শনিবার, ‘বিজ্ঞান ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১২ ডিসেম্বর শনিবার, ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২৬ ডিসেম্বর শনিবার, ‘চারুকলা ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা (সাধারণ জ্ঞান ও অঙ্কন) আগামী ২২ ডিসেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার এবং ‘আইবিএ ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৫ ডিসেম্বর শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। ‘আইবিএ ইউনিট’ ছাড়া সকল ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে বারোটা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ‘আইবিএ ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা সকাল ১০:০০টা থেকে দুপুর ১২:০০ টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ‘চারুকলা ইউনিট’ এবং ‘আইবিএ ইউনিট’ ব্যতীত অন্য ৩টি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ঢাকাসহ ৮টি বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে। বিভাগীয় কেন্দ্রসমূহ হচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

    সভায় চারুকলা ইউনিট এবং আইবিএ ইউনিট ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৬০ নম্বরের MCQ এবং ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। চারুকলা ইউনিটের পরীক্ষায় ৪০ নম্বরের MCQ এবং ৬০ নম্বরের অঙ্কন পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষায় ৭০ নম্বরের MCQ এবং ৩০ নম্বরের বর্ণনামূলক পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। চারুকলা ইউনিটের MCQ পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট এবং অঙ্কন/লিখিত পরীক্ষার জন্য ৬০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আইবিএ ইউনিটের MCQ পরীক্ষার জন্য ৯০ মিনিট এবং বর্ণনামূলক পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

    অন্যান্য ইউনিটের MCQ পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট এবং লিখিত পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষায় মোট ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। এরমধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ এবং মাধ্যমিক/সমমান এবং উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষার ফলাফলের উপর থাকবে ২০ নম্বর।

    ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীদের ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে ২০২১ থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মাধ্যমিক/সমমান এবং ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

    পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) ‘বিজ্ঞান ইউনিট’-এর জন্য মাধ্যমিক/সমমান এবং উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষার জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৮ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.৫ থাকতে হবে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের মানবিক ও বাণিজ্য শাখার শিক্ষার্থীরাও এই ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে।

    ‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট’-এর জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞান ও বাণিজ্য শাখার শিক্ষার্থীরাও এই ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল বিজ্ঞান শাখার জন্য ন্যূনতম ৮.০, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.৫ এবং বাণিজ্য শাখার জন্য ন্যূনতম ৭.৫, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে।

    ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট’-এর জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞান ও মানবিক শাখার শিক্ষার্থীরাও এই ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল বিজ্ঞান শাখার জন্য ন্যূনতম ৮.০, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.৫ এবং মানবিক শাখার জন্য ন্যূনতম ৭.৫, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে।

    ‘চারুকলা ইউনিট’-এর জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৬.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে।

    সভায় ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষায় বিজ্ঞান ইউনিটের ক্ষেত্রে ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার্থীদের কারিকুলাম অনুযায়ী আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

    সভায় ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ক্লাস ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ মার্চ শুরুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

  • ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা মানবণ্টন প্রকাশ

    ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা মানবণ্টন প্রকাশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষার মানবণ্টন প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। চারুকলা ইউনিট এবং আইবিএ ইউনিট ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৬০ নম্বরের MCQ এবং ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। চারুকলা ইউনিটের পরীক্ষায় ৪০ নম্বরের MCQ এবং ৬০ নম্বরের অঙ্কন পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষায় ৭০ নম্বরের MCQ এবং ৩০ নম্বরের বর্ণনামূলক পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। চারুকলা ইউনিটের MCQ পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট এবং অঙ্কন/লিখিত পরীক্ষার জন্য ৬০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আইবিএ ইউনিটের MCQ পরীক্ষার জন্য ৯০ মিনিট এবং বর্ণনামূলক পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

    অন্যান্য ইউনিটের MCQ পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট এবং লিখিত পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষায় মোট ১২০ নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। এরমধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ এবং মাধ্যমিক/সমমান এবং উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষার ফলের ওপর থাকবে ২০ নম্বর।

    রোববার (২ আগস্ট) ঢাবির নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন।

    কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষা আগামী ১৯ ডিসেম্বর শনিবার, বিজ্ঞানের ১২ ডিসেম্বর শনিবার, ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের পরীক্ষা ২৬ ডিসেম্বর শনিবার, চারুকলা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা (সাধারণ জ্ঞান ও অঙ্কন) আগামী ২২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার এবং ‘আইবিএ ইউনিট’-এর ভর্তি পরীক্ষা ৫ ডিসেম্বর শনিবার অনুষ্ঠিত হবে।

    আইবিএ ইউনিট’ ছাড়া সব ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে বারোটা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। আইবিএ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ‘চারুকলা ইউনিট’ এবং ‘আইবিএ ইউনিট’ ব্যতীত অন্য ৩টি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ঢাকাসহ ৮টি বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম আগামী ১১ নভেম্বর দুপুর ১২টায় শুরু হয়ে চলবে ২৫ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।

    সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অনলাইন ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ৫টি ইউনিটের মাধ্যমে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ইউনিটগুলো হচ্ছে- ‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট’, ‘বিজ্ঞান ইউনিট’, ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট’, ‘চারুকলা ইউনিট’ এবং ‘আইবিএ ইউনিট’।

    বিভাগীয় কেন্দ্রগুলো হচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

    ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীদের ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে ২০২১ থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মাধ্যমিক/সমমান এবং ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

    পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) ‘বিজ্ঞান ইউনিট’-এর জন্য মাধ্যমিক/সমমান এবং উচ্চ মাধ্যমিক/সমমান পরীক্ষার জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৮ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.৫ থাকতে হবে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের মানবিক ও বাণিজ্য শাখার শিক্ষার্থীরাও এই ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে।

    ‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিট’-এর জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞান ও বাণিজ্য শাখার শিক্ষার্থীরাও এই ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল বিজ্ঞান শাখার জন্য ন্যূনতম ৮.০, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.৫ এবং বাণিজ্য শাখার জন্য ন্যূনতম ৭.৫, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে।

    ‘ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট’-এর জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞান ও মানবিক শাখার শিক্ষার্থীরাও এই ইউনিটে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল বিজ্ঞান শাখার জন্য ন্যূনতম ৮.০, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.৫ এবং মানবিক শাখার জন্য ন্যূনতম ৭.৫, আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০ থাকতে হবে।

    ‘চারুকলা ইউনিট’-এর জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৬.৫ এবং আলাদাভাবে জিপিএ ৩.০ থাকতে হবে।

    সভায় ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষায় বিজ্ঞান ইউনিটের ক্ষেত্রে ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার্থীদের কারিকুলাম অনুযায়ী আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

    সভায় ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ক্লাস ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ মার্চ শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

  • ঢাবির শহীদুল্লাহ হলে শিবির-ছাত্রদল মুখোমুখি অবস্থান

    ঢাবির শহীদুল্লাহ হলে শিবির-ছাত্রদল মুখোমুখি অবস্থান

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ( ঢাবি) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলে শিবির-ছাত্রদল মুখোমুখি অবস্থান করায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    বোরবার ( ২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এই ঘটনা হয়।

    বিস্তারিত আসছে….

  • মাদরাসা শিক্ষার নতুন ডিজি  মোজাম্মেল

    মাদরাসা শিক্ষার নতুন ডিজি মোজাম্মেল

    শিক্ষা ডেস্ক:

    মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে অতিরিক্ত সচিব মো. উবায়দুল হককে। নতুন ডিজির (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন খানকে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।আদেশ মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন খানকে নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদের এবং ” ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট অব মাদরাসাহ এডুকেশন স্কিমের ‘স্কিম পরিচালক’-এর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হলো।

  • ঢাবির ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ

    ঢাবির ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (আন্ডারগ্র্যাজুয়েট) প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন আগামী ১১ নভেম্বর শুরু হবে। আবেদন গ্রহণ চলবে ২৫ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। পাঁচটি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ৫ ডিসেম্বর, আর শেষ হবে ২৬ ডিসেম্বর।

    রোববার (২ আগস্ট) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

    সভায় জানানো হয়, এবারও ‘কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান’, ‘বিজ্ঞান’, ‘ব্যবসায় শিক্ষা’, ‘চারুকলা’ ও ‘আইবিএ’-এই পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    ভর্তি পরীক্ষার সূচি অনুযায়ী, আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষা হবে ৫ ডিসেম্বর, বিজ্ঞান ইউনিটের ১২ ডিসেম্বর, কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের ১৯ ডিসেম্বর, চারুকলা ইউনিটের (সাধারণ জ্ঞান ও অঙ্কন) ২২ ডিসেম্বর এবং ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের পরীক্ষা হবে ২৬ ডিসেম্বর।

    আইবিএ ইউনিট ছাড়া সব ইউনিটের পরীক্ষা সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। আইবিএ ইউনিটের পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলবে।

    চারুকলা ও আইবিএ ইউনিট ছাড়া অন্য তিনটি ইউনিটের পরীক্ষা ঢাকাসহ আটটি বিভাগীয় শহরে অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রগুলো হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (ময়মনসিংহ) এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

    এ ছাড়া আগামী শিক্ষাবর্ষের ক্লাস ২০২৭ সালের ২৮ মার্চ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সভায় প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালাম, প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, হল প্রাধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে স্কুল মিল

    সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে স্কুল মিল

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধাপে ধাপে ‘স্কুল মিল’ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতিটি প্রাথমিক শিক্ষার্থীর পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা হবে।

    রোববার সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-এর বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও আবাসিক প্রতিনিধি কোকো উশিয়ামা সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ কথা বলেন।

    সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল মিল কর্মসূচির সম্প্রসারণ, পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিতকরণ, ভবিষ্যতে পরীক্ষামূলকভাবে রান্না করা গরম খাবার চালুর সম্ভাবনা, কর্মসূচির কার্যকর পর্যবেক্ষণ এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা জোরদারসহ সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হয়।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের প্রধান লক্ষ্য প্রতিটি প্রাথমিক শিক্ষার্থীর পুষ্টি নিশ্চিত করা।

    স্কুল মিল কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

    আলোচনায় প্রতিবেশী দেশ ভারতের স্কুল মিল কর্মসূচির অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতার সঙ্গে তার মিলের বিষয়টি উঠে আসে। পাশাপাশি দেশের শহর ও গ্রামাঞ্চল, ভৌগোলিক বৈচিত্র্য এবং আর্থসামাজিক অবস্থার ভিন্নতা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনভিত্তিক পৃথক পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দেন প্রতিমন্ত্রী।

    বৈঠকে ডব্লিউএফপির কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা বলেন, স্কুল মিল কেবল শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করে না; বরং বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়াতে, ঝরে পড়া রোধ করতে, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডব্লিউএফপি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্কুল গার্ডেন, পুষ্টি শিক্ষা এবং স্থানীয় কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে স্কুল মিল কর্মসূচির সমন্বয়ের মাধ্যমে ইতিবাচক সাফল্য অর্জন করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    সাক্ষাৎকালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিদ্যমান সমন্বিত প্রাথমিক শিক্ষা তথ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে সমন্বিত তথ্য ব্যবস্থাপনা তৈরিতে ডব্লিউএফপির কারিগরি সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্কুল মিল কর্মসূচির কার্যকারিতা বাড়াতে উভয় পক্ষই একমত পোষণ করেন।

    বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ডব্লিউএফপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ভর্তির সুযোগ না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট হ্যাক করলেন শিক্ষার্থী

    ভর্তির সুযোগ না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট হ্যাক করলেন শিক্ষার্থী

    ভারতের অন্যতম প্রযুক্তি শিক্ষার প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি-কানপুরে (আইআইটি-কানপুর) ভর্তি হতে পারেননি এক শিক্ষার্থী। এ ক্ষোভে আইআইটির দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে হ্যাক করেন। তবে এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে প্রযুক্তিগত দক্ষতা যাচাই করে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবছে আইআইটি-কানপুর।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, শিক্ষার্থীটি আইআইটি কানপুরের নতুন চালু হওয়া ব্যাচেলর অব সাইবার সিকিউরিটি (বি-সাইবার) কোর্সে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু প্রাথমিক বাছাইয়ে স্থান না পাওয়ার পর তিনি আইআইটি কানপুর ও আইআইটি মাদ্রাজের ওয়েবসাইটে অনুপ্রবেশ করেন বলে অভিযোগ। ওয়েবসাইটে তিনি লিখেছিলেন, আমার শুধু একটি ন্যায্য সুযোগ চাই।

    আইআইটি কানপুরের পরিচালক মনীন্দ্র আগরওয়াল বলেন, চলতি শিক্ষাবর্ষে ওই শিক্ষার্থীকে ভর্তি করানো সম্ভব নয়, কারণ ভর্তি কার্যক্রম ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে তাকে ক্যাম্পাসে ডেকে তার কারিগরি দক্ষতা যাচাই করা হবে। তিনি যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারলে আগামী ভর্তি চক্রে সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে তাকে প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা উদ্ভাবনকেন্দ্র সি৩আইহাবে ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও ভাবা হচ্ছে।

    প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীর প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রশংসা করা হলেও অনুমতি ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ গ্রহণযোগ্য নয়। সাইবার নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট দক্ষতা সব সময় নৈতিক ও আইনসম্মত উপায়ে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছে আইআইটি কানপুর।

    আইআইটি কানপুর এ বছর প্রথমবারের মতো ব্যাচেলর অব সাইবার সিকিউরিটি (বি-সাইবার) কোর্স চালু করেছে। প্রচলিত ভর্তি পদ্ধতির পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তায় দক্ষতাকেও এ কোর্সে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

  • স্কুলে ছাত্রী ও তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

    স্কুলে ছাত্রী ও তরুণকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

    গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় এক স্কুলছাত্রী ও এক তরুণকে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ওই ছাত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে দাবি তার পরিবারের।

    গতকাল শুক্রবার রাতে নির্যাতনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই দুপুরে উপজেলার একটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী (১৩)।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রকাশ্যে এমন ঘটনার তিন দিন পার হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

    ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৮ জুলাই ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে এবং তরুণকে তাঁর বাড়ি থেকে ডেকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আগের দিন তাঁদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়েছিলেন বলে কয়েকজনের দাবি। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি দেবদারুগাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে তাঁদের একসঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে তাঁদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়।

    নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়া, অপমান ও মানসিক যন্ত্রণার কারণে ওই ছাত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বর্তমানে সে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছে।

    এ সময় উপস্থিত কয়েকজন ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

    এ ঘটনায় নয়ন বাড়ৈ, জয় শিকদার, মিশন রায়সহ আরও কয়েকজন জড়িত বলে অভিযোগ। এ ব্যাপারে নয়ন বাড়ৈয়ের ভাষ্য, ‘আপত্তিকর অবস্থায় ধরার পর এলাকার কয়েক যুবক আমার বাড়ির ওপর দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। আমি তাঁদের বিদ্যালয়ে নিয়ে অভিভাবকদের হাতে তুলে দিই। তবে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের বিষয়টি আমার জানা নেই।’

    স্থানীয় লোকজনের দাবি, নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়া, অপমান ও মানসিক যন্ত্রণার কারণে ওই ছাত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে স্থানীয় উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে ওই ছাত্রী সেখানে চিকিৎসাধীন।

    ঘটনার দিন বিদ্যালয়ে ছিলেন না দাবি করে প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিত সরকার বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিও ঢাকায় ছিলেন। তিনি ফিরে এলে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • শিক্ষকের নাম ভুল করায় ‘৩০০ বার লিখিয়ে শাস্তি’

    শিক্ষকের নাম ভুল করায় ‘৩০০ বার লিখিয়ে শাস্তি’

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) এক শিক্ষার্থী অ্যাসাইনমেন্টে শিক্ষকের নামের বানান ভুল করায় তাকে ৩০০ বার লিখে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ওই শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করলে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

    জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম সাইদ অ্যাসাইনমেন্টে বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মরিয়ম হাসনার নামের বানান ভুল করেন। অভিযোগ রয়েছে, এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ৩০০ বার ঐ শিক্ষকের নাম লিখে জমা দিতে বলা হয়।

    এ বিষয়ে সাইদুল ইসলাম সাইদ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ছবি পোস্ট করে লিখেন, “গত রাতটি আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অন্যতম স্মরণীয় একটি অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। একটি শব্দের বানানে মাত্র একটি অক্ষর Morioum’-এর পরিবর্তে ‘ Morium’ লেখার কারণে আমাকে পুরো লেখাটি ৩০০ বার সংশোধন করতে হয়েছে।”পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ শাস্তির ধরনকে অযৌক্তিক বলে সমালোচনা করেছেন, আবার কেউ শিক্ষার্থীর অসাবধানতার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন। এছাড়াও বিভাগটির বিরুদ্ধে এমন নানান আজগুবি অ্যাসাইনমেন্ট দেয়ার অভিযোগও তুলছেন সাবেক শিক্ষার্থীরা ।

    ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী রেদোয়ান সরকার এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “কত কত অযাচিত অ্যাসাইনমেন্ট করেছি তার হিসাব নেই। ক্রিয়েটিভিটির নামে দেখে দেখে অ্যাসাইনমেন্ট করানোই যেন নিয়ম। শিক্ষক কর্তৃক বিভিন্ন ধরনের র্যাগিংয়ের মুখোমুখি হওয়া এই বিভাগে খুবই সাধারণ বিষয়।”অন্যদিকে, ইসরাত জাহান নামে এক শিক্ষার্থী মন্তব্য করেন, “তৃতীয় বর্ষে পড়ে একজন ফ্যাকাল্টি মেম্বারের নাম ভুল করেন, আবার তা নিয়ে পোস্টও করেন। ন্যূনতম বিবেচনাবোধ থাকা উচিত।”

    এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • রোববার থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা শুরু

    রোববার থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা শুরু

    শিক্ষা ডেস্ক:

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থীরা চলমান আন্দোলন ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবির বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়ায় রোববার (২ আগস্ট) থেকে সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) শিক্ষার্থীদের দেয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রশাসনের অগ্রগতি সন্তোষজনক হওয়ায় আপাতত আন্দোলন স্থগিত করা হচ্ছে। তবে দাবিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। ভবিষ্যতে কোনো ধরনের গড়িমসি বা অসহযোগিতা দেখা গেলে নতুন করে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও সতর্ক করেন তারা।

