ঢাকা বিভাগ

  • কাফরুলে যুবদলকর্মী হত্যা; ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে শুটার ভাড়া করেন সিএনজি হাফিজ: ডিবিপ্রধান

    কাফরুলে যুবদলকর্মী হত্যা; ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে শুটার ভাড়া করেন সিএনজি হাফিজ: ডিবিপ্রধান

    ময়লা বাণিজ্য ও ফুটপাত দখল নিয়ে বিরোধে যুবদল নেতা বাবুকে হত্যার ছক

    রাজধানীর কাফরুলে যুবদলকর্মী মো. ইউসুফকে গুলি করে হত্যায় জড়িত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগ ও কাফরুল থানা পুলিশ। ডিবি বলছে, কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের পরিকল্পনায় এ ঘটনা ঘটে। কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তিনি ২৫ লাখার চুক্তিতে শুটার ভাড়া করে আনেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নাহিদ হাসান, শাফিন আহমেদ, জিয়ারুল মোল্লা, আলী হোসেন, জিহাদ মোল্লা, মাসুম বিল্লাহ ও আবির হাওলাদার।

    এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার ময়লার টেন্ডার, ফুটপাত দখল ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে বাবুকে হত্যার পরিকল্পনা করে হাফিজ। তবে ঘটনাচক্রে অস্ত্রধারীদের গুলিতে যুবদল কর্মী ইউসুফ নিহত হন এবং দুজন গুরুতর আহত হন।

    ডিবি প্রধান জানান, হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ৪ শুটারসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যার মিশনে ১১ জন অংশ নেয়। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন হাফিজুর। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানান, সিএনজি হাফিজ যুবদল নেতা বাবুকে হত্যার জন্য তাদের ভাড়া করেন। ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়। ঘটনার দিন চঞ্চল নামে এক শুটারকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়।

    ডিবি সূত্রে জানা যায়, ২৪ জুলাই রাত সোয়া ১১টার দিকে কাফরুলের ওপেক্স গার্মেন্টসের দক্ষিণ পাশে লিংক রোডের মাথায় কয়েকজন অস্ত্রধারীর ছোড়া গুলিতে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ, সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মনির হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ইউসুফকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত নালাম সরদার ও মনির হোসেন চিকিৎসাধীন।

    মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম

    এদিকে ঘটনার সময় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টার সময় স্থানীয় জনতা অস্ত্রসহ এক সন্ত্রাসীকে আটক করে কাফরুল থানায় সোপর্দ করে। পরে পুলিশ তার দেহ তল্লাশি করে একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহত ইউসুফের বড় ভাই বাদী হয়ে কাফরুল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পরপরই ডিএমপির গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগ ও কাফরুল থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ২৫ জুলাই গোয়েন্দা পুলিশের মিরপুর বিভাগের একটি দল মিরপুর এলাকা থেকে নাহিদ হাসান ও শাফিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া এলাকা থেকে জিয়ারুল এবং মিরপুর এলাকা থেকে আলী হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    অপরদিকে, কাফরুল থানা পুলিশ শরীয়তপুর থেকে জিহাদ মোল্লা এবং যশোরের বাগারপাড়া এলাকা থেকে মাসুম বিল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত আবির হাওলাদারকে গণপিটুনির পর স্থানীয়রা কাফরুল থানায় সোপর্দ করেছিল।

    ডিবি সূত্রে আরও জানা যায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায় মূল পরিকল্পনাকারী হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের প্রতিপক্ষ হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে পেশাদার খুনি ভাড়া করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়।
    গত ২৯ জুন পেশাদার খুনি হাসান, জিয়ারুল, চঞ্চল, জিহাদসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন ঢাকায় এসে সিএনজি হাফিজের সঙ্গে বৈঠক করে। তারা মিরপুর-১০ এলাকার বৈশাখী হোটেলের ৭১৪ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেয় এবং পরে সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে একত্রিত হয়। এ সময় আবির হাওলাদারের কাছ থেকে হাফিজের ম্যানেজার নাহিদ দুটি পিস্তল গ্যারেজে নিয়ে আসে। হাফিজ অস্ত্রে গুলি ভরার সময় একটি পিস্তল থেকে আকস্মিকভাবে মিসফায়ার হলে ওই দিনের হত্যার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়। তবে অভিযুক্তরা হাফিজুল ইসলাম বাবুর অফিসের আশপাশে গিয়ে তাকে শনাক্ত করে এবং সিএনজি হাফিজের কাছ থেকে অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যায়।

    পরবর্তীতে ২২ জুলাই হাফিজের নির্দেশে তারা পুনরায় ঢাকায় আসে এবং মিরপুর-২ এলাকার সোনালী হোটেলের ৬০৮ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেয়। এরপর ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সবাই আবার সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে একত্রিত হয়। সেখানে নাহিদের কাছ থেকে জিহাদ দুটি লোড করা পিস্তল নিয়ে একটি জিয়ারুল এবং অপরটি চঞ্চলের কাছে হস্তান্তর করে। পরে জিয়ারুল, চঞ্চল, হাসান, জিহাদ, মাসুম বিল্লাহসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার অফিসের সামনে অবস্থান নেয়। সিএনজি হাফিজের কর্মচারী শাফিন এবং জিয়ারুলের আত্মীয় আলী হোসেন ঘটনাস্থল রেকি, আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা এবং ঘটনার পর পুলিশের তৎপরতা ও এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সরবরাহের দায়িত্ব পালন করে।

    ডিবি আরও জানায়, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১১টায় হাফিজুল ইসলাম বাবু তার কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে অবস্থানের সময় অপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তিকে সন্দেহ হলে তাদের পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে তাদের দেহ তল্লাশি করার চেষ্টা করলে অভিযুক্তদের একজন পিস্তল বের করে গুলি চালায়। এতে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়।

  • ঢাকা বোর্ডের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জরুরি নির্দেশনা

    ঢাকা বোর্ডের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জরুরি নির্দেশনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের নিয়ে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম আগামী ২ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে এ প্রক্রিয়া চলবে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত।

    সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যানের আদেশক্রমে প্রফেসর ড. মো. মাসুদ রানা খান।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিলম্ব ফি ছাড়া জনপ্রতি রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৬ টাকা। নির্ধারিত সময়ের পর বিলম্ব ফি সহ রেজিস্ট্রেশন করলে অতিরিক্ত ১৪০ টাকাসহ মোট ৩৩৬ টাকা দিতে হবে।

    বোর্ডের দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কেবল ৮ম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরাই নবম শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ পাবে। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বয়সের সীমা ১২ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে হতে হবে। ১২ বছরের কম বা ১৮ বছরের বেশি বয়সি শিক্ষার্থীরা নিবন্ধনের যোগ্য বিবেচিত হবে না।

    রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম নিখুঁত করতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণি শিক্ষকসহ ৩ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনলাইনে তথ্য সাবমিটের আগে বিদ্যালয়ের ভর্তি ফরমের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখার দায়িত্ব থাকবে এ কমিটির ওপর। ভুল তথ্যের জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধান ও কমিটির সদস্যগণ যৌথভাবে দায়ী থাকবেন। কোনো অবস্থাতেই রেজিস্ট্রেশনের কাজে শিক্ষার্থীদের নিয়োজিত করা যাবে না।

    শিক্ষার্থীদের বিভাগ নির্বাচনের বিষয়ে বলা হয়েছে, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্মতিক্রমে মানবিক, বিজ্ঞান বা ব্যবসায় শিক্ষা শাখা চূড়ান্ত করা হবে। তবে ৮ম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল বিবেচনা করে বিভাগ বিভাজন করা যেতে পারে।

    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে বা কোনো ধরনের জটিলতা তৈরি হলে তার পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে বহন করতে হবে। এছাড়া ফি জমাদানের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের বোর্ডে আসার প্রয়োজন নেই; সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি পরিশোধের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অনলাইনে ‘eSIF’ পূরণ করা যাবে।

  • সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যৌথ উচ্ছেদ অভিযান

    সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যৌথ উচ্ছেদ অভিযান

    রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদে এক যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।রোববার দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরের সকল অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদ করে উদ্যান এলাকা সম্পূর্ণ পরিষ্কার করা হয়।

    অভিযান পরিচালনা করার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যবৃন্দ, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা নগর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ এবং পর্যাপ্তসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

    জনস্বার্থে ও উদ্যানের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে ডিএসসিসির এই উচ্ছেদ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

    রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদে এক যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।

    রোববার দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরের সকল অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদ করে উদ্যান এলাকা সম্পূর্ণ পরিষ্কার করা হয়।

    অভিযান পরিচালনা করার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যবৃন্দ, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা নগর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ এবং পর্যাপ্তসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

    জনস্বার্থে ও উদ্যানের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে ডিএসসিসির এই উচ্ছেদ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৫৮

    ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৫৮

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ৪৫৮ জন।

    আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৯৯, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৮, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৫, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৮১, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭৬, খুলনা বিভাগে ৪৮, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৫, রাজশাহী বিভাগে ২৬ ও রংপুর বিভাগে ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৯৮ জন। এর মধ্যে চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৯৯৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, চলতি বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪৩ জনের। এর মধ্যে চলতি মাসে ২৫ জন মারা গেছে। আর জানুয়ারিতে দুই, ফেব্রুয়ারিতে দুই, মে মাসে এক ও জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করছে সরকার : ভারপ্রাপ্ত স্পিকার

    নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করছে সরকার : ভারপ্রাপ্ত স্পিকার

    বাংলাদেশে নারী শিক্ষা ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ভিত্তি তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গড়ে তুলেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমতাভিত্তিক সুশাসন ও শক্তিশালী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছেন, যা জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    রোববার (২৬ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে ইউএনওপিএস বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরালিধরনের নেতৃত্বে জাতিসংঘের প্রকল্প সেবা কার্যালয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে তিনি এসব কথা বলেন।

    সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল আগামী ৮ আগস্ট ঢাকার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে অনুষ্ঠিতব্য ‘এসডিজি স্থানীয়করণ বিষয়ক জাতীয় প্রচার অনুষ্ঠান’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেওয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত স্পিকারকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানায়। কায়সার কামাল আমন্ত্রণ গ্রহণ করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সম্মতি জানান এবং প্রতিনিধিদলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    বৈঠকে কায়সার কামাল বলেন, দেশে নারী উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ধারাবাহিক অগ্রগতিতে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান গুরুত্বপূর্ণ। একই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার সমতা, সুশাসন ও কার্যকর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে, যা এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।

  • সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী

    সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সময়ের চাহিদানুযায়ী আধুনিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, পদোন্নতি কিংবা পদায়নের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করলে পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ‘সেনাসদর সিলেকশন বোর্ড’ যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। মেধা এবং যোগ্যতাই হয়ে উঠুক একজন সেনা অফিসারের পদোন্নতি অর্জনের প্রধান মাপকাঠি।

    তিনি বলেন, পদোন্নতির জন্য একজন অফিসারের শারীরিক যোগ্যতা এবং ফিজিক্যাল এপিয়ারেন্স অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত।

    রোববার (২৬ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে সেনাসদর দপ্তরে আয়োজিত ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তঃরাষ্ট্রীয় ও আন্তঃসীমান্ত হুমকি, সাইবার ও তথ্যভিত্তিক নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমসহ বহুমাত্রিক ও জটিল নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। ফলে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা এবং জনগণের প্রত্যাশা ও সহনশীলতাকে বিবেচনায় রেখে প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই মডেল অনুসরণ করা এখন সময়ের দাবি।

    তারেক রহমান বলেন, ‘সরকারপ্রধান এবং একই সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল শক্তি কেবল সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতায় নয়, বরং সমগ্র জাতির ঐক্য, প্রস্তুতি ও সহনশীলতায় নিহিত।’

    তিনি বলেন, ‘সে লক্ষ্যেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ধারণার আলোকে একটি আধুনিক নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। যেখানে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন, শিল্প, প্রযুক্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণ একটি সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে কাজ করবে। এই নীতিমালার উদ্দেশ্য যুদ্ধকে উৎসাহিত করা নয়, বরং সম্ভাব্য যে কোনো সংকট, আগ্রাসন বা দুর্যোগ মোকাবিলায় সদাপ্রস্তুত, স্থিতিশীল এবং আত্মনির্ভরশীল সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা, যাতে দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থ সর্বতোভাবে সুরক্ষিত থাকে।’

    উপস্থিত জেনারেলদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে যুদ্ধের ধরণ বদলেছে। নিরাপত্তা মানে কেবল ভৌগোলিক সীমান্ত রক্ষা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাইবার স্পেস, তথ্যযুদ্ধ, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আঞ্চলিক ভূ-কৌশলগত প্রতিযোগিতা। তাই ড্রোন প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট নজরদারি, সাইবার এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে চায়।

    তিনি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের জন্য একটি রূপরেখা প্রণয়নের কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য হলো বাহিনীর ভবিষ্যৎ উন্নয়ন। যেখানে গুরুত্ব পাবে সংখ্যার পরিবর্তে সক্ষমতা, সম্প্রসারণের পাশাপাশি কার্যকারিতা, প্ল্যাটফর্ম বৃদ্ধির পরিবর্তে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং একক বাহিনীকেন্দ্রিক উন্নয়নের পরিবর্তে যৌথতার ওপর গুরুত্বারোপ।

    তিনি আরও বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে সরকারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়গুলো হলো- সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গঠন, সমন্বিত প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা জোরদার, যুগোপযোগী প্রতিরক্ষা নীতি ও কৌশল প্রণয়ন, দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ এবং গণতান্ত্রিক সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক সুদৃঢ়করণ।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততার মূল্যায়নে যথানিয়মে যোগ্যদের বাছাই করে স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত এই সিলেকশন বোর্ডের মাধ্যমেই পদায়ন কিংবা পদোন্নতির ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীতে আগামী দিনের দূরদর্শী এবং পেশাদার নেতৃত্বের সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপিত হবে বলে বিশ্বাস করি।’

    তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর যেকোনো সাফল্যে আমি একধরনের গৌরববোধ করি। আবার সেনাবাহিনীর কোনো নেতিবাচক খবরে অস্বস্তি অনুভব করি।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ক্যান্টনমেন্ট আমার গভীর আবেগ এবং স্মৃতিময় স্থান। আপনারা জানেন, ঘরে-বাইরে সেনা পরিবেশেই আমার কিশোর ও তারুণ্যের দিনগুলো কেটেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সেনাবাহিনীর নিয়ম-শৃঙ্খলা এবং বিধিবিধান সম্পর্কেও আমি অনেকটা ওয়াকিবহাল। এসব কারণে সেনাবাহিনী সম্পর্কে কিছু বলতে গেলে আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর হই।’

    তিনি বলেন, ‘সেনা পরিবেশে অনুসৃত শৃঙ্খলা এবং নিয়মতান্ত্রিক অনুশাসনের মধ্যেই আমি আমার বাবা-মা এবং একমাত্র ছোট ভাইয়ের সঙ্গে বেড়ে উঠেছি। সেনাবাহিনীকে বরাবরই আমার বৃহত্তর পরিবারের অংশ বলেই মনে করি’।

    তারেক রহমান আরও বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। একজন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তৎকালীন মেজর জিয়া সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য ইতিহাসে পরিণত করেছেন। নিঃসন্দেহে দেশের সেনাবাহিনীর জন্য এটি একটি গৌরবময় অধ্যায়।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা থাকলেও স্বাধীনতার পরপরই সেনাবাহিনীর ইমেজ বিনষ্ট এবং সেনাবাহিনীতে অস্থিরতা সৃষ্টির একধরনের অপপ্রয়াস লক্ষ্যণীয় ছিল। সেই অস্থির সময়েও সাবেক সেনাপ্রধান শহীদ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানের দৃঢ় ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমেই সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল।

    তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার সূচনালগ্ন থেকেই সেনাবাহিনীর সদস্যরা পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করছেন। পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চলমান প্রায় ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘বর্ডার রোড’ প্রকল্প শুধু সীমান্ত নিরাপত্তাই নিশ্চিত করছে না, বরং দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।’

    এছাড়া পার্বত্য এলাকায় সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ১২শ বর্গমিটার এলাকা মাইন ও বিস্ফোরকমুক্ত করার কাজ চলমান রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিরক্ষা ও সন্ত্রাস দমনে নিয়োজিত থেকে শাহাদতবরণকারী ২১৭ জন বীর সেনা সদস্যের পরিবারের প্রতি আমি গভীর সমবেদনা এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

    তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সুনাম আজ সুপ্রতিষ্ঠিত। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ বিগত বছরগুলোতে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বিশ্বদরবারে বিশেষ গৌরব ও মর্যাদা অর্জন করেছে।’

    তারেক রহমান বলেন, সম্প্রতি সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, দক্ষিণ সুদান এবং মালিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সম্মান সমুন্নত রেখেছেন। তবে এই গৌরবময় অর্জনের পেছনে রয়েছে আত্মোৎসর্গের ইতিহাস।

    তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর দক্ষিণ সুদানে সংঘটিত ড্রোন হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষী সদস্য শহীদ হন। আমি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

    তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী সংকটময় মুহূর্তে সেনাবাহিনী যে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে, গণতন্ত্রকামী জনগণ সেটি ইতিবাচকভাবেই মূল্যায়ন করবে বলে বিশ্বাস করি। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুরো সময়জুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতির চাকা সচল রাখার ক্ষেত্রেও সেনাবাহিনী প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে।

    তিনি বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর অকুণ্ঠ সহায়তা ছিল মূলত গণতান্ত্রিক বিধি-বিধানের প্রতি গভীর প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসের অনন্য বহিঃপ্রকাশ। এছাড়াও বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সংকটময় পরিস্থিতিতেও তেল সংরক্ষণাগারগুলোতে দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’

    দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস দমন এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দুর্যোগ-পরবর্তী উদ্ধার অভিযান এবং জুলাই গণজাগরণ ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলাসহ যেকোনো জাতীয় সংকটে সেনাবাহিনী সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

    তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট শাসনের সময় দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তাদের পেশাদারিত্ব হারিয়েছিল। সেনাবাহিনীকেও অনাকাঙ্ক্ষিত বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। বর্তমানে গণতান্ত্রিক পরিবেশে সেনাবাহিনীকে পুনরায় নিজেদের যোগ্যতা, দক্ষতা এবং পেশাদারিত্ব দিয়ে জনগণের আস্থায় থাকতে হবে।

    ফিজিক্যাল ফিটনেস তথা নিয়মিত শারীরিক কসরতের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করতে গিয়ে প্রয়াত মার্কিন জেনারেল ‘নরম্যান সোয়ার্জকফ’-এর একটি মন্তব্য বেশ প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, জেনারেল এইচ নরম্যান সোয়ার্জকফ বলেছিলেন ‘দ্য মোর ইউ সোয়েট ইন পিস, দ্য লেস ইউ ব্লিড ইন ওয়্যার।’ তাই সেনাবাহিনীতে নিয়মানুবর্তিতা আর ফিটনেসের ব্যাপারে কোনো পর্যায়েই আপসের সুযোগ নেই।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই নির্বাচন পর্ষদের মাধ্যমে নির্বাচিত কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাফল্য, গৌরব ও পেশাদারিত্বের ধারাবাহিকতা আরও সুদৃঢ় করবেন। বর্তমান সরকারের দর্শন হচ্ছে, দেশের স্বার্থ রক্ষায় ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’।

