কৃষি

  • মরুভূমির দুম্বা কুষ্টিয়ার পক

    মরুভূমির দুম্বা কুষ্টিয়ার পক

    কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়িয়া ইউনিয়নের সাহেবনগর গ্রামে এক ভিন্নধর্মী কৃষি উদ্যোগের নজির স্থাপন করেছেন তরুণ উদ্যোক্তা ও মাদ্রাসা শিক্ষক হাফেজ মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম। মরুভূমির প্রাণী হিসেবে পরিচিত দুম্বা লালন-পালনের মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যেই এলাকায় সৃষ্টি করেছেন ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল। ২০২৩ সালে ছোট পরিসরে মাত্র ২টি দুম্বা নিয়ে শুরু হওয়া এই খামারে বর্তমানে দুম্বার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫টি। এখানে শুধু তুর্কি জাতের দুম্বা পালন করা হচ্ছে। চলতি বছরের মে-জুন মাসে দুই লাখ, দেড় লাখ ও এক লাখ টাকা দরে ৩টি দুম্বা বিক্রি করেছেন তিনি। দুম্বার ক্রেতাদের বেশির ভাগই কুষ্টিয়া জেলার বাইরের মানুষ। দুম্বা পালন তুলনামূলক সহজ হওয়ায় এখনই বিক্রি না করে প্রজননের মাধ্যমে সংখ্যা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এই খামারে।

    রাইয়ান বিন রাকিব দুম্বা খামারের মালিক হাফেজ মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাত্র তিন মাস বয়সী একটি দুম্বার দাম এক লাখ টাকা। অথচ একই বয়সী উন্নত জাতের একটি ভেড়ার দাম সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা। অর্থাৎ ভেড়ার চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি দামে বিক্রি হয় মরুর দেশের প্রাণীটি। এক বছর বয়সী একটি দুম্বার ওজন সাড়ে তিন মণ পর্যন্ত হয়। তখন সেটি তিন লাখ টাকা বা এর বেশি দামে বিক্রি করা যায়। দুম্বা পালন এখন কঠিন কিছু নয়। দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে সহজেই মানিয়ে নিচ্ছে এই প্রাণী। ঘাস, খড় ও দানাদার খাদ্যেই বেড়ে উঠছে প্রাণীগুলো। রোগবালাইও তুলনামূলক কম। ফলে দুম্বা পালনে লাভের সম্ভাবনাই বেশি থাকে।

    দুম্বা নিয়ে এক সম্ভাবনাময় উদ্যোগে দেশীয় পরিবেশে বিদেশি প্রজাতির এ প্রাণী লালন-পালন সহজ নয়। তবে নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অধ্যবসায় এবং সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে রাকিবুল ইসলাম সফলতার পথে এগিয়ে চলেছেন।

    সরেজমিনে খামার ঘুরে দেখা যায়, বিশাল খামারের এক পাশে টিনশেডের একটি বড় ঘর তৈরি করা হয়েছে। অনেকটা মাচার মতো উঁচু করে বানানো সেই ঘরের এক পাশে মা দুম্বাসহ ৩টি বাচ্চা দুম্বা এবং অন্য পাশে রাখা হয়েছে ১টি বড় পাঠা দুম্বাসহ ১১টি দুম্বা। চারপাশ ঘেরা থাকলেও দুম্বাগুলো সেখানে স্বাভাবিকভাবেই ছোটাছুটি করছে। পরিপাটি পরিবেশে যত্নের সঙ্গে লালন করা হচ্ছে প্রতিটি দুম্বা। নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা—সবকিছুতেই রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। স্থানীয়দের অনেকেই প্রতিদিন খামারটি দেখতে আসেন, নতুন এই প্রাণী সম্পর্কে জানতে চান এবং অনেকে আগ্রহী হচ্ছেন এমন উদ্যোগে যুক্ত হতে। দুম্বা পালনে রোগবালাই কম ও লাভ বেশি হওয়ায় অনেক তরুণ উদ্যোক্তা অনুপ্রাণিত হয়ে এ ধরনের খামারে যুক্ত হচ্ছেন।

    স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন প্রজাতির পশুপালন গ্রামীণ অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনতে পারে এবং তরুণদের উদ্যোক্তা হতে উদ্বুদ্ধ করবে। এ ধরনের উদ্যোগ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

    সাহেবনগরের এই দুম্বা খামার এখন শুধু একটি খামার নয়, বরং স্বপ্ন দেখার এক অনন্য উদাহরণ। মরুভূমির দুম্বা আজ কুষ্টিয়ার সবুজ প্রান্তরে নতুন সম্ভাবনার গল্প বলছে, যেখানে সাহস, শ্রম আর উদ্ভাবনী চিন্তার মিলনে গড়ে উঠছে সাফল্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

  • ফিফা বিশ্বকাপ নিয়ে এবার মুখ খুললেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

    ফিফা বিশ্বকাপ নিয়ে এবার মুখ খুললেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

    ক্রীড়া ডেস্ক:

    ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ তাদের গুন্ডামি পররাষ্ট্রনীতিরই প্রতিচ্ছবি।

    বুধবার (০৮ জুলাই) সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান বলেন, বিশ্বকাপ আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ এক প্রকার নিয়ম লঙ্ঘন। পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর চাপ সৃষ্টি, বাধা তৈরি এবং প্রতারণাও করছে দেশটি। মূলত এটি ওয়াশিংটনের বৃহত্তর পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তারা সব জায়গায় এমন আচরণই করে থাকে।

    পেজেশকিয়ান আরও বলেন, মার্কিন সরকারের আচরণ তাদের তথাকথিত মেগা প্লেবুক-এরই প্রতিফলন। তবে ইরান এই ধরনের খেলা প্রত্যাখ্যান করে ও নিজেদের অধিকারের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ায়। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে চলতি সপ্তাহে মার্কিন বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা এবং তেলের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর এই মন্তব্য করলেন পেজেশকিয়ান।

    সূত্র : আল জাজিরা

  • কুলিয়ারচরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

    কুলিয়ারচরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

    বিডি টাইসম ডেস্ক

    কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো: শরীফুল আলম এই উদ্বোধন করেন।

    সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এক হাজার ৪০০ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।

    একই সময়ে প্রতিমন্ত্রীর স্বেচ্ছাধীন তহবিল ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহায়তার আওতায় প্রাপ্ত নগদ টাকা ও চেকসহ বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) পক্ষ থেকে চেক বিতরণ করেন তিনি।

    বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রমের মধ্যে ছিল এক হাজার ৩০০ কৃষকের মধ্যে প্রতিজনের মাঝে পাঁচ কেজি করে রোপা আমন ধানের বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি সার ও ১০ কেজি করে এমওপি সার বিতরণ করা হয়।

    একই সময়ে ১০০ কৃষকের মধ্যে প্রতিজনের মাঝে ১০ গ্রাম করে হাইব্রিড মরিচের বীজ, পাঁচ কেজি করে ডিএপি সার, পাঁচ কেজি করে এমওপি সার ও একটি করে কীটনাশকের প্যাকেট বিতরণ করা হয়। এছাড়া এক হাজার কৃষকের মধ্যে প্রতিজনের মাঝে একটি করে মাস্টার প্যাকেট গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির বীজ, ১৫ কেজি করে ডিএপি সার ও ১৫ কেজি করে এমওপি সার বিতরণ করা হয়।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ইয়াসিন খন্দকারের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: কিতাব আলী মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো: শাহদাত হোসেন শাহ আলম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাবলী শবনম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আদনান আখতার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মর্জিনা আক্তার, কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) এস আর এম জি কিবরিয়া, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: আনিছুর রহমান, বিআরডিবির চেয়ারম্যান হাজী হাফেজ মো: দ্বীন ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও উপকারভোগী কৃষক-কৃষাণীবৃন্দ।

    পরে প্রতিমন্ত্রী কুলিয়ারচর পৌরসভার পূর্ব গাইলকাটা টিএনটি সড়কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন এবং কুলিয়ারচর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নতুন ভবন উদ্বোধন করেন।

    এর আগে, উপজেলা পরিষদ চত্বরে ‘উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এ প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) কর্তৃক প্রথমবারের মতো আয়োজিত জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬-এর বর্ণাঢ্য র‍্যালিতে অংশগ্রহণ করেন প্রতিমন্ত্রী।

    এছাড়া সকালে তিনি উপজেলার পশ্চিম গোবরিয়া গ্রামে গিয়ে উপজেলা বিএনপির প্রয়াত সাবেক সহ-সভাপতি শামসু উদ্দিনের কবর জিয়ারত করেন এবং উপজেলার উছমানপুর ইউনিয়নে গিয়ে উপজেলা বিএনপির প্রয়াত সাবেক সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলামের কবর জিয়ারত করেন।

  • রাতের আঁধারে ৮০টি কলাগাছ কািটলো দুর্বৃত্তরা

    রাতের আঁধারে ৮০টি কলাগাছ কািটলো দুর্বৃত্তরা

    বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় রাতের আঁধারে একটি কলাবাগানের অন্তত ৮০টি ছোট-বড় কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাগান মালিকের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

    এ ঘটনায় সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে গৌরনদী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী বাগান মালিক দক্ষিণ গোবর্ধন গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ কামরুজ্জান।

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গোবর্ধন বকুলতলা মসজিদসংলগ্ন ২৪ শতক সরকারি জমি লিজ নিয়ে মোহাম্মদ কামরুজ্জান শতাধিক কলাগাছের একটি বাগান গড়ে তোলেন। সম্প্রতি গাছগুলোতে মোচা বের হওয়ার সময় হওয়ায় ভালো ফলনের আশা করেছিলেন তিনি। কিন্তু সোমবার সকালে বাগানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, ছোট-বড় অন্তত ৮০টি কলাগাছ কেটে ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা।

    ভুক্তভোগী মোহাম্মদ কামরুজ্জান অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে তার জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর আগেও ওই পক্ষ জোরপূর্বক তার পুকুরের মাছ ধরে নিয়ে যায় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার ধারণা, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তার কলাবাগানে এ হামলা চালানো হয়েছে।

    এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা হালান সরদার বলেন, “মানুষের সঙ্গে মানুষের শত্রুতা থাকতে পারে, কিন্তু গাছের সঙ্গে মানুষের এমন শত্রুতা কেমন করে হতে পারে? যারা এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।”

    গৌরনদী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    স্থানীয়রা মনে করছেন, দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না গেলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

  • আত্রাইয়ে ​কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচি আওতায় কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ

    আত্রাইয়ে ​কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচি আওতায় কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ

    নওগাঁর আত্রাইয়ে উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে সোবার (৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১ টায় উপজেলা অডিটোরিয়াম হলরুমে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধি ও সহায়তার লক্ষ্যে বিনামূল্যে উন্নত মানের বীজ, চারা, সার এবং আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ কর্মসুচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলার মোট ২৫০৬ জন কৃষক সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন।

    অনুষ্ঠানে উপজেলার তালিকাভুক্ত কৃষকদের মাঝে উফশী রোপা আমন ধান, হাইব্রিড মরিচ বীজ, গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি, লেবুর চারা, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ (এন-৫৩ জাত), বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির চারা, ডিএপি ও এমওপি রাসায়নিক সার, জৈব সার (গোবর সার) এবং বালাইনাশক বিতরণ করা হয়। এছাড়াও পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য আধুনিক ‘এয়ার ফ্লো মেশিন’ ও বৃক্ষরোপণের জন্য চারা, খুঁটি, জৈব সার পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে।

    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমিয়ে ফলন বাড়াতে আমরা এই প্রণোদনা দিচ্ছি। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে আমরা উফশী রোপা আমনের জন্য ১৮০০ জন, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জন্য ২৩০ জন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে ৪০০ জনসহ মোট ২৫০৬ জন কৃষককে নির্বাচন করেছি। বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের সুবিধার্থে এবার বিনামূল্যে আধুনিক ‘এয়ার ফ্লো মেশিন’ দেওয়া হচ্ছে, যা মাঠ পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণ ও পচন রোধে দারুণ ভূমিকা রাখবে। সঠিক নিয়মে এই উপকরণগুলো ব্যবহার করলে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।

    আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনিরুজ্জামান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন নওগাঁ-০৬(আত্রাই-রাণীনগর) আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. রেজাউল ইসলাম রেজু। তিনও তাঁর বক্তব্যে বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। সরকার কৃষকের দোরগোড়ায় মানসম্মত বীজ ও সার পৌঁছে দিচ্ছে যাতে কোনো জমি অনাবাদী না থাকে।আমন ধান, হাইব্রিড মরিচ, উন্নত জাতের লেবু ও গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির যে বীজ, সার ও চারা পর্যায়ক্রমে দেয়া হবে তা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করবে। আমি আশা করি, প্রণোদনা পাওয়া কৃষকেরা আন্তরিকতার সাথে চাষাবাদ করে নিজেদের ভাগ্য বদলাবেন এবং দেশের কৃষি খাতকে আরও সমৃদ্ধ করবেন।

    উফশী রোপা আমন: ১৮০০ জন কৃষক (প্রতিজন: ৫ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি এমওপি, ৭৭ কেজি জৈব সার), মরিচ বীজ (হাইব্রিড): ২০ জন কৃষক (প্রতিজন: ১০ গ্রাম বীজ, ৫ কেজি ডিএপি, ৫ কেজি এমওপি, ৭৭ কেজি জৈব সার ও বালাইনাশক),

    গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি: ৩০ জন কৃষক (প্রতিজন: ৩০০ গ্রাম বীজ, ১৫ কেজি ডিএপি, ১৫ কেজি এমওপি, ৭৭ কেজি জৈব সার), লেবু চারা: ২০ জন কৃষক (প্রতিজন: ৫টি চারা ও ৩০ কেজি জৈব সার) গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ (এন-৫৩ জাত): ২৩০ জন কৃষক (প্রতিজন: ১ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি এমওপি, ৭৭ কেজি জৈব সার, পলিথিন ও বালাইনাশক), এয়ার ফ্লো মেশিন: ০৬ জন কৃষককে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য বিনামূল্যে ০১টি করে মেশিন প্রদান। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: ৪০০ জন কৃষক (প্রতিজন: ৫টি চারা, ৩০ কেজি জৈব সার ও বাঁশের খুঁটি)।

    উপকরণ বিতরণ শেষে প্রধান অতিথি ও কৃষি অফিসার কৃষকদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং মাঠ পর্যায়ে যেকোনো সমস্যায় কৃষি বিভাগের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন, এসময় উপজেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা পি.এম কামরুজ্জামান এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার মোঃ তোফাজ্জল হোসেন মীর, আত্রাই উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আব্দুল জলিল চকলেট, সাধারণ সম্পাদক মো. তসলিম উদ্দিন, যুগ্ম-সম্পাদক মো. আব্দুল মান্নান সরদার প্রমুখ।

    এ এম

  • লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে প্রায় ৭ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি প্রণোদনার উপকরণ বিতরণ

    লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে প্রায় ৭ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি প্রণোদনার উপকরণ বিতরণ

    লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক-কৃষাণীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সুবিধাভোগীদের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলা মাঠ প্রাঙ্গণে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া। সভাপতিত্ব করেন রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম, রায়পুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠু, সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান ভূঁইয়া, পৌর বিএনপির সভাপতি এবিএম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম লিটন, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক কাউসার আলম মোল্লা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং উপকারভোগী কৃষক-কৃষাণীরা।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মোট ৬ হাজার ৯৩০ জন কৃষক-কৃষাণীর মাঝে রোপা আমন ধানের বীজ ও সার, গ্রীষ্মকালীন উফশী ও হাইব্রিড জাতের সবজির বীজ ও সার, হাইব্রিড মরিচের বীজ, সার ও বালাইনাশক, ফলদ ও লেবুর চারা/কলম, জৈব ও গোবর সার এবং বাঁশের খুঁটি বিতরণ করা হয়। এছাড়া কৃষক-কৃষাণী ও বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোট ১০ হাজার ৪৫০টি চারা ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে, যা প্রায় ৫৪২ হেক্টর জমিতে রোপণ করা হবে।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, “এটি আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের একটি উদ্যোগ। আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ সরকার নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী কাজ করে যাবে।”

    তিনি আরও বলেন, “বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর কৃষকদের ঋণ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। কৃষকদের জন্য সরকারের প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। বাংলাদেশকে কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন।”

    কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এ প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

    এ এম

  • মালচিং পদ্ধতিতে অসময়ে তরমুজ চাষ, পাকুন্দিয়ায় কৃষকদের নতুন সম্ভাবনা

    মালচিং পদ্ধতিতে অসময়ে তরমুজ চাষ, পাকুন্দিয়ায় কৃষকদের নতুন সম্ভাবনা

    সাধারণত চৈত্র থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত দেশের বাজারে তরমুজের সরবরাহ বেশি থাকে। তবে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারে এখন আর তরমুজ শুধুমাত্র গ্রীষ্মকালীন ফল নয়; বছরের অন্যান্য সময়েও বাণিজ্যিকভাবে এ ফল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।

    বিশেষ করে মালচিং, মাচা পদ্ধতি, উন্নত পানি ব্যবস্থাপনা এবং কৃষি বিভাগের কারিগরি সহায়তার সমন্বয়ে বর্ষা মৌসুমেও সফলভাবে তরমুজ উৎপাদন করছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকরা। সেই ধারাবাহিকতায় কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় অফ-সিজনের তরমুজ চাষ কৃষিতে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

    কয়েক বছর আগেও বর্ষাকালে যেসব জমি জলাবদ্ধতার কারণে অনাবাদি পড়ে থাকত, বর্তমানে সেই জমিতেই উৎপাদিত হচ্ছে উন্নতমানের সুস্বাদু তরমুজ। একজন কৃষকের সফল উদ্যোগ এখন পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। তার দেখাদেখি অনেক কৃষক ধানসহ প্রচলিত কম লাভজনক ফসলের পরিবর্তে অসময়ের তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন।

    পাকুন্দিয়া উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের ঘাগড়া গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বর্তমানে এ এলাকার অফ-সিজনের তরমুজ চাষের পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত। কয়েক বছর ধরে তিনি পরীক্ষামূলকভাবে মালচিং ও মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করে ধারাবাহিকভাবে সফলতা অর্জন করছেন। প্রথমদিকে স্বল্প পরিসরে শুরু করলেও এখন তিনি বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন। গত বছর মাত্র ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ জমিতে তরমুজ আবাদ করে প্রায় ৯০ থেকে ৯২ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেন। সেই সফলতায় অনুপ্রাণিত হয়ে চলতি মৌসুমে তিনি প্রায় ৮২ থেকে ৮৪ শতাংশ জমিতে অফ-সিজনের তরমুজ চাষ করেছেন।

    বর্তমানে তার ক্ষেতজুড়ে ঝুলছে শত শত বড় আকৃতির তরমুজ। প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কৃষক, কৃষি উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী, ফলচাষি এবং সাধারণ মানুষ তার ক্ষেত দেখতে আসছেন। অনেকে সরাসরি মাঠে এসে চাষাবাদের কৌশল, মালচিং প্রযুক্তির ব্যবহার, মাচা তৈরির পদ্ধতি, পরিচর্যা, রোগবালাই দমন, উৎপাদন ব্যয় এবং সম্ভাব্য লাভ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছেন। ফলে তার ক্ষেত এখন অনেকটা কৃষকদের জন্য একটি উন্মুক্ত শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো জমিতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি অনুসরণ করে মালচিং পলিথিন বিছানো হয়েছে। প্রতিটি সারির ওপর বাঁশ ও দড়ি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে শক্তপোক্ত মাচা। সেই মাচাজুড়ে বিস্তৃত হয়েছে সবুজ লতা। লতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে অসংখ্য সবুজ ডোরাকাটা তরমুজ। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, যেন সবুজের বুকে ঝুলছে শত শত ফলের মালা। প্রতিটি গাছে তিন থেকে চারটি করে তরমুজ রয়েছে এবং প্রতিটির ওজন প্রায় চার থেকে পাঁচ কেজি। ভারী ফলের চাপ সামলাতে প্রতিটি তরমুজ আলাদা করে জালি বা নেট দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে, যাতে ঝড়-বৃষ্টি কিংবা অতিরিক্ত ওজনের কারণে ফল ছিঁড়ে পড়ে নষ্ট না হয়।

    ক্ষেতজুড়ে রয়েছে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। কোথাও আগাছার অস্তিত্ব নেই। মালচিং পলিথিন ব্যবহারের ফলে মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকছে, আগাছা জন্মাতে পারছে না এবং সারের অপচয়ও কম হচ্ছে। একই সঙ্গে বৃষ্টির অতিরিক্ত পানি সরাসরি গাছের গোড়ায় জমে না থাকায় গোড়া পচা রোগের ঝুঁকিও কমে গেছে। নিয়মিত সেচ, সুষম সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের কারণে প্রতিটি গাছ সুস্থ ও সবলভাবে বেড়ে উঠেছে। অধিকাংশ তরমুজ ইতোমধ্যে পরিপক্ব হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বাজারজাত করা হবে।কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মালচিং প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা সম্ভব হয়, আগাছা কম জন্মায়, সারের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় এবং অতিরিক্ত পানি জমে গাছের গোড়া পচে যাওয়ার আশঙ্কা কমে। অন্যদিকে মাচা পদ্ধতিতে লতা ওপরে ওঠানো হলে ফল মাটির সংস্পর্শে আসে না। ফলে ছত্রাকজনিত রোগ, পচন ও কীটপতঙ্গের আক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এতে ফলের আকার, রং, স্বাদ ও গুণগত মান ভালো থাকে এবং বাজারে বেশি দাম পাওয়া যায়।

    জানা গেছে, এ পদ্ধতিতে চারা রোপণের মাত্র ৫৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যেই তরমুজ সংগ্রহ করা যায়। বর্ষাকালে সঠিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা, মালচিং এবং নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে মৌসুমের বাইরেও বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ উৎপাদন সম্ভব। বর্তমানে বাজারে অফ-সিজনের তরমুজের সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় এর চাহিদা ও দাম দুটোই বেশি। ফলে কৃষকরা মৌসুমের তুলনায় অনেক ভালো মূল্য পাচ্ছেন। কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, এ কারণেই ধানসহ তুলনামূলক কম লাভজনক ফসলের পরিবর্তে কৃষকরা এখন লাভজনক বিকল্প ফসল হিসেবে অসময়ের তরমুজ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

    কৃষক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, “গত বছর ১৭-১৮ শতাংশ জমিতে তরমুজ চাষ করে প্রায় ৯০ থেকে ৯২ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার প্রায় ৮২ থেকে ৮৪ শতাংশ জমিতে চাষ করেছি। এতে আমার মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এক সপ্তাহের মধ্যেই তরমুজ বিক্রি শুরু করব। বর্তমানে প্রতি কেজি প্রায় ৫০ টাকা দাম পাওয়া যাচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি হবে বলে আশা করছি। খরচ বাদ দিয়েও ২ লাখ টাকার বেশি লাভ হবে।”তিনি আরও বলেন, “আমি ধাপে ধাপে তিনটি প্লটে তরমুজ চাষ করেছি। এক প্লটের তরমুজ বিক্রি শেষ হলে পাশের জমিতে আবার নতুন করে চাষ করব। বর্ষাকালে এ জমিতে ধান চাষ করা সম্ভব হয় না। তাই মাচা তৈরি করে তরমুজ চাষ করছি। প্রতিটি তরমুজ নেট দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে, যাতে পড়ে নষ্ট না হয়। আমার সফলতা দেখে আশপাশের অনেক কৃষক এখন তরমুজ চাষ শুরু করেছেন। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আমার ক্ষেত দেখতে আসছেন এবং চাষাবাদের বিভিন্ন বিষয় জানতে চাইছেন।”

    একই গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম বলেন, “আমি তরমুজ চাষে নতুন। আলাউদ্দিন কাকাসহ এলাকার কয়েকজন কৃষকের সফলতা দেখে আমিও প্রায় এক বিঘা জমিতে অফ-সিজনের তরমুজ চাষ করেছি। আগে এই জমিতে ধান চাষ করতাম, কিন্তু ধানে উৎপাদন খরচের তুলনায় লাভ খুবই কম। তাই বেশি লাভের আশায় তরমুজ, শসাসহ লাভজনক ফসলের চাষে ঝুঁকেছি। আশা করছি ভালো ফলন ও ন্যায্য দাম পেলে লাভবান হতে পারব।”

    আরেক কৃষক রতন বলেন, “ধান চাষ করে এখন আর তেমন লাভ হচ্ছে না। বৃষ্টি-বাদলের কারণে অনেক সময় উৎপাদনও কমে যায়। পাশের কৃষকদের অফ-সিজনের তরমুজ চাষে ভালো ফলন ও লাভ হতে দেখে আমিও আগ্রহী হয়েছি। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও উন্নতমানের বীজ নিয়ে এবার তরমুজ চাষ শুরু করার পরিকল্পনা করেছি। আশা করছি এতে ভালো লাভবান হতে পারব।”

    সাবেক ইউপি সদস্য ফরিদ উদ্দীন বলেন, “আলাউদ্দিন প্রতি বছরই অফ-সিজনে তরমুজ চাষ করে ভালো ফলন ও লাভ পাচ্ছেন। তার সফলতা দেখে এলাকার অনেক কৃষকও এ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। সরকার ও কৃষি বিভাগ যদি উন্নত বীজ, প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং সহযোগিতা দেয়, তাহলে আরও অনেক কৃষক তরমুজ চাষ করে লাভবান হতে পারবেন। এতে কৃষকের আয় যেমন বাড়বে, তেমনি দেশেও মৌসুমের বাইরে তরমুজের সরবরাহ নিশ্চিত হবে।”

    কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের এলাকার উৎপাদিত তরমুজ খুবই সুস্বাদু ও মিষ্টি। আমরা নিজেরা যেমন খাই, তেমনি আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতেও উপহার হিসেবে পাঠাই। মৌসুমের বাইরে উৎপাদিত হওয়ায় বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়। ধানসহ অন্যান্য প্রচলিত ফসলের তুলনায় তরমুজ চাষে লাভও বেশি। তাই এখন অনেক কৃষক এই ফসলের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন।”ঘাগড়া ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “কৃষি বিভাগের উদ্যোগে এ ব্লকে ২০ শতাংশ জমিতে একটি তরমুজ প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০টি চারা রোপণ করা হয়েছে। আগে এ জমিতে ধান চাষ হলেও লাভ কম ছিল। কৃষক আলাউদ্দিনকে অফ-সিজনের তরমুজ চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়। বর্তমানে তিনি সফল হয়েছেন। তার সফলতা দেখে অনেক কৃষক কৃষি অফিসে যোগাযোগ করছেন এবং এ চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।”

    পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নূরে-আলম বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে অসময়ের তরমুজ চাষ সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ঘাগড়া ও চন্ডিপাশা এলাকায় ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছিল। এসব প্রদর্শনী সফল হওয়ায় আশপাশের কৃষকরাও এ চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।

    তিনি বলেন, “প্রতি বিঘা জমিতে উৎপাদন খরচ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা হলেও ফসল বিক্রি করে এক লাখ টাকার বেশি আয় করা সম্ভব। ফলে কৃষকরা প্রতি বিঘায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট মুনাফা অর্জন করতে পারেন। মাত্র ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যেই এই লাভ পাওয়া যায়।”

