শিক্ষা ও সাহিত্য

  • কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এসএসসিতে অকৃতকার্য হয়ে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এসএসসিতে অকৃতকার্য হয়ে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর তানিয়া খাতুন (১৬) নামে এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। সোমবার দিবাগত রাতে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

    তানিয়া উপজেলার কুচিয়ামোড়া গ্রামের চেয়ারম্যান গেটসংলগ্ন এলাকার প্রবাসী আক্তারুল ও কবিতা দম্পতির মেয়ে। সে বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল।

    বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, তানিয়া এ বছর বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।

    বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মুনির উদ্দিন জানান, সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে তানিয়ার আত্মহত্যার খবর তারা জানতে পারেন। প্রকাশিত ফলাফলে তানিয়া বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল বলে বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফলাফল প্রকাশের পর তানিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। সোমবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে নিজ কক্ষে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। খবর পেয়ে কুচিয়ামোড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. আব্দুস সালাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে মরদেহটি ভেড়ামারা থানায় নেওয়া হয়।

    ভেড়ামারা থানা পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে।

    এ,আর

  • সমাবর্তনে প্রধান বিচারপতিকে অতিথি মানবেনা শিক্ষার্থীরা

    সমাবর্তনে প্রধান বিচারপতিকে অতিথি মানবেনা শিক্ষার্থীরা

    ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে হায়দ্রাবাদের বিখ্যাত আইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘নালসার’-এর সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে।

    ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ লিগ্যাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ বা সংক্ষেপে নালসার-এর ২০২৬ সালের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভারতের প্রধান বিচারপতিকে বেছে নেওয়ার বিরোধিতা করে সম্প্রতি কর্তৃপক্ষকে ইমেইল করে একটি আবেদন জমা করেছেন এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। সেই ইমেইলে বলা হয়েছে কর্তৃপক্ষ যেন প্রধান অতিথি নির্বাচনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করেন।

    এই বিষয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি তেলুগু। তারা জানিয়েছেন যে তাদের তরফে ইমেইল পাঠানো হয়েছে যদিও তারা নিজের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।

    ছাত্র-ছাত্রীরা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশ করে এই ইমেইলটি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে নালসার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার রয়েছেন।

    ২৩ জুলাই এই আবেদনটি জমা করা হলেও এর বিষয়ে দেরিতে জানা গিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এই সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি।

    প্রধান অতিথি পুনর্বিবেচনার দাবি

    জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে নালসার বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও অধ্যাপকরা জানতে পারেন যে শিগগিরই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান হতে চলেছে। তাদের প্রশাসনিক দপ্তর থেকে আবেদন করা হয় যে তারা যেন এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করে দেন।

    একজন অধ্যাপক জানিয়েছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের জানিয়েছে সমাবর্তনের তারিখ এখনো নির্দিষ্ট করা হয়নি।

    সেই অধ্যাপক জানালেন, ‘আমরা খবর পেয়েছি যে প্রধান বিচারপতি নিজেই এই অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে আসার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন।’

    বিষয়টির সংবেদনশীলতার কথা মাথায় রেখে শিক্ষার্থী বা শিক্ষক কেউই এই প্রতিবেদনে তাদের নাম প্রকাশ করতে চাননি।

    কর্তৃপক্ষের তরফে শিক্ষার্থীদের জানানো হয়েছে যে প্রধান বিচারপতি এই অনুষ্ঠানে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

    এই বিষয়ে জানার পরেই শিক্ষার্থীদের একাংশ প্রধান বিচারপতিকে প্রধান অতিথি হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনা চেয়ে ইমেইল করেছেন।

    কেন আপত্তি শিক্ষার্থীদের?

    কর্তৃপক্ষকে পাঠানো ইমেইলে শিক্ষার্থীরা লিখেছেন, সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতিকে আমন্ত্রণ জানানোয় তাদের কিছু আপত্তি আছে। ‘যেহেতু সমাবর্তনের তারিখ এখনো চূড়ান্ত নয়, তাই আমরা মনে করি প্রধান অতিথির নাম নিয়ে এখনো বিচার বিবেচনা চলছে এবং এই প্রেক্ষিতে আমাদের বক্তব্যের উপর বিচার করার অবকাশ আছে।’

    একজন শিক্ষার্থী বলেছেন, প্রথমে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরাই এই আবেদন ইমেইল করেছিলেন। পরে এই ইমেইলের সঙ্গে অন্যান্য বিভাগেরও বহু ছাত্রছাত্রী তাদের আপত্তির কথা জুড়ে দেন।

    ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির ডাকে ২০ জুলাই যুবক ও শিক্ষার্থীরা দিল্লিতে সংসদ মিছিল করেন। এই মিছিলে পুলিশের হামলায় ছাত্র ও যুবদের উপর হামলার বিষয়টি উত্থাপন করে বলা হয়েছে, একজন আইনজীবী পুলিশের লাঠিচার্জকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করেছেন।

    সেই আইনজীবী উল্লেখ করেছিলেন, ‘পুলিশি বর্বরতার ভিডিও প্রমাণ রয়েছে। ছাত্ররা যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ করছে যার উপর পুলিশ অত্যাধিক বলপ্রয়োগ করেছে।’

    এই আবেদনের জবাবে প্রধান বিচারপতি প্রথমে মন্তব্য করেছিলেন, ‘আপনারা নিজেদের সময় নষ্ট করবেন না, আমাদের সময়ও নষ্ট করবেন না।’

    নালসার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যুবক ও ছাত্রছাত্রীদের বিষয়ে প্রধান বিচারপতির মন্তব্য ইমেইলে উল্লেখ করে তাদের আপত্তি জানান।

    যদিও এই মন্তব্যের পরে প্রধান বিচারপতি আত্মপক্ষ সমর্থন করে জানিয়েছিলেন, তিনি কেবল ওই আইনজীবীর তাৎক্ষণিক শুনানির আবেদনের বিরোধিতা করে বলেছিলেন আদালতের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে আবেদন করতে।

    যদিও তার ‘সময় নষ্ট করবেন না’ মন্তব্য তার পূর্বে করা ‘ককরোচ’ মন্তব্যের মতোই সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কের জন্ম দেয়।

    প্রসঙ্গত, সংসদ চলো কর্মসূচিতে পুলিশের ‘বাড়াবাড়ির’ বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত পরবর্তীকালে দিল্লি পুলিশের সমালোচনাও করেছেন।

    ‘মূল্যবোধের বিরোধী সিদ্ধান্ত’

    শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পাঠানো ইমেইলে বলা হয়েছে, ‘আইন বিভাগের ছাত্র হিসেবে আমাদের বিবেচ্য বিষয় সীমিত। সমাবর্তন অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যবোধ, সাংবিধানিক অধিকার, ন্যায়বিচার, আবেদনপত্র গ্রহণ এবং আপত্তির আলোচনার প্রতি তার অঙ্গীকারের প্রতীক। এটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে ভাবার একটি সুযোগ।’

    শিক্ষার্থীরা তাদের ইমেইলে লিখেছেন, ‘পুলিশি বর্বরতার অভিযোগ অস্বীকার করেন এমন একজন ব্যক্তির হাত থেকে ডিগ্রি গ্রহণ করা নালসারে আমাদের শেখানো মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে আমরা মনে করি।’

    শিক্ষার্থীরা বলেছেন, তারা বিশ্ববিদ্যালয়কে সমাবর্তনের প্রধান অতিথি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য জোরালোভাবে অনুরোধ জানাচ্ছেন।

    শিক্ষার্থীদের অনুরোধ, ‘এই বিষয়ে ছাত্র প্রতিনিধিদের বা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা করা হোক।’

    কী বক্তব্য নালসার-এর?

    শিক্ষার্থীদের ইমেইল-সংক্রান্ত আপত্তির বিষয়ে বিবিসি নালসার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শ্রীকৃষ্ণ দেবা রাও এবং রেজিস্ট্রার এন বাসন্তীর সঙ্গে ইমেইল ও ফোনে যোগাযোগ করেছিল। তবে তারা এখনো কোনো জবাব দেননি।

    এদিকে, ইংরেজি পত্রিকা দ্য হিন্দু জানিয়েছে যে দোসরা অগাস্ট মুম্বাইয়ে টাটা ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্সেস (সংক্ষেপে টিস নামে পরিচিত)-এর সমাবর্তন অনুষ্ঠানেও প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা ছিল প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানটিও স্থগিত হয়ে গেছে।

    টিস-এর পক্ষ থেকে ৩১ জুলাই ঘোষণা করা হয় যে কিছু অনিবার্য কারণে সমাবর্তন অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে।

  • দিল্লির চাপ সামাল দিতে ঝাড়খন্ডকে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পুঁজি করছে বিজেপি

    দিল্লির চাপ সামাল দিতে ঝাড়খন্ডকে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পুঁজি করছে বিজেপি

    দিল্লিতে শিক্ষার্থী বিক্ষোভে পুলিশি অত্যাচার নিয়ে কোণঠাসা বিজেপিকে চাঙা করে দিল ঝাড়খন্ডে একই ধরনের বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিপেটা। দিল্লির ঘটনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমাপ্রার্থনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহির দাবিতে জেরবার বিজেপি আজ মঙ্গলবার পাল্টা মুখর হলো রাঁচিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশি লাঠিপেটার ঘটনায়।

    বিরোধীদের যে দাবিতে টানা তিন সপ্তাহ সংসদ অচল রয়েছে, সেই দাবিই এবার হাতিয়ার হলো কেন্দ্রের শাসকশিবিরের সদস্যদের। ঝাড়খন্ডের ঘটনার জন্য আজ কংগ্রেস নেতার রাহুল গান্ধীর ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে সরব হয়েছে বিজেপি। সংসদ চত্বর গম গম করে ওঠে সরকার ও বিরোধীদের মুখোমুখি বিক্ষোভ ও পাল্টাপাল্টি স্লোগানে।

    এর ফলে আজও সংসদের উভয় কক্ষে স্বাভাবিক কাজ হয়নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও লোকসভা বা রাজ্যসভায় যাননি। টানা তিন সপ্তাহ সংসদে বিরোধীদের মুখোমুখি না হয়ে মোদি ও শাহ এক বিরল নজির সৃষ্টি করলেন।

    সরকারপক্ষ জানিয়েছে, অমিত শাহ বিবৃতি দিতে রাজি। বিরোধীরা জানিয়েছেন, দায়সারা বিবৃতি নয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্পষ্ট করে জানাতে হবে, পেলেট গান ছোড়াসহ পুলিশকে অত্যাচারের নির্দেশ কে দিয়েছিল। আগামী বৃহস্পতিবার সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের শেষ দিন।

    সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের প্রতিবাদে ঝাড়খন্ডের শিক্ষার্থীরা কিছুদিন ধরেই বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। দিল্লিতে শিক্ষার্থী বিক্ষোভের সময় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সদস্যদের পাশাপাশি অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের নেতানেত্রীরা অনশন করেছিলেন, ঝাড়খন্ডে তেমনই অনশন করছেন ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহাতো।

    নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল, অপরাধীদের শাস্তিদান ও দুর্নীতির তদন্তের ভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে গতকাল সোমবার শিক্ষার্থীরা বিধানসভা ভবন অভিযানে শামিল হন। তা ঠেকাতে ঝাড়খন্ড পুলিশ জলকামান ছোড়ে। লাঠি চালায়। আজ সংসদ ভবন চত্বরে তা নিয়ে সরব হন বিজেপি ও এনডিএ সদস্যরা। পুলিশি অত্যাচারের জন্য পাল্টা তাঁরা রাহুল গান্ধীর ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। কংগ্রেস ঝাড়খন্ডে ইন্ডিয়া জোট সরকারের শরিক। ঝাড়খন্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) নেতৃত্বাধীন মোর্চায় কংগ্রেস ছাড়াও রয়েছে আরজেডি ও বামপন্থীরা।

    ঝাড়খন্ডে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে পাল্টা বিক্ষোভ করেন বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের সংসদ সদস্যরা। ১১ আগস্ট ২০২৬, রাঁচিছবি: এএনআই

    দিল্লিতে শিক্ষার্থী বিক্ষোভ সামলাতে পুলিশ, র‍্যাফ ও সিআরপিএফ লাঠি চালিয়েছিল, কাঁদানে গ্রাসের শেল ছুড়েছিল, পেরেক পোঁতা ও ইলেকট্রিক শক দেওয়া লাঠি (শক ব্যাটন) ব্যবহার করেছিল এবং পেলেট গান থেকে ছররা গুলি ছুড়েছিল।

    কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ সিজেপি নেতারা সরাসরি অভিযোগ করেছিলেন, পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীকে ওভাবে শক্তি প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছিলেন খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই। সে কারণে তাঁর জবাবদিহির দাবিতে বিরোধীরা আজও সংসদ অচল রেখেছে।

    বিরোধীদের দাবি, অমিত শাহকে জানাতে হবে ওই নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন কি না। না দিলে কে পেলেট গান ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিল। বস্তুত, তিন সপ্তাহ অতিক্রান্ত হলেও অমিত শাহ সেই দাবি মানেননি। প্রধানমন্ত্রী মোদিও শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাননি।

    ঝাড়খন্ডের ঘটনা নিয়ে আজ সকালে কোণঠাসা বিজেপি ও এনডিএ জোট সরব হয়ে ওঠেন। বিরোধীদের মতো তাঁরাও প্ল্যাকার্ড নিয়ে সংসদ ভবনে আসেন। কংগ্রেস নেতা রাহুলের ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে মুখর হন, যদিও রাহুল ঝাড়খন্ড সরকারের মুখ্যমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নন।

    ২০ জুলাই দিল্লিতে পুলিশি অত্যাচার নিয়ে মোদি-শাহ এখনো মুখ খোলেননি। কিন্তু রাহুল গতকালই রাঁচিতে পুলিশি লাঠি চালনার নিন্দা করে বিবৃতি দেন। গতকালই ‘এক্স’ হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘ঝাড়খন্ডে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি বলপ্রয়োগ ভুল সিদ্ধান্ত। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার রয়েছে। একমাত্র আলোচনার মধ্য দিয়েই সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসতে পারে।’

    রাহুল রাজ্য সরকারকে অনুরোধ জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে দ্রুত সমস্যার সুরাহা করতে।

    ইনস্টাগ্রামে রাহুল গান্ধী ‘আস্ক মি এনিথিং’ নামে এক অনুষ্ঠান করছেন। তাতে ঝাড়খন্ডের শিক্ষার্থী আন্দোলন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রাহুল বলেন, ‘দেশের ছাত্র-ছাত্রীরা আন্দোলন করছেন বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে। কোটা, দেরাদুন, এলাহাবাদে (প্রয়াগরাজ) আমি স্পষ্ট ভাষায় বলেছি, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এই ব্যবস্থা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও নিপীড়নমূলক। কেন্দ্রীয় সরকার, ঝাড়খন্ড সরকার বা কংগ্রেস সরকার, সবার উচিত শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার আনা।’

    শিক্ষার্থী আন্দোলন নিয়ে রাহুলের অবস্থান স্বচ্ছ ও স্পষ্ট হলেও সংসদ ভবন চত্বরে বিজেপি সদস্যরা তাঁকেই আক্রমণের লক্ষ্য করে তোলেন। ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে মুখর হন। মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকেন বিরোধীরাও। তাঁরাও মুখর নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহর ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে। এক সময় ওইখান দিয়ে আসতে দেখা যায় প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদেরাকে। বিজেপি সদস্যরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন রাহুল কেন চুপ। জবাবে প্রিয়াঙ্কা বলেন, রাহুল পুলিশি অত্যাচারের নিন্দা করেছেন। ঝাড়খন্ডের পড়ুয়াদের সঙ্গেও দেখা করেছেন।

    ঝাড়খন্ডের অনশনকারী ছাত্র নেতা দেবেন্দ্র মাহাতো গতকাল বিধানসভা অভিযানে শামিল হন অ্যাম্বুলেন্সে চেপে। পরে শরীর খারাপ হয়ে গেলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেবেন্দ্র ১০ দিন ধরে অনশন করছেন। গতকাল গভীর রাতে তাঁকে ভিডিও কল করেন সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে।

    পরে দিপকে ‘এক্স’ হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘দেবেন্দ্র মাহাতোর সঙ্গে কথা বলেছি। পুলিশের লাঠিতে আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। ওকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বুকে ব্যথা অনুভব করছেন। যন্তর মন্তর হোক বা ঝাড়খন্ড, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের এই বর্বরতা, নিষ্ঠুরতা অমানবিক। সিজেপি দৃঢ়ভাবে দেবেন্দ্র ও তাঁর সংগ্রামের পাশে আছে। তিনি একজন প্রকৃত বীর। তাঁর সাহস ও শক্তিকে কুর্নিশ করি।’

    ঝাড়খন্ড সরকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বারবার আলোচনা করেছে। রাজ্য সরকারের দাবি, ৯৮ শতাংশ দাবি মানা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের যে দুই দাবি মানতে সরকার নারাজ তার একটি হলো দুর্নীতির তদন্তের ভার সিবিআইয়ের হাতে ছেড়ে দেওয়া। অন্যটি হলো ঝাড়খন্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (জেএসএসসি) ও কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েট লেভেল (সিজিএল) পরীক্ষা দুটি বাতিল করার।

    এই দুই দাবি নিয়ে টানাপোড়েন চলছে সরকার ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে। রাজ্যে বিজেপি বিরোধী পক্ষ। তারা ছাত্রদের সমর্থনে ও পুলিশি অত্যাচারের বিরুদ্ধে আজ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।

  • শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি; শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি; শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা পুনরায় ফিরিয়ে আনার যে গুঞ্জন উঠেছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্তই সরকার গ্রহণ করেনি। কেউ একটি আলোচনার কথা কেটে পত্রিকায় প্রকাশ করেছে।

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে এডুকেশন রিফর্ম ইনিশিয়েটিভের (ইআরআই) এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এমপিও শিক্ষকদের নিয়োগ নিয়ে এনটিআরসিএ সংক্রান্ত বিষয়টিতে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি; পুরো প্রক্রিয়াটি প্রাথমিক আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে।

    আলোচনায় আসা খবরের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, গোপন আলোচনার কিছু অংশ খণ্ডিতভাবে বাইরে ছড়িয়ে পড়ে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, যা সঠিক চিত্র প্রকাশ করে না। সরকার ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

  • চৌগাছায় বাবার লাশ রেখে পরীক্ষা দেয়া ঋতু  জিপিএ-৫ পেয়েছে  হতে চাই প্রশাসনিক কর্মকর্তা

    চৌগাছায় বাবার লাশ রেখে পরীক্ষা দেয়া ঋতু  জিপিএ-৫ পেয়েছে  হতে চাই প্রশাসনিক কর্মকর্তা

    এসএসসি পরীক্ষার মানবিক বিভাগে যখন ফেলের সংখ্যা বেশি, তখন ক্যান্সারের রোগী বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় বসা চৌগাছার ঋতু খাতুন জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে।

    সে যশোরের চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে পরিবারের একমাত্র উপার্জনাক্ষম বাবাকে হারিয়ে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে শংকায় পড়েছে অদম্য মেধাবী মেয়েটি। সে জীবনে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হতে চাই। ঋতু খাতুন উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের মৃত কবির হোসেন ও রেহেনা খাতুন দম্পতির ২ মেয়ের মধ্যে ছোট।

    ঋতুর পরিবার ও স্কুল সূত্রে জানা যায়, ঋতুরা দুই বোন। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ক্যান্সার আক্রান্ত বাবাকে বাড়িতে রেখে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু করে ঋতু। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ঋতুর বাবা কবির হোসেন বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১০ মে ঋতুর বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা পরীক্ষা ছিলো। সেদিন ভোর রাতে ঋতুর বাবা হাসপাতালে মারা যান। লাশ বাড়িতে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয় সকালেই। অন্যদিকে উপজেলা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দুরের গ্রাম হাকিমপুর থেকে চৌগাছা শহরের ছারা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঋতুর পরীক্ষা। ঋতুকে পরিবারের পক্ষ থেকে জানতে দেয়া হয়নি যে তার বাবা মারা গেছেন। পরে ঋতু পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌছানোর পর লাশ নেয়া হয় বাড়িতে। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে গিয়ে ঋতু জানতে পারে বাবা আর ইহজগতে নেই। শেষ বারের মত বাবার মুখ দেখে বিদায় দিয়ে পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বসতে হয় তার। বাবা হারানোর শোক নিয়েই পরবর্তী পরীক্ষাগুলো শেষ করে ঋতু। ১০ আগস্ট রেজাল্টের পর দেখা যায় ঋতু জিপিএ-৫ পেয়েছে।

    রেজাল্টের পর প্রতিক্রিয়ায় ঋতু জানায়, বাবা বেচে থাকলে রেজাল্ট দেখে খুবই খুশি হতেন। সবার কাছে বাবার জন্য দোয়াও প্রার্থনার পাশাপাশি বাবার অবর্তমানে নিজের উচ্চ শিক্ষা নিয়ে শংকার কথাও জানিয়েছে সে।

    স্কুলের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক শাহানা খাতুন জানান, ঋতু খুবই মেধাবী। ঋতু ভালো করবে এটা শিক্ষকরা প্রত্যাশা করতেন। অসুস্থ বাবা ও পরিবারের দারিদ্রতার বাঁধা ঋতুর ফলাফলে কোন বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারেনি। স্কুলের শিক্ষকদের প্রত্যাশা ঋতু ভবিষ্যতেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখবে। দিন মজুর বাবা হারা ঋতুর জন্য সমাজের বিত্তবানদের ঋতুর পাশে দাড়ানোর আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, কোন শিক্ষা বৃত্তির ব্যবস্থা করতে পারলে ঋতুর উচ্চ শিক্ষা সহজ হবে।

    চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, এটি খুবই খুশির সংবাদ। উপজেলা প্রশাসন এই অদম্য মেধাবীর পাশে থাকবে। ঋতৃর উচ্চ শিক্ষার বিষয়ে সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে বলেও জানান তিনি।

  • ৩১২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি

    ৩১২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। সারা দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। অথচ নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এবার গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ।

    সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে ফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

    এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। সামগ্রিক ফলাফলে পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ হলেও ৩১২টি প্রতিষ্ঠানের ফলাফল হয়েছে শূন্য। অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই ন্যূনতম পাস নম্বর অর্জন করতে পারেনি।

    চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার্থী ছিল।

    ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর পরীক্ষায় মোট পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ।

    ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৭১.৬৩, কুমিল্লা বোর্ডে ৬৫.৪২, রাজশাহী বোর্ডে পাশের হার ৬৩.৬৭ , যশোর বোর্ডে ৬৬. ২৭, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫৯.৪৮, সিলেট বোর্ডে ৫৮.৬৩, দিনাজপুর বোর্ডে ৫৮.৫, ময়মনসিংহ বোর্ডে ৫৭.৩৯।

  • ঢাকা আলিয়ায় ছাত্রদল-শিবির সমঝোতা, সহাবস্থানের সিদ্ধান্ত

    ঢাকা আলিয়ায় ছাত্রদল-শিবির সমঝোতা, সহাবস্থানের সিদ্ধান্ত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজধানীর ঢাকা আলিয়া মাদরাসা ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিরসনে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে অতীতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরস্পরকে দোষারোপ না করে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও সহাবস্থান নিশ্চিত করার বিষয়ে একমত হয়েছেন দুই সংগঠনের নেতারা।

    রোববার (৯ আগস্ট) ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে মধ্যস্থতা করেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য মো. হামিদুর রহমান হামিদ এবং জামায়াতের পক্ষ থেকে মধ্যস্থতা করেন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামাল হোসেন। এ সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন উপকমিশনার (ডিসি), মাদরাসার উপাধ্যক্ষ ও শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এস এম ফরহাদ এবং ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    বৈঠকে সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই সংগঠনের মধ্যে তৈরি হওয়া ভুল বোঝাবুঝি ও উত্তেজনা নিরসনের বিষয়ে আলোচনা হয়। ক্যাম্পাসে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সংঘাতের পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, সে বিষয়ে উভয় পক্ষের নেতারা মত দেন।

    বৈঠক শেষে এস এম ফরহাদ বলেন, অতীতে কী ঘটেছে, তা নিয়ে পরস্পরকে দোষারোপ না করে সামনে কীভাবে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা যায়, সেটিই আলোচনার মূল বিষয় ছিল। ক্যাম্পাসে সবাই যেন সহাবস্থান করতে পারে এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সংঘাতের পরিবেশ তৈরি না হয়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

    তিনি বলেন, দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘাত থেকে সরে আসার বিষয়ে বৈঠকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছে। ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    বৈঠকে ঢাকা আলিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেসব শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের বিষয়গুলো প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

    এদিকে সমঝোতা বৈঠক শেষে ঢাকা আলিয়া মাদরাসা শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আব্দুল আলিমের সঙ্গে ছাত্রদলের এক নেতাকে কোলাকুলি করতে দেখা যায়। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা করতালি দিয়ে তাদের স্বাগত জানান।

    বৈঠকে উপস্থিত নেতারা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা থাকলেও তা যেন কোনোভাবেই সংঘাত বা শিক্ষার পরিবেশ নষ্টের কারণ না হয়। পারস্পরিক সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

