ঢাকা বিভাগ

  • অক্টোবর শুরু হচ্ছে স্থানীয় নির্বাচন

    অক্টোবর শুরু হচ্ছে স্থানীয় নির্বাচন

    নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও পৌরসভা নির্বাচনের আয়োজন করা হতে পারে।

    নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সরকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শেষ করা সম্ভব হবে। রাজধানীর নির্বাচন ভবনে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেন, পর্যায়ক্রমে সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে।

    রহমানেল মাছউদ বলেন, বর্তমানে স্থানীয় সরকারের প্রায় সব স্তরের নির্বাচন বাকি রয়েছে। সংবিধান ও আইনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এসব নির্বাচন পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করতে হবে। কমিশন ইতোমধ্যে অক্টোবরকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে।

    তিনি বলেন, কোন স্তরের নির্বাচন আগে হবে, সে বিষয়ে কমিশনের আনুষ্ঠানিক কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বাস্তবতা ও প্রশাসনিক প্রয়োজন বিবেচনায় প্রথমে ইউপি এবং পৌরসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। উপজেলা পরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের গুরুত্ব রয়েছে। তাই এ দুটি নির্বাচন আগে সম্পন্ন করে পরবর্তী সময়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান।

    নির্বাচন কমিশনার মাছউদ বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারণে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে পাবলিক পরীক্ষা, ধর্মীয় উৎসব ও আচার-অনুষ্ঠান, বর্ষা মৌসুম এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক ও যোগাযোগ পরিস্থিতি। এসব বিষয় পর্যালোচনা করেই কমিশন চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণা করবে।

    সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনো এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি এবং সরকারের পক্ষ থেকেও কমিশনের কাছে কোনো চিঠিও আসেনি। তবে কমিশন নিজস্ব উদ্যোগে সব ধরনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হলে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।

    সবধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করতে কত সময় লাগতে পারে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ এবং সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে।

    এই নির্বাচন কমিশনার জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষ্যে আইন, বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আচরণবিধির খসড়া ইতোমধ্যে কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মতামত আহ্বান করা হয়েছে। প্রাপ্ত মতামত যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সংযোজন ও বিয়োজন করা হবে।

    তিনি আরো বলেন, সংশোধিত বিধিমালায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বাড়ানো হবে। অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ থাকছে না। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে না। পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থাও থাকছে না। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের মতো পোস্টার ব্যবহারও থাকবে না।

    বর্তমানে কতটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, প্রায় সাড়ে ৪ হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং আনসার সদস্যদের দায়িত্বে নির্বাচন পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন অঞ্চলভিত্তিক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি ধাপের অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে পরবর্তী ধাপের নিরাপত্তা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রহমানেল মাছউদ বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং গণমাধ্যম নির্বাচনটিকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেই মান বজায় রাখতে কমিশন সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে এবং এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম ও ভোটারদের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।

    তিনি আরো বলেন, অতীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলোতে তুলনামূলক বেশি সংঘাত ও সহিংসতা দেখা গেছে। কারণ এসব নির্বাচন প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয়। কমিশন এবার সহিংসতা কমিয়ে এনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেবে।

    এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি সংসদে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কমিশন প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলেও তিনি জানান।

  • সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনছে এনসিপি, ফেব্রুয়ারিতে প্রথম কাউন্সিল

    সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনছে এনসিপি, ফেব্রুয়ারিতে প্রথম কাউন্সিল

    ডেস্ক নিউজ : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রথম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামী বছরের শুরুর দিকে। গত বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দলটি যাত্রা শুরু করে এক বছরের কম সময়ের ব্যবধানে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন লাভ করে। নিবন্ধন পাওয়ার পর প্রথম জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিয়ে জোটগতভাবে ছয়টি আসন লাভ করে। সংরক্ষিত নারী আসনে রয়েছে দলটির আরও দুই নারী প্রতিনিধি। সব মিলে জাতীয় সংসদেও ৩৫০ আসনের মধ্যে নতুন এই দলটির রয়েছে ৮টি আসন। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায় প্রথম কাউন্সিল করতে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত গড়াতে পারে। তবে তার আগেই দলের কাঠামোতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হতে পারে। বর্তমানে সাংগঠনিক কাঠামোতে এনসিপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব এবং মুখ্য সমন্বয়ক, মুখ্য সংগঠক (২ জন), মুখপাত্র, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক (২ জন), জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব (২ জন) ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক এই ১১টি শীর্ষ পদ রয়েছে। যদিও দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরামে এই পদগুলো নয়, দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরামে বর্তমানে ১৮ জন সদস্য রয়েছেন। দলটি এই ফোরামের নাম রেখেছে ‘পলিটিক্যাল কাউন্সিল’ বা পিসি। কেন্দ্রীয় কাঠামোতে ১১টি গুরুত্বপূর্ণ পদ থাকলেও মূলত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয় পিসিতে। নতুন কাউন্সিলের আগে দলটির কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আর এই পরিবর্তনের ফলে গুরুত্বপূর্ণ পদ ১১টির স্থলে ৬টিতে দাঁড়াতে পারে। সেক্ষেত্রে আহ্বায়ক, সদস্যসচিব, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক (২ জন) ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব (২ জন) এই ছয়টি পদ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে দলটির নীতিনির্ধারকরা এসব পদকে গুরুত্বপূর্ণ পদ বলতে নারাজ। তারা বলছেন, সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আসছে এটা ঠিক, তবে দল চলবে পলিটিক্যাল কাউন্সিলে গৃহিত সিদ্ধান্ত মোতাবেক।

    পলিটিক্যাল কাউন্সিল কী, কারা আছেন এ ফোরামে
    এনসিপির ‘পলিটিক্যাল কাউন্সিল’ বা রাজনৈতিক পর্ষদ হচ্ছে দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। এই ফোরামেই দলের সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গৃহিত হয়। এই ফোরামের বাইরের এককভাবে দলীয় সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না। দলটির সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ এই ফোরামে এখন ১৮ জন সদস্য রয়েছেন। এরা হচ্ছেন দলটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও আরিফুল ইসলাম আদীব, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব নাহিদা সারওয়ার নিভা ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ দলটির পলিটিক্যাল কাউন্সিল সদস্য। এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুই ধাপে আরও আট জন নেতা। প্রথম ধাপে যুক্ত হয়েছে, সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ ও আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল আমিন। এরপর গত ১১ জুন গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, সারোয়ার তুষার ও আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম সদস্যসচিব আকরাম হুসাইন সিএফ ও সালেহ উদ্দিন সিফাত, এবং যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতুকেও পলিটিক্যাল কাউন্সিলে যুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে নতুন এই দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্য সংখ্যা এখন ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

    কবে হচ্ছে প্রথম কাউন্সিল
    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ওই অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে থাকা শিক্ষার্থীদের একটি অংশের উদ্যোগেই গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে এনসিপি। চলতি বছরের ‘২৮ ফেব্রুয়ারি এনসিপির এক বছর পূর্তি উৎসব পালিত হয়।’ আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি দলটির দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি হতে যাচ্ছে। ওই সময়টাতে দলটির কাউন্সিল আয়োজনের চিন্তা করছে শীর্ষনেতারা। যদিও এসব বিষয় এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দলটি চাচ্ছে কাউন্সিল করার আগে দলের গঠনতন্ত্র চূড়ান্ত করতে, সেটি এখনও সম্ভব হয়নি। দল পরিচালনায় গঠনতন্ত্রের একটি খসড়া ইতোমধ্যে তৈরি করা হয়েছে বলে দলটির সিনিয়র নেতারা জানিয়েছেন। সেই খসড়া সম্ভাব্য প্রথম কাউন্সিলে পাশ করা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন নেতারা। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ দলটির দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিকে ঘিরে কাউন্সিল হওয়ার সম্ভাবনার কথা নেতারা জানালেও তা এখনও কেউ নিশ্চিত করে বলছেন না।

    এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও পলিটিক্যাল কাউন্সিল সদস্য সারোয়ার তুষার জানিয়েছেন, এনসিপি এখন যে কাঠামোতে চলছে সেই কাঠামোতে কিছুটা পরিবর্তন আসবে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো দলে আহ্বায়ক কমিটি থাকলে আহ্বায়ক, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়ক থাকে। সদস্য সচিব পদের পর যেভাবে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ও যুগ্ম সদস্য সচিব থাকে সেভাবেই পদগুলো থাকবে। এখন যেমন মুখ্য সংগঠক পদ রয়েছে, এ পদ থাকছে না।

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদীন শিশির বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য দলের একটি নীতিনির্ধারণী ফোরাম রয়েছে। এনসিপির এই ফোরামের নাম হচ্ছে পলিটিক্যাল কাউন্সিল বা পিসি। এই কাউন্সিলেই গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত হয়। এর বাইরে সিদ্ধান্তগ্রহণকারী কোনো নীতিনির্ধারণী ফোরাম নেই এনসিপিতে। তবে দলের বর্তমান কাঠামোতে কিছুটা পরিবর্তন আসার কথা জানিয়ে জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন, এনসিপির পরিচালনায় গঠনতন্ত্র এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আগামী কাউন্সিলে খসড়া তৈরি হওয়া গঠনতন্ত্র পাশ হওয়ার কথা রয়েছে।

  • মালচিং পদ্ধতিতে অসময়ে তরমুজ চাষ, পাকুন্দিয়ায় কৃষকদের নতুন সম্ভাবনা

    মালচিং পদ্ধতিতে অসময়ে তরমুজ চাষ, পাকুন্দিয়ায় কৃষকদের নতুন সম্ভাবনা

    সাধারণত চৈত্র থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত দেশের বাজারে তরমুজের সরবরাহ বেশি থাকে। তবে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারে এখন আর তরমুজ শুধুমাত্র গ্রীষ্মকালীন ফল নয়; বছরের অন্যান্য সময়েও বাণিজ্যিকভাবে এ ফল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।

    বিশেষ করে মালচিং, মাচা পদ্ধতি, উন্নত পানি ব্যবস্থাপনা এবং কৃষি বিভাগের কারিগরি সহায়তার সমন্বয়ে বর্ষা মৌসুমেও সফলভাবে তরমুজ উৎপাদন করছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকরা। সেই ধারাবাহিকতায় কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় অফ-সিজনের তরমুজ চাষ কৃষিতে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

    কয়েক বছর আগেও বর্ষাকালে যেসব জমি জলাবদ্ধতার কারণে অনাবাদি পড়ে থাকত, বর্তমানে সেই জমিতেই উৎপাদিত হচ্ছে উন্নতমানের সুস্বাদু তরমুজ। একজন কৃষকের সফল উদ্যোগ এখন পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। তার দেখাদেখি অনেক কৃষক ধানসহ প্রচলিত কম লাভজনক ফসলের পরিবর্তে অসময়ের তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন।

    পাকুন্দিয়া উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের ঘাগড়া গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বর্তমানে এ এলাকার অফ-সিজনের তরমুজ চাষের পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত। কয়েক বছর ধরে তিনি পরীক্ষামূলকভাবে মালচিং ও মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করে ধারাবাহিকভাবে সফলতা অর্জন করছেন। প্রথমদিকে স্বল্প পরিসরে শুরু করলেও এখন তিনি বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন। গত বছর মাত্র ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ জমিতে তরমুজ আবাদ করে প্রায় ৯০ থেকে ৯২ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেন। সেই সফলতায় অনুপ্রাণিত হয়ে চলতি মৌসুমে তিনি প্রায় ৮২ থেকে ৮৪ শতাংশ জমিতে অফ-সিজনের তরমুজ চাষ করেছেন।

    বর্তমানে তার ক্ষেতজুড়ে ঝুলছে শত শত বড় আকৃতির তরমুজ। প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কৃষক, কৃষি উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী, ফলচাষি এবং সাধারণ মানুষ তার ক্ষেত দেখতে আসছেন। অনেকে সরাসরি মাঠে এসে চাষাবাদের কৌশল, মালচিং প্রযুক্তির ব্যবহার, মাচা তৈরির পদ্ধতি, পরিচর্যা, রোগবালাই দমন, উৎপাদন ব্যয় এবং সম্ভাব্য লাভ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছেন। ফলে তার ক্ষেত এখন অনেকটা কৃষকদের জন্য একটি উন্মুক্ত শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো জমিতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি অনুসরণ করে মালচিং পলিথিন বিছানো হয়েছে। প্রতিটি সারির ওপর বাঁশ ও দড়ি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে শক্তপোক্ত মাচা। সেই মাচাজুড়ে বিস্তৃত হয়েছে সবুজ লতা। লতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে অসংখ্য সবুজ ডোরাকাটা তরমুজ। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, যেন সবুজের বুকে ঝুলছে শত শত ফলের মালা। প্রতিটি গাছে তিন থেকে চারটি করে তরমুজ রয়েছে এবং প্রতিটির ওজন প্রায় চার থেকে পাঁচ কেজি। ভারী ফলের চাপ সামলাতে প্রতিটি তরমুজ আলাদা করে জালি বা নেট দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে, যাতে ঝড়-বৃষ্টি কিংবা অতিরিক্ত ওজনের কারণে ফল ছিঁড়ে পড়ে নষ্ট না হয়।

    ক্ষেতজুড়ে রয়েছে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। কোথাও আগাছার অস্তিত্ব নেই। মালচিং পলিথিন ব্যবহারের ফলে মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকছে, আগাছা জন্মাতে পারছে না এবং সারের অপচয়ও কম হচ্ছে। একই সঙ্গে বৃষ্টির অতিরিক্ত পানি সরাসরি গাছের গোড়ায় জমে না থাকায় গোড়া পচা রোগের ঝুঁকিও কমে গেছে। নিয়মিত সেচ, সুষম সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের কারণে প্রতিটি গাছ সুস্থ ও সবলভাবে বেড়ে উঠেছে। অধিকাংশ তরমুজ ইতোমধ্যে পরিপক্ব হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বাজারজাত করা হবে।কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মালচিং প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা সম্ভব হয়, আগাছা কম জন্মায়, সারের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় এবং অতিরিক্ত পানি জমে গাছের গোড়া পচে যাওয়ার আশঙ্কা কমে। অন্যদিকে মাচা পদ্ধতিতে লতা ওপরে ওঠানো হলে ফল মাটির সংস্পর্শে আসে না। ফলে ছত্রাকজনিত রোগ, পচন ও কীটপতঙ্গের আক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এতে ফলের আকার, রং, স্বাদ ও গুণগত মান ভালো থাকে এবং বাজারে বেশি দাম পাওয়া যায়।

    জানা গেছে, এ পদ্ধতিতে চারা রোপণের মাত্র ৫৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যেই তরমুজ সংগ্রহ করা যায়। বর্ষাকালে সঠিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা, মালচিং এবং নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে মৌসুমের বাইরেও বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ উৎপাদন সম্ভব। বর্তমানে বাজারে অফ-সিজনের তরমুজের সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় এর চাহিদা ও দাম দুটোই বেশি। ফলে কৃষকরা মৌসুমের তুলনায় অনেক ভালো মূল্য পাচ্ছেন। কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, এ কারণেই ধানসহ তুলনামূলক কম লাভজনক ফসলের পরিবর্তে কৃষকরা এখন লাভজনক বিকল্প ফসল হিসেবে অসময়ের তরমুজ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

    কৃষক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, “গত বছর ১৭-১৮ শতাংশ জমিতে তরমুজ চাষ করে প্রায় ৯০ থেকে ৯২ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার প্রায় ৮২ থেকে ৮৪ শতাংশ জমিতে চাষ করেছি। এতে আমার মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এক সপ্তাহের মধ্যেই তরমুজ বিক্রি শুরু করব। বর্তমানে প্রতি কেজি প্রায় ৫০ টাকা দাম পাওয়া যাচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি হবে বলে আশা করছি। খরচ বাদ দিয়েও ২ লাখ টাকার বেশি লাভ হবে।”তিনি আরও বলেন, “আমি ধাপে ধাপে তিনটি প্লটে তরমুজ চাষ করেছি। এক প্লটের তরমুজ বিক্রি শেষ হলে পাশের জমিতে আবার নতুন করে চাষ করব। বর্ষাকালে এ জমিতে ধান চাষ করা সম্ভব হয় না। তাই মাচা তৈরি করে তরমুজ চাষ করছি। প্রতিটি তরমুজ নেট দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে, যাতে পড়ে নষ্ট না হয়। আমার সফলতা দেখে আশপাশের অনেক কৃষক এখন তরমুজ চাষ শুরু করেছেন। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আমার ক্ষেত দেখতে আসছেন এবং চাষাবাদের বিভিন্ন বিষয় জানতে চাইছেন।”

