শিক্ষা ও সাহিত্য

  • ভূতের ভয়ে হোস্টেল ছাড়ল ৬০০ শিক্ষার্থী

    ভূতের ভয়ে হোস্টেল ছাড়ল ৬০০ শিক্ষার্থী

    ভারতের মহারাষ্ট্রের অমরাবতী জেলায় একটি সরকারি আবাসিক স্কুলের প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী হঠাৎ হোস্টেল ছেড়ে চলে গেছে। কয়েকজন ছাত্রীকে ‘ভূতে ধরেছে’- এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর এই ঘটনা ঘটেছে। খবর এনডিটিভির।
    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিকলধারা তালুকের ডোমা গ্রামের ওই আদিবাসী আবাসিক স্কুলটি উত্তর মহারাষ্ট্রের আদিবাসী অধ্যুষিত মেলঘাট অঞ্চলে অবস্থিত। মুম্বাই থেকে ৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরের ওই স্কুলে বর্তমানে ৮১০ জন ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে বলে রোববার কর্মকর্তারা জানান।

    ঘটনার সূত্রপাত ২২ জুলাই। ওই দিন চার ছাত্রী হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। তারা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে কাঁদছিল এবং হাসছিল। কর্মকর্তাদের ধারণা, মানসিক চাপের কারণে এমন আচরণ হয়ে থাকতে পারে।
    তবে ঘটনাটি ঘিরে দ্রুত গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে ওই ছাত্রীদের ‘ভূতে ধরেছে’। এরপর কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী ‘ভূতুড়ে’ হোস্টেলটি ছেড়ে চলে যায়। হোস্টেলটি মহারাষ্ট্রের আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের অধীনে পরিচালিত।
    হোস্টেলের একটি সূত্র জানায়, কয়েকজন ছাত্রী দাবি করেছিল, তারা নূপুরের ঝনঝন শব্দ শুনতে পেয়েছে।

    আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ডোমার আবাসিক স্কুলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি দল পাঠানো হয়েছিল। তার ভাষ্য, ছাত্রীদের শারীরিক উপসর্গের সঙ্গে অতিপ্রাকৃত কোনো ঘটনার সম্পর্ক নেই। বরং এটি মানসিক চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি নির্বাচিত হিস্টেরিয়ার মতো পরিস্থিতি হতে পারে।
    কর্তৃপক্ষের তৈরি একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকজন ছাত্রীর অস্বাভাবিক আচরণের পর ঘটনাটি নিয়ে নানা ধরনের ধারণা ছড়িয়ে পড়েছে। পরবর্তী সময়ে গ্রামের কয়েকজন নারীর মধ্যেও একই ধরনের মানসিক উপসর্গ দেখা দেয়।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিশ্বাস রয়েছে যে ওই আশ্রম স্কুলের জায়গায় আগে একটি ‘মহুয়া’ গাছ ছিল এবং সেখানে আত্মারা বাস করত। স্কুল কর্তৃপক্ষ গাছটি কেটে ফেলার পর আত্মারা ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর ‘অত্যাচার’ করছে- এমন বিশ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।
    আরেকটি প্রচলিত ধারণা হলো, আশ্রম স্কুলের পেছনে স্থানীয় দেবতার একটি মন্দির রয়েছে। স্কুলের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ওই মন্দিরের জায়গাকে প্রভাবিত বা দখল করায় দেবতা অসন্তুষ্ট হয়েছেন।

    এ ছাড়া তৃতীয় একটি কারণও স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুলের কাছের একটি মাঠে এক আদিবাসী যুবকের মৃত্যু হয়েছিল। পরে তার আত্মা ‘ভূত’ হয়ে স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিরক্ত করছে- এমন ধারণাও তৈরি হয়।
    কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুসংস্কার, ভয়, মানসিক চাপ এবং আত্মা-সংক্রান্ত স্থানীয় বিশ্বাসই পরিস্থিতিকে অস্বাভাবিক করে তুলেছে।
    অন্ধবিশ্বাস দূরীকরণে কাজ করা মহারাষ্ট্র অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূলন সমিতির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করে তাদের কাউন্সেলিং করেছেন। তারা ঘটনাটিকে কুসংস্কারের দৃষ্টিতে না দেখে বৈজ্ঞানিকভাবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

    অমরাবতীর সংসদ সদস্য বলবন্ত ওয়ানখাড়েও শিক্ষার্থীদের ভয় না পেয়ে আবার ক্লাসে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় চৌধুরী জানান, ছাত্রীদের কাউন্সেলিং করে তাদের স্কুলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, কয়েকজন ইতোমধ্যে ফিরে এসেছে।

  • কোষাধ্যক্ষ পদে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত শাবিপ্রবি অধ্যাপকের

    কোষাধ্যক্ষ পদে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত শাবিপ্রবি অধ্যাপকের

    কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পেলেও এখনো দায়িত্বে যোগ দেননি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শাহ মো. আতিকুল হক। একই সঙ্গে এ পদে যোগ দেওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    সোমবার দুপুরে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে অধ্যাপক আতিকুল হক এ কথা জানান।

    পোস্টে তিনি লেখেন, সবাইকে বলছি, দয়া করে আমাকে অভিনন্দন জানাবেন না। এটি কোনো আনন্দের বিষয় নিয়ে লেখা পোস্ট নয়।

    কোষাধ্যক্ষ পদে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি আপনাদের আরও জানাতে চাই যে, আমি কোষাধ্যক্ষ হিসেবে এখনো যোগ দিইনি এবং যোগ দেওয়ার কোনো ইচ্ছাও আমার নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আমি আমার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছি।

    নানা জটিলতা ও মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক আতিকুল হক বলেন, অনেক কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলায় ব্যর্থ হওয়ার পর, আমার মনে হয় যে কাজটিতে আমি স্বাচ্ছন্দ্য ও সন্তুষ্টি বোধ করি, সেটাই চালিয়ে যাওয়া শ্রেয়।

    নিজের পেশাগত জীবনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন মানুষ হিসেবে আমি আমার সাধ্যমতো সেরাটাই করার চেষ্টা করি। ২০০৬ সালে প্রভাষক হিসেবে যে কাজ শুরু করেছিলাম, তা আমি উপভোগ করি।

    এ কারণে কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য তাকে অভিনন্দন না জানাতে সবার প্রতি অনুরোধ করেছেন অধ্যাপক ড. শাহ মো. আতিকুল হক।

    উল্লেখ্য আজ সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব মো. শাহ আলম সিরাজ স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে তাকে শাবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

  • ডাকসুর আয়োজনে ‘সিনো-বাংলা ডে’ চাকরি মেলা সম্পন্ন

    ডাকসুর আয়োজনে ‘সিনো-বাংলা ডে’ চাকরি মেলা সম্পন্ন

    চীনা প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) সোমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সিনো-বাংলা ডে ২০২৬’। দিনব্যাপী এই আয়োজনে অংশ নিয়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি চীনা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য ৪৩০টি চাকরির সুযোগ রয়েছে।

    সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) প্রাঙ্গণে এই আয়োজন চলে। বাংলাদেশে চীনা দূতাবাস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে ‘সিনো-বাংলা ডে’ আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট এর আয়োজন করে।

    আগ্রহী চাকরিপ্রার্থীরা অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের কাছে সরাসরি এবং অনলাইনে জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পদের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, কাজের ধরন ও নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

    আয়োজকরা জানিয়েছেন, জমা দেওয়া সিভির ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে প্রার্থী বাছাই করা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও এই চাকরি মেলায় অংশ নিয়েছেন।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের পরিচালক ইয়ান হুয়ি বলেন, ‘এই আয়োজন দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দ্বার উন্মোচন করবে। অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বাংলাদেশে শুধু বিনিয়োগ নয়, তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতেও চীনের প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে।’

    অনুষ্ঠানটির সহ-আয়োজক হিসেবে ছিল বাংলাদেশ চায়নিজ এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশে ওভারসিজ চায়নিজ অ্যাসোসিয়েশন এবং আপুন ফ্রেন্ডশিপ এক্সচেঞ্জ সেন্টার।

  • গাঁজা খেয়ে বিমান চালালেন এয়ার ইন্ডিয়ার দুই পাইলট

    গাঁজা খেয়ে বিমান চালালেন এয়ার ইন্ডিয়ার দুই পাইলট

    বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না এয়ার ইন্ডিয়ার। এক পাইলটের মাদক সেবনের অভিযোগের পর এবার প্রাথমিক মাদক পরীক্ষায় আরও দুই পাইলটের ফল এসেছে পজিটিভ। চূড়ান্ত পরীক্ষার রিপোর্ট এখনো হাতে আসেনি। এরই মধ্যে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের বিমান চালানোর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    গত ৪ আগস্ট ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দিল্লিতে অবতরণের কিছুক্ষণ আগে বিমানটি হঠাৎ তীব্র ঝাঁকুনি দিয়ে প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এতে ১১ জন যাত্রী ও চারজন বিমানকর্মী আহত হন। তবে এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়, আহতদের কারও গুরুতর আঘাত লাগেনি।

    ঘটনার তদন্ত শুরু হওয়ার পরই সামনে আসে পাইলটদের মাদক পরীক্ষার বিষয়টি। প্রাথমিক পরীক্ষায় এক পাইলটের শরীরে সাইকোঅ্যাক্টিভ পদার্থের উপস্থিতি ধরা পড়ে। পরে নিশ্চিত হওয়ার জন্য দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষা করা হলে ফলাফল পজিটিভ আসে। পরীক্ষায় ওই পাইলটের শরীরে গাঁজা সেবনের প্রমাণ পাওয়া যায়। পাশাপাশি ঘুমের ওষুধের উপস্থিতিও ধরা পড়ে।

    ওই পাইলট দাবি করেছিলেন, তার ডিউটি রোস্টারে পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ ছিল না। প্রয়োজনীয় ন্যূনতম বিশ্রাম না পাওয়ার কারণেই তিনি ঘুমের ওষুধ সেবন করেছিলেন বলে জানিয়েছিলেন।

    ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলে পাইলটদের মাদক পরীক্ষার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেয় এয়ার ইন্ডিয়া। সংস্থাটির সব পাইলটের জন্য মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০ পাইলটের পরীক্ষা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    এই পরীক্ষাতেই প্রাথমিকভাবে আরও দুই পাইলটের ফল পজিটিভ এসেছে। তাদেরও আপাতত বিমান পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত পরীক্ষার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলে জানা গেছে।

    আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল পাওয়ার কথা। সেই রিপোর্টেও মাদক সেবনের বিষয়টি নিশ্চিত হলে সংশ্লিষ্ট দুই পাইলটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ফলে চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলের দিকেই এখন নজর এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষের।

  • রায়পুরে মাদরাসায় ক্লাস নেয়ার সময় অসুস্থ হয়ে শিক্ষকের মৃত্যু

    রায়পুরে মাদরাসায় ক্লাস নেয়ার সময় অসুস্থ হয়ে শিক্ষকের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মাদরাসায় ক্লাস নেয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে ক্বারী ইব্রাহীম নামে এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মধ্য সাগরদী এলাকার হযরত খাদিজাতুল কোবরা (রা:) দাখিল মাদরাসা প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

    মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, ক্বারী ইব্রাহীম মাদরাসায় ক্লাস নেয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

    আরো জানা যায়, ক্বারী ইব্রাহীম প্রায় ২০ বছর ধরে মধ্য সাগরদী হযরত খাদিজাতুল কোবরা (রা:) দাখিল মাদরাসায় শিক্ষকতা করে আসছিলেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি কোরআন শিক্ষাদানেও যুক্ত ছিলেন।

    সোমবার জোহরের নামাজের পর মধ্য সাগরদী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে লাশ তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাপুরের চর লরেঞ্চ এলাকায় নেয়া হয়। সেখানে জানাজা শেষে আসরের নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

    মাদরাসার সুপার মাওলানা ইমরান বিন নাজির বলেন, ‘ক্বারী ইব্রাহীম দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে এই মাদরাসায় নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সাথে শিক্ষকতা করেছেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক ও ভালো মানুষকে হারালাম। তার মৃত্যুতে মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই গভীরভাবে শোকাহত।’

    মাদরাসার সহ-সভাপতি ও রায়পুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ বলেন, ‘ক্বারী ইব্রাহীম ছিলেন একজন সৎ, দক্ষ ও দায়িত্বশীল শিক্ষক। কর্মস্থলে ক্লাস নেয়ার সময় তার এমন আকস্মিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। মহান আল্লাহ যেন তাকে ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার তৌফিক দেন।’

    মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন মাদরাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

  • তরুণদের মন জয়ে ব্যর্থ মোদি

    তরুণদের মন জয়ে ব্যর্থ মোদি

    ভারতের তরুণদের ‘ককরোচ’ বা ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপির জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ছাত্র আন্দোলনের চাপে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, উপনির্বাচনে পরাজয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণদের মন জয়ের ব্যর্থ চেষ্টা—সব মিলিয়ে বিজেপিকে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    ভারতে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতাসীন বিজেপির রাজনৈতিক কৌশলে চাপ সৃষ্টি করেছে। টানা সাত সপ্তাহের আন্দোলনের মুখে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। এর পরপরই কয়েকটি উপনির্বাচনে বিজেপির পরাজয় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    বেকারত্ব, চাকরির পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ থেকে তরুণদের মধ্যে এই আন্দোলনের বিস্তার ঘটে। ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে গত মে মাসে ইনস্টাগ্রামে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে ওঠে। পরে সেটিই ছাত্র ও তরুণদের আন্দোলনের অন্যতম প্রতীকে পরিণত হয়। আন্দোলন শুধু দিল্লিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি; ভারতের বিভিন্ন শহরে এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে।

    উপনির্বাচনে ধাক্কা

    আগস্টের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত তিনটি উপনির্বাচনের মধ্যে দুটিতে হেরেছে বিজেপি। এর মধ্যে বিহারের ব্যাংকিপুর আসনে দলটির পরাজয় বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। প্রায় তিন দশক ধরে বিজেপির দখলে থাকা এই আসন হাতছাড়া হওয়াকে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু উপনির্বাচনের ফল দেখে বিজেপির শক্তি কমে গেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো এখনই ঠিক হবে না। ভারতের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিজেপি এখনো শক্তিশালী এবং নির্বাচনীভাবে অত্যন্ত সংগঠিত দল।

    তরুণদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা

    তরুণদের ক্ষোভকে গুরুত্ব দিয়ে বিজেপিও নতুনভাবে তাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা শুরু করেছে। মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেছেন। ইনস্টাগ্রাম ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে তরুণদের আকৃষ্ট করতে নতুন ধরনের প্রচারণাও চালাচ্ছে দলটি।

    উত্তর প্রদেশে তরুণদের জন্য বিশেষ যোগাযোগ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজেপির এসব প্রচারণা অনেক ক্ষেত্রে উল্টো সমালোচনা ও হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, একসময় বিজেপি যেভাবে নিজের রাজনৈতিক বার্তা সহজে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারত, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সেই প্রভাব এখন আগের মতো নেই। ইনস্টাগ্রামের মতো বিকেন্দ্রীভূত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলটির প্রচলিত প্রচারণা কৌশল কার্যকর হচ্ছে না।

    পুরোনো কৌশলও কাজ করছে না

    বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের দেশবিরোধী, বিদেশি অর্থায়নপুষ্ট বা ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে তুলে ধরার পুরোনো রাজনৈতিক কৌশল এবার তেমন কার্যকর হয়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    এই আন্দোলনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—এতে বিভিন্ন ধর্ম, জাতপাত ও সামাজিক শ্রেণির তরুণরা অংশ নিয়েছেন। এমনকি বিজেপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত উচ্চবর্ণের হিন্দু তরুণদেরও আন্দোলনে দেখা গেছে।

    ফলে আন্দোলনটিকে কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা সামাজিক গোষ্ঠীর আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    বিজেপির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

    বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন বিজেপির ক্ষমতা হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে দুর্বল করেনি, কিন্তু সরকারের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতায় প্রশ্ন তুলেছে।

    বিজেপি এখনো ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক দলগুলোর একটি। তবে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বেকারত্ব, শিক্ষা, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনে বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হতে পারে।

    আন্দোলনের সঙ্গে যুক্তদের একাংশ বলছে, শুধু একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ তাদের লক্ষ্য নয়। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, জাতপাত, সাম্প্রদায়িকতা এবং নারীবিরোধী রাজনীতিসহ দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার পরিবর্তন চান তারা।

    তবে বিজেপি তার হিন্দুত্বভিত্তিক রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসবে—এমন সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বরং আগামী নির্বাচনে ধর্মীয় পরিচয় ও হিন্দুত্বের রাজনীতিকেই আরও জোরালোভাবে সামনে আনার চেষ্টা করতে পারে দলটি।

    সব মিলিয়ে, ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন বিজেপির ক্ষমতার ভিত ভেঙে দিয়েছে—এ কথা বলার সময় এখনো আসেনি। তবে ভারতের তরুণ সমাজের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ যে মোদি সরকারের সামনে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে, তা আর অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

  • হাই স্কুল-মাদরাসায় ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    হাই স্কুল-মাদরাসায় ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকায় একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, শিক্ষক নিয়োগের আগে বিভিন্ন দূর-দূরান্তে কর্মরত শিক্ষকদের বদলির ব্যবস্থা করা হবে। শিগগিরই বদলি কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর নতুন শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় যাওয়া হবে।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তুতি মোটামুটি সব ক্ষেত্রেই শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদও খালি রয়েছে। এ সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

    তিনি আরও জানান, পাবলিক স্কুলগুলোতে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর যে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল, সেটিও নিষ্পত্তি হয়েছে। শিগগিরই এসব পদের জন্য মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

    এ ছাড়া শিক্ষকদের অবসর ভাতা সারাদেশে দেওয়ার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

  • শিক্ষার্থী হত্যায় তিন ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড

    শিক্ষার্থী হত্যায় তিন ছিনতাইকারীর মৃত্যুদণ্ড

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নারায়ণগঞ্জে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মো. ওয়াজেদ সীমান্ত হত্যার ঘটনায় করা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন— অনিক, আকাশ ও চান্ডি বাবু রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির বিরুদ্ধে এর আগেও ছিনতাই, হত্যা ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

    কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    মামলার বিবরণ ও রায়ের নথি থেকে জানা যায়, ওয়াজেদ সীমান্ত আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের (এআইইউবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর সকাল ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন তিনি। পথে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগের মিন্নত আলী শাহ সাহেবের মাজারের সামনে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। এ সময় ছিনতাইকারীরা তাকে ছুরিকাঘাত করে মোবাইল ফোন ও এক হাজার ৮০০ টাকা ছিনিয়ে নেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

    নিহত সীমান্ত দেওভোগ এলাকার মো. আলম পারভেজের ছেলে।

    আদালত সূত্র জানায়, চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় মোট ২৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

  • এসএসসির ১২ লাখ খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন

    এসএসসির ১২ লাখ খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলে অসন্তুষ্ট পরীক্ষার্থীরা এ পর্যন্ত ১২ লাখ খাতা চ্যালেঞ্জের জন্য আবেদন করেছেন। সব শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকার শেরাটন হোটেলে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)-এর উদ্যোগে এক অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন নিজেই এ তথ্য জানান।

    এ সময় শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন এবার খাতা চ্যালেঞ্জের জন্য অসংখ্য আবেদন পড়েছে। গতকাল আমি খোঁজ নিয়েছি। যে অবস্থা জেনেছি তাতে মনে হয় সব শিক্ষার্থীই খাতা পুনর্মূল্যায়ন করতে চায়। এভাবে তো হতে পারে না। তাই আমরা ভেবেছি খাতা পুনর্মূল্যায়নে নতুন নীতিমালা আনবো। জিপিএ কত পেলে পুনর্মূল্যায়ন করা যাবে, বা কি কি বিষয় থাকবে তা আমরা জানাবো।

    জানা গেছে, ১১ আগস্ট খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন শুরু হয়। আজ ১৭ আগস্ট পর্যন্ত খাতা আবেদন করা যাবে। সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতিতে এবার অসন্তুষ্ট পরীক্ষার্থীরা প্রতি বিষয়ে ১৫০ টাকা ফি দিয়ে খাতা চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন।

    ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলে সারাদেশে গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং মোট জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী।

  • খাতা পুনর্মূল্যায়নে বদলাচ্ছে নীতিমালা

    খাতা পুনর্মূল্যায়নে বদলাচ্ছে নীতিমালা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এবার খাতা চ্যালেঞ্জের জন্য অসংখ্য আবেদন পড়েছে। গতকাল আমি খোঁজ নিয়েছি। যে অবস্থা জেনেছি তাতে মনে হয় সব শিক্ষার্থীই খাতা পুনর্মূল্যায়ন করতে চায়। এভাবে তো হতে পারে না। তাই আমরা ভেবেছি খাতা পুনর্মূল্যায়নে নতুন নীতিমালা আনবো। জিপিএ কত পেলে পুনর্মূল্যায়ন করা যাবে, বা কি কি বিষয় থাকবে তা আমরা জানাবো।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকার শেরাটন হোটেলে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক ফোরাম শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এসময় তিনি আরো বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী ১৮০ দিনের হানিমুন পিরিয়ড রেখেছেন যেনো ওনার লক্ষ্য, ওনার নির্বাচনি এজেন্ডা এসব কনেসেপ্টকে যেনো আমরা ধারাবাহিকভাবে ধারণ করতে পারি। এর কার্যকর পদক্ষেপ নেই, এইজন্যই তিনি এই ১৮০ দিনের পদক্ষেপ রেখেছেন। এক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রাইমারি শিক্ষা থেকে টারশিয়ারি এডুকেশন পর্যন্ত প্রত্যেকটি বিষয়ে আমরা প্রোগ্রাম করেছি। যেমন, প্রাইমারি এডুকেশনে ওনার যে দৃষ্টিভঙ্গি ছিলো- চিত্ত বিনোদন, লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস, স্পোর্টস কালচার, রিলিজিয়াস ভ্যালুস, ইথিক্যাল-মোরাল ভ্যালুস। উনি স্কুল ড্রেসের ব্যবস্থা করেছেন, স্পোর্টস কম্পিটিশন এর ব্যবস্থা করেছেন, প্রাইমারিতে মিড-ডে মিল রয়েছে, মেধাবী শিক্ষকদের তিনি পদক দিয়েছেন। সেকেন্ডারিতে ইনোভেশন শোকেস হতে শুরু করে সেখানে যেসব ডেভেলপেন্ট দরকার তা তিনি করেছেন। ইউজিসিকে এড্রেস করেছেন তিনি। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ১২০০ জন শিক্ষককে আইসিটি প্রোগ্রামে এড্রেস করেছেন তিনি। তিনি প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপের শুরু করেছেন, থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজের কথা বলেছেন, ক্লাস সিক্স থেকে ডিবেট, লার্নিং উইথ পাঠ্যবইগুলোতে জায়গা পাচ্ছে।

  • কামিল মাস্টার্স পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    কামিল মাস্টার্স পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইআবি) অধীনে অনুষ্ঠিত কামিল মাস্টার্স পরীক্ষা-২০২৪-এর ফল প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়।

    শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ফলাফল দেখতে পারবেন।

    এ বছর সারা দেশের ৫১টি কেন্দ্রে কামিল (মাস্টার্স) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গত ৪ মে পরীক্ষা শুরু হয়ে ২৩ মে শেষ হয়। প্রতিদিন দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

  • জিপিএ-৫ কেলেঙ্কারি, কাদির মোল্লা স্কুলকে শোকজ

    জিপিএ-৫ কেলেঙ্কারি, কাদির মোল্লা স্কুলকে শোকজ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জনের ঘটনা ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডের নজরে আসে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সার্বিক সত্যতা যাচাই ও ব্যাখ্যা চেয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ পাঠিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।

    রোববার (১৬ আগস্ট) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।

    অফিস আদেশে বলা হয়, চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর নরসিংদীর নাসিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল এন্ড হোমস্ এর শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জনের জন্য নিয়মবহির্ভূত কৌশল অবলম্বনের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটিতে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীর তথ্য, ৯ম শ্রেণিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর তথ্য, এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর তথ্য এবং এসএসসি পরীক্ষায় ফরমপূরণকৃত শিক্ষার্থীর তথ্যসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র সশরীরে উপস্থিত হয়ে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে উত্থাপিত অভিযোগের কারণ ব্যাখ্যার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    অত্যন্ত জরুরি এই নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

  • কামিল পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    কামিল পরীক্ষার ফল প্রকাশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইআবি) অধীনে অনুষ্ঠিত কামিল মাস্টার্স পরীক্ষা-২০২৪-এর ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।

    সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় এই ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

    ফল পেতে শিক্ষার্থীদের http://result.iau.edu.bd/- এ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।

    গত ৪ মে সারাদেশে একযোগে কামিল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সারাদেশে সব পরীক্ষা কেন্দ্রে নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরীক্ষা কেন্দ্র নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে ইআবি কর্তৃপক্ষ। এ বছর পরীক্ষায় সারাদেশের মোট ৫১টি কেন্দ্রে আল কোরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ, আল হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ, দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ, আল ফিকহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ, আরবি ভাষা ও সাহিত্য এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে এক বছর মেয়াদি কামিল (মাস্টার্স) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত দিনে দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং ২৩ মে এ পরীক্ষা শেষ হয়েছে।

  • প্রাধ্যক্ষকে উদ্ধার ঘিরে ঢাবিতে সংঘর্ষ, ভিপি-জিএসসহ আহত ৬

    প্রাধ্যক্ষকে উদ্ধার ঘিরে ঢাবিতে সংঘর্ষ, ভিপি-জিএসসহ আহত ৬

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষে এক শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগের ঘটনায় প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন শিক্ষার্থীরা।

    রোববার (১৬ আগস্ট) দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে প্রাধ্যক্ষকে সেখান থেকে বের করে নিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

    এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম ও জিএস ইমামুল হাসানসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে জিএস ইমামুল হাসানের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। পরে আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং হল প্রাধ্যক্ষকে উদ্ধারে রাতে প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আল মোজাদ্দেদী আলফেসানী, প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইসরাফিল প্রাং এবং কয়েকজন সহকারী প্রক্টর। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা তাদেরও কার্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

    পরে দুই প্রো-ভিসি সেখান থেকে বের হয়ে যান। এ সময় প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ের গেটে প্রক্টরের সঙ্গে হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম, জিএস ইমামুল হাসানসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ ছাত্রদলের একটি দল শিবিরবিরোধী স্লোগান দিতে দিতে মিছিল নিয়ে প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ের দিকে আসে। মিছিল দেখে হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম বলেন, ‘শহীদুল্লাহ হলের সন্ত্রাসীরা এখানে কী করছে?’

    এরপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ভিপি আবু নাঈমসহ সেখানে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। এতে ভিপি ও জিএসসহ অন্তত ছয়জন আহত হন।

    হামলার সময় ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল প্রাংও ধাক্কা খেয়ে একটি পিলারের সঙ্গে পড়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী তাকে আড়াল করে সেখান থেকে বের করে নিয়ে যান।

    হামলার পর হল সংসদের জিএস ইমামুল হাসানকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ভিপি আবু নাঈমের গেঞ্জি ও পাঞ্জাবি ছিঁড়ে যায়। পরে আহতদের দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    ঘটনার পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হল প্রাধ্যক্ষকে কার্যালয় থেকে বের করে নিয়ে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

    এ সময় সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন উপস্থিত সাংবাদিকরা। তবে ঢাবি ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি তামি বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের ভিডিও ধারণে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি।

    তিনি বলেন, অন্যান্য হল থেকে শিবিরের নেতাকর্মীরা সেখানে এসেছিলেন। পরে ভিপি-জিএসদের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে যান।

    ছাত্রদলের নেতৃত্বে প্রাধ্যক্ষকে বের করে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা ভেতরে যাইনি। হল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়েছিল।’

    অন্যদিকে, ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইব্রাহিম বলেন, হলের শিক্ষার্থীরা প্রথমে সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চেয়েছিলেন। ফুটেজ দেখলেই স্পষ্ট হয়ে যেত প্রাধ্যক্ষ কীভাবে দরজা বন্ধ করে তাকে হেনস্তা করেছেন। সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ২টা পেরিয়ে গেলেও ফুটেজ দেখানো হয়নি।

    তিনি বলেন, প্রথমে জানানো হয়েছিল, গণমাধ্যম বা অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীরা ফুটেজ দেখতে পারবেন না; শুধু তিনি, হল সংসদ এবং ডাকসুর কয়েকজন প্রতিনিধি তা দেখতে পারবেন। কিন্তু শিক্ষকরা বারবার নিজেদের মধ্যে আলোচনা করার কথা বলে বিষয়টি পিছিয়ে দেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা অফিসের ভেতরে প্রবেশ করেন।

    ইব্রাহিমের অভিযোগ, এরপর ঘটনাটি ‘চিরাচরিত প্রথা’ অনুযায়ী ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের দ্বন্দ্বে রূপ নেয়। তার দাবি, উভয় পক্ষই অন্যান্য হল থেকে নিজেদের লোকজন নিয়ে আসে। এর মধ্যে তিনি নিজেই বিচারবঞ্চিত হচ্ছেন।

    তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রদল আমার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এফএইচ হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবিদ হাসনাতের নেতৃত্বে কমিটির আরও কয়েকজন মিলে অভিযুক্ত প্রাধ্যক্ষকে গার্ড দিয়ে বের করে নিয়ে গেছে। আমি বিচার চেয়েছিলাম, সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চেয়েছিলাম। অথচ এখনো বিচার পাচ্ছি না।’

    উল্লেখ্য, প্রাধ্যক্ষের কক্ষে শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগের ঘটনায় রোববার সন্ধ্যা থেকেই প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

  • আবাসন সংকটে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

    আবাসন সংকটে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়নরত বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর অন্যতম সমস্যা আবাসন সংকট। চাহিদার তুলনায় আবাসিক হল কম থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে এ সমস্যা। বর্তমানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে ৪০ শতাংশেরও কম শিক্ষার্থীর থাকার সুবিধা রয়েছে। বাকি প্রায় ৬০ শতাংশ ছাত্রছাত্রী তীব্র আবাসন সংকটে রয়েছেন। তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শতভাগ আবাসিক সুবিধা থাকলেও ১০টিতে আবার মোটেও নেই। বাকিগুলোতে কমবেশি সুবিধা থাকলেও বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকেই নিজস্ব উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় মেস, ভাড়া বাসা বা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে থাকতে হয়।

    এতে বাড়তি খরচের পাশাপাশি যাতায়াতে অনেক সময় নষ্ট হয়। তাছাড়া পড়ালেখা বিঘ্নসহ নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা। আবাসন সংকটের কারণে হল ও সিট দখল ঘিরে ক্যাম্পাস রাজনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এমনকি কোনো কোনো সময় সংঘাত সৃষ্টি হয়। এসব সংকট কাটাতে পর্যাপ্ত নতুন হল নির্মাণের উদ্যোগের পাশাপাশি বিদ্যমান হলগুলোতে সিট বাড়ানোর ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে নীতিমালা অনুযায়ী মেধার ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ এবং তাতে থাকার নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতেরও দাবি তাদের।

    বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ প্রকাশিত ২০২৩ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ৫০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬২টি ছাত্র ও ১০০টি ছাত্রী হল আছে। এতে আবাসিক সুবিধা পাচ্ছেন ৩৯.৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে শতভাগ আবাসিক সুবিধা আছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে।

    এছাড়া মোটেও আবাসিক সুবিধা নেই বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, কুড়িগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

    অন্যদিকে নামমাত্র আবাসিক সুবিধা আছে, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (৪.৪৪ শতাংশ), পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (৪.৯৪ শতাংশ), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একমাত্র ছাত্রী হলে (৭.৩৪ শতাংশ)। বাকিগুলোতে বিভিন্ন সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য আবাসিক সুবিধা রয়েছে।

    সূত্রমতে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চাহিদার তুলনায় আবাসিক সুবিধা কম থাকায় শিক্ষার্থীদের অন্যতম স্বপ্ন থাকে হলের সিট পাওয়া। মেধার ভিত্তিতে এসব সিট বরাদ্দের নিয়ম থাকলেও বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে তার কোনো বাস্তবায়ন ছিল না। এমনকি নিয়মানুযায়ী সিট বরাদ্দ পেলেও ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের দখলদারিত্বের কারণে তাতে থাকার সুযোগ পাননি সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে দখলদারদের রাজনীতিতে যুক্ত থাকলে বরাদ্দ ছাড়াও আবাসিক সুবিধা, এমনকি ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও অনেকেই হলে থেকেছেন। আর অবৈধ আবাসিক সুবিধাপ্রাপ্তরা হলে ও ক্যাম্পাসে নানা সংঘাত-সংঘর্ষ ও অরাজক পরিবেশ সৃষ্টিতে জড়িত থাকতেন। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অনেকটাই নির্বিকার দেখা গেছে।

    চব্বিশের বিপ্লবপরবর্তী সব ক্যাম্পাস থেকে ফ্যাসিবাদী ছাত্রসংগঠনÑছাত্রলীগ বিতাড়িত ও পরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা পাল্টাতে থাকে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হলে বৈধ সিটধারীদের থাকার সুযোগ নিশ্চিত হয়। বিশেষ করে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবাসিক-অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়। তবে এসব ছাত্র সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে থাকা এবং ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনÑছাত্রদলের প্রভাব বিস্তারের শঙ্কায় বর্তমান পরিবেশ বজায় রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তায় অনেকে। যদিও বর্তমান ছাত্র সংসদগুলোর নেতৃত্বে থাকা ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হল নীতিমালা অনুযায়ী মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টন ও প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

    শিক্ষার্থীদের আসান সংকট ও সিট বণ্টন প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে যে সিট আছে, তা খুব অপ্রতুল। সারা দেশ থেকে এসে শিক্ষার্থীদের ভর্তি হওয়ার পর প্রথম বছরেই তাদের কষ্ট হয়। বিশেষ করে এখানে নারীশিক্ষার্থী বাড়ছে, অথচ তাদের হলসংখ্যা কম (১৯টি ছাত্র ও পাঁচটি ছাত্রী হল আছে)। এ অবস্থায় আমরা ছাত্রছাত্রীদের জন্য নতুন কয়েকটি হল নির্মাণের প্রজেক্ট হাতে নিয়েছি। এছাড়া পুরোনো হলেও সিট বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার যদি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মাধ্যমে আবাসিক হল নির্মাণের জন্য থোক বরাদ্দ দেয়, তাহলে এ সংকট দ্রুত কাটানো সম্ভব।

    এদিকে ক্যাম্পাসে পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে আবাসিক হলগুলোতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখা জরুরি বলে মনে করেন এ শিক্ষাবিদ। তিনি বলেন, হল ঘিরে যেকোনো ধরনের সংঘাত-সংঘর্ষ রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ভিন্নমতের কাউকে বের করে দেওয়া যাবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হলে নীতিমালা অনুযায়ী সিট বণ্টন নিশ্চিতসহ সার্বিকভাবে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন।

    সূত্রমতে, বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬টি ছাত্র ও সাতটি ছাত্রী হলে মোট ৪৩.৯৭ শতাংশ শিক্ষার্থীর আবাসিক সুবিধা আছে। যে কারণে এখানে হলের সিটপ্রাপ্তির শিক্ষার্থীদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

    জানা গেছে, হল সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছাত্রীদের পাঁচটি ও ছাত্রদের ১০টি হল-ডরমেটরিতে মাত্র ২১.৮৭ শতাংশ শিক্ষার্থীর আবাসিক সুবিধা আছে। এতে বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে দীর্ঘ সময় ও বাড়তি খরচসহ নানা দুর্ভোগের শিকার হতে হয়।

    এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, আবাসিক সংকট কাটাতে আমরা নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ১০ শতাংশ আবাসন বৃদ্ধির জন্য নানা উদ্যোগ নিয়েছি। সে অনুযায়ী শিক্ষক কোয়ার্টারে ৯০ জন, সোহরাওয়ার্দী হলে ৩০ জন ও শামসুন্নাহার হল সংস্কারসহ নানাভাবে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া ১০তলা একটি হল নির্মাণের জন্য ৬৯০ কোটি টাকার বাজেট মন্ত্রণালয় থেকে আসার প্রক্রিয়া চলছে। আরেকটি বড় প্রকল্পে ১০টি হল (পাঁচটি ছাত্রীদের ও পাঁচটি ছাত্রদের) নির্মাণের প্রকল্প পাস হওয়ার কথা রয়েছে। এটি হলে আবাসন সংকট দীর্ঘমেয়াদে কেটে যাবে।

    এছাড়া পতিত ছাত্রলীগের দখলনীতির পরিবর্তে বর্তমানে হলগুলোতে মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টন হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আমরা চাই এ ধরনের পরিবেশ যেন বজায় থাকে। কেউ ছাত্রলীগের মতো দখলদারিত্বের চিন্তা করলে, তা প্রতিরোধ করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

    শতভাগ আবাসনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) এখন ২৬.১৪ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পান। তাই, হলে সিট পাওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও অনেকেরই সেই সৌভাগ্য হয় না। এজন্য আবাসিক হল বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    হল পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ইবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নিয়ামতুল্লাহ মুনিম জানান, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে ছিল আবাসিক হলগুলো। তখন মেধাবীরা সিট বরাদ্দ পেলেও তাদের সম্মতি ছাড়া তাতে থাকার সুযোগ মিলত না। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এ পরিবেশ যেন অব্যাহত থাকে, সেই প্রত্যাশা সবার।

    দেশের অন্যতম পুরোনো ও বড় উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে ছাত্রদের ১২টি ও ছাত্রীদের ছয়টি আবাসিক হলে ৪৬.৭১ শতাংশ শিক্ষার্থীর আবাসিক সুবিধা আছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী হলগুলোতে স্বাভাবিক নিয়মে সিট বরাদ্দ হলেও সম্প্রতি নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত ২৯ জুন ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হলে অবৈধভাবে সিট দখলের অভিযোগে মানববন্ধন করে ছাত্রশিবির। এ সময় শতভাগ আবাসন নিশ্চিতসহ তিন দফা দাবি উপস্থাপন করেন তারা। যদিও সিট দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছে ছাত্রদল। সম্প্রতি ছাত্রসংগঠন দুটি হল ও ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের বিষয়ে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে।

    এছাড়া ঢাকার সদরঘাট এলাকায় অবস্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পরও বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শুধু ছাত্রীদের জন্য একটি হল নির্মাণ করা হয়।

    জবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আবদুল আলিম বলেন, জবিতে আবাসন সমস্যা চিরস্থায়ী একটি অভিশাপে পরিণত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন আর বাজেট আসে যায়, কিন্তু সমস্যার সমাধান হয় না। তিনি বলেন, এখানে ছাত্রীদের একটি আবাসিক হলে ধারণ ক্ষমতার বেশি অবস্থান করছেন। তবে ছাত্রদের মোটেও হল না থাকায় তাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

    এ ছাত্র সংসদ নেতা আরো বলেন, বর্তমানে পানি ভবন ও ডা. হাবিবুর রহমান নামে দুটি ছাত্র হলের কাজ চালাচ্ছে সেনাবাহিনী। এটি ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। যেখানে ১৬০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা হবে। এর বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত একর জমিতে টিনশেড অস্থায়ী হল নির্মাণের জন্য ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। যেটা চার মাসেই নির্মাণ করা সম্ভব। আমরা সেনাবাহিনীর মাধ্যমে এ কাজ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছি। এতে ১৭০০ শিক্ষার্থী থাকতে পারবেন।

    কিন্তু ছাত্রদল চাচ্ছে সেখানে ১০তলা ভবন নির্মাণের জন্য, যাতে ৬০০-৭০০ শিক্ষার্থীর আবাসন হবে। এটা শেষ হতেও দীর্ঘ সময় লাগবে। আবদুল আলিম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। তবে আদৌ বাস্তবায়ন হবে কি না, তা নিয়ে অশ্চিয়তা রয়েছে।

    একইভাবে দেশের বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বুয়েটে ৫৩.০৩ শতাংশ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৩.৫৭ শতাংশ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৩.৪০ শতাংশ, হাবিপ্রবিতে ৪৭.৫০ শতাংশ, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৪.৭০ শতাংশ, কুয়েটে ৩৩.৯২ শতাংশ, ডুয়েটে ৪৭.২১ শতাংশ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৭.০১ শতাংশ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০.৮৪ শতাংশ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৯.৪০ শতাংশ আবাসিক সুবিধা রয়েছে।

    তবে বেশি আবাসিক সুবিধার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছেÑজাহাঙ্গীরনগরে ৯৮.৯১ শতাংশ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯৮.১৫ শতাংশ, চুয়েটে ৭০.৭৮ শতাংশ, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯৬.২২ শতাংশ। এছাড়া বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ১৩ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশের মতো আবাসিক সুবিধা রয়েছে বলে ইউজিসির প্রতিবেদনে জানা গেছে।

  • যৌন হয়রানির অভিযোগে চাকরিচ্যুত রাবি অধ্যাপক

    যৌন হয়রানির অভিযোগে চাকরিচ্যুত রাবি অধ্যাপক

    শিক্ষা ডেস্ক:

    যৌন হয়রানি ও একাডেমিক দুর্নীতির অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক প্রভাস কুমারকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৫৪৮তম সভায় তার চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত হয়।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘তার (প্রবাস কুমার) বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী গত সিন্ডিকেট সভায় তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।’

    তদন্ত প্রক্রিয়া ও শাস্তির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি ও অ্যাকাডেমিক দুর্নীতির দায়ে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছিল। কমিটি দুটি তাকে অব্যাহতির সুপারিশ করে।পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী একটি উচ্চতর কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে তার একজন প্রতিনিধি দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি দেননি। তার বক্তব্যগুলো বিভিন্ন সময়ে লিখিত আকারে পাঠিয়েছেন। উচ্চতর কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সিন্ডিকেট তার শাস্তির অনুমোদন দিয়েছে।

    এর আগে গত বছরের ৪ আগস্ট অধ্যাপক প্রভাস কুমার নিজ বিভাগের এক ছাত্রীকে তার চেম্বারে ডেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ক্লাস উপস্থিতির নম্বর ও পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে ওই শিক্ষার্থী অভিযুক্ত শিক্ষকের চেম্বারে যান। পরবর্তীতে সে শিক্ষকের কক্ষে গেলে শিক্ষক তাকে সাজেশনের কথা বলে পরীক্ষার প্রশ্ন দেন এবং ছবি তুলতে নিষেধ করে খাতায় উত্তর লিখতে বলেন। সে সময় অভিযুক্ত শিক্ষক ওই শিক্ষার্থীর শরীরের একাধিক স্থানে অশোভন স্পর্শ করেন এবং কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব দেন।

    পরে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে ওই বছরের ১৩ আগস্ট বিভাগের সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা।এ ঘটনা তদন্তে বিভাগের শিক্ষকদের দ্বারা গঠিত একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠিত হয়। তাদের তদন্ত রিপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অধিকতর তদন্ত করে। পরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর তাকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

  • ককরোচ স্বেচ্ছাসেবকের বাবা হত্যায় প্রতিবাদের ঝড়, খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি

    ককরোচ স্বেচ্ছাসেবকের বাবা হত্যায় প্রতিবাদের ঝড়, খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি

    পশ্চিমবঙ্গে সরকারি স্কুলের পরিস্থিতি পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) এক স্বেচ্ছাসেবকের বাবার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

    সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, আমাদের চুপ করানো বা ভয় দেখানো যাবে না। আমরা উন্নত স্কুলের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব। সিজেপি আব্দুল ও তার পরিবারের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। আমরা তার বাবার মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। আমাদের সিজেপি দল বাংলায় যাবে এবং নিশ্চিত করবে যে আব্দুল ও তার পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়।

    দলটির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাসও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘আমরা আব্দুলের জন্য খুব উদ্বিগ্ন। তার বাবা বিজেপির গুন্ডাদের হাতে মারা গেছেন। তার অপরাধ কী ছিল? সে তার স্থানীয় সরকারি স্কুলের একটি সামাজিক নিরীক্ষা করার পরিকল্পনা করেছিল। আব্দুল, পুরো সিজেপি পরিবার তোমার সাথে আছে। ওই গুন্ডাদের বিচারের আওতায় না আনা পর্যন্ত আমরা বিশ্রাম নেব না!’

    সিজেপির আরো অভিযোগ, হামলার পর কোনো মেডিকো-লিগ্যাল মামলা শুরু করা হয়নি এবং প্রাথমিকভাবে কোনো এফআইআরও দায়ের করা হয়নি। তারা মফিকের মৃত্যুর কারণ, হামলার ঘটনা এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে কথিত ব্যর্থতা—সবকিছু নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

    এ ঘটনায় ইন্দাস থানাকে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং হাফিজ ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি সিজেপির জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটির একটি প্রতিনিধি দল সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বে হাফিজ ও তার পরিবারের প্রতি সংহতি জানাতে এবং ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার দাবি জানাতে পশ্চিমবঙ্গ সফর করবে।

    সিজেপির ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকারি স্কুল পরিদর্শন করার পর ২৫ বছর বয়সী স্বেচ্ছাসেবক শেখ আবদুল হাফিজের ওপর হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় গুরুতর আহত হন তার বাবা মফিক। শনিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    সিজেপির বিবৃতি অনুযায়ী, গত ১৩ আগস্ট বাকুড়া জেলার করিসুন্দা এলাকায় নিজের গ্রামের একটি সরকারি স্কুলে গিয়ে অবকাঠামোর পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন হাফিজ। সিজেপি অভিযোগ করেছে যে, সেদিন সন্ধ্যায় স্থানীয় বিজেপি কর্মী হিসেবে চিহ্নিত সশস্ত্র ব্যক্তিরা জোর করে হাফিজের বাসভবনে প্রবেশ করে।

    বিবৃতি অনুসারে, হাসপাতাল থেকে রেকর্ড করা একটি ভিডিওতে হাফিজ অভিযোগ করেছেন যে, একজন স্কুল শিক্ষক তার পৌর পরিদর্শনের বিষয়ে রাজনৈতিক কর্মীদের জানিয়েছিলেন, যার ফলে পরবর্তী হামলাটি ঘটে।

    পরে হামলাকারীরা হাফিজকে স্কুলের দুরবস্থা তুলে ধরার জন্য ক্ষমা চেয়ে এবং বাইরের প্ররোচনায় তিনি এসব করেছেন—এমন বক্তব্য দিয়ে একটি ভিডিও ধারণ করতে চাপ দেন। হাফিজ এতে রাজি না হলে তার পরিবারের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছে সিজেপি। এতে হাফিজের ঘাড়ে গুরুতর আঘাত লাগে এবং তার বাবা মফিক মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পান।

    হামলার পর হাফিজ হাসপাতাল থেকে তার আঘাতের বিবরণ দিয়ে একটি ভিডিও রেকর্ড করেন এবং ক্রমাগত নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে কলকাতায় পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তার বাবা পরে ১৫ আগস্ট আঘাতজনিত কারণে মারা যান।

  • প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, ববিতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ

    প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, ববিতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাতভর মারধর, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ২০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

    শনিবার রাত ৯টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও প্রধান গেটসংলগ্ন এলাকায় কয়েক দফায় এ সংঘর্ষ হয়।

    শিক্ষার্থীরা জানান, নবীনবরণ অনুষ্ঠানের দিন ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মুসা হোসাইন অর্থনীতি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের এক ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। ওই ছাত্রী প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তাকে র‌্যাগিং ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ ওঠে মুসার বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হলে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। একপর্যায়ে মুসাকে মারধরের পর দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।

    রাতভর ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাত ১২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেট এলাকায় গাড়ি থামিয়ে তাদের মারধর করা হয়।

    অভিযোগ অস্বীকার করে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলেন, মূল ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে প্রচার করা হচ্ছে। অভিযুক্ত মুসা আহত হওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, দুই পক্ষকে থামানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • রাবির ভর্তি পরীক্ষা শুরু ৮ জানুয়ারি, আবেদন ১২ নভেম্বর থেকে

    রাবির ভর্তি পরীক্ষা শুরু ৮ জানুয়ারি, আবেদন ১২ নভেম্বর থেকে

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে। এবার সাতটি বিভাগীয় শহরে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা আগামী ১২ নভেম্বর থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত প্রাথমিক আবেদন করতে পারবেন।

    রোববার (১৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, আগামী ৮ জানুয়ারি ‘বি’ ইউনিটের (বাণিজ্য) পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে। ৯ জানুয়ারি ‘সি’ ইউনিটের (বিজ্ঞান) এবং ১৬ জানুয়ারি ‘এ’ ইউনিটের (মানবিক) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর কেন্দ্রে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। রোববার দুপুরে প্রশাসন ভবন-১-এর কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত ভর্তি উপ-কমিটির সভায় এসব বিষয়ে সুপারিশ করা হয়। উপাচার্য প্রফেসর মো. ফরিদুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন।

  • ডেঙ্গুতে ৩ জনের প্রাণহানি, হাসপাতালে ভর্তি ৮০৫

    ডেঙ্গুতে ৩ জনের প্রাণহানি, হাসপাতালে ভর্তি ৮০৫

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, একই সময়ে ৮০৫ জন ডেঙ্গুরোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    রোববার(১৬ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪০১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮২ জন, খুলনা বিভাগে ৯৭ জন, রংপুর বিভাগে সাত জন, বরিশাল বিভাগে ৮০ জন এবং সিলেট বিভাগে দুইজন রয়েছেন।চলতি বছরের ১৬ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৩ হাজার ৯৭৮ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    চলতি বছরে এ যাবত মোট ২২ হাজার ১৫৯ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে এক হাজার ৭৪৯ জন চিকিৎসাধীন আছেন।

    ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

  • নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করে দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

    নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করে দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নারীদের শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করতে সরকার অনার্স পর্যন্ত তাদের শিক্ষা বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সব খরচ সরকার বহন করবে। একই সঙ্গে ভালো ফল করা নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে।

    রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত, স্থানীয় জেলেদের মধ্যে মাছের পোনা বিতরণ ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন নারীদের শিক্ষা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত ফ্রি করে দিয়েছিলেন। দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। এই নারী সমাজকে যদি আমরা পিছিয়ে রাখি, তাহলে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সে কারণেই বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করে দেওয়া হবে। সব খরচ বহন করবে সরকার।

