ছাত্রদল

  • ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে দুধ চুরির অভিযোগ

    ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে দুধ চুরির অভিযোগ

    বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য বরাদ্দ দুধ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ১ নম্বর বলদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক নাদিম মাহমুদকে বহিষ্কার করেছে জেলা ছাত্রদল।

    বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর রাতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান শাহীনের অনুমোদনের পর দলীয় প্যাডে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে নেছারাবাদ ১ নম্বর বলদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক নাদিম মাহমুদকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তার সঙ্গে সাংগঠনিক কোনও ধরনের সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    নাদিম মাহমুদ নেছারাবাদ উপজেলার ১ নম্বর বলদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক এবং সরকারি স্বরূপকাঠী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

    এদিকে স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নেছারাবাদ উপজেলার দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত শুক্রবার স্কুল ফিডিং কর্মসূচির জন্য রাখা ৩০ প্যাকেট দুধ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে নাদিম মাহমুদের বিরুদ্ধে। বুধবার বিষয়টি জানাজানি হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

    পরে বুধবার সকালে নাদিম মাহমুদ ও তার দুই বন্ধু বিদ্যালয়ে গিয়ে নেওয়া দুধের ৩০ প্যাকেটের মধ্যে ২৭ প্যাকেট ফেরত দেন বলে জানা গেছে।

    অভিযুক্ত নাদিম মাহমুদ এর আগে বলেছিলেন, তারা ৩ প্যাকেট দুধ খেয়েছিলেন। দুধগুলো শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ ছিল, তা তারা জানতেন না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে বাকি ২৭ প্যাকেট দুধ সংগ্রহ করে বিদ্যালয়ে জমা দেন।

    ঘটনাটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি জেলা ছাত্রদলের নজরে আসে। পরে বৃহস্পতিবার রাতে সংগঠনের পক্ষ থেকে নাদিম মাহমুদকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

    তাছাড়া ঘটনার বিষয়ে শিক্ষা অফিসকে জানাতে দেরি হওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। নেছারাবাদ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাইনুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, প্রধান শিক্ষককে ৩ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

  • জবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপে ফের সং/ঘ/র্ষ

    জবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপে ফের সং/ঘ/র্ষ

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফীন ও ১৭ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন হক অনিকের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

    প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকায় একটি চায়ের দোকানের পাশে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠালতলা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে কয়েকজনকে রড ও পাইপ নিয়ে হামলায় অংশ নিতে দেখা যায়।

    এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে অর্থনীতি বিভাগের ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাদুদ এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমন রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে আহতের মোট সংখ্যা ও তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

    সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

    জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান বলেন, দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ডাকা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তার ভাষ্য, উল্লেখযোগ্যভাবে কেউ আহত হয়নি; কয়েকজন সামান্য আঘাত পেয়ে থাকতে পারেন

    চলমান ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

  • জবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৩

    জবি ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৩

    শিক্ষা ডেস্ক:

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদলের নবীনবরণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত কনসার্টে স্টেজে বসাকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনজন আহত হয়েছেন।

    বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠালতলা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    আহতদের মধ্যে দুজনের মাথায় আঘাত রয়েছে। তাদের ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, কনসার্ট চলাকালে স্টেজে বসাকে কেন্দ্র করে জবি শাখা ছাত্রদলের ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমি ও ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সর্দারের অনুসারীদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের সামনে কাঠালতলা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে আহতরা হলেন-গণিত বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানজিল আহমেদ মিথিল, কেমিস্ট্রি বিভাগের ১২ ব্যাচের শিক্ষার্থী শাওন ও মনির। আহত তিনজনই চিকিৎসার জন্য ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান।

    হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কামাল হোসেন বলেন, ‘তিনজন চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে দুজনের মাথায় আঘাত ছিল। একজনকে সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। ’

    এ বিষয়ে জবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সর্দার বলেন, ‘সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে হাতাহাতি হয়েছে। এটা আমরা মিটমাট করে ফেলেছি। ’

    তবে সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। প্রথম শুনলাম। বিষয়টি জেনে ব্যবস্থা নেব। ’

  • টঙ্গীতে ওয়ার্ড ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সভাপতি গ্রেফতার

    টঙ্গীতে ওয়ার্ড ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সভাপতি গ্রেফতার

    প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করা গাজীপুরের টঙ্গীর ৫১নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদ্য বহিষ্কৃত সভাপতি রাতুল সিকদার অমিকে (২২) চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতার করেছে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ।

    গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে টঙ্গীর সাতাইশ এলাকা থেকে তাকে তার এক সহযোগীসহ গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতারকৃত রাতুল সিকদার অমি টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন সাতাইশ এলাকার রেজা সিকদারের ছেলে। তিনি নগরীর ৫১নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। তার সহযোগী রাজু শেখ (২৫) একই এলাকার খরতৈল গ্রামের মৃত শহিদ শেখের ছেলে।

    পুলিশ জানায়, কয়েকমাস আগে সড়কের কাজকে কেন্দ্র করে এক ঠিকাদারের কাছে মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবি করেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়েও কটূক্তি করেন এই ছাত্রদল নেতা। চাঁদা দাবির ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দায়েরকৃত মামলায় তাকে সহযোগীসহ গ্রেফতার করা হয়েছে।

    জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি ও চাঁদা দাবির ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রাতুল সিকদার অমিকে বহিষ্কার করে ছাত্রদল।

    এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দায়েরকৃত চাঁদাবাজি মামলায় তাকে তার সহযোগীসহ গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান আছে।

  • জিন্নাহকে দায়মুক্তি দিতে চায় ছাত্রদল: ফরহাদ

    জিন্নাহকে দায়মুক্তি দিতে চায় ছাত্রদল: ফরহাদ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি রাখা নিয়ে মুখ খুলেছেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ। সোমবার বিকেলে ডাকসু ভবনের সামনে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