    একই গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম বলেন, “আমি তরমুজ চাষে নতুন। আলাউদ্দিন কাকাসহ এলাকার কয়েকজন কৃষকের সফলতা দেখে আমিও প্রায় এক বিঘা জমিতে অফ-সিজনের তরমুজ চাষ করেছি। আগে এই জমিতে ধান চাষ করতাম, কিন্তু ধানে উৎপাদন খরচের তুলনায় লাভ খুবই কম। তাই বেশি লাভের আশায় তরমুজ, শসাসহ লাভজনক ফসলের চাষে ঝুঁকেছি। আশা করছি ভালো ফলন ও ন্যায্য দাম পেলে লাভবান হতে পারব।”

    আরেক কৃষক রতন বলেন, “ধান চাষ করে এখন আর তেমন লাভ হচ্ছে না। বৃষ্টি-বাদলের কারণে অনেক সময় উৎপাদনও কমে যায়। পাশের কৃষকদের অফ-সিজনের তরমুজ চাষে ভালো ফলন ও লাভ হতে দেখে আমিও আগ্রহী হয়েছি। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও উন্নতমানের বীজ নিয়ে এবার তরমুজ চাষ শুরু করার পরিকল্পনা করেছি। আশা করছি এতে ভালো লাভবান হতে পারব।”

    সাবেক ইউপি সদস্য ফরিদ উদ্দীন বলেন, “আলাউদ্দিন প্রতি বছরই অফ-সিজনে তরমুজ চাষ করে ভালো ফলন ও লাভ পাচ্ছেন। তার সফলতা দেখে এলাকার অনেক কৃষকও এ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। সরকার ও কৃষি বিভাগ যদি উন্নত বীজ, প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং সহযোগিতা দেয়, তাহলে আরও অনেক কৃষক তরমুজ চাষ করে লাভবান হতে পারবেন। এতে কৃষকের আয় যেমন বাড়বে, তেমনি দেশেও মৌসুমের বাইরে তরমুজের সরবরাহ নিশ্চিত হবে।”

    কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের এলাকার উৎপাদিত তরমুজ খুবই সুস্বাদু ও মিষ্টি। আমরা নিজেরা যেমন খাই, তেমনি আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতেও উপহার হিসেবে পাঠাই। মৌসুমের বাইরে উৎপাদিত হওয়ায় বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়। ধানসহ অন্যান্য প্রচলিত ফসলের তুলনায় তরমুজ চাষে লাভও বেশি। তাই এখন অনেক কৃষক এই ফসলের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন।”ঘাগড়া ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “কৃষি বিভাগের উদ্যোগে এ ব্লকে ২০ শতাংশ জমিতে একটি তরমুজ প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০টি চারা রোপণ করা হয়েছে। আগে এ জমিতে ধান চাষ হলেও লাভ কম ছিল। কৃষক আলাউদ্দিনকে অফ-সিজনের তরমুজ চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়। বর্তমানে তিনি সফল হয়েছেন। তার সফলতা দেখে অনেক কৃষক কৃষি অফিসে যোগাযোগ করছেন এবং এ চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।”

    পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নূরে-আলম বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে অসময়ের তরমুজ চাষ সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ঘাগড়া ও চন্ডিপাশা এলাকায় ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছিল। এসব প্রদর্শনী সফল হওয়ায় আশপাশের কৃষকরাও এ চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।

    তিনি বলেন, “প্রতি বিঘা জমিতে উৎপাদন খরচ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা হলেও ফসল বিক্রি করে এক লাখ টাকার বেশি আয় করা সম্ভব। ফলে কৃষকরা প্রতি বিঘায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট মুনাফা অর্জন করতে পারেন। মাত্র ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যেই এই লাভ পাওয়া যায়।”

    তিনি আরও বলেন, বর্ষাকালে গাছের গোড়া পচা রোগ প্রতিরোধে মালচিং পেপার অত্যন্ত কার্যকর। পাশাপাশি উন্নত জাতের বীজ নির্বাচন, জমি প্রস্তুত, রোগবালাই দমন, সারের সঠিক ব্যবহার এবং স্প্রে শিডিউল সম্পর্কে কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ব্ল্যাক কুইন, জামালপুর সিডসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের অফ-সিজনের মানসম্মত বীজ ব্যবহার করে কৃষকরা ভালো ফলন পাচ্ছেন।

    তিনি জানান, অসময়ের তরমুজ চাষের পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন শিমসহ অন্যান্য উচ্চমূল্যের বাণিজ্যিক ফসলের আবাদ সম্প্রসারণেও কৃষি বিভাগ কাজ করছে। অনাবাদি জমিকে উৎপাদনের আওতায় এনে কৃষকদের সারা বছর আয় নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

    কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ধানসহ প্রচলিত ফসলের কম লাভজনক অবস্থার কারণে কৃষকরা এখন বিকল্প উচ্চমূল্যের ফসলের দিকে ঝুঁকছেন। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষি বিভাগের নিয়মিত কারিগরি সহায়তা এবং বাজারে অফ-সিজনের তরমুজের ভালো দাম অব্যাহত থাকলে পাকুন্দিয়ার এই উদ্যোগ শুধু কিশোরগঞ্জের কৃষিতেই নয়, দেশের কৃষি অর্থনীতিতেও নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। এটি ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের কৃষকদের জন্যও একটি অনুসরণযোগ্য সফল মডেল হয়ে উঠতে পারে।

    এ এম

  • জুলাই শহীদদের ব্যঙ্গ করে চাকরি খোয়ালেন সেই জিনাত জোয়ার্দার

    জুলাই শহীদদের ব্যঙ্গ করে চাকরি খোয়ালেন সেই জিনাত জোয়ার্দার

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের হেয় প্রতিপন্ন ও ব্যঙ্গ করার অভিযোগে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা জিনাত জোয়ার্দার রিপাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

    রোববার বিইউবিটির রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন-অর-রশিদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়।

    চিঠিতে বলা হয়, বিইউবিটি প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুসারে, বিইউবিটি কর্মচারী আচরণবিধি/শৃঙ্খলা বিধি, বিশেষত বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার (যে কোনো রূপে) প্রতি শূন্য সহনশীলতা নীতি লঙ্ঘন এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে অপমান করার দায়ে আপনাকে এতদ্বারা ৫ জুলাই, ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে বিইউবিটির চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। এই বরখাস্তের আদেশ তদন্ত সম্পন্ন হওয়া, শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশ এবং বিইউবিটি সিন্ডিকেটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

    চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, বরখাস্তকালীন আপনাকে বিইউবিটি ক্যাম্পাসের বাইরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে, আপনাকে অবিলম্বে সমস্ত দাপ্তরিক নথি, চাবি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য যে কোনো সম্পত্তি রেজিস্ট্রার অফিসে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

    এর আগে তার অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুরের রূপনগরে বিইউবিটির প্রধান ফটকের সামনে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

    সমাবেশে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, বিইউবিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক জিনাত জোর্য়াদার রিপা তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই-আগস্টে শিশুদের ওপর হেলিকাপ্টারযোগে গুলি করে হত্যার ঘটনাকে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে ফেসবুকে পোস্ট দেন। তিনি আওয়ামী লীগের দোসর ও সেই মতাদর্শ ধারণ করেন। তারা বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবে বুকে বুলেট নিয়ে আমাদের যে ভাইয়েরা নতুন বাংলাদেশ উপহার দিলেন, সেই বীর শহীদদের ত্যাগ নিয়ে কোনো ধরনের অবমাননা মেনে নেওয়া যায় না।’

    তারা বলেন, ‘শহীদ সুজন মাহমুদ ও শহীদ তাহমিদ আব্দুল্লাহ আমাদের বিইউবিটির অহংকার। নিজেদের জীবন দিয়ে তারা আমাদের ক্যাম্পাস ও মিরপুরকে সম্মানিত করেছেন। অথচ এই ক্যাম্পাসেরই একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা শহীদদের রক্ত নিয়ে উপহাস করার দুঃসাহস দেখালেন। যাদের মনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নেই, তাদের মতো মানুষের কোনো পবিত্র শিক্ষাঙ্গনে থাকার অধিকার নেই।’

    এ ব্যাপারে জানতে বিইউবিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা জিনাত বলেন, আমি ছুটিতে আছি। কারা কী করছে; আমি এ ব্যাপারে অবগত নই।

  • এনসিপির ‌‘জুলাই পদযাত্রা’ শুরু আজ

    এনসিপির ‌‘জুলাই পদযাত্রা’ শুরু আজ

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৩৬ দিনব্যাপী দীর্ঘ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ‘গণভোট বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান ও সীমান্ত সুরক্ষা’ এই তিন মূল দাবিতে আজ সোমবার (৬ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে দলটির বিশেষ কর্মসূচি ‘জুলাই পদযাত্রা ২০২৬’। রবিবার (৫ জুলাই) দলটির মিডিয়া সেল থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচির বিস্তারিত জানানো হয়।

    এনসিপির এই কর্মসূচিটি দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল- এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পরিচালিত হবে। আজ বিকেল ৩টায় গাজীপুরের কালীগঞ্জ থেকে উত্তরাঞ্চলের পদযাত্রাটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। এরপর আজই সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা জেলার উত্তর সাভারে কর্মসূচি শেষ করে প্রতিনিধি দলটি ঢাকায় রাত্রিযাপন করবে। পরবর্তীতে ৭ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, বগুড়া, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার এবং সিলেটসহ উত্তরের বিভিন্ন জেলায় পর্যায়ক্রমে এই পদযাত্রা চলবে। আগামী ১৬ জুলাই সকালে রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও দোয়ার মাধ্যমে ওই দিনের কর্মসূচি শুরু হবে।

    অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের পদযাত্রাটি শুরু হবে আগামীকাল ৭ জুলাই থেকে। প্রথম দিনে কক্সবাজারের উখিয়া এবং কক্সবাজার সদরে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বান্দরবান, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, ভোলা, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া এবং মানিকগঞ্জ জেলায় ২৯ জুলাই পর্যন্ত এই পদযাত্রা চলবে। আগামী ১৬ জুলাই জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে মাদারীপুরে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। ৩১ জুলাই কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরে কর্মসূচি শেষ করে প্রতিনিধি দল ঢাকার বাংলামোটরের উদ্দেশ্যে রওনা হবে।

    এই ‘জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচিতে দেশের সর্বস্তরের নাগরিক, তরুণ সমাজ, সাংস্কৃতিক কর্মী, পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে। জুন-জুলাই মাসের এই আন্দোলনটি দেশে ‘জুলাই আন্দোলন’ নামে বিশেষভাবে পরিচিত।

  • জুনে সড়কে ৪৩৮ প্রাণহানি, ৩০% নিহত মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়

    জুনে সড়কে ৪৩৮ প্রাণহানি, ৩০% নিহত মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়

    গত জুন মাসে সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৪৩৮ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এছাড়া ১৪৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছে যা মোট নিহতের ৩০.৫৯ শতাংশ। বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশন রোববার এ তথ্য জানিয়েছে।

    সংস্থাটি বলছে,জুনে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪৭২টি। এতে ৪২৮ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৫৬১ জন। নিহতের মধ্যে ৪৪ জন নারী, শিশুর সংখ্যা ৫৬ জন।

    ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে মাসওয়ারি দুর্ঘটনার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১১৬টি দুর্ঘটনায় ১১৮ জন নিহত হয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগে সবচেয়ে কম ১৯টি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানীর সড়কে ৩২টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৪৯ জন আহত হয়েছেন।মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার তথ্য তুলে ধরে সংস্থাটি জানিয়েছে, ১৪৫টি দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছে যা মোট নিহতের ৩০.৫৯ শতাংশ। এছাড়া মোট দুর্ঘটনায় ৯১ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫৭ জন; অর্থাৎ ১৩ শতাংশ। এই সময়ে ৯টি নৌ-দুর্ঘটনায় সাত জন নিহত এবং চার জন আহত হয়েছেন। আর ২১টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত এবং ৭ জন আহত হয়েছেন।

    সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৫১টি (৩২ শতাংশ) জাতীয় মহাসড়কে ১৯৪টি (৪১.১০ শতাংশ) আঞ্চলিক সড়কে, ৬৪টি (১৩.৫৫ শতাংশ) গ্রামীণ সড়কে এবং ৫৭টি (১২.০৭ শতাংশ) শহরের সড়কে এবং ৬টি (১.২৭ শতাংশ) অন্যান্য স্থানে হয়েছে। দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে-ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি-ড্রাম ট্রাক ২৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ, যাত্রীবাহী বাস ১৬ দশমিক ২৬ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২২ শতাংশ, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-মিশুক) ১৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নসিমন-ভটভটি-টমটম-মাহিন্দ্র) ৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ, রিকশা-বাইসাইকেল ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ৪ দশমিক ২০ শতাংশ।

    বিভাগওয়ারী দুর্ঘটনার পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ২৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া, রাজশাহী বিভাগে ১৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৩ দশমিক ৭২ শতাংশ, খুলনা বিভাগে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ, সিলেট বিভাগে ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ, রংপুর বিভাগে ১০ দশমিক ১৬ শতাংশ, এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৪ দশমিক ০২ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।দুর্ঘটনার প্রধান কিছু কারণ চিহ্নিত করেছে রোড সেইফটি ফাউন্ডেশন। সেগুলো হলো- ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণ-যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।

  • ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পেঁপে চাষে স্বাবলম্বী কৃষক নিজাম উদ্দিন

    ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পেঁপে চাষে স্বাবলম্বী কৃষক নিজাম উদ্দিন

    ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের ঘোষ গ্রামের কৃষক মো: নিজাম উদ্দিন মুন্সী পেঁপে চাষ করে স্বাবলম্বী হয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

    ৯০ শতাংশ জমিতে রাজশাহী জাতের এক হাজার পেঁপের চারা রোপণ করে তিনি ইতোমধ্যে এক লাখ টাকারও বেশি পেঁপে বিক্রি করেছেন। বর্তমানে তার বাগানের গাছে প্রচুর পেঁপে রয়েছে, যা থেকে আরও ভালো আয়ের আশা করছেন তিনি।

    সরেজমিনে দেখা যায়, সবুজে ঘেরা বিশাল বাগানজুড়ে সারি সারি পেঁপে গাছ। প্রতিটি গাছেই ঝুলছে অসংখ্য পেঁপে। বাগানের মনোরম দৃশ্য স্থানীয়দেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

    কৃষক মো: নিজাম উদ্দিন মুন্সী জানান, প্রথমে তিনি লাল তীরের ‘বাবু’ জাতের পেঁপের চারা রোপণ করেছিলেন। কিন্তু স্থানীয় আবহাওয়ার সাথে জাতটির সামঞ্জস্য না থাকায় তিনি ক্ষতির মুখে পড়েন। এরপর মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ভাবনাতলা এলাকার কৃষি উদ্যোক্তা ডাক্তার বাবুলের পরামর্শে রাজশাহী জাতের পেঁপে চাষ শুরু করেন। পুনরায় ৯০ শতাংশ জমিতে এক হাজার চারা রোপণ করলে সেগুলো ভালোভাবে বেড়ে ওঠে এবং আশানুরূপ ফলন দেয়।

    তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত এক লাখ টাকার বেশি পেঁপে বিক্রি করেছি। গাছে এখনো অনেক পেঁপে রয়েছে। ভবিষ্যতে আরো বেশি জমিতে পেঁপে চাষ করতে চাই। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে পেঁপের চারা উৎপাদন বাড়িয়ে দেশের সবজির চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারব, ইনশাআল্লাহ।’

    এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোল্লা আল-মামুন বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। ওই কৃষক কখনো কৃষি অফিসের সাথে যোগাযোগ করেননি। আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমরা দ্রুত তার বাগান পরিদর্শন করব এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা দেয়ার উদ্যোগ নেব।’

  • সচিবালয়ের সামনে ভাতের হোটেল, আটকের পর মুচলেকায় মুক্ত সোহানী শিফা

    সচিবালয়ের সামনে ভাতের হোটেল, আটকের পর মুচলেকায় মুক্ত সোহানী শিফা

    রাজধানীর সচিবালয়ের সামনে প্রতীকীভাবে ভাতের হোটেল চালু করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকালে ‘ঢাকা বাঁচাও’ সংগঠনের সভাপতি সোহানী শিফাকে আটক করে পুলিশ। প্রায় দুই ঘণ্টা পর মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    রোববার দুপুরে সচিবালয়ের সামনে থেকে তাকে আটকের একটি ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