    এর আগে গত ২৪ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি উপস্থাপন করেন। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা হলেও সন্তোষজনক সমাধান না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে তালা খুলে দেওয়া হলেও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি অব্যাহত ছিল।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. সালাউদ্দিন বলেন, “শুরু থেকেই প্রশাসন শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্বস্তি প্রকাশ করছে।

    গত ২২ জুলাই রাতে বিজয়-২৪ হলের ছাত্রীদের শৌচাগার ও গোসলখানার ভেন্টিলেটর দিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে ক্যানটিনকর্মী ইমাম হাসানকে আটক করে শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই ঘটনায় তার স্ত্রীও গ্রেপ্তার হন।

    এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার, যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্পন্দন-২৪ ক্লাবের নিবন্ধন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।

    টানা আন্দোলন, প্রশাসনের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক, তদন্ত কার্যক্রম এবং সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের পর তিন দফা দাবির বিষয়ে অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট হয়ে শিক্ষার্থীরা রোববার থেকে ক্লাস-পরীক্ষায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে দাবিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন না হলে আবারও আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

  • ঢাবিতে জুলাইয়ের গ্রাফিতি সংরক্ষণে পুনর্লিখন শুরু

    ঢাবিতে জুলাইয়ের গ্রাফিতি সংরক্ষণে পুনর্লিখন শুরু

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেয়ালে আঁকা জুলাইয়ের গ্রাফিতি পুনরায় রং ও প্রয়োজনীয় অংশ পুনর্লিখনের কাজ শুরু হয়েছে। গ্রাফিতির মূল বৈশিষ্ট্য, চেতনা ও বার্তা অক্ষুণ্ন রেখে তিন দিনব্যাপী এ কার্যক্রম চলবে।

    শনিবার (১ আগস্ট) সকালে উপাচার্যের বাসভবনের প্রধান ফটকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখ, প্রক্টর মো. ইসরাফিল প্রাং, আরবরি কালচার সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ১ থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত উপাচার্য ভবন থেকে রোকেয়া হল পর্যন্ত বিভিন্ন দেয়ালে আঁকা জুলাইয়ের গ্রাফিতিগুলো পুনরায় রং করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু গ্রাফিতি পুনর্লিখনও করা হবে। এ কাজে নিবন্ধিত শিক্ষার্থী ও শিল্পীরা অংশ নিচ্ছেন।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের গ্রাফিতিগুলো তৎকালীন সরকারের দুঃশাসন, নির্যাতন ও নিপীড়নের স্মৃতি বহন করছে। এগুলো সংরক্ষণের মাধ্যমে ওই সময়ের ঘটনাগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

    তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে তরুণ সমাজসহ সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। আন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকার হামলা ও দমন-পীড়নের পথ বেছে নেয়। একপর্যায়ে সেই আন্দোলন গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন।

    উপাচার্যের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় শিক্ষার্থীরা দেয়ালে দেয়ালে গ্রাফিতির মাধ্যমে নিপীড়ন, প্রতিরোধ ও গণআন্দোলনের নানা চিত্র তুলে ধরেছিলেন। সময়ের সঙ্গে এসব গ্রাফিতি দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হয়ে উঠেছে।

    তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এসব গ্রাফিতির মাধ্যমে জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলি সম্পর্কে জানতে পারবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে দেশে যেন কর্তৃত্ববাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    এদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় অমর একুশে হল অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

    এ ছাড়া দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে গত ২৯ জুলাই আনওয়ারুল আজীম চৌধুরী লেকচার গ্যালারিতে ‘জুলাই বিপ্লব ও ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীরা আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে নিজেদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।

  • শ্বাসনালিতে খাবার আটকে ঢাবি শিক্ষিকার মৃত্যু

    শ্বাসনালিতে খাবার আটকে ঢাবি শিক্ষিকার মৃত্যু

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজধানীর একটি হাসপাতালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. দীপ্তি সাহা পরলোকগমন করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর।

    শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে নাস্তার সময় শ্বাসনালিতে খাবার আটকে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে রাজধানীর একটি হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    অধ্যাপক ড. দীপ্তি সাহার পরলোকগমনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোক বাণীতে উপাচার্য বলেন, অধ্যাপক ড. দীপ্তি সাহা একজন প্রথিতযশা শিক্ষক ও গবেষক ছিলেন। দেশের শিক্ষা ও গবেষণায় অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। উপাচার্য প্রয়াত অধ্যাপকের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য প্রয়াত অধ্যাপকের মরদেহ শুক্রবার বিকেলে ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগে আনা হয়। উপাচার্যের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রয়াত অধ্যাপকের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে পোস্তগোলার শ্মশানে প্রয়াত অধ্যাপকের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

  • প্রিয়াঙ্কার বিপক্ষে ২১৫ শিক্ষাবিদের চিঠি

    প্রিয়াঙ্কার বিপক্ষে ২১৫ শিক্ষাবিদের চিঠি

    আইআইটি মাদ্রাজের ডিরেক্টর অধ্যাপক ভি. কামাকোটিকে পরোক্ষভাবে ‘গোমূত্র বিশেষজ্ঞ’ বলে মন্তব্য করায় বিপাকে পড়েছেন ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদরা। তার এমন মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সাবেক উপাচার্য ও শিক্ষাবিদেরা। খবর এনডিটিভির।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় ইতিমধ্যে ২১৫ জন শিক্ষাবিদ স্বাক্ষরিত একটি খোলা চিঠিতে প্রিয়াঙ্কার মন্তব্যের নিন্দা জানানো হয়েছে।
    চিঠিতে বলা হয়, আপনি অধ্যাপক ভি. কামাকোটিকে ‘গোমূত্র বিশেষজ্ঞ’ বলে যে মন্তব্য করেছেন বলে জানা গেছে, তাতে আমরা গভীর হতাশা প্রকাশ করছি। এটি ব্যঙ্গাত্মক বা রাজনৈতিক বক্তব্য যাই হোক না কেন, এ ধরনের মন্তব্য একজন ব্যক্তির সীমা ছাড়িয়ে আরও বড় উদ্বেগের জন্ম দেয়।
    ওই চিঠিতে আরও বলা হয়, কোনো শিক্ষাবিদের মতামতকে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে খণ্ডন না করে তাকে একটি অবমাননাকর তকমা দেয়া সংবিধানে বর্ণিত বিজ্ঞানমনস্কতার চেতনাকেই দুর্বল করে।

    শিক্ষাবিদদের ভাষ্য, বিজ্ঞানী, গবেষক ও শিক্ষকদের এমন পরিবেশ প্রয়োজন, যেখানে তারা জনপরিসরে মত প্রকাশ করতে পারবেন, কিন্তু অবজ্ঞাসূচক উপাধির শিকার হবেন না।

    চিঠিতে অধ্যাপক ভি. কামাকোটির একাডেমিক ও গবেষণা অবদানের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। তাতে উল্লেখ করা হয়, তিনি ভারতের অন্যতম শীর্ষ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক। কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে আইআইটি মাদ্রাজ থেকেই এমএস ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
    তার প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা ১৫০টিরও বেশি এবং তিনি ৫০টির বেশি গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন।

    এ ছাড়া তিনি ডিআরডিও একাডেমিক এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড এবং ইন্ডিয়ান ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসোসিয়েশন টেকনো ভিশনারি অ্যাওয়ার্ডসহ একাধিক সম্মাননা পেয়েছেন। ভারতের প্রথম শিল্পমানের মাইক্রোপ্রসেসর তৈরির উদ্যোগেও তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
    দেশটির শিক্ষাবিদদের ভাষায়, নিঃসন্দেহে তিনি দেশের অন্যতম সেরা প্রযুক্তিবিদ। চিঠিতে আরও বলা হয়, ইতিহাসে বহু ধারণা প্রথমে অবাস্তব বলে মনে হলেও পরে বৈজ্ঞানিকভাবে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। আবার একসময় বহুল স্বীকৃত অনেক বিশ্বাসও পরবর্তীতে ভুল বলে প্রমাণিত হয়েছে।

    তারা লিখেছেন, কোনো গবেষকের বক্তব্যের সমালোচনা করুন, তার উপস্থাপিত প্রমাণকে চ্যালেঞ্জ করুন, আরও কঠোর প্রমাণ দাবি করুন- কিন্তু গবেষণা ও শিক্ষাবিদ্যার মর্যাদাকে খাটো করবেন না।

    গত মঙ্গলবার লোকসভায় ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬’-এর ওপর আলোচনায় বক্তব্য দেয়ার সময় প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ওই মন্তব্য করেন।

    যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবে তার বক্তব্য আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক অধ্যাপক ভি. কামাকোটিকে লক্ষ্য করেই করা হয়েছে বলে ব্যাপকভাবে মনে করা হচ্ছে।
    অধ্যাপক কামাকোটি সম্প্রতি দেশটির পরীক্ষা সংস্কারবিষয়ক নতুন টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পান।

  • ‘আমি ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি’: ফিলিস্তিনি অধ্যাপক

    ‘আমি ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি’: ফিলিস্তিনি অধ্যাপক

    ওষুধ ও চিকিৎসার জন্য রোগীদের সরিয়ে নেওয়ার ওপর ইসরাইলি বিধিনিষেধের কারণে হাজার হাজার ক্যানসার রোগী জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    দক্ষিণ গাজার একটি স্কুলকে রূপান্তর করা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রে। সেই ভবনের সিঁড়ির নিচে একটি ছোট্ট, ঘিঞ্জি জায়গায় ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ে ধীরে ধীরে হেরে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খুলুদ আবু সাহমুদ।