  • ঢাকার দুই সিটি দিয়ে স্থানীয় নির্বাচন শুরু করতে বলল জামায়াত

    ঢাকার দুই সিটি দিয়ে স্থানীয় নির্বাচন শুরু করতে বলল জামায়াত

    ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির ও ডিএনসিসি মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

    তিনি বলেন, ঢাকায় সুন্দর নির্বাচন হলে সারাদেশে তার প্রভাব পড়বে। এজন্য ঢাকা ও চট্টগ্রাম সহ যেসব সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলোর নির্বাচন আগে করতে হবে। পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করতে হবে। তা না হলে বুঝতে হবে সরকার জনগণের রায়ের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছে।

    রোববার রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় মহানগর উত্তর জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    সেলিম উদ্দিন বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও কারচুপির চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করা হবে। এ ধরণের কোনো চিন্তা যেন কেউ না করে।

    রাজধানী ঢাকায় চরম নাগরিক দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, যা নগর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার প্রমাণ। তিনি বলেন, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক, সন্ত্রাসে মানুষ অতিষ্ঠ। সরকারের নিয়োগ দেয়া প্রশাসকরা এসব সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ। তারা নাগরিক সেবাবে পুরানো ধাচেই চালাচ্ছে। অথচ আমাদেরকে তিন মাস সময় দিলেই ঢাকার চিত্র পাল্টে যেতে পারে।

    ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় নাগরিক সেবামূলক নানা কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে সেলিম উদ্দিন বলেন, আমরা নাগরিক সেবা, স্বাস্থ্য-শিক্ষা সহায়তা, কর্মসংস্থান, পরিচ্ছন্নতা, দরিদ্রদের সহায়তা, মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন সহ বহু কর্মসূচি পরিচালনা করছি। যদিও সেগুলোর তেমন কোন প্রচার নেই।

    জলাবদ্ধতা ও ময়লা সমস্যার সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে মাঠে নেমে আন্দোলনের ঘোষণা দেন সেলিম উদ্দিন। পাশাপাশি নাগরিক সেবা উন্নত করা এবং দালালচক্র নির্মূলেরও দাবি জানান তিনি।

    জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে সেলিম উদ্দিন বলেন, সরকার জুলাই বিপ্লবের প্রধান স্টেকহোল্ডার না হয়েও তারা প্রধান বেনিফিশিয়ারি। অথচ তারা এখন জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে তালবাহানা করছে। তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনায় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং ন্যায়-বিচারের চেতনাও আছে। তাই জুলাইকে বাদ দিয়ে সরকারে থাকা বা রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে বিএনপিকে চরম মূল্য দিতে হবে।

    তিনি সদ্য পদত্যাগকারী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ব্যাংকের শেয়ার জালিয়ারির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদের এই দোসরের আগেই সরাতে বলেছিলাম। কিন্তু সরকার তাকে সরায়নি। এখন যেভাবেই হোক তার পদ্যাগের মধ্য দিয়ে আমাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। তবে আমাদের দাবি হলো-তার বিচার না হওয়া পর্যন্ত যেন বাইরে যাওয়ার সুযোগ না দেয়া হয়। প্রয়োজনে সব হাসপাতাল মিলে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক।

    ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকারের সঞ্চালনায় মতবিনিময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন, উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা, সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ডা.ফখরুদ্দিন মানিক, ইয়াসিন আরাফাত, কর্মপরিষদ সদস্য হেমায়েত হোসেন ও জামাল হোসেন প্রমুখ।

  • বিয়েতে রাজি না হওয়ায় রেল কর্মকর্তা খুন, প্রেমিকা রিমান্ডে

    বিয়েতে রাজি না হওয়ায় রেল কর্মকর্তা খুন, প্রেমিকা রিমান্ডে

    রেল কর্মকর্তা মামুন মিয়াকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া প্রেমিকা বিউটি আক্তারের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রবিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

    এদিন কারাগার থেকে আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। তার উপস্থিতিতে শুরু হয় রিমান্ড শুনানি। তবে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

    গত ১৪ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বনানী থানার উপপরিদর্শক তারেক হাসান তার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন৷ আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ২৬ জুলাই দিন ধার্য করেছিলেন।

    মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, এক বছর আগে মামুনের সাথে বিউটির ননদের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। পরে তারা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় তাদের দেখা হত। বিষয়টি জানত না মামুনের পরিবার। শুক্রবার চিকিৎসার কথা বলে বিউটি ঢাকায় আসে। মহাখালীর টিবি গেট এলাকায় একটি রুম ভাড়া নেয়। মামুনকে সেখানে আসতে বলে দেখা করার জন্য।

    গত ১১ জুলাই সকাল ১১টার দিকে মামুন সেখানে যায়। বিয়ে করার জন্য বিউটি তাকে চাপ দেয়। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

    এক পর্যায়ে বিউটি দুপুর দেড়টার দিকে ফল কাটার ছুরি দিয়ে মামুনের গোপনাঙ্গে জখম করে। একই সঙ্গে পেটেও ছুরি মারে। মামুনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ টার দিকে মারা যায় মামুন।

    এ ঘটনায় নিহতের চাচা মো. শমসের আলী বাদী হয়ে মামলা করেন। এই মামলায় গ্রেপ্তারের পর গত ১২ জুলাই বিউটিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

  • দুই নারী শহীদের উপাখ্যান

    দুই নারী শহীদের উপাখ্যান

    ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবময় ও স্বতঃস্ফূর্ত গণবিপ্লব। এটি রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে গ্রামীণ জনপদ পর্যন্ত দেশের সর্বস্তরের, সব ধর্মের মানুষকে এক কাতারে দাঁড় করিয়েছিল স্বৈরশাসক হাসিনার পতনের দাবিতে। আর সর্বস্তরের মানুষের জেগে ওঠার এই লড়াইয়ে নারীদের বলিষ্ঠ অংশগ্রহণ ছিল অনস্বীকার্য। তাদের অকুতোভয় অংশগ্রহণ আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। জুলাই বিপ্লবে নারীদের অবদান ছিল বহুমাত্রিক। শুরু থেকেই তারা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং আন্দোলনে সহযোদ্ধা ভাইদের আড়াল করে রাখাসহ নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আন্দোলনকে বেগবান করতে সহায়তা করেছেন। স্বৈরাচারীর ‘দেখামাত্র গুলি’ নীতি এতটাই নির্মম ছিল যে, তা যেমন রাজপথের লড়াকু তরুণীদের স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল, তেমনি ঘরের নিরাপদ বারান্দা কিংবা ছাদে অবস্থানরত নিষ্পাপ শিশু ও

    মা-বোনদেরও প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। ২৪-এর ডিসেম্বর মাসে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আমরা ১০ জন নারী শহীদের পরিচয় জানতে পারি। তারা হলেন— মায়া ইসলাম (৬০), শাহিনুর বেগম (৫৫), নাছিমা আক্তার (২৪), মেহেরুন নেছা (২২), লিজা আক্তার (২১), সুমাইয়া আক্তার (২০), নাঈমা সুলতানা (১৯), নাফিসা হোসেন মারওয়া (১৭), রিতা আক্তার (১৭) ও রিয়া গোপ (৬)। তাদের মধ্য থেকেআজ আমরা দুজন নারী শহীদের বীরত্বগাথা ও অবিস্মরণীয় অবদান তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

    নাঈমা সুলতানা

    জুলাইয়ের প্রথম নারী শহীদ ১৬ বছর বয়সি নাঈমা সুলতানা। সে ছিল মাইলস্টোন স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নাঈমাদের পরিবার উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের একটি বাসায় ভাড়া থাকত। বাবা ছিলেন একজন পল্লী চিকিৎসক। তিনি গ্রামের বাড়ি ও ঢাকার মধ্যে যাতায়াত করতেন। শুধু নাঈমার পড়াশোনার জন্যই মা সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় থাকতেন।

    নাঈমার অবসর কাটত আঁকাআঁকি করে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরুতে সে বাসায় বসে খাতায় নানা স্লোগানসংবলিত প্রতিবাদী ছবি এঁকে সময় কাটিয়েছে। মারা যাওয়ার আগের দিন, ১৮ জুলাই ২০২৪, উত্তরায় পুলিশের গুলিতে প্রায় ৩০ জন ছাত্র-জনতা নিহত হন। ওইদিন রাতে নাঈমা আন্দোলনের পোস্টার আঁকছিল এবং মায়ের সঙ্গে গল্প করছিল। একপর্যায়ে সে মাকে বলল, ‘আম্মু, ধরো আমি যদি আন্দোলনে গিয়ে মারা যাই, তুমি মানুষকে কী বলবা?’ মাকে জবাব দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে আবার নিজেই বলে উঠল, ‘বলবা যে শহীদ হয়েছে। আমার মেয়ে শহীদ হয়েছে।’

    ১৯ জুলাই ২০২৪, শুক্রবার। তাদের বাসা থেকে একটু দূরে উত্তরা আধুনিক মেডিকেলের সামনে ছাত্র-জনতার সঙ্গে পুলিশ এবং তাদের সহযোগী ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে অস্ত্রধারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও কিছু পুলিশ আশপাশের গলিতে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। আনুমানিক বিকাল ৪টার দিকে নাঈমা তার রুমে বসে ‘বয়কট ছাত্রলীগ’, ‘কোটা সংস্কার চাই’সহ নানা স্লোগানসংবলিত প্রতিবাদী পোস্টার রঙিন কালিতে আঁকছিল। একটু পর বাসার সামনে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে সে দৌড়ে বারান্দায় আসে। তার বাসার নিচে তখন আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে পুলিশ গুলি ছুড়ছিল। সে হাতে থাকা মোবাইলে ভিডিও অন করে নিচের দিকে তাক করতেই তাকে লক্ষ্য করে পুলিশ গুলি ছোড়ে। গুলির আঘাতে মুহূর্তেই মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে নাঈমা।

    নাঈমার মাথার এক পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। মেঝেতে তার মস্তিষ্কের অংশ ছিটকে পড়ে। গুলি লাগার সঙ্গে সঙ্গে ‘মা’ বলে চিৎকার করে ওঠে নাঈমা। পেছনের রুমে থাকা মা ও বড় বোন তার চিৎকার শুনে দৌড়ে বারান্দায় এসে দেখেন, নাঈমা মেঝেতে লুটিয়ে পড়েছে। মাথা থেকে রক্ত ঝরছে। সারা বারান্দায় ছড়িয়ে গেছে তার রক্ত। মেয়ের এ অবস্থা দেখে মা জ্ঞান হারান। বোনের কান্নার আওয়াজে আশপাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ও নিচে থাকা ছাত্ররা এসে নাঈমাকে ধরে উত্তরা আধুনিক মেডিকেলে নিয়ে যান। কিন্তু তার আগেই পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেয় নাঈমা।

    সেদিন রাতেই নাঈমার মরদেহ নেওয়া হয় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার আমুয়াকান্দা গ্রামে, তাদের গ্রামের বাড়িতে। পথে পুলিশের নানা হয়রানির শিকার হতে হয় পরিবারকে। মরদেহ কোথা থেকে এসেছে, কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, কোথায় নেওয়া হচ্ছে—এমন নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাদের। পরদিন সকাল সাড়ে ৯টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় নাঈমাকে। মাইলস্টোনের মেধাবী ছাত্রী নাঈমা পড়ালেখায় খুব ভালো ছিল। প্রতিদিন তার ডায়েরি লেখার অভ্যাস ছিল। বড় বোন প্রতিবছর জন্মদিনে কীভাবে তাকে সারপ্রাইজ দেন এ কথাও পাওয়া যায় নাঈমার ডায়েরিতে। বেঁচে থাকলে সে এ বছর ২৫-এ জুলাই ১৭ বছরে পা রাখত। জুলাইয়েই মায়ের কোলজুড়ে পৃথিবীতে এসেছিল নাঈমা, সেই জুলাইয়েই তাকে হারালো। প্রতিবছর জুলাই এলে তার পরিবারের দুঃসহ যন্ত্রণা আরো বেড়ে যায়।

    রিতা আক্তার

    রিতা আক্তার, বয়স মাত্র ১৭ বছর। স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হয়ে দরিদ্র বাবা-মায়ের অভাব-অনটন ঘোচাবে। কিন্তু স্বপ্নপূরণের আগেই তাকে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হলো। জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুনট ইউনিয়নের তালখুর গ্রামে রিতাদের বাড়ি। বাবা আশরাফ আলী একজন রিকশাচালক, মা রেহেনা বিবি গৃহিণী। তিন ভাই-বোনের মধ্যে রিতা ছিল মেজো। বড় ভাই খুব বেশি পড়াশোনা করেননি; তিনি দিনমজুরের কাজ করেন। ছোট ভাই মাত্র প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়েছে। পড়াশোনায় ভালো হওয়ায় রিতাই ছিল পরিবারের একমাত্র আশা-ভরসা।

    অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবা-মা অদম্য রিতাকে বাল্যবিয়ে দিতে চাইলে সে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, সে বিয়ে করতে চায় না। বড় হয়ে ডাক্তার হতে চায়। বাবা-মাকে উপার্জন করে খাওয়াতে চায়। পরিবারের হাল ধরতে চায়। তাই মেয়েকে ভালোভাবে পড়াশোনার সুযোগ করে দিতে বাবা-মা সাধ্যমতো সব চেষ্টা করেছেন। মা রেহেনা বাসাবাড়িতে কাজ করে যে আয় করতেন, সেই টাকা দিয়েই মেয়ের পড়ালেখার খরচ চালাতেন।

    গ্রামের মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করার পর উচ্চমাধ্যমিকে শহুরে প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করানোর জন্য বাবা সপরিবারে ঢাকায় আসেন। মিরপুর দুয়ারীপাড়া সরকারি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি করান মেয়েকে। মেয়ের পড়ালেখার সুবিধার জন্য কলেজের পাশেই মিরপুর-২ এইচ ব্লকে কম ভাড়ায় একটা ছোট্ট বাসা ভাড়া নেন। বাবা মিরপুর এলাকায় রিকশা চালাতেন। আর মা বাসাবাড়িতে কাজ করতেন।

    ৫ আগস্ট সকালে বাবা-মা তাদের কাজে বের হন। এ সুযোগে রিতা বেলা ১১টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যায়। দুপুরে মা ঘরে ফিরে দেখেন, মেয়ে নেই। তিনি খুঁজতে বের হন। আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও মেয়েকে কোথাও পাননি। সন্ধ্যা পর্যন্ত মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের মর্গে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

    এক মেডিকেল থেকে আরেক মেডিকেলে দৌড়াদৌড়ি করে রাত ১০টার পর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মেয়ের মরদেহ খুঁজে পান তারা। গায়ের জামাকাপড় দেখে মেয়েকে শনাক্ত করেন। আহত রিতাকে মেডিকেলে নিয়ে আসা ব্যক্তিদের কাছ থেকে পরিবার জানতে পারে, তার মাথার এক পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বের হয়ে গিয়েছিল। তাকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে নিয়ে আসার পর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা মেলেনি; চিকিৎসা দিতে বিলম্ব হয়। চিকিৎসকরা যখন রিতার চিকিৎসা শুরু করেন, ততক্ষণে সে আর বেঁচে ছিল না। পরদিন মেয়ের মরদেহ নিয়ে বাবা-মা গ্রামের বাড়িতে চলে যান। গ্রামের কবরস্থানে রিতাকে দাফন করা হয়।

    ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমেও সক্রিয় ছিল রিতা। ইসলামি গান, হামদ ও নাতে রাসুলবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে কয়েকবার প্রথম হয়েছে সে। শিক্ষকদেরও স্বপ্ন ছিল, রিতা একদিন অনেক বড় হবে। মেধাবী এই ছাত্রী আদর্শ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। কিন্তু অকালেই ঝরে গেল আরেকটি ফুল।

  • ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৩৯

    ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৩৯

    সাস্থ্য ডেস্ক:

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৩৯ জন । এর আগের দিন শুক্রবার কারো মৃত্যু হয়নি তবে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১৮১ জন। এই নিয়ে চলতি মাসের ২৫ দিনে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৬ হাজার ৫৩৬ জনে। আর মৃত্যু হয়েছে ২২ জনের।

    শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে বিভিন্ন হাসপাতালে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৮৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৭৫ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৭৭ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৬ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৯ জন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৬ জন, রংপুর বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩০ জন এবং সিলেট বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজন ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ৪১৬ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু হয়েছে ৪০ জনের এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৬৪০ জনে। মৃতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন এবং জুলাইয়ে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর এবার ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৮২০ জন বরিশাল বিভাগে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ নারী ।

  • শিশুকে ধমক দেওয়ায় বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ দম্পতির বিরুদ্ধে

    শিশুকে ধমক দেওয়ায় বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ দম্পতির বিরুদ্ধে

    কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বাড়ির আঙিনা ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করার সময় বাইসাইকেলের চাকা পায়ে লাগার প্রতিবাদ করায় রেহানা বেগম লিলি (৭০) নামের এক বৃদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে পৌর শহরের জগন্নাথপুর দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত রেহানা বেগম লিলি জগন্নাথপুর দক্ষিণপাড়ার গাইনহাটি এলাকার হাজী ধন মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন। তাঁর স্বামী মৃত সুরত আলী মিয়া।

    অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর মিয়া ও তাঁর স্ত্রী রিমা বেগম একই এলাকার আনু মোল্লা বাড়ির বাসিন্দা।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেলে রেহানা বেগম বাড়ির আঙ্গিনা ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। এ সময় প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে আলিফ আঙিনায় বাইসাইকেল চালাতে গিয়ে কয়েকবার বৃদ্ধার পায়ের ওপর চাকা তুলে দেয়। এতে তিনি শিশুটিকে ধমক দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর ও তাঁর স্ত্রী ঘরে ঢুকে বাঁশের লাঠি দিয়ে রেহানা বেগমকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহতের বড় মেয়ে সৌরভী বলেন, ‘আমার মা ঘরের সামনে উঠান ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। প্রতিবেশীর ছেলে সাইকেলের চাকা আমার মায়ের পায়ে লাগায়। ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীর ও তাঁর স্ত্রী রিমা আমাদের ঘরে ঢুকে আমার মাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিমন বোস বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ আজ সকালে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • ভাঙ্গায় জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান, গ্রেফতার ৬

    ভাঙ্গায় জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযান, গ্রেফতার ৬

    ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে জুয়ার আসর থেকে ছয় জুয়াড়িকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    শনিবার ভাঙ্গা থানার এসআই (নিঃ) দেওয়ান শামীম খানের নেতৃত্বে সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।

    এ সময় জুয়া খেলায় ব্যবহৃত দুই বান্ডিল তাস এবং নগদ ২৪ হাজার ২৩০ টাকা জব্দ করা হয়।

    অভিযানের একপর্যায়ে তুজারপুর ইউনিয়নের জান্দী গ্রামের মো: আবুল হোসেনের মুদি দোকানের পেছনের একটি ছাপড়া ঘরে অর্থের বিনিময়ে তাস দিয়ে জুয়া খেলার সময় ছয়জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতাররা হলেন মো: হাসান (৩০), ওবায়দুর (৪০), মো: ইবরাহিম (৩০), আলীম শেখ (৪৫), শাকিল মাতুব্বর (৩০) ও শহিদুল মোল্লা (৪৫)। তারা সবাই ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।

    ভাঙ্গা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মিজানুর রহমান বলেন, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে দুই দিনে ডিএমপির ৩২৫৭ মামলা

    ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে দুই দিনে ডিএমপির ৩২৫৭ মামলা

    রাজধানীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে গত দুই দিনে ৩ হাজার ২৫৭টি মামলা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। একই সময়ে ৯০৮টি যানবাহন ডাম্পিং এবং ৪২৬টি যানবাহন রেকার করা হয়েছে।