    স্থানীয়রা জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন মেট্রোরেল স্টেশনের সামনের সড়ক ও ফুটপাত হকারমুক্ত করার দাবিতে কয়েক দিন ধরে সরব ছিলেন সোহানী শিফা। এরই অংশ হিসেবে রোববার সচিবালয়ের সামনে একটি অস্থায়ী ভাতের হোটেল চালু করেন তিনি।

    এর আগে শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন সড়ক ও ফুটপাত দখলের প্রতিবাদে রোববার থেকে সচিবালয়ের সামনে ভাতের হোটেল চালু করবেন। সেখানে ১০ টাকায় ভাত, ডাল ও আলুভর্তা দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    রোববার দুপুর ১২টার দিকে ভাত বিক্রি শুরু করার কিছুক্ষণ পর শাহবাগ থানা-পুলিশ তাকে ভাত বিক্রির ভ্যানসহ আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

    এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সমকালকে বলেন, ‘ভাতসহ বিভিন্ন রান্না করা খাবার ফুটপাতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিক্রি করা হচ্ছিল। তাই তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

  • মুকসুদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৪০

    মুকসুদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৪০

    গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উপজেলার চরপ্রসন্নদী ১ নম্বর ব্রিজের উপর এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, চরপ্রসন্নদী ১ নম্বর ব্রিজের উপর ঢাকাগামী চন্দ্রা পরিবহনের একটি বাস অন্য একটি গাড়িকে ওভারটেক করার সময় বরিশালগামী ইলিশ এক্সপ্রেসের একটি বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে প্রায় ৪০ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

    মুকসুদপুরের সিন্দিয়াঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ খোন্দকার আরঙ্গঁজেব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

  • নিরাপত্তা কৌশলে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না রাখতে পিজিআরের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    নিরাপত্তা কৌশলে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে না রাখতে পিজিআরের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে পিজিআরের সকল কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি।

    তিনি বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপর আমার আস্থা ও নির্ভরতা বজায় রাখতে চাই। সুতরাং, নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়। নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে বিন্যাস করা জরুরি জনগণ যাতে নিজেদেরকে সরকার প্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন।

    সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি বিশেষভাবে আহবান জানাই।’
    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বিশেষভাবে নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত সদস্যগণই এই রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালনের জন্য যথানিয়মে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট সেনাবাহিনীরই অধীন একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। সুতরাং, পেশাদারিত্ব, আনুগত্য এবং শৃঙ্খলার সমন্বয়ে পিজিআর সদস্যগণ নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথারীতি পালন করবেন এটিই বিধিবদ্ধ নিয়ম। আপনাদের কার্যক্রমের মাধ্যমেই পিজিআরে’র দক্ষতা এবং একনিষ্ঠতা ফুটে উঠবে এটি আমার প্রত্যাশা।’
    পিজিআরের কাজটি অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর কারণ রাষ্ট্র ঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্বপালন করাও আপনাদের অন্যতম কর্তব্য। এ দায়িত্ব পালনে আপনাদেরকে নানারকমের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনাদের বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ এবং কর্তব্যপরায়ণতা আপনাদেরকে নিঃসন্দেহে একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে পরিচিত করেছে।’

    সুশৃঙ্খলতার স্বীকৃতি স্বরূপ ‘পিজিআর’ চলতি বছর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বাহিনী হিসেবে এটি অবশ্যই আপনাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এই সাফল্যের জন্য আমি আপনাদের আবারো অভিনন্দন জানাই। যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আপনাদের ইস্পাত কঠিন দায়িত্ববোধ অবশ্যই প্রশংসনীয়।’

    সশস্ত্রবাহিনীকে জনগণের সাহস এবং একটি দেশের গৌরবের প্রতীক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্রবাহিনীর সাহসী ভূমিকা সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন এবং অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে ফেলেছে।’

    তিনি বলেন,‘আমি বিশ্বাস করি, সশস্ত্রবাহিনী যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থেকে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা অনুসরণ এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখে তাহলে দেশের সার্বভৌমত্ব আর কখনই হুমকির মুখে পড়বে না।’

    পিজিআরের প্রতি প্রত্যাশা রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করব, পিজিআরে’র মত বিশেষায়িত বাহিনীর সর্বোচ্চ সফলতার জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা ,বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং সর্বোপরি ‘চেইন অব কমান্ড’ অনুসরণ- এই বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।’

    একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে পিজিআরেরও পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো বাহিনীর সামনে প্রচলিত চ্যালেঞ্জের বাইরেও বর্তমানে আর্থ-সামাজিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তাইতো সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন যুদ্ধ কিংবা তথ্যযুদ্ধ এসব নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলো উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।’

    তিনি বলেন, ‘এসব বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধুমাত্র পিজিআরই নয় প্রতিটি বাহিনীকেই আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদেরকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি। ‘

    তারেক রহমান বলেন, ‘সশস্ত্রবাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর কিংবা এসএসএফে’র মতো সফিস্টিকেটেড বাহিনীগুলোকে সরকার আরও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে যথানিয়মে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।’

    পিজিআরের কাজটি অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর কারণ রাষ্ট্র ঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্বপালন করাও আপনাদের অন্যতম কর্তব্য। এ দায়িত্ব পালনে আপনাদেরকে নানারকমের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনাদের বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ এবং কর্তব্যপরায়ণতা আপনাদেরকে নিঃসন্দেহে একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে পরিচিত করেছে।’

    সুশৃঙ্খলতার স্বীকৃতি স্বরূপ ‘পিজিআর’ চলতি বছর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বাহিনী হিসেবে এটি অবশ্যই আপনাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এই সাফল্যের জন্য আমি আপনাদের আবারো অভিনন্দন জানাই। যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আপনাদের ইস্পাত কঠিন দায়িত্ববোধ অবশ্যই প্রশংসনীয়।’

    সশস্ত্রবাহিনীকে জনগণের সাহস এবং একটি দেশের গৌরবের প্রতীক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্রবাহিনীর সাহসী ভূমিকা সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন এবং অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে ফেলেছে।’

    তিনি বলেন,‘আমি বিশ্বাস করি, সশস্ত্রবাহিনী যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থেকে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা অনুসরণ এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখে তাহলে দেশের সার্বভৌমত্ব আর কখনই হুমকির মুখে পড়বে না।’

    পিজিআরের প্রতি প্রত্যাশা রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করব, পিজিআরে’র মত বিশেষায়িত বাহিনীর সর্বোচ্চ সফলতার জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা ,বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং সর্বোপরি ‘চেইন অব কমান্ড’ অনুসরণ-এই বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।’

    একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে পিজিআরেরও পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো বাহিনীর সামনে প্রচলিত চ্যালেঞ্জের বাইরেও বর্তমানে আর্থ-সামাজিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তাইতো সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন যুদ্ধ কিংবা তথ্যযুদ্ধ এসব নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলো উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।’

    তিনি বলেন, ‘এসব বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধুমাত্র পিজিআরই নয় প্রতিটি বাহিনীকেই আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদেরকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি।’

    তারেক রহমান বলেন, ‘সশস্ত্রবাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর কিংবা এসএসএফে’র মতো সফিস্টিকেটেড বাহিনীগুলোকে সরকার আরো আধুনিকায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে যথানিয়মে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।’ সূত্র: বাসস

  • ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, আরও ১৩৯ জন হাসপাতালে

    ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, আরও ১৩৯ জন হাসপাতালে

    দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৩৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেড়েছে।

    শনিবার (৪ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২৩ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১১ জন এবং খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৫ জন রয়েছেন।

    এ সময় ১৪১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬ হাজার ১৩০ জন।

    চলতি বছরের এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৫৯৭ জন। এর মধ্যে ৬২ শতাংশ পুরুষ ও ৩৮ শতাংশ নারী। এই বছর ডেঙ্গুতে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৪ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।

  • তুরাগ নদে গোসল করতে নেমে দুই স্কুলছাত্রের মৃত্যু

    তুরাগ নদে গোসল করতে নেমে দুই স্কুলছাত্রের মৃত্যু

    শিক্ষা ডেস্ক:

    গাজীপুরের টঙ্গীতে তুরাগ নদে গোসল করতে নেমে দুই স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার বেলা ১১টার দিকে মিরাশপাড়া নদীবন্দর এলাকায় ।

    খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা তাদের লাশ উদ্ধার করে।

    তারা হলেন-টঙ্গী পূর্ব আরিচপুর এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে আফনান (১১) এবং আনিছুর রহমানের ছেলে শামীম মিয়া (১৩)। তারা টঙ্গী সিরাজউদ্দিন সরকার বিদ্যানিকেতনের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।

    টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসসূত্র জানায়, বেলা এগারোটার দিকে খেলাধুলা শেষে মিরাশপাড়া নদীবন্দর এলাকায় তুরাগ নদে গোসল করতে নামেন তিন বন্ধু শামীম, আফনান ও শীপন। এসময় সাঁতার কাটতে গিয়ে আফনান ও শামীম তুরাগ নদের পানিতে তলিয়ে যায়। শীপন দ্রুত তুরাগ নদ থেকে উঠে চিৎকার করে স্থানীয়দের বিষয়টি জানায়। পরে স্থানীয়রা খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে দুইছাত্রকে উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

    এবিষয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শাহীন আলম বলেন, খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তুরাগ নদ থেকে দুইস্কুল ছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে।

    এব্যাপারে নদীবন্দর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফিরোজ মিয়া বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই

    অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই

    বাংলা একাডেমির সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। রোববার বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর আগে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

    বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের ছাত্র মোহাম্মদ আজম মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন, ‘বেলা আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে মিরপুর-১ নম্বরের একটি রেস্তোরাঁয় স্যার খেতে গিয়েছিলেন। সেখানে অসুস্থ বোধ করলে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যতদূর শুনেছি, হার্ট ফাউন্ডেশনে নেয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    আবুল কাসেম ফজলুল হকের জন্ম ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাকুন্দিয়া গ্রামে। ১৯৮১ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন। ‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ নামে দুটি সাময়িকপত্রের সম্পাদনা ছাড়াও রয়েছে তার অনেক গুরুত্বপূর্ণ বই। ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’, ‘রাজনীতি দর্শন’, ‘সাহিত্য চিন্তা’, ‘সংস্কৃতির সহজ কথা’-এর মতো ২০টির বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে এই অধ্যাপকের।

  • শ্রমিকের নেতৃত্ব দিতে হলে আগে সেবক হতে হবে: আব্দুল হালিম

    শ্রমিকের নেতৃত্ব দিতে হলে আগে সেবক হতে হবে: আব্দুল হালিম

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেছেন, শ্রমিকের নেতৃত্ব দিতে হলে আগে তাদের সেবক হতে হবে। তিনি বলেন, শ্রমিক আল্লাহর বন্ধু, তাই তাদের সঙ্গে সম্মানের সঙ্গে আচরণ করাটা আমাদের কর্তব্য।

    শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মাল্টিপারপাস হলে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী অঞ্চলের থানা নেতাদের দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আব্দুল হালিম আরো বলেন, শ্রমিক নেতৃত্ব বৃহত্তর ইসলামী আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একজন নেতা কখনো প্রভু নন; তিনি কর্মীদের খাদেম। তাই শ্রমিক নেতৃত্বে আদর্শিক গুণাবলী অর্জন করতে হবে।

    বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সেকুলার চিন্তাধারার বিপরীতে ইসলামী আদর্শভিত্তিক শ্রমিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, প্রায় ৫৭ বছর আগে প্রতিকূল পরিবেশে একটি আদর্শভিত্তিক শ্রমিক সংগঠন হিসাবে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের যাত্রা শুরু হয়, যা আজ বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য একটি বট গাছের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। শ্রমিকরা আজ তাদের দাবি আদায়ে সবার আগে শ্রমিক কল্যাণের কথা চিন্তা করে।

    তিনি বলেন, অতীতে যেভাবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমরা সংগ্রাম করেছি, তেমনি শ্রমিকের দাবি আদায়ে যেকোনো প্রতিকুল পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আমরা প্রস্তুত।

    শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কবির আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সহ- সভাপতি ও কর্মশালা সহকারী পরিচালক মুজিবুর রহমান ভুঁইয়া, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম, উত্তরের সভাপতি মহিবুল্লাহ, দক্ষিণের সেক্রেটারি সোহেন রানা মিঠু, উত্তরের সেক্রেটারি এসএম আতিকুর রহমান, শ্রমিক নেতা জামিল মাহমুদ, হাফিজুর রহমান, নজরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান প্রমুখ।

  • ঢাবি সাদা দলের নাম ভাঙিয়ে তদবিরের অপচেষ্টা

    ঢাবি সাদা দলের নাম ভাঙিয়ে তদবিরের অপচেষ্টা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত তদবির, সুপারিশ ও বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা আদায়ের অপচেষ্টা থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

    সংগঠনটি একই সঙ্গে সাদা দল স্পষ্ট করেছে, এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং মেধা, যোগ্যতা, সততা ও প্রচলিত বিধিবিধানের ভিত্তিতেই সব প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত বলে তারা বিশ্বাস করে।

    আজ শুক্রবার ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম ও অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানান।

    এতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কিছু ব্যক্তি সাদা দল এবং সাদা দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের নাম ব্যবহার করে ঢাবি প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যক্তিগত তদবির, সুপারিশ এবং বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাবি সাদা দলের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো যাচ্ছে যে, এসবের সাথে সাদা দলের কোনো সম্পর্ক নেই। সাদা দল কখনোই কোনো অনৈতিক আবদার বা সুপারিশ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। এ ব্যাপারে সাদা দল দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    তারা বলেন, ঢাবি সাদা দল প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই নিয়োগ, পদায়ন, পদোন্নতি, গবেষণা-সুযোগ, বৃত্তি ও অন্যান্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে একমাত্র মেধা, যোগ্যতা, সততা, স্বচ্ছতা ও প্রচলিত বিধিবিধানকে মানদ- হিসেবে বিবেচনা করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। কোনো ব্যক্তি যদি যোগ্যতা ও প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোনো সুযোগ পাওয়ার অধিকারী হন, তবে তিনি অবশ্যই তা পাবেন। দলীয় পরিচয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কারও জন্য বিশেষ সুবিধা আদায়ের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সাদা দলের অবস্থান সুস্পষ্ট।

    তারা আরো বলেন, সাদা দলের পক্ষ থেকে ঢাবি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের প্রতি ভবিষ্যতে সাদা দল বা সাদা দলের কোনো নেতার নাম ব্যবহার করে কোনো সুপারিশ, তদবির বা ব্যক্তিগত দাবি উপস্থাপিত হলে তা গ্রহণ না করে সরাসরি সাদা দলের দায়িত্বশীল নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। সাদা দলের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি বা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের যেকোনো প্রচেষ্টা রোধে সবার সতর্ক ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা আশা করছে সাদা দল।

  • ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৬৩

    ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৬৩

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৬৩ জন ডেঙ্গুরোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    বুধবার (১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৭ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আট জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪ জন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) চার জন রয়েছেন।

    ২৪ ঘণ্টায় ১৬১ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
    চলতি বছরে এ যাবত মোট পাঁচ হাজার ৭৯৩ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছরের ১ জুলাই পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ছয় হাজার ২৬৭ জন।

    এর মধ্যে ৬২ দশমিক দুই শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক আট শতাংশ নারী রয়েছেন।
    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও কারও মৃত্যু হয়নি।

    চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
    ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

  • বাউফলে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ালেন ড. মাসুদ

    বাউফলে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ালেন ড. মাসুদ

    পটুয়াখালীর বাউফলে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও একটি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

    বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বগা ইউনিয়নের সাবুপুরা বাজারে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পরিদর্শন করেন তিনি।

    এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও একটি বসতঘরের মালিককে ৭ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। পাশাপাশি প্রত্যেককে দুই বান টিন এবং প্রতিটি পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হয়।

    ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের ক্ষতির তুলনায় আমাদের এই প্রচেষ্টা খুবই সামান্য। তারপরও সান্ত্বনার অংশ হিসেবে আমরা আপনাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও আপনাদের যেকোনো সমস্যায় পাশে থাকব।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমরা কাউকে দল-মত দেখে সহযোগিতা করি না। এখানে হিন্দু ভাইয়ের দোকান আছে, মুসলিম ভাইয়ের দোকান আছে, অন্য দলের ভাইদের দোকানও আছে। কিন্তু তারা ক্ষতিগ্রস্ত—এটাই আমাদের কাছে মূল বিবেচ্য বিষয়।’

