শিক্ষা ও সাহিত্য

  • ‘শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি যৌক্তিক পর্যায়ে পড়ে না’

    ‘শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি যৌক্তিক পর্যায়ে পড়ে না’

    চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত এবং শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিকে যৌক্তিক নয় বলে মনে করেন অনেক শিক্ষার্থীই। অনেকে আবার পরীক্ষা স্থগিত করে অটোপাস দেওয়ার বিপক্ষেও নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন। আজ বুধবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীরা এমন কথা জানিয়েছেন।

    রাজধানীর ফার্মগেটে এক ছাত্র বলেন, ‘আন্দোলনের দাবির মধ্যে ফিজিক্স পরীক্ষা পেছানো উচিত ছিল এক দিন বা দুই দিন। এই দাবিই শুধু ঠিক, এর বাইরে আর কোনো দাবি যৌক্তিক না। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করতে হবে, এগুলো যৌক্তিক দাবির পর্যায়ে পড়ে না। শিক্ষামন্ত্রী নতুন এসেছেন, তাকে তো সময় দিতে হবে কাজ করার জন্য। তখন না হয় উনাকে বলা যাবে, এখন তো নতুন করে উনাকে নামানো (পদত্যাগ করানো) ঠিক হবে না আর কি, এটা যৌক্তিক দাবি না।’

    চট্টগ্রামে এক সাধারণ শিক্ষার্থী আন্দোলনরতদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি ওদের এক বছর আগে পরীক্ষা দিছি। সাতটা সৃজনশীল প্রশ্নে আমাদের পরীক্ষা দিতে হয়েছে। তাই আমি বলব, তোমরা পরীক্ষা স্থগিত করেছ চট্টগ্রামে। অন্য জেলায় কি হচ্ছে, অন্য জেলায় কি হচ্ছে সেটা অন্য জেলায়। তোমরা এই জিনিসটাকে মোড় দিয়ে অন্যদিকে নিয়ে যাইও না। আমরা ২৪-এ কী হয়েছে দেখছি, এর আগে ১৮ সালে কী হয়েছে দেখছি। আল্লাহর ওয়াস্তে দেশটাকে দাঁড়াইতে দাও। দেশের অবস্থা ভালো না। তোমরা এখন ইয়াং, রক্ত গরম, তোমরা বোঝ না রাজনীতি কী, অর্থনীতি কী, গোপনীয়তা কী, তোমরা শুধু উনিশ-বিশ হলেই আন্দোলন কর।’

    ঢাকা সিটি কলেজের এক ছাত্রী বলেন, ‘বাস ভাঙা কোনো সলিউশন (সমাধান) না। আমি এটা সমর্থন করব না অবশ্যই। এখানে সাধারণ মানুষ ছিল, যাত্রী ছিল, এই বাস ভাঙা কোনো সলিউশন না। হয়তো উত্তেজনা থাকে কিছু স্টুডেন্টের যারা হলো এই বাস ভাঙার সঙ্গে উত্তেজনা ছিল। তো এর মানে এই নয় যে সব স্টুডেন্ট এর সঙ্গে আছে যে আমরা গিয়ে বাস ভাঙব। যেখানে সেখানে বাস দেখলে ভাঙব, এমন কিছু না।’

    চাঁদপুরের এক ছাত্রী বলেন, ‘অটোপাস হলে অবশ্যই খারাপ হবে। আমরা অটোপাস চাই না, আমরা চাই যেভাবে পরীক্ষা হচ্ছে, পরীক্ষাগুলো এভাবেই কন্টিনিউ হোক।’

    এ সময় তার পাশের এক ছাত্রী বলেন, ‘আলহামদুল্লিলাহ পরীক্ষা অনেক ভালো হয়েছে। প্রথম পার্টের তুলনায় সেকেন্ড পার্ট অনেক ভালো হয়েছে। এমন পরীক্ষা হলে আলহামদুল্লিলাহ ভালো একটা রেজাল্ট আশা করা যায়। পরীক্ষা যদি স্থগিত করে দেয়, তাহলে তো আমাদের জন্যই ক্ষতি। বর্তমানে আমাদের পড়ালেখার গতি, সেটা স্থগিত হলে আমাদের নতুন করে পড়ালেখায় মন বসাতে কষ্ট হবে।’

  • পরীক্ষা নির্বিঘ্নে পরীক্ষাসম্পন্ন করতে সরকারের ৫ উদ্যোগ

    পরীক্ষা নির্বিঘ্নে পরীক্ষাসম্পন্ন করতে সরকারের ৫ উদ্যোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ৫টি শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এর মধ্যে অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের দুটি ভুল প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর প্রদান এবং প্রশ্নপ্রণয়নে দায়ীদের সাময়িক বরখাস্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও রয়েছে।

    বুধবার (১৫ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

    দৈনিক শিক্ষাডটকমের পাঠকদের জন্য মাহদী আমিনের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

    আজ চট্টগ্রাম বোর্ড ব্যতীত সারাদেশে ২,৫৮৩টি পরীক্ষা কেন্দ্রে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য উন্নতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও যথেষ্ট উদ্দীপনা ও উৎসাহ নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। সম্প্রতি বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষা গ্রহণে জটিলতা নিরসনে নির্বাচিত সরকার সময়োপযোগী ও শিক্ষার্থীবান্ধব কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

    ১। সারাদেশের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ, এবং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে, বিপুল-সংখ্যক সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষার্থীর স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে, সর্বসম্মতিক্রমে পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া সারাদেশে পরীক্ষা চালু রাখা হয়েছে।

    ২। কোথাও যাতায়াত বা জলাবদ্ধতার কারণে সমস্যা হলে প্রয়োজনে কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত, কিংবা পরীক্ষার সময় বৃদ্ধিসহ যে কোনো প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।৩। প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট অনিবার্য কারণে যারা চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কোনো বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেনি, সেই অনুপস্থিত শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ইতোমধ্যে স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিন্ন পরীক্ষাপত্রে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত একই তারিখ ও সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।

    ৪। পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের দুটি ভুল প্রশ্নের জন্য সকল পরীক্ষার্থীকে ফুল মার্কস দেওয়া হবে।

    ৫। পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নে দায়ী ব্যক্তিদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এইচএসসি শুধু একটি পরীক্ষা নয়; এটি আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কারিগরদের ভবিষ্যৎ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। এ কারণে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরীক্ষা পরিচালনায় সচেষ্ট রয়েছে। সেই পথযাত্রায় শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম অগ্রাধিকার

  • ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩৯১

    ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩৯১

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৩৯১ জন।

    আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়াদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৭০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৩ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪৭ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৯ জন, খুলনা বিভাগে ৭২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১২ জন, রংপুর বিভাগে ৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৯ হাজার ৩৭০ জন। এর মধ্যে ৬১ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৯ শতাংশ নারী রয়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় দুজনের মৃত্যু নিয়ে চলতি মাসে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২ জনে। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে জুন মাসে—১৩ জন। আর জানুয়ারিতে দুই, ফ্রেবুয়ারিতে দুই ও মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

  • সচিবালয়ে প্রবেশের চেষ্টা শিক্ষার্থীদের, পুলিশের বাধা

    সচিবালয়ে প্রবেশের চেষ্টা শিক্ষার্থীদের, পুলিশের বাধা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সচিবালয়ে প্রবেশের চেষ্টা পণ্ড করে দিয়েছে পুলিশ।

    বুধবার বিকেলে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ের অবস্থান ছেড়ে সচিবালয়ে এসে পৌঁছায় শিক্ষার্থীরা।

    এ সময় তারা সচিবালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের বাধা দেয়। এরপর তারা সেখানেই অবস্থান নেয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুরো এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে জলকামান।

    এদিকে একই দাবিতে রাজধানী উত্তরায় আবারও সড়ক অবরোধ করেছেন এইচএসসি শিক্ষার্থীরা। আজ বুধবার দুপুর দেড়টার পর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করে। রাজধানী ছাড়াও বিভিন্ন জেলাতেও একই দাবিতে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা।এর আগে গত মঙ্গলবার সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। পরে মঙ্গলবার রাতের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের আল্টিমেটাম দিয়ে ‘মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচি ঘোষণা করে সড়ক ছাড়ে তারা। এরপর আজ আবারও বিকেলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করে। একই দাবিতে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকাতেও অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা।

    এদিকে একই দাবিতে গত মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস এলাকায় বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানে চলে যান তারা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে বিজিবি মোতায়েন করা হয়।পরে সন্ধ্যায় সংসদ অধিবেশনে শিক্ষার্থীদের নিয়ে করা মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

    বিগত বেশ কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চট্টগ্রাম বোর্ডের সব পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে অন্য বোর্ডগুলোর পরীক্ষা যথারীতি চলছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা চলমান এইচএসসি পরীক্ষা কিছুদিন পেছানোর অনুরোধ জানিয়েছিল।

    এর মধ্যে গত সোমবার প্রবল বর্ষণে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে পরীক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। মূলত এরপরই শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনা শুরু হয়।

  • শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৬ দফা দাবিতে সচিবালয় অভিমুখে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

    শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৬ দফা দাবিতে সচিবালয় অভিমুখে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চলমান দুর্যোগ, টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগসহ ছয় দফা দাবিতে সচিবালয় অভিমুখে যাত্রা করেছেন উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষার্থীরা।

    বুধবার বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীতে বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এর আগে বেলা ১১টার দিকে তারা রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করলে আশপাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা ভোগান্তিতে পড়েন।

    কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ‘ তুমি কে, আমি কে, ফার্মের মুরগি,’ ‘দফা এক, দাবি এক মিলনের পদত্যাগ’, ‘আমাদের ন্যায্য দাবি মানতে হবে, মানতে হবে’, ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’ এবং ‘অ্যাকশন, অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

    আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীরা বলেন, চলমান দুর্যোগ, জলাবদ্ধতা ও সার্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনেক শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকেই নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেনি, আবার অনেক শিক্ষার্থী মানসিক চাপের মধ্যেও পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধ্য হয়েছে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় পুনঃপরীক্ষার সুযোগ, প্রশ্নে ভুল থাকলে পূর্ণ নম্বর প্রদান এবং মূল্যায়নে বিশেষ বিবেচনার দাবি জানান তারা।

    তারা আরো বলেন, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থতার দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ছয় দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নেরও আহ্বান জানান। আর দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

    শিক্ষার্থীদের ঘোষিত ছয় দফা দাবিগুলো হলো

    ১. দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত পরীক্ষাগুলো পুনরায় দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ২. একই বিষয়ে পুনঃপরীক্ষা হলে পূর্বের পরীক্ষা ও পুনঃপরীক্ষার মধ্যে যে পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়া যাবে, সেটিই চূড়ান্ত ফল হিসেবে গণ্য করতে হবে। ৩. প্রশ্নপত্রে ভুল বা অসংগতি থাকা প্রশ্নের পূর্ণ নম্বর সব পরীক্ষার্থীকে দিতে হবে। ৪. বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে প্রস্তুতির জন্য কিছুদিন বিরতি দিয়ে পরে পরীক্ষা শুরু করতে হবে। ৫. হঠাৎ প্রশ্নপত্রের ধরন পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নম্বরায়ন করতে হবে। ৬. পরীক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় কঠোর আচরণ থেকে বিরত থাকতে হবে।

  • জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যা মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

    জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যা মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইন হত্যা মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ।

    অভিযোগপত্রের আসামিরা হলেন, জোবায়েদের ছাত্রী ও প্রেমিকা বার্জিস শাবনাম বর্ষা, বর্ষার প্রেমিক মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান। পুলিশের ভাষ্য, মাহির ছিলেন মূল হামলাকারী, বর্ষা হত্যার পরিকল্পনাকারী এবং আয়লান সহযোগী।

    বংশাল থানার এসআই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন সম্প্রতি ঢাকার আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে ৫০ জন সাক্ষীর বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফরেনসিক, ডিএনএ এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

    অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার ১৫ নুরবক্স লেনের রৌশান ভিলা বাসায় ছাত্রী বর্ষাকে পড়াতে গিয়ে খুন হন তিনি। সেদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ছাত্রী বর্ষার বাসার নিচতলায় জোবায়েদকে ছুরিকাঘাত করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে তিনতলার সিঁড়িতে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

    এ ঘটনায় একদিন পর নিহত জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রায় নয় মাসের তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন।

    তদন্তে উঠে আসে, এটি তাৎক্ষণিক কোনো হামলা ছিল না; বরং এক মাস ধরে পরিকল্পনা, নজরদারি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং সুযোগের অপেক্ষার পর হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়। এছাড়া তদন্তে বর্ষার সঙ্গে জোবায়েদ ও মাহিরের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়ও উঠে এসেছে। জোবায়েদের সঙ্গে বর্ষার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

    মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশতিয়াক হোসেন জিপু বলেন, অভিযোগপত্রটি প্রসিকিউশন বিভাগের জিআরও শাখায় জমা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অভিযোগপত্রটি পর্যালোচনা করছেন বলে জানা গেছে। আগামীকাল (বুধবার) এটি জিআরওতে আসবে। এরপর বিচারকের কাছে উপস্থাপন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, অভিযোগপত্রে ডিএনএ রিপোর্ট মাহিরের সঙ্গে মিলেছে। সেখানে তাঁর ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিও রয়েছে। মাহিরের বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এক নম্বর আসামিসহ কেউই ছাড় পাবে না।

  • এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

    এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, যেসব শিক্ষার্থী বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি তারা চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত একই তারিখে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়া পদার্থ বিজ্ঞান প্রথমপত্রে যে দুটি প্রশ্ন ভুল ছিল সেগুলোতে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।

    বুধবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়ার এক বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনস্থ পাঁচটি জেলা তথা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বাইরেও ঢাকাসহ দেশের কিছু কিছু জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু পরীক্ষার্থী বৈরী আবহাওয়া ও বহুবিধ কারণে নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট অনিবার্য কারণে যারা চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কোনো বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেনি, তারা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ইতোমধ্যে স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত একই তারিখে, ওই সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যেহেতু এইচএসসি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ তাই বিশেষ বিবেচনায় এই বিশেষ সুযোগ প্রদান করা হলো। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, পদার্থ বিজ্ঞান প্রথমপত্রে ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নের দায়ী ব্যক্তিদের ইতোমধ্যেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মাননীয় স্পিকার আমি আবারো বলছি- পদার্থ বিজ্ঞান প্রথমপত্র ছয় নম্বর প্রশ্ন এবং সাত নম্বর প্রশ্নে যে ভুল হয়েছে তার জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।

  • সরকার নারী শিক্ষায় কাজ করছে-জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়

    সরকার নারী শিক্ষায় কাজ করছে-জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়


    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দীতে মাদক, অনলাইন জুয়া, মোবাইল আসক্তি, বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন, ইভটিজিং, আত্মহত্যা প্রতিরোধ এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ে সচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে গাংনী উপজেলা প্রশাসন ও বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে বামন্দী পুরাতন ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মেহেরপুর জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়।

    তিনি বলেন, “সরকার নারী শিক্ষার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছে। প্রতিটি পরিবারকে নিজেদের মেয়েদের শিক্ষা অর্জনের সুযোগ করে দিতে হবে। শিক্ষিত নারীই পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

    সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় বলেন,
    তিনি বলেন, মাদক, অনলাইন জুয়া ও মোবাইল আসক্তি তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এসব সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

    মুক্তিযোদ্ধা ডা. নুরুল হুদার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন গাংনী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল, বামন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাশিদুল ইসলাম সোহাগ, গাংনী উপজেলা যুবদলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব হারুন অর রশীদ বাচ্চু, যুবদল নেতা সম্রাট বিশ্বাস এবং বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ আলম।

    সমাবেশে এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি, সুধীজন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন বন্ধ এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

  • ডিগ্রি কলেজগুলোকে পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    ডিগ্রি কলেজগুলোকে পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সরকার কর্তৃক পর্যায়ক্রমে এমপিওবিহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হলে এবং এমপিওভুক্তির নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এমপিওবিহীন ডিগ্রি কলেজগুলোকে পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।

    শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশে ১ হাজার ৫০টি একাডেমিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ডিগ্রি (পাস) কলেজ এবং ৬৯৮টি একাডেমিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ডিগ্রি (সম্মান) কলেজ রয়েছে।

    এছাড়া বর্তমানে ১ হাজার ৫৬টি ডিগ্রি পর্যন্ত এমপিওভুক্ত কলেজ রয়েছে।

  • শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে সংসদের সামনে শিক্ষার্থীরা

    শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে সংসদের সামনে শিক্ষার্থীরা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও সোমবার এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে অবস্থান নিয়েছেন বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকাল পৌনে ৬টার দিকে তারা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সংসদ ভবনের সামনে চলে যান।

    শিক্ষার্থীদের দাবি, যতক্ষণ না তাদের দাবি মেনে নেওয়া না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

    এর আগে, বিকাল ৫টার সময় সায়েন্সল্যাবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে এ ঘোষণা দেন সিটি কলেজের পরীক্ষার্থী মো. মিরাজ হোসেন বলেন, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে এবং তার অসংগতিপূর্ণ কথাবার্তার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

    গতকাল (১৩ জুলাই) অস্বস্তিকর পরিবেশে যারা পরীক্ষা দিয়েছে এবং যারা পরীক্ষা দিতে পারেনি, তাদের কথা বিবেচনা করে ওই পরীক্ষাটি পুনরায় নিতে হবে। একই সঙ্গে আগামীকালের পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করতে হবে। প্রশ্নপত্রের মানদণ্ডও অবশ্যই শিক্ষার্থীবান্ধব হতে হবে।

    এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রথম দফায় সড়ক অবরোধ করে প্রায় ৪৫ মিনিট অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।

    পরে অবরোধ প্রত্যাহার করে মিছিল নিয়ে ঢাকা কলেজ, নিউমার্কেট হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন।

    সেখান থেকে পুলিশি তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীরা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে গিয়ে কিছু সময় অবস্থান করেন।

    পরে পুনরায় সায়েন্সল্যাব মোড়ে ফিরে এসে দ্বিতীয় দফায় সড়ক অবরোধ শুরু করেন।

    এ সময় সায়েন্স ল্যাব, নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোডসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

    তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মানবিক বিবেচনায় জরুরি সেবার অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে অবাধে চলাচলের সুযোগ দেন।

  • ঢাবিতে আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা, ক্যাম্পাসে বিজিবি মোতায়েন

    ঢাবিতে আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা, ক্যাম্পাসে বিজিবি মোতায়েন

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা টিএসসিতে অবস্থান নিয়েছে। পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি অবস্থানকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

    এর আগে, টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও গত সোমবার এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করেন বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা।

    পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে তারা নীলক্ষেত মোড় হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। বেলা সোয়া ১টার দিকে ভিসি চত্বরের সামনে পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দিলে শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত থেকে টিএসসিগামী সড়কে অবস্থান নেন। এরপরই সেখানে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে মুখোমুখি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

  • ইসরায়েলের সাহায্যে ক্ষমতায় বসতে চেয়েছিলেন আহমাদিনেজাদ?

    ইসরায়েলের সাহায্যে ক্ষমতায় বসতে চেয়েছিলেন আহমাদিনেজাদ?

    হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর ২০২৪ সালের শুরুর দিকে দেশটির সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত এক অনুরোধ পান।

    কর্মকর্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর অধ্যাপক গেরগেলি ডেলিকে জানান, লুডোভিকা ইউনিভার্সিটি অব পাবলিক সার্ভিসে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক একটি সম্মেলনের আয়োজন করতে হবে। সেই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানাতে হবে ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যিনি ব্যাপকভাবে বিতর্কিত।

    এর কারণ ছিল আরও বিস্ময়কর। ওই কর্মকর্তা অধ্যাপক ডেলিকে জানান, সম্মেলনটি আসলে একটি অজুহাতমাত্র। এর আড়ালে বুদাপেস্টে ইসরায়েলের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করবেন আহমাদিনেজাদ। অথচ ইসরায়েলকে তিনি সব সময় প্রকাশ্যে শত্রু বলে মন্তব্য করে এসেছেন।

    তামির হাইমান, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান

    এক সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ডেলি দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, তিনি জানতেন এই আমন্ত্রণ তাঁর ব্যক্তিগত সুনাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। তবু তাঁর বিশ্বাস ছিল, এর মাধ্যমে তিনি হয়তো মানুষের জীবন বাঁচানোর একটি প্রচেষ্টার অংশ হতে পারবেন।

    ২০২৪ সালে আহমাদিনেজাদের বুদাপেস্টে ওই সফর এবং পরের বছরের আরেকটি সফর ছিল ইসরায়েলের অনেক বছরের এক গোপন পরিকল্পনার অংশ। এ পরিকল্পনার বিষয়ে জানেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এমন একাধিক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ইসরায়েল আহমাদিনেজাদকে এমন একটি গোয়েন্দা সম্পদে পরিণত করতে চেয়েছিল, যাকে উপযুক্ত সময়ে ইরানের নতুন নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।

    নিউইয়র্কে ইহুদিবাদবিরোধী অতিরক্ষণশীল ইহুদি সংগঠন নেতুরেই কার্তার রেবাই মোশে বের বেকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ।

    যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, আহমাদিনেজাদকে নিজেদের পক্ষে আনাকে ইসরায়েল এতটাই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছিল যে ২০২৪ সালে দেশটির তৎকালীন গোয়েন্দাপ্রধান ডেভিড বারনিয়া নিজে বুদাপেস্টে গিয়ে তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন। এর কিছুদিন পর ইসরায়েলের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে (সিআইএ) জানায়, তারা আহমাদিনেজাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছে।

    আহমাদিনেজাদকে ঘিরে সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনা তৈরি করার সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের জন্য ছিল এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। কারণ, প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নিয়েছিলেন, নিয়মিত ইসরায়েলকে ধ্বংস করার আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং হলোকাস্ট (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইহুদিদের ওপর নাৎসি গণহত্যা) অস্বীকার করেছিলেন।

    মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েল গোপনে আহমাদিনেজাদের বাসস্থান ও বিদেশ সফরের ব্যয় বহন করেছে। বুদাপেস্ট সফরসহ বিদেশে বিভিন্ন সময়ে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা তাঁর সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকও করেছেন।

    চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রথম কয়েক দিনের মধ্যে, এই প্রচেষ্টার চূড়ান্ত পর্ব শুরু হয়। তেহরানে কঠোর নজরদারির মধ্যে থাকা আহমাদিনেজাদকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার একটি সাহসী অভিযান চালায় ইসরায়েল। উদ্দেশ্য ছিল বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতনের পরিকল্পনা কার্যকর করা এবং আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় বসানো।

    ব্যর্থ পরিকল্পনা

    তবে শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের এক বিমান হামলায় আহমাদিনেজাদের বাসভবনকে নিশানা করা হয়। হামলায় তাঁর দেহরক্ষীদের ভবন ও বুলেটপ্রুফ একটি গাড়ি লক্ষ্য করা হয়েছিল। ইরানের চারজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, হামলার পর ঘটনাস্থলে একটি কালো রঙের প্যুজো গাড়ি এসে আহমাদিনেজাদকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নেয়।

    অভিযান সম্পর্কে অবগত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, মোসাদের সদস্যরা গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। তাঁরা আহমাদিনেজাদকে ইরানের ভেতরে একটি গোপন নিরাপদ আস্তানায় নিয়ে যান।

    তবে ঘটনাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, এই তড়িঘড়ি উদ্ধার অভিযানে আহমাদিনেজাদ ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। একই সঙ্গে তাঁকে আবার ক্ষমতায় বসানোর ইসরায়েলের পরিকল্পনা নিয়েও তাঁর মধ্যে সংশয় তৈরি হয়।

    এরপর আহমাদিনেজাদ কীভাবে সেই নিরাপদ আস্তানা ছেড়েছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। গত সোমবার (৬ জুলাই) ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজার অনুষ্ঠানে আহমাদিনেজাদকে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল। এর আগপর্যন্ত তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

    বর্তমানে আহমাদিনেজাদের অবস্থান স্পষ্ট নয়। তবে ইরানের চারজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর আহমাদিনেজাদ এখন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখার হেফাজতে রয়েছেন। তাঁকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে।

    তেহরানের বর্তমান সরকারকে উৎখাতের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আহমাদিনেজাদকে ইরানের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার এই পরিকল্পনা নিয়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

    এই পরিকল্পনার আরেকটি অংশ ছিল ইরাকের উত্তরাঞ্চলে অবস্থানরত ইরানি কুর্দি যোদ্ধাদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে প্রবেশ করানো, সেখানে কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং পরে রাজধানী তেহরানের দিকে অগ্রসর হওয়া। তবে সেই পরিকল্পনাও কখনো আলোর মুখ দেখেনি।

    এই পরিকল্পনায় আহমাদিনেজাদের ভূমিকার তথ্য সবার আগে প্রকাশ করেছিল নিউইয়র্ক টাইমস। এরপর গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘ফায়ারিং লাইনে’ ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান তামির হাইমান বলেন, ইরানে সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনায় ‘খুবই ব্যতিক্রমধর্মী’ ধারাবাহিক কয়েকটি বিশেষ অভিযান চালানোর কথা ছিল। তাঁর ভাষায়, ‘আহমাদিনেজাদও সেই ধারাবাহিক পরিকল্পনার অংশ ছিলেন।’

    বদলে যাওয়া আহমাদিনেজাদ

    মাহমুদ আহমাদিনেজাদ ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। সে সময় তিনি দেশটির সবচেয়ে প্রভাবশালী কট্টরপন্থী রাজনীতিকদের একজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি প্রকাশ্যে ইসরায়েলকে ধ্বংস করার কথা বলতেন। তাঁর শাসনামলে ইরান নতুন করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি শুরু করে। এটা গোপনে দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা নিয়ে সন্দেহকে আরও জোরালো করেছিল।

    ২০০৯ সালে আহমাদিনেজাদ আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে ইরানজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমনের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর আমলে বিচার বিভাগ অসংখ্য ভিন্নমতাবলম্বীকে মৃত্যুদণ্ড দেয় এবং বিরোধী নেতা ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বন্দী করে।

    তবে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়ার পর ধীরে ধীরে আহমাদিনেজাদের অবস্থানে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। তিনি আগের তুলনায় অনেক সংযত হন এবং ইসরায়েলবিরোধী কড়া বক্তব্যও কমিয়ে দেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও বক্তৃতায় তিনি ইরানের পপ–সংস্কৃতি নিয়ে মতামত দেন, নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমননীতির সমালোচনা করেন এবং শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন।

    নিজের পোশাক-পরিচ্ছদেও পরিবর্তন আনেন আহমাদিনেজাদ। দীর্ঘদিনের পরিচিত ঢিলেঢালা খয়েরি জ্যাকেট ছেড়ে পরতে শুরু করেন মাপমতো স্যুট। অগোছালো দাড়িও ছেঁটে-গুছিয়ে রাখতেন।

    তেহরানে নিজের কার্যালয়ে প্রতিদিন সকালে ঘণ্টাব্যাপী জনসাধারণের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন আহমাদিনেজাদ। সাধারণ মানুষ তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তাঁর কাছে আসতেন। কেউ কেউ সরকারি জটিলতা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা চাইতেন। কখনো কখনো তিনি সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোতে চিঠি লিখে ঋণের আবেদনকারীদের সুপারিশও করতেন। একই সঙ্গে তিনি নিয়মিত দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামীণ এলাকায় ঘুরে সমর্থকদের সঙ্গে দেখা করতেন।

    ইরানের সরকারের সঙ্গে আহমাদিনেজাদের সম্পর্ক ছিল জটিল। শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকে একঘরে করে রাখে এবং তাঁর চলাফেরায় বিধিনিষেধ আরোপ করে। তবে সর্বোচ্চ নেতাকে পরামর্শ দেওয়া উচ্চপর্যায়ের একটি পরিষদে অন্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁকেও সদস্য হিসেবে রাখা হয়। যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিন আগে, ফেব্রুয়ারি মাসেও তিনি ওই পরিষদের বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন।

    ইরানের অনেকে আহমাদিনেজাদের এই পরিবর্তনকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখেছেন। তাঁদের মতে, সাধারণ মানুষের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করা এবং ক্ষমতাসীনদের থেকে দূরত্ব দেখানোর উদ্দেশ্যেই তিনি এই নতুন ভাবমূর্তি গড়ে তুলছিলেন। শ্রমজীবী মানুষের একটি অংশের মধ্যে তাঁর সমর্থন ছিল। তাঁর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের বিশ্বাস ছিল, তিনি কোনো একদিন আবার ক্ষমতায় ফিরতে চান।

    ফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আহমাদিনেজাদের সাবেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আবদোলরেজা দাভারি বলেন, ‘আহমাদিনেজাদ অর্থের জন্য এমন কিছু করবেন না। তাঁর অর্থ আছে, বিস্তৃত অর্থনৈতিক নেটওয়ার্কও আছে। তিনি এটা ক্ষমতার জন্য করতে পারেন। তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে চান।’ কয়েক বছর আগে আবদোলরেজার সঙ্গে আহমাদিনেজাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

    আহমাদিনেজাদের ঘনিষ্ঠ এক সহযোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্যক্তিগত আলাপের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিদেশি শক্তির সহায়তায় ভবিষ্যতে ইরানের নেতা হওয়ার ইচ্ছার কথা আহমাদিনেজাদ তাঁর অতি ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে জানিয়েছিলেন।

    ওই সহযোগীর ভাষ্যমতে, তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অনুমতি না পাওয়ার পর ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বর্তমান ব্যবস্থার প্রতি আহমাদিনেজাদের আস্থা নষ্ট হয়ে যায়। তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন, বর্তমান ব্যবস্থা বহাল থাকলে তাঁর পক্ষে আর ক্ষমতায় ফেরা সম্ভব নয়।

    যুদ্ধ ও সরকার পরিবর্তনের পরিস্থিতি তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হয়তো ইরানের বাইরে থাকা এমন কোনো বিরোধী নেতাকে বেছে নেবে, যিনি দেশের বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত নন—আহমাদিনেজাদের এমন আশঙ্কাও ছিল। এতে ইরান আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে বলে তিনি মনে করতেন।

    নিজের ঘনিষ্ঠদের কাছে সাবেক এই প্রেসিডেন্ট বলতেন, তিনি রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিনের মতো একজন সংস্কারকের ভূমিকা পালন করতে পারেন। ক্ষমতায় এলে ইরান ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আব্রাহাম অ্যাকর্ডস চুক্তির অংশ হিসেবে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে।

    সে সময় আহমাদিনেজাদ ও ইরানের শাসনব্যবস্থার মধ্যে ক্রমবর্ধমান দূরত্বের বিষয়টি ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল। সে সময়কার গোয়েন্দা মূল্যায়ন সম্পর্কে অবগত ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা খাতের দুজন কর্মকর্তা বলেন, বিশেষ করে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও অন্যান্য শীর্ষ নেতার প্রতি আহমাদিনেজাদের ক্ষোভ তাঁদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। কারণ, তাঁরাই তাঁকে তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেননি।

    অন্যদিকে আহমাদিনেজাদের কর্মকাণ্ড আইআরজিসির গোয়েন্দা শাখারও সন্দেহ বাড়িয়ে তুলেছিল। বিদেশি হস্তক্ষেপ থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে রক্ষা করাই সংস্থাটির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

    আইআরজিসির দুজন সদস্য এবং এ ঘটনার সঙ্গে পরিচিত একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার মতে, ২০১৭ সাল থেকে আহমাদিনেজাদ প্রকাশ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি পাঠাতে শুরু করেন। পরে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকেও চিঠি লেখেন। ট্রাম্প তখন দুই নেতারই প্রকাশ্যে প্রশংসা করেছিলেন।

    চলতি বছরের ইসরায়েলি হামলার পর আহমাদিনেজাদ যখন সাময়িকভাবে আইআরজিসির নজরদারির বাইরে চলে যান, তখন ইরানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাঁর সঙ্গে ইসরায়েলের যোগাযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু করে। চারজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, তদন্তে ধীরে ধীরে সেই যোগাযোগের বিভিন্ন তথ্য উঠে আসে।

    বিদেশ সফরে গোপন বৈঠক

    ইসরায়েলি গোয়েন্দারা ঠিক কবে থেকে আহমাদিনেজাদকে নিজেদের পক্ষে আনার চেষ্টা শুরু করেছিল, তা স্পষ্ট নয়। তবে ইরানের কর্মকর্তারা বলেন, ২০২৩ সালে পরিবেশবিষয়ক একটি সম্মেলনে যোগ দিতে গুয়াতেমালা সফরের সময় তাঁদের মধ্যে খুব সম্ভবত প্রাথমিক যোগাযোগ হয়েছিল। তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল গুয়াতেমালা সরকার। লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে গুয়াতেমালার কূটনৈতিক সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে ঘনিষ্ঠ।