    গত বৃহস্পতিবার ও গতকাল শুক্রবার (২৩ ও ২৪ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে এসব মামলা করা হয়। আজ শনিবার (২৫ জুলাই) ডিএমপির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    ডিএমপি জানায়, ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে সর্বোচ্চ ৪৯২টি এবং ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ৪৫০টি মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ৪৫৮ টি, ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ৪০১টি, ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে ৬৭০টি, ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ৩৭২টি, ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ২৪৬টি এবং ট্রাফিক-রমনা বিভাগে ১৬৮টি মামলা করা হয়েছে।

    অভিযানে বিভিন্ন বিভাগের আওতায় বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক বিভাগের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • শ্রীনগরে কোরেক্স ও ৩২ রাউন্ড গুলিসহ যুবক গ্রেফতার

    শ্রীনগরে কোরেক্স ও ৩২ রাউন্ড গুলিসহ যুবক গ্রেফতার

    মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ১১০ বোতল মাদকদ্রব্য কোরেক্স ও ৩২ রাউন্ড গুলিসহ তুষার শেখ নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শনিবার ভোর ৪টার দিকে শ্রীনগর থানার দেলভোগ দয়হাটা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    গ্রেফতার তুষার শেখ দেলভোগ দয়হাটা এলাকার মরহুম শেখ করিমের ছেলে।

    জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই মোহাম্মদ কামরুল হাসান (পিপিএম) সঙ্গীয় ফোর্সসহ ভাড়া করা একটি বসতবাড়ির উঠানে অভিযান চালান। এ সময় তুষার শেখকে গ্রেফতার করা হয়।

    অভিযানকালে তার কাছ থেকে ১১০ বোতল ‘উইন কোরেক্স’ (ফেনসিডিল জাতীয় মাদক) এবং ৩২ রাউন্ড পিতলের তৈরি কার্তুজ (গুলি) উদ্ধার করা হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। একইসাথে তার সাথে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো: কামরান হোসেন বলেন, গ্রেফতার আসামির বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি তার সাথে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    এ,আর

  • এইচএসসির ৫ বিষয়ের পরীক্ষার্থীদের নতুন নির্দেশনা

    এইচএসসির ৫ বিষয়ের পরীক্ষার্থীদের নতুন নির্দেশনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বৈরি আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত দিনে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা এইচএসসি ও সমমানের পাঁচ বিষয়ের পরীক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। পুনঃপরীক্ষায় অংশ নিতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে নিজ নিজ পরীক্ষাকেন্দ্রে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে।

    শনিবার (২৫ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জেসমিন তাসলিমা বানু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া অন্যান্য সব শিক্ষা বোর্ডের যেসব পরীক্ষার্থী বৈরি আবহাওয়ার কারণে গত ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তারা পুনঃপরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।এ নির্দেশনা পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্র, যুক্তিবিদ্যা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অফিস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ের পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

    আন্তঃশিক্ষা বোর্ড আরও জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোকে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের তথ্য আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে জরুরি ভিত্তিতে পাঠাতে হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • জামায়াত ফেরেশতার দল নয়, ভুলত্রুটি হতে পারে

    জামায়াত ফেরেশতার দল নয়, ভুলত্রুটি হতে পারে

    দলের বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী মো. নজরুল ইসলামের ভিডিওকাণ্ড নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও ইঙ্গিতে নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জামায়াত ফেরেশতাদের দল নয়, মানুষের সংগঠন। তাই ভুলত্রুটি হতে পারে, তবে নৈতিকতার প্রশ্নে আপস করা হবে না। কেউ ভুল করলে তাঁকে অবশ্যই সংশোধনের আওতায় আসতে হবে।

    শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ঢাকা জেলা জামায়াতের ষাণ্মাসিক সদস্য (রুকন) সম্মেলনে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। জামায়াতের সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, যারা দেশকে ভালোবাসেন, জাতিকে ভালোবাসেন, অন্যায় অপরাধ দেখলে আমাদের ধরিয়ে দিন। কথা দিচ্ছি আমরা সংশোধন করব।

    নেতাদের সাবধান করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, গায়ে যদি আপনার সাদা কাপড় থাকে, আপনাকে যত্নশীল হতে হবে। সাদা কাপড়ে দাগ ভাসে বেশি। সাবধান, নৈতিকতার প্রশ্নে জামায়াতে কোনো ছাড় নেই।
    প্রতিবেশী দেশের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কারও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় না। অন্যদেরও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। বাংলাদেশ শান্তিতে থাকতে চায়। তবে সীমান্তে অশান্তি সৃষ্টি করা হলে তার প্রভাব উভয় দেশকেই বহন করতে হবে।

    সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে গুরুত্ব দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, নেতা ও নীতির সংশোধনের মাধ্যমেই সমাজে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

    সংবিধান ও গণভোটের ফল বাস্তবায়ন প্রশ্নে সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বেশি সংবিধান কচলাবেন না। না হলে নিজেদের অস্তিত্ব আর খুঁজে পাবেন না।

    ঢাকা জেলা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বক্তৃতা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি প্রমুখ।

  • ধামরাইয়ে ৩ খুন: এক খটকায় ঘোরে তদন্তের মোড়

    ধামরাইয়ে ৩ খুন: এক খটকায় ঘোরে তদন্তের মোড়

    এক বছর আগে ঢাকার ধামরাইয়ে নারগিস বেগম ও তাঁর দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের পর খাবারে বিষক্রিয়ার কথাই আসছিল। সেই কারণে মামলাটি হয়েছিল অপমৃত্যুর। কিন্তু একটি তথ্য পাওয়ার পর তদন্ত কর্মকর্তার মনে লাগে খটকা। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জট খোলে এই হত্যাকাণ্ডের। এখন আসামি হয়ে বিচারের মুখোমুখি ওই নারীর জামাতা মো. রবিন।

    রবিন (২২) এখন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তিনি বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ১৪ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) উপপরিদর্শক (এসআই) মনজুর রহমান ঢাকার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। মামলাটি এখন বিচারের জন্য ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রয়েছে।

    অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ঘরজামাই রবিন শ্বশুরবাড়ির ডেকোরেটের ব্যবসা দেখভাল করতেন। শাশুড়ির সেই ব্যবসাটি বিক্রি করে দেওয়ায় ক্ষোভ থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন তিনি।

    তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, শুরুতে এই মামলার কোনো ক্লু ছিল না। রবিন খুবই সুকৌশলে হ্যান্ডেল করছিলেন। মূলত একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই পুরো রহস্য উদ্‌ঘাটন করা হয়।

    যে তথ্যে খটকা

    ২০২৫ সালের ২ জুন দিবাগত রাতে ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের রক্ষিত গ্রামে নিজেদের ঘর থেকে মৃত রাজা মিয়ার স্ত্রী নারগিস (৪২) এবং তাঁর দুই ছেলে মো. শামীম (১৭) ও সোলাইমানের (৮) লাশ উদ্ধার করা হয়।

    নারগিসের মেয়ে নাসরিন আক্তার তখন জানিয়েছিলেন, ঘরের ভেতরে বিছানার ওপর কাঁথা জড়ানো অবস্থায় পড়ে ছিল তাঁর মা ও ভাইদের মরদেহ। নারগিসের পরিবার থেকে তখন ধারণা দেওয়া হয়েছিল, খাবারে বিষক্রিয়া এই মৃত্যুর কারণ।

    আবার এই অভিযোগ তোলা হয়েছিল, সম্পত্তির বিরোধ থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন খাবারে বিষ মিশিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। নাসরিনের স্বামী রবিনও তখন এই দাবি করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, রাতে ডিম-ভাত কিংবা জুসের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে তিনজনকে মারা হয়েছে।

    পুলিশ খাবারে বিষক্রিয়ার সন্দেহে সেদিন অপমৃত্যুর মামলা নিয়েছিল। দুই দিন পর ৪ জুন মামলার তদন্তভার নেন ঢাকা জেলা পিবিআই কর্মকর্তা মনজুর রহমান।

    ২০২৫ সালের ২ জুন ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের রক্ষিত গ্রামে ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় নারগিস বেগম ও তাঁর দুই ছেলের মরদেহ। তখন খাবারে বিষক্রিয়ার কথা বলা হয়েছিল। পরে তদন্তে উদ্‌ঘাটিত হয়, শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছিল তিনজনকে।

    তদন্ত শুরু করে বিভিন্নজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মনজুর রহমান জানতে পারেন, সেদিন রবিন ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানও নারগিসের বাড়িতেই রাতের খাবার খেয়েছিলেন। তখন তাঁর মনে প্রশ্ন আসে, একই খাবার খেয়ে কেউ মারা গেলেন, আবার কেউ বেঁচে থাকলেন কীভাবে?

    মনজুর রহমান বলেন, ‘শুরু থেকেই বিষক্রিয়ার তত্ত্ব বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। মোবাইল ফোনের অবস্থান, ঘটনাস্থলের আলামত, জব্দ করা মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের পর রবিনকে সন্দেহের তালিকায় আনা হয়। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।’

    অভিযোগপত্রে বলা হয়, সন্ধ্যা রাতে খাওয়াদাওয়ার পর স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে গিয়েছিলেন রবিন। কিন্তু তাঁর মুঠোফোনের অবস্থান বিশ্লেষণ করে জানা যায়, এরপর রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের আবার শ্বশুরবাড়িতে যান তিনি।

    তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে শ্বশুরবাড়ি ছাড়ার পর গভীর রাতে রবিনের আবার ঘটনাস্থলে উপস্থিতির তথ্যই তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে ওঠে।

    শুরুতে এই মামলার কোনো ক্লু ছিল না। রবিন খুবই সুকৌশলে হ্যান্ডেল করছিলেন। মূলত একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই পুরো রহস্য উদ্‌ঘাটন করা হয়।

    মনজুর রহমান, উপপরিদর্শক, পিবিআই

    ক্ষোভ থেকে হত্যা

    রবিন ছিলেন ঘরজামাই। শ্বশুর রাজা মিয়া মারা যাওয়ার পর পরিবারের ডেকোরেটর ব্যবসা তিনি দেখাশোনা করতেন।

    তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, রবিন কোনো হিসাব শাশুড়িকে দিতেন না। তাই শাশুড়ি তাঁকে না জানিয়ে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় ব্যবসাটি বিক্রি করে দেন। এ ঘটনায় রবিন খুব ক্ষুব্ধ হন এবং শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে চলে যান এবং দীর্ঘদিন যোগাযোগ রাখেননি। বেশ কিছুদিন পরই সেদিন শাশুড়ির দাওয়াতে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন রবিন।

    ঢাকার ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের রক্ষিত গ্রামে ২০২৫ সালের ৩ জুন ঘরের ভেতর থেকে মা ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের পর ভিড় জমিয়েছিল গ্রামের মানুষ

    অভিযোগপত্রে বলা হয়, সেদিন ব্যবসা বিক্রির টাকা নিয়ে রবিনের স্ত্রী নাসরিনের সঙ্গে তাঁর মায়ের কথা–কাটাকাটি হয়। এই ঘটনায় শাশুড়ির ওপর রবিনের ক্ষোভ আরও বাড়ে। রাতে খেয়ে স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও মধ্যরাতে আবার শ্বশুরবাড়িতে ফেরেন।

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রবিন বলেন, তখনই তিনি প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মাঝেমধ্যে ব্যবসা নিয়ে তাঁর সঙ্গে বড় শ্যালক শামীমের ঝগড়া হতো। তাই শ্বশুরবাড়ির সবার ওপরই তাঁর ক্ষোভ ছিল।

    মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ঘরজামাই রবিন শ্বশুরবাড়ির ডেকোরেটর ব্যবসা দেখাশোনা করছিলেন। তা নিয়ে বিরোধ থেকে একপর্যায়ে শাশুড়ি ব্যবসা বিক্রি করে দেন। তার প্রতিশোধ নিতেই শাশুড়ি ও শ্যালকদের হত্যা করেন রবিন।

    জবানবন্দিতে হত্যার বর্ণনা

    স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রবিন বলেন, গভীর রাতে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে ঘুমন্ত অবস্থায় প্রথমে বড় শ্যালক শামীমের মুখে বালিশ চেপে ধরে তাঁকে হত্যা করেন তিনি। পরে একই কায়দায় শাশুড়ি নারগিস ও সোলাইমানকে হত্যা করেন। এরপর তিনজনের মরদেহ একই খাটে কাঁথা দিয়ে ঢেকে রাখেন, যাতে কারও দেখে মনে হয় যেন তাঁরা ঘুমিয়ে আছেন। তিনজনকে হত্যার পর ভোর চারটার দিকে তিনি বেরিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে যান।

    রবিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুটি বালিশ ও মুঠোফোন উদ্ধারের কথা জানান তদন্ত কর্মকর্তা।

    রবিনের গ্রাম থেকে তাঁর শ্বশুরবাড়ির দূরত্ব বেশি নয়; মাঝে দুটি গ্রাম। তাই সহজেই তাঁর যাতায়াত করার সুযোগ ছিল।

    লাশ উদ্ধারের পর শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন রবিন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নিজেই সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিষক্রিয়ার গল্প বলতে থাকেন। শ্বশুরের সৎভাইকেও দোষারোপ করেন।

    তদন্ত–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, উদ্দেশ্য ছিল তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা এবং নিজেকে সন্দেহের বাইরে রাখা।

    আমি ওই খুনির ফাঁসি চাই। আমার বোন ওই খুনিরে খুব ভালোবাসত। কিন্তু ওই (রবিন) আমার বোন-ভাগনেরে খুন করে ফেলল।

    আবদুর রশীদ, মামলার বাদী

    স্ত্রী এখনো সন্দিহান

    স্বামী রবিনই মা-ভাইদের হত্যা করেছেন কি না, তা নিয়ে এখনো সন্দিহান নাসরিন আক্তার।

    নাসরিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘রবিন মেরেছে কি না, আমি জানি না। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছি। সে আমাকে বলেছে যে সে আমার মা ও ভাইকে মারেনি। রবিন মেরেছে, এটা আমার বিশ্বাস হয় না। সে (রবিন) বলেছে, পুলিশের ভয়ে সে জবানবন্দি দিয়েছে আদালতে।’

    তবে ব্যবসা নিয়ে স্বামীর সঙ্গে মা ও ভাইয়ের দ্বন্দ্ব ছিল বলে স্বীকার করেন নাসরিন। তিনি বলেন, এ কারণেই তাঁর মা ডেকোরেটরের ব্যবসা বন্ধ করে বিক্রি করে দিয়েছিলেন।

    নাসরিনের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান বলেন, প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে করেছিলেন নাসরিন ও রবিন। নাসরিন শুরু থেকেই রবিনকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন। তবে তদন্ত ভিন্ন তথ্যই দিচ্ছে।

    মামলাটি করেছিলেন নিহত নারগিসের ভাই আবদুর রশীদ। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ওই খুনির ফাঁসি চাই। আমার বোন ওই খুনিরে খুব ভালোবাসত। কিন্তু ওই (রবিন) আমার বোন-ভাগনেরে খুন করে ফেলল।’

    এই মামলার একজন সাক্ষী শাহিনুর রহমান দোষীর শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, ‘একসঙ্গে একই পরিবারের তিনজন খুন হওয়ার ঘটনা এলাকায় ভীতি ছড়িয়ে পড়ে সেই সময়। দোষীর শাস্তি হওয়া দরকার।’

    তদন্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান বলেন, ১৪ জনের সাক্ষ্য এবং তথ্য–প্রমাণের ভিত্তিতে গত ১৪ জানুয়ারি তিনি আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন। তাতে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে রবিনকে একমাত্র আসামি করা হয়।

  • ভৈরবে বৃদ্ধাকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

    ভৈরবে বৃদ্ধাকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

    কিশোরগঞ্জের ভৈরবে লিলি বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী স্বামী-স্ত্রীর উপর। শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে ভৈরব থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

    এর আগে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে পৌর শহরের জগন্নাথপুর দক্ষিণ পাড়া (গাইনহাটি) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত লিলি বেগম জগন্নাথপুর দক্ষিণ পাড়া গাইনহাটি এলাকার মরহুম সুরুত আলীর স্ত্রী ও হাজী ধন মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া।

    অভিযুক্তরা একই এলাকার জাহাঙ্গীর মিয়া (৩৫) ও তার স্ত্রী লিমা বেগম (৩০)। জাহাঙ্গীর মিয়া ওই এলাকার মানিক মিয়ার ছেলে। ঘটনার পর জাহাঙ্গীর ও তার পরিবার বাড়িঘর তালাবদ্ধ করে পালিয়ে গিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে।

    থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে বাড়ির উঠান ঝাড়ু দিচ্ছিলেন ষাটোর্ধ্ব নারী লিলি বেগম। এ সময় প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর মিয়ার ১০ বছর বয়সী ছেলে আলিফ সাইকেল চালাচ্ছিল। এ সময় আলিফ লিলি বেগমের শরীরে সাইকেল লাগিয়ে দিলে বিষয়টি নিয়ে আলিফের পরিবারের সাথে বাগ্বিতণ্ডা হয় লিলি বেগমের। একপর্যায়ে লিলি বেগমকে মারধর করে জাহাঙ্গীর মিয়া ও তার স্ত্রী লিমা বেগম।

    মারধরে বাঁশের একাধিক আঘাতে ও ইটের আঘাতে ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন লিলি বেগম। স্থানীয়রা লিলি বেগমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    প্রতিবেশীরা বলেন, লিলি বেগম ও তার সন্তানরা এলাকার নিরীহ মানুষ। জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলের সাইকেল চালনোর ঘটনায় তর্ক-বিতর্কের মধ্যে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে ও ইট দিয়ে আঘাত করে লিলি বেগমকে হত্যা করেছে জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রী। আমরা প্রতিবেশীরা চাই, জাহাঙ্গীর ও তার পরিবারকে খুঁজে বের করে বিচার করা হোক।

    তারা আরো বলেন, লিলি বেগমের স্বামী মারা গেছে তিন সন্তান রেখে। মেয়ে দুইটার বিয়ের বয়স হয়েছে। একমাত্র ছেলে মানসিক প্রতিবন্ধী। লিলি বেগম মানুষের বাড়িতে কাজ করে তাদের সংসার চালাতো।

    এ বিষয়ে নিহতের মেয়ে সৌরভি বলেন, আমার মা আমাদের লালন পালন করতেন। আমাদের এখন কী হবে। আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। জাহাঙ্গীর আমাদের এতিম করে দিয়েছে।

    এ বিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিমন বোস বলেন, ঘটনার পর অভিযুক্তরা বাড়িঘর তালাবদ্ধ করে পালিয়ে গেছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে: মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন

    জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে: মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন

    জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। রাজধানীতে আয়োজিত এক আর্ট প্রতিযোগিতায় তিনি বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে—অন্যথায় সরকারকে এর চড়া মূল্য দিতে হবে।

    শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর উত্তরার আইইএস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপন কমিটি, উত্তরা আয়োজিত জুলাই শহীদদের স্মরণে ‘তুলিতে জুলাই’ শীর্ষক আর্ট প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    জুলাই শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা ও জুলাই উদযাপন কমিটি, উত্তরার আহ্বায়ক রোকেয়া বেগম এমপির সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব কামরুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ আশরাফুল হক, জামাল উদ্দিন, ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, ইব্রাহিম খলিল, মাজহারুল ইসলাম, আবু বকর সিদ্দিক, গাজী মনির হোসাইন, ইসরাফিল হোসেন, সুরুজ্জামান, জাকির হোসাইন, তাহমিদ হুজাইফা, তালহা জোবায়ের সজিব ও ইমরান হোসাইনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

    মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের প্রতীক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে একটি নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক ব্যর্থতা, সদিচ্ছার অভাব এবং ক্ষমতার প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণের কারণে সেই অর্জন আজ ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    তিনি আরও বলেন, জুলাইকে কোনোভাবেই ভূলুণ্ঠিত হতে দেওয়া যাবে না। এটি ব্যর্থ হলে দেশ ও জাতিসত্তার অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

    সরকারের উদ্দেশে সেলিম উদ্দিন বলেন, নেতিবাচক রাজনীতি পরিহার করে ইতিবাচক রাজনৈতিক চর্চায় ফিরে আসা প্রয়োজন। অন্যথায় ইতিহাস সরকারকে ক্ষমা করবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সংবিধানের ব্যাখ্যা দিয়ে সনদ বাস্তবায়ন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে এবং এ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তার দাবি, এ ধরনের অবস্থান পরিহার করে অবিলম্বে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা উচিত।

  • স্টার সিনেপ্লেক্সে একসঙ্গে মুক্তি পেল ৪ আন্তর্জাতিক সিনেমা

    স্টার সিনেপ্লেক্সে একসঙ্গে মুক্তি পেল ৪ আন্তর্জাতিক সিনেমা

    সিনেমাপ্রেমীদের জন্য এই সপ্তাহান্তে থাকছে একসঙ্গে চারটি ভিন্নধর্মী আন্তর্জাতিক ছবি। শুক্রবার থেকে ঢাকার স্টার সিনেপ্লেক্সে দেখা যাবে হরর, মনস্তাত্ত্বিক সাসপেন্স, বিজ্ঞান কল্পকাহিনিনির্ভর অ্যানিমেশন ও কনসার্ট চলচ্চিত্র চার ঘরানার চার সিনেমা। মাল্টিপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শুক্রবার মুক্তি পাচ্ছে ‘এভিল ডেড বার্ন’, ‘প্যাসেঞ্জার’, ‘টাইম হোপার্স: দ্য সিল্ক রোড’ এবং বিলি আইলিশ অভিনীত কনসার্ট চলচ্চিত্র ‘হিট মি হার্ড অ্যান্ড সফট: দ্য ট্যুর’।

    একই দিনে এত ভিন্ন ঘরানার ছবি মুক্তি পাওয়ায় দর্শকদের সামনে পছন্দের সুযোগও তৈরি হয়েছে বেশ কয়েকটি। যারা ভৌতিক অভিজ্ঞতা খুঁজছেন, তাদের জন্য রয়েছে ‘এভিল ডেড বার্ন’। রহস্য ও সাসপেন্স পছন্দ করা দর্শকদের জন্য ‘প্যাসেঞ্জার’। পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখতে চাইলে বেছে নেওয়া যেতে পারে অ্যানিমেশন ছবি ‘টাইম হোপার্স: দ্য সিল্ক রোড’। আর বিলি আইলিশের ভক্তদের জন্য রয়েছে বিশেষ কনসার্ট অভিজ্ঞতা।

    ‘এভিল ডেড বার্ন’: ভয়ংকর প্রত্যাবর্তন

    জনপ্রিয় ‘এভিল ডেড’ ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন ছবি ‘এভিল ডেড বার্ন’ পরিচালনা করেছেন সেবাস্তিয়ান ভানিচেক। ছবির সঙ্গে প্রযোজক হিসেবে যুক্ত আছেন স্যাম রাইমি ও রব ট্যাপার্ট। গল্পে দেখা যায়, স্বামীকে হারানোর পর এক তরুণী আশ্রয়ের সন্ধানে স্বামীর পরিবারের সদস্যদের কাছে একটি প্রত্যন্ত বাড়িতে যান। সেখানে পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের আবহ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। রহস্যময় ও অভিশপ্ত ‘বুক অব দ্য ডেড’ সক্রিয় হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। পরিবারের সদস্যরা একে একে ভয়ংকর শক্তির প্রভাবে বদলে যেতে থাকেন।সুহেইলা ইয়াকুব, হান্টার ডুহান ও লুসিয়ান বুকানন অভিনীত ছবিটিতে রক্তাক্ত দৃশ্য, অন্ধকার পরিবেশ ও ভৌতিক আতঙ্কের সমন্বয় দেখা যাবে।

    ‘প্যাসেঞ্জার’: গাড়ির ভেতরেই শুরু অশুভ আতঙ্ক

    আন্দ্রে ওভ্রেডাল পরিচালিত ‘প্যাসেঞ্জার’ এক তরুণ দম্পতির গল্প। দৈনন্দিন ব্যস্ততা থেকে দূরে থাকতে তারা ভ্যান নিয়ে দীর্ঘ ভ্রমণে বের হন। কিন্তু পথেই ঘটে যায় এমন এক ঘটনা, যা তাদের পুরো যাত্রাকে বদলে দেয়। একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর তারা আহত এক ব্যক্তিকে সাহায্য করেন। এরপর ধীরে ধীরে তাদের মনে হতে থাকে, দুর্ঘটনাস্থল থেকে শুধু ওই মানুষটিকেই তারা সঙ্গে আনেননি তাদের গাড়িতে যেন আরও কিছু উঠে এসেছে। অদৃশ্য সেই অশুভ উপস্থিতিকে ঘিরেই শুরু হয় আতঙ্ক, সন্দেহ ও বাঁচার লড়াই। ছবিতে অভিনয় করেছেন জ্যাকব সিপিও, লু লোবেল ও মেলিসা লিও।

    ‘টাইম হোপার্স: দ্য সিল্ক রোড’: ইতিহাস বাঁচানোর অভিযানে চার শিক্ষার্থী

    শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি পরিবারের সবার জন্য উপযোগী অ্যানিমেশন ছবি ‘টাইম হোপার্স: দ্য সিল্ক রোড’। গল্পের শুরু ভবিষ্যতের ২০৫০ সালে। চার মেধাবী শিক্ষার্থী একটি সময়ভ্রমণ যন্ত্রের মাধ্যমে অনিচ্ছাকৃতভাবে চলে যায় অতীতের ৮২৫ খ্রিষ্টাব্দের বাগদাদে।

    সেখানে তারা জানতে পারে, এক দুষ্ট রসায়নবিদ সময়ভ্রমণের প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ইতিহাস থেকে বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারগুলো মুছে ফেলার পরিকল্পনা করছে। এরপর চার শিক্ষার্থীকে জড়িয়ে পড়তে হয় এক রোমাঞ্চকর অভিযানে। মানবসভ্যতার জ্ঞান ও ইতিহাস রক্ষাই হয়ে ওঠে তাদের প্রধান লক্ষ্য।

    বিলি আইলিশের কনসার্ট এবার বড় পর্দায়

    বিলি আইলিশের ভক্তদের জন্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে পারে ‘হিট মি হার্ড অ্যান্ড সফট: দ্য ট্যুর’। এটি প্রচলিত অর্থে শুধু একটি কনসার্ট রেকর্ডিং নয়। ছবিটি নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে জেমস ক্যামেরনের ত্রিমাত্রিক ধারণপ্রযুক্তি।

    চলচ্চিত্রটিতে বিলি আইলিশের বিশ্বভ্রমণ কনসার্টের ম্যানচেস্টার পর্বের পরিবেশনা তুলে ধরা হয়েছে। ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তি ও ডলবি সাউন্ডের কারণে দর্শকেরা বড় পর্দায় কনসার্টের আবহ আরও কাছ থেকে অনুভব করতে পারবেন। ছবিতে থাকছে ‘বার্ডস অব আ ফেদার’ ও ‘লাঞ্চ’-এর মতো জনপ্রিয় গানও। স্টার সিনেপ্লেক্সের মিডিয়া বিভাগের প্রধান মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক মানের নতুন সিনেমা বাংলাদেশের দর্শকদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা সব সময়ই থাকে তাদের। একই দিনে চার ভিন্ন ঘরানার ছবি মুক্তি পাওয়ায় দর্শকেরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী সিনেমা বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। হরর, রহস্য, অ্যানিমেশন কিংবা সংগীত এই চার ভিন্ন স্বাদের ছবির মধ্যে শুক্রবার বড় পরয়ে প্রবাসী বাংলা ভাষাভাষী শ্রোতাদের গান শোনাবেন এই কিংবদন্তি শিল্পী।

  • ৮০০ কোটি টাকায় জমি ও বহুতল ভবন কিনবে পূবালী ব্যাংক

    ৮০০ কোটি টাকায় জমি ও বহুতল ভবন কিনবে পূবালী ব্যাংক

    ২২ জুলাই অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    তথ্যানুযায়ী, ব্যাংকটি ৯৫ দশমিক ১০ শতাংশ বা ৫৭ দশমিক ৬৪ কাঠা আয়তনের জমির সঙ্গে ‘সুইস টাওয়ার’ নামে ২৬ তলাবিশিষ্ট নির্মাণাধীন ভবন অধিগ্রহণ করবে, যেখানে তিনটি বেজমেন্ট ফ্লোর রয়েছে। ভবনটি রাজধানীর ২০৮, বীর উত্তম মীর শওকত সড়কে (তেজগাঁও লিংক রোড) অবস্থিত।

    এ সম্পদ অধিগ্রহণে ব্যাংকটির মোট ব্যয় হবে ৮০০ কোটি টাকা। এ ব্যয়ের মধ্যে আয়কর অন্তর্ভুক্ত থাকলেও ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত নয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে জমি ও নির্মাণাধীন ভবনটি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে পূবালী ব্যাংক।

    সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ব্যাংকটি। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ ও ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৮ টাকা ৩৮ পয়সা। আগের হিসাব বছরে ইপিএস ছিল ৫ টাকা ৯৯ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫৪ টাকা ৩২ পয়সায়।

    ২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের মোট ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটির পর্ষদ। এর মধ্যে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ ও ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে পূবালী ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৬ টাকা ৭৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬ টাকা ১ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৬ টাকা ৮ পয়সায়।

    ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের মোট ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটির পর্ষদ। এর মধ্যে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ ও ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে পূবালী ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৬ টাকা ৭৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ৪৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৬ টাকা ৩৩ পয়সায়।

    ২০২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে পূবালী ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ৪৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪ টাকা ২৩ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪১ টাকা ৯৬ পয়সায়।

    পূবালী ব্যাংকের সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘এএএ’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-১’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ২০২৬ হিসাব বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস পিএলসি (সিআরআইএসএল)।

    ১৯৮৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পূবালী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৫৬১ কোটি ৭২ লাখ ২০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৫ হাজার ৫০৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৫৬ কোটি ১৭ লাখ ২১ হাজার ৮৪২। এর ৩১ দশমিক ৮৭ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৪ দশমিক ৫৭, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক শূন্য ৫ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৪৩ দশমিক ৫১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

  • নড়াগাতীতে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

    নড়াগাতীতে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

    নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানা এলাকায় মো. মনি মিয়া শেখ (৪৫) নামে এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা দুর্বৃত্তরা বলে অভিযোগ উঠেছে।

    বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জয়নগর ইউনিয়নের পানিপাড়া গ্রামের কামরুল ঠাকুরের বাড়ির সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

    নিহত মনি মিয়া শেখ নড়াগাতী থানার জয়নগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং চর-জয়নগর গ্রামের বাসিন্দা।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে পুঠিমারি বাজার থেকে কেনাকাটা শেষে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন মনি মিয়া। পথে পানিপাড়া এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে তাকে ফেলে পালিয়ে যায়।

    পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলে পথেই তিনি মারা যান।

    নড়াগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

  • ডিউটিতে গিয়ে নিজের ছেলের লাশ উদ্ধার করলেন পুলিশ বাবা

    ডিউটিতে গিয়ে নিজের ছেলের লাশ উদ্ধার করলেন পুলিশ বাবা

    কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজের ১০ বছরের ছেলে মোহাম্মদ তুহিনের লাশ উদ্ধার করতে হলো কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার গাড়িচালক পুলিশ সদস্য শামসুল হককে।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ শহরের জনতা স্কুল রোড এলাকায় সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের চাপায় তুহিন নিহত হয়।

    নিহত মোহাম্মদ তুহিন গাইটাল জনতা স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা শামসুল হক কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় গাড়িচালক পুলিশ সদস্য হিসেবে কর্মরত।

    থানা সূত্রে জানা গেছে, সকালে জনতা স্কুল রোড এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে থানার একটি টহলদল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। টহলদলের গাড়িটি চালাচ্ছিলেন শামসুল হক। ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধারের সময় তিনি জানতে পারেন, নিহত শিশুটি তারই ছেলে তুহিন।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে গাইটাল এলাকার বাসা থেকে সাইকেল নিয়ে জনতা স্কুল রোড এলাকায় ঘুরতে বের হয়েছিল তুহিন। এ সময় একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ডিউটি অফিসার তানিয়া নাজনীন জানান, সকালে থানায় ফোন করে দুর্ঘটনার খবর দেয়া হয়। ফোনে জানানো হয়, সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাকের চাপায় এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। তবে তখনও নিহত শিশুটির পরিচয় জানা যায়নি।

    কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আবুল কালাম ভূঞা জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে নেয়া হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ট্রাকের চালক পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

  • মরদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে দেখলেন নিহত শিশু নিজের ছেলে

    মরদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে দেখলেন নিহত শিশু নিজের ছেলে

    কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। তবে এ দুর্ঘটনার সবচেয়ে মর্মান্তিক দিক হলো, নিহত শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে নিজের সন্তানের মরদেহের মুখোমুখি হয়েছেন তার বাবা, যিনি কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার এক পুলিশ সদস্য।

    আজ (শুক্রবার, ২৪ জুলাই) সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে শহরের গাইটাল আবদুল ওয়াহেদ জনতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়কে সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাকের চাপায় নিহত হয় তুহিন (১০)।

    সে আবদুল ওয়াহেদ জনতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা কনস্টেবল সামসুল কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় কর্মরত। তাদের গ্রামের বাড়ি পাশ্ববর্তী নেত্রকোণা জেলা সদরে।

    সকালে বাসা থেকে নিজের সাইকেল নিয়ে জনতা স্কুল রোডে এক বন্ধুর বাসায় যাওয়ার উদ্দেশে বের হয় তুহিন। পথে একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক দ্রুতগতিতে এসে তাকে চাপা দেয়। ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    দুর্ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। তবে গুরুতর আঘাতের কারণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলে যান কনস্টেবল সামসুর। তখনও তিনি জানতেন না, যে স্কুলশিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করতে যাচ্ছেন, সেটি তার নিজের ছেলে।

    ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান। নিজের সন্তানের নিথর দেহ দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। সহকর্মী ও স্থানীয়রা তাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনাস্থলের সেই দৃশ্য উপস্থিত অনেককেই আবেগাপ্লুত করে তোলে।

    কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বলেন, ‘সামসুল আমাদের থানার একজন দায়িত্বশীল সদস্য। দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে সে ঘটনাস্থলে যায়। পরে সেখানে গিয়ে জানতে পারে নিহত শিশুটি তার নিজের ছেলে। ঘটনাটি আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’

    তিনি বলেন, ‘মরদেহ শহিদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছেন। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

  • সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন স্পিকার

    সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন স্পিকার

    রাষ্ট্রপতি পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের গুঞ্জনের মধ্যে সফর সংক্ষিপ্ত করে কাল শুক্রবার দেশে ফিরছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংসদ সচিবালয়ের সূত্র জানিয়েছে, আগামীকাল থাই এয়ারওয়েজে ১২টা ১০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন তিনি।

    গত ১৯ জুলাই চিকিৎসার জন্য ব্যাংকক সফরে যান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী ২৬ জুলাইয়ের জন্য ফিরতি টিকিট কাটা ছিল। কিন্তু সফরসূচি সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবার দেশে ফিরতে স্পিকারকে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে অনুরোধ করা হয়েছে বলে সংসদ সচিবালয়ের সূত্রে জানা গেছে।

    সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সফর সূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ জুলাই স্পিকারের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে তাঁকে দ্রুত দেশে ফিরতে অনুরোধ করা হয়েছে। সে কারণে তিনি শুক্রবারই দেশে ফিরবেন।’

    কি কারণে দ্রুত দেশে ফিরছেন স্পিকার এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, গতকাল থেকেই বিভিন্ন গুঞ্জন (রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ) শুনছি। সে কারণে হয়তো সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন। আশা করি সবকিছু কালকেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।

    বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সে ক্ষেত্রে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করলেও, সংবিধানের ১২৩ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক।

  • এবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক, মোদিকে নতুন সতর্কবার্তা

    এবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক, মোদিকে নতুন সতর্কবার্তা

    প্রায় এক মাস ধরে দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থকরা। এরপরও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি পূরণ না হওয়ায় এবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। শুক্রবারের এই কর্মসূচিতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

    বৃহস্পতিবার সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা দেশজুড়ে কর্মসূচির ডাক দিয়ে বলেন, দিল্লির বাইরেও আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে হবে। প্রতিটি শহর ও গ্রামে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করতে হবে। চলুন এই বিক্ষোভকে জাতীয় স্তরে নিয়ে যাই। অনুগ্রহ করে ২৪ জুলাই (শুক্রবার) সারা দেশের প্রতিটি শহর ও গ্রামে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করুন।

    এদিকে আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দাবিও বৃহৎ পরিসরে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে অভিজিত বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি উপেক্ষা করা হলে বিক্ষোভ আরও বাড়বে। সরকার ব্যবস্থা না নিলে এই আন্দোলন শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

    অভিজিত বলেন, ‘মোদিজিকে আবারও অনুরোধ করছি, আপনি ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করুন। না হলে বিষয়টা আপনার পদত্যাগের দাবি পর্যন্ত গড়াবে।’

    শিক্ষামন্ত্রীকে অযোগ্য ও ব্যর্থ উল্লেখ করে অভিজিত বলেন, একজন মন্ত্রীকে বাঁচানোর চেয়ে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর স্বার্থ আগে দেখা উচিত। ছাত্রছাত্রীর চেয়ে একজন অযোগ্য মন্ত্রী বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেন না। যদি ব্যর্থ ও অযোগ্য মন্ত্রীকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, তাহলে মনে রাখবেন, ভারতের নির্বাচনে কেউ আপনাদের ভোট দেবে না।

    এক বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে। ছবি: এএফপি

    পরিস্থিতির অবনতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা বলেছেন, সরকার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আরেক দফায় আলোচনা করতে প্রস্তুত। বৈঠকের স্থান হিসেবে তিনি নিজের অফিস কিংবা বাসভবনের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে সিজেপির পক্ষ থেকে এর আগে বলা হয়েছিল, পরবর্তী দফার আলোচনা হয় বিক্ষোভস্থলে, নয়তো কোনো নিরপেক্ষ জায়গায় করতে হবে।

    পরিস্থিতি উত্তপ্ত
    বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে চারটার দিকে দিল্লির সংসদ মার্গ-টলস্টয় লেন এলাকায় বেশ উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখেছেন হিন্দুস্থান টাইমসের সাংবাদিকরা। সেখানে বিক্ষোভকারী ও পুলিশ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। উভয়ের মাঝে কেবল দড়ির ব্যারিকেড ছিল। এক পর্যায়ে পুলিশের দিকে বোতল ছোড়া হলে উত্তেজনা বাড়ে।