    সহায়তা পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে তারা যখন ভয়াবহ অনিশ্চয়তায় ছিলেন, তখন জনপ্রতিনিধির এই সহায়তা তাদের নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছে। ভবিষ্যতেও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকারি ও সামাজিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

    এ সময় বাউফল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, বাউফল উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, বগা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো: জামাল হোসেন, বগা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম, পটুয়াখালী জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক অফিস সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ভূঞাপুরে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা পেল দেড় শতাধিক রোগী

    ভূঞাপুরে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা পেল দেড় শতাধিক রোগী

    টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুন) সকাল থেকে দিনব্যাপী উপজেলার নিকলা নয়াপাড়া এলাকায় মরহুম অধ্যাপক ডা: মোকতেল হোসেনের স্মরণে এ মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এতে মেডিসিন, ডায়াবেটিস ও নাক, কান, গলাসহ বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন।

    চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, যেখানে ডাক্তার দেখাতে অনেক টাকার ভিজিট গুণতে হয়, সেখানে বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে পারছেন তারা। এতে আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

    ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজক ডাক্তার হাবিবুল হাসান সৌরভ জানান, গ্রামাঞ্চলের অসহায় মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করার লক্ষ্যে মরহুম অধ্যাপক ডাক্তার মোকতেল হোসেনের স্মরণে এই ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছেন। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

    মেডিক্যাল ক্যাম্পে বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত দেড় শতাধিক রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

  • পাকুন্দিয়ায় ২ মাস পর কবর থেকে উঠানো হলো কৃষকদল নেতার লাশ

    পাকুন্দিয়ায় ২ মাস পর কবর থেকে উঠানো হলো কৃষকদল নেতার লাশ

    কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত কৃষকদল নেতা সাদ্দাম হোসেনের (৩২) লাশ দাফনের দুই মাস পর কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে আদালতের নির্দেশে উপজেলার নারান্দী ইউনিয়নের আজলদী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে তার লাশ উত্তোলন করা হয়।

    নিহত সাদ্দাম হোসেন নারান্দী ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক এবং একই ইউনিয়নের ছোট আজলদী গ্রামের আলী আকবরের ছেলে।

    লাশ উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন পাকুন্দিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত জাহান, পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমানসহ একদল পুলিশ সদস্য।

    মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন সাদ্দাম হোসেন। দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

    পরে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় একই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর সাদ্দামের স্ত্রী কারিশমা আক্তার ঝুমা পাকুন্দিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর চলতি বছরের ২ মে সাদ্দাম হোসেনের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার লাশ দাফন করা হয়েছিল।

    পরে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটনের স্বার্থে আদালতের নির্দেশে আজ তার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়।

    পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি শামছুল হক মিঠু বলেন, সাদ্দাম হোসেন একজন উদীয়মান ও পরিচ্ছন্ন নেতা ছিলেন। বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। তার ওপর বর্বরোচিত হামলা ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

    লাশ উত্তোলনের বিষয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত জাহান বলেন, আদালতের নির্দেশে এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আজ কবর থেকে সাদ্দাম হোসেনের লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • রাজবাড়ীতে পিকআপ-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১

    রাজবাড়ীতে পিকআপ-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১

    রাজবাড়ী সদর উপজেলায় মুরগিবাহী একটি পিকআপের সাথে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে জোহান (৩৪) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী সেতু আক্তার গুরুতর আহত হয়ে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রযেছেন।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার চন্দনী ইউনিয়নের চাঁদপুর এলাকায় রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত জোহান ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার মোশারফের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী থেকে কুষ্টিয়াগামী একটি মুরগিবাহী পিকআপের সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল চালক জোহানের মৃত্যু হয় এবং তার স্ত্রী গুরুতর আহত হন।

    দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত নারীকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুরে রেফার্ড করেন।

    প্রত্যক্ষদর্শী লিটন জানান, দুর্ঘটনার পর তারা আহত নারীকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। পরে নিহত ব্যক্তির লাশ পাশেই পানিতে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে।

    নিহতের স্বজন আকরামুল হক বিপ্লব বলেন, আমার বোনের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তারা আমাদের বাড়িতে এসেছিল। অনুষ্ঠান শেষে দু’জন মোটরসাইকেলে করে রাজবাড়ীর উদ্দেশে রওনা দিলে পথেই দুর্ঘটনার শিকার হন। তাদের দুই মাস বয়সী একটি মেয়েসন্তান রয়েছে।

    পাংশা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনার পর পিকআপের চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তাকে শনাক্ত ও গ্রেফতারে হাইওয়ে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একইসাথে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।

  • সাভারে ৪২ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদককারবারি গ্রেফতার

    সাভারে ৪২ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদককারবারি গ্রেফতার

    সাভারের নবীনগরের নিরিবিলি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদককারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে সাভার ডিবি কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো: জাহিদুল ইসলাম।

    গ্রেফতাররা হলেন কুমিল্লার তিতাস উপজেলার শিবপুর এলাকার মুক্তার হোসেনের ছেলে মো: মাসুম (২২) ও চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথুলি এলাকার মো: জামাল শেখের ছেলে মো: সোয়েব শেখ (২০)।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো: জাহিদুল বলেন, ‘ডিবি (উত্তর)-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উপ-পরিদর্শক মো: নাফিউল ইসলাম পিপিএমসহ ডিবির একটি দল বুধবার দিবাগত রাতে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের নিরিবিলি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চেকপোস্ট পরিচালনা করেন। এ সময় দুই মাদককারবারিকে ৪২ কেজি গাঁজাসহ আটক করা হয়। পাশাপাশি মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত সাদা রঙের একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে। ’

    ডিবি পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং জব্দ করা গাড়িটির মূল্য প্রায় ২২ লাখ টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকা থেকে পাইকারিভাবে গাঁজা সংগ্রহ করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ব্যবহার করে চুয়াডাঙ্গায় বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছেন বলেন।

    পুলিশ জানায়, গ্রেফতার মাসুমের বিরুদ্ধে পূর্বে একটি ছিনতাই মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন।

  • আমতলীতে শ্রমিকদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

    আমতলীতে শ্রমিকদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

    বরগুনার আমতলী উপজেলায় ইউনিয়ন শ্রমিকদল সভাপতি রিপন কাজীকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের বাবা মিজানুর ওরফে ভুট্টো কাজীর নেতৃত্বে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    পরিবারের দাবি, বাবার একাধিক বিয়ের প্রতিবাদ করায় এবং রাজনৈতিক বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে রিপন কাজীকে হত্যা করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত পৌনে ১২টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার গগণখা এলাকায় ফারুক ডাক্তারের বাড়ির সামনে গুলিশাখালী ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি রিফাত কাজী ও তার সহযোগীরা তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে।

    নিহত রিপন কাজী আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কাজীবাড়ি গ্রামের মো: মিজানুর ওরফে ভুট্টো কাজীর ছেলে। তিনি গুলিশাখালী ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি ছিলেন।

    এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোস্তফা কাজী ও ফিরোজ কাজী নামে দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

    জানা গেছে, বাবা ভুট্টো কাজী একাধিক বিয়ে করেছেন। এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। ওই বিরোধের জের ধরে ছেলে রিপন কাজী দুই বছর আগে বাবাকে পিটিয়ে তার পা ভেঙে দেন। এর প্রতিশোধ নিতে বাবা ভুট্টো কাজী গত ফেব্রুয়ারি মাসে ছেলেকে মারধর করেন। কিন্তু তাতেও প্রতিশোধের নেশা কাটেনি বাবা ভুট্টো কাজীর। এরপর বাবা তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

    নিহত রিপন কাজীর ভাই সাব্বির কাজীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তার ভাই নিহত ইউনিয়ন শ্রমিকদল সভাপতি রিপন কাজী ও চাচাত ভাই গুলিশাখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো: রিফাত কাজীর মধ্যে আধিপত্য নিয়ে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। দু’জনের মধ্যে চরম বিরোধ চলে আসছে। এ ঘটনাকে পুঁজি করে বাবা মিজানুর ওরফে ভুট্টো কাজী তার ভাইয়ের ছেলে সজিব কাজী, ছাত্রদল সভাপতি রিফাত কাজী ও তার সহযোগী রাসেল কাজী, রাহাত কাজী, সোহাগ কাজী ও মনির কাজীকে নিয়ে ছেলে রিপন কাজীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

    মঙ্গলবার রাত সোয়া ১১টার দিকে রিপন কাজী ও তার চাচাত ভাই রাজিব কাজী বাজারঘোনা এলাকা থেকে মোটরসাইকেলে গ্রামের বাড়ি কালিবাড়ী যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে পটুয়াখালী সদর উপজেলার গগণখা এলাকার ফারুক ডাক্তারের বাড়ির সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা বাবা মিজানুর কাজী, তার ভাইয়ের ছেলে রিফাত কাজী, রাসেল কাজী, সোহাগ কাজী ও মনির কাজীসহ ১৫-২০ জন তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে।

    এ সময় রাসেল কাজী চাচাত ভাই রিপন কাজীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে মোটরসাইকেলসহ রিপন কাজী ও তার আরেক চাচাত ভাই রাজিব কাজী সড়কে লুটিয়ে পড়েন। সন্ত্রাসীরা রিপন কাজীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী সাথে থাকা রাজিব কাজী।

    স্থানীয়দের সহযোগিতায় রাজিব কাজী গুরুতর আহত রিপন কাজীকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    খবর পেয়ে আমতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তারা নিহতের বাবা মিজানুর কাজীর ব্যবহৃত মোবাইলফোন উদ্ধার করে। ওই ঘটনার পর থেকে নিহতের বাবাসহ সন্ত্রাসীরা পলাতক রয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে মোস্তফা কাজী ও ফিরোজ কাজী নামে দু’জনকে পালানোর সময় আটক করে আমতলী থানা পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ তাদের পটুয়াখালী সদর থানায় হস্তান্তর করেছে। তাদের ওই থানায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে জানান ওসি মো: মনিরুজ্জামান।

    এ ঘটনায় পটুয়াখালী সদর থানায় নিহতের মা আমেনা বেগম মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন। নিহতের লাশ পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শী রাজিব কাজী বলেন, আমি আর রিপন কাজী রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাজারঘোনা থেকে বাড়ি যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে গগণখা নামক স্থানে পৌঁছামাত্রই রাসেল কাজী চাচাত ভাই রিপন কাজীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে মোটরসাইকেলসহ আমরা সড়কে লুটিয়ে পড়ি। আমি দৌড়ে খালে পড়লেও রিপন কাজীকে রিফাত কাজী, রাসেল কাজী, রাহাত কাজী, সোহাগ কাজী ও মনির কাজীসহ ১৫-২০ জন কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। স্থানীয়দের সহযোগীতায় তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহত রিপন কাজীর ছোট ভাই সাব্বির কাজী বলেন, আমার বাবা মিজানুর কাজী একাধিক বিয়ে করেছেন। ভাই রিপন কাজী এর প্রতিবাদ করলে তার সাথে বিরোধ চরমে পৌঁছায়। অপর দিকে আমার চাচাত ভাই ঢাকা বিমানবন্দরে চাকরিরত সজিব কাজীর পরিকল্পনায় বাবার নেতৃত্বে ও চাচাত ভাই রিফাত কাজী ও তার সহযোগীরা আমার ভাইকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

    নিহতের মা আমেনা বেগম কান্নাজনিত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের কঠোর বিচার চাই।

    আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: ইয়াকুব হোসাইন বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে স্থানীয় জনতা দু’জনকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। তাদের পটুয়াখালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা দু’জন পটুয়াখালী পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

    তিনি আরো বলেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। ওই মোবাইল নিহত রিপন কাজীর বাবা মিজানুর কাজীর। ঘটনাস্থল পটুয়াখালী হওয়ায় সেখানকার পুলিশ আইনি ব্যবস্থা নেবে।

    পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান বলেন, দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • কুলিয়ারচরে ২৪ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

    কুলিয়ারচরে ২৪ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

    কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ২৪ কেজি গাঁজাসহ মো: ডালিম মিয়া (৩৪) নামে এক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় পুলিশ মাদক পরিবহন কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান জব্দ করেছে।

    বুধবার (১ জুলাই) গ্রেফতার ডালিম মিয়ার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কুলিয়ারচর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    এর আগে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার দ্বাড়িয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে গাঁজা ও পিকআপ ভ্যানসহ তাকে আটক করা হয়।

    কুলিয়ারচর থানা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের দ্বাড়িয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ডে চেকপোস্ট বসায় পুলিশ। এ সময় সন্দেহজনকভাবে চলাচলরত তুলাভর্তি একটি পিকআপ ভ্যানকে থামার জন্য সংকেত দেয় পুলিশ। সংকেত উপেক্ষা করে চালক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে কয়েক কিলোমিটার পথ ধাওয়া করে পুলিশ পিকআপ ভ্যানটিকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে।

    এরপর পিকআপ ভ্যানটি তল্লাশি করে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ২৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সাথে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটি জব্দ করা হয় এবং মো: ডালিম মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার ডালিম মিয়া কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকার আলাল মিয়ার ছেলে।

    পুলিশ জানায়, ডালিম মিয়া একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। এসব মামলার তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পাশাপাশি তার সাথে মাদক কারবারে জড়িত অন্যদের শনাক্তে কাজ চলছে।

    কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, মাদক পাচার ও কারবারের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। মাদকের বিস্তার রোধে গোয়েন্দা তৎপরতা আরো জোরদার করা হচ্ছে।

  • সিদ্ধিরগঞ্জে কাভার্ডভ্যানের চাপায় নারী পোশাক শ্রমিক নিহত

    সিদ্ধিরগঞ্জে কাভার্ডভ্যানের চাপায় নারী পোশাক শ্রমিক নিহত

    ডস্কে,

    নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সড়ক পারাপারের সময় কাভার্ডভ্যানের চাপায় মানসুরা (২৫) নামে এক নারী পোশাক শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

    বুধবার (১ জুলাই) সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের ভুঁইগড় এলাকায় যুব উন্নয়ন কার্যালয়ের সামনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত মানসুরা মুন্সিগঞ্জ জেলার মুক্তারপুর ইউনিয়নের ডিঙ্গাভাঙ্গা গ্রামের সেলিম মাদবরের মেয়ে। তিনি ফতুল্লার ভুঁইগড়ের মাহমুদপুর এলাকায় স্বামী ইমন ও চার বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন। তার স্বামী পেশায় একজন চায়ের দোকানদার।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানসুরা যুব উন্নয়ন কার্যালয়ের সামনে দিয়ে সড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি কাভার্ডভ্যান তাকে চাপা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার উদ্যোগ নিলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে এবং প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম শুরু করে।

    সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত কাভার্ডভ্যানটি শনাক্ত এবং চালককে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।

  • নাগরপুরে নিখোঁজের ৩ দিন পর পাটক্ষেত থেকে বৃদ্ধের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    নাগরপুরে নিখোঁজের ৩ দিন পর পাটক্ষেত থেকে বৃদ্ধের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

    টাঙ্গাইলের নাগরপুরে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর পাটক্ষেত থেকে শওকত মোল্লা (৫৫) নামে এক বৃদ্ধের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

    বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের বিন্নাওঝা গ্রামের গাজী কবিরের পাটক্ষেত থেকে ওই লাশ উদ্ধার করে নাগরপুর থানা পুলিশ।

    নিহত বৃদ্ধ শওকত মোল্লা উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের নলসন্ধ্যা গ্রামের মরহুম জয়েদ আলী মোল্লার ছেলে।

    পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে বিন্নাওঝা গ্রামের জনৈক গাজী কবিরের পাটক্ষেতে অর্ধগলিত একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। ঘটনার খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের পরিচয় শনাক্ত করেন। পরে সংবাদ পেয়ে নাগরপুর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

    নিহতের চাচাত ভাই মো: আয়নাল মোল্লা (৪৩) জানান, গত তিন দিন ধরে তার ভাই শওকত মোল্লা নিখোঁজ ছিল। আজ (বুধবার) দুপুর ১টার দিকে বিন্নাওঝা গ্রামে একটি লাশ পাওয়ার খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে দেখি আমার ভাইয়ের লাশ পড়ে রয়েছে।

    নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: জহুরুল ইসলাম জানান, এই ঘটনার মোটিভ সম্পর্কে এখনো কোনো কিছু জানা যায়নি। তবে তদন্তের পর মোটিভ সম্পর্কে জানা যাবে। লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • ঘিওরে ঋণের চাপে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