    এস এম ফরহাদ বলেন, ‘সরাসরি বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে সংগ্রহশালার ছবিতে জিন্নাহকে সেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ছাত্রদল তাদের বিবৃতির মাধ্যমে এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, ছাত্রদল এখানে পক্ষান্তরে জিন্নাহর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা চায় জিন্নাহকে দায়মুক্তি দিতে এবং তারা চায় ছবিটা এখান থেকে সরিয়ে নিতে। এমনকি তারা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামও দিয়েছে। এর মধ্যে এটা না সরালে তারা ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।’

    এর আগে দুপুরে সংগ্রহশালায় রাখা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ওই ছবি ভেঙে ফেলেন আবু তৈয়ব হাবিলদার নামের এক সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি ডাকসু নির্বাচনের আলোচিত ও বয়োজ্যেষ্ঠ ভিপি (সহ-সভাপতি) প্রার্থী ছিলেন। এ পদে তার প্রাপ্ত ভোট ছিল ১০। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের উর্দু বিভাগের ছাত্র।

    ছবি ভাঙার বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করে ডাকসুর জিএস বলেন, ‘যিনি জিন্নাহর ছবি ভেঙেছেন, শুনলাম তিনি উর্দু বিভাগের। আমি অবাক হলাম। সম্ভবত তিনি উর্দু বিভাগেরই, সে কারণে জিন্নাহর প্রতি আলাদা একটা দরদ আছে। আর এ কারণেই এটা হয়েছে। আমরা কিন্তু ছবির ক্যাপশনে উল্লেখ করেছি, তিনি উর্দুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। যিনি ছবিটি ভেঙেছেন, তিনি হয়তো চান না উর্দুর ব্যাপারে জিন্নাহর সেই অবস্থান মানুষ জানুক। সে কারণেই তিনি এটা ভেঙেছেন। অর্থাৎ, তিনিও জিন্নাহর পক্ষ নিয়েছেন।’

  • ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি অপসারণ চাই ছাত্রদল

    ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি অপসারণ চাই ছাত্রদল

    শিক্ষা ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ১৯৪৮ সালের ছবি প্রদর্শনের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

    সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

    তারা উল্লেখ করেন, ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে দাঁড়িয়ে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অকুতোভয় ছাত্রসমাজ জিন্নাহর সেই চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সোচ্চার হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিল, যা পরবর্তীতে আমাদের রক্তক্ষয়ী ভাষা আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি গড়ে দেয়। যে ছাত্রসংসদ বাংলার স্বাধিকার আন্দোলনের সূতিকাগার, ডাকসুর সংগ্রহশালায় সেই বিতর্কিত নেতার ছবি প্রদর্শন করা ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহ্যের প্রতি সরাসরি অবমাননা।

    ছাত্রদলের অভিযোগ, ‘ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্ব সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন, আবশ্যিক অধিকার আদায় ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরিতে পুরোপুরি ব্যর্থ। শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত স্বার্থের তোয়াক্কা না করে তারা পরিষদটিকে নিজেদের সুনির্দিষ্ট দলীয় ও আদর্শিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ারে পরিণত করেছে। মধুর ক্যান্টিনের নাম পরিবর্তন করে ‘ইশরাত মঞ্জিল’ করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা থেকে শুরু করে ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর বিতর্কিত ছবি স্থাপন—এসব ধারাবাহিক কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে, শিবির নিয়ন্ত্রিত ডাকসুর এই পরিষদ শিক্ষার্থীদের গণআকাঙ্ক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিকামী চেতনাকে বিসর্জন দিয়ে, ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রতি তাদের প্রচ্ছন্ন অনুরাগ ও পাকিস্তানপ্রেম জাহির করছে।’

    বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, অবিলম্বে ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে বাংলা ভাষার বিরোধিতাকারী মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি অপসারণ করতে হবে। ডাকসুকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শচর্চার স্থান হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ঐতিহাসিক স্মারক ও চেতনাকে বিকৃত করার সব অপপ্রয়াস রুখে দেওয়া হবে।

  • চাঁদা না পেয়ে চিকিৎসককে মার-ধর, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    চাঁদা না পেয়ে চিকিৎসককে মার-ধর, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

    ময়মনসিংহ নগরে চাঁদার দাবিতে ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে এক পশু চিকিৎসকের চেম্বারে ঢুকে মারধর ও ভাঙচুর করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে ওই নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রদল।

    শুক্রবার নগরের জিলা স্কুলের পাশের গলিতে ‘ডক্টরস পেট কেয়ারে’ এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পশু চিকিৎসকের নাম আশিকুর রহমান। এ ঘটনায় শনিবার সদ্য বহিষ্কৃত মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালহাজুর রহমান, আফরিন রশিদ সেঁজুতি ও সাকিব নামের তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আশিকুর রহমান।

    অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রায়ই তার চেম্বারে এসে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করতেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো হতো। শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা চেম্বারে ঢুকে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেন। প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হয়। পরে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে তাকে লোহার রড দিয়ে পেটানো হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার কর্মী ঈশান আহমেদকেও মারধর করা হয়। তার স্ত্রী সাজনিন তাসনিন সিদ্দিকীকেও জোর করে চেম্বার থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

    আশিকুর রহমান অভিযোগে উল্লেখ করেন, চেম্বারের ক্যাশবাক্স থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার ১৫০ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। এ ছাড়া চেম্বারের লাইট, সিসি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলে তাকে, তার কর্মী ও পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

    শনিবার মারধরের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারীসহ কয়েকজন চিকিৎসকের চেম্বারে ঢোকেন। একপর্যায়ে ওই নারী জুতা খুলে চিকিৎসককে পেটাতে থাকেন। পাশে থাকা ছাত্রদল নেতা তালহাজুর রহমান (প্রতীক) ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে তালহাজুর চিকিৎসককে কিল-ঘুষি মারেন।

    সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পর দুপুরে চিকিৎসকের চেম্বারে গিয়ে বন্ধ পাওয়া যায়। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। বিকেলে ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে আশিকুর রহমান চেম্বারে আসেন। তখন তিনি বলেন, অন্য এক চিকিৎসককে নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করছিলেন আফরিন রশিদ। তখন তাকে আক্রমণ করে বিভিন্ন আইডি থেকে মন্তব্য করা হয়। ভুয়া আইডি দিয়ে তিনি (আশিকুর) সেগুলো করছেন—এমন সন্দেহ থেকে হামলা করা হয়।