  • ম্যানেজিং কমিটির হাতেই যাচ্ছে শিক্ষক নিয়োগ, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ‘চূড়ান্ত’

    ম্যানেজিং কমিটির হাতেই যাচ্ছে শিক্ষক নিয়োগ, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ‘চূড়ান্ত’

    বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে দেওয়ার ‘চূড়ান্ত’ সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর ফলে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) আর শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করতে পারবে না।আজ সোমবার দেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৩ আগস্ট সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এনটিআরসিএর সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলিফ রুদাবাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান সভায় অবহিত করেন, ২০০৫ সালের ১ নম্বর আইন ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫’-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে প্রণীত ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যয়ন বিধিমালা, ২০০৬’ অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের জন্য প্রার্থীদের যোগ্যতা নিরূপণ এবং এ বিষয়ে প্রত্যয়নপত্র প্রদানের উদ্দেশে প্রতি পঞ্জিকা বর্ষে অন্তত একবার পরীক্ষা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা রয়েছে।

    বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) সর্বশেষ ২০২৩ সালে নিয়োগ পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সে প্রেক্ষিতে ১৯তম এনটিআরসিএ শিক্ষক (প্রবেশ পর্যায়) নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

    ওই সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন জানান, ২০০৫ সাল হতে ২০১৫ সালের পূর্বে এনটিআরসিএ কেবলমাত্র নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করত। ২০১৫ সাল থেকে এনটিআরসিএর সক্ষমতার বাইরে গিয়ে নিয়োগ সুপারিশ করার পর থেকে বিভিন্ন জটিলতা, মামলা এবং অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।

    মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার সুষ্ঠুভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং একটি সুস্থ ও কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার নিমিত্তে নিরলসভাবে কাজ করছে। এনটিআরসিএর বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে পূর্বের ন্যায় এনটিআরসিএ কর্তৃক কেবল নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং প্রত্যয়নপত্রধারী শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠানের নিজ নিজ ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি কর্তৃক বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বর্তমান সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। শিক্ষামন্ত্রীর অভিমতের সঙ্গে সভায় উপস্থিত সবাই এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

    কার্যবিবরণীতে সভার সিদ্ধান্তে লেখা হয়, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫ অনুযায়ী এখন থেকে এনটিআরসিএ কেবল নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজ করবে। ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী আর নিয়োগের সুপারিশ করবে না। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। শুধু তাই নয়, সভার সিদ্ধান্ত মতে, ‘১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯৮৪২ জন তাদের পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বউদ্যোগে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ প্রাপ্ত হবেন। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিপত্র/প্রজ্ঞাপন সংশোধন/জারি করতে হবে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যম বলছে, ওইদিনের সভার কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ হবে। এনটিআরসিএ আর নিয়োগের সুপারিশ করবে না। এজন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন করা হবে।

    উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম এক দশক সংস্থাটি কেবল শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নিয়ে সনদ দিত। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সংস্থাটি নিবন্ধনধারী শিক্ষকদের সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সুপারিশ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করে। ফলে ঘুস ছাড়া শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত হয়ে যায়। সুফল ভোগ করে অসংখ্য মানুষ। এ পর্যন্ত সংস্থাটি ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৭১ জন শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে।

  • ছেলে ডাক্তার, ৫৪ বছর বয়সে বাবার এসএসসি পাস

    ছেলে ডাক্তার, ৫৪ বছর বয়সে বাবার এসএসসি পাস

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ছেলেকে ডাক্তার, মেয়েকে নার্স বানিয়ে ৫৪ বছর বয়সে এসএসসি পাস করে নিজের অপূর্ণতা পূর্ণ করলেন এক বাবা।

    ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে রাজশাহীর নওহাটা সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি হাই স্কুল থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন আলী আকবর। জিপিএ-৪.৩৫ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি।

    ৫৪ বছর বয়সে এসএসসি পাস করে স্থানীয়দের মাঝে কৌতুহল সৃষ্টি করেছেন নাটোরের বাগাতিপাড়া পৌরসভার পেড়াবাড়িয়ার বাসিন্দা আলী আকবর।

    ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ।

    মেয়ে ফাতেমা খাতুন রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ।

    আলী আকবর জানান, সংসারে অভাব-অনটনের কারণে একসময় পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়েছিল তাকে। নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের মানুষ করেছেন তিনি। কিন্তু লেখাপড়া করার স্বপ্ন ৫৪ বছর তাড়া করেছে তাকে।

    তিনি বলেন, চরম দারিদ্র্যের মধ্যে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে বাবার সঙ্গে কাজ শুরু করেন। পরে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে রাজশাহীতে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চাকরি করে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালান। এখন তারা প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় আবার পড়াশোনা শুরু করি। আল্লাহর রহমতে প্রথমবারেই এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল নিয়ে উত্তীর্ণ হতে পেরেছি।

    বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পড়াশোনার জন্য বয়স কোনো বাধা নয়। সফল হতে হলে প্রয়োজন মনোবল, অধ্যবসায় ও নিয়মিত অনুশীলন।

    আলী আকবরের ছেলে ডা. ইসমাইল হোসেন বলেন, বাবার অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল পড়াশোনা করার। আমাদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তিনি নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছেন। এখন তার সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত। বাবাকে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি করানো হবে।

    স্থানীয়দের মধ্যে, আলী আকবরের এসএসসি পাস নিয়ে কৌতুহল দেখা দিয়েছে। গ্রামজুড়ে আলোচনায় এখন তিনি।

  • এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ

    এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ

    চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ বছর সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ।

    ২০২৬ সালে জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন পরীক্ষার্থী, যা গত বছর ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন।

    ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে (১১টি শিক্ষা বোর্ড) গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী।

    ফল প্রকাশের পর দুপুর থেকে পরীক্ষার্থীরা অনলাইনে, নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং মুঠোফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন।

    এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন।

    ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ছিল ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিলে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়।

    সারা দেশে ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এবারের পরীক্ষায় অংশ নেয়।

    বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আকতারুজ্জামান জানিয়েছেন, নির্ধারিত ওয়েবসাইট ও এসএমএসের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও ফল সংগ্রহ করা যাবে।

  • বিদেশে পড়াশোনার খরচ কার্ডে পরিশোধের সুযোগ

    বিদেশে পড়াশোনার খরচ কার্ডে পরিশোধের সুযোগ

    বিদেশে উচ্চশিক্ষার টিউশন ফি ও অন্যান্য অনুমোদিত শিক্ষাব্যয় পরিশোধে আন্তর্জাতিক ডেবিট, প্রি-পেইড ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, টিউশন ফি এবং অনলাইনে শিক্ষা-সংক্রান্ত বিভিন্ন অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।

    সোমবার (১০ আগস্ট) এই বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো শিক্ষার্থী অথবা তার শিক্ষাব্যয় বহনকারী ব্যক্তির নামে আন্তর্জাতিক ডেবিট, প্রি-পেইড ও ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করতে পারবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন ভর্তি প্ল্যাটফর্মে আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের চাহিদা বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের বিদেশে পড়াশোনার ব্যয় পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ করতে এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

    নতুন ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীর অনুমোদিত শিক্ষাব্যয় পরিশোধের জন্য কার্ডে লেনদেন করা অর্থ প্রচলিত ভ্রমণ কোটার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে না। অর্থাৎ বিদেশে শিক্ষার জন্য অনুমোদিত এই ব্যয় বিদ্যমান ভ্রমণসুবিধার বাইরে আলাদাভাবে বিবেচিত হবে।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর নিজের নামে অথবা তার শিক্ষাব্যয় বহনকারী ব্যক্তির নামে এসব কার্ড ইস্যু করা যাবে। কার্ড ইস্যু ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে সংশ্লিষ্ট এডি ব্যাংককে।

    তবে কার্ডটি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শুধু অনুমোদিত শিক্ষা-সংক্রান্ত ব্যয় পরিশোধের জন্য ব্যবহার করা যাবে। এর বাইরে অন্য কোনো কাজে কার্ড ব্যবহার করা যাবে না।

    এছাড়া শিক্ষাব্যয় পরিশোধের সব লেনদেনের যথাযথ রেকর্ড সংরক্ষণ করতে এডি ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্ধারিত পারপাস কোড ব্যবহার করে এসব লেনদেনের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে নিয়মিতভাবে প্রতিবেদন আকারে জমা দিতে হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশে পড়তে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ও টিউশন ফি পরিশোধে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারের সুযোগ আরও বাড়বে। বিশেষ করে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা ব্যবহার করে দ্রুত অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে এই সুবিধা কাজে আসবে।

  • চৌগাছায় বাবার লাশ রেখে পরীক্ষা দেয়া ঋতু এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। শংকায় উচ্চ শিক্ষা।

    চৌগাছায় বাবার লাশ রেখে পরীক্ষা দেয়া ঋতু এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। শংকায় উচ্চ শিক্ষা।

    আজিজুর রহমান, চৌগাছা (যশোর)

    এসএসসি পরীক্ষার মানবিক বিভাগে যখন ফেলের সংখ্যা বেশি, তখন ক্যান্সারের রোগী বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় বসা চৌগাছার ঋতু খাতুন জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে।

    সে যশোরের চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে পরিবারের একমাত্র উপার্জনাক্ষম বাবাকে হারিয়ে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে শংকায় পড়েছে অদম্য মেধাবী মেয়েটি।

    ঋতু খাতুন উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের মৃত কবির হোসেন ও রেহেনা খাতুন দম্পতির ২ মেয়ের মধ্যে ছোট।

    ঋতুর পরিবার ও স্কুল সূত্রে জানা যায়, ঋতুরা দুই বোন। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ক্যান্সার আক্রান্ত বাবাকে বাড়িতে রেখে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু করে ঋতু। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ঋতুর বাবা কবির হোসেন বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১০ মে ঋতুর বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা পরীক্ষা ছিলো। সেদিন ভোর রাতে ঋতুর বাবা হাসপাতালে মারা যান। লাশ বাড়িতে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয় সকালেই। অন্যদিকে উপজেলা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দুরের গ্রাম হাকিমপুর থেকে চৌগাছা শহরের ছারা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঋতুর পরীক্ষা। ঋতুকে পরিবারের পক্ষ থেকে জানতে দেয়া হয়নি যে তার বাবা মারা গেছেন। পরে ঋতু পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌছানোর পর লাশ নেয়া হয় বাড়িতে। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে গিয়ে ঋতু জানতে পারে বাবা আর ইহজগতে নেই। শেষ বারের মত বাবার মুখ দেখে বিদায় দিয়ে পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বসতে হয় তার। বাবা হারানোর শোক নিয়েই পরবর্তী পরীক্ষাগুলো শেষ করে ঋতু। ১০ আগস্ট রেজাল্টের পর দেখা যায় ঋতু জিপিএ-৫ পেয়েছে।

    রেজাল্টের পর প্রতিক্রিয়ায় ঋতু জানায়, বাবা বেচে থাকলে রেজাল্ট দেখে খুবই খুশি হতেন। সবার কাছে বাবার জন্য দোয়াও প্রার্থনার পাশাপাশি বাবার অবর্তমানে নিজের উচ্চ শিক্ষা নিয়ে শংকার কথাও জানিয়েছে সে।

    স্কুলের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক শাহানা খাতুন জানান, ঋতু খুবই মেধাবী। ঋতু ভালো করবে এটা শিক্ষকরা প্রত্যাশা করতেন। অসুস্থ বাবা ও পরিবারের দারিদ্রতার বাঁধা ঋতুর ফলাফলে কোন বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারেনি। স্কুলের শিক্ষকদের প্রত্যাশা ঋতু ভবিষ্যতেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখবে। দিন মজুর বাবা হারা ঋতুর জন্য সমাজের বিত্তবানদের ঋতুর পাশে দাড়ানোর আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, কোন শিক্ষা বৃত্তির ব্যবস্থা করতে পারলে ঋতুর উচ্চ শিক্ষা সহজ হবে।

    চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, এটি খুবই খুশির সংবাদ। উপজেলা প্রশাসন এই অদম্য মেধাবীর পাশে থাকবে। ঋতৃর উচ্চ শিক্ষার বিষয়ে সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে বলেও জানান তিনি।

  • যশোর বোর্ডে এসএসসির ফলাফলে অবনতি, পাসের হার ৭.৪২ শতাংশ

    যশোর বোর্ডে এসএসসির ফলাফলে অবনতি, পাসের হার ৭.৪২ শতাংশ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫—উভয় ক্ষেত্রেই আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে। এবার বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৭৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। ফলে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ পয়েন্ট।

    একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। এবার যশোর শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ১১ হাজার ৪৭৮ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৪১৯ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৩ হাজার ৯৪১ জন। এর আগে ২০২৪ সালে এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২০ হাজার ৭৬১ জন শিক্ষার্থী।

    সোমবার সকালে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস. এম. হোসেন আলী ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

    যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর আবদুল মতিন বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে দুর্বলতার কারণেও পাসের হার কমেছে। তিনি বলেন, উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং কাউকে অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া হয়নি।

    ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালে যশোর শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৩২ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা নেমে আসে ৭৩ দশমিক ৬৯ শতাংশে এবং ২০২৬ সালে আরও কমে দাঁড়িয়েছে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশে। অর্থাৎ মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট।

    জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৪ সালে ২০ হাজার ৭৬১ জন, ২০২৫ সালে ১৫ হাজার ৪১৯ জন এবং চলতি বছর ১১ হাজার ৪৭৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

    শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর যশোর শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৪০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৮৮ হাজার ৯৭ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছেলে ৩৯ হাজার ৬৩৪ জন এবং মেয়ে ৪৮ হাজার ৪৬৩ জন।

    অপরদিকে, ২০২৫ সালে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ২ হাজার ৫৭৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৫১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিল ১ লাখ ২ হাজার ৩১৯ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছেলে ছিল ৪৬ হাজার ৫৮৭ জন এবং মেয়ে ৫৫ হাজার ৭৩২ জন।

  • এসএসসি ও সমমানের ফল সকাল ১০টায়, পরীক্ষার্থীরা পাবে যেভাবে

    এসএসসি ও সমমানের ফল সকাল ১০টায়, পরীক্ষার্থীরা পাবে যেভাবে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আজ সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় প্রকাশ করা হবে। এ আয়োজনের উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    ফল প্রকাশ উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। একই সময়ে অনলাইন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফোনের এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন পরীক্ষার্থীরা।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ফল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শিক্ষামন্ত্রীর কাছে নিজ নিজ বোর্ডের পরীক্ষার ফল হস্তান্তর করবেন।

    বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, সোমবার সকাল ১০টায় একযোগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে নিজ নিজ বোর্ডের ফল পাওয়া যাবে।

    এছাড়া অভিন্ন দুটি ওয়েবসাইট— eduboardresult.gov.bd ও educationboardresults.gov.bd থেকেও ফলাফল জানা যাবে। পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও ফল সংগ্রহ করতে পারবেন।

    মুঠোফোনে এসএমএসের মাধ্যমেও ফল জানার সুযোগ থাকছে। এ জন্য মেসেজ অপশনে গিয়ে ‘SSC’ লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, এরপর স্পেস দিয়ে রোল নম্বর এবং আরেকটি স্পেস দিয়ে পরীক্ষার বছর লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।

    ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের এসএমএসের ফরম্যাট হবে ‘SSC DHA ROLL YEAR’। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষার্থীদের জন্য ‘SSC MAD ROLL YEAR’ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের ‘SSC TEC ROLL YEAR’ লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। প্রতিটি এসএমএসের জন্য ১ টাকা ৩৯ পয়সা চার্জ দিতে হবে। এ চার্জের মধ্যে সব ধরনের কর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছেন। এর মধ্যে সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন।

    অন্যদিকে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় ফরম পূরণ করেছেন ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন।

    এদিকে ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আগামীকাল ১১ আগস্ট থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। আবেদন করা যাবে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত। বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির শনিবারের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফল প্রকাশের পর ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন নেওয়া হবে। আবেদন প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।

    শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রকাশিত ফল সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলো ওয়েবসাইটের ‘Result’ কর্নারে গিয়ে বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের ‘ইআইআইএন’ ব্যবহার করে ফল ডাউনলোড করে প্রকাশ করতে পারবে।

    এ ছাড়া পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডগুলোর কমন ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট এবং নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ফল সংগ্রহ করতে পারবেন। এসএমএসের মাধ্যমেও ১৬১৪০ অথবা ১৬২২২ নম্বরে ফল জানা যাবে।

  • কুষ্টিয়া সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    কুষ্টিয়া সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    কুষ্টিয়া সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া শহর জামায়াতের অফিসে এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

    আলোচনা সভায় সভাপতি হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের সাবকে অধ্যক্ষ প্রফেসর মোল্লা মোঃ রুহুল আমীন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা সেক্রেটারি এনামুল হক।

    আরও বক্তব্য রাখেন খোকসা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ওয়াজেদ বাঙালি ও কুষ্টিয়া আদর্শ ডিগ্রী মহাবিদ্যালয়ের রাজী উদ্দিন আহমেদ শাহিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

    অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিক্ষাবিদ সালাউদ্দিন। অনুষ্ঠানে অনেক তরুন শিল্পী জুলাইয়ের উপরে আবেগঘন সংগীত পরিবেশন করে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করেন।

  • যশোর ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃক্ষ বিতরণ

    যশোর ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃক্ষ বিতরণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সচেতনতা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় জাগ্রত করতে যশোরের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এ ‘বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচি-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    রবিবার ( ৯আগস্ট) বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে ৩ শতাধিক ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।

    প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জি এম আবু ফয়সাল-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর সদর উপজেলার সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কামাল আহমেদ।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সারাফাত হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানের কালচারাল শিক্ষক মুজাহিদুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যশোর শাখার নির্বাহী সচিব গাউসুল আযম, পরিচালক মোস্তফা কামাল, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে কামাল আহমেদ বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। তিনি প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি করে গাছের চারা রোপণ এবং নিয়মিত পরিচর্যার আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব মানসিকতা গড়ে তুলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এমন উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

    সভাপতির বক্তব্যে চেয়ারম্যান জি এম আবু ফয়সাল বলেন, ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ শুধু পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ নয় বরং নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং পরিবেশ সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে নিয়মিত বিভিন্ন সৃজনশীল ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। তিনি শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমিক, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    বক্তারা বলেন, আধুনিক, মানসম্মত ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমেও ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ইতোমধ্যে যশোরে একটি আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি সামাজিক ও পরিবেশগত দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক উদ্যোগ অভিভাবক মহলেও প্রশংসিত হচ্ছে।

    আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে ৩ শতাধিক ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় গাছ রোপণ ও পরিচর্যার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পুরো কর্মসূচি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

  • যশোরে প্রাথমিক শিক্ষায় সংকট, ১৩০৬ পদে নেই শিক্ষক

    যশোরে প্রাথমিক শিক্ষায় সংকট, ১৩০৬ পদে নেই শিক্ষক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে। জেলার আটটি উপজেলায় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের মোট ১ হাজার ৩০৬টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ৬৯১টি এবং সহকারী শিক্ষকের ৬১৫টি পদ খালি। অধিকাংশ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় চলতি দায়িত্ব বা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার সার্বিক পরিবেশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

    জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সর্বশেষ উপজেলা ভিত্তিক শূন্যপদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যশোর জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ হাজার ২৮৯টি। বিধি অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকের ৮০ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং ২০ শতাংশ পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থবির থাকায় সংকট দিন দিন তীব্রতা ধারণ করছে।

    উপজেলা ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকের সবচেয়ে বেশি শূন্যপদ রয়েছে মণিরামপুর উপজেলায়। সেখানে ২৬৭টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৬৮টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক । যশোর সদরে ২৫০টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১২৬টি, শার্শায় ১২৫টির মধ্যে ৮২টি, চৌগাছায় ১৩৯টির মধ্যে ৭৬টি, ঝিকরগাছায় ১৩১টির মধ্যে ৭২টি, অভয়নগরে ১১৭টির মধ্যে ৭০টি, বাঘারপাড়ায় ১০২টির মধ্যে ৬১টি এবং কেশবপুরে ১৩৮টির মধ্যে ৩৬টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

    প্রধান শিক্ষকের পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকের সংকটও উদ্বেগজনক। প্রাক-প্রাথমিকসহ সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত মোট পদ ৭ হাজার ৯১১টি হলেও বর্তমানে ৬১৫টি পদ খালি রয়েছে। এর মধ্যে মণিরামপুরে ১৫৪টি, যশোর সদরে ১০৭টি, কেশবপুরে ৭৪টি, শার্শায় ৭২টি, অভয়নগরে ৫৬টি, বাঘারপাড়ায় ৫৫টি, চৌগাছায় ৫৪টি এবং ঝিকরগাছায় ৪৩টি সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ রয়েছে।

    মাঠপর্যায়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক না থাকায় জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের চলতি দায়িত্ব দিয়ে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করছে। ফলে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পাঠদান চালিয়ে যেতে গিয়ে তারা অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ছে।

    এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মণিরামপুর উপজেলার এক সহকারী শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় অফিসের সব প্রশাসনিক দায়িত্ব আমাদেরই সামলাতে হয়ে। একই সাথে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানও চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এভাবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত কঠিন। দ্রুত স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বা পদোন্নতি না হলে শিক্ষার মান ধরে রাখা সম্ভব হবে নয়ে।

    সদর উপজেলা শিক্ষা কমিটির সদস্য মাস্টার আনিসুর রহমান বলেন, যশোর সদর উপজেলার ২৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ১১৪টিতে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক কর্মরত আছেন। বাকি ১৩৬টি বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। এর মধ্যে প্রায় ৮৫টি বিদ্যালয় সম্পূর্ণভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, আর প্রায় ৫০টিতে চলতি দায়িত্বে দায়িত্ব পালন করছেন পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকই প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক। দীর্ঘদিন স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকলে প্রশাসনিক কার্যক্রম, শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার গুণগত মান স্বাভাবিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড.মাহবুবুর রহমান বলেন, একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকই শিক্ষা ও প্রশাসনের মূল চালিকাশক্তি। বিপুলসংখ্যক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকা এবং সহকারী শিক্ষকের ঘাটতির কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, চলতি দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা দাপ্তরিক কাজ সামলাতেই ব্যস্ত থাকেন। ফলে শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। দ্রুত শূন্যপদ পূরণ করা না হলে জেলার প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।

    এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্বে) জানান, দীর্ঘদিন ধরে মামলাজনিত জটিলতা এবং নিয়মিত পদোন্নতি না হওয়ায় এ শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে চলতি দায়িত্ব দিয়ে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা সম্ভব।

  • প্রাথমিকে যুক্ত হচ্ছে ‘সায়েন্স টয়’: ববি হাজ্জাজ

    প্রাথমিকে যুক্ত হচ্ছে ‘সায়েন্স টয়’: ববি হাজ্জাজ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    খেলতে খেলতে শিশুদের বিজ্ঞান শেখাতে প্রাথমিকের শিক্ষাক্রমে ‘সায়েন্স টয়’ যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

    রোববার রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে ইউনিসেফ আয়োজিত ‘ফাউন্ডেশনাল লার্নিং অ্যাকশন ট্র্যাকার’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিশুদের শুধু বই পড়ে নয়, হাতে-কলমে ও আনন্দের মাধ্যমে বিজ্ঞান শেখাতে কারিকুলামে সায়েন্স টয় ও বিভিন্ন শেখার উপকরণ যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘ম্যাথ ল্যাব’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, প্রতিটি শিশুর মৌলিক পড়া, লেখা ও গণিতের দক্ষতা নিশ্চিত করাই প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনতে এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্মসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হবে। আগামী ১৬ আগস্ট প্রথমবার বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে বলেও জানান তিনি।

    মিড-ডে মিলের পাইলট প্রকল্পে চিহ্নিত ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

  • জ্বর হলেই ডেঙ্গু পরীক্ষার পরামর্শ চিকিৎসকদের

    জ্বর হলেই ডেঙ্গু পরীক্ষার পরামর্শ চিকিৎসকদের

    এক থেকে দুই দিনের জ্বর হলেই নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। একই সাথে পরীক্ষায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ শনাক্ত হলে ঘরে বসে না থেকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

    বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাজধানীসহ সারা দেশে ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আক্রান্তের উল্লেখযোগ্য অংশই শিশু। এ বছর বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তাই জ্বর দেখা দিলেই দেরি না করে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

    এছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেও জ্বর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের সব সরকারি হাসপাতালে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর এনএস-১ পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ও সিএম পরীক্ষা ৩০০ টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র ৫০ টাকায় নিয়ে এসেছে সরকার।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৮ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৮ হাজার ৬৭৩ জন এবং মারা গেছে ৫৯ জন। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং নারী ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ। আক্রান্তের মধ্যে শূন্য থেকে ৩০ বছর বয়সী ১০ হাজার ৮২৭ জন; এ বয়সী মারা গেছে ২৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২২ জন এবং নারী ৩৭ জন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ঢাকা বিভাগেই ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    ২০২৫ ও ২০২৬ সালের ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর তুলনামূলক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরের ৮ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৬৭৩ জন। ২০২৫ সালে যা ছিল ২৩ হাজার ৪১০ জন। ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৫ সালে একই সময়ে এতে ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যার তুলনায় বর্তমান বছরে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার দুটোই কম।

