শিক্ষা ও সাহিত্য

  • ভারতের বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের শরীরে ছররা গুলি, পুলিশের অস্বীকার

    ভারতের বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের শরীরে ছররা গুলি, পুলিশের অস্বীকার

    ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আয়োজিত বিক্ষোভকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, বিক্ষোভ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছররা গুলি (পেলেট) ব্যবহার করেছে। এ দাবির পক্ষে একটি সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা নথিতে একাধিক আহতের শরীরে পেলেটের আঘাতের উল্লেখ পাওয়া গেছে। তবে দিল্লি পুলিশ এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ২০ জুলাই পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিল করে সিজেপি। দলটির অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে পুলিশ অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লির সফদরজং হাসপাতালের চিকিৎসা নথিতে ২৮ বছর বয়সী এক আন্দোলনকারীর ডান কনুই ও পিঠে পেলেটের আঘাতের কথা উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ক্ষতস্থানের চারপাশের চামড়া কালচে হয়ে গেছে, ব্যথা রয়েছে এবং শরীরের ভেতরে ছররার টুকরো আটকে আছে। ওই ব্যক্তিকে ২০ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

    অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছে এমন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।

    এনডিটিভির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ), যা সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) একটি বিশেষ ইউনিট, প্রয়োজন হলে পেলেট গান ও শক ব্যাটন ব্যবহার করে থাকে। বিক্ষোভের দিন দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি আরএএফও ঘটনাস্থলে মোতায়েন ছিল। তবে এ ঘটনায় পেলেট গান ব্যবহারের বিষয়ে সিআরপিএফ কোনো মন্তব্য করেনি।

    ভারতে প্রথম ২০১০ সালে কাশ্মীরের সহিংসতা দমনে পেলেট গান ব্যবহার করা হয়। পরে তা বন্ধ করা হলেও ২০১৬ সালে হিজবুল মুজাহিদিন নেতা বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর শুরু হওয়া বিক্ষোভে আবারও এ অস্ত্র ব্যবহার করা হয়।

    পেলেট গানে একটি কার্তুজ থেকে শত শত ধাতব বা রাবারের ছোট ছররা উচ্চগতিতে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে এবং কোমরের নিচের অংশ লক্ষ্য করে এটি ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে।

    এদিকে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক ভিডিওবার্তায় জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি বিল আগামী সপ্তাহে সংসদে উত্থাপন করা হবে।

    শুক্রবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, সরকারের উচিত প্রথমে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং যদি সত্যিই পেলেট ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

    অন্যদিকে দ্য হিন্দুতে প্রকাশিত এক নিবন্ধে কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন দমনে কেন্দ্রীয় সরকার অযৌক্তিক কঠোরতা দেখিয়েছে। তিনি ২০ জুলাইয়ের ঘটনাকে গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর আঘাত এবং একটি ‘কলঙ্কজনক অধ্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করেন। সেদিন বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের ফলে বহু মানুষ আহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বিক্ষোভে আহতদের মধ্যে সাহিল লোচাব নামে এক কিশোরের ডান চোখে পেলেট বিদ্ধ হওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। দিল্লি পুলিশের তথ্যমতে, আহত ৬০ জনের তালিকায় তার নাম রয়েছে। এনডিটিভি জানায়, তার চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং আরও একটি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। প্রথমে তাকে লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিকেল কলেজ, পরে সফদরজং হাসপাতাল এবং শেষ পর্যন্ত এইমস ট্রমা সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়।

    সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের তথ্যে বলা হয়েছে, সাহিলের মুখ, গলা, বুক, ডান কাঁধ ও হাতে একাধিক পেলেটের আঘাত রয়েছে। চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, একটি ছররা তার ডান চোখের কর্নিয়ায় গুরুতর ক্ষতি করেছে এবং আরেকটি ডান ফুসফুসের পাশাপাশি হৃদপিণ্ডের চারপাশের টিস্যুতেও পাওয়া গেছে।

    এ ছাড়া গুরুগ্রামের ২৫ বছর বয়সী শেখ মনসুরিও আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার নাক, কপাল, দুই চোখ ও গালে মোট সাতটি পেলেটের আঘাত লেগেছে। তাকে লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়, যেখানে তার প্রাথমিক অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।

  • মরদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে দেখলেন নিহত শিশু নিজের ছেলে

    মরদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে দেখলেন নিহত শিশু নিজের ছেলে

    কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। তবে এ দুর্ঘটনার সবচেয়ে মর্মান্তিক দিক হলো, নিহত শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে নিজের সন্তানের মরদেহের মুখোমুখি হয়েছেন তার বাবা, যিনি কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার এক পুলিশ সদস্য।

    আজ (শুক্রবার, ২৪ জুলাই) সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে শহরের গাইটাল আবদুল ওয়াহেদ জনতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়কে সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাকের চাপায় নিহত হয় তুহিন (১০)।

    সে আবদুল ওয়াহেদ জনতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা কনস্টেবল সামসুল কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় কর্মরত। তাদের গ্রামের বাড়ি পাশ্ববর্তী নেত্রকোণা জেলা সদরে।

    সকালে বাসা থেকে নিজের সাইকেল নিয়ে জনতা স্কুল রোডে এক বন্ধুর বাসায় যাওয়ার উদ্দেশে বের হয় তুহিন। পথে একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক দ্রুতগতিতে এসে তাকে চাপা দেয়। ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    দুর্ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। তবে গুরুতর আঘাতের কারণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলে যান কনস্টেবল সামসুর। তখনও তিনি জানতেন না, যে স্কুলশিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করতে যাচ্ছেন, সেটি তার নিজের ছেলে।

    ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান। নিজের সন্তানের নিথর দেহ দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। সহকর্মী ও স্থানীয়রা তাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনাস্থলের সেই দৃশ্য উপস্থিত অনেককেই আবেগাপ্লুত করে তোলে।

    কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বলেন, ‘সামসুল আমাদের থানার একজন দায়িত্বশীল সদস্য। দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে সে ঘটনাস্থলে যায়। পরে সেখানে গিয়ে জানতে পারে নিহত শিশুটি তার নিজের ছেলে। ঘটনাটি আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’

    তিনি বলেন, ‘মরদেহ শহিদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছেন। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

  • ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৩৭ জন।

    আজ শুক্রবার২৪ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮৭ শিশুর শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে আরও ৯৫০ শিশু।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৭১৫ শিশু। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরো ৯৫ শিশু। সব মিলিয়ে এ সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৮১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ১৫০ জনে। এরই মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগী ১৫ হাজার ১৯৪ জন। মোট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৭১৭ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ১ লাখ ১ হাজার ৫৬ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।

  • সরকারি প্রাথমিকে আস্থা কমছে!

    সরকারি প্রাথমিকে আস্থা কমছে!

    • এক যুগে শিক্ষার্থী কমেছে ১ লাখ ৩৭ হাজার

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যের বই, উপবৃত্তি, বেতনমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থাসহ নানা সুবিধার পরও কমছে শিক্ষার্থী। শুধু রাজশাহী বিভাগেই গত এক যুগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কমেছে প্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজার শিক্ষার্থী। অন্যদিকে ওই সময়ে শিক্ষার্থী বেড়েছে কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এই পরিবর্তন সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার প্রতি মানুষের আস্থা ও প্রত্যাশার পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

    প্রাথমিক শিক্ষায় সরকারের বিনিয়োগ প্রতি বছরই বাড়ছে। চলতি অর্থবছরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা। এই অর্থ ব্যয় হচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, বিদ্যালয় পরিচালনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, বিনামূল্যের পাঠ্যবই, উপবৃত্তি এবং বিভিন্ন শিক্ষাসহায়তা কার্যক্রমে।

    রাষ্ট্রের এই বিপুল বিনিয়োগের পরও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের। অবশ্য অভিভাবকদের বড় অংশের ভাষ্য, তারা এখন শুধু বিনামূল্যের শিক্ষা নয়; সন্তানের শেখার মান, নিয়মিত পাঠদান, পরীক্ষা, শিক্ষক-অভিভাবক যোগাযোগ এবং ব্যক্তিগত নজরদারিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে বাড়তি খরচ হলেও সন্তানকে পাঠাচ্ছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে রাজশাহী বিভাগের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ছিল ১৩ লাখ ৯ হাজার ৭৫ জন। ২০২৬ সালে সে সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৯৯২ জনে।

    অন্যদিকে একই সময়ে কিন্ডারগার্টেন ও অন্যান্য বেসরকারি প্রাথমিক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী বেড়েছে। ২০১৪ সালে এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ছিল ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৯৬৬ জন। ২০২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪ হাজার ৩০ জনে।

    এদিকে সর্বশেষ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগের জনসংখ্যা ২ কোটি ৩ লাখ ৫৩ হাজার ১১৬ জন। ২০১১ সালের জনশুমারিতে এ সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৮৪ লাখ ৮৪ হাজার ৮৫৮ জন। অর্থাৎ এক দশকের ব্যবধানে বিভাগে জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৮ লাখ ৬৮ হাজার।

    অভিভাবকদের দাবি, নিয়মিত ক্লাস, বাড়ির কাজ, পরীক্ষা, ইংরেজি শিক্ষা, শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সন্তানের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তাদের কাছে।

    রাজশাহীর শাহীন স্কুলে ছেলেকে পড়ান সাজু নামের এক অভিভাবক। তিনি বললেন, ‘সন্তানকে প্রাথমিকে পড়ানোর কথা চিন্তাই করতে পারি না। সেখানে আধুনিক শিক্ষার বালাই নেই। ইংরেজিতে দক্ষ করে গড়ে তোলাসহ একজন শিক্ষার্থীকে মানসম্মত পাঠদানের জন্য ভালোমানের বেসরকারি বিদ্যালয়ে পড়ানোর বিকল্প নেই।’

    সরেজমিনে রাজশাহীর বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়েও শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার চিত্র পাওয়া গেছে। পবা উপজেলার কাটাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলতি বছর প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে মাত্র ১০ শিক্ষার্থী। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আশপাশে কিন্ডারগার্টেন গড়ে ওঠার পর অনেক শিক্ষার্থী সরকারি বিদ্যালয় ছেড়ে সেখানে চলে গেছে।

    উপজেলার আকশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও কমেছে শিক্ষার্থী। পাঁচ বছরের ব্যবধানে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী সংখ্যা ৫৫০ থেকে কমে প্রায় ৩৫০ জনে নেমে এসেছে। একই সময়ে বিদ্যালয়ের আশপাশে গড়ে উঠেছে একাধিক কিন্ডারগার্টেন।

    তবে সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমার কারণ নিয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি শিক্ষা কর্মকর্তারা। তাদের মতে, এর পেছনে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন, অভিভাবকদের আর্থসামাজিক অবস্থা, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিস্তারসহ একাধিক বিষয় কাজ করতে পারে। প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক গবেষণা।

    প্রাথমিক শিক্ষার রাজশাহী বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নূর আখতার জান্নাতুল ফেরদৌস বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীর সংখ্যা কেন কমেছে, এটি এক কথায় বলা সম্ভব নয়। এটি নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে গবেষণা হলে বিস্তারিত বলা যাবে।’

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. আকতার বানু বললেন, ‘অভিভাবকরা সন্তানের ভবিষ্যৎ বিবেচনা করেই বিদ্যালয় নির্বাচন করেন। যেখানে তারা বেশি আস্থা পান, সেখানেই সন্তানকে ভর্তি করেন। তাই সরকারি বিদ্যালয়ের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা।’

  • শ্রেণিকক্ষ থেকে কবরস্থানে ১২০ শিশু

    শ্রেণিকক্ষ থেকে কবরস্থানে ১২০ শিশু

    ইরানের স্কুলে ভয়াবহ মার্কিন হামলার হৃদয়বিদারক গল্প

    দক্ষিণ ইরানের ছোট শহর মিনাবের শাজারে তাইয়্যেবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কয়েক মাস পরও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে সেদিনের বিভীষিকা ভুলতে পারছেন না শিক্ষক আমিনেহ নাদেমি।
    ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের এই হামলায় ১২০ শিশুসহ মোট ১৫৬ জন নিহত হয়েছেন। মিনাব প্রসিকিউটরের কার্যালয় হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছে।

    মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় স্কুল
    ৩৩ বছর বয়সী শিক্ষক আমিনেহ নাদেমি বলেন, সেদিনও অন্য দিনের মতোই ক্লাস শুরু হয়েছিল। রমজান মাস হওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রথমে নামাজকক্ষে কোরআন তিলাওয়াত করে। এরপর তিনি প্রথম শ্রেণির ছাত্রীদের ফারসি বর্ণমালার নতুন একটি অক্ষর শেখাতে শুরু করেন। ঠিক তখনই ইরানের বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধের প্রথম হামলা শুরু হয়।
    স্কুল কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করে এবং অভিভাবকদের সন্তানদের নিয়ে যেতে বলা হয়। আমিনেহ জানান, তার ১৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে তখন মাত্র পাঁচজন শ্রেণিকক্ষে ছিল। হঠাৎ একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর তিনি শিশুদের নিতে ফিরে যান।

    তিনি বলেন, আমি বের হওয়ার ঠিক মুহূর্তেই একটি ক্ষেপণাস্ত্র স্কুলে আঘাত হানে। আমার মাথায় এবং শিশুদের মাথায় আঘাত লাগে। আমরা সবাই ছিটকে পড়ি।
    এরপর পুরো শ্রেণিকক্ষ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। শ্বাস নেয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর পুরো ভবন ধসে পড়ে। আমার আর শিশুদের শরীর থেকে রক্ত ঝরছিল, বলেন তিনি।
    ধোঁয়া কিছুটা সরে গেলে আহত শিশুদের নিচে থাকা লোকজনের কাছে নামিয়ে দেন তিনি। পরে ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে স্কুলের ফটকে গিয়ে দেখেন, অসংখ্য অভিভাবক খালি পায়ে ছুটে এসেছেন। তখনও তিনি বুঝতে পারেননি যে অধিকাংশ মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন।

    নিহতদের মধ্যে শিক্ষক ও বহু শিক্ষার্থী
    ছয় বছর ধরে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করা আমিনেহ জানান, হামলায় তার প্রথম শ্রেণির ছাত্রী আদ্রিনা, দ্বিতীয় শ্রেণির ফাতেমেহ, ষষ্ঠ শ্রেণির একাধিক শিক্ষার্থী, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক এবং কোরআনের শিক্ষক নিহত হন।

    উদ্ধারকর্মীদের হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা
    ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির উদ্ধারকর্মী রেজা বাশারাতি বলেন, হামলার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি জানান, আমরা ভেবেছিলাম হয়তো কাউকে জীবিত পাওয়া যাবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কাউকেই জীবিত পাইনি।

    রেজার ভাষ্য, অনেক মরদেহ এতটাই বিকৃত ছিল যে শুধু হাত, পা বা শরীরের খণ্ডিত অংশ পাওয়া গেছে। অনেক পরিবার সন্তানদের জুতা বা পোশাক দেখে তাদের শনাক্ত করেছে।
    তিনি বলেন, আমার এক আত্মীয় বারবার বলছিলেন, আমার ছেলেকে খুঁজে দাও। কিন্তু আমি বলতে পারিনি যে তার ছেলে আর বেঁচে নেই। আমরা সবাই কাঁদছিলাম।

    তদন্তে কী উঠে এলো
    হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই প্রথমে এ ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করেন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং মার্কিন বাহিনী কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় না।

    তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে যে মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার পুরোনো তথ্যের কারণে স্কুলটিকে আইআরজিসির সামরিক স্থাপনার অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
    বিশেষজ্ঞদের ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্কুলের পাশের আইআরজিসি কমপ্লেক্সে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছিল। একই সঙ্গে স্যাটেলাইট চিত্রে স্কুল এবং পাশের কয়েকটি ভবনেও হামলার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
    অন্যদিকে, ঐতিহাসিক স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, ২০১৬ সাল থেকে স্কুলটি আইআরজিসি কমপ্লেক্স থেকে আলাদা দেয়াল দিয়ে বিচ্ছিন্ন ছিল এবং এর নিজস্ব প্রবেশপথ ও খেলার মাঠ ছিল। এছাড়া এটি একটি স্কুল- এ তথ্যও হামলার আগেই অনলাইনে প্রকাশ্যে ছিল।
    মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ জানায়, তদন্ত এখনও চলমান এবং এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

    মোজা দেখে শনাক্ত করা হয় ৯ বছরের শিশুকে
    ধ্বংসপ্রাপ্ত ওই বিদ্যালয় থেকে অল্প দূরেই রয়েছে কবরস্থান, যেখানে নিহত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অনেককে দাফন করা হয়েছে। প্রতিদিন সেখানে যান মাসুমেহ মেহরান শেখাবাদি। তার নয় বছরের মেয়ে সেতায়েশ ওই হামলায় নিহত হয়।
    তিনি বলেন, স্কুল বলে কিছুই আর ছিল না। চারদিকে শুধু ধোঁয়া, শিশুদের চুল, একদিকে হাত, অন্যদিকে পা পড়ে ছিল। সবাই টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছিল।

    মাসুমেহ জানান, পরদিন ভোর পর্যন্ত মেয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরে মেয়ের ক্রিম রঙের মোজা দেখে তার মরদেহ শনাক্ত করা হয়। তিনি বলেন, সেতায়েশ বড় হয়ে শিক্ষক হতে চেয়েছিল। সে ঘরে পুতুল সাজিয়ে বলত- ‘আমি তোমাদের শিক্ষক।’

    শোকের সঙ্গে ক্ষোভ
    এই হামলাকে ইরান সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বারবার তুলে ধরছে। এমনকি আলোচক বহনকারী একটি বিমানের নামও রাখা হয়েছিল ‘মিনাব-১৬৮’, যা নিহতের আগের সরকারি সংখ্যার প্রতি ইঙ্গিত।
    স্থানীয়দের মতে, এ হামলা ইরানের মানুষের মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করেন, এটি যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ বেসামরিক ট্র্যাজেডিগুলোর একটি।
    মেয়ের কবরের পাশে বসে মাসুমেহ বলেন, এই শিশুদের অপরাধ কী ছিল? তাদের হাতে কি অস্ত্র ছিল? তাদের হাতে ছিল শুধু পেন্সিল, বই, খাতা আর স্কুলব্যাগ। তারা যুদ্ধ করতে যায়নি, তারা শুধু শিখতে গিয়েছিল।

  • বাড়ি থেকে পালিয়ে আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন তেলাপোকাদের

