ঢাকা বিভাগ

  • প্রাধ্যক্ষকে উদ্ধার ঘিরে ঢাবিতে সংঘর্ষ, ভিপি-জিএসসহ আহত ৬

    প্রাধ্যক্ষকে উদ্ধার ঘিরে ঢাবিতে সংঘর্ষ, ভিপি-জিএসসহ আহত ৬

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষে এক শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগের ঘটনায় প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন শিক্ষার্থীরা।

    রোববার (১৬ আগস্ট) দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে প্রাধ্যক্ষকে সেখান থেকে বের করে নিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

    এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম ও জিএস ইমামুল হাসানসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে জিএস ইমামুল হাসানের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। পরে আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং হল প্রাধ্যক্ষকে উদ্ধারে রাতে প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আল মোজাদ্দেদী আলফেসানী, প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইসরাফিল প্রাং এবং কয়েকজন সহকারী প্রক্টর। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা তাদেরও কার্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

    পরে দুই প্রো-ভিসি সেখান থেকে বের হয়ে যান। এ সময় প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ের গেটে প্রক্টরের সঙ্গে হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম, জিএস ইমামুল হাসানসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ ছাত্রদলের একটি দল শিবিরবিরোধী স্লোগান দিতে দিতে মিছিল নিয়ে প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ের দিকে আসে। মিছিল দেখে হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম বলেন, ‘শহীদুল্লাহ হলের সন্ত্রাসীরা এখানে কী করছে?’

    এরপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ভিপি আবু নাঈমসহ সেখানে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। এতে ভিপি ও জিএসসহ অন্তত ছয়জন আহত হন।

    হামলার সময় ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল প্রাংও ধাক্কা খেয়ে একটি পিলারের সঙ্গে পড়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী তাকে আড়াল করে সেখান থেকে বের করে নিয়ে যান।

    হামলার পর হল সংসদের জিএস ইমামুল হাসানকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ভিপি আবু নাঈমের গেঞ্জি ও পাঞ্জাবি ছিঁড়ে যায়। পরে আহতদের দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    ঘটনার পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হল প্রাধ্যক্ষকে কার্যালয় থেকে বের করে নিয়ে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

    এ সময় সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন উপস্থিত সাংবাদিকরা। তবে ঢাবি ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি তামি বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের ভিডিও ধারণে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি।

    তিনি বলেন, অন্যান্য হল থেকে শিবিরের নেতাকর্মীরা সেখানে এসেছিলেন। পরে ভিপি-জিএসদের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে যান।

    ছাত্রদলের নেতৃত্বে প্রাধ্যক্ষকে বের করে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা ভেতরে যাইনি। হল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়েছিল।’

    অন্যদিকে, ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইব্রাহিম বলেন, হলের শিক্ষার্থীরা প্রথমে সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চেয়েছিলেন। ফুটেজ দেখলেই স্পষ্ট হয়ে যেত প্রাধ্যক্ষ কীভাবে দরজা বন্ধ করে তাকে হেনস্তা করেছেন। সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ২টা পেরিয়ে গেলেও ফুটেজ দেখানো হয়নি।

    তিনি বলেন, প্রথমে জানানো হয়েছিল, গণমাধ্যম বা অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীরা ফুটেজ দেখতে পারবেন না; শুধু তিনি, হল সংসদ এবং ডাকসুর কয়েকজন প্রতিনিধি তা দেখতে পারবেন। কিন্তু শিক্ষকরা বারবার নিজেদের মধ্যে আলোচনা করার কথা বলে বিষয়টি পিছিয়ে দেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা অফিসের ভেতরে প্রবেশ করেন।

    ইব্রাহিমের অভিযোগ, এরপর ঘটনাটি ‘চিরাচরিত প্রথা’ অনুযায়ী ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের দ্বন্দ্বে রূপ নেয়। তার দাবি, উভয় পক্ষই অন্যান্য হল থেকে নিজেদের লোকজন নিয়ে আসে। এর মধ্যে তিনি নিজেই বিচারবঞ্চিত হচ্ছেন।

    তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রদল আমার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এফএইচ হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবিদ হাসনাতের নেতৃত্বে কমিটির আরও কয়েকজন মিলে অভিযুক্ত প্রাধ্যক্ষকে গার্ড দিয়ে বের করে নিয়ে গেছে। আমি বিচার চেয়েছিলাম, সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চেয়েছিলাম। অথচ এখনো বিচার পাচ্ছি না।’

    উল্লেখ্য, প্রাধ্যক্ষের কক্ষে শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগের ঘটনায় রোববার সন্ধ্যা থেকেই প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

  • বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ১০ বছরের পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরা হবে- প্রধানমন্ত্রী

    বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ১০ বছরের পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরা হবে- প্রধানমন্ত্রী

    বিদ্যুৎ সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যক্তি রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘কোনো সংকট এক দিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। সংকট মোকাবিলায় ধৈর্য ধরে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা নিয়ে ধীরে ধীরে এগোতে হবে।

    আজ রবিবার দুপুর ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত, স্থানীয় জেলেদের মধ্যে মাছের পোনা বিতরণ ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলাসহ ঢাকার বহু মানুষ বর্তমানে বিদ্যুতের কষ্ট ভোগ করছেন। স্বৈরাচার সরকারের অপরিকল্পিত বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে এই সংকট তৈরি হয়েছে। আগামী ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হবে। ওই অধিবেশনে সরকার আগামী ১০ বছরে দেশের বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে কী পরিকল্পনা নিয়েছে, তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করবে।’

    বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বললেন, ‘সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছুসংখ্যক ব্যক্তি রাস্তায় ও রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। রাজপথে বিশৃঙ্খলা হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ মানুষ। এতে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যেরও ক্ষতি হয়। স্বৈরাচার সরকার দেশের অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ প্রতিটি ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় এসব ব্যবস্থা পেয়েছে। এখন ধ্বংস থেকে দেশকে গড়ে তুলতে হচ্ছে।’

    উন্নয়ন ও রাষ্ট্র সংস্কারে বাধা দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলছিলেন, ‘যারা উন্নয়নকাজে বাধা দেবে, রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে। এখন দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার সময়। সবাইকে হাতে হাত রেখে রাষ্ট্র মেরামত ও পুনর্গঠনের কাজ করতে হবে।’

    তিনি আরও বলছিলেন, দেশের মালিক বাংলাদেশের জনগণ। দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

    নারী শিক্ষার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘নারীদের শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করতে সরকার অনার্স পর্যন্ত তাদের শিক্ষা ফ্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষার সব খরচ সরকার বহন করবে। ভালো ফলাফল করা মেয়েদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে। গ্রামগঞ্জের দরিদ্র পরিবারের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের প্রতিবছর স্কুলড্রেস ও স্কুলব্যাগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিশুর হাতে স্কুলব্যাগ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

    নারীদের স্বাবলম্বী করার প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের চার কোটি পরিবারের মধ্যে নারী পরিবারের প্রধান ও সংসার পরিচালনা করেন এমন নারীদের পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রতিটি ঘরে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হচ্ছে।’

    মৎস্য খাতের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানালেন, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে অবমুক্ত করা মাছ বড় হয়ে ডিম ছাড়বে এবং বিভিন্ন খাল-বিলে ছড়িয়ে পড়বে। এর উপকার বাংলাদেশের মানুষই পাবেন।

    অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন; স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতারাসহ মৎস্যজীবী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাকে স্বাগত জানান। পরে তিনি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

  • আদমজী ইপিজেড থেকে বিয়ের গাউন, খনিশ্রমিকের জুতাসহ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি

    আদমজী ইপিজেড থেকে বিয়ের গাউন, খনিশ্রমিকের জুতাসহ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি

    সকালে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ব্যস্ত হয়ে ওঠে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ। শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিকেরা আসতে থাকেন আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (এইপিজেড)। কারও হাতে টিফিন বক্স, কারও হাতে ব্যাগ। নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ৮০ হাজার শ্রমিকের কর্মচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠে একসময়ের আদমজী জুট মিল এলাকা।

    এই ইপিজেডের ৪৭টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তাঁরা। আদমজী জুট মিলের পরিত্যক্ত ভূমিতে গড়ে ওঠা ইপিজেড এখন দেশের অন্যতম বড় রপ্তানি ও কর্মসংস্থান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। শ্রমিকের হাতের নৈপুণ্যে এসব কারখানায় তৈরি হচ্ছে সেফটি জ্যাকেট, ব্লেজার, ইউরোপের নবদম্পতিদের ব্রাইডাল গাউন।

    এ ছাড়া গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ, সেফটি শু, টেক্সটাইল, ইলেকট্রনিকস ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্য, লেজার প্রিন্টার ও ফটোকপি মেশিনের অপিসি ড্রাম এবং গাড়ির সিট কভারের মতো নতুন নতুন পণ্য, যার মাধ্যমে এখান থেকে বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হচ্ছে।

    শুধু রপ্তানি আয় নয়, বদলে যাচ্ছে এখানকার শ্রমিকদের জীবনমানও। গতকাল সরেজমিনে গিয়ে আদমজী ইপিজেডের নানা চিত্র পাওয়া গেছে।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে এই ইপিজেডে কাজ করতে এসেছেন ফারজানা আক্তার। এই তরুণীর মাসিক বেতন এখন ১৯ হাজার টাকা। যদিও প্রথম দিকে বেতন ছিল ৮ হাজার ২০০ টাকা। কদমতলীতে থাকা এ নারী মা-বাবার জন্য মাসে চার হাজার টাকা পাঠান। কাজের পরিবেশ ভালো হওয়ায় সাত বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন বলে তিনি প্রথম আলোকে জানান।

    নতুন আরও ১০টি প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে আসছে। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) তথ্যমতে, এ বছরের মধ্যে উৎপাদনে আসতে যাওয়া এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মোট শ্রমিকের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যাবে।

    এ বিষয়ে আদমজী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মো. আবদুর রহমান ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করায় বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। বাইসাইকেলসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরির কারখানা হচ্ছে।’

    বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি

    আদমজী ইপিজেড সূত্রে জানা গেছে, নদীতীরবর্তী ২৯২ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে আদমজী ইপিজেড। যেখানে রয়েছে ২৭৬টি শিল্প প্লট। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিনিয়োগ হয়েছে ৮৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর রপ্তানি হয়েছে ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য।

    আদমজী ইপিজেডেই রয়েছে দেশের একমাত্র ব্রাইডাল পোশাক তৈরির কারখানা। টমি হিলফিগার, রালফ লরেন, মাইকেল কর্স ও ভ্যান হিউসেনের মতো ব্র্যান্ডের পোশাক তৈরি হয় এই ইপিজেডে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আদমজী ইপিজেড থেকে রপ্তানি হয়েছে ১ দশমিক ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগের অর্থবছরেও রপ্তানির পরিমাণ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।

    বিনিয়োগ কোন কোন দেশের

    এখানকার ৪৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে ২৬টি। দেশি-বিদেশি যৌথ বিনিয়োগ রয়েছে ৯টি প্রতিষ্ঠানের। আর দেশীয় বিনিয়োগ রয়েছে ১২টি প্রতিষ্ঠানের।

    বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে কানাডার একটি, চীন–হংকংয়ের ৯টি, জার্মানির একটি, দক্ষিণ কোরিয়ার দুটি ও ভারতের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের পাঁচটি করে প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করেছে। একটি করে কারখানা রয়েছে মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, রোমানিয়া, সিঙ্গাপুর, স্পেন, শ্রীলঙ্কা ও ইউক্রেনের।

    নতুন নতুন অনেক প্রতিষ্ঠান এ ইপিজেডে বিনিয়োগ করতে চায়। ইউক্রেনের সুপার প্রটেকটিভ শু কোম্পানি এখানে সেফটি জুতা তৈরি করে, যা নির্মাণ, কেমিক্যাল ও খনিশ্রমিকেরা ব্যবহার করে থাকেন। প্রতিষ্ঠানটিতে এক হাজারের বেশি কর্মী কাজ করছেন।

    প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক মো. আসলাম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা নতুন বিনিয়োগের জন্য জায়গা খুঁজছি। ১০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। এখানে না হলে অন্য কোথাও হয়তো জমি নিতে হবে।’

    এখানকার উন্নত কর্মপরিবেশের পাশাপাশি অনেক প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের বাচ্চার জন্য রয়েছে ডে-কেয়ার সেন্টার।

    জাপানি প্রতিষ্ঠান টিএস টেক গাড়ির সিট কভার তৈরি করে। প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করছেন প্রায় ৪০০ শ্রমিক। প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ১৯ জন বাচ্চার জন্য সাজানো একটি দিবাযত্ন কেন্দ্র রয়েছে। তাদের দেখাশোনার জন্য রয়েছেন চারজন প্রশিক্ষিত নারী কর্মী।

    প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘গর্ভবতী হওয়ার পর থেকেই শ্রমিকদের দুধ সরবরাহ করা হয়। তাঁদের কাজের সহায়তা করতে সার্বক্ষণিক চেয়ার দেওয়া হয়। এ ছাড়া তাঁদের মাথায় আলাদা সবুজ ফিতা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়, যাতে সহজে সেবা দেওয়া যায়।’

  • অব্যবহৃত জলাশয়ে মাছ চাষে তরুণদের সহায়তা দেবে সরকার

    অব্যবহৃত জলাশয়ে মাছ চাষে তরুণদের সহায়তা দেবে সরকার

    মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ ও কর্মসংস্থানমুখী করতে দেশের অব্যবহৃত পুকুর, হাওর-বাঁওড় ও অন্যান্য জলাশয় সংস্কার করে তরুণদের মধ্যে বণ্টনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসব জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করে স্থানীয় তরুণদের মাধ্যমে মাছ চাষের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    আজ রোববার দুপুরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের জর্জ ইনস্টিটিউট মিনি স্টেডিয়ামে জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশে পুকুর, হাওর-বাঁওড় ও অন্যান্য জলাশয় কাজে লাগিয়ে কিংবা অল্প জমিতে মাছ চাষের মাধ্যমে মানুষের স্বাবলম্বী হওয়ার বড় সুযোগ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনেক জলাশয় পড়ে আছে। সরকার এসব জলাশয় সংস্কার করে সেখানে মাছের পোনা ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘যে পুকুরগুলো, যে হাওর-বিলগুলো, জলাশয়গুলো যে এলাকায় হবে, সেই এলাকার তরুণ যাঁরা আছেন, তাঁদের মধ্যে সুন্দরভাবে আমরা এটা বণ্টন করতে চাই, যাতে করে তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়।’ এ বিষয়ে মৎস্য মন্ত্রণালয়ে এরই মধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, মৎস্য খাত দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। মাছ চাষ, আহরণ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিক্রির সঙ্গে বহু মানুষ যুক্ত। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় বাড়াতেও এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানির প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশ্বের ৫২টি দেশে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ছয় হাজার কোটি টাকার বেশি সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে। এই অর্জনের কৃতিত্ব মৎস্য উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও চাষিদের।

    তারেক রহমান বলেন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার গত জুনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মৎস্য ও জলজ প্রাণী উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। আর অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে মাছ আহরণে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারলে এ খাত থেকে আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।

    প্রধানমন্ত্রী জানান, খুলনা অঞ্চলে ৩০০টি ক্লাস্টার গঠন করে ক্লাস্টারভিত্তিক চিংড়ি চাষ উন্নয়নের ফলে ৭ হাজার ৫০০ ঘেরে উৎপাদন গড়ে দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজারের চকরিয়ায় সাত হাজার একর জমিতে চিংড়ি চাষ উন্নয়নে অবকাঠামো উন্নয়নসহ ‘শ্রিম সিটি মাস্টারপ্ল্যান’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

    ইলিশ উৎপাদন ও সংরক্ষণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইলিশ শুধু জাতীয় মাছ ও অর্থনৈতিক সম্পদ নয়, এটি বাংলাদেশের জিআই পণ্য হিসেবেও বিশ্বে স্বীকৃত। দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান ১০ শতাংশ এবং জিডিপিতে এর অবদান ১ শতাংশের বেশি। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের ওপর নির্ভরশীল। তাই এ খাতকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো সুন্দরবন ও হাওর অঞ্চলে মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধকালীন জেলেদের ভিজিএফের আওতায় আনা হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বক্তব্য দেন।

  • কাটছে না গ্যাস সংকট, বাড়ছে ভোগান্তি

    কাটছে না গ্যাস সংকট, বাড়ছে ভোগান্তি

    রাজধানী ঢাকায় গ্যাসের তীব্র সংকট এখনও কাটেনি। অধিকাংশ সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। যে দু-একটি স্টেশনে সরবরাহ মিলছে, সেখানেও চাপ এত কম যে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় গ্যাস নিতে পারছেন না চালকরা। ফলে বিভিন্ন এলাকায় সিএনজি স্টেশনের সামনে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ সারি।

    অপরদিকে, বাসাবাড়িতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও স্বস্তি ফেরেনি। শুক্রবার ও শনিবার অনেক এলাকায় চুলায় গ্যাস না এলেও রবিবার (১৬ আগস্ট) সকাল থেকে কিছু কিছু এলাকায় গ্যাস এসেছে। তবে চাপ এতটাই কম যে চুলা জ্বললেও তাতে স্বাভাবিকভাবে রান্না করা যাচ্ছে না।

    সিএনজি স্টেশনের কর্মী, চালক ও গৃহিণীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

    সিএনজি স্টেশনে গ্যাস নেই, দীর্ঘ অপেক্ষা

    প্রাইভেটকার চালক সানাউল্লাহ বলেন, মালিবাগ থেকে কমলাপুর পর্যন্ত বেশিরভাগ সিএনজি স্টেশনেই গ্যাস দেওয়া হচ্ছে না। কখন সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সেটিও জানাতে পারছেন না স্টেশন কর্তৃপক্ষ।

    গ্যাস নেওয়ার আশায় দুপুর ১২টা থেকে মালিবাগে অপেক্ষা করছিলেন তিনি।

    সানাউল্লাহ বলেন, গাড়িতে ঠিকমতো গ্যাস নিতে না পারায় গাড়ি চালাতেও পারছেন না। মাসে ৩০ হাজার টাকা চুক্তিতে রেন্ট-এ-কার হিসেবে গাড়ি চালান তিনি। কিন্তু গ্যাসের সংকটে নিয়মিত ট্রিপ দিতে না পারায় চলতি মাসের চুক্তির টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।

    হাজীপাড়া পাম্পের কর্মী আসাদ বলেন, গ্যাস কখন আসবে বলতে পারব না। সরবরাহ পেলেই গ্যাস দেওয়া শুরু হবে।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাড্ডা, মালিবাগ ও কমলাপুর এলাকার সিএনজি স্টেশনগুলো প্রায় পুরোপুরি বন্ধ। তেজগাঁও ও মহাখালীর অনেক স্টেশনেও একই অবস্থা। খিলক্ষেত এলাকায় কোথাও কোথাও গ্যাস দেওয়া হলেও চাপ খুবই কম।

    প্রাইভেটকার চালক ইউনুস আলী বলেন, খিলক্ষেতে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করে মাত্র ১২০ টাকার গ্যাস পেয়েছেন। তিনি বলেন, এটা আসলে হাওয়া। নাইনটি সিলিন্ডারে সাধারণত এক হাজার থেকে ১২শ টাকা পর্যন্ত গ্যাস ঢোকে। সেখানে ১২০ টাকার গ্যাস দিয়ে কী হবে?

    তিনি বলেন, রাতে পরিস্থিতি কিছুটা ভালো থাকে। তবে দিনের বেলায় গ্যাসের চাপ একেবারেই কম।

    আকিজের পাম্পকর্মী তারেক বলেন, এখন আমরা বন্ধ রেখেছি। রাতে সরবরাহ পেলে গ্যাস দিতে পারব। গত রাতেও দিয়েছি। মিরপুর ও গাবতলী এলাকার পাম্পগুলোর অবস্থাও একই।

    উত্তরা-আব্দুল্লাহপুরেও দীর্ঘ সারি

    উত্তরা-আব্দুল্লাহপুরের পূর্ব পাশের খন্দকার ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিভিন্ন স্টেশনের সামনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। অপেক্ষা করেও গ্যাস না পেয়ে অনেক বাস ও মোটরসাইকেল চালক ডিজেল ও অকটেন নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

    মেসার্স মাসুদ হাসান স্টেশনের ম্যানেজার বলেন, পরিবহনের বড় একটি অংশ সিএনজিনির্ভর। কিন্তু গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় বিক্রি বন্ধ রয়েছে এবং স্টেশনের সামনে গাড়ির লাইন বাড়ছে।

    তিনি বলেন, আমরা পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছি না। তিতাস আমাদের ঠিকমতো গ্যাস সরবরাহ করছে না। আমাদের কাছে না থাকলে আমরা কোথা থেকে দেব? আমাদের অধিকাংশ গ্রাহকের গাড়িই গ্যাসে চলে। গত এক সপ্তাহ ধরে পাম্পে গ্যাস পাচ্ছি না। ফলে বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ।

    ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উত্তরা-আব্দুল্লাহপুর অংশের পশ্চিম পাশের আরএসআর ফিলিং স্টেশনেও একই চিত্র দেখা গেছে।

    সিএনজি চালক মানিক বলেন, সকাল ৫টায় গ্যাসের জন্য আসছি। এখনো গ্যাস পাইনি। গাড়ির মালিককে জমা দেব কোথা থেকে? সংসার চালাব কীভাবে? সামনে মেয়ের স্কুলের বেতন দিতে হবে। এখন কী করব জানি না।

    চালকদের অভিযোগ, গ্যাসের সংকটে তাদের আয়-রোজগারও কমে গেছে। প্রতিদিনের গাড়ির জমা পরিশোধ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।

    আরেক চালক জাহিদ হোসেন বলেন, প্রতিদিন মহাজনকে ১২০০ টাকা জমা দিতে হয়। গ্যাসে প্রায় ৪০০ টাকা খরচ হয়। এর বাইরে দৈনিক আরও ২০০ থেকে ২৫০ টাকা খরচ থাকে। সব মিলিয়ে প্রতিদিন ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। কিন্তু গ্যাস না পাওয়ায় গত সাত দিন ধরে তার আয় বন্ধ।

    মাসুদ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. শাকিব হোসেন বলেন, এক সপ্তাহ ধরে গ্যাসের চাপ নেই। আশপাশের সব ফিলিং স্টেশন বন্ধ। বিদ্যুৎ খরচ করে পাম্প চালালেও গ্যাসের চাপ একেবারেই নেই।

    চুলা জ্বলছে, রান্না হচ্ছে না

    এদিকে রবিবার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়িতে কিছুটা গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। তবে চাপ এত কম যে চুলা জ্বললেও স্বাভাবিকভাবে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না।

    বনশ্রীর গৃহিণী কানিজ ফাতেমা বলেন, লাইনে যে গ্যাস আসছে, তাতে পানি গরম করে চাও খাওয়া যাবে না। পানি গরম করতেই ২০ মিনিট লাগছে।

    গ্যাসের চাপ কম থাকায় তিনি ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করছেন। সকালে রুটিও ইলেকট্রিক চুলায় তৈরি করেছেন বলে জানান তিনি।

    বাড্ডার গৃহিণী আনোয়ারা বেগম বলেন, সকালে চুলা জ্বলেছে। কিন্তু সেই চুলায় রান্না বসালে কতক্ষণ লাগবে, বলা যায় না। চুলা জ্বললেও রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। শুক্রবার-শনিবার তো চুলাই জ্বলেনি।

    মিরপুরের গৃহিণী আফরোচা বেগম বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করছি।

    রাজধানীর উত্তরা, মোহাম্মদপুর, পুরান ঢাকা, খিলগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়েও গ্যাস সংকটের একই চিত্র পাওয়া গেছে।

    অর্থাৎ কোথাও চুলা পুরোপুরি বন্ধ, কোথাও আবার চুলা জ্বলছে নামমাত্র—কিন্তু সেই আগুনে রান্নার হাঁড়ি বসানোর মতো চাপ নেই।

  • বেক্সিমকোর সম্পত্তি নিলামে তুলছে রূপালী ব্যাংক

    বেক্সিমকোর সম্পত্তি নিলামে তুলছে রূপালী ব্যাংক

    খেলাপি ঋণ আদায়ে এবার বেক্সিমকো লিমিটেডের বন্ধক রাখা জমি নিলামে তুলছে রূপালী ব্যাংক। ব্যাংকটির কাছে বেক্সিমকো টেক্সটাইলের ঋণ ১৯০ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এই ঋণ আদায়ে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে বন্ধক রাখা ২৬ একর জমি ও সম্পত্তি নিলামে ডাকা হয়েছে। গত শুক্রবার এই নিলাম বিজ্ঞপ্তির কথা জানানো হয়। রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেক্সিমকো টেক্সটাইলের কাছে রূপালী ব্যাংকের সর্বশেষ পাওনা ১৯০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর মধ্যে অনাদায়ী সুদ অন্তর্ভুক্ত নয়। ব্যাংকের পাওনা, অন্যান্য খরচ এবং আদালতের সুদসহ আদায়ের জন্য তফসিলে বর্ণিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি যে অবস্থায় আছে, সে অবস্থায় নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঋণগ্রহীতা হিসেবে সর্বশেষ বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেডের (বেক্সিমকো লিমিটেড) নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আগে বেক্সটেক্স লিমিটেড নামে পরিচিত ছিল। বেক্সিমকো লিমিটেডের সঙ্গে পদ্মা টেক্সটাইল মিলস এবং বেক্সিমকো নিটিং একীভূত হয়েছে।

    এ বিষয়ে বেক্সিমকো লিমিটেডের কোম্পানি সেক্রেটারি আসাদ উল্লাহ আমার দেশকে বলেন, রূপালী ব্যাংকের এই নিলামের কথা আমি জানি না। তবে কোম্পানি বন্ধ করে দিলে আমরা ঋণ পরিশোধ করব কীভাবে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত আমরা কোনো ঋণখেলাপি ছিলাম না। এরপর ড. ইউনূস সরকার আমাদের কোম্পানি বন্ধ করে দেয়। তার মতে, ‘কোম্পানি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে ব্যবসা করার জন্য। ব্যবসা না করতে পারলে টাকা আসবে কীভাবে। কোম্পানি বন্ধ থাকায় হাজার হাজার শ্রমিক বেকার। এখন কোম্পানিগুলোতে শুধু লোহালক্কড় পড়ে আছে। এমন পরিস্থিতি হলে আমরা ব্যাংকের টাকা কীভাবে দেব।’

    নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে গাজীপুরের জয়দেবপুর, কালিয়াকৈর ও কাপাসিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক তফসিলের জমির বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এসব জমির মধ্যে কোথাও একরের হিসাবে, আবার কোথাও শতাংশের হিসাবে জমির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। গাজীপুরের একটি তফসিলে ২.১৯ একর, আরেকটিতে ৪৮ শতাংশ এবং অন্য এক তফসিলে ৩.৬৬ একর জমির উল্লেখ রয়েছে। আরো কয়েকটি তফসিলে দশমিক একর ও শতাংশ হিসাবে জমি রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে গাজীপুর মৌজার সরাবো, থানা ও জেলা গাজীপুর এলাকায় ৮.৫৫ একর জমির পৃথক বিবরণও দেওয়া হয়েছে। সেখানে সিএস খতিয়ানের বিভিন্ন দাগে মোট জমির পরিমাণ ৮.৫৫ একর উল্লেখ করা হয়েছে।

    নারায়ণগঞ্জের তারাবো ও যাত্রামুড়া মৌজাতেও বেক্সিমকোর বন্ধক রাখা জমি নিলামের তালিকায় রয়েছে। তারাবো মৌজার দুটি অংশে মোট ৮.৩৯ একর জমি রয়েছে। এর মধ্যে একটি অংশে ৪.৫২ একর এবং অন্য অংশে ৩.৮৭ একর জমির বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যাত্রামুড়া মৌজার আরেক তফসিলে ৯.২ একর জমি রয়েছে। অর্থাৎ, শুধু এ তিনটি তফসিলেই নারায়ণগঞ্জে ১৭.৪১ একর জমি রয়েছে। গাজীপুরের ৮.৫৫ একরসহ তফসিলে মোট ২৫.৯৬ একর জমির বিবরণ রয়েছে।

    জানা গেছে, নিলামে অংশ নিতে আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর বেলা ২টার মধ্যে নির্ধারিত কার্যালয়ে দরপত্র জমা দিতে হবে। ওইদিন বেলা ২টা ৫ মিনিটে দরপত্রদাতাদের উপস্থিতিতে দরপত্র খোলা হবে। নিলামে অংশগ্রহণকারীদের প্রস্তাবিত দরের ওপর নির্ধারিত হারে জামানত দিতে হবে। ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দর হলে এর ওপর ২০ শতাংশ; ১০ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে ১৫ শতাংশ; ৫০ লাখ টাকার বেশি হলে ১০ শতাংশ হারে জামানত দিতে হবে। তবে সম্পত্তির প্রস্তাবিত মূল্য অস্বাভাবিকভাবে কম বা অপর্যাপ্ত মনে হলে কর্তৃপক্ষ দরপত্র বাতিল করতে পারবে।

