ঢাকা বিভাগ

  • বাড্ডায় খাল থেকে অজ্ঞাত পরিচয় যুবকের লাশ উদ্ধার

    বাড্ডায় খাল থেকে অজ্ঞাত পরিচয় যুবকের লাশ উদ্ধার

    রাজধানীর বাড্ডা থানাধীন সাতারকুল ইয়াসিন নগর এলাকার একটি খালের পানি থেকে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় (২৫) এক যুবকের পচাগলা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

    বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুল আলম জানান, ইয়াসিন নগর খালের কচুরিপানার মধ্যে ভাসমান অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে।

    তিনি আরো জানান, নিহতের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। লাশে আংশিক পচন ধরেছে, তবে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। নিহতের পরনে ছিল কালো জিন্স প্যান্ট ও হাফ হাতা চেক শার্ট।

  • রায়পুরায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ যুবক নিহত, আহত ১০

    রায়পুরায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ যুবক নিহত, আহত ১০

    নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে আবারো দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে অনিক (২০) নামে এক যুবক নিহত হন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত কয়েকজন আহত হয়েছেন।

    মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোরে উপজেলার চরাঞ্চলের নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় স্থানীয় নাজিম উদ্দিন গ্রুপ ও আলাল মুন্সি গ্রুপের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    নিহত অনিক দড়িগাঁ পূর্বপাড়া এলাকার ওসমান মেম্বারের ছেলে এবং নাজিম উদ্দিন গ্রুপের সমর্থক বলে জানা গেছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে এলাকা ছাড়া ছিলেন আলাল মুন্সি ও জবা মেম্বারের অনুসারীরা। মঙ্গলবার ভোরে স্পিডবোটযোগে ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের নিয়ে তারা নিলক্ষা ইউনিয়নে প্রবেশ করে নাজিম উদ্দিনের সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ দ্রুত হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ভোর থেকে শুরু হয়ে কয়েক দফায় সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলতে থাকে এ সংঘর্ষ। এসময় প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলিতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন অনিক। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে স্বজনরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন বকুল মিয়ার ছেলে রাজু (২৮) এবং অহিদ মিয়ার ছেলে মোস্তফা (৬০)। এছাড়া আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে অন্য আহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

    খবর পেয়ে পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

    উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ ডিসেম্বর একই বিরোধকে কেন্দ্র করে নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে কুয়েতপ্রবাসী মামুন মিয়া (২৫) নিহত হন। ওই ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছিলেন। নিহত মামুনও নাজিম উদ্দিন গ্রুপের সমর্থক ছিলেন। ঘটনার পর প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, ওই সংঘর্ষের জের ধরেই আলাল গ্রুপের লোকজনের এলাকায় ফেরাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবারের এ রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটেছে।

    রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশি অভিযান চলছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

    রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার ঘোষ বলেন, “পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”

  • সালথায় নাশকতা মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার

    সালথায় নাশকতা মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার

    ফরিদপুরের সালথায় নাশকতা মামলায় মো: খায়রুজ্জামান বাবু মোল্যা (৪৮) নামে এক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    গতকাল সোমবার (১৫ জুন) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের নটখোলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    গ্রেফতার খায়রুজ্জামান বাবু উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চান্দাখোলা গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: মরহুম আব্দুল কুদ্দুছ মোল্যার ছেলে।

    তিনি সোনাপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি।

    জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে খায়রুজ্জামান বাবু মোল্যা পলাতক ছিলেন। কয়েক মাস ধরে তিনি মাঝে মাঝে গোপনে এলাকায় আসা-যাওয়া শুরু করেন।

    সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: বাবলুর রহমান খান বলেন, ‘ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু মোল্যার বিরুদ্ধে নাশকতা ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। সোমবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নটখোলা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে ফরিদপুর আদালতে পাঠানো হবে।’

  • হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

    হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

    কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় অতিবৃষ্টি ও অকাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি প্রণোদনা ও মানবিক সহায়তার তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, বর্গাচাষি ও প্রান্তিক চাষিদের বাদ দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং তাদের আত্মীয়-স্বজনদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। ইতোমধ্যে অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনে নিকলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে অতিবৃষ্টিজনিত অকাল বন্যায় নিকলী উপজেলার হাওরাঞ্চলের হাজার হাজার একর পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়। দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টি ও রোদের অভাবে অনেক জমির ধান পচে নষ্ট হয়ে যায়। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন কৃষকরা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার লক্ষ্যে সরকার মানবিক সহায়তা ও প্রণোদনা কর্মসূচি ঘোষণা করে।

    ঘোষণার পর উপজেলা কৃষি বিভাগ মাইকিং করে কৃষকদের কাছ থেকে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করে। উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে ৩ হাজার ১৮০ জনের নাম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ২ হাজার ১৮০ জনের নাম অনুমোদন দেয়।

    সোমবার সিংপুর ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নতুন করে সামনে আসে। সিংপুর ইউনিয়নের কৃষক মো. রুকন আহমেদ বলেন, “আমি চাষাবাদ করে প্রায় সাত লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছি। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় আমার নাম নেই। অথচ এমন অনেকের নাম রয়েছে যারা কোনো ধরনের চাষাবাদই করেননি।”

    এদিকে সিংপুর ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রাজিব আহম্মেদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশ করে তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম করা হয়েছে। এ অভিযোগে সিংপুর ইউনিয়নের ভাটিবরাটিয়া গ্রামের মো. খাইরুজ্জামান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

    তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রাজিব আহম্মেদ। তিনি বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক যাচাই-বাছাইয়ের সময় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামপুলিশ উপস্থিত ছিলেন। তাদের সহায়তায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চিহ্নিত করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

    জারইতলা ইউনিয়নের সাজনপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের কৃষক ইসমাইল হোসেন বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে। যারা চাষাবাদ করেননি তারাও প্রণোদনা পাচ্ছেন, আর প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন।”

    একই অভিযোগ করেছেন ছাতিরচর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মো. জলিল মিয়া। তিনি বলেন, “প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে পক্ষপাতিত্ব ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে তালিকা করা হয়েছে। সরকারি চাকরিজীবী, কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন— এমন ব্যক্তিদের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”

    এ বিষয়ে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রেহানা মজুমদার মুক্তি বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নে কোনো ধরনের অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতির সুযোগ নেই। তবে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করে তাদের প্রাপ্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা আরও দুর্ভোগের মুখে পড়বেন।

    এ এম

  • নবীনগরে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত, আটক ৪

    নবীনগরে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত, আটক ৪

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে সহপাঠীদের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্র গুরুতর আহত হয়েছে। এ ঘটনায় সপ্তম শ্রেণির চার শিক্ষার্থীকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

    সোমবার (১৫ জুন) বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

    আহত শিক্ষার্থীর নাম আল জিদান সরকার (১২)। সে ইব্রাহিমপুর গ্রামের প্রবাসী উজ্জ্বল সরকারের ছেলে। ঘটনার পর আল জিদান সরকারের মা আয়েশা বেগম নবীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

    জানা যায়, গায়ে ধাক্কা লাগার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র আল জিদান সরকারের ওপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়া হয়।

    শিশু জিদান সরকারের ওপর হামলাকারীরা একই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো: সাব্বির হোসেন (১৩), আরাফাত হোসেন (১৩), রামিম (১৩) ও জিহাদ (১৩)। তাদের সকলের বাড়ি ইব্রাহিমপুর গ্রামে।

    ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই চার শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনতার সহায়তায় আটক করা হয়। পরে তাদের প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এবং পরে নবীনগর থানায় সোপর্দ করা হয়।

    আহত শিক্ষার্থীর মা আয়েশা বেগম বলেন, স্কুলের ভেতরে আমার ছেলের ওপর এভাবে হামলা হবে, তা কখনো কল্পনা করিনি। সে এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেয়া হচ্ছে।

    ইব্রাহিমপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: জাকির হোসেন বলেন, ঘটনার সাথে সাথেই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোর্শেদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার জড়িত থাকার অভিযোগ চারজনকে আটক করে পুলিশের হাতে সোর্পদ করেছে। আহত ছেলের মা আয়েশা বেগম লিখিত অভিযোগ করেছেন।

  • আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

    আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

    রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।

    আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্টে অ্যাডভোকেট ইউনূছ আলী আকন্দ রিটটি দায়ের করেন।

    আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, এই রিট দায়েরের সাথে আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পর্ক নেই।

    এর আগে, গত ১১ জুন রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে সরকার। স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, হাসপাতালটি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবে।

    গত ২৭ মে ভোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। তাদের বয়স ছিল এক থেকে তিন দিন। এই নবজাতকদের নামও রাখা হয়নি। ফলে তাদের মায়ের নামে চিহ্নিত করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর অভিযোগ এনে রমনা থানায় মামলা করেন মৃত এক নবজাতকের বাবা হাবিবুর রহমান।

    ঘটনা তদন্তে দ্রুত তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ৩০ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন জানান, তদন্ত কমিটি ৩ জুন পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেবে।

    ঘটনা তদন্তে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও। তারা এই তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশের ঘোষণাও দিয়েছিল। পরে তারা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে জানায়, প্রতিবেদনটি প্রকাশ না করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হবে।

  • রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি : ট্রাইব্যুনালে রায় ২৮ জুন

    রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি : ট্রাইব্যুনালে রায় ২৮ জুন

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি করাসহ দু’জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ের জন্য আগামী ২৮ জুন দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট আসামি পাঁচজন।

    আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো: গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন।

    এদিন এ মামলায় দ্বিতীয় দফায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়। প্রথমেই আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন। এ ঘটনার সাথে তার মক্কেলের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি। তবে প্রসিকিউশনের পক্ষে মামলার পাঁচ আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি চান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।

    এর আগে, ১০ জুন পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকার। জবানবন্দিতে এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে অভিযোগও আনেন তিনি। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি প্রথম ধাপে সাক্ষ্য দেন এই আসামি।

    মামলায় চঞ্চল ছাড়া অন্যরা পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো: রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো: মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

    গত ৪ মার্চ এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু নতুন করে ডিজিটাল এভিডেন্স জমা দেয়ার আবেদন করে প্রসিকিউশন। এরপর প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেয়া আমির হোসেনকে পুনরায় সাক্ষ্য দিতে হয়।

    গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। ৭ আগস্ট ফর্মাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।

  • কালুখালীতে ৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

    কালুখালীতে ৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

    রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মাজবাড়ী ইউনিয়নে পাঁচ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন ও খালের দু’ পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কুমোরগাড়া বিল থেকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গড়াই টিকরির বিল ভায়া মুনাই বিল হয়ে বেতবাড়ীয়া অভিমুখী খালের পুনঃখনন করা হবে।

    সোমবার (১৫ জুন) প্রধান অতিথি হিসেবে খাল পুনঃখনন প্রকল্প ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেজবাহ উদ্দিন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন কালুখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: লুৎফর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিমাই চন্দ্র রায়, মাজবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী শরিফুল ইসলাম, মৃগী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দুলাল মৌলবীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

    কালুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার পাইলটিং প্রকল্প হিসেবে আমাদের মাজবাড়ী ইউনিয়নে পাঁচ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজ চলমান রয়েছে। আশা করি, সঠিক সময়ের মধ্যেই এ কাজ সুন্দরভাবে শেষ হবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘এ প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্যোগের ফলে বজ্রপাতসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবল থেকে মুক্তি মিলবে। পাশাপাশি খাল খনন সম্পন্ন হলে জলাবদ্ধতা কমবে, পানির ধারণক্ষমতা বাড়বে। কৃষি জমির সেচ সুবিধা পাওয়া যাবে। আমি খাল পুনঃখনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।’

    অনুষ্ঠান শেষে ইউএনও মেজবাহ উদ্দিন আরো বলেন, ‘প্রায় ২০০০ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হবে। এই গাছ যাতে ভালো থাকে এলাকার লোকজন দেখে রাখবে। এটা আমার আপনার সম্পদ।’

    উল্লেখ্য, উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় উপজেলার মাজবাড়ী ইউনিয়নে পাঁচ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন ও বৃক্ষরোপণের কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা। যেখানে ২৯৭ জন শ্রমিক ৪৩ দিনে ৫০০ টাকা হারে দিনমজুর হিসেবে কাজ করবেন।

  • স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিল্লাল হত্যা : রিমান্ড শেষে কারাগারে রিয়াজুল

    স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিল্লাল হত্যা : রিমান্ড শেষে কারাগারে রিয়াজুল

    স্বেচ্ছাসেবক দলের রমনা থানার সাবেক আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেনকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় রিমান্ড শেষে রিয়াজুল হাসানকে (৫০) কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে আজ সোমবার তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    এর আগে ১০ জুন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো: জাকির হোসাইন তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বিল্লাল হোসেন রমনা এলাকার আরাফাত মার্কেটে ব্যবসা করতেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে দিদারুল ইসলাম বাবুসহ কয়েকজনের সাথে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। গত ৮ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দিদারুল ইসলাম বাবু ‘সালিসের কথা’ বলে বিল্লাল হোসেনকে আরাফাত মার্কেটের পেছনে ডেকে নেন। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেয়া আসামিরা তাকে ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে দিদারুল ইসলাম বাবু ও তার সহযোগীরা লোহার রড, ক্রিকেট স্টাম্প ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করেন।

    মামলার অভিযোগ থেকে আরো জানা যায়, হামলার একপর্যায়ে দিদারুল ইসলাম বাবু বিল্লাল হোসেনের বুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় ৯ জুন বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী আছিয়া খাতুন রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় দিদারুল ইসলাম বাবুসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

  • শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

    শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

    গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ৮৪ নম্বর কেওয়া পূর্বখণ্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শ্রীপুর পৌরসভার যুব বিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোমবার (১৫ জুন) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষপ্রেম জাগ্রত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়।

    কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদ।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ড. মো: হারুন অর রশিদ।

    এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর পৌর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা আবুল হোসাইন, পৌরসভার অফিস ও বায়তুল মাল সম্পাদক মাছউদুল হাসান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শ্রীপুর পৌরসভার যুব বিভাগের সেক্রেটারি আক্তারুজ্জামান মোল্লার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।’

    এসময় তারা শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি গাছ লাগানোর পাশাপাশি রোপণকৃত গাছের নিয়মিত পরিচর্যা করার আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং তাদের মনোযোগ সহকারে পড়াশোনা করে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। তারা শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে ফলজ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় আয়োজকরা ভবিষ্যতেও শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