    ১৫টি কেমোথেরাপি সেশনের পর ৩৩ বছর বয়সি এই ফিলিস্তিনি মাকে জানিয়ে দেওয়া হয়, তিনি আর চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারবেন না। কারণ, যুদ্ধবিধ্বস্ত এই ছিটমহলে বর্তমানে যেসব ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো তার ক্যানসারের ধরনের জন্য উপযুক্ত নয়। তিনি দুই সন্তানের জননী।

    মিডল ইস্ট আইকে আবু সাহমুদ বলেন, প্রায় নয় মাস আগে আমার মেয়ের জন্মের পরপরই আমার লিভার ক্যানসার ধরা পড়ে। কিন্তু কয়েকটি কেমোথেরাপি সেশনের পর আমার শারীরিক অবস্থার শুধু অবনতিই হতে থাকে।

    তিনি বলেন, চিকিৎসক আমাকে জানান যে, এই চিকিৎসা আমার শরীর বা অবস্থার জন্য মানানসই নয়। কেমোথেরাপি কখনো আমার ক্যানসার নিরাময় করেনি; এটি কেবল আমার চুল ও নখ ঝরে যাওয়ার কারণ হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই আমার নখের কিছু অংশ খসে পড়ে।

    ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রায় ১০ মাস পরও গাজায় জীবন রক্ষাকারী জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রবেশের ওপর বিধিনিষেধ অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে ক্যানসারের ওষুধ, কেমোথেরাপি, অ্যান্টিবায়োটিক, চেতনানাশক, পরীক্ষাগারের সরঞ্জাম, রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতি এবং সার্জারির বিভিন্ন উপকরণ।

    জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, গত মার্চের মধ্যেই গাজায় প্রায় ৪৬ শতাংশ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ এবং ৬৬ শতাংশ চিকিৎসা সরঞ্জামের মজুত পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়।

    চলতি মাসে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্যানসারের বিশেষ ওষুধের মজুত তলানিতে ঠেকায় স্তন, কোলোরেক্টাল ও গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ক্যানসার, মাথা ও ঘাড়ের টিউমার এবং সারকোমাসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের কেমোথেরাপি চিকিৎসা অনেকাংশেই বন্ধ হয়ে গেছে।

    মন্ত্রণালয় আরও জানায়, গাজার প্রায় ১১ হাজার ক্যানসার রোগীর মধ্যে অন্তত ৪ হাজার জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার মেডিকেল রেফারেল দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা এখনো গাজা ছাড়ার অনুমতির অপেক্ষায় আছেন।

    গাজা সেন্টার ফর ক্যানসারের পরিচালক ড. মোহাম্মদ আবু নাদা বলেন, চরম সংকটের কারণে আমরা মেয়াদোত্তীর্ণ কিছু ওষুধ ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছিলাম। এখন সেগুলোও ফুরিয়ে গেছে। এতে স্পষ্টতই মৃত্যুর হার বাড়ছে।

    আবু নাদা জানান, গাজায় বর্তমানে কেমোথেরাপির ওষুধের যে চরম সংকট চলছে, তা গত কয়েক বছরের মধ্যে ভয়াবহতম।

    উদাহরণস্বরূপ, স্তন ক্যানসারের জন্য আমাদের কাছে যেটুকু ওষুধ অবশিষ্ট আছে, তা বর্তমান রোগীদের জন্যই যথেষ্ট নয়। নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হলে তাদের দেওয়ার মতো কোনো চিকিৎসা আমাদের কাছে নেই।

    প্রচলিত চিকিৎসাপদ্ধতি অনুসরণের বদলে চিকিৎসকেরা এখন বাধ্য হয়ে ক্রমবর্ধমান হারে ‘সিঙ্গেল-ড্রাগ থেরাপি’ বা একটি মাত্র ওষুধের ওপর নির্ভর করছেন।

    আবু নাদা বলেন, এটি পরিষ্কারভাবেই চিকিৎসার কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, পরিস্থিতি আরও খারাপ করে এবং আরও জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। আমরা ইমিউনোথেরাপির ওষুধেরও তীব্র সংকটের মুখোমুখি হচ্ছি, যা আমাদের রোগীদের জন্য ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

    ‘অন্তহীন অপেক্ষা’

    রোগ নির্ণয়ের পরপরই আবু সাহমুদের মেডিকেল রেফারেল অনুমোদন করা হয়েছিল, কারণ তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গাজায় ছিল না। নয় মাস পরও তিনি গাজা ছাড়ার অপেক্ষায় আছেন।

    তিনি বলেন, চিকিৎসকেরা আমাকে বলেছিলেন, আমার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা জর্ডান বা তুরস্কে পাওয়া যায় এবং এখানে থেকে আমার অবস্থার উন্নতির কোনো উপায় নেই। আমি জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরের আশায় নয় মাস ধরে অপেক্ষা করছি।

    মেডিকেল রেফারেলের মাধ্যমে গাজার রোগীরা অধিকৃত পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম, মিসর ও জর্ডানের হাসপাতালগুলোতে গিয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পান, যা গাজায় পাওয়া যায় না।

    যদিও সাধারণত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই রেফারেল ইস্যু ও এর অর্থায়ন করে, তারপরও রোগীদের ইসরায়েল বা মিসরের নিয়ন্ত্রণাধীন ক্রসিংগুলো পার হওয়ার জন্য অনুমতির প্রয়োজন হয়।

    ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় গণহত্যা শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইল চিকিৎসাজনিত রেফারেল এবং গাজা থেকে রোগীদের সরিয়ে নেওয়ার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর ফলে হাজার হাজার গুরুতর অসুস্থ ও আহত ফিলিস্তিনি স্থানীয়ভাবে অপ্রতুল চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির চার মাস পর, ইসরাইল কঠোর নিয়ন্ত্রণের অধীনে চিকিৎসাজনিত কারণে মিসর সীমান্ত দিয়ে রোগীদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য রাফা ক্রসিং আংশিকভাবে খুলে দেয়। এর আওতায় প্রতিদিন মাত্র প্রায় ৫০ জন রোগীকে গাজা ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়—তাও ইসরাইলি অনুমোদনের সাপেক্ষে।

    ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় চার হাজার শিশুসহ ২০ হাজারের বেশি মানুষ জরুরি চিকিৎসাজনিত স্থানান্তরের অপেক্ষায় রয়েছেন।

    ফেব্রুয়ারিতে রাফা ক্রসিং পুনরায় খোলার পর, গত ৩০ জুন পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার ৬৫৫ জন রোগীকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজা ছাড়ার অনুমতির অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় ১ হাজার ৫৭০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

    আবু সাহমুদ বলেন, এই অন্তহীন অপেক্ষার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিনই আমার স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে। আমার আগে আরও অগণিত রোগী স্থানান্তরের অপেক্ষায় রয়েছেন।

    তিনি আরও বলেন, আমি শ্বাসকষ্টে ভুগছি এবং শরীরে তরল জমার কারণে আমার পেট ফুলে গেছে। আমার ওজন অস্বাভাবিকভাবে কমে যাচ্ছে; এ পর্যন্ত প্রায় ২০ কেজি ওজন হারিয়েছি। এমন অনেক সময় যায় যখন পেটে তরল জমার কারণে আমি কিছুই খেতে পারি না; যখনই কিছু খাই, তরলের পরিমাণ বেড়ে যায়।

    পাঁচ বছরের এক ছেলে এবং নয় মাসের এক মেয়ের এই মা জানান, সন্তান জন্মের পর থেকে তিনি ছোট মেয়েটিকে একবার কোলেও নিতে পারেননি।

    তিনি বলেন, আমি আমার সন্তানদের প্রতি কোনো দায়িত্বই পালন করতে পারছি না। অসুস্থতার কারণে আমি শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছি। আমি কখনোই বিছানা ছেড়ে উঠি না এবং বিন্দুমাত্র শারীরিক পরিশ্রমও করতে পারি না। এখন আমি বেশিক্ষণ হাঁটতেও পারি না। সামান্য একটু হাঁটলেই প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে পড়ি। আমি ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

    মেডিকেল স্থানান্তরের অপেক্ষায় থাকা অনেক রোগীর অবস্থারই অবনতি হয়েছে। কারণ, ইসরাইলি হামলা গাজার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে অচল করে দিয়েছে এবং মানুষদের বারবার বাস্তুচ্যুত হয়ে গাদাগাদি করে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে থাকতে বাধ্য করেছে, যেখানে বিশুদ্ধ পানি বা পয়োনিষ্কাশনের তেমন কোনো ব্যবস্থাই নেই।

    আবু সাহমুদ জানান, গণহত্যা শুরু হওয়ার পর নিজের বাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তাকে প্রায় ৩০ বার জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হতে হয়েছে।

    অতি সম্প্রতি তাকে খান ইউনিসের পশ্চিমে মাওয়াসি আল-কারারা এলাকার একটি তাঁবুতে বাধ্য হয়ে আশ্রয় নিতে হয়। সেখানে যাওয়ার পরপরই তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে শুরু করে।

    তিনি বলেন, আমি তাঁবুর জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছিলাম না। সেখানকার পরিবেশ ছিল চরম অস্বাস্থ্যকর এবং আমার আরও ভালো একটি জায়গা দরকার ছিল। তাই আমি আমার বড় বোনের শরণাপন্ন হই।