    তবে ওই সফর প্রায় ভেস্তে যাচ্ছিল। তেহরান বিমানবন্দরে নিরাপত্তা বাহিনী আহমাদিনেজাদকে বোর্ডিং পাস দিতে এবং দেশ ছাড়ার অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।

    এর প্রতিবাদে আহমাদিনেজাদ ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমানবন্দরেই অবস্থান করেন। ঘটনাটি দ্রুত জনসমক্ষে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। তিনি সাধারণ যাত্রী, বিমানবন্দর ও বিমান সংস্থার কর্মীদের সঙ্গে ছবি তোলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপডেট দিতে থাকেন।

    শেষ পর্যন্ত ইরানি কর্তৃপক্ষ আহমাদিনেজাদকে উড়োজাহাজে উঠতে এবং সম্মেলনে অংশ নিতে অনুমতি দেয়।

    সফরকালে প্রকাশিত এক ভিডিওতে আহমাদিনেজাদ বলেন, ‘কিছু মানুষ আমাকে গুয়াতেমালা যেতে নিষেধ করেছিল। আমি তাঁদের বলেছি, আমার ভাই, দেশটির পরিবেশমন্ত্রী, আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। লাতিন আমেরিকায় এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ।’

    তেহরানের দক্ষিণে শিরাজ শহরের একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছেন ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। ২০০৭ সালের ১৬

    পরের বছর আহমাদিনেজাদ প্রথমবারের মতো হাঙ্গেরি সফরে যান। বুদাপেস্টে লুডোভিকা ইউনিভার্সিটির সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আড়ালে তিনি মোসাদের তৎকালীন প্রধান ডেভিড বারনিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন। গত মাস পর্যন্ত পাঁচ বছর তিনি মোসাদের নেতৃত্বে ছিলেন।

    সে সময় হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ডানপন্থী নেতা ভিক্টর অরবান। ইউরোপের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় ইসরায়েলের সঙ্গে তাঁর সরকারের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। অরবান ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে অপরের দেশ সফরও করেন। ২০২৫ সালের এপ্রিলে নেতানিয়াহু লুডোভিকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়টি তাঁকে জনসেবায় বিশেষ সম্মাননা দেয়।

    এর দুই মাস পর ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিন আগে আবারও বুদাপেস্টে যান আহমাদিনেজাদ। আনুষ্ঠানিকভাবে এটি ছিল আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয় সফর। তবে প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করা।

    বিদেশ সফরে সব সময় আইআরজিসির আনসার ইউনিটের দেহরক্ষীরা আহমাদিনেজাদের সঙ্গে থাকতেন। তাঁদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের জুনের ওই সফরে অন্তত দুবার আহমাদিনেজাদ নিরাপত্তারক্ষীদের ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য নিখোঁজ ছিলেন। পরে তাঁরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে আহমাদিনেজাদ বলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। আইআরজিসির দুজন সদস্য এবং এ ঘটনার সঙ্গে পরিচিত এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলনে আহমাদিনেজাদ ইংরেজিতে বক্তৃতা দেন। এতে উপস্থিত ব্যক্তিরা বিস্মিত হন। কারণ, প্রেসিডেন্ট থাকাকালে প্রতিটি বক্তৃতার শুরুতে তিনি কোরআনের আয়াত পাঠ করতেন। কিন্তু এবার তা করেননি।

    গাঢ় নীল রঙের মাপমতো স্যুট পরে আহমাদিনেজাদ ‘অভিন্ন মানবতা’ এবং ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থা’ নিয়ে কথা বলেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, নতুন একটি বিশ্বব্যবস্থা কীভাবে গড়ে উঠতে পারে, সে বিষয়ে তিনি নিজের মতামত তুলে ধরছেন।

    আহমাদিনেজাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর গেরগেলি ডেলিকে প্রাচীন ইরানি কবি ফেরদৌসির ‘শাহনামা’ উপহার দেন। জবাবে ডেলি তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্মারকচিহ্ন তুলে দেন।

    গত মাসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডেলি বলেন, আহমাদিনেজাদকে আমন্ত্রণ জানানোর ক্ষেত্রে তিনি মূলত একজন ‘স্ট্রোহমানের’ ভূমিকা পালন করেছিলেন। জার্মান শব্দটির অর্থ হলো, এমন একজন ব্যক্তি, যিনি অন্য কোনো গোপন পরিকল্পনার আড়াল বা মুখপাত্র হিসেবে ব্যবহৃত হন।

    ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে তেহরানে নিজের বাড়ি থেকে কালো প্যুজো গাড়িতে করে সরিয়ে নেওয়ার পর গত সপ্তাহ পর্যন্ত আহমাদিনেজাদকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

    গত সোমবার হঠাৎ সাবেক এই প্রেসিডেন্ট ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিদায় অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য উপস্থিত হন। ভিডিওতে দেখা যায়, প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও তাঁর গায়ে ছিল মোটা জ্যাকেট। সার্জিক্যাল মাস্কটি থুতনির নিচে নামানো ছিল। ইরানের জীবিত অন্য দুই সাবেক প্রেসিডেন্ট—হাসান রুহানি ও মোহাম্মদ খাতামিকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, তাঁদের কাউকে সেখানে দেখা যায়নি।

    খামেনির শেষবিদায় অনুষ্ঠানে আহমাদিনেজাদ মাথা নিচু করে নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁর চারপাশে থাকা কয়েকজন ব্যক্তিকে নিরাপত্তারক্ষী বলে মনে হয়েছে।

  • পদার্থবিজ্ঞানের ভুল প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর পাবে পরীক্ষার্থীরা

    পদার্থবিজ্ঞানের ভুল প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর পাবে পরীক্ষার্থীরা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, ভুল প্রশ্নে অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞানে পূর্ণ নম্বর পাবে পরীক্ষার্থীরা।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান।

    চলমান এইচএসসি ও সমমানের পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্ন নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর, জাতীয় সংসদ অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে- পদার্থবিজ্ঞানের ভুল দুটি প্রশ্নে পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।

    বিষয়টি নিয়ে কোনো শিক্ষার্থী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটিও একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।

  • সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৩ দাবি ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

    সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৩ দাবি ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ, জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং এইচএসসি পরীক্ষার নতুন সূচি প্রকাশসহ তিন দফা দাবি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এসব দাবি বাস্তবায়নে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা।

    মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে সিটি কলেজের পরীক্ষার্থী মো. মিরাজ হোসেন এ ঘোষণা দেন।

    তিনি বলেন, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে এবং তার ‘অসংগতিপূর্ণ’ বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। পাশাপাশি ১৩ জুলাই প্রতিকূল পরিবেশে যারা পরীক্ষা দিয়েছেন এবং যারা পরীক্ষা দিতে পারেননি, তাদের কথা বিবেচনায় নিয়ে ওই দিনের পরীক্ষা পুনরায় আয়োজন করতে হবে।

    শিক্ষার্থীদের আরেকটি দাবি হলো, আগামী দিনের নির্ধারিত পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্রের মান শিক্ষার্থীবান্ধব করারও দাবি জানান তারা।এর আগে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি শুরু করলে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

    অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের অভিযোগ, সকাল থেকে আন্দোলন চললেও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কেউ তাদের সঙ্গে আলোচনায় আসেননি।

  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদে তারা বৈঠক করছেন।

    বৈঠকের আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। তবে এ সময় শিক্ষার্থী আন্দোলন ও এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে সারা দেশে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এদিকে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিনদফা জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এসব দাবি পূরণে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা। দাবিগুলো হলো- শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, তার বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া এবং এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত।

  • এমসি কলেজে ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

    এমসি কলেজে ধর্ষণ মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে এক তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় আলোচিত মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনের যাবজ্জীবন করাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি চারজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার দুপুরে প্রায় ৫ বছর ১০ মাস পর সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

    রায়ে সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড। শাহ মাহবুবুর রহমান (রনি), তারেকুল ইসলাম (তারেক) ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন— আইনুদ্দিন, মিসবাউল ইসলাম রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর রহমান।

    আসামিরা সাবাই সিলেট নগরের টিলাগড় এলাকার ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর মামলায় মোট ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষীদের মধ্যে নির্যাতনের শিকার তরুণী, তার স্বামী, তদন্ত কর্মকর্তা, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট, এমসি কলেজের এক শিক্ষক এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকও ছিলেন।

    ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শাহপরান মাজার এলাকা থেকে ফেরার পথে এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এক দম্পতির প্রাইভেটকার থামিয়ে কয়েকজন যুবক তাদের কলেজ ছাত্রাবাসে নিয়ে যান। সেখানে স্বামীকে আটকে রেখে গাড়ির ভেতরে তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। একইসঙ্গে দম্পতির কাছ থেকে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়া এবং গাড়ি আটকে রাখারও অভিযোগ ওঠে।

    ঘটনার রাতে ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। তদন্তের একপর্যায়ে আরও দুই ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা শনাক্ত হয়। গাড়ি আটকে রেখে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে দায়ের করা পৃথক মামলাটিও এ মামলার সঙ্গে একত্রে বিচার করা হচ্ছে।

    এদিকে এ ঘটনার পর আত্মগোপনে গেলেও তিন দিনের মধ্যে পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে আট আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত চলাকালে কয়েকজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়া ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের সঙ্গে আলামতের মিল পাওয়া যায় বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন।

  • শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীতে সড়ক অবরোধ

    শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীতে সড়ক অবরোধ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।

    মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরার বিএনএস সেন্টার এবং সায়েন্সল্যাব মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পরীক্ষার্থীরা। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী তারা এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

    ঢাকা সিটি কলেজ, ঢাকা আইডিয়াল কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ, লালমাটিয়া স্কুল এন্ড কলেজ, রাজারবাগ পুলিশ লাইন স্কুল এন্ড কলেজ, বিএফ শাহীন কলেজসহ ১২ থেকে ১৫ টি কলেজের শিক্ষার্থীরা এই অবরোধে অংশ নেন।

    বিক্ষোভের কারণে সায়েন্সল্যাব, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি ও আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা।

    বিক্ষোভকারীরা এসময় ‘দফা এক দাবি এক, মিলনের পদত্যাগ’, ‘এক দুই তিন চার, মিলন তুই গদি ছাড়’, ‘আমি কে তুমি কে, ফার্মের মুরগি ফার্মের মুরগি’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।

    অবরোধকারী শিক্ষার্থীরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। দাবি আদায় না হলে আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।

  • ভুল প্রশ্ন, জলাবদ্ধতা—সব বিতর্কের জবাব দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

    ভুল প্রশ্ন, জলাবদ্ধতা—সব বিতর্কের জবাব দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বলে এইচএসসি পরীক্ষা বহাল রাখা হয়েছে দাবি করে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বিকেল ৫টা পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সবাই বলেছেন- আবহাওয়া ভালো থাকবে, সে কারণেই আমরা পরীক্ষা বহাল রেখেছি।

    মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রথমে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।

    সম্পূরক প্রশ্নে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা চলছে। গত তিন-চারদিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বড় বড় শহরগুলো পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল। শিক্ষার্থীরা অনুরোধ করেছিল পরীক্ষা পেছানোর জন্য। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। যে কারণে আজকে (মঙ্গলবার) আন্দোলন হচ্ছে, ঢাকায় আন্দোলন হচ্ছে। মন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রাখছি—এইচএসসির মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, যার ওপর নির্ভর করে ছেলে বা মেয়ের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে, সেরকম একটি পরীক্ষায়, ফিজিক্সের মতো বিষয়ে.. মাননীয় মন্ত্রী কি দয়া করে বলবেন, কী সমস্যা ছিল পরীক্ষাটি একদিন বা দুদিনের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার?

    জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ নম এহছানুল হক মিলন বলেন, সারা বাংলাদেশে পরীক্ষা আমরা একযোগে নিয়ে থাকি। এইচএসসি পরীক্ষার প্রায় ২,৭০০টি কেন্দ্র রয়েছে এবং ৬৪টি জেলায় একই সময়ে পরীক্ষা শুরু হয়। ইতোমধ্যে আপনারা শুনেছেন, চট্টগ্রামে যখন বন্যা হলো, তখন আমরা পর্যায়ক্রমে প্রথমে রাঙামাটি, তারপর বান্দরবান, পরে খাগড়াছড়ি এবং এরপর পুরো চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করেছি।

    তিনি বলেন

    , আমরা লক্ষ্য করছিলাম যে- বৃষ্টি হচ্ছিল এবং আমরা পরিস্থিতি নিয়মিত মনিটরিং করছিলাম। সেই সময় ৬৪ জেলার এসপি, আটটি বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এবং প্রত্যেকটি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। পাশাপাশি আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি। তারা জানিয়েছিল যে আর বৃষ্টি হবে না। বিকেল ৫টা পর্যন্ত আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সংশ্লিষ্ট সবাই বলেছেন যে আবহাওয়া ভালো থাকবে, সে কারণেই আমরা পরীক্ষা বহাল রেখেছি।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের মাঠ পানিতে ভরে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে আমরা মেয়র, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিই পরীক্ষাকেন্দ্র স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে। পরে পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে ওই স্কুলের পাঁচতলা ভবনে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। আমরা পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছি।

    তিনি বলেন, এ ছাড়া সারা বাংলাদেশের জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন, কোথাও পরীক্ষা গ্রহণে কোনো ধরনের দুর্যোগজনিত সমস্যা হয়নি। শুধু কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে এ ঘটনা ঘটেছে।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা নির্দেশ দিয়েছিলাম, সেখানে বিলম্বে পরীক্ষা শুরু করা হবে। যে মেয়েটির কাপড় ভিজে গিয়েছিল, তার বাড়ি থেকে কাপড় এনে দেওয়া হয়েছে। তাকে এক ঘণ্টা পরে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং পরীক্ষার সময়ও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জাতিকে জানাতে চাই, আমাদের পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় প্রশাসন—জেলা প্রশাসক, ইউএনও, পুলিশ প্রশাসন—তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন যে কোনো কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব কি না। প্রয়োজনে তারা পরীক্ষা স্থগিতও করতে পারেন।

    তিনি বলেন, আ

    মরা বারবার তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, “না স্যার, আমরা ঠিকমতো পরীক্ষা নিচ্ছি।” আপনারাও দেখেছেন কোথায় কোথায় বৃষ্টির পানি ছিল। সেগুলো আমরা সবাই লক্ষ্য করেছি। কোমলমতি সন্তানদের জন্য আমাদেরও মায়া রয়েছে। সে কারণেই আমরা সবসময় পরিস্থিতি মনিটরিং করি।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একই সঙ্গে পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল ছিল। আমরা দায়িত্ব পেয়েছি মাত্র চার মাস আগে। প্রশ্ন মডারেশন আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। আপনারা জানেন, প্রশ্ন মডারেশনের প্রক্রিয়া দুই বছর আগে থেকে শুরু করতে হয়। আমরা এসে নতুন করে কোনো প্রশ্ন প্রস্তুত করতে পারিনি। বিগত সরকারের সময় যারা মডারেটর ছিলেন, তারাই এই প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করেছেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তবুও আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘোষণা দিয়েছি যে ফিজিক্সের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল হয়েছে এবং ওই দুটি প্রশ্নের জন্য শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, পরীক্ষা যাতে যথাযথভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সে জন্য আমরা সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করেছি। আজও সারাদিন আমরা সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেছি। আমাদের সব স্টেকহোল্ডার জানিয়েছেন যে পরীক্ষা সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে হয়েছে। শুধু কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে এই ঘটনাটি ঘটেছে এবং সেখানেও শেষ পর্যন্ত সুন্দরভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

  • ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

    ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, সৃজনক্ষমতা এবং উদ্যোক্তা সম্ভাবনাকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

    অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

    নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণ ও নারীর উদ্ভাবনী শক্তিকে অর্থনৈতিক প্রগতির মূলধারায় যুক্ত করা এখন জাতীয় অগ্রাধিকার। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিগত রূপান্তরের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬-এ স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা উন্নয়নকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে, সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ড গঠন করা হয়েছে, যা উদ্ভাবনী উদ্যোগের অর্থায়ন ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সকল পরীক্ষা স্থগিতের দাবি ছাত্রদলের

    দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সকল পরীক্ষা স্থগিতের দাবি ছাত্রদলের

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আকস্মিক বন্যা, দেশব্যাপী অতিবর্ষণ ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি বিবেচনায় চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষাসহ অন্যান্য বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষাসমূহ সাময়িক স্থগিতের দাবি জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মানবিক বিবেচনা হিসেবে দেখবে বলেও মনে করে সংগঠনটি। সোমবার এক বিবৃবতিতে সংগঠনটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ দাবি জানান। এতে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক সমাজের উদ্বেগ নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি ও সহমর্মিতাপূর্ণ পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন তারা।