    ঘিওরে ঋণের চাপে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

    মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় ঋণের কিস্তির চাপ সহ্য করতে না পেরে চন্দন ভগত (৫৮) নামে এক ব্যবসায়ীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

    পরিবারের দাবি, বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে নেয়া ঋণ পরিশোধের চাপেই তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    নিহত চন্দন ভগত (৫৮) উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুস্তা বন্দর (মুড়িহাট) এলাকার পরলোকগত বৈদ্যনাথ (দেবনাথ) ভগতের ছেলে।

    পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতের কোনো এক সময় নিজ বাড়ির দ্বিতীয় তলার সিঁড়ির রেলিংয়ের সাথে নাইলনের দড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস দেন চন্দন ভগত।

    বুধবার (১ জুলাই) সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে ঘিওর থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ঘিওর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    নিহতের স্ত্রী নুপুর রবি দাস জানান, বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে নেয়া কিস্তির ঋণ পরিশোধ নিয়ে কয়েক মাস ধরেই মানসিক চাপে ছিলেন তার স্বামী। মঙ্গলবার কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লোকজন বাড়িতে এলে টাকা পরিশোধ করতে না পেরে তিনি সারাদিন বাড়ির বাইরে ছিলেন। রাতে পরিবারের অজান্তেই এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়রাও জানান, ঋণের কিস্তি নিয়ে চন্দন ভগতকে প্রায়ই উদ্বিগ্ন থাকতে দেখা যেত। তবে মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি-না, সেটি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি কেউ।

    ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে ঋণের চাপের বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে এটিই মৃত্যুর একমাত্র কারণ কি-না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

  • শিবচরে ইয়াবাসহ মাদককারবারি আটক

    শিবচরে ইয়াবাসহ মাদককারবারি আটক

    মাদারীপুরের শিবচরে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ১৬৫ পিস ইয়াবাসহ সিদ্দিক বেপারী (৪০) নামে এক মাদককারবারিকে আটক করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার সকালে শিবচর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের স্বাস্থ্যকলোনি এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    আটক সিদ্দিক শিবচর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের স্বাস্থ্যকলোনি এলাকার আব্দুল কাদির বেপারীর ছেলে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শিবচর থানা পুলিশের একটি দল সিদ্দিকের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির আঙিনায় মাটির নিচে গর্ত করে লুকিয়ে রাখা ১ হাজার ১৬৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

    স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে সিদ্দিক মাদককারবারের সাথে জড়িত। তাকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি এ পথ থেকে সরে আসেননি। আজ তার বাড়িতে ইয়াবার চালান এসেছে এমন তথ্য পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে এবং মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা ইয়াবাগুলো উদ্ধার করে।

    শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ‘১ হাজার ১৬৫ পিস ইয়াবাসহ সিদ্দিক বেপারী নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, তিনি দীর্ঘদিন মাদককারবারের সাথে জড়িত। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’

  • গার্মেন্টসকর্মী রুবেল হত্যা মামলা সাবেক এমপি নবী নেওয়াজ গ্রেফতার

    গার্মেন্টসকর্মী রুবেল হত্যা মামলা সাবেক এমপি নবী নেওয়াজ গ্রেফতার

    জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর আদাবর থানা এলাকায় গার্মেন্টসকর্মী রুবেলকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় ঝিনাইদহ-৩ আসনের সাবেক এমপি নবী নেওয়াজকে গ্রেফতার দেখিয়েছেন আদালত।

    সোমবার কারাগার থেকে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

    মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রুবেলসহ কয়েক শ’ ছাত্র-জনতা বেলা ১১টার দিকে আদাবর থানাধীন রিংরোড এলাকায় প্রতিবাদী মিছিল বের করে। এসময় পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতীলীগ, কৃষকলীগ, মৎসজীবী লীগের নেতাকর্মীরা গুলি চালায়। এতে রুবেল গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় একই বছরের ২২ আগস্ট আদাবর থানায় মামলাটি করেন রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম।

  • জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ছাত্রশিবিরের ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি

    জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ছাত্রশিবিরের ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি

    জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপনে ৩৬ দিন ব্যাপী কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

    সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়। এবারের প্রতিপাদ্য- ‘জুলাইয়ের অঙ্গীকার, ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণ’।

    সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, মিডিয়া সম্পাদক মু’তাসিম বিল্লাহ শাহেদী, প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক ও ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

    লিখিত বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের শহীদ আবু সাঈদ, আলী রায়হান, মুগ্ধ, ওয়াসিম, শান্ত ও শরিফ ওসমান হাদিসহ সকল বীর শহীদ, আহত এবং অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। এ সময় তিনি শহীদদের হত্যার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানান।

    ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও গণভোটের ম্যান্ডেটকে বর্তমান সরকার ক্ষমতার মোহে অবজ্ঞা করছে। প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসন চলছে এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ গঠনের লক্ষ্যে জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল করে বিচার বিভাগকে দলীয় আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

    অর্থনৈতিক ও সামাজিক নৈরাজ্যের চিত্র তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের ৫৯ শতাংশ সংসদ সদস্যই ঋণখেলাপি, যা রাষ্ট্রকে দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলেছে। এছাড়া টিআইবি ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সরকার গঠনের প্রথম ১০০ দিনে দেশজুড়ে ৯১৫টি খুন, ২০৯টি ধর্ষণসহ চরম অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’

    শিক্ষাঙ্গনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা। কিন্তু সরকারদলীয় সংগঠন ছাত্রদল বর্তমানে শিক্ষাঙ্গনে আবারো বর্বরোচিত সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর প্রকাশ্য হামলা চালানো হচ্ছে।

    জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন থেকে নিম্নোক্ত ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় :

    — গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী ‘অদম্য জুলাই’ শিরোনামে মাসব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন।

    — রক্তাক্ত জুলাইয়ের স্মৃতি নিয়ে গল্প, উপন্যাস, গবেষণা প্রবন্ধ ও সাময়িকী প্রকাশ।

    — রাজধানীতে ‘শিশুদের চোখে জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক প্রদর্শনীর আয়োজন।

    — ‘জুলাই জাগরণ’ ডকুফিল্ম প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী আয়োজন।

    — সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, রিসার্চ কনফারেন্স, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন।

    — সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক প্লেসে ‘জুলাইয়ের অঙ্গীকার, ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণ’ শীর্ষক আলোকচিত্র ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা আয়োজন।

    — জুলাইয়ের স্মৃতি বলা, স্মৃতিলিখন, বক্তব্য, রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা প্রভৃতি আয়োজন।

    — নিজ নিজ জেলায় শহীদদের নামে পাঠাগার প্রতিষ্ঠা।

    — ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি’ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন।

    — শহীদ পরিবার, আহত ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী গাজীদের নিয়ে ‘লাল জুলাই’ শীর্ষক সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও পডকাস্টের আয়োজন।

    — শহীদদের কবর জিয়ারত, শহীদ পরিবার ও আহতদের সাথে সাক্ষাৎ এবং মতবিনিময়।

    — জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন।

    — ‘Echoes of July’ (জুলাইয়ের প্রতিধ্বনী) শিরোনামে ৩৬ দিনব্যাপী অনলাইন ক্যাম্পেইন পরিচালনা।

    জুলাইয়ের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে ঘোষিত কর্মসূচিসমূহ ছাত্রশিবিরের সকল বিশ্ববিদ্যালয়, মহানগর ও জেলা শাখার তত্ত্বাবধানে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে।

    পরিশেষে, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ক্ষমতালিপ্সার কাছে অভ্যুত্থানের অর্জনকে ব্যর্থ হতে না দিয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

  • মাদারীপুরে পানিতে ডুবে গৃহবধূর মৃত্যু

    মাদারীপুরে পানিতে ডুবে গৃহবধূর মৃত্যু

    মাদারীপুর সদর উপজেলায় মাছের ঘেরের পানিতে ডুবে শ্রাবণী বেগম (২৬) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের শিকিনোহাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত গৃহবধূর শ্রাবণী বেগম একই এলাকার হাতেম আলী ফকিরের স্ত্রী।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শ্রাবণী বেগম তার বাড়ির পার্শ্ববর্তী এলাকার সাগর হাওলাদারের মাছের ঘেরে হাঁসের জন্য ঝিনুক সংগ্রহ করতে যান। ঝিনুক সংগ্রহ শেষে তিনি সেখানে গোসল করার সময় হঠাৎ মৃগী রোগে আক্রান্ত হয়ে পানিতে তলিয়ে যান। কিছুক্ষণ পরে স্থানীয় লোকজন পানির মধ্যে শ্রাবণীকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে তার স্বজনদের খবর দেয়। পরে পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় শ্রাবণীকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) অখিল সরকার বলেন, ‘পানিতে ডুবে মারা যাওয়া ওই নারী মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিল। হাসপাতালে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।’

    মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ঝিনুক সংগ্রহ করতে গিয়ে এক নারী মাছের ঘেরের পানিতে ডুবে মারা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

  • হত্যা মামলার আসামি সাবেক পৌর কমিশনার বাছির বিমানবন্দরে গ্রেফতার

    হত্যা মামলার আসামি সাবেক পৌর কমিশনার বাছির বিমানবন্দরে গ্রেফতার

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামি কুমিল্লার দেবিদ্বারের সাবেক পৌর কমিশনার বাছির উদ্দিনকে (৪০) গ্রেফতার করেছে বিমানবন্দর থানা পুলিশ।

    রোববার (২৮ জুন) ভোরে আরব আমিরাত থেকে দেশে ফেরার পথে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    দুপুরে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    গ্রেফতার বাছির উদ্দিন দেবিদ্বার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ছিলেন। তিনি পৌরসভার চাঁপানগর গ্রামের মো: আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে।

    পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন প্রবাসে পলাতক থাকার পর দেশে ফিরলে বিমানবন্দর বাছির উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে একাধিক হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি।

    দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডিসি) মো: মনিরুজ্জামান বলেন, গ্রেফতার বাছির উদ্দিন রুবেল হত্যা, সাব্বির হত্যা ও আবুবকর হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি। বিমানবন্দর থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতারের পর আমাদের জানিয়েছে। খবর পেয়ে তাকে আনতে থানা পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে।

  • শিবচরে কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সদস্য সানজিদা আক্তার গ্রেফতার

    শিবচরে কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সদস্য সানজিদা আক্তার গ্রেফতার

    ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য ও কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সদস্য সানজিদা আক্তারকে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (২৮ জুন) সানজিদা আক্তারকে মাদারীপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে শনিবার (২৭ জুন) রাত আড়াইটার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    জানা গেছে, সানজিদা আক্তার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি ঢাকা ইডেন কলেজে পড়াশোনা করতেন। সেখান থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে সদস্য পদ লাভ করেন। পরে তিনি যুব মহিলা লীগের সদস্য ও বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

    শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, মহিলা লীগের নেত্রী সানজিদা আক্তারকে নাশকতা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

  • টাঙ্গাইলে নারীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার

    টাঙ্গাইলে নারীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার

    টাঙ্গাইল শহরের শিবনাথপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে নাজমা আলম (৫১) নামে এক নারীর হাত-পা বাঁধা ও গলায় রশি পেঁচানো লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিজ বাসার ড্রয়িং রুমে সোফার ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিল তার নিথর দেহ।

    রোববার (২৮ জুন) দুপুরে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় পুলিশ। নিহত নাজমা আলম ওই এলাকার ভেটেরিনারি ডাক্তার শফিউল আলম শাহীনের স্ত্রী।

    নিহতের স্বজনরা জানান, নিহতের স্বামী ডা: শফিউল আলম সকালে অফিসে চলে যান। পরে তিনি নাজমার মোবাইলফোনে একাধিকবার কল দিলেও কোনো সাড়া পাননি। তখন তিনি বাসার নিচতলার ভাড়াটিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে ভাড়াটিয়া ওই বাসার তিনতলায় ঘরে গিয়ে হাত-পা বাঁধা ও গলায় রশি পেঁচানো রক্তাক্ত অবস্থায় নাজমার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। সাথে সাথে পরিবারের সদস্যদের ও পুলিশে খবর দেয়া হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

    টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী বলেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে হত্যা। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।’

  • সাভারে কিশোরকে নির্যাতন করে ২ চোখ নষ্ট, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    সাভারে কিশোরকে নির্যাতন করে ২ চোখ নষ্ট, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    সাভারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রিপন (১৫) নামে এক কিশোরকে অপহরণ করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সাভার ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামিরের (৩২) বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, এতে কিশোরের দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রনেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    পাশাপাশি শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে ভুক্তভোগী কিশোরের ভগ্নিপতি স্বপন চন্দ্র সূত্রধর সামিরকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো: আব্দুল ওহাব শনিবার দুপুরে নয়া দিগন্তকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা সামির ওরফে ফেন্সি সামির সাভারের দেওগাঁও এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে।

    এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মে বিকেলে সাভারের মধ্য রাজাশনের পালোয়ানপাড়া এলাকায় সমবয়সী কয়েকজনের সাথে খেলাধুলা করছিল রিপন। এ সময় স্থানীয় আরেক কিশোরের সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে ওই কিশোরের বড় ভাই হিসেবে পরিচিত ছাত্রদল নেতা সামির ক্ষুব্ধ হয়ে তার সহযোগীদের রিপনকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন।

    পরে গত ২ জুন বিকেল ৪টার দিকে রাজাশন পালোয়ানপাড়া এলাকার রাজধানী বেকারির সামনে থেকে খেলাধুলা করার জন্য বাসা থেকে বের হলে রিপনকে মামলার ২ নম্বর আসামি মানিক ওরফে পিস্তল মানিক (২৮) ও ৩ নম্বর আসামি সজিবসহ (২৭) অজ্ঞাতনামা পাঁচ থেকে ছয়জন তুলে নিয়ে ১ নম্বর আসামি ছাত্রদল নেতা সামিরের একটি অফিস কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে সামির এবং ৪ নম্বর আসামি আলাউদ্দিন ওরফে আলমগীর (২৫) ও ৫ নম্বর আসামি মো: নাঈম ইসলাম বাদশা ওরফে পিস্তল বাদশা (২৫) ওই কক্ষে অবস্থান করছিলেন।

    সেখানে সামিরের নির্দেশে অন্য আসামিরা রিপনকে দেয়ালের সাথে মাথা আছড়ে মারে এবং লাঠি দিয়ে দুই চোখে উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে তার দুই চোখের কর্নিয়া মারাত্নকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একপর্যায়ে নাক ও চোখ দিয়ে প্রচুর রক্ত বের হয়। এ সময় রিপনের শরীর নিস্তজ হয়ে পড়লে আসামিরা তাকে মৃত ভেবে তার বাসার গেটের সামনে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে রিপনের বাবা-মা এবং স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থা আরো অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

    কিশোরের ভগ্নিপতি স্বপন চন্দ্র সূত্রধর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ডাক্তারের বরাত দিয়ে নয়া দিগন্তকে জানান, ডাক্তার বলছেন তার শ্যালকের দু’টি চোখই নষ্ট হয়ে গেছে। আর মাথার হাঁড়ের ভিতর রক্ত জমাট বাঁধা রয়েছে। বর্তমানে রিপন বাসায় রয়েছে।

    স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

    এ ব্যাপারে ছাত্রদলের ঢাকা জেলা উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইকবালকে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

    এর মধ্যে, শুক্রবার বিকেলে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামিরকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা জেলা উত্তর শাখার অধীনস্থ সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামিরের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ওঠায় তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।

    এদিকে, বহিষ্কৃত সামির শনিবার বিকেলে সাভারে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ঘটনার সাথে জড়িত নন বলে দাবি করেন।

    তিনি আরো দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার, মিথ্যা তথ্য ও ষড়যন্ত্রমূলক প্রচার করা হচ্ছে। তাকে কোনো শোকজ করা ছাড়াই দল তাকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

    এ,আর

  • তুরাগে ছাত্রলীগের ৭ নেতাকর্মীর লাশ ভাসার খবর ভিত্তিহীন : পুলিশ

    তুরাগে ছাত্রলীগের ৭ নেতাকর্মীর লাশ ভাসার খবর ভিত্তিহীন : পুলিশ

    ‘তুরাগ নদীতে ভাসছে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মীর লাশ’ শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স।

    শনিবার (২৭ জুন) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এ ধরনের মিথ্যা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সকলের প্রতি বাংলাদেশ পুলিশ অনুরোধ জানাচ্ছে।