    তিনি বলেন, এখানে অনেক বোন ও সন্তানতুল্য মেয়েরা আছে। তোমাদের ভালোভাবে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে, যাতে বড় হয়ে তোমরা এই দেশের হাল ধরতে পারো। শুধু তাই নয়, যেসব মেয়েরা ভালো ফলাফল করবে, তাদের জন্য সরকার থেকে উপবৃত্তিরও ব্যবস্থা করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গরিব পরিবারের শিশুদের আমরা সরকারের পক্ষ থেকে বছরে একবার স্কুল ড্রেস দিতে চাই। শুধু স্কুল ড্রেস নয়, প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিশুর হাতে স্কুল ব্যাগও পৌঁছে দিতে চাই। প্রতিবছর নতুন বই দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নতুন স্কুল ব্যাগ ও স্কুল ড্রেসও আমরা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাই।

    নারীদের স্বাবলম্বী করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের নারী সমাজকে যেমন শিক্ষায় সামনে এগিয়ে নিতে চাই, একইভাবে তাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। নির্বাচনের আগে আমরা বলেছিলাম, বাংলাদেশের চার কোটি পরিবারের মধ্যে যে নারী পরিবারের প্রধান ও সংসার পরিচালনা করেন, পর্যায়ক্রমে তার হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। আল্লাহর রহমতে ফ্যামিলি কার্ডের কাজও শুরু হয়েছে।’

    প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি ঘরে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।

  • রাবিতে ভারতীয় মাদকসহ ছাত্রদল নেতা আটক

    রাবিতে ভারতীয় মাদকসহ ছাত্রদল নেতা আটক

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিব হাসানকে ৭ পিস ভারতীয় নিষিদ্ধ মাদক ‘ট্যাপেন্টাডল’সহ আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যায় রাজশাহী নগরীর মিজানের মোড় এলাকা থেকে তাকে আটক করে মতিহার থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাজশাহী নগরীর মিজানের মোড়ে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। সেখান থেকেই তাকে আটক করা হয়। সেখানে তার কাছে ৭ পিস ভারতীয় মাদক ট্যাপেন্টাডল পাওয়া যায়।

    রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। ছাত্রদল সবসময় মাদকমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়তে বদ্ধপরিকর। এখনও নিশ্চিত নই, মাদক তার নিজের কাছে ছিল নাকি তার বন্ধুদের কাছে ছিল। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে, তাহলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী মাদক নেওয়া ও ক্রয় বিক্রয় করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ও যেহেতু মাদক নিয়ে ধরা পড়েছে, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ওর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা প্রশাসনকে জানিয়ে দিয়েছি।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে মতিহার থানার ওসি গোলাম কবির বলেন, হাসিব মাদকসহ আটক হয়েছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

  • আফগান শিক্ষার্থীদের মেডিকেল পড়াশোনা স্থগিত করল পাকিস্তান

    আফগান শিক্ষার্থীদের মেডিকেল পড়াশোনা স্থগিত করল পাকিস্তান

    শিক্ষা ডেস্ক:

    পাকিস্তানে আফগান শিক্ষার্থীদের মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল (পিএমডিসি)।

    পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন করে আফগান শিক্ষার্থী ভর্তি এবং ইতোমধ্যে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    পিএমডিসির জারি করা সরকারি চিঠির বরাতে আফগানিস্তানভিত্তিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম খামা প্রেস এ তথ্য জানিয়েছে।

    নথি অনুযায়ী, পাকিস্তানের মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে অধ্যয়নরত আফগান শিক্ষার্থীদের আফগানিস্তানে ফিরে যেতে হবে। একই সঙ্গে মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষাক্রমে আফগান শিক্ষার্থীদের নতুন ভর্তি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।

    এ ছাড়া পাকিস্তানের এক মেডিকেল বা ডেন্টাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে আফগান শিক্ষার্থীদের স্থানান্তর বা মাইগ্রেশনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    কাউন্সিল জানায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীতিগত নির্দেশনা এবং ২০২৬ সালের ৩০ জুলাই পিএমডিসির নেওয়া সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বিষয়টিকে জাতীয় নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং দেশের সব মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।

    চিঠি অনুযায়ী, যেসব আফগান শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন, তাদের স্নাতক সম্পন্নের বিষয়টি এবং পাকিস্তান ত্যাগের তথ্য নথিভুক্ত ও নিশ্চিত করতে হবে।

    পিএমডিসি জানিয়েছে, এ নির্দেশনা সারা দেশে প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাকেন্দ্রের মধ্যে এটি সীমাবদ্ধ নয়; বরং সব সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এর আওতাভুক্ত।

    নথি অনুযায়ী, মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত আফগান শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত তথ্য তিন দিনের মধ্যে পিএমডিসির কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।

    কাউন্সিল আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, তথ্য দিতে বিলম্ব, নির্দেশনা না মানা কিংবা তথ্য গোপন করাকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হবে। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

    পিএমডিসির এ সিদ্ধান্তে পাকিস্তানে পেশাগত মেডিকেল ও ডেন্টাল ডিগ্রি অর্জনে অধ্যয়নরত আফগান শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারেন। বিশেষ করে যারা পড়াশোনার মাঝপথে রয়েছেন, তাদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কোর্স শেষ করার আগেই পাকিস্তান ছাড়তে হতে পারে।

    পিএমডিসি পাকিস্তানে মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষা নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষার মান বজায় রাখার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনগত নিয়ন্ত্রক সংস্থা। দেশটির মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের কাউন্সিলে নিবন্ধন এবং ভর্তি-সংক্রান্ত নিয়মকানুন মেনে চলার বিষয়টিও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক।

  • এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জে চারদিনেই তিন লাখের বেশি আবেদন

    এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জে চারদিনেই তিন লাখের বেশি আবেদন

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ফলে অসন্তুষ্টদের খাতা চ্যালেঞ্জের অনলাইন আবেদন গ্রহণ চলছে। এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে গত ১১ আগস্ট থেকে। গত চারদিনে ৩ লাখ ১২ হাজার খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন করা হয়েছে।

    শনিবার (১৫ আগস্ট) আন্ত:শিক্ষা সমন্বয় কমিটির এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, খাতা চ্যালেঞ্জের জন্য, ১৪ আগস্ট রাত ১১টা পর্যন্ত তিন লাখের ওপর আবেদন পড়েছে। আমরা গতকাল শুক্রবার হওয়া সত্ত্বেও এ আপডেট চেক করেছি। শেষ যখন জেনেছি ৩ লাখ ১২ হাজারের মত।

    পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশে। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী।

    এ পরীক্ষার ফলে অসন্তুষ্ট পরীক্ষার্থীদের খাতা চ্যালেঞ্জের সুযোগ রাখা হয়েছে। ১১ আগস্ট খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন শুরু হয়। ১৭ আগস্ট পর্যন্ত খাতা আবেদন করা যাবে। সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতিতে এবার অসন্তুষ্ট পরীক্ষার্থীরা প্রতি বিষয়ে ১৫০ টাকা ফি দিয়ে খাতা চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন।

    ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলে সারাদেশে গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং মোট জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী।

    ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এক চিঠিতে বলা হয়, https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd -এ গিয়ে নির্ধারিত স্থানে রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর পূরণ করতে হবে এবং বোর্ড ড্রপ ডাউন থেকে বোর্ড নির্বাচন করতে হবে।

    অতঃপর সাবমিট বাটনে ক্লিক করতে হবে। এরপর মোবাইল নম্বর দিতে হবে। পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশিত হলে এই নম্বরে এসএমএস পাঠানো হবে। পরবর্তী স্ক্রিনে শিক্ষার্থীর বিষয় ভিত্তিক ফল দেখা যাবে। এক বা একাধিক বিষয়ে ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য বিষয়গুলো নির্বাচন করে ‘ফি প্রদান করুন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। প্রতিটি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা হারে ফি প্রযোজ্য হবে।

    দ্বিপত্র বিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয়পত্রের আবেদন করতে হবে। পরবর্তী স্ক্রিনে দেয়া ফি-এর পরিমাণ দেখা যাবে। বিকাশ, নগদ, সোনালী সেবা-এর মাধ্যমে ফি পরিশোধ করা যাবে। ফি পরিশোধের বিস্তারিত ধাপগুলো উপরেউল্লেখিত পোর্টালের ‘হেয়া’ বাটনে ক্লিক করে দেখে নেওয়া যাবে। ফি পরিশোধ করে আবেদনের পোর্টালে এসে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।উল্লেখ্য যে, ফি দিয়ে একবার আবেদন জমা দেওয়ার পরে আরও বিষয় যুক্ত করতে চাইলে একইভাবে তা করা যাবে। তবে এক্ষেত্রে নতুনভাবে মোবাইল নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। এছাড়া ফি পরিশোধের আগেই যদি আবেদন পরিবর্তন বা পরিমার্জনের প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে ‘মুছে ফেলুন’ বাটনে ক্লিক করে নির্বাচিত বিষয়গুলো (যেগুলোর জন্য এখনও ফি প্রদান করা হয়নি) প্রত্যাহার করা যাবে এবং নতুন করে বিষয় নির্বাচন করা যাবে। তবে একবার ফি জমা দিলে আবেদনকৃত বিষয়গুলো আর বাতিল করা যাবে না এবং কোন অবস্থাতেই ফি ফেরত দেয়া হবে না। ম্যানুয়াল কোন আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

  • সহপাঠীদের তথ্যে ফেঁসে যাচ্ছেন বিল গেটস কন্যা!

    সহপাঠীদের তথ্যে ফেঁসে যাচ্ছেন বিল গেটস কন্যা!

    ধনকুবের বিল গেটসের মেয়ে ফিবি গেটসকে নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এনেছেন তার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীরা। নিজের শপিং স্টার্টআপ ‘ফিয়া’ নিয়ে বেশ বিপাকেই পড়তে যাচ্ছেন বিল ও মেলিন্ডা গেটস-কন্যা ফিবি। কোডিংয়ে নিজের অভিজ্ঞতা সীমিত হওয়ার পরও একটি প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনার জন্য তিনি কতটা যোগ্য, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

    ফিবির স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহপাঠী জানিয়েছেন, এই ধনকুবের-কন্যা বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাডভান্সড কোডিংয়ের কোনো ক্লাস করেননি। কারণ, হিউম্যান বায়োলজিতে (মানব জীববিজ্ঞান) তার স্নাতক ডিগ্রির জন্য এটির কোনো প্রয়োজন ছিল না।

    ওই সূত্র জানায়, ‘প্রকৃতপক্ষে ফিবিকে কম্পিউটার সায়েন্সের একটি ক্লাসও করতে হয়নি। কম্পিউটার সায়েন্স কীভাবে কাজ করে, এমন বিষয় বোঝার জন্য তিনি হয়তো কিছু ক্লাস করে থাকতে পারেন, তবে সেটি মূলত জীববিজ্ঞান গবেষণাকেন্দ্রিক হওয়ারই কথা—যদি তিনি আদৌ সেসব ক্লাস করে থাকেন।’

    এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যম পেজ সিক্সের পক্ষ থেকে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও স্ট্যানফোর্ড কর্তৃপক্ষ বা ফিবি গেটস কোনো সাড়া দেননি।

    সূত্রটি আরও ব্যাখ্যা করে, ফিবি চাইলেই হুট করে অ্যাডভান্সড কোডিং ক্লাসে যোগ দিতে পারতেন না। এর জন্য তাকে আগে কিছু আবশ্যিক প্রাথমিক কোর্স সম্পন্ন করতে হতো। নিজের নিয়মিত পড়াশোনার রুটিনের সঙ্গে সেগুলো মেলানো তার জন্য বেশ কঠিনই ছিল, বিশেষ করে যেহেতু তিনি এক বছর আগেই গ্র্যাজুয়েশন বা স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন।

    তবে ২৩ বছর বয়সী ফিবি ‘অ্যাপ্লায়েড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ (ফলিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ও উদ্যোক্তা বিষয়ক একটি ক্লাস করেছিলেন। এই ক্লাসটিই মূলত তার স্টার্টআপ ‘ফিয়া’র ধারণা তৈরিতে সাহায্য করেছিল। স্ট্যানফোর্ডের রুমমেট ২৫ বছর বয়সী সোফিয়া কিয়ানির সঙ্গে যৌথভাবে তিনি এই মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের ডিজিটাল পার্সোনাল শপিং অ্যাসিস্ট্যান্ট স্টার্টআপটি প্রতিষ্ঠা করেন।

    স্টার্টআপটিতে ‘কুকি-স্টাফিং’-এর অভিযোগ ওঠার পর চলতি সপ্তাহে তরুণ এই উদ্যোক্তারা বড়সড় এক প্রযুক্তি কেলেঙ্কারির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছেন। তবে এখন জানা যাচ্ছে, টেক দুনিয়ার এই ‘নেপো বেবি’ (স্বজনপ্রীতির সুবিধাপ্রাপ্ত) ও তার স্টার্টআপটি খোদ তার নিজের বিশ্ববিদ্যালয়েই হাসির খোরাক ছিল।

    সূত্র অনুযায়ী, ফিবির স্ট্যানফোর্ডের সহপাঠীরা তাকে কোনো দক্ষ কোডার হিসেবে চিনতেন না। এমনকি ‘ফিয়া’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা যখন ঘোষণা করা হয়, তখন কম্পিউটার সায়েন্সের কয়েকজন শিক্ষার্থী নাকি ‘তাদের মুখের ওপরই হেসে দিয়েছিলেন’ বলে জানা যায়।

    কিয়ানির একজন প্রতিনিধিও নিশ্চিত করেছেন যে তিনি স্ট্যানফোর্ডে কম্পিউটার সায়েন্সের কোনো প্রথাগত ক্লাস করেননি। সূত্রটি কটাক্ষ করে বলেছে, কিয়ানি তার ‘সায়েন্স, টেকনোলজি অ্যান্ড সোসাইটি’ ডিগ্রিতে যেসব কোর্স করেছেন, তা থেকে ‘কুকি জিনিসটা আসলে কী, তা-ই তার জানার কথা নয়’।

    ফাঁস হওয়া কিছু স্ল্যাক বার্তায় দেখা গেছে, কিয়ানি তার প্রকৌশলীদের সঙ্গে ‘ফিয়া’র বিতর্কিত ‘কুকি স্টাফিং’ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করছেন এবং কুকিগুলো ‘ড্রপ’ করে যেতে (ফেলে রাখতে) নির্দেশ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

    স্ল্যাকে এক প্রকৌশলীকে তিনি বলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, ‘এই কুকিগুলো ক্রমাগত ড্রপ করে যাওয়ার জন্য আমরা যা যা করতে পারব, তা দারুণ হবে।’

    সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিয়ার ‘অটো ড্রপ’ ফিচারটির কারণে কোম্পানিটি সম্ভবত এমন সব কেনাকাটার ওপরও কমিশন সংগ্রহ করতে পেরেছে, যেগুলোতে তারা বাস্তবে কোনো ক্রেতাকে পাঠায়নি।

    ফিয়া কর্তৃপক্ষ প্রথমে এটিকে একটি ‘সফটওয়্যার বাগ’ বা ত্রুটি বলে দাবি করেছিল। তবে কিয়ানির ফাঁস হওয়া স্ল্যাক বার্তাসহ নতুন প্রতিবেদনগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই ফিচারটি কয়েক মাস ধরেই চালু ছিল।

    ‘কুকি স্টাফিং’ হলো এমন একটি প্রতারণামূলক পদ্ধতি, যা দেখে মনে হতে পারে কোনো একটি কোম্পানি একজন ক্রেতাকে কোনো রিটেইলার বা বিক্রেতার কাছে পাঠিয়েছে, বাস্তবে হয়তো তারা তা করেনি—আর এর মাধ্যমে কোম্পানিটি অন্যায্যভাবে কমিশন হাতিয়ে নিতে পারে)।

    অবশ্য কোম্পানিটি এই অনুসন্ধানের কিছু অংশের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে। তারা জানিয়েছে, এই ফিচারটি ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিক্রিগুলো তারা পর্যালোচনা করে দেখছে।

    ব্লুমবার্গের তথ্যমতে, জুলাই মাসে ফিয়া ওই ফিচারগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পর কোম্পানিটির গড় দৈনিক আয় প্রায় ৮০ হাজার ডলার থেকে এক ধাক্কায় কমে ১০ হাজার থেকে ২৮ হাজার ডলারের মধ্যে নেমে আসে।

    বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে দ্য পোস্ট জানিয়েছে, ৫ কোটি ১০ লাখ ডলারের এক বিলাসবহুল পেন্টহাউসে বসবাসকারী ফিবি ও তার সঙ্গী কিয়ানির ‘কুকি স্টাফিং’ অভিযোগের কারণে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের মতো কড়া শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা হতে পারে এবং বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানাও গুনতে হতে পারে।

  • সুকান্ত ভট্টাচার্য: জন্মশতবর্ষ

    সুকান্ত ভট্টাচার্য: জন্মশতবর্ষ

    সাহিত্য ডেস্ক:

    জীবনের শেষ প্রান্তে উপনীত হয়ে ‘ঐকতান’ কবিতায় রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন—
    ‘কৃষাণের জীবনের শরিক যে জন
    কর্মে ও কথায় সত্য আত্মীয়তা করেছে অর্জন,
    যে আছে মাটির কাছাকাছি,
    সে কবির বাণী-লাগি কান পেতে আছি।’
    কৃষাণের জীবনের শরিক হয়ে তাঁদের সত্য আত্মীয়তা অর্জন করেছিলেন সুকান্ত ভট্টাচার্য। অথচ তাঁর জন্ম নগরে, ফসলের খেত আর ফসল ফলানো কৃষক থেকে বহু দূরে তাঁর সামাজিক অবস্থান। কৃষকের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও লড়াইকে চেতনায় ধারণ করে তিনি উপহার দিয়েছেন অসামান্য সব কবিতা। ইট-পাথরের হৃদয়হীন শহরে বাস করেও গ্রামের মাটির ‘ফসলের ডাক’ শুনে তাঁর জোরালো প্রত্যয়:
    ‘কাস্তে দাও আমার এ হাতে—
    সোনালি সমুদ্র সামনে, ঝাঁপ দেব তাতে।’
    শোষণের বিরুদ্ধে কৃষকের লড়াকু চেতনা অসাধারণ অভিব্যক্তি পেয়েছে ‘দুর্মর’ কবিতায়। ১৯৪৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস। সুকান্ত তখন রোগশয্যায়, ফসলের দুই-তৃতীয়াংশের দাবিতে গড়ে ওঠা তেভাগা আন্দোলনের খবরে শিহরিত হলেন তিনি। গভীর আবেগে লিখলেন:
    ‘হিমালয় থেকে সুন্দরবন, হঠাৎ
    কেঁপে কেঁপে ওঠে পদ্মার উচ্ছ্বাসে বাংলাদেশ ।
    সে কোলাহলের রুদ্ধস্বরের আমি পাই উদ্দেশ
    জলে ও মাটিতে ভাঙনের বেগ আসে।’
    সুকান্ত উপলব্ধি করেছেন, কৃষক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ‘জন্ম নিয়েছে সচেতনতার ধান/গত আকালের মৃত্যুকে মুছে/আবার এসেছে বাংলা দেশের প্রাণ।’
    তেভাগা আন্দোলনের লড়াকু চেতনা প্রতিধ্বনিত হয় কবিতার রক্তিম পঙ্‌ক্তিতে:
    ‘“হয় ধান নয় প্রাণ”—এ শব্দে
    সারা দেশ দিশাহারা,
    একবার মরে ভুলে গেছে আজ
    মৃত্যুর ভয় তারা’
    কৃষকদের বলিষ্ঠ উত্থান অভূতপূর্ব আশাবাদের প্রতীকে উপস্থাপন করে বাংলাদেশকে যা স্থান ও কালের সীমা অতিক্রম করে যায়:
    ‘সাবাস বাংলা দেশ, এ পৃথিবী
    অবাক তাকিয়ে রয়:
    জ্বলে-পুড়ে মরে ছারখার
    তবু মাথা নোয়াবার নয়।’
    শুধু কৃষক নয়, শ্রমিক, মজুর, ডাকহরকরা, ক্ষুধার্ত মানুষ, শোষিত-বঞ্চিতজনের আর্তি ও সংকল্প মর্মস্পর্শী ভাষা পেয়েছে সুকান্তের কবিতায়। সাধারণ বস্তুকেও রূপকের আড়ালে মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে অত্যাচারীর বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছেন তিনি। ইতিহাস সচেতন ও শ্রেণিসচেতন সুকান্তের কবিতায় এক বিশেষ কালপর্বে (১৯৩৯-১৯৪৭) পরাধীন ভারতবর্ষের ঘটনাবহুল ইতিহাসের প্রতিধ্বনি শোনা যায়। ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই, শ্রমিক ধর্মঘট, ১৯৪২ সালের আগস্ট আন্দোলন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উত্তাপ, কালোবাজারি-মজুতদারির দৌরাত্ম্য, আজাদ হিন্দ ফৌজের লড়াই, নৌবিদ্রোহ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ প্রভাবে সুকান্তের সৃজনবিশ্ব উদ্বেলিত হয়ে উঠেছে।
    জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড ও চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের চাঞ্চল্যকর ঘটনারও প্রতিফলন ঘটেছে তাঁর সাহিত্যে। চল্লিশের দশকের ঘটনাবহুল যুগবৈশিষ্ট্যের পরিপ্রেক্ষিতে সুকান্তের রাজনৈতিক চেতনা ও কবিতার সমান্তরাল বিকাশ ঘটেছিল।
    বাঙালি সাহিত্যিকদের সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত সাধারণত কবিতার মাধ্যমে ঘটে। সুকান্তের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ব্যতিক্রম তাঁর কবিতার বিষয়বস্তু। কৈশোরে ও তারুণ্যে প্রেমের কবিতা লেখাই বাঙালি কবির বিধিলিপি। অথচ এ বয়সে সুকান্ত প্রেম নয়, কবিতার বিষয় হিসেবে বেছে নেয়েছেন সমাজদেহের নানা ব্যাধিকে। তিনি শুধু রোগ নির্ণয় করে দায়িত্ব শেষ করেননি, রোগ নিরাময়ের উপায়ও নির্দেশ করেছেন। স্নায়ুছেঁড়া বাস্তবতায় কঠিন সত্যের মুখোমুখি হয়ে তিনি উপলব্ধি করেছিলেন প্রেম-সৌন্দর্যের স্বপ্নময় ভাবলোকের মাধুর্য নয়, জীবনসংগ্রামের রূঢ় বাস্তবতাকে মূর্ত করে তুলতে হবে নিজের কবিতায়।

    মার্ক্সবাদী সমাজদৃষ্টিতে ধনতন্ত্র একদিন নিজেই নিজের কবর খুঁড়বে। পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার মূলে যে অন্যায়, শোষণ ও লোভ তার গর্ভেই রয়েছে পুজিঁবাদের অনিবার্য ধ্বংসের বীজ। এই বিশ্বাস অসাধারণ রূপ পেয়েছে ‘চারাগাছ’ কবিতায়। এ কবিতায় প্রাচীন এক প্রাসাদের গায়ে অশ্বত্থগাছের চারা দেখা যায়।

    সাম্যবাদের স্বপ্নে উদ্দীপিত সুকান্তের কবিতায় এ স্বপ্নের অনুরণন স্পষ্ট। তাঁর বহুল আলোচিত কবিতাগুলোর শিরোনাম স্মরণ করা যাক: ‘বিবৃতি,’ ‘অনুভব: ১৯৪০’, ‘অনুভব: ১৯৪৬’, ‘খবর’, ‘বোধন’, ‘রবীন্দ্রনাথের প্রতি’, ‘লেনিন’, ‘মহাত্মাজীর প্রতি’, ‘ঠিকানা,’ ‘পঁচিশে বৈশাখের উদ্দেশ্যে, ‘সূচনা’, ‘ছাড়পত্র’, ‘দিনবদলের পালা,‘আগ্নেয়গিরি’, ‘রানার,’ দুর্বার, ‘যুদ্ধের গান’, ‘হে মহাজীবন,’ ‘দেশলাই কাঠি’, ‘সিঁড়ি’,‘ কলম’, ‘সিগারেট’, ‘একটি মোরগের কাহিনী,’ ‘হে মহাজীবন’, ‘উদ্যোগ’, ‘আঠারো বছর বয়স’, ‘প্রেম:১৯৪৩’ এবং ‘প্রিয়তমাসু’। এ কবিতাগুলো ব্যবচ্ছেদ করলে দেখা যাবে, ক্ষুধা, শোষণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও সাম্যের স্বপ্ন সুকান্তের সাহিত্যচর্চার মূল প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।