    নেতৃদ্বয় বলেন, সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, দেশের ৭ জেলায় বন্যায় ইতিমধ্যে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার সম্পূর্ণ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এবং মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ। এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি উপদ্রুত এলাকার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় পরীক্ষার্থীদের পক্ষে কেন্দ্রে যাতায়াত করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টসাধ্য। এমতাবস্থায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি আমাদের পর্যবেক্ষণ ও অনুরোধ হলো, বন্যা কবলিত অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পরীক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই মুহূর্তে পরীক্ষা সাময়িক পিছিয়ে দিলে শিক্ষার্থীদের জানমালের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত হবে।

    তারা বলেন, যে দুর্যোগে ১০ লক্ষাধিক মানুষ বিপর্যস্ত, সেখানে অসংখ্য শিক্ষার্থীর বইখাতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পরীক্ষায় বসলে বন্যা উপদ্রুত এলাকার শিক্ষার্থীরা মনস্তাত্ত্বিকভাবে পিছিয়ে পড়বে, যা তাদের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে দেশের একটি বিরাট অংশের পরীক্ষার্থীদের সংকটে রেখে পরীক্ষা চালু রাখলে মেধার সঠিক মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হবে এবং সুযোগের সমতা নষ্ট হবে। তাই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি, পরীক্ষা কেন্দ্রসমূহ পরীক্ষার উপযোগী হওয়া, পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখাই হবে যৌক্তিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত।

    নেতৃদ্বয় আরও বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত বর্তমান জনবান্ধব সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের জীবন, নিরাপত্তা এবং সুন্দর ভবিষ্যতের বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। ছাত্রদল সবসময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক অধিকার ও কল্যাণের পক্ষে কাজ করে। তাই পরিস্থিতি অনুকূলে না আসা পর্যন্ত চলমান এইচএসসি পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে পরবর্তীতে নতুন সময়সূচী অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

  • বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবি ছাত্রশিবিরের

    বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবি ছাত্রশিবিরের

    রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষাকেন্দ্রে জলাবদ্ধতার কারণে এইচএসসি পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিতের জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

    সোমবার (১৩ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেন, দেশের বিভিন্ন বিভাগের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বর্তমানে অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি। অসংখ্য উপজেলা ও শহরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং অনেক পরীক্ষাকেন্দ্র জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে, যা পরীক্ষা গ্রহণের অনুকূল পরিবেশকে বিনষ্ট করেছে। এমন জাতীয় সংকটের মুহূর্তে বাস্তব পরিস্থিতি উপেক্ষা করে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরীক্ষার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে। তাই চলমান এইচএসসি পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

    শিবির নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, যেকোনো পাবলিক পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের মানসিক স্থিতিশীলতা ও উপযুক্ত পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ চরম প্রতিকূলতা ও বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে বাধ্য করা হচ্ছে। প্লাবিত ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ অতিক্রম করে প্রতিকূল পরিবেশে অনেক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে। নীতিনির্ধারকদের এই অনমনীয় অবস্থান শিক্ষার্থীদের শারীরিক নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই শিক্ষার্থীবান্ধব বা মানবিক হতে পারে না।

    শিবির সভাপতি ও সেক্রেটারি বলেন, এই দুর্যোগের সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথেও। চলমান পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা এবং মাঠপর্যায়ের অব্যবস্থাপনার কারণে পরীক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সময় থেকে বঞ্চিত হবে। ফলে তাদের উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি, সুযোগ ও মেধা বিকাশ নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হবে।

    নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, যেকোনো সংকটে শিক্ষার্থীদের জীবন, স্বাস্থ্য ও মানসিক সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। তাই বন্যা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া এবং পরীক্ষা পরিচালনার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা চলমান এইচএসসি পরীক্ষা অবিলম্বে সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

  • ডেঙ্গুতে আরও দুইজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৩২৭

    ডেঙ্গুতে আরও দুইজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৩২৭

    ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ২৭ জনের মৃত্যু হলো। এ সময় নতুন করে উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩২৭ জন।

    মৃতদের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় একজন এবং অন্যজন চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে)। এদের মধ্যে একজন ২৬ থেকে ৩০ বছর এবং অন্যজনের ৩১ থেকে ৩৫ বছর। তারা উভয়ই নারী।

    সোমবার (১৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগীদের মধ্যে ২৯৭ জন সরকারি হাসপাতালে এবং ৩০ জন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছে।

    চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট আট হাজার ৬৫০ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭ হাজার ৮০০ জন রোগী।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ৮২৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।

  • শিবির থেকে বিদায় নিলেন ৯ কেন্দ্রীয় নেতা

    শিবির থেকে বিদায় নিলেন ৯ কেন্দ্রীয় নেতা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে বিদায় নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) ও সংগঠনটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক সাদিক কায়েমসহ কেন্দ্রীয় ৯ নেতা।

    সোমবার (১৩ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছেন শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ।

    সাদিক কায়েম ছাড়া বিদায় নেওয়া অন্যরা হলেন, কেন্দ্রীয় মিডিয়া সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ শাহেদী, এইচআরডি সম্পাদক শরীফ মাহমুদ, ছাত্র অধিকার সম্পাদক মুহিবুর রহমান মুহিব, প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম, ব্যবসায় শিক্ষা সম্পাদক নুরুল হুদা, পাঠাগার সম্পাদক আরাফাত হোসেন মিলন, বিতর্ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান আরমান ও দাওয়াহ সম্পাদক শাহীন আহমেদ।

  • ইরানের কাছে পরাজয় থেকে শিক্ষা নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র: আইআরজিসি

    ইরানের কাছে পরাজয় থেকে শিক্ষা নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র: আইআরজিসি

    কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরে বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ ও সামরিক হামলা চালিয়ে আসছে। তাদের দাবি, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে সাম্প্রতিক পরাজয় থেকে শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

    বিবৃতিতে বলা হয়, কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক ও একটি প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। দেশটির আহমদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে একটি কৌশলগত রাডার ব্যবস্থাও সম্পূর্ণ ধ্বংসের দাবি করা হয়।

    কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় দুটি হিমার্স ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক যন্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র বোঝাই গুদামে আগুন ধরে সেগুলো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।

    প্রতিশোধমূলক অভিযানে জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্স হাসান বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলায় কয়েকটি জ্বালানি ডিপো ও গোলাবারুদের গুদামে আগুন ধরে যায় বলে দাবি করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

    বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের হামলায় বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন বহর ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দাবি করেছে ইরানি বাহিনী। বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিতে হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, একটি পি-৮ বিমান রাখা হ্যাঙ্গার এবং একটি মার্কিন সামরিক ড্রোন কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টারে হামলা চালানো হয়েছে।

  • টানা বর্ষণে ঢামেকে রোগী কমেছে, বিপাকে চিকিৎসাসেবা

    টানা বর্ষণে ঢামেকে রোগী কমেছে, বিপাকে চিকিৎসাসেবা

    রাজধানীতে টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা ও তীব্র যানজটের কারণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগীর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অন্যান্য দিনের তুলনায় রোববার (১২ জুলাই) জরুরি বিভাগে প্রায় ২০ শতাংশ কম রোগী এসেছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

    বৃষ্টির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সড়ক ও অলিগলিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় শুধু রোগীরাই নয়, চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এবং হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কর্মস্থলে পৌঁছাতে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন। এদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ এবং জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সামনের সড়কেও পানি জমে যায়।

    সারা শহরে দীর্ঘ যানজটের কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। এতে হাসপাতালের কর্মীদের নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগে। তবে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা চিকিৎসাসেবা সচল রাখতে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোস্তাক আহমেদ জানান, সাধারণত ২৪ ঘণ্টায় জরুরি বিভাগে গড়ে দেড় হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। তাদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বেশিরভাগ রোগী বিকেল থেকে রাতের মধ্যে এলেও রোববার সকাল ও দুপুরে রোগীর উপস্থিতি অন্যান্য দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল।তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা ও যানজটের কারণে রোগীদের পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদেরও কর্মস্থলে পৌঁছাতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। তারপরও তারা দায়িত্ব পালন করে রোগীদের সেবা নিশ্চিত করেছেন।

  • রামুতে ছাত্রদলের ত্রাণ বিতরণ

    রামুতে ছাত্রদলের ত্রাণ বিতরণ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    কক্সবাজারের রামু উপজেলায় কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের নেতৃত্বে ছাত্রদলের ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার রাকিবুল ইসলাম রাকিব উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বাড়ি বাড়ি খোঁজখবর নেন। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।

    উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অসহায়, দুস্থ ও বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে শুকনো খাদ্য ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন তিনি।

    এদিকে ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচির তৃতীয় দিনে ৫০০টি পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, আলু, শুকনো খাবার, পানি বিশুদ্ধকরন ট্যাবলেট, খাবার পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

    রাকিবুল ইসলাম রাকিবে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সব সময় মানুষের পাশে ছিলো, ভবিষ্যতেও যেকোনো দুর্যোগ ও সংকটে পাশে থাকবে।

    ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফাহিমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আনোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ ইমরান ও জেলা যুবদলের সহসভাপতি জাবেদ ইকবালসহ, রামু উপজেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নেন।

  • শিক্ষার্থীদের আবদারে গাড়ি থামিয়ে সেলফি তুললেন প্রধানমন্ত্রী

    শিক্ষার্থীদের আবদারে গাড়ি থামিয়ে সেলফি তুললেন প্রধানমন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বরিশালের গৌরনদীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শেষে বরিশালে ফেরার পথে খুদে শিক্ষার্থীদের আবদারে গাড়িবহর থামিয়ে তাদের সঙ্গে সেলফি তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের হাতে বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন আচরণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।

    সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কের বরিশালের সাতমাইল এলাকায় বরিশাল ক্যাডেট কলেজ ক্যাম্পাস-সংলগ্ন শিশুনিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে গৌরনদী থেকে বরিশাল পর্যন্ত ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কের দুই পাশে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। সড়কের দুই পাশে উপস্থিত জনতাকে দেখে প্রধানমন্ত্রী গাড়িবহর থামিয়ে শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

    দুপুর দেড়টার দিকে সাতমাইল এলাকায় প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। তারা করতালির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান এবং স্মরণীয় মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেন।

    এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেলফি তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করলে তিনি এক ছাত্রীর মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে নিজেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফি তোলেন। পরে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।

  • বিদায়ের পর সাদিক কায়েমের আবেগঘন স্ট্যাটাস

    বিদায়ের পর সাদিক কায়েমের আবেগঘন স্ট্যাটাস

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায়ের পর আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন সদ্যবিদায়ী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে ছাত্রশিবিরের ষাণ্মাসিক এক সেটআপে সাদিক কায়েমসহ ৯ জন কেন্দ্রীয় সম্পাদকের আনুষ্ঠানিক বিদায়ের কথা জানিয়েছেন প্রচার সম্পাদক এসএম ফরহাদ।

    এরপর ব্যক্তিগত ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ছাত্রশিবির থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায়ের কথা জানান সাদিক কায়েম। ওই স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, আমার আবেগ আর ভালোবাসার প্রিয় সংগঠন! দেখতে দেখতে দীর্ঘ এক সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো। সংগঠনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে আজ আমার আনুষ্ঠানিক ছুটি হয়েছে। সবকিছুর জন্য আল্লাহর কাছে অগণিত শুকরিয়া আদায় করছি। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ও প্রোডাক্টিভ সময়গুলো কেটেছে এই কাফেলার সাথে।

    তিনি আরো লিখেন, এই প্রিয় কাফেলা আমাকে দেশ ও জাতিকে নিয়ে ভাবতে শিখিয়েছে, জড়তা ভেঙে কথা বলতে শিখিয়েছে, নেতৃত্বের গুণাবলিকে পরম মমতায় বিকশিত করেছে। ইসলামী ছাত্রশিবিরই আত্মিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশে পরিপূর্ণ পথনির্দেশনা দিয়েছে।

    ‘পেছনে ফিরে তাকালে স্মৃতির পাতায় ভেসে ওঠে অসংখ্য প্রিয় মুখ আর সংগ্রামী চিত্র। পুরোটা সময় জুড়ে নিবেদিতপ্রাণ দায়িত্বশীল ও জনশক্তিদের যে সোহবত ও সান্নিধ্য পেয়েছি, তা আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন। জীবনের প্রতিটি বাঁকে আপনাদের কাছ থেকে শিখেছি, অনুপ্রাণিত হয়েছি।’

    সাদিক কায়েম আরও লিখেন, দোয়া করি, আল্লাহ তায়ালা ইসলামী ছাত্রশিবিরের এই সংগ্রাম ও আন্দোলনের কর্মীদের পবিত্র সম্পর্কগুলোকে কবুল করুন। সামনের দিনগুলোতে এই অঞ্চলের মজলুম মানুষের মুক্তি সংগ্রামের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে পথ চলার তাওফিক দিন এবং এই আন্দোলনকে বিজয়ী করার মতো যোগ্য নেতৃত্ব দান করুন, আমীন।ছাত্রশিবির থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেওয়া ৯ সম্পাদকদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাদিক কায়েম, কেন্দ্রীয় মিডিয়া সম্পাদক মু’তাসিম বিল্লাহ শাহেদী, কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক শরীফ মাহমুদ, কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার সম্পাদক মুহিবুর রহমান মুহিব, কেন্দ্রীয় প্লানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় ব্যবসায় শিক্ষা সম্পাদক নুরুল হুদা, কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক আরাফাত হোসেন মিলন, কেন্দ্রীয় বিতর্ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান আরমান ও কেন্দ্রীয় দাওয়াহ সম্পাদক শাহীন আহমেদ।

  • আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও ফিনল্যান্ড-জাপানের উদাহরণ

    আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও ফিনল্যান্ড-জাপানের উদাহরণ

    মতামত:

    শিক্ষাক্রম বা কারিকুলাম হলো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা শিক্ষাব্যবস্থায় নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিকল্পিতভাবে সাজানো পাঠ্যবিষয়, শিক্ষণ-শিখন কার্যক্রম, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং শিক্ষার অভিজ্ঞতার সমষ্টি। সহজভাবে বলতে গেলে, শিক্ষার্থীরা কী শিখবে, কীভাবে শিখবে এবং কীভাবে তাদের শেখা মূল্যায়ন করা হবে—এসবের পূর্ণ পরিকল্পনাই শিক্ষাক্রম।

    পৃথিবীর সব দেশেই সমাজ-সভ্যতা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষাক্রমকেও যুগোপযোগী করতে হয়। কারণ সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল। এ পরিবর্তনের ধারায় রাষ্ট্রকে সমাজ, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, বহির্বিশ্বের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে খাপ খাইয়ে নিতে দক্ষ, সুনাগরিক এবং সমাজ-স্বীকৃত প্রচলিত মূল্যবোধের সঙ্গে আত্মস্থ করে নিতে সমাজ, রাষ্ট্রের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হয়। তা না হলে দেশ-বিদেশে আমাদের ছেলেমেয়েরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে।

    আমাদের দেশে গতানুগতিক শিক্ষাক্রমের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনায় তেমন আগ্রহ সৃষ্টি হয় না। দেশের গতানুগতিক শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত পরীক্ষার চাপ, বইয়ের চাপের ফলে বিদ্যালয় উপস্থিত হওয়ার ভীতি, অনীহা তাদের মধ্যে কাজ করে। তাছাড়া, প্রচলিত শিখন-শেখানোর কৌশলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একঘেয়েমির ছাপ স্পষ্টত লক্ষ করা যায়। বর্তমান সরকার এ সমস্যা দূর করতে কাজ করে যাচ্ছে। এ সময়ের আলোচিত কনসেপ্ট হলো, আনন্দময় শিক্ষণ বা লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস কী এবং কীভাবে কাজ করে। লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস বলতে, এমন একটি শিক্ষণ-পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে আনন্দ, আগ্রহ, ইতিবাচক অনুভূতি এবং অংশগ্রহণের মাধ্যমে শেখানো ও শেখা হয়। এর মূল ধারণা হলো—শিক্ষার্থীরা যদি আনন্দের সঙ্গে শেখে, তাহলে তারা বিষয়গুলো আরো ভালোভাবে বুঝতে, মনে রাখতে এবং প্রয়োগ করতে পারে। এ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, গল্প, গান ও সৃজনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে শেখানো, ভয় বা চাপমুক্ত শিক্ষার পরিবেশ, সক্রিয় অংশগ্রহণ, কৌতূহল ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি, আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক দক্ষতার উন্নয়ন ঘটে।