    বেক্সিমকোর আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদি ঋণের মধ্যে রূপালী ব্যাংকের ছিল ৪৮২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। তবে বর্তমান নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে যে ১৯০ কোটি ৯২ লাখ টাকা পাওনার কথা বলা হয়েছে, সেটিই এ নিলাম প্রক্রিয়ার জন্য প্রাসঙ্গিক পাওনা। সার্বিকভাবে রূপালী ব্যাংকের এই নিলাম বেক্সিমকোর ঋণ আদায়ে বড় ধরনের পদক্ষেপ। প্রায় ১৯১ কোটি টাকা পাওনা আদায়ে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে বন্ধক রাখা সম্পত্তি বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেবেচিন্তেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে নিলামে সম্পত্তির সঠিক মূল্য না পাওয়ার আশঙ্কা থাকায় গ্রাহক ও ব্যাংকের পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হওয়াই সবচেয়ে ভালো।

  • মডেল রিধির মরদেহ উদ্ধার: প্রেমিক হাসিবুর কারাগারে

    মডেল রিধির মরদেহ উদ্ধার: প্রেমিক হাসিবুর কারাগারে

    রাজধানীর ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে মডেল ও অভিনেত্রী লিনা আক্তার ওরফে রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার প্রেমিক হাসিবুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    দুপুরের পর হাসিবুর রহমানকে আদালতে হাজির করে ভাটারা থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল ওয়াদুদ মামলার তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আসামির পক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। পরে জামিন শুনানির জন্য আদালত ১৮ আগস্ট তারিখ ধার্য করেন। এর আগে, গতকাল রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট ভাটারা এলাকার একটি বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় লিনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই বাসায় ভাড়া থেকে মিডিয়ায় কাজ করতেন তিনি। লিনার সঙ্গে হাসিবুর রহমানের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

    এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, সম্পর্কের শুরু থেকেই হাসিবুর তাঁকে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন। ঘটনার আগের রাতে, অর্থাৎ ১৪ আগস্ট লিনা তাঁর দুই বান্ধবী ইশান ও জান্নাতের সঙ্গে বাসায় ছিলেন। রাত ১১টার দিকে মোবাইল ফোনে লিনা ও হাসিবুরের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এরপর লিনা তাঁর বান্ধবীদের ড্রয়িংরুমে গিয়ে ঘুমাতে বলেন।

    পরে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হাসিবুর লিনার ফ্ল্যাটে গিয়ে ডাকাডাকি করেন। তাঁর বান্ধবীরা দরজা খুলে দিলে হাসিবুর জানান, লিনা তাঁর ওপর রাগ করে গলায় ফাঁস দিয়েছেন। পরে সবাই ঘরে ঢুকে লিনাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    এ ঘটনায় লিনার মা মনি বেগম আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে ভাটারা থানায় মামলা করেন।

    তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, হাসিবুর মোবাইল ফোনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লিনাকে মানসিকভাবে যন্ত্রণা দিতেন এবং তাঁকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেন। এসব নির্যাতন ও প্ররোচনা সহ্য করতে না পেরে লিনা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

    পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাসিবুর অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • ডেঙ্গুতে ৩ জনের প্রাণহানি, হাসপাতালে ভর্তি ৮০৫

    ডেঙ্গুতে ৩ জনের প্রাণহানি, হাসপাতালে ভর্তি ৮০৫

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, একই সময়ে ৮০৫ জন ডেঙ্গুরোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    রোববার(১৬ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪০১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮২ জন, খুলনা বিভাগে ৯৭ জন, রংপুর বিভাগে সাত জন, বরিশাল বিভাগে ৮০ জন এবং সিলেট বিভাগে দুইজন রয়েছেন।চলতি বছরের ১৬ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৩ হাজার ৯৭৮ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    চলতি বছরে এ যাবত মোট ২২ হাজার ১৫৯ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে এক হাজার ৭৪৯ জন চিকিৎসাধীন আছেন।

    ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

    ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

  • নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করে দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

    নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করে দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নারীদের শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করতে সরকার অনার্স পর্যন্ত তাদের শিক্ষা বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সব খরচ সরকার বহন করবে। একই সঙ্গে ভালো ফল করা নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থাও করা হবে।

    রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত, স্থানীয় জেলেদের মধ্যে মাছের পোনা বিতরণ ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন নারীদের শিক্ষা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত ফ্রি করে দিয়েছিলেন। দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। এই নারী সমাজকে যদি আমরা পিছিয়ে রাখি, তাহলে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সে কারণেই বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করে দেওয়া হবে। সব খরচ বহন করবে সরকার।

    তিনি বলেন, এখানে অনেক বোন ও সন্তানতুল্য মেয়েরা আছে। তোমাদের ভালোভাবে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে, যাতে বড় হয়ে তোমরা এই দেশের হাল ধরতে পারো। শুধু তাই নয়, যেসব মেয়েরা ভালো ফলাফল করবে, তাদের জন্য সরকার থেকে উপবৃত্তিরও ব্যবস্থা করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গরিব পরিবারের শিশুদের আমরা সরকারের পক্ষ থেকে বছরে একবার স্কুল ড্রেস দিতে চাই। শুধু স্কুল ড্রেস নয়, প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিশুর হাতে স্কুল ব্যাগও পৌঁছে দিতে চাই। প্রতিবছর নতুন বই দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নতুন স্কুল ব্যাগ ও স্কুল ড্রেসও আমরা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাই।

    নারীদের স্বাবলম্বী করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের নারী সমাজকে যেমন শিক্ষায় সামনে এগিয়ে নিতে চাই, একইভাবে তাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। নির্বাচনের আগে আমরা বলেছিলাম, বাংলাদেশের চার কোটি পরিবারের মধ্যে যে নারী পরিবারের প্রধান ও সংসার পরিচালনা করেন, পর্যায়ক্রমে তার হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। আল্লাহর রহমতে ফ্যামিলি কার্ডের কাজও শুরু হয়েছে।’

    প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি ঘরে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।

  • আকিকার গোশত দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নারীর অলংকার ছিনতাই, যুবক আটক

    আকিকার গোশত দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নারীর অলংকার ছিনতাই, যুবক আটক

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় আকিকার গোশত দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীর কাছ থেকে স্বর্ণ ও রুপার অলংকার ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগে সম্রাট (২৭) নামে এক যুবকে আটক করেছে স্থানীয়রা। পরে তাকে অটোরিকশাসহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার ভাগ্যকুল কবুতরখোলা মাদরাসার পাশে এ ঘটনা ঘটে।

    আটক সম্রাট মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার জসিলদিয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি অটোরিকশা চালান। তার বাবার নাম জানা যায়নি।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চর জানাজা খাসের হাট এলাকার বাসিন্দা আমেনা (৬০) একটি বাড়িতে কাজের উদ্দেশ্যে কবুতরখোলা মাদবরবাড়ি এলাকায় আসেন। তবে যে বাড়িতে তিনি কাজ করতে এসেছিলেন, সেটির মালিকের নাম বলতে না পারায় অটোরিকশাচালক সম্রাট তাকে কৌশলে আকিকার গোশত দেয়ার কথা বলে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান।

    সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে আমেনার সাথে থাকা স্বর্ণের কানের দুল, রুপার চেইন ও হাতের চুড়ি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। এ সময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে সম্রাটকে অটোরিকশাসহ আটক করেন। পরে শ্রীনগর থানা পুলিশকে খবর দেয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।

    শ্রীনগর থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোয়াজ্জেম বলেন, স্থানীয়রা এক যুবককে আটক করে পুলিশে খবর দেয়া হয়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়া হয়। আটক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি রুপার চেইন উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • ঘাটাইলে অস্ত্র ঠেকিয়ে ইটভাটায় ডাকাতি

    ঘাটাইলে অস্ত্র ঠেকিয়ে ইটভাটায় ডাকাতি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এক ইটভাটায় সংঘবদ্ধ ডাকাত দল ভাটার ম্যানেজার স্বপনকে পিস্তল ঠেকিয়ে জিম্মি ও চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে নগদ টাকা, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারসহ কয়েক লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের রূপসা ইটভাটায় এ ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও ইটভাটা সূত্রে জানা গেছে, রাতে একদল অস্ত্রধারী ডাকাত রূপসা ইটভাটার অফিসে অতর্কিতভাবে প্রবেশ করে। ডাকাত দলের সদস্যরা ভেতরে ঢুকেই দায়িত্বরত ম্যানেজার স্বপনকে পিস্তল ঠেকিয়ে জিম্মি করে ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক ঘুমের ওষুধ মেশানো পানি পান করানো হয়। ম্যানেজার অচেতন হয়ে পড়লে ডাকাতচক্র অফিসে তাণ্ডব চালায়। তারা অফিসের ড্রয়ার ভেঙে নগদ টাকা ও ইটভাটার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও নথি লুট করে নেয়। ইটভাটার আহত ম্যানেজার স্বপন টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছে।

    ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মোকছেদুর রহমান জানান, ঘটনাটি শুনার পর পরই ধলাপাড়া ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা ইনচার্জকে অবগত করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: আইনমন্ত্রী

    ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: আইনমন্ত্রী

    আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা মানবাধিকার নিশ্চিত করারই অংশ। প্রত্যেক মানুষের কিছু অবিচ্ছেদ্য, সহজাত ও সার্বজনীন অধিকার রয়েছে। নাগরিকরা যাতে এসব অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

    আজ শনিবার সকালে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে ব্র্যাক-সিডিএম-এ বিচারক, লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে ‘অ্যাক্সেলারেটিং ডিজিটাল লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের দুই দিনব্যাপী সমন্বয় সভার উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    সভায় আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হচ্ছে সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ডিজিটাল আইনি সহায়তা কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া। এ লক্ষ্যে নয়টি জেলায় ৫৭টি উপজেলা লিগ্যাল এইড কমিটি এবং ৪১৩টি ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটির কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সমন্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। জেলাগুলো হলো— রাজবাড়ী, হবিগঞ্জ, বরগুনা, নেত্রকোনা, জয়পুরহাট, ঠাকুরগাঁও, ঝিনাইদহ, খাগড়াছড়ি ও বগুড়া। এসব কমিটিকে তৃণমূল পর্যায়ে আইনি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে দরিদ্র, নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত মানুষ সহজে আইনি পরামর্শ ও সহায়তা পান এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আদালতে যাওয়ার আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পান।

    আইনমন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার শুধু কোনো বিরোধ নিষ্পত্তি বা মধ্যস্থতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মূল লক্ষ্য হলো প্রত্যেক নাগরিকের মানবাধিকার সংরক্ষণ, সুরক্ষা ও নিশ্চিত করা। এমনকি গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিরও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার রয়েছে এবং রাষ্ট্রকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি বলেন, বিচারককে শুধু আইনের কালো অক্ষরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। মামলার বাস্তবতা, সামাজিক প্রেক্ষাপট ও ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্য বিবেচনায় নিয়ে আইনের ব্যাখ্যা করতে হবে। বিচারিক কর্মকর্তাদের সর্বোপরি জনগণের সেবা করতে হবে।

    তিনি বলেন, যেসব লিগ্যাল এইড অফিসার নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে আইনগত সহায়তা সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অসাধারণ ও অনুকরণীয় ভূমিকা রাখবেন, তাদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন ও উৎসাহিত করার লক্ষ্যে দেশের আটটি বিভাগের প্রতিটি থেকে একজন করে মোট আটজন ‘সেরা লিগ্যাল এইড অফিসার’-কে স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন।

    এছাড়া বিচার বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে সারাদেশের ২০ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার অসাধারণ ও অনুকরণীয় কর্মসম্পাদন মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের স্বীকৃতি প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের কথাও তিনি বলেন।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের স্বীকৃতি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কর্মসম্পাদনে উৎসাহ বৃদ্ধি, আর্থিক প্রণোদনা প্রদান এবং পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রদানের বিষয়টি বিবেচনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

    ডিজিটালাইজেশনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে আইনি সহায়তা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আবেদন গ্রহণ, মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ আরও সহজ করা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহারের সম্ভাব্য ঝুঁকিও বিবেচনায় নিতে হবে।

    সভায় আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর ২০২৬ সালের সংশোধনীর আলোকে অনলাইন বিরোধ নিষ্পত্তি (ODR) ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং মধ্যস্থতার সঙ্গে ডিজিটাল আইনি সহায়তা ব্যবস্থার সমন্বয় নিয়েও আলোচনা হয়। ডিজিটাল লিগ্যাল এইড সিস্টেমের নকশা, উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন এবং এ বিষয়ে পরিচালিত গবেষণার ফলাফলও উপস্থাপন করা হয়।

    আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৫ লাখ বিচারাধীন মামলা রয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে। এ ক্ষেত্রে লিগ্যাল এইড, মধ্যস্থতা, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও বিচারিক কার্যক্রমের সমন্বিত ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ইউএনডিপি বাংলাদেশের সিনিয়র রুল অব ল, জাস্টিস অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার রোমানা শোয়েগার, বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বাইবা জারিনা এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা বক্তব্য রাখেন।

    আগামীকাল (১৬ আগস্ট) সভার দ্বিতীয় দিনে জেলা ও দায়রা জজরা প্রশিক্ষণ, লিগ্যাল এইড কমিটির কার্যক্রম, আইনি সহায়তা-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও প্রতিবেদন প্রণয়ন বিষয়ে আলোচনা করবেন। নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের জন্য বিচারিক সেবা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে এবং ডিজিটাল সেবা উন্নয়নের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হবে।

  • আওয়ামীপন্থি কাজিরা বালাম বই নিয়ে উধাও

    আওয়ামীপন্থি কাজিরা বালাম বই নিয়ে উধাও

    বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনের গুরুত্বপূর্ণ নথি ‘বালাম বই’ নিয়ে উধাও হয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাজিরা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আত্মগোপনে যাওয়া কয়েকজন কাজির বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ও নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজিরা। তাদের এমন কর্মকাণ্ডে বিয়ে বা তালাকের সনদের কপি তুলতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। আইন মন্ত্রণালয় বলছে, বালাম বই নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ফৌজদারি অপরাধ। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর মগবাজার ও টাঙ্গাইল সদরসহ দেশের বিভিন্ন কাজি অফিসে পুরোনো বালাম বই পাওয়া যাচ্ছে না। ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনে বিগত সরকারের প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন কাজি আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পর এ সংকট আরো প্রকট হয়েছে। নতুন দায়িত্ব পাওয়া বা ভারপ্রাপ্ত কাজিরা পুরোনো নথি খুঁজতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট বছরের বালাম বই পাচ্ছেন না। ফলে বিয়ে বা তালাকের সার্টিফায়েড কপি, কাবিননামা কিংবা বিদেশে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ইংরেজি কপি দিতে পারছেন না তারা।আইন মন্ত্রণালয় বলছে, এ ধরনের ঘটনা তাদের কাছে নতুন। বালাম বই নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ফৌজদারি অপরাধ। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিবন্ধন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও জানান, নিকাহনামার বইয়ে কাটাছেঁড়া, তথ্য গোপন বা অনিয়মের অভিযোগ তারা মাঝেমধ্যে পেয়ে থাকেন। তবে বালাম বই নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ খুবই অস্বাভাবিক।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে ৫,৫৭৮টি নিবন্ধিত কাজির পদ রয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ৫০০টি পদ শূন্য। ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত বহু কাজি আত্মগোপনে চলে যান। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ঢাকার কলাবাগান, খিলগাঁও ও নোয়াখালীর সেনবাগসহ মাত্র চারটি স্থানে নতুন কাজি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    দায়িত্ব হস্তান্তরে জবাবদিহি

    নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব হস্তান্তরসংক্রান্ত আইনের ১৬ ধারায় রেকর্ডপত্রের নিরাপত্তা ও যথার্থতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় সংশ্লিষ্ট দুপক্ষকে যৌথভাবে প্রত্যয়নপত্র প্রস্তুত করে রেজিস্ট্রার বা সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানোর বিধান রয়েছে। পরে রেজিস্ট্রার বা সাব-রেজিস্ট্রার তা সরকারের কাছে পাঠাবেন।

    আইনের ৩৯ ধারায় নিকাহ রেজিস্ট্রারকে সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিস্ট্রারের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালনের কথা বলা হয়েছে। আর ১১ ধারায় অসদাচরণ, বিধান লঙ্ঘন ও তথ্যের মিথ্যা বর্ণনাসহ বিভিন্ন বিষয়কে নৈতিক স্খলন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

    মুন্সীগঞ্জের জেলা রেজিস্ট্রার রমজান খান আমার দেশকে বলেন, আইন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে কাজি নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে বালাম বইসহ গুরুত্বপূর্ণ নথি কাজিদের কাছেই সংরক্ষিত থাকে। তার মতে, আগের বছরের বালাম বই নতুন বছর শুরুর আগেই জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। এতে কাজিদের জবাবদিহিও বাড়ত।

    দেশের কাজি অফিসগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও দেখভালের দায়িত্ব আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিচার বিভাগের। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারাও কাজিদের কার্যক্রমে বিভিন্ন অনিয়মের কথা জানান। শাখাটির একজন কর্মকর্তা সিলেট অঞ্চলের একটি ঘটনার উদাহরণ দেন, যেখানে এক নারী দাবি করেন, তার স্বামী জীবিত অবস্থায় তাকে তালাক দেননি। কিন্তু স্বামীর মৃত্যুর পর তার পরিবারের সদস্যরা কাজি অফিসের সঙ্গে যোগসাজশ করে স্বামীর মৃত্যুর আগে স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেনÑএমন একটি তালাকনামা হাজির করেন। ওই নারী বিষয়টি নিয়ে কাজি অফিসে আবেদন করেন।

    পরে সংশ্লিষ্ট এলাকার সাব-রেজিস্ট্রারের তদন্ত প্রতিবেদনে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে তালাকসংক্রান্ত কোনো চিঠি আদান-প্রদান হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি পর্যালোচনা করে কয়েকটি আইনের ব্যাখ্যাসহ জেলা রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে পুনঃতদন্তের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সংশ্লিষ্ট কাজি নিজেই ওই নারীর স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে তাকে ফাঁসিয়ে এ কাজ করানোর অভিযোগে মামলা করেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

    কাজিদের দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী সচিব আবদুল ওয়াহাবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। আমার দেশকে তিনি বলেন, কোনো তথ্য অফিসিয়ালি জানাতে হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।

    আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা আমার দেশকে বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ তার দপ্তরে আসেনি। তবে বিষয়টিতে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, বালাম বই নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ফৌজদারি অপরাধ। সংশ্লিষ্ট অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

    নিবন্ধন অফিসের আইআরও ও সদ্য বিদায়ী ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার মুনশী মোকলেছুর রহমান আমার দেশকে বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় তিনি এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাননি। তবে মগবাজার কাজি অফিসে (৩৫ নম্বর ওয়ার্ড) নিকাহনামার কপি নিতে প্রতিনিয়ত ভুক্তভোগীদের ভিড় বাড়ছে। ইতিমধ্যে তিনজন ভুক্তভোগীর অভিযোগসংক্রান্ত আবেদন এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন কামরুল রহমান, মাসুদুর রহমান ও জাহেদা হোসেন।

    মাসুদুর রহমান আমার দেশকে জানান, ২০১৬ সালের ১০ জুন তার স্বজনের বিয়ে নিবন্ধিত হয়। বিদেশে ব্যবহারের জন্য কাবিননামার ইংরেজি কপি তুলতে গিয়ে জানতে পারেন, তৎকালীন যুবলীগ নেতা ও নিয়োগপ্রাপ্ত কাজি পালিয়ে যাওয়ার সময় তিনটি বালাম বই (প্রতিটিতে ১০০ পাতা) সঙ্গে নিয়ে গেছেন।

    আরেক ভুক্তভোগী কামরুল রহমান আমার দেশকে জানান, ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটির ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে সম্পাদিত একটি দলিলের সার্টিফায়েড কপির জন্য গত ২৩ জুলাই আবেদন করলেও বালাম বই না থাকায় বর্তমান কাজি তা সরবরাহ করতে পারছেন না। একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানান জাহেদা হোসেন। তিনি বলেন, তার মেয়ের বিবাহের কাবিননামা তুলতে গিয়ে শোনেন বালাম বই নিয়ে কাজি উধাও।

    মগবাজার কাজি অফিসের মাওলানা সেলিম রেজা এ বিষয়ে আমার দেশকে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাবেক কাজি সাগর আহমেদ শাহীন পালিয়ে যাওয়ার সময় তিনি অনেকগুলো বালাম বই সঙ্গে নিয়ে যান। নিখোঁজ বালাম বইগুলোর কোনো তালিকা নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের দেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিন সেবাগ্রহীতারা বিয়ে বা তালাকের সনদের জন্য এলে তল্লাশি চালিয়ে বোঝা যাচ্ছে, কোনো কোনো বালাম বই নেই।

    তিনি আরো বলেন, অনেক বালাম বইয়ে গুরুতর জালিয়াতি দেখা গেছে। কোথাও একটি পৃষ্ঠা কেটে অন্য পৃষ্ঠা লাগানো হয়েছে। আবার কোথাও তালাকের ক্ষেত্রে শুধু স্বাক্ষর নিয়ে রাখা হয়েছে, কিন্তু বিস্তারিত তথ্য রেজিস্ট্রি করা হয়নি। ফলে অসম্পূর্ণ বা অর্ধসংরক্ষিত তথ্যের ভিত্তিতে কাউকে নিকাহ বা তালাকের সনদ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

    তবে সাবেক কাজি সাগর আহমেদ শাহীন বালাম বই নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। আমার দেশকে তিনি বলেন, কোনো বালাম বই তিনি নিয়ে যাননি। সব বই কার্যালয়েই রেখে এসেছেন। তাকে হেয় করার উদ্দেশে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে।

    তিনি লালবাগ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে বালাম বই নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি কোনো অপরাধ করেননি, চাকরিসংক্রান্ত বিষয়টি বর্তমানে হাইকোর্টে বিচারাধীন বলেও জানান। তিনি দাবি করেন, বর্তমান আইনমন্ত্রীকে টাকা দিয়ে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে।

    এদিকে বালাম বই গায়েব ও নথিতে অনিয়মের কারণে ভোগান্তিতে পড়া সাধারণ মানুষ এ সমস্যার একটি স্থায়ী প্রশাসনিক সমাধান দাবি জানান। তাদের প্রত্যাশা, নিখোঁজ বালাম বই উদ্ধার, নথির নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

  • খণ্ডকালীন শিক্ষক পুল গড়বে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

    খণ্ডকালীন শিক্ষক পুল গড়বে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

    শিক্ষা ডেস্ক:

    শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় খণ্ডকালীন শিক্ষক পুল গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষার্থী বিবেচনায় দেশের সর্ববৃহৎ এ প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক কাউন্সিলের ১০৩তম সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ পুলে অবসরপ্রাপ্ত যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ ও বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা হবে। শনিবার গাজীপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মিশন ও ভিশন অনুমোদনসহ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনকে আরও সহজ, কার্যকর ও সময়োপযোগী করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৩৪ বছর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হলো।

    সভায় স্নাতক (সম্মান) কোর্সের ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বিশেষ বিবেচনায় আরও একবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন কলেজে শিক্ষকসংকট কমাতে বিষয়ভিত্তিক খণ্ডকালীন শিক্ষক পুল গঠনের নীতিমালাও অনুমোদন করা হয়েছে।

    সভায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কিল-বেইজড পিজিডি প্রোগ্রামে ফ্রিল্যান্সিং—গ্রাফিকস ডিজাইন, ভিডিয়ো এডিটিং ও ওয়েব ডিজাইন; কালিনারি সায়েন্স (শেফ) এবং হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিষয় অন্তর্ভুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে স্নাতক (পাস) ও স্নাতক (সম্মান) প্রোগ্রামের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ৪ ক্রেডিটের অ্যাপ্লাইড আইসিটি কোর্স এবং প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ফাংশনাল ইংরেজি কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব কোর্সের সিলেবাস ও রেগুলেশন অনুমোদন করা হয়।

    বিশ্ববিদ্যালয় মনে করছে, এসব উদ্যোগের ফলে শিক্ষক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা সহজ হবে। একইসঙ্গে দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা এবং উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

    এছাড়াও সভায় বিসিএসসহ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ৩ বছর মেয়াদি ডিগ্রি (পাস) কোর্স এবং ১ বছর মেয়াদি মাস্টার্স (প্রিলিমিনারি) কোর্স সম্পন্নকারীদের সনদের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে ৪ বছর মেয়াদি ডিগ্রি সনদ এবং মাস্টার্স প্রিলিমিনারি সনদকে ৪ বছর সমতুল্য ডিগ্রি হিসেবে দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

    এ ছাড়া সিজিপিএ ২.২৫-এর কম পাওয়া শিক্ষার্থীরা যাতে শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে না পড়েন, সে বিষয়েও আলোচনা হয়। তাঁদের বিশেষ বিবেচনায় মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনা করা হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ৪ বছর মেয়াদি এলএলবি (সম্মান) কোর্সের অধিভুক্তি রেগুলেশন অনুমোদন করা হয়েছে।

    সার্বিক বিষয়ে সভায় ভাইস-চ্যান্সেলর ড. আমানুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি একাডেমিক সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ। একজন শিক্ষার্থী যেন নিজের পড়াশোনা শেষ করে দক্ষতা নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারেন—আমরা সেই জায়গাটিকেই গুরুত্ব দিচ্ছি। অবসর নেওয়া অভিজ্ঞ শিক্ষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ বিশেষজ্ঞদের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষার্থীদের শেখানোর সুযোগ তৈরি করতে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক পুল গঠন করা হচ্ছে।’

    স্কিল-বেইজড পিজিডিতে নতুন বিষয় যুক্ত করার বিষয়ে ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, ‘শুধু প্রচলিত ডিগ্রি যথেষ্ট নয়; শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে সরাসরি ব্যবহারযোগ্য দক্ষতা অর্জন করতে হবে। একাডেমিক শিক্ষার সঙ্গে দক্ষতা ও বাস্তবমুখী শিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কর্মবাজারের জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্য রয়েছে।’

  • ধর্মীয় অবমাননায় যুবক আটক

    ধর্মীয় অবমাননায় যুবক আটক

    কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও ধর্ম অবমাননার অভিযোগে রাকিবুল হাসান নামে যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে উপজেলার বাড়েরা ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।আটক রাকিবুল হাসান উপজেলার বাড়েরা ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের মৃত ময়নাল হোসেনের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাকিবুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে ইসলাম ধর্ম, হিন্দু ধর্মসহ বিভিন্ন ধর্ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তিমূলক পোস্ট করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    অভিযোগে আরও বলা হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভিন্ন ছবি সম্পাদনার মাধ্যমে তিনি পবিত্র মক্কা নগরীর কাবা শরিফের সামনে হিন্দু ধর্মীয় সাধক লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ছবি সংযোজন করে ফেসবুকে প্রকাশ করেন। ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

    পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে চান্দিনা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

    এ বিষয়ে চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, “ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

  • মাদারীপুরে বিএনপির মোটরসাইকেল শোডাউনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

    মাদারীপুরে বিএনপির মোটরসাইকেল শোডাউনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

    মাদারীপুরে ১৫ আগস্টকে ঘিরে বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মোটরসাইকেল শোডাউনে এক নেতাকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে। স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    শনিবার (১৫ আগস্ট) বেলা ১১টা ৮ মিনিটের দিকে মাদারীপুর পৌরসভার ঈদগাহ মাঠের সামনে মোটরসাইকেল শোডাউন চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

    নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ঘোষিত শোক সভাকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কায় বিএনপি নেতাকর্মীরা সতর্ক অবস্থান নেন। এর অংশ হিসেবে জেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আবুল বাশার মাতুব্বরের নেতৃত্বে শহরের বিভিন্ন সড়কে মোটরসাইকেল নিয়ে শোডাউন করেন তারা।

    শোডাউনের সময় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে একজনের মুখ থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান শোনা যায়। পরে ওই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

    এ বিষয়ে জেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ বাশার মাতুব্বরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

    জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব অহিদুজ্জামান খান ওহিদ বলেন, কারা মোটরসাইকেল শোডাউন করেছে, তা তার জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক অলিউর রহমান দর্জি বলেন, তাদের দলের মোটরসাইকেল শোডাউনে কেউ এ ধরনের স্লোগান দিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    এদিকে ১৫ আগস্ট ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাদারীপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ। সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের বিষয়ে পুলিশের কাছে তথ্য নেই। কেউ এ ধরনের স্লোগান দিয়ে থাকলে বিষয়টি আইনবহির্ভূত হবে। ঘটনা তদন্ত করে দেখা হবে।

  • নারায়ণগঞ্জে ম্যারাথনে দৌড়ের সময় দৌড়বিদের মৃত্যু

    নারায়ণগঞ্জে ম্যারাথনে দৌড়ের সময় দৌড়বিদের মৃত্যু

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দৌড়ানোর সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে টিপু সুলতান নামে এক দৌড়বিদের মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে সোনারগাঁ রানার্সের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘সোনারগাঁ ৭.৫ কে রান ২০২৬’ প্রতিযোগিতায় এ ঘটনা ঘটে।

    আয়োজক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পানাম নগরের আমিনপুর মাঠ থেকে ৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ দৌড় প্রতিযোগিতা শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ৬০০ দৌড়বিদ এতে অংশ নেন। দৌড়ের প্রায় অর্ধেক পথ অতিক্রম করার পর বালুয়াদীঘির পার এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন টিপু সুলতান।

    ঘটনার পরপরই প্রতিযোগিতার মেডিকেল টিম দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সোনারগাঁ সেবা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে মদনপুরের আল বারাকা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক টিপু সুলতানকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহত টিপু সুলতান (৪০) সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ব্যবসায়ী আশরাফ প্রধানের ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন।

    ‘সোনারগাঁ ৭.৫ কে রান ২০২৬’-এর প্রধান আয়োজক শিমুল ভূঁইয়া বলেন, প্রতিযোগিতায় দেশজুড়ে আসা রানারদের সঙ্গে টিপু সুলতানও অংশ নিয়েছিলেন। দৌড়ের সময় অসুস্থ হয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের মেডিকেল টিম তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারেননি।

    ম্যারাথনে দৌড়বিদ টিপু সুলতানের আকস্মিক মৃত্যুতে সহ-দৌড়বিদ ও আয়োজকদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

  • মির্জাপুরে বসতঘর থেকে মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার

    মির্জাপুরে বসতঘর থেকে মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বসতঘর থেকে মা ও চার বছরের মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের ধুপুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহতরা হলেন, ধুপুরিয়া গ্রামের রাজমিস্ত্রি রাজীব হোসেনের স্ত্রী কনিকা আক্তার (২২) ও তাদের চার বছরের মেয়ে রাজিয়া।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ছয় বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে রাজীব ও কনিকার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতে রাজীব হোসেন সিলেটে বেড়াতে যান। শুক্রবার সকালে কনিকা তার মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে শ্বশুর নাজিমউদ্দিন ও শাশুড়ি তাকে বাবার বাড়িতে যেতে বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।

    বাড়িতে ফিরে কনিকা মেয়েকে নিয়ে বসতঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। কিছুক্ষণ পর ঘরের ভেতর থেকে শিশু রাজিয়ার চিৎকার শুনতে পান স্থানীয়রা। পরে দরজা ভেঙে কনিকাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। একই ঘরের মেঝেতে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে এলাকাবাসী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে মেয়েকে হত্যা করে কনিকা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

  • ট্রেনের ছাদ থেকে নামার সময় দুই বগির মাঝে পড়ে যুবক নিহত

    ট্রেনের ছাদ থেকে নামার সময় দুই বগির মাঝে পড়ে যুবক নিহত

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    নরসিংদী রেলস্টেশনে তিতাস কমিউটার ট্রেনের ছাদ থেকে নামার সময় দুই বগির মাঝে পড়ে মো. আমীর হোসেন (২৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার সময় শত শত মানুষের চোখের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত ওই যুবকের নাম মো. আমীর হোসেন (২৬)। তিনি নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানাধীন নগর বানিয়াদী এলাকার মৃত সামসুল হকের ছেলে।

    রেলওয়ে পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে দুই বন্ধুর সঙ্গে আমীর হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় কেল্লা শাহের মাজারে গিয়েছিলেন। তারা রাতভর সেখানে থেকে সকালে তিতাস কমিউটারের ছাদে উঠে ফিরছিলেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ট্রেনটি নরসিংদী রেলস্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। এ সময় প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যেই অনেক মানুষ ছাদ থেকে নামছিলেন। এদিকে ট্রেন পুনরায় যাত্রা শুরু করলে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে ট্রেনের দুই বগির মাঝখানে পড়ে যান। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, ট্রেনে কাটা পড়া ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পরে তার লাশ রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    আমীরের ঠিক আগে ট্রেনের ছাদ থেকে নেমেছেন তার বন্ধু আক্রাম হোসেন। তিনি বলেন, একসঙ্গেই আমরা তিন বন্ধু কেল্লা শাহর মাজারে গিয়েছিলাম। ভোরে ট্রেনে ওঠার সময় প্রচণ্ড ভিড়ে ভেতরে যেতে না পেরে ট্রেনের ছাদে উঠি। নরসিংদী আসার পর দুজন ছাদ থেকে নামতে পারলেও আমীর পারেনি। চলতে শুরু করা ট্রেনের দুই বগির মাঝে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। চোখের সামনেই তার মৃত্যু দেখলাম।

    নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক দিলীপ চন্দ্র সরকার বলেন, তিতাস কমিউটারের ছাদ থেকে দুই বগির মাঝখানে পড়ে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • আশুলিয়ায় অটোচালককে গলা কেটে হত্যা : মূলহোতাসহ গ্রেফতার ২

    আশুলিয়ায় অটোচালককে গলা কেটে হত্যা : মূলহোতাসহ গ্রেফতার ২

    ঢাকার আশুলিয়ায় নির্মাণাধীন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে অটোরিকশা চালক মো: সুজন হাওলাদারকে (২৯) গলা কেটে হত্যার ঘটনায় মূলহোতাসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলা। লাশ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে নেমে মাত্র ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

    গ্রেফতাররা হলেন, মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার শসতল গ্রামের মো: হারুন ঢালির ছেলে মো: মারুফ ঢালি (৩৯)। বর্তমানে তিনি ঢাকার লালবাগ থানার বাগানবাড়ী সৈয়দনগর এলাকায় নাহিদ ইসলামের গ্যারেজে বসবাস করে আসছিলেন। অপরজন একই গ্রামের মো: আজিজুল ঢালির ছেলে তানভীর ঢালি ওরফে আকাশ (২২)।

    পিবিআইয়ের দাবি, মারুফ সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত। আর তানভীর নিহতের লুণ্ঠিত অটোভ্যানটি তার কাছ থেকে কিনেছিলেন। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে নিহত সুজনের অটোভ্যান ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে মারুফের দেখানো মতে ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতিও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার দুজনই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

    পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, নিহত সুজন হাওলাদার পটুয়াখালী সদর উপজলার লোহালিয়া ইউনিয়নের কুড়িপাইকা গ্রামের মো: আমির হাওলাদারের ছেলে। তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন আগানগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে অটোভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ৮ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে নিজের অটোভ্যান নিয়ে বাসা থেকে বের হন সুজন। এরপর সর্বশেষ রাত ৯টার দিকে স্ত্রীকে ফোন করে কথা বলেন তিনি। এরপরই তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। এর দুই দিন পর, ১০ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আশুলিয়া থেকে আব্দুল্লাহপুরগামী সড়কের পাশে নির্মাণাধীন ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ৮১/১ ও ৮১/২ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী স্থান থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

    লাশের মাথায় থেতলানোর আঘাত এবং গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। খবর পেয়ে নিহতের মা ও স্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন। পরে আশুলিয়া থানা পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের মা মোসা: আলো বেগম অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ১১ আগস্ট পিবিআই ঢাকা জেলা স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে এবং পুলিশ পরিদর্শক মো: জামাল উদ্দীন বিপিএম-কে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

    পিবিআইয়ের ভাষ্য, মামলাটি তদন্তে নেয়ার পর ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। ফিঙ্গারপ্রিন্টসহ প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত শুরু করে। নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করার পর তার নিখোঁজ হওয়ার সময়, সর্বশেষ মোবাইল যোগাযোগ, পূর্বপরিচিত ব্যক্তি এবং অটোভ্যানটির গতিবিধি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন তদন্তকারীরা।

    তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বিত বিশ্লেষণে তদন্তের সূত্র গিয়ে পৌঁছায় মারুফের কাছে। পরে অটোভ্যানটির গতিবিধি অনুসরণ করে পিবিআইয়ের একটি দল মাদারীপুরে অভিযান চালায়। ১১ আগস্ট সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে মাদারীপুর সদর থানা এলাকার আনসার ক্যাম্পের সামনে একটি অটো গ্যারেজ থেকে মারুফ ও তানভীর ঢালি ওরফে আকাশকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় নিহত সুজনের লুণ্ঠিত অটোভ্যান। মারুফের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় সুজনের মোবাইল ফোন।

    পিবিআই জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মারুফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

    পিবিআইয়ের তদন্ত এবং গ্রেফতার আসামিদের আদালতে দেয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, মারুফ নিজেও একজন ভ্যানচালক এবং নিহত সুজনের পূর্বপরিচিত ছিলেন। গত ৮ আগস্ট রাত ৯টার দিকে সুজন তার অটোভ্যান নিয়ে মোহাম্মদপুর এলাকায় মারুফের সাথে দেখা করেন। সেখান থেকে দুজন বেড়িবাঁধ হয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরের উদ্দেশে রওনা দেন।

    পরদিন ৯ আগস্ট ভোররাত ৩টার দিকে কাশিমপুরে অটোভ্যানে মালামাল লোড করার পর তারা ঢাকার লালবাগের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে আশুলিয়া ব্রিজ এলাকায় এসে অটোভ্যানটি বিকল হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও গাড়িটি ঠিক করতে না পারায় তারা নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে অবস্থান নেন।

    তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে দুজন ইয়াবা সেবন করেন। একপর্যায়ে সুজন নেশাগ্রস্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। তখন মারুফ তার অটোভ্যান থেকে একটি চাপাতি নিয়ে আসেন। পরে ৯ আগস্ট দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে ঘুমন্ত সুজনের মাথায় একটি ভারী পাথর দিয়ে সজোরে আঘাত করেন। এরপর চাপাতি দিয়ে তার গলায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় বলে পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে।

    হত্যার পর চাপাতিটি পানিতে ফেলে দেন মারুফ। ঘটনাস্থলে সুজনের লাশ রেখে তার অটোভ্যান ও মোবাইল ফোন নিয়ে সেখান থেকে চলে যান। হত্যার পর সুজনের অটোভ্যান নিয়ে মারুফ লালবাগে চলে যান। পরদিন ১০ আগস্ট সকালে অটোভ্যানটি চালিয়ে মাদারীপুরের উদ্দেশে রওনা হন।

    পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে মাদারীপুরে পৌঁছে তানভীর ঢালি ওরফে আকাশের কাছে অটোভ্যানটি ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন মারুফ। অটোভ্যানটির অবস্থান শনাক্ত করার পরই তদন্তকারীরা মাদারীপুরে অভিযান চালান। সেখান থেকে অটোভ্যানসহ মারুফ ও তানভীরকে গ্রেফতার করা হয়।

    পিবিআইয়ের দাবি, ঘটনাস্থলের আলামত, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বিত ব্যবহারের কারণেই দ্রুত এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।

    পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এম এন মোর্শেদ পিপিএম বলেন, চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পাওয়ার পরপরই পিবিআই ঢাকা জেলার ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি ছায়া তদন্ত শুরু করা হয়।

    তিনি বলেন, স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণের পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেয়া হয়। নিরলস তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত দুজনকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।

    পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সাথে অন্য কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • রাতে মেট্রোরেলের যাত্রা বাড়ছে, আগামী মাসে সময় বাড়ানোর চিন্তা

    রাতে মেট্রোরেলের যাত্রা বাড়ছে, আগামী মাসে সময় বাড়ানোর চিন্তা

    রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের একটি রেস্তোরাঁয় চাকরি করেন রবিউল ইসলাম। প্রতিদিন মেট্রোরেলের শেষ ট্রেনে ফার্মগেট যান তিনি। কিন্তু ভিড়ের কারণে নাকাল হতে হয়। কোনো কারণে ট্রেনে উঠতে ব্যর্থ হলে বাস বা অন্য বাহনে যেতে ব্যাপক ঝক্কি পোহাতে হয়।

    রবিউল ইসলাম বলেন, ফার্মগেটে মেট্রোরেলে নেমেই পূর্ব রাজাবাজার তাঁর বাসা। এর চেয়ে সহজ যাতায়াত আর নেই। শেষ দিকে ট্রেন কিংবা চলাচলের সময় বাড়ানো হলে তিনিসহ সব যাত্রীরই উপকার হবে।

    রবিউলের কথার সঙ্গে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের হিসাবেরও মিল আছে। গত ৭ জুন থেকে রাতে মেট্রোরেলের চলাচল উভয় দিক থেকে ২০ মিনিট করে বাড়ানো হয়েছে। তবে শেষের ট্রেনটি ২০ মিনিট বিরতি দিয়ে চলাচল করে। ফলে ভিড় হচ্ছে প্রচুর। দুটি ট্রেন বাড়ানোর পর যাত্রীদের যাতায়াত বেড়েছে ১০ হাজারের মতো। এই পরিস্থিতিতে আরও দুটি ট্রেন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। চলতি মাসের শেষ দিকেই বাড়তি দুটি ট্রেনের চলাচল শুরু হবে। এ ক্ষেত্রে এখন শেষ ট্রেনের মাঝখানে যে ২০ মিনিটের বিরতি আছে, তা কমে ৭ থেকে ৮ মিনিটে নেমে আসবে।

    ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। সংস্থাটির সূত্র বলছে, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে মেট্রোরেলের চলাচলের সময় আরও ২০ মিনিট থেকে আধা ঘণ্টা বাড়ানোর চিন্তা আছে। সে ক্ষেত্রে রাত ১১টায় শেষ ট্রেন চলাচল করবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

    ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাতে সময় বাড়াতে হলে ট্রেনের চালক (অপারেটর) বাড়াতে হবে। ইতিমধ্যে অপারেটর নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। তাঁদের এখন প্রশিক্ষণ চলছে। ২৬ আগস্ট প্রশিক্ষণ শেষ হবে। এরপর তাদের দিয়ে ট্রেন চালানো শুরু হবে। এ ছাড়া রাতে সময় বাড়ালে রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য প্রস্তুতির কাজ কীভাবে করা হবে, সেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

    বর্তমানে রাতে মতিঝিল থেকে উত্তরার পথে সর্বশেষ ট্রেন ছাড়ছে সাড়ে ১০টায়। আর উত্তরা থেকে রাতের সর্বশেষ ট্রেন ছাড়ছে ৯টা ৫০ মিনিটে। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৬টায় উত্তরা থেকে মতিঝিলগামী দিনের প্রথম মেট্রোরেল ছাড়ে। আর মতিঝিল থেকে উত্তরাগামী দিনের প্রথম মেট্রোরেল ছাড়ে সকাল সোয়া ৭টায়। সকালে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ানোর বিষয়ে আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রটি জানিয়েছে।

    ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তারা বলছেন, সাড়ে তিন মিনিট পরপর একটি করে ট্রেন চালানোর সক্ষমতা আছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের। এ ছাড়া সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মেট্রোরেল চলবে বলেও প্রকল্প নেওয়ার সময় অনুমান করা হয়েছিল। কিন্তু লোকবলের অভাবে তা হয়নি। এখন পর্যায়ক্রমে সময় বাড়ানো হচ্ছে।

    অনুমান অনুযায়ী, উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রতিদিন পাঁচ লাখ যাত্রী যাওয়ার কথা। বর্তমানে মেট্রোরেলে দিনে গড়ে সাড়ে চার লাখের মতো যাত্রী যাতায়াত করেন। কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল সম্প্রসারণের কাজ চলছে। বর্ধিত অংশ আগামী বছর চালু হতে পারে। তখন দিনে যাত্রীসংখ্যা ৬ লাখ ৭৭ হাজারে যাওয়ার কথা।

    ঢাকায় ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রথম মেট্রোরেল চালু হয়। শুরুতে চলাচল করত উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত। পর্যায়ক্রমে স্টেশনের সংখ্যা বাড়ে। মতিঝিল পর্যন্ত সব স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা শুরু হয় ২০২৩ সালের শেষ দিনে।

    ডিএমটিসিএলের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, রাতে দুটি ট্রেন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। দিন-তারিখ শিগগিরই চূড়ান্ত করা হবে। ট্রেন বাড়লে দুই ট্রেনের বিরতিও কমে আসবে। আগামী মাসে রাতে মেট্রোরেলের সময় বাড়ানোর বিষয়েও কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

  • সাভার-আশুলিয়ায় ১২ দিনে ১৬ বোমা উদ্ধার, আতঙ্কে স্থানীয়রা

    সাভার-আশুলিয়ায় ১২ দিনে ১৬ বোমা উদ্ধার, আতঙ্কে স্থানীয়রা

    ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ায় গত ১২ দিনে পৃথক তিনটি এলাকা থেকে ১৬টি শক্তিশালী বোমা উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা বোমাগুলোর সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) লিফলেট পাওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

    সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের লালটেক গোপের বাড়ি এলাকার জামিআ ইলমুল ইলাহ্ সোসাইটি মাদ্রাসা ও জামে মসজিদের সামনের জঙ্গল থেকে স্কচটেপে মোড়ানো প্রেসার কুকারসদৃশ একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করা হয়।

    একই রাতে সাভারের তেঁতুলঝরা ইউনিয়নের শ্যামপুর ও হেমায়েতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ১৪টি পাইপবোমা এবং বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় হেমায়েতপুর এলাকা থেকে আরিফ হোসেন (২৮) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছ থেকে পাঁচটি পাইপবোমা পাওয়া যায়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যমতে একটি বাড়ি থেকে আরও নয়টি পাইপবোমা উদ্ধার করা হয়।

    এর আগে গত ৩০ জুলাই মধ্যরাতে আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকায় জয়ী জেনারেল স্টোরের সামনে একটি ট্রাভেল ব্যাগ থেকে স্কচটেপে মোড়ানো প্রেসার কুকারসদৃশ আরও একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করা হয়। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা সেটি একটি খোলা মাঠে নিয়ে নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় নিষ্ক্রিয় করেন।

    মাদ্রাসার সামনে ড্রামে বোমা

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গতকাল দিবাগত রাত ১টার দিকে ব্যাটারিচালিত একটি বাইকে করে তিন ব্যক্তি লালটেক গোপের বাড়ি এলাকার মাদ্রাসার সামনে আসেন। বিদ্যুৎ না থাকায় ওই সময় এলাকা কিছুটা অন্ধকার ছিল। তাঁরা মাদ্রাসার পাশের জঙ্গলের মধ্যে একটি ড্রাম রেখে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।

    মাদ্রাসার পাশের বাসিন্দা ও চায়ের দোকানি আজিম উদ্দিন বলেন, ‘রাত ১টার দিকে ব্যাটারিচালিত হ্যালো বাইকে করে তিন ব্যক্তি এসে মাদ্রাসার সামনে জঙ্গলের মধ্যে একটি ড্রাম রেখে যান। তখন বিদ্যুৎ ছিল না। ড্রাম ফেলার শব্দ শুনে চোর ভেবে পাশের বাড়ির দেলোয়ার হোসেন ঘর থেকে বের হয়ে আমাকে ডেকে তোলেন। ঘর থেকে বের হয়ে আমরা তিনজন লোক ও একটি হ্যালো বাইক দেখতে পাই। আমাদের দেখেই তাঁরা হ্যালো বাইক নিয়ে সাধাপুরের দিকে চলে যান।’

    আজিম উদ্দিন আরও বলেন, ‘পরে জঙ্গলের মধ্যে ড্রামটি পড়ে থাকতে দেখি। বিষয়টি জানাজানি হলে আরও লোকজন সেখানে জড়ো হন। পরে কয়েকজন মিলে ড্রামটি মাদ্রাসা ও মসজিদের মূল ফটকের সামনে নিয়ে রাখি। এরপর মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিষয়টি জানানো হয়।’

    মাদ্রাসার কিতাবখানার দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল রাফি জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর তাঁরা ড্রামের ঢাকনা খুলে ভেতরে কোরআন, কিছু তার, জামাকাপড়, একটি ডায়েরি, বাকরখানি ও স্কচটেপে মোড়ানো প্রেসার কুকারসদৃশ একটি বোমা দেখতে পান।

    আব্দুল্লাহ আল রাফির দাবি, ড্রামের ভেতরে একটি রিমোট কন্ট্রোলও ছিল। ওই রিমোট কন্ট্রোল ও বোমাটির গায়ে আর ওয়ান (R1) লেখা ছিল। তাঁর ধারণা, এটি কোনো সংকেত হতে পারে।

    মাঠে সরিয়ে রাখা হয় বোমা: মাদ্রাসার পাশের মানিকগঞ্জ ভ্যারাইটিজ স্টোরের মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, ড্রাম থেকে বোমাটি বের করে মাদ্রাসার মূল ফটক থেকে কিছুটা দূরে মাঠের একটি খোলা জায়গায় রাখা হয়। ড্রাম ও রিমোট কন্ট্রোলটি তখন মাদ্রাসার প্রধান ফটকের সামনে ছিল।

    রফিকুল ইসলাম বলেন, বোমাটির ওজন অন্তত ১৫ কেজি হবে বলে মনে হয়েছে। ভোর ৬টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি ব্যাটারিচালিত হ্যালো বাইকে করে এসে রিমোট কন্ট্রোলসহ ড্রামটি নিয়ে দ্রুত চলে যান। পরে বিষয়টি ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়িকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।

    রফিকুল ইসলাম বলেন, বোমাটি মাঠে রেখে যাওয়ার পর কীভাবে ও কারা রিমোট কন্ট্রোলসহ ড্রামটি নিয়ে গেছে, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    পুলিশের নিরাপত্তাবেষ্টনী: ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ইমরান হোসেন বলেন, সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটির চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করে। পুলিশের পাহারায় সেটি নিরাপদ স্থানে রাখা হয়। পরে থানা-পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে রাখেন।

    সাভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, বোমা উদ্ধারের পর বিষয়টি ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলকে জানানো হয়। পরে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে বোমাটি খোলা মাঠে নিয়ে নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় নিষ্ক্রিয় করেন।

    নূর মোহাম্মদ আরও বলেন, বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার সময় বিকট শব্দ হয়। এতে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে।

    একের পর এক বোমা উদ্ধারে আতঙ্ক : সাভার ও আশুলিয়ায় অল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক বোমা উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, বসতবাড়ি, মাদ্রাসা ও জনবহুল এলাকার কাছাকাছি এসব বোমা উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা ।

    সাভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, উদ্ধার করা বোমাগুলোর উৎস, এগুলো কারা তৈরি করেছে ও কোথায় ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া জেএমবির লিফলেটের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

  • ঢাকায় পরিচয়পত্র ছাড়া কেউ হকারি করতে পারবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক

    ঢাকায় পরিচয়পত্র ছাড়া কেউ হকারি করতে পারবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক

    ভবিষ্যতে রাজধানীতে নিজস্ব পরিচয়পত্র ছাড়া কোনো হকার থাকবেন না। এমনকি নির্ধারিত স্থানের বাইরে কেউ ব্যবসা করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।

    আজ বুধবার ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডুরা) সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

    ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকায় পরিচয়পত্র ছাড়া কেউ হকারি করতে পারবেন না। তাঁদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকবে এবং নির্ধারিত এলাকার বাইরে ব্যবসা করা যাবে না।

    আবদুস সালাম বলেন, রাস্তার ওপর হকার বসতে দেওয়া হবে না। তবে প্রশস্ত ফুটপাতের কিছু অংশে তাঁদের বসার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া শুক্র ও শনিবার হলিডে মার্কেট এবং অফিস সময়ের পর মতিঝিলে নাইট মার্কেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব স্থানে হকারদের জন্য টয়লেট ও পরিচ্ছন্নতার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

    রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, ঢাকা কলেজ ও গ্রিনরোড এলাকার পানি নিষ্কাশনের একটি পুরোনো পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই এলাকার পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি পুনরায় কার্যকর করতে দীর্ঘমেয়াদি ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এই কাজ এক-দুই মাসে শেষ করা সম্ভব নয়।

    আবদুস সালাম বলেন, পুরান ঢাকার অনেক ড্রেন পুরোনো ও ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। ড্রেন ও খাল পরিষ্কারের কাজ চললেও বর্ষার কারণে খননকাজে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ড্রেনে পলিথিনসহ নানা ধরনের বর্জ্য ফেলার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    ডেঙ্গু প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, যেসব ব্যক্তিগত জায়গায় সিটি করপোরেশনের কর্মীরা প্রবেশ করতে পারেন না, সেসব স্থানে সংশ্লিষ্ট মালিক বা ব্যবহারকারীকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

    ব্যাটারিচালিত রিকশার বিষয়টিও ডিএসসিসির ভাবনায় আছে জানিয়ে প্রশাসক বলেন, নির্বিচারে এসব রিকশা যেন চলাচল করতে না পারে, সে জন্য অঞ্চলভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্দিষ্ট অঞ্চলের রিকশা নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যেই চলবে এবং কিছু সড়কে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হতে পারে।

    ঢাকার সমস্যা সমাধানে শুধু সিটি করপোরেশন নয়, ওয়াসা, রাজউক, বিদ্যুৎসহ নগর সেবার সঙ্গে যুক্ত সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় প্রয়োজন উল্লেখ করে আবদুস সালাম বলেন, বিভিন্ন উন্নয়নকাজে রাস্তা কাটার পর সঠিক সময়ে তা মেরামত না হওয়ায় সিটি করপোরেশনকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। তাই নগর ব্যবস্থাপনায় সমন্বিতভাবে কাজ করার চেষ্টা চলছে।

  • চাঁদা তোলা নিয়ে সংঘর্ষ: ছাত্রদলের ৫ নেতা বহিষ্কার

    চাঁদা তোলা নিয়ে সংঘর্ষ: ছাত্রদলের ৫ নেতা বহিষ্কার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নিউমার্কেটে ফুটপাতের দোকান থেকে চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে যুবদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের এক দিন পর ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের মধ্যে একজনকে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে এবং চারজনকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    বুধবার (১২ আগস্ট) ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা কলেজ শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুলহাস মৃধাকে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই অভিযোগে যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন শিকদার, প্রিন্স খন্দকার, সদস্য সাগর খান ও মির্জা গোলাম রায়হানকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির আজ এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।এর আগে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নিউমার্কেটের বলাকা সিনেমা হলের সামনে ফুটপাতের দোকান থেকে চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যুবদলের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে নিউমার্কেট থানা যুবদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।

    এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার, মো. সুমন সিকদার, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহমান, সায়মন ইসলাম, সাগর খান ও জিহাদুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন।ঘটনার বিষয়ে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য জিহাদুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে নিউমার্কেট যুবদলের সদস্যসচিব কে এম চঞ্চলের কয়েকজন অনুসারী বলাকা সিনেমা হলের সামনে চাঁদা তুলতে আসেন। এ সময় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ জানান। প্রতিবাদ করলে তারা শিক্ষার্থীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে তারা তাদের নেতা চঞ্চলকে ফোন করেন।

    জিহাদুল ইসলাম বলেন, এরপর চঞ্চলের নেতৃত্বে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন লোক পেছন থেকে চাইনিজ কুড়াল, অন্যান্য ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এতে ঢাকা কলেজের অনেক শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে মুশফিক, খন্দকার প্রিন্স ও হাসান রয়েছেন। আরও সাত-আটজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

    তিনি আরও বলেন, তারা প্রতিদিন চাঁদা তোলেন। প্রায় ৩৫০টি দোকান থেকে চাঁদা নেওয়া হয়। হামলার সময় তার মাথা ফেটে যায়। পেছন থেকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়েছে। তার হাতও ভেঙে গেছে। এ ঘটনায় আরও আট থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন।জিহাদুল ইসলাম দাবি করেন, হামলায় আসা ব্যক্তিরা সবাই ছাত্রদলের পদধারী ও কর্মী।