    তিনি আরও বলেন, বর্ষাকালে গাছের গোড়া পচা রোগ প্রতিরোধে মালচিং পেপার অত্যন্ত কার্যকর। পাশাপাশি উন্নত জাতের বীজ নির্বাচন, জমি প্রস্তুত, রোগবালাই দমন, সারের সঠিক ব্যবহার এবং স্প্রে শিডিউল সম্পর্কে কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ব্ল্যাক কুইন, জামালপুর সিডসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের অফ-সিজনের মানসম্মত বীজ ব্যবহার করে কৃষকরা ভালো ফলন পাচ্ছেন।

    তিনি জানান, অসময়ের তরমুজ চাষের পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন শিমসহ অন্যান্য উচ্চমূল্যের বাণিজ্যিক ফসলের আবাদ সম্প্রসারণেও কৃষি বিভাগ কাজ করছে। অনাবাদি জমিকে উৎপাদনের আওতায় এনে কৃষকদের সারা বছর আয় নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

    কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ধানসহ প্রচলিত ফসলের কম লাভজনক অবস্থার কারণে কৃষকরা এখন বিকল্প উচ্চমূল্যের ফসলের দিকে ঝুঁকছেন। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষি বিভাগের নিয়মিত কারিগরি সহায়তা এবং বাজারে অফ-সিজনের তরমুজের ভালো দাম অব্যাহত থাকলে পাকুন্দিয়ার এই উদ্যোগ শুধু কিশোরগঞ্জের কৃষিতেই নয়, দেশের কৃষি অর্থনীতিতেও নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। এটি ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের কৃষকদের জন্যও একটি অনুসরণযোগ্য সফল মডেল হয়ে উঠতে পারে।

    এ এম

  • ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পেঁপে চাষে স্বাবলম্বী কৃষক নিজাম উদ্দিন

    ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পেঁপে চাষে স্বাবলম্বী কৃষক নিজাম উদ্দিন

    ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের ঘোষ গ্রামের কৃষক মো: নিজাম উদ্দিন মুন্সী পেঁপে চাষ করে স্বাবলম্বী হয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

    ৯০ শতাংশ জমিতে রাজশাহী জাতের এক হাজার পেঁপের চারা রোপণ করে তিনি ইতোমধ্যে এক লাখ টাকারও বেশি পেঁপে বিক্রি করেছেন। বর্তমানে তার বাগানের গাছে প্রচুর পেঁপে রয়েছে, যা থেকে আরও ভালো আয়ের আশা করছেন তিনি।

    সরেজমিনে দেখা যায়, সবুজে ঘেরা বিশাল বাগানজুড়ে সারি সারি পেঁপে গাছ। প্রতিটি গাছেই ঝুলছে অসংখ্য পেঁপে। বাগানের মনোরম দৃশ্য স্থানীয়দেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

    কৃষক মো: নিজাম উদ্দিন মুন্সী জানান, প্রথমে তিনি লাল তীরের ‘বাবু’ জাতের পেঁপের চারা রোপণ করেছিলেন। কিন্তু স্থানীয় আবহাওয়ার সাথে জাতটির সামঞ্জস্য না থাকায় তিনি ক্ষতির মুখে পড়েন। এরপর মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ভাবনাতলা এলাকার কৃষি উদ্যোক্তা ডাক্তার বাবুলের পরামর্শে রাজশাহী জাতের পেঁপে চাষ শুরু করেন। পুনরায় ৯০ শতাংশ জমিতে এক হাজার চারা রোপণ করলে সেগুলো ভালোভাবে বেড়ে ওঠে এবং আশানুরূপ ফলন দেয়।

    তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত এক লাখ টাকার বেশি পেঁপে বিক্রি করেছি। গাছে এখনো অনেক পেঁপে রয়েছে। ভবিষ্যতে আরো বেশি জমিতে পেঁপে চাষ করতে চাই। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে পেঁপের চারা উৎপাদন বাড়িয়ে দেশের সবজির চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারব, ইনশাআল্লাহ।’

    এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোল্লা আল-মামুন বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। ওই কৃষক কখনো কৃষি অফিসের সাথে যোগাযোগ করেননি। আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমরা দ্রুত তার বাগান পরিদর্শন করব এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা দেয়ার উদ্যোগ নেব।’

  • গাজায় মৃত্যু-ধ্বংসের বিভীষিকা

    গাজায় মৃত্যু-ধ্বংসের বিভীষিকা

    ধ্বংসস্তূপে হাজারো মরদেহ, তাঁবুতে তাঁবুতে আতঙ্ক

    মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহরের একটি বালুময় পথে নীল, হলুদ ও সাদা রঙের একটি ফুটবল পায়ে নিয়ে দৌড়াচ্ছিল ১৪ বছর বয়সী কিশোর কারাম। যুদ্ধ শুরুর আগে তার স্বপ্ন ছিল, একজন পেশাদার ফুটবলার হওয়ার। তবে তার এই স্বপ্ন এখন ফিকে হয়ে যাচ্ছে।
    বর্তমানে বাস্তুচ্যুত এই কিশোর সিএনএনকে বলেছে, আমার স্বপ্ন ছিল ফুটবলার হওয়া। বন্ধুদের সঙ্গে রাস্তায় খেলতাম। যুদ্ধের আগে জীবনটা খুব সুন্দর ছিল। কিন্তু এখন আর জীবন বলে কিছু নেই।
    সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেখানে একসময় ভূমধ্যসাগরের নীল দিগন্ত দেখা যেত, সেখানে এখন শুধু পোড়া কৃষিজমি, ধ্বংসপ্রাপ্ত ফলের বাগান এবং অসংখ্য ধ্বংসস্তূপ।
    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যখন সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতিকে দীর্ঘমেয়াদি শান্তিতে রূপ দেয়ার চেষ্টা করছে, তখন গাজার বাসিন্দারা বলছেন, তারা এমন একটি যুদ্ধবিরতির মধ্যে বসবাস করছেন যার বাস্তব প্রভাব তারা অনুভব করছেন না। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইল বিদেশি সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেয়নি।

    যুদ্ধবিরতি হলেও বাস্তব পরিবর্তন নেই
    দীর্ঘ দুই বছরের যুদ্ধ ও অবরোধের পর গত বছরের অক্টোবরে ইসরাইল ও হামাস দুই ধাপের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তিতে ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার, হামাসের পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন এবং নতুন ফিলিস্তিনি প্রশাসন গঠনের কথা ছিল।
    কিন্তু আট মাসেরও বেশি সময় পার হলেও এসব পরিকল্পনার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি। বরং জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা নিকোলাই ম্লাদেনভ মে মাসেই সতর্ক করেছিলেন যে, গাজা একটি “বিপজ্জনক স্থবির অবস্থার” মধ্যে রয়েছে।
    চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য গঠিত বোর্ড অব পিস সম্প্রতি সাইপ্রাসে বৈঠক করলেও ভবিষ্যৎ পথ এখনও স্পষ্ট নয়। হামাসের কাছ থেকে প্রশাসনিক দায়িত্ব নেয়ার জন্য যে ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটি গঠনের কথা ছিল, তার কোনো সময়সূচি এখনো নির্ধারণ হয়নি। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনীও এখনও মোতায়েন হয়নি।
    অন্যদিকে ইসরাইল গাজার তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ অতিক্রম করে আরও এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং হামাসের সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
    গত মাসে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, তিনি সেনাবাহিনীকে গাজার ৭০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং প্রয়োজনে আরও এলাকা দখলের ইঙ্গিত দেন।
    অপরদিকে হামাসও পুনর্গঠিত হয়েছে, অস্ত্র সমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং গাজার বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।

    হতাহতের সংখ্যা বাড়ছেই
    ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে চলতি বছরের ২১ জুন পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় গাজায় অন্তত ১ হাজার ৫৯ জন নিহত এবং ৩ হাজার ৪২৯ জন আহত হয়েছেন।
    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে সিএনএন জানিয়েছে, অক্টোবরের পর থেকে গড়ে প্রতিদিন অন্তত একজন শিশু নিহত হয়েছে।
    জুন মাসে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন অভিযোগ করে, গাজায় শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ইসরাইল গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ইসরাইল এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে একে “জাতিসংঘের নথির ছদ্মবেশে রাজনৈতিক রক্ত অপবাদ” বলে অভিহিত করেছে।

    ‘এখানে প্রকৃত কোনো যুদ্ধবিরতি নেই’
    মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহে বাস্তুচ্যুত ত্রাণকর্মী স্যালি সালেহ বলেন, আপনি যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায় বোমা হামলার শিকার হতে পারেন। এখানে প্রকৃত কোনো যুদ্ধবিরতি নেই।
    জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ১৯ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং তাদের অনেকেই একাধিকবার স্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।
    অস্বাস্থ্যকর অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাসের কারণে চর্মরোগ ও পরজীবী সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাস্তুচ্যুত মানুষের বসবাসের ৮০ শতাংশেরও বেশি এলাকায় এসব রোগ ছড়িয়ে পড়েছে।
    স্যালি সালেহ জানান, ইঁদুর, তেলাপোকা ও বেজি রাতে তাঁবুতে ঢুকে শিশু ও নবজাতকদের কামড়ে দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা সরাসরি মানুষের ওপর আক্রমণও করছে।
    আমরা এমন অনেক অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলেছি, যাদের সন্তানদের ইঁদুর কামড়েছে। তারা আতঙ্কে আছেন, আবারও এমন ঘটনা ঘটতে পারে, বলেন তিনি।

    আবর্জনা, নোংরা পানি ও মানবিক সংকট
    গাজা সিটির পানি কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র হুসনি নাদিম মোহান্না জানান, শৌচাগারের সংকটের কারণে মানুষ মাটিতে গর্ত করে অস্থায়ী পায়খানা তৈরি করছে। এতে মাটি ও পানিদূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
    ইঁদুর ত্রাণের চাল ও আটা নষ্ট করে ফেলছে। অনেক পরিবার খাবারের পাত্র তাঁবুর ছাদে ঝুলিয়ে রাখতে বাধ্য হচ্ছে।
    ইসরাইলি সংস্থা সিওজিএটি দাবি করেছে, গত অক্টোবর থেকে প্রতিদিন প্রায় ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে, যা চুক্তিতে নির্ধারিত ন্যূনতম সংখ্যা। তাদের ভাষ্য, গাজার মানবিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।
    তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, বিদ্যুৎ উৎপাদনের যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রবেশে ইসরাইলি বিধিনিষেধ এবং ত্রাণকর্মীদের ওপর হামলার কারণে মানবিক পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব হচ্ছে না।

    ধ্বংসস্তূপের নিচে হাজারো মরদেহ
    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৭৮৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও অন্তত ৭ হাজার ৫০০ মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ অবস্থায় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
    আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির জেরুজালেমভিত্তিক মুখপাত্র প্যাট গ্রিফিথস বলেন, দীর্ঘদিন ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকলে মরদেহ শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। ডিএনএ পরীক্ষার সুবিধা না থাকায় উচ্চতা, আঙুলের ছাপ, দাঁতের গঠন, পুরোনো আঘাত বা জন্মদাগের মতো তথ্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

    শিশুদের খেলায়ও যুদ্ধের ছাপ
    স্যালি সালেহ জানান, গাজার শিশুরা খেলতে গিয়েও জানাজা ও দাফনের দৃশ্য অভিনয় করছে, যা তাদের মানসিক ট্রমার গভীরতা প্রকাশ করে।
    গাজা সিটিতে বাস্তুচ্যুত ২৪ বছর বয়সী লেখক ইয়াহইয়া আলহামারনা বলেন, যুদ্ধ শুধু ভবিষ্যৎ নয়, মানুষের পরিচয়ও কেড়ে নিচ্ছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে গাজায় বেকারত্বের হার বেড়ে ৮৫ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে। যুদ্ধের আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরের পূর্বে এই হার ছিল ৪৫ শতাংশ।
    আলহামারনা বলেন, ফিলিস্তিনিদের প্রায়ই শুধু নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়, মানুষ হিসেবে নয়। এটি অমানবিক।
    তিনি বলেন, ধ্বংসের মধ্যেও মানুষ লিখছে, কথা বলছে এবং আশা ধরে রেখেছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে নিহত ফিলিস্তিনি লেখক ও অধ্যাপক রিফাত আল-আরিরের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তিনি চিন্তা, সংস্কৃতি ও শব্দের শক্তির প্রতীক ছিলেন। মানুষ এখনও লিখছে, কথা বলছে এবং আশা করছে। আর এটিই এক ধরনের প্রতিরোধ।

  • সবজি চাষে স্বাবলম্বী জামফুল বেগম

    সবজি চাষে স্বাবলম্বী জামফুল বেগম

    গাইবান্ধার চিরায়ত রূপ বন্যা ও নদীভাঙন। যমুনা ও তিস্তা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের মানুষ প্রতিনিয়ত ভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে জীবনযাপন করেন। সেই জীবনসংগ্রামের মধ্যেই অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার রতনপুর গ্রামের সংগ্রামী নারী জামফুল বেগম।

    একসময় প্রতিবছর বন্যার করাল গ্রাসে তার বসতভিটা তলিয়ে যেত। ক্ষতিগ্রস্ত হতো ঘরবাড়ি। স্বামী, দুই ছেলে ও দুই মেয়েসহ ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটত তার। তবে এখন আর সেই দিন নেই। কঠোর পরিশ্রম ও সময়োপযোগী উদ্যোগে বদলে গেছে তার ভাগ্য। পাল্টে গেছে তার জীবনচিত্র। বসবাসের নিরাপত্তা না থাকায় বাড়ির আঙিনায় কোনো ধরনের সবজি চাষ করাও তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। পরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে) বাস্তবায়িত ‘প্রুফস’ প্রকল্পের আওতায় তার বসতভিটা উঁচু করা হয়। ফলে এখন প্রলয়ংকরী বন্যার মধ্যেও তার ঘরবাড়ি নিরাপদ থাকে। পাশাপাশি বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।জানা যায়, বসতভিটা উঁচু করার পর বাড়ির চারপাশের পতিত ও খালি জায়গা কাজে লাগিয়ে জামফুল বেগম আধুনিক পদ্ধতিতে মৌসুমি সবজি চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার বাড়ির চারপাশে লাউ, পুঁইশাক, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, করলাসহ নানা ধরনের পুষ্টিকর ও বিষমুক্ত সবজির সমারোহ। পরিবারের দৈনন্দিন সবজির চাহিদার সিংহভাগই এখন নিজেদের উৎপাদিত সবজি থেকে পূরণ হচ্ছে। এতে একদিকে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মিটছে, অন্যদিকে উদ্বৃত্ত সবজি স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয়ও করছেন তিনি।

    নিজের এই সাফল্যের কথা তুলে ধরে জামফুল বেগম বলেন, ‘প্রকল্প থেকে সময়মতো আধুনিক প্রশিক্ষণ ও উন্নতমানের বীজ পেয়েছি। ফলে সবজি চাষে খুব ভালো ফলন হয়েছে। এখন আর বন্যায় সবকিছু ভেসে যাওয়ার ভয় নেই। আমার সাফল্য দেখে প্রতিবেশীরাও বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।’

    এ বিষয়ে কথা হলে চরাঞ্চলের পরিবেশ ও জীবনমান উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের (জিইউকে) সমন্বয়কারী আফতাব হোসেন বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় চরাঞ্চলে বসতভিটা উঁচু করা এবং এর সঙ্গে গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা টেকসই উন্নয়নের একটি কার্যকর উদ্যোগ। জামফুল বেগমের সাফল্য তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।’

    এ এম

  • নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী

    নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী: রিজভী

    ডেস্ক নিউজ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নিরন্তর প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে তাঁর নির্বাচনে প্রদত্ত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কৃষি কাজ ও স্বাস্থ্য খাতের কাজসহ এই যে প্রতিশ্রুতিগুলো, এগুলো বাস্তবায়নে কোনো ধরনের কমতি বা ঘাটতি নেই; প্রতিনিয়ত তিনি এগুলো মনিটরিং করছেন, সবকিছু দেখছেন।

    তিনি বলেন, যার বাৎসরিক আয় ৪ লাখ টাকা, এবারের বাজেটে বলা হয়েছে তাঁর কোনো আয়কর দিতে হবে না। প্রস্তাব করা হয়েছিল মুদির দোকানগুলোতে কর বসানোর; আমরাও বলেছি , ক্ষুদ্র ও মাঝারি এই দোকানগুলোতে ভ্যাট বা কর বসানো যাবে না। বাজেট যখন পাস হয়েছে, তখন মুদির দোকানের ওপর যে করের প্রস্তাব করা হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আমরা এও দেখছি, ১২ কেজির যে গ্যাস সিলিন্ডার, সেটার মূল্য ৩৫৭ টাকা কমানো হয়েছে। অর্থাৎ জনস্বার্থকে সবচেয়ে বড় করে দেখা হচ্ছে, জনগণের কষ্ট লাঘব করাকে বড় করে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    শুক্রবার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে করে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে প্রার্থনা ও আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন।

    রিজভী বলেন, অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে আজকে আমরা একটা মুক্ত পরিবেশে নির্বিধায় সবার কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। যার মনে যা আছে, সেই কথা বলার স্বাধীনতা অনেকদিন পর এসেছে। একটি ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা যে পরিবেশ পেয়েছি, সেই পরিবেশে এই কথা বলা নিশ্চিত হয়েছে। নিশ্চিত হয়েছে সত্যিকার অর্থে জনগণের ভোটাধিকার, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি সরকার। এটা অত্যন্ত আনন্দের বিষয়।

    সকল ধর্মের মানুষের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে রিজভী বলেন, আমরা একই ভূখণ্ডের মানুষ ও জনগোষ্ঠী। আমাদের স্বাধীন সত্তা বিনির্মাণের জন্য একসাথে লড়াই করা ও আত্মত্যাগ করা মানুষ আমরা। এদের মধ্যে যেমন মুসলমান ছিল, তেমনি হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ছিল। সবাই মিলে এই জাতি ও গোষ্ঠী নির্মাণ করেছেন। অথচ বারবার একটি বিভাজনের রেখা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে—’ওরা’ আর ‘আমরা’। এই ধরনের একটি প্রচেষ্টা বারবার করা হয়েছে, অথচ তারা জানত না যে এই দেশের মাটিতে এটা কখনো সম্ভব নয়। হ্যাঁ, কৃত্রিমভাবে সংকট ও বিভাজন তৈরি করা যায়, কিন্তু আমাদের মনের উদারতা ও গভীরতা অনেক বেশি। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, চাকমা, ত্রিপুরা—সবাই মিলে এই ভূখণ্ডের অস্তিত্ব, স্বাধীনতা এবং অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য একসাথে লড়াই করেছে। এই জাতি কখনো কোনো জাতীয়, আন্তর্জাতিক বা বৈদেশিক চক্রান্তের কাছে মাথা নত করেনি। আমাদের ভেতরের এই নিবিড় সম্পর্ককে তারা আগেও বিনষ্ট করতে পারেনি, এখনও পারেনি; যদিও নানাভাবে চেষ্টা-প্রচেষ্টা চলে।

    তিনি বলেন, শেখ হাসিনার কাছে হিন্দু-মুসলমান বা ধর্ম বড় ছিল না; তার কাছে বড় ছিল ; তার পরিবার এবং দল । এর বাইরে উনাদের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। যদি অস্তিত্ব থাকত, তাহলে তপন মিত্রের চাকরি কেন চলে গেল? উনার তো সচিব হওয়ার কথা ছিল, অথবা ডেপুটি সেক্রেটারি বা জয়েন্ট সেক্রেটারি পদে থাকার কথা ছিল। কিন্তু আপনাদের চাকরি নাই, কারণ উনারা জাতীয়তাবাদী শক্তির সাথে সম্পর্কিত। বেগম খালেদা জিয়া বিজন দাদার মেয়ের বিয়েতে উপস্থিত হয়েছিলেন—এইটাই হচ্ছে তার অপরাধ। এই কারণে সে আর বাংলাদেশে থাকতে পারবে না, তপনদা বাংলাদেশে থাকতে পারবে না। এটা শুধু আপনাদের একটা উদাহরণ হিসেবে বললাম, প্রত্যেকের ক্ষেত্রে তাই হয়েছে

    রিজভী বলেন, ৫ই আগস্টে একসাথে দাঁড়িয়েছি। সেদিন পিছনে বুলেটের মুখে হিন্দুও গুলি খেয়েছে, খ্রিস্টানও গুলি খেয়েছে, জুলাই আন্দোলনে সবাই মিলে দাঁড়িয়েছে। আশা করি, আমাদের এই পরস্পরের মধ্যকার ভ্রাতৃত্ববোধ কেউ নষ্ট করতে পারবে না। আমরা আমাদের এই স্বাধীন সত্তাকে রক্ষা করার জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রত্যেকে একসাথে কাজ করে যাব। একসাথে লড়াই করব, একসাথে বিনির্মাণ করব, একসাথে সৃষ্টি করব আর প্রয়োজনে একসাথে প্রতিরোধ করব।

    এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিএনপি সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু সহ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠীর সম্প্রদায়ের নেতৃবৃদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ সভাপতি ডা. জাহিদুল কবির , ছাত্রদলের সহ সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল প্রমুখ।

  • প্রবাসে নয়, কৃষিতেই ভাগ্য বদল ফটিকছড়ির এয়াকুব দৌলতের

    প্রবাসে নয়, কৃষিতেই ভাগ্য বদল ফটিকছড়ির এয়াকুব দৌলতের

    একসময় প্রবাসে বছরের পর বছর পরিশ্রম করেও সফলতার মুখ দেখেননি মোহাম্মদ এয়াকুব দৌলত। তবে দেশে ফিরে কৃষিকেই জীবনের নতুন পথ হিসেবে বেছে নিয়ে বদলে ফেলেছেন নিজের ভাগ্য। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর ফকিরটিলা এলাকায় প্রায় পাঁচ একর টিলা ও সমতল ভূমিজুড়ে গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন প্রজাতির আমের বাগান। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে এক হাজারের বেশি গাছ, যা তাকে এনে দিয়েছে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ও পরিচিতি।

    সরেজমিনে দেখা যায়, বাগানজুড়ে থোকায় থোকায় ঝুলছে রসালো ও সুস্বাদু আম্রপালি ও রাংকোয়াচি (বার্মিচ) আম। গাছ থেকে আম সংগ্রহ, বাছাই ও বাজারজাতকরণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকার ও খুচরা ক্রেতারা ছুটে আসছেন এই বাগানে। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি অনলাইনেও বিক্রি হচ্ছে তার উৎপাদিত আম।

    এয়াকুব দৌলত জানান, সংসারের আর্থিক সংকট কাটাতে তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। কিন্তু নানা ব্যবসায়-বাণিজ্যে যুক্ত থেকেও কাঙ্ক্ষিত সফলতা পাননি। দেশে ফিরে বেকারত্বের হতাশার মধ্যে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে আম্রপালি আম চাষ সম্পর্কে জানতে পারেন। এরপর নিজের পরিত্যক্ত টিলা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে আম্রপালি চাষ শুরু করেন।

    তিনি বলেন, ‘শুরুতে অনেকেই আমাকে পাগল বলেছিল। টিলা জমিতে বিদেশি জাতের আম হবে না বলেও নানা কথা শুনতে হয়েছে। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। প্রথম বছরের সফলতা আমাকে আরও বড় পরিসরে কাজ করার সাহস দিয়েছে।’

    এ এম

  • পোনা খামারে মিলেছে রায়হানের জীবনের ঠিকানা

    পোনা খামারে মিলেছে রায়হানের জীবনের ঠিকানা

    চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর ইউনিয়নের কিপাইতনগর গ্রামে মোহাম্মদ বাবর আলী রায়হানের (৪২) সকাল শুরু হয় পুকুরপাড়ের ব্যস্ততায়। সূর্যের আলো পানিতে ঝিলমিল করতেই এক পুকুর থেকে আরেক পুকুরে ছুটে যান তিনি। পানির মান, পোনার বৃদ্ধি, খাবারের অবস্থা- সবকিছুই তার নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকে।

    একসময় জীবিকার তাগিদে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন রায়হান। কমার্স বিষয়ে পড়াশোনা শেষে প্রায় ৯ বছর প্রবাসে ভাঙারি ব্যবসায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে প্রবাসজীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও তাকে টানত গ্রামের মাটি। সেই টানেই দেশে ফিরে বেছে নেন মাছের পোনা উৎপাদনের মতো সম্ভাবনাময় একটি খাত।

    প্রায় এক যুগ আগে মাত্র ৫০০০০-৬০০০০ হাজার টাকা বিনিয়োগে কয়েকটি পুকুর নিয়ে শুরু হয় তার যাত্রা। সময়ের সঙ্গে পরিশ্রম, অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনার সমন্বয়ে সেই ছোট উদ্যোগ আজ বড় খামারে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে তিনটি নিজস্ব ও পাঁচটি লিজ নেওয়া পুকুরসহ মোট আটটি পুকুরে পোনা উৎপাদন করছেন তিনি। এ খাতে তার বিনিয়োগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকায়।

    রায়হানের খামারে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালি বাউশ, গ্রাস কার্প, সিলভার কার্প ও তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা উৎপাদিত হয়। পাশাপাশি গত ৩ বছর ধরে তিনি হালদা নদীর রেণু পোনা সংগ্রহ ও উৎপাদনের কাজও করছেন।

    হালদার প্রাকৃতিক উৎস থেকে সংগৃহীত রেণু পোনা দেশের মৎস্য খাতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এ কাজে তাকে সহায়তা করছে ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আইডিএফ)। সংস্থাটির কর্মকর্তারা নিয়মিত খামারে এসে পানির মান পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দিয়ে থাকেন। উপজেলা মৎস্য অফিস থেকেও নিয়মিত তদারকি ও প্রশিক্ষণ সহায়তা দেওয়া হয়।

    মৎস্য খামারী রায়হান জানান, তিনি পোনা উৎপাদনে অর্গানিক পদ্ধতিকে বেশি গুরুত্ব দেন। প্রাকৃতিক খাদ্য ব্যবহারের ফলে রোগবালাই কম হয় এবং সুস্থ ও মানসম্মত পোনা উৎপাদন সম্ভব হয়।

    প্রতি বছর তার খামারে দুই থেকে তিন টন পোনা উৎপাদিত হয়। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকাতেও সরবরাহ করা হয় এসব পোনা। বর্তমানে এ খামার থেকে তার বার্ষিক আয় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।

    রায়হান বলেন, ‘প্রবাস থেকে ফিরে এমন একটি কাজ করতে চেয়েছিলাম, যা নিজের পাশাপাশি অন্যদেরও উপকারে আসবে। মাছের পোনা উৎপাদন আমাকে সেই সুযোগ করে দিয়েছে।’

    ফটিকছড়ির গ্রামীণ জনপদে রায়হানের এই উদ্যোগ এখন অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা। বিদেশফেরত একজন মানুষের হাতে গড়ে ওঠা পোনা খামার শুধু তার জীবিকার উৎস নয়, স্থানীয় মৎস্য খাতের উন্নয়নেও রাখছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। দীর্ঘ এক যুগের শ্রম, ধৈর্য ও স্বপ্নের প্রতিফলন আজ দেখা যায় তার আটটি পুকুরের স্বচ্ছ জলে বেড়ে ওঠা হাজারো মাছের পোনায়।