    ডেঙ্গু সচেতনতার বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায় এডিস মশা ধ্বংস করা। এর জন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধি। তাই আমাদের সবার উচিত বাড়ির আঙিনা সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। যাতে ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, এয়ার কন্ডিশনার এবং রেফ্রিজারেটরের নিচের পানি জমে না থাকে। এডিস মশা ধ্বংসে সকল নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ একান্ত জরুরি।

    তিনি বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে শরীরে

    র তাপমাত্রা ১০২ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। এ সময় মাথায় পানি দেওয়া ও শরীর মুছে দেওয়ার মাধ্যমে জ্বর কমাতে হবে। এ ছাড়া জ্বরের তীব্রতা বাড়তে থাকলে দ্রুত ডেঙ্গুর পরীক্ষা করাতে হবে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. নুরুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, এক-দুই দিনের জ্বর হলেও দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো উচিত।

    পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু রোগী বৃদ্ধির আশঙ্কায় দেশের সব হাসপাতালকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুত রয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে অতিরিক্ত শয্যা ও পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হবে।

  • প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইউনিফর্ম বিতরণ শুরু ১৬ আগস্ট

    প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইউনিফর্ম বিতরণ শুরু ১৬ আগস্ট

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম দেওয়ার কর্মসূচি আগামী ১৬ আগস্ট প্রথমবারের মতো উদ্বোধন করা হবে।

    রোববার (৯ আগস্ট) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এ তথ্য জানিয়েছেন।

    এর আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ইউনিফর্মের মডেল উপস্থাপন করেছিল সরকার। মেয়েদের জন্য ফ্রক এবং ছেলেদের জন্য হাফশার্ট ও শর্টসের নকশা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইউনিফর্ম তৈরিতে আরাম, ব্যবহারিক সুবিধা ও একরূপতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    ববি হাজ্জাজ বলেন, বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। শিশুদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্মসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট প্রথমবারের মতো বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে।

    এর আগে গত ২৯ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নতুন ইউনিফর্মের মডেল উপস্থাপন করা হয়। সভায় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, আগামী জুলাই থেকে প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে বিদ্যালয়ে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এসব ইউনিফর্ম বিনামূল্যে বিতরণ শুরু হবে।

    মন্ত্রী তখন বলেছিলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহে বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তারা নিজেদের সক্ষমতা অনুযায়ী অনুদান দেবে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এক লাখ শিক্ষার্থীর জন্য স্কুলব্যাগ, ড্রেস ও জুতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

    সভায় আরও জানানো হয়েছিল, শিক্ষার্থীদের জন্য সমন্বিত সহায়তা নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ইউনিফর্ম, ব্যাগ ও জুতা প্রদান বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও সমান সুযোগভিত্তিক শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এদিকে, মিড-ডে মিল কর্মসূচি প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় যেসব ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলো সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি পাইলট প্রকল্পের সফলতা শুধু কতজনের কাছে পৌঁছেছে তা দিয়ে নয়, বরং বাস্তবায়নের সময় কী কী সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে এবং সেগুলোর কতটা কার্যকরভাবে সমাধান করা গেছে, তার ভিত্তিতেও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

    প্রসঙ্গত, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং তাদের জন্য একটি সহায়ক ও সমান সুযোগভিত্তিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, জুতা ও মিড-ডে মিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

  • শিক্ষক নিয়োগ ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার উদ্যোগ

    শিক্ষক নিয়োগ ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার উদ্যোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) শিক্ষক নিয়োগ ও সুপারিশের ক্ষমতা সীমিত করে তা আবারও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির হাতে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, প্রভাব ও ঘুষের সুযোগ ফিরে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষক নেতা ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

    গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এনটিআরসিএর সার্বিক কার্যক্রমসংক্রান্ত এক সভায় একজন আমলা এ বিষয়ে মতামত ও নির্দেশনা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, ওই সভায় এনটিআরসিএর নিয়োগক্ষমতা কমিটির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার পক্ষে মত দেওয়া হয় এবং দ্রুত তা বাস্তবায়নের কথাও বলা হয়।

    সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, অনেককে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দিলেও কার্যবিবরণীতে লেখা হয়েছে—‘সভায় উপস্থিত সবাই এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন।’ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনটিআরসিএর ভেতরেও।

    সংশ্লিষ্টদের দাবি, এনটিআরসিএর কাঠামো পরিবর্তনের পক্ষে যুক্তি হিসেবে একজন সংসদ সদস্যের সংসদে দেওয়া বক্তব্যকে ব্যবহার করা হয়েছে। ওই বক্তব্যে এনটিআরসিএর নিয়োগ ও সুপারিশসংক্রান্ত বিধানের ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের বক্তব্য জানা যায়নি।

    শিক্ষাবিদ ও শিক্ষক নেতারা বলছেন, ২০০৫ সালে বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠা এবং ২০১৫ সালে এন্ট্রি লেভেলের শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশের দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানটির হাতে দেওয়ার ফলে নিয়োগে স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অনেকের মতে, ঘুষ ও প্রভাবমুক্ত নিয়োগের কারণে এনটিআরসিএ ‘দ্বিতীয় সরকারি কর্মকমিশন’ হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

    তাদের আশঙ্কা, আবারও পরিচালনা কমিটির হাতে নিয়োগক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হলে সেই অর্জন নষ্ট হবে এবং নিয়োগে আর্থিক লেনদেন ও রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ বাড়বে।

    ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনধারীসহ দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষক ও হবু শিক্ষক এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর চাপে নয়, বরং এনটিআরসিএকে আরও শক্তিশালী করেই শিক্ষক নিয়োগব্যবস্থার সংস্কার করতে হবে।

    প্রবীণ শিক্ষক নেতা ও আগারগাঁও-তালতলা সরকারি কলোনী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. মজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, “শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএর হাত থেকে নিয়ে পরিচালনা কমিটির হাতে দেওয়া চরম ভুল ও আত্মঘাতী হবে।”

    এ অবস্থায় ৩ আগস্টের সভার কার্যবিবরণী, সিদ্ধান্তের ভিত্তি এবং তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন শিক্ষক সমাজের অনেকে। তাদের প্রশ্ন—মেধাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগব্যবস্থাকে দুর্বল করার সিদ্ধান্তের দায় নেবে কে?

  • প্রাইভেট টিউশন মহামারি আকার ধারণ করেছে: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

    প্রাইভেট টিউশন মহামারি আকার ধারণ করেছে: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশে প্রাইভেট টিউশন মহামারি আকার ধারণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, অতিরিক্ত প্রাইভেট নির্ভরতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে প্রয়োজনীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই বিদ্যালয়েই শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় পাঠদান ও শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

    রোববার (৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ইউনিসেফ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হবে। এজন্য প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করা, কর্মমুখী শিক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

    প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পরও অনেক শিক্ষার্থী মৌলিক বিষয়গুলো ঠিকভাবে আয়ত্ত করতে পারছে না বলে অভিযোগ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কর্মমুখী করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ধাপে ধাপে ম্যাথ ল্যাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হবে।

    প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলাকে শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

  • কাল এসএসসি ফল প্রকাশ, রেজাল্ট জানবেন যেভাবে

    কাল এসএসসি ফল প্রকাশ, রেজাল্ট জানবেন যেভাবে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চলতি বছরের এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ১০ আগস্ট সোমবার প্রকাশ করা হবে। ফল প্রকাশের পর পরীক্ষার্থীরা তিনটি পদ্ধতিতে নিজেদের ফল জানতে পারবেন। শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট, মোবাইলের এসএমএস এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক রেজাল্ট শিটের মাধ্যমে ফল দেখার সুযোগ থাকবে।

    বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    ওয়েবসাইটে ফল দেখার নিয়ম

    প্রথমে শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট educationboardresults.gov.bd-এ প্রবেশ করতে হবে। এরপর পরীক্ষার ধরন হিসেবে SSC/Dakhil নির্বাচন করে পরীক্ষার বছর দিতে হবে। পরে সংশ্লিষ্ট বোর্ড, রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখে ক্যাপচা পূরণ করতে হবে। সবশেষে Submit-এ ক্লিক করলে ফলাফল দেখা যাবে।

    এসএমএসে এসএসসি ফল

    মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে SSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর, এরপর রোল নম্বর ও পরীক্ষার বছর লিখে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে।

    উদাহরণ:
    SSC jas 123456 2026

    কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরতি এসএমএসে ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হবে।

    দাখিল পরীক্ষার্থীদের জন্য ফল জানতে আগে প্রিরেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে Dakhil লিখে বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর, রোল নম্বর ও বছর উল্লেখ করে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে।

    উদাহরণ:
    Dakhil MAD 123456 2026

    ফল প্রকাশের পর প্রিরেজিস্ট্রেশন করা মোবাইল নম্বরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফল পাঠানো হবে।

    কারিগরি শিক্ষার্থীরা এসএমএসে SSC লিখে বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর, রোল নম্বর ও বছর দিয়ে 16222 নম্বরে পাঠালে ফল জানতে পারবেন।

    উদাহরণ:
    SSC TEC 123456 2026

    প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফল দেখার পদ্ধতি

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ রেজাল্ট শিট পেতে শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে গিয়ে রেজাল্ট কর্নারে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের EIIN নম্বর দিতে হবে। এরপর প্রতিষ্ঠানটির ফলাফলের তালিকা ডাউনলোড করা যাবে।

    ফলে ১০ আগস্ট ফল প্রকাশের পর পরীক্ষার্থীরা নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী ওয়েবসাইট, এসএমএস কিংবা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক রেজাল্ট শিটের মাধ্যমে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষার ফল সংগ্রহ করতে পারবেন।

  • এসএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু ১১ আগস্ট

    এসএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু ১১ আগস্ট

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হবে আগামী সোমবার (১০ আগস্ট)। ফল প্রকাশের পর কোনো পরীক্ষার্থী অসন্তুষ্ট বা খারাপ ফল করলে তা চ্যালেঞ্জের সুযোগ রয়েছে।

    আর এজন্য ফল প্রকাশের পরদিন; অর্থাৎ ১১ আগস্ট থেকে ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু হবে। অনলাইনের মাধ্যমে এই আবেদন করা যাবে আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত।

    শনিবার (৮ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।

    এতে বলা হয়, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ এর ফল প্রকাশের পর পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন নেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে আবেদন প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানা যাবে।

    আগামী সোমবার (১০ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। পরীক্ষার্থীরা এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন। পাশাপাশি সব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটেও ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

    গত ২১ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। যা শেষ হয় ২০ মে। এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ছাত্র ও ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন ছাত্রী।

  • সিলেটে হাম উপসর্গে দুই শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু

    সিলেটে হাম উপসর্গে দুই শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু

    সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে দুই শিশু ও এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) সকালে তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে এ বিভাগে হাম উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫ জনে।

    সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ ও হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এদের মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া দুই শিশু হলো মো. এহসানুল ও আয়ান। এছাড়া নিহত নারী বর্ণা রাণী। এর মধ্যে এহসানুলের বয়স ৩ বছর ৪ মাস, আয়ানের বয়স ৮ মাস ও বর্ণা রাণীর বয়স ১৮ বছর।

    এদিকে, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ২৭১ জন রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ১৮ জন এবং এই সময়ে ৯১ জন সন্দেহভাজন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে রোববার (৯ আগস্ট) পর্যন্ত এ বিভাগে মোট ৮২৭ জন ল্যাব-নিশ্চিত (কনফার্মড) হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ৬ জন নিশ্চিত হামের রোগী ছিলেন সেটি নিশ্চিত করা গেছে। বাকিরা সন্দেহভাজন।

  • ঢাবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি যেকোনো সময়,

    ঢাবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি যেকোনো সময়,

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার নতুন কমিটিও যেকোনো সময় ঘোষণা হতে পারে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত হওয়ায় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট হিসেবে বিবেচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নিয়েও জোর আলোচনা চলছে। দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, চলতি সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে ঢাবি শাখার নতুন কমিটিও ঘোষণা হতে পারে।

    ২০২৪ সালের মার্চে গণেশ চন্দ্র রায় সাহসকে সভাপতি এবং নাহিদুজ্জামান শিপনকে সাধারণ সম্পাদক করে এক বছরের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন কমিটি গঠনের আলোচনা শুরু হলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কারণে তা পিছিয়ে যায়।

    শীর্ষ পদে একাধিক নেতা আলোচনায়

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক নেতা আলোচনায় রয়েছেন। ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম খান, গাজী মোহাম্মদ আল-আমীন ও সহসাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসানের নাম সম্ভাব্য শীর্ষ নেতৃত্ব হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

    এ ছাড়া ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের বিজয় একাত্তর হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বি এম কাওসার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফ খান ও আলমগীর হোসেন আলমের নামও রয়েছে আলোচনায়।

    ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে যুগ্ম সম্পাদক বজলুর রহমান বিজয় এবং আবিদুল ইসলাম খান; ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু হায়াত মো. জুলফিকার জেসান, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক মাহমুদুল হাসান এবং প্রচার সম্পাদক তানভীর হাসানের নাম সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় রয়েছে।

    এ ছাড়া ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের আপ্যায়ন সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মেহেদী হাসান এবং মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক সৈয়দ ইমাম হাসান অনিকও নেতৃত্বের দৌড়ে রয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

    আন্দোলনে ভূমিকা ও সাংগঠনিক দক্ষতায় গুরুত্ব

    ছাত্রদলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের ভাষ্য, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত শিক্ষার্থী ও বিতর্কমুক্ত নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়েও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব গুরুত্ব দিচ্ছে।

    এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমার কাছে অফিসিয়ালি কমিটির তথ্য নেই। তবে সংগঠনের গতিশীলতার স্বার্থে পরিবর্তন আসতেই পারে। এটি একটি স্বাভাবিক ও চলমান প্রক্রিয়া।’

    ত্যাগী ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব চান নেতাকর্মীরা

    বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখা ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। একই সঙ্গে নতুন কমিটি গঠনে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রভাব যেন না থাকে, সে প্রত্যাশাও রয়েছে তাদের।

    পদপ্রত্যাশী ও বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম খান বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমানের মূল লক্ষ্য হলো মেধা, ত্যাগ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির সমন্বয়। নেতার লক্ষ্য বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে পারবে এবং একই সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে অনুকরণীয় ও নির্ভরযোগ্য নেতৃত্ব—এমন নেতৃত্বই আমাদের প্রত্যাশা।’

    সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু হায়াত মো. জুলফিকার জেসান বলেন, ‘দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের গণতন্ত্র ও শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে যারা সাহসিকতার সঙ্গে রাজপথে থেকেছেন এবং জেল-জুলুম, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের অবদান মূল্যায়নের সময় এসেছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যাদের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে এবং যারা ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সংগঠনের প্রতি সর্বোচ্চ নিষ্ঠা, ত্যাগ ও কমিটমেন্টের পরিচয় দিয়েছেন, তারাই নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সংগঠন ত্যাগ, যোগ্যতা, গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার সমন্বয়ে এমন নেতৃত্বই বেছে নেবে, যারা আগামী দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলকে আরও শক্তিশালী ও শিক্ষার্থীবান্ধব সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে।’

    আরেক পদপ্রত্যাশী ও যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলম বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের একচ্ছত্র আধিপত্যের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদলের সম্পর্ক প্রত্যাশিতভাবে গভীর হতে পারেনি। তাই শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম এবং বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সর্বোচ্চ অবদান রাখা নেতৃত্বই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের জন্য প্রয়োজন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘যারা ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে সংগঠনের স্বার্থকে প্রাধান্য দেন, তাদের নেতৃত্বে ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে।’

    দলীয় সূত্র বলছে, কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন নেতৃত্বের নামও প্রকাশ করা হতে পারে। ফলে নতুন কমিটি ঘিরে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

  • সালথায় পাট শুকানোর বাঁশের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১৫

    সালথায় পাট শুকানোর বাঁশের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১৫

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের সালথায় পাট শুকানোর জন্য বাঁশের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কয়েকটি বসতবাড়ি ও একটি দোকানে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।

    সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৮ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের জুগিকান্দা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুগিকান্দা গ্রামের বশির মাতুব্বরের বসতবাড়ির পাশে একটি মসজিদের সামনে পাট শুকানোর জন্য বাঁশ দিয়ে আড়া বাঁধেন হবি মেম্বারের সমর্থক হাবিবুর রহমান। এতে মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হলে মুসল্লিরা বাঁশের ওই আড়া খুলে দেন।

    এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হবি মেম্বারের সমর্থকরা বশির মাতুব্বরকে আড়া খুলে ফেলার জন্য দায়ী করেন। একপর্যায়ে তারা বশির মাতুব্বরের বাড়িতে হামলার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হন। পরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

    সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ সময় কয়েকটি বসতবাড়ি ও একটি দোকানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। আহতদের মধ্যে গুরুতর কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    হবি মেম্বারের সমর্থক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘পাটের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।’ তবে আহতের বিষয়ে তিনি জানান, তাদের গ্রুপের চার-পাঁচজন আহত হয়েছেন।

    বশির মাতুব্বর বলেন, ‘বাঁশের আড়া খোলার সাথে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও আমাকে দায়ী করে আমার বসতবাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় আমার স্ত্রীসহ কয়েকজন আহত হন। বর্তমানে আমার স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।’

    সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  • ঝাড়খন্ডে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ, আটক ৮

    ঝাড়খন্ডে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ, আটক ৮

    ভারতের ঝাড়খন্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে চলমান আন্দোলনের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বাসভবনের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) সদস্যরা। শুক্রবার ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয় এবং ৮ থেকে ১০ জন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।

    নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানাতে এবিভিপির ঝাড়খন্ড শাখা এই মিছিলের আয়োজন করে। রাঁচির ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে যাওয়ার কথা ছিল।

    ঝাড়খন্ডের ১৪তম লোকসেবা কমিশনের সিভিল সার্ভিস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। গত ২৫ জুলাই রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে ঝাড়খন্ড লোকসেবা কমিশন ও ঝাড়খন্ড কর্মী নির্বাচন কমিশন সংস্কার মঞ্চের ব্যানারে আন্দোলন শুরু করেন তারা। এরপর টানা দুই সপ্তাহ ধরে পরীক্ষা বাতিল, অনিয়মের স্বাধীন তদন্ত এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলছে।

    আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি, পুরো ঘটনার তদন্ত কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা অথবা ঝাড়খন্ডের বাইরের অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে করতে হবে। পাশাপাশি ঝাড়খন্ড লোকসেবা কমিশন ও ঝাড়খন্ড কর্মী নির্বাচন কমিশনের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সংস্কার এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

    আন্দোলন ঘিরে রাজ্য সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। বিজেপির বিধায়কেরা ঝাড়খন্ড বিধানসভায় বিক্ষোভ করে কেন্দ্রীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগ ও দুর্নীতি দমন ব্যুরোর তদন্তে শিক্ষার্থীদের আস্থা নেই। তবে সরকার বলছে, অভিযোগের তদন্ত এগিয়ে চলছে এবং এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগও নিয়েছে রাজ্য সরকার। শনিবার বিক্ষোভকারী চাকরিপ্রার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসে। সরকার জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের মতামত নিয়ে নিয়োগব্যবস্থায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, তাদের মূল দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

    এরই মধ্যে ছয় বিক্ষোভকারী অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলনকারীরা আগামী ১০ আগস্ট ঝাড়খন্ড বিধানসভা ঘেরাওয়ের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছেন। ফলে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন রাজ্য সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাই দেশকে এগিয়ে নিতে পারে: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি

    দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাই দেশকে এগিয়ে নিতে পারে: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীল চর্চাই দেশ ও সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। তিনি বলেন, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ এবং গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অপতথ্য ও ভুয়া সংবাদের ভিড়ে সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে সাংবাদিকদের স্বাধীন, অনুসন্ধানী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) অডিটোরিয়ামে ‘গণমাধ্যম বিষয়ক তিন মাস মেয়াদি সার্টিফিকেট কোর্স ২০২৬’-এর নতুন ব্যাচের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সমাজকে সঠিক পথ দেখাতে পারে, অন্যদিকে অসত্য তথ্য ও গুজব মুহূর্তেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। তাই সাংবাদিকতার গুণগত মান, তথ্যের সত্যতা যাচাই ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়, এটি একটি সামাজিক অঙ্গীকার ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এআইয়ের যুগে সাংবাদিকতার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের প্রযুক্তি ও নতুন জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে ভিসি বলেন, ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কোর্সেই সেশনজট থাকবে না। একাডেমিক কার্যক্রমে গতি আনা, সিলেবাস আধুনিকায়ন এবং শিক্ষার্থীদের সময়োপযোগী দক্ষতা অর্জনে ব্যাপক কার্যক্রম চলছে। বিশ্বমানের দক্ষতাভিত্তিক কোর্স চালু, কারিকুলাম আধুনিকায়ন এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে শিক্ষা উন্নয়নে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, চতুর্থ ও পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গতানুগতিক সিলেবাস পরিবর্তন করে দক্ষতাভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কারিকুলাম প্রণয়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মনন ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে ‘পারফর্মিং আর্টস কলেজ’ স্থাপনের উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ড. আমানুল্লাহর গতিশীল নেতৃত্বে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নতুন উচ্চতায় এগিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের সেশনজট কাটিয়ে একাডেমিক কার্যক্রমে গতি ফিরছে। শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও বিশ্বমানের কোর্স-কারিকুলাম প্রণয়নেও তিনি কাজ করছেন।

    পিআইবির সহযোগী অধ্যাপক মনিরা শরমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের পক্ষ থেকে দুজন বক্তব্য দেন। এ সময় পিআইবির সমন্বয়ক, উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি ও প্রশিক্ষণার্থী সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ন্যাটোভুক্ত দেশে হামলার ছক পুতিনের?

    ন্যাটোভুক্ত দেশে হামলার ছক পুতিনের?

    পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর যেকোনো একটিতে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া। জোটভুক্ত এসব দেশের সংকল্প ও ঐক্য পরীক্ষা করতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সীমিত আকারে হামলা চালানোর চেষ্টা করতে পারেন। সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে সিএনএন

    মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নে রাশিয়ার সম্ভাব্য উত্তেজনা বৃদ্ধির কয়েকটি পরিস্থিতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে সাইবার হামলা থেকে শুরু করে সীমিত পরিসরের সামরিক অনুপ্রবেশও রয়েছে। এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হতে পারে ন্যাটোর ঐক্য ও ‘আর্টিকেল ৫’-এর প্রতি সদস্যদেশগুলোর অঙ্গীকার পরীক্ষা করা।

    ন্যাটোর আর্টিকেল ৫ অনুযায়ী, জোটের একটি সদস্যের ওপর হামলা সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে রাশিয়া এমন পদক্ষেপ নিতে পারে, যাতে তা ন্যাটোর সম্মিলিত সামরিক প্রতিক্রিয়ার সীমা অতিক্রম না করে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
    পুতিন কীভাবে বা কখন এমন পদক্ষেপ নিতে পারেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে একটি সূত্রের মতে, তিনি সম্ভবত কোনোভাবে উত্তেজনা বাড়াতে বাল্টিক অঞ্চলের দেশগুলো অথবা পোল্যান্ডকে লক্ষ্য করতে পারেন। সাম্প্রতিক এই গোয়েন্দা মূল্যায়নের খবর প্রথম প্রকাশ করে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

    সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর কর্মকর্তারা মনে করছেন যে ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসার কোনো পথ পুতিন যদি না পান, তাহলে তিনি ন্যাটোর বিরুদ্ধে উত্তেজনা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। পুতিনের পরবর্তী পদক্ষেপ বেছে নেয়ার সম্ভাব্য সময়সীমা এখন থেকে আগামী কয়েক বছর পর্যন্ত বিস্তৃত।
    ন্যাটোর জ্যেষ্ঠ সামরিক মুখপাত্র মার্টিন ও’ডনেল গোপন গোয়েন্দা মূল্যায়ন নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে তিনি বলেন, ন্যাটো ‘সব সময় বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তা করছে এবং প্রস্তুতি নিচ্ছে’।

    তিনি আরও বলেন, ন্যাটো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষার জন্য আমরা প্রস্তুত- যা আমরা অব্যাহতভাবে প্রমাণ করে চলেছি।
    গত কয়েক বছরে রাশিয়ার ন্যাটোর ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে গত মে মাসে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের কাছাকাছি একটি বন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালানোর সময় বিস্ফোরক বহনকারী একটি ড্রোন রোমানিয়ার একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানে। এতে দুজন আহত হয়েছেন।

    এর আগে গত সেপ্টেম্বরেও ইউক্রেনে রুশ হামলার সময় একাধিক রুশ ড্রোন পোল্যান্ডের আকাশসীমা লঙ্ঘন করলে ন্যাটোর যুদ্ধবিমান সেগুলো ভূপাতিত করে।
    এ ছাড়া জার্মানির একটি বিমানবন্দরে গত বুধবার রাতে বিস্ফোরকবোঝাই একটি ড্রোন পাওয়া যায়। ইউরোপে অবস্থানরত এক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যায়ন অনুযায়ী ড্রোনটি রাশিয়ার একটি গোয়েন্দা সংস্থার ছিল। ওই কর্মকর্তা জানান, ড্রোনটিতে সামরিক কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক ছিল।

    এনিয়ে জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ডোব্রিন্ট বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, ড্রোন দেখা যাওয়া, ড্রোনের হুমকি হাইব্রিড- এমন বিষয়, যা আমরা অতীতে দেখেছি। তবে বিস্ফোরকসজ্জিত একটি ড্রোন বিমানবন্দরে পাওয়া যাওয়া একটি নতুন ধরনের হুমকির পরিস্থিতি।

    বৃহস্পতিবার ডোব্রিন্ট ইঙ্গিত দেন, ড্রোনটির সঙ্গে ‘বিদেশি শক্তির’ সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
    পরবর্তীতে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মেরৎসের নেতৃত্বাধীন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ শুক্রবার বৈঠক করে বিমানবন্দরের ওই ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেছে।
    রাশিয়ার সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া এবং রুশ দূরপাল্লার অস্ত্রের হামলায় ইউক্রেনে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

    সিএনএন এর আগে তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাডের প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতকারী ক্ষেপণাস্ত্র বা ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার হয়ে গেছে। একইভাবে প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রায় অর্ধেক ইন্টারসেপ্টরও ব্যবহার করা হয়েছে।

    এদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত রাশিয়ার দূরপাল্লার অস্ত্রের হামলায় ইউক্রেনে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা ৬০ শতাংশ বেড়েছে।

    চলতি সপ্তাহে এক রাতে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ও অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইউক্রেনে অন্তত ১৭ জন নিহত এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হন। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই হামলায় ছোড়া কোনো ক্ষেপণাস্ত্রই ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করতে পারেনি।

    বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতকারী ব্যবস্থার মজুত নিয়ে উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য সংঘাতের পরিকল্পনায়ও প্রভাব ফেলছে। এর মধ্যে পুতিনের ন্যাটোর বিরুদ্ধে উত্তেজনা বাড়ানোর সম্ভাবনা কিংবা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধও রয়েছে।

    ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ব্যক্তিগতভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
    ছয়টি সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকেও ট্রাম্প এ বিষয়ে অভিযোগ করেন। তবে বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ ‘গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র’ রয়েছে।
    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়ার সময়েই নতুন এই মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন সামনে এলো।

    রিপোর্টে বলা হয়েছে, মস্কোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের চলমান নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। তবে এসব পদক্ষেপ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পুতিনের সামরিক অভিযান থামাতে পারেনি।

  • আল মাহমুদ; লোকজ জীবনের মহাকাব্যিক কথক

    আল মাহমুদ; লোকজ জীবনের মহাকাব্যিক কথক

    তিতাস থেকে বুড়িগঙ্গাছেলেটি চঞ্চল। মন ডানপিটে। গ্রামের পথে হাঁটে। পাখির ডাক শোনে। কাদার গন্ধ শোঁকে। এই ছেলেটির হৃদয়ে গেঁথে গেল গ্রামীণ রূপকথা। রক্তে মিশে গেল লোকজ মিথ। বাবা গান ভালোবাসেন। আবার দাদুর মুখে শুনতেন জারিগান। এভাবেই গড়ে ওঠে এক কিশোরের মনোজগৎ।তারপর এলো ঝড়ের দিন। দেশ ভাগ হয়। শুরু হয় ভাষা আন্দোলন। চারদিকে স্লোগান। কিশোর মাহমুদ মিছিলে নামে। পুলিশ তাকে খোঁজে। সে বাড়ি ছাড়ে।

    শুরু হয় এক যাযাবর জীবন। কিন্তু পকেটে কবিতা আর বুকে শব্দ। এই মানুষটিই বাংলাদেশের অনন্য কবি– আল মাহমুদ।
    সময় যেতে থাকে। কবির ভাবনা ডানা মেলে। এভাবে একদিন তিনি পা রাখেন ঢাকা দক্ষিণের প্রবেশদ্বার সদরঘাটে। গা ছুঁয়ে যায় বুড়িগঙ্গার বাতাস। হাতে ভাঙা সুটকেস। পকেটে পয়সা নেই। কিন্তু চোখ ভরা স্বপ্ন।

    সদরঘাটে যখন তাঁর প্রথম পায়ের দাগ পড়ে, সেই সময়টা ছিল গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশক। ১৯৫৪ সাল। ঢাকা তখন এক অচেনা নগরী। শহরটা তাঁকে ভয় দেখায়। তিনি ভয় পান না। বরং ঘুরে বেড়ান শহরের গলিপথ ধরে।

    সাংবাদিকতা
    অবশেষে আশ্রয় হয় পত্রিকার অফিসে। খাবারের অভাব। কিন্তু কবিতা লিখে যান নিরবধি। তখনকার ঢাকা ছিল সাহিত্যের আড্ডাখানা। বিউটি বোর্ডিংয়ের প্রাণ। তরুণ মাহমুদ সেখানে যান। চোখে চশমা। মুখে কবিতা। গ্রামীণ শব্দ দিয়ে কবিতা গাঁথেন। কবিরা চমকে ওঠেন। সম্পাদকেরা মুগ্ধ হন।

    এক কবির বুকে শব্দের আগুন। হাতে এক সব্যসাচী কলম। সাপ্তাহিক ‘কাফেলা’ পত্রিকায় লেখার মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁর সাংবাদিক জীবন। একই সময় ‘দৈনিক মিল্লাত’ পত্রিকায় প্রুফ রিডার হিসেবে কাজ করেন। পরে ‘কাফেলা’ পত্রিকার সম্পাদক হন। তারপর ইত্তেফাক পত্রিকার প্রুফ রিডার। কিছুদিন পর ইত্তেফাকের সহসম্পাদক। মাঝে কিছুদিন চট্টগ্রাম ‘বইঘর’ প্রকাশনীর সঙ্গে যুক্ত হন। ষাটের দশকজুড়ে তাঁর সংবাদপত্রে বিচরণ। ১৯৬৯ সালে আবার তিনি ‘ইত্তেফাক’-এর সহকারী সম্পাদক হন। জীবনের শেষ প্রান্তে ‘দৈনিক সংগ্রাম’-এর সহকারী সম্পাদক হন। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক কর্ণফুলী’ পত্রিকা সম্পাদনা করেন। এভাবে প্রুফ রিডার থেকে শুরু করে প্রধান সম্পাদকের চেয়ার পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল তাঁর এক আপসহীন, নান্দনিক সাংবাদিক জীবন।

    শিল্প-সাহিত্য

    ধীরে ধীরে কবি বিশাল সাহিত্য সম্ভারে আলোকিত হন। গল্প, কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, শিশুসাহিত্য, আত্মজীবনী, সাক্ষাৎকার, সাংবাদিকতাসহ নানা অনুষঙ্গে জীবনকে সমৃদ্ধ করেন। লোক লোকান্তর, কালের কলস, সোনালী কাবিনসহ ১২টিরও বেশি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। পানকৌড়ির রক্ত, সপ্তর্ষি, প্রিয় পঞ্চমীসহ তাঁর রয়েছে প্রায় ছয়টি গল্পগ্রন্থ। উপমহাদেশ, কাবিলের বোন, কবি ও কোলাহলসহ লিখেছেন প্রায় ১২টি উপন্যাস। এখানেই শেষ নয়, যেভাবে বেড়ে উঠি, বিচূর্ণ আয়নায় কবির মুখ এবং যে পারো ভুলিয়ে দাওসহ লিখেছেন চারটি আত্মজীবনী। এ ছাড়া পাখির কাছে ফুলের কাছে, ময়নামতির নেকলেস, বাতাসের নূপুরসহ ১০টিরও বেশি শিশু-কিশোর গ্রন্থ রয়েছে তাঁর।

    সাক্ষাৎকার
    বাংলা সাহিত্যে সাক্ষাৎকার প্রদানে কবি আল মাহমুদ সম্ভবত রেকর্ড করেছেন। তিনি প্রায় চার দশকে অসংখ্য সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সরদার আবদুর রহমান তাঁর ৬০টি সাক্ষাৎকার নিয়ে একটি বই করেছেন। বাংলা সাহিত্যে আর কোনো কবি, সাহিত্যিক এত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বলে জানা নেই। বিভিন্ন পত্রিকায় কলাম, প্রবন্ধ ও ভ্রমণ কাহিনি লিখেছেন।

    কাব্যগ্রন্থ

    ১৯৬৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘লোক লোকান্তর’। বাংলা সাহিত্যে এ যেন এক নতুন সুর। বাংলা কবিতার বাঁকবদল। ‘লোক লোকান্তর’ নাগরিক কবিতা নয়। মাটির গান। নদী ও নারীর উপাখ্যান। কবির জীবনের বহিঃপ্রকাশ।

    ‘আমার চেতনা যেন এক শাদা সত্যিকার পাখি,
    বসে আছে সবুজ অরণ্যে এক চন্দনের ডালে;…,
    লোক থেকে লোকান্তরে আমি যেন স্তব্ধ হয়ে শুনি
    আহত কবির গান। কবিতার আসন্ন বিজয়।’

    কবি আল মাহমুদের কবিতায় প্রকৃতি ও মানুষের মন এক হয়ে যায়। কবির ভাবনায় চেতনা বিমূর্ত নয়। এটা এক রহস্যময় পাখি। চন্দনের ডাল, সবুজ অরণ্য, লতা আর পরাগের গন্ধ, এসব কবির আত্মার প্রতিধ্বনি। প্রকৃতির এই মায়া কবিকে মুক্তির স্বাদ দেয়। সংসার, সমাজ, ধর্ম, লোকালয়, মানুষকে আড়ষ্ট রাখে। চেতনার পাখি ডানা মেললেই উন্মুক্ত প্রকৃতি। এটা রহস্যময় এক অন্তর্জগৎ। যেখানে কেবলই সুন্দরের বাস। শত প্রতিকূলতার মাঝেও শিল্পের জয় হয়। এই কবিতা তারই ঘোষণা।

    এখানে আহত কবি মানে সেই স্রষ্টা, যিনি যন্ত্রণা বহন করেন। কিন্তু তাঁর কণ্ঠেই জন্ম নেয় সৌন্দর্য। অরণ্যের নীরবতায় দাঁড়িয়ে কবি শোনেন সুন্দরের আহ্বান। তাই এই কবিতা প্রকৃতির ছবি। এটি আত্মার জাগরণ। সৌন্দর্যের বিস্ময়। কবিতার এক অপূর্ব নান্দনিক উপাখ্যান।

    কালের কলস প্রকৃতির এই নিবিড় পাঠ ও অন্তর্জগতের মায়াবী সীমানা পেরিয়ে কবি দৃষ্টি ফেরান মহাকালের দিকে। ‘লোক লোকান্তর’ গ্রন্থের আত্মার জাগরণ আর কবিতার নান্দনিকতা সঙ্গী করে ১৯৬৬ সালে রচনা করেন এক অপূর্ব কাব্যগ্রন্থ ‘কালের কলস’।

    অনিচ্ছায় কতকাল মেলে রাখি দৃশ্যপায়ী তৃষ্ণার লোচন
    ক্লান্ত হয়ে আসে সব, নিসর্গও ঝরে যায় বহুদূর অতল আঁধারে
    আর কী থাকলো তবে হে নীলিমা, হে অবগুণ্ঠন
    আমার কাফন আমি চাদরের মত পরে কতদিন আন্দোলিত হবো
    কতকাল কত যুগ ধরে
    দেখবো, দেখার ভারে বৃষের স্কন্ধের মতো নুয়ে আসে রাত্রির আকাশ?

    এক কাব্যগ্রন্থের মধ্য দিয়ে কবি বাংলা কবিতার লোকজ শব্দ, গ্রামীণ মাঠ, ঘাট, পরিবেশ, প্রকৃতি ও নাগরিক জীবনের এক অনন্য সমন্বয় করেছেন। ‘কালের কলস’ সময় ও জীবনের গভীরে নামার এক কাব্যিক অভিযাত্রা। চারপাশের চেনা পৃথিবী, নিসর্গ যেন এক অতল অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে। জীবনের সব কোলাহল ক্ষীণ হয়ে আসছে। এই গ্রন্থের প্রতিটি কবিতা যেন সময়ের চিরন্তন সংগ্রাম, স্বপ্ন, আত্মপরিচয়ের নিরন্তর অনুসন্ধান। কবি তাঁর ভাবনা উচ্চারণ করেন, শিল্পে রূপ দেন। তারপর শব্দের ভেতর জ্বেলে দেন অনুভূতির দীপশিখা। এখানেই এই কাব্যগ্রন্থের শিল্পসৌন্দর্য, গভীরতা এবং দীর্ঘস্থায়ী আবেদন।
    সোনালী কাবিন, কালের কলস গ্রন্থের পর এবার কবির অভিযাত্রা যেন বৃহত্তর কোনো পূর্ণতার দিকে। এই অন্বেষণই তাঁকে বাংলার শিকড় ও মাটির কাছে নিয়ে যায়। এর চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটে তাঁর ‘সোনালী কাবিন’ কাব্যগ্রন্থে।

    তখন ১৯৭৩ সাল। প্রকাশ হলো তাঁর মহাকাব্যিক সৃষ্টি ‘সোনালী কাবিন’। এটি বাংলা সাহিত্যের এক চিরন্তন সম্পদ। তিনি লোকজ ভাষাকে করেন সর্বজনীন। কামনার আগুনকে শিল্পের রূপ দেন। তিনি লেখেন–

    আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বণ্টন,
    পরম স্বস্তির মন্ত্রে গেয়ে ওঠো শ্রেণির উচ্ছেদ,…
    তারপর তুলতে চাও কামের প্রসঙ্গ যদি নারী
    ক্ষেতের আড়ালে এসে নগ্ন করো যৌবন জরদ,…।

    আল মাহমুদের ‘সোনালী কাবিন’ বাংলা সাহিত্যের এক চিরন্তনী কাব্য। এখানে ইতিহাস ও মাটির গন্ধ আছে। তিনি গ্রামীণ প্রেমকে এক ঐশ্বরিক রূপ দিয়েছেন। এখানে কবি নগরের কৃত্রিমতা ভেঙে শিকড়ের টানে ফিরেছেন। অপূর্ব শব্দমালায় গেঁথেছেন কাম ও প্রেম। এই কবিতা এক শাশ্বত মিলনের ঘোষণা। এই মিলন শহুরে ঐশ্বর্য বা যৌতুকের বিনিময় নয়। কবির কাবিন হলো প্রকৃতির দান।

    তিনি নদী, পলিমাটি আর শস্যের বিনিময়ে নারীকে আপন করতে চান। কবির কাছে প্রেম কোনো বিলাসিতা নয়। বেঁচে থাকার সংগ্রাম। গ্রামীণ বধূর আঁচলে লুকিয়ে থাকে বাংলার হাজার বছরের সংস্কৃতি। সামন্তবাদী শোষণের বিরুদ্ধে কবি দ্রোহী। ‘সোনালী কাবিন’ প্রেমের কবিতা নয়, এটি মাটির বুকে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিচ্ছবি।

    গল্প
    কবি আল মাহমুদ বাংলা কবিতার প্রাণ। আবার সেই তিনিই এক মায়াবী কথাসাহিত্যিক। তখন ১৯৭৫ সাল। চারদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই লেখেন ছোটগল্পের বই ‘পানকৌড়ির রক্ত’। এ বইয়ের প্রথম গল্পটির নামও ‘পানকৌড়ির রক্ত’।

    বাংলা সাহিত্যে আক্তারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘নিরুদ্দেশ যাত্রা’, শাহেদ আলীর ‘জিব্রাইলের ডানা’, আলাউদ্দিন আল আজাদের ‘বৃষ্টি’সহ কিছু কালজয়ী গল্প আছে। তেমনি কবি আল মাহমুদের ‘পানকৌড়ির রক্ত’ও এক কালজয়ী গল্প। এটি বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য সম্পদ।

    কবি সদ্য বিবাহিত। তাঁর মনে এক অন্য ঝড়। কুমারী নারীর প্রতি আদিম তৃষ্ণা। অথচ নিয়তির পরিহাস! স্ত্রী আদিনার শরীরে তখন ঋতুচক্রের রক্তধারা। মিলনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা বিফল।

    এই কামনার আগুনে পুড়ছেন কবি। তিনি গ্রামের বিলের দিকে তাকান। সেখানে এক পানকৌড়ি। ডুব দেয় গভীর অতলে। ঠিক যেমন কবি ডুব দিতে চান তাঁর আদিনার সিন্ধ শরীরের ভাঁজে। পানকৌড়ির ভেজা পালক যেন আদিনার দীর্ঘ কেশ। পাখিটার গ্রীবা, বুকের ওঠানামা ভেতরকে জাগিয়ে দেয়। তাঁর চোখে প্রকৃতি ও নারী একাকার। পানকৌড়ি হয়ে ওঠে কামার্ত এক মানবী। হঠাৎ বন্দুকের গুলি। ছিন্নভিন্ন হয় পানকৌড়ির চঞ্চলতা। লাল রক্ত ছিটকে পড়ে স্বচ্ছ জলে।

    কবির চোখে সেই রক্ত আর সাধারণ কোনো তরল নয়। এ যেন আদিনার গোপন অবয়ব থেকে পড়া অবাধ্য ধারা। পানকৌড়ির সেই রক্ত আর আদিনার নিভৃত রক্তস্রোত মিশে যায় এক মোহনায়। পানকৌড়ির চঞ্চু আর আদিনার ঠোঁট এক হয়ে যায়। এর পিঠের কালো মখমল যেন আদিনারই অন্ধকার উপত্যকা। রক্তমাখা সেই ডানা যেন আদিনারই কুমারিত্বের বিসর্জন। রক্তাক্ত ডানার স্পন্দন যেন আদিনারই সত্তার প্রতিধ্বনি।

    এই গল্পটিতে গ্রামীণ যৌন আবেগ, সেই আবেগের দ্রোহ, আর অবদমন মিলে তৈরি হয়েছে এক অনন্য আখ্যান। বাংলা সাহিত্য স্তব্ধ হয়ে দেখে এক খাঁটি, কাঁচা ও নান্দনিক আবেগের দ্রোহ।

    উপন্যাস
    কবি ভোরের কুয়াশা, মাটির গন্ধ, প্রেম, আবেগ ও আবেগের দ্রোহ থেকে ফিরে আসেন জীবনের বাস্তবতায়। তিনি একাত্তরের যুদ্ধদিনের এক দুঃসহ পরিস্থিতি নিয়ে লেখেন উপমহাদেশ উপন্যাস। যেখানে আছে ঘাত-প্রতিঘাত, যুদ্ধ, মৃত্যু ও জীবনের অনিশ্চয়তা।

    এই উপন্যাসের কেন্দ্রে রয়েছে হামিদ মীর নামে এক কবি। দেশপ্রেম ও মৃত্যুর ভয়ে ঝুলছে তার অস্তিত্ব। তার সঙ্গে যুক্ত হয় দুঃসাহসী মুক্তিযোদ্ধা আনিস। আছে নন্দিনী। যুদ্ধের বিভীষিকা, বোন সীমার মৃত্যু ও চরম নিরাপত্তাহীনতা নন্দিনীকে পুরোপুরি কবি হামিদ মীরের ওপর নির্ভরশীল করে তোলে। উত্তাল যুদ্ধদিনের দীর্ঘ যাত্রায় তাদের মানসিক নৈকট্য এক গভীর ভালোবাসায় রূপ নেয়। আল মাহমুদ এই সম্পর্কের মিলনান্তক রূপ দেননি। বরং যুদ্ধকালীন সংকটে মানুষের হৃদয়ের দোটানা, নৈতিক বোধ ও সম্পর্কের বহুমাত্রিক রূপকে উন্মোচন করেছেন।

    উপন্যাসটিতে রয়েছে রাজেনৈতিক জটিলতা। রণাঙ্গনের মাঠেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে বিভিন্ন পন্থিদের আদর্শিক ফাটল। দেশ স্বাধীনের চেয়েও তাদের কাছে বড় হয়ে ওঠে রাজনীতির সমীকরণ। দেশ যখন হানাদারের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত, কেউ কেউ তখন ব্যস্ত তাত্ত্বিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে।

    আল মাহমুদ এই উপন্যাসে স্বপ্ন ও ভাঙনের গল্প বুনেছেন। যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেও জেগে থাকে প্রেম। এটি শেষ পর্যন্ত মানুষের বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা ও ভালোবাসার গান। এটি এক মানবাত্মার উপাখ্যান।

    উপমহাদেশ উপন্যাসের মতো কাবিলের বোনও যুদ্ধদিনের উপন্যাস। তবে এটি যুদ্ধদিনের এক মনস্তাত্বিক প্রেমের উপন্যাস। ঢাকা তখন আগ্নেয়গিরি। চারদিকে উত্তেজনা, ভয়, আতঙ্ক। এই উত্তাল সময়ের এক অনন্য দলিল ‘কাবিলের বোন’ উপন্যাস। এটি শুধু যুদ্ধের কাহিনি নয়। এটি এক চরম মনস্তাত্ত্বিক উপাখ্যান। আল মাহমুদ এখানে ফুটিয়ে তুলেছেন অবরুদ্ধ শহরের ভেতরের জীবন যন্ত্রণা।

    উপন্যাসের কেন্দ্রে রয়েছে কাবিল। সে এক মানবিক ও পরোপকারী বাঙালি যুবক। তার পাশে ছায়ার মতো জড়িয়ে আছে পিতৃহীন মামাতো বোন মোমেনা। অন্যদিকে রয়েছে উচ্চবিত্ত ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন তরুণী রোকসানা। রোকসানার ফুফাতো ভাই আন্দালিব এক অবাঙালি যুবক। এই চার চরিত্র ঘিরে আবর্তিত হয় কাহিনির বিন্যাস।

    যুদ্ধ তাদের মুখোমুখি দাঁড় করায়। কাবিল ও আন্দালিবের ভেতরে চলে আদর্শের লড়াই। একজন বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রতীক, অন্যজন পাকিস্তানি ভাবধারার। রোকসানা এই দুইয়ের টানাপোড়েনের সেতু। তাদের সম্পর্কগুলো রক্তের নয়। কিন্তু একাত্তরের তীব্র অনিশ্চয়তা তাদের এক সুতোয় বেঁধেছে।

    শহরের বুকে তখন পাকিস্তানি জান্তার বুটের আওয়াজ। প্রতিদিন মানুষ মরছে। সম্পর্কগুলো প্রতিনিয়ত রূপ বদলাচ্ছে। এই ভয়াবহতার মাঝেও আল মাহমুদ বুনেছেন এক গভীর মায়াজাল। উপন্যাসের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে গভীর দহন। তিনি ইতিহাসের এক অমোঘ সত্য তুলে ধরেন। তিনি মনে করেন যে যুদ্ধ শুধু মানুষ মারে না, মানুষের ভূগোলও বদলে দেয়। এই ভূগোল যেমন মানচিত্রের, তেমনি তা হৃদয়েরও। একাত্তরের সেই অবরুদ্ধ মনস্তত্ত্ব বাংলা সাহিত্যে তিনি নিখুঁতভাবে এঁকেছেন।

    আল মাহমুদ ছোট-বড় সব পাঠকের কথা ভেবেছেন। শব্দকে তিনি এমন এক সহজ জাদুতে রূপ দিতেন, যা সবার মন ছুঁয়ে যায়। বয়সের সীমানা পেরিয়ে তিনি অনন্য। তাঁর লেখার আবেদন সর্বজনীন। তিনি বাংলা সাহিত্যের এমন সাহিত্যিক, যাঁর লেখা ছোট-বড় সবাইকে আলো দেয়। পাখির কাছে ফুলের কাছে, ময়নামতির নেকলেস, বাতাসের নূপুরসহ ১০টিরও বেশি শিশুসাহিত্য রয়েছে তাঁর। ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’ তাঁর এক অমর সৃষ্টি। শিশুরা তাঁর ছড়ায় খুঁজে পায় নদী, ফুল-পাখি, প্রজাপতি। তিনি চাঁদের আলো দিয়ে শব্দ বোনেন। শিশু-কিশোরদের জন্য ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’ কবিতায় লিখেছেন–

    নারকেলের ঐ লম্বা মাথায় হঠাৎ দেখি কাল
    ডাবের মত চাঁদ উঠেছে ঠাণ্ডা ও গোলগাল।
    ছিটকিনিটা আস্তে খুলে পেরিয়ে গেলাম ঘর
    ঝিমধরা এই মস্ত শহর কাঁপছিলো থরথর…।

    কী আর করি পকেট থেকে খুলে ছড়ার বই
    পাখির কাছে, ফুলের কাছে মনের কথা কই।

    রাতের নিঝুম আকাশ। চাঁদ উঠেছে নারকেল গাছের ডগায়। কবি একা। চেনা শহর যেন এক মায়াবী রূপকথার জগৎ। শহরটি কাঁপছিল থরথর। মিনারের ছায়া যেন এক প্রহরী। দরগাতলায় মোড় নিতেই হাতছানি দেয় পাহাড়। ডাকে– ‘আয়, আয়!’ পাহাড় ছুঁয়ে কবি জোনাকিদের আলো ঝলমলে রাজদরবারে যায়। আবার দিঘির জল তাঁকে বলে এসো আজ কাব্য করি। কবি পকেট থেকে ছড়ার বই নিয়ে প্রকৃতির মায়াজালে ফুল, পাখির কাছে মনের কথা বলেন।