    আমার বোনও বাস্তুচ্যুত এবং সে আহমেদ বিন আবদুল আজিজ স্কুলের সিঁড়ির নিচে থাকে। তার সঙ্গে গিয়ে ওঠা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিল না। আজ আমাদের দুটি পরিবারের মোট প্রায় ১০ জন মানুষ এখানে একসঙ্গে বাস করছি।

    আমার মতো শারীরিক অবস্থার একজন মানুষের জন্য এই পরিবেশ একেবারেই অনুপযুক্ত। এখানে একজন সুস্থ মানুষের পক্ষে টিকে থাকাই কঠিন, ক্যানসার রোগীর কথা তো বাদই দিলাম।

    তার বিছানার পাশেই রাখা আছে ওষুধের একটি বাক্স, যা ইঁদুর থেকে সাবধানে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। তার পাশেই রয়েছে একটি ব্যাগ, যার ভেতর রয়েছে বছরের পর বছর ধরে পড়াশোনা ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জন করা তার প্রায় ৫০টি একাডেমিক সনদ।

    ক্যানসার তার জীবনের গতিপথ বদলে দেওয়ার আগে পরিবার ও বন্ধুদের কাছে তিনি ‘বইপোকা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

    তিনি বলেন, স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষ করার পর, গাজার ইসলামিক ইউনিভার্সিটি আমাকে তাদের ইতিহাসের প্রথম শিক্ষার্থী হিসেবে সম্মানিত করেছিল, যে কিনা দুই বছরের স্নাতকোত্তর প্রোগ্রাম মাত্র এক বছর চার মাসে শেষ করেছিল।

    এরপর তিনি পিএইচডি শুরু করেন এবং পরে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যক্রম ও শিক্ষাদান পদ্ধতি বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন।

    তিনি বলেন, আমি শিখতে ভালোবাসি। আমার পুরো জীবনটাই শিক্ষার প্রতি নিবেদিত ছিল। আমার স্বপ্ন ছিল একজন অধ্যাপক হওয়ার এবং পিএইচডির পরও আমার একাডেমিক যাত্রা চালিয়ে যাওয়ার। আমি কখনোই শেখা থামাতে চাইনি।

    কিন্তু এই অসুস্থতা আমার কাছ থেকে সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। সবচেয়ে কঠিন অংশ হলো চিকিৎসার জন্য এই অপেক্ষা, যার কোনো শেষ দেখা যাচ্ছে না।

  • ইউপি নির্বাচনে এসএসসি-এইচএসসি সনদ বাধ্যতামূলক: সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো দাবি ভুয়া

    ইউপি নির্বাচনে এসএসসি-এইচএসসি সনদ বাধ্যতামূলক: সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো দাবি ভুয়া

    ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এইচএসসি এবং সদস্য (মেম্বার) পদে এসএসসি সনদের মূল কপি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন দাবি সম্পূর্ণ ভুয়া। নির্বাচন কমিশন এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রজ্ঞাপন জারি করেনি।

    সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন সচিবের বরাতে একটি দাবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ’ শিরোনামে একটি কথিত পত্রিকার কাটিংও প্রচার করা হয়, যা বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়ে তোলে।

    ‘Md Mohiuddin’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ২৮ জুলাই প্রকাশিত একটি পোস্ট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পোস্টটিতে হাজারো প্রতিক্রিয়া, শতাধিক মন্তব্য ও শেয়ার দেখা যায়। অনেক ব্যবহারকারী দাবিটিকে সমর্থন করলেও অনেকে এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

    তথ্য যাচাইয়ে দেখা গেছে, মূলধারার কোনো গণমাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের এমন কোনো সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশিত হয়নি। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও ইউপি চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে প্রার্থিতার জন্য এসএসসি বা এইচএসসি সনদ বাধ্যতামূলক করার কোনো প্রজ্ঞাপন বা নির্দেশনা নেই।

    এছাড়া ২০০৯ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন পর্যালোচনায়ও এমন কোনো বিধান পাওয়া যায়নি। আইনের ২৬ ধারা অনুযায়ী, ইউপি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়।

    তবে গত ২২ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের জন্য অন্তত স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না—এ মর্মে হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেছেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত স্থানীয় সরকারসচিব, আইনসচিব এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চার সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে জবাব দিতে নির্দেশ দেন।

    রিটকারীদের দাবি, ইউপি চেয়ারম্যানরা গ্রাম আদালত আইনের অধীনে বিচারিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। তাই এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

    এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, ইউপি চেয়ারম্যান পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়ে এখনো নির্বাচন কমিশন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। হাইকোর্টের রুল, বিদ্যমান আইন, পার্শ্ববর্তী দেশের আইন এবং আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশনা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    বর্তমানে কার্যকর আইন অনুযায়ী ইউপি চেয়ারম্যান পদে এইচএসসি বা স্নাতক পাস এবং সদস্য পদে এসএসসি সনদের মূল কপি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। ফলে সামাজিক মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের নামে প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ ভুয়া।

  • বিদেশিদের চাকরিতে যুক্তরাষ্ট্রের ১ লাখ ডলার ফি

    বিদেশিদের চাকরিতে যুক্তরাষ্ট্রের ১ লাখ ডলার ফি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে চাকরি করতে ইচ্ছুক বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ১ লাখ ডলার ফি আরোপের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এ পদক্ষেপ কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, প্রশাসন অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) কর্মসূচির সঙ্গে এ ফি যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

    এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থীরা মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ছাত্র ভিসায় এক থেকে তিন বছর যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগ পান।

    প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণে নির্ভরশীল মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্নাতকদের প্রযুক্তিগত পদে নিয়োগ দেওয়া সিলিকন ভ্যালি ও ওয়াল স্ট্রিটের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

    সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রায় ৪ লাখ ১৯ হাজার বিদেশি নাগরিক ওপিটি কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ছিলেন।

    এর আগে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের এইচ-১বি ভিসা আবেদনের জন্য বছরে ১ লাখ ডলার ফি আরোপের ঘোষণা দিয়েছিল। তবে গত সপ্তাহে একটি মার্কিন আপিল আদালত সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়া স্থগিত রাখে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন ওপিটি ফি আরোপের প্রস্তাবটি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগে আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে।

    হোয়াইট হাউস শেষ পর্যন্ত এটি অনুমোদন দেবে কি না এবং ফি শিক্ষার্থীরা নাকি তাদের সম্ভাব্য নিয়োগকর্তা পরিশোধ করবে, সে বিষয়েও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

  • চাটমোহরে ৪৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষককে শোকজ

    চাটমোহরে ৪৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষককে শোকজ

    পাবনার চাটমোহরে ৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শতাধিক শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলার শিক্ষা অফিস।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চাটমোহর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল গনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যা জ্ঞান (এফএলএন) কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে না পারায় উপজেলার ৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ শতাধিক সহকারী শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল গনি কারণ দর্শানোর নোটিশের বিষয়ে বলেন, কয়েক মাস আগে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে জারি করা শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যা জ্ঞান (এফএলএন) কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে না পারায় তাদের বিররুদ্ধে এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

    উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় গত ৩০ জুনের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা পাঠদক্ষতা, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের গণিতের চারটি মৌলিক নিয়ম (যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সাবলীল ইংরেজি পাঠ দক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    নোটিশে উল্লেখ করা হয়, একাধিক নির্দেশনা ও তদারকির পরও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এ অবস্থায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

    যে সব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, পৌর সদরের শালিখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিলচলন ইউনিয়নের দোলং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মথুরাপুর ইউনিয়নের ভাদড়া ও উথুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হরিপুর ইউনিয়নের ধরইল, হরিপুর, লাউতিয়া ও চড়ইকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মূলগ্রাম ইউনিয়নের আটলংকা, খতবাড়ি পুরানপাড়া, শুইগ্রাম, বামনগ্রাম-১, বামনগ্রাম-২, ভবানীপুর ও নেউতিগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফৈলজানা ইউনিয়নের ফৈলজানা, কুয়াবাসি, পবাখালী, ঈদিলপুর, শরৎগঞ্জ, জগন্নাথপুর, কচুগাড়ী, ঝবঝবিয়া, ঘাসিখোলা, লক্ষীপুর, সাইপাই, দীঘুলিয়া, কুঠিপাড়া, দিয়ারপাড়া, মেঘারপাড়া,কচিয়া, সোহাগবাড়ী ও লক্ষীপুর দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের আলমনগর, বোয়ালিয়া, বনগ্রাম, আড়িংগাইল, বারকোনা, বালুদিয়ার, জামালপুর, ও বনগ্রাম চকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের দিলালপুর, কাটাখালী ও ধানবিলা ফয়েজ উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

    নোটিশপ্রাপ্ত একাধিক শিক্ষক জানান, অভিভাবকদের উদাসীনতা, শিক্ষার্থীদের মনযোগের অভাব, অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট, অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজ, প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যালয় হওয়ায় যাতায়াতের সমস্যাসহ শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তারা লিখিত ব্যাখ্যা দেবেন বলে জানান।

    উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল গনি বলেন, উপজেলার ৪৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কোনো বিদ্যালয়ে চার জন শিক্ষক, কোনো বিদ্যালয়ে তিন জন শিক্ষক রয়েছেন। আবার অনেক বিদ্যালয়ে এর চেয়েও বেশি শিক্ষক আছেন। নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    প্রসঙ্গত, পাবনা জেলার ৯টি উপজেলার ৩৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বাংলা, ইংরেজী গণিতে শিক্ষার্থীদের কাঙ্খিত শিখনফল অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় এসকল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষকদের কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

  • সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে চয়েস ফরম ১ আগস্ট পর্যন্ত

    সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে চয়েস ফরম ১ আগস্ট পর্যন্ত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সংযুক্ত কলেজগুলোতে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ অনার্সের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ১ আগস্ট রাত ১১:৫৯ টা পর্যন্ত অনলাইনে চয়েস ফরম পূরণ করতে পারবেন। কলা ও সমাজবিজ্ঞান, বিজ্ঞান এবং ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটে বিষয়, কলেজের নাম ও কোটা-সংক্রান্ত তথ্য (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) পূরণ করতে পারবে। ভর্তির ফি জমা ও নিশ্চয়নের সময় ৪ আগস্ট থেকে ১২ আগস্ট রাত ১১ টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    এছাড়া জানানো হয়েছে, প্রথম মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে আগামী ১৪ আগস্ট রাত ১০টায়। প্রথম মাইগ্রেশনে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ১৫ আগস্ট থেকে ১৯ আগস্ট রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ভর্তি ফি পরিশোধ, ভর্তি নিশ্চয়ন এবং বিষয় পছন্দ (চয়েস) পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন।

    দ্বিতীয় মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে ২০ আগস্ট রাত ১০টায়। এ ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ২১ আগস্ট থেকে ২৩ আগস্ট রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ভর্তি ফি পরিশোধ, ভর্তি নিশ্চয়ন এবং বিষয় পছন্দ পরিবর্তন করতে পারবেন।

    বিষয় ও কলেজ উল্লেখ করে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে আগামী ২৫ আগস্ট রাত ১০টায়। আর নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ সেপ্টেম্বর।

    বিশেষ নির্দেশাবলি:

    ১। অনলাইনে বিষয় চয়েস প্রদান: https://dcuadmission.org ওয়েবসাইটের মাধ্যমে চয়েস ফরম পূরণ করতে হবে।

    ২। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে প্রদত্ত চয়েস তাদের মনোনীত বিষয় ও কলেজের নাম পছন্দক্রম অনুযায়ী প্রদান করবে।

    ৩। বিষয় ও কলেজের নামসহ তালিকা প্রকাশ করার পর ভর্তিচ্ছুদের সোনালী বিল পেমেন্ট সিস্টেম এর মাধ্যমে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অনলাইনে ভর্তি ফি বাবদ ৬ হাজার ৫০০ টাকা জমা দিয়ে ভর্তি নিশ্চায়ন করতে হবে।

    ৪। যেসব শিক্ষার্থী নিশ্চায়ন করেছে তারা অটো মাইগ্রেশন চালু বা বন্ধ রাখতে পারবে। অটো মাইগ্রেশন চালু রাখলে আসন খালি থাকলে স্বয়ংক্রিয় ভাবে তারা আর ভাল পছন্দের কলেজ বা বিষয় এ সুযোগ পাবে।

    ৫। যেসব শিক্ষার্থী নিশ্চায়ন করেনি তারা ভর্তির জন্য আর বিবেচিত হবে না। বাকি সব উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে প্রদত্ত চয়েস (পছন্দ ক্রম) পরিবর্তন করতে পারবে।

    ৬। কোটায় ভর্তিচ্ছুদের অনলাইনে বিষয় পছন্দক্রম পূরণের সময় কোটা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য (কোটার যোগ্যতার স্বপক্ষে প্রমাণপত্র আপলোড করে) দিতে হবে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে নতুন করে কোনো তথ্য অন্তর্ভুক্ত করলে তা গ্রহণ করা হবে না। শিক্ষার্থী অনলাইনে যে কোটার ঘর পূরণ করবে তাকে সে কোটার যোগ্যতার স্বপক্ষে প্রমাণপত্র, ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র, পূরণকৃত চয়েস ফরম এর প্রিন্ট কপি সংশ্লিষ্ট কলেজে ভর্তির সময় জমা দিতে হবে।

    ৭। ভর্তি নির্দেশিকায় উল্লিখিত ভর্তি সংক্রান্ত নিয়মাবলি অনুসরণ করতে হবে।

    ৮। ভর্তি সংক্রান্ত নিয়ম-নীতির পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংশোধন ও সংযোজনের অধিকার কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে।

    ৯। সংযুক্ত কলেজগুলো ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের তথ্য ২৫ আগস্ট রাত ১০টা থেকে অনলাইনে ডাউনলোড করতে পারবে।

    ১০। ভর্তির জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের ভর্তি ফরম পূরণ করে পে স্লিপসহ প্রয়োজনীয় কাগজ সংশ্লিষ্ট কলেজের অফিসে ২৬ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত জমা দিতে হবে: (ক) মূল নম্বরপত্র ও নম্বরপত্রের সত্যায়িত কপি

    (খ) প্রার্থী সর্বশেষ যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ হয়েছে সে প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক প্রদত্ত প্রশংসাপত্র

    (গ) এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ফটোকপি

    (ঘ) এসএসসি রেজিস্ট্রেশন কার্ডের ফটোকপি এবং ৫ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি।

  • বরখাস্ত হচ্ছেন ঢাবির অধ্যাপক সাদেকা হালিম

    বরখাস্ত হচ্ছেন ঢাবির অধ্যাপক সাদেকা হালিম

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধ্যাপক সাদেকা হালিমকে স্থায়ী বরখাস্তের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছয় অধ্যাপককে সব ধরনের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই)। এর আগে গত ২৮ জুলাই রাতে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    ঢাবির উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    সভা সূত্রে জানা যায়, সিন্ডিকেট সভায় অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে আগের তদন্ত কমিটির স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত হয়। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাইব্যুনাল।

    অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক। তিনি ২০২২ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    সিন্ডিকেট সভায় ছয়জন অধ্যাপককে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে নীল দলকে নিষিদ্ধের বিষয়েও তদন্ত কমিটি গঠনসহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    অব্যাহতিপ্রাপ্ত ছয়জন হলেন, ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মুহিত, ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক আবু সারা শামসুর রউফ, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন। পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিক শাহরিয়ার, নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আফরোজা শেলী এবং অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম।

    তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা প্রশাসনিক দায়িত্ব ও ক্লাস নেওয়া থেকে বিরত থাকবেন।

    বরখাস্তের মুখে পড়া সাদেকা হালিম ও অব্যাহতি পাওয়া ছয় শিক্ষক আওয়ামীপন্থি নীল দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

    বিষয়টি নিয়ে সাদেকা হালিম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তিনি এ বিষয়ে গণমাধ্যমে কথা বলবেন না। আর অব্যাহতি পাওয়া ছয় শিক্ষকও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. তাজমেরি এস এ ইসলাম বলেন, জুলাই নিয়ে কটূক্তি ও জুলাইবিরোধী অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগে আরও অনেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা মিললে তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কমিটিগুলো দ্রুত কাজ শেষ করবে।

  • যশোরে ইজিবাইক উল্টে বিদ্যুৎকর্মীর মৃত্যু

    যশোরে ইজিবাইক উল্টে বিদ্যুৎকর্মীর মৃত্যু

    যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া-সুন্দলী সড়কে ইজিবাইক উল্টে মহিতোষ মণ্ডল (৫০) নামে এক বিদ্যুৎকর্মীর মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১২টার দিকে নওয়াপাড়া কয়লাঘাট স্কুলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মহিতোষ মণ্ডল উপজেলার ভাটবিলা গ্রামের মৃত বিনয় কৃষ্ণ মণ্ডলের ছেলে। তিনি খুলনার ফুলতলা উপজেলার পথের বাজার বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে সুইচ বোর্ড অ্যাটেনডেন্ট (এসবিএ) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    পুলিশ জানায়, মহিতোষ মণ্ডল নিজ বাড়ি থেকে ইজিবাইকে করে নওয়াপাড়া বাজারে যাচ্ছিলেন। পথে কয়লাঘাট স্কুলের সামনে পৌঁছালে ইজিবাইকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে তিনি ইজিবাইকের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন।
    স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে অভয়নগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

    অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান জানান, ইজিবাইকের চালক পালিয়ে গেছেন। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চালু হবে ট্যালেন্ট হান্ট স্কিম: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চালু হবে ট্যালেন্ট হান্ট স্কিম: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রীড়া ক্ষেত্রে সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি করা আমাদের অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে। সেই লক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ট্যালেন্ট হান্ট স্কিম চালু হবে। সুপ্ত প্রতিভাদের বিকাশের পথ উন্মুক্ত করা আমাদের লক্ষ্য। নারী ক্রীড়াবিদের নিরাপত্তা ও সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে। স্পোর্টস ইকোনমি সম্প্রসারণ করা; আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করা; যুব সমাজকে খেলাধুলা মাধ্যমে সুস্থ ও দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা হবে।

    বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে একই দিনে একই সময়ে দেশের সব উপজেলায় এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হবে। তবে চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি ও প্রস্তুতির কারণে পূর্বনির্ধারিত ৯ আগস্টের পরিবর্তে আগামী ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর উদ্বোধনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই প্রতিযোগিতায় মাদরাসা এবং স্কুল কলেজের ছাত্রীদের অংশগ্রহণ অপশনাল বা ঐচ্ছিক। ইচ্ছে করলে জয়েন করতে পারেন আবার নাও করতে পারেন। এটা ঐচ্ছিক বিষয়ে আমরা রেখেছি।

    বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে কিছু অঙ্গীকার রয়েছে শিক্ষায়। প্রথমত তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলা সম্প্রসারণ। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাও আমাদের ইশতেহারের একটি অঙ্গীকার।

    ড. মিলন জানান, দেশের প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ শিক্ষার্থী এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হবে। দেশের ১৯ হাজার ২২১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১ হাজার ৯৫৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ৩ হাজার ৩৮০টি কলেজ, ৯ হাজার ২৯৬টি মাদরাসা এবং ৬৭৮টি কারিগরি প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।এসময় ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যরা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • জাবির নতুন প্রক্টর অধ্যাপক জাকির হোসেন

    জাবির নতুন প্রক্টর অধ্যাপক জাকির হোসেন

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নতুন প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন। বর্তমান প্রক্টরের পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে এ দায়িত্ব দিয়েছে।

    বুধবার (২৯ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে প্রক্টরের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর আবেদন করেন পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. রাশিদুল আলম। তার আবেদন অনুমোদন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়।

    এর পর প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বুধবার (২৯ জুলাই) বিকাল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত অধ্যাপক মো. জাকির হোসেনকে সাময়িকভাবে প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে।

    অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি ও নিয়ম অনুযায়ী তিনি প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করবেন এবং এ পদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।এ ছাড়া বিদায়ী ও নবনিযুক্ত প্রক্টরকে দ্রুত দায়িত্ব হস্তান্তর ও গ্রহণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দায়িত্ব হস্তান্তর শেষে সংশ্লিষ্ট সনদ রেজিস্ট্রার দপ্তরে জমা দেয়ার কথাও অফিস আদেশে উল্লেখ রয়েছে।

  • শিক্ষকদের ফেসবুক ব্যবহারে মাউশির নতুন নির্দেশনা

    শিক্ষকদের ফেসবুক ব্যবহারে মাউশির নতুন নির্দেশনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুক ব্যবহারে বিদ্যমান সরকারি নির্দেশিকা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

    বুধবার (২৯ জুলাই) এ বিষয়ে একটি চিঠি দেশের সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। চিঠির সঙ্গে ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)’ সংযুক্ত করা হয়েছে।

    মাউশি জানিয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত নির্দেশিকা রয়েছে। এ নির্দেশিকা লঙ্ঘন করলে তা আচরণবিধি ভঙ্গের শামিল। পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

    এ কারণে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, এর আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর এবং সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত সব শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের পরিমার্জিত নির্দেশিকা যথাযথভাবে অনুসরণের জন্য পুনরায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষ

    নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষ

    জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) ছাত্রদলের ৬৮ সদস্যবিশিষ্ট নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার মাত্র ২০ দিনের মাথায় সংগঠনটির দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

    মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাত ১টা থেকে বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুর ৩টা পর্যন্ত তিন দফা সংঘর্ষের ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে প্রথম দফায় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হলেও বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্নিবীণা হলের ডাইনিংয়ে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর দুপুরে উভয় পক্ষ আবারও মুখোমুখি হলে তৃতীয় দফায় সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

    ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল রানা বলেন, ঘটনার সূত্রপাত সাব্বির ও আবু সাঈদ নামে দুই কর্মীর ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে। বিষয়টি সমাধানের জন্য ছাত্রদলের সিনিয়র নেতারা সদস্য সচিব মামুন সরকারের উপস্থিতিতে আলোচনায় বসেন। আলোচনার একপর্যায়ে ছাত্রদলের কর্মী রিজওয়ানুল করিম রাব্বী বর্তমান কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক ইসরাফিল হোসাইনের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনায় রূপ নেয়।

    জানা যায়, সাব্বির পূর্বে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এছাড়া সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগে তিনি তিন বছরের জন্য বহিষ্কৃত আছেন। পরে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন।

    এদিকে, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্নিবীণা হলের ডাইনিংয়ে দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় রিজওয়ানুল করিম রাব্বীর ওপর আবু সাঈদসহ কয়েকজন হামলা চালান। ফুটেজে হামলাকারীদের হাতে লাঠি ও রড দেখা যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

    ছাত্রদলের সদস্য সচিব মামুন সরকার বলেন, ‘ঘটনাটি ইতোমধ্যে সমাধান হয়েছে। আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করেছি।’

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। পরে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। এখন বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত আবু সাঈদ, সাব্বির ও রিজওয়ানুল করিম রাব্বীর সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • বহু ভাষাবিদ ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্

    বহু ভাষাবিদ ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্

    যে দেশে গুণের সমাদর নেই, সে দেশে গুণী জন্মাতে পারে না।’ এ কথাটি বাংলাদেশের বিখ্যাত মনীষী ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর। তিনি শুধু বাংলাদেশেরই নন, সমগ্র ভারতবর্ষের বিখ্যাত ভাষাবিজ্ঞানী। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি ভাষাবিজ্ঞানী ও গবেষক। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর জন্ম ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই। জন্মস্থান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনার পেয়ারা গ্রামে।

    ছোটবেলা থেকেই শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বিচক্ষণ ও মেধাবী। ছেলেবেলায় তিনি বাড়িতেই আরবি ও ফার্সি ভাষা শিখে ফেলেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার জন্য প্রথম ভর্তি হন হাওড়া ইংরেজি স্কুলে। ১৮৯৯ সালে বার্ষিক পরীক্ষায় তিনি রৌপ্যপদক অর্জন করেন।

    ১৯০৪ সালে তিনি সাফল্যের সঙ্গে এনট্রান্স পাস করেন। এরপর তিনি কলকাতার বিখ্যাত প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন। ১৯০৬ সালে সাফল্যের সঙ্গে এফএ পাস করেন। এরপর তিনি বাংলাদেশের যশোর জিলা স্কুলে ১৯০৮-০৯ সালে শিক্ষকতা করেন। অতঃপর ১৯০৯-১০ সেশনে কলকাতা সিটি কলেজ থেকে সংস্কৃতে অনার্সসহ বিএ পাস করেন। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ১৯১২ সালে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এমএ পাস করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

    ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ১৯১৫ থেকে ১৯১৯ সাল পর্যন্ত বসিরহাটে আইন ব্যবসা করেন। আইন পেশায়ও তিনি বেশ সুনাম অর্জন করেন। এদিকে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হলে তিনি বাংলা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯২৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের খণ্ডকালীন অধ্যাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

    ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ১৯২৮ সালে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভের জন্য ফ্রান্সের প্যারিসে গমন করেন। তিনি প্রাচীন বৈদিক, পার্সি ও তিব্বতি ভাষায় গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ডক্টরেট ডিগ্রি লাভের পর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন। ১৯৩৭ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান হন। তিনি ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন।

    ১৯৫৫ সালেই ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬১ থেকে ১৯৬৪ সালে ইসলামী বিশ্বকোষ প্রকল্পের অস্থায়ী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলা ভাষার গবেষণামূলক বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন। এগুলো হলো—‘বাঙ্গালা ব্যাকরণ’, ‘ভাষা ও সাহিত্য’, ‘বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত’ ও ‘আঞ্চলিক ভাষার অভিধান’। এছাড়া তার লেখা বইগুলো হলো—‘রকমারি’, ‘পদ্মাবতী’ ও ‘প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে শেষ নবী’। তিনি অনুবাদ করেছেন ‘রুবাইয়াত-ই-ওমর খৈয়াম’ ও ‘দীওয়ানে হাফিজ’। তার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন প্রাইড অব পারফরম্যান্স পদক।ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলা, ইংরেজি, ফার্সি, আরবি, তিব্বতি, ওড়িয়া, অসমীয়া ও উর্দু ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলতে পারতেন। এই বিখ্যাত ভাষাবিজ্ঞানী ১৯৬৯ সালের ১৩ জুলাই ঢাকায় মারা যান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পাউন্ডে মুসা খান মসজিদের পশ্চিম পাশে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র কবর রয়েছে।

  • ছাত্রদলের শীর্ষ পদে দৌড়ে এক ডজন নেতা

    ছাত্রদলের শীর্ষ পদে দৌড়ে এক ডজন নেতা

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন নেতৃত্ব ঘোষণার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায় ও ছাত্রদলের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে এক ডজনের বেশি নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।

    বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, নতুন কমিটি গঠনে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং ক্লিন ইমেজকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এদিকে শীর্ষ পদপ্রত্যাশীরা শেষ মুহূর্তের সাংগঠনিক তৎপরতা ও লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।

    ২০২৪ সালের ১ মার্চ মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি এবং নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে সাত সদস্যের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে একই বছরের ১৫ জুন ৩৯ জন সহ-সভাপতি ও ১১১ জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ২৬০ সদস্যের আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

    বর্তমান কমিটির অধীনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা, মহানগর ও মেডিকেল কলেজসহ শতাধিক সাংগঠনিক ইউনিট পুনর্গঠন করা হয়। তবে ২০২৬ সালের ১ মার্চ কেন্দ্রীয় কমিটির নির্ধারিত দুই বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব আনতে কাজ করছে বিএনপির হাইকমান্ড।