    আনন্দময় শিক্ষণ মানবজীবন ও সমাজে গভীর এবং দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এর প্রভাব নির্ভর করে এটি কতটা পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে; শিক্ষার মান বজায় থাকছে কি না এবং শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতাও অর্জন করছে কি না।

    ফিনল্যান্ডের শিক্ষাব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম সফল ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত। কারণ তাদের শিক্ষার্থীদের জন্য কম হোমওয়ার্ক ও কম পরীক্ষা। তাদের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সৃজনশীলতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখানো। শিক্ষকরা উচ্চ প্রশিক্ষিত এবং পাঠদান পদ্ধতি নির্ধারণে স্বাধীনতা পান। শ্রেণিকক্ষে মানসিক সুস্থতা ও শিক্ষার্থীর কল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ বেশি থাকে। আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে দীর্ঘদিন ধরে ভালো ফল করেছে। বিদ্যালয় ত্যাগের হার তুলনামূলকভাবে কম। সিঙ্গাপুরে ‘Teach Less, Learn More’ নীতির মাধ্যমে আনন্দময় ও গভীর শিক্ষার ওপর জোর দেয়। তাদের শিক্ষাব্যবস্থা মুখস্থবিদ্যার পরিবর্তে বিশ্লেষণধর্মী । প্রকল্পভিত্তিক ও অনুসন্ধানমূলক কার্যক্রম। প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার। শিক্ষক প্রশিক্ষণে ব্যাপক বিনিয়োগ। ফলে গণিত, বিজ্ঞান ও পাঠ দক্ষতায় ধারাবাহিকভাবে বিশ্বসেরাদের মধ্যে অবস্থান। উদ্ভাবনী চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বৃদ্ধি। কানাডার বহু প্রদেশে শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। যেমন : দলগত শিক্ষা। প্রকল্পভিত্তিক মূল্যায়ন। সামাজিক ও আবেগীয় দক্ষতার বিকাশ। ফলে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও সহযোগিতামূলক মনোভাব বৃদ্ধি পায়। জাপানে আনন্দময় শিক্ষার সঙ্গে শৃঙ্খলা ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয় করা হয়েছে। তাদের শিশু শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মার্জিত সুন্দর আচার-আচরণ শিক্ষা দেওয়া। তাদের শিক্ষার্থীরা নিজেরাই শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার করে। দলগত কাজ ও পারস্পরিক সহযোগিতার চর্চা করে। নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক। এর ফলে দায়িত্ববোধ, আত্মনির্ভরতা ও সামাজিক শৃঙ্খলা গড়ে ওঠে। নিউজিল্যান্ডে দেখা যায়, এ দেশের শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীর আগ্রহ, সৃজনশীলতা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে, শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শেখে। শেখাকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে যুক্ত করতে পারে।

    জন ডুয়ি বলেছেন, ‘Education is not preparation for life; education is life itself.’

    মারিয়া মন্টেসোরি বলেছেন, ‘শিশু স্বাভাবিকভাবেই শেখার প্রতি আগ্রহী। আনন্দময়, স্বাধীন ও অনুসন্ধানভিত্তিক পরিবেশে শিশু সবচেয়ে ভালো শেখে।’

    মনোবিজ্ঞানী লেভ ভাইগোটস্কির মতে, সামাজিক যোগাযোগ, সহযোগিতা এবং দলগত কার্যক্রম শিক্ষাকে আনন্দদায়ক ও অর্থবহ করে তোলে। শিক্ষক ও সহপাঠীর সহযোগিতায় শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ শেখার সুযোগ পায়।

    জেরোমি ব্রানার আবিষ্কারভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন। তার মতে, শিক্ষার্থীরা নিজেরা আবিষ্কার করে শিখলে শেখা আনন্দদায়ক ও দীর্ঘস্থায়ী হয়।

    হাওয়ার্ড গার্ডনারের মতে, প্রতিটি শিক্ষার্থীর শেখার ধরন ভিন্ন। শিক্ষাকে আনন্দময় করতে হলে শিক্ষার্থীর বৈচিত্র্যময় প্রতিভা ও আগ্রহকে গুরুত্ব দিতে হবে।

    খেলাধুলা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং আনন্দময় কর্মকাণ্ড শিশুর বুদ্ধি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আনন্দের পরিবেশে শিক্ষার্থীরা শেখার প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহী হয়। মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে অর্থবহ ও স্থায়ী শেখা সম্ভব হয়। ভয়, অতিরিক্ত চাপ ও পরীক্ষাভীতি কমে। আত্মবিশ্বাস, আত্মসম্মান এবং ইতিবাচক মনোভাব গড়ে ওঠে। প্রশ্ন করা, নতুন ধারণা তৈরি করা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ে। ভবিষ্যতের কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জিত হয়। আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহযোগিতা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠে। অন্যের মতামতকে সম্মান করার অভ্যাস তৈরি হয়। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল নয়, বাস্তব জীবনে দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরি হয়। সৃজনশীল ও দক্ষ জনশক্তি উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ায়। যুক্তিবোধ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের চর্চা বৃদ্ধি পায়। তবে এটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

    অনেক শিক্ষক এখনো প্রচলিত বক্তৃতানির্ভর পদ্ধতিতে অভ্যস্ত। অনেক সরকারি বিদ্যালয়ে এক শ্রেণিতে ৫০-৮০ বা তারও বেশি শিক্ষার্থী থাকে। এত বড় শ্রেণিতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা কঠিন। অনেক বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, বিজ্ঞানাগার, গ্রন্থাগার, খেলার মাঠ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির অভাব রয়েছে।

    শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য পরীক্ষায় ভালো ফল। ফলে আনন্দময় ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা অনেক সময় গুরুত্ব হারায়

    অভিভাবক প্রায়ই মনে করেন, কঠোর পড়াশোনা ও বেশি পরীক্ষা মানেই ভালো শিক্ষা। যদি মূল্যায়ন প্রধানত লিখিত পরীক্ষার ওপর নির্ভরশীল থাকে, তবে দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও সহযোগিতার যথাযথ মূল্যায়ন সম্ভব হয় না। শহরের তুলনায় অনেক গ্রামীণ বিদ্যালয়ে শিক্ষক, প্রযুক্তি ও শিক্ষা-উপকরণের ঘাটতি বেশি।

    শিক্ষানীতি ও শিক্ষাক্রমে ঘন ঘন পরিবর্তন হলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে।

    শিক্ষাকে আনন্দময় করতে হলে উপযুক্ত কারিকুলাম প্রণয়নের পাশাপাশি এসব সংকট দূর করতে হবে। আমাদের উচিত ফিনল্যান্ড, জাপান, সিঙ্গাপুর, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ভালো করে পর্যালোচনা করে নতুন শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করা।

  • গাংনীতে সাপের কামড়ে স্কুলছাত্রীর মৃ’ত্যু

    গাংনীতে সাপের কামড়ে স্কুলছাত্রীর মৃ’ত্যু

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামে বিষধর সাপের কামড়ে জুই (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।নিহত জুই সাহারবাটি গ্রামের দক্ষিণপাড়ার জামাল হোসেনের মেয়ে এবং স্থানীয় ইবাদতখানা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।


    শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে জুই নিজ শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে ছিল। এ সময় একটি বিষধর সাপ তাকে কামড় দেয়। অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে সাপের কামড়ের স্পষ্ট আলামত না পাওয়ায় তাকে হাড়িয়াদহ গ্রামের এক কবিরাজের কাছে নেওয়া হয়।
    পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

  • গাংনীতে সাপের দংশনে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু

    গাংনীতে সাপের দংশনে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু

    মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামে বিষধর সাপের দংশনে জুই (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    এর আগে, শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত জুই সাহারবাটি গ্রামের দক্ষিণপাড়ার জামাল হোসেনের মেয়ে এবং স্থানীয় ইবাদতখানা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে জুই নিজ শয়নকক্ষে ঘুমিয়ে ছিল। এ সময় একটি বিষধর সাপ তাকে দংশন করে। পরে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে সাপের কামড়ের স্পষ্ট আলামত না পাওয়ায় তাকে হাড়িয়াদহ গ্রামের এক কবিরাজের কাছে নেয়া হয়।

    পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে তার মৃত্যু হয়।

    গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

  • আজানরত অবস্থায় ইমামের মৃত্যু

    আজানরত অবস্থায় ইমামের মৃত্যু

    কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার একটি পাঞ্জেগানা মসজিদে এশার আজান দেওয়ার সময় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মো. আমিনুল ইসলাম (৪৮) নামে এক ইমামের মৃত্যু হয়েছে। আজানরত অবস্থায় তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    শনিবার (১১ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটে উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামের মাস্টারবাড়ি পাঞ্জেগানা মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত আমিনুল ইসলাম গোপিনাথপুর গ্রামের কাজীবাড়ি এলাকার মৃত শামসুল আলমের ছেলে। তিনি দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে মাস্টারবাড়ি পাঞ্জেগানা মসজিদে ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পাশাপাশি প্রায় এক দশক ধরে কণ্ঠনগর দক্ষিণপাড়া দারুল সুন্নাহ তাহফিজুল কুরআন মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলেছেন।

    স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম জানান, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতেও তিনি এশার আজান দিচ্ছিলেন। আজানের একপর্যায়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মসজিদের ভেতরেই লুটিয়ে পড়েন। উপস্থিত মুসল্লিরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. গোলাম রব্বানী সোহেল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    স্থানীয়দের ভাষ্য, আমিনুল ইসলাম ছিলেন অত্যন্ত সাদাসিধে, বিনয়ী ও ধর্মপ্রাণ একজন আলেম। ইমামতি, কোরআনের শিক্ষা এবং নৈতিক আদর্শের মাধ্যমে তিনি এলাকায় বিশেষ সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছিলেন। তার মৃত্যুতে মসজিদের মুসল্লি, মাদরাসার শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী ও সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষার্থী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

    নিহতের স্ত্রীর ভাই ও বুড়িচং উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক নাজির মাহমুদ নছির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রোববার (১২ জুলাই) বাদ জোহর গোপিনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

  • ভারতে নতুন করে করোনার হানা, ২ জনের মৃত্যু

    ভারতে নতুন করে করোনার হানা, ২ জনের মৃত্যু

    ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের কাদাপা জেলায় আবারও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। এতে প্রদেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। সম্প্রতি জেলায় আটজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। একইসঙ্গে গত কয়েক সপ্তাহে করোনায় আক্রান্ত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

    ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, কাদাপার রাজামপেট এলাকার ৫২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হওয়ার পর তার করোনা শনাক্ত হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভেলোরের ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তিনি মারা যান।

    অন্যদিকে, কাদাপার ৪৩ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তি অসুস্থতা নিয়ে সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে করোনা পরীক্ষায় তার সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরে হাসপাতালের করোনা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    এছাড়া কাদাপা মেডিকেল কলেজের ২৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর শরীরেও করোনা শনাক্ত হয়েছে। তিনি বর্তমানে নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    নতুন করে সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ বিশেষ টিম মোতায়েন করেছে। আক্রান্ত এলাকাগুলো থেকে প্রায় ৪০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি নমুনার ফল নেগেটিভ এসেছে। বাকি নমুনাগুলোর পরীক্ষার ফলের অপেক্ষায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে কাদাপা জেলায় আটজন করোনা রোগী রয়েছেন। ভাইরাসের ধরন শনাক্ত এবং সংক্রমণের ধরণ বোঝার জন্য নমুনা পাঠানো হয়েছে।

    অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সাভিথা কাদাপায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আক্রান্ত এলাকাগুলোতে কঠোরভাবে করোনা স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি চালানোর নির্দেশ দেন।

    পাশাপাশি আক্রান্ত এলাকাগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। জীবাণুনাশক ছিটানো ও ব্লিচিং কার্যক্রমও চলছে।

    এ ছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের দ্রুত করোনা পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাদের করোনা শনাক্ত হবে তাদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হবে এবং অন্যদের বাড়িতে থেকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

    পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলার হাসপাতালগুলোকে পর্যাপ্ত শয্যা, আইসোলেশন সুবিধা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার, জনসমাগমে মাস্ক ব্যবহারের এবং করোনার উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

  • জনসংখ্যাকে উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তরের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

    জনসংখ্যাকে উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তরের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং সুশাসন নিশ্চিতের মাধ্যমে দেশের জনসংখ্যাকে উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তরের জন্যে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘গুণগত ও পরিকল্পিত জনসংখ্যা একটি দেশের প্রধান সম্পদ ও শক্তি। এটি উন্নয়নের ভিত্তি এবং সমৃদ্ধির চাবিকাঠি। অন্যদিকে, অপরিকল্পিত ও অদক্ষ জনসংখ্যা একটি দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।’

    আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘একটি জাতির প্রকৃত শক্তি তার জনসংখ্যার আকারের ওপর নির্ভর করে না, বরং জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দক্ষতা, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতার ওপর নির্ভর করে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘অদক্ষ ও বেকার জনসংখ্যা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, শ্রমবাজার, পরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জনসেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, যা নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের জন্ম দেয়।’ এসময় তিনি ভারসাম্যপূর্ণ জনসংখ্যা নিশ্চিত করা এবং এর গুণগত মান উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    বাংলাদেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে অগ্রযাত্রার কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এ যাত্রার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার ঘোষিত ১৯ দফা সামাজিক-অর্থনৈতিক মুক্তি কর্মসূচির অন্যতম দফা ছিল ‘জনসংখ্যা বিস্ফোরণ রোধ’। ১৯৭৬ সালে তার নেতৃত্বে জাতীয় জনসংখ্যা পরিষদ গঠন এবং ‘জনসংখ্যা নীতি’ প্রণয়ন করা হয়।’

    তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জনমিতিক লভ্যাংশের সর্বোচ্চ সুফল অর্জনের লক্ষ্যে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দেন।

    তিনি আরও বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেন। যার ফলে বাল্যবিবাহ কমে, সচেতনতা ও নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ও পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণের প্রবণতা বাড়ে।’

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। সীমিত ভূমি, প্রাকৃতিক সম্পদ ও অবকাঠামোর তুলনায় আমাদের জনসংখ্যার চাপ অত্যন্ত বেশি। এর সঙ্গে দ্রুত নগরায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, পরিবেশগত ঝুঁকি, সীমিত বিনিয়োগ এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাব নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। এই বাস্তবতায় জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা কেবল পরিবার পরিকল্পনা বা স্বাস্থ্যখাতের বিষয় নয়, এটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সুশাসন, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তরুণ এবং এই বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা। অর্থনীতির ভাষায় যা জনমিতিক লভ্যাংশ। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর এবং চীনের মতো বহু দেশ এই সুযোগের যথাযথ ব্যবহার করে স্বল্প সময়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, এই সুযোগ সীমিত সময়ের জন্য। তাই আজকের তরুণদের আগামী দিনের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে। আর তা করতে না পারলে এই সম্ভাবনাই একসময় বেকারত্ব, দারিদ্র্য, সামাজিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কাজেই মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তিগত ও কারিগরি দক্ষতা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি আনন্দিত যে এ বছরের বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি’ যা তারুণ্যের প্রত্যাশা ও জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে গভীরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’ তিনি এ প্রতিপাদ্যকে বাস্তব কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এ যুগে বিশ্ব অর্থনীতি ও শ্রমবাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তরুণদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গণিত, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, গবেষণা এবং উদ্ভাবনী দক্ষতায় সমৃদ্ধ করে তুলতে হবে। একই সঙ্গে সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, সৃজনশীলতা, যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা এবং কর্মসংস্কৃতির মতো জীবনদক্ষতারও বিকাশ ঘটাতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত এবং শ্রমবাজারের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলে এমন শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, যা তরুণদের দেশীয় ও বৈশ্বিক উভয় শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে সক্ষম করে।’

    কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে এখনও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমলেও মোট জনসংখ্যার বিশাল ভিত্তির কারণে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু জন্মগ্রহণ করছে। ফলে দেশের মোট জনসংখ্যা এখনও বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

    দ্বিতীয়ত, মোট প্রজনন হার গত দেড় দশক ধরে প্রায় দুই দশমিক তিন-এ স্থির রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে জনসংখ্যাকে স্থিতিশীল পর্যায়ে আনতে এ হারকে দুই এর কাছাকাছি নিয়ে আসা এবং তা ধরে রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় চ্যালেঞ্জ।