    বাড়ি থেকে পালিয়ে আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন তেলাপোকাদের

    ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ গণআন্দোলনে অংশ নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থী ও তরুণরা। তাদের অনেকেই রাতভর ট্রেন বা বাসে ভ্রমণ করে দিল্লিতে পৌঁছেছেন, এমনকি পরিবারের আপত্তির আশঙ্কায় কাউকে কিছু না জানিয়েই।

    সোমবারের ‘চলো সংসদ’ আন্দোলনের পর যন্তর মন্তরে দেখা যাচ্ছে বেশ হৃদয়স্পর্শী নানা চিত্র। মুম্বাই এবং প্রয়াগরাজ (ইউপি) থেকে আসা বেশ কয়েকজন কিশোর-তরুণ পরিবারকে কোনো কিছু না জানিয়ে বা বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছে।

    প্রয়াগরাজ পূর্বে এলাহাবাদ নামে পরিচিত এই নগরী থেকে ১৫ বছর বয়সী রাজ চার দিন আগে না জানিয়েই বাড়ি থেকে বের হয়ে আসে। পরনের এক কাপড়েই সে আন্দোলনস্থলে অন্যদের সাহায্য করছে। আন্দোলনস্থলে সহবিক্ষোভকারীদের ঠান্ডা পানীয় বিতরণ করতে করতে রাজ বলেন, আমি ব্যাগ নিয়ে আসিনি, কারণ বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছি। পরিবার টের পেলে আমাকে আসতেই দিত না।’

    প্রয়াগরাজের অন্য এক তরুণী তার পরিচয় লুকাতে মুখে মাস্ক ব্যবহার করছেন এবং নিজের পরিচয় লুকিয়ে রেখেছেন। তিনি জানান, তার বাবা, গ্রামের মানুষ এবং আত্মীয়দের অনেকেই ক্ষমতাসীন বিজেপি দলের সমর্থক। তাই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে তারা বিরোধিতা করবেন বলে আশঙ্কা করছেন। কারণ তার পরিবার ও গ্রামের অনেকেই সমর্থক।

    এদিকে মুম্বাই থেকে আসা এক কিশোরী ট্রেনে চেপে দিল্লিতে এসে আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। বাবা-মা তাকে পকেটমানি বন্ধের হুমকি দিয়ে বাড়ি ফিরতে বললেও সে জানিয়েছে, নিজের অধিকারের জন্য লড়াই করবে এবং প্রয়োজনে কাজ করে স্বাবলম্বী হবে।

    আন্দোলনকারীরা বিপ্লবি ভগত সিং, বি আর আম্বেদকর, চন্দ্রশেখর আজাদ, সাবিত্রীবাই ফুলে এবং জ্যোতিরাও ফুলের ছবি ও নীতি সামনে রেখে প্রতিবাদ করছেন।

    বিশেষভাবে নজর কেড়েছে ১৯২৯ সালে কারাগারে ভগত সিংয়ের অনশন কর্মসূচির উল্লেখ থাকা একটি ব্যানার। সে সময় ভগত সিং ও বটুকেশ্বর দত্ত বলেছিলেন, তাদের উদ্দেশ্য ছিল ‘বধিরদের শুনতে বাধ্য করা’, কাউকে হত্যা করা নয়। ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানটি বর্তমান প্রজন্মের কাছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

    সোমবার সংসদের দিকে মিছিল চলাকালে, সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে একটি কালো ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ টি-শার্ট পরে বিক্ষোভকারীদের পাশে হাঁটেন, এ সময় হাজার হাজার তরুণ বিক্ষোভকারী একই স্লোগান দিচ্ছিল।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক পোস্টে ১৯ বছর বয়সী রোহিনী কুমার নামে এক নিট পরীক্ষার্থীর খোঁজ চাওয়া হয়েছিল। যন্তর মন্তরের আন্দোলনস্থলে ছবি আঁকার জন্য পরিচিত রোহিনী ২০ জুলাই থেকে নিখোঁজ বলে জানানো হয়েছিল। পরে আরেকটি পোস্টে জানানো হয়, তাকে খুঁজে পাওয়া গেছে।

    অন্যদিকে, সিলামপুরের ৩৩ বছর বয়সী এক আন্দোলনকারীর বন্ধু রিজওয়ান দাবি করেন, প্রায় এক মাস ধরে অনশনরত ওই ব্যক্তিকে সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়।

  • ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক ‘তেলাপোকাদের’

    ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক ‘তেলাপোকাদের’

    ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নফাঁসসহ বিভিন্ন ইস্যুতে শুক্রবার (২৪ জুলাই) দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ বা তেলাপোকা জনতা পার্টি (সিজেপি)। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে সিজেপি এই তথ্য জানিয়েছে।

    একই সঙ্গে দলটি আবারও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি জানিয়েছে। এদিন সিজেপি ভারতের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে নাগরিকদের বিক্ষোভে অংশ নেয়ার আহ্বান করে। দলটির লক্ষ্য, চলমান আন্দোলনকে একটি সর্বভারতীয় গণআন্দোলনে রূপ দেয়া।

    এদিকে এরইমধ্যে নিটের প্রশ্নফাঁস ইস্যুর সঙ্গে জড়িতদের ‘দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি’ দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তরুণদের মঙ্গল ও উজ্জ্বল ভবিষ্যত।’ তবে মোদির এই অঙ্গীকারের পরেও কোনোভাবেই থামছে না তেলাপোকাদের আন্দোলন।
    রাজধানী দিল্লির যন্তরমন্তরে সিজেপির বিক্ষোভে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ছাত্র-যুবদের যোগদান বেড়ে চলছিল। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ শিক্ষার্থীদের জমায়েতে অংশ নিচ্ছেন।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকার সতর্কতা হিসেবে প্রচুর পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী নিয়োগ করেছে। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে বুধবার রাতে উত্তপ্ত হয়েছিল দিল্লির যন্তরমন্তর চত্বর।
    বৃহস্পতিবার সকালে সেখানকার পরিস্থিতি খানিক থমথমে। তবে ভিড় ক্রমশ বাড়ছে মানুষের। ‘নিরাপত্তাগত কারণে’ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশন।

  • শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ভিডিও মুছে ফেলার নির্দেশ দিল আইআইটি মাদ্রাজ

    শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ভিডিও মুছে ফেলার নির্দেশ দিল আইআইটি মাদ্রাজ

    দিল্লিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্ট ও ভিডিও মুছে ফেলার জন্য শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দিয়েছে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) মাদ্রাজ। দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ ও অনশন কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়ে প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষার্থী ইনস্টাগ্রামে এসব ভিডিও পোস্ট করেছিলেন।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ডিন ও ফ্যাকাল্টি অ্যাডভাইজরের নির্দেশে তাদের এই পোস্টগুলো সরাতে বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় উল্লেখ করা হয়, কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপর পর সংহতি প্রকাশ করে তৈরি করা সমস্ত ভিডিও ও পোস্ট সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

    সম্প্রতি সারা দেশের শিক্ষার্থীরা স্লোগান, ব্যানার ও সোশ্যাল মিডিয়া ভিডিওর মাধ্যমে যন্তর মন্তরের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে আইআইটি মাদ্রাজ কর্তৃপক্ষের এমন পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

  • শিক্ষার্থীদের ‘মাদক মামলায় ফাঁসানোর’ হুমকি মুম্বাই পুলিশের

    শিক্ষার্থীদের ‘মাদক মামলায় ফাঁসানোর’ হুমকি মুম্বাই পুলিশের

    ভারতের মুম্বাইয়ে শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভিডিওটি মুম্বাই কংগ্রেসের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, পুলিশের পোশাক পরা এক সদস্য বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ফের আন্দোলনে এলে মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছেন।

    গত কয়েক দিনে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর ডাকে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্ক, চেম্বুর ও আজাদ ময়দানসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।

    ভাইরাল ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি পুলিশ ভ্যানে কয়েকজন তরুণকে বসিয়ে রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের বিক্ষোভস্থল থেকে আটক করা হয়েছিল। সামনের আসনে বসা এক পুলিশ সদস্য তাদের বাড়ি ফিরে যেতে এবং আর কখনো বিক্ষোভে না আসতে বলেন।

    ভিডিওতে ওই পুলিশ সদস্যকে বলতে শোনা যায়, ‘আবার এখানে দেখা গেলে তোমাদের জীবন শেষ করে দেব।’ এরপর তিনি আরও বলেন, ‘তোমাদের ব্যাগে ৫০-৫০ গ্রাম মাদক রেখে মিথ্যা মামলা দেব, তখন সারাজীবন শেষ হয়ে যাবে।’

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে তার নিজের জীবনও কঠিন হয়ে উঠেছে। ভিডিওটি প্রকাশ করে মুম্বাই কংগ্রেস দাবি করেছে, যদি ঘটনাটি সত্য হয়, তাহলে এটি শুধু শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা নয়, বরং গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। দলটির বক্তব্য, প্রতিবাদ করা কোনো অপরাধ নয়; শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাব জবাবদিহিতার মাধ্যমে দেওয়া উচিত, হুমকি দিয়ে নয়।

    এ ঘটনার পর মুম্বাই পুলিশ ভিডিওটির সত্যতা ও ঘটনার প্রেক্ষাপট তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভিডিওতে দেখা পুলিশের গাড়িচালককে তার বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনে মুম্বাই পুলিশের কৌশল নিয়েও সমালোচনা বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ ডিজিটাল মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের নজরদারি করছে এবং অনেকের বাড়িতে গিয়েও সতর্ক করছে।

    এ ছাড়া, যাদের বিরুদ্ধে আগে মামলা বা আইনি নোটিশ ছিল, তাদের অনেককে স্থানীয় থানার পক্ষ থেকে ফোন করা হয়েছে এবং হোয়াটসঅ্যাপে লাইভ লোকেশন চালু রেখে বাড়িতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    আরও অভিযোগ, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-এর ৩৫(৩) ধারার আওতায় কিছু শিক্ষার্থীকে ভোরবেলায় মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে নোটিশ পাঠিয়ে আগের বিক্ষোভের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হতে বলা হয়েছে।

  • প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা স্বীকার করেও শিক্ষামন্ত্রীকে রক্ষা করছেন মোদি

    প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা স্বীকার করেও শিক্ষামন্ত্রীকে রক্ষা করছেন মোদি

    ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দীপকে সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি স্বীকার করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৩৪ দিন সময় লেগেছে। তার এই দীর্ঘসময়ের নীরবতাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন সিজেপির প্রধান। তিনি আরো জানান যে, ব্যাপক প্রতিবাদ এবং পদত্যাগের দাবি সত্ত্বেও সরকার এখনও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে রক্ষা করে চলেছে।

    এর আগে ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের দ্রুত শাস্তির জন্য ‘দ্রুত বিচার আদালত’ গঠনের ঘোষণা দেন নরেন্দ্র মোদি। তবে মোদি সরকারের এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে দিল্লি কাঁপানো ছাত্র আন্দোলনকারীদের সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোদি বলেন, ‘তরুণদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না। যারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করবে, তাদের রেহাই দেওয়া হবে না।’

    সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাস এই উদ্যোগকে সামান্য ‘ব্যান্ড-এইড’ বা সাময়িক মলম দেওয়ার সাথে তুলনা করে বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শূন্য সাজা বা সাজাহীনতার ইতিহাস রয়েছে। তাই কেবল এই আশ্বাসে কাজ হবে না।’ আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।

    এদিকে আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিরোধী দল ভারতীয় সংসদ অচল করে দেয়। দিল্লিতে প্রায় ৫০,০০০ মানুষের বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ চালালেও যন্তর মন্তরে তীব্র গরম ও আর্দ্রতার মধ্যে হাজারো তরুণ অবস্থান ধরে রেখেছেন। মুম্বাই, চেন্নাই, হায়দ্রাবাদসহ দেশটির বিভিন্ন শহরেও এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে।

  • কুমিল্লায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামির মৃত্যুদণ্ড

    কুমিল্লায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামির মৃত্যুদণ্ড

    কুমিল্লায় তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১- এর বিচারক মো. ইয়াছিন আরাফাত এ রায় ঘোষণা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্ত মফিজুল ইসলাম মফু জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার খিলপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে।

    অভিযোগ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন। নির্ধারিত সময়ে সে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে এলাকার একটি ধানক্ষেতে তার মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার স্কুলব্যাগ, স্কুলড্রেস ও জুতা উদ্ধার করে।

    পুলিশ জানায়, শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ঘটনাস্থল থেকে মফিজুল ইসলাম মফুকে দ্রুত চলে যেতে দেখেন। এ ঘটনার পরদিন নিহত শিশুর মা বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ উপজেলার খিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম মফুকে একমাত্র আসামি করে সদর দক্ষিণ থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর আত্মগোপনে চলে যান আসামি মফু। ঘটনার ৩ দিন পর র‍্যাব চাঁদপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. ইমাম উদ্দিন সমকালকে বলেন, গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে আসামি শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন। এছাড়াও ডিএনএ রিপোর্টেও আসামি ওই শিশুকে ধর্ষণ করার প্রমাণ মিলেছে। মামলার অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) এসব বিষয় আনা হয়েছে।

    রায় ঘোষণার পর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনাল-১-এর পিপি বদিউল আলম সুজন বলেন, মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরুর পর ১৯ কার্যদিবসে বিচার সম্পন্ন করে আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। দ্রুততম সময়ে এ রায় সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। রায় ঘোষণার পর আসামি মফুকে কুমিল্লা কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

  • খুবির নারী হলের ওয়াশরুমে মোবাইল রাখায়, ক্যান্টিন বয় আটক

    খুবির নারী হলের ওয়াশরুমে মোবাইল রাখায়, ক্যান্টিন বয় আটক

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বিজয় ’২৪ হলের নারী শিক্ষার্থীদের ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন রাখার অভিযোগে হলের ক্যান্টিনে কর্মরত এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার রাতের এই ঘটনায় হলজুড়ে চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

    শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওয়াশরুমে একটি সন্দেহজনক মোবাইল ফোন দেখতে পেয়ে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। পরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে হলের ক্যান্টিনে কর্মরত ইমাম হাসান (পিতা: আসাদুজ্জামান) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেন তারা। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, তিনি প্রায় দুই বছর ধরে বিজয় ’২৪ হলের ক্যান্টিনে কর্মরত রয়েছেন।

    প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে হলের বিভিন্ন ব্লকের শিক্ষার্থীরা সেখানে জড়ো হন। পরে অভিযুক্তকে হলের ভেতরে আটকে রাখা হয় এবং বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। ঘটনার পর থেকে আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

    এদিকে, কয়েকজন শিক্ষার্থী দাবি করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিক ভিডিও পাওয়া গেছে। এছাড়া, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হলের ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণ করতেন এবং সেসব ভিডিও বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপে পাঠাতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, নারী আবাসিক হলের মতো একটি সংরক্ষিত স্থানে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

    শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করেন, নারী আবাসিক হলে বহিরাগত ও বিভিন্ন সেবাদানকারী কর্মীদের প্রবেশে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজয় ’২৪ হলের প্রভোস্ট বলেন, ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হবে।

    ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেক শিক্ষার্থী দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন।

  • রোগ শনাক্তে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    রোগ শনাক্তে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    দেশজুড়ে জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এবং বিভিন্ন জটিল রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে ‘হোম-টু-হোম হেলথ স্ক্রিনিং’ কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেয়া হবে, যার ৮০ শতাংশই নারী।

    বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান লেক পার্কে ‘হাইজিন ফর হেলথ বাংলাদেশ’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “দেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে এবং সরকার নিশ্চিত করবে যাতে কেউ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন। এ লক্ষ্যেই সারা দেশে বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।”

    তিনি জানান, “নিয়োগপ্রাপ্ত নারী স্বাস্থ্যকর্মীরা সাধারণ নারীদের স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রাথমিকভাবে শনাক্তের বিষয়ে সচেতন করবেন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করার পদ্ধতি শেখাবেন। পাশাপাশি তারা বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কিট নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে রক্তচাপ, ওজন, ডায়াবেটিস, লিপিড প্রোফাইলসহ বিভিন্ন মৌলিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন।”

    সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই। জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া একটি সুস্থ, দক্ষ ও জ্ঞানভিত্তিক জাতি গড়ে তোলা সম্ভব নয়।”

    অনুষ্ঠানে তিনি দেশে সিজারিয়ান অপারেশনের হার বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, বর্তমানে অনেক শিশুর জন্ম সিজারের মাধ্যমে হচ্ছে এবং জন্মের পর অনেক ক্ষেত্রে নবজাতক মাতৃদুগ্ধ, বিশেষ করে শালদুধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মায়েদের কর্মব্যস্ততা, সচেতনতার ঘাটতি ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে শিশুদের মাতৃদুগ্ধ পান কমে যাচ্ছে, যা তাদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬-এর বিজয়ী সামানজার সাঈদ, গুলশান সোসাইটির সভাপতি ওমর সাদাত, মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিরেক্টর আজরা মাহমুদ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম এবং গুলশান সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান মৃধাসহ অন্যান্য অতিথিরা।

  • ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ

    ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। পরীক্ষায় মোট উত্তীর্ণ ৬ হাজার ১৬৫ জন।

    পরীক্ষার বিস্তারিত ফলাফল পিএসসির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও টেলিটক মোবাইলের এসএমএসের মাধ্যমে জানতে পারবেন পরীক্ষার্থীরা।

    পিএসসির পূর্বঘোষিত পরীক্ষা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ৫০তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের তারিখ নির্ধারিত ছিল ৩০ জুলাই। তবে নির্ধারিত সময়ের সাত দিন আগেই এই ফলাফল প্রকাশ করল দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। কমিশনের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) শুরু হওয়ার কথা ছিল ১০ আগস্ট থেকে। এখন ১১ আগস্ট থেকে শুরু হবে মৌখিক পরীক্ষা।

    তবে পিএসসি তাদের পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশের গতি বাড়ালেও এর প্রকৃত সুফল পাচ্ছেন না চাকরিপ্রার্থীরা। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর পিএসসি সুপারিশ পাঠালেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন পুলিশ ভেরিফিকেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার ধীরগতির কারণে চূড়ান্ত নিয়োগ আটকে থাকছে। তথ্য অনুযায়ী, ৪৫, ৪৬ ও ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত সুপারিশের পর প্রায় আট মাস পার হয়ে গেলেও ভেরিফিকেশনের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় প্রার্থীরা চাকরিতে যোগ দিতে পারছেন না। এর মধ্যেই ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে এবং ৫০তম বিসিএসের ফলাফলও দ্রুত প্রকাশ করা হলো। ফলে একদিকে পিএসসির ফলাফলের গতি বাড়লেও অন্যদিকে ভেরিফিকেশনের জটে আটকে থাকছে চূড়ান্ত নিয়োগ।