    বিতর্ক ও নির্জনতা জীবন তো সোজা চলে না। আল মাহমুদের জীবনও বাঁক নিল। শেষ বয়সে তিনি বদলে গেলেন। তাঁর ভাবনায় এলো আধ্যাত্মিকতা। সমাজ তাঁকে নিয়ে দুই ভাগে ভাগ হলো। বিতর্ক তাঁর পিছু ছাড়ল না। কিন্তু তিনি ছিলেন অবিচল। তিনি শুধু লিখে গেছেন। তাঁর চোখ দুটি অন্ধ হয়ে আসছিল। কিন্তু ভেতরের চোখ ছিল খোলা। তিনি মুখে বলতেন। ভক্তরা তা লিখে রাখত। মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে উচ্চারণ করলেন– ‘কোনো এক ভোরে দেখবে তোমরা আমি আর নেই।’

    জন্ম

    সে অনেক দিন আগের কথা। দিনটি ছিল ১১ জুলাই। ১৯৩৬ সাল। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোড়াইল গ্রাম। চারদিকে তখন বর্ষার জল। নদীর নাম তিতাস। সেই নদীর কোল ঘেঁষেই জন্ম নিল এক শিশু। নাম তার মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। ডাকনাম শুধুই মাহমুদ।

    মৃত্যু
    ‘স্মৃতির মেঘলা ভোর’ শিরোনামে কবির এক অনন্য কবিতা আছে। যেখানে তিনি শুক্রবার ভোরে মৃত্যুর প্রার্থনা করেছেন। চিরবিদায়ের আকাঙ্ক্ষায় শব্দ বুনেছেন এক গভীর আত্মসমর্পণের সৌন্দর্যে।

    কোনো এক ভোরবেলা, রাত্রি শেষে শুভ শুক্রবারে
    মৃত্যুর ফেরেশতা এসে যদি দেয় যাওয়ার তাকিদ
    অপ্রস্তুত এলোমেলো এ গৃহের আলো অন্ধকারে
    ভালোমন্দ যা ঘটুক মেনে নেবো এ আমার ঈদ।

    তখন ২০১৯ সাল। ১৫ ফেব্রুয়ারি। শীতের অবসান। চারদিকে বসন্ত। ঢাকার এক হাসপাতালে চোখ বুজলেন কবি আল মাহমুদ। বয়স তখন ৮২ বছর। দুলে উঠল মায়াবী পর্দা। কবি চলে গেলেন ওপারে। কিন্তু প্রকৃতির কী এক অমোঘ খেলা! কবি শুক্রবারে মৃত্যু কামনা করেছিলেন। আর যেদিন তাঁর মৃত্যু হলো সেই দিনটি ছিল শুক্রবার। এটা হয়তো কোনো অলৌকিক কিছু নয়। কিন্তু এর নান্দনিকতা অস্বীকারের উপায় নেই। মহৎ কবিদের জীবনদর্শন এমনই হয়।

    কবি আল মাহমুদ আজ নেই। আছে তাঁর তিতাসের জল। সোনালী কাবিনের শ্লোক। বাংলা ভাষা যতদিন থাকবে, আল মাহমুদ থাকবেন ততদিন। তিনি মাটি মানুষ ও প্রকৃতির কবি। মায়াবী কথক।

  • যবিপ্রবিতে ছাত্রী হয়রানি, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

    যবিপ্রবিতে ছাত্রী হয়রানি, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

    শিক্ষা ডেস্ক:

    যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ছাত্রীদের হয়রানি ও বহিরাগতদের উৎপাত বন্ধে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

    শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন থেকে এ আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা ছাত্রীদের অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

    শিক্ষার্থীরা বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও কঠোর আন্দোলনে যাবেন তারা।

    এর আগে শুক্রবার এক ছাত্রীর অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে কয়েকজন বহিরাগতের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিরাপদ ক্যাম্পাস, বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ও ছাত্রীদের নিরাপত্তাসহ ১০ দফা দাবিতে প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান জানান, অভিযুক্তদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরানো হয়েছে। অভিযুক্তরা ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটানোর লিখিত মুচলেকাও দিয়েছে। পাশাপাশি বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

  • রাজনৈতিক চর্চার চেয়ে পেশাগত দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ; প্রধানমন্ত্রী

    রাজনৈতিক চর্চার চেয়ে পেশাগত দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ; প্রধানমন্ত্রী

    গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক সচেতনতা ও মতাদর্শগত অবস্থান স্বাভাবিক বিষয়। তবে রাজনীতি করতে গিয়ে পেশাগত দায়িত্বে কোনো ধরনের অবহেলা করা যাবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    শনিবার (৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সমাজের প্রায় সব ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করে। তাই শিক্ষক, শিক্ষার্থী কিংবা পেশাজীবীরা নিজ নিজ মতাদর্শ অনুযায়ী রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও সংগঠিত থাকতে পারেন। এতে অস্বাভাবিকতার কিছু নেই।

    তবে রাজনৈতিক সক্রিয়তা যেন পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। রাজনৈতিক চর্চার চেয়ে নিজ নিজ পেশার দায়িত্ব পালনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ

    জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব ই-হেলথ কার্ড চালুর কাজ শুরু হবে। একই সঙ্গে উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

    ‘ধ্বংসস্তূপের মতো পরিস্থিতি পেয়েছি’

    চিকিৎসকদের বিভিন্ন দাবির প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় ধ্বংসস্তূপের মতো একটি পরিস্থিতি পেয়েছে।

    ‘দুর্বল অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন এবং ভঙ্গুর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা’—সব মিলিয়ে কঠিন একটি পরিস্থিতি সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই অবস্থা থেকে দেশকে ঘুরে দাঁড় করাতে সরকার কাজ করছে। এর জন্য সময় প্রয়োজন এবং সব খাতকে ধীরে ধীরে পুনর্গঠন করতে হবে।

    বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের কথাও স্বীকার

    বিদ্যুৎ ও গ্যাস নিয়ে মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি সরকার অস্বীকার করছে না বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, মানুষ যে বর্তমানে বিদ্যুৎ ও গ্যাস নিয়ে কষ্ট ভোগ করছে, সরকার তা জানে। তবে সামগ্রিকভাবে একটি ভঙ্গুর ব্যবস্থা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়ায় এসব সমস্যা সমাধানে সরকারকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

  • থাইল্যান্ডে প্রকাশ্যে অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ

    থাইল্যান্ডে প্রকাশ্যে অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ

    থাইল্যান্ডে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন করার অঙ্গীকার করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল। গতকাল শুক্রবার ব্যাংককের উপকণ্ঠে একটি স্কুলে এক কিশোরের গুলিতে আটজন নিহত ও ২২ জন আহত হওয়ার পর তিনি এমন প্রতিশ্রুতি দেন।

    ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোর প্রথমে তার বাড়িতে থাকা দাদা-দাদিকে হত্যা করে। এরপর সে ননথাবুরি এলাকার দেবসিরিন স্কুলে যায়। সেখানে সে পাঁচ শিক্ষককে হত্যা করার পর আত্মহত্যা করে। সে ওই স্কুলেরই শিক্ষার্থী ছিল। পরে থাই সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, গুলিতে আহত এক শিক্ষার্থীরও মৃত্যু হয়েছে।

    এ হামলার ঘটনার পর থাই প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল বলেন, তিনি জনসমক্ষে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করতে নতুন আইন করতে চান। প্রস্তাবিত আইনে দায়িত্বপালনরত সরকারি কর্মকর্তারাই শুধু বন্দুক বহন করতে পারবেন।

    পুলিশ কর্মকর্তা থাদসাকর্ন কোনথং বলেন, হামলায় ব্যবহৃত বন্দুক ও গুলি ওই কিশোরের দাদার। প্রাথমিক তদন্তে ওই কিশোরের দাদার শোবার ঘরে বন্দুকটি থাকার আলামত পাওয়া গেছে।

    আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বন্দুকটি আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত ছিল এবং সেটির বৈধ অনুমতিপত্রও ছিল।

    দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের যেসব দেশের সাধারণ মানুষদের কাছে বন্দুক থাকার হার বেশি, তার মধ্যে থাইল্যান্ড অন্যতম। দেশটিতে সাধারণ মানুষের কাছে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ আগ্নেয়াস্ত্র আছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ বন্দুক অবৈধভাবে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

    থাইল্যান্ডে বন্দুক রাখার বিষয়ে বর্তমানে কঠোর আইন চালু আছে। সে আইন অনুযায়ী, অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে এসব আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে সমস্যা থেকে গেছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে আনুতিন বন্দুক নিয়ন্ত্রণে বেশ কয়েকটি আইন করেছিলেন। এর মধ্যে নতুন বন্দুকের লাইসেন্স দেওয়ার ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা এবং বন্দুক আমদানিতে বিধিনিষেধও ছিল। গতকাল আনুতিন বলেন, ‘এমন ঘটনা কখনোই ঘটার কথা ছিল না।’

    আনুতিন আরও বলেন, ‘আমি শুধু নিহত ব্যক্তিদের জন্যই দুঃখিত নই, এ ঘটনা ঘটেছে বলেও আমি দুঃখিত। আমাদের দেশে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটতে পারে?’

    ধারণা করা হচ্ছে, গতকাল স্থানীয় সময় ভোর ৫টার দিকে ওই কিশোর তার ৭৩ বছর বয়সী দাদা ও ৭৪ বছর বয়সী দাদিকে গুলি করে হত্যা করে। তারা দুজন একটি দোতলা ফ্ল্যাটে থাকতেন।

    থাই পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, দুজনের মাথায় একটি করে গুলি লাগে এবং ঘটনাস্থলেই তাঁরা নিহত হন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাদা-দাদিকে হত্যার পর ওই কিশোর একটি স্কুলবাসে ওঠে। তার সঙ্গে ছিল বন্দুক ও বেশ কয়েকটি গুলি।

    এরপর সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে সে প্রথম ক্লাসে এবং ৯টা ২০ মিনিটে দ্বিতীয় ক্লাসে অংশ নেয়। দ্বিতীয় ক্লাসের প্রায় ৩০ মিনিটের মাথায় সে বন্দুক ব্যবহার করে গুলি চালাতে থাকে।

    থাইল্যান্ডের জাতীয় পুলিশের প্রধান কিত্তিরাত ফানফেত সাংবাদিকদের বলেন, ফরেনসিক কর্মকর্তারা তদন্ত করে দেখেছেন, হামলাকারীর নিশানা করার সক্ষমতা বেশ ভালো ছিল। তার ছোড়া কয়েকটি গুলি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশে গিয়ে লাগে।

    প্রধানমন্ত্রী আনুতিন বলেন, হামলাটি ‘সুপরিকল্পিত’ ছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পুলিশ ওই কিশোরের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস তল্লাশি করে যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলে গুলির ঘটনা নিয়ে তৈরি বেশ কয়েকটি ভিডিও পেয়েছে।

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে পরিবারের সদস্যরা কিশোরটিকে শান্ত ও ভালো আচরণের ছেলে হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    কিশোরটির চাচা থাই সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সে বেশির ভাগ সময় ঘরের ভেতর থেকে সহিংস ভিডিও গেম খেলত এবং খুব কমই বাইরে বের হতো। তবে সে যে এমন হামলার পরিকল্পনা করছে, এমন কোনো লক্ষণ তার মধ্যে দেখা যায়নি। ওই কিশোর তার দাদা-দাদির সঙ্গে থাকত। তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিল।

    ১৮৮৫ সালে ব্যাংককে প্রতিষ্ঠিত দেবসিরিন স্কুলটি থাইল্যান্ডের অন্যতম নামকরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। দেশজুড়ে স্কুলটির বিভিন্ন শাখা আছে। কূটনীতিক, ক্রীড়াবিদ এবং বেশ কয়েকজন প্রধানমন্ত্রীসহ থাইল্যান্ডের অনেক পরিচিত ব্যক্তি ওই স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী।

  • আলিয়া মাদ্রাসায় ফের সংঘর্ষের শঙ্কা, সতর্ক অবস্থানে পুলিশ

    আলিয়া মাদ্রাসায় ফের সংঘর্ষের শঙ্কা, সতর্ক অবস্থানে পুলিশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজধানীর বকশীবাজারে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা এলাকায় ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) মাদ্রাসা, আলিয়া মাদ্রাসা সড়ক ও বকশীবাজার মোড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মাদ্রাসার গেট, সড়ক ও বকশীবাজার মোড়ে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করছেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসায় হল দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। সংঘর্ষের সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

    ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, একটি পক্ষ শনিবার মাদ্রাসায় প্রবেশের ঘোষণা দেওয়ায় নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণে আগাম সতর্কতা হিসেবে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেলে হল দখলকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় কয়েকজনকে দেশীয় অস্ত্র হাতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতেও অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ানোর দৃশ্য দেখা গেছে। এ সময় কয়েকজন আহত হয়ে মাটিতে পড়ে থাকেন। পরে সহপাঠীরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

  • উচ্চশিক্ষায় সার্কের সহযোগিতা চাইলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

    উচ্চশিক্ষায় সার্কের সহযোগিতা চাইলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

    দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার(সার্ক) মহাসচিব রাষ্ট্রদূত গোলাম সারওয়ারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে সার্ক সচিবালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    বৈঠকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় ও একাডেমিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়াও বৈঠকে উভয় পক্ষ দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে সার্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

    আলোচনায় উভয় পক্ষ সার্ক ধারণার অন্যতম প্রবক্তা ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শান্তি, আস্থা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নের যে দূরদর্শী চিন্তা তিনি সামনে এনেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় সার্ক প্রতিষ্ঠার ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।

    বৈঠকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রকে আরও সমৃদ্ধ করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলা সময়ের দাবি। তিনি বলেন, বর্তমানে উচ্চশিক্ষা বৈশ্বিক জ্ঞানবিনিময়, গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এ বাস্তবতায় সার্কভুক্ত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথ উদ্যোগ শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    তিনি আরও বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আন্তর্জাতিক মানের, গবেষণানির্ভর ও দক্ষতাকেন্দ্রিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণা, একাডেমিক সেশন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি চালু হলে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবে এবং আঞ্চলিক জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

    সার্ক মহাসচিব রাষ্ট্রদূত গোলাম সারওয়ার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংস্কার ও মানোন্নয়ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথ একাডেমিক কার্যক্রম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং গবেষণা সহযোগিতা বাড়াতে সার্ক সচিবালয় প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

    দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চশিক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি আঞ্চলিক উন্নয়ন ও মানবসম্পদ বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বৈঠকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং সার্ক সচিবালয়ের মধ্যে ভবিষ্যতে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর, যৌথ গবেষণা উদ্যোগ, আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজন এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন।

  • শিশুর প্রতিপালনে ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা

    শিশুর প্রতিপালনে ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা

    ইসলাম এমন একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে শিশুকে শুধু পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে নয়, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে মা-বাবার কাছে অর্পিত এক পবিত্র আমানত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। কোরআনে সন্তানকে পিতা-মাতার জন্য দুনিয়ার শোভা ও পরীক্ষা—উভয়ভাবেই আখ্যায়িত করা হয়েছে। ফলে শিশুর শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক বিকাশের দায়িত্ব শুধু আবেগের বিষয় নয়; বরং একটি ধর্মীয় দায়িত্বও। এই দায়িত্ব পালনে প্রয়োজন স্নেহ, ভালোবাসা, দয়া ও প্রজ্ঞাপূর্ণ শিক্ষা, আবার প্রয়োজন হলে সীমিত ও ন্যায়সংগত শাসনেরও অনুমতি ইসলাম দিয়েছে। এভাবে ইসলামের শিক্ষা একদিকে কোমলতা শেখায়, অন্যদিকে দায়িত্বশীল অভিভাবকত্বেরও দিকনির্দেশনা দেয়।

    মহানবী (সা.) ছিলেন শিশুদের প্রতি সর্বোত্তম আদর্শ। তিনি শিশুদের ভালোবাসতেন, কোলে তুলে নিতেন, মাথায় স্নেহের হাত বুলিয়ে দিতেন, হাসিমুখে কথা বলতেন এবং আন্তরিকতার সঙ্গে আচরণ করতেন। পথ চলতে শিশুদের আগে সালাম দেওয়ার ঘটনাও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। তিনি নিজের নাতি হাসান-হোসাইনকে চুম্বন করতে দেখে এক সাহাবি বিস্ময় প্রকাশ করলে বলেছিলেন, ‘যার অন্তরে দয়া নেই, তার প্রতিও দয়া দেখানো হয় না।’ এমনকি নামাজরত অবস্থায় নাতনি উম্মে কুলসুমকে কাঁধে নিয়ে সালাত আদায় করার ঘটনাও হাদিসে এসেছে, যা শিশুর প্রতি তার সহনশীলতা ও কোমলতার প্রমাণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে আমাদের ছোটদের স্নেহ করে না এবং বড়দের সম্মান করে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’ (তিরমিজি : ১৯২১)

    শিশুরা স্বভাবগতভাবেই চঞ্চল ও কৌতূহলী। তারা ভুল করবে, শিখবে এবং ধীরে ধীরে পরিণত হবে—এটাই স্বাভাবিক বিকাশের ধারা। তাই প্রতিটি ভুলের জবাবে কঠোরতা নয়, বরং ধৈর্য, বোঝানো ও উৎসাহ দেওয়াই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা। ইসলামি চিন্তাবিদরা মনে করেন, শিশুর ভুলকে শাস্তির চোখে না দেখে শেখার সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত, কারণ ভয়ের পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশু আত্মবিশ্বাসহীন ও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে ওঠার ঝুঁকিতে থাকে।তবে ইসলাম শাসনের প্রয়োজনীয়তাকেও অস্বীকার করে না। সন্তানকে দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সময়মতো শিক্ষা ও সংশোধন অপরিহার্য। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে নামাজের নির্দেশ দাও এবং দশ বছর বয়সে নামাজ না পড়লে তাদের শাসন করো।’ (আবু দাউদ : ৪৯৫) এ হাদিসের উদ্দেশ্য কোনোভাবেই নির্যাতনকে বৈধতা দেওয়া নয়; বরং দীর্ঘদিন শিক্ষা ও উৎসাহ দেওয়ার পরও প্রয়োজন হলে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।ইসলামি বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, শাসনের ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়া উচিত। প্রথমে নরম ভাষায় উপদেশ, এরপর মৃদু তিরস্কার, তারপর প্রয়োজন হলে কঠোর ভাষায় সতর্ক করা। এরপরও সংশোধন না হলে এমন শাসনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে যা কষ্টদায়ক বা স্থায়ীভাবে ক্ষতিকর নয় এবং যার একমাত্র উদ্দেশ্য সংশোধন। মুখমণ্ডল বা দেহের সংবেদনশীল অংশে আঘাত করা, রাগের বশে প্রহার করা কিংবা প্রকাশ্যে অপমান করা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ফিকহবিদরা এমনকি শারীরিক শাস্তির ক্ষেত্রে আঘাতের মাত্রা, স্থান ও উদ্দেশ্য নিয়েও সুনির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করেছেন, যাতে তা প্রতিহিংসামূলক না হয়ে শিক্ষামূলক থাকে।

    পরিবার বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশে শারীরিক শাস্তির বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন সংশোধনমূলক পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন—সাময়িকভাবে খেলাধুলার সুযোগ সীমিত রাখা, শ্রেণিকক্ষে কিছুক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখা, অতিরিক্ত অনুশীলনের দায়িত্ব দেওয়া, প্রিয় বিষয় থেকে সাময়িক বিরত রাখা কিংবা শান্ত পরিবেশে বসিয়ে উপদেশমূলক আলোচনা করা। আধুনিক শিশু-মনোবিজ্ঞানও এসব পদ্ধতিকে কার্যকর বলে সমর্থন করে, কারণ এতে শিশুর আত্মমর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে এবং একই সঙ্গে সংশোধনের সুযোগও সৃষ্টি হয়।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিশুর ওপর জুলুম করা মারাত্মক গুনাহ, কারণ এটি বান্দার হকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আল্লাহতায়ালা নিজের অধিকারের ব্যাপারে ক্ষমাশীল হলেও মানুষের হক নষ্ট করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রাপ্য আদায় বা ক্ষমা ছাড়া মুক্তি পাওয়া কঠিন। তাই অভিভাবক, শিক্ষক কিংবা দায়িত্বশীল যিনিই হোন না কেন, শিশুর প্রতি রাগ, প্রতিশোধ বা অপমানের মনোভাব থেকে কোনো আচরণ করা ইসলামের শিক্ষা নয়। বরং প্রতিটি সিদ্ধান্তের মূলে থাকতে হবে সন্তানের কল্যাণ ও সঠিক পথে পরিচালনার আন্তরিক আকাঙ্ক্ষা।আজকের সমাজে শিশুদের মানসিক সুস্থতা, নৈতিক বিকাশ ও পারিবারিক বন্ধন নিশ্চিত করতে আমাদের প্রয়োজন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শে ফিরে যাওয়া। স্নেহ হবে শিক্ষার ভিত্তি, দয়া হবে সম্পর্কের সৌন্দর্য এবং শাসন হবে প্রজ্ঞা, সংযম ও সংশোধনের মাধ্যম—শাস্তি বা প্রতিশোধের হাতিয়ার নয়। এ ভারসাম্যই একটি শিশুকে আত্মবিশ্বাসী, নৈতিকতাসম্পন্ন ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে এবং তা পরিবার ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

  • অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে এসি চালু

    অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে এসি চালু

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে অবশেষে এসি চালু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শুক্রবার সন্ধ্যায় এক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।

    তিনি স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘ডাকসুর তীব্র দাবির মুখে অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে এসি চালু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।’বিস্তারিত আসছে…

  • এখনই রাজনৈতিক দল গড়তে চান না তেলাপোকারা

    এখনই রাজনৈতিক দল গড়তে চান না তেলাপোকারা

    এখনই রাজনৈতিক দল গঠন না করে রাজ্যে রাজ্যে সংগঠন গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের কথা শুনবেন ‘তেলাপোকারা’। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতারা দুদিন ধরে নিজেদের মধ্যে আলোচনার পর এই রণনীতি তৈরি করেছেন। আগামী মাস থেকে গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে তাঁরা জনগণের কথা শুনবেন। মানুষের মন জানবেন। বুঝবেন। সেই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে, ‘কেয়া বোলতি পাবলিক’, অর্থাৎ মানুষ কী বলছে।

    সিজেপির রাষ্ট্রীয় আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকে দুদিনের বৈঠক শেষে এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে জানিয়েছেন, মানুষের সমস্যা কী কী—তা জানাই এই কর্মসূচির লক্ষ্য। সেসব জানা ও প্রতিকারের চেষ্টায় তাঁরা নিজেদের তৈরি করবেন। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, শিক্ষার সংস্কারই তাঁদের মূল লক্ষ্য। কারণ, শিক্ষা ক্রমেই মহার্ঘ হয়ে উঠেছে। ধনীদের কাছে সহজলভ্য, সাধারণের নাগালের বাইরে।

    সিজেপির কোর কমিটির ওই বৈঠকে ঠিক হয়েছে, এখনই রাজনৈতিক দল গঠনের পথে তাঁরা হাঁটবেন না। দলের অন্যতম নেতা সৌরভ দাস বলেন, ‘অনেকেই চাইছেন সিজেপি একটা রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করুক। কিন্তু আমরা ওই পথে হাঁটতে চাইছি না। দেশে রাজনৈতিক দলের অভাব নেই। কীভাবে ইডি, সিবিআই, আয়কর বিভাগকে লেলিয়ে রাজনৈতিক দল ভাঙা হচ্ছে সবার জানা।’

    সৌরভ দাস বলেন, সিজেপি ওই পথে হাঁটতে চায় না। কারণ, আরেক রাজনৈতিক দল গড়ে কোনো লাভ হবে না। তাই ওপথে না গিয়ে সিজেপি তৃণমূল স্তরে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যে রাজ্যে ঘুরে জনতা কী বলছে, তরুণ প্রজন্ম কী ভাবছে, তা বুঝে সেই অনুযায়ী সিজেপি কাজ করবে। সমস্যা সমাধানের উপায় খুঁজবে।

    কেন রাজনৈতিক দল গড়ার পথে তাঁরা এগোতে চাইছেন না, তা বিশদে ব্যাখ্যা করেন অভিজিৎ। তিনি বলেন, আপাতত প্রেশার গ্রুপ হিসেবেই তাঁরা থাকতে চান। ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা তাঁদের সাফল্য। মানুষের মন থেকে ভয় তাঁরা অনেকটাই দূর করতে পেরেছেন। তাঁদের কথা শুনতে সরকার বাধ্য হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের লক্ষ্য সংবিধানের আদর্শ, গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়প্রতিষ্ঠা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

    প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে অভিজিৎ নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও বিচারব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন। বলেন, ইসির প্রতি মানুষের ভরসা নেই। সকালে মানুষ ভোট দিয়ে যাঁকে জেতাল, সন্ধ্যায় দেখা গেল তিনি অন্য দলে চলে গেলেন। এক দলকে মানুষ ভোট দিয়ে জেতাচ্ছে, অথচ সরকার গড়ছে অন্য দল। দল ভাঙতে দেদার ব্যবহার করা হচ্ছে ইডি–সিবিআইকে।