  • পাঁচ মুরগি থেকে সফল খামারি

    পাঁচ মুরগি থেকে সফল খামারি

    চার বছর আগে নারায়ণগঞ্জ থেকে শখের বশে কেনা পাঁচটি সিল্কি মুরগি দিয়ে শুরু। সেই ছোট্ট শখের খামারই আজ পরিণত হয়েছে দেশি-বিদেশি ২২ প্রজাতির উন্নত জাতের মুরগির সমৃদ্ধ সংগ্রহশালায়। একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতার পাশাপাশি সফল উদ্যোক্তা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নরসিংদীর রায়পুরা পৌর শহরের শ্রীরামপুরের বাসিন্দা মোবারক হোসেন। বর্তমানে তিনি এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য অনুপ্রেরণার নাম। উদ্যোক্তা মোবারক পৌর শহরের শ্রীরামপুরে বসতঘরের পেছনে পরিত্যক্ত নিচু জমিতে মাচা তৈরি করে গড়ে তুলেছেন তার ব্যতিক্রমধর্মী খামার ‘মোল্লা অ্যাগ্রো ফার্ম’। এখানে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও ছোট জাতের মুরগি কলম্বিয়ান লাইট ব্রাহমা ও মালয়েশিয়ান সেরামা।বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, পোল্যান্ড, চীন, মালয়েশিয়া, ভারত ও জাপানের হোয়াইট, ব্ল্যাক টেইল, মলটেড, গোল্ডেন সেব্রাইট, সিলভার সেব্রাইট, বাফ সেব্রাইট, সিল্কি, সেরামা, অস্ট্রলপ, কাদারনাথ, ব্রাহামা, পুলিশ ক্যাপ, হোয়াইট ফ্রিজেল ও পাহাড়ি লাইজ্জাসহ ২২টি প্রজাতির কয়েকশ মুরগি রয়েছে খামারটিতে। এছাড়াও রয়েছে ৫০০ গ্রাম ওজনের বিশেষ জাতের কোয়েল। নানা প্রজাতির শৌখিন ও বাণিজ্যিক মুরগির সমন্বয়ে খামারটি ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। শুধু মুরগি পালনই নয়, ইনকিউবেটর যন্ত্রের মাধ্যমে নিজেই ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদন করেন উদ্যোক্তা মোবারক। খামারে উৎপাদিত শৌখিন প্রজাতির মুরগি অনলাইন ও অফলাইন দুই মাধ্যমে বিক্রি করে তিনি মাসে আয় করেন ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা।

    মোবারক জানান, ১০০-২০০ টাকা করে জমিয়ে আজ থেকে চার বছর আগে ২ হাজার ৫০০ টাকায় পাঁচটি সিল্কি মুরগি কিনে খামার শুরু করি। এখন আমার দুটি খামার রয়েছে। দেশি-বিদেশি ২২ জাতের কয়েকশ শৌখিন জাতের মুরগি আছে দুটি খামারে।

    তিনি আরও বলেন, বেকার যুবকদের জন্য এ ধরনের মুরগি পালন হতে পারে অধিক লাভজনক ও কর্মসংস্থানের বড় মাধ্যম। নতুন উদ্যোক্তাদের আমার খামারে স্বাগত জানাই। তারা আসুক, দেখুক, ভালো লাগলে মুরগি পালনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেব। মোবারকের মুরগির খামার দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকরা আসেন। অনেকেই তার কাছ থেকে মুরগি পালনের আধুনিক কৌশল ও খামার ব্যবস্থাপনার নানা বিষয় শিখছেন। পাশাপাশি এ পেশায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন তারা।

    রায়পুরা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, পৌর শহরের বাসিন্দা মোবারক হোসেন ২০ থেকে ২৫ জাতের বিদেশি মুরগি পালন করছেন। ওইসব মুরগি তিনি অনলাইন ও অফলাইনে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। তার খামারটি দেখে অনেকেই মুরগি পালনে আগ্রহ দেখাচ্ছে। এতে মুরগি পালনে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি বেকারত্ব দূর হবে। আমরা শৌখিন প্রজাতির মুরগি খামারিদের নানা পরামর্শ দিয়ে থাকি। পাশাপাশি মুরগির রোগ প্রতিরোধে কৃমিনাশক ওষুধ প্রয়োগ ও টিকার ব্যাপারে খামারিদের সচেতন করি।

    এ এম

  • রক্তদান শুধু সেবা নয়, ইবাদতও: সেলিম উদ্দিন

    রক্তদান শুধু সেবা নয়, ইবাদতও: সেলিম উদ্দিন

    বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে সাইকেল র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের নেতৃত্বে এই র‍্যালির আয়োজন করে লাইফ সাইকেল বিডি।

    জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ পাশের মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে শুরু হওয়া র‍্যালিটি ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল ও মধুবাগ এলাকা ঘুরে পুনরায় মানিক মিয়া এভিনিউতে এসে শেষ হয়। এতে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।

    র‍্যালির আগে স্বাগত বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, এবারের বাজেটে জুলাইয়ের গণ-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন নেই, বরং এটি পুরোনো ধারার বাজেট। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ঋণখেলাপিদের সুবিধা দেওয়ার পথ উন্মুক্ত করেছে।

    তিনি আরও বলেন, বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে এবং খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক নয়।

    সেলিম উদ্দিন দাবি করেন, শিক্ষা খাতে যে বরাদ্দ দেখানো হয়েছে, তার মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের ব্যয় এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক খরচ যুক্ত রয়েছে। এগুলো বাদ দিলে প্রকৃত শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির দেড় শতাংশেরও নিচে নেমে আসবে।

    তিনি তরুণদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান এবং একটি সুস্থ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার জন্য জামায়াতে ইসলামী কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন।

    রক্তদাতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এক ব্যাগ রক্ত একটি মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। রক্তদান মানবসেবার পাশাপাশি একটি ইবাদতও।

    তিনি আরও বলেন, দেশের হাসপাতালগুলোতে আধুনিকভাবে রক্ত সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এ সমস্যা সমাধানে ডিজিটাল ব্লাড ডোনার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লাইফ সাইকেল বিডির পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম রিয়াজ, উপদেষ্টা মাহফুজুর রহমান, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ইয়াসিন আরাফাত, হেমায়েত হোসেন এবং সহকারী পরিচালক আব্দুল মোতালেব।

  • সিদ্ধিরগঞ্জে লেকে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু

    সিদ্ধিরগঞ্জে লেকে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু

    নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেকে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল কয়েক ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে তাদের লাশ উদ্ধার করে।

    শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে বার্মা স্ট্যান্ড সংলগ্ন নাভানা সিটির সামনে দক্ষিণ কদমতলী কাশেমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন মো: রাশেদুজ্জামান (২২), তার শ্যালক মো: গালিব (১৮) ও শ্যালিকা মোসা: সুরাইয়া (১২)।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে রাশেদুজ্জামান, তার শ্যালক গালিব ও শ্যালিকা সুরাইয়া ডিএনডি লেকে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে তারা পানিতে তলিয়ে যান। পরে তাদের খুঁজে না পেয়ে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেন।

    খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় প্রথমে রাশেদুজ্জামান ও গালিবের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে সুরাইয়ার লাশও উদ্ধার করা হয়।

    নিহত রাশেদুজ্জামানের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার মনাগ গ্রামে। তার বাবার নাম দেলোয়ার।

    স্বজনরা জানান, জীবিকার তাগিদে কাজের সন্ধানে তিনি গত সপ্তাহে ঢাকায় এসেছিলেন।

    অন্যদিকে গালিব ও সুরাইয়ার বাড়ি কালিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে। তাদের বাবা আকরাম। বর্তমানে তারা দক্ষিণ কদমতলী কাশেমপাড়ায় অ্যাডভোকেট জালাল সাহেবের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।

    সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, ‘পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনজনই সাঁতার জানতেন। তারপরও কীভাবে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

    পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান শেষে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • নারায়ণগঞ্জে  লেকে নেমে এক পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু

    নারায়ণগঞ্জে লেকে নেমে এক পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু

    নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেকে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের দক্ষিণ কদমতলী কাশেমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন মো. রাশেদুজ্জামান (২২), মো. গালিব (১৮) ও মোসা. সুরাইয়া (১২)। পরে ফায়ার সার্ভিস তিনজনের মরদেহই উদ্ধার করে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে রাশেদুজ্জামান, তার শ্যালক গালিব এবং শ্যালিকা সুরাইয়া ডিএনডি লেকে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে তারা পানিতে তলিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাদের দেখতে না পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেন।

    সংবাদ পেয়ে নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দুই ঘণ্টার চেষ্টায় প্রথমে রাশেদুজ্জামান ও গালিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিখোঁজ সুরাইয়ার মরদেহও উদ্ধার করা হয়।

    নিহত রাশেদুজ্জামানের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার মনাগ গ্রামে। তার বাবার নাম দেলোয়ার। পরিবারের সদস্যরা জানান, জীবিকার তাগিদে কাজের সন্ধানে তিনি গত সপ্তাহে ঢাকায় এসেছিলেন। অপরদিকে গালিব ও সুরাইয়ার বাড়ি নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে। তাদের বাবা আকরাম। বর্তমানে তারা দক্ষিণ কদমতলী কাশেমপাড়ায় অ্যাডভোকেট জালাল সাহেবের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।

    ঘটনার খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে যান। তিনি জানান, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা গেছে, তিনজনই সাঁতার জানতেন। তারপরও কীভাবে এ দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    পুলিশ জানায়, উদ্ধার অভিযান শেষে মরদেহগুলো আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

  • ফরিদপুরে আনারস চাষে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন মিলন

    ফরিদপুরে আনারস চাষে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন মিলন

    ফরিদপুরে মিলনের আনারস চাষে সফলতার স্বপ্ন

    ডেক্স নিউজ : ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করে আলোচনায় এসেছেন কৃষি উদ্যোক্তা মিলন ফকির। ইউনিয়নের যদুনন্দী গ্রামে ৮ বিঘা জমিতে ৮০ হাজার আনারসের চারা রোপণ করে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি বৃহৎ বাগান। ফলন ভালো হলে ৮০ লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, সালথায় এই প্রথম বড় পরিসরে আনারসের বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে। এ উদ্যোগ অঞ্চলে আনারস চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে যাচ্ছে।

    জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের সঙ্গে যুক্ত মিলন গত বছর শখের বশে নিজের বাড়ির ছাদে কয়েকটি আনারস গাছের চারা রোপণ করেছিলেন। সেখানে আশাতীত ফলন পাওয়ার পর তিনি বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষের পরিকল্পনা করেন। পরে টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে ক্যালেন্ডার ও জলডুগু জাতের ৮০ হাজার চারা সংগ্রহ করে ৮ বিঘা জমিতে রোপণ করেন।

    মিলন বলেন, ছাদে আনারস চাষে ভালো ফল পাওয়ার পর আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। তখনই বড় পরিসরে আনারস চাষের সিদ্ধান্ত নিই। চারা সংগ্রহ, জমি প্রস্তুত ও পরিচর্যাসহ এ পর্যন্ত ১৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আগামী বছর ফল সংগ্রহ শুরু হবে। ফলন ভালো হলে ৮০ লাখ টাকার আনারস বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি। মিলন আরও বলেন, আনারস বিক্রির পাশাপাশি চারা উৎপাদন ও বিক্রির পরিকল্পনাও রয়েছে। উদ্যোগটি সফল হলে আনারস চাষে উৎসাহিত হবেন এলাকার অনন্য কৃষকরাও।

    সরেজমিন দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সারিবদ্ধভাবে রোপণ করা হয়েছে আনারসের চারা। পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা বাগানটি ইতোমধ্যে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে স্থানীয় কৃষকদের। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা বাগান দেখতে আসছেন এবং আনারস চাষের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন।

    স্থানীয় কৃষক রফিক মোল্যা বলেন, আমাদের এলাকায় আগে কখনো বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ হতে দেখিনি। মিলনের বাগান দেখে আমরা উৎসাহবোধ করছি। তিনি সফল হলে আমরাও ভবিষ্যতে আনারস চাষের কথা ভাবব।

    স্থানীয়দের মতে, প্রচলিত ধান, পেঁয়াজ ও সবজি চাষের বাইরে গিয়ে মিলনের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সফল হলে ফরিদপুর অঞ্চলে আনারস চাষের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে কৃষকের জন্য তৈরি হবে আয়ের নতুন উৎস।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, সালথায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করা হয়েছে। এটি এ অঞ্চলে নতুন সম্ভাবনার সূচনা করেছে ফল চাষে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। উদ্যোগটি সফল হলে আরও অনেক কৃষক আনারস চাষে এগিয়ে আসবেন বলে আমরা আশা করছি।

    এ এম

  • নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণ: চিকিৎসাধীন নারীর মৃত্যু

    নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণ: চিকিৎসাধীন নারীর মৃত্যু

    নারায়ণগঞ্জের মদনপুরে গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে দগ্ধ একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মধ্যে সুলতানা আক্তার (৪২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

    শুক্রবার (১২ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান সাংবাদিকদের জানান, সুলতানা আক্তারের শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।

    তিনি আরো জানান, বর্তমানে আলী আহমদ মান্নান ৩০ শতাংশ, ছেলে সিয়াম ৭৭ শতাংশ এবং মেয়ে মিমি ৪১ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। পথচারী শিশু হযরত আলীর শরীরের ৮ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মদনপুরের ছোটবাগ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    দগ্ধরা হলেন— সবজি ব্যবসায়ী আলী আহমদ মান্নান (৫০), তার স্ত্রী গার্মেন্টসকর্মী সুলতানা আক্তার (৪২), ছেলে কলেজশিক্ষার্থী সিয়াম (১৯), মেয়ে স্কুলশিক্ষার্থী মিমি (৯) এবং পথচারী শিশু হযরত আলী (৮)।

    দগ্ধদের স্বজনরা জানান, পরিবারটি মদনপুরের একটি একতলা বাড়িতে ভাড়া থাকত। বাসার গ্যাসের চুলার লাইনে লিকেজ থাকায় আলী আহমদ মান্নান নিজেই সেটি মেরামত করেন। পরে তার স্ত্রী রান্নার জন্য চুলা জ্বালানোর কিছুক্ষণ পরই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে দম্পতি, তাদের দুই সন্তান এবং পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া এক শিশু দগ্ধ হয়।

    পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন।

  • রাজধানীতে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কাইল্যা পলাশ’ গুলিবিদ্ধ

    রাজধানীতে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কাইল্যা পলাশ’ গুলিবিদ্ধ

    রাজধানীর হাতিরঝিলে রামপুরা টিভি সেন্টার এলাকায় তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে কাইল্যা পলাশকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    আজ শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    হাতিরঝিল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানান, পলাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) রয়েছেন।

    আহতের ভাই আল আমিন জানান, দুপুরে পলাশ জুম্মার নামাজ শেষে রয়েল মিষ্টির দোকানের সামনের রাস্তায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে করে দুই যুবক এসে আকস্মিকভাবে পলাশের মাথা লক্ষ্য করে গুলি করে। এরপর তারা পালিয়ে যায়।

    তিনি আরো জানান, পলাশের মাথায় দুটি গুলি লেগেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাসপাতালে আনার পরপরই তাকে জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা তার জীবন বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ঘটনার পেছনে স্থানীয় সন্ত্রাসী ‘কাইল্যা মাসুদের’ নাম উঠে এসেছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার এবং ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে রামপুরা থানা পুলিশ ও ডিবির একাধিক টিম মাঠে নেমেছে।

  • রামপুরায় শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশকে গুলি

    রামপুরায় শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশকে গুলি

    রাজধানীর হাতিরঝিল থানার রামপুরা টিভি সেন্টার এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ (৫০)কে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা।