    উপজেলা মৎস্য অফিসার মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘রায়হান বাবর একজন উদ্যমী ও পরিশ্রমী মাছ চাষি। তিনি গত দুই বছর ধরে হালদা নদী থেকে সংগৃহীত প্রাকৃতিক রেণু ব্যবহার করে পোনা উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এ কার্যক্রমের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি উপজেলা মৎস্য দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করেছেন এবং কারিগরি পরামর্শ নিয়েছেন। তার এই উদ্যোগ স্থানীয় মৎস্য খাতের উন্নয়ন এবং হালদার প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।’

    এ এম

  • পাঁচবিবিতে বিদেশি জাতের আঙ্গুর চাষে সফল আবু হুরায়রা

    পাঁচবিবিতে বিদেশি জাতের আঙ্গুর চাষে সফল আবু হুরায়রা

    আঙ্গুর চাষে সফল পাঁচবিবির আবু হোরায়রা

    ডেক্স নিউজ: জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার উত্তর জয়দেবপুর গ্রামে আঙ্গুর চাষ করে সফলতা পেয়েছে তরুণ উদ্যোক্তা আবু হুরায়রা। জীবীকার তাগিদে বিদেশ যেতে চাওয়া হুরায়রা এখন বিদেশি জাতের আঙ্গুর বাগান করেই সফল হয়েছে। বাবার ২৫ শতক জমিতে আঙ্গুর বাগান করে লাখ টাকা লাভের স্বপ্ন তার। প্রতিটি গাছের ডগায় থোকায় থোকায় ঝুলছে অতি মিষ্টি আঙ্গুর ফল।

    উপজেলার সীমান্তবর্তী আয়মারসুলপুর ইউপির উত্তর জয়দেবপুর গ্রামের আবু হুরায়রা পড়ালেখা শেষে কাজের সন্ধানে ইতালি যেতে চেয়েছিল। বিদেশ না গিয়ে এক প্রবাসীর পরামর্শে আঙ্গুরের বাগান করেন। তার বাগানে লাল-সবুজ রংয়ের আঙ্গুরে নজর কাড়ছে সবার।

    হুরায়রার বাগানে বাইকুনুর, রিলায়েন্স ও ডিক্সন সহ ৫ জাতের ৬০ টি আঙ্গুর চারা রোপন করে। অক্লান্ত পরিশ্রমে ৭ মাসেই প্রতিটি গাছেই আঙ্গুর ধরে। ইতিমধ্যেই আঙ্গুর বিক্রয় শুরু করেছে হুরায়রা। স্থানীয় কৃষি বিভাগ তেমন সহযোগিতা না করলেও জাকস ফাউন্ডেশন নামের একটি এনজিও আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা করেছে।

    একই সঙ্গে জাকসের কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন শাহিনের পরামর্শে বাগান করার পাশাপাশি নিজেই বিদেশি আঙ্গুরের চারা উৎপাদন করছেন। শ্রমিক ছাড়াই বাবা ভাইয়ের সহযোগিতায় হুমায়রা আঙ্গুর বাগান করছেন। আবু হুমায়রা এখন একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা।

    প্রতিদিন আবু হুরায়রার আঙ্গুর বাগান দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। এবং জানাচ্ছেন নিজের উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প।

    পড়ালেখা করে চাকরির পিছনে না ছুটে হুমায়রার মত তরুণ উদ্যোক্তা হতে হবে। তাহলেই কৃষি পণ্যে স্বনির্ভর হবে দেশ সচেতন মহলের এমনটি ধারণা।

    এ এম

  • মিরপুরে করলা চাষে ভাগ্য বদল সৌদি ফেরত জহিরুলের

    মিরপুরে করলা চাষে ভাগ্য বদল সৌদি ফেরত জহিরুলের

    মিরপুরে জহিরুল ইসলামের করলা চাষে বাজিমাত

    ডেক্স নিউজ: কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ীয়া ইউনিয়নের খাঁড়ারা গ্রামের মোকাম্মেলের ছেলে কৃষক ও সৌদি প্রবাসী জহিরুল ইসলাম (৪৭) টিয়া জাতের করলা চাষে লাভবান হয়েছেন। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃষির এক নতুন জোয়ার বইছে। এখানে স্থানীয় কৃষকরা এখন দেশি-বিদেশি ফল-ফলাদি ও উচ্চমূল্যের সবজি চাষে ঝুঁকছেন।

    এই পরিবর্তনের অগ্রদূতদের মধ্যে অন্যতম হলেন মিরপুর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ময়নুল ইসলাম রাজীব। তিনি মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ীয়া ইউনিয়নের খাঁড়ারা ব্লকে যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় তিন দিনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করেছেন। তেমনি একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তা হলেন ২২ বছর ধরে সৌদি প্রবাসী বর্তমানে টিয়া জাতের করলা চাষি জহিরুল ইসলাম। তিনি বিদেশ না গিয়ে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজ উদ্যোগে করলা চাষ করে বদলে দিয়েছেন নিজের ভাগ্য। পাশাপাশি অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন আশপাশের বহু তরুণ কৃষককে।

    জহিরুল ইসলাম জানান, এ বছরই প্রথম টিয়া করলার চাষাবাদ শুরু করেন। তার ১৫ কাঠা জমিতে মিরপুর কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এই চাষাবাদ শুরু করেন। তার ১৫ কাঠা জমি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ, মাচা নির্মাণ, কীটনাশক ও পরিচর্যা বাবদ প্রাথমিক খরচ হয় প্রায় ৬০ হাজার টাকা।

    পরিশ্রমের ফল তিনি পান মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মাথায়। এখন তিনি প্রতিদিন প্রায় ৫০ কেজি করলা বিক্রি করে আয় করছেন প্রায় ৩ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে তিনি স্থানীয় পাইকারি ও খুচরা বাজারে প্রায় ১২ হাজার টাকার করলা বিক্রি করেছেন। তিনি ইতোমধ্যে লাভের মুখ দেখেছেন এবং পেয়েছেন আত্মবিশ্বাস।

    স্থানীয় তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সৌরভ এগ্রো সায়েন্সের প্রোপ্রাইটর মো. সৌরভ জানান, করলা চাষের এ সফলতা প্রমাণ করেছে—চেষ্টা ও পরিশ্রম থাকলে অসম্ভব কিছুই নয়। জহিরুল ইসলাম আজ শুধু একজন কৃষক নন, তিনি মিরপুর উপজেলার সবুজ বিপ্লবের এক মুখ। তাঁর করলার মাচা যেন নতুন প্রজন্মের জন্য এক পাঠশালা, যেখানে শেখা যায়—মাটিকে ভালোবাসলে মাটিও প্রতিদান দেয় সোনা হয়ে।

    মিরপুর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ময়নুল ইসলাম রাজীব জানান, জহিরুল ইসলামের মতো উদ্যমী কৃষকরা এখন এলাকার কৃষিকে এগিয়ে নিচ্ছেন নতুন উচ্চতায়। এই এলাকার মাটি ও আবহাওয়া করলা চাষে বেশ উপযোগী। জহিরুল ইসলাম সেই সুযোগটি সফলভাবে কাজে লাগিয়েছেন। মিরপুরে যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় এ বছর করলাসহ অন্যান্য সবজি চাষের পরিমাণ বেড়েছে। এতে স্থানীয় বাজারে সবজির জোগান বাড়ছে, পাশাপাশি গ্রামীণ তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে।

    এ এম

  • মহেশপুরে থামছে না সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমা চুরি

    মহেশপুরে থামছে না সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমা চুরি

    ঝিনাইদহের মহেশপুর থামছে না সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমা চুরি। গত ৫ বছরে প্রায় ১০০টি ট্রান্সফরমা চুরি হলেও প্রতিকার পাইনি গ্রাহকরা। দন্ড দিতে হয়েছে কৃষকদের প্রায় ১ কোটি টাকা।

    মহেশপুর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ বছরে এই উপজেলায় সেচ পাম্পের প্রায় ১০০টি ট্রান্সফরমা চুরির ঘটনা ঘটেছে।

    বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম অভিজিত সাহা জানায়, ট্রান্সফরমা চুরি হলে অফিসের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো ট্রান্সফরমা উদ্ধার বা চোর আটকের খবর তাদের কাছে নেই। নিয়ম অনুযায়ী চুরি হওয়া ট্রান্সফরমা মূল্য দিতে হয় গ্রাহককে।

    এ পর্যন্ত যেসব গ্রাহকের কাছ থেকে মূল্য আদায় করা হয়েছে তার মধ্যে ফতেপুর গ্রামের সেচ পাম্পের গ্রাহক আব্দুল কাদের জানায় ২০২৪ সালে তার সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমা চুরি হয়ে যায়।

    সেই থেকে সেচ পাম্পটি বন্ধ ছিল। গত জুনে নোটিশ দিয়ে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা মূল্য তার কাছ থেকে বিদ্যুৎ অফিস নিয়েছে। ডিজিএম আরো জানান, এ পর্যন্ত যত ট্রান্সফরমা চুরি হয়েছে ১ জন বাদে সবার কাছ থেকে মূল্য আদায় করা হয়েছে। ২৯ জুন উপজেলা আজমপুর ইউনিয়নের সবুর খানের ড্রাগন বাগানের সেচ পাম্পের ২৫ কেবি’র ৩টি ট্রান্সফরমা চুরি হয়েছে।

    প্রতিনিয়ত চুরি হচ্ছে মামলা হচ্ছে কিন্ত এর কোনো প্রতিকার নেই বরং কৃষকদের দন্ড দিতে হচ্ছে। ভুক্তভুগী পরিবারগুলো এই চুরির প্রতিরোধের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি কামনা করেছে।

    মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান, আজমপুর কুলবাগান গ্রামের ট্রান্সফরমা চুরি হওয়ার বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ পর্যন্ত চুরি হওয়া ট্রান্সফরমা উদ্ধার করা বা চোরকে আটক করতে পারিনি পুলিশ।

    এ এম

  • চাষাবাদের জন্য অনুমোদন পেল বিনার নতুন দুই ধানের জাত

    চাষাবাদের জন্য অনুমোদন পেল বিনার নতুন দুই ধানের জাত

    বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিনা) দীর্ঘ গবেষণায় উচ্চফলনশীল, ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী এবং উচ্চ পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ আমন ধানের দুটি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে। আমন ধানের দুটি জাত হচ্ছে ‘বিনা ধান২৭’ ও ‘বিনা ধান২৮’। বিনার উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের গবেষকদল এ দুটি ধানের জাত উদ্ভাবন করেন।

    সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৫তম সভায় জাত দুটি সারা দেশে চাষাবাদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন পেয়েছে। এর মাধ্যমে বিনার উদ্ভাবিত ধানের মোট জাতের সংখ্যা দাঁড়াল ২৮টি।

    বিনার উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রধান ড. ফাহমিনা ইয়াসমীন বলেন, ফসলের বড় শত্রু ব্লাস্ট রোগ। এ রোগ মোকাবিলায় ‘বিনা ধান ২৭’ দেশের প্রথম ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী উচ্চফলনশীল আমন ধান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ১২০ থেকে ১২৫ দিনের জীবনকাল সম্পন্ন এই জাতটির গাছের উচ্চতা ৯৫ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার, ফলে ঝড়ো হাওয়ায় সহজে হেলে পড়ে না। প্রতিকূলতা জয় করে হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ৬ থেকে ৬ দশমিক ৫ টন এবং অনুকূল পরিবেশে তা ৭ টন পর্যন্ত পাওয়া সম্ভব।

    প্রচলিত জাতের তুলনায় এটি হেক্টরপ্রতি প্রায় এক থেকে আড়াই টন বেশি উৎপাদন দিতে সক্ষম। এছাড়া নিয়মিত ভাতভিত্তিক খাদ্যাভ্যাসে পুষ্টির ঘাটতি পূরণেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

    বিনা ধান-২৮ সম্পর্কে ড. ফাহমিদা জানান, আমন মৌসুমে চাষাবাদের জন্য সুগন্ধি ও মাঝারি চিকন চালের নতুন জাত ‘বিনা ধান ২৮’ কৃষকের মাঝে দারুণ সাড়া ফেলতে পারে। মার্কার অ্যাসিস্টেড ব্যাকক্রসিং পদ্ধতিতে উদ্ভাবিত এই ধানের প্রতি কেজিতে জিংকের পরিমাণ ২৪ দশমিক ৮৩ মিলিগ্রাম। শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ও গর্ভবতী নারীদের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে এই জিংকসমৃদ্ধ চাল হতে পারে আশীর্বাদ।

    বিনার মহাপরিচালক ড. মো. শরিফুল হক ভূঞা বলেন, বিনা ধান-২৮ দেশের সর্বোচ্চ উচ্চফলনশীল সুগন্ধি আমন জাত হিসেবে কৃষি খাতে একটি যুগান্তকারী সংযোজন। আলোক অসংবেদনশীলতা, উচ্চ ফলন, পুষ্টিগুণ ও সুগন্ধ- সব মিলিয়ে এটি কৃষকের আয় বৃদ্ধি, ভোক্তার পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং সুগন্ধি চালের বাজারে ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    এ এম

  • বাকৃবি গবেষকের সফলতা

    বাকৃবি গবেষকের সফলতা

    স্বল্পখরচে শৈবাল থেকে মাছের লাইভ ফিড

    ডেক্স নিউজ : দেশীয় স্বাদুপানির অণুশৈবাল (মাইক্রোঅ্যালজি) ব্যবহার করে স্বল্পখরচে লাইভ ফিড (জীবন্ত খাদ্য) ও অ্যাকোয়াফিড প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সফল হয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাছ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. সালেহা খানের নেতৃত্বে গবেষণাটি পরিচালিত হয়।বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি (বিএএস) ও যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) এর অর্থায়নে তিন বছর মেয়াদি গবেষণা প্রকল্পের সমাপনী সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরেন প্রকল্পের প্রধান গবেষক ড. সালেহা খান।

    তিনি বলেন, দেশের মিঠাপানির মৎস্যচাষের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো মাছের লার্ভা ও পোনার জন্য মানসম্মত লাইভ ফিড এবং সাশ্রয়ী অ্যাকুয়াফিড না পাওয়া। এ সমস্যা সমাধানে দেশীয় অণুশৈবাল ব্যবহার করে স্বল্পখরচে লাইভ ফিড এবং অ্যাকোয়াফিড উৎপাদন ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষণার মূল লক্ষ্য প্রচলিত ব্যয়বহুল প্রোটিন উৎস, বিশেষ করে ফিশমিলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প টেকসই অ্যাকোয়াফিড প্রযুক্তি উদ্ভাবন। গবেষনায় প্রথমে দেশীয় Scenedesmus sp. শৈবাল পৃথক করে অণুশৈবাল উৎপাদন করা হয়। এরপর এগুলো ব্যবহার করে মাছের লার্ভার জন্য লাইভ ফিড জুপ্ল্যাঙ্কটন উৎপাদন করা হয়। এই লাইভ ফিড মাছের রেণু ও পোনার গুণগত মান ও বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে।

    এ এম

  • মধ্যনগরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় অনিয়মে ক্ষুব্ধ বঞ্চিতরা

    মধ্যনগরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় অনিয়মে ক্ষুব্ধ বঞ্চিতরা

    সুনামগঞ্জে মধ্যনগর উপজেলার হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় অকৃষক ও তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া ব্যক্তিদের সহায়তা বিতরণ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

    অভিযোগের মুখে মঙ্গলবার সকালে কিছু সময়ের জন্য বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও পরে তা পুনরায় বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়।

    মঙ্গলবার সকালে উপজেলার মধ্যনগর সদর ও চামরদানী ইউনিয়নের তিনটি করে ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে সরকারি সহায়তা বিতরণ শুরু হয়। বিতরণ কার্যক্রম শুরুর পরপরই তালিকায় নাম না থাকা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে চামরদানী ইউনিয়নের কয়েকজন কৃষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানান। পরে অভিযোগের পর সাময়িকভাবে বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ রাখা হলেও পরে আবার বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়।

    এ সময় বিক্ষুব্ধ কৃষকরা ‘অনিয়মের তালিকা মানি না, মানব না’ স্লোগান দেন তারা। তাদের অভিযোগ, সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা বরাদ্দ এলেও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বাদ দিয়ে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের নিকটাত্মীয়দের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি ক্ষতিগ্রস্ত নয় এমন ব্যক্তি এবং একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামও তালিকায় রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। বিক্ষোভরত কৃষকরা অনিয়মের অভিযোগে তালিকাভুক্ত কয়েকজনের নাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়ে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান।

    এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রণয়নে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা এর জন্য দায়ী থাকবেন। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ এম

  • কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য’

    কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য’

    জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, দেশের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রান্তিক কৃষকদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।

    তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং কৃষকের জীবনমানের উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে কৃষিসেবা আরও কার্যকর করা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা সম্প্রসারণে সরকার বদ্ধপরিকর।

    মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রান্তিক কৃষকদের ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় কৃষকদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    সাক্ষাৎকালে ডেপুটি স্পিকার প্রতিনিধিদলের বক্তব্য শোনেন। তিনি এলাকার রাস্তা, সেতু-কালভার্ট নির্মাণ, নদীভাঙন রোধ, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, বৈষম্য দূরীকরণ এবং কৃষক কার্ড প্রাপ্তির বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

    তিনি বলেন, কৃষকের উন্নয়ন মানেই দেশের উন্নয়ন। তাই কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইন, নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে জাতীয় সংসদ ও সরকার সর্বদা সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করবে। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং উৎপাদিত ফসল সহজে বাজারজাতকরণে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।

    এর আগে সোমবার বিকালে দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রান্তিক কৃষকদের একটি প্রতিনিধিদল তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। এ সময় তারা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে হারভেস্টার সরবরাহ, সার ও উন্নতমানের বীজের সহজলভ্যতা, সেচসুবিধার সম্প্রসারণ, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণসহ কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা এবং কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার বিষয় ডেপুটি স্পিকারের কাছে তুলে ধরেন।

    এ এম

  • যশোরে এক বাগানে ৭৫ প্রজাতির আম

    যশোরে এক বাগানে ৭৫ প্রজাতির আম

    যশোর সদরের আরবপুর ইউনিয়নের বাইপাস রোড ধর্মতলা এলাকায় বাগ-ই-আদম নামে একটি একতলা বাড়ি। বাড়ির ঠিক পেছনে রেললাইন। মহাসড়ক আর রেললাইনের মাঝখানে দুই একরের কিছু বেশি জায়গার ওপরে ‘বাগানবাড়ি’। প্রধান ফটক পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়বে ছোট্ট একটি গাছে অনেক আম ঝুলছে। পরিপুষ্ট ও সাইজে বড় এই আমের নাম চাংমাই। বিদেশি জাতের এই আম পরিপক্ব হলে এক কেজির মতো ওজন হয়।

    শুধু চাংমাই নয়, এই ‘অ্যাডামস অ্যাগ্রো ফার্মে’ রয়েছে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ৭৫ প্রজাতির আম। যেখানে যশোর হর্টিকালচার সেন্টারে রয়েছে মাত্র ৫৩ প্রজাতির। বাগানে শুধু আমগাছই আছে প্রায় সাড়ে আটশ। কথাগুলো বলছিলেন ‘অ্যাডামস অ্যাগ্রো ফার্মে’র উদ্যোক্তা আব্দুল্লাহ মো. হোসেন মাসুদ। ফার্মের দুপাশে আমের বাগান, মাঝখানে দুটি পুকুর। প্রবেশপথের ডান পাশের বাগানটিতে প্রথমে আম গাছের চারা লাগানো হয়, জানান ৬৪ বছর বয়সি মাসুদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভিদবিজ্ঞানে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করেন ১৯৮৮ সালে।

    আলাপচারিতায় বলেন, ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি এলজি বাটারফ্লাই গ্রুপে জব করেন। ওইসময় তার কর্মরত প্রতিষ্ঠানের পাশে ব্র্যাকের নার্সারিতে নানা জাতের ফলের চারা দেখেন। সেখানে তিনি মনস্থির করেন বাবার স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিজ ভিটায় একটি ফার্ম করার। বড়ভাই হর্টিকালচারিস্ট, তাকে জানালে তিনিও সায় দেন। তখন ওই নার্সারি থেকে ইনডিয়ান তোতাপুরি, তোশা, আমেরিকান কেন্ট, অস্ট্রেলিয়ান আরটুইটু, সিমওয়ান, মেক্সিকান পালমার, হাইব্রিড গোপালভোগ, আলফানসো, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, মালয়েশিয়ান একটি আননোন জাত-পরে যার নাম নিজেই রাখেন ‘আদম সুন্দরী’ প্রভৃতি প্রজাতির ২৫ থেকে ৩০ পিস চারা কিনে পাঠিয়ে দেন। পরে বাড়িতে এসে সেগুলো রোপণ করেন। ওই মাদারগাছ থেকে এখন বহু গাছের জন্ম হয়েছে। যার কলম মাসুদ নিজেই দেন।

    মাসুদের বাবার নাম আবুল হোসেন, মা বেগম জাহান আরা। বাবা যশোর জেলা মৎস্য অফিসার ছিলেন। ১৯৭১ সালের ৩ এপ্রিল পরিবার গ্রামে রেখে তিনি শহরে ফেরেন। শহরেই পাক আর্মিদের হাতে গুলিবিদ্ধ এবং গুম হন। তার লাশ পাওয়া যায়নি। ওই দম্পতির ৬ ছেলে। শেষেরজন মাসুদ।

    বাগ-ই-আদমে পৈতৃক জমি ছিল প্রায় ২৫ কাঠার মতো। পরে মাসুদরা সব ভাই মিলে আরও জমি ক্রয় করেন। বর্তমানে এই ফার্মে জমির পরিমাণ দুই একরের কিছু বেশি। বাগানে আম্রপলি, ল্যাংড়া, বারি-৪, বারি-১১, খিরসা, রাণীপছন্দ, গৌরমতি, ইনডিয়ান তোতাপুরি, চোষা, অরুণিমা, আলফানসো, সুরিয়া, জরদালু, কেশর, সিইটু, দশোরি, পাকিস্তানি চোষা, নামফোকলাই, ইয়েলো, গ্রিন, ডকমাই, থাই হোয়াইট, চিলিম্যাংগো, হাড়িভাঙ্গা, আমেরিকান কেন্ট, থাই কাটিমন, চিয়াংমাই, রেড আইভরি, নীলাম্বরি, সিমন, মল্লিকা, মিয়াজাকি, সুইট টার্ট, ভেনাস গ্লেন, নাগ ফজলি, রেড চিয়াংমাইসহ নানা প্রজাতির আম। এছাড়া দেশি ফলের মধ্যে জাম, কাঁঠাল, লিচু, লেবু, সফেদা, বরই, বেল, কতবেল, জলপাই, খেজুর, তাল, পেয়ারা, করমচা, ফলসা, গাব-এমনকি আপেল গাছও রয়েছে। পুকুরে চাষ হচ্ছে নানা ধরনের মাছ। ফার্মে রয়েছে একশ পাতিহাঁস, রাজহাঁস ১৯টি। এছাড়া দেশি মুরগি সবমিলিয়ে তিনশর বেশি।

    মাসুদ বলেন, বাবা-মায়ের স্মৃতিচিহ্ন অটুট রাখতে এই অ্যাগ্রো ফার্মটি করেছি। উদ্দেশ্য-ফলদ উদ্ভিদের দেশি-বিদেশি জাত ও প্রজাতির সংগ্রহ ও সংরক্ষণ, শিক্ষামূলক প্রদর্শনী ও প্রশিক্ষণ, নির্বাচিত জাতের নার্সারি উন্নয়ন ও চারা বিপণন, উৎপাদিত ফল অভ্যন্তরীণ বাজার ও বিদেশে রপ্তানি এবং সর্বোপরি মা-বাবার সম্পত্তি সংরক্ষণ ও স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং তাদের আদর্শ সমুন্নত রাখা। যশোর হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক দীপঙ্কর দাশ বলেন, যশোরে এতো বৈচিত্র্যময় আমের জাতের বাগান আর কোথাও নেই।

    এ এম

  • বিশ বছরে ৩০ হাজার গাছ

    বিশ বছরে ৩০ হাজার গাছ

    পীরগঞ্জে বাদশা মিয়ার সবুজ বিপ্লব

    ডেক্স নিউজ: রংপরের পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নের মেষ্টা গ্রামের বাদশা মিয়া। কিশোর বয়স থেকে গাছ লাগানোর প্রতি তার আগ্রহ। নিজের জমি না থাকায় যুবক বয়সে বেছে নেন সড়কের দুই ধার, মসজিদ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পতিত জায়গা। বিশ বছরে ত্রিশ হাজারের বেশি গাছ লাগিয়ে এলাকায় সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলেছেন। তার এ সবুজায়ন ছড়িয়ে দিতে বিয়ে কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে দাওয়াতে উপহার হিসেবে গাছ নিয়ে হাজির হন তিনি।সরেজমিন দেখা গেছে, বড়দরগাহ্-মাদারগঞ্জ সড়কের মেষ্টা গ্রামের আমতলা থেকে ভগবানপুর পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কের দুই ধারে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের সমারোহ। ফলের গাছে ঝুলছে বিভিন্ন ধরনের ফল।

    বাদশা গাছ লাগিয়ে থেমে যাননি বরং নিজস্ব অর্থায়নে সার কীটনাশকসহ প্রতিটি গাছের করেছেন সন্তানের মতো যত্ন। তার উদ্যোগে এলাকার পরিবেশ যেমন সুন্দর হয়েছে, তেমনি বেড়েছে জীববৈচিত্র্য।

    বাদশা মিয়া বলেন, ‘গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, মানুষের জীবন ও প্রকৃতিকে রক্ষা করে। তাই আমি সবাইকে বেশি বেশি গাছ লাগানোর অনুরোধ জানাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। মানুষ বলে গাছগুলো বাদশা লাগিয়েছে, এটাই আমার বড় পাওয়া। আমার স্বপ্ন-একদিন পুরো এলাকা সবুজে ঘেরা হবে, আর মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে আরও নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ হবে। স্থানীয় বাসিন্দা, শামীম, ইমরান, রতন বলেন, গ্রীষ্মের দাবদাহে বাদশার লাগানো গাছের ছায়া পথচারীদের স্বস্তি দেয়। পাশাপাশি গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করে অনেকে খেয়ে থাকেন। শানেরহাট কেজে ইসলাম বালিকা স্কুল ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খন্দকার এখলাছুর রহমান বলেন, বাদশা প্রকৃত পরিবেশবন্ধু। তার এ উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে গাছ লাগাতে ও পরিবেশ রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করছে। আমি সরকারের পক্ষ থেকে তাকে পরিবেশ পদক দেওয়ার অনুরোধ করছি।

    শানেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেছবাহুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এ সময়ে বাদশার মতো মানুষদের উদ্যোগ দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় সবুজায়নের যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, তা অনুকরণীয়।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, বাদশা একজন বৃক্ষপ্রেমী। তার গাছ লাগানো অব্যাহত রাখতে উপজেলা পরিষদ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

    এ এম

  • কৃষিতে আরো বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান রিজভীর

    কৃষিতে আরো বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান রিজভীর

    প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কৃষি খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় বাজেটে এ খাতে আরো বরাদ্দ বাড়ানো উচিত।