    লেনিন, রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধী—সমকালীন এই তিন মনীষী সুকান্তকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিলেন। কমিউনিস্ট পার্টির কাজে তিনি জীবন উত্সর্গ করেছিলেন। ঢাকায় বিখ্যাত গল্পকার সোমেন চন্দ নিহত হওয়ার পর ফ্যাসিস্টবিরোধী লেখক ও শিল্পী সংঘে যুক্ত হয়েছিলেন। তাঁর কবিসত্তায় জাগ্রত ছিল বিপ্লবী রাজনৈতিক আদর্শ। অক্লান্ত পরিশ্রম ও ধারাবাহিক অসুস্থতা তাঁর অকালমৃত্যুর ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল। ১৯৪৫ সালে মেজো বউদিকে পাঠানো একটি চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন:
    ‘…আমি কবি বলে নির্জনতাপ্রিয় হব, আমি কি সেই ধরনের কবি? আমি যে জনতার কবি হতে চাই, জনতা বাদ দিলে আমার চলবে কি করে? তা ছাড়া কবির চেয়ে বড় কথা আমি কমিউনিস্ট, কমিউনিস্টদের কাজ–কারবার সব জনতা নিয়েই।’
    ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণে বিপর্যস্ত স্বদেশবাসীর যন্ত্রণা উত্সারিত হয় তাঁর কণ্ঠে—‘এ দেশে জন্মে পদাঘাতই শুধু পেলাম।’ ‘জনতার কবি’ সুকান্ত ‘ছন্দের লালিত্য ঝঙ্কার’ময় ‘স্নিগ্ধ কবিতা’ রচনার তাগিদ অনুভব করেননি। জনগণের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক স্থাপন করে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন ‘গদ্যের কড়া হাতুড়ি’কে, ছুটি দিয়েছেন কবিতাকে। ছাড়পত্র কাব্যের ‘হে মহাজীবন’ কবিতাকে সুকান্তের সাহিত্যচর্চার মূল দর্শন হিসেবে আখ্যা দেওয়া যায়:
    ‘প্রয়োজন নেই কবিতার স্নিগ্ধতা—
    কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,
    ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়;
    পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।’
    মানবতাবাদী সুকান্তের কবিতায় জনগণের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা বারবার মূর্ত হয়ে উঠেছে। সাম্যের পৃথিবী গড়ার স্বপ্ন দেখেছেন তিনি। জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেছেন অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে। ‘ছাড়পত্র’ কবিতায় তিনি অমানবিকতা ও বৈষম্যের জঞ্জাল সরিয়ে নতুন প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার অঙ্গীকার করেছেন। এ দৃপ্ত ঘোষণা তাঁর কাব্যসাধনা ও জীবনসাধনার অভিন্ন লক্ষ্য:
    ‘চলে যাব, তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
    প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
    এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব আমি—
    নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।’
    মার্ক্সবাদী সমাজদৃষ্টিতে ধনতন্ত্র একদিন নিজেই নিজের কবর খুঁড়বে। পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার মূলে যে অন্যায়, শোষণ ও লোভ তার গর্ভেই রয়েছে পুজিঁবাদের অনিবার্য ধ্বংসের বীজ। এই বিশ্বাস অসাধারণ রূপ পেয়েছে ‘চারাগাছ’ কবিতায়। এ কবিতায় প্রাচীন এক প্রাসাদের গায়ে অশ্বত্থগাছের চারা দেখা যায়। সুকান্তের ভাষায়: ‘এ শিশুর মধ্যে আমি দেখি এক বৃদ্ধ মহীরূহ/শিকড়ে শিকড়ে আনে অবাধ্য ফাটল/উদ্ধত প্রাচীন সেই বনিয়াদী প্রাসাদের দেহে।’

    অত্যাচারী ও শোষক জমিদারের বিরুদ্ধে সুকান্ত তীব্র বিদ্রূপের চাবুক মেরেছেন ‘ভাল খাবার’ ছড়ায়। প্রবল প্রতাপশালী জমিদার এমন আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে উদরপূর্তি করেন যে একসময় তার খাদ্যে অরুচি হয়। ডাক্তার–কবিরাজ তার রোগ সারাতে ব্যর্থ। ভয়ার্ত নায়েব তখন জমিদার ধনপতি পালের কাছে জানতে চান সবচেয়ে ভালো খাবার কোনটি।

    এই চারাগাছ একদিন অনেক বড় হয়ে তার শিকড়ের শক্তিতে প্রাসাদ ধসিয়ে দেবে, গর্বোদ্ধত প্রাসাদরূপী পুজিঁবাদী সভ্যতার পতন ঘটবে। সুকান্ত শক্তিমান কবি বলেই রাজনৈতিক বিশ্বাসকে শিল্পরূপ দিতে পেরেছেন।
    শৈল্পিক ও প্রতীকী ব্যঞ্জনায় সুকান্ত নানা কবিতায় অত্যাচারীর বিরুদ্ধে অত্যাচারিতের ক্ষোভকে ভাষা দিয়েছেন। ‘রানার’ কবিতায় রানার বা ডাকহরকরা সমাজের দায়িত্ব কাঁধে বয়ে চলা শোষিত ও শ্রমজীবী মানুষের প্রতীক। দারিদ্র্য ও হতাশায় ক্লিষ্ট রানারের জীবনকে পরম মমতায় তুলে ধরেছেন সুকান্ত:
    ‘…জীবনের বহু বছরকে পিছু ফেলে,
    পৃথিবীর বোঝা ক্ষুধিত রানার পৌঁছে দিয়েছে মেলে।
    ক্লান্তশ্বাস ছুঁয়েছে আকাশ, মাটি ভিজে গেছে ঘামে,
    জীবনের সব রাত্রিকে ওরা কিনেছে অল্প দামে।’
    নৈরাশ্যের রাত্রিকে চূড়ান্ত বলে মেনে নেননি সুকান্ত। ‘বিবৃতি’ কবিতায় আহ্বান জানিয়েছেন—‘রাত্রির গভীর বৃন্ত থেকে ছিঁড়ে আনো ফুটন্ত সকাল।’
    সুকান্তের কবিতায় দুর্ভিক্ষ দুঃস্বপ্নের মতো ফিরে ফিরে এসেছে। ‘ঐতিহাসিক’ কবিতায় তিনি মনে করিয়ে দেন, দুর্ভিক্ষ জাতি-ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় চেনে না। সবাই আক্রান্ত হয় এর করাল গ্রাসে। দুর্ভিক্ষ থেকে মুক্তির জন্য প্রয়োজন জনগণের ঐক্যবদ্ধ লাইন, যে ঐক্য তারা দেখিয়েছে খাদ্য সংগ্রহের লাইনে দাঁড়িয়ে। তিনি ‘রবীন্দ্রনাথের প্রতি’ কবিতায় নিজেকে ‘দুর্ভিক্ষের কবি’ বলে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি তাঁর অন্যতম স্মরণীয় কবিতা ‘বোধন’–এ উন্মোচন করেছেন দুর্ভিক্ষ সৃষ্টিকারী মজুতদার-কালোবাজারিদের বর্বর ভূমিকা। তিনি শুধু তাদেরকে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করাননি, তাদের নির্মূল করার জন্য প্রতিশোধের সংকল্প ব্যক্ত করেছেন:
    ‘আদিম হিংস্র মানবিকতার যদি আমি কেউ হই
    স্বজনহারানো শ্মশানে তোদের
    চিতা আমি তুলবই।’
    সুকান্ত বিশ্বনাগরিক ছিলেন। তিনি স্বদেশের পরিপ্রেক্ষিতে যেভাবে শ্রমজীবী মানুষের জয়গান গেয়েছেন, আন্তর্জাতিক স্তরেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। সোভিয়েত ইউনিয়নের শক্তিশালী ভূমিকার কারণে সাম্রাজ্যবাদী ও ফ্যাসিবাদী অপশক্তির পতনে তাঁর উচ্ছ্বাস প্রকাশিত হয়েছে ‘রোম: ১৯৪৩’ কবিতায়। জাতীয়তা ও আন্তর্জাতিকতার অনবদ্য সমন্বয় ঘটেছে ‘প্রিয়তমাসু’ কবিতায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানের পটভূমিতে রচিত এ কবিতায় সুকান্ত নিজেকে উপস্থাপন করেছেন সৈনিকের অবয়বে। সেই সৈনিক দেশপ্রেমী, কিন্তু উগ্র জাতীয়তাবাদী নয়। সেই সৈনিক প্রেমী, একই সঙ্গে দেশ ও পৃথিবীর প্রতি দায়বদ্ধ। যুদ্ধ শেষে তাঁর অভিব্যক্তি:
    ‘পরের জন্যে যুদ্ধ করেছি অনেক,
    এবার যুদ্ধ তোমার আর আমার জন্যে।
    প্রশ্ন করো যদি এত যুদ্ধ ক’রে পেলাম কী? উত্তর তার—
    তিউনিসিয়ায় পেয়েছি জয়
    ইতালীতে জনগণের বন্ধুত্ব,
    ফ্রান্সে পেয়েছি মুক্তির মন্ত্র;
    আর নিষ্কণ্টক বার্মায় পেলাম ঘরে ফেরার তাগাদা।’
    অত্যাচারী ও শোষক জমিদারের বিরুদ্ধে সুকান্ত তীব্র বিদ্রূপের চাবুক মেরেছেন ‘ভাল খাবার’ ছড়ায়। প্রবল প্রতাপশালী জমিদার এমন আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে উদরপূর্তি করেন যে একসময় তার খাদ্যে অরুচি হয়। ডাক্তার–কবিরাজ তার রোগ সারাতে ব্যর্থ। ভয়ার্ত নায়েব তখন জমিদার ধনপতি পালের কাছে জানতে চান সবচেয়ে ভালো খাবার কোনটি। তারপর—
    ‘নায়েবের অনুরোধে ধনপতি চারিদিক
    দেখে নিয়ে বার কয় হাসলেন ফিক-ফিক।
    তারপর বললেন: বলা ভারি শক্ত
    সবচেয়ে ভালো খেতে গরীবের রক্ত।’

    নব্বইয়ের দশকে সমাজতান্ত্রিক শিবিরের পতনের পর সুকান্তচর্চায় ভাটা পড়তে শুরু করে। সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির উত্থান-পতন দিয়ে সুকান্তের সাহিত্য মূল্যায়ন যথার্থ নয়। প্রকৃত সাহিত্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপলব্ধি করা সম্ভব, ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী আজও গদ্যময়। শতবর্ষে পা রাখা সুকান্তের উচ্চারণ তাই পুরোনো হয় না।

    বিভিন্ন পত্র–পত্রিকায় সুকান্তের পাঁচটি গল্পের সন্ধান পাওয়া যায়। ১৯৪৩ সাল; অর্থাৎ ১৩৫০ বঙ্গাব্দ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দাবানলে পুড়ছে। অবিভক্ত বাংলা স্মরণকালের সবচেয়ে বড় মন্বন্তরের সম্মুখীন হয় যা ‘পঞ্চাশের মন্বন্তর’ নামে ইতিহাসে কলঙ্কিত হয়ে আছে। খাদ্যের অভাব, ম্যালেরিয়া ও কলেরার প্রভাব এবং অপুষ্টি ও চিকিত্সাব্যবস্থার মর্মান্তিক দুরবস্থার ফলে ৩০ লাখ মানুষের শোচনীয় মৃত্যু ঘটে কয়েক বছরের মধ্যে। ক্ষুধা ও বঞ্চনার জীবন্ত দলিল হয়ে উঠেছে সুকান্তের গল্প। গল্পগুলো হচ্ছে ‘ক্ষুধা’, ‘দরদী কিশোর’, ‘দুর্বোধ্য’, ‘কিশোরের স্বপ্ন’ ও ‘ভদ্রলোক’।

    সুকান্ত পঞ্চাশের মন্বন্তরের মর্মান্তিক স্মৃতি নিয়ে সম্পাদনা করেছিলেন আকাল নামে এক অমূল্য কবিতা সংকলন। শুধু দুর্ভিক্ষ নিয়ে যে একটি কবিতা সংকলন হতে পারে, তা একমাত্র সুকান্ত ভট্টাচার্যই চিন্তা করেছিলেন। এই সংকলনে নিজের কবিতার পাশাপাশি অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন বুদ্ধদেব বসু, বিষ্ণু দে, অরুণ মিত্র, অমিয় চক্রবর্তী, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন, সুভাষ মুখোপাধ্যায়, দীনেশ দাসের মতো কবি–সাহিত্যিকদের কবিতা। তাঁদের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। সম্পাদক হিসেবে ‘কথামুখ’–এ তাঁর বক্তব্য সুকান্তের অসাধারণ ইতিহাসচেতনার সাক্ষ্য বহন করে। তিনি লিখেছেন:
    ‘তেরোশো পঞ্চাশ সম্বন্ধে কোনো বাঙালীকে কিছু বলতে যাওয়া অপচেষ্টা ছাড়া আর কি হতে পারে? কেননা তেরোশো পঞ্চাশ কেবল ইতিহাসের একটা সাল নয়, নিজেই একটা স্বতন্ত্র ইতিহাস। সে ইতিহাস একটা দেশ শ্মশান হয়ে যাওয়ার ইতিহাস; ঘর ভাঙা, গ্রাম ছাড়ার ইতিহাস, দোরে দোরে কান্না আর পথে পথে মৃত্যুর ইতিহাস, আমাদের অক্ষমতার ইতিহাস।’
    ‘জনতার কবি’ হতে চেয়েছিলেন সুকান্ত, তিনি তা হয়েও ছিলেন। রাজনীতি তাঁর কবিতাকে যেমন জনপ্রিয় করেছে, তেমনি রাজনীতির মোড়কে তাঁকে সীমাবদ্ধ রাখার প্রবণতা তাঁর কবিপ্রতিভার প্রতি অবিচার করেছে। তাঁর জন্ম, বিকাশ ও পরিণতির কালে—এমনকি পরবর্তী কয়েকটি দশকেও বিশ্বজুড়ে সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির শক্তিশালী প্রভাব ছিল। সুকান্ত মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তখন রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণই মুখ্য ছিল, সাহিত্যিক দৃষ্টিকোণ নয়। নব্বইয়ের দশকে সমাজতান্ত্রিক শিবিরের পতনের পর সুকান্তচর্চায় ভাটা পড়তে শুরু করে। সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির উত্থান-পতন দিয়ে সুকান্তের সাহিত্য মূল্যায়ন যথার্থ নয়। প্রকৃত সাহিত্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপলব্ধি করা সম্ভব, ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী আজও গদ্যময়। শতবর্ষে পা রাখা সুকান্তের উচ্চারণ তাই পুরোনো হয় না। যত দিন পৃথিবীতে অসাম্য, শোষণ ও ক্ষুধা থাকবে, তত দিন সুকান্তের সাহিত্য বঞ্চিত ও ক্ষুধার্ত মানুষের বলিষ্ঠ প্রতিনিধি হিসেবে বেঁচে থাকবে।

  • নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুই ভাইসহ নিহত ৪

    নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুই ভাইসহ নিহত ৪

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নাটোরের বড়াইগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুই ভাইসহ একই মহল্লার তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চারজনে। দুর্ঘটনায় আহত আরও দুইজন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাজমুল হোসেন (৩৫) মারা যান। তিনি বড়াইগ্রাম পৌরসভার ধামানিয়াপাড়া মহল্লার সাদেক মন্ডলের ছেলে।

    এর আগে দুর্ঘটনায় ধামানিয়াপাড়া মহল্লার আপন দুই ভাই আক্কাছ আলী ও জাহাঙ্গীর আলম এবং একই মহল্লার নাজমুল হোসেন ও লক্ষীপুর মহল্লার আব্দুর রহমান মারা যান। নিহত ও আহতরা সবাই গরু ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    ৮ আগস্ট বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের গুরুদাসপুর উপজেলার নয়াবাজার এলাকায় গরুবাহী ভুটভুটির সঙ্গে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী আরআর ট্রাভেলসের একটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হন। পরদিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। শনিবার মারা যান নাজমুল হোসেন।

    বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলমগীর হোসেন জানান, চান্দাইকোনা গরুর হাটে যাওয়ার পথে গরুবাহী ভুটভুটির সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর বাসটি আটক করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। পলাতক বাসচালককে গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

  • মেহেরপুরে তিন স্থানে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার, বেজে উঠল বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

    মেহেরপুরে তিন স্থানে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার, বেজে উঠল বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মেহেরপুর শহরের পৃথক তিনটি স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটির তারে ঝুলানো বোমাসদৃশ বস্তু ঘিরে সকালে আতঙ্ক ছড়ায়। পরে পুলিশ সেগুলো উদ্ধার করে জানায়, বস্তুগুলো বোমা নয়; অটোরিকশায় ব্যবহৃত সাউন্ড বক্স।

    শনিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে, শহরের কোর্ট মোড় ও ড. শহীদ সামসুজ্জোহা পার্কের সামনে থেকে ওই তিনটি বস্তু উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে পার্কের সামনে থাকা একটি বক্স থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বাজতে শোনা যায় বলে স্থানীয় লোকজন জানান।

    পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকালে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বৈদ্যুতিক খুঁটির বিভিন্ন তারের সঙ্গে বক্স আকৃতির একটি বস্তু ঝুলতে দেখা যায়। সেটিকে বোমাসদৃশ বস্তু মনে করে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে উৎসুক মানুষের ভিড়ও জমে যায়।

    পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বস্তুটি নামিয়ে একটি পানিভর্তি বালতিতে রাখা হয়। কিছুক্ষণ পর ব্যাটারির সঙ্গে যুক্ত তারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে সেটি খুলে দেখা যায়, এটি সাউন্ড বক্সের মতো একটি যন্ত্র। এরপর শহরের কোর্ট মোড় ও ড. শহীদ সামসুজ্জোহা পার্কের সামনেও একই ধরনের আরও দুটি বস্তু থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে সেগুলোও উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয় পথচারীরা জানান, সকাল সোয়া নয়টার দিকে পার্কের সামনে থাকা বক্স থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজতে শোনা যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বক্সটি নামিয়ে নেয়।

    মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবীর বলেন, ‘আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এগুলো কোনো বোমা বা বোমাসদৃশ বস্তু নয়। অটোরিকশায় ব্যবহৃত সাউন্ড বক্স।’

    ওসি আরও বলেন, উদ্ধার করা তিনটি বস্তু থানায় নেওয়া হয়েছে। এগুলো কে বা কারা সেখানে রেখেছে, তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • অকৃতকার্যই শেষ কথা নয়, শিখতে হবে ব্যর্থতাকে জয় করা

    অকৃতকার্যই শেষ কথা নয়, শিখতে হবে ব্যর্থতাকে জয় করা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    প্রবাদ আছে ‘অকৃতকার্য কৃতকার্যের চাবিকাঠি’। তারপরও অনেক কোমলমতি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়া মেনে নিতে পারে না। পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনটি যেকোনো শিক্ষার্থীর জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করার কথা। অথচ সে দিনটিতেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের হালিমা খাতুন তরিকা, রাজশাহীর কারিনা পাল আর কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার তানিয়া খাতুনের পরিবারসহ বেশকিছু পরিবারে নিয়ে এলো চিরঅন্ধকারের বার্তা। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর যেখানে দেশের লাখো ঘরে উদযাপনের আলো জ্বলছিল, সেখানে নিমিষে নিভে গেল তিনটি তাজা প্রাণ। এছাড়া দেশের আরো কয়েক জায়গায় পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে ঝরে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

    রাজশাহীর বাগমারায় বিজ্ঞান বিভাগে দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে চরম বিষাদে আত্মহননের পথ বেছে নেন কারিনা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে অন্যান্য বিষয়ে সফল হলেও কেবল ইংরেজিতে অকৃতকার্য হওয়ার তীব্র কষ্ট সহ্য করতে না পেরে বিষপান করে হালিমা। আর কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় একই হতাশায় তানিয়া খাতুন বেছে নেয় আত্মহননের পথ। এ তিনটি অকাল প্রস্থান সমস্বরে আমাদের এক নির্মম সামাজিক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয় যে, একটি পরীক্ষার ফল কি জীবনের চেয়েও বড়? কখনই তা হতে পারে না। বরং জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার জন্যই পড়ালেখা বা এত আয়োজন। তাই একবার অকৃতকার্য হওয়া মানে হেরে যাওয়া কিংবা শেষ কথা নয়; বরং কঠিন অধ্যবসায়ের মাধ্যমে বারবার চেষ্টা করতে হবে। একবার না পারলে হতাশ হওয়া যাবে না, দৃঢ় মনোবল নিয়ে পড়ালেখায় মনোনিবেশ করতে হবে।

    তানিয়া কুচিয়ামোড়া গ্রামের প্রবাসী আক্তারুল ও কবিতা খাতুন দম্পতির কন্যা। সে বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি শিক্ষার্থী ছিল। পরীক্ষায় গত বছরও অকৃতকার্য হয়েছিল সে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার চলতি সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলে সে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়। পরে রাত ১০টার দিকে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে তানিয়া।

    আমাদের সামাজিক ও শিক্ষাব্যবস্থায় এসএসসি পরীক্ষাকে শুধু একটি প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন হিসেবেই দেখা হয় না; কোনো কোনো সময় এটিকে বানিয়ে ফেলা হয় সন্তানের যোগ্যতা, মর্যাদা ও সামাজিক সম্মানের চূড়ান্ত মাপকাঠিও। ফল প্রকাশের দিন সকাল থেকেই চারপাশে শুরু হয় ‘জিপিএ-৫ পেয়েছ তো?’, ‘অমুকের সন্তান তো এত পেয়েছে, তোমার কম কেন?’ এ জাতীয় এক প্রতিযোগিতার মহোৎসব। কৈশোরের কোমল ও সংবেদনশীল মন এই তুলনামূলক আলোচনা ও সামাজিক লজ্জাকে সহ্য করতে পারে না। তাদের কাছে সাময়িক একাডেমিক পিছিয়ে পড়াকে জীবনের চূড়ান্ত ব্যর্থতা বলে মনে হতে শুরু করে। ফলে পরিবার ও সমাজের প্রত্যাশার অদৃশ্য চাপে পিষ্ট হয়ে অনেক সময় তারা হারিয়ে ফেলে বেঁচে থাকার মৌলিক ইচ্ছাটুকু। অথচ ভালো রেজাল্টের চেয়ে ভালো মানসিকতা ও মানবিক মানুষ হওয়া জরুরি।

    একটি পাবলিক পরীক্ষায় খারাপ করা বা অকৃতকার্য হওয়া মানেই শেষ গন্তব্য নয়। শিক্ষাব্যবস্থায় মানোন্নয়ন পরীক্ষা, পুনঃনিরীক্ষণ বা পুনরায় অংশ নেওয়ার মতো একাধিক বৈধ পথ খোলা থাকে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার নির্দিষ্ট কোনো ধাপে থমকে যাওয়া বহু মানুষ পরবর্তী সময়ে মেধা ও পরিচর্যায় সমাজের শীর্ষে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছেন। কিন্তু সেই ভুল শুধরে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য জীবনটা টিকিয়ে রাখা তো প্রথম ও প্রধান শর্ত।

    পরীক্ষায় অকৃতকার্য বা ফল খারাপ হওয়া কোনো অপরাধ নয়, বরং এটি সন্তানের জন্য সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্ত। এমন সময়ে বকাঝকা, শাসন বা প্রতিবেশীর সন্তানের সঙ্গে তুলনা না করে পরিবারকে হতে হবে প্রধান আশ্রয়স্থল। ‘কত পেয়েছ’Ñএই কঠিন প্রশ্নের আগে অভিভাবকের মুখ থেকে আসা উচিত সহজ একটি বাক্যÑ‘আমরা তোমার পাশেই আছি। যা হয়েছে, তা নিয়ে হতাশ না হয়ে আগামীতে ভালো করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত কর।’

    সন্তান যখন চরম হতাশা প্রকাশ করে বা নিজেকে শেষ করে দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়, সেটিকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। তাকে এক মুহূর্তের জন্যও একাকী না রেখে মানসিকভাবে বিশ্বস্ততা তৈরি করতে হবে এবং প্রয়োজনে পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। একইভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোরও সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে। ফলাফলের দিন কেবল কৃতকার্যদের নিয়ে উদযাপনের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে যারা কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি, তাদের কাউন্সেলিং ও পরবর্তী সহজ পথের দিশা দেওয়া জরুরি।

    কারিনা, হালিমা ও তানিয়ার মৃত্যু কেবল তিনটি পরিবারের ব্যক্তিগত শোকের গল্পই নয়; এটি পুরো সমাজের জন্য এক তীব্র অনুশোচনা ও সতর্কবার্তা। আমাদের সন্তানদের শুধু জয়ী হতে শেখালে চলবে না, ব্যর্থতার পর ধুলো ঝেড়ে কীভাবে আবার উঠে দাঁড়াতে হয়, সেই শিক্ষা দিতে হবে। কারণ পরীক্ষার ফল আবার সংশোধন করা যায়, একটি বছর পিছিয়ে গেলে তা পুনরুদ্ধারও করা সম্ভব; কিন্তু ঝরে যাওয়া একটি অমূল্য জীবন কোনোদিন আর ফিরিয়ে আনা যায় না।

  • খণ্ডকালীন শিক্ষক পুল গড়বে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

    খণ্ডকালীন শিক্ষক পুল গড়বে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় খণ্ডকালীন শিক্ষক পুল গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষার্থী বিবেচনায় দেশের সর্ববৃহৎ এ প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক কাউন্সিলের ১০৩তম সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ পুলে অবসরপ্রাপ্ত যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ ও বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা হবে। শনিবার গাজীপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মিশন ও ভিশন অনুমোদনসহ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনকে আরও সহজ, কার্যকর ও সময়োপযোগী করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৩৪ বছর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হলো।

    সভায় স্নাতক (সম্মান) কোর্সের ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বিশেষ বিবেচনায় আরও একবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন কলেজে শিক্ষকসংকট কমাতে বিষয়ভিত্তিক খণ্ডকালীন শিক্ষক পুল গঠনের নীতিমালাও অনুমোদন করা হয়েছে।

    সভায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কিল-বেইজড পিজিডি প্রোগ্রামে ফ্রিল্যান্সিং—গ্রাফিকস ডিজাইন, ভিডিয়ো এডিটিং ও ওয়েব ডিজাইন; কালিনারি সায়েন্স (শেফ) এবং হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিষয় অন্তর্ভুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে স্নাতক (পাস) ও স্নাতক (সম্মান) প্রোগ্রামের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ৪ ক্রেডিটের অ্যাপ্লাইড আইসিটি কোর্স এবং প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ফাংশনাল ইংরেজি কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব কোর্সের সিলেবাস ও রেগুলেশন অনুমোদন করা হয়।