    অন্যদিকে স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বলাকা সিনেমা হলের সামনের ফুটপাতে দোকান বসান নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব কে এম চঞ্চলের লোকজন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী ওই দোকান তুলে দিতে গেলে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে চঞ্চলের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন ব্যক্তি লাঠিসোঁটা ও রামদা নিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    এ খবর ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদলের শতাধিক নেতা-কর্মী নিউমার্কেটের প্রিয়াঙ্গন মার্কেট-সংলগ্ন বসুন্ধরা গলিতে চঞ্চলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক হাসান ফরাজি বলেন, সংঘর্ষে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার, সুমন শিকদার, আহ্বায়ক সদস্য সাগর খান, সায়মন ইসলাম, মুশফিকুর রহিম ও জিহাদুল ইসলামসহ অন্তত ১৫ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। আহতরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    তবে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কে এম চঞ্চল। তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তাকে নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।

    কে এম চঞ্চল বলেন, ফুটপাতে যুবদলের কিছু কর্মী ব্যবসা করেন। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের পরিচয় দিয়ে কিছু বহিরাগত সন্ত্রাসী তাঁদের মারধর করেছেন। তার কার্যালয়ও ভাঙচুর করা হয়েছে। সেখানে লুটপাট চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।এ বিষয়ে নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহসিন উদ্দিন বলেন, ফুটপাতে দোকান বসানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    ওসি মোহসিন উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • ঢাকায় আরও ৫০ জায়গায় বসছে এআই সংকেতবাতি, একেকটিতে খরচ ২ কোটি

    ঢাকায় আরও ৫০ জায়গায় বসছে এআই সংকেতবাতি, একেকটিতে খরচ ২ কোটি

    ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে রাজধানীর আরও ৫০টি স্থানে স্বয়ংক্রিয় (এআই) সংকেতবাতি (ট্রাফিক সিগন্যাল) বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি সিগন্যালে গড়ে ব্যয় হবে প্রায় ২ কোটি টাকা।

    তবে এই অর্থ শুধু সংকেতবাতি বসাতে খরচ হবে না। সিগন্যালের খুঁটি, ভিত্তি, স্টিলের বেড়া, বিদ্যুৎ–সংযোগ, ট্রাফিক পুলিশের নিয়ন্ত্রণকক্ষ, সড়ক খনন, ক্যামেরা, নিয়ন্ত্রণ বক্স, ট্যাবসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম কেনার পেছনেও ব্যয় হবে।

    ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতায় ২৮টি স্থানে ট্রাফিক সংকেতবাতি বসাতে ব্যয় হবে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২২টি স্থানে ব্যয় হবে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা। দুই সিটি মিলিয়ে ৫০টি সিগন্যালে মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৯৯ কোটি টাকা। এর সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

    ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতায় ২৮টি স্থানে ট্রাফিক সংকেতবাতি বসাতে ব্যয় হবে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২২টি স্থানে ব্যয় হবে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা। দুই সিটি মিলিয়ে ৫০টি সিগন্যালে মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৯৯ কোটি টাকা। এর সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

    দুই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ১৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আরও ৫০টি স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক বাতি চালুর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দুই সিটি করপোরেশনকে ৫০ কোটি টাকা করে মোট ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।

    পরে এসব সিগন্যালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্যামেরা যুক্ত করে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সার্ক ফোয়ারা এলাকায়

    দুই সিটি করপোরেশন সূত্র বলছে, দরপত্রের প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত বাতি স্থাপনের কাজ শুরু করা হবে। তবে কাজ শুরুর সময় নিয়ে দুই সিটির কর্মকর্তাদের বক্তব্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

    দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই কাজ শুরু করা হবে।

    রাজিব খাদেম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, ডিএসসিসি

    এক সিগন্যালে ব্যয় ২ কোটি টাকা

    ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নতুন ট্রাফিক সংকেতবাতি স্থাপনের কাজ মূলত দুই ভাগে করা হবে। একটি অংশের কাজ করবে সিটি করপোরেশনের নিয়োজিত ঠিকাদার। অন্য অংশের কাজ করবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)।

    সিটি করপোরেশনের ঠিকাদারের কাজের মধ্যে রয়েছে সিগন্যালের দুই পাশে ৫০ মিটার করে স্টিলের বেড়া নির্মাণ, ট্রাফিক পুলিশের নিয়ন্ত্রণকক্ষ তৈরি, বাতির খুঁটির ভিত্তি ও খুঁটি নির্মাণ, বিদ্যুতায়ন এবং সড়ক খনন বা কাটার কাজের মতো পূর্তকাজ।

    অন্যদিকে বুয়েট ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার নকশা প্রণয়ন করবে। সংকেতবাতি, নিয়ন্ত্রণ বক্স, ট্যাব, ক্যামেরাসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করবে। পাশাপাশি যানবাহনের চলাচলসংক্রান্ত জরিপও করবে প্রতিষ্ঠানটি।

    অর্থাৎ শুধু সিগন্যাল বাতি স্থাপন নয়, এর সঙ্গে যুক্ত অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের জন্যও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

    ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নতুন ট্রাফিক সংকেতবাতি স্থাপনের কাজ মূলত দুই ভাগে করা হবে। এর একটি অংশের কাজ করবে সিটি করপোরেশনের নিয়োজিত ঠিকাদার। অন্য অংশের কাজ করবে বুয়েট।

    ডিএনসিসির হিসাব বলছে, ২৮টি স্থানে ট্রাফিক সংকেতবাতি স্থাপনের পূর্তকাজে ব্যয় হবে প্রায় ৪৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে স্টিলের বেড়া নির্মাণে। সংকেতবাতির খুঁটি নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ৮ কোটি ২১ লাখ টাকা। খুঁটির ভিত্তি তৈরিতে প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ এবং বিদ্যুতায়নে ৪ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ বক্স, সড়ক খনন, ট্রাফিক সাইনসহ অন্যান্য কাজে ব্যয় হবে প্রায় ১৬ কোটি টাকা।

    এর বাইরে বুয়েটের পরামর্শ, সংকেত বাতি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম কেনায় ব্যয় হবে প্রায় ১২ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ডিএনসিসির ২৮টি সিগন্যালে ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা।

    অন্যদিকে ডিএসসিসির ২২টি স্থানে সিগন্যাল বাতি বসানোর পূর্তকাজে ব্যয় হবে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। আর বুয়েটকে দেওয়া হবে প্রায় ৯ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ব্যয় হবে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা।

    এই হিসাবে উত্তর ও দক্ষিণ সিটির প্রতিটি স্থানে একটি সিগন্যাল ব্যবস্থা স্থাপনে গড়ে প্রায় ২ কোটি টাকা করে ব্যয় হচ্ছে।

    নতুন সিগন্যাল ব্যবস্থা ধাপে ধাপে সম্প্রসারণ করলে ফলাফল আরও ভালোভাবে মূল্যায়ন করা যেত। তবে আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনায় এ প্রযুক্তি প্রয়োজন; পাশাপাশি লেন ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য ট্রাফিক শৃঙ্খলাও নিশ্চিত করতে হবে।

    আদিল মুহাম্মদ খান, নগর পরিকল্পনাবিদ

    সাত সিগন্যালের পর এবার আরও ৫০

    যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে গত বছর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ২২টি মোড়ে নতুন করে সংকেতবাতি বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এসব বাতি বসাতে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১৮ কোটি টাকা।

    প্রাথমিকভাবে ঢাকা দক্ষিণের ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল ও বাংলামোটর এবং ঢাকা উত্তরের সোনারগাঁও, ফার্মগেট, বিজয় সরণি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জাহাঙ্গীর গেট মোড়ে এসব সিগন্যাল বসানো হয়েছিল। পরে এসব সিগন্যালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্যামেরা যুক্ত করে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। দুই সিটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের ভাষ্য, এতে যানজট নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে।

    গত মে মাসে কারওয়ান বাজার মোড়ে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক পুলিশ সদস্য ছোটন বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘আগে গাড়ি থামাতে যুদ্ধ করতে হতো। এখন লাল বাতি জ্বলে উঠলেই থেমে যাচ্ছে। শান্তিতে দায়িত্ব পালন করতে পারছি। তবে ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো সমস্যা সৃষ্টি করছে।’

    সিগন্যালে এআই ক্যামেরা চালুর পর চালকেরা এখন জেব্রাক্রসিংয়ের আগেই থামছেন। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা এলাকায়

    বুয়েট এসব বাতি তৈরি করে। পরে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, বুয়েট এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) যৌথভাবে এ পরীক্ষামূলক সিগন্যাল ব্যবস্থার তদারকি করে।

    জানতে চাইলে নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান প্রথম আলোকে বলেন, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সংকেত ভঙ্গকারীদের তাৎক্ষণিক জরিমানা করায় আইন মানার প্রবণতা বেড়েছে। তাঁর মতে, আইনের নিরপেক্ষ ও কার্যকর প্রয়োগ ট্রাফিক ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

    দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। সেটি প্রক্রিয়াধীন আছে। প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

    নাঈম রায়হান খান, নির্বাহী প্রকৌশলী, ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেল, ডিএনসিসি

    যেসব মোড়ে বসছে নতুন বাতি

    ডিএনসিসির যে ২৮টি স্থানে নতুন ট্রাফিক সংকেতবাতি স্থাপন করা হবে, সেগুলো হলো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, আসাদ গেট, গণভবন, মোহাম্মদপুর থানা, কলেজ গেট, টেকনিক্যাল, মাজার রোড, মিরপুর-১, সনি সিনেমা হল, মিরপুর-১০, মিরপুর-১২, মিরপুর-৬, মিরপুর-১৪, আগারগাঁও, আবহাওয়া অধিদপ্তর, পরিকল্পনা কমিশন, গুলশান ক্লাব, গুলশান আজাদ মসজিদ, গুলশান-১, গুলশানের ডোমিনোজ ক্রসিং, পুলিশ প্লাজা, নিকেতন, তেজগাঁওয়ের পুরোনো আড়ং, শান্তা টাওয়ার, তেজগাঁও-মহাখালী লিংক রোড, বিওয়াইডি শোরুম, রেইনবো ক্রসিং এবং হাতিরঝিল-মগবাজার ক্রসিং।

    আর ডিএসসিসির ২২টি আজিমপুর, নিউমার্কেট, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, ধানমন্ডি-৬, ধানমন্ডি-৭, কলাবাগান, রাসেল স্কয়ার, ধানমন্ডি-২৭, কাঁটাবন, বাটা সিগন্যাল, কাকরাইল, বিজয়নগর, ফকিরেরপুল, দৈনিক বাংলা মোড়, বঙ্গভবন, গুলিস্তান স্কয়ার, জিপিও, পল্টন মোড়, গ্রিন রোড, মগবাজার মোড়, মিন্টো রোড ও অফিসার্স ক্লাব ক্রসিংয়ে নতুন বাতি বসবে।

    নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, নতুন সিগন্যালব্যবস্থা ধাপে ধাপে সম্প্রসারণ করলে ফলাফল আরও ভালোভাবে মূল্যায়ন করা যেত। তবে আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনায় এ প্রযুক্তি প্রয়োজন। পাশাপাশি লেন ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য ট্রাফিক শৃঙ্খলাও নিশ্চিত করতে হবে।

    সিগন্যালে এআই ক্যামেরা চালুর কারণে চালকেরা জেব্রাক্রসিংয়ের আগেই থেমে আছেন। রাজধানীর বিজয় সরণি এলাকায় ফাইল ছবি

    কাজ শুরু নিয়ে দুই সিটির বক্তব্য

    নতুন সংকেতবাতি স্থাপনের কাজ কবে শুরু হবে, তা নিয়ে দুই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

    ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রাজিব খাদেম প্রথম আলোকে বলেন, দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই কাজ শুরু করা হবে।

    অন্যদিকে ডিএনসিসির ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী নাঈম রায়হান খান বলেন, দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। সেটি প্রক্রিয়াধীন আছে। প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

    ঢাকার দুই সিটির ট্রাফিক প্রকৌশল বিভাগ, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও বুয়েট যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

  • চাকরি গেল বিপ্লব, সুদীপ, ইকবাল, রুহানীসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তার

    চাকরি গেল বিপ্লব, সুদীপ, ইকবাল, রুহানীসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তার

    কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা ও পলায়নের অভিযোগে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার (ডিসি) ইকবাল হোসাইন, ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. গোলাম রুহানীসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

    আজ বুধবার (১২ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির (ভারপ্রাপ্ত) অনুমোদনের পর এ বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    বরখাস্ত হওয়া অন্য দুই কর্মকর্তা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস ও চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় সংযুক্ত থাকা কাজী আশরাফুল আজীম। গোলাম রুহানী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সহকারী সচিব হিসেবে প্রেষণে কর্মরত ছিলেন। রাজন কুমার দাস এপিবিএন, কক্সবাজারের উখিয়ায় কর্মরত ছিলেন।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অননুমোদিত অনুপস্থিতি ও পলায়নের অভিযোগে ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ছয় কর্মকর্তা কর্মস্থল থেকে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত হয়ে নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দেননি। পরে তাঁদের নোটিশ পাঠানো হলেও তাঁরা দায়িত্বে যোগদান করেননি এবং নিজেদের অবস্থান সম্পর্কেও কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেননি।

    অনুমোদন ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিতির মেয়াদ ৬০ দিনের বেশি হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিভাগীয় মামলায় বিধিমালার ৩(খ) ও ৩(গ) অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ আনা হয়।

    অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোনো জবাব দেননি। পরে অভিযোগ তদন্তের জন্য তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত শেষে প্রতিবেদনে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়।

    তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ছয় কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে তাঁদের দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও এবারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

    এরপর তদন্ত প্রতিবেদন, অভিযোগের ধরন ও গুরুত্বসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছায় এবং তাঁদের চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়।

    সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ ও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শকরণ) রেগুলেশনস, ১৯৭৯ অনুযায়ী চাকরি থেকে বরখাস্তের মতো গুরুদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ চাওয়া হয়। পরে পিএসসি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যেতে পারে বলে পরামর্শ দেয়।

    পুলিশের ১৯ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার রদবদল

    এরপর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৪(৬) বিধি অনুযায়ী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ছয় কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

  • ডিএসইতে আজ লেনদেন ১০৭৩ কোটি টাকা

    ডিএসইতে আজ লেনদেন ১০৭৩ কোটি টাকা

    দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) আজ সূচকের মিশ্র প্রবণতার মধ্যে ৩৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৮৫টি শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এসব লেনদেনের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৩ কোটি ৭৩ লাখ ৬ হাজার ৪৩৪ টাকা।

    বুধবার ডিএসইতে মোট ৩৮৫টি ইস্যুর মধ্যে ১১৯টির দাম বেড়েছে, ২৩১টির কমেছে এবং ৩৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

    এর মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরির ১৯৩টি ইস্যুর মধ্যে ৬০টির দর বেড়েছে, ১১৮টির কমেছে এবং ১৫টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। ‘বি’ ক্যাটাগরির ৭৪টি ইস্যুর মধ্যে ২৫টির দর বেড়েছে, ৪৭টির কমেছে এবং দু’টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

    ‘জেড’ ক্যাটাগরির ১১৮টি ইস্যুর মধ্যে ৩৪টির দর বেড়েছে, ৬৬টির কমেছে এবং ১৮টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। ‘এন’ ক্যাটাগরিতে আজ কোনো ইস্যু লেনদেন হয়নি।

    এদিকে মিউচুয়াল ফান্ডের ৩৪টি ইস্যুর মধ্যে মাত্র একটির দর বেড়েছে, ৩২টির কমেছে এবং একটির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। করপোরেট বন্ডের দু’টি ইস্যুর দু’টিরই দর কমেছে।

  • একাদশে ভর্তি আবেদন শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর

    একাদশে ভর্তি আবেদন শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর

    একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে এবারও পরীক্ষা নেই। ফলাফলের ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে। আবেদন শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে। ১০ নভেম্বরে মধ্যে ভর্তির কার্যক্রম শেষ করে আগামী ১২ নভেম্বর একাদশ শ্রেণিতে ক্লাশ শুরু হবে।

    কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ এবং মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

    ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, খসড়া সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণের সময় রাখা হয়েছে। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সেটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। যদি সেটি ঠিক থাকে, তাহলে সে অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু হবে।

    সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে (কলেজ ও মাদ্রাসা) ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। গতবার ভর্তি হয়েছিল মোট আসনের ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ খালি ছিল ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ। এ বছর পাশের হার আরও কমেছে। ফলে আসনসংখ্যা আরও বেশি শূন্য থাকবে।

    তবে মোট আসন খালি থাকলেও জিপিএ-৫ পেয়েও অনেকে তাদের কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে না। কারণ, তুলনামূলক ভালো প্রতিষ্ঠানে আসন কম। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন।

    গত কয়েক বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলা ফলের ভিত্তিতেই একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে শুধু কলেজ ও মাদ্রাসায় ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পৃথক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের প্রায় সব কলেজ ও মাদ্রাসায় এই পদ্ধতিতেই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়।

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে।

  • তিন ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

    তিন ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে ডিআইটি মার্কেট-সংলগ্ন এলাকায় ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি অস্থায়ী মেলাকে ঘিরে জনভোগান্তি, অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছিল। মেলার স্টল থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় এবং অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুবেল এবং কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে।

    ঈদের আগে শুরু হওয়া মেলাটি প্রায় আড়াই মাস ধরে চললেও কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট ঘোষণা নেই বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, মেলার কারণে ডিআইটি মার্কেট ও লক্ষ্মীবাজার এলাকার গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের পথের একটি বড় অংশ দখল হয়ে গেছে। এতে পথচারী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিয়মিত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

    বুধবার (১২ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, ডিআইটি মার্কেট-সংলগ্ন এলাকায় মেলার স্টল বসানো হয়েছে।

    মেলার এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সেখানে মোট চারটি স্টল রয়েছে। প্রতিটি স্টল থেকে প্রতিদিন ৩ হাজার ৩৫০ টাকা করে নেওয়া হয়।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার বলেন, ‘প্রতিদিন স্টল ভাড়া বাবদ ৩ হাজার ৩৫০ টাকা দিতে হয়। মেলা শুরুর পর থেকেই নিয়মিত এই টাকা নেওয়া হচ্ছে। ছাত্রদলের জসিম, রুবেল ও নাজমুল আমাদের মালিকদের কাছ থেকে টাকা নেন। আমরা তাদের টাকা দিয়ে থাকি।’

    ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মেলা পরিচালনার সঙ্গে কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের দাবি, তিন নেতার নেতৃত্বে প্রতিটি স্টল থেকে প্রতিদিন ৩ হাজার ৩৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। তবে এই অর্থ আদায়ের বৈধ অনুমোদন বা লিখিত নথি দেখাতে পারেননি ব্যবসায়ীরা।

    এলাকাবাসীর অভিযোগ, মেলায় ব্যবহৃত দোকানগুলোতে অনুমোদনহীনভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, যথাযথ অনুমোদন ছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

    মেলার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। লক্ষ্মীবাজার ও জনসন রোড সংযোগকারী এই পথ দিয়ে মহানগর মহিলা কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার্স গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সেন্ট গ্রেগরিজ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত যাতায়াত করেন।

    সেন্ট গ্রেগরিজ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এখানে কোচিং সেন্টার ছিল। মেলা ও মার্কেটের জায়গা দখলের কারণে কোচিং সেন্টারের কক্ষগুলো ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। পুরো মার্কেটই দখল করে নেওয়া হয়েছে।’

    সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থী ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, ‘এ ধরনের মেলা করতে হলে নির্ধারিত জায়গা ও নির্দিষ্ট সময় থাকা উচিত। প্রায় আড়াই মাস ধরে চলা মেলাটি দেখে মনে হচ্ছে, অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যেই এটি চালানো হচ্ছে।’

    ডিআইটি মার্কেটের পাশের এক ফুটপাত ব্যবসায়ী বলেন, ‘মেলার কারণে আমাদের ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক সময় আমাদের দোকানের সামনেও ভিড় জমে যায়।’

    অভিযোগের বিষয়ে কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমার নামে অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিত। আমরা এই এলাকায় রাজনীতি করি বলে একটি মহল আমাদের নামে এসব অভিযোগ দিচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছুই আমি জানি না।’

    সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুবেল বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে অবগত নই। আমরা বিষয়টি জানার পর তাদের আলটিমেটাম দিয়েছি। দোকান না সরালে আমরা গিয়ে ভেঙে দেব—এ কথা বলেছি। তাঁরা সম্ভবত দোকান উঠিয়ে চলে যাবে। তা না হলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

    সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনকে ফোন করা হলে তিনি একটি প্রোগ্রামে আছেন জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান।

    স্থানীয় বাসিন্দারা মেলার বৈধতা, অর্থ আদায়, অবৈধ দখল ও বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  • সমকামিতার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে ২ ছাত্র বহিষ্কার

    সমকামিতার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে ২ ছাত্র বহিষ্কার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রের বিরুদ্ধে সমকামিতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। অভিযোগ ওঠার পর তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন- আফিফ হাসান নীরব ও আরিফুল হক শুভ। আফিফ হাসান নীরব ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ। আরিফুল হক শুভ মার্কেটিং বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি নেত্রকোনা।

    এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেখ মুজিবুর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আহমেদ আল সাবাহ।

    তিনি জানান, শেখ মুজিবুর রহমান হলের ২০২৫-২৬ সেশনের দুজন আবাসিক ছাত্রের বিরুদ্ধে গুরুতর সামাজিক শৃঙ্খলাভঙ্গের (সমকামিতা) প্রমাণিত অপরাধের ভিত্তিতে কঠোরতম প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

    অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় তাদের হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। স্থানীয় অভিভাবকের উপস্থিতিতে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

    তিনি আরো জানান, বিষয়টি এখানেই শেষ নয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে আরো কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান। তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব বাতিলের বিষয়টিও যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে নিশ্চিতের প্রক্রিয়া চলমান।

    জানা গেছে, এ বিষয়ে প্রথম অভিযোগ এলে অভিযোগকারী ছাত্রের পক্ষে আদিষ্ট হয়ে প্রশাসন বরাবর শাস্তির আবেদন করেন হল সংসদের জিএস আহমেদ আল সাবাহ। পরে তদন্ত কমিটি গঠন হয় এবং ঘটনার অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যাওয়ার ফলে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হয়।

    এর আগে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মাস্টারদা সূর্য সেন হলে সমকামিতায় জড়ানোর অভিযোগে আটক হওয়া এক শিক্ষার্থীকে হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে তাকে তার বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টার জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

  • হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর  মৃত্যু; আক্রান্ত ১ হাজার ২৫

    হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু; আক্রান্ত ১ হাজার ২৫

    দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ২৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে।

    বুধবার (১২ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগেই ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে ঢাকা ও বরিশাল বিভাগে হামের উপসর্গে একজন করে মোট ২ শিশুর প্রাণহানি হয়েছে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৮৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৭৮৬ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৯৪১ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৩৯ হাজার ১২৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ১৭ হাজার ৪৬৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ২১ হাজার ১৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার ৮২৭ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

  • ২ কোটি ২৯ লাখ টাকায় আড়াইহাজারে ১০২ শতাংশ জমি কিনছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ

    ২ কোটি ২৯ লাখ টাকায় আড়াইহাজারে ১০২ শতাংশ জমি কিনছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ

    ভবিষ্যতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য ১০২ শতাংশ জমি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি।

    কোম্পানিটি জানিয়েছে, গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় জমি কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানার ব্রাহ্মন্দী-৩৭ মৌজায় ১০২ শতাংশ জমি কেনা হবে। জমিটির মোট ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

    ডিএসইর ঘোষণায় বলা হয়েছে, কোম্পানির নামে এই জমি কেনা হবে। জমির মালিক জামান মিয়া, মো. মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া ও অন্যদের কাছ থেকে এই জমি কেনা হবে। ভবিষ্যতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণে এ জমি ব্যবহার করা হবে।

    ডিএসইর ঘোষণায় আরও জানানো হয়, জমি নিবন্ধনের ভ্যাট, করসহ অন্য সব খরচ অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ বহন করবে।

    চলতি বছর নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার মদনপুরে সোয়া ১৯ শতাংশ জমি কিনেছে কোম্পানিটি। এই জমির মোট ক্রয়মূল্য ছিল পৌনে ৫৮ লাখ টাকা।

    ব্যবসা সম্প্রসারণের এই ঘোষণার জেরে আজ ডিএসইতে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের দাম বেড়েছে। আজ দিনের সর্বোচ্চ দাম ছিল ১৫৪ টাকা, সর্বনিম্ন দাম ১৫২ টাকা ৯০ পয়সা। কোম্পানিটি ২০২৫ সালে ৩০ শতাংশ, ২০২৪ সালে ১০ শতাংশ ও ২০২৩ সালে ৬০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে।

    ১৯৮৯ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানি হিসেবে এ শ্রেণিভুক্ত। দেশের বিস্কুট ও কনফেকশনারি পণ্যের বাজারের বড় হিস্যা আছে এই কোম্পানির। বাজারে এই কোম্পানির যেসব পণ্যের পরিচিতি আছে, সেগুলো হলো এনার্জি, নাটি, টিপ, লেক্সাসসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিস্কুট ও ব্যাটারি।

    গত অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের (জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬) অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৪১ পয়সা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যা ছিল ১০ টাকা ৬ পয়সা।

    বর্তমানে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের মোট শেয়ারের সংখ্যা ১৯ কোটি ৯৯ লাখ ৩৮ হাজার ৮৮৬টি। গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত হিসেবে কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৩৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। এ ছাড়া কোম্পানির ২২ দশমিক ৮৫ শতাংশ শেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ২৭ দশমিক ৫১ শতাংশ শেয়ার বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ১২ দশমিক ২৬ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে।

  • একমি ল্যাবরেটরিজের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসনিম সিনহা

    একমি ল্যাবরেটরিজের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসনিম সিনহা

    শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ খাতের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তাসনিম সিনহা।

    কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ জানিয়েছে, ১০ আগস্ট থেকে তাঁর এই নিয়োগ কার্যকর হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    ডিএসই জানিয়েছে, একমি ল্যাবরেটরিজের পরিচালনা পর্ষদের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাসনিম সিনহাকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

    কোম্পানি কর্তৃপক্ষের আশা, তাসনিম সিনহার নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতা একমি ল্যাবরেটরিজের ব্যবসার ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি, গুণগত মানের মানোন্নয়ন আর দেশি ও আন্তর্জাতিক বাজারে তার অবস্থান আরও সুসংহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি একমি ল্যাবরেটরিজ ২০১৬ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। শেয়ারবাজারে আজ একমি ল্যাবরেটরিজের শেয়ার সর্বশেষ লেনদেন হয় ৮৩ টাকা ৪০ পয়সা দরে।

    গত বছরের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য কোম্পানিটি ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। সর্বশেষ অনিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৯ টাকা ৪০ পয়সা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যা ছিল ১১ টাকা ৪৮ পয়সা।

    বর্তমানে শেয়ারবাজারে একমি ল্যাবরেটরিজের মোট শেয়ারের সংখ্যা ২১ কোটি ১৬ লাখ ১ হাজার ৭০০। গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত তথ্য অনুসারে, একমি ল্যাবরেটরিজের মোট শেয়ারের ৪০ দশমিক ৩৯ শতাংশ উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। ৩০ দশমিক ৫০ শতাংশ শেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে, ২৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারী আর শূন্য দশমিক শূন্য ২ শতাংশ শেয়ার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে।

  • ঢাকা আলিয়ায় ছাত্রদল-শিবির সমঝোতা, সহাবস্থানের সিদ্ধান্ত

    ঢাকা আলিয়ায় ছাত্রদল-শিবির সমঝোতা, সহাবস্থানের সিদ্ধান্ত

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজধানীর ঢাকা আলিয়া মাদরাসা ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিরসনে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে অতীতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরস্পরকে দোষারোপ না করে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও সহাবস্থান নিশ্চিত করার বিষয়ে একমত হয়েছেন দুই সংগঠনের নেতারা।

    রোববার (৯ আগস্ট) ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে মধ্যস্থতা করেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য মো. হামিদুর রহমান হামিদ এবং জামায়াতের পক্ষ থেকে মধ্যস্থতা করেন ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামাল হোসেন। এ সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন উপকমিশনার (ডিসি), মাদরাসার উপাধ্যক্ষ ও শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এস এম ফরহাদ এবং ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    বৈঠকে সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই সংগঠনের মধ্যে তৈরি হওয়া ভুল বোঝাবুঝি ও উত্তেজনা নিরসনের বিষয়ে আলোচনা হয়। ক্যাম্পাসে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সংঘাতের পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, সে বিষয়ে উভয় পক্ষের নেতারা মত দেন।

    বৈঠক শেষে এস এম ফরহাদ বলেন, অতীতে কী ঘটেছে, তা নিয়ে পরস্পরকে দোষারোপ না করে সামনে কীভাবে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা যায়, সেটিই আলোচনার মূল বিষয় ছিল। ক্যাম্পাসে সবাই যেন সহাবস্থান করতে পারে এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের সংঘাতের পরিবেশ তৈরি না হয়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