    সোমবার রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে এগ্রিকালচারিস্টস’ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (অ্যাব) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: কৃষি উন্নয়নের রূপরেখা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।রিজভী বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষকের মধ্যে কৃষি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। গ্রামীণ অর্থায়নের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।নিজের কৃষি ব্যাংক ও রাকাবের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় গ্রামীণ কৃষিঋণ কর্মসূচি চালু হয়। সে সময় কৃষকদের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। একই সঙ্গে কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ, পাওয়ার টিলারের প্রসার, খাল খনন এবং চাল রপ্তানির মতো উদ্যোগ কৃষি খাতকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে।

    রিজভী বলেন, চলতি বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দ গত বছরের তুলনায় বাড়লেও মূল্যস্ফীতির বিষয়টি বিবেচনায় নিলে এই বৃদ্ধি খুব বেশি নয়। তার মতে, অর্থনীতিতে কৃষির অবদান বর্তমানে পাঁচ থেকে ছয় শতাংশের মধ্যে থাকলেও এটি সাত থেকে আট শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৪০ শতাংশ কৃষিকে কেন্দ্র করে হওয়ায় এ খাতে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, জাতীয় বাজেট ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়লেও সেই তুলনায় কৃষি খাতের বরাদ্দের বৃদ্ধি খুব বেশি নয়। সরকার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, তা বাস্তবায়নে কৃষি খাতে আরও বরাদ্দ ও নজরদারি প্রয়োজন। অন্যথায় কৃষির কাঙ্ক্ষিত রূপান্তর ব্যাহত হতে পারে।সম্প্রতি ভিয়েতনাম সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রিজভী বলেন, দেশটি বাংলাদেশ থেকে এক লাখ মেট্রিক টন আলু নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে এবার ৩০ হাজার মেট্রিক টন নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আলুর মতো কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাজার আরো সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের বিপণন সহজ হবে এবং অতিরিক্ত উৎপাদন নষ্ট হবে না।

    তিনি কৃষি গবেষণার ওপর আরো গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে বিপুলসংখ্যক কৃষিবিদ বের হচ্ছেন। তাদের মেধা ও গবেষণার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে কৃষি খাতে বিদ্যমান সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

    রিজভী কৃষিপণ্য সংরক্ষণের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আলু ছাড়াও অন্যান্য ফল ও সবজি দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের প্রযুক্তি দেশে আনা সম্ভব হলে মৌসুমে অতিরিক্ত উৎপাদিত পণ্য নষ্ট হবে না। এ বিষয়ে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার ও উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার ওপর তিনি জোর দেন।

    তিনি বলেন, পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের মতো পণ্যের উৎপাদন আরো বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানো সম্ভব। এ জন্য গবেষণা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম বাড়াতে হবে।

    রিজভী বলেন, ভারী শিল্পের কাঁচামাল দেশে পর্যাপ্ত না থাকলেও কৃষিই বাংলাদেশের প্রধান শিল্পভিত্তি হতে পারে। নিউজিল্যান্ড ও ডেনমার্কের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলে এসব দেশ উন্নত হয়েছে। বাংলাদেশেরও কৃষিভিত্তিক শিল্প সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

    তিনি বলেন, কৃষি দুর্বল হলে খাদ্যনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতি—সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে কৃষি খাতে আরও বরাদ্দ, গবেষণা এবং বৈজ্ঞানিক জনবল তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

    সেমিনারে এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সারের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব কৃষিবিদ শাহাদত হোসেন বিপ্লবের সঞ্চালনায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহাম্মদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থসংস্থান ও ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. মো. আক্তারুজ্জামান খান, দীপ্ত টেলিভিশনের হেড অব নিউজ এস. এম. আকাশ, ছাত্রদলের সহ সভাপতি ডাঃ তৌহিদুর রহমান আউয়াল সহ প্রমুখ।

    এ এম

  • চরফ্যাসনে আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে কৃষি জমি

    চরফ্যাসনে আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে কৃষি জমি

    অপরিকল্পিত বাড়ি ঘর নির্মাণের কারনে ভোলার চরফ্যাসনে আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে কৃষি জমি। ফসলি জমি ভরাট করে বসত ঘর সহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। এসব ফসলি জমির পরিমাণ কমে যাওয়ায় উদ্বেগজনকভাবে ফসলের উৎপাদনও কমে যাচ্ছে। তবে মেঘনার নদীর ক্রমাগত ভাঙনেও কমে যাচ্ছে এসব কৃষি জমি। এমনটাই দাবি করছেন স্থানান্তরিত বাসিন্দারা।

    স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, ফসলি জমির আশে পাশে বাড়ি ঘর ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, ইটভাটা এসবের কারনে জমির পরিমাণ ও ফসলের চাষাবাদ কমে যাচ্ছে। তবে অপরিকল্পিত ভাবে কৃষি জমি ভরাট হওয়ায় আউশ, আমন, ইরি, বোরো ও রবিশস্য উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে।

    চরফ্যাসন উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, চরফ্যাসন উপজেলায় ৮৫ হাজার ১৯২ হেক্টর আবাদি জমি ও ৩ হাজার ৩৩৭ হেক্টর অনাবাদি জমি রয়েছে। প্রতি বছর এসব জমির মধ্যে শতকরা ১ শতাংশ কৃষি জমি অপরিকল্পিত বাড়ি ঘর নির্মাণের কারনে কমে যায়। আবাদি জমির মধ্যে চলতি মৌসুমে ২৭ হাজার ৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। এছাড়া সবজিসহ অন্যান্য মৌসুমি ফসল চাষ হয়েছে ৭৫ হাজার ৭২ হেক্টর জমিতে।

    মেঘনা নদীরপাড়ের বসত পাল্টানো বাসিন্দা বশির চকিদার (৬৫)। পাঁচ বারের ভাঙনে সবকিছু হারিয়ে নতুন বাড়ি করেছেন উপজেলার জিন্নাগর ইউনিয়নের কাশেমগঞ্জ এলাকায়। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তিনি সাক্ষী হয়েছেন অনেক দৃশ্যপটের। মেঘনা নদী ভাঙনের শত স্মৃতির বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘খড়-কুটোর ঘর, গবাদি পশু, চাষের জমি, এমনকি পরিবার ও জীবনসহ সব কিছুই বিপদের মুখে রেখে বসবাস করতে হয় নদীর তীরের মানুষদের। ঝড়-বন্যা আর ভাঙন আমাদের নিত্যসঙ্গী। এমনিতেই গরিব, তার ওপর আবার বসতভিটা, চাষের জমি, থাকার ঘরও খোয়া গেছে ভাঙনে। তাই ভাঙনে ধরা গ্রামের মানুষগুলোর বারবার বসত পাল্টাতে হয়। এজন্য এখানে ৮ শতাংশ জমি কিনে বাড়ি করেছি।’

    একই এলাকার শাহেআলম মাঝি,বয়স ৫৭ ছুঁয়েছে। ৬ সদস্যের সংসার চালাতে হয় অন্যের নৌকায় মাছ ধরে। বেশ বড় বাড়ি ছিল এক সময়, ছিলো নিজের কৃষি জমি আবাদ করেই সংসার চলতো। নদী ভাঙনে সব হারিয়ে এখন ৪ শতাংশ জমিতে টিন দিয়ে চারচালা ঘরে মাথা গোজাচ্ছেন।

    স্থানীয়রা জানান ‘চরফ্যাসন উপজেলায় মানুষের আয়ের উৎসের সিংহভাগ হলো কৃষি। ফসল উৎপাদন কমে যাবার অন্যতম কারণ হচ্ছে কৃষিজমির পরিমাণ ক্রমশ কমে যাওয়া। কয়েক বছর আগেও কৃষিজমির পরিমাণ যা ছিল আবাসিক চাহিদা ও নদী ভাঙ্গনে অনেকটা কমে গেছে। অপরিকল্পিত বসতবাড়ি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ইটভাটা, পুকুর খননসহ নানা রকম স্থাপনা যত্রতত্র গড়ে উঠছে। এতে ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে। ফলে কয়েক বৎসর পর কৃষি উৎপাদন মারাত্মকহারে হ্রাস পাবে। তাই তারা মনে করে জমির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সবার আগে জাতীয় ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা ও নীতিমালা জরুরী।’

    চরফ্যাসন উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে একই আবাদি জমিতে বহুমুখী শস্যের চাষ হওয়ায় চরফ্যাশন উপজেলায় খাদ্যে ঘাটতি নেই। তবে যেভাবে আবাদি জমির সংখ্যা কমে যাচ্ছে, তাতে একসময় খাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এ উপজেলার ২ লক্ষ ৬০ হাজার কৃষক রয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে কৃষিজমি ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা তাদের পেশা বদলে ফেলছে। আসলে কৃষিজমি সুরক্ষা আইন যথাযথভাবে কার্যকর না হওয়ার কারনে অপরিকল্পিতভাবে কৃষিজমি ভরাট ও স্থাপনা রোধ সম্ভব হচ্ছে না। তবে এসব বিষয়ে জনসচেতনতার প্রয়োজন।’

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজ বলেন, ‘কৃষিজমি রক্ষা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষিজমি (যথাযথ ব্যবহার ও সংরক্ষণ) আইন-২০২২, কার্যকর হলে হয়তো কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে।

    এ এম

  • সাপাহারে আম উৎসব চললেও চাষিদের মুখে হতাশা

    সাপাহারে আম উৎসব চললেও চাষিদের মুখে হতাশা

    দেশের অন্যতম বৃহৎ আমের মোকাম সাপাহারে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে আম সংগ্রহ, বাছাই ও পাইকারি বিক্রির ব্যস্ততা। শত শত চাষি, ব্যবসায়ী, আড়তদার ও ক্রেতার পদচারণায় মুখর আমের হাট।

    তবে এই কর্মচাঞ্চল্যের আড়ালে বাড়ছে আমচাষিদের হতাশা। উৎপাদন ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে গেলেও বাজারে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত দাম। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রচলিত ৪০ কেজির মণের পরিবর্তে ৫২ থেকে ৫৫ কেজি পর্যন্ত ওজনে আম বিক্রির চাপ। ফলে অধিকাংশ চাষি লোকসানের আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

    আমচাষিদের অভিযোগ, গত এক বছরে সার, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিকের মজুরি, পরিবহন ও বাগান পরিচর্যার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অথচ গত বছরের তুলনায় প্রায় সব জাতের আমের দাম প্রতি মণে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত কমেছে। এতে অনেকেরই উৎপাদন খরচ ওঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

    নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সাপাহারে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আম-বাণিজ্য থেকে এই উপজেলায় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

    সাপাহারের জিরোপয়েন্ট, গোডাউনপাড়া, তিলনা রোড, হাসপাতাল মোড়, মহিলা কলেজ রোড ও থানা মোড় এলাকায় কয়েক কিলোমিটারজুড়ে বসেছে বিশাল আমের হাট। ব্যাটারিচালিত ভ্যান, শ্যালোচালিত যান ও ট্রাকভর্তি আম্রপালি, বারি-৪, ব্যানানা ম্যাঙ্গোসহ বিভিন্ন জাতের আম নিয়ে প্রতিদিন ভিড় করছেন চাষিরা। তবে বাজারজুড়ে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা কম দাম ও অতিরিক্ত ওজন নিয়ে।

    আমচাষি তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর ভ্যাপসা গরমে প্রায় সব আম একসঙ্গে পেকে গেছে। সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায়, দ্রুত বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে আড়তদার যে দাম বলেন, বাধ্য হয়ে সেই দামেই বিক্রি করতে হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরাই।’

    চাষিদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ‘ঢলন’ পদ্ধতি এখন তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাইলেও কার্যকর সমাধান মিলছে না বলে অভিযোগ তাদের।

    তবে ব্যবসায়ীদের বক্তব্য ভিন্ন। সাপাহার আম ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন রিফাত বলেন, ‘রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন মোকামে ৫৪ থেকে ৫৬ কেজি হিসেবে আম কেনাবেচা হয়। সাপাহারে ক্যারেটসহ প্রায় ৫০ কেজি হিসেবে আম কেনা হচ্ছে। কোথাও অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা রিয়াজ বলেন, ‘আমরা নিয়মিত বাজার তদারকি করছি। কৃষকদের কাছ থেকে লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পেলেই দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

    এ এম

  • মহেশপুরে ৪ বিঘা জমির গাছ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা, দিশেহারা কৃষক

    মহেশপুরে ৪ বিঘা জমির গাছ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা, দিশেহারা কৃষক

    গতকাল শনিবার রাতের কোনো একসময়ে উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের মাঠে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। এতে ওই কৃষকের ৫/৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালিয়া গ্রামের কৃষক আসাদুল ইসলাম টাকা ধার করে ৪ বিঘা জমিতে লাউ ও কুমড়োর চাষ করেছিলেন। দিনকয়েক হলো মাচায় মাচায় শত শত কচি লাউ ও কুমড়ো ধরতে শুরু করেছে। প্রতিদিন ক্ষেত থেকে লাউ তুলে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছিলেন তিনি।

    রোববার সকালে প্রতিদিনের মতো ক্ষেতে লাউ তুলতে গিয়ে স্তব্ধ হয়ে যান আসাদুল। তিনি দেখেন, ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রতিটি গাছের গোড়া কেটে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। সকাল গড়িয়ে রোদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মাচার সবুজ পাতা ও ডগাগুলো শুকিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে থাকে। চোখের সামনে সযত্নে গড়া স্বপ্নের এমন নির্মম মৃত্যু দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই কৃষক।

    বিষয়টি জানতে পেরে মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বোয়ালিয়া মাঠে লাউ ও কুমড়ো গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি আমরা জেনেছি।

    খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে আছি। তাকে আইনি সহায়তার পাশাপাশি পরবর্তীতে সরকারি কোনো প্রণোদনা আসলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহযোগিতা করা হবে।

    এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। কৃষকের ফসল শত্রুতাবশত নষ্ট করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। ভুক্তভোগী কৃষকের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    এ এম

  • বোয়ালমারীতে চাষ হচ্ছে আলুবোখারা

    বোয়ালমারীতে চাষ হচ্ছে আলুবোখারা

    ডেক্স নি্িুজ: বুধবার (২১ জুন) বিকেলে লোকনাথ গ্রামে কৃষি উদ্যোক্তা হাবিবুর মোল্লার বাড়িতে গিয়ে ৭টি আলুবোখারার গাছ দেখা যায়।

    উদ্যোক্তা হাবিবুর মোল্লা বলেন, “তিন বছর আগে স্থানীয় একটি এনজিও থেকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ২৫টি আলুবোখারার চারা পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে বাড়ির পাশের কৃষিজমিতে এনজিওর দেওয়া ২৫টি আলুবোখারার গাছ রোপণ করেন।”

    তিনি বলেন, “গাছ লাগানোর এক বছর পর না বুঝে ১৮টি আলুবোখারার গাছ কেটে ফেলেন। বর্তমানে বাগানে ৭টি গাছ রয়েছে।”

    হাবিবুর মোল্লা আরও বলেন, “লাগানোর দুই বছর পর থেকে মসলা জাতীয় আলুবোখারার গাছে প্রচুর পরিমাণে ফল আসতে শুরু করে। এরপর থেকে তিনি বাজারে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। ফল সংরক্ষণ করে বিক্রি করা গেলে প্রতি কেজি এক হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা সম্ভব।”

    জানা যায়, আলুবোখারা গাছে সাধারণত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ফুল আসে। জুন মাসে ফল পুরোপুরি পরিপক্ব হয়। কাঁচা অবস্থায় ফলের রং গাঢ় সবুজ থাকে। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা উজ্জ্বল খয়েরি রং ধারণ করে। পরে লাল রং হয়ে যায়। পুরোপুরি পেকে গেলে ফল কুচকুচে কালো বা গাঢ় বেগুনি রং ধারণ করে, যা দেখতে অনেকটা কালোজামের মতো এবং নরম ও রসালো।তথ্যমতে, একটি পূর্ণাঙ্গ গাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ কেজি পর্যন্ত আলুবোখারা পাওয়া সম্ভব। প্রতিটি ফলের ওজন সাধারণত ১০ থেকে ১২ গ্রাম। এর প্রায় ৯০ শতাংশই ভক্ষ্য অংশ। ফলের ভেতরের আঁটি খুবই ছোট।

    বাগান দেখতে আসা আকাশ সাহা বলেন, “আমাদের এলাকায় মসলা জাতীয় ফল আলুবোখারা নেই বললেই চলে। এটি বিরিয়ানির সঙ্গে খেয়েছি, কিন্তু কোনো দিন গাছ দেখিনি। লোকনাথ গ্রামে হাবিবুর ভাইয়ের বাড়িতে আলুবোখারার গাছ আছে শুনে দেখতে এসেছি। নিজ হাতে পেড়ে খেয়েছি এবং আচারের জন্য ৩০০ টাকা কেজি দরে ৩ কেজি কিনে নিয়েছি।”

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ বিশ্বাস বলেন, “আলুবোখারা মসলা হিসেবে পোলাও, বিরিয়ানি, আচার ও চাটনি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। আলুবোখারার পুষ্টিগুণ ও বহুমুখী ব্যবহারের কারণে এটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। এছাড়া বিভিন্ন অভিজাত ও সুস্বাদু খাবার তৈরিতেও এটি ব্যবহৃত হয়।”

    বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভীর রহমান বলেন, “আলুবোখারা একটি মসলা জাতীয় ফল। ইরাক, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ এবং ভারতের কিছু এলাকায় আলুবোখারার চাষ হয়। বর্তমানে আমাদের দেশেও আলুবোখারার চাষ হচ্ছে। ইতোমধ্যে বোয়ালমারী পৌরসভার কৃষি উদ্যোক্তা হাবিবুর মোল্লার বাড়িতেও আলুবোখারার চাষ হচ্ছে। বিভিন্ন সময় আমরা তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকি।”

    এ এম

  • দামুড়হুদায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

    দামুড়হুদায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

    চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় বজ্রপাতে নাজমুল হোসেন (২৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে উপজেলার রুদ্রনগর মাঠে পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত নাজমুল হোসেন উপজেলার রুদ্রনগর গ্রামের জসীম উদ্দীনের ছেলে।

    স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে নাজমুল বাড়ির পার্শ্ববর্তী মাঠে পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দীন জানান, এ ঘটনায় আইনগত বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    এ,আর

  • হাটে-বাজারে পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে খালে ফেললেন রাজবাড়ীর কৃষকরা

    হাটে-বাজারে পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে খালে ফেললেন রাজবাড়ীর কৃষকরা

    দাম না পেয়ে এ এলাকার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ নদীর পানিতে ফেলে দিচ্ছেন। ফলে আর্থিক ভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

  • নাটোরে তিন দিনব্যাপী আম প্রদর্শনী ও ফল মেলা শুরু

    নাটোরে তিন দিনব্যাপী আম প্রদর্শনী ও ফল মেলা শুরু

    মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় কানাইখালী মিনি স্টেডিয়ামে মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ফলের মাধ্যমে বৈচিত্র্যময় হয় মানুষের খাদ্যাভ্যাস। পাশাপাশি ফল বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ, এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইবারের অসাধারণ উৎস। নিয়মিত ফল খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তাই নিয়ম করে সকল ঋতুতে দেশীয় মৌসুমী ফল খেতে হবে। ফলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বাড়ির আঙিনায় বা ছাদে এবং সম্ভাবনাময় সকল ক্ষেত্রে ফলের গাছ রোপন করতে হবে।

    ফলের বাজার সম্প্রসারণ ও সংরক্ষণ, গবেষণার মাধ্যমে দেশীয় ফলের সময়কাল সম্প্রসারণ, ফল গাছের চারার কেনাবেচায় ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ওপর বক্তারা গুরুত্বারোপ করেন। ফল মেলার মাধ্যমে দেশীয় ফলের সাথে নতুন প্রজন্মের মেলবন্ধন তৈরি হবে বলেও বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    জেলা প্রশাসক আসমা শাহীনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নাটোর জেলা কার্যালয়ের উপ পরিচালক মো. হাবিবুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আবুল হায়াত, আনসার ও ভিডিপি’র জেলা কমান্ডর খন্দকার মাহবুব এবং আদর্শ ফলচাষী আল আমিন।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ পরিচালক (উদ্যান) শামসুন্নাহার ভূঁইয়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
    মেলায় ১৪ ধরণের প্রচলিত ও ২৩ ধরণের অপ্রচলিত দেশীয় ফল এবং ২৫ জাতের আম ১১টি স্টলের মাধ্যমে প্রদর্শিত হচ্ছে। এছাড়া নাটোরের ঐতিহ্যবাহী ভেষজ পল্লীর বিভিন্ন ভেষজ উপকরণ বিক্রি করা হচ্ছে মেলাতে। এছাড়া ফল গাছের চারাও বিক্রি হচ্ছে মেলাতে।

    এ এম

  • এক পাহাড়ে ৫০ জাতের আম, শিক্ষকের নীরব বিপ্লব

    এক পাহাড়ে ৫০ জাতের আম, শিক্ষকের নীরব বিপ্লব

    মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের সারিয়া গ্রাম। ওই গ্রামেরই এক পাহাড়ের ঢালে গড়ে তোলা হয়েছে চোখজুড়ানো ফলের বাগান। এই বাগানে চাষ করা হয়েছে ৫০ জাতের আম। শুধু আম নয় দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ১০০টির বেশি জাতের ফলের সংগ্রহশালায় রূপ নিয়েছে এই বাগান।

    এই কাজ নীরবেই করে দেখিয়েছেন একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক রেজাউল করিম খন্দকার। ২০১৭ সালে বাড়ির পাশের এক ঢালে মাত্র কয়েকটি আমের চারা দিয়ে তার যাত্রা শুরু। বাগানের গাছের ডালে ডালে ঝুলছে নামের ট্যাগ। এক পাশে আঙুরের সারি তো অন্য পাশে স্ট্রবেরির খেত। লংগান, ড্রাগন আর সালাক ফলের পাশেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে পিচগাছ।

    রেজাউল করিম জানান, তিনি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য নিয়ে কৃষিকাজ শুরু করেননি। গাছপালা, ফল ও ফুলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তার এই বাগানের শুরু। তিনি বলেন, ‘শখ থেকেই আমের চারা লাগানো শুরু করেছিলাম। যখন গাছে ভালো ফলন এল, তখন অন্য জাতের ফল ফলানোর আগ্রহ জাগে।’ আমের প্রথম ফলন পেয়ে তার কৌতূহল বাড়ে। এরপর তিনি বিভিন্ন নার্সারি থেকে বিরল প্রজাতির ফলের চারা সংগ্রহ করতে শুরু করেন। শুরু করেন বিদেশি জাতের ফলের আবাদ। বিদেশ থেকে সরাসরি চারা আনতে প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ করার কথা জানান তিনি।

    রেজাউল করিমের দুই একরের এই বাগানে এখন শুধু আমেরই ৫০টি জাত রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আলফানসো, আমেরিকান কেন্ট, হিমসাগর, চেং মাই, পাকিস্তানি চোষা, আমেরিকান পালমা, সামার বেহেস্ত, সূর্যডিম, ন্যাচ ১, ২ ও ৩, বৈশাখী, বান্দি নুরি, গৌড়মতি, কাটিমন, থাই কাঁচামিঠা, কুনাই, বাউ ৩, বারি ১১, নাম ডক মাই, হাঁড়িভাঙা, ব্ল্যাকস্টোন, মহাচনক, কিউজাই, ব্রুনেই কিং, ব্যানানা, আম্রপালি, হানিডিউ, বারি ৪, ঝাই সাই, নাম ডক মাই ইয়েলো, নাম ডক মাই মুন, সীতভোগ, অম্বিকা, ভ্যালেন্সিয়া প্রাইড, অস্টিন, সাদা পুনাই, সি-মুয়াং ও সারেঙ্গা।

    এ ছাড়া তার বাগানের আরেকটি অংশজুড়ে রয়েছে ১০ জাতের মালটা ও কমলা। এর মধ্যে আছে কারা কারা কমলা, ওয়াশিংটন নাভেল, সাউথ আফ্রিকান হাল্লাম মালটা ও সিলেটি কমলা। এর বাইরে আরও আছে ডালিম, পার্সিমন, আপেল, রামবুটান, ব্ল্যাকবেরি, লকেট, জামরুল, রোজ জাম, টার্কিশ মালবেরি, কাজুবাদাম, আতা, শরিফা, ব্রাজিলিয়ান পেয়ারা, হানি কুমকোয়াট ও বরই। তবে এখানেই শেষ নয়।

    এই বাগানের দুটি ফল সবার বিশেষ মনোযোগ কাড়ে। ‘হানি কাপোর্ড’ ও ‘চুপাচোপা’ নামের ফল দুটি রেজাউল সরাসরি ইন্দোনেশিয়া থেকে এনেছেন। তিনি জানান, ‘হানি কাপোর্ড’ দেখতে অনেকটাই লিচুর মতো, তবে পুরোপুরি পাকলে এটি জেলির মতো হয়ে যায়। অন্যদিকে ‘চুপাচোপা’ ফলটি মিষ্টি স্বাদের জন্য বেশ সমাদৃত। বাংলাদেশে এই দুটি ফলের কোনোটিই সচরাচর দেখা যায় না।

    ফলের পাশাপাশি রেজাউলের বাগানে রয়েছে নানা রকম সবজি। নিজেদের পরিবারের জন্য এখানে বিট, চাইনিজ গাজর, কালো টমেটো, লাল মুলা, স্ট্রবেরি টমেটো, চেরি টমেটো, ক্যাপসিকাম এবং বেশ কয়েক জাতের মরিচ চাষ করা হয়।

    বড়লেখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন জানান, বিদেশি জাতের চারা সংগ্রহ ও রক্ষণাবেক্ষণে রেজাউলের পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, ‘এই উদ্যোগ দারুণ। এবার ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। কিছু আমের জাত বেশ ভালো ফলন দিয়েছে। শুধু দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই নয়, অনেক বিদেশি চারাও তিনি সংগ্রহ করেছেন।’

    রেজাউলের এই বাগান দেখতে এখন অনেকেই ভিড় করছেন। সম্প্রতি বাগানটি ঘুরে দেখা স্থানীয় বাসিন্দা এ জে লাভলু বলেন, ‘আমাদের এলাকায় আগে কখনো এমন ফলের বাগান দেখিনি। তিনি যে যত্ন ও ধৈর্য নিয়ে এটি গড়ে তুলেছেন, তা সত্যিই অনুকরণীয়। তার কাছ থেকে অনেকে অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন।’

    রেজাউল বলেন, এখনই বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদের কোনো পরিকল্পনা তার নেই; এটি ভবিষ্যতে হতে পারে। মৌলভীবাজারের মাটি ও জলবায়ুতে কোন বিদেশি জাতের ফল ভালো ফলন দেবে, তা যাচাই করে দেখছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘প্রতিবছরই নতুন নতুন ফল আসছে। এগুলো খুব যত্ন করে রাখতে হয়। ফলন ভালো হলে পরে বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করব।’

    এ এম

  • হিমাগারে আলু ভাড়া কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা নির্ধারণের দাবি

    হিমাগারে আলু ভাড়া কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা নির্ধারণের দাবি

    বগুড়ায় হিমাগারে আলু সংরক্ষণ ভাড়া কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে আলুর ভ্যালু চেইন প্রমোশনাল বডি। রোববার দুপুরে মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় এ কর্মসূচিতে কৃষক, আলু ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা অংশ নেন।