    বিশ্ববিদ্যালয় মনে করছে, এসব উদ্যোগের ফলে শিক্ষক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা সহজ হবে। একইসঙ্গে দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা এবং উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    এছাড়াও সভায় বিসিএসসহ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ৩ বছর মেয়াদি ডিগ্রি (পাস) কোর্স এবং ১ বছর মেয়াদি মাস্টার্স (প্রিলিমিনারি) কোর্স সম্পন্নকারীদের সনদের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে ৪ বছর মেয়াদি ডিগ্রি সনদ এবং মাস্টার্স প্রিলিমিনারি সনদকে ৪ বছর সমতুল্য ডিগ্রি হিসেবে দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

    এ ছাড়া সিজিপিএ ২.২৫-এর কম পাওয়া শিক্ষার্থীরা যাতে শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে না পড়েন, সে বিষয়েও আলোচনা হয়। তাঁদের বিশেষ বিবেচনায় মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনা করা হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ৪ বছর মেয়াদি এলএলবি (সম্মান) কোর্সের অধিভুক্তি রেগুলেশন অনুমোদন করা হয়েছে।

    সার্বিক বিষয়ে সভায় ভাইস-চ্যান্সেলর ড. আমানুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি একাডেমিক সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ। একজন শিক্ষার্থী যেন নিজের পড়াশোনা শেষ করে দক্ষতা নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারেন—আমরা সেই জায়গাটিকেই গুরুত্ব দিচ্ছি। অবসর নেওয়া অভিজ্ঞ শিক্ষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ বিশেষজ্ঞদের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষার্থীদের শেখানোর সুযোগ তৈরি করতে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক পুল গঠন করা হচ্ছে।’

    স্কিল-বেইজড পিজিডিতে নতুন বিষয় যুক্ত করার বিষয়ে ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, ‘শুধু প্রচলিত ডিগ্রি যথেষ্ট নয়; শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে সরাসরি ব্যবহারযোগ্য দক্ষতা অর্জন করতে হবে। একাডেমিক শিক্ষার সঙ্গে দক্ষতা ও বাস্তবমুখী শিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কর্মবাজারের জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্য রয়েছে।’

  • আগামী শিক্ষাবর্ষেই যুক্ত হচ্ছে খেলাধুলা

    আগামী শিক্ষাবর্ষেই যুক্ত হচ্ছে খেলাধুলা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেন, তরুণসমাজকে মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত করতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।

    যুবকদের কর্মসংস্থান হলে সামাজিক অপরাধ কমে আসবে। সরকার খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ শুরু করেছে। যেখানেই খালি জায়গা থাকবে সেখানেই খেলার মাঠ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হবে।

    গতকাল শুক্রবার ঢাকায় এফডিসিতে আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। আয়োজনে সহযোগিতা করেছে কেয়ার বাংলাদেশ ও এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজেস বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, গত ১৭ বছরে দক্ষতা বৃদ্ধির নামে দুর্নীতির আখড়া তৈরি করে বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিগত সরকার যেসব ভুল করেছে বর্তমান সরকার সেই ভুল করবে না। প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে যুবসমাজকে কর্মক্ষম করে গড়ে তোলা হবে।

    তিনি বলেন, ডিগ্রি নিয়ে যুবকরা যাতে বেকার হয়ে ঘরে বসে না থাকে, তারা যাতে বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলতে পারে, সেই ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার।

    হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বিগত শাসনামলে চাকরির বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা হয়নি। সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। এতে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দিনে দিনে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান সরকার কর্মমুখী শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশে ও বিদেশের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে।

    ‘দক্ষ যুবশক্তি গড়ে তুলতে সরকারের চেয়ে বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা বেশি গুরুত্বপূর্ণ’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকদের পরাজিত করে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকরা বিজয়ী হন। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন, ড. এস এম মোর্শেদ, কেয়ার বাংলাদেশের পরিচালক রওনক জাহান এবং এসওএসের ডেপুটি ন্যাশনাল ডিরেক্টর মো. মাসুদ রানা। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হয়।

  • দেশের সংকট মোকাবিলায় জামায়াতকে ভূমিকা রাখতে হবে:মিয়া গোলাম পরওয়ার

    দেশের সংকট মোকাবিলায় জামায়াতকে ভূমিকা রাখতে হবে:মিয়া গোলাম পরওয়ার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সংগঠন পরিচালনা ও দেশের সংকট মোকাবিলায় জামায়াতকে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদের গঠনমূলক ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বাগ্রে শক্তিশালী করতে হবে। জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় নিজেদের সমৃদ্ধ করতে হবে। আদর্শের চর্চা ও আচরণের মাধ্যমে নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।

    রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের তিন দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    নীলফামারীর সৈয়দপুরে স্থানীয় একটি মিলনায়তনে এ শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম।

    শিক্ষাশিবিরে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা উপস্থাপন করেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সহকারী অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল এমপি এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক কেন্দ্রীয় শিবির সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন।

    ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমান সরকার ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায় বাস্তবায়নে যে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে, তার প্রতিবাদে এবং জনগণের দাবি বাস্তবায়নে ১১ দল রোডমার্চসহ নভেম্বরে ঢাকায় মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থানীয় ১১ দলের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

    তিনি বলেন, এসব কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, মানুষের সমস্যা উপলব্ধি করে জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। মতপার্থক্য মোকাবিলায় সহনশীলতা ও হিকমত অবলম্বন করতে হবে। সংগঠন পরিচালনার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পরিবারের সুরক্ষা ও পরিবার গঠনের প্রতিও নজর দিতে হবে। নেতৃবৃন্দকে প্রতিনিয়ত আত্মজিজ্ঞাসার মাধ্যমে নিজেদের দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ধৈর্য ও সতর্কতা অবলম্বন করে পথ চলতে হবে।

    তিন দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরটি সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও অঞ্চল টিমের সদস্য মাওলানা আব্দুল হাকিম।

  • ‘৩১ দফা দেয়, ৩২ দফা পর্যন্ত পূরণ করে—এর নাম বিএনপি’

    ‘৩১ দফা দেয়, ৩২ দফা পর্যন্ত পূরণ করে—এর নাম বিএনপি’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘বিএনপি প্রতিশ্রুতি দেয়, প্রতিশ্রুতি রাখে। নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করে, বাস্তবায়ন করে। ৩১ দফা দেয়, ৩২ দফা পর্যন্ত পূরণ করে—এর নাম বিএনপি।’

    শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এভাবে টাকা দেওয়ার কথা ইশতেহারে ছিল না, এটাই ৩২ নম্বর। আর স্কুল ড্রেস দেওয়ার বিষয়টি ৩৩ নম্বর।’

    শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, উৎপাদনমুখী শিক্ষা ও প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতকে কর্মের হাতে পরিণত করতে জিয়াউর রহমানের উদ্যোগ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কারিগরি শিক্ষাসহ সব উদ্যোগ তার সময় নেওয়া হয়েছে।’

    খালেদা জিয়া শিক্ষকদের অবসরকালীন ভাতার ব্যবস্থা করেছিলেন উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্ট তো আছেই, এর বাইরে একেক জন পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা অবসর সুবিধা পাবেন। এটা একজন দরিদ্র স্কুলশিক্ষকের জন্য, যিনি গ্রামে বসে আছেন, অনেক বেশি মাইনে রাখে।’

    তিনি বলেন, ‘বাড়িতে বসে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ডিজিটালাইজড পদ্ধতিতে তার টাকা তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকছে, এক টাকাও কোথাও উৎকোচ দিতে হবে না।’

  • ঘরে বসেই অবসরের টাকাপাবেন শিক্ষকরা; প্রধানমন্ত্রী

    ঘরে বসেই অবসরের টাকাপাবেন শিক্ষকরা; প্রধানমন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষকদের অবসরের টাকা পেতে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না। ঘরে বসেই জানতে পারবেন টাকা জমা হয়েছে কিনা।এমনটি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষকদের অবসরের টাকা পেতে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না। কোনো ভোগান্তি থাকবে না। মধ্যস্বত্বভোগীর দ্বারস্থ হতে হবে না।’

    তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের বাস্তব অবস্থা আমরা একটা ভিডিওতে দেখেছি। আগে ঘুস দিয়ে ভাতার টাকা নিতে হতো। আজ যত সহজে শিক্ষকদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, আগে এত সহজ ছিল না।’ এখন তারা ঘরে বসেই ম্যাসেজ পেয়ে যাবেন।

    তিনি আরও বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার লুটপাট করে অবসরের দুটি বোর্ড পঙ্গু করে গেছে।’

    তারেক রহমান বলেন, ‘শিক্ষকদের অবসর ভাতার ফান্ডে পর্যাপ্ত টাকা নেই, বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে টাকা দেওয়া হচ্ছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘প্রচলিত নিয়মে শিক্ষকতা থেকে অবসর নিলেও আপনারা এখনো শিক্ষক। আপনাদের ভূমিকা সর্বজনগ্রাহ্য।’

  • ‘বাকশাল’ নামে গরু জবাই, রাবিতে জুলাই জিয়াফতের আয়োজন

    ‘বাকশাল’ নামে গরু জবাই, রাবিতে জুলাই জিয়াফতের আয়োজন

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ‘বাকশাল’ নামে একটি গরু জবাই করে ‘জুলাই জিয়াফত’ আয়োজন করা হয়েছে। রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এ ভোজের আয়োজন করা হয়।

    এর আগে শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় সালাউদ্দিন আম্মার ১৫ আগস্টের এ আয়োজনের ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি জানান, ভোজের জন্য আনা গরুটির নাম ‘বাকশাল’ রাখা হয়েছে এবং সেটি কোরবানি করে শিক্ষার্থীদের আপ্যায়ন করা হবে।

    পরে শুক্রবার গভীর রাতে গরু জবাইয়ের পর দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টেও বিষয়টি জানান আম্মার।

    আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ‘জুলাই জিয়াফত’-এ অংশ নিতে গুগল ফরমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৫ টাকা করে নিবন্ধন ফি নেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ৭৫০ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ৬৫০ জনের জন্য গরুর মাংসের খাবার এবং অন্যদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

    শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুষ্ঠানটি রাকসুর উদ্যোগে আয়োজন করা হচ্ছে বলে প্রচার করা হলেও পরে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য আসে। সালাউদ্দিন আম্মার জানান, রাকসুর সব সদস্য এ আয়োজনে একমত ছিলেন না এবং পরে একজন ব্যক্তি গরুটি উপহার দিয়েছেন। ফলে এ আয়োজনের সঙ্গে রাকসুর আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নেই।

    শনিবার দুপুরের পর রাকসু ভবন ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় শিক্ষার্থীদের জড়ো হতে দেখা যায়। রাকসু ভবনের ভেতরে খাবারের প্যাকেট প্রস্তুত রাখা হয়। কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে শিক্ষার্থীদের বসার জন্য ঘাসের ওপর ত্রিপল বিছানো হয়। জোহরের নামাজের পর শিক্ষার্থীরা সেখানে আসতে শুরু করেন। পরে রাকসু ভবন থেকে ভ্যানে করে খাবার নিয়ে আসা হয়।

    মসজিদের সামনে টাঙানো ব্যানারে লেখা ছিল, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও বাকশাল পতনের ঐতিহাসিক দিন উপলক্ষে জুলাইয়ের জিয়াফত।’ ব্যানারের দুই পাশে ‘মুজিববাদ, মুর্দাবাদ’ ও ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ লেখা ছিল।

    তবে কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে নারী শিক্ষার্থীদের দেখা যায়নি। রাকসু ভবন থেকে তাদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়।

    আয়োজনের বিষয়ে সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, শুরুতে রাকসুর পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো হলেও রাকসুর সব সদস্য এতে একমত ছিলেন না। পরে একজন ব্যক্তি গরুটি উপহার দিয়েছেন। তাই এই আয়োজনে রাকসুর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

    গরুটির নাম ‘বাকশাল’ রাখার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ১৫ আগস্টকে তারা ‘বাকশাল পতনের ঐতিহাসিক দিন’ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি হিসেবে দেখছেন। এ কারণেই গরুটির এমন নাম দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে, আয়োজনটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনাও দেখা গেছে। কেউ কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক সমস্যা, খাবারের মান ও ইন্টারনেট সেবার মতো বিষয়গুলোর সমাধানে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

  • যশোর ও মাদারীপুরে ককটেল বিস্ফোরণ, শিক্ষার্থীসহ আহত ৮

    যশোর ও মাদারীপুরে ককটেল বিস্ফোরণ, শিক্ষার্থীসহ আহত ৮

    ১৫ আগস্ট ঘিরে দেশের দুই জেলায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। জেলা দুটি হলো যশোর ও মাদারীপুর। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আটজন আহত হয়েছে। শনিবার সকালে এ ঘটনা।

    যশোরের কেশবপুরে ককটেল বিস্ফোরণে জুয়েল (৩৫) নামে এক মোটরশ্রমিক আহত হয়েছেন। আহত জুয়েলকে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ খবর পেয়ে থানার পুলিশ বিস্ফোরিত এলাকাটি ঘিরে রেখে আহত জুয়েলকে তাদের হেফাজতে নিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছে। ঘটনাস্থলে আরো দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

    এলাকাবাসী ও থানার পুলিশ জানায়, শনিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে কেশবপুর পৌর শহরের যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের মধ্যকুল এলাকায় একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এতে মধ্যকুল গ্রামের ব্যবসায়ী খানজের ছেলে জুয়েলের পায়ে বোমার স্প্লিন্টার লেগে তিনি আহত হন। আহত জুয়েলকে পথচারীরা উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত উদ্ধারসহ এলাকাটি ঘিরে রেখেছে। পুলিশ জানায়, ওই স্থানে আরও দুটি পলিথিনে মোড়ানো অবিস্ফোরিত ককটেল রয়েছে।

    এলাকাবাসীরা জানান, ১৫ আগস্ট ঘিরে নাশকতা করতে কেশবপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও নিষিদ্ধ ঘোষিত পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিক মোড়ল, একাধিক মামলার আসামি সাবেক কাউন্সিলর কামাল খানসহ ১৫-২০ জন সন্ত্রাসী শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে মধ্যকুল এলাকায় মুজিবুর রহমান মুজির মৎস্য খামারে গোপন মিটিং করেন। বিষয়টি এলাকার বিএনপি নেতাসহ গ্রামবাসী থানার অফিসার ইনচার্জ মোছা. রোকসোনা খাতুনকে অবহিত করলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। সন্ত্রাসীদের গর্ডফাদার রফিক মোড়ল ও কামাল খান নাশকতাসহ একাধিক মামলায় আটক হওয়ার পর তারা আদালত থেকে জামিনে এসে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে সংঘটিত করতে কাজ করছেন।

    হাসপাতালে কর্মরত ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ককটেল বিস্ফোরণে আহত জুয়েলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    থানার ওসি মোছা. রোকসোনা খাতুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া শুক্রবার রাতে মধ্যকুল গ্রামে আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি মৎস্য ঘেরে মিটিংয়ের বিষয়ে তাকে এলাকাবাসী অবহিত করেছিল।

    এদিকে মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বসতঘরের সিঁড়িতে থাকা ককটেল বিস্ফোরণে গোপালপুর দারুস সুন্নাহ মহিলা মাদ্রাসার সাতজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে মাদ্রাসার টিফিনের বিরতি চলাকালীন শিক্ষার্থীরা নাশতা করার উদ্দেশ্যে পাশের ইমন সরদারের বসতঘরের দিকে যায়। সেখানে ঘরের দরজার সিঁড়ির গোড়ায় পড়ে থাকা একটি ককটেল শিক্ষার্থীরা না বুঝে নাড়াচাড়া করতে গেলে হঠাৎ সেটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজন শিক্ষার্থী আহত হয়।

    ঘটনার পরপরই আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা মারাত্মক অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

    যানা যায়, ইমন সরদারের কাজের বুয়া বেবি (৪০) আজ শনিবার সকালে ঘর ঝাড়ু দেওয়ার সময় বলের মতো একটি বস্তু বারান্দার সিঁড়িতে দেখতে পেয়ে বাড়ির মালিককে জানালেও তারা গুরুত্ব দেননি।

    সংবাদ পেয়ে মাদারীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিয়া রফিক ভাবনাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে রাখেন।

    মাদারীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিয়া রফিক ভাবনা জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। ককটেলটি ওখানে কীভাবে এলো এবং ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়ে‌ছে।

  • চীনের ম্যাগলেভ ট্রেনে মাত্র ৫ সেকেন্ডে ৮০০ কিলোমিটার গতি

    চীনের ম্যাগলেভ ট্রেনে মাত্র ৫ সেকেন্ডে ৮০০ কিলোমিটার গতি

    চীনের একটি পরীক্ষামূলক বুলেট ট্রেন মাত্র ৫ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতি তুলে নিজের আগের বিশ্ব রেকর্ড ভেঙেছে। এ সাফল্য অতি উচ্চগতির যোগাযোগব্যবস্থার পথ আরও সুগম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    হুবেই প্রদেশের দুংহু ল্যাবরেটরির মাত্র এক কিলোমিটার দীর্ঘ একটি পরীক্ষামূলক ট্র্যাকে এ ভারী ম্যাগলেভ ট্রেনটি স্থির অবস্থা থেকে মাত্র ৫ দশমিক ৩ সেকেন্ডে ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছায়।

    ম্যাগলেভ ট্রেনের মূল বৈশিষ্ট্য হলো, এটি চৌম্বক শক্তি ব্যবহার করে রেললাইনের ঠিক কিছুটা ওপরে ভেসে থাকে। ফলে ট্রেনের সঙ্গে লাইনের কোনো ঘর্ষণ হয় না। লাইনের চারপাশে থাকা কয়েলের মাধ্যমে তৈরি হওয়া চৌম্বক তরঙ্গ ট্রেনটিকে সামনের দিকে তীব্র গতিতে এগিয়ে নেয়।

    চীনা গবেষকেরা দেখিয়েছেন, ট্রেনটি শুধু যে এ অতি উচ্চগতিতে পৌঁছাতে পারে তা-ই নয়, বরং স্বয়ংক্রিয় ব্রেকিং সিস্টেম বা ব্রেক ব্যবস্থার মাধ্যমে এটিকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রেখে থামানোও সম্ভব।

    শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতিতে ছুটে যাওয়ার পর ট্রেনটি মাত্র ২০০ মিটারের ব্যবধানে ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ মসৃণভাবে থেমে যায়।

    গত ছয় মাসের মধ্যে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো একই ট্রেন স্বল্প দূরত্বের ম্যাগলেভ গতিবৃদ্ধির বিশ্ব রেকর্ড ভাঙল।

    ১ দশমিক ১ টন ওজনের এ ট্রেন প্রথম পরীক্ষা করা হয়েছিল ২০২৫ সালের জুন মাসে। সে সময় এটি সাত সেকেন্ডে ঘণ্টায় প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিল।

    চীনের জিয়াংসু প্রদেশের নানতোং এলাকায় একটি উচ্চগতির ট্রেন

    পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে ম্যাগলেভ ট্রেনটি গতি বৃদ্ধির সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনে যথাক্রমে ঘণ্টায় প্রায় ৭০০ কিলোমিটার ও ৭৯৮ কিলোমিটার গতি অর্জন করে নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙে।

    চীনের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি পরীক্ষামূলক চালনার মাধ্যমে গবেষকেরা উচ্চক্ষমতার বিদ্যুৎ সরবরাহ, তড়িৎ-চৌম্বকীয় প্রপালশন (সামনে এগিয়ে নেওয়ার প্রযুক্তি), উচ্চগতির লেভিটেশন নিয়ন্ত্রণ (ভেসে থাকার প্রযুক্তি) এবং জরুরি ব্রেক ব্যবস্থাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ক্ষমতার পরীক্ষা নিয়েছেন।

    বর্তমানে চীন ও জাপানজুড়ে চলাচলকারী ম্যাগলেভ ট্রেনগুলো ঘণ্টায় প্রায় ৩২০ কিলোমিটার গতিতে চলে। অন্যদিকে, বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির বাণিজ্যিক ম্যাগলেভ ট্রেন হলো চীনের ‘ফুক্সিং’, যার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩৫০ কিলোমিটার।

    চীনের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব ডিফেন্স টেকনোলজির গবেষকেরাও অতি উচ্চগতির ম্যাগলেভ ট্রেন তৈরি করছেন। তাঁদের একটি পরীক্ষায় ট্রেনটি মাত্র দুই সেকেন্ডে ঘণ্টায় ৬৯৭ কিলোমিটার গতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

    ঠিক এ মুহূর্তে এ প্রযুক্তির ট্রেনটি মানুষের যাতায়াতের উপযোগী না হলেও গবেষকদের আশা, এর মূল নীতিগুলো একসময় রকেট ও ফাইটার জেট বা যুদ্ধবিমান উৎক্ষেপণব্যবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

    একই সঙ্গে চীনা বিজ্ঞানীরা স্বল্প চাপ বা বায়ুশূন্য টিউবের ভেতর ট্রেন চালানোর জন্য অনুরূপ অতি উচ্চগতির ম্যাগলেভ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন। তবে এ প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও অবকাঠামোগত খরচ, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও দীর্ঘ দূরত্বজুড়ে নিখুঁতভাবে লাইন বা ট্র্যাক নির্মাণের মতো বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

  • জবি ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ব্যানার

    জবি ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ব্যানার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শেখ মুজিবুর রহমান, তার সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ ১৫ আগস্টে নিহত পরিবারের সদস্যদের স্মরণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসের পাশে ব্যানার টানিয়েছে।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় গেটের পাশে ফুটওভারব্রিজ সংলগ্ন বিশ্বজিৎ চত্বর এলাকায় এ ব্যানার টানানো হয়।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান।

    এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. আজম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • মগবাজারে আবাসিক ভবনে ভয়াবহ আগুন; বহু হতাহতের আশঙ্কা

    মগবাজারে আবাসিক ভবনে ভয়াবহ আগুন; বহু হতাহতের আশঙ্কা

    রাজধানীর মগবাজারের একটি আবাসিক ভবনে আগুন লেগেছে। ওই ভবনটিতে আবাসিকের পাশাপাশি বাণ্যিজ্যিক কার্যক্রমও রয়েছে।

    জানা গেছে, আগুন লাগা ওই ভবনে মার্কেন্টাইল ব্যাংক, আইএফআইসি, পূবালী ও ব্র্যাক ব্যাংকের শাখা রয়েছে। একইসঙ্গে ওই ভবনে বিদেশি শিক্ষার্থীরা বসবাস করেন। এরা বেশিভাগই মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী।স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আজ সন্ধ্যা ছয়টা ২৫ মিনিটে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ভবনের ভেতরে এখনও অনেকেই আটকা আছেন।

  • ভারতের ভোটার তালিকায় বাংলাদেশে প্রধান শিক্ষকের নাম!

    ভারতের ভোটার তালিকায় বাংলাদেশে প্রধান শিক্ষকের নাম!