    অভিজিৎ বলেন, কোথায় ভোটার ঠিক করবে, কে সরকার গড়বে—তা না। এখন সরকার ঠিক করছে কে ভোট দেবে। ইসির প্রতি যেমন বিন্দুমাত্র ভরসা নেই, তেমনই সাধারণ মানুষ সুবিচারও পান না। বিচারের তারিখ পেতে জীবন কেটে যায়। অথচ প্রভাবশালীদের অপেক্ষা করতে হয় না। দেখা যায়, মধ্যরাত্রেও শুনানি হচ্ছে।

    সিজেপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বলেন, যন্তর মন্তরের আন্দোলন চলাকালে তাঁরা দেখেছেন, মানুষ এসব নিয়ে ক্ষুব্ধ। তাঁরা প্রতিকার চান। সেই লক্ষ্যে আরও বিশদে মানুষের মন জানা জরুরি। তাই ‘কেয়া বোলতি পাবলিক’ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

    দুদিনের বৈঠকে সিজেপি তাদের সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করেছে। তারা জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করেছে ১১ সদস্যের। কমিটির সর্বভারতীয় আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে। সহ–আহ্বায়ক করা হয়েছে দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে। লক্ষণীয়, ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যদের প্রত্যেকের বয়স ২৬ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।

    কারণ হিসেবে সিজেপি নেতারা জানিয়েছেন, দেশের ৬৫ শতাংশ মানুষ এই বয়সের। দেশকে চারটি ভাগে ভাগ করে একেক ভাগের দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নেতারা সেখানে সংগঠন তৈরিতে সচেষ্ট হবেন। সদস্য সংগ্রহ অভিযান চালানো হবে। সে জন্য ওয়েবসাইট তৈরি হয়েছে।

    সিজেপির নেতারা বলছেন, তহবিল গড়ার লক্ষ্যে কারও কাছ থেকে এখন অর্থ নেওয়া হচ্ছে না। স্বচ্ছতার স্বার্থে সে কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ বা ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ করা হবে।

    কোনো সন্দেহ নেই বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকার তেলাপোকাদের গুরুত্ব দিচ্ছে। নতুন প্রজন্ম বা ‘জেন–জি’ প্রজন্মকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলেই শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবি মেনে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রায় নিয়ম করে বিভিন্ন বিষয় ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করছেন। নতুন প্রজন্মের সঙ্গে জুড়তে চাইছেন। সে জন্য দলীয় কর্মসূচিও গৃহীত হচ্ছে।

    এ অবস্থায় নড়েচড়ে বসেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘও (আরএসএস)। বিজেপির একাংশ যখন জেন–জিকে ‘দেশবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে দমন–পীড়নের পক্ষে, আরএসএস–প্রধান মোহন ভাগবত তখন বলেছেন, কেউ আন্দোলন করছেন বলেই দেশদ্রোহী নন। তরুণ প্রজন্ম কোনো বিষয়ে প্রতিবাদী হলে তার নিরসন করা প্রয়োজন।

    হিন্দুত্ববাদী আরএসএস প্রধান বলেন, ‘জেন–জিরা আমাদেরই লোক। আমাদেরই পরবর্তী প্রজন্ম। তাঁদের ভাষা আমাদের বুঝতে হবে।’

    মোহন ভাগবত বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে এক অনুষ্ঠানে এক শ শহরের দুই হাজার স্কুল পড়ুয়ার মুখোমুখি হয়েছিলেন। নিজের সময়ের সঙ্গে তুলনা করে তিনি সেখানে বলেন, ‘আমাদের সময়ে বড়রা যা বলতেন, আমরা তা মেনে নিতাম। আজকের জেন–জি প্রশ্ন করে। তারা যুক্তি খোঁজে। বিনা তর্কে সব কিছু মেনে নেয় না। এর অর্থ এই নয়, কোনো বিষয়ে আন্দোলন করার অর্থ তারা দেশদ্রোহী। এদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন জরুরি।’

    আরএসএস প্রধান বলেন, ‘আজকের জেন–জি বা জেন আলফা আমাদের তুলনায় অনেক বেশি সৎ। দেশভক্তি ও দেশসেবার মনোভাব তাদের আছে। আমি চোখ বন্ধ করে এদের ভরসা করতে পারি।’

    যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থী আন্দোলনের মোকাবিলায় দিল্লি পুলিশের ‘অত্যাচার’, লাঠিপেটা, পেলেট গান ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয় অবশ্য আরএসএস প্রধান সন্তর্পণে এড়িয়ে গেছেন। বলেছেন, ‘সেদিন ঠিক কী ঘটেছে, কেন ঘটেছে, কীভাবে ঘটেছে, কী ঠিক, কী–ই বা ভুল, আমার জানা নেই।’

    অথচ এই প্রশ্নেই বিরোধীরা এখনো অনড়। সংসদ অচল। শিক্ষার্থীদের মতো বিরোধীদেরও দাবি, পুলিশি অত্যাচারের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায় নিয়ে সংসদে বিবৃতি দিতে হবে। ওই দাবির কারণেই মোহন ভাগবত পুলিশি অত্যাচারের প্রসঙ্গ সন্তর্পণে এড়িয়ে যান।

    সংসদ কীভাবে সচল হবে, সেই সমাধানের পথ সরকারপক্ষ এখনো খুঁজে পায়নি। সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু লোকসভার বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করলেও বিরোধীরা দাবি থেকে সরতে চায়নি।

  • থাইল্যান্ডে স্কুলে বন্দুক হামলা নিহত ৮

    থাইল্যান্ডে স্কুলে বন্দুক হামলা নিহত ৮

    থাইল্যান্ডের একটি স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে সন্দেহভাজন কিশোর হামলাকারী এবং স্কুলটির পাঁচ শিক্ষকও রয়েছেন।

    রাজধানী ব্যাংককের একেবারে পাশেই অবস্থিত ননতাবুরি প্রদেশের ব্যাং ক্রুয়াই জেলার একটি স্কুলে আজ গুলির ঘটনা ঘটে।

    রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ হামলাকারীকে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে শনাক্ত করেছে।

    স্থানীয় সময় সকাল ১০টার কিছু পরে ডেবসিরিন স্কুলে গুলির ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ বলছে, সন্দেহভাজন হামলাকারী ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর যে স্কুলে যাওয়ার আগে নিজের বাড়িতে তার দাদা-দাদিকে হত্যা করে।

    পুলিশ জানিয়েছে, সে যে নয় মিলিমিটার পিস্তল ব্যবহার করেছে সেটি তার দাদার ছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার কাছে আরো কমপক্ষে ৩৪ রাউন্ড গুলি পাওয়া গেছে।

    সন্দেহভাজন হামলাকারীর মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, তার উদ্দেশ্য কী ছিল তা তারা এখনো জানে না।

    এই ঘটনায় ৩০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নয়জনের অবস্থা ‘গুরুতর’ বলে জানিয়েছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল।

    এ ঘটনার পর থাইল্যান্ডের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার আহ্বান নতুন করে জোরালো হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডে অস্ত্রের মালিকানার হার অন্যতম উচ্চ।

  • শ্রীপুরে কাঁঠাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিস্কুট, বাজারে ব্যাপক চাহিদা

    শ্রীপুরে কাঁঠাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিস্কুট, বাজারে ব্যাপক চাহিদা

    আব্দুস সাত্তারের দীর্ঘদিনের শখ বিদেশ ভ্রমণ। গত বছর চীন সফরে গিয়ে তিনি কাঁঠাল থেকে তৈরি বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য দেখে অনুপ্রাণিত হন। দেশে ফিরে প্রতিবছর অবহেলায় নষ্ট হওয়া কাঁঠালের মূল্য সংযোজনের বিষয়টি নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। সেই চিন্তা থেকেই এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে কাঁঠালের বিস্কুট উৎপাদনের উদ্যোগ নেন। আর পরীক্ষামূলক উৎপাদনেই বাজিমাত করলেন তিনি।

    গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা পৌর এলাকার বৈরাগীরচালা গ্রামের মোহতাহিনা ফুড কারখানায় এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদিত এই বিস্কুট অনলাইন ও অফলাইন—উভয় বাজারেই ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। উৎপাদনের শুরুতেই এই চাহিদা দেখে আগামী মৌসুমে উৎপাদন আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন আব্দুস সাত্তার।

    আব্দুস সাত্তার জানান, চলতি মৌসুমে প্রায় ৫০০টি কাঁঠাল ব্যবহার করে বিস্কুট তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি বিস্কুটে প্রায় ২০ শতাংশ কাঁঠালের পাল্প ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে বিস্কুটে কাঁঠালের স্বাদ ও প্রাকৃতিক সুগন্ধ বজায় থাকে, যা প্রচলিত বিস্কুটের তুলনায় ভিন্ন। বর্তমানে ৮০০ গ্রাম ওজনের একটি প্যাকেট ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘এবার সীমিত পরিসরে কাঁঠালের বিস্কুট উৎপাদন শুরু করেছি। আগামী মৌসুমে কাঁঠাল দিয়ে আরও বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।’

    শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বলেন, ‘কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহার বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক। বর্তমানে দেশে কাঁঠাল দিয়ে প্রায় ৫২ ধরনের খাদ্যপণ্য তৈরি হচ্ছে এবং এর অনেকগুলো বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। উদ্যোক্তা আব্দুস সাত্তারের এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। প্রয়োজন হলে কৃষি বিভাগ থেকে তাঁকে সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে।’

    স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কাঁঠালের মতো মৌসুমি ফলের এ ধরনের মূল্য সংযোজনমূলক উদ্যোগ কৃষকদের উৎপাদিত ফলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে এটি দেশীয় খাদ্যশিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বারও খুলে দিতে পারে।

  • নায়েমে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের মারামারি, ডিজি লাঞ্ছিত

    নায়েমে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের মারামারি, ডিজি লাঞ্ছিত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত সরকারি কলেজের শিক্ষকদের পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) মহাপরিচালক (ডিজি) প্রফেসর ড. ওয়াসিম মো. মেজবাহুল হককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    মহাপরিচালককে প্রকাশ্যে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ, অপদস্থ এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. শাহজাহানের বিরুদ্ধে। তারা দুজনেই প্রতিযোগিতামূলক বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি কলেজে প্রভাষক হিসেবে চাকরি শুরু করেন। বর্তমানে দুজনই অধ্যাপক।

    এর আগেও একাধিকবার দুইজন উপপরিচালক ও সহকারি পরিচালকের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তারাও শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা। অভিযুক্ত একজনের বাড়ি বগুড়ায়। তিনি সবচাইতে বেপরোয়াদের অন্যতম।

    জানা যায়, গত ৪ আগস্ট নায়েমে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে উপস্থিত অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধি ডেলিগেশনের সামনেই এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে।

    অনুষ্ঠানে ডিজির ওপর চড়াও ও লাঞ্ছনার চেষ্টা

    প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট নায়েমে আয়োজিত ইনডাকশন ট্রেনিং প্রোগ্রামের ‘ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশন’ (এফজিডি) সেশনের শুরুতেই পরিচালক মো. শাহজাহান হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে নায়েম ডিজি প্রফেসর ড. ওয়াসিম মো. মেজবাহুল হককে লক্ষ্য করে অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করতে থাকেন। ওই সময় সেখানে মাউশি অধিদপ্তরের পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. মীর জাহিদা নাজনীনসহ নায়েমের সব পরিচালক ও প্রোগ্রাম সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    তিনি সাংবাদিকদের জানান, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং নিজের সম্মান রক্ষার্থে ডিজি অনুষ্ঠানস্থল থেকে উঠে নিজ কক্ষে চলে যেতে চাইলে অভিযুক্ত পরিচালক আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। মীর জাহিদা জানান, পরিচালক শাজাহান ডিজিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার উদ্দেশ্যে তাঁর কক্ষ পর্যন্ত ধাওয়া করেন। শত চেষ্টা করেও অন্যান্য কর্মকর্তারা তাঁকে নিবৃত্ত করতে ব্যর্থ হন। এই ঘটনার পর সুবিচারের দাবিতে নায়েম ডিজি তাৎক্ষণিকভাবে মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ পেশ করেছেন। তবে এলাকা প্রীতির কারণে অভিযুক্ত এই পরিচালক শিক্ষা ভবন থেকে নায়েমে বদলি হতে পেরেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একজন প্রভাবশালী অামলার পছন্দে এই পরিচালককে নায়েমে পদায়ন করা হয়।

    প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রশাসনিক কাজে তিনি অনৈতিক হস্তক্ষেপ চালিয়ে যাচ্ছেন:

    ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কারে অবাস্তব প্রাক্কলন: পাকিস্তান আমলে নির্মিত নায়েমের জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত প্রশাসনিক ও বিজ্ঞান ভবন সংস্কারের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য ডরমেটরি তৈরির নামে প্রায় ৭৭ লাখ টাকার মেরামত বাজেট প্রস্তাব করেন তিনি। ঝুঁকিপূর্ণ ও অত্যধিক ব্যয় নির্ধারণের কারণে নায়েম কর্তৃপক্ষ এই প্রস্তাব বাতিল করলে তিনি ডিজির ওপর মারাত্মক ক্ষিপ্ত হন এই পরিচালক।

    প্রশিক্ষণ বাজেট ও গবেষণা বিলে হস্তক্ষেপ: নায়েমে চলমান ইনডাকশন ট্রেনিং প্রোগ্রামের প্রায় ২৩৫ কোটি টাকার ডিডিওশিপের প্রভাব খাঁটিয়ে অর্থ সরানোর অপচেষ্টা এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পের গবেষকদের প্রায় ১৮ লাখ টাকার বকেয়া বিল আটকে রেখে নির্দিষ্ট পার্সেন্টেজ আদায়ের পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নায়েম ডিজি এসকল অনিয়মে বাধা দেওয়ায় তাঁকে নানাভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছিলো।

    এছাড়া ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাউশির প্রশাসন বিভাগের সহকারী পরিচালক খালিদ হোসেনকে চাকু দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণের নজির রয়েছে।

    শিক্ষা প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে থেকে একজন কর্মকর্তার এমন একের পর এক উগ্র আচরণ, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের অপদস্থকরণ এবং আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে দ্রুত তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন নায়েম ও মাউশির ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    এই সুযোগে নায়েমের মহাপরিচালক হতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ এমপির মেয়ে।

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাজাহান সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

  • ৯ দফা দাবিতে উপাচার্যের কাছে জকসুর স্মারকলিপি

    ৯ দফা দাবিতে উপাচার্যের কাছে জকসুর স্মারকলিপি

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রক্টরের অপসারণ ও শাস্তি, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিচার, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠাসহ ৯ দফা দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জকসুর সহসভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলামের স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে এসব দাবি জানানো হয়।

    স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্পের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, ৭ একর জমিতে এক হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ এবং মেডিক্যাল সেন্টারের উন্নয়নের দাবিতে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড নিয়ে অডিটরিয়ামে প্রবেশ করেন। এ সময় প্রক্টরিয়াল বডি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্ল্যাকার্ড কেড়ে নিয়ে শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক বের করে দেন বলে অভিযোগ করা হয়।

    পরে শিক্ষার্থীরা শহীদ ইকরামুল হক সাজিদ ভবনের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এতে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফসহ নির্বাচিত প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানান।

    জকসুর অভিযোগ, একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা যদি আন্দোলন প্রত্যাহার না করো, তাহলে সিনক্রিয়েট করে তোমাদের এখান থেকে উঠিয়ে দেওয়া হবে।’

    এরপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ অবস্থানরত শিক্ষার্থী, জকসুর প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় বলে স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়। এতে জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ দুই জুলাইযোদ্ধা, ছাত্রশক্তির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ, ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীসহ অসংখ্য সাধারণ শিক্ষার্থী আহত হন বলে দাবি করা হয়।

    এ ছাড়া জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ ও নির্বাহী সদস্য আব্দুল্লাহ আল ফারুককে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করা হয় বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    জকসু আরো অভিযোগ করে, দীর্ঘ সময় ধরে হামলা চললেও তা প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি তাদের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    জকসুর ৯ দফা দাবি হলো— প্রক্টরের পদত্যাগ ও শাস্তি নিশ্চিত করা; হামলাকারীদের চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া; বহিরাগতদের বিরুদ্ধে মামলা করা; ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ; সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা; আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা; শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; হাসপাতালে আহতদের খোঁজ না নেওয়ার দায়ে সংশ্লিষ্টদের অপসারণ করা এবং অছাত্রদের অসুস্থ রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করা।

    স্মারকলিপির শেষাংশে জকসু জানায়, আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে তারা প্রত্যাশা করছে। অন্যথায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।

  • একযোগে ৭৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে পাওনা দেবে সরকার

    একযোগে ৭৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে পাওনা দেবে সরকার

    এমপিওভুক্ত ৭৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ পরিশোধ করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ১৫ আগস্ট দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে এই অর্থ পরিশোধ করা হবে। এ জন্য এই খাতে দুই হাজার কোটি টাকা বিশেষ থোক বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে শিক্ষক-কর্মচারীদের শঙ্কা, একসঙ্গে পুরো টাকা তাদের এখনই নাও দেওয়া হতে পারে।
    বর্তমানে অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে এক লাখ ১০ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে। এসব আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রয়োজন ১০ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আগামী ১৫ আগস্ট আয়োজিত কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ থোক বরাদ্দ দিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অবসর সুবিধা বোর্ড ও শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট– দুই প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় এককালীন অর্থ বিতরণ কর্মসূচি।

    ২০২২ সাল থেকে কেউ টাকা পাননি
    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সমকালকে বলেন, ২০২২ সাল থেকে অবসর নেওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের কেউই অবসর সুবিধার টাকা পাননি। দীর্ঘদিন ধরে তারা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছিলেন। তাদের দুর্ভোগ লাঘবে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী ১৫ আগস্ট একযোগে ৭৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর পাওনা পরিশোধ করা হবে।

    সচিব জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়কে ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে অবসর সুবিধা বোর্ডের ৭৫ হাজার আবেদনের নিষ্পত্তি হবে। তাদের মধ্যে প্রায় ৪৪ হাজার ব্যক্তি কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থও পাবেন।

    সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক হিসাবে একজন শিক্ষক-কর্মচারী গড়ে পাঁচ লাখ থেকে ছয় লাখ টাকা পাবেন। তবে চূড়ান্ত হিসাব এখনও চলছে। বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা দিন-রাত কাজ করছেন।
    সচিব আরও বলেন, এবার প্রথমবারের মতো আইবাস প্লাস প্লাসের মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হবে। এ জন্য সবার জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে দালালচক্র বা কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ থাকবে না।

    ২০২৩ সালে অবসর, ২০২৬-এও টাকা মেলেনি
    খুলনার ফুলতলা উপজেলার দামোদর মুক্তময়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. শামসুর রহমান ৩৩ বছর ৬ মাস শিক্ষকতা শেষে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবসরে যান। একই মাসে অবসর সুবিধার আবেদন করেন। এরপর প্রায় চার বছর কেটে গেলেও তিনি টাকা পাননি।

    শামসুর রহমান সমকালকে বলেন, ‘জুতোর তলা ক্ষয় হয়েছে, কিন্তু টাকার দেখা পাইনি। অসুস্থ শরীর নিয়ে বারবার ঢাকায় এসেছি। প্রতিবারই বলা হয়েছে, অপেক্ষা করুন।’
    রংপুরের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রবিউল ইসলাম রবি বলেন, ‘সারাজীবন শিক্ষকতা করেছি। এখন চিকিৎসার টাকাটুকুও পাচ্ছি না। শুধু জানতে আসি, কবে টাকা পাব।’
    ময়মনসিংহের শফিকুল ইসলাম বলেন, টাকার আশায় বছর পার হয়ে যাচ্ছে। বয়স হয়েছে, কষ্টও বাড়ছে।

    অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নাজমা আক্তার বলেন, ‘চিকিৎসার জন্য টাকার খুব প্রয়োজন। কিন্তু প্রতিবার এসে শুনি, ফাইল প্রসেসে আছে।’

    পুরো টাকা পাওয়া নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে সংশয়
    সরকার ৭৫ হাজার আবেদন নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীরা বলছেন, আপাতত সরকারের লক্ষ্য মূলত শিক্ষকদের কাছ থেকে কেটে রাখা মূল অর্থ ফেরত দেওয়া; কিন্তু বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্য মুনাফা বা প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়।

    জানা গেছে, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও শিক্ষাসচিব মো. আবদুল খালেক গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তারা পৃথক বেশ কয়েকটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল, ধাপে ধাপে অবসর ও কল্যাণের টাকা পরিশোধ করা, অর্থ সংকটের কারণে আপাতত শিক্ষকদের কাছ থেকে কেটে রাখা মূল টাকা পরিশোধ করা, প্রথমে মূল

    টাকা ও এক বছর পরে বাকি টাকা পরিশোধ করা। তবে প্রধানমন্ত্রী এতে সম্মত হননি। তিনি অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে তীব্র অর্থ সংকটের কারণে আপাতত ২ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দের নির্দেশ দেন।

    তিন বছরে যেভাবে সংকটের তৈরি
    অনুসন্ধানে জানা গেছে, মূলত তিনটি কারণে অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম কার্যত ভেঙে পড়েছে। প্রথমত, চরম অর্থসংকট। দ্বিতীয়ত, তহবিল ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের দুর্বলতা ও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিতর্কিত ব্যাংকে অর্থ বিনিয়োগ। তৃতীয়ত, পরিচালনা কমিটির অকার্যকারিতা এবং সফটওয়্যার জটিলতা।

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের বিপুল অর্থ সরকারি ব্যাংক থেকে সরিয়ে কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকে রাখা হয়। বর্তমানে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সিটিজেনস ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকে প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা আটকে রয়েছে। এই অর্থ ফেরত না পাওয়ায় নগদ প্রবাহে বড় ঘাটতি তৈরি হয়।

    আবেদনের ভয়াবহ জট
    অবসর সুবিধা বোর্ডের সচিব অধ্যক্ষ মো. মোশাররফ হোসেন লিটন সমকালকে জানান, অবসর বোর্ডে বর্তমানে ৬৭ হাজারের বেশি আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে। এসব আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রয়োজন প্রায় ৭ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা।

    কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব অধ্যক্ষ মো. ইউসুফ আলী সমকালকে বলেন, কল্যাণ সুবিধার জন্য প্রায় ৪৩ হাজার আবেদন জমা আছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে এই আবেদন জমা পড়েছে। তিনি জানান, শুধু কল্যাণ ট্রাস্টের ৪৩ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করতে প্রয়োজন ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। অথচ ট্রাস্টের হাতে আছে মাত্র ৬০০ কোটি টাকা।
    অবসর ও কল্যাণ সুবিধার টাকার বড় একটি অংশ নেওয়া হয় শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকেই। এ জন্য চাকরিকালীন তাঁদের মূল বেতনের ৬ শতাংশ টাকা মাসে কেটে রাখা হয়। কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য কাটা হয় মূল বেতনের ৪ শতাংশ। এ ছাড়া সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বছরে ১০০ টাকা (৭০ টাকা অবসরের জন্য ও ৩০ টাকা কল্যাণের জন্য) নেওয়া হচ্ছে। বাকি টাকা সরকার ও চাঁদা জমার সুদ থেকে সমন্বয় করে দেওয়া হয়।

    অবসর সুবিধা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ৬ শতাংশ হারে টাকা কাটার মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৭০ কোটি টাকা আদায় হয়। এফডিআরের লভ্যাংশ হয় প্রতি মাসে আরও ৩ কোটি টাকা। কিন্তু প্রতি মাসে গড়ে অবসর সুবিধার জন্য আবেদন জমা পড়ে ১ হাজার, যা নিষ্পত্তি করতে প্রতি মাসে দরকার ১১৫ কোটি টাকা। এর মানে হলো প্রতি মাসে ৪২ কোটি টাকা ঘাটতি থাকে; বছরে যা ৫০৪ কোটি টাকা।

    সফটওয়্যার বন্ধ, হাতে-কলমে যাচাই
    অর্থসংকটের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত জটিলতাও পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলেছে। বোর্ড কর্মকর্তারা জানান, পুরোনো সফটওয়্যারের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাওয়ায় ডিজিটালভাবে আবেদন যাচাই প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এখন প্রতিটি আবেদন হাতে-কলমে যাচাই করতে হচ্ছে।
    এর ফলে একটি আবেদন নিষ্পত্তিতে আগের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগছে।

    শিক্ষকদের প্রশ্ন, মুনাফার কী হবে
    অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বড় প্রশ্ন, তাদের বেতন থেকে কেটে রাখা অর্থ বহু বছর বিভিন্ন ব্যাংকে বিনিয়োগ করা হয়েছিল। সেই বিনিয়োগ থেকে যে মুনাফা হওয়ার কথা, সেটির কী হবে?
    শিক্ষক সংগঠনগুলোর নেতাদের মতে, ১৫ আগস্টের এই অর্থ বিতরণ কর্মসূচি দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসানে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এতে সামগ্রিক সংকটের একটি অংশের সমাধান হবে মাত্র। কারণ এখনও হাজার হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন। এ জন্য প্রয়োজন কয়েক হাজার কোটি টাকা। আর বিভিন্ন ব্যাংকে আটকে থাকা বিপুল অর্থ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত অবসর তহবিলের ওপর চাপ পুরোপুরি কাটবে না।

    বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মো. জাকির হোসেন সমকালকে বলেন, লক্ষাধিক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কারও চিকিৎসার টাকা নেই, কারও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তিন বছরের বেশি সময় ধরে কেউ অবসর বা কল্যাণের টাকা পাননি। দ্রুত সব পাওনা পরিশোধ করতে হবে। শুধু মূল টাকা নয়, বিধিমালা অনুযায়ী প্রাপ্য পুরো অর্থ দিতে হবে। অন্যথায় শিক্ষক সমাজ তা মেনে নেবে না।

  • আদর্শ জাতি বিনির্মাণে দ্বীনি শিক্ষা

    আদর্শ জাতি বিনির্মাণে দ্বীনি শিক্ষা

    ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনবিধান। সারা বিশ্বে যা আজ এক স্বীকৃত বাস্তবতা। যে কারণে ইসলাম সম্পর্কে মানুষের কৌতূহল দিন দিন শুধু বৃদ্ধি পাচ্ছে। বহু অমুসলিম বিদ্বান-পণ্ডিত বিজ্ঞানী ইসলাম গ্রহণে ধন্য হচ্ছেন। ইসলাম বিষয়ে তুলে ধরছেন তারা তাদের মূল্যবান অভিব্যক্তি। জানাচ্ছেন তাদের অভিজ্ঞতা। ইসলামের মহান আদর্শ ও শিক্ষায় মুগ্ধ হয়েই তারা ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় খুঁজে নিচ্ছেন। কিন্তু আমরাই শুধু ইসলাম ও কোরআন সুন্নাহ থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। এমনকি অনেক সময় অসম্পূর্ণভাবে বা আংশিক ইসলামের অনুসরণ করছি, যা কোনোভাবেই কাম্য নয় কখনোই! মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করো। শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না।’ (সুরা বাকারা : ২০৮)

    মুসলমানদের একসময়ের সমৃদ্ধ গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস-ঐতিহ্য ও অবদানকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আঘাত হানা হয়েছে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায়। সেহেতু আদর্শ ও নৈতিকতাশূন্য শিক্ষার ফলে সমাজের বিভিন্ন অঙ্গনে নানা অসংগতি ও ভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে। ইসলামের নামেও অনেক ভ্রান্ত বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। আমাদের ইসলামি আদর্শ ও নৈতিকতাসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করেই আমাদের ধ্বংস করা হয়েছে। ইংরেজরা আমাদের সেই শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এটি ঐতিহাসিকভাবেও প্রমাণিত। এজন্য আদর্শ জাতি বিনির্মাণে ইসলাম ও নৈতিকতাসম্পন্ন সুশিক্ষা নিশ্চিত করা ছিল একটি জরুরি পদক্ষেপ। দীর্ঘ সময় এ বিষয়ে যুগোপযোগী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কেউ এমন যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এ জাতীয় উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মহৎ দায়িত্বও বটে। আশা করছি, ‘আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট’-এ গুরু দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা এ প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করছি।গত ৩ আগস্ট আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের (AIII) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘বর্তমান আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামি শিক্ষাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয় না। আবার ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থায় আধুনিক শিক্ষার উপস্থিতি পর্যাপ্ত নয়। ফলে ইসলামিক শিক্ষা নিয়ে বেড়ে ওঠা অনেক শিক্ষার্থী সমাজে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন না।’

    প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি আরও বলেন, ‘আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য হলো, ইসলামি মূল্যবোধ ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে এমন এক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা; যা ভবিষ্যতে নৈতিক, দক্ষ ও সুশৃঙ্খল জাতি গঠনে ভূমিকা রাখবে।’

    এছাড়া তিনি বলেন, ‘আমরা যে ইবাদত করি, ইবাদতের মধ্যে দেখা যাচ্ছে যে, আমরা কোরআন বুঝি না। আল্লাহতায়ালা (কোথায়) কী আদেশ দিয়েছেন? সেটি সম্পর্কে আমরা জানি না। বিদআতের (ইসলামের নামে নতুন মনগড়া কখনো বানোয়াট বিষয়ে) অনুসরণ করি, (এভাবেই) বিদআতে ছেয়ে গেছে এদেশ। দোয়ার মধ্যে বিদআত, নামাজের মধ্যে বিদআত, সবখানে বিদআতে ছেয়ে গেছে। এসব থেকে বের হয়ে আসতে হবে। একটা সুস্থ সমাজ, ইসলামিক সমাজ বিনির্মাণ করতে চাই।’

    হাদিসে রাসুল (সা.) আমাদের এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দিয়েছেন। আমরা এ জাতীয় দুটো বর্ণনা উল্লেখ করছি। ইমাম মালিক (রহ.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমি তোমাদের কাছে দুটি বস্তু রেখে যাচ্ছি। তোমরা যতক্ষণ এ দুটিকে ধরে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত পথভ্রষ্ট হবে না। আর এ দুটি হচ্ছে, আল্লাহর কিতাব তথা কোরআন শরিফ ও তাঁর নবীর সুন্নত তথা হাদিস।’ (মুয়াত্তা মালিক : ১৬০২)

    রাসুল (সা.)-এর একজন সাহাবি ইরবাজ (রা.)। তিনি বলেন, একদিন রাসুল (সা.) আমাদের সঙ্গে নিয়ে নামাজ আদায় করলেন। অতঃপর আমাদের দিকে ফিরে আমাদের উদ্দেশে জ্বালাময়ী এক ভাষণ দিলেন। তাতে (আমাদের) চোখগুলো অশ্রুসিক্ত হলো এবং অন্তরগুলো বিগলিত হলো। তখন এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! এ যেন কারো বিদায়ি ভাষণ! অতএব আপনি আমাদের কী নির্দেশ দিচ্ছেন?

    রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি তোমাদের আল্লাহভীতির (বিষয়ে), শ্রবণ ও আনুগত্যের উপদেশ দিচ্ছি। যদিও সে (অর্থাৎ, যার অনুসরণ ও আনুগত্য করা হবে এমন আমির বা শাসক) একজন হাবশি গোলাম হয়। কারণ তোমাদের মধ্যে যারা আমার পরে জীবিত থাকবে, তারা অচিরেই প্রচুর মতবিরোধ দেখতে পাবে। তখন তোমরা অবশ্যই আমার সুন্নত এবং আমার হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের সুন্নত অনুসরণ করবে, তা দাত দিয়ে কামড়ে আঁকড়ে থাকবে। সাবধান! (ইসলাম ধর্মে) প্রতিটি নবাবিষ্কার তথা বিদআত সম্পর্কে! কারণ প্রতিটি নবাবিষ্কার হলো বিদআত এবং প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা। (আবু দাউদ : ৪৬০৭)

    উল্লিখিত বর্ণনায় পরিষ্কারভাবে আমাদের ইসলামের নামে নতুন বিষয় থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ ও তার সান্নিধ্যপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদ, তথা সঠিক পথের অনুসারী সাহাবিদের সুন্নাহকে মজবুত করে আঁকড়ে ধরতে বিশেষ উপদেশ দেওয়া হয়েছে। তাই আমাদের জন্য উচিত হবে, আমরা বিদআতমুক্ত সুন্নাহসম্মত আমল ও ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর রাজি সন্তুষ্টি অর্জন করতে সচেষ্ট হব। আমরা বিদআতমুক্ত সুন্নাহসম্মত আদর্শ জাতি বিনির্মাণের এই মহৎ ভূমিকাকে স্বাগত জানাই!

  • শিশুর প্রতিপালনে ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা

    শিশুর প্রতিপালনে ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা

    ইসলাম এমন একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে শিশুকে শুধু পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে নয়, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে মা-বাবার কাছে অর্পিত এক পবিত্র আমানত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। কোরআনে সন্তানকে পিতা-মাতার জন্য দুনিয়ার শোভা ও পরীক্ষা—উভয়ভাবেই আখ্যায়িত করা হয়েছে। ফলে শিশুর শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক বিকাশের দায়িত্ব শুধু আবেগের বিষয় নয়; বরং একটি ধর্মীয় দায়িত্বও। এই দায়িত্ব পালনে প্রয়োজন স্নেহ, ভালোবাসা, দয়া ও প্রজ্ঞাপূর্ণ শিক্ষা, আবার প্রয়োজন হলে সীমিত ও ন্যায়সংগত শাসনেরও অনুমতি ইসলাম দিয়েছে। এভাবে ইসলামের শিক্ষা একদিকে কোমলতা শেখায়, অন্যদিকে দায়িত্বশীল অভিভাবকত্বেরও দিকনির্দেশনা দেয়।

    মহানবী (সা.) ছিলেন শিশুদের প্রতি সর্বোত্তম আদর্শ। তিনি শিশুদের ভালোবাসতেন, কোলে তুলে নিতেন, মাথায় স্নেহের হাত বুলিয়ে দিতেন, হাসিমুখে কথা বলতেন এবং আন্তরিকতার সঙ্গে আচরণ করতেন। পথ চলতে শিশুদের আগে সালাম দেওয়ার ঘটনাও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। তিনি নিজের নাতি হাসান-হোসাইনকে চুম্বন করতে দেখে এক সাহাবি বিস্ময় প্রকাশ করলে বলেছিলেন, ‘যার অন্তরে দয়া নেই, তার প্রতিও দয়া দেখানো হয় না।’ এমনকি নামাজরত অবস্থায় নাতনি উম্মে কুলসুমকে কাঁধে নিয়ে সালাত আদায় করার ঘটনাও হাদিসে এসেছে, যা শিশুর প্রতি তার সহনশীলতা ও কোমলতার প্রমাণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে আমাদের ছোটদের স্নেহ করে না এবং বড়দের সম্মান করে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’ (তিরমিজি : ১৯২১)শিশুরা স্বভাবগতভাবেই চঞ্চল ও কৌতূহলী। তারা ভুল করবে, শিখবে এবং ধীরে ধীরে পরিণত হবে—এটাই স্বাভাবিক বিকাশের ধারা। তাই প্রতিটি ভুলের জবাবে কঠোরতা নয়, বরং ধৈর্য, বোঝানো ও উৎসাহ দেওয়াই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা। ইসলামি চিন্তাবিদরা মনে করেন, শিশুর ভুলকে শাস্তির চোখে না দেখে শেখার সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত, কারণ ভয়ের পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশু আত্মবিশ্বাসহীন ও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে ওঠার ঝুঁকিতে থাকে।

    তবে ইসলাম শাসনের প্রয়োজনীয়তাকেও অস্বীকার করে না। সন্তানকে দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সময়মতো শিক্ষা ও সংশোধন অপরিহার্য। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে নামাজের নির্দেশ দাও এবং দশ বছর বয়সে নামাজ না পড়লে তাদের শাসন করো।’ (আবু দাউদ : ৪৯৫) এ হাদিসের উদ্দেশ্য কোনোভাবেই নির্যাতনকে বৈধতা দেওয়া নয়; বরং দীর্ঘদিন শিক্ষা ও উৎসাহ দেওয়ার পরও প্রয়োজন হলে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    ইসলামি বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, শাসনের ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়া উচিত। প্রথমে নরম ভাষায় উপদেশ, এরপর মৃদু তিরস্কার, তারপর প্রয়োজন হলে কঠোর ভাষায় সতর্ক করা। এরপরও সংশোধন না হলে এমন শাসনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে যা কষ্টদায়ক বা স্থায়ীভাবে ক্ষতিকর নয় এবং যার একমাত্র উদ্দেশ্য সংশোধন। মুখমণ্ডল বা দেহের সংবেদনশীল অংশে আঘাত করা, রাগের বশে প্রহার করা কিংবা প্রকাশ্যে অপমান করা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ফিকহবিদরা এমনকি শারীরিক শাস্তির ক্ষেত্রে আঘাতের মাত্রা, স্থান ও উদ্দেশ্য নিয়েও সুনির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করেছেন, যাতে তা প্রতিহিংসামূলক না হয়ে শিক্ষামূলক থাকে।

    পরিবার বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশে শারীরিক শাস্তির বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন সংশোধনমূলক পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন—সাময়িকভাবে খেলাধুলার সুযোগ সীমিত রাখা, শ্রেণিকক্ষে কিছুক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখা, অতিরিক্ত অনুশীলনের দায়িত্ব দেওয়া, প্রিয় বিষয় থেকে সাময়িক বিরত রাখা কিংবা শান্ত পরিবেশে বসিয়ে উপদেশমূলক আলোচনা করা। আধুনিক শিশু-মনোবিজ্ঞানও এসব পদ্ধতিকে কার্যকর বলে সমর্থন করে, কারণ এতে শিশুর আত্মমর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে এবং একই সঙ্গে সংশোধনের সুযোগও সৃষ্টি হয়।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিশুর ওপর জুলুম করা মারাত্মক গুনাহ, কারণ এটি বান্দার হকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আল্লাহতায়ালা নিজের অধিকারের ব্যাপারে ক্ষমাশীল হলেও মানুষের হক নষ্ট করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রাপ্য আদায় বা ক্ষমা ছাড়া মুক্তি পাওয়া কঠিন। তাই অভিভাবক, শিক্ষক কিংবা দায়িত্বশীল যিনিই হোন না কেন, শিশুর প্রতি রাগ, প্রতিশোধ বা অপমানের মনোভাব থেকে কোনো আচরণ করা ইসলামের শিক্ষা নয়। বরং প্রতিটি সিদ্ধান্তের মূলে থাকতে হবে সন্তানের কল্যাণ ও সঠিক পথে পরিচালনার আন্তরিক আকাঙ্ক্ষা।

    আজকের সমাজে শিশুদের মানসিক সুস্থতা, নৈতিক বিকাশ ও পারিবারিক বন্ধন নিশ্চিত করতে আমাদের প্রয়োজন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শে ফিরে যাওয়া। স্নেহ হবে শিক্ষার ভিত্তি, দয়া হবে সম্পর্কের সৌন্দর্য এবং শাসন হবে প্রজ্ঞা, সংযম ও সংশোধনের মাধ্যম—শাস্তি বা প্রতিশোধের হাতিয়ার নয়। এ ভারসাম্যই একটি শিশুকে আত্মবিশ্বাসী, নৈতিকতাসম্পন্ন ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে এবং তা পরিবার ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

  • ১০ আগস্টই এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    ১০ আগস্টই এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আগামী ১০ আগস্ট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল আগামী ১০ আগস্ট প্রকাশ করা হবে।

    এ ছাড়া আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকছে না। লটারির মাধ্যমে প্রথম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণিতে কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। এ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম লটারির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।

    তবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্যান্য সব শ্রেণিতে আগের মতোই ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

  • ঢাকা আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষের ওপর হামলার প্রতিবাদে তামীরুল মিল্লাতে মানববন্ধন

    ঢাকা আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষের ওপর হামলার প্রতিবাদে তামীরুল মিল্লাতে মানববন্ধন

    ঢাকা আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ওবায়দুল হকের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে টঙ্গী তা’মীরুল মিল্লাত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (টাকসু)। হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রতিষ্ঠানটির মূল ফটকের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

    মানববন্ধনে টঙ্গী তা’মীরুল মিল্লাত মাদরাসার শত শত শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অংশ নেন। কর্মসূচিতে বক্তারা শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত, সন্ত্রাস ও লেজুড়ভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ এবং শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

    টাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মঈনুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মুর্তজা হাসান ফুয়াদের সঞ্চালনায় আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন টঙ্গী তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার বালিকা শাখার ভাইস প্রিন্সিপাল আব্দুল কাইয়ুম।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘দেশের সকল শিক্ষাঙ্গনে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। ক্যাম্পাসে লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি, হল দখল, ফ্রি খাওয়া, চাঁদাবাজিসহ সকল অপকর্ম রুখে দিতে হবে। অধ্যাপক ওবায়দুল হকের ওপর হামলায় জড়িতদের অনতিবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

    সভাপতির বক্তব্যে টাকসুর ভিপি মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষাঙ্গন হলো দেশ গড়ার ও মানুষ তৈরির কারখানা। কোনো সন্ত্রাসী, মাস্তানি বা চাঁদাবাজির স্থান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হতে পারে না। সম্মানিত শিক্ষকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। জুলাই আন্দোলনে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। দেশের মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের আদর্শিক, নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে গড়ে তুলছে। কিন্তু শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সেই পরিবেশকে কলঙ্কিত করছে।’

    তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

    মানববন্ধনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার হেড মুহাদ্দিস ড. মোয়াজ্জেম হোসেন আজহারী, ফকিহ ইব্রাহিম খলিল, আমিনুল হক, প্রভাষক নুরুল আমিন ও ওমর ফারুক। এছাড়াও টাকসুর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং প্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক সাধারণ শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে অংশ নেন।

    বক্তারা অবিলম্বে হামলার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ ও সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

  • ব্রিটিশ সেনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ধর্ষণ ও নির্যাতনের ভয়াবহ তথ্য

    ব্রিটিশ সেনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ধর্ষণ ও নির্যাতনের ভয়াবহ তথ্য

    একটি ব্রিটিশ সেনা প্রশিক্ষণ কলেজে যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে বিবিসির কাছে অভিযোগ করেছেন চার তরুণী। তাদের মধ্যে একজন জানিয়েছেন, বেশ কয়েকজন জুনিয়র সৈনিকের হাতে তিনি কয়েক ঘণ্টা ধরে গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন।

    যুক্তরাজ্যের উত্তর ইয়র্কশায়ারের হারোগেটে অবস্থিত আর্মি ফাউন্ডেশন কলেজে (এএফসি) গত পাঁচ বছরে এই ঘটনাগুলো ঘটে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। তাদের সবার বয়স তখন ছিল মাত্র ১৭ বছর। তারা প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে মুখ খুলে জানিয়েছেন, কলেজটিতে নারীবিদ্বেষ এবং যৌন সহিংসতার এক ‘বিপজ্জনক সংস্কৃতি’ চলছে।

    সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র এই প্রতিবেদনগুলোকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও গুরুতর’ বলে বর্ণনা করেছেন। বিবিসির এক তথ্য অধিকার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জানা গেছে, জুন পর্যন্ত গত এক বছরে উত্তর ইয়র্কশায়ার পুলিশ ওই কলেজ সংশ্লিষ্ট ১৬টি যৌন অপরাধের অভিযোগ পেয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে নগ্নতা প্রদর্শন, অন্যের ব্যক্তিগত মুহূর্তে উঁকিঝুঁকি এবং যৌন নিপীড়ন। তবে এসব ঘটনায় কারও শাস্তি হয়েছে কি না, তা জানানো হয়নি।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত কলেজটিতে মোট ১৭৬টি যৌন অসদাচরণের অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৩২টি অভিযোগ ছিল স্থায়ী কর্মীদের বিরুদ্ধে এবং ১৪৪টি জুনিয়র সৈনিকদের বিরুদ্ধে।

    আর্মি ফাউন্ডেশন কলেজ (এএফসি) হলো যুক্তরাজ্যের ১৯ বছরের কম বয়সিদের জন্য বৃহত্তম সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। বর্তমানে এখানে ৮৮৯ জন জুনিয়র সৈনিকের মধ্যে ৭০ জন নারী রয়েছেন।

    ‘আমি যেন এক টুকরা মাংস ছিলাম’
    শৈশব থেকেই সৈনিক হওয়ার স্বপ্ন দেখা ‘টিলি’ জানান, এএফসিতে সহকর্মী সৈনিকদের হাতে তার স্বপ্ন চুরমার হয়ে যায়। তিনি সেই ভয়াবহ দিনের বর্ণনা দিয়ে বলেন, “তারা আমাকে জিজ্ঞেস করল ‘রুমে আসবে কি না?’ আমি ১৭ বছরের সহজ-সরল মেয়ে হিসেবে রাজি হয়ে যাই। এরপর তারা আমার পোশাক খুলে ফেলে এমন সব কাজ করতে শুরু করে যাতে আমার সম্মতি ছিল না।”

    তিনি আরও বলেন, “সেখানে অনেক লোক ছিল। তারা আমাকে যত্রতত্র স্পর্শ করছিল এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছিল। তারা আমাকে একটি মেয়ের বদলে ‘বস্তু’ বলে ডাকছিল। এরপর আমাকে গণধর্ষণ করা হয়… সমবয়সি অনেক জুনিয়র সৈনিক মিলে এই কাজ করে। এটি কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে। আমার মনে হচ্ছিল আমি কেবল এক টুকরা মাংস।”

    এই ঘটনার দুই সপ্তাহ পর টিলি সেনাবাহিনী ত্যাগ করেন। তিনি জানান, পুলিশের তদন্ত ছিল ‘সম্পূর্ণ অপর্যাপ্ত’, যার ফলে কোনো অপরাধীর শাস্তি হয়নি। তবে উত্তর ইয়র্কশায়ার পুলিশ তাকে পরে একটি আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেয়, যদিও তারা সরাসরি দায় স্বীকার করেনি।

    দ্বিতীয় নারী ‘মনিকা’ জানান, এক সহকর্মী তাকে একটি ঘরে আটকে রেখে যৌন হেনস্তা করেন। তিনি বলেন, ‘সে দরজায় এমনভাবে দাঁড়িয়ে ছিল যে আমি বের হতে পারছিলাম না। সে আমাকে জাপটে ধরে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় স্পর্শ করতে শুরু করে।’

    তৃতীয় ভুক্তভোগী ‘অ্যামি’-র মা শেরিল জানান, তার মেয়ে প্রায় প্রতিদিন যৌন হয়রানির শিকার হতেন। রুমের দরজার লক নষ্ট থাকায় অ্যামি দরজার সামনে শুয়ে রাত কাটাতেন যাতে কোনো পুরুষ সৈনিক ভেতরে ঢুকতে না পারে। শেরিল আক্ষেপ করে বলেন, তার মেয়েকে একটি ‘স্বপ্নের’ কথা বলে আনা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে তা নরকে পরিণত হয়েছে।

    চতুর্থ ভুক্তভোগী ‘এলি’ জানান, প্রশিক্ষকদের আচরণ কিশোরদের ওপর প্রভাব ফেলত। তিনি বলেন, ‘প্রথম সপ্তাহেই একজন প্রশিক্ষক আমাদের বলেছিলেন—সবই হলো মেয়েদের শরীর নিয়ে এবং তুমি কতজনকে পটাতে পারো তা নিয়ে।’ প্রশিক্ষকরা মেয়েদের রূপের ওপর ভিত্তি করে ১০-এর মধ্যে নম্বর দিতেন এবং অনুমতি ছাড়াই মেয়েদের অন্তর্বাস পরা অবস্থায় ডরমিটরিতে ঢুকে দাঁড়িয়ে থাকতেন।

    শাস্তি ও আইনি বাস্তবতা
    গত পাঁচ বছরে এএফসির কয়েকজন প্রশিক্ষক সামরিক আদালতে দণ্ডিত হয়েছেন। ২০২৩ সালে ড্যানিয়েল কনওয়ে সহকর্মীকে ধর্ষণের দায়ে সাত বছরের জেল পান এবং সাইমন বার্ট্রাম যৌন নিপীড়নের দায়ে ২০ মাসের সামরিক কারাদণ্ড পান।

    টিলি অভিযোগ করেন, প্রশিক্ষকরাই নারীবিদ্বেষ উসকে দেন। ধর্ষণের পর একজন প্রশিক্ষক তাকে ‘চরিত্রহীন’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। একই অভিজ্ঞতার কথা জানান অ্যামির মা শেরিলও। তিনি বলেন, ‘তার মেয়েকে লাইনে দাঁড় করিয়ে সবার সামনে চরিত্রহীন বলে গালি দেওয়া হতো কারণ প্রশিক্ষকদের মতে ছেলেদের নজরে পড়া তার দোষ ছিল। তারা ভুলে গিয়েছিল যে সে কেবল একটি শিশু।’

    তদন্তের দাবি ও বৃহত্তর সংকট
    লেবার পার্টির এমপি এমা লেওয়েল এই পরিস্থিতিকে ভয়াবহ উল্লেখ করে অবিলম্বে একটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে সেনাবাহিনীর দাবি, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এক পরিদর্শনে সেখানকার সুরক্ষাব্যবস্থা ‘উৎকৃষ্ট’ হিসেবে মূল্যায়িত হয়েছে।

    এই ঘটনাগুলো ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে নারীদের দীর্ঘমেয়াদি সংকটেরই অংশ। ২০২১ সালের ‘অ্যাথারটন রিপোর্ট’ অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনীর ৬৬ শতাংশ নারী যৌন হয়রানির শিকার হন। রয়্যাল আর্টিলারি গানার জেসলি বেকের আত্মহত্যার ঘটনাও এখানে স্মরণ করা হয়েছে, যিনি একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার পর নিজের জীবন শেষ করে দেন।

    বর্তমানে সেনাবাহিনী থেকে বেরিয়ে আসা টিলি তার জীবন নতুন করে গড়ার চেষ্টা করছেন। সেনাবাহিনীর বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তির দাবি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার যদি কোনো মেয়ে থাকে, আমি তাকে কখনোই সেনাবাহিনীতে পাঠাব না।’

  • প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব নিযুক্ত হয়েছেন মিজ্ জেসমিন নাহার। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে কর্মরত।

    বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

  • ৩০৬ বছরের রেকর্ড ভেঙা কে এই কনিষ্ঠ অধ্যাপক?