    এদিকে ঘটনার পর জড়িত ব্যক্তিরা আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোষা প্রাণীর চিকিৎসা ও মৃত্যু নিয়ে কয়েকজনের মধ্যে বিরোধ ও পাল্টাপাল্টি গালিগালাজের ঘটনা ঘটেছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ওই বিরোধের জেরেই চিকিৎসকের ওপর হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • রাবিতে ভারতীয় মাদকসহ ছাত্রদল নেতা আটক

    রাবিতে ভারতীয় মাদকসহ ছাত্রদল নেতা আটক

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিব হাসানকে ৭ পিস ভারতীয় নিষিদ্ধ মাদক ‘ট্যাপেন্টাডল’সহ আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যায় রাজশাহী নগরীর মিজানের মোড় এলাকা থেকে তাকে আটক করে মতিহার থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাজশাহী নগরীর মিজানের মোড়ে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। সেখান থেকেই তাকে আটক করা হয়। সেখানে তার কাছে ৭ পিস ভারতীয় মাদক ট্যাপেন্টাডল পাওয়া যায়।

    রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। ছাত্রদল সবসময় মাদকমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়তে বদ্ধপরিকর। এখনও নিশ্চিত নই, মাদক তার নিজের কাছে ছিল নাকি তার বন্ধুদের কাছে ছিল। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে, তাহলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী মাদক নেওয়া ও ক্রয় বিক্রয় করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ও যেহেতু মাদক নিয়ে ধরা পড়েছে, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ওর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা প্রশাসনকে জানিয়ে দিয়েছি।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে মতিহার থানার ওসি গোলাম কবির বলেন, হাসিব মাদকসহ আটক হয়েছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

  • চাঁদা তোলা নিয়ে সংঘর্ষ: ছাত্রদলের ৫ নেতা বহিষ্কার

    চাঁদা তোলা নিয়ে সংঘর্ষ: ছাত্রদলের ৫ নেতা বহিষ্কার

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নিউমার্কেটে ফুটপাতের দোকান থেকে চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে যুবদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের এক দিন পর ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের মধ্যে একজনকে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে এবং চারজনকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    বুধবার (১২ আগস্ট) ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা কলেজ শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুলহাস মৃধাকে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই অভিযোগে যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন শিকদার, প্রিন্স খন্দকার, সদস্য সাগর খান ও মির্জা গোলাম রায়হানকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির আজ এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।এর আগে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নিউমার্কেটের বলাকা সিনেমা হলের সামনে ফুটপাতের দোকান থেকে চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যুবদলের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে নিউমার্কেট থানা যুবদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।

    এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার, মো. সুমন সিকদার, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহমান, সায়মন ইসলাম, সাগর খান ও জিহাদুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন।ঘটনার বিষয়ে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য জিহাদুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে নিউমার্কেট যুবদলের সদস্যসচিব কে এম চঞ্চলের কয়েকজন অনুসারী বলাকা সিনেমা হলের সামনে চাঁদা তুলতে আসেন। এ সময় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ জানান। প্রতিবাদ করলে তারা শিক্ষার্থীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে তারা তাদের নেতা চঞ্চলকে ফোন করেন।

    জিহাদুল ইসলাম বলেন, এরপর চঞ্চলের নেতৃত্বে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন লোক পেছন থেকে চাইনিজ কুড়াল, অন্যান্য ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এতে ঢাকা কলেজের অনেক শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে মুশফিক, খন্দকার প্রিন্স ও হাসান রয়েছেন। আরও সাত-আটজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

    তিনি আরও বলেন, তারা প্রতিদিন চাঁদা তোলেন। প্রায় ৩৫০টি দোকান থেকে চাঁদা নেওয়া হয়। হামলার সময় তার মাথা ফেটে যায়। পেছন থেকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়েছে। তার হাতও ভেঙে গেছে। এ ঘটনায় আরও আট থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন।জিহাদুল ইসলাম দাবি করেন, হামলায় আসা ব্যক্তিরা সবাই ছাত্রদলের পদধারী ও কর্মী।

    অন্যদিকে স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বলাকা সিনেমা হলের সামনের ফুটপাতে দোকান বসান নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্যসচিব কে এম চঞ্চলের লোকজন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী ওই দোকান তুলে দিতে গেলে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে চঞ্চলের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন ব্যক্তি লাঠিসোঁটা ও রামদা নিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    এ খবর ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদলের শতাধিক নেতা-কর্মী নিউমার্কেটের প্রিয়াঙ্গন মার্কেট-সংলগ্ন বসুন্ধরা গলিতে চঞ্চলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক হাসান ফরাজি বলেন, সংঘর্ষে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার, সুমন শিকদার, আহ্বায়ক সদস্য সাগর খান, সায়মন ইসলাম, মুশফিকুর রহিম ও জিহাদুল ইসলামসহ অন্তত ১৫ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। আহতরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পপুলার হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    তবে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কে এম চঞ্চল। তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তাকে নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।

    কে এম চঞ্চল বলেন, ফুটপাতে যুবদলের কিছু কর্মী ব্যবসা করেন। ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের পরিচয় দিয়ে কিছু বহিরাগত সন্ত্রাসী তাঁদের মারধর করেছেন। তার কার্যালয়ও ভাঙচুর করা হয়েছে। সেখানে লুটপাট চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।এ বিষয়ে নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহসিন উদ্দিন বলেন, ফুটপাতে দোকান বসানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    ওসি মোহসিন উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের কাছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • তিন ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

    তিন ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে ডিআইটি মার্কেট-সংলগ্ন এলাকায় ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি অস্থায়ী মেলাকে ঘিরে জনভোগান্তি, অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছিল। মেলার স্টল থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় এবং অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুবেল এবং কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে।