    তৃতীয়ত, অশিক্ষিত ও পশ্চাৎপদ পরিবারে জন্মহার তুলনামূলক অনেক বেশি। পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে সেভাবে ঢেলে সাজাতে হবে।

    চতুর্থত, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, বিয়ের গড় বয়স বৃদ্ধি এবং কিশোর-কিশোরীদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম সামাজিক অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সরকার স্বাস্থ্যকে নাগরিকের মৌলিক অধিকার এবং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে। ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ এবং ‘চিকিৎসার অভাবে কোনো মৃত্যু নয়’ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’

    তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পুষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জনমিতিক লভ্যাংশের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে জনসংখ্যাকে উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তরের ক্ষেত্রে সরকারের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে। এই জাতীয় লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।’

    রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে অপার সম্ভাবনা। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের সঠিক সিদ্ধান্ত, সঠিক বিনিয়োগ এবং সঠিক পরিকল্পনাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের ভিত্তি রচনা করবে। পরিকল্পিত পরিবার, মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং সুশাসন এই ছয়টি ভিত্তিকে সমান গুরুত্ব দিতে পারলেই জনসংখ্যা জাতীয় সম্পদে পরিণত হবে।’

    রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে সুস্থ জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ডায়ালাইসিস সুবিধা চালুর সরকারের সিদ্ধান্তকে আমি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই।’

    এর আগে রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্য খাতের তৃণমূল পর্যায়ে অবদান রাখা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের মধ্যে ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করেন। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ও প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

    অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের প্রতিনিধি ক্যাথরিন ব্রিন কামকং। স্বাগত বক্তব্য দেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. জিন্নাত রেহানা।

  • সাঁকোই ভরসা ১০ গ্রামের মানুষের

    সাঁকোই ভরসা ১০ গ্রামের মানুষের

    সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দী ও সাদীপুর ইউনিয়নের মানুষের ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে প্রায় ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে স্কুল-কলেজ, হাটবাজার ও কর্মস্থলে যাতায়াত করতে হয় গ্রামবাসীকে। বর্ষা মৌসুমে সাঁকোটি পানিতে তলিয়ে গেলে নৌকাই ওই এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাদীপুর ইউনিয়নের গুলনগর ও সনমান্দী ইউনিয়নের কুমারচর গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদ। পঞ্চমীঘাট বাজারসংলগ্ন এ নদে কোনো সেতু না থাকায় কুমারচর, জোয়ার, দৌলরদী, ফতেপুর, কুলকান্দি, দড়িকান্দি, সাজালেরকান্দিসহ আশপাশের প্রায় ১০ গ্রামের মানুষ বাঁশের তৈরি অস্থায়ী সাঁকো দিয়ে নদ পারাপার হয়ে থাকে। প্রতিবছর খরা মৌসুমে এলাকাবাসীর উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হলেও বর্ষা মৌসুমে সাঁকোটি পানির নিচে তলিয়ে গেলে স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, অসুস্থ রোগী ও অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ সবাইকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার হতে হয়। কুমারচর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল হক জানান, বাজারের মালামাল ও কৃষিপণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনত সাংবাদিকদের জানান, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

  • চুয়াডাঙ্গায় যুবদল নেতা হাত কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন

    চুয়াডাঙ্গায় যুবদল নেতা হাত কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবদলের সাবেক সহ-ক্রীড়া সম্পাদক জাহিন শেখকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। হামলায় তার বাম হাতের কব্জি শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এছাড়া ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থান এবং দুই পায়ের গোড়ালি মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে।

    শনিবার (১১ জুলাই) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের হোমিওপ্যাথি কলেজ এলাকায় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে হোমিওপ্যাথি কলেজ এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় একদল দুর্বৃত্ত হঠাৎ জাহিন শেখের ওপর চড়াও হয়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। একপর্যায়ে তার বাম হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং দুই পায়ের গোড়ালিসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। জাহিনের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

    পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

    চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে জাহিন শেখের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর/পঙ্গু হাসপাতাল) স্থানান্তর (রেফার্ড) করা হয়েছে।

    এই ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এই হামলার পেছনে কারা জড়িত বা কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

  • যথাসময়ে কলেজে উপস্থিত হতে শিক্ষকদের তাগিদ

    যথাসময়ে কলেজে উপস্থিত হতে শিক্ষকদের তাগিদ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আবারো যথাসময়ে কলেজে উপস্থিত হতে সরকারি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের তাগিদ দেয়া হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এক নোটিশে এ তাগিদ দেয়া হয়।

    নোটিশটি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের কলেজ ও প্রশাসন শাখার উপপরিচালকসহ সংশিষ্টদের পাঠানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, সব সরকারি কলেজে কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিজ নিজ কর্মস্থলে যথাসময়ে নিয়মিত উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশ করা হলো।

    এর আগে গত বৃহস্পতিবার মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের সকাল ৯টার মধ্যে নিজ দপ্তরে প্রবেশসহ ছয়টি নির্দেশনা দেয়া হয়। দাপ্তরিক শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে এমন নির্দেশনা দেয়া হয়, যা না মানলে নেয়া হবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।

  • শিক্ষার্থীদের ‘আকর্ষণীয়’ পাঠ্যবই দিবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষার্থীদের ‘আকর্ষণীয়’ পাঠ্যবই দিবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    অতীতের সব ভুলভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে এসে আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত, মানসম্মত, প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয় পাঠ্যপুস্তক উপহার দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ‘চারটি নতুন পাঠ্যপুস্তকের কাঠামো চূড়ান্তকরণ কর্মশালা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)’র চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

    এছাড়াও অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেনসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে পাঠ্যপুস্তকের পান্ডুলিপিতে অসংখ্য বানান ভুল ও যাচ্ছেতাই বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছে। আমরা এবার শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গ্রুপভিত্তিক নিবিড় কাজ করছি।’

    তিনি বলেন, অতীতের সেই আবর্জনা পরিষ্কার করে, এবার শতভাগ নির্ভুল বই তৈরি করা হচ্ছে। মানসম্মত প্রিন্টিং ও কাগজের গুণগত মানের ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না।
    এ সময় ড. এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, বইয়ের প্রচ্ছদ ও ভেতরের ছবিগুলো এমন প্রাণবন্ত হতে হবে, যাতে তা কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে আকর্ষণ করে; ছবি যেন নিজেই কথা বলে।

    তিনি জানান, নতুন এই চারটি বইয়ের পান্ডুলিপি চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর গঠিত বিশেষজ্ঞ দলকে আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে ক্রীড়া বিষয়ক অধ্যায়ের কনক্লুসিভ স্টেটমেন্ট এবং সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সাব-কমিটিও আগামী ৫ দিনের মধ্যে তাদের মতামত জমা দেবেন। এরপরই এই পান্ডুলিপি চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে।

    ভবিষ্যৎ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘২০২৭ সালের কাজ শেষ করেই আমরা বসে থাকব না। ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের পরিমার্জিত কারিকুলাম করার জন্য আগামী ১ আগস্ট থেকেই আমরা নতুন বইয়ের কাজে হাত দিব, যাতে হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকে এবং কোনো তাড়াহুড়ো না হয়।’

    তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা খাতের উন্নয়নকে নিজে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁর ভিশন বাস্তবায়নে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি চমৎকার ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

  • শাহবাগে ফুটপাত থেকে তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

    শাহবাগে ফুটপাত থেকে তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

    রাজধানীর শাহবাগ থানা এলাকার তিনটি ফুটপাত থেকে তিন ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার আনন্দবাজার, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলের সামনের সড়কের ফুটপাত থেকে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, পৃথক তিন স্থানে তিন ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পথচারীরা থানায় খবর দেন। বেলা ১১টার দিকে দুজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। তাঁদের মধ্যে একজনের বয়স আনুমানিক ৬০ বছর ও অপরজনের বয়স ৫৫ বছর।

    এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশ থেকে আরও এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ধারণা করা হচ্ছে এই তিনজনই ভবঘুরে। তাঁদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তাঁদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ ফারুক বলেন, প্রাথমিকভাবে অসুস্থতাজনিত কারণে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • প্রাথমিক বৃত্তি পেলেন ৭৯ হাজার ২৪৬ শিক্ষার্থী

    প্রাথমিক বৃত্তি পেলেন ৭৯ হাজার ২৪৬ শিক্ষার্থী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ এর ফলাফলে সারাদেশে মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে। যদিও নীতিমালা অনুযায়ী ৮২ হাজার ৫০০টি বৃত্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত ছিল, বিভিন্ন কারণে শেষ পর্যন্ত ৩ হাজার ২৫৪টি বৃত্তি শূন্য থাকে।

    রোববার (১২ জুলাই) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী, মোট ৮২ হাজার ৫০০টি বৃত্তির মধ্যে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি ছিল ৩৩ হাজার এবং সাধারণ বৃত্তি ৪৯ হাজার ৫০০টি। ট্যালেন্টপুল বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি এবং ২০ শতাংশ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়। অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তির ক্ষেত্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক পাঁচটি করে মোট ৩৯ হাজার ৬০০টি এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য উপজেলাভিত্তিক ২০ শতাংশ বৃত্তি সংরক্ষণ করা হয়।

    মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫ এ সারাদেশের ৭৮ হাজার ৮১০টি বিদ্যালয় অংশ নেয়। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয় ছিল ৬৫ হাজার ৬০৫টি এবং বেসরকারি

    বিদ্যালয় ১৩ হাজার ২০৫টি।

    পরীক্ষায় মোট নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৪১ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২ লাখ ৫৬ হাজার ১১৭ জন এবং ছাত্রী ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৯২৪ জন। পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৮২ জন, যা মোট নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর ৬৫ দশমিক ১১ শতাংশ। উপস্থিতদের মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল ৩ লাখ ৪৪ হাজার ১২৭ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৭৫ হাজার ৮৫৫ জন। উপস্থিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৪১ জন (৩৯.৬৮ শতাংশ) এবং ছাত্রী ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪১ জন (৬০.৩২ শতাংশ)।

    প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের ২৬ হাজার ৩৭৫ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৬ হাজার ৫৯০ জন। এছাড়া সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৪৬ হাজার ২৮১ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের ৩৬ হাজার ৪২০ জন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৯ হাজার ৮৬১ জন।

    সব মিলিয়ে বৃত্তিপ্রাপ্ত ৭৯ হাজার ২৪৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৩৫ হাজার ৮৯২ জন (৪৫.২৯ শতাংশ) এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৩৫৪ জন (৫৪.৭১ শতাংশ)।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা কেবল শিক্ষার্থীদের মেধা মূল্যায়নের একটি ব্যবস্থা নয়; বরং তাদের প্রতিযোগিতামূলক, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, কারিগরি বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

  • প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশ, যেভাবে জানা যাবে

    প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশ, যেভাবে জানা যাবে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রকাশ পেয়েছে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল। বৃত্তি পেয়েছে ৭৯ হাজার ২৪৬ শিক্ষার্থী। রোববার দুপুর ১২টায় ফল প্রকাশ করা হয়।

    শিক্ষার্থীরা অনলাইন, এসএমএস এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিজেদের ফলাফল জানতে পারছে।

    যেভাবে জানা যাচ্ছে ফল: যেকোনো মোবাইল অপারেটর থেকে মোবাইলের মেসেজ অপশনে DPE লিখে একটি স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, রোল নম্বর ১২৩৪৫৬ হলে লিখতে হবে DPE 123456 এবং পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে। ফিরতি এসএমএসে শিক্ষার্থীর নাম ও ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হবে।

    এ ছাড়া বিস্তারিত ফলাফল ও মার্কশিট দেখতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আইপিইএমআইএস (IPEMIS) ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা’ অপশন নির্বাচন করতে হবে। এরপর রোল নম্বর, জেলা ও উপজেলার তথ্য দিয়ে ‘সাবমিট’ বা ‘ফল দেখুন’ বাটনে ক্লিক করলেই ফলাফল দেখা যাবে।

  • শিক্ষার চেয়ে ঋণ পরিশোধেই ব্যয় হচ্ছে বেশি অর্থ: ইউনেস্কো

    শিক্ষার চেয়ে ঋণ পরিশোধেই ব্যয় হচ্ছে বেশি অর্থ: ইউনেস্কো

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বিশ্বের নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর শিক্ষা ব্যবস্থা এক চরম সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার শিক্ষা হলেও, এই দেশগুলোতে এখন শিক্ষার পেছনে ব্যয়ের চেয়ে ঋণের সুদ পরিশোধেই বেশি অর্থ চলে যাচ্ছে।

    জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।

    ইউনেস্কোর ‘পলিসি পেপার অন রিস্টোরিং ফিসক্যাল স্পেস টু সেভ এডুকেশন’ শীর্ষক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী এখন মানসম্মত শিক্ষা লাভের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মূল কারণ, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ঋণ পরিশোধের পেছনে সরকারি ব্যয়ের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে। ফলে এসব দেশের সরকার সামাজিক উন্নয়নের চেয়ে ঋণের কিস্তি শোধ করাকে বেশি অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য হচ্ছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে শিক্ষাব্যয়ের ৩ দশমিক ৩ গুণ ব্যয় হচ্ছে ঋণ পরিশোধে। বর্তমানে গ্লোবাল সাউথের ১১৩টি দেশে ঋণ পরিশোধের ব্যয় শিক্ষার পেছনে মোট সরকারি বরাদ্দকে ছাড়িয়ে গেছে। এসব দেশে বিশ্বের প্রায় ৬১০ কোটি মানুষ বসবাস করে।

    ২০১৫ সালে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জনকারী বাংলাদেশ বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে চূড়ান্তভাবে গ্র্যাজুয়েশন বা মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। অবশ্য সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সরকারের পক্ষ থেকে এই গ্র্যাজুয়েশন প্রক্রিয়াটি আরও তিন বছর পিছিয়ে দেয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করা হয়েছে। উন্নয়নের এই যাত্রাপথের মধ্যেই দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে একটি বড় উদ্বেগের জায়গা তৈরি করেছে ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিশোধের চাপ, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে শিক্ষা খাতের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বরাদ্দে।

    চলতি অর্থবছরের বাজেট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষায় বরাদ্দের চেয়ে ঋণ পরিশোধেই সরকারের তিন গুণেরও বেশি অর্থ ব্যয় হবে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। অপরদিকে সরকারি তথ্য ও প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে নতুন করে কোনো ঋণ না নিলেও কেবল আগের নেয়া ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ বাবদ প্রায় ৪ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে সরকারকে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সালামের মতে, সরকার যখন বিশাল অংকের বৈদেশিক বা অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিশোধে ব্যস্ত থাকে, তখন স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য খাতগুলোতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হয় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে। তবে তিনি মনে করেন, ঋণ পরিশোধের চাপ সামলাতে গিয়ে শিক্ষার বাজেট কমানো কোনো বাধ্যতামূলক বিষয় নয়। সরকার চাইলে অন্য কোনো খাতের খরচ কমিয়েও শিক্ষার বরাদ্দ পুরোপুরি বজায় রাখতে পারে। কারণ শিক্ষা খাতের ব্যয়টি হলো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। এর মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে রাষ্ট্র তার অর্থনৈতিক অবস্থানের সহজে উন্নয়ন ঘটাতে পারে।

    বর্তমানে সরকার শিক্ষাকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবেই বিবেচনা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার যদি রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায়, তাহলে ভবিষ্যতেও এ অগ্রাধিকার অব্যাহত রাখতে হবে। ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে যদি কোনো খাতে ব্যয় কমাতেই হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে শিক্ষা খাতকে এ ধরনের বিবেচনার বাইরে রাখতে হবে।

    ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের পর থেকে গড়ে ঋণ পরিশোধের জন্য অতিরিক্ত ১ ডলার বরাদ্দের বিপরীতে প্রকৃত শিক্ষা ব্যয় দশমিক ২৮ ডলার করে

    হ্রাস পেয়েছে। এ নেতিবাচক প্রভাবের কারণে ২০১৫ সালের পর থেকে বিশ্বের অধিকাংশ দেশই তাদের শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়াতে ব্যর্থ হয়েছে। ইউনেস্কোর প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বের ১৩৭টি দেশ আন্তর্জাতিকভাবে সম্মত শিক্ষা অর্থায়নের ন্যূনতম মানদণ্ড অর্জন করতে পারছে না। ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি-৪ অর্জনের জন্য নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো বর্তমানে বার্ষিক ৯৭ বিলিয়ন ডলারের স্থায়ী অর্থায়ন ঘাটতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।