    ৩০৬ বছরের রেকর্ড ভেঙা কে এই কনিষ্ঠ অধ্যাপক?

    শিক্ষা ডেস্ক:

    যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ১৮ বছর বয়সি তরুণ নাথান থমাস বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ কলেজ অধ্যাপক হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছেন।

    গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্টে মাত্র ১৮ বছর ৩৪৬ দিন বয়সে নাথান ফ্লোরিডার ‘মিয়ামি ডেড কলেজ’-এ শিক্ষক পদে নিযুক্ত হন।

    নাথান একজন অসাধারণ মেধাবী প্রকৌশল শিক্ষার্থী। তিনি মাত্র ১০ বছর বয়সে ‘ডুয়াল-এনরোলমেন্ট’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে কলেজে ভর্তি হন এবং ১৪ বছর বয়সে ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে স্থানান্তরিত হন। এরপর মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তিনি তড়িৎ প্রকৌশলে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

    নাথানের আগে পুরুষদের মধ্যে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ অধ্যাপক হওয়ার রেকর্ডটি দীর্ঘ ৩০৬ বছর ধরে স্কটিশ গণিতবিদ কলিন ম্যাকলরিনের দখলে ছিল, যিনি ১৭১৭ সালে ১৯ বছর বয়সে অধ্যাপক হয়েছিলেন।

    এ ছাড়া নারী-পুরুষ মিলিয়ে আগের রেকর্ডধারী আলিয়া সাবুরের চেয়ে নাথান ১৬ দিন ছোট। আলিয়া ২০০৮ সালে ১৮ বছর ৩৬২ দিন বয়সে সর্বকনিষ্ঠ নারী অধ্যাপক হওয়ার কীর্তি গড়েছিলেন। বর্ত

    মানে নাথান মিয়ামি বিশ্ববিদ্যায়ালের ‘স্কুল অব ল’-তে ‘জুরিস ডক্টর’ ডিগ্রির জন্য পড়াশোনা করার পাশাপাশি অনলাইনে কোর্স পড়াচ্ছেন। ২০২৮ সালে তার এই আইন বিষয়ক ডিগ্রি সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।

    নাথান জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তিনি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত খাতের ওপর জোর দিয়ে মেধা স্বত্ব আইন নিয়ে কাজ করতে চান।

    গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের সঙ্গে আলাপকালে নাথান বলেন, প্রকৌশল বিদ্যা তাকে জটিল সমস্যাগুলোকে ছোট ছোট ও সুসংগঠিত অংশে ভাগ করে সমাধান করতে শিখিয়েছে। আইন সংক্রান্ত পড়াশোনাতেও তিনি একই পদ্ধতি প্রয়োগ করছেন।

  • সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

    সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একই স্থান ও একই সময়ে তিনটি ভিন্ন সংগঠনের কর্মসূচি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

    বুধবার রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একই জায়গায় আর একই সময়ে তিনটি সংগঠনের সমাবেশের ঘোষণা দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ থাকবে।

    এর আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ভাষাশহীদ রফিক ভবনের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করে।

    সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশব্যাপী ইসলামী ছাত্রশিবিরের অব্যাহত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ক্যাম্পাসে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা এবং মবতন্ত্রের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।

    একই সময় ও একই জায়গায় ‘ঐক্যবদ্ধ জগন্নাথ’–এর ব্যানারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীদের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়।

    এ ছাড়া বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ভাষাশহীদ রফিক ভবনে অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর অনুষ্ঠান করার ঘোষণা দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)।

  • রাষ্ট্রবিরোধী অভিযোগে পবিপ্রবির ১১ শিক্ষক

    রাষ্ট্রবিরোধী অভিযোগে পবিপ্রবির ১১ শিক্ষক

    শিক্ষা ডেস্ক:

    পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) ১১ শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

    বুধবার (৫ আগস্ট) উপাচার্যের অনুমোদনক্রমে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল হোসেন স্বাক্ষরিত জরুরি নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়।

    নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ নামের একটি সংগঠন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রবিরোধী অনলাইন তৎপরতার অংশ হিসেবে মানবতাবিরোধী মামলার আসামি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে দেশের সংবিধান, আইন, বিচারিক ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অভিযোগে অভিযুক্ত। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষকদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া, চাকরি থেকে অপসারণসহ বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই সংগঠনের ব্যানারে শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিগ্রাম, ম্যাসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বৈঠকে অংশ নেওয়া ১১ শিক্ষক পবিপ্রবি আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধান লঙ্ঘন করেছেন।

    এছাড়া নোটিশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সংবিধান, আইন-বিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, শান্তি-শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ সমুন্নত রাখতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

  • চৌর্যবৃত্তির বিতর্কে পদত্যাগ করলেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক

    চৌর্যবৃত্তির বিতর্কে পদত্যাগ করলেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক

    চৌর্যবৃত্তির বিতর্কের মুখে পদত্যাগ করলেন ইংল্যান্ডের বিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক। তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে তাঁর পদত্যাগ।

    জেসন আরডে নামের ওই অধ্যাপক জানিয়েছেন, এ অধ্যায়ের সমাপ্তি টানার একমাত্র উপায় হলো তাঁর দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া।

    এর আগে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, অধ্যাপক আরডের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সম্মানসূচক নিয়োগের বিষয়ে ‘নতুন তথ্য পাওয়ার পর’ তারা একটি তদন্ত শুরু করেছে। মূলত ২০২৪ সালে কেমব্রিজের পদ থেকে বরখাস্ত হওয়া অন্য একজন শিক্ষাবিদ নাথান কফনাসের একটি দাবির পর এ পরিস্থিতি তৈরি হয়।

    নিজেকে ‘রেস রিয়েলিস্ট’ বা জাতিগত বাস্তববাদী হিসেবে পরিচয় দেওয়া নাথান কফনাস দাবি করেন, আরডের গবেষণাকর্মে তিনি অসংখ্য চৌর্যবৃত্তির প্রমাণ পেয়েছেন। একই সঙ্গে আরডের অর্জিত কিছু সাফল্যের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    অভিযুক্ত শিক্ষাবিদ জেসন আরডে অবশ্য তাঁর গবেষণাকর্মে ভুলের কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি কোনোভাবেই ‘মিথ্যাবাদী’ নন বলে জোরালো দাবি তাঁর।

    গতকাল বুধবার ব্রিটেনের জনস্বার্থমুখী আইনি সংগঠন ‘গুড ল প্রজেক্ট’–এর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে অধ্যাপক আরডে বলেন, কেমব্রিজে অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পাওয়াটা নিঃসন্দেহে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পেশাদার গৌরব ছিল। তবে এ নিয়োগের পর থেকে তিনি জনসমক্ষে ক্রমাগত কঠোর সমালোচনা ও ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হয়ে আসছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে একপর্যায়ে ব্যক্তিগত ক্ষতি ও মানসিক চাপ সামলানোর সীমা ছাড়িয়ে যায়।

    অবশ্য এই অধ্যাপক বলেন, তাঁর পদত্যাগকে যেন গবেষণা বা সেই মূল্যবোধের প্রতি আস্থাহীনতা হিসেবে ব্যাখ্যা না করা হয়, যে মূল্যবোধ তাঁকে প্রথম কেমব্রিজে নিয়ে এসেছিল।

    জেসন আরডে আরও বলেন, ‘আমাকে ঘিরে যে বর্ণনাগুলো তৈরি হয়েছে, আমার পদত্যাগকে সেগুলো মেনে নেওয়া বলেও যেন মনে না করা হয়।’

    নিজের শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আর্ডে বলেন, ‘আমার নিজের সুস্থতা, আমার পরিবার এবং এ কঠিন সময়ে যাঁরা আমার পাশে ছিলেন, তাঁদের কথা ভেবেই আমি এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে এই অধ্যায়ের ইতি টানার একমাত্র উপায় হলো সরে দাঁড়ানো।’

    আর্ডে বলেন, ‘এটি আমার কাজের সমাপ্তি নয়।’ তিনি জানান, তাঁর এখন ‘সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য কিছু সময়’ প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ‘সেই সময় এলে আমি আবার ফিরব।’

  • ছাত্রদলের ‘আদুভাই’ দিয়ে ক্যাম্পাসে হামলা চালানো হয়েছে: শিবির সভাপতি

    ছাত্রদলের ‘আদুভাই’ দিয়ে ক্যাম্পাসে হামলা চালানো হয়েছে: শিবির সভাপতি

    ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, গতকাল ক্যাম্পাসগুলোতে যারা হামলা করেছে, তারা প্রকৃত ছাত্র নয়, বরং ছাত্র সন্ত্রাসী ও টোকাই। ছাত্রদল ক্যাম্পাসগুলোতে যাদের দিয়ে কমিটি দিয়েছে, তাদের অনেকের ছাত্রজীবন ১৫ থেকে ২০ বছর আগেই শেষ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    বুধবার (৫ আগস্ট) রাজু ভাস্কর্যে আয়োজিত ছাত্র গণজমায়েতে তিনি এসব কথা বলেন।

    নূরুল ইসলাম সাদ্দাম আরও অভিযোগ করেন, এসব ‘আদুভাই’ দিয়ে ক্যাম্পাসের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং নারায়ণগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ থেকে ভাড়া করা টোকাই সন্ত্রাসীদের ক্যাম্পাসে আনা হয়েছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়ায় সশস্ত্র হামলা এবং রাতে ঘুমন্ত শিক্ষার্থী ও ঢাকা গ্রাফিক্স আর্টস কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানোর অভিযোগও করেন তিনি।

    তিনি বলেন, ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের লাগাম না ধরা হলে এবং বিএনপির টোকাই বাহিনীর লাগাম না টানা হলে রাজপথে তাদের সন্ত্রাস প্রতিহত করা হবে। তিনি আরও বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে সহনশীলতার পরিচয় দেওয়া হচ্ছে। বারবার তাদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে ক্যাম্পাস শান্ত রাখার কথা বলা হচ্ছে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছ, পূর্বের ফ্যাসিবাদী বন্দোবস্ত ফিরিয়ে আনতে তারা ক্যাম্পাসগুলোতে আবার হল দখল, গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চায়।

    তিনি প্রধানমন্ত্রীকে এই ‘সন্ত্রাসী দলের’ লাগাম টেনে ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসীদের লাগাম টানতে ব্যর্থ হলে ইসলামী ছাত্রশিবির ছাত্রজনতাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি সন্ত্রাসীর লাগাম টেনে ধরবে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সহনশীলতা দুর্বলতা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কোনো চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং ক্যাম্পাসগুলোতে তাদের কার্যকর ভূমিকা ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বারবার বলা হলেও এবং ডিএমপি পুলিশ কমিশনার সন্ত্রাস কর্মকাণ্ড বন্ধের আশ্বাস দিলেও হামলাকারীদের হাতে চাপাতি, গ্রিজ, কোদাল ও রিভলভার দেখা গেছে। তাদের পাশে পুলিশ অবস্থান করেছে এবং ছাত্রলীগকে যেভাবে শেল্টার দেওয়া হয়েছিল, পুলিশ বাহিনী আবারও নব্য ফ্যাসিবাদের আশ্রয়দাতায় পরিণত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    তিনি বলেন, প্রতিটি ক্যাম্পাসে সহাবস্থান চলবে। এরপর কোনো ক্যাম্পাসে রক্ত ঝরলে এর দায়ভার সরকারকে নিতে হবে। জাতীয় রাজনীতি উত্তপ্ত হলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রতিটি ফোঁটা রক্তের জবাব নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

    ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় আয়োজিত ছাত্র গণজমায়েতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, ঢাকা মহানগর শাখার নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ এবং সংগঠনের বিপুলসংখ্যক জনশক্তিও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ‘কিফায়াতুল মুগতাযি’-এর প্রকাশনা উপলক্ষে আন্তর্জাতিক ইলমি সেমিনার অনুষ্ঠিত

    ‘কিফায়াতুল মুগতাযি’-এর প্রকাশনা উপলক্ষে আন্তর্জাতিক ইলমি সেমিনার অনুষ্ঠিত

    বিশিষ্ট হাদিসবিশারদ ও গবেষক মাওলানা আব্দুল মতিন রচিত ‘কিফায়াতুল মুগতাযি ফি শারহি জামে তিরমিযি’-এর ১৭ খণ্ডের পূর্ণাঙ্গ প্রকাশনা উপলক্ষে রাজধানীতে আন্তর্জাতিক ইলমি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান আলেম, মুহাদ্দিস, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ সেমিনারে গ্রন্থটির গবেষণামূল্য, আন্তর্জাতিক গুরুত্ব এবং হাদিসশাস্ত্রে এর অবদান তুলে ধরা হয়।

    বুধবার ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে মুআসসাসা ইলমিয়্যাহ বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘হাদিস অনুসরণে সালাফের কর্মপন্থা: প্রসঙ্গ জামে তিরমিযি ও কিফায়াতুল মুগতাযি’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। হাজারো আলেম, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে মিলনায়তন পরিণত হয় এক ব্যতিক্রমধর্মী ইলমি সমাবেশে।

    সেমিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস মাওলানা মুফতি আবুল কাসেম নোমানী। তিনি বলেন, “বহু বছরের নিরলস পরিশ্রম ও গবেষণার ফল এই গ্রন্থ। জামে তিরমিযি–এর ব্যাখ্যা রচনার মাধ্যমে লেখক এমন একটি কাজ সম্পন্ন করেছেন, যা উম্মাহর জন্য দীর্ঘদিন উপকারী হয়ে থাকবে।” তিনি আরও বলেন, কুরআন-সুন্নাহর খেদমতে নিবেদিত এ ধরনের গবেষণাকর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মূল্যবান সম্পদ এবং আল্লাহ তাআলা যেন এ গ্রন্থকে উম্মাহর জন্য কবুল করেন।

    সভাপতির বক্তব্যে শায়খুল হাদিস, লেখক ও গবেষক মাওলানা আবুল বাশার বলেন, প্রায় তিন দশকের নিবিড় সাধনা ও গবেষণার মাধ্যমে রচিত এই গ্রন্থ হাদিসশাস্ত্রে বাংলাদেশের এক অনন্য অবদান। তিনি বলেন, “হাদিস পাঠদান ও গবেষণার ক্ষেত্রে এ গ্রন্থ নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং দরসের মান ও পদ্ধতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।”

    স্বাগত বক্তব্যে মুআসসাসা ইলমিয়্যাহ বাংলাদেশের পরিচালক শায়খ তাহমিদুল মাওলা জানান, গ্রন্থটির প্রথম চার খণ্ড প্রকাশের পর থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। তিনি বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট আলেম মুফতি হোসাইন কাদুদিয়া গ্রন্থটির উচ্চ প্রশংসা করেছেন। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে আরব বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনার সমমানের মুদ্রণ ও সম্পাদনার মাধ্যমে গ্রন্থটি প্রকাশ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    গ্রন্থের রচয়িতা, জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া মোহাম্মদপুর ঢাকার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল মতিন বলেন, “এটি আনন্দের নয়; বরং শুকরিয়া ও দোয়ার মজলিস।” তিনি জানান, ২০০১ সালে জামে তিরমিযি–এর দরসদান শুরু করার পর থেকেই এ গ্রন্থের গবেষণাকাজ শুরু হয়। ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মূল রচনা সম্পন্ন হলেও এর পেছনে রয়েছে প্রায় ২৬ বছরের গবেষণা, হাজারো গ্রন্থ অধ্যয়ন এবং অসংখ্য নির্ঘুম রাতের শ্রম। তিনি এ কাজে সহযোগিতার জন্য বিশেষভাবে মাওলানা আব্দুল মালেকসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং গ্রন্থটি উম্মাহর জন্য কল্যাণকর হওয়ার দোয়া কামনা করেন।

    সেমিনারে ‘হাদিস অনুসরণে সালাফের কর্মপন্থা: প্রসঙ্গ জামে তিরমিযি ও কিফায়াতুল মুগতাযি’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক। তিনি বলেন, জামে তিরমিযি–এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মতভিন্নতার মধ্যেও ইলমি শিষ্টাচার ও আদবের সংরক্ষণ, যা এ ব্যাখ্যাগ্রন্থেও অত্যন্ত সুন্দরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

    জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়ার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা আব্দুল গাফফার বলেন, প্রায় ২৬ বছরের গবেষণার ফসল এই গ্রন্থ। একটি শব্দের ব্যাখ্যার জন্যও লেখক শত শত মূল গ্রন্থ পর্যালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে হাদিস গবেষণার ইতিহাসে এ গ্রন্থ বাংলাদেশের এক গৌরবময় অবদান হিসেবে বিবেচিত হবে।

    দক্ষিণ আফ্রিকার আলেম শায়খ ইসহাক বানা, সিলেটের প্রবীণ মুহাদ্দিস মাওলানা শফিকুল হক সুরাইঘাটি, মক্কার আলেম ড. শায়খ আব্দুল আজিজ আলহাজ এবং দারুল উলুম দেওবন্দের শুরা সদস্য শায়খ হাসান মাহমুদ রাজস্থানী বক্তব্যে গ্রন্থটির গবেষণামূল্য, পূর্ণাঙ্গতা ও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, জামে তিরমিযি–এর পূর্ণাঙ্গ আরবি ব্যাখ্যাগ্রন্থ হিসেবে এটি সমকালীন হাদিসচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

    এ ছাড়া মালিবাগ জামিয়ার শায়খুল হাদিস মাওলানা আবু সাবের আব্দুল্লাহ, ফরিদাবাদ মাদ্রাসার প্রধান মুফতি আবু সাঈদ, আকবর কমপ্লেক্সের প্রধান মুফতি দিলাওয়ার হোসাইনসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আলেম-উলামা বক্তব্য দেন।

    অনুষ্ঠানে হাদিস গবেষণার ধারা বিস্তারে নির্বাচিত ১০০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে ‘কিফায়াতুল মুগতাযি’-এর ১৭ খণ্ডের পূর্ণাঙ্গ সেট বিনামূল্যে তুলে দেওয়া হয়।

    সবশেষে বিশিষ্ট আলেম, সিনিয়র মুহাদ্দিস এবং জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া ঢাকার মুহতামিম মাওলানা মাহমুদুল হাসান দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। তাঁর দোয়ার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক এ ইলমি সেমিনারের সমাপ্তি ঘটে।

    উল্লেখ্য, ‘কিফায়াতুল মুগতাযি ফি শারহি জামে তিরমিযি’ একজন বাংলাদেশি আলেমের কলমে রচিত জামে তিরমিযি–এর পূর্ণাঙ্গ আরবি ব্যাখ্যাগ্রন্থ। ১৭ খণ্ডে প্রকাশিত এ গ্রন্থকে হাদিস গবেষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে আখ্যায়িত করছেন দেশ-বিদেশের বহু আলেম, গবেষক ও ইসলামী শিক্ষাবিদ।

  • দিল্লিতে স্থগিত হলেও ঝাড়খন্ডে চলছে জেন-জি আন্দোলন

    দিল্লিতে স্থগিত হলেও ঝাড়খন্ডে চলছে জেন-জি আন্দোলন

    পরীক্ষায় নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে গত মাস থেকে ভারতের ঝাড়খণ্ডে লাগাতার অনশন কর্মসূচি পালন করছেন হাজার হাজার জেন-জি শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থী। দিল্লির ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) আন্দোলন স্থগিত হওয়ার পরপরই শুরু হওয়া এই আন্দোলনটি গত ২৯ জুলাই থেকে রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

    বিশেষ করে ১৪তম জেপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন আন্দোলনকারীরা। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আরও পাঁচজন শিক্ষার্থী আমরণ অনশনে যোগ দিলে এই আন্দোলনের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যায়। শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক আন্দোলনের পর থেকেই এই অনশন কর্মসূচি শুরু হয়।

    তার উপর সম্প্রতি সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করায় এই প্রতিবাদ দেশজুড়ে আরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

    বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিলের সূচি:

    এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ছাত্র ও সামাজিক সংগঠন একাধিক কর্মসূচির ডাক দিয়েছে:

    ৬ আগস্ট: ঝাড়খণ্ড ক্রান্তি মোর্চা’র মিছিল।

    ৭ আগস্ট: সর্বভারতীয় ছাত্র সমিতি এবং অন্যান্য সামাজিক সংগঠনের যৌথ প্রতিবাদ।

    ১০ আগস্ট: কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাব বা হস্তক্ষেপ ছাড়া সাধারণ ও স্বতন্ত্র শিক্ষার্থীদের আয়োজনে প্রতিবাদ মিছিল।

    দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘নিট’ প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া সিজেপি এখন রাঁচির আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে জানান, তিনি আন্দোলনকারী ছাত্রনেতাদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছেন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘জেপিএসসি এবং জেএসএসসি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত ঝাড়খণ্ডের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। সিজেপি ঝাড়খণ্ডের সকল শিক্ষার্থীর পাশে আছে এবং তাদের যৌক্তিক দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে।’

    বর্তমানে এই আন্দোলন সারা দেশ থেকেই ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন শহর থেকে সাধারণ মানুষ অনলাইন ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমে আন্দোলনস্থলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্য খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠাচ্ছেন। এ ছাড়া অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ঝাড়খণ্ড শাখা অলবার্ট এক্কা চকে রাজ্য স্তরের বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।

    শিক্ষার্থীদের এই ক্ষোভের বিষয়ে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নিজের বক্তব্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ঝাড়খণ্ড পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য রাজ্য সরকার অপেক্ষা করছে।

    প্রথমবারের মতো আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নেবে। আমি আমার সিদ্ধান্ত আগেভাগে জাহির করতে পারি না, তবে সবাই জানে আমি যে দায়িত্বই নিই না কেন, তা শেষ করি। এসআইটি দিনরাত কাজ করছে। আমরা তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছি। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থী ও রাজ্যবাসীকে জানিয়ে দেওয়া হবে।’

    জেন-জি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো সরকারি প্রতিনিধিদল আলোচনায় বসবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণে যা কিছু প্রয়োজন, তার সবই করা হবে। একই সঙ্গে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকে তাদের সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।

  • জবির আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে বিরোধীদলীয় নেতা

    জবির আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে বিরোধীদলীয় নেতা

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাস সংক্রান্ত দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে গেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

    বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের দেখতে যান এবং তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

    হাসপাতাল পরিদর্শনকালে বিরোধীদলীয় নেতা চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা, ঢাকা কলেজ ও বাংলা কলেজসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

    তিনি দাবি করেন, এসব হামলায় ছাত্রশিবিরের বহু নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচিত জিএসসহ কয়েকজন গুরুতর জখম হয়েছেন। হামলার ধরনকে তিনি ‘ফ্যাসিবাদী কায়দার’ সঙ্গে তুলনা করে বলেন, আহতদের হাসপাতালে গিয়েও হামলার শিকার হতে হয়েছে।

    জামায়াত আমির আরও বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ভুক্তভোগীদের হয়রানি করা হলে জনগণ ভুল বার্তা পাবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতা বন্ধ, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

    উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরসহ তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থী প্ল্যাকার্ড হাতে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনের বাইরে অবস্থান নিলে প্রক্টরিয়াল টিম ও শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এই সংঘর্ষে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আরিফ, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক নূর মোহাম্মদসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

  • বজ্রপাতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু

    বজ্রপাতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু

    জমিতে ধান লাগাতে গিয়ে সিরাজগঞ্জে বজ্রপাতে এইচএসসি পরিক্ষার্থী মারা গেছেন।

    বুধবার (৫ আগষ্ট) সকালে বেলকুচি উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের চর সমেশপুর গ্রামের এই ঘটনা ঘটেছে।

    নিহত শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সিয়াম (১৮) চর সমেশপুর গ্রামের মো. সুরুজ্জামানের ছেলে। সে এবারের এইচএসসি পরিক্ষার্থী।

    তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাম জাফর জানান, সকালে তাদের নিজ জমিতে ধান লাগাতে গিয়ে হঠাৎ বৃষ্টি নামে। পরে সে দৌড়ে বাড়ি যাওয়ার সময় বিকট শব্দে দুই-তিনটি বজ্রপাত হয়। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।

  • সংঘর্ষের পর আজ একই মঞ্চে ছাত্রদল-শিবির

    সংঘর্ষের পর আজ একই মঞ্চে ছাত্রদল-শিবির

    টানা দুই দিনের সংঘর্ষ ও উত্তেজনার পর রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। বুধবার জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজিত আনন্দ শোভাযাত্রা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপাচার্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা একসঙ্গে অংশ নেন।

    বৃষ্টি উপেক্ষা করে শোভাযাত্রা শেষে শহীদদের স্মরণে বৃক্ষরোপণ করা হয়। কয়েকদিন আগে দুই ছাত্রসংগঠনের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার পর নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কা থাকলেও এদিন একই মঞ্চে তাদের উপস্থিতি স্বস্তি ফিরিয়েছে। ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবাই ক্যাম্পাসে সহাবস্থান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও ঐক্য বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।