    আন্দোলন দমাতে দিল্লির মধ্যাঞ্চলে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের সময়সীমাও বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এই অঞ্চলে মধ্যরাত পর্যন্ত ইন্টারনেট বন্ধ রাখতে মোবাইল অপারেটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে নিজের বাসভবনে বৈঠকের ডাক দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের বরাত দিয়ে হিন্দুস্থান টাইমস জানিয়েছে, বৈঠকে অন্য বিরোধী দলগুলোর নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা। তবে এর আগেই রাহুলের বাসভবনের সামনে র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

    সম্ভাব্য বাজে পরিস্থিতি এড়াতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লেখার কথা জানিয়েছেন সমাজকর্মী আন্না হাজারে। বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর যাতে বলপ্রয়োগ না করা হয়, সেজন্য তিনি মোদিকে চিঠি লিখেছেন।

    আন্না হাজারে বলেন, সহিংসতা দিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। সহিংসতা কাজ আরও বাড়িয়ে দেবে।

  • ২০৩১ সাল পর্যন্ত বিশেষ সুবিধার অনুমতি পেলো ন্যাশনাল ব্যাংক

    ২০৩১ সাল পর্যন্ত বিশেষ সুবিধার অনুমতি পেলো ন্যাশনাল ব্যাংক

    বাংলাদেশ ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসিকে তাদের মালিকানাধীন প্রস্তাবিত প্রধান কার্যালয় ভবন ‘এনবিএল টুইন টাওয়ার’-এর টাওয়ার-২ বাণিজ্যিক স্থাপনা হিসেবে ইজারা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ জন্য ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর একটি বিধানের প্রয়োগ থেকে ব্যাংকটিকে ৩১ ডিসেম্বর ২০৩১ পর্যন্ত অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ (বিআরপিডি-২) এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১২১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসির মালিকানাধীন ‘এনবিএল টুইন টাওয়ার’ (হোল্ডিং নম্বর: ১/সি/১, বীর উত্তম সি. আর. দত্ত রোড, পান্থপথ, ঢাকা) ভবনের টাওয়ার-২ বাণিজ্যিক স্থাপনা হিসেবে ইজারা দেওয়া যাবে।

    এ জন্য ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ (২০২৩ পর্যন্ত সংশোধিত)-এর ১০ ধারার বিধান ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসির ক্ষেত্রে ৩১ ডিসেম্বর ২০৩১ পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে না।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্তের ফলে ন্যাশনাল ব্যাংক তাদের প্রধান কার্যালয় ভবনের অব্যবহৃত অংশ বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করে ভাড়া থেকে অতিরিক্ত আয় করতে পারবে, যা ব্যাংকের সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও আয় বাড়াতে সহায়ক হবে।

  • একনেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

    একনেকে ১৪ হাজার কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

    জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রায় ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ের আটটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে তিনটি নতুন এবং পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প।

    অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বৃহত্তর দিনাজপুরের সমন্বিত উন্নয়ন, পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ, দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন, নতুন গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খনন এবং দেশের মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণ।

    বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমান।

    পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় জানায়, অনুমোদিত আটটি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা।

    এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে আসবে ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের তিনটি প্রকল্প রয়েছে। এগুলো হলো—সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ (প্রথম সংশোধন), বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প এবং পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প।

    এ ছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প (তৃতীয় সংশোধন), সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প (দ্বিতীয় সংশোধন) এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প (তৃতীয় সংশোধন) অনুমোদন পেয়েছে।

    জ্বালানি খাতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের আওতায় বেগমগঞ্জ-৫ মূল্যায়ন কূপ এবং বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২ অনুসন্ধান কূপ খননের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের মাধ্যমে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলোর বিদ্যমান কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ১০ শয্যার নতুন কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে।

    সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ইতোমধ্যে অনুমোদিত ১১টি প্রকল্প সম্পর্কেও একনেককে অবহিত করেন। এসব প্রকল্পের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক অফিস স্থাপন, বরিশাল টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপন, বিভিন্ন মহাসড়ক উন্নয়ন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো, পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড সম্প্রসারণ এবং বিটাকের নতুন কেন্দ্র স্থাপনের মতো উদ্যোগ রয়েছে।

  • শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক দুই ডিজিকে হাইকোর্টে তলব

    শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক দুই ডিজিকে হাইকোর্টে তলব

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আদালতের আদেশ অমান্য করায় শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক দুই মহাপরিচালক অধ্যাপক ডঃ মুহাম্মদ আজাদ খান ও অধ্যাপক বি এম আব্দুল হান্নানকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ১২ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

    বুধবার (২২ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

    আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির। পরে অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির বলেন, মাদারীপুরের রাজৈর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মরিয়ম মুজাহিদা দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় অন্য একজন ব্যক্তিকে শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক আয়ন-ব্যায়ন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। অধ্যক্ষ মরিয়ম মুজাহিদা ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে এক রিট পিটিশন দায়ের করেন। ওই রিট পিটিশনে স্থগিত আদেশ থাকার পরও শিক্ষা অধিদপ্তর এই আদেশ স্থগিত করে কোনো চিঠি পাঠাননি। যার ফলে আদালত অবমাননার আবেদন দায়ের করেন অধ্যক্ষ মরিয়ম মুজাহিদা। ওই আদালত অবমাননার মামলায় আজ আদালত শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক ২ মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আজাদ খান ও প্রফেসর বি এম আব্দুল হান্নানকে স্ব-শরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।

  • প্রশাসন ক্যাডারের ৫০ কর্মকর্তা হলেন এসিল্যান্ড

    প্রশাসন ক্যাডারের ৫০ কর্মকর্তা হলেন এসিল্যান্ড

    সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড পদে পরবর্তী পদায়নের লক্ষ্যে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ৫০ কর্মকর্তার চাকরি ভূমি মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করেছে সরকার। আজ বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

    এতে বলা হয়, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের এসব কর্মকর্তাদের সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে পরবর্তী পদায়নের জন্য তাদের চাকরি ভূমি মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

    এতে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমি মন্ত্রণালয়ে যোগদানের নির্দেশনা দেওয়া হলো। তারা ঢাকা ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মৌলিক ভূমি ব্যবস্থাপনা কোর্স সম্পন্ন করার পর ‘জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন কর্মচারীগণের পদায়ন নীতিমালা, ২০২২’ অনুসরণ করে তাদের এসিল্যান্ড পদে পদায়ন করা হবে।

    প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

    ৫০ কর্মকর্তার তালিকা নিচে দেওয়া হলো-

  • এনসিপি সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক; গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও সংস্কার নিয়ে আলোচনা

    এনসিপি সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক; গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও সংস্কার নিয়ে আলোচনা

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম এমপিসহ দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুপুর সাড়ে ১২টায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    মার্কিন প্রতিনিধি দলে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে ছিলেন দূতাবাসের রাজনৈতিক উপদেষ্টা এরিক গিলান এবং রাজনৈতিক সচিব জেমস স্টুয়ার্ট। এনসিপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আন্তর্জাতিক সেলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আলাউদ্দিন মোহাম্মদ এবং আন্তর্জাতিক সেলের সদস্য মনিরা শারমিন ও নাভিদ নওরোজ শাহ।

    বৈঠকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি, গণতান্ত্রিক উত্তরণ, জাতীয় নাগরিক পার্টির রাজনৈতিক দর্শন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় হয়।

    আলোচনার একপর্যায়ে এনসিপি নেতারা সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে জনগণের মধ্যে বিদ্যমান প্রশ্ন ও উদ্বেগের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও তার প্রতিনিধিদল এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন এবং চুক্তিটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আহ্বান জানান। তাদের মতে, এ চুক্তি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং উভয় দেশের জনগণের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।

    এছাড়া গণভোটের রায় এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় এনসিপি নেতৃবৃন্দ গণভোটের রায়কে যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সংবিধান সংশোধন কমিটির মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
    এ সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত রাজনৈতিক সংলাপ, অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    বৈঠক শেষে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং গঠনমূলক সংলাপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ঢাবি শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফ

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ঢাবি শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার (২০ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গত ২২ জুন অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় আহত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

    এদিকে ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মাসব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল, অনুষদ, বিভাগ ও ইনস্টিটিউটেও পৃথকভাবে নানা আয়োজন করা হচ্ছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে স্মারক সংকলন প্রকাশ, সেমিনার, স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা, প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতা।

    আরও পড়ুন:- জাবিতে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

    https://bdglobaltimes.com/%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%BF%E0%A6%82%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%AF/

    এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলও নিজস্ব কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল ২৪ জুলাই, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল ও ফজলুল হক মুসলিম হল ২৪ ও ২৫ জুলাই, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ২৫ জুলাই, শামসুন নাহার হল ২৬ জুলাই, রোকেয়া হল ৩০ জুলাই, শেখ মুজিবুর রহমান হল ১ থেকে ৪ আগস্ট এবং ড. কুদরাত-ই-খুদা হোস্টেল ৫ আগস্ট বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করবে।

    এ উপলক্ষে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ‘জুলাই স্মৃতিকথন’ শীর্ষক একটি বিশেষ সংকলন প্রকাশ করবে। এছাড়া অমর একুশে হল ২৩ থেকে ২৫ জুলাই, বিজয় একাত্তর হল ২৩ জুলাই, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ২৫ জুলাই এবং নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী ছাত্রী নিবাস ২২ জুলাই বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করবে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

  • ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করবেন ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি-বিচারকরা

    ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করবেন ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি-বিচারকরা

    ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের আটকে রাখার গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তিনজন বিচারক। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), র‍্যাব ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এই কেন্দ্রগুলো পরিদর্শনের জন্য প্রসিকিউশনের করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই সম্মতি দেন।

    যে তিনজন বিচারক পরিদর্শন করবেন তারা হলেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার, বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    ট্রাইব্যুনালে শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে আবেদনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত স্বৈরাশাসনের আমলে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া অনেক গুমের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের জেআইসি অথবা টিএফআই হিসেবে পরিচিত ‘আয়নাঘর’ নামের গোপন জায়গায় আটকে রাখা হতো।

    সুনির্দিষ্ট পরিদর্শনের জায়গাগুলোর কথা জানিয়ে তিনি তুলে ধরেন, ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে ডিজিএফআই কমপ্লেক্সের একটি কেন্দ্র, র‍্যাব-১-এর একটি টিএফআই সেল এবং ডিবি কার্যালয়ের বন্দিশালাসহ এ ধরনের কেন্দ্রগুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখার জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শনের আইনি বৈধতা প্রসঙ্গে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের নজির তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর জানান, দেশের প্রচলিত আইনের ৫৩৯-বি ধারা এবং রোম স্ট্যাটিউটের রুল ৭ ও রুল ৭৩ অনুযায়ী মামলার স্বার্থে বিচারকদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের বিধান রয়েছে। এর আগে রুয়ান্ডা ও যুগোস্লাভিয়া ট্রাইব্যুনালেও বিচারকরা সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিচারিককাজে তা মেমোরেন্ডাম হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।

    চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, ট্রাইব্যুনাল আবেদনটি মঞ্জুর করেছেন এবং বিচারকরা দিন-তারিখ নির্ধারণ করে অপরাধস্থল হিসেবে পরিচিত এই বন্দিশালাগুলো পরিদর্শনে যাবেন। পরিদর্শনের আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নোটিস দেওয়া হবে এবং আসামিপক্ষের কেউ চাইলে তাদের সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে এই পরিদর্শন কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

  • মেসি, দয়া করে কেঁদো না, আবেগঘন পোস্ট শশীর

    মেসি, দয়া করে কেঁদো না, আবেগঘন পোস্ট শশীর

    ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করার পর লিওনেল মেসির আবেগঘন মুহূর্ত কোটি ভক্তের মতোই স্পর্শ করেছে ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী শারমীন জোহা শশীকে। ম্যাচশেষে মেসির কান্না দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি হৃদয়ছোঁয়া স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি, যা ইতোমধ্যে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    ‘হাজার বছর ধরে’ সিনেমার এ অভিনেত্রী পোস্টের শুরুতেই মেসির প্রতি নিজের অকৃত্রিম ভালোবাসা প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘আমি তোমাকে ভালোবেসেছি, ভালোবাসি এবং সব সময় ভালোবাসব। তুমি সর্বকালের সেরা। মেসি, তুমি দয়া করে কেঁদো না।’

    নিজেকে আর্জেন্টিনার সমর্থক উল্লেখ করে শশী লেখেন, জীবনে সবাই সবকিছু পায় না—এটাই বাস্তবতা। তাই একটি পরাজয় কখনোই মেসির অসাধারণ অর্জন ও কিংবদন্তি মর্যাদাকে ম্লান করতে পারে না। তার ভাষায়, ‘আজকের দিনটি হয়তো তোমার ছিল না। কিন্তু তাই বলে তুমি কোনো অংশেই কম নও। তোমার ছোট ছোট অপূর্ণতাগুলোই তোমাকে আরও সুন্দর করে তোলে।’

    ফাইনাল শেষে স্পেন যখন শিরোপা জয়ের উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে, তখন নিজের অনুভূতির কথাও তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। তিনি লেখেন, ‘স্পেন যখন উদ্‌যাপনে ব্যস্ত ছিল, আমি দর্শকদের ভিড়ে দাঁড়িয়ে টেলিভিশনের পর্দায় শুধু ১০ নম্বর জার্সিটির দিকেই তাকিয়ে ছিলাম। আমার চোখ সেখানেই আটকে ছিল।’

    পুরো বিশ্বকাপজুড়ে মেসির নেতৃত্ব ও পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে শশী বলেন, জয়-পরাজয়কে কীভাবে গ্রহণ করতে হয়, তা মেসিই শিখিয়েছেন। টুর্নামেন্টজুড়ে অসাধারণ ফুটবল উপহার দেওয়ার জন্য তিনি আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে ধন্যবাদ জানান।

    স্ট্যাটাসের শেষেও মেসি ও আর্জেন্টিনার প্রতি নিজের অটুট ভালোবাসার কথা পুনর্ব্যক্ত করে শশী লেখেন, ‘আজকের দিনটা একসময় হারিয়ে যাবে, কিন্তু মেসি কখনো হারিয়ে যাবে না। তাই এখনো আমার কণ্ঠে একটাই ধ্বনি—মেসি সর্বকালের সেরা, আর সেরা আর্জেন্টিনা।’

    শশীর এই আবেগঘন স্ট্যাটাসে আর্জেন্টিনা ও মেসির অসংখ্য সমর্থক একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। অনেকেই মন্তব্যে লিখেছেন, একটি হার কখনোই লিওনেল মেসির কিংবদন্তি ক্যারিয়ার বা তার প্রতি ভালোবাসাকে ম্লান করতে পারবে না।

  • ১১ ব্যাংক ও এক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পিকেএসএফর চুক্তি

    ১১ ব্যাংক ও এক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পিকেএসএফর চুক্তি

    দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোগ অর্থায়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাংকিং খাতের অর্থ পৌঁছে দিতে ১১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ১টি আর্থিক কোম্পানির সঙ্গে ক্রেডিট গ্যারান্টি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। প্রতিষ্ঠানটির বাস্তবায়নাধীন ‘ক্রেডিট এনহ্যাঞ্চমেন্ট স্কিমস’-এর আওতায় পৃথক বারোটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পিকেএসএফ ভবনে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    চুক্তি স্বাক্ষরকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান হলো- ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, কমার্সিয়াল ব্যাংক অব সিলন, ঢাকা ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক এবং দ্য ইউএই-বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইউবিকো)। এই চুক্তির ফলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পিকেএসএফ-এর বিভিন্ন সহযোগী সংস্থাসমূহকে তাদের ক্ষুদ্র উদ্যোগ অর্থায়ন কার্যক্রমে সর্বমোট ২ হাজর ৮০০ কোটি টাকা গ্যারান্টিযুক্ত ঋণ প্রদান করতে পারবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক কোম্পানিগুলো।

    অনুষ্ঠানে পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের বলেন, দেশের স্বল্প আয়ের মানুষদের উদ্যোক্তায় রূপান্তরের যে উদ্যোগ পিকেএসএফ গ্রহণ করেছে, তার সফল বাস্তবায়নে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পৃক্ত করতেই এ স্কিম চালু করা হয়েছে। এই স্কিমের আওতায় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পিকেএসএফ-এর সহযোগী সংস্থাগুলো তা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করবে এবং ঋণের গ্যারান্টি প্রদান করবে পিকেএসএফ।

    পিকেএসএফ-এর নিবিড় তদারকির ফলে ঋণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও যোগ করেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়সংগত প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ব্যাংকিং খাতের অর্থ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে পিকেএসএফ-এর এই স্কিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অনুষ্ঠানে পিকেএসএফ-এর পক্ষে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহম্মদ হাসান খালেদ এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালকবৃন্দ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্রেডিট এনহ্যান্সমেন্ট স্কিমের কার্যক্রম শুরু হয়। বাস্তবায়নের প্রথম বছরে পিকেএসএফ-এর সঙ্গে ১০টি ব্যাংক ও ১টি আর্থিক কোম্পানি চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল। এর মধ্যে ৬টি ব্যাংক ও ১টি আর্থিক কোম্পানি ইতোমধ্যে ২৬টি সহযোগী সংস্থার ক্ষুদ্র উদ্যোগ অর্থায়ন কার্যক্রমে মোট ১,০৮২ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ সম্পন্ন করেছে।

  • এইচএসসি পরীক্ষার সূচি পরিবর্তনের খবর ভুয়া: শিক্ষা বোর্ড

    এইচএসসি পরীক্ষার সূচি পরিবর্তনের খবর ভুয়া: শিক্ষা বোর্ড

    শিক্ষা ডেস্ক:

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের নামে ছড়িয়ে পড়া বিজ্ঞপ্তি ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    সোমবার (২১ জুলাই) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির নামে ২৭ জুলাই ২০২৬ থেকে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে এমন দাবি করে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে ওই বিজ্ঞপ্তিটি সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

    আরও বলা হয়, এ ধরনের ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম কিংবা বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

    পরীক্ষা-সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত, নির্দেশনা ও বিজ্ঞপ্তি শুধুমাত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া বিশ্বাস বা শেয়ার না করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। একই সঙ্গে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

  • চালু হলো ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপ, এক ক্লিকেই মিলবে জেলা প্রশাসনের সেবা

    চালু হলো ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপ, এক ক্লিকেই মিলবে জেলা প্রশাসনের সেবা

    ঢাকা জেলা প্রশাসনের সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব করতে চালু হয়েছে ‘হ্যালো ডিসি’ মোবাইল অ্যাপ। এর মাধ্যমে সাধারণ নাগরিক ঘরে বসেই জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন সেবা, অভিযোগ, আবেদন ও তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে পাবেন।

    মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাপটির উদ্বোধন করা হয়।

    প্রাথমিকভাবে এ অ্যাপটি hellodc.bd থেকে ডাউনলোড করা যাবে। গুগল প্লে-স্টোরে রিভিউ শেষে অ্যাপটি প্লে-স্টোর এবং অ্যাপল স্টোর থেকেও ডাউনলোড করা যাবে। এছাড়া জেলা প্রশাসন ঢাকার অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজ থেকেও অ্যাপটি ডাউনলোড করে সেবা নেওয়া যাবে। এছাড়া ০১৯৬১৬০৬০৬০ নাম্বারটিতে সরাসরি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কল করা যাবে।

    জেলা প্রশাসন জানায়, ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা সরাসরি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। ভূমি, আইনশৃঙ্খলা, ত্রাণ, সামাজিক নিরাপত্তা, লাইসেন্স, জন অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে আবেদন, অভিযোগ ও পরামর্শ পাঠানোর সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি আবেদনের অগ্রগতিও অ্যাপ থেকেই পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