    মানববন্ধনে সংগঠনের সভাপতি ছামিউল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে আলু উৎপাদনে কৃষকদের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের অতিরিক্ত ভাড়া কৃষকদের জন্য নতুন করে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চ ভাড়ার কারণে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে মৌসুমেই কম দামে আলু বিক্রি করছেন, ফলে তারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    তিনি আরও বলেন, কৃষক বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, আর কৃষি বাঁচলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। তাই কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় কোল্ড স্টোরেজে আলু সংরক্ষণের ভাড়া কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ পাঁচ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে আলু সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থাকে কৃষকবান্ধব করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তারা।

    মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রতি বছর কোল্ড স্টোরেজ ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে বাজারেও আলুর মূল্য অস্থির হয়ে পড়ছে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করে কৃষকদের স্বস্তি ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। তাদের যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

    মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছামিউল ইসলাম, বগুড়া সদর উপজেলার সেক্রেটারি সোহরাব হোসেন রাতুল, ক্যাশিয়ার বেলাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মেহেদী হাসান, কাশেম, মিল্লাত, আসিক প্রমুখ।

    এ এম

  • প্রণোদনায় ‘অকৃষক’ অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ

    প্রণোদনায় ‘অকৃষক’ অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ

    কলমাকান্দায় বন্যায় ক্ষতিগস্ত সরকারি কৃষি প্রণোদনার তালিকায় খারনৈ ইউনিয়নে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে অকৃষক ও ভুয়া ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার উপজেলার পালপাড়া বাজারে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে একই স্থানে পালটা মানববন্ধন করেছেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও তার সমর্থকরা। কলমাকান্দা-দুর্গাপুর সড়কের পালপাড়া বাজার এলাকায় মানববন্ধনে কৃষকরা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক বন্যায় নলগড়া, করাসাবরা, দলা বিল, মেধা বিলসহ বিভিন্ন এলাকার শত শত একর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের অনেকের নাম প্রণোদনার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যাদের নিজস্ব কোনো কৃষিজমি নেই কিংবা কৃষিকাজে জড়িত নন, তাদেরও তালিকায় রাখা হয়েছে। কৃষক কুদরত আলী বলেন, আমার ৩৪ কাঠার মধ্যে ২৯ কাঠা জমির ধান বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। অথচ প্রণোদনার তালিকায় আমার নাম নেই। যারা কখনো কৃষিকাজ করেনি, তারা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কার্ড পেয়েছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ জমা দেওয়ার পর থেকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওবায়দুল হকসহ কয়েকজন তাদের অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য চাপ ও হুমকি দিচ্ছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খারনৈ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওবায়দুল হক। তিনি বলেন, এটি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত।

    এ এম

  • হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

    হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

    কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় অতিবৃষ্টি ও অকাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি প্রণোদনা ও মানবিক সহায়তার তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, বর্গাচাষি ও প্রান্তিক চাষিদের বাদ দিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং তাদের আত্মীয়-স্বজনদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। ইতোমধ্যে অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনে নিকলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে অতিবৃষ্টিজনিত অকাল বন্যায় নিকলী উপজেলার হাওরাঞ্চলের হাজার হাজার একর পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়। দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টি ও রোদের অভাবে অনেক জমির ধান পচে নষ্ট হয়ে যায়। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন কৃষকরা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার লক্ষ্যে সরকার মানবিক সহায়তা ও প্রণোদনা কর্মসূচি ঘোষণা করে।

    ঘোষণার পর উপজেলা কৃষি বিভাগ মাইকিং করে কৃষকদের কাছ থেকে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করে। উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে ৩ হাজার ১৮০ জনের নাম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ২ হাজার ১৮০ জনের নাম অনুমোদন দেয়।

    সোমবার সিংপুর ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নতুন করে সামনে আসে। সিংপুর ইউনিয়নের কৃষক মো. রুকন আহমেদ বলেন, “আমি চাষাবাদ করে প্রায় সাত লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছি। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় আমার নাম নেই। অথচ এমন অনেকের নাম রয়েছে যারা কোনো ধরনের চাষাবাদই করেননি।”

    এদিকে সিংপুর ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রাজিব আহম্মেদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশ করে তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম করা হয়েছে। এ অভিযোগে সিংপুর ইউনিয়নের ভাটিবরাটিয়া গ্রামের মো. খাইরুজ্জামান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

    তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রাজিব আহম্মেদ। তিনি বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক যাচাই-বাছাইয়ের সময় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামপুলিশ উপস্থিত ছিলেন। তাদের সহায়তায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চিহ্নিত করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

    জারইতলা ইউনিয়নের সাজনপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের কৃষক ইসমাইল হোসেন বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে। যারা চাষাবাদ করেননি তারাও প্রণোদনা পাচ্ছেন, আর প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন।”

    একই অভিযোগ করেছেন ছাতিরচর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মো. জলিল মিয়া। তিনি বলেন, “প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে পক্ষপাতিত্ব ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে তালিকা করা হয়েছে। সরকারি চাকরিজীবী, কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন— এমন ব্যক্তিদের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”

    এ বিষয়ে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রেহানা মজুমদার মুক্তি বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নে কোনো ধরনের অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতির সুযোগ নেই। তবে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করে তাদের প্রাপ্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা আরও দুর্ভোগের মুখে পড়বেন।

    এ এম

  • টেকনাফে শিশু ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মশালা

    টেকনাফে শিশু ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মশালা

    টেকনাফে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ ও বাংলা-জার্মান সম্প্রীতি (বিজিএস) এর যৌথ উদ্যোগে শিশু ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমস্যা নিরসনে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালাটি আজ সোমবার ১৫ জুন ২০২৬ টেকনাফ উপজেলা কৃষি বিষয়ক অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

    বাংলা জার্মান সম্প্রীতি (বিজিএস) এর কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট অফিসার সাজিয়া নাসরিনের সার্বিক সহযোগিতায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউণ্ডেশন টেকনাফ উপজেলা ফিল্ড সুপারভাইজার মো: আশরাফ উল্লাহ, বাংলা জার্মান সম্প্রীতি (বিজিএস) এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার আব্দুল হামিদ, রেডিও নাফ ৯৯.২ এফএম এর সিনিয়র বার্তা সম্পাদক সাইফুদ্দীন মোহাম্মদ মামুন।

    এতে ধর্মীয় নের্তৃবৃন্দ ও স্থানীয় কমিউনিটির ২৫ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করে। কর্মশালায় টেকনাফের শিশু শিক্ষা, বাল্য বিবাহ, শিশু শ্রম, শিশু স্বাস্থ্য, শিশুর পুষ্টি নিরাপত্তা, শিশুর অপুষ্টিজনিত কারনে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত সহ আরও বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী সকলের উপস্থিতিতে একটি কর্ম-পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়।

    এ এম

  • পাটের বস্তার সংকট, ধান সংগ্রহ বন্ধ

    পাটের বস্তার সংকট, ধান সংগ্রহ বন্ধ

    চলতি বছরে বোরো মৌসুমে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় সরকারের ধান কেনা কার্যক্রম শুরু হয় মে মাসে। তবে বস্তা সংকটের কারণে উদ্বোধনের এক মাসের মাথায় বন্ধ রয়েছে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম।এতে ভোগান্তিতে পড়েছে কৃষক।

    উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ মে সুনামগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল লটারির মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকদের কাছ থেকে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। চলতি মৌসুমে জামালগঞ্জ উপজেলায় সরকারি ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় দুই হাজার ৩৭৩ টন। উদ্বোধনের পর থেকে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত কার্যক্রম চললেও বর্তমানে পাটের বস্তার সংকট দেখা দেওয়ায় কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।

    এদিকে, সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রির জন্য নিবন্ধন ও লটারিতে নির্বাচিত কৃষকরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ধান গুদামে সরবরাহ করতে পারবেন কিনা—তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত বস্তা সংকট দূর করে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হোক, যাতে তারা ন্যায্য মূল্যে উৎপাদিত ধান বিক্রি করতে পারেন।

    কৃষক মো. অহিদ মিয়া বলেন, ‘দিনদশেক আগে আমি ধান দেওয়ার জন্য সিরিয়াল নিয়েছি। কিন্তু এখন পাটের বস্তা না থাকার কারণে ধান দিতে পারছি না।সজল সরকার নামের কৃষক বলেন, ‘বস্তা সংকটের কারণে ধান দিতে না পারায় খুব সমস্যায় আছি। ধান বিক্রি করছি টাকার জন্য। কিন্তু সময়মতো টাকা না পেলে পরে টাকা দিয়ে কী হবে।’

    উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত ৮০০ টনের মতো ধান সংগ্রহ করেছি। শুধু জামালগঞ্জ উপজেলা না, সুনামগঞ্জ জেলার গুদামেও বস্তা সংকট চলছে।আমাদের উপজেলায় আপাতত ধান সংগ্রহ বন্ধ রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ আমরা বিভাগীয় কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আশা করছি শিগগিরই বস্তা চলে আসবে। তখন পুনরায় ধান সংগ্রহ শুরু হবে।’

    এ এম

  • শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ

    শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ

    পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষপ্রেম জাগ্রত করার লক্ষ্যে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শ্রীপুর পৌরসভার যুব বিভাগ।

    সোমবার সকালে উপজেলার ৮৪ নম্বর কেওয়া পূর্বখণ্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবুল কালাম আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ড. মো. হারুন অর রশিদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর পৌর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা আবুল হোসাইন, পৌরসভার অফিস ও বায়তুল মাল সম্পাদক মাছউদুল হাসান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শ্রীপুর পৌরসভার যুব বিভাগের সেক্রেটারি আক্তারুজ্জামান মোল্লার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব অপরিসীম। একটি সবুজ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে।

    বক্তারা আরও বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, রোপণকৃত গাছের যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টি এবং বৃক্ষরোপণের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক এ ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    অনুষ্ঠানে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার খোঁজখবর নেন এবং তাদের মনোযোগ সহকারে অধ্যয়ন করে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    আলোচনা সভা শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে ফলজ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় আয়োজকরা শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

    স্থানীয়রা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিদ্যালয়ভিত্তিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে এবং এলাকার সবুজায়ন বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

  • পাঁচ মুরগি থেকে সফল খামারি

    পাঁচ মুরগি থেকে সফল খামারি

    চার বছর আগে নারায়ণগঞ্জ থেকে শখের বশে কেনা পাঁচটি সিল্কি মুরগি দিয়ে শুরু। সেই ছোট্ট শখের খামারই আজ পরিণত হয়েছে দেশি-বিদেশি ২২ প্রজাতির উন্নত জাতের মুরগির সমৃদ্ধ সংগ্রহশালায়। একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতার পাশাপাশি সফল উদ্যোক্তা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নরসিংদীর রায়পুরা পৌর শহরের শ্রীরামপুরের বাসিন্দা মোবারক হোসেন। বর্তমানে তিনি এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য অনুপ্রেরণার নাম। উদ্যোক্তা মোবারক পৌর শহরের শ্রীরামপুরে বসতঘরের পেছনে পরিত্যক্ত নিচু জমিতে মাচা তৈরি করে গড়ে তুলেছেন তার ব্যতিক্রমধর্মী খামার ‘মোল্লা অ্যাগ্রো ফার্ম’। এখানে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও ছোট জাতের মুরগি কলম্বিয়ান লাইট ব্রাহমা ও মালয়েশিয়ান সেরামা।বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, পোল্যান্ড, চীন, মালয়েশিয়া, ভারত ও জাপানের হোয়াইট, ব্ল্যাক টেইল, মলটেড, গোল্ডেন সেব্রাইট, সিলভার সেব্রাইট, বাফ সেব্রাইট, সিল্কি, সেরামা, অস্ট্রলপ, কাদারনাথ, ব্রাহামা, পুলিশ ক্যাপ, হোয়াইট ফ্রিজেল ও পাহাড়ি লাইজ্জাসহ ২২টি প্রজাতির কয়েকশ মুরগি রয়েছে খামারটিতে। এছাড়াও রয়েছে ৫০০ গ্রাম ওজনের বিশেষ জাতের কোয়েল। নানা প্রজাতির শৌখিন ও বাণিজ্যিক মুরগির সমন্বয়ে খামারটি ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। শুধু মুরগি পালনই নয়, ইনকিউবেটর যন্ত্রের মাধ্যমে নিজেই ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদন করেন উদ্যোক্তা মোবারক। খামারে উৎপাদিত শৌখিন প্রজাতির মুরগি অনলাইন ও অফলাইন দুই মাধ্যমে বিক্রি করে তিনি মাসে আয় করেন ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা।

    মোবারক জানান, ১০০-২০০ টাকা করে জমিয়ে আজ থেকে চার বছর আগে ২ হাজার ৫০০ টাকায় পাঁচটি সিল্কি মুরগি কিনে খামার শুরু করি। এখন আমার দুটি খামার রয়েছে। দেশি-বিদেশি ২২ জাতের কয়েকশ শৌখিন জাতের মুরগি আছে দুটি খামারে।

    তিনি আরও বলেন, বেকার যুবকদের জন্য এ ধরনের মুরগি পালন হতে পারে অধিক লাভজনক ও কর্মসংস্থানের বড় মাধ্যম। নতুন উদ্যোক্তাদের আমার খামারে স্বাগত জানাই। তারা আসুক, দেখুক, ভালো লাগলে মুরগি পালনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেব। মোবারকের মুরগির খামার দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকরা আসেন। অনেকেই তার কাছ থেকে মুরগি পালনের আধুনিক কৌশল ও খামার ব্যবস্থাপনার নানা বিষয় শিখছেন। পাশাপাশি এ পেশায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন তারা।

    রায়পুরা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, পৌর শহরের বাসিন্দা মোবারক হোসেন ২০ থেকে ২৫ জাতের বিদেশি মুরগি পালন করছেন। ওইসব মুরগি তিনি অনলাইন ও অফলাইনে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। তার খামারটি দেখে অনেকেই মুরগি পালনে আগ্রহ দেখাচ্ছে। এতে মুরগি পালনে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি বেকারত্ব দূর হবে। আমরা শৌখিন প্রজাতির মুরগি খামারিদের নানা পরামর্শ দিয়ে থাকি। পাশাপাশি মুরগির রোগ প্রতিরোধে কৃমিনাশক ওষুধ প্রয়োগ ও টিকার ব্যাপারে খামারিদের সচেতন করি।

    এ এম

  • বাজেটে অবহেলিত কৃষি

    বাজেটে অবহেলিত কৃষি

    বিএনপি সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট জাতীয় সংসদে ঘোষণা করেছে। বিশাল বাজেট। অনেক খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমি কৃষি খাতের বরাদ্দ কত হয়েছে দেখার জন্য বাজেটে খুঁজেছি। বিস্ময়কর বিষয় হলো কৃষি খাতে বরাদ্দের বিষয়টি পত্রপত্রিকায় এত গৌণভাবে এসেছে যে, টর্চ দিয়ে খুঁজেও বিশেষ কিছু পাওয়া যাচ্ছে না। হ্যাঁ, বাজেট বরাদ্দ অবশ্যই হয়েছে। কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ৪৩ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে, যা দেশের জিডিপির শূন্য ০.৬৩ শতাংশ। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতের জন্য ৩৭ হাজার ১২৬ কোটি টাকা (জিডিপির ০.৬১ শতাংশ) বরাদ্দ ছিল। মোট ৬ হাজার ২০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে। এই বৃদ্ধি খুবই সামান্য। কৃষির এই বরাদ্দ মোট বাজেটের ৩.২ শতাংশ, যা অন্যান্য খাতের তুলনায় সর্বনিম্ন (জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত বাদ দিয়ে)।

    কৃষির নামে বরাদ্দকৃত এই বাজেটে আরো দুটি ভাগীদার আছে। ভাগীদাররা হচ্ছে খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত। অথচ কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তিনটি ভিন্ন ও স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয়, কিন্তু এবারে সরকার কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ গুচ্ছ করে একসঙ্গে করেছে। একজন পূর্ণ মন্ত্রী আছেন, যিনি কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয় দেখছেন, আর একজন প্রতিমন্ত্রী দেখছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। সরকারের বাজেট ঘোষণায় এখনো পরিষ্কার নয়, কৃষি আলাদাভাবে কত বরাদ্দ পাচ্ছে; তেমনি খাদ্য আলাদাভাবে এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ কত পাচ্ছে, তা আমরা এখনো জানি না। তাদের কাজ আলাদা, অতএব তাদের বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ করতে হবে। প্রয়োজনের তুলনায় এই বরাদ্দ সব সময়ের মতো এবারও অপ্রতুল।সরকার খাদ্য মজুত ও সংগ্রহের প্রতি নজর দেয় অনেক বেশি। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে খাদ্যশস্য ধারণক্ষমতা ২৪ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টনে এবং সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা ৪১ লাখ ২৯ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীতকরণের পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খাদ্যশস্য সংগ্রহের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৮ লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টন।

    এখানে তিনটি মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেটা হচ্ছে ৪৩ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাজ খাদ্যফসলসহ সব ধরনের কৃষি ফসলের উৎপাদন বাড়ানো। বড় দাগে এই মন্ত্রণালয়ের মূল দায়িত্ব হচ্ছে খাদ্যফসল বিশেষ করে ধান উৎপাদন করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আমাদের দেশে তিনটি মৌসুমে বছরে প্রায় ৩.৯ কোটি মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হয়। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের হিসাব অনুযায়ী দেশে বার্ষিক ধানের চাহিদা হচ্ছে প্রায় সাড়ে তিন কোটি থেকে তিন কোটি ৮০ লাখ মেট্রিক টন। বন্যা, খরা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে উৎপাদনে ঘাটতি হলে খাদ্য মন্ত্রণালয় চাল আমদানি করে বাজার স্থিতিশীল রাখে। তাদের লক্ষ্য দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং কৃষকদের ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা।

    কৃষি মন্ত্রণালয়ের মূল কাজ খাদ্যফসল বিশেষ করে ধান উৎপাদন নিশ্চিত করার জন্য কৃষকদের সহায়তা করা এবং সেটা করা হয় বিদ্যমান কৃষিনীতি, যা আসলে কৃষির নীতি নয়, বরং ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফুড প্রোডাকশন’। এই কৃষি মূলত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক, গভীর নলকূপ দিয়ে সেচ এবং ধান লাগানো থেকে শুরু করে কাটা পর্যন্ত যন্ত্রের ব্যবহারের ওপর নির্ভরশীল। এই বিকৃত কৃষিব্যবস্থার ত্রুটি এবারের বোরো মৌসুমে দেখা গেছে। ইরানে মার্কিন-ইসরাইলের অবৈধ ও আগ্রাসী যুদ্ধের কারণে সারা দেশে জ্বালানি সংকটের সময়ে বোরো ফসলে ডিজেল সংকটের কারণে সেচ দেওয়া সম্ভব হয়নি; এবং হাওরে অসময়ে বৃষ্টিতে প্রায় পাকা ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এই সময় দ্রুত ধান কাটার জন্য শ্রমিক পাওয়া যায় নি, এমনকি এতদিন কৃষকদের মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া সেই কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিনও কাদায় নামতে পারেনি। হাওরের একটি মাত্র কৃষি ফসল বোরো ধান, কৃষকের চোখের সামনে পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেল। বলাবাহুল্য, হাওরে এখন যে ধান উৎপাদিত হয়, তা অধিকাংশ উচ্চ ফলনশীল ও হাইব্রিড জাতের। বর্তমানে ধানের তিনটি মৌসুমের মধ্যে বোরো মৌসুম থেকে আসে ৫৫ শতাংশ এবং হাওরে মোট বোরো ধানের প্রায় ২০ শতাংশ উৎপাদিত হয়।

    এ বছর হাওরে বোরো ধানের ক্ষতির পরিমাণ পত্রপত্রিকা থেকে জানা গেছে দুই লাখ ১৪ হাজার মেট্রিক টন এবং প্রায় দুই লাখ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কিন্তু বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী কৃষিতে কৃষকের বিপর্যয়সহ টিকে থাকার নানা চ্যালেঞ্জের কথা বেমালুম ভুলে গেলেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য কোনো প্রণোদনা দিলেন না। আফসোস।কৃষিতে বরাদ্দ মানে সার-কীটনাশকে ভর্তুকি দেওয়া, অর্থাৎ বিষ কোম্পানি ও সার কোম্পানির মুনাফা নিশ্চিত করা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি খাতের সম্প্রসারণ ও উৎপাদন খরচ কমানোর লক্ষ্যে সার ও কীটনাশকের ওপর বিদ্যমান সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাট ও কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করছে সরকার। কিন্তু বুঝতে হবে এই সুবিধা কৃষকের জন্য আসছে না, আসছে সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ীদের জন্য। যেখানে সার ও বিষনির্ভর কৃষিব্যবস্থা থেকে সরে আসা কৃষিনীতির প্রধান মেরুদণ্ড হওয়ার কথা ছিল, সরকার তার উল্টোটা সবসময় করে আসছে। সার-কীটনাশকের খরচ আছে অস্বীকার করার উপায় নেই, কিন্তু অন্যান্য খরচও তো আছে। যেমন ধান লাগানো ও ধান কাটার জন্য কৃষিশ্রমিকের খরচ, সেচের পানির খরচ, উৎপাদন-পরবর্তী প্রক্রিয়ার খরচ প্রভৃতি। কিন্তু সেসব খরচের দায় সরকার নিচ্ছে না। তার চেয়েও জরুরি বিষয় হচ্ছে, উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, যা বেশিরভাগ সময় উৎপাদন খরচের চেয়ে কম থাকে এবং তাই কৃষকের দেনা কমে না। খাদ্য আমদানিসহ সরকারের বাণিজ্যনীতি সবসময়ই ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করে এবং সরাসরি কৃষকের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে। অথচ বাজেটে এ বিষয়ে কোনো কথা নেই। ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ করা এবং কৃষক কার্ডের সুবিধা সব কৃষক পাবে, তার কোনো গ্যারান্টি কি আছে?

    তাছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি সমস্যাসহ কৃষির উৎপাদনশীলতা যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সেজন্য সার-কীটনাশকে ভর্তুকির চেয়েও বেশি দরকার কৃষিনীতিকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানো। এই কৃষিব্যবস্থা ১৮ কোটি মানুষের নিরাপদ খাদ্য জোগান দিতে পারছে না। খাদ্যে অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহারে ক্যানসারসহ অসংক্রামক রোগের বিস্তার ঘটছে, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ালেই স্বাস্থ্য পরিস্থিতি উন্নত হবে না, যদি খাদ্য উৎপাদন নিরাপদ করা না হয়।

    জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষির অবদান ক্রমেই কমে আসছে, এখন তা দাঁড়িয়েছে মাত্র ১০.৯ শতাংশে। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর ছিল, যেখানে কৃষির অবদান ছিল ৬২ শতাংশ। কিন্তু দেশ ক্রমে শিল্পায়ন (৩৪ শতাংশ) এবং সেবা খাতের (৫১ শতাংশ) দিকে এগোচ্ছে। শিল্পায়ন বলতে তৈরি পোশাকশিল্পই মূলত বোঝায়, যা আমাদের অর্থনীতিতে স্বল্প মেয়াদে কিছু অর্থের জোগান দিলেও দীর্ঘ মেয়াদে উৎপাদনশীল খাত তৈরি করছে না। কৃষির প্রতি সরকারের মনোযোগের অভাবে জিডিপিতে কৃষির অবদান কমে যাওয়া দ্রুত গতিতে ঘটছে। ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এক দশকে কমেছে ১৭ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ। অর্থাৎ ১০ বছরে পাঁচ শতাংশ অবদান কমে গেছে। কৃষির সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা। কৃষি থেকে উৎখাত হলে তাদের শহরে চলে আসতে হয়। তাদের মেয়েরা যায় গার্মেন্ট কারখানায় আর ছেলেরা যায় প্রবাসে শ্রমিক হয়ে। এই সুযোগও ক্রমে সীমিত হয়ে আসছে।

    কৃষি বরাদ্দের মধ্যে আর এক ভাগীদার হচ্ছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত। এ খাতের মাধ্যমে মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের মতো প্রাণিজ আমিষ সরবরাহ করা হয়। কৃষির মতোই এ খাতের সঙ্গে যুক্ত আছে বিশাল গোষ্ঠী; যেমন জেলে/মৎস্যজীবী, গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালনকারী গরিব নারী এবং লাখ লাখ ছোট খামারি। তারা কী ধরনের বাজেট সুবিধা পাবে, তার কোনো উল্লেখ নেই।

    জিডিপিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের অবদান একত্রে প্রায় ৪.৩ শতাংশ। কর্মসংস্থানের দিক থেকে শ্রমজীবী মানুষের ২৫ শতাংশ এ খাতের সঙ্গে যুক্ত। মৎস্য খাতে প্রায় ১৮ লাখ নিবন্ধিত মৎস্যজীবী আছে। প্রাণিসম্পদে যুক্ত আছে প্রায় ১৪ লাখ খামার, যেখানে প্রায় এক কোটি মহিলা গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালনে নিয়োজিত আছে। এক বিশাল জনগোষ্ঠী এ খাতে যুক্ত হয়েও বাজেটের সময় উপেক্ষিত থাকছে।

    এবার বাজেটে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের ভাগে কত বরাদ্দ হবে, তা জানা যায়নি, তবে গত বাজেটের ৩৯ হাজার ৬২০ কোটি টাকার মধ্যে কৃষিফসল খাতে বরাদ্দ ছিল ২৭ হাজার ২২৪ কোটি টাকা (৬৮ শতাংশ), আর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ছিল মাত্র ৩ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা, মাত্র ৮.৫ শতাংশ ।

    সামগ্রিক বাজেটে কৃষিতে অবহেলা বিপজ্জনক। তার মধ্যে আরো বিশেষভাবে অবহেলিত হচ্ছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত। অথচ দুটো খাত মিলেই শুধু খাদ্যের জোগান দিচ্ছে না, পুষ্টি নিশ্চয়তা এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়েরও প্রধান ক্ষেত্র হয়ে ওঠার সমূহ সম্ভাবনা ধারণ করে।

    কৃষির অবহেলা জনগণের খাদ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তা অনিশ্চিত করে তুলবে—এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। এই অবহেলা দেশের অর্থনীতির জন্যে মঙ্গল বয়ে আনবে না।

    লেখক : অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা

  • রক্তদান শুধু সেবা নয়, ইবাদতও: সেলিম উদ্দিন

    রক্তদান শুধু সেবা নয়, ইবাদতও: সেলিম উদ্দিন

    বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে সাইকেল র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের নেতৃত্বে এই র‍্যালির আয়োজন করে লাইফ সাইকেল বিডি।

    জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ পাশের মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে শুরু হওয়া র‍্যালিটি ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল ও মধুবাগ এলাকা ঘুরে পুনরায় মানিক মিয়া এভিনিউতে এসে শেষ হয়। এতে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।

    র‍্যালির আগে স্বাগত বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, এবারের বাজেটে জুলাইয়ের গণ-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন নেই, বরং এটি পুরোনো ধারার বাজেট। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ঋণখেলাপিদের সুবিধা দেওয়ার পথ উন্মুক্ত করেছে।

    তিনি আরও বলেন, বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে এবং খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক নয়।