    তিনি বলেন, দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘাত থেকে সরে আসার বিষয়ে বৈঠকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছে। ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    বৈঠকে ঢাকা আলিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেসব শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের বিষয়গুলো প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

    এদিকে সমঝোতা বৈঠক শেষে ঢাকা আলিয়া মাদরাসা শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আব্দুল আলিমের সঙ্গে ছাত্রদলের এক নেতাকে কোলাকুলি করতে দেখা যায়। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা করতালি দিয়ে তাদের স্বাগত জানান।

    বৈঠকে উপস্থিত নেতারা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা থাকলেও তা যেন কোনোভাবেই সংঘাত বা শিক্ষার পরিবেশ নষ্টের কারণ না হয়। পারস্পরিক সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

  • ‘র’ প্রধান পরাগ জৈন ঢাকায়

    ‘র’ প্রধান পরাগ জৈন ঢাকায়

    দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে সরকারি সফরে বাংলাদেশে এসেছেন ভারতের বহিঃগোয়েন্দা গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈন। এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে গতকাল দুপুরে তিনি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

    একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে এই সফরে চার সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পরাগ জৈন। তবে এই সফরের বিষয়ে কোনো দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

    পরাগ জৈন ‘র’ বা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ বা এসপিজির স্পেশাল সেক্রেটারির দায়িত্বে আছেন। ঢাকা সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন অশ্বীন মুকুন্দ কোটনিস, রাহুল নেগি এবং শৈবাল রায় চৌধুরী।

    বাংলাদেশে আসার আগে পরাগ জৈন চীন সফর করেছেন বলেও জানিয়েছে সূত্রটি।

  • ৪৩০ কোটি টাকার প্রকল্পে ১৪ অডিট আপত্তি

    ৪৩০ কোটি টাকার প্রকল্পে ১৪ অডিট আপত্তি

    কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে নেওয়া ৪৩০ কোটি টাকার প্রকল্পে ধীরগতি, নির্মাণ ত্রুটি, তদারকির ঘাটতি ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার চিত্র উঠে এসেছে। একই সঙ্গে ১৪টি অডিট আপত্তিতে প্রায় ৩৪ কোটি ২৩ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়ম শনাক্ত হলেও দীর্ঘদিনেও সেগুলোর নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নেওয়া উদ্যোগটির কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) নিবিড় পরিবীক্ষণ সমীক্ষা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি হাওরাঞ্চলের আকস্মিক বন্যা, জলাবদ্ধতা, যোগাযোগব্যবস্থা ও নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের বাস্তবতা যথাযথভাবে বিবেচনায় না নেওয়ায় বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

    ‘কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর এলাকার নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করছে। ২০২০ সালের ১৬ জানুয়ারি একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পটির সংশোধিত ব্যয় ৪৩০ কোটি ১২ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। জুন ২০২৭ পর্যন্ত এর মেয়াদ নির্ধারিত রয়েছে। তবে মে ২০২৬ পর্যন্ত আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৫৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ, বিপরীতে বাস্তব অগ্রগতি ৭৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

    প্রকল্পের আওতায় ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলী উপজেলার ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঁচ ও ছয়তলা ভবন, ছাত্রাবাস-ছাত্রীনিবাস, বিজ্ঞানাগার, লাইব্রেরি ও আইসিটি ল্যাব নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ৩৬টি ভবনের মধ্যে মে ২০২৬ পর্যন্ত ১৪টির নির্মাণ শেষ হয়েছে। কিন্তু অনেক ভবনে প্রয়োজনীয় আসবাব, বিজ্ঞানাগারের সরঞ্জাম ও আইসিটি উপকরণ না থাকায় পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার শুরু করা যায়নি।

    নির্মাণকাজে ত্রুটি

    আইএমইডির সরেজমিন পরিদর্শনে কয়েকটি ভবনে নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অষ্টগ্রামের আব্দুল ওয়াদুদ উচ্চবিদ্যালয়ের ভবনে দৃশ্যমান ফাটল, অসমান প্লাস্টার, বাঁকা লিন্টেল এবং ইটের গাঁথুনিতে ফাঁকা অংশ পাওয়া গেছে। এসব ফাঁক দিয়ে পানি ঢুকলে ভবিষ্যতে লবণাক্ততা, প্লাস্টার খসে পড়া ও গাঁথুনির স্থায়িত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মিঠামইনের বিরাটী ও কাঞ্চনপুর উচ্চবিদ্যালয়ের ভবনে প্লাস্টারে হেয়ারলাইন ক্র্যাক এবং ছাদে পানি চুইয়ে পড়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে। অষ্টগ্রাম বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ছাত্রীনিবাসে ছাদের প্রয়োজনীয় ঢাল ঠিক না থাকায় বর্ষায় পানি জমার ঝুঁকি রয়েছে। টাইলস ও গাঁথুনির কাজেও নিম্নমানের ফিনিশিং ধরা পড়ে।

    নিকলী মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ সরকারি কলেজের ভবনের মূল কাঠামো সন্তোষজনক হলেও গ্রিল, ওয়েল্ডিং ও দরজার চৌকাঠের কাজে দুর্বলতা পাওয়া যায়। সমীক্ষা দল এসব ত্রুটির পেছনে অদক্ষ শ্রমিক ও দুর্বল তদারকিকে দায়ী করেছে।

    ১৪ অডিট আপত্তিতে ৩৪ কোটি টাকা

    প্রকল্পের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও গুরুতর অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মধ্যে ১৪টি অডিট আপত্তিতে ৩৪ কোটি ২৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার অনিয়মের বিষয় উঠে এসেছে। এর একটিও এখন পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়নি।

    অডিট পর্যবেক্ষণে অতিরিক্ত পাইল, রড ও কংক্রিট দেখিয়ে বিল নেওয়া, ব্যবহার না করা রডের মূল্য পরিশোধ, চুক্তির আগেই বিল দেওয়া, টেস্ট রিপোর্ট ছাড়া অর্থ ছাড় এবং স্পেসিফিকেশন-বহির্ভূত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিলম্বজনিত জরিমানা আদায় না করা, ভুয়া কারিগরি পরীক্ষার প্রতিবেদন গ্রহণ, পারফরম্যান্স সিকিউরিটির মেয়াদ না বাড়িয়ে বিল পরিশোধ এবং সরকারি ভ্যাট-রয়্যালটি আদায়ে ব্যর্থতার বিষয়ও অডিটে উঠে এসেছে।

    ভবন আছে, সরঞ্জাম নেই

    অবকাঠামো নির্মাণের সঙ্গে প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহের সমন্বয় না থাকাও প্রকল্পের অন্যতম বড় দুর্বলতা। আসবাবপত্রের ৩৬টি প্যাকেজের মধ্যে মে পর্যন্ত মাত্র ১৩টির কাজ শেষ হয়েছে। ১১টি চলমান এবং ১২টি মূল্যায়ন পর্যায়ে ছিল।

    আইসিটি সরঞ্জাম সংগ্রহে পরিস্থিতি আরো হতাশাজনক। ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ১৫টি প্যাকেজ নির্ধারণ করা হলেও সমীক্ষার সময় পর্যন্ত একটিরও দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। ফলে ল্যাবের কক্ষ তৈরি হলেও কম্পিউটারসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহের কার্যক্রম শুরু হয়নি। এছাড়া ভবন নির্মাণ শেষ হলেও কোথাও প্রয়োজনীয় বেঞ্চ-ডেস্ক, বিজ্ঞানাগারের সরঞ্জাম কিংবা অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রী না থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাচ্ছে না।

    হাওরের পরিবেশে টেকসই নিয়ে শঙ্কা

    হাওরাঞ্চলের আকস্মিক বন্যা, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা ও ঢেউয়ের কারণে ভবনগুলোর স্থায়িত্ব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা, ওয়াটারপ্রুফিং ও রিটেইনিং ওয়ালের ঘাটতি রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে জায়গার সংকটের কারণে প্রতিরক্ষামূলক অবকাঠামো আংশিক নির্মাণ করা হয়েছে।

    প্রকল্প শেষ হওয়ার পর ভবনগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কার্যকর কোনো এক্সিট প্ল্যান নেই। বড় ধরনের মেরামতের জন্য আলাদা তহবিলও রাখা হয়নি। ফলে ভবিষ্যতে এসব স্থাপনা কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

    দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ

    আইএমইডি দ্রুত অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি, নির্মাণকাজের ত্রুটি সংশোধন, বাকি ভবনগুলোর কাজ শেষ করা এবং আসবাবপত্র ও আইসিটি সরঞ্জাম সরবরাহের সঙ্গে অবকাঠামো নির্মাণের সমন্বয়ের সুপারিশ করেছে।

  • এসএসসি ও সমমানের ফল সকাল ১০টায়, পরীক্ষার্থীরা পাবে যেভাবে

    এসএসসি ও সমমানের ফল সকাল ১০টায়, পরীক্ষার্থীরা পাবে যেভাবে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আজ সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় প্রকাশ করা হবে। এ আয়োজনের উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    ফল প্রকাশ উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। একই সময়ে অনলাইন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফোনের এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন পরীক্ষার্থীরা।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ফল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শিক্ষামন্ত্রীর কাছে নিজ নিজ বোর্ডের পরীক্ষার ফল হস্তান্তর করবেন।

    বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, সোমবার সকাল ১০টায় একযোগে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে নিজ নিজ বোর্ডের ফল পাওয়া যাবে।

    এছাড়া অভিন্ন দুটি ওয়েবসাইট— eduboardresult.gov.bd ও educationboardresults.gov.bd থেকেও ফলাফল জানা যাবে। পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও ফল সংগ্রহ করতে পারবেন।

    মুঠোফোনে এসএমএসের মাধ্যমেও ফল জানার সুযোগ থাকছে। এ জন্য মেসেজ অপশনে গিয়ে ‘SSC’ লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, এরপর স্পেস দিয়ে রোল নম্বর এবং আরেকটি স্পেস দিয়ে পরীক্ষার বছর লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।

    ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের এসএমএসের ফরম্যাট হবে ‘SSC DHA ROLL YEAR’। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষার্থীদের জন্য ‘SSC MAD ROLL YEAR’ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের ‘SSC TEC ROLL YEAR’ লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। প্রতিটি এসএমএসের জন্য ১ টাকা ৩৯ পয়সা চার্জ দিতে হবে। এ চার্জের মধ্যে সব ধরনের কর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছেন। এর মধ্যে সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন।

    অন্যদিকে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় ফরম পূরণ করেছেন ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন।

    এদিকে ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আগামীকাল ১১ আগস্ট থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। আবেদন করা যাবে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত। বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির শনিবারের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফল প্রকাশের পর ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন নেওয়া হবে। আবেদন প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।

    শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রকাশিত ফল সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলো ওয়েবসাইটের ‘Result’ কর্নারে গিয়ে বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের ‘ইআইআইএন’ ব্যবহার করে ফল ডাউনলোড করে প্রকাশ করতে পারবে।

    এ ছাড়া পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডগুলোর কমন ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট এবং নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ফল সংগ্রহ করতে পারবেন। এসএমএসের মাধ্যমেও ১৬১৪০ অথবা ১৬২২২ নম্বরে ফল জানা যাবে।

  • উন্নত মানের আঁশ ও ভালো দামের আশা কৃষকদের

    উন্নত মানের আঁশ ও ভালো দামের আশা কৃষকদের

    একসময় খালটি ছিল মৃতপ্রায়। বছরের পর বছর পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষার পানিও সেখানে আর স্থায়ী হতো না। পানি না থাকায় পাট জাগ দেওয়া নিয়ে প্রতি মৌসুমেই চরম দুর্ভোগে পড়তেন স্থানীয় কৃষকরা। অনেককে কয়েক কিলোমিটার দূরে পুকুর ভাড়া নিয়ে কিংবা অন্যের জলাশয়ে অতিরিক্ত খরচ করে পাট পচাতে হতো। সেই দুর্ভোগ এখন অনেকটাই অতীত। সরকারি উদ্যোগে খাল পুনঃখননের পর এবার বর্ষার পানিতে থইথই করছে খাল। আর সেই পানিতেই দল বেঁধে মনের আনন্দে পাট জাগ দিচ্ছেন কৃষকরা। উন্নতমানের আঁশ ও ভালো দামের প্রত্যাশায় তাদের মুখে এখন স্বস্তির হাসি।


    ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ দক্ষিণপাড়া স্লুইসগেটসংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কয়েক সপ্তাহ আগেও যে খালটি ছিল আগাছা আর পলিতে ভরাট, এখন সেখানে টইটম্বুর পানি। খালের দুই তীরে সারি সারি লাগানো বনজ ও ফলজ গাছের চারা পুরো এলাকাকে দিয়েছে এক মনোরম রূপ। খালের পানিতে সারিবদ্ধভাবে ডুবিয়ে রাখা হয়েছে পাটের আঁটি। কেউ নতুন করে পাট নামাচ্ছেন, কেউ আবার পচা পাট তুলে আঁশ ছাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দীর্ঘদিন পর এমন দৃশ্য দেখে স্থানীয় প্রবীণরাও সন্তোষ প্রকাশ করছেন।


    বড়ভাগ গ্রামের কৃষক ইমদাদুল শেখ বাড়ির পাশের খালে পাট জাগ দিতে দিতে বলেন, ‘আগে পানির জন্য অনেক কষ্ট করতে হতো। অনেক দূরে নিয়ে গিয়ে পাট পচাতে হতো, এতে খরচও বেশি লাগত। এবার বাড়ির পাশেই খালে পাট জাগ দিতে পারছি। সময়ও বাঁচছে, খরচও কমছে। সরকারের এই উদ্যোগ আমাদের অনেক উপকার করেছে।’


    একই গ্রামের কৃষকরা জানান, আগে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় অনেক সময় পাট ঠিকমতো পচত না। এতে আঁশের মান খারাপ হতো এবং বাজারে কাঙ্ক্ষিত দামও পাওয়া যেত না। এবার সেই সমস্যা অনেকটাই দূর হয়েছে।
    মালা গ্রামের কৃষক কামরুল শেখ বলেন, ‘আমি এবার দেড় একর জমিতে পাট চাষ করেছি। আগে অন্যের পুকুর ভাড়া নিতে হতো। অনেক সময় সেচ দিয়ে পানি তুলে পাট জাগ দিতে হয়েছে। এতে অতিরিক্ত খরচ হতো। এবার খালেই সব কাজ করতে পারছি। এতে উৎপাদন খরচ কমেছে এবং ভালো আঁশ পাওয়ার আশা করছি।’


    স্থানীয়দের মতে, খাল পুনঃখননের সুফল শুধু পাট চাষেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বর্ষার পানি সংরক্ষণ হওয়ায় আগামী মৌসুমে সেচ সুবিধাও বাড়বে। পাশাপাশি মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল তৈরি হবে এবং এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যও সমৃদ্ধ হবে।
    টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিয়া আসাদুজ্জামান বলেন, ‘খাল পুনঃখননের কারণে কৃষি ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কৃষকরা সরাসরি এর সুফল পাচ্ছেন। এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে এলাকার কৃষি উৎপাদন আরও বাড়বে।’


    উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাগর হোসেন সৈকত বলেন, ‘প্রকল্পটি ছোট হলেও বাস্তবায়নে কোনো ধরনের শৈথিল্য ছিল না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।’


    আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথভাবে খালটি পুনঃখনন করা হয়েছে। এর সুফল ইতোমধ্যেই কৃষকরা পেতে শুরু করেছেন। এটি শুধু কৃষির উন্নয়নেই নয়, এলাকার জলাধার সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতেও জনস্বার্থ ও কৃষির উন্নয়নে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
    উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে এবং উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সম্প্রতি বড়ভাগ দক্ষিণপাড়া স্লুইসগেট থেকে মিলন মোল্যার বাড়ি পর্যন্ত ৫৭০ মিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ২৫ লাখ ৭৯ হাজার ১৪৮ টাকা।


    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় কাজের মান, স্বচ্ছতা এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের উপস্থিতি ও কাজের হিসাব-নিকাশ নিয়মিত যাচাই করা হয়। এতে শ্রমিক অনুপস্থিতিজনিত কারণে উদ্বৃত্ত থাকা ৩৭ হাজার ৩৭০ টাকা সরকারি বিধি অনুযায়ী কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • দুই বছর পর প্রকাশ্যে শামীম ওসমান, করলেন কর্মীসভা

    দুই বছর পর প্রকাশ্যে শামীম ওসমান, করলেন কর্মীসভা

    নারায়ণগঞ্জে ‘খেলা হবে’ স্লোগান দিয়ে রাজনৈতিক মাঠ গরম রাখা সেই শামীম ওসমানকে প্রায় দুই বছর পর আবার প্রকাশ্যে দেখা গেছে। তবে এবার নারায়ণগঞ্জের কোনো মিছিল-মিটিংয়ে নয়, হাজার মাইল দূরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের এক কর্মীসভায়।

    প্রতিপক্ষের উদ্দেশে আক্রমণাত্মক বিভিন্ন মন্তব্য ছুড়ে দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা এই সাবেক সংসদ সদস্যকে নিউইয়র্কের ওই সভায় বক্তব্য দিতে দেখা যায়।

    ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রকাশ্যে তার অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। দুই বছর পরে অবশেষে তাকে প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেখা গেল।

    সভায় নিজের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে অনেকটা আত্মসমালোচনার সুরেই কথা বলেন শামীম ওসমান। তিনি বলেন, ‘আমি ব্যর্থ।’ একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    শামীম ওসমানের বক্তব্যে অবশ্য পুরোনো রাজনৈতিক ‘খেলার’ প্রসঙ্গও ফিরে আসে। তিনি বলেন, কে বড় নেতা আর কে ছোট নেতা—এটি গুরুত্বপূর্ণ নয়; এখন প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ হওয়া।

    নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, অনেক আগেই তিনি দেশে কী হতে যাচ্ছে তা বুঝতে পেরেছিলেন। তার দাবি, তিনি ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখতেন। বিএনপিকে নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি।

    নিউইয়র্কের সভায় শামীম ওসমান দাবি করেন, তার রাজনৈতিক মনোযোগের মূল লক্ষ্য ছিল এমন গোষ্ঠী, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে মানে না। এ প্রসঙ্গে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা গোলাম আজমের নিষিদ্ধ হওয়ার প্রসঙ্গও টেনে আনেন। নিজের কার্যালয়ে দেশের বড় বোমা হামলার ঘটনাও স্মরণ করেন তিনি।

    এরপর আসে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের উত্তাল সময়ের প্রসঙ্গ। শামীম ওসমানের ভাষ্য অনুযায়ী, ২ আগস্ট রাতে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তখন তিনি সেনাবাহিনীকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া, কারফিউ প্রত্যাহার এবং নারায়ণগঞ্জে বড় ধরনের জনসমাবেশ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

    শামীম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জে তার দেড় থেকে দুই লাখ মানুষ জড়ো করার সক্ষমতা ছিল। আশপাশের এলাকাতেও খবর পাঠানোর কথা বলেছিলেন তিনি। তার ভাষ্য, আওয়ামী লীগের শক্তির উৎস ছিল জনগণ। তবে সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধের আশঙ্কায় শেখ হাসিনা রক্তপাত এড়াতে চেয়েছিলেন।

    ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় শামীম ওসমানসহ ওসমান পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে। ওই সময় সংঘর্ষ ও গুলিতে শিশু রিয়া গোপসহ বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হন। এসব ঘটনায় শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগও ওঠে।

    ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির আলোচিত-সমালোচিত এই নেতাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এরপর তিনি দেশ ছাড়েন এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সময়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

    এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শামীম ওসমানসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে বিচার চলমান রয়েছে।

    তবে নিউইয়র্কের কর্মীসভায় শামীম ওসমানের উপস্থিতি নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে, দীর্ঘদিন পর তাকে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে দেখা যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া।

  • সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন গ্রেফতার

    সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন গ্রেফতার

    বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় অভিনেতা ডন হককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার।

    তিনি বলেন, বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরপর সিআইডির একটি টিম এসে ডনকে নিয়ে যায়। সিআইডিতে একটি মামলা চলমান। তারা তদন্ত করছেন।

    সালমান শাহর মৃত্যুর ২৯ বছর পর আদালত হত্যা মামলা পরিচালনার নির্দেশ দেন গত বছর। ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এ আদেশ দেন।

    পুরোনো নথি থেকে দেখা যায়, একাধিক তদন্ত সংস্থার হাত ঘুরে সালমান শাহের মৃত্যু রহস্য উদ্ঘাটনে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটি প্রতিবেদন দেয়, সালমান শাহের মৃত্যু আত্মহত্যাজনিত। তবে তার পরিবার ও ভক্তরা তা মানতে পারেননি।

    এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খল চরিত্রের অভিনয়শিল্পী ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে জল্পনা চললেও তদন্তের জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি।

  • কাল এসএসসি ফল প্রকাশ, রেজাল্ট জানবেন যেভাবে

    কাল এসএসসি ফল প্রকাশ, রেজাল্ট জানবেন যেভাবে

    শিক্ষা ডেস্ক:

    চলতি বছরের এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ১০ আগস্ট সোমবার প্রকাশ করা হবে। ফল প্রকাশের পর পরীক্ষার্থীরা তিনটি পদ্ধতিতে নিজেদের ফল জানতে পারবেন। শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট, মোবাইলের এসএমএস এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক রেজাল্ট শিটের মাধ্যমে ফল দেখার সুযোগ থাকবে।

    বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    ওয়েবসাইটে ফল দেখার নিয়ম

    প্রথমে শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট educationboardresults.gov.bd-এ প্রবেশ করতে হবে। এরপর পরীক্ষার ধরন হিসেবে SSC/Dakhil নির্বাচন করে পরীক্ষার বছর দিতে হবে। পরে সংশ্লিষ্ট বোর্ড, রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখে ক্যাপচা পূরণ করতে হবে। সবশেষে Submit-এ ক্লিক করলে ফলাফল দেখা যাবে।

    এসএমএসে এসএসসি ফল

    মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে SSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর, এরপর রোল নম্বর ও পরীক্ষার বছর লিখে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে।

    উদাহরণ:
    SSC jas 123456 2026

    কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরতি এসএমএসে ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হবে।

    দাখিল পরীক্ষার্থীদের জন্য ফল জানতে আগে প্রিরেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে Dakhil লিখে বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর, রোল নম্বর ও বছর উল্লেখ করে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে।

    উদাহরণ:
    Dakhil MAD 123456 2026

    ফল প্রকাশের পর প্রিরেজিস্ট্রেশন করা মোবাইল নম্বরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফল পাঠানো হবে।

    কারিগরি শিক্ষার্থীরা এসএমএসে SSC লিখে বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর, রোল নম্বর ও বছর দিয়ে 16222 নম্বরে পাঠালে ফল জানতে পারবেন।

    উদাহরণ:
    SSC TEC 123456 2026

    প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফল দেখার পদ্ধতি

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ রেজাল্ট শিট পেতে শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে গিয়ে রেজাল্ট কর্নারে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের EIIN নম্বর দিতে হবে। এরপর প্রতিষ্ঠানটির ফলাফলের তালিকা ডাউনলোড করা যাবে।

    ফলে ১০ আগস্ট ফল প্রকাশের পর পরীক্ষার্থীরা নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী ওয়েবসাইট, এসএমএস কিংবা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক রেজাল্ট শিটের মাধ্যমে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষার ফল সংগ্রহ করতে পারবেন।

  • ঢাবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি যেকোনো সময়,

    ঢাবি ছাত্রদলের নতুন কমিটি যেকোনো সময়,

    শিক্ষা ডেস্ক:

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার নতুন কমিটিও যেকোনো সময় ঘোষণা হতে পারে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত হওয়ায় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট হিসেবে বিবেচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নিয়েও জোর আলোচনা চলছে। দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, চলতি সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে ঢাবি শাখার নতুন কমিটিও ঘোষণা হতে পারে।

    ২০২৪ সালের মার্চে গণেশ চন্দ্র রায় সাহসকে সভাপতি এবং নাহিদুজ্জামান শিপনকে সাধারণ সম্পাদক করে এক বছরের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন কমিটি গঠনের আলোচনা শুরু হলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কারণে তা পিছিয়ে যায়।

    শীর্ষ পদে একাধিক নেতা আলোচনায়

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক নেতা আলোচনায় রয়েছেন। ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম খান, গাজী মোহাম্মদ আল-আমীন ও সহসাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসানের নাম সম্ভাব্য শীর্ষ নেতৃত্ব হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

    এ ছাড়া ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের বিজয় একাত্তর হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বি এম কাওসার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফ খান ও আলমগীর হোসেন আলমের নামও রয়েছে আলোচনায়।

    ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে যুগ্ম সম্পাদক বজলুর রহমান বিজয় এবং আবিদুল ইসলাম খান; ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু হায়াত মো. জুলফিকার জেসান, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক মাহমুদুল হাসান এবং প্রচার সম্পাদক তানভীর হাসানের নাম সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় রয়েছে।

    এ ছাড়া ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের আপ্যায়ন সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মেহেদী হাসান এবং মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক সৈয়দ ইমাম হাসান অনিকও নেতৃত্বের দৌড়ে রয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

    আন্দোলনে ভূমিকা ও সাংগঠনিক দক্ষতায় গুরুত্ব

    ছাত্রদলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের ভাষ্য, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত শিক্ষার্থী ও বিতর্কমুক্ত নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়েও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব গুরুত্ব দিচ্ছে।

    এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমার কাছে অফিসিয়ালি কমিটির তথ্য নেই। তবে সংগঠনের গতিশীলতার স্বার্থে পরিবর্তন আসতেই পারে। এটি একটি স্বাভাবিক ও চলমান প্রক্রিয়া।’

    ত্যাগী ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব চান নেতাকর্মীরা

    বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখা ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। একই সঙ্গে নতুন কমিটি গঠনে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রভাব যেন না থাকে, সে প্রত্যাশাও রয়েছে তাদের।

    পদপ্রত্যাশী ও বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম খান বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমানের মূল লক্ষ্য হলো মেধা, ত্যাগ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির সমন্বয়। নেতার লক্ষ্য বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে পারবে এবং একই সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে অনুকরণীয় ও নির্ভরযোগ্য নেতৃত্ব—এমন নেতৃত্বই আমাদের প্রত্যাশা।’

    সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু হায়াত মো. জুলফিকার জেসান বলেন, ‘দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের গণতন্ত্র ও শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে যারা সাহসিকতার সঙ্গে রাজপথে থেকেছেন এবং জেল-জুলুম, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের অবদান মূল্যায়নের সময় এসেছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যাদের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে এবং যারা ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সংগঠনের প্রতি সর্বোচ্চ নিষ্ঠা, ত্যাগ ও কমিটমেন্টের পরিচয় দিয়েছেন, তারাই নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সংগঠন ত্যাগ, যোগ্যতা, গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার সমন্বয়ে এমন নেতৃত্বই বেছে নেবে, যারা আগামী দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলকে আরও শক্তিশালী ও শিক্ষার্থীবান্ধব সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে।’

    আরেক পদপ্রত্যাশী ও যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলম বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের একচ্ছত্র আধিপত্যের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদলের সম্পর্ক প্রত্যাশিতভাবে গভীর হতে পারেনি। তাই শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম এবং বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সর্বোচ্চ অবদান রাখা নেতৃত্বই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের জন্য প্রয়োজন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘যারা ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে সংগঠনের স্বার্থকে প্রাধান্য দেন, তাদের নেতৃত্বে ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে।’

    দলীয় সূত্র বলছে, কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন নেতৃত্বের নামও প্রকাশ করা হতে পারে। ফলে নতুন কমিটি ঘিরে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

  • সালথায় পাট শুকানোর বাঁশের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১৫

    সালথায় পাট শুকানোর বাঁশের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১৫

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ফরিদপুরের সালথায় পাট শুকানোর জন্য বাঁশের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কয়েকটি বসতবাড়ি ও একটি দোকানে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।

    সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৮ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের জুগিকান্দা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুগিকান্দা গ্রামের বশির মাতুব্বরের বসতবাড়ির পাশে একটি মসজিদের সামনে পাট শুকানোর জন্য বাঁশ দিয়ে আড়া বাঁধেন হবি মেম্বারের সমর্থক হাবিবুর রহমান। এতে মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হলে মুসল্লিরা বাঁশের ওই আড়া খুলে দেন।

    এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হবি মেম্বারের সমর্থকরা বশির মাতুব্বরকে আড়া খুলে ফেলার জন্য দায়ী করেন। একপর্যায়ে তারা বশির মাতুব্বরের বাড়িতে হামলার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের লোকজন জড়ো হন। পরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

    সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ সময় কয়েকটি বসতবাড়ি ও একটি দোকানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। আহতদের মধ্যে গুরুতর কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    হবি মেম্বারের সমর্থক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘পাটের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।’ তবে আহতের বিষয়ে তিনি জানান, তাদের গ্রুপের চার-পাঁচজন আহত হয়েছেন।

    বশির মাতুব্বর বলেন, ‘বাঁশের আড়া খোলার সাথে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও আমাকে দায়ী করে আমার বসতবাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় আমার স্ত্রীসহ কয়েকজন আহত হন। বর্তমানে আমার স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।’

    সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  • গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগের গোপন বৈঠক : গ্রেফতার চৌগাছার ৬ জন রিমান্ডে

    গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগের গোপন বৈঠক : গ্রেফতার চৌগাছার ৬ জন রিমান্ডে

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    রাজধানীর গুলশানে একটি রেস্তোরাঁয় গোপন বৈঠককালে গ্রেফতার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ছয়জনের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার একটি আদালত।

    তারা হলো মো: মেহেদী মাসুদ চৌধুরী (৫৫), এস এম রেজওয়ান হাবিব আলিফ (৩৩), মো: নান্নু মিয়া (৩৮), মো: আমিনুর রহমান (৪২), সজল আহমেদ (২৯) ও মো: ইব্রাহিম হোসেন (৩৩)।

    আজ শনিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রকিবুল হাসান তাদের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    বনানী থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, শুক্রবার গুলশান থানাধীন গুলশান-১, পুলিশ প্লাজা কনকর্ড শপিংমলের পঞ্চমতলার ফুড কোর্টে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নির্বাচিত সরকারের ভাবমূর্তি নস্যাৎ করাসহ নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে গোপন পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রের জন্য সভা করছিলেন।

    তারা দীর্ঘদিন যাবৎ গুলশান থানা এলাকায় নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে গোপন পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করে আসছিলেন। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাদের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

  • দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাই দেশকে এগিয়ে নিতে পারে: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি

    দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাই দেশকে এগিয়ে নিতে পারে: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীল চর্চাই দেশ ও সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। তিনি বলেন, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ এবং গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অপতথ্য ও ভুয়া সংবাদের ভিড়ে সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে সাংবাদিকদের স্বাধীন, অনুসন্ধানী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) অডিটোরিয়ামে ‘গণমাধ্যম বিষয়ক তিন মাস মেয়াদি সার্টিফিকেট কোর্স ২০২৬’-এর নতুন ব্যাচের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সমাজকে সঠিক পথ দেখাতে পারে, অন্যদিকে অসত্য তথ্য ও গুজব মুহূর্তেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। তাই সাংবাদিকতার গুণগত মান, তথ্যের সত্যতা যাচাই ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়, এটি একটি সামাজিক অঙ্গীকার ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এআইয়ের যুগে সাংবাদিকতার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের প্রযুক্তি ও নতুন জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে ভিসি বলেন, ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কোর্সেই সেশনজট থাকবে না। একাডেমিক কার্যক্রমে গতি আনা, সিলেবাস আধুনিকায়ন এবং শিক্ষার্থীদের সময়োপযোগী দক্ষতা অর্জনে ব্যাপক কার্যক্রম চলছে। বিশ্বমানের দক্ষতাভিত্তিক কোর্স চালু, কারিকুলাম আধুনিকায়ন এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে শিক্ষা উন্নয়নে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, চতুর্থ ও পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গতানুগতিক সিলেবাস পরিবর্তন করে দক্ষতাভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কারিকুলাম প্রণয়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মনন ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে ‘পারফর্মিং আর্টস কলেজ’ স্থাপনের উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ড. আমানুল্লাহর গতিশীল নেতৃত্বে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নতুন উচ্চতায় এগিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের সেশনজট কাটিয়ে একাডেমিক কার্যক্রমে গতি ফিরছে। শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও বিশ্বমানের কোর্স-কারিকুলাম প্রণয়নেও তিনি কাজ করছেন।

    পিআইবির সহযোগী অধ্যাপক মনিরা শরমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের পক্ষ থেকে দুজন বক্তব্য দেন। এ সময় পিআইবির সমন্বয়ক, উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি ও প্রশিক্ষণার্থী সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • চাকরি পেলেন জুলাইয়ের শহীদ ও আহত পরিবারের ১০ জন

    চাকরি পেলেন জুলাইয়ের শহীদ ও আহত পরিবারের ১০ জন

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাইয়ের শহীদ ও আহত পরিবারের ১০ সদস্যের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন।

    আজ শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের হাতে প্রধানমন্ত্রী চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন।

    প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানিয়েছেন।

    চাকরির নিয়োগপত্র প্রাপ্তরা হলেন শহীদ মো: সোহাগের স্ত্রী সাবিনা আক্তার রিমা, শহীদ মো: শাহরিয়ারের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন, শহীদ মো: আব্দুল্লাহ কবিরের স্ত্রী আফসানা আক্তার, শহীদ মো: মোস্তফা কামাল রাজুর স্ত্রী আকলিমা আক্তার, শহীদ মো: জুয়েলের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণা, শহীদ মিরাজের বোন সামিয়া ইসলাম পপি, শহীদ আহসান কবিরের স্ত্রী হাফিজা আক্তার হ্যাপি এবং শহীদ ওমর নুরুল আবছারের স্ত্রী ফারজানা আক্তার রাণী এবং গুরুতর আহত মো: আব্দুল মতিনের স্ত্রী সাবানা আক্তার এবং গুরুতর আহত মো: জুলফিকার আলমের স্ত্রী মোছা: আরজু আক্তার।

    উপ-প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী জুলাই শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের চাকরির নিয়োগপত্র দিয়েছেন। তাদের সাথে কথা বলেছেন এবং পরিবারের খোঁজ-খবর নিয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মানুষের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘এসব আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে দেশের মানুষ আরো ভালোভাবে বসবাস করতে পারবে।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের আমরা হারিয়েছি, যারা শারীরিকভাবে আহত হয়েছেন কিংবা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের সবার আত্মত্যাগের পেছনে একটি আকাঙ্ক্ষা ছিল, সেটি হলো বাংলাদেশকে আরো ভালো করা।’

    রাষ্ট্র ও সরকারের নানা সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দেশকে বাস্তবতার নিরিখে এগিয়ে নিতে হবে। আমরা কী পেলাম, সেটিই সবচেয়ে বড় কথা নয়। বরং আমরা দেশকে কী দিতে পারলাম, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে পারলে আগামী দিনে আমরা যে বাংলাদেশ চাই, সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’

    জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।

    অনুষ্ঠানে সম্প্রতি চাকরিতে যোগ দেয়া শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা ও আহত জুলাই যোদ্ধা সোহেলি তামান্নাও উপস্থিত ছিলেন এবং তারাও প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করেন।

    শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধারা চাকরির নিয়োগপত্র পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বলে জানান উপ-প্রেস সচিব।

    অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন।

  • আল মাহমুদ; লোকজ জীবনের মহাকাব্যিক কথক

    আল মাহমুদ; লোকজ জীবনের মহাকাব্যিক কথক

    তিতাস থেকে বুড়িগঙ্গাছেলেটি চঞ্চল। মন ডানপিটে। গ্রামের পথে হাঁটে। পাখির ডাক শোনে। কাদার গন্ধ শোঁকে। এই ছেলেটির হৃদয়ে গেঁথে গেল গ্রামীণ রূপকথা। রক্তে মিশে গেল লোকজ মিথ। বাবা গান ভালোবাসেন। আবার দাদুর মুখে শুনতেন জারিগান। এভাবেই গড়ে ওঠে এক কিশোরের মনোজগৎ।তারপর এলো ঝড়ের দিন। দেশ ভাগ হয়। শুরু হয় ভাষা আন্দোলন। চারদিকে স্লোগান। কিশোর মাহমুদ মিছিলে নামে। পুলিশ তাকে খোঁজে। সে বাড়ি ছাড়ে।

    শুরু হয় এক যাযাবর জীবন। কিন্তু পকেটে কবিতা আর বুকে শব্দ। এই মানুষটিই বাংলাদেশের অনন্য কবি– আল মাহমুদ।
    সময় যেতে থাকে। কবির ভাবনা ডানা মেলে। এভাবে একদিন তিনি পা রাখেন ঢাকা দক্ষিণের প্রবেশদ্বার সদরঘাটে। গা ছুঁয়ে যায় বুড়িগঙ্গার বাতাস। হাতে ভাঙা সুটকেস। পকেটে পয়সা নেই। কিন্তু চোখ ভরা স্বপ্ন।

    সদরঘাটে যখন তাঁর প্রথম পায়ের দাগ পড়ে, সেই সময়টা ছিল গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশক। ১৯৫৪ সাল। ঢাকা তখন এক অচেনা নগরী। শহরটা তাঁকে ভয় দেখায়। তিনি ভয় পান না। বরং ঘুরে বেড়ান শহরের গলিপথ ধরে।

    সাংবাদিকতা
    অবশেষে আশ্রয় হয় পত্রিকার অফিসে। খাবারের অভাব। কিন্তু কবিতা লিখে যান নিরবধি। তখনকার ঢাকা ছিল সাহিত্যের আড্ডাখানা। বিউটি বোর্ডিংয়ের প্রাণ। তরুণ মাহমুদ সেখানে যান। চোখে চশমা। মুখে কবিতা। গ্রামীণ শব্দ দিয়ে কবিতা গাঁথেন। কবিরা চমকে ওঠেন। সম্পাদকেরা মুগ্ধ হন।

    এক কবির বুকে শব্দের আগুন। হাতে এক সব্যসাচী কলম। সাপ্তাহিক ‘কাফেলা’ পত্রিকায় লেখার মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁর সাংবাদিক জীবন। একই সময় ‘দৈনিক মিল্লাত’ পত্রিকায় প্রুফ রিডার হিসেবে কাজ করেন। পরে ‘কাফেলা’ পত্রিকার সম্পাদক হন। তারপর ইত্তেফাক পত্রিকার প্রুফ রিডার। কিছুদিন পর ইত্তেফাকের সহসম্পাদক। মাঝে কিছুদিন চট্টগ্রাম ‘বইঘর’ প্রকাশনীর সঙ্গে যুক্ত হন। ষাটের দশকজুড়ে তাঁর সংবাদপত্রে বিচরণ। ১৯৬৯ সালে আবার তিনি ‘ইত্তেফাক’-এর সহকারী সম্পাদক হন। জীবনের শেষ প্রান্তে ‘দৈনিক সংগ্রাম’-এর সহকারী সম্পাদক হন। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক কর্ণফুলী’ পত্রিকা সম্পাদনা করেন। এভাবে প্রুফ রিডার থেকে শুরু করে প্রধান সম্পাদকের চেয়ার পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল তাঁর এক আপসহীন, নান্দনিক সাংবাদিক জীবন।

    শিল্প-সাহিত্য

    ধীরে ধীরে কবি বিশাল সাহিত্য সম্ভারে আলোকিত হন। গল্প, কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, শিশুসাহিত্য, আত্মজীবনী, সাক্ষাৎকার, সাংবাদিকতাসহ নানা অনুষঙ্গে জীবনকে সমৃদ্ধ করেন। লোক লোকান্তর, কালের কলস, সোনালী কাবিনসহ ১২টিরও বেশি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। পানকৌড়ির রক্ত, সপ্তর্ষি, প্রিয় পঞ্চমীসহ তাঁর রয়েছে প্রায় ছয়টি গল্পগ্রন্থ। উপমহাদেশ, কাবিলের বোন, কবি ও কোলাহলসহ লিখেছেন প্রায় ১২টি উপন্যাস। এখানেই শেষ নয়, যেভাবে বেড়ে উঠি, বিচূর্ণ আয়নায় কবির মুখ এবং যে পারো ভুলিয়ে দাওসহ লিখেছেন চারটি আত্মজীবনী। এ ছাড়া পাখির কাছে ফুলের কাছে, ময়নামতির নেকলেস, বাতাসের নূপুরসহ ১০টিরও বেশি শিশু-কিশোর গ্রন্থ রয়েছে তাঁর।

    সাক্ষাৎকার
    বাংলা সাহিত্যে সাক্ষাৎকার প্রদানে কবি আল মাহমুদ সম্ভবত রেকর্ড করেছেন। তিনি প্রায় চার দশকে অসংখ্য সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সরদার আবদুর রহমান তাঁর ৬০টি সাক্ষাৎকার নিয়ে একটি বই করেছেন। বাংলা সাহিত্যে আর কোনো কবি, সাহিত্যিক এত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বলে জানা নেই। বিভিন্ন পত্রিকায় কলাম, প্রবন্ধ ও ভ্রমণ কাহিনি লিখেছেন।

    কাব্যগ্রন্থ

    ১৯৬৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘লোক লোকান্তর’। বাংলা সাহিত্যে এ যেন এক নতুন সুর। বাংলা কবিতার বাঁকবদল। ‘লোক লোকান্তর’ নাগরিক কবিতা নয়। মাটির গান। নদী ও নারীর উপাখ্যান। কবির জীবনের বহিঃপ্রকাশ।

    ‘আমার চেতনা যেন এক শাদা সত্যিকার পাখি,
    বসে আছে সবুজ অরণ্যে এক চন্দনের ডালে;…,
    লোক থেকে লোকান্তরে আমি যেন স্তব্ধ হয়ে শুনি
    আহত কবির গান। কবিতার আসন্ন বিজয়।’

    কবি আল মাহমুদের কবিতায় প্রকৃতি ও মানুষের মন এক হয়ে যায়। কবির ভাবনায় চেতনা বিমূর্ত নয়। এটা এক রহস্যময় পাখি। চন্দনের ডাল, সবুজ অরণ্য, লতা আর পরাগের গন্ধ, এসব কবির আত্মার প্রতিধ্বনি। প্রকৃতির এই মায়া কবিকে মুক্তির স্বাদ দেয়। সংসার, সমাজ, ধর্ম, লোকালয়, মানুষকে আড়ষ্ট রাখে। চেতনার পাখি ডানা মেললেই উন্মুক্ত প্রকৃতি। এটা রহস্যময় এক অন্তর্জগৎ। যেখানে কেবলই সুন্দরের বাস। শত প্রতিকূলতার মাঝেও শিল্পের জয় হয়। এই কবিতা তারই ঘোষণা।

    এখানে আহত কবি মানে সেই স্রষ্টা, যিনি যন্ত্রণা বহন করেন। কিন্তু তাঁর কণ্ঠেই জন্ম নেয় সৌন্দর্য। অরণ্যের নীরবতায় দাঁড়িয়ে কবি শোনেন সুন্দরের আহ্বান। তাই এই কবিতা প্রকৃতির ছবি। এটি আত্মার জাগরণ। সৌন্দর্যের বিস্ময়। কবিতার এক অপূর্ব নান্দনিক উপাখ্যান।

    কালের কলস প্রকৃতির এই নিবিড় পাঠ ও অন্তর্জগতের মায়াবী সীমানা পেরিয়ে কবি দৃষ্টি ফেরান মহাকালের দিকে। ‘লোক লোকান্তর’ গ্রন্থের আত্মার জাগরণ আর কবিতার নান্দনিকতা সঙ্গী করে ১৯৬৬ সালে রচনা করেন এক অপূর্ব কাব্যগ্রন্থ ‘কালের কলস’।

    অনিচ্ছায় কতকাল মেলে রাখি দৃশ্যপায়ী তৃষ্ণার লোচন
    ক্লান্ত হয়ে আসে সব, নিসর্গও ঝরে যায় বহুদূর অতল আঁধারে
    আর কী থাকলো তবে হে নীলিমা, হে অবগুণ্ঠন
    আমার কাফন আমি চাদরের মত পরে কতদিন আন্দোলিত হবো
    কতকাল কত যুগ ধরে
    দেখবো, দেখার ভারে বৃষের স্কন্ধের মতো নুয়ে আসে রাত্রির আকাশ?

    এক কাব্যগ্রন্থের মধ্য দিয়ে কবি বাংলা কবিতার লোকজ শব্দ, গ্রামীণ মাঠ, ঘাট, পরিবেশ, প্রকৃতি ও নাগরিক জীবনের এক অনন্য সমন্বয় করেছেন। ‘কালের কলস’ সময় ও জীবনের গভীরে নামার এক কাব্যিক অভিযাত্রা। চারপাশের চেনা পৃথিবী, নিসর্গ যেন এক অতল অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে। জীবনের সব কোলাহল ক্ষীণ হয়ে আসছে। এই গ্রন্থের প্রতিটি কবিতা যেন সময়ের চিরন্তন সংগ্রাম, স্বপ্ন, আত্মপরিচয়ের নিরন্তর অনুসন্ধান। কবি তাঁর ভাবনা উচ্চারণ করেন, শিল্পে রূপ দেন। তারপর শব্দের ভেতর জ্বেলে দেন অনুভূতির দীপশিখা। এখানেই এই কাব্যগ্রন্থের শিল্পসৌন্দর্য, গভীরতা এবং দীর্ঘস্থায়ী আবেদন।
    সোনালী কাবিন, কালের কলস গ্রন্থের পর এবার কবির অভিযাত্রা যেন বৃহত্তর কোনো পূর্ণতার দিকে। এই অন্বেষণই তাঁকে বাংলার শিকড় ও মাটির কাছে নিয়ে যায়। এর চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটে তাঁর ‘সোনালী কাবিন’ কাব্যগ্রন্থে।

    তখন ১৯৭৩ সাল। প্রকাশ হলো তাঁর মহাকাব্যিক সৃষ্টি ‘সোনালী কাবিন’। এটি বাংলা সাহিত্যের এক চিরন্তন সম্পদ। তিনি লোকজ ভাষাকে করেন সর্বজনীন। কামনার আগুনকে শিল্পের রূপ দেন। তিনি লেখেন–

    আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বণ্টন,
    পরম স্বস্তির মন্ত্রে গেয়ে ওঠো শ্রেণির উচ্ছেদ,…
    তারপর তুলতে চাও কামের প্রসঙ্গ যদি নারী
    ক্ষেতের আড়ালে এসে নগ্ন করো যৌবন জরদ,…।

    আল মাহমুদের ‘সোনালী কাবিন’ বাংলা সাহিত্যের এক চিরন্তনী কাব্য। এখানে ইতিহাস ও মাটির গন্ধ আছে। তিনি গ্রামীণ প্রেমকে এক ঐশ্বরিক রূপ দিয়েছেন। এখানে কবি নগরের কৃত্রিমতা ভেঙে শিকড়ের টানে ফিরেছেন। অপূর্ব শব্দমালায় গেঁথেছেন কাম ও প্রেম। এই কবিতা এক শাশ্বত মিলনের ঘোষণা। এই মিলন শহুরে ঐশ্বর্য বা যৌতুকের বিনিময় নয়। কবির কাবিন হলো প্রকৃতির দান।

    তিনি নদী, পলিমাটি আর শস্যের বিনিময়ে নারীকে আপন করতে চান। কবির কাছে প্রেম কোনো বিলাসিতা নয়। বেঁচে থাকার সংগ্রাম। গ্রামীণ বধূর আঁচলে লুকিয়ে থাকে বাংলার হাজার বছরের সংস্কৃতি। সামন্তবাদী শোষণের বিরুদ্ধে কবি দ্রোহী। ‘সোনালী কাবিন’ প্রেমের কবিতা নয়, এটি মাটির বুকে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিচ্ছবি।

    গল্প
    কবি আল মাহমুদ বাংলা কবিতার প্রাণ। আবার সেই তিনিই এক মায়াবী কথাসাহিত্যিক। তখন ১৯৭৫ সাল। চারদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই লেখেন ছোটগল্পের বই ‘পানকৌড়ির রক্ত’। এ বইয়ের প্রথম গল্পটির নামও ‘পানকৌড়ির রক্ত’।

    বাংলা সাহিত্যে আক্তারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘নিরুদ্দেশ যাত্রা’, শাহেদ আলীর ‘জিব্রাইলের ডানা’, আলাউদ্দিন আল আজাদের ‘বৃষ্টি’সহ কিছু কালজয়ী গল্প আছে। তেমনি কবি আল মাহমুদের ‘পানকৌড়ির রক্ত’ও এক কালজয়ী গল্প। এটি বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য সম্পদ।

    কবি সদ্য বিবাহিত। তাঁর মনে এক অন্য ঝড়। কুমারী নারীর প্রতি আদিম তৃষ্ণা। অথচ নিয়তির পরিহাস! স্ত্রী আদিনার শরীরে তখন ঋতুচক্রের রক্তধারা। মিলনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা বিফল।

    এই কামনার আগুনে পুড়ছেন কবি। তিনি গ্রামের বিলের দিকে তাকান। সেখানে এক পানকৌড়ি। ডুব দেয় গভীর অতলে। ঠিক যেমন কবি ডুব দিতে চান তাঁর আদিনার সিন্ধ শরীরের ভাঁজে। পানকৌড়ির ভেজা পালক যেন আদিনার দীর্ঘ কেশ। পাখিটার গ্রীবা, বুকের ওঠানামা ভেতরকে জাগিয়ে দেয়। তাঁর চোখে প্রকৃতি ও নারী একাকার। পানকৌড়ি হয়ে ওঠে কামার্ত এক মানবী। হঠাৎ বন্দুকের গুলি। ছিন্নভিন্ন হয় পানকৌড়ির চঞ্চলতা। লাল রক্ত ছিটকে পড়ে স্বচ্ছ জলে।

    কবির চোখে সেই রক্ত আর সাধারণ কোনো তরল নয়। এ যেন আদিনার গোপন অবয়ব থেকে পড়া অবাধ্য ধারা। পানকৌড়ির সেই রক্ত আর আদিনার নিভৃত রক্তস্রোত মিশে যায় এক মোহনায়। পানকৌড়ির চঞ্চু আর আদিনার ঠোঁট এক হয়ে যায়। এর পিঠের কালো মখমল যেন আদিনারই অন্ধকার উপত্যকা। রক্তমাখা সেই ডানা যেন আদিনারই কুমারিত্বের বিসর্জন। রক্তাক্ত ডানার স্পন্দন যেন আদিনারই সত্তার প্রতিধ্বনি।

    এই গল্পটিতে গ্রামীণ যৌন আবেগ, সেই আবেগের দ্রোহ, আর অবদমন মিলে তৈরি হয়েছে এক অনন্য আখ্যান। বাংলা সাহিত্য স্তব্ধ হয়ে দেখে এক খাঁটি, কাঁচা ও নান্দনিক আবেগের দ্রোহ।

    উপন্যাস
    কবি ভোরের কুয়াশা, মাটির গন্ধ, প্রেম, আবেগ ও আবেগের দ্রোহ থেকে ফিরে আসেন জীবনের বাস্তবতায়। তিনি একাত্তরের যুদ্ধদিনের এক দুঃসহ পরিস্থিতি নিয়ে লেখেন উপমহাদেশ উপন্যাস। যেখানে আছে ঘাত-প্রতিঘাত, যুদ্ধ, মৃত্যু ও জীবনের অনিশ্চয়তা।

    এই উপন্যাসের কেন্দ্রে রয়েছে হামিদ মীর নামে এক কবি। দেশপ্রেম ও মৃত্যুর ভয়ে ঝুলছে তার অস্তিত্ব। তার সঙ্গে যুক্ত হয় দুঃসাহসী মুক্তিযোদ্ধা আনিস। আছে নন্দিনী। যুদ্ধের বিভীষিকা, বোন সীমার মৃত্যু ও চরম নিরাপত্তাহীনতা নন্দিনীকে পুরোপুরি কবি হামিদ মীরের ওপর নির্ভরশীল করে তোলে। উত্তাল যুদ্ধদিনের দীর্ঘ যাত্রায় তাদের মানসিক নৈকট্য এক গভীর ভালোবাসায় রূপ নেয়। আল মাহমুদ এই সম্পর্কের মিলনান্তক রূপ দেননি। বরং যুদ্ধকালীন সংকটে মানুষের হৃদয়ের দোটানা, নৈতিক বোধ ও সম্পর্কের বহুমাত্রিক রূপকে উন্মোচন করেছেন।

    উপন্যাসটিতে রয়েছে রাজেনৈতিক জটিলতা। রণাঙ্গনের মাঠেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে বিভিন্ন পন্থিদের আদর্শিক ফাটল। দেশ স্বাধীনের চেয়েও তাদের কাছে বড় হয়ে ওঠে রাজনীতির সমীকরণ। দেশ যখন হানাদারের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত, কেউ কেউ তখন ব্যস্ত তাত্ত্বিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে।

    আল মাহমুদ এই উপন্যাসে স্বপ্ন ও ভাঙনের গল্প বুনেছেন। যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেও জেগে থাকে প্রেম। এটি শেষ পর্যন্ত মানুষের বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা ও ভালোবাসার গান। এটি এক মানবাত্মার উপাখ্যান।

    উপমহাদেশ উপন্যাসের মতো কাবিলের বোনও যুদ্ধদিনের উপন্যাস। তবে এটি যুদ্ধদিনের এক মনস্তাত্বিক প্রেমের উপন্যাস। ঢাকা তখন আগ্নেয়গিরি। চারদিকে উত্তেজনা, ভয়, আতঙ্ক। এই উত্তাল সময়ের এক অনন্য দলিল ‘কাবিলের বোন’ উপন্যাস। এটি শুধু যুদ্ধের কাহিনি নয়। এটি এক চরম মনস্তাত্ত্বিক উপাখ্যান। আল মাহমুদ এখানে ফুটিয়ে তুলেছেন অবরুদ্ধ শহরের ভেতরের জীবন যন্ত্রণা।

    উপন্যাসের কেন্দ্রে রয়েছে কাবিল। সে এক মানবিক ও পরোপকারী বাঙালি যুবক। তার পাশে ছায়ার মতো জড়িয়ে আছে পিতৃহীন মামাতো বোন মোমেনা। অন্যদিকে রয়েছে উচ্চবিত্ত ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন তরুণী রোকসানা। রোকসানার ফুফাতো ভাই আন্দালিব এক অবাঙালি যুবক। এই চার চরিত্র ঘিরে আবর্তিত হয় কাহিনির বিন্যাস।

    যুদ্ধ তাদের মুখোমুখি দাঁড় করায়। কাবিল ও আন্দালিবের ভেতরে চলে আদর্শের লড়াই। একজন বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রতীক, অন্যজন পাকিস্তানি ভাবধারার। রোকসানা এই দুইয়ের টানাপোড়েনের সেতু। তাদের সম্পর্কগুলো রক্তের নয়। কিন্তু একাত্তরের তীব্র অনিশ্চয়তা তাদের এক সুতোয় বেঁধেছে।

    শহরের বুকে তখন পাকিস্তানি জান্তার বুটের আওয়াজ। প্রতিদিন মানুষ মরছে। সম্পর্কগুলো প্রতিনিয়ত রূপ বদলাচ্ছে। এই ভয়াবহতার মাঝেও আল মাহমুদ বুনেছেন এক গভীর মায়াজাল। উপন্যাসের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে গভীর দহন। তিনি ইতিহাসের এক অমোঘ সত্য তুলে ধরেন। তিনি মনে করেন যে যুদ্ধ শুধু মানুষ মারে না, মানুষের ভূগোলও বদলে দেয়। এই ভূগোল যেমন মানচিত্রের, তেমনি তা হৃদয়েরও। একাত্তরের সেই অবরুদ্ধ মনস্তত্ত্ব বাংলা সাহিত্যে তিনি নিখুঁতভাবে এঁকেছেন।

    আল মাহমুদ ছোট-বড় সব পাঠকের কথা ভেবেছেন। শব্দকে তিনি এমন এক সহজ জাদুতে রূপ দিতেন, যা সবার মন ছুঁয়ে যায়। বয়সের সীমানা পেরিয়ে তিনি অনন্য। তাঁর লেখার আবেদন সর্বজনীন। তিনি বাংলা সাহিত্যের এমন সাহিত্যিক, যাঁর লেখা ছোট-বড় সবাইকে আলো দেয়। পাখির কাছে ফুলের কাছে, ময়নামতির নেকলেস, বাতাসের নূপুরসহ ১০টিরও বেশি শিশুসাহিত্য রয়েছে তাঁর। ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’ তাঁর এক অমর সৃষ্টি। শিশুরা তাঁর ছড়ায় খুঁজে পায় নদী, ফুল-পাখি, প্রজাপতি। তিনি চাঁদের আলো দিয়ে শব্দ বোনেন। শিশু-কিশোরদের জন্য ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’ কবিতায় লিখেছেন–

    নারকেলের ঐ লম্বা মাথায় হঠাৎ দেখি কাল
    ডাবের মত চাঁদ উঠেছে ঠাণ্ডা ও গোলগাল।
    ছিটকিনিটা আস্তে খুলে পেরিয়ে গেলাম ঘর
    ঝিমধরা এই মস্ত শহর কাঁপছিলো থরথর…।