    একমাস আগে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান পলাশ। শুক্রবার (১২ জুন) দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পূলিশ সূত্রে জানা যায়, পলাশ ওরফে ‘কাইল্লা পলাশ’ হাতিরঝিল রামপুরা এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত।

    ২০০২ সালের ২৯ মে রামপুরায় যুবদল নেতা মিজানকে গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনায় বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন পলাশকে।

    পরে উচ্চ আদালত তাঁর সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

    রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শুক্রবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে নামাজ পড়ে বাসায় ফিরছিলেন পলাশ। আজ পলাশের বাসায় মিলাদ ছিল। রামপুরা থানাধীন রয়েল মিষ্টির দোকানের সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তার মাথায় দুটি গুলি লাগে। গুলিবিদ্ধ পলাশকে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। কারা, কেন পুলাশের ওপর হামলা করেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    এর আগে, গত বছরের ১০ নভেম্বর রাজধানীর সূত্রাপুরে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুনকে (৫৫)। এ ছাড়া, চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল নিউমার্কেট এলাকায় গুলিতে নিহত হন আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নঈম আহমেদ টিটন।

    বি. এ

  • ১০ জেলায় ঝড়ের আভাস

    ১০ জেলায় ঝড়ের আভাস

    দেশের ১০ জেলায় ৬০ কিলোমিটার বেগে শক্তিশালী ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    শুক্রবার (১২ জুন) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানা গেছে।

    এতে বলা হয়েছে—ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট জেলার ওপর দিয়ে পূর্ব অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

    এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    বি. এ

  • সোনারগাঁওয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ, চুনা কারখানার মালিকের কারাদণ্ড ও জরিমানা

    সোনারগাঁওয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ, চুনা কারখানার মালিকের কারাদণ্ড ও জরিমানা

    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিয়ে গ্যাস চুরির দায়ে এক চুনা কারখানার মালিককে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে আঞ্চলিক বিক্রয় বিভাগ সোনারগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ শনাক্ত ও বিচ্ছিন্ন করতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    অভিযানকালে সোনারগাঁও পৌরসভার ইছাপাড়া এলাকায় অবস্থিত একটি চুনা কারখানায় অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কারখানাটির মালিক মেসার্স প্রান্ত ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো: আবু বক্কর (২৬) কে আটক করা হয়।

    তদন্তে জানা যায়, তিনি অনুমোদনহীন সংযোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস ব্যবহার করে আসছিলেন, যা রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরির শামিল। এ অপরাধে তাকে বাংলাদেশ গ্যাস আইন, ২০১০-এর ১২(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

    নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুহা তাবিল ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

    নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুহা তাবিল বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ গ্যাস চুরি ও অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

    অভিযানে সংশ্লিষ্ট গ্যাস বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের সময় ওই এলাকার কয়েকটি অবৈধ গ্যাস সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়।

  • ছাদবাগানে মরুর গোলাপ

    ছাদবাগানে মরুর গোলাপ

    আকাশ সাহার মাসে আয় ১৫-২০ হাজার টাকা

    ডেক্স নিউজ: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ছাদবাগানে বিরল প্রজাতির এডোনিয়াম (মরুর গোলাপ) চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন এক যুবক। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির পাশাপাশি শখের বশে ছাদবাগান শুরু করে বর্তমানে সফল উদ্যোক্তা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আকাশ সাহা। ১ হাজার ৮০০ বর্গফুট আয়তনের বাড়ির ছাদে তিনি গড়ে তুলেছেন দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতি ও রঙের এডোনিয়াম ফুলের পাশাপাশি রয়েছে বিরল প্রজাতির অসংখ্য ফুল ও শৌখিন গাছ। এডোনিয়াম গাছের আদি নিবাস দক্ষিণ আফ্রিকার মরু অঞ্চল হলেও বর্তমানে বাংলাদেশের আবহাওয়ায় এটি ভালোভাবে বেড়ে উঠছে। এডোনিয়ামের ইংরেজি নাম ‘ডেজার্ট রোজ’। সরেজমিন দেখা যায়, আকাশ সাহার ছাদবাগানে সাদা, হলুদ, গোলাপি, কমলা, মেরুন, বেগুনি ও নানা বর্ণের এডোনিয়াম ফুল ফুটে রয়েছে। ফুলগুলোর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থী ও ক্রেতারা ভিড় করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছয় বছর আগে শখের বসে মাত্র ২০টি অবেসাম (obesum) জাতের এডোনিয়াম গাছ দিয়ে আকাশ সাহা ছাদবাগানের যাত্রা শুরু করেন। থাইল্যান্ড থেকে সংগ্রহ করা ওই গাছগুলোর পেছনে তখন খরচ হয়েছিল দুই থেকে তিন হাজার টাকা। এরপর দীর্ঘ ছয় বছরের শ্রম, ঘাম ও যত্নে তিনি গড়ে তুলেছেন এই সমৃদ্ধ বাগান। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে কয়েক হাজার গাছ। আকাশ সাহা নিজেই ফুল থেকে বীজ সংগ্রহ এবং সেই বীজ থেকে চারা উৎপাদন করেন। তার ছাদবাগানে বর্তমানে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার বিভিন্ন প্রজাতি ও রঙের ফুলগাছ রয়েছে। প্রতি মাসে এডোনিয়ামসহ বিভিন্ন ফুলের চারা বিক্রি করে তিনি গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করছেন। আকাশ সাহার স্ত্রী ঐশি সাহা বলেন, আমাদের ছাদবাগানে এখন অসংখ্য মরুর গোলাপ গাছ ও চারা রয়েছে। আমরা বিভিন্ন স্থান থেকে এসব গাছ সংগ্রহ করেছি। এছাড়া আরও অনেক ধরনের ফুল ও শৌখিন গাছ রয়েছে। প্রতিদিন সকাল-বিকাল আমরা বাগানের পরিচর্যা করি। এটা আমাদের বাড়তি আনন্দ দেয়। বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ বাগান দেখতে এবং চারা কিনতে আসে। এডোনিয়াম গাছের তুলনামূলক কম পানি ও পরিচর্যা লাগে, তবে ফুলগুলো দেখতে খুবই সুন্দর। গাছের চারা কিনতে আসা আল আমিন বলেন, ‘অনলাইনে এই বাগানের খবর পেয়ে আমি সরাসরি দেখতে এসেছি। এখানে মরু অঞ্চলের অনেক প্রজাতির ফুলগাছ রয়েছে। বাগানটি দেখে খুব ভালো লেগেছে। আমি কয়েকটি গাছ কিনতে এসেছি। আমিও নিজের ছাদবাগানটি আকাশ সাহার মতো সাজাতে চাই। ছাদবাগান সম্পর্কে আকাশ সাহা বলেন, শুরুতে পরিবার ও আত্মীয়স্বজন অনেকেই এটাকে পাগলামি মনে করতেন। তবে শখের বশে শুরু করা কাজটি এখন বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে। অনেক পরিশ্রম ও যত্ন করে বাগানটি গড়ে তুলেছি। এখন কাছের ও দূর-দূরান্তের মানুষ বাগান দেখতে ও চারা কিনতে আসেন। তিনি আরও বলেন, এডোনিয়াম মরুর উদ্ভিদ হলেও এর জন্য বিশেষ ধরনের মাটি তৈরি করতে হয়। মাটি তৈরিতে বালু, ধানের চিটা, কোকোপিট, হাড়ের গুঁড়া, কয়লা, ভার্মি কম্পোস্ট ও ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা হয়। প্রতি মাসে গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার চারা বিক্রি করি। আমার বাগানে বর্তমানে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ২৫ হাজার টাকা মূল্যের গাছ রয়েছে। গরম যত বাড়ে, এডোনিয়াম গাছে তত বেশি ফুল ফোটে। সাধারণত সারা বছরই কিছু না কিছু ফুল থাকে। তবে শীতকালে গাছগুলো সুপ্ত অবস্থায় চলে যায় এবং পাতা ঝরে পড়ে। অতিরিক্ত বৃষ্টি ও পানিতে ফুলের ক্ষতি হয়। এবার গাছগুলোতে রিপটিং ও পুলিং করা হয়েছে, তাই প্রচুর ফুল আসবে বলে আশা করছি। এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভীর রহমান বলেন, বোয়ালমারী কৃষিতে সমৃদ্ধ একটি উপজেলা। এখানকার উদ্যোক্তারা নতুন নতুন উদ্যোগ নিয়ে সামনে আসছেন। আকাশ সাহা তার ছাদবাগানে এডোনিয়াম বা মরুর গোলাপ চাষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, এডোনিয়াম চাষের প্রচলন আমাদের এলাকায় খুব বেশি নেই। বোয়ালমারীর মাধ্যমে ফরিদপুরে এ চাষের আরও বিস্তার ঘটবে বলে আশা করছি। বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম রকিবুল হাসান বলেন, আকাশ সাহার মতো সফল উদ্যোক্তাদের পাশে থাকতে উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মকভাবে কাজ করবে।

    এ এম

  • কুমিল্লায় মহাসড়ক থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল থেকে ৪৫ জনকে আটক করলো জনতা

    কুমিল্লায় মহাসড়ক থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল থেকে ৪৫ জনকে আটক করলো জনতা

    কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলে ধাওয়া দিয়ে ৪৫ জনকে আটক করেছে স্থানীয়রা। পুলিশ মিছিলে ব্যবহৃত তিনটি মাইক্রোবাস ও দুটি বাস জব্দ করা হয়েছে।

    রোববার দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার মাটিয়ারা এলাকায় ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকা অভিমুখী লেনে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, কয়েকটি যানবাহনে করে আসা বিপুলসংখ্যক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী হঠাৎ করেই সড়কে নেমে মিছিল শুরু করেন। প্রায় ২৪ থেকে ৩০ সেকেন্ড স্থায়ী ওই মিছিলে কয়েকশ নেতাকর্মী অংশ নেন বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, মিছিলটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল। প্রথমে বুড়িচং উপজেলার নিমসার মহাসড়ক এলাকায় কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ মুহূর্তে স্থান পরিবর্তন করা হয়। পরে সদর দক্ষিণ উপজেলার মাটিয়ার এলাকায় নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে ইউটার্ন মোড় এলাকায় এসে আকস্মিক মিছিল বের করেন।

    মিছিলের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক কর্মীরা তাদের ধওয়া করে কয়েকজনকে আটক করে। এ সময় মিছিলকারীদের বহনকারী কয়েকটি যানবাহন জব্দ করা হয়।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি দিয়ে মোট ৪৫ জনকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কাজী জুবায়ের আলম জিলানী বলেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ দমনের ছাত্রদল প্রস্তুত । মিছিলের নামে যদি জনগণের ভোগান্তি করার পাঁয়তারা করে তাহলে আমরা শক্তহাতে দমন করব ।

    কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ করেই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী প্রায় ৩০ সেকেন্ডের একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৪৫ জনকে আটক করেছে। পাশাপাশি মিছিলে ব্যবহৃত তিনটি হায়েস ও দুটি বাস জব্দ করা হয়েছে।

    ঘটনার পর মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

  • “কান্ডারী হুঁশিয়ার” গানের শতবর্ষ পালনের আহবান

    “কান্ডারী হুঁশিয়ার” গানের শতবর্ষ পালনের আহবান

    সাহিত্য ডেস্ক : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী গান ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার (কাণ্ডারী হুঁশিয়ার)’-এর শতবর্ষ পালনের আহ্বান জানিয়েছে দেশের ১৪টি জাতীয় ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। ৩ জুন ২০২৬ তারিখে সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ এ আহ্বান জানান।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯২৬ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে ক্ষুব্ধ ও বিচলিত হয়ে নজরুল গানটি রচনা ও সুরারোপ করেন। ওই বছরের ২২ মে কৃষ্ণনগরে প্রাদেশিক সম্মিলনীতে তিনি প্রথম গানটি পরিবেশন করেন। পরে এটি ‘বঙ্গবাণী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং ‘কালিকলম’ পত্রিকায় গানের স্বরলিপি ছাপা হয়। একই বছরের জুনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলিম সাহিত্য সমাজের অধিবেশনে তিনি গানটি পরিবেশন করেন। সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান সময়ে ধর্মীয় বিভাজন, বিদ্বেষ ও সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ আরো বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। তারা বলেন, এই গানের শতবর্ষ উদযাপনের মাধ্যমে নজরুলের মানবতাবাদী বার্তা নতুনভাবে তুলে ধরা সম্ভব। নেতৃবৃন্দ নজরুলের ১৯২৬ সালে রচিত ‘মন্দির ও মসজিদ’ প্রবন্ধের একটি উক্তিও স্মরণ করিয়ে দেন—‘যে নিজের ধর্মের সত্যকে চিনেছে, সে কখনও অন্য ধর্মকে ঘৃণা করতে পারে না।’ যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনগুলো দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক আয়োজন, আলোচনা সভা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক কর্মসূচির মাধ্যমে শতবর্ষ উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছে।

    বিবৃতিদাতা সংগঠনসমূহ : বাংলাদেশ নজরুলসংগীত সংস্থা, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থা, বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, জাতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষা আন্দোলন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, সমগীত, সুর সপ্তক, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট, আনন্দধারা (নারায়ণগঞ্জ), বসন্তবাহার সংগীত একাডেমি (নারায়ণগঞ্জ), কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর।

  • বিনামূল্যে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন নড়িয়া-সখিপুরের ২১৬ জন শিক্ষিত বেকার

    বিনামূল্যে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন নড়িয়া-সখিপুরের ২১৬ জন শিক্ষিত বেকার

    বিদেশে কর্মসংস্থানের আশায় দেশের হাজারো যুবক প্রতি বছর দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। কেউ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, কেউ লাশ হয়ে দেশে ফেরত আসছেন, আবার কেউবা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ পথে বিদেশ পাড়ি দিয়ে নির্যাতন ও মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়ে পরিবারকেও করছেন সর্বস্বান্ত। এমন বাস্তবতায় শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান কিরন এক ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ২১৬ জন শিক্ষিত ও বেকার যুবককে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়ার ঘোষণাকে বাস্তবায়ন শুরু করেছেন।

    তারই ধারাবাহিকতায় শনিবার (৬ জুন) সকালে নড়িয়া উপজেলা পরিষদের হলরুমে এ কর্মসূচির আওতায় আবেদন গ্রহণ ও প্রাথমিক বাছাই কার্যক্রম শুরু করা হয়। মেসার্স মেটকো এন্টারপ্রাইজের তত্ত্বাবধানে আট শতাধিক শিক্ষিত বেকার যুবকের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। নড়িয়া ও সখিপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত তরুণরা স্বপ্নের নতুন ঠিকানায় পৌঁছার আশায় বাছাই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন।

    আয়োজক সূত্রে জানা যায়, দেশের বেকার সমস্যা কমানো এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নড়িয়া-সখিপুরের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে একজন করে মোট ২১৬ জন যুবককে নির্বাচন করা হবে। নির্বাচিতদের প্রশিক্ষণ শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভিসায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়া হবে।

    এ উদ্যোগে আশার আলো দেখছেন স্থানীয় শিক্ষিত বেকার যুবকরা। সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণকারীরা জানান, বিদেশে যাওয়ার জন্য আমাদের মধ্য থেকে অনেকেই দালালের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করেও প্রতারণার শিকার হয়েছি এবং হচ্ছি। এমন প্রেক্ষাপটে এমপি শফিকুর রহমান কিরনের কোম্পানী মেসার্স মেটকো এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বৈধ ও নিরাপদ উপায়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সত্যিই মানবিক, বিরল ও প্রশংসনীয়।

    শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান কিরন বলেন, ‘শিক্ষিত ও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে আমার নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে একজন করে মোট ২১৬ জনকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিদেশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে বিদেশে যাওয়া পর্যন্ত সব ধরনের ব্যয় আমরাই বহন করব। প্রাথমিক বাছাইয়ে উত্তীর্ণদের পরে ঢাকায় নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রশিক্ষণ শেষে দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিদেশ যাওয়ার আগ পর্যন্ত থাকা-খাওয়া, প্রশিক্ষণ, ভিসা প্রক্রিয়া, বিমান ভাড়া ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ সব খরচ মেসার্স মেটকো এন্টারপ্রাইজের পক্ষ থেকে বহন করা হবে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘উদ্যোগটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রে দেশের একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে। একইসাথে দেশের বেকার যুবসমাজের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। ২১৬ জনকে দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। যা শুধু নড়িয়া-সখিপুরের অর্থনীতিতেই নয় জাতীয় অর্থনীতিতেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

  • গাছ লাগিয়ে যুবকের ‘প্রতিবাদ’

    গাছ লাগিয়ে যুবকের ‘প্রতিবাদ’

    ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পূর্ব শ্যামপুর গ্রাম। স্থানীয় যুবক হাওলাদার শামীম আহমেদ দাদি ও বাবার কবরের পাশে তিনটি ফুলের গাছ লাগিয়েছিলেন, হাসনাহেনা, কামিনী ও শিউলী। নিয়মিত পরিচর্যায় গাছগুলোতে ফুল আসতে শুরু করে। একদিন গিয়ে দেখেন গাছগুলো নেই। কে বা কারা ফুলসমেত তুলে নিয়ে গেছে। হতাশ হন শামীম। কাউকে কিছু না বলে তিনি ভিন্নরকম প্রতিবাদের পথ বেছে নেন, তা হলো রাস্তার দুপাশে, সারা গ্রামের বাড়ির আঙিনায় ফুলগাছ রোপণ করবেন।নিজ উদ্যোগে ও অর্থায়নে গ্রামের প্রায় ২ কিলোমিটার সড়কের উভয়পাশে ৫শ বাড়ির সামনে ইতোমধ্যে দেড় হাজার ফুলগাছ রোপণ করেছেন। দিনব্যাপী বাড়ি বাড়ি ঘুরে গাছ রোপণের পাশাপাশি স্থানীয়দের এগুলো পরিচর্যা করারও অনুরোধ জানান তিনি।

    শামীমের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে গ্রামজুড়ে বইছে প্রশংসার জোয়ার। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাধারণত চুরির ঘটনায় মানুষ ক্ষুব্ধ হয়, কিন্তু শামীম যেভাবে গ্রামের সৌন্দর্যবর্ধনে ফুলগাছ রোপণ করছেন, তা সত্যিই বিরল। কয়েকমাস পর যখন এই গাছগুলোতে ফুল ফুটবে, তখন পুরো গ্রাম সুবাসে ভরে যাবে।

    শামীম বলেন, আমি চোর খুঁজে বের করার চেষ্টা করিনি। হয়তো চোরের বাড়িও আমার গাছ রোপণ কর্মসূচির আওতায় এসে গেছে। সে যদি আমার এই কাজ দেখে অনুতপ্ত হয় এবং ভবিষ্যতে চৌর্যবৃত্তি থেকে বিরত থাকে, সেটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমার লক্ষ্য শুধু চোরকে শিক্ষা দেওয়া নয় বরং পুরো উপজেলাকে সবুজ ও সুবাসিত করা। ভবিষ্যতে সদরপুরের প্রতিটি গ্রামে ফুল ও ওষুধি গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে আমার।

    স্থানীয় বাসিন্দা লাবলু হক বলেন, শামীমের এই উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে। অনেকেই মনে করছেন, সমাজের যে কোনো নেতিবাচক ঘটনার এমন সুন্দর ও ইতিবাচক সমাধান তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে।

    একই গ্রামের শামছু বলেন, রাস্তার পাশে ফুলগাছ রোপণ করা হচ্ছে, খুবই ভালো উদ্যোগ। একসময় ফুলগুলো সুবাস ছড়াবে। পথচারী সৌন্দর্য উপভোগ করবে। সুবাসে মুগ্ধ হবে। শামীমের শ্রম সার্থক হবে। এ বিষয়ে সদরপুর ইউপি চেয়ারম্যান কাজী জাফর বলেন, হাওলাদার বাড়ির শামীমের এ উদ্যোগের বিষয়টি শুনেছি। উদ্যোগটি ভালো।

    এ এম

  • মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির বাদপড়া শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের সময় বাড়ল

    মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির বাদপড়া শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের সময় বাড়ল

    দেশের মাদরাসা পর্যায়ের ২০২৪, ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত রেজিস্ট্রেশন থেকে বাদপড়া শিক্ষার্থীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন (ই-সিফ) পদ্ধতিতে ফি জমা দেয়ার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২ জুন) মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যেসব শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া কোনো কারণে বাদ পড়েছে, তাদের শিক্ষাকার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং পরবর্তী শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশনের বিড়ম্বনা এড়াতে ভবিষ্যৎ ও মানবিক দিক বিবেচনা করে এ সময়সীমা বাড়ানো হলো।

    এতে আরো বলা হয়, সংশ্লিষ্ট মাদরাসার মাধ্যমে অনলাইনে সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ের সাহায্যে বিলম্ব ফি পরিশোধ এবং ই-সিফ পূরণ করা যাবে।

    নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, বিলম্ব ফিসহ অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দেয়া যাবে ২ জুন থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত। ফি সিস্টেমে জমা হওয়ার পরই কেবল তথ্য আপলোডের জন্য নতুন এন্ট্রি অপশন সচল হবে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের তথ্য ই-সিফ এ এন্ট্রির সর্বশেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ জুন পর্যন্ত।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই বর্ধিত সময়ে শুধু বিলম্ব ফি দিয়ে নতুন শিক্ষার্থীর তথ্য এন্ট্রি করা যাবে। শিক্ষার্থীর আগে এন্ট্রিকৃত তথ্য এডিট বা ডিলিট (পরিবর্তন বা মুছে ফেলা) করার সুযোগ থাকবে না।

    এতে আরো জানানো হয়, শুধু রেজিস্ট্রেশন ফি প্রদান ও তথ্য এন্ট্রি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য অফিস সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন ভিত্তিক সিম নম্বর দিয়ে ০১৭১৩-০৬৮৯০৯ অথবা ০১৫১-৬১১৯৩৬০ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

  • মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর পুলিশের হামলা, আহত অর্ধশত

    মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর পুলিশের হামলা, আহত অর্ধশত

    ইসলামী ব্যাংকের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত বিতর্কিত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত গ্রাহকদের ওপর বেপরোয়া হামলা চালিয়েছে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ, জলকামান ব্যবহার এবং টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত অর্ধশত গ্রাহক আহত হয়েছেন

    সোমবার (১ জুন) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ হামলা চালানো হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিতে থাকেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ শুরু করে এবং বেপরোয়াভাবে জলকামান ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে।

    পুলিশের লাঠিচার্জের আঘাতে অনেকের মাথা ফেটে রক্তাক্ত হন। আহত অনেক গ্রাহক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    পুলিশি অভিযানের পর বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেও কিছু সময় পর আবারো প্রধান কার্যালয়ের আশপাশে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন।

    আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাদের কর্মসূচি ছিল শান্তিপূর্ণ। তবে কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই পুলিশ তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান এস আলম গ্রুপের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। তার নিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকে পুনরায় অনিয়ম ও লুটপাটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণেই তারা চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন।

    এদিকে ঘটনার পর ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, কয়েকশ আন্দোলনকারী ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় অবরোধ করলে মতিঝিলের ব্যাংকিং ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল এবং যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল। তাদের বারবার সরে যেতে অনুরোধ করা হলেও তারা পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন।

    তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেডসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ ঘটনায় পুলিশের এসি (পেট্রোল) মতিঝিলসহ অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

    উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে বরখাস্ত হওয়া মো. খুরশীদ আলমকে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তবে এ নিয়োগের পর থেকেই ব্যাংকের একাংশ গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

    গ্রাহকদের দাবি, বিতর্কিত ও রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে শীর্ষ পদে নিয়োগ দিলে দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকটি নতুন করে আস্থার সঙ্কটে পড়তে পারে। তাই তারা নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

  • ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর পুলিশের হামলা

    ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর পুলিশের হামলা

    ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে গ্রাহকদের মানববন্ধনে পুলিশ হামলা চালিয়েছে। পিুলিশের হামলায় ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারি গ্রাহকরা। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান ব্যবহার ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে। এতে অর্শতাধিক গ্রাহক আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রথমে গ্রাহকরা শান্তিপূর্ভাবে মানববন্ধন করে । এতে পুলিশ বাধা দেয়। পরে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গ্রাহকেরা জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ অভিযান শুরু করে। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জলকামান ও টিয়ার শেল ব্যবহার করে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।

    আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশের ধাওয়া ও লাঠিচার্জে অর্শতাধিক গ্রাহক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনকে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

    আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলেন। তাদের আশঙ্কা, ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের কারণে অতীতে যেসব অনিয়ম ও বিতর্কের অভিযোগ উঠেছিল, সেগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। এ কারণেই তারা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছিলেন।

    পুলিশ আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার পরও তাদের একটি অংশ পুনরায় ব্যাংকের আশপাশে অবস্থান নেয়। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ব্যাংকপাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, আমরা সকালে থেকে আন্দোলনকারীদের সরে যেতে বলেছি। যেহেতু এখানে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ অন্যান্য ব্যাংক রয়েছে। তাদের ভালোভাবে বুঝিয়ে বলা হয়েছে। বলার পরও সরে না যাওয়াতে বলপ্রয়োগে বাধ্য হয়েছি।

  • ভিসা নিয়ে মার্কিন দূতাবাসের সুখবর

    ভিসা নিয়ে মার্কিন দূতাবাসের সুখবর

    ভিসা প্রক্রিয়ায় গতিশীলতা আনতে অভিবাসনে ইচ্ছুকদের সুখবর দিয়েছে বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। দুই দিনের মধ্যে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।রোববার (৩১ মে) দুপুরে মার্কিন দূতাবাসের এক ক্ষুদে বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। মার্কিন দূতাবাস জানায়, আগামী ১ জুন থেকে এই ঘোষণা কার্যকর করা হবে। সেইসঙ্গে ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস সব ধরনের অভিবাসী ভিসা ক্যাটাগরির আবেদন ২ কর্মদিবসের মধ্যে প্রক্রিয়াকরণ করবে। দূতাবাস অনুরোধ জানিয়েছে, বিস্তারিত তথ্যের জন্য আমাদের ‘ডিরেক্টরি অব ভিসা ক্যাটাগরিজ’ (ভিসা ক্যাটাগরির নির্দেশিকা) দেখুন এবং ‘ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ক্যাটাগরিজ’ অপশনটি চেক করুন।

  • আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেকারি পাওয়া গেছে

    আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেকারি পাওয়া গেছে

    রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাউরুটি তৈরির একটি ফ্যাক্টরির (বেকারি) সন্ধান পাওয়া গেছে।

    শনিবার (৩০ মে) স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল হাসপাতালটি পরিদর্শনে গেলে এ বিষয়টি সামনে আসে।

    পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের ভেতরে পাউরুটি উৎপাদনের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে।

    এ সময় ঘটনাস্থলের দৃশ্য দেশের কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি (লাইভ) সম্প্রচার করা হয়, যা জনমনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

  • সাভারে ট্যানারিতে তিন দিনে সাড়ে ৫ লাখ চামড়া সংগ্রহ

    সাভারে ট্যানারিতে তিন দিনে সাড়ে ৫ লাখ চামড়া সংগ্রহ

    বিডিটাইমস ডেস্কঃ সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরীতে তিন দিনে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেছেন ট্যানারি মালিকরা। এছাড়া ট্যানারির বাইরের আড়তদাররা আরও প্রায় এক লাখ কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ করেছেন।

    শনিবার দুপুরে বিসিক চামড়া শিল্পনগরীর নির্বাহী প্রকৌশলী মেহরাজুল মাঈয়ান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, ঈদের দিন বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করে শনিবার সকাল পর্যন্ত তিনদিনে মোট সাড়ে পাঁচ লাখ কাঁচা চামড়া ট্যানারিগুলোতে প্রবেশ করেছে।

    মেহরাজুল জানান, শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৭১২টি ট্রাক চামড়া নিয়ে ট্যানারিগুলোতে প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ১১ হাজার ৫৪০টি গরু ও মহিষের এবং ১৬ হাজার ১৩৬টি ছাগল ও ভেড়ার চামড়া।

    সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের হরিণধরায় বিসিক শিল্পনগরীর ট্যানারিগুলোতে আজ শনিবার সকালেও ট্রাকে কাঁচা চামড়া প্রবেশ করতে দেখা গেছে। ঈদের দিন দুপুরের পর থেকেই রাজধানী ঢাকা এবং এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কাঁচা চামড়াবোঝাই যানবাহনগুলো এই চামড়া শিল্পনগরীতে আসতে শুরু করে। পরে এসব কাঁচা চামড়া সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করেন ট্যানারি মালিকরা, যা শনিবারও অব্যাহত ছিল। সংগ্রহ করা চামড়াগুলো লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করতে দেখা গেছে শ্রমিকদের।

    বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত মিতালী ট্যানারির সেলেক্টার মানিক জানান, তাদের ট্যানারিতে প্রায় ২০ হাজার কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই চামড়াগুলোই এখন পরিষ্কার করে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে নষ্ট না হয়ে যায়।

    ট্যানারি মালিক ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকার বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং মৌসুমি ব্যবসায়ীরা তাদের সংগ্রহ করা কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সরাসরি সাভারের এই শিল্পনগরীতে নিয়ে আসেন। এসব কাঁচা চামড়া যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য ট্যানারিগুলোতে দ্রুত লবণ দিয়ে প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বৈজ্ঞানিক উপায়ে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

  • দেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

    দেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

    নিজ নিজ অবস্থানে থেকে সবাইকে দেশ গঠনের কাজে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইসিবি চত্বরে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি আয়োজিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত দুস্থদের মধ্যে কাপড় ও খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অঙ্গীকার করি সমাজের সবাইকে বিভিন্নভাবে একে অপরের সাহায্য সহযোগিতা করব। একজন নাগরিক হিসেবে যদি সবাই সবার নিজ নিজ অবস্থান থেকে একে অপরের প্রতি সহযোগিতা করি, তাহলেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের এই মৃত্যুবার্ষিকীতে তার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হবে।’

    দুস্থদের মধ্যে কাপড় ও খাবার বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    তিনি আরও বলেন, ‘আসুন আমরা আজকে সেই কাজটি করি। আমরা প্রত্যেকে যার যার অবস্থান থেকে চেষ্টা করি যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দেশ গঠনে কাজ করছে তাদেরকে সহযোগিতা করব। তাদের সাহায্য করব একজন নাগরিক হিসেবে।’

    তারেক রহমান বলেন, ‘আজকে আর কথা বলব না। কারণ আমরা আজকের এই অনুষ্ঠানটির কারণে মানুষের চলাচলের সমস্যা হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিষয়ে আরেকদিন সভা সমাবেশ করব। সেদিন আমরা বসে ভালো করে সংগঠনকে কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, সেগুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা করব।’

  • আদ্-দ্বীনে ছয় নবজাতকের মৃত্যু: মায়েদের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত প্রতিবেদন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    আদ্-দ্বীনে ছয় নবজাতকের মৃত্যু: মায়েদের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত প্রতিবেদন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন আজ শনিবার দেওয়া হচ্ছে না।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আজ প্রথম আলোকে জানান, প্রতিবেদন দেওয়ার আগে ছয় নবজাতকের মায়েদের সঙ্গে কথা বলা হবে। কথা বলার পর প্রতিবেদনটি আগামী ৩ জুন দেওয়া হবে।

    গত বুধবার সকালে হাসপাতালটির ডেলিভারির পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। নবজাতকদের বয়স ছিল এক থেকে তিন দিন। এ ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়।

    ঘটনাটি তদন্তে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. জাহিদ রায়হান প্রথম আলোকে জানান, শনিবার (আজ) তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

    তবে আজ স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রথম আলোকে বলেন, যে ছয় নবজাতক মারা গেছে, তাদের মায়েদের সঙ্গে কথা বলার পর তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, ‘শিশুদের মায়েরা বিভিন্ন এলাকায় আছেন। তাঁদের কাছ থেকে কথা শোনা হবে। তারপর এসব বিষয় তদন্তের মধ্যে থাকবে।’

    তদন্তে এখন পর্যন্ত কী পাওয়া গেল, তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ছয়টি বাচ্চা একবারে মারা গেছে। বুঝতে পারছেন তদন্তে কী আসবে। বাচ্চাগুলো তো আর হাইপার সিনড্রোমে (গুরুতর কোনো লক্ষ্মণযুক্ত উপসর্গ) মারা যায়নি। আমরা সমস্ত আলামত, সমস্ত ব্যাখ্যা পেয়েছি। কিন্তু সামারিটি (মূল বিষয়) বলব না। মায়েদের স্টেটমেন্টটা নিয়ে দেখি। যদি কিছু যুক্ত হয়, তবে সবকিছু এক করে পরে কথা বলব। ৩ জুন দেওয়া হবে প্রতিবেদন।’

    ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তবে কাউকে আটক করা হয়নি।

    কী কারণে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত চলছে।

    এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করছেন রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশিক ইকবাল। গতকাল আশিক প্রথম আলোকে বলেন, নবজাতকদের মৃত্যুর পর থেকেই হাসপাতালটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে কয়েকজন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তবে কাউকে এখনো আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।

  • জাতীয় চিড়িয়াখানায় সাদা মহিষ দেখতে জনতার ভীড়

    জাতীয় চিড়িয়াখানায় সাদা মহিষ দেখতে জনতার ভীড়

    রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় সম্প্রতি আনা বিশেষ বৈশিষ্ট্যের সাদা মহিষ (অ্যালবিনো বাফেলো) দেখতে দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঈদের পরদিন বিকেল থেকে চিড়িয়াখানার এল-০৭ নম্বর খাঁচার সামনে দর্শনার্থীদের উল্লেখযোগ্য ভিড় পরিলক্ষিত হয়।

    চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের দিন দর্শনার্থীর উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে সাদা মহিষটি দেখতে আগ্রহী মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে জাতীয় চিড়িয়াখানার অন্যান্য প্রাণীর খাঁচার তুলনায় মহিষটির খাঁচার সামনে অধিক ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

    দর্শনার্থীদের অবগতির জন্য মহিষটির খাঁচার সামনে একটি পরিচিতিমূলক ট্যাগ সংযুক্ত করা হয়েছে, যেখানে বাংলা ভাষায় ‘সাদা মহিষ’ এবং ইংরেজিতে ‘Albino Buffalo’ উল্লেখ রয়েছে। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও ব্যতিক্রমী উপস্থিতি দর্শনার্থীদের মধ্যে বাড়তি কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

    চিড়িয়াখানা কতৃপক্ষ বলেছেন, মহিষটি গত বুধবার রাতে জাতীয় চিড়িয়াখানায় আনা হয়। পরদিন সকাল থেকেই প্রাণীটি ঘিরে দর্শনার্থীদের আগ্রহ দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। নতুন ও বিরল বৈশিষ্ট্যের প্রাণী হওয়ায় এটি দেখতে মানুষের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

    কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমেও আলোচিত এই অ্যালবিনো মহিষটি বর্তমানে জাতীয় চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। এর ফলে প্রতিদিনই দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং চিড়িয়াখানার পরিবেশ আরো প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে।

  • আদ্ব-দ্বীন হাসপাতালের তদন্ত প্রতিবেদন ৩ জুন

    আদ্ব-দ্বীন হাসপাতালের তদন্ত প্রতিবেদন ৩ জুন

    ডেস্ক নিউজ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ৩ জুন জমা দেওয়া হবে।

    শনিবার (৩০ মে) সকালে রাজধানীর মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আজকে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু দিতে পারছে না। এজন্য আরও তিন দিন সময় দিয়েছি কমিটিকে। কারণ সেখানে অবস্থানরত সন্তানহারা মায়েদের বক্তব্য নেওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য নিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

  • কোরবানির পশু জবাই করতে গিয়ে রাজধানীতে দুইশো জন আহত

    কোরবানির পশু জবাই করতে গিয়ে রাজধানীতে দুইশো জন আহত

    পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির পশু জবাই ও নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে রাজধানীতে অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে। গরুর লাথি, গুঁতা ও দড়ির টানে হাত-পা ভাঙা, আঙুল কাটা ও রগ ছিঁড়ে যাওয়ার মতো আহত হয়ে বৃহস্পতিবার (আজ) সকাল থেকে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন অন্তত ৩৩ জন। একই সময়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন কারণে আহত হয়েছেন আরও ১৬৮ জন, যাদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৮৯ জনকে ভর্তি করা হয়েছে।

    জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (নিটোর) তথ্য বলছে, সকালে নামাজের পরবর্তী কোরবানি শুরুর পর থেকে এমনই সব ভাঙা কাটা ক্ষত নিয়ে রাজধানীর পঙ্গু (নিটোর) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন ৩৩ জন। এছাড়াও গেল গেলো ১৫ ঘণ্টায় কোরবানি জানিতো কারণ ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৬৮ জন। আর এদের মধ্যে কিছুটা গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত ৮৯ জনকে ভর্তি নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

    বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাজধানীর আগারগাঁও অবস্থিত পঙ্গু (নিটোর) হাসপাতাল ঘুরে আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চিত্র দেখা গেছে।

    নিটোর-এর অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার জীবনানন্দ হালদার বলেন, গতকাল রাত বারোটা থেকে আজ দুপুর ৩টা পর্যন্ত আমাদের এখানে মোট ১৬৮ জন রোগী এসেছে। আর আজ সকাল থেকে কোরবানি জনিত কারণে আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন ৩৩ জন। এই মোট রোগীর মধ্যে ভর্তি হয়েছেন ৮৯ জন।

    তিনি বলেন, আজ গুরুতর আহত হয়ে রোগী কম এসেছে। কোরবানি দিতে গিয়ে আঙুল কাটা, রগ কাটা, হাত কাটা, পা কাটা, কোমরে কাটা, এই ধরনের রোগী আসছে। কোরবানি দিতে গিয়ে যে সমস্যাগুলো হয় সেই ধরনের রোগীই বেশি এসেছে। মেজর অ্যাক্সিডেন্টের রোগে গতকাল বেশি ছিল। আবার গতকাল দুজন এক্সপেয়ার করছে (নিহত হয়েছেন)। গতকাল যে পেশেন্ট এসেছে এর মধ্যে কোরবানি জনিত পেশেন্ট ছিল কিছু আর বেশি ছিল মোটরসাইকেল অ্যাক্সিডেন্ট পেশেন্ট।

  • আদ-দ্বীনে ৬ নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

    আদ-দ্বীনে ৬ নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

    বিডিটািইমস ডেস্কঃ রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে ৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিআইডির কর্মকর্তারা রয়েছেন।

    আজ বুধবার আদ-দ্বীন হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এ তথ্য জানান।

    জানা গেছে, তদন্ত কমিটিকে ৭২ ঘন্টার মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড ও এনআইসিইউ’র কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, চিকিৎসায় অবহেলার কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে মনে হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি কারিগরি ত্রুটির কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

    এরইমধ্যে কারিগরি ত্রুটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কাজ শুরু করেছে সিআইডির বিশেষজ্ঞ দল।

  • যমুনা সেতুর আগে তীব্র যানজট, ২৫ কিলোমিটারে থেমে থেমে চলছে যানবাহন

    যমুনা সেতুর আগে তীব্র যানজট, ২৫ কিলোমিটারে থেমে থেমে চলছে যানবাহন

    ঈদ যাত্রায় ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর অংশে স্বস্তি মিললেও টাঙ্গাইলে যমুনা সেতু এলাকার আশপাশে যানজটে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন ঘরমুখী মানুষ। আজ বৃহস্পতিবার বেলা তিনটা পর্যন্ত যমুনা সেতু থেকে টাঙ্গাইল শহর বাইপাস পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে থেমে থেমে চলছে যানবাহন। তবে গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকায় দুপুরের পর থেকে তেমন যানজট নেই।

    যমুনা সেতু এলাকার যানজট নিরসনের জন্য বেলা ১১টা থেকে বেলা দেড় পর্যন্ত উভয় লেন দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন পার করানো হয়েছে। এরপর শুধু উত্তরবঙ্গগামী লেন দিয়ে সেখানকার যানবাহন চলতে দেওয়া হয়েছে।

    আজ সকাল ৯টার দিকে মহাসড়কটিতে দেখা যায়, যানবাহনের দীর্ঘ সারি। এক জায়গাতেই বাস–ট্রাক স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মহাসড়কের সদর উপজেলার বিক্রমহাটিতে যানজটে আটকে থাকা ট্রাকচালক মোতাহার হোসেন জানান, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এখানে দাঁড়িয়ে আছেন। ঢাকা থেকে রাত ১১টায় রওনা হয়েছিলেন। পুরো রাস্তাতেই এভাবে যানজটে আটকে থাকতে হয়েছে।

    কালিহাতী উপজেলার পৌলী এলাকায় যানজটে আটকে থাকা সিরাজগঞ্জের নজরুল ইসলাম জানান, তিনি মালয়েশিয়া থেকে রাত ১২টায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমেছেন। এরপর ভাড়া করা ট্যাক্সিতে সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। ৯ ঘণ্টা লেগেছে টাঙ্গাইল পর্যন্ত আসতে।

    যানজটে দুর্ভোগের মাত্রা বেড়ে যায় সকালের বৃষ্টির কারণে। ট্রাকে আরোহীদের ভিজে দুর্ভোগ পোহাতে দেখা যায়। টাঙ্গাইল শহর বাইপাস এলাকায় ট্রাকে আরোহী সাভারের পোশাক কারখানার শ্রমিক ফজলু মিয়া বলেন, ‘সারা রাত যানজটে কষ্টে আছি। এর মধ্যে বৃষ্টিতে ভিজে কাহিল হয়েছি।’

    যানজটের কারণে নারী যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেশি পোহাতে হয়। শৌচাগার ব্যবহারের জন্য মহাসড়কের আশপাশের বাড়িতে যেতে হচ্ছে তাঁদের।
    যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে ১৭ থেকে ১৮ হাজার যানবাহন প্রতিদিন পারাপার হয়। কিন্তু ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার পর তিন গুণের বেশি যানবাহন চলাচল করছে।

    টোল প্লাজা সূত্র জানায়, যানজট নিরসনের জন্য দুই দফায় পৌনে চার ঘণ্টা সেতুর উভয় লেন দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন পাড় করানো হয়। ভোর ৪টা ৩৫ থেকে সকাল ৬টা ৪০ পর্যন্ত ২ ঘণ্টা ৫ মিনিট এবং রাত ১২টা ১০ মিনিটে থেকে ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট উভয় লেন দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন পার করানো হয়। এতে চাপ কিছুটা কমে। কিন্তু পরে আবার চাপ বাড়তে থাকে। পরে বেলা ১১টা থেকে আবার উভয় লেন দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী যান পার করানো শুরু করা হয়।

    গাজীপুরের মহাসড়কে স্বস্তি

    গত দুই দিনের তীব্র যানজট ও দুর্ভোগ কাটিয়ে আজ দুপুরের পর থেকে স্বস্তি ফিরেছে গাজীপুরের মহাসড়কে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর অংশে বর্তমানে বড় কোনো যানজট, অনেকটাই ফাঁকা হয়ে এসেছে মহাসড়ক।

    গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত গাজীপুরের দুই মহাসড়কে ঘরমুখী মানুষের ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়। এতে দীর্ঘ যানজটের পাশাপাশি দেখা দেয় পরিবহনসংকট। বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের প্রায় ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার এলাকায় রাতভর যানজট ছিল। কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।

    তবে বুধবার বেলা ১১টা পর্যন্ত যানবাহনের চাপ থাকলেও দুপুরের পর পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হতে শুরু করে। মহাসড়কে যানবাহন চলাচল এখন অনেকটাই স্বস্তিদায়ক।
    গত দুই দিনে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির কেন্দ্র ছিল ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকা। বুধবার দুপুরে সরেজমিন সেখানে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। চিরচেনা যানজট নেই, নেই পরিবহনের সংকটও। যাত্রীরা সহজেই পছন্দের পরিবহনে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন।

    যাত্রী কবির হোসেন বলেন, ‘আজ চন্দ্রায় এসে দেখছি কোনো যানজট নেই; বরং যাত্রীর চেয়ে পরিবহনই বেশি। এখানে সমস্যা না থাকলেও যমুনা সেতুর আগে কিছুটা যানজট আছে বলে শুনেছি।’

    রাজশাহীগামী হিমাচল পরিবহনের চালক কামরুল ইসলাম বলেন, গতকাল যে চাপ ছিল, আজ তার দশ ভাগের এক ভাগও নেই। গতকাল ১০ মিনিটেই গাড়ি যাত্রীতে পূর্ণ হয়ে গেছে। আজ এক ঘণ্টা পার হলেও গাড়ি ভর্তি হচ্ছে না।

    আজ ঘরমুখী মানুষ অনেকটাই স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন বলে জানান নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম। তিনি বলেন, এরপরও চন্দ্র এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।

  • ঈদের ট্রেনে ‍উপচেপড়া ভীড়

    ঈদের ট্রেনে ‍উপচেপড়া ভীড়

    বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেও ঈদ উদযাপনে প্রিয়জনদের সঙ্গে মিলিত হতে রাজধানী ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ।বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকেই কমলাপুর রেলস্টেশনে যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলোতে ছিল অতিরিক্ত চাপ। অনেক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, টিকিট কেটে নির্ধারিত আসন না পাওয়ায় তাদের দাঁড়িয়ে কিংবা অস্বস্তিকর অবস্থায় ভ্রমণ করতে হচ্ছে। পাশাপাশি ঝুঁকি নিয়ে কিছু যাত্রীকে ট্রেনের ছাদেও ভ্রমণ করতে দেখা গেছে। রেলওয়ে সূত্র জানায়, সকাল ১০টা পর্যন্ত কমলাপুর স্টেশন থেকে মোট ১৮টি ট্রেন ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে নীলসাগর এক্সপ্রেস প্রায় তিন ঘণ্টা বিলম্বে স্টেশন ছাড়ে। রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ট্রেন ধীরগতিতে চলেছে। একইসঙ্গে যাত্রী ওঠানামায় অতিরিক্ত সময় লাগায় কিছু ট্রেন বিলম্বিত হয়েছে। তিনি আরও জানান, ট্রেনের ছাদে যাত্রী ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। তবে অতিরিক্ত যাত্রীচাপের কারণে অনেক ক্ষেত্রে তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আশা করছে, দুপুরের পর থেকে যাত্রীচাপ কিছুটা কমে আসবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

  • রাজধানীতে আদ্ব-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যু !