    সেলিম উদ্দিন দাবি করেন, শিক্ষা খাতে যে বরাদ্দ দেখানো হয়েছে, তার মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের ব্যয় এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক খরচ যুক্ত রয়েছে। এগুলো বাদ দিলে প্রকৃত শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির দেড় শতাংশেরও নিচে নেমে আসবে।

    তিনি তরুণদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান এবং একটি সুস্থ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার জন্য জামায়াতে ইসলামী কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন।

    রক্তদাতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এক ব্যাগ রক্ত একটি মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। রক্তদান মানবসেবার পাশাপাশি একটি ইবাদতও।

    তিনি আরও বলেন, দেশের হাসপাতালগুলোতে আধুনিকভাবে রক্ত সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এ সমস্যা সমাধানে ডিজিটাল ব্লাড ডোনার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লাইফ সাইকেল বিডির পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম রিয়াজ, উপদেষ্টা মাহফুজুর রহমান, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ইয়াসিন আরাফাত, হেমায়েত হোসেন এবং সহকারী পরিচালক আব্দুল মোতালেব।

  • সরকারি দামে ধান বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন না অনেক কৃষক

    সরকারি দামে ধান বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন না অনেক কৃষক

    ছয় বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন পরিতোষ হালদার। উৎপাদনও হয় ভালো। তবে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়ে পড়েছে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী এলাকার এই কৃষকের।

    পরিতোষের অভিযোগ, গুদামে ধান নিয়ে গেলে ভেজা বা নিম্নমানের অজুহাত দেখিয়ে তা কেনা হয় না। অথচ সহজেই সংগ্রহ করা হচ্ছে প্রভাবশালীদের ধান।

    শুধু পরিতোষ নয়, উপজেলার অনেক কৃষকের অভিযোগ একই প্রায় রকম।

    সরকার নির্ধারিত মূল্যে বোরো ধান সংগ্রহে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন তারা।

    কৃষকরা বলছেন, সরকারি গুদামে প্রকৃত চাষিদের ধান সংগ্রহের পরিবর্তে ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীদের কাছ থেকে ধান নেওয়া হচ্ছে। ফলে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অনেক কৃষক।

    কৃষকরা জানান, উপজেলার শ্রীরামকাঠী খাদ্য গুদামে ধান নিয়ে গেলেও নানা অজুহাতে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের।কখন ধান জমা নেওয়া হবে, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো সময়সূচি না থাকায় চাষিদের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই বাজারের পাইকারদের কাছে কম দামে ধান বিক্রি করছেন। সরকারি গুদামে ধান বিক্রির সুযোগ না পাওয়ার প্রতিবাদে সম্প্রতি উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভও করেন কৃষকরা।

    কৃষকদের ভাষ্য, খাদ্য গুদামের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

    নাজিরপুর উপজেলার দীর্ঘা ইউনিয়নের কৃষক শরিফুল বেপারীর অভিযোগ, তিনি ২৫ মণ ধান নিয়ে গুদামে যান।কিন্তু দীর্ঘ সারির কথা বলে তাকে ফেরত পাঠানো হয়। তার দাবি, গুদামের সামনে হাজার হাজার বস্তা ধান মজুদ রাখায় সাধারণ কৃষকদের ধান ভেতরে নেওয়ার সুযোগ কমে গেছে। এতে সরকারি দামে বিক্রি করতে না পেরে বাজারে কম মূল্যে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক কৃষক।

    সরেজমিনে গুদাম এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গুদামের বাইরে ধানের বস্তা স্তূপ করে রাখা। এ সময় সেখানে থাকা কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, অন্য চাষিরা যাতে ধান সরবরাহ করতে না পারে, সে জন্য সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া কোনো কোনো কৃষকের কৃষি কার্ড ব্যবহার করে অন্যদের ধান সরবরাহের অভিযোগও করেন তারা।

    এদিকে সম্প্রতি সরকারি গুদামে ধান বিক্রির সুযোগ না পেয়ে নাজিরপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ করেন কৃষকরা। তাদের দাবি, ভালো মানের ধান ফিরিয়ে দেওয়া হলেও ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের সরবরাহ করা নিম্নমানের ধান কেনা হচ্ছে।

    তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্রীরামকাঠী এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিমা আক্তার। তিনি বলেন, সরকারি নীতিমালা মেনেই ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং ধান নিয়ে এলে কাউকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। তার ভাষ্য, বর্তমানে বস্তার কিছু সংকট থাকায় সাময়িক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। গুদামের বাইরে ধান কেনাবেচা বা কারা ধান মজুত করছে, সে বিষয়ে তার কোনো দায়িত্ব নেই বলেও জানান তিনি। কৃষি কার্ডধারী ব্যক্তি ধান নিয়ে এলে তা গ্রহণ করা হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে নাজিরপুর উপজেলায় প্রতি মণ ধানের সরকারি ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৪৪০ টাকা। এ বছর উপজেলায় মোট এক হাজার ৩০৬ টন বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

    কৃষকদের দাবি, সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না হলে প্রকৃত উৎপাদকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন এবং কৃষি উৎপাদনে তাদের আগ্রহ কমে যেতে পারে। তাই বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

    এ এম

  • ফরিদপুরে আনারস চাষে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন মিলন

    ফরিদপুরে আনারস চাষে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন মিলন

    ফরিদপুরে মিলনের আনারস চাষে সফলতার স্বপ্ন

    ডেক্স নিউজ : ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করে আলোচনায় এসেছেন কৃষি উদ্যোক্তা মিলন ফকির। ইউনিয়নের যদুনন্দী গ্রামে ৮ বিঘা জমিতে ৮০ হাজার আনারসের চারা রোপণ করে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি বৃহৎ বাগান। ফলন ভালো হলে ৮০ লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, সালথায় এই প্রথম বড় পরিসরে আনারসের বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে। এ উদ্যোগ অঞ্চলে আনারস চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে যাচ্ছে।

    জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের সঙ্গে যুক্ত মিলন গত বছর শখের বশে নিজের বাড়ির ছাদে কয়েকটি আনারস গাছের চারা রোপণ করেছিলেন। সেখানে আশাতীত ফলন পাওয়ার পর তিনি বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষের পরিকল্পনা করেন। পরে টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে ক্যালেন্ডার ও জলডুগু জাতের ৮০ হাজার চারা সংগ্রহ করে ৮ বিঘা জমিতে রোপণ করেন।

    মিলন বলেন, ছাদে আনারস চাষে ভালো ফল পাওয়ার পর আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। তখনই বড় পরিসরে আনারস চাষের সিদ্ধান্ত নিই। চারা সংগ্রহ, জমি প্রস্তুত ও পরিচর্যাসহ এ পর্যন্ত ১৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আগামী বছর ফল সংগ্রহ শুরু হবে। ফলন ভালো হলে ৮০ লাখ টাকার আনারস বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি। মিলন আরও বলেন, আনারস বিক্রির পাশাপাশি চারা উৎপাদন ও বিক্রির পরিকল্পনাও রয়েছে। উদ্যোগটি সফল হলে আনারস চাষে উৎসাহিত হবেন এলাকার অনন্য কৃষকরাও।

    সরেজমিন দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সারিবদ্ধভাবে রোপণ করা হয়েছে আনারসের চারা। পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা বাগানটি ইতোমধ্যে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে স্থানীয় কৃষকদের। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা বাগান দেখতে আসছেন এবং আনারস চাষের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন।

    স্থানীয় কৃষক রফিক মোল্যা বলেন, আমাদের এলাকায় আগে কখনো বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ হতে দেখিনি। মিলনের বাগান দেখে আমরা উৎসাহবোধ করছি। তিনি সফল হলে আমরাও ভবিষ্যতে আনারস চাষের কথা ভাবব।

    স্থানীয়দের মতে, প্রচলিত ধান, পেঁয়াজ ও সবজি চাষের বাইরে গিয়ে মিলনের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সফল হলে ফরিদপুর অঞ্চলে আনারস চাষের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে কৃষকের জন্য তৈরি হবে আয়ের নতুন উৎস।

    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, সালথায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করা হয়েছে। এটি এ অঞ্চলে নতুন সম্ভাবনার সূচনা করেছে ফল চাষে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। উদ্যোগটি সফল হলে আরও অনেক কৃষক আনারস চাষে এগিয়ে আসবেন বলে আমরা আশা করছি।

    এ এম

  • বাজেট ২০২৬-২৭: কৃষক কার্ডে ১ হাজার ৬২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

    বাজেট ২০২৬-২৭: কৃষক কার্ডে ১ হাজার ৬২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ঘোষণা করা দেশের ৫৫তম বাজেটে দেশের ১০০ উপজেলায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষক, মৎস্যচাষি, প্রাণিসম্পদ খামারি ও লবণচাষিদের ‘কৃষক কার্ড’ দেয়া হবে। এজন্য কৃষক কার্ড বাবদ ১ হাজার ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    এর আগে গত পহেলা বৈশাখে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ১০টি সেবা পৌঁছে দিতে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি চালু করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ কর্মসূচির প্রি-পাইলটিং হিসেবে দেশের আটটি বিভাগের ১০ জেলার ১১ উপজেলার ১১টি ব্লকে ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষককে কার্ড দেওয়া হয়।

    কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। তার আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।

    প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশ। পাঁচ দশকের বেশি সময়ের এই যাত্রায় দেশের অর্থনীতির পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে উন্নয়ন কর্মসূচি ও রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের আকারও।

    গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট এটি। বিশাল নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রতিগুলো পূরণে দেশের ইতিহাসে এবার সবচেয়ে বড় বাজেট তৈরি করেছে সরকার। টাকার অঙ্কে প্রস্তাবিত এ বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

    বিরাট এ বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ সংগ্রহ করা হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে। বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

    বাজেটের এই বিশাল ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে সরকার।

    প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।

    বিশাল এ বাজেটের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির’ পথে এগিয়ে নেওয়া।

    এ এম

  • পচনশীল কৃষিপণ্য রক্ষায় সরকার এক  হাজার হিমাগার তৈরির পরিকল্পনা

    পচনশীল কৃষিপণ্য রক্ষায় সরকার এক হাজার হিমাগার তৈরির পরিকল্পনা

    পচনশীল কৃষিপণ্য সংরক্ষণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এক হাজার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গুদাম (কোল্ডস্টোরেজ) নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, টমেটোসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের উৎপাদন-পরবর্তী অপচয় কমানো এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় নাকি প্রকল্প ছাড়াই দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে—তা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। তবে কৃষি মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দিয়েছে।

    কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কোনো দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের অধীনে না গিয়ে সরাসরি বাজেট বরাদ্দ বা জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ প্রক্রিয়ায় এই কোল্ডস্টোরেজগুলো স্থাপন করা হবে। সম্প্রতি ঈদুল আজহার আগে কৃষি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।ওই বৈঠকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) মহাপরিচালক কৃষিবিদ আবদুর রহিমকে এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যোগাযোগ করা হলে ডিএইর মহাপরিচালক আবদুর রহিম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন। আমার দেশকে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে কোনো প্রকল্প ছাড়াই জরুরি ভিত্তিতে এক হাজার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গুদাম ঘর তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমি দপ্তরের অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে এ বিষয়ে দ্রুত করণীয় নির্ধারণ করব। তিনি আরো জানান, দেশে বর্তমানে চাহিদার তুলনায় সংরক্ষণাগার বা গুদামের সংখ্যা অত্যন্ত কম। ফলে পচনশীল সব উৎপাদিত পণ্য দীর্ঘ সময় টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয় না। এই বাস্তবতায় সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আদেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে চার হাজার পেঁয়াজ সংরক্ষণের মেশিন কেনার প্রস্তুতিও চলছে।কৃষিখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে প্রতি বছর বিভিন্ন কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়লেও সেই অনুপাতে গড়ে ওঠেনি সংরক্ষণ অবকাঠামো। বিশেষ করে আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও মৌসুমি সবজির ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত কোল্ডস্টোরেজ না থাকায় বাজারে একসঙ্গে সরবরাহ বেড়ে যায়। এতে দাম কমে যায় এবং উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হয় কৃষকদের।

    ডিএইর তথ্য অনুযায়ী, দেশে আলুর বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৯০ লাখ টন। এর বিপরীতে বিদ্যমান হিমাগারগুলোর ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৫ লাখ টন। সরকারি হিসাবে, পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে মোট উৎপাদিত আলুর প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যায়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, কেবল আলুই নয়, পেঁয়াজ ও অন্যান্য পচনশীল পণ্যের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে।

    খাতসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এই ঘাটতি মেটাতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) আগ্রহে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নেয়। ‘আলুর বহুমুখী ব্যবহার, সংরক্ষণ ও বিপণন উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় রংপুর বিভাগসহ দেশের ১৬টি জেলায় ৪৫০টি ‘অহিমায়িত মডেল ঘর’ তৈরি করা হয়। সরকারি খরচে একেকটি ঘর নির্মাণে ব্যয় হয় প্রায় দেড় লাখ টাকা। গত অর্থবছর শুধু রংপুর জেলাতেই ৭৫টি অহিমায়িত মডেল ঘরের মধ্যে ৪৫টিতে আলু সংরক্ষণের পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

    তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় এই অহিমায়িত মডেল ঘরগুলো চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। ফলে এক হাজার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নতুন গুদাম ঘর ও চার হাজার পেঁয়াজ সংরক্ষণ মেশিন দ্রুত স্থাপন করা সম্ভব হলে তা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এমনকি কৃষকের পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত হতে পারে।

    এ এম

  • ছাদবাগানে মরুর গোলাপ

    ছাদবাগানে মরুর গোলাপ

    আকাশ সাহার মাসে আয় ১৫-২০ হাজার টাকা

    ডেক্স নিউজ: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ছাদবাগানে বিরল প্রজাতির এডোনিয়াম (মরুর গোলাপ) চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন এক যুবক। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির পাশাপাশি শখের বশে ছাদবাগান শুরু করে বর্তমানে সফল উদ্যোক্তা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আকাশ সাহা। ১ হাজার ৮০০ বর্গফুট আয়তনের বাড়ির ছাদে তিনি গড়ে তুলেছেন দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতি ও রঙের এডোনিয়াম ফুলের পাশাপাশি রয়েছে বিরল প্রজাতির অসংখ্য ফুল ও শৌখিন গাছ। এডোনিয়াম গাছের আদি নিবাস দক্ষিণ আফ্রিকার মরু অঞ্চল হলেও বর্তমানে বাংলাদেশের আবহাওয়ায় এটি ভালোভাবে বেড়ে উঠছে। এডোনিয়ামের ইংরেজি নাম ‘ডেজার্ট রোজ’। সরেজমিন দেখা যায়, আকাশ সাহার ছাদবাগানে সাদা, হলুদ, গোলাপি, কমলা, মেরুন, বেগুনি ও নানা বর্ণের এডোনিয়াম ফুল ফুটে রয়েছে। ফুলগুলোর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থী ও ক্রেতারা ভিড় করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছয় বছর আগে শখের বসে মাত্র ২০টি অবেসাম (obesum) জাতের এডোনিয়াম গাছ দিয়ে আকাশ সাহা ছাদবাগানের যাত্রা শুরু করেন। থাইল্যান্ড থেকে সংগ্রহ করা ওই গাছগুলোর পেছনে তখন খরচ হয়েছিল দুই থেকে তিন হাজার টাকা। এরপর দীর্ঘ ছয় বছরের শ্রম, ঘাম ও যত্নে তিনি গড়ে তুলেছেন এই সমৃদ্ধ বাগান। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে কয়েক হাজার গাছ। আকাশ সাহা নিজেই ফুল থেকে বীজ সংগ্রহ এবং সেই বীজ থেকে চারা উৎপাদন করেন। তার ছাদবাগানে বর্তমানে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার বিভিন্ন প্রজাতি ও রঙের ফুলগাছ রয়েছে। প্রতি মাসে এডোনিয়ামসহ বিভিন্ন ফুলের চারা বিক্রি করে তিনি গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করছেন। আকাশ সাহার স্ত্রী ঐশি সাহা বলেন, আমাদের ছাদবাগানে এখন অসংখ্য মরুর গোলাপ গাছ ও চারা রয়েছে। আমরা বিভিন্ন স্থান থেকে এসব গাছ সংগ্রহ করেছি। এছাড়া আরও অনেক ধরনের ফুল ও শৌখিন গাছ রয়েছে। প্রতিদিন সকাল-বিকাল আমরা বাগানের পরিচর্যা করি। এটা আমাদের বাড়তি আনন্দ দেয়। বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ বাগান দেখতে এবং চারা কিনতে আসে। এডোনিয়াম গাছের তুলনামূলক কম পানি ও পরিচর্যা লাগে, তবে ফুলগুলো দেখতে খুবই সুন্দর। গাছের চারা কিনতে আসা আল আমিন বলেন, ‘অনলাইনে এই বাগানের খবর পেয়ে আমি সরাসরি দেখতে এসেছি। এখানে মরু অঞ্চলের অনেক প্রজাতির ফুলগাছ রয়েছে। বাগানটি দেখে খুব ভালো লেগেছে। আমি কয়েকটি গাছ কিনতে এসেছি। আমিও নিজের ছাদবাগানটি আকাশ সাহার মতো সাজাতে চাই। ছাদবাগান সম্পর্কে আকাশ সাহা বলেন, শুরুতে পরিবার ও আত্মীয়স্বজন অনেকেই এটাকে পাগলামি মনে করতেন। তবে শখের বশে শুরু করা কাজটি এখন বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে। অনেক পরিশ্রম ও যত্ন করে বাগানটি গড়ে তুলেছি। এখন কাছের ও দূর-দূরান্তের মানুষ বাগান দেখতে ও চারা কিনতে আসেন। তিনি আরও বলেন, এডোনিয়াম মরুর উদ্ভিদ হলেও এর জন্য বিশেষ ধরনের মাটি তৈরি করতে হয়। মাটি তৈরিতে বালু, ধানের চিটা, কোকোপিট, হাড়ের গুঁড়া, কয়লা, ভার্মি কম্পোস্ট ও ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা হয়। প্রতি মাসে গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার চারা বিক্রি করি। আমার বাগানে বর্তমানে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ২৫ হাজার টাকা মূল্যের গাছ রয়েছে। গরম যত বাড়ে, এডোনিয়াম গাছে তত বেশি ফুল ফোটে। সাধারণত সারা বছরই কিছু না কিছু ফুল থাকে। তবে শীতকালে গাছগুলো সুপ্ত অবস্থায় চলে যায় এবং পাতা ঝরে পড়ে। অতিরিক্ত বৃষ্টি ও পানিতে ফুলের ক্ষতি হয়। এবার গাছগুলোতে রিপটিং ও পুলিং করা হয়েছে, তাই প্রচুর ফুল আসবে বলে আশা করছি। এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভীর রহমান বলেন, বোয়ালমারী কৃষিতে সমৃদ্ধ একটি উপজেলা। এখানকার উদ্যোক্তারা নতুন নতুন উদ্যোগ নিয়ে সামনে আসছেন। আকাশ সাহা তার ছাদবাগানে এডোনিয়াম বা মরুর গোলাপ চাষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, এডোনিয়াম চাষের প্রচলন আমাদের এলাকায় খুব বেশি নেই। বোয়ালমারীর মাধ্যমে ফরিদপুরে এ চাষের আরও বিস্তার ঘটবে বলে আশা করছি। বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম রকিবুল হাসান বলেন, আকাশ সাহার মতো সফল উদ্যোক্তাদের পাশে থাকতে উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মকভাবে কাজ করবে।

    এ এম

  • গাছ লাগানোর উৎসব নয়, প্রয়োজন গাছ বাঁচানোর সংস্কৃতি

    গাছ লাগানোর উৎসব নয়, প্রয়োজন গাছ বাঁচানোর সংস্কৃতি

    ভূমি পুনরুদ্ধার, মরুকরণ প্রতিরোধ এবং খরা-সহনশীলতা বৃদ্ধি”- প্রতিপাদ্য নিয়ে পালিত হলো বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬। জলবায়ু পরিবর্তনের এই সংকটময় সময়ে প্রতিপাদ্যটি একটি মানবসভ্যতার অস্তিত্ব রক্ষার সবচেয়ে জরুরি আহ্বান। কারণ ভূমি, বন, পানি ও জীববৈচিত্র্য, সবকিছুই পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত। একটি বন ধ্বংস হলে শুধু কয়েকটি গাছ হারিয়ে যায় না; হারিয়ে যায় একটি বাস্তুতন্ত্র, একটি জলবায়ু নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা, অসংখ্য প্রাণের আবাস এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা।বিশ্ব পরিবেশ দিবস এলেই প্রতিবছর বাংলাদেশে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, উন্নয়ন সংস্থা, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, স্কুল-কলেজ—সবার কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে গাছ লাগানো। সংবাদমাধ্যমে প্রতিদিন প্রকাশিত হয় হাজার হাজার চারা রোপণের খবর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভরে ওঠে হাতে চারা নিয়ে তোলা ছবিতে। দেখে মনে হয়, আমরা যেন এক অভূতপূর্ব সবুজ বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। তবে প্রতি বছর অগণিত গাছ লাগানোর খবর শোনা গেলেও দেশের বনভূমি ও বৃক্ষআচ্ছাদনের সামগ্রিক চিত্র এবং দেশের বন রক্ষার চেয়ে বন হারানোর গতি এখনও উদ্বেগজনক। গ্লোবাল ফরেস্ট ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশ প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার হেক্টর বৃক্ষআচ্ছাদন হারিয়েছে, যা ২০০০ সালের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ কম। শুধু ২০২৫ সালেই হারিয়েছে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর প্রাকৃতিক বনভূমি। অন্যদিকে মোট ভূমির মাত্র ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ এখন বনভূমির আওতায় রয়েছে। একই সময়ে প্রাকৃতিক বনভূমির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিলুপ্ত হয়েছে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, অবৈধ দখল, নগরায়ণ এবং জলবায়ুজনিত কারণে। অর্থাৎ আমরা একদিকে গাছ লাগাচ্ছি, অন্যদিকে গাছ হারাচ্ছি আরও দ্রুত গতিতে। এই বৈপরীত্যের মূল কারণ সম্ভবত আমাদের পরিবেশ ভাবনায়। আমরা গাছ লাগানোকে একটি অনুষ্ঠান হিসেবে দেখি, কিন্তু গাছকে বড় করে তোলাকে দায়িত্ব হিসেবে দেখি না। একটি চারা রোপণ করার মুহূর্তটি দৃশ্যমান, ফটোগ্রাফযোগ্য এবং প্রচারযোগ্য। কিন্তু পরবর্তী তিন বা পাঁচ বছর ধরে সেই চারার পরিচর্যা করা দৃশ্যমান নয়, তাই সেটি প্রায়শই উপেক্ষিত থেকে যায়। পরিবেশ দিবস বা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কয়েক মাস পরই চারপাশে খেয়াল করলেই দেখা যায়, অধিকাংশ চারা শুকিয়ে গেছে। কোথাও গবাদিপশুর আক্রমণে নষ্ট হয়েছে, কোথাও পানির অভাবে মারা গেছে, কোথাও আবার রাস্তা সম্প্রসারণ বা অবকাঠামো নির্মাণের কারণে কেটে ফেলা হয়েছে। কিন্তু এসব মৃত চারার হিসাব কোনো প্রতিবেদনেই থাকে না। থাকে শুধু লাগানো চারার সংখ্যা।কিন্তু প্রকৃতি কখনো প্রচারণার ভাষা বোঝে না। প্রকৃতি ফলাফল দেখে। কত সংবাদ প্রকাশিত হলো, কত ব্যানার টানানো হলো কিংবা কত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলো, এসবের কোনো মূল্য প্রকৃতির কাছে নেই। প্রকৃতি শুধু দেখে, একটি গাছ সত্যিই বড় হলো কি না; সেটি পাখির আশ্রয় হলো কি না; তার ছায়ায় মানুষ দাঁড়াতে পারল কি না; তার পাতায় বাতাস কিছুটা নির্মল হলো কি না।

    বাংলাদেশ এখন জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। তাপপ্রবাহ, খরা, নদীভাঙন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা, বায়ুদূষণ এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়—সবকিছু মিলিয়ে পরিবেশগত সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে। এই বাস্তবতায় গাছ কেবল সৌন্দর্যের উপাদান নয়; এটি জলবায়ু প্রতিরোধের অবকাঠামো, জনস্বাস্থ্যের রক্ষাকবচ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা।
    তাই সময় এসেছে পরিবেশ নিয়ে আমাদের চিন্তার কেন্দ্রবিন্দু পরিবর্তন করার। আমরা কতটি গাছ লাগালাম তার চেয়ে জরুরি আমরা কত গাছ বাঁচিয়ে রাখতে পারলাম। একটি সবুজ, সহনশীল ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’ থেকে ‘বৃক্ষ সংরক্ষণ সংস্কৃতি’-তে উত্তরণ ঘটাতে হবে। গাছ লাগানোকে উৎসবের পর্যায় থেকে বের করে দায়িত্বের পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। কারণ একটি চারা রোপণ একটি দিনের কাজ; কিন্তু একটি বন সৃষ্টি হয় কয়েক দশকের যত্ন, ধৈর্য, পরিকল্পনা এবং দায়বদ্ধতার মধ্য দিয়ে।

    এ এম

  • গাছ লাগিয়ে যুবকের ‘প্রতিবাদ’

    গাছ লাগিয়ে যুবকের ‘প্রতিবাদ’

    ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পূর্ব শ্যামপুর গ্রাম। স্থানীয় যুবক হাওলাদার শামীম আহমেদ দাদি ও বাবার কবরের পাশে তিনটি ফুলের গাছ লাগিয়েছিলেন, হাসনাহেনা, কামিনী ও শিউলী। নিয়মিত পরিচর্যায় গাছগুলোতে ফুল আসতে শুরু করে। একদিন গিয়ে দেখেন গাছগুলো নেই। কে বা কারা ফুলসমেত তুলে নিয়ে গেছে। হতাশ হন শামীম। কাউকে কিছু না বলে তিনি ভিন্নরকম প্রতিবাদের পথ বেছে নেন, তা হলো রাস্তার দুপাশে, সারা গ্রামের বাড়ির আঙিনায় ফুলগাছ রোপণ করবেন।নিজ উদ্যোগে ও অর্থায়নে গ্রামের প্রায় ২ কিলোমিটার সড়কের উভয়পাশে ৫শ বাড়ির সামনে ইতোমধ্যে দেড় হাজার ফুলগাছ রোপণ করেছেন। দিনব্যাপী বাড়ি বাড়ি ঘুরে গাছ রোপণের পাশাপাশি স্থানীয়দের এগুলো পরিচর্যা করারও অনুরোধ জানান তিনি।

    শামীমের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে গ্রামজুড়ে বইছে প্রশংসার জোয়ার। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাধারণত চুরির ঘটনায় মানুষ ক্ষুব্ধ হয়, কিন্তু শামীম যেভাবে গ্রামের সৌন্দর্যবর্ধনে ফুলগাছ রোপণ করছেন, তা সত্যিই বিরল। কয়েকমাস পর যখন এই গাছগুলোতে ফুল ফুটবে, তখন পুরো গ্রাম সুবাসে ভরে যাবে।

    শামীম বলেন, আমি চোর খুঁজে বের করার চেষ্টা করিনি। হয়তো চোরের বাড়িও আমার গাছ রোপণ কর্মসূচির আওতায় এসে গেছে। সে যদি আমার এই কাজ দেখে অনুতপ্ত হয় এবং ভবিষ্যতে চৌর্যবৃত্তি থেকে বিরত থাকে, সেটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমার লক্ষ্য শুধু চোরকে শিক্ষা দেওয়া নয় বরং পুরো উপজেলাকে সবুজ ও সুবাসিত করা। ভবিষ্যতে সদরপুরের প্রতিটি গ্রামে ফুল ও ওষুধি গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে আমার।

    স্থানীয় বাসিন্দা লাবলু হক বলেন, শামীমের এই উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে। অনেকেই মনে করছেন, সমাজের যে কোনো নেতিবাচক ঘটনার এমন সুন্দর ও ইতিবাচক সমাধান তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে।

    একই গ্রামের শামছু বলেন, রাস্তার পাশে ফুলগাছ রোপণ করা হচ্ছে, খুবই ভালো উদ্যোগ। একসময় ফুলগুলো সুবাস ছড়াবে। পথচারী সৌন্দর্য উপভোগ করবে। সুবাসে মুগ্ধ হবে। শামীমের শ্রম সার্থক হবে। এ বিষয়ে সদরপুর ইউপি চেয়ারম্যান কাজী জাফর বলেন, হাওলাদার বাড়ির শামীমের এ উদ্যোগের বিষয়টি শুনেছি। উদ্যোগটি ভালো।

    এ এম

  • মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে ১১৬ শতাংশ

    মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে ১১৬ শতাংশ

    পেঁয়াজের ৮৭ শতাংশ, সিপিডির জরিপ

    দেশের কৃষিপণ্য সরবরাহব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্যের কারণে উৎপাদক ও ভোক্তা পর্যায়ের দামের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক জরিপে দেখা গেছে, খামার বা উৎপাদন পর্যায় থেকে খুচরা বাজারে আসতে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে ১১৬ শতাংশ। পেঁয়াজের ক্ষেত্রে এ বৃদ্ধি ৮৭ শতাংশ। এ ছাড়া ডালের দাম বেড়েছে ৭৮ শতাংশ এবং বেগুনের ৭২ শতাংশ।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি: উত্তরণকালীন সময়ে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দেশের পণ্যবাজারের চিত্র তুলে ধরা হয়।

    প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, দেশের পণ্যবাজার এখনো নগরকেন্দ্রিক পাইকার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এর ফলে সরবরাহব্যবস্থায় বাজারকেন্দ্রীকরণ বাড়ছে এবং প্রতিযোগিতা কমছে।

    সিপিডির ২০২৫ সালের বাজার জরিপের ভিত্তিতে এই বিশ্লেষণ করা হয়েছে। জরিপে প্রায় এক হাজার অংশগ্রহণকারীর তথ্য নেওয়া হয়েছে। এতে কৃষক থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজন অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। জরিপে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, আলু, কাঁচা মরিচ, বেগুন, ডিম, গরুর মাংস, মাছ ও ব্রয়লার মুরগিসহ ১০টি পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    জরিপে দেখা যায়, উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি কাঁচা মরিচে—১১৬ শতাংশ। এরপর পেঁয়াজে ৮৭ শতাংশ, ডালে ৭৮ শতাংশ এবং বেগুনে ৭২ শতাংশ। সিপিডির মতে, দীর্ঘ সরবরাহব্যবস্থা এবং উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যকার একাধিক মধ্যস্বত্বভোগীর উপস্থিতিই এ মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ।

    ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘সরবরাহব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীর সংখ্যা যত বেশি, ভোক্তাকে তত বেশি দাম দিতে হয়। বাজারের বর্তমান কাঠামোতে কিছু অংশীজন সংগ্রহ ও খুচরা মূল্য নির্ধারণে অস্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হচ্ছেন।’

    প্রতিবেদনে বলা হয়, পেঁয়াজ, আলু, শাকসবজি, ডিম ও মাছ বিপণনের ক্ষেত্রে শহরভিত্তিক আড়তদারেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। খুচরা বিক্রেতারা পণ্য সংগ্রহের জন্য তাঁদের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। এতে বাজারে প্রতিযোগিতা কমে যাচ্ছে এবং আড়তদারদের প্রভাব বাড়ছে।

    সিপিডির মতে, এই নির্ভরশীলতা বাজারে কাঠামোগত দুর্বলতা তৈরি করছে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াচ্ছে। কয়েকজন মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে অতিরিক্ত বাজারক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ায় প্রতিযোগিতা কমছে এবং অপ্রতিযোগিতামূলক আচরণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে তাঁরা লাভের বড় অংশ নিজেদের কাছে রেখে দিচ্ছেন, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াচ্ছে।

    অন্যদিকে ডিম, ব্রয়লার মুরগি, গরুর মাংস ও মাছের মতো যেসব পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত, সেসব ক্ষেত্রে উৎপাদক ও খুচরা পর্যায়ের দামের ব্যবধান তুলনামূলক কম দেখা গেছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৬ সালের ১৪ মে পর্যন্ত গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৭৯০ টাকায় পৌঁছেছে, যা ২০১৯ সালের পর সর্বোচ্চ। রুই মাছ বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৩৬৫ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল কেজিপ্রতি ১৯০ টাকা।

    এ সময়ের মধ্যে মসুর ডালের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১৯ সালে কেজিপ্রতি ৬৩ টাকা থাকা ডালের দাম ২০২৬ সালের মে মাসে বেড়ে ১১৮ টাকায় পৌঁছেছে। তবে চালের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। মাঝারি মানের পাইজাম চাল কেজিপ্রতি প্রায় ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ডিম এখনো তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী আমিষের উৎস হিসেবে রয়েছে। চারটি ডিমের দাম ছিল ৩৭ টাকা।

    বাজারের এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিপিডি শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক তদারকি, অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বাজারনিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ রোধ, পণ্যবাজারে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং উৎপাদক ও খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ জোরদারের সুপারিশ করেছে। সংস্থাটির মতে, অপ্রয়োজনীয় মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমানো গেলে ভোক্তা পর্যায়ে দাম কমবে, কৃষক ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং সামগ্রিকভাবে বাজারের দক্ষতা বাড়বে।

  • কুড়িগ্রামে বজ্রপাতে কৃষক ও ২ গরুর মৃত্যু

    কুড়িগ্রামে বজ্রপাতে কৃষক ও ২ গরুর মৃত্যু

    কুড়িগ্রামে বজ্রপাতে আনোয়ার হোসেন (৪৪) নামে এক কৃষক ও দু’টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) বিকেলে জেলার ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত কৃষক আনোয়ার হোসেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের পূর্বকেদার গ্রামের মরহুম হোসেন আলীর ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে ফাঁকা মাঠে বাঁধা গরু আনতে যান আনোয়ার হোসেন। গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বজ্রপাতে তার কোমর থেকে বুক পর্যন্ত ঝলসে যায়।

    বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মেম্বার আব্দুর রাজ্জাক জানান, বজ্রপাতের সময় তারা কয়েকজন মাত্র দুই শ’ গজ দূরে অবস্থান করছিলেন। বজ্রপাতের বিকট শব্দে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

    এদিকে একই সময়ে জেলার নাগেশ্বরী উপজেলায় বজ্রপাতে পৃথক স্থানে দু’টি গরু মারা যায়। উপজেলার কেদার ইউনিয়নের পশ্চিম বিষ্ণুপুর গ্রামের আনছার আলীর একটি ও কালীগঞ্জ ইউনিয়নের কমেদপুর বেগুনীপাড়া গ্রামের সন্তোষ কাপালীর একটি গরু বজ্রপাতে মারা গেছে বলে জানা গেছে।

    কচাকাটা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অর্পণ কুমার দাস কৃষক আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

    এ আর,

  • নীলফামারীতে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন

    নীলফামারীতে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন

    নীলফামারীতে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহের উদ্বোধন করা হয়েছে। নীলফামারী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) অ্যাডভোকেট আলফারুক আব্দুল লতীফ এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

    সোমবার (১ জুন) বিকেলে নীলফামারী সদর খাদ্য গুদামে এ ধান সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।

    এসময় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সৈয়দ আতিকুল হক, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সোহেল রানা, সদর উপজেলা কৃষি অফিসার আতিক আহমেদ, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, জামায়াত নেতা মোহাম্মদ সুজা, সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    উদ্বোধনের দিন সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের আব্দুর রহমান নামের এক কৃষকের কাছ থেকে তিন মেট্রিক টন ধান ক্রয় করে তাৎক্ষণিক তাকে ধানের মূল্য পরিশোধের চেক প্রদান করা হয়।

    উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সোহেল রানা জানান, চলতি বোরো মৌসুমে সদর উপজেলার কৃষকদের কাছ থেকে ২ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন বোরো ধান সংগ্রহ করা হবে। এজন্য কৃষক অ্যাপে আবেদনকারী কৃষকদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে ৮৪৫ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছে। লটারিতে নির্বাচিত প্রত্যেক কৃষক সর্বোচ্চ তিন মেট্রিক টন ধান সরকারি খাদ্য গুদামে বিক্রি করতে পারবেন।

    এছাড়া চলতি মৌসুমে মিল মালিকদের কাছ থেকে ১৪ হাজার ৭১ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল ও ৭৭১ মেট্রিক টন আতব চাল সংগ্রহ করা হবে।

    এ,আর

  • রংপুরে বোরো ধানের দামে ধস, খরচই উঠছে না কৃষকের

    রংপুরে বোরো ধানের দামে ধস, খরচই উঠছে না কৃষকের

    রংপুর বিভাগের হাটগুলোতে বোরো ধান প্রতি মণ ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে—যেখানে উৎপাদন খরচ মণপ্রতি ৯২০ থেকে ৯৫০ টাকা; ভালো ফলনের মৌসুমে নগদ অর্থের প্রয়োজনে কৃষকেরা দ্রুত ধান ছাড়ছেন, প্রতিবেদন করেছে ডেইলি স্টার (২৬ মে)। ঈদ সামনে রেখে এই দামের ধসে উত্তরাঞ্চলের শস্যভাণ্ডারে উৎসবের আমেজ ম্লান হয়ে পড়েছে।

    লালমনিরহাটের দুরাকুটি হাটে আট মণ ধান নিয়ে এসেছিলেন ৬৫ বছর বয়সী কৃষক মনসুর আলী, আশা ছিল প্রতি মণ ১,০০০ থেকে ১,০৫০ টাকায় বিক্রি করবেন। প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর তিনি ৮১০ টাকায় বিক্রি করেন। গত বছর একই হাটে তিনি ১,০৫০ টাকা দরে ধান বিক্রি করেছিলেন।

    “মাঠে ফসল দেখে মন খুশিতে ভরে যায়, কিন্তু হাটে এসে দাম দেখে শুধু হতাশা,” বলেন মনসুর। তিনি এ বছর ১০ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছেন, ইতোমধ্যে সাত বিঘা কেটেছেন। বিঘাপ্রতি ফলন ২২ মণ—গত মৌসুমের তুলনায় বিঘায় প্রায় এক মণ বেশি।

    আদিতমারি উপজেলার শালমারা গ্রামের ৬০ বছর বয়সী নবীন চন্দ্র বর্মণও একই দশায়। এ মৌসুমে ১৬ বিঘায় বোরো চাষ করে মণপ্রতি প্রায় ৯৫০ টাকা খরচের বিপরীতে তাঁকে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় ধান ছাড়তে হয়েছে। গত বছর একই ধান বিক্রি হয়েছিল ১,০৫০ টাকায়; এরপর খরচ বেড়েছে, অথচ দাম কমেছে। “আগে জানলে ধান নিয়ে হাটে আসতাম না,” বলেন তিনি।

    রংপুর সদরের গোপীনাথপুর গ্রামের ৫৫ বছর বয়সী আতোয়ার রহমানের বেলায়ও খরচ আর বাজারমূল্যের ফারাকটা একইরকম। মণপ্রতি ৯২০ টাকা উৎপাদন খরচের বিপরীতে তিনি ৩০ মণ ধান বিক্রি করেছেন মাত্র ৮০০ টাকা দরে। ২০ বিঘা জমিতে চাষ করে এর মধ্যে ১৫ বিঘা ফসল ঘরে তুলেছেন।

    পাইকাররা ডেইলি স্টারকে বলেছেন, গুদামে গত মৌসুমের পুরনো স্টক জমে থাকায় তাঁরা সীমিত পরিমাণে ধান কিনছেন। “পুরনো স্টক শেষ হলে পুরোদমে ধান কেনা শুরু করব,” বলেন লালমনিরহাটের পাইকার সোলায়মান আলী। রংপুরের আরেক পাইকার সুনীল চন্দ্র সেন—যিনি নিজেও কৃষক—জানিয়েছেন, গুদামে জায়গা না থাকায় কম দামে কিনতে হচ্ছে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) জানিয়েছে, এ মৌসুমে রংপুর বিভাগের আট জেলায়—লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, নীলফামারী ও ঠাকুরগাঁও—মোট ৬,৮৩,৭৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪১ লাখ টন। রংপুর বিভাগীয় খাদ্য বিভাগ অনুযায়ী, সরকার এ বছর কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ৭১,৪৮৩ টন ধান এবং মিলারদের কাছ থেকে ২,৪৬,২৪৬ টন চাল কেনার পরিকল্পনা করেছে। সরকারি ক্রয়মূল্য কেজিপ্রতি ৩৬ টাকা—যা খোলাবাজারের দামের চেয়ে বেশি—তবে পরিমাণ সীমিত এবং কেবল কৃষি অফিসের তালিকাভুক্ত কৃষকদের কাছ থেকেই কেনা হয়, ফলে বেশিরভাগ কৃষক এতে ধান বেচতে পারেন না।

    শুধু রংপুরেই নয়—এই বোরো মৌসুমে সারা দেশেই শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে আর ধানের দাম কমেছে; অনেক কৃষক বিঘাপ্রতি ২৫,০০০ থেকে ২৬,০০০ টাকা উৎপাদন খরচই তুলতে পারছেন না, প্রতিবেদন করেছে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। সরকারের সারা দেশের ক্রয় পরিকল্পনা—কেজিপ্রতি ৩৬ টাকায় ৫ লাখ টন—মোট ফসলের সামান্য অংশই ছুঁতে পারে।

    পীরগাছা উপজেলার চৌধুরাণী গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী আক্কেল আলীর কাছে ফলন আর দামের এই ব্যবধান এবারের ঈদকেই বদলে দিয়েছে। “এই বছর আমাদের ঘরে ঈদ নেই,” ডেইলি স্টারকে বলেন তিনি। “ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছি না, তাই আমরা সবাই গভীরভাবে মর্মাহত।”

  • চুয়াডাঙ্গায় বাণিজ্যিকভাবে আম সংগ্রহ শুরু

    চুয়াডাঙ্গায় বাণিজ্যিকভাবে আম সংগ্রহ শুরু

    মফিজ জোয়ার্দ্দার, চুয়াডাঙ্গা

    চুয়াডাঙ্গায় বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে আম সংগ্রহ। বুধবার (১৩ মে) বেলা ১২টায় চুয়াডাঙ্গা শহরের মহিলা কলেজপাড়ার একটি আম বাগানে আঁটি, গুটি ও বোম্বাই জাতের আম সংগ্রহের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।

    চুয়াডাঙ্গায় এ মৌসুমে চুয়াডাঙ্গা জেলার ২ হাজার ২০৩ হেক্টর জমিতে আম উৎপাদন হয়েছে। জেলায় আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ৮৪২ মেট্রিকটন।

    ১৩ মে ৩০ বৈশাখ থেকে আঁটি, গুটি, বোম্বাই, খিরসাপাত ও গোপালভোগ জাতের, ২০ মে ৬ জ্যৈষ্ঠ থেকে হিমসাগর, ২৫ মে ১১ জ্যৈষ্ঠ থেকে ল্যাংড়া, ৫ জুন ২২ জ্যৈষ্ঠ আম্রপালি (বারি আম-৩), ১৫ জুন ১ আষাঢ় থেকে ফজলী জাতের , ২০ জুন হাঁড়িভাঙ্গা, ব্যানানা ২২ জুন ৬ আষাঢ়, আশ্বিনা (বারি আম-৪) ৩০ জুন ১৬ আষাঢ়, কার্টিমন ৫ জুলাই ২১ আষাঢ় ও গৌড়মতি (বারি আস-১২) জাতের আম সংগ্রহ শুরু হবে।

    চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার ও চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার যৌথভাবে জানান, কোন অবস্থাতে বানিজ্যিক উদ্দেশ্যে অপরিপক্ক আম পাড়া যাবেনা এছাড়া আম পাকানো ও সংরক্ষণের জন্য কোন রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা যাবেনা। তাছাড়া অবৈধ প্রক্রিয়ায় আম পাকানো হলে বা পাকানোর উদ্দেশ্যে মজুদ করা হলে ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন -২০০৯’ এবং ‘নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ অনুয়ায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

    চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, জেলা ব্যাপী আম সংগ্রহের যে সূচিটি দেয়া হয়েছে তার বাইরে কেউ অপরিপক্ষ আম পাড়তে পারবে না। কেউ যদি এর ব্যপ্তয় ঘটায় তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    উদ্বোধনের সময় জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, নির্ধারিত সময়ে আম সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে আম বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
    আমে কোনো ধরনের রাসায়নিক বা ফরমালিন মেশানোর প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত বাজার তদারকি করবে।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) মিঠু চন্দ্র অধিকারী, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) কৃষ্ণ রায়, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন ও সাধারণ সম্পাদক মাহ আলম সনি, সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল শামীম, জেলা কৃষি বিপণনের মাঠ ও বাজার পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা জেলা আম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মহলদার ও সহ-সভাপতি আব্দুল করিম সহ আম ব্যবসায়ীগণ।

  • গ্রামে শ্রমিকের তীব্র সংকট, শহরে ভিড়

    গ্রামে শ্রমিকের তীব্র সংকট, শহরে ভিড়

    ভোরের আলো ফুটতেই গ্রামের দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠে এখন আর সেই চিরচেনা কর্মচাঞ্চল্য চোখে পড়ে না। লাঙল-জোয়াল কিংবা কাস্তে হাতে ব্যস্ত কৃষক-শ্রমিকের পথচলাও হারিয়ে যাচ্ছে স্মৃতির গহীনে। যে ভোরে কিষাণ-কিষাণীর কলতানে মুখর হওয়ার কথা ছিল মাঠ, প্রান্তর; সেই ভোরেই আজ শ্রমিকের শূন্যতা। গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়ে শ্রমজীবী মানুষের গন্তব্য যেন একটাই—ইটের পর ইট সাজানো যান্ত্রিক শহরের দিকে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোর পিচঢালা সড়ক-মহাসড়ক পেরিয়ে অলিগলি—সর্বত্রই কেবল মানুষের স্রোত আর যান্ত্রিক কোলাহল। অলিগলিতে রিকশার চাকার ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দে থমকে আছে নাগরিক গতি। ফুটপাতও পথচারীর নয়, বরং হকারদের পসরা আর দেনা-পাওনার ব্যস্ত বাজারে পরিণত হয়েছে। একদিকে শ্রমিকের অভাবে খাঁ খাঁ করছে গ্রামের উর্বর মাঠ, অন্যদিকে শহরের রাজপথ মানুষের চাপে ছাড়ছে দীর্ঘশ্বাস। এই শেকড় উপড়ে শহরের ফুটপাতে বা রিকশার সিটে থিতু হওয়ার নিরন্তর লড়াই—কি কেবলই জীবিকার তাগিদ, নাকি এক অপরিকল্পিত নগরায়ণের করুণ উপাখ্যান?

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি অর্থনীতিবিদ ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অকৃষি খাতে আয় বেশি হওয়ার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামীণ জনশক্তির একটি বড় অংশ নির্মাণ শিল্প বা শহরের অন্য অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে যুক্ত হওয়ায় কৃষি খাতে শ্রমিকের অভাব তীব্র হচ্ছে।
    তার মতে, কৃষি শ্রমিকদের জন্য একটি ন্যূনতম মজুরি কাঠামো না থাকা এবং লিঙ্গভিত্তিক মজুরি বৈষম্য এই সংকটের অন্যতম কারণ। প্রান্তিক কৃষকরা কৃষিকাজে লাভ করতে না পেরে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে জীবিকার সন্ধানে শহরমুখী হতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে, দেশের বেশিরভাগ শিল্প-কারখানা (যেমন-পোশাক ও চামড়া শিল্প) ঢাকা ও গাজীপুরকেন্দ্রিক হওয়ায় শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে এ অঞ্চলগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন। তাছাড়া গ্রামের তুলনায় শহরের শিক্ষা, চিকিৎসাসহ নাগরিক সুযোগ-সুবিধা উন্নত হওয়ায় মানুষ শহরমুখী হচ্ছে।
    কীভাবে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে এই কৃষি অর্থনীতিবিদ বলেন, একদিনে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এজন্য গ্রামীণ অর্থনীতিকে বহুমুখী করতে হবে এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিককে গ্রামমুখী করতে গ্রামীণ অর্থনীতি মজবুত করতে হবে।
    এ বিষয়ে আরেক কৃষি অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গ্রামীণ জনশক্তির একটি বড় অংশ নির্মাণ শিল্প বা শহরের অন্য অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে যুক্ত হওয়ায় কৃষি খাতে শ্রমিকের অভাব তীব্র হচ্ছে। কৃষি শ্রমিকদের জন্য একটি ন্যূনতম মজুরি কাঠামো না থাকা এবং লিঙ্গভিত্তিক মজুরি বৈষম্যও এই সংকটের অন্যতম কারণ। এই সংকটের সমাধান করতে হলে গ্রামের শ্রমিক যাতে সারা বছর কাজ করতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু মৌসুমের কাজ দিয়ে সারাবছর চলে না বলেই শ্রমিক শহরমুখী হয়।কীভাবে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে এই কৃষি অর্থনীতিবিদ বলেন, একদিনে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এজন্য গ্রামীণ অর্থনীতিকে বহুমুখী করতে হবে এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিককে গ্রামমুখী করতে গ্রামীণ অর্থনীতি মজবুত করতে হবে।
    এ বিষয়ে আরেক কৃষি অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গ্রামীণ জনশক্তির একটি বড় অংশ নির্মাণ শিল্প বা শহরের অন্য অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে যুক্ত হওয়ায় কৃষি খাতে শ্রমিকের অভাব তীব্র হচ্ছে। কৃষি শ্রমিকদের জন্য একটি ন্যূনতম মজুরি কাঠামো না থাকা এবং লিঙ্গভিত্তিক মজুরি বৈষম্যও এই সংকটের অন্যতম কারণ। এই সংকটের সমাধান করতে হলে গ্রামের শ্রমিক যাতে সারা বছর কাজ করতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু মৌসুমের কাজ দিয়ে সারাবছর চলে না বলেই শ্রমিক শহরমুখী হয়।কীভাবে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে এই কৃষি অর্থনীতিবিদ বলেন, একদিনে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এজন্য গ্রামীণ অর্থনীতিকে বহুমুখী করতে হবে এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিককে গ্রামমুখী করতে গ্রামীণ অর্থনীতি মজবুত করতে হবে।
    এ বিষয়ে আরেক কৃষি অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গ্রামীণ জনশক্তির একটি বড় অংশ নির্মাণ শিল্প বা শহরের অন্য অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে যুক্ত হওয়ায় কৃষি খাতে শ্রমিকের অভাব তীব্র হচ্ছে। কৃষি শ্রমিকদের জন্য একটি ন্যূনতম মজুরি কাঠামো না থাকা এবং লিঙ্গভিত্তিক মজুরি বৈষম্যও এই সংকটের অন্যতম কারণ। এই সংকটের সমাধান করতে হলে গ্রামের শ্রমিক যাতে সারা বছর কাজ করতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু মৌসুমের কাজ দিয়ে সারাবছর চলে না বলেই শ্রমিক শহরমুখী হয়।হয়।
    এদিকে কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এসবজ জেলার বিস্তৃত জলাভূমি বা হাওরাঞ্চলে ধান কাটা শ্রমিকের হাহাকার চলছে। যে সময়ে বোরো ধানের মৌসুম কৃষকের ঘরে স্বস্তি ও প্রাচুর্যের বার্তা নিয়ে আসার কথা, ঠিক সেই সময়ে মাঠভরা সোনালি ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দিনরাত পরিশ্রমে ফলানো ফসল চোখের সামনে নষ্ট হতে দেখে কৃষকের বুকফাটা কান্না কেবল ব্যক্তিগত বেদনা নয়, এটি সামষ্টিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।

    ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) : টানা বৃষ্টিতে প্রায় ২১৫ হেক্টর বোরো ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। তলিয়ে যাওয়া জমি থেকে ধান কাটতে দেড় হাজার টাকা দিয়েও মিলছে না শ্রমিক।