    ঈদের আগে শুরু হওয়া মেলাটি প্রায় আড়াই মাস ধরে চললেও কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট ঘোষণা নেই বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, মেলার কারণে ডিআইটি মার্কেট ও লক্ষ্মীবাজার এলাকার গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের পথের একটি বড় অংশ দখল হয়ে গেছে। এতে পথচারী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিয়মিত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

    বুধবার (১২ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, ডিআইটি মার্কেট-সংলগ্ন এলাকায় মেলার স্টল বসানো হয়েছে।

    মেলার এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সেখানে মোট চারটি স্টল রয়েছে। প্রতিটি স্টল থেকে প্রতিদিন ৩ হাজার ৩৫০ টাকা করে নেওয়া হয়।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার বলেন, ‘প্রতিদিন স্টল ভাড়া বাবদ ৩ হাজার ৩৫০ টাকা দিতে হয়। মেলা শুরুর পর থেকেই নিয়মিত এই টাকা নেওয়া হচ্ছে। ছাত্রদলের জসিম, রুবেল ও নাজমুল আমাদের মালিকদের কাছ থেকে টাকা নেন। আমরা তাদের টাকা দিয়ে থাকি।’

    ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মেলা পরিচালনার সঙ্গে কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের দাবি, তিন নেতার নেতৃত্বে প্রতিটি স্টল থেকে প্রতিদিন ৩ হাজার ৩৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। তবে এই অর্থ আদায়ের বৈধ অনুমোদন বা লিখিত নথি দেখাতে পারেননি ব্যবসায়ীরা।

    এলাকাবাসীর অভিযোগ, মেলায় ব্যবহৃত দোকানগুলোতে অনুমোদনহীনভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, যথাযথ অনুমোদন ছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

    মেলার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। লক্ষ্মীবাজার ও জনসন রোড সংযোগকারী এই পথ দিয়ে মহানগর মহিলা কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার্স গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সেন্ট গ্রেগরিজ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত যাতায়াত করেন।

    সেন্ট গ্রেগরিজ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এখানে কোচিং সেন্টার ছিল। মেলা ও মার্কেটের জায়গা দখলের কারণে কোচিং সেন্টারের কক্ষগুলো ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। পুরো মার্কেটই দখল করে নেওয়া হয়েছে।’

    সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থী ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, ‘এ ধরনের মেলা করতে হলে নির্ধারিত জায়গা ও নির্দিষ্ট সময় থাকা উচিত। প্রায় আড়াই মাস ধরে চলা মেলাটি দেখে মনে হচ্ছে, অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যেই এটি চালানো হচ্ছে।’

    ডিআইটি মার্কেটের পাশের এক ফুটপাত ব্যবসায়ী বলেন, ‘মেলার কারণে আমাদের ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক সময় আমাদের দোকানের সামনেও ভিড় জমে যায়।’

    অভিযোগের বিষয়ে কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমার নামে অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিত। আমরা এই এলাকায় রাজনীতি করি বলে একটি মহল আমাদের নামে এসব অভিযোগ দিচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছুই আমি জানি না।’

    সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুবেল বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে অবগত নই। আমরা বিষয়টি জানার পর তাদের আলটিমেটাম দিয়েছি। দোকান না সরালে আমরা গিয়ে ভেঙে দেব—এ কথা বলেছি। তাঁরা সম্ভবত দোকান উঠিয়ে চলে যাবে। তা না হলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

    সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনকে ফোন করা হলে তিনি একটি প্রোগ্রামে আছেন জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান।

    স্থানীয় বাসিন্দারা মেলার বৈধতা, অর্থ আদায়, অবৈধ দখল ও বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

  • ছাত্রদলের হামলায় আহত শিবির নেতার অবস্থা আশঙ্কাজনক

    ছাত্রদলের হামলায় আহত শিবির নেতার অবস্থা আশঙ্কাজনক

    ঢাকা কলেজ ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেকের ওপর হামলা করেছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে দুপুর দেড়টায় ক্যাম্পাসে মিছিল করে কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

    ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক মোহম্মদ মামুন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কলেজের গ্যালারি-২তে শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় আয়োজন করা হয়েছিল। অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেক ভাইয়ের নেতৃত্বে ৫/৬ গ্যালারি ডেকেরেশনের কাজ করছিল। এমন সময় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পারভেজ মোশারফের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এসে অতর্কিত আব্দুল মালেক ভাইসহ অন্যান্যদের মারধর করে।

    তিনি আরও বলেন, আব্দুল মালেক ভাইয়ের মাথায় আঘাত করে গুরুতর আহত করেছে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা। তাকে চিকিৎসার জন্য পপুলার মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়েছে। ভাইয়ের চিকিৎসা চলছে।

    ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ইলিয়াস বলেন, ‘সকাল থেকে ক্যাম্পাসে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা চলছিল আর ছাত্রদলের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে। বড় ধরনের সংঘর্ষের কোনো ঘটনার খবর এ পর্যন্ত আমার কাছে জানা নেই। তবে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের এক শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।’

  • হাসপাতালে শিবির-ছাত্রশক্তি নেতাদের ওপর ছাত্রদলের হামলা

    হাসপাতালে শিবির-ছাত্রশক্তি নেতাদের ওপর ছাত্রদলের হামলা

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মী এবং জকসু নেতাদের ওপর হামলার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রদল।

    জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) নেতারা অভিযোগ করেছেন, মঙ্গলবার বিকালে পুরান ঢাকার জনসন রোডে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি শিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাদের ওপর আকস্মিক হামলা চালান ছাত্রদল নেতারা।

    তারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের সামনে হামলা হলেও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

    এর আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) এবং অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

    মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রবেশ করতে গেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন জকসুর প্রতিনিধিরা।

    এ ঘটনায় জকসু সহসভাপতি (ভিপি) মো. রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানা ও আইনবিষয়ক সম্পাদক ফারুক, জবি ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ গুরুতর আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

    জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরাণীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন, মেডিকেল সেন্টারের সুযোগ-সুবিধা ও চিকিৎসাসেবা উন্নয়নসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি প্ল্যাকার্ডে তুলে ধরে ইউজিসি চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তার সামনে এসব দাবি তুলে ধরতে জকসু প্রতিনিধিরা প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশের চেষ্টা করেন।