    জানা গেছে, এখন থেকে এ অ্যাপের মাধ্যমেই জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করার অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া যাবে, এনজিও এবং লাইসেন্সিং সেবা, মিউটেশন, অর্পিত সম্পত্তি, সহায়তাসহ নানা ধরনের নাগরিক সেবা এক অ্যাপেই মিলবে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। প্রযুক্তিনির্ভর এ উদ্যোগের মাধ্যমে নাগরিকদের সময়, খরচ ও হয়রানি কমবে। জেলা প্রশাসনকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সেবামুখী করতেই ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপ চালু করা হয়েছে।

    এ সময় ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, নাগরিক সেবাকে সহজ, দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপ একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এ ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগ জেলা প্রশাসনের সেবাকে মানুষের আরও কাছে পৌঁছে দেবে এবং সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে জনগণের ভোগান্তি কমানো এবং সেবার মান উন্নয়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপ সেই প্রচেষ্টারই একটি কার্যকর উদাহরণ। তিনি এ উদ্যোগ সফল করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

    তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের মতামত ও অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে একটি কার্যকর ডিজিটাল সেবাব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

    জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অ্যাপটি ধাপে ধাপে আরও সমৃদ্ধ করা হবে। ভবিষ্যতে নতুন সেবা সংযুক্ত করে এটিকে জেলা প্রশাসনের একটি সমন্বিত ডিজিটাল সেবা প্ল্যাটফর্মে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

  • হল ফি কমানোর দাবিতে তিতুমীর কলেজ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

    হল ফি কমানোর দাবিতে তিতুমীর কলেজ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    হল ফি কমানোর দাবিতে রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। সোমবার (২০ জুলাই) রাতে কলেজের হল গেটের সামনে জড়ো হয়ে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ফি পুনর্নির্ধারণের দাবি জানান।

    শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধিভুক্ত অন্যান্য কলেজে হল ফি ৬ হাজার টাকা হলেও তিতুমীর কলেজে তা ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ফি পরিশোধ করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক সংকটে পড়ছেন বলেও তারা দাবি করেন।

    আন্দোলনকারীরা জানান, কয়েকদিনের আন্দোলনের পর কলেজ প্রশাসন ফি কমানোর আশ্বাস দিলেও নতুন প্রজ্ঞাপনে মাত্র ২০০ টাকা কমানো হয়েছে। তাদের ভাষায়, এটি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘প্রহসন’ ও ‘প্রতারণা’র শামিল।বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী গণমাধ্যমে বলেন, হল ফি কমানোর জন্য আমরা স্মারকলিপি দিয়েছে। কিন্তু প্রশাসন আমাদের দুইজন ছাত্রনেতাকে ডেকে সমাধান করতে চেয়েছে। তিতুমীর কলেজের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর সিদ্ধান্ত দুই জন ছাত্রনেতা নিতে পারে না। তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা নেবে।

    তিনি আরও বলেন, প্রশাসন প্রথমে হল ফি ৭ হাজার টাকা করার আশ্বাস দিলেও পরে ৮ হাজার টাকা থেকে মাত্র ২০০ টাকা কমিয়ে ৭ হাজার ৮০০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এটা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা-উপহাস বলে আমরা মনে করি।

    শিক্ষার্থীরা হল ফি ৬ হাজার টাকায় পুনর্নির্ধারণ, সব ধরনের ফি যৌক্তিক পর্যায়ে আনা এবং কলেজের অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবি জানান। একই সঙ্গে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দেন তারা।

  • কারখানার কাছে স্কুলমাঠ ভাড়া প্রধান শিক্ষকের, বন্ধ শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা

    কারখানার কাছে স্কুলমাঠ ভাড়া প্রধান শিক্ষকের, বন্ধ শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা

    শিল্পকারখানার নির্মাণ সামগ্রী রাখার জন্য স্কুলের মাঠ ভাড়া দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। এতে মাঠে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    গতকাল সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, গাজীপুরের শ্রীপুরে নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরো মাঠে ইট, বালি, রড, সিমেন্টসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়েছে। পাশেই চলছিল শিল্পকারখানার সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ। মাঠ দিয়ে ডাম্পট্রাক চলাচলের কারণে সেখানে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে এবং কাদা জমে মাঠ খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

    অভিযোগ রয়েছে, কারখানার সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ করছেন প্রধান শিক্ষক শাহানাজ বেগম ও তাঁর ছেলে রাতুল। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

    নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী মরিয়ম বলে, `কয়েকদিন ধরে আমাদের মাঠে সব ধরনের খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে। পুরো মাঠ কাদা হয়ে গেছে। নির্মাণ সামগ্রী রেখে আমাদের মাঠ নষ্ট করছে। ইটের সুরকি পায়ের নিচে লেগে আহত হচ্ছে অনেক শিক্ষার্থী।’

    বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলিফ বলে, `প্রায় প্রতিদিন আমরা মাঠে ফুটবল খেলতাম। কিন্তু কয়েকদিন ধরে সব খেলাধুলা বন্ধ। আমাদের খেলার মাঠটা একেবারে নষ্ট করে ফেলছে। আমরা মাঠ আগের অবস্থায় ফিরে পেতে চাই।’

    নির্মাণ সামগ্রী ভাঙার কাজ করেন মো. সাগর হোসেন। তিনি বলেন, `নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক শাহানাজ বেগমের ছেলে রাতুল এই কাজের জন্য আমার সঙ্গে চুক্তি করেন। নির্মাণ সামগ্রী রাখার জন্য এই মাঠটি ভাড়া নিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। আমাদেরকে কাজ করার জন্য এনেছে, আমরা কাজ করছি।’

    নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমির হোসাইন বলেন, `রোববার স্কুলে এসে দেখি, পুরো মাঠে ইট, বালিসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী রাখা। জানতে চাইলে কারখানা কর্তৃপক্ষ জানান, প্রধান শিক্ষক আর তাঁর ছেলে অনুমতি দিয়েছেন। এরপর আর আমরা কোথায় প্রতিবাদ করব? শিক্ষার্থীদের সব ধরনের খেলাধুলা বন্ধ।’

    আলমা ফিট ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার শাহেদ হাসান মোরসালিন বলেন, `সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে অনুমতি নিয়ে মাঠ বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও মনির হোসেন নামে দুজনকে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

    এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহানাজ বেগম বলেন, `বিদ্যালয়ের মাঠ ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে আমি জানি না। তারা কিভাবে মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখছে, এটা বলতে পারবো না।’ তিনি ও তাঁর ছেলে রাতুল মাঠ ভাড়া দিয়েছেন বলে শ্রমিকদের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দিতে রাজি হননি।

    শ্রীপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিন বলেন, `এ বিষয়ে ইতিমধ্যে অবগত হয়েছি। প্রধান শিক্ষক মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখার জন্য কাউকে অনুমতি দিতে পারেন না। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

    শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, `মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখার বিষয়ে অবগত হয়েছি। স্কুলমাঠ নষ্ট করার কোনো সুযোগ নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

  • জিয়াউল আহসানের বাড়িতে দুদকের অভিযান

    জিয়াউল আহসানের বাড়িতে দুদকের অভিযান

    সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জের জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ সোমবার সকাল থেকে দুদকের একটি দল সেখানে অভিযান পরিচালনা শুরু করে।

    দুদকের জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক মুখপাত্র তানজীর আহমেদ সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আজ সোমবার সকালে দুদকের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জলসিঁড়ির ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। বাড়িতে থাকা মালামালের জব্দ তালিকা করা হচ্ছে।

    গত ৭ জানুয়ারি দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে গভীর রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গণঅভ্যুত্থান চলাকালে নিউমার্কেট থানার একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তখন থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

    জিয়াউল আহসান সবশেষ টেলিযোগাযোগ নজরদারির জাতীয় সংস্থা ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক ছিলেন। শেখ হাসিনা সরকারের ১৫ বছরে আলোচিত ও প্রভাবশালী ছিলেন এই কর্মকর্তা। শেখ হাসিনা সরকার পতনের পরদিন ৬ আগস্ট তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

  • নকল ওয়েবসাইট ও ফেসবুক খুলে ঋণ প্রতারণা, সতর্ক করল এডিবি

    নকল ওয়েবসাইট ও ফেসবুক খুলে ঋণ প্রতারণা, সতর্ক করল এডিবি

    এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) নাম, লোগো এবং কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায়ের প্রতারণা সম্পর্কে জনসাধারণকে সতর্ক করা হয়েছে। প্রতারকেরা এডিবি ও এর কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে নকল ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ, ভুয়া পরিচয়পত্র এবং অন্যান্য প্রতারণামূলক উপকরণ তৈরি করছে।

    এসব তথ্য জানিয়ে আজ সোমবার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন প্রতারণা নিয়ে সতর্ক করেছে এডিবির ঢাকা কার্যালয়।

    কিছুদিন আগে বিশ্বব্যাংকের নাম ব্যবহার করে প্রায় একই ধরনের ঋণ প্রতারণার অভিযোগ উঠেছিল। তখন বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সতর্ক করেছিল।

    ব্যক্তিকে ঋণ ও অনুদান দেয় না এডিবি

    আজ পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এডিবি বলেছে, এডিবি কখনো কোনো ব্যক্তিকে সরাসরি ঋণ, অনুদান, তহবিল বা অন্য কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে না। একইভাবে এডিবি কোনো ব্যক্তির কাছে আর্থিক সহায়তার বিনিময়ে ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য চায় না এবং মোবাইল ব্যাংকিং বা অন্য কোনো মাধ্যমে অর্থ জমা দেওয়ারও অনুরোধ করে না।

    এডিবি আরও বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, প্রতারকেরা এডিবি ও এর কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে নকল ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ, ভুয়া পরিচয়পত্র এবং অন্যান্য প্রতারণামূলক উপকরণ তৈরি করছে। এসবের মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এডিবির কোনো সম্পর্ক বা সম্পৃক্ততা নেই।

    জনসাধারণকে এ ধরনের ভুয়া ঋণের প্রস্তাব সম্পর্কে সতর্ক থাকার এবং এ ধরনের যোগাযোগে কোনো ধরনের সাড়া না দেওয়ার জন্য জোরালোভাবে পরামর্শ দিয়েছে এডিবি। এ ছাড়া এডিবির ঋণ বা আর্থিক সহায়তার নামে কেউ যোগাযোগ করলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করেছে সংস্থাটি।

    এডিবি বলেছে, বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে এডিবি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার এবং বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করে। তাই এডিবির প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে কেউ যদি সরাসরি ব্যক্তিপর্যায়ে ঋণ বা আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেয়, তবে সেটি প্রতারণা হিসেবে বিবেচিত হবে।

  • রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৬০, মামলা ৪৯

    রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৬০, মামলা ৪৯

    রাজধানীতে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত অভিযোগে ৪৬০ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    সোমবার (২০ জুলাই) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, শনিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে রোববার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে ডিএমপির রমনা বিভাগে ৩৯ জন, লালবাগ বিভাগে ৩৩ জন, ওয়ারী বিভাগে ৫৭ জন, মতিঝিল বিভাগে ৫৬ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৬২ জন, মিরপুর বিভাগে ১২৬ জন, গুলশান বিভাগে ৩৪ জন, উত্তরা বিভাগে ৪৭ জন এবং গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগে ৬ জন রয়েছেন।

    অভিযানে মাদকদ্রব্য উদ্ধার হওয়ার কথা জানিয়েছে ডিএমপি। ডিএমপি বলছে, অভিযানে গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১২ হাজার ৮৪টি ইয়াবা বড়ি, ১২০ গ্রাম গাঁজা, ১০০ বোতল সিরাপজাতীয় নেশাদ্রব্য। এ ছাড়া নগদ প্রায় পাঁচ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

    গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান জানিয়ে ডিএমপি বলছে, এখন পর্যন্ত পৃথক ৪৯টি মামলা করা হয়েছে।

  • এডিবি’র নামে ভুয়া ঋণের ফাঁদ, সতর্কবার্তা জারি

    এডিবি’র নামে ভুয়া ঋণের ফাঁদ, সতর্কবার্তা জারি

    এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) নাম, লোগো এবং কর্মকর্তাদের ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে ঋণ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে একদল প্রতারক চক্র। এমন পরিস্থিতিতে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক এই দাতা সংস্থা।

    আজ সোমবার ঢাকাস্থ এডিবি’র কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে এডিবি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা কখনোই কোনো ব্যক্তিকে সরাসরি ঋণ, অনুদান, তহবিল বা অন্য কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে না। একইভাবে, কোনো ব্যক্তির কাছে আর্থিক সহায়তার বিনিময়ে ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য চায় না এবং মোবাইল ব্যাংকিং বা অন্য কোনো মাধ্যমে কোনো টাকা জমা দেয়ারও অনুরোধ করে না।

    সাম্প্রতিক সময়ে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, প্রতারকরা এডিবি ও এর কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে নকল ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ, ভুয়া পরিচয়পত্র এবং অন্যান্য প্রতারণামূলক উপকরণ তৈরি করছে। এসবের মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সাথে এডিবির কোনো সম্পর্ক বা সম্পৃক্ততা নেই।

    জনসাধারণকে এ ধরনের ভুয়া ঋণের প্রস্তাব সম্পর্কে সতর্ক থাকার এবং কোনো ধরনের লেনদেন বা যোগাযোগ না করার জন্য জোরালোভাবে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এডিবি’র ঋণ বা আর্থিক সহায়তার নামে কেউ যোগাযোগ করলে বিষয়টি অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করেছে সংস্থাটি।

    বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে এডিবি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার এবং বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করে। তাই এডিবির প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে কেউ যদি সরাসরি ব্যক্তি পর্যায়ে ঋণ বা আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেয়, তবে সেটি নিশ্চিতভাবেই প্রতারণা। এ ধরনের প্রতারণা এড়িয়ে চলার প্রাতিষ্ঠানিক পরামর্শ ও বিস্তারিত তথ্য এডিবির অফিসিয়াল মাধ্যমে চোখ রাখতে বলা হয়েছে।

  • একনেকে উঠছে ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প

    একনেকে উঠছে ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প

    ছয় মাস অনিশ্চয়তায় থাকার পর অবশেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উঠছে দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো উদ্যোগ ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব। একনেক সভায় এটিসহ আরো আট প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে।

    আগামী বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠেয় একনেক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি উপস্থাপনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে পরিকল্পনা বিভাগ।

    পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, এক্সপ্রেসওয়ে সংশোধনী অনুমোদিত হলে প্রকল্পটির নকশায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ অন্তর্ভুক্ত হবে। এগুলো হলো—বাইপাইল ইন্টারচেঞ্জ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে প্রবেশ ও বহির্গমন সুবিধা এবং নির্মাণাধীন এমআরটি লাইন-১ (পাতাল মেট্রোরেল)-এর সঙ্গে সমন্বিত যোগাযোগ। এসব সংযোজনের ফলে রাজধানী ও আশপাশের সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে এক্সপ্রেসওয়ের কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    একইসঙ্গে প্রকল্পটির ব্যয়ও বড় পরিসরে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। শুরুতে ১৬ হাজার ৯০১ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হলেও পরে প্রথম সংশোধনীতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা। এবার দ্বিতীয় সংশোধনীতে আরো ৯ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা যোগ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অনুমোদন মিললে মোট ব্যয় হবে ২৬ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা, যা মূল প্রাক্কলনের তুলনায় প্রায় ৫৫ দশমিক ১৫ শতাংশ বেশি।

    প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, ভ্যাট ও আয়কর কাঠামোর পরিবর্তন, কাস্টমস শুল্ক বৃদ্ধি, ইউটিলিটি স্থানান্তর, অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ, পরামর্শক সেবার ব্যয় এবং নতুন অবকাঠামো সংযোজনের কারণে ব্যয় পুনঃনির্ধারণের প্রয়োজন হয়েছে। ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ব্যবস্থায় চীনের অর্থায়নে। প্রকল্পের অর্থায়নের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে পাঁচ হাজার ৯৫১ কোটি ৪১ লাখ এবং চীনের ঋণ থেকে ১০ হাজার ৯৪৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

    প্রকল্পের আওতায় রাজধানীর কাওলা থেকে আব্দুল্লাহপুর, কামারপাড়া, ধউর, আশুলিয়া, জিরাবো, বাইপাইল ও সাভার ইপিজেড হয়ে শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ওঠানামার সুবিধার জন্য একাধিক সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজও চলছে। এটি চালু হলে উত্তরাঞ্চলগামী যানবাহনের রাজধানীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। একইসঙ্গে বিমানবন্দর এলাকা, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, এশিয়ান হাইওয়ে এবং দেশের বিভিন্ন জাতীয় মহাসড়কের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত হবে।

    প্রকল্পটির অগ্রগতি বিবেচনায় সময়সীমাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়ে ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঋণচুক্তি সম্পন্ন হতে দীর্ঘ বিলম্ব হওয়ায় মাঠ পর্যায়ের কাজ পিছিয়ে যায়। পরে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। বর্তমানে অবশিষ্ট নির্মাণ শেষ করতে আরো চার বছর সময় চেয়ে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত নতুন সময়সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    সরকারি নথি অনুযায়ী ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১১ হাজার ৭৩৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এতে আর্থিক অগ্রগতি ৬৬ দশমিক ৮৬ শতাংশে পৌঁছেছে। ভৌত কাজের অগ্রগতি ৫২ শতাংশ অতিক্রম করেছে। তবে বাস্তবায়নকারী সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে প্রায় ৫৮ দশমিক পাঁচ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।

    এদিকে একই বৈঠকে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পাশাপাশি আরো আটটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ভোলা জেলার নদীভাঙন প্রতিরোধ, বৃহত্তর দিনাজপুরে সমন্বিত উন্নয়ন ও পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ, সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন, দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও সংস্কার, বেগমগঞ্জ ও সুনেত্র এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খনন, সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সুবিধা সম্প্রসারণ-সংক্রান্ত প্রকল্প।

  • ডেঙ্গুতে একদিনে ৩ মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি ৩৭

    ডেঙ্গুতে একদিনে ৩ মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি ৩৭

    সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৭২ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩৭ জন মারা গেছে।

    আজ সোমবার (২০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়াদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৬৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৪ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১০৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৫২ জন, খুলনা বিভাগে ৪৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২১ জন, রাজশাহী বিভাগে চারজন এবং রংপুর বিভাগে ছয়জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৮৫৭ জন। এর মধ্যে ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ নারী রয়েছেন। ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৯ হাজার ৭৮৬ জন।

  • আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ থেকে ‘যুবদল নেতা’ পরিচয় দিয়ে দাপট, চাঁদা না দিলেই গুলি, অতপর…

    আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ থেকে ‘যুবদল নেতা’ পরিচয় দিয়ে দাপট, চাঁদা না দিলেই গুলি, অতপর…

    বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে এক ব্যবসায়ীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়, না দিলে হুমকি দেওয়া হয় প্রাণে মেরে ফেলার। ওই ব্যবসায়ী ছিলেন দক্ষিণ কমলাপুরে কোরবানির পশুর হাটের ইজারাদার। টাকা না দেওয়ায় চার দিনের মাথায় তাঁর কার্যালয়ে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। এই ঘটনা নিয়ে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে রাজধানীর মতিঝিল এলাকার ‘সন্ত্রাসী’ তানিম রেজা ওরফে বাপ্পির নাম।