    রাজধানীতে আদ্ব-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যু !

    রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে এসির গ্যাস লিকেজ থেকে এক ওয়ার্ডের ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম।প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে থাকা এসি সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দেয় এবং সেখান থেকে গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটে। এরপর ওই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শিশুদের অবস্থার অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে ছয়জন শিশুর মৃত্যু হয়।

  • ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া নিলেই ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার

    ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া নিলেই ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার

    পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাগা আদায়ের অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।

    আজ সোমবার (২৪মে) দুপুরে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল ও গাবতলী পশুর হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

    ডিএমপি কমিশনার বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে রাজধানীজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত প্রতিটি পশুর হাটে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

    ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদের আগে লাখো মানুষ ঢাকা ছাড়ছেন। তাদের যাত্রা নিরাপদ ও যানজটমুক্ত রাখতে বাস, লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশনগুলোতে পুলিশ কন্ট্রোল রুম ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী বাস টার্মিনাল, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও কমলাপুর রেলস্টেশনে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, যাত্রী হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ঠেকাতে ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকার প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলো যানজটমুক্ত রাখার কাজ চলছে।

    গাড়িতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রত্যেক টার্মিনালে আমাদের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। বিআরটিএ ভিজিল্যান্স টিমও মাঠে রয়েছে। কোনো অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমাদের নজরে এলেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • জাল টাকা ঠেকাতে পশুর হাটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা জোরদার

    জাল টাকা ঠেকাতে পশুর হাটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা জোরদার

    ডিবি পুলিশ ও র‌্যাব ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাটে জাল টাকা ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি, চেকপোস্ট ও জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় সাদা পোশাকের গোয়েন্দা, সিসিটিভি মনিটরিং ও মোবাইল টিম মোতায়েন থাকবে।

    আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর প্রতিটি পশুর হাটে জাল টাকা প্রতিরোধে তৎপরতা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    পশুর হাটগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক ও পুলিশের পক্ষ থেকে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন বসানো হবে। কোরবানির পশু কেনাবেচায় জাল নোটের বিস্তার ঠেকাতে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো: শফিকুল ইসলামকে বলেন, ‘জাল টাকা প্রতিরোধে পুলিশ ঢাকা মহানগরীতে তৎপর রয়েছে। সম্প্রতি টঙ্গী ও গুলিস্তান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৪ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ। এছাড়া ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর প্রতিটি পশুর হাটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বুথ থাকবে।’

    ডিএমপির তথ্যমতে, ঈদকে সামনে রেখে একটি চক্র রাজধানীর বাজারগুলোতে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ ও র‌্যাব বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামসহ চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

    কোরবানির পশু কেনার সময় কোনো নোট নিয়ে সন্দেহ হলে ক্রেতারা হাটে স্থাপিত পুলিশের বুথে গিয়ে বিনামূল্যে তা পরীক্ষা করাতে পারবেন।

    র‌্যাবের মুখপাত্র উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতাদের ভোগান্তি রোধে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নগদ লেনদেন এড়িয়ে ক্যাশলেস বা কার্ডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধে উৎসাহিত করা হচ্ছে। জাল টাকা শনাক্ত ও প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখাসহ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের পশুর হাটগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে র‌্যাব। রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ পশুর হাট, সড়ক ও মহাসড়কে টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

    এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, পশুর হাটে অজ্ঞানপার্টি, মলমপার্টি, চুরি-ছিনতাই ও সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিতে মোবাইল টিম এবং সিসিটিভি মনিটরিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

    তিনি জানান, মহাসড়কে পশুবাহী যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে র‌্যাব।

    ডিএমপি’র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, এ বছর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার পশুর হাটগুলোতে পুলিশের বুথ থাকবে। সেখানে সিটি করপোরেশন, ব্যাংক ও পুলিশের পক্ষ থেকে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন সরবরাহ করা হবে।

    তিনি বলেন, হাটে জাল নোট চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করতে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাবে। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ পশুর হাট, প্রবেশপথ ও সড়কে থাকবে কড়া নিরাপত্তা, টহল ও সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ। একইসাথে পশুর হাটকে কেন্দ্র করে সড়ক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

    পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বলেন, রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে জাল টাকা প্রতিরোধে সিআইডির একাধিক টিম প্রস্তুত রয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করা গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    এদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ঈদ উপলক্ষে রাজধানীতে ২৮টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

    A M

  • নারায়ণগঞ্জে সাড়া ফেলেছে ৭০০ কেজি ওজনের গোলাপি মহিষ

    নারায়ণগঞ্জে সাড়া ফেলেছে ৭০০ কেজি ওজনের গোলাপি মহিষ

    আসন্ন পবিত্র কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জেলার পাইকপাড়া এলাকার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে এখন উৎসবের আমেজ। তবে এ উৎসব কোরবানির ঈদের কেনাবেচার চেয়েও বেশি কিছু। খামারের শত শত পশুর ভিড়ে সবার চোখ আটকে যাচ্ছে একটি বিশেষ প্রাণীর দিকে। ধবধবে সাদা নয়, বরং হালকা গোলাপি আভার এক বিশালকার মহিষ। শুধু রঙের কারণেই নয়, তার রাজকীয় চালচলন আর মাথার লম্বা চুলের স্টাইলের কারণে খামারিরা বেশ পছন্দ করেন। বিরল বৈশিষ্ট্যের কারণে অনেকে মজা করে মহিষটিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প নাম দিয়েছেন।

    বুধবার (১৩ মে) দুপুরে পাইকপাড়া এলাকার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে গিয়ে দেখা মেলে সাড়ে ৩ বছর বয়সী প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এ মহিষটির। এলবিনো জাতের এ মহিষের মাথার সামনের দিকে রয়েছে সোনালি রঙের লম্বা চুল। দেখতে ব্যতিক্রমী এ মহিষটির কথা ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন পাইকপাড়া এলাকায় ভিড় করছেন অসংখ্য মানুষ। খামারে ঢুকে এ মহিষের সাথে ছবি তুলছেন দর্শনার্থীরা।

    খামারের কর্মচারী জুবায়ের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, আমাদের এখানে তুফান, রহমান, ডাকাত বা মাস্তান নামে অনেক গরু আছে। কিন্তু এ মহিষটির জনপ্রিয়তা সবার ওপরে।

    খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, গত বছর কোরবানির ঈদের পর রাজশাহী সিটি পশুর হাট থেকে মহিষটি সংগ্রহ করা হয়েছিল। দীর্ঘ এক বছর বিশেষ যতে লালন-পালনের পর এবার কোরবানির হাটে তোলার আগেই এটি বিক্রি হয়ে গেছে।

    খামারের মালিক জিয়া উদ্দিন মৃধা বলেন, লাইভ ওয়েট হিসেবে প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা দরে মহিষটি মোট ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। ঢাকার এক সৌখিন ক্রেতা এরই মধ্যে মহিষটি কিনে আমাদের খামারেই রেখেছেন। যা ঈদের কয়েক দিন আগে খামার থেকে নিয়ে যাওয়া হবে।

    খামারের পরিচর্যাকারী আহাদ বলেন, প্রতিদিন ২ বেলা সময় মেনে তাকে খাবার দেয়া হয়। খাদ্যতালিকায় আছে ভুট্টা, সয়াবিন, খইল, গমের ভুসি, তিলের খইল, ধানের কুঁড়া, খড় ও সবুজ ঘাস। এ ছাড়া স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে নিয়মিত পরিচর্যাও করা হচ্ছে।

    মহিষটি দেখতে আসা শহরের নিতাইগঞ্জের বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান বলেন, ফেসবুকে গোলাপি মহিষের কথা শুনে দেখতে এসেছি। সত্যি, এমন রঙের মহিষ আগে কখনো দেখিনি।

    মহিষটির গায়ের রং নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে কৌতূহল থাকলেও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বিষয়টিকে সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

    তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ শহরের একটি খামারে গোলাপি রঙের একটি মহিষ আছে বলে শুনেছি। এটি কোনো বিরল জাত নয়। এটি একটি এলবিনো মহিষ। শরীরে রঞ্জক বা মেলানিন পদার্থের অভাব থাকলে প্রাণীর গায়ের রং এমন সাদা বা গোলাপি হয়।

    রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে এবার কোরবানির জন্য ২০০টি পশু প্রস্তুত করা হলেও, আলোচনার সবটুকু আলো কেড়ে নিয়েছে গোলাপি রঙের এই মহিষটি। এখন নারায়ণগঞ্জের মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে।

  • সোনারগাঁওয়ে মাদক ও অপরাধ নির্মূলে যুব সমাজের প্রচারণা

    সোনারগাঁওয়ে মাদক ও অপরাধ নির্মূলে যুব সমাজের প্রচারণা

    মাদক ও অপরাধ নির্মূলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে দিনভর মাইকিং করে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় যুব সমাজ।গত রোববার রাত থেকে উপজেলার সোনারগাঁও পৌরসভার ষোলপাড়া মানবকল্যাণ ও উন্নয়ন সংগঠনের উদ্যোগে এ সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

    যুব সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা এবং জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

    সংগঠনের পক্ষ ইঞ্জিনিয়ার বাবুল মোল্লা জানান, সন্ধ্যা নামলেই আমাদের এলাকার নির্জন স্থানগুলোতে বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যায়। তারা বিভিন্নভাবে যুব সমাজ ও কর্মজীবী মানুষের হাতে মাদক পৌঁছে দিচ্ছে। মাদকের অর্থের যোগান দিতে গিয়ে অনেকেই চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় যুব সমাজ ‘ষোলপাড়া মানবকল্যাণ ও উন্নয়ন সংগঠন’ এর ব্যানারে মাদক ও অপরাধবিরোধী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। মাইকিং করে জনসচেতনতামূলক বক্তব্য এবং বিভিন্ন স্থানে প্রচারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    বাবুল মোল্লা আরো বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদক ও অপরাধ প্রতিরোধে এগিয়ে এলে যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব। একই সাথে তিনি এলাকায় পুলিশ প্রশাসনের নিয়মিত টহল ও নজরদারি জোরদারের দাবি জানান।

    সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক সোনারগাঁও উপজেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মনির জানান, তরুণদের এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সহায়ক হবে।

    সোনারগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) গোলাম সারোয়ার জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • লৌহজংয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    লৌহজংয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।সোমবার (১১ মে) সকালে উপজেলার লৌহজং হলপট্টি এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে লাশের পরিচয় শণাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

    লৌহজং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: বোরহান-উল- ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করে নয়া দিগন্তকে জানান, সোমবার (১১ এপ্রিল) সকাল ৬টায় লৌহজং হলপট্টি এলাকায় স্থানীয় মুসল্লিরা নামাজ শেষে রাস্তার পাশে লাশটি পড়ে থাকতে দেখে থানা পুলিশকে খবর দেয়।

    খবর পেয়ে লৌহজং থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। নিহতের বয়স আনুমানিক ৫০ থেকে ৫৫ বছর হতে পারে।

    প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, লোকটি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্ত রিপোর্টের পরই জানা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান ।

    এদিকে লাশ পোস্টমর্টেমের জন্য মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায় ।

    এ,আর

  • শিবচরে মাদক কারবারিদেরকে ধরিয়ে দিলে পুরস্কারের ঘোষণা হানজালার

    শিবচরে মাদক কারবারিদেরকে ধরিয়ে দিলে পুরস্কারের ঘোষণা হানজালার

    মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় কোনো মাদক কারবারিকে ধরিয়ে দিতে পারলে নগদ অর্থ পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা। রোববার (১০ মে) রাতে সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ ঘোষণা দেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘মাদকের সাথে যদি আমার দলের কেউ জড়িত থাকে কিংবা অন্য কোনো দলের প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত থাকে, কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। কোনো পরিচয়, কোনো দল, কোনো ব্যক্তি বা যত বড় প্রভাবশালী হোক না কেন কিছুই কাজ হবে না। আমি হানজালা ওয়াদা দিচ্ছি, কাউকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। এজন্য মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে শিবচরের প্রতিটি মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। আপনারা যার যার জায়গা থেকে মাদক কারবারিদের ধরিয়ে দিন। কেউ যদি মাদকসহ কাউকে ধরিয়ে দিতে পারে, আমি নিজে তাকে পুরস্কৃত করব, ইনশাল্লাহ। সে পুরস্কার পেয়ে খুশি হবে, আমি এটুকু বলতে পারি।’

  • রূপগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ-গোলাগুলিতে আহত ১৬

    রূপগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ-গোলাগুলিতে আহত ১৬

    নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অটোরিকশা সাইড দেয়াকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে উভয় পক্ষের ১৬ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় উভয় পক্ষ একে অপরের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। সোমবার (১১ মে) দুপুরে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বরুনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ আগে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সাইড দেয়া নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলামের ভাই আমিন হোসেনের সাথে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক বিল্লাল হোসেন খাঁর কথা কাটাকাটি হয়। ওই ঘটনায় বিল্লাল হোসেন রূপগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

    পূর্ব নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোমবার দুপুরে বরুনা এলাকায় বিষয়টি মীমাংসার জন্য বিচার সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশে রফিকুল ইসলাম ও বিল্লাল হোসেন তাদের অনুসারীদের নিয়ে উপস্থিত হন।

    বিচার চলার সময় উভয় পক্ষ বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লে একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় বিল্লাল হোসেনের লোকজন বেশ কয়েক রাউন্ড ফাকা গুলিবর্ষণ করে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করে।

    সংঘর্ষ চলাকালে হামলাকারীরা একে অপরের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাট করে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৬ নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, বিল্লাল হোসেন খাঁ ও তার বাহিনী পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং গুলিবর্ষণ করেছে।

    অপরদিকে, বিল্লাল হোসেন খাঁ পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘রফিকুল ইসলামের লোকজনই বিচারে এসে অতর্কিত হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে।’

    রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন জানান, ‘খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

  • মাদারীপুরে গাঁজা ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    মাদারীপুরে গাঁজা ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

    যিডিডেস্ক নিউজ,

    মাদারীপুর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২১ কেজি গাঁজা, ১৯৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ ৫২ হাজার ৫০০ টাকাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    শনিবার জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত ৯টায় চেয়ারম্যান হাট মোড় বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০ কেজি গাঁজাসহ মো. শাহাদাৎ হোসেন (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার শাসনগাছা এলাকার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে ফরিদপুরের ভাঙ্গার মোড়ল কান্দা এলাকায় বসবাস করেন।

    ওইদিন বিকেল ৪টায় উপজেলার চাঁনপট্টি এলাকায় পৃথক অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় ১৯৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১ কেজি গাঁজা ও নগদ ৫২ হাজার ৫০০ টাকাসহ মো. রুবেল খান (৩০) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।

    পুলিশ আরও জানায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হলেন ঢাবির সিকিউরিটি গার্ড

    মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হলেন ঢাবির সিকিউরিটি গার্ড

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কার্জন হলের এক সিকিউরিটি গার্ডকে ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক করার ঘটনায় সংগঠনটির অভ্যন্তরে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত জুলহাস মিয়া নিজেও বিষয়টি নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত নন বলে দাবি করেছেন।

    গত ৪ এপ্রিল ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করা হয়। পরে ২ মে সংগঠনটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত তালিকায় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে জুলহাস মিয়ার নাম দেখা যায়।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জুলহাস মিয়া বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের মেইন গেটে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির একজন কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    জুলহাস মিয়া বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তিনি ‘সম্মানসূচক’ একটি পদ চেয়েছিলেন। এ লক্ষ্যে প্রায় ছয় মাস আগে মহানগর পূর্ব শাখার সহ-সভাপতি মো. আক্তার হোসেনের কাছে সিভি জমা দেন।

    তবে কমিটিতে থাকা ব্যক্তি তিনি নিজেই কি না- এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন বলেও দাবি করেন তিনি। এ কারণে তিনি কোনো ফেসবুক পোস্টও দেননি।

    ছাত্রত্ব না থাকা সত্ত্বেও পদ পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এক-দেড় বছর আগে আক্তার ভাইয়ের কাছে সিভি দিয়েছিলাম। পরে কীভাবে কমিটিতে নাম এসেছে, সেটি আমি নিশ্চিত না। হতে পারে, আবার নাও হতে পারে।”

    তবে ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সভাপতি মো. সোহাগ ভূঁইয়া জুলহাসের পরিচয় নিশ্চিত করে বলেন, “তিনিই জুলহাস। তিনি আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন। সহ-সভাপতি আক্তার জানিয়েছিলেন, তিনি একজন রানিং স্টুডেন্ট।”

    এদিকে সহ-সভাপতি মো. আক্তার হোসেন বলেন, জুলহাসের পেশাগত পরিচয় সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। আমি শুধু সিভি গ্রহণ করেছি। তিনি যে সিকিউরিটি গার্ড, তা জানতাম না।

    একই কথা জানিয়েছেন মহানগর পূর্ব শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. হান্নান মজুমদার।

    তিনি বলেন, “আমরা তার সিকিউরিটি গার্ড পরিচয় জানতাম না। বর্তমানে ছাত্রত্ব বাধ্যতামূলক না হলেও একাডেমিক সনদ প্রয়োজন হয়। তিনি আমাদের কাছে একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের কাগজপত্র জমা দিয়েছেন।”

    এ বিষয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, “কমিটিতে এমনটি হওয়ার কথা না। আপনারা তালিকাটি পাঠিয়ে দিন, বিষয়টি দেখে পরে মন্তব্য করব।”

  • নিত্যপণ্যের বাজারে লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, সবজি থেকে এলাচ—সবখানেই বাড়তি দাম

    নিত্যপণ্যের বাজারে লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, সবজি থেকে এলাচ—সবখানেই বাড়তি দাম

    ডেক্স নিউজ : ঢাকার বাজারে ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে নিত্যপণ্যের মূল্য। বেশিরভাগ সবজিই এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকার ওপরে। অন্যদিকে, সপ্তাহ ব্যবধানে সোনালি মুরগির মূল্য স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে ডিমের দাম।

    আজ শুক্রবার (৮ মে) ঢাকার কারওয়ান বাজারসহ আশপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

    সপ্তাহ ব্যবধানে অস্থির ঢাকার ডিমের বাজার। সপ্তাহ ব্যবধানে ডজনে ১০ টাকা বেড়ে লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায় ও সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়।

    বিক্রেতারা বলছেন, ‘সরবরাহ সংকটের কারণেই দাম বেড়েছে।’

    ডিম বিক্রেতা মোহাম্মদ শামীম বলেন, ‘বাজারে ডিমের সরবরাহ কমে গেছে। সেই কারণে পাইকারিতেই দাম বাড়তি রয়েছে। আমরা বাধ্য হয়েই খুচরায় বেশি দামে বিক্রি করছি।’

    মুরগির বাজারে অবশ্য সোনালি মুরগির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে অন্যান্য জাতের মুরগি। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৮০ টাকায়, দেশি মুরগি কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে ৭৮০ টাকায়, সোনালি মুরগি ৩৫০ টাকায় ও লেয়ার মুরগি ২০ টাকা বেড়ে ৩৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    তবে গরু ও খাসির মাংসের বাজারে স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। বাজারে প্রতিকেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকায় এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    সবজির বাজারেও চাপ অব্যাহত রয়েছে। বেশিরভাগ সবজিই এখন ৬০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে প্রতি কেজি পটোল ৬০ টাকা, কাঁকরোল ১০০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৫০ টাকা, পেঁপে ১০০ টাকা, বেগুন ৮০-১০০ টাকা, টমেটো ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি পিস লাউ ৭০-৮০ টাকা এবং প্রতি হালি লেবু ২০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    সবজি বিক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বাজারে সরবরাহ কম। গ্রামাঞ্চল থেকে ঠিকমতো সবজি আসছে না। আবার পরিবহন খরচও বেড়েছে। তাই দামের চাপটা আমাদের ওপরও আছে। আমরা ইচ্ছা করে দাম বাড়াই না, বাজারের অবস্থাই এমন।’

    অন্যদিকে নিত্যপণ্যের অন্যান্য বাজারেও দেখা দিয়েছে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। সপ্তাহ ব্যবধানে কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। খোলা আটা ও ময়দার দামও কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি খোলা আটা ৫৫ টাকা এবং খোলা ময়দা ৬৫-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    এছাড়া কেজিতে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে এলাচের দাম। বর্তমানে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৪৮০০-৫৪০০ টাকায়, যা আগে ছিল ৪৫০০-৫০০০ হাজার টাকা।

    ক্রেতারা বলছেন, ‘বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ায় দৈনন্দিন খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।’

    রাকিব হোসেন নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘একদিকে আয় বাড়ছে না, অন্যদিকে প্রতিদিনই কোনো না কোনো জিনিসের দাম বাড়ছে। এভাবে চললে সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে যাবে।’

    A M

  • পাকুন্দিয়ায় সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু

    পাকুন্দিয়ায় সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু

    কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলতি মৌসুমের ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে উপজেলা সরকারি খাদ্য গুদামে এই কার্যক্রমের সূচনা করা হয়।

    পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপম দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো: জালাল উদ্দিন। তিনি ফিতা কেটে ও ধান-চাল মাপার মাধ্যমে এই সংগ্রহ অভিযানের শুভ উদ্বোধন করেন।

    উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর ৪০০ কৃষকের কাছ থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে এক হাজার ২০০ টন ধান এবং উপজেলার একটি অটোরাইসমিলসহ নয়টি হাসকিং মিল থেকে ৪৯ টাকা কেজি দরে দুই হাজার মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

    উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জেসমিন আক্তার জানান, বর্তমানে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও প্রতিকূল আবহাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। সারাদেশের ন্যায় এ উপজেলায় অতিবৃষ্টির কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে মানসম্মত ও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান-চাল সংগ্রহ করা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো: জালাল উদ্দিন বলেন, ‘ধান এবং চাল সংগ্রহে কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ যাতে কোনো অনৈতিক সুবিধা না নিতে পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিনে তিনি।

    তিনি আরো বলেন, ‘এ বছর মৌসুমের শুরুতেই অতিবৃষ্টির কারণে সারাদেশের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং হাওর এলাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে কৃষকদের ভর্তুকিসহ বিভিন্ন সাহায্যের ঘোষণা দিয়েছেন।’ দলীয় নেতাকর্মীদেরকে কৃষকদের পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) নাজমুন নাহার এবং বিভিন্ন হাসকিং মিলের মালিকসহ সাধারণ কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • শ্রীনগরে গাঁজা গাছসহ যুবক গ্রেফতার

    শ্রীনগরে গাঁজা গাছসহ যুবক গ্রেফতার

    মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাজা গাঁজা গাছসহ সাইফুল ইসলাম (৩৬) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    বুধবার (৬ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার পাটাভোগ ইউনিয়নের ফৈনপুর পাঠান বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার সাইফুল ইসলাম ফৈনপুর দক্ষিণ পাড়ার কাঞ্চন পাঠানের ছেলে।

    জানা গেছে, সাইফুল বসতবাড়ির পাশে একটি পুকুর পাড়ে গাঁজার চাষ করে আসছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শ্রীনগর খানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে ছয়টি তাজা গাঁজ গাছ জব্দ করে।

    শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) মিল্টন দত্ত জানান, মাদক মামলায় আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • টাঙ্গাইলে ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার

    টাঙ্গাইলে ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার

    বুধবার সকালে ধানের জমিতে কাজ করতে গিয়ে তারা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এক নারীর লাশ দেখতে পান। পরে বিষয়টি দেলদুয়ার থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক নারীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৬ মে) দুপুরে উপজেলার লাউহাটী ইউনিয়নের সল্পলাড়ু গ্রামে ধলেশ্বরী নদীর পাশ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সকালে ধানের জমিতে কাজ করতে গিয়ে তারা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এক নারীর লাশ দেখতে পান। পরে বিষয়টি দেলদুয়ার থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

    দেলদুয়ার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আজহারুল ইসলাম জানান, নিহত নারীর পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • জবি শিক্ষার্থী হত্যাচেষ্টা মামলায় আফজাল নাছের ৩ দিনের রিমান্ডে

    জবি শিক্ষার্থী হত্যাচেষ্টা মামলায় আফজাল নাছের ৩ দিনের রিমান্ডে

    তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর কোতোয়ালি থানা এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী অনিক কুমার দাসকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্তকৃত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: আফজাল নাছেরের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার একটি আদালত।

    মঙ্গলবার (৫ মে) তাকে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    গত ৩০ মার্চ রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে আফজাল নাছেরকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মিছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পার হয়ে মহানগর দায়রা জজ কোর্টের সামনে আসলে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অতর্কিত গুলিতে আহত হন জবি শিক্ষার্থী অনিক। এরপর অনিককে প্রথমে ন্যাশনাল মেডিক্যালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর ভুক্তভোগী অনিক নিজে ২৫৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন।

  • হাসপাতালেই হাম সংক্রমণ, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা

    হাসপাতালেই হাম সংক্রমণ, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা

    শিশু মো. সানি, বয়স ৯ মাস। শরীরজুড়ে ছোপ ছোপ দাগ ও ফুসকুড়ি। চলছে স্যালাইন। কখনো কখনো শ্বাসকষ্টের জন্য দিতে হচ্ছে অক্সিজেন। এমনকি ক্যানুলা করার জন্য শিশুর মাথার অর্ধেক চুল ফেলে দিতে হয়েছে। সারাক্ষণ কান্নাকাটি করছে। শিশুটির মা মারুফা আক্তার নানাভাবে সান্ত্বনা দিচ্ছেন, কিন্তু কোনোভাবেই কান্না থামছে না। পাশেই দাঁড়ানো বাবা শিশুটির কান্না দেখে নীরব দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছেন। মাঝেমধ্যে তিনিও কোলে নিয়ে কান্না থামানোর চেষ্টা করছেন, তবু থামানো যাচ্ছে না শিশুটিকে। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের (শিশু হাসপাতাল) বিশেষায়িত হাম ওয়ার্ডে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়।

    শিশুটির বাবা ইলিয়াস হোসেন আমার দেশকে জানান, তাদের বাড়ি শরীয়তপুরে। এক মাস আগে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে শিশুটিকে প্রথমে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে শিশু হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করা হয়। তিনি বলেন, ১৫ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর হামের সংক্রমণ দেখা দেয়। এরপর থেকে আমরা এক অন্যরকম যুদ্ধের মধ্যে আছি। এত ছোট বাচ্চা, আবার গুরুতর অসুস্থ। বুকের দুধ পর্যন্ত খাচ্ছে না। যখন কাঁদে, তখন বাবা হিসেবে নিজেকে খুব অসহায় লাগে।

    শুধু এ একটি ঘটনা নয়, শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অন্তত ১০ শিশুর অভিভাবক জানিয়েছেন, তাদের সন্তানরা প্রথমে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছিল, পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অন্য রোগীর সংস্পর্শে এসে হামে আক্রান্ত হয়েছে। এতে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন তারা। এছাড়া আরো অনেক শিশু অন্য রোগের চিকিৎসা নিতে এসে হামের সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছে, ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৬৬ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ১৭ শিশু। জানুয়ারিতে ভর্তি হয়েছিল মাত্র দুই শিশু, ফেব্রুয়ারিতে ছয়, মার্চে ১৩০ শিশু এবং এপ্রিলে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২৮-এ। অর্থাৎ মার্চের তুলনায় এপ্রিলে রোগী ভর্তির হার বেড়েছে ১৫২ দশমিক ৩১ শতাংশ।

    আক্রান্ত শিশুদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ছয় থেকে ৯ মাস বয়সি শিশুÑসংখ্যা ১৫৮, যা মোট আক্রান্তের ৩৩ দশমিক ৯১ শতাংশ। ৯ মাস থেকে দুই বছর বয়সি শিশু ১২৩, ছয় মাসের কম বয়সি শিশু ১০৭, দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সি শিশু ৫৩ এবং পাঁচ বছর বয়সি শিশুর সংখ্যা ২৬। বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৮১ শিশু।

    সরেজমিন দেখা যায়, শিশু হাসপাতালে হামে আক্রান্তদের জন্য আলাদা ‘বিশেষায়িত হাম’ ইউনিট চালু করা হয়েছে। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রসহ (আইসিইউ) মোট ৮০টি শয্যার একটিও খালি নেই। রোগীর চাপ সামলাতে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অধিকাংশ শিশুর বয়স দুই বছরের নিচে। কারো শরীরে স্যালাইন চলছে, কারো নাকে নল, আবার কেউ অক্সিজেন সহায়তায় রয়েছে।

    প্রচণ্ড জ্বর ও ব্যথায় শিশুদের অবিরাম কান্না যেন থামছেই না। পাশে বসে থাকা মা-বাবার চোখে অশ্রু, সন্তানের মাথায় হাত বুলিয়ে কিংবা ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। তবে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে আইসিইউ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। গতকাল দুপুরে আইসিইউয়ের সামনে অপেক্ষা করেও অন্তত পাঁচজন রোগীর স্বজনকে শয্যা না পেয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে। তারা জানান, বাধ্য হয়ে শিশুদের বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে ভর্তি করাতে হয়েছে।

    চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের বাসিন্দা নূরুল ইসলাম বলেন, তার সাত মাসের শিশুকে ১৫ দিন আগে ভর্তি করা হয়। তিনদিন পর অবস্থার অবনতি হয়। মনে হচ্ছিল বাচ্চার প্রাণ বের হয়ে যাবে। চিকিৎসক আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন, কিন্তু সিট খালি ছিল না। অনেক তদবিরের পর তিনদিন পর আইসিইউতে জায়গা পাই। এখনো সেখানে চিকিৎসা চলছে, কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

    মাদারীপুর থেকে আসা আয়েশা বেগম জানান, তার আট মাসের শিশু আবু রায়হান প্রথমে ঠান্ডা-জ্বরে আক্রান্ত হয়, পরে নিউমোনিয়া ধরা পড়ে। অবস্থার অবনতি হলে শিশু হাসপাতালে আনা হয়। এখানে ১৫ দিন পর শরীরে লাল র‍্যাশ ওঠে। চিকিৎসকরা জানান, এটা হাম। এরপর থেকেই হামের চিকিৎসা চলছে। এখন কিছুটা ভালো হলেও পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। তার অভিযোগ, অন্য হামের রোগীর সংস্পর্শ থেকেই তার শিশু আক্রান্ত হয়েছে।

    হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানান, হাম যেহেতু ছোঁয়াচে রোগ, তাই শ্বাস-প্রশ্বাস এবং হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এক রোগী থেকে অন্য রোগীর শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। আর প্রাদুর্ভাব বেশি হওয়ার কারণে পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া সময়মতো টিকা না নেওয়া, অপুষ্টির ঘাটতির কারণেই হামের সংক্রমণ প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে বলেও জানান তারা।

    অন্যদিকে যেসব শিশু হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া কিংবা জন্মগত হৃদরোগে ভুগছে, তাদেরই বেশি মৃত্যু হচ্ছে বলেও জানান চিকিৎসকরা।

    এ বিষয়ে শিশু হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আজহারুল ইসলাম বলেন, বিশেষায়িত হাম ওয়ার্ডে শয্যা বাড়ানো হয়েছে এবং আইসিইউ সুবিধাও রাখা হয়েছে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগী আসায় চাপ বেড়েছে, ফলে সবাইকে শয্যা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবুও সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

    এদিকে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ‘সন্দেহজনক’ হামে আক্রান্ত হয়ে আরো চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যু হয়নি। একই সময়ে ‘সন্দেহজনক’ হামে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ২৪ জন এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৭২ জনের। তাতে সব মিলিয়ে হামের নতুন রোগী এক হাজার ৯৬ জন। এ নিয়ে সরকারি হিসাবে গত ১৫ মার্চ থেকে হাম সন্দেহে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৫। আর এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৪৯ শিশুর। ফলে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৮৪। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

  • প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আগুন : তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ

    প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আগুন : তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ

    রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    শুক্রবার (১ মে) ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    পরিদর্শনকালে শিক্ষামন্ত্রী প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিবকে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। ঘটনাটির পেছনে কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেন মন্ত্রী।

    এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহিনা ফেরদৌসী উপস্থিত ছিলেন।

  • সৌদিতে নিহতের ২০ দিন পর প্রবাসী যুবকের লাশ পেল পরিবার

    সৌদিতে নিহতের ২০ দিন পর প্রবাসী যুবকের লাশ পেল পরিবার

    ‘দীর্ঘদিন ধরে মাদারীপুর শহরের হরিকুমারিয়া এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থেকে পাঁচ ছেলে-মেয়ে নিয়ে বসবাস করছি। ধারদেনা করে আমার স্বামী বিদেশে পাড়ি জমায়। কিন্তু এভাবে মৃত্যু হবে তা বুঝতে পারিনি। সরকার যদি সহযোগিতা না করে তাহলে পাঁচ ছেলে-মেয়ে নিয়ে বেঁচে থাকাটাই কঠিন হয়ে পড়বে।’সৌদি আরবে নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে পড়ে নিহত বাংলাদেশী যুবক সোবাহান খাঁর (২৯) লাশ ২০ দিন পর দেশে পৌঁছেছে।

    বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার পশ্চিম মাইজপাড়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন করা হয়। নিহত সোবাহান পশ্চিম মাইজপাড়া গ্রামের ইউসুফ খাঁর ছেলে।

    এর আগে, একইদিন ভোরে নিহতের লাশ রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ নেয়া হয় গ্রামের বাড়ি। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন ও পাড়াপ্রতিবেশী।

    স্বজন ও এলাকাবাসী জানায়, ঋণ করে প্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ করে ডাসার উপজেলার দালাল নান্নুর মাধ্যমে সৌদি আরব পাড়ি জমান সোবাহান। ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর তিনি সৌদি যান। এরপর গত ৭ এপ্রিল রাজধানী রিয়াদের একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করছিলেন সোবাহান। কাজ চলাকালীন সময় অসাবধানবশত নির্মাণাধীন লিফটের মধ্যে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি।

    এ সময় অন্য শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে রিয়াদের নাছিম ব্র্যাঞ্চ আল-জাজিরা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তবে, সোবাহানের পরিবার তার মৃত্যুর খবর পায় পরদিন ১২ এপ্রিল রাতে। তার মৃত্যুর খবর শোনার পর পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া।

    নিহতের স্ত্রী মরিয়ম বেগম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মাদারীপুর শহরের হরিকুমারিয়া এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থেকে পাঁচ ছেলে-মেয়ে নিয়ে বসবাস করছি। ধারদেনা করে আমার স্বামী বিদেশে পাড়ি জমায়। কিন্তু এভাবে মৃত্যু হবে তা বুঝতে পারিনি। সরকার যদি সহযোগিতা না করে তাহলে পাঁচ ছেলে-মেয়ে নিয়ে বেঁচে থাকাটাই কঠিন হয়ে পড়বে।’

    মাদারীপুরের ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘সৌদি আরবে এভাবে শ্রমিকের মৃত্যুর বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। নিহতের পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করবে উপজেলা প্রশাসন।’

  • চেতনানাশক খাইয়ে সিরিজ চুরি : গ্রেফতার ১, আদালতে স্বীকারোক্তি

    চেতনানাশক খাইয়ে সিরিজ চুরি : গ্রেফতার ১, আদালতে স্বীকারোক্তি

    গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন এলাকায় মালিককে নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করিয়ে হত্যা করে নগদ অর্থ ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার চুরি করে পালিয়ে যায় গৃহকর্মী। রাজধানীর উত্তরায় চেতনানাশক খাইয়ে সিরিজ চুরির রহস্য উদঘাটনসহ ঘটনার সাথে জড়িত মূল আসামি বিলকিস বেগমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো (উত্তর)। আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।

    সোমবার (২৭ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন এলাকায় মালিককে নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করিয়ে হত্যা করে নগদ অর্থ ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার চুরি করে পালিয়ে যায় গৃহকর্মী। এ ঘটনার সাথে পূর্ববর্তী আরেক ঘটনার আচরণগত ও কৌশলগত মিল পাওয়া যায়।

    গত বছরের ১৩ অক্টোবর উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরে বাসার মালিক জনৈক মো: ইবনুল আলম পলাশের বাসার কেয়ারটেকার মো: জাকিরের সাথে এক অজ্ঞাতনামা নারী গৃহকর্মীর কাজের জন্য দেখা করে। বাসার মালিক ও তার স্ত্রী তাকে গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেন এবং এনআইডি নিয়ে আসতে বলেন। পরদিন তিনি কাজে যোগ দিলেও এনআইডি আনেননি। বাসার মালিক ও তার স্ত্রী কর্মস্থলে গেলে বাসার মালিকের বৃদ্ধা মা রওশনারা বেগমকে নাস্তার সাথে চেতনানাশক মিশিয়ে অচেতন করে তার পরিহিত স্বর্ণালঙ্কারসহ নগদ টাকা চুরি করে পালিয়ে যায় ওই গৃহকর্মী।

    এ ঘটনায় ইবনুল আলম অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে উত্তরা পূর্ব থানায় মামলা করেন। থানা পুলিশ মামলাটি কয়েক মাস তদন্ত করে ঘটনার সাথে জড়িত আসামিকে শনাক্ত করতে না পারায় থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (সত্য) দাখিল করেন। আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে এসআই (নিরস্ত্র) ফিরোজ আহমেদ মুন্সী মামলাটি তদন্ত করছেন।

    পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) তদন্ত দল কার্যক্রম চালাতে থাকে। এদিকে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন এলাকায় গৃহকর্মী কর্তৃক মালিককে নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করিয়ে হত্যা করে নগদ অর্থ ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার আরেক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার সাথে পূর্ববর্তী ঘটনার আচরণগত ও কৌশলগত মিল পায়।

    পিবিআই’র তদন্ত কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণপূর্বক ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে পূর্বের হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামি বিলকিস বেগমকে (৪০) শনাক্ত করে শ্যেন অ্যারেস্ট মূলে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করলে গত ১৯ এপ্রিল আদালত চার দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করে। ২২ এপ্রিল তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে স্বীকার করেন।

    তার দেয়া তথ্যমতে পিবিআই’র অভিযানিক দল গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় জড়িত শহরবানু নামে এক নারীকে পায় এবং জুয়েলারি দোকান খুঁজে পেয়ে চুরির স্বর্ণ বিক্রয়ের সত্যতা পায়।

    আসামি বিলকিস বেগম আদালতে ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং শহরবানু ও জুয়েলারী ব্যবসায়ী গোবিন্দ ঘোষ ও রুপা সরকার সাক্ষী হিসেবে আদালতে বিস্তারিত জবানবন্দি দেন।

    পিবিআই তদন্তে এবং স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনায় জানা যায় যে, আসামি বিলকিস কৌশলে পরিচয় গোপন করে ভিকটিমের ছেলের বাসায় বুয়ার চাকরি নেন। বাসার মালিক ও তার স্ত্রীর অনুপস্থিতে নাস্তার সাথে চেতনানাশক মিশিয়ে ভিকটিম রওশনারা বেগমকে খাইয়ে অচেতন করে ভিকটিমের পরিহিত স্বর্ণালঙ্কারসহ নগদ টাকা চুরি করে গাজীপুরে তার ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে পূর্বপরিচিত শহরবানুর মাধ্যমে বিক্রয় করেন।

    এ বিষয়ে পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) ইউনিট ইনচার্জ ডিআইজি মো: এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, ‘পিবিআই আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত প্রতিষ্ঠান। অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে আমরা বদ্ধপরিকর।

  • সৈয়দপুরে বিহারি ক্যাম্পে ৬৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া

    সৈয়দপুরে বিহারি ক্যাম্পে ৬৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া

    নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিহারি ক্যাম্পগুলোতে কয়েক বছর ধরে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৬ কোটি টাকা। বকেয়া বিল তুলতে হিমশিম খাচ্ছে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে সৈয়দপুর নেসকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আলিমুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    নেসকো সূত্রে জানা যায়, সৈয়দপুরে বিভিন্ন ক্যাম্পে স্থাপিত ২৪টি বিদ্যুতের মিটার থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া হচ্ছে। তবে নিয়মিত বিল পরিশোধ না হওয়ায় চলতি বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত বকেয়া বিল দাঁড়িয়েছি প্রায় ৬৬ কোটি টাকা ৷

    ২০০৮ সালে হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে বিহারিরা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার লাভ করেন। ২০১৬ সালের ২৮ মার্চ পর্যন্ত বিহারি ক্যাম্পগুলোর বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। পরে ক্যাম্পবাসী নিজ নিজ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকে কোনো বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেনি ক্যাম্পবাসী।

    আরও জানা যায়, নেসকো কর্তৃপক্ষের বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও ক্যাম্পবাসী নিজস্বভাবে বিভিন্ন জায়গায় বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করে কয়েকশত সংযোগ দিয়ে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। বিভিন্ন সময়ে বকেয়া বিল নিতে গিয়ে হামলা ও তোপের মুখে পড়ে ফিরে এসেছে নেসকো কর্তৃপক্ষ।

    বিহারি ক্যাম্পের বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিনের কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল দেওয়া আমাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব না। আমরা যারা এখানে বসবাস করছি তারা সবাই নিম্নআয়ের মানুষ। কীভাবে এত টাকা পরিশোধ করবো। আমাদের এত টাকা পরিশোধ করার উপায় নেই।

    আরেক বাসিন্দা রাজিব হাসান বলেন, আমরা ক্যাম্পে মানবেতর জীবনযাপন করি। আমাদের বিদ্যুৎ কেটে দিলে কীভাবে চলবো এজন্য আমরা সংযোগ বন্ধ করতে দেই না।

    উর্দুভাষী ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মাজেদ ইকবাল বলেন, আমাদের বিভিন্ন ধরনের দাবি রয়েছে। আমরা হাইকোর্টে আপিল করেছিলাম। সে সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল আমাদের সকল বকেয়া বিল সরকার পরিশোধ করবে, কিন্তু করেনি। আমরা ক্যাম্পে খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছি, এখানে আমাদের কষ্টের শেষ নাই। এখন যদি হঠাৎ করে বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেয় আমাদের অনেকে অসুস্থ হয়ে গরমে মারা যাবে, ঠিকমতো পানি পাবে না। ক্যাম্পে অনেক গরিব মানুষ বসবাস করে, আমরা হুট করে এতগুলো টাকা কীভাবে পরিশোধ করব। আমি এ বিষয়ে সরকারকে অনুরোধ করছি আমাদের দিকে বিবেচনা করতে এবং আমাদের দাবি মেনে নিতে।

    এ বিষয়ে সৈয়দপুর নেসকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আলিমুল ইসলাম বলেন, বিহারি ক্যাম্পে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৬৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। আমরা সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন কিংবা বিল চাইতে গেলে হামলা ও তোপের মুখে পড়ি। অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য নিয়ে ফিরে এসেছি। আমরা বিষয়টি সিনিয়র কর্মকর্তাকে জানিয়েছি, তারা আসবেন এসে যা ভালো হয় সে সিদ্ধান্ত নেবেন।

  • নীলফামারীতে বালুবোঝাই ট্রাক্টরের ধাক্কায় ভ্যানচালকের মৃত্যু

    নীলফামারীতে বালুবোঝাই ট্রাক্টরের ধাক্কায় ভ্যানচালকের মৃত্যু

    নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বালুবোঝাই ট্রাক্টরের ধাক্কায় রবিউল ইসলাম (৪০) নামে এক ভ্যানচালকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার শিশু নিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রবিউল ইসলাম নিতাই ইউনিয়নের খোলাহাটি এলাকার মৃত নিজাম উদ্দিনের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে রবিউল ইসলাম ভ্যান নিয়ে উপজেলা থেকে কিশোরগঞ্জ বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় পিছন দিক থেকে দ্রুত গতিতে আসা একটি বালুবোঝাই ট্রাক্টর তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।