    তবে প্ল্যাকার্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে প্রবেশের সময় তাদের বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে জকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্ল্যাকার্ড কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলা এবং তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জকসুর প্রতিনিধিরা।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলামসহ নেতারা অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করতে গেলে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বাধা দেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. কে এ এম রিফাত হাসান পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে তাকে ধাক্কা দেন ছাত্রদল আহ্বায়ক নিজে।

    এ সময় ছাত্রদল নেতা হিমেল বলেন, ‘এই দরজা বন্ধ করো। দ্রুত গেট আটকাও।’ পরে গেট আটকে দেওয়া হয়।

    জকসু নেতাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো ইউজিসি চেয়ারম্যানের সামনে তুলে ধরতেই তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের সেই কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং সরাসরি হামলা চালানো হয়।

    জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফ ফেসবুকে লেখেন, ‘প্রক্টর ছাত্রদল হয়ে গেছে, নাকি ছাত্রদল প্রক্টরের ভূমিকায়? আমন্ত্রণ জানিয়েও অডিটোরিয়ামে প্রবেশে বাধা। ধাক্কাধাক্কি করা শুধু ছাত্রদলের দ্বারাই সম্ভব।’

    এ বিষয়ে জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলা এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে প্রক্টর অফিস ও ছাত্রদলের ক্যাডাররা। এছাড়া জকসুর প্রতিনিধিদের ধাক্কা দেওয়া হয়েছে।’

  • এবার ঢাকা আলিয়ায় ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ

    এবার ঢাকা আলিয়ায় ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ

    শিক্ষা ডেস্ক:

    রাজধানীর ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় হল দখলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হল দখলকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বিকেলের দিকে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। শুরুতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পরে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা পাল্টা অবস্থান নিয়ে প্রাঙ্গণের নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।

    সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের দেশীয় অস্ত্র হাতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং মুখোমুখি অবস্থান নিতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতেও দেশীয় অস্ত্র হাতে সংঘর্ষে জড়ানোর দৃশ্য দেখা গেছে। এসব ভিডিওতে কয়েকজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে সহপাঠীরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

    তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের সঠিক সংখ্যা ও পরিচয় জানা যায়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

    ঘটনার পর পুলিশ ক্যাম্পাসে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, বর্তমানে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও ক্যাম্পাসে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

    এ ঘটনায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

  • ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে: সারজিস

    ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে: সারজিস

    ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

    মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    স্ট্যাটাসে সারজিস লেখেন, ছাত্রদল যত তাড়াতাড়ি ছাত্রলীগ হবে, তাদের পরিণতি তত তাড়াতাড়ি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে।

    এর আগে, আজ (মঙ্গলবার) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠান চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

  • ছাত্রদলের শীর্ষ পদে দৌড়ে এক ডজন নেতা

    ছাত্রদলের শীর্ষ পদে দৌড়ে এক ডজন নেতা

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন নেতৃত্ব ঘোষণার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায় ও ছাত্রদলের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে এক ডজনের বেশি নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।

    বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, নতুন কমিটি গঠনে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং ক্লিন ইমেজকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এদিকে শীর্ষ পদপ্রত্যাশীরা শেষ মুহূর্তের সাংগঠনিক তৎপরতা ও লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।

    ২০২৪ সালের ১ মার্চ মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি এবং নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে সাত সদস্যের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে একই বছরের ১৫ জুন ৩৯ জন সহ-সভাপতি ও ১১১ জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ২৬০ সদস্যের আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

    বর্তমান কমিটির অধীনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা, মহানগর ও মেডিকেল কলেজসহ শতাধিক সাংগঠনিক ইউনিট পুনর্গঠন করা হয়। তবে ২০২৬ সালের ১ মার্চ কেন্দ্রীয় কমিটির নির্ধারিত দুই বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব আনতে কাজ করছে বিএনপির হাইকমান্ড।

    বিএনপির এক সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগস্টে বিভিন্ন ইস্যু আছে, নয়তো নতুন কমিটি আগস্টেই হতো। তবে এই কমিটির কার্যক্রম আগস্টেই শেষ হচ্ছে। কমিটির তালিকা তারেক রহমানের টেবিলে। আশা করি সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কমিটি হবে। বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।’

    যাদের নাম আলোচনায়

    সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, মনজুরুল আলম রিয়াদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল, কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত, রাজু আহমেদ, মমিনুল ইসলাম জিসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন।

    এ ছাড়া শীর্ষ পদে আলোচনায় রয়েছেন আনোয়ার পারভেজ, মো. খোরশেদ আলম সোহেল, এইচ এম আবু জাফর, ইজাজুল কবির রুয়েল, মোস্তাফিজুর রহমান, শরীফ প্রধান শুভ, মাহমুদ ইসলাম কাজল, আজিজুল হক জিয়নসহ আরও অনেকে।

    বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া এর আগে সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্দোলন-সংগ্রামে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা ইয়াহইয়া ২০২২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের হামলায় আহত হন। ২০২৩ সালে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন। ২৮ অক্টোবর-পরবর্তী কর্মসূচিতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও পশ্চিম অঞ্চলে ছাত্রদলের সমন্বয়কের দায়িত্বও পালন

    করেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শাহবাগ, বাংলামোটর, সায়েন্সল্যাব, ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি নিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন।

    বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান এর আগে কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। ২৮ অক্টোবর-পরবর্তী আন্দোলনে গ্রেফতার হয়ে দুই মাস কারাগারে ছিলেন। ৫ আগস্টের পর রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংগঠনকে সুশৃঙ্খল করা এবং ইতিবাচক রাজনীতি নিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করেন।

    যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিতের বিরুদ্ধে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে ৯টি মামলা রয়েছে। তিনি রিমান্ডে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং দুটি মামলায় সাজাভোগ করেছেন। কয়েকটি মামলা এখনও বিচারাধীন। ২০১৫ সালে অবরোধ চলাকালে একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে পুলিশ তাকে ফেলে দিলে প্রায় ১০ মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

    সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল এর আগে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ১ নম্বর সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-স্বাস্থ্য সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে এবং তিনি একবার গ্রেফতার হন। বর্তমানে তিনি সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজে এফসিপিএস অধ্যয়নরত।

    শীর্ষ পদে নিজের প্রত্যাশা সম্পর্কে তৌহিদুর রহমান আউয়াল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কমিটি গঠন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। ছাত্রদলের যারা পদপ্রত্যাশী, তারা সকলেই যোগ্য। এর মধ্য থেকে আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান যাদের নির্বাচন করবেন, আমরা সবাই তাঁকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো। আমাদের মাঝে নেতৃত্বের সুস্থ প্রতিযোগিতা আছে। তবে কোনো অসুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই।’

  • নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ধরিয়ে দিলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার

    নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ধরিয়ে দিলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের আগামী ২৩ জুনের কর্মসূচির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদল। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে রাবি ছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী ঘোষণা দেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ধরিয়ে দিতে পারলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।

    আজ সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে এসে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

    বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন রাবি ছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী। ছবি: সংগৃহীত

    সমাবেশে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘যে স্বৈরাচার বাংলাদেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে, তাদেরকে বাংলার মাটিতে আর মিছিলের সুযোগ দেওয়া হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সুশীল শিক্ষক এখনো আওয়ামী লীগের পক্ষে বয়ান তৈরি করছেন। আজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা যদি আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বলেন, তবে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এ দেশে আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করার সুযোগ আমরা দেব না।’

    ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কর্মসূচি প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ফজরের নামাজ পড়েই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মোড়ে মোড়ে অবস্থান নেবেন। এ সময় যদি কেউ আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীকে ধরিয়ে দিতে পারেন, তবে তাকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।’

    বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ইউনিটের অসংখ্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

  • ছাত্রলীগ ধরিয়ে দিলে পুরস্কার ঘোষণা

    ছাত্রলীগ ধরিয়ে দিলে পুরস্কার ঘোষণা

    শিক্ষা ডেস্ক:

    নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ধরিয়ে দিলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী।

    সোমবার (২২ জুন) দেশজুড়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন হুমকি-ধমকি, নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রতিবাদে দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বর থেকে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ মিছিল বের হয়। মিছিল শেষে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

    এ সময় নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ গোষ্ঠী আখ্যা দিয়ে তাদের সব কার্যক্রম কঠোরভাবে দমনের হুঁশিয়ারি দেন। শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বাংলাদেশের জনগণ হত্যা, গুম, নির্যাতন ও হামলার শিকার হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগের রাজনীতি আর দেখতে চায় না।’

    তিনি আরও বলেন,‘ অতীতে যারা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল, তারা যদি কোনোভাবে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন বা প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করে, তাহলে দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ তা মেনে নেবে না। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তার রাজনৈতিক আদর্শ ও নেতৃত্বের আলোকে যেকোনো অগণতান্ত্রিক ও জনবিরোধী অপচেষ্টার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।’

    বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘যে স্বৈরাচার বাংলাদেশের জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, হত্যা, গুম ও খুন করেছে, তাদের বাংলাদেশের মাটিতে থাকতে দেওয়া হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ইঞ্চি মাটি আমাদের পাহারা দিতে হবে। ছাত্রলীগ যাতে বাংলাদেশ তথা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য আমাদের সচেতন থাকতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে ধরিয়ে দিতে পারলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। আওয়ামী লীগ ২৩ তারিখ থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করবে। তাদের মোকাবিলায় আমাদের ফজরের নামাজের পর থেকেই রাজশাহীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিতে হবে।’

  • চার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা

    চার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা

    বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে চারটি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. আবু হোরায়রা ও সাধারণ সম্পাদক এম রাজিউল ইসলাম তালুকদার বিদ্যুৎ এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো— ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, প্রাইম ইউনিভার্সিটি, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ও আনোয়ার খান মডার্ন ইউনিভার্সিটি।

    সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, নতুন কমিটির মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বেগবান হবে এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।

    প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, খুব শিগ্‌গির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রতিটি ক্যাম্পাসে সম্প্রসারণে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

  • মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হলেন ঢাবির সিকিউরিটি গার্ড

    মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হলেন ঢাবির সিকিউরিটি গার্ড

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কার্জন হলের এক সিকিউরিটি গার্ডকে ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক করার ঘটনায় সংগঠনটির অভ্যন্তরে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত জুলহাস মিয়া নিজেও বিষয়টি নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত নন বলে দাবি করেছেন।

    গত ৪ এপ্রিল ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করা হয়। পরে ২ মে সংগঠনটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত তালিকায় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে জুলহাস মিয়ার নাম দেখা যায়।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জুলহাস মিয়া বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের মেইন গেটে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির একজন কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    জুলহাস মিয়া বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তিনি ‘সম্মানসূচক’ একটি পদ চেয়েছিলেন। এ লক্ষ্যে প্রায় ছয় মাস আগে মহানগর পূর্ব শাখার সহ-সভাপতি মো. আক্তার হোসেনের কাছে সিভি জমা দেন।

    তবে কমিটিতে থাকা ব্যক্তি তিনি নিজেই কি না- এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন বলেও দাবি করেন তিনি। এ কারণে তিনি কোনো ফেসবুক পোস্টও দেননি।

    ছাত্রত্ব না থাকা সত্ত্বেও পদ পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এক-দেড় বছর আগে আক্তার ভাইয়ের কাছে সিভি দিয়েছিলাম। পরে কীভাবে কমিটিতে নাম এসেছে, সেটি আমি নিশ্চিত না। হতে পারে, আবার নাও হতে পারে।”

    তবে ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সভাপতি মো. সোহাগ ভূঁইয়া জুলহাসের পরিচয় নিশ্চিত করে বলেন, “তিনিই জুলহাস। তিনি আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন। সহ-সভাপতি আক্তার জানিয়েছিলেন, তিনি একজন রানিং স্টুডেন্ট।”

    এদিকে সহ-সভাপতি মো. আক্তার হোসেন বলেন, জুলহাসের পেশাগত পরিচয় সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। আমি শুধু সিভি গ্রহণ করেছি। তিনি যে সিকিউরিটি গার্ড, তা জানতাম না।

    একই কথা জানিয়েছেন মহানগর পূর্ব শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. হান্নান মজুমদার।

    তিনি বলেন, “আমরা তার সিকিউরিটি গার্ড পরিচয় জানতাম না। বর্তমানে ছাত্রত্ব বাধ্যতামূলক না হলেও একাডেমিক সনদ প্রয়োজন হয়। তিনি আমাদের কাছে একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের কাগজপত্র জমা দিয়েছেন।”

    এ বিষয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, “কমিটিতে এমনটি হওয়ার কথা না। আপনারা তালিকাটি পাঠিয়ে দিন, বিষয়টি দেখে পরে মন্তব্য করব।”

  • ছাত্রদলের কমিটিতে ছাত্রলীগ; তৃণমূলে অন্তোষ

    ছাত্রদলের কমিটিতে ছাত্রলীগ; তৃণমূলে অন্তোষ

    আগামী দিনের মাঠের কর্মসূচি বেগবান এবং তৃণমূলকে আরো সক্রিয় করার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এরই অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহে একযোগে ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে নতুন ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে সংগঠনটি। তবে সেসব কমিটি নিয়ে একের পর এক বিতর্ক সামনে আসছে। এগুলো নিয়ে সংগঠনের মধ্যে রীতিমতো তুলকালাম চলছে।

    কমিটি নিয়ে গুরুতর

    অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা, অছাত্র ও বিবাহিতরা পদ পেয়েছেন। অন্যদিকে জুলাই বিপ্লবসহ বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে থাকা এবং ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের নিপীড়ন, হামলা-মামলায় জর্জরিত নেতাকর্মীদের বঞ্চনা সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের আন্তরিকতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এ নিয়ে বিভিন্ন জেলায় সংঘাত ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। কোথাও সড়ক অবরোধ, কোথাও ঝাড়ু মিছিল করেছেন পদবঞ্চিতরা। ঘটেছে সংঘর্ষ ও আহত হওয়ার ঘটনা। সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে রাঙামাটিতে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। এছাড়া পদবঞ্চিতদের একটি বিরাট অংশ নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছে।

    পদবঞ্চিত নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন পর কমিটি ঘোষণার ফলে যেখানে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হওয়ার কথা ছিল, সেখানে বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে শুরু হয় তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্ক। পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়ায় অভিমানে দল ছাড়ার ঘোষণাও দিয়েছেন কেউ কেউ। শুধু তাই নয়, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ‘নিষ্ক্রিয়’ এবং সুবিধাবাদীদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ায় ছাত্রদলের তৃণমূল থেকে কেন্দ্রে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অন্তর্কোন্দলে সংগঠনের ‘চেইন অব কমান্ড’ ভেঙে পড়ার অবস্থা।

    পদবঞ্চিত নেতাদের দাবি, আগামী দিনে বিরোধী দলের মাঠের কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যেতে পারে। সেসব কর্মসূচিতে এ অভ্যন্তরীণ কোন্দল ছাত্রদলের শক্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রদলের কেন্দ্র ও তৃণমূলের একাধিক নেতা বলেছেন, আগামী দিনে ছাত্রদলের কাউন্সিল হওয়ার সম্ভাবনা মাথায় রেখে এমন অনেককে কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে, যাদের রাজপথে কখনো দেখা যায়নি। আবার নিষিদ্ধ ও বৈরী ছাত্র সংগঠনের অনেককেও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—যাদের মাধ্যমে সংগঠনের শৃঙ্খলা হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর বিপরীতে রাজপথে ভূমিকা রাখা, জেল-জুলুমের শিকার অনেক নেতা পদবঞ্চিত হয়েছেন। কীসের ভিত্তিতে কমিটিতে এমন পদায়ন হয়েছে, সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। সেই সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক, বিএনপির চেয়ার‌ম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।

    তবে দীর্ঘদিন ধরে কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে সোচ্চার একটি অংশ ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা—কমিটি নিয়ে অসন্তোষের বিষয়টি দ্রুত সুরাহা না হলে সংগঠনের ‘চেইন অব কমান্ড’ ভেঙে পড়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    একযোগে ৪৫ ইউনিটের কমিটি

    ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি মর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির দুই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪৫টি ইউনিটের কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন। তার মধ্যে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে ২২ ইউনিটে। সেগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স), বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রদল, ভোলা, ঝালকাঠি, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী মহানগর, নওগাঁ, জয়পুরহাট, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজার, চাঁদপুর, যশোর, বান্দরবান, নোয়াখালী, রাঙামাটি, সুনামগঞ্জ, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদল।

    এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমসহ ২৩টি ইউনিটে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি কমিটিগুলো হলো— কুমিল্লা মহানগর, ময়মনসিংহ মহানগর, ময়মনসিংহ উত্তর ও দক্ষিণ জেলা, জামালপুর, নেত্রকোনা, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, হবিগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, কুমিল্লা মহানগর, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর মেডিকেল কলেজ, সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ।

    ক্ষোভ ও বিতর্কের নেপথ্যে

    বিভিন্ন ইউনিটে কমিটি ঘোষণার পরপরই প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং পরে রাজপথে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। একাধিক এলাকার নেতাদের অভিযোগ—অনেক ইউনিটে নিয়মিত ছাত্রদের বাদ দিয়ে অছাত্র, ব্যবসায়ী ও বিবাহিতদের পদ দেওয়া হয়েছে। পাশপাশি কোথাও কোথাও ত্যাগীরা অবমূল্যায়িত হয়েছেন। এমন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কয়েকটি জেলা ও মহানগরে নবগঠিত কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদের নেতারা পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অনেক জায়গায় পদবঞ্চিত কর্মীরা ঝাড়ু মিছিল ও কেন্দ্রীয় নেতাদের কুশপুতুল পুড়িয়েছেন। অনেকে ফেসবুক লাইভে অতীত আন্দোলন-সংগ্রামের বর্ণনা দিয়ে অঝোরে কেঁদেছেন। কেউ কেউ অভিমানে ছাত্রদলের রাজনীতি ছাড়ারও ঘোষণা দিয়েছেন।

    কমিটি নিয়ে তুলকালাম

    ছাত্রদল ঘোষিত জেলা ও মহানগর কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা, অছাত্র, ছাত্রশিবির, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে বিভিন্ন জেলায় সংঘাত ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। কোথাও সড়ক অবরোধ, কোথাও ঝাড়ু মিছিল করেছেন পদবঞ্চিতরা। বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া সংঘর্ষ থামাতে ১৪৪ ধারা জারি করতে হয়েছে প্রশাসনকে।

    বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ

    ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ চার ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পদবঞ্চিতদের একটি বিরাট অংশ গত রোববার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। তাদের অভিযোগ—কমিটিতে অছাত্র, ব্যবসায়ী এবং নব্যদেরও পদায়ন করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে পদ বিক্রি করা হয়েছে। সেখানে বিগত দিনের ত্যাগী, নির্যাতিত অনেককে বাদ দেওয়া হয়েছে।

    রাঙামাটিতে সংঘর্ষ, ১৪৪ ধারা

    জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাঙামাটিতে নবনির্বাচিত কমিটি ও পদবঞ্চিতদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করেছেন পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। পরে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।

    নিজ জেলায় অবাঞ্ছিত ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক

    সদ্য ঘোষিত নোয়াখালী জেলা ও পৌর ছাত্রদলের কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও সমাবেশ করেছেন সংগঠনের বঞ্চিত নেতাকর্মীরা। এ সময় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করা হয়। সেই সঙ্গে তারা কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিনকে নোয়াখালীতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, নাছির ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে অনুগতদের দিয়ে কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির ১৮ জনই বিবাহিত।

    মমেকের কমিটিতে ৮ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা

    ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের (মমেক) ২২ সদস্যের কমিটিতে আটজন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পদধারী সাবেক নেতা রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন পদবঞ্চিতরা। তাদের অভিযোগ, মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের কমিটিতে দুঃসময়ের ত্যাগী কর্মীদের পদ না দেওয়া হলেও ছাত্রলীগের নেতাদের পদ দেওয়া হয়েছে।

    কক্সবাজার ও বরিশালে সড়ক অবরোধ

    দীর্ঘ দুই বছর পর ঘোষিত কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটিতে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের স্থান হয়নি দাবি করে রোববার রাতে শহরের প্রধান সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। একই অভিযোগে সোমবার সন্ধ্যায় বরিশাল নগরীর আমতলার মোড়ে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা।

    ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত কমিটির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকের এক পোস্টে কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেলের অভিযোগ, তার সহযোদ্ধাদের দেখে দেখে বাদ দেওয়া হয়েছে। এটাকে অপরাজনীতি আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, নিশ্চয়ই প্রকৃতি কাউকে ক্ষমা করে না।

    এছাড়া ঢাকা মহানগর পূর্বের ৪০০ সদস্যের কমিটিতে জায়গা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাবিবুল্লাহ বাহার ইউনিভার্সিটি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। দিনাজপুরেও একতরফা কমিটি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন পদবঞ্চিতরা। এছাড়া ভোলায় বিএনপি কর্মীদের ওপর হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতার ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের পদ পাওয়া নিয়েও ক্ষোভের সঞ্চার হয়।

    সার্বিক বিষয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, জেলা কমিটিগুলো গঠনের ক্ষেত্রে শীর্ষ দুজন ছাড়া বাকিদের মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিএনপি ও অন্যান্য সংগঠনের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়। বিগত দিনের কর্মকাণ্ড এবং আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা বিবেচনায় নিয়েই কমিটি ঘোষণা হয়েছে। তবে বাস্তবে সংগঠনের পদ এবং প্রত্যাশীদের সংখ্যার মধ্যে বড় ব্যবধান থাকায় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেককে কাঙ্ক্ষিত পদায়ন সম্ভব হয়নি। এ কারণে অনেকের সংক্ষুব্ধ হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা।

    ময়মনসিংহ মেডিকেলের বিষয়ে নাছির বলেন, সেখানে ছাত্রলীগ গণহারে অনেককে পদ দিয়ে দিয়েছে। যে কারণে এমন অনেকের নাম এসেছে, যারা আসলে এ বিষয়ে জানেও না।

    আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ নাকচ করে ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ রকম কোনো বিষয় নেই। আর এমন অভিযোগ কাম্য নয়।

  • ববি ছাত্রদলের কমিটিতে ২০ ছাত্রলীগ নেতা!

    ববি ছাত্রদলের কমিটিতে ২০ ছাত্রলীগ নেতা!

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ছাত্রদলের নবঘোষিত কমিটি ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সহ-সভাপতি ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ১০ জনকে স্থান দেওয়া হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির–এর স্বাক্ষরে ১২৭ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

    কমিটি প্রকাশের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ভেতরে ও বাইরে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ জন ছাত্রলীগের নেতা কর্মীকে এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    অভিযোগকারীরা বলছেন, বিগত সময়ে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ছবি ও ভিডিও যাচাই করেই তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে এটি ছাত্রদলের “পুনর্বাসন কমিটি” হিসেবে সমালোচিত হচ্ছে।

    কমিটির উল্লেখযোগ্য বিতর্কিত পদপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সহ-সভাপতি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পর্যায়ের একাধিক নেতা।

    ছাত্রদলের একাধিক স্থানীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এমন সংখ্যক বিতর্কিত ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তি তাদের জানা ছিল না। এতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

    তবে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক নেতা অভিযোগ করেন, কমিটি ঘোষণার আগে স্থানীয় নেতৃত্বের মতামত নেওয়া হয়নি।

    অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা এবং সরাসরি বিতর্কমুক্ত প্রার্থীদের বিবেচনায় রেখেই কমিটি গঠন করা হয়েছে। নেতৃত্ব আরও দাবি করেছে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে সমন্বয় করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এ ঘটনায় ববি ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ও বিভাজন তৈরি হয়েছে।