    শিক্ষা ডেস্ক:

    খুলনার পাইকগাছার খড়িয়া নবারুণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের ভারতীয় নাগরিকত্ব ও ভোটার তালিকায় নাম থাকার অভিযোগ নিয়ে তদন্ত হলেও এখনো তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসনের দপ্তরের প্রতিবেদনে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় তার নাম থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) তাকে শোকজ করে লিখিত জবাবও পেয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ভারতীয় নাগরিকত্ব থাকার পাশাপাশি দীপক চন্দ্র সরকার বাংলাদেশে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন।

    বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ ও একাধিক তদন্ত হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি নিজ প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ২৯ জুন দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘পশ্চিমবঙ্গের ভোটার হয়েও খুলনায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এরপর প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ে নড়েচড়ে বসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। নথিপত্র ও তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাইকগাছা উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের খড়িয়া নবারুণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের নাম পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় রয়েছে। সেখানে তাকে উত্তর বর্ধমানের শক্তিগড় থানার ২ নম্বর বরশুল গ্রামের ১ নম্বর মনমোহন দে রোডের পশ্চিমাংশের বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে তিনি পাইকগাছার লস্কর ইউনিয়নের খড়িয়া ঢেমশাখালী গ্রামের ভোটার। তার বাবা নগেন্দ্র নাথ সরকার ও মা সুমিত্রা রানী সরকার। অভিযোগকারীদের দাবি, দীপক চন্দ্র সরকারের স্ত্রী, মেয়ে, ভাই ও ভাবিসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্যও ভারতের স্থায়ী বাসিন্দা ও ভোটার। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে দীপক চন্দ্র সরকার বলেন, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক এবং নিজে ভারতে ভোটার হননি। প্রাপ্ত অভিযোগের পর পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে উপজেলা রিসোর্স অফিসার মো. ঈমান উদ্দিন ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ সেপ্টেম্বর একটি তদন্ত প্রতিবেদন দেন।

    এরপর ইউএনওর নির্দেশে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজাহান আলীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ জানুয়ারি আরেকটি প্রতিবেদন জমা দেয়। একই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম ছায়েদুর রহমান বিষয়টি নিয়ে আরও একটি তদন্ত করেন। চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে ইউএনও ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী উল্লেখ করেন, ভোটার তালিকা থেকে দীপক চন্দ্র সরকারের ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকত্ব থাকার তথ্য পাওয়া যায়। এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হয়। এ কারণে বিদেশি নাগরিকের এমপিওভুক্ত পদে থাকার বিষয়টি প্রশ্নসাপেক্ষ ও বিতর্কিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এরপর খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজা গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর ও স্পর্শকাতর উল্লেখ করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রতিবেদন পাঠান। প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে নিয়োগে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ১২ জুলাই বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী ও আয়া পদে তিনজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে প্রধান শিক্ষকের ভাইপো ভবেশ সরকার এবং আয়া পদে তার আপন শালিকা লাবনী সরকার নিয়োগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    নিরাপত্তাকর্মী পদে তৎকালীন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য রবীন ঢালীর ভাগ্নে পলাশ কুমার মণ্ডলকে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ করেন। ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ জুলাই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ঝাড়ু মিছিল, মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় নিয়োগপত্র না দিয়ে পরে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ১ সেপ্টেম্বর ওই তিনজনকে বিদ্যালয়ে হাজির করা হয়। এসব নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও করেন স্থানীয় ব্যক্তিরা। তবে প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    বিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রণোদনা অনুদানের পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষক, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী এবং প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দের ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা যথাযথভাবে ব্যয় করা হয়েছে। তবে অবশিষ্ট অর্থের ব্যয়ের ক্ষেত্রে যথাযথ বিল-ভাউচার পাওয়া যায়নি বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা প্রকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তার ভাষ্য, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

    মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (বেসরকারি মাধ্যমিক-১) মো. জাকির হোসেন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারকে ১০ কার্যদিবসের সময় দিয়ে শোকজ করা হয়েছিল। তিনি প্রথম নোটিশের জবাব দেননি। পরে দ্বিতীয় দফায় নোটিশ দেওয়া হলে তিনি লিখিত জবাব দিয়েছেন। দীপক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে জানতে চাইলে মো. জাকির হোসেন বলেন, সংশ্লিষ্ট সব প্রতিবেদন মহাপরিচালকের দপ্তরে উপস্থাপন করা হবে। বিষয়টি পর্যালোচনা করে মহাপরিচালক উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন।

    দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ভারতীয় ভোটার হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকার বলেন, আমি এ দেশের নাগরিক। আমি নিজে ভারতে ভোটার হইনি। কেউ আমাকে ফাঁসানোর জন্য ভারতের ভোটার তালিকায় আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে। বিদ্যালয়ের অনুদানের অর্থ আত্মসাৎ এবং নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। তার দাবি, এসব অভিযোগ সত্য নয়।

  • শনিবার শিক্ষকদের অবসর-কল্যাণের টাকা বিতরণ শুরু

    শনিবার শিক্ষকদের অবসর-কল্যাণের টাকা বিতরণ শুরু

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি শেষ হতে যাচ্ছে। আগামী শনিবার শুরু হচ্ছে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা বিতরণ। এ উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    বৃহস্পতিবার এ অনুষ্ঠানের তথ্য এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তারেক রহমান টাকা বিতরণের বিষয়ে সম্মতি দেন।

    জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে এ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও তা বাড়িয়ে ১ লাখ ২৩ হাজার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    এর আগে, গত ৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক বৈঠকে ১ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ দিতে সম্মতি দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক উপস্থিত ছিলেন।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ দেওয়া হবে। অবসর সুবিধা বোর্ডের অর্থ পাবেন ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী। আর কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ পাবেন ৫৩ হাজার ৪৭৭ জন আবেদনকারী। আগামী শনিবার (১৫ আগস্ট) অর্থ বিতরণের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধামন্ত্রী তারেক রহমান।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আবেদনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এজন্য মোট সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। অবসর সুবিধার প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা করে পাবেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। আর কল্যাণ ট্রাস্টের ২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা পাবেন।

    জানা গেছে, শিক্ষকদের চাঁদা, ব্যাংকে জমা থাকা টাকার সুদ এবং সরকারের দেওয়া থোক বরাদ্দ ও বন্ড সুবিধার ভিত্তিতে এই টাকা দেওয়া হয়। অবসরসুবিধার জন্য চাকরিকালীন শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের ৬ শতাংশ প্রতি মাসে কেটে রাখা হয়। কল্যাণসুবিধার জন্য কাটা হয় আরও ৪ শতাংশ। ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এই হারে চাঁদা নেওয়া হয়েছে। এর আগে অবসরসুবিধার জন্য ৪ শতাংশ এবং কল্যাণসুবিধার জন্য ২ শতাংশ হারে চাঁদা নেওয়া হতো।

    এছাড়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বছরে ১০০ টাকা নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৭০ টাকা অবসরসুবিধা ও ৩০ টাকা কল্যাণসুবিধা তহবিলে জমা হয়। বাকি অর্থ সরকার এবং জমা করা অর্থের সুদ থেকে সমন্বয় করা হয়।

  • বেনাপোলে ভ্যান-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২

    বেনাপোলে ভ্যান-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    যশোরের বেনাপোলে লোহার গ্রিলবোঝাই ব্যাটারিচালিত ভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ইব্রাহিম হোসেন (৫০) নামে এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের আরোহী ও ভ্যানচালক গুরুতর আহত হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে বেনাপোল পোর্ট থানার বাইপাস সড়কের ভবারবেড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইব্রাহিম হোসেন শার্শা উপজেলার গোগা গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। আহতরা হলেন ইছাপুর দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক ফজলুল হক (৪৫) এবং ভ্যানচালক আলী কদর (৩৫)।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইব্রাহিম হোসেন তার সহকর্মী শিক্ষক ফজলুল হককে নিয়ে মোটরসাইকেলে গোগা থেকে শার্শার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে ভবারবেড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা লোহার গ্রিলবোঝাই একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

    এতে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে। দুর্ঘটনায় তিনজনই গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে ইব্রাহিম হোসেনের মৃত্যু হয়। আহত অপর দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, দুর্ঘটনাকবলিত ভ্যান ও মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • নাজমুলের পাশে প্রধানমন্ত্রী

    নাজমুলের পাশে প্রধানমন্ত্রী

    উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যখন একজন মেধাবী তরুণ আর্থিক অনিশ্চয়তার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন তার পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মো. নাজমুল হাসান। তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রদান করা হয় অনুদান। এই সহায়তা শুধু আর্থিক সহযোগিতা নয়- এটি একজন তরুণের স্বপ্ন ও মেধার প্রতি আস্থার প্রতিফলন।

    নাজমুল হাসান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স (থিসিস) পর্যায়ের শিক্ষার্থী এবং ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। পাশাপাশি তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক।

    সম্প্রতি তিনি সুইডেনের স্কোভডে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য পূর্ণ বৃত্তি অর্জন করেন। কিন্তু বিদেশযাত্রা, প্রাথমিক আবাসনসহ প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করা তার পরিবারের জন্য ছিল কঠিন। সেই সংকটের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর এই সহযোগিতা তার স্বপ্নযাত্রায় নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

    বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি গ্রামের একটি দরিদ্র পরিবারের সন্তান থেকে আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাওয়া নাজমুলের এই পথচলা হোক হাজারো স্বপ্নবান তরুণের জন্য অনুপ্রেরণা।

  • এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলটের গাঁজা সেবন প্রমানিত

    এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলটের গাঁজা সেবন প্রমানিত

    চলতি মাসের শুরুর দিকে হঠাৎ উচ্চতা কমে নিচে নেমে যাওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটের পাইলটকে ঘিরে তদন্ত হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর গাঁজা সেবনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

    ৪ আগস্ট থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে দিল্লিগামী ফ্লাইটটি ক্রুজিং উচ্চতা থেকে প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে গেলে অন্তত ২৪ জন আহত হন। অবশ্য পরে উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণ করেছে।

    বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, এ ঘটনার পর পাইলটদের ড্রাগ স্ক্রিনিং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পাইলটের প্রথম পরীক্ষার ফল জানার পর বিষয়টি নিশ্চিত করতে আরেকটি মেডিকেল পরীক্ষার প্রয়োজন পড়েছে।

    তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, দ্বিতীয় পরীক্ষার ফলাফলেও গাজা সেবনের বিষয়টি পজিটিভ এসেছে।

    কেবিন ক্রুরা এয়ার ইন্ডিয়ার কাছে এক অভিযোগে দাবি করেছিলেন, পাইলট পুরোপুরি নিজের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন না। এরপর তদন্তকারী কর্মকর্তারা উড়োজাহাজের পাইলটের আচরণ পরীক্ষা করে দেখছেন বলে জানা গেছে। উড়োজাহাজের যেকোনো ফ্লাইটে সাধারণত পাইলটের কাছেই চূড়ান্ত কর্তৃত্ব এবং আইনি দায়িত্ব থাকে।

    এয়ার ইন্ডিয়ার অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট সেফটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি অ্যালার্ট বা সতর্কসংকেত বাজার সময় পাইলট নিজের আসনে ছিলেন না; বরং কো-পাইলটের পেছনে দাঁড়িয়ে উড়োজাহাজের এয়ার-কন্ডিশনিং সিস্টেম নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখন অটো-পাইলট বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং উড়োজাহাজের সামনের অংশ ওপরের দিকে উঠে যায়।

    সে সময় কো-পাইলট উড়োজাহাজ চালাচ্ছিলেন। পরে তিনি উড়োজাহাজের সামনের অংশ নিচের দিকে নামিয়ে আনেন।

    এই কৌশলের কারণে তীব্র নেগেটিভ-জি এক্সকারশন বা ওজনহীন অবস্থার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় উড়োজাহাজটি হঠাৎ নিচের দিকে নেমে যায়। এর ফলে আলগা জিনিসপত্রের পাশাপাশি পাইলট এবং কো-পাইলটও ওপরের দিকে ভাসতে থাকেন।

    পাইলট বলেন, তিনি নিজে ওপরের দিকে ভাসতে থাকেন। একই সময় তিনি ককপিটে বিভিন্ন জিনিসপত্র এবং তাঁর কো-পাইলটকে শূন্যে ভাসতে দেখেন। তিনি কোনাকুনিভাবে কষ্ট করে নিজের আসনে ফিরে যান। সে সময়ই সিটবেল্ট বাঁধার সাইন চালু করেন।

    নিজের আসনে বেল্ট বাঁধার পর পাইলট ‘আই হ্যাভ কন্ট্রোলস’(আমার নিয়ন্ত্রণে আছে) বলে নিম্নমুখী উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন। উড়োজাহাজের গতি ও উচ্চতার ক্ষতি রোধ করে এটিকে স্থিতিশীল করতে পাইলট থ্রোটল সর্বোচ্চ কন্টিনিউয়াস থ্রাস্টে ঠেলে দেন। কিন্তু ততক্ষণে উড়োজাহাজটি প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে গিয়েছিল।

    তদন্তকারী কর্মকর্তারা উড়োজাহাজের সিস্টেমে বড় ধরনের কোনো সমস্যা ছিল কি না, তা–ও পরীক্ষা করছিলেন। ইঞ্জিনিয়ারিং লগ থেকে জানা যায়, উড়োজাহাজের হাইড্রোলিক সিস্টেমে নিম্নচাপের সংকেত দেখা দিয়েছিল।

    হাইড্রোলিক সিস্টেম উড়োজাহাজের ফ্লাইট কন্ট্রোল, ল্যান্ডিং গিয়ার, ব্রেক এবং অন্যান্য ভারী মেকানিক্যাল যন্ত্রাংশ চালনার জন্য চাপযুক্ত তরল ব্যবহার করে থাকে।

    উড়োজাহাজে অটো-পাইলট বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং এলিভেটর ত্রুটির সংকেতও রেকর্ড করা হয়েছিল। এতে দেখা যাচ্ছে, উড়োজাহাজে এর পিচ কন্ট্রোল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পিচ কন্ট্রোলের মাধ্যমে পাইলট বিমানের সামনের অংশ ওঠাতে বা নামাতে পারেন, যা বিমানটি ওপরে উঠবে, নিচে নামবে নাকি সমান্তরালে উড়বে, তা ঠিক করে।

    এয়ার ইন্ডিয়া প্রাথমিক এক বিবৃতিতে বলেছিল, ফ্লাইটটি ‘ক্রুজ অবস্থায় থাকার সময় সাময়িকভাবে ঝাঁকুনির মুখে পড়েছিল, যার ফলে উড়োজাহাজের উচ্চতায় ক্ষণস্থায়ী পরিবর্তন দেখা দেয়। এ বিষয়ে জানতে ‘দ্য ইনডিপেনডেন্ট’ উড়োজাহাজ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো ‘বর্তমানে সব প্রাসঙ্গিক প্রযুক্তিগত, পরিচালনাগত, চিকিৎসা এবং মানব-সম্পর্কিত উপাদানগুলোর সঠিক তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পরীক্ষা করে দেখছে।

    মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে উড়োজাহাজ ও তার বিভিন্ন সিস্টেমের পরীক্ষা, রেকর্ড করা ফ্লাইট ডেটা, প্রাসঙ্গিক পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ–সংক্রান্ত তথ্য, চিকিৎসা–সংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার। কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সব উপাদান ও প্রমাণাদি সম্পূর্ণভাবে পর্যালোচনা করা হবে।

    ঘটনাটি এয়ার ইন্ডিয়ার জন্য নতুন এক ধাক্কা। উড়োজাহাজ সংস্থাটি ইতিমধ্যেই সুরক্ষা-সম্পর্কিত একাধিক তদন্তের মুখে পড়েছে। ২০২৫ সালে তাদের একটি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার দুর্ঘটনায় ২৬০ জন নিহত হওয়ার পর থেকেই এই বেসরকারি বিমান সংস্থাটি ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে রয়েছে। ওই ঘটনার পর একাধিক ত্রুটি নিয়ে তদন্ত শুরু হয় এবং ভারতের বিমান চলাচল খাতে নজরদারি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

  • কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল পাবনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা

    কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল পাবনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় কৃতকার্য কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে পাবনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা। বুধবার (১২ আগস্ট ) সকাল ১১টায় মাদ্রাসার আলহাজ্ব আছির উদ্দিন সরদার মিলনায়তনে উৎসবমুখর পরিবেশে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।

    মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ইকবাল হোসাইনের সভাপতিত্বে সহকারী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আরিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আলী আজগর এবং পাবনা জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম বিশু।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে মাদ্রাসার স্কাউট সদস্যরা অতিথিদের এবং দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন। এ সময় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, দাখিল পরীক্ষায় ভালো ফলাফল শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তবে ফলাফলের পাশাপাশি জ্ঞান, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা গ্রহণ করে শিক্ষার্থীদের নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে উল্লেখ করে তিনি তাদের উচ্চশিক্ষায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

    বিশেষ অতিথি অধ্যাপক আলী আজগর বলেন, একজন শিক্ষার্থীর সাফল্যের পেছনে তার নিজের পরিশ্রমের পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তিনি বলেন, শুধু ভালো ফলাফল নয়, ভালো মানুষ হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যেতে হবে। ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে সমাজ, দেশ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    বিশেষ অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল ইসলাম বিশু বলেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড এবং নৈতিক শিক্ষাই একজন মানুষকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। তিনি কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আজকের এই সাফল্য ধরে রাখতে হলে তাদের আরও বেশি অধ্যবসায়ী হতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশপ্রেম, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে শিক্ষার্থীদের নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সচেতন মানুষের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ ইকবাল হোসাইন বলেন, শিক্ষার্থীদের এ অর্জন মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু ভালো ফলাফল অর্জন নয়; জ্ঞান, নৈতিকতা ও আদর্শে সমৃদ্ধ একটি প্রজন্ম গড়ে তোলা। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা আরও ভালো ফলাফল অর্জন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    অনুষ্ঠানে মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সদস্য মাওলানা জহুরুল ইসলাম খান, আশরাফুল আলম হেলাল, উপাধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল লতিফ,বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে

    শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পাবনার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    পরে দাখিল পরীক্ষায় বিভিন্ন স্তরে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিরা। ফুলেল শুভেচ্ছা ও ক্রেস্ট পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। শিক্ষক ও সহপাঠীরা করতালির মাধ্যমে কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান।

    জেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে শিক্ষার্থীরা দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতকার্য হওয়া দুই শতাধিক কৃতি শিক্ষার্থীদের এ সংবর্ধনা ছিল শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য আনন্দঘন একটি মিলনমেলা। অনুষ্ঠান শেষে কৃতি শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সাফল্য কামনা করা হয়।

  • চাঁদা তোলা নিয়ে সংঘর্ষ: ছাত্রদলের ৫ নেতা বহিষ্কার

    চাঁদা তোলা নিয়ে সংঘর্ষ: ছাত্রদলের ৫ নেতা বহিষ্কার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নিউমার্কেটে ফুটপাতের দোকান থেকে চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে যুবদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের এক দিন পর ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের মধ্যে একজনকে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে এবং চারজনকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    বুধবার (১২ আগস্ট) ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা কলেজ শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুলহাস মৃধাকে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই অভিযোগে যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন শিকদার, প্রিন্স খন্দকার, সদস্য সাগর খান ও মির্জা গোলাম রায়হানকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির আজ এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।এর আগে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নিউমার্কেটের বলাকা সিনেমা হলের সামনে ফুটপাতের দোকান থেকে চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যুবদলের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে নিউমার্কেট থানা যুবদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।

    এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার, মো. সুমন সিকদার, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহমান, সায়মন ইসলাম, সাগর খান ও জিহাদুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন।ঘটনার বিষয়ে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য জিহাদুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে নিউমার্কেট যুবদলের সদস্যসচিব কে এম চঞ্চলের কয়েকজন অনুসারী বলাকা সিনেমা হলের সামনে চাঁদা তুলতে আসেন। এ সময় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ জানান। প্রতিবাদ করলে তারা শিক্ষার্থীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে তারা তাদের নেতা চঞ্চলকে ফোন করেন।

    জিহাদুল ইসলাম বলেন, এরপর চঞ্চলের নেতৃত্বে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন লোক পেছন থেকে চাইনিজ কুড়াল, অন্যান্য ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এতে ঢাকা কলেজের অনেক শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে মুশফিক, খন্দকার প্রিন্স ও হাসান রয়েছেন। আরও সাত-আটজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

    তিনি আরও বলেন, তারা প্রতিদিন চাঁদা তোলেন। প্রায় ৩৫০টি দোকান থেকে চাঁদা নেওয়া হয়। হামলার সময় তার মাথা ফেটে যায়। পেছন থেকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়েছে। তার হাতও ভেঙে গেছে। এ ঘটনায় আরও আট থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন।জিহাদুল ইসলাম দাবি করেন, হামলায় আসা ব্যক্তিরা সবাই ছাত্রদলের পদধারী ও কর্মী।

    অন্যদিকে স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বলাকা সিনেমা হলের সামনের ফুটপাতে দোকান বসান নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব কে এম চঞ্চলের লোকজন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী ওই দোকান তুলে দিতে গেলে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে চঞ্চলের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন ব্যক্তি লাঠিসোঁটা ও রামদা নিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    এ খবর ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদলের শতাধিক নেতা-কর্মী নিউমার্কেটের প্রিয়াঙ্গন মার্কেট-সংলগ্ন বসুন্ধরা গলিতে চঞ্চলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক হাসান ফরাজি বলেন, সংঘর্ষে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার, সুমন শিকদার, আহ্বায়ক সদস্য সাগর খান, সায়মন ইসলাম, মুশফিকুর রহিম ও জিহাদুল ইসলামসহ অন্তত ১৫ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। আহতরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    তবে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কে এম চঞ্চল। তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তাকে নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।

    কে এম চঞ্চল বলেন, ফুটপাতে যুবদলের কিছু কর্মী ব্যবসা করেন। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের পরিচয় দিয়ে কিছু বহিরাগত সন্ত্রাসী তাঁদের মারধর করেছেন। তার কার্যালয়ও ভাঙচুর করা হয়েছে। সেখানে লুটপাট চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।এ বিষয়ে নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহসিন উদ্দিন বলেন, ফুটপাতে দোকান বসানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    ওসি মোহসিন উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • ২৫ বছরের কোন বছর কত ছিল এসএসসি’র জিপিএ-৫

    ২৫ বছরের কোন বছর কত ছিল এসএসসি’র জিপিএ-৫

    শিক্ষা ডেস্ক:

    মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট বা এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়েছে । তাতে দেখা গেছে, আগের বছরগুলোর তুলনায় এ বছর পাস ও জিপিএ-৫ পাওয়ার হার, দু’টোই কমেছে।

    বাংলাদেশের এসএসসি ও এইচএসসিসহ পাবলিক পরীক্ষাগুলোয় ২০০০-এর শুরুর দিকে পাস করা এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল হাতে গোনা।

    কিন্তু সেই চিত্র নাটকীয়ভাবে বদলে যায় গত ২৫ বছরে। বিশেষ করে ২০১৪ সাল থেকে প্রতি বছর সর্বোচ্চ গ্রেড জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে; এই সংখ্যা লাখের ঘর ছাড়িয়ে যেতো। এমনটা জানা যাচ্ছে তথ্য-পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে।

    যদিও শিক্ষাবিদরা বলছেন, যদি দেশের সব শিক্ষার্থীও পরীক্ষায় পাস করে, তাহলেও বলা যাবে না যে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা গুণগত-মান অর্জন করেছে। কারণ এই মান নির্ভর করে শিক্ষাদান পদ্ধতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা এবং মানসম্মত শিক্ষকের ওপর।

    তাদের মতে, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষেত্রে এগুলোর ঘাটতি রয়ে গেছে। কিন্তু তারপরও গত ২৫ বছরে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা এত কীভাবে বেড়েছে? আর কোন কোন ক্ষেত্রে যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে এসএসসির ফল বিবেচনা করা হয়?

    উনিশ বছরের মাঝে সর্বনিম্ন পাসের হার

    বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে প্রথম কোনো পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলো।

    সোমবার প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার এই ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, এবার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে , যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। সর্বশেষ এর চেয়ে কম পাসের হার ছিল ২০০৭ সালে, যখন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সম্মিলিত পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

    ২০০৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩২ হাজার ৬৪৬ জন শিক্ষার্থী।

    আর, এ বছর পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।

    গত বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল এক লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন।

    সে হিসেবে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর মাধ্যমিকে পাশের হার ও জিপি-৫, দু’টোই কমেছে।

    উল্লেখ্য, এ বছর ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি নিয়মিত ও অনিয়মিত শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে ফরম পূরণ করেছিলেন।

    এর মধ্যে এসএসসিতে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, দাখিলে তিন লাখ চার হাজার ২৮৬ জন এবং এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনালে এক লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন।

    তবে ফরম পূরণ করেও পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন সাড়ে ৩৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী।

    এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় গত ২১শে এপ্রিল, শেষ হয় গত ২৪শে মে।

    ছিয়াত্তর জন থেকে দুই লাখের বেশি

    বাংলাদেশে ২০০১ সালে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সনাতন পদ্ধতিতে নম্বর দেওয়ার পরিবর্তে গ্রেড পদ্ধতি চালু করা হয়। শুরুর দিকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল খুবই কম।

    গ্রেড পদ্ধতি চালুর আগে আশি নম্বর পেলে বলা হতো লেটার মার্কস। কিন্তু ওই বছর থেকে এটিকে বলা হয় জিপিএ-৫।

    স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়া প্রতিবেদন থেকে গত ২৫ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গ্রেড পদ্ধতি শুরুর বছরে মাত্র ৭৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিলো।

    পরের বছর, ২০০২ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিল৩৩০ জন শিক্ষার্থী। ২০০৩ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে হয় এক হাজার ৩৯২।

    এরপর থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।

    ২০০৪ সালে এই সংখ্যা দাঁড়ায় আট হাজার ৫৯৭ জনে। ২০০৫ সালে ১৭ হাজার ৬৩১ জন এবং ২০০৬ সালে ২৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়।

    পরবর্তী বছরগুলোতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বাড়ে।

    ২০০৭ সালে জিপিএ-৫ পায় ২৫ হাজার ৭৩২ জন শিক্ষার্থী। পরের বছর ২০০৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪১ হাজার ৯১৭ জনে এবং ২০০৯ সালে আরও বেড়ে হয় ৪৫ হাজার ৯৩৪ জন।

    ২০১০ সালে এই সংখ্যা এক লাফে বেড়ে ৫২ হাজার ১৩৪ জনে পৌঁছায়।

    ২০১১ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬২ হাজার ২৪৪ জন। ২০১২ সালে তা কিছুটা বেড়ে হয় ৮২ হাজার ২১২ জন এবং ২০১৩ সালে ৯১ হাজার ১২২ জন।

    এরপর ২০১৪ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রথমবারের মতো লাখের ঘরে চলে যায়। সে বছর মোট এক লাখ ৪২ হাজার ২৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়।

    পরের বছর ২০১৫ সালে এক লাখ ১১ হাজার ৯০১ জন জিপিএ-৫ পায়। ২০১৬ সালে পায় এক লাখ নয় হাজার ৭৬১ জন শিক্ষার্থী। ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে পায় যথাক্রমে এক লাখ চার হাজার ৭৬১ জন, এক লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন ও এক লাখ পাঁচ হাজার ৫৯৪ জন।

    ২০২০ সালে করোনা মহামারীর বছরে এই সংখ্যা ছিল এক লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮। ২০২১ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় এক লাখ ৮৩ হাজার ৩৪০ জনে, সেবার অটোপাশ দেওয়া হয়েছিল।

    এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি জিপিএ-৫ আসে ২০২২ সালে। ওই বছর দুই লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ এই গ্রেড অর্জন করে।এরপর অবশ্য সংখ্যাটি টানা কমেছে। ২০২৩ সালে জিপিএ-৫ পায় এক লাখ ৮৩ হাজার ৫৭৮ জন, ২০২৪ সালে এক লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন এবং ২০২৫ সালে এক লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। আর এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী।