    উল্লেখ্য, ৫০তম বিসিএসের মাধ্যমে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার মিলিয়ে সর্বমোট ২ হাজার ১৫০ জন প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ক্যাডার পদের সংখ্যা ১ হাজার ৭৫৫টি। ক্যাডার পদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ দেওয়া হবে স্বাস্থ্য ক্যাডারে, যেখানে ৬৫০ জন চিকিৎসক নেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রশাসন ক্যাডারে ২০০ জন এবং পুলিশ ক্যাডারে ১১৭ জন কর্মকর্তা নিয়োগ পাবেন।

  • খুবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

    খুবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বিজয় ২৪ হলের নারী ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন রেখে ভিডিয়ো ধারণের অভিযোগে হলের ক্যান্টিন কর্মী ইমাম হাসানকে (২৪) আটক করেছেন শিক্ষার্থীরা। গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টায় এ ঘটনা ঘটে।

    এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও ক্যাম্পাসে সার্বিক নিরাপত্তার দাবিতে বুধবার (২২ জুলাই) সকাল থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, হলের নারী ওয়াশরুমে একটি সন্দেহজনক মোবাইল ফোন দেখতে পেয়ে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হলের ক্যান্টিনে প্রায় দুই বছর ধরে কর্মরত ওই ক্যান্টিনের মালিকের ছেলে ইমাম হাসানকে আটক করা হয়।

    শিক্ষার্থীদের দাবি, অভিযুক্তের ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিক গোপন ভিডিয়ো পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হলের ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে গোপনে ভিডিয়ো ধারণ করতেন এবং তা বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপে শেয়ার করতেন। ঘটনার বিষয়ে জানতেন তার স্ত্রীও। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে। পরে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তকে আটকে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করেন।

    যৌন হয়রানিমূলক অপরাধের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতার অভিযোগ এনে এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে আজ ২৩ জুলাই (বুধবার) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ করার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

    এ সময়ে তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনার দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এছাড়া অতীতে শিক্ষকদের দ্বারা শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির ঘটনাগুলোতেও কোনো সুষ্ঠু বিচার মেলেনি বলে অভিযোগ করেন তারা।

    এছাড়া তারা আজ যৌন হয়রানির ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের সকল প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, বিভিন্ন পকেট গেট এবং প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন।

    বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিজয় ’২৪ হলের প্রভোস্ট বলেন, ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় তথ্য ও ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পর্কে জানানো হবে।

  • যন্তর মন্তরে কারা পাঠাচ্ছেন খাবার

    যন্তর মন্তরে কারা পাঠাচ্ছেন খাবার

    ভারতে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ চলছেই। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের অনেক মানুষ তাদের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানাতে কেউ কেউ আবার খাবারদাবার নিয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

    বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সমর্থকেরা অনলাইনে খাবার অর্ডার নেওয়ার অ্যাপ সুইগি ও জোম্যাটোর মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে খাবার ও পানীয় অর্ডার করছেন। এরপর তাঁরা ডেলিভারি কর্মীদের সেগুলো আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বিনা মূল্যে বিতরণ করে দেওয়ার কথা বলছেন।

    অনলাইনে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সুইগির ডেলিভারি কর্মী প্রদীপ কুমার সিং ভারতের বেসরকারি বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেন, যন্তর মন্তর এখন এ ধরনের অর্ডারের নিয়মিত গন্তব্য হয়ে উঠেছে।

    এএনআইকে প্রদীপ কুমার বলেন, ‘একটি অর্ডার আসে। তারপর গ্রাহক বলেন, “ভাই, এগুলো ওখানেই বিতরণ করে দিন। যাঁর প্রয়োজন, তাঁকে দিয়ে দিন।”’ প্রদীপ বলেন, ‘গতকাল আমার কাছে সমুচার একটি অর্ডার এসেছিল। আমাকে বলা হয়েছিল শুধু এখানে এনে সবার মধ্যে বিলিয়ে দিতে। এগুলো নিতে কেউ আসেন না।’

    দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশ থেকেও আন্দোলনকারীদের জন্য খাবার ও পানীয়ের অর্ডার দেওয়া হচ্ছে। মহেন্দ্র কুমার নামের আরেক ডেলিভারি কর্মী বলেন, তিনি এক বিদেশি গ্রাহকের পাঠানো অর্ডারের চা নিয়ে যন্তর মন্তরে আন্দোলনস্থলে এসেছেন।

    মহেন্দ্র কুমার এএনআইকে বলেন, ‘আমি এই অর্ডার নিয়ে এসেছি। এটি ভারতের বাইরে থেকে দেওয়া হয়েছে। আমাকে বলা হয়েছে, “যন্তর মন্তরে গিয়ে আন্দোলনরত ভাইদের দিয়ে দিন।”’

    মহেন্দ্র বলেন, ‘কার পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে, আমি জানি না। শুধু বলা হয়েছে, এখানে যাঁরা আন্দোলন করছেন, তাঁদের চা দিয়ে দিতে।’ জোম্যাটো ও জেপ্টোর আরেক ডেলিভারি কর্মী এই উদ্যোগকে ‘স্টুডেন্ট সার্ভিস’ বলে উল্লেখ করেন।

    এক অজ্ঞাতপরিচয় প্রেরকের নির্দেশনার কথা জানিয়ে ওই কর্মী এএনআইকে বলেন, ‘প্রেরকের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। আমাকে শুধু বলা হয়েছে, “সব বিতরণ করে দিন।” কে অর্ডার করেছেন, আমি জানি না। শুধু বলা হয়েছে সেখানে গিয়ে দিয়ে আসতে। এটা “স্টুডেন্ট সার্ভিস”, এটা শিক্ষার্থীদের জন্য। এটা কার বা এর মধ্যে কী আছে, সেটাও আমি জানি না।’

    ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আয়োজিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশ এখন পর্যন্ত ১০টি এফআইআর দায়ের করেছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, বিক্ষোভ চলাকালে বিভিন্ন ঘটনা এবং আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে নয়াদিল্লির একাধিক থানায় এসব এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

    কর্মকর্তারা বলেন, পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় চারটি, কনট প্লেস থানায় তিনটি এবং মন্দির মার্গ, বারাখাম্বা রোড ও কর্তব্য পথ থানায় একটি করে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

  • ককরোচ পার্টির সমালোচনা করে তোপের মুখে কঙ্গনা

    ককরোচ পার্টির সমালোচনা করে তোপের মুখে কঙ্গনা

    মোদি সরকারের কোনো প্রকার সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না বলিউড তারকা কঙ্গনা রনৌত। যখনই কোনো বিষয়ে প্রতিবাদ ওঠে, তা নিয়ে অভিনেত্রীর মুখের আগল খুলে যায়। আরও একবার তার প্রমাণ মিলল শিক্ষামন্ত্রী ধমেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে।

    গত সোমবার লোকসভা অভিযানের কর্মসূচি ছিল তাদের। এমনিতেই মাসখানেক ধরে ভারতের দিল্লির যন্তর মন্তরে একই দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির অবস্থানে বসেছে। সেখানে অনশন ধর্মঘটে ছিলেন সোনম ওয়াং চুক। সব মিলিয়ে দিল্লি উত্তপ্ত। এর মধ্যেই মুখ খুলেছেন কঙ্গনা রনৌত। ককরোচ জনতা পার্টি তথা তরুণদের এই প্রতিবাদের সমালোচনা করেছেন একেবারে তাঁর নিজস্ব চেনা কায়দায়।

    এ তথ্যের পাশাপাশি আনন্দবাজারসহ ভারতের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন নিয়ে কঙ্গনার বক্তব্য, কে পদে থাকবেন আর কে থাকবেন না, বিক্ষোভ দেখিয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তা ঠিক করা যায় না।

    সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, জনস্বার্থের সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সঠিক জায়গা হলো সংসদ। নিট প্রশ্ন-ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চলা এই আন্দোলন নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে কঙ্গনা বলেন, ‘সংসদের অধিবেশন এমন একটি জায়গা, যেখানে আমরা সব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারি এবং প্রয়োজনীয় প্রশ্ন তুলতে পারি।’

    বিক্ষোভের জেরে সংসদের কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলেও দাবি কঙ্গনার। তাঁর বক্তব্য, ‘জনগণ ভোট দিয়ে যে সরকারকে নির্বাচিত করেছেন, সেই সরকার কীভাবে কাজ করবে, তা ঠিক করার অধিকার তাদেরই রয়েছে। বিক্ষোভ দেখিয়ে সরকারকে চাপে ফেলা ঠিক নয়। সরকার কীভাবে দেশ চালাবে, তা ঠিক করার অধিকার তাদের রয়েছে। যদি এতই আপত্তি থাকে, তা হলে নিজেরাই নির্বাচনে দাঁড়ান। জানি সেই সাহস কারও নেই। তাই ধীরে ধীরে সবাই বিজেপি এবং সনাতন সংস্কৃতির দিকেই ফিরে আসবেন। কারণ, এটাই আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি।

    বাকি সবই বাইরে থেকে ধার করা।’ এমন বক্তব্যের জেরে আন্দোলনকারীদের রোষানলে পড়েছেন কঙ্গনা। অভিনেত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি নিরপেক্ষ নয় বলেই দাবি করছেন তারা।

  • ‘ধর্মকে ভিত্তি করে বহুমাত্রিক রাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়’

    ‘ধর্মকে ভিত্তি করে বহুমাত্রিক রাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়’

    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই বাংলাদেশের সব ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি, নৃগোষ্ঠী ও জনগোষ্ঠীকে ধারণ করে গড়ে ওঠা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়। এ দর্শন বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিককে সমানভাবে জাতীয় পরিচয়ের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

    বুধবার (২২ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, ভারত উপমহাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও, শুধুমাত্র ধর্মকে ভিত্তি করে একটি বহুমাত্রিক রাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ঐক্যবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ সেই ঐতিহাসিক বাস্তবতার ধারাবাহিক প্রকাশ।

    তথ্যমন্ত্রী এ সময় মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অনবদ্য ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাহসী সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্ব মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে যুদ্ধকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

    জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও মহান মুক্তিযুদ্ধে তার নেতৃত্ব ইতিহাসের প্রমাণিত উপাদান বলে উল্লেখ করেন তথ্যমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পরও জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়। কেবল ভাষাভিত্তিক পরিচয়ও দেশের সব জনগোষ্ঠীর কাছে সমভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেনি। এ বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নাগরিকভিত্তিক ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর দর্শন উপস্থাপন করেন, যা বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিককে সমান মর্যাদায় একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে।

    জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক- তিনি যে ভাষায় কথা বলুন, যে ধর্ম পালন করুন কিংবা যে নৃগোষ্ঠীরই হোন না কেন- বাংলাদেশি পরিচয়ের মধ্যেই তার মর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত হয়। এ অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয়তাবাদ দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, জাতীয় সংহতি এবং বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে।

    তিনি বলেন, আধুনিক বিশ্বে জাতীয়তাবাদ কেবল ভাষা, ধর্ম কিংবা বর্ণের ভিত্তিতে সংজ্ঞায়িত হয় না; বরং একটি রাষ্ট্রের নাগরিকদের অভিন্ন স্বার্থ, ভূখণ্ড, সাংবিধানিক অঙ্গীকার এবং যৌথ ভবিষ্যৎ নির্মাণের আকাঙ্ক্ষার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনও সেই আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তারই প্রতিফলন।

    কোনো একটি ভাষা বা সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অন্য ভাষা বা সংস্কৃতিকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।

    বাংলাদেশের সব ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস ও নৃগোষ্ঠীর পরিচয়কে সম্মান ও ধারণ করেই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ বিকশিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দর্শনের মাধ্যমেই দেশের প্রতিটি নাগরিক নিজেকে সমানভাবে বাংলাদেশের অংশ হিসেবে অনুভব করতে পারেন।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ জাতীয় ঐক্য ও সংহতির ভিত্তি হিসেবে আজও প্রাসঙ্গিক এবং ভবিষ্যতেও দেশের অগ্রযাত্রায় পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।

    ইউট্যাব জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ। প্রধান আলোচক ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদদীন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউট্যাব, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নাসির আহমাদ।

  • চৌগাছায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় স্কুলশিক্ষার্থীসহ আহত ১০

    চৌগাছায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় স্কুলশিক্ষার্থীসহ আহত ১০

    যশোরের চৌগাছায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় স্কুলশিক্ষার্থীসহ ১০ জন আহত হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে চৌগাছা-যশোর সড়কের সিংহঝুলী শহীদ মশিউর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    দুর্ঘটনায় আহতদের চৌগাছা সরকারি মডেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে যশোরে রেফার্ড করা হয়েছে।

    আহতরা হলো— সিংহঝুলী শহীদ মশিউর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জিমি খাতুন (১৩), সুরাইয়া রহমান (১২), চায়না খাতুন (১৫), শরিফা খাতুন (১২) ও সিয়াম হোসেন (১৫)। এছাড়া মোটরসাইকেল চালক উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের বড় নিয়ামতপুর গ্রামের দিপু হোসেন (৩২), তার স্ত্রী সুরাইয়া খাতুন (২০) ও মেয়ে সিনথিয়া (৩)।

    জানা যায়, দুপুরে বিদ্যালয় ছুটির পর শিক্ষার্থীরা রাস্তা পার হচ্ছিল। এ সময় যশোর থেকে চৌগাছাগামী একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শিক্ষার্থীদের ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি সড়কে ছিটকে পড়ে এবং চালকসহ আরোহীরাও আহত হন।

    স্থানীয় লোকজন দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা সরকারি মডেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত শিক্ষার্থী জিমি, চায়না, শরিফা, সিয়াম ও মোটরসাইকেল চালক দিপুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। একটি সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে চায়নাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।

    চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনায়কবলিত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে।

  • ২৪ জুলাই বাউবির এইচএসসি পরীক্ষা শুরু

    ২৪ জুলাই বাউবির এইচএসসি পরীক্ষা শুরু

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) পরিচালিত এইচএসসি প্রোগ্রামের পরীক্ষা-২০২৬ পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী আগামী ২৪ জুলাই শুক্রবার থেকে দেশব্যাপী একযোগে শুরু হতে যাচ্ছে। সারাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্কুল/শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সর্বোমোট ২১৬টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা একযোগে অনুষ্ঠিত হবে।

    ধবার (২২ জুলাই) বাউবি কর্তৃপক্ষের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    আরো বলা হয়, প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে মোট ৪৭ হাজার ৪১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ২৭ হাজার ৭ শত ৯৬ জন ছাত্র এবং ১৯ হাজার ২ শত ৩৮ জন ছাত্রী। প্রতিবছরের মতো এবারও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় নকলমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা নেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

    এছাড়াও বাউবি থেকে ভিজিল্যান্স টিম বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন। উল্লেখ্য যে, গত ১৭ জুলাই স্থগিত বাংলা ১ম পত্র (HSC 1851) এবং বাংলা ২য় পত্র (HSC 2851) বিষয়ের পরীক্ষারগুলোর সময় পরবর্তীতে জানানো হবে। বাউবির ওয়েবসাইট www.bou.ac.bd থেকে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

  • শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক দুই ডিজিকে হাইকোর্টে তলব

    শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক দুই ডিজিকে হাইকোর্টে তলব

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আদালতের আদেশ অমান্য করায় শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক দুই মহাপরিচালক অধ্যাপক ডঃ মুহাম্মদ আজাদ খান ও অধ্যাপক বি এম আব্দুল হান্নানকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ১২ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

    বুধবার (২২ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

    আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির। পরে অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির বলেন, মাদারীপুরের রাজৈর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মরিয়ম মুজাহিদা দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় অন্য একজন ব্যক্তিকে শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক আয়ন-ব্যায়ন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। অধ্যক্ষ মরিয়ম মুজাহিদা ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে এক রিট পিটিশন দায়ের করেন। ওই রিট পিটিশনে স্থগিত আদেশ থাকার পরও শিক্ষা অধিদপ্তর এই আদেশ স্থগিত করে কোনো চিঠি পাঠাননি। যার ফলে আদালত অবমাননার আবেদন দায়ের করেন অধ্যক্ষ মরিয়ম মুজাহিদা। ওই আদালত অবমাননার মামলায় আজ আদালত শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক ২ মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আজাদ খান ও প্রফেসর বি এম আব্দুল হান্নানকে স্ব-শরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।

  • গাড়িভর্তি টাকা নিয়ে যেভাবে পালালেন হাসিনার ফুপাতো ভাই মেয়র খোকন

    গাড়িভর্তি টাকা নিয়ে যেভাবে পালালেন হাসিনার ফুপাতো ভাই মেয়র খোকন

    বৈষম্যবিরোধী তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রাক্কালে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই সেরনিয়াবাত খোকন আব্দুল্লাহর দেশত্যাগকে ঘিরে সামনে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ রয়েছে— পালিয়ে যাওয়ার সময় তিনি গাড়িভর্তি করে প্রায় ১৬ কোটি টাকা সঙ্গে নিয়ে যান। পরে সেই অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর ঘুরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ছেলের কাছে পাঠানো হয়।

    ৪ আগস্ট গভীর রাতে বরিশাল ছাড়লেও ২০২৪ সালের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত তিনি খুলনায় প্রভাবশালী এক বিএনপি নেতার বাসায় অবস্থান করেন। পরে তামাবিল সীমান্ত দিয়ে প্রথমে আসাম ও পরে কলকাতা যান খোকন। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী লুনা আব্দুল্লাহ। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর আর পেট্রোল পাম্প খুলে নিজেকে বিনিয়োগকারী প্রমাণ করে সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার চেষ্টা করছেন তিনি।

    চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো-খুলনায় পালিয়ে থাকা অবস্থায় বিসিসির বেশ কয়েকজন ঠিকাদারের পাওনা প্রায় ২৭ কোটি টাকার চেকে ব্যাক ডেটে সই করেন খোকন। বরিশাল থেকে চেক খুলনায় নিয়ে সই করিয়ে আবার বরিশালে আনার কাজটি করেন খোকনের তৎকালীন এপিএস রুবেল। তাকে সহায়তা করেন বিসিসির প্রকৌশল (সিভিল) ও হিসাব শাখার দুই কর্মকর্তা। তাদের একজন বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদের নেতা। আর চেক সই করার বিনিময়ে মোট বিলের শতকরা ২০ থেকে ৪০ পার্সেন্ট টাকা নেন শেখ মুজিবের ভগিনীপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের পুত্র সাবেক এই মেয়র। টাকা হাতে পাওয়ার পর চেকে সই করেন তিনি।

    আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও কেবল শেখ পরিবারের কোটায় লোকদেখানো নির্বাচন করে মেয়র বানানো হয় খোকনকে। মাত্র ৭ মাসের দায়িত্ব পালনকালে নানাভাবে শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের তদন্ত করছে দুদক।

    ৪ আগস্ট সকালে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে গুলি ছুড়তে গিয়ে গণপিটুনিতে মারা যান বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা টুটুল চৌধুরী। ওই ঘটনায় ভীত হয়ে পড়েন খোকন। রাতে তার আলেকান্দা সড়কের ভাড়া বাসায় ডেকে নেন আওয়ামী লীগ নেতা তৎকালীন এক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগের দুই নেতাকে। তখনই বরিশাল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

    ওই রাতে খোকনের বাসায় থাকা ওই ৩ নেতার একজন জানান, ‘একসঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হলেও যাওয়ার সময় কাউকে কিছু না বলে চুপচাপ চলে যান খোকন। রাত ৩টা নাগাদ বিশেষ একটি বাহিনীর দুটি গাড়ি সামনে পেছনে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যায় সাবেক এই মেয়র ও তার স্ত্রীকে বহনকারী গাড়ি। তার বেড়িয়ে যাওয়ার অন্তত আধা ঘণ্টা পর আমরা জানতে পারি যে তিনি চলে গেছেন। বরিশাল থেকে সোজা খুলনায় গিয়ে ওঠেন সোনাডাঙ্গা এলাকায় শ্যালক মিঠুর বাড়িতে। সেখানে কয়েকদিন থাকার পর আশ্রয় নেন খুলনা বিএনপির প্রভাবশালী এক নেতার বাসায়। আওয়ামী শাসনামলের দীর্ঘ সময় ওই নেতাকে মোংলা বন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্যে সহায়তা করেছিলেন খোকন। তিনি নিজেও ছিলেন মোংলা বন্দর স্টিভেডর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করতেন সমুদ্রগামী জাহাজে। রাতের বাকিটা সময় আমরা ওই বাসায় থেকে খুব ভোরে চলে আসি।’

    ৪ আগস্ট রাত ১২টায় বরিশাল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন খোকন আব্দুল্লাহ। ৩ ঘণ্টা চলে প্রস্তুতি। ওই রাতে তার বাসায় থাকা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘এই ৩ ঘণ্টায় ঘরে থাকা নগদ টাকা আর স্বর্ণালংকার ব্যাগে ভরেন তিনি। তাকে সহায়তা করা তৎকালীন এপিএস রুবেলের কাছে পরে শুনেছি যে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ছিল সেখানে। তবে কোনো কাপড়চোপড় সঙ্গে নেননি তিনি বা তার স্ত্রী। বিপুল অঙ্কের ওই টাকা নিয়েই তারা ওঠেন খুলনায় শ্যালক মিঠুর বাসায়। সেখান থেকে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানো হয় ৫ আগস্টের পর মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যাওয়া এক যুবলীগ নেতার কাছে। মালয়েশিয়া থেকে পরে তা পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরে মেয়র খোকনপুত্র প্রত্যুষের নামে থাকা একাধিক নামসর্বস্ব কোম্পানির হিসাবে। প্রত্যুষ আগে থেকেই মার্কিন নাগরিক।

    যুক্তরাষ্ট্রে টাকা নিতে হলে যেহেতু অর্থের উৎস জানাতে হয়, তাই সিঙ্গাপুরে খোলা নামসর্বস্ব কোম্পানির মাধ্যমে সেখানে টাকা পাঠাতেন খোকন। মেয়র হওয়ার পর থেকে ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত যত টাকা হাতিয়েছেন, তার সিংহভাগ এভাবেই পাচার হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এছাড়া মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্য করে আয় করা অর্থও পাচার হয়েছে সেখানে। তবে শেষ চালানের ১৬ কোটি টাকা পাঠাতে গিয়ে ৩ কোটি খোয়ান তিনি। মালয়েশিয়ায় যার কাছে হুন্ডি করে বাংলাদেশ থেকে টাকা পাঠানো হয়, সিঙ্গাপুরে পাঠানোর ক্ষেত্রে সেখান থেকে ৩ কোটি টাকা মেরে দেন তিনি। এ নিয়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে ঝগড়াও হয় খোকনের।’

    খুলনায় বিএনপি নেতার আশ্রয়ে থেকে চলে তার দেশছাড়ার চেষ্টা। প্রথমে চারবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। সবশেষ অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে সিলেটের তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ঢোকেন ভারতের আসামে। গুয়াহাটি বিমানবন্দর থেকে বিমানে পশ্চিমবঙ্গে। কলকাতার নিউ টাউন অ্যাকশন অ্যারিয়া-১-এর কাছে ভাড়া নেওয়া বাসায় ওঠেন স্ত্রীকে নিয়ে।

    কলকাতায় অবস্থানরত বরিশালের এক আ.লীগ নেতা বলেন, ‘এখানে ১ মাসের জন্য একটি গাড়ি ভাড়া নেন খোকন। গাড়ি ও ড্রাইভার তার বাসাতেই থাকত। ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর এই দম্পতিকে হাত ধরাধরি করে হাঁটতে দেখা গেছে কলকাতার এক্সেস মলে। কলকাতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে থাকা ছেলের কাছে যাওয়ার চেষ্টা শুরু করেন খোকন। ছেলে প্রত্যুষ যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেন হওয়ায় খুব একটা কষ্ট হয়নি তাদের। ডিসেম্বরের শুরুর দিকে স্ত্রীকে নিয়ে কলকাতা থেকে উড়োজাহাজে যুক্তরাষ্ট্র যান খোকন।

    বর্তমানে টেক্সাসে অবস্থানরত বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘ট্রাম্প সরকারের সর্বশেষ গোল্ডেন ভিসা সুযোগের আওতায় খোকন ও তার স্ত্রী প্রায় ১৬ কোটি টাকায় নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা। সেই সুযোগেই টেক্সাসে আছেন তারা। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে কিনেছেন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরসহ একটি পেট্রোল পাম্প। এসব বিনিয়োগ আর ব্যবসা-বাণিজ্য দেখিয়ে চলছে সেখানে তাদের দুজনের নাগরিকত্ব নেওয়ার চেষ্টা। টেক্সাসে প্রত্যুষ সেরনিয়াবাতের নামে আগে থেকেই কেনা ছিল ২টি বাড়ি। তার একটিতে থাকছেন খোকন ও লুনা।’

    কলকাতায় অবস্থানরত কার্যক্রম নিষিদ্ধ বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘খোকন আব্দুল্লাহ মেয়র হয়েছিলেন কেবল টাকা কামাইয়ের জন্য। দায়িত্ব পালনের ৭ মাস তিনি সেটাই করেছেন। হাতিয়ে নিয়েছেন শতকোটি টাকা। সেই টাকায় এখন আয়েশ করছেন যুক্তরাষ্ট্রে। আর আমরা খেয়ে-না-খেয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।’

    এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য খোকন আব্দুল্লাহর প্রচলিত সবকটি নম্বরে কল করা হলেও বন্ধ পাওয়া যায়। দলের কারও সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই বলে জানিয়েছেন তার একসময়কার ঘনিষ্ঠরা।’

  • দুর্গন্ধে মিলল ববি শিক্ষার্থীর মরদেহ

    দুর্গন্ধে মিলল ববি শিক্ষার্থীর মরদেহ

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) এক শিক্ষার্থীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন খালপাড় এলাকার একটি মেস কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত উচ্ছ্বাস কর্মকার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি খুলনা জেলার খালিশপুরে।

    পুলিশ জানায়, কয়েকদিন ধরে উচ্ছ্বাসের কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার রাতে কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে মেসের সদস্যরা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. গাজী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    বন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম বলেন, মরদেহের অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত দুই দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

  • ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট প্রাণহানি বেড়ে ৮০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৩৩ জনের শরীরে এবং হাম ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৭ জন।

    আজ বুধবার ( ২২ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৮০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে হামের উপসর্গে ৭০৮ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৭৮ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৯৯ হাজারের বেশি।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাম ও উপসর্গের রোগী ১ হাজার ৩৭ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৩৩ জনের শরীরে। এ নিয়ে মোট হাম আক্রান্ত ১৪ হাজার ৮৪১। আর হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে ৯০৪ জনের শরীরে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২০ হাজার ৩৫২ জন।

  • যশোর আদ্-দ্বীন শিশু হাসপাতালে ২২ বছরে সেবা নিয়েছে ৭ লাখ ২৫ হাজার শিশু

    যশোর আদ্-দ্বীন শিশু হাসপাতালে ২২ বছরে সেবা নিয়েছে ৭ লাখ ২৫ হাজার শিশু

    যশোর আদ্-দ্বীন শিশু হাসপাতাল মানুষের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এখান থেকে গত ২২ বছরে সাত লাখ ২৫ হাজার শিশু স্বল্প খরচে চিকিৎসা পেয়েছে। এর মধ্যে ছয় লাখ ১০ হাজার শিশু বহির্বিভাগ ও এক লাখ ১৫ হাজার শিশু ভর্তি থেকে চিকিৎসা পেয়েছে।

    দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে সেবা নিতে আসে অসংখ্য মানুষ। স্থানীয় আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দিকনির্দেশনায় পরিচালিত হচ্ছে শিশু হাসপাতালটি।

    সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০০৪ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু করা হাসপাতালটি বাণিজ্যিক চিন্তার ঊর্ধ্বে গিয়ে সাশ্রয়ী খরচে আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করেছে। যার সুফল পেয়েছে সাত লাখ ২৫ হাজার শিশু।

    হাসপাতালের পরিসংখ্যান বলছে, ছয় লাখ ১০ হাজার শিশু এখানে এসে বহির্বিভাগের সেবা নিয়েছে এবং এক লাখ ১৫ হাজার রোগীকে ইনডোরে ভর্তি রেখে সুস্থ করে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে নবজাতকদের জটিল রোগ ও শিশুদের অপুষ্টিজনিত সমস্যার চিকিৎসায় হাসপাতালটি এক অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। অনেক সময় অন্য কোথাও ব্যর্থ হয়ে হতাশ হওয়া অভিভাবকরা এখানে এসে সন্তানদের সুস্থ করে বাড়ি ফিরেছেন।

    আদ্-দ্বীন শিশু হাসপাতালে গিয়ে কথা হয় সেবা গ্রহণ করতে আসা যশোর শহরের পুলিশ লাইন্স এলাকার রাবেয়া সুলতানা লাইবার সাথে। তিনি বলেন, ‘আমার বেবিদের (বাচ্চাদের) নিয়ে আমি যশোরের অন্য হাসপাতালে গিয়ে ভালো চিকিৎসা না পেয়ে এখানে এনেছি। এখানে সাশ্রয়ী খরচে ভালো চিকিৎসা পেয়েছি।’

    লুৎফুন্নাহার মঞ্জু নামে আরেক নারী বলেন, ‘আমার পুত্রবধূর জমজ সন্তান হয়েছে। এদের যে আমি পাবো এমন কল্পনা করতে পারিনি। সাত মাসের গর্ভে এদের একজনের ওজন হয়েছিল এক কেজি তিন গ্রাম আরেকজনের এক কেজি পাঁচ শ’ গ্রাম। শিশদের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে আনার পর তারা এখন স্বাভাবিক।’

    মণিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া থেকে আসা নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘অপুষ্টিজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে আমার জমজ নবজাতক। ১৮ দিন ধরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। এই হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো। বাচ্চারাও এখন সুস্থ।’

    ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা নিলা খাতুন বলেন, ‘শ্বাসকষ্টে আমার সন্তান নীল হয়ে যাচ্ছিল। এখানে চিকিৎসায় অনেকটা সুস্থতার দিকে যাচ্ছে।’ হাসপাতালের পরিবেশ, চিকিৎসক ও নার্সদের আন্তরিকতার প্রশংসার করেন তিনি।

    হাসপাতালের সিনিয়র ব্যবস্থাপক মশিয়ার রহমান বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে সেবার মান ধরে রাখতে যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক সব চিকিৎসা প্রযুক্তি। কম ওজনের নবজাতকের চিকিৎসায় সাতটি উন্নত ইনকিউবেটর সুবিধা, ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকা নিজস্ব ফার্মেসি, নির্ভুল রিপোর্টের জন্য আধুনিক প্যাথলজি ল্যাবসহ রয়েছে চমৎকার ওয়ার্ড ও কেবিন সুবিধা। মধ্য ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য কম খরচে বিশ্বস্ত ও আধুনিক চিকিৎসা সেবা দেয়া হয় এখান থেকে। সেবা নিতে আসা লোকজন সন্তোষ প্রকাশ করেই যান, এটিই আমাদের অর্জন।’

  • মোদিজি, দেশটা আপনার বাপের নয়: কেজরিওয়াল

    মোদিজি, দেশটা আপনার বাপের নয়: কেজরিওয়াল

    শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন আম আদমি পার্টির (এএপি) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ভারতের মানুষ স্বৈরশাসকদের ঐতিহাসিক শিক্ষা দিতে পারে।

    কেজরিওয়াল বলেন, ‘একটু আগে মোদি সরকারের পুলিশ একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। তাতে বলা হয়েছে, গতকালের (সোমবার) প্রতিবাদে যারা অংশ নিয়েছিল, তাদের সবার বিরুদ্ধে এফআইআর (লিখিত অভিযোগ) করা হবে।’

    সংবাদ সম্মেলনে কেজরিওয়াল বলেন, ‘মোদিজি, এই দেশ আপনার বাপের নয়; এটি ১৪০ কোটি মানুষের। হুমকি দেওয়া বন্ধ করুন, অন্যথায় এ দেশের মানুষ আপনাকে এমন শিক্ষা দেবে যে, একনায়কের শোচনীয় পরিণতির কথা ইতিহাস মনে রাখবে।’

    কেজরিওয়ালের সংবাদ সম্মেলনের আগে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এক প্রতিবেদনে জানায়, অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশ পাঁচটি এফআইআর দায়ের করেছে। শহরের শান্তি নষ্ট করার পেছনে কোনো বড় ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    এফআইআরগুলোতে দাঙ্গা, সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা এবং কর্তব্যরত সরকারি কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। সূত্রের খবর, তদন্তকারী দল সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে। এর মধ্যে চেহারা শনাক্তের প্রযুক্তি সংবলিত ক্যামেরার ফুটেজও আছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা সরকারি সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি করেছে। ১৫ থেকে ২০টি সরকারি গাড়ি এবং অন্যান্য সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করা হয়েছে। জড়িত অভিযোগে আটক করা হয়েছে প্রায় ৭০ জন বিক্ষোভকারীকে।

    উল্লেখ্য, সোমবার দিল্লিতে সংসদ ভবন অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এতে কয়েক হাজার তরুণ ও শিক্ষার্থী অংশ নেন। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রবেশিকা পরীক্ষায় (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্ত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ওই কর্মসূচি পালন করা হয়। পুলিশ বাধা দিতে গেলে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়।

  • হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে ইউসিটিসি’র ড্রামা ক্লাবের মঞ্চে ‘নিমফুল’

    হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে ইউসিটিসি’র ড্রামা ক্লাবের মঞ্চে ‘নিমফুল’

    কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, চট্টগ্রাম (ইউসিটিসি’র) ড্রামা ক্লাব তার কালজয়ী নাটক ‘নিমফুল’ মঞ্চস্থ করেছে।

    আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভবনের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ প্রযোজনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিনয়ের মাধ্যমে নাটকটির মানবিক আবেদন, গ্রামীণ জীবন ও সম্পর্কের সূক্ষ্ম আবেগ দর্শকদের সামনে প্রাণবন্তভাবে তুলে ধরেন। পুরো পরিবেশনা জুড়ে দর্শকদের উপস্থিতি ও আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।

    নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন জুনায়েদ হোসেন জাওয়াদ (হেদায়েত চৌধুরী), ফারজানা মুন্সি সীমা (মদিনা), রিফাত হাসান (মাস্টার), ইমতিয়াজ ইমতি (ফজলু), সফল দাশ (কুদ্দুস), সাওয়াদ সামি (মনা ডাকাত), আরিয়ান (মনা ডাকাতের ছেলে), মারুফ চৌধুরী (হেডমাস্টার), সিয়াম (মেম্বার), জয়নাল (অর্নব দত্ত), তাওছিন আক্তার (সালেহার আম্মা) এবং উম্মে সামিহা (সালেহা)। প্রযোজনাটির নির্দেশনা দেন মায়া দত্ত।

    হেদায়েত চৌধুরী চরিত্রে অভিনয় করা জুনায়েদ হোসেন জাওয়াদ বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদের নাটকে অভিনয় করা আমাদের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি বড় একটি দায়িত্বও। চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে আমরা দীর্ঘদিন মহড়া করেছি। দর্শকদের ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

    নাটকের নির্দেশক মায়া দত্ত বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদের নাটক শুধু বিনোদন নয়, মানুষের জীবন, সম্পর্ক ও সমাজকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাঁর নাটক মঞ্চস্থ করার মাধ্যমে আমরা তাঁর সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চেয়েছি।’

    নাটকটি দেখতে আসা এক দর্শক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অভিনয় ছিল আন্তরিক ও পরিণত। সীমিত আয়োজনের মধ্যেও তারা নাটকের আবহ সুন্দরভাবে তৈরি করতে পেরেছে। পুরো প্রযোজনা উপভোগ্য ছিল।’

    আরেক দর্শক জানান, ‘হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর নাটক মঞ্চস্থ করার উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসনীয়। এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।’

    অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত দর্শকরা অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশককে অভিনন্দন জানান। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও বাংলা নাট্যসাহিত্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টিগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

  • আর মিছিল নয়  তেলাপোকাদের

    আর মিছিল নয় তেলাপোকাদের

    জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) তিনি দেশজুড়ে একটি ত্রুটিমুক্ত ও নির্ভুল (ফুলপ্রুফ) পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। খবর রয়টার্সের।
    এর আগে সোমবার যুব নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা আন্দোলনের সমর্থকদের সঙ্গে সংসদ অভিমুখে মিছিলের সময় দেশটির পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে।
    রিজিজুর ভাষ্য, মোদি বলেছেন যে যুবসমাজের ভবিষ্যৎ যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং এমন একটি নির্ভুল পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।

    প্রশ্নপত্র ফাঁসে ক্ষোভ, সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ
    দেশটিতে গত মে মাসে অনুষ্ঠিত মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, এ ঘটনার কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যাও করেছেন।
    তারই পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবাদে সোমবার হাজারো তরুণ-তরুণী সংসদ ভবনের দিকে মিছিল করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
    দিল্লি পুলিশের দাবি, সংঘর্ষে অন্তত ১৮০ জন আহত হন। এর মধ্যে ১১৮ জন পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী এবং ৬০ জন বিক্ষোভকারী রয়েছেন।
    অন্যদিকে, নিজেদের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে পরিচয় দেয়া আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের দাবি, ১৫০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    আর মিছিল নয়
    মঙ্গলবার সিজেপি জানায়, তারা সরকারবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাবে, তবে আপাতত সংসদ অভিমুখে আর কোনো মিছিল করবে না। কারণ, তাদের আশঙ্কা, আবারও পুলিশি হামলার মুখে পড়তে হতে পারে।

    সোনম ওয়াংচুককে ঘিরেও উত্তেজনা
    এবারের এই আন্দোলনটি নতুন গতি পায় পরিবেশবাদী ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনের পর। তিনি গত ২৮ জুন অনশন শুরু করেন। পরে শনিবার পুলিশ তাকে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

    সরকারের সঙ্গে আলোচনা, তিন দফা দাবি
    সিজেপির দাবি, সোমবার দুই নেতার সঙ্গে বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা তাদের দাবিগুলো নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য সময় চেয়েছেন। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলো হলো, সোনম ওয়াংচুকের মুক্তি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে আত্মহত্যা করা প্রায় এক ডজন শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের পরিবারকে এক কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ প্রদান।

  • ৮ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ

    ৮ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফুরকান উদ্দিন নামের এক শিক্ষার্থীকে ট্রেনে মারধরের অভিযোগের ঘটনায় অভিযুক্ত ট্রেন টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) সুমনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার উচ্চতর তদন্তে দু’টি কমিটি গঠনসহ পাঁচটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি মেনে নেয়ায় মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে প্রায় আট ঘণ্টা অবরোধের পর রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।মঙ্গলবার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রশাসন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এক জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত টিটিইকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া একটি তদন্ত কমিটি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অধীনে ঘটনার অভ্যন্তরীণ বিষয় তদন্ত করবে এবং অপর কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করবেন।
    সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে রেলওয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হবে। তবে তিনি চাইলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও চিকিৎসা নিতে পারবেন। পাশাপাশি গভীর রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে আসা আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর স্টপেজ চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনায় আগামী ৬ আগস্ট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আরেকটি আনুষ্ঠানিক সভা অনুষ্ঠিত হবে।
    রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলোর বিষয়ে প্রশাসন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা আশা করছি, গঠিত তদন্ত কমিটিগুলো নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থী এ ধরনের ঘটনার শিকার না হন, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আশ্বাস পাওয়া গেছে। এসব সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছি।’এর আগে, শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে অভিযুক্ত টিটিইর শাস্তি ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেন। এতে প্রায় আট ঘণ্টা রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকে। বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন আটকা পড়ে এবং শত শত যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।
    পরে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এরপর ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয় এবং রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ঢাবি শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফ

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ঢাবি শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার (২০ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গত ২২ জুন অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় আহত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

    এদিকে ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মাসব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল, অনুষদ, বিভাগ ও ইনস্টিটিউটেও পৃথকভাবে নানা আয়োজন করা হচ্ছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে স্মারক সংকলন প্রকাশ, সেমিনার, স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা, প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতা।

    আরও পড়ুন:- জাবিতে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

    https://bdglobaltimes.com/%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%BF%E0%A6%82%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%AF/

    এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলও নিজস্ব কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল ২৪ জুলাই, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল ও ফজলুল হক মুসলিম হল ২৪ ও ২৫ জুলাই, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ২৫ জুলাই, শামসুন নাহার হল ২৬ জুলাই, রোকেয়া হল ৩০ জুলাই, শেখ মুজিবুর রহমান হল ১ থেকে ৪ আগস্ট এবং ড. কুদরাত-ই-খুদা হোস্টেল ৫ আগস্ট বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করবে।

    এ উপলক্ষে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ‘জুলাই স্মৃতিকথন’ শীর্ষক একটি বিশেষ সংকলন প্রকাশ করবে। এছাড়া অমর একুশে হল ২৩ থেকে ২৫ জুলাই, বিজয় একাত্তর হল ২৩ জুলাই, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ২৫ জুলাই এবং নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী ছাত্রী নিবাস ২২ জুলাই বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করবে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

  • জাবিতে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

    জাবিতে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৫৪তম ব্যাচ কর্তৃক ৫৫তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে আট শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

    সাময়িক বহিষ্কৃত ৫৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা হলেন- মো. ফজলে হাসান ফাহাদ, মো. আল-আমিন হোসাইন, মো. তানভীর হাসান, মো. ফয়সাল আহমেদ, মো. মাহমুদুল হাসান খান আবির, মো. মাহমুদ আমিন সিয়াম, মো. মোশফিকুর রহমান এবং সৈয়দ সাকিব আহমেদ রাফু।

    অফিস আদেশে বলা হয়েছে, গত ২০ জুলাই দিবাগত রাত ১০টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের (শিক্ষাবর্ষ ২০২৪-২৫) কয়েকজন শিক্ষার্থী একই বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের (শিক্ষাবর্ষ ২০২৫-২৬) নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলা ভবনের পাশে অবস্থিত একটি কক্ষে নিয়ে বিভিন্নভাবে মানসিক নির্যাতন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে আসে।

    এতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের শৃঙ্খলাসংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮-এর ৫(৬) ধারা অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের হল, বিভাগ বা ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে টিজিং, র‍্যাগিং বা নির্যাতনমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত আট শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়।

    বলা হয়েছে, ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • কালিগঞ্জে নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার, গণপিটুনিতে নারী নিহত

    কালিগঞ্জে নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার, গণপিটুনিতে নারী নিহত

    সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে নিখোঁজের প্রায় ১১ ঘণ্টা পর ৯ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন এক নারী নিহত হয়েছেন। সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত ফারজানা কাজলা গ্রামের লতিফ উদ্দিনের মেয়ে এবং কাজলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফারজানা প্রতিদিনের মতো স্কুলে যায়। স্কুল ছুটির পর বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে তাকে না পেয়ে কালিগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে কাজলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুমাইয়া (২৬) নামে এক নারীর বসতঘরের বক্স খাটের ওয়ারড্রোবের ভেতর থেকে ফারজানার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    এ ঘটনায় গণপিটুনিতে নিহত সুমাইয়া কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাজলা গ্রামের আমিরুল ইসলামের স্ত্রী।

    এদিকে শিশুটির লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা সুমাইয়াকে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। লাশ দুইটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত সংগ্রহ এবং অন্যান্য তদন্তের ভিত্তিতে হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সাথে অন্য কারো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হবে।

    এ,আর

  • কর্মচারী নিয়োগের ক্ষমতা আবারও পরিচালনা কমিটির হাতে

    কর্মচারী নিয়োগের ক্ষমতা আবারও পরিচালনা কমিটির হাতে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ছাড়া অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগের সুপারিশের ক্ষমতা আবারও পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কমিটির হাতে ফিরেছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ নতুন পরিপত্র জারি করেছে। একই সঙ্গে এ-সংক্রান্ত ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বরের পরিপত্র বাতিল করা হয়েছে।

    নতুন পরিপত্র অনুযায়ী, নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও স্নাতক (পাস) কলেজে ট্রেড অ্যাসিস্ট্যান্ট, অফিস সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর, হিসাব সহকারী, ল্যাব সহকারী, নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নৈশপ্রহরী, আয়া ও অফিস সহায়কসহ শিক্ষক ছাড়া অন্যান্য এমপিওভুক্ত পদে নিয়োগের সুপারিশ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির মাধ্যমেই হবে।

    এর আগে ২০২৫ সালের পরিপত্রে এসব পদে নিয়োগের সুপারিশের দায়িত্ব জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বাধীন কমিটির ওপর ন্যস্ত করা হয়েছিল। নতুন পরিপত্রে সেই নির্দেশনা বাতিল করায় অশিক্ষক কর্মচারী নিয়োগে আগের ব্যবস্থাই পুনর্বহাল হলো।

  • আলমডাঙ্গায় শহীদ আইয়ুবের মায়ের জানাজা সম্পন্ন

    আলমডাঙ্গায় শহীদ আইয়ুবের মায়ের জানাজা সম্পন্ন

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের তৃতীয় শহীদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী আইয়ুব আলীর মা পরিছন নেছার (৯১) জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে আলমডাঙ্গার ডাউকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়ে।

    জানাজায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয়, মহানগর, জেলা উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্খী এবং স্থানীয় সর্বস্তরের মুসল্লিরা অংশ নেন। জানাজায় কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সমাজসেবা সম্পাদক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, সাবেক কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক হাফেজ নুরুজ্জামান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের অফিস সম্পাদক মানাজির আহসান এবং রাজশাহী মহানগর শিবিরের সভাপতি ইমরান নাজির।

    জেলা পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, জেলা যুব বিভাগের সভাপতি শেখ নুর মোহাম্মদ হোসাইন টিপু, জেলা প্রচার সম্পাদক ও সাবেক জেলা সভাপতি মফিজুর রহমান জোয়ার্দার, শ্রমিক বিভাগের সভাপতি কাইমুদ্দিন হিরক, জেলা আইন বিষয়ক সম্পাদক ও নাগদাহ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান দারুস সালাম, জেলা শিক্ষা বিভাগের সেক্রেটারি ও সাবেক শিবির সভাপতি প্রভাষক শফিউল আলম বকুল এবং সাবেক জেলা সভাপতি মহসিন এমদাদুল্লাহ।

    এছাড়াও ঝিনাইদহ জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন, আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির ইউসুফ আলী, জিএ আমির আব্বাস আলী, আলমডাঙ্গা পৌর জামায়াতের আমির মাহের আলী, সাবেক ব্যাংকার সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা সেক্রেটারি মামুন রেজা, পৌর সেক্রেটারি মুসলিম উদ্দিন, কামরুল হাসান সোহেল, ইসলামী ছাত্রশিবির আলমডাঙ্গা উপজেলা শাখার সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সেক্রেটারি বাইজিদ মুন্সিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাসহ ইউনিয়ন পর্যায়ের জামায়াত-শিবিরের প্রতিনিধিরা জানাজায় অংশ নেন।

    জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তেব্যে বক্তারা উল্লেখ করেন, শহীদ আইয়ুব আলীর হাত ধরে অনেকেই দ্বীনের এই উত্তপ্ত ময়দানে এসেছেন, আর সন্তানের এই ত্যাগের পেছনে এই মহীয়সী মায়ের ভূমিকা ছিল অতুলনীয়।

    জানাজা শেষে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। এ সময় উপস্থিত নেতারা শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে শহীদ আইয়ুব আলীর মা বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে মারা যান।

  • এইচএসসি পরীক্ষার সূচি পরিবর্তনের খবর ভুয়া: শিক্ষা বোর্ড

    এইচএসসি পরীক্ষার সূচি পরিবর্তনের খবর ভুয়া: শিক্ষা বোর্ড

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের নামে ছড়িয়ে পড়া বিজ্ঞপ্তি ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    সোমবার (২১ জুলাই) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির নামে ২৭ জুলাই ২০২৬ থেকে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে এমন দাবি করে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে ওই বিজ্ঞপ্তিটি সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

    আরও বলা হয়, এ ধরনের ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম কিংবা বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

    পরীক্ষা-সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত, নির্দেশনা ও বিজ্ঞপ্তি শুধুমাত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া বিশ্বাস বা শেয়ার না করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। একই সঙ্গে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

  • হল ফি কমানোর দাবিতে তিতুমীর কলেজ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

    হল ফি কমানোর দাবিতে তিতুমীর কলেজ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    হল ফি কমানোর দাবিতে রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। সোমবার (২০ জুলাই) রাতে কলেজের হল গেটের সামনে জড়ো হয়ে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ফি পুনর্নির্ধারণের দাবি জানান।

    শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধিভুক্ত অন্যান্য কলেজে হল ফি ৬ হাজার টাকা হলেও তিতুমীর কলেজে তা ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ফি পরিশোধ করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক সংকটে পড়ছেন বলেও তারা দাবি করেন।

    আন্দোলনকারীরা জানান, কয়েকদিনের আন্দোলনের পর কলেজ প্রশাসন ফি কমানোর আশ্বাস দিলেও নতুন প্রজ্ঞাপনে মাত্র ২০০ টাকা কমানো হয়েছে। তাদের ভাষায়, এটি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘প্রহসন’ ও ‘প্রতারণা’র শামিল।বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী গণমাধ্যমে বলেন, হল ফি কমানোর জন্য আমরা স্মারকলিপি দিয়েছে। কিন্তু প্রশাসন আমাদের দুইজন ছাত্রনেতাকে ডেকে সমাধান করতে চেয়েছে। তিতুমীর কলেজের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর সিদ্ধান্ত দুই জন ছাত্রনেতা নিতে পারে না। তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা নেবে।

    তিনি আরও বলেন, প্রশাসন প্রথমে হল ফি ৭ হাজার টাকা করার আশ্বাস দিলেও পরে ৮ হাজার টাকা থেকে মাত্র ২০০ টাকা কমিয়ে ৭ হাজার ৮০০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এটা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা-উপহাস বলে আমরা মনে করি।

    শিক্ষার্থীরা হল ফি ৬ হাজার টাকায় পুনর্নির্ধারণ, সব ধরনের ফি যৌক্তিক পর্যায়ে আনা এবং কলেজের অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবি জানান। একই সঙ্গে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দেন তারা।

  • কারখানার কাছে স্কুলমাঠ ভাড়া প্রধান শিক্ষকের, বন্ধ শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা

    কারখানার কাছে স্কুলমাঠ ভাড়া প্রধান শিক্ষকের, বন্ধ শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা

    শিল্পকারখানার নির্মাণ সামগ্রী রাখার জন্য স্কুলের মাঠ ভাড়া দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। এতে মাঠে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    গতকাল সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, গাজীপুরের শ্রীপুরে নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরো মাঠে ইট, বালি, রড, সিমেন্টসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়েছে। পাশেই চলছিল শিল্পকারখানার সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ। মাঠ দিয়ে ডাম্পট্রাক চলাচলের কারণে সেখানে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে এবং কাদা জমে মাঠ খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

    অভিযোগ রয়েছে, কারখানার সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ করছেন প্রধান শিক্ষক শাহানাজ বেগম ও তাঁর ছেলে রাতুল। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

    নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী মরিয়ম বলে, `কয়েকদিন ধরে আমাদের মাঠে সব ধরনের খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে। পুরো মাঠ কাদা হয়ে গেছে। নির্মাণ সামগ্রী রেখে আমাদের মাঠ নষ্ট করছে। ইটের সুরকি পায়ের নিচে লেগে আহত হচ্ছে অনেক শিক্ষার্থী।’

    বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলিফ বলে, `প্রায় প্রতিদিন আমরা মাঠে ফুটবল খেলতাম। কিন্তু কয়েকদিন ধরে সব খেলাধুলা বন্ধ। আমাদের খেলার মাঠটা একেবারে নষ্ট করে ফেলছে। আমরা মাঠ আগের অবস্থায় ফিরে পেতে চাই।’

    নির্মাণ সামগ্রী ভাঙার কাজ করেন মো. সাগর হোসেন। তিনি বলেন, `নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক শাহানাজ বেগমের ছেলে রাতুল এই কাজের জন্য আমার সঙ্গে চুক্তি করেন। নির্মাণ সামগ্রী রাখার জন্য এই মাঠটি ভাড়া নিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। আমাদেরকে কাজ করার জন্য এনেছে, আমরা কাজ করছি।’

    নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমির হোসাইন বলেন, `রোববার স্কুলে এসে দেখি, পুরো মাঠে ইট, বালিসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী রাখা। জানতে চাইলে কারখানা কর্তৃপক্ষ জানান, প্রধান শিক্ষক আর তাঁর ছেলে অনুমতি দিয়েছেন। এরপর আর আমরা কোথায় প্রতিবাদ করব? শিক্ষার্থীদের সব ধরনের খেলাধুলা বন্ধ।’

    আলমা ফিট ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার শাহেদ হাসান মোরসালিন বলেন, `সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে অনুমতি নিয়ে মাঠ বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও মনির হোসেন নামে দুজনকে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

    এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহানাজ বেগম বলেন, `বিদ্যালয়ের মাঠ ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে আমি জানি না। তারা কিভাবে মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখছে, এটা বলতে পারবো না।’ তিনি ও তাঁর ছেলে রাতুল মাঠ ভাড়া দিয়েছেন বলে শ্রমিকদের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দিতে রাজি হননি।

    শ্রীপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিন বলেন, `এ বিষয়ে ইতিমধ্যে অবগত হয়েছি। প্রধান শিক্ষক মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখার জন্য কাউকে অনুমতি দিতে পারেন না। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

    শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, `মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখার বিষয়ে অবগত হয়েছি। স্কুলমাঠ নষ্ট করার কোনো সুযোগ নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া পরিচালনা কমিটি গঠনের নির্দেশ

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া পরিচালনা কমিটি গঠনের নির্দেশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা উপলক্ষে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া পরিচালনা কমিটি করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

    সোমবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। এ চিঠি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার সব আঞ্চলিক পরিচালক, উপপরিচালক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে।

    এতে বলা হয় প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬ উপলক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল ও কলেজ) ক্রীড়া পরিচালনা কমিটি করতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া পরিচালনা কমিটি গঠনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

  • প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার না করার নির্দেশ

    প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার না করার নির্দেশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি কোনো অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ব্যবহারে নিষেধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা চিঠি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

    রোববার কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিটি সব কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে পাঠানো হয়।বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের ১৫ জুলাইয়ের চিঠি অনুযায়ী এ নির্দেশনা দেয়া হয়। সরকারি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রস্তুতকৃত ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি (থ্রিডি বা অন্য কোনো আঙ্গিকে) ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারিকৃত পরিপত্রের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেয়া হলো।

  • ওয়াশিংটনকে ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ দেয়ার হুঁশিয়ারি মোজতবার

    ওয়াশিংটনকে ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ দেয়ার হুঁশিয়ারি মোজতবার

    যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি বলেছেন, মার্কিন শত্রু যখন যুদ্ধকে আরও উসকে দিতে এবং ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে চাইছে, তখন তাদের জানা উচিত- প্রিয় ইরানি জাতি এবং প্রতিরোধ অক্ষ তাদের জন্য অবিস্মরণীয় শিক্ষা প্রস্তুত করে রেখেছে।

    মোজতবা খামেনির এই বিবৃতি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন, আমাদের দেশের ওপর চলমান হামলা আবারও প্রমাণ করেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য নেই।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চুক্তির ক্ষেত্রে মহাশয়তান বারবার অঙ্গীকার ভঙ্গ করে আবারও সবার কাছে প্রমাণ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর এখন সম্পূর্ণ মূল্যহীন ও অবৈধ। আর জুলুম, আধিপত্যবাদ ও বর্বরতা যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাস ও নীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
    এ ছাড়া খামেনির জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি সতর্ক করে বলেন, আগামী কয়েক দিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অব্যাহত থাকলে ইরান পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করবে।

    তিনি বলেন, ইরান আর শুধু সমানুপাতিক পাল্টা জবাবে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
    সমঝোতা স্মারক ভেস্তে যাওয়ার পর টানা অষ্টমদিনের মতো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে সংঘর্ষ শুরুর পর থেকে শুক্রবার পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

    অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়ে, ইরানের সঙ্গে শুরু হওয়ার নতুন সংঘর্ষে তাদের দুইজন মার্কিন সেনা জর্ডানে নিহত হয়েছে। এ ছাড়া একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছে।

    বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে হামলার পরিমাণ ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। দেশটি প্রথমবারের মতো এবার ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে অন্তত পাঁচটি সেতু গুঁড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এ ছাড়া দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে বিমানবন্দরেও হামলা হয়েছে।
    সিএনএন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চল পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে সেখানে স্থল অভিযান চালাতে পারে।

    অন্যদিকে ইরান কড়া হুঁশিয়ার বার্তায় বলেছে, বেসামরিক অবকাঠামো হামলার শিকার হলে মধ্যপ্রাচ্যের সবকিছু গুঁড়িয়ে দেয়া হবে। ইতিমধ্যে দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলার পরিমাণ বাড়িয়েছে।

    কুয়েত অভিযোগ করেছে, ইরান দেশটির বেসামরিক স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এতে দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
    কুয়েতের বাসিন্দা হাসান রায়ান বলেন, আজ সকাল থেকেই বোতলজাত পানি ও টিনজাত খাবারের চাহিদা বেড়েছে। মানুষ আশঙ্কা করছে, সেবা ও সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে।
    আরেক বাসিন্দা আলি মাহমুদ বলেন, সরকারি ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও সড়ক ও সমুদ্রসৈকত প্রায় জনশূন্য।

    ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহৃত একটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া জর্ডানের আল-আজরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংকও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

    জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শনিবার তারা ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। আগের দিনও অন্তত তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়। এদিকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন যে, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ (ইরান যুদ্ধ বন্ধে প্রাথমিক চুক্তি)-এর আওতায় নিজেদের সব প্রতিশ্রুতি স্থগিত ঘোষণা করেছে তেহরান।

    তিনি বলেছেন , যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের সব প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে এবং সেখান থেকে সরে গেছে। আমরাও আমাদের সব প্রতিশ্রুতি স্থগিত করেছি।

  • কায়েমকোলার ‘জামাদার’ বা ‘বড় মসজিদ’

    কায়েমকোলার ‘জামাদার’ বা ‘বড় মসজিদ’

    একসময় গ্রামের দক্ষিণ পাশ দিয়ে বয়ে যেত খরস্রোতা একটি নদী, যাকে অনেকে ‘গাঙ’ বলেই চিনতেন। সেই নদী আজ মৃতপ্রায়, সময়ের প্রবাহে হারিয়ে গেছে তার স্রোত, কিন্তু রয়ে গেছে স্মৃতি। কায়েমকোলার পশ্চিম পাশের গ্রাম মাগুরা, যার একটি অংশের নাম ‘অমৃতবাজার’ সেখানেই জন্ম নিয়েছিলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সাহিত্যিক শিশিরকুমার ঘোষ। তিনি ছিলেন বিখ্যাত পত্রিকা ‘অমৃতবাজার’ এর সম্পাদক। ফলে এ অঞ্চল শুধু প্রাকৃতিক নয়, বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যেও সমৃদ্ধ।


    বর্তমানে কায়েমকোলা একটি বৃহৎ জনপদ। কয়েক হাজার মানুষের বসবাস এখানে। শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি গ্রামটির সামাজিক অগ্রগতির সাক্ষ্য বহন করে। এখানে রয়েছে একটি হাইস্কুল, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কয়েকটি ফোরকানিয়া মাদ্রাসা এবং একটি বড় বাজার। গ্রামীণ জীবনযাত্রার স্বাভাবিক ছন্দের পাশাপাশি আধুনিকতার ছোঁয়াও স্পষ্ট।


    তবে কায়েমকোলার প্রকৃত ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে যে স্থাপনাটি, সেটি হলো স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘জামাদার মসজিদ’ বা ‘বড় মসজিদ’। অবস্থানগতভাবে এটি যশোর-কাশীপুর ও ঝিকরগাছা-চৌগাছা সড়কের সংযোগস্থলের কাছেই অবস্থিত। ৫২ দশমিক ৫ ফুট লম্বা ও ২১ ফুট প্রস্থের এ মসজিদের দেয়াল ৪ দশমিক ৫ ফুট পুরু, যা এর প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর দৃঢ়তার প্রমাণ দেয়। পূর্ব পাশে রয়েছে তিনটি প্রবেশপথ এবং পশ্চিম দেয়ালে একটি মিহরাব। তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এ মসজিদটির কোনো মিনার নেই, যা একে সুলতানি ও মুঘল আমলের গ্রামীণ মসজিদ স্থাপত্যের সঙ্গে তুলনীয় করে তোলে।


    মসজিদটি ঠিক কবে নির্মিত হয়েছিল, তার নির্ভরযোগ্য দলিল পাওয়া যায়নি। স্থানীয় জনশ্রুতি অনুসারে, বাংলার নবাব আলীবর্দী খান-এর শাসনামলে ‘আগা বাকর’ নামে এক জমাদার এটি নির্মাণ করেন। এ কারণেই মসজিদটি ‘জামাদার মসজিদ’ নামে পরিচিতি পায়। এই তথ্য অনুযায়ী, এর নির্মাণকাল আঠারো শতকের মাঝামাঝি সময়। তবে কিছু ইতিহাস অনুরাগী ধারণা করেন, এর স্থাপত্যরীতি সুলতানি আমলের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে।
    দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে মসজিদের দেয়ালে লবণাক্ততার ক্ষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও, সেই সংস্কারের ফলে স্থাপনাটির কিছু অংশ আগের আদল হারিয়েছে বলে অভিজ্ঞ মহলের অভিমত। ইতিহাস-ঐতিহ্যের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন সংরক্ষণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন সচেতন মহল।
    কায়েমকোলার জামাদার মসজিদ সময়ের সাক্ষ্যবাহী এক ঐতিহাসিক দলিল। সঠিক সংরক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে এ মসজিদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অতীতের সমৃদ্ধ ইতিহাস তুলে ধরতে পারে। ঐতিহ্য রক্ষায় স্থানীয় সচেতনতা ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ একসঙ্গে কাজ করলেই টিকে থাকবে এই মসজিদ।

  • ইএফটিতে মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, তথ্য হালনাগাদের নির্দেশ

    ইএফটিতে মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, তথ্য হালনাগাদের নির্দেশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের সব এমপিওভুক্ত মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারে (ইএফটি) বেতন-ভাতা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে অনলাইনে তথ্য সংশোধন ও হালনাগাদ করার নির্দেশনা দিয়েছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। নির্ধারিত ছক অনুযায়ী তথ্যগুলো সঠিকভাবে সংগ্রহ করে আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে প্রস্তুত রাখার জন্য বলা হয়েছে।

    গতকাল রোববার মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। দেশের সব মাদরাসার অধ্যক্ষ ও সুপারদের কাছে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।অধিদপ্তরের চিঠিতে বলা হয়েছে, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওর অর্থ বিতরণ সহজীকরণ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইএফটির মাধ্যমে ‘গভর্নমেন্ট টু পার্সন’ (জিটুপি) পদ্ধতিতে সরাসরি নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে। এ লক্ষ্যে অনলাইন এমপিও সিস্টেমের প্রয়োজনীয় আপগ্রেডেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ইএফটির মাধ্যমে অর্থ প্রেরণের ক্ষেত্রে শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য আবশ্যিকভাবে সঠিক হতে হবে।

    নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষক-কর্মচারীরা নির্ধারিত ছক পূরণ ও স্বাক্ষর করে প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছে জমা দেবেন এবং এর একটি সফট কপি নিজ দায়িত্বে সংরক্ষণ করবেন। প্রতিষ্ঠান প্রধানেরা এই তথ্যগুলো সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করবেন। পরবর্তীতে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে সফটওয়্যারের লিংক ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনাসহ অনলাইনে এই তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হবে।

    কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সকল তথ্য নির্ভুল না থাকলে ইএফটির মাধ্যমে পাঠানো বেতন-ভাতা শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে না। এই কারণে আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে সংযুক্ত ছকের সকল তথ্য সঠিকভাবে সংগ্রহ ও প্রস্তুত রাখার জন্য মাদরাসার অধ্যক্ষ, সুপার ও শিক্ষক-কর্মচারীদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

  • ২০ জুলাই এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হচ্ছেনা

    ২০ জুলাই এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হচ্ছেনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আগামী ২০ জুলাইকে লক্ষ্য ধরে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের জোর প্রস্তুতি চালাচ্ছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড। তবে ফল প্রকাশের সুনির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

    বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, সরকারের নির্দেশনা ও নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী ফল প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। বর্তমানে ফল প্রস্তুতের মূল কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

    আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, ফলাফল তৈরির কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তারা দিনরাত কাজ করছেন।

    সাধারণত লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করার রেওয়াজ রয়েছে। সেই নিয়ম অনুযায়ী এ বছর ২১ এপ্রিল পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। অন্যদিকে, মাদ্রাসা (দাখিল) ও কারিগরি (এসএসসি ভোকেশনাল) বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২৪ মে।

    এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করে। এর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসিতে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদরাসা বোর্ডে দাখিলে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন।

  • ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর চবি ছাত্রীর সঙ্গে চীনা অধ্যাপকের বিয়ে

    ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর চবি ছাত্রীর সঙ্গে চীনা অধ্যাপকের বিয়ে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক ছাত্রীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন চীনের শানডং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান (ওশানোগ্রাফি) বিভাগের অতিথি শিক্ষক জিহুয়া জাং। বিয়ের পর তার নতুন নাম রাখা হয়েছে আল আমিন।

    শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার নিজের ফেসবুক পোস্টে বিয়ের বিষয়টি জানান। পরে জিহুয়া জাংও তার ফেসবুক আইডিতে দুজনের একটি ছবি প্রকাশ করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    সুমাইয়া আক্তার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব ফয়জুন্নেছা হল সংসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস)। নিজ হাতে তৈরি বিভিন্ন ধরনের ঘরোয়া নাস্তা ও পিঠা বিক্রির মাধ্যমে তিনি ক্যাম্পাসে পরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

    বিয়ের বিষয়ে সুমাইয়া জানান, জিহুয়া জাং অতিথি শিক্ষক হিসেবে দুই দফায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন। গত ১৪ জুলাই তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের আগে তিনি স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং তার নতুন নাম রাখা হয় আল আমিন।

    তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষার একটি কোর্স করার সময় তাদের পরিচয় হয়। পরে সেই পরিচয় থেকে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন জানান, জিহুয়া জাং বিভাগের একটি প্রকল্পের অধীনে অতিথি (অ্যাডজাঙ্কট) অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের ডেটা মডেলিং ও এনভায়রনমেন্টাল অ্যানালাইসিস বিষয়ে পাঠদান করতেন। গত দুই বছরে সামার ভ্যাকেশনের সময় তিনি দুইবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন। সর্বশেষ গত জুন মাসে তিনি ক্যাম্পাসে অবস্থান করেছিলেন বলে জানান এই শিক্ষক।

  • প্রাথমিক বদলি কমিটিতে নতুন ৭ শর্ত

    প্রাথমিক বদলি কমিটিতে নতুন ৭ শর্ত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি ও পদায়ন পদ্ধতিতে বড় ধরনের সংশোধন এনেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিতর্কিত ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ রাখার বিধান বাতিল করে এবার যুক্ত করা হয়েছে শিক্ষানুরাগী বা বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তিদের। একই সঙ্গে জাতীয় কমিটি গঠনে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি শিক্ষক বদলিতে সাতটি নতুন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ২১ জুন চারস্তরের কমিটির মাধ্যমে সনাতন পদ্ধতিতে বদলির নতুন নিয়ম চালু করা হলে শিক্ষা প্রশাসন ও শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের একাংশের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সেই বিতর্কের মুখেই অবশেষে নীতিমালায় এ পরিমার্জন আনল মন্ত্রণালয়।

    সমালোচনার কারণ ‘গণমান্য ব্যক্তি’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছিল, তা স্পষ্ট ছিল না। এতে আশঙ্কা করা হয়, সরকারি শিক্ষকদের বদলির মতো প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বাইরের ব্যক্তিদের যুক্ত করা হলে স্বচ্ছতার পরিবর্তে তদবির ও প্রভাব খাটানোর সুযোগ বাড়তে পারে।

    গত মাসে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বদলি কমিটিতে সভাপতির মনোনীত দুজন করে ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ সদস্য রাখার বিধান করা হয়েছিল। তবে জাতীয় পর্যায়ের কমিটিতে অবশ্য এ ধরনের কোনো সদস্য রাখা হয়নি।

    এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার পর গত বৃহস্পতিবার বদলির নীতিমালা পরিবর্তন করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    পরিবর্তিত নীতিমালাতেও উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয়—এই চারস্তরের কমিটির মাধ্যমেই বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তি করার বিধান রাখা হয়েছে। তবে উপজেলা, জোলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কমিটিতে সভাপতির মনোনীত দুজন করে ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’র পরিবর্তে বিদ্যোৎসাহী বা শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

    বিভাগীয় কমিটির সভাপতি বিভাগীয় কমিশনার, জেলা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা বা থানা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) থাকবেন।

    এ ছাড়া জাতীয় কমিটির সভাপতির পদেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় কমিটির সভাপতি হবেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বিদ্যালয়) ও সদস্য সচিব হবেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন)। গত মাসের নীতিমালায় জাতীয় কমিটির সভাপতি করা হয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিবকে।

    বদলিতে যুক্ত হলো সাত শর্ত

    বদলির আবেদনের প্রক্রিয়া ও যোগ্যতা কী হবে, তা আগের নীতিমালায় বলা হয়নি। ওই নীতিমালায় বলা হয়েছিল, কমিটিগুলো প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেবে। একই উপজেলা, জেলা বা বিভাগের মধ্যে বদলির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে আদেশ জারি করা হবে।

    অন্যদিকে আন্তঃবিভাগ ও সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রে বদলির আবেদন জাতীয় কমিটি যাচাই-বাছাই করবে। এ ছাড়া নতুন নিয়োগ পাওয়া সহকারী শিক্ষকদের লটারির মাধ্যমে বিদ্যালয়ে পদায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা কমিটিকে। এসব নিয়মের অধিকাংশই রয়েছে।

    তবে পরিবর্তিত নীতিমালায় সাত ধরনের শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এক. চাকরির মেয়াদ ন্যূনতম দুই বছর পূর্ণ না হলে কোনো সহকারী শিক্ষক বা শিক্ষিকা বদলিযোগ্য হবেন না। যে ক্ষেত্রে বদলির পর তিন বছর অতিক্রম না হলে কোনো শিক্ষক পুনঃবদলির জন্য বিবেচিত হবেন না। দুই. সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে কেবল শূন্য পদের বিপরীতে বদলি করা যাবে। তিন. কোনো শিক্ষকের আবেদন ছাড়া নিজ বিদ্যালয় থেকে অন্য বিদ্যালয়ে বদলি করা যাবে না। তবে জনস্বার্থে বা প্রশাসনিক কারণে জাতীয় কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে বদলি করা যাবে। চার. যেসব বিদ্যালয়ে পাঁচজন বা তার কমসংখ্যক শিক্ষক কর্মরত আছেন কিংবা শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১:৪০-এর বেশি, সেসব বিদ্যালয় থেকে বদলি করা যাবে না। পাঁচ. একই বিদ্যালয়ে একাধিক শিক্ষক আবেদন করলে যথাক্রমে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা অগ্রাধিকার পাবেন। ছয়. একটি বিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ তিনজন শিক্ষককে ‘সংযুক্তি’ পদায়ন করা যাবে। সাত. বদলির ক্ষেত্রে সব শর্তাবলি পূরণ সাপেক্ষে শিক্ষিকারা স্থায়ী ঠিকানা বা স্বামীর ঠিকানার নিকটবর্তী বিদ্যালয়ে বদলির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।

  • শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে হেনস্তা সভ্য রাষ্ট্রের পরিচয় নয়: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে হেনস্তা সভ্য রাষ্ট্রের পরিচয় নয়: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, শিক্ষার্থীরা কেউ অটোপাসের দাবিতে বা পরীক্ষা বাতিলের উদ্দেশ্যে রাজপথে নামেনি। তারা নেমেছে যেন বন্যা, জলাবদ্ধতা ও চরম দুর্ভোগের মধ্যে সাঁতার কেটে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে না হয়। তারা নেমেছে যেন বারবার পরিবর্তিত পরীক্ষা-পদ্ধতির পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ‘গিনিপিগ’ না হতে হয়। এটি একটি যৌক্তিক, মানবিক এবং ন্যায্য আন্দোলন।

    শনিবার (১৮ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা সরকার পতনের আন্দোলন করতে রাজপথে যায়নি। অথচ কিছু রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তি দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়ে এ আন্দোলনকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এর ফলে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে হামলা, গ্রেফতার, হয়রানি ও ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

    এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক আরও বলেন, বিভিন্ন শিক্ষার্থীর অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের ফোনে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিচয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব অভিযোগ সত্য হলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক।

    তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানো, গ্রেফতারের হুমকি দেওয়া এবং হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। শক্তি প্রয়োগ নয়, সংলাপের মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। সরকারকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে তাদের বক্তব্য শুনে যৌক্তিক সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান করার আহ্বান জানান তিনি।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, মনে রাখতে হবে, শিক্ষার্থীরা সন্ত্রাসী নয়। ভিন্নমত প্রকাশ করলেই তাদের নানা রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে সামাজিক ও মানবিকভাবে হেনস্তা করা কোনো সভ্য রাষ্ট্রের পরিচয় হতে পারে না।

    তিনি আরও বলেন, সরকারকে সংযম, সংলাপ ও সমাধানের পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় একটি সমাধানযোগ্য সংকট অপ্রয়োজনীয়ভাবে বড় সামাজিক অস্থিরতায় রূপ নিতে পারে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, গণতন্ত্রে নাগরিকের পরামর্শকে ‘উসকানি’ বা ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত না করে দায়িত্বশীল রাষ্ট্র পরিচালনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

  • এসএসসির ফল প্রকাশ হচ্ছে না ২০ জুলাই

    এসএসসির ফল প্রকাশ হচ্ছে না ২০ জুলাই

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের অপেক্ষায় রয়েছেন লাখ-লাখ শিক্ষার্থী। শিগগির ফল প্রকাশ করা হবে। ফল প্রকাশের প্রস্তুতি নিতে আরো এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। সে অনুযায়ী ফল প্রকাশের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

    শনিবার (১৮ জুলাই) আন্ত:শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির কর্মকর্তারা দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এ তথ্য জানিয়েছে।

    আন্ত:শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, আমাদের প্রস্তুতি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ করা হবে। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেলেই এ ফল প্রকাশ করা হবে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করবো। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই যাবতীয় আয়োজন শেষ করবো বোর্ডের পক্ষ থেকে।

    চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা চলে ২০ মে পর্যন্ত।এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩১৮, মাদরাসা বোর্ডে (দাখিল) ৩ লাখ ৩ হাজার ২৮৬ এবং কারিগরি বোর্ডে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন।

  • ঢাবিতে অপরাজনীতি ফিরতে দেওয়া হবে না: সাদিক কায়েম

    ঢাবিতে অপরাজনীতি ফিরতে দেওয়া হবে না: সাদিক কায়েম

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে আর কখনো অপরাজনীতি ফিরতে দেওয়া হবে না বলে দৃঢ় হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেছেন ঢাবি ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।

    শুক্রবার (১৭ জুলাই) ‘সন্ত্রাস প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘লীগ ধর’ ম্যারাথন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। কর্মসূচি শেষে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    ২০২৪ সালের এই বিশেষ দিনে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও প্রতিটি আবাসিক হল চরমপন্থী ছাত্রলীগমুক্ত হওয়ার ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করেই সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই বিশেষ আয়োজন করা হয়।

    ম্যারাথন শেষে ঢাবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাদিক কায়েম গণমাধ্যমের সামনে আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ বার্তা তুলে ধরে বলেন, আমরা স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই এই ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের যে ফ্যাসিবাদী রাজনীতি, ক্ষমতার অন্যায় দাপট এবং গণরুম-গেস্টরুমের নামে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাসের মতো ব্যবহার করে নির্মম নির্যাতন চালানোর অন্ধকার অপরাজনীতি ছিল, তা আর কখনো এখানে ফিরে আসতে দেওয়া হবে না।

    তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে একটি মজবুত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং সর্বস্তরের মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যেই আমাদের এই ‘লীগ ধর’ ম্যারাথনের আয়োজন।

    বর্তমান সময়ের ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় নেতাকর্মীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসগুলোতে কেউ যেন আর কখনো পেশিশক্তির নোংরা রাজনীতিতে লিপ্ত না হয়। সবাই যেন জ্ঞান, আদর্শ ও সুস্থ ধারার ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

    এদিকে ম্যারাথনের পাশাপাশি পুরো জুলাই মাসজুড়ে ঘোষিত ‘৩৬ দিনের কর্মসূচি’র অংশ হিসেবে আজ থেকে ঢাবিতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘রক্তাক্ত জুলাই’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

    এই বিশেষ প্রদর্শনীতে জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদদের আত্মত্যাগ, বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষা, আন্দোলনে নারীদের অনবদ্য সাহসী ভূমিকা এবং আলেম-ওলামাদের ঐতিহাসিক অবদানের নানা চিত্র তুলে ধরা হবে।

  • দুর্গত মানুষের সেবায় আলেমসমাজ

    দুর্গত মানুষের সেবায় আলেমসমাজ

    ইসলামের ইতিহাসে আলেমদের মানবসেবার অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ক্ষুধার্তকে খাদ্য দিয়েছেন, এতিমের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, অসুস্থদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং সমাজের দুর্বল মানুষের আশ্রয়স্থল হয়েছেন। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) গোপনে অসংখ্য দরিদ্র পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিতেন। ইমাম নববি (রহ.) ও অন্যান্য মনীষীও ইলমের পাশাপাশি সমাজকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের জীবন প্রমাণ করে, প্রকৃত আলেম কখনো সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন নন; বরং তিনি সমাজের কল্যাণকামী অভিভাবক।

    বাংলাদেশেও আলেমসমাজ দীর্ঘদিন ধরে মানবসেবার অনন্য নজির স্থাপন করে আসছেন। দেশের হাজারো কওমি মাদরাসায় লক্ষাধিক এতিম ও দরিদ্র শিক্ষার্থী বিনা খরচে বা অতি স্বল্প ব্যয়ে শিক্ষা, আবাসন এবং খাবারের সুযোগ পাচ্ছে। এটি শুধু শিক্ষাসেবা নয়; বরং একটি বিশাল মানবিক কর্মযজ্ঞ। জাকাত, সদকা, ফিতরা ও মানুষের দানের অর্থে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠান সমাজের অসহায় মানুষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আছে।দুর্যোগকালীন সময়েও আলেম সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড কিংবা শীতপ্রবাহে তারা ত্রাণ সংগ্রহ ও বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা, পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান। দেশের বিভিন্ন ইসলামি দাতব্য সংস্থা ও আলেমদের পরিচালিত ফাউন্ডেশনগুলো খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, শীতবস্ত্র এবং নগদ সহায়তা পৌঁছে দিয়ে অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষা করছে। বর্তমান সময়ে আলেমদের পরিচালিত মানবসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন একটি উল্লেখযোগ্য নাম। শায়খ আহমাদুল্লাহর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানটি দাওয়াতি কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যাপক পরিসরে মানবকল্যাণমূলক কাজ পরিচালনা করছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণ, রান্না করা খাবার, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসামগ্রী ও নগদ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া এতিম প্রতিপালন, অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা, দরিদ্র পরিবারের পুনর্বাসন, ঘর নির্মাণ, নলকূপ স্থাপন, মসজিদ নির্মাণ, কোরবানির মাংস বিতরণ, রমজানে ইফতার ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ এবং শীতবস্ত্র বিতরণসহ নানা মানবিক কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবকের সমন্বয়ে পরিচালিত এসব উদ্যোগ প্রমাণ করে, আলেমদের নেতৃত্বে আধুনিক ও সুসংগঠিত মানবসেবা কতটা কার্যকর হতে পারে।

    আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের পাশাপাশি দেশের আরো উলামায়ে কেরাম পরিচালিত অনেক প্রতিষ্ঠান নীরবে মানবকল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। যেমন মাওলানা গাজী ইয়াকুব পরিচালিত তাকওয়া চ্যারিটি ফাউন্ডেশন, মাওলানা রজীবুল হক পরিচালিত হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) সেবা ফাউন্ডেশন, মাওলানা ইমরান হাবিবি পরিচালিত পিপলস ইমপ্রুভমেন্ট সোসাইটি অব বাংলাদেশ এবং হাফেজ্জী চ্যারিটি ফাউন্ডেশনসহ অর্ধশতাধিক ইসলামি দাতব্য প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন মাদরাসাকেন্দ্রিক ট্রাস্ট, এতিমখানা, দাতব্য চিকিৎসাকেন্দ্র ও ত্রাণসংস্থা সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। প্রচারের আলোয় না এলেও তাদের অবদান বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক সহমর্মিতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।আলেম সমাজের মানবসেবা শুধু ত্রাণ বিতরণেই সীমাবদ্ধ নয়। তারা নৈতিক অবক্ষয় রোধ, মাদকবিরোধী সচেতনতা, পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তি, যুবসমাজকে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা এবং সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের উপদেশ ও দিকনির্দেশনার মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ সঠিক পথে ফিরে আসে, যা সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়।

    বর্তমান বিশ্বে মানবসেবাকে আরও কার্যকর করতে আলেম সমাজের উচিত আধুনিক পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প গ্রহণ করলে মানবকল্যাণের পরিধি আরো বিস্তৃত হবে। এতে ইসলামের দয়া, ন্যায় ও সহমর্মিতার শিক্ষা মানুষের সামনে আরো উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠবে।

    আলেম সমাজ শুধু ধর্মীয় নেতা নন; তারা সমাজের বিবেক, নৈতিকতার পথপ্রদর্শক এবং মানবকল্যাণের অগ্রদূত। তাদের পরিচালিত মানবসেবামূলক কার্যক্রম ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্যকে মানুষের সামনে তুলে ধরে। আজকের সমাজে এমন আলেম ও এমন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন আরো বেশি, যারা মানুষকে শুধু কথায় নয়, কর্মের মাধ্যমেও ইসলামের মহান আদর্শের সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দেবে। মানবসেবায় নিবেদিত আলেম সমাজই পারে একটি সহমর্মী, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে।

  • দুর্যোগ মোকাবিলায় ইসলামের শিক্ষা

    দুর্যোগ মোকাবিলায় ইসলামের শিক্ষা

    প্রকৃতির নিয়মে পৃথিবীতে নানা ধরনের দুর্যোগ আসে। কখনো বন্যা, কখনো ঘূর্ণিঝড়, কখনো ভূমিকম্প, কখনো অগ্নিকাণ্ড, আবার কখনো অতিবৃষ্টি বা খরায় মানুষের স্বাভাবিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এসব দুর্যোগে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারান, লাখো পরিবার গৃহহীন হয়, কৃষকের ফসল নষ্ট হয়, জীবিকা হারিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন অসংখ্য মানুষ। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে সহজ করেছে বটে, কিন্তু প্রকৃতির প্রবল শক্তির সামনে মানুষ আজও অসহায়। এমন বাস্তবতায় ইসলাম দুর্যোগকে শুধু একটি প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে দেখে না; বরং এটি ঈমান, আত্মসমালোচনা, মানবিকতা এবং দায়িত্ববোধের আলোকে মূল্যায়ন করে। পাশাপাশি ইসলাম দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য এমন কিছু নীতিমালা প্রদান করেছে, যা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব পর্যায়েই প্রাসঙ্গিক।

    ১. ইসলাম শিক্ষা দেয়—দুর্যোগের সময় একজন মুমিন আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা রাখবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি অবশ্যই তোমাদের কিছুটা ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষতি দ্বারা পরীক্ষা করব। আর ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন।’ (সুরা আল-বাকারা : ১৫৫) এই আয়াত আমাদের জানিয়ে দেয়, বিপদ-মসিবত জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই দুর্যোগে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা একজন মুমিনের প্রথম পরিচয়।২. দুর্যোগের সময় তাওবা, ইস্তিগফার ও দোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। বিপদ মানুষকে তার অসহায়ত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই আল্লাহর দিকে ফিরে আসা, বেশি বেশি ইস্তিগফার করা, সালাত আদায় করা এবং আন্তরিকভাবে দোয়া করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।’ (সুরা আল-বাকারা : ৪৫) একজন মুমিন জানেন, প্রকৃত সাহায্য একমাত্র আল্লাহর কাছ থেকেই আসে।

    ৩. ইসলাম শুধু দোয়ার শিক্ষা দেয় না; বরং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও বাস্তব উদ্যোগ গ্রহণেরও নির্দেশ দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) এক সাহাবিকে বলেছিলেন, ‘আগে উটটি বেঁধে রাখো, তারপর আল্লাহর ওপর ভরসা করো।’ (জামে তিরমিজি) এই হাদিস আমাদের শেখায়, সতর্কতা, পরিকল্পনা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী নয়; বরং তারই অংশ। তাই দুর্যোগের পূর্বাভাস মেনে চলা, নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া, উদ্ধার-প্রস্তুতি গ্রহণ এবং ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থা করা ইসলামি দৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ।

    ৪. দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো ঈমানের দাবি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অন্যকে সহযোগিতা করো।’ (সুরা আল-মায়িদাহ : ২) বন্যার্ত মানুষের জন্য খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, পোশাক ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া—এসবই ইসলামের দৃষ্টিতে মহৎ ইবাদত।

    রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের একটি দুনিয়াবি কষ্ট দূর করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার একটি কষ্ট দূর করবেন।’ (মুসলিম : ২৬৯৯) আবার তিনি বলেছেন, ‘আল্লাহ তাঁর বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকে।’ (মুসলিম) এসব হাদিস প্রমাণ করে, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক কাজ নয়; বরং আখিরাতের সফলতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

    ৫. ইসলাম গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়াতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। দুর্যোগের সময় যাচাইহীন তথ্য, অতিরঞ্জিত সংবাদ বা আতঙ্ক সৃষ্টিকারী প্রচারণা মানুষের কষ্ট আরো বাড়িয়ে দেয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনরা! যদি কোনো ফাসিক ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তা যাচাই করে নাও।’ (সুরা আল-হুজুরাত : ৬) বর্তমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে এই নির্দেশনার গুরুত্ব বহুগুণ বেড়েছে।

    ৬. ইসলাম দুর্যোগকে কেন্দ্র করে অন্যায় লাভের সব পথ বন্ধ করতে চায়। ত্রাণ আত্মসাৎ, মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি কিংবা দুর্নীতির মাধ্যমে মানুষের অসহায়ত্বকে কাজে লাগানো ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ। একজন মুসলমান সংকটকে ব্যবসার সুযোগ নয়, বরং সেবার সুযোগ হিসেবে দেখেন।

    ৭. দুর্যোগের সময় ইখলাস বা একনিষ্ঠতার গুরুত্ব অপরিসীম। দান-সদকা কিংবা মানবসেবা মানুষের প্রশংসা অর্জনের জন্য নয়; বরং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হওয়া উচিত। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা খোঁটা দিয়ে ও কষ্ট দিয়ে তোমাদের দানকে নষ্ট করো না।’ (সুরা আল-বাকারা : ২৬৪) তাই সাহায্য এমনভাবে করতে হবে, যাতে বিপদগ্রস্ত মানুষের আত্মসম্মান অক্ষুণ্ণ থাকে।

    ৮. ইসলাম দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের ওপরও গুরুত্ব দেয়। শুধু ত্রাণ বিতরণ করেই দায়িত্ব শেষ হয় না। ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ, জীবিকা ফিরিয়ে আনা, শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা, অসুস্থদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনাও ইসলামি দায়িত্বের অংশ। মানবকল্যাণে ধারাবাহিক প্রচেষ্টাই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা।

    সবশেষে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার। কোনো নির্দিষ্ট দুর্যোগ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে ‘এটি আল্লাহর গজব’ বলে ঘোষণা দেওয়া আমাদের কাজ নয়, যদি সে বিষয়ে কোরআন-সুন্নাহতে স্পষ্ট দলিল না থাকে। একজন মুমিনের কাজ হলো বিপদ থেকে শিক্ষা নেওয়া, নিজের আমল পর্যালোচনা করা, তাওবা করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

    আজ আমাদের দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দুর্যোগের সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়ছে। এই বাস্তবতায় ইসলামের শিক্ষা আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়—দুর্যোগ শুধু রাষ্ট্র বা কোনো প্রতিষ্ঠানের একার দায়িত্ব নয়; এটি পুরো সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। ব্যক্তি, পরিবার, মসজিদ, মাদরাসা, সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবক, ব্যবসায়ী এবং রাষ্ট্র—সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় দুর্যোগের ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

  • ছাত্রশিবিরের আয়োজনে ঢাবিতে লীগ ধর ম্যারাথন ও চিত্রপ্রদর্শনীর উদ্বোধন

    ছাত্রশিবিরের আয়োজনে ঢাবিতে লীগ ধর ম্যারাথন ও চিত্রপ্রদর্শনীর উদ্বোধন

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৭ জুলাই ‘সন্ত্রাস প্রতিরোধ দিবস’ পালন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। এ উপলক্ষে তারা ‘লীগ ধর’ ম্যারাথন এবং ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ নামের তিন দিনব্যাপী চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করে।

    ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই ঢাবি ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগকে তাড়ানোর ঘটনাকে স্মরণ করতে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়।

    শুক্রবার ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘লীগ ধর’ ম্যারাথনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। ম্যারাথনের রুট নির্ধারণ করা হয় কার্জন হল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, টিএসসি, তোরণ, মহসিন হল ও সূর্যসেন হল হয়ে কলাভবন পর্যন্ত।

    ম্যারাথন শেষে সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় তিন দিনব্যাপী বিশেষ চিত্রপ্রদর্শনী ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ১৭, ১৮ ও ১৯ জুলাই পর্যন্ত এই প্রদর্শনী চলবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।

    অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ, ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি কাজী আশিক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মু. সাজ্জাদ হোসাইন খাঁনসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণ, শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং আন্দোলনের চেতনা ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘১৭ জুলাই সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাস থেকে তাড়ানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নয়া আজাদির সূচনা করেছিল, যার চূড়ান্ত রূপ আসে ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতনের মাধ্যমে। জুলাইয়ের শহীদদের বিচার নিশ্চিত করতে এবং তাদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়তে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।’

    তিনি আরো বলেন, জুলাই আন্দোলন শুধু একটি ছাত্র আন্দোলন ছিল না। তা দেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই ইতিহাসকে জীবন্ত রাখার দায়িত্ব বর্তমান প্রজন্মের।

    ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ‘গণপরিসর থেকে জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিকে ভুলিয়ে দেওয়ার নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে। কিছু ব্যক্তি পুনরায় ফ্যাসিবাদের বয়ান প্রতিষ্ঠা করতে চায়। জুলাইয়ে বাংলাদেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ, আন্দোলন এবং ফ্যাসিবাদের জুলুম-নিপীড়নের ইতিহাসকে বারবার জনপরিসরে নিয়ে আসতে হবে।’

    তিনি আরো বলেন, ইতিহাস বিকৃতির যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি কাজী আশিক বলেন, দুই সহস্রাধিক শহীদ ও অসংখ্য গাজীর আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যেই ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ শীর্ষক এই বিশেষ চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

    তিনি জানান, প্রদর্শনীতে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতিচারণ, বিভিন্ন আলোকচিত্র,ও ফ্যাসিবাদী শাসনামলের বিভিন্ন নিপীড়নের দলিল স্থান পেয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের নানা স্মারক, ইনকিলাবি সংগীত এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন রয়েছে। দর্শনার্থীরা আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের ঘটনাপ্রবাহ ও দমন-পীড়নের চিত্র দেখতে পারবেন।

    কাজী আশিক বলেন, ‘আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত আমাদের এই আয়োজন চলবে, ইনশাআল্লাহ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিককে প্রদর্শনীটি পরিদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছি।’

    আয়োজকরা জানান, ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ প্রদর্শনীর তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে প্রতিদিন দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনী উন্মুক্ত থাকবে। এ ছাড়া প্রতিদিন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও স্মৃতিচারণমূলক পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।

  • চৌগাছায় ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া ও মোনাজাত

    চৌগাছায় ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া ও মোনাজাত

    যশোরের চৌগাছায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেলা ১১ টায় চৌগাছা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইসলাম।

    সভায় বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি, এম, এ , মুনীব, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন, চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ পিপিএম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম বজলুর রশীদ, চৌগাছা পৌর বিএনপির সেক্রেটারি আব্দুল হালিম চঞ্চল, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চৌগাছা উপজেলা আহবায়ক রাশিদুল ইসলাম রিতম, প্রেসক্লাব চৌগাছার সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানের শেষে চৌগাছার জুলাই শহীদ আল্ আমীনের পিতাকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপহার প্রদান করা হয়।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই শহীেদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। আলোচনা সভার শেষে জুলাই শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে এবং জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও আহদের জন্য এবং দেশ ও জাতীর উন্নতি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা শাহজান আলী।

    বক্তারা জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তাঁদের আদর্শ ধারণ করে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

  • সৈনিকদের টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা করবে যুক্তরাষ্ট্র

    সৈনিকদের টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা করবে যুক্তরাষ্ট্র

    যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে টেস্টোস্টেরন হরমোনের ঘাটতি পরীক্ষা করা হবে। ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী সেনা সদস্যদের বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে এই পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

    এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। সামাজিক মাধ্যম এক্সে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে হেগসেথ বলেন, সামরিক বাহিনীর সদস্যরা যাতে নিজেদের সেরা সক্ষমতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই স্ক্রিনিং কর্মসূচির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যেসব সেনার টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কম পাওয়া যাবে, তাদের ঐচ্ছিক হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির সুবিধা দেয়া হবে। তবে ৩০ বছরের কম বয়সীদের জন্য এই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়, বরং তারা চাইলে এটি করাতে পারবেন।

    হেগসেথ বুধবারের ভিডিওতে আরও বলেন, আমাদের যোদ্ধাদের বিশ্বের সেরা চিকিৎসা সেবা প্রদান করার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, এই কর্মসূচি তারই অংশ। অবশ্য এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া নারী সেনাসদস্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে কি না, তা হেগসেথ নির্দিষ্ট করে জানাননি, যদিও বয়সের সঙ্গে সঙ্গে নারীদের শরীরেও টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যায়।

    পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল এক বিবৃতিতে জানান, সক্রিয় ও রিজার্ভ উভয় বাহিনীর ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী সকল সদস্যদের জন্য এই টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পরীক্ষা অবিলম্বে কার্যকর করা হবে। এই ঘোষণার পর ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞ সেনাসদস্য এবং সশস্ত্র সেবা কমিটির সদস্য, ডেমোক্রেটিক সিনেটর ট্যামি ডাকওয়ার্থ প্রতিরক্ষা সচিবের প্রতি পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই এই হরমোন পরীক্ষার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

    তবে গত বছর সামরিক বাহিনীতে টেস্টোস্টেরন ব্যবহার ও স্ক্রিনিং নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের নেতৃত্ব দেয়া ডক্টর মোহিত খেরা বুধবার জানান, ৩০ বছরের বেশি বয়সী সব পুরুষেরই এই পরীক্ষা করানো উচিত, কারণ এটি একজন মানুষের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সামগ্রিক স্বাস্থ্যের প্রধান সূচক।

    বেলর কলেজ অব মেডিসিনের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক খেরা বলেন, মূল বিষয় হলো অনেক যুবকের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কম থাকে, যা তাদের পেশি ও শক্তির ক্ষেত্রে পিছিয়ে দেয়। যুদ্ধক্ষেত্রে থাকলে এটি একটি বড় সমস্যা হতে পারে। তবে তিনি এও যোগ করেন যে কোনো লক্ষণ না থাকলে কাউকে শুধু শুধু টেস্টোস্টেরন দেয়া যাবে না এবং এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির সুবিধা সম্পর্কে তিনি ব্যাখ্যা করেন যে এটি পেশির ভর বাড়ায়, চর্বি জমতে বাধা দেয় এবং বিষন্নতার ঝুঁকি কমায়।

    সময়ের সাথে সাথে এটি হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতেও সাহায্য করতে পারে। তবে এটি সবার জন্য নয় বলে তিনি সতর্ক করেছেন। খেরা বলেন, তরুণরা টেস্টোস্টেরন নিলে তা তাদের বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে। তাই কেউ যদি সন্তান নেয়ার বয়সে থাকেন, তবে তাকে অবশ্যই বুঝতে হবে যে এটি তাকে বন্ধ্যা করে দিতে পারে।

    এছাড়া তাত্ত্বিকভাবে এর ফলে হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র এবং প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা চিকিৎসকদের জন্য পুরুষদের টেস্টোস্টেরন প্রেসক্রিপশন লেখার বাধাগুলো দূর করার চেষ্টা করার পরপরই হেগসেথের এই ঘোষণা এলো। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এটিকে জাতীয় প্রজনন সংকটের সমাধান হিসেবেও সামনে এনেছেন।

  • লালমনিরহাটে পানিতে ডুবে স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু

    লালমনিরহাটে পানিতে ডুবে স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু

    লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার মদাতী ইউনিয়নে নদীর পানিতে গোসল করতে নেমে জাকিয়া সুলতানা জিসা নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) উপজেলার কৈটারী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত জাকিয়া সুলতানা জিসা জাহাঙ্গীর আলম ও জোহরা বেগম দম্পতির মেয়ে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    জানা গেছে, অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শেষে পাঁচ বান্ধবীকে সাথে নিয়ে বাড়ির পাশের ছড়ায় গোসল করতে যায় জিসা। গোসলের সময় হঠাৎ পানির স্রোতে গভীর অংশে চলে গিয়ে সে নিখোঁজ হয়। তার সাথে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরা চিৎকার করলে স্থানীয়রা ছুটে আসেন এবং উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।

    খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয়দের সাথে যৌথভাবে অভিযান চালান। প্রায় দুই ঘণ্টা পর গভীর পানি থেকে জিসার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মো: ওসমান গনি জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে পারিবারিকভাবে দাফন করা হয়।

  • কিছু মহল সরকারকে বিব্রত করতে চায়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    কিছু মহল সরকারকে বিব্রত করতে চায়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া, পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ভুল ও প্রশ্নের মান নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও সমাবেশের প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন কিছু মহল সরকারকে বিব্রত করতে চায়।

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা দেখেছি, এই আন্দোলনে অনেক অছাত্রও এসেছিল। তাই এখন পর্যন্ত বিষয়টিকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি না। সরকারকে বিব্রত করতে চায় কিছু মহল। তারা মূলত ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও এমন আন্দোলনের প্রবণতা দেখা গিয়েছিল।

    তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রীকে জানিয়েছে, সরকারকে জানিয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে যে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী যদি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে ব্যর্থ হয় তাদের আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পদার্থবিজ্ঞানের দুটি প্রশ্ন ভুল হয়েছিল, সে জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত পরিচালনা করবে। দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেবে। তবে ওই দুটি প্রশ্নের নম্বর যুক্ত করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যারা পরীক্ষার্থী তারা সন্তুষ্ট। এর পরেও যদি কেউ তার পরের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করে থাকে বা না করতে পারে, তাদের পরবর্তীতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা চলার সময় সুযোগ দেওয়া হবে। এখানে তো সমস্যার সমাধান হয়ে গেল।

    এসময় তিনি বলেন, একটা মন্তব্যের কারণে অনেকে দুঃখ পেয়েছেন, আর সে জন্য শিক্ষামন্ত্রী সংসদে তার বক্তৃতায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

    যারা সরকারকে বিব্রত করতে চাচ্ছে তাদের জন্য কী বার্তা, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এগুলো আমরা খুব একটা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি না। আমরা দু-একটি জেলায় ও ঢাকার দু-একটি স্পটে দেখেছি, তাদের সংখ্যা বেশি না যারা এগুলো নিয়ে কথা-বার্তা বলছে। হয়তো মিডিয়াতে এসেছে, এ জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে। এগুলোতে আমরা মনোযোগ দিচ্ছি না।

  • পাঠদানের অনুমতি পেল আরো ৬৫৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

    পাঠদানের অনুমতি পেল আরো ৬৫৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের ৬৫৪টি বেসরকারি স্বতন্ত্র কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিম্ন-মাধ্যমিক (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে পাঠদান পরিচালনার অনুমতি দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো অনুমতিপত্র সংগ্রহ করেনি, তাদের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত অনুমতিপত্র সংগ্রহের নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ গত ২ ফেব্রুয়ারির চিঠি অনুযায়ী অনুমোদনহীন বেসরকারি স্বতন্ত্র কারিগরি শিক্ষার এসএসসি (ভোকেশনাল)/দাখিল (ভোকেশনাল) প্রতিষ্ঠানে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে নিম্ন-মাধ্যমিক (ভোকেশনাল) (ষষ্ঠ-অষ্টম শ্রেণি) শিক্ষাক্রম পরিচালনার জন্য ৬৫৪টি প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক অনুমতি দেওয়া হয়েছে।তে আরও বলা হয়, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো নিম্ন-মাধ্যমিক (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রমের পাঠদানের অনুমতিপত্র সংগ্রহ করেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানকে প্রথমে চেয়ারম্যান বরাবর একটি প্রতিষ্ঠানপত্র দিয়ে পাঠদান পরিচালনার সক্ষমতার বিষয়ে অবহিত করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পাঠদানের অনুমতিপত্রের কপি সংগ্রহ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা দেখুন এখানে…….

  • বাংলাদেশকে ৫০০ শিক্ষাবৃত্তি দেবে সৌদি আরব

    বাংলাদেশকে ৫০০ শিক্ষাবৃত্তি দেবে সৌদি আরব

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিনের সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া।

    বৈঠকে সৌদি সরকার বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে রাজনীতি ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে। বিশেষ করে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সৌদি আরব কীভাবে সহযোগিতা করতে পারে, সে বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি বছর ৫০০ শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। রাষ্ট্রদূত জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যেই তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবহিত করেছেন।

    বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে প্রবেশকে আরও সহজ করা এবং এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়মতান্ত্রিক জটিলতা দূর করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

    এ ছাড়া হজ ও ওমরাহ, দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টির বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সাথে রাষ্ট্রদূতের আলাপ হয়।

    বর্তমানে সৌদি আরবে বসবাসরত প্রায় ৩৮ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি সৌদি আরবের অর্থনীতি ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। একই সঙ্গে তাদের পা

    ঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে উভয় সরকার গুরুত্বারোপ করে।

    সাক্ষাতে সৌদি প্রতিনিধিদলের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন ভাইস অ্যাম্বাসেডর খালিদ সাঈদ এম. আল হাদাল এবং ডেপুটি হেড অব দ্যা কনসুলার সেকশন মুহাম্মদ ফাহাদ ধি. আল সুহাইমি।

  • ভুয়া পরিচয়ে আন্দোলন, থানায় অভিযোগ

    ভুয়া পরিচয়ে আন্দোলন, থানায় অভিযোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    মাইলস্টোনের কলেজের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে এইচএসসি পরীক্ষা ও প্রশ্নপত্র-সংক্রান্ত আন্দোলনে সরকার বিরোধী উস্কানীমূলক বক্তব্য দেয়া এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। সেই ছাত্রী আগেই মাইলস্টোন কলেজ থেকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট নিয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর তুরাগ থানায় এ বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করার জন্য আবেদন করা হয়েছে।

    জানা যায়, অভিযুক্তের নাম রুবাইয়া মেহজাবিন সুহি। তিনি মাইলস্টোন কলেজের কলেজ কোড নং-৮০৭৪, বিজ্ঞান বিভাগ (ইংরেজি মাধ্যম)-এর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের একজন ছাত্রী ছিলেন। শৃঙ্খলাজনিত কারণে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অনুমতিক্রমে তাকে মাইলস্টোন কলেজ থেকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টি.সি.) দেয়া হয়। ফলে সে এখন আর মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থী নয় এবং প্রতিষ্ঠানের কোনো পরিচয় ব্যবহারের অধিকারও তার নেই। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত একটি ভিডিয়োতে দেখা যায় যে, ওই ছাত্রী মাইলস্টোন কলেজের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে এইচএসসি পরীক্ষা ও প্রশ্নপত্র-সংক্রান্ত আন্দোলনে সরকার বিরোধী উস্কানীমূলক জোরালো বক্তব্য দিয়েছে। সে মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থী না থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ব্যবহার করছেন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে।

    মাইলস্টোন কলেজের সিকিউরিটি অফিসার মুহাম্মদ জহুরুল ইসলাম কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ হয়ে এ বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ জানান।

  • মাউশির ডিজির নামে ভুয়া কল!

    মাউশির ডিজির নামে ভুয়া কল!

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে একটি প্রতারক চক্র বদলি, নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রশিক্ষণের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা দাবি করার ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। এবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলের ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে একটি নম্বর থেকে দেয়া হচ্ছে ভুয়া কল। এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকা এবং কোনো আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) মাউশি অধিদপ্তর এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে অবগত করেছে।

    মোবাইল নম্বরটি হলো ০১৯৪২-১৯১৯৫৮।

    এর আগেও ৬ জুলাই মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে একটি প্রতারক চক্র বদলি, নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রশিক্ষণের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা দাবি করার তথ্য জানানো হয়। সে সময় সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয় মাউশি।

    এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বিভিন্ন প্রতারক চক্র মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ও এর আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর বা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে পদোন্নতি, নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও বদলিসহ বিভিন্ন কাজ করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ দাবি করছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই অসাধু চক্রটি কর্মকর্তাদের ছবি ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে কল বা মেসেজের মাধ্যমেও অর্থ দাবি করছে বলে বিভিন্ন সূত্রে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, মাউশির আওতাধীন কোনো কর্মকর্তা বা অন্য কোনো পরিচয় দিয়ে কাজ করিয়ে দেওয়ার নামে কেউ যদি অর্থ দাবি করে, তবে সঙ্গে সঙ্গে ওই প্রতারকের ফোন নম্বর নিকটস্থ থানায় অবহিত করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াসহ এই বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার জন্য মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দিয়েছে মাউশি।

  • শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হলেন ঢাকার এডিসি ফারজানা

    শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হলেন ঢাকার এডিসি ফারজানা

    জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬-এ দেশসেরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নির্বাচিত হয়েছেন সোনারগাঁ উপজেলার সাবেক ইউএনও এবং বর্তমানে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফারজানা রহমান

    প্রাথমিক শিক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বুধবার (১৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার হাতে এই সম্মাননা পদক তুলে দেন।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার বিস্তার, স্বাস্থ্যসেবা, সহশিক্ষা কার্যক্রম জোরদার এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যতিক্রমী নানা উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তিনি এ গৌরব অর্জন করেন।

    জানা গেছে, সোনারগাঁয় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ফারজানা রহমান প্রাথমিক শিক্ষাকে একটি সমন্বিত উন্নয়ন কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসেন। তার নেতৃত্বে উপজেলার ১১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ ও উপস্থিতি বাড়াতে চালু করা হয় ‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচি। এ ছাড়া বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করতে ১৫টি বিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালু এবং তথ্য-প্রযুক্তিতে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে ৪৫ জন শিক্ষার্থীকে মৌলিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

    প্রশিক্ষণ শেষে অনুশীলনের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে ল্যাপটপও বিতরণ করেন তিনি।
    শিক্ষার্থীদের যুক্তিবোধ, নেতৃত্ব ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি উপজেলায় চালু করেন আন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা। একই সঙ্গে প্রথম শ্রেণির প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য ‘বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্ড’ চালু করা হয়, যার মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসাসেবা এবং বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়।

    এ ছাড়া বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মাদকবিরোধী সচেতনতা, ভূমিসেবা ও সামাজিক মূল্যবোধ তৈরিতে তিনি বিদ্যালয়ভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেন।

    শিক্ষার্থীদের আর্থিক বৈষম্য দূর করতে শতভাগ স্কুল ইউনিফর্ম নিশ্চিতের উদ্যোগ নেন ফারজানা রহমান। অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী ইউনিফর্ম, জুতা, ব্যাগ, খাতা ও কলম বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোতে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে ডাস্টবিন সরবরাহ, ফুলের বাগান তৈরি, ফলজ গাছ রোপণসহ মনোরম শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা হয়।

    পাশাপাশি অভিভাবকদের বসার সুবিধার্থে বিদ্যালয়ে ‘অভিভাবক ছায়াতল’ নির্মাণ, নিয়মিত ক্লাস্টারভিত্তিক বিদ্যালয় পরিদর্শন ও তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধান, মাঠ ভরাট, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, গাইড ওয়াল স্থাপনসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমও তাঁর নেতৃত্বে বাস্তবায়িত হয়।

    শিক্ষার্থীদের খেলাধুলাকে উৎসাহিত করতে ক্রীড়াসামগ্রী ও ফুটবল টুর্নামেন্টের জন্য জার্সিও বিতরণ করা হয় তার উদ্যোগে।