    একটি মহল এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। যারা এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপর রয়েছে। কেউ এ ধরনের অপপ্রচারে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন ও রক্তাক্ত লাশের ছবি সংবলিত বিকৃত ছবি দিয়ে সয়লাব করতে দেখা গেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীসহ অনেকে। অনেকের ফেসবুক আইডি শনাক্ত করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে আইনত কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলেও জানা গেছে।

  • নারায়ণগঞ্জে পার্কিং থেকে চুরি হওয়া প্রাইভেটকার উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

    নারায়ণগঞ্জে পার্কিং থেকে চুরি হওয়া প্রাইভেটকার উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

    নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পার্কিং থেকে চুরি হওয়া একটি প্রাইভেটকার উদ্ধারের পাশাপাশি আন্তঃজেলা গাড়ি চোর চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় চুরি হওয়া গাড়িসহ মোট দু’টি প্রাইভেটকার ও একটি মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়।

    শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সি সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান।

    পুলিশ জানায়, সোমবার (২২ জুন) নতুন জজ কোর্টের সামনে পার্কিংয়ে রাখা মোহাম্মদ আরিফের ব্যবহৃত ২০০৬ মডেলের টয়োটা এক্স করোলা প্রাইভেটকার চুরি হয়। পরে তিনি ফতুল্লা মডেল থানায় অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

    মামলার তদন্তে এসআই মো: রফিক ও এসআই নন্দন চন্দ্র সরকারের নেতৃত্বে একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করে।

    গ্রেফতাররা হলেন— মুক্তার হোসেন (৪৮), মো: মোমিনুর রহমান ওরফে লিটন (৪২) ও আলাউদ্দিন (৩৬)। এর মধ্যে মুক্তারকে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতে ফতুল্লার দেলপাড়া চিতাশাল এলাকা থেকে এবং অপর দু’জনকে শুক্রবার (২৬ জুন) ভোরে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

    পুলিশের দাবি, গ্রেফতার ব্যক্তিরা আন্তঃজেলা গাড়ি চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি হওয়া টয়োটা এক্স করোলাসহ আরো একটি নোয়া মাইক্রোবাস ও একটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়েছে।

    গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

  • কুমিল্লায় মাদকবিরোধী মানববন্ধন শেষে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের গুলি, স্কুলছাত্রসহ আহত ৭ 

    কুমিল্লায় মাদকবিরোধী মানববন্ধন শেষে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের গুলি, স্কুলছাত্রসহ আহত ৭ 

    কুমিল্লা নগরীতে সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে বাড়ি ফেরার পথে শিক্ষার্থীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটেছে। গুলিতে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৭ জন আহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত কয়েকজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত প্রেম (১২) নামের এক স্কুলছাত্রকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আহতরা কাটাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

    আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর কাটাবিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে অভিযান শুরু করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়া।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুই দিন ধরে কাঁটাবিল ও তেলিকোনা এলাকায় প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিদের মহড়া দেয়। ওই ঘটনার প্রতিবাদ এবং এলাকায় মাদক নির্মূলে দাবির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে কাটাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধন শেষে গুলির ঘটনা ঘটে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

    নাম প্রকাশে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, মানববন্ধন শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্কুলছাত্র প্রেমসহ অন্যদের লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। যারা গুলি চালিয়েছে তারা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায় জড়িত। তারাই কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করেন।

    স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার বলেন, প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা ও অস্ত্রের মহড়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় এই হামলা। সাধারণ মানুষ এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আমরা এদের আটক করার দাবি জানাচ্ছি।
    বিকেল পৌনে ৬টার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জড়িতদের আটক করতে অভিযান শুরু করেছে। তবে ঘটনার পরই সন্ত্রাসীরা এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে। পুলিশের অভিযান চলমান আছে।

  • জাবিতে মারধরের ঘটনায় ২ শিক্ষার্থীর শাস্তি, তদন্ত কমিটি গঠন

    জাবিতে মারধরের ঘটনায় ২ শিক্ষার্থীর শাস্তি, তদন্ত কমিটি গঠন

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মুক্তমঞ্চে বড় পর্দায় ফুটবল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনায় এক শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া আরেক শিক্ষার্থীর আবাসিক হলে অবস্থান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। একইসাথে এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) ও রেজিষ্ট্রার স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

    অফিস আদেশে বলা হয়, সোমবার (২২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে ফুটবল বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়ার মধ্যাকার খেলা দেখার সময় সঙ্ঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুই শিক্ষার্থীকে শাস্তি প্রদান করা হলো।

    অফিস আদেশ অনুযায়ী, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ৪৮ তম ব্যাচের ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো: আসাদুজ্জামানকে জাবির ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রণীত শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮-এর ৪ (১) (খ) ধারা অনুযায়ী এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার (অথবা ক্ষেত্রমতে যা প্রযোজ্য) করা হলো। সাময়িক বহিষ্কারকালীন হলে ও ক্যাম্পাসে তিনি অবস্থান করতে পারবেন না।

    এছাড়া দর্শন বিভাগের ৪৮ তম ব্যাচের ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহানুর রহমান তদন্ত চলাকালীন নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না এবং হলে ও ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে পারবেন না।

    এদিকে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো: শামছুল আলমকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. খন্দকার মোহাম্মদ শরিফুল হুদা, শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো: নজরুল ইসলাম, মওলানা ভাসানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো: কামরুজ্জামান। কমিটিতে সদস্য-সচিব হিসেবে রয়েছেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা।

    উল্লেখ্য, ২২ জুন রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া ম্যাচ দেখাকে কেন্দ্র করে নাঈম আহমদ সানি নামে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের চতুর্থ বর্ষের (৫০তম ব্যাচ) এক শিক্ষার্থী মারধরের শিকার হন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

  • হাটে-বাজারে পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে খালে ফেললেন রাজবাড়ীর কৃষকরা

    হাটে-বাজারে পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে খালে ফেললেন রাজবাড়ীর কৃষকরা

    দাম না পেয়ে এ এলাকার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ নদীর পানিতে ফেলে দিচ্ছেন। ফলে আর্থিক ভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

  • সালথায় যুবকের হাত-পা বিচ্ছিন্ন লাশ উদ্ধার

    সালথায় যুবকের হাত-পা বিচ্ছিন্ন লাশ উদ্ধার

    ফরিদপুরের সালথায় একটি সড়কের উপর থেকে হাত-পা বিচ্ছিন্ন ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্নসহ পান্নু ফকির ওরফে জামু ফকির (৪২) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার কুমারকান্দা এলাকার একটি সড়কের উপর লাশটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

    সংবাদ বিশ্লেষণ

    নিহত পান্নু ফকির কুমারকান্দা গ্রামের রহমান ফকিরের ছেলে বলে জানা গেছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৪ জুন) রাতে জামু ফকির একটি জমিজমা সংক্রান্ত সালিশ বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। সালিশ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তিনি দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, রাস্তার পাশের একটি পাটক্ষেতে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে হত্যাকারীরা লাশটি সড়কের উপর ফেলে রেখে যায়।

    সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: বাবলুর রহমান খান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • মাদারীপুরে দু’পক্ষে ব্যাপক সংঘর্ষ : শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ

    মাদারীপুরে দু’পক্ষে ব্যাপক সংঘর্ষ : শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ

    মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত চারটি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ৯টার দিকে সদর উপজেলার ঘাটমাঝি ইউনিয়নের বাহেরান্দি এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।

    সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদেরকে মাদারীপুরের বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার বাহেরান্দি গ্রামের বাবুল শেখ, ইমদাদ মাতুব্বরের সাথে একই এলাকার বাচ্চু মোড়ল, লাভলু মোড়লের লোকজনের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে শেখ ও মোড়ল বংশের লোকজন নিজেদের আধিপত্য দেখাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় দুপক্ষই এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের চারটি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্তরা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

    মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘শেখ ও মোড়ল বংশের লোকজন আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে খরব পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ফের সংঘর্ষ এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  • পলাশী দিবসে ছাত্রশিবিরের আলোচনা সভায়

    পলাশী দিবসে ছাত্রশিবিরের আলোচনা সভায়

    ঐতিহাসিক পলাশী দিবসে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে আধিপত্যবাদ ও অভ্যন্তরীণ চক্রান্ত রুখে দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘পলাশী দিবসের তাৎপর্য ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ’।

    আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘প্রায় ২৭০ বছর আগের পলাশীর ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি আজও আমাদের দেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। পলাশী কেবল ভাগীরথী নদীর তীরেই সীমাবদ্ধ নয়; বর্তমান বাংলাদেশে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও বুড়িগঙ্গার তীরেও একই ধরনের চক্রান্ত সচল রয়েছে। নব্য সাম্রাজ্যবাদ বা আধিপত্যবাদের রূপ এখন বদলেছে—এখন তারা সরাসরি ভূখণ্ড দখল করে না, বরং দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সংস্কৃতিকে পর্দার আড়াল থেকে নিজেদের ইশারায় নিয়ন্ত্রণ করে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আজকের স্বাধীন বাংলাদেশেও মীর জাফর ও ঘসেটি বেগমদের মতো চরিত্রের অভাব নেই, যারা বিদেশী প্রভুর সেবাদাসত্ব করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে দিল্লির আধিপত্যের চরণে সমর্পণ করতে ব্যস্ত।’

    বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর এম এ জলিলের উক্তি টেনে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ‘অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা’। দেশের মানচিত্র ও পতাকা আলাদা হলেও সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আজ অরক্ষিত ও পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো দেশের ভেতরের রাজনৈতিক মহলের একটি অংশের আদর্শিক দীনতা। ক্ষমতার লোভে এবং নব্য আধিপত্যবাদীদের খুশি করতে দেশের প্রথম সারির দলের জনপ্রতিনিধিরাও সংসদে দাঁড়িয়ে ১৯৪৭ সালের ভূখণ্ডগত সীমানা ও ঐতিহাসিক ভিত্তি তুলে দেয়ার বা অস্বীকার করার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছেন।’

    তিনি বলেন, ‘১৯৪৭-এর পৃথক জাতিসত্তার সীমানা সৃষ্টি না হলে ১৯৭১-এর সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা অর্জন করা সম্ভব হতো না। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বর্তমান বাংলাদেশে এই অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র এবং গোলামীর মানসিকতা রুখে দিতে প্রতিটি নাগরিকের মাঝে প্রকৃত স্বাধীনতা ও স্বকীয় মূল্যবোধের চেতনা জাগ্রত করাই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।’

    বিশেষ অতিথির আলোচনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সম্মানিত অধ্যাপক বেলাল হোসেন বলেন, ‘১৭৫৭ সালের পরে প্রায় ১৫০ বছর পরে এসে মুসলমানরা একটি রাজনৈতিক সংগঠন পেয়েছে। যে সংগঠনের উপর দাঁড়িয়ে তাদের দাবি রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করা যায়। রাষ্ট্র, রাষ্ট্র পরিচালনা, শাসন এগুলো সামাজিক বিষয় না। এটা রাজনৈতিক বিষয়। সে রাজনীতি থেকে হারিয়ে গিয়ে আবার মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে তারা রাজনীতিতে ফিরে এসেছে। এবং যেই মুসলিম লীগের হাত ধরে আমরা দেখি ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর দীর্ঘ প্রায় ১৫০০ বছরে মুসলমানরা সবচাইতে ভালনারেবল টাইম পার করেছে গত ১০০ বছর। সবচাইতে কষ্টকর, বেদনাদায়ক সময় পার করেছে। উসমানী খেলাফতের পতনের পর এবং এই কঠিন সময়ের মধ্যে মুসলমানদের যদি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য থেকে থাকে, সেটি হচ্ছে ১৯৪৭ সালের পাকিস্তান রাষ্ট্র। সারা দুনিয়ার মুসলমানদের জন্য, মুসলমানদের জন্য, যেখানে ভারতবর্ষে হিন্দু মেজরিটি, সেখানে মুসলিম লিডারশিপ তাদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, নেগোসিয়েশনের মধ্য দিয়ে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র পেয়েছে। এটি মুসলমানদের জন্য অনেক বড় অর্জন ছিল পুরো ১০০ বছরের মধ্যে।’

    ‘আর সেই পাকিস্তান রাষ্ট্রের সীমানাটা আজকে দুটি রাষ্ট্র, একটি বাংলাদেশ আরেকটি পাকিস্তান। আমি বিশ্বাস করি, এই দুই দেশের মানুষ যদি তাদের হারানো ঐতিহ্যকে ধারণ করে এবং মুসলমানদের যে গ্লোরিয়াস পিরিয়ড, যে গোল্ডেন এইজ মুসলমানদের ছিল, সেগুলোকে যদি আবার ধারণ করে, তাহলে আবারো পৃথিবীর বুকে মুসলমানরা শ্রেষ্ঠত্ব অধিকার করবে এবং তাদের অবস্থান তারা নিশ্চিত করতে পারবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘আমি সুভ্যেনিরটা দেখতেছিলাম, যে সুভ্যেনিরে দেখেছি ছাত্রশিবির তার প্রতিষ্ঠার পর থেকে কন্টিনিউ এই পলাশী দিবসের প্রোগ্রামটি করে যাচ্ছে। এই পলাশী দিবস আমাদেরকে বার্তা দেয়, আমরা আমাদের সম্পদ, আমাদের ইতিহাস, আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের সেই গৌরব আমরা হারিয়েছি। আমাদেরকে আবার সেই গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে। আমরা যদি সেটা করতে পারি, তাহলে পরে এই সকল আলোচনা সভা সফল হবে এবং আমি বিশ্বাস করি, ছাত্রশিবির এমন একটি জেনারেশন তৈরি করবে, যারা তাদের ইতিহাস ঐতিহ্যের সাথে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত রাখবে এবং দেশের উন্নতি এবং সমৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।’

    অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে ছাত্রশিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ইতিহাস নিজেকে পুনরাবৃত্তি করে। এটা এমনভাবেই তার জায়গা দখল করে নেয় এবং বারবার ঘসেটি বেগম ও রায় দুর্লভদের আবির্ভাব হয়, যারা এই দেশে খেয়ে, এই দেশে বড় হয়ে, এ দেশের জনগণের অর্থ ব্যবসা-বাণিজ্য করে আবার এই জনগণের উপরই তাদের বিরোধী সন্ধি চাপিয়ে দিয়ে জনগণকে শত শত বছরের জন্য বারবার পরাধীন করে রেখেছে।’

    তিনি বলেন, ‘১৯৪৮-৪৯ সালের ঠিক এই দিনে (২৩ জুন) একটি রাজনৈতিক দলের জন্ম হয়েছিল—আওয়ামী লীগ। এর জন্ম কোনো আকস্মিক ঘটনা না, এর জন্মটাই হয়েছে এই বাংলাদেশকে পরাধীন করে রাখার জন্য এবং যার নজরানা তারা দিয়েছে যখন এদেশের জনগণ পূর্ববর্তী সময়ের মতো তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারা যাদের আধিপত্যকে এই বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করার জন্য চেষ্টা করেছিল, সে আধিপত্যবাদীদের কাছে গিয়েই আবার তারা আশ্রয় গ্রহণ করেছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের নেচার ও ফিচার যদি হাজার বছরের ইতিহাস আপনারা দেখেন, আপনারা দেখবেন এই অঞ্চলে মৌর্যরা যখন শাসন করত, এরপরে এই অঞ্চলে ধারাবাহিকভাবে গুপ্তদের শাসন এসেছিল, পালদের শাসন এসেছিল, সেনদের শাসন এসেছিল। মুসলিম সালতানাত এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। স্বাধীন সুলতানি আমল ছিল প্রায় ৬০০ বছর ধরে। মুসলমানরা যখন এখানে শাসন করেছিল—হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান তাদের নিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সাথে এই অঞ্চলে বসবাস করেছিল। এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার কারণে এই অঞ্চলে মুসলমানরা শত শত বছর শাসন করার পরেও হিন্দুদের সাথে মুসলমানদের দাঙ্গা হতো না।’