    এসএসসি’র ফল কেন গুরুত্বপূর্ণ

    বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পরবর্তী ধাপের শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল গুরুত্বপূর্ণ।

    আবার কিছু চাকরি ও কারিগরি শিক্ষায় প্রবেশের ক্ষেত্রেও ন্যূনতম ফলের শর্ত রয়েছে।

    এসএসসির ফলের সবচেয়ে সরাসরি প্রভাব পড়ে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে।

    কারণ বর্তমানে একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়া অনলাইনে পরিচালিত হয়। এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় পাওয়া জিপিএ ও মোট নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি হয় এবং শিক্ষার্থীর পছন্দের তালিকা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে কলেজে আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়।

    ফলে একজন শিক্ষার্থীর ফল যত ভালো, পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগও তত বেশি।

    বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রেও শুধু এইচএসসি নয়, এসএসসির ফল বিবেচনায় নেওয়া হয়।

    বাংলাদেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণে এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএর শর্ত থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত মেধাক্রম তৈরিতেও এই দুই পরীক্ষার ফল থেকে নম্বর যোগ করা হয়।

    যেমন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের জন্য দুই পরীক্ষার জিপিএ’র যোগফল বিজ্ঞান শাখায় ন্যূনতম আট, আর মানবিক ও বাণিজ্য শাখায় ন্যূনতম সাড়ে সাত হওয়া জরুরি।

    আবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) বা মেডিক্যালে পড়ার আবেদন করতে হলে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট জিপিএ ১০ থাকতে হবে।

    এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা সরকারি ও বেসরকারি বৃত্তিও পেয়ে থাকে।

    এদিকে, যারা সাধারণ উচ্চশিক্ষার বদলে কারিগরি শিক্ষা নিতে চান, তাদের ক্ষেত্রেও এসএসসির ফল গুরুত্বপূর্ণ। কারিগরি বোর্ডে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা পর্যায়ের ভর্তির আবেদনের জন্য এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ দুই দশমিক পাঁচ থাকতে হয়। যদিও কোর্স অনুযায়ী ফলাফলের চাহিদা কখনও কখনও বাড়তে বা কমতে পারে।

    আবার, সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ভর্তির জন্য প্রার্থীর সামগ্রিক জিপিএ এবং গণিতে আলাদা জিপিএ তিন বা তার বেশি প্রয়োজন হতে পারে।

    তবে শিক্ষাখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে শিক্ষাজীবনের তুলনায় কর্ম জীবনের সংস্পর্শ কম। ফলে কর্মজীবনে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের সরাসরি ভূমিকা ‘সীমিত’। তারপরও কিছু চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে এটি যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

    যেমন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে অনেক ক্ষেত্রেই এসএসসি ও এইচএসসিতে ন্যূনতম ফলের শর্ত দেওয়া থাকে। আবার, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির বিভিন্ন চাকরিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে এসএসসি বা সমমানের সনদ চাওয়া হয়।

    তবে প্রায়ই আলোচনায় থাকা বাংলাদেশে সরকারি কর্ম কমিশন বা বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্যে এসএসসি পরীক্ষার ন্যূনতম কোনো ফলাফল থাকা জরুরি নয়।

    যেমন, ৫০ তম বিসিএস পরীক্ষার জন্য দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতেও এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার জন্য সুনির্দিষ্ট ফলাফল চাওয়া হয়নি। তবে বলা হয়েছে, “কোনো প্রার্থীর শিক্ষা জীবনে একাধিক তৃতীয় বিভাগ/শ্রেণি বা সমমানের জিপিএ থাকলে তিনি যোগ্য বিবেচিত হবেন না।”

    এর বাইরে এসএসসির সনদ অনেকের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন চাকরি, লাইসেন্স বা সনদ পাওয়ার ক্ষেত্রে এর প্রয়োজন হতে পারে।

    বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও কোনো কোনো প্রবাসী কর্মীর শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র হিসেবে এসএসসি বা সমমানের সনদ ব্যবহৃত হয়।

    ফলে এসএসসির ফলের সবচেয়ে বড় প্রভাব পরবর্তী ধাপের শিক্ষায় দেখা গেলেও, উচ্চশিক্ষা থেকে শুরু করে বৃত্তি, কারিগরি শিক্ষা এবং নির্দিষ্ট কিছু চাকরিতেও এর প্রভাব থেকে যায়।

    পাশের হার ও সর্বোচ্চ গ্রেডের সংখ্যা কমছে কেন?

    গত ২৫ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় ২০১০ সালের পর থেকে এসএসসি’র পাশের হার ও জিপিএ-৫ এর সংখ্যা ক্রমশই বেড়েছে।

    তবে গত বছর থেকে, অর্থাৎ ২০২৫ সাল থেকে এই হার অনেকাংশে কমে গেছে। দুই বছর ধরে এই যে পাশের হার ও জিপিএ ৫ এর সংখ্যা কমছে, নানাভাবে ব্যাখ্যা করছেন বিশ্লেষকেরা।

    শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের কারও কারও মতে, দুই বছর ধরে যথার্থ মূল্যায়ন হয়েছে বলেই ফলাফলে প্রকৃত চিত্র উঠে এসেছে।

    তবে ফলাফলের এই পরিবর্তনের পেছনে আরও বেশ কিছু কারণের কথা বলছেন তারা।

    যেমন– খাতা মূল্যায়নে কড়াকড়ি, বারবার কারিকুলাম পরিবর্তনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে ঘাটতি, শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, কিংবা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, “মূল্যায়নকে একটা ব্র্যান্ডিং-এর মাঝে নিয়ে গেছি আমরা। মূল জায়গায় কেউ হাত দিচ্ছে না। আমাদের দেশের শিক্ষা খাতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। প্রতিষ্ঠানগুলো (বোর্ড/এনসিটিবি) নিজেরা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সরকার যা বলে, সেটাই করে।”

    ‘অতীতে রাজনৈতিক বিবেচনায় বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতা ছিল’

    অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে এখন কলেজ, সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা অনেক এবং এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থাকার কারণে ফলাফলের পরিসংখ্যান বদলে যায়।

    “কলেজে আসন ফাঁকা থাকবে, সেজন্য আমি পাস করিয়ে দিবো? পাশের হার না বাড়লে ইউনিভার্সিটিগুলো ছাত্র পাবে কোথায়? এই পরিসংখ্যানই রেজাল্ট ঘুরিয়ে দেয়। তাই, এই রেজাল্ট দিয়ে শিক্ষার্থীরা কতটুকু শিখছে, তা নিয়ে আমি আস্থা রাখতে পারি না।”

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এস এম হাফিজুর রহমান শিক্ষাপদ্ধতি ও শিক্ষকদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

    একই সাথে তিনি এ-ও জানান, সকল শিক্ষার্থী যদি জিপিএ-৫ পায়, তাহলে তিনি খুশি হবেন। “কিন্তু যে লেভেলে তারা পাস করছে, ওই লেভেলের সামর্থ্য যেন তারা অর্জন করতে পারে।”

    জিপিএ-৫ ও পাসের হার বাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা খাতা দেখার ব্যাপারে নমনীয়তার কথা শুনি। হয়তো কারিকুলাম ছোট করা হয়েছে, প্রশ্নের ধরন চেঞ্জ হয়েছে। তবে যারা এ+ পাওয়ার, তারা ঠিকই পাচ্ছে। কেউ কেউ হয়তো পলিসিগত ইস্যুর কারণে বেশি পেয়ে যাচ্ছে।”

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মনিনুর রশিদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, অতীতে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিজেদের সফলতা দেখাতে পাশের হার ও জিপিএ-৫ বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতা ছিল।

    “মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ওভার মার্কিং বা আন্ডার মার্কিং ইস্যুতে ধিরে ধিরে একটি সঠিক জায়গায় আসার চেষ্টা করবে সরকার। এ বছর পাশের হার যতটা হয়েছে সামনের বছর এই হার এর থেকেও কম হতে পারে,” বলেছিলেন অধ্যাপক মোহাম্মদ মনিনুর রশিদ।

  • এমপিও হারাতে পারে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলো

    এমপিও হারাতে পারে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলো

    শিক্ষা ডেস্ক:

    এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। শতভাগ ফেল করা এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ২২৬টি, সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের ৫৭টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ২৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কেন একটি শিক্ষার্থীও কৃতকার্য হতে পারল না, তার মূল কারণ অনুসন্ধানে নেমেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

    ইতোমধ্যে মাদ্রাসা বোর্ডের ২২৬টি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারাও স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের জবাবদিহির আওতায় আনছেন। পাশাপাশি শিক্ষা বোর্ডগুলো প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সশরীরে ডেকে ব্যর্থতার কারণ জানার উদ্যোগ নিয়েছে। কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হলে কিংবা সন্তোষজনক জবাব না দিতে পারলে এসব প্রতিষ্ঠানের এমপিও সুবিধা বাতিল করা হতে পারে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড থেকে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগই প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত। তবে সেগুলোতে নেই কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার্থী। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫ জনের কম শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। শতাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র ৫-৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক স্কুল ও মাদ্রাসা গড়ে উঠেছে শুধু সরকারি অনুদান পাওয়ার আশায়। এসব প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই, নিয়মিত ক্লাস হয় না এবং অনেক সময় অন্য স্কুলের ফেল করা ড্রপ-আউট শিক্ষার্থীদের টাকা দিয়ে এনে নিজেদের পরীক্ষার্থী হিসেবে নিবন্ধন করানো হয়। পড়াশোনার দিকে শিক্ষকদের কোনো নজর না থাকার কারণেই মূলত উদ্বেগজনকহারে শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান বেড়েছে।

    এদিকে চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় যে ২২৬টি মাদ্রাসা থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি সেসব মাদ্রাসাপ্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। গতকাল মঙ্গলবার বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের দাখিল পরীক্ষায় যেসব মাদ্রাসা থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি, অর্থাৎ শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানকে লিখিত বক্তব্যসহ বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. ফারুক আহম্মেদের দপ্তরে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে।

    এজন্য অঞ্চলভেদে মাদ্রাসাপ্রধানদের উপস্থিতির সময়সূচিও নির্ধারণ করে দিয়েছে বোর্ড। ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের মাদ্রাসাপ্রধানদের আগামী ১৬ আগস্ট, রাজশাহী অঞ্চলের ১৭ আগস্ট এবং রংপুর অঞ্চলের প্রধানদের ১৮ আগস্ট উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের প্রধানদের ১৯ আগস্ট, খুলনা ও কুমিল্লা অঞ্চলের ২০ আগস্ট এবং বরিশাল অঞ্চলের প্রধানদের ২৩ আগস্ট লিখিত বক্তব্যসহ উপস্থিত হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এরই মধ্যে শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানগুলোকে শোকজ করতে শুরু করেছেন জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা। ঠাকুরগাঁওয়ের পাঁচটি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠান পাঁচটি থেকে মোট ২৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। এমন ফল বিপর্যয়ের ঘটনায় বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে জেলা শিক্ষা বিভাগ। বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহীন আকতার বলেন, আগামী দুদিনের মধ্যে ফল বিপর্যয়ের কারণ লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়গুলোর ফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের শূন্য পাস ৫৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৮টি প্রতিষ্ঠানই দিনাজপুর বোর্ডে। বোর্ডটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াস আহমেদ বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে আসলে শিক্ষার্থী হাতেগোনা। কোনোটিতে একজন, কোনোটিতে ৩-৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এক কথায় প্রতিষ্ঠানগুলোর দুরবস্থা। তাদের শিগগির ডেকে কারণ জানতে চাওয়া হবে। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও আলোচনা করে ব্যবস্থা নেব।

    এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমপিও সুবিধা উপভোগ করার পরও একজন শিক্ষার্থীও পাস করবে না—এমন পরিস্থিতি মেনে নেওয়া যায় না।

  • এসএসসিতে পাস করতে না পেরে ৭ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    এসএসসিতে পাস করতে না পেরে ৭ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায়, চট্টগ্রামের বাকলিয়ায়, শেরপুরের নকলায়, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে ও চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় একজন করে শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে। সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় সন্তানদের হারিয়ে কাঁদছেন তাদের বাবা-মা।

    রাজশাহীতে একজনের মৃত্যু

    রাজশাহীর বাগমারায় এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। কারিনা পাল নামের ওই ছাত্রী সোমবার এসএসসির ফল প্রকাশের পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

    কারিনা পাল উপজেলার ১১ নম্বর গনিপুর ইউনিয়নের মহব্বতপুর গ্রামের কাঞ্চন কুমার পালের মেয়ে। সে চাঁন্দেরআড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল। মেয়ের মৃত্যুর খবরে কাঁদছেন বা-মা। মৃত্যুর খবর পেয়ে তার বাড়িতে যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ, বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুর রহমান, গনিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান রঞ্জু প্রমুখ।

    জানা যায়, এসএসসির ফল প্রকাশের পর কারিনা জানতে পারে রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে ফেল করেছে। পরে নিজ ঘরে ঢুকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে মায়ের শাড়ি গলায় পেঁচিয়ে ফাঁস দেয়। উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।

    চাঁন্দেরআড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আ. আউয়াল বলেন, ‘কারিনা ছাত্রী হিসেবে ভালো ছিল। কী কারণে তার ফলাফল খারাপ হয়েছে, তা বলা কঠিন। ফলাফল খারাপ হতেই পারে; তাই বলে জীবন শেষ করে দেওয়া কোনও সমাধান নয়। সে চাইলে পরবর্তীতে আবার পরীক্ষায় অংশ নিতে পারতো।’

    বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।’

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে একজনের মৃত্যু

    শিবগঞ্জে এসএসসিতে ইংরেজিতে অকৃতকার্য হয়ে বিষপানে হালিমা খাতুন (১৬) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুরে ফল প্রকাশের পর এ ঘটনা ঘটে। হালিমা খাতুন উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের পুরাতন উনিশবিঘী গ্রামের তরিকুল ইসলামের মেয়ে। সে চাকপাড়া আদর্শ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।

    স্বজন, পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সোমবার এসএসসির ফল প্রকাশের পর হালিমা জানতে পারে ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। অন্য সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হলেও একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় হতাশ হয়ে বিষপান করে। উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনরা।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডা. শাহরিনা ইসলাম বলেন, ‘বেলা ২টা ৪০ মিনিটের দিকে হালিমাকে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।’

    শিবগঞ্জ থানার ওসি মতিউর রহমান বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার পর বিষপানে ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’

    কুষ্টিয়ায় একজনের মৃত্যু

    কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে তানিয়া জাহান (১৬) নামে এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। সোমবার রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর কুচিয়ামোড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তানিয়া জাহান কুচিয়ামোড়া গ্রামের আজাহারুল ইসলামের মেয়ে। সে বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

    পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয় তানিয়া। ফল প্রকাশের পর হতাশ হয়ে রাতে নিজ ঘরে ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসককে খবর দিলে ওই শিক্ষার্থীকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    ভেড়ামারা থানার ওসি মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, ‘লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।’

    চট্টগ্রামে একজনের মৃত্যু

    চট্টগ্রামে এসএসসিতে অকৃতকার্য হয়ে আদনানুজ্জামান নিহাল (১৯) নামে এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। মঙ্গলবার সকালে নগরের বাকলিয়া থানার কালামিয়া বাজার এলাকার নিজ বাসায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।

    আদনানুজ্জামান নিহাল পূর্ব বাকলিয়া সিটি করপোরেশন বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেয়। সে কালামিয়া বাজার এলাকার মো. আনিসুজ্জামানের ছেলে। সোমবার ফল প্রকাশের পর পাঁচ বিষয়ে অকৃতকার্য হয়। এরপর পরিবারের সদস্যদের অগোচরে নিজ বাসায় গলায় ফাঁস দেয়।

    বাকলিয়া থানার ওসি মো. জাহেদুল কবির বলেন, ‘বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওই শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এসএসসি পরীক্ষায় ফেল করায় ওই ছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। আমরাও বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।’

    শেরপুরে একজনের মৃত্যু

    শেরপুরের নকলায় এসএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ায় নিজ ঘরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে দিয়ামনি অন্তি (১৬) নামে এক পরীক্ষার্থী। সোমবার রাতে উপজেলার চন্দ্রকোণা ইউনিয়নের চরবাছুর আলগী গ্রামের সরকার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

    দিয়ামনি চন্দ্রকোনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। সে চরবাছুর আলগী গ্রামের দুলাল মিয়া মেয়ে। তিন মেয়ের মধ্যে সবার ছোট অন্তিকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ তার পরিবার।

    পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার এসএসসির ফল প্রকাশিত হলে অকৃতকার্য হওয়ায় সারাদিন মন খারাপ করে ঘরে বসেছিল। রাতে ঘরের আড়ায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। রাত ৩টার দিকে বাবা-মা ওই ঘরে গেলে ঝুলে থাকা অন্তির লাশ দেখতে পান। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা।

    নকলা থানার ওসি রিপন চন্দ্র গোপ বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষায় চার বিষয়ে অকৃতকার্য হয় অন্তি। পরিবার জানিয়েছে লজ্জা ও ক্ষোভে আত্মহত্যা করেছে। লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

    গোপালগঞ্জে একজনের মৃত্যু

    গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর অভি বিশ্বাস (১৭) নামের এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। সোমবার দুপুরে কাশালিয়া ইউনিয়নের বেদগ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    অভি বিশ্বাস উপজেলার কাশালিয়া ইউনিয়নের বেদগ্রামের গোপাল বিশ্বাসের ছেলে। সে বেদগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর মানবিক বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।

    পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর অভি জানতে পারে, সে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে। এরপর সে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে নিজ ঘরে আত্মহত্যা করে। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাকে উদ্ধার করেন।

    মুকসুদপুর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, খবর পেয়ে মুকসুদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    চাঁদপুরে একজনের মৃত্যু

    চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল শুনেই মৃত্যু হয়েছে চেড়িয়ারা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার মুন্নির। সে এসএসসি পরীক্ষায় দুই বিষয় অকৃতকার্য হয়েছে। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    মুন্নির মৃত্যু নিয়ে এলাকায় নানামুখী গুঞ্জন রয়েছে- অনেকেই জানান ফলাফল মেনে নিতে না পেরে মুন্নি আত্মহত্যা করেছে; তবে পরিবারের দাবি স্ট্রোক করে মৃত্যু হয়েছে।

    মৃত শামীমা আক্তার মুন্নি চেড়িয়ারা ষষ্ঠী বাড়ির শামীম হোসেনের মেয়ে। তার চাচা ইকবাল হোসেন জানান, ঘটনার সময় বাসায় কেউ ছিল না। মুন্নি অসুস্থ হলে আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    চেড়িয়ারা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নাজির আহমেদ জানান, মুন্নি এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক শাখা থেকে অংশ নিয়ে দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা খাতুন বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। এটি দুঃখজনক। তবে কোনও শিক্ষার্থীকে এ ধরনের পদক্ষেপ না নিয়ে লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগী হওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

  • চুয়েটের পুকুরে আরও ২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    চুয়েটের পুকুরে আরও ২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুকুরে ডুবে দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।

    বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল-সংলগ্ন পুকুরে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত শিক্ষার্থীরা হলেন, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের চমক দত্ত এবং একই বর্ষের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শান্ত দেব। তারা দুজনই সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দা।

    প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার দুপুর ১টার দিকে শান্ত ও চমক বন্ধুদের সঙ্গে কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল-সংলগ্ন পুকুরে গোসল করতে নামেন। দুপুর ১টা ২০ এর দিকে তারা পানিতে তলিয়ে যান। বিষয়টি অন্যদের নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করতে পুকুরে নেমে পড়েন। প্রায় ১০ মিনিট পর চমককে উদ্ধার করতে পারলেও অপর শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করতে লেগে যায় প্রায় ৪০ মিনিট।উদ্ধার পরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শেষে তাদের দ্রুত চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    এর দুই সপ্তাহ আগে, ২৮ জুলাই একই পুকুরে ডুবে মারা যান যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অর্ণব সাহা। সে ঘটনার রেষ কাটতে না কাটতেই আবারও দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালযয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    এদিকে, একের পর এক পুকুরে ডুবে মৃত্যুর ঘটনায় দুর্ঘটনা এড়াতে পুকুরটি সেচে ফেলার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি পুকুরটি বাঁশ দিয়ে ঘিরে দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে, নিহত দুই শিক্ষার্থীর বাড়িতে যাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দুটি বাসের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এসব বাসে নিহতদের সহপাঠীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও যেতে পারবেন।

  • জেন-জির পর ভারতে এবার জেন-আলফার বিক্ষোভ

    জেন-জির পর ভারতে এবার জেন-আলফার বিক্ষোভ

    ভারতের উত্তরপ্রদেশের হামিরপুর জেলায় স্কুলে যাওয়ার জন্য রাস্তা নির্মাণের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা অভিভাবক ও গ্রামবাসীদের সঙ্গে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার হেঁটে জেলা কালেক্টরেটের সামনে অবস্থান নেয়।

    জেন-আলফা বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভারতের স্বাধীনতার পর এখন পর্যন্ত চাঁদুপুর থেকে হামিরপুরের দিকে তাদের গ্রামের জন্য কোনো পাকা রাস্তা তৈরি হয়নি। বর্ষায় কাঁচা রাস্তা পানিতে ডুবে যাওয়ায় স্কুলে যেতে শিক্ষার্থীদের কাদা-পানি পেরোতে হয়। এতে পোশাক নোংরা ও জুতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি যাতায়াতও কঠিন হয়ে পড়ে। রাস্তার অভাবে এক শিক্ষার্থীকে স্কুল ছাড়তেও হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

    ‘কৃষক, ছাত্র ও অসুস্থরা সমস্যায়—চাঁদুপুর-হামিরপুর সড়ক নির্মাণ করো’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা পোস্টার নিয়ে শিক্ষার্থীরা দ্রুত রাস্তা নির্মাণের দাবি জানায়।

    এসডিএম অভিষেক কুমার ও সার্কেল অফিসার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। দ্রুত রাস্তার কাজ শুরুর আশ্বাস পাওয়ার পর বিক্ষোভ প্রত্যাহার করা হয়।

    এদিকে, জেন জি-র প্রতিবাদী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জেন-আলফাদের আন্দোলনের প্রশংসা করেছেন। সংগঠনটি স্বাধীনতা দিবসে গ্রামীণ সরকারি স্কুলগুলোর উন্নয়নে ‘স্কুল ঠিক করো’ নামে একটি প্রচারাভিযান শুরু করার পরিকল্পনা করেছে।

  • একাদশে ভর্তি আবেদন শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর

    একাদশে ভর্তি আবেদন শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর

    একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে এবারও পরীক্ষা নেই। ফলাফলের ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে। আবেদন শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে। ১০ নভেম্বরে মধ্যে ভর্তির কার্যক্রম শেষ করে আগামী ১২ নভেম্বর একাদশ শ্রেণিতে ক্লাশ শুরু হবে।

    কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ এবং মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

    ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, খসড়া সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণের সময় রাখা হয়েছে। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সেটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। যদি সেটি ঠিক থাকে, তাহলে সে অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু হবে।

    সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে (কলেজ ও মাদ্রাসা) ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। গতবার ভর্তি হয়েছিল মোট আসনের ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ খালি ছিল ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ। এ বছর পাশের হার আরও কমেছে। ফলে আসনসংখ্যা আরও বেশি শূন্য থাকবে।

    তবে মোট আসন খালি থাকলেও জিপিএ-৫ পেয়েও অনেকে তাদের কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে না। কারণ, তুলনামূলক ভালো প্রতিষ্ঠানে আসন কম। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন।

    গত কয়েক বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলা ফলের ভিত্তিতেই একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে শুধু কলেজ ও মাদ্রাসায় ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পৃথক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের প্রায় সব কলেজ ও মাদ্রাসায় এই পদ্ধতিতেই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়।

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে।

  • ১২০ শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ৭ জন, অনুপস্থিতির জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণকে দায়ী করলেন শিক্ষক

    ১২০ শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ৭ জন, অনুপস্থিতির জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণকে দায়ী করলেন শিক্ষক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার মৈশানী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে কাগজে-কলমে ১২০ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ১১ ও কর্মচারী ২ জন রয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সরেজমিনে বিদ্যালয়ে পাওয়া গেছে মাত্র সাত শিক্ষার্থী। ষষ্ঠ শ্রেণিতে একজন, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে কেউ নেই এবং নবম ও দশম শ্রেণিতে তিনজন করে শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।

    বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের এমন নগণ্য উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এই সংকটের কারণ হিসেবে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিকে দায়ী করেছেন বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক।

    বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পঙ্কজ কুমার মণ্ডল বলেন, ‘শিক্ষার্থী সংকটের পেছনে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাওয়া, স্বল্প সন্তান পরিবার এবং এলাকার ভৌগোলিক পরিবেশ দায়ী।’

    এদিকে বিদ্যালয়টির ২০২৬ সালের এসএসসি ফলাফল নিয়েও রয়েছে হতাশাজনক চিত্র। এ বছর ১১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র একজন। এর আগে ২০২৫ সালে আট পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল একজন। অর্থাৎ দুই বছরে ১৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র দুজন।