    কী আর করি পকেট থেকে খুলে ছড়ার বই
    পাখির কাছে, ফুলের কাছে মনের কথা কই।

    রাতের নিঝুম আকাশ। চাঁদ উঠেছে নারকেল গাছের ডগায়। কবি একা। চেনা শহর যেন এক মায়াবী রূপকথার জগৎ। শহরটি কাঁপছিল থরথর। মিনারের ছায়া যেন এক প্রহরী। দরগাতলায় মোড় নিতেই হাতছানি দেয় পাহাড়। ডাকে– ‘আয়, আয়!’ পাহাড় ছুঁয়ে কবি জোনাকিদের আলো ঝলমলে রাজদরবারে যায়। আবার দিঘির জল তাঁকে বলে এসো আজ কাব্য করি। কবি পকেট থেকে ছড়ার বই নিয়ে প্রকৃতির মায়াজালে ফুল, পাখির কাছে মনের কথা বলেন।

    বিতর্ক ও নির্জনতা জীবন তো সোজা চলে না। আল মাহমুদের জীবনও বাঁক নিল। শেষ বয়সে তিনি বদলে গেলেন। তাঁর ভাবনায় এলো আধ্যাত্মিকতা। সমাজ তাঁকে নিয়ে দুই ভাগে ভাগ হলো। বিতর্ক তাঁর পিছু ছাড়ল না। কিন্তু তিনি ছিলেন অবিচল। তিনি শুধু লিখে গেছেন। তাঁর চোখ দুটি অন্ধ হয়ে আসছিল। কিন্তু ভেতরের চোখ ছিল খোলা। তিনি মুখে বলতেন। ভক্তরা তা লিখে রাখত। মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে উচ্চারণ করলেন– ‘কোনো এক ভোরে দেখবে তোমরা আমি আর নেই।’

    জন্ম

    সে অনেক দিন আগের কথা। দিনটি ছিল ১১ জুলাই। ১৯৩৬ সাল। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোড়াইল গ্রাম। চারদিকে তখন বর্ষার জল। নদীর নাম তিতাস। সেই নদীর কোল ঘেঁষেই জন্ম নিল এক শিশু। নাম তার মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। ডাকনাম শুধুই মাহমুদ।

    মৃত্যু
    ‘স্মৃতির মেঘলা ভোর’ শিরোনামে কবির এক অনন্য কবিতা আছে। যেখানে তিনি শুক্রবার ভোরে মৃত্যুর প্রার্থনা করেছেন। চিরবিদায়ের আকাঙ্ক্ষায় শব্দ বুনেছেন এক গভীর আত্মসমর্পণের সৌন্দর্যে।

    কোনো এক ভোরবেলা, রাত্রি শেষে শুভ শুক্রবারে
    মৃত্যুর ফেরেশতা এসে যদি দেয় যাওয়ার তাকিদ
    অপ্রস্তুত এলোমেলো এ গৃহের আলো অন্ধকারে
    ভালোমন্দ যা ঘটুক মেনে নেবো এ আমার ঈদ।

    তখন ২০১৯ সাল। ১৫ ফেব্রুয়ারি। শীতের অবসান। চারদিকে বসন্ত। ঢাকার এক হাসপাতালে চোখ বুজলেন কবি আল মাহমুদ। বয়স তখন ৮২ বছর। দুলে উঠল মায়াবী পর্দা। কবি চলে গেলেন ওপারে। কিন্তু প্রকৃতির কী এক অমোঘ খেলা! কবি শুক্রবারে মৃত্যু কামনা করেছিলেন। আর যেদিন তাঁর মৃত্যু হলো সেই দিনটি ছিল শুক্রবার। এটা হয়তো কোনো অলৌকিক কিছু নয়। কিন্তু এর নান্দনিকতা অস্বীকারের উপায় নেই। মহৎ কবিদের জীবনদর্শন এমনই হয়।

    কবি আল মাহমুদ আজ নেই। আছে তাঁর তিতাসের জল। সোনালী কাবিনের শ্লোক। বাংলা ভাষা যতদিন থাকবে, আল মাহমুদ থাকবেন ততদিন। তিনি মাটি মানুষ ও প্রকৃতির কবি। মায়াবী কথক।

  • আলিয়া মাদ্রাসায় ফের সংঘর্ষের শঙ্কা, সতর্ক অবস্থানে পুলিশ

    আলিয়া মাদ্রাসায় ফের সংঘর্ষের শঙ্কা, সতর্ক অবস্থানে পুলিশ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজধানীর বকশীবাজারে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা এলাকায় ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) মাদ্রাসা, আলিয়া মাদ্রাসা সড়ক ও বকশীবাজার মোড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মাদ্রাসার গেট, সড়ক ও বকশীবাজার মোড়ে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করছেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসায় হল দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। সংঘর্ষের সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

    ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, একটি পক্ষ শনিবার মাদ্রাসায় প্রবেশের ঘোষণা দেওয়ায় নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণে আগাম সতর্কতা হিসেবে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেলে হল দখলকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় কয়েকজনকে দেশীয় অস্ত্র হাতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতেও অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ানোর দৃশ্য দেখা গেছে। এ সময় কয়েকজন আহত হয়ে মাটিতে পড়ে থাকেন। পরে সহপাঠীরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

  • জুলাই স্মৃতি যাদুঘর : প্রতীকী কবরের কাছে থমকে যায় পা

    জুলাই স্মৃতি যাদুঘর : প্রতীকী কবরের কাছে থমকে যায় পা

    জুলাই ৩৬ গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। মূল ভবনে ঢোকার আগেই দর্শনার্থীদের চোখে পড়ে একটি প্রতীকী কবরস্থান। সেখানে গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ছাত্র-জনতার স্মরণে স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হয়েছে। চারপাশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের শিকার ব্যক্তিদের নাম খোদাই করা ফলক। দর্শনার্থীরা এখানে থমকে দাঁড়ান।

    গতকাল বৃহস্পতিবার সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার প্রথম দিনেই ঢাকার শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সংসদের উত্তর কোণে অবস্থিত এই স্মৃতি জাদুঘরে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। কিন্তু ভিড়ের মধ্যেও সবচেয়ে বেশি সময় দর্শনার্থীরা থমকে দাঁড়ান প্রবেশমুখের সেই প্রতীকী কবরের সামনে। কেউ শহীদদের নাম পড়ছিলেন, কেউ ছবি তুলছিলেন, আবার কেউ কোনো কথা না বলে কয়েক মুহূর্ত চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। যেন ভেতরে যাওয়ার আগে নিজেদের প্রস্তুত করে নিচ্ছিলেন একটি বেদনাবিধুর অথচ গৌরবময় ইতিহাসের সামনে দাঁড়ানোর জন্য।

    দর্শনার্থী আশিকুর রহমান সমকালকে বলেন, ‘সময় গেলে বৃষ্টির জল শুকিয়ে যাবে, এই ফলকও আবার ঝকঝকে হবে। কিন্তু এখানে লেখা ইতিহাস, আত্মত্যাগ আর সংগ্রামের স্মৃতি কখনও মুছে যাবে না। একটি জাতির সবচেয়ে বড় স্মৃতিস্তম্ভ ইট-পাথর নয়, মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকা স্মৃতি।’

    প্রতীকী কবরের পাশেই গতকাল দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে ছিলেন জুলাই আন্দোলনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিহত সজল মিয়ার বাবা মো. হাসান। ছেলের নাম লেখা ফলকের দিকে তাকিয়ে বারবার চোখ মুছছিলেন তিনি।

    মো. হাসান বলেন, ‘আমার ছেলে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়েছিল। এখানে এসে ছেলের কথাই বারবার মনে পড়ছে। ভেবেছিলাম আন্দোলনের পর দেশ বদলে যাবে। কিন্তু সেই প্রত্যাশার অনেকটাই অপূর্ণ।’

    সজল মিয়ার ছোট ভাই ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘ভাইয়ের ব্যবহৃত রক্তমাখা শার্ট-প্যান্টসহ স্মৃতিচিহ্ন এখানে রাখা হয়েছে। সেগুলো দেখতে এসেছি। মনে হচ্ছে, ভাই এখনও আমাদের মধ্যেই আছে।’
    একসময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত গণভবন এখন স্মৃতি জাদুঘর। গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। সরকার পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে উদ্বোধনের পরদিন গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয় জাদুঘরটি।

    জাদুঘরের নিচতলায় তুলে ধরা হয়েছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলের নানা ঘটনা, গুম, খুন, নিপীড়ন, রাজনৈতিক দমনপীড়ন, লগি-বৈঠার হামলায় শহীদদের তালিকা, শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ আওয়ামী বিচারব্যবস্থার ও স্কাইপে কেলেঙ্কারির তথ্য এবং বিভিন্ন আলোচিত ঘটনার দলিল, আলোকচিত্র ও তথ্যচিত্র। প্রবেশের শুরুতেই থ্রিডি প্রজেকশনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে ৫ আগস্টের পর গণভবনের বাস্তবচিত্র। রয়েছে আন্দোলনের দিনগুলোর শিল্পকর্ম, বিভিন্ন ঘটনার নথি ও ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা।

    দ্বিতীয় তলায় স্থান পেয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের ব্যক্তিগত স্মৃতিচিহ্ন, পরিচয়পত্র, রক্তমাখা পোশাক, নারীদের অংশগ্রহণের দলিল, আন্দোলনের আলোকচিত্র, ভিডিওভিত্তিক থ্রিডি প্রদর্শনী এবং বিভিন্ন ডিজিটাল ইনস্টলেশন। দেয়ালে দেয়ালে আন্দোলনের স্লোগান, আয়নাঘরের নির্যাতনের প্রতীকী ভাস্কর্য, গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের ছবি। গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার ব্যবহৃত খাট ও চেয়ারও স্থান পেয়েছে জাদুঘরে।

    জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারিতে ঘুরে দেখা গেছে, ইতিহাস জানতে যেমন এসেছেন তরুণ-তরুণীরা, তেমনি সন্তান হারানো বাবা-মা, আহত আন্দোলনকারী, কিংবা দূরদূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষও নিজেদের স্মৃতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন প্রদর্শিত প্রতিটি ছবি ও নিদর্শন।
    জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব গতকাল সমকালকে বলেন, এই জাদুঘর কেবল একটি প্রদর্শনী কেন্দ্র নয়; এটি রাষ্ট্র, সমাজ ও নাগরিক স্মৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষণাগার হয়ে উঠতে পারে। আর প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা বলছে, মানুষ এখানে শুধু দেখতে আসছে না– অনুভব করতেও আসছে। সেই অনুভূতির শুরুটা হচ্ছে প্রবেশমুখে প্রতীকী কবরের সামনে কয়েক মুহূর্ত দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই।

    গণভবন থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর
    ১৯৯৬ সালে নির্বাচনে জয়লাভের পর প্রধানমন্ত্রী হয়ে শেখ হাসিনা গণভবনে বসবাস শুরু করেন। তখন মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে গণভবন এক টাকার টোকেন মূল্যে শেখ হাসিনার নামে ইজারা দেওয়া হয়। ২০০১ সালে লতিফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইজারা বাতিল করে। তখন শেখ হাসিনা গণভবন ছেড়ে যাওয়ার পর কয়েক বছর সেটি আর ব্যবহৃত হতে দেখা যায়নি।
    এর পর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনা প্রথমে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উঠেছিলেন। গণভবন সংস্কার শেষে ২০১০ সালের মার্চ মাসে শেখ হাসিনা সেখানে বসবাস করা শুরু করেন। শেখ হাসিনার শাসনামলের বেশির ভাগ কাজ গণভবন থেকে পরিচালিত হতো।

    চব্বিশের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর হাজার হাজার মানুষ এই বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। সেদিন জনতার ক্ষোভে ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল বাসভবনের দেয়াল ও মেঝে। জাদুঘরে রূপান্তর করার সময় দেয়ালগুলোতে থাকা জনতার ক্ষোভের ভাষাকে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীদের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বিবেচনা করে একটি কক্ষ বাদে বাকি কক্ষগুলোর ফ্লোর থেকে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বাড়ির নিচতলায় প্রদর্শন করা হয়েছে শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনের ইতিহাস। দোতলায় প্রদর্শিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস।

  • দুবাইয়ে আ’লীগ নেতাদের সাম্রাজ্য

    দুবাইয়ে আ’লীগ নেতাদের সাম্রাজ্য

    মরুর শহর দুবাইয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের পাহাড়সম সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। তাঁদের নামে অন্তত ৫৩টি ফ্ল্যাট, বাড়ি, ভিলা, হোটেল অ্যাপার্টমেন্ট ও অফিস স্পেস থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য দিয়ে বলেছেন, বুর্জ খলিফা, মারশা দুবাই, ওয়াদি আল সাফা ও কৃত্রিম দ্বীপ পাম জুমেরায় তাঁরা গড়ে তুলেছেন বিলাসবহুল সম্পদের সাম্রাজ্য। আর এসব করেছেন অর্থ পাচারের মাধ্যমে।

    ২০২৩ সালের ৩ এপ্রিল গোল্ডেন ভিসার সুবিধায় দুবাইয়ে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে একটি কমিটি গঠন করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধান কমিটির প্রথম টিম লিডার করা হয় ও সংস্থাটির উপপরিচালক রামপ্রসাদ মন্ডলকে। পরে তাঁকে গোপালগঞ্জে বদলি করা হয়। তিনি জানান, দুবাইয়ে পাচারকারীদের তথ্য সংগ্রহে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চিঠি চালাচালি হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড্ ডিফেন্স স্টাডিজ (সি৪এডিএস) এবং অর্গানাইজড্ ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্টকে (ওসিসিআরপি) চিঠি দিয়ে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত আছে।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশির বিভিন্ন সম্পত্তি কেনার তথ্য ফাঁস করেছিল ওসিসিআরপি। এরপর দুদক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন হাই কোর্ট। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের (লোটাস কামাল) বেয়াইন অর্থাৎ মেয়ে নাফিসা কামালের শাশুড়ি বিলকিস ইকবালের নামে দুবাইয়ে একটি ফ্ল্যাট পাওয়া গেছে। মারশা দুবাই এলাকায় থাকা ফ্ল্যাটটির নম্বর ২২০২-০, যা কিনতে ব্যবহৃত পাসপোর্ট নম্বর বি১২০১০৬০। তবে ২০১৭ সালে নাফিসা কামালের শাশুড়ি বিলকিস মারা যান।

    আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি, প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিফজুল বারী মোহাম্মদ ইকবাল ওরফে এইচ বি এম ইকবালের নামে দুবাইয়ের বুর্জ খলিফায় দুটি ফ্ল্যাটের (নম্বর ২৪১০-০ ও ২০০১-০) সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানে তাঁর একটি কমার্শিয়াল স্পেস (নম্বর ৯১০-০) ও একটি অফিস স্পেসও (নম্বর ১২০১-০) রয়েছে। এ ছাড়া পাম জুমেরায় তাঁর নামে একটি বাড়ি (নম্বর পিজেএফআরসি০৪৭) রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব সম্পদ কিনতে তিনি তিনটি ভিন্ন পাসপোর্ট ব্যবহার করেছেন, নম্বর যথাক্রমে ০৩৩৯৮৪২, এজি৫১২৩৪১৪ ও ই০৬৯২৭৯২। ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর এইচ বি এম ইকবাল, তাঁর স্ত্রী এবং একসময়ের চিত্রনায়িকা আঞ্জুমান আরা শিল্পী ও তাঁদের তিন সন্তানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা (বিএফআইইউ)। আওয়ামী লীগ নেতা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সাবেক এমপি সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামানের নামে মারশা দুবাইয়ে একটি ফ্ল্যাট (নম্বর ২৩০৯-০) এবং পাম জুমেরার আল শাহলায় আরেকটি ফ্ল্যাট (নম্বর ৭০৩-০) পাওয়া গেছে। এসবে তাঁর ছেলে কামরুজ্জামানেরও মালিকানা রয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্র জানান, সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান (সুখন) একসময় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন। ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর তাঁকে বিএনপির সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়, এরপর তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের নামে দুবাইয়ে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। বুর্জ খলিফায় দুটি এবং নাদ আল শিবায় ২৭টি ফ্ল্যাট থাকার তথ্য মিলেছে। এ ছাড়া পলো রেসিডেন্সে তাঁর নামে বাড়ি রয়েছে (নম্বর এ২, ২বি/আর ২৯৩, ১বি/আর ২৯৩), মেরিনা ভিসতা টাওয়ারে দুটি ফ্ল্যাট (নম্বর ১০৬ ও ৩০২), সানরাইজ বে টাওয়ার-১-এ চারটি ফ্ল্যাট এবং পাম জুমেরায় রয়্যাল বে-তে একটি হোটেল অ্যাপার্টমেন্ট (নম্বর ৮০৫)। এসব কিনতে তিনি যে দুটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করেছেন তার নম্বর ডিসি৬০০৪০৭৬ ও বিটি০০১৫৮০৭, যাতে বাংলাদেশি ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ৭ সারসন রোড, পোস্ট অফিস বক্স-৪০০০, চট্টগ্রাম।

    তাঁর ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরীর নামেও পাম জুমেরায় একটি ফ্ল্যাটের (নম্বর ৪৪০৭-০) সন্ধান মিলেছে। এ ছাড়া জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ নেতা ইফজাল আহমেদ চৌধুরীর নামে বুর্জ খলিফায় একটি ফ্ল্যাটের (নম্বর ১৩০৩-০) তথ্য পাওয়া গেছে। জানতে চাইলে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত ডিআইজি বাছির উদ্দিন এই প্রতিবেদককে বলেন, আন্তর্জাতিক একটি সংস্থার কাছ থেকে দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের বিপুল পরিমাণ সম্পদ থাকার তথ্য পাওয়ার পর হাই কোর্টের নির্দেশে তাঁরা তদন্ত শুরু করেন। তবে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করা হয়েছে। অন্যদের নাম-ঠিকানা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমির মোহাম্মদ ফয়সলের নামে বুর্জ খলিফায় একটি হোটেল অ্যাপার্টমেন্ট (নম্বর ১২এ০৪) পাওয়া গেছে। দুবাইয়ে তাঁর একটি ঠিকানাও পাওয়া গেছে-১১৭ আল হাশেমি বিল্ডিং অ্যাপার্টমেন্ট, ২০১ ফিরোজ আল মরার। এটি কিনতে ব্যবহৃত তাঁর বাংলাদেশি পাসপোর্ট নম্বর বিএফ০৮৯৪৮৫১। আমিরাত আইডি প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট দুবাইপ্রবাসী মনোয়ার হোসাইনের সঙ্গে সমাজমাধ্যমে কথা হলে তিনি জানান, বাংলাদেশিদের মধ্যে যাঁরা সম্পদ কিনেছেন, তাঁদের আইডি প্রস্তুতের সময় নামপরিচয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গোপন রাখা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওয়াহিদুজ্জামান বুলবুল বলেন, ‘কেউ যদি দুবাইয়ে বৈধ আয় করে সে আয় দিয়ে সেখানে সম্পদ কেনেন, তাহলে আইনগত কোনো সমস্যা হবে না।’ তবে দুবাই সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো চুক্তি থাকলে তবেই পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। তথ্যানুসন্ধানে দুবাইয়ে ফ্ল্যাট বা বাড়ি থাকার তথ্য মিলেছে আরও কয়েকজনের নামে। এঁদের মধ্যে রয়েছেন ২০১৯ সালে বিশেষজ্ঞ পেশাজীবী শ্রেণিতে পুরস্কারপ্রাপ্ত জুরানচন্দ্র ভৌমিক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী ও মেয়ে শেহতাজ মোনাসি খান, তিতাস গ্যাসের গাজীপুর বিক্রয় অঞ্চলের সাবেক ব্যবস্থাপক সাব্বের আহমেদ চৌধুরীর স্ত্রী রুমানা রিশাত জামান এবং বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক, ভাষাবিজ্ঞানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কালাম মনজুর মোরশেদের মেয়ে মনজুলা মোরশেদ। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘যেসব দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা কঠিন, দুবাই তার মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশ থেকে যেসব প্রক্রিয়ায় অর্থ পাচার হয়, তার সিংহভাগই হয় আমদানি-রপ্তানি চালান জালিয়াতির মাধ্যমে। তা ছাড়া নামে-বেনামে কাগুজে প্রতিষ্ঠানের বহুস্তরিক প্রতারণামূলক ঋণ ও বিনিয়োগ জালিয়াতির মাধ্যমে বিশাল অর্থ পাচারের পাশাপাশি প্রথাগত হুন্ডি তো রয়েছেই। এসব প্রক্রিয়ায় চলমান আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ অপরাধের সবচেয়ে আকর্ষণীয় হিসেবে যেসব গন্তব্য সাম্প্রতিককালে বিকশিত হয়েছে তার অন্যতম হাব হয়ে দাঁড়িয়েছে দুবাই। মনে রাখতে হবে, এরূপ অন্য সব গন্তব্যের মতো বাংলাদেশের পাচারকৃত অর্থ এখন সেসব গন্তব্য দেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগ ও সম্পদ হয়ে দাঁড়িয়েছে; যা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতায় মাত্র এক শতাংশ, তা-ও গড়ে সাত বছর থেকে ১৫-২০ বছরের জটিল প্রক্রিয়ার বিষয়। যদিও কিছু বিরল ব্যতিক্রমও রয়েছে।’

  • অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে এসি চালু

    অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে এসি চালু

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে অবশেষে এসি চালু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শুক্রবার সন্ধ্যায় এক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।

    তিনি স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘ডাকসুর তীব্র দাবির মুখে অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে এসি চালু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।’বিস্তারিত আসছে…

  • ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়ায় বন্দী যুবক, দেড় বছর ধরে নেই খোঁজ!

    ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়ায় বন্দী যুবক, দেড় বছর ধরে নেই খোঁজ!

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    ইতালি যাওয়ার পথে প্রথমে লিবিয়ায় বন্দী হন মাদারীপুরের যুবক রাজীব মীর। পরে তাকে নির্যাতন করে মাফিয়াচক্র। আদায় করা হয় মুক্তিপণের লাখ লাখ টাকা। এরপরও দেড় বছর ধরে খোঁজ নেই যুবকের। আদরের সন্তানের খোঁজ না থাকায় দিশেহারা পরিবার।

    সরেজমিনে দেখা যায়, মোবাইলে থাকা নিখোঁজ ছেলের ছবি নিয়ে বুকফাটা আর্তনাদ করছেন মা শিল্পী বেগম। আদরের সন্তান কোথায় আছে, কেমন আছে তা জানেন না পরিবারের সদস্যরাও। প্রতিদিনই বাড়িতে চলছে আহাজারি। ভিড় করছেন পাড়া-প্রতিবেশীরা।

    স্বজনরা জানান, মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার ঘুঙ্ঘিয়ারকুল গ্রামের আরশেদ আলী হাওলাদারের ছেলে লোকমান হাওলাদারের প্রলোভনে পড়েন সদর উপজেলার হোগলপাতিয়া গ্রামের খবির মীরের ছেলে রাজীব মীর। দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় সরাসরি তাকে ইতালি নেয়ার শর্তে চুক্তি হয় দালালের সাথে। চুক্তি মতে ২০ লাখ টাকা লোকমান ও তার চক্রের হাতে তুলে দিলে রাজীবকে ২০২৩ সালের ৪ আগস্ট নিয়ে যাওয়া হয় লিবিয়ায়। সেখানে যুবককে বন্দি করে নির্যাতন চালিয়ে পরিবার থেকে মুক্তিপণের আরও সাড়ে ১৬ লাখ টাকা আদায় করে মাফিয়ারা। এরপরও মানবপাচারচক্রের সদস্যরা দাবি করে আরো ২০ লাখ টাকা। সেই চাহিদামতো টাকা না দেয়ায় দেড় বছর ধরে খোঁজ নেই রাজীবের। এই ঘটনায় দালালদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি নিখোঁজ যুবকের সন্ধান পেতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে পরিবার।

    এ ঘটনায় নিখোঁজ যুবকের মা শিল্পী বেগম বাদী হয়ে গত ১১ জুলাই লোকমান হাওলাদারসহ ২৪ জনের নামে সদর মডেল থানায় মানবপাচার আইনে মামলা করেন। পরে লোকমান ও তার মেয়ে সেতু আক্তারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে দুজনই কারাগারে রয়েছেন।

    নিখোঁজ রাজীবের মা শিল্পী বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের কোনো সন্ধান পাচ্ছি না দেড় বছর ধরে। দালালরাও কোনো সঠিক উত্তর দিচ্ছে না। একদিকে লাখ লাখ টাকা হারিয়ে দিশেহারা, অন্যদিকে নিখোঁজ ছেলের জন্য পাগল হয়ে যাচ্ছি। আমি ও আমার পরিবার সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই। আমার ছেলের সন্ধান চাই। দালালের বিচার চাই।’

    প্রতিবেশী সৈকত হাওলাদার বলেন, ‘এলাকার যুবকদের প্রলোভন দেখিয়ে দালালরা লিবিয়ায় আটকে নির্যাতন চালায়। পরে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা। এই দালালদের দৃশ্যমান বিচার হলে অবৈধ পথে ইতালি যাত্রা কমে যাবে। আমরা সবাই এর প্রতিকার চাই।’

    মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, মানবপাচার প্রতিরোধে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে খোলা হয়েছে মনিটরিং সেল। সেখান থেকে সরাসরি বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যার ফলে দ্রুতই অপরাধীদের আনা হচ্ছে আইনের আওতায়।

  • হাসপাতালটাই মনে হলো যেন ডাস্টবিন হয়ে আছে: এমপি নায়াব ইউসুফ

    হাসপাতালটাই মনে হলো যেন ডাস্টবিন হয়ে আছে: এমপি নায়াব ইউসুফ

    ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রথম সভায় হাসপাতালের পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসেবার চরম অবনতিতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কমিটির সভাপতি এবং ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। পরিচ্ছন্নতার অভাবে হাসপাতালের পেছনের অংশে বর্জ্যের স্তূপ দেখে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘হাসপাতালটাই মনে হলো যেন ডাস্টবিন হয়ে আছে।’

    বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    জনবল সংকট ও ২০০ রোগীর চাপ


    ১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ১০০ শয্যার ঐতিহ্যবাহী এই হাসপাতালটিতে চিকিৎসক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চরম ঘাটতি রয়েছে। সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে এমপি নায়াব ইউসুফ বলেন:

    “হাসপাতালটি ১০০ শয্যার হলেও বর্তমানে ২০০ জনের বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। জায়গা না পেয়ে বহু রোগী মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জনবলের তীব্র সংকট রয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মী থেকে শুরু করে নার্স ও ডাক্তার—সব পদের ঘাটতি রয়েছে। এই সংকট দূর করতে পারলে ফরিদপুরের সর্বস্তরের মানুষ উপকৃত হবে।”

    হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ


    হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও জট কমাতে এটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানান সংসদ সদস্য। ইতোমধ্যে নতুন অবকাঠামো নির্মাণ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম বরাদ্দের আবেদন জানিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ডিও (DO) চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বাজেট পাস হলেই ধাপে ধাপে উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হবে।

    জবাবদিহিতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন দেশে জবাবদিহির অভাব ছিল, তবে এখন আমরা জবাবদিহির জায়গায় এসেছি। যে এলাকার জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছেন, সেখানকার হাসপাতাল বা রাস্তার এই দুরবস্থা থাকলে জনগণ তো জবাব চাইবেই। ১৭ বছরের জমে থাকা জঞ্জাল একদিনে দূর করা সম্ভব নয়, তবে আগামী এক বছরের মধ্যে ফরিদপুরবাসী এখানে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পাবেন।

    ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, ডাক্তার মাহমুদুল হাসান (সিভিল সার্জন), মো. সোহরাব হোসেন (অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক – সার্বিক), ফাতেমা ইসলাম (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার – প্রশাসন), কাজী ফারুক আহমেদ (উপপরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর), এ এস এম আনিছুর রহমান (উপপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর), মো. এহিয়াতুজ্জামান (উপপরিচালক, সমাজসেবা অধিদপ্তর) সহ কমিটির অন্যান্য সদস্য ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।


  • দেশের গণমাধ্যম এখনও পুরোপুরি স্বাধীন নয়: বিরোধীদলীয় নেতা

    দেশের গণমাধ্যম এখনও পুরোপুরি স্বাধীন নয়: বিরোধীদলীয় নেতা

    বিডি গ্লোবাল ডেস্ক,

    দেশের গণমাধ্যমগুলো এখনও পুরোপুরি স্বাধীন নয়, এমন মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ থাকতে হবে।

    শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে বাগেরহাট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিরোধীদলীয় নেতা এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে সাদা কে সাদা, কালোকে কালো বলতে হবে। আমার যদি কোন ভুল থাকে সেটাও বলতে হবে। অনিয়ম, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মাস্তানি, আধিপত্য বিস্তার ও ক্ষমতার অপব্যবহার এসব ব্যাপারে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলেও এখনও তারা স্বাধীনভাবে সেগুলো প্রচার করতে পারছেন না।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, সহিংসতা, দমন-পীড়ন ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার কতটা সফল হয়েছে, সেই রায় জনগণই দেবে। এ বিষয়ে আমরা বেশি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

    বিদ্যুৎ খাতের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, দেশের মানুষ পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। অথচ ভুতুড়ে বিলের কারণে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

    রাজনৈতিক সহিংসতা সম্পর্কে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। রাজনীতি হচ্ছে একটি সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার জায়গা। এখানে কোনো মাস্তান বা সন্ত্রাসী মানসিকতার মানুষের স্থান নেই।

    তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও তাদের নেতাকর্মীদের আমাদের দলে যুক্ত করতে হলে কেন্দ্রের অনুমতি লাগবে। তাদের রাজনীতি করার সময় এখনও আসেনি। তারা অসংখ্য মায়ের কোল খালি করেছে। বিনিময়ে তারা এখন পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশও করেনি। পক্ষান্তরে তারা এখনও হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে। সরকারের নিজ দায়িত্বে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনাসহ নেতা কর্মীরা যাদের নামে মামলা ও সাজা প্রাপ্ত হয়েছে তাদের বিচারের আওতায় আনা উচিত।

  • শ্রীপুরে কাঁঠাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিস্কুট, বাজারে ব্যাপক চাহিদা

    শ্রীপুরে কাঁঠাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে বিস্কুট, বাজারে ব্যাপক চাহিদা

    আব্দুস সাত্তারের দীর্ঘদিনের শখ বিদেশ ভ্রমণ। গত বছর চীন সফরে গিয়ে তিনি কাঁঠাল থেকে তৈরি বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য দেখে অনুপ্রাণিত হন। দেশে ফিরে প্রতিবছর অবহেলায় নষ্ট হওয়া কাঁঠালের মূল্য সংযোজনের বিষয়টি নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। সেই চিন্তা থেকেই এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে কাঁঠালের বিস্কুট উৎপাদনের উদ্যোগ নেন। আর পরীক্ষামূলক উৎপাদনেই বাজিমাত করলেন তিনি।

    গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা পৌর এলাকার বৈরাগীরচালা গ্রামের মোহতাহিনা ফুড কারখানায় এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদিত এই বিস্কুট অনলাইন ও অফলাইন—উভয় বাজারেই ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। উৎপাদনের শুরুতেই এই চাহিদা দেখে আগামী মৌসুমে উৎপাদন আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন আব্দুস সাত্তার।

    আব্দুস সাত্তার জানান, চলতি মৌসুমে প্রায় ৫০০টি কাঁঠাল ব্যবহার করে বিস্কুট তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি বিস্কুটে প্রায় ২০ শতাংশ কাঁঠালের পাল্প ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে বিস্কুটে কাঁঠালের স্বাদ ও প্রাকৃতিক সুগন্ধ বজায় থাকে, যা প্রচলিত বিস্কুটের তুলনায় ভিন্ন। বর্তমানে ৮০০ গ্রাম ওজনের একটি প্যাকেট ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘এবার সীমিত পরিসরে কাঁঠালের বিস্কুট উৎপাদন শুরু করেছি। আগামী মৌসুমে কাঁঠাল দিয়ে আরও বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।’

    শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বলেন, ‘কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহার বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক। বর্তমানে দেশে কাঁঠাল দিয়ে প্রায় ৫২ ধরনের খাদ্যপণ্য তৈরি হচ্ছে এবং এর অনেকগুলো বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। উদ্যোক্তা আব্দুস সাত্তারের এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। প্রয়োজন হলে কৃষি বিভাগ থেকে তাঁকে সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে।’

    স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কাঁঠালের মতো মৌসুমি ফলের এ ধরনের মূল্য সংযোজনমূলক উদ্যোগ কৃষকদের উৎপাদিত ফলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে এটি দেশীয় খাদ্যশিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বারও খুলে দিতে পারে।

  • সাফে আসছে আরও পাঁচ প্রবাসী ফুটবলার

    সাফে আসছে আরও পাঁচ প্রবাসী ফুটবলার

    হামজা চৌধুরীর আগমনের পরই বাংলাদেশের ফুটবলে যোগ হচ্ছেন একের পর এক প্রবাসী ফুটবলার। শমিত সোম, ফাহিমদুল ইসলামরা তো এখন লাল-সবুজের অন্যতম তারকা। তাদের দেখে ইউরোপ-আমেরিকাতে থাকা প্রবাসী ফুটবলাররা স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশের জার্সি গায়ে জড়ানোর। এরই মধ্যে বয়সভিত্তিক দলে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার যোগ দিয়েছেন। আগামী নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে আরও পাঁচ প্রবাসী ফুটবলার দেখা যেতে পারে বাংলাদেশ দলে।

    সেপ্টেম্বরে ফিফা উইন্ডো এবং সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সামনে রেখে প্রবাসী ফুটবলার যোগ করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। এরই মধ্যে দুজনের খেলানোর ব্যাপারটি অনেকটাই চূড়ান্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্য প্রবাসী উইঙ্গার ফারহান আলী এবং ফরোয়ার্ড জায়ান হাকিমের ফিফা ও এএফসি থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে বাফুফে। হয়তো কিছুদিনের মধ্যে এ দুই প্রবাসীর বাংলাদেশি হওয়ার সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। আরও তিন ফুটবলারের মধ্যে দুজন ইংল্যান্ডের এবং একজন জাপানের বলে গতকাল সমকালকে জানিয়েছেন বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিম। তবে কোচ তাদের ট্রায়ালে ডাকেন কিনা, সেটার অপেক্ষায় আছে ফেডারেশন। যে কারণে তিনজনের নাম এখনই প্রকাশ করতে চাইছেন না ফাহাদ করিম, ‘সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত স্কোয়াডে পাঁচ প্রবাসীর মধ্যে কোচ কয়জনকে নেবেন, সেটা তাঁর এখতিয়ার। তবে আমি বলতে পারি, এই পাঁচজন বাফুফের ক্যাম্পে থাকবেন।’

    ইউরোপ-আমেরিকার ফুটবলার নিয়ে গত বছর ঢাকায় প্রবাসী ফুটবলারদের ট্রায়াল আয়োজন করেছিল বাফুফে। এই ট্রায়ালে অংশ নিয়েছিলেন প্রায় ৫০ জন প্রবাসী। ট্রায়াল থেকে খুব বেশি ফুটবলার খুঁজে পায়নি বাফুফে। তাই এবার ভিন্ন পথে হাঁটতে যাচ্ছে তারা। ঢাকায় না করে ইউরোপের কোনো দেশে ট্রায়ালের আয়োজন করতে চান ফাহাদ করিম, ‘আগামী গ্রীষ্মে আমার ইচ্ছা আছে ইউরোপের কোনো দেশে ট্রায়াল করা। সভাপতির সঙ্গে আলাপ করব। এরই মধ্যে কোচের সঙ্গে এটা নিয়ে কথা বলেছি, তিনি খুবই আগ্রহী।’

    প্রবাসীরা যেন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে কারণে ইউরোপে ট্রায়াল করার চিন্তা বলে জানান বাফুফের এ সহসভাপতি, ‘আমাদের বেশির ভাগ আবেদন আসছে ইউরোপ থেকে। বাংলাদেশে ট্রায়াল দেওয়ার জন্য আমরা তো তাদের কোনো অর্থ দেব না। কে টিকে, না টিকে, তা তো আমরা বলতে পারব না। আমরা দেখেছি অনেকেই নিজ খরচে আসতে চায় না বা পারে না। অনেকে আবার নিজ খরচে আসে; কিন্তু টিকে না। তখন আমাদের বদনাম করে যে দূর থেকে এলাম নিল না। তাই ইউরোপের লন্ডন বা যেসব জায়গা থেকে বেশি প্রবাসী আসবে, ওই জায়গায় করব যেন তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।’

    সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে সেপ্টেম্বর উইন্ডো কাজে লাগাতে চায় বাফুফে। দুটো বিষয় নিয়ে চিন্তা করছে ফেডারেশন। কিরগিজস্তানে গিয়ে তিন জাতি টুর্নামেন্ট খেলবে অথবা ঢাকায় চার জাতি প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে। কোচ থমাস ডুলির চাওয়া ঢাকায় ম্যাচ খেলা। চার জাতি টুর্নামেন্টের জন্য স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও কিরগিজস্তান ও মঙ্গোলিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। বাকি একটি দেশ চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে বাফুফে।

  • ‘জুলাই সগৌরবে প্রতিষ্ঠিত থাকুক বাংলাদেশের প্রতি ইঞ্চি মাটিতে’

    ‘জুলাই সগৌরবে প্রতিষ্ঠিত থাকুক বাংলাদেশের প্রতি ইঞ্চি মাটিতে’

    জুলাই আন্দোলন ও এর চেতনা বাংলাদেশের প্রতিটি কোণে অম্লান হয়ে থাকবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি বলেছেন, ‘জুলাই সগৌরবে প্রতিষ্ঠিত থাকুক বাংলাদেশের প্রতিটি ইঞ্চি মাটিতে।’

    শুক্রবার (৭ আগস্ট) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ডাকসু ভিপি এ কথা বলেন।

    পোস্টে সাদিক কায়েম জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও শহীদদের স্মৃতি ধারণ করার গুরুত্ব তুলে ধরে লেখেন, ‘আমীরে জামায়াতকে অনেক শুকরিয়া জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা জীবন্ত রাখার জন্য, শহীদের স্বপ্ন ও বার্তা এতো নান্দনিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। জুলাই সগৌরবে প্রতিষ্ঠিত থাকুক বাংলাদেশের প্রতিটি ইঞ্চি মাটিতে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই ততদিন পর্যন্ত চলবে যতদিন বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকবে।’ বাংলাদেশসংবাদ

    এ সময় একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর কথা উল্লেখ করে ডাকসু ভিপি সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, ‘মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবন সংলগ্ন মাঠে ‘জুলাই এখনো শেষ হয় নাই’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে সবাইকে দাওয়াত রইলো। আজ রাত আটটা পর্যন্ত চলবে এই প্রদর্শনী।’

  • ঢাকা আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষের ওপর হামলার প্রতিবাদে তামীরুল মিল্লাতে মানববন্ধন

    ঢাকা আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষের ওপর হামলার প্রতিবাদে তামীরুল মিল্লাতে মানববন্ধন

    ঢাকা আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ওবায়দুল হকের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে টঙ্গী তা’মীরুল মিল্লাত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (টাকসু)। হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রতিষ্ঠানটির মূল ফটকের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

    মানববন্ধনে টঙ্গী তা’মীরুল মিল্লাত মাদরাসার শত শত শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অংশ নেন। কর্মসূচিতে বক্তারা শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত, সন্ত্রাস ও লেজুড়ভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ এবং শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

    টাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মঈনুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মুর্তজা হাসান ফুয়াদের সঞ্চালনায় আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন টঙ্গী তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার বালিকা শাখার ভাইস প্রিন্সিপাল আব্দুল কাইয়ুম।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘দেশের সকল শিক্ষাঙ্গনে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। ক্যাম্পাসে লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি, হল দখল, ফ্রি খাওয়া, চাঁদাবাজিসহ সকল অপকর্ম রুখে দিতে হবে। অধ্যাপক ওবায়দুল হকের ওপর হামলায় জড়িতদের অনতিবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

    সভাপতির বক্তব্যে টাকসুর ভিপি মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষাঙ্গন হলো দেশ গড়ার ও মানুষ তৈরির কারখানা। কোনো সন্ত্রাসী, মাস্তানি বা চাঁদাবাজির স্থান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হতে পারে না। সম্মানিত শিক্ষকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। জুলাই আন্দোলনে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। দেশের মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের আদর্শিক, নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে গড়ে তুলছে। কিন্তু শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সেই পরিবেশকে কলঙ্কিত করছে।’

    তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

    মানববন্ধনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার হেড মুহাদ্দিস ড. মোয়াজ্জেম হোসেন আজহারী, ফকিহ ইব্রাহিম খলিল, আমিনুল হক, প্রভাষক নুরুল আমিন ও ওমর ফারুক। এছাড়াও টাকসুর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং প্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক সাধারণ শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে অংশ নেন।

    বক্তারা অবিলম্বে হামলার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ ও সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

  • শেখ পরিবারের সবাই নিরাপদে দেশের বাইরে, কারাগারে দলের বহু নেতা

    শেখ পরিবারের সবাই নিরাপদে দেশের বাইরে, কারাগারে দলের বহু নেতা

    শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর তাঁর সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফোনটি করেছিলেন তাপস, অপর প্রান্তে ছিলেন শেখ হাসিনা। তাপস শেখ হাসিনাকে সালাম দিয়ে বলেন, ‘আমি একটু সিঙ্গাপুর যাব, যেতে চাচ্ছিলাম। আমি কি যেতে পারি?’

    জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘হ্যাঁ, যাও। যাবা না কেন?’ এরপর তাঁদের মধ্যে আরও কিছু কথা হয়।

    এই কল তাপস করেছিলেন ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট সকাল ৮টা ১৬ মিনিটে। কথোপকথন থেকে জানা যায়, তাপস সিঙ্গাপুর যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। তবে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁকে থামিয়ে দেয়। এ সময় তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তা চান।

    তাপস তড়িঘড়ি করে বিদেশ যাওয়ার ঠিক আগের দিন পর্যন্ত ছাত্র-জনতার আন্দোলনে কয়েক শ মানুষ নিশ্চিত হত্যার শিকার হন। আন্দোলনে উত্তাল ঢাকাসহ সারা দেশ। আগের দিন ঢাকায় সরকারবিরোধী ‘দ্রোহযাত্রা’ নামে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী, শিল্পী, আইনজীবী, উন্নয়নকর্মী, মানবাধিকারকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নামে।

    ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে। ওই দিন বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম সরকার পতনের এক দফা দাবি ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন চূড়ান্তভাবে সরকারবিরোধী গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়। একই দিন সকালে সেনা সদরের এক দরবারে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের ওপর শক্তি প্রয়োগের বিরুদ্ধে মত উঠে আসে।

    সব মিলিয়ে সরকারের নড়বড়ে অবস্থা দেখে অনেকটা নিভৃতে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে তাপস। শেখ হাসিনার পতনের আগে ও পরে তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনের প্রায় সবাই দেশ ছেড়ে পালান। শেখ পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের সবাই গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হন। অথচ শেখ হাসিনার টানা সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে এই পরিবারের সদস্যরা ছিলেন ক্ষমতা প্রয়োগের শীর্ষে। এই পরিবার বা শেখ হাসিনার আত্মীয়স্বজনদের প্রায় দুই ডজন ব্যক্তি মন্ত্রী পদমর্যাদা, সংসদ সদস্য কিংবা গুরুত্বপূর্ণ দলীয় দায়িত্বে থেকে সরকারের সুবিধাভোগী ছিলেন।

    তাঁদের মধ্যে কেবল শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহ ২০২৪ সালের অক্টোবরে ঢাকায় গ্রেপ্তার হন। তবে তিনি রাজনৈতিকভাবে ততটা পরিচিত ছিলেন না। ব্যবসা করতেন। সেভাবে আত্মগোপনও করেননি বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের সূত্রে জানা গেছে।

    শেখ হাসিনার পরিবার বা স্বজনদের বাকি সদস্যরা তাঁর সরকারের পতনের আগে ও পরে দেশ ছাড়েন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের অধিকাংশের বর্তমান অবস্থান ভারতে। অনেকেই কলকাতার দামি আবাসিক ভবনে থাকছেন বলে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক মাধ্যমে ছবি, ভিডিও বের হয়েছে।

    হাসিনা পরিবারের সবাই আগেই নিরাপদে ছিলেন

    দেশ ছেড়ে পালানোর আগে হেলিকপ্টার থেকে কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে নামছেন শেখ হাসিনা। সঙ্গে তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা ছবি: সংগৃহীত

    শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার সময় তাঁর সঙ্গে যান ছোট বোন শেখ রেহানা। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় শেখ রেহানাকে দেখা যায়নি। আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সরকার পতনের দুই দিন আগে তিনি যুক্তরাজ্য থেকে ঢাকায় আসেন। তিনি যুক্তরাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা।

    তবে শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে শেখ রেহানাকে বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরে পাশে দেখা গেছে। শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতে যাওয়ার পর শেখ রেহানা লন্ডন ও ভারতে থাকছেন বলে আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন। তবে তিনি প্রকাশ্যে আসেননি।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকও ছিলেন। তিনি শেখ রেহানার দেবরও।

    শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। সরকার পতনের আগেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। এর মধ্যে ভারতে গিয়ে মায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন বলেও আলোচনা আছে।

    শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে জয় নিয়মিত দেশে আসতেন এবং সরকারি-বেসরকারি কর্মসূচিতে অংশ নিতেন। তিনি শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টাও ছিলেন।

    শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল) ২০২৩ সালের নভেম্বরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক নির্বাচিত হন। সংস্থাটির আঞ্চলিক কার্যালয় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে। শেখ হাসিনার সরকার পতনের সময় সায়মা ওয়াজেদ দিল্লিতেই ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের জুলাইয়ে সায়মা ওয়াজেদকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠায় ডব্লিউএইচও। তবে বেতন পান। তিনি কখনো দিল্লি, কখনো দুবাইয়ে থাকেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

    শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক (ববি) আওয়ামী লীগের গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) দেখাশোনা করতেন। শেখ হাসিনার শাসনামলে তিনি দেশে ও বিদেশে থাকতেন। সরকার পতনের সময় তিনি থাইল্যান্ডে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তাঁর স্ত্রী ফিনল্যান্ডের নাগরিক।

    ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হন। এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পে কাজ করেছেন।

    শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক ব্রিটিশ নাগরিক। তিনি সে দেশের পার্লামেন্টের সদস্য। টিউলিপ সিদ্দিকের বোন আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী যুক্তরাজ্যের নাগরিক। তিনি বাংলাদেশে খুব একটা আসতেন না। রাজনীতিতেও তাঁর সম্পৃক্ততা দেখা যায়নি।

    নিকটাত্মীয়দের বেশির ভাগই ভারতে

    ২০২৪ সালের বিতর্কিত ‘আমি-ডামি’ নির্বাচনে শেখ হাসিনাসহ তাঁর স্বজনদের আটজন সংসদ সদস্য হন। শেখ হাসিনার আত্মীয়দের মধ্যে ছিলেন তাঁর ফুফাতো ভাই শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দীন ও শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, শেখ হেলালের ছেলে শেখ তন্ময় এবং ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে নূর-ই-আলম চৌধুরী ও মজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন চৌধুরী)।

    বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন শেখ হাসিনার আরেক ফুফাতো ভাই আবুল খায়ের আবদুল্লাহ। যুবলীগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ। এ ছাড়া অন্য আত্মীয়রা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।

    আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দেশেই ছিলেন। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি ভারতে চলে যান এবং বর্তমানে কলকাতায় আছেন।

    শেখ সেলিমের ছেলে ও যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ ফজলে নাঈমও কলকাতায় গেছেন। তিনি নিয়মিত দেশে যুবলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে সংগঠনটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন।

    শেখ সেলিমের আরেক ছেলে শেখ ফজলে ফাহিম। তিনি এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি। আওয়ামী লীগের নেতাদের মতে, শেখ হাসিনার পতনের আগেই তিনি দেশ ছাড়েন।

    আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনার স্বজনদের অনেকে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে গেছেন। সিলেট ও ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়েও কেউ কেউ গেছেন। রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক যোগাযোগ এবং বিপুল অর্থের বিনিময়ে তাঁরা দেশ ছাড়তে সক্ষম হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।

    যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ প্রয়াত শেখ ফজলুল হক মনির বড় ছেলে। সরকার পতনের আগের সপ্তাহে তিনি কানাডা থেকে দেশে এসেছিলেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান প্রতিহত করতে নানা কর্মসূচিতে বক্তৃতা করেন। সরকার পতনের দিন তিনি ঢাকাতেই ছিলেন। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, কিছুদিন পর পরশ ভারত হয়ে কানাডায় চলে যান। এরপর তিনি আবার ভারতে ফিরেছেন।

    শেখ ফজলুর রহমান মারুফ শেখ হাসিনার আরেক ফুফাতো ভাই। রাজনীতিতে তিনি ততটা আলোচনায় ছিলেন না। বর্তমানে তিনি সিঙ্গাপুরে আছেন বলে জানা গেছে।

    আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই। বেশ প্রভাবশালী ছিলেন। শেখ হাসিনার সরকার পতনের আগেই তিনি ভারতে যান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তিনি প্রায়ই ভারতের রাজস্থানে আজমির শরিফ দরগায় যাতায়াত করতেন। সেখানে তাঁর এক মেয়ে থাকেন। তাঁর মেয়ে একজন ভারতীয় নাগরিককে বিয়ে করেছেন।

    ভারতে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর রেস্তোরাঁসহ নানা সম্পদ রয়েছে বলে একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে। তাঁর ছেলে আশিক আবদুল্লাহও বাবার সঙ্গে ভারতে গিয়েছিলেন।

    আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর বড় ছেলে সাদিক আবদুল্লাহ বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র। বাবা ছিলেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ছেলে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। দুজন মিলে পুরো বরিশাল অঞ্চলের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতেন।

    ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে বরিশালে সক্রিয় ছিলেন সাদিক আবদুল্লাহ। পরে তিনি দেশ ছেড়ে ভারত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা। তাঁর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব আছে। শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর বিক্ষুব্ধ জনতা বরিশালে সাদিক আবদুল্লাহর বাড়িতে আগুন দেয়।

    শেখ হাসিনার স্বজনেরা নিরাপদে দেশত্যাগ করলেও দলের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী তা পারেননি। এ নিয়ে দলের সাধারণ নেতা–কর্মীদের অনেকে ভেতর ক্ষোভ রয়েছে।

    আবুল খায়ের আবদুল্লাহ শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় তিনি বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। সরকার পতনের পর তিনি ভারতে চলে যান বলে জানা গেছে।

    শেখ হাসিনার দুই প্রভাবশালী চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দীন ও শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তাঁরা দেশেই ছিলেন। পরে তাঁরা ভারতে চলে যান। কলকাতার নিউ টাউন এলাকার একটি দামি আবাসিক কমপ্লেক্সে তাঁরা বসবাস করছেন বলে খবর বের হয়েছে।

    শেখ হেলালের ছেলে শেখ তন্ময়ও ভারতে আছেন। শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী শাহানা ইয়াসমিন শম্পাও রয়েছেন। আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, শম্পাকে গণভবনে শেখ হাসিনার পাশে প্রায়ই দেখা যেত।

    শেখ হেলালের আরেক ভাই শেখ সোহেল ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ছিলেন। খুলনার উন্নয়নকাজের দরপত্র নিয়ন্ত্রণ করতেন। তিনি আত্মগোপনে আছেন। তবে কোথায় আছেন, তা আওয়ামী লীগের নেতারা নিশ্চিত করতে পারেননি।

    শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে নূর-ই-আলম চৌধুরী (লিটন চৌধুরী) জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ছিলেন। তাঁর ভাই নিক্সন চৌধুরী যুবলীগের নেতা এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ছিলেন। দুজনই শেখ হাসিনার পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে তাঁদের ভারতে অবস্থানের তথ্য জানা গেছে।

    আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনার স্বজনদের অনেকে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে গেছেন। সিলেট ও ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়েও কেউ কেউ গেছেন। রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক যোগাযোগ এবং বিপুল অর্থের বিনিময়ে তাঁরা দেশ ছাড়তে সক্ষম হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি। শেখ হাসিনার স্বজনেরা নিরাপদে দেশত্যাগ করলেও দলের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী তা পারেননি। এ নিয়ে দলের সাধারণ নেতা–কর্মীদের অনেকে ভেতর ক্ষোভ রয়েছে।

    শেখ হাসিনার দুটি প্রিয় বিষয় হচ্ছে ক্ষমতা ও জ্ঞাতি–গোষ্ঠীপ্রীতি। তিনি ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। ব্যর্থ হওয়ার পর জ্ঞাতি–গোষ্ঠীকে নিরাপদে পালাতে সহায়তা করেছেন।

    মহিউদ্দিন আহমদ, রাজনীতিবিষয়ক লেখক ও গবেষক

    গ্রেপ্তার সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও কেন্দ্রীয় নেতারা

    মুহাম্মদ ফারুক খান, শাজাহান খান, দীপু মনি, সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক ও জুনাইদ আহ্‌মেদ পলকসহ অনেকে কারাগারে আছেন কোলাজ

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সংসদ সদস্য (এমপি) ও কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার হন। তাঁদের মধ্যে তিন ডজনের মতো সাবেক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এবং ৫০ জনের বেশি সাবেক সংসদ সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও দবিরুল ইসলাম জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মারা যান। সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন দিনাজপুর জেলা কারাগারে এবং সাবেক শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী মারা যান।

    বর্তমানে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে কাজী জাফর উল্যাহ, মো. আব্দুর রাজ্জাক, মুহাম্মদ ফারুক খান, শাজাহান খান, কামরুল ইসলাম, দীপু মনি, আহমদ হোসেন ও আবদুস সোবহান গোলাপ কারাগারে আছেন। এ ছাড়া শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলকও কারাগারে আছেন।

    রাজনীতিবিষয়ক লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, শেখ হাসিনার দুটি প্রিয় বিষয় হচ্ছে ক্ষমতা ও জ্ঞাতি–গোষ্ঠীপ্রীতি। তিনি ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। ব্যর্থ হওয়ার পর জ্ঞাতি–গোষ্ঠীকে নিরাপদে পালাতে সহায়তা করেছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের টানা সাড়ে ১৫ বছরের শাসন পারিবারিক শাসনে পরিণত হয়েছিল। এ সময় জ্ঞাতি–গোষ্ঠী, কিছু ব্যবসায়ী এবং পদধারীরা সর্বোচ্চ সুবিধা ভোগ করেছেন। সাধারণ কর্মী–সমর্থকেরা কামানের গোলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছেন। ভবিষ্যতেও এর পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

  • আমরা কাউকে অসম্মান করতে আসিনি, জনগণের দাবি নিয়ে এসেছি

    আমরা কাউকে অসম্মান করতে আসিনি, জনগণের দাবি নিয়ে এসেছি

    জ্বালানি তেল ও গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের ‘ভূতুড়ে বিল’, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। এ সময় সচিবালয়ের সামনে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ‘আমরা কাউকে অসম্মান করতে আসিনি, জনগণের দাবি নিয়ে এসেছি।’

    বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে সচিবালয়ের সামনে পৌঁছালে পুলিশ তাদের পদযাত্রায় বাধা দেয়। পরে সেখানেই সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আজ শুধু ঢাকা নয়, সারা বাংলাদেশেই একই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাসী। জনগণের দাবি জনপ্রতিনিধিদের কাছে পৌঁছে দিতেই সচিবালয়ের সামনে এসেছি।’

    সরকারের দায়িত্বশীল কোনো প্রতিনিধি এসে দাবি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘যদি আমাদের এই মিছিল থামাতে চান, তাহলে ভেতর থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী কিংবা তার প্রতিনিধিকে এখানে আসতে হবে। আমরা জনগণের পক্ষ থেকে দাবিগুলো তাদের হাতে তুলে দিতে চাই। তারা যদি জনগণের দাবি বাস্তবায়নে সফল হন, আমরা তাদের ধন্যবাদ দেব। কিন্তু ব্যর্থ হলে আমরা বসে থাকব না। আন্দোলনের পর আন্দোলন, কর্মসূচির পর কর্মসূচি চলতেই থাকবে।’

    তিনি আরও বলেন, আমরা কাউকে অসম্মান করতে আসিনি। সম্মানের সঙ্গে সরকারের প্রতিনিধির হাতে আমাদের দাবি তুলে দিতে চাই। এজন্য আমরা এখানে ১০ মিনিট অপেক্ষা করব। এই সময়ের মধ্যে কেউ না এলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।

    পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আপনাদের অনুরোধে আমরা আপাতত এখানে থেমেছি। সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের বক্তব্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য আপনাদের অনুরোধ করছি।’

    জ্বালানি সংকট, বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ১১ দলীয় জোটের ডাকা এই কর্মসূচিতে জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।