    বিএনপির এক সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগস্টে বিভিন্ন ইস্যু আছে, নয়তো নতুন কমিটি আগস্টেই হতো। তবে এই কমিটির কার্যক্রম আগস্টেই শেষ হচ্ছে। কমিটির তালিকা তারেক রহমানের টেবিলে। আশা করি সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কমিটি হবে। বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।’

    যাদের নাম আলোচনায়

    সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, মনজুরুল আলম রিয়াদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল, কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত, রাজু আহমেদ, মমিনুল ইসলাম জিসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন।

    এ ছাড়া শীর্ষ পদে আলোচনায় রয়েছেন আনোয়ার পারভেজ, মো. খোরশেদ আলম সোহেল, এইচ এম আবু জাফর, ইজাজুল কবির রুয়েল, মোস্তাফিজুর রহমান, শরীফ প্রধান শুভ, মাহমুদ ইসলাম কাজল, আজিজুল হক জিয়নসহ আরও অনেকে।

    বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া এর আগে সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্দোলন-সংগ্রামে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা ইয়াহইয়া ২০২২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের হামলায় আহত হন। ২০২৩ সালে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন। ২৮ অক্টোবর-পরবর্তী কর্মসূচিতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও পশ্চিম অঞ্চলে ছাত্রদলের সমন্বয়কের দায়িত্বও পালন

    করেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শাহবাগ, বাংলামোটর, সায়েন্সল্যাব, ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি নিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন।

    বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান এর আগে কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। ২৮ অক্টোবর-পরবর্তী আন্দোলনে গ্রেফতার হয়ে দুই মাস কারাগারে ছিলেন। ৫ আগস্টের পর রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংগঠনকে সুশৃঙ্খল করা এবং ইতিবাচক রাজনীতি নিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করেন।

    যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিতের বিরুদ্ধে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে ৯টি মামলা রয়েছে। তিনি রিমান্ডে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং দুটি মামলায় সাজাভোগ করেছেন। কয়েকটি মামলা এখনও বিচারাধীন। ২০১৫ সালে অবরোধ চলাকালে একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে পুলিশ তাকে ফেলে দিলে প্রায় ১০ মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

    সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল এর আগে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ১ নম্বর সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-স্বাস্থ্য সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে এবং তিনি একবার গ্রেফতার হন। বর্তমানে তিনি সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজে এফসিপিএস অধ্যয়নরত।

    শীর্ষ পদে নিজের প্রত্যাশা সম্পর্কে তৌহিদুর রহমান আউয়াল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কমিটি গঠন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। ছাত্রদলের যারা পদপ্রত্যাশী, তারা সকলেই যোগ্য। এর মধ্য থেকে আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান যাদের নির্বাচন করবেন, আমরা সবাই তাঁকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো। আমাদের মাঝে নেতৃত্বের সুস্থ প্রতিযোগিতা আছে। তবে কোনো অসুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই।’

  • কাশ্মীরের ইতিহাস মুছে ফেলতে চায় ভারত?

    কাশ্মীরের ইতিহাস মুছে ফেলতে চায় ভারত?

    জম্মু ও কাশ্মীরের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি গ্রন্থাগারগুলিতে থাকা হাজার হাজার বই যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। আর এ নির্দেশ ঘিরে একটি প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষাবিদ, গবেষক ও লেখকদের একাংশ। কাশ্মীরের ইতিহাস কি নতুন করে আবার লেখা হচ্ছে?

    ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটির প্রশাসন দাবি করেছে, ‘রাষ্ট্রবিরোধী’, ‘বিচ্ছিন্নতাবাদকে উৎসাহিত করে’ বা ‘জাতীয় স্বার্থবিরোধী’ এমন বই চিহ্নিত করে সরিয়ে ফেলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সমালোচকদের অভিযোগ, এর আড়ালে কাশ্মীরের রাজনৈতিক ইতিহাস ও বহুমাত্রিক অতীতকে সরকারি বয়ানের সঙ্গে খাপ খাইয়ে পুনর্লিখনের চেষ্টা চলছে। মিডল-ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গ্রন্থাগারগুলিকে তাদের সংগ্রহে থাকা বইয়ের পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা করার নির্দেশ দেয়। যেসব বইয়ে রাষ্ট্রবিরোধী বা আপত্তিকর বলে বিবেচিত কোনও বক্তব্য, মানচিত্র, ছবি বা তথ্য রয়েছে বলে মনে হবে, সেগুলির তালিকা তৈরি করে সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে।

    প্রশাসনের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে এমন কোনও বই থেকে মুক্ত রাখাই এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য, যা বিচ্ছিন্নতাবাদ, সহিংসতা বা ভারতবিরোধী প্রচারকে উৎসাহিত করতে পারে।

    এই নির্দেশের সূত্রপাত কয়েকটি সরকারি স্কুলের গ্রন্থাগারে থাকা কিছু বইকে ঘিরে। অভিযোগ ওঠে, ওই বইগুলিতে কাশ্মীরকে ‘ভারত-অধিকৃত কাশ্মীর’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা মকবুল ভাটকে ‘শহিদ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ঘটনার পর আট জন শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট তিন প্রকাশককেও গ্রেফতার করা হয়।

    তবে বিতর্ক এখানেই থেমে নেই। শিক্ষাবিদদের আশঙ্কা, প্রশাসনের এই অভিযান কয়েকটি বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, মানবাধিকার, সংঘাত-গবেষণা এবং কাশ্মীরের রাজনৈতিক বিবর্তন নিয়ে লেখা বহু বইও এখন প্রশাসনিক নজরদারির আওতায় চলে এসেছে। তাদের মতে, কোনও বই সরকারি অবস্থানের সঙ্গে না মিললেই তাকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ বলে চিহ্নিত করার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

    মিডল ইস্ট আইকে এক কাশ্মীরি গবেষক বলেছেন, এটি শুধু বই সরানোর বিষয় নয়, এটি ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা। একটি সমাজের অতীতকে বুঝতে নানা দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজন হয়। সেই বহুমাত্রিক ইতিহাসকেই এখন সংকুচিত করা হচ্ছে।

    আর এক শিক্ষাবিদের কথায়, রাষ্ট্র যখন ঠিক করে দেয় কোন বই পড়া যাবে আর কোনটি যাবে না, তখন বিশ্ববিদ্যালয় ও গ্রন্থাগার আর মুক্ত জ্ঞানচর্চার জায়গা থাকে না। সেগুলি ধীরে ধীরে সরকারি বয়ান প্রতিষ্ঠার হাতিয়ারে পরিণত হয়।

  • প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

    প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

    শিক্ষার্থীদের ওপর কেন অস্ত্র ব্যবহার করা হলো, মোদিকে জবাব দিতে হবে

    ভারতের লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেছেন, ক্যামেরার কোণ পরিবর্তন করে নয়, বরং হৃদয়ের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেই তরুণ প্রজন্মের আস্থা অর্জন করতে হবে।

    মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    প্রিয়াঙ্কা বলেন, নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে জবাব দিতে হবে। তিনি প্রশ্ন করেন, শিক্ষার্থীরা কি সন্ত্রাসী ছিল যে তাদের ওপর লাঠিচার্জ, পেলেট গান ও অস্ত্র ব্যবহার করা হলো?

    তিনি অভিযোগ করেন, সরকার শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের সমাধান না করে একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জবাবে শক্তি প্রয়োগ করেছে। তিনি বলেন, প্রতিটি লাঠির আঘাত শিক্ষার্থীদের চেয়ে সরকারের ভাবমূর্তির বেশি ক্ষতি করেছে।

    রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে আহত এক শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে প্রিয়াঙ্কা বলেন, দেশের তরুণরা এমন একটি ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারাচ্ছে, যেখানে মেধার চেয়ে অনিয়ম বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

    তিনি দাবি করেন, গত এক দশকে ভারতে ১৫২টি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু এখনো কোনো ‘প্রশ্নফাঁস চক্রের’ বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে তিনি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অগ্রাধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, সরকারি শিক্ষায় বিনিয়োগের তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে পরিবারগুলোর ব্যক্তিগত ব্যয় অনেক বেশি।

    এদিকে, কংগ্রেস নেতা কে সি ভেনুগোপালও নিট পরীক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তিনি লোকসভায় ১৯ বছর বয়সি মহারাষ্ট্রের নিট পরীক্ষার্থী অঙ্কিতা সাঙ্গালের রেখে যাওয়া একটি চিঠি পড়ে শোনান। অঙ্কিতা ১১ নম্বরের জন্য কাঙ্ক্ষিত কাট-অফে পৌঁছাতে না পেরে গত ২৫ জুলাই আত্মহত্যা করেন।

    ভেনুগোপাল বলেন, শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার সংখ্যা ২০১৪ সালের ৮ হাজার ৬৮ থেকে বর্তমানে বেড়ে ১৪ হাজার ৪৮৮ হয়েছে। তিনি এটিকে শুধু পরিসংখ্যান নয়, বরং একটি ‘ভয়াবহ সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    প্রিয়াঙ্কা গান্ধী তার বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্যামেরার কোণ নয়, হৃদয়ের কোণ পরিবর্তন করা প্রয়োজন। তার এ মন্তব্যে সংসদে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সরকারি দলের সদস্যরা আপত্তি জানালে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক হয় এবং স্পিকার ওম বিড়লা কিছু মন্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন।

    ভেনুগোপাল আরও বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রের শত্রু নয়। যারা তাদের ওপর হামলার জন্য দায়ী, তাদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।