    ইউনেস্কোর মতে, এ সংকটের পেছনে আরেকটি বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে অভ্যন্তরীণ ঋণ। ঐতিহাসিকভাবে কেবল বৈদেশিক ঋণ নিয়ে আলোচনা হলেও বর্তমানে অভ্যন্তরীণ ঋণ শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য আরো বেশি ক্ষতিকর হয়ে উঠেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অভ্যন্তরীণ ঋণের মেয়াদ সাধারণত কম হয় এবং সুদের হার থাকে অত্যন্ত চড়া। বর্তমানে মোট ঋণ পরিশোধের প্রায় ৬২ শতাংশই হলো অভ্যন্তরীণ ঋণ এবং ১০১টি দেশ তাদের মোট ঋণ পরিশোধের অর্ধেকেরও বেশি অর্থ ব্যয় করছে দেশের ভেতরের বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ঋণদাতাদের পেছনে।অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতার সবচেয়ে বড় অংশটি যাবে অভ্যন্তরীণ খাতের ট্রেজারি বন্ড ও বিলের মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ পরিশোধে। এর পরিমাণ ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে একক অর্থবছরে সর্বোচ্চ। এ সময় প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র ম্যাচিউর বা মেয়াদোত্তীর্ণ হবে। এর বাইরে কেবল ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদ আগামী অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণের কিস্তি (আসল) বাবদ পরিশোধ করতে হবে ৩৭৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে সামনের অর্থবছরে সরকারের ঋণ পরিশোধের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৪ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকায়।

  • ১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

    ১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বন্যা ও বৈরি আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

    ইতোমধ্যে গত ৮ জুলাই ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র ও আজকের ১১ জুলাইয়ের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। তবে রুটিন অনুযায়ী দেশের অন্যান্য বোর্ডের পরীক্ষা যথানিয়মে অনুষ্ঠিত হবে।

    পরীক্ষা স্থগিতের কথা স্বীকার করে আন্তঃশিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ও ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে ও বিভিন্ন বোর্ড চেয়ারম্যানদের নিয়ে অনুষ্ঠিত জুম মিটিংয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    দেশের অন্যান্য জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হলে কি সিদ্ধান্ত আসতে পারে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিলেট বোর্ডে বন্যার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে আজও আমরা পরীক্ষা চালিয়েছি। পরিস্থিতির অবনতি হলে সেখানেও একই ধরনের ঘোষণা আসতে পারে।

    উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ পার্বত্য জেলাগুলোতে প্রবল বর্ষণে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে পানি প্রবেশ করায় গত বুধবার ৮ জুলাইয়ের পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হলে ১১ জুলাই শনিবারের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়। অপরদিকে এবারই সারাদেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

  • যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেন ছেড়ে চীনে পাড়ি জমালেন ১০ বিজ্ঞানী

    যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেন ছেড়ে চীনে পাড়ি জমালেন ১০ বিজ্ঞানী

    গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত তহবিলের অভাব এবং পশ্চিমা দেশগুলোতে চীনা শিক্ষাবিদদের বড় কোনো প্রকল্পের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসাসহ বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করে এ বছর ডজন খানেক বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেন ছেড়ে চীনে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়তে পাড়ি জমিয়েছেন।

    পাঠকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগানো এমন ১০ জন বিজ্ঞানী ও গবেষকের গল্প নিচে তুলে ধরা হলো:

    ১. ‘চীনাদের জন্য অসম্ভব’: ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ঝাং কাই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লেন

    অভূতপূর্ব নির্ভুলতার সঙ্গে একটি অতি-বৃহৎ আকারের সেলুলার স্ট্রাকচার গ্রুপ ডাটা ব্যাংক তৈরি করছেন বিজ্ঞানী ঝাং কাই। নিজের এই বিশাল স্বপ্ন পূরণের জন্য জন্মভূমি চীনে ফিরে আসাকেই তিনি স্বাভাবিক পছন্দ হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

    ২. নিজস্ব ল্যাব গড়তে কেমব্রিজ ছাড়লেন জ্বালানি বিজ্ঞানী চেন পেইপেই

    কিছু উদীয়মান তরুণ বিজ্ঞানীদের কাছে ব্রিটিশ একাডেমিয়ার আগের সেই মর্যাদা এখন কমছে। এর পেছনে রয়েছে ক্রমাগত সংকুচিত হতে থাকা গবেষণা তহবিল এবং জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি। আর এই কারণেই শীর্ষ স্তরের প্রতিভারা এখন স্থিতিশীলতা ও প্রয়োজনীয় সম্পদের খোঁজে অন্য দেশের দিকে ঝুঁকছেন।

    জ্বালানি বিজ্ঞানী চেন পেইপেই তেমনি এক পরিস্থিতিতে হংকংয়ে নিজের ল্যাব তৈরি করতে কেমব্রিজ ছেড়েছেন।

    ৩. নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী ওমর ইয়াঘি যুক্তরাষ্ট্রের পাট চুকিয়ে চীনের শিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিলেন

    গত বছরের রসায়নে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ওমর ইয়াঘি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত একটি নতুন গবেষণা কেন্দ্রের নেতৃত্ব দিতে চীনের শিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন।

    ৪. ব্ল্যাক হোল শিকারি বিজ্ঞানী দাই লিয়াং যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে সাংহাইয়ে

    ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর অনুসন্ধানের কাজের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার ‘সবচেয়ে মেধাবী তরুণ বিজ্ঞানীদের’ জন্য সংরক্ষিত একটি মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপ পেয়েছিলেন পদার্থবিদ দাই লিয়াং। তিনি সম্প্রতি চীনে ফিরে এসেছেন এবং সাংহাইয়ে একটি পদে যোগ দিয়েছেন।

    ৫. উদীয়মান চিপ বিজ্ঞানী জিয়াং জিয়ানফেং এমআইটি ছেড়ে পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে

    সাধারণত পিএইচডি শেষ করার পর ডক্টরাল সুপারভাইজার হতে একজন শিক্ষাবিদের আট থেকে দশ বছর সময় লাগে। কিন্তু সেমিকন্ডাক্টর বিজ্ঞানী জিয়াং জিয়ানফেং মাত্র ১৮ মাসেই সেই গৌরব অর্জন করেছেন এবং এমআইটি ছেড়ে চীনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন।

    ৬. প্রখ্যাত নিউরোবায়োলজিস্ট এবং সাবেক তায়কোয়ান্দো অধিনায়ক চিহ-ইং সু চীনে পাড়ি জমালেন

    ফল মাছি এবং মশার ঘ্রাণশক্তির ওপর গবেষণার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ও প্রশংসিত নিউরোবায়োলজিস্ট চিহ-ইং সু ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সান দিয়েগোর ফ্যাকাল্টি ভাইস-চেয়ারের পদ ছেড়েছেন। তিনি শেনজেন একাডেমি অব মেডিকেল সায়েন্সেস-এ যোগ দিয়েছেন।

    ৭. বিশ্বের প্রথম উদ্ভিদ শনাক্তকরণ অ্যাপের জনক এআই বিজ্ঞানী লিং হাইবিন এখন চীনে

    বিশ্বের প্রথম মোবাইল উদ্ভিদ শনাক্তকরণ অ্যাপের পেছনের কারিগর ও প্রশংসিত কম্পিউটার বিজ্ঞানী লিং হাইবিন যুক্তরাষ্ট্রের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি পূর্ব চীনের হাংচৌতে অবস্থিত ওয়েস্টলেক ইউনিভার্সিটিতে পূর্ণকালীন অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়েছেন।

    ৮. উত্তর আমেরিকার শীর্ষ কম্পিউটার ভিশন বিজ্ঞানী লিয়াং জি চীনে প্রত্যাবর্তন করলেন

    বিশ বছর আগে মাইক্রোসফটে থাকার সময় লিয়াং জি এমন কিছু প্রযুক্তি তৈরি করেছিলেন যা উইন্ডোজ মিডিয়া ভিডিও প্লেয়ার এবং ব্লু-রে ডিস্কের মতো পণ্যে যুক্ত করা হয়েছিল, যা বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ ব্যবহার করেন। সেই কম্পিউটার ভিশন বিজ্ঞানী এবার উত্তর আমেরিকা থেকে চীনে ফিরে এসেছেন।

    ৯. পুরস্কারপ্রাপ্ত মেমোরি চিপ বিশেষজ্ঞ মার্কিন চাকরি ছেড়ে চীনা সেমিকন্ডাক্টর ফার্মে

    সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং এবং মেমোরি চিপ খাতের এক প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞ দুই দশকেরও বেশি সময় পর ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, আরভিনের অধ্যাপনা ছেড়েছেন। তিনি পূর্ব চীনের একটি শীর্ষস্থানীয় কন্ডাক্টিভ ম্যাটেরিয়ালস কোম্পানিতে যোগ দিয়েছেন।

    ১০. ব্রিটেনে ৩৮ বছর কাটানোর পর হংকং পলিইউ-তে যোগ দিলেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ইভি মোটর বিশেষজ্ঞ

    বৈদ্যুতিক মোটর ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অন্যতম বিশ্বসেরা বিশেষজ্ঞ ঝু জিকিয়াং ব্রিটেনে তার প্রায় চার দশকের দীর্ঘ কর্মজীবনের ইতি টেনেছেন। তিনি হংকং পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটিতে একটি পূর্ণকালীন পদে যোগ দিতে সেখানে পাড়ি জমিয়েছেন।

  • ৩২০ সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ শিক্ষার্থী নিহত

    ৩২০ সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ শিক্ষার্থী নিহত

    শিক্ষার্থীদের সচেতন করা গেলে নিরাপদ সড়ক বিনির্মাণের পাশাপাশি সুশৃঙ্খল জাতী গঠন সম্ভব হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি আরো বলেন, মিরসরাই ট্রাজেডির পুনরাবৃত্তি রোধে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সচেতনতা তৈরির মত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়মিত কর্মসূচি না থাকায় প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য শিক্ষার্থী প্রাণহানি ঘটছে। আহত হচ্ছে, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন।

    যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত শুধুমাত্র গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে দেখা গেছে ৩২০ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী নিহত ও ১০৯ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।

    মিরসরাই ট্রাজেডির ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আজ ১১ জুলাই শনিবার গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব এ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি আরো বলেন, ২০১১ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থী বহনকারী একটি মিনিট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে শিক্ষার্থীসহ ৪৫ জন নিহত হয়। দেশের ইতিহাসে এক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির এমন দুর্ঘটনার পরে সরকার শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তায় সচেতনতামুলক কোন কর্মসূচি নেয়নি। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে সচেতনতা গড়ে উঠেনি। এমন বাস্তবতায় প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য শিক্ষার্থীর প্রাণ ঝড়ছে দাবি করে অনতিবিলম্বে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান জীবন রক্ষায় ৫ দফা দাবি তুলে ধরেন।

    যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারিতে ৫৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৭শিক্ষার্থী নিহত ও ২২ জন আহত হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে ৩৯ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৭শিক্ষার্থী নিহত ও ১১আহত হয়েছে। মার্চ মাসে

    ৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬৭শিক্ষার্থী নিহত ও ০১ জন আহত হয়েছে। এপ্রিল মাসে ৫১টি সড়ক দুর্ঘটনা ৫৬শিক্ষার্থী নিহত ও ২৫জন আহত হয়েছে। মে মাসে ৬১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭৩শিক্ষার্থী নিহত ও ২৩ জন আহত হয়েছে। জুন মাসে ৫৩ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬০শিক্ষার্থী নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছে।

    সড়কে প্রাণহানি কমাতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে ৫ দফা সুপারিশ পেশ করা হয়েছে।

    ১.পাঠ্যবইয়ে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচতেনতামূলক পাঠ্যসূচি অন্তর্ভুক্ত করা।

    ২.প্রতিমাসে কমপক্ষে ০১ বার কমন রুমে ঘণ্টাব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে অভিজ্ঞদের সমম্বয়ে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা।

    ৩.জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রতিটি সড়ক পারপারের স্পটে, বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্র্থীদের পারাপার স্থানে জেব্রা ক্রসিং অংকন করা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড সাঁটানো।

    ৪.জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সড়ক পারাপারে “রোড সেইফটি গার্ড” লাল পতাকা হাতে নিয়ে পারাপারের ব্যবস্থা করা।

    ৫.প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ও শিক্ষকের সমম্বয়ে সড়ক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা।

  • সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ে স্কুল-কলেজকে জরুরি নির্দেশনা

    সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ে স্কুল-কলেজকে জরুরি নির্দেশনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি স্কুল-কলেজে আইপি ভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সেন্ট্রাল অনলাইন মনিটরিং সিস্টেম চালুর বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে একটি জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

    শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১৩ জুলাই বিকেল ৪টার মধ্যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নির্ধারিত গুগল ফর্মে তাদের প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ও মনিটরিং সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে হবেশুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সব স্কুল ও কলেজ প্রধানদের এ নির্দেশনা দেয় মাউশি।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন সুষ্ঠুভাবে ক্লাস পরিচালনা ও উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে সেন্ট্রাল অনলাইন মনিটরিং সিস্টেম চালু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

    এতে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অধিদপ্তরের আওতাধীন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (সরকারি ও বেসরকারি) প্রধানদের আগামী ১৩ জুলাই বিকাল ৪টার মধ্যে গুগল ফর্মে (https://forms.gle/2jEaP9MDfmj8VD7y7) গুগল ফর্মে তথ্য প্রদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।

    এতে আরো ও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য প্রদান করতে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিষয়টি অতীব জরুরি।

  • কাল প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    কাল প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। এই ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষ্যে রোববার দুপুরে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন উপস্থিত থাকবেন।

    এ বছর মোট ৮২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ পাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বাকি ২০ শতাংশ পাবে বেসরকারি বা কিন্ডারগার্টেনের প্রার্থীরা। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ‘ট্যালেন্টপুল’ ও ‘সাধারণ গ্রেড’-এই দুই ভাগে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়।

    পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের অন্য সব জেলায় ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত এই পরীক্ষা চলে। আর পার্বত্য তিন জেলা-রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বিশেষ সময়সূচিতে ১৭ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হয়।

    এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৬ লাখ ৪০ হাজারের কিছু বেশি। তার মধ্যে সাড়ে ৫ লাখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এবং ৯০ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (কিন্ডারগার্টেন) শিক্ষার্থী।

  • নারী প্রধান শিক্ষককে পে/টানোর ঘটনায় মা গ্রেফতার

    নারী প্রধান শিক্ষককে পে/টানোর ঘটনায় মা গ্রেফতার

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধ

    চুয়াডাঙ্গা শহরের ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ে ঢুকে মারধরের ঘটনায় এক গৃহবধূকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, বুধবার রাতে ফার্মপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে মিতালি খাতুন (২৮) নামের ওই নারীকে গ্রেফতার করা হয়। তবে তার স্বামী সামসুর রহমান শুভ পলাতক রয়েছেন।

    ঘটনার বর্ণনায় তিনি বলেন, বুধবার সকালে ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে মিতালি খাতুন ও তার স্বামী সামসুর রহমান শুভ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে চড়-থাপ্পড় মারেন।

    ঘটনাটি বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয় এবং পরে ভিডিয়োটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

    রাতে প্রধান শিক্ষক চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় সামসুর রহমান ও মিতালি খাতুনকে আসামি করে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও মারধরের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই আসামি করা হয়েছে বলে জানান ওসি মিজানুর।

    ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শারমিন আক্তার বলেন, বুধবার সকালে বিদ্যালয়ে অ্যাসেম্বলি চলাকালে জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হচ্ছিল। এ সময় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সামসুর রহমান ও মিতালি খাতুন দম্পতির মেয়ে বিসমা জান্নাত ঐশি লাইনে দাঁড়িয়ে পেছনের আরেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ে। প্রধান শিক্ষক তাকে ইশারায় থামতে বলেন।

    এরপর জাতীয় সংগীত শেষ হলে প্রধান শিক্ষক ঐশি ও অপর শিক্ষার্থীকে ডেকে মারামারি করার কারণ জিজ্ঞাসা করেন। এসময় ঐশি প্রাধান শিক্ষকের সঙ্গে তর্কতর্কি শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষক ঐশি ও অপর শিক্ষার্থী দুজনকে দুটি চড় মেরে শাসন করেন।

    তিনি বলেন, স্কুল ছুটির পর ঐশির বাবা সামসুর রহমান ও মা মিতালি খাতুন বিদ্যালয়ে এসে সন্তানকে মারার কারণ জানতে চান। এ নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তাদের তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে সামসুর রহমান প্রধান শিক্ষককে চড় মারেন।