    উপজেলার শ্রীনগর, আগানগর, শিমুলকান্দি, সাদেকপুর ও আশপাশের বিভিন্ন ইউনিয়নের হাওর এলাকা ঘুরে জানা গেছে, টানা বৃষ্টিতে পাকা ও আধাপাকা ধানক্ষেত পানির নিচে চলে গেছে। এতে কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে শ্রমিক সংকটের কারণে অতিরিক্ত মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ধারদেনা করে চাষাবাদ করেছিলেন। এখন ফসল ঘরে তুলতে না পারায় ঋণ পরিশোধ ও সংসার চালানো নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে পানিতে নেমে নিজেই ধান কাটার চেষ্টা করছেন। ফলে সময়মতো ধান ঘরে তুলতে না পারলে আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
    শ্রীনগর ইউনিয়নের জাফরনগর গ্রামের কৃষক ইসলাম মিয়া বলেন, এই বছর জোয়ান শাহী হাওরে ৫ খানি জমিতে ধান চাষ করেছি। এখন ধান কাটার শ্রমিক পাচ্ছি না। যদিও ১৫ শত টাকা রোজে শ্রমিক আসে তারা সকাল ৮টায় ধান কাটতে আসলে আবার দুপুর ২টা বাজলেই চলে যায়। ১ মণ ধান ফলাতে খরচ পড়ে ২ হাজার টাকা। কিন্তু বাজারে বিক্রি হয় ৭/৮ শত টাকায়। এই দুঃখেই জীবন বাঁচে না।
    জগমোহনপুর গ্রামের কৃষক আফিল উদ্দিন বলেন, মাত্র দুই খানি জমির ধান কাটতে পারছি। বাকি ধান পানিতে ডুবে গেছে। শ্রমিকের কারণে কাটতে পারছি না। এই ধান দিয়েই সারা বছরের খোরাক হয়। আর বাকী ধান বিক্রি করে সংসার চলে। কিন্তু এবার সব শেষ। শ্রমিকের অভাবে ধান ঘরে তুলতে পারছি না।
    আরেক কৃষক জালাল মিয়া বলেন, এই বছর বৃষ্টির পানিতে জমি তলিয়ে ধান পচে গেছে। পচে যাওয়া ধান কাটতে ১৫ শত টাকা দিয়েও কামলা পায়তেছি না। তাই নিজেই কোনো রকমে ধান কেটে নৌকা দিয়ে টেনে আনছি।কৃষক পাষাণ আলী বলেন, ধান ফলাতে যে খরচ পড়ছে তা বিক্রি করেও উঠবে না। যে ক্ষেতের ধান একদিনে কাটতাম, তা এখন তিন দিনেও শেষ হচ্ছে না।
    কোনো ছেলে সন্তান না থাকায় স্বামীকে সাথে নিয়ে জোয়ানশাহী ১০ খানি জমিতে ধান চাষ করেন জাফরনগর গ্রামের জাহানারা বেগম। তিনি বলেন, মাত্র ১ খানি জমির ধান কাটছি। বাকি জমি পানির নিচে পড়ে আছে। এখন মানুষ নাই নৌকা নাই কেমনে ধান কাটমু। যদি ধান ক্ষেত না কাটতে পারি তাহলে সারা বছর কি খেয়ে বাঁচব সেই চিন্তায় আছি। হাওরের ধানের ক্ষেতের দিকে তাকালে শুধু কান্দন আসে।এবিষয়ে ভৈরব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগম জানান, উপজেলায় এাবর ৬ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ৬ হাজার ৯৩০ হেক্টরে। তবে অতিবৃষ্টির কারণে ২১৫ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে। সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
    মাধবপুর(হবিগঞ্জ): উপজেলাজুড়ে বোরো ধানের পর্যাপ্ত উৎপাদন হলেও সেই ধান কেটে ঘরে তোলার মতো লোক পাচ্ছেন না কৃষক। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জমির ধান কেটে শেষ করতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
    স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে ধান কাটার মৌসুমে সহজেই শ্রমিক পাওয়া যেত। বর্তমানে সে সুযোগ কম। গত ৮-১০ বছরে মাধবপুরে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। এখানকার তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশ এসব কারখানায় কাজ করছে। কৃষিকাজ অত্যন্ত পরিশ্রমের হওয়ায় নতুন প্রজন্মের অনেকেই এ পেশায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এতে সময়মতো ধান কাটতে না পেরে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষক।তারা বলছেন, এবারের মতো এমন কষ্ট তাদের আগে কখনও হয়নি। আগে স্থানীয় শ্রমিক দিয়েই সহজে ধান কাটা সম্ভব হতো। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ শ্রমিক ইটভাটা, শিল্পকারখানা কিংবা শহরমুখী হওয়ায় কৃষিকাজে শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। যারা কাজ করছেন তারাও দৈনিক ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরি দাবি করছেন। এতে ধানের সার্বিক উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষক।
    বাঘাসুরা গ্রামের কৃষক আব্দুল হাই জানান, তার মতো অনেক কৃষকের জমির ধান পেকে গেছে। শ্রমিক না পাওয়ায় কাটতে পারছেন না। ঝড়-বৃষ্টি হলে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। নিচু জমিতে হারভেস্টার মেশিনও যেতে পারে না।গত ১০ দিনের বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে আছে। এখন এক বিঘা জমির ধান কাটতে ৩-৪ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। একই অভিযোগ করেন জগদীশপুর অঞ্চলের কৃষক ছাদেক মিয়া। তিনি বলেন, শ্রমিক পেলেও অতিরিক্ত মজুরি দিতে হচ্ছে। ধানের বাজারদর অনুযায়ী এত খরচ বহন করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।
    চৌমুহনী অঞ্চলের কৃষক সমুজ আলী বলেন, ধান নিয়ে কৃষক এখন বড় বিপদে। এক বিঘা জমিতে ধান উৎপাদন করতে কমপক্ষে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। অথচ বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকায়। এভাবে চলতে থাকলে কৃষকরা ধান চাষাবাদ থেকে ধীরে ধীরে সরে যেতে বাধ্য হবে।
    সুনামগঞ্জ: হাওরে এখন আর কোনো ধানই ভেসে নেই। সবই পানির নিচে। তলিয়ে থাকতে থাকতে ধানে পচন ধরেছে। তবে উঁচু অংশে এখনো কিছু ধান আছে। তবে শ্রমিক সংকটে সেগুলো কেটে ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।
    জেলার দেখার হাওরে পানির নিচে এখনো কৃষক আবদুল মতিনের (৬০) দেড় বিঘা জমির ধান। ধানের ওপর পুরোপুরি নির্ভর আবদুল মতিন গত সোমবার দুপুরে কলেজপড়ুয়া ছেলে জুনায়েদ আহমদকে সঙ্গে নিয়ে সেই ধান কাটার চেষ্টা করছেন। এ জন্য এক হাজার টাকায় এক দিনের জন্য একটি ছোট নৌকা ভাড়া নিয়েছেন। শ্রমিক না পেয়ে বাবা-ছেলে মিলে হাওর থেকে ধান কেটে এনে রাখছিলেন হাওরপাড়ে। মাথার ওপর কড়া রোদ।
    কৃষক আবদুল মতিন জানান, পানির নিচের ধান শ্রমিকেরা ভাগিতে কাটেন না। এ জন্য এক হাজার টাকা এক দিনের জন্য মজুরি লাগে। হাতে টাকা নেই, লোকও পাওয়া যায় না। তাই ছেলেকে নিয়েই যা পারেন কাটার চেষ্টা করছেন

  • খাল খনন পানি ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে : আসাদুল হাবিব দুলু

    খাল খনন পানি ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে : আসাদুল হাবিব দুলু

    ডেস্ক নিউজ : আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন করা হবে, যা দেশের পানি ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে, বলেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।রোববার কুড়িগ্রামের হলোখানা ইউনিয়নের আরাজি পলাশবাড়ি মৌজার দাসের হাট ছড়া থেকে এসিল্যান্ড সংযোগ পর্যন্ত খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন।

    এ কর্মসূচি একটি বিপ্লব বয়ে এনেছিলো। ফলে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ চাল রপ্তানি করেছিলো। শহীদ জিয়ার স্বপ্নপূরণে ‘খাল খনন’ কর্মসূচি বিএনপি আবার শুরু করেছে।

    মন্ত্রী বলেন, খাল খনন কর্মসূচির প্রভাব বহুমাত্রিক। প্রথমত, আধুনিক সেচ প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব। সংরক্ষিত পানি ব্যবহার করে সেচ ব্যবস্থা উন্নত করা হলে কৃষকের খরচ কমবে এবং ফলন বৃদ্ধি পাবে।

    দ্বিতীয়ত, খালগুলো সারা বছর পানি ধরে রাখলে মাছচাষ ও হাঁস পালনসহ বহুমাত্রিক গ্রামীণ অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে গ্রামীণ যুবকদের কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে। তৃতীয়ত, খাল পুনঃখনন বন্যা ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

    এ সময় কুড়িগ্রাম জেলা প্রাশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথসহ জেলা প্রশসনের কর্মকর্তাগণ, রাজনৈতিক নেতৃবৃ্ন্দ এবং বিপুল সংখ্যক জনতা উপস্থিত ছিলেন।

    খাল খনন কর্মসূচিটি ‘অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) বরাদ্দ দ্বারা বাস্তবায়িত হচ্ছে।

  • চুয়াডাঙ্গায় ১৩ মে থেকে আম সংগ্রহ শুরু

    চুয়াডাঙ্গায় ১৩ মে থেকে আম সংগ্রহ শুরু

    চুয়াডাঙ্গা জেলায় চলতি মৌসুমে ৩০ হাজার ৮৪২ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৩ মে (৩০ বৈশাখ) থেকে জেলার বিভিন্ন জাতের আম সংগ্রহ শুরু হবে। রোববার (১০ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে আম সংগ্রহের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। সভায় জেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ, আম বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।

    জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) মিঠু চন্দ্র অধিকারী, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) কৃষ্ণ রায়, চুয়াডাঙ্গা জেলা আম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মহলদার, জেলা কৃষি বিপণনের মাঠ ও বাজার পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মামুনুল হাসান এবং সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিছুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলার ২ হাজার ২০৩ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে।

    নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ১৩ মে থেকে আঁটি, গুটি, বোম্বাই, খিরসাপাতি ও গোপালভোগ; ২০ মে থেকে হিমসাগর; ২৫ মে থেকে ল্যাংড়া; ৫ জুন থেকে আম্রপালি (বারি আম-৩); ১৫ জুন থেকে ফজলি; ২০ জুন থেকে হাঁড়িভাঙ্গা; ২২ জুন থেকে ব্যানানা; ৩০ জুন থেকে আশ্বিনা (বারি আম-৪); ৫ জুলাই থেকে কার্টিমন এবং গৌড়মতি (বারি আম-১২) জাতের আম সংগ্রহ শুরু হবে।

    সভায় জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার জানান, কোনো অবস্থাতেই অপরিপক্ব আম বাজারজাত করা যাবে না। এছাড়া আম পাকানো ও সংরক্ষণে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

    তারা আরো জানান, অবৈধ উপায়ে আম পাকানো বা মজুদ করা হলে ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯’ এবং ‘নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩’ অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, “নির্ধারিত সময়সূচির আগে কেউ অপরিপক্ব আম সংগ্রহ করতে পারবেন না। নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

  • চুয়াডাঙ্গার আম বাজারে আসবে ১৩ মে, ক্যালেন্ডার প্রস্তুত

    চুয়াডাঙ্গার আম বাজারে আসবে ১৩ মে, ক্যালেন্ডার প্রস্তুত

    আগামী ১৩ মে থেকে বাজারে আসবে চুয়াডাঙ্গার আম। এদিন থেকে আঁটি গুটি ও বোম্বাই আম সংগ্রহ শুরু হবে। আম সংগ্রহের সময়সূচি নির্ধারণে ক্যালেন্ডার প্রস্তুত করা হয়েছে।

    রোববার (১০ মে) দুপুর সাড়ে ৩টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ ক্যালেন্ডার চূড়ান্ত করা হয়। সভায় জেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ, আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।

    সভায় জানানো হয়, পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জাতের আম সংগ্রহের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগামী ১৩ মে থেকে আঁটি, গুটি ও বোম্বাই জাতের আম সংগ্রহ করা যাবে। পর্যায়ক্রমে ২০ মে হিমসাগর, ২৫ মে ল্যাংড়া, ৫ জুন আম্রপালি, ১৫ জুন ফজলি, ২০ জুন হাড়িভাঙা, ২২ জুন ব্যানানা, ৩০ জুন আশ্বিনা, বারি-৪, ৫ জুলাই কাটিমন এবং ৩১ জুলাই থেকে গৌড়মতি আম সংগ্রহ শুরু হবে।

    সভা শেষে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, আম সংগ্রহের জন্য যে ক্যালেন্ডার নির্ধারণ করা হয়েছে, তা আম বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের অবশ্যই প্রতিপালন করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে অভিযুক্তদের জরিমানার আওতায় আনা হবে।

    তিনি আরও বলেন, আমে কোনো ধরনের রাসায়নিক বা ফরমালিন মেশানোর প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত বাজার তদারকি করবে বলেও জানান তিনি।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, আম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মহলদারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

  • হাহাকার আর ঋণের বোঝায় দিশেহারা কৃষক

    হাহাকার আর ঋণের বোঝায় দিশেহারা কৃষক

    বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম, সময়মতো কাজ শেষ না হওয়া ও টেকসই বাঁধ না দেয়ায় পাহাড়ি ঢলে তা সহজেই ভেঙে পড়ছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওরজুড়ে যেন নেমে এসেছে নীরব এক বিপর্যয়। কয়েক দিন আগেও যেখানে দিগন্তজোড়া সোনালি ধানের ঢেউ কৃষকের মনে জাগিয়েছিল আশার আলো, সেখানে আজ শুধুই অথৈ পানি। টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ধানক্ষেতগুলোকে পরিণত করেছে পানির নিচে ডুবে থাকা এক বিষন্ন প্রান্তরে। বুকসমান পানিতে নেমে ধান কাটার যে দৃশ্য এখন হাওরে দেখা যাচ্ছে, তা কেবল ফসল সংগ্রহের লড়াই নয়; বরং চরম অভাব আর অনাহারের বিরুদ্ধে এক নীরব হাহাকার।মৌলভীবাজারের কাউয়াদিঘি হাওরপারের রক্তা গ্রামের কৃষক নোমান মিয়ার করুণ আকুতি এখন পুরো হাওরাঞ্চলের প্রতিচ্ছবি। পাঁচজনের সংসার চালানো নোমান মিয়া বলেন, ‘বুক পানিতে নেমে ধান তুলতেছি, কিন্তু শ্রমিক পাই না। জোঁকের কামড় খেয়েও ধান কাটতে হচ্ছে, কারণ সারা বছরের খোরাকি জোগাড় করতে না পারলে না খেয়ে মরতে হবে। ১৬ বিঘার মধ্যে পাঁচ বিঘা কোনোমতে তুলছি, আর সব শেষ।’

    একই চিত্র সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক গ্রামের কৃষক রহিছ উদ্দিন চৌধুরীর। তার ৫০ কিয়ার জমি এখন পানির নিচে। শ্রমিক সঙ্কটে তিনি দিশেহারা। বর্গাচাষি ফারুক মিয়া ঋণ করে অন্যের জমি চাষ করেছিলেন। একটি ধানও না কাটতে পেরে তিনি এখন নির্বাক। এসব কৃষকের চোখে এখন কেবল অন্ধকার- এক দিকে ঋণের বোঝা, অন্য দিকে পরিবারের ভরণপোষণের চিন্তা।

    মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ- এই দুই জেলায় বোরো ফসলের যে ক্ষতি হয়েছে, তার সরকারি ও বেসরকারি হিসাবে বড় ধরনের ব্যবধান লক্ষ করা গেছে। মৌলভীবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মতে, জেলায় ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর আবাদের মধ্যে দুই হাজার ৪৪২ হেক্টর সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৪৫ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৮ হাজার কৃষক।

    অন্য দিকে সুনামগঞ্জের পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। জেলা কৃষি বিভাগের দাবি, প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি ভিন্ন। তারা বলছেন, হাওরের অর্ধেক ধান এখনো পানির নিচে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। সুনামগঞ্জে এবার দুই লাখ ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছিল, যার বাজার মূল্য ছিল প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি কেবল স্থানীয় বিপর্যয় নয়, বরং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার জন্য এক অশনি সঙ্কেত।

    হাওরে পানি বেড়ে যাওয়ায় ধান কাটার যন্ত্র ‘কম্বাইন হারভেস্টার’ বা ‘রিপার’ চালানো যাচ্ছে না। ফলে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ধান কাটার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় শ্রমিক অনেক কম। বাইরের জেলা থেকে আসা শ্রমিকরা এই প্রতিকূল অবস্থায় কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। বাড়তি মজুরি দিয়েও মিলছে না শ্রমিক। একটি নৌকা ভাড়া নিতে হলেও গুনতে হচ্ছে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা। মৌলভীবাজারের কৃষকদের অভিযোগ, কাউয়াদিঘি হাওরের পানি নিষ্কাশনের জন্য কাশিমপুর পাম্প হাউজ ঠিকমতো না চলা এবং জ্বালানি সঙ্কটের কারণে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে।

    কৃষক যেটুকু ধান কোনোমতে পানি থেকে তুলে ডাঙ্গায় নিয়ে আসছেন, সেটুকু নিয়েও বিপত্তির শেষ নেই। টানা বৃষ্টি আর রোদ না থাকায় ধান শুকানো যাচ্ছে না। খলায় স্তূপ করে রাখা ধানে চারা গজিয়ে যাচ্ছে। পচা ধানের উৎকট গন্ধে ভারী হয়ে উঠছে হাওরের বাতাস। শুধু ধান নয়, পচে যাচ্ছে গোখাদ্য খড়ও। ফলে হালের বলদ আর দুধের গাভী নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। বাজারে ধানের দামও এখন তলানিতে, তাই বিক্রিরও কোনো পথ নেই।

    কেন প্রতি বছর আগাম বন্যা ঠেকানো যাচ্ছে না- এই প্রশ্ন এখন হাওরবাসীর মুখে মুখে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ১০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৩টি হাওরের ৬০৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধ নির্মাণে পিআইসির মাধ্যমে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। সময়মতো কাজ শেষ না হওয়া এবং টেকসই বাঁধ না দেয়ায় পাহাড়ি ঢলে তা সহজেই ভেঙে পড়ছে।

    আবহাওয়া তথ্যানুসারে, এবার মার্চ ও এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এপ্রিলে সুনামগঞ্জে যেখানে ২৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টির কথা ছিল, সেখানে ৩৯৮ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এই রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢল মোকাবেলায় বিদ্যমান বেড়িবাঁধগুলো সক্ষমতা হারিয়েছে।

    পরিস্থিতি পর্যালোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ইউএনও, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও পিআইও সমন্বয়ে গঠিত কমিটি এই তালিকা করছে। গত ৫ মে সরকারের মন্ত্রীরা সুনামগঞ্জ সফর করে সহায়তা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন। তবে কৃষকদের দাবি, কেবল তালিকা নয়, অবিলম্বে দাদন ও মহাজনি ঋণের হাত থেকে তাদের বাঁচাতে আর্থিক প্রণোদনা এবং পরবর্তী চাষাবাদের জন্য বিনামূল্যে সার ও বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

    হাওরের এই নীরব বিপর্যয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছেন কৃষক। বানের জলে ভেসে গেছে ঘামের ফসল, ডুবে গেছে এক মৌসুমের আশা। দাদন ব্যবসায়ী ও মহাজনের ঋণের বোঝা শোধ হবে কিভাবে- সেই চিন্তায় ঘুম নেই হাজারো কৃষকের। প্রকৃতির বৈরিতা আর প্রশাসনিক গাফিলতির জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে হাওরের কৃষকরা আজ দিশেহারা। সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান না এলে দেশের এই অন্নদাতারা চিরতরে নিঃস্ব হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

  • পাকুন্দিয়ায় সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু

    পাকুন্দিয়ায় সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু

    কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলতি মৌসুমের ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে উপজেলা সরকারি খাদ্য গুদামে এই কার্যক্রমের সূচনা করা হয়।

    পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপম দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো: জালাল উদ্দিন। তিনি ফিতা কেটে ও ধান-চাল মাপার মাধ্যমে এই সংগ্রহ অভিযানের শুভ উদ্বোধন করেন।

    উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর ৪০০ কৃষকের কাছ থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে এক হাজার ২০০ টন ধান এবং উপজেলার একটি অটোরাইসমিলসহ নয়টি হাসকিং মিল থেকে ৪৯ টাকা কেজি দরে দুই হাজার মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

    উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জেসমিন আক্তার জানান, বর্তমানে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও প্রতিকূল আবহাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। সারাদেশের ন্যায় এ উপজেলায় অতিবৃষ্টির কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে মানসম্মত ও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান-চাল সংগ্রহ করা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো: জালাল উদ্দিন বলেন, ‘ধান এবং চাল সংগ্রহে কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ যাতে কোনো অনৈতিক সুবিধা না নিতে পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিনে তিনি।

    তিনি আরো বলেন, ‘এ বছর মৌসুমের শুরুতেই অতিবৃষ্টির কারণে সারাদেশের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং হাওর এলাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে কৃষকদের ভর্তুকিসহ বিভিন্ন সাহায্যের ঘোষণা দিয়েছেন।’ দলীয় নেতাকর্মীদেরকে কৃষকদের পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) নাজমুন নাহার এবং বিভিন্ন হাসকিং মিলের মালিকসহ সাধারণ কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • বরিশালে টানা বৃষ্টি ও জোয়ারে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি

    বরিশালে টানা বৃষ্টি ও জোয়ারে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি

    ‘অতি বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির কারণে বরিশাল বিভাগে বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা ও সহায়তা দেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’ছয় দিনের টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে বরিশাল বিভাগের কৃষি খাতে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। অতি বৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল। এতে এক লক্ষাধিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন মুগডাল চাষিরা।বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল থেকে ৩ মে বিভাগের প্রায় ১৯ লাখ ২২২ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এতে এক লাখ ৮৫৯ জন কৃষক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

    প্রচণ্ড বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় বোরো ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। বাতাসে নুয়ে পড়েছে ৭৫ হাজার ৬১১ হেক্টর জমির ধান। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন চার হাজার ৪৬৩ জন কৃষক। একইভাবে ৭৬ হাজার ৬৮৯ হেক্টর জমির মুগডাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে বিপাকে পড়েছেন ৫৭ হাজার ৮৬৪ জন কৃষক।

    এছাড়া ৭৯০ হেক্টর জমির মরিচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন চার হাজার ৫৭৪ জন কৃষক। ১০ হাজার ৫৯৪ হেক্টর জমির চীনা বাদাম নষ্ট হয়ে ছয় হাজার ৬০৬ জন কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। চার হাজার ৪৪৮ হেক্টর জমির সয়াবিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তিন হাজার ৩৬৬ জন কৃষক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

    গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির ক্ষেতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিন হাজার ১৯৫ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে ১৭ হাজার ২৩২ জন কৃষক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

    এছাড়া আউশ বীজতলা, রোপা আউশ ধান, পাট, পেঁপে, কলা, পান, মিষ্টি আলু, ভুট্টা, তিল ও সূর্যমুখীসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের কৃষক রফিক মিয়া বলেন, টানা বৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে সব শেষ হয়ে গেছে। যে আশা নিয়ে চাষ করেছিলাম, তা এখন পানিতে ভেসে গেছে।

    বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের কৃষক রিয়াজ বলেন, ধান কাটার সময়ের আগেই ক্ষেত ডুবে গেছে। এখন আধাপাকা ধান কাটতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন অনেক কমে যাবে।

    নবগ্রাম ইউনিয়নের কৃষক ইউসুফ মোল্লা বলেন, ছয় দিনের বৃষ্টি আর বাতাসে বোরো ধান একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। নুয়ে পড়া ধান পরিপক্ক হওয়ার আগেই কাটতে হচ্ছে, এতে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।

    বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, ‘অতি বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির কারণে বিভাগে বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা ও সহায়তা দেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

    এদিকে কৃষি খাতের এই ব্যাপক ক্ষতির কারণে খাদ্য উৎপাদনে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন ও প্রণোদনা না দিলে আগামী মৌসুমে চাষাবাদে আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

  • পানিতে তলিয়ে গেছে ধান, ঋণে জর্জরিত হাওরের কৃষকেরা

    পানিতে তলিয়ে গেছে ধান, ঋণে জর্জরিত হাওরের কৃষকেরা

    সোমবার দুপুরে রোদ উঠতেই হাওরপারের গ্রামগুলো কিছুটা চাঙা হয়ে ওঠে। গ্রামীণ পাকা–কাঁচা সড়ক, উঁচু ফাঁকা জায়গা যেখানে সুযোগ মিলেছে, সেখানেই রোদে ধান শুকানোর ধুম পড়ে যায়। কেউ সড়কের ওপর, কেউ পলিথিন বা চটের চাটাইয়ে, আবার কেউ খলায় ধান মেলে দিয়েছেন। তবে ধান শুকাতে দিলেও কারও মনে স্বস্তি নেই।

    কৃষকেরা জানান, পানিতে তলিয়ে যাওয়া খেত থেকে যা ধান তোলা গেছে, তা খুবই সামান্য। তোলা ধানের অনেকটাই সময়মতো শুকাতে না পারায় নষ্ট হয়ে গেছে। ধানের দিকে তাকালেই তাঁদের বুক কষ্টে ভরে ওঠে। যেখানে ৩০০ থেকে ৪০০ মণ ধান পাওয়ার কথা, সেখানে এখন খলায় আছে মাত্র ১০–২০ মণ। অনেকেই ধান দিয়ে শোধ করার শর্তে আগাম ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন। এখন সেই ঋণের বোঝা আরও ভারী হয়ে উঠেছে। এতে ঋণ শোধ তো দূরের কথা, বছরের খোরাকিও জুটবে না।

    মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরপারের অন্তেহরি গ্রামের চিত্র সবচেয়ে বেশি খারাপ। পাকা ধানের খেত পানির নিচে, কেটে আনা ধানও রোদ না থাকায় শুকানো যায়নি। অনেক ধান পচে গেছে, কোথাও আবার অঙ্কুর গজিয়েছে। গতকাল বিকেলে অন্তেহরি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, জুমাপুর সড়ক থেকে অন্তেহরি বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ধান ও খড় বিছানো। গ্রামে ফাঁকা জায়গা বলতে কিছু নেই—সবখানেই ভেজা ধান ও খড় শুকানো হচ্ছে। কোথাও যন্ত্রে ধান মাড়াই চলছে। হাওরের দিকে নারী–পুরুষ ছড়িয়ে কাজ করছেন। ধান শুকাতে ব্যস্ত সবাই।

    একটি খলার পাশে দাঁড়িয়ে সুমি রানি দাস বলছিলেন, ‘খলায় এ সময় চাইরবায় (চারপাশে) ধানর গিলা (স্তূপ) থাকে। এখন ধানই নাই।’ তাঁর সঙ্গে থাকা তপন দাস বলেন, ‘খলায় এখন ২০-২৫ মণ ধান আছে। এবার ধান অইছিল খেতে। ২০-২২ মণ ধান অইলোনে কিয়ারও (১ কিয়ার=৩০ শতাংশ)। ২২ কিয়ার করছিলাম। যদি দিন দেয়, তাইলে সাত কিয়ার তোলা যাইব। বড় খলা করছিলাম, ৭০ মণ ধান আটে। ৪০০ থাকি সাড়ে ৪০০ মণ ধান পাওয়ার কথা। ১০০ মণ পাইমু কি না সন্দেহ আছে।’

    স্থানীয় লোকজন জানান, দুশ্চিন্তা শুধু ফলনহানিই নয়, ঋণ শোধ নিয়েও। অনেক কৃষক ৮০০ টাকা মণ দরে ধান দেওয়ার শর্তে আগাম টাকা নিয়েছিলেন। দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য সুদ বা দাদন ছাড়া ঋণের সুযোগ নেই বললেই চলে। ফলে বাধ্য হয়েই এ ধরনের শর্তে ঋণ নিতে হয়। অন্তেহরি গ্রামের সুখেন দাস বলেন, ‘তার চেয়ে রুজি করতাম, ভালা থাকতাম। যেদিন ধান কাটার পরিকল্পনা করছি, শ্রমিক জোগার করছি। অউদিনই এক রাইতে খেতর মধ্যে কোমরসমান পানি।’ এক নারী বলেন, ‘এলাকায় সুদ ছাড়া কেউ টাকা ধার দেয় না।’

    রনি চক্রবর্তী বলেন, ‘চাইর আনাও ধান কাটা অইছে না। ঋণের জ্বালায় প্রায় জনরই বাড়িঘর ছাড়া লাগব। ১৫ বছরর মাঝে এত ক্ষতি অইছে না।’ সুমন দাস আধা পচা ধানের আঁটি মাথায় নিয়ে স্তূপ করছিলেন, আর গান গাইছিলেন। তিনি বলেন, ‘আনন্দে নায় ভাই, মনের জ্বালায় গান গাইরাম। এক লাখ টাকা ঋণ আছে। ভাবছিলাম ২০০ মণ ধান পাইমু। ১০০ মণে ঋণ দিমু। ১০০ মণ থাকব। এখন ধান, খেড় সব গেছে।…এখন গরু বাঁচব, না মানুষ বাঁচব।’

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজারের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন আজ মঙ্গলবার বলেন, জেলার হাওরাঞ্চলে ৩ হাজার ৬৩৮ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে। কাউয়াদীঘি হাওরে ৪০০ হেক্টরের মতো হতে পারে। হাওরে পানি সামান্য বাড়ছে। এক দফা কৃষকের ক্ষতি হয়ে গেছে।