    গত ১০ আগস্ট বিদ্যালয়টির এসএসসি ফলাফল নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নেছারাবাদসহ পিরোজপুরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা দেখতে পান, নথিতে ১২০ শিক্ষার্থী থাকলেও নিয়মিত পাঠদানে অংশ নিচ্ছে হাতে গোনা কয়েকজন।

    এতে প্রশ্ন উঠেছে, কাগজে থাকা বাকি ১১৩ শিক্ষার্থী কোথায়? নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে যদি সাত-আটজনের বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত না থাকে, তাহলে বিদ্যালয়ের নথিতে ১২০ শিক্ষার্থীর হিসাব কীভাবে রয়েছে এ নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

    ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা পর্ষিয়া রানী হালদারও শিক্ষার্থী সংকটের পেছনে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, ওয়াশরুমের সমস্যা এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে না পারার বিষয়টি উল্লেখ করেন। এসএসসি পরীক্ষায় অন্তত ১০ থেকে ১২ পরীক্ষার্থী দেখাতে হয়। এ কারণে পাশের সপ্তগ্রাম সম্মিলনী বিদ্যালয়ের টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণ করিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

    উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিদ্যালয় থেকে ১১ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে একজন পাস করেছে। অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়টিও তার জানা আছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে তথ্য চাওয়া হবে।’

  • ফেল থেকে ঘুরে দাঁড়ানোই হতে পারে জীবনের বড় শিক্ষা

    ফেল থেকে ঘুরে দাঁড়ানোই হতে পারে জীবনের বড় শিক্ষা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর গত দুদিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ফেল করার হতাশা থেকে বেশ কজন শিক্ষার্থীর আত্মহননের খবর পাওয়া গেছে। শেরপুরের নকলায় চার বিষয়ে ফেল করে আত্মহননের পথ বেছে নেয় চন্দ্রকোনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী দিয়ামনি অন্তি (১৬)। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানিয়া খাতুন (১৬) অকৃতকার্য হওয়ার পর একই পথে হাঁটে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ইংরেজিতে ফেল করার পর চাকপাড়া আদর্শ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হালিমা খাতুন তরিকা (১৬) সোমবার দুপুরে আত্মহত্যা করে।

    রাজশাহীর বাগমারায় বিদ্যালয়ে ভালো ফল করা হিসেবে পরিচিত বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কারিনা পাল (১৬) ফেল করার পর একই ধরনের ঘটনা ঘটায়। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী অভি বিশ্বাস (১৭) অকৃতকার্য হওয়ার খবরে হতাশাগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যা করে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। দেশের আরো কয়েকটি স্থান থেকে একই ধরনের ঘটনার খবর আসছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিনুর রশিদ বলেন, দেশের বিদ্যমান ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষা ও পরীক্ষা পদ্ধতিই ফেল করা শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার জন্য অন্যতম দায়ী। ফলে এর দায় সরকার ও সমাজকেও নিতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের দেশে ১০ বছর শিক্ষাজীবনের মূল্যায়ন করা হয় কয়েক ঘণ্টার পরীক্ষার মাধ্যমে; এটা সম্পূর্ণরূপে মান্ধাতা আমলের পদ্ধতি। বিশ্ব অনেক এগিয়ে গেলেও আমরা তা গ্রহণ করছি না।

    ফলে এ থেকে বেরিয়ে আসতে হলে শিক্ষা ও পরীক্ষা পদ্ধতির আমূল পরির্তন আনতে হবে। লার্নিং আউটকাম বা স্কিল ডেভেলপমেন্ট হয়েছে কি না, তা ক্লাসরুমেই ৬০ শতাংশ মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকতে হবে। কোনো বিষয়ে ফেল করলে শিক্ষার্থীরা শুধু ওই বিষয়ে পরীক্ষা দিতে পারবেÑএমন ব্যবস্থা থাকতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ফেল মানেই জীবন শেষ নয়। কেননা, বিশ্বের অনেক বিজ্ঞানী কিংবা উদ্যোক্তা রয়েছেন, যারা জীবনে ফেল করেও সাফল্যের শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছেন। তাই শিক্ষার্থীদের হতাশ না হয়ে নিজেদের আত্মসমালোচনা করে ঘুরে দাঁড়াতে হবে।

    চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে গত সোমবার। এবার ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন; ফেল করেছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন। এবার ১১ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৬.২ শতাংশ কম এবং গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআরের সহকারী অধ্যাপক ও শিক্ষা অধিকার সংসদের সদস্য সচিব শাহনেওয়াজ খান চন্দন বলেন, দেশের বিদ্যমান শিক্ষা ও পরীক্ষা পদ্ধতিই অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের চরম হতাশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে; তাই পরীক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা জরুরি। তিনি আরো বলেন, ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তিমূলক শিক্ষাসহ বিকল্প সুযোগ তৈরি করা গেলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় ফেল করা মানে জীবনের সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়া নয়; বিশ্বে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা প্রথমবার প্রবেশিকা পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েও পরবর্তী জীবনে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছেছেন।

    এ প্রসঙ্গে সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ তাইমুর শাহরিয়ার। স্কুলজীবনে ‘ফার্স্ট বয়’ ও বৃত্তিপ্রাপ্ত এই শিক্ষার্থী ২০০১ সালে এসএসসিতে রসায়নে টানা দুবার অকৃতকার্য হন। হাল না ছেড়ে ২০০৩ সালে জিপিএ ৩.৭৫ নিয়ে পাস করার পর এইচএসসিতে জিপিএ ৪.৮০ পান; এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষে ৩৩তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সারা দেশে প্রথম স্থান অর্জন করেন। আরেক দৃষ্টান্ত সাইফুল ইসলাম সোহেল। তিনি ২০০৭ সালে প্রথমবার এসএসসিতে অকৃতকার্য হয়ে পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে ৪০তম বিসিএসে ট্যাক্স ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।

    শিক্ষাগত ব্যর্থতার পর সৃজনশীল পেশাতেও সাফল্যের নজির আছে। ওয়েব সিরিজ ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর ‘কাবিলা’ চরিত্রে পরিচিত অভিনেতা জিয়াউল হক পলাশ ২০০৯ সালে এসএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ার পর মিডিয়া অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত হন। তার মায়ের ভাষ্য, সে ব্যর্থতাই তার মধ্যে কিছু করে দেখানোর জেদ তৈরি করেছিল।

    বাংলাদেশের বাইরেও পরীক্ষার ফলকে ছাপিয়ে সাফল্যের অসংখ্য উদাহরণ আছে। আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় গণিতে মাত্র এক নম্বর পেয়েছিলেন এবং তিনবার চেষ্টা করেও ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাননি; এমনকি কেএফসির চাকরিতেও প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন। অ্যাপলের স্টিভ জবস কলেজ শেষ করেননি, মাইক্রোসফটের বিল গেটস হার্ভার্ড অসমাপ্ত রেখেই গড়েছেন বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা ধীরুভাই আম্বানি স্কুলজীবনে ছিলেন গড়পড়তা ছাত্র, আর ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল স্কুলে বারবার ফেল করেও পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন।

    শিক্ষাবিদদের মতে, এসব দৃষ্টান্তই প্রমাণ করে পরীক্ষার নম্বর বা সনদ নয়, বরং দৃষ্টিভঙ্গি, সাহস ও অবিরাম পরিশ্রমই মানুষকে সাফল্যের দিকে এগিয়ে নেয়। যারা এবার কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি, তাদের প্রতি বার্তাÑব্যর্থতা থেকে শেখা ও হাল না ছাড়াই দীর্ঘমেয়াদে সাফল্যের চাবিকাঠি। একটি পরীক্ষার ফল ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে নির্ধারণ করে না, বরং প্রতিটি ব্যর্থতার পর নতুন করে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতাই দীর্ঘমেয়াদে একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় গড়ে তোলে।

  • কোরআন ও ফুল দিয়ে সিকৃবিতে ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ সম্পন্ন

    কোরআন ও ফুল দিয়ে সিকৃবিতে ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ সম্পন্ন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক

    পবিত্র কোরআন তেলওয়াত, ইসলামী সংগীত, ফুল ও উপহারসামগ্রী হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, সিকৃবি শাখা।

    বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিলেট শহরের টি.বি গেট সংলগ্ন জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে এই বর্ণাঢ্য ‘নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

    সিকৃবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব হাসান শান্ত-এর সভাপতিত্বে এবং শাখা সেক্রেটারি তানভীর আহমেদ কনকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ আল্লাহর দেয়া একটি বড় নিয়ামত, তাই এই সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে এবং দুনিয়ার পাশাপাশি আখিরাতের জবাবদিহিতার কথাও মনে রাখতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের যুগে টিকে থাকতে হলে শুধু উপরিভাগে কাজ করলে চলবে না, বরং ‘ডিপ ওয়ার্ক’-এর মাধ্যমে গভীর মনোযোগ দিয়ে কাজ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। অপ্রয়োজনীয় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার ও মাল্টিটাস্কিং থেকে মুক্ত থেকে শিক্ষার্থীদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে মনোযোগী হতে হবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘অর্থ-সম্পদই প্রকৃত সুখের নিশ্চয়তা নয়; আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ, মানসিক প্রশান্তি এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করার মধ্য দিয়েই প্রকৃত সফলতা আসে।’

    ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জোরপূর্বক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, র‍্যাগিং ও ভয়ভীতির সংস্কৃতির তীব্র বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রাজনৈতিক দলের পৈতৃক সম্পত্তি নয়; এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের। ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রধান কাজ হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, মেন্টরিং ও অধিকার নিশ্চিত করা। রাজনীতি করা বা না করার কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন কোনো প্রকার বৈষম্যের শিকার না হয়—আমাদের এমন একটি নিরাপদ ও স্বাধীন ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে হবে।’

    বক্তব্য শেষে তিনি নবাগত শিক্ষার্থীদের মুক্ত প্রশ্নের জবাব দেন।

    অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ‘অ্যাকাডেমিক ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ সংক্রান্ত বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা পেশ করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. সুলতান আহমেদ টিপু। এছাড়া ‘চরিত্র গঠন ও নৈতিকতা’ বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় তথ্য ও মানবাধিকার সম্পাদক তানজিন হোসাইন জুয়েল।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি শহীদুল ইসলাম সাজু এবং সিকৃবি শাখার সাবেক সভাপতি এবং মহানগর অফিস সম্পাদক কলিম উদ্দিনসহ অন্যান্য সাবেক নেতারা।

    সবশেষে নবাগত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের সার্বিক সাফল্য কামনা করে এবং উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে শাখা সভাপতি রাকিব হাসান শান্ত সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

  • যশোর বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেছে সিমন

    যশোর বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেছে সিমন

    সর্বোচ্চ ১২২২ নম্বর পেয়ে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী সিমন যশোর বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। একই স্কুলের শিক্ষার্থী আহাদ হোসেন প্রিন্স ও যুখরুফ হাসনাইন ১২২০ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে তৃতীয় স্থান লাভ করেছে। আর ১২২১নম্বর পেয়ে খোকসা জানিপুর সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছে বলে জানা যায়। যশোর বোর্ডে এ সাফল্যে শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। প্রশংসায় ভাসছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কৃতি শিক্ষার্থীরা।

    প্রথম স্থান অধিকারী জেলা স্কুলের মেধাবী শিক্ষার্থী সামিউল হক সিমন যশোর মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২২২নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান লাভ করেছে।

    সিমনের পিতা জিল বাংলা সুগার মিলের জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) রকিবুল হক জানান, বিভিন্ন বোর্ডের তথ্য নিয়ে জানতে পেরেছি আমার ছেলে যশোর বোর্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে উর্ত্তীর্ণ হয়েছে। এব্যাপারে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুন্সী কামরুজ্জামান জানান, আমাদের শিক্ষার্থী সিমন যশোর বোর্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২২২নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান লাভ করেছে। আমি তার সাফল্য কামনা করি। সেই সাথে জিলা স্কুলেরা আরো ২জন শিক্ষার্থী যৌথভাবে তৃতীয় স্থান লাভ করেছে।

    এদিকে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক ও বর্তমান চুয়াডাঙ্গা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আনিসুর রহমান জানান, যশোর জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী মাহিম সর্বোচ্চ ১২১৯নম্বর পেয়ে ৪র্থ স্থান লাভ করেছে। খুলনা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলে জেনেছি যে, খুলনা জিলা স্কুলের দুজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ১২১৫ নম্বর পেয়েছে।

    আর যশোর সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাইশা সর্বোচ্চ ১২১৬ নম্বর পেয়ে মেয়েদের মধ্যে যশোর বোর্ডের প্রথম স্থান লাভ করেছে। তিনি আরো জানান, আমি কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী সিমনের নম্বর পত্র দেখেছি সে ১২২২ নম্বর তাতে সিমনের নম্বরটি যশোর শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর হবে।

    যশোর শিক্ষাা বোর্ডের উপ-পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) জানান, বোর্ডের মাধ্যমে মেধা তালিকা বাছাই করা সম্ভব হয়নি। তাই মেধা তালিকা নিয়ে আমাদের সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য নেই।

    কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডের নিজ ফ্লাটে সিমনের সাথে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। সিমন মহান সৃষ্টিকর্তার শোকরিয়া জ্ঞাপন করে বলেন, নিমমাবর্তিতার মধ্যে দিয়ে লেখাপড়া করেছি। সময় নষ্ট না করে লেখাপড়ার প্রতিমনোযোগী হওয়ার ফলে আজকের এই কাংখিত ফলাফল।

    সে জানায়, পিতা-মাতার পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষকেরা তাকে সহযোগিতা করেছেন। সিরিয়াসনেস না থাকলে ভাল কিছু করা অসম্ভব। তাই আমি লেখাপড়াকে সিরিয়াস হিসেবে নিয়েছিলাম। সে লেখাপড়ার পাশাপাশি গনিত অলিম্পিয়াডে জাতীয় পর্যায়ের পদক অর্জন করেছে। বাসার শোকেচে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পদক ক্রেষ্ট দেখা গেল। অবসরে বই পড়ে সময় কাটে সিমনের। সিমনের মা শামীমা আহমেদ জানান, সিমন ছোট বেলা থেকেই লেখাপড়ায় ভাল ফলাফল অর্জন করে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় সে যশোর জেলার প্রথম স্থান অধিকার করে। আমরা দারুন খুশি। আশা করি পরবর্তিতে আরো ভাল ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে সে আমাদেও সম্মানকে সমুজ্জল করবে।

    নিয়োমিত পড়ালেখা এবং বই পড়ার মাধ্যমে অবসর সময় কাটাই। সিমন বুয়েট থেকে উচ্চতর ডিগ্রী নিতে আগ্রহী। সিমনের মা সমাজসেবা অধিদপ্তরে কর্মরত। সিমনের পিতা রকিবুল হক জানান, ছেলের ফলাফলে আমরা দারুন খুশি এবং তৃপ্ত। তার মেধা, আত্ম বিশ্বাস,অক্লান্ত পরিশ্রম,কঠোর অধ্যবসায় ও নিয়মাবর্তিতাই তাকে গৌরবময় ফলাফল অর্জনে সহায়তা করেছে। ওর স্বপ্ন বিজ্ঞানী হয়ে দেশ গড়ার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করবে। তিনি আরো বলেন সিমনের এই সাফল্যের পিছনে তার মায়ের ভুমিকা অনেকাংশে প্রশংসার দাবী রাখে। সন্তানকে সর্ব সময়লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ করে তুলতে সে সাংঘাতিক কৌশলী ভুমিকা রেখেছে।

  • তিন ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

    তিন ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে ডিআইটি মার্কেট-সংলগ্ন এলাকায় ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি অস্থায়ী মেলাকে ঘিরে জনভোগান্তি, অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছিল। মেলার স্টল থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় এবং অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুবেল এবং কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে।

    ঈদের আগে শুরু হওয়া মেলাটি প্রায় আড়াই মাস ধরে চললেও কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট ঘোষণা নেই বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, মেলার কারণে ডিআইটি মার্কেট ও লক্ষ্মীবাজার এলাকার গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের পথের একটি বড় অংশ দখল হয়ে গেছে। এতে পথচারী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিয়মিত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

    বুধবার (১২ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, ডিআইটি মার্কেট-সংলগ্ন এলাকায় মেলার স্টল বসানো হয়েছে।

    মেলার এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সেখানে মোট চারটি স্টল রয়েছে। প্রতিটি স্টল থেকে প্রতিদিন ৩ হাজার ৩৫০ টাকা করে নেওয়া হয়।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার বলেন, ‘প্রতিদিন স্টল ভাড়া বাবদ ৩ হাজার ৩৫০ টাকা দিতে হয়। মেলা শুরুর পর থেকেই নিয়মিত এই টাকা নেওয়া হচ্ছে। ছাত্রদলের জসিম, রুবেল ও নাজমুল আমাদের মালিকদের কাছ থেকে টাকা নেন। আমরা তাদের টাকা দিয়ে থাকি।’

    ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মেলা পরিচালনার সঙ্গে কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের দাবি, তিন নেতার নেতৃত্বে প্রতিটি স্টল থেকে প্রতিদিন ৩ হাজার ৩৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। তবে এই অর্থ আদায়ের বৈধ অনুমোদন বা লিখিত নথি দেখাতে পারেননি ব্যবসায়ীরা।

    এলাকাবাসীর অভিযোগ, মেলায় ব্যবহৃত দোকানগুলোতে অনুমোদনহীনভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, যথাযথ অনুমোদন ছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

    মেলার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। লক্ষ্মীবাজার ও জনসন রোড সংযোগকারী এই পথ দিয়ে মহানগর মহিলা কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার্স গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সেন্ট গ্রেগরিজ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত যাতায়াত করেন।

    সেন্ট গ্রেগরিজ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এখানে কোচিং সেন্টার ছিল। মেলা ও মার্কেটের জায়গা দখলের কারণে কোচিং সেন্টারের কক্ষগুলো ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। পুরো মার্কেটই দখল করে নেওয়া হয়েছে।’

    সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থী ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, ‘এ ধরনের মেলা করতে হলে নির্ধারিত জায়গা ও নির্দিষ্ট সময় থাকা উচিত। প্রায় আড়াই মাস ধরে চলা মেলাটি দেখে মনে হচ্ছে, অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যেই এটি চালানো হচ্ছে।’

    ডিআইটি মার্কেটের পাশের এক ফুটপাত ব্যবসায়ী বলেন, ‘মেলার কারণে আমাদের ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক সময় আমাদের দোকানের সামনেও ভিড় জমে যায়।’

    অভিযোগের বিষয়ে কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমার নামে অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিত। আমরা এই এলাকায় রাজনীতি করি বলে একটি মহল আমাদের নামে এসব অভিযোগ দিচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছুই আমি জানি না।’

    সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুবেল বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে অবগত নই। আমরা বিষয়টি জানার পর তাদের আলটিমেটাম দিয়েছি। দোকান না সরালে আমরা গিয়ে ভেঙে দেব—এ কথা বলেছি। তাঁরা সম্ভবত দোকান উঠিয়ে চলে যাবে। তা না হলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

    সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনকে ফোন করা হলে তিনি একটি প্রোগ্রামে আছেন জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান।

    স্থানীয় বাসিন্দারা মেলার বৈধতা, অর্থ আদায়, অবৈধ দখল ও বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  • সমকামিতার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে ২ ছাত্র বহিষ্কার

    সমকামিতার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে ২ ছাত্র বহিষ্কার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রের বিরুদ্ধে সমকামিতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। অভিযোগ ওঠার পর তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন- আফিফ হাসান নীরব ও আরিফুল হক শুভ। আফিফ হাসান নীরব ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ। আরিফুল হক শুভ মার্কেটিং বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি নেত্রকোনা।

    এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেখ মুজিবুর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আহমেদ আল সাবাহ।

    তিনি জানান, শেখ মুজিবুর রহমান হলের ২০২৫-২৬ সেশনের দুজন আবাসিক ছাত্রের বিরুদ্ধে গুরুতর সামাজিক শৃঙ্খলাভঙ্গের (সমকামিতা) প্রমাণিত অপরাধের ভিত্তিতে কঠোরতম প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

    অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় তাদের হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। স্থানীয় অভিভাবকের উপস্থিতিতে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

    তিনি আরো জানান, বিষয়টি এখানেই শেষ নয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে আরো কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান। তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব বাতিলের বিষয়টিও যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে নিশ্চিতের প্রক্রিয়া চলমান।

    জানা গেছে, এ বিষয়ে প্রথম অভিযোগ এলে অভিযোগকারী ছাত্রের পক্ষে আদিষ্ট হয়ে প্রশাসন বরাবর শাস্তির আবেদন করেন হল সংসদের জিএস আহমেদ আল সাবাহ। পরে তদন্ত কমিটি গঠন হয় এবং ঘটনার অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যাওয়ার ফলে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হয়।

    এর আগে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মাস্টারদা সূর্য সেন হলে সমকামিতায় জড়ানোর অভিযোগে আটক হওয়া এক শিক্ষার্থীকে হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে তাকে তার বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টার জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

  • চৌগাছার তৌফিকা   সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করতে চাই 

    চৌগাছার তৌফিকা   সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করতে চাই 

    চৌগাছা প্রতিনিধি

    কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে যশোরের চৌগাছা উপজেলার চুটারহুদা গ্রামের তৌফিকা তারিক জানান। সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

    তৌফিকা চুটারহুদা গ্রামের তারিকুল ইসলাম ও তহমিনা খাতুন দম্পতির মেয়ে। তার বাবা তারিকুল ইসলাম বর্তমানে গ্রামীণফোনের যশোর রিজিওনাল হেড হিসেবে কর্মরত। এর আগে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একই দায়িত্বে ছিলেন।

    ছোটবেলা থেকেই সফটওয়্যার ও প্রযুক্তির প্রতি তৌফিকার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। ভবিষ্যতে মানবিক উদ্যোক্তা হয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রযুক্তির জ্ঞান কাজে লাগিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তার জীবনের লক্ষ্য।

    তৌফিকার বাবা তারিকুল ইসলাম বলেন, “মেয়ের এই সাফল্যে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তৌফিকা যেন তার মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে একজন সৎ, মানবিক ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। তার স্বপ্ন পূরণের পথে আমরা সবসময় পাশে থাকব। সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন।”

  • যশোরে সাংবাদিক সন্তানদের সাফল্য

    যশোরে সাংবাদিক সন্তানদের সাফল্য

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে যশোরের সাংবাদিক পরিবারের সন্তানরা কৃতিত্বপূর্ণ ফল অর্জন করে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখেছে। কেউ জিপিএ-৫, কেউ গোল্ডেন জিপিএ-৫ এবং কেউ সন্তোষজনক ফলাফল অর্জন করে ভবিষ্যৎ জীবনের স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। তাদের এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।

    বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে জিহান আন নুর রকিব। সে ভবিষ্যতে একজন দক্ষ আর্কিটেক্ট হয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে চায়। জিহান প্রেসক্লাব যশোর ও সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সদস্য, দৈনিক সুবর্ণভূমির স্টাফ রিপোর্টার রকিব হোসেন স্বপন এবং ব্যাংকার মনিকা পারভীন চৌধুরীর একমাত্র সন্তান। সে সকলের দোয়া কামনা করেছে।

    যশোর ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী কাজী সাদিয়া মেহেজাবিন এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তিনি প্রেসক্লাব যশোরের সদস্য কাজী এ এন এম নুরূজ্জামানের কন্যা। তাঁর মা সেলিনা আক্তার একজন সরকারি চাকরিজীবী।

    সাদিয়া জানান, ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করাই তাঁর লক্ষ্য। এজন্য তিনি সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

    যশোর জিলা স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে অংশ নিয়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে সাবিদুর রেজা খান। সে সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সদস্য আবিদুর রেজা খান ও নাজমুন নাহারের ছেলে। ভবিষ্যতে একজন প্রকৌশলী হয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চায় সাবিদুর। উচ্চশিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে একজন সফল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছে সে।

    সেবাসংঘ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৭৮ অর্জন করেছে মোছা. মুসলিমা আমিন। তিনি সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সদস্য রুহুল আমিন ও নূরজাহানের কন্যা। মুসলিমা ভবিষ্যতে মানুষের সেবামূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে চায় এবং সবার দোয়া কামনা করেছে।

    যশোর জিলা স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল অর্জন করেছে মোস্তানূর রহমান সাক্ষর। তিনি সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও দৈনিক সুবর্ণভূমির স্টাফ রিপোর্টার গোলাম মোস্তফা এবং নূরজাহান আরা নীতির ছেলে। সাক্ষর জানায়, ভালো মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।

    অন্যদিকে, যশোর বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে সাদিয়া শবনম সরণি। তিনি সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাবেক সভাপতি শহিদ জয় ও মরহুমা শামীমা আক্তার স্বপ্নার কন্যা। সরণির পিতা জানান, গত ৩০ ডিসেম্বর মায়ের মৃত্যু হলেও সেই গভীর শোককে শক্তিতে পরিণত করে সরণি পড়াশোনা চালিয়ে গেছে। শিক্ষক, আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতায় সে এই সাফল্য অর্জন করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তার জন্য সকলের দোয়া কামনা করা হয়েছে।

    সাংবাদিক পরিবারের এসব মেধাবী শিক্ষার্থীর সাফল্যে সহকর্মী সাংবাদিকদের মধ্যেও আনন্দের সঞ্চার হয়েছে। তাদের স্বপ্ন পূরণের মধ্য দিয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে—এমন প্রত্যাশা সবার।