মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হলেন ঢাবির সিকিউরিটি গার্ড

DU security guard appointed joint secretary of city BNP student wing, sparks row

প্রতিবেদন:

·

, , , ,

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কার্জন হলের এক সিকিউরিটি গার্ডকে ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক করার ঘটনায় সংগঠনটির অভ্যন্তরে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত জুলহাস মিয়া নিজেও বিষয়টি নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত নন বলে দাবি করেছেন।

গত ৪ এপ্রিল ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করা হয়। পরে ২ মে সংগঠনটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত তালিকায় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে জুলহাস মিয়ার নাম দেখা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জুলহাস মিয়া বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের মেইন গেটে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির একজন কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জুলহাস মিয়া বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তিনি ‘সম্মানসূচক’ একটি পদ চেয়েছিলেন। এ লক্ষ্যে প্রায় ছয় মাস আগে মহানগর পূর্ব শাখার সহ-সভাপতি মো. আক্তার হোসেনের কাছে সিভি জমা দেন।

তবে কমিটিতে থাকা ব্যক্তি তিনি নিজেই কি না- এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন বলেও দাবি করেন তিনি। এ কারণে তিনি কোনো ফেসবুক পোস্টও দেননি।

ছাত্রত্ব না থাকা সত্ত্বেও পদ পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এক-দেড় বছর আগে আক্তার ভাইয়ের কাছে সিভি দিয়েছিলাম। পরে কীভাবে কমিটিতে নাম এসেছে, সেটি আমি নিশ্চিত না। হতে পারে, আবার নাও হতে পারে।”

তবে ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সভাপতি মো. সোহাগ ভূঁইয়া জুলহাসের পরিচয় নিশ্চিত করে বলেন, “তিনিই জুলহাস। তিনি আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন। সহ-সভাপতি আক্তার জানিয়েছিলেন, তিনি একজন রানিং স্টুডেন্ট।”

এদিকে সহ-সভাপতি মো. আক্তার হোসেন বলেন, জুলহাসের পেশাগত পরিচয় সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। আমি শুধু সিভি গ্রহণ করেছি। তিনি যে সিকিউরিটি গার্ড, তা জানতাম না।

একই কথা জানিয়েছেন মহানগর পূর্ব শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. হান্নান মজুমদার।

তিনি বলেন, “আমরা তার সিকিউরিটি গার্ড পরিচয় জানতাম না। বর্তমানে ছাত্রত্ব বাধ্যতামূলক না হলেও একাডেমিক সনদ প্রয়োজন হয়। তিনি আমাদের কাছে একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের কাগজপত্র জমা দিয়েছেন।”

এ বিষয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, “কমিটিতে এমনটি হওয়ার কথা না। আপনারা তালিকাটি পাঠিয়ে দিন, বিষয়টি দেখে পরে মন্তব্য করব।”

Read this report in English · ইংরেজি সংস্করণ