    পুলিশের দাবি, মতিঝিল, আরামবাগ ও কমলাপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অপরাধজগতে আলোচিত নাম তানিম রেজা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ও পরিচয় বদলালেও বদলায়নি অপরাধের ধরন। দরপত্র নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন, ফুটপাত, ময়লা, ইন্টারনেট ও কেব্‌ল ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, মতিঝিল, মগবাজার, মালিবাগ, কমলাপুরসহ আশপাশের এলাকায় গুলি, চাঁদাবাজি এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হয়ে কাজ করার নানা ঘটনায় তানিম রেজার নাম এসেছে। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে।

    পরিচয় বদল, অভিযোগ একই

    পুলিশের দাবি, কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নিজস্ব ‘শুটার বাহিনী’ দিয়ে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে ভয় দেখাতেন তানিম রেজা। সাত থেকে নয়জনের একটি অস্ত্রধারী দল সব সময় তাঁর সঙ্গে থাকত। তানিমও নিজেও অস্ত্র রাখতেন।

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তানিম রেজা যুবলীগের প্রভাবশালী নেতাদের হয়ে দরপত্র নিয়ন্ত্রণে কাজ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর কাজ ছিল ঠিকাদারদের অস্ত্রের ভয় দেখানো, চাঁদা আদায় এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের দরপত্র থেকে সরিয়ে দেওয়া।

    পুলিশের দাবি, কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নিজস্ব শুটার বাহিনী দিয়ে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে ভয় দেখাতেন তানিম রেজা। সাত থেকে নয়জনের একটি অস্ত্রধারী দল সব সময় তাঁর সঙ্গে থাকত। তানিমও নিয়মিত অস্ত্র বহন করতেন।

    পুলিশের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতার ভাইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন তানিম। এরপর নিজেকে যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন এবং ওই পরিচয়ে মতিঝিল, আরামবাগ ও কমলাপুর এলাকায় নতুন করে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেন।

    তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ওই সময় থেকে বাস কাউন্টার, ফুটপাত এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন তানিম। কমলাপুরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া এক্সপ্রেস বাস কাউন্টার থেকে নিয়মিত চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পাশাপাশি ঢাকা–কুমিল্লা রুটে চলাচলকারী রয়েল কোচ পরিবহনের শেয়ারের একটি অংশ দখলে নিয়ে ব্যবসায় নামেন তিনি।

    শুধু ব্যবসায়ী নন, মতিঝিল থানা বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীকেও ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আছে তানিমের বিরুদ্ধে।

    ময়লা থেকে ইন্টারনেট, নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

    তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মতিঝিল এলাকায় ময়লা–বাণিজ্য, ফুটপাত, ফ্ল্যাট, ইন্টারনেট ও ডিশ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে সম্পৃক্ত ছিলেন তানিম রেজা। সরকার পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ–ঘনিষ্ঠ কয়েকজন পলাতক ব্যক্তির ব্যবসার নিয়ন্ত্রণও তিনি নেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

    মতিঝিল, মগবাজার, মালিবাগ, কমলাপুরসহ আশপাশের এলাকায় গুলি, চাঁদাবাজি এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হয়ে কাজ করার নানা ঘটনায় তানিম রেজার নাম এসেছে। পাশাপাশি শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ থাকার তথ্যও পেয়েছে পুলিশ।

    —মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ, উপকমিশনার, মতিঝিল বিভাগ ডিএমপি

    পুলিশের ভাষ্য, মতিঝিল, সবুজবাগ ও কমলাপুর এলাকায় চাঁদাবাজি, দরপত্র নিয়ন্ত্রণ এবং অস্ত্রের ব্যবসাও তাঁর নির্দেশে পরিচালিত হতো। এসব কর্মকাণ্ডে মতিঝিলের আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ইখতিয়ারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। একইভাবে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের নাম আসা বিভিন্ন অপরাধের ঘটনাতেও কোনো না কোনোভাবে তানিম রেজার সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ।

    শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের হাত ধরে অপরাধজগতে

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদের সহযোগী হিসেবে ২০০২ সালে মতিঝিল এলাকায় অপরাধজগতে প্রবেশ করেন তানিম রেজা। জিসান দেশ ছেড়ে এখন আছেন দুবাইয়ে।

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদের সহযোগী হিসেবে ২০০২ সালে মতিঝিল এলাকায় অপরাধজগতে প্রবেশ করেন তানিম রেজা। বর্তমানে জিসান দুবাইয়ে পলাতক।

    জিসানের সহযোগী হিসেবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার সঙ্গে দরপত্র নিয়ন্ত্রণে তানিম সহযোগী ছিলেন। দরপত্রে অংশ নেওয়া প্রতিদ্বন্দ্বী ঠিকাদারদের তাঁরা অস্ত্রের ভয় দেখাতেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।

    তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, তানিম রেজাদের এই সশস্ত্র তৎপরতার কারণেই গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঠিকাদার ও বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা জি কে শামীম এবং খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া দীর্ঘ সময় দরপত্র নিয়ন্ত্রণে নিজেদের রাখতে পেরেছিলেন।

    ডিএমপির কর্মকর্তাদের দাবি, তানিম রেজার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দস্যুতা, অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে সাতটি মামলা আছে। ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে রাজধানীর রামপুরা, হাতিরঝিল, খিলগাঁও, শ্যামপুর ও ডেমরা থানায় এসব মামলা হয়েছে।

    তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থানরত জিসান এবং আরেক পলাতক সন্ত্রাসী মোল্লা মাসুদের সঙ্গে এখনো তানিম রেজার যোগাযোগ থাকার তথ্য–প্রমাণ পাওয়া গেছে।

    ভয় দেখানোর অস্ত্র ছিল ‘শুটার বাহিনী’

    পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য সাত থেকে নয়জনের একটি ‘শুটার বাহিনী’ গড়ে তুলেছিলেন তানিম রেজা। বাহিনীর সদস্যদের কাছে অন্তত সাতটি ভারতীয় আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে তদন্তে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ব্যবসায়ী বা প্রতিপক্ষকে ভয় দেখাতে প্রয়োজন হলে তাঁদের দিয়ে গুলি চালানো হতো।

    তানিমকে গ্রেপ্তারের পর ইস্টার্ন কমলাপুর হাউজিংয়ের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তিনটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, একটি ইলেকট্রিক শক গান ও একটি কুড়াল উদ্ধারের কথা এরই মধ্যে জানিয়েছে পুলিশ। গত শুক্রবার তানিমের পাশাপাশি রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে রিজন (৩৫) নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকেও তানিম ও তাঁর সহযোগীরা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। কমলাপুরে ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে গুলির ঘটনার পর তাঁকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা বাড়ানো হয়। তাঁর অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    —হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী, সহকারী কমিশনার, মতিঝিল অঞ্চল, ডিএমপি

    পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তানিমের হয়ে মাঠপর্যায়ে চাঁদা আদায় ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিতেন রাকিবুল ইসলাম। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতেন লিখন ও জাহিদ হাসান নামের দুজন। আদর ও জিতু নামের দুজন শুটার ভয় দেখাতে গুলি চালানোর কাজে অংশ নিতেন।

    লিখন, জাহিদ, আদর ও জিতুকে গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    গ্রেপ্তার তানিম রেজা ও তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার করা দেশি–বিদেশি অস্ত্র ছবি: পুলিশের সৌজন্যে

    ১০ লাখ টাকা না পেয়ে ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে গুলি

    পুলিশের তথ্য বলছে, গত ১৫ মে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে দক্ষিণ কমলাপুরে কোরবানির পশুর হাটের ইজারাদার ইসমাইল হোসেনের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না পেয়ে ১৯ মে তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘এআই কার্গো সার্ভিস’–এ একদল সন্ত্রাসী গুলি চালায়। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলা হওয়ার পর তদন্তে তানিম রেজা ও তাঁর সহযোগীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।

    এরপর ১৮ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, ঘটনার পর তানিম রেজা ও তাঁর সহযোগীরা আত্মগোপনে চলে যান। প্রায় দুই মাসের চেষ্টার পর ১৭ জুলাই সকালে রাজধানীর পূর্বাণী হোটেল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তানিম রেজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাকিবুলসহ তাঁর চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন মোহাম্মদ জুয়েল (৪৮), শাকিল (২৭) ও মানিক কাজী (৫০)। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

    তানিম রেজাকে গ্রেপ্তারের অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ডিএমপির মতিঝিল অঞ্চলের সহকারী কমিশনার হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী প্রথম আলোকে বলেন, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকেও তানিম ও তাঁর সহযোগীরা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। কমলাপুরে ব্যবসায়ীর কার্যালয়ে গুলির ঘটনার পর তাঁকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা বাড়ানো হয়। তাঁর অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    তানিম রেজা ওরফে বাপ্পী। শনিবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে

    দুই পুলিশ কর্মকর্তা হত্যাসহ সাত মামলা

    ডিএমপির কর্মকর্তারা জানান, তানিম রেজার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দস্যুতা, অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে সাতটি মামলা আগে থেকে আছে। ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে রাজধানীর রামপুরা, হাতিরঝিল, খিলগাঁও, শ্যামপুর ও ডেমরা থানায় এসব মামলা হয়।

    এ ছাড়া ২০০৩ সালের ১৫ মে মালিবাগের সানরাইজ আবাসিক হোটেলে অভিযানের সময় গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক নুরুল আলম শিকদার ও উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন নিহত হওয়ার ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ইখতিয়ার ও জিসানের পাশাপাশি তানিম রেজার নামও এসেছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেনের করা মামলায় তানিম ও রাকিবুলকে সাত দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ঘটনার নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারী, পলাতক সহযোগী, ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎস এবং চাঁদাবাজ চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

    এদিকে অস্ত্র উদ্ধারের পর তানিম ও রাকিবুলের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মতিঝিল থানায় আরেকটি মামলা করেছে পুলিশ।

  • বিশ্বকাপ ফাইনাল উপলক্ষ্যে ঢাকায় কনসার্ট, মঞ্চ মাতাবেন সঞ্জয় দেব ও প্রীতম হাসান

    বিশ্বকাপ ফাইনাল উপলক্ষ্যে ঢাকায় কনসার্ট, মঞ্চ মাতাবেন সঞ্জয় দেব ও প্রীতম হাসান

    বিশ্বকাপ ফাইনাল উপলক্ষে ঢাকায় একটি কনসার্টের আয়োজন করা হচ্ছে। এতে মঞ্চ মাতাবেন সংগীতশিল্পী সঞ্জয় দেব ও প্রীতম হাসান।

  • দেশজুড়ে ৫ দিন বৃষ্টির আভাস

    দেশজুড়ে ৫ দিন বৃষ্টির আভাস

    আবহাওয়া ডেস্ক:

    দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী পাঁচ দিন রাজধানীসহ সব বিভাগেই টানা বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এই সময়ে দেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    একই সঙ্গে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধির কারণে দেশের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যেতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

    রোববার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির-এর দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আগামীকাল সকাল ৯টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    ঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে, এবং সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

    বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

  • ২০ জুলাই এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হচ্ছেনা

    ২০ জুলাই এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হচ্ছেনা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    আগামী ২০ জুলাইকে লক্ষ্য ধরে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের জোর প্রস্তুতি চালাচ্ছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড। তবে ফল প্রকাশের সুনির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

    বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, সরকারের নির্দেশনা ও নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী ফল প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। বর্তমানে ফল প্রস্তুতের মূল কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

    আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, ফলাফল তৈরির কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তারা দিনরাত কাজ করছেন।

    সাধারণত লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করার রেওয়াজ রয়েছে। সেই নিয়ম অনুযায়ী এ বছর ২১ এপ্রিল পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। অন্যদিকে, মাদ্রাসা (দাখিল) ও কারিগরি (এসএসসি ভোকেশনাল) বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২৪ মে।

    এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করে। এর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসিতে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদরাসা বোর্ডে দাখিলে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন।

  • ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের পরিবেশ দূষণ রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণ, ইটভাটার দূষণ রোধ এবং অতিরিক্ত হর্ন নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়াতে বলেছেন তিনি।

    শনিবার (১৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিবেশ দূষণবিষয়ক এক বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশ দেন।

    বৈঠকে বায়ু ও শব্দদূষণ প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে, ইটভাটার কারণে সৃষ্ট বায়ুদূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। এ সময় পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইট উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তারেক রহমান। রাজধানী ঢাকায় যানবাহনের অতিরিক্ত হর্ন ব্যবহার কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সে বিষয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন সরকারপ্রধান। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত এআই ক্যামেরার মতো হর্ন নিয়ন্ত্রণেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।
    বৈঠকে রাজধানীর সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ এবং পরিবেশ দূষণকারী বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন দ্রুত অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

    এ ছাড়া রাজধানীতে আরও অন্তত ৫০টি পয়েন্টে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল বা অটোমেটিক ট্রাফিক লাইট সিস্টেম চালুর নির্দেশ দেন তিনি।

    সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • আজ থেকে ‘গৃহযুদ্ধ’

    আজ থেকে ‘গৃহযুদ্ধ’

    বাশার সাহেব একজন সফল ব্যবসায়ী। ঢাকা শহরে তার গাড়ি-বাড়ি, টাকা-পয়সার অভাব নেই। তবে এসবই তার শ্বশুরের কাছ থেকে পাওয়া। তাই ঘরজামাই হিসেবে বউকে ভয় পেয়ে চলে সে। বউ জুলেখা তাকে কড়াকড়ি নজরে রাখে। বাশার সাহেব কোনো মেয়ের দিকে তাকালেও সেটা নিয়ে তুমুল ঝগড়া বেঁধে যায় ঘরে।

    এর মধ্যেই হঠাৎ গ্রাম থেকে তাদের বাসায় আসে কুদ্দুস, তার মা জামেলা ও তার বোন রাবেয়া। কুদ্দুস নিজেকে বাশার সাহেবের ছেলে হিসেবে দাবি করে, কুদ্দুসের মা নিজেকে বাশার সাহেবের স্ত্রী হিসেবে দাবি করে। বাশার সাহেবের সম্পত্তির ভাগের জন্যই তারা ঢাকায় এসেছে বলে সাফ জানিয়ে দেয়। এরপর বাড়ির মধ্যে শুরু হয় লঙ্কাকাণ্ড। এমন গল্প নির্মাণ হয়েছে ধারাবাহিক নাটক ‘গৃহযুদ্ধ’।

    মহিন খানের রচনা ও পরিচালনায় নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সালাউদ্দিন লাভলু, চিত্রলেখা গুহ,আরফান আহমেদ, শেলী আহসান, রকি খান, ফাতেমা-তুজ-জোহরা, সাব্বির অর্ণব, হায়দার আলী, জুলফিকার চঞ্চল, সীমান্ত আহমেদ, হানিফ পালোয়ান,জ্যোতি ইসলাম, অনন্যা ইসলাম, সুমাইয়া অর্পা, হিরা মনি, রিমু রোজা খন্দকার প্রমুখ।

    নির্মাতা জানান, আজ শনিবার থেকে ‘গৃহযুদ্ধ’ প্রচার হবে বৈশাখী টেলিভিশনে। সপ্তাহের প্রতি শনি, রবি ও সোমবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে দেখা যাবে এটি।

  • ক্ষমতাসীনদের দুর্বলতায় আবারো গণঅভ্যুত্থান হতে পারে: সেলিম উদ্দিন

    ক্ষমতাসীনদের দুর্বলতায় আবারো গণঅভ্যুত্থান হতে পারে: সেলিম উদ্দিন

    ৩৬ জুলাই’ স্মরণে রাজধানীর উত্তরার বিভিন্ন সড়কে ‘জুলাই গ্রাফিতি আর্ট’ কর্মসূচি শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তর। শনিবার সকালে নর্থ টাওয়ার হাউজবিল্ডিং এলাকায় এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

    এ সময় তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনদের দুর্বলতা ও জনগণের গণভোটের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষার কারণেই ভবিষ্যতে আবারও জুলাইয়ের মতো একটি গণঅভ্যুত্থানের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এমন পরিস্থিতি যেন না হয়, সেদিকে সরকারের সতর্ক দৃষ্টি রাখা উচিত। এছাড়া কেউ কেউ আওয়ামী লীগের ভাষ্য অনুসরণ করে তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    ডিএনসিসির এই মেয়র প্রার্থী আরও বলেন, জুলাইয়ের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নেবে, তারা জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত হবে। জুলাই নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র কিংবা অপমানজনক বক্তব্য দেশের মানুষ মেনে নেবে না। জুলাইকে নিয়ে অপপ্রচারের পরিণতি ভালো হবে না।

    তিনি বলেন, কোটি মানুষের অংশগ্রহণে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমেই ‘৩৬ জুলাই’-এর সফলতা অর্জিত হয়েছে। জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করেই বাংলাদেশ পরিচালিত হতে হবে। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন জুলাইয়ের স্মৃতি ও গ্রাফিতি রাষ্ট্রের উদ্যোগে সংরক্ষণ করা উচিত।

    সেলিম উদ্দিন বলেন, জুলাই আন্দোলনে উত্তরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এখানে অসংখ্য মানুষ শহীদ ও আহত হয়েছেন। সে সময় তৎকালীন সরকারের বাহিনী ঘরে ঘরে অভিযান চালিয়ে নির্যাতন ও নিপীড়ন চালিয়েছে। তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়েই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে।

    তিনি বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন টেলিভিশন টকশোতে যেভাবে আওয়ামী লীগের পুরনো বয়ান তুলে ধরা হচ্ছে, তা উদ্বেগজনক। জুলাইয়ের ইতিহাস বিকৃত বা অপমানের কোনো প্রচেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না।

    আয়োজকরা জানান, আগামী ২০ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত ‘স্মৃতিতে জুলাই’ শীর্ষক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে ‘তুলিতে জুলাই’ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। একই সঙ্গে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত চলবে গ্রাফিতি অঙ্কন কর্মসূচি। কর্মসূচি শেষে শহীদ মুগ্ধ মঞ্চে সেরা গ্রাফিতি শিল্পীদের পুরস্কৃত করা হবে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের উত্তরা পূর্ব অঞ্চলের পরিচালক জামাল উদ্দিন, উত্তরা মডেল থানা আমির ইব্রাহিম খলিল, পশ্চিম থানা আমির মাজহারুল ইসলাম, তুরাগ দক্ষিণ থানা আমির মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, তুরাগ মধ্য থানা আমির গাজী মনির হোসাইন, দক্ষিণখান পূর্ব থানা আমির আবু সাঈদ, উত্তরখান পশ্চিম থানা আমি নিজাম উদ্দিন, মহানগর যুব বিভাগের সেক্রেটারি ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, তুরাগ মধ্য থানা নায়েবে আমির কামরুল হাসান, ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর উত্তরের দপ্তর সম্পাদক তাহমিদ হুজাইফা প্রমুখ।

  • বিশ্বকাপে অজেয় ম্যাক অ্যালিস্টার

    বিশ্বকাপে অজেয় ম্যাক অ্যালিস্টার

    আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের কথা উঠলেই সবার আগে উচ্চারিত হয় লিওনেল মেসির নাম। পাশাপাশি কখনও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের বীরত্ব আর লাউতারো মার্টিনেজের গোল। কিন্তু বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনার টানা সাফল্যের নেপথ্যে এমন এক সৈনিক আছেন, যার নাম গ্ল্যামারের আড়ালে ঢাকা পড়ে যায়। তিনি অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। সেমিফাইনাল জয়ের মাধ্যমে তিনি দারুণ এক বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন।