    শিবির সভাপতি বলেন, ‘এ অঞ্চলে প্রথম ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যখন তাদের বাণিজ্য প্রসার করার জন্য এসেছিল, ১৬৩৪ সালে এখানে এসে প্রথম কুঠি স্থাপন করল কাসিম বাজারে। এরপর থেকেই শুরু। কাসিম বাজারে তারা যে কয়জন কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছিল, তার সকল কর্মচারী তারা হিন্দু নিয়োগ দিয়েছিল। যার ফলে এখানে একটি হিন্দু আঁতাত তারা গড়ে তুলেছিল। এরপর ধারাবাহিকভাবে হিন্দুদেরকে মুসলমানদের শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে অনাস্থা নিয়ে এসে তলে তলে একটি বিভাজনের রাজনীতি এ অঞ্চলে প্রতিষ্ঠা করেছিল। ১৭৫৭ সালে এই অঞ্চলকে স্থায়ীভাবে যে কয়েকজন মানুষের ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য পরাধীন করা হয়েছিল, তারা নবাবের একেবারেই কাছের ছিলেন। কেউ ছিলেন নবাবের সেনাপতি, কেউ ছিলেন তার অর্থমন্ত্রী, কেউ ছিলেন তার চাচি, কেউ ছিলেন তার পার্শ্ববর্তী ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী। এই মানুষগুলোই—মীর জাফর, ঘসেটি বেগম, রায় দুর্লভ—পরবর্তী সময়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল এবং বিপদের মুখে তাকে ফেলে দিয়ে ইংরেজদের পক্ষ অবলম্বন করেছিল শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য।’

    তিনি বলেন, ‘বাংলার মানুষেরা বারবার পরাধীন হয়েছে, জীবন দিয়েছে। এরপরে বাংলার মানুষেরা স্বাধীনতা চেয়েছে। এ অঞ্চলের মানুষে বিদ্রোহ করে বারবার, যখন পিঠ দেয়ালে ঠেকে যায় তখন সে বিদ্রোহ করে বসে এবং শাসকগোষ্ঠী পালাতে বাধ্য হয়। মাঝে মাঝে তারা তাদের আধিপত্যবাদীদের কাছে গিয়ে আশ্রয় নেয়। ইতিহাস বলে, গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, এর পরবর্তী আমাদের জুলাই বিপ্লব শত শত হাজার হাজার প্রাণের বিনিময়ে মানুষেরা এই বিপ্লব এনে দেয়।’

    ‘আর শাসক গোষ্ঠীর যারা বিদেশে দীর্ঘদিন ধরে আলিশান জীবনযাপন করে, বিপ্লব-বিদ্রোহের পরেই তারা এসে আবার ক্ষমতা দখল করে। তারা চায় না এই রাষ্ট্রের কাঠামো সংস্কার হোক, তারা চায় না খুন প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন হোক। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক খাতগুলোকে তারা ধ্বংস করে দিচ্ছে। ১০০ দিনের শাসনে ৬০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে তার কোনো বিচার হচ্ছে না। আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে অফিস খুলছে, মিছিল-মিটিং করছে।’

    ছাত্রশিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘পলাশীর এই আলোচনাগুলো ইসলামী ছাত্রশিবির তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বাংলাদেশের ইতিহাসের ধারাগুলোকে জাতির সামনে, যুবকদের সামনে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে। আমরা আমাদের দেশকে ভালোবাসি। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সৎ ও দক্ষ দেশপ্রেমিক নাগরিক আমরা তৈরি করতে চাই। আমরা এদেশে এমন কোনো মানুষ তৈরি করব না যারা এদেশে জন্ম নিয়ে এদেশ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পাচার করে দেয়। আমরা তাদের কাছে অনুরোধ জানাই—ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন। নতুন বাংলাদেশকে একটি আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য আপনাদের কাছে আমরা আহ্বান জানাই।’

    তিনি সকল খুন ও হত্যাযজ্ঞের বিচার অনতিবিলম্বে এ বাংলার মাটিতে কার্যকর করার অনুরোধ জানান।

    অনুষ্ঠানে এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সালাহউদ্দিন আইউবী, এমপি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন এবং বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক ড. সায়ীদ ওয়াকিল। আরো উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের দফতর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, সাহিত্য সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক আনিসুর রহমান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আদিব মুসা প্রমুখ।

  • হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু

    হেফাজতে ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু

    ফরিদপুরে ডিবির ওসি প্রত্যাহার

    বিডি টাইমস ডেস্ক,

    ফরিদপুরের মধুখালীতে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজতে এক ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যুর পর ডিবি ফরিদপুর সদর জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

    ওই আদেশে বলা হয়, ডিবি সদর জোন থেকে ওসি সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে প্রশাসনিক কারণে প্রত্যাহার করে একই দিন বেলা একটার মধ্যে ফরিদপুর পুলিশ লাইনসে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদেশটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনিক কারণে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

    ওই ছাত্রলীগ কর্মীর নাম মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ (২৭)। তিনি মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া এলাকার বাসিন্দা ও ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

    পরিবারের দাবি, গত শনিবার বিকেলে ডিবি পুলিশ ইশতিয়াককে আটক করে এবং তার মায়ের সামনেই মারধর করে। পরদিন রোববার সকাল ৮টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হেফাজতে মৃত্যু হয় তার।

  • বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি পান করে হাসপাতালে ৩৭ শিক্ষার্থী

    বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি পান করে হাসপাতালে ৩৭ শিক্ষার্থী

    নলকূপে কীটনাশক জাতীয় বিষ ঢালার অভিযোগ

    বিডি টাইমস ডেস্ক,

    বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েছে অন্তত ৩৭ শিক্ষার্থী। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মামুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটেছে।

    বিদ্যালয়ের পাশ থেকে পলিথিনে ভরা সাদা পেস্টের মতো বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে– মঙ্গলবার সকালে কে বা কারা বিদ্যালয়ের নলকূপে কৃষি জমিতে ব্যবহারের তরল কীটনাশক ঢেলে দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা না জেনে সেই পানি পান করার পরপরই অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকে।

    নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্যমতে, ৩৭ জন শিক্ষার্থী বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসে। তাদের মধ্যে ২৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ দুজনকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ৬ জন শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

    মাহমুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মঙ্গলবার সকালে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি পান করে একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থী মারুফা আক্তার জানায়, ঝালমুড়ি খাওয়ার পর তারা কয়েকজন স্কুলের পাশের নলকূপের পানি পান করে। এরপর বমি করে অসুস্থ হয়ে পড়ে তারা। শিক্ষকরা পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তাঁর দাবি, সবাই ঝালমুড়ি খায়নি। কেউ কেউ গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পানি পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

    মামুদনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জজ কামাল জানান, কে বা কারা বিদ্যালয়ের নলকূপের পানিতে কীটনাশক বা বিষ জাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করেছে। যে কারণে নলকূপের পানি পান করে শিক্ষার্থীরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এটি কোনো নাশকতা কিনা, তদন্ত করে দোষীদের শনাক্ত করা প্রয়োজন।

    নাগরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাদীর আহমেদ বলেন, এই ঘটনায় পুরো এলাকায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। নলকূপের পাশ থেকে পলিথিনে ভরা সাদা পেস্টের মতো বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। এই পেস্ট নলকূপের পানির মধ্যে মেশানোর কারণে বিষক্রিয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদীরের ভাষ্য, ৩৭ শিক্ষার্থী বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসে। তাদের মধ্যে ২৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ দুজনকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ৬ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

    নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল ইসলাম জানান, খবর শুনেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা এখন অনেকটাই সুস্থ।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এরফান উদ্দিন বলেন, পানিতে কোনো কিছু মেশানো হয়েছে কিনা এটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য নলকূপের পানি পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে কলেজে ভর্তির আবেদন শুরু

    জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে কলেজে ভর্তির আবেদন শুরু

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চলতি বছরের একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে। বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারও জিপিএ-এর ভিত্তিতেই কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

    শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনেই সম্পন্ন করতে হবে। এ বছরও নিয়মে কোনো পরিবর্তন আসছে না— শিক্ষার্থীরা আগের মতোই সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দক্রম হিসেবে নির্বাচন করার সুযোগ পাবে।

    গত রোববার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড কলেজ পরিদর্শকদের এক বৈঠকে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালার খসড়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত সব কলেজ পরিদর্শকই বিগত বছরগুলোর মতো এবারও জিপিএ-এর ভিত্তিতে অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া চালু রাখার ব্যাপারে একমত পোষণ করেন। তবে এই নীতিমালা চূড়ান্ত করার দায়িত্ব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। পরিদর্শকদের মতে, মন্ত্রণালয় থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সেটিই চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, স্কুলের ভর্তি আর কলেজের ভর্তি প্রক্রিয়ার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। জিপিএ-র ভিত্তিতে অনলাইনে ভর্তি করালে শিক্ষার্থীদের সময় ও অর্থ দুই-ই সাশ্রয় হয় এবং এতে অনিয়মের কোনো সুযোগ থাকে না। তাছাড়া, একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে সশরীরে একাধিক কলেজে গিয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু অনলাইনের মাধ্যমে সহজেই সর্বনিম্ন ৫টি থেকে সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দক্রম হিসেবে দেওয়া সম্ভব। এমনকি প্রথম ধাপে সুযোগ না পেলেও পরের ধাপে পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ থাকে।

    সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই পুরো প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর সরাসরি কারিগরি সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়ে থাকে। ফলে মেধা তালিকা ও কলেজ নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের বিতর্কের সুযোগ নেই বললেই চলে।

    জানা যায়, ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে জিপিএর ভিত্তিতে দেশের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হচ্ছে। তবে এর বাইরেও মিশন বা চার্চ পরিচালিত কিছু প্রতিষ্ঠান আদালতের আদেশের ভিত্তিতে নিজেদের স্বতন্ত্র ভর্তি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আসছে। এসব কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য লিখিত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। এগুলো হলো নটর ডেম কলেজ, হলিক্রস কলেজ, সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল এবং সেন্ট গ্রেগরীজ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

  • ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ১০ নেতাকর্মী গ্রেফতার

    ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ১০ নেতাকর্মী গ্রেফতার

    রাজধানীর ধানমন্ডি মডেল থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ১০ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে ধানমন্ডি মডেল থানা পুলিশ।

    সোমবার (২২ জুন) ভোরে সাতমসজিদ রোড থেকে ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিকালে হাতেনাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    আজ ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

    গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মো: ইবাদুল ইসলাম (২১), মিলন বারৈ (২০), মো: সুজন সরদার (২৬), সবুজ ঢালী (২৮), নিপুল বিশ্বাস (২৯), সমু ঢালি (২৮), অশোক ঢালি (৩০), মো: সৌরভ হাওলাদার (২৩), মো: জয় (২৮) ও মাহবুব হাওলাদার (৪০)।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে যুবলীগের মনোগ্রামসহ ১৫টি ক্যাপ, নেতাকর্মীদের ছবি সম্বলিত আটটি গেঞ্জি এবং ‘শেখ হাসিনা আসবে বাংলাদেশ হাসবে’ লেখা একটি ব্যানার উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বহনকারী দু’টি বাস ও একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।

    গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

  • ডিএসইতে লেনদেন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে

    ডিএসইতে লেনদেন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে

    সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রবিবার পুঁজিবাজারে সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন কমেছে। তবে ডিএসইতে লেনদেন এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

    ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, রবিবার ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৬৩৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে যথাক্রমে ১ হাজার ১৪৮ ও ২ হাজার ১৪৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

    এদিন ডিএসইতে ১ হাজার ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে প্রায় ১৯৫ কোটি টাকা কম। আগের দিন ডিএসইতে ১ হাজার ১৯৭ কোটি ২১ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছিল।

    রবিবার ডিএসইতে ৩৯৬টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৭১টি কোম্পানির, কমেছে ২৯৮টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দর।

    অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১০৪ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৩৫৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

    এদিন সিএসইতে হাত বদল হওয়া ২২৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ৬৯টির, কমেছে ১৩৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর।

    রবিবার সিএসইতে ৩০ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ৫৩ কোটি টাকা কম। আগের দিন সিএসইতে ৮৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছিল।

  • শিবির নেতা জিসানের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

    শিবির নেতা জিসানের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

    ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান আহমেদ প্রধানের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

    রোববার (২১ জুন) কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এর বিচারক তৈয়ব উদ্দিন এ আদেশ দেন।

    বাদিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনির হোসাইন পাটোয়ারী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    আদালত সূত্র জানায়, গত ১১ জুন শিবির নেতা জিসান আহমেদ প্রধান নিখোঁজ হন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। পরদিন এ বিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। ওইদিন রাতে জেলার লাকসাম জংশন এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

    একই দিন রাতে দাউদকান্দি থানায় ২৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারী তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন। পুলিশ তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে ১৬ জুন বিকেলে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে কুমিল্লা আদালতে হাজির করে।

    অ্যাডভোকেট মনির হোসাইন পাটোয়ারী বলেন, শিবির নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের শামছুল আলম শাহ। আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামছুল আলম শাহ বলেন, ‘জিসানকে রিমান্ডে এনে দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত। আমরা আশা করছি জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে।’

  • টুঙ্গিপাড়ায় প্রধান শিক্ষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    টুঙ্গিপাড়ায় প্রধান শিক্ষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ৩০ নম্বর পাটগাতি মুন্সিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিদ্যুৎকান্তি রায়ের (৫৫) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    রোববার (২১ জুন) ভোরে উপজেলার পাটগাতি ইউনিয়নের দাড়িয়ারকুল গ্রামে নিজ বাড়ির আঙিনায় একটি কামরাঙ্গা গাছ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    মৃত বিদ্যুৎকান্তি রায় দাড়িয়ারকুল গ্রামের মৃত গঙ্গাপ্রসাদ রায়ের ছেলে। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি একজন সৎ, আদর্শবান ও নীতিবান শিক্ষক হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তিনি বাড়ির আঙিনায় একটি কামরাঙ্গা গাছে গলায় ফাঁস দেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সকাল ৬টার দিকে তার চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

    খবর পেয়ে টুঙ্গিপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুসলিম উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করেন। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    এসআই মুসলিম উদ্দিন জানান, পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বিদ্যুৎকান্তি রায় বিভিন্ন ব্যাংক ও স্থানীয় উৎস থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। পরিবারের ভাষ্যমতে, ঋণের চাপে তিনি মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

    তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় টুঙ্গিপাড়া থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    এদিকে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী, শিক্ষক সমাজ ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। অনেকেই তাকে একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, সজ্জন ব্যক্তি এবং শিক্ষাবান্ধব মানুষ হিসেবে স্মরণ করেন।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ বাড়িতে আনা হবে এবং নিজ বাড়িতেই শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।

  • আশুলিয়ায় ১৬ বছরের কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার তিন

    আশুলিয়ায় ১৬ বছরের কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার তিন

    ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় ১৬ বছরের এক কিশোরীকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে, আরেকজন পলাতক রয়েছে।

    রোববার সকালে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এর আগে, শনিবার বেলা ১১টার দিকে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের জামগড়া প্রাইমারি স্কুল সংলগ্ন সিফাতের ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ৯টার দিকে আশুলিয়া থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেফতার করে।

    গ্রেফতাররা হলেন আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার সিফাত (১৮), ফরিদপুরের বোয়ালমারীর মমিন শেখ (১৮) এবং সিরাজগঞ্জের সুমন শেখ (১৮)। ঘটনার সাথে জড়িত আরেক অভিযুক্ত জাকির হোসেন পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে তথ্য গোপন ও প্রমাণ নষ্টের অভিযোগও রয়েছে।

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে মমিন কিশোরীকে সিফাতের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে সিফাত, মমিন ও সুমন মিলে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। খবর পেয়ে আশুলিয়া জামগড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রাশেদ ও সঙ্গীয় ফোর্স অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করেন।

    আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, ‘কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক অভিযুক্ত জাকিরকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’

    উল্লেখ্য, এর আগে বুধবার আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের লালারটেক এলাকায় ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় মামলা হলেও অভিযুক্তকে এখনো গ্রেফতার করা যায়নি।

  • গাজীপুরে যুবলীগের মিছিল থেকে পুলিশকে হুমকি

    গাজীপুরে যুবলীগের মিছিল থেকে পুলিশকে হুমকি

    গাজীপুর মহানগরীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের একটি বিক্ষোভ মিছিল থেকে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে হুমকিমূলক স্লোগান দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেয়ায় তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

    রোববার ভোর ৬টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানাধীন কলম্বিয়া এলাকা থেকে যুবলীগের নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক হয়ে মালেকের বাড়ি এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মিছিল চলাকালে গাছা থানার দুজন পুলিশ সদস্য মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করছিলেন। একপর্যায়ে তারা মিছিলের দিকে এগিয়ে যেতে চাইলে মিছিল থেকে এক ব্যক্তিকে বারবার বলতে শোনা যায়, ‘এই একটাও সামনে আবি না, মাইরালামু, মাইরালামু।’ একইসাথে মিছিলে ‘শেখ হাসিনা বীরের বেশে, আসবে ফিরে বাংলাদেশে’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘অ্যাকশন, অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন, যুবলীগের অ্যাকশন’ স্লোগানও দেয়া হয়।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এবং দলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে মিছিলটির আয়োজন করা হয়। তবে মিছিল চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে হুমকিসূচক বক্তব্য প্রদান এবং প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে কর্মসূচি পালন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

    ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা নিয়েও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। অনেকেই জানতে চেয়েছেন, প্রকাশ্যে এমন স্লোগান ও কর্মসূচি চললেও কেন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

    এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন-অর-রশিদ বলেন, ভিডিওতে হুমকিমূলক বক্তব্য প্রদানকারী ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে এবং ভিডিও ফুটেজসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • মাদারীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক সভাপতিসহ গ্রেফতার ৮

    মাদারীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক সভাপতিসহ গ্রেফতার ৮

    মাদারীপুরে বিশেষ অভিযানে সন্ত্রাসীবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতিসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শনিবার (২০ জুন) রাত ও রোববার ভোররাতে তাদের সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতারদের মধ্যে মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইস্রাফিল ফরাজী, ঘটমাঝি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর জমাদ্দারও রয়েছে।

    মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নাশকতা করতে পারে এমন অভিযোগে বিশেষ অভিযান চালায় থানা পুলিশ। এরই অংশ হিসেবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দুটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ আটজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের সন্ত্রাসীবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে মাদারীপুর আদালতে পাঠানো হয়।

    এমন কর্মকান্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে বলেও জানান তিনি।

  • ব্যবসায়ী সোহেল রানার মৃত্যু : আদালতে মামলা, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

    ব্যবসায়ী সোহেল রানার মৃত্যু : আদালতে মামলা, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

    কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ব্যবসায়ী সোহেল রানার মৃত্যুকে ঘিরে দিন দিন রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। প্রথমে ঘটনাটি কেবলই একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে, ঘটনাস্থলের আলামত, সন্দেহভাজনদের আচরণ ও গতিবিধি এবং নিহত সোহেলের সাথে থাকা মোটা অঙ্কের টাকার ব্যাগ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এটি এখন পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে জোরালো দাবি উঠেছে।

    নিহতের পরিবারের স্পষ্ট অভিযোগ, এটি কোনো সড়ক দুর্ঘটনা নয়, সোহেল রানাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরো চার-পাঁচজনকে আসামি করে কিশোরগঞ্জ আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোকে (পিবিআই) দায়িত্ব দিয়েছেন।

    নিহত সোহেল রানা (৩৫) ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহচর এলাকার মরহুম সিরাজ মিয়ার সর্বকনিষ্ঠ ছেলে। তিনি স্থানীয় পানাউল্লাহরচর এলাকায় প্রতিষ্ঠিত ‘মোহাম্মদ অ্যাডহেসিভ কোং’ নামে একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের শেয়ার হোল্ডার ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের শাখা ‘মেসার্স সোহেল এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন। ওই দু’টি প্রতিষ্ঠান থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাওনা রয়েছে।

    শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাজিতপুর থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তাগাদা আদায় শেষে মোটরসাইকেলযোগে নিজ বাড়ি ভৈরবে ফিরছিলেন তিনি। কিছুক্ষণ পর কুলিয়ারচর পৌরসভার বড়খারচর মহল্লায় কাশ্মিরী আইডিয়াল স্কুল সংলগ্ন সড়কের পাশে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পরে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।

    তার একটু দূরে একটি মোটরসাইকেলও পড়ে থাকতে দেখেন তারা। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পরিবারের দাবি, ব্যবসার পাওনা টাকা সংগ্রহ শেষে রাতে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন সোহেল রানা। সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে এমন খবরে কোনো মামলা না করে হাসপাতাল থেকে নিহতের লাশ নিয়ে বাড়ি চলে যান স্বজনরা। পরে সুরতহাল রিপোর্ট ও ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরদিন রোববার (১৭ মে) বাদ জোহর স্থানীয় শম্ভুপুর পাক্কার মাথা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

    প্রাথমিকভাবে জানা যায়, সড়কের ওপর ড্রেজার পাইপ পারাপারের জন্য তৈরি করা উঁচু আইল্যান্ডসদৃশ বাধায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোহেল রানা দুর্ঘটনার শিকার হন। তবে ঘটনার পর পাওয়া বিভিন্ন তথ্য এখন সেই ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

    স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, উঁচু বাধা যেখানে রয়েছে, সেখান থেকে নিহত ব্যক্তি ও মোটরসাইকেল বেশ দূরে পড়েছিল। সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয় হচ্ছে, মোটরসাইকেলটিতে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সাধারণত উচ্চগতির দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের সামনের অংশ ভেঙে যাওয়া বা দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। কিন্তু সোহেল রানার মোটরসাইকেলটি অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    অন্যদিকে নিহতের মাথার পেছনে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এতে স্থানীয়দের সন্দেহ আরো ঘনীভূত হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, শুধুমাত্র নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে গেলে মাথার পেছনে এমন মারাত্মক আঘাত কিভাবে এলো, অথচ মোটরসাইকেলের ক্ষতি হলো না?

    ঘটনার সবচেয়ে রহস্যজনক দিক হচ্ছে, সোহেল রানার সাথে থাকা টাকার ব্যাগটি নিখোঁজ হয়ে যাওয়া। পরিবারের দাবি, তিনি বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু দুর্ঘটনার পর তার কাছে থাকা ব্যাগটি পাওয়া যায়নি। পরে ঘটনাস্থল সংলগ্ন থেকে ব্যাগের কাটা ফিতার অংশ উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গেছে।

    স্থানীয়দের ধারণা, সড়কে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তার মাথার পেছনে আঘাত করে থাকতে পারে। আঘাত পাওয়ার পর তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কিছু দূরে গিয়ে পড়ে যান। এরপর দুর্বৃত্তরা তার টাকার ব্যাগটি নিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা ধারণা করছেন, আঘাত করার কাজে ভারী কোনো বস্তু ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।

    সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সোহেল রানার মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন করে খুনীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে নিহতের বড় ভাই শাহীন আহম্মেদ মামলা দায়ের করেন। মামলায় হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে উপজেলার বড়খারচর গ্রামের মরহুম আব্দুল জলিলের ছেলে ইলিয়াছ (৫০), কাঞ্চন মেম্বারের ছেলে মজিবুর মিয়া (৪৮), টুটুল মিয়া (৩৫) ও অজ্ঞাত পরিচয় চার-পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়।

    অভিযোগ লিপিতে শাহীন আহম্মেদ উল্লেখ করেন, ঘটনার পরদিন ১৭ মে সোহেল রানার লাশ গোসল করানোর সময় তারা দেখতে পান, লাশের মাথার পেছনের মধ্যভাগে ভারী কোনো বস্তুর আঘাতের ফলে ফোলা ও আধা ইঞ্চি পরিমাণ ছিদ্রযুক্ত জখম রয়েছে।

  • গাজীপুরে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে শিশু নিহত, বাবা-মা আহত

    গাজীপুরে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে শিশু নিহত, বাবা-মা আহত

    গাজীপুরে ড্রাম ট্রাকের সাথে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে সাফওয়ান হোসেন (আড়াই বছর) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শিশুটির বাবা জুয়েল রানা (৩৬) ও মা সুরাইয়া আক্তার রুপা (৩০)।

    শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে ঢাকা-বাইপাস মহাসড়কের গাজীপুর মহানগরীর পুবাইল থানাধীন চামুড্ডা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    জুয়েল রানা বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার বাংড়া গ্রামের নাজিম উদ্দীনের ছেলে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

    গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপির) পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, জুয়েল রানা মোটরসাইকেলযোগে বগুড়ার শেরপুরের গ্রামের বাড়ি থেকে স্ত্রী ও আড়াই বছরের শিশুসন্তান সাফওয়ান হোসেনকে নিয়ে কর্মস্থল চট্টগ্রামে যাচ্ছিলেন। পথে গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলের চামুড্ডা এলাকায় পৌঁছালে তাদের মোটরসাইকেলের সাথে একটি ড্রাম ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

    এতে জুয়েল রানা ও তার স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার রুপা মোটরসাইকেল থেকে সড়কে ছিটকে পড়ে আহত হন এবং তাদের শিশুসন্তান সাফওয়ান হোসেন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত শিশুর লাশ উদ্ধার করে। গুরুতর আহত শিশুর বাবা-মাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    ওসি আরো জানান, ময়নাতদন্ত ছাড়া নিহত শিশুর লাশ হস্তান্তরের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দুর্ঘটনার পর চালক ড্রাম ট্রাক নিয়ে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যায়।

  • রাজধানীতে সবজি ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

    রাজধানীতে সবজি ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

    রাজধানীর কদমতলীর পূর্ব জুরাইন এলাকায় মো: কুদ্দুস (৫০) নামে এক সবজি ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত পৌনে ১২টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এর আগে, রাত সাড়ে ১০টার দিকে জুরাইনের নবারণ গলির পপি স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত সবজি ব্যবসায়ী কুদ্দুস পূর্ব জুরাইনের দারোগাবাড়ী রোডের ৯১/এ নম্বর বাসার বাসিন্দা। স্বজনরা জানিয়েছেন, তিনি স্থানীয় বৌ বাজারে সবজির ব্যবসা করতেন।

    কুদ্দুসকে হাসপাতালে নিয়ে আসা কামাল শিকদার জানান, রাতে ব্যবসা শেষে কুদ্দুস পূর্ব জুরাইনের নবারণ গলির পপি স্কুলের সামনের সড়ক দিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয়রা। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: ফারুক জানান, লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।

  • ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু

    ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু

    ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে ট্রেনটি সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশনে পৌঁছালে তার লাশ সান্তাহার রেলওয়ে জিআরপি থানার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত যুবকের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

    শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    এ বিষয়ে সান্তাহার রেলওয়ে জিআরপি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এ কে এম ফজলুর রহমান জানান, এখনো পর্যন্ত লাশের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। লাশের ঘাড়ে ছোট একটি আঘাতের চিহ্ন, পিঠে ঘর্ষণজনিত ক্ষত এবং নাক দিয়ে রক্তক্ষরণের আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থলের আলামত ও শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে এটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

    তিনি আরো জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সান্তাহার রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। মৃত যুবকের পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।

  • গাজীপুরে জামায়াতের রুকন শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত

    গাজীপুরে জামায়াতের রুকন শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর জেলা শাখার উদ্যোগে দিনব্যাপী রুকন শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের রুকনরা অংশগ্রহণ করেন।

    জেলা জামায়াতের আমির ড. মো: জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে ও জেলা সেক্রেটারি শফি উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা মানুষ ও জিন জাতিকে তার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। পাশাপাশি মানুষকে খেলাফতের দায়িত্ব পালনের জন্যও সৃষ্টি করা হয়েছে। যুগে যুগে নবী-রাসূলগণ এই দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তারা এককভাবে নয়; বরং দাওয়াতি কাজের মাধ্যমে মানুষকে সম্পৃক্ত করে ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনের মাধ্যমে দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়েছেন।’

    তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী সেই নীতিকে সামনে রেখে এ দেশে দ্বীন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনের কর্মীরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও জান্নাতের প্রত্যাশায় কাজ করেন। রুকনরা এ সংগঠনের চালিকাশক্তি।’

    তিনি আরো বলেন, ‘সৎ মানুষের নেতৃত্বে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই জামায়াতে ইসলামী কাজ করছে। তিনি দাবি করেন, বিশ্বজুড়ে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের বিরোধিতাকারী শক্তিগুলো ইসলামী আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়।’

    শিক্ষা শিবিরে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আব্দুর রব, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মাওলানা ছামিউল হক ফারুকী, ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানি, ড. হাফিজুর রহমানসহ জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

  • শিবচরে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে যুবক নিখোঁজ

    শিবচরে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে যুবক নিখোঁজ

    মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার দ্বিতীয়খন্ড ইউনিয়নের আলমগীর হোসেন মৃধার ছেলে সালমান রনি মৃধা (২৪) শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে নিখোঁজ হন। ৯ দিন পেরিয়ে গেলো কিন্তু এখনো তার সন্ধান মেলেনি। উভয় পরিবারের মধ্যে চলছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ।

    শিবচরে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে ফেরার পথে সালমান রনি মৃধা নামের এক যুবক গত নয় দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং নিখোঁজ যুবকের পরিবার ও এলাকাবাসীর মনে নানা সন্দেহের দানা বাঁধছে। নি‌খোঁজের ঘটনায় স্ত্রী, বাবা-মাসহ পরিবারটিতে এখন চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

    নিখোঁজ সালমান রনি মৃধা শিবচর উপজেলার দ্বিতীয়খন্ড ইউনিয়নের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন মৃধার ছেলে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (৮ জুন) শিবচর উপজেলার সন্ন্যাসীরচর ইউনিয়নের রাজারচর মৌলভীকান্দি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান সালমান রনি মৃধা। সেখানে দুই দিন অবস্থান করার পর গত বুধবার (১০ জুন) তিনি নিজ বাড়ি দ্বিতীয়খন্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু শ্বশুরবাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর তিনি বাড়ি ফিরে আসেননি এবং আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

    ছেলের কোনো সন্ধান না পেয়ে গত শুক্রবার (১২ জুন) শিবচর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন নিখোঁজের বাবা আলমগীর হোসেন মৃধা।

    তবে নিখোঁজের নয় দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো সালমান রনির কোনো খোঁজ না মেলায় বুকফাঁটা আকুতি জানাচ্ছে তার পরিবার। ছেলের অক্ষত প্রত্যাবর্তন চেয়ে প্রশাসনের সুদৃঢ় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

    (01609-939332) এই নাম্বারে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হইলো। সন্ধানদাতাকে উপযুক্ত পুরস্কার প্রদান করা হবে।

    শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, নিখোঁজ যুবককের প‌রিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে শিবচর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জি‌ডি) ক‌রে‌ছেন। তাকে উদ্ধারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

  • যাত্রাবাড়ীতে অবৈধ দখল উচ্ছেদ : মামলা ও জরিমানা

    যাত্রাবাড়ীতে অবৈধ দখল উচ্ছেদ : মামলা ও জরিমানা

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন যাত্রাবাড়ী এলাকায় জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিতকরণ এবং ফুটপাথ ও সড়ক দখলমুক্ত রাখতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ডিএসসিসি’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ফ্লাইওভারের ইনকামিং অংশ থেকে শুরু করে যাত্রাবাড়ী হয়ে কাজলা পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশের ফুটপাথ ও রাস্তার ওপর গড়ে ওঠা সব অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়।

    অভিযান চলাকালে অবৈধভাবে ফুটপাথ ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এ সময় ফুটপাথ ও সড়ক দখলমুক্ত করে জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

  • শরীয়তপুরে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন

    শরীয়তপুরে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন

    শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিহত আমির হোসেন সরদার (৪৫) উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের হলইপট্টি এলাকার বাসিন্দা। তিনি পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় ছিলেন।

    গতকাল মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে ইদিলপুর ইউনিয়নের হলইপট্টি ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবারের ছোট ছেলে সোহেল সরদারের কিছু টাকা চুরির অভিযোগ ওঠে চতুর্থ ভাই জুয়েল সরদারের (২৭) বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। বিষয়টি জানার পর বড় ভাই আমির হোসেন সরদার ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি জুয়েল সরদারকে শাসন করতে কয়েকটি চড় মারেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জুয়েল সরদার পেছন থেকে একটি কাঠ দিয়ে আমির হোসেনের মাথায় আঘাত করেন।

    গুরুতর আহত হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

    নিহতের বোন রাশিদা বেগম বলেন, ভাইদের ঝগড়া থামাতে গিয়েই আমার বড় ভাইয়ের প্রাণ গেল। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই। বড় ভাই হিসেবে শাসন করতে গিয়েই আজ তার প্রাণ গেল।

    নিহতের স্ত্রী লাইজু বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ছোট ভাই সোহেল আর মেজ ভাই জুয়েলের মধ্যে টাকা নিয়ে ঝগড়া হয়। আমার স্বামী তখন রাস্তার পাশে বসে মোবাইল দেখছিলেন। পরে বিষয়টি মীমাংসা করতে গেলে জুয়েল ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ পেছন দিক থেকে এসে কাঠ দিয়ে আমার স্বামীর মাথায় আঘাত করে। তখন আমার স্বামী শেষবারের মতো একটা কথাই বলেছিল, ‘আমাকে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নে’।

    গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন বলেন, পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত জুয়েল সরদার পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

    এ,আর,