    পুরো ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয় এবং পরে ভিডিয়োটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, ওই শিক্ষার্থীকে বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেও বিশৃঙ্খল আচরণ থেকে বিরত রাখা সম্ভব হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে তাকে মৃদু চড় দিই।পরে তার অভিভাবকরা স্কুলে এসে আমাকে মারধর করেন। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা করেছি।

  • নারী প্রধান শিক্ষককে পেটালেন অভিভাবক

    নারী প্রধান শিক্ষককে পেটালেন অভিভাবক

    চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

    চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যালয়ে ঢুকে নারী প্রধান শিক্ষককে পিটিয়েছেন এক অভিভাবক। বুধবার দুপুরে জেলা শহরের ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

    এ সময় প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিমকে আচমকা চড়-থাপ্পড় মারেন ওই অভিভাবক। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ে যেতে নিরাপত্তার অভাব বোধ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।

    শিক্ষককে মারধরের ভিডিয়ো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন অভিভাবকের এহেন আচরণ বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত করেছে।

    জানা গেছে, বুধবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ফার্মপাড়ার সামসউর রহমান শুভ বিদ্যালয়ে ঢুকে অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে অফিসকক্ষে বসা অবস্থায় প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিমকে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকেন। এ সময় কয়েকজন তাকে নিবৃত্ত করে বাইরে বের করে নিয়ে যান।

    বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সামসউর রহমান শুভ ও মিতালী খাতুন দম্পতির মেয়ে বিসমাহ জান্নাত ঐশ্বর্য (৯) তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। সে স্কুলের সমাবেশ চলাকালে এক ছাত্রের সঙ্গে কথা বলাবলি করছিল। এ কারণে তাকে শাসন করতে গিয়ে প্রধান শিক্ষক তার গালে একটি চড় মারেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তার পিতা শুভ বিদ্যালয়ে ঢুকে প্রধান শিক্ষককে মারধর করেন।

    এ ব্যাপারে একাধিকবার কল করা হলেও অভিযুক্ত অভিভাবক শুভ ফোন রিসিভ করেননি।

    এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিম বলেন, আমি একজন শিক্ষক হয়ে আদর যেমন করি একটু শাসনও করতে হয়। এ কারণেই আলতো করে একটা চড় মেরেছিলাম। এ কারণে একজন অভিভাবক আমার অফিসে ঢুকে আমার গায়ে হাত তুলবেন এটা আমার ধারণা ছিল না। এ অবস্থায় বিদ্যালয়ে যেতে আমি নিরাপত্তাহীন মনে করছি। আবারও আমার ওপর হামলা হতে পারে বলে আমি আশঙ্কা করছি।

    এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি চুয়াডাঙ্গা কেদারগঞ্জ আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোয়াইব হোসেন বলেন, এ ধরনের আচরণ আমরা কোনো অভিভাবকের কাছ থেকে আশা করি না। এমন হলে আমরা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানুষ করব কিভাবে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং লাঞ্ছনার শিকার শিক্ষকের পাশে থেকে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে চাই।

    এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহীন্দ্র কুমার মণ্ডল বলেন, ঘটনাটি নিন্দনীয়। অভিভাবকের কোনো অভিযোগ থাকলে তিনি শিক্ষা অফিসকে জানাতে পারতেন; কিন্তু তিনি তা না করে প্রধান শিক্ষককে মারধর করবেন এটা অন্যায়। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

  • উচ্চশিক্ষায় ভেরিফিকেশন ফি কমাল ঢাবি

    উচ্চশিক্ষায় ভেরিফিকেশন ফি কমাল ঢাবি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ই-মেইল ভেরিফিকেশন ফি ১০ ইউএস ডলার কমানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে এ সেবার জন্য শিক্ষার্থীদের জনপ্রতি ৪০ ইউএস ডলার পরিশোধ করতে হবে।

    বুধবার (৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে ই-মেইল ভেরিফিকেশন ফি জনপ্রতি ৫০ ইউএস ডলার ছিল। গত মার্চে পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের স্নাতক শেষ করা ছাত্রী জিনিয়া তাসনিমের একাডেমিক কাগজপত্র যাচাইয়ের (ভেরিফিকেশন) জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সুইডেনের কেন্দ্রীয় ভর্তি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন। পরবর্তীতে যা সুইডেনের কেন্দ্রীয় ভর্তি কর্তৃপক্ষ দিতে অস্বীকার করে। ফলে সুইডেনের বিশ্ববিদ্যালয়ে তার আবেদনটি অসম্পূর্ণ থেকে গিয়েছিল। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে সমালোচনার মুখে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তখনই শিক্ষার্থীরা ই-মেইল ভেরিফিকেশন ফি সম্পূর্ণ ফ্রি করার দাবি করেছিলেন। তবে সম্পূর্ণ ফ্রি না করে ১০ ডলার কমানোর সিদ্ধান্ত নিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

  • ইয়াশ রোহানের প্রেমে তটিনী!

    ইয়াশ রোহানের প্রেমে তটিনী!

    সুমাইয়া দশম শ্রেণীতে পড়ে। উজিরপুর হাই স্কুলের সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে সে। বেশ চঞ্চল ও স্পষ্টভাষী। তবে পড়াশোনায় মনোযোগ কম। কত ছেলে যে তার প্রেমে হাবুডুবু খায় তার হিসেব নেই। প্রতিদিনই প্রেমের প্রস্তাব আসে তার কাছে। কিন্তু সুমাইয়া এখনও পর্যন্ত কোন প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।

    এরমধ্যে স্কুলে অয়ন নামে নতুন একজন অংকের শিক্ষক এসেছে। ক্লাসে সুমাইয়া পুরো সময় তার দিকে হা করে তাকিয়ে ছিল। মনে মনে যেরকম ছেলে পছন্দ তার, এই শিক্ষক ঠিক সেরকম। প্রথম দেখাতেই সুমাইয়া তার প্রেমে পড়ে যায়। তরুণ শিক্ষক অয়ন শুরুতেই ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বন্ধুর মতো করে নেয়। সুমাইয়া ক্লাস শেষে তার সঙ্গে দেখা করে। ক্লাসে ঠিকমতো অংক বুঝতে পারেনি বলে তাকে আবার বুঝিয়ে দিতে বলে।

    প্রায়ই কাজটি করে সে। আসল উদ্দেশ্য অয়নের কাছে যাওয়া। মনের কথাটা বেশিদিন চেপে রাখতে না পেরে একদিন সুমাইয়া সরাসরি অয়নকে বলে দেয় যে সে তাকে ভালোবাসে। অয়ন কিছুটা অবাক হয় এবং সুমাইয়াকে জানিয়ে দেয়- এরকম কিছু যেন না ভাবে। সুমাইয়া কোন কিছুই মানতে রাজি না। অগত্যা তার পাগলামি থামানোর জন্য অয়ন বলে যদি সে ভালোভাবে পড়াশোনা করে এবং ভালো রেজাল্ট করে তাহলে তার প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে।

    এর আগে, অয়ন তার সাথে কথা বলবে না। সুমাইয়া এতে রাজি হয় এবং মন দিয়ে পড়াশোনা শুরু করে। পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার পর খুশির খবর জানাতে ছুটে যায় অয়নের কাছে। কিন্তু অয়নকে খুঁজে পায় না। এভাবেই এগিয়ে চলে গল্প। নাটক নাম ‘শালিক বালিকা’।

    মাহমুদ মাহিনের রচনা ও পরিচালনায় এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহান ও তটিনী। আগামীকাল শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টায় নাটকটি প্রচার হবে মাছরাঙা টেলিভিশনে।

  • শিক্ষার্থী শাসন করে প্রধান শিক্ষিক পেটালো শিক্ষার্থীর মা গ্রেপ্তার

    শিক্ষার্থী শাসন করে প্রধান শিক্ষিক পেটালো শিক্ষার্থীর মা গ্রেপ্তার

    চুয়াডাঙ্গা শহরের ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক শিক্ষার্থীর মা মিতালী খাতুনকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৩টার দিকে শহরের ফার্মপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সামসউর রহমান শুভর স্ত্রী।

    পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী করিম সুবর্ণা বাদী হয়ে সামসউর রহমান শুভ ও মিতালী খাতুনকে আসামি করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।

    মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে বিদ্যালয়ের সমাবেশ চলাকালে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী বিসমাহ জান্নাত সহপাঠীর সঙ্গে কথা বলায় তাকে শাসন করেন প্রধান শিক্ষিকা। এ সময় তিনি শিশুটিকে একটি চড় দেন। বিষয়টি জানতে পেরে শিশুটির বাবা-মা বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষিকার কক্ষে প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন। পরে বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা এগিয়ে এসে প্রধান শিক্ষিকাকে উদ্ধার করেন। ঘটনার পর অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান।

    চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তার হওয়া মিতালী খাতুনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশ পেছাল, হতে পারে ১২ জুলাই

    প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশ পেছাল, হতে পারে ১২ জুলাই

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষার ফল বৃহস্পতিবার প্রকাশের কথা থাকলেও সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফল পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়া এবং কারিগরি কিছু জটিলতার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বড় ধরনের কোনো জটিলতা না থাকলে আগামী রোববার (১২ জুলাই) বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হতে পারে।

    এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী বলেন, ‘আজ বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হচ্ছে না। আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে ফল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। দিনক্ষণ চূড়ান্ত হলে মন্ত্রণালয় থেকে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।’

  • এবার শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

    এবার শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির মামলায় রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

    এবার রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক মন্ত্রী ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. শাহজাহান কবির এই আদেশ দেন।

    দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমী জানান, দুদকের এই মামলায় রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখাতে গত ৩০ জুন আবেদন করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ফেরদৌস রহমান আবেদনটি করেন । সেদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ৮ জুলাই তারিখ ধার্য করেছিলেন। শুনানি শেষে আবেদনটি মঞ্জুর করে আদেশ দেন আদালত।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির অভিযোগে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর রাশেদ খান মেননসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। আইনজীবীরা বলছেন, আগে থেকেই কারাগারে থাকা কোনো আসামিকে অন্য মামলায় ‘গ্রেপ্তার দেখানো’ হলে সেই মামলায়ও তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রয়োজনে তদন্তকারী সংস্থা ওই মামলায় রিমান্ড বা জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করতে পারে।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হন রাশেদ খান মেনন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম–দুর্নীতির অভিযোগে রাশেদ খান মেননসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর মামলাটি করে দুদক।

  • প্রাথমিক শিক্ষকদের ধাপে ধাপে বেতন বাড়ানো হবে: প্রধানমন্ত্রী

    প্রাথমিক শিক্ষকদের ধাপে ধাপে বেতন বাড়ানো হবে: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের ধাপে ধাপে বেতন বাড়ানো হবে। এর পাশাপাশি শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সারাদেশে সরকারি ৬৫ হাজার বিদ্যালয়ে এক কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের আমলে শিক্ষা ক্ষেত্রে শুধু বিল্ডিং হয়েছে। হিউমান রিসোর্সের কোনো উন্নয়ন হয়নি।

    কৃষির অগ্রগতি নিয়ে তিনি বলেন, কৃষিভিত্তিক বন্ধ কলকারখানা আবার চালু করা হবে। সনাতনী পদ্ধতির বদলে কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চীনে সরকার কাঁঠাল রপ্তানি কর‌বে বলেও এ সময় জানান প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগের কারণে পুঁজিবাজার ভালো অবস্থায় ফিরছে বলেও জানান তিনি।

  • উদ্বোধন-নবীনবরণ ১৮ জুলাই

    উদ্বোধন-নবীনবরণ ১৮ জুলাই

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন ও ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ উপলক্ষে আগামী ১৮ জুলাই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ১০টায় নওগাঁ উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।

    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. সায়েম বিন সোলায়মান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, প্রথমবারের মতো আইন বিভাগ ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি এবং শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে নতুন এ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পথচলা শুরু হচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শিক্ষাসচিব আব্দুল খালেক, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহম্মেদ, ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।এ ছাড়া নওগাঁ-১ থেকে নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্যরা এবং নওগাঁ জেলা পরিষদের প্রশাসক অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহা. হাছানাত আলী।

  • ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৫১

    ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৫১

    গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত অন্তত ৩ জন মারা গেছেন। একইসময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ২৫১ জন।

    বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে বরিশাল ও খুলনা বিভাগ এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে একজন করে মারা গেছে।

    এ নিয়ে চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২২ জন মারা গেছেন। এছাড়া, ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ৭ হাজার ৫৫৭ জনের। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৬৬০ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।

  • আগামী কাল প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    আগামী কাল প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    শিক্ষা ডেস্ক:
    প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল আগামী কাল বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হবে। ফল প্রকাশের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী সেদিন সকাল ১০টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

    তথ্য জানান প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের প্রশাসন বিভাগের উপপরিচালক (সংস্থাপন) এ এস এম সিরাজুদ্দোহা এ তথ্য জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী কাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বৃত্তির ফল ঘোষণা করা হবে। এদিকের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট ৮২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৬৬ হাজার এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ১৬ হাজার ৫০০টি বৃত্তি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর অনুপাতে সরকারি বিদ্যালয়ে প্রতি আটজনের মধ্যে একজন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচজনের মধ্যে একজন শিক্ষার্থী বৃত্তি পাওয়ার সুযোগ পাবে।

    দুই ক্যাটাগরিতে বৃত্তি দেওয়া হবে। ট্যালেন্টপুলে (মেধাবৃত্তি) ৩৩ হাজার এবং সাধারণ কোটায় ৪৯ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে।

    বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুলে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা মাসে ৩০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা মাসে ২২৫ টাকা করে পাবে। এছাড়া, উভয় শ্রেণির শিক্ষার্থী বছরে এককালীন ২২৫ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে। পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়ার পরবর্তী দুই বছর তারা এই সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

    ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা অনলাইনে এবং মোবাইল ফোনের এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন। অনলাইনে আইপিইএমআইএস পোর্টালে ফল প্রকাশ করা হবে। এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানার পদ্ধতি পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।

  • খুলনায় ট্রাক-ইজিবাইক সংঘর্ষ, নিহত ২

    খুলনায় ট্রাক-ইজিবাইক সংঘর্ষ, নিহত ২

    খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে ট্রাক ও ইজিবাইকের সংঘর্ষে দু’জন নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় আরও কয়েকজন আহত হন। তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    নিহতরা হলেন- পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের শেখপাড়া সনাতনকাঠি গ্রামের শেখ দিদারুল হক (৩০) এবং একই ইউনিয়নের হরিদাস কাঠি গ্রামের বাড়ৈপাড়ার বাসিন্দা তাপস হোর ওরফে সুনু হোর (৬০)।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সয়াবিন তেল বোঝাই একটি ট্রাক খুলনা থেকে সাতক্ষীরা যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইজিবাইকের সঙ্গে খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ের সামনে ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। একই সময় পেছনে থাকা অপর একটি ইজিবাইক দুর্ঘটনায় পতিত ইজিবাইককে ধাক্কা দিলে ভেতরে থাকা দুই যাত্রী নিচে পড়ে যান। এ সময় পিকআপ ভ্যানে থাকা তেলের ড্রাম ইজিবাইকচালক দিদারুল হক ও যাত্রী তাপস হোরের মাথায় পড়লে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

    নগরীর হরিণটানা থানার ওসি তদন্ত মুরাদ হোসেন মিলন বলেন, নিহত ব্যক্তিরা পাইকগাছা থেকে ইজিবাইক রিজার্ভ করে খুলনার দিকে আসছিল। ট্রাকটি তেল নিয়ে সাতক্ষীরা যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

    এ,আর


  • ‘ককরোচে’র এক্স অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার নির্দেশ

    ‘ককরোচে’র এক্স অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার নির্দেশ

    ভারতের দিল্লি হাইকোর্ট ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট আনব্লক করার নির্দেশ দিয়েছেন।

    স্থানীয় সময় শুক্রবার (জুন) বিচারপতি স্বরনা কান্ত শর্মার বেঞ্চ দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের করা আবেদন গ্রহণ করে এ নির্দেশ দেন।

    শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুশার মেহতা আদালতকে জানান, দলটির কিছু পোস্ট নিট পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি এবং বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কায় অ্যাকাউন্টটি ব্লক করা হয়েছিল।

    তবে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, নিট পরীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। ফলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ রাখার পক্ষে সরকারের যে উদ্বেগ ছিল, তার আর কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র এক্স অ্যাকাউন্ট পুনরায় চালু করার নির্দেশ দেন।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম লাইভ ল’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ায় অ্যাকাউন্ট ব্লক রাখার প্রয়োজনীয়তা আর নেই বলে মনে করেছে আদালত।