    পরিসংখ্যান বলছে, ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘসময় অপরাজিত থাকার রেকর্ডটি এখন ম্যাক অ্যালিস্টারের দখলে। অপটা জো’র তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপে নিজের খেলা ১৩টি ম্যাচের একটিতেও হারেননি এই মিডফিল্ডার। এর মধ্যে জয় পেয়েছেন ১১টি ম্যাচে এবং ড্র করেছেন দুটি। সেই দুটি ড্র হওয়া ম্যাচও শেষে টাইব্রেকারে জিতে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ২০২৬ বিশ্বকাপেও চলছে ম্যাক অ্যালিস্টারের এই অজেয় যাত্রা।

    ডিফেন্স ও অ্যাটাকের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখায় ম্যাক অ্যালিস্টারের জুড়ি নেই। কাতার বিশ্বকাপ থেকেই কোচ লিওনেল স্কালোনির পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ তিনি। স্কালোনি যেন তার ওপর অন্ধ আস্থা রাখেন, যার প্রমাণ—আর্জেন্টিনার গত চারটি ম্যাচেই তিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলেছেন, কোনোবারই তাকে তুলে নেওয়া হয়নি। ফাইনালে মেসি বা ইয়ামালের মতো তারকাদের দিকে সবার নজর থাকলেও, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে ম্যাক অ্যালিস্টারই হতে পারেন আর্জেন্টিনার আসল ‘তুরুপের তাস’।

    ম্যাক অ্যালিস্টার নিজেও মনে করেন, আধুনিক ফুটবল এখন অনেক বেশি শারীরিক। আর সেই শারীরিক শক্তির সঙ্গে মেধার সমন্বয় ঘটিয়েই তিনি আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নিতে চান শিরোপার পথে। এনজো ফার্নান্দেজ বা রদ্রিগো ডি পলের সাথে তার রসায়ন আর্জেন্টিনা দলকে দারুণ এক ভারসাম্য এনেছে। ১৩ ম্যাচে ২ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট—এই পরিসংখ্যান হয়তো খুব বেশি কিছু বলবে না, কিন্তু আর্জেন্টিনার এই অজেয় যাত্রায় ম্যাক অ্যালিস্টার ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন আড়াল থেকেই।

  • এসএসসির ফল প্রকাশ হচ্ছে না ২০ জুলাই

    এসএসসির ফল প্রকাশ হচ্ছে না ২০ জুলাই

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের অপেক্ষায় রয়েছেন লাখ-লাখ শিক্ষার্থী। শিগগির ফল প্রকাশ করা হবে। ফল প্রকাশের প্রস্তুতি নিতে আরো এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। সে অনুযায়ী ফল প্রকাশের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

    শনিবার (১৮ জুলাই) আন্ত:শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির কর্মকর্তারা দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এ তথ্য জানিয়েছে।

    আন্ত:শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, আমাদের প্রস্তুতি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ করা হবে। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেলেই এ ফল প্রকাশ করা হবে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করবো। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই যাবতীয় আয়োজন শেষ করবো বোর্ডের পক্ষ থেকে।

    চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা চলে ২০ মে পর্যন্ত।এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩১৮, মাদরাসা বোর্ডে (দাখিল) ৩ লাখ ৩ হাজার ২৮৬ এবং কারিগরি বোর্ডে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন।

  • হামের উপসর্গে আরো চার শিশুর মৃত্যু

    হামের উপসর্গে আরো চার শিশুর মৃত্যু

    দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যু নেই। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত) নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৪ জনের। এ ছাড়া হামের উপসর্গ দেখা গেছে ৬৯৯ জনের।

    প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গে মারা গেছে ৬৮৯ জন। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরো ৯৫ জনের। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৭৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে তিনজন সিলেট বিভাগের। আর একজন ঢাকা বিভাগের।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৭১০ জনে। তাদের মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী ১৪ হাজার ৩১৮ জন। একই সময়ে ৯৯ হাজার ২৪৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৯৫ হাজার ৫২৯ জন হাসপাতাল ছেড়েছে।

  • কাশিমপুর কারাগারে নারী কয়েদি উধাও: সাময়িক বরখাস্ত ৭ কারারক্ষী

    কাশিমপুর কারাগারে নারী কয়েদি উধাও: সাময়িক বরখাস্ত ৭ কারারক্ষী

    গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে এক সাজাপ্রাপ্ত নারী কয়েদি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সাতজন কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে একজন সিনিয়র জেল সুপারকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বিষয়টি সমকালকে নিশ্চিত করেছেন।

    সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সাতজনের মধ্যে রয়েছেন তিনজন মেট্রন ও চারজন নারী কারারক্ষী। তারা হলেন—মেট্রন লায়লা আঞ্জুমান সুমি, মেরিনা ও রেহেনা এবং নারী কারারক্ষী শায়লা, শারমিন, জেমি ও আসমা আক্তার।

    সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল-ফরহাদ সমকালকে বলেন, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় শুক্রবার তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    কারাগার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রায় ৪০ জন নারী বন্দিকে দিয়ে কারাগারের ভেতরে ইট বহনের কাজ চলছিল। এ সময় দায়িত্বে থাকা মেট্রনের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি মোছা. রিম্পা (২১) কারাগারের অফিস ভবনের পাশের সীমানাপ্রাচীর টপকে পালিয়ে যান। পরে বন্দী গণনার সময় তাঁর অনুপস্থিতি ধরা পড়ে। এরপর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাঁর পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয় কারা কর্তৃপক্ষ।

    মো. জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, পলাতক কয়েদিকে গ্রেপ্তারে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালাচ্ছে। একই সঙ্গে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত কারাগার থেকে কীভাবে একজন বন্দি পালাতে সক্ষম হয়েছেন, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

    পলাতক রিম্পা মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার রায়পুর গ্রামের মো. হাসান হাবিবের মেয়ে। তিনি ঢাকার ধানমন্ডি থানার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে কাশিমপুর পার্ট-৩ (মহিলা) কারাগারে বন্দি ছিলেন।

    ঘটনার পর কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ ঘটনায় আরও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে কারা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

  • ‘জান দেবো তবু জুলাই দেবো না’ স্লোগানে ধানমন্ডিতে জামায়াতের র‍্যালি

    ‘জান দেবো তবু জুলাই দেবো না’ স্লোগানে ধানমন্ডিতে জামায়াতের র‍্যালি

    জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে জুলাই র‍্যালি করেছে জামায়াতে ইসলামী। র‌্যালিটি আবাহনী মাঠের সামনে থেকে শুরু হয়ে জিগাতলা, সিটি কলেজ, কলাবাগান ও ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় আবাহনী মাঠে গিয়ে শেষ হয়।

    র‌্যালিতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকজন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারী জনসাধারণের ‘জান দেবো তবু জুলাই দেবো না’ স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।

    র‌্যালি শেষে ধানমন্ডি থানা জামায়াতের আমির মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মুজাহিদুল ইসলাম শাহিনের পরিচালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও লইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও জোন পরিচালক অধ্যাপক নূর নবী মানিক।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। শহীদদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া এই চেতনাকে ধারণ করেই দেশ থেকে শোষণ ও ফ্যাসিবাদ দূর করে ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠন করতে হবে।

    তারা আরো বলেন, শহীদদের রক্ত, বীর জনতা ও ছাত্রদের আত্মত্যাগ এ দেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। কোনো ষড়যন্ত্রই জুলাইয়ের অর্জনকে মুছে দিতে পারবে না।

  • ছাত্রশিবিরের আয়োজনে ঢাবিতে লীগ ধর ম্যারাথন ও চিত্রপ্রদর্শনীর উদ্বোধন

    ছাত্রশিবিরের আয়োজনে ঢাবিতে লীগ ধর ম্যারাথন ও চিত্রপ্রদর্শনীর উদ্বোধন

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৭ জুলাই ‘সন্ত্রাস প্রতিরোধ দিবস’ পালন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। এ উপলক্ষে তারা ‘লীগ ধর’ ম্যারাথন এবং ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ নামের তিন দিনব্যাপী চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করে।

    ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই ঢাবি ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগকে তাড়ানোর ঘটনাকে স্মরণ করতে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়।

    শুক্রবার ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘লীগ ধর’ ম্যারাথনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। ম্যারাথনের রুট নির্ধারণ করা হয় কার্জন হল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, টিএসসি, তোরণ, মহসিন হল ও সূর্যসেন হল হয়ে কলাভবন পর্যন্ত।

    ম্যারাথন শেষে সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় তিন দিনব্যাপী বিশেষ চিত্রপ্রদর্শনী ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ১৭, ১৮ ও ১৯ জুলাই পর্যন্ত এই প্রদর্শনী চলবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।

    অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ, ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি কাজী আশিক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মু. সাজ্জাদ হোসাইন খাঁনসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণ, শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং আন্দোলনের চেতনা ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘১৭ জুলাই সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাস থেকে তাড়ানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নয়া আজাদির সূচনা করেছিল, যার চূড়ান্ত রূপ আসে ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতনের মাধ্যমে। জুলাইয়ের শহীদদের বিচার নিশ্চিত করতে এবং তাদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়তে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।’

    তিনি আরো বলেন, জুলাই আন্দোলন শুধু একটি ছাত্র আন্দোলন ছিল না। তা দেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই ইতিহাসকে জীবন্ত রাখার দায়িত্ব বর্তমান প্রজন্মের।

    ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ‘গণপরিসর থেকে জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিকে ভুলিয়ে দেওয়ার নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে। কিছু ব্যক্তি পুনরায় ফ্যাসিবাদের বয়ান প্রতিষ্ঠা করতে চায়। জুলাইয়ে বাংলাদেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ, আন্দোলন এবং ফ্যাসিবাদের জুলুম-নিপীড়নের ইতিহাসকে বারবার জনপরিসরে নিয়ে আসতে হবে।’

    তিনি আরো বলেন, ইতিহাস বিকৃতির যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি কাজী আশিক বলেন, দুই সহস্রাধিক শহীদ ও অসংখ্য গাজীর আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যেই ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ শীর্ষক এই বিশেষ চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

    তিনি জানান, প্রদর্শনীতে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতিচারণ, বিভিন্ন আলোকচিত্র,ও ফ্যাসিবাদী শাসনামলের বিভিন্ন নিপীড়নের দলিল স্থান পেয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের নানা স্মারক, ইনকিলাবি সংগীত এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন রয়েছে। দর্শনার্থীরা আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের ঘটনাপ্রবাহ ও দমন-পীড়নের চিত্র দেখতে পারবেন।

    কাজী আশিক বলেন, ‘আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত আমাদের এই আয়োজন চলবে, ইনশাআল্লাহ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিককে প্রদর্শনীটি পরিদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছি।’

    আয়োজকরা জানান, ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ প্রদর্শনীর তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে প্রতিদিন দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনী উন্মুক্ত থাকবে। এ ছাড়া প্রতিদিন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও স্মৃতিচারণমূলক পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।

  • আবারও বিয়ে করছেন পরী, ঠেকাতে পারলেন না হ্যারি কেইন!

    আবারও বিয়ে করছেন পরী, ঠেকাতে পারলেন না হ্যারি কেইন!

    ম্যাচ শুরুর আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন, আর্জেন্টিনা শিরোপা জিতলে আবারও বিয়ে করবেন। আর প্রিয় দলের জয় নিশ্চিত হতেই সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনকে উদ্দেশ্য করে নতুন পোস্ট দিলেন ঢাকাই সিনেমার অভিনেত্রী পরীমনি।

    আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল চলাকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পরীমনি লিখেছিলেন, ‘আর্জেন্টিনা কাপ জিতলে আমি আবার একটা বিয়া করবো, ফাইনাল।’ ফুটবল উন্মাদনার আবহে দেওয়া তাঁর এই পোস্ট মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অল্প সময়েই এতে হাজারো প্রতিক্রিয়া ও শেয়ার জমা হয়। তবে পোস্টটির মন্তব্যের সুযোগ বন্ধ রেখেছিলেন অভিনেত্রী।

    ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনা জয় নিশ্চিত করার পর আবারও ফেসবুকে সরব হন পরীমনি। এবার তিনি লেখেন, ‘হ্যারি কেইন, পারলে না তুমি আমার বিয়েটা ঠেকাতে।’ ইংল্যান্ডের অধিনায়কের উদ্দেশে করা এই রসিকতাপূর্ণ মন্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    পরীমনির দুই পোস্টই মূলত ফুটবলকে ঘিরে তাঁর উচ্ছ্বাসের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন ভক্তরা। অনেকেই মজার ছলে তাঁর ঘোষণার বাস্তবায়ন নিয়েও মন্তব্য করছেন বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

    ব্যক্তিজীবনে একাধিক বিয়ে ও বিচ্ছেদের কারণে এর আগেও আলোচনায় ছিলেন পরীমনি। সর্বশেষ ২০২১ সালে অভিনেতা শরিফুল রাজকে বিয়ে করেন তিনি। তাঁদের সংসারে শাহীম মুহাম্মদ পুণ্য নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। দাম্পত্য কলহের পর ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁদের আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ হয়।

    বর্তমানে সন্তানদের নিয়ে সিঙ্গেল মাদার হিসেবে জীবনযাপনের পাশাপাশি চলচ্চিত্র ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত কাজ করছেন পরীমনি। ফুটবলকে কেন্দ্র করে দেওয়া তাঁর টানা দুই ফেসবুক পোস্ট এবারও ভক্তদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে।

  • জীবন দেব, তবু ‘চব্বিশকে’ হারিয়ে যেতে দেব না: জামায়াত আমির

    জীবন দেব, তবু ‘চব্বিশকে’ হারিয়ে যেতে দেব না: জামায়াত আমির

    বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আল্লাহর কসম, জীবন দেব কিন্তু ‘২৪’ হারিয়ে যেতে দেব না। আমরা লজ্জিত, কারণ প্রতিবার সাধারণ মানুষ, ছাত্র, তরুণ, যুবক, শ্রমিক জীবন দিয়ে অর্জন এনে দেওয়ার পর কিছু লুটেরা সেই অর্জন ছিনিয়ে নেয়। আজও ২০২৪-এর অর্জন হারিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে আইডিবির মিলনায়তনে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে শহীদ আবু সাঈদসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    জামায়াত আমির বলেন, আজ যে সংসদ ও সরকার গঠিত হয়েছে, সবাই স্বীকার করেন এটি ২০২৪-এর ফসল। অথচ কেউ কেউ বলতে চান, ২০২৪ তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়, আগের অংশটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা তো কখনো বলিনি আগের অংশ গুরুত্বপূর্ণ নয়। সেই সময়েই তো আমরা আমাদের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে হারিয়েছি। শত শত সহকর্মীকে হারিয়েছি। অসংখ্য মানুষ কারাগারে গেছেন, চাকরি হারিয়েছেন, বাড়িঘরে থাকতে পারেননি। আমরা সেই ত্যাগ অস্বীকার করি না। কিন্তু এটাও সত্য, ২০২৪ না হলে আজ আমি এখানে বক্তৃতা দিতে পারতাম না, বিরোধীদলীয় নেতা হতে পারতাম না, সংসদ সদস্য হতে পারতাম না। একইভাবে তারেক রহমানও প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম দাবি তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, সবচেয়ে বড় দাবি ছিল, ফ্যাসিবাদ যেন আর বাংলাদেশে ফিরে না আসে। এজন্য রাষ্ট্র সংস্কার প্রয়োজন ছিল। নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রয়োজন ছিল। অতীতের পচা রাজনীতিকে বিদায় দিয়ে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন ছিল। কেউ কেউ বলেছেন, গণভোট সংবিধানে নেই। আবার কেউ বলেছেন, চারটি প্রশ্ন এত জটিল ছিল যে বুঝতেই চার ঘণ্টা লাগে। তাহলে জনগণ কীভাবে ভোট দিল? আমি বলি, এই চারটি প্রশ্ন তো আগেই প্রচার করা হয়েছিল, সব গণমাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। তাহলে কি আপনারা বলতে চান, বুদ্ধি শুধু আপনাদের আছে, দেশের ১৮ কোটি মানুষের নেই? এটা জাতিকে অপমান করার শামিল। আমি মূর্খ হতে পারি, কিন্তু আমার জাতি মূর্খ নয়।

    তিনি আরও বলেন, চারটি প্রশ্ন যদি মানুষ বুঝতে না পারে, তাহলে ৩১টি প্রশ্ন কীভাবে বুঝবে? এগুলো সব গোঁজামিল ও ভাওতাবাজি। ইতোমধ্যে একজন বলেছেন, ভোটটা হয়ে যাক, তাই সবকিছু আগে মেনে নিয়েছিলাম। আরেকজন বলেছেন, টোল মওকুফের কথা বলা হয়েছিল ভোট পাওয়ার জন্য। রাজনীতিবিদরা যদি এভাবে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেন, তাহলে দেশের মানুষ যাবে কোথায়? যারা দেশ চালাবেন, আইন করবেন, তাদের ন্যূনতম নৈতিক মানদণ্ড থাকা উচিত।

    বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, নির্বাচনের আগে সবাই গণভোটের পক্ষে ছিলেন। জনগণের প্রায় ৭০ শতাংশ হ্যাঁ বলেছেন। এখন বলা হচ্ছে, ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠন করা হয়েছে, তাই ৭০ শতাংশ গণরায় মানা হবে না। আমি জানতে চাই, ৫১ বড়, নাকি ৭০ বড়? ভোট কীভাবে পেয়েছেন, সেই বিতর্ক ইতিহাসে থেকেই যাবে। সাড়ে তিন ঘণ্টা ব্ল্যাকআউট করে কী করা হয়েছে, জনগণ তা জানে। সময়মতো ইতিহাস সবকিছুর বিচার করবে।

    সংবিধান সংশোধন কমিটি নিয়েও প্রশ্ন তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখন আমাদেরও বলা হচ্ছে, আপনারাও আসুন, এই অগ্রাহ্যের মিছিলে শরিক হোন। সংসদে আমাদের সংবিধান শেখানো হয়। আমি জানতে চাই, সংবিধান সংশোধন কমিটি নামে কোনো কমিটি সংবিধানের কোথাও আছে কি? যদি না থাকে, তাহলে এটি কেন? এটি জুলাইকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা, গণভোটকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।

    তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াকআউট করেছি। জনগণের রায়কে অপমান করতে চাইলে করুন, জনগণই তার বিচার করবে। আমরা জনগণের সঙ্গে আছি, জনগণের রায়ের পক্ষে আছি। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। আমাদের বিশ্বাস, ইনশাআল্লাহ ৭০ শতাংশ মানুষের গণরায় বৃথা যাবে না, তা বাস্তবায়িত হবেই।

    তিনি বলেন, চিংড়ি মাছ লাফ দিলে পেছনের দিকে যায়। সামনে রাস্তা খুঁজে পায় না। জাতি যদি সবসময় পেছনের দিকেই তাকিয়ে থাকে, তাহলে সামনে এগোবে কীভাবে? আমরা সবসময় বলেছি, আসুন সামনে তাকাই। ২০২৪ এর যে অঙ্গীকার, তা বাস্তবায়ন করি।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অনেকেই প্রতিবেশী দেশ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। আমরাই একমাত্র দল, যাদের তারা পছন্দ করে না। তারা বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে ভারতের মাটিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে, শুধু জামায়াতে ইসলামীর জন্য লাল কার্ড। কিন্তু আমরা সেই লাল কার্ডের পরোয়া করি না। ভারতের মাটিতে আশ্রয় নেওয়ার চিন্তাও আমরা করি না। এই দেশই আমাদের দেশ। আমাদের আশ্রয়ের জায়গা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের অন্তর।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল।